(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: -)
تعبير الرؤيا   (ابن غنام، إبراهيم)

القسم: علوم أخرى


الكتاب: تعبير الرؤيا (مخطوط)

المؤلف: إبراهيم بن يحيى بن غنام، أبو طاهر الحراني المقدسي النميري الفقيه الحنبلي المُعَبِّر (ت نحو 779هـ)

الناشر: صورة مخطوطة - مكتبة الجامعة الأردنية

عدد الأجزاء: 1

[الكتاب مخطوط]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

স্বপ্ন ব্যাখ্যা   (ইবনে ঘান্নাম, ইব্রাহিম)

বিভাগ: অন্যান্য বিজ্ঞান


গ্রন্থ: স্বপ্ন ব্যাখ্যা (পাণ্ডুলিপি)

লেখক: ইব্রাহিম বিন ইয়াহইয়া বিন ঘান্নাম, আবু তাহের আল-হাররানি আল-মাকদিসি আল-নামিরি, হাম্বলী ফকিহ ও স্বপ্ন বিশারদ (মৃত্যু আনুমানিক ৭৭৯ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি - জর্ডান ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه الْإِعَانَة

 

الْحَمد لله الَّذِي جعل النّوم رَاحَة للأجساد، ثمَّ توفى انفسنا عِنْد حُلُول الرقاد، فَيمسك الَّتِي قضى عَلَيْهَا الْمَوْت الى يَوْم التناد، وَيُرْسل الْأُخْرَى الى أجل مُسَمّى فَلَا ينقص الْأَجَل وَلَا يُزَاد

جعل الرُّؤْيَا جُزْءا من النُّبُوَّة ووحيا إِلَى الْعباد، فَمِنْهَا بِشَارَة للطائعين بِمَا حصلوا من الزَّاد وَمِنْهَا نذارة للعاصين لما أَحْدَثُوا من الْفساد.

فنسأل الله الْعَفو وَالْمَغْفِرَة يَوْم يقوم الأشهاد وَخير من سُئل جلّ عَن الْأَمْثَال والأنداد جعل السَّمَاء سقفا مَحْفُوظًا بِلَا عماد وسطح الأَرْض على يتأر المَاء وَجعل الْجبَال لَهَا كالأوتاد لطفا مِنْهُ لِئَلَّا تميد بالعباد.

اصْطفى مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم

فَأرْسلهُ الى كل حَاضر وباد

صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله مَا هطل غمام وسال وَاد

قَالَ أَبُو طَاهِر إِبْرَاهِيم بن يحيى بن غَنَّام الْحَنْبَلِيّ الْمعبر غفر الله لَهُ

لما رَأَيْت كثيرا من المعبرين المؤلفين الْكتب للسائلين من المختصرات والمطولات فِيمَا يسأم المتطلع فِي شرحهم الطَّوِيل وَلَا يحصل لَهُ من الْمُخْتَصر إِلَّا الْقَلِيل

اخْتَرْت أَن أؤلف كتابا على حُرُوف المعجم ليَكُون بَين كتبهمْ كَالْعلمِ ويسهل على كل طَالب وراغب يقْرَأ وَيفرق مَا بَين الرُّؤْيَا الْبَاطِلَة والبشرى

وَيَأْخُذ من كل حرف تَفْسِير مَا رأى من غير تَعب وَلَا عناد من كل حرف ينْطق بِهِ صَاحب الرُّؤْيَا مَعَ شَاهد من التَّفْسِير كبشارة وتحذير

ثمَّ جعلت فِي صدر الْكتاب أَربع عشرَة مقَالَة: الْمقَالة الأولى: فِي مَاهِيَّة الرُّؤْيَا، الْمقَالة الثَّانِيَة: فِي آدَاب الْمعبر

الْمقَالة الثَّالِثَة: فِي آدَاب النَّائِم

الْمقَالة الرَّابِعَة فِي كَيْفيَّة الرُّؤْيَا

الْمقَالة الْخَامِسَة:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই সাহায্যে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিদ্রাকে শরীরের জন্য প্রশান্তি করেছেন, অতঃপর নিদ্রার আগমনে আমাদের প্রাণ হরণ করেন। এরপর যার মৃত্যু অবধারিত করেছেন তাকে হাশরের দিন পর্যন্ত আটকে রাখেন এবং অপরটিকে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ছেড়ে দেন, আর সেই নির্ধারিত সময় কমানো বা বাড়ানো হয় না।

তিনি স্বপ্নকে নবুওয়াতের একটি অংশ এবং বান্দাদের প্রতি ওহি (বার্তা) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তার মধ্যে আনুগত্যকারীদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ—যা তারা পাথেয় হিসেবে অর্জন করেছে, এবং পাপাচারীদের জন্য রয়েছে সতর্কবার্তা—যা তারা পাপাচারের মাধ্যমে লিপ্ত হয়েছে।

সুতরাং আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করি সেই দিনের জন্য যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে। তিনি শ্রেষ্ঠ সত্তা যার নিকট প্রার্থনা করা হয়, তিনি উপমা ও সমকক্ষতা থেকে মহান। তিনি আকাশকে খুঁটিহীন সুরক্ষিত ছাদ বানিয়েছেন এবং পানির উপরে জমিনকে বিস্তৃত করেছেন। আর পাহাড়সমূহকে জমিনের জন্য পেরেকের মতো স্থাপন করেছেন তাঁর অনুগ্রহস্বরূপ, যেন তা বান্দাদের নিয়ে নড়ে না যায়।

তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেছেন।

অতঃপর তাঁকে প্রতিটি নগরবাসী ও মরুবাসীর কাছে প্রেরণ করেছেন।

তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যতক্ষণ মেঘমালা বর্ষণ করে এবং নদী প্রবাহিত হয়।

স্বপ্ন বিশারদ আবু তাহির ইবরাহিম বিন ইয়াহইয়া বিন গান্নাম আল-হানবালি (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন:

আমি যখন দেখলাম অনেক স্বপ্ন বিশারদ জিজ্ঞাসুদের জন্য সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘ বই লিখেছেন, যেখানে পাঠক তাদের দীর্ঘ ব্যাখ্যায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সংক্ষিপ্ত বই থেকে খুব সামান্যই লাভ করতে পারে,

তখন আমি বর্ণানুক্রমিক একটি বই সংকলন করতে মনস্থ করলাম, যাতে তা অন্যান্য বইয়ের মাঝে একটি নিদর্শনের মতো হয় এবং প্রত্যেক অন্বেষণকারী ও আগ্রহী ব্যক্তির জন্য তা পাঠ করা সহজ হয় এবং সে মিথ্যা স্বপ্ন ও সুসংবাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।

আর সে প্রতিটি বর্ণ থেকে বিনা পরিশ্রমে ও কষ্টে তার দেখা স্বপ্নের ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে পারবে; স্বপ্নদ্রষ্টা যে বর্ণই উচ্চারণ করবে, সেটির মাধ্যমেই সে সুসংবাদ বা সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যার প্রমাণ খুঁজে পাবে।

এরপর আমি বইটির শুরুতে চৌদ্দটি পরিচ্ছেদ রেখেছি: প্রথম পরিচ্ছেদ: স্বপ্নের স্বরূপ প্রসঙ্গে, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্বপ্ন বিশারদের আদব প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিদ্রাকারীর আদব প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: স্বপ্নের ধরণ প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ:
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ৩)
فِي ذكر ملك الرُّؤْيَا

الْمقَالة السَّادِسَة: فِي أَقسَام الرُّؤْيَا

الْمقَالة السَّابِعَة الَّتِي هِيَ تحزين من الشَّيْطَان وَلَا تعد من الرُّؤْيَا

الْمقَالة الثَّامِنَة: الَّتِي هِيَ من همة النَّفس الْمقَالة التَّاسِعَة: فِي الْأَوْقَات الَّتِي تصح فِيهَا الرُّؤْيَا

الْمقَالة الْعَاشِرَة: فِي قُوَّة الرُّؤْيَا وضعفها

الْمقَالة الْحَادِيَة عشر: فِي الأضغاث

الْمقَالة الثَّانِيَة عشر فِي الشُّهُور الْعَرَبيَّة وَالْأَيَّام

الْمقَالة الثَّالِثَة عشر فِي المختارين من مشاهير المعبرين وهم مائَة رجل فِي خَمْسَة عشر طبعة

الْمقَالة الرَّابِعَة عشر: آدَاب الْقَاص لرؤيا وَهِي آخر المقالات.

ثمَّ بدأت بِالْألف من كل اسْم يرد فِي التَّعْبِير وختمت الْكتاب بِالْيَاءِ غير أَنِّي جعلت للضياع ذكرا فِي حرف اليا

الْمقَالة الاولى: فِي مَاهِيَّة الرُّؤْيَا قَالَ الْمُسلمُونَ اذا صفا الدَّم والبلغم واعتدلت الطبايع وصفت غشي بخارها نَام الانسان فَنَامَ سَرِيعا، وَإِذا اخْتلفت وتكدرت لم يَأْخُذهُ نوم. وَقَالَ ارطاميدورس: إِن الْمَرْء إِذا اسْتعْمل حواسه واتبعا ضعفت وانحل رباطه حَتَّى لَا يكَاد يحس شَيْئا فسكن ونام وَذَلِكَ لِأَن الْحَواس قوامها بِالروحِ فَإِذا تعبت الرّوح حن الرّوح إِلَى السّكُون.

الْمقَالة الثَّانِيَة: فِي آدَاب الْمعبر:

كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا قصت عَلَيْهِ رُؤْيا قَالَ: (خيرا تَلقاهُ، وشرا توقاه، وَخير لنا وَشر لأعدائنا وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين إقصص رُؤْيَاك)

وَقَالَ المعبرون يَنْبَغِي للمعبر أَن يكون صَاحب ديانَة وحلم وصيانة وكتمان على النَّاس عَوْرَاتهمْ وَيسمع السُّؤَال أجمعه من السَّائِل ويميز بَين الشريف والوضيع ويتمهل وَلَا يعبر الرُّؤْيَا وَقت اضْطِرَاب، وَهِي ثَلَاث سَاعَات: عِنْد طُلُوع الشَّمْس وَعند غُرُوبهَا.
স্বপ্নের ফেরেশতা প্রসঙ্গে

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: স্বপ্নের প্রকারভেদ প্রসঙ্গে

সপ্তম পরিচ্ছেদ: যা শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা স্বরূপ এবং তা স্বপ্নের অন্তর্ভুক্ত নয়

অষ্টম পরিচ্ছেদ: যা মনের কল্পনাপ্রসূত। নবম পরিচ্ছেদ: যে সকল সময়ে স্বপ্ন সত্য হয়

দশম পরিচ্ছেদ: স্বপ্নের সবলতা ও দুর্বলতা প্রসঙ্গে

একাদশ পরিচ্ছেদ: অর্থহীন স্বপ্ন প্রসঙ্গে

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: আরবি মাস ও দিনসমূহ প্রসঙ্গে

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: প্রখ্যাত স্বপ্নব্যাখ্যাকারীদের মধ্যে নির্বাচিত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে, যারা পনেরটি স্তরে বিন্যস্ত একশত জন ব্যক্তি

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: স্বপ্ন বর্ণনাকারীর আদব বা শিষ্টাচার, আর এটিই সর্বশেষ পরিচ্ছেদ।

অতঃপর আমি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আসা প্রতিটি নামের শুরুতে আলিফ বর্ণ দিয়ে শুরু করেছি এবং বইটি ইয়া বর্ণ দিয়ে শেষ করেছি, তবে আমি ‘দিয়া’ (অস্থাবর সম্পত্তি) শব্দটিকে ইয়া বর্ণের অধীনে উল্লেখ করেছি।

প্রথম পরিচ্ছেদ: স্বপ্নের স্বরূপ প্রসঙ্গে। মুসলিমগণ বলেন, যখন রক্ত ও শ্লেষ্মা নির্মল হয়, শারীরিক প্রকৃতি ভারসাম্যপূর্ণ হয় এবং বাষ্পীয় মেঘ স্বচ্ছ হয়, তখন মানুষ দ্রুত নিদ্রাভিভূত হয়। আর যখন এগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য ও মলিনতা দেখা দেয়, তখন তার ঘুম আসে না। আর্তামিডোরাস বলেন: মানুষ যখন তার ইন্দ্রিয়সমূহ ব্যবহার করে এবং সেগুলোর অনুগামী হয়, তখন সেগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার বন্ধন শিথিল হয়ে যায়, এমনকি সে প্রায় কিছুই অনুভব করতে পারে না, ফলে সে স্থির হয় এবং ঘুমিয়ে পড়ে। এর কারণ হলো ইন্দ্রিয়সমূহের ভিত্তি হলো আত্মা; সুতরাং যখন আত্মা ক্লান্ত হয়, তখন আত্মা প্রশান্তির আকাঙ্ক্ষা করে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্বপ্নব্যাখ্যাকারীর আদব প্রসঙ্গে:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যখন কোনো স্বপ্ন বর্ণনা করা হতো, তিনি বলতেন: (তুমি কল্যাণের দেখা পাও এবং অকল্যাণ থেকে রক্ষা পাও; আমাদের জন্য কল্যাণ হোক আর আমাদের শত্রুদের জন্য অকল্যাণ হোক। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তোমার স্বপ্ন বর্ণনা করো।)

স্বপ্নব্যাখ্যাকারগণ বলেন, স্বপ্নব্যাখ্যাকারীর জন্য আবশ্যক হলো দ্বীনদারি, ধৈর্যশীলতা, আত্মমর্যাদা এবং মানুষের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার গুণ থাকা। তাকে প্রশ্নকারীর থেকে পূর্ণ প্রশ্নটি শুনতে হবে এবং উচ্চবংশীয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। তাকে ধীরস্থির হতে হবে এবং অস্থিরতার সময় স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। আর তা হলো তিনটি সময়: সূর্যোদয়ের সময় এবং সূর্যাস্তের সময়।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ৪)
وَعند الزَّوَال فَإِذا زَالَت الشَّمْس كَانَ التَّعْبِير صَحِيحا ورؤيا الْمُلُوك لَيست كرؤيا الرّعية فَلَا تقص رُؤْيا حَتَّى تعلم لمن هِيَ وتفرق بَين كل جنس من النَّاس وَمَا يَلِيق بِهِ

مِثَال ذَلِك أَن من أصَاب درهما صَحِيحا وَله امْرَأَة حَامِل فَإِنَّهَا تضع غُلَاما وَإِن كَانَ الَّذِي وجد الدِّرْهَم لَهُ عَدو فَإِنَّهُ يسمع مِنْهُ كلَاما حسنا وَإِن كَانَ مُفلسًا نَالَ شَيْئا من الدُّنْيَا وَإِن كَانَ زاهدا فَإِنَّهُ يكثر التَّسْبِيح لِأَن الدِّرْهَم مَكْتُوب عَلَيْهِ اسْم الله

وَإِن كَانَ الَّذِي وجد الدِّرْهَم فَاسِقًا من الأوباش وَهُوَ يقْرَأ مَا عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يضْرب لِأَن الدِّرْهَم مَكْتُوب عَلَيْهِ ضرب هَذَا الدِّرْهَم من رأى حَيَّة فِي مَنَامه وَله عَدو فَإِنَّهَا عدوه

وَإِن كَانَ مِمَّن لَهُ زرع فَإِنَّهَا زرعه

وَإِن كَانَ لَهُ مَال فَإِنَّهَا مَاله

وَهِي للْمَرِيض حَيَاته وَإِذا رأى الْمحرم حَيَّة فَإِنَّهَا رزقه وحياته وَيذْهب عسره وَالْعَبْد إِذا رأى رُؤْيا فَإِنَّهَا أَكثر مَا تفسر لسَيِّده وَكَذَلِكَ الطِّفْل لوَالِديهِ والمراة إِذا لم تصلح لَهَا الرُّؤْيَا فَهِيَ لزَوجهَا لِأَنَّهَا خلقت من ضلعه الْقصير وَرَأى رُؤْيا وَلَيْسَ هُوَ من أَهلهَا فَإِنَّهَا تعود إِلَى أسلافه من آبَائِهِ أَو أحد من أَقَاربه والرؤيا تخرج من الْأَب للِابْن مِثَال ذَلِك: أَن أسيد بن الْعَاصِ رأى كَأَنَّهُ قد ولي على مَكَّة فقصت على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: " إِن صدقت الرُّؤْيَا ليلين عَلَيْهَا وَلَده عتاب ". وَكَانَ كَذَلِك لِأَن أَبَاهُ كَانَ قد توفّي والرؤيا تخرج فِي الْمُسَمّى والنظير والشقيق

فالقتل لِلْمُؤمنِ حلاوة الْقُرْآن وللفاجر حلاوة الدُّنْيَا وللمهجور حلاوة الْوَصْل وَأَشْبَاه ذَلِك كثير فقس عَلَيْهِ ترشد وَمن اختلق رُؤْيا وسألك عَنْهَا فَقَصَّهَا فَإِن كَانَت شرا فَإِنَّهُ لَاحق بِهِ
এবং সূর্য ঢলে পড়ার সময়; যখন সূর্য ঢলে পড়ে তখন ব্যাখ্যা সঠিক হয়। রাজাদের স্বপ্ন প্রজাদের স্বপ্নের মতো নয়। সুতরাং কার স্বপ্ন তা না জানা পর্যন্ত স্বপ্নের ব্যাখ্যা করো না এবং মানুষের প্রতিটি শ্রেণি ও তাদের জন্য যা উপযুক্ত, তার মধ্যে পার্থক্য করো।

এর উদাহরণ হলো, যে ব্যক্তি একটি নিখুঁত দিরহাম পেল এবং তার স্ত্রী গর্ভবতী, তবে সে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করবে। আর যদি দিরহাম প্রাপ্ত ব্যক্তির কোনো শত্রু থাকে, তবে সে তার কাছ থেকে সুন্দর কথা শুনবে। যদি সে নিঃস্ব হয়, তবে সে দুনিয়াবি কিছু লাভ করবে। আর যদি সে জাহিদ (সংসারবিরাগী) হয়, তবে সে অধিক পরিমাণে তাসবিহ পাঠ করবে, কারণ দিরহামের ওপর আল্লাহর নাম লেখা থাকে।

আর দিরহাম প্রাপ্ত ব্যক্তিটি যদি নীচ শ্রেণির পাপাচারী হয় এবং সে তার উপরের লেখাটি পাঠ করে, তবে তাকে প্রহার করা হবে; কারণ দিরহামের ওপর লেখা থাকে "এই দিরহামটি তৈরি করা (আঘাত করা) হয়েছে"। যে ব্যক্তি স্বপ্নে সাপ দেখে এবং তার কোনো শত্রু থাকে, তবে সেটি তার শত্রু।

আর যদি সে এমন ব্যক্তি হয় যার শস্যক্ষেত্র আছে, তবে সেটি তার শস্য।

আর যদি তার সম্পদ থাকে, তবে সেটি তার সম্পদ।

এটি রোগীর জন্য তার জীবন। আর ইহরামধারী ব্যক্তি যখন সাপ দেখে, তখন সেটি তার রিজিক ও জীবন, এবং তার কষ্ট দূর হয়ে যাবে। দাস যখন স্বপ্ন দেখে, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা তার মুনিবের জন্য ব্যাখ্যা করা হয়। অনুরূপভাবে শিশুর স্বপ্ন তার পিতা-মাতার জন্য। আর মহিলার জন্য যদি স্বপ্নটি উপযুক্ত না হয়, তবে তা তার স্বামীর জন্য; কারণ সে তার ছোট পাজরের হাড় থেকে সৃষ্টি হয়েছে। যদি কেউ স্বপ্ন দেখে অথচ সে তার যোগ্য নয়, তবে তা তার পূর্বপুরুষদের মধ্যে তার পিতা অথবা তার কোনো আত্মীয়ের দিকে ফিরে যাবে। স্বপ্ন পিতার পক্ষ থেকে পুত্রের ক্ষেত্রেও প্রকাশিত হয়, যার উদাহরণ হলো: উসাইদ ইবনে আল-আস স্বপ্ন দেখলেন যেন তিনি মক্কার শাসক নিযুক্ত হয়েছেন। এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বর্ণনা করা হলে তিনি বললেন: "যদি স্বপ্নটি সত্য হয়, তবে অচিরেই তার পুত্র আত্তাব এর শাসক হবে।" আর তা-ই হয়েছিল কারণ তার পিতা ইন্তেকাল করেছিলেন। স্বপ্ন সমনামধারী, সদৃশ এবং সহোদরদের ক্ষেত্রেও প্রকাশিত হয়।

সুতরাং মুমিনের জন্য হত্যা হলো কুরআনের মাধুর্য, পাপাচারীর জন্য দুনিয়ার মাধুর্য, এবং পরিত্যক্ত ব্যক্তির জন্য মিলনের মাধুর্য। এই ধরনের সাদৃশ্য অনেক রয়েছে, সুতরাং এগুলোর ওপর অনুমান করো, তবেই সঠিক পথ পাবে। আর যে ব্যক্তি মিথ্যা স্বপ্ন তৈরি করে তোমার কাছে তা জিজ্ঞাসা করে, তবে তুমি যদি তার ব্যাখ্যা করো এবং তা অশুভ হয়, তবে সেটি তার ওপরই আপতিত হবে।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ৫)
وَإِن كَانَ خيرا فَإِنَّهُ يصل إِلَيْك لِأَنَّهُ مخذول وَتَصْحِيح ذَلِك قصَّة يُوسُف والفتيان فِي السجْن عنادا إِذْ قَالَ أَحدهمَا: (إِنِّي أَرَانِي أعصر خمرًا وَقَالَ الآخر إِنِّي اراني أحمل فَوق رَأْسِي خبرزا تَأْكُل الطير مِنْهُ) فَقَصَّهَا يُوسُف عليه السلام فَوَقَعت كَمَا قَالَ: فَكَانَت عنادا وَإِن عبر معبر على غير الْوَجْه عنادا وَكَانَ خيرا وصل إِلَى صَاحب الرُّؤْيَا وَإِن كَانَ شرا وصل إِلى الْمعبر وَيَنْبَغِي للمعبر أَن يسْأَل عَن حِرْفَة صَاحب الرُّؤْيَا واسْمه فَإِن لم يَصح لَك ذَلِك من هَذِه العلامات فاجتهد بِرَأْيِك واستر عورات الْمُسلمين فقد قَالَ رَسُول الله: " لَا تَطْلُبُوا عورات الْمُسلمين " وتعبر فِي سر كَمَا أوحى الله فِي سر وَقَالَ رَسُول الله " خُذ بالأسماء. . يَعْنِي من اسْم سَلامَة ويحمد ويحمدت

وَقَالَ دانيال إِذا أردْت أَن تَأْخُذ بِالِاسْمِ فَانْظُر يَوْم السبت أول شخص تَلقاهُ فسله عَن اسْمه وَاسم أَبِيه فَإِن كَانَ مُوَافقا لاسم الْأَنْبِيَاء عليهم السلام مثل إِبْرَاهِيم ومُوسَى فَإِن الْأَمر الَّذِي أَنْت طَالبه مبارك مُخْتَار لِأَن الله عز وجل اخْتَار الْأَنْبِيَاء وَاخْتَارَ أَسْمَاءَهُم

وَإِذا قصت عَلَيْك رُؤْيا فَانْظُر إِلَى شَيْء يَقع نظرك عَلَيْهِ فَإِن كَانَ بغلا فَإِنَّهُ سفر وَإِن كَانَ عجوزا فَهِيَ دنيا

وَإِن كَانَ نظرك وَقع على حمَار أَو فرس فَإِن ذَلِك دَال على زِينَة الدُّنْيَا وسفر أَيْضا لقَوْل الله عز وجل: (الْخَيل وَالْبِغَال وَالْحمير لتركبوها وزينة)

