(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: -)
أدب المفتي والمستفتي   (ابن الصلاح)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: أدب المفتي والمستفتي

المؤلف: أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن المعروف بابن الصلاح الشهرزوري (ت 643 هـ)

دراسة وتحقيق: د موفق بن عبد الله بن عبد القادر

الناشر: (مكتبة العلوم والحكم - المدينة المنورة)، عالم الكتب

الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1986 م

عدد الصفحات: 215

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি   (ইবনে আস-সালাহ)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)


গ্রন্থ: আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি

লেখক: আবু আমর উসমান ইবনে আবদুর রহমান, যিনি ইবনে আস-সালাহ আশ-শাহরাজুরি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি)

গবেষণা ও তাহকিক (تحقيق): ড. মুওয়াফফাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির

প্রকাশক: (মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম - মদিনা মুনাওয়ারা), আলমুল কুতুব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمات

‌‌مقدمة التحقيق

…

باب: المقدمات

بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة:

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

ونصلي ونسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه، ومن تبع هديه وسار على نهجه إلى يوم الدين.

قال الله تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} 1، وقال تعالى: {وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ وَلا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ} 2.

أما بعد:

1- فإن موضوع الفتيا وما يتعلق بها من الآداب والشروط يمثل جانبًا من جوانب علم الأصول … فلا يكاد كتاب في علم الأصول يخلو من بحث هذا الجانب والحديث عنه … ونظرًا لأهمية منزلة الفتيا وخطرها فقد صنف الأئمة في هذا المجال مصنفات مستقلة تبين أهمية الفتيا وخطرها، وآداب المفتي والمستفتي ومن هذه

--------------------------------------------

1 النحل آية: "43"، الأنبياء آية: "7".

2 المائدة آية: "49".
‌ভূমিকাসমূহ

‌সম্পাদনার ভূমিকা

…

অধ্যায়: ভূমিকাসমূহ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

উপক্রমণিকা:

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করছি আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, আর যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করবে এবং তাঁর প্রদর্শিত পথে চলবে তাদের ওপরও।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো যদি তোমরা না জানো} ১। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আর তাদের থেকে সতর্ক থাকুন যেন তারা আপনাকে আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার কোনো অংশ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন যে, আল্লাহ কেবল তাদের কোনো কোনো পাপের কারণে তাদের বিপদগ্রস্ত করতে চান। আর নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে অনেকেই তো পাপাচারী (فاسقون)} ২।

অতঃপর:

১- নিশ্চয়ই ফতোয়া প্রদানের বিষয়বস্তু এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আদব ও শর্তাবলি উসুল (الأصول) শাস্ত্রের একটি দিক উপস্থাপন করে... ফলে উসুল (الأصول) শাস্ত্রের প্রায় কোনো গ্রন্থই এই দিকটি নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা থেকে মুক্ত নয়... আর ফতোয়া প্রদানের উচ্চ মর্যাদা ও এর ঝুঁকির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইমামগণ এই ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহ সংকলন করেছেন, যা ফতোয়া প্রদানের গুরুত্ব ও ঝুঁকি এবং মুফতি ও ফতোয়া অন্বেষণকারীর আদবসমূহ বর্ণনা করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নাহল আয়াত: ৪৩, সূরা আল-আম্বিয়া আয়াত: ৭।

২ সূরা আল-মায়েদাহ আয়াত: ৪৯।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৬)
المصنفات كتاب "أدب المفتي والمستفتي" للإمام الحافظ أبي عمرو ابن الصلاح، المتوفى سنة "643هـ" …

وابن الصلاح -رحمه الله تعالى- ليس هو أول من كتب في هذا المجال، فقد سبقه أبو القاسم عبد الواحد بن الحسين بن محمد القاضي الصيمري "ت 386هـ" في كتابه "أدب المفتي والمستفتي" والحافظ المؤرخ أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي "ت 463هـ" في كتابه "الفقيه والمتفقه"1، والإمام الحافظ يوسف بن عبد البر "ت 463هـ" في كتابه "جامع بيان العلم وفضله"2 وغير ذلك مما كتبه أهل الأصول في مصنفاتهم الأصولية كالجويني، والغزالي، وأبي المظفر السمعاني، وأبي بكر القفال الصغير، وأبي إسحاق الإسفراييني، وأبي عبد الله الحليمي، وأبي إسحاق الشيرازي، وإلكيا الهراسي، وغيرهم كثير3 … وقد استفاد ابن الصلاح -رحمه الله تعالى- من هذا العمل الطيب المبذول، وأضاف إليه … وهذه هي القيمة العلمية الأولى للكتاب … قيمة التواصل العلمي بين المتقدمين والمتأخرين … واستفادة الخلف من جهد السلف والإضافة إليه …

إن هذا التواصل العلمي بين أجيال علماء المسلمين، هو الذي دفع الإمام النووي "ت 676هـ" إلى اقتباس كتاب أبي القاسم الصيمري، ثم الخطيب البغدادي، ثم الشيخ أبي عمرو ابن الصلاح والإشادة بجهودهم …

قال النووي: "وقد طالعت كتب الثلاثة ولخصت منها جملة مختصرة مستوعبة لكل ما ذكروه من المهم، وضممت إليها نفائس من متفرقات كلام الأصحاب، وبالله التوفيق"4 …

ثم جاء الإمام أحمد بن حمدان الحَرَّاني الحنبلي "ت 695هـ" فأخذ كتاب

--------------------------------------------

1 "152-205".

2-3 انظر "موارد ابن الصلاح" في دراسة الكتاب.

4 المجموع: 1/ 73.
গ্রন্থরাজির মধ্যে ইমাম হাফেজ (الحافظ) আবু আমর ইবনে সালাহ (মৃত্যু ৬৪৩ হি.) রচিত "আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি" গ্রন্থটি …

ইবনে সালাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই ক্ষেত্রে প্রথম লেখক নন। বরং তাঁর পূর্বে আবুল কাসিম আবদুল ওয়াহিদ ইবনে হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-কাদি আস-সাইমারি (মৃত্যু ৩৮৬ হি.) তাঁর "আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি" গ্রন্থে, হাফেজ (الحافظ) ও ঐতিহাসিক আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) তাঁর "আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ"১ গ্রন্থে এবং ইমাম হাফেজ (الحافظ) ইউসুফ ইবনে আবদুল বার (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) তাঁর "জামি বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি"২ গ্রন্থে এ বিষয়ে লিখেছেন। এ ছাড়া উসুলবিদগণ (أهل الأصول) তাঁদের উসুল সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহে এ বিষয়ে যা লিখেছেন, যেমন জুওয়াইনি, গাজালি, আবু মুজাফফর আস-সামআনি, আবু بকর আল-কাফফাল আস-সাগির, আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি, আবু আব্দুল্লাহ আল-হালিমি, আবু ইসহাক আশ-শিরাজি, ইলকিয়া আল-হাররাসি এবং আরও অনেকে৩ … ইবনে সালাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই মহৎ ও নিবেদিত কাজ থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং এতে নতুন কিছু যোগ করেছেন … আর এটাই এই গ্রন্থের প্রথম তাত্ত্বিক মূল্য … অর্থাৎ পূর্ববর্তী (المتقدمين) ও পরবর্তী (المتأخرين) পণ্ডিতদের মধ্যকার জ্ঞানতাত্ত্বিক যোগসূত্র … এবং উত্তরসূরিদের (الخلف) পক্ষ থেকে পূর্বসূরিদের (السلف) শ্রম থেকে উপকৃত হওয়া ও তাতে নতুন কিছু সংযোজন করা …

মুসলিম উলামাদের প্রজন্মের মধ্যবর্তী এই জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারাবাহিকতাই ইমাম নববীকে (মৃত্যু ৬৭৬ হি.) আবুল কাসিম আস-সাইমারি, এরপর খতিব আল-বাগদাদী এবং অতঃপর শায়খ আবু আমর ইবনে সালাহর গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিতে এবং তাঁদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে …

ইমাম নববী বলেন: "আমি উল্লিখিত তিনজনের গ্রন্থ পাঠ করেছি এবং তা থেকে একটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) সার নির্যাস তৈরি করেছি যা তাঁদের বর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এর সাথে আমি আমাদের মাযহাবের ফকিহগণের (الأصحاب) বিভিন্ন মূল্যবান বিচ্ছিন্ন বক্তব্য যুক্ত করেছি। আর আল্লাহর তাওফীকেই সাফল্য অর্জিত হয়।"৪ …

এরপর ইমাম আহমদ ইবনে হামদান আল-হাররানি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৬৯৫ হি.) আসলেন এবং তিনি গ্রন্থটি গ্রহণ করলেন...

--------------------------------------------

১ "১৫২-২০৫"।

২-৩ গ্রন্থটি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে "ইবনে সালাহর উৎসসমূহ" দেখুন।

৪ আল-মাজমু': ১/৭৩।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৭)
ابن الصلاح وضمه في كتابه "صفة الفتوى والمستفتي".

ثم جاء الإمام شمس الدين محمد بن أبي بكر الدمشقي، المعروف بابن قيم الجوزية "ت 751هـ" فأخذ كتاب ابن الصلاح، وضمه في كتابه "إعلام الموقعين عن رب العالمين".

واستمرت حلقة التواصل العلمية بين الأجيال المتتابعة من علماء المسلمين، حتى جاء السيوطي "ت 911هـ" فاقتبس من كتاب ابن الصلاح في كتاب "آداب الفتوى"، وكتاب "الرد على من أخلد إلى الأرض وجهل أن الاجتهاد في كل عصر فرض"1 …

إن هذه الروح العلمية بين علماء المسلمين، وهذا التواصل بينهم يدل على الروح الأخلاقية التي يتخلق بها علماء المسلمين المبنية على أساس الحب والإخاء والتعاون وتقدير الجهد الطيب الخير … والاستفادة منه، ودعوة الله عز وجل بالخير لصاحبه، دون النظر إلى مذهبه أو جنسه، فابن الصلاح شافعي، وابن حمدان حنبلي، وكذا ابن القيم … والأساس الذي قاموا عليه هو المحبة في الله، والتعاون على فتح آفاق المعرفة وخدمة هذا الدين..

2- ونظرًا لخطورة "الفتيا" وحاجة الناس إلى الاجتهاد، ولكي لا تصبح "الفتيا" وظيفة حكومية يصدرها نفر وضعوا أنفسهم في خدمة الحكام الكافرين، والظالمين، والفاسقين، وحتى لا يتجرأ على "الفتيا" أنصاف المتعلمين.... ولحفظ هذا الدين من يد العابثين والمبتدعين … صنف علماء المسلمين في "أدب المفتي والمستفتي" … ليعرف العالم منزلته قبل أن يصدر "الفتيا"، ويعلم المستفتي أدب الاستفتاء ولمن يستفتي.

--------------------------------------------

1 انظر فصل "أثر الكتاب فيما بعده واقتباسات الأئمة منه" في دراسة كتاب "أدب المفتي" لابن الصلاح.
ইবনে আস-সালাহ এবং তিনি এটি তাঁর "সিফাতুল ফাতওয়া ওয়াল মুস্তাফতি" গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

অতঃপর ইমাম শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আদ-দিমাশকি—যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়া (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি) নামে পরিচিত—আগমন করেন এবং তিনি ইবনে আস-সালাহ-এর কিতাবটি গ্রহণ করে তাঁর "ইলামুল মুওয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামিন" গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেন।

মুসলিম উলামাদের পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে এই ইলমি ধারার যোগসূত্র অব্যাহত থাকে, এমনকি সুয়ূতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) আগমন করেন এবং তিনি ইবনে আস-সালাহ-এর কিতাব থেকে তাঁর "আদাবুল ফাতওয়া" এবং "আর-রাদ্দু আলা মান আখলাদা ইলাল আরদি ওয়া জাহিলা আন্নাল ইজতিহাদা ফি কুল্লি আসরিন ফারদ" ১ নামক কিতাবে উদ্ধৃতি পেশ করেন …

মুসলিম উলামাদের মাঝে এই ইলমি চেতনা এবং পারস্পরিক এই যোগাযোগ তাঁদের সেই নৈতিক আদর্শের পরিচয় দেয়, যা ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, সহযোগিতা এবং উত্তম প্রচেষ্টার মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে … আর তা থেকে উপকৃত হওয়া এবং লেখকের মাজহাব বা বংশ নির্বিশেষে তাঁর জন্য মহান আল্লাহর নিকট কল্যাণের দোয়া করা। কেননা ইবনে আস-সালাহ ছিলেন শাফেয়ি, ইবনে হামদান ছিলেন হাম্বলি এবং ইবনুল কাইয়্যিমও অনুরূপ ছিলেন … তাঁরা যে ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা, জ্ঞানের দিগন্ত উন্মোচনে সহযোগিতা এবং এই দ্বীনের খিদমত করা।

২- "ফাতওয়া" প্রদানের গুরুত্ব ও ঝুঁকি এবং মানুষের ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে, এবং "ফাতওয়া" যেন এমন কোনো সরকারি চাকরিতে পরিণত না হয় যা কাফের, জালেম ও ফাসেক শাসকদের সেবায় নিয়োজিত একদল লোক প্রদান করে থাকে, এবং স্বল্পশিক্ষিতরা যেন "ফাতওয়া" প্রদানের দুঃসাহস না দেখায়... আর এই দ্বীনকে তামাশাকারী ও বিদআতি (مبتدعين)-দের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য … মুসলিম উলামাগণ "আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি" বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন … যাতে করে একজন আলেম "ফাতওয়া" প্রদানের পূর্বে নিজের মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং ফাতওয়া জিজ্ঞাসু ব্যক্তি ফাতওয়া জিজ্ঞাসার আদব এবং কার কাছে ফাতওয়া চাইতে হবে সে সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।

--------------------------------------------

১ ইবনে আস-সালাহ-এর "আদাবুল মুফতি" কিতাবের গবেষণামূলক আলোচনার "পরবর্তী কিতাবসমূহের ওপর এই কিতাবের প্রভাব এবং ইমামগণের উদ্ধৃতি" পরিচ্ছেদটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৮)
وكتاب ابن الصلاح "أدب المفتي والمستفتي" هو واحد من هذه المصنفات التي وفَّت هذه الأغراض كلها فخدمت "المفتي" و"المستفتي" … وهو حلقة وصل بين الأجيال المتقدِّمة والأجيال المتأخرة …

ولقد بذلت في دراستهِ وتحقيقه والتعليق عليه قُصَارى جهدي فإن أصبت فمن الله تعالى، وإن أخطأت فمني واستغفر الله.

ولا يسعني في هذا المقام إلا أن أتقدم بخالص شكري ودعائي لكلِّ من ساعد في إخراج هذا الكتاب القيم إلى حيز الوجود …

{رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلا تُحَمِّلْنَا مَا لا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} .
ইবনে আস-সালাহ-এর গ্রন্থ "আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি" হলো সেই সকল সংকলনের একটি যা এই সকল উদ্দেশ্য পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেছে এবং এটি "মুফতি" (المفتي) ও "মুস্তাফতি" (المستفتي) উভয়েরই সেবা করেছে … এটি পূর্ববর্তী প্রজন্ম (الأجيال المتقدمة) এবং পরবর্তী প্রজন্ম (الأجيال المتأخرة) এর মাঝে একটি সংযোগকারী যোগসূত্র …

আমি এই গ্রন্থের অধ্যয়ন, পাঠ-সম্পাদনা (تحقيق) এবং টীকা প্রদানের (تعليق) ক্ষেত্রে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি; সুতরাং আমি যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হই তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল করে থাকি তবে তা আমার পক্ষ থেকে এবং আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

এই পর্যায়ে আমি সেই সকল ব্যক্তির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও দুআ পেশ করছি যারা এই মূল্যবান গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন …

{হে আমাদের পালনকর্তা! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমনটি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ওপর এমন ভার চাপিয়ে দেবেন না যা সহ্য করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের মার্জনা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক, সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয় দান করুন।}
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌التعريف بالإمام الحافظ أبي عمرو عثمان بن عبد الرحمن المعروف بابن الصَّلاح الشهرزوري المتوفي سنة 643 هـ:

اسمه ونسبه وكنيته:

هو الإمام الحافظ المفتي شيخ الإسلام تقي الدين أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن بن عثمان بن موسى بن أبي نصر الكردي الشهرزوري الموصلي الشافعي1.

مولده ونشأته وشيوخه وتلاميذه، ورحلاته العلمية:

ولد سنة سبع وسبعين وخمسمائة2، في شَرَخان قرية من أعمال إرْبل قريبة من شَهْرَزُور3، وتفقه على والده بشهرزور، ثم اشتغل بالموصل مدة، وسمع من أبي جعفر عبيد الله بن أحمد البغدادي المعروف بابن السمين، وهو أقدم شيخ له،

--------------------------------------------

1 ترجمته في: مرآة الزمان لسبط ابن الجوزي: "8/ 757-758"، ذيل الروضتين لأبي شامة: 75، وفيات الأعيان: "3/ 243-245"، سير أعلام النبلاء: 23/ 140، تذكرة الحفاظ: "4/ 1430-1433"، العبر: "5/ 177-178"، دول الإسلام: 2/ 112، طبقات الشافعية الكبرى للسبكي "8/ 326-337"، طبقات الإسنوي: 2"133-134"، البداية والنهاية: "13/ 168-169"، النجوم الزاهرة: 6/ 354، طبقات الحفاظ للسيوطي؛ 499، طبقات المفسرين للداوودي: "1/ 377-378"، شذرات الذهب: 5/ 221، ومقدمة كتاب "صيانة صحيح مسلم من الإخلال والغلط، وحمايته من الإسقاط والسقط" لابن الصلاح بتحقيقنا، ومقدمة كتاب "النكت على كتاب ابن الصلاح للحافظ ابن حجر العسقلاني" تحقيق الدكتور: ربيع بن هادي عمير: "1/ 21-26"، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة: 2/ 145.

