(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإشارة إلى علم العبارة   (أبو عبد الله السالمي)

القسم: علوم أخرى


الكتاب: الإشارة إلى علم العبارة (مخطوط)

المؤلف: محمد بن أحمد بن عمر، أبو عبد الله السَّالِمي (ت 800هـ)

الناشر: صورة مخطوطة - مكتبة الجامعة الأردنية

عدد الأجزاء: 1

[الكتاب مخطوط]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইশারা ইলা ইলমিল ইবারাহ (স্বপ্ন ব্যাখ্যা শাস্ত্রের ইঙ্গিত)   (আবু আব্দুল্লাহ আস-সালিমী)

বিভাগ: অন্যান্য শাস্ত্রসমূহ


গ্রন্থ: আল-ইশারা ইলা ইলমিল ইবারাহ (পাণ্ডুলিপি)

লেখক: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উমর، আবু আব্দুল্লাহ আস-সালিমী (মৃত্যু ৮০০ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপির চিত্র - জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الْحَمد لله خَالق الْأَرْوَاح وخالق الإصباح وجاعل اللَّيْل سباتا وَالنَّاس أشتاتا الَّذِي خلق من المَاء كل شئ وَكتب فِي الألواح من كل شئوجعل فِي السَّمَاء سِرَاجًا وهاجا وَأنزل من المعصرات مَاء ثجاجا وَبث فِي الأَرْض نورا ظلاماً وَبعث فِي الْخلق وسلاً كراماً وَخص بِأَفْضَل الْأُمَم أشرف الْعَرَب والعجم مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فأشرق نور االإيمان بعد طموسه وتجدد ربع التَّوْحِيد بعد دروسه وعادت بِهِ طرق الْحق عَامر ومواسم الْبَاطِل داثرة وأعلام الدّين رَافِعَة وأعناق الْكفْر خاضعة فبشر وأنذر وَنهى وَأمر وقهر من تجبر وَغلب من أدبر واستكبر حَتَّى قَبضه الله إِلَيْهِ إِلَى أكْرم مَا لَدَيْهِ فصلوات الله وَسَلَامه عَلَيْهِ مَا أمطر غمام وغرد حمام وَثَبت نزيل وشال وَبعد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রুহসমূহের সৃষ্টিকর্তা এবং ঊষার উন্মেষকারী; যিনি রাতকে বিশ্রামের আধার এবং মানুষকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছেন; যিনি পানি থেকে প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছেন এবং লওহসমূহে (ফলকসমূহে) সবকিছুর বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন; যিনি আসমানে উজ্জ্বল প্রদীপ স্থাপন করেছেন এবং মেঘমালা থেকে প্রচুর বারিধারা বর্ষণ করেছেন; যিনি পৃথিবীতে আলো ও অন্ধকার ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং সৃষ্টির নিকট সম্মানিত রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন; এবং শ্রেষ্ঠ উম্মতের জন্য আরব ও অনারবদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশেষভাবে মনোনীত করেছেন। ফলে ঈমানের আলো তা মিটে যাওয়ার পর পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে এবং তাওহীদের চত্বর তা বিলীন হওয়ার পর পুনরায় নবজীবন লাভ করেছে। তাঁর মাধ্যমে হকের পথসমূহ আবাদ হয়েছে, বাতিলের আসরসমূহ নিশ্চিহ্ন হয়েছে, দ্বীনের পতাকাসমূহ উন্নত হয়েছে এবং কুফরের গর্দানসমূহ অবনত হয়েছে। অতঃপর তিনি সুসংবাদ দিয়েছেন, সতর্ক করেছেন, নিষেধ করেছেন, আদেশ করেছেন এবং অহঙ্কারীকে পরাভূত করেছেন ও পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী দাম্ভিককে পরাজিত করেছেন; যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাঁকে নিজের সান্নিধ্যে থাকা সর্বোত্তম মর্যাদাপূর্ণ স্থানে গ্রহণ করেছেন। সুতরাং আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যতক্ষণ মেঘ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হবে, কবুতর কূজন করবে এবং যতক্ষণ কোনো আগন্তুক অবস্থান করবে ও প্রস্থান করবে। আর এরপর:
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২)
/ ب لما صَارَت عبارَة الرُّؤْيَا شريفة علاها منيفة دارها عَزِيزًا مَكَانا رفيعاً مِقْدَارًا وشأنها رَأَيْت أَن أؤلف كتابا مُخْتَصرا كَافِيا وملخصاً شافياً يجل مَحَله ويخف مَحَله فألفت هَذَا الْكتاب وسميته كتاب الْإِشَارَة إِلَى علم الْعبارَة واعتمدت فِي تأليفه على كتاب الإِمَام الْكرْمَانِي لقَوْله: رَأَيْت يُوسُف الصّديق فِي الْمَنَام فَأَعْطَانِي قَمِيصه فلبسته وَجَلَست فِيهِ ومشيت فِيهِ فسرت بَين الْخَافِقين وَلقَوْله مَا فِي كتابي شَيْء إِلَّا جربته مائَة مر فَمَا كَانَ أقل لم أَضَعهُ فِي كتابي وَلذكر أَنه أَخذ التَّأْوِيل من مصحف إِبْرَاهِيم وَمن كتب دانيال وَعَن سعيد ابْن الْمسيب وَعَن عَمْرو بن سِيرِين وَمن الجزاتيه فِي مَنَامه ويعلمه التَّأْوِيل ويرشده إِلَى الصَّوَاب وَكَثِيرًا مَا ألفت فِي كتاب ابْن سِيرِين وَكتاب عَليّ بن أبي طَالب وَكتاب جَعْفَر بن حسن الْكسَائي وَكتاب ابْن قُتَيْبَة مِمَّن شدّ من كتاب الْكرْمَانِي فالحقيقة فِي كتابي هَذَا ونقلت اللَّفْظ على حسب مَا وجدته لألاّ أخل بِمَعْنَاهُ فَإِن الْفضل للمتقدم وبوبت هَذَا الْكتاب على خمسين بَابا نذكرها فِي صَدره وَلم أجنح إِلَى إِعَادَتهَا وقدمت فضل ذكر الْعبارَة ومكانها من الْعلم ليتنبه الطَّالِب إِلَى مَعْرفَتهَا وَالْوُقُوف عَلَيْهَا وَذكر أُصُولهَا وفصولها وأزمنة خطأ الرُّؤْيَا بهَا وَنَحْو ذَلِك مِمَّا يتَعَلَّق من مَعَانِيهَا وإيمائها إِلَى مَا تقف وتطلع مِنْهُ إِن شَاءَ الله تَعَالَى

‌‌فصل الْعبارَة

قَالَ الله عز وجل {لَهُم الْبُشْرَى فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة} قَالَ بعض الْمُفَسّرين يَعْنِي الرُّؤْيَة الصَّالِحَة وَفِي الْآخِرَة: الْمعَانِي قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: (مَا مِنْكُم من أحد إِلَّا هُوَ يرى فِي مَنَامه مَا يرى فِي يقظته عرف مِنْكُم من عرفه أَو جهل مِنْكُم من جَهله وَإِن لم تخرج صَار لصَاحِبهَا تَسْمِيَة أَو نظرا وَنَظِيره أَو أحد من عشيرته وقبيلته …
যেহেতু স্বপ্নের ব্যাখ্যা একটি মর্যাদাপূর্ণ বিষয়, এর উচ্চতা সুউচ্চ, এর স্থান সম্মানিত এবং এর মর্যাদা ও গুরুত্ব সুমহান; তাই আমি একটি সংক্ষিপ্ত ও পর্যাপ্ত এবং একটি নিরাময়কারী সারসংক্ষেপ রচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার গুরুত্ব হবে মহান এবং যা বহন করা হবে সহজ। ফলে আমি এই কিতাবটি রচনা করেছি এবং এর নাম দিয়েছি 'কিতাবুল ইশারা ইলা ইলমিল ইবারাহ' (স্বপ্নের ব্যাখ্যা শাস্ত্রের ইঙ্গিত বিষয়ক গ্রন্থ)। এটি রচনার ক্ষেত্রে আমি ইমাম কিরমানির কিতাবের ওপর নির্ভর করেছি, কারণ তিনি বলেছেন: 'আমি স্বপ্নে ইউসুফ সিদ্দিককে দেখেছি, তিনি আমাকে তাঁর জামা দান করেছেন। অতঃপর আমি তা পরিধান করেছি, তাতে উপবেশন করেছি এবং তা পরিহিত অবস্থায় পথ চলেছি; ফলে আমি পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের মাঝে বিচরণ করেছি।' এবং তাঁর এই উক্তির কারণেও যে: 'আমার কিতাবে এমন কিছু নেই যা আমি একশবার পরীক্ষা করিনি; যা এর চেয়ে কম প্রমাণিত, তা আমি আমার কিতাবে স্থান দেইনি।' আর এটি উল্লেখ করার জন্য যে, তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন ইব্রাহিম (আ.)-এর সহীফা থেকে, দানিয়াল (আ.)-এর কিতাবসমূহ থেকে, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, আমর ইবনে সিরিন থেকে এবং তাঁর স্বপ্নে প্রাপ্ত ইলহাম থেকে, যা তাঁকে ব্যাখ্যা শিক্ষা দেয় এবং সঠিক পথের দিশা দেয়। আমি ইবনে সিরিন, আলী ইবনে আবি তালিব, জাফর ইবনে হাসান আল-কিসায়ী এবং ইবনে কুতাইবার কিতাব থেকেও অনেক কিছু সংকলন করেছি, যারা ইমাম কিরমানির কিতাবকে শক্তিশালী করেছেন। সুতরাং প্রকৃত সত্য আমার এই কিতাবটিতেই বিদ্যমান। আমি শব্দগুলোকে ঠিক সেভাবেই উদ্ধৃত করেছি যেভাবে আমি তা পেয়েছি, যাতে অর্থের কোনো ব্যাঘাত না ঘটে; কেননা সকল শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ববর্তীদের জন্যই। আমি এই কিতাবটিকে পঞ্চাশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি যা আমি এর শুরুতে উল্লেখ করব এবং আমি তা পুনরায় উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকব। আমি স্বপ্নের ব্যাখ্যার ফযিলত এবং ইলমের মধ্যে এর মর্যাদাকে প্রথমে উল্লেখ করেছি, যাতে শিক্ষার্থী এ সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং এর মূলনীতি, পরিচ্ছেদসমূহ এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যার ভুল হওয়ার সময়কাল ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হতে পারে যা এর অর্থের সাথে সম্পৃক্ত। আর তা সেই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে যা আপনি আল্লাহর ইচ্ছায় জানতে ও অবগত হতে পারবেন।

‌‌ব্যাখ্যা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে}। কিছু মুফাসসির বলেন, এর অর্থ হলো নেক স্বপ্ন। আর আখিরাতে এর অর্থ হলো এর তাৎপর্যসমূহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তার স্বপ্নে তা দেখে না যা সে জাগ্রত অবস্থায় দেখে। তোমাদের মধ্যে যারা তা চিনতে পেরেছে তারা চিনেছে, আর যারা এ বিষয়ে অজ্ঞ তারা অজ্ঞই রয়ে গেছে। যদি তা প্রকাশ না পায়, তবে তা স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য একটি নামকরণ, অথবা একটি নিদর্শন ও দৃষ্টান্ত, অথবা তার আত্মীয়-স্বজন ও গোত্রের কারো জন্য প্রযোজ্য হবে..."
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
/ ب … وَترى لَهُ) وَقَوله عليه السلام والرؤيا جُزْء من سِتَّة وَأَرْبَعين جزاً من النُّبُوَّة) ومبانيه إِن شَاءَ الله تَعَالَى ذَلِك وَقدره وأحببت أَن أشهد عَليّ النَّاظر فِيهِ الهجوم عَليّ معرفَة كل بَاب مِنْهُ وَيفهم كل مَسْأَلَة فِيهِ فأعلمت فَوق كل بَاب عَلامَة الورقة الَّتِي نظمته لِئَلَّا يتَعَذَّر عل أحد وجود مَا يلتمسه بحول الله وقوته وأسأله أَن يُعِيدنِي من الزلل وَالْخَطَأ إِنَّه خير مسؤل وَأكْرم مأمول وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل وَنعم الْهَادِي وَنعم الدَّلِيل تَرْجَمَة الْأَبْوَاب وَهِي سَبْعَة وَخَمْسُونَ بَابا:

‌‌الْبَاب الأول

: فِي أصُول الرُّؤْيَا وفصولها وَمَعْرِفَة صدقهَا من كذبهَا

‌‌الْبَاب الثَّانِي

: فِي وجود التَّعْبِير وَذكر الْأَدَب فِيهِ (مطموس)
/ ব ... এবং তুমি তার জন্য দেখবে) এবং তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী: "স্বপ্ন হলো নবুওয়তের ছিচল্লিশটি অংশের একটি অংশ") এবং এর মূলভিত্তিসমূহ, ইনশাআল্লাহ যদি আল্লাহ তাআলা তা ইচ্ছা করেন ও নির্ধারণ করেন। আমি চেয়েছি পাঠক যেন এর প্রতিটি অধ্যায় সম্পর্কে জ্ঞান লাভে অগ্রসর হতে পারেন এবং এর প্রতিটি মাসআলা বুঝতে পারেন। তাই আমি আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে প্রতিটি অধ্যায়ের উপরে সেই পৃষ্ঠার চিহ্ন দিয়ে দিয়েছি যা একে বিন্যস্ত করেছে, যাতে কেউ যা অনুসন্ধান করছে তা পেতে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে পদস্খলন ও ভুলভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বাধিক সম্মানিত আশার স্থল। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক, কতই না চমৎকার পথপ্রদর্শক এবং কতই না চমৎকার পরিচালক। অধ্যায়সমূহের সূচিপত্র, আর তা হলো সাতান্নটি অধ্যায়:

‌‌প্রথম অধ্যায়

: স্বপ্নের মূলনীতি ও এর শাখা-প্রশাখাসমূহ এবং এর সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ প্রসঙ্গে

‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়

: স্বপ্নের ব্যাখ্যার স্বরূপ এবং এ সংক্রান্ত শিষ্টাচারের বর্ণনা প্রসঙ্গে (অস্পষ্ট)
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
/ أ

‌‌الْبَاب الثَّالِث

: فِي رُؤْيَة الله تَعَالَى وَالْجنَّة وَالنَّار والمليكه والنبيين والصراط والحساب وَالْعرش والكراسي وَالْمِيزَان وَالسَّمَاء وَالْأَرْض وَيَوْم الْقِيَامَة

‌‌الْبَاب الرَّابِع

: فِي رُؤْيَة الشَّمْس، وَالْقَمَر والنجوم والسحاب والرعد والبرق والمطر والثلج وَالْبرد والجماد والرياح وَالْغُبَار والغمام وَمَا يشبهها

‌‌الْبَاب الْخَامِس

: فِي رُؤْيَة الْبحار والأودية والأنهار وَالْجنَّة والأورقه والبئر والسفينة

‌‌الْبَاب السَّادِس

: فِي النُّور الظلمَة وَالنَّار والشمع والجمرة والسراج مَا أشبهه

‌‌الْبَاب السَّابِع

: فِي رُؤْيَة الْجبَال والتلال والرمال (والمفاؤز) وَالتُّرَاب والأجو، والجيصى والحائط

‌‌الْبَاب الثَّامِن

: فِي رُؤْيَة الْبِلَاد والمدان والقلاع والحصون والمساجد والمنابر والمنارات والطرق

‌‌الْبَاب التَّاسِع

: فِي الدّور والبساتين والدرج والسطوح والغرف والميازيب والحوانيت، والحمامات والطواحين
/

‌‌তৃতীয় অধ্যায়

: মহান আল্লাহ তাআলাকে দেখা, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেশতামণ্ডলী, নবীগণ, সিরাত, হিসাব-নিকাশ, আরশ, কুরসি, মিযান, আসমান, জমিন এবং কিয়ামত দিবস সংক্রান্ত

‌‌চতুর্থ অধ্যায়

: সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রপুঞ্জ, মেঘমালা, বজ্র, বিদ্যুৎ, বৃষ্টি, তুষার, শিলাবৃষ্টি, জড়বস্তু, বাতাস, ধূলিকণা, কুয়াশা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো দেখা সংক্রান্ত

‌‌পঞ্চম অধ্যায়

: সমুদ্রসমূহ, উপত্যকাসমূহ, নদ-নদী, বাগানসমূহ, বারান্দাসমূহ, কূপ এবং জাহাজ দেখা সংক্রান্ত

‌‌ষষ্ঠ অধ্যায়

: নূর (আলো), অন্ধকার, আগুন, মোমবাতি, জ্বলন্ত কয়লা, প্রদীপ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো সংক্রান্ত

‌‌সপ্তম অধ্যায়

: পাহাড়-পর্বত, টিলা, বালুকা রাশি, (মরুভূমি), মাটি, আকাশ, চুন এবং দেয়াল দেখা সংক্রান্ত

‌‌অষ্টম অধ্যায়

: দেশ, শহরসমূহ, দুর্গসমূহ, কেল্লাসমূহ, মসজিদসমূহ, মিম্বরসমূহ, মিনারসমূহ এবং পথসমূহ দেখা সংক্রান্ত

‌‌নবম অধ্যায়

: ঘরবাড়ি, বাগানসমূহ, সিঁড়ি, ছাদসমূহ, কক্ষসমূহ, পরনালা, দোকানপাট, গোসলখানা এবং যাঁতাকল সংক্রান্ত
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
/ ب والسلالم الخشبية والمرافق

‌‌الْبَاب الْعَاشِر

: فِي الْعَاشِر فِي أَنْوَاع الْعطر من (الْمسك) والعنبر والكافور وَالْعود ولصندل وَمَاء الْورْد الأدهان المطيب، والزعفران وَغَيره

‌‌الْبَاب الْحَادِي عشر

: فِي رُؤْيَة الشَّيْخ والشباب والجاريه والغلام والعجوز وَالصَّبِيّ وَالْمَرْأَة

‌‌الْبَاب الثَّانِي عشر

: فِي الْغسْل وَالْوُضُوء وَالتَّيَمُّم وَالْأَذَان، وَالْإِقَامَة وَالصَّلَاة وَالرُّكُوع وَالسُّجُود والغزو وَالزَّكَاة وَالصَّدَََقَة

‌‌الْبَاب الثَّالِث عشر

: فِي رُؤْيَة القَاضِي والخلفية وَالْإِمَام وَالْحَاكِم والخطيب والمؤذن والطبيب وَالْمَرِيض والمكيال وَالْمِيزَان والقبان

‌‌الْبَاب الرَّابِع عشر

: فِي رُؤْيَة جمَاعَة النَّاس وأعضائهم ورؤسهم وأيديهم وأرجلهم وعظامهم وأظهرهم وبطونهم وَمَا فِيهَا من آلَات ولحومهم وأوبالهم
... এবং কাঠের সিঁড়ি ও সুবিধাসমূহ

‌‌দশম অধ্যায়

: দশম পরিচ্ছেদে কস্তুরী, আম্বর, কর্পূর, উদ, চন্দন, গোলাপ জল, সুগন্ধি তেলসমূহ, জাফরান এবং অন্যান্য সুগন্ধিদ্রব্যের প্রকারভেদ প্রসঙ্গে

‌‌একাদশ অধ্যায়

: বৃদ্ধ, যুবক, দাসী, কিশোর, বৃদ্ধা, শিশু এবং নারী দেখা প্রসঙ্গে

‌‌দ্বাদশ অধ্যায়

: গোসল, অযু, তায়াম্মুম, আযান, ইকামত, সালাত, রুকু, সিজদা, জিহাদ, যাকাত এবং সদকা প্রসঙ্গে

‌‌ত্রয়োদশ অধ্যায়

: কাযী, খলিফা, ইমাম, শাসক, খতিব, মুয়াযযিন, চিকিৎসক, রোগী, পরিমাপক পাত্র, দাঁড়িপাল্লা এবং বৃহৎ তুলাদণ্ড দেখা প্রসঙ্গে

‌‌চতুর্দশ অধ্যায়

: জনসমষ্টি এবং তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, মাথা, হাত, পা, হাড়, পিঠ, পেট ও তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ, গোশত এবং পশম দেখা প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
أشعورهم وَدِمَائِهِمْ وَمَا فيهم من زِيَارَة ونقصان

‌‌الْبَاب السَّادِس عشر

: فِي الْخشب والأبواب وَالْعقد وَالْخُرُوج من مَوضِع ضيق إِلَى المصيدة والمفتاح والسرير والكرسي والعماريات والسرادقات والصناديق والمهد والقباب والفساطيط والأبنية والأعمدة والعجلة والخيام والقرش والبط

‌‌الْبَاب السَّابِع عشر

: فِي رُؤْيَة الْقُدُور والكوانين والتنانير وَالدُّخَان والرماد والسراب والنور

‌‌الْبَاب الثَّامِن عشر

: فِي الْعُرْيَان وَمن ابتلعته الأَرْض أَو أَكلته النَّار، المَاء وَالسِّبَاع والعدو

‌‌الْبَاب التَّاسِع عشر

: فِي الْقَصْد والحجامه وَالْحلق وَالتَّقْصِير ووجع الْأَعْضَاء والقروح والورم وَالْقَصْد والجسد وَالزِّيَادَة فِي الْبدن

‌‌الْبَاب الْعشْرُونَ

: فِي البرص والجذام والجرب وَالنَّقْص فِي والطعم وَالْقصر والطول وَالْجرْح والجذري والقيح وَالْبَوْل والقرف
তাদের চুল, তাদের রক্ত এবং সেগুলোর বৃদ্ধি ও হ্রাস প্রসঙ্গে।

‌‌ষষ্ঠদশ অধ্যায়

: কাঠ, দরজা, গিঁট, সংকীর্ণ স্থান থেকে শিকারের ফাঁদে বেরিয়ে আসা, চাবি, খাট, চেয়ার, হাওদা, শামিয়ানা, সিন্দুক, দোলনা, গম্বুজ, তাবু, অট্টালিকা, স্তম্ভ, চাকা, তাবু, হাঙ্গর ও হাঁস প্রসঙ্গে।

‌‌সপ্তদশ অধ্যায়

: হাঁড়ি, চুলা, তন্দুর, ধোঁয়া, ছাই, মরীচিকা ও আলো দেখা প্রসঙ্গে।

‌‌অষ্টাদশ অধ্যায়

: উলঙ্গ ব্যক্তি এবং যাকে জমিন গ্রাস করেছে অথবা যাকে আগুন, পানি, হিংস্র প্রাণী ও শত্রু ভক্ষণ করেছে তাদের প্রসঙ্গে।

‌‌উনবিংশ অধ্যায়

: রক্তমোক্ষণ, শিঙা লাগানো, মুণ্ডন করা, চুল ছোট করা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যথা, ক্ষত, ফোলা, সংকল্প, দেহ এবং শরীরের বৃদ্ধি প্রসঙ্গে।

‌‌বিংশ অধ্যায়

: শ্বেতী রোগ, কুষ্ঠ রোগ, চুলকানি, কমতি ও স্বাদ, খর্বতা, দীর্ঘতা, জখম, বসন্ত, পুঁজ, প্রস্রাব ও নোংরামি প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ب … والسرجين والمزبله والمتاح

‌‌الْبَاب الْحَادِي وَالْعشْرُونَ

: فِي الْأَشْجَار والفواكهة وَالثِّمَار والرياحين وخلعها وغرسها، والرياض وحصادها وَقلع الشّجر واستبصالها

‌‌الْبَاب الثَّانِي وَالْعشْرُونَ

: فِي الْبُقُول وَالْخضر من البصل والثوم (والحريف) وَمَا أشبهه والحبوب والاثيان والحشيش والبيذر والكندس وَالزَّرْع والحصاد

‌‌الْبَاب الثَّالِث وَالْعشْرُونَ

: فِي الْأَطْعِمَة وأصناف المأدومات وَالْبرد والأحصبه وَالسكر والفانيد

‌‌الْبَاب الرَّابِع وَالْعشْرُونَ

: فِي الأشريه والكواميج والأدوية والألوان والسموم والبط والقيئ وَغَيره

‌‌الْبَاب الْخَامِس وَالْعشْرُونَ

: فِي الْجَوَاهِر واليواقيت واللآلي والحلي وَالدَّرَاهِم وَالدَّنَانِير، والفلوس والنحاس الصفر

‌‌الْبَاب السَّادِس وَالْعشْرُونَ

: فِي الثِّيَاب والكسوه والخف والنعل وَالْخَوَاتِيم وأنواعها

‌‌الْبَاب السَّابِع وَالْعشْرُونَ

: فِي الْحَبل والقيد وَالْغسْل والشبكة وَالْخَيْط والأبره والغزل والقطن

‌‌الْبَاب الثَّامِن وَالْعشْرُونَ

: فِي أَنْوَاع المجامعه والمعانقه، والقبلة والمصافحة وَمَا أشبه ذَلِك

‌‌الْبَاب التَّاسِع وَالْعشْرُونَ

: فِي رُؤْيَة الأسلحة والحروب والآت الحدادين، ورؤية الفراعنة والأكاسره، والجبابرة وَمن حلف بِيَمِين، صَادِقَة أَو كَاذِبَة وَغير ذَلِك

‌‌الْبَاب الثَّلَاثُونَ

: فِي رُؤْيَة الْحر وَالْبر والغز (والابديس) والقطن وَالصُّوف وَالشعر وَغَيره

‌‌الْبَاب الْحَادِي وَالثَّلَاثُونَ

: فِي الْأَعْمَى والمقعد (والزمن) والضرير وَذُو الْعلَّة

‌‌الْبَاب الثَّانِي وَالثَّلَاثُونَ

: فِي رُؤْيَة الْبسَاط والحجلة والفرقه والمكتب والسجن والقفص والقبر وَالْمَيِّت وَشبهه

‌‌الْبَاب الثَّالِث وَالثَّلَاثُونَ

: فِي الضَّرْب بالسياط وَضرب الْعُنُق وَقتل الْحَيَوَان وَقطع الْأَعْضَاء والعظم

‌‌الْبَاب الرَّابِع وَالثَّلَاثُونَ

: فِي الأوتار، والمزامير، وَلعب الشطرنج وأسعار الْحُبُوب فِي هَذِه الْبَاب والملاهي والجسد والمسمار والقنطره

‌‌الْبَاب الْخَامِس الثَّلَاثُونَ

: فِي الطيران والوثب
ব … এবং সার, আবর্জনার স্তূপ ও উন্মুক্ত স্থান প্রসঙ্গে।

‌‌একুশতম অধ্যায়

: বৃক্ষ, ফলমূল, সুগন্ধি উদ্ভিদ, সেগুলো উপড়ানো ও রোপণ করা, উদ্যান, ফসল কর্তন এবং গাছ উপড়ানো ও সমূলে উৎপাটন প্রসঙ্গে।

‌‌বাইশতম অধ্যায়

: শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুন, ঝালযুক্ত দ্রব্য ও তদ্রূপ বস্তু, শস্যদানা, ক্ষারীয় উদ্ভিদ, ঘাস, বীজ, কুন্দুস (একপ্রকার ভেষজ), চাষাবাদ ও ফসল কাটা প্রসঙ্গে।

‌‌তেইশতম অধ্যায়

: খাদ্যদ্রব্য, বিভিন্ন প্রকার সালুন, ঠান্ডা বস্তু, শিলাখণ্ড, চিনি ও ফানিদ (এক প্রকার মিষ্টি) প্রসঙ্গে।

‌‌চব্বিশতম অধ্যায়

: পানীয়, আচার-চাটনি, ঔষধপত্র, রং, বিষক্রিয়া, অস্ত্রোপচার, বমি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে।

‌‌পঁচিশতম অধ্যায়

: মণি-মুক্তা, ইয়াকুত, অলঙ্কার, দিরহাম, দিনার, পয়সা ও পিতল প্রসঙ্গে।

‌‌ছাব্বিশতম অধ্যায়

: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিধেয় বস্ত্র, মোজা, জুতো, আংটি ও এর প্রকারভেদ প্রসঙ্গে।

