(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.
وبعد:
فبحمد الله وتوفيقه تم الانتهاء من (مجموع فتاوى ومقالات متنوعة) لسماحة شيخنا الإمام العلامة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز - غفر الله له ورحمه، وأسكنه الفردوس الأعلى من جنانه - وقد قام بجمعها وترتيبها معالي الشيخ الدكتور محمد بن سعد الشويعر - جزاه الله عنا وعن شيخنا وعن سائر المسلمين خير الجزاء وأوفاه - وها نحن الآن في بواكير (فتاوى نور على الدرب) لسماحة شيخنا العلامة الشيخ عبد العزيز بن باز - رحمه الله - والتي قام بجمعها وترتيبها معالي الشيخ الدكتور محمد بن سعد الشويعر، وفقه الله.
وقد تميزت هذه الفتاوى بما تميز به شيخنا - غفر الله له - من التعظيم للكتاب والسنة، والصدور عنهما، وتقديم ما دل الدليل عليه من آراء الرجال، مع ما وهبه الله لسماحته - غفر الله له - من فقه واطلاع واسع، وذاكرة حاضرة بأنواع المحفوظات، ودقة في
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর, যার পরে আর কোনো নবী নেই।
অতঃপর:
আল্লাহর প্রশংসা ও তাওফীক্ব (সাহায্য) দ্বারা আমাদের সম্মানিত শাইখ, ইমাম, আল্লামা শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বাযের — আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে তাঁর জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর ফিরদাউসে স্থান দিন — "(মাজমূ‘ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত মুতানাওয়ি‘আহ)" গ্রন্থটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর এটি সংকলন ও বিন্যস্ত করেছেন মহামান্য শাইখ ড. মুহাম্মাদ ইবন সা‘দ আশ-শুওয়াই‘ইর — আল্লাহ তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে, আমাদের শাইখের পক্ষ থেকে এবং সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম ও পূর্ণ প্রতিদান দিন। আর আমরা এখন (শুরুতে) রয়েছি আমাদের সম্মানিত আল্লামা শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বাযের — রহিমাহুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) — "(ফাতাওয়া নূর আলাদ-দারব)" গ্রন্থটির কাজ নিয়ে, যা সংকলন ও বিন্যস্ত করেছেন মহামান্য শাইখ ড. মুহাম্মাদ ইবন সা‘দ আশ-শুওয়াই‘ইর, আল্লাহ তাঁকে তাওফীক্ব দিন।

এই ফাতাওয়াগুলো সেই বৈশিষ্ট্য দ্বারা স্বতন্ত্র, যা আমাদের শাইখের — আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন — মধ্যে বিদ্যমান ছিল; তা হলো কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি তাঁর অগাধ সম্মান, সে দু'টি থেকে (বিধান) গ্রহণ করা এবং মানুষের মতামতের উপর দলীল যা নির্দেশ করে, তাকে প্রাধান্য দেওয়া। এর সাথে আল্লাহ তাঁর সম্মানিত সত্তাকে — আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন — যা দান করেছিলেন, তা হলো গভীর ফিক্বহ (ধর্মীয় জ্ঞান) ও ব্যাপক অধ্যয়ন, বিভিন্ন প্রকার মুখস্থকৃত বিষয় সম্পর্কে সজাগ স্মৃতিশক্তি এবং সূক্ষ্মতা...
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ৪)
الاستنباط، وتأدب مع أهل العلم بل والعامة، ولغة فصيحة قريبة سهلة المأخذ، لا تنبو عن أفهام العوام، ولا تتصاغر أمام عقول فحول العلماء، هبة من الله وفضلا، {وَاللَّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ} (¬1) .
عاش - غفر الله له - مجاهدا في العلم والتعلم والدعوة والتعليم، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والإصلاح بين الناس، وبذل النصح للخاص والعام، مقربا محببا للولاة والرعية، بذل ماله ووقته وجاهه وجهده لله عز وجل، كان محبا للضعفاء والمساكين في سائر بقاع الأرض، ساعيا جهده لنفعهم ورفع الضرر عنهم، ضرب في كل ميدان من ميادين الخير بسهم، عظم السنة في قلبه فعظم الله شأنه في قلوب خلقه، مهيبا معظما على لطفه ولينه وسماحته، فسبحان من جمع له الخير من أطرافه، وبارك له في عمره وعمله، وقد لقي عاجل بشرى المؤمن ثناء حسنا من الناس حيث سار، بل في السر والجهار، فالحمد لله على فضله وإحسانه؛ وإن من إحسان الله إليه أن هيأ لعلمه من يقوم عليه؛ جمعا ودراسة وترتيبا ونشرا، فضلا من الله ومنة؛ جزاء ما بذل، وهذا من أمارات الخير له غفر الله له ورحمه.
هذا وإني قد سمعت جميع ما ورد في هذه الفتاوى من قراءة معالي الشيخ الدكتور محمد بن سعد الشويعر - وفقه الله - في مجالس منتظمة لسنوات عدة، وذلك من خلال ما فرغ من أشرطة فتاوى نور على
¬__________
(¬1) سورة البقرة الآية 105
শরয়ী বিধান উদ্ভাবন (ইস্তিম্বাত), আহলে ইলম তথা আলেমদের সাথে, বরং সাধারণ মানুষের সাথেও বিনয়ী ছিলেন। তাঁর ভাষা ছিল সাবলীল, সহজবোধ্য ও সহজে গ্রহণীয়; যা সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার বাইরে ছিল না এবং বড় বড় আলেমদের মেধার সামনেও তা তুচ্ছ ছিল না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ দান ও অনুগ্রহ ছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, তাকেই তাঁর বিশেষ রহমত দান করেন।} (১)

তিনি - আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন - ইলম অর্জন, ইলম শিক্ষা, দাওয়াত ও তালিমের ক্ষেত্রে মুজাহিদ হিসেবে জীবনযাপন করেছেন। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, মানুষের মাঝে মীমাংসা স্থাপন এবং বিশেষ ও সাধারণ সকলের প্রতি নসিহত পেশ করতেন। শাসক ও শাসিত উভয়ের কাছেই তিনি প্রিয় ও সম্মানিত ছিলেন। তিনি তাঁর সম্পদ, সময়, সম্মান ও প্রচেষ্টা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পথে ব্যয় করেছেন। তিনি পৃথিবীর সকল অঞ্চলের দুর্বল ও মিসকিনদের ভালোবাসতেন, তাদের উপকার ও ক্ষতি দূর করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতেন। কল্যাণের প্রতিটি ময়দানে তাঁর অবদান ছিল। তিনি তাঁর অন্তরে সুন্নাহকে মহিমান্বিত করেছিলেন, তাই আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির অন্তরে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। তাঁর দয়া, নম্রতা ও উদারতা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল ও সম্মানিত। সুতরাং পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর জন্য সকল প্রকার কল্যাণ একত্রিত করেছেন এবং তাঁর জীবন ও কর্মে বরকত দান করেছেন। আর তিনি মুমিনের দ্রুত সুসংবাদ লাভ করেছেন, যেখানেই তিনি গিয়েছেন, প্রকাশ্যে ও গোপনে মানুষের কাছ থেকে উত্তম প্রশংসা পেয়েছেন। সুতরাং আল্লাহর সকল প্রশংসা তাঁর অনুগ্রহ ও ইহসানের জন্য।

আর তাঁর প্রতি আল্লাহর ইহসানের মধ্যে এটিও ছিল যে, তিনি তাঁর ইলমের জন্য এমন লোক তৈরি করে দিয়েছেন যারা এর তত্ত্বাবধান করবে; সংগ্রহ, গবেষণা, বিন্যাস ও প্রকাশের মাধ্যমে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ ও দান; তাঁর ত্যাগের প্রতিদানস্বরূপ। আর এটি তাঁর জন্য কল্যাণের অন্যতম নিদর্শন, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন ও তাঁর প্রতি রহম করুন।

আর আমি এই ফাতাওয়াসমূহে যা কিছু এসেছে, তার সবকিছুই মহামান্য শায়খ ড. মুহাম্মাদ বিন সা'দ আশ-শুওয়াই'র - আল্লাহ তাঁকে তাওফীক্ব দান করুন - এর পাঠ থেকে বহু বছর ধরে নিয়মিত মজলিসে শুনেছি। এবং তা ছিল 'নূর আলা...' ফাতাওয়ার ক্যাসেটগুলো থেকে যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তার মাধ্যমে।
_______
(১) সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ১০৫।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ৫)
الدرب، التي بلغت (435) شريطا، فشكر الله سعيه ووصله بإحسانه ووفقه لما يحبه ويرضاه سبحانه.
كما أسأله سبحانه أن ينفع بهذا الجهد، وأن يجعله خالصا لوجهه مقربا لمرضاته، نافعا لعباده المؤمنين.
وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
المفتي العام للمملكة العربية السعودية
ورئيس هيئة كبار العلماء والرئاسة العامة للبحوث العلمية والإفتاء
عبد العزيز بن عبد الله بن محمد آل الشيخ
এই ধারাটি, যা (৪৩৫)টি ক্যাসেট পর্যন্ত পৌঁছেছে, আল্লাহ তার প্রচেষ্টাকে পুরস্কৃত করুন এবং তাকে তাঁর অনুগ্রহের সাথে সংযুক্ত করুন। তিনি যা ভালোবাসেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন, তাতে তাকে সফলতা দান করুন, তিনি পবিত্র ও মহান।

আমি তাঁর (আল্লাহর) কাছে আরও প্রার্থনা করি, তিনি পবিত্র ও মহান, যেন তিনি এই প্রচেষ্টাকে কল্যাণকর করেন এবং এটিকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন, তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম করেন এবং তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য উপকারী করেন।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর উপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি
এবং সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের প্রধান এবং গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সির প্রধান।
আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল আশ-শাইখ
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ৭)
كتاب العقيدة
আকীদা গ্রন্থ
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ৯)
باب ما جاء في التوحيد
1 - تعريف الإسلام
س: أرجو توضيح معنى الإسلام؟ (¬1)
ج: الإسلام معناه الاستسلام لله بالتوحيد، والانقياد له بالطاعة، إذلالا وخضوعا، هذا معنى الإسلام، يقال: أسلم فلان لفلان: ذل له وانقاد له، وأعطاه مطلوبه. فالإسلام معناه ذل لله، وانقياد لله؛ بتوحيده والإخلاص له، وطاعة أوامره، وترك نواهيه، هذا هو الإسلام، قال تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} (¬2) . وسمي المسلم مسلما: لأنه منقاد لله ذليل مطيع له سبحانه في فعل ما أمر، وترك ما نهى، ويطلق الإسلام على جميع ما أمر الله به ورسوله: من صلاة وصوم وحج وإيمان، وغير ذلك، كله يسمى إسلاما، كما قال الله عز وجل: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (¬3) ، وقال
¬__________
(¬1) السؤال الرابع من الشريط رقم (373) .
(¬2) سورة آل عمران الآية 19
(¬3) سورة المائدة الآية 3
তাওহীদ বিষয়ক পরিচ্ছেদ
১ - ইসলামের সংজ্ঞা

প্রশ্ন: আমি ইসলামের অর্থ স্পষ্ট করার অনুরোধ করছি।

উত্তর: ইসলামের অর্থ হলো তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং বিনয় ও বশ্যতার সাথে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর বশ্যতা স্বীকার করা। এটাই ইসলামের অর্থ। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি অমুকের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, অর্থাৎ তার কাছে বিনীত হয়েছে, তার বশ্যতা স্বীকার করেছে এবং তার চাওয়া পূরণ করেছে। সুতরাং ইসলামের অর্থ হলো আল্লাহর কাছে বিনীত হওয়া এবং তাঁর তাওহীদ ও তাঁর প্রতি ইখলাস (একনিষ্ঠতা) সহকারে তাঁর বশ্যতা স্বীকার করা, তাঁর আদেশসমূহ পালন করা এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করা। এটাই ইসলাম। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম।} (সূরা আলে ইমরান: ১৯)