2 سير أعلام النبلاء: 23/ 140، طبقات الشافعية للسبكي: 8/ 326.

3 طبقات الشافعية للسبكي: 8/ 326، شذرات الذهب: 5/ 221.
ইমাম হাফিজ (الحافظ) আবু আমর উসমান ইবন আবদুর রহমান, যিনি ইবনুল সালাহ আল-শাহরাযুরি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি), এর পরিচিতি:

তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও উপনাম:

তিনি হলেন ইমাম, হাফিজ (الحافظ), মুফতি, শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবন আবদুর রহমান ইবন উসমান ইবন মুসা ইবন আবু নাসর আল-কুর্দি আল-শাহরাযুরি আল-মাওসিলি আশ-শাফিয়ি।

তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রবৃন্দ এবং ইলমি সফরসমূহ:

তিনি ৫৭৭ হিজরি সালে শাহরাযুরের নিকটবর্তী ইরবিলের শারখান নামক এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাহরাযুরে তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্রের ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় মাওসিলে জ্ঞানচর্চায় রত থাকেন এবং আবু জাফর উবায়দুল্লাহ ইবন আহমদ আল-বাগদাদি (যিনি ইবনুস সামিন নামে পরিচিত) এর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন; তিনি ছিলেন তাঁর প্রাচীনতম শাইখ।

--------------------------------------------

১. তাঁর জীবনী দ্রষ্টব্য: সিবত ইবনুল জাওযি-কৃত ‘মিরআতুয যামান’: ৮/৭৫৭-৭৫৮, আবু শামাহ-কৃত ‘যাইলুর রওদাতাইন’: ৭৫, ‘ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান’: ৩/২৪৩-২৪৫, ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’: ২৩/১৪০, ‘তাযকিরাতুল হুফফায’: ৪/১৪৩০-১৪৩৩, ‘আল-ইবার’: ৫/১৭৭-১৭৮, ‘দুওয়ালুল ইসলাম’: ২/১১২, তাজউদ্দীন সুবকি-কৃত ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা’: ৮/৩২৬-৩৩৭, ‘তাবাকাতুল আসনাবি’: ২/১৩৩-১৩৪, ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’: ১৩/১৬৮-১৬৯, ‘আন-নুজুমুয যাহিরা’: ৬/৩৫৪, সুয়ূতি-কৃত ‘তাবাকাতুল হুফফায’: ৪৯৯, দাউদি-কৃত ‘তাবাকাতুল মুফাসসিরিন’: ১/৩৭৭-৩৭৮, ‘শাযারাতুয যাহাব’: ৫/২২১ এবং আমাদের তাহকিককৃত ইবনুল সালাহ-এর গ্রন্থ ‘সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম মিনাল ইখলাল ওয়াল গালাত ওয়া হিমায়াতুহু মিনাল ইসকাত ওয়াস সাকাত’-এর ভূমিকা, ডক্টর রবি ইবন হাদি উমাইর-এর তাহকিককৃত হাফিজ (الحافظ) ইবন হাজার আসকালানি-র গ্রন্থ ‘আন-নুকাত আলা কিতাব ইবনুস সালাহ’-এর ভূমিকা: ১/২১-২৬ এবং ইবন কাজি শুহবাহ-কৃত ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’: ২/১৪৫।

২. ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’: ২৩/১৪০, সুবকি-কৃত ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’: ৮/৩২৬।

৩. সুবকি-কৃত ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’: ৮/৩২৬, ‘শাযারাতুয যাহাব’: ৫/২২১।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ১২)
ونصر بن سلامة الهيتي، ومحمود بن علي الموصلي، وأبي المظفر بن البرني، وعبد المحسن ابن الطوسي، وعدة بالموصل، وارتحل إلى بغداد، فسمع من أبي أحمد بن سكينة، وأبي حفص بن طبرزد، وطبقتهما، وبهمذان من أبي الفضل بن المعزم، وبمرو من أبي المظفر ابن السمعاني، وبنيسابور من أبي الفتح منصور بن عبد المنعم بن الفراوي، والمؤيد بن محمد بن علي الطوسي، وزينب بنت أبي القاسم الشعرية، والقاسم بن أبي سعد الصفار، ومحمد بن الحسن الصرام، وأبي المعالي بن ناصر الأنصاري، وأبي النجيب إسماعيل القارئ، وطائفة بنيسابور. ومن أبي محمد بن الأستاذ وغيره بحلب، ومن الإمامين فخر الدين بن عساكر، وموفق الدين بن قدامة، والقاضي أبي القاسم عبد الصمد الحرستاني، وعدة بدمشق. ومن الحافظ عبد القادر الرهاوي بحران1. حدث عنه الإمام شمس الدين بن نوح المقدسي، والإمام كمال الدين سلار، والإمام كمال الدين إسحاق، والقاضي تقي الدين ابن رزين، وتفقهوا به. وروى عنه أيضًا العلامة تاج الدين عبد الرحمن الفركاح، وأخوه الخطيب شرف الدين، ومجد الدين ابن المهتار، وفخر الدين عمر بن يحيى الكرجي، والقاضي شهاب الدين ابن الخويِّي، والمحدث عبد الله بن يحيى الجزائري، والمفتي جمال الدين محمد بن أحمد الشريشي، والمفتي فخر الدين عبد الرحمن بن يوسف البعلبكي، وناصر بن محمد بن عربشاه، ومحمد بن أبي الذكر، والشيخ أحمد بن عبد الرحمن الشهرزوري الناسخ، وكمال الدين أحمد بن أبي الفتح الشيباني، والشهاب محمد بن مشرف، والصدر محمد بن حسن الأرموي، والشرف محمد بن خطيب بيت الأبار، وناصر الدين محمد بن المجد من المهتار، والقاضي أحمد بن علي الجيلي، والشهاب أحمد بن العفيف الحنفي، وآخرون2.

--------------------------------------------

1 وفيات الأعيان: "3/ 243-244"، سير أعلام النبلاء: "23/ 140-141"، العبر: "5/ 177-178"، تذكرة الحفاظ: "4/ 1430-1431"، طبقات الشافعية الكبرى: 8/ 327.

2 سير أعلام النبلاء: "23/ 141-421"، وانظر تذكرة الحفاظ "4/ 1430-1431"، العبر: "5/ 177-178"، وفيات الأعيان: "3/ 243-244"، طبقات الشافعية الكبرى للسبكي: 8/ 327.
নাসর বিন সালামাহ আল-হিতি, মাহমুদ বিন আলি আল-মাওসিলি, আবু আল-মুজাফফর বিন আল-বারনি, আবদুল মুহসিন ইবনুত তুসি এবং মোসুলের একদল উলামার নিকট থেকে তিনি ইলম অর্জন করেন। এরপর তিনি বাগদাদে সফর করেন এবং সেখানে আবু আহমাদ বিন সাকিনাহ, আবু হাফস বিন তাবারজাদ এবং তাঁদের সমপর্যায়ভুক্তদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। হামাদানে আবু আল-ফজল বিন আল-মুয়াজ্জাম, মার্ভে আবু আল-মুজাফফর ইবনাস সামআনি এবং নিশাপুরে আবুল ফাতহ মানসুর বিন আবদুর রহমান বিন আল-ফারাওয়ি, আল-মুয়াইয়িদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আল-তুসি, জয়নাব বিনতে আবু আল-কাসিম আশ-শারিইয়াহ, আল-কাসিম বিন আবু সাদ আস-সাফফার, মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আস-সাররাম, আবু আল-মাআলি বিন নাসির আল-আনসারি, আবু আল-নাজিব ইসমাইল আল-কারি এবং নিশাপুরের একদল উলামার নিকট থেকে শ্রবণ করেন। আলেপ্পোতে আবু মুহাম্মদ বিন আল-উস্তাদ ও অন্যান্যদের নিকট থেকে এবং দামেস্কে দুই ইমাম (الإمام) ফখর উদ্দিন বিন আসাকির ও মুয়াফফাক উদ্দিন বিন কুদামাহ, কাজি (القاضي) আবু আল-কাসিম আবদুস সামাদ আল-হারাসতানি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। হাররানে হাফিজ (الحافظ) আবদুল কাদির আল-রাহাউয়ির নিকট থেকেও তিনি শ্রবণ করেন। তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন ইমাম (الإمام) শামস উদ্দিন বিন নুহ আল-মাকদিসি, ইমাম (الإمام) কামাল উদ্দিন সালার, ইমাম (الإمام) কামাল উদ্দিন ইসহাক এবং কাজি (القاضي) তাকি উদ্দিন ইবনু রাজিন; তাঁরা তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্রও অধ্যয়ন করেছেন। এছাড়াও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আল্লামা তাজ উদ্দিন আবদুর রহমান আল-ফিরকাহ, তাঁর ভাই খতিব শরফ উদ্দিন, মাজদ উদ্দিন ইবনুল মুহতার, ফখর উদ্দিন উমর বিন ইয়াহইয়া আল-কারজি, কাজি (القاضি) শিহাব উদ্দিন ইবনুল খুওয়াইয়ি, মুহাদ্দিস (المحدث) আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আল-জাজাইরি, মুফতি (المفتي) জামাল উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আশ-শারিশি, মুফতি (المفتي) ফখর উদ্দিন আবদুর রহমান বিন ইউসুফ আল-বালবাক্কি, নাসির বিন মুহাম্মদ বিন আরাবশাহ, মুহাম্মদ বিন আবিজ জিকর, লেখক শেখ আহমাদ বিন আবদুর রহমান আশ-শাহরাজুরি, কামাল উদ্দিন আহমাদ বিন আবুল ফাতহ আশ-শায়বানি, শিহাব মুহাম্মদ বিন মুশরাফ, আস-সদর মুহাম্মদ বিন হাসান আল-উরমাউয়ি, আশ-শরাফ মুহাম্মদ বিন খাতিব বায়ত আল-আববার, নাসির উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আল-মাজদ বিন আল-মুহতার, কাজি (القاضي) আহমাদ বিন আলি আল-জিলি, শিহাব আহমাদ বিন আল-আফিফ আল-হানাফি এবং অন্যান্যরা।

--------------------------------------------

১. ওফায়াতুল আ’য়ান: ৩/২৪৩-২৪৪, সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২৩/১৪০-১৪১, আল-ইবার: ৫/১৭৭-১৭৮, তাযকিরাতুল হুফফাজ: ৪/১৪৩০-১৪৩১, তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা: ৮/৩২৭।

২. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২৩/১৪১-৪২১, এবং দেখুন তাযকিরাতুল হুফফাজ: ৪/১৪৩০-১৪৩১, আল-ইবার: ৫/১৭৭-১৭৮, ওফায়াতুল আ’য়ান: ৩/২৪৩-২৪৪, সুবকি-র তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা: ৮/৩২৭।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وتولى المدرسة الناصرية بالقدس الشريف المنسوبة إلى الملك الناصر صلاح الدين يوسف بن أيوب، وأقام بها مدة، واشتغل الناس عليه، وانتفعوا به، ثم انتقل إلى دمشق وتولى تدريس المدرسة الرواحية التي أنشأها الزكي أبو القاسم هبة الله بن عبد الواحد بن رواحة الحموي، وهو الذي أنشأ المدرسة الرواحية بحلب.

ولما بنى الملك الأشرف ابن الملك العادل بن أيوب رحمه الله تعالى، دار الحديث بدمشق فوض تدريسها إليه، واشتغل الناس عليه بالحديث، ثم تولى تدريس مدرسة ست الشام زمرد خاتون بنت أيوب1.

أقوال العلماء وثناؤهم على ابن الصَّلاح:

1- قال ابن خلكان: كان أحد فضلاء عصره في التفسير، والحديث، والفقه وأسماء الرجال، وما يتعلق بعلم الحديث ونقل اللغة، وكانت له مشاركة في فنون عديدة، وكانت فتاويه مسددة، وهو أحد أشياخي الذين انتفعت بهم2.

2- وقال الذهبي: وأشغل، وأفتى، وجمع وألف، تخرج به الأصحاب، وكان من كبار الأئمة3.

3- وذكره المحدث عمر بن الحاجب في "معجمه" فقال: إمام ورع وافر العقل، حسن السمت، متبحر في الأصول والفروع، بالغ في الطلب حتى صار يضرب به المثل، وأجهد نفسه في الطاعة والعبادة4.

4- وقال الذهبي: كان ذا جلالة عجيبة، ووقار وهيبة، وفصاحة، وعلم نافع، وكان متين الديانة، سلفي الجملة، صحيح النحلة، كافًّا عن الخوض في مزلات

--------------------------------------------

1 وفيات الأعيان3/ 244، شذرات الذهب: "5/ 221-222".

2 وفيات الأعيان 3/ 243.

3 سير أعلام النبلاء: 23/ 142.

4 سير أعلام النبلاء: 23/ 142، تذكرة الحفاظ: 4/ 1431، طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة: 2/ 145.
তিনি পবিত্র জেরুজালেমে সুলতান আন-নাসির সালাহউদ্দিন ইউসুফ ইবনে আইয়ুবের নামে প্রতিষ্ঠিত আল-মাদরাসা আল-নাসিরিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন। লোকজন তার নিকট জ্ঞান অর্জনে ব্রতী হন এবং তার মাধ্যমে উপকৃত হন। অতঃপর তিনি দামেস্কে চলে যান এবং আল-মাদরাসা আল-রাওয়াহিয়ার শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা আল-জাকি আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে রাওয়াহা আল-হামাউই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; আর তিনিই আলেপ্পোতে আল-মাদরাসা আল-রাওয়াহিয়ার প্রতিষ্ঠাতা।

যখন সুলতান আল-আদিল ইবনে আইয়ুবের পুত্র সুলতান আল-আশরাফ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) দামেস্কে দারুল হাদিস নির্মাণ করেন, তখন তিনি এর শিক্ষকতার ভার তার ওপর অর্পণ করেন। লোকজন তার নিকট হাদিস শাস্ত্রের অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি সিত্তুশ শাম যুমুররুদ খাতুন বিনতে আইয়ুব মাদরাসার শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন।১

ইবনে আস-সালাহ সম্পর্কে আলিমগণের বক্তব্য ও প্রশংসা:

১- ইবনে খাল্লিকান বলেন: তিনি তাফসির (التفسير), হাদিস, ফিকহ (الفقه) এবং রাবিদের পরিচিতি (أسماء الرجال), এবং হাদিস শাস্ত্র (علم الحديث) সংক্রান্ত বিষয়াদি ও ভাষা বর্ণনার ক্ষেত্রে নিজ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন। বহুবিধ শাস্ত্রে তার পারদর্শিতা ছিল। তার ফতোয়াসমূহ ছিল সঠিক ও নির্ভুল। তিনি আমার সেই সকল উস্তাদদের একজন যাদের মাধ্যমে আমি উপকৃত হয়েছি।২

২- ইমাম আয-যাহাবি বলেন: তিনি শিক্ষাদান করেছেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং সংকলন ও রচনা করেছেন। বহু শিক্ষার্থী তার নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তিনি শ্রেষ্ঠ ইমামগণের (الأئمة) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।৩

৩- মুহাদ্দিস (المحدث) উমর ইবনুল হাজিব তার 'মুজাম' গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ পরহেজগার (ورع) ইমাম, পূর্ণ প্রজ্ঞার অধিকারী এবং উত্তম চালচলনের অধিকারী। তিনি মূলনীতি (الأصول) ও উপ-শাখা (الفروع) উভয় শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। ইলম অন্বেষণে তিনি এমন উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন যে এ ক্ষেত্রে তিনি উদাহরণে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি আনুগত্য ও ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।৪

৪- ইমাম আয-যাহাবি বলেন: তিনি ছিলেন বিস্ময়কর মাহাত্ম্য, গাম্ভীর্য ও প্রভাবের অধিকারী। তিনি বাগ্মিতা ও উপকারী ইলমের অধিকারী ছিলেন। তিনি দ্বীন পালনে অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিলেন এবং সামগ্রিকভাবে সালাফদের অনুসারী (سلفي الجملة) ও বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী (صحيح النحلة) ছিলেন। তিনি পদস্খলনের কারণ হতে পারে এমন সংশয়পূর্ণ বিষয়গুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখতেন।

--------------------------------------------

১ ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৪, শাযারাতুয যাহাব: ৫/২২১-২২২।

২ ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৩।

৩ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২৩/১৪২।

৪ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২৩/১৪২, তাযকিরাতুল হুফফাজ: ৪/১৪৩১, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ লি ইবনি কাজি শুহবাহ: ২/১৪৫।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ১৪)
الأقدام، مؤمنًا بالله، وبما جاء عن الله من أسمائه ونعوته، حسن البزة، وافر الحرمة، معظمًا عند السلطان … وكان مع تبحره في الفقه مجودًا لما ينقله، قوي المادة من اللغة والعربية، متفننًا في الحديث، متصونًا، مكبًا على العلم، عديم النظير في زمانه1.

5- وقال أيضًا: وصنف التصانيف، مع الثقة والديانة والجلالة2.

6- وقال ابن كثير الدمشقي رحمه الله تعالى: وهو في عداد الفضلاء الكبار، وكان دينًا زاهدًا وربما ناسكًا على طريق السلف الصالح كما هو طريقة متأخري أكثر المحدثين، مع الفضيلة التامة في فنون كثيرة، ولم يزل على طريقة جيدة حتى كانت وفاته3.

7- وقال السبكي: استوطن دمشق يعيد زمان السالفين ورعًا، ويزيد بهجتها بروضة علم جنى كل طالب جناها ورعًا، ويفيد أهلها، فما منهم إلا من اغترف من بحره واعترف بدره، وحفظ جانب مثله ورعًا4.

8- وقال أيضًا: الشيخ العلامة تقي الدين، أحد أئمة المسلمين علمًا ودينًا5.

9- ونقل السبكي عن ابن الصلاح قوله: ما فعلت صغيرة في عمري قط6.

