(খণ্ড: ১) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: -)
القانون في الطب   (ابن سينا)

القسم: الطب


الكتاب: القانون في الطب

المؤلف: الحسين بن عبد الله بن سينا، أبو علي، شرف الملك: الفيلسوف الرئيس (ت 428هـ)

المحقق: وضع حواشيه محمد أمين الضناوي

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কানুন ফিত-তিব্ব   (ইবনে সিনা)

বিভাগ: চিকিৎসাবিজ্ঞান


গ্রন্থ: আল-কানুন ফিত-তিব্ব

গ্রন্থকার: আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন সিনা, আবু আলী, শারাফ আল-মুলক: প্রধান দার্শনিক (মৃত্যু ৪২৮ হিজরি)

গবেষক/সম্পাদক: টীকা সংযোজন করেছেন মুহাম্মদ আমিন আদ-দান্নাওয়ি

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٩)
(خطْبَة الْكتاب)

 

(الْمُقدمَة)

 

الْحَمد لله حمدا يسْتَحقّهُ بعلو شَأْنه، وسبوغ إحسانه، وَالصَّلَاة على سيدنَا مُحَمَّد النَّبِي وَآله وَسَلَامه.

(وَبعد) فقد التمس مني بعض خلص إخْوَانِي، وَمن يلْزَمنِي إسعافه بِمَا يسمح بِهِ وسعي أَن أصنف فِي الطِّبّ كتابا مُشْتَمِلًا على قوانينه الْكُلية والجزئية اشتمالا يجمع إِلَى الشَّرْح والاختصار وَإِلَى إِيفَاء الْأَكْثَر حَقه من الْبَيَان الإيجاز فأسعفته بذلك. وَرَأَيْت أَن أَتكَلّم أَولا فِي الْأُمُور الْعَامَّة الْكُلية فِي كلا قسمي الطِّبّ، أَعنِي الْقسم النظري، وَالْقسم العملي، ثمَّ بعد ذَلِك أَتكَلّم فِي كليات أَحْكَام قوى الْأَدْوِيَة المفردة. ثمَّ فِي جزئياتها. ثمَّ بعد ذَلِك فِي الْأَمْرَاض الْوَاقِعَة بعضو عُضْو، فأبتدئ أَولا بتشريح ذَلِك الْعُضْو ومنفعته، وَأما تشريح الْأَعْضَاء المفردة البسيطة فَيكون قد سبق مني ذكره فِي الْكتاب الأول الْكُلِّي وَكَذَلِكَ مَنَافِعهَا. ثمَّ إِذا فرغت من تشريح ذَلِك الْعُضْو ابتدأت فِي أَكثر الْمَوَاضِع بِالدّلَالَةِ على كَيْفيَّة حفظ صِحَّته. ثمَّ دللت بالْقَوْل الْمُطلق على كليات أمراضه وأسبابها وطرق الاستدلالات عَلَيْهَا وطرق معالجاتها بالْقَوْل الْكُلِّي أَيْضا فَإِذا فرغت من هَذِه الْأُمُور الْكُلية أَقبلت على الْأَمْرَاض الْجُزْئِيَّة، ودللت أَولا فِي أَكْثَرهَا أَيْضا على الحكم الْكُلِّي فِي حَده وأسبابه ودلائله، ثمَّ تخلصت إِلَى الْأَحْكَام الْجُزْئِيَّة، ثمَّ أَعْطَيْت القانون الْكُلِّي فِي المعالجة، ثمَّ نزلت إِلَى المعالجات الْجُزْئِيَّة بدواء، دَوَاء بسيط أَو مركب. وَمَا كَانَ سلف ذكره من الْأَدْوِيَة المفردة ومنفعته فِي الْأَمْرَاض فِي كتاب الْأَدْوِيَة المفردة فِي الجداول والأصباغ الَّتِي أرى اسْتِعْمَالهَا فِيهِ، كَمَا تقف أَيهَا المتعلم فيع إِذا وصلت إِلَيْهِ، لم أكرر إِلَّا قَلِيلا مِنْهُ. وَمَا كَانَ من الْأَدْوِيَة المركبة أَن مَا الأحرى بِهِ أَن يكون فِي الأقراباذين الَّذِي أرى أَن أعمله أخرت ذكر مَنَافِعه وَكَيْفِيَّة خلطه إِلَيْهِ. وَرَأَيْت أَن أفرغ عَن هَذَا الْكتاب إِلَى كتاب أَيْضا فِي الْأُمُور الْجُزْئِيَّة، مُخْتَصّ بِذكر الْأَمْرَاض الَّتِي إِذا وَقعت لم تخْتَص بعضو بِعَيْنِه، ونورد هُنَالك أَيْضا الْكَلَام فِي الزِّينَة، وَأَن أسلك فِي هَذَا الْكتاب أَيْضا مسلكي فِي الْكتاب الجزئي الَّذِي قبله، فَإِذا تهَيَّأ بِتَوْفِيق الله تَعَالَى الْفَرَاغ من هَذَا الْكتاب، جمعت بعده كتاب الأقراباذين. وَهَذَا كتاب لَا يسع من
(গ্রন্থের ভূমিকা)

 

(প্রস্তাবনা)

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর অনুগ্রহের প্রাচুর্যের কারণে তাঁরই প্রাপ্য। এবং আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

(অতঃপর) আমার কতিপয় ঘনিষ্ঠ ভ্রাতা এবং যাদের অনুরোধ রক্ষা করা আমার সামর্থ্য অনুযায়ী অপরিহার্য মনে করি, তারা আমার কাছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ওপর এমন একটি গ্রন্থ রচনার আবেদন করেছেন যা এর সাধারণ ও বিশেষ নীতিমালাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যাতে ব্যাখ্যা ও সংক্ষিপ্তসারের সমন্বয় ঘটে এবং বর্ণনার সংক্ষিপ্ততার পাশাপাশি অধিকাংশ বিষয়ের যথাযথ হক আদায় হয়; আমি তাদের সেই অনুরোধ রক্ষা করলাম। আমি স্থির করেছি যে, প্রথমে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উভয় শাখার অর্থাৎ তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শাখার সাধারণ ও সামগ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। এরপর ভেষজ বা একক ওষুধসমূহের গুণাবলির সাধারণ নিয়মাবলি এবং অতঃপর সেগুলোর বিশেষত্ব নিয়ে আলোচনা করব। তারপর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে সংঘটিত রোগসমূহ নিয়ে আলোচনা করব। এক্ষেত্রে আমি প্রথমে সেই অঙ্গের শারীরস্থান এবং তার উপকারিতা দিয়ে শুরু করব। আর একক ও সরল অঙ্গসমূহের শারীরস্থান ও তাদের উপকারিতা সম্পর্কে বর্ণনা ইতিপূর্বেই আমার প্রথম সামগ্রিক গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে। কোনো অঙ্গের শারীরস্থান বর্ণনা শেষ করার পর, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি তার স্বাস্থ্য সুরক্ষার পদ্ধতি বর্ণনা দিয়ে আলোচনা শুরু করব। এরপর আমি সাধারণ বর্ণনার মাধ্যমে সেই অঙ্গের রোগসমূহের প্রকারভেদ, কারণসমূহ, রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি এবং সামগ্রিকভাবে সেগুলোর চিকিৎসা পদ্ধতি বর্ণনা করব। যখন আমি এই সামগ্রিক বিষয়সমূহ শেষ করব, তখন আমি বিশেষ রোগসমূহের দিকে মনোনিবেশ করব এবং এগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেও প্রথমে রোগটির সংজ্ঞা, কারণ ও আলামত সম্পর্কে সাধারণ নীতিমালা বর্ণনা করব। এরপর আমি বিশেষ বিধানসমূহে প্রবেশ করব এবং চিকিৎসার সাধারণ নীতিমালা প্রদানের পর প্রতিটি একক বা যৌগিক ওষুধের মাধ্যমে বিশেষ চিকিৎসার বিবরণ দেব। ইতিপূর্বে একক ওষুধের গ্রন্থে ছক এবং রঞ্জক পদার্থের বর্ণনায় যে সকল একক ওষুধ ও রোগ নিরাময়ে তাদের উপযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে—হে শিক্ষার্থী, তুমি যখন সেখানে পৌঁছাবে তখন তা জানতে পারবে—সেগুলো আমি এখানে খুব সামান্যই পুনরাবৃত্তি করেছি। আর যৌগিক ওষুধসমূহের মধ্যে যে বিষয়গুলো 'আকরাবাদিন' (ওষুধকোষ) গ্রন্থে থাকা অধিকতর সমীচীন বলে মনে করেছি, সেগুলোর উপকারিতা ও মিশ্রণ পদ্ধতি আমি সেই গ্রন্থের জন্য স্থগিত রেখেছি। আমি এই গ্রন্থ শেষ করে বিশেষ বিষয়াবলির ওপর আরও একটি গ্রন্থ রচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা এমন সব রোগ সম্পর্কে বিশেষায়িত হবে যেগুলো কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। সেখানে আমরা সৌন্দর্যচর্চা বা প্রসাধন সংক্রান্ত আলোচনাও করব এবং এই গ্রন্থেও আমি পূর্ববর্তী বিশেষায়িত গ্রন্থের পদ্ধতি অনুসরণ করব। যখন মহান আল্লাহর তৌফিকে এই গ্রন্থটি সম্পন্ন হবে, তখন এর পরে আমি 'আকরাবাদিন' (ওষুধকোষ) গ্রন্থটি সংকলন করব। আর এটি এমন এক গ্রন্থ যা কোনো...
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ١٠)
يَدعِي هَذِه الصِّنَاعَة ويكتسب بهَا أَن لَا يكون جله مَعْلُوما مَحْفُوظًا عِنْده، فَإِنَّهُ مُشْتَمل على أقل مَا لَا بُد مِنْهُ للطبيب، وَأما الزِّيَادَة عَلَيْهِ فَأمر غير مضبوط. وَإِن أخر الله تَعَالَى فِي الْأَجَل وساعد الْقدر انتصبت لذَلِك انتصابا ثَانِيًا. وَأما الْآن فَإِنِّي أجمع هَذَا الْكتاب وأقسمه إِلَى كتب خَمْسَة على هَذَا الْمِثَال:

الْكتاب الأول: فِي الْأُمُور الْكُلية فِي علم الطِّبّ.

الْكتاب الثَّانِي: فِي الْأَدْوِيَة المفردة.

الْكتاب الثَّالِث: فِي الْأَمْرَاض الْجُزْئِيَّة الْوَاقِعَة بأعضاء الْإِنْسَان عُضْو عُضْو من الْفرق إِلَى الْقدَم ظَاهرهَا وباطنها.

الْكتاب الرَّابِع: فِي الْأَمْرَاض الْجُزْئِيَّة الَّتِي إِذا وَقعت لم تخْتَص بعضو وَفِي الزِّينَة.

الْكتاب الْخَامِس: فِي تركيب الْأَدْوِيَة وَهُوَ الأقراباذين.
এই শিল্পের দাবিদার এবং এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারীর জন্য এটি সমীচীন নয় যে, এই গ্রন্থের অধিকাংশ বিষয় তার জানা বা মুখস্থ থাকবে না; কেননা এটি একজন চিকিৎসকের জন্য অপরিহার্য ন্যূনতম বিষয়াবলি সংবলিত। আর এর অতিরিক্ত যা কিছু আছে, তা এক অবারিত ও অনির্দিষ্ট বিষয়। যদি আল্লাহ তাআলা আয়ু দীর্ঘ করেন এবং ভাগ্য সহায় হয়, তবে আমি দ্বিতীয়বার এ কাজে পূর্ণরূপে আত্মনিয়োগ করব। বর্তমানে আমি এই গ্রন্থটি সংকলন করছি এবং একে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে পাঁচটি খণ্ডে বিভক্ত করছি:

প্রথম খণ্ড: চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক ও সাধারণ নীতিমালা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় খণ্ড: একক ঔষধসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় খণ্ড: মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভিত্তিক বিশেষ রোগব্যাধি প্রসঙ্গে; যা মাথার শিখর থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা বর্ণনা করে।

চতুর্থ খণ্ড: সেই সকল বিশেষ রোগব্যাধি প্রসঙ্গে যা কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এবং সৌন্দর্যচর্চা বিষয়ক।

পঞ্চম খণ্ড: যৌগিক ঔষধ প্রস্তুতি প্রসঙ্গে, যা 'আকরাবাদিন' (ফার্মাকোপিয়া) নামে পরিচিত।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ١٣)
الْكتاب الأول الْأُمُور الْكُلية فِي علم الطِّبّ يشْتَمل على أَرْبَعَة فنون

‌‌(الْفَنّ الأول)

 

‌‌(فِي حد الطِّبّ وموضوعاته من الْأُمُور)

 

‌‌(الطبيعية ويشتمل على سِتَّة تعاليم)

 

‌‌(التَّعْلِيم الأول)

 

( ‌‌[وَهُوَ فصلان]

 

الْفَصْل الأول أَقُول: إِن الطِّبّ علم يتعرف مِنْهُ أَحْوَال بدن الْإِنْسَان من جِهَة مَا يَصح وَيَزُول عَن الصِّحَّة ليحفظ الصِّحَّة حَاصِلَة ويستردها زائلة. وَلقَائِل أَن يَقُول إِن الطِّبّ يَنْقَسِم إِلَى نظر وَعمل وَأَنْتُم قد جعلتم كُله نظرا إِذْ قُلْتُمْ إِنَّه علم وَحِينَئِذٍ نجيبه ونقول إِنَّه يُقَال إِن من الصناعات مَا هُوَ نَظَرِي وعملي وَمن الْحِكْمَة مَا هُوَ نَظَرِي وعملي وَيُقَال إِن من الطِّبّ مَا هُوَ نَظَرِي وعملي. وَيكون المُرَاد فِي كل قسْمَة بِلَفْظ النظري والعملي شَيْئا آخر وَلَا نحتاج الْآن إِلَى بَيَان اخْتِلَاف المُرَاد فِي ذَلِك إِلَّا فِي الطِّبّ فَإِذا قيل إِن من الطِّبّ مَا هُوَ نطري وَمِنْه مَا هُوَ عَمَلي فَلَا يجب أَن يظنّ أَن مُرَادهم فِيهِ هُوَ أَن أحد قسمي الطِّبّ مَا هُوَ نَظَرِي وَمِنْه مَا هُوَ عَمَلي فَلَا يجب للْعَمَل كَمَا يذهب إِلَيْهِ وهم كثير من الباحثين عَن هَذَا الْموضع بل يحِق عَلَيْك أَن تعلم أَن أصُول الطِّبّ وَالْآخر علم كَيْفيَّة مُبَاشَرَته ثمَّ يخص الأول مِنْهُمَا باسم الْعلم أَو باسم النّظر ويخص الآخر باسم الْعَمَل فنعني بِالنّظرِ مِنْهُ مَا يكون التَّعْلِيم فِيهِ مُقَيّد الِاعْتِقَاد فَقَط من غير أَن يتَعَرَّض لبَيَان كَيْفيَّة عمل مثل مَا يُقَال فِي الطِّبّ: إِن أَصْنَاف الحميات ثَلَاثَة وان الأمزجة تِسْعَة ونعني بِالْعَمَلِ مِنْهُ لَا الْعَمَل بِالْفِعْلِ وَلَا مزاولة الحركات الْبَدَنِيَّة بل الْقسم من علم الطِّبّ الَّذِي يُفِيد التَّعْلِيم فِيهِ رَأيا ذَلِك الرَّأْي مُتَعَلق بِبَيَان كَيْفيَّة عمل مثل مَا يُقَال فِي الطِّبّ إِن الأورام الحارة يجب أَن يقرب إِلَيْهَا فِي الِابْتِدَاء مَا يردع ويبرد ويكشف ثمَّ من بعد ذَلِك تمزج الرادعات بالمرخيات ثمَّ بعد الِانْتِهَاء إِلَى الانحطاط يقْتَصر على المرخيات المحللة إِلَّا فِي أورام تكون عَن مواد تدفعها الْأَعْضَاء الرئيسة فَهَذَا التَّعْلِيم يفيدك رَأيا: هُوَ بَيَان كَيْفيَّة عمل فَإِذا عملت هذَيْن الْقسمَيْنِ فقد حصل لَك علم علمي وَعلم عَمَلي وَإِن لم تعْمل قطّ.
প্রথম গ্রন্থ: চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাধারণ বিষয়াবলি, যা চারটি কলার অন্তর্ভুক্ত।

‌‌(প্রথম কলা)

 

‌‌(চিকিৎসা বিজ্ঞানের সংজ্ঞা এবং প্রাকৃতিক বিষয়সমূহ থেকে এর বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে)

 

‌‌(এটি ছয়টি শিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত)

 

‌‌(প্রথম শিক্ষণ)

 

( ‌‌[যা দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত]

 

প্রথম পরিচ্ছেদ। আমি বলি: চিকিৎসা বিজ্ঞান এমন একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে মানবদেহের সুস্থতা ও সুস্থতা হানির দিক থেকে দেহের অবস্থাসমূহ জানা যায়, যেন বিদ্যমান স্বাস্থ্য বজায় রাখা যায় এবং বিলুপ্ত স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা যায়। কেউ বলতে পারেন যে, চিকিৎসা বিজ্ঞান তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক—এই দুই ভাগে বিভক্ত, অথচ আপনারা একে পূর্ণাঙ্গভাবে কেবল জ্ঞান হিসেবে গণ্য করেছেন যখন আপনারা বলেছেন এটি একটি 'বিজ্ঞান'। এর উত্তরে আমরা বলি যে, বলা হয়ে থাকে শিল্পসমূহের মধ্যে কোনটি তাত্ত্বিক এবং কোনটি ব্যবহারিক; দর্শনের মধ্যেও কোনটি তাত্ত্বিক এবং কোনটি ব্যবহারিক; ঠিক তেমনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যেও কোনটি তাত্ত্বিক এবং কোনটি ব্যবহারিক। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শব্দ দুটি দ্বারা প্রতিটি বিভাজনে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে এই পার্থক্যের বর্ণনার আমাদের এখন প্রয়োজন নেই। সুতরাং যখন বলা হয় যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কিছু অংশ তাত্ত্বিক এবং কিছু অংশ ব্যবহারিক, তখন এটি ভাবা উচিত নয় যে তাদের উদ্দেশ্য হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অংশ জ্ঞান এবং অন্য অংশটি কেবল কাজ, যেমনটি এই বিষয়টি অনুসন্ধানকারীদের অনেকের মনে ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়। বরং আপনার এটি জানা উচিত যে, এর একটি অংশ হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহের জ্ঞান এবং অন্যটি হলো তা প্রয়োগের পদ্ধতির জ্ঞান। অতঃপর প্রথমটিকে 'বিজ্ঞান' বা 'তত্ত্ব' নামে বিশেষায়িত করা হয় এবং দ্বিতীয়টিকে 'ব্যবহারিক' নামে অভিহিত করা হয়। তাত্ত্বিক অংশ বলতে আমরা এমন শিক্ষাকে বোঝাই যার উদ্দেশ্য কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণা বা বিশ্বাস গঠন করা, যেখানে কোনো কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করা হয় না। যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয়: জ্বরের প্রকারভেদ তিনটি এবং মেজাজ বা শারীরিক প্রকৃতি নয়টি। আর ব্যবহারিক অংশ বলতে আমরা প্রকৃত শারীরিক কাজ বা অঙ্গ সঞ্চালনকে বোঝাই না, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের সেই অংশকে বোঝাই যার শিক্ষা এমন একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করে যা সরাসরি কর্মপদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয়: উষ্ণ প্রদাহ বা ফোলাভাবের শুরুতে এমন সব ওষুধ ব্যবহার করা উচিত যা রক্ত সঞ্চালন প্রতিহত করে এবং শীতলতা দান করে; এরপর প্রতিহতকারী ওষুধের সাথে শিথিলকারক ওষুধ মিশ্রিত করতে হবে; অতঃপর প্রদাহ হ্রাসের চূড়ান্ত পর্যায়ে কেবল বিশ্লেষণকারী ও শিথিলকারক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে—তবে সেই সব প্রদাহ ব্যতীত যা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহ থেকে নির্গত পদার্থের কারণে সৃষ্টি হয়। এই শিক্ষা আপনাকে একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করে যা মূলত কর্মপদ্ধতিরই বর্ণনা। সুতরাং যখন আপনি এই দুই অংশ অবগত হলেন, তখন আপনার তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং ব্যবহারিক জ্ঞান উভয়ই অর্জিত হলো, যদিও আপনি বাস্তবে কখনো কোনো চিকিৎসা কর্ম সম্পাদন না করেন।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ١٤)
وَلَيْسَ لقَائِل أَن يَقُول إِن أَحْوَال بدن الْإِنْسَان ثَلَاث: الصِّحَّة وَالْمَرَض وَحَالَة ثَالِثَة لَا صِحَة وَلَا مرض وَأَنت اقتصرت على قسمَيْنِ فَإِن هَذَا الْقَائِل لَعَلَّه إِذا فكر لم يجد أحد الْأَمريْنِ وَاجِبا لَا هَذَا التَّثْلِيث وَلَا إخلالنا بِهِ ثمَّ إِنَّه إِن كَانَ هَذَا التَّثْلِيث وَاجِبا فَإِن قَوْلنَا الزَّوَال عَن الصِّحَّة يتَضَمَّن الْمَرَض وَالْحَالة الثَّالِثَة الَّتِي جعلوها لَيْسَ لَهَا حد الصِّحَّة إِذْ الصِّحَّة ملكه أَو حَالَة تصدر عَنْهَا الْأَفْعَال من الْمَوْضُوع لَهَا سليمَة وَلَا لَهَا مُقَابل هَذَا الْحَد إِلَّا أَن يحدوا الصِّحَّة كَمَا يشتهون ويشترطون فِيهِ شُرُوطًا مَا بهم إِلَيْهَا حَاجَة. ثمَّ لَا مناقشة مَعَ الْأَطِبَّاء فِي هَذَا وَمَا هم مِمَّن يناقشون فِي مثله وَلَا تُؤدِّي هَذِه المناقشة بهم أَو بِمن يناقشهم إِلَى فَائِدَة فِي الطِّبّ. وَأما معرفَة الْحق فِي ذَلِك فمما يَلِيق بأصول صناعَة أُخْرَى نعني أصُول صناعَة الْمنطق فليطلب من هُنَاكَ.

الْفَصْل الثَّانِي: فِي مَوْضُوعَات الطِّبّ لما كَانَ الطِّبّ ينظر فِي بدن الْإِنْسَان من جِهَة مَا يَصح وَيَزُول عَن الصِّحَّة وَالْعلم بِكُل شَيْء إِنَّمَا يحصل وَيتم إِذا كَانَ لَهُ أَسبَاب يعلم أَسبَابه فَيجب أَن يعرف فِي الطِّبّ أَسبَاب الصِّحَّة وَالْمَرَض وَالصِّحَّة وَالْمَرَض وأسبابهما قد يكونَانِ ظَاهِرين وَقد يكونَانِ خفيين لَا ينالان بالحس بل بالاستدلال من الْعَوَارِض فَيجب أَيْضا أَن تعرف فِي الطِّبّ الْعَوَارِض الَّتِي تعرض فِي الصِّحَّة وَالْمَرَض وَقد تبين فِي الْعُلُوم الْحَقِيقِيَّة أَن الْعلم بالشَّيْء إِنَّمَا يحصل من جِهَة الْعلم بأسبابه ومباديه إِن كَانَت لَهُ وَإِن لم تكن فَإِنَّمَا يتمم من جِهَة الْعلم بعوارضه ولوازمه الذاتية. لَكِن الْأَسْبَاب أَرْبَعَة أَصْنَاف: مادية وفاعلية وصورية وتمامية. والأسباب المادية: هِيَ الْأَشْيَاء الْمَوْضُوعَة الَّتِي فِيهَا تتقوم الصِّحَّة وَالْمَرَض. أما الْمَوْضُوع الْأَقْرَب فعضو أَو روح وَأما الْمَوْضُوع الْأَبْعَد فَهِيَ الأخلاط وَأبْعد مِنْهُ هُوَ الْأَركان. وَهَذَانِ موضوعان بِحَسب التَّرْكِيب وَإِن كَانَ أَيْضا مَعَ الاستحالة وكل مَا وضع كَذَلِك فَإِنَّهُ يساق فِي تركيبه واستحالته إِلَى وحدة مَا وَتلك الْوحدَة فِي هَذَا الْموضع الَّتِي تلْحق تِلْكَ الْكَثْرَة: إِمَّا مزاج وَإِمَّا هَيْئَة. أما المزاج فبحسب الاستحالة وَأما الْهَيْئَة فبحسب التَّرْكِيب. وَأما الْأَسْبَاب الفاعلية: فَهِيَ الْأَسْبَاب الْمُغيرَة أَو الحافظة لحالات بدن الْإِنْسَان من الأهوية وَمَا يتَّصل بهَا والمطاعم والمياه والمشارب وَمَا يتَّصل بهَا والاستفراغ والاحتقان والبلدان والمساكن وَمَا يتَّصل بهَا والحركات والسكونات الْبَدَنِيَّة والنفسانية وَمِنْهَا النّوم واليقظة والاستحالة فِي الْأَسْنَان وَالِاخْتِلَاف فِيهَا وَفِي الْأَجْنَاس والصناعات والعادات والأشياء الْوَارِدَة على الْبدن الإنساني مماسة لَهُ إِمَّا غير مُخَالفَة للطبيعة وَإِمَّا مُخَالفَة للطبيعة وَأما الْأَسْبَاب الصورية: فالمزاجات والقوى الْحَادِثَة بعْدهَا والتراكيب
কোনো প্রবক্তার পক্ষে এমন কথা বলা সাজে না যে, মানুষের শারীরিক অবস্থা তিনটি: সুস্থতা, অসুস্থতা এবং একটি তৃতীয় অবস্থা যা সুস্থতাও নয় আবার অসুস্থতাও নয়। আপনি কেবল দুই প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেন কেন? বস্তুত এই প্রবক্তা যদি গভীরভাবে চিন্তা করেন তবে দেখতে পাবেন যে, এই ত্রিমুখী বিভাজন কিংবা আমাদের এটি পরিহার করা—এর কোনটিই অপরিহার্য নয়। অধিকন্তু, যদি এই ত্রিমুখী বিভাগ আবশ্যকও হয়ে থাকে, তবে আমাদের বলা 'সুস্থতা থেকে বিচ্যুতি' কথাটির ভেতরেই অসুস্থতা এবং সেই তৃতীয় অবস্থাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারা যেটিকে তৃতীয় অবস্থা হিসেবে গণ্য করেছেন সেটির কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায়িত সুস্থতার সীমা নেই। কারণ সুস্থতা হলো এমন এক সামর্থ্য বা অবস্থা যা থেকে সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যাবলি ত্রুটিহীনভাবে সম্পাদিত হয়। আর এই সংজ্ঞার বিপরীতে অন্য কোনো অবস্থা থাকতে পারে না, যদি না তারা সুস্থতাকে তাদের খেয়ালখুশি মতো সংজ্ঞায়িত করে এবং এতে এমন সব শর্ত আরোপ করে যার কোনো প্রয়োজন নেই। তদুপরি চিকিৎসকদের সাথে এ বিষয়ে কোনো তর্কের অবকাশ নেই এবং তারা এমন নন যাদের সাথে এ জাতীয় বিষয়ে বিতর্ক করা যায়। আর এই ধরনের বিতর্ক চিকিৎসক বা বিতর্ককারী কারো জন্যই চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোনো ফলপ্রসূ সুফল বয়ে আনে না। তবে এ বিষয়ে সত্যজ্ঞান অর্জন করা অন্য একটি শাস্ত্রের মূলনীতির সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ, অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যার মূলনীতি; সুতরাং সেখানেই এর অনুসন্ধান করা উচিত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়সমূহ প্রসঙ্গে। যেহেতু চিকিৎসাবিজ্ঞান মানুষের শরীরকে সুস্থতা এবং সুস্থতা থেকে বিচ্যুতির দিক দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে, আর কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান তখনই পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হয় যখন তার কারণসমূহ জানা থাকে, তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুস্থতা ও অসুস্থতার কারণসমূহ জানা আবশ্যক। সুস্থতা ও অসুস্থতা এবং এদের কারণসমূহ কখনও প্রত্যক্ষ হতে পারে আবার কখনও পরোক্ষ হতে পারে, যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয় না বরং বাহ্যিক লক্ষণাদির মাধ্যমে অনুমিত হয়। অতএব, চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুস্থতা ও অসুস্থতার ক্ষেত্রে যেসব বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ পায় সেগুলো সম্পর্কেও জ্ঞান থাকা জরুরি। প্রকৃত বিজ্ঞানে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান তার কারণ ও মূলনীতিসমূহ (যদি থাকে) জানার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর যদি তা না থাকে, তবে তার বাহ্যিক লক্ষণ এবং অনিবার্য বৈশিষ্ট্যসমূহের মাধ্যমে জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করে। তবে কারণসমূহ চার প্রকার: উপাদানগত, কার্যকর, রূপগত এবং উদ্দেশ্যগত। উপাদানগত কারণসমূহ হলো সেই সব বিষয় যার মধ্যে সুস্থতা ও অসুস্থতা বিদ্যমান থাকে। এর নিকটবর্তী আধার হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অথবা প্রাণশক্তি; আর দূরবর্তী আধার হলো দেহরসসমূহ, এবং তার চেয়েও দূরবর্তী হলো মৌলিক উপাদানসমূহ। এই দুটি বিষয় গঠন বা কাঠামোর নিরিখে আলোচ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত, যদিও এর সাথে রূপান্তরও যুক্ত থাকে। যে কোনো বিষয় যা এ জাতীয় আধারে থাকে, তা তার গঠন ও রূপান্তরের মাধ্যমে একটি একত্বের দিকে ধাবিত হয়। এই ক্ষেত্রে সেই একত্বটি যা এই বহুত্বকে বেষ্টন করে থাকে, তা হয় প্রকৃতি (মিজাজ) নতুবা অবয়ব। প্রকৃতি অর্জিত হয় রূপান্তরের মাধ্যমে এবং অবয়ব অর্জিত হয় গঠনের মাধ্যমে। আর কার্যকর কারণসমূহ হলো সেই সব কারণ যা মানুষের শরীরের অবস্থাকে পরিবর্তিত বা সংরক্ষিত রাখে; যেমন: আবহাওয়া ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, খাদ্যদ্রব্য, পানীয়সমূহ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, রেচন ও ধারণ, দেশ ও বাসস্থান এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, শারীরিক ও মানসিক গতি ও স্থিতি, যার অন্তর্ভুক্ত হলো নিদ্রা ও জাগরণ, বয়সের পরিবর্তন ও তার বিভিন্নতা, লিঙ্গভেদ, পেশা ও অভ্যাস এবং মানবদেহে স্পর্শকারী এমন বিষয়সমূহ যা কখনও প্রকৃতির অনুকূল হয় আবার কখনও প্রকৃতির পরিপন্থী হয়। আর রূপগত কারণসমূহ হলো: শারীরিক প্রকৃতিসমূহ, তার প্রভাবে সৃষ্ট শক্তিসমূহ এবং দৈহিক গঠন।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ١٥)
وَأما الْأَسْبَاب التمامية: فالأفعال وَفِي معرفَة الْأَفْعَال معرفَة القوى لَا محَالة وَمَعْرِفَة الْأَرْوَاح الحاملة للقوى كَمَا سنبين فَهَذِهِ مَوْضُوعَات صناعَة الطِّبّ من جِهَة أَنَّهَا باحثة عَن بدن الْإِنْسَان انه كَيفَ يَصح ويمرض وَأما من جِهَة تَمام هَذَا الْبَحْث وَهُوَ أَن تحفظ الصِّحَّة وتزيل الْمَرَض فَيجب أَن تكون لَهَا أَيْضا مَوْضُوعَات أخر بِحَسب أَسبَاب هذَيْن الْحَالين وآلاتهما وَأَسْبَاب ذَلِك التَّدْبِير بالمأكول والمشروب وَاخْتِيَار الْهَوَاء وَتَقْدِير الْحَرَكَة والسكون والعلاج بالدواء والعلاج بِالْيَدِ وكل ذَلِك عِنْد الْأَطِبَّاء بِحَسب ثَلَاثَة أَصْنَاف من الأصحاء والمرضى والمتوسطين الَّذين نذكرهم وَنَذْكُر أَنهم كَيفَ يعدون متوسطين بَين قسمَيْنِ لَا وَاسِطَة بَينهمَا فِي الْحَقِيقَة وَإِذ قد فصلنا هَذِه البيانات فقد اجْتمع لنا أَن الطِّبّ ينظر فِي الْأَركان والمزاجات والأخلاط والأعضاء البسيطة والمركبة والأرواح وقواها الطبيعية والحيوانية والنفسانية وَالْأَفْعَال وحالات الْبدن من الصِّحَّة وَالْمَرَض والتوسط وأسبابها من المآكل والمشارب والأهوية والمياه والبلدان والمساكن والاستفراغ والاحتقان والصناعات والعادات والحركات الْبَدَنِيَّة والنفسانية والسكونات والأسنان والأجناس والورادات على الْبدن من الْأُمُور الغريبة وَالتَّدْبِير بالمطاعم والمشارب وَاخْتِيَار الْهَوَاء وَاخْتِيَار الحركات والسكونات والعلاج الْأَدْوِيَة وأعمال الْيَد لحفظ الصِّحَّة وعلاج مرض مرض فبعض هَذِه الْأُمُور إِنَّمَا يجب عَلَيْهِ من جِهَة مَا هُوَ طَبِيب أَن يتصوره بالماهية فَقَط تصورا علميا وَيصدق بهليته تَصْدِيقًا على أَنه وضع لَهُ مَقْبُول من صَاحب الْعلم الطبيعي وَبَعضهَا يلْزمه أَن يبرهن عَلَيْهِ فِي صناعته فَمَا كَانَ من هَذِه كالمبادئ فَيلْزمهُ أَن يتقلد هليتها فَإِن مبادئ الْعُلُوم الْجُزْئِيَّة مسلمة وتتبرهن وتتبين فِي عُلُوم أُخْرَى أقدم مِنْهَا وَهَكَذَا حَتَّى ترتقي مبادئ الْعُلُوم كلهَا إِلَى الْحِكْمَة الأولى الَّتِي يُقَال لَهَا علم مَا بعد الطبيعة وَإِذا شرع بعض المتطببين وَأخذ يتَكَلَّم فِي إِثْبَات العناصر والمزاج وَمَا يَتْلُو ذَلِك مِمَّا هُوَ مَوْضُوع الْعلم الطبيعي فَإِنَّهُ يغلط من حَيْثُ يُورد فِي صناعَة الطِّبّ مَا لَيْسَ من صناعَة الطِّبّ ويغلط من حَيْثُ يظنّ أَنه قد يبين شَيْء وَلَا يكون قد بَينه أَلْبَتَّة فَالَّذِي يجب أَن يتصوره الطَّبِيب بالماهية ويتقلد مَا كَانَ مِنْهُ غير بَين الْوُجُود بالهلية هُوَ هَذِه الْجُمْلَة الْأَركان أَنَّهَا هَل هِيَ وَكم هِيَ والمزاجات أَنَّهَا هَل هِيَ وَمَا هِيَ وَكم هِيَ والأخلاط أَيْضا هَل هِيَ وَمَا هِيَ وَكم هِيَ والقوى هَل هِيَ وَكم هِيَ والأرواح هَل هِيَ وَكم هِيَ وَأَيْنَ هِيَ. وان لكل تغير حَال وثباته سَببا وَأَن الْأَسْبَاب كم هِيَ واما الْأَعْضَاء ومنافعها فَيجب أَن يصادفها بالحس والتشريح. وَالَّذِي يجب أَن يتصوره ويبرهن عَلَيْهِ الْأَمْرَاض وأسبابها الْجُزْئِيَّة وعلاماتها وانه كَيفَ يزَال الْمَرَض وَتحفظ الصِّحَّة فَإِنَّهُ يلْزمه أَن يُعْطي الْبُرْهَان على مَا كَانَ من هَذَا خَفِي الْوُجُود بتفصيله وَتَقْدِيره وتوفيته وجالينوس إِذْ حاول إِقَامَة الْبُرْهَان على الْقسم الأول فَلَا يجب أَن يحاول
আর পূর্ণতাদানকারী কারণসমূহ হলো: কার্যাবলি। আর কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য অনিবার্যভাবেই শক্তিসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হয় এবং শক্তিসমূহকে ধারণকারী রূহসমূহ (প্রাণশক্তি) সম্পর্কে অবগত হতে হয়, যেমনটি আমরা অচিরেই বর্ণনা করব। সুতরাং এগুলো হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় এই দিক থেকে যে, এটি মানুষের দেহ সম্পর্কে আলোচনা করে যে, তা কীভাবে সুস্থ হয় এবং কীভাবে রোগাক্রান্ত হয়। আর এই আলোচনার পূর্ণতার দিক থেকে, যা হলো স্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং রোগ দূর করা, এই দুটি অবস্থার কারণ ও উপকরণের প্রেক্ষিতে এর আরও কিছু আলোচ্য বিষয় থাকা আবশ্যক। আর এর কারণসমূহ হলো: আহার ও পানীয়ের ব্যবস্থাপনা, বায়ু নির্বাচন, গতি ও স্থবিরতার পরিমাপ নির্ধারণ, ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা এবং শল্যচিকিৎসা (হাতের মাধ্যমে চিকিৎসা)। চিকিৎসকদের নিকট এই সবকিছুই তিন শ্রেণির মানুষের প্রেক্ষিতে বিবেচিত হয়: সুস্থ, অসুস্থ এবং মধ্যবর্তী পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ, যাঁদের সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব এবং বর্ণনা করব যে, কীভাবে তাঁদেরকে এমন দুটি শ্রেণির মধ্যবর্তী গণ্য করা হয় যাদের মাঝে বাস্তবে কোনো ব্যবধান নেই। যেহেতু আমরা এই বিষয়গুলো বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, তাই আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, চিকিৎসাশাস্ত্র মৌলিক উপাদানসমূহ (আরকান), মেজাজ (প্রকৃতি), শারীরিক রসসমূহ (আখলাত), সরল ও যৌগিক অঙ্গসমূহ, রূহসমূহ এবং তাদের প্রাকৃতিক, প্রাণিক ও মানসিক শক্তিসমূহ নিয়ে আলোচনা করে। একইভাবে এটি আলোচনা করে কার্যাবলি, শরীরের বিভিন্ন অবস্থা—যেমন সুস্থতা, অসুস্থতা ও মধ্যবর্তী অবস্থা—এবং এগুলোর কারণসমূহ, যেমন খাদ্যদ্রব্য, পানীয়, বায়ু, পানি, দেশ, বাসস্থান, রেচন ও কোষ্ঠকাঠিন্য, পেশা, অভ্যাস, শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম এবং বিশ্রাম, বয়স, লিঙ্গ এবং শরীরের ওপর আপতিত বহিরাগত বিষয়সমূহ। এছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষা এবং প্রতিটি রোগ নিরাময়ের জন্য আহার ও পানীয়ের ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত বায়ু নির্বাচন, গতি ও স্থবিরতার নির্বাচন, ঔষধি চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের ক্রিয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়গুলোর মধ্যে কিছু বিষয় এমন রয়েছে যা একজন চিকিৎসক হিসেবে তাকে কেবল এর সারবত্তা (মাহিয়াত) সম্পর্কে তাত্ত্বিকভাবে ধারণা করতে হবে এবং এর অস্তিত্বের (হালিয়্যাত) বিষয়টি সত্য বলে মেনে নিতে হবে, যেন তা তার নিকট প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পণ্ডিতের পক্ষ থেকে প্রদত্ত একটি স্বীকৃত মূলনীতি। আবার কিছু বিষয় এমন আছে যা তাকে তার নিজস্ব বিজ্ঞানের আলোকে প্রমাণ করতে হবে। সুতরাং এগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু মৌলিক নীতি হিসেবে গণ্য, সেগুলোর অস্তিত্ব তাকে বিনাবাক্যে মেনে নিতে হবে; কারণ আংশিক বা বিশেষায়িত বিজ্ঞানসমূহের মূলনীতিগুলো স্বীকৃত থাকে এবং সেগুলো এর চেয়ে প্রাচীন বা উচ্চতর অন্য কোনো বিজ্ঞানে প্রমাণিত ও স্পষ্ট হয়। এভাবে সকল বিজ্ঞানের মূলনীতি শেষ পর্যন্ত 'প্রথম হিকমত' বা আদি প্রজ্ঞায় গিয়ে উপনীত হয়, যাকে পরাবিদ্যা (মেটাফিজিক্স) বলা হয়। যখন কোনো চিকিৎসানুরাগী বা স্বল্পজ্ঞানী চিকিৎসক মৌলিক উপাদানসমূহ, মেজাজ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়—যা মূলত প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়—সেগুলো প্রমাণের জন্য কথা বলতে শুরু করে, তখন সে ভুল করে। কারণ সে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মধ্যে এমন বিষয় নিয়ে আসে যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সে মনে করে যে সে এমন কিছু স্পষ্ট করছে যা সে আদতে স্পষ্ট করতে সক্ষম হয়নি। সুতরাং চিকিৎসকের জন্য যা এর সারবত্তা অনুযায়ী উপলব্ধি করা এবং যার অস্তিত্ব স্পষ্ট নয় তা মেনে নেওয়া আবশ্যক, তা হলো এই সামগ্রিক বিষয়গুলো: মৌলিক উপাদানসমূহ—এগুলো কী এবং কয়টি; মেজাজসমূহ—এগুলো কী এবং কয়টি; একইভাবে শারীরিক রসসমূহ—সেগুলো কী এবং কয়টি; শক্তিসমূহ—তা কী ও কয়টি; এবং রূহসমূহ—তা কী, কয়টি এবং কোথায় অবস্থিত। এছাড়া প্রতিটি অবস্থার পরিবর্তন ও স্থিতিশীলতার যে কারণ রয়েছে এবং সেই কারণগুলো কয়টি তা জেনে নিতে হবে। তবে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং তাদের উপযোগিতা সম্পর্কে তাকে ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতা ও ব্যবচ্ছেদবিদ্যার (অ্যানাটমি) মাধ্যমে জানতে হবে। আর যে বিষয়গুলো সম্পর্কে তাকে ধারণা রাখতে হবে এবং প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে তা হলো: বিভিন্ন ব্যাধি, সেগুলোর বিশেষ কারণসমূহ ও লক্ষণসমূহ এবং কীভাবে রোগ দূর করতে হয় ও স্বাস্থ্য রক্ষা করতে হয়। কারণ যার অস্তিত্ব সূক্ষ্ম, তার বিস্তারিত বিবরণ, পরিমাপ এবং পরিপূর্ণতা সম্পর্কে প্রমাণ দেওয়া তার জন্য আবশ্যক। গ্যালেন যখন প্রথম অংশের ওপর প্রমাণ পেশ করার চেষ্টা করেছিলেন, তখন তাঁর সেটি করা উচিত হয়নি।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ١٦)
ذَلِك من جِهَة انه طَبِيب وَلَكِن من جِهَة أَنه يجب أَن يكون فيلسوفا يتَكَلَّم فِي الْعلم الطبيعي كَمَا أَن الْفَقِيه إِذا حاول أَن يثبت صِحَة وجوب مُتَابعَة الْإِجْمَاع فَلَيْسَ ذَلِك لَهُ من جِهَة مَا هُوَ فَقِيه وَلَكِن من جِهَة مَا هُوَ مُتَكَلم وَلَكِن الطَّبِيب من جِهَة مَا هُوَ طَبِيب والفقيه من جِهَة مَا هُوَ فَقِيه لَيْسَ يُمكنهُ أَن يبرهن على ذَاك بته وَإِلَّا وَقع الدّور.
এটি তাঁর চিকিৎসক হওয়ার দিক থেকে নয়, বরং এ দিক থেকে যে তাঁকে এমন এক দার্শনিক হতে হবে যিনি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিষয়ে আলোচনা করেন। ঠিক যেমন একজন ফকিহ যখন ইজমা অনুসরণের আবশ্যকতা প্রমাণ করতে সচেষ্ট হন, তখন তিনি ফকিহ হিসেবে তা করেন না, বরং মুতাকাল্লিম হিসেবে তা করেন। কিন্তু চিকিৎসক হিসেবে একজন চিকিৎসক এবং ফকিহ হিসেবে একজন ফকিহ—কারও পক্ষেই এটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়; অন্যথায় তা চক্রক দোষে (দাওর) পর্যবসিত হবে।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌(التَّعْلِيم الثَّانِي)