আর মুসলিমকে মুসলিম নামকরণ করা হয়েছে, কারণ সে আল্লাহর বশ্যতা স্বীকারকারী, বিনীত এবং তাঁর অনুগত; যা তিনি আদেশ করেছেন তা পালনে এবং যা তিনি নিষেধ করেছেন তা বর্জনে। আর ইসলাম শব্দটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা আদেশ করেছেন তার সবকিছুর উপর প্রয়োগ করা হয়: যেমন সালাত, সাওম, হজ, ঈমান এবং অন্যান্য বিষয়। এর সবকিছুকেই ইসলাম বলা হয়। যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিআমত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।} (সূরা মায়েদা: ৩) এবং তিনি (আল্লাহ) বলেন:
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১০)
سبحانه: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (¬1) . فالمسلم هو المنقاد لأمر الله؛ قولا وعملا وعقيدة، والإسلام هو الانقياد لأمر الله، والتسليم لأمر الله، والذل لأمر الله من جميع الوجوه.
***
¬__________
(¬1) سورة آل عمران الآية 85
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন (জীবনব্যবস্থা) তালাশ করবে, তা তার কাছ থেকে কখনো কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।} (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৮৫)।

সুতরাং মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ্‌র নির্দেশের অনুগত; কথা, কাজ ও আকীদা (বিশ্বাস) – সবদিক থেকে। আর ইসলাম হলো আল্লাহ্‌র নির্দেশের প্রতি আনুগত্য, আল্লাহ্‌র নির্দেশের প্রতি আত্মসমর্পণ এবং আল্লাহ্‌র নির্দেশের প্রতি সর্বতোভাবে বিনয় ও বশ্যতা।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১০)
2 - معنى شهادة أن لا إله إلا الله
س: نطلب من سماحتكم أن تشرحوا لنا معنى الركن الأول من أركان الإسلام، وما يقتضيه ذلك المعنى، وكيف يتحقق في الإنسان؟ وما حكم من جهل شيئا منه؟ (¬1) :
ج: إن الله بعث نبيه محمدا - صلى الله عليه وسلم - إلى الناس عامة عربهم وعجمهم، جنهم وإنسهم، ذكورهم وإناثهم، يدعوهم إلى توحيد الله والإخلاص له وإلى الإيمان بالرسول عليه الصلاة والسلام وبما جاء به وإلى الإيمان بجميع المرسلين وبجميع الملائكة، والكتب المنزلة من السماء وباليوم الآخر، وهو البعث والنشور، والجزاء والحساب، والجنة والنار، وبالقدر خيره وشره، وإن الله قدر الأشياء، وعلمها وأحصاها وكتبها سبحانه وتعالى، فكل شيء يقع فهو بقضاء الله وقدره
¬__________
(¬1) السؤال العاشر من الشريط رقم (74) .
২ - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ শাহাদাতের অর্থ

প্রশ্ন: আমরা আপনার সমীপে ইসলামের প্রথম রুকন (স্তম্ভ) এর অর্থ ব্যাখ্যা করার জন্য অনুরোধ করছি, এবং সেই অর্থের দাবি কী, তা কীভাবে মানুষের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়? আর যে ব্যক্তি এর কোনো অংশ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে তার বিধান কী? (¬1) :

উত্তর: নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সকল মানুষের প্রতি প্রেরণ করেছেন – তাদের আরব ও অনারব, জিন ও ইনসান, পুরুষ ও নারী নির্বিশেষে। তিনি তাদেরকে আল্লাহর তাওহীদ ও তাঁর প্রতি ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এর দিকে আহ্বান করেছেন। তিনি তাদেরকে রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর প্রতি এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান আনার দিকে আহ্বান করেছেন। তিনি তাদেরকে সকল রাসূল, সকল ফেরেশতা, আসমান থেকে নাযিলকৃত সকল কিতাব, এবং আখেরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনার দিকে আহ্বান করেছেন – যা পুনরুত্থান ও একত্রিত হওয়া, প্রতিদান ও হিসাব, জান্নাত ও জাহান্নাম। আর তিনি তাদেরকে তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনার দিকে আহ্বান করেছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা সবকিছু নির্ধারণ করেছেন, তিনি তা জানেন, গণনা করেছেন এবং লিপিবদ্ধ করেছেন – সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। সুতরাং, যা কিছু ঘটে, তা আল্লাহর ফায়সালা ও তাকদীর অনুসারেই ঘটে।

¬__________
(¬1) ক্যাসেট নং (৭৪) এর দশম প্রশ্ন।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১১)
سبحانه وتعالى، وأمر الناس أن يقولوا: لا إله إلا الله، هذا هو أول شيء دعا إليه، وهو الركن الأول من أركان الإسلام شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، فلما قال للناس قولوا: لا إله إلا الله، وأمر أن يؤمنوا بأنه رسول الله عليه الصلاة والسلام امتنع الأكثرون وأنكروا هذه الدعوة، وقالت له قريش ما ذكر الله عنهم: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} (¬1) ،: وقال سبحانه عنهم: {إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ} (¬2) {وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُو آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَجْنُونٍ} (¬3) ، فاستنكروا هذه الدعوة؛ لأنهم عاشوا على عبادة الأوثان والأصنام واتخاذ الآلهة مع الله عز وجل، ولهذا أنكروا دعوة الرسول عليه الصلاة والسلام إلى توحيد الله والإخلاص له، وهذا الذي دعا إليه - صلى الله عليه وسلم - هو الذي دعت إليه الرسل جميعا كما قال سبحانه وتعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} (¬4) ، وقال سبحانه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} (¬5) .
وفي الصحيحين عن ابن عمر رضي الله تعالى عنهما عن النبي - صلى الله عليه وسلم - أنه قال:
¬__________
(¬1) سورة ص الآية 5
(¬2) سورة الصافات الآية 35
(¬3) سورة الصافات الآية 36
(¬4) سورة النحل الآية 36
(¬5) سورة الأنبياء الآية 25
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা মানুষকে নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে। এটিই ছিল তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) প্রথম দাওয়াত। আর এটি ইসলামের স্তম্ভসমূহের প্রথম স্তম্ভ: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ' (আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল) এই সাক্ষ্য প্রদান। যখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষকে বললেন: 'তোমরা বলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', এবং নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন তাঁর (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল হওয়ার উপর ঈমান আনে, তখন অধিকাংশ লোকই বিরত থাকল এবং এই দাওয়াতকে অস্বীকার করল। আর কুরাইশরা তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) যা বলেছিল, আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে তা উল্লেখ করেছেন: "{সে কি সকল উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করেছে? নিশ্চয়ই এটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার!} (সূরা সাদ: ৫)"। আর তিনি (আল্লাহ) সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "{যখন তাদের বলা হতো, 'আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই', তখন তারা অহংকার করত।} (সূরা আস-সাফফাত: ৩৫) {এবং বলত, 'আমরা কি এক উন্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করব?'} (সূরা আস-সাফফাত: ৩৬)"। সুতরাং তারা এই দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করল; কারণ তারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাথে মূর্তি ও প্রতিমার উপাসনা এবং অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করে জীবনযাপন করত। এ কারণেই তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর তাওহীদ ও তাঁর প্রতি ইখলাস (একনিষ্ঠতা)-এর দাওয়াতকে অস্বীকার করল।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাঁর দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন, তা-ই ছিল সকল রাসূলের দাওয়াত। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন: "{আর আমরা প্রত্যেক উম্মতের কাছে রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।} (সূরা আন-নাহল: ৩৬)"। এবং তিনি (আল্লাহ) সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন: "{আর আপনার পূর্বে আমরা এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি, যার প্রতি আমরা এই ওহী নাযিল করিনি যে, 'আমি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।'} (সূরা আল-আম্বিয়া: ২৫)"।

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১২)
«بني الإسلام على خمس يعني: على خمس دعائم: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وصوم رمضان وحج البيت (¬1) » ، وفي الصحيح أيضا عن عمر بن الخطاب رضي الله تعالى عنه أن «النبي - صلى الله عليه وسلم - أتاه سائل يسأله في صورة رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر لا يرى عليه أثر السفر ولا يعرفه من الحاضرين أحد، فقال: يا محمد أخبرني عن الإسلام؟ فقال: ` الإسلام: أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا `: قال: صدقت. قال الصحابة: فعجبنا له يسأله ويصدقه ثم قال ما الإيمان؟ قال: ` الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره` قال صدقت قال: فأخبرني عن الإحسان؟ قال: ` أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك. (¬2) » الحديث. ثم أخبرهم النبي - صلى الله عليه وسلم - أن هذا هو جبرائيل أتاهم يعلمهم دينهم، لما لم يسألوا أتاهم جبرائيل بأمر الله يسأله عن هذا الدين العظيم حتى يتعلموا ويستفيدوا، فدين الإسلام مبني على هذه الأركان الخمسة الظاهرة:
أولها: شهادة أن لا إله
¬__________
(¬1) أخرجه البخاري في كتاب الإيمان، باب بني الإسلام على خمس، برقم 8، ومسلم في كتاب الإيمان، باب بيان الإيمان والإسلام والإحسان، برقم 8.
(¬2) أخرجه مسلم في كتاب الإيمان، باب بيان الإيمان وأركان الإسلام ودعائمه العظام، برقم 16.
«ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা; যাকাত প্রদান করা; রমযানের সাওম পালন করা এবং বাইতুল্লাহর হজ্ব করা। (¬1)»

সহীহ হাদীসে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একজন প্রশ্নকারী এমন এক ব্যক্তির বেশে এলেন যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা, চুল ছিল কুচকুচে কালো, তার উপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং উপস্থিতদের মধ্যে কেউই তাকে চিনতে পারছিল না। সে বলল: হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: `ইসলাম হলো: তুমি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করবে; যাকাত প্রদান করবে; রমযানের সাওম পালন করবে এবং বাইতুল্লাহর হজ্ব করবে, যদি তুমি সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখো।` সে বলল: আপনি সত্য বলেছেন। সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বললেন: আমরা তার প্রতি বিস্মিত হলাম যে, সে প্রশ্ন করছে এবং নিজেই সত্যায়ন করছে। তারপর সে বলল: ঈমান কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: `ঈমান হলো: তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনবে; আর তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।` সে বলল: আপনি সত্য বলেছেন। সে বলল: আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: `তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো; আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে (মনে রাখবে) তিনি তোমাকে দেখছেন। (¬2)» হাদীসটি।

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জানালেন যে, ইনি ছিলেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম), যিনি তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। যখন তারা প্রশ্ন করেনি, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর নির্দেশে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই মহান দ্বীন সম্পর্কে প্রশ্ন করতে এসেছিলেন, যাতে তারা শিখতে ও উপকৃত হতে পারে। সুতরাং, ইসলামের দ্বীন এই পাঁচটি সুস্পষ্ট স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত:

প্রথমটি: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই...
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১৩)
إلا الله وأن محمدا رسول الله.
ثانيها: إقام الصلوات الخمس.
ثالثها: أداء الزكاة.
رابعها: صوم رمضان.
خامسها: حج بيت الله الحرام.
وعلى أركان باطنة إيمانية في القلب وهي الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله، واليوم الآخر وبالقدر خيره وشره.
فلا بد من هذه الأصول، ولا بد أن يؤمن المكلف بهذه الأصول الستة الباطنية التي تتعلق بالقلب، فيؤمن أن الله ربه وإلهه ومعبوده الحق سبحانه وتعالى، ويؤمن بملائكة الله وبكتب الله التي أنزلها على الأنبياء من التوراة والإنجيل والزبور والقرآن وغير ذلك، ويؤمن أيضا بالرسل الذين أرسلهم الله إلى عباده أولهم نوح وآخرهم محمد عليه الصلاة والسلام، وهم كثيرون بين الله بعضهم في القرآن العظيم، ويؤمن أيضا باليوم الآخر والبعث بعد الموت والجزاء من عند الله عز وجل وأن أهل الإيمان لهم السعادة، وأهل الكفر لهم الخيبة والندامة والنار، ولا بد من الإيمان بالقدر خيره وشره، وأن الله قدر الأشياء وعلمها وكتبها وأحصاها فما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن وكل ما يقع في الوجود من خير وشر وطاعة ومعصية فقد سبق بهذا علم الله وكتابته وقدره سبحانه وتعالى.
فالأصل العظيم الأول الذي طالبت به الرسل هو الإيمان بأن الله هو الإله الحق سبحانه وتعالى، وهذا هو معنى شهادة أن لا إله إلا الله، هذا أصل أصيل أجمعت عليه الرسل عليهم الصلاة والسلام كلهم دعوا إلى
আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল।
দ্বিতীয়ত: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করা।
তৃতীয়ত: যাকাত আদায় করা।
চতুর্থত: রমাদানের সাওম পালন করা।
পঞ্চমত: বাইতুল্লাহিল হারামের হজ্ব করা।