10- وقال السخاوي: هو العلامة الفقيه حافظ الوقت مفتي الفرق شيخ الإسلام … كان إمامًا بارعًا حجة متبحرًا في العلوم الدينية، بصيرًا بالمذهب ووجوهه، خبيرًا بأصوله، عارفًا بالمذاهب … انتفع به خلق وعولوا على تصانيفه7.

--------------------------------------------

1 سير أعلام النبلاء: "23/ 142-143".

2 العبر: 5/ 178.

3 البداية والنهاية: 13/ 168.

4 طبقات الشافعية الكبرى: 8/ 327.

5 طبقات الشافعية الكبرى: 8/ 336.

6 طبقات الشافعية الكبرى: 8/ 327.

7 فتح المغيث: 1/ 13.
(তিনি ছিলেন) নির্ভীক পদক্ষেপে অগ্রসরমান, আল্লাহর প্রতি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি বিশ্বাসী; তিনি ছিলেন মার্জিত পোশাকধারী, অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং সুলতানের নিকট অত্যন্ত সম্মানিত … ফিকহ শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি তিনি যা বর্ণনা করতেন তাতে অত্যন্ত নিপুণ ছিলেন। আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর ছিল শক্তিশালী ভিত্তি। তিনি হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শী (متفنن), আত্মসংযমী এবং ইলম অর্জনে একনিষ্ঠ ছিলেন। স্বীয় যুগে তিনি ছিলেন অতুলনীয় ১।

৫- তিনি আরও বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্যতা (الثقة), দ্বীনদারিত্ব ও গাম্ভীর্যের সাথে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন ২।

৬- ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি বড় মাপের মহৎ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ, দুনিয়াবিমুখ (زاهد) এবং সম্ভবত পূর্বসূরি নেককারদের (السلف الصالح) অনুসারী একজন ইবাদতগুজার (ناسك), যেমনটি অধিকাংশ পরবর্তী হাদিস বিশারদদের (المحدثين) অনুসৃত পথ। বিভিন্ন বিদ্যায় পূর্ণ পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি উত্তম আদর্শের ওপর অবিচল ছিলেন ৩।

7- সুবকী বলেন: তিনি দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং তাকওয়ার (ورع) মাধ্যমে যেন পূর্বসূরিদের যুগকে ফিরিয়ে আনেন। তিনি তাঁর জ্ঞানের উদ্যান দ্বারা দামেস্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছিলেন, যেখান থেকে প্রতিটি জ্ঞানান্বেষী (طالب) তাকওয়ার ফল আহরণ করত। তিনি সেখানকার অধিবাসীদের উপকৃত করতেন। তাদের মাঝে এমন কেউ ছিল না যে তাঁর জ্ঞানের সমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরেনি এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেনি, আর তাকওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর মতো ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা করেনি ৪।

8- তিনি আরও বলেন: শাইখ, মহাজ্ঞানী (العلامة) তাকীউদ্দীন ছিলেন ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে মুসলিমদের অন্যতম ইমাম (أئمة) ৫।

9- সুবকী ইবনুস সালাহ থেকে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেন: আমি আমার জীবনে কখনোই কোনো সগীরা (صغيرة) গুনাহ করিনি ৬।

10- সাখাওয়ী বলেন: তিনি হলেন মহাজ্ঞানী (العلامة), ফকীহ (الفقيه), সমসাময়িক হাফেজ (حافظ), বিভিন্ন মাযহাবের মুফতি এবং শাইখুল ইসলাম … তিনি ছিলেন এক দক্ষ ইমাম (إمام) এবং ধর্মীয় বিদ্যায় অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী এক নির্ভরযোগ্য দলিল (حجة)। তিনি মাযহাব ও এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে দূরদর্শী ছিলেন, এর মূলনীতি (أصول) সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং অন্যান্য মাযহাব সম্পর্কে অবগত ছিলেন … বহু সৃষ্টি তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং তাঁর রচনাবলির ওপর নির্ভর করেছে ৭।

--------------------------------------------

১ সিয়ার আলামুন নুবালা: ২৩/১৪২-১৪৩।

২ আল-ইবার: ৫/১৭৮।

৩ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১৩/১৬৮।

৪ তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা: ৮/৩২৭।

৫ তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা: ৮/৩৩৬।

৬ তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা: ৮/৩২৭।

৭ ফাতহুল মুগীস: ১/১৩।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ১৫)
11- وقال ابن العماد: وتفقه وبرع في المذهب وأصوله، وفي الحديث وعلومه … وإذا أطلق الشيخ في علماء الحديث فالمراد به هو وإلى ذلك أشار العراقي صاحب الألفية بقوله فيها:

وكلما أطلقت لفظ الشيخ ما … أريد إلا ابن الصلاح مبهما1

12- وقال ابن هداية الله: كان إمامًا في الفقه والحديث عارفًا بالتفسير والأصول والنحو، ورعًا زاهدًا2.

عقيدته:

كانت عقيدة ابن الصلاح رحمه الله تعالى عقيدة سلفية نظيفة بعيدة عن علم الكلام والجدل والتأويل، وغير ذلك من الأمور التي تبعد المسلمين عن الصواب في عقيدتهم.

قال الذهبي: كان متين الديانة، سلفي الجملة، صحيح النخلة، كافًّا عن الخوض في مزلات الأقدام، مؤمنًا بالله، وبما جاء عن الله من أسمائه ونعوته3.

وقال الذهبي أيضًا: وكان سلفيًّا حسن الاعتقاد، كافًّا عن تأويل المتكلمين مؤمنًا بما ثبت من النصوص غير خائض ولا معمق4. ولقد أوضح ابن الصلاح عقيدته هذه، فقال وهو يتحدث عن المفتي: "ليس له إذا استفتي في شيء من المسائل الكلامية أن يفتي بالتفصيل، بل يمنع مستفتيه وسائر العامة من الخوض في ذلك أصلا، ويأمرهم بأن يقتصروا فيها على الإيمان جملة من غير تفصيل ويقولوا فيها وفيما ورد من الآيات والأخبار المتشابهة: إن الثابت فيها في نفس الأمر كلها هو اللائق فيها بجلال الله وكماله وتقديسه المطلقين، وذلك هو معتقدنا فيها وليس علينا

--------------------------------------------

1 شذرات الذهب: 5: 221.

2 طبقات الشافعية لأبي بكر بن هداية الله الحسيني: 220.

3 سير أعلام النبلاء: 23/ 142.

4 تذكرة الحفاظ: 4/ 1431.
11- এবং ইবনুল ইমাদ বলেছেন: তিনি ফিকহ শাস্ত্র অর্জন করেন এবং মাযহাব ও এর মূলনীতিসমূহ (أصول), এবং হাদিস ও এর বিজ্ঞানসমূহে (علوم الحديث) পারদর্শিতা লাভ করেন … আর হাদিস বিশারদগণের মাঝে যখন অনির্দিষ্টভাবে 'শায়খ' (الشيخ) শব্দটি বলা হয়, তখন তা দ্বারা তাঁকেই বোঝানো হয়। আলফিয়্যাহ-র রচয়িতা আল-ইরাকি সেদিকেই ইঙ্গিত করে তাঁর গ্রন্থে বলেছেন:

যখনই আমি 'শায়খ' শব্দটি অনির্দিষ্টভাবে প্রয়োগ করি … তখন ইবনুস সালাহ ছাড়া অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করি না১।

12- ইবনু হিদায়াতুল্লাহ বলেছেন: তিনি ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রে একজন ইমাম (إمام) ছিলেন; তাফসির, উসুল (أصول), এবং নাহু শাস্ত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন; এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মভীরু ও দুনিয়াবিমুখ২।

তাঁর আকিদা:

ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-র আকিদা ছিল একটি পরিচ্ছন্ন সালাফী (سلفية) আকিদা, যা ইলমুল কালাম (علم الكلام), বিতর্ক, অপব্যাখ্যা (تأويل) এবং এমন সব বিষয় থেকে দূরে ছিল যা মুসলমানদের সঠিক আকিদা থেকে বিচ্যুত করে দেয়।

আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি ছিলেন সুদৃঢ় দ্বীনদারির অধিকারী, সামগ্রিকভাবে সালাফী (سلفي), বিশুদ্ধ আদর্শের অনুসারী; বিচ্যুতি ঘটার মতো বিষয়সমূহে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতেন এবং আল্লাহ ও তাঁর পক্ষ থেকে আসা তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির (نعوت) প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন৩।

আয-যাহাবি আরও বলেছেন: তিনি ছিলেন সালাফী (سلفي) ও উত্তম আকিদার অধিকারী, মুতাকাল্লিমদের (ইলমুল কালামের অনুসারী) অপব্যাখ্যা (تأويل) থেকে বিরত থাকতেন; দলিলাদির (نصوص) মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয়েছে তার প্রতি বিশ্বাস রাখতেন, এ নিয়ে তর্কে লিপ্ত হতেন না বা এর গভীরে যেতেন না৪। ইবনুস সালাহ নিজের এই আকিদা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি মুফতি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "কালাম শাস্ত্রের কোনো বিষয়ে যখন তাঁর কাছে ফতোয়া চাওয়া হয়, তখন তাঁর জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা সমীচীন নয়। বরং তিনি প্রশ্নকারী ও সাধারণ জনগণকে (عامة) এ বিষয়ে কোনো প্রকার আলোচনায় লিপ্ত হতে নিষেধ করবেন। তিনি তাদের আদেশ দেবেন যেন তারা বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই সামগ্রিকভাবে ঈমানের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে এবং উক্ত বিষয়ে ও অন্যান্য অস্পষ্ট (متشابهة) আয়াত ও বর্ণনাগুলোর (أخبار) ক্ষেত্রে বলে: 'প্রকৃতপক্ষে এসবে যা প্রমাণিত হয়েছে, তা মহান আল্লাহর মর্যাদা, পূর্ণতা ও তাঁর নিরঙ্কুশ পবিত্রতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটাই আমাদের আকিদা এবং এর বাইরে আমাদের আর কোনো দায়বদ্ধতা নেই'।"

--------------------------------------------

১ শাযারাতুয যাহাব: ৫: ২২১।

২ আবু বকর বিন হিদায়াতুল্লাহ আল-হুসাইনির তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ: ২২০।

৩ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২৩/ ১৪২।

৪ তাযকিরাতুল হুফফায: ৪/ ১৪৩১।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ১৬)
تفصيله وتعيينه، وليس البحث عنه من شأننا بل نكل علم تفصيله إلى الله تعالى ونصرف عن الخوض فيه قلوبنا وألسنتنا، فهذا ونحوه عند أئمة الفتوى هو الصواب في ذلك، وهو سبيل سلف الأئمة، وأئمة المذاهب المعتبرة، وأكابر الفقهاء والصالحين، وهو أصون وأسلم للعامة وأشباههم ممن يدغل قلبه بالخوض في ذلك، ومن كان منهم اعتقد اعتقادًا باطلًا تفصيلا ففي إلزامه بهذا صرف له عن ذلك الاعتقاد الباطل بما هو أهون وأيسر وأسلم، وإذا عزر ولي الأمر من حاد منهم عن هذه الطريقة فقد تأسى بعمر بن الخطاب رضي الله عنه … والمتكلمون من أصحابنا معترفون بصحة هذه الطريقة، وأنها أسلم لمن سلمت له، وكان الغزالي منهم في آخر عمره شديد المبالغة في الدعاء إليها والبرهنة عليها1.

"ومن فتاويه أنه سئل عمن يشتغل بالمنطق والفلسفة فأجاب: الفلسفة أس السفه والانحلال، ومادة الحيرة والضلال، ومثار الزيغ والزندقة، ومن تفلسف، عميت بصيرته عن محاسن الشريعة المؤيدة بالبراهين، ومن تلبس بها، قارنه الخذلان والحرمان، واستحوذ عليه الشيطان، وأظلم قلبه عن نبوة محمد صلى الله عليه وسلم، إلى أن قال: واستعمال الاصطلاحات المنطقية في مباحث الأحكام الشرعية من المنكرات المستبشعة، والرقاعات المستحدثة، وليس بالأحكام الشرعية -ولله الحمد- افتقار إلى المنطق أصلا، هو قعاقع قد أغنى الله عنها كل صحيح الذهن، فالواجب على السلطان أعزه الله أن يدفع عن المسلمين شر هؤلاء المشائيم، ويخرجهم من المدارس ويبعدهم"2. فعقيدة ابن الصلاح رحمه الله تعالى عقيدة سليمة من كل زيغ وضلال عقيدة سلفية نظيفة بعيدة عن علم الكلام والجدل والتأويل وغير ذلك من الآفات التي تبعد المسلمين عن الصواب في عقيدتهم.

--------------------------------------------

1 أدب المفتي والمستفتي: "153-154"، وانظر الفقرة العشرين بطولها.

2 سير أعلام النبلاء: 23/ 143.
এর বিস্তারিত বর্ণনা ও নির্দিষ্টকরণ আমাদের কাজ নয়, বরং এর বিস্তারিত জ্ঞান আমরা মহান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করি এবং এ বিষয়ে গভীর আলোচনা থেকে আমাদের অন্তর ও জিহ্বাকে নিবৃত্ত রাখি। ফতোয়া প্রদানকারী ইমামগণের নিকট এটিই সঠিক পদ্ধতি এবং এটিই সালাফ ইমামগণ, নির্ভরযোগ্য (المعتبرة) মাযহাবসমূহের ইমামগণ এবং শ্রেষ্ঠ ফকীহ ও নেককারদের পথ। সাধারণ মানুষ এবং যাদের অন্তরে এ বিষয়ে আলোচনার ফলে সংশয় তৈরি হয়, তাদের জন্য এটি অধিকতর সুরক্ষিত ও নিরাপদ (أسلم)। তাদের মধ্যে যারা বিস্তারিতভাবে কোনো বাতিল আকিদায় বিশ্বাসী হয়ে পড়েছে, তাদের এই পদ্ধতিতে বাধ্য করার মাধ্যমে অতি সহজে ও নিরাপদ (أسلم) উপায়ে সেই বাতিল আকিদা থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। যদি উলুল আমর (রাষ্ট্রপ্রধান) এই পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করেন, তবে তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুরই অনুসরণ করলেন … আমাদের সাথীদের মধ্যে যারা ইলমুল কালাম বিশেষজ্ঞ (المتكلمون), তাঁরাও এই পদ্ধতির সঠিকতা স্বীকার করেছেন এবং একে নিরাপদ (أسلم) মনে করেছেন। ইমাম গাযালী তাঁর জীবনের শেষ দিকে এই পদ্ধতির দিকে আহ্বান জানাতে এবং এর স্বপক্ষে প্রমাণাদি পেশ করতে অনেক বেশি গুরুত্বারোপ করেছিলেন।১

"তাঁর ফতোয়াসমূহের মধ্যে এটিও রয়েছে যে, তাঁকে যখন যুক্তিবিদ্যা (المنطق) ও দর্শন (الفلسفة) নিয়ে চর্চাকারীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: দর্শন হলো মূর্খতা ও শিথিলতার মূল ভিত্তি, বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার উৎস এবং বিচ্যুতি ও জিন্দিকপনার (الزندقة) প্ররোচনা। যে ব্যক্তি দর্শন চর্চা করবে, দলীল-প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত শরীয়তের সৌন্দর্যগুলো অনুধাবনের ক্ষেত্রে তার অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে যাবে। যে এতে লিপ্ত হবে, লাঞ্ছনা ও বঞ্চনা তার সঙ্গী হবে, শয়তান তাকে গ্রাস করবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়তের আলো থেকে তার অন্তর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেছেন: শরয়ী বিধানের গবেষণায় যুক্তিবিদ্যার (المنطقية) পরিভাষা ব্যবহার করা একটি ঘৃণ্য অপছন্দনীয় (المنكرات) ও নবউদ্ভাবিত (المستحدثة) বোকামি। আল্লাহর শোকর যে, শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে যুক্তিবিদ্যার (المنطق) কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এটি নিরর্থক কোলাহল মাত্র, যা থেকে আল্লাহ সকল সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারীকে অমুখাপেক্ষী রেখেছেন। সুতরাং সুলতানের জন্য আবশ্যক হলো—আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী করুন—তিনি যেন মুসলমানদেরকে এই অশুভ লোকদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন, তাদেরকে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করেন এবং দূরে সরিয়ে দেন।"২। সুতরাং ইবনুস সালাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহির আকিদা ছিল সকল বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্ত একটি সুস্থ আকিদা। এটি ছিল একটি পরিচ্ছন্ন সালাফী আকিদা, যা ইলমুল কালাম, বিতর্ক, অপব্যাখ্যা (التأويل) এবং অন্যান্য সকল বিপদ থেকে মুক্ত ছিল যা মুসলিমদেরকে তাদের আকিদার সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

--------------------------------------------

১ আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি: "১৫৩-১৫৪", এবং সম্পূর্ণ ২০ নম্বর অনুচ্ছেদটি দেখুন।

২ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২৩/১৪৩।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ১৭)
مؤلفاته:

قال الذهبي: وأشغل، وأفتى، وجمع وألف1.

وقال ابن كثير: وقد صنف كتبًا كثيرة مفيدة في علوم الحديث والفقه2.

وقال السبكي: وصنف التصانيف المفيدة3.

وقال السخاوي: انتفع به خلق وعولوا على تصانيفه4.

ومن مؤلفاته:

1- "الأحاديث في فضل الإسكندرية وعسقلان"5.

2- "الأحاديث الكلية": قال ابن رجب الحنبلي: "وأملى الإمام الحافظ أبو عمرو بن الصلاح مجلسًا سماه "ألأحاديث الكلية" جمع فيه الأحاديث الجوامع التي يقال: إن مدار الدين عليها وما كان في معناها من الكلمات الجامعة الوجيزة فاشتمل مجلسه هذا على ستة وعشرين حديثًا، ثم إن الفقيه الإمام الزاهد القدوة أبا زكريا يحيى النووي رحمة الله عليه أخذ هذه الأحاديث التي أملاها ابن الصلاح وزاد عليها تمام اثنين وأربعين حديثًا وسمى كتابه بالأربعين"6.