 

‌‌(فِي الْأَركان)

 

‌‌(وَهُوَ فصل وَاحِد)

الْأَركان هِيَ أجسام مَا بسيطة هِيَ أَجزَاء أولية لبدن الْإِنْسَان وَغَيره وَهِي الَّتِي لَا يُمكن أَن تَنْقَسِم إِلَى أَجزَاء مُخْتَلفَة بالصورة وَهِي الَّتِي تَنْقَسِم المركبات إِلَيْهَا وَيحدث بامتزاجها الْأَنْوَاع الْمُخْتَلفَة الصُّور من الكائنات فليتسلم الطَّبِيب من الطبيعي أَنَّهَا أَرْبَعَة لَا غير اثْنَان مِنْهَا خفيفان وإثنان ثقيلان فالخفيفان: النَّار والهواء والثقيلان: المَاء وَالْأَرْض وَالْأَرْض جرم بسيط مَوْضِعه الطبيعي هُوَ وسط الْكل يكون فِيهِ بالطبع سَاكِنا ويتحرك إِلَيْهِ بالطبع إِن كَانَ مباينا وَذَلِكَ ثقله الْمُطلق وَهُوَ بَارِد يأبس فِي طبعه أَي طبعه طبع إِذا خلى وَمَا يُوجِبهُ وَلم يُغَيِّرهُ سَبَب من خَارج ظهر عَنهُ برد محسوس ويبس. ووجوده فِي الكائنات وجود مُفِيد للاستمساك والثبات وَحفظ الأشكال والهيآت. وَأما المَاء فَهُوَ جرم بسيط مَوْضِعه الطبيعي أَن يكون شَامِلًا للْأَرْض مشمولا للهواء إِذا كَانَا على وضعيهما الطبيعيين وَهُوَ ثقله الإضافي وَهُوَ بَارِد رطب أَي ظبعه طبع إِذا خلى وَمَا يُوجِبهُ وَلم يُعَارضهُ سَبَب من خَارج ظهر فِيهِ برد محسوس وَحَالَة هِيَ رُطُوبَة وَهِي كَونه فِي جبلته بِحَيْثُ يُجيب بِأَدْنَى سَبَب إِلَى أَن يتفرق ويتحد وَيقبل أَي شكل كَانَ ثمَّ لَا يحفظه ووجوده فِي الكائنات لتسلس الهيآت الَّتِي يُرَاد فِي أَجْزَائِهَا التشكيل والتخطيط وَالتَّعْدِيل فَإِن الرطب وَإِن كَانَ سهل التّرْك لليهآت الشكلية فَهُوَ سهل الْقبُول لَهَا كَمَا أَن الْيَابِس وَإِن كَانَ عسر الْقبُول للهيآت الشكلية فَهُوَ عسر التّرْك لَهَا وَمهما تخمر الْيَابِس بالرطب اسْتَفَادَ الْيَابِس من الرطب قبولا للتمديد والتشكيل سهلا واستفاد الرطب من الْيَابِس حفظا لما حدث فِيهِ من التَّقْوِيم وَالتَّعْدِيل قَوِيا وَاجْتمعَ الْيَابِس بالرطب عَن تشتته واستمسك الرطب باليابس عَن سيلانه وَأما الْهَوَاء فَإِنَّهُ جرم بسيط مَوْضِعه الطبيعي فَوق المَاء وَتَحْت النَّار وَهَذَا خفته الإضافية وطبعه حَار رطب على قِيَاس مَا قُلْنَا ووجوده فِي الكائنات لتتخلخل وتلطف وتخف وتستقل. وَأما النَّار فَهُوَ جرم بسيط مَوْضِعه الطبيعي فَوق الأجرام العنصرية كلهَا ومكانه الطبيعي هُوَ السَّطْح المقعر من الْفلك الَّذِي يَنْتَهِي عِنْده الْكَوْن وَالْفساد وَذَلِكَ خفته الْمُطلقَة وطبعه حَار يَابِس ووجوده فِي الكائنات لينضج ويلطف ويمتزج وَيجْرِي فِيهَا بتنفيذه الْجَوْهَر الهوائي
(দ্বিতীয় পাঠ)

 

(মৌল উপাদান প্রসঙ্গে)

 

(এবং এটি একটিই অনুচ্ছেদ)

মৌল উপাদানসমূহ হলো এমন কিছু সরল পদার্থ যা মানবদেহ এবং অন্যান্য দেহের প্রাথমিক অংশ। এগুলোকে এমন কোনো অংশে বিভক্ত করা সম্ভব নয় যাদের রূপ ভিন্ন হয়। যৌগিক পদার্থসমূহ এগুলোর মাধ্যমেই গঠিত হয় এবং এগুলোর সংমিশ্রণের ফলেই বিশ্বজগতের বিচিত্র রূপধারী বস্তুসমূহ সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকের উচিত প্রাকৃতিক বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে এটি ধ্রুব সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যে, এই উপাদানগুলো সংখ্যায় মাত্র চারটি; যার দুটি হালকা এবং দুটি ভারী। হালকা দুটি হলো: অগ্নি ও বায়ু; আর ভারী দুটি হলো: পানি ও মৃত্তিকা। মৃত্তিকা হলো একটি সরল পদার্থ যার প্রাকৃতিক অবস্থান হলো মহাবিশ্বের কেন্দ্রে। স্বীয় প্রকৃতি অনুযায়ী এটি সেখানে স্থির থাকে এবং যদি কেন্দ্রচ্যুত হয় তবে স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রের দিকে ধাবিত হয়; আর এটিই হলো এর পরম গুরুত্ব। এটি স্বভাবে শীতল ও শুষ্ক; অর্থাৎ যদি একে বাহ্যিক কোনো প্রভাবমুক্ত অবস্থায় রাখা হয়, তবে এর থেকে স্পষ্ট শীতলতা ও শুষ্কতা প্রকাশ পায়। সৃষ্ট বস্তুসমূহে এর অস্তিত্ব সংহতি, স্থায়িত্ব এবং আকার ও আকৃতি সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য। আর পানি হলো এমন এক সরল পদার্থ যার প্রাকৃতিক অবস্থান হলো তা মৃত্তিকার উপরিভাগকে বেষ্টন করে থাকবে এবং বায়ু দ্বারা পরিবেষ্টিত হবে—যদি তারা উভয়েই তাদের স্বাভাবিক অবস্থানে থাকে। এটিই এর আপেক্ষিক গুরুত্ব। এটি স্বভাবে শীতল ও আর্দ্র; অর্থাৎ বাহ্যিক কোনো কারণ বাধা না দিলে এর প্রকৃতিতে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য শীতলতা ও আর্দ্রতা প্রকাশ পায়। পানির আর্দ্রতার ধর্ম হলো এটি অত্যন্ত সহজেই বিচ্ছিন্ন বা একত্রিত হতে পারে এবং যেকোনো আকার গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু তা স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে পারে না। সৃষ্টিজগত বা দেহসমূহে এর প্রয়োজনীয়তা হলো সেই সব অবয়বের নমনীয়তা রক্ষা করা যাদের গঠন, রেখাচিত্র ও সামঞ্জস্য বিন্যাস করা প্রয়োজন। কেননা আর্দ্র বস্তু যদিও সহজেই রূপ পরিবর্তন করে, তবুও তা সহজেই নতুন রূপ গ্রহণ করে। অপরদিকে শুষ্ক বস্তু যেমন সহজে আকার গ্রহণ করতে চায় না, তেমনি তা বর্জন করাও এর জন্য কঠিন। যখন শুষ্ক ও আর্দ্র উপাদানের মিশ্রণ ঘটে, তখন শুষ্ক উপাদানটি আর্দ্রতার কারণে সহজে নমনীয় ও রূপান্তরযোগ্য হওয়ার গুণ লাভ করে। আর আর্দ্র উপাদানটি শুষ্কতার প্রভাবে তার অর্জিত সুঠাম গঠন ও সামঞ্জস্য দৃঢ়ভাবে সংরক্ষণের সামর্থ্য পায়। এভাবে শুষ্ক উপাদান আর্দ্রতার মাধ্যমে বিচ্ছুরিত হওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং আর্দ্র উপাদান শুষ্কতার প্রভাবে তার অতি-তরলতা কাটিয়ে সংহত থাকে। বায়ু হলো একটি সরল পদার্থ যার প্রাকৃতিক অবস্থান পানির উপরে এবং অগ্নির নিচে; আর এটিই এর আপেক্ষিক লঘুতা। পূর্বোক্ত নিয়ম অনুযায়ী এর স্বভাব হলো উষ্ণ ও আর্দ্র। সৃষ্ট বস্তুসমূহে এর উপস্থিতি হলো সূক্ষ্মতা, হালকা ভাব, প্রসারণ এবং ঊর্ধ্বগামিতা প্রদানের জন্য। পরিশেষে, অগ্নি হলো এমন এক সরল পদার্থ যার প্রাকৃতিক অবস্থান হলো অন্য সকল উপাদানের উপরে। এর প্রাকৃতিক স্থান হলো নভোমণ্ডলের সেই অবতল তলদেশ যেখানে বস্তুগত উৎপত্তি ও বিনাশের সীমা সমাপ্ত হয়। এটিই এর পরম লঘুতা। অগ্নির স্বভাব হলো উষ্ণ ও শুষ্ক। সৃষ্ট বস্তুসমূহে এর উপস্থিতির উদ্দেশ্য হলো উপাদানগুলোকে পরিপক্ক করা, সূক্ষ্ম করা এবং সংমিশ্রণে সহায়তা করা, যাতে বায়বীয় উপাদানের প্রবাহের মাধ্যমে তা সমগ্র সত্তায় সঞ্চারিত হতে পারে।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ١٨)
وليكسر من محوضة برد العنصرين الثقيلين الباردين فيرجعا عَن العنصرية إِلَى المزاجية والثقيلان أعون فِي كَون الْأَعْضَاء وَفِي سكونها والخفيفان أعون فِي كَون الْأَرْوَاح وَفِي تحركها وتحريك الْأَعْضَاء وَإِن كَانَ المحرك الأول هُوَ النَّفس بِإِذن باريها فَهَذِهِ هِيَ الْأَركان.
যাতে এই দুটি ভারী ও শীতল উপাদানের শৈত্যের তীব্রতা প্রশমিত হয় এবং তারা তাদের বিশুদ্ধ মৌলিক অবস্থা হতে মেজাজ বা মিশ্র প্রকৃতির দিকে ফিরে আসে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন ও তাদের স্থিরতার ক্ষেত্রে ভারী উপাদানদ্বয় অধিক সহায়ক; আর রূহ বা জীবনীশক্তির গঠন এবং তাদের গতি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালনের ক্ষেত্রে হালকা উপাদানদ্বয় অধিক কার্যকর, যদিও তার স্রষ্টার অনুমতিক্রমে প্রকৃত চালিকাশক্তি হলো নফস। এগুলিই হলো আরকান বা মৌলিক উপাদানসমূহ।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌(التَّعْلِيم الثَّالِث)

 

‌‌(فِي الأمزجة)

 

‌‌(وَهُوَ ثَلَاثَة فُصُول)

 

الْفَصْل الأول: المزاج أَقُول: المزاج كَيْفيَّة حَاصِلَة من تفَاعل الكيفيات المتضادات إِذا وقفت على حد مَا. ووجودها فِي عناصر متصغرة الْأَجْزَاء ليماس أَكثر كل وَاحِد مِنْهَا أَكثر الآخر. إِذا تفاعلت بقواها بَعْضهَا فِي بعض حدث عَن جُمْلَتهَا كَيْفيَّة متشابهة فِي جَمِيعهَا هِيَ: المزاج والقوى الأولية فِي الْأَركان الْمَذْكُورَة أَربع هِيَ: الْحَرَارَة والبرودة والرطوبة واليبوسة وَبَين أَن المزاجات فِي الْأَجْسَام الكائنة الْفَاسِدَة إِنَّمَا تكون عَنْهَا وَذَلِكَ بِحَسب مَا توجبه الْقِسْمَة الْعَقْلِيَّة بِالنّظرِ الْمُطلق غير مُضَاف إِلَى شَيْء على وَجْهَيْن. وَأحد الْوَجْهَيْنِ أَن يكون المزاج معتدلا على أَن تكون الْمَقَادِير من الكيفيات المتضادة فِي الممتزج مُتَسَاوِيَة متقاومة وَيكون المزاج كَيْفيَّة متوسطة بَينهَا بالتحقيق. وَالْوَجْه الثَّانِي أَن لَا يكون المزاج بَينا لكيفيات المتضادة وسطا مُطلقًا وَلَكِن يكون أميل إِلَى أحد الطَّرفَيْنِ إِمَّا فِي إِحْدَى المتضادتين اللَّتَيْنِ بَين الْبُرُودَة والحرارة والرطوبة واليبوسة وَأما فِي كليهمَا. لَكِن الْمُعْتَبر فِي صناعَة الطِّبّ بالاعتدال وَالْخُرُوج عَن الِاعْتِدَال لَيْسَ هَذَا وَلَا ذَلِك بل يجب أَن يتسلم الطَّبِيب من الطبيعي. إِن المعتدل على هَذَا الْمَعْنى مِمَّا لَا يجوز أَن يُوجد أصلا فضلا عَن أَن يكون مزاج إِنْسَان أَو عُضْو إِنْسَان وَأَن يعلم أَن المعتدل الَّذِي يَسْتَعْمِلهُ الْأَطِبَّاء فِي مباحثهم هُوَ مُشْتَقّ لَا من التعادل الَّذِي هُوَ التوازن بِالسَّوِيَّةِ بل من الْعدْل فِي الْقِسْمَة وَهُوَ أَن يكون قد توفر فِيهِ على الممتزج بدنا كَانَ بِتَمَامِهِ أَو عضوا من العناصر بكمياتها وكيفياتها الْقسْط الَّذِي يَنْبَغِي لَهُ فِي المزاج الإنساني على أعدل قسْمَة وَنسبَة لكنه قد يعرض أَن تكون هَذِه الْقِسْمَة الَّتِي تتوفر على الْإِنْسَان قريبَة جدا من المعتدل الْحَقِيقِيّ الأول وَهَذَا الِاعْتِدَال الْمُعْتَبر بِحَسب أبدان النَّاس أَيْضا الَّذِي هُوَ بِالْقِيَاسِ إِلَى غير مِمَّا لَيْسَ لَهُ ذَلِك الِاعْتِدَال وَلَيْسَ لَهُ قرب الْإِنْسَان من الِاعْتِدَال الْمَذْكُور فِي الْوَجْه الأول يعرض لَهُ ثَمَانِيَة أوجه من الاعتبارات. فَإِنَّهُ إِمَّا أَن يكون بِحَسب النَّوْع مقيسا إِلَى مَا يخْتَلف مِمَّا هُوَ خَارج عَنهُ. وَإِمَّا أَن يكون بِحَسب النَّوْع مقيسا إِلَى مَا يخْتَلف مِمَّا هُوَ فِيهِ.
‌‌(তৃতীয় পাঠ)

 

‌‌(মেজাজ বা স্বভাব-প্রকৃতি প্রসঙ্গে)

 

‌‌(ইহা তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত)

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: মেজাজ। আমি বলছি: মেজাজ হলো পরস্পর বিরোধী গুণাবলীর পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন একটি গুণগত অবস্থা, যখন তা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় উপনীত হয়। এই গুণাবলী এমন মৌলিক উপাদানের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে বিদ্যমান থাকে যেখানে প্রতিটি উপাদানের অধিকাংশ অংশ অন্যটির অধিকাংশ অংশের সংস্পর্শে থাকে। যখন এই উপাদানগুলো নিজ নিজ শক্তির মাধ্যমে একে অপরের ওপর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে, তখন তাদের সামগ্রিক অবস্থা থেকে একটি সমজাতীয় গুণের উদ্ভব হয় যা সেই সমস্ত উপাদানের মধ্যে পরিব্যাপ্ত থাকে; আর এটিই হলো মেজাজ। উল্লিখিত মৌলিক উপাদানসমূহের প্রাথমিক শক্তি হলো চারটি: উষ্ণতা, শীতলতা, আর্দ্রতা এবং শুষ্কতা। এটি সুস্পষ্ট যে, নশ্বর জগতের দেহসমূহের মেজাজ মূলত এ থেকেই সৃষ্টি হয়। বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অন্য কোনো কিছুর সাথে তুলনা না করে নিরঙ্কুশভাবে মেজাজকে দুইভাবে দেখা যায়। এর একটি হলো মেজাজের প্রকৃত সাম্যাবস্থা; অর্থাৎ মিশ্রিত বস্তুর মধ্যে পরস্পর বিরোধী গুণাবলীর পরিমাণ সমান ও সমপর্যায়ের হওয়া, যার ফলে মেজাজটি হবে তাদের মধ্যকার একটি প্রকৃত মধ্যবর্তী অবস্থা। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো এমন অবস্থা যেখানে মেজাজটি পরস্পর বিরোধী গুণসমূহের একেবারে মধ্যবর্তী স্থানে না থেকে কোনো একদিকে ঝুঁকে থাকে—সেটি উষ্ণতা ও শীতলতা অথবা আর্দ্রতা ও শুষ্কতার যেকোনো একটি জোড়ার ক্ষেত্রে হতে পারে, কিংবা উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে। তবে চিকিৎসাশাস্ত্রে 'সাম্যাবস্থা' এবং 'সাম্যাবস্থা থেকে বিচ্যুতি' বলতে এই দুইটির কোনোটিই বোঝায় না। বরং চিকিৎসককে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানীর নিকট থেকে এটি মেনে নিতে হবে যে, আক্ষরিক অর্থে এই সাম্যাবস্থা বাস্তবে থাকা আদৌ সম্ভব নয়, মানুষের মেজাজ বা মানুষের কোনো অঙ্গের মেজাজ হওয়া তো দূরের কথা। তাকে আরও জানতে হবে যে, চিকিৎসকরা তাদের আলোচনায় 'সাম্যাবস্থা' বলতে যে শব্দটি ব্যবহার করেন, তা গাণিতিক ভারসাম্য বা সমতা থেকে উদ্ভূত নয়; বরং তা 'বণ্টনের পরিমিতিবোধ' থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হলো, একটি পূর্ণাঙ্গ দেহ বা নির্দিষ্ট অঙ্গের মেজাজের জন্য মৌলিক উপাদানসমূহের পরিমাণ ও গুণাবলীর সেই যথাযথ অংশ বিদ্যমান থাকা, যা মানব মেজাজের সর্বোত্তম বণ্টন ও অনুপাত অনুযায়ী তার জন্য প্রয়োজন। তবে কখনো কখনো মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এই বণ্টনটি প্রকৃত সাম্যাবস্থার অতি নিকটবর্তী হয়ে থাকে। মানুষের দেহের বিচারে এই সাম্যাবস্থাটি—যা অন্য মেজাজের তুলনায় অধিক সুষম এবং যা প্রথম প্রকারে বর্ণিত প্রকৃত সাম্যাবস্থার নিকটবর্তী—তা আটটি প্রেক্ষিত থেকে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এটি হয়তো স্বীয় প্রজাতির বাইরে কোনো ভিন্ন কিছুর সাথে তুলনামূলক বিচারে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতি অনুযায়ী হবে, অথবা একই প্রজাতির অভ্যন্তরীণ ভিন্নতার সাথে তুলনামূলক বিচারে হবে।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَأما أَن يكون بِحَسب صنف من النَّوْع مقيسا إِلَى مَا يخْتَلف مِمَّا هُوَ خَارج عَنهُ وَفِي نَوعه. وَإِمَّا أَن يكون بِحَسب صنف من النَّوْع مقيسا إِلَى مَا يخْتَلف مِمَّا هُوَ فِيهِ. وَإِمَّا أَن يكون بِحَسب الشَّخْص من الصِّنْف من النَّوْع مقيسا إِلَى مَا يخْتَلف مِمَّا هُوَ خَارج عَنهُ وَفِي صنفه وَفِي نَوعه. وَإِمَّا أَن يكون بِحَسب الشَّخْص مقيسا إِلَى مَا يخْتَلف من أَحْوَاله فِي نَفسه وَإِمَّا أَن يكون بِحَسب الْعُضْو مقيسا إِلَى مَا يخْتَلف مِمَّا هُوَ خَارج عَنهُ وَفِي بدنه. وَإِمَّا أَن يكون بِحَسب الْعُضْو مقيسا إِلَى أَحْوَاله فِي نَفسه.

وَالْقسم الأول هُوَ الِاعْتِدَال الَّذِي للْإنْسَان بِالْقِيَاسِ إِلَى سَائِر الكائنات وَهُوَ شَيْء لَهُ عرض وَلَيْسَ منحصرا فِي حد وَلَيْسَ ذَلِك أَيْضا كَيفَ اتّفق بل لَهُ فِي الإفراط والتفريط حدان إِذا خرج عَنْهُمَا بَطل المزاج عَن أَن يكون مزاج إِنْسَان.

وَأما الثَّانِي فَهُوَ الْوَاسِطَة بَين طرفِي هَذَا المزاج العريض وَيُوجد فِي شخص فِي غَايَة الِاعْتِدَال من صنف فِي غَايَة الِاعْتِدَال فِي السن الَّذِي يبلغ فِيهِ النشو غَايَة النمو وَهَذَا أَيْضا وَإِن لم يكن الِاعْتِدَال الْحَقِيقِيّ الْمَذْكُور فِي ابْتِدَاء الْفَصْل حَتَّى يمْتَنع وجوده فَإِنَّهُ مِمَّا يعسر وجوده وَهَذَا الْإِنْسَان أَيْضا إِنَّمَا يقرب من الِاعْتِدَال الْحَقِيقِيّ الْمَذْكُور لَا كَيفَ اتّفق وَلَكِن تَتَكَافَأ أعضاؤه الحارة كالقلب والباردة كالدماغ والرطبة كالكبد واليابسة كالعظام فَإِذا توازنت وتعادلت. قربت من الِاعْتِدَال الْحَقِيقِيّ وَأما بِاعْتِبَار كل عُضْو فِي نَفسه إِلَّا عضوا وَاحِدًا وَهُوَ الْجلد على مَا نصفه بعد. وَإِمَّا بِالْقِيَاسِ إِلَى الْأَرْوَاح وَإِلَى الْأَعْضَاء الرئيسة فَلَيْسَ يُمكن أَن يكون مقاربا لذَلِك الِاعْتِدَال الْحَقِيقِيّ بل خَارِجا عَنهُ إِلَى الْحَرَارَة والرطوبة. فَإِن مبدأ الْحَيَاة هُوَ الْقلب وَالروح وهما حاران جدا مائلان إِلَى الإفراط. والحياة بالحرارة والنشوء بالرطوبة بل الْحَرَارَة تقوم بالرطوبة وتغتذي بهَا. والأعضاء الرئيسة ثَلَاثَة كَمَا سنبين بعد هَذَا والبارد مِنْهَا وَاحِد وَهُوَ الدِّمَاغ. وبرده لَا يبلغ أَن يعدل حر الْقلب والكبد. واليابس مِنْهَا أَو الْقَرِيب من اليبوسة وَاحِد وَهُوَ الْقلب ويبوسته لَا تبلغ أَن تعدل مزاج رُطُوبَة الدِّمَاغ والكبد. وَلَيْسَ الدِّمَاغ أَيْضا بذلك الْبَارِد وَلَا الْقلب أَيْضا بذلك الْيَابِس وَلَكِن الْقلب بِالْقِيَاسِ إِلَى الآخر يَابِس والدماغ بِالْقِيَاسِ إِلَى الآخرين بَارِد.

