(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: -)
الدرر في اختصار المغازي والسير القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الدرر في اختصار المغازي والسير
المؤلف: يوسف بن عبد البر النمري (368 - 463 هـ)
المحقق: د شوقي ضيف
الناشر: دار المعارف - القاهرة
الطبعة: الثانية، 1403 هـ
عدد الصفحات: 351
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাগাজি ও সিয়ার (যুদ্ধাভিযান ও জীবনী) এর সংক্ষিপ্তসার মুক্তোসমূহ বিভাগ: সীরাত উন-নবী (নবীজির জীবনী)
বই: মাগাজি ও সিয়ার এর সংক্ষিপ্তসার মুক্তোসমূহ
লেখক: ইউসুফ বিন আবদিল বার আন-নামারি (৩৬৮ - ৪৬৩ হিজরি)
সম্পাদক: ড. শাওকি দাইফ
প্রকাশক: দারুল মাআরিফ - কায়রো
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩)
مُقَدمَاتبسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدّمَة الطبعة الثَّانِيَةحِين اطَّلَعت فِي دَار الْكتب المصرية على مخطوطة: "كتاب الدُّرَر فِي اخْتِصَار الْمَغَازِي وَالسير "لِابْنِ عبد الْبر" وَوجدت الزبيدِيّ اللّغَوِيّ تَملكهَا ووقفها مَعَ مَا وَقفه من الْكتب لانتفاع طلاب الْعلم بهَا. وَلَيْسَ ذَلِك فَحسب، فقد وجدت عَلَيْهَا تعليقات للعلامة المؤرخ شمس الدَّين السخاوي، حِينَئِذٍ عرفت أَنَّهَا مخطوطة نفيسة. وحاولت أَن أجد من الْكتاب مخطوطات أُخْرَى للمقابلة، وَلم يكْتب لي الظفر بِشَيْء من ذَلِك فاكتفيت بِأَن المخطوطة موثقة ومضيت أحققها وأعدها للنشر، مستعينا بِمَا وجدته من الْأُصُول الَّتِي ذكرهَا ابْن عبد الْبر فِي الْكتاب، وَأَيْضًا من الْفُرُوع الَّتِي استمدت مِنْهُ ونقلت عَنهُ، وَقد بسطت القَوْل فِي ذَلِك بمقدمة الطبعة الأولى.
ونشرت الْكتاب -بتحقيقي- لجنة إحْيَاء التراث الإسلامي بِالْمَجْلِسِ الْأَعْلَى للشئون الإسلامية فِي سنة 1386 لِلْهِجْرَةِ، وَلم تكد تدخل سنة 1390 حَتَّى كَانَت قد نفدت تِلْكَ النشرة. وَلم يلبث معهد المخطوطات بجامعة الدول الْعَرَبيَّة أَن عثر على مخطوطة مِنْهُ فِي الخزانة الْعَامَّة بالرباط، وبادر إِلَى تصويرها. وصورها لي مشكورا، ووجدتها مخطوطة مُتَأَخِّرَة رُبمَا رجعت إِلَى الْقرن الْحَادِي عشر الهجري، وَهِي بِخَط مغربي وَغير موثقة، وَبهَا بَيَاض فِي غير ورقة وَهُوَ وَاضح فِي ظهر الورقة الأولى المصورة فِي هَذِه الطبعة الثَّانِيَة، وَبهَا مَا لَا يكَاد يُحْصى من التصحيفات وسواقط الْكَلِمَات، وَلم أر إِثْبَات ذَلِك فِي الهوامش، إِذْ لَيْسَ فِي إثْبَاته فَائِدَة. ويتضح من مقدمتها أَنَّهَا ترجع إِلَى أم أُخْرَى غير أم المخطوطة الموثقة الَّتِي نشرتها فِي الطبعة الأولى، وَأَيْضًا فَإِنَّهَا تخْتَلف عَنْهَا بِزِيَادَات قَليلَة رَأَيْت إِثْبَاتهَا، كَمَا أثبت مِنْهَا بعض تصحيحات قَليلَة. ورمزت إِلَى تِلْكَ النُّسْخَة فِي الهوامش بالحرف "ر".
وَكنت قد لاحظت فِي المخطوطة الموثقة الَّتِي نشرتها أَنه تَتَرَدَّد فِي بعض صفحاتها كلمة "قلت" ويليها تعقيبات على كَلَام ابْن عبد الْبر، وَقد تُوضَع مَكَان كلمة "قلت" كلمة
উপক্রমণিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাযখন আমি মিশরের ‘দারুল কুতুব’-এ ইবনে আবদিল বার-এর পাণ্ডুলিপি: "কিতাবুদ দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাজি ওয়াস সিয়ার" দেখলাম এবং জানতে পারলাম যে ভাষাবিদ আল-জুবাইদী এটির মালিক ছিলেন এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীদের উপকারের জন্য অন্যান্য কিতাবের সাথে এটিও ওয়াকফ করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আমি এতে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ শামসুদ্দীন আস-সাখাভী-র টীকাও খুঁজে পেয়েছি; তখনই আমি বুঝতে পেরেছি যে এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান পাণ্ডুলিপি। আমি পাঠান্তরের জন্য এই কিতাবটির আরও পাণ্ডুলিপি খোঁজার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে কাজে সফল হতে পারিনি। ফলে এই পাণ্ডুলিপিটি নির্ভরযোগ্য হওয়ায় আমি এর ওপরই সন্তুষ্ট থাকলাম এবং ইবনে আবদিল বার এই কিতাবে যেসব মূল উৎসের উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে রচিত পরবর্তী যেসকল গ্রন্থ এখান থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সাহায্য নিয়ে আমি এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের প্রস্তুতি গ্রহণ করলাম। প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
১৩৮৬ হিজরিতে সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স-এর 'ইসলামি ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ কমিটি' আমার সম্পাদনায় কিতাবটি প্রকাশ করে। ১৩৯০ হিজরি আসতে না আসতেই সেই সংস্করণটি শেষ হয়ে যায়। এর অল্প সময় পরেই 'আরব লীগ'-এর পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট মরক্কোর রাবাতের ‘আল-খিজানাতুল আম্মা’-তে এর একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পায় এবং দ্রুত তা অনুলিপি করার ব্যবস্থা করে। তারা অনুগ্রহ করে আমাকে এর একটি অনুলিপি প্রদান করেন। আমি দেখলাম এটি পরবর্তী সময়ের কোনো পাণ্ডুলিপি, সম্ভবত হিজরি একাদশ শতাব্দীর। এটি মাগরিবী লিপিতে লেখা এবং অ-প্রত্যয়িত, এতে একাধিক পৃষ্ঠায় শূন্যস্থান রয়েছে যা এই দ্বিতীয় সংস্করণে মুদ্রিত প্রথম পৃষ্ঠার উল্টো পিঠেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এতে অসংখ্য বর্ণবিভ্রাট ও শব্দের বিচ্যুতি রয়েছে; আমি টীকায় সেগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করিনি, কারণ তাতে কোনো ফায়দা নেই। এর ভূমিকা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি আমি প্রথম সংস্করণে যে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশ করেছিলাম, তার মূল উৎস থেকে ভিন্ন অন্য কোনো মূল উৎস থেকে এসেছে। এছাড়াও এতে কিছু অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যা আমি যুক্ত করা আবশ্যক মনে করেছি এবং এর মাধ্যমে অল্প কিছু সংশোধনও সম্পন্ন করেছি। টীকায় আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে "রা" অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
আমি প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিটিতে লক্ষ্য করেছি যে, এর কিছু পৃষ্ঠায় "আমি বলেছি" শব্দটি বারবার এসেছে এবং এর পরপরই ইবনে আবদিল বার-এর বক্তব্যের ওপর কিছু টীকা-টিপ্পনী রয়েছে। আবার কখনও "আমি বলেছি" শব্দের পরিবর্তে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৪)
"فَائِدَة" أَو كلمة "هَا هُنَا لَطِيفَة". وَذكر التعقيب فِي أمكنة قَليلَة بِدُونِ إِشَارَة تسبقه تدل على أَوله، غير أَنه يعلن دَائِما عَن نَفسه بِمَا يَنْتَهِي بِهِ من العلامات الدَّالَّة على انْتِهَاء التعقيب مثل: "عَاد الْكَلَام" أَو "يرجع الْكَلَام" أَو "وَالله أعلم" أَو "وَالْحَمْد لله" أَو "وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق". وَذكرت فِي مُقَدّمَة الطبعة الأولى أَن هَذِه التعقيبات إِمَّا أَنَّهَا كَانَت مَكْتُوبَة على هَامِش الأَصْل الَّذِي نقلت عَنهُ المخطوطة وأدمجها فِيهَا النَّاسِخ لَهَا، وَإِمَّا أَن يكون النَّاسِخ هُوَ الْعَالم الديني الَّذِي أضَاف تِلْكَ التعقيبات.
وَكَثِيرًا: مَا خشيت أَن يكون تقديري لبدء هَذِه التعقيبات ونهايتها غير دَقِيق، إِذْ كنت رَأَيْت فصلها عَن الْكتاب ووضعها فِي هوامشه، حَتَّى أُعِيد إِلَيْهِ نسقه الَّذِي صاغه بِهِ ابْن عبد الْبر. وَحين عرض صنيعي على النُّسْخَة الجديدة وجدتني مصيبا فِيمَا عدا مَوَاضِع قَليلَة ظَنَنْت فِيهَا أَحْيَانًا أَن التعقيب من متن الْكتاب، أَو أَنه لَيْسَ من مَتنه. وبالمعارضة على المخطوطة الجديدة رد الْكتاب فِي تِلْكَ الْمَوَاضِع إِلَى نسقه، وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت، وَإِلَيْهِ أنيب.
شوقي ضيف
الْقَاهِرَة فِي أول شعْبَان سنة 1403هـ.
"উপকারিতা" অথবা "এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে" শব্দসমষ্টির মাধ্যমে। কিছু কিছু স্থানে কোনো পূর্ব সংকেত ছাড়াই এই টীকাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে যা তার প্রারম্ভ নির্দেশ করে না, তবে এটি সর্বদা এমন কিছু নিদর্শনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় যা টীকার সমাপ্তি ঘোষণা করে, যেমন: "মূল আলোচনা ফিরে এলো" অথবা "মূল আলোচনায় প্রত্যাবর্তন" অথবা "আল্লাহই সর্বজ্ঞ" অথবা "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য" অথবা "আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা অর্জিত হয়"। আমি প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় উল্লেখ করেছিলাম যে, এই টীকাগুলো হয়তো সেই মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় (হাশিয়া) লেখা ছিল যা থেকে বর্তমান অনুলিপিটি প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং অনুলিপিকারক সেগুলোকে মূল পাঠের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন, অথবা অনুলিপিকারক নিজেই ছিলেন একজন আলেম যিনি এই টীকাগুলো যোগ করেছিলেন।
আমি অনেক সময় এই আশঙ্কা করেছি যে, এই টীকাগুলোর শুরু এবং শেষ নির্ধারণে আমার পরিমাপ হয়তো যথাযথ হয়নি, যেহেতু আমি এগুলোকে মূল গ্রন্থ থেকে পৃথক করে পাদটীকায় স্থাপন করা সমীচীন মনে করেছিলাম, যাতে ইবনে আবদুল বার যে বিন্যাসে গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন সেই মূল কাঠামোটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা যায়। যখন আমার সম্পাদিত কার্যটি নতুন পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হলো, তখন আমি অল্প কিছু স্থান ব্যতীত নিজেকে সঠিক পেলাম; যেখানে আমি মাঝে মাঝে মনে করেছিলাম যে টীকাটি গ্রন্থের মূল পাঠের অংশ, অথবা এটি মূল পাঠের অংশ নয়। নতুন পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনামূলক যাচাইয়ের মাধ্যমে সেই স্থানগুলোতে গ্রন্থটিকে তার আদি বিন্যাসে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।
শাওকি দাইফ
কায়রো, ১লা শাবান, ১৪০৩ হিজরী।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৫)
مُقَدّمَة الطبعة الأولىالْمُؤلف
مؤلف هَذِه السِّيرَة النَّبَوِيَّة هُوَ أَبُو عمر يُوسُف1 بْن عَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّد بْن عَبْد الْبر بن عَاصِم النمري، ولد بقرطبة فِي يَوْم الْجُمُعَة لخمس بَقينَ من ربيع الأول سنة ثَمَان وَسِتِّينَ وثلاثمائة، وَنَشَأ فِي بَيت علم، إِذْ كَانَ أَبوهُ من فُقَهَاء قرطبة ومحدثيها، وَقد وَجهه مُنْذُ نعومة أَظْفَاره إِلَى الدراسات الدِّينِيَّة، وَتُوفِّي وَابْنه فِي الثَّالِثَة عشرَة من عمره، فدأب على الدَّرْس من بعده وَالسَّمَاع من جلة الْعلمَاء أَمْثَال أبي عمر المكوى، وَابْن الفرضي، وَعبد الْوَارِث بن سُفْيَان، وَخلف بن قَاسم، وَأبي مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بن عبد الْمُؤمن، وَسَعِيد بن نصر، وَمُحَمّد بن إِبْرَاهِيم بن سُلَيْمَان، وَأَحْمَدُ بْنُ قَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَن التاهرتي، وَأحمد بْن مُحَمَّد بْن أَحْمد بن الجسور، وَأبي عمر الْبَاجِيّ، وَغَيرهم من أَعْلَام الْفِقْه والْحَدِيث والتاريخ والمغازي وَالْأَخْبَار والأنساب.
وَمَا نكاد نتقدم فِي الْقرن الْخَامِس الهجري حَتَّى يلمع اسْمه بَين نابهي الْعلمَاء بقرطبة، وسرعان مَا تفْسد الْحَيَاة فِيهَا وتشتعل الْفِتَن، وَيَأْخُذ صرح الدولة الأموية بهَا فِي الانقضاض، وَتقوم على أنقاضه إمارات لملوك الطوائف المعروفين فِي الأندلس، إِذْ تستقل كل بَلْدَة كَبِيرَة بإمارة وأمير. وطالت الْفِتَن بقرطبة، فهجرها كثير من علمائها، وشجعهم على الْهِجْرَة مِنْهَا الْأُمَرَاء الجدد، إِذْ مضوا يتنافسون فِي جمع الْعلمَاء والأدباء وَالشعرَاء بإماراتهم أَو بلدانهم، وارتحل فِيمَن ارتحلوا عَن قرطبة أَبُو عمر بن عبد الْبر ميمما بطليوس
--------------------------------------------
প্রথম সংস্করণের ভূমিকালেখক
এই সীরাতুন নববীর লেখক হলেন আবু ওমর ইউসুফ ১ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদিল বার বিন আসিম আন-নামারি। তিনি কুরতুবায় (কর্ডোভা) ৩৬৮ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের শেষ পাঁচ দিন বাকি থাকতে জুমার দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি জ্ঞানদীপ্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেন, কারণ তাঁর পিতা কুরতুবোর ফকীহ ও মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি শৈশব থেকেই তাঁকে ধর্মীয় শিক্ষার দিকে পরিচালিত করেন। যখন তাঁর বয়স তেরো বছর, তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি অধ্যয়নে নিমগ্ন হন এবং আবু ওমর আল-মাকভি, ইবনুল ফারাযি, আবদ আল-ওয়ারিস বিন সুফিয়ান, খালাফ বিন কাসিম, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদ আল-মুমিন, সাঈদ বিন নাসর, মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সুলাইমান, আহমদ বিন কাসিম বিন আবদুর রহমান আত-তাহিরতি, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-জাসুর, আবু ওমর আল-বাজি এবং ফিকহ, হাদিস, ইতিহাস, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), আখবার (সংবাদ) ও বংশবিদ্যার অন্যান্য বিশিষ্ট পণ্ডিতদের কাছ থেকে শ্রবণ (পাঠ গ্রহণ) করেন।
হিজরি পঞ্চম শতাব্দী শুরু হতে না হতেই কুরতুবোর মেধাবী আলেমদের মাঝে তাঁর নাম উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তবে অচিরেই সেখানকার জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানকার উমাইয়া খেলাফতের ভিত্তি ধসে পড়তে শুরু করে এবং এর ধ্বংসাবশেষের ওপর আন্দালুসের পরিচিত 'মুলুকুত তাওয়ায়েফ' বা ক্ষুদ্র রাজ্যসমূহের রাজন্যবর্গের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়; যেখানে প্রতিটি বড় শহর একজন আমিরের অধীনে স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হয়। কুরতুবায় এই বিশৃঙ্খলা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় অনেক আলেম সেখান থেকে হিজরত করেন। নতুন শাসকরাও তাঁদের হিজরতে উৎসাহিত করেন, কারণ তাঁরা নিজ নিজ আমিরাত বা শহরগুলোতে আলেম, সাহিত্যিক ও কবিদের সমবেত করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। কুরতুবা ত্যাগকারীদের মধ্যে আবু ওমর বিন আবদিল বারও ছিলেন, যিনি বাদাখোস (বাত্তালইউস) অভিমুখে যাত্রা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৬)
فِي غربي الأندلس، حَيْثُ أمراؤها بَنو الْأَفْطَس، وَمَا كَاد يسْتَقرّ فِي حاضرتهم حَتَّى أكرموه غَايَة الْإِكْرَام، وولوه الْقَضَاء فِي بلدتي أشبونة وشنترين من بلدان إماراتهم. ويتحول إِلَى شَرْقي الأندلس وَينزل بلنسية ودانية، وَرُبمَا كَانَ مِمَّا حببه فِي الْأَخِيرَة مُجَاهِد الَّذِي كَانَ يمسك بمقاليد الحكم فِيهَا، فقد كَانَ مشاركا فِي عُلُوم الْقُرْآن والْحَدِيث كَمَا "كَانَ محبا للْعُلَمَاء محسنا لَهُم حَتَّى عرف بذلك بَلَده وَقصد من كل مَكَان". وَكَانَ لِابْنِ عبد الْبر ابْن أديب وَكَاتب بليغ، فوظفه مُجَاهِد فِي دواوينه، حَتَّى إِذا توفّي اتَّخذهُ ابْنه على "436- 468هـ" رَئِيسا لدواوينه وَكتابه. وَحدث أَن صدر عَنهُ برسالة إِلَى المعتضد صَاحب إشبيلية "436- 461هـ" وبدلا من أَن يتلقاه لِقَاء حسنا حَبسه فِي سجنه، مِمَّا جعل أَبَاهُ يَقْصِدهُ مستعطفا بِمثل قَوْله:
قصدت إِلَيْك من شَرق لغرب
… لتبصر مقلتي مَا حل سَمْعِي
وتعطفك المكارم نَحْو أصل
… دعَاكُمْ رَاغِبًا فِي خير فرع
فَإِن جدتم بِهِ من بعد عَفْو
… فَلَيْسَ الْفضل عنْدكُمْ ببدع
وسرعان مَا رد المعتضد إِلَى ابْنه حُرِّيَّته وَعَاد إِلَى دانية. ولبى الابْن نِدَاء ربه فِي سنة ثَمَان وَخمسين وَأَرْبَعمِائَة، وَلَعَلَّ ذَلِك هُوَ الَّذِي جعل أَبَاهُ يتَحَوَّل عَن دانية إِلَى شاطبة، وَبهَا يسلم روحه إِلَى بارئه فِي سنة ثَلَاث وَسِتِّينَ وَأَرْبَعمِائَة عَن خَمْسَة وَتِسْعين عَاما.
وَهَذِه السن الْعَالِيَة جعلت ابْن عبد الْبر كَمَا شهد موت ابْنه يشْهد وَيسمع عَن موت كثيرين من تلاميذه مثل ابْن حزم، وَكَانَ يصغره بِنَحْوِ عشْرين عَاما، وَتُوفِّي قبله بِنَحْوِ سَبْعَة أَعْوَام. وَكَانَ يجنح فِي باكورة حَيَاته إِلَى مَذْهَب الظَّاهِرِيَّة أَتبَاع دَاوُد بن عَليّ الْأَصْبَهَانِيّ الَّذِي كَانَ يُنكر الرَّأْي فِي الْفِقْه والتشريع وَيَبْنِي أَحْكَامه على ظَاهر الْآيَات القرآنية وَالسّنة النَّبَوِيَّة. على أَنه لم يلبث أَن انتظم فِيمَا انتظم فِيهِ جُمْهُور أساتذته وَأهل موطنه من اعتناق مَذْهَب مَالك بن أنس. وَكَانَ فِيهِ اعْتِدَال جعله يمِيل إِلَى بعض آراء الشَّافِعِي الْفِقْهِيَّة. وَكَأَنَّهُ لم يكن يعرف التعصب والتحيز إِنَّمَا يعرف الْحق ويطلبه، فَإِذا استبان لَهُ انْقَادَ رَاضِيا.
وَيجمع من ترجموا لَهُ على الإشادة بِعِلْمِهِ وَرِوَايَته الغزيرة للْحَدِيث النَّبَوِيّ. وَفِيه يَقُول الْحميدِي تِلْمِيذه: "فَقِيه حَافظ مكثر عَالم بالقراءات وبالخلاف فِي الْفِقْه وبعلوم
পশ্চিম আন্দালুসে, যেখানে বনু আল-আফতাস ছিল সেখানকার আমির, তাদের রাজধানীতে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই তারা তাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেন এবং তাদের আমিরাতের অন্তর্ভুক্ত আশবুনা (লিসবন) ও শান্তারিন শহরে তাকে বিচারক (কাজি) হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর তিনি পূর্ব আন্দালুসে চলে যান এবং বালানসিয়া (ভ্যালেন্সিয়া) ও দানিয়া শহরে অবস্থান করেন। সম্ভবত দানিয়া শহরের প্রতি তার অনুরাগের কারণ ছিল সেখানকার শাসক মুজাহিদ, যিনি সেখানকার শাসনভার পরিচালনা করতেন। তিনি কুরআন ও হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন এবং যেমনটি বলা হয়েছে: “তিনি আলেমদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ও তাদের প্রতি সদাচারী ছিলেন, যার ফলে তার শহর এই গুণের জন্য পরিচিতি লাভ করেছিল এবং সর্বদিক থেকে মানুষ সেখানে আসত।” ইবনে আব্দুল বার-এর একজন পুত্র ছিলেন যিনি একজন সাহিত্যিক ও বাগ্মী লেখক ছিলেন। মুজাহিদ তাকে তার প্রশাসনিক দপ্তরে (দিওয়ান) নিয়োগ দেন। মুজাহিদের মৃত্যুর পর তার পুত্র আলী (৪৩৬-৪৬৮ হি.) তাকে তার দপ্তর ও লেখনী কার্যের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন। একবার ইশবিলিয়ার (সেভিল) অধিপতি আল-মুতাদিদ (৪৩৬-৪৬১ হি.)-এর কাছে তার পক্ষ থেকে একটি পত্র পাঠানো হয়। আল-মুতাদিদ তাকে সমাদর করার পরিবর্তে কারাগারে বন্দি করেন। এতে তার পিতা (ইবনে আব্দুল বার) দয়াপরবশ হয়ে তাকে নিম্নোক্ত কবিতার মাধ্যমে আরজি জানান:
আমি পূর্ব থেকে পশ্চিমে আপনার পানে এসেছি
… যাতে আমার চোখ তা প্রত্যক্ষ করতে পারে যা আমার কান শুনেছে
মহত্ত্ব যেন আপনাকে এমন এক মূলের প্রতি সদয় করে
… যে আপনাকে তার উত্তম শাখার কামনায় আহ্বান করেছে
যদি ক্ষমা প্রদর্শনের পর আপনি তাকে দান করেন
… তবে আপনার নিকট এই বদান্যতা কোনো নতুন বিষয় নয়
দ্রুতই আল-মুতাদিদ তার পুত্রকে মুক্তি দেন এবং সে দানিয়াতে ফিরে আসে। পুত্র ৪৫৮ হিজরিতে পরলোকগমন করেন। সম্ভবত এ কারণেই তার পিতা দানিয়া ত্যাগ করে শাতিবা শহরে চলে যান এবং সেখানেই ৪৬৩ হিজরিতে পঁচানব্বই বছর বয়সে মহান স্রষ্টার নিকট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই দীর্ঘায়ু হওয়ার কারণে ইবনে আব্দুল বার যেমন তার নিজের পুত্রের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছেন, তেমনি ইবনে হাজমের মতো তার অনেক ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদও শুনেছেন। ইবনে হাজম তার চেয়ে প্রায় বিশ বছরের ছোট ছিলেন এবং তার প্রায় সাত বছর আগে ইন্তেকাল করেন। ইবনে আব্দুল বার তার জীবনের শুরুর দিকে দাউদ বিন আলী আল-আসবাহানির অনুসারী জাহিরি মাজহাবের প্রতি ঝুঁকে ছিলেন, যারা ফিকহ ও শরিয়তের ক্ষেত্রে ‘রায়’ বা ব্যক্তিগত মতকে অস্বীকার করত এবং তাদের আহকাম বা বিধানসমূহ কুরআনের আয়াত ও সুন্নাহর প্রকাশ্য (জাহির) অর্থের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করত। তবে শীঘ্রই তিনি তার অধিকাংশ উস্তাদ ও দেশবাসীর মতো মালিক বিন আনাসের মাজহাব গ্রহণ করেন। তার মধ্যে এক প্রকার ভারসাম্য ছিল যা তাকে শাফেয়ি মাজহাবের কিছু ফিকহী মতামতের প্রতি অনুরাগী করে তুলেছিল। মনে হয় তিনি কোনো গোঁড়ামি বা পক্ষপাত জানতেন না, বরং তিনি কেবল সত্য জানতেন এবং তারই অন্বেষণ করতেন। যখনই তার কাছে সত্য স্পষ্ট হতো, তিনি সানন্দে তা মেনে নিতেন।
তার জীবনীকারগণ সর্বসম্মতভাবে তার ইলম এবং হাদিসের বিশাল বর্ণনার প্রশংসা করেছেন। তার সম্পর্কে তার ছাত্র আল-হুমায়দি বলেন: “তিনি একজন ফকিহ, হাফেজ, প্রচুর বর্ণনাকারী, কিরাত শাস্ত্র, ফিকহী মতভেদ এবং শাস্ত্রীয় জ্ঞানে অত্যন্ত পণ্ডিত...”
