(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: -)
العلاج بالأعشاب القسم: الطب
الكتاب: (مختصر في الطب) العلاج بالأغذية والأعشاب في بلاد المغرب
المؤلف: عبد الملك بن حَبِيب بن حبيب بن سليمان بن هارون السلمي الإلبيري القرطبي، أبو مروان (ت 238هـ)
المحقق: محمد أمين الضناوي
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1998
عدد الصفحات: 121
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ভেষজ চিকিৎসা বিভাগ: চিকিৎসা শাস্ত্র
গ্রন্থ: (চিকিৎসা শাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার) মাগরিব ভূখণ্ডে খাদ্য ও ভেষজ দ্বারা চিকিৎসা
লেখক: আবদুল মালিক ইবনে হাবীব ইবনে হাবীব ইবনে সুলাইমান ইবনে হারুন আস-সুলামি আল-ইলবিরি আল-কুরতুবি، আবু মারওয়ান (মৃত্যু ২৩৮ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিন আদ-দান্নাওয়ি
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৯৯৮
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২১
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ৯)
(مَا جَاءَ فِي الْأَمر بالتداوي والعلاج) قَالَ عبد الْملك بن حبيب:
حَدثنِي مطرّف بن عبد الله عَن مَالك بن أنس عَن زيد بن أسلم أَن رجلا فِي زمَان رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] جرح فاحتقن الْجرْح بِالدَّمِ وَأَن الرجل دَعَا برجلَيْن من بني أَنْمَار فَنَظَرا إِلَيْهِ فَقَالَ لَهما رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " أيكما، أطبّ؟ ".
فَقَالَا: أَفِي الطبّ خير، يَا رَسُول الله؟ [صلى الله عليه وسلم] : " أنزل الدَّوَاء الَّذِي أنزل الدَّاء ". فَأَمرهمَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يومئذٍ بمداواته فبطَّا الْجرْح وغسلاه ثمَّ خاطاه.
وَعَن زيد بن أسلم أَن رجلا أَتَى الى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَقد نصل فِي بَطْنه نصل فَدَعَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] رجلَيْنِ من الْعَرَب كَانَا متطببين فَقَالَ لَهما: " يكما، أطبّ؟ ".
فَقَالَا: أَفِي الطِّبّ خير، يَا رَسُول الله؟ فَقَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : أنزل [الدَّوَاء] 8 الَّذِي ابتلى بالداء ".
فَقَالَ أَحدهمَا: أَنا أطبّ الرجلَيْن يَا رَسُول الله. فَأمره رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] بمداواته. فبطّ بَطْنه واستخرج النصل ثمَّ خاطه.
وَعَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " تداوا فَإِن الله لم يخلق دَاء إِلَّا خلق لَهُ
(চিকিৎসা গ্রহণ ও নিরাময় অন্বেষণের নির্দেশ সংক্রান্ত অধ্যায়) আব্দুল মালিক ইবনে হাবিব বলেন:
মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট মালেক ইবনে আনাস থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর যুগে এক ব্যক্তি আহত হন এবং তার ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। তখন সেই ব্যক্তি বনু আনমার গোত্রের দুই ব্যক্তিকে ডাকলেন। তারা তাকে পর্যবেক্ষণ করলে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাদের জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাদের মধ্যে কে অধিক অভিজ্ঞ চিকিৎসক?"
তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]! চিকিৎসার মাঝে কি কোনো কল্যাণ আছে? তিনি বললেন: "যিনি রোগ অবতীর্ণ করেছেন, তিনিই ঔষধ নাজিল করেছেন।" সেদিন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাদের দুজনকে তার চিকিৎসা করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তারা ক্ষতস্থানটি চিরে ফেললেন, সেটি ধৌত করলেন এবং পরে তা সেলাই করে দিলেন।
এবং জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট আসলেন এমতাবস্থায় যে তার পেটে তীরের একটি ফলা বিঁধে ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আরবদের মধ্যে চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শী দুই ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং তাদের বললেন: "তোমাদের মধ্যে কে অধিক অভিজ্ঞ চিকিৎসক?"
তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! চিকিৎসার মাঝে কি কোনো কল্যাণ আছে? তখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেন: "যিনি রোগ দিয়ে পরীক্ষা করেন, তিনিই ঔষধ নাজিল করেছেন।"
তাদের একজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমাদের দুজনের মধ্যে অধিক অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাকে চিকিৎসার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি তার পেট চিরে তীরের ফলাটি বের করলেন এবং পরে তা সেলাই করে দিলেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন: "তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো, কেননা আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার জন্য তিনি সৃষ্টি করেননি..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ১০)
شِفَاء علّة من عِلّة وجهله من جَهله إِلَّا دائين ". قيل: وَمَا هما يَا رَسُول الله؟ قَالَ: " الْبرم وَالْمَوْت وَمثله ".
عَن أُسَامَة بن زيد وَابْن مَسْعُود عَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَحدث الخزامي سنداً أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " إِن الله بثّ الدَّاء وبثّ الدَّوَاء وَجعل لكل دَاء دَوَاء من الشّجر وَالْعَسَل فتداوا ".
وَعَن جَابر بن عبد الله أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " لكل دَاء دَوَاء فَإِذا أصَاب دَوَاء الدَّاء] برِئ [بِإِذن الله ". وَعَن قَتَادَة أَنه قَالَ: " أنزل الله ألف دَاء وَأنزل ألف دَوَاء ".
وَرُوِيَ عَن ابراهيم خَلِيل الرَّحْمَن عليه السلام قَالَ: يَا ربّ مِمَّن الدَّاء؟ قَالَ: منّي. قَالَ: مِمَّن الشِّفَاء؟ قَالَ: مني. قَالَ: فَمَا بَال الطَّبِيب؟ قَالَ: معالج على يَدَيْهِ الشِّفَاء.
وَعَن ابراهيم التَّيْمِيّ أَن رجلا أَتَى إِلَى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَقَالَ لَهُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " من أَنْت؟ ". قَالَ: أَنا طَبِيب. قَالَ لَهُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " ولعلك تدبر أَشْيَاء يحرق بهَا غَيْرك ".
وَكَانَ عَن عُثْمَان بن عفّان رضي الله عنه طبيبان [بعث] بِأَحَدِهِمَا إِلَيْهِ مُعَاوِيَة وَالْآخر عبد الله بن ربيعَة.
وَعَن أنس بن مَالك أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " أَيهَا طَبِيب داوى مُسلما يُرِيد بِهِ وَجه الله لم يَأْخُذ عَلَيْهِ أجرا فصلح على يَدَيْهِ كتب الله إِذا نقل أجره إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَمن أَخذ عَلَيْهِ أجرا فَهُوَ حَظه فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة ".
"...একটি অসুস্থতা থেকে অন্য অসুস্থতা এবং একটি অজ্ঞতা থেকে অন্য অজ্ঞতার নিরাময়, তবে দুটি রোগ ব্যতীত।" জিজ্ঞাসা করা হলো: "হে আল্লাহর রাসূল, সেই দুটি কী?" তিনি বললেন: "বার্ধক্য ও মৃত্যু এবং তদ্রূপ।"
উসামা বিন যাইদ এবং ইবনে মাসউদ থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত এবং খুজামি একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ রোগ অবতীর্ণ করেছেন এবং প্রতিকারও অবতীর্ণ করেছেন, আর প্রতিটি রোগের ঔষধ বৃক্ষলতা ও মধুর মধ্যে রেখেছেন; সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো।"
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রতিটি রোগেরই ঔষধ রয়েছে, সুতরাং যখন ঔষধ রোগের অনুকূল হয়, তখন আল্লাহর নির্দেশে তা নিরাময় লাভ করে।" কাতাদাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ এক হাজার রোগ অবতীর্ণ করেছেন এবং এক হাজার ঔষধ অবতীর্ণ করেছেন।"
আর আল্লাহর বন্ধু ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন: "হে প্রতিপালক, রোগ কার পক্ষ থেকে আসে?" তিনি বললেন: "আমার পক্ষ থেকে।" তিনি বললেন: "তবে আরোগ্য কার পক্ষ থেকে?" তিনি বললেন: "আমার পক্ষ থেকে।" তিনি বললেন: "তাহলে চিকিৎসকের ভূমিকা কী?" তিনি বললেন: "সে কেবল একজন সেবক, যার মাধ্যমে আরোগ্য সাধিত হয়।"
ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কে?" সে বলল: "আমি একজন চিকিৎসক।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "সম্ভবত তুমি এমন সব বিষয়ের তদারকি করো যার দ্বারা অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।"
উসমান ইবনে আফফান (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর নিকট দুইজন চিকিৎসক ছিলেন, যাদের একজনকে মুয়াবিয়া এবং অন্যজনকে আব্দুল্লাহ ইবনে রাবিয়া [প্রেরণ] করেছিলেন।
আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে চিকিৎসক কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কোনো মুসলিমের চিকিৎসা করে এবং তার বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করে না, আর তার হাত ধরে রোগী সুস্থ হয়; আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত তার আমলনামায় পুণ্য লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করে, তবে দুনিয়া ও আখেরাতে সেটিই তার প্রাপ্তি।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَأسْندَ الخزامى أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " لَا يَنْبَغِي لأحد أَن يداوى حَتَّى يغلب مَرضه صِحَّته ".
وَأسْندَ أَيْضا عَن ابْن عبّاس قَالَ: كَانَ سُلَيْمَان النَّبِي كلما صلى الصَّلَاة فقضاها إِذا شَجَرَة قد نبت بَين يَدَيْهِ فَيَقُول: مَا أَنْت؟ فَتَقول: أَنا شَجَرَة كَذَا وَكَذَا أَنْفَع من كَذَا وَكَذَا. فيأمر بهَا فتقطع فتكتب: شَجَرَة كَذَا وَكَذَا تَنْفَع من كَذَا وَكَذَا.
فصلّى يَوْمًا فَرَأى الشَّجَرَة فَقَالَ: مَا أَنْت؟ فَقَالَت: أَنا الخرّوب. قَالَ: [لِمَ] أَنْت؟ قَالَت: لخراب هَذَا الْمَسْجِد. فَقَالَ: مَا كَانَ الله يخرب هَذَا الْمَسْجِد وَأَنا حيّ.
فنحت سُلَيْمَان من تِلْكَ الخرّوبة] عَصا [وَلَقي ملك الْمَوْت فَسَأَلَهُ إِذا [جَاءَت] وَفَاته أَن يُعلمهُ، فلمّا أعلمهُ قَامَ وشدّ ثِيَابه وَأخذ تِلْكَ [الْعَصَا] الَّتِي نحت من الخرّوبة، فتوكأ عَلَيْهَا وَقَالَ: اللَّهُمَّ أغمّ على الجنّ موتِي حَتَّى يعلم الْإِنْس أَنهم كَانُوا لَا يعلمُونَ الْغَيْب.
وَأمر الجنّ فبنت عَلَيْهِ قبّة من قَوَارِير - يَعْنِي الزّجاج - فَقبض فِيهَا وَهُوَ متّكئ على عَصَاهُ والجنّ تعْمل بَين يَدَيْهِ كَمَا قَالَ الله تَعَالَى: {كل بِنَاء وغواص وَآخَرين مُقرنين فِي الأصفاد} [ص: 37 - 38] ، وهم يرَوْنَ أَنه حيّ، فَوَقَعت الأرضة فِي [الْعَصَا] فَأَكَلتهَا فِي حول فَسقط حِين ضعفت [الْعَصَا] فَعلم مَوته فَشَكَرت الأرضة الْجِنّ وَالشَّيَاطِين للخرّوب، فَلَا ترَاهَا فِي مَكَان إلاّ رَأَيْته ندياً، وشكرت الأرضة فأينما كَانَت جاءتها الشَّيَاطِين بِالْمَاءِ. قَالَ ابْن عبّاس: وَقدر مَا مِقْدَار أكلهَا [الْعَصَا] فَكَانَ سنة.
আল-খুজামি বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "কারোর জন্য ততক্ষণ চিকিৎসা গ্রহণ করা সমীচীন নয়, যতক্ষণ না তার অসুস্থতা সুস্থতার ওপর প্রবল হয়ে ওঠে।"
ইবনে আব্বাস থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সুলাইমান যখনই সালাত আদায় শেষ করতেন, তখন তাঁর সামনে একটি বৃক্ষ উদগত হতো। তিনি জিজ্ঞেস করতেন: "তুমি কী?" বৃক্ষটি উত্তর দিত: "আমি অমুক অমুক গাছ, আমি অমুক অমুক রোগের জন্য উপকারী।" তখন তিনি সেটি কাটার নির্দেশ দিতেন এবং লিপিবদ্ধ করা হতো: "অমুক বৃক্ষ অমুক রোগের জন্য ফলপ্রসূ।"
একদিন তিনি সালাত আদায় করে একটি বৃক্ষ দেখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কী?" সেটি উত্তর দিল: "আমি আল-খাররুব (ক্যারব গাছ)।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "[কেন] তোমার আগমন?" সেটি বলল: "এই মসজিদের ধ্বংসের জন্য।" তিনি বললেন: "আমি জীবিত থাকা অবস্থায় আল্লাহ এই মসজিদ ধ্বংস করবেন না।"
অতঃপর সুলাইমান সেই খাররুব বৃক্ষ থেকে একটি লাঠি তৈরি করলেন। তিনি মালাকুল মাউতের (মৃত্যুদূত) সাথে সাক্ষাৎ করে অনুরোধ করেছিলেন যেন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তাঁকে অবহিত করা হয়। যখন তাঁকে জানানো হলো, তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন, নিজের বস্ত্র বিন্যস্ত করলেন এবং খাররুব বৃক্ষ থেকে তৈরি করা সেই লাঠিটি গ্রহণ করলেন। এরপর তিনি তাতে ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং প্রার্থনা করলেন: "হে আল্লাহ! জিনদের কাছে আমার মৃত্যু গোপন রাখুন, যাতে মানুষ জানতে পারে যে জিনরা অদৃশ্যের খবর (গায়েব) জানে না।"
তিনি জিনদের আদেশ দিলেন, ফলে তারা তাঁর ওপর স্ফটিকের—অর্থাৎ কাঁচের—একটি গম্বুজ নির্মাণ করল। এমতাবস্থায় তাঁর লাঠিতে ভর দেওয়া অবস্থায় তাঁর জান কবজ করা হলো। তখন জিনরা তাঁর সামনে কাজ করে যাচ্ছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {প্রত্যেক প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরি এবং অন্যদেরও যারা শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল} [সোয়াদ: ৩৭-৩৮]। জিনরা মনে করছিল তিনি জীবিত আছেন। অতঃপর উইপোকা লাঠিটি সংলগ্ন হলো এবং এক বছর ধরে তা খেতে থাকল। লাঠিটি যখন দুর্বল হয়ে গেল, তখন তিনি পড়ে গেলেন এবং তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে জানা গেল। তখন জিন ও শয়তানরা খাররুব বৃক্ষের কারণে উইপোকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল; তাই আপনি যেখানেই উইপোকা দেখবেন, সেটি সিক্ত পাবেন। তারা উইপোকার প্রতি এতটাই কৃতজ্ঞ ছিল যে, উইপোকা যেখানেই থাকত শয়তানরা সেখানে পানি পৌঁছে দিত। ইবনে আব্বাস বলেন: লাঠিটি খেয়ে ফেলার সময়কাল ছিল এক বছর।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ১২)
(مَا جَاءَ فِي جَوَاز عرض الْبَوْل على الطَّبِيب) وَعَن عمر بن عُثْمَان قَالَ: رَأَيْت بَوْل عمر بن عبد الْعَزِيز فِي زجاجة عِنْد الطَّبِيب ينظر إِلَيْهِ.
وَعَن الْوَاقِدِيّ عَن يزِيد مولى الزِّنَاد أَنه قَالَ: رَأَيْت الزُّهْرِيّ وَأَبا الزِّنَاد بالرصافة يريان الطَّبِيب الْبَوْل.
قَالَ الْوَاقِدِيّ: وَقد رَأَيْت مَالِكًا وَالثَّوْري يرسلان بالبول إِلَى الطَّبِيب ينظر إِلَيْهِ إِلَّا أَن الثَّوْريّ كَانَ يبْعَث بِهِ إِلَى الْحيرَة.
(مَا جَاءَ فِي حمية الْمَرِيض) ابْن حبيب قَالَ: سمعتهم يَقُولُونَ عوِّد جسماً مَا تعوّد، وَخير الطبّ التجربة، وَرَأس الطبّ الحمية.
قَالَ: وَقد حمى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَأمر بالحمية عمر بن الْخطاب وَغَيره من الصَّحَابَة.
وَبَلغنِي أَن عمر قَالَ لِلْحَارِثِ بن كلدة: مَا الدَّوَاء؟ قَالَ: الحمية.
وَعَن عَليّ بن أبي ذيب أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " اخلوا على الْحمى " - يَعْنِي احتموا من الطَّعَام - والخلا بِعَيْنِه: الْجُوع.
وروى ابْن حبيب مُسْندًا أَن عليا دخل على رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَهُوَ حَدِيث عهد بحمى فَأتى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] برطب فَأَرَادَ عَليّ أَن يَقع فِيهِ فَمَنعه رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَطرح إِلَيْهِ رطبَة رَطِبة فَأكل حَتَّى انْتهى إِلَى سبع رطبات ثمَّ قَالَ: " حَسبك إِنَّك ناقه ".
وَعَن أمّ الْمُنْذر المازنية قَالَت: دخلت على رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَعلي يأكلان مِنْهَا. قَالَت: فَطَفِقَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يَقُول لعَلي: " مهلا إِنَّك ناقه " حَتَّى كفّ، وَقد صنعت
(চিকিৎসকের নিকট মূত্র প্রদর্শনের বৈধতা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে) উমর ইবনে উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজের মূত্র একটি কাঁচের পাত্রে চিকিৎসকের নিকট দেখেছি, যা তিনি (চিকিৎসক) পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
ওয়াকিদি থেকে বর্ণিত, তিনি জিনাদের মুক্ত দাস ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি রুসাফায় যুহরি এবং আবু জিনাদকে চিকিৎসকের নিকট মূত্র প্রদর্শন করতে দেখেছি।
ওয়াকিদি বলেন: আমি মালিক ও সাওরিকে চিকিৎসকের নিকট পরীক্ষার জন্য মূত্র পাঠাতে দেখেছি, তবে সাওরি তা হিরায় পাঠাতেন।
(রোগীর পথ্য বা সংযম পালন প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে) ইবনে হাবিব বলেন: আমি তাঁদের বলতে শুনেছি— শরীরকে তার অভ্যস্ত বিষয়ের ওপরই থাকতে দাও; সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো অভিজ্ঞতা, আর চিকিৎসার মূল হলো পথ্য বা সংযম (হামিয়াহ)।
তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেও পথ্য পালন করেছেন এবং উমর ইবনে খাত্তাব ও অন্যান্য সাহাবীকেও পথ্য বা সংযম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, উমর (রা.) হারিস ইবনে কালদাহকে জিজ্ঞাসা করলেন: ঔষধ কী? তিনি বললেন: পথ্য বা সংযম।
আলী ইবনে আবু জিব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জ্বরের ক্ষেত্রে পেট খালি রাখো" —অর্থাৎ খাবার থেকে বিরত থাকো বা পথ্য পালন করো— আর 'খালা' বলতে মূলত ক্ষুধাকেই বোঝানো হয়েছে।
ইবনে হাবিব মুসনাদ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আলী (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি (আলী) সবেমাত্র জ্বর থেকে সেরে উঠেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তাজা খেজুর আনা হলো। আলী (রা.) তা থেকে খেতে চাইলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বাধা দিলেন এবং একে একে তাঁর দিকে খেজুর এগিয়ে দিলেন। এভাবে তিনি সাতটি খেজুর খেলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট, কারণ তুমি কেবল রোগমুক্ত হয়েছো (এখনও পুরোপুরি সুস্থ হওনি)।"
উম্মুল মুনজির আল-মাযিনিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি ও আলী (রা.) খেজুর খাচ্ছিলেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলীকে বলতে লাগলেন: "থামো, তুমি তো সবেমাত্র রোগমুক্ত হয়েছো", এমনকি তিনি (আলী) বিরত হলেন। আর আমি প্রস্তুত করেছিলাম...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لَهما سلقاً وخبز شعير فلمّا جِئْت بِهِ قَالَ لَهُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " من هَذَا فأََصِب فَهُوَ أوفق لَك "، فَأكل من ذَلِك.