‌‌সাতাশতম অধ্যায়

: দড়ি, বেড়ি, ধৌতকরণ, জাল, সুতা, সুঁই, সুতা কাটা ও তুলা প্রসঙ্গে।

‌‌আটাশতম অধ্যায়

: সহবাসের প্রকারভেদ, কোলাকুলি, চুম্বন, মুসাফাহা ও তদ্রূপ বিষয় প্রসঙ্গে।

‌‌ঊনত্রিশতম অধ্যায়

: যুদ্ধাস্ত্র, যুদ্ধ, কামারের সরঞ্জাম, ফেরাউন, কিসরা ও স্বৈরাচারী শাসকদের দেখা এবং সত্য বা মিথ্যা শপথ করা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে।

‌‌ত্রিশতম অধ্যায়

: গরম, ঠান্ডা, কাঁচা রেশম, তুলা, পশম, চুল ও অন্যান্য প্রসঙ্গে।

‌‌একত্রিশতম অধ্যায়

: অন্ধ, পঙ্গু, দীর্ঘস্থায়ী রোগী, দৃষ্টিহীন ও ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রসঙ্গে।

‌‌বত্রিশতম অধ্যায়

: গালিচা, বাসরঘরের পর্দা, বিছানা, মক্তব, কারাগার, খাঁচা, কবর ও মৃত ব্যক্তি এবং তদ্রূপ বিষয় প্রসঙ্গে।

‌‌তেত্রিশতম অধ্যায়

: চাবুক মারা, শিরচ্ছেদ, পশু হত্যা, অঙ্গহানি ও হাড় কাটা প্রসঙ্গে।

‌‌চৌত্রিশতম অধ্যায়

: বাদ্যযন্ত্রের তার, বাঁশি, দাবা খেলা, শস্যের মূল্য বৃদ্ধি, আমোদ-প্রমোদ, শরীর, পেরেক ও সেতু প্রসঙ্গে।

‌‌পঁয়ত্রিশতম অধ্যায়

: উড্ডয়ন ও লম্ফন প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ب … والصعود وَالنُّزُول، وَغَيره واللعب بالشطرنج وأسعار الْحُبُوب والبنيان فِي السَّمَاء وَغَيره

‌‌الْبَاب السَّادِس وَالثَّلَاثُونَ

: فِي كَلَام السبَاع، والبهائم، والطيور والهوام والحيات، وَغير ذَلِك

‌‌الْبَاب السَّابِع وَالثَّلَاثُونَ

: فِي الْخَوْف والفزع والهرب من الْعَدو وأوي السبَاع والبهائم والمنازعة والصراع وَمَا أشبه ذَلِك

‌‌الْبَاب الثَّامِن وَالثَّلَاثُونَ

: فِي القصاب (والمسلجه) والمدع وَالْقَتْل والخلال وَغسل الْيَد بالأسنان

‌‌الْبَاب التَّاسِع وَالثَّلَاثُونَ

: فِي الْبَهَائِم وَالسِّبَاع، وَالدَّوَاب وَالْخَيْل والبرادين، وَالْفرس الذلول، وَغير ذَلِك

‌‌الْبَاب الْأَرْبَعُونَ

: فِي الثيران وَالْبَقر والعوامل وَغَيرهَا

‌‌الْبَاب الْحَادِي وَالْأَرْبَعُونَ

: فِي الظبأن وَالْغنم والكباش وأصوافها وشعورها وألات بطونها وَغير ذَلِك من كباش الْوَحْش، والضبي والوعول ولحومها وَأَلْبَانهَا وَمَا أشبه ذَلِك

‌‌الْبَاب الثَّانِي وَالْأَرْبَعُونَ

: فِي الفيلة والجواميس وأنواعها

‌‌الْبَاب الثَّالِث وَالْأَرْبَعُونَ

: فِي الْخَنَازِير وَالْجَرَاد والفأر والعظاية! والوزعة، وَالْعَنْكَبُوت ولحومها وأنواع تَأْوِيلهَا
ব ... এবং উপরে ওঠা ও নিচে নামা, এবং অন্যান্য বিষয়, দাবার খেলা, শস্যের দরদাম এবং আকাশে অট্টালিকা নির্মাণ ও অন্যান্য বিষয়

‌‌ছত্রিশতম অধ্যায়

: হিংস্র পশু, চতুষ্পদ জন্তু, পাখি, কীটপতঙ্গ, সাপ এবং এজাতীয় অন্যান্য প্রাণীর কথোপকথন প্রসঙ্গে

‌‌সাইত্রিশতম অধ্যায়

: ভয়-ভীতি, আতঙ্ক, শত্রুর হাত থেকে পলায়ন, হিংস্র পশু ও চতুষ্পদ জন্তুর গর্জন, বিবাদ ও লড়াই এবং এই সংক্রান্ত বিষয়াদি প্রসঙ্গে

‌‌আটত্রিশতম অধ্যায়

: কসাই (এবং কসাইখানা), নিমন্ত্রণ, হত্যা, খিলাল করা এবং দাঁত দিয়ে হাত ধোয়া প্রসঙ্গে

‌‌ঊনচল্লিশতম অধ্যায়

: চতুষ্পদ জন্তু, হিংস্র পশু, বাহন, ঘোড়া, খচ্চর, অনুগত ঘোড়া এবং অন্যান্য বিষয় প্রসঙ্গে

‌‌চল্লিশতম অধ্যায়

: ষাঁড়, গাভী, ভারবাহী পশু এবং অন্যান্য প্রাণী প্রসঙ্গে

‌‌একচল্লিশতম অধ্যায়

: হরিণ, ছাগল-ভেড়া, দুম্বা, তাদের পশম ও লোম, তাদের পেটের নাড়িভুঁড়ি এবং বন্য দুম্বা, হরিণ, বন্য ছাগল, তাদের গোশত ও দুধ এবং এই সদৃশ বিষয়াদি প্রসঙ্গে

‌‌বিয়াল্লিশতম অধ্যায়

: হাতি, মহিষ এবং তাদের প্রকারভেদ প্রসঙ্গে

‌‌তেতাল্লিশতম অধ্যায়

: শূকর, পঙ্গপাল, ইঁদুর, গিরগিটি, টিকটিকি, মাকড়সা, তাদের গোশত এবং সেগুলোর ব্যাখ্যার প্রকারভেদ প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أ

‌‌الْبَاب الرَّابِع وَالْأَرْبَعُونَ

: فِي السبَاع وَأَلْبَانهَا ولحومها وجلودها وأختلاف تَأْوِيلهَا

‌‌الْبَاب الْخَامِس وَالْأَرْبَعُونَ

: فِي أَنْوَاع الطُّيُور وجودهَا وَاخْتِلَاف أَنْوَاعهَا

‌‌الْبَاب السَّادِس وَالْأَرْبَعُونَ

: فِي الْفراش والنحل والعيسوب والذباب البقة والبرغوث وَالْقمل والدود وَالْجَرَاد والذبا وأنواع طيور آلما

‌‌الْبَاب السَّابِع وَالْأَرْبَعُونَ

: فِي السّمك والسلحفاة (والعرضان) والتمساح

‌‌الْبَاب الثَّامِن وَالْأَرْبَعُونَ

: فِي الْحَيَّات والعقارب والهوام وسمومها وأسلحتها

‌‌الْبَاب التَّاسِع وَالْأَرْبَعُونَ

: فِي رُؤْيَة الْجِنّ والأبالسة، وَالشَّيَاطِين، والسحرة والكهنة، والأصناف

‌‌الْبَاب الْخَمْسُونَ

: فِي الصناعات ووجوهها واختلافها وتعبير كل صنف مِنْهَا بِمَا يَلِيق بِهِ

‌‌الْبَاب الْحَادِي وَالْخَمْسُونَ

: فِي الرُّؤْيَا الَّتِي تدل على طول أَعمار الْمُلُوك وَحسن حَالهم، ورؤية الرئيس وَالسُّلْطَان وَغَيرهمَا من الصَّالِحين وَالِاسْتِدْلَال بالأسامي النحس

‌‌চুয়াল্লিশতম অধ্যায়

: হিংস্র প্রাণী, তাদের দুধ, মাংস ও চামড়া এবং সেগুলোর ব্যাখ্যার ভিন্নতা সম্পর্কে

‌‌পঁয়তাল্লিশতম অধ্যায়

: বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, তাদের অস্তিত্ব এবং তাদের প্রকারভেদের ভিন্নতা সম্পর্কে

‌‌ছেচল্লিশতম অধ্যায়

: প্রজাপতি, মৌমাছি, পুরুষ মৌমাছি, মাছি, ছারপোকা, মাকড়সা, উঁকুন, পোকা, পঙ্গপাল এবং জলচর পাখির বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে

‌‌সাতচল্লিশতম অধ্যায়

: মাছ, কচ্ছপ, কাঁকড়া এবং কুমির সম্পর্কে

‌‌আটচল্লিশতম অধ্যায়

: সাপ, বিচ্ছু এবং বিষাক্ত কীটপতঙ্গ, তাদের বিষ ও অস্ত্রসমূহ সম্পর্কে

‌‌ঊনপঞ্চাশতম অধ্যায়

: জিন, ইবলিস, শয়তান, জাদুকর, গণক এবং তাদের বিভিন্ন প্রকার দেখা সম্পর্কে

‌‌পঞ্চাশতম অধ্যায়

: বিভিন্ন শিল্প-পেশা, সেগুলোর ধরন ও ভিন্নতা এবং প্রত্যেক প্রকারের যথোপযুক্ত ব্যাখ্যা প্রদান সম্পর্কে

‌‌একান্নতম অধ্যায়

: বাদশাহদের দীর্ঘায়ু ও তাদের উত্তম অবস্থার পরিচায়ক স্বপ্ন, এবং রাষ্ট্রপ্রধান, সুলতান ও অন্যান্য নেককার ব্যক্তিদের দেখা এবং অশুভ নামসমূহ দ্বারা দলীল গ্রহণ সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ب … مِنْهَا والسعد

‌‌الْبَاب الثَّانِي وَالْخَمْسُونَ

: فِي التماثيل والأختتان والترويج والعريس والصباحة والوليمه

‌‌الْبَاب الثَّالِث وَالْخَمْسُونَ

: فِي الْعباد وَالشُّكْر لله وَالِاسْتِغْفَار وَالْحَمْد وَالتَّسْبِيح وقرأه الْقُرْآن، وَالصَّلَاة وَالصِّيَام وَالصَّلَاة على النَّبِي صلى الله عليه وسلم

‌‌الْبَاب الرَّابِع وَالْخَمْسُونَ

: فِي الزلزلة والرجف والخسف وَالْمَسْخ والتطليق وَالْخلْع وَالْوُقُوف فِي المَاء وَالنَّار والسبل وعباداتها

‌‌الْبَاب السَّادِس وَالْخَمْسُونَ

: فِي رُؤْيَة إِسْقَاط الْبيُوت وَمَا يسْتَعْمل فِي الْبيُوت من المروحه والغرابيل والمناخل والمقراض والمشط والقاروره والطبق والقصاع الشُّكْر والكوز والدلو، والجره وَغير ذَلِك من الأوعيه
... তা থেকে এবং সৌভাগ্য

‌‌বায়ান্নতম অধ্যায়

: মূর্তি, খতনা, বিবাহদান, বর, রূপ-লাবণ্য এবং ওলিমা প্রসঙ্গে

‌‌তিপ্পান্নতম অধ্যায়

: ইবাদতকারীগণ, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, ক্ষমা প্রার্থনা, প্রশংসা, তাসবিহ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত, সালাত, সিয়াম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ প্রসঙ্গে

‌‌চুয়ান্নতম অধ্যায়

: ভূমিকম্প, প্রকম্পন, ভূমিধস, বিকৃতি, তালাক, খোলা তালাক, পানি ও আগুনের ওপর অবস্থান এবং পথসমূহ ও সেগুলোর ইবাদত প্রসঙ্গে

‌‌ছাপ্পান্নতম অধ্যায়

: ঘরবাড়ি ধসে পড়ার স্বপ্ন দেখা এবং ঘরে ব্যবহৃত সরঞ্জাম যেমন পাখা, চালনি, ছাঁকনি, কাঁচি, চিরুনি, বোতল, থালা, বড় পাত্র, শুকর (পাত্র), মগ, বালতি, কলস এবং অন্যান্য পাত্রাদি প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
أ … الصفار والكبار

‌‌الْبَاب السَّابِع وَالْخَمْسُونَ

: فِي مسَائِل مُتَفَرِّقَة سقط الْبَعْض مِنْهَا فِي أماكنها من الْكتاب فأنبناها فِي هَذَا الْموضع ليتم لَهَا الْكتاب إِن شَاءَ الله تَعَالَى

‌‌الْبَاب الأول

: فِي أصُول الرُّؤْيَا وفصولها ومفرقة صدقهَا من كذبهَا الرُّؤْيَا الصادقة على ثَلَاثَة أوجه، رُؤْيا تحذير، رُؤْيا تبشير، ورؤيا إختيار فَهَذِهِ رُؤْيا الْأَنْوَاع الثَّلَاث، يوريها ملك الرُّؤْيَا لصَاحِبهَا اتحذراً لَهُ من الْمعاصِي وَمُبشرا لَهُ بِمَا يستقبله من أَنْوَاع الْخيرَات، بِطَاعَة الله تَعَالَى أَو حسن عِبَادَته إِيَّاه، وإلهاماً من الله تَعَالَى يلهمه فِيمَا يختاره وَكَذَا قيل أَن ملكا من المليئكه أشرف بِإِذن الله تَعَالَى على اللَّوْح الْمَحْفُوظ فَوقف على مَا فِيهِ لبني أَدَم من الْخَيْر وَالشَّر، فَهُوَ الَّذِي يربهم ذَلِك عظة للْمُسلمين وَحجَّة على الْكَافرين إِلَى يَوْم الْقيمَة والرؤيا الكاذبة: هِيَ الأضفان وَهِي على ثَلَاثَة أوجه أَيْضا: رُؤْيا همة … ورؤيا عِلّة
আ … ছোট ও বড়গণ