3- "أدب المفتي والمستفتي"7، وهو كتابنا الذي سنتحدث عنه.

4- "الأمالي"8.

--------------------------------------------

1 سير أعلام النبلاء: 23/ 141.

2 البداية والنهاية: 13/ 168.

3 طبقات الشافعية الكبرى: 8/ 327 الهامش.

4 فتح المغيث: 1/ 13.

5 مخطوط برلين: 1389، بروكلمان: 6/ 210.

6 جامع العلوم والحكم: 1/ 7.

7 البداية والنهاية: 12/ 43، طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة: 2/ 146، طبقات السبكي الكبرى "4/ 200، / 327".

8 الأعلام: "4/ 207-208".
তাঁর রচনাবলি:

আয-যাহাবি বলেছেন: “তিনি (ইলমি কাজে) ব্যস্ত থাকতেন, ফতোয়া দিতেন এবং (হাদিস) সংগ্রহ ও সংকলন করতেন।”১

ইবনে কাসির বলেছেন: “তিনি হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) এবং ফিকহ বিষয়ে অনেকগুলো উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন।”২

আস-সুবকি বলেছেন: “তিনি বহু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন।”৩

আস-সাখাভি বলেছেন: “অসংখ্য মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং তাঁরা তাঁর সংকলিত গ্রন্থাবলির ওপর নির্ভর করেছেন।”৪

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

১- “আল-আহাদিস ফি ফাদলিল ইসকান্দারিয়া ওয়া আসকালান” (আলেকজান্দ্রিয়া ও আসকালানের ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসসমূহ)।৫

২- “আল-আহাদিস আল-কুল্লিয়্যাহ”: ইবনে রজব আল-হাম্বলি বলেছেন: “ইমাম হাফিজ (حافظ) আবু আমর ইবনুল সালাহ একটি মজলিস ইমলা (শ্রুতিলিপি) করিয়েছিলেন যার নাম দিয়েছিলেন ‘আল-আহাদিস আল-কুল্লিয়্যাহ’। এতে তিনি সেই সকল ব্যাপক অর্থবোধক হাদিসসমূহ (الأحاديث الجوامع) একত্রিত করেছিলেন যেগুলোর ব্যাপারে বলা হয়: দ্বীনের কেন্দ্রবিন্দু এগুলোর ওপর আবর্তিত এবং অনুরূপ অর্থবহ সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক বাক্যসমূহ। তাঁর এই মজলিসটি ছাব্বিশটি হাদিস সংবলিত ছিল। অতঃপর ফকিহ, ইমাম, জাহিদ এবং আদর্শ ব্যক্তিত্ব আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া আন-নববী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইবনুল সালাহ-এর ইমলাকৃত এই হাদিসগুলো গ্রহণ করেন এবং সেগুলোর সাথে আরও যোগ করে মোট বিয়াল্লিশটি হাদিস পূর্ণ করেন এবং তাঁর কিতাবটির নাম দেন ‘আল-আরবাঈন’।”৬

৩- “আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি”৭, এটিই আমাদের সেই কিতাব যা নিয়ে আমরা আলোচনা করব।

৪- “আল-আমালি”৮।

--------------------------------------------

১ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২৩/১৪১।

২ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১৩/১৬৮।

৩ তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা: ৮/৩২৭ (টীকা)।

৪ ফাতহুল মুগিস: ১/১৩।

৫ বার্লিন পাণ্ডুলিপি: ১৩৮৯, ব্রোকলম্যান: ৬/২১০।

৬ জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১/৭।

৭ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১২/৪৩, ইবনে কাদি শুহবার তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ: ২/১৪৬, আস-সুবকির তাবাকাতুল কুবরা: ৪/২০০, ৩২৭।

৮ আল-আলাম: ৪/২০৭-২০৮।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ১৮)
5- جزء فيه حلية الإمام أبي عبد الله محمد بن إدريس الشافعي1.

6- "حكم صلاة الرغائب"2. وقال الذهبي: وله مسألة ليست من قواعده شذ فيها وهي صلاة الرغائب قواها ونصرها مع أن حديثها باطل بلا تردد، ولكن له إصابات وفضائل3.

7- "شرح مشكل الوسيط"4.

8- "رسالة في وصل البلاغات الأربع في الموطأ"5.

8- "شرح الورقات في الأصول"6.

9- "صلة الناسك في صفة المناسك"7 قال ابن خلكان: جمع فيه أشياء حسنة يحتاج الناس إليها، وهو مبسوط8.

10- "صيانة صحيح مسلم من الإخلال والغلط وحمايته من الإسقاط والسقط"9.

11- "طبقات الشافعية"10، واختصره النووي واستدرك عليه، وأهملا خلائق من المشهورين فإنهما كانا يتبعان التراجم الغريبة، وأما المشهورة فإلحاقها سهل،

--------------------------------------------

1 مخطوط في المكتبة الظاهرية تحت رقم: 3795 "114-119ق"، انظر فهرست مخطوطات الظاهرية التاريخ وملحقاته، خالد الريان: 2/ 643.

2 صلة الخلف بموصول السلف للروداني تحقيق د/ محمد حجي "ص: 82" مجلة معهد المخطوطات العربية، المجلد الثامن والعشرون -الجزء الأول- رمضان 1404هـ. وطبع في المكتب الإسلامي الطبعة الثانية "1405هـ" بتحقيق زهير شاويش، وناصر الدين الألباني.

3 سير أعلام النبلاء: 23/ 143.

4 وفيات الأعيان: 3/ 244، طبقات الشافعية الكبرى للسبكي: "8/ 83، 327"، شذرات الذهب.

5 5/ 222.

حققه أبو الفضل عبد الله بن محمد بن الصديق 1400هـ.

6 بروكلمان: 6/ 211، أي شرح كتاب الورقات لأبي المعالي عبد الملك بن يوسف الجويني إمام الحرمين المتوفى سنة "478هـ".

7 ويسمى أيضًا "مناسك الحج" انظر بروكلمان: 6/ 210.

8 وفيات الأعيان: 3/ 244.

9 طبع بتحقيقنا في دار الغرب الإسلامي سنة "1404هـ-1984م".

10 شذرات الذهب: 5/ 222، وتوجد منه نسخ خطبة انظر بروكلمان: 6/ 210.
5- ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফেয়ীর প্রশংসামূলক গুণাবলি সম্বলিত একটি অংশ১।

6- "সালাতুর রাগায়িবের বিধান"২। আয-যাহাবি বলেছেন: তার এমন একটি মাসআলা রয়েছে যা তার মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তিনি এতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, আর সেটি হলো সালাতুর রাগায়িব। তিনি এটিকে শক্তিশালী ও সমর্থন করেছেন অথচ এর হাদিসটি কোনো দ্বিধা ছাড়াই বাতিল (باطل)৩। তবে তার সঠিক সিদ্ধান্ত ও অনেক গুণাবলি রয়েছে।

7- "শারহু মুশকিলিল ওয়াসিত"৪।

8- "রিসালা ফি ওয়াসলি আল-বালাগাতিল আরবা' ফিল মুয়াত্তা"৫।

8- "শারহুল ওয়ারাকাত ফিল উসুল"৬।

9- "সিলাতুন নাসিক ফি সিফাতিল মানাসিক"৭। ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: এতে তিনি চমৎকার কিছু বিষয় সংকলন করেছেন যা মানুষের প্রয়োজন হয় এবং এটি বেশ বিস্তারিত৮।

10- "সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম মিনাল ইখলাল ওয়াল গালাত ওয়া হিমায়াতুহু মিনাল ইসকাত ওয়াস সাকাত"৯।

11- "তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ"১০। ইমাম আন-নববী একে সংক্ষেপ করেছেন এবং এতে পরিমার্জন করেছেন। তারা প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের একটি বিশাল অংশকে বাদ দিয়েছেন, কারণ তারা অপরিচিত (غريب) জীবনীগুলোর অনুসরণ করতেন। আর প্রসিদ্ধদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা সহজ।

--------------------------------------------

১ মক্তবাতুজ জাহিরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি নং: ৩৭৯৫ (১১৪-১১৯ পৃষ্ঠা), দেখুন ফিহরিসতু মাখতুতাতুজ জাহিরিয়্যাহ - আত-তারিখ ওয়া মুলহাকাতুহু, খালিদ আর-রাইয়ান: ২/৬৪৩।

২ সিলতুল খালাফ বি মাওসুলিস সালাফ - আর-রুদানি, তাহকিক: ড. মুহাম্মদ হাজ্জি (পৃষ্ঠা: ৮২)। মাজাল্লাতু মাহাদিল মাখতুতাতিল আরাবিয়্যাহ, ২৮তম খণ্ড - ১ম অংশ - রমজান ১৪০৪ হিজরি। এটি মক্তবুল ইসলামি থেকে ১৪০৫ হিজরিতে জুহাইর শাওয়িশ ও নাসিরুদ্দিন আল-আলবানির তাহকিকে দ্বিতীয় সংস্করণ হিসেবে মুদ্রিত।

৩ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২৩/১৪৩।

৪ ওয়াফায়াতুল আইয়ান: ৩/২৪৪; আস-সুবকির তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা: (৮/৮৩, ৩২৭); শাযারাতুয যাহাব।

৫ ৫/২২২। আবুল ফজল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সিদ্দিক ১৪০০ হিজরিতে এর তাহকিক করেছেন।

৬ ব্রোকলম্যান: ৬/২১১, অর্থাৎ ইমামুল হারামাইন আবু মাআলি আবদুল মালিক বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনি (মৃত্যু: ৪৭৮ হিজরি) রচিত 'আল-ওয়ারাকাত' কিতাবের ব্যাখ্যা।

৭ একে "মানাসিকুল হাজ্জ"-ও বলা হয়। দেখুন ব্রোকলম্যান: ৬/২১০।

৮ ওয়াফায়াতুল আইয়ান: ৩/২৪৪।

৯ ১৪০৪ হিজরি-১৯৮৪ সালে দারুল গারবিল ইসলামি থেকে আমাদের তাহকিকে মুদ্রিত।

১০ শাযারাতুয যাহাব: ৫/২২২। এর কিছু পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান আছে, দেখুন ব্রোকলম্যান: ৬/২১০।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ১৯)
فاخترمتهما المنية رضي الله عنهما. قاله ابن قاضي شهبة1.

12- "علوم الحديث" ويسمى بـ"مقدمة ابن الصلاح"2، ولو لم يكن لابن الصلاح مؤلفًا سوى "المقدمة" لكفته شرفًا وفخرًا.

13- "الفتاوى"3، جمعها بعض أصحابه4، وهي أيضًا من محاسنه5.

14- "فوائد الرحلة"6، وهي عبارة عن فوائد جمعها في رحلته إلى الشرق عظيمة النفع في سائر العلوم، مفيدة جدًّا في مجاميع عدة7.

15- "المؤلف والمختلف"8.

16- "النكت على المهذب"9.

17- وذكر له بروكلمان: "تاريخ أسطوري للرسول عليه الصلاة والسلام": فلورنسة "121"10، ولا أعلم مدى صحة نسبة هذا الكتاب لابن الصلاح.

وفاته:

بعد حياة نظيفة حافة قضاها رحمه الله بالزهد والورع وتقوى الله عز وجل وخدمة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم انتقل إلى جوار ربه: "في سنة الخوارزمية في سحر يوم الأربعاء الخامس والعشرين من شهر ربيع الآخر سنة ثلاث وأربعين

--------------------------------------------

1 طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة: 2/ 146.

2 طبع عدة طبعات ومنها بتحقيق الدكتور نور الدين عتر.

3 طبقات ابن قاضي شهبة: 2/ 146، شذرات الذهب: 5/ 22 وهو مطبوع في القاهرة سنة 1348هـ باسم "فتاوى ابن الصلاح في التفسير والحديث والأصول".

4 وفيات الأعيان: 3/ 244.

5 طبقات الشافعية الكبرى: 8/ 327، الهامش، نقلا عن الطبقات الوسطى للسبكي.

6 طبقات ابن قاضي شهبة: 2/ 146، شذرات الذهب: 5/ 222.

7 طبقات الشافعية الكبرى: 8/ 327 الهامش نقلا عن طبقات الشافعية الوسطى.

8 نسخة منه بالظاهرية تحت رقم: "6897"، وهي نسخة ناقصة تقع في أربع ورقات اطلعت عليها.

9 طبقات ابن قاضي شهبة: 2/ 146، شذرات الذهب: 5/ 222.

10 بروكلمان: 6/ 210.
মৃত্যু তাঁদের উভয়কে (ইবনুস সালাহ ও তাঁর পিতা) পাকড়াও করেছে (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। এটি ইবনে ক্বাজী শুহবাহ১ বলেছেন।

১২- "উলূমুল হাদিস", যা "মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ"২ নামে পরিচিত। যদি ইবনুস সালাহর "মুকাদ্দিমা" ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থ না-ও থাকত, তবে এটিই তাঁর মর্যাদা ও গর্বের জন্য যথেষ্ট হতো।

১৩- "আল-ফাতাওয়া"৩, এটি তাঁর জনৈক সঙ্গী৪ সংকলন করেছেন; এটিও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ৫।

১৪- "ফাওয়ায়িদুল রিহলাহ"৬, এটি মূলত তাঁর প্রাচ্য ভ্রমণের সময় সংগৃহীত বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয়ের (فوائد) সমাহার, যা অন্যান্য সকল জ্ঞানশাস্ত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং বিভিন্ন সংকলনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উপকারী৭।

১৫- "আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ"৮।

১৬- "আন-নুকাতি আলাল মুহায্যাব"৯।

১৭- ব্রোকলম্যান তাঁর জন্য "তারীখুন আসতূরিউন লির-রাসূল" (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনীর উপকথা সংবলিত ইতিহাস) শীর্ষক একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন: ফ্লোরেন্স "১২১"১০; ইবনুস সালাহর প্রতি এই কিতাবটির সম্বন্ধের নির্ভরযোগ্যতা (صحة) সম্পর্কে আমার জানা নেই।

ইন্তেকাল:

এক স্বচ্ছ ও কর্মচঞ্চল জীবন অতিবাহিত করার পর, যা তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) যুহদ, পরহেজগারি, আল্লাহ ভীতি এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহর খিদমতে কাটিয়েছেন, তিনি তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান: "খাওয়ারিযমীদের সময়ের হিজরি ৬৪৩ সনের রবিউস সানি মাসের পঁচিশ তারিখ বুধবার শেষ রাতে...

--------------------------------------------

১ ইবনে ক্বাজী শুহবাহর 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ': ২/ ১৪৬।

২ এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে ড. নূরুদ্দীন ইতর-এর সম্পাদনা (تحقيق) সম্বলিত সংস্করণটি অন্যতম।

৩ তাবাকাতু ইবনে ক্বাজী শুহবাহ: ২/ ১৪৬, শাযারাতুয যাহাব: ৫/ ২২। এটি কায়রোতে ১৩৪৮ হিজরিতে "ফাতাওয়া ইবনুস সালাহ ফিত তাফসীর ওয়াল হাদিস ওয়াল উসুল" নামে মুদ্রিত হয়েছে।

৪ ওফায়াতুল আ’য়ান: ৩/ ২৪৪।

৫ তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/ ৩২৭, টীকা, সুবকির 'তাবাকাতুল উসতা' থেকে উদ্ধৃত।

৬ তাবাকাতু ইবনে ক্বাজী শুহবাহ: ২/ ১৪৬, শাযারাতুয যাহাব: ৫/ ২২২।

৭ তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/ ৩২৭, টীকা, 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল উসতা' থেকে উদ্ধৃত।

৮ যাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে '৬৮৯৭' নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি আছে; এটি একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি যা চার পৃষ্ঠার, আমি এটি দেখেছি।

৯ তাবাকাতু ইবনে ক্বাজী শুহবাহ: ২/ ১৪৬, শাযারাতুয যাহাব: ৫/ ২২২।

১০ ব্রোকলম্যান: ৬/ ২১০।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ২০)
وستمائة، وحمل على الرؤوس، وازدحم الخلق على سريره، وكان على جنازته هيبة وخشوع، فصلي عليه بجامع دمشق، وشيعوه إلى داخل باب الفرج فصلوا عليه بداخله ثاني مرة، ورجع الناس لمكان حصار دمشق بالخوارزمية وبعسكر الملك الصالح نجم الدين أيوب لعمه الملك الصالح عماد الدين إسماعيل، فخرج بنعشه نحو العشرة مشمرين، ودفنوه بمقابر الصوفية … وعاش ستًّا وستين سنة1.

--------------------------------------------

1 سير أعلام النبلاء: "23/ 143-144".
এবং ছয়শত (হিজরি সাল); তাঁর মরদেহ মস্তকের ওপর বহন করা হয় এবং তাঁর খাটিয়ার নিকট মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। তাঁর জানাজায় গাম্ভীর্য ও বিনয় বিদ্যমান ছিল। দামেস্কের জামে মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ পড়া হয়। এরপর মানুষ তাঁর জানাজার মিছিলে শরিক হয়ে বাব আল-ফারাজের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং সেখানে দ্বিতীয়বার তাঁর জানাজা আদায় করে। সেসময় খাওয়ারজমিয় দল এবং মালিক আল-সালিহ নাজমুদ্দিন আইয়ুবের সৈন্যবাহিনী কর্তৃক তাঁর চাচা মালিক আল-সালিহ ইমাদুদ্দিন ইসমাইলকে দামেস্কে অবরোধ করে রাখার কারণে লোকজন পুনরায় অবরোধস্থলে ফিরে যায়। অতঃপর প্রায় দশজন প্রস্তুত ব্যক্তি তাঁর খাটিয়া নিয়ে বের হন এবং তাঁকে সুফি কবরস্থানে দাফন করেন … এবং তিনি ৬৬ বছর বেঁচে ছিলেন১।

--------------------------------------------

১ সিয়ারু আলামিন নুবালা: "২৩/ ১৪৩-১৪৪"।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌تعريف:

تعريف الفتوى لغة واصطلاحًا:

1- الفتوى لغة:

قال ابن منظور: "أفتاه في الأمر أبان له، وأفتى الرجل في المسألة واستفتيته فيها فأفتاني إفتاء … يقال: أفتيت فلانًا رؤيا رآها إذا عبرتها له، وأفتيته في مسألة إذا أجبته عنها … يقال: أفتاه في المسألة إذا أجابه … والفتيا والفُتْوى والفَتْوى: ما أفتى به الفقيه، الفتح في الفتوى لأهل المدينة1 … قال ابن سيدة: وإنما قضينا على ألف أفتى بالياء لكثرة ف ت ي، وقلة ف ت و … "2.