وَأما الْقسم الثَّالِث: فَهُوَ أضيق عرضا من الْقسم الأول أَعنِي من الِاعْتِدَال النوعي إِلَّا أَن لَهُ عرضا صَالحا وَهُوَ المزاج الصَّالح لأمة من الْأُمَم بِحَسب الْقيَاس إِلَى إقليم من الأقاليم وهواء من الأهوية فَإِن للهند مزاجا يشمهلم يصحون بِهِ وللصقالبة مزاجا آخر يخصون بِهِ ويصحون بِهِ كل وَاحِد مِنْهُمَا معتدل بِالْقِيَاسِ إِلَى صنفه وَغير معتدل بِالْقِيَاسِ إِلَى الآخر. فَإِن الْبدن الْهِنْدِيّ إِذا تكيف بمزاج الصقلابي مرض أَو هلك. وَكَذَلِكَ حَال الْبدن الصقلابي إِذا تكيف
আবার তা হতে পারে কোনো প্রজাতির একটি উপশ্রেণি অনুযায়ী, যা তার বহির্ভূত অথচ একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের সাথে তুলনীয়। অথবা তা হতে পারে প্রজাতির একটি উপশ্রেণি অনুযায়ী, যা তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সাথে তুলনীয়। অথবা তা হতে পারে উপশ্রেণির কোনো ব্যক্তি অনুযায়ী, যা তার বহির্ভূত অথচ একই উপশ্রেণি ও প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের সাথে তুলনীয়। আবার তা হতে পারে কোনো ব্যক্তি অনুযায়ী, যা তার নিজ অবস্থার পরিবর্তনের সাথে তুলনীয়। অথবা তা হতে পারে কোনো অঙ্গ অনুযায়ী, যা তার বহির্ভূত শরীরের অন্যান্য অংশের সাথে তুলনীয়। অথবা তা হতে পারে কোনো অঙ্গ অনুযায়ী, যা তার নিজস্ব অবস্থার পরিবর্তনের সাথে তুলনীয়।

প্রথম বিভাগটি হলো সেই সাম্যাবস্থা যা অন্যান্য সৃষ্টির তুলনায় মানুষের জন্য নির্ধারিত। এটি এমন একটি বিষয় যার একটি নির্দিষ্ট পরিসর রয়েছে এবং তা কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে সীমাবদ্ধ নয়। তবে এটি যথেচ্ছ নয়, বরং এর আধিক্য ও স্বল্পতার দুটি সীমা রয়েছে; যখন মেজাজ এই সীমা দুটি অতিক্রম করে, তখন তা মানুষের মেজাজ হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্যতা হারায়।

দ্বিতীয় বিভাগটি হলো এই বিস্তৃত মেজাজের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অবস্থা। এটি এমন এক ব্যক্তির মধ্যে পাওয়া যায় যে তার উপশ্রেণির মধ্যে চরম সাম্যাবস্থায় রয়েছে এবং এমন এক বয়সে উপনীত হয়েছে যখন শারীরিক বৃদ্ধি পূর্ণতা পায়। যদিও এটি পরিচ্ছেদের শুরুতে উল্লিখিত সেই 'প্রকৃত সাম্যাবস্থা' নয় যার অস্তিত্ব অসম্ভব, তবুও এর অস্তিত্ব পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। এই মানুষটিও উল্লিখিত প্রকৃত সাম্যাবস্থার নিকটবর্তী হয় যথেচ্ছভাবে নয়, বরং তার উষ্ণ অঙ্গসমূহ যেমন হৃদযন্ত্র, শীতল অঙ্গসমূহ যেমন মস্তিষ্ক, আর্দ্র অঙ্গসমূহ যেমন কলিজা এবং শুষ্ক অঙ্গসমূহ যেমন হাড় যখন ভারসাম্যপূর্ণ ও সমপর্যায়ের হয়, তখন তা প্রকৃত সাম্যাবস্থার নিকটবর্তী হয়। তবে এটি প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব বিবেচনার ভিত্তিতে, কেবল একটি অঙ্গ ছাড়া—আর তা হলো ত্বক, যার বর্ণনা আমরা পরবর্তীতে প্রদান করব। রুহ এবং প্রধান অঙ্গসমূহের তুলনায় এই মেজাজ সেই প্রকৃত সাম্যাবস্থার সমতুল্য হওয়া সম্ভব নয়, বরং তা উষ্ণতা ও আর্দ্রতার দিকে ঝুঁকে থাকে। কেননা জীবনের উৎস হলো হৃদযন্ত্র ও রুহ, আর এ দুটি অত্যন্ত উষ্ণ এবং আধিক্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। জীবন টিকে থাকে উষ্ণতার মাধ্যমে এবং বৃদ্ধি ঘটে আর্দ্রতার মাধ্যমে; বরং উষ্ণতা আর্দ্রতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং তা থেকেই পুষ্টি গ্রহণ করে। প্রধান অঙ্গ তিনটি, যা আমরা পরবর্তীতে ব্যাখ্যা করব। এর মধ্যে শীতল অঙ্গ একটি, আর তা হলো মস্তিষ্ক। তবে এর শীতলতা হৃদযন্ত্র ও কলিজার উষ্ণতাকে সমপর্যায়ে আনার মতো নয়। এর মধ্যে শুষ্ক অথবা শুষ্কতার নিকটবর্তী অঙ্গ একটি, আর তা হলো হৃদযন্ত্র। তবে এর শুষ্কতা মস্তিষ্ক ও কলিজার আর্দ্রতাকে সমপর্যায়ে আনার মতো নয়। মস্তিষ্কও তেমন শীতল নয় এবং হৃদযন্ত্রও তেমন শুষ্ক নয়; তবে হৃদযন্ত্র অন্য দুটির তুলনায় শুষ্ক এবং মস্তিষ্ক অন্য দুটির তুলনায় শীতল।

তৃতীয় বিভাগটি হলো: এটি প্রথম বিভাগের (অর্থাৎ প্রজাতিগত সাম্যাবস্থা) তুলনায় সংকীর্ণতর পরিসরবিশিষ্ট, তবে এর একটি গ্রহণযোগ্য পরিসর রয়েছে। আর তা হলো কোনো এক জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জলবায়ুর নিরিখে উপযোগী মেজাজ। যেমন ভারতীয়দের একটি নির্দিষ্ট মেজাজ রয়েছে যা তাদের সকলের জন্য প্রযোজ্য এবং যার মাধ্যমে তারা সুস্থ থাকে। আবার স্লাভদের জন্য অন্য একটি মেজাজ রয়েছে যা তাদের জন্য নির্দিষ্ট এবং যার মাধ্যমে তারা সুস্থ থাকে। তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ উপশ্রেণির নিরিখে সাম্যাবস্থায় রয়েছে, কিন্তু একে অপরের তুলনায় তারা সাম্যাবস্থায় নেই। কেননা কোনো ভারতীয় শরীর যদি স্লাভদের মেজাজ গ্রহণ করে, তবে সে অসুস্থ হয়ে পড়বে অথবা মৃত্যুবরণ করবে। স্লাভদের শরীরের অবস্থাও ঠিক তদ্রূপ যদি তা অন্য মেজাজ গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٢١)
بمزاج الْهِنْدِيّ. فَيكون إِذن لكل وَاحِد من أَصْنَاف سكان المعمورة مزاج خَاص يُوَافق هَوَاء إقليمه وَأما الْقسم الرَّابِع: فَهُوَ الْوَاسِطَة بَين طرفِي عرض مزاج الإقليم وَهُوَ أعدل أمزجة ذَلِك الصِّنْف. وَأما الْقسم الْخَامِس: فَهُوَ أضيق من الْقسم الأوّل وَالثَّالِث وَهُوَ المزاج الَّذِي يجب أَن يكون لشخص معيّن حَتَّى يكون مَوْجُودا حَيا صَحِيحا وَله أَيْضا عرض يحدّه طرفا إفراط وتفريط. وَيجب أَن تعلم أَن كل شخص يسْتَحق مزاجاً يخصّه ينْدر أَو لَا يُمكن أَن يُشَارِكهُ فِيهِ الآخر. وَأما الْقسم السَّادِس: فَهُوَ الْوَاسِطَة بَين هذَيْن الحدين أَيْضا وَهُوَ المزاج الَّذِي إِذا حصل للشَّخْص كَانَ على أفضل مَا يَنْبَغِي لَهُ أَن يكون عَلَيْهِ. وَأما الْقسم السَّابِع: فَهُوَ المزاج الَّذِي يجب أَن يكون لنَوْع كل عُضْو من الْأَعْضَاء يُخَالف بِهِ غَيره فَإِن الِاعْتِدَال الَّذِي للعظم هُوَ أَن يكون الْيَابِس فِيهِ أَكثر وللدماغ أَن يكون الرطب فِيهِ أَكثر وللقلب أَن يكون الْحَار فِيهِ أَكثر وللعصب أَن يكون الْبَارِد فِيهِ أَكثر وَلِهَذَا المزاج أَيْضا عرض يحده طرفا إفراط وتفريط هُوَ دون الْعرُوض الْمَذْكُورَة فِي الأمزجة الْمُتَقَدّمَة. وَأما الْقسم الثَّامِن: فَهُوَ الَّذِي يخصّ كل عُضْو من الِاعْتِدَال حَتَّى يكون الْعُضْو على أحسن مَا يكون لَهُ فِي مزاجه فَهُوَ الْوَاسِطَة بَين هذَيْن الحدّين وَهُوَ المزاج الَّذِي إِذا حصل للعضو كَانَ على أفضل مَا يَنْبَغِي لَهُ أَن يكون عَلَيْهِ. فَإِذا اعْتبرت الْأَنْوَاع كَانَ أقربها من الِاعْتِدَال الْحَقِيقِيّ هُوَ الْإِنْسَان. وَإِذا اعْتبرت الْأَصْنَاف فقد صحّ عندنَا أَنه إِذا كَانَ فِي الْموضع الموازي لمعدل النَّهَار عمَارَة وَلم يعرض من الْأَسْبَاب الأرضية أَمر مضاد أَعنِي من الْجبَال والبحار فَيجب أَن يكون سكانها أقرب الْأَصْنَاف من الِاعْتِدَال الْحَقِيقِيّ. وصحّ أَن الظَّن الذيَ يَقع أَن هُنَاكَ خروجاَ عَن الِاعْتِدَال بِسَبَب قرب الشَّمْس ظن فَاسد فَإِن مسامتة الشَّمْس هُنَاكَ أقل نكاية وتغييرا للهواء من مقاربتها هَهُنَا أَو أَكثر عرضا مِمَّا هَهُنَا وَإِن لم تَسَامِت ثمَّ سَائِر أَحْوَالهم فاضلة متشابهة وَلَا يتضاد عَلَيْهِم الْهَوَاء تضاداً محسوسا بل يشابه مزاجهم دَائِما. وَكُنَّا قد عَملنَا فِي تَصْحِيح هَذَا الرَّأْي رِسَالَة. ثمَّ بعد هَؤُلَاءِ فأعدل الْأَصْنَاف سكان الاقليم الرَّابِع فَإِنَّهُم لَا محترقون بدوام مسامتة الشَّمْس رؤوسهم حينا بعد حِين بعد تباعدها عَنْهُم كسكان أَكثر الثَّانِي وَالثَّالِث وَلَا فجون نيون بدوام بعد الشَّمْس عَن رؤوسهم كسكان أَكثر الْخَامِس وَمَا هُوَ أبعد مِنْهُ عرضا وَأما فِي الْأَشْخَاص فَهُوَ أعدل شخص من أعمل صنف من أعدل نوع. وَأما فِي الْأَعْضَاء فقد ظهر أَن الْأَعْضَاء الرئيسة لَيست شَدِيدَة الْقرب من الِاعْتِدَال الْحَقِيقِيّ بل يجب أَن تعلم أَن اللَّحْم أقرب الْأَعْضَاء من ذَلِك الِاعْتِدَال وَأقرب مِنْهُ الْجلد فَإِنَّهُ لَا يكَاد ينفعل عَن مَاء ممزوج بالتساوي نصفه جمد وَنصفه مغلي ويكاد يتعادل فِيهِ تسخين الْعُرُوق وَالدَّم لتبريد العصب وَكَذَلِكَ
ভারতীয়দের মেজাজের সাথে। সুতরাং, পৃথিবীর অধিবাসীদের প্রতিটি শ্রেণির জন্য একটি বিশেষ মেজাজ বা শারীরিক প্রকৃতি রয়েছে, যা তাদের অঞ্চলের আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর চতুর্থ বিভাগটি হলো: এটি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মেজাজের ব্যাপ্তির দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অবস্থা, এবং এটি ওই শ্রেণির জন্য সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মেজাজ। পঞ্চম বিভাগটি হলো: এটি প্রথম ও তৃতীয় বিভাগের তুলনায় অধিকতর সংকীর্ণ; এটি এমন এক মেজাজ যা একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির জীবন ধারণ ও সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য। এরও একটি ব্যাপ্তি রয়েছে যা আধিক্য ও ঘাটতির দুই প্রান্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ। আর আপনার জেনে রাখা উচিত যে, প্রত্যেক ব্যক্তি একটি নিজস্ব মেজাজ বা প্রকৃতির অধিকারী, যা অন্য কারও সাথে হুবহু মিলে যাওয়া বিরল বা অসম্ভব। ষষ্ঠ বিভাগটি হলো: এটিও উক্ত দুই সীমার মধ্যবর্তী অবস্থা; এটি এমন এক মেজাজ যা কোনো ব্যক্তি লাভ করলে সে তার জন্য সম্ভাব্য সর্বোত্তম অবস্থায় উপনীত হয়। সপ্তম বিভাগটি হলো: এটি এমন মেজাজ যা প্রতিটি অঙ্গের প্রকৃতির জন্য নির্ধারিত এবং যার মাধ্যমে এক অঙ্গ অন্যটি থেকে পৃথক হয়। যেমন হাড়ের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা হলো তাতে শুষ্কতা বেশি থাকা, মস্তিষ্কের ভারসাম্য হলো তাতে আর্দ্রতা বেশি থাকা, হৃদপিণ্ডের জন্য উষ্ণতা এবং স্নায়ুর জন্য শীতলতা বেশি থাকা। এই মেজাজেরও একটি ব্যাপ্তি রয়েছে যা আধিক্য ও ঘাটতির দুই প্রান্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ, তবে তা পূর্বোক্ত মেজাজসমূহের ব্যাপ্তির তুলনায় কম। অষ্টম বিভাগটি হলো: এটি প্রতিটি অঙ্গের এমন ভারসাম্য যা তাকে তার প্রকৃতির সেরা অবস্থায় রাখে; এটি উক্ত দুই সীমার মধ্যবর্তী অবস্থা এবং এমন এক মেজাজ যা অর্জিত হলে অঙ্গটি তার সম্ভাব্য সর্বোত্তম অবস্থায় থাকে। প্রজাতিসমূহের মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রকৃত ভারসাম্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো মানুষ। আর শ্রেণির বিচারে আমাদের নিকট এটি প্রমাণিত যে, বিষুবরেখার সমান্তরাল স্থানে যদি জনবসতি থাকে এবং সেখানে পাহাড় বা সমুদ্রের মতো কোনো প্রতিকূল পার্থিব কারণ না থাকে, তবে সেখানকার অধিবাসীরাই হবে মানবজাতির মধ্যে প্রকৃত ভারসাম্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী। আর এটিও প্রমাণিত যে, সূর্যের নৈকট্যের কারণে সেখানে ভারসাম্য নষ্ট হয় বলে যে ধারণা প্রচলিত তা ভ্রান্ত। কারণ সেখানে সূর্যের লম্বভাবে কিরণ দান বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের জন্য এখানকার নৈকট্য বা এখানকার চেয়ে বেশি অক্ষাংশের তুলনায় কম ক্ষতিকর। যদিও সেখানে সবসময় লম্বভাবে কিরণ দেয় না, তবুও তাদের অন্যান্য অবস্থা চমৎকার ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে আবহাওয়ার কোনো লক্ষণীয় বৈরিতা নেই, বরং তাদের মেজাজ সর্বদা একই রকম থাকে। আমরা এই মতের সপক্ষে একটি পৃথক গবেষণাপত্র লিখেছি। এরপর সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ শ্রেণির অধিবাসী হলো চতুর্থ অঞ্চলের (ইকলিম) বাসিন্দারা। কারণ তারা সূর্যের দীর্ঘক্ষণ মাথার ওপর অবস্থানের কারণে দগ্ধ হয় না, যেমনটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের ক্ষেত্রে ঘটে। আবার সূর্যের নিরবচ্ছিন্ন দূরত্বের কারণে তারা কাঁচা বা অপরিণতও হয় না, যেমনটি পঞ্চম বা তার চেয়ে বেশি অক্ষাংশের অধিবাসীদের ক্ষেত্রে ঘটে। আর ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তি হলো সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রজাতির সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ শ্রেণির সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মানুষটি। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট যে, প্রধান অঙ্গসমূহ প্রকৃত ভারসাম্যের খুব বেশি নিকটবর্তী নয়। বরং জেনে রাখা উচিত যে, মাংসপেশি হলো প্রকৃত ভারসাম্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী অঙ্গ, আর চামড়া বা ত্বক তার চেয়েও নিকটতর। কারণ এটি প্রায় অর্ধেক বরফ ও অর্ধেক ফুটন্ত পানির মিশ্রণ দ্বারা প্রভাবিত হয় না এবং এতে স্নায়ুর শীতলতাকে প্রশমিত করার জন্য রক্তবাহী নালী ও রক্তের উষ্ণতা প্রায় সমানভাবে কাজ করে। তেমনিভাবে...
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٢٢)
لَا ينفعل عَن جسم حسن الْخَلْط من أيبس الْأَجْسَام وأسيلها إِذا كَانَا فِيهِ بِالسَّوِيَّةِ وَإِنَّمَا يعرف أَنه لَا ينفعل مِنْهُ لِأَنَّهُ لَا يحس وَإِنَّمَا كَانَ مثله لما كَانَ لَا ينفعل مِنْهُ لِأَنَّهُ لَو كَانَ مُخَالفا لَهُ لانفعل عَنهُ فَإِن الْأَشْيَاء المتفقة العنصر المتضادة الطبائع ينفعل بَعْضهَا عَن بعض. وَإِنَّمَا لَا ينفعل الشَّيْء عَن مُشَاركَة فِي الْكَيْفِيَّة إِذا كَانَ مُشَاركَة فِي الْكَيْفِيَّة شَبيهَة فِيهَا. وَأَعْدل الْجلد جلد الْيَد وَأَعْدل جلد الْيَد جلد الْكَفّ وأعدله جلد الرَّاحَة أعدله مَا كَانَ على الْأَصَابِع وأعدله مَا كَانَ على السبابَة وأعدله مَا كَانَ على الْأُنْمُلَة مِنْهَا فَلذَلِك هِيَ وأنامل الْأَصَابِع الْأُخْرَى تكَاد تكون هِيَ الحاكمة بالطمع فِي مقادير الملموسات. فَإِن الْحَاكِم يجب أَن يكون متساوي الْميل إِلَى الطَّرفَيْنِ جَمِيعًا حَتَّى يحس بِخُرُوج الطّرف عَن التَّوَسُّط وَالْعدْل. وَيجب أَن تعلم مَعَ مَا قد علمت أَنا إِذا قُلْنَا للدواء أَنه معتدل فلسنا نعني بذلك أَنه معتدل على الْحَقِيقَة فَذَلِك غير مُمكن. وَلَا أَيْضا أَنه معتدل بالاعتدال الإنساني فِي مزاجه وَإِلَّا لَكَانَ من جَوْهَر الْإِنْسَان بِعَيْنِه. وَلَكنَّا نعني أَنه إِذا انفعل عَن الْحَار الغريزي فِي بدن الْإِنْسَان فتكيف بكيفية لم تكن تِلْكَ الْكَيْفِيَّة خَارِجَة عَن كَيْفيَّة الْإِنْسَان إِلَى طرف من طرفِي الْخُرُوج عَن الْمُسَاوَاة فَلَا يُؤثر فِيهِ أثرا مائلاً عَن الِاعْتِدَال وَكَأَنَّهُ معتدل بِالْقِيَاسِ إِلَى فعله فِي بدن الْإِنْسَان. وَكَذَلِكَ إِذا قُلْنَا أَنه حَار أَو بَارِد فلسنا نعني أَنه فِي جوهره بغاية الْحَرَارَة أَو الْبُرُودَة وَلَا أَنه فِي جوهره أحر من بدن الْإِنْسَان أَو أبرد وَإِلَّا لَكَانَ المعتدل مَا مزاجه مثل مزاج الْإِنْسَان. وَلَكنَّا نعني بِهِ أَنه يحدث مِنْهُ فِي بدن الْإِنْسَان حرارة أَو برودة فَوق اللَّتَيْنِ لَهُ. وَلِهَذَا قد يكون الدَّوَاء بَارِدًا بِالْقِيَاسِ إِلَى بدن الْإِنْسَان حاراً بِالْقِيَاسِ إِلَى بدن الْعَقْرَب وحاراً بِالْقِيَاسِ إِلَى بدن الْإِنْسَان بَارِدًا بِالْقِيَاسِ إِلَى بدن الْحَيَّة بل قد يكون لدواء وَاحِد أَيْضا حاراً بِالْقِيَاسِ إِلَى بدن زيد فَوق كَونه حاراً بِالْقِيَاسِ إِلَى بدن عَمْرو. وَلِهَذَا يُؤمر المعالجون بِأَن لَا يُقِيمُونَ على دَوَاء وَاحِد فِي تَبْدِيل المزاج إِذا لم ينجع. وَإِذ قد اسْتَوْفَيْنَا القَوْل فِي المزاج المعتدل فلننتقل إِلَى غير المعتدل فَنَقُول: إِن الأمزجة الْغَيْر المعتدلة سَوَاء أَخَذتهَا بِالْقِيَاسِ إِلَى النَّوْع أَو الصِّنْف أَو الشَّخْص أَو الْعُضْو ثَمَانِيَة بعد الِاشْتِرَاك فِي أَنَّهَا مُقَابلَة للمعتدل. وَتلك الثَّمَانِية تحدث على هَذَا الْوَجْه وَهُوَ أَن الْخَارِج عَن الِاعْتِدَال إِمَّا أَن يكون بسيطاً وَإِنَّمَا يكون خُرُوجه فِي مضادة وَاحِدَة وَإِمَّا أَن يكون مركبا. وَإِنَّمَا يكون خُرُوجه فِي المضادتين جَمِيعًا. والبسيط الْخَارِج فِي المضادة الْوَاحِدَة إِمَّا فِي المضادة الفاعلة وَذَلِكَ على قسمَيْنِ: لِأَنَّهُ إِمَّا أَن يكون أحر مِمَّا يَنْبَغِي لَكِن لَيْسَ أرطب مِمَّا يَنْبَغِي وَلَا أيبس مِمَّا يَنْبَغِي أَو يكون أبرد مِمَّا يَنْبَغِي وَلَيْسَ أيبس مِمَّا يَنْبَغِي وَلَا أرطب مِمَّا يَنْبَغِي وَإِمَّا أَن يكون فِي المضادة المنفعلة وَذَلِكَ على قسمَيْنِ: لِأَنَّهُ إِمَّا أَن يكون أيبس مِمَّا يَنْبَغِي وَلَيْسَ أحرّ وَلَا أبرد مِمَّا يَنْبَغِي وَإِمَّا أَن يكون أرطب مِمَّا يَنْبَغِي وَلَيْسَ أحر وَلَا أبرد مِمَّا يَنْبَغِي. لَكِن هَذِه الْأَرْبَعَة لَا تستقرّ وَلَا تثبت زَمَانا لَهُ قدر فَإِن الأحر مِمَّا يَنْبَغِي يَجْعَل الْبدن أيبس مِمَّا يَنْبَغِي والأبرد مِمَّا يَنْبَغِي يَجْعَل الْبدن أرطب مِمَّا يَنْبَغِي بالرطوبة الغريبة والأيبس مِمَّا يَنْبَغِي سَرِيعا مَا يَجعله أبرد مِمَّا يَنْبَغِي والأرطب مِمَّا يَنْبَغِي إِن كَانَ بإفراط فَإِنَّهُ أسْرع من الأيبس فِي تبريده وَإِن كَانَ لَيْسَ بإفراط فَإِنَّهُ يحفظه مُدَّة أَكثر إِلَّا أَنه يَجعله آخر الْأَمر أبرد مِمَّا يَنْبَغِي. وَأَنت تفهم من هَذَا أَن الِاعْتِدَال أَو الصِّحَّة أَشد مُنَاسبَة للحرارة مِنْهَا للبرودة فَهَذِهِ هِيَ الْأَرْبَع المفردة.
একটি সুষম মিশ্রণবিশিষ্ট দেহ শুষ্কতম ও তরলতম দেহসমূহ দ্বারা প্রভাবিত হয় না, যখন এই উভয় গুণ তাতে সমানভাবে বিদ্যমান থাকে। আর এটি যে প্রভাবিত হয় না তা একারণেই জানা যায় যে, এটি কোনো কিছু অনুভব করে না। আর এটি যখন কোনো কিছু দ্বারা প্রভাবিত হয় না, তখন তা তার সমরূপ হওয়ার কারণেই হয়; কেননা যদি এটি ভিন্ন প্রকৃতির হতো তবে অবশ্যই তা দ্বারা প্রভাবিত হতো। কারণ একই মূল উপাদানবিশিষ্ট কিন্তু পরস্পরবিরোধী প্রকৃতির বস্তুসমূহ একে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয়। মূলত একটি বস্তু কেবল তখনই অন্য কোনো গুণের অংশীদারিত্বের কারণে প্রভাবিত হয় না, যখন সেই গুণের অংশীদারিত্বে উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য থাকে। দেহের ত্বকের মধ্যে সবচেয়ে সুষম হলো হাতের ত্বক, আর হাতের ত্বকের মধ্যে হাতের তালুর ত্বক অধিক সুষম, এবং তার মধ্যে সবচেয়ে সুষম হলো করতল। আবার করতলের মধ্যে আঙুলগুলোর ত্বক অধিক সুষম, তার মধ্যে তর্জনীর ত্বক এবং তর্জনীর মধ্যে তার অগ্রভাগ (অঙ্গুলি-শীর্ষ) সবচেয়ে সুষম। একারণেই এটি এবং অন্যান্য আঙুলের অগ্রভাগ স্পর্শযোগ্য বস্তুসমূহের পরিমাপ নির্ধারণে বিচারকের ন্যায় সংবেদনশীল হয়। কারণ বিচারকের জন্য উভয় প্রান্তের প্রতি নিরপেক্ষ হওয়া আবশ্যক, যাতে তিনি মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য থেকে বিচ্যুতি অনুভব করতে পারেন। আপনার জানা বিষয়ের সাথে এটিও জেনে রাখা উচিত যে, আমরা যখন কোনো ওষুধকে 'সুষম' (Moderate) বলি, তখন আমাদের উদ্দেশ্য এই নয় যে তা প্রকৃতপক্ষে সুষম—কারণ তা অসম্ভব। আবার এটিও উদ্দেশ্য নয় যে তা মানুষের মেজাজের ন্যায় সুষম, অন্যথায় তা অবিকল মানুষের সত্তার অংশ হতো। বরং আমাদের উদ্দেশ্য হলো, যখন এটি মানুষের দেহের সহজাত তাপ দ্বারা প্রভাবিত হয়, তখন এটি এমন এক অবস্থায় উপনীত হয় যা মানুষের প্রকৃতির সীমা ছাড়িয়ে ভারসাম্যের কোনো এক প্রান্তে চলে যায় না। ফলে এটি মানবদেহে ভারসাম্যহীন কোনো প্রভাব ফেলে না এবং মানবদেহে এর ক্রিয়ার বিচারে একে সুষম বলে গণ্য করা হয়। একইভাবে যখন আমরা কোনো কিছুকে উষ্ণ বা শীতল বলি, তখন আমাদের উদ্দেশ্য এই নয় যে তার সারসত্তায় তা চরম উষ্ণ বা শীতল, অথবা তা স্বয়ং মানবদেহের চেয়ে অধিক উষ্ণ বা শীতল—নতুবা মানুষের মেজাজের অনুরূপ মেজাজবিশিষ্ট বস্তুই সুষম হতো। বরং আমাদের উদ্দেশ্য হলো, এটি মানবদেহে তার বর্তমান অবস্থার চেয়ে অতিরিক্ত উষ্ণতা বা শীতলতা তৈরি করে। একারণেই কোনো ওষুধ মানুষের দেহের তুলনায় শীতল হতে পারে কিন্তু বিছার দেহের তুলনায় উষ্ণ হতে পারে; আবার মানুষের দেহের তুলনায় উষ্ণ হলেও সাপের দেহের তুলনায় শীতল হতে পারে। এমনকি একই ওষুধ জায়েদের দেহের তুলনায় যতটুকু উষ্ণ, আমরের দেহের তুলনায় তার চেয়ে বেশি উষ্ণ হতে পারে। এই কারণেই চিকিৎসকদের নির্দেশ দেওয়া হয় যে, মেজাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ কার্যকর না হলে তারা যেন কেবল সেটির ওপরই নির্ভর করে না থাকেন। যেহেতু আমরা সুষম মেজাজ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা শেষ করেছি, এখন আমরা ভারসাম্যহীন মেজাজের বর্ণনায় ফিরে আসি। আমরা বলি: ভারসাম্যহীন মেজাজ—তা প্রজাতি, শ্রেণি, ব্যক্তি বা অঙ্গ যে বিচারেই হোক না কেন—সুষম মেজাজের বিপরীত হওয়া সত্ত্বেও মোট আট প্রকার। এই আট প্রকার নিম্নোক্তভাবে সংঘটিত হয়: ভারসাম্য থেকে বিচ্যুতি হয় 'সরল' (একক) হবে—অর্থাৎ এর বিচ্যুতি হবে কেবল একটি বিপরীত গুণের ক্ষেত্রে, অথবা তা হবে 'যৌগিক'—অর্থাৎ এর বিচ্যুতি ঘটবে উভয় প্রকার বিপরীত গুণের ক্ষেত্রে। একক গুণের ক্ষেত্রে যে বিচ্যুতি ঘটে, তা হয় সক্রিয় (Active) বিপরীত গুণের ক্ষেত্রে হবে, যার দুটি প্রকার রয়েছে: হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অধিক উষ্ণ হবে কিন্তু অধিক আর্দ্র বা শুষ্ক হবে না, অথবা প্রয়োজনের তুলনায় অধিক শীতল হবে কিন্তু অধিক শুষ্ক বা আর্দ্র হবে না। অথবা এই বিচ্যুতি হবে নিষ্ক্রিয় (Passive) বিপরীত গুণের ক্ষেত্রে, যারও দুটি প্রকার রয়েছে: হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অধিক শুষ্ক হবে কিন্তু অধিক উষ্ণ বা শীতল হবে না, অথবা তা প্রয়োজনের তুলনায় অধিক আর্দ্র হবে কিন্তু অধিক উষ্ণ বা শীতল হবে না। তবে এই চার প্রকার (সরল বিচ্যুতি) দীর্ঘকাল স্থায়ী হয় না। কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত উষ্ণতা দেহকে শুষ্ক করে তোলে, আর অতিরিক্ত শীতলতা বহিরাগত আর্দ্রতার মাধ্যমে দেহকে অতি-আর্দ্র করে তোলে। আবার যা প্রয়োজনের চেয়ে শুষ্ক, তা দ্রুত শীতল হয়ে যায়; আর যা প্রয়োজনের চেয়ে অধিক আর্দ্র—যদি তা মাত্রাতিরিক্ত হয় তবে তা শুষ্কতার চেয়েও দ্রুত শীতলতা আনে, আর যদি মাত্রাতিরিক্ত না হয় তবে তা দীর্ঘক্ষণ (উষ্ণতা) ধরে রাখলেও পরিশেষে শীতলতায় পর্যবসিত হয়। এর দ্বারা আপনি বুঝতে পারছেন যে, ভারসাম্য বা সুস্থতার সাথে উষ্ণতার সম্পর্ক শীতলতার চেয়ে অনেক বেশি নিবিড়। এই হলো চারটি একক অবস্থা।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَأما المركّبة الَّتِي يكون الْخُرُوج فِيهَا فِي المضادتين جَمِيعًا فَمثل أَن يكون المزاح أحر وأرطب مَعًا مِمَّا يَنْبَغِي أَو أبرد وأرطب مَعًا مِمَّا يَنْبَغِي أَو أبرد وأيبس مَعًا. وَلَا يُمكن أَن يكون أحر وأبرد مَعًا وَلَا أرطب وأيبس مَعًا. وكل وَاحِد من هَذِه الأمزجة الثَّمَانِية لَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون بِلَا مَادَّة وَهُوَ أَن يحدث ذَلِك المزاج فِي الْبدن كَيْفيَّة وَحدهَا من غير أَن يكون قد تكيف الْبدن بِهِ لنفوذ خلط فِيهِ متكيّف بِهِ فيتغير الْبدن إِلَيْهِ مثل حرارة المدقوق وبرودة الخصر المصرود المثلوج وَإِمَّا أَن يكون مَعَ مَادَّة وَهُوَ أَن يكون الْبدن إِنَّمَا تكيف بكيفية ذَلِك المزاج لمجاورة خلط نَافِذ فِيهِ غَالب عَلَيْهِ تِلْكَ الْكَيْفِيَّة مثل تبرد الْجِسْم الإنساني بِسَبَب بلغم زجاجي أَو تسخنه بِسَبَب صفراء كراثي. وستجد فِي الْكتاب الثَّالِث وَالرَّابِع مِثَالا لوَاحِد وَاحِد من الأمزجة السِّتَّة عشر. وَاعْلَم: أَن المزاج مَعَ الْمَادَّة قد يكون على جِهَتَيْنِ وَذَلِكَ لِأَن الْعُضْو قد يكون تَارَة مُنْتَفعا فِي الْمَادَّة متبلاً بهَا وَقد تكون تَارَة الْمَادَّة محتبسةً فِي مجاريه وبطونه فَرُبمَا كَانَ احتباسها ومداخلتها يحدث توريماً وَرُبمَا لم يكن. الْفَصْل الثَّانِي أمزجة الْأَعْضَاء اعْلَم أنّ الْخَالِق جل جلاله أعْطى كل حَيَوَان. وكل عُضْو من المزاج مَا هُوَ أليق بِهِ وَأصْلح لأفعاله وأحواله بِحَسب الْإِمْكَان لَهُ. وَتَحْقِيق ذَلِك إِلَى الفيلسوف دون الطَّبِيب. وَأعْطى الْإِنْسَان أعدل مزاج يُمكن أَن يكون فِي هَذَا الْعَالم مَعَ مُنَاسبَة لقواه الَّتِي بهَا يفعل وينفعل. وَأعْطى كل عُضْو مَا يَلِيق بِهِ من مزاجه فَجعل بعض الْأَعْضَاء أحر وَبَعضهَا أبرد ويعضها أيبس وَبَعضهَا أرطب. فَأَما أحر مَا فِي الْبدن فَهُوَ الرّوح وَالْقلب الَّذِي هُوَ منشؤه ثمَّ الدَّم فَإِنَّهُ وَإِن كَانَ متولداً فِي الكبد فَإِنَّهُ لاتصاله بِالْقَلْبِ يَسْتَفِيد من الْحَرَارَة مَا لَيْسَ للكبد ثمَّ الكبد لِأَنَّهَا كَدم جامد ثمَّ الرئة ثمَّ اللَّحْم وَهُوَ أقل مِنْهَا بِمَا يخالطه من لِيف العصب الْبَارِد ثمَّ العضل وَهُوَ أقل حرارة من اللَّحْم الْمُفْرد لما يخالطه من العصب والرباط ثمَّ الطحال لما فِيهِ من عكر الدَّم ثمَّ الكِلى لِأَن الدَّم فِيهَا لَيْسَ بالكثير ثمَّ طَبَقَات الْعُرُوق الضوارب لَا بجواهرها العصبية بل بِمَا تقبله من تسخين الدَّم وَالروح اللَّذين فِيهَا ثمَّ طَبَقَات الْعُرُوق السواكن لأجل الدَّم وَحده ثمَّ جلدَة الْكَفّ المعتدلة وأبرد مَا فِي الْبدن البلغم ثمَّ الشَّحْم ثمَّ الشّعْر ثمَّ الْعظم ثمَّ الغضروف ثمَّ الرِّبَاط ثمَّ وَأما أرطب مَا فِي الْبدن فالبلغم ثمَّ الدَّم ثمَّ السمين ثمَّ الشَّحْم ثمَّ الدِّمَاغ ثمَّ النخاع ثمَّ لحم الثدي والأنثيين ثمَّ الرئة ثمَّ الكبد ثمَّ الطحال ثمَّ الكليتان ثمَّ العضل ثمَّ الْجلد. هَذَا هُوَ التَّرْتِيب الَّذِي رتبه جالينوس. وَلَكِن يجب أَن تعلم أَن الرئة فِي جوهرها
আর যৌগিক মিজাজ হলো সেইটি যাতে বিচ্যুতি উভয় বিপরীত গুণের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। যেমন মিজাজটি স্বাভাবিকের চেয়ে একই সাথে অধিক উষ্ণ ও অধিক আর্দ্র হওয়া, অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক শীতল ও অধিক আর্দ্র হওয়া, কিংবা অধিক শীতল ও অধিক শুষ্ক হওয়া। তবে একই সাথে অধিক উষ্ণ ও অধিক শীতল হওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি একই সাথে অধিক আর্দ্র ও অধিক শুষ্ক হওয়াও অসম্ভব। এই আট প্রকার মিজাজের প্রত্যেকটিই দুই অবস্থা থেকে মুক্ত নয়: হয় তা বস্তুহীন হবে, অর্থাৎ শরীরে কেবল সেই গুণের পরিবর্তন ঘটবে কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট দেহরস (খিলত) তাতে অনুপ্রবেশ করে তাকে প্রভাবিত করবে না; যেমন—ক্ষয়কাশ বা যক্ষ্মার উষ্ণতা কিংবা বরফ দ্বারা অত্যধিক শীতল হয়ে যাওয়া কোনো অঙ্গের শীতলতা। অথবা তা বস্তুসহ হবে, অর্থাৎ শরীরের সেই মিজাজ পরিবর্তনের কারণ হবে তাতে কোনো নির্দিষ্ট দেহরসের অনুপ্রবেশ বা আধিক্য, যা সেই বিশেষ গুণসম্পন্ন; যেমন—কাঁচবৎ শ্লেষ্মার (বলগম জুজাজী) কারণে মানবদেহ শীতল হওয়া কিংবা রসুন-সবুজ পিত্তের (সাফরা কুরাসী) কারণে দেহ উষ্ণ হওয়া। তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ডে আপনি এই ষোল প্রকার মিজাজের প্রত্যেকটির উদাহরণ খুঁজে পাবেন। জেনে রাখুন: বস্তুসহ মিজাজ দুই প্রকার হতে পারে। কারণ অঙ্গটি কখনো সেই বস্তুর দ্বারা সিক্ত ও রঞ্জিত হয়, আবার কখনো সেই বস্তু বা দেহরস অঙ্গের নালা ও গহ্বরসমূহে অবরুদ্ধ হয়ে থাকে। অনেক সময় এই অবরুদ্ধ অবস্থা ও অনুপ্রবেশের ফলে প্রদাহ বা টিউমার সৃষ্টি হয়, আবার কখনো হয় না। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মিজাজ জেনে রাখুন যে, মহান স্রষ্টা প্রত্যেক প্রাণীকে এবং প্রতিটি অঙ্গকে এমন মিজাজ দান করেছেন যা তার কার্যাবলি ও অবস্থার জন্য সাধ্যানুযায়ী সর্বাধিক উপযুক্ত। এই বিষয়টি প্রমাণ করা চিকিৎসকের কাজ নয়, বরং দার্শনিক বা তত্ত্বজ্ঞানীর কাজ। তিনি মানুষকে এই জগতের সম্ভাব্য সবচাইতে ভারসাম্যপূর্ণ মিজাজ দান করেছেন, যা তার কর্মক্ষমতা ও সংবেদনশীল শক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি প্রতিটি অঙ্গকে তার উপযোগী মিজাজ প্রদান করেছেন; ফলে কোনো অঙ্গকে করেছেন অধিক উষ্ণ, কোনোটিকে অধিক শীতল, কোনোটিকে অধিক শুষ্ক এবং কোনোটিকে অধিক আর্দ্র। শরীরের সর্বাধিক উষ্ণ বস্তু হলো রূহ (প্রাণশক্তি) এবং হৃদপিণ্ড যা এর উৎপত্তিস্থল। এরপর রক্ত; যদিও রক্ত যকৃতে উৎপন্ন হয়, কিন্তু হৃদপিণ্ডের সাথে সংযুক্ত থাকার কারণে এটি এমন উষ্ণতা লাভ করে যা যকৃতের নেই। এরপর যকৃৎ, কারণ এটি জমাটবদ্ধ রক্তের ন্যায়। এরপর ফুসফুস, তারপর গোশত (মাংস); তবে এতে শীতল স্নায়ুর তন্তু মিশ্রিত থাকায় এর উষ্ণতা ফুসফুসের চেয়ে কম। এরপর পেশি; স্নায়ু ও লিগামেন্ট মিশ্রিত থাকার কারণে এর উষ্ণতা একক মাংসের তুলনায় কম। এরপর প্লিহা, কারণ এতে রক্তের তলানি বা গাদ বিদ্যমান। এরপর বৃক্ক (কিডনি), কারণ এতে রক্তের পরিমাণ খুব বেশি নয়। এরপর ধমনীর স্তরসমূহ; তবে তা তার স্নায়বিক উপাদানের কারণে নয়, বরং তার ভেতর প্রবহমান রক্ত ও রূহের উষ্ণতা গ্রহণের কারণে। এরপর শিরার স্তরসমূহ, কেবল রক্তের উপস্থিতির কারণে। সবশেষে হাতের তালুর চামড়া, যা অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। শরীরের সর্বাধিক শীতল বস্তু হলো বলগম (শ্লেষ্মা), এরপর মেদ, তারপর চুল, তারপর হাড়, তারপর তরুনাস্থি, তারপর লিগামেন্ট...। শরীরের সর্বাধিক আর্দ্র বস্তু হলো বলগম, এরপর রক্ত, এরপর চর্বি, এরপর মেদ, এরপর মস্তিষ্ক, এরপর মেরুমজ্জা, তারপর স্তন ও অণ্ডকোষের মাংস, তারপর ফুসফুস, তারপর যকৃৎ, তারপর প্লিহা, তারপর বৃক্কদ্বয়, তারপর পেশি এবং সবশেষে চামড়া। এটি গ্যালেন (জালিনুস) কর্তৃক নির্ধারিত বিন্যাস। তবে আপনাকে জানতে হবে যে, ফুসফুস তার মূল উপাদানে...
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وغريزتها لَيست برطبة شَدِيدَة الرُّطُوبَة لِأَن كل عُضْو شَبيه فِي مزاجه الغريزي بِمَا يتغذى بِهِ وشبيه فِي مزاجه الْعَارِض بِمَا يفضل فِيهِ. ثمَّ الرئة تغتذي من أسخن الدَّم وَأَكْثَره مُخَالطَة للصفراء. فَعلمنَا هَذَا جالينوس بِعَيْنِه وَلكنهَا قد يجْتَمع فِيهَا فضل كثير من الرُّطُوبَة عَمَّا يتَصَعَّد من بخارات الْبدن وَمَا ينحدر إِلَيْهَا من النزلات. وَإِذا كَانَ الْأَمر على هَذَا فَالْكَبِد أرطب من الرئة كثيرا فِي الرُّطُوبَة الغريزية. والرئة أَشد ابتلالاً وَإِن كَانَ دوَام الابتلال قد يَجْعَلهَا أرطب فِي جوهرها أَيْضا. وَهَكَذَا يجب أَن تفهم من حَال البلغم وَالدَّم من جِهَة وَهُوَ أَن ترطيب البلغم فِي أَكثر الْأَمر هُوَ على سَبِيل البل وترطيب الدَّم هُوَ على سَبِيل التَّقْرِير فِي الْجَوْهَر. على أَن البلغم الطبيعي المائي قد يكون فِي نَفسه أَشد رُطُوبَة. فَإِن الدَّم بِمَا يَسْتَوْفِي حَظه من النضج يتَحَلَّل مِنْهُ شَيْء كثير من الرُّطُوبَة الَّتِي كَانَت فِي البلغم المائي الطبيعي الَّذِي اسْتَحَالَ إِلَيْهِ. فستعلم بعد أَن البلغم الطبيعي دم اسْتَحَالَ بعض الاستحالة. وَأما أيبس مَا فِي الْبدن فالشّعر لِأَنَّهُ من بخار دخاني تحلل مَا كَانَ فِيهِ من خلط البخار وانعقدت الدخانية الصرفة ثمَّ الْعظم لِأَنَّهُ أَصْلَب الْأَعْضَاء لكنه أَصْلَب من الشّعْر لِأَن كَون الْعظم من الدَّم وَوَضعه وضع نَشَاف للرطوبات الغريزية مُتَمَكن مِنْهَا. وَلذَلِك مَا كَانَ الْعظم يغذو كثيرا من الْحَيَوَانَات وَالشعر لَا يغذو شَيْئا مِنْهَا أَو عَسى أَن يغذو نَادرا من جُمْلَتهَا كَمَا قد ظن من أَن الخفافيش تهضمه وتسيغه. لَكنا إِذا أَخذنَا قدرين متساويين من الْعظم وَالشعر فِي الْوَزْن فقطرناهما فِي القرع والإنبيق سَالَ من الْعظم مَاء ودهن كثر وَبَقِي لَهُ ثقل أقل. فالعظم إِذا أرطب من الشّعْر. وَبعد الْعظم فِي اليبوسة الغضروف ثمَّ الرِّبَاط ثمَّ الْوتر ثمَّ الغشاء ثمَّ الشرايين ثمَّ الأوردة ثمَّ عصب الْحَرَكَة ثمَّ الْقلب ثمَّ عصب الحسّ. فَإِن عصب الْحَرَكَة أبرد وأيبس مَعًا كثيرا من المعتدل. وَعصب الْحس أبرد وليسَ أيبس كثيرا من المعتدل بل عَسى أَن يكون قَرِيبا مِنْهُ وَلَيْسَ أَيْضا كثير الْبعد مِنْهُ فِي الْبرد ثمَّ الْجلد. الْفَصْل الثَّالِث أمزجة الْأَسْنَان والأجناس الْأَسْنَان أَرْبَعَة فِي الْجُمْلَة: سنّ النمو ويسمّى سنّ الحداثة وَهُوَ إِلَى قريب من ثَلَاثِينَ سنة ثمَّ سنّ الْوُقُوف: وَهُوَ سنّ الشَّبَاب وَهُوَ إِلَى نَحْو خمس وَثَلَاثِينَ سنة أَو أَرْبَعِينَ سنة وَسن الانحطاط مَعَ بَقَاء من الْقُوَّة: وَهُوَ سنّ المكتهلين وَهُوَ إِلَى نَحْو سِتِّينَ سنة وَسن الانحطاط مَعَ ظُهُور الضعْف فِي الْقُوَّة: وَهُوَ سنّ الشُّيُوخ إِلَى آخر الْعُمر. لَكِن سنّ الحداثة يَنْقَسِم إِلَى: سنّ الطفولة: وَهُوَ أَن يكون الْمَوْلُود بعد غير مستعد