الْمقَالة الثَّالِثَة: فِي آدَاب النَّائِم قَالَ رَسُول الله: " إِذا تقَارب الزَّمَان لَا تكَاد رُؤْيا الْمُؤمن تكذب وأصدقكم رُؤْيا أصدقكم حَدِيثا " وَإِن كَانَ
আর যদি তা ভালো হয়, তবে তা তোমার কাছে পৌঁছাবে কারণ সে লাঞ্ছিত। এর সঠিক প্রমাণ হলো কারাগারে ইউসুফ আলাইহিস সালাম ও দুই যুবকের ঘটনা, যখন তাদের একজন বলল: (আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি আঙুর নিংড়ে মদ তৈরি করছি। অন্যজন বলল: আমি দেখলাম যে আমি আমার মাথায় রুটি বহন করছি যা থেকে পাখিরা খাচ্ছে)। অতঃপর ইউসুফ আলাইহিস সালাম এর ব্যাখ্যা প্রদান করলেন এবং তা তিনি যা বলেছিলেন ঠিক সেভাবেই বাস্তবায়িত হলো। এটি জেদবশত জিজ্ঞাসার অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদি কোনো ব্যাখ্যাকারী জেদবশত সঠিক পন্থার বাইরে কোনো ব্যাখ্যা দেয়, আর স্বপ্নটি যদি ভালো হয় তবে তা স্বপ্নদ্রষ্টার কাছে পৌঁছাবে, আর যদি মন্দ হয় তবে তা ব্যাখ্যাকারীর ওপর আপতিত হবে। ব্যাখ্যাকারীর উচিত স্বপ্নদ্রষ্টার পেশা ও নাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা। যদি এই চিহ্নগুলো থেকে বিষয়টি তোমার কাছে স্পষ্ট না হয়, তবে তোমার বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে ইজতিহাদ করো এবং মুসলিমদের দোষত্রুটি গোপন রাখো। কেননা রাসূলুল্লাহ বলেছেন: "তোমরা মুসলিমদের দোষত্রুটি অনুসন্ধান করো না।" এবং গোপনে ব্যাখ্যা প্রদান করো যেভাবে আল্লাহ গোপনে ওহী পাঠিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ বলেছেন: "নাম থেকে শুভলক্ষণ গ্রহণ করো।" অর্থাৎ যেমন সালামাহ, আহমাদ এবং ইয়াহমাদ নামসমূহ থেকে।

দানিয়েল আলাইহিস সালাম বলেছেন, যখন তুমি নাম থেকে শুভলক্ষণ গ্রহণ করতে চাইবে, তখন শনিবার দিন তুমি যার সাথে প্রথম সাক্ষাৎ করবে তার দিকে তাকাও। তাকে তার নাম এবং তার পিতার নাম জিজ্ঞাসা করো। যদি তা নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) নামের সাথে মিলে যায় যেমন ইব্রাহিম ও মুসা, তবে তুমি যে বিষয়টি অনুসন্ধান করছ তা বরকতময় ও মনোনীত হবে। কারণ আল্লাহ তায়ালা নবীদের মনোনীত করেছেন এবং তাদের নামসমূহকেও মনোনীত করেছেন।

যখন তোমার কাছে কোনো স্বপ্ন বর্ণনা করা হবে, তখন তোমার দৃষ্টি যে বস্তুর ওপর পড়ে সেদিকে লক্ষ করো। যদি তা খচ্চর হয় তবে তা সফরের ইঙ্গিত দেয়, আর যদি কোনো বৃদ্ধা মহিলা হয় তবে তা দুনিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে।

আর যদি তোমার দৃষ্টি গাধা অথবা ঘোড়ার ওপর পড়ে, তবে তা পার্থিব সৌন্দর্য ও সফরের দলিল। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আর ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের আরোহণের জন্য ও শোভার জন্য)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিদ্রাচারীর আদব সম্পর্কে। রাসূলুল্লাহ বলেছেন: "যখন শেষ জামানা নিকটবর্তী হবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। আর তোমাদের মধ্যে যার কথা যত বেশি সত্য, তার স্বপ্নও তত বেশি সত্য হবে।" আর যদি...
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ৬)
صَاحب الرُّؤْيَا كذابا وَكره الْكَذِب من غَيره صحت رُؤْيَاهُ

وَإِن كَانَ كذابا وَلم يكره الْكَذِب من غَيره لم تصح رُؤْيَاهُ

وَيسْتَحب للْإنْسَان ان ينَام على طَهَارَة لتَكون الرُّؤْيَا صَالِحَة وَقد كَانَ رَسُول الله يسْأَل أَصْحَابه غفر الله لَهُم عنما رَأَوْا فيخبرونه بِمَا يرَوْنَ ثمَّ سَأَلَهُمْ مرَارًا فَلم يخبروه فَرَأى أظفارهم قد طَالَتْ وفيهَا رفغ فَقَالَ: - " كَيفَ ترَوْنَ والرفغ فِي أظفاركم "

قَالَ ابْن سِيرِين: من نَام على جنبه الْأَيْمن وَأَرَادَ أَن يرى رُؤْيا حَسَنَة فليستقبل الْقبْلَة وليقرأ وَالشَّمْس وَضُحَاهَا

وَاللَّيْل إِذا يغشى والتين وَالزَّيْتُون

وَقل يَا أَيهَا الْكَافِرُونَ

وَسورَة الْإِخْلَاص والمعوذتين وَيسْأل الله تَعَالَى، فَمَا يرِيه إِلَّا مَا يحب، وَمن نَام على شقَّه الْأَيْمن وَرَأى رُؤْيا فَهِيَ بِشَارَة من الله عز وجل أَو نذارة ".

وَمن نَام على شقَّه الْأَيْسَر وَرَأى رُؤْيا فَهِيَ من الرّوح وَرُبمَا كَانَت من البطنة وَذَلِكَ أضغاث

وَكَانُوا يستحبون ان يَقُولُوا عِنْد النّوم اللَّهُمَّ إِنِّي أعوذ بك من سيئ الأحلام وأستجيرك من تلاعب الشَّيْطَان فِي الْيَقَظَة والمنام

الْمقَالة الرَّابِعَة:

فِي كَيْفيَّة الرُّؤْيَا

قَالَ دانيال عليه السلام: الْأَرْوَاح يعرج بهَا إِلَى السَّمَاء السَّابِعَة حَتَّى توقف بَين يَدي رب الْعِزَّة فَيُؤذن لَهَا بِالسُّجُود فَمَا كَانَ طَاهِرا مِنْهَا سجد تَحت الْعَرْش وَبشر فِي مَنَامه

وَمَا كَانَ مِنْهَا غير طَاهِر سجد … . . فَلذَلِك يسْتَحبّ للرجل أَن ينَام على الطَّهَارَة

وَقَالَ المعبرون: من الْمُسلمين الرُّؤْيَا يَرَاهَا الْإِنْسَان بِالروحِ ويفهمها بِالْقَلْبِ ومستقر الرّوح فِي نقطات دم فِي الْقلب ومستقر
স্বপ্নের দ্রষ্টা যদি মিথ্যাবাদী হয় এবং অন্যের পক্ষ থেকে মিথ্যা বলা অপছন্দ করে, তবে তার স্বপ্ন সত্য হবে

আর যদি সে মিথ্যাবাদী হয় এবং অন্যের পক্ষ থেকে মিথ্যা বলাকে অপছন্দ না করে, তবে তার স্বপ্ন সত্য হবে না

মানুষের জন্য পবিত্র অবস্থায় ঘুমানো মুস্তাহাব যেন স্বপ্নটি সৎ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করুন) তাঁরা কী দেখেছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, এবং তাঁরা যা দেখতেন তা তাঁকে জানাতেন। অতঃপর তিনি তাঁদের বারংবার জিজ্ঞাসা করলেন কিন্তু তাঁরা তাঁকে কিছুই জানালেন না। তখন তিনি দেখলেন যে তাঁদের নখ বড় হয়ে গেছে এবং তাতে ময়লা জমেছে। তখন তিনি বললেন: - "তোমরা কীভাবে (স্বপ্ন) দেখবে যখন তোমাদের নখগুলোতে ময়লা জমে আছে?"

ইবনে সিরিন বলেছেন: যে ব্যক্তি তার ডান কাতে শয়ন করে এবং ভালো স্বপ্ন দেখতে চায়, সে যেন কিবলার দিকে মুখ করে এবং সূরা আশ-শামস পাঠ করে

এবং সূরা আল-লাইল ও সূরা আত-তীন

এবং সূরা আল-কাফিরুন

এবং সূরা আল-ইখলাস ও মুআওবিযাতাইন (সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস) পাঠ করে এবং আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করে; তবে তিনি তাকে যা পছন্দনীয় কেবল তাই দেখাবেন। আর যে ব্যক্তি তার ডান কাতে ঘুমায় এবং কোনো স্বপ্ন দেখে, তবে তা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে সুসংবাদ অথবা সতর্কবাণী।"

আর যে ব্যক্তি তার বাম কাতে ঘুমায় এবং কোনো স্বপ্ন দেখে, তবে তা রূহ (আত্মা) থেকে হয়, আবার কখনো তা উদরপূর্তির কারণে হয়ে থাকে এবং তা হলো এলোমেলো স্বপ্ন

তাঁরা ঘুমানোর সময় এই কথা বলা মুস্তাহাব মনে করতেন: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট মন্দ স্বপ্ন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং জাগ্রত ও নিদ্রিত অবস্থায় শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার নিকট নিরাপত্তা চাচ্ছি'

চতুর্থ প্রবন্ধ:

স্বপ্নের স্বরূপ সম্পর্কে

দানিয়াল আলাইহিস সালাম বলেছেন: রূহসমূহকে সপ্তম আকাশের দিকে আরোহন করানো হয় যতক্ষণ না সেগুলো সম্মানের অধিপতি রবের দুই হাতের সামনে দাঁড় করানো হয়; তখন সেগুলোকে সিজদা করার অনুমতি দেওয়া হয়। সেগুলোর মধ্যে যা পবিত্র থাকে তা আরশের নিচে সিজদা করে এবং তার স্বপ্নে সুসংবাদ পায়

আর সেগুলোর মধ্যে যা অপবিত্র থাকে তা সিজদা করে ... । এই কারণেই ব্যক্তির জন্য পবিত্র অবস্থায় ঘুমানো মুস্তাহাব

মুসলিম স্বপ্নব্যাখ্যাকারগণ বলেছেন: মানুষ রূহের মাধ্যমে স্বপ্ন দেখে এবং অন্তরের মাধ্যমে তা অনুধাবন করে। রূহের অবস্থান হলো অন্তরের রক্তবিন্দুসমূহের মধ্যে এবং অবস্থানসমূহও ওখানেই।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ৭)
الْعقل فِي دسومه الدِّمَاغ وَالروح مُعَلّق بِالنَّفسِ فَإِذا نَام الانسان امْتَدَّ روحه مثل السراج فَرَأى بنوره وَقضى الله مَا يرِيه ملك الرُّؤْيَا

وذهابه ورجوعه مثل الشَّمْس إِذا غطاها السَّحَاب وانكشف عَنْهَا فَإِذا عَادَتْ الْحَواس باستيقاظه إِلَى أفعالها ذكر الرّوح مَا أرَاهُ الْملك وخيله لَهُ كرؤيا الْعين.

الْمقَالة الْخَامِسَة: فِي ذكر ملك الرُّؤْيَا

قَالَ دانيال عليه السلام اسْم الْملك الْمُوكل بالرؤيا صديقون وَمن شحمة أُذُنه إِلَى مَنْكِبه مسيرَة سبع مائَة سنة وَهُوَ الَّذِي يضْرب الْأَمْثَال للآدميين فيريهم بضياء الله عز وجل من علم غيبه فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ مَا هُوَ كَائِن من خير أَو شَرّ لَا يشْتَبه عَلَيْهِ شَيْء من ذَلِك وَمثل هَذَا الْملك كَمثل الشَّمْس إِذا وَقع نورها على شَيْء بصرت ذَلِك الشَّيْء بِهِ

وَكَذَلِكَ يعرفك هَذَا الْملك بضياء الله عز وجل معرفَة كل شَيْء ويهديك ويبشرك ويحذرك من مَعْصِيّة قدهممت بهَا ثمَّ إِن هَذَا الْملك يقدم رُؤْيا الشَّرّ وَيُؤَخر رُؤْيا الْخَيْر لفائدة نذكرها وَذَلِكَ لشفقة من الله عز وجل على عباده وَلَو كَانَت رُؤْيا الشَّرّ تتأخر لَكَانَ الْإِنْسَان إِذا قصها وَعلم أَنَّهَا شَرّ لم يزل منتظرا وُقُوع ذَلِك لَهُم فَلَا يزَال مهموما فَعجل كَيْلا يطول همه وحزنه.

وَأما رُؤْيا الْخَيْر فأخرت لِأَن الْإِنْسَان إِذا بشر بهَا فَرح وَإِن تَأَخَّرت لِأَنَّهُ منتظر وُقُوعهَا وَاعْلَم أَن الرُّؤْيَا معلقَة على تَأْوِيلهَا فَمَتَى أولت وَقعت لقَوْل النَّبِي: الرُّؤْيَا على رجْلي طَائِر فَمَتَى عبرت وَقعت ".

الْمقَالة السَّادِسَة: فِي أَقسَام الرُّؤْيَا:

قَالَ النَّبِي الرُّؤْيَا ثَلَاثَة:
বুদ্ধিবৃত্তি মস্তিষ্কের উপাদানে থাকে এবং রুহ নফসের সাথে সম্পৃক্ত। যখন মানুষ ঘুমায়, তখন তার রুহ প্রদীপের মতো প্রসারিত হয়, ফলে সে তার আলো দিয়ে দেখতে পায় এবং আল্লাহ স্বপ্ন প্রদানকারী ফেরেশতা তাকে যা দেখান তা নির্ধারণ করেন।

আর এর আসা-যাওয়া সূর্যের মতো, যখন মেঘ তাকে ঢেকে দেয় এবং পুনরায় তা উন্মোচিত হয়। অতঃপর যখন সে জেগে ওঠার মাধ্যমে ইন্দ্রিয়সমূহ তাদের কাজে ফিরে আসে, তখন রুহ যা সেই ফেরেশতা তাকে দেখিয়েছেন এবং তার কাছে চিত্রায়িত করেছেন তা চাক্ষুষ দেখার মতো স্মরণ করে।

পঞ্চম প্রবন্ধ: স্বপ্ন প্রদানকারী ফেরেশতার বর্ণনায়

দানিয়াল আলাইহিস সালাম বলেন, স্বপ্নের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতার নাম হলো সিদ্দিকুন। তার কানের লতি থেকে কাঁধ পর্যন্ত দূরত্ব হলো সাতশ বছরের পথ। তিনিই আদম সন্তানদের জন্য উদাহরণ পেশ করেন, ফলে তিনি তাদেরকে মহান আল্লাহর জ্যোতির সাহায্যে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত অদৃশ্যের জ্ঞান থেকে যা কিছু কল্যাণ বা অকল্যাণ ঘটবে তা দেখান। এর কোনো কিছুই তার কাছে অস্পষ্ট থাকে না। এই ফেরেশতার উপমা হলো সূর্যের মতো; যখন এর আলো কোনো বস্তুর ওপর পড়ে, তখন সেটির মাধ্যমে ওই বস্তুটিকে দৃশ্যমান করে।

তদ্রূপ এই ফেরেশতা আপনাকে মহান আল্লাহর জ্যোতির সাহায্যে প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দান করেন এবং আপনাকে সঠিক পথ দেখান, সুসংবাদ প্রদান করেন এবং আপনি যে পাপের সংকল্প করেছেন তা থেকে আপনাকে সতর্ক করেন। অতঃপর এই ফেরেশতা অমঙ্গলের স্বপ্নকে আগে প্রকাশ করেন এবং মঙ্গলের স্বপ্নকে বিলম্বে প্রকাশ করেন এমন এক উপকারের জন্য যা আমরা উল্লেখ করব; আর তা হলো বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর করুণাস্বরূপ। কেননা যদি অমঙ্গলের স্বপ্ন বিলম্বে প্রকাশ পেত, তবে মানুষ যখন তা বর্ণনা করত এবং জানত যে এটি অমঙ্গলজনক, তখন সে তার ঘটার প্রতীক্ষায় থাকত এবং সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকত; তাই এটি দ্রুত করা হয়েছে যাতে তার চিন্তা ও দুঃখ দীর্ঘায়িত না হয়।

আর মঙ্গলের স্বপ্ন বিলম্বিত করা হয়েছে কারণ মানুষকে যখন এর সুসংবাদ দেওয়া হয় তখন সে আনন্দিত হয়, যদিও তা দেরিতে ঘটে কারণ সে এর ঘটার প্রতীক্ষায় থাকে। জেনে রাখুন যে, স্বপ্ন তার ব্যাখ্যার ওপর ঝুলে থাকে; যখনই তার ব্যাখ্যা করা হয় তখনই তা সংঘটিত হয়, যেমন নবীজি বলেছেন: "স্বপ্ন পাখির দুই পায়ের ওপর থাকে, যখনই তার ব্যাখ্যা করা হয় তখনই তা বাস্তবায়িত হয়।"

ষষ্ঠ প্রবন্ধ: স্বপ্নের প্রকারভেদের বর্ণনায়:

নবীজি বলেছেন: স্বপ্ন তিন প্রকার:
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ৮)
رُؤْيا بشرى من الله عز وجل، ورؤيا تحذير من الشَّيْطَان، ورؤيا يحدث الْإِنْسَان بهَا نَفسه فيراها فِي النّوم

وَأما الْبشَارَة فَهِيَ رُؤْيا الله عز وجل قَالَ النَّبِي: " خير مَا رأى أحدكُم فِي مَنَامه أَن يرى ربه أَو نبيه أَو يرى أَبَوَيْهِ مُسلمين " قَالُوا: يَا نَبِي الله، وَهل يرى أحد ربه قَالَ: السُّلْطَان

وَالسُّلْطَان الَّذِي لَا يعرف هُوَ بِمَنْزِلَة الْحق عز وجل وَقَالَ عليه السلام: " من أفرى الفرى أَن يَقُول الْإِنْسَان ارى فِي الْمَنَام مَا لم يبصر وَجَمِيع الْحَيَوَان الَّذِي لَيْسَ بناطق كَالْبَهَائِمِ

وَالطير إِذا نطق بِشَيْء فِي الْمَنَام فَإِن كَلَامه حق والرؤيا صَحِيحَة وينال من سَمعه شَيْئا يتعجب النَّاس مِنْهُ لِأَنَّهُ لَا يحسن الخديعة فِي القَوْل والهاتف إِذا قَالَ شافه شَيْئا فَهُوَ كَمَا قَالَ والرؤيا إِذا عبرت فِي الْمَنَام فَهِيَ كَمَا عبرت.

وَالصبيان إِذا رَأَوْا رُؤْيا فَهِيَ صَادِقَة لأَنهم لَا يحسنون الْكَذِب والضلال والموتى إِذا أخبروا بِشَيْء فَهُوَ حق لأَنهم مشغولون عَن الْبَاطِل

وَإِن قَالَ الْمَيِّت شَيْئا بَاطِلا فَهُوَ من الأضغاث وَأما الرُّؤْيَا الَّتِي تكون مُتَعَلقَة بِالْخَيرِ وَالشَّر فإنظر إِلَى الشَّاهِد فَأَيّهمَا أقوى فَخذ بِهِ واترك الآخر مِثَال ذَلِك: أَن ترى الْإِنْسَان كَأَنَّهُ يضْرب بالطنبور فِي الْمَسْجِد فيتوب إِلَى الله عز وجل ويشتهي ذكره لِأَن الْمَسْجِد مَوضِع التِّلَاوَة وَالْمَلَائِكَة وَالْبر والسنك فَإِذا لعب بِهِ سَاعَة سأم وَترك والبقعة أقوى لدوام الصَّلَاة وَالْقِرَاءَة فِيهَا

وَأما من يقرا الْقُرْآن فِي الْحمام فَإِنَّهُ يشْتَهر فِي أَمر فَاحش ويقود لِأَن الْحمام بَيت الشَّيْطَان وَمَوْضِع كشف العورات وَالْمَلَائِكَة لَا يتهيأ لَهُم دُخُول الْحمام

وَلَا يتهيأ للشَّيْطَان دُخُول الْمَسْجِد.

الْمقَالة السَّابِعَة:
স্বপ্ন হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা এবং এমন এক স্বপ্ন যা মানুষ নিজের মনে কল্পনা করে এবং ঘুমের মধ্যে তা দেখতে পায়।

আর সুসংবাদ হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দর্শন। নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ ঘুমের মধ্যে যা দেখে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তার প্রতিপালককে দেখা, অথবা তার নবীকে দেখা, অথবা তার মুসলিম পিতা-মাতাকে দেখা।" তারা বললেন: হে আল্লাহর নবী, কেউ কি তার প্রতিপালককে দেখতে পায়? তিনি বললেন: সুলতান।

আর সেই সুলতান যাকে চেনা যায় না, তিনি মহা সত্য (আল্লাহ) আযযা ওয়া জাল্লার স্থলাভিষিক্ত। তিনি (সা.) বলেছেন: "সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো কোনো ব্যক্তি স্বপ্নে এমন কিছু দেখার দাবি করা যা সে দেখেনি।" আর বাকশক্তিহীন সকল প্রাণী যেমন চতুষ্পদ জন্তু...

এবং পাখি যদি স্বপ্নে কোনো কথা বলে, তবে তার কথা সত্য এবং স্বপ্নটি সঠিক। যে ব্যক্তি তা শুনবে সে এমন কিছু লাভ করবে যাতে মানুষ বিস্মিত হবে, কারণ প্রাণীরা কথায় প্রতারণা করতে জানে না। আর গায়েবি কণ্ঠ যদি সরাসরি কিছু বলে, তবে তা তেমনই ঘটবে যেমনটি সে বলেছে। আর স্বপ্নে যদি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা হয়, তবে তা তেমনই হবে যেমন ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

শিশুরা যখন কোনো স্বপ্ন দেখে তখন তা সত্য হয়, কারণ তারা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিতে পারদর্শী নয়। আর মৃত ব্যক্তিরা যদি কোনো বিষয়ে খবর দেয় তবে তা সত্য, কারণ তারা অসত্য জগত থেকে বিমুখ ও সত্য নিয়ে ব্যস্ত।

যদি মৃত ব্যক্তি কোনো অবাস্তব কথা বলে তবে তা অর্থহীন দুঃস্বপ্ন। আর যে স্বপ্ন কল্যাণ ও অকল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত, তাতে আলামতের দিকে লক্ষ্য করো; যেটি প্রবল হবে সেটি গ্রহণ করো এবং অন্যটি বর্জন করো। উদাহরণস্বরূপ: তুমি যদি কোনো মানুষকে মসজিদে তম্বুরা বাজাতে দেখো, তবে সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে তওবা করবে এবং তাঁর জিকিরের আকাঙ্ক্ষা করবে। কারণ মসজিদ হলো তিলাওয়াত, ফেরেশতা, পুণ্য ও প্রশান্তির স্থান। যদি সে কিছুক্ষণ এটি নিয়ে লিপ্ত থাকে তবে সে ক্লান্ত হয়ে যাবে এবং তা ছেড়ে দেবে, আর মসজিদের স্থানটির প্রভাবই প্রবল হবে কারণ সেখানে সর্বদা সালাত ও তিলাওয়াত চলে।

আর যে ব্যক্তি গোসলখানায় কুরআন পাঠ করে, সে কোনো অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়ে কুখ্যাতি অর্জন করবে এবং কুকর্মের নেতৃত্ব দেবে, কারণ গোসলখানা হলো শয়তানের ঘর এবং সতর উন্মোচনের স্থান, আর ফেরেশতাদের পক্ষে গোসলখানায় প্রবেশ করা সম্ভব নয়।

আর শয়তানের পক্ষে মসজিদে প্রবেশ করা সম্ভব নয়।

সপ্তম পরিচ্ছেদ:
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ৯)
فِي الرُّؤْيَا الْبَاطِلَة الَّتِي هِيَ تحزين من الشَّيْطَان وَلَا تعد من الرُّؤْيَا:

مِثَاله: أَن يرى الله تَعَالَى فِي صُورَة

أَو يرى ملكا جَاءَ اليه فِي لَهو وَلعب. أَو يرى نَبيا من الْأَنْبِيَاء عليهم السلام يعْمل عمل الفراعنة.

أَو يرى النَّبِي مكفوفا

أَو عَالما يُفْتِي بفحش أَو أَن السَّمَاء تحولت سقفا أَو يخَاف أَن تقع عَلَيْهِ

أوالأرض تحولت رَحا تَدور وَيرى قد نبت فِي السما شَجرا أَو طلع فِي الأَرْض نُجُوم أَو صَار الْجَبَل رملا والفيل قملة

والأسد نملة

وَقد يتَمَثَّل الشَّيْطَان بِكُل شَيْء وَلَا يُمكنهُ أَن يتَمَثَّل فِي صُورَة ملك وَلَا نَبِي وَلَا بالشمس وَلَا بالقمر وَلَا بالنجوم فِي موَاضعهَا وَلَا بالسحاب مَعَ الْمَطَر وَلَا بِالتَّوْرَاةِ وَلَا بالإنجيل وَلَا بِالْقُرْآنِ فَلَا يغرنك شَيْء من ذَلِك.

