(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
كيف تنصر نبيك صلى الله عليه وسلم القسم: السيرة النبوية
الكتاب: كيف تنصر نبيك صلى الله عليه وسلم
المؤلف: نوال بنت عبد العزيز العيد
الناشر: دار الحضارة للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م
عدد الصفحات: 95
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ربيع الأول 1444
আপনি কীভাবে আপনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করবেন বিভাগ: সীরাতুন নবী
গ্রন্থ: আপনি কীভাবে আপনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করবেন
লেখিকা: নাওয়াল বিনতে আব্দুল আজীজ আল-ঈদ
প্রকাশক: দারুল হাদারা প্রকাশনী ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله ذي القدرة والجلال، والنعم السابغة والإفضال، الذي منّ علينا بمعرفته، وهدانا إلى الإقرار بألوهيته، وجعلنا من أمة خاتم النبيين، السامي بفضله على سائر العالمين، الطاهر الأعراق، الشريف الأخلاق، الذي قال الله الكريم مخاطبة له في الذكر الحكيم: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} وقال عن نصرته لدينه: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ} صلى الله عليه وسلم، وأزلف منزلته لديه، وعلى إخوانه وأقربيه، وصحابته الأخيار، وتابعيه، وسلم عليه وعليهم أجمعين إلى يوم الدين ..
أما بعد،، فإن الله هدانا بنبيّه محمد صلى الله عليه وسلم، وأخرجنا به من الظلمات إلى النور، وآتانا ببركة رسالته، ويُمن سفارته خيري الدنيا والآخرة، وكان من ربه بالمنزلة العليا، وفي كتاب الله العزيز آيات كثيرة مفصحة بجميل ذكره صلى الله عليه وسلم، وعدِّ محاسنه، وتعظيم أمره وتنويه قدره، فمن ذلك ما قاله سبحانه: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} وقد جمع له سبحانه في هذه الآية ضروبًا من رُتب الأثرة، وجملة أوصاف
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ক্ষমতা ও মহিমার অধিকারী এবং অঢেল নিয়ামত ও অনুগ্রহের দাতা; যিনি তাঁর পরিচয় প্রদানের মাধ্যমে আমাদের ধন্য করেছেন, তাঁর উলুহিয়্যাত বা উপাস্যত্ব স্বীকার করার হিদায়াত দিয়েছেন এবং আমাদের সর্বশেষ নবীর উম্মতভুক্ত করেছেন। তিনি আপন শ্রেষ্ঠত্বে তামাম সৃষ্টিজগতের ওপর সমুন্নত, পবিত্র বংশজাত এবং সুমহান চরিত্রের অধিকারী। আল্লাহ করিম কুরআন মাজিদে তাঁকে সম্বোধন করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।" আর তাঁর দ্বীনের বিজয় সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।" তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহ তাঁর সান্নিধ্যে তাঁর মর্যাদাকে উচ্চতর করুন। আরও রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ভাইদের ওপর, তাঁর আত্মীয়স্বজন, তাঁর পুণ্যবান সাহাবীগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপর; কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে আমাদের হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাঁর উসিলায় আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন। তাঁর রিসালাতের বরকতে এবং তাঁর দূতিয়ালির কল্যাণে আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করেছেন। তাঁর রবের নিকট তিনি ছিলেন সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তম আলোচনা, তাঁর গুণাবলির বর্ণনা, তাঁর সুমহান মর্যাদা এবং তাঁর উচ্চ আসনের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তারই অংশ হিসেবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।" এই আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব এবং বহুবিধ গুণাবলি একত্রিত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
من المِدْحة، فجعله شاهدًا على أمّته بإبلاغهم الرسالة، فتحملها في الدنيا، ويؤديها في الآخرة، يقول تعالى: {لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} ومبشّرًا لأهل طاعته، ونذيرا لأهل معصيته، وداعيًا إلى توحيده وعبادته، وسراجًا منيرًا يستضاء به في ظلمات الجهل والغواية، ويهتدي بأنواره إلى مناهج الرشد والهداية، وقد وصفه ربه بهذه الآية في التوراة وزيادة، «حرز للأميّين
(1)، أنت عبدي ورسولي سميّتك المتوكّل، ليس بفظّ، ولا غليظ، ولا سخاب
(2) في الأسواق، ولا يدفع بالسيئة السيئة، ولكن يعفو، ويغفر، ولن يقبضه الله حتى يقيم به الملّة العوجاء بأن يقولوا «لا إله إلا الله» ويفتح به أعينًا عميًا، وآذانًا صمًا، وقلوبنا غلفًا».