‌‌সাতান্নতম অধ্যায়

: বিবিধ মাসআলা প্রসঙ্গে, যার কিছু অংশ কিতাবের স্ব-স্ব স্থান থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল, তাই আমরা এই স্থানে সেগুলো পুনরায় উল্লেখ করেছি যাতে আল্লাহ তাআলা চাইলে কিতাবটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

: স্বপ্নের মূলনীতি ও এর শাখা-প্রশাখা এবং এর সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য প্রসঙ্গে। সত্য স্বপ্ন তিন প্রকার: সতর্ককারী স্বপ্ন, সুসংবাদদানকারী স্বপ্ন এবং নির্বাচনমূলক স্বপ্ন। এই হলো তিন প্রকারের স্বপ্ন, যা স্বপ্নের ফেরেশতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদর্শন করেন যাতে তাকে পাপ কাজ থেকে সতর্ক করা যায় এবং আল্লাহ তাআলার আনুগত্য বা তাঁর উত্তম ইবাদতের মাধ্যমে সে ভবিষ্যতে যে সকল কল্যাণ লাভ করবে সে সম্পর্কে তাকে সুসংবাদ দেওয়া যায়। এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি ইলহাম (অনুপ্রেরণা), যা তিনি বান্দাকে তার পছন্দনীয় বিষয়ে দান করেন। আরও বলা হয়েছে যে, ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে লাওহে মাহফুজের বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণ করেন এবং আদম সন্তানদের জন্য তাতে নিহিত কল্যাণ ও অকল্যাণ সম্পর্কে অবগত হন। তিনিই মুসলমানদের উপদেশের জন্য এবং কিয়ামত পর্যন্ত কাফেরদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে তাদের তা প্রদর্শন করেন। আর মিথ্যা স্বপ্ন: এগুলো হলো অলীক কল্পনা বা এলোমেলো চিন্তা, যা আবার তিন প্রকার: চিন্তাপ্রসূত স্বপ্ন … এবং রোগব্যাধিজাত স্বপ্ন।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ب … ورؤيا شَيْطَان فرؤيا الهمة: أَن يكون الهمه أَيكُون المرؤ فِي حَدِيث: أَو همة همم من الْأُمُور، فينام عَلَيْهِ، فَيرى ذَلِك أَو بعضه فِي مَنَامه، فَذَلِك همة النَّفس وَقرب الْعَهْد يذكرهُ فَلَا يعْتد بِهِ وَلَا يلْتَفت إِلَيْهِ، وَلَا يشْتَغل بِعِبَادَتِهِ ورؤيا العله: هِيَ أَن يكون، بِالرجلِ عله من مرض أَو خلط ردي فَاسد فينام عَلَيْهِ، فَيرى فِي مَنَامه أشياها يَله لَا تَأْوِيل لَهَا إِذْ هِيَ عَلَيْهِ تِلْكَ وتواريها ورؤيا الشَّيْطَان: هُوَ مَا يرَاهُ الرجل فِي مَنَامه من الِاحْتِلَام الْمُوجب للْغسْل والأشياء المنكره الَّتِي لَا يُمكن، كَونهَا وَلَا يحل التقوه بهَا فَذَلِك من فعل الشَّيْطَان، فَلَا يعْتد بِهِ وَلَا يتأويله

‌‌فصل فِي التَّفَاوُت والتفاضل بَين الرُّؤْيَا فالرؤيا من أحد رجلَيْنِ أما مُسلم، وَأما كَافِر وَهِي على أَرْبَعَة عشر نوعا

مِنْهَا: رُؤْيا الأيمة ورؤيا الْقُضَاة، ورؤيا الْفُقَهَاء ورؤيا الْعلمَاء، ورؤيا الْأَحْرَار ورؤيا المماليك، ورؤيا الذُّكُور
... ... এবং শয়তানি স্বপ্ন। চিন্তাপ্রসূত স্বপ্ন হলো: যখন মানুষ কোনো আলোচনায় লিপ্ত থাকে অথবা কোনো বিষয়ে তার বিশেষ চিন্তা থাকে, অতঃপর সে তা নিয়েই নিদ্রা যায় এবং স্বপ্নে সেটি বা তার কিয়দংশ প্রত্যক্ষ করে। তা হলো নফসের খেয়াল এবং সাম্প্রতিক স্মৃতি যা সে স্মরণ করে; সুতরাং এটি গণ্য করা হবে না, এর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না এবং এর ব্যাখ্যায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। অসুস্থতাজনিত স্বপ্ন হলো: কোনো ব্যক্তির রোগ বা কোনো দূষিত শারীরিক উপাদানের কারণে অসুস্থতা থাকা এবং তা নিয়েই নিদ্রা যাওয়া, অতঃপর স্বপ্নে এমন কিছু দেখা যার কোনো ব্যাখ্যা নেই; কারণ তা কেবল সেই রোগ ও শারীরিক অবস্থারই প্রতিফলন। শয়তানি স্বপ্ন হলো: কোনো ব্যক্তি নিদ্রাবস্থায় যা দেখে যেমন স্বপ্নদোষ যা গোসল ওয়াজিব করে, অথবা এমন সব গর্হিত বিষয় যা ঘটা অসম্ভব এবং যা বর্ণনা করাও বৈধ নয়; সুতরাং তা শয়তানের কাজ, এটি গণ্য করা হবে না এবং এর কোনো ব্যাখ্যাও করা হবে না।

‌‌স্বপ্নের মধ্যে তারতম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক পরিচ্ছেদ; স্বপ্ন দুই ধরণের ব্যক্তির পক্ষ থেকে হতে পারে, হয় মুসলিম অথবা কাফির। আর এটি চৌদ্দ প্রকারের হয়ে থাকে।

তার মধ্যে রয়েছে: ইমামদের স্বপ্ন, বিচারকদের স্বপ্ন, ফকীহদের স্বপ্ন, আলেমদের স্বপ্ন, স্বাধীন ব্যক্তিদের স্বপ্ন, ক্রীতদাসদের স্বপ্ন এবং পুরুষদের স্বপ্ন।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أ … . ورؤيا الْإِنَاث، ورؤيا المستورين، ورؤيا غير المستورين، ورؤيا الْأَغْنِيَاء ورؤيا الْفُقَرَاء - ورؤيا المراهقين، ورؤيا الصّبيان الصغار، فأصح الرُّؤْيَة وَأصْدقهَا رُؤْيَة الأيمة، الصَّفَا أذهانهم، ووفود عُقُولهمْ، وتسليط الله أياهم على رعاياهم رَحْمَة مِنْهُ لَهُم والهام الله تَعَالَى أياهم لمصَالح دينهم ودنياهم وَرُبمَا يفضل رؤياهم على رُؤْيا غَيرهم لفضلهم عَلَيْهِم ثمَّ رُؤْيا الْقُضَاة لما جبلوا عَلَيْهِ من الْعدْل والأنفاق والتمييز ثمَّ: رُؤْيا الْفُقَهَاء - لتوفيق الله إيَّاهُم وأصابتهم فِي الْأَحْكَام وَالْحُدُود والفرائض وَالسّنَن والحلال وَالْحرَام ثمَّ رُؤْيا الْعلمَاء لترفيهم إِلَى درج الدعْوَة إِلَى اله تَعَالَى وإقدامهم على الْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر والحث على الطَّاعَات وَترك الْمعاصِي والمخطورات م رُؤْيا الْأَحْرَار وَهِي تتفاضل فيهم بالترتيب لتفاضل مَا ركب لَهُ فيهم
অ ... । এবং নারীদের স্বপ্ন, পর্দানশীনদের স্বপ্ন, বেপর্দা ব্যক্তিদের স্বপ্ন, ধনীদের স্বপ্ন এবং দরিদ্রদের স্বপ্ন — কিশোরদের স্বপ্ন এবং ছোট শিশুদের স্বপ্ন। স্বপ্নের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও সত্য স্বপ্ন হলো ইমামগণের (নেতৃবৃন্দের) স্বপ্ন; কারণ তাদের মেধা স্বচ্ছ, তাদের বুদ্ধিবৃত্তি প্রখর এবং তাদের প্রজাদের ওপর আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত তাদের কর্তৃত্ব হলো তাঁর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি একটি রহমত। মহান আল্লাহ তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য তাদের অন্তরে ইলহাম (অনুপ্রেরণা) দান করেন। অন্যদের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে অনেক সময় তাদের স্বপ্ন অন্যদের স্বপ্নের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। এরপর হলো বিচারকদের স্বপ্ন; কারণ ইনসাফ, হক আদায় এবং বিচার-বিশ্লেষণের যে গুণাবলির ওপর তারা প্রকৃতিগতভাবে সৃষ্টি। এরপর ফকিহগণের স্বপ্ন; বিধানাবলী, দণ্ডবিধি, ফরজ, সুন্নত এবং হালাল ও হারামের বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাওফিক এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কারণে। এরপর আলেমগণের স্বপ্ন; মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদানের স্তরে তাদের উন্নীত হওয়ার কারণে এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার ক্ষেত্রে তাদের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং আনুগত্যের প্রতি উৎসাহ প্রদান ও পাপাচার ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জনের অনুপ্রেরণা দেওয়ার কারণে। অতঃপর স্বাধীন ব্যক্তিদের স্বপ্ন; যা তাদের মধ্যে বিদ্যমান গুণাবলির তারতম্য অনুসারে পর্যায়ক্রমে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ب … . من الْعقل والفهم فمقدار مَا ركب الله تَعَالَى فيهم من هَاتين الخصلتين الخطيرتين، تتفضل رؤياهم ثمَّ رُؤْيا المماليك وَهِي تجدي فِي وجوهها مجْرى رُؤْيا النِّسَاء لأَنهم، تَحت أَيدي مواليهم، كَمَا أَن النِّسَاء تَحت أَيدي أَزوَاجهنَّ وَأكْثر مَا يرونه من رُؤْيا الْخَيْر رَاجِعَة إِلَى أَزوَاجهنَّ ومواليهم إِلَّا الْقَلِيل مِنْهَا ثمَّ رُؤْيا الذُّكُور: لما فَضلهمْ الله تَعَالَى على الْإِنَاث فِي الْعُقُول والمواريث والخطابة والفهم والفصاحة والشجاعة، وَقبُول الشَّهَادَة وَبَيَان الْكَمَال وَالْجمال ثمَّ رُؤْيا الْإِنَاث ورؤياهن، كرؤيا المماليك، لِأَنَّهُنَّ مغلوبات عاجزات عَن أَكثر أشيائهن، وَأكْثر مَا يرونه من الْخَيْر رَاجع إِلَى أَزوَاجهنَّ وأقومهن لقصورهن عَن الْعقل والفهم وَقلة المملكة على أَنْفسهنَّ وأبدانهن ثمَّ رُؤْيا المستوردين فَكل من كَانَ فِي الستره أكمل كَانَت رُؤْيَاهُ، أصح وَأَصَح وَإِلَى الْخَيْر أقرب ثمَّ رُؤْيا غير المستوردين ورؤياهم يُخَالف رُؤْيا المستورين
ব … । বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা থেকে—আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে এই দুটি মহান গুণ যতটুকু নিহিত রেখেছেন, সেই অনুপাতে তাদের স্বপ্ন শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। এরপর দাসদের স্বপ্ন; যা তার রূপরেখায় নারীদের স্বপ্নের পর্যায়ভুক্ত। কারণ তারা তাদের প্রভুদের নিয়ন্ত্রণাধীন, যেমন নারীরা তাদের স্বামীদের নিয়ন্ত্রণাধীন। তারা যেসব কল্যাণকর স্বপ্ন দেখে, তার সামান্য কিছু অংশ বাদে অধিকাংশ তাদের স্বামী ও প্রভুদের অনুকূলে বর্তায়। এরপর পুরুষদের স্বপ্ন; কারণ আল্লাহ তাআলা বুদ্ধি, উত্তরাধিকার, ভাষণদান, প্রজ্ঞা, অলঙ্কারশাস্ত্র, সাহসিকতা, সাক্ষ্যদান এবং পূর্ণতা ও সৌন্দর্যের প্রকাশে তাদেরকে নারীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এরপর নারীদের স্বপ্ন; তাদের স্বপ্ন দাসদের স্বপ্নের মতো, কেননা তারা তাদের অধিকাংশ বিষয়ে পরাভূত ও অক্ষম। তাদের বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার সীমাবদ্ধতা এবং নিজেদের জান ও মালের ওপর নিয়ন্ত্রণ কম থাকার কারণে তাদের দেখা কল্যাণকর স্বপ্নগুলোর অধিকাংশ তাদের স্বামী ও অভিভাবকদের অনুকূলে ফিরে যায়। এরপর সচ্চরিত্রবান ব্যক্তিদের স্বপ্ন; যে ব্যক্তি সচ্চরিত্রতায় যত বেশি পূর্ণ হবে, তার স্বপ্ন তত বেশি বিশুদ্ধ ও সঠিক এবং কল্যাণের নিকটবর্তী হবে। এরপর যারা সচ্চরিত্রবান নয় তাদের স্বপ্ন; তাদের স্বপ্ন সচ্চরিত্রবানদের স্বপ্নের বিপরীত হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
أ … فِي الْمعَانِي والعبارات لمخالفتهم، أياهم فِي الْأَقْوَال الْأَفْعَال ثمَّ رُؤْيا الْأَغْنِيَاء ورؤيا تفضل عَليّ رُؤْيا الْفقر فضلا، ظَاهر لما تجْرِي عَلَيْهِم فِي الْأَوْقَات، والحالات فقد قَالَ رَسُول صلى الله عليه وسلم الْيَد الْعليا خير من الْيَد السُّفْلى ثمَّ رُؤْيا الْفُقَرَاء - وَهِي على خلاف رُؤْيا الْأَغْنِيَاء وَهِي أبعد خُرُوجًا وَأَقل فايدة، وَكَانَت محمودة فَأَما إِذا كَانَت بالضد، فَإِنَّهَا أدْرك أشرع إدراكاً أحلى فقد أزمانهم من الْبُؤْس والفقره يكون خَبَرهَا وشرها لَهُم وَالله أعلم ثمَّ رُؤْيا المراهقين: - وَهِي أَضْعَف الرُّؤْيَا وأبعدها من الْمَنِيّ لإشراف الشَّهْوَة عَلَيْهِم وَبعد الْعقل وَالْأَدب مِنْهُم وَقد قبل أَن صَلَاحهَا يرجع إِلَى أباهم وأمهاتهم والمستولين عَلَيْهِم، وفسادها لَا يضرهم لدفع الْقَلَم عَنْهُم ثمَّ رُؤْيا الضُّعَفَاء من الصّبيان، ورؤياهم لَا يلتف إِلَيْهَا وَلَا تستغل بعبادتها لعدم إفهامهم وعقولهم وَقلة تميزهم