আর কিছু অভ্যন্তরীণ ঈমানী স্তম্ভ রয়েছে যা অন্তরের সাথে সম্পর্কিত। সেগুলো হলো: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং তাকদীরের ভালো-মন্দ সবকিছুর প্রতি ঈমান আনা।

সুতরাং এই মূলনীতিগুলো অপরিহার্য। আর মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর জন্য এই ছয়টি অভ্যন্তরীণ মূলনীতির প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক, যা অন্তরের সাথে সম্পর্কিত। সে যেন ঈমান আনে যে, আল্লাহই তার রব, তার ইলাহ এবং তাঁরই প্রকৃত উপাসনা করা হয়, তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। এবং সে যেন আল্লাহর ফেরেশতাগণ ও আল্লাহর কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনে, যা তিনি নবীদের উপর নাযিল করেছেন; যেমন তাওরাত, ইনজিল, যাবুর, যাবুর, কুরআন এবং অন্যান্য কিতাব। এবং সে যেন সেই রাসূলগণের প্রতিও ঈমান আনে যাদেরকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছে প্রেরণ করেছেন। তাঁদের প্রথম হলেন নূহ (আলাইহিস সালাম) এবং শেষ হলেন মুহাম্মাদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)। তাঁরা সংখ্যায় অনেক, আল্লাহ তা'আলা তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের কথা মহাগ্রন্থ কুরআনে বর্ণনা করেছেন। এবং সে যেন শেষ দিবস, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর পক্ষ থেকে প্রতিদানের প্রতিও ঈমান আনে। আর ঈমানদারদের জন্য রয়েছে সৌভাগ্য, পক্ষান্তরে কাফিরদের জন্য রয়েছে ব্যর্থতা, অনুশোচনা ও জাহান্নামের আগুন।

আর তাকদীরের ভালো-মন্দ সবকিছুর প্রতি ঈমান আনা অপরিহার্য। এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ সবকিছু নির্ধারণ করেছেন, সে সম্পর্কে জ্ঞান রেখেছেন, তা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তার হিসাব রেখেছেন। সুতরাং আল্লাহ যা চেয়েছেন, তা হয়েছে; আর যা চাননি, তা হয়নি। অস্তিত্বে যা কিছু ঘটে, ভালো-মন্দ, আনুগত্য ও অবাধ্যতা – সবকিছুই আল্লাহর জ্ঞান, তাঁর লিখন এবং তাঁর নির্ধারণ অনুযায়ীই সংঘটিত হয়েছে, তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা।

সুতরাং প্রথম মহান মূলনীতি, যা সকল রাসূল (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) দাবি করেছেন, তা হলো এই বিশ্বাস যে, আল্লাহই একমাত্র সত্য ইলাহ, তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। আর এটাই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' শাহাদাতের অর্থ। এটি একটি মৌলিক মূলনীতি যার উপর সকল রাসূল (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) একমত হয়েছেন। তাঁরা সকলেই এর দিকে আহ্বান করেছেন...
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১৪)
هذا الأصل الأصيل، وهو أن يؤمن الناس بأن الله هو الإله الحق وأنه لا معبود بحق سواه، وهذا هو معنى لا إله إلا الله أي: لا معبود حق إلا الله، وما عبده الناس من أصنام أو أشجار أو أحجار أو أنبياء أو أولياء أو ملائكة كله باطل، العبادة بالحق لله وحده سبحانه وتعالى: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ} (¬1) ، {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} (¬2) ، {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} (¬3) ، {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ} (¬4) .
ولا بد مع هذا الأصل من الإيمان بالرسل عليهم الصلاة والسلام من عهد نوح الإيمان بنوح، وفي عهد هود الإيمان بهود، مع توحيد الله، وفي عهد صالح الإيمان بصالح، مع توحيد الله وهكذا في عهد كل رسول لا بد من توحيد الله، والإيمان بأنه لا إله إلا الله ولا بد من الإيمان بالرسول الذي بلغ الرسالة في عهده إلى آخرهم عيسى عليه الصلاة والسلام، آخر الأنبياء بني إسرائيل، ثم بعث الله خاتمهم وأفضلهم نبينا محمدا - صلى الله عليه وسلم -، فعيسى هو آخر أنبياء بني إسرائيل، ومحمد هو آخر الأنبياء وخاتم الأنبياء جميعا، ليس بعده نبي ولا رسول عليه الصلاة والسلام، وهو أفضل الرسل، وهو إمامهم، وهو خاتمهم،
¬__________
(¬1) سورة البقرة الآية 163
(¬2) سورة الإسراء الآية 23
(¬3) سورة الفاتحة الآية 5
(¬4) سورة البينة الآية 5
এই মৌলিক ভিত্তি হলো এই যে, মানুষ বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহই একমাত্র সত্য ইলাহ (উপাস্য) এবং তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোনো উপাস্য নেই। আর এটাই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ; অর্থাৎ, আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোনো উপাস্য নেই। মানুষ মূর্তি, গাছ, পাথর, নবী, ওলী বা ফেরেশতা যাদেরই ইবাদত করে, তার সবই বাতিল। সত্যিকার ইবাদত কেবল মহান আল্লাহ তাআলার জন্যই নির্দিষ্ট:

"আর তোমাদের ইলাহ (উপাস্য) তো এক ও অদ্বিতীয় ইলাহ। তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোনো উপাস্য নেই। তিনি পরম দয়ালু, অসীম মেহেরবান।" (সূরা আল-বাকারা: ১৬৩)

"আর তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে।" (সূরা আল-ইসরা: ২৩)

"আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।" (সূরা আল-ফাতিহা: ৫)

"তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁরই জন্য দ্বীনকে বিশুদ্ধ করবে, একনিষ্ঠ হয়ে।" (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ৫)

এই মূলনীতির সাথে সাথে রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনাও অপরিহার্য, তাঁদের সকলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে তাঁর প্রতি ঈমান আনা, হূদ (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে তাঁর প্রতি ঈমান আনা, আল্লাহর তাওহীদ (একত্ববাদ) সহকারে। সালিহ (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে তাঁর প্রতি ঈমান আনা, আল্লাহর তাওহীদ সহকারে। আর এভাবেই প্রত্যেক রাসূলের যুগে আল্লাহর তাওহীদ এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর প্রতি ঈমান আনা অপরিহার্য ছিল। এবং সেই রাসূলের প্রতি ঈমান আনাও অপরিহার্য ছিল যিনি তাঁর যুগে রিসালাত (আল্লাহর বার্তা) পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের সর্বশেষ ছিলেন ঈসা (আলাইহিস সালাম), যিনি বনী ইসরাঈলের সর্বশেষ নবী ছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁদের সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করলেন। সুতরাং, ঈসা (আলাইহিস সালাম) ছিলেন বনী ইসরাঈলের সর্বশেষ নবী। আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন সকল নবীর সর্বশেষ এবং তাঁদের সমাপ্তকারী। তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসূল নেই, তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তিনি রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তিনি তাঁদের ইমাম (নেতা) এবং তিনি তাঁদের সমাপ্তকারী।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১৫)
فلا بد في حق الأمة أمة محمد - صلى الله عليه وسلم - جنها وإنسها، عربها وعجمها، ذكورها وإناثها، أغنيائها وفقرائها، حكامها ومحكوميها، لا بد أن يؤمنوا بهذا النبي، فمن لم يؤمن به فلا إسلام له، ولا دين له، فلا بد من الإيمان بأن الله هو الإله الحق، وأنه لا إله بحق إلا الله، ولا بد من الإيمان بمحمد - صلى الله عليه وسلم - وأنه رسول الله حقا، إلى جميع الناس، فمن لم يؤمن بهاتين الشهادتين فليس بمسلم، إذ لا بد من الإيمان بهما واعتقاد معناهما، وأن معنى لا إله إلا الله؛ معناها لا معبود حق إلا الله فلا يجوز أن يدعى مع الله ملك أو نبي أو شجر أو حجر أو جن أو صنم، فإذا قال: يا رسول الله انصرني. بعد موته - صلى الله عليه وسلم -، أو قال: يا سيدي البدوي انصرني. أو: اشف مريضي. أو: يا سيدي الحسين. أو: يا سيدي عبد القادر. أو: المدد المدد. صار هذا شركا بالله عز وجل، يبطل معنى لا إله إلا الله؛ لأنك لم تأت بالعبادة لله وحده، بل أشركت مع الله غيره، ودعوت مع الله غيره، والله يقول: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} (¬1) ، ويقول سبحانه: {وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّالِمِينَ} (¬2) ، ويقول سبحانه: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ} (¬3) ويقول جل وعلا: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} (¬4) ويقول:
¬__________
(¬1) سورة الجن الآية 18
(¬2) سورة يونس الآية 106
(¬3) سورة البينة الآية 5
(¬4) سورة الإسراء الآية 23
উম্মাতে মুহাম্মাদ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর জিন ও ইনসান, আরব ও অনারব, পুরুষ ও নারী, ধনী ও দরিদ্র, শাসক ও শাসিত নির্বিশেষে সকলের জন্য এই নবীর প্রতি ঈমান আনা অপরিহার্য। যে তাঁর প্রতি ঈমান আনবে না, তার কোনো ইসলাম নেই এবং তার কোনো দ্বীন নেই। সুতরাং, এই ঈমান আনা অপরিহার্য যে, আল্লাহই একমাত্র সত্য ইলাহ, এবং আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই। আর এই ঈমান আনাও অপরিহার্য যে, মুহাম্মাদ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সকল মানুষের জন্য আল্লাহর সত্য রাসূল। যে ব্যক্তি এই দুটি শাহাদাতের প্রতি ঈমান আনবে না, সে মুসলিম নয়। কারণ, এই দুটির প্রতি ঈমান আনা এবং এর অর্থ বিশ্বাস করা অপরিহার্য।

আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর অর্থ হলো: আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোনো উপাস্য নেই। সুতরাং, আল্লাহর সাথে কোনো ফেরেশতা, নবী, গাছ, পাথর, জিন বা মূর্তিকে ডাকা জায়েজ নয়। যদি কেউ তাঁর (রাসূলুল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর) মৃত্যুর পর বলে: "হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে সাহায্য করুন!" অথবা বলে: "হে আমার সাইয়্যিদ আল-বাদাভী, আমাকে সাহায্য করুন!" অথবা "আমার রোগীকে সুস্থ করে দিন!" অথবা "হে আমার সাইয়্যিদ হুসাইন!" অথবা "হে আমার সাইয়্যিদ আব্দুল কাদির!" অথবা "মদদ! মদদ!" (সাহায্য! সাহায্য!) তবে এটি মহান আল্লাহর সাথে শিরক হয়ে যাবে। এটি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর অর্থকে বাতিল করে দেয়; কারণ, তুমি আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করোনি, বরং আল্লাহর সাথে অন্যকে শরিক করেছ এবং আল্লাহর সাথে অন্যকে ডেকেছ।