ফুসফুসের স্বাভাবিক প্রকৃতি অত্যধিক আর্দ্র নয়; কারণ প্রতিটি অঙ্গ তার প্রকৃতিগত মেজাজে সেই বস্তুর সদৃশ হয় যা দ্বারা সে পুষ্টি লাভ করে এবং তার বাহ্যিক মেজাজে সেই বস্তুর সদৃশ হয় যা তাতে উদ্বৃত্ত থাকে। ফুসফুস উষ্ণতম এবং পিত্তমিশ্রিত রক্ত থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে। স্বয়ং জালিনুস আমাদের এটি শিখিয়েছেন। তবে দেহের বাষ্পসমূহ উপরে আরোহণের ফলে এবং মস্তিষ্ক থেকে নেমে আসা সর্দিজনিত নিঃসরণের (নজলা) কারণে ফুসফুসে অনেক উদ্বৃত্ত আর্দ্রতা জমা হতে পারে। বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে স্বাভাবিক আর্দ্রতার ক্ষেত্রে যকৃৎ ফুসফুসের চেয়ে অনেক বেশি আর্দ্র। অবশ্য ফুসফুস বাহ্যিকভাবে অধিক সিক্ত থাকে, যদিও এই নিরন্তর সিক্ততা এর মূল সত্তাকেও আর্দ্র করে তুলতে পারে। একইভাবে শ্লেষ্মা (বালগাম) এবং রক্তের অবস্থাও বুঝতে হবে; শ্লেষ্মার আর্দ্রতা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাহ্যিক সিক্ততার মতো, আর রক্তের আর্দ্রতা এর মূল সত্তায় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। তবে স্বাভাবিক জলীয় শ্লেষ্মা নিজস্বভাবে অধিকতর আর্দ্র হতে পারে। কেননা রক্ত যখন তার পরিপক্বতা পূর্ণ করে, তখন স্বাভাবিক জলীয় শ্লেষ্মা থেকে রূপান্তরিত হওয়ার সময় তাতে থাকা প্রচুর আর্দ্রতা বিশ্লিষ্ট হয়ে যায়। আপনি অচিরেই জানতে পারবেন যে, স্বাভাবিক শ্লেষ্মা হলো এমন রক্ত যা আংশিক পরিবর্তিত হয়েছে। আর শরীরের সবচেয়ে শুষ্ক অংশ হলো চুল; কারণ এটি ধোঁয়াটে বাষ্প থেকে সৃষ্টি হয় যার জলীয় বাষ্পীয় অংশ বিশ্লিষ্ট হয়ে গেছে এবং নিছক ধোঁয়াটে অংশটি ঘনীভূত হয়েছে। এরপর হলো হাড়; কারণ এটি শরীরের কঠিনতম অঙ্গ। তবে হাড় চুলের চেয়েও কঠিন, কারণ হাড় রক্ত থেকে উৎপন্ন এবং এর গঠনগত অবস্থান এমন যে এটি স্বাভাবিক আর্দ্রতাকে শুষে নিতে সক্ষম। এই কারণেই হাড় অনেক প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু চুল কোনো প্রাণীর খাদ্য হয় না; অথবা হয়তো কদাচিৎ কোনো প্রাণী এটি গ্রহণ করে, যেমন ধারণা করা হয় যে বাদুড় এটি হজম ও আত্তীকরণ করতে পারে। কিন্তু আমরা যদি সমান ওজনের হাড় ও চুল নিয়ে পাতন যন্ত্রে (ভকযন্ত্র) পাতন করি, তবে দেখা যাবে হাড় থেকে প্রচুর পানি ও তেল নিঃসৃত হয়েছে এবং এর অবশিষ্ট অংশ অত্যন্ত কম। সুতরাং হাড় চুলের চেয়ে বেশি আর্দ্র। শুষ্কতার ক্রমানুসারে হাড়ের পর তরুণাস্থি, তারপর লিগামেন্ট, তারপর টেন্ডন, তারপর ঝিল্লি, তারপর ধমনী, তারপর শিরা, তারপর চালক স্নায়ু, তারপর হৃৎপিণ্ড এবং সবশেষে সংজ্ঞাবহ স্নায়ু। চালক স্নায়ু স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অনেক বেশি শীতল ও শুষ্ক। আর সংজ্ঞাবহ স্নায়ু শীতল হলেও স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে খুব বেশি শুষ্ক নয়, বরং সম্ভবত তার কাছাকাছি এবং শীতলতার দিক থেকেও খুব বেশি দূরে নয়। এরপর হলো ত্বক।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বয়সের মেজাজ ও শ্রেণিবিভাগ।

সামগ্রিকভাবে বয়সকে চার ভাগে ভাগ করা হয়: বর্ধনকাল, যাকে তারুণ্য বলা হয় এবং এটি ত্রিশ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর স্থিরকাল: যা পূর্ণ যৌবনকাল এবং এটি পঁয়ত্রিশ বা চল্লিশ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর শক্তির সামর্থ্য বিদ্যমান থাকাবস্থায় অবনতিকাল: যা প্রৌঢ়ত্ব এবং এটি প্রায় ষাট বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর শক্তির প্রকাশ্য দুর্বলতাসহ অবনতিকাল: যা বার্ধক্য এবং এটি জীবনের শেষ পর্যন্ত। তবে তারুণ্য বা বর্ধনকাল পুনরায় বিভক্ত হয়: নবজাতক অবস্থা, যখন শিশুটি এখনও দাঁড়াতে সক্ষম নয়...

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٢٥)
الْأَعْضَاء للحركات والنهوض وَإِلَى سنّ الصِّبَا: وَهُوَ بعد النهوض وَقبل الشدَّة وَهُوَ أَن لَا تكون الْأَسْنَان استوفت السُّقُوط والنبات ثمَّ سنّ الترعرع: وَهُوَ بعد الشدَّة ونبات الْأَسْنَان قبل المراهقة ثمَّ سنّ الغلامية والرهاق إِلَى أَن يبقل وَجهه. ثمَّ سنّ الْفَتى: إِلَى أَن يقفل النمو. وَالصبيان أَعنِي من الطفولة إِلَى الحداثة مزاجهم فِي الْحَرَارَة كالمعتدل وَفِي الرُّطُوبَة كالزائد ثمَّ بَين الْأَطِبَّاء الأقدمين اخْتِلَاف فِي حرارتي الصَّبِي والشاب فبعضهم يرى أَن حرارة الصَّبِي أَشد وَلذَلِك يَنْمُو أَكثر وَتَكون أَفعاله الطبيعية من الشَّهْوَة والهضم كَذَلِك كثر وأدوم لِأَن الْحَرَارَة الغريزية المستفادة فيهم من الْمَنِيّ أجمع وأحدث. وَبَعْضهمْ يرى أَن الْحَرَارَة الغريزية فِي الشبَّان أقوى بِكَثِير لِأَن دمهم أَكثر وأمتن وَلذَلِك يصيبهم الرُعاف أَكثر وَأَشد وَلِأَن مزاجهم إِلَى الصَّفْرَاء أميل ومزاج الصّبيان إِلَى البلغم أميل ولانهم أقوى حركات وَالْحَرَكَة بالحرارة وهم أقوى استمراء وهضماً وَذَلِكَ بالحرارة. وَأما الشَّهْوَة فَلَيْسَتْ تكون بالحرارة بل بالبرودة وَلِهَذَا مَا تحدث الشَّهْوَة الْكَلْبِيَّة فِي أَكثر الْأَمر من الْبُرُودَة وَالدَّلِيل على أَن هَؤُلَاءِ أَشد استمراء أَنه لَا يصيبهم من التهوع والقيء والتخمة مَا يعرض للصبيان لسوء الهضم. وَالدَّلِيل على أَن مزاجهم أميل إِلَى الصَّفْرَاء هُوَ أَن أمراضهم حارة كلهَا كَحمى الغب وقيئهم صفراوي. وَأما أَكثر أمراض الصّبيان فَإِنَّهَا رطبَة بَارِدَة وحمياتهم بلغمية وَأكْثر مَا يقذفونه بالقيء بلغم. وَأما النمو فِي الصّبيان فَلَيْسَ من قُوَّة حرارتهم وَلَكِن لِكَثْرَة رطوبتهم وَأَيْضًا فَإِن كَثْرَة شهوتهم تدلّ على نُقْصَان حرارتهم. هَذَا مَذْهَب الْفَرِيقَيْنِ واحتجاجهما. وَأما جالينوس فَإِنَّهُ يرد على الطَّائِفَتَيْنِ جَمِيعًا وَذَلِكَ أَنه يرى الْحَرَارَة فيهمَا مُتَسَاوِيَة فِي الأَصْل لَكِن حرارة الصّبيان أَكثر كمية وَأَقل كَيْفيَّة أَي حِدة. وحرارة الشبَّان أقل كمية وَأكْثر كَيْفيَّة أَي حدّة. وَبَيَان هَذَا على مَا يَقُوله فَهُوَ أَن يتَوَهَّم أَن حرارة وَاحِدَة بِعَينهَا فِي الْمِقْدَار أَو جسماً لطيفاً حاراً وَاحِدًا فِي الكيف والكم فَشَا تَارَة فِي جَوْهَر رطب كثير كَالْمَاءِ وَفَشَا أُخْرَى فِي جَوْهَر يَابِس قَلِيل كالحجر وَإِذا كَانَ كَذَلِك فَإنَّا نجد حِينَئِذٍ المَاء الْحَار المائي أَكثر كمية وألين كَيْفيَّة والحار الحجري أقل كمية وأحدّ كَيْفيَّة. وعَلى هَذَا فقس وجود الْحَار فِي الصّبيان والشبان فَإِن الصّبيان إِنَّمَا يتولدون من الْمَنِيّ الْكثير الْحَرَارَة وَتلك الْحَرَارَة لم يعرض لَهَا من الْأَسْبَاب مَا يطفئها. فَإِن الصَّبِي ممعن فِي التزيّد ومتدرّج فِي النمو وَلم يقف بعد فَكيف يتراجع. وَأما الشَّاب فَلم يَقع لَهُ سَبَب يزِيد فِي حرارته الغريزية وَلَا أَيْضا وَقع لَهُ سَبَب يطفئها بل تِلْكَ الْحَرَارَة مستحفظة فِيهِ برطوبة أقل كمية وَكَيْفِيَّة مَعًا إِلَى أَن يَأْخُذ فِي الانحطاط. وَلَيْسَت قلَّة

অঙ্গপ্রত্যঙ্গসমূহ নড়াচড়া ও উঠে দাঁড়ানোর উপযোগী হওয়া থেকে শৈশবকাল পর্যন্ত: এটি উঠে দাঁড়ানোর পরবর্তী এবং শারীরিক শক্তিমত্তা অর্জনের পূর্ববর্তী পর্যায়, আর তা হলো দাঁত পড়া ও নতুন দাঁত গজা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত। অতঃপর কৈশোরের প্রারম্ভ (তরআরু’): এটি শারীরিক শক্তিমত্তা অর্জন এবং দাঁত গজার পরবর্তী পর্যায়, যা বয়ঃসন্ধির পূর্ব পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর বালককাল ও বয়ঃসন্ধির নিকটবর্তী পর্যায়, যতক্ষণ না মুখে দাড়ি-গোঁফ গজায়। এরপর তারুণ্য (ফাতা): যতক্ষণ না শারীরিক বৃদ্ধি সমাপ্ত হয়। শিশু বলতে আমি শৈশব থেকে তারুণ্যের প্রাক্কাল পর্যন্ত যাদের বুঝিয়েছি, তাদের মেজাজ বা শারীরিক প্রকৃতি উত্তাপের ক্ষেত্রে নাতিশীতোষ্ণ এবং আর্দ্রতার ক্ষেত্রে অধিক।

অতঃপর প্রাচীন চিকিৎসকদের মধ্যে শিশু ও যুবকদের উত্তাপ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন যে, শিশুদের উত্তাপ অধিক প্রবল; এ কারণেই তারা অধিক বৃদ্ধি পায় এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যাবলি যেমন ক্ষুধা ও হজম অধিকতর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। কারণ তাদের মধ্যে বীর্য থেকে প্রাপ্ত সহজাত উত্তাপ (হারারাতে গারিজিয়্যাহ) অধিক পুঞ্জীভূত ও সতেজ থাকে। অন্য দল মনে করেন যে, যুবকদের সহজাত উত্তাপ অধিক শক্তিশালী; কারণ তাদের রক্ত পরিমাণে বেশি ও ঘন। এ কারণেই তাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়া (নাকসির) অধিক ও তীব্র হয়। এছাড়া তাদের মেজাজ পিত্তের (সাফরা) দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে, যেখানে শিশুদের মেজাজ কফের (বালগাম) দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। যুবকদের নড়াচড়া অধিক শক্তিশালী, আর নড়াচড়া উত্তাপের মাধ্যমেই ঘটে। তারা খাদ্য পরিপাক ও হজমেও অধিক শক্তিশালী, যা উত্তাপেরই ফল।

তবে খাদ্যের লালসা বা ক্ষুধা কেবল উত্তাপের কারণে হয় না, বরং শীতলতার কারণেও হয়। এ কারণেই 'ক্ষুধা রোগ' (শাহওয়া কালবিয়্যাহ) অধিকাংশ ক্ষেত্রে শীতলতা থেকে জন্ম নেয়। যুবকদের পরিপাক শক্তি যে অধিক তার প্রমাণ হলো, শিশুদের মতো তাদের বমি বমি ভাব, বমি ও বদহজম জনিত অস্বস্তি হয় না। তাদের মেজাজ যে পিত্তপ্রধান, তার প্রমাণ হলো তাদের রোগসমূহ সাধারণত উত্তাপজনিত, যেমন একদিন অন্তর আসা পিত্তজ্বর (হুম্মা আল-গিব) এবং তাদের বমি পিত্তযুক্ত হয়। অন্যদিকে শিশুদের অধিকাংশ রোগ আর্দ্র ও শীতল প্রকৃতির এবং তাদের জ্বরগুলো কফজনিত; তাদের বমির সাথে অধিকাংশ সময় কফ নির্গত হয়। শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি তাদের উত্তাপের শক্তির কারণে নয়, বরং তাদের আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে ঘটে। আবার তাদের অধিক ক্ষুধা তাদের উত্তাপের স্বল্পতাকেই নির্দেশ করে। এটি হলো উভয় পক্ষের অভিমত ও যুক্তি।

পক্ষান্তরে গ্যালেন (জালিনুস) উভয় পক্ষকেই খণ্ডন করেছেন। তিনি মনে করেন, উভয় ক্ষেত্রে মূল উত্তাপ সমান, তবে শিশুদের উত্তাপ পরিমাণে (কাম্মিয়্যাত) অধিক কিন্তু তীব্রতায় (কাইফিয়্যাত) কম। আর যুবকদের উত্তাপ পরিমাণে কম কিন্তু তীব্রতায় বা প্রখরতায় অধিক। তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা হলো—ধরা যাক, একই পরিমাণ এবং একই গুণসম্পন্ন কোনো উত্তাপ বা কোনো সূক্ষ্ম উত্তপ্ত বস্তু একবার কোনো আর্দ্র ও অধিক পদার্থের মধ্যে (যেমন পানি) ছড়িয়ে দেওয়া হলো, আর অন্যবার কোনো শুষ্ক ও স্বল্প পদার্থের মধ্যে (যেমন পাথর) ছড়িয়ে দেওয়া হলো। এমতাবস্থায় দেখা যাবে যে, জলীয় উত্তাপটি পরিমাণে অধিক কিন্তু প্রকৃতিতে মৃদু, আর পাথুরে উত্তাপটি পরিমাণে কম কিন্তু প্রকৃতিতে অত্যন্ত তীব্র।

শিশুদের ও যুবকদের উত্তাপকেও এর সাথে তুলনা করুন। শিশুরা অত্যন্ত উষ্ণ বীর্য থেকে জন্মলাভ করে এবং সেই উত্তাপ নিভে যাওয়ার মতো কোনো কারণ তখনো ঘটেনি। শিশু ক্রমাগত বৃদ্ধি ও বিকাশের পর্যায়ে থাকে এবং তার বৃদ্ধি এখনো থেমে যায়নি, তাই উত্তাপ কমে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যুবকের ক্ষেত্রেও তার সহজাত উত্তাপ বৃদ্ধি করার কোনো নতুন কারণ ঘটেনি, আবার তা নিভে যাওয়ার কারণও সৃষ্টি হয়নি; বরং সেই উত্তাপ স্বল্প পরিমাণ আর্দ্রতার মাধ্যমে তার মধ্যে সংরক্ষিত থাকে, যতক্ষণ না তার অবনতি বা বার্ধক্যের সূচনা হয়। আর স্বল্পতা...

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٢٦)
هَذِه الرُّطُوبَة تعد قلَّة بِالْقِيَاسِ إِلَى استحفاظ الْحَرَارَة وَلَكِن بِالْقِيَاسِ إِلَى النمو فَكَأَن الرُّطُوبَة تكون أَولا بِقدر يَفِي بِهِ كلا الْأَمريْنِ فَيكون بِقدر مَا نَحْفَظ الْحَرَارَة وتفضل أَيْضا النمو ثمَّ تصير بآخرة بِقدر لَا يَفِي بِهِ كلا الْأَمريْنِ ثمَّ تصير بِقدر لَا يَفِي وَلَا بِأحد الْأَمريْنِ فَيجب أَن يكون فِي الْوسط بِحَيْثُ يَفِي بِأحد الْأَمريْنِ دون الآخر. ومحال أَن يُقَال أَنَّهَا تفي بالتنمية وَلَا تفي بِحِفْظ الْحَرَارَة الغريزية فَإِنَّهُ كَيفَ يزِيد على الشَّيْء مَا لَيْسَ يُمكنهُ أَن يحفظ الأَصْل فَبَقيَ أَن يكون إِنَّمَا يَفِي بِحِفْظ الْحَرَارَة الغريزية وَلَا يَفِي بالنمو. وَمَعْلُوم أَن هَذَا السن هُوَ سنّ الشَّبَاب. وَأما قَول الْفَرِيق الثَّانِي: أَن النمو فِي الصّبيان إِنَّمَا هُوَ بِسَبَب الرُّطُوبَة دون الْحَرَارَة فَقَوْل بَاطِل. وَذَلِكَ لِأَن الرُّطُوبَة مَادَّة للنمو والمادة لَا تنفعل وَلَا تتخلق بِنَفسِهَا بل عِنْد فعل الْقُوَّة الفاعلة فِيهَا وَالْقُوَّة الفاعلة هَهُنَا هِيَ نفس أَو طبيعة بِإِذن الله عز وجل وَلَا تفعل إلَاّ بِآلَة هِيَ الْحَرَارَة الغريزية. وَقَوْلهمْ أَيْضا: إِن قُوَّة الشَّهْوَة فِي الصّبيان إِنَّمَا هِيَ لبرد المزاج قَول بَاطِل. فَإِن تِلْكَ الشَّهْوَة الْفَاسِدَة الَّتِي تكون لبرد المزاج لَا يكون مَعهَا استمراء واغتذاء. والاستمراء فِي الصّبيان فِي أَكثر الْأَوْقَات على أحسن مَا يكون وَلَوْلَا ذَلِك لما كَانُوا يوردون من الْبَدَل الَّذِي هُوَ الْغذَاء أَكثر مِمَّا يتَحَلَّل حَتَّى يَنْمُو وَلَكنهُمْ قد يعرض لَهُم سوء استمرائهم لشرههم وَسُوء تربيتهم لمطعومهم وتناولهم الْأَشْيَاء الرَّديئَة والرطبة والكثيرة وحركاتهم الْفَاسِدَة عَلَيْهَا فَلهَذَا تَجْتَمِع فيهم فضول أَكثر ويحتاجون إِلَى تنقية أَكثر وخصوصاً رئاتهم وَلذَلِك نبضهم أَشد تواتراً وَسُرْعَة وَلَيْسَ لَهُ عظم لِأَن قوتهم لم تتمّ. فَهَذَا هُوَ القَوْل فِي مزاج الصَّبِي والشاب على حسب مَا تكفل جالينوس ببيانه وعبرنا عَنهُ. ثمِّ يجب أَن تعلم أَن الْحَرَارَة بعد مُدَّة سنّ الْوُقُوف تَأْخُذ فِي الإنتقاص لانتشاف الْهَوَاء الْمُحِيط مادتها الَّتِي هِيَ الرُّطُوبَة ومعاونة الْحَرَارَة الغريزية الَّتِي هِيَ أَيْضا من دَاخل ومعاضدة الحركات الْبَدَنِيَّة والنفسانية الضرورية فِي الْمَعيشَة لَهَا وَعجز الطبيعة عَن مقاومة ذَلِك دَائِما فإنّ جَمِيع القوى الجسمانيّة متناهية. فقد تبين ذَلِك فِي الْعلم الطبيعي فَلَا يكون فعلهَا فِي الْإِيرَاد دَائِما. فَلَو كَانَت هَذِه القوى أَيْضا غير متناهية وَكَانَت دائمة الْإِيرَاد ليدلّ مَا يتحلّل على السوَاء بِمِقْدَار وَاحِد وَلَكِن كَانَ التَّحَلُّل لَيْسَ بِمِقْدَار وَاحِد بل يزْدَاد دَائِما كل يَوْم لما كَانَ الْبَدَل يُقَاوم التحلّل وَلَكِن التَّحَلُّل يفني الرُّطُوبَة فَكيف وَالْأَمر أَن كِلَاهُمَا متظاهران أَن على تهيئة النُّقْصَان والتراجع وَإِذ كَانَ كَذَلِك فَوَاجِب ضَرُورَة أَن يفنى الْمَادَّة بل يطفىء الْحَرَارَة وخصوصاَّ إِذا كَانَ يعين انطفاءها بِسَبَب عون الْمَادَّة سَبَب آخر وَهُوَ الرُّطُوبَة الغريبة الَّتِي تحدث دَائِما لعدم بدل الْغذَاء الهضم فيعين على انطفائها من وَجْهَيْن أَحدهمَا بالخنق والغمر وَالْآخر بمضادة الْكَيْفِيَّة لِأَن تِلْكَ الرُّطُوبَة تكون بلغمية بَارِدَة وَهَذَا هُوَ الْمَوْت الطبيعي الْمُؤَجل لكل شخص بِحَسب مزاجه

এই আর্দ্রতা তাপ সংরক্ষণের তুলনায় স্বল্প বিবেচিত হলেও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত। তবে প্রারম্ভিক অবস্থায় আর্দ্রতা এমন পরিমাণে থাকে যা উভয় বিষয়ের (তাপ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি) জন্যই যথেষ্ট হয়; অর্থাৎ তা তাপকে সুরক্ষিত রাখে এবং বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত অংশও অবশিষ্ট থাকে। পরবর্তীতে তা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যখন উভয় বিষয়ের জন্য পর্যাপ্ত থাকে না। এরপর এমন এক অবস্থায় উপনীত হয় যখন তা কোনো একটির জন্যই যথেষ্ট হয় না। অতএব, মধ্যবর্তী পর্যায়ে এমনটি হওয়া আবশ্যক যাতে তা উভয় বিষয়ের মধ্যে কেবল একটির জন্য পর্যাপ্ত হয়। আর এটা বলা অসম্ভব যে, তা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত কিন্তু সহজাত তাপ রক্ষায় অপর্যাপ্ত। কেননা, মূলকে (অস্তিত্বকে) রক্ষা করতে অক্ষম এমন কোনো বস্তুর পক্ষে কীভাবে বাড়তি কিছু যুক্ত করা সম্ভব? সুতরাং কেবল এটিই অবশিষ্ট থাকে যে, তা সহজাত তাপ রক্ষায় সক্ষম হলেও বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত নয়। আর এটি সুবিদিত যে, জীবনের এই পর্যায়টি হলো যৌবনকাল।

আর দ্বিতীয় পক্ষের অভিমত—শিশুদের বৃদ্ধি কেবল আর্দ্রতার কারণে, তাপের কারণে নয়—তা সম্পূর্ণ অসার। এর কারণ হলো, আর্দ্রতা হলো বৃদ্ধির উপাদান মাত্র, আর উপাদান নিজে নিজে কোনো ক্রিয়া বা সৃজন করতে পারে না। বরং তা সক্রিয় শক্তির ক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। আর এই সক্রিয় শক্তি হলো আল্লাহ তাআলার নির্দেশে আত্মা বা প্রকৃতি (তবিয়ত), যা কেবল সহজাত তাপ নামক যন্ত্রের সাহায্যেই কাজ করে। তাদের এই দাবিও ভ্রান্ত যে, শিশুদের অত্যধিক ক্ষুধা তাদের মেজাজের শীতলতার কারণে। কারণ শীতল মেজাজজনিত সেই দূষিত ক্ষুধার সাথে হজম প্রক্রিয়া ও পুষ্টিসাধন কার্যকর থাকে না। অথচ শিশুদের পরিপাক প্রক্রিয়া অধিকাংশ সময় অত্যন্ত চমৎকারভাবে সম্পন্ন হয়। যদি এমনটি না হতো, তবে তারা গৃহীত খাদ্য থেকে সেই পরিমাণ ক্ষয়পূরণ উপাদান লাভ করতে পারত না যা রূপান্তর প্রক্রিয়ায় বৃদ্ধির সহায়ক হয়। তবে অতিভোজ, খাদ্যের অযত্ন, ক্ষতিকর ও অধিক আর্দ্র খাবার গ্রহণ এবং খাওয়ার পরপরই বিশৃঙ্খল নড়াচড়ার কারণে অনেক সময় তাদের হজমে বিভ্রাট ঘটে। এই কারণেই তাদের মধ্যে বর্জ্য বা দূষিত পদার্থ বেশি জমা হয় এবং বিশেষ করে তাদের ফুসফুসের অধিক পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন পড়ে। একারণেই তাদের নাড়ির গতি অত্যন্ত দ্রুত ও ঘন ঘন হয়, কিন্তু নাড়ি খুব একটা স্ফীত হয় না, কারণ তাদের শক্তি তখনো পূর্ণতা লাভ করেনি। বালক ও যুবকের মেজাজ সম্পর্কে গ্যালেন যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং আমরা যা ব্যক্ত করলাম, তা-ই হলো এ বিষয়ে মূল কথা।

অতঃপর জেনে রাখা আবশ্যক যে, স্থিতি-কালের (পূর্ণতা প্রাপ্তির সময়) পর তাপ হ্রাস পেতে শুরু করে। এর কারণ হলো চারপাশের বাতাসের প্রভাবে আর্দ্রতা শুকিয়ে যাওয়া, দেহের অভ্যন্তরীণ সহজাত তাপের প্রভাব এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের আধিক্য। আর প্রকৃতির পক্ষে সর্বদা এর প্রতিরোধ করা অসম্ভব, কেননা সমস্ত শারীরিক শক্তি সসীম। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে (পদার্থবিদ্যায়) এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, দৈহিক শক্তির ক্রিয়া চিরস্থায়ীভাবে চলতে পারে না। যদি এই শক্তিগুলো অসীম হতো এবং ধারাবাহিকভাবে ক্ষয়পূরণ প্রদান করত, তবে যা ক্ষয় হচ্ছে তা সর্বদা নির্দিষ্ট পরিমাণে অপরিবর্তিত থাকত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষয় সর্বদা সমান হারে হয় না, বরং দিন দিন তা বাড়তে থাকে। ফলে প্রতিস্থাপন বা ক্ষয়পূরণ প্রক্রিয়া এই ক্রমিক ক্ষয়ের সাথে পাল্লা দিতে পারে না। উপরন্তু, এই ক্ষয় আর্দ্রতাকে নিঃশেষ করে দেয়। আর যখন এই উভয় বিষয় (আর্দ্রতার ক্ষয় ও প্রতিস্থাপনের অক্ষমতা) ঘাটতি ও অবনতির দিকে ধাবিত হয়, তখন তা অনিবার্যভাবে উপাদানের বিনাশ ঘটায় এবং তাপকে নির্বাপিত করে। বিশেষ করে যখন পরিপাকক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়ার ফলে সৃষ্ট বাহ্যিক আর্দ্রতা এই নির্বাপণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এই বাহ্যিক আর্দ্রতা দুইভাবে তাপ নির্বাপণে সহায়তা করে: প্রথমত, শ্বাসরোধ বা নিমজ্জিত করার মাধ্যমে; দ্বিতীয়ত, বিপরীত গুণের মাধ্যমে—যেহেতু সেই আর্দ্রতা হয় শীতল শ্লেষ্মা জাতীয়। আর এটিই হলো প্রতিটি ব্যক্তির মেজাজ অনুযায়ী নির্ধারিত স্বাভাবিক মৃত্যু।

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وَلكُل مِنْهُم أجل مُسَمّى وَلكُل أجل كتاب وَهُوَ مُخْتَلف فِي الْأَشْخَاص لاخْتِلَاف الأمزجة فَهَذِهِ هِيَ الْآجَال الطبيعية وَهَهُنَا آجال اخترامية غَيرهَا وَهِي أُخْرَى وكل بِقدر فَالْحَاصِل إِذا من هَذَا أَن أبدان الصّبيان والشبان حارة باعتدال وأبدان الكهول والمشايخ بَارِدَة. وَلَكِن أبدان الصّبيان أرطب من المعتدل لأجل النمو وَيدل عَلَيْهِ التجربة وَهِي من لين عظامهم وأعصابهم. وَالْقِيَاس وَهُوَ من قرب عَهدهم بالمني وَالروح البُخَارِيّ. وَأما الكهول والمشايخ خُصُوصا فَإِنَّهُم مَعَ أَنهم أبرد فهم أيبس يعلم ذَلِك بالتجرية من صلابة عظامهم ونشف جُلُودهمْ وبالقياس من بعد عَهدهم بالمني وَالدَّم وَالروح البُخَارِيّ. ثمَّ النارية مُتَسَاوِيَة فِي الصّبيان والشبان والهوائية والمائية فِي الصّبيان أَكثر والأرضية فِي الكهول والمشايخ أَكثر مِنْهَا فيهمَا وَهِي فِي مَشَايِخ أَكثر. والشاب معتدل المزاج فَوق اعْتِدَال الصَّبِي لكنه بِالْقِيَاسِ إِلَى الصَّبِي يَابِس المزاج وبالقياس إِلَى الشَّيْخ والكهل حَار المزاج وَالشَّيْخ أيبس من الشَّاب والكهل فِي مزاج أَعْضَائِهِ الْأَصْلِيَّة وأرطب مِنْهُمَا بالرطوبة الغريبة البالَة. وَأما الْأَجْنَاس فِي اخْتِلَاف أمزجتها فَإِن الْإِنَاث أبرد أمزجة من الذُّكُور وَلذَلِك قصرن عَن الذُّكُور فِي الْخلق وأرطب فلبرد مزاجهن تكْثر فضولهن ولقلة رياضتهن جَوْهَر لحومهن أسخف وَإِن كَانَ لحم الرجل من جِهَة تركيبه بِمَا يخالطه أسخف فَإِنَّهُ لكثافته أَشد تبرداً مِمَّا ينفذ فِيهِ من الْعُرُوق وليف العصب. وَأهل الْبِلَاد الشمالية أرطب وَأهل الصِّنَاعَة المائية أرطب. وَالَّذين يخالفونهم فعلى الْخلاف وَأما عَلَامَات الأمزجة فسنذكرها حَيْثُ نذْكر العلامات الْكُلية والجزئية.

তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল রয়েছে এবং প্রতিটি সময়ের জন্য একটি বিধান নির্ধারিত। মেজাজের ভিন্নতার কারণে ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই আয়ুষ্কাল ভিন্ন ভিন্ন হয়। এগুলো হলো প্রাকৃতিক আয়ুষ্কাল; এছাড়া আরও কিছু আকস্মিক মৃত্যু রয়েছে যা প্রকৃতি-বহির্ভূত এবং সবকিছুই তকদীর বা ঐশ্বরিক বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত। সারকথা এই যে, শিশু ও যুবকদের শরীর পরিমিতভাবে উষ্ণ, আর প্রৌঢ় ও বৃদ্ধদের শরীর শীতল। তবে শারীরিক বৃদ্ধির প্রয়োজনে শিশুদের শরীর পরিমিত অবস্থার চেয়ে অধিকতর আর্দ্র। অভিজ্ঞতা এর সাক্ষ্য দেয়, যা তাদের হাড় ও স্নায়ুর কোমলতা থেকে প্রমাণিত হয়। আর যৌক্তিক অনুমান (কিয়াস) হলো বীর্য ও বাষ্পীয় রূহের (রুহ বুখারি) সাথে তাদের সময়ের নৈকট্য। প্রৌঢ় এবং বিশেষ করে বৃদ্ধরা শীতল হওয়ার পাশাপাশি অধিকতর শুষ্কও বটে। হাড়ের কঠোরতা ও চামড়ার শুষ্কতা থেকে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এটি জানা যায় এবং বীর্য, রক্ত ও বাষ্পীয় রূহের উৎস থেকে তাদের সময়ের দূরত্বের কারণে যৌক্তিক অনুমানের ভিত্তিতেও এটি স্পষ্ট। অতঃপর শিশু ও যুবকদের মধ্যে অগ্নিগুণ (তাপ) সমান; শিশুদের মাঝে বায়বীয় ও জলীয় গুণ অধিক এবং প্রৌঢ় ও বৃদ্ধদের মাঝে পার্থিব গুণ তাদের তুলনায় বেশি, আর বৃদ্ধদের মধ্যে তা সর্বাধিক। যুবক পরিমিত মেজাজের অধিকারী, যা শিশুর ভারসাম্যের চেয়েও উন্নত; তবে শিশুর তুলনায় সে শুষ্ক মেজাজের এবং বৃদ্ধ ও প্রৌঢ়দের তুলনায় সে উষ্ণ মেজাজের অধিকারী। বৃদ্ধ ব্যক্তি তার মৌলিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মেজাজের দিক থেকে যুবক ও প্রৌঢ়দের চেয়ে অধিক শুষ্ক, কিন্তু বাহ্যিক ও আগন্তুক আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে সে তাদের চেয়ে বেশি আর্দ্র। লিঙ্গভেদে মেজাজের পার্থক্যের ক্ষেত্রে নারীদের মেজাজ পুরুষদের তুলনায় অধিক শীতল, এ কারণেই তারা শারীরিক অবয়বে পুরুষদের তুলনায় সংকুচিত এবং তারা অধিক আর্দ্র। মেজাজের শীতলতার কারণে তাদের শরীরে বর্জ্য পদার্থ বেশি জমা হয় এবং শারীরিক পরিশ্রমের স্বল্পতার দরুন তাদের মাংসের মূল উপাদান অধিক শিথিল। যদিও পুরুষের মাংস তার গঠনের দিক থেকে বাহ্যিক সংমিশ্রণের কারণে শিথিল হতে পারে, তবুও এর ঘনত্বের কারণে তা শিরা ও স্নায়ুতন্তুর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত উপাদানের জন্য অধিক শীতলকারক। উত্তরাঞ্চলের অধিবাসী এবং পানি সংশ্লিষ্ট পেশার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা অধিকতর আর্দ্র প্রকৃতির হয়। যারা এর বিপরীতে থাকে, তাদের মেজাজও বিপরীত হয়। মেজাজের লক্ষণসমূহ সম্পর্কে আমরা সাধারণ ও বিশেষ লক্ষণাবলির আলোচনায় বিস্তারিত উল্লেখ করব।

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٢٨)
التَّعْلِيم الرَّابِع الأخلاط وَهُوَ فصلان الْفَصْل الأول مَاهِيَّة الْخَلْط وأقسامه الْخَلْط: جسم رطب سيال يَسْتَحِيل إِلَيْهِ الْغذَاء أَولا فَمِنْهُ خلط مَحْمُود وَهُوَ الَّذِي من شَأْنه أَن يصير جزءاَ من جَوْهَر المغتذي وَحده أَو مَعَ غَيره ومتشبهاً بِهِ وَحده أَو مَعَ غَيره. وَبِالْجُمْلَةِ سَادًّا بدل شَيْء مِمَّا يتَحَلَّل مِنْهُ وَمِنْه فضل وخلط رَدِيء وَهُوَ الَّذِي لَيْسَ من شَأْنه ذَلِك أَو يَسْتَحِيل فِي النَّادِر إِلَى الْخَلْط الْمَحْمُود وَيكون حَقه قبل ذَلِك أَن يدْفع عَن الْبدن وينفض. ونقول: إِن رطوبات الْبدن مِنْهَا أولى وَمِنْهَا ثَانِيَة. فَالْأولى: هِيَ الأخلاط الْأَرْبَعَة الَّتِي نذكرها. وَالثَّانيَِة: قِسْمَانِ: إِمَّا فضول وَإِمَّا غير فضول. والفضول سنذكرها. وَالَّتِي لَيست بِفُضُول هِيَ الَّتِي استحالت عَن حَالَة الِابْتِدَاء ونفذت فِي الْأَعْضَاء إِلَّا أَنَّهَا لم تصر جُزْء عُضْو من الْأَعْضَاء المفردة بِالْفِعْلِ التَّام وَهِي أَصْنَاف أَرْبَعَة: أَحدهَا الرُّطُوبَة المحصورة فِي تجاويف أَطْرَاف الْعُرُوق وَالثَّانيَِة: الرُّطُوبَة الَّتِي هِيَ منبثّة فِي الْأَعْضَاء الْأَصْلِيَّة بِمَنْزِلَة الطلّ وَهِي مستعدّة لِأَن تستحيل غذَاء إِذا فقد الْبدن الْغذَاء ولأنْ تَبُل الْأَعْضَاء إِذا جفّفها سَبَب من حَرَكَة عنيفة أَو غَيرهَا. وَالثَّالِثَة: الرُّطُوبَة الْقَرِيبَة الْعَهْد بالانعقاد فَهِيَ غذَاء اسْتَحَالَ إِلَى جَوْهَر الْأَعْضَاء من طَرِيق المزاج والتشبيه وَلم تستحل بعد من طَرِيق القوام التَّام. وَالرَّابِعَة: الرُّطُوبَة المداخلة للأعضاء الْأَصْلِيَّة مُنْذُ ابْتِدَاء النُشُوّ الَّتِي بهَا اتِّصَال أَجْزَائِهَا ومبدؤها من النُّطْفَة ومبدأ النُّطْفَة من الأخلاط. ونقول أَيْضا: إِن الرطوبات الخلطية المحمودة والفضلية تَنْحَصِر فِي أَرْبَعَة أَجنَاس: جنس الدَّم وَهُوَ أفضلهَا وجنس البلغم وجنس الصَّفْرَاء وجنس السَّوْدَاء.
চতুর্থ শিক্ষা: দেহরস, যা দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত। প্রথম পরিচ্ছেদ: দেহরসের স্বরূপ ও এর প্রকারভেদ। দেহরস হলো একটি সজল ও প্রবহমান পদার্থ, খাদ্য প্রাথমিক পর্যায়ে যাতে রূপান্তরিত হয়। এর মধ্যে কিছু হলো উত্তম রস, যা এককভাবে বা অন্য কিছুর সাথে মিলিত হয়ে পুষ্টিগ্রহণকারী দেহের সারসত্তার অংশ হওয়ার যোগ্যতা রাখে এবং এককভাবে বা অন্য কিছুর সাথে মিলিত হয়ে তার সদৃশ হয়ে যায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এটি শরীর থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত উপাদানের স্থলাভিষিক্ত হয়। আবার কিছু হলো বর্জ্য বা মন্দ রস, যার বৈশিষ্ট্য এমন নয় অথবা যা কদাচিৎ উত্তম রসে রূপান্তরিত হয়; বরং এমন রসের ধর্ম হলো একে দেহ থেকে বের করে দেওয়া এবং নিষ্কাশন করা। আমরা বলি: দেহের আর্দ্রতাসমূহ দুই প্রকার: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক। প্রাথমিক আর্দ্রতা হলো সেই চারটি রস যা আমরা উল্লেখ করব। আর মাধ্যমিক আর্দ্রতা দুই প্রকার: হয় বর্জ্য অথবা অবর্জ্য। বর্জ্য সম্পর্কে আমরা পরে আলোচনা করব। আর যা বর্জ্য নয় তা হলো সেই উপাদান যা প্রাথমিক অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রবেশ করেছে, কিন্তু এখনও তা পূর্ণাঙ্গভাবে কোনো একক অঙ্গের অংশে পরিণত হয়নি। এটি চার প্রকার: প্রথমত, সেই আর্দ্রতা যা শিরা-উপশিরার প্রান্তসমূহের শূন্যস্থানে সীমাবদ্ধ থাকে। দ্বিতীয়ত, সেই আর্দ্রতা যা মৌলিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শিশিরবিন্দুর মতো ছড়িয়ে থাকে; এটি মূলত এমন খাদ্য যা শরীর খাদ্যশূন্য হলে খাদ্যে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে এবং কোনো কঠোর পরিশ্রম বা অন্য কোনো কারণে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শুষ্ক হয়ে গেলে তা সিক্ত করার কাজ করে। তৃতীয়ত, নব-ঘনীভূত আর্দ্রতা; এটি মূলত এমন খাদ্য যা মেজাজ ও সাদৃশ্যের মাধ্যমে অঙ্গের সারসত্তায় রূপান্তরিত হয়েছে, কিন্তু এখনও পূর্ণাঙ্গ স্থায়িত্ব প্রাপ্ত হয়নি। চতুর্থত, সেই আর্দ্রতা যা সৃষ্টির শুরু থেকেই মৌলিক অঙ্গসমূহের ভেতরে প্রবিষ্ট থাকে এবং যার মাধ্যমে অঙ্গের অংশসমূহ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে; এর উৎস হলো শুক্রাণু এবং শুক্রাণুর উৎস হলো দেহরসসমূহ। আমরা আরও বলি: প্রশংসিত ও বর্জ্য উভয় প্রকার দেহরসজাত আর্দ্রতা চার শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ: রক্ত—যা এগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ, শ্লেষ্মা, পিত্ত এবং কৃষ্ণপিত্ত।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَالدَّم: حَار الطَّبْع رطبه وَهُوَ صنفان: طبيعي وَغير طبيعي والطبيعي: أَحْمَر اللَّوْن لَا نَتن لَهُ حُلْو جدا. وَغير الطبيعي: قِسْمَانِ فَمِنْهُ مَا قد تغيّر عَن المزاج الصَّالح لَا بِشَيْء خالطه وَلَكِن بِأَن سَاءَ مزاجه فِي نَفسه فبرد مزاجه مثلا أَو سخن وَمِنْه مَا إِنَّمَا تغيّر بِأَن حصل خلط رَدِيء فِيهِ وَذَلِكَ قِسْمَانِ: فَإِنَّهُ إِمَّا أَن يكون الْخَلْط ورد عَلَيْهِ من خَارج فنفذ فِيهِ فأفسده وَإِمَّا أَن يكون الْخَلْط تولّد فِيهِ نَفسه مثلا بِأَن يكون عفن بعضه فاستحال الطَّبَقَة مُرَة صفراء وكثيفه مرَة سَوْدَاء وبقيا أَو أَحدهمَا فِيهِ وَهَذَا الْقسم بقسميه مُخْتَلف بِحَسب مَا يخالطه. وأصنافه من أَصْنَاف البلغم وأصناف السَّوْدَاء وأصناف الصَّفْرَاء والمائية فَيصير تَارَة عكراً وَتارَة رَقِيقا وَتارَة أسود شَدِيد السوَاد وَتارَة أَبيض وَكَذَلِكَ يتَغَيَّر فِي رَائِحَته وَفِي طعمه فَيصير مرا ومالحاً وَإِلَى الحموضة. وَأما البلغم: فَمِنْهُ طبيعي أَيْضا وَمِنْه غير طبيعي. والطبيعي: هُوَ الَّذِي يصلح أَن يصير فِي وَقت مَا دَمًا لِأَنَّهُ دم غير تَامّ النضج وَهُوَ ضرب من البلغم والحلو وَلَيْسَ هُوَ بشديد الْبرد بل هُوَ بِالْقِيَاسِ إِلَى الْبدن قَلِيل الْبرد بِالْقِيَاسِ إِلَى الدَّم والصفراء بَارِد وَقد يكون من البلغم الحلو مَا لَيْسَ بطبيعي وَهُوَ البلغم الَّذِي لَا طعم لَهُ الَّذِي سَنذكرُهُ إِذا اتّفق أَن خالطه دم طبيعي. وَكَثِيرًا مَا يحس بِهِ فِي النَّوَازِل وَفِي النفث وَأما الحلو الطبيعي فَإِن جالينوس زعم أَن الطبيعة إِنَّمَا لم تعد لَهُ عضوا كالمفرغة مَخْصُوصًا مثل مَا للمرتين لِأَن هَذَا البلغم قريب الشّبَه من الدَّم وتحتاج إِلَيْهِ الْأَعْضَاء كلهَا فَلذَلِك أجري مجْرى الدَّم وَنحن نقُول: إِن تِلْكَ الْحَاجة هِيَ لأمرين: أَحدهمَا ضَرُورَة وَالْآخر مَنْفَعَة أما الضَّرُورَة فلسببين: أَحدهمَا: ليَكُون قَرِيبا من الْأَعْضَاء فَمَتَى فقدت الْأَعْضَاء الْغذَاء الْوَارِد إِلَيْهَا صَار دَمًا صَالحا لاحتباس مدده من الْمعدة والكبد ولأسباب عارضة أَقبلت عَلَيْهِ قواها بحرارته الغريزية فأنضجته وهضمته وتغذت بِهِ وكما أَن الْحَرَارَة الغريزية تنضجه وتهضمه وتصلحه دَمًا فَكَذَلِك الْحَرَارَة الغريبة قد تعفنه وتفسده. وَهَذَا الْقسم من الضَّرُورَة لَيْسَ للمرَتين فَإِن المرَتين لَا تشاركان البلغم فِي أَن الْحَار الغريزي يصلحه دَمًا وَإِن شاركناه فِي أَن الْحَار العرضي يحيله عفناً فَاسِدا. وَالثَّانِي: ليخالط الدَّم فيهيئه لتغذية الْأَعْضَاء البلغمية المزاج الَّتِي يجب أَن يكون فِي دَمهَا الغاذيها بلغم بِالْفِعْلِ على قسط مَعْلُوم مثل الدِّمَاغ وَهَذَا مَوْجُود للمرّتين وَأما الْمَنْفَعَة فَهِيَ أَن تبلّ المفاصل والأعضاء الْكَثِيرَة الْحَرَكَة فَلَا يعرض لَهَا جفاف بِسَبَب حَرَكَة الْعُضْو وبسبب الاحتكاك وَهَذِه مَنْفَعَة وَاقعَة فِي تخوم الضَّرُورَة. وَأما البلغم الْغَيْر الطبيعي فَمِنْهُ فضلي مُخْتَلف القوام حَتَّى عِنْد الْحس وَهُوَ المخاطي وَمِنْه مستوي القوام فِي الْحس مُخْتَلفَة فِي الْحَقِيقَة وَهُوَ الخام وَمِنْه الرَّقِيق جد اوهو المائي مِنْهُ وَمِنْه الغليظ جدا وَهُوَ الْأَبْيَض الْمُسَمّى بالجصي وَهُوَ الَّذِي قد تحلل لطبقة لِكَثْرَة احتباسه فِي المفاصل والمنافذ وَهُوَ أغْلظ الْجَمِيع وَمن البلغم صنف

রক্ত: এটি উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির। এটি দুই প্রকার: প্রাকৃত ও অপ্রাকৃত। প্রাকৃত রক্ত হলো যা লাল বর্ণের, দুর্গন্ধহীন এবং অত্যন্ত সুস্বাদু বা মিষ্টি। আর অপ্রাকৃত রক্ত দুই ভাগে বিভক্ত: এক প্রকার হলো যার মেজাজ বা স্বাভাবিক প্রকৃতি কোনো বাহ্যিক উপাদানের মিশ্রণ ছাড়াই বিকৃত হয়ে গেছে, অর্থাৎ তার নিজস্ব প্রকৃতিই কোনো কারণে খারাপ হয়ে গেছে—যেমন তা শীতল হয়ে পড়েছে অথবা অত্যন্ত উষ্ণ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় প্রকার হলো যার মধ্যে মন্দ কোনো রসে মিশ্রণের ফলে বিকৃতি ঘটেছে। এটিও আবার দুই প্রকার: হয় সেই মন্দ রস বাইরে থেকে প্রবেশ করে রক্তে মিশে তাকে কলুষিত করেছে, অথবা সেই মন্দ রস রক্তের ভেতরেই উৎপন্ন হয়েছে। যেমন—রক্তের কিছু অংশ পচে গিয়ে তা কখনো পিত্তে (সাফরা) আবার কখনো কৃষ্ণপিত্তে (সওদা) রূপান্তরিত হয়েছে এবং ওই বিকৃত রস বা তার কোনো একটি অংশ রক্তের মধ্যে রয়ে গেছে। এই বিভাগটি রক্তের সাথে মিশ্রিত উপাদানের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন রকম হতে পারে। এর প্রকারভেদগুলো শ্লেষ্মা (বলগম), কৃষ্ণপিত্ত (সওদা), পিত্ত (সাফরা) এবং জলীয় রসের প্রকারভেদের অনুরূপ। ফলে রক্ত কখনো ঘোলাটে হয়, কখনো পাতলা হয়, কখনো তীব্র কালো বর্ণ ধারণ করে, আবার কখনো সাদা হয়। একইভাবে এর গন্ধ ও স্বাদেও পরিবর্তন আসে, ফলে তা তিক্ত, নোনতা বা অম্লীয় (টক) হয়ে যায়।

শ্লেষ্মা (বলগম): এটিও প্রাকৃত ও অপ্রাকৃত—এই দুই প্রকার। প্রাকৃত শ্লেষ্মা হলো যা কোনো এক সময় রক্তে পরিণত হওয়ার উপযোগিতা রাখে, কারণ এটি মূলত অপরিপক্ক রক্ত। এটি শ্লেষ্মার একটি মিষ্টি প্রকার; এটি অত্যন্ত শীতল নয়, বরং শরীরের তুলনায় সামান্য শীতল এবং রক্ত ও পিত্তের তুলনায় অনেক বেশি শীতল। কখনো মিষ্টি স্বাদের শ্লেষ্মা অপ্রাকৃতও হতে পারে, আর তা হলো স্বাদহীন শ্লেষ্মা (যার কথা আমরা পরে উল্লেখ করব) যখন তাতে দৈবাৎ প্রাকৃত রক্ত মিশ্রিত হয়। সর্দি ও কফ নিঃসরণের সময় এটি প্রায়ই অনুভূত হয়। প্রাকৃত মিষ্টি শ্লেষ্মা সম্পর্কে জালিনুস (গ্যালেন) মনে করেন যে, প্রকৃতি বা শরীর এর জন্য পিত্তথলির মতো কোনো নির্দিষ্ট নির্গমন অঙ্গ তৈরি করেনি, কারণ এই শ্লেষ্মা রক্তের সমধর্মী এবং শরীরের সকল অঙ্গের এর প্রয়োজন রয়েছে। তাই একে রক্তের প্রবাহের সাথেই মিশিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা বলি: এই প্রয়োজনীয়তা মূলত দুটি কারণে—একটিকে বলা হয় আবশ্যকতা (জরুরত) এবং অন্যটি উপকারিতা (মানফায়াত)। আবশ্যকতা আবার দুটি কারণে হয়: প্রথমত, এটি যেন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাছাকাছি থাকে, যাতে পাকস্থলী ও যকৃৎ থেকে পুষ্টি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অঙ্গগুলো খাদ্যহীন হয়ে না পড়ে। তখন শরীরের সহজাত উত্তাপ সেই শ্লেষ্মাকে পরিপক্ক ও হজম করে রক্তে পরিণত করে এবং অঙ্গগুলো তা থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে। যেমন সহজাত উত্তাপ একে পরিপক্ক করে রক্তে রূপান্তরিত করে, তেমনি বহিরাগত অস্বাভাবিক উত্তাপ একে পচিয়ে বিকৃতও করতে পারে। এই ধরনের আবশ্যকতা পিত্তের (সাফরা ও সওদা) ক্ষেত্রে নেই, কারণ সহজাত উত্তাপ পিত্তকে পরিপক্ক করে রক্তে রূপান্তরিত করতে পারে না, যদিও বহিরাগত উত্তাপ রক্ত ও পিত্ত উভয়কেই পচিয়ে বিকৃত করার ক্ষেত্রে সমান ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয়ত, শ্লেষ্মা রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়ে শ্লেষ্মা-প্রধান মেজাজের অঙ্গগুলোকে পুষ্টি গ্রহণের উপযোগী করে তোলে, যাদের পুষ্টির জন্য রক্তে নির্দিষ্ট পরিমাণে কার্যকর শ্লেষ্মার উপস্থিতি প্রয়োজন, যেমন মস্তিষ্ক। এটি পিত্তের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর উপকারিতার বিষয়টি হলো, এটি সন্ধিস্থল (জয়েন্ট) এবং অধিক সচল অঙ্গগুলোকে আর্দ্র রাখে, যাতে অঙ্গ সঞ্চালন ও ঘর্ষণের ফলে শুষ্কতা তৈরি না হয়। এই উপকারিতাটি মূলত আবশ্যকতারই একটি পর্যায়।

অপ্রাকৃত শ্লেষ্মা: এর মধ্যে একটি হলো বর্জ্য জাতীয় যা স্পর্শানুভবে ভিন্ন ভিন্ন ঘনত্বের হয়, একে শ্লেষ্মাজাত (মুখাতি) বলা হয়। অন্যটি স্পর্শে অভিন্ন ঘনত্বের মনে হলেও বাস্তবে ভিন্ন ভিন্ন ঘনত্বের হয়ে থাকে, একে অপরিপক্ক (খাম) বলা হয়। এর মধ্যে যা অত্যন্ত পাতলা তা জলীয়, আর যা অত্যন্ত ঘন তা সাদা বর্ণের এবং চুনাপাথরের মতো (জাসসি) নামে পরিচিত। এটি মূলত সন্ধিস্থল ও রন্ধ্রসমূহে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার ফলে রূপান্তরিত হয়ে ঘন রূপ ধারণ করে। এটি সকল প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে ঘন। শ্লেষ্মার আরও প্রকার রয়েছে...

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٣٠)
مالح وَهُوَ أحر مَا يكون من البلغم وأيبسه وأجفه وَسبب كل ملوحة تحدث أَن تخالط رُطُوبَة مائية قَليلَة الطّعْم أَو عديمته أَجزَاء أرضية محترقة يابسة المزاج مرّة الطّعْم مُخَالطَة باعتدال فَإِنَّهَا إِن كثرت مَرَرْت. وَمن هَذَا تتولد الأملاح وتملح الْمِيَاه. وَقد يصنع الْملح من الرماد والقلي والنورة وَغير ذَلِك بِأَن يطْبخ فِي المَاء ويصفى ويغلى ذَلِك المَاء حَتَّى ينْعَقد ملحاً أَو يتْرك بِنَفسِهِ فَينْعَقد وَكَذَلِكَ البلغم الرَّقِيق الَّذِي لَا طعم لَهُ أَو طعمه قَلِيل غير غَالب إِذا خالطته مرّة يابسة بالطبع محترقة مُخَالطَة باعتدال ملحته وسخنته فَهَذَا بلغم صفراوي. وَأما الْحَكِيم الْفَاضِل جالينوس فقد قَالَ: إِن هَذَا البلغم يملح لعفونته أَو لمائية خالطته. وَنحن نقُول: إِن العفونة تملّحه بِمَا تحدث فِيهِ من الاحتراق والرمادية فتخالط رطوبته. وَأما المائية الَّتِي تخالطه فَلَا تحدث الملوحة وَحدهَا إِذا لم يَقع السَّبَب الثَّانِي - وَيُشبه أَن يكون بدل أَو القاسمة الْوَاو الْوَاصِلَة وَحدهَا فَيكون الْكَلَام تَاما. وَمن البلغم حامض. وكما أَن الحلو كَانَ على قسمَيْنِ: حُلْو لأمر فِي ذَاته وحلو لأمر غَرِيب مخالط كَذَلِك الخامض أَيْضا تكون حموضته على قسمَيْنِ: أَحدهمَا بِسَبَب مُخَالطَة شَيْء غَرِيب وَهُوَ السَّوْدَاء الحامض الَّذِي سَنذكرُهُ. وَالثَّانِي بِسَبَب أَمر فِي نَفسه وَهُوَ أَن يعرض للبلغم الحلو الْمَذْكُور أَو مَا هُوَ فِي طَرِيق الْحَلَاوَة مَا يعرض لسَائِر العصارات الحلوة من الغليان أَولا ثمَّ التحميض ثَانِيًا وَمن البلغم أَيْضا عفص وحاله هَذِه الْحَال فَإِنَّهُ رُبمَا كَانَت عفوصته لمخالطة السَّوْدَاء العفص وَرُبمَا كَانَت عفوصته بِسَبَب تبرده فِي نَفسه تبرداً شَدِيدا فيستحيل طعمه إِلَى العفوصة لجمود مائيته واستحالته لليبس إِلَى الأرضية قَلِيلا فَلَا تكون الْحَرَارَة الضعيفة أغلته فحمضته وَلَا القوية أنضجته. وَمن البلغم نوع زجاجي ثخين غليظ يشبه الزّجاج الذائب فِي لزوجته وَثقله وَرُبمَا كَانَ حامضاً وَرُبمَا كَانَ مسيخاً وَيُشبه أَن يكون الغليظ من المسيخ مِنْهُ هُوَ الخام أَو يَسْتَحِيل إِلَى الخام وَهَذَا النَّوْع من البلغم هُوَ الَّذِي كَانَ مائياً فِي أول الْأَمر بَارِدًا فَلم يعفن وَلم يخالطه شَيْء بل بَقِي مخنوقاً حَتَّى غلظ وازداد بردا.! فقد تبين إِذا أَن أَقسَام البلغم الْفَاسِد من جِهَة طعمه أَرْبَعَة: مالح وحامض وعفص ومسيخ. وَمن جِهَة قوامه أَرْبَعَة: مائي وزجاجي ومخاطي وجصّي. والخام فِي إعداد المخاطي. وَأما الصَّفْرَاء: فَمِنْهَا أَيْضا طبيعي وَمِنْهَا فضل غير طبيعي والطبيعي مِنْهَا: هُوَ رغوة الدَّم وَهُوَ أَحْمَر اللَّوْن ناصعه خَفِيف حاد وَكلما كَانَ أسخن فَهُوَ أَشد حمرَة فَإِذا تولد فِي الكبد انقسم قسمَيْنِ: فَذهب قسم مِنْهُ مَعَ الدَّم وتصفَى قسم مِنْهُ إِلَى المرارة. والذاهب مِنْهُ مَعَ الدَّم يذهب مَعَه لضَرُورَة وَمَنْفَعَة أما الضَّرُورَة فلتخالط الدَّم فِي تغذية الْأَعْضَاء الَّتِي تسْتَحقّ أَن يكون فِي
লবণাক্ত; এটি শ্লেষ্মার প্রকারভেদের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ, শুষ্ক এবং রুক্ষ। সকল প্রকার লবণাক্ততা সৃষ্টি হওয়ার কারণ হলো—স্বাদহীন বা সামান্য স্বাদযুক্ত জলীয় আর্দ্রতার সাথে যখন দগ্ধ, শুষ্ক মেজাজের এবং তিক্ত স্বাদের পার্থিব উপাদানসমূহ পরিমিতভাবে মিশ্রিত হয়। যদি এই উপাদানসমূহের আধিক্য ঘটে, তবে তা তিক্ততায় পর্যবসিত হয়। এভাবেই বিভিন্ন লবণ উৎপন্ন হয় এবং পানি লবণাক্ত হয়ে ওঠে। ভস্ম, ক্ষার, চুন ইত্যাদি থেকে লবণ প্রস্তুত করার পদ্ধতি হলো—এগুলো পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে নেওয়া হয় এবং সেই পানি ঘন হয়ে লবণে পরিণত হওয়া পর্যন্ত জাল দেওয়া হয়, অথবা প্রাকৃতিকভাবে রেখে দেওয়া হয় যাতে তা জমাট বেঁধে লবণে পরিণত হয়। অনুরূপভাবে, যে পাতলা শ্লেষ্মার কোনো স্বাদ নেই বা স্বাদ অত্যন্ত সামান্য, তার সাথে যখন প্রাকৃতিকভাবে শুষ্ক ও দগ্ধ পিত্ত পরিমিতভাবে মিশ্রিত হয়, তখন তা শ্লেষ্মাকে লবণাক্ত ও উষ্ণ করে তোলে; একেই পিত্তজ শ্লেষ্মা বলা হয়। মহাজ্ঞানী গ্যালেন বলেছেন: এই শ্লেষ্মা তার পচনশীলতা অথবা এর সাথে জলীয় উপাদানের সংমিশ্রণের কারণে লবণাক্ত হয়। আমরা বলি: পচনশীলতা শ্লেষ্মাকে লবণাক্ত করে কারণ এটি শ্লেষ্মায় দহন এবং ভস্মীভূত অবস্থা তৈরি করে যা এর আর্দ্রতার সাথে মিশে যায়। আর জলীয় উপাদান যা এর সাথে মিশ্রিত হয়, তা দ্বিতীয় কোনো কারণ উপস্থিত না থাকলে একাকী লবণাক্ততা তৈরি করতে পারে না। এখানে সম্ভবত 'বা' অব্যয়ের পরিবর্তে সংযোগকারী 'এবং' হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল, যাতে বক্তব্যটি পূর্ণতা পায়। শ্লেষ্মার একটি প্রকার হলো অম্লীয় বা টক। মিষ্টি শ্লেষ্মা যেমন দুই প্রকার ছিল—একটি তার সত্তাগত কারণে এবং অন্যটি বহিরাগত সংমিশ্রণের কারণে—তেমনি অম্লীয় শ্লেষ্মাও দুই প্রকার। প্রথমটি বহিরাগত কোনো উপাদানের সংমিশ্রণের কারণে ঘটে, আর তা হলো অম্লীয় কৃষ্ণপিত্ত (সওদা), যা আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব। দ্বিতীয়টি তার নিজস্ব অবস্থার কারণে ঘটে; অর্থাৎ পূর্বে উল্লেখিত মিষ্টি শ্লেষ্মা অথবা মিষ্টতার পর্যায়ে থাকা অন্যান্য সকল মিষ্টি নির্যাসের ক্ষেত্রে যা ঘটে—প্রথমে তা গেঁজিয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে অম্লীয় বা টক হয়ে যায়। শ্লেষ্মার আরেকটি প্রকার হলো কষায়; এর অবস্থাও একই রকম। কখনও এর কষায় ভাব ঘটে কষায় কৃষ্ণপিত্তের সংমিশ্রণের কারণে, আবার কখনও নিজস্ব তীব্র শীতলতার কারণে এটি কষায় স্বাদ ধারণ করে। এর জলীয় অংশ জমে যাওয়ায় এবং শুষ্কতার কারণে কিছুটা পার্থিবতা প্রাপ্ত হওয়ায় এর স্বাদ কষায় হয়ে যায়; এক্ষেত্রে দুর্বল তাপ একে ফুটিয়ে অম্লীয় করতে পারেনি এবং শক্তিশালী তাপও একে পরিপক্ব করতে সক্ষম হয়নি। শ্লেষ্মার একটি প্রকার হলো 'কাঁচসদৃশ' (জুজাজি), যা অত্যন্ত ঘন ও আঠালো এবং ওজনে ও সান্দ্রতায় গলিত কাঁচের মতো। কখনও এটি অম্লীয় হয় এবং কখনও স্বাদহীন। এর স্বাদহীন ঘন অংশটি মূলত অপরিণত শ্লেষ্মা বা যা অপরিণত অবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। শ্লেষ্মার এই প্রকারটি শুরুতে জলীয় ও শীতল থাকে, যা পচে যায়নি বা অন্য কিছুর সাথে মিশ্রিত হয়নি, বরং অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার ফলে তা ঘন হয়ে গিয়েছে এবং এর শীতলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অতএব এটি স্পষ্ট হলো যে, স্বাদের বিচারে দূষিত শ্লেষ্মা চার প্রকার: লবণাক্ত, অম্লীয়, কষায় এবং স্বাদহীন। আর গঠনের (ঘনত্বের) বিচারেও এটি চার প্রকার: জলীয়, কাঁচসদৃশ, শ্লেষ্মাজাতীয় এবং চুনসদৃশ। অপরিণত শ্লেষ্মা মূলত শ্লেষ্মাজাতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। পিত্তের বর্ণনায় বলা যায়: পিত্তও দুই প্রকার—স্বাভাবিক পিত্ত এবং অস্বাভাবিক উচ্ছিষ্ট পিত্ত। স্বাভাবিক পিত্ত হলো রক্তের ফেনা; এটি উজ্জ্বল লাল বর্ণের, হালকা এবং তীক্ষ্ণ। এটি যত বেশি উষ্ণ হয়, এর লাল বর্ণ তত গাঢ় হয়। যকৃতে যখন এটি উৎপন্ন হয়, তখন তা দুই ভাগে বিভক্ত হয়: এক ভাগ রক্তের সাথে মিশে যায় এবং অন্য ভাগ পিত্তথলিতে পরিশ্রুত হয়ে জমা হয়। রক্তের সাথে প্রবাহিত অংশটি প্রয়োজনীয়তা এবং উপযোগিতার কারণে রক্তে মিশে থাকে। প্রয়োজনীয়তার কারণ হলো, সেই সকল অঙ্গের পুষ্টির জন্য পিত্তের সংমিশ্রণ প্রয়োজন যা...
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٣١)
مزاجها جُزْء صَالح من الصَّفْرَاء وبحسب مَا يسْتَحقّهُ من الْقِسْمَة مثل الرئة وَأما الْمَنْفَعَة فَلِأَن تلطف الدَّم وتنفذه فِي المسالك الضيقة والمتصفى مِنْهُ إِلَى المرارة يتَوَجَّه أَيْضا نَحْو ضَرُورَة وَمَنْفَعَة أما الضَّرُورَة فإمَّا بِحَسب الْبدن كُله فَهِيَ تخليصه من الْفضل وَإِمَّا بِحَسب عُضْو مِنْهُ فَهِيَ لتغذية المرارة. وَأما الْمَنْفَعَة فمنفعتان: إِحْدَاهمَا غسلهَا المعي من الثفل والبلغم اللزج وَالثَّانيَِة لذعها المعي ولذعها عضل المقعدة لتحس بِالْحَاجةِ وتحوج إِلَى النهوض للتبرز. وَلذَلِك رُبمَا عرض قولنج وَأما الصَّفْرَاء الْغَيْر الطبيعي: فَمِنْهَا مَا خُرُوجه من الطبيعة بِسَبَب غَرِيب مخالط وَمِنْهَا مَا خُرُوجه عَن الطبيعة بِسَبَب فِي نَفسه بِأَنَّهُ فِي جوهره غير طبيعي. وَالْقسم الأول مِنْهُ مَا هُوَ مَعْرُوف مَشْهُور وَهُوَ الَّذِي يكون الْغَرِيب المخالط لَهُ بلغماً وتولده فِي أَكثر الْأَمر فِي الكبد وَمِنْه مَا هُوَ أقل شهرة وَهُوَ الَّذِي يكون الْغَرِيب المخالط لَهُ سَوْدَاء وَالْمَعْرُوف الْمَشْهُور هُوَ إِمَّا الْمرة الصَّفْرَاء وَإِمَّا المرّة المحية وَذَلِكَ لِأَن البلغم الَّذِي يخالطه رُبمَا كَانَ رَقِيقا فَحدث مِنْهُ الأولى وَرُبمَا كَانَ غليظاً فَحدثت مِنْهُ الثَّانِيَة أَي الصَّفْرَاء الشبيهة بمح الْبيض. وَأما الَّذِي هُوَ أقل شهرة فَهُوَ الَّذِي يُسمى صفراء محترقة. وحدوثه على وَجْهَيْن: أَحدهمَا أَن تحترق الصَّفْرَاء فِي نَفسهَا فَيحدث فِيهَا رمادية فَلَا يتَمَيَّز لَطِيفُها من رماديتها بل تحتبس الرمادية فِيهَا وَهَذَا شَرّ وَهَذَا الْقسم يسقى صفراء محترقة. وَالثَّانِي: أَن تكون السَّوْدَاء وَردت عَلَيْهِ من خَارج فخالطته وَهَذَا أسلم. ولون هَذَا الصِّنْف من الصَّفْرَاء أَحْمَر لكنه غير ناصع وَلَا مشرق بل أشبه بِالدَّمِ إِلَّا أَنه رَقِيق وَقد يتَغَيَّر عَن لَونه لأسباب. وَأما الْخَارِج عَن الطبيعة فِي جوهره فَمِنْهُ مَا تولّد أَكثر مَا يتَوَلَّد مِنْهُ فِي الكبد وَمِنْه مَا تولّد أَكثر مَا يتولّد مِنْهُ فِي الْمعدة وَالَّذِي تولد أَكثر مَا يتَوَلَّد مِنْهُ فِي الكبد هُوَ صنف وَاحِد وَهُوَ اللَّطِيف من الدَّم إِذا احْتَرَقَ وَبَقِي كثيفه سَوْدَاء وَالَّذِي تولّد أَكثر مَا يتَوَلَّد مِنْهُ مِمَّا هُوَ فِي الْمعدة هُوَ على قسمَيْنِ: كرّاثي وزنجاري والكرّاثي يشبه أَن يكون متولداً من احتراق المحّي فَإِنَّهُ إِذا احْتَرَقَ أحدث فِيهَا الاحتراق سواداً وخالط الصُّفْرَة فتولّد فِيمَا بَين ذَلِك الخضرة. وَأما الزنجاري فَيُشبه أَن يكون متولداً من الكرَاثي إِذا اشْتَدَّ احتراقه حَتَّى فنيت رطوباته وَأخذ يضْرب إِلَى الْبيَاض لتجفّفه فَإِن الْحَرَارَة تحدث أوَلاً فِي الْجِسْم الرطب سواداً ثمَّ يسلخ عَنهُ السوَاد إِذا جعلت تفني رطوبته وَإِذا أفرطت فِي ذَلِك بيضَتْهُ. تَأمل هَذَا فِي الْحَطب يتفحم أوَلا ثمَّ يترمد وَذَلِكَ لِأَن الْحَرَارَة تفعل فِي الرطب سواداً وَفِي ضِدّه بَيَاضًا. والبرودة تفعل فِي