بل من فضيلته عند الله أن جعل طاعته طاعة لله، فقال {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} وأقسم ربه بحياة رسوله صلى الله عليه وسلم، وله سبحانه أن يقسم بما شاء من خلقه، وليس ذلك لأحد منهم، يقول ابن عبّاس: «ما خلق الله، وما ذرأ، وما برأ نفسًا أكرم عليه من محمد صلى الله عليه وسلم، وما سمعت الله أقسم بحياة أحد غيره، قال تعالى: {لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي
--------------------------------------------
প্রশংসার অংশ থেকে; অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর উম্মতের উপর সাক্ষী বানিয়েছেন তাদের নিকট রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে। সুতরাং তিনি দুনিয়াতে এর দায়িত্ব বহন করেছেন এবং আখিরাতে তা সম্পাদন করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হন}। এবং তিনি তাঁর আনুগত্যকারীদের জন্য সুসংবাদদাতা, নাফরমানদের জন্য সতর্ককারী, তাঁর তাওহীদ ও ইবাদতের দিকে আহ্বানকারী এবং এমন এক উজ্জ্বল প্রদীপ যার মাধ্যমে মূর্খতা ও গোমরাহির অন্ধকারে আলো গ্রহণ করা হয় এবং যার নূরের সাহায্যে সঠিক পথ ও হেদায়েতের পথে পরিচালিত হওয়া যায়। তাঁর প্রতিপালক তাওরাতে এই আয়াত ও অতিরিক্ত কিছু গুণের মাধ্যমে তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন: «উম্মীদের
(১) জন্য এক রক্ষাকবচ, আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল, আমি আপনার নাম রেখেছি 'আল-মুতাওয়াক্কিল' (নির্ভরকারী); তিনি কর্কশ নন, কঠোর নন, বাজারে শোরগোলকারী
(২) নন, মন্দের বিনিময়ে মন্দ করেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু ঘটাবেন না, যতক্ষণ না তিনি তাঁর মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে (ধর্মাদর্শকে) এই কথা বলানোর মাধ্যমে সোজা করে দেন যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' এবং তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চোখসমূহ, বধির কানসমূহ ও আবৃত অন্তরসমূহ খুলে দেন»।
বরং আল্লাহর নিকট তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম দিক হলো এই যে, তিনি তাঁর আনুগত্যকে আল্লাহরই আনুগত্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল}। এবং তাঁর প্রতিপালক তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের কসম খেয়েছেন। আর মহান আল্লাহর জন্য তাঁর সৃষ্টির যা ইচ্ছা তা দিয়েই কসম খাওয়ার অধিকার রয়েছে, কিন্তু তাঁর সৃষ্টির কারো জন্য তা বৈধ নয়। ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: «আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো প্রাণ সৃষ্টি করেননি, অস্তিত্ব দান করেননি এবং তৈরি করেননি। আমি শুনিনি যে আল্লাহ তিনি ছাড়া অন্য কারো জীবনের কসম খেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার জীবনের শপথ, নিশ্চয়ই তারা...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ}» وقد تضمنت سورة الضحى من كرامة الله تعالى لمحمد صلى الله عليه وسلم، وتنويهه به، وتعظيمه إياه خمسة وجوه:
الأول: القسم له عمّا أخبره به من حاله بقوله: {وَالضُّحَى (1) وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَى} أي: وربّ الضحى، وهذا من أعظم درجات المبرّة ..
الثاني: بيان مكانته عنده، وحظوته لديه بقوله: {مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَى} أي: ما تركك وأبغضك بعد أن اصطفاك وأحبّك ..
الثالث: {وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَكَ مِنَ الْأُولَى} أي: كل حالة متأخرة من أحوالك فإن لها الفضل على الحالة السابقة، فلم يزل صلى الله عليه وسلم يصعد في درجات المعالي، ويُمكّن له من دينه، ويُنصر على أعداءه، ويسدد في أحواله حتى مات، وقد وصل إلى حال ما وصل إليها الأولون والآخرون من الفضائل والنعم، وقرة العين، وسرور القلب ثم بعد هذا لا تسأل عن حاله في الآخرة من تفاصيل الإكرام، وأنواع الإنعام ولقد من ربه عليه بالكوثر
…الرابع: {وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى} وهذه آية جامعة لوجوه الكرامة، وأنواع السعادة، وثبات الإنعام في الدارين وزيادة ..