قَالَ الْوَاقِدِيّ: فَهُوَ عندنَا بِالْمَدِينَةِ يُقَال لَهُ سلق الْأَنْصَار وَهُوَ السرمق.
قَالَ عبد الْملك:
السرمق هُوَ القطف. وَكَانَت عَائِشَة تنْعَت سلق الْأَنْصَار للمحموم وَتقول: هُوَ صَالح، وَكَانَت تَحْمِي الْمَرِيض.
وَسَأَلَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه الْحَارِث بن كلّدة عَن أفضل الطبّ فَقَالَ: الأزم.
قَالَ عبد الْملك: يَعْنِي الحمية حمية الْمَرِيض، والأزم بِعَيْنِه، الْجُوع.
قَالَت بنت سعيد بن أبي وَقاص: كَانَ أبي يحمّ الْمَرِيض وَيَقُول: أحماني الْحَارِث شرب المَاء إِلَّا مَا بدّ مِنْهُ. وَعَن كريب [مولى] ابْن عَبَّاس: اللَّحْم من الْحمى. قَالَ نَافِع: لم يكن ابْن عمر يحتمي فِي مرض.
قَالَ عبد الْملك:
وَمَا علمنَا أحدا يكرّه الحمية غَيره. قد حمى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ، وَحمى عمر وَجَمَاعَة من الصَّحَابَة.
وَعَن صُهَيْب قَالَ: رمدت فَأتى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] بِتَمْر فَجعلت آكل مِنْهُ فَقَالَ عمر: يَا رَسُول الله أَلا ترى صُهَيْب يَأْكُل التَّمْر وَهُوَ أرمد؟
فَقلت: يَا رَسُول الله إِنَّمَا آكل بِثمن عَيْني الصَّحِيحَة. فَضَحِك رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] .
(مَا جَاءَ فِي الْحجامَة وَمَا يُرْجَى من نَفعهَا) وَعَن أنس بن مَالك أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " مَا مَرَرْت لَيْلَة أسرِي بِي على ملك من الْمَلَائِكَة إِلَّا قَالُوا: يَا مُحَمَّد مرْ أمتك بالحجامة ".
তাঁদের জন্য বিট পালং এবং যবের রুটি ছিল। যখন আমি তা নিয়ে আসলাম, তখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁকে বললেন: "এখান থেকে কিছু গ্রহণ করো, কারণ এটি তোমার জন্য অধিকতর উপযোগী।" অতঃপর তিনি তা থেকে আহার করলেন।
ওয়াকিদি বলেন: মদিনায় আমাদের নিকট একে 'আনসারদের সিলক' (বিট পালং) বলা হয়, আর এটিই হলো 'সারমাক'।
আব্দুল মালেক বলেন:
সারমাক হলো 'কাতফ' (পাহাড়ি পালং)। আয়েশা (রা.) জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য আনসারদের সিলক ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন এবং বলতেন: এটি উপকারী। আর তিনি অসুস্থ ব্যক্তিকে অপথ্য থেকে বিরত রাখতেন।
ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হারিস বিন কালদাহকে সর্বোত্তম চিকিৎসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: 'আল-আযম' (ক্ষুধা)।
আব্দুল মালেক বলেন: এর অর্থ হলো পথ্য পালন অর্থাৎ অসুস্থ ব্যক্তিকে অপথ্য থেকে বিরত রাখা, আর 'আযম' মূলত ক্ষুধাকেই বোঝায়।
সাঈদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের কন্যা বলেন: আমার পিতা অসুস্থ ব্যক্তিকে অপথ্য থেকে বিরত রাখতেন এবং বলতেন: হারিস আমাকে পানি পান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেবলমাত্র যতটুকু প্রয়োজন তা ছাড়া। আর ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব থেকে বর্ণিত: জ্বরের সময় গোশত পরিহার করা উচিত। নাফে বলেন: ইবনে ওমর (রা.) অসুস্থ অবস্থায় বিশেষ কোনো পথ্য পালন করতেন না।
আব্দুল মালেক বলেন:
তিনি ছাড়া আর কাউকে আমরা পথ্য পালন অপছন্দ করতে দেখিনি। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] পথ্য পালন করিয়েছেন, ওমর (রা.) এবং একদল সাহাবীও তা করেছেন।
সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি চক্ষুরোগে আক্রান্ত ছিলাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট কিছু খেজুর আনা হলো এবং আমি তা খেতে শুরু করলাম। তখন ওমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সুহাইবকে দেখছেন না যে সে চক্ষুরোগে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও খেজুর খাচ্ছে?
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো আমার সুস্থ চোখের দিকের পাশ দিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছি। এতে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হেসে দিলেন।
(হিজামা বা শিঙা লাগানো এবং এর সম্ভাব্য উপকারিতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে) আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "মিরাজের রাতে আমি ফেরেশতাদের যে দলের পাশ দিয়েই অতিক্রম করেছি, তাঁরাই আমাকে বলেছেন: হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতকে হিজামা করার নির্দেশ দিন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَعنهُ عَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ، قَالَ " جعل الله الشِّفَاء فِي الْعَسَل وَفِي الْحجامَة واحتجموا فَإِن الدَّم [يتبيَّغ] بالإنسان حَتَّى يقْتله ".
وَعَن نَافِع عَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ، أَنه يَقُول: " من احْتجم فعلى بركَة الله وَهُوَ على الرِّيق أفضل وتزيد فِي الْحِفْظ وَتذهب البلغم ". وَعَن ابْن عبّاس أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " نِعْمَ الدَّوَاء الْحجامَة تذْهب الدَّاء والصداع وتخفّ الصلب وتجلو الْبَصَر ". وَعَن مَالك أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " إِن كَانَ دَوَاء يبلغ الدَّاء فَإِن الْحجامَة تبلغه ".
وَعنهُ [صلى الله عليه وسلم] : " إِن كَانَ فِي شَيْء من الدَّوَاء خير فَهُوَ فِي هَذِه الْحجامَة ".
وَعَن الْحسن أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " اسْتَعِينُوا على شدّة الحرّ بالحجامة ".
وَعَن سلمى خَادِم رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أَنَّهَا قَالَت: مَا سَمِعت أحدا يشكو إِلَى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وجعاً فِي رَأسه إِلَّا قَالَ لَهُ: " احْتجم "، وَلَا وجعاً فِي رجلَيْهِ إِلَّا قَالَ لَهُ: " أخضبهما بِالْحِنَّاءِ ".
وَعَن ابْن عَبَّاس أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " الْحجامَة شِفَاء من الْجُنُون والجذام والبرص والأضراس وَالنُّعَاس ".
قيل لرَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ، على مَا تُعْطِي هَذَا جِلْدك يقطعهُ؟ فَقَالَ [صلى الله عليه وسلم] : " هَذِه [هِيَ] الْحجامَة وَإنَّهُ أفضل مَا [يتداوى] بِهِ ".
তাঁর থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা মধুতে এবং হিজামায় (রক্তমোক্ষণ) নিরাময় রেখেছেন। তোমরা হিজামা করাও, কারণ রক্ত মানুষের শরীরে এমনভাবে উথলে ওঠে যে তা তাকে মেরে ফেলতে পারে।"
নাফে থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলতেন: "যে ব্যক্তি হিজামা করাবে সে যেন আল্লাহর বরকতের ওপর ভরসা করে তা করে। আর খালি পেটে হিজামা করা সর্বোত্তম; এটি মুখস্থ শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কফ দূর করে।" ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "হিজামা কতই না উত্তম ওষুধ; এটি রোগ ও মাথাব্যথা দূর করে, মেরুদণ্ডকে হালকা করে এবং দৃষ্টিশক্তি উজ্জ্বল করে।" মালেক থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "যদি কোনো ওষুধ রোগের মূলে পৌঁছাতে পারে, তবে হিজামা অবশ্যই সেখানে পৌঁছাবে।"
তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে আরও বর্ণিত: "যদি কোনো ওষুধের মধ্যে কল্যাণ থেকে থাকে, তবে তা এই হিজামার মধ্যেই রয়েছে।"
হাসান থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "অত্যধিক গরমের তীব্রতায় হিজামার মাধ্যমে সহায়তা গ্রহণ করো।"
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর খাদেমা সালমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কাউকে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কাছে মাথাব্যথার অভিযোগ করতে শুনিনি যার উত্তরে তিনি তাকে "হিজামা করাও" বলেননি; আর না কেউ পায়ে ব্যথার অভিযোগ করেছে যার উত্তরে তিনি তাকে "তাতে মেহেদি লাগাও" বলেননি।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "হিজামা হলো উন্মাদনা, কুষ্ঠ, শ্বেতী, দাঁতের ব্যথা এবং তন্দ্রাচ্ছন্নতা থেকে নিরাময়।"
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কেন তাকে আপনার চামড়া কাটার সুযোগ দিচ্ছেন? তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: "এটিই হলো হিজামা এবং এটিই চিকিৎসার সর্বোত্তম মাধ্যম।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَعَن مَكْحُول أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " خمس من سفر الْمُرْسلين: الْحجامَة، والتعطر، والسواك، والحناء، وَكَثْرَة النِّسَاء ". ،
وَعَن جَابر بن عبد الله أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : قَالَ: " نعْمَة الْعَادة القائلة ونعمة الْعَادة الْحجامَة تَنْفَع بِإِذن الله من الصداع ووجع الْأَسْنَان ووجع الْحلق وتخفّ الصلب والصدر ".
قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " جَاءَنِي جِبْرِيل فَأمرنِي بالحجامة وَقَالَ: أَنْفَع دَوَاء يتداوى بِهِ النَّاس ".
وَعَن ابْن عَبَّاس أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " إِن كَانَ فِي شَيْء مِمَّا تَصْنَعُونَ خير فَفِي نَزعَة حجام ".
وَعنهُ [صلى الله عليه وسلم] أَنه قَالَ: " مَا تداوى النَّاس بِمثل الْحجامَة وشربة عسل ". وَقَالَ [صلى الله عليه وسلم] : " التمسوا الشِّفَاء فِي ااثنين: فِي شربة الْعَسَل أَو شَرط محجمة ".
قَالَ سعيد بن الْمسيب لحجام: أشرط شرطتين. هَذَا الَّذِي كَانَ الْحَارِث بن كلّدة الثَّقَفِيّ يَأْمر بِهِ.
قَالَ عبد الْملك: يشرط ضربتين بِشَرْط ضَرْبَة، ثمَّ يمصر الدَّم، ثمَّ يشرط ضَرْبَة أُخْرَى.
قَالَ عبد الْملك: إِن عمر بن الْخطاب كَانَ يَأْمر بذلك الَّذِي يحجمه.
(مَا جَاءَ فِي مَوَاضِع الْحجامَة من الرَّأْس والجسد) وَعَن الْوَاقِدِيّ أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] حجمه أَبُو هِنْد [مولى] بني بياضة فِي يافوخ
মাকহুল থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "রাসূলগণের রীতির অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি বিষয়: সিঙা লাগানো (হিজামা), সুগন্ধি ব্যবহার করা, মেসওয়াক করা, মেহেদী লাগানো এবং অধিক স্ত্রী গ্রহণ।"
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "দুপুরের বিশ্রাম (কায়লুলা) কতই না উত্তম অভ্যাস এবং সিঙা লাগানো কতই না উত্তম অভ্যাস; এটি আল্লাহর নির্দেশে মাথাব্যথা, দাঁত ব্যথা এবং গলা ব্যথা উপশম করে এবং পিঠ ও বুককে হালকা করে।"
রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "জিবরাঈল আমার নিকট এসে আমাকে সিঙা লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন: এটিই সবচেয়ে উপকারী ঔষধ যা দ্বারা মানুষ চিকিৎসা করে।"
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমরা যে সকল পদ্ধতিতে চিকিৎসা করো তার মধ্যে যদি কোনোটিতে কল্যাণ থেকে থাকে, তবে তা সিঙা প্রয়োগকারীর রক্ত নিষ্কাশনের মধ্যে রয়েছে।"
তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে আরও বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "মানুষ সিঙা লাগানো এবং মধু পানের মতো অন্য কিছু দিয়ে চিকিৎসা করেনি।" তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরও বলেছেন: "তোমরা দুই জিনিসের মধ্যে আরোগ্য তালাশ করো: মধু পান অথবা সিঙা যন্ত্রের আঁচড়।"
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব জনৈক সিঙা প্রয়োগকারীকে বলেছিলেন: "দুইটি আঁচড় দাও।" হারিস ইবনে কালদাহ আস-সাকাফীও এরই নির্দেশ দিতেন।
আবদুল মালিক বলেছেন: "এক আঁচড়ের স্থলে দুইবার আঘাত করবে, তারপর রক্ত চুষে বের করবে, অতঃপর পুনরায় আরেকটি আঁচড় দেবে।"
আবদুল মালিক আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই ওমর ইবনুল খাত্তাব তাকে সিঙা প্রদানকারী ব্যক্তিকে এই রূপই নির্দেশ দিতেন।"
(মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিঙা লাগানোর বিবরণ) ওয়াকিদী থেকে বর্ণিত যে, বনু বায়াদার [মুক্তদাস] আবু হিন্দ রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর মাথার তালুতে (ইয়াফুখ) সিঙা লাগিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
من أجل الشَّاة المسمومة الَّتِي أكل مِنْهَا يَوْم خَيْبَر قَالَ: وَكَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يحتجم الذؤابة كل سنة، وَكَانَ يحتجم تَحت الذؤابة فِي النقرة وَفِي الأخدعين وَفِي الْكَاهِل.
وَاحْتَجَمَ [صلى الله عليه وسلم] تَحت كتفه الْيُسْرَى من أجل الشَّاة المسمومة أَيْضا الَّتِي أكل يَوْم خَيْبَر.
وَاحْتَجَمَ بَين وركيه من وجع الصلب وَاحْتَجَمَ فَوق الرّكْبَة من وجع الرّكْبَة وَاحْتَجَمَ وَهُوَ محرم على ظهر الْقدَم من وتي أَصَابَهُ فِي قدمه.
قَالَ عبد الْملك:
فَهَذِهِ [عشرَة] مَوَاضِع احْتجم فِيهَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أَرْبَعَة مِنْهَا فِي الرَّأْس، وَسِتَّة فِي الْجَسَد.
فأمّا الْخَمْسَة من هَذِه الْعشْرَة الَّتِي احْتجم فِيهَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَلَيْسَتْ من مَوَاضِع الْحجامَة إِلَّا لعِلَّة.
وَهِي اليافوخ، وَتَحْت الْكَتف، وَبَين الْوَرِكَيْنِ، وَفَوق الرّكْبَة، وعَلى ظهر الْقدَم.
فأمّا اليافوخ وَتَحْت الْكَتف فَإِنَّمَا احْتجم فيهمَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] من أجل الشَّاة المسمومة الَّتِي أكل مِنْهَا يَوْم خَيْبَر.
وَاحْتَجَمَ على ظهر قدمه وَهُوَ محرم لوتي أَصَابَهُ فِيهَا بطرِيق مكّة، وَاحْتَجَمَ بَين وركيه وَفَوق رُكْبَتَيْهِ من وجع أَصَابَهُ فِيهَا.
قَالَ عبد الْملك:
فأمّا الْخَمْسَة الْمَوَاضِع الْبَاقِيَة من الْعشْرَة فَهِيَ مَوَاضِع حجامة الْعَامَّة على الصِّحَّة وَالْعلَّة. وَثَلَاثَة مِنْهَا فِي الرَّأْس وَهِي: الذؤابة، وَهِي وسط الرَّأْس وَتَحْت الذؤابة وَهِي القمحدوة والنقرة، وَهِي نقرة القفاء والاثنان فِي الْجَسَد الْوَاحِد.
فِي الأخدعين، وهما الزبرتان وهما صفحة الرَّقَبَة من تَحت قصَص شعر القفاء.
খায়বারের দিন যে বিষযুক্ত ছাগল তিনি খেয়েছিলেন তার কারণে। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] প্রতি বছর মাথার সর্বোচ্চ অংশে (জুয়াবাহ) হিজামা করাতেন এবং তিনি মাথার সর্বোচ্চ অংশের নিচে অবস্থিত গর্তে (নুকরাহ), ঘাড়ের দুই পাশের রগে (আখদাঈন) এবং দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে (কাহিল) হিজামা করাতেন।
খায়বারের দিন খাওয়া সেই বিষযুক্ত ছাগলের কারণেই তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর বাম কাঁধের নিচেও হিজামা করিয়েছিলেন।
তিনি মেরুদণ্ডের ব্যথার কারণে দুই নিতম্বের মাঝখানে হিজামা করিয়েছিলেন, হাঁটুর ব্যথার কারণে হাঁটুর উপরে হিজামা করিয়েছিলেন এবং ইহরাম অবস্থায় থাকাকালীন পায়ে চোট পাওয়ার কারণে পায়ের পাতার উপরিভাগে হিজামা করিয়েছিলেন।
আব্দুল মালিক বলেন:
এগুলো হলো সেই [দশটি] স্থান যেখানে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হিজামা করিয়েছিলেন; এর মধ্যে চারটি মাথায় এবং ছয়টি শরীরে।
এই দশটির মধ্যে যে পাঁচটি স্থানে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হিজামা করিয়েছিলেন, সেগুলো কোনো বিশেষ রোগ বা কারণ ছাড়া হিজামা করার সাধারণ স্থান নয়।
সেগুলো হলো: ব্রহ্মতালু (ইয়াফুখ), কাঁধের নিচে, দুই নিতম্বের মাঝখানে, হাঁটুর উপরে এবং পায়ের পাতার উপরিভাগ।
ব্রহ্মতালু এবং কাঁধের নিচের অংশে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কেবল খায়বারের দিন খাওয়া সেই বিষযুক্ত ছাগলের কারণেই হিজামা করিয়েছিলেন।
মক্কার পথে থাকাকালীন পায়ে চোট পাওয়ার কারণে তিনি ইহরাম অবস্থায় পায়ের পাতার উপরিভাগে হিজামা করিয়েছিলেন এবং দুই নিতম্বের মাঝখানে ও হাঁটুর উপরে হিজামা করিয়েছিলেন সেখানে ব্যথার কারণে।
আব্দুল মালিক বলেন:
আর দশটির মধ্যে বাকি পাঁচটি স্থান হলো সুস্থ ও অসুস্থ উভয় অবস্থায় সাধারণ হিজামা করার স্থান। এর মধ্যে তিনটি হলো মাথায়, আর সেগুলো হলো: মাথার উপরিভাগের মাঝখান (জুয়াবাহ), মাথার সর্বোচ্চ অংশের নিচে অবস্থিত মাথার পেছনের উঁচু অংশ (কুমাহদুওয়াহ) ও ঘাড়ের পেছনের গর্ত (নুকরাহ); আর বাকি দুটি শরীরের নির্দিষ্ট অংশে।
তা হলো ঘাড়ের দুই পাশের রগ (আখদাঈন), যা ঘাড়ের পেছনের চুলের সীমানার নিচে অবস্থিত গ্রীবাদেশের দুই পার্শ্বভাগ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَالْأُخْرَى فِي الْكَاهِل وَهُوَ الْعظم الناتي بَين الْكَتِفَيْنِ تَحت الكعب الَّذِي فَوق الرُّكْبَتَيْنِ فِي مغرز الْعُنُق فِي الْجَسَد.
