(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: -)
بذل المجهود في إفحام اليهود ت طويلة   (السموأل بن يحيى المغربي)

القسم: العقيدة


الكتاب: بذل المجهود في إفحام اليهود

المؤلف: السموأل بن يحيى بن عباس المغربي (ت نحو 570هـ)

الناشر: دار القلم - دمشق، الدار الشامية - بيروت

قدم له وخرج نصوصه وعلق عليه: عبد الوهاب طويلة

الطبعة: الأولى، 1410هـ - 1989م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الأول 1432

বজলোল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ (তাবিলা তাহকিককৃত)   (সামাওয়াল ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাগরিবি)

বিভাগ: আকীদা


বই: বজলোল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ

লেখক: সামাওয়াল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাস আল-মাগরিবি (মৃত্যু আনুমানিক ৫৭০ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কলাম - দামেস্ক, আদ-দারুশ শামিয়্যাহ - বৈরুত

ভূমিকা, পাঠ্য বিন্যাস ও টীকা প্রদান: আব্দুল ওয়াহাব তাবিলা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌الافتتاح:

1 - {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا} [الأحزاب: 40].

2 - عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل بنى بنيانا، فأحسنه وأجمله، إلا موضع لبنة من زاوية من زواياه، فجعل الناس يطوفون به، ويعجبون له، ويقولون: هلا وضعت هذه اللبنة؟! قال: فأنا اللبنة، وأنا خاتم النبيين"، أخرجه البخاري ومسلم.

3 - وعن أبي بن كعب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "مثلي في النبيين كمثل رجل بنى دارا، فأحسنها وأكملها وأجملها، وترك موضع لبنة، فجعل الناس يطوفون بالبناء ويعجبون منه، ويقولون: لو تم موضع تلك اللبنة، وأنا في النبيين موضع تلك اللبنة" أخرجه الترمذي وقال: حسن صحيح.

4 - وروى الشيخان عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه نحوه، وزاد مسلم في روايته: "فأنا موضع اللبنة، جئت فختمت الأنبياء".

5 - وجاء في المزمور الثامن عشر بعد المائة من مزامير داود:

22 - الحجر الذي رفضه البناءون، قد صار رأس الزاوية.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌সূচনা:

১ - {মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।} [আল-আহযাব: ৪০]।

২ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যে একটি ভবন নির্মাণ করল এবং তাকে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশোভিত করল, কেবল তার এক কোণের একটি ইটের স্থান ছাড়া। অতঃপর মানুষ তার চারপাশে ঘুরে দেখতে লাগল এবং বিস্ময় প্রকাশ করে বলতে লাগল: কেন এই ইটটি এখানে বসানো হলো না?! তিনি বললেন: আমিই সেই ইট এবং আমিই শেষ নবী।" ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

৩ - উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নবীদের মাঝে আমার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তাকে সুশোভিত, পূর্ণাঙ্গ ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু একটি ইটের স্থান খালি রেখে দিল। অতঃপর মানুষ সেই ভবনের চারপাশে ঘুরে দেখতে লাগল এবং আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল: যদি এই ইটের স্থানটি পূর্ণ করা হতো! আর নবীদের মধ্যে আমিই হলাম সেই ইটের স্থান।" তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান সহীহ।

৪ - শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, আর মুসলিম তাঁর বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: "সুতরাং আমিই সেই ইটের স্থান, আমি এসেছি এবং নবীদের সিলসিলা সমাপ্ত করেছি।"

৫ - দাউদ আলাইহিস সালামের যবুর শরীফের ১১৮তম গীতসংহিতায় এসেছে:

২২ - যে পাথরটিকে নির্মাতারা প্রত্যাখ্যান করেছিল, তা-ই এখন কোণের প্রধান পাথর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
23 - من قِبَل الرب كان هذا، وهو عجيب في أعيننا.

وفي الترجمات القديمة: الحجر الذي أخَّره البناءون، صار حجر الزاوية.

6 - وجاء في إنجيل متى 21/ 42 ومرقس 12/ 10 - 11 ولوقا 20/ 17: قال لهم يسوع: أما قرأتم قط في الكتب: الحجر الذي رفضه البناءون، هو قد صار رأس الزاوية. من قبل الرب كان هذا. وهو عجيب في أعيننا.

متى 21/ 43: لذلك أقول لكم: إن ملكوت الله يُنزع منكم، ويُعطى لأمة تعمل أثماره.

وفي ترجمة دار الكتاب المقدس سنة 1980: لذلك أقول لكم: سيأخذ الله ملكوته منكم، ويسلمه إلى شعب يجعله يثمر.

متى 21/ 44 ولوقا 20/ 18: من سقط على هذا الحجر ترضض -وفي ترجمة دار لكتاب: تهشم- ومن سقط هو عليه سحقه.
23 - এটি রবের পক্ষ থেকে হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে তা বিস্ময়কর।

আর প্রাচীন অনুবাদসমূহে রয়েছে: নির্মাণকারীরা যে পাথরটিকে পেছনে সরিয়ে রেখেছিল, তা-ই কোণের প্রধান পাথর হয়েছে।

6 - মথি ২১/ ৪২, মার্ক ১২/ ১০-১১ এবং লূক ২০/ ১৭-এর ইঞ্জিলে বর্ণিত হয়েছে: ঈসা তাদের বললেন: তোমরা কি কিতাবসমূহে কখনো পাঠ করোনি: যে পাথরটিকে নির্মাণকারীরা প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেটিই কোণের প্রধান পাথর হয়েছে। এটি রবের পক্ষ থেকে হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে তা বিস্ময়কর।

মথি ২১/ ৪৩: সেই কারণে আমি তোমাদের বলছি: আল্লাহর রাজত্ব তোমাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে এবং এমন এক উম্মতকে দান করা হবে যারা তার ফল উৎপন্ন করবে।

১৯৮০ সালের দারুল কিতাবিল মুকাদ্দাস-এর অনুবাদে রয়েছে: সেই কারণে আমি তোমাদের বলছি: আল্লাহ তোমাদের থেকে তাঁর রাজত্ব নিয়ে নেবেন এবং তা এমন এক জাতির নিকট হস্তান্তর করবেন যারা সেটিকে ফলপ্রসূ করবে।

মথি ২১/ ৪৪ এবং লূক ২০/ ১৮: যে ব্যক্তি এই পাথরের ওপর পড়বে সে আহত হবে —আর দারুল কিতাবের অনুবাদে: চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে— এবং যার ওপর এটি পড়বে তাকে সে পিষে ফেলবে।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة:

الحمد لله الذي أكرمنا بالإيمان، وأعزنا بالإسلام، وأنعم علينا بنبيه محمد صلى الله عليه وسلم فهدانا من الضلال، وجمعنا من الشتات، وأغنانا بشريعته التي تدعو إلى الحكمة والموعظة الحسنة، وتتضمن الأمر بالعدل والإحسان، والنهي عن الفحشاء والمنكر. نسأل الله سبحانه أن يهدينا إلى الحق، وأن يثبتنا عليه، وأن يرزقنا شكره على ذلك.

أما بعد، فإن الانتقال من دين إلى دين ليس بالأمر العادي في صعوبته. والعاقل يحسب ألف حساب قبل أن يقدم على تبديل دينه، ولا سيما إذا كان قومه قد عودوه منذ الصغر على الاستعلاء والتعصب لعرقه واحتقار الآخرين ودياناتهم، بل عودوه على الحقد والكراهية لغير بني جنسه أو مذهبه كاليهود ومن لف لفهم. لكن إذا صدع الحق قلبه، وولج فيه، فإنه يقدم على ذلك غير مبالٍ ولا هياب؛ لأنه يريد أن ينقذ نفسه باتباع الحق، ليس في هذه الحياة فحسب، بل في الحياة الآخرة التي لا نهاية لها.

وكلامي هذا لا يشمل الذين يغيرون دينهم لغرض دنيوي أو هوى أو حاجة استُغلوا من أجلها. فمن يُغرى بالمناصب ونحوها، أو تستغل فاقته ومرضه، كما يفعل دعاة النصرانية اليوم، لا يوصف بأنه بدل دينه؛ لأنه فريسة، ولأن عملهم ضرب من التلصص الروحي. بل إنما ينصب كلامي على العقلاء والمفكرين، وبخاصة علماء الدين، الذين يفكرون فيما اختاروه من دين وعقيدة سنوات، ثم يقدمون على ما رأوا من الحق غير عابئين بما
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ঈমানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, ইসলামের মাধ্যমে আমাদের মর্যাদা দান করেছেন এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অতঃপর তিনি আমাদের পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত দান করেছেন, ছিন্নবিচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর সেই শরীয়তের মাধ্যমে আমাদের অভাবমুক্ত করেছেন যা প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের দিকে আহ্বান করে এবং যা ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ প্রদান করে এবং অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সত্যের পথে পরিচালিত করেন, তার ওপর আমাদের অটল রাখেন এবং এর জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করেন।

অতঃপর, এক ধর্ম থেকে অন্য ধর্মে স্থানান্তরিত হওয়া তার কঠিনতার দিক থেকে কোনো সাধারণ বিষয় নয়। আর একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার ধর্ম পরিবর্তনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে হাজার বার চিন্তা করেন, বিশেষ করে যদি তার স্বজাতি তাকে ছোটবেলা থেকেই নিজের বংশের শ্রেষ্ঠত্ব ও গোঁড়ামিতে অভ্যস্ত করে এবং অন্যদের ও তাদের ধর্মকে তুচ্ছজ্ঞান করতে শেখায়; বরং যারা তাকে স্বজাতি বা স্বীয় মতবাদ বহির্ভূত অন্যদের প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণায় অভ্যস্ত করেছে, যেমনটা ইহুদি এবং তাদের অনুসারীরা করে থাকে। কিন্তু সত্য যখন কারো হৃদয়কে বিদীর্ণ করে তাতে প্রবেশ করে, তখন সে কোনো কিছুর পরোয়া না করে এবং শঙ্কিত না হয়েই এ পথে অগ্রসর হয়; কারণ সে সত্য অনুসরণের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করতে চায়, কেবল এই ইহকালেই নয়, বরং সেই পরকালেও যার কোনো শেষ নেই।

আমার এই বক্তব্য তাদের অন্তর্ভুক্ত করে না যারা পার্থিব কোনো উদ্দেশ্যে, প্রবৃত্তির তাড়নায় অথবা কোনো প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করে। সুতরাং যাকে পদমর্যাদা বা এ জাতীয় কিছুর প্রলোভন দেখানো হয়, অথবা যার দারিদ্র্য ও অসুস্থতার সুযোগ নেওয়া হয়—যেমনটি বর্তমানের খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকরা করে থাকে—তাকে ধর্ম পরিবর্তনকারী হিসেবে অভিহিত করা যায় না; কারণ সে একজন শিকার মাত্র, আর তাদের এই কাজ হলো এক ধরনের আধ্যাত্মিক দস্যুতা। বরং আমার বক্তব্য কেবল সেইসব বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য, বিশেষ করে ধর্মীয় আলেমদের জন্য, যারা বছরের পর বছর ধরে তাদের নির্বাচিত ধর্ম ও আকিদা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করেন এবং এরপর যা সত্য হিসেবে দেখেন তার দিকে অগ্রসর হন, কোনো কিছুর পরোয়া না করেই।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
يخسرون من مادة ومكانة، ولا بما قد يصيبهم من تحامل وضرر. فيقدمون فرحين على اعتناق الحق الذي رأوه، ثم يبينون ويعلنون سبب دخولهم في دين الله، ويصبحون من الذابين عنه أكثر ممن وُلد من أبوين مسلمين.

وكثير من مفكري أهل الكتاب دخلوا في دين الإسلام رغبة في اتباع الحق بعد دراسة عميقة وتدبر لهذا الدين، انقشعت فيها الشبهات والتشويهات، وتجلت فيها الحقائق الثابتة، فكان إيمانهم عن رغبة وعلم ومعرفة. وكانت البشارات بهذا النبي الكريم صلى الله عليه وسلم في كتبهم المقدسة، وذكر أوصافه وأوصاف أمته من أكبر العوامل الداعية لهم للدخول في دين الإسلام.

فمن النصارى الذين اعترفوا بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم ودخلوا في دينه القس الأسباني إنسلم تورميدا. فقد ترك التثليث وأقبل على التوحيد تاركا المكانة الدينية التي بلغها. سافر إلى تونس في القرن الثامن الهجري، وسمى نفسه عبد الله، وأضيف إليه لقب الترجمان لاشتغاله بالترجمة. ألف كتابا سماه "تحفة الأريب في الرد على أهل الصليب" ذكر فيه سبب إسلامه والدوافع التي أدت به إلى ترك التثليث.

وفي عصرنا الحاضر اعتنق الإسلام الطبيب والعالم الفرنسي موريس بوكاي الذي درس الكتب المقدسة في ضوء المعارف الحديثة، واستطاع أن يثبت بالأدلة العلمية أن القرآن الكريم هو الكتاب المقدس الوحيد الذي خلا من التحريف والتبديل، وقد تضمن حقائق علمية أتى الزمان مترجما لها. ثم صنف في ذلك كتابا سماه "القرآن الكريم والتوراة والإنجيل والعلم" صدر باللغة الفرنسية، ثم ترجم بعد ذلك إلى العربية وغيرها.

وكذلك العالم المفكر والفيلسوف الفرنسي روجيه جيرودي المعروف بكثرة مقالاته ودفاعه عن الإسلام. بل إن له نظرات ثاقبة في فهم بعض الآيات والأحاديث مما يدل على الإيمان العميق والعلم والمعرفة.
তারা বস্তুগত সম্পদ ও পদমর্যাদার যা কিছু হারায় তাতে কোনো পরোয়া করে না, এমনকি তাদের ওপর যে পক্ষপাতমূলক আচরণ বা ক্ষতি নেমে আসে তা নিয়েও তারা বিচলিত হয় না। বরং তারা যে সত্য প্রত্যক্ষ করেছে তা গ্রহণ করতে তারা সানন্দে এগিয়ে আসে। এরপর তারা আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশের কারণ বর্ণনা ও ঘোষণা করে এবং তারা এই দ্বীনের প্রতিরক্ষায় তাদের চেয়েও বেশি নিবেদিত হয়ে ওঠে যারা মুসলিম পিতা-মাতার ঘরে জন্ম নিয়েছে।

আহলে কিতাবদের অনেক চিন্তাবিদ এই দ্বীন নিয়ে গভীর গবেষণা ও অনুধাবনের পর সত্যের অনুসরণের আকাঙ্ক্ষায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন। সেখানে সকল সংশয় ও বিকৃতি দূরীভূত হয়েছে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত সত্যসমূহ প্রস্ফুটিত হয়েছে। ফলে তাদের ঈমান ছিল ঐকান্তিক ইচ্ছা, ইলম ও জ্ঞানের ভিত্তিতে। তাদের পবিত্র গ্রন্থগুলোতে এই সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সুসংবাদসমূহ এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের গুণাবলির উল্লেখ তাদের ইসলাম গ্রহণ করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত স্বীকার করেছেন এবং তাঁর দ্বীনে প্রবেশ করেছেন, তাদের একজন হলেন স্প্যানিশ পাদ্রী আনসেলম তুরমিদা। তিনি ত্রিত্ববাদ ত্যাগ করে তাওহিদের দিকে অগ্রসর হন এবং তাঁর অর্জিত ধর্মীয় উচ্চমর্যাদা বিসর্জন দেন। তিনি অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে তিউনিসিয়ায় ভ্রমণ করেন এবং নিজের নাম রাখেন আব্দুল্লাহ। অনুবাদ কাজে লিপ্ত থাকার কারণে তাঁর নামের সাথে 'আত-তুরজুমান' উপাধি যুক্ত হয়। তিনি 'তুহফাতুল আরিব ফির রাদ্দি আলা আহলিস সলিব' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যাতে তিনি তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণ এবং ত্রিত্ববাদ ত্যাগের পেছনে কাজ করা প্রভাবকসমূহ উল্লেখ করেছেন।

বর্তমান যুগে ফরাসি চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী মরিস বুকাইলি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, যিনি আধুনিক জ্ঞানের আলোকে পবিত্র গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করেছিলেন। তিনি বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, কুরআন মাজিদই একমাত্র পবিত্র গ্রন্থ যা পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে মুক্ত। এতে এমন সব বৈজ্ঞানিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা কালপরিক্রমায় ব্যাখ্যায়িত হয়েছে। এরপর তিনি এ বিষয়ে 'আল-কুরআনুল কারিম ওয়াত-তাওরাত ওয়াল-ইনজিল ওয়াল-ইলম' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা প্রথমে ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত হয় এবং পরে আরবিসহ অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়।

একইভাবে ফরাসি চিন্তাবিদ ও দার্শনিক রজার গারোদিও ইসলাম গ্রহণ করেন, যিনি তাঁর অসংখ্য প্রবন্ধ এবং ইসলামের পক্ষে প্রতিরক্ষামূলক লেখনীর জন্য সুপরিচিত। এমনকি কিছু আয়াত ও হাদিস অনুধাবনের ক্ষেত্রে তাঁর গভীর অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে, যা তাঁর গভীর ঈমান, ইলম ও জ্ঞানের পরিচয় দেয়।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
والشاهد في ذلك أن هؤلاء وأمثالهم من مفكري الغرب وعلمائه، إنما يعتنقون الإسلام رغبة في اتباع الحق، وهم مَن هم في بلادهم من العلم والفكر والثقة.

أما اليهود الذين يصعب زحزحة أحدهم عن دينه لما أشرب منذ نعومة أظفاره من نظريات عرقية ودينية تجعله يتعالى على سائر بني البشر، فقد آمن منهم في القديم وصدَّق بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم عبد الله بن سلام ومخيريق وكعب الأحبار وغيرهم. وما زال علماء منهم يدخلون في دين الله على مرور الزمن.

ففي عهد السلطان "بيازيدخان" اعتنق حبر من أحبار اليهود الإسلام، وتسمى بعبد السلام، وألف رسالة سماها "الهادية" ذكر فيها كثيرًا من بشارات التوراة بالنبي الأمي صلى الله عليه وسلم1.

ومن اليهود السامريين الذين اعترفوا بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم ولم يدخلوا في دين الله الكاهن أبو الفتح بن أبي الحسن السامري الدنفي مؤلف كتاب "التاريخ مما تقدم عن الآباء"، فقد كتب فيه عن محمد صلى الله عليه وسلم ما هو حق وعدل وإنصاف. ومن ذلك ما يلي: "ومحمد ما أساء إلى أحد من أصحاب الشرائع … وأقام في المملكة عشر سنين، وكل العالم طائعون له. ومنه انتقلت مملكته إلى أقاربه بني أمية على ما أوصاهم، ولم يزيدوا، ولم ينقصوا، ولا أساءوا إلى أحد قط"2.

غير أن با الفتح أخطأ النجعة. فإن محمدًا صلى الله عليه وسلم ليس بملَك، وإنما هو نبي مجاهد مطاع في أصحابه. ثم إن الحكم من بعده لم ينتقل إلى بني أمية. بل صار أولا إلى خلفائه الراشدين أبي بكر فعمر فعثمان فعلي رضي الله عنهم وهم كلهم من قريش، ليس فيهم أموي سوى عثمان رضي الله عنه وبعد مقتل علي رضي الله عنه بايع الناس ابنه الحسن -رضي الله

--------------------------------------------

1 إظهار الحق ص528 طبعة قطر.