وفي تفسير قوله تعالى: {وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ} 3 قال عبد الحق بن عطية: "أي يبين لكم حكم ما سألتم"4.

"ومما تقدم نعلم أن الاستفتاء في اللغة يعني السؤال عن أمر أو عن حكم مسألة، وهذا السائل يسمى المستفتي، والمسئول الذي يجيب: هو المفتي، وقيامه

--------------------------------------------

1 قال في المحكم: "وهو الجاري على القياس" مواهب الجليل للخطاب: 1/ 32.

2 لسان العرب: "15/ 147، 148" مادة "فتا".

3 النساء: آية: "127".

4 المحرر الوجيز: 4/ 267.
সংজ্ঞা:

ফতোয়া (الفتوى)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:

১- শাব্দিক অর্থে ফতোয়া (الفتوى):

ইবনে মনজুর বলেছেন: "কাউকে কোনো বিষয়ে ফতোয়া (أفتاه) দেওয়ার অর্থ হলো বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট করা। কোনো ব্যক্তি কোনো মাসআলায় ফতোয়া দিয়েছে এবং আমি তার কাছে ফতোয়া প্রার্থনা (استفتيته) করেছি, অতঃপর সে আমাকে ফতোয়া (أفتاني) প্রদান করেছে … বলা হয়: 'আমি অমুককে তার দেখা স্বপ্নের ফতোয়া দিয়েছি' যখন আমি তার নিকট এর ব্যাখ্যা বা তাবির পেশ করেছি, আর 'আমি তাকে কোনো মাসআলায় ফতোয়া দিয়েছি' যখন আমি তাকে তার উত্তর দিয়েছি … বলা হয়: 'সে তাকে মাসআলাটিতে ফতোয়া দিয়েছে' যখন সে তাকে উত্তর প্রদান করেছে … আর ফুতয়া (الفتيا), ফুতওয়া (الفُتْوى) এবং ফাতওয়া (الفَتْوى) হলো: ফকিহ (الفقيه) যা ফতোয়া হিসেবে প্রদান করেন। মদিনাবাসীদের নিকট 'ফাতওয়া' শব্দে ফাতহাহ দিয়ে উচ্চারণ করা প্রচলিত ১ … ইবনে সিদাহ বলেছেন: 'আফতা' (أفتى) শব্দের শেষে বিদ্যমান আলিফকে আমরা 'ইয়া' হওয়ার ফয়সালা দিয়েছি 'ফা-তা-ইয়া' (ف ت ي)-এর ব্যবহার অধিক এবং 'ফা-তা-ওয়া' (ف ت و)-এর ব্যবহার স্বল্প হওয়ার কারণে … " ২।

মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে: {তারা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ফতোয়া (وَيَسْتَفْتُونَكَ) চায়; বলুন, আল্লাহ তাদের বিষয়ে তোমাদেরকে ফতোয়া (يُفْتِيكُمْ) দিচ্ছেন} ৩ আব্দুল হক ইবনে আতিয়্যাহ বলেছেন: "অর্থাৎ তোমরা যা জিজ্ঞাসা করেছ তার বিধান তিনি তোমাদের জন্য স্পষ্ট করছেন" ৪।

"পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারি যে, শাব্দিক অর্থে ইস্তিফতা (الاستفتاء) মানে হলো কোনো বিষয় বা কোনো মাসআলার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা। এই প্রশ্নকারীকে মুস্তাফতি (المستفتي) বলা হয় এবং উত্তর দানকারীকে বলা হয় মুফতি (المفتي), আর তার এই দায়িত্ব পালনকে

--------------------------------------------

১ আল-মুহকাম গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এটিই কিয়াস (القياس)-এর অনুকূল।" মাওয়াহিবুল জলিল লিল হাত্তাব: ১/ ৩২।

২ লিসানুল আরব: ১৫/ ১৪৭, ১৪৮, "ফাতা" (فتا) মূলশব্দ।

৩ আন-নিসা: আয়াত: ১২৭।

৪ আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ: ৪/ ২৬৭।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ২৪)
بالجواب هو الإفتاء، وما يجيب به هو الفتوى، فالإفتاء يتضمن وجود المستفتي والمفتي والإفتاء نفسه والفتوى"1.

الإفتاء اصطلاحًا:

قال الدكتور عبد الكريم زيدان: "والمعنى الاصطلاحي للإفتاء هو المعنى اللغوي لهذه الكلمة وما تتضمنه من وجود مستفتٍ ومفتٍ وإفتاء وفتوى، ولكن بقيد واحد هو أن المسألة التي وقع السؤال عن حكمها تعتبر من المسائل الشرعية، وأن حكمها المراد معرفته هو حكم شرعي2.

2- وعرف العلماء المفتي بتعاريف عدة:

قال الشاطبي: "المفتي هو القائم في الأمة مقام النبي صلى الله عليه وسلم … "3.

وقال ابن حمدان: "المفتي: هو المخبر بحكم الله تعالى لمعرفته بدليله. وقيل: هو المخبر عن الله بحكمه.

وقيل: هو المتمكن من معرفة أحكام الوقائع شرعًا بالدليل مع حفظه لأكثر الفقه"4.

وقال ابن القيم: "المفتي هو المخبر عن حكم الله غير منفذ"5.

وقال ابن الصلاح: " … ولذلك قيل في الفتوى: إنها توقيع عن الله تبارك وتعالى"6.

--------------------------------------------

1 أصول الدعوة للدكتور عبد الكريم زيدان: 130.

2 أصول الدعوة للدكتور عبد الكريم زيدان: 130.

3 الموافقات للشاطبي: 4/ 244.

4 صفة الفتوى: 44.

5 إعلام الموقعين: 4/ 224.

6 أدب المفتي: 72.
উত্তর প্রদান করাই হলো ইফতার (إفتاء), আর যার মাধ্যমে উত্তর প্রদান করা হয় তা হলো ফতোয়া (فتوى)। সুতরাং ইফতার (إفتاء) প্রক্রিয়ায় ফতোয়া প্রার্থী (مستفتٍ), ফতোয়া প্রদানকারী (مفتٍ), স্বয়ং ইফতার (إفتاء) এবং ফতোয়া (فتوى) অন্তর্ভুক্ত।

পারিভাষিক অর্থে ইফতার (إفتاء):

ডক্টর আব্দুল কারিম যাইদান বলেন: "ইফতার (إفتاء) এর পারিভাষিক অর্থ হলো এই শব্দটির শাব্দিক অর্থ এবং এতে ফতোয়া প্রার্থী (مستفتٍ), ফতোয়া প্রদানকারী (مفتٍ), ইফতার (إفتاء) ও ফতোয়ার (فتوى) অস্তিত্ব থাকা। তবে শর্ত হলো, যে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তা শরয়ী মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে এবং যার বিধান জানতে চাওয়া হয়েছে তা একটি শরয়ী বিধান (حكم شرعي) হতে হবে।

২- উলামায়ে কেরাম মুফতির (مفتي) বেশ কিছু সংজ্ঞা প্রদান করেছেন:

ইমাম শাতবি বলেন: "মুফতি (مفتي) হলেন উম্মতের মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি … "।

ইবনে হামদান বলেন: "মুফতি (مفتي): হলেন তিনি, যিনি আল্লাহর বিধান সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেন তাঁর দলিল (دليل) সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে। আবার বলা হয়েছে: তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বিধানের (حكم) সংবাদ প্রদানকারী।

আরও বলা হয়েছে: তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি শরীয়তের দৃষ্টিতে দলিল (دليل) সহকারে বাস্তব ঘটনাপ্রবাহের বিধানসমূহ (أحكام) অনুধাবনে সক্ষম এবং অধিকাংশ ফিকহশাস্ত্রে পারদর্শী"।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "মুফতি (مفتي) হলেন আল্লাহর বিধান (حكم) সম্পর্কে সংবাদ প্রদানকারী, তবে তিনি তা বাস্তবায়নকারী নন"।

ইবনুস সালাহ বলেন: " … আর এই কারণেই ফতোয়া (فتوى) সম্পর্কে বলা হয়েছে: এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে স্বাক্ষর (توقيع) স্বরূপ"।

--------------------------------------------

১. ডক্টর আব্দুল কারিম যাইদানের উসুলুদ দাওয়াহ: ১৩০।

২. ডক্টর আব্দুল কারিম যাইদানের উসুলুদ দাওয়াহ: ১৩০।

৩. শাতবির আল-মুওয়াফাকাত: ৪/ ২৪৪।

৪. সিফাতুল ফাতওয়া: ৪৪।

৫. ইলামুল মুওয়াক্কিঈন: ৪/ ২২৪।

৬. আদাবুল মুফতি: ৭২।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ২৫)
3- المجتهد والمفتي:

الاجتهاد لغة:

قال في التاج: ""الجهد" بالفتح الطاقة والوسع، ويضم. قال ابن الأثير: "الجَهْدُ والجُهْدُ … بالضم: الوسع والطاقة، وبالفتح: المشقة. وقيل: المبالغة والغاية. وقيل: هما لغتان في الوسع والطاقة، فأما في المشقة والغاية فالفتح لا غير … "1.

وفي المشارق لعياض نقلا عن ابن عرفة: الجُهد بالضم الوسع والطاقة، والجهد المبالغة والغاية ومنه قوله تعالى: {جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ} أي بالغوا في اليمين واجتهدوا فيها.

والتجاهد: بذل الوسع والمجهود كالاجتهاد افتعال من الجهد الطاقة … "2.

4- الاجتهاد في الاصطلاح:

وأما الاجتهاد في الاصطلاح فقال الرازي هو: "استفراغ الوسع في النظر فيما لا يلحقه فيه لوم، مع استفراغ الوسع فيه"3.

وقال الغزالي: في الاجتهاد التام: "أن يبذل الوسع في الطلب بحيث يحس من نفسه بالعجز عن مزيد طلب"4.

وقال الزركشي: "الاجتهاد: بذل الوسع لنيل حكم شرعي بطريق الاستنباط"5.

--------------------------------------------

1 النهاية: 1/ 320.

2 تاج العروس: "2/ 329، 330" مادة "جهد".

3 المحصول: 2/ 3/ 7 وانظر اعتراض الإمام القرافي على تعريف الرازي في: "نفائس الأصول شرح المحصول": "3/ … ".

4 المستصفى: 2/ 350. وانظر الرسالة للإمام الشافعي: 511.

5 البحر المحيط: 3/ 281.
3- মুজতাহিদ (المجتهد) ও মুফতি (المفتي):

শাব্দিক অর্থে ইজতিহাদ (الاجتهاد):

তাজুল আরুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: যবরযোগে "জহদ" (الجهد) অর্থ হলো শক্তি ও সামর্থ্য, আর এটি পেশ যোগেও পড়া হয়। ইবনুল আসির বলেছেন: "জহদ (الجَهْد) ও জুহদ (الجُهْد) ... পেশযোগে: সামর্থ্য ও শক্তি, আর যবরযোগে: কষ্ট ও পরিশ্রম। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ চরম প্রচেষ্টা ও পরিসীমা। আবার বলা হয়েছে: সামর্থ্য ও শক্তির ক্ষেত্রে শব্দ দুটি একই অর্থের দুটি রূপ, তবে কষ্ট ও পরিসীমার ক্ষেত্রে কেবল যবরযোগেই (الفتح) ব্যবহৃত হয় ..."১।

ইমাম ইয়ায-এর মাশারিক গ্রন্থে ইবনে আরাফাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে: পেশযোগে জুহদ (الجُهْد) হলো সামর্থ্য ও শক্তি, আর যবরযোগে জহদ (الجهد) হলো চরম প্রচেষ্টা ও পরিসীমা। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের কসমের পূর্ণ গুরুত্বসহ} অর্থাৎ তারা কসমের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে এবং তাতে ইজতিহাদ (اجتهدوا) করেছে।

তাজাহুদ (التجاهد): নিজের পূর্ণ সামর্থ্য ও প্রচেষ্টা ব্যয় করা, যা ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর সমার্থক; এটি শক্তি অর্থবোধক 'জহদ' থেকে ইফতিআল (افتعال) ছাঁচে গঠিত ... ২।

4- পারিভাষিক অর্থে ইজতিহাদ (الاجتهاد):

আর পারিভাষিক সংজ্ঞায় ইমাম রাযী বলেন: এটি হলো "এমন বিষয়ে চিন্তা-গবেষণায় নিজের পূর্ণ সামর্থ্য বিলিয়ে দেওয়া যাতে কোনো প্রকার নিন্দা বা তিরস্কারের সম্মুখীন হতে হয় না, এবং তাতে নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করা"৩।

ইমাম গাযালী পূর্ণাঙ্গ ইজতিহাদ (الاجتهاد) সম্পর্কে বলেন: "কোনো কিছু অন্বেষণের ক্ষেত্রে নিজের পূর্ণ সামর্থ্য এমনভাবে ব্যয় করা যাতে নিজের মধ্যে এর চেয়ে অতিরিক্ত অন্বেষণ করার বিষয়ে অক্ষমতা অনুভূত হয়"৪।

ইমাম যারকাশী বলেন: "ইজতিহাদ (الاجتهاد) হলো ইস্তিম্বাত (الاستنباط)-এর মাধ্যমে শরয়ি বিধান (حكم شرعي) লাভের জন্য নিজের পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করা"৫।

--------------------------------------------

১ আন-নিহায়াহ: ১/ ৩২০।

২ তাজুল আরুস: ২/ ৩২৯, ৩৩০, "জহদ" অনুচ্ছেদ।

৩ আল-মাহসুল: ২/ ৩/ ৭ এবং আল-মাহসুলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'নাফাইসুল উসুল'-এ ইমাম রাযীর সংজ্ঞার ওপর ইমাম কারাফীর আপত্তি দেখুন: ৩/ ...।

৪ আল-মুস্তাসফা: ২/ ৩৫০। আরও দেখুন ইমাম শাফেয়ীর আল-আর-রিসালাহ: ৫১১।

৫ আল-বাহরুল মুহিত: ৩/ ২৮১।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال الآمدي: "استفراغ الوسع في طلب الظن بشيء من الأحكام الشرعية على وجه يحس من النفس العجز عن المزيد فيه"1.

وقال ابن السبكي: "الاجتهاد: استفراغ الفقيه الوسع لتحصيل ظن بحكم"2.

وقال ابن الحاجب: "الاجتهاد، استفراغ الفقيه الوسع لتحصيل ظن بحكم شرعي"3.

وقال البيضاوي: "الاجتهاد استفراغ الجهد في درك الأحكام الشرعية"4.

وقال البهاري: "الاجتهاد: بذل الطاقة من الفقيه في تحصيل حكم شرعي ظني"5.

وقال ابن الهمام: "الاجتهاد: بذل الطاقة من الفقيه في تحصيل حكم شرعي ظني"6.

وقال ملاخسرو: "الاجتهاد: استفراغ المجهود في استنباط الحكم الشرعي الفرعي عن دليله"7.

وقال ابن بدران: "الاجتهاد: استفراغ الوسع في طلب الظن بشيء من الأحكام الشرعية على وجه يحس من النفس العجز عن المزيد عليه"8.

--------------------------------------------

1 الإحكام: 4/ 218.

2 جمع الجوامع: 2/ 379.

3 مختصر ابن الحاجب مع شرح العضد: 2/ 289.

4 المنهاج: 3/ 191.

5 مسلم الثبوت: 2/ 336.

6 التحرير: 4/ 179.

7 مرقاة الوصول: 2/ 464.

8 المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل: 367.
আল-আমেদি বলেন: "শরয়ি বিধানসমূহের (الأحكام الشرعية) কোনো একটির ক্ষেত্রে ধারণা (ظن) লাভের অন্বেষণে সামর্থ্যের (وسع) সর্বোচ্চ ব্যয় (استفراغ) করা এমনভাবে, যাতে নিজের মাঝে এর অতিরিক্ত কিছু করার ব্যাপারে অক্ষমতা অনুভূত হয়।"1.

ইবনে আস-সুবকি বলেন: "ইজতিহাদ (الاجتهاد): কোনো বিধান (حكم) সম্পর্কে ধারণা (ظن) লাভের উদ্দেশ্যে ফকিহর (فقيه) সামর্থ্যের (وسع) সর্বোচ্চ ব্যয় (استفراغ) করা।"2.

ইবনুল হাজিব বলেন: "ইজতিহাদ (الاجتهاد): কোনো শরয়ি বিধান (حكم شرعي) সম্পর্কে ধারণা (ظن) লাভের উদ্দেশ্যে ফকিহর (فقيه) সামর্থ্যের (وسع) সর্বোচ্চ ব্যয় (استفراغ) করা।"3.

আল-বায়দাভি বলেন: "ইজতিহাদ (الاجتهاد): শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) উপলব্ধির ক্ষেত্রে প্রচেষ্টার (الجهد) সর্বোচ্চ ব্যয় (استفراغ) করা।"4.