আর আল্লাহ তাআলা বলেন:
{وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا}
"আর মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।" (সূরা জিন: ১৮)

তিনি (আল্লাহ) আরও বলেন:
{وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّالِمِينَ}
"আর আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডেকো না, যে তোমার উপকারও করতে পারে না এবং অপকারও করতে পারে না। যদি তুমি তা করো, তবে নিশ্চয়ই তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (সূরা ইউনুস: ১০৬)

তিনি (আল্লাহ) আরও বলেন:
{وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ}
"তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁরই জন্য দ্বীনকে বিশুদ্ধ করে, একনিষ্ঠ হয়ে।" (সূরা বাইয়্যিনাহ: ৫)

আর তিনি (আল্লাহ) মহিমান্বিত ও সুউচ্চ সত্তা বলেন:
{وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ}
"আর তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে।" (সূরা ইসরা: ২৩)
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১৬)
{إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} (¬1) .
ويقول النبي - صلى الله عليه وسلم -: «الدعاء هو العبادة (¬2) » . ويقول جل وعلا: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} (¬3) . فلا بد من إخلاص العبادة لله وحده، ومنها الدعاء، فإذا قلت للميت أو للشجر أو للصنم: أغنني، انصرني، اشف مريضي، المدد المدد. صار شركا بالله، وصار نقضا لقول: لا إله إلا الله. وهكذا من كذب الرسول محمدا - صلى الله عليه وسلم -، وشك في رسالته، أو قال: إنه للعرب دون العجم - أو قال: إنه ليس خاتم النبيين بل بعده نبي. كل هذا كفر وضلال، ونقض للإسلام، نسأل الله العافية. فلا بد من الإيمان بأنه رسول الله حقا إلى جميع الثقلين الجن والإنس، ولا بد من الإيمان بأنه خاتم الأنبياء والمرسلين، ليس بعده نبي، وأن من ادعى النبوة بعده كافر بالله كذاب؛ كمسيلمة، والأسود العنسي في اليمن، وسجاح التميمية، وطليحة الأسدي، وجميع من ادعوا من بعده، فأجمع الصحابة رضي الله عنهم وأرضاهم على كفرهم وقاتلوهم؛ لأنهم كذبوا معنى قوله سبحانه: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} (¬4) . وقد تواترت الأحاديث عن
¬__________
(¬1) سورة الفاتحة الآية 5
(¬2) أخرجه الإمام أحمد في أول مسند الكوفيين، حديث النعمان بن بشير عن النبي - صلى الله عليه وسلم -، برقم 17888
(¬3) سورة غافر الآية 60
(¬4) سورة الأحزاب الآية 40
{আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি} (১)।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «দোয়া হলো ইবাদত» (২)। আর আল্লাহ তা'আলা বলেন: {তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব} (৩)। সুতরাং, ইবাদতকে কেবল আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা অপরিহার্য, আর দো'আও এর অন্তর্ভুক্ত। অতএব, যদি তুমি কোনো মৃত ব্যক্তি, গাছ বা প্রতিমাকে বলো: 'আমাকে অভাবমুক্ত করো', 'আমাকে সাহায্য করো', 'আমার রোগীকে সুস্থ করো', 'সাহায্য, সাহায্য' – তাহলে তা আল্লাহর সাথে শিরক হয়ে যাবে এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) এই কথার পরিপন্থী হবে।

অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, অথবা তাঁর রিসালাতে সন্দেহ পোষণ করলো, অথবা বললো যে, তিনি কেবল আরবদের জন্য প্রেরিত হয়েছেন, অনারবদের জন্য নন – অথবা বললো যে, তিনি শেষ নবী নন বরং তাঁর পরে আরও নবী আসবে। এই সবই কুফর ও ভ্রষ্টতা এবং ইসলামের পরিপন্থী। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।

সুতরাং, এই বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য যে, তিনি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিন ও মানবজাতি উভয় সাক্বালাইনের জন্য প্রকৃতই আল্লাহর রাসূল। এবং এই বিশ্বাস স্থাপন করাও অপরিহার্য যে, তিনি নবী ও রাসূলগণের সর্বশেষ, তাঁর পরে কোনো নবী নেই। আর যে ব্যক্তি তাঁর পরে নবুওয়াতের দাবি করেছে, সে আল্লাহর সাথে কুফরীকারী ও মিথ্যাবাদী; যেমন মুসায়লামা, ইয়েমেনের আসওয়াদ আল-আনসী, সাজ্জাহ আত-তামিমিয়্যাহ, তুলাইহা আল-আসাদী এবং তাঁর পরে যারা নবুওয়াতের দাবি করেছে। সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আরদাহুম তাদের কুফরীর উপর ইজমা করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন; কারণ তারা আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর অর্থকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে: {মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারো পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী} (৪)। আর এ বিষয়ে মুতাওয়াতির হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছে...

---
(১) সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ৫।
(২) আহমাদ, মুসনাদুল কুফিয়্যীন, নু'মান ইবন বাশীর থেকে বর্ণিত, হাদীস নং ১৭৮৮৮।
(৩) সূরা গাফির, আয়াত ৬০।
(৪) সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪০।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১৭)
رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أنه قال: «أنا خاتم النبيين، لا نبي بعدي (¬1) » .
فهذه الشهادة التي هي شهادة: أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، هي الأصل الأصيل، وهي الركن الأول من أركان الإسلام، فلا إسلام إلا بهاتين الشهادتين، لو صلى وصام وحج، وصام النهار وقام الليل، وذكر الله كثيرا، ولكنه لا يؤمن بأن الله هو المستحق للعبادة، لا يؤمن بأن: لا إله إلا الله، بل يرى أنه لا مانع من عبادة الأوثان والأصنام، لا يرى مانعا من عبادة البدوي أو الحسين أو الشيخ عبد القادر أو علي بن أبي طالب، أو غيرهم، إذا اعتقد أنه يجوز هذا؛ يدعوهم من دون الله، يستغيث بهم، ينذر لهم، صار مشركا بالله عز وجل، وصار كلامه هذا وعقيدته ناقضة لقول: لا إله إلا الله. وهكذا لو قال: إن محمدا - صلى الله عليه وسلم - ليس بخاتم الأنبياء. أو: ليس مرسلا للثقلين بل هو للعرب خاصة. كان كافرا بالله عز وجل، فلا بد أن يؤمن بأنه رسول الله إلى جميع الثقلين، ولا بد أن يؤمن بأنه خاتم الأنبياء، ليس بعده نبي ولا رسول. هذا هو الأصل الأصيل.
ثم بعد هذا يطالب المسلم بعد هذا بالصلاة، يطالب بالزكاة بالصيام بالحج، ببقية الأوامر، وترك النواهي بعد ما يثبت هذا الأصل، بعد إيمانه بشهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله؛
¬__________
(¬1) أخرجه الإمام أحمد في باقي مسند الأنصار، ومن حديث ثوبان رضي الله عنه، برقم 27703.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি নবীদের সর্বশেষ, আমার পরে কোনো নবী নেই।» (১)

সুতরাং, এই শাহাদাহ, যা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'মুহাম্মাদুন রাসূলুল্লাহ'-এর শাহাদাহ, এটিই মূল ভিত্তি এবং ইসলামের প্রথম স্তম্ভ। এই দুটি শাহাদাহ ছাড়া কোনো ইসলাম নেই। যদি সে সালাত আদায় করে, সাওম পালন করে এবং হজ্ব করে, দিনের বেলায় সাওম রাখে ও রাতে সালাতে দাঁড়ায়, আর আল্লাহকে অনেক স্মরণ করে, কিন্তু সে বিশ্বাস করে না যে, আল্লাহই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য, সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই)-তে বিশ্বাস করে না, বরং সে মনে করে যে, মূর্তি ও প্রতিমার ইবাদত করতে কোনো বাধা নেই, সে বদাওয়ী, হুসাইন, শাইখ আব্দুল কাদির, আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু অথবা অন্য কারো ইবাদত করতে কোনো বাধা দেখে না, যদি সে বিশ্বাস করে যে, এটি জায়েজ; সে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ডাকে, তাদের কাছে সাহায্য চায়, তাদের জন্য মানত করে, তাহলে সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সাথে শিরককারী হয়ে গেল, এবং তার এই কথা ও আকীদা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার পরিপন্থী হয়ে গেল। অনুরূপভাবে, যদি সে বলে: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীদের সর্বশেষ নন। অথবা: তিনি জিন ও মানবজাতি সকলের জন্য প্রেরিত হননি, বরং তিনি কেবল আরবদের জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তাহলে সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সাথে কুফরি করল, সুতরাং, অবশ্যই তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, তিনি জিন ও মানবজাতি সকলের জন্য আল্লাহর রাসূল, এবং অবশ্যই তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, তিনি নবীদের সর্বশেষ, তাঁর পরে কোনো নবী বা রাসূল নেই। এটিই মূল ভিত্তি।

এরপর এই মূল ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, অর্থাৎ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'মুহাম্মাদুন রাসূলুল্লাহ'-এর শাহাদাহতে তার ঈমান আনার পর, মুসলিমকে সালাত, যাকাত, সাওম, হজ্ব, অন্যান্য আদেশ পালন এবং নিষেধসমূহ বর্জন করার জন্য দাবি করা হয়।

---
(১) এটি ইমাম আহমাদ তাঁর 'বাকী মুসনাদুল আনসার' গ্রন্থে সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস হিসেবে ২৭৭০৩ নং-এ সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১৮)
يعني: إيمانه بأن الله سبحانه هو المعبود الحق، وأن العبادة حقه وحده، وأنه لا يعبد معه سواه؛ لا نبي ولا ملك ولا شجر ولا صنم، ولا غير ذلك. ولا بد من الإيمان بأن محمدا رسول الله، مع التصديق بجميع الأنبياء الماضين، وأنهم أدوا الرسالة، وبلغوها عليهم الصلاة والسلام، مع الإيمان بجميع ما تقدم؛ بالله وملائكته وكتبه ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره. لا بد من هذا وهذا، ولا بد مع هذا كله من التصديق بما أخبر الله به ورسوله عما كان وما يكون، فالله صادق في خبره، ورسوله صادق عليه الصلاة والسلام. فمن كذب الله أو كذب الرسول - صلى الله عليه وسلم - كفر، ولو صلى وصام، نسأل الله للجميع الهداية.
***
অর্থাৎ: তার ঈমান এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা-ই একমাত্র সত্য মা'বূদ (উপাস্য), এবং ইবাদত একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য, আর তাঁর সাথে অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না; কোনো নবী নয়, কোনো ফেরেশতা নয়, কোনো গাছ নয়, কোনো মূর্তি নয়, এবং অন্য কোনো কিছুই নয়। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল – এ কথার উপর ঈমান আনাও অপরিহার্য, পূর্ববর্তী সকল নবীর প্রতি সত্যায়ন করার সাথে সাথে, এবং এই বিশ্বাস রাখা যে, তাঁরা (সকল নবী) রিসালাত (আল্লাহর বার্তা) পৌঁছে দিয়েছেন ও তা প্রচার করেছেন – তাঁদের সকলের উপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। পূর্বোক্ত সকল কিছুর উপর ঈমান আনার সাথে সাথে; আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং তাক্বদীর – তার ভালো ও মন্দ – এর উপর (ঈমান)। এগুলোর প্রতিটিই অপরিহার্য, আর এই সবকিছুর সাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যা কিছু খবর দিয়েছেন, সে সবের প্রতি সত্যায়ন করাও অপরিহার্য। কারণ আল্লাহ তাঁর সংবাদে সত্যবাদী, এবং তাঁর রাসূলও (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্যবাদী। সুতরাং যে আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল অথবা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, সে কাফির হয়ে গেল, যদিও সে সালাত আদায় করে এবং সাওম পালন করে। আমরা সকলের জন্য আল্লাহর কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১৮)
3 - بيان مراتب دين الإسلام
س: يسأل المستمع من الرياض ويقول: ما هي مراتب الدين، مع ذكر أركان كل مرتبة؛ جزاكم الله خيرا (¬1) .
ج: مراتبه ثلاث: الإسلام، والإيمان، والإحسان. كما بينه النبي - صلى الله عليه وسلم -.
المرتبة الأولى: الإسلام؛ المرتبة العامة، وأركانها خمسة: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله؛ وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت. وكل عمل مما شرعه الله داخل في الإسلام.
¬__________
(¬1) السؤال الثلاثون من الشريط رقم (433) .
৩ - ইসলামের দ্বীনের স্তরসমূহ বর্ণনা