2 تقديم التوراة السامرية لأحمد حجازي ص19.
এর প্রমাণ হলো, পশ্চিমাদের মধ্য থেকে এই ব্যক্তিরা এবং তাদের মতো অন্যান্য চিন্তাবিদ ও বিজ্ঞানীরা সত্যের অনুসরণের আকাঙ্ক্ষায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন। নিজ দেশে তারা জ্ঞান, চিন্তা ও নির্ভরযোগ্যতার উচ্চ শিখরে আসীন।

অন্যদিকে ইহুদিরা, যাদের কাউকে তাদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ শৈশব থেকেই তাদের মনে এমন সব জাতিগত ও ধর্মীয় তত্ত্ব গেঁথে দেওয়া হয় যা তাদের অন্য সকল মানুষের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করতে শেখায়—তাদের মধ্য থেকেও প্রাচীনকালে আবদুল্লাহ বিন সালাম, মুখাইরিক, কাব আল-আহবার এবং আরও অনেকে ঈমান এনেছেন এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়তকে সত্য বলে স্বীকার করেছেন। আর সময়ের আবর্তনে তাদের আলেমদের মধ্য থেকে এখনও অনেকে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছেন।

সুলতান 'বায়েজিদ খান'-এর শাসনামলে ইহুদি পণ্ডিতদের একজন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম রাখেন আবদুস সালাম। তিনি 'আল-হাদিয়া' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন, যাতে তিনি উম্মী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে তাওরাতের অনেক সুসংবাদ উল্লেখ করেছেন।১

আর সামেরীয় ইহুদিদের মধ্যে যারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়ত স্বীকার করেছেন কিন্তু আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেননি, তাদের একজন হলেন যাজক আবুল ফাতহ বিন আবিল হাসান সামেরী আদ-দানফী, যিনি 'আত-তারিখু মিম্মা তাকাদ্দামা আনিল আবা' গ্রন্থের লেখক। তিনি সেখানে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে যা লিখেছেন তা সত্য, ন্যায়সঙ্গত ও ইনসাফপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে: "আর মুহাম্মদ অন্য কোনো শরিয়তপন্থীর সাথে দুর্ব্যবহার করেননি … তিনি রাষ্ট্রে দশ বছর অবস্থান করেন এবং সারা বিশ্ব তার অনুগত ছিল। এরপর তার রাজ্য তার আত্মীয় বনু উমাইয়ার কাছে হস্তান্তরিত হয় যেমনটি তিনি তাদের অসিয়ত করেছিলেন। তারা এতে কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস করেনি এবং তারা কখনও কারও প্রতি অন্যায় করেনি।"২

তবে আবুল ফাতহ সঠিক লক্ষ্য অর্জনে ভুল করেছেন। কারণ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো সাধারণ রাজা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন মুজাহিদ নবী যার সাহাবীরা তার অনুগত ছিলেন। অধিকন্তু, তার পরবর্তী শাসনভার সরাসরি বনু উমাইয়ার কাছে হস্তান্তরিত হয়নি। বরং তা প্রথমে তার খুলাফায়ে রাশেদিন আবু বকর, এরপর উমর, এরপর উসমান এবং এরপর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কাছে ন্যস্ত হয়েছিল। তারা সকলেই কুরাইশ বংশের ছিলেন এবং তাদের মধ্যে উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ব্যতীত কেউ উমাইয়া ছিলেন না। আর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) শাহাদাতবরণের পর মানুষ তার পুত্র হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু...

--------------------------------------------

১ ইযহারুল হক, পৃষ্ঠা ৫২৮, কাতার সংস্করণ।

২ আহমদ হিজাজির 'তাকদিমুত তাওরাত আস-সামেরিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ১৯।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
عنه- فتنازل لمعاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما وهو قرشي من بني أمية. وبذلك بدأ العصر الأموي. أما قبل ذلك فهو عصر الخلفاء الراشدين المهديين.

ومن اليهود الذين اعتنقوا الإسلام مؤلف كتابنا هذا الحكيم المحقق السموءل بن يحيى بن عباس المغربي الأندلسي المتوفَّى عام 570هـ-1174م. كنيته أبو نصر. كان من أعاظم اليهود قبل إسلامه. وهو طبيب رياضي مشارك في بعض العلوم. قدم مع أبيه إلى بلاد المشرق. كان أبوه ينشد المال شأن كل يهودي، أما هو فكان يحب العلم ويطلبه بشغف ومثابرة. سكن في بغداد مدة، ثم انتقل إلى أذربيجان في بلاد العجم، وأقام في مراغة، ولم يزل بها إلى آخر عمره.

أتقن كثيرًا من العلوم والفنون وتبحر فيها، كالرياضيات والطب والحكمة والتاريخ وغير ذلك، وصنف في ذلك مصنفات منها ما يلي: المفيد الأوسط في الطب، إعجاز المهندسين، المنبر في مساحة أجسام الجواهر المختلفة لاستخراج مقدار مجهولها، رسالة إلى أبي خدود في مسائل حسابية، نزهة الأصحاب في معاشرة الأحباب، وغير ذلك.

وكتابه هذا "بذل المجهود في إفحام اليهود" يدل على واسع علمه وكثرة خبرته؛ فقد أظهر في أثناء مناقشاته لعقائد اليهود وتحليله لنصوص التوراة أوهام الأحبار وضلالاتهم والأسرار التي تنطوي عليها نفوسهم، وكشف أخطاءهم ومغالطاتهم، وفضح طرقهم الملتوية وحيلهم الماكرة. ولا عجب في ذلك، فقد كان قبل إسلامه من أعاظم أحبار اليهود؛ ولذلك استطاع بما وصل إليه من علم بالتوراة وسعة اطلاع على الكتب -متونا وشروحا- أن يفحم علماء عصره من اليهود، ولا يزال هذا الإفحام يتحدى أحبارهم حتى يومنا هذا. وهو يتبع في ذلك طريقة "الفناقلة" فيورد السؤال، ويتصور جوابه وما يمكن أن يستدرك عليه، ثم يرد على ذلك كله ويجيب عنه سادًّا الأبواب كلها على خصمه، ومُحكِّمًا القارئ في ذلك: نقول لهم … فإن قالوا ....
—তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর অনুকূলে ক্ষমতা ছেড়ে দেন, যিনি বনু উমাইয়া গোত্রের একজন কুরাইশী ছিলেন। এর মাধ্যমেই উমাইয়া যুগের সূচনা হয়। আর এর পূর্ববর্তী সময়টি ছিল হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগ।

যেসব ইহুদি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে আমাদের এই বইয়ের লেখক হলেন বিজ্ঞ গবেষক আস-সামাওয়াল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাস আল-মাগরিবী আল-আন্দালুসী (মৃত্যু ৫৭০ হিজরী-১১৭৪ খ্রিষ্টাব্দ)। তাঁর উপনাম ছিল আবু নাসর। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি ইহুদিদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন চিকিৎসক ও গণিতবিদ এবং বিভিন্ন বিজ্ঞানে তাঁর অবদান ছিল। তিনি তাঁর পিতার সাথে প্রাচ্যের দেশগুলোতে আসেন। তাঁর পিতা অন্য সব ইহুদির মতো অর্থ-সম্পদ অন্বেষণ করতেন, কিন্তু তিনি ইলম বা জ্ঞানকে ভালোবাসতেন এবং অত্যন্ত আবেগ ও অধ্যবসায়ের সাথে তা অন্বেষণ করতেন। তিনি কিছুকাল বাগদাদে বসবাস করেন, এরপর অনারব ভূখণ্ডের আজারবাইজানে চলে যান এবং মারাঘায় বসবাস শুরু করেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন।

তিনি গণিত, চিকিৎসাশাস্ত্র, হিকমাহ (দর্শন), ইতিহাসসহ বহুবিধ বিজ্ঞান ও কলায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং সেগুলোতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি এসব বিষয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-মুফিদ আল-আওসাত ফিত তিব্ব (চিকিৎসাশাস্ত্রে মধ্যম পর্যায়ের উপকারী গ্রন্থ), ইজাজুল মুহান্দিসীন (প্রকৌশলীদের অলৌকিকত্ব), আল-মিনবার ফী মাসাহাতি আজসামিল জাওয়াহিরিল মুখতালিফা লি-ইস্তিখরাজি মিকদারি মাজহুলিহা, গাণিতিক সমস্যার বিষয়ে রিসালাতু ইলা আবী খুদুদ, নুযহাতুল আসহাব ফী মুয়াশারাতিল আহবাব এবং আরও অন্যান্য।

তাঁর রচিত এই ‘বাযলুল মাজহূদ ফী ইফহামিল ইয়াহূদ’ গ্রন্থটি তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও ব্যাপক অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেয়। ইহুদিদের আকিদা-বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা এবং তাওরাতের পাঠ বিশ্লেষণের সময় তিনি তাদের ধর্মগুরুদের অলীক কল্পনা, পথভ্রষ্টতা এবং তাদের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা রহস্যসমূহ উন্মোচন করেছেন। তিনি তাদের ভুল ও বিভ্রান্তিগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের কুটিল পথ ও ধূর্ত কৌশলগুলো ফাঁস করে দিয়েছেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি ইহুদিদের একজন শ্রেষ্ঠ ধর্মগুরু ছিলেন। আর এ কারণেই তাওরাত সম্পর্কে অর্জিত গভীর জ্ঞান এবং কিতাবসমূহের মূল পাঠ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর ব্যাপক জানাশোনার মাধ্যমে তিনি সমকালীন ইহুদি পণ্ডিতদের নির্বাক করে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। আজ অবধি এই নির্বাক করে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ তাদের ধর্মগুরুদের জন্য বিদ্যমান। এই কাজে তিনি ‘ফনাকিলাহ’ পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন; অর্থাৎ প্রথমে একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন, এরপর তার সম্ভাব্য উত্তর ও পাল্টা যুক্তি কল্পনা করেন, অতঃপর সেই সবকিছুর জবাব দিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য সমস্ত পথ বন্ধ করে দেন এবং এ বিষয়ে পাঠককেই বিচারক নিযুক্ত করেন। তিনি বলেন: ‘আমরা তাদের বলব … যদি তারা বলে ....’
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
قلنا … وهو يورد نصوص التوراة باللغة العبرية، ثم يفسرها بالعربية من غير أن يشير إلى مكانها في التوراة وسائر كتب الأنبياء غالبا، وإذا ذكر ذلك في بعض الأحيان، فإنما يذكر السِّفْر أو رقمه دون أن يحدد المكان.

ولذلك قمت بتخريج هذه النصوص من خلال الكتب التالية: الكتاب المقدس الصادر عن دار الكتاب المقدس في الشرق الأوسط عام 1984م، والكتاب المقدس الصادر عن جمعيات الكتاب المقدس المتحدة عام 1966م، وكلاهما من ترجمة البروتستانت، والكتاب المقدس الصادر عن دار المشرق ببيروت عام 1983م وهو من ترجمة الكاثوليك، وفي آخره حواشٍ وتعليقات على بعض فصوله، والتوراة السامرية التي قدم لها وعلق عليها الدكتور/ أحمد حجازي.

وقد اعتمدت ترجمة البروتستانت؛ لأنهم إنما يعترفون بالتوراة العبرانية دون الترجمة اللاتينية وغيرها، ثم إنهم لم يغيروا نصوص ترجمتهم، فالطبعات القديمة والحديثة نصوصها واحدة؛ وبذلك كانت توراتهم أقرب إلى توراة اليهود الذين نحن بصددهم، بخلاف غيرهم، فإنك تجد الفوارق الشاسعة في أمور حساسة بين طبعة وأخرى. وقمت أيضا بالتعليق على النصوص والأفكار والبشارات التي يوردها موضحا لها وزائدا في أدلتها؛ لتقوم الحجة وتكتمل الفكرة. ومما دفعني إلى ذلك أن الكتاب قد أفاد منه واستشهد بنصوصه كثير من العلماء والباحثين الذين اشتغلوا بمناظرة أهل الكتاب أو مقارنة الأديان قديما وحديثا، وعلى رأسهم ابن القيم رحمه الله في كتابه "هداية الحيارى في أجوبة اليهود والنصارى". وقد أضفت إليه بعض العناوين وجعلتها بين هاتين الإشارتين [].

ولنستمع الآن إلى المؤلف رحمه الله يحدثنا عن نفسه فيقول: إن أبي كان يقال له: الرآب يهوذا بن آبون من مدينة فاس بأقصى المغرب. والرآب لقب تفسيره: الحبر. وكان أعلم أهل زمانه بعلوم التوراة، وأقدرهم على التوسع في ارتجال منظوم العبراني ومنثوره. وكان اسمه المدعو به بين أهل العربية أبا البقاء بن يحيى بن عباس المغربي؛ وذلك أن كثيرًا من
আমরা বলেছিলাম … তিনি তাওরাতের পাঠসমূহ হিব্রু ভাষায় উল্লেখ করেন, এরপর সাধারণত তাওরাত ও অন্যান্য নবীগণের কিতাবসমূহে সেগুলোর স্থান উল্লেখ না করেই সেগুলোকে আরবিতে ব্যাখ্যা করেন। যদি কখনো তিনি তা উল্লেখ করেনও, তবে কেবল নির্দিষ্ট সেই বই বা তার নম্বর উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করেন না।

আর এ কারণেই আমি নিম্নোক্ত গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে এই পাঠসমূহ যাচাই ও শনাক্ত (তাখরিজ) করেছি: ১৯৮৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দারুল কিতাব আল-মুকাদ্দাস থেকে প্রকাশিত পবিত্র বাইবেল, এবং ১৯৬৬ সালে ইউনাইটেড বাইবেল সোসাইটিজ থেকে প্রকাশিত পবিত্র বাইবেল, যেগুলোর উভয়ই প্রোটেস্ট্যান্ট অনুবাদ। আর বৈরুতের দারুল মাশরিক থেকে ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত পবিত্র বাইবেল যা ক্যাথলিকদের অনুবাদ, এবং যার শেষে এর কিছু অধ্যায়ের ওপর টীকা ও মন্তব্য রয়েছে। এছাড়াও ডক্টর আহমদ হিজাজি কর্তৃক উপস্থাপিত ও টীকাবদ্ধ সামারিটান তাওরাত।

আমি প্রোটেস্ট্যান্ট অনুবাদটির ওপর নির্ভর করেছি; কারণ তারা কেবল হিব্রু তাওরাতকেই স্বীকার করে, লাতিন বা অন্য কোনো অনুবাদকে নয়। অধিকন্তু, তারা তাদের অনুবাদের মূল পাঠগুলো পরিবর্তন করেনি; ফলে পুরনো এবং নতুন সংস্করণের পাঠগুলো একই রকম। এর মাধ্যমে তাদের তাওরাত সেই ইহুদিদের তাওরাতের অধিক নিকটবর্তী হয়েছে যাদের বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি। অন্যদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ সেখানে এক সংস্করণ থেকে অন্য সংস্করণের মধ্যে সংবেদনশীল বিষয়ে ব্যাপক পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়। আমি তাঁর উপস্থাপিত মূল পাঠ, চিন্তাধারা এবং সুসংবাদগুলোর ওপর টীকা প্রদান করেছি, সেগুলো ব্যাখ্যা করেছি এবং সেগুলোর প্রমাণাদি বৃদ্ধি করেছি; যাতে যুক্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ধারণাটি পূর্ণতা পায়। আমাকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করার একটি কারণ হলো, প্রাচীন ও বর্তমান সময়ের আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক বা তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে কাজ করা অনেক আলেম ও গবেষক এই কিতাবটি থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং এর পাঠসমূহ উদ্ধৃত করেছেন, যাদের শীর্ষে রয়েছেন ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "হিদায়াতুল হায়ারা ফি আজওয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা" গ্রন্থে। আমি এতে কিছু শিরোনাম যুক্ত করেছি এবং সেগুলোকে এই বন্ধনীসমূহের [] মাঝে রেখেছি।

এখন আমরা লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর মুখ থেকে তাঁর নিজের সম্পর্কে শুনব। তিনি বলেন: আমার পিতাকে বলা হতো আর-রাআব ইয়াহুদা বিন আবুন, যিনি সুদূর মাগরিবের ফাস নগরীর অধিবাসী ছিলেন। আর "আর-রাআব" একটি উপাধি যার অর্থ হলো: পণ্ডিত। তিনি তাওরাতের জ্ঞানশাস্ত্রে তাঁর সময়ের সবচেয়ে বড় আলেম ছিলেন এবং হিব্রু ভাষায় তাৎক্ষণিক কাব্য ও গদ্য রচনায় সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন। আরবি ভাষাভাষীদের কাছে তাঁর পরিচিত নাম ছিল আবুল বাকা বিন ইয়াহইয়া বিন আব্বাস আল-মাগরিবি; এর কারণ হলো অনেক...
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
متخصصيهم يكون له اسم عربي غير اسمه العبري أو مشتق منه. أما أمي فأصلها من البصرة، وهي إحدى الأخوات الثلاث المنجبات في علوم التوراة، وهن بنات إسحاق بن إبراهيم البصري الليوي -أعني: سبط ليوي- وهو مضبوط النسب؛ لأن منه كان موسى عليه السلام وكان اسم أمي باسم أم شموائيل النبي عليه السلام ومكثت أمي عند أبي مدة لا ترزق ولدا حتى استشعرت العقم، فنذرت أنها إن رزقت ولدا ذكرًا تسميه شموائيل، فحين رُزقتني دعتني شموائيل، وهو إذا عُرب: السموءل. وكناني أبي أبا نصر. وشغلني بالكتابة بالقلم العبري، ثم بعلوم التوراة وتفاسيرها.

حتى إذا أحكمت علم ذلك عند كمال الثالثة عشر من مولدي شغلني حينئذ بتعلم الحساب الهندي وحل الزيجات عند الأستاذ العالم أبي الحسن الدسكري. وقرأت علم الطب على الفيلسوف أبي البركات هبة الله بن علي، والتأمل في علاج الأمراض ومشاهدة ما ينفق من الأعمال الصناعية في الطب والعلاجات التي يعالجها خالي أبو الفتح الطبيب.

فأما الحساب الهندي والزيج، فإني حملت علمهما في أقل من سنة، حين كمل لي أربع عشرة سنة، ثم قرأت الحساب الديواني وعلم المساحة على العالم أبي المظفر الشهرزوري، وقرأت الجبر والمقابلة عليه وعلى الكاتب ابن أبي تراب، وترددت إلى الأستاذ أبي الحسن بن الدسكري وأبي الحسن بن النقاش لقراءة الهندسة، حتى حللت المقالات التي كانا يحلانها من كتب إقليدس، وأنا في خلال ذلك متشاغل بالطب. وبقي بعض كتاب الواسطي في الحساب والكتاب السابع في الجبر والمقابلة للكرخي لا أجد من يعرف منه شيئًا، وغير ذلك من العلوم الرياضية مثل كتاب شجاع بن أسلم في الجبر والمقابلة وغيره.