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحَدِيث وَالرِّجَال، قديم السماع كثير الشُّيُوخ" وَيَقُول أَبُو الْوَلِيد الْبَاجِيّ: "لم يكن بالأندلس مثل أبي عمر بن عبد الْبر فِي الحَدِيث" وَيَقُول ابْن بشكوال: "إِمَام عصره وَوَاحِد دهره. دأب فِي طلب الْعلم وافتن فِيهِ وبرع براعة فاق بهَا من تقدمه من رجال الأندلس" وَيَقُول ابْن سعيد نقلا عَن الحجاري: "إِمَام الأندلس فِي علم الشَّرِيعَة وَرِوَايَة الحَدِيث، لَا أستثني من أحد، وحافظها الَّذِي حَاز خصل السَّبق وَاسْتولى على غَايَة الأمد، وَانْظُر إِلَى آثاره، تعنك عَن أخباره".
وَقد سمع مِنْهُ عَالم عَظِيم حملُوا عَنهُ مصنفاته الَّتِي طارت شهرتها فِي عصره وَبعد عصره، مِنْهَا فِي الْفِقْه والْحَدِيث كتاب "التَّمْهِيد لما فِي الْمُوَطَّأ من الْمعَانِي والأسانيد" وَفِيه يَقُول ابْن حزم: "لَا أعلم فِي الْكَلَام على فقه الحَدِيث مثله فَكيف أحسن مِنْهُ؟! ". وَفِي دَار الْكتب المصرية قِطْعَة من هَذَا الْكتاب، وَقد اخْتَصَرَهُ ابْن عبد الْبر فِي كتاب سَمَّاهُ "التَّقَصِّي لما فِي الْمُوَطَّأ من حَدِيث رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم" وَمن كتبه فِي الْفِقْه والْحَدِيث أَيْضا: "الاستذكار لمذاهب فُقَهَاء الْأَمْصَار مِمَّا رسمه الإِمَام مَالك فِي الْمُوَطَّأ من مَعَاني الرَّأْي والْآثَار" نشر مِنْهُ بِالْقَاهِرَةِ جزآن بتحقيق الْأُسْتَاذ عَليّ النجدي. وَقد عَاد فَاخْتَصَرَهُ فِي كتاب دَعَاهُ: "الْكَافِي فِي الْفِقْه على مَذْهَب أهل الْمَدِينَة". وَمن كتبه فِي الْفِقْه: "اخْتِلَاف أَصْحَاب مَالك بن أنس وَاخْتِلَاف رواياتهم عَنهُ". وَمن كتبه فِي الْقرَاءَات وعلوم الْقُرْآن: "الْبَيَان عَن تِلَاوَة الْقُرْآن" و"التجويد والمدخل إِلَى الْعلم بالتحديد" و"الِاكْتِفَاء فِي قِرَاءَة نَافِع وَأبي عَمْرو بن الْعَلَاء بتوجيه مَا اخْتلفَا فِيهِ". وَمن كتبه "جَامع بَيَان الْعلم وفضله وَمَا يَنْبَغِي فِي رِوَايَته وَحمله" وَقد اخْتَصَرَهُ أَحْمد عمر المحمصاني الْبَيْرُوتِي وَنشر فِي مُجَلد لطيف. وَألف فِي السِّيرَة النَّبَوِيَّة كِتَابه الَّذِي ننشره: "الدُّرَر فِي اخْتِصَار الْمَغَازِي وَالسير" وعني بسير مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأبي حنيفَة وصنف فِيهَا "الانتقاء فِي فَضَائِل الثَّلَاثَة الْأَئِمَّة الْفُقَهَاء" وَهُوَ مطبوع. وَألف فِي الصَّحَابَة كِتَابه الضخم "الِاسْتِيعَاب" استقصى فِيهِ أَسمَاء الْمَذْكُورين مِنْهُم فِي الرِّوَايَات وَالْأَخْبَار وَعرف بهم ولخص أَحْوَالهم وأخبارهم مُرَتبا لَهُم على حُرُوف المعجم، وَهُوَ مطبوع. وَمن كِتَابه "الْقَصْد والأمم فِي التَّعْرِيف بأصول أَنْسَاب الْعَرَب والعجم" و "الإنباه على قبائل الروَاة" وهما مطبوعان مَعًا. وَكَانَت فِيهِ نَزعَة أدبية جعلته ينظم الشّعْر من حِين إِلَى حِين، كَمَا جعلته يؤلف كِتَابه "بهجة الْمجَالِس وَأنس الْمجَالِس" للمظفر بن الْأَفْطَس صَاحب بطليوس، وَهُوَ مختارات
হাদিস ও রিজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত, দীর্ঘদিনের শ্রবণ ও বহু শিক্ষকের সাহচর্য লাভকারী। আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি বলেন: "হাদিস শাস্ত্রে আবু ওমর ইবনে আবদিল বাররের মতো আর কেউ আন্দালুসে ছিল না।" ইবনে বাশকুওয়াল বলেন: "তিনি ছিলেন তাঁর যুগের ইমাম এবং সময়ের অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং এতে পারদর্শী হয়েছেন। তিনি এমন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন যার মাধ্যমে তিনি আন্দালুসের পূর্ববর্তী মনীষীদের ছাড়িয়ে গিয়েছেন।" ইবনে সাঈদ আল-হিজারি থেকে উদ্ধৃত করে বলেন: "শরিয়াহর জ্ঞান ও হাদিস বর্ণনায় তিনি আন্দালুসের ইমাম, আমি এক্ষেত্রে কাউকে তাঁর ঊর্ধ্বে রাখছি না; তিনি এমন এক হাফেজ যিনি শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছেন এবং চরম লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। তাঁর কর্মসমূহের দিকে তাকালেই তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে।"
তাঁর কাছে এক বিশাল আলেম সমাজ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন যারা তাঁর রচনাবলি প্রচার করেছেন। তাঁর এই গ্রন্থগুলোর খ্যাতি তাঁর জীবদ্দশায় এবং পরবর্তীকালেও ছড়িয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের কিতাব "আত-তামহীদ লিমা ফিল মুওয়াত্তা মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ" অন্যতম। এই কিতাব সম্পর্কে ইবনে হাজম বলেন: "হাদিসের ফিকহ বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি এর সমতুল্য কোনো কিতাব জানি না, তাহলে এর চেয়ে উত্তম কিতাব কীভাবে হতে পারে?!"। মিশরের দারুল কুতুব-এ এই কিতাবের একটি অংশ সংরক্ষিত আছে। ইবনে আবদিল বারর এই কিতাবটিকে সংক্ষেপ করে "আত-তাকাসসি লিমা ফিল মুওয়াত্তা মিন হাদিসি রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" নামকরণ করেছেন। ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অন্যান্য কিতাবের মধ্যে রয়েছে: "আল-ইসতিযকার লি মাযাহিব ফুকাহাইল আমসার মিম্মা রাসমাহুল ইমাম মালিক ফিল মুওয়াত্তা মিন মাআনিল রায়ি ওয়াল আসার"। কায়রো থেকে প্রফেসর আলী আন-নাজদির সম্পাদনায় এর দুটি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। তিনি পরবর্তীতে এটি পুনরায় সংক্ষেপ করে একটি কিতাব লেখেন যার নাম দেন: "আল-কাফি ফিল ফিকহি আলা মাযহাবি আহলিল মাদিনা"। ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর কিতাবগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: "ইখতিলাফু আসহাবি মালিক বিন আনাস ওয়া ইখতিলাফু রিওয়ায়াতিহিম আনহু"। কিরাআত ও কুরআন উলুম সংক্রান্ত তাঁর কিতাবসমূহ হলো: "আল-বায়ান আন তিলাওয়াতিল কুরআন", "আত-তাজবিদ ওয়াল মাদখাল ইলাল ইলমি বিত-তাহদিদ" এবং "আল-ইক্তিফা ফি কিরাআতি নাফি' ওয়া আবি আমর ইবনে আলা বিতাওজিহি মাখতালাফা ফিহি"। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিতাবসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে "জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ওয়া মা ইয়ামবাগি ফি রিওয়ায়াতিহি ওয়া হামলিহি"; বৈরুতের আহমদ ওমর আল-মাহমাসানি এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং এটি একটি মার্জিত খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। সীরাত বা নবী জীবনী সম্পর্কে তিনি তাঁর সেই কিতাবটি লিখেছেন যা আমরা প্রকাশ করছি: "আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাজি ওয়াস সিয়ার"। তিনি ইমাম মালিক, শাফেয়ী ও আবু হানিফার জীবনী নিয়ে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে "আল-ইনতিকা ফি ফাদাইলিস সালাসাতিল আইম্মাতিল ফুকাহা" গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যা বর্তমানে মুদ্রিত। সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে তিনি তাঁর বিশাল গ্রন্থ "আল-ইসতিয়াব" রচনা করেছেন। এতে তিনি হাদিস ও ইতিহাসে বর্ণিত সাহাবীদের নামসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন, তাঁদের পরিচয় তুলে ধরেছেন এবং তাঁদের জীবন ও সংবাদ বর্ণানুক্রমিকভাবে সংক্ষেপ করেছেন; এটি মুদ্রিত আকারে পাওয়া যায়। তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে "আল-কাসদ ওয়াল আমাম ফিত তারিফি বিউসুলি আনসাবিল আরাবি ওয়াল আজাম" এবং "আল-ইনবাহ আলা কাবাইলির রুওয়াত", এই দুটি কিতাব একত্রে মুদ্রিত হয়েছে। তাঁর মধ্যে একটি সাহিত্যিক প্রবৃত্তি ছিল যা তাঁকে সময়ে সময়ে কবিতা রচনায় উদ্বুদ্ধ করত। এরই ফলশ্রুতিতে তিনি বাতালিউস-এর অধিপতি মুজাফফর ইবনুল আফতাসের জন্য "বাহজাতুল মাজালিস ওয়া উনসুল মাজালিস" নামক গ্রন্থটি সংকলন করেন, যা একটি চয়নিকা।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৮)
من غرر الأبيات ونوادر الحكايات الدَّالَّة على مَكَارِم الْأَخْلَاق، وَقد طبع بِالْقَاهِرَةِ بتحقيق الْأُسْتَاذ الخولي وَيُنْهِي ابْن بشكوال حَدِيثه عَن مصنفاته بقوله: "كَانَ موفقا فِي التَّأْلِيف معانا عَلَيْهِ ونفع الله بتواليفه، وَكَانَ مَعَ تقدمه فِي علم الْأَثر، وبصره بالفقه ومعاني الحَدِيث، لَهُ بسطة كَبِيرَة فِي علم النّسَب وَالْخَبَر".
2- مصَادر "الدُّرَر فِي اخْتِصَار الْمَغَازِي وَالسير".
ذكر ابْن عبد الْبر فِي خطْبَة هَذَا الْكتاب أَنه أفرده لسَائِر خبر رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مبعثه وأوقاته مُعْتَمدًا على كتابي مُوسَى بن عقبَة فِي الْمَغَازِي، وَكتاب مُحَمَّد بن إِسْحَاق فِي السِّيرَة النَّبَوِيَّة، ومعروف أَن أَولهَا توفّي سنة 141 لِلْهِجْرَةِ، فِي حِين توفّي الثَّانِي سنة 150 أَو 151، فِي بعض الرِّوَايَات، وظل كتاباهما المصدرين الأساسيين لسيرة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم، على مدى العصور التالية، يرجع إِلَيْهِمَا المصنفون والمؤلفون للسيرة الزكية، حَتَّى إِذا طَال بهما الْعُمر سقطا من يَد الزَّمن كَمَا سقط كثير من المصنفات الْقَدِيمَة، إِلَّا قِطْعَة من سيرة ابْن إِسْحَاق لَا تزَال بَاقِيه بمكتبة الرِّبَاط، وَإِلَّا رِوَايَة ابْن هِشَام لَهَا. وَهِي لَيست رِوَايَة تَامَّة إِنَّمَا هِيَ تَهْذِيب وتنقيح لَهَا واختصار، وَلم يروها عَن ابْن إِسْحَاق مُبَاشرَة، إِنَّمَا رَوَاهَا عَن تِلْمِيذه زِيَاد بن عبد الله البكائي، وَقد طبعت فِي عصرنا مرَارًا.
وَيَقُول ابْن عبد الْبر: إِنَّه اختصر سيرته من كتاب ابْن إِسْحَاق رِوَايَة ابْن هِشَام وَغَيره، ويفصل القَوْل فِي ذَلِك فِي أثْنَاء حَدِيثه عَن حجَّة الْوَدَاع، قَائِلا: "مَا كَانَ فِي كتَابنَا هَذَا عَن ابْن إِسْحَاق فروايتنا فِيهِ عَن عَبْد الْوَارِث بْن سُفْيَان، عَن قَاسم بْن أصبغ، عَن مُحَمَّد بْن عَبْد السَّلَام الْخُشَنِي، عَن مُحَمَّد بْن البرقي، عَن ابْن هِشَام، عَن زِيَاد البكائي عَن مُحَمَّد بْن إِسْحَاق. وَقِرَاءَة مني أَيْضا على عَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّد بْن يُوسُف، عَن ابْن مفرج، عَن ابْن الْأَعرَابِي، عَن العطاردي، عَن يُونُس بْن بكير، عَن ابْن إِسْحَاق. وَقِرَاءَة مني أَيْضا على عَبْد الْوَارِث بْن سُفْيَان، عَن قَاسم بْن أصبغ، عَن عبيد بْن عَبْد الْوَاحِد الْبَزَّار، عَن [أَحْمد بْن] مُحَمَّد بْن أَيُّوب، عَن إِبْرَاهِيم بْن سعد، عَن ابْن إِسْحَاق". وَإِذن فَهُوَ لم يكتف بِرِوَايَة ابْن هِشَام لكتاب ابْن إِسْحَاق، بل ضم إِلَيْهَا رِوَايَة يُونُس بن بكير، وبمكتبة الْقرَوِيين بفاس نُسْخَة مِنْهَا مخطوطة، وَأَيْضًا فَإِنَّهُ ضم إِلَيْهَا رِوَايَة إِبْرَاهِيم بن
উত্তম পঙক্তিমালা এবং দুর্লভ ঘটনাবলি থেকে যা সচ্চরিত্রের প্রমাণ দেয়। এটি কায়রোতে উস্তাদ আল-খুলির সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে। ইবনে বাশকুয়াল তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে আলোচনার সমাপ্তি টেনে বলেন: "তিনি গ্রন্থনায় সফল ও সাহায্যপ্রাপ্ত ছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর রচনার মাধ্যমে উপকার পৌঁছে দিয়েছেন। আছার (হাদিস ও বর্ণনা) শাস্ত্রে তাঁর অগ্রগামিতা এবং ফিকহ ও হাদিসের অর্থের প্রতি তাঁর প্রখর দৃষ্টির পাশাপাশি বংশতত্ত্ব ও ইতিহাস শাস্ত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল।"
২- "আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাজি ওয়াস সিয়ার" এর উৎসসমূহ।
ইবনে আব্দুল বার এই কিতাবের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত ও তাঁর সময়ের সমস্ত খবরের জন্য একে নির্দিষ্ট করেছেন, যেখানে তিনি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ে মুসা ইবনে উকবার কিতাব এবং সীরাতে নববী বিষয়ে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন। এটি সুপরিচিত যে, প্রথমজন হিজরি ১৪১ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং দ্বিতীয়জন হিজরি ১৫০ অথবা কোনো বর্ণনামতে ১৫১ সালে ইন্তেকাল করেন। পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে তাঁদের এই দুটি কিতাব রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের মৌলিক উৎস হিসেবে গণ্য হতে থাকে। পবিত্র সীরাত বিষয়ক সংকলক ও লেখকগণ এই দুটি কিতাবেরই শরণাপন্ন হতেন। দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর অনেক প্রাচীন গ্রন্থের মতো এগুলোও কালের গর্ভে হারিয়ে যায়, তবে ইবনে ইসহাকের সীরাতের একটি অংশ এখনো রিবাতের লাইব্রেরিতে অবশিষ্ট রয়েছে এবং ইবনে হিশামের বর্ণনাটিও সংরক্ষিত আছে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা নয়, বরং এটি তার একটি পরিমার্জন, সংশোধন ও সংক্ষিপ্ত রূপ। তিনি সরাসরি ইবনে ইসহাক থেকে এটি বর্ণনা করেননি, বরং তাঁর ছাত্র জিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বুক্কাই থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের যুগে এটি বারবার মুদ্রিত হয়েছে।
ইবনে আব্দুল বার বলেন: তিনি ইবনে হিশাম ও অন্যান্যদের বর্ণিত ইবনে ইসহাকের কিতাব থেকে তাঁর সীরাত গ্রন্থটি সংক্ষেপ করেছেন। তিনি বিদায় হজের আলোচনার সময় এ ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন: "আমাদের এই কিতাবে ইবনে ইসহাক থেকে যা কিছু রয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমাদের বর্ণনা সূত্র হলো: আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি কাসিম ইবনে আসবাগ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সালাম আল-খুশানি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে বারকি থেকে, তিনি ইবনে হিশাম থেকে, তিনি জিয়াদ আল-বুক্কাই থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে। এছাড়া আমার সরাসরি পাঠও রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের নিকট, তিনি ইবনে মুফাররাজ থেকে, তিনি ইবনে আল-আরাবি থেকে, তিনি আত্তারদি থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে। এবং আমার আরও একটি পাঠ রয়েছে আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি কাসিম ইবনে আসবাগ থেকে, তিনি উবায়েদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-বাযযার থেকে, তিনি [আহমদ ইবনে] মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে"। সুতরাং তিনি ইবনে ইসহাকের কিতাবের জন্য কেবল ইবনে হিশামের বর্ণনার ওপরই নির্ভর করেননি, বরং এর সাথে ইউনুস ইবনে বুকাইরের বর্ণনাকেও যুক্ত করেছেন, যার একটি পাণ্ডুলিপি মরক্কোর ফেজ শহরের কারাওয়াইন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। তদুপরি তিনি এর সাথে ইব্রাহিম ইবনে সাদ এর বর্ণনাকেও যুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৯)
سعد، وَبِذَلِك كَانَ بَين يَدَيْهِ ثَلَاث رِوَايَات لكتاب ابْن إِسْحَاق.
ويحدثنا ابْن عبد الْبر فِي نفس الْموضع أَن مَا كَانَ فِي كِتَابه عَن مُوسَى بن عقبَة فقرأه على عَبْد الْوَارِث بْن سُفْيَان وَأحمد بْن مُحَمَّد بْن أَحْمد بن الجسور، عَن قَاسم بْن أصبغ عَن مطرف بْن عَبْد الرَّحْمَن بْن قيس، عَن يَعْقُوب، عَن ابْن فليح، عَن مُوسَى بْن عقبَة.
ويعقب على ذَلِك بقوله: "ولي فِي ذَلِك رِوَايَات وأسانيدُ مَذْكُورَة فِي صدر كتاب الصَّحَابَة" وَهُوَ يُرِيد كِتَابه: "الِاسْتِيعَاب فِي معرفَة الْأَصْحَاب". وَإِذا رَجعْنَا إِلَى فواتحه وَجَدْنَاهُ يَقُول إِن مَا فِيهِ عَن مُوسَى بْن عقبَة فَمن طَرِيقين: أَحدهمَا هَذَا الطَّرِيق الَّذِي ذكره، وَثَانِيهمَا عَن خلف بن قَاسم عَن أبي الْحسن عَن أبي الْعَبَّاس بن مُحَمَّد بن عبد الْغفار يعرف بِابْن الون الْمصْرِيّ، عَن جَعْفَر بن سُلَيْمَان النَّوْفَلِي، عَن إِبْرَاهِيم بن الْمُنْذر الْحزَامِي، عَن مُحَمَّد بْن فليح، عَن مُوسَى بن عقبَة. وَلَا يلبث ابْن عبد الْبر أَيْضا أَن يَقُول: وحَدثني أَيْضا عبد الْوَارِث، عَن قَاسم، عَن ابْن أبي خَيْثَمَة فِي كِتَابه، عَن إِبْرَاهِيم بن الْمُنْذر، عَن مُحَمَّد بْن فليح، عَن مُوسَى بن عقبَة. وَفِي نفس الْموضع يَقُول ابْن عبد الْبر: "وَفِي الفهرسة روايتنا لكتاب الْوَاقِدِيّ وَغَيره، تركنَا ذَلِك هَا هُنَا خشيَة الإطالة بِذكرِهِ". والفهرسة سجل أَو كتيب صَغِير ذكر فِيهِ رواياته الْكتب عَن شُيُوخه مفيضا فِي أسانيدها الْمُخْتَلفَة. وَذكر فِي فواتح الِاسْتِيعَاب رِوَايَته لكتابي الْوَاقِدِيّ: الطَّبَقَات والمغازي، أما الطَّبَقَات فَقَالَ: "قرأته على أَحْمد بن قَاسم التاهرتي، عَن مُحَمَّد بن مُعَاوِيَة الْقرشِي، عَن إِبْرَاهِيم بن مُوسَى بن جميل، عَن مُحَمَّد بن سعد كَاتب الْوَاقِدِيّ، عَن الْوَاقِدِيّ". وَأما الْمَغَازِي فَقَالَ: "أَخْبرنِي بِهِ خلف عَن قَاسم، عَن أبي الْحسن، عَن أبي الْعَبَّاس بن الون، عَن جَعْفَر بن سُلَيْمَان النَّوْفَلِي، عَن إِبْرَاهِيم بن الْمُنْذر الْحزَامِي، عَن الْوَاقِدِيّ".
وَيَقُول ابْن عبد الْبر فِي نفس الْموضع مكملا حَدِيثه عَن مصَادر كِتَابه: "وَفِي كتاب أبي بكر بْن أبي خَيْثَمَة- روايتي لَهُ عَن عَبْد الْوَارِث، عَن قَاسم، عَنهُ- من ذَلِك أَطْرَاف". وَيَقُول فِي فواتح الِاسْتِيعَاب: "قَرَأت جَمِيع كتاب ابْن أبي خَيْثَمَة على أبي الْقَاسِم عبد الْوَارِث بن سُفْيَان بن حبرون، عَن أبي مُحَمَّد قَاسم بن أصبغ بن يُوسُف الشَّيْبَانِيّ، عَن ابْن أبي خَيْثَمَة أبي بكر أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ" وَفِي الْكتاب أَحَادِيث مُخْتَلفَة رويت عَن ابْن أبي خَيْثَمَة بالسند الْمَذْكُور. وَيظْهر أَنه كَانَ لَهُ كتاب فِي السّنَن بِجَانِب كِتَابه التَّارِيخ الْكَبِير فِي تَعْدِيل الروَاة وتجريحهم.
সাদ; এবং এর মাধ্যমে তার নিকট ইবনে ইসহাকের কিতাবের তিনটি বর্ণনা বিদ্যমান ছিল।
ইবনে আব্দুল বার একই স্থানে আমাদের জানাচ্ছেন যে, তার কিতাবে মুসা ইবনে উকবাহ থেকে যা কিছু রয়েছে, তা তিনি আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান এবং আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল জাসুর-এর নিকট পাঠ করেছেন, যারা কাসিম ইবনে আসবাগ থেকে, তিনি মুতাররিফ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে কায়স থেকে, তিনি ইয়াকুব থেকে, তিনি ইবনে ফুলাইহ থেকে এবং তিনি মুসা ইবনে উকবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "এই বিষয়ে আমার নিকট অনেক বর্ণনা ও সনদ রয়েছে যা সাহাবীদের বিষয়ক কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে।" আর এর মাধ্যমে তিনি তার কিতাব "আল-ইস্তিয়াব ফি মা'রিফাতিল আসহাব" বুঝিয়েছেন। যখন আমরা এর ভূমিকার দিকে ফিরে তাকাই, তখন দেখতে পাই তিনি বলছেন যে, এতে মুসা ইবনে উকবাহ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা দুটি সূত্রে এসেছে: একটি হলো সেই সূত্র যা তিনি উল্লেখ করেছেন, আর দ্বিতীয়টি হলো খালাফ ইবনে কাসিম থেকে, তিনি আবুল হাসান থেকে, তিনি ইবনুল ওয়ান আল-মিসরি হিসেবে পরিচিত আবুল আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল গাফফার থেকে, তিনি জাফর ইবনে সুলাইমান আন-নাওফালি থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনজির আল-হিজামি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ফুলাইহ থেকে এবং তিনি মুসা ইবনে উকবাহ থেকে। ইবনে আব্দুল বার আরও বলতে দেরি করেননি যে: আব্দুল ওয়ারিসও আমার নিকট বর্ণনা করেছেন কাসিম থেকে, তিনি ইবনে আবি খাইসামার কিতাবে তার থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনজির থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ফুলাইহ থেকে এবং তিনি মুসা ইবনে উকবাহ থেকে। একই স্থানে ইবনে আব্দুল বার বলেন: "আর আল-ফিহরিসত-এ ওয়াকিদি ও অন্যদের কিতাবসমূহের আমাদের বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে, তবে দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমরা এখানে তা উল্লেখ করা বর্জন করেছি।" আল-ফিহরিসত হলো একটি নথি বা ছোট পুস্তিকা যাতে তিনি তার উস্তাদদের থেকে প্রাপ্ত কিতাবসমূহের বর্ণনা ও সেগুলোর বিভিন্ন সনদ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আল-ইস্তিয়াব-এর ভূমিকায় ওয়াকিদির দুটি কিতাব: আত-তাবাকাত এবং আল-মাগাজি-এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। আত-তাবাকাত সম্পর্কে তিনি বলেন: "আমি এটি আহমাদ ইবনে কাসিম আত-তাহেরতি-র নিকট পাঠ করেছি, তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুয়াবিয়া আল-কুরাশি থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে মুসা ইবনে জামিল থেকে, তিনি ওয়াকিদির লেখক মুহাম্মদ ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি ওয়াকিদি থেকে বর্ণনা করেছেন।" আর আল-মাগাজি সম্পর্কে তিনি বলেন: "খালাফ আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন কাসিম থেকে, তিনি আবুল হাসান থেকে, তিনি ইবনুল ওয়ান থেকে, তিনি জাফর ইবনে সুলাইমান আন-নাওফালি থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনজির আল-হিজামি থেকে এবং তিনি ওয়াকিদি থেকে।"
ইবনে আব্দুল বার একই স্থানে তার কিতাবের উৎসসমূহ সম্পর্কে কথা শেষ করতে গিয়ে বলেন: "আবু বকর ইবনে আবি খাইসামার কিতাবে—যেটি আব্দুল ওয়ারিস থেকে, তিনি কাসিম থেকে এবং তিনি তার থেকে আমার নিকট বর্ণিত—এর কিছু অংশ রয়েছে।" তিনি আল-ইস্তিয়াব-এর ভূমিকায় বলেন: "আমি ইবনে আবি খাইসামার পুরো কিতাব আবুল কাসিম আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান ইবনে হাবরুন-এর নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু মুহাম্মদ কাসিম ইবনে আসবাগ ইবনে ইউসুফ আশ-শায়বানি থেকে এবং তিনি ইবনে আবি খাইসামা আবু বকর আহমাদ ইবনে জুহাইর ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেছেন।" উক্ত কিতাবে উল্লেখিত সনদে ইবনে আবি খাইসামা থেকে বর্ণিত বিভিন্ন হাদিস রয়েছে। প্রতীয়মান হয় যে, রাবিদের নির্ভরযোগ্যতা ও অনির্ভরযোগ্যতা যাচাই বিষয়ক তার বিশাল ঐতিহাসিক গ্রন্থ "আত-তারিখুল কাবির"-এর পাশাপাশি সুনান বিষয়ক একটি কিতাবও তার ছিল।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَهَذِه هِيَ المصادر الَّتِي عَنى ابْن عبد الْبر بذكرها، وَلَا ريب فِي أَن وَرَاءَهَا مصَادر أُخْرَى لم يعن بإيرادها، من ذَلِك أَنه يروي أَكثر الْأَحَادِيث فِي هَذِه السِّيرَة عَن أبي مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بن عبد الْمُؤمن، وَفِيه يَقُول الْحميدِي: "رَحل إِلَى الْعرَاق وَغَيرهَا وَسمع إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد الصفار، وَأَبا بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ عبد الرَّزَّاق الْمَعْرُوف بِابْن داسة صَاحب أبي دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ السِّجِسْتَانِيُّ، وَأَبا بكر أَحْمد بن جَعْفَر بن مَالك الْقطيعِي صَاحب عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل، وَأحمد بن سُلَيْمَان النجاد، وَمُحَمّد بن عُثْمَان بن ثَابت الصيدلاني صَاحب إِسْمَاعِيل القَاضِي وَنَحْو، وَحدث بالأندلس، روى لنا عَنهُ أَبُو عمر بن عبد الْبر الْحَافِظ". فرواية ابْن عبد الْبر تتصل بِهِ بِشَهَادَة الْحميدِي تِلْمِيذه، وَنَفس الْأَحَادِيث وَالْأَخْبَار الَّتِي يَرْوِيهَا عَنهُ تتصل مُبَاشرَة بِابْن داسة عَن أبي دَاوُد السجسْتانِي.