এর মেজাজ হলো পিত্তের একটি উপযুক্ত অংশ এবং ফুসফুসের ন্যায় ভাগের হকদার। এর উপকারিতা হলো রক্তকে লঘু বা সূক্ষ্ম করা এবং সংকীর্ণ নালীসমূহে তা প্রবাহিত করা। আর যা পরিশ্রুত হয়ে পিত্তথলির দিকে যায়, তাও বিশেষ প্রয়োজন ও উপযোগিতার তাগিদেই সেখানে যায়। দেহের সামগ্রিক প্রয়োজনের সাপেক্ষে এর কাজ হলো শরীরকে বর্জ্য থেকে মুক্ত করা, আর কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গের সাপেক্ষে এর কাজ হলো পিত্তথলিকে পুষ্ট করা। আর উপযোগিতার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় রয়েছে: একটি হলো অন্ত্রকে তলানি ও আঠালো শ্লেষ্মা থেকে ধৌত করা এবং দ্বিতীয়টি হলো অন্ত্র ও মলদ্বারের পেশিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করা যাতে মলত্যাগের তাড়না অনুভূত হয় এবং প্রাকৃতিক কাজ সারার প্রয়োজন দেখা দেয়। আর এই কারণেই কখনো কখনো কোলন-ব্যথা বা শূলবেদনা অনুভূত হয়। আর অস্বাভাবিক পিত্তের ক্ষেত্রে: কিছু পিত্ত কোনো বহিরাগত মিশ্রণের কারণে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে বিচ্যুত হয়, আবার কিছু পিত্তের বিচ্যুতি ঘটে তার স্বকীয় কারণে অর্থাৎ তার সারবস্তু বা মজ্জাগতভাবেই তা অস্বাভাবিক। প্রথম প্রকারের মধ্যে যা সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ তা হলো সেই পিত্ত যার সাথে বহিরাগত উপাদান হিসেবে শ্লেষ্মা মিশ্রিত থাকে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা যকৃতে উৎপন্ন হয়। আর এর মধ্যে কিছু কম পরিচিত প্রকার রয়েছে যাতে মিশ্রিত বহিরাগত উপাদানটি হলো কৃষ্ণপিত্ত। সুপরিচিত প্রকারটি হয় পীতপিত্ত অথবা ডিমের কুসুম সদৃশ পিত্ত; কারণ এর সাথে মিশ্রিত শ্লেষ্মা যদি পাতলা হয় তবে প্রথমটি উৎপন্ন হয়, আর যদি তা ঘন হয় তবে দ্বিতীয়টি অর্থাৎ ডিমের কুসুম সদৃশ পিত্ত উৎপন্ন হয়। আর যা কম পরিচিত তাকে ‘দগ্ধ পিত্ত’ বলা হয়। এটি দুইভাবে উৎপন্ন হয়: প্রথমত, পিত্ত নিজেই দগ্ধ হয়ে তাতে ভস্মাধার তৈরি হয়, ফলে এর সূক্ষ্ম অংশ ভস্ম থেকে আলাদা হতে পারে না বরং ভস্মটি তার মাঝেই আটকে থাকে; এটি খুবই মন্দ অবস্থা এবং এই বিভাগকেই দগ্ধ পিত্ত বলা হয়। দ্বিতীয়ত, বাইরে থেকে কৃষ্ণপিত্ত এসে এর সাথে মিশ্রিত হয় এবং এটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। এই জাতীয় পিত্তের বর্ণ লাল হয় কিন্তু তা স্বচ্ছ বা উজ্জ্বল নয় বরং রক্তের মতো, তবে এটি পাতলা এবং বিভিন্ন কারণে এর রঙের পরিবর্তন হতে পারে। আর যা মজ্জাগতভাবে প্রকৃতিবিরুদ্ধ, তার একটি অংশ অধিকাংশ ক্ষেত্রে যকৃতে উৎপন্ন হয় এবং অন্য অংশটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে উৎপন্ন হয়। যা যকৃতে উৎপন্ন হয় তা হলো রক্তের সূক্ষ্ম অংশ দগ্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট পিত্ত, যার ঘন অংশটি কৃষ্ণপিত্ত হিসেবে অবশিষ্ট থাকে। আর যা পাকস্থলীতে উৎপন্ন হয় তা দুই প্রকার: রসুন-সবুজ এবং জং-ধরা তামাটে বর্ণ। রসুন-সবুজ পিত্ত সম্ভবত ডিমের কুসুম সদৃশ পিত্তের দহন থেকে উৎপন্ন হয়; কারণ তা দগ্ধ হলে সেখানে কালো রঙের সৃষ্টি হয় এবং তা পীতবর্ণের সাথে মিশে অন্তর্বর্তী সবুজ রঙের জন্ম দেয়। আর তামাটে পিত্ত সম্ভবত রসুন-সবুজ পিত্ত থেকেই উৎপন্ন হয় যখন তার দহন তীব্রতর হয়, যার ফলে তার রসালতা নিঃশেষ হয়ে যায় এবং শুষ্কতার কারণে তা সাদাটে ভাব ধারণ করতে শুরু করে। কারণ তাপ প্রথমে আর্দ্র দেহে কালো রং তৈরি করে, অতঃপর যখন তা আর্দ্রতা নিঃশেষ করতে থাকে তখন কালো রং দূর হয়ে যায় এবং দহন চরম পর্যায়ে পৌঁছালে তা সাদা হয়ে যায়। কাঠের দিকে লক্ষ করুন—এটি প্রথমে কয়লার মতো কালো হয়, তারপর ছাইয়ে পরিণত হয়। কারণ তাপ আর্দ্র বস্তুতে কালো রং এবং তার বিপরীতে সাদা রং উৎপন্ন করে। আর শৈত্য উৎপন্ন করে...

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٣٢)
الرطب بَيَاضًا وَفِي ضِدّه سواداً. وَهَذَانِ الحكمان مني فِي الكراثي والزنجاري تخمين. وَهَذَا النَّوْع الزنجاري أسخن أَنْوَاع الصَّفْرَاء وأردؤها وأقتلها. وَيُقَال إِنَّه من جَوْهَر السمون وَأما السَّوْدَاء فَمِنْهَا مَا هُوَ طبيعي وَمِنْهَا فضل غير طبيعي. والطبيعي دردي الدَّم الْمَحْمُود وثفله وعكره. وطعمه بَين حلاوة وعفوصة. وَإِذا تولد فِي الكبد توزعّ إِلَى قسمَيْنِ: فقسم مِنْهُ ينفذ مَعَ الدَّم وَقسم يتوجَّه نَحْو الطحال. وَالْقسم النَّافِذ مِنْهُ مَعَ الدَّم ينفذ لضَرُورَة وَمَنْفَعَة. أما الضَّرُورَة فليختلط بِالدَّمِ بالمقدار الْوَاجِب فِي تغذية عُضْو من الْأَعْضَاء الَّتِي يجب أَن يَقع فِي مزاجها جُزْء صَالح من السَّوْدَاء مثل الْعِظَام. وَأما الْمَنْفَعَة فَهِيَ أَنه يشد الدَّم ويقويه ويكثفه ويمنعه من التَّحَلُّل. وَالْقسم النَّافِذ مِنْهُ إِلَى الطحال وَهُوَ مَا اسْتغنى عَنهُ الدَّم ينفذ أَيْضا لضَرُورَة وَمَنْفَعَة. أما الضَّرُورَة فإمَّا بِحَسب الْبدن كُله وَهِي التنقية عَن الْفضل وَأما بِحَسب عُضْو وَهِي تغذية الطحال. وَأما الْمَنْفَعَة فَإِنَّمَا تقع عِنْد تحلّلها إِلَى فَم الْمعدة وَتلك الْمَنْفَعَة على وَجْهَيْن: أَحدهمَا: أَنَّهَا تشد فَم الْمعدة وتكثّفه وتقوّيه وَالثَّانِي: أَنَّهَا تدغدغ فَم الْمعدة بالحموضة فَتنبه على الْجُوع وتحرك الشَّهْوَة. وَاعْلَم أَن الصَّفْرَاء المتحلبة إِلَى المرارة هِيَ مَا يَسْتَغْنِي عَنهُ الدَّم. والمتحلبة عَن المرارة هِيَ مَا تَسْتَغْنِي عَنهُ المرارة. وَكَذَلِكَ السَّوْدَاء المتحلّبة إِلَى الطحال هِيَ مَا يَسْتَغْنِي عَنهُ الدَّم. والمتحلّبة عَن الطحال هِيَ مَا يَسْتَغْنِي عَنهُ الطحال. وكما أَن تِلْكَ الصَّفْرَاء الْأَخِيرَة تنبه الْقُوَّة الدافعة من أَسْفَل كَذَلِك هَذِه السَّوْدَاء الْأَخِيرَة تنبّه الْقُوَّة الجاذبة من فَوق فَتَبَارَكَ الله أحسن الْخَالِقِينَ وَأحكم الْحَاكِمين. وَأما السَّوْدَاء الْغَيْر الطبيعية: فَهِيَ مَا لَيْسَ على سَبِيل الرسوب والثفلية بل على سَبِيل الرمادية والاحتراق فَإِن الْأَشْيَاء الرّطبَة المخالطة للأرضية تتميّز الأرضية مِنْهَا على وَجْهَيْن: إِمَّا على جِهَة الرسوب وَمثل هَذَا الدَّم هُوَ السَّوْدَاء الطبيعي وَإِمَّا على جِهَة الاحتراق بِأَن يتحلّل اللَّطِيف وَيبقى الكثيف. وَمثل هَذَا الدَّم والأخلاط هُوَ السَّوْدَاء الفضلية تسمّى الْمرة السَّوْدَاء وَإِنَّمَا لم يكن الرسوب إِلَّا للدم لِأَن البلغم للزوجته لَا يرسب عَنهُ شئ كالثفل. والصفراء للطافتها وَقلة الأرضية فِيهَا ولدوام حركتها ولقلّة مِقْدَار مَا يتَمَيَّز مِنْهَا عَن الدَّم فِي الْبدن لَا يرسب مِنْهَا شَيْء يعتدّ بِهِ وَإِذا تميّز لم يلبث أَن يعفن أَو ينْدَفع وَإِذا عفن تحلل لطيفه وَبَقِي كثيفه سَوْدَاء احتراقية لَا رسوبية. والسوداء الفضلية: مِنْهَا مَا هُوَ رماد الصَّفْرَاء وحراقتها وَهُوَ مرّ وَالْفرق بَينه وَبَين الصَّفْرَاء الَّتِي سميناها محترقة هُوَ أَن تِلْكَ الصَّفْرَاء يخالطها هَذَا الرماد وَأما هَذَا فَهُوَ رماد متميز بِنَفسِهِ تحلّل لطيفه وَمِنْهَا مَا هُوَ رماد البلغم وحراقته فَإِن كَانَ البلغم لطيفاً جدا مائيا فَإِن رماديته تكون إِلَى الملوحة وَإِلَّا كَانَت إِلَى حموضة أَو عفوصة وَمِنْهَا مَا هُوَ رماد الدَّم وحراقته وَهَذَا مالح
আর্দ্রতায় শুভ্রতা এবং এর বিপরীতে (শুষ্কতা) কৃষ্ণতা প্রকাশ পায়। কুরাছি (রসুন-সবুজ) এবং জানজারি (তাম্র-সবুজ) পিত্ত সম্পর্কে আমার এই দুটি সিদ্ধান্ত কেবল অনুমানপ্রসূত। এই জানজারি প্রকারটি পিত্তের সকল প্রকারের মধ্যে সর্বাধিক উষ্ণ, নিকৃষ্ট এবং প্রাণঘাতী। বলা হয়ে থাকে যে, এটি বিষক্রিয়ার সারবস্তু থেকে তৈরি। আর কৃষ্ণপিত্তের ক্ষেত্রে—এর কিছু অংশ স্বাভাবিক এবং কিছু অংশ অস্বাভাবিক বর্জ্য। স্বাভাবিক কৃষ্ণপিত্ত হলো বিশুদ্ধ রক্তের তলানি, গাদ এবং আবিলতা। এর স্বাদ মিষ্টতা ও কষায়ত্বের মাঝামাঝি। এটি যখন যকৃতে উৎপন্ন হয়, তখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়: এক ভাগ রক্তের সাথে প্রবাহিত হয় এবং অন্য ভাগ প্লীহার দিকে ধাবিত হয়। রক্তের সাথে প্রবাহিত অংশটি বিশেষ প্রয়োজন ও উপকারের নিমিত্ত প্রবাহিত হয়। প্রয়োজনীয়তা হলো—এটি রক্তের সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণে মিশে শরীরের সেই অঙ্গগুলোর পুষ্টি সাধন করে যেগুলোর প্রকৃতিতে কৃষ্ণপিত্তের একটি উপযুক্ত অংশ থাকা আবশ্যক, যেমন হাড়। উপকারিতা হলো—এটি রক্তকে সুসংহত করে, শক্তিশালী ও ঘন করে এবং একে বিশ্লিষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে। আর যে অংশটি প্লীহার দিকে যায়—যা রক্ত থেকে অতিরিক্ত হিসেবে পরিত্যক্ত—তাও বিশেষ প্রয়োজন ও উপকারের জন্য প্রবাহিত হয়। প্রয়োজনীয়তা হলো—হয় সমগ্র দেহের সাপেক্ষে, যা হলো বর্জ্য থেকে দেহকে পরিচ্ছন্ন করা; অথবা কোনো বিশেষ অঙ্গের সাপেক্ষে, যা হলো প্লীহার পুষ্টি সাধন। আর উপকারিতা সাধিত হয় যখন এটি পাকস্থলীর মুখে নিঃসৃত হয়; এই উপকারিতা দুই প্রকার: প্রথমত—এটি পাকস্থলীর মুখকে সুদৃঢ়, ঘন ও শক্তিশালী করে। দ্বিতীয়ত—এটি পাকস্থলীর মুখে অম্লতার মাধ্যমে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, যা ক্ষুধার উদ্রেক করে এবং রুচি জাগ্রত করে। জেনে রাখুন, পিত্তথলিতে যে পিত্ত ক্ষরিত হয়, তা রক্ত থেকে অতিরিক্ত হিসেবে বর্জিত। আর পিত্তথলি থেকে যা নির্গত হয়, তা পিত্তথলি থেকে অতিরিক্ত হিসেবে বর্জিত। একইভাবে, প্লীহায় যে কৃষ্ণপিত্ত ক্ষরিত হয়, তা রক্ত থেকে অতিরিক্ত হিসেবে বর্জিত, এবং প্লীহা থেকে যা নির্গত হয়, তা প্লীহা থেকে অতিরিক্ত হিসেবে বর্জিত। যেভাবে শেষোক্ত পিত্ত নিম্নদেশ থেকে নিঃসরণ শক্তিকে জাগ্রত করে, তেমনি এই শেষোক্ত কৃষ্ণপিত্ত ঊর্ধ্বদেশ থেকে আকর্ষণ শক্তিকে জাগ্রত করে। অতএব আল্লাহ অতি বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা এবং শ্রেষ্ঠ বিচারক। অস্বাভাবিক কৃষ্ণপিত্তের ক্ষেত্রে: এটি তলানি বা গাদের প্রক্রিয়ায় নয়, বরং ভস্মীভূত হওয়া ও দহনের প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়। কারণ পার্থিব উপাদানের সাথে মিশ্রিত আর্দ্র বস্তুসমূহ থেকে পার্থিব অংশটি দুইভাবে পৃথক হয়: হয় তলানি জমার মাধ্যমে—রক্তের ক্ষেত্রে এটিই স্বাভাবিক কৃষ্ণপিত্ত; অথবা দহনের মাধ্যমে—যাতে সূক্ষ্ম অংশ বিশ্লিষ্ট হয়ে যায় এবং ঘন অংশ অবশিষ্ট থাকে। রক্ত ও অন্যান্য দেহরসের এই প্রকারটি হলো বর্জ্য কৃষ্ণপিত্ত, যাকে কৃষ্ণ পিত্তরস বলা হয়। তলানি কেবল রক্তের ক্ষেত্রেই উৎপন্ন হয়, কারণ শ্লেষ্মা তার সান্দ্রতার কারণে গাদের মতো কোনো তলানি সৃষ্টি করে না। পিত্ত তার সূক্ষ্মতা, পার্থিব উপাদানের স্বল্পতা, নিরন্তর গতিশীলতা এবং শরীরে রক্ত থেকে পৃথক হওয়া পিত্তের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য কোনো তলানি তৈরি করে না। যদি তা পৃথক হয়ও, তবে দ্রুত পচে যায় অথবা শরীর থেকে নির্গত হয়ে যায়। আর যদি পচে যায়, তবে এর সূক্ষ্ম অংশ বিশ্লিষ্ট হয়ে যায় এবং ঘন অংশ দহনজনিত কৃষ্ণপিত্ত হিসেবে অবশিষ্ট থাকে, তলানি হিসেবে নয়। বর্জ্য কৃষ্ণপিত্ত: এর মধ্যে কিছু হলো পিত্তের ভস্ম ও দহনাবশেষ এবং তা স্বাদে তিক্ত। আমাদের দহনকৃত বলা পিত্ত এবং এর মধ্যে পার্থক্য হলো—ঐ পিত্তের সাথে এই ভস্ম মিশ্রিত থাকে, আর এটি হলো স্বয়ংসম্পূর্ণ পৃথক ভস্ম যার সূক্ষ্ম অংশ বিশ্লিষ্ট হয়ে গেছে। কিছু হলো শ্লেষ্মার ভস্ম ও দহনাবশেষ; যদি শ্লেষ্মা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জলীয় হয়, তবে তার ভস্ম হবে লোনা, অন্যথায় তা অম্ল বা কষায় হবে। আর কিছু হলো রক্তের ভস্ম ও দহনাবশেষ, যা স্বাদে লোনা।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٣٣)
إِلَى حلاوة يسيرَة وَمِنْهَا مَا هُوَ رماد السَّوْدَاء الطبيعية فَإِن كَانَت رقيقَة كَانَ رمادها وحراقتها شَدِيدَة الحموضة كالخل يغلي على وَجه الأَرْض حامض الرّيح ينفر عَنهُ الذُّبَاب وَنَحْوه وَإِن كَانَت غَلِيظَة كَانَت أقل حموضة وَمَعَ شَيْء من العفوصة والمرارة فأصناف السَّوْدَاء الرَّديئَة ثَلَاثَة: الصَّفْرَاء إِذا احترقت وتحلل لطيفها وَهَذَانِ القسمان الْمَذْكُورَان بعْدهَا. وَأما السَّوْدَاء البلغمية: فَأَبْطَأَ ضَرَرا وَأَقل رداءة. وتترتّب هَذِه الأخلاط الْأَرْبَعَة إِذا احترقت فِي الرداءة. فالسوداء أَشدّهَا وأشدها غائلة. وأسرعها فَسَادًا هُوَ الصفراوية لَكِنَّهَا أقبلها للعلاج. وَأما القسمان الْآخرَانِ فَإِن الَّذِي هُوَ أَشد حموضة أردأ وَلكنه إِذا تدورك فِي ابْتِدَائه كَانَ أقبل للعلاج وَأما الثَّالِث فَهُوَ أقل غلياناً على الأَرْض وتشبثاَ بالأعضاء وَأَبْطَأ مُدَّة فِي انتهائه إِلَى الإهلاك وَلكنه قَالَ جالينوس وَلم يصب من زعم أَن الْخَلْط الطبيعي هُوَ الدَّم لَا غير وَسَائِر الأخلاط فضول لَا يحْتَاج إِلَيْهَا البتّة وَذَلِكَ لِأَن الدَّم لَو كَانَ وَحده هُوَ الْخَلْط الَّذِي يغذو الْأَعْضَاء لتشابهت فِي الأمزجة والقوام وَلما كَانَ الْعظم أَصْلَب من اللَّحْم إِلَّا ودَمُهُ دَم مازَجَهُ جَوْهَر صلب سوداوي وَلما كَانَ الدِّمَاغ أَلين مِنْهُ إِلَّا وَإِن دَمه دم مازجه جَوْهَر ليّن بلغمي وَالدَّم نَفسه تَجدهُ مخالطاً لسَائِر الأخلاط فينفصل عَنْهَا عِنْد إِخْرَاجه وَتَقْرِيره فِي الْإِنَاء بَين يَدي الحسّ إِلَى جُزْء كالرغوة هُوَ الصَّفْرَاء وجزء كبياض الْبيض هُوَ البلغم وجزء كالثفل والعكر هُوَ والسوداء وجزء مائي هُوَ المائية الَّتِي ينْدَفع فَضلهَا فِي الْبَوْل والمائية لَيست من الأخلاط لِأَن المائية هِيَ من المشروب الَّذِي لَا يغذو وَإِنَّمَا الْحَاجة إِلَيْهَا لترقق الْغذَاء وتنفذه وَأما الْخَلْط فَهُوَ من الْمَأْكُول والمشروب الغاذي وَمعنى قَوْلنَا غادّ أَي هُوَ بِالْقُوَّةِ شَبيه بِالْبدنِ وَالَّذِي هُوَ بِالْقُوَّةِ شَبيه بدن الْإِنْسَان هُوَ جسم ممتزج لَا بسيط وَالْمَاء هُوَ بسيط وَمن النَّاس من يظنّ أَن قُوَّة الْبدن تَابِعَة لِكَثْرَة الدَّم وَضَعفه تَابع لقلته وَلَيْسَ كَذَلِك بل الْمُعْتَبر حَال رزء الْبدن مِنْهُ أَي حَال صَلَاحه وَمن النَّاس من يظنّ أَن الأخلاط إِذا زَادَت أَو نقصت بعد أَن تكون على النِّسْبَة الَّتِي يقتضيها بدن الْإِنْسَان فِي مقادير بَعْضهَا عِنْد بعض فَإِن الصِّحَّة مَحْفُوظَة وَلَيْسَ كَذَلِك بل يجب أَن يكون لكل وَاحِد من الأخلاط مَعَ ذَلِك تَقْدِير فِي الْكمّ مَحْفُوظ لَيْسَ بِالْقِيَاسِ إِلَى خلط آخر بل فِي نَفسه مَعَ حفظ التَّقْدِير الَّذِي بِالْقِيَاسِ إِلَى غَيره. وَقد بَقِي فِي أُمُور الأخلاط مبَاحث لَيست تلِيق بالأطباء أَن يبحثوا فِيهَا إِذْ لَيست من صناعتهم بل بالحكماء فأعرضنا عَنْهَا. الْفَصْل الثَّانِي كَيْفيَّة تولد الأخلاط فَاعْلَم أَن الْغذَاء لَهُ انهضام إِمَّا بالمضغ وَذَلِكَ بِسَبَب أَن سطح الْفَم مُتَّصِل بسطح الْمعدة بل كأنّهما سطح وَاحِد وَفِيه مِنْهُ قُوَّة هاضمة فَإِذا لَاقَى الممضوغ أَحَالهُ إِحَالَة مَا ويعينه على ذَلِك الرِّيق المستفيد بالنضج الْوَاقِع فِيهِ حرارة غريزية وَلذَلِك مَا كَانَت الْحِنْطَة الممضوغة تفعل من إنضاج الدماميل والخراجات مَا لَا تَفْعَلهُ المدقوقة بِالْمَاءِ والمطبوخة فِيهِ. قَالُوا: وَالدَّلِيل على أَن الممضوغ قد بدا فِيهِ شَيْء من النضج أَنه لَا يُوجد فِيهِ الطّعْم الأول وَلَا رَائِحَته الأولى ثمَّ

সামান্য মিষ্টতার দিকে; আবার কোনটি প্রাকৃতিক কৃষ্ণপিত্তের ভস্ম। যদি তা পাতলা হয়, তবে তার ভস্ম ও দহন ভিনেগারের মতো তীব্র অম্লীয় হয়, যা মাটির ওপর টগবগ করে ফোটে এবং এর তীব্র গন্ধ থেকে মাছি ও অনুরূপ পতঙ্গ দূরে পালায়। আর যদি তা ঘন হয়, তবে অম্লতা কম হয় এবং তাতে কিছুটা কষায় ভাব ও তিক্ততা থাকে। মন্দ প্রকৃতির কৃষ্ণপিত্ত তিন প্রকার: পীতপিত্ত যখন দগ্ধ হয় এবং এর সূক্ষ্ম অংশগুলো বিশ্লিষ্ট হয়ে যায়—এই দুই প্রকারের বর্ণনা এর পরেই আসছে। আর কফজাত কৃষ্ণপিত্ত ক্ষতির দিক থেকে ধীরগতির এবং মন্দের দিক থেকে কম। এই চারটি ধাতু যখন দগ্ধ হয়, তখন তাদের অনিষ্টকারিতার একটি ক্রম থাকে। কৃষ্ণপিত্ত সবচেয়ে মারাত্মক ও সর্বাপেক্ষা ধ্বংসাত্মক। আর দ্রুততম পচনশীল হলো পীতপিত্তজাত ধাতু, তবে এটি চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। অবশিষ্ট দুই প্রকারের মধ্যে যেটি বেশি অম্লীয় সেটি অধিক মন্দ, তবে যদি শুরুর দিকেই প্রতিকার করা যায় তবে তা চিকিৎসার জন্য অনুকূল হয়। আর তৃতীয় প্রকারটি মাটির ওপর কম আলোড়ন সৃষ্টি করে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে কম আটকে থাকে এবং ধ্বংসের শেষ সীমায় পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় নেয়।

গ্যালেন বলেছেন: যারা মনে করেন যে রক্তই একমাত্র স্বাভাবিক ধাতু এবং অবশিষ্ট ধাতুসমূহ কেবলই অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ যা মোটেই প্রয়োজন নেই, তারা সঠিক বলেননি। কেননা, রক্তই যদি একমাত্র ধাতু হতো যা অঙ্গসমূহকে পুষ্টি দেয়, তবে অঙ্গসমূহের মেজাজ ও গঠন অভিন্ন হতো। হাড় মাংসের তুলনায় অধিক শক্ত হতো না, যদি না এর রক্তের সাথে কোনো শক্ত ও কৃষ্ণপিত্তীয় সারবস্তু মিশ্রিত থাকত। আবার মস্তিষ্ক মাংসের চেয়ে অধিক নরম হতো না, যদি না এর রক্তের সাথে কোনো নরম ও কফজাত সারবস্তু মিশ্রিত থাকত। রক্তকে আপনি নিজেই অন্যান্য ধাতুর সাথে মিশ্রিত অবস্থায় পাবেন; যখন তা শরীর থেকে বের করে পাত্রে রেখে ইন্দ্রিয় দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়, তখন তা বিভিন্ন অংশে পৃথক হয়ে যায়: ফেনার মতো অংশটি হলো পীতপিত্ত, ডিমের সাদা অংশের মতো অংশটি হলো কফ, তলানি বা গাদের মতো অংশটি হলো কৃষ্ণপিত্ত এবং জলীয় অংশটি হলো সেই জলীয় উপাদান যার অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হয়। এই জলীয় উপাদানটি ধাতুর অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি পানীয় থেকে উৎপন্ন যা পুষ্টি প্রদান করে না; বরং খাদ্যের তারল্য রক্ষা এবং তা দেহের অভ্যন্তরে পৌঁছানোর জন্য এর প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে 'ধাতু' আসে খাদ্য এবং পুষ্টিকর পানীয় থেকে। আমাদের 'পুষ্টিকর' বলার অর্থ হলো এটি সুপ্ত শক্তিতে শরীরের সদৃশ। আর যা মানুষের শরীরের সদৃশ তা একটি যৌগিক বস্তু, সরল নয়; কিন্তু পানি একটি সরল বস্তু। কিছু মানুষ মনে করেন যে শরীরের শক্তি রক্তের আধিক্যের ওপর নির্ভরশীল এবং দুর্বলতা এর স্বল্পতার কারণে হয়। বিষয়টি তেমন নয়, বরং বিবেচ্য বিষয় হলো শরীরের সেই রক্তের গুণগত অবস্থা অর্থাৎ তার সঠিক অবস্থা। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, ধাতুগুলো যখন মানুষের শরীরের চাহিদানুযায়ী একে অপরের অনুপাতে নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে, তখন তাদের হ্রাস-বৃদ্ধিতেও স্বাস্থ্য সংরক্ষিত থাকে। বিষয়টি তেমন নয়; বরং প্রতিটি ধাতুর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বজায় রাখা আবশ্যক, যা অন্য ধাতুর সাথে তুলনামূলকভাবে নয় বরং নিজস্ব পরিমাণেও সঠিক হতে হবে, পাশাপাশি অন্য ধাতুর সাথে আনুপাতিক ভারসাম্যও রক্ষা করতে হবে। ধাতুর বিষয়ে আরও কিছু আলোচনা অবশিষ্ট রয়েছে যা চিকিৎসকদের আলোচনার উপযুক্ত নয়, কারণ সেগুলো তাদের পেশার আওতাভুক্ত নয় বরং প্রাজ্ঞজনদের বিষয়, তাই আমরা সেগুলো এড়িয়ে গিয়েছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ধাতুসমূহের উৎপত্তির পদ্ধতি। জেনে রাখুন যে, খাদ্যের পরিপাক হয় চিবানোর মাধ্যমে। এর কারণ হলো মুখের অভ্যন্তরের উপরিভাগ পাকস্থলীর উপরিভাগের সাথে সংযুক্ত, বরং মনে হয় যেন তারা একই তল; এবং এতে পাকস্থলীর পরিপাককারী শক্তির অংশ বিদ্যমান। ফলে চিবানো খাদ্য যখন এর সংস্পর্শে আসে, তখন এটি তাতে এক ধরণের পরিবর্তন ঘটায় এবং লালা এতে সহায়তা করে, যা সহজাত উত্তাপের কারণে পরিপাকক্ষমতা লাভ করে। এ কারণেই চিবানো গম ফোঁড়া ও ব্রণ পাকাতে যে ভূমিকা রাখে, তা পানিতে চূর্ণ করা বা সিদ্ধ করা গম পারে না। তারা বলেন: চিবানো খাদ্যে যে পরিপাকের সূচনা হয়েছে তার প্রমাণ হলো, তাতে পূর্বের স্বাদ ও গন্ধ আর পাওয়া যায় না। এরপর...

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٣٤)
إِذا ورد على الْمعدة انهضم الانهضام التَّام لَا بحرارة الْمعدة وَحدهَا بل بحرارة مَا يطِيف بهَا أَيْضا أما من ذَات الْيَمين فَالْكَبِد وَأما من ذَات الْيَسَار الطحال فَإِن الطحال قد يسخن لَا بجوهره بل بالشرايين والأوردة الْكَثِيرَة الَّتِي فِيهِ وَأما من قُدَّام فبالثرب الشخمي الْقَابِل للحرارة سَرِيعا بِسَبَب الشَّحْم المؤدّيها إِلَى الْمعدة وَإِمَّا من فَوق فالقلب يتوسط تسخينه للحجاب فَإِذا انهضم الْغذَاء أوّلاً صَار بِذَاتِهِ. فِي كثير من الْحَيَوَان وبمعونة مَا يخالطه من المشروب فِي أَكْثَرهَا كيلوساً وَهُوَ جَوْهَر سيال شَبيه بِمَاء الكشك الثخين أَو مَاء الشّعير ملاسة وبياضاً ثمَّ إِنَّه بعد ذَلِك ينجذب لطيفه من الْمعدة وَمن الأمعاء أيضاَ فيندفع من طَرِيق العروة الْمُسَمَّاة ماساريقا وَهِي عروق دقاق صلاب مُتَّصِلَة بالأمعاء كلهَا فَإِذا انْدفع فِيهَا صَار إِلَى الْعرق الْمُسَمّى بَاب الكبد وَنفذ فِي الكبد فِي أَجزَاء وفروع للباب دَاخِلَة متصغرة مضائلة كالشعر ملاقية لفوهات أَجزَاء أصُول الْعرق الطالع من حدبة الكبد. وَإِن تنفذه فِي تِلْكَ المضايق فِينَا الْأَفْضَل مزاج من المَاء مشروب فَوق الْمُحْتَاج إِلَيْهِ للبدن فَإِذا تفرق فِي لِيف هَذِه الْعُرُوق صَار كَأَن الكبد بكليتها ملاقية لكلية هَذَا الكيلوس وَكَانَ لذَلِك فعلهَا فِيهِ أَشد وأسرع وَحِينَئِذٍ ينطبخ وفى كل انطباخ لمثله شَيْء كالرغوة وَشَيْء كالرسوب. وَرُبمَا كَانَ مَعَهُمَا إِمَّا شَيْء هُوَ إِلَى الاحتراق إِن أفرط الطَّبْخ أَو شَيْء كالفج إِن قصر الطَّبْخ فالرغوة هِيَ الصَّفْرَاء والرسوب هِيَ السَّوْدَاء وهما طبيعيان. والمحترق لطيفه صفراء رَدِيئَة وكثيفه سَوْدَاء رَدِيئَة غير طبيعيين. والفج هُوَ البلغم. وَأما الشَّيْء المتصفي من هَذِه الْجُمْلَة نضيجاً فَهُوَ الدَّم إِلَّا أَنه بعد مَا دَامَ فِي الكبد يكون أرق مِمَّا يَنْبَغِي لفضل المائية الْمُحْتَاج إِلَيْهَا لِلْعِلَّةِ الْمَذْكُورَة وَلَكِن هَذَا الشَّيْء الَّذِي هُوَ الدَّم إِذا انْفَصل عَن الكبد فَكَمَا ينْفَصل عَنهُ يتصفى أَيْضا عَن المائية الفضلية الَّتِي إِنَّمَا احْتِيجَ إِلَيْهَا لسَبَب وَقد ارْتَفع فتنجذب هِيَ عَنهُ فِي عرق نَازل إِلَى الكليتين وَيحمل مَعَ نَفسه من الدَّم مَا يكون بكميته وكيفيته صَالحا لغذاء الكليتين فيغذو الكليتين الدسومة والدموية من تِلْكَ المائية ويندفع بَاقِيهَا إِلَى المثانة والى الإحليل. وَأما الدَّم الْحسن القوام فيندفع فِي الْعرق الطالع من حدبة الكبد ويسلك فِي الأوردة المتشعبة مِنْهُ ثمَّ فِي جداول الأوردة ثمَّ فِي سواقي الجداول ثمَّ فِي رواضع السواقي ثمَّ فِي الْعُرُوق الليفية الشعرية ثمَّ يرشح من فوهاتها فِي الْأَعْضَاء بِتَقْدِير الْعَزِيز الْعَلِيم. فسبب الدَّم الفاعلي هُوَ حرارة معتدلة وَسَببه المادي هُوَ المعتدل من الأغذية والأشربة الفاضلة وَسَببه الصُّورِي النضج الْفَاضِل وَسَببه التمامي تغذية الْبدن. والصفراء سَببهَا الفاعلي أما الطبيعي مِنْهَا الَّذِي هُوَ رغوة الدَّم فحرارة معتدلة وَأما للمحترقة مِنْهَا فالحرارة النارية المفرطة وخصوصاً فِي الكبد وسببها المادي هُوَ اللَّطِيف الْحَار والحلو الدسم. والحريف من الأغذية وسببها الصُّورِي مُجَاوزَة النضج إِلَى الإفراط وسببها التمامي الضَّرُورَة وَالْمَنْفَعَة المذكورتان.