প্রশ্ন: রিয়াদের একজন শ্রোতা জানতে চেয়েছেন যে, দ্বীনের স্তরসমূহ কী কী এবং প্রতিটি স্তরের স্তম্ভগুলো কী কী? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

উত্তর: এর স্তর তিনটি: ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বর্ণনা করেছেন।

প্রথম স্তর: ইসলাম; এটি সাধারণ স্তর। এর স্তম্ভ পাঁচটি: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমাদানের সাওম পালন করা এবং বাইতুল্লাহর হজ্ব করা। আল্লাহ যা কিছু শরীয়তসম্মত করেছেন, তার প্রতিটি আমলই ইসলামের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১৯)
والمرتبة الثانية: الإيمان: وأركانها ستة: أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، وبالقدر خيره وشره.
المرتبة الثالثة: الإحسان؛ وهو ركن واحد، ومعناه: أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك.
وجميع الأعمال الصالحة داخلة في الإسلام والإيمان، فإذا جمع المؤمن بين الأعمال كلها الظاهرة والباطنة صار مسلما مؤمنا، وإذا عبد الله كأنه يراه، فإن لم يكن يراه فإنه يراه، صار مسلما مؤمنا محسنا نسأل الله للجميع التوفيق.
***
দ্বিতীয় স্তর হলো: ঈমান। এর স্তম্ভ ছয়টি: আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, আখিরাতের দিনের প্রতি এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।

তৃতীয় স্তর হলো: ইহসান। এটি একটি মাত্র স্তম্ভ, এবং এর অর্থ হলো: তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো; যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে (মনে রাখবে) তিনি তোমাকে দেখছেন।

সকল নেক আমল ইসলাম ও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। যখন কোনো মুমিন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য আমল একত্রিত করে (অর্থাৎ পালন করে), তখন সে মুসলিম ও মুমিন হয়। আর যখন সে এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করে যেন সে তাঁকে দেখছে; যদি সে তাঁকে দেখতে না পায়, তবে (মনে রাখবে) তিনি তাকে দেখছেন, তখন সে মুসলিম, মুমিন ও মুহসিন হয়। আমরা সকলের জন্য আল্লাহর কাছে তাওফীক্ব (সফলতা) কামনা করি।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ১৯)
4 - العقيدة الصحيحة هي أصل الدين وأساس الملة
س: الأخ س. ع. م. ل. من الحبشة، مقيم في مدينة جدة، يسأل ويقول: لقد تعلمت في بلدي الحبشة بعض العلوم الدينية، ولكني لا أعلم صحتها خاصة فيما يتعلق بالعقيدة، إذ تتخللها بعض التوهيمات الصوفية، أدركت هذا بعد قدومي إلى هذا البلد. أرجو توجيهي جزاكم الله خيرا (¬1) .
ج: العقيدة أهم الأمور، وهي أصل الدين وأساس الملة، وهي التي بدأ بها الرسل عليهم الصلاة والسلام أممهم، وبدأ بها نبينا - صلى الله عليه وسلم -
¬__________
(¬1) السؤال الخامس عشر من الشريط رقم (165) .
**৪ - সহীহ আকীদা হলো দ্বীনের মূল এবং মিল্লাতের ভিত্তি**

**প্রশ্ন:** আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া) থেকে আগত ভাই স. আ. ম. ল., যিনি জেদ্দা শহরে বসবাস করছেন, প্রশ্ন করেছেন এবং বলেছেন: আমি আমার দেশ আবিসিনিয়াতে কিছু দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করেছি, কিন্তু আমি সেগুলোর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে অবগত নই, বিশেষ করে আকীদা সংক্রান্ত বিষয়ে। কারণ সেগুলোর মধ্যে কিছু সুফি ভ্রান্ত ধারণা মিশ্রিত ছিল। এই দেশে আসার পর আমি তা উপলব্ধি করতে পেরেছি। আমি আপনার দিকনির্দেশনা কামনা করছি, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন (¬১)।

**উত্তর:** আকীদা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আর এটি দ্বীনের মূল এবং মিল্লাতের ভিত্তি। আর এটিই সেই বিষয় যা দিয়ে রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁদের উম্মতদেরকে আহ্বান শুরু করেছিলেন, এবং আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)ও এটি দিয়েই শুরু করেছিলেন।

---
(¬১) ক্যাসেট নং (১৬৫) থেকে পনেরোতম প্রশ্ন।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২০)
أمته، فمكث في مكة بعد النبوة ثلاث عشرة سنة يدعو إلى توحيد الله، والإخلاص له، والإيمان بأسمائه وصفاته، وأنه رب العالمين، وأنه الخلاق العليم، وأنه المستحق للعبادة، وكانت العرب تعرف أن الله رب العالمين، وأنه خالقهم ولكنهم يتخذون معه الأنداد والآلهة؛ من الشجر والحجر والأصنام وبني آدم والجن، وغير ذلك. فبين لهم - صلى الله عليه وسلم - أن العبادة حق الله وحده، وأن الواجب عليهم إخلاص العبادة لله وحده، وقال: «يا قومي قولوا: لا إله إلا الله تفلحوا (¬1) » . فلما قال لهم هذا استنكروا ذلك، وأنزل الله في حقهم قوله تعالى عنهم أنهم قالوا: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} (¬2) .
فالعقيدة هي أهم الأمور، وهي أساس الدين، فالواجب على طالب العلم أن يعتني بها حتى يتقنها على بصيرة، وحتى يعلمها على بينة.
والخلاصة في ذلك أن الذي عليه أهل السنة والجماعة وهو الذي بعث الله به الرسل وبعث به خاتمهم نبينا محمدا عليه الصلاة والسلام؛ هو الإيمان بالله وحده، وإخلاص العبادة له جل وعلا، والإيمان بأنه مستحق للعبادة، ولا يدعى إلا هو، ولا يستغاث إلا به، ولا يتوكل إلا عليه، ولا يتقرب بالذبائح والنذور إلا له سبحانه وتعالى. إلى غير هذا من العبادات كما قال سبحانه: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ} (¬3) .
¬__________
(¬1) أخرجه الإمام أحمد في مسند المكيين، من حديث ربيعة بن عبادة الديلي رضي الله عنه، رقم 15593.
(¬2) سورة ص الآية 5
(¬3) سورة البينة الآية 5
তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের পর মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেন, আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর প্রতি ইখলাস (একনিষ্ঠতা), তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলীতে ঈমান আনা, এবং এই বিশ্বাস স্থাপনের দিকে দাওয়াত দিতে যে, তিনিই রাব্বুল আলামীন (সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক), তিনিই আল-খাল্লাক আল-আলীম (মহাজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তা), এবং তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। আর আরবরা জানত যে, আল্লাহই রাব্বুল আলামীন এবং তিনিই তাদের সৃষ্টিকর্তা; কিন্তু তারা তাঁর সাথে গাছ, পাথর, মূর্তি, বনী আদম (মানুষ) ও জিন ইত্যাদি থেকে অংশীদার ও উপাস্য গ্রহণ করত। অতঃপর তিনি – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – তাদের কাছে স্পষ্ট করে দিলেন যে, ইবাদত কেবল আল্লাহরই হক এবং তাদের উপর ওয়াজিব হলো কেবল আল্লাহর জন্যই ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা। এবং বললেন: "হে আমার কওম! তোমরা বলো: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), তাহলে তোমরা সফলকাম হবে।" (¬1) যখন তিনি তাদের কাছে এ কথা বললেন, তখন তারা তা অদ্ভুত মনে করল। আর আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে তাদের উক্তি উল্লেখ করে নাযিল করলেন: {সে কি সমস্ত উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করেছে? নিশ্চয় এটা এক অদ্ভুত ব্যাপার!} (সূরা সাদ, আয়াত ৫) (¬2)

সুতরাং আকীদা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটি দ্বীনের ভিত্তি। তাই ইলম অন্বেষণকারীর উপর ওয়াজিব হলো এর প্রতি যত্নবান হওয়া, যাতে সে অন্তর্দৃষ্টি সহকারে এতে পারদর্শী হতে পারে এবং সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তা জানতে পারে।

এর সারসংক্ষেপ হলো, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের যে আকীদা এবং যা দিয়ে আল্লাহ তাআলা সকল রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, আর তাদের সর্বশেষ রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও প্রেরণ করেছেন, তা হলো কেবল এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁরই জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা। আর এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনিই ইবাদতের যোগ্য; তাঁকে ছাড়া আর কাউকে ডাকা যাবে না, তাঁর কাছে ছাড়া আর কারো কাছে সাহায্য চাওয়া যাবে না, এবং তাঁর উপর ছাড়া আর কারো উপর ভরসা করা যাবে না। আর কুরবানী ও মান্নতের মাধ্যমে তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলা ছাড়া আর কারো নৈকট্য লাভ করা যাবে না। ইবাদতের অন্যান্য বিষয়াদির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁরই জন্য দ্বীনকে খাঁটি করে, একনিষ্ঠ হয়ে।} (সূরা বাইয়্যিনাহ, আয়াত ৫) (¬3)
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال تعالى: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ} (¬1) ، وقال تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} (¬2) ، وقال عز وجل: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} (¬3) .
وهذه العبادة خلق الله من أجلها الثقلين، كما قال سبحانه: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} (¬4) . المعنى ليخصوني بالعبادة وبالدعاء، وبالخوف والرجاء والتوكل، والصلاة والصوم، والذبح والنذر، ونحو ذلك.
وبعث الله الرسل بذلك سبحانه وتعالى، قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} (¬5) . والطاغوت: كل ما عبد من دون الله، قال سبحانه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} (¬6) .
فالتقرب إلى أصحاب القبور؛ بالذبائح أو بالنذور أو بالدعاء، أو طلب الشفاء أو المدد، هذا من الشرك بالله عز وجل، ويناقض قول: لا إله إلا الله. فالواجب على المسلمين أن يعبدوا الله وحده، وأن يخصوه بدعائهم وخوفهم، ورجائهم وذبحهم ونذرهم، وصلاتهم وصومهم، ونحو ذلك، أما الأموات المسلمون فيدعى لهم بالمغفرة
¬__________
(¬1) سورة الإسراء الآية 23
(¬2) سورة الفاتحة الآية 5
(¬3) سورة الأنعام الآية 162
(¬4) سورة الذاريات الآية 56
(¬5) سورة النحل الآية 36
(¬6) سورة الأنبياء الآية 25
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে।} (সূরা আল-ইসরা, আয়াত ২৩)। তিনি আরও বলেন: {আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।} (সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ৫)। তিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত সত্তা আরও বলেন: {বলো, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।} (সূরা আল-আন'আম, আয়াত ১৬২)।

আর এই ইবাদতের জন্যই আল্লাহ তাআলা জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, যেমন তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।} (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ৫৬)। এর অর্থ হলো: তারা যেন কেবল আমার জন্যই ইবাদত করে এবং আমার কাছেই দু'আ করে, আমার প্রতিই ভয় ও আশা রাখে এবং আমার উপরই ভরসা করে, আর সালাত, সাওম, যবেহ, মান্নত ইত্যাদি কেবল আমার জন্যই করে।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই (তাওহীদের) দাওয়াত দিয়েই রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাআলা বলেন: {আর নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক উম্মতের কাছে রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।} (সূরা আন-নাহল, আয়াত ৩৬)। আর তাগুত হলো আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদত করা হয় এমন সবকিছু। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি আমি এই ওহী করিনি যে, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।} (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ২৫)।