الْمقَالة الثَّامِنَة: -

الَّتِي هِيَ من همة النَّفس

مِثَال ذَلِك: أَن إنْسَانا يرى فِي مَنَامه كَأَنَّهُ مَعَ من يحب قلبه فَذَلِك من همة النَّفس فَكَذَلِك إِذا كَانَ يخَاف شَيْئا وَرَآهُ فَذَلِك من همة الْخَوْف وَكَذَلِكَ من نَام جائعا وَيرى كَأَنَّهُ يَأْكُل أَو كَانَ ممتلئا وَرَأى كَأَنَّهُ يتقيأ وَكَذَلِكَ أَنه فِي مَاء يجد … الْبرد إِذا انتبه فالرؤيا بَاطِلَة.

وَكَذَلِكَ إِذا رأى أَنه فِي نَار يَحْتَرِق وانتبه وَكَانَ نَومه فِي الشَّمْس فَكل ذَلِك بَاطِل

وَكَذَلِكَ إِذا رأى كَأَنَّهُ يعذب أَو يضْرب فانتبه وَبِه وجع فِي أَعْضَائِهِ فَإِنَّمَا رأى الوجع كَمَا رأى الْحر وَالْبرد وَهُوَ بَاطِل.

الْمقَالة التَّاسِعَة: فِي الْأَوْقَات الَّتِي تصح فِيهَا الرُّؤْيَا

قَالَ رَسُول الله: " أصدق الرُّؤْيَا مَا كَانَ بالأسحار " وَقَالَ: أصدق الرُّؤْيَا بِالنَّهَارِ ". وَلِأَن الله تَعَالَى خصني بِالْوَحْي نَهَارا

وَقَالَ جَعْفَر الصَّادِق: (اصدق الرُّؤْيَا القيلولة) لِأَن الْحُسَيْن بن عَليّ رضي الله عنهما رأى رَسُول الله
মিথ্যা স্বপ্নের বর্ণনায় যা শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তাস্বরূপ এবং যা প্রকৃত স্বপ্নের অন্তর্ভুক্ত নয়:

এর উদাহরণ: মহান আল্লাহকে কোনো আকৃতিতে দেখা

অথবা কোনো ফেরেশতাকে দেখা যে তার নিকট আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলারত অবস্থায় এসেছে। অথবা নবীগণের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মধ্য হতে কোনো নবীকে দেখা যে তিনি ফেরাউনদের মতো কাজ করছেন।

অথবা নবীকে দৃষ্টিহীন অবস্থায় দেখা

অথবা কোনো আলেমকে অশ্লীলতার ফতোয়া দিতে দেখা, অথবা আকাশ ছাদে পরিণত হয়েছে অথবা আকাশ তার ওপর পড়ে যাওয়ার ভয় পাওয়া

অথবা জমিন ঘূর্ণায়মান যাঁতায় পরিণত হওয়া এবং দেখা যে আকাশে গাছপালা জন্মেছে অথবা জমিনে নক্ষত্র উদিত হয়েছে অথবা পাহাড় বালিতে পরিণত হয়েছে এবং হাতি উকুনে পরিণত হয়েছে

এবং সিংহ পিঁপড়ায় পরিণত হয়েছে

শয়তান প্রতিটি জিনিসের রূপ ধারণ করতে পারে, কিন্তু সে ফেরেশতা, নবী, সূর্য, চন্দ্র এবং নক্ষত্ররাজির স্বস্থানে থাকা অবস্থায় তাদের রূপ ধারণ করতে পারে না। সে বৃষ্টির মেঘ, তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনের রূপও ধারণ করতে পারে না। সুতরাং এগুলোর কোনোটিই যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: -

যা মনের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত

এর উদাহরণ: কোনো মানুষ স্বপ্নে দেখে যেন সে এমন একজনের সাথে আছে যাকে তার অন্তর ভালোবাসে; তবে তা মনের আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত। একইভাবে যদি সে কোনো কিছুকে ভয় পায় এবং তা স্বপ্নে দেখে, তবে তা ভয়ের চিন্তা থেকে উদ্ভূত। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমায় এবং দেখে যেন সে খাবার খাচ্ছে, অথবা পেট ভরা অবস্থায় ঘুমায় এবং দেখে যেন সে বমি করছে। একইভাবে যদি সে পানির মধ্যে থাকে এবং ... জাগ্রত হওয়ার পর ঠান্ডা অনুভব করে, তবে এ স্বপ্ন মিথ্যা।

অনুরূপভাবে যদি সে দেখে যে সে আগুনে পুড়ছে এবং জাগ্রত হওয়ার পর দেখে যে সে রোদে ঘুমাচ্ছিল, তবে এসবই মিথ্যা

অনুরূপভাবে যদি সে দেখে যেন তাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বা প্রহার করা হচ্ছে এবং জাগ্রত হওয়ার পর তার অঙ্গে ব্যথা অনুভব করে, তবে সে কেবল ব্যথাটুকুই দেখেছে যেমনটি সে গরম ও ঠান্ডা দেখেছিল, আর তা মিথ্যা।

নবম পরিচ্ছেদ: স্বপ্ন সত্য হওয়ার সময়সমূহের বর্ণনায়

আল্লাহর রাসূল বলেছেন: "সবচেয়ে সত্য স্বপ্ন হলো যা শেষ রাতে দেখা হয়।" তিনি আরও বলেছেন: "সবচেয়ে সত্য স্বপ্ন হলো দিনের বেলা দেখা স্বপ্ন।" কারণ আল্লাহ তাআলা আমাকে দিনের বেলা ওহীর মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন

জাফর সাদিক বলেছেন: (সবচেয়ে সত্য স্বপ্ন হলো দুপুরের বিশ্রামের সময়ের স্বপ্ন) কারণ হুসাইন বিন আলী (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) আল্লাহর রাসূলকে দেখেছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ১০)
وَهُوَ يَقُول: " أتسرعون السّير والمنايا تسرع بكم الى الْجنَّة. . فَقَالَ الْحُسَيْن يَا أَبَت لَا حَاجَة لي إِلَى الرّجْعَة إِلَى دَار الدُّنْيَا بعد رؤيتك فَقَالَ النَّبِي: لَا بني لَا بُد لَك من الرّجْعَة وَهِي سَاعَة لم يكذب فِيهَا " ثمَّ صلى الظّهْر وَركب جَوَاده فَقتل شَهِيدا

فَهَذَا دَلِيل على أَن الرُّؤْيَا اصح مَا تكون عِنْد الزَّوَال

وَإِن كَانَت الرُّؤْيَا فِي أول اللَّيْل فَإِنَّهَا تصح بعد شهر أَو عشرَة أَيَّام. والرؤيا فِي آخر اللَّيْل لَا تتأخر

وَقيل أَكثر مَا تُؤخر الرُّؤْيَا الى سنة لِأَن الْأَعْمَار قد قصرت

وَمن رأى رُؤْيا وَهُوَ مستلق على ظَهره فَهِيَ صَحِيحَة وَكَذَلِكَ على شقَّه الْأَيْسَر هَذَا قَول الْحُكَمَاء.

وَصحت على رُؤْيا مُحَمَّد بعد عشْرين سنة.

الْمقَالة الْعَاشِرَة:

فِي قُوَّة الرُّؤْيَا وضعفها أما قُوَّة الرُّؤْيَا فَهُوَ فِي زمن جَرَيَان المَاء فِي عروق الشّجر إِلَى حِين يسْقط وَرقهَا وَلَا سِيمَا عِنْد خُرُوج الثِّمَار لِأَن فِي ذَلِك الْحِين إِذا كسرت غصنا خرج عوضه اثْنَان وَكَذَلِكَ الْوَرق إِذا قطعت ورقة خرج عوضهَا خَمْسَة أوراق واقبال السّنة إقبال وإدبارها أدبار فَلذَلِك اول النَّهَار للتفسير خير من آخِره.

الْمقَالة الْحَادِيَة عشر:

فِي الأضغاث: وَأما أضغاث الْمَنَام فَإِنَّهَا أَرْبَعَة أَشْيَاء مَتى زَادَت على طبيعة الْإِنْسَان فَإِنَّهَا تريه شَيْئا يُنَاسب ذَلِك وَهِي: البلغم، والسوداء

والدماء والصفراء.

فَمن غلب عَلَيْهِ البلغم والرطوبة فكثرة مَا يرى الْبحار والأمطار والأهوال

وَمن غلب عَلَيْهِ الدَّم فكثرة مَا يرى الألوان من الْأَحْمَر وَالْخمر والملاهي والأغذية الحلوة وَإِن كَانَ الْغَالِب عَلَيْهِ الصَّفْرَاء فكثرة مَا يرى الصَّوَاعِق والمعصفرات وَالْحَرب وَمن غلب عَلَيْهِ الْمرة السَّوْدَاء فكثرة مَا يرى السوَاد والظلمات والمخاوف والحرارة ترى الشموس
এবং তিনি বলছিলেন: "তোমরা কি চলার গতি বাড়িয়ে দিচ্ছ যখন মৃত্যু তোমাদেরকে জান্নাতের দিকে দ্রুত নিয়ে যাচ্ছে? তখন হুসাইন বললেন: হে পিতা, আপনাকে দেখার পর দুনিয়ার আবাসে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন আমার নেই। তখন নবী বললেন: না হে বৎস, তোমাকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে এবং এটি এমন এক মুহূর্ত যাতে মিথ্যা বলা হয়নি।" অতঃপর তিনি যোহরের নামায আদায় করলেন এবং নিজের ঘোড়ায় আরোহণ করলেন, এরপর তিনি শহীদ হয়ে নিহত হলেন।

এটি একটি প্রমাণ যে, সূর্য ঢলে পড়ার সময়ের স্বপ্ন সবচেয়ে বেশি সঠিক হয়ে থাকে।

আর যদি স্বপ্ন রাতের প্রথম ভাগে হয়, তবে তা এক মাস বা দশ দিন পর সত্য হয়। আর রাতের শেষ ভাগের স্বপ্ন বিলম্বিত হয় না।

বলা হয়ে থাকে যে, স্বপ্নের বাস্তবায়ন সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে, কারণ মানুষের আয়ু সংকুচিত হয়ে গেছে।

যে ব্যক্তি চিত হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় স্বপ্ন দেখে তা সঠিক হয়, তেমনি বাম কাতে শুয়ে দেখা স্বপ্নও; এটি প্রজ্ঞাবানদের কথা।

আর মুহাম্মাদের একটি স্বপ্ন বিশ বছর পর সত্য প্রমাণিত হয়েছিল।

দশম পরিচ্ছেদ:

স্বপ্নের শক্তি ও দুর্বলতা প্রসঙ্গে। স্বপ্নের শক্তি হচ্ছে বৃক্ষের শিরা-উপশিরায় পানি প্রবাহিত হওয়ার সময় থেকে তার পাতা ঝরা পর্যন্ত, বিশেষ করে ফল আসার সময়; কারণ সেই সময় যদি আপনি একটি ডাল ভাঙেন তবে তার পরিবর্তে দুটি গজায়, তেমনি একটি পাতা ছিঁড়লে তার পরিবর্তে পাঁচটি পাতা বের হয়। বছরের শুভ আগমন উন্নতির লক্ষণ এবং তার প্রস্থান অবনতির; তাই দিনের শুরু স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য শেষের চেয়ে উত্তম।

একাদশ পরিচ্ছেদ:

অর্থহীন স্বপ্ন প্রসঙ্গে: আর স্বপ্নের বিভ্রান্তি বা অর্থহীন স্বপ্ন চারটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; যখন এগুলো মানুষের স্বভাবের ওপর আধিক্য লাভ করে, তখন তা তাকে এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় দেখায়। সেগুলো হলো: কফ এবং কৃষ্ণপিত্ত

রক্ত এবং পীতপিত্ত।

সুতরাং যার ওপর কফ ও আর্দ্রতা প্রবল হয়, সে অধিক পরিমাণে সমুদ্র, বৃষ্টি এবং ভয়াবহতা দেখে

আর যার ওপর রক্ত প্রবল হয়, সে অধিক পরিমাণে লাল বর্ণ, মদ, আমোদ-প্রমোদ এবং মিষ্টি খাদ্য দেখে। আর যদি পীতপিত্ত প্রবল হয়, তবে সে অধিক পরিমাণে বজ্রপাত, হলুদ বস্ত্র ও যুদ্ধ দেখে। আর যার ওপর কৃষ্ণপিত্ত প্রবল হয়, সে অধিক পরিমাণে অন্ধকার, তমস্রা, ভীতিপ্রদ বিষয় এবং উত্তাপ হিসেবে সূর্যসমূহ দেখে।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ১১)
وَالْحمام وَالنَّار وَأما اليبوسة فترى تمزيق الثِّيَاب ونتف الشّعْر وَمن غلب عَلَيْهِ الإمتلاء … فَإِنَّهُ يرى كَأَنَّهُ يحمل مَا لايطيق بِهِ وَمن كَانَ بِهِ شدَّة فَإِنَّهُ يرى الخناق والضيق وَمن كَانَ بِهِ عفونة فِي جسده فَأكْثر مَا يرى الْعذرَة والأشياء المنتنة.

وَمن كَانَ معتدل المزاج فَإِنَّهُ يرى السرُور وَلبس المفاخر من الثِّيَاب والبطر. .

الْمقَالة الثَّانِيَة عشر: فِي الشُّهُور الْعَرَبيَّة وَالْأَيَّام.

وَأما إِذا كَانَ فِي ضمير صَاحب الرُّؤْيَا اسْم الشَّهْر أَو الْعِيد أَو الْيَوْم فَلِكُل شهره تذكره أَو الْيَوْم. . تَفْسِير يَجِيء فِي هَذِه الْمقَالة إِن شَاءَ الله تَعَالَى.

أما الْمحرم فَإِن الرُّؤْيَا فِيهِ صَحِيحَة لَا تكَاد تخطيء

وَلَا تحمد الرُّؤْيَا فِي صفر لاسمه والتطير بِهِ إِلَّا أَن يكون صَاحب الرُّؤْيَا فِي هم فتفرج عَنهُ. وَإِن كَانَ مَرِيضا شفي. وَفِي شهر ربيع الأول ربح فِي التِّجَارَة وَزِيَادَة فِي السرُور.

وَأما شهر ربيع الآخر فَإِن الرُّؤْيَا إِن كَانَت خيرا أَبْطَأت

وَإِن دلّت على الشَّرّ تعجلت

وَأما من رأى رُؤْيا فِي ضَمِيره أَن رُؤْيَاهُ فِي جمادي الأول، فيجمد أمره وَلَا يرغب فِي البيع وَالشِّرَاء

وَأما شهر جمادي الآخر فَإِن دلّت على خير أَبْطَأت لِأَنَّهُ شهر جامد

وَأما شهر رَجَب فَإِنَّهُ يدل على تفتح أَبْوَاب الْخَيْر ويبدل الشَّرّ خيرا.

وَأما رُؤْيا شعْبَان فَإِنَّهَا إِن دلّت على الْخَيْر تدل على تشعب كل خير.

وَأما الرُّؤْيَا فِي شهر رَمَضَان فَإِنَّهَا إِن دلّت على الْخَيْر صحت

وَإِن دلّت على الشَّرّ فَلَا تصح لِأَن فِيهِ تغلق أَبْوَاب الْفَوَاحِش

ووالعسر قد يكون من البطنة وَكَثْرَة الإمتلاء إِذا كَانَت ردية.

وَلَيْسَ للْكَافِرِ فِيهِ إِلَّا الشَّرّ إِذا رأى مناما لِأَنَّهُ عَدو الله.

وَأما شَوَّال فَإِن الرُّؤْيَا فِيهِ إِذا دلّت على شَرّ تعجلت.

وَأما رُؤْيا ذِي الْقعدَة فَمن دلّت رُؤْيَاهُ على السّفر.
...এবং কবুতর ও আগুন। আর শুষ্কতা বলতে কাপড় ছিঁড়ে ফেলা এবং চুল উপড়ে ফেলা দেখা যায়। আর যার ওপর পূর্ণতা প্রবল হয় … সে যেন এমন কিছু বহন করছে যা বহন করার সামর্থ্য তার নেই। আর যার মধ্যে তীব্রতা বা কাঠিন্য থাকে, সে শ্বাসরোধ ও সংকীর্ণতা দেখে। আর যার শরীরে পচনশীলতা থাকে, সে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষ্ঠা ও দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু দেখে।

আর যার মেজাজ বা প্রকৃতি ভারসাম্যপূর্ণ, সে আনন্দ এবং গৌরবময় পোশাক পরিধান ও উল্লাস দেখতে পায়।

দ্বাদশ অধ্যায়: আরবি মাস ও দিনসমূহের বর্ণনায়।

আর যদি স্বপ্নদ্রষ্টার মনে কোনো মাসের নাম অথবা ঈদ কিংবা কোনো দিনের কথা উদিত হয়, তবে প্রতিটি মাস বা দিন যা সে স্মরণ করেছে, তার ব্যাখ্যা এই অধ্যায়ে আসবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

মুহররম মাসের স্বপ্ন সঠিক হয়ে থাকে, তা সচরাচর ভুল হয় না।

সফর মাসের স্বপ্নকে এর নাম এবং এর মাধ্যমে অশুভ লক্ষণ গ্রহণের কারণে প্রশংসনীয় মনে করা হয় না; তবে স্বপ্নদ্রষ্টা যদি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে তবে তা দূর হয়ে যাবে। আর যদি সে অসুস্থ হয় তবে আরোগ্য লাভ করবে। আর রবিউল আউয়াল মাসে ব্যবসায় লাভ এবং আনন্দ বৃদ্ধি পায়।

আর রবিউস সানি মাসের স্বপ্ন যদি কল্যাণকর হয় তবে তা বিলম্বে বাস্তবায়িত হয়।

আর যদি তা অকল্যাণের দিকে নির্দেশ করে তবে তা দ্রুত ঘটে।

আর যে ব্যক্তি মনে মনে এমন স্বপ্ন দেখে যে তার স্বপ্নটি জমাদিউল আউয়াল মাসে, তবে তার কাজ স্থবির হয়ে পড়ে এবং সে কেনাবেচায় আগ্রহী হয় না।

আর জমাদিউস সানি মাসের স্বপ্ন যদি কল্যাণের ইঙ্গিত দেয় তবে তা বিলম্বে ঘটে, কারণ এটি একটি স্থবির মাস।

আর রজব মাস কল্যাণের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং অকল্যাণকে কল্যাণে রূপান্তরিত করে।

আর শাবান মাসের স্বপ্ন যদি কল্যাণের ইঙ্গিত দেয় তবে তা প্রতিটি কল্যাণের শাখা-প্রশাখা বিস্তারের নির্দেশ করে।

আর রমজান মাসের স্বপ্ন যদি কল্যাণের নির্দেশ করে তবে তা সত্য হয়।

আর যদি তা মন্দের নির্দেশ করে তবে তা সত্য হয় না, কারণ এই মাসে অশ্লীলতার দ্বারসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আর কষ্ট বা সংকীর্ণতা কখনো পেটভর্তি আহার ও অতিশয় পূর্ণতার কারণে হতে পারে যদি তা মন্দ প্রকৃতির হয়।

আর কাফের ব্যক্তি যদি এতে কোনো স্বপ্ন দেখে তবে তার জন্য অকল্যাণ ছাড়া আর কিছু নেই, কারণ সে আল্লাহর শত্রু।

আর শাওয়াল মাসের স্বপ্ন যদি অকল্যাণের নির্দেশ দেয় তবে তা দ্রুত ঘটে যায়।

আর জিলকদ মাসের স্বপ্ন সম্পর্কে কথা হলো—যার স্বপ্ন সফরের নির্দেশ দেয়।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ১২)
فَلَا يُسَافر وليحفظ نَفسه فِي الْحَضَر " وَإِذا دلّت على هم فليجتنب الفضول.

وَأما رُؤْيا ذِي الْحجَّة فَإِن دلّت رُؤْيَاهُ على السّفر فَلْيفْعَل لِأَنَّهُ مبارك وَفِيه الْقرْبَة إِلَى الله تَعَالَى وَالْأُضْحِيَّة وَيقرب عَلَيْهِ الْبعيد.

وَأما الْأَيَّام فَإِذا رأى الْإِنْسَان فِي مَنَامه وَفِي ضَمِيره أَن ذَلِك يَوْم الْجُمُعَة فَيدل على جمع شَمل وَشَيْء متفرق لاسمه وَمَا فِيهِ من الْجمع

وَأما يَوْم السبت فَإِن الرُّؤْيَا إِذا عبرت بِخَير وَقع كَذَلِك لِأَنَّهُ يَوْم رَاحَة وبطالة وَأما الْأَحَد فَإِنَّهُ يدل على ذهَاب الْهم وَالْغَم وَيدل على الْعَمَل والعمارة لِأَن فِيهِ بَدَأَ الله عز وجل بِخلق السَّمَوَات وَيدل على دوَام مَا يعمر وثباته.

وَأما الِاثْنَيْنِ: فَهُوَ فِي الرُّؤْيَا خير للسَّفر والزواج وَقَضَاء الْحَوَائِج

وَيَوْم الثُّلَاثَاء يَوْم الدَّم والحجامة وَيدل على الغموم

وَيَوْم الْأَرْبَعَاء يَوْم نحس مُسْتَمر فِيهِ أغرق الله قوم نوح ودمرت ثَمُود واصحاب الرس والحوائج فِيهِ منحوسة من طَرِيق الفأل وَيَوْم الْخَمِيس يَوْم أنس فَفِيهِ تقضى الْحَوَائِج بمستأنس فِيهِ يقْضِي الله الْحَوَائِج

وَقَالَ الآواخر من المعبرين يَوْم السبت تعرفه الرُّؤْيَا بِخَير فَتخرج فَتكون كَمَا تعبر

وَيَوْم الْأَحَد كَحَد السَّيْف وَمن كَانَ فِي غم ذهب عَنهُ وينجو من الشَّرّ إِلَى الْخَيْر الدَّائِم وَإِذا كَانَت رُؤْيا خير فَإِنَّهَا تصح

وَيَوْم الْإِثْنَيْنِ يَوْم مبارك للسَّفر والتزوج وَلأَهل بَيت النَّبِي عسر

وَيَوْم الثُّلَاثَاء إِذا دلّت على الْقِتَال فليحذر وَلَا يقرب السُّلْطَان فِيهِ لِأَنَّهُ يَوْم إِرَاقَة الدِّمَاء وَيَوْم الْأَرْبَعَاء تصح فِيهِ رُؤْيا الشَّرّ سَرِيعا وقوى لتقوى فِيهِ أَنه يَوْم نحس مُسْتَمر

وَيَوْم الْخَمِيس يَوْم يأنس فِيهِ الإخوان وَإِذا كَانَت الرُّؤْيَا ردية انقلبت إِلَى الْخَيْر فعبرها بالسرور

وَيَوْم الْجُمُعَة مبارك فِيهِ الصّلاح والرشد.
অতএব সে যেন সফর না করে এবং নিজ আবাসে অবস্থানকালে নিজেকে হেফাজত করে। আর যদি তা (স্বপ্ন) দুশ্চিন্তার প্রতি ইঙ্গিত করে, তবে সে যেন অনর্থক কাজ বর্জন করে।

আর জিলহজ মাসের স্বপ্নের ব্যাপারে কথা হলো—যদি তার স্বপ্ন সফরের প্রতি ইঙ্গিত করে, তবে সে যেন তা করে। কারণ তা বরকতময় এবং এতে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও কোরবানি রয়েছে, আর এর মাধ্যমে দূরবর্তী বিষয় তার নিকটবর্তী হয়।

আর দিনগুলোর ক্ষেত্রে—যদি কোনো ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে এবং তার মনে এই অনুভূতি জাগে যে তা জুমাবার, তবে তা তার বিচ্ছিন্ন বিষয়াবলি একত্রিত হওয়া এবং কোনো বিক্ষিপ্ত বিষয় জমা হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে, এর নাম এবং এতে থাকা সমাবেশের কারণে।

আর শনিবারের ব্যাপারে কথা হলো—যদি স্বপ্নটি কল্যাণের সাথে ব্যাখ্যা করা হয় তবে তা তেমনই ঘটবে; কারণ এটি বিশ্রাম ও কর্মহীনতার দিন। আর রবিবার—তা দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি দূর হওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং কাজ ও বিনির্মাণের নির্দেশ করে। কারণ এই দিনেই আল্লাহ عز وجل আসমানসমূহ সৃষ্টি শুরু করেছিলেন; আর এটি যা কিছু বিনির্মিত হয় তার স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তার প্রমাণ দেয়।

আর সোমবার: স্বপ্নে তা সফর, বিবাহ এবং প্রয়োজন পূরণের জন্য কল্যাণকর।

আর মঙ্গলবার হলো রক্ত ও হিজামার দিন এবং তা দুঃখ-বেদনার ইঙ্গিত দেয়।

আর বুধবার হলো নিরবচ্ছিন্ন অশুভ দিন, যাতে আল্লাহ নূহ-এর কওমকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন এবং সামুদ ও আসহাবে রাসকে ধ্বংস করেছিলেন; আর শুভলক্ষণ বিবেচনায় এতে প্রয়োজন পূরণ অশুভ হয়। আর বৃহস্পতিবার হলো সখ্যতার দিন, এতে অন্তরঙ্গতার সাথে প্রয়োজন পূরণ হয় এবং আল্লাহ এতে হাজত পূর্ণ করেন।

পরবর্তী যুগের স্বপ্ন বিশারদগণ বলেছেন, শনিবারের স্বপ্ন কল্যাণের সাথে পরিচিত হলে তা সেভাবেই প্রকাশ পায় এবং যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয় তেমনই ঘটে।

আর রবিবার হলো তলোয়ারের ধারের মতো; যে ব্যক্তি দুশ্চিন্তায় ছিল তার থেকে তা দূর হয়ে যাবে এবং সে অনিষ্ট থেকে মুক্তি পেয়ে স্থায়ী কল্যাণের দিকে ধাবিত হবে। আর যদি তা কল্যাণের স্বপ্ন হয় তবে তা সত্য হবে।

আর সোমবার সফর ও বিবাহের জন্য বরকতময় দিন, তবে নবী পরিবারের জন্য কষ্টের দিন।

আর মঙ্গলবার যদি যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করে তবে সে যেন সাবধান হয় এবং এই দিনে সুলতানের নিকটবর্তী না হয়; কারণ এটি রক্তপাতের দিন। আর বুধবার অশুভ স্বপ্ন দ্রুত ও শক্তিশালীভাবে সত্য হয়, কারণ এটি যে একটি নিরবচ্ছিন্ন অশুভ দিন—এই ধারণা এতে প্রবল।

আর বৃহস্পতিবার হলো ভাইদের মধ্যে সখ্যতা গড়ার দিন; যদি স্বপ্নটি মন্দ হয় তবে তা কল্যাণে রূপান্তরিত হয়, তাই একে আনন্দের সাথে ব্যাখ্যা করো।

আর জুমাবার বরকতময়, এতে রয়েছে সংশোধন ও সঠিক পথের দিশা।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ১৩)
واجتماع شَمل وَهُوَ عيد الْمُسلمين.