وكان لي من الشغف بهذه العلوم والعشق لها ما يلهيني عن المطعم والمشرب إذا فكرت في بعضها. فخلوت بنفسي في بيت، وحللت جميع تلك الكتب وشرحتها، ورددت على من أخطأ فيها، وأظهرت أغلاط مُصنفيها. كل ذلك في السنة الثامنة عشرة من مولدي. واتصلت تصانيفي في هذه العلوم،
তাদের বিশেষজ্ঞদের হিব্রু নাম ছাড়াও একটি আরবি নাম থাকত অথবা তা থেকে এটি উদ্ভূত হতো। আমার মা ছিলেন বসরা বংশোদ্ভূত। তিনি তাওরাতের জ্ঞানে পারদর্শী তিন বোনের একজন ছিলেন। তারা ছিলেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম বসরি আল-লিওয়ির কন্যা—অর্থাৎ লিওয়ি গোত্রভুক্ত—যার বংশধারা সুসংরক্ষিত; কারণ মুসা (আলাইহিস সালাম) এই গোত্র থেকেই এসেছিলেন। আমার মায়ের নাম ছিল নবী শামুয়িল (আলাইহিস সালাম)-এর মায়ের নামে। আমার মা আমার বাবার কাছে দীর্ঘকাল নিঃসন্তান ছিলেন, এমনকি তিনি নিজেকে বন্ধ্যা মনে করতে শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি মানত করলেন যে, যদি তার একটি পুত্রসন্তান হয় তবে তিনি তার নাম রাখবেন শামুয়িল। অতঃপর যখন আমি জন্মগ্রহণ করলাম, তিনি আমার নাম রাখলেন শামুয়িল, যার আরবি রূপ হলো 'সামাউয়াল'। আমার বাবা আমার উপনাম রাখেন আবু নাসর। তিনি আমাকে হিব্রু লিপিতে লিখনশৈলী এবং পরবর্তীতে তাওরাতের জ্ঞান ও এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে নিয়োজিত করেন।

আমার বয়সের তেরো বছর পূর্ণ হওয়ার সময়ে যখন আমি এই বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করলাম, তখন তিনি আমাকে বিজ্ঞ উস্তাদ আবুল হাসান আদ-দাসকারির কাছে ভারতীয় গণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যার তালিকা (যিজাত) সমাধানের শিক্ষায় নিয়োজিত করলেন। আমি দার্শনিক আবুল বারাকাত হিবাতুল্লাহ ইবনে আলীর কাছে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করেছি। সেই সাথে রোগের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করা এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যবহৃত প্রায়োগিক কার্যাবলি ও আমার মামা চিকিৎসক আবুল ফাতহ যেসব চিকিৎসা প্রদান করতেন, তা পর্যবেক্ষণ করার কাজেও নিজেকে নিয়োজিত করেছি।

ভারতীয় গণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যার তালিকা (যিজ)-এর ক্ষেত্রে আমি এক বছরেরও কম সময়ে এগুলোর জ্ঞান আয়ত্ত করেছি, যখন আমার চৌদ্দ বছর পূর্ণ হয়েছিল। এরপর আমি প্রাজ্ঞ আবুল মুজাফফর আশ-শাহরাজুরির কাছে দাপ্তরিক গণিত (হিসাব আদ-দিউয়ানি) এবং ভূমি জরিপ বিদ্যা (ইলম আল-মাসাহাহ) অধ্যয়ন করি। আমি তার কাছে এবং কاتب ইবনে আবি তুরাবের কাছে বীজগণিত (আল-জাবর ওয়াল মুকাবালা) পাঠ করি। জ্যামিতি অধ্যয়নের জন্য আমি উস্তাদ আবুল হাসান ইবনে আদ-দাসকারি এবং আবুল হাসান ইবনে আন-নাক্কাশের নিকট নিয়মিত যাতায়াত করতাম, যতক্ষণ না আমি ইউক্লিডের গ্রন্থসমূহের সেই প্রবন্ধগুলো সমাধান করতে সক্ষম হলাম যা তারা সমাধান করতেন। এই সময়ের মধ্যে আমি চিকিৎসাশাস্ত্রেও মগ্ন ছিলাম। গণিত বিষয়ে ওয়াসিতির কিছু কিতাব এবং আল-কারখির বীজগণিত ও মুকাবালা বিষয়ের সপ্তম খণ্ডটি অবশিষ্ট থেকে গিয়েছিল যার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন এমন কাউকে আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এ ছাড়াও অন্যান্য গাণিতিক বিজ্ঞান যেমন বীজগণিত বিষয়ে শুজা ইবনে আসলামের কিতাব এবং অন্যান্য গ্রন্থও ছিল।

এই বিজ্ঞানগুলোর প্রতি আমার এমন প্রবল আসক্তি ও অনুরাগ ছিল যে, যখন আমি এগুলোর কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করতাম, তখন তা আমাকে আহার-নিদ্রা থেকেও বিমুখ করে রাখত। আমি একটি ঘরে নির্জনে অবস্থান করলাম এবং ওই সকল কিতাব সমাধান ও ব্যাখ্যা করলাম। যারা সেগুলোতে ভুল করেছিলেন তাদের খণ্ডন করলাম এবং গ্রন্থকারদের ভুলসমূহ উন্মোচন করলাম। এই সবই ঘটেছিল আমার জীবনের আঠারোতম বছরে। আর এই বিজ্ঞানগুলোতে আমার রচনা ও সংকলন ধারা অব্যাহত থাকে।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
وفتح الله عليَّ كثيرًا مما أُرتج على من سبقني من الحكماء المتدربين، فدونت ذلك لينتفع به من يقع عليه. وفي خلال ذلك ليس لي مكسب إلا بضاعة الطب. وكان لي منها أوفر حظ؛ إذ أعطاني الله من التأييد فيها ما عرفت به كل مرض يقبل العلاج من الأمراض التي لا علاج لها. فالحمد لله على جزيل مننه وعظيم فضله ونعمه.

وقد كنت قبل اشتغالي بهذه العلوم -وذلك في السنة الثانية عشرة والثالثة عشرة- معتنيًا بالأخبار والحكايات، شديد الحرص على الاطلاع على ما كان من الزمن القديم، فاطلعت على التصانيف المؤلفة في الحكايات والنوادر على اختلاف فنونها، وطلبت الأخبار الصحيحة، فمالت نفسي إلى التواريخ، فقرأت كتاب أبي علي بن مسكويه الذي سماه تجارب الأمم، وطالعت تاريخ الطبري وغيرهما من التواريخ. وكانت تمر بي في هذه التواريخ أخبار النبي صلى الله عليه وسلم وغزواته وما أظهر الله تعالى له من المعجزات، وحباه به من النصر والتأييد في غزوة بدر وغزوة خيبر وغيرهما، وقصة منشئه في اليتم والضعف، ومعاداة أهله له، وإقامته فيما بين أعدائه يجاهدهم بإنكار دينهم عليهم، والدعوة إلى دينه مدة طويلة وسنين كثيرة إلى أن أَذِنَ الله له في الهجرة إلى دار غيرها، وما جرى لأعدائه من النكبات ومصرعهم بين يديه بسيوف أوليائه ببدر وغيرها، وظهور الآية العجيبة في هزيمة الفرس، ورستم الجبار معهم في ألوف كثيرة، في غاية من الحشد والقوة، بين يدي أصحاب سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه وهم يسير على حالة شديدة من الضعف، وانكسار الروم وهلاك عساكرهم على يدي أبي عبيدة عامر بن الجراح وخالد بن الوليد رضي الله عنهما ثم سياسة أبي بكر الصديق وعمر بن الخطاب رضي الله عنهما وعَدْلهما وزهدهما.

ومع ذلك، فإني لكثرة شغفي بأخبار الوزراء والكتاب قد اكتسبت بكثرة مطالعتي لحكاياتهم وأخبارهم وكلامهم قوة في البلاغة ومعرفة بالفصاحة. وكان لي في ذلك طبع يحمده الفصحاء، ويُعجب به البلغاء، فشاهدت
আল্লাহ আমার জন্য এমন অনেক বিষয় উন্মোচন করেছেন যা আমার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞ প্রাজ্ঞদের নিকট দুর্বোধ্য ছিল। তাই আমি তা লিপিবদ্ধ করেছি যেন যে ব্যক্তি এটি লাভ করবে সে তা দ্বারা উপকৃত হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসাশাস্ত্রই ছিল আমার একমাত্র উপজীব্য। এতে আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ছিলাম; কারণ আল্লাহ আমাকে এতে এমন সহায়তা দান করেছেন যার মাধ্যমে আমি চিকিৎসাসম্ভব সকল রোগ এবং এমনকি যে সকল রোগ ইতিপূর্বে নিরাময়যোগ্য নয় বলে গণ্য হতো তাও শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। সুতরাং আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ এবং তাঁর মহান করুণা ও নিয়ামতের জন্য সকল প্রশংসা তাঁরই।

এই সকল বিদ্যায় আত্মনিয়োগ করার পূর্বে—যা ছিল আমার বয়সের দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ বর্ষের ঘটনা—আমি প্রাচীন সংবাদ ও কাহিনীসমূহের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলাম এবং প্রাচীনকালের ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত হওয়ার বিষয়ে গভীর আগ্রহী ছিলাম। ফলে আমি কাহিনী ও বিচিত্র ঘটনাবলি নিয়ে রচিত বিভিন্ন বিষয়ের সংকলনসমূহ পর্যালোচনা করেছি এবং প্রামাণ্য সংবাদসমূহ অনুসন্ধান করেছি। অতঃপর আমার মন ইতিহাসের প্রতি ঝুঁকে পড়ে; ফলে আমি আবু আলী বিন মিসকাওয়াইহ-এর 'তাজারিবুল উমাম' নামক গ্রন্থটি এবং তাবারীর ইতিহাসসহ অন্যান্য ইতিহাস গ্রন্থ অধ্যয়ন করি। এই সকল ইতিহাস পাঠকালে আমার সম্মুখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ, তাঁর যুদ্ধসমূহ এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য যে সকল অলৌকিক নিদর্শন প্রকাশ করেছেন, সেই সাথে বদর ও খাইবারসহ অন্যান্য যুদ্ধে আল্লাহ তাঁকে যে বিজয় ও সাহায্য দ্বারা ভূষিত করেছেন, সেই সকল সংবাদ অতিবাহিত হতে থাকে। এছাড়া তাঁর এতিম ও দুর্বল অবস্থায় বেড়ে ওঠার কাহিনী, তাঁর আপনজনদের শত্রুতা, শত্রুদের মাঝে অবস্থান করে তাদের ধর্মের প্রতিবাদ ও খণ্ডনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রাম এবং দীর্ঘ বছর ধরে নিজ দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া—যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে অন্য এক ভূখণ্ডে হিজরতের অনুমতি দান করেন—এসবই আমি পাঠ করি। আরও জানতে পারি তাঁর শত্রুদের ওপর নেমে আসা বিপর্যয়, বদর ও অন্যান্য যুদ্ধে তাঁর অনুসারীদের তলোয়ারের আঘাতে তাঁর সম্মুখেই তাদের ধরাশায়ী হওয়া এবং পারস্য বাহিনীর পরাজয়ে এক বিস্ময়কর নিদর্শনের প্রকাশ—যেখানে অহংকারী রুস্তম বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে পূর্ণ শক্তি ও রণপ্রস্তুতি সহকারে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গীদের মোকাবিলায় পরাজিত হয়, অথচ মুসলিমরা সংখ্যায় অতি সামান্য ও অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় ছিলেন। আরও অবগত হই রোমানদের পরাজয় এবং আবু উবাইদাহ আমের ইবনুল জাররাহ ও খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর হাতে তাদের সৈন্যবাহিনীর ধ্বংস হওয়া এবং পরবর্তীতে আবু বকর সিদ্দিক ও উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর রাষ্ট্রনীতি, তাঁদের ইনসাফ ও দুনিয়াবিমুখতার বিবরণ সম্পর্কে।

এর পাশাপাশি, উজির ও লেখকদের সংবাদের প্রতি আমার অতিশয় অনুরাগের কারণে তাদের কাহিনী, সংবাদ ও কথাবার্তা প্রচুর পরিমাণে অধ্যয়নের মাধ্যমে আমি অলঙ্কারশাস্ত্রে বিশেষ শক্তি এবং বাগ্মিতায় গভীর জ্ঞান অর্জন করি। এই বিষয়ে আমার এমন এক স্বভাবজাত দক্ষতা তৈরি হয়েছিল যা বাগ্মীরা প্রশংসা করতেন এবং অলঙ্কারবিদগণ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতেন। অতঃপর আমি প্রত্যক্ষ করলাম...
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
المعجزة التي لا تباريها الفصاحة الآدمية في القرآن العظيم، فعلمت صحة إعجازه.

ثم إني لما هذبت خاطري بالعلوم الرياضية، ولا سيما الهندسة وبراهينها، راجعت نفسي في اختلاف الناس في الأديان والمذاهب، فعلمت أن العقل حاكم يجب تحكيمه على كليات أمور عالمنا هذا؛ إذ لولا أن العقل أرشدنا إلى اتباع الأنبياء والرسل، لما صدقناهم في سائر ما نقلنا عنهم. وعلمت أنه إذا كان أصل التمسك بالمذاهب الموروثة عن السلف، وأصل اتباع الأنبياء مما أدى إليه العقل، فإن تحكيم العقل على كليات جميع ذلك واجب1. وإذا نحن حكمنا العقل على ما نقلناه عن الآباء والأجداد علمنا أن النقل عن السلف ليس يوجب العقل قوله من غير امتحان لصحته، بل لمجرد كونه مأخوذًا عن السلف، لكن من أجل أن يكون أمرًا ذا حقيقة في ذاته، والحجة موجودة بصحته. فأما الأبوة السلفية وحدها فليست بحجة؛ إذ لو كانت حجة لكانت أيضا حجة لسائر الخصوم الكفار كالنصارى، فإنهم نقلوا عن أسلافهم أن عيسى ابن الله، وأنه الرازق المانع الضار. فإن كان تقليد الآباء والأسلاف يدل على صحة ما ينقل عنهم، فإن ذلك يلزم منه الإقرار بصحة مقالة المجوس2، وإن كان هذا التقليد لأسلاف اليهود خاصة دون غيرهم من الأمم، فلا يقبل ذلك منهم، إلا أن يأتوا بدليل على أن

--------------------------------------------

1 لا شك في أن ما ينزل به الوحي على الأنبياء يتفق مع العقل السليم والفطرة الصافية. والشارع لا يأتي بما تحيله العقول، بل إنما يأتي بما تُحار فيه. لكن من يضمن لنا سلامة العقل وصفاء الفطرة وعدم تأثرهما بشيء؟ لذا كان الوحي هو الفيصل في ذلك، لكن بعد أن يصح النقل ويسلم.

2 وهذا مطابق لقوله تعالى: {وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آَبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آَثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ، قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيْهِ آَبَاءَكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ} [الزخرف: 23، 24].
মহান কুরআনের সেই মুজিযা, যার সাথে মানুষের বাকপটুতা পাল্লা দিতে পারে না, তা থেকে আমি এর অলৌকিকত্বের সত্যতা অনুধাবন করলাম।

অতঃপর আমি যখন গণিতশাস্ত্র, বিশেষ করে জ্যামিতি ও এর প্রমাণাদির মাধ্যমে আমার চিন্তাশক্তিকে শাণিত করলাম, তখন বিভিন্ন ধর্ম ও মাযহাব বিষয়ে মানুষের মতভেদ নিয়ে পুনরায় চিন্তা করলাম। আমি জানতে পারলাম যে, বুদ্ধি হলো এমন এক বিচারক যাকে আমাদের এই জগতের সামগ্রিক বিষয়াদির মূলনীতির ওপর বিচারক হিসেবে নিয়োগ করা আবশ্যক; কারণ বুদ্ধি যদি আমাদের নবী ও রাসূলগণের অনুসরণের দিকে পরিচালিত না করত, তবে তাদের থেকে আমাদের নিকট যা কিছু পৌঁছেছে তার কোনো কিছুতেই আমরা তাদের সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করতাম না। আমি আরও জানলাম যে, যদি সালাফদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত মাযহাবসমূহ আঁকড়ে ধরার মূল ভিত্তি এবং নবীদের অনুসরণের মূল ভিত্তি বুদ্ধির মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়ে থাকে, তবে এ সবকিছুর সামগ্রিক বিষয়ের ওপর বুদ্ধিকে বিচারক মানা আবশ্যক১। আর আমরা যখন আমাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের থেকে বর্ণিত বিষয়াদির ওপর বুদ্ধিকে বিচারক নিয়োগ করি, তখন আমরা বুঝতে পারি যে, পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত হওয়ার কারণেই কেবল বুদ্ধি তাদের কথা মেনে নেওয়া আবশ্যক করে না—সঠিকতা পরীক্ষা করা ছাড়া, বরং কেবল সালাফদের থেকে গৃহীত হওয়ার কারণেও নয়, বরং বিষয়টি তার স্বকীয়তায় সত্য হতে হবে এবং এর সঠিকতার পক্ষে প্রমাণ বিদ্যমান থাকতে হবে। কেবল পূর্বপুরুষদের অনুসরণই কোনো দলিল নয়; কারণ এটি যদি দলিল হতো, তবে তা অন্যান্য কাফের প্রতিপক্ষ যেমন খ্রিস্টানদের জন্যও দলিল হতো, কেননা তারা তাদের পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণনা করেছে যে, ঈসা আল্লাহর পুত্র এবং তিনিই রিযিকদাতা, প্রদানকারী ও অনিষ্টকারী। সুতরাং যদি পিতা ও পূর্বসূরিদের অন্ধ অনুসরণ তাদের থেকে বর্ণিত বিষয়ের সত্যতার প্রমাণ হয়, তবে এর দ্বারা অগ্নিপূজকদের২ বক্তব্যের সত্যতাও স্বীকার করে নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর যদি এই অন্ধ অনুসরণ অন্য কোনো জাতির পরিবর্তে কেবল ইহুদিদের পূর্বসূরিদের জন্য নির্দিষ্ট হয়, তবে তাদের থেকেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না, যতক্ষণ না তারা এই মর্মে প্রমাণ উপস্থাপন করবে যে...

--------------------------------------------

১ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নবীদের ওপর অবতীর্ণ ওহী সুস্থ বিবেক ও নির্মল স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ। শরয়ি বিধানদাতা এমন কিছু নিয়ে আসেন না যা বুদ্ধি অসম্ভব মনে করে, বরং তিনি এমন কিছু নিয়ে আসেন যা বুদ্ধিকে বিমূঢ় করে দেয়। কিন্তু বুদ্ধির সুস্থতা ও স্বভাবজাত প্রকৃতির নির্মলতা এবং তা কোনো কিছুর দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার নিশ্চয়তা কে দেবে? তাই এক্ষেত্রে ওহী-ই হলো চূড়ান্ত মীমাংসাকারী, তবে তা বর্ণনা (নকল) সহিহ ও ত্রুটিমুক্ত হওয়ার পর।

২ এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: {আর এভাবেই আপনার পূর্বে আমি যখনই কোনো জনপদে কোনো সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই তাদের বিলাসপ্রিয় লোকেরা বলেছে, 'আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।' তিনি বললেন, 'আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উত্তম পথনির্দেশ নিয়ে আসি যার ওপর তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছ, তবুও কি তোমরা তাই করবে?' তারা বলল, 'তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ, তা আমরা অস্বীকার করি'} [সূরা যুখরুফ: ২৩, ২৪]।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
آباءهم وأسلافهم كانوا أعقل الأمم. فإذا ادعت اليهود ذلك في حق آبائهم وأسلافهم، فجميع أخبار أسلافهم ناطقة بتكذيبيهم في ذلك. وإذا تركنا التعصب لهم، فنحن نجعل لآبائهم أسوة بسائر آباء غيرهم من الأمم. فإذا كانت آباء النصارى وغيرهم قد نقلوا عن آبائهم الكفر والضلال الذي تهرب العقول منه، وتنفر الطباع السليمة عنه، فليس بممتنع أن يكون ما نقله اليهود عن آبائهم أيضًا بهذه الصفة. فلما علمت أن اليهود لهم أسوة بغيرهم فيما نقلوه عن الآباء والأسلاف، علمت أن ليس بأيديهم حجة صحيحة بنبوة موسى عليه السلام إلا شهادة التواتر. وهذا التواتر موجود لعيسى ومحمد -عليهما الصلاة والسلام- كوجوده لموسى عليه السلام فإن كان التواتر يفيد تصديقًا، فالثلاثة صادقون ونبوتهم معا صحيحة.