সুতরাং কবরবাসীদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে; যবেহ করা, বা মান্নত করা, বা দু'আ করা, অথবা আরোগ্য বা সাহায্য প্রার্থনা করা, এ সবই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল-এর সাথে শিরক করা। আর এটি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) এই কথার পরিপন্থী। অতএব, মুসলিমদের উপর ওয়াজিব হলো তারা কেবল এক আল্লাহরই ইবাদত করবে, এবং তাদের দু'আ, ভয়, আশা, যবেহ, মান্নত, সালাত, সাওম ইত্যাদি কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট করবে। আর মৃত মুসলিমদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হবে।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২২)
والرحمة، تزار قبورهم للذكرى؛ لذكر الآخرة، وذكر الموت، وللدعاء لهم: اللهم اغفر لهم واللهم ارحمهم. فقد كان النبي يزور القبور عليه الصلاة والسلام، ويدعو لهم بالمغفرة والرحمة، ويقول: «زوروا القبور فإنها تذكركم بالآخرة (¬1) » . وكان يعلم أصحابه إذا زاروا القبور أن يقولوا: «السلام عليكم أهل الديار من المؤمنين والمسلمين، وإنا إن شاء الله بكم لاحقون، نسأل الله لنا ولكم العافية، يرحم الله المستقدمين منا والمستأخرين (¬2) » .
فعلم أصحابه أن يدعوا للأموات، ويستغفروا لهم، ويترحموا عليهم، لا أن يدعوهم مع الله، ولا أن يستغاث بهم، ولا أن يطلب منهم المدد، فإنهم عاجزون عن ذلك، هذا بيد الله سبحانه وتعالى؛ هم في حاجة إلى الدعاء لهم، في حاجة إلى أن يدعو لهم أخوهم المسلم، وأن يستغفر لهم. كان يزور البقيع عليه الصلاة والسلام، ويقول: «السلام عليكم أهل الديار من القوم المؤمنين، غدا مؤجلون وأتاكم ما توعدون، وإنا إن شاء الله بكم لاحقون، اللهم اغفر لأهل بقيع الغرقد (¬3) » يدعو لهم عليه الصلاة والسلام، هذا هو الواجب،
¬__________
(¬1) أخرجه ابن ماجه في كتاب ما جاء في الجنائز، باب ما جاء في زيارة القبور، برقم 1569.
(¬2) أخرجه مسلم في كتاب الجنائز، باب ما يقال في دخول القبور، برقم 974.
(¬3) أخرجه مسلم في كتاب الجنائز، باب ما يقال عند دخول القبور والدعاء لأهلها، برقم 974.
এবং রহমত। তাদের কবরসমূহ স্মরণ করার জন্য যিয়ারত করা হয়; আখেরাতকে স্মরণ করার জন্য, মৃত্যুকে স্মরণ করার জন্য এবং তাদের জন্য দু'আ করার জন্য: 'হে আল্লাহ, আপনি তাদের ক্ষমা করুন এবং হে আল্লাহ, আপনি তাদের প্রতি রহম করুন।'

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করতেন এবং তাদের জন্য ক্ষমা ও রহমতের দু'আ করতেন। তিনি বলতেন: «তোমরা কবর যিয়ারত করো, কারণ তা তোমাদেরকে আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় (¬1) »।

তিনি তাঁর সাহাবীগণকে শিক্ষা দিতেন যে, যখন তারা কবর যিয়ারত করবে, তখন যেন তারা বলে: «আসসালামু আলাইকুম আহলাদ দিয়ারি মিনাল মু'মিনিনা ওয়াল মুসলিমীন, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন, নাসআলুল্লাহু লানা ওয়া লাকুমুল আফিয়াহ, ইয়ারহামুল্লাহুল মুস্তাকদিমীনা মিন্না ওয়াল মুসতা'খিরীন (¬2) »। [অর্থ: "হে মুমিন ও মুসলিম অধিবাসীগণ, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের ও তোমাদের জন্য সুস্থতা (বা নিরাপত্তা) প্রার্থনা করি। আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের প্রতি রহম করুন।"]

সুতরাং তিনি তাঁর সাহাবীগণকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, তারা যেন মৃতদের জন্য দু'আ করে, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাদের প্রতি রহমতের দু'আ করে। আল্লাহ্‌র সাথে তাদের কাছে দু'আ করা যাবে না, তাদের কাছে সাহায্য (ইস্তিগাসা) চাওয়া যাবে না এবং তাদের কাছে কোনো প্রকার মদদ (সাহায্য) তলব করা যাবে না। কারণ তারা এ বিষয়ে অক্ষম। এটি একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার হাতে। তারা বরং তাদের জন্য দু'আর মুখাপেক্ষী, তাদের মুসলিম ভাইয়ের দু'আ ও ক্ষমা প্রার্থনার মুখাপেক্ষী।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী' কবরস্থান যিয়ারত করতেন এবং বলতেন: «আসসালামু আলাইকুম আহলাদ দিয়ারি মিনাল ক্বাওমিল মু'মিনীন, গাদান মুআজ্জালুন ওয়া আতা-কুম মা তু'আদুন, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন, আল্লাহুম্মাগফির লি আহলি বাকী'ইল গারক্বাদ (¬3) »। [অর্থ: "হে মুমিন সম্প্রদায়ের অধিবাসীগণ, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তোমরা আগামীকাল পর্যন্ত স্থগিত, আর তোমাদের কাছে তা এসে গেছে যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল। আর ইনশাআল্লাহ আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হবো। হে আল্লাহ, বাকী' আল-গারক্বাদের অধিবাসীদের ক্ষমা করুন।"] তিনি তাদের জন্য দু'আ করতেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটিই হলো ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)।

¬__________
(¬1) ইবনে মাজাহ, কিতাবুল জানাইয, বাব: মা জাআ ফি যিয়ারাতিল কুবুর, হাদিস নং ১৫৬৯।
(¬2) মুসলিম, কিতাবুল জানাইয, বাব: মা ইউকালু ফি দুখুলিল কুবুর, হাদিস নং ৯৭৪।
(¬3) মুসলিম, কিতাবুল জানাইয, বাব: মা ইউকালু ইনদা দুখুলিল কুবুর ওয়াদ-দুআ লি আহলিহা, হাদিস নং ৯৭৪।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذا هو المشروع في زيارة الموتى؛ الدعاء لهم، والترحم عليهم، والاستغفار لهم. أما أن يطلب منهم المدد، ويقول: المدد المدد يا فلان. فإن هذا من الشرك الأكبر، أو: يا سيدي، اشف مريضي، يا سيدي البدوي يا سيدي الحسين. أو: يا فلان، أو يا فلانة. أو: اشف لنا مرضانا. أو: المدد المدد. أو: انصرنا. أو ما أشبهه، فهذا لا يجوز، بل هذا من أنواع الشرك الأكبر، وهكذا إذا فعلها مع الأصنام أو مع الأشجار أو مع الجن، كله شرك بالله سبحانه وتعالى، أما الحي فلا بأس أن يطلب منه ما يقدر عليه من الأمور العادية، الحي الحاضر، القادر، تقول: يا أخي، ساعدني على كذا، أقرضني كذا، امنعني من خادمك؛ لأنه آذاني، أو ولدك، أو زوجتك، انههم عني، لا تؤذني بكذا. حتى يمنعه من الأذى، الشيء المعتاد لا بأس به بين الناس، وليس من الشرك، إنما الشرك طلب الأموات، والاستغاثة بالأموات أو بالغائبين، يعتقد أن فيهم سرا وأنهم يسمعونه من بعيد، يدعوهم يطلبهم المدد، هذا هو الشرك الأكبر، أما حي حاضر قادر تخاطبه في أمور يقدر عليها، أو تكتب إليه، أو بالهاتف بالتليفون، تقول: أقرضني كذا. أو ساعدني في مزرعتي في كذا. أو: بعني كذا. أو: ماذا ترى في كذا. تشاوره في كذا، هذه أمور عادية بين المسلمين وغير المسلمين، بين الأحياء سواء كان من طريق المشافهة، أو من طريق المكاتبة، أو من طريق الهاتف - التليفون - أو البرقية، أو ما أشبه ذلك. هذه أمور عادية ليس فيها بأس، إنما المنكر والشرك أن تدعو الأموات، أو الأصنام أو
মৃতদের কবর যিয়ারতের ক্ষেত্রে শরীয়তসম্মত পদ্ধতি হলো তাদের জন্য দু'আ করা, তাদের প্রতি রহমত কামনা করা এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।

পক্ষান্তরে, তাদের কাছে সাহায্য (مدد) চাওয়া এবং বলা যে, "হে অমুক, مدد! مدد!" – এটি শিরকে আকবর (বড় শিরক)। অথবা, "হে আমার সাইয়্যিদ, আমার রোগীকে সুস্থ করে দিন!" হে সাইয়্যিদ আল-বাদাভী! হে সাইয়্যিদ আল-হুসাইন! অথবা, "হে অমুক (পুরুষ), হে অমুক (নারী)!" অথবা, "আমাদের রোগীদের সুস্থ করে দিন!" অথবা, "مدد! مدد!" অথবা, "আমাদের সাহায্য করুন!" অথবা এ জাতীয় অন্য কিছু বলা জায়েজ নয়। বরং এটি শিরকে আকবরের প্রকারভেদসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে, যদি কেউ মূর্তি, গাছপালা বা জিনের সাথে এমন আচরণ করে, তবে এর সবই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সাথে শিরক।

পক্ষান্তরে, জীবিত ব্যক্তির কাছে সাধারণ বিষয়াদি যা সে করতে সক্ষম, তা চাওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। জীবিত, উপস্থিত, সক্ষম ব্যক্তি। আপনি বলতে পারেন: "হে আমার ভাই, আমাকে অমুক কাজে সাহায্য করুন।" "আমাকে অমুক জিনিস ধার দিন।" "আপনার খাদেমকে আমার থেকে বিরত রাখুন, কারণ সে আমাকে কষ্ট দিয়েছে।" অথবা আপনার সন্তানকে, অথবা আপনার স্ত্রীকে (বিরত রাখুন)। "তাদেরকে আমার থেকে নিষেধ করুন।" "অমুক বিষয় দিয়ে আমাকে কষ্ট দেবেন না।" – যাতে সে তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত রাখে। মানুষের মধ্যে প্রচলিত এই সাধারণ বিষয়গুলো জায়েজ এবং এটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত নয়।

শিরক হলো মৃতদের কাছে কিছু চাওয়া, এবং মৃতদের বা অনুপস্থিতদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা – এই বিশ্বাসে যে তাদের মধ্যে কোনো গোপন শক্তি আছে এবং তারা দূর থেকে শুনতে পায়। সে তাদের ডাকে, তাদের কাছে সাহায্য চায় – এটিই হলো শিরকে আকবর।

পক্ষান্তরে, একজন জীবিত, উপস্থিত, সক্ষম ব্যক্তি, যার সাথে আপনি এমন বিষয়ে কথা বলেন যা সে করতে সক্ষম, অথবা তাকে চিঠি লেখেন, অথবা টেলিফোনে বলেন: "আমাকে অমুক জিনিস ধার দিন।" অথবা "আমার খামারের অমুক কাজে আমাকে সাহায্য করুন।" অথবা "আমাকে অমুক জিনিস বিক্রি করুন।" অথবা "অমুক বিষয়ে আপনার কী মত?" – আপনি তাকে অমুক বিষয়ে পরামর্শ দেন। এগুলো মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে জীবিতদের মধ্যে প্রচলিত সাধারণ বিষয়। মৌখিকভাবে হোক, লিখিতভাবে হোক, টেলিফোন বা তারবার্তার মাধ্যমে হোক, অথবা এ জাতীয় অন্য কোনো উপায়ে হোক। এগুলো সাধারণ বিষয়, এতে কোনো অসুবিধা নেই।