الْمقَالة الثَّالِثَة عشر: فِي ذكر المختارين من مشاهير المعبرين فهم فِي خمس عشر طبقَة

قَالَ نصر بن يَعْقُوب قد ضمن الْحسن بن الْحُسَيْن الْخلال كِتَابه المترجم بطبقات المعبرين ذكر أَسمَاء سَبْعَة الف وَخَمْسمِائة معبر من مشاهيرهم الَّذين ضربوا فِي هَذَا الْعلم بِسَهْم واخذوا مِنْهُ بقسم وجعلهم خمس عشر طبقَة انموذجا يدل على مَا وَرَاه أَو لغيت ذكر معبري بارهمة الْهِنْد للعجمة الَّتِي فِي أسمائهم واشتباهها على الْقَارئ القاريء.

فالطبقة الاولى من الْأَنْبِيَاء عليهم السلام إِبْرَاهِيم وَيَعْقُوب ويوسف ودانيال، وَذُو القرنين، وَمُحَمّد.

الطَّبَقَة الثَّانِيَة من الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم: أَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان وَعلي وَعبد الله بن عَبَّاس وَعبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ وَعبد الله بن سَلام وَأَبُو ذَر الْغِفَارِيّ وَأنس بن مَالك وَحُذَيْفَة بن الْيَمَان وَعَائِشَة أم الْمُؤمنِينَ وَأَسْمَاء اختها.

والطبقة الثَّالِثَة من التَّابِعين غفر الله لَهُم: سعيد بن الْمسيب وَالْحسن الْبَصْرِيّ وَعَطَاء بن أبي رَبَاح وَالشعْبِيّ وَالزهْرِيّ وَإِبْرَاهِيم النَّخعِيّ وَعمر بن عبد الْعَزِيز وَقَتَادَة وَمُجاهد وَسَعِيد بن جُبَير وطاووس وثابت الْبنانِيّ.

الطَّبَقَة الرَّابِعَة من الْفُقَهَاء من بعدهمْ غفر الله لَهُم: الشَّافِعِي وَأَبُو ثَوْر والاوزاعي وسُفْيَان الثَّوْريّ وَأَبُو يُوسُف القَاضِي وأبن ابي ليلى وَأحمد بن حَنْبَل وأسحق بن رَاهَوَيْه والبويطي وَمَنْصُور بن الْمُعْتَمِر وَعبد الله بن الْمُبَارك.

والطبقة الْخَامِسَة من الزهاد: غفر الله لَهُم مُحَمَّد بن وَاسع وتيم الدَّارَانِي وشقيق الْبَلْخِي وَمَالك بن دِينَار

وَسليمَان التَّيْمِيّ وَمَنْصُور بن عمار.
এবং এটি একটি পুনর্মিলন এবং এটি মুসলিমদের উৎসব।

ত্রয়োদশ প্রবন্ধ: প্রখ্যাত স্বপ্ন-ব্যাখ্যাবিদদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ব্যক্তিদের বর্ণনায়; তারা পনেরটি স্তরে বিভক্ত।

নাসর বিন ইয়াকুব বলেন, আল-হাসান বিন আল-হুসাইন আল-খাল্লাল তার 'তাবাকাতুল মুয়াব্বিরিন' (স্বপ্ন-ব্যাখ্যাবিদদের স্তরসমূহ) নামক গ্রন্থে সাত হাজার পাঁচশত প্রখ্যাত স্বপ্ন-ব্যাখ্যাবিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যারা এই বিদ্যায় বিশেষ অবদান রেখেছেন এবং এর থেকে অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি তাদেরকে পনেরটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন যা পরবর্তী বিষয়গুলোর জন্য একটি নিদর্শন স্বরূপ। আমি ভারতের ব্রাহ্মণ স্বপ্ন-ব্যাখ্যাবিদদের উল্লেখ বর্জন করেছি তাদের নামের অনারবীয় প্রকৃতি এবং পাঠকের কাছে তা অস্পষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়।

প্রথম স্তর নবীগণের (তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক): ইবরাহিম, ইয়াকুব, ইউসুফ, দানিয়াল, যুল-কারনাইন এবং মুহাম্মদ।

দ্বিতীয় স্তর সাহাবীগণের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন): আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, আবু যার আল-গিফারী, আনাস ইবনে মালিক, হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান, মুমিনজননী আয়েশা এবং তার বোন আসমা।

তৃতীয় স্তর তাবেয়ীগণের (আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন): সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, হাসান বসরী, আতা ইবনে আবি রাবাহ, শা'বী, যুহরী, ইবরাহিম নাখয়ী, উমর ইবনে আব্দুল আজীজ, কাতাদাহ, মুজাহিদ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, তাউস এবং সাবিত আল-বুনানী।

চতুর্থ স্তর তাদের পরবর্তী ফকিহগণের (আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন): শাফিঈ, আবু সাওর, আওযাঈ, সুফিয়ান সাওরী, বিচারক আবু ইউসুফ, ইবন আবি লায়লা, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, বুওয়াইতী, মানসুর ইবনুল মুতামির এবং আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক।

পঞ্চম স্তর যাহিদগণের (আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন): মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি, তায়ম আদ-দারানী, শাকীক আল-বালখী এবং মালিক ইবনে দিনার

সুলাইমান আত-তাইমী এবং মানসুর ইবনে আম্মার।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَمُحَمّد بن السماك وَيحيى بن معَاذ وَأحمد بن حَرْب.

والطبقة السَّادِسَة من أَصْحَاب التأليفات: مُحَمَّد بن سِيرِين وَإِبْرَاهِيم بن عبد الله الْكرْمَانِي وَعبد الله بن مُسلم اليمني وَالْحسن بن الْحُسَيْن

وارطاميدورس اليوناني.

والطبقة السَّابِعَة من الفلاسفة: افلاطون ومهراديين وارسطاطاليس وبطليموس وَيَعْقُوب بن اسحق الْكِنْدِيّ وابو زيد الْبَلْخِي.

والطبقة الثَّامِنَة من الْأَطِبَّاء جالينوس وابقراط وتحنون وَمُحَمّد بن زَكَرِيَّا.

والطبقة التَّاسِعَة من الْيَهُود: حييّ بن اخْطُبْ وَكَعب بن الْأَشْرَف ومُوسَى بن يَعْقُوب.

والطبقة الْعَاشِرَة من النَّصَارَى: حنين بن اسحاق المترجم وَأَبُو مخلد وزين الطَّبَرِيّ.

والطبقة الْحَادِيَة عشر من الْمَجُوس: هُرْمُز بن أزدشير وبزدحمير بن تحيكان وانو شرْوَان وكسمرد وجاماسب.

والطبقة الثَّانِيَة عشر من مُشْركي الْعَرَب: أَبُو جهل بن هِشَام وَعبد الله بن أبي وَنَوْفَل بن عبد الله وَعَمْرو بن عدود وَابْن الزِّبَعْرَى، وَأَبُو طَالب، وَأَبُو الْعَاصِ.

والطبقة الثَّالِثَة عشر من الكهنة: سطيح، وشق، والخزرجي، وعوسجة، والقطامي وَأَبُو زُرَارَة.

والطبقة الرَّابِعَة عشر من السَّحَرَة: عبد الله بن هِلَال وقرط بن زيد الْأَيْلِي وعتاب بن شحره الرَّازِيّ.

والطبقة الْخَامِسَة عشر من أَصْحَاب الفراسة: سعيد بن سِنَان، وَإيَاس بن مُعَاوِيَة، وجندل بن الحكم وَمُعَاوِيَة بن كُلْثُوم.

الْمقَالة الرَّابِعَة عشر فِي أدب الْقَاص لرؤياه: قَالَ النَّبِي اذا رأى أحدكُم الرُّؤْيَا الصَّالِحَة فَلَا يقصها إِلَّا على من يعلم أَنه نَاصح
এবং মুহাম্মদ ইবনুল সাম্মাক, ইয়াহইয়া ইবনে মুয়াজ এবং আহমদ ইবনে হারব।

এবং ষষ্ঠ স্তর হলো গ্রন্থকারদের মধ্য থেকে: মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কিরমানি, আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম আল-ইয়ামানি এবং আল-হাসান ইবনুল হুসাইন

এবং গ্রিক আর্তামিডোরাস।

এবং সপ্তম স্তর হলো দার্শনিকদের মধ্য থেকে: প্লেটো, মেহরাদিন, অ্যারিস্টটল, টলেমি, ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-কিন্দি এবং আবু যায়েদ আল-বালখি।

এবং অষ্টম স্তর হলো চিকিৎসকদের মধ্য থেকে: গ্যালেন, হিপোক্রেটিস, তাহনুন এবং মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া।

এবং নবম স্তর হলো ইহুদিদের মধ্য থেকে: হুয়াই ইবনে আখতাব, কাব ইবনুল আশরাফ এবং মুসা ইবনে ইয়াকুব।

এবং দশম স্তর হলো খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে: হুনাইন ইবনে ইসহাক অনুবাদক, আবু মাখলাদ এবং যাইন আত-তাবারি।

এবং একাদশ স্তর হলো মজুসিদের মধ্য থেকে: হরমোজ ইবনে আরদাশির, বুজদাহমির ইবনে তাহিকান, আনু শিরওয়ান, কাসমারদ এবং জামাসব।

এবং দ্বাদশ স্তর হলো আরবের মুশরিকদের মধ্য থেকে: আবু জেহেল ইবনে হিশাম, আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই, নওফল ইবনে আব্দুল্লাহ, আমর ইবনে আবদ উদ, ইবনুল যিবায়রা, আবু তালিব এবং আবুল আস।

এবং ত্রয়োদশ স্তর হলো গণকদের মধ্য থেকে: সাতিহ, শিক্ক, আল-খাজরাজি, আউসাজা, আল-কাতামি এবং আবু যুরারা।

এবং চতুর্দশ স্তর হলো জাদুকরদের মধ্য থেকে: আব্দুল্লাহ ইবনে হিলাল, কুরত ইবনে যায়েদ আল-আইলি এবং ইত্তাব ইবনে শাহরাহ আর-রাজি।

এবং পঞ্চদশ স্তর হলো অবয়ববিদদের মধ্য থেকে: সাঈদ ইবনে সিনান, ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া, জানদাল ইবনুল হাকাম এবং মুয়াবিয়া ইবনে কুলসুম।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: স্বপ্ন বর্ণনাকারীর আদব সম্পর্কে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন কোনো উত্তম স্বপ্ন দেখে, তবে সে যেন তা কেবল এমন ব্যক্তির কাছেই বর্ণনা করে যাকে সে হিতাকাঙ্ক্ষী বলে জানে।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ১৫)
لَهُ فَإِنَّهُ سَوف يَقُول خيرا والرؤيا على مَا أولت. وَمثل ذَلِك كَمثل رجل قَائِم على رجل وَاحِدَة وَهُوَ ينْتَظر مَتى يَضَعهَا وَإِذا رأى أحدكُم رُؤْيا فَلَا يحدث بهَا إِلَّا عَالما أَو ناصحا والرؤيا على رجل طَائِر مَا لم يحدث بهَا فَإِذا حدث بهَا وَقعت " وَقَالَ النَّبِي " من كذب فِي الرُّؤْيَا كلف يَوْم الْقِيَامَة عقد شعيرتين ".

وَقَالَ المعبرون من الْمُسلمين إِذا رَأَيْت رُؤْيا فاقصصها على ذِي علم ورأي وَلَا تقصص رُؤْيَاك أمْرَأَة وَلَا عَدو لَك وَلَا أهل جَهَالَة للأمور.

وَإِذا رَأَيْت شَيْئا تكرههُ وَلم تقدر على عَالم بالرؤيا فَقل أسْتَغْفر الله من شَرّ رؤيايي هَذِه ان تضرني فِي دنياي وآخرتي ثمَّ اتفل عَن يسارك ثَلَاثًا فَلَا يقص أحد رُؤْيَاهُ وَفِي مقره أَو أقليمه معبر وَاحِد وَمِنْه

لِأَن فِرْعَوْن لما قصّ رُؤْيَاهُ على معبري بَلَده وَقَالُوا أضغاث أَحْلَام وَلم تكن من الأضغاث فعبرها يُوسُف فَوَقَعت كَمَا عبر.

 

‌‌بَاب حرف الْألف

فَأَما حرف الْألف إِذا نطق بهَا صَاحب الرُّؤْيَا وَكَانَ فِيهَا شَاهد خير فَإِنَّهَا ألف: أَمَان

إِسْلَام. . أما إسرافك

اجل وَذَلِكَ مَعَ شَاهد الرُّؤْيَا رُؤْيَة … قَالَ المعبرون رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ: من رأى أَنه قَائِم بَين يَدي الله تَعَالَى منكس الرَّأْس فَإِنَّهُ ظَالِم لقَوْله عز وجل: (وَلَو ترى إِذْ المجرمون ناكسوا رؤوسهم عِنْد رَبهم) وَمن رأى الله عز وجل على نوره وبهاءه وَلم يعاين صفة أَو صُورَة أَو مِثَالا بل يرَاهُ عَظِيما كَأَنَّهُ سُبْحَانَهُ أكْرمه وَأَدْنَاهُ وقربه وَغفر لَهُ فَإِن ذَلِك يدل على لِقَائِه إِيَّاه على مثل ذَلِك وَدخُول الْجنَّة وَمن رأى أَن الله تَعَالَى اشْتَرَاهُ من نَفسه فَإِنَّهُ يقتل فِي سَبيله
তাঁর কাছে, কেননা তিনি কল্যাণকর কথাই বলবেন এবং স্বপ্ন তা-ই হয় যার ভিত্তিতে তার ব্যাখ্যা করা হয়। আর এর উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যে এক পায়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে কখন সে তা নিচে রাখবে। তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো স্বপ্ন দেখে, তখন সে যেন তা কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি অথবা হিতাকাঙ্ক্ষী ব্যতীত অন্য কারো কাছে ব্যক্ত না করে। স্বপ্ন পাখির পায়ে থাকে যতক্ষণ তা ব্যক্ত করা না হয়, অতঃপর যখন তা ব্যক্ত করা হয়, তখন তা বাস্তবে ঘটে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি স্বপ্নে মিথ্যা বলবে, কিয়ামতের দিন তাকে দুটি যব-দানায় গিট বাঁধতে বাধ্য করা হবে।"

মুসলিম স্বপ্ন-ব্যাখ্যাকারগণ বলেছেন, যখন তুমি কোনো স্বপ্ন দেখবে, তখন তা কোনো জ্ঞানী ও সুচিন্তিত মত প্রদানকারী ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করো। তোমার স্বপ্ন কোনো নারী, তোমার কোনো শত্রু অথবা বিষয়াদি সম্পর্কে অজ্ঞ কোনো ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করো না।

আর যখন তুমি এমন কিছু দেখবে যা তুমি অপছন্দ করো এবং কোনো স্বপ্ন-ব্যাখ্যাকারকে না পাও, তবে বলো— আমি এই স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যাতে তা আমার দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো ক্ষতি করতে না পারে। অতঃপর তোমার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলো। কেউ যেন তার স্বপ্ন বর্ণনা না করে যদি তার আবাসস্থলে বা অঞ্চলে অন্তত একজন ব্যাখ্যাকার থাকেন, এবং তা থেকে

কারণ ফেরাউন যখন তার দেশের স্বপ্ন-ব্যাখ্যাকারদের কাছে তার স্বপ্ন বর্ণনা করল, তারা সেটিকে অবান্তর কল্পনা বলেছিল, অথচ তা অবান্তর কল্পনা ছিল না। অতঃপর ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) সেটির ব্যাখ্যা করলেন এবং তিনি যেভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন তা সেভাবেই সংঘটিত হলো।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: আলিফ বর্ণ

অতঃপর আলিফ বর্ণ সম্পর্কে বলা যায়— যখন স্বপ্নদ্রষ্টা এটি উচ্চারণ করে এবং তাতে কল্যাণের কোনো আলামত থাকে, তবে সেই আলিফ হলো: নিরাপত্তা (আমান), ইসলাম। আর তোমার সীমালঙ্ঘন (ইসরাফ) হলে তা মৃত্যু (আজল) নির্দেশ করে; আর এটি স্বপ্নের আলামত ও দর্শনের সাথে সংশ্লিষ্ট … স্বপ্ন-ব্যাখ্যাকারগণ (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে আল্লাহর দুই হাতের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তবে সে জালিম; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর তুমি যদি দেখতে পেতে যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে মাথা নিচু করে থাকবে।" আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর নূর ও মহিমার সাথে দেখল এবং তাঁর কোনো গুণ, আকৃতি বা সাদৃশ্য প্রত্যক্ষ করেনি, বরং তাঁকে মহান হিসেবে দেখল যেন সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে সম্মানিত করেছেন, নিকটবর্তী করেছেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছেন— তবে তা নির্দেশ করে যে তিনি তাঁর সাথে এভাবেই সাক্ষাৎ করবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করবেন। আর যে ব্যক্তি দেখল যে আল্লাহ তাআলা তাকে তার নিজের কাছ থেকে ক্রয় করে নিয়েছেন, তবে সে তাঁর রাস্তায় শহীদ হবে।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَيدخل الْجنَّة لقَوْله عز وجل (إِن الله اشْترى من الْمُؤمنِينَ أنفسهم) الْآيَة وَمن رأى الله سبحانه وتعالى يمسح على رَأسه وتبارك فِيهِ، فَهُوَ تَعَالَى يخصصه ويقربه مِنْهُ لقَوْله تَعَالَى: (وباركنا عَلَيْهِ فِي الآخرين) إِلَّا أَنه لَا يرفع عَنهُ الْبلَاء إِلَى أَن يَمُوت وَمن رأى كَأَنَّهُ يحدث الله فَإِنَّهُ يقْرَأ الْقُرْآن وَيكثر الاسْتِغْفَار لقَوْله تَعَالَى: (أفبهذا الحَدِيث أَنْتُم مدهنون) وَمن رأى أَنه يُصَافح الله تَعَالَى فَإِنَّهُ يحجّ ويصافح الْحجر الْيَمَانِيّ لقَوْل عَمْرو رضي الله عنه عندالحجر الْيَمَانِيّ: (يَمِين الله فِي الارض) وَمن رأى ان الله عز وجل أباعه فَإِنَّهُ يكفر وَيدخل فِي الْمعاصِي وَيتْرك الصَّلَاة وَالذكر وَالْقُرْآن لقَوْله تَعَالَى: (وَإِن الْكَافرين لَا مولى لَهُم) وَمن رأى أَنه ينظر إِلَى الله عز وجل فَهِيَ رَحمته لَهُ وَهَذِه رُؤْيا الْأَبْرَار.

وَمن قد أخْلص وشمر فِي الطَّاعَة فَإِن لم يكن صَاحب هَذِه الرُّؤْيَا برا فليحذر يَوْم يقوم النَّاس لرب الْعَالمين وَإِن رَآهُ سبحانه وتعالى قد نزل بِأَرْض فَإِن الْعدْل وَالْخصب ينزل بِتِلْكَ الأَرْض وَمن رَآهُ سبحانه وتعالى وَقد سجد لَهُ فَإِنَّهُ يقربهُ لقَوْله تَعَالَى واسجد واقترب وَمن رأى الله سبحانه وتعالى وَله شَيْئا من مَتَاع الدُّنْيَا من يَده إِلَى يَده فَإِنَّهُ يُصِيبهُ مرض وَيُوجب الله لَهُ الْجنَّة وَلَا يجد لَهُ فِي دينه

وَقيل إِنَّه يرى ذَلِك فِي الْيَقَظَة وَمن رأى الله تَعَالَى وعده مشافهة فَإِنَّهُ يغْفر لَهُ وَلَا يعذبه وَمن رأى الله من وَرَاء حجاب فَإِنَّهُ مُتبع للسّنة لقَوْله تَعَالَى: (وَمَا كَانَ لبشر أَن يكلمهُ الله إِلَّا وَحيا أَو من وَرَاء حجاب وَمهما رأى الْإِنْسَان من الله من قرب ولطف ومؤانسة وكل ذَلِك لَا يُنكر من الله لأوليائه جل جلاله وَمن
এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণীর কারণে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা-কে দেখবে যে তিনি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন এবং তাতে বরকত দান করছেন, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে বিশিষ্ট করবেন এবং তাঁর নিকটবর্তী করবেন; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: (এবং আমি তাকে পরবর্তীদের মধ্যে বরকতময় করেছি)। তবে তার মৃত্যু পর্যন্ত তার থেকে বিপদ দূর করা হবে না। আর যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে যেন সে আল্লাহর সাথে কথা বলছে, তবে সে কুরআন পাঠ করবে এবং অধিক পরিমাণে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করবে; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: (তবে কি তোমরা এই কথাকে তুচ্ছ জ্ঞান করছ?)। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে আল্লাহ তাআলার সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করছে, তবে সে হজ করবে এবং হাজরে ইয়ামানি স্পর্শ (মুসাফাহা) করবে; হাজরে ইয়ামানির নিকট আমর (রা.)-এর এই উক্তির কারণে: (এটি পৃথিবীতে আল্লাহর ডান হাত)। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাকে বিক্রি করে দিয়েছেন, তবে সে কুফরি করবে, পাপে নিমজ্জিত হবে এবং সালাত, জিকির ও কুরআন ত্যাগ করবে; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: (এবং নিশ্চয়ই কাফেরদের কোনো অভিভাবক নেই)। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী-এর দিকে তাকাচ্ছে, তবে তা তার প্রতি আল্লাহর রহমত, আর এটি নেককার ব্যক্তিদের স্বপ্ন।

আর যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ হয়েছে এবং ইবাদতে সচেষ্ট হয়েছে (তার জন্য সুসংবাদ), কিন্তু এই স্বপ্নের অধিকারী ব্যক্তি যদি নেককার না হয়, তবে সে যেন সেই দিনকে ভয় করে যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের রবের সামনে দণ্ডায়মান হবে। আর যদি কেউ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা-কে দেখে যে তিনি কোনো জমিনে অবতরণ করেছেন, তবে সেই জমিনে ইনসাফ এবং প্রাচুর্য নেমে আসবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা-কে দেখবে যে সে তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদা করছে, তবে আল্লাহ তাকে নিকটবর্তী করবেন; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: (সিজদা করো এবং নিকটবর্তী হও)। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা-কে দেখবে যে দুনিয়ার কোনো সামগ্রী আল্লাহর হাত থেকে তার হাতে আসছে, তবে সে অসুস্থতায় আক্রান্ত হবে এবং আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবধারিত করবেন এবং তার দ্বীনের মধ্যে সে কোনো অভাব দেখবে না।

বলা হয়েছে যে, সে জাগ্রত অবস্থায় তা দেখতে পাবে। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে আল্লাহ তাআলা তাকে সরাসরি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং তাকে শাস্তি দেবেন না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে পর্দার আড়াল থেকে দেখবে, তবে সে সুন্নতের অনুসারী; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: (মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহি ছাড়া কিংবা পর্দার আড়াল ছাড়া)। আর মানুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে নৈকট্য, অনুগ্রহ ও হৃদ্যতা যা-ই দেখুক না কেন, এর কোনো কিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বন্ধুদের জন্য অস্বীকার করার মতো নয়, তাঁর মহিমা অত্যন্ত মহান। আর যে...
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ১৭)
رأى الله تَعَالَى كَأَنَّهُ وَالِده أَو ذُو مَوَدَّة فَإِن الله تَعَالَى يلاطف هَذَا العَبْد ويشفق عَلَيْهِ شَفَقَة الْوَالِد وَبِهَذَا جَاءَ الحَدِيث إِن الله اشفق على العَبْد من وَالِديهِ ويتعاهده الْمَرَض كَمَا يتعاهده وَالِده بالشفقة ليكرمه فِي متقلبه إِلَيْهِ وَيجْعَل ذَلِك الْمَرَض زجرا لَهُ وثوابا عِنْده

وَمن رأى الله تَعَالَى فِي صُورَة رجل مَعْرُوف فَإِن ذَلِك الرجل لَا يزَال منتصرا مستعليا قاهرا مكذوبا عَلَيْهِ فَافْهَم وَكَانَ بعض المعبرين إِذا اتاه شخص وَيَقُول رَأَيْت الله فِي الْمَنَام فَيَقُول مَه وَلَا يسمع لَهُ كلَاما.