وبجانب ابْن عبد الْمُؤمن نجد ابْن عبد الْبر يروي أَحَادِيث وأخبارا أُخْرَى عَن سعيد بن نصر، وَفِيه يَقُول الْحميدِي: "سمع قَاسم بن أصبغ الْبَيَانِي وَمُحَمّد بن مُعَاوِيَة الْقرشِي.
وروى عَنهُ الْفَقِيه الْحَافِظ أَبُو عمر يُوسُف بْن عَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّد بن عبد الْبر" وَسَنَده فِي السِّيرَة يتَّصل بشيخه قَاسم. ونجد أَيْضا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم وَيَقُول الْحميدِي إِنَّه: "يعرف ابْن المدمالة، روى عَن مُحَمَّد بن مُعَاوِيَة الْقرشِي
… وروى عَنهُ أَبُو عمر بن عبد الْبر النمري" وَقَالَ: كَانَ من أضبط النَّاس لكتبه وأفهمهم لمعاني الرِّوَايَة، لَهُ تأليف جمع فِيهِ كَلَام يحيى بن معِين "الْمُحدث" فِي ثَلَاثِينَ جُزْءا أخبرنَا بِهِ أَبُو عمر بن عبد الْبر عَنهُ" "وَسَنَده فِي السِّيرَة يتَّصل مُبَاشرَة بِمُحَمد بن مُعَاوِيَة الْقرشِي.
وسَاق ابْن عبد الْبر فِي "بعث بِئْر مَعُونَة" حَدِيثا عَن أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّد بن عَليّ وَهُوَ أَبُو عمر الْبَاجِيّ، وَفِيه يَقُول الْحميدِي: "روى عَنهُ جمَاعَة أكَابِر أدركنا مِنْهُم الْفَقِيه أَبَا عمر يُوسُف بْن عَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّد بْن عَبْد الْبر الْحَافِظ" وَيذكر الْحميدِي من شُيُوخ الْبَاجِيّ الْحسن بن إِسْمَاعِيل. وَسَنَد الحَدِيث الَّذِي ذكره ابْن عبد الْبر عَن الْبَاجِيّ مَوْصُول بِهِ مُبَاشرَة. وَذكر مَعَ بعض الْأَخْبَار سعيد بن يحيى الْأمَوِي، وَكَأن كِتَابه "السّير" كَانَ أحد مصادره.
وَقد يختصر ابْن عبد الْبر سَنَد الحَدِيث وَالْخَبَر، فَلَا يذكر سلسلة رواتهما كَامِلَة، بل يَكْتَفِي بِمثل قَوْله: روى عَن عبَادَة بْن الصَّامِت، أَو قَالَ ابْن شهَاب الزُّهْرِيّ أَو قَالَ
এগুলোই সেই উৎস যা ইবনে আবদ আল-বার উল্লেখ করার ইচ্ছা করেছেন, এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এর পেছনে আরও উৎস রয়েছে যা তিনি উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্ব দেননি। এর মধ্যে একটি হলো তিনি এই সীরাত (জীবনী) গ্রন্থে অধিকাংশ হাদিস আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদ আল-মু'মিন থেকে বর্ণনা করেছেন। তার সম্পর্কে আল-হুমাইদি বলেছেন: "তিনি ইরাক ও অন্যান্য স্থানে সফর করেছেন এবং ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আল-সাফফার, আবু বকর মুহাম্মদ বিন বকর বিন আবদ আল-রাজ্জাক (যিনি ইবনে দাসাহ নামে পরিচিত এবং আবু দাউদ সুলায়মান বিন আল-আশআদ আল-সিজিস্তানির ছাত্র), আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন মালিক আল-ক্বাতীঈ (যিনি আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বলের ছাত্র), আহমদ বিন সুলায়মান আল-নাজ্জাদ এবং মুহাম্মদ বিন উসমান বিন সাবিত আল-সাইদালানি (যিনি ইসমাইল আল-কাদীর ছাত্র) প্রমুখের নিকট শ্রবণ করেছেন। তিনি আন্দালুসে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ আবু উমর বিন আবদ আল-বার আমাদের নিকট তার থেকে বর্ণনা করেছেন।" সুতরাং তার ছাত্র আল-হুমাইদির সাক্ষ্য অনুযায়ী ইবনে আবদ আল-বারের বর্ণনা তার সাথে সংযুক্ত, এবং তিনি তার থেকে যে সকল হাদিস ও সংবাদ বর্ণনা করেন তা সরাসরি ইবনে দাসাহর মাধ্যমে আবু দাউদ আল-সিজিস্তানির সাথে সংযুক্ত হয়।
ইবনে আবদ আল-মু'মিনের পাশাপাশি আমরা ইবনে আবদ আল-বারকে সাঈদ বিন নাসর থেকে অন্যান্য হাদিস ও সংবাদ বর্ণনা করতে দেখি। তার সম্পর্কে আল-হুমাইদি বলেছেন: "তিনি কাসিম বিন আসবাগ আল-বায়ানি এবং মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া আল-কুরাশি থেকে শ্রবণ করেছেন।
এবং ফকিহ হাফেজ আবু উমর ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদ আল-বার তার থেকে বর্ণনা করেছেন।" আর সীরাত বিষয়ে তার সনদ তার উস্তাদ কাসিমের সাথে সংযুক্ত। আমরা মুহাম্মদ বিন ইবরাহিমকেও দেখতে পাই, যার সম্পর্কে আল-হুমাইদি বলেন যে তিনি: "ইবনে আল-মুদমাল্লাহ নামে পরিচিত, তিনি মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া আল-কুরাশি থেকে বর্ণনা করেছেন
… এবং আবু উমর বিন আবদ আল-বার আল-নামারি তার থেকে বর্ণনা করেছেন।" তিনি আরও বলেছেন: "তিনি তার কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্ভুল ছিলেন এবং বর্ণনার অর্থ অনুধাবনে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন। তার একটি সংকলন রয়েছে যেখানে তিনি ইয়াহইয়া বিন মাইন 'মুহাদ্দিস'-এর বক্তব্য ত্রিশ খণ্ডে একত্রিত করেছেন, যা আবু উমর বিন আবদ আল-বার তার পক্ষ থেকে আমাদের জানিয়েছেন।" আর সীরাত বিষয়ে তার সনদ সরাসরি মুহাম্মদ বিন মুয়াবিয়া আল-কুরাশির সাথে সংযুক্ত হয়।
ইবনে আবদ আল-বার "বি'রে মাউনার অভিযান" অধ্যায়ে আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যিনি হলেন আবু উমর আল-বাজি। তার সম্পর্কে আল-হুমাইদি বলেন: "তার থেকে একদল বড় আলেম বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আমরা ফকিহ হাফেজ আবু উমর ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদ আল-বারকে পেয়েছি।" আল-হুমাইদি আল-বাজির উস্তাদদের মধ্যে আল-হাসান বিন ইসমাইলের কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবদ আল-বার আল-বাজি থেকে যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তার সনদ সরাসরি তার সাথে সংযুক্ত। এছাড়া তিনি কিছু সংবাদের সাথে সাঈদ বিন ইয়াহইয়া আল-উমাউয়ির কথা উল্লেখ করেছেন, যেন তার "আস-সিয়ার" কিতাবটি তার অন্যতম একটি উৎস ছিল।
কখনও কখনও ইবনে আবদ আল-বার হাদিস ও সংবাদের সনদ সংক্ষিপ্ত করেন, ফলে তিনি বর্ণনাকারীদের পূর্ণ ধারাবাহিকতা উল্লেখ করেন না, বরং তার এই বলাটুকুই যথেষ্ট মনে করেন যে: উবাদাহ বিন আল-সামিত থেকে বর্ণিত, অথবা ইবনে শিহাব আল-জুহরি বলেছেন অথবা তিনি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ১১)
معمر، أَو ذكر ابْن جريج، أَو روى سُفْيَان الثَّوْريّ، أَو قَالَ أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ، أَو قَالَ سنيد، أَو قَالَ وَكِيع.
3- تَوْثِيق النَّص وَقِيمَته
ذكر الْحميدِي فِي تَرْجَمته لِابْنِ عبد الْبر أَنه صنف فِيمَا صنف كتاب "الدُّرَر فِي اخْتِصَار الْمَغَازِي وَالسير" وتوالى غير وَاحِد بعده مِمَّن ترجموا لِابْنِ عبد الْبر يذكرُونَهُ بَين مصنفاته. وَقد رَأينَا فِي تضاعيف الْكتاب مَا يشْهد شَهَادَة قَاطِعَة بِأَنَّهُ من تأليفه، فقد ذكر -كَمَا أسلفنا- طرفنا من أسانيده عَن كتب مُوسَى بن عقبَة وَابْن إِسْحَاق وَابْن أبي خَيْثَمَة، وأحال من يُرِيد استكمالها على كِتَابه "الِاسْتِيعَاب فِي معرفَة الْأَصْحَاب" وَهِي فِيهِ أَكثر تَفْصِيلًا.
وَلَيْسَ هَذَا هُوَ الْموضع الوحيد الَّذِي أحَال فِيهِ على الِاسْتِيعَاب فِي الْكتاب، فقد تَكَرَّرت إحالته عَلَيْهِ، إِذْ نجده يذكرهُ فِي خطْبَة الْكتاب على نَحْو مَا سنرى عَمَّا قَلِيل. وَقد توقف عِنْد قَول الْقَائِلين بِأَن عليا كَانَ أول النَّاس إِيمَانًا بِاللَّه وَرَسُوله قَائِلا: "وَقد ذكرنَا الْقَائِلين بذلك والآثارَ الْوَارِدَة فِي بَابه من كتاب الصَّحَابَة". وَيذكر فِي تَسْمِيَته من شهد بَدْرًا من الْمُهَاجِرين خباب بن الْأَرَت، وَيَقُول إِنَّه خزاعي وَيُقَال تميمي، ويعقب على ذَلِك بقوله: "وَقد ذكرنَا الِاخْتِلَاف فِي نسبه وولائه وحلفه فِي بَاب اسْمه من كتاب الصَّحَابَة".
وَيذكر بَين من اسْتشْهد من الْمُهَاجِرين فِي يَوْم أحد عبد الله بن جحش وَأَنه دفن مَعَ حَمْزَة فِي قبر وَاحِد، ثمَّ يَقُول: "وَقد ذكرنَا خَبره عِنْد ذكره فِي كتاب الصَّحَابَة". ويتحدث عَن بعث الرجيع وَقتل خبيب فِيهِ، وَيَقُول: "وَقد ذكرنَا خَبره وَمَا لَقِي بِمَكَّة عِنْد ذكر اسْمه فِي كتاب الصَّحَابَة" ويسوق لَهُ بَيْتَيْنِ قالهما حِين قدمه الْمُشْركُونَ ليصلب ويتلوهما بقوله: "فِي أَبْيَات قد ذكرتها عِنْد ذكره فِي كتاب الصَّحَابَة". وعدتها فِيهِ عشرَة أَبْيَات. وَيَقُول فِي غَزْوَة فتح مَكَّة: "وَأنْشد الرَّسُول عَمْرو بْن سَالم الشّعْر الَّذِي ذكرته فِي بَابه من كتاب الصَّحَابَة". وَيذكر فِي بَاب الْوُفُود الحتات بن يزِيد الْمُجَاشِعِي الَّذِي آخى الرَّسُول بَينه وَبَين مُعَاوِيَة، وَيَقُول: "قد ذكرنَا خَبره فِي بَابه من كتاب الصَّحَابَة". ويتحدث عَن غسل الرَّسُول وتكفينه بعد مَوته، وَيَقُول: إِن شقران مَوْلَاهُ حضرهم "وَقَدْ ذَكَرْنَا فِي صَدْرِ كِتَابِ
মা'মার, অথবা ইবনে জুরাইজ উল্লেখ করেছেন, অথবা সুফিয়ান আস-সাওরী বর্ণনা করেছেন, অথবা আবু দাউদ আত-তায়ালিসি বলেছেন, অথবা সুনাইদ বলেছেন, অথবা ওয়াকি বলেছেন।
৩- পাণ্ডুলিপির প্রামাণ্যতা ও এর গুরুত্ব
আল-হুমাইদি ইবনে আবদিল বার-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে "আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাজি ওয়াস-সিয়ার" নামক কিতাবটি রচনা করেছেন। তাঁর পরবর্তী যারা ইবনে আবদিল বার-এর জীবনী লিখেছেন, তাঁরা একে একে তাঁর রচনার তালিকায় এটি উল্লেখ করেছেন। আমরা এই গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এমন কিছু পেয়েছি যা অকাট্যভাবে সাক্ষ্য দেয় যে এটি তাঁরই রচনা। তিনি -যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি- মুসা ইবনে উকবা, ইবনে ইসহাক এবং ইবনে আবি খাইসামার কিতাবসমূহ থেকে তাঁর কিছু সনদ উল্লেখ করেছেন। আর যারা এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত জানতে চায়, তিনি তাদের তাঁর "আল-ইসতিআব ফি মা'রিফাতিল আসহাব" গ্রন্থের দিকে নির্দেশ করেছেন, যেখানে এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
এটিই একমাত্র স্থান নয় যেখানে তিনি এই গ্রন্থে 'আল-ইসতিআব' এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন, বরং বারবার তিনি এর দিকে নির্দেশ করেছেন। এমনকি আমরা দেখতে পাই যে, গ্রন্থের মুখবন্ধেও তিনি এর উল্লেখ করেছেন যা আমরা অচিরেই দেখতে পাব। তিনি সেই সমস্ত লোকদের বক্তব্যের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন যারা মনে করেন যে আলী (রা.) ছিলেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়নকারী প্রথম ব্যক্তি; তিনি বলেছেন: "আমরা এই মতের প্রবক্তাদের কথা এবং এ বিষয়ে বর্ণিত আসারসমূহ (বিবরণসমূহ) সাহাবীগণের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।" মুহাজিরদের মধ্যে যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের নাম উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি খাব্বাব ইবনুল আরাত-এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি খুযা'ঈ গোত্রের, আবার বলা হয় তিনি তামিমি গোত্রের। এরপর তিনি মন্তব্য করেছেন: "আমরা তাঁর বংশপরিচয়, অভিভাবকত্ব এবং মৈত্রী সংক্রান্ত মতভেদগুলো সাহাবীগণের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থে তাঁর নামের অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি।"
উহুদ যুদ্ধে মুহাজিরদের মধ্যে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ-এর নাম উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাঁকে হামযা (রা.)-এর সাথে একই কবরে দাফন করা হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন: "সাহাবীগণের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থে তাঁর বর্ণনার সময় আমরা তাঁর সংবাদ উল্লেখ করেছি।" তিনি রাজী'র ঘটনা এবং তাতে খুবাইব (রা.)-এর শাহাদাত সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "সাহাবীগণের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থে তাঁর নামের আলোচনায় আমরা তাঁর সংবাদ এবং মক্কায় তিনি যা কিছুর সম্মুখীন হয়েছিলেন তা উল্লেখ করেছি।" মুশরিকরা যখন তাঁকে শূলে চড়ানোর জন্য নিয়ে আসছিল, তখন তিনি যে দুটি কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন তাও তিনি উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "এটি এমন কিছু কবিতার অংশ যা আমি সাহাবীগণের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থে তাঁর বর্ণনার সময় উল্লেখ করেছি।" সেখানে কবিতার সংখ্যা দশটি। মক্কা বিজয় অভিযানে তিনি বলেছেন: "আমর ইবনে সালিম রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে যে কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন, তা আমি সাহাবীগণের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থে তাঁর অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি।" প্রতিনিধি দলসমূহের অধ্যায়ে তিনি আল-হাততাত ইবনে ইয়াযিদ আল-মুজাশায়ি-র কথা উল্লেখ করেছেন, যাঁর সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুয়াবিয়া (রা.)-এর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন: "সাহাবীগণের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থে তাঁর অধ্যায়ে আমরা তাঁর সংবাদ উল্লেখ করেছি।" তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর গোসল ও কাফন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, তাঁর মুক্তদাস শুকরান সেখানে উপস্থিত ছিলেন, "এবং আমরা কিতাবের প্রারম্ভে উল্লেখ করেছি..."
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ১২)
الصَّحَابَةِ سُؤَالَهُ فِي هَذَا الْمَعْنَى". وَلم يحل ابْن عبد الْبر على الِاسْتِيعَاب وَحده من كتبه، فقد أحَال أَيْضا على كِتَابه "التَّمْهِيد لما فِي الْمُوَطَّأ من الْمعَانِي والأسانيد" إِذْ عقب على حالات الْوَحْي فِي مفتتح الْكتاب بقوله: "وَقد أشبعنا هَذَا الْمَعْنى فِي كتاب التَّمْهِيد عِنْد ذكر حَدِيث عَائِشَة رضي الله عنها الْمَذْكُور". وتحدث فِي خَاتِمَة الْكتاب عَن صَلَاة أبي بكر بِالنَّاسِ فِي مرض الرَّسُول صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ: "وَقد أوضحنا مَعَاني صلَاته فِي مَرضه بِالنَّاسِ مَعَ أبي بكر وَمَكَان الْمُقدم مِنْهُمَا، وَمَا يَصح فِي ذَلِك عندنَا فِي كتاب التَّمْهِيد". وَمر بِنَا تعقبنا لمن روى عَنْهُم ابْن عبد الْبر الْأَحَادِيث وَالْأَخْبَار فِي هَذِه السِّيرَة مِمَّن لم يذكرهم فِي أسانيده لكتب ابْن عقبَة وَابْن إِسْحَاق وَابْن أبي خَيْثَمَة، ورأيناهم جَمِيعًا فِي عداد أساتذته الَّذين روى عَنْهُم، بِشَهَادَة تِلْمِيذه الْحميدِي.
وكل ذَلِك مَعْنَاهُ أَن نِسْبَة هَذِه السِّيرَة إِلَى ابْن عبد الْبر نِسْبَة وَثِيقَة، ونراه يَقُول فِي خطبتها أَو فاتحتها: "هَذَا كتاب اختصرت فِيهِ ذكر مبعث النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَابْتِدَاء نبوته وَأول أمره فِي رسَالَته ومغازيه وسيره فِيهَا، لِأَنِّي ذكرت مولده وحاله فِي نشأته وعيونا من أخباره فِي صدر كتابي فِي الصَّحَابَة، وأفردت هَذَا الْكتاب لسَائِر خَبره فِي مبعثه وأوقاته صلى الله عليه وسلم
… والنسق كُله على مَا رسمه ابْن إِسْحَاق. فَذكرت مَغَازِيَهُ وسيره على التَّقْرِيب والاختصار والاقتصار على الْعُيُون من ذَلِك دون الحشو والتخليط".
وواضح من ذَلِك أَن ابْن عبد الْبر قصد فِي هَذَا الْكتاب إِلَى صنع مُخْتَصر للسيرة النَّبَوِيَّة، وَعبر عَن مقْصده لَا فِي خطْبَة الْكتاب فَحسب، بل أَيْضا فِي عنوانه الَّذِي اخْتَارَهُ لَهُ، وكأنما رَأْي كتب السِّيرَة تحتوي على حَشْو كثير، فَرَأى أَن يَكْتَفِي بالدرر والفرائد الَّتِي تجْعَل مِنْهَا خيطا ممدودا مُتَّصِلا. وَقد بَدَأَ هَذَا الْمُخْتَصر بالمبعث وَمَا بعده من الْمَغَازِي والأحداث، أما مَا قبل ذَلِك من ولادَة الرَّسُول وَنسبه ووفاة أَبِيه وَأمه وجده وكفالة أبي طَالب ونشأته وأطواره قبل الْبعْثَة وزواجه بالسيدة خَدِيجَة فقد أجمله فِي صدر كِتَابه:
"الِاسْتِيعَاب فِي معرفَة الْأَصْحَاب" وَكَأَنَّهُ رأى أَن لَا دَاعِي لتكرار حَدِيثه عَنهُ. وَيَقُول إِنَّه بنى الْكتاب على مَا رسمه ابْن إِسْحَاق، والتقاؤه بِهِ وَاضح فِي الْمَغَازِي وتواليها وَأَسْمَاء من شاركوا واستشهدوا من الْمُسلمين فِيهَا وَمن قتلوا أَو أَسرُّوا من الْمُشْركين. وَإِذا كَانَ قد تَابع ابْن إِسْحَاق فِي الْبناء الْعَام فَإِنَّهُ اسْتَقل عَنهُ فِي كثير من الْمَوَاضِع بِمَا أضَاف من كتابي مُوسَى
"সাহাবিদের এই বিষয়ে তার প্রশ্ন।" ইবনে আব্দুল বার কেবল তার 'আল-ইসতিয়াব' গ্রন্থের ওপরই উদ্ধৃতি প্রদান করেননি, বরং তিনি তার 'আত-তামহিদ লিমা ফিল মুওয়াত্তাহ মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ' গ্রন্থের উদ্ধৃতিও দিয়েছেন। তিনি গ্রন্থের শুরুতে ওহীর অবস্থা সম্পর্কে আলোচনার পর বলেছেন: "আমরা 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে আয়িশা (রা.)-এর উল্লিখিত হাদিসটি বর্ণনার সময় এই বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছি।" এবং তিনি গ্রন্থের শেষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসুস্থতার সময় আবু বকর (রা.)-এর লোকদের নিয়ে সালাত আদায়ের বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "আমরা আবু বকরের সাথে তার অসুস্থতার সময় মানুষের সালাত আদায়ের অর্থসমূহ, তাদের মধ্যে কার স্থান অগ্রবর্তী ছিল এবং এই বিষয়ে আমাদের নিকট যা সঠিক বলে গণ্য, তা আমরা 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি।" ইবনে আব্দুল বার এই সিরাত গ্রন্থে যাদের থেকে হাদিস ও সংবাদ বর্ণনা করেছেন, অথচ ইবনে উকবা, ইবনে ইসহাক ও ইবনে আবি খায়সামার কিতাবের সনদসমূহে তাদের উল্লেখ করেননি, তাদের বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধান অতিবাহিত হয়েছে। আমরা তার ছাত্র আল-হুমাইদির সাক্ষ্য অনুযায়ী তাদের সকলকে তার উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত পেয়েছি যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন।
এই সবকিছুর অর্থ হলো ইবনে আব্দুল বারের প্রতি এই সিরাত গ্রন্থের সম্বন্ধ অত্যন্ত সুদৃঢ়। আমরা তাকে এর ভূমিকা বা প্রারম্ভিকতায় বলতে দেখি: "এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রেরিত হওয়া, নবুয়তের সূচনা, তার রিসালাতের প্রাথমিক বিষয়সমূহ এবং তার যুদ্ধ ও অভিযানগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি। কারণ আমি সাহাবিদের বিষয়ে আমার গ্রন্থের শুরুতে তার জন্ম, শৈশব এবং তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদসমূহ উল্লেখ করেছি এবং আমি এই গ্রন্থটিকে তার নবুয়ত পরবর্তী অন্যান্য সংবাদ ও সময়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
… এবং এর বিন্যাস সম্পূর্ণভাবে ইবনে ইসহাকের অঙ্কিত নকশা অনুযায়ী। ফলে আমি তার যুদ্ধ ও অভিযানগুলো সংক্ষেপে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর সীমাবদ্ধ রেখে উল্লেখ করেছি, কোনো প্রকার অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘসূত্রতা ও সংমিশ্রণ ছাড়াই।"
এ থেকে স্পষ্ট যে, ইবনে আব্দুল বার এই গ্রন্থে সিরাতে নববীর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ তৈরির উদ্দেশ্য পোষণ করেছিলেন। তিনি তার এই উদ্দেশ্যের কথা কেবল গ্রন্থের ভূমিকাতেই নয়, বরং এর জন্য তিনি যে শিরোনাম নির্বাচন করেছেন সেখানেও প্রকাশ করেছেন। যেন তিনি মনে করতেন যে সিরাত গ্রন্থগুলো অনেক অপ্রাসঙ্গিক তথ্যে পরিপূর্ণ, তাই তিনি কেবল সে সকল মুক্তো ও মূল্যবান তথ্যের ওপর সন্তুষ্ট থাকা সমীচীন মনে করেছেন যা একটি ধারাবাহিক সুতোয় গাঁথা। তিনি এই সংক্ষেপিত গ্রন্থটি নবুয়ত প্রাপ্তি এবং তার পরবর্তী যুদ্ধ ও ঘটনাবলি দিয়ে শুরু করেছেন। আর এর পূর্ববর্তী বিষয়সমূহ যেমন রাসূলের জন্ম, বংশপরিচয়, পিতা-মাতা ও দাদার মৃত্যু, আবু তালিবের তত্ত্বাবধান, তার শৈশব ও নবুয়ত পূর্ববর্তী পর্যায়সমূহ এবং সায়্যিদা খাদিজার সাথে তার বিবাহ—এসব বিষয় তিনি তার গ্রন্থের শুরুতে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন:
"আল-ইসতিয়াব ফি মারিফাতি আস-সাহাবাহ" এবং যেন তিনি এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনার কোনো প্রয়োজন দেখছেন না। তিনি বলেন যে, তিনি গ্রন্থটি ইবনে ইসহাকের অঙ্কিত কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন। যুদ্ধবিগ্রহ ও সেগুলোর ধারাবাহিকতা এবং তাতে অংশগ্রহণকারী ও শহিদ হওয়া মুসলিমদের নাম এবং নিহত বা বন্দি হওয়া মুশরিকদের নামের ক্ষেত্রে তার সাথে ইবনে ইসহাকের মিল স্পষ্ট। যদিও তিনি সাধারণ কাঠামোর ক্ষেত্রে ইবনে ইসহাককে অনুসরণ করেছেন, তবুও তিনি অনেক স্থানে তার থেকে স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়েছেন মুসার কিতাবদ্বয় থেকে যা তিনি সংযোজন করেছেন তার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ابْن عقبَة وَابْن أبي خَيْثَمَة، وَمن رِوَايَات أساتذته الَّذين سميناهم، فقد استمد مِنْهُم كثيرا من الْأَحَادِيث، وَإِذا عرفنَا أَنه كَانَ من كبار الْحفاظ للْحَدِيث النَّبَوِيّ الَّذين اشتهروا بالدقة والتحري والتثبت، وَأَنه كَانَ حاذقا بِعلم الْأَنْسَاب وَمَعْرِفَة الْأَصْحَاب، وَضبط أسمائهم على وَجههَا الصَّحِيح اتضحت قيمَة هَذِه السِّيرَة. وَهُوَ نَفسه يحدثنا أَنه لم يكتف إزاء كتاب مُوسَى بن عقبَة وسيرة ابْن إِسْحَاق بِرِوَايَة وَاحِدَة، بل اسْتَعَانَ برواياتهما الْمُخْتَلفَة على الْمُقَارنَة والموازنة، وأضاف إِلَى ذَلِك كتابات الْوَاقِدِيّ وَابْن أبي خَيْثَمَة وَرِوَايَات شُيُوخه للْحَدِيث، وَنفذ من كل ذَلِك إِلَى وضع سيرة نبوية وَثِيقَة.