‌‌فصل فِي رُؤْيا النِّسَاء وَالصبيان
... অর্থ ও প্রকাশভঙ্গির ক্ষেত্রে তাদের কথা ও কাজের ভিন্নতার কারণে... অতঃপর ধনীদের স্বপ্ন; এটি দরিদ্রদের স্বপ্নের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে, যা তাদের সমসাময়িক অবস্থা ও পরিস্থিতির নিরিখে সুস্পষ্ট। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।’ এরপর দরিদ্রদের স্বপ্ন—যা ধনীদের স্বপ্নের বিপরীত এবং তা বাস্তবে রূপ নেওয়ার ক্ষেত্রে অধিক বিলম্বিত ও কম ফলদায়ক। এটি প্রশংসনীয় হতে পারে, তবে যদি এর বিপরীত হয়, তবে তাদের দুর্দশা ও দারিদ্র্যময় সময়ের কারণে তা অধিক দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং এর সুসংবাদ ও অকল্যাণ তাদের জন্যই হয়ে থাকে; আল্লাহই ভালো জানেন। এরপর বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোরদের স্বপ্ন: এটি স্বপ্নের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল এবং কামভাবের প্রাবল্য ও তাদের থেকে বিবেক ও শিষ্টাচার দূরে থাকার কারণে তা বাস্তব হওয়া থেকে অনেক দূরে। বলা হয়ে থাকে যে, তাদের স্বপ্নের শুভফল তাদের পিতা-মাতা এবং অভিভাবকদের দিকে ফিরে যায়; আর এর মন্দ দিক তাদের কোনো ক্ষতি করে না, কারণ তাদের ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর অবুঝ শিশুদের স্বপ্ন; তাদের স্বপ্নের প্রতি কোনো মনোযোগ দেওয়া হয় না এবং তাদের বোধশক্তি ও বুদ্ধির অভাব এবং পার্থক্য করার অক্ষমতার কারণে তা ব্যাখ্যা করার কাজে লিপ্ত হওয়া হয় না।

‌‌নারী ও শিশুদের স্বপ্নের বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ب … ... الصفار وَالدَّلِيل على صِحَّتهَا وصدقها وَقد قيل أَيْضا أَن رُؤْيا الْبَالِغين إِذا لم يكد لَهما بذلك الشَّيْء همه، وَقيل أَنَّهَا أصح لِأَن قُلُوبهم خَالِيَة من الأشغال فارغة من ألهم ورؤيا الْجنب وَالْحَائِض، وَالنُّفَسَاء والمستحاضة والمتلطخ بالنجاسات كلهَا صَحِيحَة لن عَامَّة الْكفَّار ونجس لَا طَهَارَة لَهُم وَلَا وضوء لَهُم وَلَا غسل لَهُم ورؤياهم صَحِيحَة والتفاضل فِي رُؤْيا الْمُسلمين على مَا تقدم ذكره فضل فِي معرفَة الرُّؤْيَا الكاذبة الفاسده الممتعة عَن التَّعْبِير، وَهُوَ أَن النَّاس يَخْتَلِفُونَ فِي طباعهم وَجَمِيع أَحْوَالهم فَكَذَلِك يخْتَلف رؤياهم فَمنهمْ من غلب عَلَيْهِ الدَّم من أكل الحلو، وَاللَّحم وَشرب الشَّرَاب والأشياء المهم فَيرى فِي مَنَامه الرعاف والاحتجام والاقتصاد وأنهار الدَّم، وَمَا أشبههَا وَيرى بَين يَدَيْهِ الدباحين والرقاصين واللعابيين والزمارين والطبالين والمطربين والمغنين
... … ... আস-সাফফার এবং এর বিশুদ্ধতা ও সত্যতার প্রমাণ। আরও বলা হয়েছে যে, প্রাপ্তবয়স্কদের স্বপ্ন [সঠিক হয়] যখন তারা সেই বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত না থাকে। এবং বলা হয়েছে যে এটি অধিকতর বিশুদ্ধ, কারণ তাদের অন্তর জাগতিক ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত। জুনুব (যৌন অপবিত্রতা), ঋতুবতী, নেফাসওয়ালী, ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী এবং অপবিত্রতায় লিপ্ত ব্যক্তিদের স্বপ্নও সঠিক হতে পারে। কেননা সাধারণ কাফেররা নাপাক, তাদের কোনো পবিত্রতা নেই, নেই ওজু বা গোসল, অথচ তাদের স্বপ্নও সত্য হতে পারে। আর মুসলমানদের স্বপ্নের শ্রেষ্ঠত্ব যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তা মূলত মিথ্যা, বিকৃত এবং ব্যাখ্যা করা অসম্ভব স্বপ্ন চেনার ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত জ্ঞান। আর বিষয়টি হলো মানুষের স্বভাব ও অবস্থার ভিন্নতার কারণে তাদের স্বপ্নের মধ্যেও ভিন্নতা দেখা দেয়। তাদের মধ্যে কারো ওপর রক্তের আধিক্য ঘটে মিষ্টি খাবার, গোশত খাওয়া, পানীয় পান এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রভাবে; ফলে সে তার স্বপ্নে নাক দিয়ে রক্ত পড়া, সিঙা লাগানো, রক্ত মোক্ষণ এবং রক্তের নদী ও এই জাতীয় দৃশ্য দেখতে পায়। এবং সে তার সামনে কসাই, নৃত্যশিল্পী, খেলোয়াড়, বাঁশিবাদক, ঢোলবাদক, গায়ক এবং সংগীতশিল্পীদের দেখতে পায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أ … والأوتار، والرياض، والبساتين ويستدل عَلَيْهِ بخمرة لَونه وَمِنْهُم من يغلب عَلَيْهِ الصفر من أكل الأغذية الحاره كالبصل والثوم والفلفل وألوان الْأَطْعِمَهْ المهيجة للصفراء فَيرى فِي مَنَامه (الثيران) والسرج والمصابيح والقناديل الموقوده والمشاعل وَالشَّمْس المحرقة المؤذيه وَنَحْوهَا ويستدل عَلَيْهِ بنحافة بدنه وإصفرار لَونه وَكَثْرَة مركانه ورقته وحدته وقلقه وعجلته فِي الْكَلَام وَجَمِيع الْأَفْعَال وَقلة ثباته وَكَثْرَة تلونه وَمِنْهُم من تغلب عَلَيْهِ البلغم من الاغتدابا بالأشياء الحاره الرطب كالألبان وَمَا أشبههَا وَيرى فِي مَنَامه الأمطار والأنهار والغدران والاغتسال فِيهَا والمياه الْكَثِيرَة والغوص والسباح والثلج وَالْبرد والوحل وَمَا أشبه ذَلِك ويستدل عَلَيْهِ بخالته وضخم بدنه وبطئ حركته وَثقل كَلَامه وَقلة نشاطته وَمِنْهُم من تغلب عَلَيْهِ السَّوْدَاء من أكل الأغذية المولدة
অ … এবং বাদ্যযন্ত্রের তার, উদ্যান ও বাগানসমূহ; আর তার গায়ের বর্ণের রক্তিমাভা দ্বারা এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যার ওপর পিত্তের (সফরা) আধিক্য দেখা দেয় পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ এবং পিত্তকে উত্তেজিত করে এমন উষ্ণ খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের ফলে। ফলে সে স্বপ্নে (ষাঁড়), প্রদীপ, বাতি, প্রজ্বলিত দীপাধার, মশাল, দাহনকারী কষ্টদায়ক সূর্য এবং অনুরূপ বস্তুসমূহ দেখে। আর তার শরীরের কৃশতা, গায়ের রঙের হলুদাভ ভাব, অধিক বিচরণ, মেজাজের কোমলতা ও তীক্ষ্ণতা, অস্থিরতা, কথাবার্তা ও সকল কাজে চপলতা, স্বল্প স্থায়িত্ব এবং ঘনঘন মেজাজ পরিবর্তন দ্বারা এটি প্রমাণিত হয়। আবার তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ওপর শ্লেষ্মার (বলগম) আধিক্য দেখা দেয় দুধ ও অনুরূপ উষ্ণ ও আর্দ্র খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের ফলে। সে স্বপ্নে বৃষ্টি, নদী, জলাশয় এবং তাতে গোসল করা, প্রচুর পানি, ডুব দেওয়া, সাঁতার কাটা, তুষার, শিলাবৃষ্টি, কাদা এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ দেখে। আর তার শারীরিক অবস্থা, শরীরের স্থূলতা, ধীরগতি, কথার জড়তা এবং কর্মতৎপরতার অভাব দ্বারা এটি নির্দেশিত হয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ আছে যার ওপর কৃষ্ণপিত্তের (সওদা) প্রভাব প্রবল হয় এমন সব খাদ্য গ্রহণের ফলে যা উৎপাদন করে...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ب … بالسودائيه الْبَاب

‌‌الْبَاب الثَّانِي

: فِي وُجُوه التَّعْبِير وَذكر الْأَدَب فِيهِ للسَّائِل والمؤل وَنَضَع الموازين الْقسْط ليَوْم فَلَا تظلم نفس شيا وَقيل من رائ أَن الْقِيَامَة قد قَامَت فَإِنَّهُ ينجو من سوء أعداه وَمن لاي من أَشْرَاط السَّاعَة مثل النفخ فِي الصُّور:، أَو نشر أهل الْقُبُور، أَو طُلُوع الشَّمْس من الْمغرب. . أَو خُرُوج الدَّابَّة أَو نَحْو ذَلِك فَإِن تَأْوِيله كتأويل يَوْم الْقيام وَقيل خُرُوج الداب فتن تطهر فَيهْلك فِيهَا قوم وينجو آخَرُونَ. . وَخُرُوج الدَّجَّال رجل ذَوا بدع وضلالة تطهر فِي النَّاس والنفخ فِي الصُّور طاعون أَو إنذار السُّلْطَان فِي بعث أَو غَيره أَو قِيَامه قامة فِي الْبَلدة تكون أَو سفر عامٍ إِلَى الْحَج والحشر ويحي الله لفصل الْقَضَاء ولاجتماع الْخلق لِلْحسابِ عدلٍ
... বিষাদগ্রস্ততার মাধ্যমে অধ্যায়

‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়

: স্বপ্নের ব্যাখ্যার বিভিন্ন দিক এবং এতে প্রশ্নকারী ও ব্যাখ্যাকারীর শিষ্টাচার বর্ণনা প্রসঙ্গে। আর আমি কিয়ামত দিবসের জন্য ন্যায়বিচারের মানদণ্ডসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কোনো প্রাণের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না। আর বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে কিয়ামত সংঘটিত হয়েছে, তবে সে তার শত্রুদের অনিষ্ট থেকে মুক্তি পাবে। আর যে ব্যক্তি কিয়ামতের আলামতসমূহ দেখেছে যেমন সিঙায় ফুঁৎকার দেওয়া, অথবা কবরবাসীদের পুনরুত্থান, অথবা পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, অথবা ভূগর্ভস্থ প্রাণীর বহির্মন কিংবা এই জাতীয় কিছু, তবে তার ব্যাখ্যা কিয়ামত দিবসের ব্যাখ্যার মতোই হবে। আর বলা হয়েছে যে, ভূগর্ভস্থ প্রাণীর বহির্মন হলো এমন ফিতনা যা প্রকাশ পাবে, যাতে একদল লোক ধ্বংস হবে এবং অন্যরা মুক্তি পাবে। আর দাজ্জালের বহির্মন হলো বিদআত ও পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত এমন এক ব্যক্তি যে মানুষের মাঝে প্রকাশ পাবে। আর সিঙায় ফুঁৎকার হলো মহামারি অথবা কোনো বাহিনী প্রেরণ বা অন্য কোনো বিষয়ে সুলতানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা, অথবা শহরে কোনো বড় ঘটনার উদ্ভব হওয়া, কিংবা হজের জন্য সাধারণ সফর। আর হাশর হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য জীবিত করা এবং ইনসাফের সাথে হিসাব-নিকাশের জন্য সৃষ্টির একত্রীকরণ।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أَمن الله يكون النَّاس بإهمام عادلٍ يقدم عَلَيْهِم أَو يَوْم عَظِيم يرَاهُ النَّاس ويشهدونه فَمن رأى أَنه أَخذ كِتَابه بِيَمِينِهِ فَإِن بالصلاح أَو بالغنا والعزوان أَخذه بِشمَالِهِ هلك بِالْإِمَامِ أَو الْفقر والحاجه. . وَإِن مر عَليّ القيراط سليما نجا من شدَّة أَو فتْنَة أَو بِلَا، وَقد يكون الصِّرَاط قطعهَا وَمن رَأْي أَنه دخل الْجِنّ فَإِنَّهُ يعْمل عملا صَالحا يسْتَوْجب لَهُ الْجنَّة لقَوْله سبحانه وتعالى وَتلك الْجنَّة الَّتِي أورثتموها بِمَا كُنْتُم تعلمُونَ وَإِن كَانَ حَاجا ثمَّ حجَّة وَوصل الْكَعْبَة أَو دخل إِلَيْهَا وَطلب علم السّنة وَمن رَأْي أَنه تنَاول من ثمارها أَو أَعْطَاهَا لَهُ غَيره فَإِنَّهُ يعْمل أَعمال الْبر، وتبيع سَبِيل الْخَيْر وَإِن رَأْي أَنه أَعْطَاهَا غَيره ينْتَفع بِعَمَلِهِ غَيره وَمن رَأْي من حورها ولدانها فَإِنَّهُ إنتقال من الدُّنْيَا إِلَى الْجنَّة وَقد تبين …
আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা মানুষের জন্য একজন ন্যায়পরায়ণ নেতার মাধ্যমে হতে পারে যিনি তাদের সামনে উপস্থিত হন, অথবা এটি হতে পারে সেই মহান দিবস (কিয়ামত) যা মানুষ দেখবে এবং তাতে উপস্থিত হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি দেখবে যে সে তার আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করেছে, তবে তা সততা ও পুণ্য অথবা প্রাচুর্য ও সম্মানের পরিচায়ক। আর যদি সে তা বাম হাতে গ্রহণ করে, তবে সে নেতৃত্বের মাধ্যমে অথবা দারিদ্র্য ও অভাবের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। আর যদি সে নিরাপদে সিরাত পার হয়ে যায়, তবে সে কঠোরতা, ফিতনা অথবা বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি লাভ করবে। আর সিরাত হলো সেই পথ যা অতিক্রম করতে হয়। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে জান্নাতে প্রবেশ করেছে, তবে সে এমন নেক আমল করবে যা তার জন্য জান্নাতকে অবধারিত করে দেবে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর এটিই সেই জান্নাত যার উত্তরাধিকারী তোমাদের করা হয়েছে তোমাদের কৃতকর্মের বিনিময়ে।" আর সে যদি হজ পালনকারী হয়, তবে সে হজ সম্পাদন করবে এবং কাবা শরীফে পৌঁছাবে বা তাতে প্রবেশ করবে এবং সুন্নাহর জ্ঞান অন্বেষণ করবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে জান্নাতের ফল ভক্ষণ করছে অথবা অন্য কেউ তাকে তা দিচ্ছে, তবে সে সৎকাজ করবে এবং কল্যাণের পথ অনুসরণ করবে। আর যদি সে দেখে যে সে অন্য কাউকে তা দিচ্ছে, তবে তার আমল দ্বারা অন্য কেউ উপকৃত হবে। আর যে ব্যক্তি জান্নাতের হূর ও কিশোরদের দেখবে, তবে তা দুনিয়া থেকে জান্নাতের দিকে প্রস্থান বা স্থানান্তরের ইঙ্গিত। আর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে …
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
/ ب … فِيمَا يحْتَاج إِلَيْهِ السَّائِل عَن رُؤْيا من الْأَدَب يَنْبَغِي للرأي أَن يعود نَفسه الصدْق ويجتنب الْكَذِب فقد قيل أصدقكم رُؤْيا أصدقكم حَدِيثا وَأَن لَا ينَام (إِلَّا طَهَارَة) وَيذكر الله تَعَالَى مَا أمكنه وَأَن يقل عِنْد النّوم اللَّهُمَّ أَرِنِي رُؤْيا صَادِقَة صَالِحَة غير كَاذِبَة، سارة، غير مَحْزَنَة نَافِع غير ضارة ثمَّ يضجع عَليّ يَمِينه مَا أمكنه، ذَلِك أَو على يسَاره أَو على ظَهره وَلَا ينَام منبطحاً على وَجه بِحَال من الْأَحْوَال، فَإِن ذَلِك لَا يسْتَحبّ فَإِذا اسْتَيْقَظَ من نَومه وَقد رَأْي رُؤْيا يكرهها تحول على يسَاره وتفل ثَلَاثًا، وَيَقُول سُبْحَانَ من وجلت مِنْهُ الْقُلُوب وارتعدت من هَيْبَة عَظمته وخشعت لَهُ الْأَصْوَات وعنت لَهُ الْوُجُوه، أعوذ بعزه الله وجلاله مِمَّا يُصِيبنِي من رُؤْيا شَيْء أكرهه من أَمر الدُّنْيَا وَالْآخِرَة اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك، من خير هَذِه الرُّؤْيَا وَأَعُوذ بك من شَرها فَإِنَّهَا لَا تضره إِن شَاءَ الله تَعَالَى، فصل فِيمَا يحْتَاج إِلَيْهِ المعبرون من الْأَدَب وَألا لِأَن، أعلم أَنه يجب عَليّ من
/ ব ... স্বপ্ন সম্পর্কে প্রশ্নকারীর প্রয়োজনীয় আদব প্রসঙ্গে। স্বপ্নদ্রষ্টার উচিত নিজেকে সত্যবাদীতায় অভ্যস্ত করা এবং মিথ্যা বর্জন করা। কেননা বলা হয়েছে, তোমাদের মধ্যে যার কথা যত বেশি সত্য, তার স্বপ্নও তত বেশি সত্য। সে যেন পবিত্রাবস্থা (অজু) ছাড়া না ঘুমায় এবং সাধ্যমতো মহান আল্লাহর জিকির করে। আর ঘুমানোর সময় যেন বলে: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে সত্য ও নেক স্বপ্ন দেখান যা মিথ্যা নয়, যা আনন্দদায়ক, দুঃখজনক নয় এবং যা উপকারী, ক্ষতিকর নয়। অতঃপর সে যেন সাধ্যমতো ডান কাতে শুয়ে পড়ে, অথবা বাম কাতে কিংবা পিঠের ওপর ভর দিয়ে। কোনো অবস্থাতেই সে যেন উপুড় হয়ে না ঘুমায়, কেননা তা অপছন্দনীয়। যখন সে ঘুম থেকে জাগবে এবং এমন কোনো স্বপ্ন দেখবে যা সে অপছন্দ করে, তখন সে বাম দিকে ফিরে তিনবার থুতু ছিঁটাবে এবং বলবে: পবিত্রতা সেই সত্তার যার ভয়ে অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হয়, যাঁর মহত্ত্বের প্রতাপে সবকিছু কেঁপে ওঠে, যাঁর সামনে সকল শব্দ বিনীত হয় এবং যাঁর সামনে সকল চেহারা অবনত হয়। আমি আল্লাহর মর্যাদা ও প্রতাপের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের সেই মন্দ বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা এই অপছন্দনীয় স্বপ্নের মাধ্যমে আমাকে স্পর্শ করতে পারে। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এই স্বপ্নের কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং এর অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। তবে ইনশাআল্লাহ তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। পরিচ্ছেদ: স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীদের প্রয়োজনীয় আদব প্রসঙ্গে, আর যেন... জেনে রাখুন যে, আমার ওপর ওয়াজিব যে...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
/ ب يتعاطى صناعَة التَّعْبِير أَن يلبس لِبَاس التَّقْوَى، ويصن نَفسه عَن الشُّبُهَات ويهذب أخلاقه عَن الْمَحْظُورَات، ويحافظ على فَرَائض الله تَعَالَى، وَسنة نبيه مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، ويواظب على النّظر فِي كتب المقدمين من أهل النّظر، بالعبارة مصفحاً عَن أصولهم حَافِظًا لَهَا لَيْلًا يشتبهه عَلَيْهِ شَيْء مِنْهَا وَقت الْحَاجة، إِلَيْهِ وَيَنْبَغِي لَهُ أَن يكون صَادِقا كريم الطَّبْع عفيفاً متواضعاً رفيعاً، كَاتِما للسّره حَلِيمًا عَاقِلا أديباً، فطناً لبيباً عَالما بِالْقُرْآنِ ومعانيه وأخبار الرَّسُول ومباينة، متثبتاً عِنْد المشكلات والمتشابهات وَلَا يخفي عَلَيْهِ لُغَات الْعَرَب وألفاظها وَأَشْعَارهَا وأمثالها، ونوادرها، والأقاويل الناقلين، وَمن سواهُم من الفائقين وَلَا اخْتِلَاف المعبرين من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ ثمَّ يتَمَسَّك بهَا وَلَا يصرف عَنْهَا إِلَّا بِمَا (يفادها) فَإِنَّهُ إِذا سلك هَذِه السَّبِيل إجتمع لَهُ فِي صناعته كل آله، وهانت عَلَيْهِ الْعبارَة وذله المستضعف مِنْهَا وَحكم لَهُ بِالصَّوَابِ، فِيمَا يَقُوله، ويفعله إِن شَاءَ الله

স্বপ্ন ব্যাখ্যার শিল্পে যে ব্যক্তি নিয়োজিত হবে, তার জন্য বাঞ্ছনীয় হলো সে যেন তাকওয়ার পোশাক পরিধান করে, নিজেকে সন্দেহজনক বিষয় থেকে রক্ষা করে এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে নিজ চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করে। তাকে মহান আল্লাহর ফরজসমূহ এবং তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর প্রতি যত্নবান হতে হবে। তাকে পূর্ববর্তী স্বপ্ন বিশারদ পণ্ডিতদের গ্রন্থাদি নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে, তাদের মূলনীতিসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও মুখস্থ রাখতে হবে যাতে প্রয়োজনের সময় কোনো বিষয় তার কাছে অস্পষ্ট না থাকে। তাকে সত্যবাদী, উন্নত স্বভাবের অধিকারী, চারিত্রিক পবিত্রতাসম্পন্ন, বিনয়ী, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, গোপনীয়তা রক্ষাকারী, সহনশীল, বুদ্ধিমান, শিষ্টাচারী, তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ও বিচক্ষণ হতে হবে। তাকে কুরআন ও এর অর্থসমূহ এবং রাসূলের হাদীস ও এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জ্ঞানী হতে হবে। জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়াবলীতে তাকে সুদৃঢ় হতে হবে। তার কাছে যেন আরবদের ভাষা, শব্দাবলী, কবিতা, প্রবাদ-প্রবচন, বিরল বাগধারা এবং বর্ণনাকারীদের উক্তি ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কথা অজানা না থাকে। তদ্রূপ সাহাবী ও তাবিঈগণের মধ্যে যারা স্বপ্ন ব্যাখ্যাকার ছিলেন তাদের মতপার্থক্য সম্পর্কেও তাকে অবগত হতে হবে। অতঃপর তিনি সেগুলো শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবেন এবং এর থেকে বিচ্যুত হবেন না যদি না এর কোনো বিশেষ উপযোগিতা থাকে। কারণ, তিনি যদি এই পথ অনুসরণ করেন, তবে তার এই শিল্পের প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ তার নিকট একত্রিত হবে, স্বপ্ন ব্যাখ্যা করা তার জন্য সহজ হয়ে যাবে, এর কঠিন ও দুর্বোধ্য বিষয়গুলো তার জন্য সুগম হবে এবং ইনশাআল্লাহ তিনি যা বলবেন ও করবেন তাতে তাকে সত্যনিষ্ঠ হিসেবে গণ্য করা হবে।

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
/ ب

‌‌فصل فِي ذكر وُجُوه التَّعْبِير، وأعدادها وكيفيتها

، وتعبير الرُّؤْيَا فِي مقالدير النَّاس ومراتبهم مذاهبهم وأديانهم وأوقاتهم وبلدانهم وأزمنتهم وفصول سُنَنهمْ وَهِي تبلغ خَمْسَة وَثَلَاثُونَ وَجها مِنْهَا التَّعْبِير بِالْكتاب وَالسّنة وبالأمثال والزجر وبالغال وبالاكتتاب وبمذاهب السوانح وبمذاهب أَصْحَاب البوارج وبالغير وبمذاهب أَصْحَاب الناطح والنطيح وبمذاهب أَصْحَاب الْقَاعِد والقعيد وبالشعر، وَالْقلب وبالنجوم، وبالطب، وبالعد والحساب وبالحروف وبإستقامات (الأساقي) وبالسعود وبالنحوس وبالزمان وبالمكان وبالبلدان وبالسمع وَالْبَصَر وبفعل السَّائِل وبالمثل وبالأيام وبالساعات وبالأوقات وبالشهور وبالأعوام وبالصدق وبالكذب فَأَما التَّعْبِير بِالْكتاب فَمثل من رَأْي فِي مَنَامه كَأَنَّهُ فِي سفينة فالسفينة نجاة من الْخَوْف لقَوْله تَعَالَى {فأنجيناه وَأَصْحَاب السَّفِينَة} وَمثل من رَأْي كَأَنَّهُ مُعَلّق بِحَبل فَإِنَّهُ

ব্যাখ্যা প্রদানের পদ্ধতিসমূহ, তাদের সংখ্যা এবং ধরন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