وعلمت أيضا أني لم أرَ موسى بعيني ولم أشاهد معجزاته، ولا معجزات غيره من الأنبياء عليهم السلام ولولا النقل وتقليد الناقلين لما عرفنا شيئا من ذلك. فعلمت أنه لا يجوز للعاقل أن يصدق واحدا ويكذب واحدا من هؤلاء الأنبياء عليهم السلام لأنه لم يرَ أحدهم ولا شاهد أحواله إلا بالنقل. وشهادة التواتر موجودة لثلاثتهم. فليس من العقل ولا من الحكمة أن يصدق أحدهم ويكذب الباقين. بل الواجب عقلا أن يصدق الكل. فأما تكذيب الكل، فإن العقل لا يوجبه أيضا؛ لأنا إنما نجدهم أتوا بمكارم الأخلاق، وندبوا إلى الفضائل، ونَهَوا عن الرذائل، ولأنا نجدهم قد ساسوا العالم سياسة بها صلاح حاله.

فصح عندي بالدليل القاطع نبوة المسيح والمصطفى -عليهما الصلاة والسلام- وآمنت بهما. فمكثت برهة أعتقد ذلك من غير أن ألتزم الفرائض الإسلامية؛ مراقبة لأبي. وذلك أنه كان شديد الحب لي، قليل الصبر عني،
তাদের পূর্বপুরুষ ও উত্তরসূরিগণ ছিলেন জাতিসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিবেকসম্পন্ন। যদি ইহুদিরা তাদের পূর্বপুরুষ ও উত্তরসূরিদের ক্ষেত্রে এরূপ দাবি করে, তবে তাদের উত্তরসূরিদের সকল সংবাদই এ বিষয়ে তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর যদি আমরা তাদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ত্যাগ করি, তবে আমরা তাদের পূর্বপুরুষদের অন্যান্য জাতির পূর্বপুরুষদের সমপর্যায়ে গণ্য করব। যদি খ্রিস্টান ও অন্যরা তাদের পূর্বপুরুষদের নিকট থেকে এমন কুফর ও পথভ্রষ্টতা বর্ণনা করে থাকে যা থেকে বিবেক পলায়ন করে এবং সুস্থ প্রকৃতি যা থেকে বিমুখ হয়, তবে ইহুদিরা তাদের পূর্বপুরুষদের থেকে যা বর্ণনা করেছে তা-ও এরূপ হওয়া অসম্ভব নয়। যখন আমি অনুধাবন করলাম যে, পূর্বপুরুষ ও উত্তরসূরিদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে ইহুদিদের অবস্থা অন্যদের মতোই, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, মুতাওয়াতির বর্ণনা ব্যতীত মূসা আলাইহিস সালামের নবুওয়তের ব্যাপারে তাদের নিকট কোনো সঠিক দলিল নেই। আর এই মুতাওয়াতির বর্ণনা ঈসা ও মুহাম্মদ আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালামের জন্য ঠিক তেমনই বিদ্যমান যেমনটি মূসা আলাইহিস সালামের জন্য বিদ্যমান। সুতরাং মুতাওয়াতির বর্ণনা যদি সত্যতার প্রমাণ দেয়, তবে এই তিনজনই সত্যবাদী এবং তাঁদের সকলের নবুওয়ত একত্রে সঠিক।

আমি এ-ও বুঝতে পারলাম যে, আমি মূসাকে স্বচক্ষে দেখিনি এবং তাঁর মুজিজাসমূহ প্রত্যক্ষ করিনি, এমনকি অন্যান্য নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) মুজিজাও দেখিনি। বর্ণনা এবং বর্ণনাকারীদের অনুসরণ না থাকলে আমরা এ সম্পর্কে কিছুই জানতে পারতাম না। সুতরাং আমি অনুধাবন করলাম যে, কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য এই নবীদের মধ্য থেকে একজনকে সত্য বলা এবং অন্যজনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা বৈধ নয়; যেহেতু সে তাদের কাউকে দেখেনি এবং বর্ণনা ব্যতীত তাদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করেনি। আর মুতাওয়াতির সাক্ষ্য এই তিনজনের জন্যই বিদ্যমান। অতএব, একজনকে বিশ্বাস করা এবং বাকিদের মিথ্যা বলা বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার কাজ নয়। বরং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে যা ওয়াজিব বা আবশ্যক তা হলো সকলকে বিশ্বাস করা। আর সকলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করাও বিবেক আবশ্যক করে না; কারণ আমরা দেখতে পাই যে তারা মহৎ চরিত্র নিয়ে এসেছেন, সদ্গুণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। আর এ কারণেও যে, আমরা দেখতে পাই তারা বিশ্বকে এমন এক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করেছেন যার দ্বারা বিশ্বের সংশোধন হয়েছে।

ফলে অকাট্য দলিলের মাধ্যমে আমার নিকট মসীহ এবং মুস্তফা আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালামের নবুওয়ত সত্য প্রমাণিত হলো এবং আমি তাঁদের ওপর ঈমান আনলাম। এরপর আমি কিছুকাল এই বিশ্বাস নিয়ে অবস্থান করলাম, তবে আমার পিতার প্রতি লক্ষ্য রেখে ইসলামের ফরজ বিধানসমূহ পালন করতাম না। আর তা এ কারণে যে, তিনি আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং আমার থেকে দূরে থাকার ধৈর্য তাঁর খুব কম ছিল।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
كثير البر بي. وكان قد أحسن تربيتي؛ إذ شغلني منذ أول حداثتي بالعلوم البرهانية، وزيَّن ذهني وخاطري في الحساب والهندسة المعلمين. فمكثت مدة طويلة لا يُفتح عليَّ وجه الهداية، ولا تُحل عني هذه الشبهة، وهي مراقبة أبي، إلى أن حالت الأسفار بيني وبينه، ومدت داري عن داره، وأنا مقيم على مراقبته، والتذمم من أن أفجعه بنفسي. وحان وقت الهداية، وجاءتني الموعظة الإلهية برؤيتي للنبي صلى الله عليه وسلم في المنام، في ليلة الجمعة تاسع ذي الحجة سنة ثمان وخمسين وخمسمائة. وكان ذلك بالمراغة من أذربيجان. اهـ بتصرف.

وهكذا كان رؤياه لرسول الله صلى الله عليه وسلم سببًا في اطمئنان قلبه وإعلان إسلامه بعد أن آمن عقله من حيث الحجة والبرهان، وإنك لواجد في كتابه هذا ما يدل على أنه أسلم عن خبرة ويقين، فرحمه الله وجزاه خيرا1.

المدينة المنورة 29/ 11/ 1408

عبد الوهاب طويلة

--------------------------------------------

1 انظر في ترجمته في: معجم المؤلفين 4/ 281، والأعلام للزركلي 3/ 205.
তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। তিনি আমাকে সুচারুরূপে লালন-পালন করেছিলেন; কেননা আমার শৈশবের শুরু থেকেই তিনি আমাকে প্রমাণনির্ভর জ্ঞানতত্ত্বে ব্যস্ত রেখেছিলেন এবং গণিত ও জ্যামিতি শিক্ষার মাধ্যমে আমার মেধা ও চিন্তাশক্তিকে সুশোভিত করেছিলেন। ফলে দীর্ঘকাল আমি এমন অবস্থায় অতিবাহিত করি যে, আমার নিকট হিদায়াতের পথ উন্মোচিত হয়নি এবং এই সংশয়ও দূর হয়নি—আর তা ছিল আমার পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সতর্কতা। অবশেষে সফর আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিল এবং আমার আবাসস্থল তাঁর আবাসস্থল থেকে দূরে সরে গেল। অথচ আমি তখনও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম এবং নিজেকে নিয়ে তাঁকে ব্যথিত করতে কুণ্ঠাবোধ করতাম। অতঃপর হিদায়াতের সময় ঘনিয়ে এল এবং পাঁচশত আটান্ন হিজরি সনের জিলহজ মাসের নবম তারিখ, শুক্রবার রাতে স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখার মাধ্যমে আমার নিকট ঐশী উপদেশ উপস্থিত হলো। আর এটি ছিল আজারবাইজানের মারাগা নামক স্থানে। ইতি (সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত)।

এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই স্বপ্নদর্শন তাঁর হৃদয়ের প্রশান্তি এবং ইসলাম ঘোষণার কারণ হয়ে দাঁড়াল, যখন তাঁর বিবেক দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে ইতিপূর্বেই বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। আর আপনি তাঁর এই কিতাবের মাঝে এমন কিছু পাবেন যা প্রমাণ করে যে, তিনি অভিজ্ঞতা ও সুনিশ্চিত বিশ্বাসের সাথেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।১

মদিনা মুনাওয়ারা ২৯/ ১১/ ১৪০৮ হিজরি

আব্দুল ওয়াহাব তাবিলাহ

--------------------------------------------

১ তাঁর জীবনী দেখুন: মু’জামুল মুআল্লিফীন ৪/ ২৮১ এবং যিরিকলি প্রণীত আল-আ’লাম ৩/ ২০৫।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌مقدمة المؤلف:

بسم الله الرحمن الرحيم

لا إله إلا الله، عدة للقاء الله

أما بعد، حمد الله على ما ألهم من الهداية، وعصم من الغواية، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم النبيين، وعلى آله الطاهرين.

فإن سبيل من فُضِّل بالفطانة والرشاد، أن يجد في البحث عن أحوال المعاد، والتأمل لما أخذه الآباء والأجداد، بعين الامتحان والانتقاد؛ فإن رآه فضيلة سما لإدراكها، وإن ألفاه رذيلة نجا من أشراكها1؛ لتضحى حقائبه بطانًا من الزاد2؛ فإن هاتف الموت لبالمرصاد، ولن تُحمد العقبى لمضيِّع في تحصين شرعه، وموزع مواقيته على ما ينقاد إليه بطبعه. ولن يظفر بضالة الحق إلا ناشدوها3. ولن يهدج4 الأباطيل على أنفسهم إلا معتدوها.

والغرض الأقصى من إنشاء هذه الكلمة: الرد على أهل اللجاج والعناد5، وأن يظهر ما يعتور كلمتهم من الفساد. على أن الأئمة

--------------------------------------------

1 جمع شَرَك -بفتحتين- أي حبالة الصياد، الواحدة شركة.

2 أي: مملوءة بالإيمان والعمل الصالح.

3 الضالة: ما ضل من البهيمة. والناشد: طالب الضالة. والمراد: الباحث عن الحق.

4 هدج وتهدج: تكلم بصوت فيه تقطع وارتعاش.

5 المراد بذلك اليهود لاشتهارهم بذلك.
লেখকের ভূমিকা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের পাথেয়।

অতঃপর, আল্লাহ যে হিদায়াত দান করেছেন এবং পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করেছেন, সেজন্য তাঁর প্রশংসা করছি। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি নবীদের সমাপ্তিকারী, এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর।

যাকে প্রজ্ঞা ও সঠিক পথ লাভের তৌফিক দেওয়া হয়েছে, তার পথ হলো পরকালের অবস্থা অনুসন্ধানে সচেষ্ট হওয়া এবং পূর্বপুরুষদের থেকে যা গ্রহণ করা হয়েছে তাকে পরীক্ষা ও পর্যালোচনার দৃষ্টিতে দেখা; যদি সে একে উত্তম মনে করে তবে তা অর্জনে সচেষ্ট হয়, আর যদি একে মন্দ মনে করে তবে তার জাল থেকে আত্মরক্ষা করে; যেন তার পাথেয়পূর্ণ ঝুলিগুলো পূর্ণতায় ভরে ওঠে; কারণ মৃত্যুর আহ্বানকারী ওত পেতে আছে। আর তার পরিণাম শুভ হবে না যে নিজ শরীয়ত সংরক্ষণে অবহেলা করে এবং নিজের সময়গুলোকে নিজ প্রবৃত্তির খেয়ালখুশিমতো ব্যয় করে। সত্যের সেই হারানো সম্পদ কেবল তারাই খুঁজে পায় যারা তার অন্বেষণকারী। আর কেবল সীমালঙ্ঘনকারীরাই বাতিলের ওপর নিজেদের পরিচালিত করে।

এই বাণী রচনার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো: একগুঁয়ে ও হঠকারী লোকদের প্রতিবাদ করা এবং তাদের বক্তব্যের মধ্যকার যে অসারতা রয়েছে তা প্রকাশ করা। যদিও ইমামগণ...

--------------------------------------------

১. 'শারাক' এর বহুবচন—যার অর্থ শিকারির জাল, একবচনে 'শারাকাহ'।

২. অর্থাৎ: ঈমান ও নেক আমল দ্বারা পরিপূর্ণ।

৩. 'দালাহ': যে চতুষ্পদ প্রাণী হারিয়ে গেছে। 'নাশিদ': হারানো বস্তুর অন্বেষণকারী। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সত্যের অন্বেষণকারী।

৪. হাদাজা এবং তাহাদদাজা: থেমে থেমে বা কম্পিত কণ্ঠে কথা বলা।

৫. এর দ্বারা ইহুদিদের বোঝানো হয়েছে, কারণ তারা এই গুণের জন্য সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
-ضوعف ثوبهم- قد انتُدبوا لذلك، وسلكوا في مناظرتهم اليهودَ أنواع المسالك. إلا أن أكثر ما نوظروا به لا يكادون يفهمونه، أو لا يلتزمونه.

وقد جعل الله إلى إفحامهم طريقًا مما يتداولونه في أيديهم، من نص تنزيلهم، وإعمالهم كتاب الله عند تبديلهم؛ ليكون حجة عليهم موجودة في أيديهم، وهذا أول ما ابتدئ به من إلزامهم:
-তাদের সওয়াব দ্বিগুণ করা হয়েছে- তারা এই কাজের জন্যই মনোনীত হয়েছিলেন এবং ইহুদিদের সাথে বিতর্কে তারা নানা পন্থা অবলম্বন করেছিলেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের সাথে যে সব যুক্তি দিয়ে বিতর্ক করা হয়েছিল, তা তারা বুঝতে পারত না অথবা তা মেনে চলত না।

আর আল্লাহ তাদের নিরুত্তর করার জন্য এমন একটি পথ নির্ধারণ করেছেন যা তাদের নিজেদের কাছেই বিদ্যমান, অর্থাৎ তাদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবের পাঠ্য এবং তাদের বিকৃতির সময়েও আল্লাহর কিতাবকে কার্যকর করা; যাতে এটি তাদের বিরুদ্ধে একটি প্রমাণ হিসেবে তাদের কাছেই বিদ্যমান থাকে। আর তাদের সত্য গ্রহণে বাধ্য করার জন্য এটিই ছিল প্রথম সূচিত পদক্ষেপ:
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌[النسخ]:

النسخ من نص كتابهم وما تقتضيه أصولهم:

أقوال لهم: هل كان قبل نزول التوراة شرع أو لا؟ 1

--------------------------------------------

1 صرحت التوراة التي في أيدي أهل الكتاب في عدة مواضع بأن النسخ لا يقع البتة، مع أن النسخ واقع ولازم في نصوص التوراة وشرح التلمود، والمؤلف رحمه الله يلزمهم بذلك من عدة وجوه كما سنرى إن شاء الله.

واليهود والنصارى يعترضون على المسلمين، ويعيبون عليهم وجود النسخ في شريعتهم، ويفهمون من ذلك أن الله سبحانه أعطى عن عمد حكمًا ناقصًا لا يوصل إلى المطلوب. ويرون أن هذا وصف لله بالجهل وعدم الحكمة. ويقولون: كيف يجوز أن ينسب إلى الله تعالى كتاب ينقض بعضه بعضًا؟ يريدون بذلك: ينسخ بعضه بعضا.

وهذا الفهم إنما نشأ من كتمانهم للحق أولًا، ومن جهلهم بحقيقة النسخ ثانيا؛ لذا سأذكر نُبْذَة عن حقيقة النسخ وحكمته:

تعريف النسخ:

النسخ لغة: الإزالة. يقال: نسخت الشمس الظل: أي أزالته وحلت محله. ويقال له: التبديل أيضا، وهو جعل شيء مكان شيء آخر. =
‌[রহিতকরণ (নাসখ)]:

তাদের কিতাবের পাঠ্য এবং তাদের মূলনীতিসমূহ যা দাবি করে তা থেকে রহিতকরণ (নাসখ):

তাদের বক্তব্যসমূহ: তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে কি কোনো শরীয়ত ছিল কি না? ১

--------------------------------------------

১ আহলে কিতাবদের হাতে থাকা তাওরাতে বেশ কিছু স্থানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, রহিতকরণ (নাসখ) আদতে ঘটে না। অথচ তাওরাতের পাঠ্য এবং তালমুদের ব্যাখ্যায় রহিতকরণ ঘটা বাস্তব ও অপরিহার্য। আর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাদের উপর এটি বেশ কিছু দিক থেকে বাধ্যতামূলক করবেন, যেমনটি ইনশাআল্লাহ আমরা দেখতে পাব।

ইহুদি ও খ্রিস্টানরা মুসলমানদের ওপর আপত্তি করে এবং তাদের শরীয়তে রহিতকরণের অস্তিত্বের কারণে তাদের দোষারোপ করে। তারা এর থেকে বোঝে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জেনেশুনে এমন একটি ত্রুটিপূর্ণ বিধান দিয়েছেন যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায় না। তারা মনে করে যে, এটি আল্লাহর প্রতি অজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাহীনতার গুণারোপ। তারা বলে: আল্লাহর দিকে এমন একটি কিতাব নিসবত করা কীভাবে বৈধ হতে পারে যার এক অংশ অন্য অংশকে খণ্ডন করে? এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চায়: এক অংশ অন্য অংশকে রহিত করে।

আর এই বুঝের সৃষ্টি হয়েছে প্রথমত তাদের সত্য গোপন করার কারণে এবং দ্বিতীয়ত রহিতকরণের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে। তাই আমি রহিতকরণের হাকিকত ও এর হিকমত সম্পর্কে একটি সারসংক্ষেপ উল্লেখ করব:

রহিতকরণের (নাসখ) সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে রহিতকরণ (নাসখ): দূরীভূত করা। বলা হয়: সূর্য ছায়াকে রহিত করেছে: অর্থাৎ তা দূরীভূত করেছে এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। একে পরিবর্তনও বলা হয়, আর তা হলো এক জিনিসের স্থলে অন্য জিনিস রাখা। =
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= واصطلاحًا: "بيان انتهاء مدة حكم عملي جامع للشروط" أو "رفع الحكم الثابت بخطاب متقدم، بخطاب آخر متراخ عنه".

ومعناه: أن الله سبحانه وتعالى كان يعلم في الأزل أن هذا الحكم سيكون معمولا به لدى المكلفين إلى وقت محدد في علمه، ثم ينسخ. فلما انتهى الوقت المحدد أنزل حكمًا آخر ظهر منه الزيادة أو النقصان -أي: النسخ الجزئي أو التخصيص- أو الرفع مطلقا -أي: النسخ الكلي- وهو العالم بما كان وما سيكون علمًا قديمًا أزليًّا أبديًّا.