وَقد يبتديء بعض فُصُول الْكتاب دون سَنَد، وَكَأَنَّهُ يُورد حِينَئِذٍ مَا اسْتَقر عَلَيْهِ رَأْيه بعد طول النّظر والفحص والمراجعة والمقارنة. ونراه ينثر بعض آراء لَهُ فِي جَوَانِب السِّيرَة، وَهِي آراء علم من أَعْلَام الْفِقْه والْحَدِيث، وَلذَلِك كَانَ لَهَا وَزنهَا الْكَبِير مهما خَالَفت مَا ذاع واشتهر، على نَحْو مَا يَلْقَانَا فِي حَدِيثه عَن أَوَائِل السَّابِقين إِلَى الْإِيمَان بِاللَّه وَرَسُوله، فقد ذكر من بَينهم السيدة عَائِشَة بنت أبي بكر الصّديق، وَقيد ذَلِك بقوله: "وَهِي صَغِيرَة" وَفِي ذَلِك مَا يُخَالف الْمَشْهُور من أَن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم بنى بهَا فِي الْمَدِينَة وَهِي بنت تسع سِنِين، وَلَا بُد أَنه ثَبت عِنْد ابْن عبد الْبر أَن السيدة عَائِشَة أسلمت فِي أول الْبعْثَة أَي قبل الْهِجْرَة إِلَى الْمَدِينَة بِنَحْوِ ثَلَاث عشرَة سنة، مِمَّا يَقْتَضِي أَن تكون سنّهَا حِين الْبعْثَة خمس سنوات على الْأَقَل حَتَّى يصدق عَلَيْهَا أَنَّهَا كَانَت من أول النَّاس إسلاما، وَيُؤَيّد ذَلِك مَا جَاءَ فِي صَحِيح البُخَارِيّ فِي تَفْسِير سُورَة اقْتَرَبت أَي سُورَة الْقَمَر من قَول السيدة عَائِشَة رضي الله عنها" لقد أنزل على مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّة -وَإِنِّي لجارية أَلعَب- {بل السَّاعَة موعدهم والساعة أدهى وَأمر} وَهِي من آيَات سُورَة الْقَمَر الَّتِي نزلت فِي السّنة الْخَامِسَة لِلْهِجْرَةِ، وتعبيرها بِأَنَّهَا كَانَت جَارِيَة تلعب يُفِيد أَن عمرها لم يكن يقل حِينَئِذٍ عَن نَحْو عشر سنوات. وَمن ذَلِك أَنه ذهب إِلَى أَن فرض صَوْم رَمَضَان كَانَ فِي السّنة الأولى لِلْهِجْرَةِ، وَالْمَشْهُور أَنه كَانَ على رَأس ثَمَانِيَة عشر شهرا من الْهِجْرَة. وَمن ذَلِك ذَهَابه فِي حَدِيثه عَن مقاسم خَيْبَر وأموالها أَنَّهَا فتحت جَمِيعهَا عنْوَة، وَقد ناقشه فِي ذَلِك ابْن سيد النَّاس مناقشة طَوِيلَة أثبتنا مجملها فِي موضعهَا من الْكتاب. ونراه يتَوَقَّف عِنْد بعض الْأَحَادِيث الَّتِي لم تثبت، ويتهمها، من ذَلِك مَا رُوِيَ عَن ابْن مَسْعُود من أَحَادِيث عَن إِسْلَام الْجِنّ، وَمَا جَاءَ فِي بَعْضهَا
ইবনে উকবা ও ইবনে আবি খাইসামা এবং তাঁর যে সকল শিক্ষকের নাম আমরা উল্লেখ করেছি, তাঁদের বর্ণনা থেকে তিনি প্রচুর হাদিস গ্রহণ করেছেন। যখন আমরা জানি যে তিনি হাদিসে নববীর এমন একজন মহান হাফেজ ছিলেন যিনি নির্ভুলতা, পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তিনি বংশলতিকা বিদ্যা ও সাহাবীদের পরিচিতি এবং তাঁদের নাম সঠিকভাবে স্মরণে রাখার বিষয়ে দক্ষ ছিলেন, তখন এই সিরাতগ্রন্থের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি নিজেই আমাদের বলেন যে, মুসা ইবনে উকবার কিতাব এবং ইবনে ইসহাকের সিরাতের ক্ষেত্রে তিনি কেবল একটি বর্ণনার ওপর নির্ভর করেননি, বরং তুলনা ও ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য তাঁদের বিভিন্ন বর্ণনার সহায়তা নিয়েছেন। এর সাথে তিনি ওয়াকিদি ও ইবনে আবি খাইসামার লেখা এবং তাঁর হাদিসের শিক্ষকদের বর্ণনা যুক্ত করেছেন। এই সবকিছুর সমন্বয়ে তিনি একটি নির্ভরযোগ্য নববী সিরাত প্রণয়ন করেছেন।
তিনি কখনো কখনো কিতাবের কিছু অধ্যায় সনদ ছাড়াই শুরু করেন, আর তখন মনে হয় যেন দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও তুলনার পর তিনি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা-ই বর্ণনা করছেন। আমরা তাঁকে সিরাতের বিভিন্ন স্থানে নিজস্ব কিছু মতামত প্রকাশ করতে দেখি। এগুলো ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের একজন দিকপালের মতামত, তাই প্রসিদ্ধ মতের বিপরীতে হলেও সেগুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি। যেমনটি আমরা দেখতে পাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রথম দিকে ঈমান আনয়নকারীদের বর্ণনায়; তিনি তাঁদের মধ্যে সায়্যিদা আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দিকের নাম উল্লেখ করেছেন এবং এর সাথে যুক্ত করেছেন: "তিনি তখন ছোট ছিলেন"। এটি এই প্রসিদ্ধ মতের পরিপন্থী যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় যখন তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর। ইবনে আবদুল বার-এর নিকট নিশ্চয়ই এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, সায়্যিদা আয়েশা নবুওয়াতের শুরুতে অর্থাৎ মদিনায় হিজরতের প্রায় তের বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, নবুওয়াতের সময় তাঁর বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর ছিল, যাতে তাঁকে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক হয়। এর সপক্ষে সহিহ বুখারিতে সুরা 'ইকতারাবাত' অর্থাৎ সুরা কামারের তাফসির প্রসঙ্গে সায়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার একটি উক্তি রয়েছে: "মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মক্কায় যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়—'বরং কিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কিয়ামত হবে অত্যন্ত কঠিন ও তিক্ত'—তখন আমি ছোট মেয়ে ছিলাম, খেলাধুলা করতাম।" এটি সুরা কামারের আয়াত যা হিজরতের পঞ্চম বর্ষে অবতীর্ণ হয়েছিল। তাঁর এই উক্তি যে তিনি 'খেলাধুলা করা ছোট মেয়ে' ছিলেন, তা নির্দেশ করে যে তখন তাঁর বয়স প্রায় দশ বছরের কম ছিল না। এছাড়া তাঁর আরেকটি মত হলো, রমজানের রোজা হিজরতের প্রথম বর্ষে ফরজ হয়েছিল, যদিও প্রসিদ্ধ মত হলো এটি হিজরতের আঠারো মাস পরে শুরু হয়। তেমনি খায়বারের বণ্টন ও সম্পদ সম্পর্কে তাঁর মত হলো যে, এর পুরোটাই শক্তি প্রয়োগের (অনওয়াতান) মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল। ইবনে সাইয়্যিদুন নাস এ বিষয়ে তাঁর সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, যার সারসংক্ষেপ আমরা কিতাবের যথা স্থানে উল্লেখ করেছি। আমরা তাঁকে দেখি যে তিনি এমন কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে থেমে যেতেন যেগুলো প্রমাণিত নয় এবং সেগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেন। এর মধ্যে রয়েছে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত জিনের ইসলাম গ্রহণ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ এবং সেগুলোর কোনো কোনোটিতে যা এসেছে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
من وضوء الرَّسُول بالنبيذ، إِذْ لم يجد مَاء، فقد قَالَ: "هَذَا الْخَبَرُ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ متواتر عَن طُرُقٍ شَتَّى حِسَانٍ كُلِّهَا، إِلا حَدِيثَ أَبِي زَيْدٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ الَّذِي فِيهِ ذِكْرُ الْوُضُوءِ بِالنَّبِيذِ، فَإِنَّ أَبَا زيد مَجْهُول لَا يعرف فِي أَصْحَاب ابْن مَسْعُود، وَيَكْفِي فِي ذكر الْجِنّ مَا فِي سُورَة الرَّحْمَن وَسورَة {قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ} وَمَا جَاءَ فِي الْأَحْقَاف: قَوْله: {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنّ يَسْتَمِعُون الْقُرْآن} الْآيَات. وَهُوَ بذلك يُرِيد التَّمَسُّك بِنَصّ الْقُرْآن الْكَرِيم دون زِيَادَة عَلَيْهِ، وَمِمَّا يصور دقته وتحريه قَوْله فِي غَزْوَة بنى المصطلق أَو الْمُريْسِيع: "وَفِي هَذِه الْغَزْوَة قَالَ أهل الْإِفْك فِي عَائِشَة رضي الله عنها مَا قَالُوا، فبرأها اللَّه مِمَّا قَالُوا، وَنزل الْقُرْآن ببراءتها، وَرِوَايَة من روى أَن سعد بْن معَاذ رَاجع فِي ذَلِك سعد بْن عبَادَة، وهم وَخطأ، وَإِنَّمَا تراجع فِي ذَلِك سعيد بْن عبَادَة مَعَ أسيد بْن حضير. كَذَلِك ذكر ابْن إِسْحَاق عَنِ الزُّهْرِيِّ عَن عبيد الله بْن عَبْد اللَّهِ وَغَيره، وَهُوَ الصَّحِيح؛ لِأَن سعد بْن معَاذ مَاتَ فِي منصرف رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم مِنَ بني قُرَيْظَة لَا يَخْتَلِفُونَ فِي ذَلِك، وَلم يدْرك غَزْوَة الْمُريْسِيع وَلَا حضرها".
نَحن إِذن بِإِزَاءِ سيرة نبوية محررة، سيرة لَا تعتمد على كتب السِّيرَة الْمَشْهُورَة وَحدهَا، بل تعتمد أَيْضا على كتب الحَدِيث وَرِوَايَة الموثقين مَعَ الموازنة بَين الْأَخْبَار وَالْأَحَادِيث واستخلاص الآراء الصَّحِيحَة، وَمَعَ الْوَفَاء بالدقة فِي أَسمَاء الْأَعْلَام، وَمَعَ التَّوَقُّف فِي مَوضِع التَّوَقُّف والنفوذ إِلَى الرَّأْي السَّلِيم، وَمَعَ الْمعرفَة الواسعة بِالْحَدِيثِ وَرِجَاله وتمييز صَحِيحه من زائفه.
وَبلغ من قيمَة هَذِه السِّيرَة وأهميتها فِي عصرها أَن وَضعهَا ابْن حزم -تلميذ ابْن عبد الْبر- علما مَنْصُوبًا أَمَام بَصَره حِين حاول أَن يصنف سيرته النَّبَوِيَّة الَّتِي سَمَّاهَا "جَوَامِع السِّيرَة" وَقد نشرت بدار المعارف نشرة جَيِّدَة مُحَققَة عَن نُسْخَة يكثر فِيهَا التَّصْحِيف، كَمَا تكْثر سواقط الْكَلَام. ونراه يستهلها بِقِطْعَة موجزة يتحدث فِيهَا عَن نسب رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ومولده وسنه ووفاته وأعلام رسَالَته وحجه وعمراته وغزواته وبعوثه وَصفته وأسمائه وأمرائه وَكتابه وحرسه ومؤذنيه وخطبائه وشعرائه وَرُسُله ودعوته بعض الْمُلُوك إِلَى الْإِسْلَام ونسائه وَأَوْلَاده وشيمه وأخلاقه. وَهُوَ فِي هَذِه الْقطعَة لَا يلتقي بِابْن عبد الْبر فِي سيرته، لِأَنَّهُ كَمَا قدمنَا لم يعرض لكل ذَلِك مكتفيا بِمَا جَاءَ مِنْهُ فِي صدر كتاب "الِاسْتِيعَاب" غير أننا لَا نكاد
রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুরের রস (নাবীয) দিয়ে ওযু করার প্রসঙ্গ, যখন তিনি পানি পাননি—সে বিষয়ে তিনি বলেছেন: "ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত এই খবরটি বিভিন্ন হাসান (উত্তম) সূত্রের মাধ্যমে মুতাওয়াতির (সুনিশ্চিতভাবে বর্ণিত), কেবল ইবনে মাসউদের থেকে বর্ণিত আবু যায়েদের হাদীসটি বাদে যেখানে নাবীয দিয়ে ওযুর কথা উল্লেখ আছে। কারণ আবু যায়েদ একজন অপরিচিত ব্যক্তি এবং ইবনে মাসউদের অনুসারীদের মাঝে তাঁকে চেনা যায় না। আর জিনদের প্রসঙ্গের বর্ণনায় সূরা আর-রাহমান এবং 'বলুন, আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়েছে যে জিনদের একটি দল শ্রবণ করেছে' সম্বলিত সূরা (সূরা জিন) এবং সূরা আহকাফের এই আয়াতটিই যথেষ্ট: 'যখন আমি আপনার প্রতি একদল জিনকে আকৃষ্ট করেছিলাম, যারা কুরআন পাঠ শুনছিল'—আয়াতাংশ পর্যন্ত। তিনি এর মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের মূল ভাষ্যের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছেন এবং তাতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করতে চাননি। তাঁর সূক্ষ্মতা ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাবের একটি চিত্র ফুটে ওঠে বনু মুস্তালিক বা মুরাইসী’র যুদ্ধ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যে: 'এই যুদ্ধে অপবাদকারীরা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে যা বলার বলেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাঁকে তাদের অপবাদ থেকে মুক্ত করেন এবং তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে কুরআন নাযিল হয়। আর যে বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, এ ব্যাপারে সাদ বিন মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাদ বিন উবাদাহর সাথে বাকবিতণ্ডা করেছিলেন, এটি একটি ভুল ও বিভ্রান্তি। মূলত এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল সাইদ বিন উবাদাহ এবং উসাইদ বিন হুদাইরের মধ্যে। ইবনে ইসহাক যুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ ও অন্যান্যদের থেকে এভাবেই উল্লেখ করেছেন, আর এটিই সঠিক; কারণ সাদ বিন মুয়ায বনু কুরাইজা থেকে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যাবর্তনের সময়ই ইন্তেকাল করেছিলেন—এ ব্যাপারে কারোরই দ্বিমত নেই। তাই তিনি মুরাইসী’র যুদ্ধ পাননি এবং সেখানে উপস্থিতও ছিলেন না'।"
অতএব, আমরা এখানে একটি পরিমার্জিত সীরাত গ্রন্থের সম্মুখীন হয়েছি; এমন এক সীরাত যা কেবল প্রচলিত সীরাত গ্রন্থসমূহের ওপরই নির্ভর করে না, বরং হাদীস শাস্ত্র ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার ওপরও নির্ভর করে। সাথে সাথে বিভিন্ন সংবাদ ও হাদীসের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করা এবং সঠিক সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ব্যক্তিবর্গের নামের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতা বজায় রাখা হয়েছে, যেখানে থামা প্রয়োজন সেখানে থামা হয়েছে এবং যেখানে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব সেখানে তা করা হয়েছে। হাদীস ও তার বর্ণনাকারী পুরুষদের সম্পর্কে প্রগাঢ় জ্ঞান এবং তাদের মধ্য থেকে সহীহ ও যঈফকে পৃথক করার যোগ্যতাও এখানে পরিস্ফুট হয়েছে।
এই সীরাত গ্রন্থের মান ও গুরুত্ব সমকালীন সময়ে এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, ইবনে আব্দুল বারের ছাত্র ইবনে হাযম যখন তাঁর 'জাওয়ামিউস সীরাহ' নামক সীরাত গ্রন্থটি রচনার উদ্যোগ নেন, তখন তিনি একে তাঁর আদর্শ হিসেবে সামনে রেখেছিলেন। এটি দারুল মাআরিফ থেকে একটি উন্নত ও সম্পাদিত সংস্করণ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, যদিও পাণ্ডুলিপির মূল কপিতে অনেক অনুলিখনজনিত ভুল এবং শব্দ বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। আমরা দেখতে পাই তিনি এর সূচনা করেছেন একটি সংক্ষিপ্ত অংশ দিয়ে, যেখানে তিনি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয়, জন্ম, বয়স, মৃত্যু, তাঁর রিসালাতের নিদর্শনাবলী, হজ, উমরা, যুদ্ধসমূহ, অভিযানসমূহ, তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য, নামসমূহ, প্রশাসকগণ, লেখকগণ, দেহরক্ষীগণ, মুয়াজ্জিনগণ, বক্তাগণ, কবিগণ, দূতগণ এবং বিভিন্ন রাজন্যবর্গের প্রতি তাঁর ইসলামের দাওয়াত, তাঁর পত্নীগণ, সন্তানসন্ততি এবং তাঁর স্বভাব ও চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এই অংশে তিনি ইবনে আব্দুল বারের সীরাতের সাথে হুবহু একাত্ম হননি, কারণ আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, তিনি 'আল-ইস্তিয়াব' গ্রন্থের শুরুতে যা এসেছে তার ওপর সন্তুষ্ট থেকে এই সব বিষয় সেখানে সবিস্তারে আনেননি। তবে আমরা খুব কমই...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
نتقدم مَعَ ابْن حزم حَتَّى نجده يلتقي مَعَ ابْن عبد الْبر فِي أَكثر صحفه، وتنبه إِلَى هَذَا الالتقاء ناشرو سيرة ابْن حزم قائلين:
"وَقد أَفَادَ ابْن حزم فِي كِتَابه السِّيرَة مِمَّا صنعه من قبله شَيْخه ومعاصره أَبُو عمر بن عبد الْبر مؤلف كتاب "الدُّرَر فِي اخْتِصَار الْمَغَازِي وَالسير" وَنحن لَا نملك من هَذَا الْكتاب صُورَة كَامِلَة أَو وافية تدلنا إِلَى أَي مدى اعْتمد عَلَيْهِ ابْن حزم، وَلَكِن النقول القليلة الَّتِي احتفظ بهَا ابْن سيد النَّاس من كتاب أبي عمر الْمَذْكُور تؤكد أَن ابْن حزم قد نقل عَن شَيْخه نقولا مُتَفَرِّقَة فِي شَيْء قَلِيل من التَّصَرُّف، إِلَّا أَن نفترض أَن المؤلفين- نعني ابْن عبد الْبر وَابْن حزم- ينقلان عَن مصدر ثَالِث لم يَقع إِلَيْنَا".