وَمن رأى الله تَعَالَى ساخطا فَإِنَّهُ عَاق لوَالِديهِ لقَوْله تَعَالَى: (أَن اشكر لي ولوالديك إِلَيّ الْمصير) .

وَمن رأى الله تَعَالَى غضبانا عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يَقع من مَوضِع مُرْتَفع لقَوْله تَعَالَى (وَمن يحلل عَلَيْهِ غَضَبي فقد هوى) .

وَمن رأى هوى من مَوضِع مُرْتَفع فَإِن الله عَلَيْهِ غَضْبَان وَمن رأى فِي مَنَامه كَأَنَّهُ يسب الله تَعَالَى فَإِنَّهُ جَاحد لنعمة الله تَعَالَى وَلم يرض بِمَا قسم الله لَهُ من الرزق.

وَمن رأى أَنه يُنَاجِي ربه فَإِنَّهُ ينَال الْقرب من الله تَعَالَى لقَوْله عز وجل (وقربناه نجيا) وَمن رأى الله جل جلاله يُصَلِّي فِي مَكَان أَو يسبح فَإِن مغفرته وَرَحمته تحل فِي ذَلِك الْمَكَان وَإِن كَانَ أَهله فِي قحط أَو حضر فرج عَنْهُم لقَوْله تَعَالَى: (اولئك عَلَيْهِم صلوَات من رَبهم وَرَحْمَة) .

وَقَبله الْحق عز وجل فِي حرف الْقَاف

وَمن رأى الله يُنَادِيه أَو سَمَّاهُ باسمه

ارْتَفع شَأْنه وقهر أعداءه

وَإِذا رأى الْكَافِر الله عز وجل على نوره وبهائه فَإِنَّهُ يسلم وَالله أعلم.

‌‌حِكَايَة الرُّؤْيَا المعبرة:

رأى فرقد السبخي كَأَنَّهُ اوقف بَين يَدي الله تَعَالَى وَكَانَ الله عز وجل يَقُول: يَا فرقد احتكم على حَاجَتك فَقَالَ حَاجَتي
যিনি আল্লাহ তাআলাকে স্বপ্নে দেখলেন যেন তিনি তাঁর পিতা অথবা কোনো স্নেহশীল ব্যক্তি, তবে আল্লাহ তাআলা এই বান্দার প্রতি অনুগ্রহ করবেন এবং পিতার ন্যায় তাঁর প্রতি দয়া করবেন। এই মর্মেই হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি তার পিতামাতার চেয়েও অধিক দয়ালু। আর রোগব্যাধি তাকে এমনভাবে দেখাশোনা করে যেমন পিতা দয়াভরে তার খোঁজখবর নেন, যাতে আল্লাহ তাঁর কাছে ফিরে যাওয়ার সময় তাকে সম্মানিত করেন এবং সেই রোগকে তার জন্য সতর্কবাণী ও আল্লাহর নিকট সওয়াবের মাধ্যম বানিয়ে দেন।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে কোনো পরিচিত ব্যক্তির অবয়বে দেখল, তবে সেই ব্যক্তি সর্বদা বিজয়ী, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতাপশালী হবে যদিও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা হবে, অতএব এটি অনুধাবন করুন। কোনো কোনো স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীর নিকট যখন কেউ এসে বলত, 'আমি আল্লাহকে স্বপ্নে দেখেছি', তখন তিনি বলতেন, 'থামো' এবং তার কথা শুনতেন না।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট অবস্থায় দেখল, তবে সে তার পিতামাতার অবাধ্য; কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং তোমার পিতামাতার প্রতিও; আমারই কাছে প্রত্যাবর্তনস্থল)।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে তার ওপর রাগান্বিত দেখল, তবে সে কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচে পড়ে যাবে; কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (আর যার ওপর আমার ক্রোধ আপতিত হয়, সে অবশ্যই নিচে নিপতিত হয়)।

আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছে, তবে আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত। আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে আল্লাহ তাআলাকে গালি দিচ্ছে, তবে সে আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের অকৃতজ্ঞ এবং আল্লাহ তার জন্য যে রিজিক নির্ধারণ করেছেন তাতে সে সন্তুষ্ট নয়।

আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে তার রবের সাথে একান্তে কথা বলছে, তবে সে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: (এবং আমি তাকে একান্তে কথা বলার জন্য নিকটবর্তী করেছিলাম)। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ জাল্লা জালালুহুকে কোনো স্থানে সালাত আদায় করতে বা তাসবীহ পাঠ করতে দেখল, তবে সেই স্থানে তাঁর ক্ষমা ও রহমত অবতীর্ণ হবে; আর যদি সেখানকার অধিবাসীরা দুর্ভিক্ষে থাকে তবে তাদের কষ্ট দূর হবে; কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (তাদের ওপরই তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও রহমত বর্ষিত হয়)।

আর ক্বাফ বর্ণের অধ্যায়ে মহান সত্য (আল্লাহর) চুম্বন প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

আর যে ব্যক্তি দেখল আল্লাহ তাকে ডাকছেন অথবা তাকে তার নাম ধরে সম্বোধন করেছেন

তবে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সে শত্রুদের পরাজিত করবে।

আর যদি কোনো কাফির ব্যক্তি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে তাঁর নূর ও মহিমায় প্রত্যক্ষ করে, তবে সে ইসলাম গ্রহণ করবে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

ব্যাখ্যাকৃত স্বপ্নের কাহিনী:

ফারকাদ আস-সাবখি স্বপ্নে দেখলেন যেন তাকে আল্লাহ তাআলার সামনে দাঁড় করানো হয়েছে এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলছেন: হে ফারকাদ! তোমার যা প্রয়োজন তার প্রার্থনা করো। তখন সে বলল, আমার প্রয়োজন হলো...
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
يَا رب أَن تغْفر لي

فَقَالَ: قد غفرت لَك

فَسَأَلَ فرقد ابْن سِيرِين عَن رُؤْيَاهُ هَذِه فَقَالَ لَهُ: أبشر برحمة الله واستعد للبلاء.

فَلم يلبث فرقد ان فلج وَبَقِي مفلوجا إِلَى ان مَاتَ

وَرَأى فَقِيها من فُقَهَاء الْبَصْرَة كَأَن الله عز وجل قد كَسَاه ثَوْبَيْنِ فلبسهما مَكَانَهُ

فَسَأَلَ ابْن سِيرِين عَن ذَلِك فَقَالَ لَهُ: استعد للبلاء فَلم يلبث أَن جذم وَمن رأى الله تَعَالَى فِي صُورَة يَضَعهَا (ويحدها) فَإِن رُؤْيَاهُ من الأضغاث لِأَن الله تَعَالَى لَا يحد وَلَا يشبه بِشَيْء من مخلوقاته لقَوْله تَعَالَى: (لَيْسَ كمثله شَيْء وَهُوَ السَّمِيع الْبَصِير)

وَمن رأى الله تَعَالَى عز وجل نَاوَلَهُ خَاتمًا فَإِنَّهُ يخْتم أَعماله بالصالحات وَتقبل مِنْهُ.

رُؤْيا آدم عليه السلام: وَمن رأى آدم عليه السلام على حسنه وجماله وَكَانَ الرَّائِي من أهل الْإِمَارَة أَو الْقَضَاء أَو الْخلَافَة نالها لقَوْله تَعَالَى: (إِنِّي جَاعل فِي الأَرْض خَليفَة) وَمن رأى آدم عليه السلام وَكَانَ الرَّائِي من عَامَّة النَّاس نَالَ عزا وشرفا من ملك أَو خَليفَة وَإِن أعطَاهُ آدم شَيْئا نَالَ نعْمَة.

وَمن رأى آدم على صورته شاحب اللَّوْن فَإِنَّهُ ينْتَقل من مَكَان إِلَى مَكَان وتزول نعْمَته وَيَقَع فِي زلَّة ويأتيه الْفرج لقَوْله تَعَالَى: (فَتلقى آدم من ربه كَلِمَات فَتَابَ عَلَيْهِ) وَقَالَت النَّصَارَى من رأى آدم عليه السلام فَإِنَّهُ يغتر بقول عَدو وَهُوَ لَا يعلم وتنزل بِهِ بلية وفتنة ثمَّ ينجو وَيرد الله عَلَيْهِ خيرا.

رُؤْيا إِبْرَاهِيم عليه السلام

وَمن رأى إِبْرَاهِيم عليه السلام فَإِنَّهُ يعق أَبَاهُ ويرزق الْحَج وينصر على أعدائه وينال شدَّة من ملك وينصر عَلَيْهِ وينال زَوْجَة مُؤنَة وَيكون خَائفًا

وَقَالَت النَّصَارَى من رأى إِبْرَاهِيم فَإِنَّهُ
হে প্রতিপালক! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।

তিনি বললেন: আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।

অতঃপর ফারকাদ ইবনে সিরীনকে তার এই স্বপ্নের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে বললেন: আল্লাহর রহমতের সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং বিপদের জন্য প্রস্তুত হও।

অল্প সময়ের মধ্যেই ফারকাদ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়লেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেই অবস্থাতেই ছিলেন।

বসরা শহরের ফকিহদের মধ্যে একজনকে স্বপ্নে দেখা গেল, যেন মহান আল্লাহ তাকে দুটি পোশাক পরিধান করিয়েছেন এবং তিনি সাথে সাথেই সেগুলো পরিধান করলেন।

তিনি ইবনে সিরীনকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে বললেন: বিপদের জন্য প্রস্তুত হও। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হলেন। আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে এমন কোনো আকৃতিতে দেখল যা সে কল্পনা করে নিয়েছে (এবং সীমাবদ্ধ করেছে), তবে তার সেই স্বপ্ন অলীক স্বপ্নের অন্তর্ভুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ সীমাবদ্ধ নন এবং তিনি তাঁর কোনো সৃষ্টির সদৃশ নন; মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।"

আর যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখল যে মহান আল্লাহ তাকে একটি আংটি প্রদান করছেন, তবে তার আমলসমূহ নেক কাজের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে এবং তা কবুল করা হবে।

আদম (আলাইহিস সালাম)-কে স্বপ্নে দেখা: যে ব্যক্তি আদম (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর রূপ ও সৌন্দর্যের সাথে দেখল, আর স্বপ্নদ্রষ্টা যদি নেতৃত্ব, বিচারকার্য বা খিলাফতের উপযুক্ত ব্যক্তি হয়, তবে সে তা লাভ করবে। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে যাচ্ছি।" আর যে সাধারণ লোক আদম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখল, সে কোনো রাজা বা খলিফার নিকট থেকে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে। আর আদম (আলাইহিস সালাম) যদি তাকে কিছু দান করেন, তবে সে নেয়ামত লাভ করবে।

আর যে ব্যক্তি আদম (আলাইহিস সালাম)-কে বিবর্ণ চেহারায় দেখল, তবে সে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হবে এবং তার নেয়ামত বিলুপ্ত হবে ও সে কোনো স্খলনে পতিত হবে, কিন্তু পরবর্তীতে তার নিকট প্রশান্তি ও মুক্তি আসবে; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর আদম তার প্রতিপালকের নিকট থেকে কিছু বাণী লাভ করলেন এবং আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করলেন।" খ্রিস্টানগণ বলেন, যে ব্যক্তি আদম (আলাইহিস সালাম)-কে স্বপ্নে দেখবে, সে অবচেতনভাবেই শত্রুর কথায় প্রতারিত হবে এবং সে বিপদ ও ফিতনায় নিপতিত হবে, অতঃপর সে মুক্তি পাবে এবং আল্লাহ তাকে কল্যাণে ফিরিয়ে আনবেন।

ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে স্বপ্নে দেখা

যে ব্যক্তি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখল, সে তার পিতার অবাধ্য হতে পারে, তবে সে হজ্জ করার তাওফিক পাবে এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হবে। সে কোনো রাজার পক্ষ থেকে কঠোরতার সম্মুখীন হতে পারে কিন্তু তার বিরুদ্ধে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং সে এক অনুগত স্ত্রী লাভ করবে অথচ সে ভীত অবস্থায় থাকবে।

খ্রিস্টানগণ বলেন, যে ব্যক্তি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখবে সে...
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
ينَال رئاسة ومالا وَلَو كَانَ فَقِيرا ويرزق ولدا ذكرا مُبَارَكًا بعدالكبر ويرزق الخصب فِي تِلْكَ الْمَدِينَة.

رُؤْيا اسماعيل عليه السلام: قَالَت الْمُسلمُونَ: من رأى إِسْمَاعِيل عليه السلام فَإِنَّهُ ينَال رئاسة وفصاحة وَيَبْنِي مَسْجِدا لقَوْله تَعَالَى (وَإِذ يرفع إِبْرَاهِيم الْقَوَاعِد من الْبَيْت واسماعيل) وَقَالَت النَّصَارَى: من رأى اسماعيل فِي الْمَنَام فَإِنَّهُ يلقى شدَّة من قبل أَبِيه ويسافر وينفع النَّاس وَيخرج من نَسْله الْمُلُوك وَتوسع لَهُ الْخيرَات.

رُؤْيا اسحاق عليه السلام: قَالَ الْمُسلمُونَ: من رأى اسحق عليه السلام أَصَابَهُ هول وينجو وَيُقَال بِشَارَة لقَوْله تَعَالَى: (وبشرناه باسحق)

وَمن رأى اسحق مقشعرا فَإِنَّهُ يذهب بَصَره

وَقَالَت الْيَهُود: من رأى اسحق نَالَ رئاسة وخصبا وَقَالَت النَّصَارَى: يُصِيبهُ هم من ملك وينجو ويولد لَهُ ولدان أَحدهمَا بار وَالْآخر عَاق.

رُؤْيا أَيُّوب عليه السلام: من رأى أَيُّوب عليه السلام فَإِنَّهُ يبتلى بِشَيْء يذهب مَاله وَتَمُوت اولاده ثمَّ يعوضه الله أَضْعَاف ذَلِك وينال بعد الْغم رَاحَة لقَوْله تَعَالَى: (وَوَهَبْنَا لَهُ أَهله وَمثلهمْ مَعَهم) .

‌‌اعْتِكَاف:

 

وَمن رأى كَأَنَّهُ معتكف فَإِنَّهُ ينَال تقى وصيانة فِي الدّين

فَإِن اعْتكف بِلَا صَوْم فَإِنَّهُ يدْخل فِي أَمر لَا يتم لَهُ أَو يدْخل عَلَيْهِ مَا يفْسد أُمُور دينه.

رُؤْيا إسْرَافيل عليه السلام:

من رأى اسرافيل عليه السلام فِي الْمَنَام وَهُوَ ينْفخ فِي الصُّور وَلم يظنّ أَن أحدا سمع النفحة غَيره فَإِنَّهُ يَمُوت، وَإِن اعْتقد أَن النَّاس قد سمعُوا النفخة مَعَه فَإِن الْمَوْت يكثر فِي ذَلِك الْعَام بِالْمَكَانِ الَّذِي سمع النفخة فِيهِ وَإِن كَانَ أهل تِلْكَ
তিনি নেতৃত্ব ও সম্পদ লাভ করবেন যদিও তিনি দরিদ্র হন, এবং বার্ধক্যের পর তাকে এক বরকতময় পুত্রসন্তান দান করা হবে এবং সেই শহরে প্রাচুর্য নসিব হবে।

ইসমাঈল আলাইহিস সালামের স্বপ্নদর্শন: মুসলিমগণ বলেছেন: যে ব্যক্তি ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে দেখবে সে নেতৃত্ব ও সাবলীল বাগ্মিতা লাভ করবে এবং একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: (আর যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল গৃহের ভিত্তি উত্তোলন করছিল)। আর খ্রিস্টানরা বলেছে: যে ব্যক্তি স্বপ্নে ইসমাঈলকে দেখবে সে তার পিতার পক্ষ থেকে কঠোরতার সম্মুখীন হবে, সফর করবে এবং মানুষের উপকার করবে। তার বংশ থেকে রাজন্যবর্গের উদ্ভব হবে এবং তার কল্যাণসমূহ প্রশস্ত হবে।

ইসহাক আলাইহিস সালামের স্বপ্নদর্শন: মুসলিমগণ বলেছেন: যে ব্যক্তি ইসহাক আলাইহিস সালামকে দেখবে সে আতঙ্কের শিকার হবে কিন্তু মুক্তি পাবে। একে সুসংবাদও বলা হয়, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিয়েছিলাম)।

আর যে ব্যক্তি ইসহাককে কম্পমান অবস্থায় দেখবে তার দৃষ্টিশক্তি চলে যাবে।

ইয়াহুদীরা বলেছে: যে ব্যক্তি ইসহাককে দেখবে সে নেতৃত্ব ও প্রাচুর্য লাভ করবে। আর খ্রিস্টানরা বলেছে: সে কোনো বাদশাহর পক্ষ থেকে চিন্তিত হবে কিন্তু মুক্তি পাবে এবং তার দুটি সন্তান জন্মাবে, যাদের একজন পুণ্যবান ও অন্যজন অবাধ্য হবে।

আইয়ুব আলাইহিস সালামের স্বপ্নদর্শন: যে ব্যক্তি আইয়ুব আলাইহিস সালামকে দেখবে সে এমন কিছুর দ্বারা পরীক্ষিত হবে যাতে তার সম্পদ বিনষ্ট হবে এবং তার সন্তানরা মারা যাবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে তার কয়েকগুণ বিনিময় দান করবেন এবং দুঃখের পর তিনি স্বস্তি লাভ করবেন, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি তাকে তার পরিবার-পরিজন দান করলাম এবং তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও)।

‌‌ইতিকাফ:

 

যে ব্যক্তি নিজেকে ইতিকাফরত দেখবে সে দ্বীনের ব্যাপারে তাকওয়া ও সুরক্ষা লাভ করবে।

যদি সে রোজা ছাড়া ইতিকাফ করে তবে সে এমন কাজে লিপ্ত হবে যা তার জন্য পূর্ণ হবে না অথবা তার ওপর এমন কিছু আপতিত হবে যা তার দ্বীনি বিষয়সমূহকে বিনষ্ট করবে।

ইসরাফিল আলাইহিস সালামের স্বপ্নদর্শন:

যে ব্যক্তি স্বপ্নে ইসরাফিল আলাইহিস সালামকে শিঙায় ফুঁক দিতে দেখবে অথচ সে মনে করবে না যে সে ছাড়া অন্য কেউ সেই ফুঁৎকার শুনেছে, তবে সে মারা যাবে। আর যদি সে বিশ্বাস করে যে মানুষও তার সাথে সেই ফুঁৎকার শুনেছে, তবে সেই বছর ওই স্থানে মৃত্যুর আধিক্য ঘটবে যেখানে সে ফুঁৎকার শুনেছে। আর যদি ওই জনপদের অধিবাসীরা...
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
الارض يتوقعون بلَاء حل بهم وَقَالَ القيرواني فِي مُخْتَصره: النفخة الأولى تدل على الوباء وَالثَّانيَِة تدل على الْحَيَاة وَرفع الطَّاعُون لقَوْله تَعَالَى: (وَنفخ فِي الصُّور فَصعِقَ من فِي السَّمَوَات وَمن فِي الأَرْض إِلَّا من شَاءَ الله ثمَّ ننفخ فِيهِ أُخْرَى فَإِذا هم قيام ينظرُونَ) .

وَقيل رُؤْيا اسرافيل تدل على السّفر والزهد وَالْعِبَادَة.

فَإِن تحول فِي صورته انسان كثر خَيره وَدينه وَيكون مُطَاعًا فِي قومه.

وَسَيَأْتِي ذكر النفخ ايضا فِي حرف النُّون إِن شَاءَ الله تَعَالَى.

رُؤْيا ابي بكر رضي الله عنه: تدل على اتِّبَاع السّنة وآثار النَّبِي فَمن رَآهُ جَالِسا مَعَ النَّبِي فَإِنَّهُ يتبع الْحق ويقتدي بِالسنةِ وَيكون ناصحا لأمة مُحَمَّد.

الْأكل: فَأَما الْأكل فَإِنَّهُ صِحَة جسم وَقُوَّة لِأَنَّهُ عمَارَة الْبدن. وَأكل الْعلمَاء زِيَادَة فِي علمهمْ وتقويهم على الطَّاعَة

أَلا ترَاهُ يعين الصَّائِم على صَوْمه وَمن أكل جَمِيع مَا فِي الْإِنَاء فقد فرغ رزقه من ذَلِك الْمَكَان أَو يَمُوت

وَأَن أكل حَتَّى مَلأ بَطْنه ومعدته حَتَّى وصل الْأكل إِلَى حلقه أَو فَمه فقد انْتهى رزقه وَفرغ أَجله

وَمن أكل مَالا يُؤْكَل كالخشب وَالْحِجَارَة والخزف فَإِنَّهُ يصحب غير جنسه وَمن أكل شَيْئا مرا فَإِنَّهُ يشرب دَوَاء ويتشرط أَو يحتجم أَو يفتصد وَالْخبْز المر عَيْش فِيهِ نكد الْإِنْسَان فِي الْمَنَام كل شخص يعرف فَهُوَ ذَلِك بِعَيْنِه ذكرا كَانَ ا ، انثى أَو سميه أَو نَظِيره.