তবে গর্হিত (মুনকার) ও শিরক হলো মৃতদেরকে ডাকা, অথবা মূর্তি বা...
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২৪)
الأحجار أو الأشجار، تدعوهم تسألهم الشفاعة، تسألهم الغوث، المدد، أو الغائبون عنك الذين لا يسمعونك، تعتقد فيهم أنهم يسمعونك، وأن لهم سرا، أو تدعو الجن، أو ما أشبه ذلك، هذا هو المنكر، هذا هو الشرك الذي أنكرته الرسل عليهم الصلاة والسلام، وأنكره نبينا عليه الصلاة والسلام، وبعث الله الرسل بإنكاره والتحذير منه، نسأل الله أن يوفق المسلمين لكل خير، وأن يبصر المسلمين بما فيه رضاه، وأن يهدي جميع المسلمين للفقه في الدين.
***
পাথর বা গাছপালা (কে), তুমি তাদের কাছে দু'আ করো, তাদের কাছে শাফাআত চাও, তাদের কাছে সাহায্য ও মদদ প্রার্থনা করো। অথবা তোমার থেকে অনুপস্থিতরা, যারা তোমাকে শুনতে পায় না, তুমি তাদের সম্পর্কে বিশ্বাস করো যে তারা তোমাকে শুনতে পায় এবং তাদের কোনো গোপন ক্ষমতা বা রহস্য আছে। অথবা জিনদের ডাকো, অথবা এ জাতীয় অন্য কিছু। এটাই হলো গর্হিত কাজ (মুনকার), এটাই সেই শিরক যা রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রত্যাখ্যান করেছেন। এবং আমাদের নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-ও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এর বিরোধিতা করতে এবং তা থেকে সতর্ক করতে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন মুসলিমদেরকে সকল কল্যাণের তাওফীক দেন। এবং মুসলিমদেরকে যেন তিনি এমন বিষয়গুলো দেখিয়ে দেন যাতে তাঁর সন্তুষ্টি রয়েছে। আর তিনি যেন সকল মুসলিমকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জনের জন্য হেদায়েত করেন।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২৪)
5 - حكم إطلاق كلمة العقيدة
س: السائل يقول: بأن اسم العقيدة ليس صحيحا وليس له أصل وإنما الصحيح أن يقول الإنسان: اسم الإيمان بدل العقيدة فهل هذا صحيح؛ (¬1) .
ج: ليس بصحيح، بل درج العلماء على أنهم يسمون ما يتعلق بالقلوب: عقيدة. وما يتعلق بالتوحيد والصفات: عقيدة؛ يعتقدها في قلبه: يعني: يعقد عليها قلبه، يعتقد عليها قلبه. فلا بأس بالتسمية، ولا حرج فيها؛ أن يقال: عقيدة فلان عقيدة أهل السنة والجماعة. وهو ما يعتقدونه ويؤمنون به، وهو يسمى عقيدة؛ لأنهم يعتقدونه ويجزمون
¬__________
(¬1) السؤال الثالث عشر، من الشريط رقم (374) .
**৫ - 'আক্বীদাহ' শব্দ ব্যবহারের বিধান**

**প্র:** প্রশ্নকারী বলছেন যে, 'আক্বীদাহ' নামটি সঠিক নয় এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। বরং সঠিক হলো, মানুষ 'আক্বীদাহ'-এর পরিবর্তে 'ঈমান' নামটি ব্যবহার করবে। এটা কি সঠিক? (¬1)

**উ:** এটা সঠিক নয়। বরং উলামায়ে কিরামের মধ্যে এই রীতি প্রচলিত যে, তাঁরা অন্তর-সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে 'আক্বীদাহ' বলে অভিহিত করেন। আর তাওহীদ ও সিফাত-সম্পর্কিত বিষয়গুলোকেও 'আক্বীদাহ' বলা হয়; যা সে তার অন্তরে বিশ্বাস করে: অর্থাৎ, তার অন্তরকে এর উপর দৃঢ় করে, তার অন্তরকে এর উপর দৃঢ়ভাবে স্থাপন করে। সুতরাং এই নামকরণ করতে কোনো অসুবিধা নেই এবং এতে কোনো সমস্যাও নেই; যেমন বলা হয়: অমুকের আক্বীদাহ হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আক্বীদাহ। আর এটাই হলো যা তারা বিশ্বাস করে এবং এর উপর ঈমান আনে। আর একে 'আক্বীদাহ' বলা হয়; কারণ তারা এটাকে বিশ্বাস করে এবং দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হয়।

---
(¬1) টেপ নং (৩৭৪)-এর ত্রয়োদশ প্রশ্ন।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২৫)
به، ويقولون به فلهذا سمي عقيدة من عقد القلب عليه وإيمانه به.
যে বিষয়ে তারা (দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে) এবং তা মুখেও বলে থাকে, এ কারণেই তাকে 'আক্বীদাহ' বলা হয়। কারণ অন্তর এর উপর দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হয় এবং এর প্রতি ঈমান আনে।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২৫)
6 - بيان كيفية تصحيح المرء عقيدته
س: يقول السائل: كيف يصحح المسلم العقيدة الإسلامية، وكيف يحافظ عليها؟ (¬1) .
ج: يتفقه في الدين، ويتبصر ويتعلم؛ حتى يعلم العقيدة، ويحافظ عليها، يسأل أهل العلم، وإن كان طالب علم يتأمل القرآن والسنة، حتى يعرف العقيدة الصحيحة التي دل عليها القرآن ويتمسك بها، ويستقيم عليها، وإذا كان عنده إشكال يسأل أهل العلم الذين يثق فيهم ويطمئن إليهم عما أشكل عليه؛ حتى يكون على بصيرة.
***
¬__________
(¬1) السؤال السابع والعشرون من الشريط رقم (432) .
৬ - ব্যক্তির আকীদা সংশোধনের পদ্ধতি বর্ণনা

প্রশ্নকারী বলেন: একজন মুসলিম কীভাবে ইসলামী আকীদা সঠিক করবে এবং কীভাবে তা সংরক্ষণ করবে? (১)

উত্তর: সে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করবে, অন্তর্দৃষ্টি লাভ করবে এবং শিখবে; যাতে সে আকীদা জানতে পারে এবং তা সংরক্ষণ করতে পারে। সে জ্ঞানীদেরকে (আহলুল ইলম) জিজ্ঞাসা করবে। আর যদি সে ইলমের ছাত্র হয়, তাহলে কুরআন ও সুন্নাহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, যাতে সে সঠিক আকীদা জানতে পারে যা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত এবং তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করে ও তার উপর অবিচল থাকে। আর যদি তার কোনো সমস্যা বা সংশয় থাকে, তাহলে সে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা করবে যাদের উপর সে আস্থা রাখে এবং যাদের প্রতি সে নিশ্চিন্ত থাকে, তার যে বিষয়ে সংশয় হয়েছে সে সম্পর্কে; যাতে সে সুস্পষ্ট জ্ঞানের উপর থাকে।
***
(১) ক্যাসেট নং (৪৩২) থেকে সাতাশতম প্রশ্ন।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২৫)
7 - أصح كتب العقيدة
س: أرشدني - وفقكم الله - عن أصح كتاب في العقيدة الإسلامية الصحيحة؟ (¬1) .
ج: أصح كتاب وأشرف كتاب وأعظم كتاب في العقيدة وفي غيرها هو كتاب الله القرآن، هذا أعظم كتاب وأشرف كتاب، وأصدق
¬__________
(¬1) السؤال الخامس من الشريط رقم (125) .
**৭ - আকিদার বিশুদ্ধতম গ্রন্থ**

**প্র:** আমাকে পথনির্দেশ করুন – আল্লাহ আপনাদেরকে তাওফীক দিন – সঠিক ইসলামী আকিদার উপর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ কোনটি? (১)

**উ:** আকিদার ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ, সবচেয়ে সম্মানিত গ্রন্থ এবং সবচেয়ে মহান গ্রন্থ হলো আল্লাহর কিতাব আল-কুরআন। এটিই সবচেয়ে মহান গ্রন্থ, সবচেয়ে সম্মানিত গ্রন্থ এবং সবচেয়ে সত্যবাদী...

---
(১) ক্যাসেট নং (১২৫) থেকে গৃহীত পঞ্চম প্রশ্ন।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২৬)
كتاب؛ وهو كتاب الله؛ الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد. فالوصية لك أيها السائل، ولكل مسلم ولكل مسلمة التمسك بكتاب الله، والعناية بكتاب الله، والإكثار من تلاوته، وتدبر معانيه، والحرص على حفظ ما تيسر منه، فهو الكتاب العظيم المنزل الذي نزله الله على عباده؛ ليحفظوه ويستقيموا عليه ويعملوا به، وفيه الحق الواضح والهدى المستبين؛ كما قال عز وجل: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} (¬1) ، وقال سبحانه: {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ} (¬2) {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} (¬3) وقال سبحانه: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} (¬4) .
فالوصية: العناية بهذا الكتاب العظيم، والإكثار من تلاوته، وتدبر معانيه، والمذاكرة فيه مع زملائك ومع إخوانك، ومراجعة كتب التفسير المأمونة؛ مثل: كتاب أضواء البيان، وتفسير البغوي، وتفسير ابن كثير رحمة الله عليهم، وأشباههم من أئمة الهدى؛ لأنهم أوضحوا معاني الآيات، وأوردوا ما جاء فيها من الأحاديث عن رسول الله عليه الصلاة والسلام. فعليك يا أخي أن تقبل على كتاب الله، وأن تعتني بكتاب الله، ثم سنة الرسول - صلى الله عليه وسلم - ففيها الهدى والنور أيضا: صحيح البخاري، صحيح مسلم، وبقية الكتب الستة، وهكذا كتب أخرى،
¬__________
(¬1) سورة الإسراء الآية 9
(¬2) سورة فصلت الآية 41
(¬3) سورة فصلت الآية 42
(¬4) سورة النحل الآية 89
কিতাব; আর তা হলো আল্লাহর কিতাব; যার কাছে মিথ্যা সামনে থেকেও আসতে পারে না, পেছন থেকেও না। এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। সুতরাং হে প্রশ্নকারী, আপনার জন্য এবং প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও নারীর জন্য আমার উপদেশ হলো, আল্লাহর কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, আল্লাহর কিতাবের প্রতি যত্নশীল হওয়া, এর তিলাওয়াত বেশি বেশি করা, এর অর্থ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা এবং এর যতটুকু সহজ হয় তা মুখস্থ করার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া। কারণ এটিই সেই মহান অবতীর্ণ কিতাব, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর নাযিল করেছেন, যেন তারা তা সংরক্ষণ করে, এর উপর অবিচল থাকে এবং তদনুযায়ী আমল করে। আর এতে রয়েছে সুস্পষ্ট সত্য ও প্রকাশ্য হেদায়েত। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

**{إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ}**
"নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের দিকে পরিচালিত করে যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।" (সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৯)

আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন:

**{وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ} {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ}**
"আর নিশ্চয় এটি এক মহা সম্মানিত কিতাব। মিথ্যা এর কাছে সামনে থেকেও আসতে পারে না, পেছন থেকেও না। এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৪১-৪২)

এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেছেন:

**{وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ}**
"আর আমরা আপনার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ এবং হেদায়েত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।" (সূরা আন-নাহল, আয়াত ৮৯)

সুতরাং উপদেশ হলো: এই মহান কিতাবের প্রতি যত্নশীল হওয়া, এর তিলাওয়াত বেশি বেশি করা, এর অর্থ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা এবং আপনার সহকর্মী ও ভাইদের সাথে এটি নিয়ে আলোচনা করা। আর নির্ভরযোগ্য তাফসীরের কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করা; যেমন: 'আদওয়াউল বায়ান', 'তাফসীরুল বাগাবী' এবং 'তাফসীর ইবনে কাসীর' (আল্লাহ তাঁদের সকলের উপর রহমত বর্ষণ করুন) এবং তাঁদের মতো অন্যান্য হেদায়েতের ইমামগণের কিতাবসমূহ। কারণ তাঁরা আয়াতসমূহের অর্থ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে আগত হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছেন।