وَلَو أَن ناشري الْكتاب رَأَوْا مخطوطة كتاب ابْن عبد الْبر لجزموا بِأَن ابْن حزم نقل عَنهُ مُنْذُ حَدِيثه عَن المبعث ص 44 أَكثر صحف كِتَابه مَعَ تصرف قَلِيل هُنَا وَهُنَاكَ. أما الظَّن بِأَنَّهُمَا رُبمَا نقلا عَن مصدر مُشْتَرك فيضعفه أَن ابْن عبد الْبر عين فِي سيرته مصادره الَّتِي نفذ من خلالها إِلَى وضع كِتَابه، فِي حِين لم يذكر ابْن حزم فِيمَا التقى بِهِ مَعَه مصدرا وَاحِدًا. وَحقا أَنه يُتَابع فِي حَدِيثه الْمفصل عَن الْغَزَوَات ابْن إِسْحَاق، سَوَاء فِي ترتيبها أَو فِيمَا تضمنته من الْأَحْدَاث وَمن أَسمَاء من شاركوا فِيهَا من الْمُسلمين وَالْمُشْرِكين وشهداء الْأَوَّلين وقتلى وَأسرى الْأَخيرينِ، غير أَنه فِي الْوَاقِع يُتَابع فِي ذَلِك ابْن عبد الْبر، فقد مر بِنَا ذكره فِي تَقْدِيمه لكتابه هَذِه الْمُتَابَعَة، وَابْن حزم لَا يُتَابع ابْن عبد الْبر فِي نسق كِتَابه وَمَا تضمنه من الْأَحْدَاث وَأَسْمَاء الْأَعْلَام فَحسب، بل كثيرا مَا يُتَابِعه فِي سرد كَلَامه نَاقِلا نَص عباراته مَعَ شَيْء من التَّصَرُّف أَحْيَانًا، وَقد يتْرك النَّص الَّذِي يَنْقُلهُ عَن أستاذه دون أَي تصرف. ونراه يُتَابِعه فِي كثير من مراجعاته وآرائه، حَتَّى ليظن من لم يقْرَأ ابْن عبد الْبر أَنَّهَا ثَمَرَة اجْتِهَاده، من ذَلِك مُتَابَعَته لَهُ فِي أَن أَبَا مُوسَى الْأَشْعَرِيّ لَا يَصح أَن يسْلك فِيمَن هَاجر من مَكَّة إِلَى أَرض الْحَبَشَة، يَقُول ابْن عبد الْبر: "وَقد جَاءَ فِي بعض الْأَثر وَقَالَهُ بعض أهل السّير "انْظُر ابْن إِسْحَاق فِي السِّيرَة النَّبَوِيَّة لِابْنِ هِشَام "1/ 347" أَن أَبَا مُوسَى الْأَشْعَرِيّ كَانَ فِيمَن هَاجر إِلَى أَرض الْحَبَشَة وَلَيْسَ كَذَلِك، وَلكنه خرج فِي طَائِفَة من قومه مُهَاجرا من بَلَده بِالْيمن يُرِيد الْمَدِينَة. فَرَكبُوا الْبَحْر، فرمتهم الرّيح بالسفينة الَّتِي كَانُوا فِيهَا إِلَى أَرض الْحَبَشَة، فَأَقَامَ هُنَالك حَتَّى قدم مَعَ جَعْفَر بن أبي طَالب" وقارن بذلك جَوَامِع السِّيرَة ص 58. وَمن مُتَابعَة ابْن حزم لأستاذه مَا ذهب إِلَيْهِ من أَن الزَّكَاة فرضت عقب الْهِجْرَة ومؤاخاة
আমরা ইবনে হাজমের সাথে অগ্রসর হয়ে দেখতে পাই যে, তিনি তাঁর অধিকাংশ পৃষ্ঠায় ইবনে আবদিল বাররের সাথে মিলে যান। ইবনে হাজমের সীরাত গ্রন্থের প্রকাশকরা এই মিলের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন:
"ইবনে হাজম তাঁর সীরাত গ্রন্থে তাঁর পূর্ববর্তী শিক্ষক ও সমসাময়িক 'আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাজি ওয়াস সিয়ার' গ্রন্থের লেখক আবু উমর ইবনে আবদিল বাররের কাজ থেকে উপকৃত হয়েছেন। ইবনে হাজম কতটুকু তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন তা বোঝার মতো এই কিতাবটির কোনো পূর্ণাঙ্গ বা পর্যাপ্ত প্রতিলিপি আমাদের কাছে নেই। তবে ইবনে সাইয়্যেদুন নাস আবু উমরের উক্ত কিতাব থেকে যে অল্প কিছু উদ্ধৃতি সংরক্ষণ করেছেন, তা নিশ্চিত করে যে, ইবনে হাজম তাঁর শিক্ষক থেকে সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন; যদি না আমরা এমনটি ধরে নিই যে, লেখকদ্বয়—অর্থাৎ ইবনে আবদিল বারর ও ইবনে হাজম—এমন কোনো তৃতীয় উৎস থেকে বর্ণনা করছেন যা আমাদের হস্তগত হয়নি।"
যদি এই বইয়ের প্রকাশকরা ইবনে আবদিল বাররের বইয়ের পাণ্ডুলিপিটি দেখতেন, তবে তাঁরা নিশ্চিত হতেন যে ইবনে হাজম নবুয়ত প্রাপ্তির আলোচনা (পৃষ্ঠা ৪৪) থেকে শুরু করে তাঁর বইয়ের অধিকাংশ পৃষ্ঠাই এখানে-সেখানে সামান্য পরিবর্তনসহ তাঁর থেকে গ্রহণ করেছেন। আর তাঁরা উভয়ই কোনো সাধারণ উৎস থেকে বর্ণনা করেছেন—এমন ধারণাটি দুর্বল হয়ে পড়ে এ কারণে যে, ইবনে আবদিল বারর তাঁর সীরাত গ্রন্থে সেই উৎসগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তিনি তাঁর গ্রন্থটি রচনা করেছেন; অথচ ইবনে হাজম যেসব স্থানে তাঁর সাথে একমত হয়েছেন সেখানে একটি উৎসের নামও উল্লেখ করেননি। এটি সত্য যে, তিনি যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনায় ইবনে ইসহাককে অনুসরণ করেন, চাই তা বিন্যাসের ক্ষেত্রে হোক বা ঘটনার বিবরণ কিংবা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুসলিম ও মুশরিকদের নাম এবং প্রথমোক্তদের শহীদ ও শেষোক্তদের নিহত ও বন্দীদের নামের ক্ষেত্রে হোক; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এক্ষেত্রে তিনি ইবনে আবদিল বাররকেই অনুসরণ করেছেন। কেননা ইবনে আবদিল বারর তাঁর বইয়ের ভূমিকায় এই অনুসরণের কথা উল্লেখ করেছেন—যা আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। ইবনে হাজম কেবল বইয়ের বিন্যাস, ঘটনাবলী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামের ক্ষেত্রেই ইবনে আবদিল বাররকে অনুসরণ করেননি, বরং অনেক ক্ষেত্রে তিনি তাঁর বক্তব্যের বর্ণনাশৈলীও অনুসরণ করেছেন, কখনো সামান্য পরিবর্তনের সাথে আবার কখনো কোনো পরিবর্তন ছাড়াই তাঁর শিক্ষকের মূল পাঠ হুবহু উদ্ধৃত করেছেন। আমরা তাঁকে তাঁর অনেক পর্যালোচনা ও মতামতেও ইবনে আবদিল বাররকে অনুসরণ করতে দেখি, এমনকি যিনি ইবনে আবদিল বাররের লেখা পড়েননি তিনি মনে করতে পারেন যে এগুলো ইবনে হাজমের নিজস্ব ইজতিহাদের ফসল। এর মধ্যে একটি হলো তাঁর এই মতের অনুসরণ যে, আবু মুসা আল-াশ'আরীকে মক্কা থেকে আবিসিনিয়ায় হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক নয়। ইবনে আবদিল বারর বলেন: "কিছু রেওয়ায়েতে এসেছে এবং কোনো কোনো সীরাতবিদ বলেছেন—দেখুন ইবনে হিশামের 'আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ' গ্রন্থে ইবনে ইসহাককে (১/৩৪৭)—যে আবু মুসা আল-াশ'আরী আবিসিনিয়ায় হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়, বরং তিনি তাঁর গোত্রের একটি দলের সাথে ইয়েমেন থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে হিজরতকারী হিসেবে বেরিয়েছিলেন। অতঃপর তাঁরা সমুদ্রপথে যাত্রা করেন এবং প্রতিকূল বাতাস তাঁদের জাহাজটিকে আবিসিনিয়ার দিকে নিয়ে যায়। ফলে তিনি সেখানে অবস্থান করেন এবং জাফর ইবনে আবি তালিবের সাথে (মদীনায়) ফিরে আসেন।" এর সাথে 'জাওয়ামিউস সীরাহ' এর ৫৮ পৃষ্ঠার তুলনা করুন। ইবনে হাজমের তাঁর শিক্ষককে অনুসরণের আরেকটি উদাহরণ হলো তাঁর এই অভিমত যে, যাকাত হিজরত ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধন প্রতিষ্ঠার পরপরই ফরয হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الرَّسُول صلى الله عليه وسلم بَين الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار "قَارن بجوامع السِّيرَة "ص 97". وَقد تَابعه فِي أَن من شهد بَدْرًا من الْمُهَاجِرين كَانُوا سِتَّة وَثَمَانِينَ رجلا "قَارن بجوامع السِّيرَة ص 122" فِي حِين عدهم ابْن إِسْحَاق فِي السِّيرَة "2/ 364 ثَلَاثَة وَثَمَانِينَ. وَمر بِنَا آنِفا نفي ابْن عبد الْبر لِأَن تكون قد حدثت مُرَاجعَة فِي حَدِيث الْإِفْك بَين سعدَ بْن معَاذ وسعدَ بْن عبَادَة لمَوْت ابْن معَاذ قبل الْحَادِث. "قَارن بجوامع السِّيرَة ص 207".
وَهَذَا التطابق بَين سيرة ابْن حزم وسيرة ابْن عبد الْبر فِي الآراء وسرد الْأَعْلَام وعبارات النَّص جعلتنا نتَّخذ من أَكْثَرهَا مَا يشبه نُسْخَة ثَانِيَة من كتاب ابْن عبد الْبر. وَقد انتفعنا بهَا فِي تَصْحِيح مَا جَاءَ فِي نسختنا من بعض التصحيفات وَمن بعض نواقص الْكَلَام.
وَلَا نشك فِي أَنه لَو كَانَ بأيدي ناشريها مخطوطة كتاب ابْن عبد الْبر لأصلحوا وَقومُوا نَص نسختهم الَّتِي نشرُوا مِنْهَا كتاب ابْن حزم فِي مَوَاضِع كَثِيرَة، وَحقا بذلوا جهدا قيمًا فِي تقويمه ورد كثير من سواقطه إِلَى موَاضعهَا من اتِّصَال الْكَلَام، وَلَكِن ظلت بَقِيَّة يهدي إِلَيْهَا كتاب ابْن عبد الْبر، يتَّصل بَعْضهَا بتصحيف بعض الْأَلْفَاظ، وَبَعضهَا يتَّصل بِسُقُوط بعض أَسمَاء الْأَعْلَام حِين تتوالى متعاقبة، فَمن ذَلِك مَا جَاءَ فِي ص 69 عَن قدوم بعض الْأَنْصَار غلى مَكَّة قبل الْهِجْرَة يطْلبُونَ الْحلف من قُرَيْش، فقد جرت الْعبارَة على هَذَا النَّحْو: "ثمَّ قدم إِلَى مَكَّة أَبُو الحيسر أنيس بن رَافع فِي مائَة من قومه" وَصِحَّة الْعبارَة فِي ابْن عبد الْبر" "وَقدم مَكَّة أَبُو الحيسر أنس بْن رَافع فِي فتية من قومه" وَانْظُر ابْن إِسْحَاق فِي السِّيرَة النَّبَوِيَّة لِابْنِ هِشَام ص 69. ونقرأ فِي ص 88: "ثمَّ إِن أَبَا جهل والْحَارث بن هِشَام أَتَيَا الْمَدِينَة وَكلما عَيَّاش بْن أبي ربيعَة وَكَانَ أخاهما لِأُمِّهِمَا وَابْن عمتهما" وَفِي ابْن عبد الْبر: "وَكَانَ أخاهما لأمهمها وَابْن عَمهمَا" وَهُوَ تَصْحِيف وَاضح. وَفِي نفس الصفحة يسْرد ابْن حزم عَن ابْن عبد الْبر من قدمُوا الْمَدِينَة مُهَاجِرين مَعَ عمر بن الْخطاب، وَيسْقط من كَاتب النُّسْخَة اسْم "إِيَاس وعاقل وعامر وخَالِد بَنو البكير اللَّيْثِيّ حلفاء بني عدي بْن كَعْب" وَيكثر فِي سيرة ابْن حزم المنشورة، أَو بِعِبَارَة أدق فِي نسختها الَّتِي نشرت، سُقُوط مثل هَذِه الْأَسْمَاء المتوالية وَيُمكن دَائِما إكمالها من ابْن عبد الْبر، وَيَكْفِي أَن نمثل بمثال ثَان فِي الصفحة التالية، إِذْ جَاءَ فِيهَا: "وَنزل حَمْزَة بن الْمطلب وَحَلِيفه أَبُو مرْثَد كناز بن حُصَيْن الغنوي وَزيد بن حَارِثَة الْكَلْبِيّ مولى رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم على كُلْثُوم بْن الْهدم" وصحتها فِي ابْن عبد الْبر: "وَنزل حَمْزَة بْن عَبْد الْمطلب وحليفاه: أَبُو مرْثَد الغنوي وَابْنه مرْثَد بْن
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির ও আনসারদের মাঝে (ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন) "জাওয়ামি আস-সিরাহ পৃষ্ঠা ৯৭-এর সাথে তুলনা করুন"। বদর যুদ্ধে মুহাজিরদের মধ্য থেকে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা সংখ্যায় ছিয়াশি জন ছিলেন—এ বিষয়ে তিনি তাকে অনুসরণ করেছেন "জাওয়ামি আস-সিরাহ পৃষ্ঠা ১২২-এর সাথে তুলনা করুন"—অথচ ইবনে ইসহাক 'সিরাত' গ্রন্থে (২/৩৬৪) তাদের সংখ্যা তিরাশি জন গণনা করেছেন। ইতিপূর্বে আমাদের নিকট অতিক্রান্ত হয়েছে যে, ইফকের হাদিসে সাদ বিন মুয়াজ এবং সাদ বিন উবাদাহর মধ্যে কোনো বাকবিতণ্ডা হওয়ার বিষয়টি ইবনে আবদিল বার অস্বীকার করেছেন; কেননা এই ঘটনার পূর্বেই সাদ বিন মুয়াজ মৃত্যুবরণ করেছিলেন। "জাওয়ামি আস-সিরাহ পৃষ্ঠা ২০৭-এর সাথে তুলনা করুন"।
মতামত, ব্যক্তিবর্গের তালিকা এবং পাঠ্যের বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনে হাজমের সিরাত এবং ইবনে আবদিল বারের সিরাতের মধ্যে এই অভিন্নতা আমাদের একে ইবনে আবদিল বারের গ্রন্থের অনেকটা দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির মতো গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমাদের নিকট থাকা কপির কিছু শব্দগত বিকৃতি এবং পাঠ্যের কিছু অসম্পূর্ণতা সংশোধনে আমরা এটি থেকে উপকৃত হয়েছি।
আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে, যদি এর প্রকাশকদের হাতে ইবনে আবদিল বারের গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি থাকত, তবে তারা ইবনে হাজমের গ্রন্থের যে পাণ্ডুলিপি থেকে তারা প্রকাশ করেছেন তার পাঠ্য অনেক স্থানে সংশোধন ও পরিমার্জন করতে পারতেন। প্রকৃতপক্ষে তারা এর পাঠ্য সংশোধনে এবং অনেক বিচ্যুতিকে বাক্যপ্রবাহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে নিজ নিজ স্থানে ফিরিয়ে আনতে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু তবুও এমন কিছু অবশিষ্ট রয়ে গেছে যার সঠিক দিশা ইবনে আবদিল বারের গ্রন্থ প্রদান করে; যার কিছু অংশ কিছু শব্দের বিকৃতি সংশোধনের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর কিছু অংশ যখন পর্যায়ক্রমে অনেক নাম আসে তখন কিছু নাম বাদ পড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন পৃষ্ঠা ৬৯-এ হিজরতের পূর্বে মক্কায় কুরাইশদের নিকট সন্ধি প্রার্থনার জন্য কিছু আনসারদের আগমনের বর্ণনায় এসেছে, সেখানে বাক্যটি ছিল এরূপ: "অতঃপর মক্কায় আবু আল-হাইসার আনিস বিন রাফি তার গোত্রের একশ জন লোক নিয়ে আসলেন।" অথচ ইবনে আবদিল বারে বাক্যটির সঠিক রূপ হলো: "আর মক্কায় আবু আল-হাইসার আনাস বিন রাফি তার গোত্রের কয়েকজন যুবক নিয়ে আসলেন।" দেখুন: ইবনে হিশামের সিরাত আন-নববিয়্যাহয় ইবনে ইসহাক, পৃষ্ঠা ৬৯। আমরা পৃষ্ঠা ৮৮-তে পড়ি: "অতঃপর আবু জেহেল এবং হারিস বিন হিশাম মদিনায় আসলেন এবং আইয়াশ বিন আবি রাবিয়াহর সাথে কথা বললেন, তিনি ছিলেন তাদের বৈমাত্রেয় ভাই এবং তাদের ফুফাতো ভাই।" ইবনে আবদিল বারে রয়েছে: "তিনি ছিলেন তাদের বৈমাত্রেয় ভাই এবং তাদের চাচাতো ভাই", যা একটি স্পষ্ট শব্দগত বিকৃতি। একই পৃষ্ঠায় ইবনে হাজম ইবনে আবদিল বারের বরাতে উমর বিন আল-খাত্তাবের সাথে যারা মদিনায় হিজরত করে এসেছিলেন তাদের তালিকা প্রদান করেছেন, সেখানে পাণ্ডুলিপি লেখক "ইয়াস, আকিল, আমির এবং খালিদ—বনু আল-বুকাইর আল-লাইসি যারা বনু আদি বিন কাবের মিত্র ছিলেন"—এই নামগুলো বাদ দিয়েছেন। ইবনে হাজমের প্রকাশিত সিরাত গ্রন্থে বা আরও স্পষ্টভাবে বললে যে পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশিত হয়েছে তাতে এরূপ ধারাবাহিকভাবে আসা নামগুলো বাদ পড়ার ঘটনা অনেক বেশি এবং সর্বদা ইবনে আবদিল বারের গ্রন্থ থেকে এগুলো পূর্ণ করা সম্ভব। পরবর্তী পৃষ্ঠার দ্বিতীয় একটি উদাহরণ দেওয়াই যথেষ্ট হবে, যেহেতু সেখানে এসেছে: "হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিব এবং তার মিত্র আবু মারসাদ কানাজ বিন হুসাইন আল-গানাওয়ি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস জায়েদ বিন হারিসাহ আল-কালবি, কুলসুম বিন আল-হিদমের নিকট অবস্থান করলেন।" অথচ ইবনে আবদিল বারে এর সঠিক রূপ হলো: "হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিব এবং তার দুই মিত্র: আবু মারসাদ আল-গানাওয়ি এবং তার পুত্র মারসাদ বিন..."
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أبي مرْثَد، وَزيد بْن حَارِثَة وأنسة وَأَبُو كَبْشَة موَالِي رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم على كُلْثُوم بن الْهدم". وَفِي ص 106 أَن أَبَا سعيد بن الْمُعَلَّى "سمع رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم [يَأْمر] بتحويل الْقبْلَة". وَقد جعلت كلمة يَأْمر بَين قوسي الزِّيَادَة إِشَارَة إِلَى أَنَّهَا سَقَطت من الأَصْل، وَفِي ابْن عبد الْبر مَكَانهَا كلمة يخْطب. وَفِي ص 112 "عرض الرَّسُول على أَصْحَابه "فِي وقْعَة بدر" مصَارِع رُءُوس الْكفْر من قُرَيْش مصرعا مصرعا، يَقُول: "هَذَا مصرع فلَان ومصرع فلَان فَمَا عَدَا وَاحِد مِنْهُم مضجعه". وَفِي ابْن عبد الْبر مَكَان مضجعه "مصرعه". وَفِي ص 119 "وعامر بن فهَيْرَة
… من مولدِي الْأسد" وَفِي ابْن عبد الْبر: "من مولدِي الأزد". وَفِي ص 133 "وَمن بني مرضخة وَعَمْرو ابْني غنم بن أُميَّة" وصحتها فِي ابْن عبد الْبر: "وَمن بني مرضخة وَهُوَ عَمْرو بن غنم بن أُميَّة". وَفِي ص 156 "أَشَارَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَلا يخرجُوا إِلَيْهِم "إِلَى الْمُشْركين" وَأَن يتحصنوا بِالْمَدِينَةِ فَإِن قدمُوا مِنْهَا قَاتلهم على أَفْوَاه الْأَزِقَّة" وَصِحَّة الْعبارَة فِي ابْن عبد الْبر: "أَشَارَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم على أَصْحَابه أَلا يخرجُوا إِلَيْهِم وَأَن يتحصنوا بِالْمَدِينَةِ فَإِن قربوا مِنْهَا قاتلوهم على أَفْوَاه الْأَزِقَّة". وَفِي ص 158 "وَكَانَ فِي الْمُشْركين يَوْمئِذٍ خَمْسُونَ فَارِسًا "وصحتها فِي ابْن عبد الْبر "وَكَانَ فِي الْمُسلمين يَوْمئِذٍ خَمْسُونَ فَارِسًا" وَفِي ص 161 "وَكَانَ قد قتل أَصْحَاب اللِّوَاء من الْمُشْركين حَتَّى سقط فَرَفَعته عمْرَة بنت عَلْقَمَة" وَعبارَة ابْن عبد الْبر: "وَقتل صَاحب اللِّوَاء من الْمُشْركين فَسقط لواؤهم فَرَفَعته عمْرَة بنت عَلْقَمَة" وَبِذَلِك تستقيم الْعبارَة والسياق. وَفِي ص 165 "وجدوا الأصيرم وَبِه رَمق يسير فَقَالَ بَعضهم لبَعض: وَالله إِن هَذَا الأصيرم فَأَجَابَهُ لقد تَرَكْنَاهُ وَإنَّهُ لمنكر لهَذَا الْأَمر" وَفِي ابْن عبد الْبر بَدَلا من "فَأَجَابَهُ" "مَا جَاءَ بِهِ" وَبِذَلِك يَسْتَقِيم الْكَلَام. وَفِي ص 204 "وَذَلِكَ لشر وَقع لبني جَهْجَاه بن مَسْعُود الْغِفَارِيّ أجِير عمر بن الْخطاب وَبَين سِنَان بْن وبر الْجُهَنِيّ" وَصِحَّة الْعبارَة فِي ابْن عبد الْبر "وَذَلِكَ لشر وَقع بَين جَهْجَاه
… ". وعَلى هَذَا النَّحْو تصلح سيرة ابْن عبد الْبر بعض عِبَارَات النُّسْخَة المنشورة من سيرة ابْن حزم فتكمل نواقصها مَا دَخلهَا من فَسَاد التَّصْحِيف والتحريف.
وَلَعَلَّ أهم من خلفوا ابْن عبد الْبر إِفَادَة من سيرته ابْن سيد النَّاس المتوفي سنة 734 لِلْهِجْرَةِ، فقد جعلهَا نصب عَيْنَيْهِ فِي سيرته النَّبَوِيَّة المطولة الَّتِي سَمَّاهَا "عُيُون الْأَثر فِي فنون الْمَغَازِي وَالشَّمَائِل وَالسير" وَهِي مطبوعة فِي مجلدين بِالْقَاهِرَةِ. وَفِيمَا ينْقل فقرا وفصولا كَثِيرَة
আবু মারসাদ, যায়েদ ইবনে হারিসা, আনাসাহ এবং আবু কাবশাহ — যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস ছিলেন — তারা কুলসুম ইবনে হিলমের নিকট অবস্থান করছিলেন। এবং ১০৬ পৃষ্ঠায় আছে যে, আবু সাঈদ ইবনে মুআল্লা "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিবলা পরিবর্তনের [আদেশ দিতে] শুনেছেন"। আর আমি 'আদেশ দিতে' শব্দটিকে অতিরিক্ততার চিহ্ন হিসেবে দুই বন্ধনীর মাঝে রেখেছি এটি নির্দেশ করতে যে, এটি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছিল; ইবনে আবদিল বার-এর কিতাবে এর পরিবর্তে 'খুতবা দিচ্ছেন' শব্দটি রয়েছে। এবং ১১২ পৃষ্ঠায় আছে: "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে তাঁর সাহাবীদের সামনে কুরাইশদের কুফরের শীর্ষ নেতাদের একে একে ভূপাতিত হওয়ার স্থানগুলো প্রদর্শন করে বলছিলেন: 'এটি অমুকের ভূপাতিত হওয়ার স্থান এবং এটি অমুকের ভূপাতিত হওয়ার স্থান'। তাদের কেউই তাদের নির্ধারিত শয্যাস্থল (মৃত্যুস্থান) অতিক্রম করেনি।" ইবনে আবদিল বার-এর বর্ণনায় 'শয্যাস্থল' শব্দের স্থলে 'ভূপাতিত হওয়ার স্থান' শব্দটি রয়েছে। এবং ১১৯ পৃষ্ঠায় আছে: "আর আমির ইবনে ফুহাইরা
... আসাদ গোত্রের বংশোদ্ভূত।" অথচ ইবনে আবদিল বার-এর কিতাবে আছে: "আযদ গোত্রের বংশোদ্ভূত।" এবং ১৩৩ পৃষ্ঠায় আছে: "এবং বনু মারযাখা ও আমর, যারা গনাম ইবনে উমাইয়ার দুই পুত্র।" ইবনে আবদিল বার-এর নিকট এর সঠিক রূপ হলো: "এবং বনু মারযাখা থেকে, আর সে হলো আমর ইবনে গনাম ইবনে উমাইয়া।" এবং ১৫৬ পৃষ্ঠায় আছে: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে তারা তাদের (মুশরিকদের) বিরুদ্ধে বের না হয় এবং তারা যেন মদিনায় অবস্থান করে আত্মরক্ষা করে; অতঃপর তারা যদি সেখানে প্রবেশ করে, তবে তিনি গলিপথগুলোর মুখে তাদের সাথে যুদ্ধ করবেন।" ইবনে আবদিল বার-এর কিতাবে বাক্যটির সঠিক রূপ হলো: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন তারা তাদের বিরুদ্ধে বের না হয় এবং মদিনায় অবস্থান করে আত্মরক্ষা করে; অতঃপর তারা যদি নিকটবর্তী হয়, তবে তারা গলিপথগুলোর মুখে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে।" এবং ১৫৮ পৃষ্ঠায় আছে: "সেদিন মুশরিকদের মধ্যে পঞ্চাশজন অশ্বারোহী ছিল।" ইবনে আবদিল বার-এর কিতাবে এর সঠিক রূপ হলো: "সেদিন মুসলমানদের মধ্যে পঞ্চাশজন অশ্বারোহী ছিল।" এবং ১৬১ পৃষ্ঠায় আছে: "মুশরিকদের পতাকাবাহীরা নিহত হয়েছিল যতক্ষণ না সেটি (পতাকা) পড়ে যায়, অতঃপর আমরা বিনতে আলকামা সেটি উত্তোলন করেন।" ইবনে আবদিল বার-এর পাঠ হলো: "মুশরিকদের পতাকাবাহী নিহত হলো এবং তাদের পতাকাটি পড়ে গেল, এরপর আমরা বিনতে আলকামা সেটি তুলে ধরলেন।" এর মাধ্যমেই বাক্য ও প্রসঙ্গের সামঞ্জস্য বিধান হয়। এবং ১৬৫ পৃষ্ঠায় আছে: "তারা উসাইরিমকে খুঁজে পেলেন যখন তার মধ্যে সামান্য প্রাণ অবশিষ্ট ছিল। তখন তাদের একে অপরকে বললেন: আল্লাহর কসম, এতো উসাইরিম! অতঃপর তিনি তাকে উত্তর দিলেন: আমরা তো তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে এসেছিলাম যে সে এই বিষয়টিকে (ইসলামকে) অস্বীকার করত।" ইবনে আবদিল বার-এর কিতাবে 'অতঃপর তিনি তাকে উত্তর দিলেন' এর পরিবর্তে 'সে যা নিয়ে এসেছে' (অর্থাৎ তার আগমনের উদ্দেশ্য কী) পাঠটি রয়েছে, যার মাধ্যমে কথাটি অর্থবহ হয়। এবং ২০৪ পৃষ্ঠায় আছে: "আর তা ছিল উমর ইবনুল খাত্তাব-এর পারিশ্রমিকভুক্ত কর্মচারী জাহজাহ ইবনে মাসউদ আল-গিফারির বংশধর এবং সিনান ইবনে ওয়াবর আল-জুহানির মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি বিবাদের কারণে।" ইবনে আবদিল বার-এর কিতাবে বাক্যটির সঠিক রূপ হলো: "আর তা ছিল জাহজাহ
... এর মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি বিবাদের কারণে।" এভাবে ইবনে আবদিল বার-এর সীরাত গ্রন্থটি ইবনে হাজমের সীরাতের প্রকাশিত সংস্করণের কিছু বাক্যকে সংশোধন করে, ফলে এর অসম্পূর্ণতাগুলো পূর্ণ হয় এবং এতে যে সকল মুদ্রণপ্রমাদ ও বিকৃতি প্রবেশ করেছিল তা দূরীভূত হয়।
সম্ভবত ইবনে আবদিল বার-এর পরবর্তী আলেমদের মধ্যে তাঁর সীরাত গ্রন্থ থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন ইবনে সাইয়্যিদুন নাস (মৃত্যু ৭৩৪ হিজরি)। তিনি তাঁর বিস্তারিত সীরাত গ্রন্থ 'উয়ুনুল আসার ফি ফুনুনিল মাগাযি ওয়াস শামায়িলি ওয়াস সিয়ার'-এ এটিকে প্রধান উৎস হিসেবে সামনে রেখেছেন, যা কায়রোতে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। তিনি এখান থেকে অনেক অনুচ্ছেদ ও পরিচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عَن ابْن عبد الْبر مُصَرحًا باسمه غَالِبا، وَقد رَاجعه كثيرا فِي أَسمَاء الْأَعْلَام وَفِي جَوَانِب مُخْتَلفَة من مَادَّة سيرته وآرائه، وَهُوَ دَائِما يُنَوّه بِهِ، حَتَّى إِذا أنهى كِتَابه وَأخذ فِي ذكر أَسَانِيد الْكتب الَّتِي استقي مِنْهَا سيرته أَو كِتَابه قَالَ: "مَا كَانَ فِيهِ عَن أبي عمر فَمن كتاب الدُّرَر فِي اخْتِصَار الْمَغَازِي وَالسير وَهُوَ مِمَّا رويته عَن وَالِدي رحمه الله عَن شَيْخه أبي الْحُسَيْن مُحَمَّد بن أَحْمد بن السراج، عَن خَاله أبي بكر بن خير، عَن أبي الْحجَّاج الشنتمري، عَن أبي على الغساني، عَنهُ". وَمعنى ذَلِك أَن نقُوله عَن سيرة ابْن عبد الْبر مَأْخُوذَة عَن نُسْخَة منسوبة مُسندَة تناقل رِوَايَتهَا عَن مؤلفها شُيُوخ ثِقَات، مِمَّا يرفع من قيمتهَا وَمن دَرَجَة توثيقها، ونظن ظنا أَن نسختنا الَّتِي نعنى بنشرها قد أخذت عَن تِلْكَ النُّسْخَة الَّتِي تحولت من الأندلس إِلَى مصر مَعَ وَالِد ابْن سيد النَّاس: مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عبد الله الإشبيلي نزيل الْقَاهِرَة. وَقد يكون ابْنه كتب مِنْهَا نُسْخَة لنَفسِهِ ذاعت فِي النَّاس، أَو لَعَلَّ نُسْخَة أَبِيه هِيَ الَّتِي ذاعت عَن طَرِيق تلاميذه المصريين. وَإِنَّمَا يدفعنا إِلَى هَذَا الظَّن أَن نُصُوص نسختنا تتطابق مَعَ نُصُوص النقول الَّتِي اقتبسها ابْن سيد النَّاس من الْكتاب، حَتَّى فِيمَا يَبْدُو فِيهِ الْغَلَط أَو التَّصْحِيف، فَمن ذَلِك مَا جَاءَ فِي خبر دُخُول بني هَاشم وَبني الْمطلب فِي الشّعب ومنابذة قُرَيْش لَهُم إِذْ وَردت هَذِه الْعبارَة: "ليسلموا رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم برمتِهِ إِلَى قُرَيْش" فِي نسختنا وَكَذَلِكَ فِي ابْن سيد النَّاس 1/ 127 والرمة: الْحَبل وَيُرَاد بهَا هُنَا الْعَهْد، وَيُمكن أَن تكون مصحفة عَن لَفْظَة "بِذِمَّتِهِ". وَفِي نفس الصفحة فِي ابْن سيد النَّاس وَفِي نسختنا قد آن لكم أَن ترجعوا عَمَّا أحدثتم علينا وعَلى أَنفسكُم". وصححت كلمة أحدثتم فِي هَامِش نسختنا بِكَلِمَة "أَخَذْتُم" وَهِي أدق مِنْهَا فِي السِّيَاق وكأنما حدث فِي الْكَلِمَة تَصْحِيف.