والشاب الْمَجْهُول عَدو الشَّيْخ الْمَجْهُول جد الْإِنْسَان وسعده وَقد يكون الشَّيْخ الْمَجْهُول صديقا فِي التَّأْوِيل

فَمن رأى شَيخا مَجْهُولا ضَعِيفا أَو صَغِير الصُّورَة فَذَلِك نقص فِي جد الرَّأْي وسعده والكهل
পৃথিবীর মানুষ তাদের ওপর আপতিত কোনো বিপদের আশঙ্কা করে। আল-কাইরাওয়ানি তার ‘মুখতাসার’-এ বলেছেন: প্রথম ফুৎকার মহামারি নির্দেশ করে এবং দ্বিতীয়টি জীবন লাভ ও প্লেগ রোগ দূর হওয়া নির্দেশ করে; কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: (আর শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, ফলে আসমানসমূহে যারা আছে এবং জমিনে যারা আছে সকলে বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের ইচ্ছে করেন তারা ছাড়া। অতঃপর আবার তাতে ফুৎকার দেওয়া হবে, অমনি তারা দাঁড়িয়ে দেখতে থাকবে।)

বলা হয়েছে যে, ইসরাফীল (আলাইহিস সালাম)-এর স্বপ্নদর্শন সফর, দুনিয়াবিমুখতা ও ইবাদত নির্দেশ করে।

যদি তিনি মানুষের আকৃতি ধারণ করেন, তবে তার কল্যাণ ও দ্বীনদারি বৃদ্ধি পাবে এবং তিনি নিজ কওমের মধ্যে মান্যবর হবেন।

ইনশাআল্লাহ তাআলা ‘নূন’ বর্ণে ফুৎকার সম্পর্কে পুনরায় আলোচনা আসবে।

আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্বপ্নদর্শন: এটি সুন্নাহ ও নবীর পদাঙ্ক অনুসরণের প্রমাণ। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁকে নবীর সাথে উপবিষ্ট দেখবে, সে সত্যের অনুসরণ করে, সুন্নাহর অনুকরণ করে এবং উম্মতে মুহাম্মাদীর কল্যাণকামী হয়।

আহার: আহার হলো দেহের সুস্থতা ও শক্তির প্রতীক, কারণ এটি শরীরের গঠনকারী। আলেমদের আহার তাদের ইলম বৃদ্ধি এবং আনুগত্যের ওপর শক্তির কারণ।

আপনি কি দেখেন না যে, এটি রোজাদারকে তার রোজায় সাহায্য করে? আর যে ব্যক্তি পাত্রের সমস্ত খাবার খেয়ে ফেলে, সেই স্থান থেকে তার রিযিক শেষ হয়ে গেছে অথবা সে মারা যাবে।

আর যদি সে পেট ও পাকস্থলী পূর্ণ করে এমনভাবে আহার করে যে খাবার তার কণ্ঠনালী বা মুখ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে তার রিযিক শেষ হয়েছে এবং তার আয়ু ফুরিয়ে গেছে।

আর যে ব্যক্তি অখাদ্য বস্তু যেমন কাঠ, পাথর ও মাটির পাত্র আহার করে, সে তার স্বজাতীয় নয় এমন কারো সাহচর্য লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি তিক্ত কিছু আহার করে, সে ঔষধ পান করবে এবং অস্ত্রোপচার করাবে অথবা শিঙা লাগাবে কিংবা রক্তমোক্ষণ করাবে। আর তিক্ত রুটি হলো কষ্টকর জীবন। স্বপ্নে মানুষ বলতে পরিচিত প্রতিটি ব্যক্তিই সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, অথবা তার সমনামধারী কেউ কিংবা তার সমকক্ষ কেউ।

অজ্ঞাত যুবক হলো শত্রু। অজ্ঞাত বৃদ্ধ হলো মানুষের সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি; কখনো কখনো ব্যাখ্যায় অজ্ঞাত বৃদ্ধ বন্ধুও হতে পারে।

সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো দুর্বল বা ক্ষুদ্রকায় অজ্ঞাত বৃদ্ধকে দেখে, তবে তা স্বপ্নদ্রষ্টার সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধিতে ঘাটতির লক্ষণ। আর প্রৌঢ় ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
الَّذِي لم يتق الْبيَاض أقوى لجد الْإِنْسَان وسعده.

وَالصَّبِيّ الْبَالِغ قُوَّة وَبشَارَة لقَوْله تَعَالَى: (يَا بشرا هَذَا غُلَام) وَالصَّبِيّ الْحسن إِذا دخل مَدِينَة محاصرة أَو بهَا قحط زَالَ عَنْهُم ذَلِك

عَنْهُم وَإِن كَانُوا فِي طاعون ارْتَفع عَنْهُم.

وَكَذَلِكَ إِذا نزل من السَّمَاء أَو خرج من الأَرْض فَهُوَ بِشَارَة لكل ذِي هم

ويعبر أَيْضا بِملك من الْمَلَائِكَة

مِثَال ذَلِك: أَن يرى الْمَرِيض أَو يرى لَهُ كَأَن صَبيا أَمْرَد أَخذه وَضرب عُنُقه فَإِنَّهُ ملك الْمَوْت.

والشاب الْأَشْقَر عَدو شيخ

والشاب التركي عَدو لأآمانة لَهُ. والشاب الضَّعِيف عَدو ضَعِيف، والشاب الأسمر عَدو غَنِي، والشاب الْأَبْيَض عَدو دين.

استراق السّمع مَذْكُور فِي حرف السِّين.

المراة هِيَ الدُّنْيَا والمجهولة أقوى من الْمَعْرُوفَة لقَوْل النَّبِي (عرضت عَليّ الدُّنْيَا لَيْلَة الْإِسْرَاء بِي فِي صُورَة امْرَأَة حَاسِرَة الذراعين) وَقَالَ عليه السلام: طَلقتك ثَلَاثًا " اراد بهَا الدُّنْيَا

وَحسن المراة أحسن مليح، وقبحها أحسن قَبِيح.

وَالْمَرْأَة السَّوْدَاء تعبر بليلة مظْلمَة والبيضاء بِالنَّهَارِ، فَمن رأى امْرَأَة سَوْدَاء غَابَتْ عَنهُ وَظهر لَهُ امْرَأَة بَيْضَاء ذَلِك دَلِيل الصَّباح وَزَوَال الظلام.

وَالْمَرْأَة الَّتِي كَون للسُّلْطَان أَو هِيَ سُلْطَانه تفسر بِملك ظَالِم معجب أَو تكون بِمَنْزِلَة الْعَرُوس. والزانية هِيَ لأهل الْعلم زِيَادَة فِي علمهمْ وصلاحهم.

والزانية هِيَ لأهل الزّهْد زِيَادَة فِي خَيرهمْ وزهدهم

ولغير هَؤُلَاءِ مَال حرَام وَالْمَرْأَة العريانة من رَآهَا نَاظر إِلَيْهَا، وَقع فِي خَطِيئَة.

والمراة إِذا رَأَتْ امْرَأَة مَجْهُولَة شَابة فَإِنَّهَا عَدو لَهَا والمجهولة جدها وسعدها
যে ব্যক্তি শুভ্রতাকে ভয় করেনি, তা মানুষের ভাগ্য ও সৌভাগ্যের জন্য অধিক শক্তিশালী।

আর প্রাপ্তবয়স্ক বালক শক্তি ও সুসংবাদের প্রতীক, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: (হে সুসংবাদ! এ তো এক কিশোর)। আর সুন্দর বালক যখন কোনো অবরুদ্ধ শহরে বা দুর্ভিক্ষপীড়িত এলাকায় প্রবেশ করে, তখন তাদের থেকে সেই বিপদ দূর হয়ে যায়।

তাদের থেকে (বিপদ দূর হয়), আর যদি তারা মহামারীতে আক্রান্ত থাকে, তবে তা তাদের থেকে উঠে যায়।

অনুরূপভাবে, যদি সে আকাশ থেকে নামে বা জমিন থেকে বের হয়, তবে তা প্রত্যেক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ।

আর তাকে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়।

এর উদাহরণ হলো: কোনো অসুস্থ ব্যক্তি স্বপ্ন দেখল অথবা তার জন্য দেখা হলো যে, যেন এক দাড়ি-গোঁফহীন বালক তাকে পাকড়াও করেছে এবং তার ঘাড় মটকিয়ে দিয়েছে, তবে সে হলো মৃত্যুর ফেরেশতা।

আর গৌরবর্ণের যুবক হলো বৃদ্ধের শত্রু।

আর তুর্কি যুবক এমন শত্রু যার কোনো আমানতদারিতা নেই। দুর্বল যুবক হলো দুর্বল শত্রু, শ্যামলা যুবক হলো ধনী শত্রু এবং শ্বেতবর্ণের যুবক হলো দ্বীনি শত্রু।

আড়িপাতা বিষয়ক আলোচনা 'সীন' বর্ণের অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারী হলো দুনিয়া, আর অপরিচিত নারী পরিচিত নারীর চেয়ে অধিক শক্তিশালী; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: (মিরাজ রজনীতে দুনিয়াকে আমার সামনে দুই হাত খোলা এক নারীরূপে উপস্থাপন করা হয়েছিল)। আর তিনি আলাইহিস সালাম বলেছেন: "আমি তোমাকে তিন তালাক দিলাম", এর মাধ্যমে তিনি দুনিয়াকে উদ্দেশ্য করেছেন।

আর নারীর রূপ হলো সর্বোত্তম কল্যাণকর বিষয়, আর তার কদর্যতা হলো সবচাইতে মন্দ বিষয়।

আর কৃষ্ণাঙ্গ নারী অন্ধকার রাত হিসেবে এবং শ্বেতাঙ্গ নারী দিন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি দেখল যে, একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী তার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে এবং একজন শ্বেতাঙ্গ নারী তার সামনে প্রকাশিত হয়েছে, তবে তা প্রভাত হওয়া এবং অন্ধকার দূর হওয়ার প্রমাণ।

আর যে নারী সুলতানের মালিকানাধীন অথবা সে নিজেই সুলতানা, তাকে একজন আত্মমুগ্ধ অত্যাচারী রাজা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় অথবা সে কনের মর্যাদায় গণ্য হয়। আর ব্যভিচারিণী নারী জ্ঞানীদের জন্য তাদের জ্ঞান ও সংশোধনের বৃদ্ধির প্রতীক।

আর ব্যভিচারিণী নারী দুনিয়াত্যাগী তাপসদের জন্য তাদের কল্যাণ ও বিরাগ বৃদ্ধির প্রতীক।

আর অন্যদের জন্য তা হারাম সম্পদ। আর উলঙ্গ নারী, যে ব্যক্তি নিজেকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখল, সে পাপে লিপ্ত হবে।

আর কোনো নারী যদি কোনো অপরিচিত যুবতী নারীকে দেখে, তবে সে তার শত্রু। আর অপরিচিত নারী তার ভাগ্য ও সৌভাগ্যের প্রতীক।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
وتعبر المراة بِالسنةِ، فَإِن كَانَت سَمِينَة فَهِيَ سنة خصب

وَإِن كَانَت هزيلة فَهِيَ سنة جَدب

وَإِنَّمَا شبهت الْمَرْأَة بِالسنةِ لِأَنَّهَا كالأرض.

قَالَ الله تَعَالَى: (نِسَاؤُكُمْ حرث لكم) وَلِأَنَّهَا ذَات نتاج إِذا اسقيت بِالْمَاءِ أخرجت النَّبَات كَمَا تخرج الْمَرْأَة الْأَوْلَاد من مَاء الرجل، وَسَيَأْتِي ذكر الْعَجُوز والصبية فِي حرفيهما إِن شَاءَ الله تَعَالَى.

وَالْمَرْأَة المنتقبة عسر لمن رَآهَا، والمكشوفة الْوَجْه دنيا لَيْسَ فِيهَا تَعب وَجَمَاعَة النِّسَاء زِينَة الدُّنْيَا لقَوْله تَعَالَى: (زين للنَّاس حب الشَّهَوَات من النِّسَاء والبنين) فَمن أقبلن عَلَيْهِ أَدْبَرت الدُّنْيَا عَنهُ.

والشخص الْقَبِيح الصُّورَة هُوَ أَمر يكرههُ

والسواد فِي الْمَنَام سوء

والخصي الْمَجْهُول يعبر بِملك من الْمَلَائِكَة لانتزاع الشَّهْوَة عَنهُ.

وَذَات الْحسن من النِّسَاء يعبر بِرَجُل غدار والنديم المعربد وَذي رئاسة يخبر من قَصده

وَإِذا عَادَتْ ذَات الْحسن عَجُوز فَهِيَ سنة قحط وَإِن كَانَت مَعْرُوفَة فَهِيَ خسارة للتاجر، لِأَن نتاجها بَطل، وَمن عَادَتْ عجوزه صبية نَالَ كسبا وخصبا وَرُبمَا كَانَت إقبالا من رتبته.

الآذان فِي الْمَنَام عز ورفعة من سُلْطَان لقَوْله تَعَالَى: (ورفعنا لَك ذكرك) فَهُوَ الآذان وَيدل ذَلِك على سَلامَة الْإِنْسَان من كيد الشَّيْطَان لقَوْله: (إِذا نُودي للصَّلَاة أدبر الشَّيْطَان وَله ضراط حَتَّى لَا يسمع التأذين " والآذان فِي الْمَنَام على وُجُوه:

فَمن رأى كَأَنَّهُ أذن وَكَانَ أَهلا للولاية فَإِنَّهُ ينَال ولَايَة بِقدر مَا بلغ صَوته فِي الْقُوَّة والبلاغ

وَإِن كَانَ لَيْسَ بِأَهْل للولاية كثرت اجراره وينال رئاسة عَلَيْهِم.

وَإِن كَانَ تَاجِرًا ربح وَكثر لَهُ المشترون وَمن رأى بَين يَدَيْهِ آذانه أوآذان غَيره وَإِن كَانَ نَائِما فِي النَّهَار فَذَلِك
স্বপ্নযোগে নারী হলো বছরের প্রতীক। যদি সে স্থূলকায় হয় তবে তা প্রাচুর্যের বছর,

আর যদি সে কৃশকায় হয় তবে তা দুর্ভিক্ষের বছর।

নারীকে বছরের সাথে তুলনা করা হয়েছে কারণ নারী হলো ভূমির মতো।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র)। আর যেহেতু ভূমিতে পানি সেচন করলে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তেমনি পুরুষের বীর্য থেকে নারী সন্তান জন্ম দেয়। বৃদ্ধা এবং বালিকার বর্ণনা তাদের নিজ নিজ আদ্যক্ষরে আসবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

নেকাব পরিহিত নারী যে তাকে দেখেছে তার জন্য সংকীর্ণতা বা কষ্টের প্রতীক। আর অনাবৃত চেহারার নারী হলো দুনিয়া যাতে কোনো ক্লান্তি নেই। নারীদের সমাবেশ দুনিয়ার সৌন্দর্য, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (মানুষের জন্য নারী ও সন্তানাদির প্রতি আকাঙ্ক্ষা সুশোভিত করা হয়েছে)। সুতরাং যারা নারীর প্রতি ঝুঁকে পড়ে, দুনিয়া তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

আর কুৎসিত চেহারার ব্যক্তি এমন একটি বিষয় যা সে অপছন্দ করে।

স্বপ্নে কালো রং হলো অনিষ্ট।

অপরিচিত খোজাকে ফেরেশতাদের মধ্য হতে কোনো একজন ফেরেশতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, কারণ তার থেকে যৌন আকাঙ্ক্ষা দূর করা হয়েছে।

সুন্দরী নারী দ্বারা প্রতারক পুরুষ, মাতাল সঙ্গী অথবা নেতৃত্বের অধিকারী কোনো ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যে তার লক্ষ্য সম্পর্কে সংবাদ দেয়।

যখন কোনো সুন্দরী নারী বৃদ্ধায় পরিণত হয়, তখন সেটি দুর্ভিক্ষের বছর। আর যদি নারীটি পরিচিত হয় তবে সেটি ব্যবসায়ীর জন্য ক্ষতি, কারণ তার উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পেয়েছে। আর যার বৃদ্ধা স্ত্রী পুনরায় বালিকা হয়ে যায়, সে উপার্জন ও সচ্ছলতা লাভ করবে এবং সম্ভবত এটি তার পদমর্যাদার উন্নতির লক্ষণ।

স্বপ্নে আযান হলো শাসকের পক্ষ থেকে সম্মান ও উচ্চমর্যাদা, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আমি আপনার জন্য আপনার আলোচনাকে উচ্চ করেছি)। আর এটিই হলো আযান। এটি শয়তানের চক্রান্ত থেকে মানুষের নিরাপত্তার প্রমাণ, কারণ তিনি বলেছেন: "যখন সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, শয়তান সশব্দে বায়ু ত্যাগ করতে করতে পালিয়ে যায় যাতে সে আযান শুনতে না পায়।" স্বপ্নে আযান বিভিন্ন প্রকারের হয়:

যে ব্যক্তি দেখবে যে সে আযান দিচ্ছে এবং সে যদি নেতৃত্বের যোগ্য হয়, তবে তার কণ্ঠস্বর যতটুকু শক্তিশালী এবং যতদূর পৌঁছাবে সেই পরিমাণ সে নেতৃত্ব লাভ করবে।

আর যদি সে নেতৃত্বের যোগ্য না হয়, তবে তার অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং সে তাদের ওপর প্রধান হবে।

আর সে যদি ব্যবসায়ী হয় তবে সে লাভবান হবে এবং তার ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে তার সামনে তার নিজের আযান অথবা অন্যের আযান হচ্ছে, এমনকি সে যদি দিনের বেলা ঘুমন্ত থাকে, তবে সেটি হলো-
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
إِشَارَة لَهُ فِي الْقيام إِلَى الصَّلَاة

وَمن سمع آذَانا من بِئْر أَو جرة أَو خابية أَو صندوق أَو ظرف فَإِنَّهُ يبشر بِولد ذكر إِن كَانَ لَهُ امْرَأَة حَامِل أَو ياتيه خبر من غَائِب.

وَالْكَافِر إِذا أذن فَإِنَّهُ يَمُوت أَو يسلم

وَإِذا أَذِنت المراة خَاصَمت وافتضحت وَأَن كَانَت حَامِلا بشرت بِغُلَام، وَرُبمَا كَانَ آذان الْمَرْأَة لقيمها عزا أَو لولدها يخرج مُؤذنًا إِذا تمّ آذانها فِي وقته.

وَمن اشْترى مَمْلُوكا مُؤذنًا فَإِنَّهُ يَشْتَرِي ديكا

وَمن أذن على حَائِط فَإِنَّهُ يَدْعُو رجلا إِلَى الصُّلْح

فَإِن أذن فِي بَيته فَإِنَّهُ يَدْعُو امْرَأَته الى الصُّلْح

وَمن أذن على مَنَارَة فَإِنَّهُ يَدْعُو النَّاس إِلَى منهاج الدّين

وَقيل إِن هَذِه الْآيَة نزلت فِي المؤذنين: (وَمن أحسن قولا مِمَّن دَعَا إِلَى الله وَعمل صَالحا وَقَالَ انني من الْمُسلمين) .

وَمن أذن فِي زمن الْحَج فَإِنَّهُ يحجّ لقَوْله تَعَالَى: (وَأذن فِي النَّاس بِالْحَجِّ يأتوك رجَالًا)

وَمن أذن فِي بِئْر فِي بِلَاد الْكفْر فَإِنَّهُ يَدْعُو النَّاس إِلَى منهاج الدّين. وَإِن أذن فِي بِلَاد الْمُسلمين فِي جب فَإِنَّهُ جاسوس. وَقد يكون بِدعَة وَيَدْعُو النَّاس إِلَيْهَا وَمن أذن فِي مريعة وَهُوَ متدين فَإِنَّهُ يَأْمر بِالْمَعْرُوفِ

وَإِن كَانَ فَاسِقًا ضرب

وَمن رأى أَنه أذن فَلَا يجِيبه أحد فَإِنَّهُ بَين قوم ظلمَة وَمن أذن على سطح جَاره فَإِنَّهُ يخون الْجَار فِي امْرَأَته لقَوْل تَعَالَى: (فَأذن مُؤذن بَينهم أَن لعنة الله على الظَّالِمين)

وَمن أذن فَوق سطح الْكَعْبَة فَإِنَّهُ مُبْتَدع أَو يسب أَصْحَاب النَّبِي وَالصَّبِيّ إِذا أذن فَذَلِك بَرَاءَة لِوَلَدَيْهِ من الذُّنُوب

وَمن أذن مُضْطَجعا فَإِنَّهُ امْرَأَته تستغيب النَّاس وتؤذيهم بلسانها وَإِن كَانَ عزبا تزوج امراة كَذَلِك.

آذَانا لَا تعرفه يسرق
এটি তার সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হওয়ার ইঙ্গিত।

যে ব্যক্তি কোনো কূপ, কলস, মটকা, সিন্দুক বা পাত্র থেকে আজান শুনতে পায়, তবে সে পুত্র সন্তানের সুসংবাদ পাবে যদি তার স্ত্রী গর্ভবতী থাকে, অথবা কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার কাছে সংবাদ আসবে।

কাফের যদি আজান দেয়, তবে সে মৃত্যুবরণ করবে অথবা ইসলাম গ্রহণ করবে।

যদি কোনো মহিলা আজান দেয়, তবে সে বিবাদে লিপ্ত হবে এবং অপদস্থ হবে; আর যদি সে গর্ভবতী হয় তবে তাকে পুত্র সন্তানের সুসংবাদ প্রদান করা হবে। কখনো কখনো মহিলার আজান তার অভিভাবকের জন্য সম্মানের কারণ হতে পারে অথবা তার সন্তান মুয়াজ্জিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে যদি তার আজান যথাসময়ে পূর্ণ হয়।

যে ব্যক্তি আজান দানকারী কোনো দাস ক্রয় করে, সে যেন একটি মোরগ ক্রয় করল।

যে ব্যক্তি দেয়ালের উপর আজান দেয়, সে কোনো ব্যক্তিকে সন্ধির দিকে আহ্বান করে।

যদি সে তার ঘরে আজান দেয়, তবে সে তার স্ত্রীকে সন্ধির দিকে আহ্বান করে।

যে ব্যক্তি মিনারের উপর আজান দেয়, সে মানুষকে দ্বীনের সঠিক পথের দিকে আহ্বান করে।

বলা হয়ে থাকে যে, এই আয়াতটি মুয়াজ্জিনদের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে: (আর ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, নেক আমল করে এবং বলে যে, নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত)।

যে ব্যক্তি হজের মৌসুমে আজান দেয়, সে হজ করবে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: (আর মানুষের মধ্যে হজের আজান দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পদব্রজে)।

যে ব্যক্তি কুফরি রাষ্ট্রে কোনো কূপের মধ্যে আজান দেয়, সে মানুষকে দ্বীনের পথের দিকে আহ্বান করে। আর যদি মুসলিম রাষ্ট্রে কোনো কূপের ভেতর আজান দেয়, তবে সে একজন গোয়েন্দা। কখনো এটি একটি বিদআতও হতে পারে যার দিকে সে মানুষকে আহ্বান করছে। আর যে ব্যক্তি কোনো জনসমাগমস্থলে আজান দেয় এবং সে যদি দ্বীনদার হয়, তবে সে সৎ কাজের আদেশ দিচ্ছে।

আর সে যদি পাপাচারী হয়, তবে তাকে প্রহার করা হবে।

যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে যে সে আজান দিচ্ছে অথচ কেউ তাতে সাড়া দিচ্ছে না, তবে সে এক জালিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অবস্থান করছে। আর যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীর ছাদের উপর আজান দেয়, তবে সে তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর ব্যাপারে তার সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করছে; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: (অতঃপর তাদের মাঝে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে যে, জালিমদের উপর আল্লাহর লানত)।

যে ব্যক্তি কাবার ছাদের উপর আজান দেয়, সে একজন বিদআতী অথবা সে নবীজির সাহাবীদের গালি দেয়। আর শিশু যখন আজান দেয়, তবে তা তার পিতামাতার গুনাহ থেকে মুক্তির মাধ্যম।

যে ব্যক্তি শুয়ে থাকা অবস্থায় আজান দেয়, তবে তার স্ত্রী মানুষের গিবত করে এবং নিজের জিহ্বা দ্বারা তাদের কষ্ট দেয়; আর যদি সে অবিবাহিত হয় তবে সে অনুরূপ কোনো নারীকে বিবাহ করবে।

অপরিচিত আজান দেওয়া মানে চুরি করা।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
والآذان فِي الْأَسْوَاق والأزقة أَخْبَار طيبَة وَمن أذن على بَاب السُّلْطَان فِي مَنَامه يشْهد بِشَهَادَة حق وَمن أذن فِي سَرِيَّة فَإِنَّهُ جاسوس اللُّصُوص وَإِن أذن فِي الْعَسْكَر فَإِنَّهُ جاسوس الْعَسْكَر وَمن اقام الصَّلَاة على بَاب أَو سَرِير فَإِنَّهُ يَمُوت.

وَقيل الآذان فِي الْمَنَام تدل على فرقة الشَّرِيك لقَوْله تَعَالَى: (وآذان من الله وَرَسُوله إِلَى النَّاس يَوْم الْحَج الْكبر أَن الله بَرِيء من الْمُشْركين وَرَسُوله) وَمن رأى أَنه يُؤذن لاهيا أَو لاعبا حرم الله عَلَيْهِ الْعقل والفطنة لقَوْله تَعَالَى: (وَإِذا نَادَيْتُمْ إِلَى الصَّلَاة اتَّخَذُوهَا هزوا وَلَعِبًا ذَلِك بِأَنَّهُم قوم لَا يعْقلُونَ)

وَمن أذن فَأَتمَّ آذانه كَانَ طَالب حَاجَة قضيت حَاجته، وَإِن لم يتم آذانه تعسرت الْحَاجة عَلَيْهِ

وَمن أذن فِي غير وَقت الآذان فَإِنَّهُ يُخَاصم، فَإِن أتم الآذان قهر خَصمه

وَمن أذن فِي مَنَامه مرَّتَيْنِ فَإِنَّهُ يحجّ لِأَن بِعَرَفَات يُؤذن مرَّتَيْنِ.