সুতরাং হে আমার ভাই, আপনার কর্তব্য হলো আল্লাহর কিতাবের দিকে মনোনিবেশ করা এবং আল্লাহর কিতাবের প্রতি যত্নশীল হওয়া। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর প্রতিও (মনোনিবেশ করা), কারণ তাতেও রয়েছে হেদায়েত ও নূর। যেমন: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম এবং অবশিষ্ট সিহাহ সিত্তাহর কিতাবসমূহ, অনুরূপভাবে অন্যান্য কিতাবও।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২৭)
التي فيها بيان للحق: كموطأ مالك رحمه الله، وسنن الدارمي رحمه الله، وصحيح ابن خزيمة، وصحيح ابن حبان، والحاكم، وغيرها من الكتب التي فيها الخير الكثير. وإذا كنت من أهل العلم بالحديث، أمكنك أن تميز بين الصحيح والسقيم من الأحاديث التي في الكتب المذكورة، ما عدا الصحيحين فإنهما قد تلقتهما الأمة بالقبول، وأجمعت على ذلك، فعليك أن تسير على نهج الأخيار من أئمة الحديث وأئمة السنة، فالصحيحان كل أحاديثهما معتمدة، وهي محل اعتماد أهل السنة والجماعة، وقد تلقتهما الأمة بالقبول، فعض عليهما بالنواجذ، وتمسك بهما مع كتاب الله سبحانه، وهكذا بقية الكتب الستة، وما ذكرنا من الكتب، عليك بها والاستقامة على ما فيها، وما وجد فيها من ضعيف فقد بينه أهل العلم، وأوضحوا أسباب ضعفه.
أما الكتب المؤلفة في العقائد فهي كثيرة؛ من أحسنها كتاب التوحيد لابن خزيمة، وكتاب السنة لعبد الله بن أحمد بن حنبل، ومنهاج السنة لشيخ الإسلام ابن تيمية، للرد على المعتزلة وأهل البدع، وكتاب زاد المعاد لابن القيم، فيه خير كثير من جهة العقيدة والأحكام، واجتماع الجيوش الإسلامية لابن القيم، للرد على أهل البدع، الصواعق المرسلة لابن القيم، للرد على أهل البدع، والعقيدة الواسطية لشيخ الإسلام ابن تيمية؛ كتاب مختصر عظيم مفيد على طريقة أهل السنة والجماعة، أوصي بحفظه، وأن يحفظه طالب العلم؛ لما فيه من الخير العظيم، ولما فيه من بيان عظيم عن مذهب أهل السنة والجماعة، وله أيضا كتاب الرسالة الحموية؛ أجاب فيه على أهل حماة
যা হক্বের বর্ণনা দেয়, যেমন ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ-এর 'মুওয়াত্তা', ইমাম দারিমী রহিমাহুল্লাহ-এর 'সুনান', ইবনু খুযাইমাহ-এর 'সহীহ', ইবনু হিব্বান-এর 'সহীহ', হাকিম (এর মুস্তাদরাক) এবং অন্যান্য বহু কল্যাণকর গ্রন্থ। আর যদি আপনি হাদীস শাস্ত্রে পারদর্শী হন, তাহলে আপনি উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের হাদীসগুলোর মধ্যে সহীহ ও দুর্বলকে পার্থক্য করতে পারবেন। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) ব্যতীত, কারণ উম্মাহ সে দুটিকে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে এবং এর উপর ইজমা' (ঐকমত্য) করেছে। সুতরাং আপনার উচিত হাদীসের ইমামগণ এবং সুন্নাহর ইমামগণের সৎপথ অনুসরণ করা। কারণ সহীহাইন-এর সকল হাদীসই নির্ভরযোগ্য এবং সেগুলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নির্ভরতার স্থল। আর উম্মাহ সে দুটিকে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। সুতরাং সে দুটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কিতাবের সাথে সে দুটিকে মজবুতভাবে ধারণ করুন। আর এভাবেই অন্যান্য কুতুবুস সিত্তাহ (ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ) এবং আমরা যে সকল গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছি, আপনার উচিত সেগুলোকে গ্রহণ করা এবং সেগুলোর উপর অবিচল থাকা। আর সেগুলোতে যা কিছু দুর্বল পাওয়া যায়, তা আহলুল ইলম (আলেমগণ) স্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং তার দুর্বলতার কারণসমূহও ব্যাখ্যা করেছেন।

আর আক্বীদা বিষয়ক রচিত গ্রন্থাবলী অনেক। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো ইবনু খুযাইমাহ-এর 'কিতাবুত তাওহীদ' এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনু হাম্বল-এর 'কিতাবুস সুন্নাহ'। এবং শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ-এর 'মিনহাজুস সুন্নাহ', যা মু'তাযিলা এবং বিদআতী সম্প্রদায়ের খণ্ডনে রচিত। আর ইবনুল কাইয়্যিম-এর 'যাদুল মা'আদ', এতে আক্বীদা ও আহকাম (বিধানাবলী) উভয় দিক থেকে প্রচুর কল্যাণ রয়েছে। এবং ইবনুল কাইয়্যিম-এর 'ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ', যা বিদআতী সম্প্রদায়ের খণ্ডনে রচিত। ইবনুল কাইয়্যিম-এর 'আস-সাওয়াইকুল মুরসালাহ', যা বিদআতী সম্প্রদায়ের খণ্ডনে রচিত। এবং শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ-এর 'আল-আক্বীদাতুল ওয়াসিত্বিয়্যাহ'; এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পদ্ধতি অনুসারে একটি সংক্ষিপ্ত, মহান ও উপকারী গ্রন্থ। আমি এটি মুখস্থ করার উপদেশ দিই এবং ইলমের ছাত্রদের উচিত এটি মুখস্থ করা; কারণ এতে রয়েছে মহৎ কল্যাণ এবং এতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব সম্পর্কে মহান বর্ণনা রয়েছে। তাঁর (ইবনু তাইমিয়্যাহ-এর) আরও একটি গ্রন্থ হলো 'আর-রিসালাতুল হামাওয়িয়্যাহ'; এতে তিনি হামা শহরের অধিবাসীদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব লি ইবনে বায - বি-ইনায়াতিশ শুওয়াইর (পৃষ্ঠা: ২৮)
في أسئلتهم فيما يتعلق بالصفات والأسماء والعقيدة، وهو أيضا جواب عظيم ومفيد، وهكذا له رسالة أخرى سماها: التدمرية؛ عندما جاء أهل تدمر، وهي رسالة عظيمة أيضا في بيان العقيدة الصحيحة، وهكذا عقيدة الطحاوي رحمه الله، ولها شرح عظيم للإمام العز، شرح جيد، وهي جيدة في نفسها، مفيدة سوى كلمات يسيرة نبه عليها الشارح، وهي عقيدة مهمة ولها شرح عظيم مفيد، وهكذا كتاب التوحيد، لشيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمة الله عليه، كتاب طيب مهم، والثلاثة الأصول له رحمه الله؛ إجابة مختصرة، وهكذا كشف الشبهات له أيضا، رسالة مختصرة مفيدة في العقيدة، وهكذا فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، لحفيده الشيخ عبد الرحمن بن حسن بن الشيخ محمد بن عبد الوهاب، وهو كتاب مفيد وعظيم، وهكذا شرح هذا الكتاب ومؤلفه الشيخ سليمان بن عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب فسماه: تيسير العزيز الحميد لشرح كتاب التوحيد، وهو كتاب مفيد عظيم.
فهذه الكتب وأشباهها من الكتب الطيبة المؤلفة في العقيدة، وهي مفيدة وننصح بمراجعتها، والاستفادة منها، لكن أعود وأبين أن أعظم كتاب، وأشرف كتاب، وأصدق كتاب؛ هو كتاب الله سبحانه وتعالى؛ فيه الكفاية العظيمة لمن استشفى به ولمن استند عليه. كان السلف الصالح ليس عندهم هذه الكتب الجديدة، وإنما عندهم كتاب الله، وعندهم سنة الرسول - صلى الله عليه وسلم -، وكفتهم والحمد لله؛ عند الصحابة والتابعين القرآن العظيم وأحاديث النبي - صلى الله عليه وسلم -، ففيهما الكفاية والهدى، ولكن لا مانع من الاستعانة بكتب أهل العلم، المعروفين بالخير مثل ما تقدم،
তাদের প্রশ্নসমূহের মধ্যে যা আল্লাহর সিফাত (গুণাবলী), আসমা (নামসমূহ) এবং আকীদা (বিশ্বাস) সম্পর্কিত ছিল, (সেগুলোর উত্তরে) এটিও একটি মহান ও উপকারী জবাব। অনুরূপভাবে তাঁর আরেকটি রিসালা (পুস্তিকা) রয়েছে, যার নাম দিয়েছেন: আত-তাদমুরিয়্যাহ; যখন তাদমুরের অধিবাসীরা এসেছিল। এটিও সহীহ আকীদা বর্ণনায় একটি মহান রিসালা।

অনুরূপভাবে ইমাম ত্বাহাবী রহিমাহুল্লাহ-এর 'আকীদা ত্বাহাবিয়্যাহ'। এর উপর ইমাম আল-ইযয-এর একটি মহান ব্যাখ্যা (শারহ) রয়েছে, একটি উত্তম ব্যাখ্যা। এটি নিজেই উত্তম ও উপকারী, তবে কিছু সামান্য শব্দ ব্যতীত যা ব্যাখ্যাকারী (শারীহ) সতর্ক করেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আকীদা এবং এর একটি মহান ও উপকারী ব্যাখ্যা রয়েছে।

অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব রহিমাহুল্লাহ-এর 'কিতাবুত তাওহীদ', একটি চমৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এবং তাঁরই রহিমাহুল্লাহ-এর 'আল-উসুলুস সালাসাহ' (তিনটি মূলনীতি); একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর। অনুরূপভাবে তাঁরই 'কাশফুশ শুবুহাত'ও; আকীদা বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত ও উপকারী রিসালা।

অনুরূপভাবে 'ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ', যা তাঁরই (শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের) নাতি শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান ইবনে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের রচনা। এটি একটি উপকারী ও মহান গ্রন্থ। অনুরূপভাবে এই কিতাবের (কিতাবুত তাওহীদ) আরেকটি ব্যাখ্যা, যার রচয়িতা শাইখ সুলাইমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব, তিনি এর নাম দিয়েছেন: 'তাইসীরুল আযীযিল হামীদ লি শারহি কিতাবিত তাওহীদ'। এটিও একটি উপকারী ও মহান গ্রন্থ।

সুতরাং এই কিতাবসমূহ এবং এগুলোর অনুরূপ আকীদা বিষয়ক রচিত অন্যান্য উত্তম গ্রন্থসমূহ উপকারী এবং আমরা এগুলো পর্যালোচনা করতে ও এ থেকে উপকৃত হতে উপদেশ দিই।

তবে আমি আবারও বলছি এবং স্পষ্ট করছি যে, সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব, সর্বসম্মানিত কিতাব এবং সর্বাপেক্ষা সত্য কিতাব হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কিতাব; যে এর দ্বারা আরোগ্য চায় এবং যে এর উপর নির্ভর করে, তার জন্য এতে রয়েছে মহান পর্যাপ্ততা। সালাফে সালেহীনদের (নেক পূর্বসূরিদের) কাছে এই নতুন কিতাবগুলো ছিল না, বরং তাদের কাছে ছিল আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ, আর তা-ই তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল, আলহামদুলিল্লাহ। সাহাবা ও তাবেঈনদের কাছে ছিল মহান কুরআন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহ, আর এ দু'টিতেই রয়েছে পর্যাপ্ততা ও হেদায়েত। তবে পূর্বোক্তদের মতো কল্যাণ ও সততার জন্য সুপরিচিত আহলে ইলমদের (জ্ঞানীদের) কিতাবসমূহের সাহায্য নিতে কোনো বাধা নেই।