আল-বাহারি বলেন: "ইজতিহাদ (الاجتهاد): কোনো ধারণাগত (ظني) শরয়ি বিধান (حكم شرعي) অর্জনে ফকিহর (فقيه) সামর্থ্য (الطاقة) ব্যয় করা।"5.

ইবনুল হুমাম বলেন: "ইজতিহাদ (الاجتهاد): কোনো ধারণাগত (ظني) শরয়ি বিধান (حكم شرعي) অর্জনে ফকিহর (فقيه) সামর্থ্য (الطاقة) ব্যয় করা।"6.

মোল্লা খসরু বলেন: "ইজতিহাদ (الاجتهاد): দলিল থেকে শাখাভিত্তিক শরয়ি বিধান (الحكم الشرعي الفرعي) উদ্ভাবনের (استنباط) ক্ষেত্রে সাধ্যমতো প্রচেষ্টার (المجهود) সর্বোচ্চ ব্যয় (استفراغ) করা।"7.

ইবনে বদরান বলেন: "ইজতিহাদ (الاجتهاد): শরয়ি বিধানসমূহের (الأحكام الشرعية) কোনো একটির ক্ষেত্রে ধারণা (ظن) লাভের অন্বেষণে সামর্থ্যের (وسع) সর্বোচ্চ ব্যয় (استفراغ) করা এমনভাবে, যাতে নিজের মাঝে এর অতিরিক্ত কিছু করার ব্যাপারে অক্ষমতা অনুভূত হয়।"8.

--------------------------------------------

1 আল-ইহকাম: ৪/ ২১৮।

2 জামউল জাওয়ামি: ২/ ৩৭৯।

3 মুখতাসার ইবনুল হাজিব মাআ শারহিল আদুদ: ২/ ২৮৯।

4 আল-মিনহাজ: ৩/ ১৯১।

5 মুসাল্লামুস সুবুত: ২/ ৩৩৬।

6 আত-তাহরির: ৪/ ১৭৯।

7 মিরকাতুল উসুল: ২/ ৪৬৪।

8 আল-মাদখাল ইলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল: ৩৬৭।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال القرافي: "الاجتهاد: بذل الوسع في الأحكام الفرعية الكلية ممن حصلت شرائط الاجتهاد"1.

وبعد تعريف "الإفتاء" و"المفتي" و"الاجتهاد" نريد أن نعرف هل هناك فرق بين "المجتهد" و"المفتي". ذهب كثير من الأصوليين إلى أنه لا فرق بين "المجتهد" و"المفتي"، وأن "المجتهد" هو "المفتي".

قال ابن الهمام: "إن المفتي هو المجتهد وهو الفقيه"2، وقال المحلاوي: "إن المفتي عند الأصوليين هو المجتهد المطلق"3.

وقال الشوكاني: "إن المفتي هو المجتهد … ومثله قول من قال: إن المفتي هو الفقيه لأن المراد به المجتهد في مصطلح الأصول"4.

وهذا هو رأي الحافظ ابن الصلاح رحمه الله تعالى فإنه عندما يتحدث عن "المجتهد وصفاته وأحكامه وآدابه" يعبر عنه بقوله: "القول في شروط المفتي وصفاته وأحكامه وآدابه" وقوله: "المفتي المستقل وشروطه".

وقوله: "فمن جمع هذه الفضائل فهو المفتي المستقل … ".

وقوله: "والمجتهد المستقل هو الذي يستقل بإدراك … "، وهكذا ذهب ابن الصلاح رحمه الله تعالى إلى أنه لا فرق بين المفتي والمجتهد، وأن المفتي هو المجتهد.

--------------------------------------------

1 نفائس الأصول شرح المحصول: "3/ … ".

2 التحرير في أصول الفقه: 547.

3 تسهيل الأصول إلى علم الأصول: 327.

4 إرشاد الفحول: 547.
আল-কারাফি বলেন: "ইজতিহাদ (الاجتهاد) হলো: যাঁর মাঝে ইজতিহাদের (الاجتهاد) শর্তাবলি অর্জিত হয়েছে, তাঁর পক্ষ থেকে সামগ্রিক শাখাগত বিধানসমূহ (الأحكام الفرعية الكلية) আহরণে পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করা"১।

"ইফতা (الإفتاء)", "মুফতি (المفتي)" এবং "ইজতিহাদ (الاجتهاد)" এর সংজ্ঞায়নের পর আমরা জানতে চাই যে, "মুজতাহিদ (المجتهد)" ও "মুফতি (المفتي)" এর মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না। অধিকাংশ উসুলবিদ (الأصوليين) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, মুজতাহিদ (المجتهد) ও মুফতি (المفتي) এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং মুজতাহিদই (المجتهد) হলেন মুফতি (المفتي)।

ইবনুল হুমাম বলেন: "নিশ্চয়ই মুফতি (المفتي) হলেন মুজতাহিদ (المجتهد) এবং তিনিই ফকিহ (الفقيه)"২, এবং আল-মাহাল্লাবি বলেন: "উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট মুফতি (المفتي) হলেন মুজতাহিদ মুতলাক (المجتهد المطلق)"৩।

শাওকানি বলেন: "নিশ্চয়ই মুফতি (المفتي) হলেন মুজতাহিদ (المجتهد) … এবং অনুরূপ কথা তাঁরও যিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই মুফতি (المفتي) হলেন ফকিহ (الفقيه); কারণ উসুল শাস্ত্রের পরিভাষায় (مصطلح الأصول) এর দ্বারা মুজতাহিদ (المجتهد) উদ্দেশ্য"৪।

এটিই হাফেজ ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এর অভিমত; কেননা তিনি যখন "মুজতাহিদ (المجتهد), তাঁর গুণাবলি, বিধান ও আদব" সম্পর্কে আলোচনা করেন, তখন একে এভাবে ব্যক্ত করেন: "মুফতির (المفتي) শর্তাবলি, গুণাবলি, বিধান ও আদব বিষয়ক আলোচনা" এবং তাঁর উক্তি: "স্বতন্ত্র মুফতি (المفتي المستقل) এবং তাঁর শর্তাবলি।"

এবং তাঁর উক্তি: "সুতরাং যিনি এই গুণাবলি অর্জন করবেন, তিনিই হলেন স্বতন্ত্র মুফতি (المفتي المستقل) … "।

এবং তাঁর উক্তি: "আর স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (المجتهد المستقل) হলেন তিনি, যিনি (বিধান) অনুধাবনে স্বতন্ত্র … "; এভাবেই ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এই মত পোষণ করেছেন যে, মুফতি (المفتي) ও মুজতাহিদ (المجتهد) এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং মুফতিই (المفتي) হলেন মুজতাহিদ (المجتهد)।

--------------------------------------------

১ নাফাইসুল উসুল শারহুল মাহসুল: ৩/ … ।

২ আত-তাহরির ফি উসুলিল ফিকহ: ৫৪৭।

৩ তাসহিলুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল: ৩২৭।

৪ ইরশাদুল ফুহুল: ৫৪৭।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌دراسة الكتاب:

1-‌‌ تسمية الكتاب والأسباب التي دفعت ابن الصلاح إلى تأليف الكتاب:

ذكرت المصادر كتاب ابن الصلاح هذا وسمته بأسماء متعددة. فقد جاء على صفحة العنوان من نسخة سليمانية كتبخانه برقم: "1/ 650" "فتاوى ابن الصلاح، وشروط المفتي وأوصافه وأحكامه وصفة المستفتي وأحكامه وكيفية الفتوى والاستفتاء وآدابهما". وجاء في صفحة العنوان على نسخة الفاتح المرقمة: "2347" "فتاوى ابن الصلاح على مذهب الشافعي".

وجاء في صفحة العنوان على نسخة مكتبة جو رلولو علي باشا المرقمة "266" "جواهر الفتاوى وآداب المفتي والمستفتي". وجاء في صفحة العنوان على نسخة شستربتي المرقمة: "3854" "آداب المفتي" لابن الصلاح.

ولعل ذكر كلمة "فتاوى" في تسمية الكتاب يرجع إلى مقدمة الكتاب التي قال فيها ابن الصلاح: "وأتبرأ من الحول والقوة إلا به في تأليف كتاب في الفتوى لائق بالوقت أفصح فيه إن شاء الله العظيم عن شروط المفتي وأوصافه، وأحكامه".

وذكر السبكي الكتاب في "طبقات الشافعية الكبرى"1. وسماه "أدب الفتيا"، كما ذكره في كتاب "طبقات الشافعية الوسطى"2 وسماه "أدب

--------------------------------------------

1 4/ 200.

2 مطبوعة بهامش الطبقات الكبرى: 8/ 327.
গ্রন্থ পরিচিতি:

১- গ্রন্থের নামকরণ এবং ইবনে আস-সালাহকে গ্রন্থটি রচনায় উদ্বুদ্ধকারী কারণসমূহ:

বিভিন্ন উৎসগ্রন্থে ইবনে আস-সালাহ-এর এই গ্রন্থটির উল্লেখ পাওয়া যায় এবং সেখানে একে একাধিক নামে অভিহিত করা হয়েছে। সুলায়মানিয়া কুতুবখানার "১/৬৫০" নম্বর পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতায় বর্ণিত হয়েছে: "ফাতাওয়া ইবনে আস-সালাহ, ওয়া শুরুতুল মুফতি ওয়া আওসাফুহু ওয়া আহকামুহু ওয়া সিফাতুল মুস্তাফতি ওয়া আহকামুহু ওয়া কাইফিয়াতুল ফাতওয়া ওয়াল ইস্তিফতা ওয়া আদাবুহুমা"। ফাতেহ-এর "২৩৪৭" নম্বর পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতায় এসেছে: "ফাতাওয়া ইবনে আস-সালাহ আলা মাজহাবিশ শাফিঈ"।

জুরলুলু আলী পাশা লাইব্রেরির "২৬৬" নম্বর পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতায় এসেছে: "জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া ওয়া আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি"। চেস্টার বিটি-র "৩৮৫৪" নম্বর পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতায় এসেছে: ইবনে আস-সালাহ রচিত "আদাবুল মুফতি"।

সম্ভবত গ্রন্থের নামকরণে "ফাতাওয়া" শব্দটির ব্যবহার গ্রন্থটির ভূমিকার সাথে সংশ্লিষ্ট, যেখানে ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: "আমি কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের উপযোগী ফাতাওয়া সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ রচনার সংকল্প করছি, যেখানে আমি মহান আল্লাহর ইচ্ছায় মুফতির শর্তাবলি, গুণাবলি ও বিধিবিধানসমূহ সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করব।"

ইমাম সুবকি 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা' গ্রন্থে গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেছেন এবং একে 'আদাবুল ফুতইয়া' নামে অভিহিত করেছেন। একইভাবে তিনি 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-ওসতা' গ্রন্থেও এটি উল্লেখ করেছেন এবং নাম দিয়েছেন 'আদাব...

--------------------------------------------

১ ৪/ ২০০।

২ তাবাকাতুল কুবরা-এর হাশিয়া বা পার্শ্বটীকায় মুদ্রিত: ৮/ ৩২৭।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৩২)
المفتي"، وكذا سماه ابن كثير في "البداية والنهاية"1 وذكره ابن قاضي شهبة في "طبقات الشافعية"2، وسماه "أدب المفتي والمستفتي"، كذا سماه ابن العماد الحنبلي في "شذرات الذهب"3، وحاجي خليفة في "كشف الظنون"4، وبروكلمان في "تاريخ الأدب العربي"5. إذن فاسم الكتاب الكامل هو "أدب المفتي والمستفتي" كما ذكره ابن قاضي شهبة وغيره.

أما الأسباب التي صنف "ابن الصَّلاح كتابه هذا من أجلها فقد بيَّنها رحمه الله تعالى في مقدمة كتابه فقال: " … ولما عظم شأن الفتوى في الدين وتسنم المفتون منه سنام السناء، وكانوا قرات الأعين، لا تلم بهم على كثرتهم أعين الأسواء، فنعق بهم في أعصارنا ناعق الفناء، وتفانت بتفانيهم أندية ذلك العلاء إلى أن قال: "وأتبرأ من الحول والقوة إلا به في تأليف كتاب في الفتوى، لائق بالوقت، أفصح فيه إن شاء الله العظيم عن شروط المفتي، وأوصافه، وأحكامه، وعن صفة المستفتي وأحكامه، وعن كيفية الفتوى والاستفتاء وآدابهما"6 إن شعور ابن الصلاح رحمه الله تعالى بمنزلة "الإفتاء" العظيمة، وموقعها الكبير في المجتمع المسلم، وفضلها العظيم، هو الذي دفعه إلى تصنيف هذا الكتاب، ومن أجل توعية الآخرين بخطر الفتوى وأنه يجب التهيب من الإفتاء، وعدم الجرأة على إصدار الأحكام مع قلة العلم … والرغبة في تعليم المستفتي أدب السؤال، وآداب الكلام، بل أدب المسلم نحو أهل العلم … كل هذه الأسباب دفعت ابن الصلاح رحمه الله تعالى إلى تأليف هذا الكتاب القيم النفيس.

--------------------------------------------

1 12/ 43.

2 طبقات ابن قاضي شهبة: 2/ 146.

3 5/ 22.

4 1/ 48.

5 6/ 210.

6 أدب المفتي: "69-70".
"আল-মুফতি", ইবনে কাসীর তাঁর "আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া"১ গ্রন্থে একে এই নামেই অভিহিত করেছেন। ইবনে কাজি শুহবা "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ"২ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন "আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি"। ইবনুল ইমাদ আল-হানবালী "শাযারাতুয যাহাব"৩ গ্রন্থে, হাজি খলিফা "কাশফুয যুনুন"৪ গ্রন্থে এবং ব্রোকলম্যান "তারিখুল আদাবিল আরবি"৫ গ্রন্থে একে এই নামেই অভিহিত করেছেন। সুতরাং গ্রন্থটির পূর্ণাঙ্গ নাম হলো "আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি", যেমনটি ইবনে কাজি শুহবা এবং অন্যরা উল্লেখ করেছেন।

ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ) যেসকল কারণে তাঁর এই গ্রন্থটি রচনা করেছেন, তা তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় বর্ণনা করে বলেছেন: "... যখন দ্বীনের মধ্যে ফতোয়ার মর্যাদা অতি মহান হলো এবং মুফতিগণ এর সুউচ্চ শিখরে আরোহণ করলেন, তাঁরা ছিলেন নয়নমণি স্বরূপ, তাঁদের সংখ্যাধিক্য সত্ত্বেও অকল্যাণের দৃষ্টি তাঁদের স্পর্শ করতে পারেনি। অতঃপর আমাদের যুগে তাঁদের জন্য ধ্বংসের আহ্বানকারী হাহাকার করে উঠল এবং তাঁদের তিরোধানের সাথে সাথে সেই উচ্চমর্যাদার মজলিসগুলোও বিলীন হয়ে গেল..." এমনকি তিনি বলেন: "ফতোয়া বিষয়ে সমসাময়িক উপযোগী একটি কিতাব রচনায় আমি আল্লাহ ছাড়া সকল প্রকার শক্তি ও সামর্থ্য থেকে দায়মুক্ত হচ্ছি। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এতে আমি মুফতির শর্তাবলি (شروط), তাঁর গুণাবলি ও বিধানসমূহ (أحكام), মাসআলা জিজ্ঞাসাকারীর (المستفتي) বৈশিষ্ট্য ও বিধানসমূহ (أحكام), এবং ফতোয়া প্রদান ও মাসআলা জিজ্ঞাসার পদ্ধতি ও এ সংক্রান্ত শিষ্টাচারসমূহ (آداب) সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করব।"৬ ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর অন্তরে 'ইফতা' বা ফতোয়া প্রদান (إفتاء)-এর সুমহান মর্যাদা, মুসলিম সমাজে এর গুরুত্ব এবং এর বিশাল ফজিলত সম্পর্কে যে অনুভূতি ছিল, সেটিই তাঁকে এই গ্রন্থটি রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এছাড়া ফতোয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে অন্যদের সচেতন করা, ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা এবং স্বল্প ইলম নিয়ে বিধান (أحكام) প্রদানের দুঃসাহস না দেখানো ... এবং মাসআলা জিজ্ঞাসাকারীকে (المستفتي) প্রশ্ন করার শিষ্টাচার (أدب), কথা বলার আদব (آداب), এমনকি আলেমদের (أهل العلم) প্রতি একজন মুসলিমের শিষ্টাচার (أدب) শিক্ষা দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা—এই সকল কারণ ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-কে এই মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ গ্রন্থটি রচনায় অনুপ্রাণিত করেছে।

--------------------------------------------

১ ১২/ ৪৩।

২ তাবাকাতু ইবনে কাজি শুহবা: ২/ ১৪৬।

৩ ৫/ ২২।

৪ ১/ ৪৮।

৫ ৬/ ২১০।

৬ আদাবুল মুফতি: "৬৯-৭০"।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
2-‌‌ منهج ابن الصلاح في الكتاب:

الإسلام دين الله تبارك وتعالى، ومشرع أحكامه ومناهجه هو الله عز وجل فعلى المسلم أن ينقاد لشريعة الله ويستسلم لرب العالمين، وأن لا يأتي ما يناقض حقيقة الإسلام لا في الاعتقاد ولا في الأقوال ولا في الأفعال، والمسلم قبل أن يفعل الفعل أو يقول القول لا بد أن يسأل نفسه إن كان هذا الفعل موافقًا لشريعة الإسلام أو غير موافق، فإن عرف الجواب فخير، وإن لم يعرف الجواب فلا بد أن يسأل أهل العلم كي يتعلم، قال الله تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} .

فإن لم يسأل وفعل الفعل أو قال القول فقد يقع في العصيان أو الابتداع، بل قد يؤدي به الأمر إلى الارتداد عن الإسلام.