যখন খাদ্য পাকস্থলীতে প্রবেশ করে, তখন তা পূর্ণরূপে পরিপাক হয়; কেবল পাকস্থলীর নিজস্ব তাপ দ্বারা নয়, বরং এর চতুষ্পার্শ্বস্থ অঙ্গসমূহের উত্তাপের মাধ্যমেও। এর ডান দিকে রয়েছে যকৃৎ এবং বাম দিকে রয়েছে প্লীহা; প্লীহা মূলত তার নিজস্ব সত্তা দিয়ে নয়, বরং তাতে বিদ্যমান অসংখ্য ধমনী ও শিরার সাহায্যে উত্তাপ ছড়ায়। আর পাকস্থলীর সম্মুখভাগে রয়েছে মেদযুক্ত মেদঝিল্লি (বপা), যা চর্বির কারণে দ্রুত উত্তাপ গ্রহণ করে এবং তা পাকস্থলীতে পৌঁছে দেয়। উপর দিক থেকে হৃৎপিণ্ড মধ্যচ্ছদার মাধ্যমে পাকস্থলীকে উত্তপ্ত করতে মধ্যস্থতা করে।

অতঃপর খাদ্য যখন প্রাথমিকভাবে পরিপাক হয়, তখন তা অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে এবং অধিকাংশের ক্ষেত্রে পানীয়ের সংমিশ্রণে 'কাইলুস'-এ পরিণত হয়; যা একটি প্রবহমান সারবস্তু এবং মসৃণতা ও শুভ্রতায় ঘন যবের মণ্ড বা যবের পানির সদৃশ। এরপর এর সূক্ষ্ম অংশটুকু পাকস্থলী ও অন্ত্র থেকে শোষিত হয় এবং 'মাসারিকা' (মেসেন্টারি) নামক শিরার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়; এগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও শক্ত শিরা যা সমস্ত অন্ত্রের সাথে যুক্ত। এই পথে পরিবাহিত হয়ে তা 'বাবুল কাবিত' (যকৃতের প্রবেশদ্বার) নামক শিরায় পৌঁছায় এবং যকৃতের অভ্যন্তরে চুলের মতো সূক্ষ্ম ও ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে পড়ে, যা যকৃতের উপরিভাগ থেকে উদগত শিরার মুখগুলোর সাথে মিলিত হয়।

আমাদের শরীরে এই সংকীর্ণ পথগুলোতে খাদ্যের অনুপ্রবেশের জন্য দেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করা উত্তম। যখন এই সারবস্তু শিরার তন্তুগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, তখন মনে হয় যেন সমগ্র যকৃৎ এই কাইলুসের সংস্পর্শে এসেছে; ফলে এর ওপর যকৃতের ক্রিয়া অত্যন্ত প্রবল ও দ্রুত হয়। সেই সময়ে এটি পরিপক্ক হতে থাকে; আর এজাতীয় প্রতিটি পরিপাক প্রক্রিয়ায় ফেনার মতো কিছু উৎপন্ন হয় এবং তলানির মতো কিছু অবশিষ্ট থাকে। কখনও কখনও এই দুটির সাথে এমন কিছু থাকে যা অতি-পরিপাকের ফলে দহনপ্রাপ্ত হয়, অথবা পরিপাক অপূর্ণ থাকলে তা কাঁচা রয়ে যায়। এই ফেনা হলো পিত্ত (সফরা) এবং তলানি হলো কৃষ্ণপিত্ত (সওদা), যা উভয়ই শরীরের স্বাভাবিক উপাদান। আর দহনপ্রাপ্ত সূক্ষ্ম অংশটি হলো মন্দ পিত্ত এবং ঘন অংশটি হলো মন্দ কৃষ্ণপিত্ত, যা অস্বাভাবিক। আর অপক্ব বা কাঁচা অংশটি হলো কফ (বলগম)।

আর এই সমস্ত উপাদানের পরিশ্রুত ও পরিপক্ক অংশটি হলো রক্ত। তবে যকৃতে থাকা অবস্থায় এটি প্রয়োজনের তুলনায় অধিক জলীয় থাকে, যার কারণ উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু রক্তের এই অংশটি যখন যকৃৎ থেকে পৃথক হয়, তখন এটি সেই অতিরিক্ত জলীয় অংশ থেকেও পরিশ্রুত হয়ে যায়—যে পানির প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। সেই পানি একটি নিম্নগামী শিরার মাধ্যমে বৃক্কদ্বয়ের (কিডনি) দিকে ধাবিত হয় এবং নিজের সাথে রক্তের এমন এক অংশ বহন করে নিয়ে যায় যা বৃক্কের পুষ্টির জন্য গুণগত ও পরিমাণগতভাবে উপযুক্ত। এভাবে সেই জলীয় অংশ থেকে তৈলাক্ত ও রক্তজাত উপাদান বৃক্ককে পুষ্টি জোগায় এবং অবশিষ্ট অংশ মূত্রাশয় ও মূত্রনালীর দিকে চালিত হয়।

আর উত্তম ঘনত্বের রক্ত যকৃতের উপরিভাগ থেকে উদগত শিরা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায়, উপশিরায় এবং পরিশেষে চুলের মতো সূক্ষ্ম শিরাগুলোতে প্রবাহিত হয়; অতঃপর মহান পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ সত্তার নির্ধারিত মাপে তা শিরার মুখ দিয়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চুইয়ে পড়ে (শোষিত হয়)।

রক্তের 'নিমিত্ত কারণ' (কার্যকরী শক্তি) হলো পরিমিত উত্তাপ; এর 'উপাদানগত কারণ' হলো উত্তম খাদ্য ও পানীয়ের ভারসাম্যপূর্ণ অংশ; এর 'আকৃতিগত কারণ' হলো উৎকৃষ্ট পরিপক্কতা; আর এর 'চূড়ান্ত লক্ষ্য' হলো শরীরের পুষ্টিসাধন। পিত্তের নিমিত্ত কারণ—যদি তা স্বাভাবিক হয় যা রক্তের ফেনা—তবে তা পরিমিত তাপ; আর যদি দহনপ্রাপ্ত হয় তবে তা তীব্র দহনকারী তাপ, বিশেষ করে যকৃতে। এর উপাদানগত কারণ হলো সূক্ষ্ম, উষ্ণ, মিষ্ট ও চর্বিযুক্ত খাদ্য। এর আকৃতিগত কারণ হলো পরিপক্কতার সীমা অতিক্রম করে দহন স্তরে পৌঁছানো এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো উল্লেখিত প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা পূরণ করা।

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٣٥)
والبلغم سَببه الفاعلي حرارة مقصرة وَسَببه المادّي الغليظ الرطب اللزج الْبَارِد من الأغذية. وَسَببه الصُّورِي قُصُور النضج وَسَببه التمامي ضَرُورَته ومنفعته المذكورتان. والسوداء سَببهَا الفاعلي. أما الرسوبي مِنْهَا فحرارة معتدلة. وَأما المحترق مِنْهَا فحرارة مُجَاوزَة للاعتدال وسبهها المادي الشَّديد الغلظ الْقَلِيل الرُّطُوبَة من الأغذية والحار مِنْهَا قوي فِي ذَلِك وسببها الصُّورِي الثفل المترسب على أحد الْوَجْهَيْنِ فَلَا يسيل أَو لَا يتَحَلَّل وسببها التمامي ضرورتها ومنفعتها المذكورتان. والسوداء تكْثر لحرارة الكبد أَو لضعف الطحال أَو لشدَّة برد مجمد أَو لدوام احتقان أَو لأمراض كثرت وطالت فرمدت الأخلاط. وَإِذا كثرت السَّوْدَاء ووقفت بَين الْمعدة والكبد قل مَعهَا تولد الدَّم والأخلاط الجيدة فقلّ الدَّم. وَيجب أَن تعلم أَن الْحَرَارَة والبرودة سببان لتولد الأخلاط مَعَ سَائِر الْأَسْبَاب لَكِن الْحَرَارَة المعتدلة يولّد الدَّم والمفرطة تولد الصَّفْرَاء والمفرطة جدًّا تولد السَّوْدَاء بفرط الاحتراق والبرودة تولد البلغم والمفرطة جدا تولد السَّوْدَاء بفرط الإجماد وَلَكِن يجب أَن تراعى القوى المنفعلة بِإِزَاءِ القوى الفاعلة وَلَيْسَ يجب أَن يقف الِاعْتِقَاد على أَن كل مزاج يُولد الشبيه بِهِ وَلَا يُولد الضّد بِالْعرضِ وَإِن لم يكن بِالذَّاتِ فَإِن المزاج قد يتَّفق لَهُ كثيرا أَن يُولد الضِّدّ فَإِن المزاج الْبَارِد الْيَابِس يُولد الرُّطُوبَة الغريبة لَا للمشاكلة وَلَكِن لضعف الهضم وَمثل هَذَا الْإِنْسَان يكون نحيفاً رخو المفاصل أَذْعَر الْفَصْل التَّاسِع فِي أَحْوَال الْأَدْوِيَة المسهّلة من الْأَدْوِيَة المسهلة مَا غائلته عَظِيمَة مثل الخربق الْأسود وَمثل التُرْبُد إِذا لم يكن أَبيض جيدا بل كَانَ من جنس الْأَصْفَر وَمثل الغاريقون إِذا لم يكن أَبيض خَالِصا بل كَانَ إِلَى السوَاد وكالمازريون فَإِن هَذِه الْأَشْيَاء رَدِيئَة فَإِذا اتّفق شرب شَيْء من ذَلِك وَعرضت أَعْرَاض رَدِيئَة فَالصَّوَاب أَن يدْفع الدَّوَاء عَن الْبدن مَا أمكن بقيء أَو إحدار وليعالج بالترياق وَكَثِيرًا مِنْهَا مَا يدْفع شرّه وإفساده للنَّفس بسقي المَاء الْبَارِد جدا وَالْجُلُوس فِيهِ كالتربد الْأَصْفَر والعفن وَبِكُل مَا يكسر الحدة أَيْضا بتغرية وتليين ودسومة فِيهَا غروية فينفع من ذَلِك. وَقد يُنَاسب بعض الْأَدْوِيَة بعض الأمزجة وَلَا يُنَاسب بَعْضهَا فَإِن السقمونيا لَا يعْمل فِي أهل الْبلدَانِ الْبَارِدَة إِلَّا فعلا ضَعِيفا مَا لم يسْتَعْمل مِنْهُ مِقْدَار كثير كعادته فِي بِلَاد التّرْك وَرُبمَا احْتِيجَ فِي بعض الْبلدَانِ والأبدان إِلَى أَن لَا يسْتَعْمل أجرام الْأَدْوِيَة بل قواها. وَمن الْوَاجِب أَن يخلط بالأدوية المسهلة الْأَدْوِيَة العطرية ليحفظ بهَا قوى الْأَعْضَاء والأدوية الطّيبَة حَسَنَة الْموقع من ذَلِك لِأَنَّهَا تقَوِّي الرّوح الحيواني فِي كل عُضْو. وأكثرها معِين بتلطيفه وتسييله وَقد يجْتَمع دواءان: أَحدهمَا سريع الإسهال لخلطه وَالْآخر بطيء فيفرغ الأول من فعله قبل ابْتِدَاء الثَّانِي فِي فعله وَقد يزاحم الثَّانِي فِي خلطه أَيْضا مزاحمة تكسر قوته وَإِذا ابْتَدَأَ الثَّانِي بعده كَانَ ضَعِيف الْقُوَّة محركاً غير بَالغ فَيجب أَن يركب مَعَه مَا يَسْتَعْمِلهُ بِسُرْعَة كالزنجبيل للتربد فَإِنَّهُ لَا يَدعه يتبلد إِلَى حِين وَلذَلِك جوذب الْخَلْط بَينهمَا. وَيجب أَن تتأمل أصولاً بيّناها فِي قوى الْأَدْوِيَة المسهّلة حَيْثُ تكلّمنا فِي أصُول كُلية للأدوية المفردة. والدواء المسهل قد يسهل بالتحليل مَعَ خاصية كالتربد وَقد يسهل بالعصر مَعَ خاصية كالهليلج وَقد يسهل بالتليين مَعَ خاصية كالشيرخشك وَقد يسهل بالإزلاق كلعاب بزرقطونا والإجاص. وَأكْثر الْأَدْوِيَة القوية فِيهَا سميَّة مَا فيسهل على سَبِيل قسر الطبيعة فَيجب أَن يصلحها بِمَا فِيهِ فادزهرية وَقد تعين المرارة والحرافة وَالْقَبْض والعفونة والحموضة كثيرا على فعل الدَّوَاء إِذا وَافَقت خاصيته فَإِن المرارة والحرافة تعينان على التَّحْلِيل. والعفوصة على الْعَصْر. والحموضة على التقطيع المعَدّ للإزلاق. وَيجب أَن لَا يجمع بَين مزلق وعاصر على وَجه تَتَكَافَأ فِيهِ قوتاهما بل يصلح فِي مثله أَن يتباطأ أَحدهمَا عَن الآخر فَيكون مثل أحد الدواءين مليناً يفعل فعله قبل فعل العاصر ثمَّ يلْحق العاصر فيسهل مَا لينه وعَلى هَذَا الْقيَاس. جباناَ بَارِد اللَّمْس ناعمه ضيق الْعُرُوق. وشبيه بِهَذَا مَا تولد الشيخوخة البلغم على أَن مزاج الشيخوخة بِالْحَقِيقَةِ برد ويبس. وَيجب أَن تعلم أَن للدم وَمَا يجْرِي مَعَه فِي الْعُرُوق هضماً ثالثاَ وَإِذا توزع على الْأَعْضَاء فليصب كل عُضْو عِنْده هضم رَابِع ففضل الهضم الأول وَهُوَ فِي الْمعدة ينْدَفع من طَرِيق الأمعاء. وَفضل الهضم الثَّانِي وَهُوَ فِي الكبد ينْدَفع أَكْثَره فِي الْبَوْل وَبَاقِيه من جِهَة الطحال والمرارة وَفضل الهضمين الباقيين ينْدَفع بالتحلل الَّذِي لَا يحس وبالعرق والوسخ الْخَارِج بعضه من منافذ محسوسة كالأنف والصماخ أَو غير محسوس كالمسام أَو خَارِجَة عَن الطَّبْع كالأورام المتفجرة أَو بِمَا ينْبت من زَوَائِد الْبدن كالشعر وَالظفر. وَاعْلَم أَن من رقت أخلاطه أضعفه استفراغها وتأذى بسعة مسامه إِن كَانَت وَاسِعَة تأذياً فِي قوّته لما يتبع التَّحَلُّل من الضعْف وَلِأَن الأخلاط الرقيقة سهله الاستفراغ والتحلل وَمَا سهل استفراغه وتحلّله سهل استصحابه للروح فِي تحلله فيتحلل مَعَه. وَاعْلَم أَنه كَمَا أَن لهَذِهِ الأخلاط أسباباً فِي تولدها فَكَذَلِك لَهَا أَسبَاب فِي حركتها فَإِن الْحَرَكَة والأشياء الحارة تحرّك الدَّم والصفراء وَرُبمَا حركت السَّوْدَاء وتقويها لَكِن الدعة تقَوِّي البلغم وصنوفاً من السَّوْدَاء. والأوهام أَنْفسهَا تحرّك الأخلاط مثل أَن الدَّم يحرّكه النّظر إِلَى الْأَشْيَاء الْحمر وَلذَلِك ينْهَى المرعوف عَن أَن يبصر مَاله بريق أَحْمَر فَهَذَا مَا نقُوله فِي الأخلاط وتولدها وَأما مخاصمات الْمُخَالفين فِي صوابها فَإلَى الْحُكَمَاء دون الْأَطِبَّاء.

শ্লেষ্মার কার্যকারণগত হেতু হলো অপূর্ণ তাপ; এর উপাদানগত হেতু হলো খাদ্যদ্রব্যের ঘন, সিক্ত, আঠালো ও শীতল অংশ। এর রূপগত হেতু হলো পরিপাকের অপূর্ণতা এবং এর উদ্দেশ্যগত হেতু হলো ইতিপূর্বে উল্লিখিত এর প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা। কৃষ্ণপিত্তের কার্যকারণগত হেতু নিম্নরূপ: এর তলানিবৎ অংশের জন্য পরিমিত তাপ এবং এর দগ্ধ অংশের জন্য অতিমাত্রার তাপ দায়ী। এর উপাদানগত হেতু হলো খাদ্যের অত্যন্ত ঘন ও স্বল্প সিক্ত অংশ, আর উষ্ণ খাদ্য এক্ষেত্রে অধিক প্রভাব বিস্তার করে। এর রূপগত হেতু হলো সেই তলানি যা দুই পদ্ধতির কোনো একটিতে জমাট বাঁধে, ফলে তা প্রবাহিত হয় না বা বিশ্লিষ্ট হয় না। এর উদ্দেশ্যগত হেতু হলো ইতিপূর্বে উল্লিখিত এর প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা।

যকৃতের অত্যধিক তাপ, প্লীহার দুর্বলতা, জমাটবদ্ধকারী তীব্র শৈত্য, দীর্ঘস্থায়ী রুদ্ধতা অথবা দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন রোগের কারণে কৃষ্ণপিত্ত বৃদ্ধি পায়, যা দৈহিক রসসমূহকে দগ্ধ বা ভস্মীভূত করে। যখন কৃষ্ণপিত্ত বৃদ্ধি পেয়ে পাকস্থলী ও যকৃতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান নেয়, তখন রক্ত ও উৎকৃষ্ট রসসমূহের উৎপাদন হ্রাস পায়, ফলে রক্তাল্পতা দেখা দেয়। আপনার জানা উচিত যে, অন্যান্য কারণের পাশাপাশি তাপ ও শৈত্য হলো দৈহিক রসসমূহ উৎপাদনের প্রধান দুটি কারণ। তবে পরিমিত তাপ রক্ত উৎপন্ন করে, অতিরিক্ত তাপ পীতপিত্ত উৎপন্ন করে এবং অত্যধিক তাপ দহনের আধিক্যের মাধ্যমে কৃষ্ণপিত্ত উৎপাদন করে। অন্যপক্ষে, শৈত্য শ্লেষ্মা উৎপন্ন করে এবং অতিমাত্রার শৈত্য জমাটবদ্ধতার আধিক্যের মাধ্যমে কৃষ্ণপিত্ত উৎপন্ন করে। তবে সক্রিয় শক্তির বিপরীতে গ্রহণক্ষম শক্তিগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। এমন ধারণা পোষণ করা ঠিক নয় যে, প্রতিটি মেজাজ কেবল নিজের সদৃশ বস্তুই উৎপন্ন করে এবং পরোক্ষভাবে বিপরীত বস্তু উৎপন্ন করে না। প্রকৃতপক্ষে, মেজাজ বা শারীরিক প্রকৃতি প্রায়শই বিপরীত গুণসম্পন্ন বস্তু উৎপন্ন করে। উদাহরণস্বরূপ, শীতল-শুষ্ক মেজাজ হজমের দুর্বলতার কারণে বাহ্যিক আর্দ্রতা উৎপন্ন করে, যা কোনো সাদৃশ্যের কারণে নয়। এমন ব্যক্তি সাধারণত কৃশকায়, শিথিল গ্রন্থিবিশিষ্ট ও ভীরু স্বভাবের হয়ে থাকে।

নবম পরিচ্ছেদ: বিরেচক ওষুধসমূহের অবস্থা প্রসঙ্গে। বিরেচক ওষুধসমূহের মধ্যে কিছু আছে যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অনিষ্টকারিতা প্রবল, যেমন: কৃষ্ণ খরবক; এবং তুরুবুদ যখন তা উৎকৃষ্ট সাদা না হয়ে হলদে বর্ণের হয়; এবং ঘারিকুন যখন তা খাঁটি সাদা না হয়ে কালচে বর্ণের হয়; এবং মাজরিয়ুন। এই বস্তুগুলো ক্ষতিকর। যদি কেউ ভুলবশত এগুলো সেবন করে এবং বিরূপ উপসর্গ দেখা দেয়, তবে সঠিক পন্থা হলো শরীর থেকে বমি বা মলত্যাগের মাধ্যমে দ্রুত সেই ওষুধটি বের করে দেওয়া এবং বিষনাশক দ্বারা চিকিৎসা করা। অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত শীতল পানি পান এবং তাতে অবগাহন করার মাধ্যমে এগুলোর অনিষ্টতা ও প্রাণহানি রোধ করা যায়, যেমন পীত তুরুবুদ ও পচা ওষুধের ক্ষেত্রে। এছাড়া আঠালো, পিচ্ছিল ও তৈলাক্ত বস্তুর মাধ্যমে এর তীব্রতা প্রশমিত করা যায়।

কিছু ওষুধ নির্দিষ্ট কিছু মেজাজের জন্য উপযোগী হলেও অন্যের জন্য নয়। যেমন সাকমুনিয়া শীতল জলবায়ুর দেশগুলোতে বিশেষ কার্যকর হয় না, যদি না অধিক পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। কখনো কোনো দেশ বা দেহের জন্য ওষুধের স্থুল উপাদান ব্যবহারের পরিবর্তে কেবল তার নির্যাস বা শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। বিরেচক ওষুধের সাথে সুগন্ধিযুক্ত ওষুধ মিশ্রিত করা আবশ্যক যেন তা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শক্তি রক্ষা করে। সুগন্ধি ওষুধ এক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ, কারণ তা প্রতিটি অঙ্গের জীবনীশক্তিকে সবল করে। এগুলোর অধিকাংশই লঘুকরণ ও প্রবাহের মাধ্যমে সাহায্য করে। কখনো দুটি ওষুধ একত্রে প্রয়োগ করা হয়, যার একটি দ্রুত বিরেচক এবং অন্যটি ধীরগতির। এক্ষেত্রে প্রথমটি দ্বিতীয়টির ক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই নিজের কাজ শেষ করে ফেলে। কখনো দ্বিতীয়টি প্রথমটির কার্যে বাধা প্রদান করে তার শক্তি হ্রাস করে। যদি দ্বিতীয় ওষুধটি প্রথমটির পরে কাজ শুরু করে এবং তা দুর্বল হয়, তবে তা কেবল রসগুলোকে আলোড়িত করে কিন্তু নির্গত করতে পারে না। তাই এর সাথে এমন উপাদান যোগ করা উচিত যা তার কার্যকারিতা দ্রুত করে, যেমন তুরুবুদ-এর সাথে আদা। এটি রসগুলোকে নিস্তেজ হতে দেয় না এবং উভয়ের মধ্যে আকর্ষণ সৃষ্টি করে।

আপনার সেই সকল মূলনীতি অনুধাবন করা উচিত যা আমরা বিরেচক ওষুধের শক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছি যেখানে একক ওষুধসমূহের সাধারণ মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিরেচক ওষুধ কখনো বিশ্লেষণের মাধ্যমে কাজ করে যেমন তুরুবুদ; কখনো চাপের মাধ্যমে যেমন হরীতকী; কখনো নরম করার মাধ্যমে যেমন শিরখুশক; আবার কখনো পিচ্ছিল করার মাধ্যমে যেমন ইসবগুলের ভুসি ও আলুবোখারা। অধিকাংশ শক্তিশালী ওষুধের মধ্যে বিষক্রিয়া থাকে যা প্রকৃতির ওপর জোর খাটিয়ে বিরেচন ঘটায়, তাই সেগুলোকে বিষনাশক উপাদানের মাধ্যমে সংশোধন করা উচিত। তিক্ততা, কটুতা, কষায় ভাব, পচনশীলতা ও অম্লতা অনেক সময় ওষুধের ক্রিয়ায় সাহায্য করে যদি তা ওষুধের বিশেষ গুণের অনুকূল হয়। তিক্ততা ও কটুতা বিশ্লেষণে সাহায্য করে; কষায় ভাব চাপ সৃষ্টিতে এবং অম্লতা পিচ্ছিলকরণের প্রস্তুতি হিসেবে বিভাজনে সাহায্য করে। পিচ্ছিলকারক ও চাপ সৃষ্টিকারক ওষুধকে সমশক্তিতে একত্রে মিশ্রিত করা অনুচিত, বরং একটির পর অন্যটি কাজ করা উত্তম। যেমন প্রথমে একটি ওষুধ মল নরম করবে, এরপর অন্যটি চাপ দিয়ে তা বের করে দেবে; এভাবেই নিয়ম রক্ষা করতে হবে।

ভীরু স্বভাবের ব্যক্তির স্পর্শ শীতল ও মসৃণ হয় এবং তাদের শিরাগুলো সংকুচিত থাকে। এর সদৃশ হলো বার্ধক্যজনিত শ্লেষ্মার আধিক্য, যদিও বার্ধক্যের প্রকৃত মেজাজ হলো শীতল ও শুষ্ক। আপনার জানা উচিত যে, রক্ত ও শিরায় প্রবাহিত রসের জন্য একটি তৃতীয় পরিপাক প্রক্রিয়া রয়েছে। যখন এগুলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বিভাজিত হয়, তখন প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব চতুর্থ পরিপাক প্রক্রিয়া থাকে। প্রথম পরিপাক পাকস্থলীতে সম্পন্ন হয় এবং এর বর্জ্য অন্ত্রের মাধ্যমে বের হয়। দ্বিতীয় পরিপাক যকৃতে সম্পন্ন হয় এবং এর অধিকাংশ বর্জ্য প্রস্রাবের মাধ্যমে এবং অবশিষ্টাংশ প্লীহা ও পিত্তথলির মাধ্যমে নির্গত হয়। বাকি দুই পরিপাকের বর্জ্য অদৃশ্য বাষ্পীভবন, ঘাম এবং বাহ্যিক ময়লার মাধ্যমে বের হয়—যার কিছু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পথ যেমন নাক ও কান দিয়ে এবং কিছু সূক্ষ্ম লোমকূপের মাধ্যমে নির্গত হয়। আবার কখনো অস্বাভাবিক পথে যেমন ক্ষত বা ফোড়া ফেটে যাওয়ার মাধ্যমে অথবা নখ ও চুলের মতো বর্ধিত অংশের মাধ্যমে নির্গত হয়।

জেনে রাখুন, যাদের দৈহিক রসসমূহ পাতলা, তাদের শরীর থেকে এই রস নির্গমন তাদের দুর্বল করে দেয় এবং লোমকূপ প্রশস্ত হলে বাষ্পীভবনের কারণে তারা শারীরিক দুর্বলতায় ভোগে। কারণ পাতলা রস দ্রুত নির্গত ও বাষ্পীভূত হয়, আর যা দ্রুত নির্গত হয় তা প্রাণের শক্তিকেও সাথে নিয়ে যায়। আরও জেনে রাখুন, এই রসসমূহ উৎপাদনের যেমন সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, তেমনি এগুলোর সঞ্চালনেরও কারণ আছে। নড়াচড়া ও উষ্ণ বস্তু রক্ত ও পীতপিত্তকে সঞ্চালিত করে এবং কখনো কৃষ্ণপিত্তকেও আলোড়িত ও শক্তিশালী করে। তবে বিশ্রাম শ্লেষ্মা ও কৃষ্ণপিত্তের কিছু প্রকারকে বৃদ্ধি করে। এমনকি কল্পনা বা মানসিক অবস্থাও রসগুলোকে আলোড়িত করে; যেমন লাল বস্তুর দিকে তাকালে রক্ত সঞ্চালিত হয়। এই কারণেই নাক দিয়ে রক্ত পড়া রোগীকে উজ্জ্বল লাল বর্ণের দিকে তাকাতে নিষেধ করা হয়। দৈহিক রস ও তাদের উৎপত্তি সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য এটুকুই। এ বিষয়ে ভিন্নমতাবলম্বীদের তর্কের নিরসন চিকিৎসকদের কাজ নয়, বরং প্রজ্ঞাবানদের কাজ।

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٣٦)
التَّعْلِيم الْخَامِس فصل وَاحِد وَخمْس جمل مَاهِيَّة الْعُضْو وأقسامه فَنَقُول الْأَعْضَاء أجسام مُتَوَلّدَة من أول مزاج الأخلاط المحمودة كَمَا أَن الأخلاط أجسام مُتَوَلّدَة من أول مزاج الْأَركان. والأعضاء: مِنْهَا مَا هِيَ مُفْردَة وَمِنْهَا مَا هِيَ مركبة. والمفردة هِيَ الَّتِي أَي جُزْء محسوس أخذت مِنْهَا كَانَ مشاركاً للْكُلّ فِي الِاسْم وَالْحَد مثل اللَّحْم وأجزائه والعظم وأجزائه والعصب وأجزائه وَمَا أشبه ذَلِك تسمى متشابهة الْأَجْزَاء. والمركبة: هِيَ الَّتِي إِذا أخذت مِنْهَا جُزْءا أَي جُزْء كَانَ لم يكن مشاركاً للْكُلّ لَا فِي الِاسْم وَلَا فِي الْحَد مثل الْيَد وَالْوَجْه فَإِن جُزْء الْوَجْه لَيْسَ بِوَجْه وجزء الْيَد لَيْسَ بيد وَتسَمى أَعْضَاء آلية لِأَنَّهَا هِيَ آلَات النَّفس فِي تَمام الحركات وَالْأَفْعَال. وَأول الْأَعْضَاء المتشابهة الْأَجْزَاء الْعظم: وَقد خلق صلباً لِأَنَّهُ أساس الْبدن ودعامة الحركات. ثمَّ الغضروف: وَهُوَ أَلين من الْعظم فينعطف وأصلب من سَائِر الْأَعْضَاء وَالْمَنْفَعَة فِي خلقه أَن يحسن بِهِ اتِّصَال الْعِظَام بالأعضاء اللينة فَلَا يكون الصلب واللين قد تركبا بِلَا متوسط فَيَتَأَذَّى اللين بالصلب وخصوصاً عِنْد الضَّرْبَة والضغطة بل يكون التَّرْكِيب مدرجاً مثل مَا فِي الْعظم الكتفي والشراسيف فِي أضلاع الْخلف وَمثل الغضروف الحنجري تَحت القصٌ وَأَيْضًا ليحسن بِهِ تجاور المفاصل المتحاكة فَلَا ترضّ لصلابتها وأيضاَ إِذا كَانَ بعض العضل يَمْتَد إِلَى عُضْو غير ذِي عظم يسْتَند إِلَيْهِ ويقوَى بِهِ مثل عضلات الأجفان كَانَ هُنَاكَ دعاماً وعماداً لأوتارها وَأَيْضًا فَإِنَّهُ قد تمس الْحَاجة فِي مَوَاضِع كَثِيرَة إِلَى اعْتِمَاد يَتَأَتَّى على شَيْء قوِيٍ لَيْسَ بغاية الصلابة كَمَا فِي الحنجرة. ثمَّ العصب: وَهِي أجسام دماغية أَو نخاعية المنبت بيض لدنة لينَة فِي الانعطاف صلبة فِي الِانْفِصَال خلقت ليتم بهَا للأعضاء الإحساس وَالْحَرَكَة ثمَّ الأوتار وَهِي أجسام تنْبت من أَطْرَاف العضل شَبيهَة بالعصب فتلاقي الْأَعْضَاء المتحركة فَتَارَة تجذبها بانجذابها لتشنج العضلة

পঞ্চম পাঠ: এক অধ্যায় ও পাঁচ পরিচ্ছেদ। অঙ্গের প্রকৃত স্বরূপ ও এর প্রকারভেদ।

আমরা বলি: অঙ্গসমূহ হলো এমন দেহ যা পরিচ্ছন্ন দেহরসসমূহের (আখলাত) প্রাথমিক মেজাজ বা মিশ্রণ থেকে উৎপন্ন, যেমন দেহরসসমূহ মৌলিক উপাদানসমূহের (আরকান) প্রাথমিক মেজাজ থেকে উৎপন্ন। অঙ্গসমূহ দুই প্রকার: সরল ও যৌগিক।

সরল অঙ্গ হলো সেইসব, যার প্রতিটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অংশ নাম ও সংজ্ঞার ক্ষেত্রে তার সমগ্রের সমগুণসম্পন্ন হয়; যেমন মাংস ও এর অংশবিশেষ, অস্থি ও এর অংশবিশেষ, স্নায়ু ও এর অংশবিশেষ এবং এই জাতীয় অঙ্গসমূহ। এদের 'সমজাতীয় অংশবিশিষ্ট অঙ্গ' বলা হয়।

যৌগিক অঙ্গ হলো সেইসব, যা থেকে কোনো অংশ গ্রহণ করলে তা নাম বা সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সমগ্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না; যেমন হাত ও মুখমণ্ডল। কারণ মুখমণ্ডলের একটি অংশকে মুখমণ্ডল বলা যায় না এবং হাতের একটি অংশকে হাত বলা যায় না। এদেরকে 'যান্ত্রিক অঙ্গ' বলা হয়, কারণ এগুলো নফসের গতি ও ক্রিয়া সম্পন্ন করার যন্ত্র হিসেবে কাজ করে।

সমজাতীয় অঙ্গসমূহের মধ্যে প্রথম হলো অস্থি (হাড়): এটি শক্ত হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে কারণ এটি দেহের মূল ভিত্তি এবং চলনক্রিয়ার ধারক। এরপর তরুণাস্থি: এটি হাড়ের চেয়ে নরম বিধায় নমনীয়, কিন্তু শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় শক্ত। এটি সৃষ্টির নিগূঢ় রহস্য হলো, এর মাধ্যমে কোমল অঙ্গের সাথে হাড়ের সংযোগ সুচারু হয়, যাতে করে শক্ত ও নরম বস্তু কোনো মাধ্যম ছাড়াই যুক্ত না হয়; ফলে শক্ত বস্তুর চাপে নরম অঙ্গ ব্যথিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বিশেষ করে আঘাত বা চাপের সময়। বরং এর গঠনটি ক্রমবিন্যস্ত হয়, যেমন কাঁধের অস্থি, পাজরের প্রান্তীয় উপাস্থি এবং স্টার্নামের নিচে অবস্থিত কণ্ঠনালীর তরুণাস্থি। এছাড়া এটি ঘর্ষণকারী সন্ধিগুলোর মিলনস্থলকে মসৃণ করে যাতে তাদের কাঠিন্যের কারণে কোনো ঘর্ষণজনিত ক্ষতি না হয়। তদুপরি, যখন কোনো পেশী এমন কোনো অঙ্গে বিস্তৃত হয় যেখানে অবলম্বন করার মতো কোনো হাড় নেই, তখন তরুণাস্থি সেখানে তাদের স্নায়ুতন্তুর জন্য খুঁটি ও অবলম্বন হিসেবে শক্তি যোগায়, যেমন চোখের পাতার পেশীসমূহ। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে এমন অবলম্বনের প্রয়োজন হয় যা শক্তিশালী হবে কিন্তু অত্যধিক শক্ত হবে না, যেমনটি ল্যারিংক্স বা কণ্ঠনালীর ক্ষেত্রে দেখা যায়।

এরপর স্নায়ু: এগুলো মস্তিষ্ক বা সুষুম্নাকাণ্ড থেকে উৎপন্ন শ্বেতবর্ণের নমনীয় বস্তু যা বাঁকানোর ক্ষেত্রে কোমল কিন্তু ছিঁড়ে ফেলার ক্ষেত্রে শক্ত। এগুলো অঙ্গসমূহের অনুভূতি ও চলনক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এরপর কণ্ডরা (টেন্ডন): এগুলো পেশীর প্রান্তভাগ থেকে উৎপন্ন স্নায়ুর সদৃশ বস্তু। এগুলো চলনশীল অঙ্গের সাথে মিলিত হয় এবং পেশীর সংকোচনের ফলে উৎপন্ন টানের মাধ্যমে সেগুলোকে চালিত করে।