وَفِي كل هَذِه الْخَمْسَة الْمَوَاضِع قد [جَاءَت] الْأَحَادِيث بالرغبة فِي حجمها إِلَّا فِي النقرة، فَإِنَّهَا تورث النسْيَان وفيهَا مَنْفَعَة فِي غير ذَلِك وَقد احتجمها رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَثَبت عَنهُ فِي حَدِيث أَنه احْتجم النقرة، والكاهل، والأخدعين. وَفِي حَدِيث آخر أَنه [صلى الله عليه وسلم] احْتجم على الدَّوَام بمحاجم صفر.
وَكَانَ [صلى الله عليه وسلم] ، يحتجم الذؤابة وَهِي وسط الرَّأْس، وسماها: الْمعينَة. وَكَانَ يحتجم تَحت الذؤابة وَهِي القمحدوة، وسماها: المنقدة. وَكَانَ فِيهَا شِفَاء من سَبْعَة أدواء من الْجُنُون، والجذام، والبرص، والصداع، وأكلة الْفَم، وَمن النعاس، ووجع الأضراس.
وَاحْتَجَمَ [صلى الله عليه وسلم] الْكَاهِل وَأمر بهَا وسماها: النافعة، وَقَالَ: " تَنْفَع بِإِذن الله حجامة الْكَاهِل من سبعين دَاء مِنْهَا الْجُنُون والجذام والبرص ".
وَعَن عَليّ بن أبي طَالب: أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] احْتجم الأخدعين، والكاهل؛ نزل عَلَيْهِ بذلك جِبْرِيل.
(مَا جَاءَ فِي الْأَوْقَات وَالْأَيَّام الَّتِي تسْتَحب فِيهَا الْحجامَة وَتكره) وَعَن ابْن شهَاب أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " من احْتجم يَوْم الْأَرْبَعَاء، أَو يَوْم السبت فَأَصَابَهُ وضح فَلَا يلوم إِلَّا نَفسه ".
وَعنهُ عَن الْحسن الْبَصْرِيّ عَن خَمْسَة من أَصْحَاب رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أَنهم سمعُوا مثل ذَلِك عَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] .
وَعَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " حجامة يَوْم الثُّلَاثَاء صَبِيحَة سَبْعَة عشر من الشَّهْر شِفَاء من كل دَاء ".
অন্যটি হলো 'কাহিল' (পিঠের উপরিভাগ), যা দুই কাঁধের মাঝখানে এবং শরীরের ঘাড়ের গোড়ায় অবস্থিত উঁচু হাড়টি।
এই পাঁচটি স্থানের প্রতিটিতেই রক্তমোক্ষণ (হিজামা) করার ব্যাপারে হাদিসসমূহে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, শুধু 'নুকরাহ' (মাথার পেছনের নিচু অংশ) ব্যতীত। কারণ এটি বিস্মৃতি বা স্মৃতিভ্রম ঘটায়, যদিও এতে অন্যান্য উপকারিতা রয়েছে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নুকরাহ-তে হিজামা করেছেন এবং হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে তিনি নুকরাহ, কাহিল ও আখদা'াইন (ঘাড়ে অবস্থিত দুটি রগ)-এ হিজামা করিয়েছেন। অন্য একটি হাদিসে এসেছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা পিত্তল বা তামার তৈরি সিঙ্গা বা হিজামা যন্ত্র ব্যবহার করতেন।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'জুয়াবাহ' অর্থাৎ মাথার মধ্যভাগে হিজামা করতেন এবং এর নাম দিয়েছিলেন 'মুয়িনাহ' (সহায়তাকারী)। তিনি জুয়াবাহ-র নিচেও হিজামা করতেন যা 'কামহাদুয়াহ' (মাথার পেছনের উঁচু অংশ) নামে পরিচিত এবং তিনি এর নাম দিয়েছিলেন 'মুনকিযাহ' (ত্রাণকর্তা)। এতে সাতটি রোগ থেকে মুক্তি রয়েছে: উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ, শ্বেতী রোগ, মাথাব্যথা, মুখের ক্ষত বা ঘা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা এবং দাঁতের ব্যথা।
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাহিল (পিঠের উপরিভাগ)-এ হিজামা করেছেন এবং এর নির্দেশ দিয়েছেন ও এর নাম দিয়েছেন 'নাফিআহ' (উপকারী)। তিনি বলেছেন: "আল্লাহর ইচ্ছায় কাহিলের হিজামা সত্তরটি রোগের প্রতিষেধক, যার মধ্যে রয়েছে উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ ও শ্বেতী রোগ।"
আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আখদা'াইন (ঘাড়ের দুই রগ) ও কাহিল (পিঠের উপরিভাগ)-এ হিজামা করেছেন; জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) এ নির্দেশ নিয়ে তাঁর নিকট অবতরণ করেছিলেন।
(হিজামার জন্য মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় সময় ও দিনসমূহের বর্ণনা) ইবনে শিহাব (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বুধবার বা শনিবার হিজামা করালো এবং এরপর শ্বেতী রোগে আক্রান্ত হলো, সে যেন নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে তিরস্কার না করে।"
তাঁর থেকে এবং হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাঁচজন সাহাবী থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা শুনেছেন।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মাসের সতেরো তারিখের মঙ্গলবার সকালে হিজামা করা প্রতিটি রোগের নিরাময়।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَعَن الزُّهْرِيّ أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " من كَانَ محتجماً فصبيحة سَبْعَة عشر، أَو تِسْعَة عشر، أَو أحد وَعشْرين، وَمن وَافَقت حجامته يَوْم الثُّلَاثَاء السَّبْعَة عشر كَانَ دَوَاء سنة ".
قَالَ عبد الْملك:
وَفِي هَذِه الثَّلَاثَة الْأَيَّام الْمُتَقَدّمَة كَانَت حجامة رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَأسْندَ عَنهُ ذَلِك قَالَ: " وَهِي أفضل أَوْقَات الْحجامَة من الشَّهْر وَأفضل أَيَّام الْحجامَة يَوْم الثُّلَاثَاء، ثمَّ بعده يَوْم الْخَمِيس، ثمَّ بعده يَوْم الْإِثْنَيْنِ، ثمَّ بعده يَوْم الْأَحَد وأكرههما يَوْم الْأَرْبَعَاء وَيَوْم السبت خيفة البرص وَيَوْم الْجُمُعَة خيفة الْمَوْت ".
رَوَاهُ ابْن عمر عَنهُ [صلى الله عليه وسلم] وَلَفظه: " إيَّاكُمْ والحجامة يَوْم الْأَرْبَعَاء فَإِنَّهُ دَاء " الحَدِيث.
وَعَن كَعْب الْأَحْبَار عَنهُ [صلى الله عليه وسلم] : " خلق الضرّ يَوْم الْأَرْبَعَاء فبذلك كرهت الْحجامَة يَوْم الْأَرْبَعَاء مَخَافَة البرص ".
وَعَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أَنه قَالَ: " من احْتجم يَوْم الْجُمُعَة فَمَاتَ شرك فِي دَمه ". وَقَالَ [صلى الله عليه وسلم] : " الْحجامَة ليَوْم الْأَحَد شِفَاء ". وَقَالَ أَيْضا: " الْحجامَة يَوْم الْأَحَد [كأنّها] [تداو] بدواء سنة ".
قَالَ عبد الْملك:
والحجامة تكره فِي أوّل الْهلَال، فَلَا [يُرْجَى] نَفعهَا حَتَّى ينقص الْهلَال. وَعَن ابْن سِيرِين كَرَاهَة الْحجامَة لرأس الْهلَال وَيَقُول: إِنَّهَا لَا تَنْفَع.
ইমাম যুহরি থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "যে ব্যক্তি হিজামা বা রক্তমোক্ষণ করতে চায়, সে যেন (আরবি মাসের) সতেরো, উনিশ বা একুশ তারিখের সকালে তা করে। আর যার হিজামা সতেরো তারিখের মঙ্গলবার দিনে মিলে যাবে, তা এক বছরের রোগের মহৌষধ হিসেবে কাজ করবে।"
আবদুল মালিক বলেন:
উল্লেখিত এই তিন দিনেই আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হিজামা গ্রহণ করতেন এবং এটি তাঁর থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: "মাসের মধ্যে এই দিনগুলোই হিজামার জন্য সর্বোত্তম সময়। আর সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে হিজামার জন্য শ্রেষ্ঠ দিন হলো মঙ্গলবার, অতঃপর বৃহস্পতিবার, তারপর সোমবার, এরপর রবিবার। আমি শ্বেত রোগের আশঙ্কায় বুধবার ও শনিবার দিন হিজামা করা অপছন্দ করি এবং মৃত্যুর আশঙ্কায় শুক্রবার দিনকে অপছন্দ করি।"
ইবনে উমর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দগুলো হলো: "তোমরা বুধবার হিজামা করা থেকে সতর্ক থাকো, কারণ এটি রোগ বিশেষ।" - হাদিস।
কাব আল-আহবার থেকে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সূত্রে বর্ণিত: "ক্ষতিকর বিষয়সমূহ বুধবার সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই শ্বেত রোগের আশঙ্কায় বুধবারের হিজামাকে অপছন্দ করা হয়েছে।"
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি শুক্রবার হিজামা করল এবং মৃত্যুবরণ করল, সে নিজের রক্তপাতে (অর্থাৎ নিজের মৃত্যুতে) নিজেই অংশীদার হলো।" তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরও বলেছেন: "রবিবারের হিজামা আরোগ্যস্বরূপ।" তিনি আরও বলেছেন: "রবিবারের হিজামা যেন এক বছরের ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণের সমতুল্য।"
আবদুল মালিক বলেন:
নতুন চাঁদের শুরুতে হিজামা করা অপছন্দীয়; চাঁদের আলো হ্রাস পাওয়া শুরু না করা পর্যন্ত এর সুফল আশা করা যায় না। ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত যে, তিনি মাসের শুরুতে হিজামা করা অপছন্দ করতেন এবং বলতেন: এটি কোনো উপকার দেয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قَالَ عبد الْملك:
وَيَكْفِي فِي معرفَة ذَلِك أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] لم يحتجم إِلَّا فِي نُقْصَان الْهلَال.
(مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَة الْحجامَة للشَّيْخ) قَالَ حَكِيم بن حزَام: مِمَّا علمنَا من طبّ الْعَرَب فِي الْجَاهِلِيَّة ترك الْحجامَة للشَّيْخ. وَعَن سعيد بن الْمسيب أَنه يكره الْحجامَة للشَّيْخ الْكَبِير وَيَقُول: تذْهب بِنَفس الشَّيْخ.
(مَا جَاءَ [فِي مَا] يستحبّ من دفن الْحجامَة) وَعَن مُجَاهِد أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أَمر بدفن دم الْحجامَة، وَدم الْحيض، وَدفن الشّعْر من الحلاق وَمن الجزار، وَدفن الظفر إِذا قصّ، وَدفن السنّ إِذا نزعت. وَكَانَ خَارِجَة بن زيد بن ثَابت يَأْمر بدفن الدَّم.
وَعَن مُحَمَّد بن عَليّ أَنه أَمر حجّاماً يحجمه أَن يفرغ محجمة دم لكَلْب أَن يلغه.
قَالَ ابْن حبيب:
وَإِن فعله مُحَمَّد بن عَليّ فَلَيْسَ بمتبرع من الْفِعْل وَقد نهى عَنهُ [صلى الله عليه وسلم] ، وَأَنه احْتجم فَأعْطى الدَّم رجلا ليدفنه وَقَالَ: " احذر أَن يبْحَث عَلَيْهِ الْكَلْب! ".
فَانْطَلق بِهِ الرجل فلمّا أَرَادَ أَن يدفنه إِذا بكلب يطوف بِهِ، فلمّا خشِي أَن يبْحَث عَلَيْهِ ازْدَردهُ، فلمّا انْصَرف قَالَ لَهُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " مَا صنعت؟ "، فَأخْبرهُ. فَقَالَ لَهُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " أما أَحْبَبْت أَن تحرز نَفسك من النَّار؟ ".
وَكَانَ أنس بن مَالك إِذا جزّ شعره جعله فِي طبق، ثمَّ جعله فِي جِدَار. وَكَانَ يَقُول للحجام: لَا تخلط دمي بِدَم غَيْرِي.
(مَا جَاءَ فِي علاج الْحمى) قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " الْحمى من فيح جَهَنَّم فأبردها بِالْمَاءِ ".
আব্দুল মালেক বলেন:
এটি জানার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] চাঁদের ক্ষয়িষ্ণু সময় (পূর্ণিমার পরবর্তী দিনগুলো) ব্যতিরেকে হিজামা করেননি।
(বৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য হিজামা অপছন্দনীয় হওয়া প্রসঙ্গে) হাকিম ইবনে হিযাম বলেন: জাহেলি যুগে আরবীয় চিকিৎসা থেকে আমরা যা শিখেছি তার মধ্যে একটি হলো বৃদ্ধদের জন্য হিজামা বর্জন করা। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত যে, তিনি অতি বৃদ্ধ ব্যক্তির হিজামা করা অপছন্দ করতেন এবং বলতেন: এটি বৃদ্ধের জীবনীশক্তি হরণ করে নেয়।
(হিজামার অবশিষ্টাংশ পুঁতে রাখা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে) মুজাহিদ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হিজামার রক্ত, ঋতুকালীন রক্ত, নাপিত ও কসাইয়ের নিকট থেকে সংগৃহীত চুল, কাটা নখ এবং উপড়ে ফেলা দাঁত পুঁতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। খারিজাহ ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিত রক্ত পুঁতে রাখার নির্দেশ দিতেন।
মুহাম্মদ ইবনে আলী থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁকে হিজামা প্রদানকারী এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন সে হিজামার এক পাত্র রক্ত কোনো কুকুরের চেটে খাওয়ার জন্য ঢেলে দেয়।
ইবনে হাবিব বলেন:
মুহাম্মদ ইবনে আলী এটি করে থাকলেও এটি কোনো অনুসরণীয় কাজ নয়; কেননা রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি নিজে হিজামা করলেন এবং রক্ত দাফন করার জন্য এক ব্যক্তিকে দিয়ে বললেন: "সাবধান! কুকুর যেন এটি খুঁড়ে বের করতে না পারে!"
লোকটি তা নিয়ে চলে গেল। যখন সে এটি পুঁতে রাখতে চাইল, তখন দেখল একটি কুকুর তার চারপাশে ঘুরছে। সে যখন ভয় পেল যে কুকুরটি এটি খুঁড়ে বের করে ফেলবে, তখন সে তা পান করে (গিলে) ফেলল। ফিরে আসার পর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কী করেছ?" সে তাঁকে বিস্তারিত জানাল। তখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে বললেন: "তুমি কি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে পছন্দ করোনি?"
আনাস ইবনে মালিক যখন তাঁর চুল কাটতেন, তখন তা একটি পাত্রে রাখতেন, অতঃপর তা দেয়ালের ফোকরে রেখে দিতেন। তিনি হিজামা প্রদানকারীকে বলতেন: "আমার রক্ত অন্য কারও রক্তের সাথে মিশ্রিত করো না।"
(জ্বরের চিকিৎসা প্রসঙ্গে) রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এরশাদ করেছেন: "জ্বর হলো জাহান্নামের উত্তাপের প্রবাহ, সুতরাং তোমরা পানি দিয়ে তা শীতল করো।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَعنهُ أَيْضا [صلى الله عليه وسلم] : " الْحمى أمّ ملدم تلدم اللَّحْم وَالدَّم بردهَا من الشَّيَاطِين وحرّها من جَهَنَّم فَإِذا حستموها فاغتسلوا بِالْمَاءِ الْجَارِي ثَلَاثًا أَو خمْسا أَو سبعا " يَعْنِي مرّات.
قَالَ مَكْحُول الرَّاوِي: فَإِذا فعلت ذَلِك فَقل: اللَّهُمَّ إِنَّمَا فعلت ذَلِك تَصْدِيقًا لِرَسُولِك وَإِرَادَة شِفَاء بك.
وَرُوِيَ أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] لمّا قدم خَيْبَر قدمُوا على تَمْرَة خضراء فَأَكَلُوا فَأَصَابَتْهُمْ الْحمى فاهتدتهم فَأَمرهمْ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أَن يقدموا المَاء فِي اللَّيْل فِي الشتَاء: " فَإِذا كَانَ بَين الْأُذُنَيْنِ فأفيضوا المَاء عَلَيْكُم واذْكُرُوا اسْم الله عَلَيْهِ " فَفَعَلُوا فَكَأَنَّمَا انشطوا من العقال.
وَكَانَت أَسمَاء بنت أبي بكر إِذا أتتها امْرَأَة محمومة تَأْخُذ المَاء فتصبّه بَينهَا وَبَين جيبها وَتقول: إِن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] كَانَ يَأْمُرنَا أَن نبردها بِالْمَاءِ.
وَعنهُ [صلى الله عليه وسلم] : " الْحمى رايد الْمَوْت وسجن الله فِي الأَرْض وَقطعَة من جَهَنَّم فَإِن عَلَيْكُم مِنْهَا شَيْء فانهزوها بِالْمَاءِ الْبَارِد ".
وَكَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] إِذا حمّ أَمر بقربة من مَاء فبرّدت، ثمَّ صبّها على قرنة فاغتسل بهَا.