"وسؤال الجاهل أهل العلم، وجواب هؤلاء له، وما يتعلق بهذين الموقفين: موقف الجاهل وهو يسأل، وموقف العالم وهو يجيب، من وجوب عليهما في السؤال والجواب أو ندب أو إباحة بلا وجوب في السؤال والجواب، وغير ذلك من الأمور، كل ذلك يكون ما يعرف في الشريعة الإسلامية بنظام الإفتاء1. ونظام الإفتاء في الإسلام له ضوابط وأصول، ومن أجل بيان هذه الضوابط والأصول ألف ابن الصلاح كتابه هذا ولقد بين ابن الصلاح منهجه هذا في مقدمة الكتاب فقال:

" … في تأليف كتاب في الفتوى لائق بالوقت، أفصح فيه إن شاء الله العظيم عن شروط المفتي وأوصافه وأحكامه، وعن صفة المستفتي وأحكامه، وعن كيفية الفتوى والاستفتاء، وآدابهما جامعًا فيه شمل نفائس التقطتها من خبايا الروايا، وخفايا الزوايا، ومهمات تقر بها أعين أعيان الفقهاء، ويرفع من قدرها من كثرت مطالعته من الفهماء، ويبادر إلى تحصيلها كل من ارتفع عن حضيض الضعفاء مقدمًا: بيان شرف مرتبة الفتوى وخطرها، والتنبيه على آفاتها وعظيم غدرها … "2، ونظرة سريعة على

--------------------------------------------

1 أصول الدعوة للدكتور عبد الكريم زيدان: 130.

2 أداب المفتي والمستفتي: 70.
২-‌‌ গ্রন্থে ইবনে আস-সালাহর কর্মপদ্ধতি:

ইসলাম মহান আল্লাহর মনোনীত ধর্ম, এবং এর বিধান ও কর্মপদ্ধতির প্রণেতা হলেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। সুতরাং একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো আল্লাহর শরিয়তের সামনে আত্মসমর্পণ করা এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালকের অনুগত হওয়া। বিশ্বাস, কথা কিংবা কাজের মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত রূপের পরিপন্থী কোনো কিছু যেন প্রকাশ না পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা। কোনো কাজ করার বা কথা বলার আগে একজন মুসলিমের নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত যে, এই কাজটি ইসলামি শরিয়তসম্মত কি না। যদি উত্তর জানা থাকে তবে তা উত্তম, আর যদি জানা না থাকে তবে শেখার জন্য অবশ্যই জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করো।"

যদি সে জিজ্ঞাসা না করে কোনো কাজ করে বা কথা বলে, তবে সে পাপাচার কিংবা নবপ্রবর্তনের (ابتداع) মধ্যে নিপতিত হতে পারে, এমনকি বিষয়টি তাকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত বা ধর্মত্যাগের (ارتداد) দিকেও নিয়ে যেতে পারে।

"একজন অজ্ঞ ব্যক্তির আলেমদের কাছে প্রশ্ন করা এবং তার প্রেক্ষিতে আলেমদের উত্তর প্রদান, আর এই দুই অবস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি—অর্থাৎ প্রশ্ন করার সময় অজ্ঞ ব্যক্তির অবস্থান এবং উত্তর দেওয়ার সময় আলেমের অবস্থান; প্রশ্ন ও উত্তরের ক্ষেত্রে তাদের উভয়ের ওপর অর্পিত ওয়াজিব, মুস্তাহাব কিংবা কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া কেবল বৈধতা সংক্রান্ত বিধান এবং অন্যান্য বিষয়—এই সবকিছুই ইসলামি শরিয়তে ‘ফতোয়া প্রদান ব্যবস্থা’ (نظام الإفتاء) হিসেবে পরিচিত। ইসলামে ফতোয়া প্রদান ব্যবস্থার নির্দিষ্ট নীতিমালা ও মূলনীতি রয়েছে। আর এই নীতিমালা ও মূলনীতিসমূহ বর্ণনার উদ্দেশ্যেই ইবনে আস-সালাহ তার এই গ্রন্থটি রচনা করেছেন। ইবনে আস-সালাহ গ্রন্থের ভূমিকায় তার এই কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করে বলেছেন:

" … সময়ের উপযোগী ফতোয়া বিষয়ক একটি গ্রন্থ রচনায়, যাতে ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করবেন ফতোয়া প্রদানকারীর (مفتي) শর্তাবলি, তার গুণাবলি ও বিধানসমূহ; ফতোয়া প্রার্থীর (مستفتي) বৈশিষ্ট্য ও বিধানসমূহ; এবং ফতোয়া প্রদান ও ফতোয়া যাঞ্চা করার পদ্ধতি ও আদবসমূহ। এতে আমি এমন সব মণি-মুক্তো একত্রিত করেছি যা বিভিন্ন দুর্লভ বর্ণনা ও নিভৃত উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে রয়েছে যা বিজ্ঞ ফকিহগণের (فقهاء) দৃষ্টি জুড়াবে এবং প্রাজ্ঞ পাঠকদের কাছে এর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। যারা দুর্বলদের নিম্নস্তর থেকে ঊর্ধ্বে উঠেছেন, তারা এটি অর্জনে সচেষ্ট হবেন। এর শুরুতে থাকবে: ফতোয়া প্রদানের সুউচ্চ মর্যাদা ও এর গুরুত্বের বর্ণনা এবং এর আপদ ও ভয়াবহ বিপদসমূহ সম্পর্কে সতর্কতা … "।

--------------------------------------------

১ ড. আব্দুল কারিম জায়দানের উসুল আদ-দাওয়াহ: ১৩০।

২ আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি: ৭০।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فهرست المواضيع تعطي للقارئ الكريم فكرة عن الكتاب ومباحثه.

ويلحظ القارئ في منهج ابن الصلاح رحمه الله تعالى أنه حاول أن يجمع بين أسلوب المحدثين والفقهاء في كتابه هذا وليس هذا بالمستغرب عن ابن الصلاح فهو محدث كبير وإمام حافظ، فهو صاحب "المقدمة" في علوم الحديث، و"صيانة صحيح مسلم" … وهو فقيه كبير من الفقهاء.

ومحاولة ابن الصلاح في الجمع بين الأسلوب الحديثي والفقهي تجلت بوضوح في فصل "بيان شرف حرمة الفتوى وخطرها وغررها"، إذ نقل الأقوال بالسند، وأفاد في هذا الفصل من المحدثين الذين سبقوه في الكتابة عن "المفتي والمستفتي"، كالخطيب البغدادي في كتابه "الفقيه والمتفقه"، وابن عبد البر في كتابه "جامع بيان العلم وفضله"، فإن الخطيب البغدادي، وابن عبد البر لم يسهبا بذكر أقوال الفقهاء والأصوليين في كتبايهما، وإنما كانا يذكران المسألة التي يريدان الحديث عنها، ثم يبرهنان على صوابها بما ورد عن الرسول صلى الله عليه وسلم، أو عن الصحابة أو التابعين، أو الأئمة المعتبرين. وغالب روايتهم بالإسناد … فتابعهم ابن الصلاح في هذا الفصل واقتبس الكثير منهم حتى يكاد معظم هذا الفصل يكون مقتبسًا من كتابي "الفقيه والمتفقه" و"جامع بيان العلم وفضله".

ومن الأسلوب الحديثي الذي اتبعه ضبطه لألفاظ الروايات التي يذكرها. ومن هذه الروايات الرواية التي ذكرها في "المسألة السادسة عشرة" عن أبي بكر محمد بن داود الأصبهاني الظاهري في المسألة التي سألته فيها امرأة: "ما تقول في رجل له زوجة لا هو ممسكها ولا هو مطلقها، فقد جاء في الرواية "أبو العباس الخضري" و"تؤمر بالصبر" و"يبعث على التطلب". وهذه الأسماء والكلمات التصحيف فيها وارد لذا نرى ابن الصلاح رحمه الله تعالى يقول في آخر الرواية:

"قلت: التصحيف شين فاعلم: أن أبا العباس الخضري: هذا هو بخاء معجمة مضمومة، وبضاد معجمة مفتوحة.
সূচিপত্র সম্মানিত পাঠককে কিতাবটি এবং এর আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদান করবে।

পাঠক ইবনে আল-সালাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মানহাজে লক্ষ্য করবেন যে, তিনি তাঁর এই কিতাবে মুহাদ্দিস (محدث) এবং ফকিহগণের (فقهاء) পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছেন। ইবনে আল-সালাহ-এর ক্ষেত্রে এটি আশ্চর্যের বিষয় নয়, কারণ তিনি একজন বড় মুহাদ্দিস (محدث) এবং ইমাম (إمام) ও হাফিজ (حافظ)। তিনি হাদিস শাস্ত্রের উপর লিখিত 'আল-মুকাদ্দিমাহ' এবং 'সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম'-এর রচয়িতা … এবং তিনি ফকিহদের (فقهاء) মধ্যে একজন বড় ফকিহ (فقيه) ছিলেন।

ইবনে আল-সালাহ-এর হাদিস ও ফিকহ পদ্ধতির সমন্বয়ের প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে "ফতোয়ার উচ্চ মর্যাদা, এর গুরুত্ব ও ঝুঁকি বর্ণনা" শীর্ষক পরিচ্ছেদে। যেখানে তিনি সনদসহ (سند) উক্তিগুলো উদ্ধৃত করেছেন এবং এই পরিচ্ছেদে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণের (محدثين) লেখা "আল-মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি" (মুফতি ও ফতোয়া প্রার্থী) সংক্রান্ত আলোচনা থেকে উপকৃত হয়েছেন। যেমন আল-খতিব আল-বাগদাদি তাঁর 'আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ' কিতাবে এবং ইবনে আবদিল বার তাঁর 'জামি' বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' কিতাবে। আল-খতিব আল-বাগদাদি এবং ইবনে আবদিল বার তাঁদের কিতাবদ্বয়ে ফকিহ (فقهاء) ও উসুলবিদদের (أصوليين) উক্তি বিস্তরভাবে উল্লেখ করেননি, বরং তাঁরা যে বিষয়ে আলোচনা করতে চাইতেন সেই মাসআলাটি উল্লেখ করতেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবী, তাবিঈ অথবা নির্ভরযোগ্য ইমামগণের কাছ থেকে বর্ণিত বক্তব্যের মাধ্যমে তার সঠিকতা প্রমাণ করতেন। তাঁদের অধিকাংশ বর্ণনা ছিল সনদসহ (إسناد) … ইবনে আল-সালাহ এই পরিচ্ছেদে তাঁদের অনুসরণ করেছেন এবং তাঁদের থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, এমনকি এই পরিচ্ছেদের অধিকাংশ অংশ 'আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ' এবং 'জামি' বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' কিতাবদ্বয় থেকে সংকলিত।

তিনি যে হাদিসতাত্ত্বিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তার মধ্যে একটি হলো তাঁর উল্লিখিত বর্ণনার (روايات) শব্দাবলির যথাযথ বিন্যাস ও নির্ভুলতা (ضبط)। এই বর্ণনাসমূহের (روايات) মধ্যে একটি বর্ণনা (رواية) যা তিনি 'ষোড়শ মাসআলা'-তে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আল-আসবাহানি আজ-জাহিরি থেকে উল্লেখ করেছেন, যে মাসআলায় এক নারী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আপনি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যার একজন স্ত্রী আছে কিন্তু সে তাকে না নিজের কাছে রাখে, না তালাক দেয়।" বর্ণনায় (رواية) "আবু আল-আব্বাস আল-খুদরি", "তু'মারু বিস-সবর" এবং "ইউবআসু আলাত তাতাল্লুব" শব্দগুলো এসেছে। এই নাম এবং শব্দগুলোতে ভুল পড়ার বা লিপিবিকৃতির (تصحيف) সম্ভাবনা রয়েছে, তাই আমরা দেখি যে ইবনে আল-সালাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণনার (رواية) শেষে বলছেন:

"আমি বলি: ভুল পড়া বা বর্ণবিকৃতি (تصحيف) একটি ত্রুটি, অতএব জেনে রাখো: আবু আল-আব্বাস আল-খুদরি; এটি হলো পেশযুক্ত 'খা' এবং জবরযুক্ত 'দদ' সহযোগে।"
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقوله: تؤمر بالصبر: في أوله التاء للمؤنث.

وقوله: يبعث على التطلب: في أوله الياء التي هي للمذكر"1، بل أحيانًا يشرح المعنى اللغوي كما هو الحال في الرواية السابقة إذ قال: "وقولها: لا هو ممسكها: أي ليس ينفق عليها"2. وقوله في الرواية التي يرويها بسنده عن أبي سعيد الشحام التي رأى سهلا الصعلوكي في المنام فسأله عن حاله فقال له: "غفر لي بمسائل كان يسأل عنها العجز". قال ابن الصلاح رحمه الله تعالى:

العجز: بضم العين والجيم، العجائز3.

وأما أسلوبه الفقهي فواضح جلي بكثرة اقتباساته من المصادر الفقهية والأصولية، وذكره لآراء الأئمة الفقهاء في المسائل التي يتطرق إليها، كما يذكر الاختلافات في بعض المسائل ويرجح بين الأقوال في أغلب الأحيان.

ومذهب ابن الصلاح رحمه الله تعالى هو المذهب الشافعي لذا نراه لا يخرج عن هذا المذهب في الآراء التي يذكرها. بل إنه يفضل هذا المذهب على غيره من المذاهب، ويبرز ذلك بقوله: "ولما كان الشافعي قد تأخر عن هؤلاء الأئمة ونظر في مذاهبهم نحو نظرهم في مذاهب من قبلهم، فسبرها وخبرها وانتقدها، واختار أرجحها، ووجد من قبله قد كفاه مؤنة التصوير والتأصيل فتفرغ للاختيار والترجيح والتنقيح والتكميل، مع كمال آلته وبراعته في العلوم، وترجحه في ذلك على من سبقه، ثم لم يوجد بعده من بلغ محله في ذلك، كان مذهبه أولى المذاهب بالاتباع والتقليد، وهذا مع ما فيه من الإنصاف والسلامة من القدح في أحد الأئمة جلي واضح، إذا تأمله العامي قاده إلى اختيار مذهب الشافعي والتمذهب به"4.

وابن الصلاح رحمه الله تعالى لم يكتف بتفصيل مذهب الشافعي رحمه الله

--------------------------------------------

1 "أدب المفتي": 133.

2 "أدب المفتي": 133.

3 "أدب المفتي": 136.

4 "أدب المفتي": "163-164".
এবং তাঁর বক্তব্য: ‘তূমারু বিস-সাবর’: এর শুরুতে ‘তা’ অক্ষরটি স্ত্রীলিঙ্গের জন্য।

এবং তাঁর বক্তব্য: ‘ইউবআসু আলাত তাতাল্লুব’: এর শুরুতে ‘ইয়া’ অক্ষরটি পুংলিঙ্গের জন্য।"১; বরং কখনো কখনো তিনি আভিধানিক অর্থও ব্যাখ্যা করেন, যেমনটি পূর্ববর্তী বর্ণনা (رواية) -এর ক্ষেত্রে দেখা যায়, যখন তিনি বলেছিলেন: "এবং তাঁর উক্তি: ‘লা হুয়া মুমসিকুহা’: অর্থাৎ তিনি তাঁর জন্য ব্যয় নির্বাহ করছেন না।"২। এবং সেই বর্ণনা (رواية) -টিতে তাঁর বক্তব্য যা তিনি তাঁর সনদ (سند) -যোগে আবু সাঈদ আশ-শাহহাম থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি স্বপ্নে সাহল আস-সালুকিকে দেখেছিলেন এবং তাঁকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "সেইসব মাসআলা (مسألة) -র কারণে আমাকে ক্ষমা করা হয়েছে যা বৃদ্ধা মহিলারা জিজ্ঞাসা করত।" ইবন আস-সালাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন:

আল-উজুয: ‘আইন’ ও ‘জীম’ বর্ণে পেশ যোগে, যার অর্থ বৃদ্ধা মহিলারা।৩

আর তাঁর ফিকহ (فقه) সংক্রান্ত পদ্ধতি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল, যা ফিকহ (فقه) এবং উসুল (أصول) বিষয়ক মূল উৎসগুলো থেকে তাঁর প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান এবং যে সকল মাসআলা (مسألة) নিয়ে তিনি আলোচনা করেন তাতে ফকিহ ইমামদের (أئمة) মতামত উল্লেখ করার মাধ্যমে ফুটে ওঠে। তদুপরি তিনি কিছু মাসআলা (مسألة) -র ক্ষেত্রে মতভেদও উল্লেখ করেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতের মধ্যে প্রাধান্য দান (ترجيح) করে থাকেন।

ইবন আস-সালাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর মাজহাব (مذهب) হলো শাফেয়ি মাজহাব (مذهب), তাই আমরা দেখতে পাই যে তিনি তাঁর বর্ণিত মতামতগুলোতে এই মাজহাব (مذهب) থেকে বিচ্যুত হন না। বরং তিনি এই মাজহাবকে (مذهب) অন্যান্য মাজহাবের (مذهب) ওপর প্রাধান্য দেন এবং তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তা প্রকাশ পায়: "যেহেতু ইমাম শাফেয়ি এই ইমামদের (أئمة) পরে এসেছিলেন এবং তাঁদের মাজহাব (مذهب) নিয়ে তদ্রূপ পর্যালোচনা করেছিলেন যেরূপ তাঁরা তাঁদের পূর্ববর্তীদের মাজহাব (مذهب) নিয়ে করেছিলেন; অতঃপর তিনি সেগুলোকে যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং সমালোচনা করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্যটিকে বেছে নিয়েছেন। তিনি দেখতে পেয়েছেন যে তাঁর পূর্ববর্তীরা বিষয় চিত্রায়ন ও মূলনীতি নির্ধারণের (تأصيل) কষ্টসাধ্য কাজগুলো করে গেছেন, ফলে তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানে পূর্ণ দক্ষতা ও পারদর্শিতার সাথে নির্বাচন, প্রাধান্য দান (ترجيح), পরিমার্জন ও পূর্ণতা দানের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ পান। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর পূর্ববর্তীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। অতঃপর তাঁর পরে এমন কাউকে পাওয়া যায়নি যে তাঁর স্তরে পৌঁছাতে পেরেছে। তাই অনুসরণ (اتباع) ও তাকলিদের (تقليد) ক্ষেত্রে তাঁর মাজহাবই (مذهب) সর্বাধিক উপযুক্ত। এটি যেমন একদিকে ন্যায়পরায়ণতা এবং কোনো ইমামের (أئمة) প্রতি কটাক্ষ করা থেকে মুক্ত, তেমনি তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও প্রোজ্জ্বল। কোনো সাধারণ মানুষ যদি এটি নিয়ে চিন্তা করে, তবে তা তাকে শাফেয়ি মাজহাব (مذهب) গ্রহণ করতে এবং এর অনুসারী হতে পরিচালিত করবে।"৪

ইবন আস-সালাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) কেবল শাফেয়ি মাজহাবের (مذهب) বিস্তারিত বিবরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি

--------------------------------------------

১ "আদাবুল মুফতি": ১৩৩।

২ "আদাবুল মুফতি": ১৩৩।

৩ "আদাবুল মুফতি": ১৩৬।

৪ "আদাবুল মুফতি": "১৬৩-১৬৪"।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
تعالى على غيره من المذاهب بل نراه يميل إلى إغلاق باب الاجتهاد المطلق. فيقول: "وقد ذكر بعض الأصوليين منا: أنه لم يوجد بعض عصر الشافعي مجتهد مستقل.