وَقد كثرت نقُول ابْن سيد النَّاس عَن سيرة ابْن عبد الْبر كَثْرَة مفرطة، وَهِي تلقانا مُنْذُ مفتتحها وَحَدِيثه عَن خبر مبعث الرَّسُول صلى الله عليه وسلم، إِذْ يلتقي بِهِ فِي كثير من الْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة الَّتِي سَاقهَا فِي خبر المبعث "قَارن بِابْن سيد النَّاس فِي 1/ 80 وَفِي مَوَاضِع مُتَفَرِّقَة" وَأَيْضًا فِي كثير من الْأَحَادِيث المنثورة فِي ثنايا الْكتاب. وَلَا نصل إِلَى حَدِيث ابْن عبد الْبر عَن المجاهرين بالظلم لرَسُول الله وَلكُل من آمن بِهِ حَتَّى نجد ابْن سيد النَّاس ينْقل عَنهُ هَذَا الحَدِيث فِي 1/ 110 مُصَرحًا باسمه، كَمَا ينْقل عَنهُ فِي 1/ 113 الْفَقْرَة الَّتِي خصها بالمستهزئين بالرسول. وَلَا يلبث ابْن عبد الْبر أَن يعْقد بَابا يذكر فِيهِ الْهِجْرَة إِلَى أَرض الْحَبَشَة، ويتابعه
ইবনে আব্দুল বার থেকে প্রায়ই তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি ব্যক্তিবর্গের নাম এবং তাঁর সীরাত ও মতামতের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রায়ই তাঁর শরনাপন্ন হয়েছেন এবং তিনি সর্বদা তাঁর উচ্চ প্রশংসা করতেন। এমনকি যখন তিনি তাঁর কিতাব শেষ করলেন এবং যে সকল কিতাব থেকে তিনি তাঁর সীরাত বা কিতাব সংকলন করেছেন তার সনদগুলো উল্লেখ করতে শুরু করলেন, তখন তিনি বললেন: "এতে আবু উমর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা 'আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাজি ওয়াস সিয়ার' কিতাব থেকে নেওয়া। এটি আমি আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি তাঁর উস্তাদ আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আস-সাররাজ থেকে, তিনি তাঁর মামা আবু বকর বিন খাইর থেকে, তিনি আবুল হাজ্জাজ আশ-শান্তামারি থেকে, তিনি আবু আলী আল-গাসসানি থেকে, আর তিনি তাঁর (আবু উমর) থেকে বর্ণনা করেছেন।" এর অর্থ হলো, ইবনে আব্দুল বারের সীরাত থেকে তাঁর উদ্ধৃতিগুলো একটি সুনির্দিষ্ট ও সনদযুক্ত পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে, যা নির্ভরযোগ্য শাইখগণ একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি এর মূল্য এবং প্রামাণিকতাকে উচ্চমর্যাদা দান করে। আমরা প্রবলভাবে ধারণা করি যে, আমাদের এই পাণ্ডুলিপিটি—যা আমরা প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছি—সেই পাণ্ডুলিপি থেকেই নেওয়া হয়েছে যা আন্দালুস থেকে মিশরে স্থানান্তরিত হয়েছিল ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাসের পিতার সাথে; তিনি হলেন কায়রোতে বসবাসকারী মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইশবিলি। সম্ভবত তাঁর পুত্র নিজের জন্য তা থেকে একটি অনুলিপি তৈরি করেছিলেন যা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, অথবা হতে পারে তাঁর পিতার অনুলিপিটিই তাঁর মিশরীয় ছাত্রদের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। এই ধারণার পেছনে কারণ হলো, আমাদের পাণ্ডুলিপির পাঠগুলো ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস সেই কিতাব থেকে যে উদ্ধৃতিগুলো নিয়েছেন তাঁর সাথে হুবহু মিলে যায়, এমনকি যেখানে ভুল বা লেখনীর বিকৃতি (তাশহিফ) পরিলক্ষিত হয় সেখানেও। এর একটি উদাহরণ হলো বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের গিরি সংকটে (শেবে আবি তালিবে) প্রবেশ এবং কুরাইশদের তাঁদের বয়কট করার সংবাদে বর্ণিত হয়েছে: "যাতে তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্পূর্ণরূপে কুরাইশদের কাছে সোপর্দ করে দেয়।" আমাদের পাণ্ডুলিপিতে এবং ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাসের কিতাবের ১/১২৭ পৃষ্ঠায় এভাবেই আছে। এখানে 'রিম্মাহ' অর্থ হলো রশি, যা দ্বারা এখানে অঙ্গীকার বা চুক্তি উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। এটি সম্ভবত 'বি-জিম্মাতিহি' শব্দের বিকৃত রূপ হতে পারে। ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাসের কিতাবের একই পৃষ্ঠায় এবং আমাদের পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তোমাদের সময় এসেছে যে, তোমরা আমাদের ওপর এবং নিজেদের ওপর যা শুরু করেছ তা থেকে ফিরে আসবে।" আমাদের পাণ্ডুলিপির টীকায় 'আহদাসতুম' (শুরু করেছ) শব্দটিকে 'আখাজতুম' (লিপ্ত হয়েছ) দ্বারা সংশোধন করা হয়েছে, যা প্রসঙ্গের বিচারে অধিক নির্ভুল। মনে হচ্ছে শব্দটিতে লেখনীর বিকৃতি ঘটেছিল।
ইবনে আব্দুল বারের সীরাত থেকে ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাসের উদ্ধৃতি অত্যধিক পরিমাণে রয়েছে। কিতাবের শুরু থেকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির সংবাদে আমরা এর দেখা পাই; নবুওয়াতের বর্ণনায় তিনি সেখানে অনেকগুলো হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে একমত হয়েছেন (ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাসের ১/৮০ পৃষ্ঠা এবং বিভিন্ন স্থানে তুলনা করুন) এবং কিতাবের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা আরও অনেক হাদীসের ক্ষেত্রেও। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছিলেন তাঁদের ওপর প্রকাশ্য জুলুমকারীদের সম্পর্কে ইবনে আব্দুল বারের আলোচনায় পৌঁছানোর আগেই আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস ১/১১০ পৃষ্ঠায় তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে তা উদ্ধৃত করেছেন। ঠিক যেমন তিনি ১/১১৩ পৃষ্ঠায় রাসূলকে নিয়ে উপহাসকারীদের জন্য নির্ধারিত অনুচ্ছেদটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এরপরই ইবনে আব্দুল বার হাবশায় হিজরতের বিষয়ে একটি অধ্যায় কায়েম করেছেন এবং তিনি (ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস) তাঁকে অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ابْن سيد النَّاس فِي العنوان "انْظُر 1/ 115" رَاوِيا الحَدِيث الَّذِي سَاقه فِي مستهله وَكَثِيرًا من مَادَّة الْبَاب. ويعقد ابْن عبد الْبر عقب ذَلِك: "بَاب ذكر دُخُول بني هَاشم بْن عَبْد منَاف وَبني الْمطلب بْن عَبْد منَاف فِي الشّعب وَمَا لقوا من سَائِر قُرَيْش فِي ذَلِك" وينقله عَنهُ ابْن سيد النَّاس فِي 1/ 127 بحذافيره. ويتلوه بفصل عَن إِسْلَام الْجِنّ وَمَا جَاءَ فِيهِ من أَحَادِيث مُسندَة إِلَى ابْن مَسْعُود، وتتحول مَادَّة الْفَصْل كُله إِلَى سيرة ابْن سيد النَّاس فِي 1/ 136.
ويتحدث عَن عرض الرَّسُول الإسلامَ على قبائل الْعَرَب وَمَا كَانَ من اجْتِمَاع الْعقبَة الأولى وَالثَّانيَِة وَالثَّالِثَة. ويمزج ابْن سيد النَّاس بَين مَادَّة كتاب ابْن عبد الْبر وَغَيره من كتب السِّيرَة. وَمَا يلبث أَن ينْقل عَنهُ فِي 1/ 174 الْفَقْرَة الْخَاصَّة بِهِجْرَة عمر بن الْخطاب إِلَى الْمَدِينَة، كَمَا ينْقل عَنهُ فِي 1/ 199 مؤاخاة رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم بَين الْمُهَاجِرين بَعضهم وَبَعض قبل الْهِجْرَة وجوانب من مؤاخاته بَين الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار. وَيخرج ابْن عبد الْبر إِلَى الْمَغَازِي فيتابعه غَزْوَة غَزْوَة مُقَارنًا فِي كثير من الْأَحْوَال بَينه وَبَين غَيره من رُوَاة السِّيرَة سَوَاء فِي الْأَخْبَار أَو فِي أَسمَاء الْأَعْلَام. ونراه يقف مثله بعد بعث عَبْد اللَّهِ بْن جحش، فيتحدث فِي 1/ 230 عَن صرف الْقبْلَة عَن بَيت الْمُقَدّس إِلَى الْكَعْبَة موردا من كتابي ابْن عبد الْبر: "التَّمْهِيد" والاستذكار" الرِّوَايَات الْمُتَعَلّقَة بالاختلاف فِي الصَّلَاة بِمَكَّة قبل الْهِجْرَة هَل كَانَت إِلَى الْكَعْبَة أَو إِلَى بَيت الْمُقَدّس؟ وَقد نقل عَنهُ الْفُصُول الْخَاصَّة بِمن اسْتشْهد ببدر من الْمُسلمين، وَمن قتل وَأسر من كفار قُرَيْش فِي تِلْكَ الموقعة، مُصَرحًا بنقله عَنهُ "انْظُر 1/ 286" وَلَا يلبث أَن يلخص عَنهُ فِي 1/ 292 فصلا عقب بِهِ على تِلْكَ الموقعة. وَقد لَا ينْقل عَنهُ، وَلَكِن دَائِما يوازن بَينه وَبَين غَيره من رُوَاة السِّيرَة. ودائما يرجع إِلَى كِتَابه "الِاسْتِيعَاب" فِي موازناته ومراجعاته. وَقد نقل عَنهُ فِي 2/ 136 الْفَقْرَة الْخَاصَّة بِفَتْح خَيْبَر عنْوَة ومقاسم أموالها وناقشه مناقشة وَاسِعَة. وبهذه النقول الْكَثِيرَة عَن ابْن عبد الْبر تحولت سيرة ابْن سيد النَّاس فِيهَا إِلَى مَا يشبه نُسْخَة من كتاب الدُّرَر فِي اخْتِصَار الْمَغَازِي وَالسير، للمقابلة على النُّسْخَة الَّتِي ننشرها، وَقد أَصْلحنَا بهَا النَّص فِي غير مَوضِع ورددنا إِلَيْهِ سواقطه وأقمنا مَا أدخلهُ النَّاسِخ عَلَيْهِ من بعض التَّصْحِيف والتحريف.
ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস শিরোনামে (দেখুন ১/ ১১৫) সেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যা তিনি এর প্রারম্ভে উল্লেখ করেছেন এবং এই পরিচ্ছেদের অনেক বিষয়বস্তুও বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আব্দুল বার এর পরপরই একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন: "বনী হাশিম ইবনে আবদে মানাফ এবং বনী মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফের গিরিপথে (শি’ব) প্রবেশের বিবরণ এবং সে বিষয়ে অবশিষ্ট কুরাইশদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছুর সম্মুখীন হয়েছিলেন।" আর ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস ১/ ১২৭-এ হুবহু তার থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। এর পরপরই তিনি জিনের ইসলাম গ্রহণ এবং এ বিষয়ে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত মুসনাদ হাদিসসমূহ নিয়ে একটি পরিচ্ছেদ আলোচনা করেন। এই পরিচ্ছেদের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু ১/ ১৩৬-এ ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাসের সিরাত গ্রন্থে স্থানান্তরিত হয়েছে।
তিনি আরব গোত্রগুলোর নিকট রাসূলের ইসলাম পেশ করা এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় আকাবার শপথের সমাবেশ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস ইবনে আব্দুল বারের কিতাবের বিষয়বস্তু এবং অন্যান্য সিরাত গ্রন্থের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। অনতিবিলম্বেই তিনি ১/ ১৭৪-এ তার থেকে উমর ইবনুল খাত্তাবের মদিনায় হিজরত সম্পর্কিত অনুচ্ছেদটি উদ্ধৃত করেন। ঠিক যেমন তিনি ১/ ১৯৯-এ হিজরতের পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মুহাজিরদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের বিভিন্ন দিক তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন। ইবনে আব্দুল বার যখন যুদ্ধের (মাগাযী) বর্ণনায় প্রবেশ করেন, তখন তিনি প্রতিটি যুদ্ধ অনুসরণে তাকে অনুসরণ করেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে খবরাখবর কিংবা ব্যক্তিদের নামের বিষয়ে তার ও সিরাতের অন্যান্য বর্ণনাকারীদের মধ্যে তুলনা করেন। আমরা তাকে দেখি আব্দুল্লাহ ইবনে জাহশকে পাঠানোর ঘটনার পর তার মতোই থমকে দাঁড়াতে এবং তিনি ১/ ২৩০-এ বাইতুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি ইবনে আব্দুল বারের দুটি কিতাব 'আত-তামহীদ' এবং 'আল-ইসতিযকার' থেকে হিজরতের পূর্বে মক্কায় সালাতের ক্ষেত্রে কিবলা কাবার দিকে ছিল নাকি বাইতুল মাকদিসের দিকে ছিল—এ সংক্রান্ত মতভেদপূর্ণ বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি তার থেকে বদর যুদ্ধে মুসলিমদের মধ্যে যারা শহীদ হয়েছিলেন এবং কুরাইশ কাফিরদের মধ্যে যারা নিহত ও বন্দি হয়েছিলেন তাদের জন্য নিবেদিত বিশেষ পরিচ্ছেদগুলো উদ্ধৃত করেছেন, এবং তার থেকে উদ্ধৃতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (দেখুন ১/ ২৮৬)। অনতিবিলম্বেই তিনি ১/ ২৯২-এ সেই যুদ্ধের পরবর্তী একটি পরিচ্ছেদ তার থেকে সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ করেছেন। কখনো কখনো তিনি তার থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দেন না, তবে সর্বদা তার এবং সিরাতের অন্যান্য বর্ণনাকারীদের মধ্যে তুলনা করেন। আর তিনি তার তুলনামূলক আলোচনা ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সর্বদা তার 'আল-ইসতিয়াব' কিতাবের দিকে ফিরে যান। তিনি ২/ ১৩৬-এ খায়বারকে যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করা এবং এর সম্পদ বণ্টন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদটি তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ইবনে আব্দুল বার থেকে এই প্রচুর উদ্ধৃতির ফলে ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাসের সিরাত গ্রন্থটি 'আদ-দুরার ফি ইখতিসার আল-মাগাযি ওয়াস-সিয়ার' কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপির সদৃশ হয়ে উঠেছে। আমরা যে পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশ করছি তার সাথে মুকাবেলা (তুলনা) করার জন্য এটি সহায়ক হয়েছে। আমরা এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে মূল পাঠ সংশোধন করেছি, বাদ পড়ে যাওয়া অংশগুলো পুনঃস্থাপন করেছি এবং প্রতিলিপিকারীদের মাধ্যমে ঘটে যাওয়া বর্ণবিকৃতি ও বিকৃতি সংশোধন করে পাঠটিকে সুসংহত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ২০)
4- وصف مخطوطة الْكتاب ومنهجنا فِي تَحْقِيقه
لم يكن بَين أَيْدِينَا من نسخ هَذَا الْكتاب فِي تحقيقنا الأول لَهُ سوى مخطوطة وَاحِدَة مَحْفُوظَة بدار الْكتب المصرية برقم 523 تَارِيخ. وَلما كَانَ يعد من ذخائر تراثنا الْعَرَبِيّ النفيسة فقد رَأَيْت تَحْقِيقه مُعْتَمدًا على تِلْكَ المخطوطة، وَهِي تَامَّة وَإِن كَانَ يَبْدُو أَن الورقة الأولى مِنْهَا الَّتِي كَانَت تحمل عنوان الْكتاب فقدت قَدِيما، وَوضع مَكَانهَا ورقة أُخْرَى كتب عَلَيْهَا عنوانه على هَذَا النَّحْو: "كتاب الدُّرَر فِي اخْتِصَار الْمَغَازِي وَالسير لِلْحَافِظِ أبي عمر بن عبد الْبر النمري، رَحمَه الله تَعَالَى، آمين" وَكتب على يسَار العنوان بِخَط مُحَمَّد مرتضى الزبيدِيّ صَاحب تَاج الْعَرُوس فِي شرح جَوَاهِر الْقَامُوس المتوفي سنة 1205 لِلْهِجْرَةِ هَذِه الْعبارَة: "افتداه، وعَلى وقفيته أبقاه، العَبْد لله، مُحَمَّد مرتضى الْحُسَيْنِي، عُفيَ عَنهُ، حامدا الله ومصليا وَمُسلمًا على نبيه ومستغفرا". وَكتب أَيْضا على صفحة العنوان: "محْضر من جَامع محرم أَفَنْدِي الشهير بالكردي، وأضيف فِي 5 أكتوبر سنة 1881".
وواضح من ذَلِك أَن المخطوطة نقلت إِلَى دَار الْكتب المصرية فِي التَّارِيخ الْمَذْكُور من جَامع الْكرْدِي، وَكَانَ يعرف قبلا بِالْمَدْرَسَةِ المحمودية الَّتِي أَنْشَأَهَا الْأُسْتَاذ مَحْمُود فِي شَارِع قَصَبَة رضوَان بِالْقربِ من بَاب زويلة. وَلَا نصل إِلَى الورقة السَّادِسَة من الْكتاب حَتَّى نجد النَّاسِخ يخطيء فِي لقب أبي عمر بن عبد الْبر فيكتبه أَبَا عَمْرو بِالْوَاو. ونجد فِي الْهَامِش استدراكا عَلَيْهِ هَذَا نَصه: "هَذِه الكراريس من كتاب السِّيرَة النَّبَوِيَّة لِلْحَافِظِ أبي عمر بن عبد الْبر، وَلَكِن ناسخها يَجعله أَبَا عَمْرو بِالْوَاو، وَهُوَ غلط، فليصلح". وَكتب الزبيدِيّ، الَّذِي تملك النُّسْخَة كَمَا مر بِنَا آنِفا، بِجَانِب هَذَا الِاسْتِدْرَاك: "هَذَا خطّ الْحَافِظ أبي الْخَيْر السخاوي، رحمه الله. وَكتبه مُحَمَّد مرتضى". وَأَبُو الْخَيْر السخاوي هُوَ شمس الدَّين مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن السخاوي صَاحب كتاب الضَّوْء اللامع فِي أَعْيَان الْقرن التَّاسِع الْمُتَوفَّى سنة 902 لِلْهِجْرَةِ. وكل هَذِه شَهَادَات من شَأْنهَا أَن توثق المخطوطة، فقد قَرَأَهَا السخاوي وتملكها الزبيدِيّ.
وَقد كتبت المخطوطة بقلم مُعْتَاد، وَهِي بخطين مُخْتَلفين، أَحدهمَا خطّ نسخ وَاضح
৪- গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির বর্ণনা এবং আমাদের সম্পাদনা পদ্ধতি
আমাদের প্রথম সম্পাদনায় এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে আমাদের নিকট কেবল একটিই পাণ্ডুলিপি ছিল, যা 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-তে ৫২৩ নম্বর ইতিহাসে সংরক্ষিত। যেহেতু এটি আমাদের মূল্যবান আরবি ঐতিহ্যের অন্যতম ভাণ্ডার হিসেবে গণ্য, তাই আমি সেই পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করেই এটি সম্পাদনার সিদ্ধান্ত নিই। পাণ্ডুলিপিটি পূর্ণাঙ্গ, যদিও মনে হয় এর প্রথম পাতাটি—যাতে গ্রন্থের শিরোনাম ছিল—প্রাচীনকালে হারিয়ে গেছে। তার পরিবর্তে অন্য একটি পাতা সেখানে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিরোনামটি এভাবে লেখা রয়েছে: "হাফিজ আবু উমর বিন আব্দুল বার আল-নামারি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, আমিন)-এর রচিত 'কিতাবুদ দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাজি ওয়াস সিয়ার' (যুদ্ধাভিযান ও জীবনীর সংক্ষিপ্তসারে মুক্তাসমূহ)।" শিরোনামের বাম পাশে 'তাজুল আরুস ফি শারহি জাওয়াহিরিল কামুস'-এর লেখক মুহাম্মদ মুরতাজা আল-জুবাইদি (মৃত্যু ১২০৫ হিজরি)-এর হস্তাক্ষরে এই বাক্যটি লেখা রয়েছে: "আল্লাহর বান্দা মুহাম্মদ মুরতাজা আল-হুসাইনি এটি উদ্ধার করেছেন এবং এর ওয়াকফকৃত (দানকৃত) অবস্থাতেই একে বহাল রেখেছেন; আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করছেন এবং তাঁর নবীর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করছেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।" শিরোনামের পাতায় আরও লেখা আছে: "মুহাররাম এফেন্দি জামে মসজিদ থেকে সংগৃহীত, যা আল-কুর্দি নামে পরিচিত; ১৮৮১ সালের ৫ অক্টোবর এটি যুক্ত করা হয়েছে।"
এ থেকে এটি স্পষ্ট যে, পাণ্ডুলিপিটি উল্লিখিত তারিখে কুর্দি জামে মসজিদ থেকে দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই মসজিদটি পূর্বে 'মাদরাসা আল-মাহমুদিয়্যাহ' নামে পরিচিত ছিল, যা উস্তাদ মাহমুদ 'বাব জুয়াইলা'-র নিকটবর্তী 'শারয়ি কাসাবাতু রাদওয়ান'-এ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গ্রন্থের ষষ্ঠ পাতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা দেখতে পাই যে, লিপিকার আবু উমর বিন আব্দুল বারের উপাধিতে ভুল করেছেন এবং তিনি একে 'ওয়াও' বর্ণ যোগে 'আবু আমর' লিখেছেন। আমরা এর মার্জিনে একটি সংশোধনী পাই যার পাঠ নিম্নরূপ: "এই সংকলনগুলো হাফিজ আবু উমর বিন আব্দুল বারের সিরাত বিষয়ক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত, কিন্তু এর লিপিকার ভুলবশত একে 'আবু আমর' লিখেছেন; সুতরাং এটি সংশোধন করা উচিত।" জুবাইদি—যিনি ইতোপূর্বে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী এই কিতাবটির স্বত্বাধিকারী ছিলেন—এই সংশোধনীর পাশে লিখেছেন: "এটি হাফিজ আবু আল-খাইর আস-সাখাউয়ি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর হস্তাক্ষর। এটি লিখেছেন মুহাম্মদ মুরতাজা।" আর আবু আল-খাইর আস-সাখাউয়ি হলেন শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাখাউয়ি, যিনি 'আল-দাও আল-লামি ফি আয়ানিল করনিত তাসি' (নবম শতাব্দীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আলোকোজ্জ্বল জ্যোতি) গ্রন্থের রচয়িতা এবং ৯০২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাণ্ডুলিপিটির নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করে, কারণ সাখাউয়ি এটি পাঠ করেছেন এবং জুবাইদি এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন।
পাণ্ডুলিপিটি সাধারণ কলমে লেখা হয়েছে এবং এটি দুটি ভিন্ন হস্তাক্ষরে লিখিত, যার একটি হলো স্পষ্ট নাসখ লিপি
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ২১)
ضبطت فِيهِ بعض الْكَلِمَات بالشكل، وكتبت عناوين الْفُصُول والأبواب بالقلم الثُّلُث. وَالْآخر خطّ مُعْتَاد قَلِيل الإعجام خَال من الضَّبْط. والعناوين فِيهِ بِخَط أكبر مِمَّا يَليهَا. وعَلى الهوامش مراجعات واستدراكات، مِمَّا يدل على أَن ناسخها رَاجعهَا على الأَصْل الَّذِي نسخهَا مِنْهُ، وَقد صرح بذلك فِي نهايتها. ويبدو أَنَّهَا كتبت فِي الْقرن الثَّامِن الهجري، وَمر بِنَا استظهارنا لِأَن تكون نُسْخَة فرعية للْأُم الَّتِي نقل عَنْهَا ابْن سيد النَّاس نقُوله فِي كِتَابه "عُيُون الْأَثر".