ففي الحقيقة هذا بيان انتهاء المدة المعينة للحكم الأول؛ لكن لما لم يكن الوقت المحدد له مذكورا معه، تقرر في أوهام الناس استمراره بطريق التراخي، فلما جاء ميعاد انتهائه وابتداء الحكم الثاني وظهر الأمر، صار بحسب الظاهر للناس نسخا وتبديلا.

حكمته:

النسخ جائز عقلا وواقع شرعا قديما وحديثا من لدن آدم عليه السلام إلى أن ختم الله سبحانه الشرائع والكتب بشريعة محمد صلى الله عليه وسلم والكتاب الذي أنزله عليه.

ولا ريب أن في نسخ الأحكام حِكَمًا ومصالح نظرًا إلى حال المكلفين والزمان والمكان. كما أن الطبيب الحاذق يبدل الأدوية والأغذية بملاحظة حال المريض والمراحل التي وصل إليها وغير ذلك وفق المصلحة التي يراها، مع الرفق بحاله.

وما يدعيه أهل الكتاب وغيرهم من امتناع النسخ باطل مخالف للواقع. كيف لا وأن المصالح تختلف باختلاف الزمان والمكان وأحوال المكلفين؟!

قال سبحانه: {مَا نَنْسَخْ مِنْ آَيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [البقرة: 106]. =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এবং পারিভাষিক অর্থে: "শর্তসমূহ পূরণকারী কোনো আমলি (ব্যবহারিক) বিধানের সময়কাল শেষ হওয়ার ঘোষণা" অথবা "পূর্ববর্তী কোনো ভাষ্য দ্বারা প্রমাণিত বিধানকে তার পরবর্তী কোনো বিলম্বিত ভাষ্য দ্বারা রহিত করা"৷

এর অর্থ হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অনাদিকাল থেকেই জানতেন যে, এই বিধানটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মুকাল্লাফদের নিকট পালনীয় থাকবে, এরপর তা রহিত হবে। যখন সেই নির্দিষ্ট সময় শেষ হলো, তখন তিনি অন্য একটি বিধান অবতীর্ণ করলেন যার মাধ্যমে বৃদ্ধি বা হ্রাস—অর্থাৎ আংশিক রহিতকরণ বা বিশেষায়ন—প্রকাশ পেল, অথবা বিধানটি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলো—অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ রহিতকরণ। তিনি যা ছিল এবং যা হবে সে বিষয়ে অনাদি ও অনন্ত জ্ঞানের অধিকারী।

প্রকৃতপক্ষে এটি হলো প্রথম বিধানের জন্য নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়ের সমাপ্তি ঘোষণা; কিন্তু যেহেতু এর সাথে সেই নির্ধারিত সময়টি উল্লেখ ছিল না, তাই মানুষের ধারণায় এর স্থায়িত্বের বিষয়টি বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর যখন এর সমাপ্তি ও দ্বিতীয় বিধানের প্রারম্ভের সময় এলো এবং বিষয়টি প্রকাশিত হলো, তখন মানুষের বাহ্যিক দৃষ্টিতে তা রহিতকরণ ও পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হলো।

এর হিকমত (প্রজ্ঞা):

রহিতকরণ যুক্তিগ্রাহ্যভাবে সম্ভব এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি আদম আলাইহিস সালামের সময় থেকে শুরু করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীয়ত এবং তাঁর ওপর অবতীর্ণ কিতাবের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল শরীয়ত ও কিতাব সমাপ্ত করা পর্যন্ত প্রাচীন ও আধুনিক সর্বকালে বাস্তবে সংঘটিত হয়েছে।

নিঃসন্দেহে বিধানাবলি রহিতকরণের মধ্যে মুকাল্লাফদের অবস্থা এবং কাল ও পাত্র বিবেচনায় বহু প্রজ্ঞা ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। যেমন একজন দক্ষ চিকিৎসক রোগীর অবস্থা ও তার রোগের বিভিন্ন পর্যায় পর্যবেক্ষণ করে এবং তার প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করে নিজের দেখা কল্যাণ অনুযায়ী ওষুধ ও পথ্য পরিবর্তন করে থাকেন।

আহলে কিতাব ও অন্যান্যরা রহিতকরণ অসম্ভব হওয়ার যে দাবি করে তা বাতিল এবং বাস্তবতাবিরোধী। কেনই বা তা হবে না, যেখানে কাল, পাত্র ও মুকাল্লাফদের অবস্থাভেদে কল্যাণসমূহ পরিবর্তিত হয়?!

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আমি কোনো আয়াত রহিত করলে কিংবা তা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম কিংবা তার সমপর্যায়ের কোনো আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান?} [আল-বাকারা: ১০৬]। =
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= وقال تعالى: {يَمْحُو اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتَابِ} [الرعد: 39].

وقال جل جلاله: {وَإِذَا بَدَّلْنَا آَيَةً مَكَانَ آَيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُوا إِنَّمَا أَنْتَ مُفْتَرٍ} [النمل: 100].

أمثلته:

1 - كان الصحابة رضي الله عنهم في بداءة الأمر مأمورين بترك القتال والإعراض عن المشركين. وقيل لهم: "كفوا أيديكم" ثم نسخ هذا الحكم، وأنزل الله عليهم قوله تعالى: {أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ}.

2 - ثم فرض الله عليهم الجهاد، وأوجب عليهم الثبات للمشركين في الحرب بمعدل واحد من المسلمين لعشرة من المشركين؛ نظرا للحالة التي كانوا عليها، ثم نسخ ذلك الحكم بوجوب مصابرة الواحد من المسلمين لاثنين من المشركين.

قال سبحانه: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِئَةٌ يَغْلِبُوا أَلْفًا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ، الْآَنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفًا فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِئَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَلْفٌ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ} [الأنفال: 65، 66].

3 - كان الناس حديثي عهد بالإسلام، وكان أهل الجاهلية إذا مات لهم قريب أظهروا من الجزع والنعي ما لا يقره عاقل. فنهى النبي صلى الله عليه وسلم المسلمين في بداءة الأمر عن زيارة القبور. ثم لما تمكن الإيمان من نفوسهم رخص لهم في ذلك؛ لما فيه من اتعاظ ودعاء للأموات.

قال صلى الله عليه وسلم: "كنت نهيتكم عن زيارة القبور، ألا فزوروها، فإنها تذكرة بالآخرة". =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা স্থির রাখেন, আর তাঁর নিকটেই রয়েছে উম্মুল কিতাব (মূল কিতাব)।} [আর-রাদ: ৩৯]।

এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত পরিবর্তন করি—আর আল্লাহ যা নাযিল করেন তা তিনি ভালো করেই জানেন—তখন তারা বলে, 'তুমি তো কেবল এক মিথ্যা রটনাকারী'।।} [আন-নামল: ১০০]।

এর উদাহরণসমূহ:

১ - ইসলামের সূচনালগ্নে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুদ্ধ পরিত্যাগ করতে এবং মুশরিকদের থেকে বিমুখ থাকতে আদিষ্ট ছিলেন। তাঁদেরকে বলা হয়েছিল: "তোমরা তোমাদের হাত সংযত রাখো।" অতঃপর এই বিধান রহিত করা হয় এবং আল্লাহ তাঁদের ওপর তাঁর এই বাণী নাযিল করেন: {যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হলো; কারণ তাদের প্রতি জুলুম করা হয়েছে। আর আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম।}

২ - এরপর আল্লাহ তাঁদের ওপর জিহাদ ফরয করেন এবং তৎকালীন অবস্থার প্রেক্ষিতে যুদ্ধের ময়দানে মুশরিকদের মোকাবিলায় দশজন মুশরিকের বিপরীতে একজন মুসলিমকে অটল থাকা ওয়াজিব করে দেন। পরবর্তীকালে সেই বিধান রহিত করে একজন মুসলিমের বিপরীতে দুইজন মুশরিকের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধারণ করা ওয়াজিব করা হয়।

মহান আল্লাহ বলেন: {হে নবী! মুমিনদেরকে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করুন। যদি তোমাদের মধ্যে বিশ জন ধৈর্যশীল থাকে, তবে তারা দুইশ জনের ওপর বিজয়ী হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে একশ জন থাকে, তবে তারা এক হাজার কাফিরের ওপর বিজয়ী হবে, কারণ তারা এমন এক কওম যাদের কোনো বোধশক্তি নেই। এখন আল্লাহ তোমাদের ভার লাঘব করেছেন এবং তিনি জেনেছেন যে তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। সুতরাং যদি তোমাদের মধ্যে একশ জন ধৈর্যশীল থাকে, তবে তারা দুইশ জনের ওপর বিজয়ী হবে; আর যদি তোমাদের মধ্যে এক হাজার জন থাকে, তবে তারা আল্লাহর হুকুমে দুই হাজার জনের ওপর বিজয়ী হবে। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [আল-আনফাল: ৬৫, ৬৬]।

৩ - মানুষ তখন নতুন নতুন ইসলাম গ্রহণ করছিল। জাহেলিয়াতের যুগের লোকদের অবস্থা এমন ছিল যে, তাদের কোনো নিকটাত্মীয় মারা গেলে তারা এমন শোকাতুর হয়ে বিলাপ ও মাতম করত যা কোনো বিবেকবান ব্যক্তি সমর্থন করতে পারে না। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলামের সূচনালগ্নে মুসলিমদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন। অতঃপর যখন তাদের অন্তরে ঈমান দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হলো, তখন তিনি এর অনুমতি প্রদান করেন; কারণ এতে শিক্ষা গ্রহণ ও মৃতদের জন্য দোয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। জেনে রেখো, এখন থেকে তোমরা কবর যিয়ারত করো, কেননা তা আখিরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।" =
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
فإن جحدوا كُذِّبوا بما نطق به الجزء الثاني من السِّفْر الأول من التوراة؛ إذ شرع الله على نوح عليه السلام القصاص في القتل، ذلك في قوله تعالى1: "شوفَيخ دام هاأذم باذام دامو استافيخ كي يصيلم ألويهم عاسا إت هاذام". تفسيره: سافك دم الإنسان، فليحكم بسفك دمه؛ لأن الله خلق آدم بصورة شريفة2.

وما يشهد به الجزء الثالث من السفر الأول من التوراة؛ إذ شرع على إبراهيم عليه السلام ختان المولود في اليوم الثامن من ميلاده3.

--------------------------------------------

= تنبيهان:

1 - إنما يكون النسخ من صاحب الشرع عن طريق الوحي دون العبادة.

2 - لا يطرأ النسخ على الأمور القطعية العقلية، ولا على الأمور الحسية، ولا على الأحكام الواجبة نظرا إلى ذاتها، ولا على الأحكام المؤبدة، ولا على القصاص ونحو ذلك. فلا نسخ مثلا في تحريم الكذب والقتل والزنا والسرقة والخيانة وبر الوالدين وحرمة نكاح الأمهات والبنات وسائر المحارم، ونحو ذلك. وإنما يطرأ النسخ على الأحكام العملية المحتملة للوجود والعدم، وتسمى الأحكام المطلقة، ويشترط فيها ألا يكون الوقت والمكلف والوجه متحدة فيها؛ بل لا بد من الاختلاف في الكل أو البعض من هذه الثلاثة.

أصول فقه الشاشي ص268، 269، إظهار الحق ص310.

1 كأن المؤلف رحمه الله يجاريهم. ولا يجوز نسبة القول إلى الله ما لم يكن ثابتا. وما بين أيديهم محرَّف كما سيذكر المؤلف فيما بعد.

2 جاء في سفر التكوين 9/ 6: سافك دم الإنسان، بالإنسان يسفك دمه؛ لأن الله على صورته عمل الإنسان.

3 جاء في سفر التكوين 17/ 10: هذا هو عهدي الذي تحفظونه بيني =
যদি তারা অস্বীকার করে, তবে তাওরাতের প্রথম গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশে যা বলা হয়েছে তার মাধ্যমে তারা মিথ্যায়িত হবে; যেহেতু আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালাম-এর ওপর হত্যার কিসাস বিধান করেছিলেন, তা মহান আল্লাহর এই বাণীতে১: "শুফায়িখ দাম হা-আদম বা-আদাম দামু ইস্তাফিখ কী ইয়াসিলাম আলুয়াহিম আসসা ইত হা-আদম।" এর ব্যাখ্যা: মানুষের রক্তপাতকারী, তার রক্তপাতের মাধ্যমেই যেন ফয়সালা করা হয়; কারণ আল্লাহ আদমকে এক সম্মানজনক আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।২

এবং তাওরাতের প্রথম গ্রন্থের তৃতীয় অংশ যা সাক্ষ্য দেয়; যেহেতু তিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর ওপর নবজাতকের জন্মের অষ্টম দিনে খতনা করার বিধান দিয়েছিলেন।৩

--------------------------------------------

= দুটি সতর্কতা:

১ - নাসখ (রহিতকরণ) কেবল শরয়ি বিধানদাতার পক্ষ থেকে ওহির মাধ্যমেই হয়, ইবাদতের মাধ্যমে নয়।

২ - সুনিশ্চিত যৌক্তিক বিষয়সমূহ, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহ, সত্তাগতভাবে আবশ্যক বিধানসমূহ, চিরস্থায়ী বিধানসমূহ এবং কিসাস ও এই জাতীয় বিষয়সমূহে নাসখ বা রহিতকরণ কার্যকর হয় না। উদাহরণস্বরূপ, মিথ্যাচার, হত্যা, ব্যভিচার, চুরি, খিয়ানত, পিতামাতার প্রতি সদাচরণ এবং মা, কন্যা ও অন্যান্য মাহরামদের বিয়ে হারাম হওয়ার বিধানে কোনো নাসখ নেই। নাসখ কেবল এমন ব্যবহারিক বিধানগুলোতে কার্যকর হয় যা বিদ্যমান থাকা বা না থাকা উভয়টির সম্ভাবনা রাখে এবং এগুলোকে ‘আহকামে মুতলাকাহ’ বলা হয়। এতে শর্ত হলো সময়, মুকাল্লাফ (যার ওপর বিধান জারি হয়) এবং প্রেক্ষিত যেন অভিন্ন না হয়; বরং এই তিনটির সবগুলোতে বা কোনোটিতে ভিন্নতা থাকা আবশ্যক।

উসুলে ফিকহ আশ-শাশী পৃষ্ঠা ২৬৮, ২৬৯; ইজহারুল হক পৃষ্ঠা ৩১০।

১ সম্ভবত লেখক রহিমাহুল্লাহ তাদের সাথে তাল মেলাচ্ছেন। কোনো কথা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা বৈধ নয় যতক্ষণ না তা সাব্যস্ত হয়। আর তাদের নিকট বর্তমানে যা রয়েছে তা বিকৃত, যেমনটি লেখক পরবর্তীতে উল্লেখ করবেন।

২ আদিপুস্তক ৯/৬-এ এসেছে: যে মানুষের রক্তপাত করবে, মানুষের দ্বারা তার রক্তপাত করা হবে; কারণ আল্লাহ মানুষকে তাঁর আকৃতিতে তৈরি করেছেন।

৩ আদিপুস্তক ১৭/১০-এ এসেছে: এটিই আমার অঙ্গীকার যা তোমরা আমার ও তোমাদের মাঝে রক্ষা করবে =
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= وبينكم، وبين نسلك من بعدك: يختن منكم كل ذكر.

17/ 11: فتختنون في لحم غرلتكم. فيكون علامة عهد بيني وبينكم.

17/ 12: ابن ثمانية أيام يختن منكم كل ذكر في أجيالكم، وليد البيت والمبتاع بفضة من كل ابن غريب ليس من نسلك.

17/ 13: يختن ختانا وليد بيتك والمبتاع بفضتك، فيكون عهدي في لحمكم عهدا أبديا.

17/ 14: وأما الذكر الأغلف الذي لا يختن في لحم غرلته، فتقطع تلك النفس من شعبها، إنه قد نكث عهدي.

إذن فقد كان الختان أبديا في شريعة إبراهيم عليه السلام وبقي هذا الحكم في أولاد إسماعيل وإسحاق عليهما السلام وأكدته شريعتا موسى ومحمد عليهما الصلاة والسلام.

جاء في سفر الأحبار "اللاويين" 12/ 2، 3: إذا حبلت امرأة وولدت ذكرا تكون نجسة سبعة أيام. كما في أيام طمث علتها تكون نجسة. وفي اليوم الثامن يختن لحم غرلته.

وخُتن المسيح عليه السلام كما في إنجيل لوقا 2/ 21: ولما تمت ثمانية أيام ليختنوا الصبي سُمي يسوع، كما تسمى من الملاك قبل أن حُبل به في البطن.

وفي العهد الجديد الصادر عن دار الكتاب المقدس في العالم العربي عام 1980م: ولما بلغ الطفل يومه الثامن، وهو يوم ختانه، سمي يسوع كما سماه الملاك قبلما حبلت به مريم.

ولا زال ثمة صلاة لدى النصارى يؤدونها يوم ختان المسيح تذكرة لذلك اليوم. لكن بولس -صاحب الشخصية الغامضة- ومن تبعه نسخوا هذا الحكم كما في الباب الخامس من سفر الأعمال.

وقد شدد بولس في نسخه تشديدا بالغا، كما في رسالته إلى أهل =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এবং তোমাদের মাঝে এবং তোমার পরবর্তী বংশধরদের মাঝে: তোমাদের প্রত্যেক পুরুষকে খতনা করাতে হবে।

১৭/ ১১: সুতরাং তোমরা তোমাদের লিঙ্গাগ্রের ত্বকের খতনা করবে। আর তা হবে আমার ও তোমাদের মধ্যকার অঙ্গীকারের চিহ্ন।

১৭/ ১২: তোমাদের বংশপরম্পরায় প্রত্যেক পুত্রসন্তান যখন আট দিন বয়সের হবে, তখন তাকে খতনা করানো হবে; এমনকি যে তোমার ঘরে জন্মেছে বা যে বিদেশী এবং তোমার বংশজাত নয় কিন্তু রূপার বিনিময়ে কেনা হয়েছে, তারও খতনা হবে।

১৭/ ১৩: তোমার ঘরে জন্মানো সন্তান এবং তোমার রূপার বিনিময়ে কেনা ব্যক্তি—উভয়েরই খতনা করা আবশ্যক। এভাবে তোমাদের মাংসে আমার এই অঙ্গীকার চিরন্তন অঙ্গীকার হয়ে থাকবে।

১৭/ ১৪: আর যে পুরুষ খতনা করেনি, অর্থাৎ যার লিঙ্গাগ্রের ত্বকের খতনা করা হয়নি, তাকে তার জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে; কারণ সে আমার অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।

অতএব, ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের শরিয়তে খতনা ছিল একটি শাশ্বত বিধান এবং এই বিধান ইসমাইল ও ইসহাক আলাইহিমাস সালামের সন্তানদের মধ্যেও জারি ছিল। পরবর্তীতে মুসা ও মুহাম্মদ আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালামের শরিয়তসমূহ একে আরও সুনিশ্চিত করেছে।

লেবীয় পুস্তকের (সিফরুল আহবার) ১২/ ২, ৩-এ এসেছে: যদি কোনো নারী গর্ভবতী হয় এবং পুত্রসন্তান প্রসব করে, তবে সে সাত দিন পর্যন্ত অশৌচ থাকবে। তার মাসিকের দিনগুলোর মতো সে অশৌচ থাকবে। আর অষ্টম দিনে শিশুটির লিঙ্গাগ্রের ত্বকের খতনা করতে হবে।

মসিহ আলাইহিস সালামেরও খতনা করা হয়েছিল, যেমনটি লুক রচিত সুসমাচারের ২/ ২১-এ রয়েছে: যখন খতনার জন্য নির্ধারিত আট দিন পূর্ণ হলো, তখন শিশুটির নাম রাখা হলো ঈসা, যেমনটি গর্ভে আসার আগেই ফেরেশতা কর্তৃক তার নামকরণ করা হয়েছিল।

আর ১৯৮০ সালে আরব বিশ্বের ‘দারুল কিতাবিল মুকাদ্দাস’ থেকে প্রকাশিত ‘নতুন নিয়মে’ বলা হয়েছে: শিশুটির যখন আট দিন পূর্ণ হলো, যা তার খতনার দিন ছিল, তখন তার নাম রাখা হলো ঈসা, যেমনটি মরিয়মের গর্ভে আসার আগে ফেরেশতা তাকে এ নামে অভিহিত করেছিলেন।

খ্রিস্টানদের মধ্যে আজও সেই দিনটির স্মরণে মসিহের খতনার দিনে একটি বিশেষ প্রার্থনা আদায় করা হয়। কিন্তু পল—যিনি একজন রহস্যময় চরিত্রের অধিকারী—এবং তার অনুসারীরা এই বিধানটিকে রহিত করে দিয়েছেন, যেমনটি প্রেরিতদের কার্যবিবরণীর পঞ্চম অধ্যায়ে দেখা যায়।

পল এই বিধান রহিতকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, যেমনটি তার পত্রে... =
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= غلاطية. فقد جاء فيها ما يلي:

5/ 2: هأنا بولس أقول لكم: إنه إن اختتنتم لا ينفعكم المسيح شيئا.