। মানুষের সামর্থ্য, মর্যাদা, মাজহাব, ধর্ম, সময়, শহর, কাল এবং তাদের রীতিনীতির পর্যায়ভেদে স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদানের পদ্ধতিসমূহ পঁয়ত্রিশটি দিকে উপনীত হয়। তার মধ্যে রয়েছে কুরআন দ্বারা ব্যাখ্যা, সুন্নাহ দ্বারা, প্রবাদ-প্রবচন দ্বারা, সতর্কবাণী দ্বারা, প্রাধান্য দ্বারা, লিখন পদ্ধতি দ্বারা, ডানদিকগামী প্রাণীর শুভলক্ষণ পদ্ধতি দ্বারা, বামদিকগামী প্রাণীর অশুভলক্ষণ অনুসারীদের পদ্ধতি দ্বারা, অন্যের দ্বারা, সম্মুখ ও পশ্চাৎমুখী প্রাণীর অনুসারীদের পদ্ধতি দ্বারা, উপবিষ্ট ও পার্শ্বস্থ ব্যক্তিদের পদ্ধতি দ্বারা, কবিতা দ্বারা, শব্দ পরিবর্তন দ্বারা, নক্ষত্রবিদ্যা দ্বারা, চিকিৎসাশাস্ত্র দ্বারা, গণনা ও হিসাব দ্বারা, বর্ণমালা দ্বারা, স্থিরতা ও সুবিন্যস্ততা দ্বারা, সৌভাগ্য দ্বারা, দুর্ভাগ্য দ্বারা, কাল দ্বারা, স্থান দ্বারা, শহরসমূহ দ্বারা, শ্রবণ ও দর্শন দ্বারা, প্রশ্নকারীর কাজ দ্বারা, উপমা দ্বারা, দিনসমূহ দ্বারা, ঘণ্টাসমূহ দ্বারা, সময়সমূহ দ্বারা, মাসসমূহ দ্বারা, বছরসমূহ দ্বারা এবং সত্য ও মিথ্যা দ্বারা। কুরআন দ্বারা ব্যাখ্যার উদাহরণ হলো যেমন কেউ স্বপ্নে দেখল যে সে একটি নৌকায় আছে; এক্ষেত্রে নৌকা হলো ভয় থেকে মুক্তি, কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর আমি তাকে এবং নৌকার আরোহীদের রক্ষা করলাম।" অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি দেখল যেন সে একটি রশি ধরে ঝুলে আছে, তবে এটি...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أ … . مكابد فَإِنَّهُ مكابد ومحار يَفِ لقَوْله تَعَالَى: {فألقو أحبالهم وعصيهم} وَمثل من رَأْي مائدةً عَلَيْهَا طَعَام، فَإِنَّهُ رزق واستجابة دَعوه، لقَوْله تَعَالَى {رَبنَا أنزل علينا مَادَّة من السَّمَاء} ، وَمثل من يرى الْبَيْضَة فِي مَنَامه فَإِن تَأْوِيلهَا ابْنه أَو شَرِيكه لقَوْله تَعَالَى {كأنهن بيض مَكْنُون} وَأما التَّعْبِير بِالسنةِ مُمكن رَأْي فِي مَنَامه كَأَنَّهُ وَقع فِي بر فَإِنَّهُ يُصِيبهُ مَكْرُوه ومكيده لقَوْله صلى الله عليه وسلم البئير جَبَّار وَمن رَأْي ديكا فِي مَنَامه فَإِنَّهُ يرى مُؤذنًا أَو يُولد لَهُ ولدا يُؤذن للنَّاس لقَوْله صلى الله عليه وسلم الديك صديقي وَهُوَ يَدْعُو إِلَى الصَّلَاة وَكَمن رَأْي فَزعًا ورعباً فِي رُؤْيَاهُ فَإِن تَأْوِيله النصره والظفره عَليّ الْأَعْدَاء قَوْله صلى الله عليه وسلم " نصرت بِالرُّعْبِ " وَمثله قَوْله صلى الله عليه وسلم أحب الْقَيْد فِي النّوم وأكره الفل، والقيد ثبات والفل كفر وَأما التَّعْبِير بالأمثال فَمثل من رَأْي فِي مَنَامه كَأَنَّهُ يختطب فَإِن تَأْوِيله المتجسس وتيتبع الْأَخْبَار، والتقاط الْأَحَادِيث لقَولهم، فلَان يُخَاطب. .
অ …। কষ্টসাধ্য; কারণ সে কষ্টভোগকারী ও বিবাদকারী, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠিগুলো নিক্ষেপ করল।" এবং যে ব্যক্তি খাবারে পূর্ণ কোনো দস্তরখান দেখে, তবে তা রিজিক এবং দোয়া কবুল হওয়ার লক্ষণ, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি দস্তরখান অবতীর্ণ করুন।" আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে ডিম দেখে, তবে তার ব্যাখ্যা হলো তার পুত্র অথবা তার অংশীদার, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "যেন তারা সুরক্ষিত ডিম।" আর সুন্নাহর মাধ্যমে ব্যাখ্যা হলো, যেমন কেউ যদি স্বপ্নে দেখে যে সে কোনো কূপে পড়ে গিয়েছে, তবে সে কোনো অপছন্দনীয় বিষয় বা ষড়যন্ত্রের শিকার হবে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: "কূপের ক্ষয়ক্ষতি বা আঘাত বৃথা।" আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে মোরগ দেখে, তবে সে কোনো মুয়াজ্জিনকে দেখবে অথবা তার এমন কোনো সন্তান জন্ম নেবে যে মানুষের জন্য আজান দেবে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: "মোরগ আমার বন্ধু এবং সে নামাজের দিকে আহ্বান করে।" আর যেমন কেউ যদি তার স্বপ্নে আতঙ্ক ও ভীতি দেখে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো শত্রুদের ওপর সাহায্য ও বিজয় লাভ করা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: "আমাকে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে।" এর অনুরূপ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী: "আমি স্বপ্নে পায়ে শিকল পরা পছন্দ করি এবং গলায় বেড়ি পরা অপছন্দ করি; পায়ে শিকল হলো দ্বীনের ওপর অবিচলতা এবং গলায় বেড়ি হলো কুফরি।" আর প্রবাদের মাধ্যমে ব্যাখ্যা হলো, যেমন কেউ যদি স্বপ্নে দেখে যে সে লাকড়ি সংগ্রহ করছে, তবে তার ব্যাখ্যা হলো গোয়েন্দাগিরি করা, সংবাদ অনুসন্ধান করা এবং কথাবার্তা কুড়ানো; তাদের প্রবাদ অনুযায়ী: "অমুক ব্যক্তি লাকড়ি সংগ্রহ করছে (অর্থাৎ গীবত বা অসার কথা ছড়াচ্ছে)।"
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
/ ب. . اللَّيْل وَقَوْلهمْ لكل سقطه من الْكَلَام لاقطه وَمثل من رَأْي كَلْبا يبصبحى حوله فَإِن ذَلِك إِنْسَان دني سَفِيه يطْمع فِيهِ لقَوْله إجمع كلبك يتبعك وَمثل من رَأْي، إِنَّه يُحَاسب حِسَاب عِلّة كَأَنَّهُ وبيدر، فَإِن تَأْوِيله محنة يمْتَحن بهَا لقَولهم، الْحساب عِنْد البيدر وَقَوله صلى الله عليه وسلم من نُوقِشَ الْحساب عذب وَأما التَّعْبِير بالزجر والفال فَمثل من قويت همته على أَمر فَرَأى فِي مَنَامه قطيعاً من الْغنم غنيمَة لرابها: وَقَالَ الله تَعَالَى {فَكُلُوا مِمَّا غتنمتم حَلَالا طيبا} ، فَإِن استقبله طَار فَإِنَّهُ لَا تقضى حَاجته لِأَن الطيره رُبمَا فَإِن من الْيَد فَلَا يصل إِلَيْهِ فَإِن استقبله دئب فَإِن عَاقِبَة ذَلِك الْأَمر إِلَى ذل وهوان وَأما التَّعْبِير بالكتف، فَمن رَأْي كشط لَحْمًا عَن كتف، لينْظر فِيهِ دلا يل الْمَطَر، فرأي فِيهِ عروقا ونقطا فَإِنَّهَا تدل عَليّ كثره الأمطار فَإِن نظر فِيهِ استدلا لَا فَإِن السّنة وعاهاتها ورأ فِيهَا عروقاً، حمراً فَإِن ذَلِك يدل على أَنه لَا يكون فِي السّنة آفَة وَلَا عاهة
/ খ. . রাত এবং তাদের প্রবাদ হলো: "প্রত্যেকটি স্খলিত বাক্যের একজন সংগ্রাহক থাকে"। আর যে ব্যক্তি দেখল যে একটি কুকুর তার চারপাশে ঘেউ ঘেউ করছে, তবে সেটি একজন নীচ ও নির্বোধ ব্যক্তি যে তার প্রতি লালসা রাখে; কারণ প্রবাদ আছে: "তোমার কুকুরকে কাছে রাখো, সে তোমাকে অনুসরণ করবে"। আর যে ব্যক্তি দেখল যে তাকে শস্য মাড়াইয়ের খামারে কঠিন হিসাব দিতে হচ্ছে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো এমন এক পরীক্ষা যার মাধ্যমে তাকে যাচাই করা হবে; কারণ প্রবাদ আছে: "হিসাব হয় খামারের নিকট"। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যার হিসাব নিয়ে সূক্ষ্মভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে।" আর অশুভ লক্ষণ ও সুলক্ষণের মাধ্যমে ব্যাখ্যার উদাহরণ হলো—যেমন কোনো ব্যক্তির কোনো বিষয়ে সংকল্প প্রবল হলো, অতঃপর সে স্বপ্নে একপাল বকরী দেখল, যা তার জন্য গনীমত স্বরূপ; মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর তোমরা যা গনীমত হিসেবে লাভ করেছ, তা থেকে হালাল ও পবিত্র হিসেবে ভক্ষণ করো}। কিন্তু যদি তার সামনে দিয়ে কোনো পাখি উড়ে যায়, তবে তার প্রয়োজন পূর্ণ হবে না; কারণ পাখি উড়ে যাওয়া বা অশুভ লক্ষণ অনেক সময় হাতের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে যায়, ফলে তা আর তার হস্তগত হয় না। আর যদি তার সামনে নেকড়ে আসে, তবে সেই বিষয়ের পরিণাম লাঞ্ছনা ও অপমানের দিকে যাবে। আর কাঁধের হাড়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে—যে ব্যক্তি বৃষ্টির লক্ষণ দেখার জন্য কাঁধের হাড় থেকে মাংস ছাড়িয়ে নিল এবং তাতে রগ ও বিন্দু দেখতে পেল, তবে তা অধিক বৃষ্টির প্রতি নির্দেশ করে। আর যদি সে বছরের অবস্থা ও তার আপদসমূহ দেখার জন্য তাতে লক্ষ্য করে এবং সেখানে লাল বর্ণের রগ দেখতে পায়, তবে তা নির্দেশ করে যে সেই বছরে কোনো বিপদ বা দুর্যোগ হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
أَفَإِن نظر فِيهِ الوبا، فَإِن الْحمر فِيهِ سَلامَة والصفرة مرض والحمرة على الجانبه الْأَيْمن يدل على طول الْمَرَض والسواد يدل على النجَاة والتلطخ بالحمرة والسواد بخطوط طوالٍ، تدل على الْهلَال، وَأما التَّعْبِير على مَذْهَب أَصْحَاب السوانح فكمن رَأْي فِي الْمَنَام شَيْئا من السوانح وَالدَّوَاب وَالنَّاس والطيور وَالسِّبَاع تأني عَن يسَاره محاوراً إِلَى الْيَمين فَذَلِك دَلِيل على دفع الأحزان عَنهُ وَصرف والهوان عَنهُ وَتَكون عاقبته إِلَى خير وَذَلِكَ إِذا كَانَ حسن ذَلِك الشَّيْء صَالحا فِي التَّأْوِيل فَأَما إِذا كَانَ ذَلِك الشَّيْء غير صَالح فالتأويل بالضدد وَأما التَّعْبِير عَليّ مَذْهَب أَصْحَاب البوارخ، فَمثل من يرى فِي مَنَامه كَأَن شَيْئا من الْأَشْيَاء بِأَنِّي عَن يَمِينه ويمر على يسَاره محينئذ غير ذَلِك خيرا إِن كَانَ ذَلِك الشَّيْء فِي أصُول الْعبارَة، حسن الْوَجْه وَإِلَّا فالضد وَأما الْبحار والأودية والأنهار والبرك والغدران وَالْكَوَاكِب وَمَا أشبه ذَلِك وَجَمِيع انآن الدَّوَابّ، والوحش، وَالطير، والهوام يدل على النِّسَاء والجواري وَكَذَلِكَ الاوز كلهَا إِلَّا العمائم
যদি তাতে মহামারির চিহ্ন দেখা যায়, তবে লালাভ বর্ণ তাতে সুস্থতার লক্ষণ, পীতবর্ণ অসুস্থতা এবং ডান দিকে লাল বর্ণ রোগের দীর্ঘস্থায়িত্ব নির্দেশ করে। কালো বর্ণ বিপদমুক্তির প্রমাণ এবং দীর্ঘ রেখাবিশিষ্ট লাল ও কালো রঙের সংমিশ্রণ ধ্বংসের ইঙ্গিত দেয়। আর 'সাওয়ানিহ' পন্থীদের মাযহাব অনুযায়ী স্বপ্নের ব্যাখ্যা হলো—যেমন কেউ স্বপ্নে কোনো সুলক্ষণযুক্ত বস্তু, চতুষ্পদ জন্তু, মানুষ, পাখি কিংবা হিংস্র প্রাণীকে তার বাম দিক থেকে ডান দিকে মোড় নিতে দেখে, তবে তা তার থেকে দুঃখ-দুর্দশা দূর হওয়া এবং লাঞ্ছনা অপসারিত হওয়ার প্রমাণ; এর পরিণাম কল্যাণের দিকে ধাবিত হয়। এটি তখন প্রযোজ্য যখন স্বপ্নদৃষ্ট বস্তুটি ব্যাখ্যার বিচারে কল্যাণকর হয়, আর অকল্যাণকর হলে এর ব্যাখ্যা হবে বিপরীত। আর 'বাওয়ারিখ' পন্থীদের মাযহাব অনুযায়ী ব্যাখ্যা হলো—যেমন কেউ স্বপ্নে দেখে যে কোনো একটি বস্তু তার ডান দিক থেকে এসে বাম দিকে চলে যাচ্ছে, এমতাবস্থায় যদি সেই বস্তুটি ব্যাখ্যাতত্ত্বের মূলনীতি অনুযায়ী সুন্দর অবয়ব সম্পন্ন হয় তবে তা কল্যাণের লক্ষণ, অন্যথায় বিপরীত। আর সমুদ্র, উপত্যকা, নদী, পুকুর, জলাশয়, নক্ষত্রপুঞ্জ ও এই জাতীয় সব বিষয় এবং চতুষ্পদ জন্তু, বন্যপ্রাণী, পাখি ও কীটপতঙ্গের স্ত্রীলিঙ্গসমূহ নারী ও দাসীদের পরিচায়ক। অনুরূপভাবে রাজহাঁসসমূহও একই অর্থ বহন করে, তবে পাগড়ি এর ব্যতিক্রম।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ب … وَكلما يؤنث فِي اللُّغَة مِنْهَا المنارة والقمقمه والأكف والسراج وَالْكَوَاكِب المؤنثة مثل الزهرة والسنبلة والجواهر المتقويه كاللألي والخرزات وَالْخَوَاتِيم، وعماد السيوف وَالنعال، والخفاف والصنادل وكل شَيْء يُمكن إِدْخَال الْيَد فِيهِ، فَإِنَّهَا كلهَا نسوه وجواري وخدم إناث وصفار كل شَيْء زوج، فأولادها تدل على صغَار بني أَدَم وأطفالها ذكورها وذكورهم إناثها وإناثهم وَمَا على الْإِنْسَان من الْجَوَارِح الَّتِي تدل على الْأَوْلَاد الْعين والثدي، وَالْأُذن والأصابع وَالْيَد والأسنان، وَالْأنف وَالدَّوَاب والصدغات وَالذكر، والخصيات، واما الْأَشْيَاء الدَّالَّة على المَال فجلود الْحَيَوَان ودوات الْأَرْوَاح ولحومها وأرواثها وَأَشْعَارهَا وأصوافها وأوبارها، وَجَمِيع الْحُبُوب والغلات والدقيق والعجين وأنواع الْخبز وأوراق الْأَشْجَار وَجَمِيع الاثبان وَالتُّرَاب والرمال والحصي والأمطار والجليه، والثلج وَالْبرد والجمده والمياة الصاخبة غير الْعَالِيَة كلهَا أمال قليلها وكثيرها
ব … এবং ভাষায় যা কিছু স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়, যেমন: মিনার, কুঁজো, হাতের তালু, প্রদীপ এবং স্ত্রীলিঙ্গীয় নক্ষত্রসমূহ যেমন—শুক্র ও কন্যারাশি; আর শক্তিশালী রত্নরাজি যেমন—মুক্তা, পুঁতি ও আংটি; এবং তলোয়ারের হাতল, জুতা, মোজা, স্যান্ডেল এবং এমন প্রতিটি বস্তু যাতে হাত প্রবেশ করানো সম্ভব, এই সবই নারী, দাসী ও নারী সেবিকা নির্দেশ করে। প্রতিটি জোড় বস্তুর ক্ষুদ্রাংশসমূহ হলো সন্তান, যা মানবসন্তানদের ছোটদের ওপর দালালত করে; তাদের শিশুরা তাদের পুরুষদের এবং তাদের পুরুষরা তাদের নারীদের এবং তাদের নারীরা তাদের পুরুষদের নির্দেশ করে। আর মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে যা কিছু সন্তানের ওপর দালালত করে তা হলো—চোখ, স্তন, কান, আঙুল, হাত, দাঁত, নাক, পশম, কপালে ঝুলে থাকা চুল, পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডকোষ। আর সম্পদের ওপর দালালতকারী বিষয়গুলো হলো—পশুর চামড়া, প্রাণীকুল, তাদের গোশত, গোবর, পশম, উল ও লোম; এবং সকল প্রকার শস্য, ফসল, আটা, খামির, বিভিন্ন প্রকার রুটি, গাছের পাতা, সকল প্রকার খড়, মাটি, বালু, কঙ্কর, বৃষ্টি, শিশির, বরফ, শিলাবৃষ্টি, জমাট তুষার এবং উত্তাল কিন্তু প্লাবনহীন পানি—এসবের অল্প ও বিস্তার সবই সম্পদের পরিচায়ক।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
/ أفأول مَا تعرض الرُّؤْيَا على كتاب الله تَعَالَى فَإِن وجدلها مخرجا فَلَا تعبر إِلَّا بِهِ وفالحبل عبرته عُلَمَاؤُنَا رضي الله عنهم بالعهد أخذا من قَوْله تَعَالَى {واعتصموا بِحَبل الله جَمِيعًا} وَقَوله {إِلَّا بِحَبل من الله وحبل من النَّاس} وكاللباس عبروه بِالنسَاء من قَوْله تَعَالَى {هن لِبَاس لكم وَأَنْتُم لِبَاس لَهُنَّ} وَكَذَلِكَ الْبيض عبروه بِالنسَاء أحدا من قَوْله تَعَالَى {كأنهن بيض مَكْنُون} وكالحجاره أَو أَشد قسوة وكالخشب عبر بالنفاق وأخذاً من قَوْله تَعَالَى فِي صفة الْمُنَافِقين {كَأَنَّهُمْ خشب مُسندَة} وكالسفينة، عبرت بالنجاة أخذا من قَوْله تَعَالَى {فأنجيناه وَأَصْحَاب السَّفِينَة} وَلَو ظصبنا مَا فِي الْقُرْآن الْعَظِيم لطال الْكتاب، وللمقصود مِثَال أَو مثالان لينبني على ذَلِك أَمر هَذَا الْعلم فَإِن عدم التَّأْوِيل من كتاب الله تَعَالَى عرض عَليّ سنة نَبينَا مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم كالقوارير عبرت بِالنسَاء