وَرُوِيَ أَن رجلا [شكا] الْحمى إِلَى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَقَالَ لَهُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " اغْتسل ثَلَاث مَرَّات قبل طُلُوع الشَّمْس وَقل: بِسم الله وَبِاللَّهِ اذهبي يَا أمّ ملدم فَإِن لم تذْهب فاغتسل سبعا "
(مَا جَاءَ فِي علاج الخاصرة) وَعَن عَائِشَة رضي الله عنها أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " وجع الخاصرة من عرق
তেনামতে [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরও বর্ণিত হয়েছে: "জ্বর হলো উম্মে মিলদাম, যা গোশত ও রক্তকে পিষ্ট করে; এর শীতলতা শয়তানের পক্ষ থেকে এবং এর উষ্ণতা জাহান্নাম থেকে। সুতরাং যখন তোমরা তা অনুভব করবে, তখন প্রবাহিত পানি দ্বারা তিন, পাঁচ অথবা সাতবার গোসল করো।" অর্থাৎ এতো সংখ্যক বার।
বর্ণনাকারী মাকহুল বলেন: যখন তুমি তা করবে তখন বলো: "হে আল্লাহ! আমি কেবল আপনার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনপূর্বক এবং আপনার পক্ষ থেকে আরোগ্য লাভের কামনায় এটি করছি।"
বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন খায়বারে আসলেন, তখন তাঁরা (সাহাবীগণ) আধাপাকা খেজুরের সম্মুখীন হলেন এবং তা খেলেন; ফলে তাঁরা জ্বরে আক্রান্ত হলেন এবং তা তাঁদের কাবু করে ফেলল। তখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁদের নির্দেশ দিলেন যেন তাঁরা রাতে পানি সংগ্রহ করে রাখেন: "অতঃপর যখন দুই আজানের (ফজর ও ইকামতের) মধ্যবর্তী সময় হবে, তখন তোমরা নিজেদের ওপর পানি ঢেলে দাও এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো।" তাঁরা তাই করলেন এবং মনে হলো যেন তাঁরা বন্ধন থেকে মুক্ত হলেন।
আসমা বিনতে আবি বকর (রা.)-এর নিকট যখন কোনো জ্বরাক্রান্ত নারী আসতেন, তিনি পানি নিতেন এবং তা ঐ নারীর পোশাকের গলা ও শরীরের মধ্যবর্তী স্থানে ঢেলে দিতেন এবং বলতেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আমাদের নির্দেশ দিতেন যেন আমরা পানি দ্বারা তা শীতল করি।
তেনামতে [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরও বর্ণিত: "জ্বর হলো মৃত্যুর অগ্রদূত, যমীনে আল্লাহর কারাবাস এবং জাহান্নামের একটি অংশ; সুতরাং তোমাদের ওপর যখন এর কোনো প্রভাব পড়ে, তখন তা শীতল পানি দিয়ে দূর করো।"
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন জ্বরাক্রান্ত হতেন, তখন তিনি এক মশক পানির নির্দেশ দিতেন যা শীতল করা হতো, অতঃপর তিনি তা মাথার ওপর ঢালতেন এবং তা দিয়ে গোসল করতেন।
বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট জ্বরের অভিযোগ করলে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে বললেন: "সূর্যোদয়ের পূর্বে তিনবার গোসল করো এবং বলো: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর সাহায্যে, হে উম্মে মিলদাম! তুমি চলে যাও। অতঃপর যদি না যায় তবে সাতবার গোসল করো।"
(পার্শ্বদেশের ব্যথার চিকিৎসা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "পার্শ্বদেশের ব্যথা একটি শিরা থেকে..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ২১)
الْكُلية فَمن وجد مِنْهَا شَيْئا فَعَلَيهِ بالعسل وَالْمَاء المحرّق " يَعْنِي الْحَمِيم. قَالَت عَائِشَة: وَكَانَت الخاصرة برَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَكَانَت تشتدّ بِهِ حَتَّى إِن كَانَت لتسهده.
وَعَن عمر بن عبد الْعَزِيز أَنه قَالَ: لم أر للخاصرة خيرا من الْحَمِيم. يَعْنِي يدْخل فِيهِ وَيشْرب الْعَسَل.
وَرُوِيَ أَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه سَأَلَ الْحَارِث بن كلّدة الثَّقَفِيّ عَن دَوَاء الخاصرة.
قَالَ: الحلبة تطبخ وَيجْعَل فِيهَا سمن الْبَقر. قَالَ الْحَارِث: وَأما إِذا كنّا على غير الْإِسْلَام فالخمر وَسمن الْبَقر.
قَالَ لَهُ عمر: لَا نسْمع مِنْك ذكر الْخمر فَإِنِّي لَا آمن إِن طَالَتْ مدّة من لَا روع لَهُ أَن [يتداوى] بهَا.
وَعَن الْأَوْزَاعِيّ أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " من سبق الْعَاطِس إِلَى الْحَمد الله عوفي من وجع الخاصرة ".
(مَا جَاءَ فِي الإثْمِد وعلاج الْبَصَر) قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " عَلَيْكُم بالإثْمِد فاكتحلوا بِهِ عِنْد منامكم فَإِنَّهُ خير أكحالكم وَهُوَ يجلو الْبَصَر وَيذْهب القذى وينبت الشّعْر ويجفّ الدمع ".
وَكَانَت لرَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] محكلة فِيهَا إثْمِد يكتحل مِنْهَا عِنْد النّوم. وَسمع رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يَقُول: " [الكمأة] من المنّ وماؤها شِفَاء للعين ".
...কিডনি। সুতরাং যার এতে কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তার উচিত মধু এবং উত্তপ্ত পানি ব্যবহার করা; অর্থাৎ গরম পানি। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পার্শ্বদেশের ব্যথার সমস্যা ছিল এবং তা তাঁর ওপর এতোটাই তীব্র হতো যে তাঁকে নির্ঘুম করে রাখত।
উমর ইবনে আবদুল আজিজ (র.) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: আমি পার্শ্বদেশের ব্যথার জন্য গরম পানির চেয়ে উত্তম কিছু দেখিনি। এর অর্থ হলো সেই পানিতে অবগাহন করা এবং মধু পান করা।
বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হারিস ইবনে কালদাহ আস-সাকাফিকে পার্শ্বদেশের ব্যথার ওষুধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
তিনি বললেন: মেথি রান্না করতে হবে এবং তাতে গরুর ঘি দিতে হবে। হারিস আরও বললেন: আর যখন আমরা ইসলামের ওপর ছিলাম না, তখন ছিল মদ ও গরুর ঘি।
উমর তাঁকে বললেন: আমরা যেন তোমার মুখ থেকে মদের কথা না শুনি। কারণ আমি আশঙ্কা করি যে, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে পরহেজগারীহীন ব্যক্তিরা এটি দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে।
আওযায়ি (র.) থেকে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হাঁচিদাতার আগে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলবে, সে পার্শ্বদেশের ব্যথা থেকে আরোগ্য লাভ করবে।"
(ইতমিদ সুরমা এবং দৃষ্টিশক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্ণনা)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা ইতমিদ সুরমা ব্যবহার করো এবং ঘুমের সময় তা চোখে লাগাও। কারণ এটি তোমাদের সুরমাগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ; এটি দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে, ময়লা দূর করে, লোম (পাপড়ি) গজায় এবং অতিরিক্ত অশ্রু শুকিয়ে ফেলে।"
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি সুরমাদানি ছিল যাতে ইতমিদ সুরমা থাকত, ঘুমের সময় তিনি তা থেকে চোখে সুরমা লাগাতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শোনা গেছে: "কামআহ (এক প্রকার ছত্রাক) মান্না-এর অন্তর্ভুক্ত এবং এর রস চোখের জন্য নিরাময়।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ২২)
قَالَ عبد الْملك:
تعصر وَهِي رطبَة ثمَّ يرفع ويكتحل بِهِ من اشْتَكَى عينه من الرمد وَغَيره، وَكَانُوا يكْرهُونَ أكل الْحَلَاوَة، وَأكل التَّمْر وَالرّطب لصَاحب الرمد. وَقَالَ ابْن الْمُنْكَدر: لم ير لكاتب وَلَا لعامل أَي شَيْء خير لبصره من النّظر إِلَى الخضرة.
وَسُئِلَ مَالك عَن الضَّرِير الْبَصَر يقْدَح المَاء من عينه فيمكث أَرْبَعِينَ لَيْلَة أَو أقل من ذَلِك أَو أَكثر لَا يُصَلِّي إِلَّا إِيمَاء بِرَأْسِهِ فَقَالَ: أكره ذَلِك.
ولمّا نزل المَاء فِي عين ابْن عبّاس أَتَاهُ طَبِيب قَالَ: أَنا أقدح المَاء من عَيْنك وتستلقي على ظهرك أَرْبَعِينَ يَوْمًا يرجع إِلَيْك بَصرك، فكره ذَلِك ابْن عبّاس وَقَالَ: مَا كنت لأشتري [بَصرِي] بترك صَلَاتي.
وَمثل هَذَا عَن ابْن الْمَاجشون حرفا بِحرف.
قَالَ عبد الْملك:
فَأَقَامَ مَحْجُوب الْبَصَر حَتَّى مَاتَ.
قَالَ عبد الْملك:
قَالَ مَالك: وَلَو كَانَ إِنَّمَا يستلقي من قدح المَاء من عَيْنَيْهِ الْيَوْم الْوَاحِد وَنَحْوه لرأيت ذَلِك خَفِيفا، وَلَو اسْتَطَاعَ أَن يُصَلِّي جَالِسا يُومِئ بِرَأْسِهِ فِي الرُّكُوع وَالسُّجُود فِي الْأَرْبَعين لَيْلَة لم أر بذلك بَأْسا. وَعَن أبي مليكَة أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " من أَخذ من شَاربه وقلم أَظْفَاره يَوْم الْجُمُعَة عوفي من الْجُنُون والجذام والبرص وَإِن فيكمه إِلَى الْجُمُعَة الْأُخْرَى وَزَاد غَيره وَإِن أدْرك الرِّجَال لم يُسَلط عَلَيْهِ ".
وَكَانَ الْوَلِيد بن عبد الْملك يَأْمر بنيه أَلا يقلموا أظفارهم إِلَّا يَوْم الْخَمِيس والسبت وَيَقُول: ذكر لي أَن من فعل ذَلِك لم يصبهُ رمد مَا لزم فعل ذَلِك.
وَعَن حبيب بن سَلمَة أَنه قَالَ: مَا رمدت عَيْني وَلَا جربت وَذَلِكَ أَنِّي لم أجدّ حكاكاً بعيني وَلَا جلدي إِلَّا مسحتهما بريقي.
আব্দুল মালিক বলেন:
এটি সতেজ থাকা অবস্থায় নিংড়ানো হয়, এরপর তা সংগ্রহ করে রাখা হয় এবং চোখের প্রদাহ (রমেদ) বা অন্য কোনো চোখের পীড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি তা সুরমা হিসেবে ব্যবহার করে। তারা চোখের প্রদাহে আক্রান্ত রোগীর জন্য মিষ্টিজাতীয় খাবার, খেজুর ও পাকা খেজুর খাওয়া অপছন্দ করতেন। ইবনে আল-মুনকাদির বলেন: কোনো লেখক বা কর্মজীবীর চোখের জ্যোতির জন্য সবুজের দিকে তাকানোর চেয়ে উত্তম আর কিছুই দেখা যায়নি।
ইমাম মালিককে এমন একজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যার চোখ থেকে পানি নামানো (অপারেশন) হয়েছে, ফলে তাকে চল্লিশ রাত বা তার কিছু কম-বেশি সময় পিঠের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে থাকতে হয় এবং সে মাথা দিয়ে ইশারা করা ছাড়া সালাত আদায় করতে পারে না। তিনি বললেন: আমি এটি অপছন্দ করি।
যখন ইবনে আব্বাসের চোখে ছানি (পানি) নামল, তখন জনৈক চিকিৎসক এসে তাকে বললেন: আমি আপনার চোখের পানি নামিয়ে দেব এবং আপনাকে চল্লিশ দিন পিঠ ঠেকিয়ে শুয়ে থাকতে হবে, এতে আপনার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে। ইবনে আব্বাস তা অপছন্দ করলেন এবং বললেন: আমি সালাত ত্যাগ করার বিনিময়ে আমার [দৃষ্টিশক্তি] অর্জন করতে চাই না।
ইবনুল মাজিশুন থেকেও ঠিক একই কথা অক্ষরভেদে হুবহু বর্ণিত হয়েছে।
আব্দুল মালিক বলেন:
অতঃপর তিনি মৃত্যু পর্যন্ত দৃষ্টিহীন অবস্থায় অতিবাহিত করেন।
আব্দুল মালিক বলেন:
মালিক বলেছেন: যদি চোখের পানি নামানোর পর কেবল একদিন বা এর কাছাকাছি সময় শুয়ে থাকতে হতো, তবে আমি একে সহজ মনে করতাম। আর যদি এই চল্লিশ রাত পর্যন্ত সে বসে সালাত আদায় করতে সক্ষম হতো এবং রুকু ও সিজদার জন্য মাথা দিয়ে ইশারা করত, তবে আমি এতে কোনো দোষ দেখতাম না। আবু মুলাইকাহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জুমার দিন নিজের গোঁফ ছোট করবে এবং নখ কাটবে, সে উন্মাদনা, কুষ্ঠ এবং শ্বেতী রোগ থেকে মুক্ত থাকবে এবং এটি পরবর্তী জুমা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।" অন্য বর্ণনায় অতিরিক্ত বলা হয়েছে যে, "এমনকি সে পরিণত বয়সে পৌঁছালেও কোনো ব্যাধি তাকে কাবু করতে পারবে না।"
ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক তার সন্তানদের নির্দেশ দিতেন যেন তারা বৃহস্পতিবার ও শনিবার ব্যতীত নখ না কাটে এবং তিনি বলতেন: আমার কাছে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি এটি করবে, যতদিন সে এই নিয়মের ওপর অবিচল থাকবে, ততদিন সে চোখের প্রদাহে আক্রান্ত হবে না।
হাবিব বিন সালামাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমার চোখে কখনো প্রদাহ হয়নি এবং আমি কখনো চর্মরোগে আক্রান্ত হইনি। এর কারণ হলো, আমার চোখে বা চামড়ায় কখনো চুলকানি অনুভব করলে আমি সেখানে নিজের লালা ঘষে দিতাম।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(مَا جَاءَ فِي علاج الصداع)قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " الصداع مرض الْأَنْبِيَاء ".
وَكَانَت عَائِشَة رضي الله عنها تنْعَت لصَاحب الدَّوَام (يَعْنِي الدوار) أَن يَأْكُل سبع تمرات ضحوة لكلّ يَوْم على الرِّيق سَبْعَة أَيَّام. وَكَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] إِذا أَصَابَهُ الصداع غلف رَأسه بِالْحِنَّاءِ، وَكَانَ يصدع من الْوَحْي إِذا نزل عَلَيْهِ.
وَعَن أم كُلْثُوم بنت أبي بكر أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] دخل على عَائِشَة وَبهَا حرارة بصداع فَأخذ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] خلق عمَامَته فَشَقهَا عصائب فعصب بهَا مفاصل يَديهَا ورجليها فَذهب مَا كَانَت تَجِد.
وَكَانَ الْحَارِث بن كلّدة يَأْمر الَّذِي بِهِ الصداع والحرارة أَن يستعط بحضض بِالْمَاءِ لَا يخالط بِغَيْرِهِ وَرُبمَا أَمر بالصمغ الْعَرَبِيّ مَعَ شَيْء من الكندر.
قَالَ عبد الْملك: والكندر: هُوَ اللبان، والحضض: كحل خولان.
وَكَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يَأْمر بالاستعاط بالكست الْهِنْدِيّ من الصداع. يُؤْخَذ الكست فَيَحُك بالسمسم أَو بالزنبق، ثمَّ يسعط بِهِ من بِهِ الصداع.
(মাথাব্যথার চিকিৎসা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ)রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "মাথাব্যথা হলো নবীগণের ব্যাধি।"
আয়িশা (রাদিআল্লাহু আনহা) মাথা ঘোরা বা চক্কর (অর্থাৎ দাওয়ার) রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য এই ব্যবস্থাপত্র দিতেন যে, সে যেন প্রতিদিন চাশতের সময় (পূর্বাহ্নে) খালি পেটে সাতটি করে খেজুর সাত দিন পর্যন্ত আহার করে। রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন মাথাব্যথায় আক্রান্ত হতেন, তখন তিনি তাঁর মস্তক মুবারক মেহেদি দিয়ে লেপে দিতেন; আর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময়ও তাঁর মাথাব্যথা হতো।
উম্মে কুলসুম বিনতে আবু বকর থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আয়িশা (রাদিআল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করে তাঁকে জ্বরের কারণে মাথাব্যথায় কাতর দেখলেন। তখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর একটি পুরনো পাগড়ি নিয়ে তা ছিঁড়ে কয়েকটি ব্যান্ডেজ তৈরি করলেন এবং তা দিয়ে তাঁর হাত ও পায়ের জোড়াগুলো বেঁধে দিলেন। এতে তাঁর সেই কষ্ট দূর হয়ে গেল।
হারিস বিন কালাদাহ মাথাব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতেন যেন সে অন্য কিছু না মিশিয়ে কেবল পানির সাথে 'হাজায' (রাসউত) নস্যি হিসেবে গ্রহণ করে। কখনও কখনও তিনি আরবি আঠার সাথে সামান্য 'কুন্দুর' (লোবান) ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন।
আব্দুল মালেক বলেন: কুন্দুর হলো লোবান এবং হাজায হলো খুওলানের সুরমা।
রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মাথাব্যথার প্রতিকারে ভারতীয় কুত (কুস্তু হিন্দি) নস্যি হিসেবে ব্যবহার করতে নির্দেশ দিতেন। কুত নিয়ে তিল বা লিলি তেলের সাথে ঘষে মাথাব্যথার রোগীকে তা নস্যি হিসেবে দেওয়া হতো।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَعَن يحيى بن سعيد قَالَ: كَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يَأْمر بالاستعاط بالحبة السَّوْدَاء وَهِي الشونيز من الصداع.
قَالَ يحيى بن سعيد: وَذَلِكَ أَن تَأْخُذ سبع حبات، أَو تسعا، أَو إِحْدَى عشرَة فيهشمن، ثمَّ يصْرَرْن فِي خرقَة، ثمَّ تنقع الْخِرْقَة فِي مَاء، ثمَّ يعصر فِي مسعط على شَيْء من لبن امْرَأَة، أَو بنفسج، ثمَّ يسعط صَاحب الصداع.
وَكَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يسعط بالسمسم من الصداع، وَيغسل رَأسه بالسدر.
وَعنهُ [صلى الله عليه وسلم] : " عَلَيْكُم بالمشط فتداوا بِهِ فَإِنَّهُ يذهب الصداع ".
وَكَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يمشط لحيته وَرَأسه فِي الْيَوْم المرّتين و [الثَّلَاث] من غير دهن وَرُبمَا فعل ذَلِك بِالْمَاءِ.