وتتردد فِي المخطوطة كلمة "قلت" ويليها تعقيبات وتعليقات على كَلَام ابْن عبد الْبر، وَكَثِيرًا مَا يستضىء صَاحبهَا بِبَعْض مَا ذكره السُّهيْلي الْمُتَوفَّى سنة 581 لِلْهِجْرَةِ فِي كِتَابه "الرَّوْض الْأنف" فِي تَفْسِير مَا اشْتَمَل عَلَيْهِ حَدِيث السِّيرَة النَّبَوِيَّة لِابْنِ هِشَام مِمَّا يقطع بِأَنَّهُ عَالم مُتَأَخّر. وَقد أحَال كثيرا على كتاب الِاسْتِيعَاب فِي معرفَة الْأَصْحَاب لِابْنِ عبد الْبر، وأحال أَيْضا على كِتَابيه "التَّمْهِيد" و "الاستذكار" وَقد يضع مَكَان كلمة "قلت" كلمة "فَائِدَة" أَو "هُنَا لَطِيفَة". وَفِي مَوَاضِع قلية جدا ذكر التَّعْلِيق بِدُونِ إِشَارَة تسبقه تدل على أَوله، غير أَن تَعْلِيقه كَانَ دَائِما يحمل الدّلَالَة على أَنه لَيْسَ من كَلَام ابْن عبد الْبر، بِمَا يتَضَمَّن من معارضته لَهُ، وَبِمَا ينهيه بِهِ من عَلَامَات نهايات الاستدراكات كَقَوْلِه: "يرجع الْكَلَام" أَو "عَاد الْكَلَام" أَو "وَالله أعلم" أَو "وَالله الْمُوفق" أَو "بِاللَّه التَّوْفِيق أَو "وَالْحَمْد لله" أَو "وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين". وَإِحْدَى اثْنَتَيْنِ: إِمَّا أَن تكون هَذِه التعليقات كتبت على هَامِش الأَصْل الَّذِي نقلت عَنهُ هَذِه المخطوطة وأدخلها فِيهَا ناسخها، أَو يكون النَّاسِخ الَّذِي كتبهَا هُوَ نفس الْعَالم الَّذِي أضَاف هَذِه التعقيبات والمراجعات. وَقد أخرجتها جَمِيعًا من الْكتاب ووضعتها فِي هوامشه مُشِيرا إِلَيْهَا دَائِما بنجوم، حَتَّى تتَمَيَّز مِمَّا فِي الهوامش من تعليقات لي مرقمة. وَهِي تدل دلَالَة بَيِّنَة على أَن من كتبهَا مُحدث بَصِير بكتب السِّيرَة النَّبَوِيَّة وَكتب الحَدِيث الْمُخْتَلفَة، وَأَنه فَقِيه سني، عَالم باختلافات الْفُقَهَاء وطرقهم فِي الاستنباط، وَأَنه يتقن الْعلم باللغة والنحو واختلافات النُّحَاة: سِيبَوَيْهٍ وَغَيره فِي بعض الْمسَائِل، كَمَا يتقن عُلُوم الْبَيَان من الْمجَاز وَغير الْمجَاز. وَإِنَّمَا أخرجت مراجعاته وتعليقاته من الْكتاب حَتَّى أُعِيد إِلَيْهِ نسقه وَصورته الْأَصْلِيَّة.
أما الْمنْهَج الَّذِي ترسمته فِي تَحْقِيق الْكتاب فقد أخذت نَفسِي فِيهِ، بِمُقَابلَة نصوصه على الأَصْل الَّذِي استمد مِنْهُ ابْن عبد الْبر فِي الْمَغَازِي، وَهُوَ سيرة ابْن إِسْحَاق بِرِوَايَة ابْن هِشَام
এতে কিছু শব্দ হরকত দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়ের শিরোনামগুলো সুলুস লিপিতে লেখা হয়েছে। অপরটি সাধারণ লিপিতে লেখা, যাতে নুকতা বা বিন্দু কম এবং হরকতবিহীন। এতে শিরোনামগুলো পরবর্তী অংশ থেকে বড় অক্ষরে লেখা। এর পার্শ্বটীকায় পর্যালোচনা ও সংশোধনী রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে এর লিপিকার এটি যে মূল কপি থেকে নকল করেছেন তার সাথে মিলিয়ে দেখেছেন এবং গ্রন্থের শেষে তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। প্রতীয়মান হয় যে এটি হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে লেখা হয়েছে এবং আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি সেই মূল পাণ্ডুলিপির একটি উপ-কপি যেখান থেকে ইবন সাইয়্যিদুন নাস তাঁর "উয়ুনুল আসার" গ্রন্থে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।
পাণ্ডুলিপিটিতে বারবার "আমি বলছি" শব্দটি এসেছে এবং এর পর ইবন আব্দুল বার-এর বক্তব্যের ওপর বিভিন্ন পর্যালোচনা ও মন্তব্য করা হয়েছে। এর লেখক প্রায়ই হিজরি ৫৮১ সনে ইন্তেকালকারী সুহাইলির "আর-রওদুল উনুফ" গ্রন্থ থেকে সাহায্য নিয়েছেন, যা ইবন হিশামের সিরাতে নববীর হাদিসগুলোর ব্যাখ্যায় রচিত। এটি নিশ্চিত করে যে তিনি একজন পরবর্তী যুগের আলেম। তিনি ইবন আব্দুল বার-এর "আল-ইস্তিয়াব ফি মা'রিফাতিল আসহাব" গ্রন্থের অনেক উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তাঁর "আত-তামহিদ" ও "আল-ইস্তিজকার" গ্রন্থ দুটিরও হাওয়ালা দিয়েছেন। অনেক সময় তিনি "আমি বলছি" শব্দের পরিবর্তে "উপকারিতা" অথবা "এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে" শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন। খুব সামান্য কিছু স্থানে কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই মন্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে যা দেখে এর শুরু বোঝা যায় না, তবে তাঁর মন্তব্যগুলো সর্বদা ইবন আব্দুল বার-এর বক্তব্য না হওয়ার প্রমাণ বহন করে। কারণ এতে তাঁর বিরোধিতার প্রতিফলন রয়েছে এবং তিনি এই সংশোধনীগুলো কিছু চিহ্নের মাধ্যমে শেষ করেন, যেমন: "মূল বক্তব্য ফিরে আসছে" অথবা "বক্তব্য পুনরায় শুরু হলো" অথবা "আল্লাহই ভালো জানেন" অথবা "আল্লাহই তাওফিকদাতা" অথবা "আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব" অথবা "সকল প্রশংসা আল্লাহর" অথবা "সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য"। দুটি বিষয়ের একটি হতে পারে: হয় এই মন্তব্যগুলো সেই মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় লেখা ছিল যেখান থেকে এই পাণ্ডুলিপিটি নকল করা হয়েছে এবং লিপিকার তা মূল পাঠের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অথবা যিনি এটি লিখেছেন সেই লিপিকারই স্বয়ং ওই আলেম যিনি এই পর্যালোচনা ও মন্তব্যগুলো যোগ করেছেন। আমি এগুলো সব মূল পাঠ থেকে বের করে টীকায় রেখেছি এবং সেগুলোকে সর্বদা তারকা চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করেছি, যাতে সেগুলো আমার নম্বর দেওয়া টীকা থেকে পৃথক করা যায়। এগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, যিনি এটি লিখেছেন তিনি একজন বিজ্ঞ মুহাদ্দিস, যিনি সিরাতে নববী ও বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। এছাড়াও তিনি একজন সুন্নি ফকিহ, ফকিহদের মতপার্থক্য এবং তাঁদের ইস্তিনবাত বা মাসআলা বের করার পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত। তিনি ভাষা, ব্যাকরণ এবং কিছু মাসআলায় সিবওয়াইহসহ অন্যান্য ব্যাকরণবিদদের মতপার্থক্য বিষয়ে দক্ষ, যেমনটি তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের রূপক ও অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শী। আমি তাঁর এই পর্যালোচনা ও মন্তব্যগুলো মূল পাঠ থেকে বের করে দিয়েছি যাতে কিতাবটিকে তার আদি বিন্যাস ও রূপ ফিরিয়ে দেওয়া যায়।
এই গ্রন্থের তাহকিকের ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা হলো, আমি এর পাঠ্যগুলোকে সেই মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখেছি যেখান থেকে ইবন আব্দুল বার মাগাযি বিষয়ক তথ্য নিয়েছেন, আর তা হলো ইবন হিশামের সূত্রে বর্ণিত ইবন ইসহাকের সিরাত।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ২২)
الْمَشْهُورَة، وأفدت كثيرا من شرحها الْمُسَمّى باسم الرَّوْض الْأنف لمؤلفه السُّهيْلي. وقابلت الْأَحَادِيث المبثوثة فِي الْكتاب على صَحِيح البُخَارِيّ ومسند أبي دَاوُد الطَّيَالِسِيّ وصحيح مُسلم وَسنَن أبي دَاوُد ومسند ابْن حَنْبَل. وعنيت بِمُقَابلَة نُصُوص الْكتاب عَامَّة على الفرعين اللَّذين استمدا مِنْهُ، وأقصد جَوَامِع السِّيرَة لِابْنِ حزم، وعيون الْأَثر فِي الْمَغَازِي وَالشَّمَائِل وَالسير لِابْنِ سيد النَّاس. وَقد أوضحت -فِيمَا أسلفت- العلاقة بَينهمَا وَبَينه وَكَيف أَنَّهُمَا يكادان يشبهان نسختين مِنْهُ: نُسْخَة كَامِلَة هِيَ نُسْخَة ابْن حزم وَقد دَخلهَا شَيْء من التَّصَرُّف، ونسخة نَاقِصَة هِيَ نُسْخَة ابْن سيد النَّاس، وَقد احتفظت بالنصوص الَّتِي نقلتها عَن الْكتاب على وَجههَا الدَّقِيق وأدائها الصَّحِيح. وَقد قابلت أَعْلَام الْكتاب وَصِحَّة أنسابها وضبطها على كتاب الْمُؤلف "الِاسْتِيعَاب فِي معرفَة الْأَصْحَاب" وأفدت مِنْهُ فَوَائِد جمة. وكل هَذِه المقابلات أثبتها فِي الهوامش. وَأثبت مَعهَا بعض الشُّرُوح اللُّغَوِيَّة وَبَعض التوضيحات. وَذكرت مَعَ كل فصل وَبَاب وفقرة مهمة المراجع الَّتِي بسطته أَو أجملته من أُمَّهَات كتب السِّيرَة والتاريخ وَالْأَخْبَار والْحَدِيث مثل مغازي الْوَاقِدِيّ وطبقات ابْن سعد وأنساب الْأَشْرَاف للبلاذري وتاريخ الطَّبَرِيّ وصحيح البُخَارِيّ والمحبر لِابْنِ حبيب والبداية وَالنِّهَايَة لِابْنِ كثير وَنِهَايَة الأرب للنويري والسيرة الحلبية وَغير ذَلِك مِمَّا يرَاهُ القاريء متناثرا فِي الهوامش.
وَلم أَتَّخِذ فِي الْكتاب رموزا من شَأْنهَا أَن تعقده. وكل مَا اتخذته فِيهِ من رموز هُوَ هَذِه العلامات الَّتِي جرى بهَا الِاصْطِلَاح فِي النشر وَالتَّحْقِيق:
و: وَجه الورقة من مخطوطة دَار الْكتب المصرية وتتبع رقمها.
ظ: ظهر الورقة من المخطوطة وتتبع رقمها أَيْضا.
: تدل هَذِه الْعَلامَة على بَدْء الصفحة التالية فِي المخطوطة وتوضع أَمَام رقمها.
" ": وَضعنَا هذَيْن القوسين دَائِما حول الْآيَات القرآنية تمييزا لَهَا.
[] واتخذنا هَاتين الحاصرتين لما سقط من المخطوطة وجلبناه من أُصُولهَا أَو فروعها أَو من مخطوطة الرِّبَاط.
وَالله -وَحده- أسأله أَن يوفقني بمنه وَكَرمه إِلَى الِاقْتِدَاء بسيرة خير خلقه وَخَاتم رسله. إِنَّه ولي الطول وَالْفضل، وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل.
شوقي ضيف
বিখ্যাত গ্রন্থটি থেকে এবং আমি এর 'আর-রাওদুল উনুফ' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি, যার লেখক সুহাইলি। এবং আমি কিতাবটিতে ছড়িয়ে থাকা হাদিসগুলোকে সহিহ বুখারি, মুসনাদে আবু দাউদ তায়ালিসি, সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ এবং মুসনাদে ইবনে হাম্বলের সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমি কিতাবটির মূল পাঠগুলোকে সাধারণত এমন দুটি শাখার সাথে মিলিয়ে দেখার ব্যাপারে যত্নবান হয়েছি যা এই কিতাব থেকেই সংগৃহীত হয়েছে; আমি ইবনে হাজমের 'জাওয়ামিউস সিরাহ' এবং ইবনে সাইয়্যিদিন নাস-এর 'উইউনুল আসার ফি আল-মাগাজি ওয়াস শামায়িল ওয়াস সিয়ার' গ্রন্থদ্বয়কে বুঝিয়েছি। আমি পূর্বেই এগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্ট করেছি এবং কীভাবে এ দুটি এই কিতাবেরই দুটি সংস্করণের মতো; একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ যা ইবনে হাজমের সংস্করণ, তবে তাতে সামান্য পরিবর্তন প্রবেশ করেছে; এবং একটি অসম্পূর্ণ সংস্করণ যা ইবনে সাইয়্যিদিন নাস-এর সংস্করণ, যাতে তিনি কিতাব থেকে উদ্ধৃত পাঠগুলো নিখুঁতভাবে এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করেছেন। আমি কিতাবের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের নাম, তাঁদের বংশপরম্পরার বিশুদ্ধতা এবং তাঁদের নামের সঠিক উচ্চারণ লেখকের 'আল-ইসতিয়াব ফি মারিফাতিল আসহাব' গ্রন্থের সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং এটি থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছি। এই সকল তুলনামূলক তথ্য আমি টীকায় উল্লেখ করেছি। এর সাথে কিছু ভাষাগত ব্যাখ্যা এবং কিছু স্পষ্টীকরণও যুক্ত করেছি। আমি প্রতিটি অধ্যায়, পরিচ্ছেদ এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদের সাথে এমন সব তথ্যসূত্র উল্লেখ করেছি যেখানে বিস্তারিত অথবা সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে; যেমন সিরাত, ইতিহাস, সংবাদ এবং হাদিসের মূল গ্রন্থসমূহ—যেমন আল-ওয়াকিদির 'মাগাজি', ইবনে সা'দের 'তাবাকাত', বালাযুরির 'আনসাবুল আশরাফ', তাবারির ইতিহাস, সহিহ বুখারি, ইবনে হাবিবের 'আল-মুহাব্বার', ইবনে কাসিরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া', নুওয়াইরির 'নিহায়াতুল আরাব', আস-সিরাহ আল-হালাবিয়্যাহ এবং অন্যান্য যা পাঠক টীকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখবেন।
আমি এই কিতাবে এমন কোনো সংকেত ব্যবহার করিনি যা একে জটিল করে তোলে। আমি এতে সংকেত হিসেবে কেবল সেই চিহ্নগুলোই ব্যবহার করেছি যা প্রকাশনা ও পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে পরিভাষা হিসেবে প্রচলিত:
ওয়া (و): এটি দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপির পাতার সম্মুখভাগ বোঝায় এবং এর পরে পৃষ্ঠার নম্বর থাকে।
যা (ظ): এটি পাণ্ডুলিপির পাতার উল্টো পিঠ বোঝায় এবং এর পরেও পৃষ্ঠার নম্বর থাকে।
/: এই চিহ্নটি পাণ্ডুলিপির পরবর্তী পৃষ্ঠার শুরু নির্দেশ করে এবং এটি নম্বরের সামনে বসানো হয়।
" ": স্বতন্ত্রভাবে চেনার জন্য আমরা কুরআনের আয়াতের দুই পাশে সর্বদা এই উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করেছি।
[] পাণ্ডুলিপি থেকে যা বাদ পড়েছে এবং আমরা যা এর মূল উৎস, শাখা উৎস অথবা রিবাত পাণ্ডুলিপি থেকে সংগ্রহ করেছি, তার জন্য আমরা এই থার্ড ব্র্যাকেট ব্যবহার করেছি।
আমি কেবল আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর করুণা ও দয়া দ্বারা আমাকে তাঁর সৃষ্টির সেরা ও সর্বশেষ রাসূলের সিরাত অনুসরণ করার তৌফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ মর্যাদা ও অনুগ্রহের অধিকারী, এবং তিনি আমার জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
শাওকি দাইফ
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
[خطْبَة الْكتاب] 1.
قَالَ الْفَقِيه الْحَافِظ أَبُو عمر يُوسُف بْن عَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّد بْن عَبْد الْبر النمري رَضِي الله عَنهُ2:
الْحَمد الله رب الْعَالمين، وحسبنا3 اللَّه وَنعم الْوَكِيل، وَصلى اللَّه على مُحَمَّد4 رَسُوله وعَلى آله5 أَجْمَعِينَ. هَذَا كتاب اختصرت6 فِيهِ ذكر النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَابْتِدَاء نبوته وَأول أمره فِي رسَالَته ومغازيه وَسيرَته فِيهَا7 لِأَنِّي ذكرت8 مولده وحاله فِي نشأته وعيونا من أخباره فِي صدر كتابي فِي الصَّحَابَة. وأفردت هَذَا10 الْكتاب لسَائِر خَبره فِي مبعثه وأوقاته صلى الله عليه وسلم. اختصرت ذَلِك من كتاب مُوسَى بْن عقبَة وَكتاب ابْن إِسْحَاق رِوَايَة ابْن هِشَام وَغَيره، وَرُبمَا ذكرت فِيهِ خَبرا لَيْسَ مِنْهُمَا. والنسق كُله على مَا رسمه ابْن إِسْحَاق. فَذكرت مَغَازِيَهُ وسيره11 على التَّقْرِيب12 والاختصار والاقتصار على الْعُيُون من ذَلِك دون الحشو والتخليط، وَإِلَى اللَّه أَرغب [فِي العون] 13 على الأمل فِيهِ، والتوفيق لما يرضيه، وَهُوَ حسبي لَا شريك لَهُ.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
[গ্রন্থের ভূমিকা] ১.
ফকিহ, হাফেজ আবু উমর ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বার আল-নামারি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ২ বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর। এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উল্লেখ, তাঁর নবুওয়াতের সূচনা, তাঁর রিসালাতের প্রারম্ভিক অবস্থা, তাঁর যুদ্ধসমূহ এবং সিরাত সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছি। কারণ আমি তাঁর জন্ম, তাঁর বেড়ে ওঠার অবস্থা এবং তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী সাহাবীদের নিয়ে রচিত আমার গ্রন্থের শুরুতে বর্ণনা করেছি। আর আমি এই গ্রন্থটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পরবর্তী সংবাদ এবং তাঁর ঘটনাবলীর জন্য নির্ধারিত করেছি। আমি এটি মুসা ইবনে উকবা-এর গ্রন্থ এবং ইবনে হিশামের বর্ণনায় ইবনে ইসহাকের গ্রন্থ ও অন্যান্য উৎস থেকে সংক্ষেপ করেছি। কখনো কখনো আমি এতে এমন সংবাদও উল্লেখ করেছি যা তাঁদের দুজনের বর্ণনায় নেই। তবে পুরো বিন্যাসটি ইবনে ইসহাক যেভাবে নির্ধারণ করেছেন সেই অনুযায়ীই রাখা হয়েছে। আমি তাঁর যুদ্ধ এবং সিরাত আলোচনা করেছি সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্ত আকারে, অপ্রয়োজনীয় কথা ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে কেবল মূল বিষয়গুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকে। আমি আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি যেন তাঁর নিকট যা প্রত্যাশা করি তা পূর্ণ হয় এবং তিনি যেন আমাকে সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করেন। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট, তাঁর কোনো শরিক নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بابٌ مِنْ خَبَرِ مَبْعَثِهِ صلى الله عليه وسلم 1
أَي الْقُرْآن أنزل أول أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ التَّمَّارُ، قَالَ: حَدَّثَنَا2 أَبُو دَاوُد سُلَيْمَان بن الأشعت السِّجِسْتَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: أَيُّ الْقُرْآنِ أنزل أول؟ فَقَالَ: سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ؛ أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قَبْلُ: {يَا أَيهَا المدثر} أَوِ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خلق} ؟ فَقَالَ جَابِرٌ: أَلا أُحَدِّثُكُمْ بِمَا حَدَّثَنِي بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنِّي جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ شَهْرًا فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِي نَزَلْتُ فَاسْتَبْطَنْتُ بَطْنَ الْوَادِي، فَنُودِيتُ فَنَظَرْتُ أَمَامِي وَخَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَشِمَالِي فَلَمْ أَرَ شَيْئًا، ثُمَّ نَظَرْتُ إِلَى السَّمَاء، فَإِذا هُوَ5
--------------------------------------------
অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুয়ত প্রাপ্তির সংবাদ সম্পর্কে 1
কুরআনের কোন অংশ সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুমিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন বকর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল রাজ্জাক আত-তাম্মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহমুদ বিন খালিদ আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওমর বিন আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযায়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করলাম: কুরআনের কোন অংশ সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল? তিনি বললেন: আমি জাবির বিন আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এর আগে কুরআনের কোন অংশ অবতীর্ণ হয়েছিল: {হে বস্ত্রাবৃত!} না কি {পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন}? জাবির (রা.) বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যা বর্ণনা করেছেন, আমি কি তোমাদের তা বর্ণনা করব না? তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি হেরা গুহায় এক মাস অবস্থান (ইতিকাফ) করলাম। যখন আমার অবস্থানকাল শেষ হলো, আমি নিচে নেমে আসলাম এবং উপত্যকার মাঝখানে পৌঁছালাম। তখন আমাকে ডাকা হলো, আমি আমার সামনে, পিছনে, ডানে এবং বামে তাকালাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না। তারপর আমি আকাশের দিকে তাকালাম, হঠাৎ দেখলাম তিনি (জিবরাঈল) "5
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عَلَى الْعَرْشِ فِي الْهَوَاءِ، فَأَخَذَتْنِي رَجْفَةٌ، فَأَتَيْتُ خَدِيجَةَ، فَأَمَرْتُهُمْ فَدَثَّرُونِي، ثُمَّ صَبُّوا عَلَيَّ الْمَاءَ، فَأَنْزَلَ الله عز وجل: {يَا أَيهَا الْمُدَّثِّرُ، قُمْ فَأَنْذِرْ، وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ، وثيابك فطهر، وَالرجز فاهجر} ".