وَمن أذن فِي الْحمام رَاجع امْرَأَته

وَمن أذن فِي قافلة فَإِنَّهُ يتهم لقَوْله تَعَالَى: (فَأذن مُؤذن أيتها العير إِنَّكُم لسارقون) وَمن أذن فِي الْحمام فِي الْبَيْت الْحَار فَإِنَّهُ يحم حما حاره، وَإِن أذن فِي الْبَيْت الْأَوْسَط فَإِنَّهُ يحم حما نَاقِصَة.

حِكَايَة الرُّؤْيَا المعبرة: أَتَى رجل ابْن سِيرِين فَقَالَ: رَأَيْت كَأَنِّي أأذن وَأنْظر لحيتي فَقَالَ ابْن سِيرِين: اتَّقِ الله وَلَا تنظر فِي دور الْجِيرَان

الإمرأة حِرْفَة الْإِنْسَان ودكانه فَإِن رَآهَا سمنت كَانَ ذَلِك زِيَادَة فِي كَسبه وَكَذَلِكَ إِن صَار لَهُ أما غير أمه فَذَلِك زِيَادَة فِي كَسبه أَو صَنْعَة تعلمهَا غير صَنعته وَهَذَا (لقى) ضعف فِي معاشه وبرها يدل على الصَّلَاة ومودتها كساد معاشه وَقد تكون امهِ رَأسه، وَقد تكون أستاذه ومعلمه ومشطه الْإِسْلَام.

الْإِسْلَام للْكَافِرِ مَوته لِأَن الْمَوْت حق وَالْإِسْلَام
বাজারে এবং গলিপথে আজান দেওয়া সুসংবাদ। আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে সুলতানের দরজায় আজান দেয়, সে সত্য সাক্ষ্য প্রদান করে। আর যে ব্যক্তি কোনো ছোট সেনাদলে আজান দেয়, তবে সে চোরদের গুপ্তচর। আর যদি সে বড় সেনাবাহিনীতে আজান দেয়, তবে সে সেনাবাহিনীর গুপ্তচর। আর যে ব্যক্তি কোনো দরজায় বা খাটের ওপর দাঁড়িয়ে নামাজের ইকামত দেয়, সে মৃত্যুবরণ করবে।

বলা হয়েছে যে, স্বপ্নে আজান দেওয়া অংশীদারের সাথে বিচ্ছিন্নতার প্রমাণ বহন করে; কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর মহান হজের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি এক ঘোষণা (আজান) যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসুলও।" আর যে ব্যক্তি নিজেকে কৌতুক বা খেলাচ্ছলে আজান দিতে দেখে, আল্লাহ তার ওপর বুদ্ধি ও বিচক্ষণতাকে হারাম করে দেন; কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর যখন তোমরা নামাজের জন্য আহ্বান করো, তারা সেটিকে বিদ্রূপ ও খেলার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে; এটি এ কারণে যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের বুদ্ধি নেই।"

যে ব্যক্তি আজান দিল এবং তা পূর্ণ করল, সে কোনো প্রয়োজনের প্রার্থী হলে তার সেই প্রয়োজন পূর্ণ হবে। আর যদি সে আজান পূর্ণ না করে, তবে তার প্রয়োজন পূরণ হওয়া কঠিন হবে।

যে ব্যক্তি আজানের সময় ছাড়া অন্য সময়ে আজান দেয়, সে বিবাদে লিপ্ত হবে। তবে সে যদি আজান পূর্ণ করে, তবে সে তার প্রতিপক্ষের ওপর জয়ী হবে।

যে ব্যক্তি স্বপ্নে দুইবার আজান দেয়, সে হজ করবে; কারণ আরাফাতের ময়দানে দুইবার আজান দেওয়া হয়।

যে ব্যক্তি গোসলখানায় আজান দেয়, সে তার স্ত্রীর সাথে পুনরায় মিলিত হবে (তালাক পরবর্তী প্রত্যাবর্তন)।

যে ব্যক্তি কোনো কাফেলায় আজান দেয়, সে চুরির দায়ে অভিযুক্ত হবে; কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর এক আহ্বানকারী (আজান প্রদানকারী) চিৎকার করে বলল, হে কাফেলার লোকজন! তোমরা তো চোর।" আর যে ব্যক্তি গোসলখানার উষ্ণ কক্ষে আজান দেয়, সে তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হবে। আর যদি সে মধ্যম কক্ষে আজান দেয়, তবে সে অল্প জ্বরে আক্রান্ত হবে।

স্বপ্নের ব্যাখ্যার একটি ঘটনা: এক ব্যক্তি ইবনে সিরিনের কাছে এসে বলল, "আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি আজান দিচ্ছি এবং নিজের দাড়ির দিকে তাকাচ্ছি।" ইবনে সিরিন বললেন, "আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রতিবেশীদের ঘরের অভ্যন্তরে তাকিও না।"

স্ত্রী হলো মানুষের পেশা এবং তার কর্মস্থল বা দোকান। যদি সে তাকে স্থূলকায় হতে দেখে, তবে তা তার উপার্জনে বৃদ্ধির লক্ষণ। একইভাবে যদি তার আপন মা ব্যতীত অন্য কেউ তার মা হয়, তবে তা তার উপার্জনে বৃদ্ধি অথবা তার নিজস্ব পেশা ছাড়া অন্য কোনো পেশা শেখার ইঙ্গিত। আর এটি (প্রাপ্তির ক্ষেত্রে) তার জীবনযাত্রায় দুর্বলতা। তার প্রতি সদাচরণ করা নামাজের ওপর দলিল এবং তার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা জীবনযাত্রার মন্দাভাব নির্দেশ করে। কখনো তার মা হতে পারে তার মস্তক, আবার কখনো সে হতে পারে তার ওস্তাদ ও শিক্ষক, আর তার চিরুনি হলো ইসলাম।

কাফিরের জন্য ইসলাম গ্রহণ হলো তার মৃত্যু, কারণ মৃত্যু সত্য আর ইসলাম...
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَقد يَقع الْإِسْلَام للْكَافِرِ مثلا بِمثل: فَإِذا رأى أَنه يسلم فَيسلم الأَرْض فِي الْمَنَام هِيَ الدُّنْيَا والحيوة وَإِذا بسطت لإِنْسَان فِي مَكَان مَعْرُوف فَذَلِك طول عمره وبركة ينالها لقَوْله " تمسحو بِالْأَرْضِ فَإِنَّهَا برة بكم وَالْأَرْض تعبر بِوُجُوه شَتَّى:

فَإِذا كَانَت مدركة الْحَد فَهِيَ زَوْجَة.

وَإِذا كَانَت وَاسِعَة مَجْهُولَة فَإِنَّهَا تدل على السّفر وَالدُّنْيَا وَيكون السّفر بَعيدا

وَالْأَرْض المدركة الْحَد سفر قريب

وَالْأَرْض المملحة تدل على دكان الطَّبِيب أَو الْعَالم

فَمن أَخذ مِنْهَا شَيْئا وَرجع إِلَى منزله فَإِنَّهُ يسمع جَوَابا من فَقِيه أَو يَأْخُذ دَوَاء من طَبِيب.

أَو يَأْخُذ شَيْئا من المملوحات

فَإِنَّهُ ينَال مَالا من عَجُوز عقيم لِأَن الأَرْض السبخة لَا تنْبت والعجوز الْعَقِيم لَا تَلد

وَمن رأى فِي الْمَنَام كَأَنَّهُ يحْفر الأَرْض وَيَأْكُل من ترابها فَإِنَّهُ ينَال مَالا بمكر واحتيال

وَالْأَرْض المخضرة هِيَ الْإِسْلَام

وَالْأَرْض الجذبة هِيَ الْكفْر.

حِكَايَة الرُّؤْيَا المعبرة

أَتَى رجل إِلَى أبي بكر رضي الله عنه فَقَالَ: رَأَيْت كَأَنِّي فِي ارْض مخضبة فتركتها وَدخلت أَرضًا مجذبة فَقَالَ أَبُو بكر رضي الله عنه:

إِن صدقت رُؤْيَاك لتخْرجن من الْإِسْلَام إِلَى الْكفْر فَدخل الرجل إِلَى الرّوم وَتَنصر بهَا

وَمن رأى الأَرْض طويت لَهُ فَإِن حَيَاته قد نفذت.

وَإِن كَا ملكا فَإِنَّهُ يملك من الأَرْض بِقدر مَا طوى لَهُ، لقَوْل النَّبِي (زويت لي الأَرْض فرايت مشارقها وَمَغَارِبهَا، وسيبلغ ملك أمتِي مَا زوي لي مِنْهَا وَقيل طي الأَرْض ضيقَة فِي معيشه أَو حركه وَمن رأى كَأَنَّهُ ينظر إِلَى الأَرْض فَإِنَّهُ يتَزَوَّج

لقَوْله تَعَالَى: (نِسَاؤُكُمْ حرث لكم فَأتوا حَرْثكُمْ أَنى شِئْتُم)

والْحَارث ينظر إِلَى الأَرْض وَمن رأى الأَرْض تصلبت فَلم يخرج مِنْهَا شَيْء
কখনও কখনও কোনো কাফিরের ইসলাম গ্রহণ স্বপ্নের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ লাভ করে; যেমন: সে যদি দেখে যে সে ইসলাম গ্রহণ করছে, তবে সে ইসলাম গ্রহণ করে। স্বপ্নে জমিন বা পৃথিবী হলো দুনিয়া ও জীবন। যদি কোনো পরিচিত স্থানে কোনো ব্যক্তির জন্য জমিনকে প্রশস্ত করে দেওয়া হয়, তবে তা তার দীর্ঘায়ু এবং বরকত লাভের লক্ষণ, যা সে প্রাপ্ত হবে। যেমনটি বলা হয়েছে: "তোমরা জমিনকে স্পর্শ করো, কারণ তা তোমাদের প্রতি সদাচারী।" আর জমিনকে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা হয়:

যদি জমিনটি সুনির্দিষ্ট সীমানাবিশিষ্ট হয়, তবে তা স্ত্রী হিসেবে গণ্য হয়।

যদি তা প্রশস্ত ও অজ্ঞাত হয়, তবে তা সফর ও দুনিয়ার পরিচায়ক এবং সেই সফর হবে দীর্ঘ।

সুনির্দিষ্ট সীমানাবিশিষ্ট জমিন হলো নিকটবর্তী সফর।

লবণাক্ত বা ঊষর জমিন চিকিৎসক কিংবা কোনো জ্ঞানীর চেম্বার বা দোকানের ইঙ্গিত দেয়।

সুতরাং যে ব্যক্তি সেখান থেকে কিছু গ্রহণ করে নিজ গৃহে ফিরে এলো, সে কোনো ফকিহ বা আইনবিদের কাছ থেকে উত্তর লাভ করবে অথবা কোনো চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ গ্রহণ করবে।

অথবা সে কোনো লবণাক্ত দ্রব্য গ্রহণ করবে।

সে কোনো বন্ধ্যা বৃদ্ধার কাছ থেকে ধন-সম্পদ লাভ করবে, কারণ লোনা জমিতে কোনো ফসল ফলে না এবং বন্ধ্যা বৃদ্ধা সন্তান জন্ম দেয় না।

যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে মাটি খুঁড়ছে এবং তার মাটি ভক্ষণ করছে, সে প্রতারণা ও কূটকৌশলের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করবে।

শ্যামল বা সবুজ জমিন হলো ইসলাম।

আর ঊষর বা অনুর্বর জমিন হলো কুফর।

তাৎপর্যপূর্ণ স্বপ্নের কাহিনী

এক ব্যক্তি আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর নিকট এসে বলল: "আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি একটি শ্যামল ভূমিতে রয়েছি, অতঃপর আমি তা ছেড়ে একটি ঊষর ভূমিতে প্রবেশ করলাম।" আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বললেন:

"যদি তোমার স্বপ্ন সত্য হয়, তবে তুমি অবশ্যই ইসলাম ত্যাগ করে কুফরে লিপ্ত হবে।" পরবর্তীকালে সেই ব্যক্তি রোম দেশে গিয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল।

যে ব্যক্তি দেখল যে জমিনকে তার জন্য গুটিয়ে আনা হয়েছে, তবে তার জীবনকাল সমাপ্ত হয়ে এসেছে।

আর সে যদি শাসক বা বাদশাহ হয়, তবে সে পৃথিবীর ততোটুকু অংশের মালিক হবে যতটুকু তার জন্য সংকুচিত বা গুটিয়ে আনা হয়েছে; যেমনটি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমার জন্য জমিনকে সংকুচিত করা হয়েছিল, ফলে আমি তার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ দেখেছি। আর অচিরেই আমার উম্মতের রাজত্ব ওই পর্যন্ত পৌঁছাবে যতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছিল।" আরও বলা হয় যে, জমিন গুটিয়ে যাওয়া মানে জীবনধারণ বা চলাফেরায় সংকীর্ণতা। যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে জমিনের দিকে তাকাচ্ছে, সে বিবাহ করবে।

কেননা মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।"

আর কৃষক জমিনের দিকেই দৃষ্টিপাত করে। আর যে ব্যক্তি দেখল জমিন শক্ত হয়ে গেছে এবং তা থেকে কোনো কিছুই উৎপন্ন হচ্ছে না...
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَلَا يدْخل فِيهَا شَيْء فَإِنَّهَا تجذب بِالْقَحْطِ

فَإِن خرج مِنْهَا شَيْء استقام حد تِلْكَ الأَرْض لأَهْلهَا وَإِن خرج مِنْهَا شَاب فَإِن الْعَدَاوَة تظهر بِتِلْكَ الأَرْض.

وَإِن خرج من الأَرْض سبع فَإِن الْعَدَاوَة تظهر بِتِلْكَ الأَرْض

وَكَذَلِكَ إِن خرج من الأَرْض سبع فَإِن الْجور يحل بذلك الْمَكَان من سُلْطَان ظَالِم لما أحدث أَهلهَا من الْفساد والجحود فيستحقون بذلك الْعَذَاب

وَكَذَلِكَ إِن خرج مِنْهَا حَيَّة عَظِيمَة

وَمن رأى الأَرْض تفطرت بالنبات فَإِن ذَلِك الْموضع يكثر خَيره

وَمن رأى الأَرْض تكَلمه نَالَ أمرا تعجب النَّاس لَهُ

حِكَايَة من الرُّؤْيَا المعبرة أَن رجلا رأى فِي مَنَامه كَأَن شخصا خرج من الأَرْض وَقَالَ: أَنا منتظرك فَمَا قعودك

ثمَّ غَابَ عَنهُ فَمَا كَانَ إِلَّا قَلِيل حَتَّى مَاتَ الْمَطْلُوب وَلحق بِهِ

وَمن رأى الأَرْض كلهَا لَهُ وفيهَا أَبْوَاب مفتحة وَفِي داخلها شَيْء يُعجبهُ من مَتَاع الدُّنْيَا فَإِنَّهُ ينَال مَا يتَمَنَّى وَيَمُوت بعد ذَلِك لقَوْله تَعَالَى (حَتَّى إِذا أخذت الأَرْض زخرفها وازينت) إِلَى قَوْله: (أَتَاهَا أمرنَا) وَقَالَ تَعَالَى: (حَتَّى إِذا فرحوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُم بَغْتَة) وَمن رأى الأَرْض تكَلمه توبيخ فليتق الله فِي شَيْء يحدثه فَوق الأَرْض

وَخسف الأَرْض فِي الْمَنَام عدل واليها أَو خوف السُّلْطَان

وَمن غَابَ فِي الأَرْض فَذَلِك فَقده بسفر بعيد أَو موت

وَقَالَت النَّصَارَى وَمن رأى أَنه يمشي فَوق أَرض يابسة نَالَ مَالا

وَمن رأى الأَرْض تديره تَغَيَّرت حَاله وَدَار الأَرْض فِي طلب رزقه

الإيوان فِي الْمَنَام من اللَّبن رجل قوي صَاحب دين

وَإِن بناه بالآجر فَهُوَ رجل فِيهِ نفاق

فَإِن كَانَ بالجص فَهُوَ دين مُجَدد وَقيل إِذا كَانَ بالآجر فَهُوَ مَال من قبل
এবং তাতে কোনো কিছু প্রবেশ করবে না, কারণ তা দুর্ভিক্ষের কারণে সংকুচিত হয়।

যদি তা থেকে কোনো কিছু বের হয়, তবে সেই ভূমির বাসিন্দাদের জন্য সেই ভূমির অবস্থা স্থিতিশীল হবে। আর যদি সেখান থেকে কোনো যুবক বের হয়, তবে সেই ভূমিতে শত্রুতা প্রকাশ পাবে।

আর যদি ভূমি থেকে কোনো হিংস্র প্রাণী বের হয়, তবে সেই ভূমিতে শত্রুতা প্রকাশ পাবে।

একইভাবে, যদি ভূমি থেকে কোনো হিংস্র প্রাণী বের হয়, তবে সেই স্থানের বাসিন্দাদের কৃত বিপর্যয় ও অবাধ্যতার কারণে সেখানে কোনো জালেম সুলতানের পক্ষ থেকে জুলুম আপতিত হবে, ফলে তারা আজাবের যোগ্য হবে।

একইভাবে, যদি তা থেকে কোনো বিশাল সাপ বের হয় (তবে একই অর্থ)।

যে ব্যক্তি দেখল যে ভূমি গাছপালা দ্বারা বিদীর্ণ হচ্ছে, তবে সেই স্থানের কল্যাণ বৃদ্ধি পাবে।

যে ব্যক্তি দেখল যে ভূমি তার সাথে কথা বলছে, সে এমন বিষয় লাভ করবে যা দেখে মানুষ বিস্মিত হবে।

স্বপ্নের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত একটি কাহিনী: এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যেন এক ব্যক্তি ভূমি থেকে বের হয়ে বলল, "আমি তোমার অপেক্ষায় আছি, তুমি বসে আছ কেন?"

এরপর সে তার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল। অল্প সময় অতিবাহিত হতে না হতেই উদ্দিষ্ট ব্যক্তি মারা গেল এবং তার সাথে মিলিত হলো।

যে ব্যক্তি দেখল যে সমগ্র পৃথিবী তার এবং তাতে উন্মুক্ত সব দরজা রয়েছে, আর তার অভ্যন্তরে দুনিয়ার ভোগবিলাসের এমন কিছু রয়েছে যা তাকে মুগ্ধ করে, তবে সে যা আকাঙ্ক্ষা করে তা লাভ করবে এবং এরপর মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: "অবশেষে যখন পৃথিবী তার শোভা ধারণ করল এবং সুশোভিত হলো..." তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "সেখানে আমার নির্দেশ এসে পড়ল।" এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "অবশেষে তাদের যা দেওয়া হয়েছিল তাতে যখন তারা উল্লসিত হলো, তখন আমি হঠাৎ তাদের পাকড়াও করলাম।" আর যে ব্যক্তি দেখল যে ভূমি তাকে তিরস্কারের সাথে সম্বোধন করছে, সে যেন ভূপৃষ্ঠে যা কিছু করে সে বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করে।

স্বপ্নে ভূমি ধসে যাওয়া তার শাসকের ন্যায়বিচার অথবা সুলতানের পক্ষ থেকে ভয়।

যে ব্যক্তি ভূমিতে অদৃশ্য হয়ে গেল, তা হলো দূরবর্তী সফর বা মৃত্যুর কারণে তার হারিয়ে যাওয়া।

নাসারাগণ বলেছে: যে ব্যক্তি দেখল যে সে শুষ্ক ভূমির ওপর দিয়ে হাঁটছে, সে সম্পদ লাভ করবে।

যে ব্যক্তি দেখল যে ভূমি তাকে ঘোরাচ্ছে, তবে তার অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং জীবিকা অন্বেষণে সে জমিনে বিচরণ করবে।

স্বপ্নে কাঁচা ইটের তৈরি আইওয়ান হলো একজন শক্তিশালী ও দ্বীনদার ব্যক্তি।

আর যদি সে তা পোড়া ইট দিয়ে নির্মাণ করে, তবে সে হলো এমন ব্যক্তি যার মধ্যে নিফাক (মুনাফেকি) রয়েছে।

আর যদি তা জিপসাম বা প্লাস্টার দ্বারা হয়, তবে তা হলো নবায়িত দ্বীন। আর বলা হয়েছে, যদি তা পোড়া ইট দিয়ে হয় তবে তা কোনো এক পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সম্পদ।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
مضاربه اصطرلاب المنجم فِي الرُّؤْيَا رجل مُتَّصِل بالسلطان الآتون

فِي الْمَنَام أَمر جليل وسرور فَمن رأى كَأَنَّهُ يَبْنِي أتون فَإِنَّهُ ينَال ولَايَة وسلطانا وَإِن لم يكن لذَلِك أَهلا فَإِنَّهُ يشغل النَّاس بِشَيْء عيظم من قبل السُّلْطَان وَمن رأى أَنه يُصَلِّي فِي الأتون فَإِنَّهُ يَأْتِي الذكران الإجاص فِي الْمَنَام

قَالَ الْمُسلمُونَ: هُوَ مرض الصَّحِيح وللمريض شِفَاء وَقيل من أكل الإجاص فِي الْمَنَام وَهُوَ صَحِيح سلم من الْمَرَض

وَقَالَ ارطاميدورس: الإجاص إِذا كَانَ فِي وقته فَهُوَ مَال الإجاص فِي حِينه قدوم مُسَافر، وَفِي غير حِينه مرض أقاح سنّ ذَات الْجمال

قَالَ الشَّاعِر:

(كَأَنَّمَا ابتسم عَن لُؤْلُؤ … منضدا وبَرداً وأقاح)

الْأرز فِي الْمَنَام مَال كثير مَعَ نصب وصخب وَهُوَ ربح إِذا كَانَ مطبوخا وَمن الرُّؤْيَا المعبرة أَن امْرَأَة رَأَتْ فِي منامها كَأَنَّهَا تبْكي ارزا فَقَالَ: هَل لَك مَرِيض؟ فَقَالَت: نعم

قَالَ: تكافيء رز

وَأخذ من اشتقاق اللَّفْظ

الأقحوان فِي الْمَنَام امْرَأَة جميلَة، فَمن التقطها من سفح جبل فَإِن كَانَ ملكا يطللق لَهُ جَارِيَة جميلَة

وَقيل الأقحوان قرَابَة امْرَأَة صَاحب الرُّؤْيَا فَمن أَخذ أقحونا فَإِنَّهُ يُصَادف قوما من أهل زَوجته

الْأسر فِي الْمَنَام رجل وفى بعهده

وَإِن رَأَتْ امْرَأَة على رَأسهَا اكليلا مِنْهُ فَإِنَّهُ تتَزَوَّج بِرَجُل تدوم صحبته والأس مَال لمن رَآهُ

وَمن أَخذ من شَاب أساً فَإِنَّهُ يَأْخُذ عهدا من عَدو وَلَا يغدر فِيهِ، وَمن غرس أساً فَإِنَّهُ يعمر عمَارَة وَثِيقَة أَو يعْمل عملا يَدُوم عَلَيْهِ لدوام الآس شتاءً وصيفا وَحكي أَن امْرَأَة رَأَتْ فِي منامها كَأَن بيد زَوجهَا باقتين أَحدهمَا آس وَالْأُخْرَى نرجس فسالت
স্বপ্নযোগে জ্যোতির্বিদের অ্যাস্ট্রোল্যাব নাড়াচাড়া করা এমন এক ব্যক্তি, যে সুলতানের সাথে সংশ্লিষ্ট।

স্বপ্নে চুল্লি বা তন্দুর এক মহান বিষয় এবং আনন্দের বার্তা। সুতরাং যে ব্যক্তি স্বপ্নে নিজেকে চুল্লি নির্মাণ করতে দেখে, সে নেতৃত্ব ও ক্ষমতা লাভ করবে। আর যদি সে এর যোগ্য না হয়, তবে সে সুলতানের পক্ষ থেকে কোনো বড় বিষয়ে মানুষকে ব্যস্ত রাখবে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে সে চুল্লির ভেতরে সালাত আদায় করছে, তবে সে পুরুষগামিতায় লিপ্ত হবে। স্বপ্নে আলুবোখারা:

মুসলিমগণ বলেছেন: এটি সুস্থ ব্যক্তির জন্য অসুস্থতা এবং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আরোগ্য। বলা হয়ে থাকে, যে ব্যক্তি সুস্থ থাকা অবস্থায় স্বপ্নে আলুবোখারা খাবে, সে রোগ থেকে নিরাপদ থাকবে।

আর্তামিডোরাস বলেছেন: আলুবোখারা যদি তার নিজ মৌসুমে দেখা যায় তবে তা সম্পদ। মৌসুমে আলুবোখারা মুসাফিরের আগমনের সংবাদ, আর অসময়ে তা অসুস্থতা। বাবুনো ফুল সুন্দরীর দাঁতের সদৃশ।