وَعَن عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه: أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " مشط الرَّأْس
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মাথাব্যথার জন্য কালিজিরা—যা শুনীজ নামেও পরিচিত—নাস্য হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিতেন।
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেন: এর পদ্ধতি হলো এই যে, সাতটি, নয়টি অথবা এগারোটি কালিজিরার দানা নিয়ে তা চূর্ণ করতে হবে, এরপর একটি কাপড়ে পোটলা বাঁধতে হবে এবং কাপড়টি পানিতে ভেজাতে হবে। তারপর সেই কাপড়ের নির্যাস একটি নাস্যপাত্রে সামান্য স্ত্রীদুগ্ধ অথবা বনফশা তেলের সাথে মিশিয়ে নিংড়াতে হবে এবং মাথাব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তির নাসিকাপথে তা প্রয়োগ করতে হবে।
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মাথাব্যথার চিকিৎসায় তিল নাস্য হিসেবে ব্যবহার করতেন এবং কুল (বরই) পাতা দিয়ে মাথা ধৌত করতেন।
তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে বর্ণিত: "তোমরা চিরুনি ব্যবহার করো এবং এর মাধ্যমে প্রতিকার করো, কেননা এটি মাথাব্যথা দূর করে।"
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] প্রতিদিন তেল ছাড়াই দুই অথবা তিনবার তাঁর দাড়ি ও চুল আঁচড়াতেন, আর কখনও কখনও পানি ব্যবহার করে তা সম্পাদন করতেন।
আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "মাথা আঁচড়ানো...
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ِ واللحية بِاللَّيْلِ وَالنَّهَار يذهب الصداع ". وَعَن قَتَادَة قَالَ: كَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] إِذا دهن بَدَأَ بحاجبيه، وَقَالَ: " هَذَا أَمَان من الصداع ".
(مَا جَاءَ فِي علاج الْفُؤَاد) وَعَن جَابر بن عبد الله أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] دخل على سعد بن أبي وَقاص وَهُوَ يشتكي. قَالَ سعد: فَوضع رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يَده على صَدْرِي حَتَّى وجدت بردهَا على فُؤَادِي فَقَالَ لي: " أَنْت رجل مفؤود أرسل إِلَى ابْن كلّدة فَإِنَّهُ رجل متطبب فلتأخذ سبع تمرات من عَجْوَة وشيئاً من كست هندي وشيئاً من ورس وشيئاً من زَيْت، فلتدق التمرات بنواهن ثمَّ لِتجمع ذَلِك وتلذذ " فَفعل فبرأ.
(مَا جَاءَ فِي علاج الدماميل) وَعَن ابراهيم بن مُحَمَّد الْهِنْدِيّ قَالَ: ينفع بِإِذن الله من الدماميل أَن تَأْخُذ من الْعِنَب الْأَحْمَر خمسين عنبة أَو نَحْوهَا فتطبخ بِالْمَاءِ حَتَّى يعود المَاء إِلَى الثُّلُث ثمَّ تشربه وتأكل الْعِنَب.
(مَا جَاءَ فِي الْعذرَة والسلفاغ) وَعَن جَابر بن عبد الله أَن امْرَأَة دخلت على عَائِشَة بِابْن لَهَا وَبِه الْعذرَة وَقد أعلقت عَنهُ وَأَنْفه يسيل دَمًا فَدخل رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَرَآهُ فَقَالَ: " ويلكنّ لَا تقتلن أولادكنّ
...এবং দাড়ি রাতে ও দিনে (তৈল ব্যবহার করলে) মাথাব্যথা দূর হয়।" কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন তৈল ব্যবহার করতেন, তখন ভ্রু থেকে শুরু করতেন এবং বলতেন: "এটি মাথাব্যথা থেকে নিরাপত্তা স্বরূপ।"
(হৃদরোগের চিকিৎসা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর কাছে গেলেন যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। সাদ (রা.) বলেন: অতঃপর আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আমার বুকের ওপর তাঁর হাত রাখলেন, এমনকি আমি আমার হৃদয়ে তাঁর হাতের শীতলতা অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন: "তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, ইবনে কালদাহর কাছে লোক পাঠাও, কারণ সে একজন চিকিৎসক। তুমি সাতটি আজওয়া খেজুর, কিছু ভারতীয় কস্ত (কুষ্ঠ), কিছু ওয়ারাস এবং কিছু তেল নাও। খেজুরগুলো বিঁচিসহ চূর্ণ করো, এরপর এগুলো একত্রে মিশিয়ে চেটে খাও।" তিনি তা করলেন এবং সুস্থ হয়ে গেলেন।
(ফোঁড়া বা টিউমারের চিকিৎসা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে) ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-হিন্দি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর ইচ্ছায় ফোঁড়া বা টিউমারের ক্ষেত্রে এটি উপকারী যে, আপনি পঞ্চাশটি বা এর কাছাকাছি লাল আঙুর নেবেন, এরপর তা পানিতে সেদ্ধ করবেন যতক্ষণ না পানি কমে এক-তৃতীয়াংশ হয়। এরপর আপনি তা পান করবেন এবং আঙুরগুলো খেয়ে নেবেন।
(গলার প্রদাহ ও তৎসংশ্লিষ্ট রোগ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক নারী তার এক পুত্রকে নিয়ে আয়েশা (রা.)-এর কাছে এলেন। ছেলেটি গলার প্রদাহে (আল-উদরাহ) আক্রান্ত ছিল এবং এর চিকিৎসার জন্য তার গলার ঝিল্লি উপরে তোলা হয়েছিল, ফলে তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। তখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] প্রবেশ করে তাকে দেখলেন এবং বললেন: "তোমাদের দুর্ভাগ্য! তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[بأعلاق. أيَّتكنَّ أصَاب] وَلَدهَا من الْعذرَة أَو من وجع بِرَأْسِهِ فتأخذ كستاً هندياً وشيئاً من الْحبَّة السَّوْدَاء فلتحكه بِشَيْء من زَيْت ثمَّ تسعطه إِيَّاه " فَأمر رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] عَائِشَة فَفعلت ذَلِك [فبرئ] .
وَعَن أم الغلامين قَالَت: سَقَطت بابنيّ عذرة فَجئْت رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَقلت: يَا رَسُول الله إِن بابنيّ عذرة، أَبَا علق عَنْهُمَا؟
قَالَ: " لَا وَلَكِن أسعطيهما بالحبة السَّوْدَاء وبالكست المرّ وبالزيت و [تؤكلن] ".
قَالَت: فَذَهَبت فَلم تغدر لي نَفسِي حَتَّى أعلقت عَنْهُمَا فَقضى أَن مَاتَا فسيحتهما، ثمَّ ذهبت إِلَى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فأعلمته بموتهما وَبِالَّذِي فعلت فَقَالَت: يَا رَسُول الله مصيبتي بمعصيتي لله وَرَسُوله أشدّ من مصيبتي بابنيّ.
فَقَالَ لَهَا: " أَنْت وَالِدَة لَا جنَاح عَلَيْك ".
قَالَت: وألفيت عِنْده نسَاء من الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار فَقَالَ: " يَا معشر النِّسَاء لَا تعلقن على أولادكنّ فَإِنَّهُ قتل السِّرّ، وَلَكِن أسعطن بالحبة السَّوْدَاء وبالكست المرّ وبالزيت وتؤكلن ".
قَالَ عبد الْملك:
فَسَأَلت قدامَة عَن علاج ذَلِك فَقَالَ لي: تَأْخُذ سبع حبّات من الْحبَّة السَّوْدَاء - وَهِي الْقرح الَّذِي يَجْعَل فِي الْخبز - فتجعلها فِي شَيْء من زَيْت، ثمَّ تسهكها سهكاً حَتَّى تنماع، ثمَّ تَأْخُذ عويداً من كست مرّ [فتسهكه] فِي ذَلِك الزَّيْت سهكاً فَتقبل بِهِ وتدبر
[গলা টিপে চিকিৎসার মাধ্যমে]। তোমাদের মধ্যে যার সন্তানের ‘উযরাহ’ (গলার প্রদাহ) অথবা মাথাব্যথা হয়, সে যেন ভারতীয় কোস্টাস এবং সামান্য কালিজিরা গ্রহণ করে। অতঃপর সে যেন তা তেলের সাথে ঘষে বা পিষে তার নাকে ড্রপ হিসেবে প্রয়োগ করে।" এরপর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আয়েশাকে (রাদিয়াল্লাহু আনহা) অনুরূপ করতে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তা করলেন, ফলে শিশুটি সুস্থ হয়ে গেল।
উম্মু আল-গুলামাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার দুই ছেলের ‘উযরাহ’ (গলার অসুখ) হলো। তখন আমি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কাছে এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার দুই ছেলের ‘উযরাহ’ হয়েছে, আমি কি তাদের গলায় চাপ দিয়ে চিকিৎসা করব?
তিনি বললেন: "না, বরং তাদের নাকে কালিজিরা, তিতা কোস্টাস এবং তেলের মিশ্রণ ড্রপ হিসেবে দাও এবং [ওষুধ হিসেবে খাওয়াও]।"
তিনি বললেন: অতঃপর আমি ফিরে গেলাম, কিন্তু আমার মন মানল না যতক্ষণ না আমি তাদের গলায় চাপ দিয়ে চিকিৎসা করলাম। পরিশেষে তারা মৃত্যুবরণ করল এবং আমি তাদের জন্য শোক প্রকাশ করলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কাছে গিয়ে তাদের মৃত্যু এবং আমার কৃতকর্মের কথা জানালাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হওয়ার মুসিবত আমার কাছে আমার সন্তানদের হারানোর শোকের চেয়েও কঠিন।
তিনি তাকে বললেন: "তুমি একজন মা, (ভুলবশত এমন করায়) তোমার ওপর কোনো গুনাহ নেই।"
তিনি (উম্মু আল-গুলামাইন) বললেন: আমি তাঁর নিকট মুহাজির ও আনসার বংশীয় কিছু নারীকে উপস্থিত পেলাম। তখন তিনি বললেন: "হে নারী সমাজ! তোমরা তোমাদের সন্তানদের গলায় চাপ দিয়ে কষ্ট দিও না, কারণ এটি এক প্রকার গোপন হত্যার সমতুল্য। বরং তোমরা তাদের নাকে কালিজিরা, তিতা কোস্টাস ও তেলের মিশ্রণ ড্রপ হিসেবে প্রয়োগ করো এবং ওষুধ হিসেবে খাওয়াও।"
আব্দুল মালিক বলেন:
আমি কুদামাহকে এই রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বললেন: তুমি কালিজিরার সাতটি দানা গ্রহণ করবে—যা রুটির মধ্যে ব্যবহৃত কালো বীজ—অতঃপর সেগুলো সামান্য তেলের মধ্যে রাখবে। তারপর সেগুলো ভালোভাবে পিষবে যতক্ষণ না তা মিশে যায়। এরপর তিতা কোস্টাসের একটি ছোট কাঠি নিয়ে ঐ তেলের মধ্যে ঘষবে এবং তা (নাকের ভেতরে) বারবার নাড়াচাড়া করে মাখিয়ে দিবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
حَتَّى مَاتَ مِنْهُ مَا مَاتَ، ثمَّ تقطره فِي مَنْخرَيْهِ وَإِن كَانَ ذَلِك فِي الصَّيف فِي شدّة الحرّ فَلْيَكُن ذَلِك بِشَيْء من لبن امْرَأَة وَهُوَ ردّ فَإِنَّهُ بَارِد.
قَالَ لي قدامَة: وَتَفْسِير الأعلاق أَن تحدد الحديدة أَو الْعود حَتَّى كدح السهْم، ثمَّ يحدد طرفه شَدِيدا، ثمَّ يدْخل الْحلق واللهات حَيْثُ الْعذرَة فيبطّ بِهِ حَتَّى يسيل الدَّم. والعذرة شَبيه السلفاغ.
(مَا جَاءَ فِي علاج الجذام والبرص وَاجْتنَاب مَا يجرّ إِلَيْهِمَا) وَرُوِيَ [أَن] الْأَزْدِيّ كَاتب عمر بن الْخطاب رضي الله عنه أَصَابَهُ الجذام فَقَالَ عمر لِلْحَارِثِ بن كلدة: عالجه.
قَالَ: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أمّا أَن يبرأ فَلَا، وَلَكِن أداويه حَتَّى يقف مَرضه.
قَالَ عمر: [فَلذَلِك كَانَ] الْحَارِث يَأْمر بالحنظل الرطب فيدهن بِهِ قَدَمَيْهِ لَا يزِيدهُ على ذَلِك فَوقف مَرضه حَتَّى مَاتَ.
وَجَاء رجل إِلَى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] وَبِه برص، فَقَالَ لَهُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " إيت بِفنَاء لَيْسَ بِهِ بمرتفع وَلَا منحدر فتمرّغ فِيهِ "، فَفعل الرجل فَلم يزدْ برصه.
وَعَن مُجَاهِد أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " نبت الشّعْر فِي الْأنف أَمَان من الجذام ".
وَعَن الزُّهْرِيّ أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " غُبَار الْمَدِينَة شِفَاء من الجذام ".
وَعنهُ، [صلى الله عليه وسلم] : " من أكل الجرجير لَيْلًا تردد الجذام عَلَيْهِ حَتَّى يصبح ".
وَرُوِيَ فِي حَدِيث آخر: " لَا تَأْكُل الجرجير فَإِنَّهُ يسْقِي عروق الجذام ".
وَعَن أنس بن مَالك أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " لَا تستاكوا بِعُود الرمّان، وَلَا الريحان فَإِنَّهُ يسْقِي عرق الجذام ".
যতক্ষণ না এর প্রভাবে (ক্ষতিকর কিছু) নির্মূল হয়, তারপর তা নাসারন্ধ্রে ফোঁটা ফোঁটা করে দেবে। আর যদি গ্রীষ্মকালে তীব্র গরমে এমনটি হয়, তবে তা কোনো মহিলার দুধের সাথে মিশ্রিত হওয়া উচিত, যা প্রতিকার হিসেবে শীতল।
কুদামা আমাকে বলেছেন: 'আল-আ'লাক'-এর ব্যাখ্যা হলো লোহার পাত বা কাষ্ঠখণ্ডকে তীরের ফলার মতো ধারালো করা, অতঃপর এর অগ্রভাগকে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ করা। এরপর তা গলনালীতে ও আলজিহ্বায় যেখানে 'উজরা' (গলা ফোলা রোগ) হয়েছে সেখানে প্রবেশ করানো এবং তা দিয়ে চিরে ফেলা যাতে রক্ত বের হয়ে আসে। আর 'উজরা' হলো 'সালাফাগ'-এর সদৃশ।
(কুষ্ঠ ও শ্বেতী রোগের চিকিৎসা এবং যা এই রোগগুলোর দিকে ধাবিত করে তা পরিহার করা প্রসঙ্গে) বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাতিব (লেখক) আল-আজদী কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হারিস ইবনে কালদাহকে বললেন: "তার চিকিৎসা করো।"
তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! রোগ সম্পূর্ণ সেরে যাওয়ার ব্যাপারে আমি নিশ্চয়তা দিতে পারছি না, তবে আমি তাকে এমনভাবে চিকিৎসা দেব যাতে তার রোগটি আর না বাড়ে।"
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: [সেজন্যই] হারিস তাকে তাজা ইন্দ্রায়ণ (হানজাল) ফল ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন। সে তার দুই পায়ে তা ঘষত এবং এর চেয়ে বেশি কিছু করত না। ফলে তার মৃত্যু পর্যন্ত রোগটি আর বাড়েনি।
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এলেন যার শ্বেতী রোগ ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি এমন এক প্রাঙ্গণে যাও যা খুব উঁচুও নয় আবার খুব নিচুও নয়, সেখানে গিয়ে গড়াগড়ি দাও।" লোকটি তাই করল এবং তার শ্বেতী রোগ আর বৃদ্ধি পেল না।
মুজাহিদ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নাকের ভেতর লোম গজানো কুষ্ঠ রোগ থেকে সুরক্ষাস্বরূপ।"
যুহরী থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মদীনার ধূলিকণা কুষ্ঠ রোগের আরোগ্য।"
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি রাতে জুরজীর খাবে, সকাল পর্যন্ত কুষ্ঠ রোগ তার মাঝে ঘুরপাক খেতে থাকবে।"
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা জুরজীর খেয়ো না, কারণ তা কুষ্ঠ রোগের শিরাগুলোকে সতেজ করে তোলে।"
আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা ডালিম গাছ বা রায়হান গাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করো না, কারণ তা কুষ্ঠ রোগের শিরাকে সতেজ করে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(مَا جَاءَ فِي الكي والبطّ وَقطع الْعُرُوق) قَالَ عبد الْملك بن حبيب:
الكي والبطّ وَقطع الْعُرُوق مَكْرُوهَة إِلَّا من اضْطر إِلَيْهِ لداء لَا دَوَاء لَهُ إِلَّا فِيهِ، وَأمر لَا يُوجد فِيهِ بدّ فإمّا على حَال التَّدَاوِي [فِي مَا] فِيهِ المندوحة بِغَيْرِهِ عَنهُ فَلَا يجوز فعله. لم تزل الْكَرَاهِيَة فِيهِ فِي الْآثَار، وَفِي الْفتيا من أهل الْعلم.
وَعَن قَتَادَة أَن رجلا دخل على رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] شاكٍ قَالَ: يَا رَسُول الله لَو اكتويت؟
فَقَالَ لَهُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " بل اكتوِ أَنْت " فَمَا مَاتَ الرجل حَتَّى اكتوِيَ تسعا وَتِسْعين كَيَّة.
وروى إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ أَن رجلا اسْتَأْذن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] أَن يكتوي ثَلَاث مرّات فَنَهَاهُ ثَلَاث، فاكتوى الرجل بِغَيْر إِذن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فَغَضب [صلى الله عليه وسلم] لمّا أخبر بِهِ، ثمَّ قَالَ: " إِذا أحرقه الله فَأَحْرقُوهُ ".
وَجَاء رجل أَيْضا إِلَيْهِ [صلى الله عليه وسلم] فَقَالَ لَهُ: إِن بِي عرق النِّسَاء، وَقد أردْت قطعه. فَقَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " لَا تقطعه وَلَكِن استرقّ لَهُ وَخذ إلية كَبْش عَرَبِيّ أسود فيذاب، ثمَّ اشربه على الرِّيق ثَلَاثَة أَيَّام وادهنه بِهِ فَإِنَّهُ ينفع بِإِذن الله من عرق النِّسَاء ". وَنهى ابْن مَسْعُود عَن قطع اللهاة.
وَعَن مُحَمَّد بن عَمْرو بن عَلْقَمَة بن وَقاص أَنه أَصَابَته ذَات الْجنب فَدَعَا لَهُ أَبوهُ طَبِيبا يكويه فَقَالَ لَهُ عمر بن الْخطاب: لَا تمسّ ابْنك نَارا فَإِن لَهُ أَََجَلًا هُوَ بالغه لن يعدوه وَلنْ يتَأَخَّر عَنهُ.