সুতরাং স্বপ্নের ব্যাখ্যা সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কিতাবের সামনে পেশ করা উচিত। যদি তাতে কোনো সমাধান পাওয়া যায়, তবে তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। যেমন 'রশি'-কে আমাদের আলেমগণ (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মহান আল্লাহর বাণী "তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো" এবং তাঁর বাণী "আল্লাহর পক্ষ থেকে রশি এবং মানুষের পক্ষ থেকে রশি ব্যতীত" থেকে প্রমাণ গ্রহণ করে 'অঙ্গীকার' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তেমনি 'পোশাক'-কে তাঁরা মহান আল্লাহর বাণী "তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক" থেকে গ্রহণ করে 'নারী' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। একইভাবে 'ডিম'-কে তাঁরা মহান আল্লাহর বাণী "যেন তারা সুরক্ষিত ডিম" থেকে গ্রহণ করে 'নারী' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এবং যেমন পাথর বা তার চেয়েও বেশি কঠোরতা। আর 'কাঠ'-কে কপটতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, যা মুনাফিকদের গুণাগুণ সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী "তারা যেন দেওয়ালে ঠেস দেওয়া কাঠ" থেকে নেওয়া হয়েছে। তেমনি 'নৌকা'-কে মুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, যা মহান আল্লাহর বাণী "অতঃপর আমি তাকে এবং নৌকারোহীদের রক্ষা করলাম" থেকে গৃহীত। যদি আমরা মহান কুরআনে বিদ্যমান সব বিষয় বিস্তারিত বর্ণনা করতে চাই, তবে গ্রন্থটি অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। মূল উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য এক বা দুটি উদাহরণই যথেষ্ট, যাতে এই শাস্ত্রের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি মহান আল্লাহর কিতাবে কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়া যায়, তবে তা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর প্রতি পেশ করতে হবে; যেমন 'কাঁচের পাত্র'-কে 'নারী' হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
/ ب … أخذا من قَوْله صلى الله عليه وسلم يَا أبخشه رفقا بِالْقَوَارِيرِ، يَعْنِي النِّسَاء والغراب والفأره والحيه والكب والعقود عبر ذَلِك بِالْفَسَادِ، أخذا من قَوْله عليه السلام: خمس (فواسق) يقتلن فِي الْحل وَالْحرم، وكالضلع عبر بِالْمَرْأَةِ أخذا من قَوْله عليه السلام: إِن الْمَرْأَة خلقت من ضلع فَإِن كَانَ هُوَ عليه السلام، تولي التَّفْسِير، بِنَفسِهِ، فنأهيك، بِهِ حجَّة وَوَجَب إتياعه كَمَا رُوِيَ عَنهُ أنس إِنَّه قَالَ رَأَيْت البارحة كَانَا فِي دَار عقبَة ابْن رَافع وأتينا برطب أرطاب، فناولتان الرّفْعَة لنا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَإِن ديننَا قد طَابَ، فَأخذ صلى الله عليه وسلم الرّفْعَة من رَافع، وَأخذ طيب الدّين من طيب الرطب وَمن لفظ طَابَ وَلقَوْله صلى الله عليه وسلم بَينا أَنا نَائِم رَأَيْت النَّاس، عرضوا عَليّ وَعَلَيْهِم قمص فَمِنْهَا مَا يبلغ الثدي وَمِنْهَا مَا يبلغ دون ذَلِك، وَعرض عَليّ عمر ابْن الْخطاب رضي الله عنه وَعَلِيهِ قَمِيص يجره قَالُوا فَمَا أولته يَا رَسُول الله قَالَ الدّين فَإِن يجد فِي السّنة، أعرضه على تَفْسِير الصَّحَابَة
/ ব … রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "হে আনজাশাহ, কাঁচের পাত্রগুলোর প্রতি কোমল হও" থেকে সংগৃহীত, যার অর্থ হলো নারীগণ। এবং কাক, ইঁদুর, সাপ, কুকুর ও বিচ্ছু—এগুলোকে বিপর্যয় (ফাসাদ) হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালামের এই বাণী থেকে নেওয়া: "পাঁচটি ক্ষতিকারক প্রাণী রয়েছে যা হারামে এবং হারামের বাইরেও হত্যা করা যাবে।" আর পাজরের হাড়কে নারী হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালামের এই বাণী থেকে নেওয়া: "নিশ্চয়ই নারীকে পাজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।" যদি তিনি (আলাইহিস সালাম) নিজেই সরাসরি ব্যাখ্যা প্রদান করেন, তবে সেটিই দলিল হিসেবে যথেষ্ট এবং তা অনুসরণ করা ওয়াজিব; যেমন আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, আমি গত রাতে স্বপ্নে দেখলাম যেন আমরা উকবা ইবনে রাফি'-এর ঘরে আছি এবং আমাদের কাছে ইবনে তাবের কিছু তাজা খেজুর আনা হয়েছে। আমি এর ব্যাখ্যা করলাম যে, দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের জন্য উচ্চমর্যাদা (রিফ'আত) রয়েছে এবং আমাদের দ্বীন উত্তম (তাবে) হয়েছে। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'রাফি' নাম থেকে উচ্চমর্যাদা গ্রহণ করেছেন এবং খেজুরের মিষ্টতা ও 'তবা' শব্দ থেকে দ্বীনের মাধুর্য গ্রহণ করেছেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: "আমি ঘুমন্ত অবস্থায় দেখলাম যে, মানুষেরা আমার সামনে পেশ করা হচ্ছে এবং তাদের গায়ে কামিজ রয়েছে; কারোটি বুক পর্যন্ত পৌঁছেছে, কারোটি তার নিচে। আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে আমার সামনে পেশ করা হলো এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর কামিজটি টেনে চলছেন। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেছেন? তিনি বললেন: দ্বীন।" যদি সুন্নাহতে (কোনো ব্যাখ্যা) না পাওয়া যায়, তবে তা সাহাবায়ে কেরামের ব্যাখ্যার আলোকে উপস্থাপন করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাতু ইলা ইলমিল ইবারাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
/ أ … كنحو مَا رُوِيَ عَن الحكم أَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عمر ابْن الْخطاب رضي الله عنه وَجه قَاضِيا إِلَى الشَّام فَسَار ثمَّ رَجَعَ من الطَّرِيق فَقَالَ لَهُ الإِمَام عمر، مَا الَّذِي ردك، قَالَ رَأَيْت فِي الْمَنَام كَأَن الشَّمْس وَالْقَمَر يقتتلا، وَكَأن الْكَوَاكِب بَعْضهَا مَعَ الشَّمْس وَبَعضهَا مَعَ الْقَمَر فَقَالَ لَهُ عمر رضي الله عنه مَعَ أَيهمَا كنت فَقَالَ مَعَ الْقَمَر فَقَالَ انْطلق لَا تعْمل عملا أبدا قَالَ الله تَعَالَى {فمحونا آيَة اللَّيْل وَجَعَلنَا آيَة النَّهَار مبصرة} ورأي عمر ابْن الْخطاب رضي الله عنه، كَأَن ديكاً نظرة نظرة أَو فقرتين فأوله أَن رجلا من الْعَجم سيقتله وَقَالَ رَبِيعه ابْن أُميَّة ابْن خلف لأبي بكر الصّديق رضي الله عنه رَأَيْت كَأَنِّي فِي أَرض مخصبة فأقضيت إِلَى أَرض نجدية، ورأيتك قد جمعت بدل إِلَى عُنُقك وَأَنت إِلَى جنب بشر إِبْنِ أبي الْحسن فَقَالَ لَهُ الصّديق إِن صدقت رُؤْيَاك خرجت من الْإِيمَان إِلَى الْكفْر وَأما أَنا جمع لي، أَمْرِي فِي أَشد الْأَشْيَاء وَلم أذلّ فِي سرُور إِلَى يَوْم الْحَشْر فَكَانَ كَمَا قَالَ رضي الله عنه، فَإِن لم
/ অ … যেমন হাকাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু শামের উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তিকে বিচারক হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি যাত্রা শুরু করলেন, অতঃপর পথ থেকে ফিরে এলেন। তখন ইমাম উমর তাকে বললেন, "তোমাকে কিসে ফিরিয়ে আনল?" তিনি বললেন, "আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন সূর্য ও চন্দ্র যুদ্ধ করছে এবং নক্ষত্ররাজির কিছু অংশ সূর্যের সাথে আর কিছু অংশ চন্দ্রের সাথে রয়েছে।" উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কোন পক্ষে ছিলে?" তিনি বললেন, "চন্দ্রের পক্ষে।" তখন তিনি (উমর) বললেন, "চলে যাও, তুমি আমার জন্য আর কখনো কোনো কাজ করবে না।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর আমি রাতের নিদর্শনকে মুছে ফেলেছি এবং দিনের নিদর্শনকে করেছি আলোকোজ্জ্বল}। আর উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু স্বপ্নে দেখেছিলেন যেন একটি মোরগ তাকে একটি বা দুটি ঠোকর দিল; তিনি এর ব্যাখ্যা করলেন যে, অনারবদের মধ্যে কোনো এক ব্যক্তি তাকে হত্যা করবে। রবীআ ইবনে উমাইয়া ইবনে খালাফ আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন, "আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি একটি উর্বর ভূমিতে রয়েছি, অতঃপর সেখান থেকে একটি শুষ্ক নজদীয় ভূমিতে গিয়ে পৌঁছালাম। আর আপনাকে দেখলাম যে আপনার হাত আপনার গলার সাথে গুটিয়ে রাখা হয়েছে এবং আপনি বিশর ইবনে আবিল হাসানের পাশে রয়েছেন।" তখন সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, "যদি তোমার স্বপ্ন সত্য হয়, তবে তুমি ঈমান থেকে বেরিয়ে কুফরের দিকে চলে যাবে। আর আমার ব্যাপারে ব্যাখ্যা হলো, আমার সকল বিষয় অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে সংগৃহীত হয়েছে এবং হাশরের দিন পর্যন্ত আমি আনন্দেই থাকব।" অতঃপর বিষয়টি তেমনই ঘটেছিল যেমন তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন। যদি না