5/ 3: لكن أشهد أيضا لكل إنسان مختتن أنه ملتزم أن يعمل بكل الناموس.

5/ 4: وقد تبطلتم عن المسيح أيها الذين تتبرَّرون بالناموس. سقطتم من النعمة.

5/ 6: لأنه في المسيح يسوع، لا الختان ينفع شيئا ولا الغُرلة. بل الإيمان العامل بالمحبة.

وجاء في 6/ 15: لأن في المسيح يسوع، ليس الختان ينفع شيئا، ولا الغرلة. بل الخليقة الجديدة.

وإذا كان النصارى يعيبون على المسلمين النسخ، ويرون أنه يستلزم وصف الله بالجهل وعدم الحكمة. فهذا إنما يرد على مقدسهم بولس الذي لم يكتفِ بنسخ الختان الأبدي فحسب، بل قال عن التوراة وسائر أسفار العهد القديم: إنها بطلت ونزعت، وإن العهد القديم كان ضعيفا وعديم النفع وغير مكمل لشيء، وجعله أحق بالاضمحلال والإبطال. فهل يتصور أن يصدر هذا التشريع وهذا النسخ من ذات الله قديم الصفات وكاملها؟!

جاء في رسالته إلى العبرانيين 7/ 18: فإنه يصير إبطال الوصية السابقة من أجل ضعفها وعدم نفعها.

7/ 19: إذ الناموس لم يكمل شيئا. ولكن بصير إدخال رجاء أفضل، به نقترب إلى الله.

وفي العهد الجديد الصادر عام 1980: لأن شريعة موسى ما حققت الكمال في شيء، فحل محلها رجاء أفضل. =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= গালাতীয়। সেখানে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো এসেছে:

৫/ ২: দেখ, আমি পৌল তোমাদের বলছি: যদি তোমরা খতনা কর, তবে মসীহ তোমাদের কোনো উপকারে আসবেন না।

৫/ ৩: বরং আমি পুনরায় প্রত্যেক খতনাকারী ব্যক্তির কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সে সমস্ত বিধান (শরীয়ত) পালন করতে বাধ্য।

৫/ ৪: তোমরা যারা বিধানের মাধ্যমে ধার্মিক হতে চাও, তোমরা মসীহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছ। তোমরা অনুগ্রহ থেকে বিচ্যুত হয়েছ।

৫/ ৬: কারণ মসীহ ঈসার মধ্যে খতনা বা অখতনা কোনোটিই কাজে আসে না। বরং ভালোবাসার মাধ্যমে কার্যকর ঈমানই প্রধান।

৬/ ১৫-এ এসেছে: কারণ মসীহ ঈসার মধ্যে খতনা বা অখতনা কোনোটিই কাজে আসে না, বরং নতুন সৃষ্টিই সব।

নাসারাগণ (খ্রিস্টানরা) যদি মুসলমানদের ‘নাসখ’ বা বিধান রহিতকরণের বিধানকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করে এবং তারা যদি মনে করে যে এটি আল্লাহকে অজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাহীনতার সাথে বিশেষিত করাকে আবশ্যক করে, তবে এটি তো মূলত তাদের পবিত্র পুরুষ পৌলের ওপরই বর্তায়। তিনি কেবল চিরন্তন খতনার বিধানকেই রহিত করেননি, বরং তাওরাত ও পুরাতন নিয়মের অন্যান্য কিতাব সম্পর্কে বলেছেন: সেগুলো বাতিল ও অপসারিত হয়েছে। তিনি পুরাতন নিয়মকে দুর্বল, নিষ্ফল এবং কোনো কিছু পূর্ণ করতে অক্ষম হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং সেটিকে বিলুপ্তি ও বাতিলের যোগ্য সাব্যস্ত করেছেন। এমতাবস্থায় এটা কি কল্পনা করা যায় যে, এমন আইন প্রণয়ন এবং এমন রহিতকরণ আল্লাহর সত্তা থেকে প্রকাশিত হবে যিনি অনাদি ও পূর্ণ গুণাবলীর অধিকারী?!

ইবরানিদের প্রতি তার পত্রে (৭/ ১৮) এসেছে: পূর্ববর্তী আজ্ঞাটি এর দুর্বলতা ও নিষ্ফলতার কারণে বাতিল হয়ে গেছে।

৭/ ১৯: যেহেতু বিধান (শরীয়ত) কোনো কিছুই পূর্ণ করেনি। কিন্তু এর পরিবর্তে এক উত্তম প্রত্যাশার সূচনা হয়েছে, যার দ্বারা আমরা আল্লাহর নিকটবর্তী হই।

১৯৮০ সালে প্রকাশিত নতুন নিয়মে বলা হয়েছে: কেননা মূসার শরীয়ত কোনো বিষয়েই পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি, তাই এর স্থলে এক উত্তম প্রত্যাশা স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। =
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وهذه وأمثالها شرائع؛ لأن التشريع لا يخرج عن كونه أمرًا أو نهيًا من الله لعباده، سواء نزل على لسان رسول أو كتب في أسفار وألواح أو غير ذلك.

فإذا أقروا بأنه قد كان شرع لهم. قلنا لهم: ما تقولون في التوراة؟ هل أتت بزيادة على تلك الشرائع أو لا؟

فإذا قالوا: لا، فقد صارت عبثًا؛ إذ لا زيادة فيها على ما تقدم، ولم تغن شيئا. فلا يجوز أن تكون صادرة عن الله. فيلزمكم أن التوراة ليست من عند الله تعالى. وذلك كفر على مذهبكم.

وإن كانت التوراة أتت بزيادة. فهل في تلك الزيادة تحريم ما كان مباحا أو لا؟ فإن أنكروا ذلك بطل قولهم من وجهين:

أحدهما: أن التوراة حرمت الأعمال الصناعية في يوم السبت بعد أن كان مباحا. وهذا بعينه هو النسخ1.

--------------------------------------------

= 8/ 7: فإنه لو كان ذلك الأول -أي العهد القديم- بلا عيب لما طُلب موضع لثان.

8/ 13: فإذ قال: جديدا، عتق الأول. وأما ما عتق وشاخ، فهو قريب من الاضمحلال.

وفي العهد الجديد الصادر عام 1980م: والله بكلامه على عهد جديد جعل العهد الأول قديما. وكل شيء عتق وشاخ يقترب من الزوال.

10/ 9: ثم قال: هأنذا أجيء لأفعل مشيئتك يا ألله؛ يَنْزِعُ الأول لكي يُثبِّتَ الثاني.

انظر إظهار الحق طبعة قطر ص35 وص306، 307.

1 كان تعظيم السبت حكما أبديا في الشريعة الموسوية، وما كان لأحد أن =
এইগুলো এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো হলো শরীয়ত; কেননা শরীয়ত প্রণয়ন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য কোনো আদেশ বা নিষেধের বাইরে কিছু নয়, চাই তা কোনো রাসূলের মুখে অবতীর্ণ হোক অথবা কিতাবসমূহ ও ফলকসমূহে বা অন্য কিছুতে লিপিবদ্ধ হোক।

সুতরাং যদি তারা স্বীকার করে যে, এটি তাদের জন্য বিধান ছিল, তবে আমরা তাদের বলব: তাওরাত সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? এটি কি সেই শরীয়তগুলোর ওপর কোনো অতিরিক্ত বিষয় নিয়ে এসেছে কি না?

যদি তারা বলে: না, তবে তা অর্থহীন হয়ে পড়ে; যেহেতু পূর্ববর্তীদের তুলনায় এতে কোনো অতিরিক্ত বিষয় নেই এবং এটি কোনো উপকারে আসেনি। সুতরাং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়া সম্ভব নয়। ফলে এটি তোমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, তাওরাত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নয়। আর তোমাদের ধর্মমত অনুযায়ী এটি কুফরি।

আর যদি তাওরাত অতিরিক্ত কিছু নিয়ে এসে থাকে, তবে সেই অতিরিক্তের মধ্যে কি এমন কিছু হারাম করা হয়েছে যা আগে বৈধ ছিল কি না? যদি তারা এটি অস্বীকার করে, তবে তাদের বক্তব্য দুই দিক থেকে বাতিল হয়ে যাবে:

প্রথমটি হলো: তাওরাত শনিবারের দিন শ্রমসাধ্য কাজসমূহকে হারাম করেছে, অথচ এর আগে তা বৈধ ছিল। আর এটিই স্পষ্টভাবে রহিতকরণ (নাসখ)১।

--------------------------------------------

= ৮/ ৭: কেননা যদি সেই প্রথমটি —অর্থাৎ পুরাতন নিয়ম— ত্রুটিমুক্ত হতো, তবে দ্বিতীয়টির জন্য কোনো অবকাশ খোঁজা হতো না।

৮/ ১৩: যখন তিনি বললেন: 'নতুন', তখন প্রথমটিকে পুরাতন করে দিলেন। আর যা কিছু পুরাতন ও জীর্ণ হয়ে যায়, তা বিলুপ্তির নিকটবর্তী।

এবং ১৯৮০ সালে প্রকাশিত নতুন নিয়মে বলা হয়েছে: আল্লাহ একটি নতুন নিয়মের কথা বলে প্রথম নিয়মটিকে পুরাতন করে দিয়েছেন। আর প্রতিটি বস্তু যা পুরাতন ও জীর্ণ হয়, তা বিলীন হওয়ার সন্নিকটে।

১০/ ৯: এরপর তিনি বললেন: 'দেখুন, আমি আপনার ইচ্ছা পূরণ করতে এসেছি হে আল্লাহ'; তিনি প্রথমটিকে সরিয়ে দেন যাতে দ্বিতীয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

দেখুন ইজহারুল হক, কাতার সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৩৫ এবং পৃষ্ঠা ৩০৬, ৩০৭।

১. মুসা (আ.)-এর শরীয়তে শনিবারের সম্মান প্রদর্শন করা একটি চিরস্থায়ী বিধান ছিল, এবং কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না যে =
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= يعمل فيه أدنى عمل. ومن عمل فيه عملا ولم يحفظه فقد وجب قتله.

جاء في سفر التكوين 2/ 2، 3: وفرغ الله في اليوم السابع -وفي التوراة السامرية: السادس- من عمل يده الذي عمل. فاستراح في اليوم السابع من جميع عمله الذي عمل. وبارك الله اليوم السابع وقدسه؛ لأن فيه استراح من جميع عمله الذي عمل الله خالقا، وفي السامرية: لأن فيه بطل من جميع صناعته التي صنع الله للفعل.

وجاء في سفر الخروج 20/ 8 - 11: اذكر السبت لتقدسه، ستة أيام تعمل، وتصنع جميع عملك. وأما اليوم السابع ففيه سبت للرب إلهك. لا تصنع عملا ما أنت وابنك وابنتك وعبدك وأمتك وبهيمتك ونزيلك الذي داخل أبوابك؛ لأن في ستة أيام صنع الرب السماء والأرض والبحر وكل ما فيها. واستراح في اليوم السابع؛ لذلك بارك الرب يوم السبت وقدسه.

23/ 12: ستة أيام تعمل عملك. وأما اليوم السابع ففيه تستريح؛ لكي يستريح ثورك وحمارك، ويتنفس ابن أمتك والغريب.

31/ 13 - 17: سبوتي تحفظونها؛ لأن علامة بيني وبينكم في أجيالكم … فتحفظون السبت؛ لأنه مقدس لكم. من دنسه يقتل قتلا … لأنه في ستة أيام صنع الرب السماء والأرض. وفي اليوم السابع استراح وتنفس. وفي السامرية: بل سبوتي تحفظون. إنها آية بيني وبينكم لأجيالكم … مبذلها قتلا يقتل … ستة أيام تصنع صناعة، وفي السابع أعطل … إن في ستة أيام صنع الله السماوات والأرض. وفي اليوم السابع عطل وأراح.

فالله سبحانه وتعالى بزعمهم ضعيف، يحتاج إلى الراحة كالبشر. فبعد أن فرغ من خلق السماوات والأرض تنفس واستراح، وكان ذلك يوم السبت؛ ولذلك حرم العمل فيه. وقد رد الله سبحانه في القرآن الكريم =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= যাতে সামান্যতম কাজ করা হয়। আর যে ব্যক্তি তাতে কোনো কাজ করবে এবং তা রক্ষা করবে না, তার ওপর মৃত্যুদণ্ড অবধারিত হয়ে যায়।

আদিপুস্তক ২/ ২, ৩-এ এসেছে: আল্লাহ সপ্তম দিনে—আর সামেরীয় তৌরাত অনুযায়ী: ষষ্ঠ দিনে—তাঁর আল্লাহর হাতের কাজ থেকে অবসর হলেন যা তিনি করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর কৃত সকল কাজ থেকে সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিলেন। আর আল্লাহ সপ্তম দিনকে বরকতময় করলেন এবং তাকে পবিত্র করলেন; কারণ তাতে তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্তা হিসেবে কৃত সকল কাজ থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। আর সামেরীয় সংস্করণে রয়েছে: কারণ তাতে তিনি তাঁর সকল শিল্পকর্ম থেকে বিরত হয়েছিলেন যা আল্লাহ সম্পাদনের জন্য করেছিলেন।

যাত্রাপুস্তক ২০/ ৮ - ১১-এ এসেছে: বিশ্রামবারকে পবিত্র রাখার কথা স্মরণ করো। ছয় দিন তুমি পরিশ্রম করবে এবং তোমার সকল কাজ সম্পন্ন করবে। কিন্তু সপ্তম দিনটি তোমার প্রতিপালক আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিশ্রামবার। তাতে তুমি কোনো কাজ করবে না—না তুমি, না তোমার পুত্র, না তোমার কন্যা, না তোমার দাস, না তোমার দাসী, না তোমার গবাদি পশু, আর না তোমার ফটকের ভেতরের আগন্তুক। কারণ ছয় দিনে প্রতিপালক আসমান, জমিন, সমুদ্র এবং তার মধ্যস্থিত সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছেন; এই কারণে প্রতিপালক বিশ্রামবারকে বরকতময় করেছেন এবং তাকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন।

২৩/ ১২: ছয় দিন তুমি তোমার কাজ করবে, কিন্তু সপ্তম দিনে বিশ্রাম নেবে; যাতে তোমার বলদ ও গাধা বিশ্রাম পায় এবং তোমার দাসীর পুত্র ও আগন্তুক স্বস্তি পায়।

৩১/ ১৩ - ১৭: তোমরা আমার বিশ্রামবারগুলো রক্ষা করবে; কারণ এটি তোমাদের বংশপরম্পরায় আমার ও তোমাদের মধ্যে একটি চিহ্ন … সুতরাং তোমরা বিশ্রামবার রক্ষা করবে; কারণ তা তোমাদের জন্য পবিত্র। যে তা অপবিত্র করবে, তাকে অবশ্যই হত্যা করা হবে … কারণ ছয় দিনে প্রতিপালক আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছেন ও স্বস্তি লাভ করেছেন। আর সামেরীয় সংস্করণে রয়েছে: বরং তোমরা আমার বিশ্রামবারগুলো রক্ষা করো। এটি তোমাদের বংশপরম্পরায় আমার ও তোমাদের মধ্যে একটি নিদর্শন … যে তা লঙ্ঘন করবে তাকে অবশ্যই হত্যা করা হবে … ছয় দিন শিল্পকর্ম করা হবে এবং সপ্তম দিনে আমি বিরত থাকব … নিশ্চয়ই ছয় দিনে আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আর সপ্তম দিনে তিনি বিরত ছিলেন ও বিশ্রাম নিয়েছিলেন।

সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের দাবি অনুযায়ী দুর্বল, যিনি মানুষের মতো বিশ্রামের প্রয়োজন বোধ করেন। আসমান ও জমিন সৃষ্টি থেকে অবসর হওয়ার পর তিনি স্বস্তি লাভ করেন ও বিশ্রাম নেন, আর তা ছিল শনিবার দিন; এই কারণেই সেদিন কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর আল্লাহ সুবহানাহু পবিত্র কুরআনে এর প্রতিবাদ করেছেন =
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
الثاني: أنه لا معنى لزيادة في الشرع إلا تحريم ما تقدمت إباحته، أو إباحة ما تقدم تحريمه.

فإن قالوا: إن الحكيم لا يحظر شيئا ثم يبيحه؛ لأن ذلك إن جاز مثله كان كمن أمر بشيء وضده.

فالجواب أن من أمر بشيء وضده في زمانين مختلفين غير متناقض في أوامره. وإنما يكون كذلك لو كان الأمران في وقت واحد.

فإن قالوا: إن التوراة حظرت أمورا كانت مباحة من قبل، ولم تأتِ بإباحة محظور. والنسخ المكروه هو إباحة المحظور؛ لأن من أبيح له شيء فامتنع عنه، وحظره على نفسه فليس بمخالف. وإنما المخالف من منع من شيء فأتاه لاستباحته المحظور.

فالجواب: أن من أحل ما حظره الشرع في طبقة المحرِّم لما أحله الشرع؛ إذ كل منهما قد خالف المشروع، ولم يقر الكلمة على معاهدها. فإذا جاز أن يأتي شرع التوراة بتحريم ما كان إبراهيم -عليه

--------------------------------------------

= على زعمهم هذا فقال: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ} [ق: 38] أي: من تعب أو نَصَب.