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٣٧)
واجتماعها ورجوعها إِلَى وَرَائِهَا وَتارَة ترخيها باسترخائها لانبساط العضلة عَائِدَة إِلَى وَضعهَا أَو زَائِدَة فِيهِ على مقدارها فِي طولهَا حَال كَونهَا على وَضعهَا المطبوع لَهَا على مَا نرَاهُ نَحن فِي بعض العضل وَهِي مؤلفة فِي الْأَكْثَر من العصب النَّافِذ فِي العضلة البارزة مِنْهَا فِي الْجِهَة الْأُخْرَى. وَمن الْأَجْسَام الَّتِي يَتْلُو ذكرهَا ذكر الأوتار وَهِي الَّتِي تسميها رباطات: وَهِي أَيْضا عصبانية الْمرَائِي والملمس تَأتي من الْأَعْضَاء إِلَى جِهَة العضل فتتشظّى هِيَ والأوتار ليفاً فَمَا ولي العضلة مِنْهَا احتشى لَحْمًا وَمَا فَارقهَا إِلَى الْمفصل والعضو المحرك اجْتمع إِلَى ذَاته وانفتل وترا لَهَا ثمَّ الرباطات الَّتِي ذكرنَا وَهِي أَيْضا أجسام شَبيهَة بالعصب بَعْضهَا يُسمى رِبَاطًا مُطلقًا وَبَعضهَا يخص باسم الْعقب فَمَا امْتَدَّ إِلَى العضلة لم يسم إِلَّا رِبَاطًا وَمَا لم يَمْتَد إِلَيْهَا وَلَكِن وصل بَين طرفِي عظمي الْمفصل أَو بَين أَعْضَاء أُخْرَى وَأحكم شدّ شَيْء إِلَى شَيْء فَإِنَّهُ مَعَ مَا يسمّى رِبَاط قد يخصّ باسم الْعقب وَلَيْسَ لشَيْء من الروابط حس وَذَلِكَ لِئَلَّا يتَأَذَّى بِكَثْرَة مَا يلْزمه من الْحَرَكَة والحك. وَمَنْفَعَة الرِّبَاط مَعْلُومَة مِمَّا سلف. ثمَّ الشريانات: وَهِي أجسام نابتة من الْقلب ممتدة مجوفة طولا عصبانية رباطية الْجَوْهَر لَهَا حركات منبسطة ومنقبضة تنفصل بسكنات خلقت لترويح الْقلب ونفض البخار الدخاني عَنهُ ولتوزيع الرّوح على أَعْضَاء الْبدن بِإِذن الله. ثمَّ الأوردة: وَهِي شَبيهَة بالشريانات وَلكنهَا نابتة من الكبد وساكنة ولتوزع الدَّم على أَعْضَاء الْبدن ثمَّ الأغشية وَهِي أجسام منتسجة من لِيف عصباني غير محسوس رقيقَة الثخن مستعرضة تغشى سطوح أجسام أخر وتحتوي عَلَيْهَا لمنافع مِنْهَا لتحفظ جُمْلَتهَا على شكلها وهيئتها وَمِنْهَا لتعلقها من أَعْضَاء أخر وتربطها بهَا بِوَاسِطَة العصب والرَّباط الَّتِي تشظى إِلَى ليفها فانتسجت مِنْهُ كالكلية من الصلب وَمِنْهَا ليَكُون للأعضاء العديمة الْحس فِي جوهرها سطح حساس بِالذَّاتِ لما يلاقيه وحساس لما يحدث فِيهِ الْجِسْم الملفوف فِيهِ بِالْعرضِ وَهَذِه الْأَعْضَاء مثل الرئة والكبد وَالطحَال والكليتين فَإِنَّهَا لَا تحسّ بجواهرها الْبَتَّةَ لَكِن إِنَّمَا تحس الْأُمُور المصادمة لَهَا بِمَا عَلَيْهَا من الأغشية وَإِذا حدث فِيهَا ريح أَو ورم أحس. أما الرّيح فيحسه الغشاء بِالْعرضِ للتمدد الَّذِي يحدث فِيهِ وَأما الورم فيحسّه مبدأ الغشاء ومتعلقه بِالْعرضِ لأرجحنان الْعُضْو لثقل الورم. ثمَّ اللَّحْم: وَهُوَ حَشْو خلل وضع هَذِه الْأَعْضَاء فِي الْبدن وقوتها الَّتِي تعدم بِهِ وكل عُضْو فَلهُ فِي نَفسه قُوَّة غريزية بهَا يتمّ لَهُ أَمر التغذي وَذَلِكَ هُوَ جذب الْغذَاء وإمساكه وتشبيهه وإلصاقه وَدفع الْفضل ثمَّ بعد ذَلِك تخْتَلف الْأَعْضَاء فبعضها لَهُ إِلَى هَذِه الْقُوَّة قُوَّة تصير مِنْهُ إِلَى غَيره وَبَعضهَا لَيْسَ لَهُ ذَلِك. وَمن وَجه آخر فبعضها لَهُ إِلَى هَذِه الْقُوَّة قُوَّة تصير إِلَيْهِ من غَيره وَبَعضهَا لَيْسَ لَهُ تِلْكَ فَإِذا تركبت حدث عُضْو قَابل
এগুলোর সংকোচন ও স্বীয় অবস্থানে প্রত্যাবর্তন এবং কখনও পেশী শিথিল হওয়ার কারণে এগুলোর ঢিলে হয়ে যাওয়া মূলত পেশীর প্রসারণের ফলে ঘটে থাকে, যা তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে কিংবা তার স্বাভাবিক দৈর্ঘ্যের চেয়েও বৃদ্ধি পায়—যেমনটি আমরা কিছু পেশীর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করি। এগুলো মূলত পেশীর মধ্য দিয়ে প্রবিষ্ট স্নায়ু দ্বারা গঠিত, যা পেশীর অপর প্রান্ত দিয়ে নির্গত হয়। এরপর আসে কণ্ডরা (অউতার) সমূহের আলোচনা, যা অনেক ক্ষেত্রে সন্ধিবন্ধনী নামেও অভিহিত করা হয়। এগুলো দেখতে এবং স্পর্শে স্নায়ুর ন্যায়। এগুলো অঙ্গসমূহ থেকে পেশীর দিকে ধাবিত হয় এবং কণ্ডরার সাথে আঁশ বা তন্তুর ন্যায় বিভক্ত হয়ে যায়। এর যে অংশ পেশীর সংলগ্ন থাকে তা মাংসে পরিপূর্ণ হয় এবং যা সন্ধিস্থল ও চালিকা অঙ্গের দিকে যায় তা একত্রিত ও পাকানো অবস্থায় কণ্ডরায় পরিণত হয়। অতঃপর সন্ধিবন্ধনী (রিবাতাত), যা স্নায়ুর মতো দেহবিশেষ। কোনোটি কেবল সন্ধিবন্ধনী নামে পরিচিত এবং কোনোটি ‘আকাব’ (গোড়ালি-সংশ্লিষ্ট বন্ধনী) নামে বিশিষ্ট। যা পেশী পর্যন্ত বিস্তৃত হয় তাকে কেবল সন্ধিবন্ধনী বলা হয়। আর যা পেশী পর্যন্ত বিস্তৃত না হয়ে দুই অস্থির সন্ধিস্থল অথবা অন্য কোনো অঙ্গের প্রান্তদ্বয়কে সংযুক্ত করে এবং কোনো বস্তুকে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখে, তাকে সন্ধিবন্ধনীর পাশাপাশি ‘আকাব’ও বলা হয়। সন্ধিবন্ধনীসমূহের কোনো অনুভূতি শক্তি নেই, যাতে অতিরিক্ত নড়াচড়া ও ঘর্ষণের ফলে কষ্ট অনুভূত না হয়। সন্ধিবন্ধনীর উপকারিতা পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর ধমনীসমূহ (শরীয়ানাত): এগুলো হৃৎপিণ্ড থেকে উৎপন্ন ফাঁপা ও দীর্ঘ অঙ্গবিশেষ, যার মূল উপাদান স্নায়ু ও সন্ধিবন্ধনীর ন্যায়। এগুলোর সংকোচন ও প্রসারণমূলক গতি রয়েছে যা বিরতির মাধ্যমে পৃথক হয়। এগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে হৃৎপিণ্ডকে শীতল রাখতে, ধূম্রাভ বাষ্প নির্গত করতে এবং আল্লাহর নির্দেশে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রাণশক্তি (রূহ) পৌঁছে দিতে। অতঃপর শিরাসমূহ (আউরিদাহ): এগুলো ধমনীর সদৃশ কিন্তু যকৃৎ (কলিজা) থেকে উৎপন্ন এবং এগুলো স্পন্দনহীন। এগুলোর কাজ হলো শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত সরবরাহ করা। অতঃপর ঝিল্লি বা পর্দাসমূহ (আগশিয়াহ): এগুলো অনুভূতিহীন স্নায়বিক তন্তু দ্বারা গঠিত পাতলা ও প্রশস্ত দেহবিশেষ, যা অন্যান্য অঙ্গের উপরিভাগ ঢেকে রাখে। এর নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে: অঙ্গের সামগ্রিক অবয়ব ও আকৃতি সংরক্ষণ করা, এবং স্নায়ু ও সন্ধিবন্ধনীর তন্তুর মাধ্যমে কোনো অঙ্গকে অন্য অঙ্গের সাথে ঝুলিয়ে রাখা বা যুক্ত রাখা—যেমন পিঠের হাড়ের সাথে বৃক্ক (কিডনি) যুক্ত থাকে। এর আরেকটি উদ্দেশ্য হলো অনুভূতিহীন অঙ্গসমূহের উপরিভাগে একটি সংবেদনশীল স্তর তৈরি করা, যাতে কোনো বাহ্যিক স্পর্শ বা অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের অনুভূতি পাওয়া যায়। ফুসফুস, যকৃৎ, প্লীহা ও বৃক্কের মতো অঙ্গগুলোর নিজস্ব কোনো অনুভূতি নেই, তবে এগুলোকে আবৃত করে রাখা পর্দার মাধ্যমে এগুলো বাহ্যিক আঘাত অনুভব করে। যখন এগুলোর ভেতর বায়ু বা ফোলা (প্রদাহ) সৃষ্টি হয়, তখন তা অনুভূত হয়। বায়ু জমার কারণে সৃষ্ট প্রসারণের ফলে পর্দা পরোক্ষভাবে তা অনুভব করে, আর প্রদাহের ক্ষেত্রে অঙ্গের ভার বেড়ে যাওয়ার কারণে পর্দার গোড়া ও সংযোগস্থল তা অনুভব করে। অতঃপর মাংস: এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যবর্তী শূন্যস্থানের পূরণকারী এবং অঙ্গের শক্তির উৎস। প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব সহজাত শক্তি (কুওয়াত গারিজিয়্যাহ) থাকে যার মাধ্যমে পুষ্টি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়; যেমন—খাদ্য আকর্ষণ করা, ধরে রাখা, পরিপাক করা, একীভূত করা এবং বর্জ্য নিষ্কাশন করা। এর পরে অঙ্গসমূহের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়; কোনো অঙ্গের এই শক্তির পাশাপাশি এমন শক্তি থাকে যা অন্য অঙ্গে সঞ্চারিত হয়, আবার কোনোটির তা থাকে না। অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে, কোনো অঙ্গের নিজস্ব শক্তির সাথে এমন শক্তি থাকে যা অন্য অঙ্গ থেকে তার দিকে আসে, আবার কোনোটির ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটে না। যখন এগুলো সমন্বিত হয়, তখন একটি গ্রহণকারী অঙ্গ উৎপন্ন হয়।
(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٣٨)
معطٍ وعضو معطٍ غير قَابل وعضو قَابل غير معط وعضو لَا قَابل وَلَا معطٍ أما الْعُضْو الْقَابِل الْمُعْطِي فَلم يشك أحد فِي وجوده فَإِن الدِّمَاغ والكبد أَجمعُوا أَن كل وَاحِد مِنْهُمَا يقبل قُوَّة الْحَيَاة والحرارة الغريزية وَالروح من الْقلب. وكل وَاحِد مِنْهُمَا أَيْضا مبدأ قُوَّة يُعْطِيهَا غَيره. وَأما الكبد: فمبدأ التغذية عِنْد قوم مُطلقًا وَعند قوم لَا مُطلقًا. وَأما الْعُضْو الْقَابِل الْغَيْر الْمُعْطِي فالشك فِي وجوده أبعد مثل اللَّحْم الْقَابِل قُوَّة الْحس والحياة وَلَيْسَ هُوَ مبدأ لقُوَّة يُعْطِيهَا غَيره بِوَجْه. وَأما القسمان الْآخرَانِ فَاخْتلف فِي أَحدهمَا الْأَطِبَّاء مَعَ الْكثير من الْحُكَمَاء فَقَالَ الْكثير من القدماء: أَن هَذَا الْعُضْو هُوَ الْقلب وَهُوَ الأَصْل لكل قُوَّة وَهُوَ يُعْطي سَائِر الْأَعْضَاء كلّها القوى الَّتِي تغذو وَالَّتِي تدْرك وتحرك. وَأما الْأَطِبَّاء وَقوم من أَوَائِل الفلاسفة فقد فرقوا هَذِه القوى فِي الْأَعْضَاء وَلم يَقُولُوا بعضو معط غير قَابل لقُوَّة وَقَول الْكثير عِنْد التَّحْقِيق والتدقيق أصح وَقَول الْأَطِبَّاء فِي بادىء النّظر أظهر. ثمَّ اخْتلف فِي الْقسم الآخر الْأَطِبَّاء فِيمَا بَينهم والحكماء فِيمَا بَينهم فَذَهَبت طَائِفَة إِلَى أَن الْعِظَام وَاللَّحم الْغَيْر الحساس وَمَا أشبههما إِنَّمَا يبْقى بقوى فِيهَا تخصها لم تأتها من مبادٍ أخر لَكِنَّهَا بِتِلْكَ القوى إِذا وصل إِلَيْهَا غذاؤها كفت أَنْفسهَا فَلَا هِيَ تفِيد شَيْئا اَخر قُوَّة فِيهَا وَلَا أَيْضا يفيدها عُضْو قُوَّة أُخْرَى. وَذَهَبت طَائِفَة إِلَى أَن تِلْكَ القوى لَيْسَ تخضها لَكِنَّهَا فائضة إِلَيْهَا من الكبد أَو الْقلب فِي أول الْكَوْن ثمَّ اسْتَقَرَّتْ فِيهِ والطبيب لَيْسَ عَلَيْهِ أَن يتتبع الْمخْرج إِلَى الْحق من هذَيْن الاختلافين بالبرهان فَلَيْسَ لَهُ إِلَيْهِ سَبِيل من جِهَة مَا هُوَ طَبِيب وَلَا يضرّه فِي شَيْء من مباحثه وأعماله وَلَكِن يجب أَن يعلم ويعتقد فِي الِاخْتِلَاف الأوّل أَنه لَا عَلَيْهِ كَانَ الْقلب مبدأ فِي الْحس وَالْحَرَكَة للدماغ وللقوة المغتذية للكبد أَو لم يكن فَإِن الدِّمَاغ إِمَّا بِنَفسِهِ وَإِمَّا بعد الْقلب مبدأ للأفاعيل النفسانية بِالْقِيَاسِ إِلَى سَائِر الْأَعْضَاء. والكبد كَذَلِك مبدأ للأفعال الطبيعية المغذية بِالْقِيَاسِ إِلَى سَائِر الْأَعْضَاء. وَيجب أَن يعلم ويعتقد فِي الِاخْتِلَاف الثَّانِي أَنه لَا عَلَيْهِ كَانَ حُصُول الْقُوَّة الغريزية فِي مثل الْعظم عِنْد أوّل الْحُصُول من الكبد أَو يسْتَحقّهُ بمزاجه نَفسه أَو لم يكن وَلَا وَاحِد مِنْهُمَا وَلَكِن الْآن يجب أَن يعْتَقد أَن تِلْكَ الْقُوَّة لَيست فائضة إِلَيْهِ من الكبد بِحَيْثُ لَو انسد السَّبِيل بَينهمَا وَكَانَ عِنْد الْعظم غذَاء مغذِ بَطل فعله كَمَا للحس وَالْحَرَكَة إِذا انسد العصب الجائي من الدِّمَاغ بل تِلْكَ الْقُوَّة صَارَت غريزية للعظم مَا بَقِي على مزاجه فَحِينَئِذٍ ينشرح لَهُ حَال الْقِسْمَة ويفترض لَهُ أَعْضَاء رئيسية وأعضاء خادمة للرئيسة وأعضاء مرؤوسة بِلَا خدمَة وأعضاء غير رئيسة وَلَا مرؤوسة. فالأعضاء الرئيسة هِيَ الْأَعْضَاء الَّتِي هِيَ مبادٍ للقوى الأولى فِي الْبدن الْمُضْطَر إِلَيْهَا فِي بَقَاء الشَّخْص أَو النَّوْع. أما بِحَسب بَقَاء الشَّخْص فالرئيسة ثَلَاث الْقلب وَهُوَ مبدأ قُوَّة الْحَيَاة والدماغ وَهُوَ مبدأ قُوَّة الحسّ وَالْحَرَكَة والكبد هُوَ مبدأ قُوَّة التغذية. وَأما بِحَسب بَقَاء النَّوْع فالرئيسة هَذِه الثَّلَاثَة أيضاَ ورابع يخصّ النَّوْع وَهُوَ الانثيان اللَّذَان يضْطَر إِلَيْهِمَا لأمر وَينْتَفع بهما لأمر أَيْضا. أما الِاضْطِرَار فلأجل توليد الْمَنِيّ الْحَافِظ للنسل وَأما الِانْتِفَاع فلأجل إِفَادَة تَمام الْهَيْئَة والمزاج

প্রদানকারী অঙ্গ, এমন অঙ্গ যা প্রদানকারী কিন্তু গ্রহণকারী নয়, এমন অঙ্গ যা গ্রহণকারী কিন্তু প্রদানকারী নয় এবং এমন অঙ্গ যা গ্রহণকারীও নয় আবার প্রদানকারীও নয়। যে অঙ্গটি গ্রহণকারী এবং প্রদানকারী উভয়ই, তার অস্তিত্ব সম্পর্কে কেউ সন্দেহ পোষণ করেননি। কেননা মস্তিষ্ক এবং যকৃৎ সম্পর্কে সকলে একমত যে, তারা উভয়েই হৃদযন্ত্র থেকে জীবনশক্তি, সহজাত তাপ এবং প্রাণশক্তি গ্রহণ করে। আবার তাদের প্রত্যেকেই শক্তির এমন এক একটি উৎস যা অন্য অঙ্গসমূহকে তা প্রদান করে থাকে। যকৃতের ক্ষেত্রে একদলের মতে এটি পুষ্টির নিঃশর্ত উৎস, আবার অন্যদলের মতে এটি নিঃশর্ত নয়। আর যে অঙ্গটি গ্রহণকারী কিন্তু প্রদানকারী নয়, সেটির অস্তিত্বের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা আরও অবান্তর; যেমন মাংস, যা সংবেদন ও জীবনশক্তি গ্রহণ করে কিন্তু অন্য কোনো অঙ্গকে শক্তি প্রদান করার উৎস হিসেবে কোনোভাবেই কাজ করে না।

বাকি দুটি বিভাগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সাথে অনেক দার্শনিকের মতভেদ রয়েছে। প্রাচীনদের অনেকেই মনে করেন যে, প্রদানকারী কিন্তু গ্রহণকারী নয় এমন অঙ্গটি হলো হৃদযন্ত্র। এটিই সমস্ত শক্তির মূল এবং এটিই দেহের অন্যান্য সকল অঙ্গকে পুষ্টি, বোধশক্তি ও চলনশক্তি প্রদান করে। তবে চিকিৎসকগণ এবং প্রাচীন দার্শনিকদের একটি দল এই শক্তিগুলোকে বিভিন্ন অঙ্গে বিভক্ত করেছেন এবং তারা এমন কোনো অঙ্গের অস্তিত্ব স্বীকার করেননি যা কেবল প্রদানকারী কিন্তু কোনো শক্তি গ্রহণ করে না। সূক্ষ্ম ও গভীর বিশ্লেষণের বিচারে অধিকাংশের (দার্শনিকদের) মতটিই অধিকতর সঠিক, তবে প্রাথমিক দৃষ্টিতে চিকিৎসকদের মতটিই অধিকতর স্পষ্ট।

এরপর শেষোক্ত বিভাগটি নিয়ে চিকিৎসকদের নিজেদের মধ্যে এবং দার্শনিকদের নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। একদল মনে করেন যে, হাড়, অসংবেদনশীল মাংস এবং এই জাতীয় অঙ্গসমূহ তাদের নিজস্ব শক্তির মাধ্যমেই টিকে থাকে যা অন্য কোনো উৎস থেকে আসে না। বরং এই শক্তির প্রভাবেই যখন তাদের কাছে পুষ্টি পৌঁছায়, তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটায়। তারা অন্য কোনো অঙ্গকে শক্তি প্রদান করে না, আবার অন্য কোনো অঙ্গও তাদের শক্তি যোগায় না। অপর একদল মনে করেন যে, এই শক্তিগুলো তাদের নিজস্ব নয়, বরং সৃষ্টির শুরুতে যকৃৎ বা হৃদযন্ত্র থেকে তাদের ওপর সঞ্চারিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেখানে স্থায়ী হয়েছে।

একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব নয় যে তিনি প্রমাণের মাধ্যমে এই দুটি মতভেদের মধ্য থেকে সত্য উদঘাটন করবেন; কেননা চিকিৎসক হিসেবে এই তর্কে লিপ্ত হওয়ার কোনো সুযোগ তার নেই এবং এটি তার চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো গবেষণা বা কর্মপদ্ধতিতেও কোনো ক্ষতি করে না। তবে প্রথম মতভেদ সম্পর্কে তার এটি জানা এবং বিশ্বাস রাখা উচিত যে, হৃদযন্ত্র মস্তিষ্ককে সংবেদন ও চলনশক্তি এবং যকৃৎকে পুষ্টিশক্তি প্রদানের উৎস হোক বা না হোক, মস্তিষ্ক নিজে থেকে অথবা হৃদযন্ত্রের পর অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় মানসিক ক্রিয়াকলাপের উৎস হিসেবে বিবেচিত। একইভাবে যকৃৎও অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় পুষ্টিকর প্রাকৃতিক ক্রিয়াসমূহের উৎস।

আর দ্বিতীয় মতভেদ সম্পর্কে তার জানা এবং বিশ্বাস রাখা উচিত যে, হাড়ের মতো অঙ্গসমূহে সৃষ্টির শুরুতে সহজাত শক্তি যকৃৎ থেকে প্রাপ্ত হোক বা তার নিজস্ব মেজাজের কারণেই হোক, বর্তমানে তাকে এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে সেই শক্তি যকৃৎ থেকে প্রতিক্ষণ সঞ্চারিত হওয়া কোনো বিষয় নয়। অর্থাৎ যদি তাদের মধ্যবর্তী পথ রুদ্ধ হয়ে যায় এবং হাড়ের কাছে পর্যাপ্ত পুষ্টি থাকে, তবে তার কার্যকারিতা নষ্ট হবে না; যেমনটি মস্তিষ্ক থেকে আসা স্নায়ু রুদ্ধ হলে সংবেদন ও চলনশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। বরং এই শক্তি হাড়ের মেজাজ ঠিক থাকা পর্যন্ত তার জন্য সহজাত হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় তার সামনে অঙ্গসমূহের বিভাজন স্পষ্ট হবে এবং সে অঙ্গগুলোকে প্রধান অঙ্গ, প্রধানের সেবক অঙ্গ, সেবা গ্রহণকারী কিন্তু সেবক নয় এমন অঙ্গ এবং প্রধান বা সেবক কোনোটিই নয় এমন অঙ্গে বিভক্ত করবে।

প্রধান অঙ্গ বলতে সেই সব অঙ্গকে বোঝায় যা দেহের মৌলিক শক্তিগুলোর উৎস এবং যা ব্যক্তি বা প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য। ব্যক্তির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রধান অঙ্গ তিনটি: হৃদযন্ত্র—যা জীবনশক্তির উৎস; মস্তিষ্ক—যা সংবেদন ও চলনশক্তির উৎস; এবং যকৃৎ—যা পুষ্টিশক্তির উৎস। আর প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই তিনটি অঙ্গের পাশাপাশি চতুর্থ একটি অঙ্গ বিশিষ্ট হিসেবে গণ্য, আর তা হলো অণ্ডকোষদ্বয়। এ দুটি একটি বিশেষ প্রয়োজনে অপরিহার্য এবং অন্য একটি কারণে উপকারী। অপরিহার্য হওয়ার কারণ হলো বীর্য উৎপাদন, যা বংশধারা রক্ষা করে। আর উপকারী হওয়ার কারণ হলো এটি শরীরের অবয়ব ও মেজাজকে পূর্ণতা দান করে।

(খণ্ড: ١) আল-কানুন ফিত তিবব (পৃষ্ঠা: ٣٩)
الذكوري والأنوثي اللَّذين هما من الْعَوَارِض اللَّازِمَة لأنواع الْحَيَوَان لَا من الْأَشْيَاء الدَّاخِلَة فِي نفس الحيوانية. وَأما الْأَعْضَاء الخادمة فبعضها تخْدم خدمَة مهيئة وَبَعضهَا تخْدم خدمَة مؤدّية والخدمة المهيئة تسمى مَنْفَعَة والخدمة المؤدية تسمّى خدمَة على الاطلاق والخدمة المهيئة تتقدم فعل الرئيس والخدمة المؤدية تتأخّر عَن فعل الرئيس. أما الْقلب فخادمه المهيء هُوَ مثل الرئة والمؤدي مثل الشرايين. وَأما الدِّمَاغ فخادمه المهيئ هُوَ مثل الكبد وَسَائِر أَعْضَاء الْغذَاء وَحفظ الرّوح والمؤدي هُوَ مثل العصب. وَأما الكبد فخادمه المهيئ هُوَ مثل الْمعدة والمؤدي هُوَ مثل الأوردة. وَأما الانتيان فخادمهما المهيء مثل الْأَعْضَاء المولّدة للمني قبلهَا وَأما الْمُؤَدِّي فَفِي الرِّجَال الإحليل وعروق بَينهمَا وَبَينه وَكَذَلِكَ فِي النِّسَاء عروق ينْدَفع فِيهَا الْمَنِيّ إِلَى المحبل وللنساء زِيَادَة الرَّحِم تتمّ فِيهِ مَنْفَعَة الْمَنِيّ. وَقَالَ جالينوس: إِن من الْأَعْضَاء مَا لَهُ فعل فَقَط وَمِنْهَا مَا لَهُ مَنْفَعَة فَقَط وَمِنْهَا مَا لَهُ فعل وَمَنْفَعَة مَعًا. الأول كالقلب وَالثَّانِي كالرئة وَالثَّالِث كالكبد. وَأَقُول: أَنه يجب أَن نعني بِالْفِعْلِ مَا يتم بالشَّيْء وَحده من الْأَفْعَال الدَّاخِلَة فِي حَيَاة الشَّخْص أَو بَقَاء النَّوْع مثل مَا للقلب فِي توليد الرّوح وَأَن نعني بِالْمَنْفَعَةِ مَا هِيَ لقبُول فعل عُضْو آخر حِينَئِذٍ يصير الْفِعْل تَاما فِي إِفَادَة حَيَاة الشَّخْص أَو بَقَاء النَّوْع كإعداد الرئة للهواء وَأما الكبد فَإِنَّهُ يهضم أَولا هضمه الثَّانِي ويعد للهضم الثَّالِث وَالرَّابِع فِيمَا يهضم الهضم الأول تَاما حَتَّى يصلح ذَلِك الدَّم لتغذيته نَفسه وَيكون قد فعل فعلا وَرُبمَا قد يفعل فعلا عينا لفعل منتظر يكون قد نفع. ونقول أَيْضا من رَأس: أَن من الْأَعْضَاء مَا يتكوّن عَن الْمَنِيّ وَهِي المتشابهة جُزْءا خلا اللَّحْم والشحم وَمِنْهَا مَا يتكون عَن الدَّم كالشحم وَاللَّحم فَإِن مَا خلاهما يتكوّن عَن المنيين مني الذّكر ومني الْأُنْثَى إِلَّا أَنَّهَا على قَول من تحقق من الْحُكَمَاء يتكون عَن مني الذّكر كَمَا يتكون الْجُبْن عَن الأنفحة ويتكوّن عَن مني الْأُنْثَى مَا يتكوّن الْجُبْن من اللَّبن وكما أَن مبدأ العقد فِي الأنفحة كَذَلِك مبدأ عقد الصُّورَة فِي مني الذّكر وكما أَن مبدأ الِانْعِقَاد فِي اللَّبن فَكَذَلِك مبدأ انْعِقَاد الصُّورَة أَعنِي الْقُوَّة المنفعلة هُوَ فِي مني الْمَرْأَة وكما أَن كل وَاحِد من الأنفحة وَاللَّبن جُزْء من جَوْهَر الْجُبْن الْحَادِث عَنْهَا كَذَلِك كل وَاحِد من المنيين جُزْء من جَوْهَر الْجَنِين. وَهَذَا القَوْل يُخَالف قَلِيلا بل كثيرا قَول جالينوس فَإِنَّهُ يرى فِي كل وَاحِد من المنيين قُوَّة عاقدة وقابلة للْعقد وَمَعَ ذَلِك فَلَا يمْتَنع أَن يَقُول: إِن العاقدة فِي الذكوري أقوى والمنعقدة فِي الأنوثي أقوى وَأما تَحْقِيق القَوْل فِي هَذَا فَفِي كتبنَا فِي الْعُلُوم الْأَصْلِيَّة. ثمَّ إِن الدَّم الَّذِي كَانَ ينْفَصل عَن الْمَرْأَة فِي الْأَقْرَاء يصير غذَاء فَمِنْهُ مَا يَسْتَحِيل إِلَى مشابهة جَوْهَر الْمَنِيّ والأعضاء الكائنة مِنْهُ

পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ—এই উভয় বৈশিষ্ট্যই প্রাণীকুলের প্রকারভেদে এক প্রকার অপরিহার্য উপসর্গ (আওয়ারিয-ই-লাযিমাহ), যা প্রাণীসত্তার মূল প্রকৃতির অভ্যন্তরস্থ কোনো বিষয় নয়। আর সাহায্যকারী বা খادم অঙ্গগুলোর মধ্যে কোনোটি ‘প্রস্তুতিমূলক সেবা’ (খিদমতে মুহাইয়্যিআহ) প্রদান করে এবং কোনোটি ‘সম্পাদনকারী সেবা’ (খিদমতে মুয়াদ্দিয়্যাহ) প্রদান করে। প্রস্তুতিমূলক সেবাকে ‘উপকারিতা’ (মানফা’আত) বলা হয়, আর সম্পাদনকারী সেবাকে নিরঙ্কুশভাবে ‘সেবা’ (খিদমত) বলা হয়। প্রস্তুতিমূলক সেবা প্রধান অঙ্গের ক্রিয়ার পূর্বে সম্পাদিত হয় এবং সম্পাদনকারী সেবা প্রধান অঙ্গের ক্রিয়ার পরে সংঘটিত হয়। হৃদযন্ত্রের ক্ষেত্রে এর প্রস্তুতিমূলক খادم হলো ফুসফুস এবং সম্পাদনকারী খادم হলো ধমনীসমূহ। মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে এর প্রস্তুতিমূলক খادم হলো যকৃৎ এবং অন্যান্য পরিপাককারী ও প্রাণশক্তি (রূহ) সংরক্ষণকারী অঙ্গসমূহ, আর এর সম্পাদনকারী খادم হলো স্নায়ুতন্ত্র। যকৃতের ক্ষেত্রে এর প্রস্তুতিমূলক খادم হলো পাকস্থলী এবং সম্পাদনকারী খادم হলো শিরাসমূহ। অণ্ডকোষদ্বয়ের ক্ষেত্রে এদের প্রস্তুতিমূলক খادم হলো সেই অঙ্গসমূহ যা এর পূর্বে বীর্য উৎপন্ন করে; আর সম্পাদনকারী খادم হলো পুরুষদের ক্ষেত্রে মূত্রনালি ও বীর্যবাহী নালি এবং নারীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ কিছু নালি যার মাধ্যমে বীর্য জরায়ুতে নিক্ষিপ্ত হয়। নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ু একটি অতিরিক্ত অঙ্গ, যেখানে বীর্যের উপযোগিতা পূর্ণতা পায়।

গ্যালেন বলেছেন: অঙ্গসমূহের মধ্যে কোনোটির কেবল ‘ক্রিয়া’ (ফি’ল) আছে, কোনোটির কেবল ‘উপকারিতা’ (মানফা’আত) আছে, আবার কোনোটির ক্রিয়া ও উপকারিতা উভয়ই আছে। প্রথমটি হৃদযন্ত্রের ন্যায়, দ্বিতীয়টি ফুসফুসের ন্যায় এবং তৃতীয়টি যকৃতের ন্যায়। আমি (গ্রন্থকার) বলি: এখানে ‘ক্রিয়া’ বলতে আমাদের সেই কর্মসমূহকে বোঝানো উচিত যা কোনো একটি অঙ্গের মাধ্যমেই এককভাবে সম্পন্ন হয় এবং যা ব্যক্তির জীবন রক্ষা বা প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অন্তর্ভুক্ত—যেমন হৃদযন্ত্রের রূহ বা প্রাণশক্তি উৎপাদন। আর ‘উপকারিতা’ বলতে আমাদের এমন বিষয়কে বোঝানো উচিত যা অন্য কোনো অঙ্গের ক্রিয়া গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে, যার ফলে ব্যক্তির জীবনদান বা প্রজাতি রক্ষায় সেই ক্রিয়াটি পূর্ণতা পায়—যেমন ফুসফুসের বায়ুকে প্রস্তুত করা। যকৃতের ক্ষেত্রে এটি প্রথমে দ্বিতীয় পরিপাক সম্পন্ন করে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ পরিপাকের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে, যখন প্রথম পরিপাকটি পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন হয়, যাতে সেই রক্ত যকৃতের নিজস্ব পুষ্টির উপযোগী হয়; এমতাবস্থায় এটি একটি ক্রিয়া সম্পাদন করল। আবার কখনো কখনো এটি এমন একটি বিশেষ ক্রিয়া সম্পাদন করে যা পরবর্তী কোনো কাঙ্ক্ষিত ক্রিয়ার জন্য সহায়ক বা উপকারি সাব্যস্ত হয়।

আমরা পুনরায় বলছি: অঙ্গসমূহের মধ্যে কিছু অঙ্গ বীর্য (মানি) থেকে গঠিত হয়, আর তা হলো মাংস ও মেদ ব্যতীত দেহের অন্যান্য সমজাতীয় অঙ্গসমূহ। আর কিছু অঙ্গ রক্ত থেকে গঠিত হয়, যেমন মেদ ও মাংস। মেদ ও মাংস ব্যতীত বাকি অঙ্গগুলো উভয় প্রকার বীর্য (পুরুষের বীর্য ও নারীর বীর্য) থেকে তৈরি হয়। তবে বিজ্ঞ দার্শনিকদের সুনিশ্চিত মতানুসারে, এগুলো পুরুষের বীর্য থেকে সেভাবেই তৈরি হয় যেভাবে ‘পনির তৈরির উপাদান’ (রেনেট) থেকে পনির তৈরি হয়। আর নারীর বীর্য থেকে সেভাবে তৈরি হয় যেভাবে দুধ থেকে পনির তৈরি হয়। পনির জমাট বাঁধার মূল সক্রিয় শক্তি যেমন রেনেট বা পনির তৈরির উপাদানে থাকে, তেমনি ভ্রূণের অবয়ব গঠনের মূল সক্রিয় শক্তি থাকে পুরুষের বীর্যে। আর দুধের মধ্যে যেমন জমাট বাঁধার সম্ভাবনা বা উপাদান থাকে, তেমনি অবয়ব গঠনের উপাদান বা গ্রহণক্ষম শক্তি থাকে নারীর বীর্যে। এবং রেনেট ও দুধের প্রতিটি যেমন উৎপন্ন পনিরের সারবস্তুর অংশ হয়, তেমনি উভয় বীর্যের প্রতিটিই ভ্রূণের সারবস্তুর অংশ হয়ে থাকে। এই বক্তব্যটি গ্যালেনের মত থেকে কিছুটা নয় বরং অনেকাংশেই ভিন্ন; কারণ তিনি মনে করেন যে, উভয় বীর্যের প্রতিটিতেই গঠনকারী শক্তি এবং গঠন-গ্রহণকারী শক্তি বিদ্যমান। তা সত্ত্বেও তিনি এ কথা বলতে দ্বিধা করেন না যে, পুরুষের বীর্যে গঠনকারী শক্তি অধিক প্রবল এবং নারীর বীর্যে গঠন-গ্রহণকারী শক্তি অধিক প্রবল। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আমাদের মূল বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থসমূহে রয়েছে। অতঃপর ঋতুস্রাবের যে রক্ত নারীদেহ থেকে পৃথক হতো, তা-ই ভ্রূণের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর কিছু অংশ রূপান্তরিত হয়ে বীর্যের সারবস্তু এবং তা থেকে তৈরি হওয়া অঙ্গসমূহের সাদৃশ্য লাভ করে।