فولى عَلْقَمَة بن وَقاص رَاجعا فَنَادَى عمر فَقَالَ لَهُ عمر: اعْلَم إِن الَّذِي كرهته لَك هُوَ كَمَا ذكرت، وَهُوَ حدث بابنك حدث فِي وَجَعه هَذَا لم يزل عليّ فِي نَفسك من نهيي [إيّاك] شَيْء اذْهَبْ فَاصْنَعْ مَا رَأَيْت.
وروى ابْن سعيد بن زارة: أَصَابَته الذبْحَة فَاسْتَأْذن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] فِي الكي فَنَهَاهُ فَأبى سعد إِلَّا أَن يكتوي. فاكتوى فَمَاتَ.
(দাগ দেওয়া, ফোঁড়া চেরা এবং রক্তমোক্ষণ বা রগ কাটা প্রসঙ্গে) আবদুল মালেক ইবনে হাবীব বলেন:
দাগ দেওয়া (কেয়ি), ফোঁড়া চেরা (বাত্ত) এবং রক্তমোক্ষণ বা রগ কাটা অপছন্দনীয় (মাকরুহ); তবে এমন ব্যক্তির জন্য ব্যত্যয় রয়েছে যে এমন কোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত যার চিকিৎসা এগুলো ছাড়া অন্য কিছুতে নেই, এবং এমন বিষয় যাতে কোনো বিকল্প পাওয়া যায় না। কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রে যদি অন্য কোনো বিকল্প উপায়ের সুযোগ থাকে, তবে এগুলো করা জায়েজ নয়। প্রাচীন বর্ণনাগুলোতে এবং আলেমদের ফতোয়ায় এ বিষয়ে সর্বদা অপছন্দনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে।
কাতাদাহ থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কাছে কোনো এক ব্যথার অভিযোগ নিয়ে এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি দাগ (কেয়ি) লাগাই?
রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে বললেন: "বরং তুমিই দাগ লাগাও।" এরপর সেই ব্যক্তি নিরানব্বইটি দাগ না লাগানো পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেননি।
ইবরাহিম নাখয়ি বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কাছে তিনবার দাগ লাগানোর অনুমতি চাইল, কিন্তু তিনি তাকে তিনবারই নিষেধ করলেন। অতঃপর লোকটি রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর অনুমতি ছাড়াই দাগ লাগালো। যখন তাঁকে বিষয়টি জানানো হলো, তিনি রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "আল্লাহ তাকে দগ্ধ করেছেন, তাই তোমরাও তাকে দগ্ধ করো।"
জনৈক ব্যক্তি তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কাছে এসে বললেন: আমি সায়াটিকা বা উরুস্তম্ভ (ইরকুন নিসা) ব্যথায় ভুগছি এবং আমি এটি কেটে ফেলার (রক্তমোক্ষণ) ইচ্ছা করেছি। রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: "তা কাটবে না, বরং এর জন্য ঝাড়ফুঁক (রুকইয়াহ) করো এবং একটি কালো আরবী দুম্বার চর্বিযুক্ত লেজ নাও, তা গলিয়ে নাও, অতঃপর তিন দিন খালি পেটে তা পান করো এবং তা দিয়ে মালিশ করো। আল্লাহর নির্দেশে এটি সায়াটিকা ব্যথায় উপকারে আসবে।" ইবনে মাসউদ আলজিহ্বা (লিহাত) কাটতে নিষেধ করেছেন।
মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত যে, তিনি পার্শ্বশূল (জাতুল জান্ব) রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখন তাঁর পিতা তাঁর জন্য একজন চিকিৎসক ডাকলেন তাকে দাগ দেওয়ার জন্য। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে বললেন: তোমার ছেলেকে আগুনের স্পর্শ দিও না, কারণ তার জন্য এক নির্ধারিত সময় (আজল) রয়েছে যাতে সে পৌঁছাবেই; সে তা অতিক্রম করতে পারবে না এবং তা থেকে পিছিয়েও থাকবে না।
তখন আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস ফিরে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলেন। উমর তাকে ডেকে বললেন: জেনে রেখো, আমি তোমার জন্য যা অপছন্দ করেছি তা তেমনই যা আমি বলেছি। কিন্তু তোমার ছেলের এই ব্যথার মধ্যে যদি নতুন কিছু ঘটে যায়, তবে আমার নিষেধের কারণে তোমার মনে কোনো আক্ষেপ থেকে যেতে পারে। যাও, তুমি যা ভালো মনে করো তা-ই করো।
ইবনে সাঈদ ইবনে যুরারাহ থেকে বর্ণিত: তিনি গলক্ষত (জাবহাহ) রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কাছে দাগ দেওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে নিষেধ করলেন, কিন্তু সাদ দাগ দেওয়া ছাড়া থাকতে চাইলেন না। অতঃপর তিনি দাগ লাগালেন এবং মৃত্যুবরণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قَالَ عبد الْملك:
وَقد اكتوى بَعضهم على حَال الِاضْطِرَار إِلَيْهِ إِذْ لم يجد مِنْهُ بدا وَلَا عَنهُ غنى بِغَيْرِهِ.
وَعَن جَابر بن عبد الله أَن ابْن سعد بن أبي وَقاص رمي بِسَهْم فِي يَده فَأمر رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] طَبِيبا فكواه على مَوضِع الرَّمية.
وروى مَالك عَن نَافِع عَن عمر أَن اكتوى من اللقوة. وَقَالَ مَالك: لَا بَأْس بالكي، والبطّ، وَقطع الْعُرُوق لمن اضطّر إِلَيْهِ وَلم يجد من بدا.
وَرُوِيَ أَن خباب بن الْأَرَت اكتوى سبعا فِي بَطْنه لما لم يجد مِنْهُ بدا. وَعَن أنس بن مَالك أَنه اكتوى فِي عهد رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] من ذَات الْجنب.
وَرُوِيَ أَن الْمِقْدَاد بن الْأسود كَانَ عَظِيم الْبَطن قد أضرّ بِهِ الشَّحْم وغمّه حَتَّى كَانَ يوقفه على الْمَوْت، فبطّ بَطْنه مرَّتَيْنِ يخرج مِنْهُ الشَّحْم على غير مرض إِلَّا كَثْرَة الشَّحْم. فَمَاتَ من ذَلِك على آخر البطّ.
وَخرج عُرْوَة بن الزبير إِلَى الْوَلِيد بن عبد الْملك فأصابت رجله الشافة فعظمت ثمَّ آلت الى الْأكلَة فَأَرَادَ عُرْوَة قطعهَا فَدَعَا لَهُ الْوَلِيد الْأَطِبَّاء فَقَالُوا لَهُ: إِن أَنْت قطعتها قتلت نَفسك.
فَقَالَ: لَا بُد من قطعهَا فَاقْطَعُوا. قَالُوا: فنسقيك المرقد. قَالَ: ولِمَ؟ قَالُوا: لِئَلَّا ترى وَلَا تحس مَا نصْنَع لَك. قَالَ: لَا أشربه.
فَأخذُوا منشاراً فأحموه حَتَّى صَار كالجمرة ثمَّ قطعُوا بِهِ سَاقه فَوق الكعب بأَرْبعَة أَصَابِع ثمَّ أدخلوها فِي الزَّيْت تَفُور فَمَا تحرّك.
فَلَمَّا قطعت وَنظر إِلَيْهَا مَوْضُوعَة أَمَامه [قَالَ:] أما إِنَّه يعلم أَنِّي لم أمش بهَا إِلَى مَعْصِيّة قطّ، ثمَّ أَمر بهَا فغسلت فكفنها فِي قبطية، ثمَّ أَمر بهَا أَن تدفن فِي مَقَابِر الْمُسلمين.
আব্দুল মালিক বলেন:
তাদের কেউ কেউ চরম নিরুপায় অবস্থায় দহন চিকিৎসা (কাই) গ্রহণ করেছেন, যখন তিনি এর কোনো বিকল্প পাননি এবং এটি ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে নিষ্কৃতি লাভ সম্ভব ছিল না।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস তাঁর হাতে একটি তীরের আঘাত পান। তখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] একজন চিকিৎসককে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি সেই জখমের স্থানে দহন চিকিৎসা করলেন।
ইমাম মালিক নাফে থেকে এবং তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুখমন্ডলের পক্ষাঘাতের (লাকওয়া) জন্য দহন চিকিৎসা গ্রহণ করেছিলেন। ইমাম মালিক বলেন: যে ব্যক্তি নিরুপায় এবং এর কোনো বিকল্প খুঁজে পায় না, তার জন্য দহন চিকিৎসা (কাই), অস্ত্রোপচার এবং শিরা কাটার মধ্যে কোনো দোষ নেই।
বর্ণিত আছে যে, খাব্বাব ইবনুল আরাত নিরুপায় হয়ে তাঁর পেটে সাতটি দহন চিহ্ন দিয়েছিলেন। আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর যুগে পার্শ্বশূল (জাতুল জাম্ব) রোগের কারণে দহন চিকিৎসা গ্রহণ করেছিলেন।
আরও বর্ণিত আছে যে, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ অত্যন্ত স্থূলদেহী ছিলেন। মেদ-চর্বি তাঁর এমন ক্ষতি করেছিল এবং তাঁকে এতটাই বিচলিত করেছিল যে, তা তাঁকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। ফলে তাঁর পেট দুইবার অস্ত্রোপচার করে চর্বি বের করা হয়, যদিও মেদাধিক্য ছাড়া তাঁর অন্য কোনো রোগ ছিল না। পরিশেষে সেই অস্ত্রোপচারের শেষ পর্যায়েই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর (খলিফা) ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। পথিমধ্যে তাঁর পায়ে একটি ফোড়া সদৃশ ক্ষত দেখা দিল এবং তা বড় হতে থাকল, এক পর্যায়ে তা পচনশীল ক্ষতে পরিণত হলো। উরওয়াহ সেটি কেটে ফেলার ইচ্ছা করলেন। ওয়ালিদ তাঁর জন্য চিকিৎসকদের ডাকলেন। তারা তাঁকে বলল: আপনি যদি এটি কেটে ফেলেন, তবে আপনি নিজের প্রাণ সংশয় করবেন।
তিনি বললেন: এটি অবশ্যই কাটতে হবে, তাই তোমরা কেটে ফেলো। তারা বলল: আমরা আপনাকে অচেতন করার ঔষধ পান করাব। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কেন? তারা বলল: যাতে আমরা আপনার সাথে যা করছি তা আপনি দেখতে না পান এবং অনুভব করতে না পারেন। তিনি বললেন: আমি তা পান করব না।
অতঃপর তারা একটি করাত নিল এবং সেটিকে আগুনের অঙ্গারের মতো উত্তপ্ত করল। এরপর তারা তাঁর গোড়ালির চার আঙ্গুল উপর থেকে পা-টি কেটে ফেলল। তারপর তারা সেটি ফুটন্ত তেলের মধ্যে স্থাপন করল, কিন্তু তিনি সামান্য নড়াচড়াও করলেন না।
যখন পা-টি বিচ্ছিন্ন করা হলো এবং সেটি তাঁর সামনে রাখা হলো, তখন তিনি সেটির দিকে তাকিয়ে [বললেন:] আল্লাহ জানেন যে, আমি এই পা দিয়ে কখনো কোনো পাপাচারের দিকে হেঁটে যাইনি। এরপর তিনি সেটি ধৌত করার নির্দেশ দিলেন এবং কিবতিয়া কাপড়ে কাফন পরালেন। অতঃপর তিনি সেটি মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(مَا جَاءَ فِي امْرَأَة يَمُوت وَلَدهَا فِي بَطنهَا وَيكون الْجرْح فِي مَوضِع الْعَوْرَة فتحتاج إِلَى علاج الطَّبِيب) وَعَن الْأَوْزَاعِيّ أَن امْرَأَة عسر وَلَدهَا فِي رَحمهَا فَأمر عمر بن عبد الْعَزِيز الطَّبِيب أَن يقوّر ثوبها على فرجهَا وَيدخل يَده فيقطعه فَفعل، ثمَّ جعل يعضيه فِي رَحمهَا عطواً عطواً وَقَالَ: لَا بَأْس بذلك.
وَعنهُ أَيْضا، وَعَن مَكْحُول، وَعَطَاء وَغَيرهم من التَّابِعين قَالُوا: فِي الْمَرْأَة بهَا الْجرْح وَغَيره لَا بَأْس أَن يداويها الرجل يَأْخُذ ثوبها فيلفّ بِهِ مَا حول الْفرج حَتَّى لَا يرى غير الْجرْح ثمَّ يداويه.
(مَا جَاءَ فِي ضَمَان الطَّبِيب) قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " من تطبب وَلم يعرف قبل ذَلِك بطبّ فَهُوَ ضَامِن ".
وَكَانَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه يتَقَدَّم إِلَى المتطببين وَيَقُول: من وضع يَده من المتطببين فِي علاج أحد فَهُوَ ضَامِن إِلَّا أَن يكون طَبِيبا مَعْرُوفا.
وَأَنه قدم طَبِيبا مَعْرُوفا من نجد فداوى رجلا من الْأَنْصَار فَمَاتَ فَرفع إِلَى عمر بن الْخطاب فَقَالَ: مَا حملك على أَن تضمّ يدك على هَذَا، وَلَيْسَ لَك طبّ تعرف بِهِ؟
فَقَالَ: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أَنا طَبِيب الْعَرَب، وَلَكِن أَجله انْقَضى.
فَسَأَلَ عَنهُ عبَادَة بن الصَّامِت فَقَالَ عبَادَة: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ هُوَ من أطبّ النَّاس. فَخَلَّاهُ عمر.
قَالَ عبد الْملك:
وَإِنَّمَا تَفْسِير هَذَا أَن يَمُوت الْمَرِيض من علاج الطَّبِيب من بطّه، أَو كيّه، أَو من قطعه، أَو من شقّه، وَلم يخط يَده فِي شَيْء، وَلم يُخَالف فَعِنْدَ ذَلِك لَا يكون عَلَيْهِ ضَمَان إِذا كَانَ مَعْرُوفا بالطب، وَإِذا لم يكن مَعْرُوفا بالطب فَهُوَ ضَامِن لذَلِك فِي مَاله وَلَا تحمل ذَلِك الْعَاقِلَة، وَلَا قَود عَلَيْهِ لِأَنَّهُ لم يتعمّد قَتله وَإِنَّمَا أَخطَأ الَّذِي طلب من أَصَابَت
(গর্ভস্থ সন্তান মারা যাওয়া এবং লজ্জাস্থানে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া হেতু চিকিৎসকের চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়া প্রসঙ্গে) ইমাম আওযাঈ থেকে বর্ণিত যে, জনৈক মহিলার গর্ভে সন্তান আটকে যাওয়ায় প্রসব অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল। তখন উমর ইবনে আবদুল আজিজ চিকিৎসককে নির্দেশ দিলেন যেন সে মহিলার পোশাকের লজ্জাস্থান বরাবর অংশটি ছিদ্র করে এবং হাত প্রবেশ করিয়ে তা (মৃত ভ্রূণ) কেটে বের করে আনে। চিকিৎসক তাই করল; সে জরায়ুর ভেতর থেকে ভ্রূণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এক এক করে বের করে আনল। তিনি বললেন: এতে কোনো দোষ নেই।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে এবং মাকহুল, আতা ও অন্যান্য তাবেঈগণ বলেছেন: কোনো মহিলার ক্ষত বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে পুরুষ চিকিৎসকের চিকিৎসা করাতে কোনো বাধা নেই; তবে সে কাপড় দিয়ে লজ্জাস্থানের চারপাশ এমনভাবে আবৃত করে দেবে যেন ক্ষতস্থান ব্যতীত অন্য কিছু দৃষ্টিগোচর না হয়, অতঃপর চিকিৎসা করবে।
(চিকিৎসকের দায়ভার বা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আলোচনা) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি চিকিৎসা প্রদান করল অথচ ইতিপূর্বে সে চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শী হিসেবে পরিচিত ছিল না, তবে (যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির জন্য) সে দায়ী থাকবে।"
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অপেশাদার চিকিৎসকদের সতর্ক করে বলতেন: চিকিৎসকদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিই কারো চিকিৎসায় হাত দেবে, সে দায়ী থাকবে, যদি না সে একজন স্বীকৃত ও সুপরিচিত চিকিৎসক হয়।
বর্ণিত আছে যে, নজদ থেকে জনৈক সুপরিচিত চিকিৎসক আগমন করল এবং সে একজন আনসারী ব্যক্তির চিকিৎসা করল, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় লোকটি মারা গেল। বিষয়টি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট উত্থাপন করা হলে তিনি তাকে বললেন: তোমার কাছে কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও কিসে তোমাকে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে প্রবৃত্ত করল?
সে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন! আমি আরবদের একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক, তবে তার নির্ধারিত আয়ু ফুরিয়ে গিয়েছিল।
অতঃপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উবাদাহ ইবনে সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! সে তো মানুষের মাঝে অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে মুক্তি দিলেন।
আবদুল মালিক বলেন:
এর ব্যাখ্যা হলো, যদি কোনো রোগী চিকিৎসকের অস্ত্রোপচার, সেঁক দেওয়া, অঙ্গচ্ছেদ বা দেহ চিরার কারণে মারা যায়, অথচ চিকিৎসক তার কাজে কোনো ত্রুটি করেননি এবং প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম করেননি; এমতাবস্থায় যদি তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত হন, তবে তার ওপর কোনো দায় বা ক্ষতিপূরণ বর্তাবে না। কিন্তু যদি তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় পরিচিত ও পারদর্শী না হন, তবে তাকে নিজ সম্পদ থেকে এর ক্ষতিপূরণ (দিয়ত) প্রদান করতে হবে এবং তার আত্মীয়-স্বজন (আকিলা) এই দায়ভার বহন করবে না। আর তার ওপর কিসাস (প্রাণের বদলে প্রাণ) কার্যকর হবে না, কারণ সে তাকে হত্যার ইচ্ছা করেনি; বরং সে যা সঠিকভাবে সম্পাদন করতে চেয়েছিল, তাতে ভুল করে ফেলেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مداواته بجهله ذَلِك، وَعَلِيهِ من السُّلْطَان الْعقُوبَة الموجعة بِضَرْب ظَهره وإطالة سجنه، وَمنعه من أَن يعالج بعده أحدا.
قَالَ عبد الْملك:
فأمّا إِذا أَخطَأ الطَّبِيب فِي كيّه، أَو بطّه، أَو شقّه فَيكون حَيْثُ لَا يكون، أَو يقطع عرقاً لَا يقطع، أَو يبطّ حَيْثُ لَا يبَطّ، أَو يَسقي مَا لَا يُؤمن شربه، أَو يُجَاوز قدره فَيَمُوت من ذَلِك فَهُوَ ضَامِن، وَإِن كَانَ طَبِيبا مَعْرُوفا بالطب وبالبصر بِهِ لِأَنَّهُ جِنَايَة يَده بخطأ، وَذَلِكَ على عَاقِلَته إِذا جَاوز مَا أصَاب ثلث الدِّيَة، وَلَا عُقُوبَة عَلَيْهِ لِأَنَّهُ لم يقدر بِجَهْل، وَلم يتَعَمَّد بيد، وَلَا بقلب حَتَّى زلت يَده فِي جعلهَا أَو حديده لسرعتها.