هذا، وقد تكرر حكم تعظيم يوم السبت وتحريم العمل فيه في مواضع أخرى كثيرة من أسفار العهد القديم، مثل: سفر الخروج 34/ 21 و35/ 2، 3، وسفر الأحبار -اللاويين- حيث وردت عدة فقرات منثورة في الباب الثالث والعشرين، وسفر العدد 15/ 32 - 36، حيث ذكرت قصة الذي جمع حطبا في يوم السبت، فقتل خارج المحلة رجما بالحجارة، وسفر التثنية 5/ 12 - 15، وسفر نحميا 9/ 14، وسفر إشعياء، ففيه فقرات منثورة في البابين السادس والخمسين والثامن والخمسين، وسفر إرمياء 17/ 21 - 27.
দ্বিতীয়: শরিয়তে কোনো নতুন বিধান বৃদ্ধির অর্থ এটাই যে, যা ইতিপূর্বে বৈধ ছিল তা নিষিদ্ধ করা অথবা যা আগে নিষিদ্ধ ছিল তা বৈধ করা।

তারা যদি বলে: মহাজ্ঞানী (আল্লাহ) কোনো কিছু নিষিদ্ধ করার পর তা পুনরায় বৈধ করেন না; কারণ এ জাতীয় বিষয় যদি অনুমোদিত হতো, তবে তা এমন ব্যক্তির মতো হতো যে কোনো বিষয়ে নির্দেশ দেয় এবং তার বিপরীত নির্দেশও দেয়।

এর উত্তর হলো, যে ব্যক্তি দুটি ভিন্ন সময়ে কোনো বিষয় এবং তার বিপরীত বিষয়ের নির্দেশ দেয়, তার নির্দেশাবলির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকে না। এটি কেবল তখনই বৈপরীত্য হতো যদি উভয় নির্দেশ একই সময়ে প্রদান করা হতো।

তারা যদি বলে: তাওরাত এমন কিছু বিষয় নিষিদ্ধ করেছে যা ইতিপূর্বে বৈধ ছিল, কিন্তু তা কোনো নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করার বিধান নিয়ে আসেনি। আর অপছন্দনীয় 'নাসখ' (রহিতকরণ) হলো কোনো নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করা; কারণ যাকে কোনো কিছুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে সে যদি তা থেকে বিরত থাকে এবং নিজের ওপর তা নিষিদ্ধ করে নেয়, তবে সে নির্দেশ লঙ্ঘনকারী নয়। বরং লঙ্ঘনকারী সেই ব্যক্তি, যাকে কোনো কিছু থেকে নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু সে নিষিদ্ধ বিষয়টিকে বৈধ মনে করে তা সম্পাদন করে।

উত্তর হলো: শরিয়ত যা নিষিদ্ধ করেছে তাকে যে বৈধ করে, সে ঐ ব্যক্তির সমপর্যায়ের যে শরিয়ত যা বৈধ করেছে তাকে নিষিদ্ধ করে; কারণ তারা উভয়েই শরিয়তের বিধানের বিপরীত কাজ করেছে এবং শব্দকে তার সঠিক প্রয়োগস্থলে রাখেনি। সুতরাং তাওরাতের শরিয়ত যদি এমন কিছু নিষিদ্ধ করার বিধান নিয়ে আসতে পারে যা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য...

--------------------------------------------

= তাদের এই দাবি অনুযায়ী তিনি বলেছেন: {আর অবশ্যই আমি আসমানসমূহ, জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।} [ক্বাফ: ৩৮] অর্থাৎ: কোনো অবসাদ বা ক্লান্তি।

এটি ছাড়াও, শনিবারকে মহিমান্বিত করা এবং ঐ দিনে কাজ নিষিদ্ধ করার বিধান ওল্ড টেস্টামেন্টের আরও অনেক স্থানে বারবার বর্ণিত হয়েছে, যেমন: যাত্রাপুস্তক ৩৪/২১ এবং ৩৫/২, ৩; লেবীয় পুস্তক—যেখানে ২৩তম অধ্যায়ে বেশ কিছু বিক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ রয়েছে; গণনাপুস্তক ১৫/৩২-৩৬, যেখানে শনিবারে লাকড়ি সংগ্রহকারী ব্যক্তির কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, যাকে লোকালয়ের বাইরে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়েছিল; দ্বিতীয় বিবরণ ৫/১২-১৫; নহিমিয় ৯/১৪; যিশাইয়—এর ৫৬ ও ৫৮তম অধ্যায়ে কিছু বিক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ রয়েছে এবং যিরমিয় ১৭/২১-২৭।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
السلام- ومن تقدمه على استباحته، فجائز أن تأتي شريعة أخرى بتحليل ما كان في التوراة محظورا.

وأيضا فلا تخلو المحظورات من أن يكون تحريمها مفترضا في كل الأزمنة؛ لأن الله سبحانه يكره ذلك المحظور لعينه1. وإما ألا يكرهه لعينه، بل نهى عنه في بعض الأزمنة.

فإن كان الله نهى عن عمل الصناعات في يوم السبت لعين السبت، فينبغي أن يكون هذا التحريم على إبراهيم ونوح أيضا؛ لأن عين السبت كانت أيضا موجودة في زمانهم، وهي علة التحريم. وإذا كان ذلك غير محرم على إبراهيم ومن تقدمه، فليس النهي عنه لعينه -أعني: في جميع أوقات وجود عينه- وإذا لزمكم أن تحريم الصناعة في يوم السبت ليس تحريما في جميع أوقات السبت، فليس يمتنع أن ينسخ هذا التحريم في زمن آخر.

وإذا ظهر قائم بمعجزات الرسالة وأعلام النبوة في زمن آخر بعد فترة طويلة، فجائز أن يأتي بنسخ كثير من أحكام الشريعة، سواء حظر مباحاتها، أو أباح محظوراتها. وكيف يجوز أن تحاج البينة باعتراض فيما ورد به من أمر ونهي، سواء وافق العقول البشرية أو باينها؟ لا سيما أن الخصوم قد طالما تعبدوا بفرائض مباينة للعقول، كطهارة أنجاسهم برماد البقرة التي كان الإمام الهاروني يحرقها قبيل أوان الحج، ونجاسة طاهرهم بذلك الرماد بعينه2.

--------------------------------------------

1 المحظور لعينه ما يترتب على الإتيان به ضرر أو فساد أو ما أشبه ذلك، مثل الكذب والقتل والزنا والسرقة والخيانة ونحو ذلك. فهذا لا يباح قط، ولا يتأتى فيه النسخ.

2 سيتعرض المؤلف لهذا الموضوع قريبا؛ وإنما مراده هنا أن الأمور التعبدية قد تخفي حكمتها. ثم ضرب لليهود مثلا على ذلك من واقع كتابهم وحياتهم، ألا وهو طهارة من انتابته نجاسة منهم مادية أو معنوية برماد البقرة التي كان الإمام الهاروني يحرقها بعد ذبحها، وفي طرح هذا الرماد على الشخص نجاسة وقذارة، فأين التنزه عن النجاسة؟
সালাম [তাঁর ওপর]—এবং যারা তাঁর পূর্বে এটি বৈধ হওয়ার সপক্ষে ছিলেন, তাদের জন্য এটি জায়েজ যে, অন্য একটি শরিয়ত তাওরাতে যা নিষিদ্ধ ছিল তা বৈধ করার বিধান নিয়ে আসবে।

অধিকন্তু, নিষিদ্ধ বিষয়গুলো এমন হওয়া থেকে মুক্ত নয় যে, সেগুলোর নিষেধাজ্ঞা সকল সময়ের জন্য অবধারিত হবে; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সেই নিষিদ্ধ বিষয়টিকে তার স্বয়ং সত্তার কারণেই অপছন্দ করেন। অথবা তিনি সেটিকে তার স্বয়ং সত্তার কারণে অপছন্দ করেন না, বরং কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তা থেকে নিষেধ করেছেন।

যদি আল্লাহ শনিবারের দিনে শিল্পকর্ম করাকে খোদ শনিবারের কারণে নিষেধ করে থাকেন, তবে এই নিষেধাজ্ঞা ইবরাহিম ও নুহ-এর ওপরও প্রযোজ্য হওয়া উচিত ছিল; কারণ শনিবারের সেই সময়টি তাঁদের যুগেও বিদ্যমান ছিল এবং এটিই ছিল নিষেধাজ্ঞার কারণ। আর যদি তা ইবরাহিম এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের ওপর নিষিদ্ধ না হয়ে থাকে, তবে সেই নিষেধাজ্ঞা তার স্বয়ং সত্তার কারণে নয়—অর্থাৎ: তার অস্তিত্বের সকল সময়ের জন্য নয়—আর যদি আপনাদের জন্য এটি মেনে নেওয়া আবশ্যক হয় যে শনিবারের দিনে শিল্পকর্মের নিষেধাজ্ঞা শনিবারের সকল সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা নয়, তবে অন্য কোনো সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা রহিত হওয়া অসম্ভব নয়।

এবং যদি দীর্ঘ বিরতির পর অন্য কোনো সময়ে রিসালাতের মুজিযা এবং নবুয়তের নিদর্শনাবলি নিয়ে কোনো আহবায়ক আবির্ভূত হন, তবে তাঁর পক্ষে শরিয়তের অনেক বিধান রহিত করা জায়েজ, চাই তিনি বৈধ বিষয়গুলোকে নিষিদ্ধ করুন কিংবা নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে বৈধ করুন। আর এটি কীভাবে সম্ভব যে, সুনিশ্চিত প্রমাণের বিপরীতে তাঁর আনীত আদেশ ও নিষেধের ব্যাপারে আপত্তি তোলা হবে, চাই তা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির অনুকূলে হোক বা প্রতিকূলে? বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ দীর্ঘকাল ধরে এমন সব বিধান মেনে ইবাদত করে আসছে যা বুদ্ধিবৃত্তির পরিপন্থী, যেমন হারুনী ইমাম হজের সময়ের কিছুকাল আগে যে গাভীটি দহন করতেন তার ছাই দিয়ে তাদের নাপাক বস্তু পবিত্র করা, এবং সেই একই ছাইয়ের মাধ্যমে পবিত্র বস্তু নাপাক হওয়া।

--------------------------------------------

১ স্বয়ং সত্তাগতভাবে নিষিদ্ধ হলো তা-ই যা লিপ্ত হওয়ার ফলে ক্ষতি বা বিপর্যয় বা এই জাতীয় কিছু প্রকাশ পায়, যেমন মিথ্যা বলা, হত্যা, ব্যভিচার, চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। এগুলো কখনোই বৈধ হয় না এবং এগুলোতে রহিতকরণ প্রক্রিয়া কার্যকর হয় না।

২ লেখক শীঘ্রই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন; এখানে তাঁর উদ্দেশ্য হলো যে ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়গুলোর হিকমত বা গূঢ় রহস্য গোপন থাকতে পারে। এরপর তিনি ইহুদিদের জন্য তাদের কিতাব ও বাস্তব জীবন থেকে একটি উদাহরণ পেশ করেছেন, আর তা হলো তাদের মধ্য থেকে যাদের বাহ্যিক বা আত্মিক নাপাকি স্পর্শ করত, তাদের সেই গাভীর ছাই দ্বারা পবিত্র করা যা হারুনী ইমাম জবেহ করার পর দহন করতেন; অথচ ব্যক্তির ওপর এই ছাই নিক্ষেপ করার মধ্যে দৃশ্যত নাপাকি ও ময়লাই বিদ্যমান, তাহলে নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়ার সুযোগ কোথায়?
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
على أن الذي يروم تنزيله منزلة هذا أقرب كثيرا إلى العقل. فإن الأفعال والأوامر الإلهية منزهة عن الوقوف عند مقتضى العقول البشرية1.

--------------------------------------------

1 من الجدير بالذكر أنه لا تعارض بين العقل السليم أو الفطرة الصافية وبين ما جاء به الأنبياء عليهم السلام فالله سبحانه وتعالى لم يتعبدنا بشيء يخالف العقل الكامل أو الفطرة. والكتب السماوية إنما تأتي بما تحار فيه العقول لا بما تحيله. ولو أن ذا فطرة سليمة فكر بحق وعمق لأدرك كثيرا من حكم التشريع. وليس ثمة ما يمنع من أن تأتي الرسل مؤيدة لما رأته العقول السليمة. بل يكون ذلك من باب ترادف الأدلة. ولذلك وافق القرآن عمر رضي الله عنه في أمور ارتآها بفطرته الصافية التي نفض الإسلام عنها غبار الجاهلية. لكن من يضمن لنا سلامة العقل وصفاء الفطرة في شخص ما ولو نسبيا؟ ومن يضمن لنا خلو ذلك الشخص من المؤثرات النفسية والاجتماعية؟ ثم من يضمن لنا استمرار ذلك كله؟ وكيف نوفق بين العقول المختلفة والمتفاوتة؟ فمن أجل هذا وغيره كان لا بد من إرسال الرسل بتشريع سماوي يحسم الخلاف، ويكون الوحي المنزل عليهم هو الفيصل في جميع الأمور.

هذا، والأنبياء جميعا يدعون إلى أصول مشتركة، لا تختلف في حقيقتها وجوهرها، ويبنون أحكامهم على أسس متناسقة. قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25].

وقال سبحانه: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ =
তদুপরি, যিনি একে এই পর্যায়ে নামিয়ে আনতে চান, তা বুদ্ধিবৃত্তির অধিকতর নিকটবর্তী। কেননা ঐশ্বরিক কার্যাবলি ও নির্দেশনাবলি মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকা থেকে পবিত্র।১।

--------------------------------------------

১ এটি উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে, সুস্থ বিবেক বা স্বচ্ছ ফিতরাতের (প্রকৃতি) সাথে নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) যা নিয়ে এসেছেন তার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের এমন কোনো কিছুর ইবাদত করতে নির্দেশ দেননি যা পূর্ণাঙ্গ বিবেক বা ফিতরাতের পরিপন্থী। আসমানী কিতাবসমূহ কেবল এমন বিষয় নিয়ে আসে যা বুদ্ধি বা বিবেককে স্তম্ভিত করে দেয়, কিন্তু তাকে অসম্ভব সাব্যস্ত করে না। যদি কোনো সুস্থ ফিতরাতের অধিকারী ব্যক্তি গভীরভাবে ও সঠিকভাবে চিন্তা করেন, তবে তিনি শরীয়তের বিধিব্যবস্থার বহু রহস্য উপলব্ধি করতে পারবেন। সুস্থ বিবেক যা প্রত্যক্ষ করেছে, রাসুলগণ তার সমর্থনেই আসবেন—এতে কোনো বাধা নেই। বরং এটি দলিলের পর্যায়ক্রমিকতার অন্তর্ভুক্ত হবে। এই কারণেই কুরআন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে এমন কিছু বিষয়ে একমত হয়েছে যা তিনি তার স্বচ্ছ ফিতরাত দ্বারা উপলব্ধি করেছিলেন, যে ফিতরাত থেকে ইসলাম জাহেলিয়াতের ধুলিকণা ঝেড়ে ফেলেছিল। কিন্তু কোনো ব্যক্তির বিবেকের সুস্থতা এবং ফিতরাতের স্বচ্ছতা সম্পর্কে কে আমাদের নিশ্চয়তা দেবে, এমনকি তা আপেক্ষিক হলেও? সেই ব্যক্তি মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রভাব থেকে মুক্ত—এরই বা গ্যারান্টি কে দেবে? এরপর এই সবকিছুর ধারাবাহিকতার নিশ্চয়তাই বা কে দেবে? আর বিভিন্ন ও ভিন্ন ভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তির মধ্যে আমরা কীভাবে সমন্বয় করব? এই কারণে এবং আরও অন্যান্য কারণে, রাসুলগণের প্রেরণ করা অপরিহার্য ছিল এমন এক আসমানী শরীয়তসহ যা মতপার্থক্য নিরসন করবে এবং তাঁদের প্রতি অবতীর্ণ ওহিই হবে সকল বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী।

তদুপরি, সকল নবীই এমন কিছু অভিন্ন মূলনীতির দিকে আহ্বান করেন, যার হাকিকত ও সারবত্তায় কোনো পার্থক্য নেই এবং তাঁরা তাঁদের বিধানসমূহকে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ভিত্তির ওপর স্থাপন করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসুলই প্রেরণ করিনি যার প্রতি এই ওহি প্রদান করিনি যে, আমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো} [আল-আম্বিয়া: ২৫]।

এবং তিনি পবিত্র সত্তা বলেন: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসুল প্রেরণ করেছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং...}
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وإذا كانت التعبدات الشرعية غير عائدة بنفع لله عز وجل، ولا دافعة عنه ضررا لتنزهه سبحانه وتعالى عن الانتفاع والتأذي بشيء. فما الذي يحيل أو يمنع كونه تعالى يأمر أمة بشريعة، ثم ينهى أمة أخرى عنها؟ أو يحرم محظورا على قوم، ويحله لأولادهم، ثم يحظره ثانية على من يجيء بعدهم؟ وكيف يجوز للمتعبد أن يعارض الرسول في تحليله ما كان حراما على قوم، ويستدل بذلك على كذبه بعد أن جاء بالبينة، وأوجب العقلاء تصديقه وتحكيمه؟ أليس هذا تحكما وضلالا وعدولا عن الحق؟!

--------------------------------------------

= وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36].

وقال جل شأنه: {مَا يُقَالُ لَكَ إِلَّا مَا قَدْ قِيلَ لِلرُّسُلِ مِنْ قَبْلِكَ إِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ وَذُو عِقَابٍ أَلِيمٍ} [فصلت: 43].

وقد استهدفت جميع الشرائع السماوية في عباداتها وتشريعاتها وأحكامها ما يحقق مصالح الناس في الدنيا، ويهيئهم للظفر بسعادة الآخرة.

قال سبحانه: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} [الشورى: 13].

غير أن تفاصيل الشرائع وفروع الأحكام وأشكال العبادة تختلف من أمة إلى أمة تبعًا لاختلاف زمان الناس وأحوالهم واستعداداتهم وما يحيط بهم من عوامل وملابسات.

قال سبحانه: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} [المائدة: 48].

وقال أيضًا: {لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ} [الحج: 67].
যদি শরয়ি ইবাদতসমূহ মহিমান্বিত আল্লাহর কোনো উপকারে না আসে এবং তাঁর কোনো ক্ষতিও রোধ না করে—কেননা তিনি পবিত্র ও মহান হওয়ার কারণে কোনো কিছুর মাধ্যমে উপকৃত হওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে ঊর্ধ্বে—তবে মহান আল্লাহ এক উম্মতকে এক শরিয়তের আদেশ দেবেন এবং অন্য উম্মতকে তা থেকে নিষেধ করবেন, এতে অসম্ভব বা বাধার কী আছে? অথবা এক সম্প্রদায়ের ওপর কোনো নিষিদ্ধ বিষয় হারাম করবেন, তাদের সন্তানদের জন্য তা হালাল করবেন, অতঃপর তাদের পরে যারা আসবে তাদের ওপর পুনরায় তা নিষিদ্ধ করবেন (এতে অসম্ভবের কী আছে)? আর কোনো ইবাদতকারীর জন্য এটি কীভাবে বৈধ হতে পারে যে, সে রাসুলের সেই বিষয় হালাল করার বিরোধিতা করবে যা অন্য সম্প্রদায়ের জন্য হারাম ছিল এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও একে তাঁর মিথ্যাবাদী হওয়ার দলিল হিসেবে পেশ করবে? অথচ বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা তাঁর সত্যায়ন এবং তাঁর ফয়সালা মেনে নেওয়াকে আবশ্যক মনে করেন। এটি কি স্বেচ্ছাচারিতা, পথভ্রষ্টতা এবং সত্য থেকে বিচ্যুতি নয়?!