وحكى اختلافًا بين أصحابنا وأصحاب أبي حنيفة في أبي يوسف ومحمد، والمزني، وابن سريج خاصًا، هل كانوا من المجتهدين المستقلين، أو من المجتهدين في المذاهب؟ "1.

وقال أيضًا: " … ومنذ دهر طويل طوى بساط المفتي المستقل المطلق، والمجتهد المستقل، وأفضى أمر الفتوى إلى الفقهاء المنتسبين إلى أئمة المذاهب المتبوعة … "2.

--------------------------------------------

1 "أدب المفتي": "93-94".

2 "أدب المفتي": 91.
অন্যান্য মাযহাবের তুলনায় (তিনি একে প্রাধান্য দেন), বরং আমরা তাঁকে নিরঙ্কুশ ইজতিহাদ (الاجتهاد المطلق)-এর দ্বার রুদ্ধ করার প্রতি ঝুঁকে থাকতে দেখি। তিনি বলেন: "আমাদের কতিপয় মূলনীতিবিদ (الأصوليين) উল্লেখ করেছেন যে: ইমাম শাফেয়ীর যুগের পর আর কোনো স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (مجتهد مستقل) পাওয়া যায়নি।

তিনি ইমাম আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ, মুযানী এবং বিশেষ করে ইবনে সুরাইজ সম্পর্কে আমাদের সাথিগণ ও ইমাম আবু হানিফার সাথিগণের মধ্যকার মতভেদ বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা কি স্বতন্ত্র মুজতাহিদগণ (المجتهدين المستقلين) ছিলেন, নাকি মাযহাব ভিত্তিক মুজতাহিদগণ (المجتهدين في المذاهب) ছিলেন?" ১।

তিনি আরও বলেন: " … দীর্ঘকাল আগে থেকেই স্বতন্ত্র নিরঙ্কুশ মুফতি (المفتي المستقل المطلق) এবং স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (المجتهد المستقل)-এর কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে গেছে এবং ফতোয়া প্রদানের বিষয়টি অনুসৃত মাযহাবসমূহের ইমামদের অনুসারী ফকিহগণের (الفقهاء) নিকট ন্যস্ত হয়েছে … " ২।

--------------------------------------------

১ "আদাবুল মুফতি": "৯৩-৯৪"।

২ "আদাবুল মুফতি": ৯১।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
3-‌‌ موارد ابن الصلاح في الكتاب:

لم يكن ابن الصلاح رحمه الله تعالى أول من كتب في موضوع "الفتيا"؛ بل هنالك من تقدمه في هذا المضمار سواء من المحدثين أو الفقهاء والأصوليين … فلا بد أن يقتبس منهم وينهل من موردهم، ورغم صغر حجم الرسالة نرى أن ابن الصلاح رحمه الله تعالى أكثر من الاقتباس عمن تقدمه من المحدثين والأصوليين ومن هذه المصنفات.

1- "أدب المفتي والمستفتي": لأبي القاسم عبد الواحد بن الحسين بن محمد القاضي الصيمري "ت386هـ" وقد اقتبس منه في أكثر من عشرة مواضع.

2- "أدب الدين والدنيا": لأبي الحسن على بن محمد بن حبيب الماوردي "ت450هـ".

3- "الحاوي": لأبي الحسن علي بن محمد بن حبيب الماوردي: كما نقل نصوصًا عديدة عن الإمام الماوردي ولم يصرح باسم الكتاب الذي اقتبس منه
3-‌‌ কিতাবটিতে ইবনে আস-সালাহ-এর উৎসসমূহ:

ইবনে আস-সালাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) "ফতোয়া প্রদান (الفتيا)" বিষয়ে কলম ধরা প্রথম ব্যক্তি ছিলেন না; বরং এই ময়দানে তাঁর পূর্বসূরি অনেকেই ছিলেন, তাঁরা হাদিস বিশারদ (المحدثين), ফকিহ (الفقهاء) কিংবা উসুলবিদ (الأصوليين) যে-ই হোন না কেন … ফলে তাঁদের থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করা এবং তাঁদের জ্ঞানের উৎসধারা থেকে উপকৃত হওয়া তাঁর জন্য অপরিহার্য ছিল। রিসালাহটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে আস-সালাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর পূর্ববর্তী হাদিস বিশারদ (المحدثين) ও উসুলবিদগণের (الأصوليين) থেকে এবং এই সকল গ্রন্থ থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

1- "আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি": এটি আবুল কাসিম আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-কাজি আস-সাইমারি (মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি)-এর রচনা এবং তিনি এই কিতাব থেকে দশটিরও বেশি স্থানে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

2- "আদাবুদ দ্বীন ওয়াদ দুনিয়া": এটি আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব আল-মাওয়ার্দি (মৃত্যু ৪৫০ হিজরি)-এর রচনা।

3- "আল-হাউয়ী": এটি আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব আল-মাওয়ার্দির রচনা; তিনি ইমাম মাওয়ার্দি থেকে বহু উদ্ধৃতি বর্ণনা করেছেন, তবে যে কিতাব থেকে তিনি উদ্ধৃতি নিয়েছেন তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ومجموع النصوص التي اقتبسها من الإمام الماوردي سواء من كتاب "أدب الدين والدنيا"، أو "الحاوي" أو غير ذلك تربو على ستة نصوص.

4- "الغياثي": لركن الدولة إمام الحرمين أبي المعالي عبد الملك بن عبد الله بن يوسف بن محمد الجويني "ت478هـ".

5- "النهاية" وهو "نهاية المطلب في دراية المذهب": لإمام الحرمين الجويني.

6- "شرح رسالة الشافعي": لإمام الحرمين الجويني. كما نقل نصوصًا عديدة عن الإمام الجويني ولم يصرح باسم الكتاب الذي نقل عنه. وهذه الاقتباسات عن الإمام الجويني تقرب من ثمانية نصوص.

7- "الشامل": لأبي نصر بن الصباغ عبد السيد بن محمد بن عبد الواحد بن أحمد بن جعفر "ت477هـ".

8- "المختصر": لأبي إبراهيم إسماعيل بن يحيى بن إسماعيل بن عمرو بن إسحاق المزني "ت264هـ".

9- "أصول الفقه": لأبي الحسن علي بن محمد بن علي إلكيا الهراسي "ت504هـ".

10- "فتاوى القاضي الحسين بن محمد بن أحمد المروروذي" "ت462هـ" تعليق أبي محمد الحسين بن مسعود الفراء البغوي "ت516هـ".

11- "جامع بيان العلم وفضله": لأبي عمر يوسف عبد الله بن محمد بن عبد البر النمري القرطبي الأندلسي "ت463هـ".

12- "الفقيه والمتفقه": لأبي بكر بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي "ت463هـ".

13- "مناقب أبي الحسن علي بن محمد بن خلف المعافري القابسي المالكي ت403هـ": لأبي عبد الله المالكي.

14- كما اقتبس نصوصًا عن أبي الفتح أحمد بن علي بن محمد بن برهان
ইমাম মাওয়ার্দি থেকে তিনি "আদাবুদ দ্বীন ওয়াদ দুনয়া", "আল-হাউই" অথবা অন্যান্য গ্রন্থ থেকে যেসব উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, তার মোট সংখ্যা ছয়টিরও অধিক।

৪- "আল-গিয়াসি": রুকনুদ্দৌলা ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলি আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি "মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি" এর রচিত।

৫- "আন-নিহায়া", যা হলো "নিহায়াতুল মাতলাব ফি দিরায়াতিল মাজহাব": ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনির রচিত।

৬- "শারহু রিসালাতিশ শাফেয়ি": ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনির রচিত। এছাড়াও তিনি ইমাম আল-জুওয়াইনি থেকে অনেক উদ্ধৃতি নকল করেছেন যেখানে তিনি গ্রন্থটির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। ইমাম আল-জুওয়াইনি থেকে নেওয়া এই উদ্ধৃতিগুলোর সংখ্যা প্রায় আটটি।

৭- "আশ-শামিল": আবু নাসর বিন আস-সাববাগ আব্দুল সাইয়িদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ বিন জাফর "মৃত্যু ৪৭৭ হিজরি" এর রচিত।

৮- "আল-মুখতাসার": আবু ইব্রাহিম ইসমাইল বিন ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল বিন আমর বিন ইসহাক আল-মুজানি "মৃত্যু ২৬৪ হিজরি" এর রচিত।

৯- "উসুলুল ফিকহ": আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী ইলকিয়া আল-হাররাসি "মৃত্যু ৫০৪ হিজরি" এর রচিত।

১০- "ফাতাওয়া আল-কাজি আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মারওয়ারুজি" "মৃত্যু ৪৬২ হিজরি", যার টীকা (تعليق) লিখেছেন আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন বিন মাসউদ আল-ফাররা আল-বাগাউয়ি "মৃত্যু ৫১৬ হিজরি"।

১১- "জামি বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি": আবু উমর ইউসুফ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বার আল-নামারি আল-কুরতুবি আল-আন্দালুসি "মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি" এর রচিত।

১২- "আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ": আবু বকর বিন আলী বিন সাবিত আল-খাতিব আল-বাগদাদি "মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি" এর রচিত।

১৩- "মানাকিব আবিল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ আল-মাআফিরি আল-কাবেসি আল-মালিকি মৃত্যু ৪০৩ হিজরি": আবু আব্দুল্লাহ আল-মালিকির রচিত।

১৪- একইভাবে তিনি আবু ফাতহ আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন বুরহান থেকেও কিছু উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
"ت518هـ" ولم يصرح باسم الكتاب الذي اقتبس منه.

15- واقتبس من الإمام أبي حامد محمد بن محمد بن أحمد الطوسي الغزالي "ت505هـ" نصوصًا عديدة.

16- واقتبس من أبي السعادات المبارك بن محمد بن محمد بن الأثير الجزري "ت606هـ".

17- واقتبس من أبي علي الحسين بن شعيب بن محمد السنجي "ت430هـ".

18- واقتبس من أبي عبد الله الحسين بن الحسن بن محمد الحليمي "ت430هـ".

19- واقتبس من أبي المحاسن عبد الواحد بن إسماعيل بن أحمد الروياني "ت502هـ".

20- ومن أبي بكر محمد بن إبراهيم بن المنذر "ت318هـ".

21- ومن "تعاليق" أبي حامد أحمد بن محمد بن أحمد الإسفراييني "ت406هـ".

22- ومن أبي المظفر منصور بن محمد بن عبد الجبار بن أحمد محمد السمعاني الكبير "ت489هـ".

23- ومن أبي الحسين أحمد بن محمد بن أحمد المعروف بابن القطان "ت359هـ".

24- ومن أبي بكر عبد الله بن أحمد بن عبد الله القفال الصغير المروزي "ت417هـ".

25- ومن أبي الوليد سليمان بن خلف بن سعد بن أيوب بن وارث الباجي "ت474هـ".

26- ومن الأستاذ أبي إسحاق إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الإسفراييني "ت418هـ".

27- ومن الأستاذ أبي منصور عبد القاهر بن طاهر بن محمد التميمي البغدادي
"মৃত্যু ৫১৮ হিজরি" এবং তিনি যে গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।

১৫- এবং তিনি ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আত-তুসি আল-গাজালি "মৃত্যু ৫০৫ হিজরি" থেকে অনেকগুলো পাঠ (نصوص) উদ্ধৃত করেছেন।

১৬- এবং তিনি আবুস সাআদাত আল-মুবারক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-আসির আল-জাজারি "মৃত্যু ৬০৬ হিজরি" থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

১৭- এবং তিনি আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে শুআইব ইবনে মুহাম্মদ আস-সাঞ্জি "মৃত্যু ৪৩০ হিজরি" থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

১৮- এবং তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-হালিমি "মৃত্যু ৪৩০ হিজরি" থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

১৯- এবং তিনি আবু আল-মাহাসিন আবদুল ওয়াহিদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আহমদ আর-রুয়ানি "মৃত্যু ৫০২ হিজরি" থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

২০- এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনজির "মৃত্যু ৩১৮ হিজরি" থেকে।

২১- এবং আবু হামিদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-ইসফারায়িনি "মৃত্যু ৪০৬ হিজরি"-এর "টীকা (تعاليق)" থেকে।

২২- এবং আবু আল-মুজাফফর মানসুর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে আহমদ মুহাম্মদ আস-সামআনি আল-কাবির "মৃত্যু ৪৮৯ হিজরি" থেকে।

২৩- এবং ইবনে আল-কাত্তান নামে পরিচিত আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ "মৃত্যু ৩৫৯ হিজরি" থেকে।

২৪- এবং আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাফফাল আস-সাগির আল-মারওয়াযি "মৃত্যু ৪১৭ হিজরি" থেকে।

২৫- এবং আবু আল-ওয়ালিদ সুলায়মান ইবনে খালাফ ইবনে সাদ ইবনে আইয়ুব ইবনে ওয়ারিস আল-বাজি "মৃত্যু ৪৭৪ হিজরি" থেকে।

২৬- এবং উস্তাদ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-ইসফারায়িনি "মৃত্যু ৪১৮ হিজরি" থেকে।

২৭- এবং উস্তাদ আবু মানসুর আব্দুল কাহির ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমি আল-বাগদাদি থেকে।
(খণ্ড: ১) আদাবুল মুফতী ওয়াল মুস্তাফতী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
"ت429هـ".

28- ومن أبي إسحاق إبراهيم بن علي بن يوسف الشيرازي الفيروزابادي "ت476هـ". وهذه النصوص بعضها من كتاب "اللمع" وبعضها من كتاب "التبصرة"، لأبي إسحاق الشيرازي.

29- ومن أبي حاتم محمود بن الحسن بن محمد بن يوسف القزويني ت"440هـ".

إن كثرة النصوص المقتبسة في هذه الرسالة تدل على مدى عناية ابن الصلاح رحمه الله تعالى بهذا الكتاب كما أنها تدل على سعة ثقافته وإحاطته بالمادة التي يصنف فيها، ولعل أكثر مصادر ابن الصلاح في هذا الكتاب هو كتاب "أدب المفتي والمستفتي" لأبي القاسم الصيمري. و"الفقيه والمتفقه" للخطيب البغدادي.

و"جامع بيان العلم وفضله" لابن عبد البر القرطبي. وكذلك نقوله عن الإمام الماوردي، والجويني.

ويلاحظ على هذه الموارد أنها مصنفات لها القيمة العلمية الكبيرة، وأنها لأئمة جهابذة لهم المكانة العلمية المرموقة …
"মৃত্যু ৪২৯ হিজরি"।

২৮- এবং আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আলি বিন ইউসুফ আশ-শিরাজি আল-ফিরুজাবাদি "মৃত্যু ৪৭৬ হিজরি" থেকে। এই পাঠ্যাংশগুলোর কিছু অংশ আবু ইসহাক আশ-শিরাজির "আল-লুমা" কিতাব থেকে এবং কিছু অংশ "আত-তাবসিরাহ" কিতাব থেকে সংগৃহীত।

২৯- এবং আবু হাতিম মাহমুদ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কাজওয়িনি "মৃত্যু ৪৪০ হিজরি" থেকে।

এই রিসালায় উদ্ধৃত পাঠ্যাংশের আধিক্য প্রমাণ করে যে, ইবনুল সালাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এই কিতাবটির প্রতি কতটা যত্নবান ছিলেন। পাশাপাশি এটি তাঁর পাণ্ডিত্যের ব্যাপকতা এবং যে বিষয়ে তিনি সংকলন করছেন সেই বিষয়ের ওপর তাঁর গভীর জ্ঞান ও বেষ্টনী নির্দেশ করে। সম্ভবত এই কিতাবে ইবনুল সালাহর অধিকাংশ উৎস হলো আবু আল-কাসিম আস-সাইমারির "আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি" এবং খাতিব আল-বাগদাদির "আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ"।

এবং ইবনু আবদিল বার আল-কুরতুবির "জামি’ বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি"। একইভাবে ইমাম আল-মাওয়ার্দি এবং আল-জুওয়াইনি থেকে তাঁর উদ্ধৃতিসমূহ।

লক্ষ্য করা যায় যে, এই উৎসগুলো অত্যন্ত উচ্চ জ্ঞানতাত্ত্বিক মানসম্পন্ন সংকলন, এবং এগুলো এমন সব দক্ষ বিশেষজ্ঞ ইমামদের (أئمة جهابذة) কাজ যাদের রয়েছে সুউচ্চ ইলমি মর্যাদা …