وَكَذَلِكَ قَالَ مَالك: إِذا كَانَ الطَّبِيب مَعْرُوفا بالطب فَلَا ضَمَان عَلَيْهِ إِلَّا أَن [يتَعَدَّى] أَو [يُخطئ] فَيكون ذَلِك على الْعَاقِلَة عَن بلغت ثلث الدِّيَة وَإِن كَانَ أقلّ من ذَلِك فَفِي مَاله.
قَالَ عبد الْملك:
وَكَذَلِكَ الخاتن يختن فَيَمُوت الصبيّ من اختتانه إِن كَانَ بَصيرًا بِعَمَلِهِ مَعْرُوفا بِهِ فَلَا شَيْء عَلَيْهِ وَإِن لم يكن مَعْرُوفا فَهُوَ ضَامِن لذَلِك فِي مَاله وَعَلِيهِ الْعقُوبَة.
قَالَ: وَإِن كَانَ أَخطَأ فقد أكشفه، أَو بَعْضهَا، أَو قطع مَا لَا يقطع، أَو مضّت يَده إِلَى الْبَيْضَة، أَو مَا أشبه ذَلِك من الْخَطَأ وتعدى الصَّوَاب فَهُوَ ضَامِن. كَانَ بَصيرًا بِعَمَلِهِ مَعْرُوفا بِهِ أَو غير [معروفٍ] . وَإِن كَانَ غير [معروفٍ] بِهِ فَفِي مَاله قَلِيلا كَانَ أَو كثيرا وَإِن كَانَ بَصيرًا بِعَمَلِهِ مَعْرُوفا بِهِ فَذَلِك على عَاقِلَته إِذا جَاوز ذَلِك ثلث الدِّيَة، وَإِنَّمَا يفترقان فِي الْعقُوبَة يُعَاقب غير الْمَعْرُوف بذلك الْعَمَل، وَتصرف الْعقُوبَة عَن الْمَعْرُوف بِعَمَلِهِ الْبَصِير بِهِ. كَذَلِك قَالَ مَالك فِي ذَلِك كلّه، وَقضى عمر بن عبد الْعَزِيز فِي خاتنه كَذَا، فَمَاتَ الصبيّ فَالدِّيَة على عاقلتها.
অজ্ঞতাবশত তার এই চিকিৎসার কারণে সুলতানের পক্ষ থেকে তার পিঠে কষাঘাত ও দীর্ঘমেয়াদী কারাবাসের ন্যায় বেদনাদায়ক শাস্তি প্রদান করা হবে এবং এরপর থেকে তাকে আর কাউকে চিকিৎসা করতে দেওয়া হবে না।
আবদুল মালিক বলেন:
পক্ষান্তরে চিকিৎসক যদি ছেঁকা দেওয়া, অস্ত্রোপচার করা কিংবা দেহ কাটার ক্ষেত্রে ভুল করেন এবং তা এমন স্থানে হয় যেখানে করার কথা ছিল না, অথবা এমন কোনো রগ কেটে ফেলেন যা কাটা উচিত ছিল না, কিংবা এমন স্থানে অস্ত্র চালান যেখানে চালানোর নিয়ম নেই, অথবা এমন কোনো ওষুধ সেবন করান যা পানে প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে কিংবা ওষুধের মাত্রা অতিক্রম করে ফেলেন এবং এর ফলে রোগী মৃত্যুবরণ করে, তবে তিনি তার জন্য দায়ী থাকবেন। যদিও তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন, তবুও এটি তার হাতের মাধ্যমে সংঘটিত অনিচ্ছাকৃত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় যদি জরিমানার পরিমাণ রক্তপণ বা দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রম করে, তবে তা তার আকিলা বা নিকটাত্মীয় গোষ্ঠীর ওপর বর্তাবে। তবে তার ওপর কোনো রাজকীয় দণ্ড কার্যকর হবে না; কারণ তিনি অজ্ঞতাবশত এটি করেননি এবং হাত বা অন্তরের কোনো ইচ্ছাকৃত সংকল্পও এতে ছিল না, বরং ক্ষিপ্রতার কারণে অস্ত্র বা হাত চালনার সময় তা লক্ষ্যচ্যুত হয়েছিল।
অনুরূপভাবে ইমাম মালিক বলেন: যদি চিকিৎসক চিকিৎসাবিদ্যায় সুপরিচিত হন, তবে তার ওপর কোনো দায়বদ্ধতা নেই, যদি না তিনি সীমা লঙ্ঘন করেন অথবা ভুল করেন। এমতাবস্থায় যদি ভুলের কারণে জরিমানার পরিমাণ দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে তা আকিলা-এর ওপর বর্তাবে; আর যদি এর চেয়ে কম হয়, তবে তা তার নিজস্ব সম্পদ থেকে প্রদান করতে হবে।
আবদুল মালিক বলেন:
অনুরূপভাবে খতনাকারীর ক্ষেত্রেও একই বিধান; যদি অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত কোনো খতনাকারীর খতনা করার কারণে শিশু মারা যায়, তবে তার ওপর কোনো দায় থাকবে না। কিন্তু তিনি যদি এ কাজে পরিচিত বা অভিজ্ঞ না হন, তবে তার নিজস্ব সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তার ওপর শাস্তিমূলক দণ্ড কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন: যদি তিনি কোনো ভুল করেন—যেমন লিঙ্গাগ্রের চামড়া অধিক উন্মোচন করা বা এর অংশবিশেষ কাটা, অথবা এমন কিছু কাটা যা কাটার কথা নয়, কিংবা তার হাত অণ্ডকোষ পর্যন্ত চলে যাওয়া অথবা সঠিক পন্থার বাইরে গিয়ে এ জাতীয় কোনো ভুল করা—তবে তিনি দায়ী থাকবেন; চাই তিনি নিজ কাজে দক্ষ ও সুপরিচিত হোন বা না হোন। তবে তিনি যদি এ কাজে প্রসিদ্ধ না হন, তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কম হোক বা বেশি, তা তার নিজস্ব সম্পদ থেকেই আদায় করতে হবে। আর যদি তিনি দক্ষ ও সুপরিচিত হন, তবে জরিমানার পরিমাণ দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রম করলে তা তার আকিলা বা গোষ্ঠীর ওপর বর্তাবে। এই দুই শ্রেণীর মধ্যে কেবল শাস্তির বিষয়ে পার্থক্য করা হবে; অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ কাজে পারদর্শী হিসেবে পরিচিত নয় তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, কিন্তু দক্ষ ও সুপরিচিত ব্যক্তিকে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। ইমাম মালিক এই সমস্ত মাসআলায় এরূপই বলেছেন। উমর ইবনে আবদুল আজিজ জনৈক খতনাকারীর বিষয়ে এমনই ফয়সালা দিয়েছিলেন যে, যার খতনার কারণে শিশুটি মারা গিয়েছিল তার দিয়াতের দায়ভার তিনি তার আকিলা-এর ওপর অর্পণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قَالَ عبد الْملك:
وَإِن كَانَ الطَّبِيب نَصْرَانِيّا فيسْقي الْمُسلم فَمَاتَ فعلى السُّلْطَان أَن يكشفه عمّا سقَاهُ، وَإِن كَانَ طَبِيبا مَعْرُوفا بالطبّ وَالْبَصَر بِهِ للظنّة الَّتِي تواقعه [لعداوة] النَّصَارَى للْمُسلمين، وَمَا قد اضْطربَ الْمَوْت وجدر القَوْل بِهِ: إِن [أطبّاءهم] يتعمّدون سقِِي الْمُسلم ذِي الْقدر فِي الْإِسْلَام مَا يقْتله بِهِ. فَأولى للسُّلْطَان أَن يشتدّ فِي ذَلِك على من مَاتَ مِنْهُم على أيديه. ويبالغ فِي الشدّة عَلَيْهِ فِي الضَّرْب وَالْحَبْس والكشف على الدَّوَاء بِعَيْنِه، وَإِن أمنع ذَلِك، يمْنَع الْمُتَّهم مِنْهُم الظنّين ب [الجرأة] على مَا وصفوا بِهِ من سقِِي الْمُسلم ذِي الْقدر فِي الاسلام من المتطبّب ويشعر مَنعه ويتقدّم إِلَيْهِ فِي ذَلِك.
وَرُوِيَ أَن طَبِيبا نَصْرَانِيّا بِالشَّام سقى سُلَيْمَان بن مُوسَى شربة فَمَاتَ مِنْهَا [وَكَانَ] سُلَيْمَان كَبِيرا من فُقَهَاء الشَّام وَذَلِكَ [فِي عهد] هِشَام بن عبد الْملك، فَأرْسل هِشَام إِلَى غُلَام سُلَيْمَان فَقَالَ لَهُ: أتعرف القارورة الَّتِي أَخذ الطَّبِيب مِنْهَا الدَّوَاء؟
فَقَالَ: نعم.
فَأتى هِشَام بالطبيب وَبِمَا فِي بَيته فَعرف الْغُلَام القارورة بِعَيْنِه.
فَقَالَ هِشَام للطبيب: اشرب مِنْهَا مثل مَا سقيته.
فَقَالَ: بل أشْرب من هَذِه الْأُخْرَى.
قَالَ هِشَام: لَا وَالله إِلَّا من هَذِه.
فَشرب مِنْهَا فَمَاتَ.
قَالَ عبد الْملك:
وَكَانَ الطَّبِيب قد اتهمَ أَن يكون إِنَّمَا سقَاهُ ليَقْتُلهُ لفضل سُلَيْمَان بن مُوسَى ومكانه من الاسلام، وَكَانَ الطَّبِيب نَصْرَانِيّا، فَلذَلِك أمره هِشَام أَن يشرب من حَيْثُ سقَاهُ تُهْمَة لَهُ أَن يكون إِنَّمَا سقِِي سمّاً وَمَا أشبهه فَكَانَ ذَلِك كَذَلِك.
আব্দুল মালিক বলেন:
যদি চিকিৎসক খ্রিষ্টান হয় এবং সে কোনো মুসলিমকে ওষুধ পান করানোর পর তার মৃত্যু ঘটে, তবে সুলতানের (শাসকের) কর্তব্য হলো সে তাকে কী পান করিয়েছিল তা তদন্ত করা। যদি সে চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শী ও দক্ষ হিসেবে পরিচিত হয়, তবুও মুসলমানদের প্রতি খ্রিষ্টানদের [শত্রুতার] কারণে তার ওপর এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করা হবে। আর এটি বহুল আলোচিত বিষয় এবং এ নিয়ে অনেক কথাই প্রচলিত যে, [তাদের চিকিৎসকরা] ইসলামে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের হত্যা করার জন্য সচেতনভাবে এমন কিছু পান করায় যা তাদের মৃত্যুর কারণ হয়। সুতরাং সুলতানের উচিত, যাদের মৃত্যু তাদের হাতে হয়েছে তাদের ব্যাপারে কঠোর হওয়া। তার ওপর প্রহার করা, কারারুদ্ধ করা এবং ওষুধের প্রকৃতি নির্ণয়ে কঠোরতা অবলম্বন করা উচিত। আর যদি চিকিৎসক হিসেবে তার ওপর ইসলামে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের হত্যার চেষ্টার যে [দুঃসাহস] বা অপবাদ বর্ণনা করা হয়েছে, তবে সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সেই কাজ থেকে বিরত রাখা উচিত এবং এই বিষয়ে তাকে যথাযথভাবে সতর্ক ও শাসন করা কর্তব্য।
বর্ণিত আছে যে, সিরিয়ায় একজন খ্রিষ্টান চিকিৎসক সুলাইমান ইবনে মুসাকে একটি পানীয় পান করতে দিয়েছিলেন, যার ফলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সুলাইমান ছিলেন সিরিয়ার একজন মহান ফকিহ (আইনজ্ঞ) এবং ঘটনাটি ছিল হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে। হিশাম সুলাইমানের ভৃত্যকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি সেই পাত্রটি চেনো যেখান থেকে চিকিৎসক ওষুধটি নিয়েছিলেন?"
সে বলল: "হ্যাঁ।"
হিশাম তখন চিকিৎসককে এবং তার ঘরে যা ছিল তা আনালেন; অতঃপর ভৃত্যটি নির্দিষ্ট পাত্রটি চিনে নিল।
হিশাম চিকিৎসককে বললেন: "তাকে যা পান করিয়েছিলে, তা থেকে তুমিও পান করো।"
সে বলল: "বরং আমি এই অন্য পাত্রটি থেকে পান করি।"
হিশাম বললেন: "না, আল্লাহর কসম! এটি থেকেই পান করতে হবে।"
সে তখন সেখান থেকে পান করল এবং মৃত্যুবরণ করল।
আব্দুল মালিক বলেন:
সুলাইমান ইবনে মুসার শ্রেষ্ঠত্ব এবং ইসলামে তার সুউচ্চ অবস্থানের কারণে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পানীয়টি পান করানো হয়েছে বলে ওই চিকিৎসক অভিযুক্ত হয়েছিল। যেহেতু চিকিৎসক খ্রিষ্টান ছিল, তাই সে বিষ বা ওই জাতীয় কিছু পান করিয়েছে কি না, সেই সন্দেহের বশেই হিশাম তাকে ঠিক ওই পাত্র থেকেই পান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন; এবং পরবর্তীতে বিষয়টি তেমনই প্রমাণিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
(مَا جَاءَ فِي مداواة الْجراح) رُوِيَ أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] دوِي مَا أُصِيب بِوَجْهِهِ يَوْم أحد برماد حَصِير محرق.
وَقَالَ عبد الْملك:
أرَاهُ كَانَ حَصِيرا من دوم لِأَنَّهَا حصر الْمَدِينَة، وَأما الحلفاء فَلم أره بهَا.
(مَا جَاءَ فِي التعالج بالسعوط واللدود والوجور والغمر والتمريخ والكماد والتلديغ) رُوِيَ أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] غشي عَلَيْهِ فِي مَرضه الَّذِي مَاتَ مِنْهُ فتخوّفوا أَن تكون بِهِ ذَات الْجنب فلدّدوه فَوجدَ خفافاً فأفاق فَقَالَ: " مَا صَنَعْتُم؟ " قَالُوا: لدّدناك يَا رَسُول الله. قَالَ: " بِمَاذَا؟ " قَالُوا: بِالْعودِ الْهِنْدِيّ يَعْنِي الكست وبشيء من ورس وقطارات من زبد. قَالَ: " من أَمركُم بذلك؟ " قَالُوا: أَسمَاء بنت عُمَيْس. قَالَ: " هَذَا طبّ أَصَابَته بِأَرْض الْحَبَشَة ". ثمَّ قَالَ: " لَا يبْقين أحد فِي الْبَيْت إِلَّا التدّ إِلَّا مَا كَانَ من عمي " يَعْنِي الْعَبَّاس.
قَالَ: " مَا الَّذِي تخافون عليّ؟ " قَالُوا: ذَات الْجنب.
قَالَ: " مَا كَانَ الله ليسلطها عليّ، وَلَكِن هَذَا من شَأْن الْيَهُودِيَّة يَوْم خَيْبَر، هَذَا أَوَان قطع أَبْهَري ".
قَالَ عبد الْملك:
وسمعتهم يستحبون للْمَرِيض السعوط واللدود والغمس والتمريخ والكماد والتلديغ ويذكرون أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] نهى عَن العلق، وَقَالَ: " السعوط مَكَانَهُ ". وَنهى عَن الكي وَقَالَ: " اجعلوا الكماد مَكَانَهُ، والتلديغ ". وَقد سعط رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] .
وَقَالَ عطا بن أبي رَبَاح: اللدود سَبْعَة أشفية لسبعة أدواء. مِنْهَا ذَات الْجنب. يلدّ بالكست، والورس، وَالْملح الدراني.
(ক্ষত চিকিৎসার বর্ণনায় যা বর্ণিত হয়েছে) বর্ণিত হয়েছে যে, ওহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর চেহারায় যে জখম হয়েছিল, তা পোড়ানো চাটাইয়ের ভস্ম দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছিল।
আব্দুল মালেক বলেন:
আমার ধারণা সেটি ছিল দুম (এক প্রকার তাল জাতীয় গাছ) গাছের পাতা দিয়ে তৈরি চাটাই, কারণ মদিনার চাটাইগুলো সাধারণত এমন হতো। আর হালফা ঘাসের চাটাই আমি সেখানে দেখিনি।
(নাস্য গ্রহণ, লাদুদ বা মুখের এক পাশ দিয়ে ঔষধ প্রয়োগ, ওজুর বা কণ্ঠে ঔষধ ঢালা, অবগাহন, মালিশ, সেঁক দেওয়া এবং দংশনমূলক চিকিৎসার বর্ণনায় যা বর্ণিত হয়েছে) বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর ওফাতকালীন অসুস্থতায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তখন সাহাবীগণ আশঙ্কা করলেন যে তাঁর হয়তো পার্শ্বশূল (জাতুল জানব) হয়েছে। তাই তাঁরা তাঁর মুখের এক পাশ দিয়ে ঔষধ প্রয়োগ (লাদুদ) করলেন। তিনি কিছুটা আরামবোধ করে চেতনা ফিরে পেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা একি করলে?" তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনাকে লাদুদ বা ঔষধ প্রয়োগ করেছি। তিনি বললেন: "কী দিয়ে?" তাঁরা বললেন: ভারতীয় চন্দন তথা কুস্ত, কিছু ওয়ারাস (হলুদ রঞ্জক ঘাস) এবং কয়েক ফোঁটা মাখন দিয়ে। তিনি বললেন: "তোমাদেরকে এই কাজের নির্দেশ কে দিয়েছে?" তাঁরা বললেন: আসমা বিনতে উমাইস। তিনি বললেন: "এটি এমন এক চিকিৎসা যা তিনি হাবশা (আবিসিনিয়া) দেশ থেকে শিখে এসেছেন।" এরপর তিনি বললেন: "আমার চাচা আব্বাস ব্যতীত ঘরে উপস্থিত এমন কেউ যেন বাকি না থাকে যাকে এই ঔষধ সেবন করানো হবে না।"
তিনি বললেন: "তোমরা আমার কোন রোগের আশঙ্কা করছিলে?" তাঁরা বললেন: পার্শ্বশূলের।
তিনি বললেন: "আল্লাহ তাআলা কখনোই সেই ব্যাধিকে আমার ওপর প্রবল করবেন না; বরং এটি সেই ইহুদী মহিলার বিষক্রিয়ার প্রভাব যা খায়বরের যুদ্ধের দিন ঘটেছিল। এখন আমার মহাধমনী ছিন্ন হওয়ার সময় হয়েছে।"
আব্দুল মালেক বলেন:
আমি তাঁদেরকে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য নাস্য গ্রহণ (সাউত), লাদুদ, অবগাহন, মালিশ, সেঁক দেওয়া এবং দংশনমূলক চিকিৎসাকে পছন্দনীয় মনে করতে শুনেছি। তাঁরা বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] জোঁক লাগানো নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "নাস্য গ্রহণ এর স্থলাভিষিক্ত হবে।" তিনি আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া বা দাগ দেওয়া নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "এর পরিবর্তে তোমরা সেঁক এবং দংশনমূলক চিকিৎসার ব্যবস্থা করো।" আর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নিজেও নাস্য গ্রহণ করেছিলেন।
আতা ইবনে আবি রাবাহ বলেন: লাদুদ সাতটি রোগের নিরাময়। তন্মধ্যে একটি হলো পার্শ্বশূল। এতে কুস্ত, ওয়ারাস এবং দারানি লবণ মিশ্রিত করে প্রয়োগ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَعَن جَابر بن عبد الله قَالَ: حطر رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] بِيَدِهِ لسعد بن زُرَارَة من الذبْحَة. حطر: لدغ. التحطير هُوَ التلديغ.