কবি বলেছেন:

(যেন সে মুক্তার ন্যায় অমল হাসল … সুবিন্যস্ত শিলাবৃষ্টি ও বাবুনো ফুলের ন্যায়।)

স্বপ্নে চাল হলো পরিশ্রম ও হট্টগোলের মাধ্যমে অর্জিত প্রচুর সম্পদ। যদি তা রান্না করা থাকে তবে তা মুনাফা। স্বপ্নব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি ঘটনা হলো, এক মহিলা স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি চালের জন্য কাঁদছেন, তখন ব্যাখ্যাদাতা বললেন: তোমার কি কোনো রোগী আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

তিনি বললেন: এর অর্থ হলো মৃত্যু।

আর এটি শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বপ্নে বাবুনো ফুল হলো সুন্দরী নারী। সুতরাং যে ব্যক্তি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তা সংগ্রহ করবে, সে যদি রাজা হয় তবে তাকে একটি সুন্দরী দাসী দান করা হবে।

আরও বলা হয়েছে, বাবুনো ফুল হলো স্বপ্নদ্রষ্টার স্ত্রীর আত্মীয়স্বজন। সুতরাং যে ব্যক্তি বাবুনো ফুল গ্রহণ করল, সে তার স্ত্রীর পরিবারের একদল লোকের সম্মুখীন হবে।

স্বপ্নে ‘আস্’ (চিরসবুজ সুগন্ধি লতা) হলো এমন এক ব্যক্তি যে তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে।

যদি কোনো নারী তার মাথায় এর মালা দেখে, তবে সে এমন এক পুরুষকে বিবাহ করবে যার সাহচর্য দীর্ঘস্থায়ী হবে। আর যে ‘আস্’ দেখবে তার জন্য তা সম্পদ।

যে ব্যক্তি কোনো যুবকের নিকট থেকে ‘আস্’ গ্রহণ করবে, সে কোনো শত্রুর নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি লাভ করবে এবং তাতে সে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। আর যে ব্যক্তি ‘আস্’ রোপণ করবে, সে কোনো মজবুত ইমারত নির্মাণ করবে অথবা এমন কোনো কাজ করবে যা সর্বদা স্থায়ী হবে; কারণ ‘আস্’ শীত ও গ্রীষ্ম উভয় কালেই চিরসবুজ থাকে। বর্ণিত আছে যে, এক মহিলা স্বপ্নে দেখলেন তার স্বামীর হাতে দুটি ফুলের তোড়া, যার একটি ‘আস্’ এবং অন্যটি নার্গিস। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন...
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
زَوجته أحديهما فناولها النرجس وناول ضَرَّتهَا الآس، فَأَنت معبرا من الأهوز فَسَأَلته عَن ذَلِك فَقَالَ: إِن صدقت الرُّؤْيَا ليطلقنك، ويتمسك بالضرة فَكَانَ كَذَلِك فبلغت الْقِصَّة الى المتَوَكل بِاللَّه أَمِير الْمُؤمنِينَ فَأحْضرهُ وَأَعْطَاهُ جَائِزَة حَسَنَة وَقَالَ: من أَيْن اخذت ذَلِك؟ فَقَالَ من قَول الشَّاعِر:

(لَيْسَ للنرجس عهد … إِنَّمَا الْعَهْد للآس)

فَلَمَّا كَانَ لَا يُقيم إِلَّا أَيَّامًا قَلَائِل عبره بِالطَّلَاق وَعبر الآس للضرة بدوام الصُّحْبَة مَعَ الزَّوْج لدوام الاس

الأبنوس فِي الْمَنَام رجل صلب ذُو مَال وَقيل امْرَأَة هندية الْأنف فِي الرُّؤْيَا جاه صَاحبه فَمَا حدث فِيهِ فَهُوَ فِي جاه من رَآهُ وَمن خرم أنف إِنْسَان قهره وَرَغمَ أَنفه وَقيل خرم الآنف موت صَاحبه. وَمن كَانَت امْرَأَته حَامِلا وَرَأى أَنفه مخروما مَاتَت امْرَأَته

وَمن قطع أَنفه مَا اكثر عشيرته

وَقيل الْأنف فِي الْمَنَام يُفَسر بِالْأَبِ وَالْعم وَالْولد، وَمن شم ريحة طيبَة وَله امْرَأَة بشر بِغُلَام وَمن رأى كَأَنَّهُ بِلَا أنف فَهُوَ بلَاء زحم

وَمن رأى كَأَن لَهُ أنفين فَإِن ذَلِك خلف يَقع بَينه وَبَين أَهله أَو رجل لَهُ جاه

وَمن قطعت ارنبة أَنفه فَإِنَّهُ يَمُوت

وَالْأنف يعبر بالفرج لِأَنَّهُ مَحل القذارة وَشعب الْوَسخ فَإِن بدا فية شَيْء فانسبه إِلَى الْفرج أَو إِلَى التَّعَب وَإِن بدا فِي الْفرج شَيْء فانسبه إِلَى الْأنف والمنخران ضرثان

وَمن جذع أَنفه وَكَانَ تَاجِرًا خسرت تِجَارَته

الْأذن فِي الْمَنَام زَوْجَة ابْنة وَقيل أَب وَأم

أَتَى رجل إِلَى معبر فَقَالَ

رَأَيْت كَأَن أُذُنِي قطعت

فَقَالَ: تصاب بِأحد أَبَوَيْك، أما أمك فخزانتك وأبويك فسمعك

وَمن رأى أذن رئيسه فقد أذن
তার স্বামী তাদের একজনের হাতে নার্গিস ফুল দিলেন এবং তার সতীনের হাতে দিলেন আস (চিরসবুজ গুল্ম) ফুল। অতঃপর আহওয়াজের একজন স্বপ্নবিশারদ এলেন এবং তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "যদি স্বপ্ন সত্য হয়, তবে সে অবশ্যই তোমাকে তালাক দেবে এবং তোমার সতীনকে বিবাহবন্ধনে ধরে রাখবে।" বাস্তবে তা-ই ঘটল। এই কাহিনী আমীরুল মুমিনীন মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহর নিকট পৌঁছালে তিনি তাকে (স্বপ্নবিশারদকে) ডেকে পাঠালেন এবং তাকে উত্তম পুরস্কার প্রদান করলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি এটি কোথা থেকে গ্রহণ করেছ?" তিনি বললেন, কবির এই উক্তি থেকে:

(নার্গিসের কোনো স্থায়িত্ব নেই … স্থায়িত্ব তো কেবল আস ফুলেরই)

যেহেতু নার্গিস ফুল মাত্র অল্প কয়েকদিন টিকে থাকে, তাই তিনি এর ব্যাখ্যা তালাক দিয়ে করেছেন। আর আস ফুলের ব্যাখ্যা সতীনের জন্য স্বামীর সাথে সাহচর্যের স্থায়িত্ব হিসেবে করেছেন, কারণ আস ফুলের স্থায়িত্ব দীর্ঘ।

স্বপ্নে আবলুস কাঠ দেখা এক কঠোর ও সম্পদশালী ব্যক্তির প্রতীক; আবার বলা হয়েছে এর দ্বারা কোনো ভারতীয় নারীকে বোঝায়। স্বপ্নে নাক হলো স্বপ্নদ্রষ্টার মান-মর্যাদা। সুতরাং নাকের মধ্যে যা কিছু ঘটবে, তা স্বপ্নদ্রষ্টার সম্মানের ক্ষেত্রেই ঘটবে। যে ব্যক্তি কোনো মানুষের নাক ছিদ্র করল, সে তাকে পরাস্ত করল এবং তাকে লাঞ্ছিত করল। বলা হয়ে থাকে যে, নাক ছিদ্র হওয়া হলো ব্যক্তির মৃত্যু। আর যার স্ত্রী গর্ভবতী, সে যদি দেখে তার নাক ছিদ্র করা হয়েছে, তবে তার স্ত্রী মারা যাবে।

যার নাক কেটে ফেলা হয়েছে, তার আত্মীয়-স্বজন বা বংশধর অনেক বেশি হবে।

বলা হয়ে থাকে যে, স্বপ্নে নাক দ্বারা পিতা, চাচা এবং সন্তানকেও বোঝানো হয়। যদি কেউ সুগন্ধি আঘ্রাণ করে এবং তার স্ত্রী থাকে, তবে তাকে এক পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়। আর যে নিজেকে নাকবিহীন দেখল, তা এক কঠিন বিপদ।

যে ব্যক্তি দেখল যে তার দুটি নাক রয়েছে, তবে তা তার এবং তার পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ার লক্ষণ, অথবা এর দ্বারা এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বোঝায়।

যার নাকের অগ্রভাগ কেটে ফেলা হয়েছে, সে মৃত্যুবরণ করবে।

নাককে গুপ্তাঙ্গ হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়, কারণ এটি ময়লা এবং অপবিত্রতা নির্গমনের স্থান। সুতরাং নাকে যদি কিছু দেখা যায়, তবে তা গুপ্তাঙ্গের সাথে অথবা কষ্টের সাথে সম্পর্কিত মনে করবে। আর যদি গুপ্তাঙ্গে কিছু দেখা যায়, তবে তা নাকের সাথে সম্পর্কিত মনে করবে। আর দুই নাসারন্ধ্র হলো দুই দাসী।

যার নাক উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং সে যদি ব্যবসায়ী হয়, তবে তার ব্যবসায় লোকসান হবে।

স্বপ্নে কান হলো স্ত্রী কিংবা কন্যা; আবার বলা হয়েছে এর দ্বারা পিতা ও মাতাকে বোঝায়।

এক ব্যক্তি স্বপ্নবিশারদের কাছে এসে বলল:

আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমার কান কেটে ফেলা হয়েছে।

তিনি বললেন: "তুমি তোমার পিতামাতার কোনো একজনের বিয়োগে ব্যথিত হবে। তোমার মা হলেন তোমার ভাণ্ডারস্বরূপ এবং তোমার পিতামাতা তোমার শ্রবণশক্তি স্বরূপ।"

আর যে ব্যক্তি তার প্রধানের কান দেখল, সে যেন (তার কাছ থেকে) অনুমতি লাভ করল।
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
لَهُ فِي أَمر يَطْلُبهُ

الْأَصَابِع فِي الْمَنَام تعبر بالصلوات الْخمس

فالإبهام صَلَاة الْفجْر وَالْبَاقِي على التَّرْتِيب

فَمَا حدث فِيهَا نقص فَفِي الصَّلَوَات وَقيل الْخِنْصر تعبر بِالْفَجْرِ وَالْبَاقِي على التَّرْتِيب وَقيل الْخِنْصر يدل على صَلَاة السّفر لقصرها وَقيل الْأَصَابِع تعبر بالأولاد

الْأَخ لِأَن الْكَفّ أَخ والأصابع بِمَنْزِلَة الْأَوْلَاد

وَقيل الْأَصَابِع تعبر تعبر بِالْمَالِ فَمن رأى إنْسَانا قطعت لَهُ اصبعا فَإِنَّهُ يُؤْذِيه فِي مَاله الَّذِي يعتمدعليه

وَطول الْأَصَابِع فِي الْمَنَام زِيَادَة طمع وَمن رأى أحد الْأَصَابِع انْتقل إِلَى مَوضِع الْأُخْرَى فَإِنَّهُ يوخر الصَّلَاة إِلَى وَقت الصَّلَاة الْأُخْرَى

وتشبيك الْأَصَابِع اجْتِمَاع بالأقارب وَرُبمَا جمع الصَّلَوَات الْخمس فِي وَقت وَاحِد والأصابع شباك أَو كلاب حَدِيد أَو أَغْصَان شجر

والأظفار ثَمَر والسباحة سَلام حبيب أَو رجل رَئِيس وَقد تكون تسبيحا فَإِن زَادَت فِي كف فَهِيَ زِيَادَة فِي التَّسْبِيح واجتماع بحبيب أَو رَئِيس الْأسر فِي الْمَنَام ضيقَة فِي المعاش فَمن رأى كَأَنَّهُ أَسِير اشتدت عَلَيْهِ أَبْوَاب الْمَعيشَة

وَقد يكون عَلَيْهِ دين لَا يُمكنهُ قَضَاؤُهُ

وَمن رأى من الْكفَّار كَأَنَّهُ أَسِير فِي أَيدي الْمُسلمين وَنِيَّته الْإِسْلَام فَإِن الله تَعَالَى يؤتيه خيرا لقَوْله تَعَالَى: (يَا أَيهَا النَّبِي قل لمن فِي أَيْدِيكُم من الأسرى أَن يعلم الله فِي قُلُوبكُمْ خيرا يُؤْتكُم خيرا فَمَا أَخذ مِنْكُم) وَرُبمَا أسلم وَغفر لَهُ.

أُفٍّ، وَمن قَالَ أُفٍّ فِي مَنَامه: فَإِنَّهُ عَاق لوَالِديهِ قَالَ تَعَالَى: (وَلَا تقل لَهما أُفٍّ وَلَا تنهرهما) وَقيل من قَالَ أُفٍّ فَإِنَّهُ يشْتم وَيَدْعُو وَهُوَ فِي اللُّغَة قلامة الظفر الَّتِي ترمى وَلَا يعبأ بهَا كَمَا قَالَ الله تَعَالَى إِخْبَارًا عَن إِبْرَاهِيم عليه السلام (أُفٍّ لكم وَلما تَعْبدُونَ من
তার জন্য সেই বিষয়ে যা সে প্রার্থনা করে।

স্বপ্নে আঙুলসমূহকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

বৃদ্ধাঙ্গুলি হলো ফজরের নামাজ এবং বাকিগুলো ধারাবাহিক ক্রম অনুযায়ী।

সুতরাং আঙুলে যে ত্রুটি দেখা দেবে, তা নামাজের মধ্যেই গণ্য হবে। কেউ কেউ বলেছেন, কনিষ্ঠ আঙুল ফজরের নামাজের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং বাকিগুলো ক্রমানুসারে। আবার কেউ বলেছেন, কনিষ্ঠ আঙুল সফরের নামাজের প্রতি নির্দেশ করে তার সংক্ষিপ্ততার কারণে। আবার এও বলা হয়েছে যে, আঙুলসমূহ দ্বারা সন্তানাদি বুঝায়।

ভাই, কারণ হাতের তালু হলো ভাই এবং আঙুলসমূহ সন্তানের সমতুল্য।

আবার বলা হয়েছে যে, আঙুলসমূহ সম্পদের ব্যাখ্যা প্রদান করে। সুতরাং যে ব্যক্তি দেখবে যে তার একটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে, তবে সে তার সেই সম্পদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যার ওপর সে নির্ভর করে।

স্বপ্নে আঙুলের দৈর্ঘ্য হলো লোভ বৃদ্ধি পাওয়া। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে একটি আঙুল অন্য আঙুলের স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছে, তবে সে এক নামাজের ওয়াক্তকে অন্য নামাজের ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্বিত করবে।

আঙুলের মাঝে আঙুল প্রবেশ করানো হলো আত্মীয়-স্বজনের সাথে একত্রিত হওয়া। আবার কখনও তা একই সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একত্রিত করাকেও বুঝায়। আঙুলসমূহ হলো জাল অথবা লোহার আংটা অথবা গাছের ডালপালা।

নখসমূহ হলো ফল। তর্জনী আঙুল হলো প্রিয়জনের পক্ষ থেকে সালাম অথবা কোনো প্রধান ব্যক্তি; আবার কখনও তা তাসবিহ পাঠ করাকেও বুঝায়। যদি হাতের তালুতে আঙুল বৃদ্ধি পায়, তবে তা তাসবিহ বৃদ্ধি পাওয়া এবং প্রিয়জন বা প্রধান ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতের ইঙ্গিত। স্বপ্নে বন্দিত্ব হলো জীবনযাত্রায় সংকীর্ণতা। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজেকে বন্দি হিসেবে দেখবে, তার জীবনযাত্রার পথসমূহ সংকীর্ণ হয়ে যাবে।

আবার কখনও এর অর্থ তার ওপর এমন ঋণ থাকতে পারে যা পরিশোধ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

কাফিরদের মধ্য থেকে কেউ যদি স্বপ্নে দেখে যে সে মুসলিমদের হাতে বন্দি হয়েছে এবং তার উদ্দেশ্য ইসলাম গ্রহণ করা, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে কল্যাণ দান করবেন। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (হে নবী! তোমাদের হাতে যেসব বন্দি রয়েছে তাদেরকে বলো, যদি আল্লাহ তোমাদের হৃদয়ে কোনো কল্যাণ দেখেন, তবে তোমাদের কাছ থেকে যা নেওয়া হয়েছে তার চেয়ে উত্তম কিছু তিনি তোমাদের দান করবেন)। হতে পারে সে ইসলাম গ্রহণ করবে এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

উফ (বিরক্তি প্রকাশ)। যে ব্যক্তি তার স্বপ্নে ‘উফ’ বলবে, সে তার পিতা-মাতার অবাধ্য। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না)। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ‘উফ’ বলে সে গালি দেয় ও বদদোয়া করে। আভিধানিক অর্থে এটি হলো নখের অগ্রভাগের কাটা অংশ যা ফেলে দেওয়া হয় এবং যেটির কোনো পরোয়া করা হয় না। যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: (ধিক তোমাদের প্রতি এবং তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করো তাদের প্রতি...)
(খণ্ড: ১) তাবীরুর রুয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
من دون الله)

أَي هُوَ لكم شتما

وَقيل من قَالَ: أُفٍّ ناله امرا يكرههُ أَو ضعف فِي بدنه وَقَالَ الشَّاعِر

(وَإِذا الشَّيْخ قَالَ أُفٍّ فأمل … وَإِنَّمَا الضعْف ملآ)

الإسم إِذا تحول فِي الْمَنَام إِلَى غَيره مثل شَرّ ة يتَحَوَّل إِلَى سعد أَو الْمقَاتل إِلَى سَالم فَإِن التَّعْبِير فِي هَذَا يكون بالفأل فسعد سَعَادَة، وَسَالم سَلامَة

وَإِن شخص فِي مَنَامه كَانَ اسْمه تحول اسْم ذِي عاهة كالأعمى والأعرج فَإِنَّهُ يبتلى بذلك نَعُوذ بِاللَّه

وكل اسْم ينْتَقل فِي الْمَنَام فانتسبه إِلَى ذَلِك الِاسْم من خير أَو شَرّ

الأجمة فِي الْمَنَام تدل على قوم فيهم عنز لِأَن القانص يخفى فِيهَا ويرمى الصَّيْد فِيهَا وَهُوَ غافل وَقَالَ ارطاميدورس: الاجمة فِي الرُّؤْيَا دَلِيل خير للرعاة فَقَط وَأما لسَائِر النَّاس فَإِنَّمَا تدل على البطالة، وللمسافر على تعذر سَفَره وَذَلِكَ لسَبَب انْقِطَاع الطَّرِيق فِيهَا

الأرنب فِي الْمَنَام، قَالَ الْمُسلمُونَ الأرنب غير ألفة، وَإِن ذَبحهَا فَهِيَ زَوْجَة لَيست بباقية

وَقَالَت الْيَهُود الأرنب يدل على قوم هاربين والأرنب تعبر بفرج الْمَرْأَة والفرج بالأرنب

وَمن رأى بِيَدِهِ فرج امْرَأَة فَإِنَّهُ يصير أرنبا وَكَذَلِكَ إِن عكست الْإِمَامَة فِي الْمَنَام هِدَايَة وَولَايَة وَمَوْت

فَمن أم بِالنَّاسِ فِي مَنَامه وَكَانَ أَهلا للإمارة فَإِنَّهُ ينالها وَيكون ولية على مِقْدَار الْقَوْم الَّذين اتَّبعُوهُ فِي إِمَامَته

وَإِن كَانَ من الْعلمَاء نَالَ هِدَايَة فِي دينه لقَوْله تَعَالَى: (وجعلناهم أَئِمَّة يهْدُونَ بأمرنا لما صَبَرُوا)

وَمن أم بِالنَّاسِ وَلَيْسَ هُوَ من أهل الْإِمَامَة فَإِنَّهُ يَمُوت لِأَن الْمَيِّت كَالْإِمَامِ وَالنَّاس خَلفه وَكَذَلِكَ الْمَرْأَة إِذا أمت بِالنَّاسِ فَإِنَّهَا تَمُوت أَو تفتضح بِأَمْر يحل بهَا وَمن
(আল্লাহ ব্যতীত)

অর্থাৎ এটি তোমাদের জন্য গালি স্বরূপ।

এবং বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি 'উফ' বলল, সে এমন কিছুর সম্মুখীন হবে যা সে অপছন্দ করে অথবা তার শরীরে দুর্বলতা দেখা দেবে। জনৈক কবি বলেছেন:

(এবং যখন বৃদ্ধ ব্যক্তি 'উফ' বলে, তখন আশা করো … আর দুর্বলতা তো কেবল পরিপূর্ণতা।)

স্বপ্নে যদি নাম পরিবর্তিত হয়ে অন্য কিছু হয়ে যায়, যেমন 'শাররাহ' (মন্দ) পরিবর্তিত হয়ে 'সা'দ' (সৌভাগ্য) হওয়া অথবা 'মুকাতিল' (যোদ্ধা) পরিবর্তিত হয়ে 'সালিম' (নিরাপদ) হওয়া, তবে এর ব্যাখ্যা শুভ লক্ষণ হিসেবে হবে; সুতরাং 'সা'দ' হলো সৌভাগ্য এবং 'সালিম' হলো নিরাপত্তা।

আর যদি কেউ স্বপ্নে দেখে যে তার নাম কোনো শারীরিক ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তির নামে পরিবর্তিত হয়েছে, যেমন অন্ধ বা খোঁড়া, তবে সে তাতে আক্রান্ত হবে। আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

এবং স্বপ্নে যে নামই স্থানান্তরিত হোক না কেন, তুমি সেটিকে সেই নামের ভালো বা মন্দের সাথে সম্পৃক্ত করো।

স্বপ্নে জঙ্গল বা ঝোপঝাড় এমন একদল লোকের প্রতি ইঙ্গিত করে যাদের মধ্যে রুক্ষতা রয়েছে, কারণ শিকারী সেখানে লুকিয়ে থাকে এবং শিকারকে অসাবধান অবস্থায় থাকাকালীন লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করে। আর্তামিডোরাস বলেছেন: স্বপ্নে জঙ্গল দেখা কেবল মেষপালকদের জন্য কল্যাণের লক্ষণ; কিন্তু অন্যান্য মানুষের জন্য এটি কেবল বেকারত্বের ইঙ্গিত দেয়, এবং মুসাফিরের জন্য তার সফর দুঃসাধ্য হওয়ার লক্ষণ, কারণ সেখানে পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্বপ্নে খরগোশ; মুসলিমগণ বলেছেন খরগোশ হলো অমিল বা বন্ধুত্বের অভাব, আর যদি সেটিকে জবাই করা হয় তবে তা এমন স্ত্রী যার স্থায়িত্ব নেই।

ইয়াহূদীরা বলেছে, খরগোশ পলায়নপর কওমের প্রতি ইঙ্গিত করে। খরগোশকে নারীর লজ্জাস্থান দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয় এবং লজ্জাস্থানকে খরগোশ দ্বারা।

যে ব্যক্তি দেখল যে তার হাতে কোনো নারীর লজ্জাস্থান রয়েছে, তবে সে খরগোশে পরিণত হবে। অনুরূপভাবে যদি এর বিপরীত হয়। স্বপ্নে ইমামতি করা হলো হিদায়াত, কর্তৃত্ব এবং মৃত্যু।

সুতরাং যে ব্যক্তি স্বপ্নে মানুষের ইমামতি করল এবং সে নেতৃত্বের যোগ্য হয়, তবে সে তা লাভ করবে এবং তার কর্তৃত্ব হবে সেই পরিমাণ মানুষের ওপর যারা তার ইমামতিতে তাকে অনুসরণ করেছে।

আর যদি সে আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে সে তার দ্বীনের ব্যাপারে হিদায়াত লাভ করবে, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: (এবং আমি তাদেরকে ইমাম বানিয়েছিলাম যারা আমার আদেশে পথ প্রদর্শন করত যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল)।

আর যে ব্যক্তি মানুষের ইমামতি করল অথচ সে ইমামতির যোগ্য নয়, তবে সে মৃত্যুবরণ করবে; কারণ মৃত ব্যক্তি ইমামের মতো আর মানুষ তার পেছনে থাকে। অনুরূপভাবে নারী যখন মানুষের ইমামতি করে, তখন সে মারা যায় অথবা তার ওপর আপতিত কোনো বিষয়ের কারণে সে লাঞ্ছিত হয়। আর যে...