--------------------------------------------

= এবং তোমরা তাগুতকে বর্জন করো। [নাহল: ৩৬]।

আর তিনি মহিমান্বিত হয়ে বলেছেন: "তোমাকে তো তাই বলা হয় যা তোমার পূর্ববর্তী রাসুলদের বলা হয়েছিল। নিশ্চয় তোমার রব অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিদাতা।" [ফুসসিলাত: ৪৩]।

সমস্ত আসমানি শরিয়ত তাদের ইবাদত, বিধি-বিধান এবং হুকুম-আহকামে মানুষের দুনিয়াবি কল্যাণ হাসিল করা এবং আখেরাতের সুখ অর্জনের জন্য তাদের প্রস্তুত করাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেছেন: "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধান দিয়েছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নুহকে এবং যা আমি তোমার প্রতি ওহি করেছি, আর যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসাকে—এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং এতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।" [শুরা: ১৩]।

তবে শরিয়তের বিস্তারিত বিষয়, শাখা-প্রশাখার বিধান এবং ইবাদতের ধরণ এক উম্মত থেকে অন্য উম্মতে ভিন্ন হয়ে থাকে; যা মানুষের সময়, অবস্থা, যোগ্যতা এবং তাদের পারিপার্শ্বিক উপাদান ও পরিস্থিতির পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে হয়।

মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরিয়ত ও পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি।" [মায়িদা: ৪৮]।

তিনি আরও বলেছেন: "আমি প্রতিটি উম্মতের জন্য ইবাদতের নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছি যা তারা পালন করে থাকে।" [হজ: ৬৭]।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
[نسخ السبت بالصوم الأكبر]:

نقول لهم: ما تقولون في السبت؟ أيهما أقدم: افتراضها عليكم أو افتراض الصوم الأكبر؟ فيقولون: السبت أقدم؛ لأنهم إن قالوا: الصوم أقدم، كذبناهم بأن السبت فرضت عليهم في أول إعطائهم المن، والصوم الأكبر فرض عليهم بعد نزول اللوحين ومخالفتهم وعبادتهم العجل. ولما رُفع عنهم عقاب ذنبهم ذلك في هذا اليوم، فُرض عليهم صومه وتعظيمه.

فإذا أقروا بتقديم السبت قلنا لهم: ما تقولون في يوم السبت؟ هل فرضت فيه عليكم الراحة والدعة وتحريم المشقات أو لا؟ فيقولون: بلى. فنقول لهم: فلم فرضتم فيه الصوم إذ اتفق صومكم الأكبر يوم السبت، مع كون صومكم فرض بعد فريضة السبت؟ ولكم في هذا الصوم أنواع من المشقة، منها القيام جميع النهار، أليس هذا أيضا قد نسخ فريضة السبت؟! 1

ما يحكونه عن عيسى عليه السلام[وعمله يوم السبت]:

هم يزعمون أنه كان من العلماء، وأنه كان يطبب المرضى

--------------------------------------------

1 ومما يلزم اليهود بوقوع النسخ عندهم أن التوراة تنطق بوجوب الختان في اليوم الثامن من الولادة كما سلف، وتنطق بتحريم الصنائع العملية يوم السبت كما سلف أيضا. ولا بد من أن ينسخ أحد الفرضين الآخر إذا اتفق ثامن يوم الولادة مع يوم السبت. ولا ينفعهم ما تعللوا به -كما ذكره ابن كمونة في تنقيح الأبحاث ص47 - بأن إيجاب الختان أسبق من تعظيم السبت، فحيث حرمت الأعمال الصناعية فيه كان الختان مستثنى؛ لأنه وقع تعارض والمتأخر هو الذي ينسخ. وإلا فإنه كان من اللائق أن يستثنى ذلك صراحة عندما نزل تعظيم السبت. وما لم ينزل فهو نسخ بالاجتهاد لا بالنص.
[মহাব্রত পালনের মাধ্যমে শনিবারের বিধান রহিতকরণ]:

আমরা তাদের বলি: শনিবার সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? কোনটি অধিক প্রাচীন: তোমাদের উপর এর আবশ্যকতা নাকি মহাব্রতের (বৃহৎ রোজা) আবশ্যকতা? তারা বলবে: শনিবার অধিক প্রাচীন; কারণ তারা যদি বলে রোজা প্রাচীনতর, তবে আমরা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করব এই বলে যে, তোমাদের ওপর শনিবারের বিধান অর্পিত হয়েছিল মান্না লাভের শুরুতে, আর মহাব্রত (রোজা) তোমাদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল দুটি ফলক (তওরাত) অবতীর্ণ হওয়ার পর এবং তোমাদের অবাধ্যতা ও গোবৎস পূজার পর। আর যখন এই দিনে তোমাদের সেই পাপের শাস্তি তুলে নেওয়া হলো, তখন তোমাদের ওপর এই দিনে রোজা পালন ও একে সম্মান করা ফরজ করা হলো।

অতঃপর তারা যদি শনিবারের অগ্রবর্তিতা স্বীকার করে নেয়, তবে আমরা তাদের বলব: শনিবারের দিনটি সম্পর্কে তোমাদের বক্তব্য কী? তোমাদের ওপর কি সেদিন বিশ্রাম, প্রশান্তি এবং শ্রমসাধ্য কাজ বর্জন করা ফরজ করা হয়নি? তারা বলবে: অবশ্যই। তখন আমরা তাদের বলব: তাহলে তোমরা সেদিন রোজা রাখা কেন আবশ্যক করলে যখন তোমাদের মহাব্রত শনিবারের দিনে পড়ে? অথচ তোমাদের ওপর রোজা ফরজ হয়েছে শনিবারের বিধান পরবর্তী সময়ে। এই রোজায় তোমাদের জন্য বিভিন্ন ধরণের কষ্ট রয়েছে, যার মধ্যে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকা অন্যতম; এটি কি শনিবারের বিধানকে রহিত করা নয়?! ১

ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তারা যা বর্ণনা করে [এবং শনিবারের দিন তার আমল]:

তারা দাবি করে যে, তিনি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি রোগীদের চিকিৎসা করতেন।

--------------------------------------------

১ ইহুদিদের জন্য তাদের ধর্মে রহিতকরণ (নাসখ) সংঘটিত হওয়াকে যা অনিবার্য করে তোলে তা হলো, তাওরাত জন্মের অষ্টম দিনে খতনা করার আবশ্যকতা ব্যক্ত করে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং শনিবারের দিনে সকল জাগতিক কাজ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ও ব্যক্ত করে যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। জন্মের অষ্টম দিন যদি শনিবারের সাথে মিলে যায়, তবে এই দুটি ফরজের যেকোনো একটি অবশ্যই অন্যটিকে রহিত করবে। তারা যে অজুহাত পেশ করে তা কোনো কাজে আসবে না—যেমনটি ইবনে কামমুনা 'তানকীহুল আবহাছ' গ্রন্থের ৪৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন—যে খতনার আবশ্যকতা শনিবারের সম্মানের চেয়ে পূর্ববর্তী, তাই যেখানে শিল্পকর্ম হারাম করা হয়েছে সেখানে খতনা ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে; কারণ এতে বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পরবর্তী বিধানই পূর্বেরটিকে রহিত করে। অন্যথায়, শনিবারের সম্মানের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার সময় স্পষ্টভাবে একে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা সঙ্গত ছিল। আর যা অবতীর্ণ হয়নি, তা দালিলিক প্রমাণের (নাস) পরিবর্তে ইজতিহাদ বা গবেষণালব্ধ রহিতকরণ হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
بالأدوية، ويوهمهم أن الانتفاع الْمُنال حصل لهم بدعائه.

وأنه أبرأ جماعة من المرضى من أسقامهم يوم السبت، فأنكرت عليه اليهود ذلك. فقال لهم: أخبروني عن الشاة من الغنم: إن وقعت في البئر يوم السبت، أما تنزلون إليها، وتحلون السبت لتخليصها؟ قالوا: بلى. قال: فلماذا أحللتم السبت لتخليص الغنم، ولا تحلونه لتخليص الإنسان الذي هو أكبر حرمة من الغنم؟ فأفحمهم، ولم يؤمنوا.

وأيضا، فإنهم يحكون عنه أنه كان مع جماعة من تلاميذه في جبل، ولم يحضرهم الطعام. فأذن لهم في تناول الحشيش يوم السبت، فقال لهم: أرأيتم لو أن أحدكم كان وحيدا مع قوم على غير ملته، وأمروه بقطع النبات في يوم السبت وإلقائه لدوابهم، ألستم تجيزون له قطع النبات؟ قالوا: بلى. قال: فإن هؤلاء القوم أمرتهم بقطع النبات ليأكلوه؛ لينقذوا أنفسهم، لا للطعن في أمر السبت.

كل ذلك ملاطفة منه لعقولهم التي لا ينطبع فيها النسخ. ولئن كان ما يحكونه من ذلك صحيحا، فلعله كان في ابتداء أمر المسيح عليه السلام1.

--------------------------------------------

1 جاء في إنجيل يوحنا 5/ 16: فأخذ اليهود يضطهدون يسوع، ويطلبون أن يقتلوه؛ لأنه كان يفعل ذلك يوم السبت. وانظر متن 12/ 1 - 12.

ويظهر -والله أعلم- أن المسيح عليه السلام إنما أنكر على اليهود الغلو والتشدد في أمر السبت، ولم ينكر عليهم تعظيمه. لكن بولس ومَن لف لفه هم الذين أسقطوا تعظيمه وغيروا وبدلوا.

جاء في رسالة بولس إلى أهل كولوسي 2/ 16: لا يحكم عليكم أحد في المأكول والمشروب، أو في الأعياد والأهلة والسبوت.

2/ 17: فما هذه كلها إلا ظل الأمور المستقبلة. أما الحقيقة فهي في المسيح.

وذكر الشيخ الهندي رحمه الله في إظهار الحق ص306 أنه جاء في تفسير "دوالي ورجر دمينت" في شرح هذه الجملة ما يلي: قال بركت والدكتور وت بي: "كانت -أي الأعياد- في اليهود على ثلاثة أقسام: في كل سنة سنة، وفي كل شهر شهر، وفي كل أسبوع أسبوع. فنسخت هذه كلها، بل يوم السبت أيضًا، وأقيم سبت المسيحيين مقامه".

وقال بِشُب هارسلي: "زال سبت كنيسة اليهود، وماشى المسيحيون في عمل سبتهم على رسوم طفولية الفريسيين". اهـ.
ওষুধপত্রের মাধ্যমে এবং তাদের এই ধারণা দিতেন যে, তারা যে উপকার লাভ করেছে তা তাঁর দোয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে।

এবং তিনি শনিবার একদল রোগীকে তাদের ব্যাধি থেকে আরোগ্য দান করেছিলেন, ফলে ইহুদিরা তাঁর প্রতি এর ঘোর আপত্তি জানায়। তিনি তাদের বললেন: "তোমরা আমাকে মেষের পালের কোনো ভেড়া সম্পর্কে বলো: যদি সেটি শনিবার দিন কুয়ায় পড়ে যায়, তোমরা কি নিচে নামবে না এবং তাকে উদ্ধার করার জন্য শনিবারের বিধান শিথিল করবে না?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তাহলে তোমরা কেন একটি ভেড়াকে উদ্ধারের জন্য শনিবারের বিধান শিথিল করলে, অথচ একজন মানুষের উদ্ধারের জন্য তা করছ না, যার মর্যাদা ভেড়ার চেয়ে অনেক বেশি?" ফলে তিনি তাদের নিরুত্তর করে দিলেন, কিন্তু তারা ঈমান আনল না।

আরও বর্ণনা করা হয় যে, তিনি তাঁর একদল শিষ্যের সাথে পাহাড়ে ছিলেন এবং তাদের নিকট কোনো খাবার উপস্থিত ছিল না। ফলে তিনি শনিবার দিন তাদের ঘাস ভক্ষণের অনুমতি দিলেন। তিনি তাদের বললেন: "তোমরা কি মনে করো যদি তোমাদের কেউ নিজের আদর্শ ভিন্ন অন্য কোনো সম্প্রদায়ের সাথে একাকী অবস্থান করে, আর তারা তাকে শনিবার দিনে উদ্ভিদ কাটতে এবং তাদের গবাদিপশুকে তা খাওয়াতে আদেশ দেয়, তবে তোমরা কি তাকে উদ্ভিদ কাটার অনুমতি দেবে না?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আমি তো এই লোকদের উদ্ভিদ কাটার আদেশ দিয়েছি যেন তারা তা ভক্ষণ করে নিজেদের প্রাণ রক্ষা করতে পারে, শনিবারের বিধানকে অবজ্ঞা করার জন্য নয়।"

এসবই ছিল তাদের বুদ্ধিবৃত্তির প্রতি তাঁর এক প্রকার নমনীয়তা, যাদের মস্তিষ্কে বিধান রহিতকরণের বিষয়টি অঙ্কিত হতো না। আর তারা যা বর্ণনা করে তা যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে সম্ভবত তা মসিহ আলাইহিস সালামের নবুওয়াতের শুরুর দিকের বিষয় ছিল।১

--------------------------------------------

১ যোহন লিখিত সুসমাচার ৫/১৬-এ এসেছে: "ইহুদিরা যীশুকে তাড়না করতে শুরু করল এবং তাঁকে হত্যা করার সুযোগ খুঁজতে লাগল; কারণ তিনি শনিবার দিনে এসব কাজ করতেন।" মথি ১২/১-১২ দ্রষ্টব্য।

আর প্রতীয়মান হয়—আল্লাহই ভালো জানেন—মসিহ আলাইহিস সালাম মূলত শনিবারের বিধানে ইহুদিদের বাড়াবাড়ি ও কঠোরতার বিরোধিতা করেছিলেন, এর সম্মানকে তিনি অস্বীকার করেননি। তবে পল এবং তার অনুসারীরাই এর সম্মানকে বিলুপ্ত করেছে এবং এতে পরিবর্তন ও পরিমার্জন ঘটিয়েছে।

কলসীয়দের প্রতি পলের পত্র ২/১৬-এ এসেছে: "পানাহার অথবা উৎসব, অমাবস্যা কিংবা বিশ্রামবার (শনিবার) নিয়ে কেউ যেন তোমাদের বিচার না করে।"

২/১৭: "কারণ এসব তো ছিল অনাগত বিষয়ের ছায়া মাত্র; কিন্তু এর প্রকৃত সত্য মসিহের মধ্যে নিহিত।"

শেখ হিন্দি রাহিমাহুল্লাহ 'ইযহারুল হক' গ্রন্থের ৩০৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, এই বাক্যের ব্যাখ্যায় 'দাওয়ালি ও রজার ডমিন্যান্ট'-এর তাফসিরে নিম্নরূপ বর্ণিত হয়েছে: বারকাট এবং ডক্টর হোয়াইট বলেছেন: "ইহুদিদের মাঝে উৎসবগুলো ছিল তিন প্রকার: প্রতি বছরের বার্ষিক উৎসব, প্রতি মাসের মাসিক উৎসব এবং প্রতি সপ্তাহের সাপ্তাহিক উৎসব। ফলে এসবগুলোই রহিত হয়ে গেছে, এমনকি শনিবারের দিনটিও; আর এর স্থলে খ্রিস্টানদের বিশ্রামবার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।"

বিশপ হার্সলি বলেন: "ইহুদি গির্জার শনিবারের বিধান বিলুপ্ত হয়েছে এবং খ্রিস্টানরা তাদের বিশ্রামবার পালনের ক্ষেত্রে ফরীশীদের শিশুতোষ রীতিনীতিগুলো অনুসরণ করেছে।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) বাযলুল মাজহুদ ফী ইফহামিল ইয়াহুদ তা তওয়িলাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌وجه آخر في إثبات النسخ بأصولهم:

نقول لهم: فهل أنتم اليوم على ملة موسى عليه السلام؟

فإن قالوا: نعم. قلنا لهم: أليس في التوارة "أن من مس عظما، أو طئ قبرا، أو حضر ميتا عند موته، فإنه يصير من النجاسة في حالة لا طهارة له منها إلا برماد البقرة التي كان الإمام الهاروني يحرقها"؟ فلا يمكنهم مخالفة ذلك؛ لأن نصُّ ما يتداولونه1.

--------------------------------------------

1 إن مس الميت وما يتعلق به نجاسة مغلظة عندهم، تحتاج إلى طهارة خاصة.

جاء في سفر الأحبار "اللاويين" 21/ 1 - 3: وقال الرب لموسى: كلم الكهنة بني هارون، وقل لهم: لا يتنجس أحد منكم لميت في قومه، إلا لأقربائه الأقرب إليه: أمه وأبيه وابنه وابنته وأخيه وأخته العذراء القريبة التي لم تصر لرجل، لأجلها يتنجس.

وجاء في سفر العدد 19/ 1 - 4: وكلم الرب موسى وهارون قائلا: هذه فريضة الشريعة التي أمر بها الرب قائلا: كلم بني إسرائيل أن يأخذوا إليك بقرة حمراء صحيحة لا عيب فيها، ولم يعلُ عليها نِير، فتعطونها لأَلِعازارَ الكاهن، فتخرج إلى خارج المحلة، وتذبح قدامه.

ويأخذ ألعازار الكاهن من دمها بإصبعه، وينضح من دمها إلى جهة وجه =
তাদের মূলনীতির ভিত্তিতে রহিতকরণ (নাসখ) সাব্যস্ত করার আরেকটি দিক:

আমরা তাদের বলি: তোমরা কি আজ মূসা আলাইহিস সালামের মিল্লাত বা আদর্শের ওপর আছ?

যদি তারা বলে: হ্যাঁ। তবে আমরা তাদের বলব: তাওরাতে কি এটি নেই যে, "যে ব্যক্তি কোনো হাড় স্পর্শ করবে, অথবা কোনো কবরে পদার্পণ করবে, অথবা কোনো মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় উপস্থিত থাকবে, সে এমন এক অপবিত্রতায় পর্যবসিত হবে যা থেকে পবিত্র হওয়ার কোনো পথ নেই সেই গাভীর ভস্ম ব্যতীত যা হারুনী ইমাম দহন করতেন"? তারা এটি অস্বীকার করতে পারবে না; কারণ এটি তাদেরই প্রচলিত পাঠ্য।১

--------------------------------------------

১. মৃতদেহ স্পর্শ করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তাদের নিকট গুরূতর অপবিত্রতা, যার জন্য বিশেষ পবিত্রতা অর্জনের প্রয়োজন হয়।

লেভীয় পুস্তক (আহবার) ২১/ ১ - ৩ এ এসেছে: "আর প্রভু মূসাকে বললেন: হারুণের বংশধর পুরোহিতদের বলো এবং তাদের বলো: তোমাদের মধ্যে কেউ যেন তার জাতির কোনো মৃতের কারণে নিজেকে অপবিত্র না করে। তবে তার নিকটাত্মীয়ের জন্য সে তা করতে পারে: তার মা, বাবা, ছেলে, মেয়ে, ভাই এবং তার সেই কুমারী বোন যে তার নিকটেই থাকে এবং যার বিবাহ হয়নি, কেবল তাদের জন্য সে নিজেকে অপবিত্র করতে পারে।"

গণনা পুস্তক (আদাদ) ১৯/ ১ - ৪ এ এসেছে: "আর প্রভু মূসা ও হারুণকে বললেন: এটি হলো শরীয়তের সেই বিধান যার আদেশ প্রভু দিয়েছেন: বনী ইসরাঈলীদের বলো, তারা যেন তোমার কাছে একটি নিখুঁত লাল গাভী নিয়ে আসে যাতে কোনো খুঁত নেই এবং যার ওপর কখনও জোয়াল রাখা হয়নি। তোমরা সেটি ইলিয়াসার পুরোহিতকে দেবে; সেটি শিবিরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং তার সামনেই সেটি জবাই করা হবে।"

আর ইলিয়াসার পুরোহিত তার আঙুল দিয়ে সেটির কিছু রক্ত নেবেন এবং সেই রক্ত ছিটিয়ে দেবেন সম্মুখ পানে...