قَالَ عبد الْملك:
وَتَفْسِير التلديغ: أَن تحمى المسلّة وَمَا أشبههَا من الأبر أَو الْحَدِيد الدَّقِيق فيلدغ بهَا صَاحب الذبْحَة، أَو من غشي عَلَيْهِ عُنُقه فَلم يسْتَطع أَن يلويه، وَمَا أشبه ذَلِك من الأوجاع فَكَذَلِك التلديغ ويغني عَن الكي، والكماد مَعَه يُغني عَن الكي.
وَتَفْسِير الكماد: أَن يسخن الْملح ثمَّ يرْبط بِخرقَة فيكمد بِهِ مَوضِع الوجع من الْبَطن، أَو الْجَسَد، أَو يحمى الشَّقف فيفعل بِهِ مثل ذَلِك. وَالْملح، وَالشعِير، والرماد السخن خير من الشقف.
الْغمر: غمر الْقَدَمَيْنِ والساقين وَالْيَدَيْنِ والذراعين وَسَائِر المفاصل والجسد فَإِنَّهُ جيد.
والتمريخ: أَن يمرخ جسده بالدهن إِن كَانَ بِهِ حرارة فيدهن، أَو بالبنفسج، وَإِن كَانَت بِهِ برودة فبالزيت يسخن بِشَيْء من خل، وَإِن كَانَ من مليلة فالصندل يسخن وَيحْتَمل ثمَّ يذاب بالدنبق حَتَّى يصير كالمخ فيمرخ بِهِ الْجَسَد والمفاصل فَإِنَّهُ يذهب المليلة وأوجاع الْجَسَد كلّها.
وَأما اللدود: فبأن يعالج الَّذِي وَصفنَا فَوق هَذَا من اللدود فَيجْعَل فِي ملدة ذَات أنبوبة، أَو مجار مثله، ثمَّ يرفع اللِّسَان فَيصب تَحْتَهُ.
জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সা’দ ইবন যুরারাহর গলার ব্যথার (যিবহাহ) চিকিৎসায় স্বহস্তে হালকা দাহ (হাতারা) করেছিলেন। 'হাতারা' অর্থ হলো দংশন করা বা স্পর্শ করা। আর 'তাহতীর' অর্থ হলো উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে হালকা ছোঁয়া প্রদান করা।
আবদুল মালিক বলেন:
'তালদীগ'-এর ব্যাখ্যা হলো: সূঁচ বা এই জাতীয় কোনো সরু লোহার শলাকা উত্তপ্ত করা, অতঃপর তদ্বারা যিবহাহ (গলার প্রদাহ) আক্রান্ত ব্যক্তিকে, কিংবা যার ঘাড় আড়ষ্ট হয়ে গেছে এবং তা ঘোরাতে সক্ষম নয় তাকে, অথবা এই জাতীয় ব্যথায় আক্রান্ত রোগীকে হালকা স্পর্শ করা। এ পদ্ধতিতে তালদীগ করা আগুনের দাগ (কায়) দেওয়ার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। আর এর সাথে 'কামাদ' (গরম সেঁক) ব্যবহার করাও কায় বা দাগ দেওয়ার অভাব পূরণ করে।
'কামাদ'-এর ব্যাখ্যা হলো: লবণ গরম করে এক টুকরো কাপড়ে বেঁধে পেটের ব্যথার স্থানে বা শরীরের ব্যথার জায়গায় সেঁক দেওয়া। অথবা মাটির পাত্রের ভাঙা টুকরো উত্তপ্ত করে অনুরূপ করা। তবে লবণ, যব এবং গরম ছাই মাটির টুকরো অপেক্ষা অধিকতর উত্তম।
'গামর' হলো: উভয় পদতল, নলি, হাত, বাহু এবং শরীরের অন্যান্য জোড়া ও দেহের উপরিভাগ ধৌত করা; নিশ্চয়ই এটি অত্যন্ত উপকারী।
'তামরীখ' হলো: তৈল দ্বারা শরীর মালিশ করা। যদি শরীরে উত্তাপ থাকে তবে সাধারণ তৈল বা বনফশা তৈল ব্যবহার করা হবে। আর যদি শরীরে শৈত্য অনুভূত হয়, তবে যয়তুনের তেল সামান্য সিরকার সাথে মিশিয়ে গরম করে মালিশ করবে। যদি হাড়ের জ্বর বা অবসাদ (মালীলাহ) থাকে, তবে চন্দন কাঠ গরম করে দানবাক (একপ্রকার সুগন্ধি নির্যাস) সহযোগে গলিয়ে মজ্জার মতো ঘন করা হবে; অতঃপর তা দ্বারা শরীর ও শরীরের জোড়াগুলো মালিশ করবে। এতে মালীলাহ এবং শরীরের সকল প্রকার ব্যথা দূর হয়।
আর 'লাদুদ' হলো: আমরা উপরে লাদুদ বা মুখের এক পাশ দিয়ে ঔষধ প্রয়োগের যে বর্ণনা দিয়েছি সেভাবে চিকিৎসা করা। অর্থাৎ ঔষধকে একটি নলবিশিষ্ট পাত্র বা তদ্রূপ কোনো পথে রাখা হবে, অতঃপর জিহ্বা উপরে তুলে তার নিচে ঔষধ ঢেলে দেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَأما العلق فَهُوَ الأعلاق: وَتَفْسِيره أَن يرفع اللهاة وَيدخل الإصبع فِي الْحلق فيخدش الْحلق بهَا أَو بِعُود حَتَّى يدمى.
والنفخ: أَن يسدّ فَمه وينفخ فِي مخرجه، أَو يسدّ مخرجه وينفخ فِي فَمه. وَقد نهي عَنهُ وَعَن العلق.
وَعَن الشّعبِيّ عَن عَائِشَة أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " اجعلوا السعوط مَكَان العلق واللدود مَكَان الكي ".
وَعَن أم قيس بنت مُحصن أَنَّهَا أَتَت رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] بِابْن لَهَا وَقد أعلقت عَنهُ من الْعذرَة، فَقَالَ لَهَا رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " علام [تدغرن] أولادكنّ بِهَذَا الأعلاق؟ عَلَيْكُم بِالْعودِ الْهِنْدِيّ فَإِن فِيهِ سَبْعَة أشفية يلد من ذَات الْجَانِب ويسعط من الْعذرَة ".
(مَا جَاءَ فِي التعالج بالحقن) قَالَ عبد الْملك بن حبيب:
كَانَ من [مضى] من السّلف وَأهل الْعلم يكْرهُونَ التعالج بالحقن إِلَّا من ضَرُورَة غالبة لَا يُوجد عَن التعالج لَهَا بالحقنة مندوحة بغَيْرهَا.
وَرُوِيَ أَن رجلا عليلاً جلس إِلَى عمر بن الْخطاب فَسَأَلَهُ عمر عَن علّته فَأخْبرهُ وَقَالَ: إِنَّه ليقال مَا لي دَوَاء أوفق من الحقنة. فَقَالَ لَهُ عمر: وَإِذا وجدت من شكواك شَيْئا فعد لَهَا.
وَعَن الْوَاقِدِيّ قَالَ: كَانَ عَليّ، وَابْن عبّاس، وَمُجاهد، وَالشعْبِيّ، وَالزهْرِيّ، وَعَطَاء، وابراهيم النَّخعِيّ، وَأَبُو بكر بن حزم، وَالْحكم بن عُيَيْنَة، وَرَبِيعَة، وَابْن هُرْمُز يكرهونها إِلَّا من ضَرُورَة غالبة وَكَانُوا يَقُولُونَ: لَا تعرفها الْعَرَب، وَهِي من فعل الْعَجم، وَهِي طرف من عمل قوم لوط.
আর 'আলাক' হলো এক প্রকার চিকিৎসা পদ্ধতি: এর ব্যাখ্যা হলো আলজিহ্বা ওপরে তোলা এবং গলায় আঙুল প্রবেশ করিয়ে তা দিয়ে অথবা কোনো কাঠি দিয়ে গলা আঁচড়ে দেওয়া যতক্ষণ না রক্ত বের হয়।
আর 'নাফখ' (ফুঁ দেওয়া): মুখ বন্ধ করে মলদ্বার দিয়ে বাতাস দেওয়া, অথবা মলদ্বার বন্ধ করে মুখে বাতাস দেওয়া। এটি এবং 'আলাক' উভয় পদ্ধতিই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইমাম শা'বি (রহ.) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমরা 'আলাক'-এর পরিবর্তে নাসিকাভরণ (নাসারন্ধ্রে ওষুধ দেওয়া) এবং দাগ দেওয়ার (পুড়িয়ে চিকিৎসা) পরিবর্তে 'লাদুদ' (মুখের এক পাশ দিয়ে ওষুধ দেওয়া) গ্রহণ করো।"
উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর এক পুত্রকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কাছে আসলেন, যার গলার সমস্যার (আল-উজরাহ) কারণে তিনি 'আলাক' বা গলা টিপে চিকিৎসা করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁকে বললেন: "তোমরা কেন এই পদ্ধতিতে তোমাদের সন্তানদের কষ্ট দাও? তোমরা 'উদ আল-হিন্দি' (ভারতীয় কাষ্ঠ) ব্যবহার করো, কেননা এতে সাতটি নিরাময় রয়েছে; এটি পার্শ্বব্যথার (প্লুরিসি) জন্য মুখে এবং গলার সমস্যার জন্য নাকে ব্যবহার করা হয়।"
(এনিমা বা বস্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ) আব্দুল মালিক ইবনে হাবিব (রহ.) বলেন:
অতীতের সালাফ ও ইলম অন্বেষণকারীগণ এনিমা বা বস্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করা অপছন্দ করতেন, যদি না এমন কোনো অনিবার্য প্রয়োজন দেখা দেয় যার জন্য এনিমা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প উপায় নেই।
বর্ণিত আছে যে, এক অসুস্থ ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কাছে বসলেন। উমর (রা.) তাকে তার অসুখ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে তা জানাল এবং বলল: "আমাকে বলা হয়েছে যে, এনিমা বা বস্তিপ্রয়োগ ছাড়া আমার জন্য আর কোনো অধিক উপযোগী ওষুধ নেই।" তখন উমর (রা.) তাকে বললেন: "যদি তুমি তোমার যন্ত্রণায় এটি ফলদায়ক মনে করো, তবে পুনরায় তা করো।"
ওয়াকিদি (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (রা.), ইবনে আব্বাস (রা.), মুজাহিদ, শা'বি, যুহরি, আতা, ইব্রাহিম নাখয়ি, আবু বকর ইবনে হাযম, হাকাম ইবনে উয়ায়না, রাবিআহ এবং ইবনে হুরমুজ (রহ.) অনিবার্য প্রয়োজন ব্যতীত এটি অপছন্দ করতেন। তাঁরা বলতেন: আরবরা এটি চিনত না, এটি অনারবদের কাজ এবং লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়ের কর্মের একটি অংশ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
قَالَ عبد الْملك:
وَأَخْبرنِي مطرّف عَن مَالك أَنه كرهها، وَذكر أَن عمر بن الْخطاب كرهها وَقَالَ: هِيَ شُعْبَة من عمل قوم لوط.
قَالَ عبد الْملك:
وَسَمعنَا ابْن الْمَاجشون يكرهها وَيَقُول: كَانَ [عُلَمَاؤُنَا] يكرهونها.
(مَا جَاءَ فِي التعالج بِالْمَشْيِ من السنا والشبرم وأشباهها من العقاقير) وَعَن أنس بن مَالك أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " عَلَيْكُم بِأَرْبَع فَإِن فِيهِنَّ شِفَاء من كلّ دَاء إِلَّا من السام وَهُوَ الْمَوْت: السنا، والسنوت، والثفاء، والحبة السَّوْدَاء ".
قَالَ عبد الْملك:
والسنا القثاء لُغَة ثمَّ السنوت الشبت والثفاء الْحَرْف والحبة السَّوْدَاء (الشونيز) .
قَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " مَاذَا فِي الأمرّين من الشِّفَاء الصَّبْر والثفاء " يَعْنِي الْحَرْف.
وَعَن أَسمَاء بنت عُمَيْس أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] دخل عَلَيْهَا وَعِنْدهَا شبرم فَقَالَ لَهَا: " مَا
আব্দুল মালিক বলেন:
মুতাররিফ মালিকের সূত্রে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এটিকে অপছন্দ করতেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাবও এটিকে অপছন্দ করতেন এবং বলতেন: এটি লূত সম্প্রদায়ের কাজের একটি শাখা।
আব্দুল মালিক বলেন:
আমরা ইবনুল মাজিশুনকে এটি অপছন্দ করতে শুনেছি এবং তিনি বলতেন: আমাদের আলেমগণ এটিকে অপছন্দ করতেন।
(সানা, শিবরাম এবং এই জাতীয় ভেষজ ঔষধের মাধ্যমে বিরেচনের (পেট পরিষ্কার করা) চিকিৎসা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে) আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমরা চারটি বস্তু গ্রহণ করো, কেননা এতে মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের নিরাময় রয়েছে: সানা, সানূত, সুফা এবং কালোজিরা।"
আব্দুল মালিক বলেন:
আভিধানিক অর্থে সানা হলো শসা জাতীয় উদ্ভিদ, অতঃপর সানূত হলো মৌরি (বা ডিল), সুফা হলো চন্দ্রশূর এবং কালোজিরা হলো (শুনিজ)।
আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "দুইটি তিক্ত নিরাময়কারী বস্তুর মধ্যে কী চমৎকার শিফা রয়েছে: অ্যালোভেরা এবং সুফা।" অর্থাৎ চন্দ্রশূর।
আসমা বিনতে উমাইস থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তখন তাঁর নিকট শিবরাম ছিল। তিনি তাঁকে বললেন: "এটি কী?"
(খণ্ড: ১)
আল-ইলাজু বিল আশা-ব
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
هَذَا؟ " فَقَالَت: شبرم يَا رَسُول الله أردْت أَن أستمشي بِهِ؟
فَقَالَ لَهَا: " إِنَّه حارّ جارّ " يَعْنِي أَنه يجرّ الدَّاء.
قَالَت: وَدخل عليّ مرّة أُخْرَى وَعِنْدِي سنا فَقلت: يَا رَسُول الله أردْت أَن أستمشي بِهَذَا؟ فَقَالَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " لَو كَانَ شَيْء يشفي من الْمَوْت لشفا مِنْهُ السنا ".
فَكَانَت أَسمَاء تنهي بعده عَن الشبرم لحرارته عَن الْأَدْوِيَة الَّتِي فِيهَا السمُوم. وَكَانَت إِذا شربت السنا تطبخه بالزيت.
وَوصف الْحَارِث بن كلّدة لعمر بن الْخطاب شرب السنا يطْبخ بالزيت وَأَنه ينفع من الخام ووجع الظّهْر، فَأرْسل عمر إِلَى أَزوَاج النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] بنعت ذَلِك يكن يتعالجن بِهِ وَكَانَت عَائِشَة لَا تعيبه.
وَعَن حبيب كَاتب مَالك أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " عَلَيْكُم بالسنا وَإِيَّاكُم والشبرم فَإِنَّهُ حارّ جارّ " يَعْنِي أَنه يجر بالداء.
وَعَن مَالك أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " عَلَيْكُم بالأشبيوش فَإِنَّهُ مرهم الْبَطن ". قَالَ: والأشبيوش بزر قطونا. وَكَانَ الْمِقْدَاد بن عمر يشرب دهن الخروع عَاما ويتركه عَاما.
(مَا جَاءَ [فِي مَا] يكره التعالج بِهِ من الدَّوَاء الْخَبيث الْمخوف أَو الْمحرم) وَعَن مُجَاهِد أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] نهى عَن شرب الدَّوَاء الْخَبيث وَهُوَ الَّذِي يبْقى فِي الأمعاء وَيقتل صَاحبه من العقاقير المسمومة مثل السقمونية والتاكوت والشبرم
এটি কী?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল, এটি শুবরুম; আমি এটি দিয়ে পেট পরিষ্কার করতে চেয়েছিলাম।"
তখন তিনি তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও তেজস্ক্রিয়," অর্থাৎ এটি রোগকে টেনে আনে।
তিনি (আসমা) বললেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্য একদিন আমার নিকট আসলেন যখন আমার কাছে সানা (সনাতৃণ) ছিল। আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসুল, আমি এটি দিয়ে জোলাপ নিতে চাচ্ছি।" তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যদি কোনো বস্তু মৃত্যুকে প্রতিহত করতে পারত, তবে তা হতো সানা।"
এর ফলে আসমা (রা.) শুবরুমের অতিরিক্ত উষ্ণতা এবং এতে থাকা বিষাক্ত উপাদানের কারণে এর ব্যবহার বর্জন করতেন। আর তিনি যখন সানা পান করতেন, তখন তা তেলের সাথে রান্না করে নিতেন।
হারিস ইবনে কালাদাহ উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর নিকট তেলের সাথে রান্না করা সানা পানের সুফল বর্ণনা করেছিলেন যে এটি আমাশয় ও পিঠের ব্যথায় উপকারী। অতঃপর উমর (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণীদের নিকট এই ব্যবস্থাপত্রটি পাঠিয়েছিলেন যাতে তাঁরা এর দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন এবং আয়েশা (রা.) এতে কোনো দোষ দেখতেন না।
মালেকের সচিব হাবীব থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সানা ব্যবহার করো এবং শুবরুম থেকে সতর্ক থাকো, কারণ তা অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ক্ষতিকর," অর্থাৎ এটি রোগকে আকৃষ্ট করে।
ইমাম মালেক থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা ইসবগুল ব্যবহার করো, কেননা তা পেটের জন্য মলম স্বরূপ।" তিনি বলেন: আশবিউশ হলো ইসবগুল। মিকদাদ ইবনে উমর এক বছর রেড়ির তেল পান করতেন এবং পরবর্তী বছর বিরতি দিতেন।
(ঘৃণ্য, আশঙ্কাজনক বা নিষিদ্ধ ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণের অপছন্দনীয়তা সংক্রান্ত আলোচনা) মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্ষতিকর ওষুধ পান করতে নিষেধ করেছেন। আর তা হলো এমন বিষাক্ত ভেষজ যা অন্ত্রে আটকে থাকে এবং রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়, যেমন— স্ক্যামোনি, তাকুত এবং শুবরুম।