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي إِسْرَائِيلُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: أَتَى نَفَرٌ من قُرَيْش إمرأة كاهنة، قَالُوا: أَخْبِرِينَا بِأَقْرَبِنَا شَبَهًا بِصَاحِبِ هَذَا الْمَقَامِ، قَالَتْ: إِنْ جَرَرْتُمْ عَلَى السَّهْلَةِ عَبَاءَةً وَمَشَيْتُمْ عَلَيْهَا أَنْبَأْتُكُمْ بِأَقْرَبِكُمْ مِنْهُ شَبَهًا، فَجَرُّوا عَلَيْهَا عَبَاءَةً، ثُمَّ مَشَوْا عَلَيْهَا، فَرَأَتْ أَثَرَ قَدَمِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: هَذَا وَاللَّهِ أَقْرَبُكُمْ شَبَهًا، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنه: فَمَكَثُوا بَعْدَ ذَلِكَ عِشْرِينَ سَنَةً، ثُمَّ بُعِثَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُعَاذٍ الضَّبِّيُّ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ6:
--------------------------------------------
আরশের উপর শূন্যমন্ডলে, তখন আমার মধ্যে এক কম্পন সৃষ্টি হলো। আমি খাদিজার নিকট আসলাম এবং তাদের আদেশ করলাম, ফলে তারা আমাকে চাদর দ্বারা জড়িয়ে দিল। এরপর তারা আমার উপর পানি ঢালল। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল অবতীর্ণ করলেন: {হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন, আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন, এবং আপনার পোশাক পবিত্র করুন, আর অপবিত্রতা বর্জন করুন}।
আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসরাঈল আমার নিকট সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুরাইশদের একটি দল এক নারী গণকের নিকট আসলো। তারা বলল: এই মাকামের (স্থানের) অধিকারীর সাথে আমাদের মধ্যে কার মিল সবচেয়ে বেশি, তা আমাদের জানিয়ে দিন। সে বলল: যদি আপনারা নরম মাটির ওপর একটি চাদর টেনে নিয়ে যান এবং তার ওপর দিয়ে হাঁটেন, তবে আমি আপনাদের জানিয়ে দেব কার মিল তার সাথে সবচেয়ে বেশি। তারা তার ওপর চাদর টেনে নিয়ে গেল, তারপর তারা তার ওপর দিয়ে হাঁটল। তখন সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পায়ের ছাপ দেখতে পেল। সে বলল: আল্লাহর কসম, এই ব্যক্তির মিলই আপনাদের মধ্যে তার সাথে সবচেয়ে বেশি। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: এরপর তারা বিশ বছর অবস্থান করল, অতঃপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হলেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে মুয়ায আদ-দাব্বি আমাদের নিকট সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ بِمَكَّةَ لَحَجَرًا يُسَلِّمُ عَلَيَّ لَيَالِيَ بُعِثْتُ، إِنِّي لأَعْرِفُهُ الآنَ، وسنفرد لأعلام نبوته1 كتابا إِن شَاءَ اللَّه.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرِ بْنِ دَاسَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْخَثْعَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ: [قَالَ2] : حَدثنَا ابْن جريج قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ3:
لَمَّا بُنِيَتِ الْكَعْبَةُ ذَهَبَ/ عَبَّاسٌ4 وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَنْقُلانِ الْحِجَارَةَ، فَقَالَ عَبَّاسٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: اجْعَلْ إِزَارَكَ عَلَى رَقَبَتِكَ [يَقِيكَ] 5 مِنَ الْحِجَارَةِ، فَفَعَلَ، فَخَرَّ إِلَى الأَرْضِ وَطَمَحَتْ6 عَيْنَاهُ إِلَى السَّمَاءِ، ثُمَّ قَامَ وَقَالَ: "إِزَارِي إِزَارِي"، فَشَدَّهُ عَلَيْهِ7.
وَفِي حَدِيثِ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي هَذَا الْخَبَرِ، قَالَ:
خَرَّ مُحَمَّدٌ، فَانْبَطَحَ. قَالَ الْعَبَّاسُ: فَجِئْتُ أَسْعَى إِلَيْهِ، وَأَلْقَيْتُ عَنِّي حَجَرِي. قَالَ: وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ، قُلْتُ: مَا شَأْنُكَ؟ قَالَ: فَقَامَ وَأَخَذَ إِزَارَهُ، وَقَالَ: "نُهِيتُ أَنْ أَمْشِيَ عُرْيَانًا". قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: قَالَ أَبِي: فَإِنِّي أَكْتُمُهَا النَّاسَ مَخَافَةَ أَنْ يَقُولُوا مَجْنُونٌ.
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُنْذِرٍ الثَّوْرِيِّ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ فِي قَوْلِهِ عز وجل: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بعده} قَالَ:
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মক্কায় একটি পাথর আছে, যা আমার নবুওয়াত প্রাপ্তির রাতগুলোতে আমাকে সালাম দিত; আমি এখনো সেটিকে চিনি। আর আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা তাঁর নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ নিয়ে আলাদা একটি গ্রন্থ সংকলন করব।" ১
আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন বকর বিন দাসাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন হাসান আল-খাসআমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: [তিনি বলেছেন ২]: ইবনে জুরাইজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর বিন দীনার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন ৩:
যখন কাবা নির্মিত হচ্ছিল, তখন আব্বাস ৪ এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাথর বহন করে নিয়ে আসছিলেন। আব্বাস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: "তোমার তহবন্দটি তোমার ঘাড়ের ওপর রাখো, যা তোমাকে পাথর (এর ঘর্ষণ) থেকে [রক্ষা করবে] ৫।" তিনি তাই করলেন। এরপর তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন এবং তাঁর চোখ আকাশের দিকে স্থির হয়ে গেল ৬। তারপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "আমার তহবন্দ! আমার তহবন্দ!" এরপর তিনি সেটি নিজের ওপর শক্ত করে বাঁধলেন ৭।
আর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত ইকরিমার হাদিসে এই বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেছেন:
মুহাম্মদ মাটিতে পড়ে উপুড় হয়ে গেলেন। আব্বাস বললেন: আমি দৌড়ে তাঁর কাছে গেলাম এবং আমার পাথরটি ফেলে দিলাম। তিনি বললেন: তিনি (রাসূল) আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আমি বললাম: আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: এরপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর তহবন্দ নিলেন ও বললেন: "আমাকে উলঙ্গ হয়ে হাঁটতে নিষেধ করা হয়েছে।" ইবনে আব্বাস বললেন: আমার পিতা বলেছেন: আমি এটি মানুষের কাছে গোপন রাখতাম এই ভয়ে যে, পাছে তারা তাঁকে পাগল বলে ফেলে।
এবং আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন বকর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান বিন আবু শাইবাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি মুনজির আস-সাওরি থেকে, তিনি রাবি' বিন খুসাইম থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যেমনিভাবে আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং তাঁর পরবর্তী নবীগণের প্রতি।" তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أَوْحَى [اللَّهُ1] إِلَيْهِ كَمَا أَوْحَى إِلَى جَمِيعِ النَّبِيِّينَ.
وَفِي حَدِيثِ عَائِشَةَ رضي الله عنها مِنْ رِوَايَةِ مَالِكٍ، رحمه الله، وَغَيْرِهِ2:
أَنَّ الْوَحْيَ كَانَ يَأْتِيهِ أَحْيَانًا مِثْلَ صَلْصَلَةِ3 الْجَرَسِ، وَأَحْيَانًا يُكَلِّمُهُ الْملك، وَأَحْيَانا يشْتَد عَلَيْهِ، فَيَتَفَصَّدُ4 جَبِينُهُ فِي الْيَوْمِ الْبَارِدِ عَرَقًا.
وَقَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ: كَانَ إِذَا أُوحِيَ إِلَيْهِ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ وَضَعَتْ جِرَانَهَا5.
وَفِي حَدِيثِ عُمَرَ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ، فَيُسْمَعُ لَهُ دَوِيٌّ كَدَوِيِّ النَّحْلِ.
وَقد أشبعنا هَذَا الْمَعْنى6 فِي كتاب التَّمْهِيد عِنْد ذكر حَدِيثِ عَائِشَةَ رضي الله عنها الْمَذْكُور. وَالْحَمْد لله.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَة، رضي الله عنها، قَالَت: 7أول مَا بديء بِهِ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ8، ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلاءُ9، فَكَانَ يَأْتِي حِرَاءً، فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ وَهُوَ10 التَّعَبُّدُ اللَّيَالِيَ11 ذَوَاتِ الْعَدَدِ، وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَة، فتزوده
--------------------------------------------
[আল্লাহ] তাঁর প্রতি ওহী পাঠিয়েছেন যেমন তিনি সকল নবীর প্রতি ওহী পাঠিয়েছিলেন।
আর আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) ও অন্যদের হাদীসে রয়েছে:
ওহী কখনো তাঁর নিকট ঘণ্টার শব্দের মতো আসত, কখনো ফেরেশতা তাঁর সাথে কথা বলতেন, আর কখনো ওহীর চাপ তাঁর ওপর এত তীব্র হতো যে, প্রচণ্ড শীতের দিনেও তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরতে থাকত।
উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর বলেন: যখন তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতো এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর উটনীর ওপর আরোহী থাকতেন, তখন সেটি তার ঘাড় মাটিতে রেখে বসে পড়ত।
উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন: যখন তাঁর ওপর ওহী নাযিল হতো, তখন তাঁর নিকট মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শোনা যেত।
আমরা এই বিষয়টি আমাদের 'আত-তামহীদ' কিতাবে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত উল্লেখিত হাদীসের আলোচনার সময় বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু দাউদ ইবনু সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের নিকট যুহরী থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর আমাকে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী আসার সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। অতঃপর তাঁর নিকট নির্জনতা পছন্দনীয় করা হলো। তিনি হেরা গুহায় আসতেন এবং সেখানে 'তাহান্নুছ' তথা নির্দিষ্ট সংখ্যক রাত ইবাদত করতেন। এর জন্য তিনি পাথেয় সাথে নিতেন। এরপর তিনি খাদীজার নিকট ফিরে আসতেন, আর তিনি তাঁকে পুনরায় পাথেয় দিয়ে দিতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
لِمِثْلِهَا، حَتَّى فَجَأَهُ1 الْحَقُّ، وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ فَجَاءَ الْمَلَكُ2 فَقَالَ: اقْرَأْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَقُلْتُ: "مَا أَنا بقارىء، فَأَخَذَنِي، فَغَطَّنِي 3 حَتَّى بَلَغَ مِنِّي 4 الْجَهْدُ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَقَالَ اقْرَأْ، فَقلت: مَا أَنا بقاريء، فأخذني، فَغطّى الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدُ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَقَالَ: اقْرَأْ، فَقُلْتُ: مَا أَنا بقاريء، فَأَخَذَنِي، فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ، حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدُ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي، فَقَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} حَتَّى بلغ {علم الْإِنْسَان مَا لم يعلم} . قَالَ: فَرَجَعَ بِهَا تَرْجُفُ بَوَادِرُهُ 5، حَتَّى دَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ فَقَالَ: زَمِّلُونِي 6، فَزَمَّلُوهُ، حَتَّى ذَهَبَ [عَنْهُ] 7 الرَّوْعُ، فَقَالَ يَا خَدِيجَةُ: مَا لِي؟ وَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ. وَقَالَ: قَدْ 8 خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي"، فَقَالَتْ لَهُ: كَلا، أَبْشِرْ، فَوَاللَّهِ لَا يُخْزِيكَ اللَّهُ [أَبَدًا] 9 إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَصْدُقُ الْحَدِيثَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ10 [وَتَكْسِبُ11 الْمَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ] ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ، ثُمَّ انْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قُصَيٍّ، وَهُوَ ابْن عَم أخي أَبِيهَا، وَكَانَ امْرَءًا تَنَصَّرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَكَانَ يَكْتُبُ الْكِتَابَ الْعَرَبِيَّ12 فَكَتَبَ بِالْعَرَبِيَّةِ مِنَ الإِنْجِيلِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكْتُبَ، وَكَانَ شَيْخًا [كَبِيرًا] 13 قَدْ عَمِيَ فَقَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ: أَيِ ابْنَ عَمِّي اسْمَعْ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ. فَقَالَ وَرَقَةُ بْنُ نَوْفَلٍ: يَا بن أَخِي مَا14 تَرَى؟ فَأَخْبَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَا رَأَى15 فَقَالَ [لَهُ] 16 وَرَقَةُ: هَذَا الناموس17
--------------------------------------------
এরকমই চলছিল, যতক্ষণ না তাঁর কাছে সত্য উপস্থিত হলো, এমতাবস্থায় যে তিনি হেরা গুহায় ছিলেন। অতঃপর ফেরেশতা এলেন এবং বললেন: পড়ুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তখন আমি বললাম: "আমি পড়তে জানি না।" এরপর তিনি আমাকে ধরলেন এবং আমাকে জোরে চাপ দিলেন এমনকি আমি অত্যন্ত শ্রান্ত হয়ে পড়লাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি পড়তে জানি না। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে ধরে জোরে চাপ দিলেন এমনকি আমি অত্যন্ত শ্রান্ত হয়ে পড়লাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি পড়তে জানি না। এরপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে ধরে জোরে চাপ দিলেন এমনকি আমি অত্যন্ত শ্রান্ত হয়ে পড়লাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: {পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} যে পর্যন্ত {তিনি মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না}। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি এই আয়াতগুলো নিয়ে এমন অবস্থায় ফিরলেন যে তাঁর কাঁধের মাংসপেশি কাঁপছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি খাদিজার নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো, আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো। অতঃপর তাঁরা তাঁকে আবৃত করলেন, এমনকি তাঁর ভয় দূর হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন: হে খাদিজা, আমার কী হলো? এবং তিনি তাঁকে সব ঘটনা জানালেন। তিনি আরও বললেন: "আমি আমার জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করছি।" তখন খাদিজা তাঁকে বললেন: কখনোই না, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, মেহমানদারি করেন এবং হকের পথে আসা বিপদাপদে সাহায্য করেন। অতঃপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে রওনা হলেন এবং তাঁকে ওয়ারাফা বিন নওফাল বিন আসাদ বিন আব্দুল উজ্জা বিন কুসাইয়ের কাছে নিয়ে এলেন, যিনি ছিলেন খাদিজার চাচার ছেলে। তিনি জাহেলিয়াত যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি আরবি লিপিতে কিতাব লিখতেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর ইচ্ছায় ইনজিল থেকে আরবিতে যা লিখার তা লিখতেন। তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ ছিলেন এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তখন খাদিজা তাঁকে বললেন: হে আমার চাচাতো ভাই, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। ওয়ারাফা বিন নওফাল বললেন: হে আমার ভাতিজা, তুমি কী দেখছ? অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন তা তাঁকে জানালেন। তখন ওয়ারাফা তাঁকে বললেন: এটি সেই নামুস (জিবরাঈল)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الَّذِي أُنْزِلَ1 عَلَى مُوسَى، يَا لَيْتَني أكون فِيهَا حَيًّا2 حِينَ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَوَ مُخْرِجِيَّ هُمْ؟ فَقَالَ وَرَقَةُ بْنُ نَوْفَلٍ: نَعَمْ إِنَّهُ لَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِمَا جِئْتَ بِهِ إِلا عُودِيَ وَأُوذِيَ وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا3. ثمَّ لم يلبت4 وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ.
وَفَتَرَ الْوَحْيُ فَتْرَةً5، حَتَّى حَزِنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فِيمَا بَلَغَنَا حُزْنًا شَدِيدًا، غَدَا مِنْهُ مرَارًا كي يتردى من رُؤُوس شَوَاهِقِ الْجِبَالِ، فَكُلَّمَا أَوْفَى بِذِرْوَةٍ كَيْ يُلْقِيَ بِنَفْسِهِ مِنْهَا تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ عليه السلام فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ حَقًّا، فَيَسْكُنُ لِذَلِكَ جَأْشُهُ6، وَتَقَرُّ7 نَفسه، فَإِذَا [طَالَتْ] 8 عَلَيْهِ فَتْرَةُ الْوَحْيِ غَدَا لِمِثْلِ ذَلِكَ، فَإِذَا أَوْفَى ذِرْوَةً تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ عليه السلام، فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا [أَبُو] 9 دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ. قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بَشِيرٍ10، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنِ ابْن إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، دَخَلَ حَدِيثُ بَعضهم فِي بعض. قَالَ:11:
--------------------------------------------
যা অবতীর্ণ হয়েছে১ মূসার ওপর; হায়! আমি যদি সেই সময় জীবিত থাকতাম২ যখন আপনার কওম আপনাকে বের করে দেবে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তারা কি আমাকে বের করে দেবে? ওরাকা ইবনে নওফল বললেন: হ্যাঁ, আপনি যা নিয়ে এসেছেন তা নিয়ে যে কেউ এসেছে তার সাথেই শত্রুতা ও কষ্ট দেওয়া হয়েছে। যদি আমি আপনার সেই দিনটি পাই, তবে আমি আপনাকে প্রবলভাবে সাহায্য করব৩। এরপর ওরাকা বেশি দিন দেরি করলেন না৪ এবং মৃত্যুবরণ করলেন।
এরপর ওহী আসা কিছুকাল বন্ধ থাকে৫, এমনকি আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। এই ব্যথার কারণে তিনি বারবার সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় যেতেন যাতে সেখান থেকে নিজেকে ফেলে দিতে পারেন। যখনই তিনি কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠতেন নিজেকে ফেলে দেওয়ার জন্য, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সামনে প্রকাশিত হতেন এবং বলতেন: হে মুহাম্মদ, আপনি সত্যিই আল্লাহর রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা প্রশমিত হতো৬ এবং তিনি শান্ত হতেন৭। যখন ওহী বন্ধ থাকার সময় ৮ দীর্ঘ হতো, তিনি পুনরায় সেরূপ করতেন এবং যখনই পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সামনে প্রকাশিত হতেন এবং তদ্রূপ কথা বলতেন।
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু৯ দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনে ইসমাঈল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। আবু দাউদ বলেন: এবং মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বাশীর১০ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। আবু দাউদ বলেন: এবং নসর ইবনে আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আহমদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসরাঈল ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন; তাদের একজনের হাদিস অন্যজনের সাথে মিলে গেছে। তিনি বলেছেন১১:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
كَانَ لِكُلِّ قَبِيلٍ مِنَ الْجِنِّ مَقْعَدٌ مِنَ السَّمَاءِ يَسْتَمِعُونَ فِيهِ، فَلَمَّا رُمُوا بِالشُّهُبِ، وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ قَالُوا: مَا هَذَا إِلا لِشَيْءٍ حَدَثَ فِي الأَرْضِ، وَشَكَوْا ذَلِكَ إِلَى إِبْلِيسَ، فَقَالَ: مَا هَذَا إِلا لِشَيْءٍ1 حَدَثَ فِي الأَرْضِ، فَائْتُونِي مِنْ تُرْبَةِ2 كُلِّ أَرْضٍ، فَانْطَلَقُوا يَضْرِبُونَ مَشَارِقَ الأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا، يَبْتَغُونَ عِلْمَ ذَلِكَ، فَأَتَوْهُ مِنْ تُرْبَةِ كُلِّ أَرْضٍ، فَكَانَ يَشُمُّهَا وَيَرْمِي بِهَا، حَتَّى أَتَاهُ3 الَّذِينَ تَوَجَّهُوا إِلَى تِهَامَةَ بِتُرْبَةٍ مِنْ تُرْبَةِ مَكَّةَ، فشمها، فَقَالَ: من هَا هُنَا يَحْدُثُ الْحَدَثُ. فَنَظَرَ، فَإِذَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَدْ بُعِثَ، فَانْطَلَقُوا فَوَجَدُوا رَسُولَ اللَّهِ وَطَائِفَةً مَعَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ بِنَخْلَةَ4 عَامِدِينَ إِلَى سُوقِ عُكَاظٍ، وَهُوَ يُصَلِّي بِهِمْ صَلاةَ الْفَجْرِ5. فَلَمَّا سَمِعُوا الْقُرْآنَ اسْتَمَعُوا لَهُ، فَقَالُوا: هَذَا وَاللَّهِ الَّذِي حَالَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ، فَوَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ، فَقَالُوا: يَا قَوْمَنَا إِنَّا سمعنَا قُرْآنًا عجبا يهدي إِلَى الرشد. وَذَكَرَ تَمَامَ الْخَبَرِ6.
قَالَ أَبُو دَاوُدَ7: وَحَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ8، عَنْ خَالِدٍ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: حَدثنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ عَنِ ابْنِ9 إِدْرِيسَ، كِلاهُمَا عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، قَالَ:
لَمَّا بُعِثَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم رُجِمَتِ الشَّيَاطِينُ بِنُجُومٍ لَمْ تَكُنْ تُرْجَمُ بِهَا مِنْ قَبْلُ، فَأَتَوْا عَبْدَ يَا لَيْلَ10 ابْنَ عَمْرٍو الثَّقَفِيَّ فَقَالُوا: إِنَّ النَّاسَ قَدْ فَزِعُوا وَأَعْتَقُوا رَقِيقَهُمْ وَسَيَّبُوا أَنْعَامَهُمْ لِمَا رَأَوْا فِي النُّجُومِ، فَقَالَ لَهُمْ: وَكَانَ رَجُلا أَعْمَى: لَا تَعْجَلُوا وَانْظُرُوا، فَإِنْ كَانَتِ النُّجُومُ الَّتِي تُعْرَفُ فَهُوَ عِنْدَ فَنَاءِ النَّاسِ، وَإِنْ كَانَتْ لَا تُعْرَفُ فَهُوَ من حدث، فنظروا،
--------------------------------------------
জিন্নদের প্রত্যেক গোত্রের জন্য আসমানে বসার নির্দিষ্ট স্থান ছিল যেখান থেকে তারা কান পেতে সংবাদ শুনত। অতঃপর যখন তাদের প্রতি উল্কাপিন্ড নিক্ষিপ্ত করা হলো এবং তাদের ও আসমানের সংবাদের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করা হলো, তখন তারা বলল: "এটি পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া কোনো বিশেষ ঘটনার কারণেই হয়েছে।" তারা এ বিষয়ে ইবলিসের কাছে অভিযোগ করল। সে বলল: "এটি পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার কারণেই হয়েছে। সুতরাং তোমরা আমার কাছে প্রতিটি ভূখণ্ডের মাটি নিয়ে এসো।" তারা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ল এবং এর কারণ অনুসন্ধান করতে লাগল। তারা তাকে প্রতিটি ভূখণ্ডের মাটি এনে দিল। সে তা শুঁকছিল এবং ছুড়ে ফেলে দিচ্ছিল। পরিশেষে যারা তিহামার দিকে গিয়েছিল, তারা মক্কার মাটি নিয়ে তার কাছে উপস্থিত হলো। সে তা শুঁকল এবং বলল: "এখান থেকেই সেই ঘটনাটি ঘটছে।" সে লক্ষ্য করল এবং দেখল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন। তারা রওনা হলো এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর একদল সাহাবীকে নাখলা নামক স্থানে পেলেন, যারা উকায বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি তখন তাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। যখন তারা কুরআন শুনল, তখন তারা তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করল। তারা বলল: "আল্লাহর কসম! এটিই সেই বিষয় যা আমাদের ও আসমানের খবরের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে।" এরপর তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল। তারা বলল: "হে আমাদের সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথের দিশা দেয়।" এবং তিনি পূর্ণ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
আবু দাউদ বলেন: ওয়াহাব ইবনে বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ থেকে। আবু দাউদ বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট ইবনে ইদরিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে হুসাইন থেকে, তিনি আমের আশ-শা'বী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হলেন, তখন শয়তানদেরকে এমন সব নক্ষত্র দ্বারা আঘাত করা হতে লাগল যা দিয়ে আগে করা হতো না। তখন তারা সাকিফ গোত্রের আবদ ইয়া লাইল ইবনে আমর-এর কাছে এল। তারা বলল: "নক্ষত্ররাজির এই অবস্থা দেখে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং তারা তাদের দাসদের মুক্ত করে দিচ্ছে ও গবাদিপশু ছেড়ে দিচ্ছে।" সে ছিল একজন অন্ধ ব্যক্তি; সে তাদের বলল: "তোমরা তাড়াহুড়ো করো না, বরং অপেক্ষা করো। যদি এগুলো সেই পরিচিত নক্ষত্র হয় যা চেনা যায়, তবে তা মানুষের বিনাশের সময়। আর যদি অপরিচিত নক্ষত্র হয়, তবে এটি নতুন কোনো ঘটনার কারণে হচ্ছে।" অতঃপর তারা লক্ষ্য করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুরারু ফী ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَإِذَا هِيَ نُجُومٌ لَا تُعْرَفُ. فَقَالُوا: هَذَا1 أَمْرٌ حَدَثَ، فَلَمْ يَلْبَثُوا حَتَّى سَمِعُوا بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُد سُلَيْمَان بن الأشعت، قَالَ: أخبرنَا أَبُو عَاصِم خسيس2 بْنُ أَصْرَمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ جَابر، قَالَ3: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِ، قَالَ: "بَيْنَا أَنَا أَمْشِي إِذْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ، فَرَفَعْتُ رَأْسِي، فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءٍ جَالِسًا 4 عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَجَثِثْتُ 5 مِنْهُ رُعْبًا، فَرَجَعْتُ، فَقُلْتُ: زَمِّلُونِي دَثِّرُونِي" فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ جلّ: {يَا أَيهَا المدثر} إِلَى قَوْلِهِ: {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} وَهِيَ الأَوْثَانُ.
وَقَالَ شُعْبَةُ عَنْ مُغِيرَةَ6، عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ7: نَزَلَتْ عَلَيْهِ {يَا أَيهَا المدثر} وَهُوَ فِي قَطِيفَةٍ.
وَقَالَ شَيْبَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ: أَوَّلُ سُورَةٍ أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ: {اقْرَأْ باسم رَبك الَّذِي خلق} .
وَهُوَ قَوْلُ عَائِشَةَ وَعُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ وَالْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ وَعِكْرِمَةَ وَمُجَاهِدٍ وَالزهْرِيّ.
--------------------------------------------
হঠাৎ সেগুলো অপরিচিত তারকাসমূহ হয়ে উঠল। তখন তারা বলল: “এটি১ একটি নতুন ঘটনা যা ঘটেছে।” এরপর তারা বেশি সময় অপেক্ষা করতে না করতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদ শুনতে পেল।
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে বকর আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআছ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আসিম খুসাইস২ ইবনে আসরাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন৩: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওহী স্থগিত থাকার সময় সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: “আমি যখন হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনলাম। আমি আমার মাথা উপরে তুললাম এবং দেখলাম হেরা গুহায় যে ফেরেশতা আমার কাছে এসেছিলেন, তিনি আসমান ও জমিনের মাঝখানে একটি কুরসিতে বসে আছেন৪। আমি তাঁকে দেখে আতঙ্কে ভীত-সন্ত্রস্ত৫ হয়ে পড়লাম। এরপর ফিরে এসে বললাম: ‘আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো’।” তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাযিল করলেন: {হে বস্ত্রাবৃত!} থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং অপবিত্রতা বর্জন করো}। আর তা (রুজয) হলো মূর্তিসমূহ।
শু’বাহ মুগীরাহ৬ থেকে এবং তিনি ইবরাহীম নাখয়ী৭ থেকে বর্ণনা করেন যে: তাঁর ওপর ‘হে বস্ত্রাবৃত’ সূরাটি নাযিল হয়েছিল যখন তিনি একটি পশমী চাদরে আবৃত ছিলেন।
শায়বান আমাশ থেকে এবং তিনি ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেন যে: তাঁর ওপর প্রথম যে সূরাটি নাযিল হয়েছিল তা হলো: {পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন}।
এটিই আয়েশা, উবাইদ ইবনে উমাইর, মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর, হাসান বসরী, ইকরিমা, মুজাহিদ এবং যুহরীর অভিমত।
--------------------------------------------