{তাদের নেশায় তারা দিশেহারা হয়ে ঘুরছিল।} আর সূরা আদ-দুহাতে মহান আল্লাহ কর্তৃক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনার পাঁচটি দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
প্রথম: তাঁর অবস্থা সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন সে বিষয়ে তাঁর স্বপক্ষে শপথ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {শপথ পূর্বাহ্ণের (১) এবং শপথ রাতের যখন তা নিঝুম হয়} অর্থাৎ: শপথ পূর্বাহ্ণের রবের; আর এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সদ্ব্যবহারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্তর ..
দ্বিতীয়: আল্লাহর নিকট তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও বিশেষ অনুগ্রহ লাভের বর্ণনা রয়েছে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হননি} অর্থাৎ: আপনাকে মনোনীত করার ও ভালোবাসার পর তিনি আপনাকে বর্জন করেননি এবং আপনার প্রতি রাগান্বিত বা বিদ্বেষ পোষণ করেননি ..
তৃতীয়: {আর অবশ্যই আপনার জন্য পরবর্তী অবস্থা পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়ে উত্তম} অর্থাৎ: আপনার জীবনের প্রতিটি পরবর্তী অবস্থা পূর্ববর্তী অবস্থার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা মর্যাদার উচ্চশিখরে আরোহণ করতে থাকেন, তাঁর দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়, তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করা হয় এবং মৃত্যু অবধি তাঁর সকল বিষয়কে সঠিক পথে পরিচালিত করা হয়। তিনি এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছেন যেখানে পূর্ববর্তী বা পরবর্তী অন্য কেউ পৌঁছাতে পারেনি—মর্যাদা, নেয়ামত, চোখের শীতলতা এবং হৃদয়ের আনন্দের দিক থেকে। অতঃপর আখেরাতে তাঁর প্রতি যে বিস্তারিত সম্মাননা এবং বিভিন্ন প্রকারের নেয়ামত রয়েছে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না; আর তাঁর রব তাঁকে ‘কাওসার’ দান করে ধন্য করেছেন
…চতুর্থ: {আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে দান করবেন, ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন}। আর এই আয়াতটি সম্মানের সকল দিক, সুখের সকল প্রকার এবং উভয় জগতে নেয়ামতের স্থায়িত্ব ও বৃদ্ধির এক পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক আয়াত ..
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الخامس: تعداده سبحانه لوجوه امتنانه عليه صلى الله عليه وسلم بقوله: {أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَى (6) وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَى (7) وَوَجَدَكَ عَائِلًا فَأَغْنَى} وقد زكّاه سبحانه في خلقه فقال: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} وزكّى بصره فقال: {مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَى} وزكّى منطقه فقال: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} ورفع ذكره فلا يذكر إلا ويذكر معه كما في الأذان، والتشهد، والخطب، والمجامع والأعياد، وذاك قوله تعالى {وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ} صاحب الوسيلة
(1)، والفضيلة
(2)، والمقام المحمود
(3)، والحوض المورود، ولواء الحمد الذي تحته كل حماد، أكرم خلق الله عليه، وسيد ولد آدم وهذا كله، إنما هو غيض من فيض، وقليل من كثير فضله صلى الله عليه وسلم، ولما أوجب الله علينا من تعزيره، ونصره بكل طريق {لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ}، وإيثاره بالنفس والمال في كل موطن، وحفظه وحمايته من كل مؤذ، وإن كان الله قد أغنى رسوله عن نصرة
--------------------------------------------
পঞ্চম: মহান আল্লাহ তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি তাঁর অনুগ্রহের দিকগুলো গণনা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {তিনি কি আপনাকে ইয়াতীম হিসেবে পাননি, অতঃপর আশ্রয় দান করেননি? (৬) এবং তিনি আপনাকে পথহারা হিসেবে পেয়েছেন, অতঃপর পথ দেখিয়েছেন। (৭) এবং তিনি আপনাকে নিঃস্ব পেয়েছেন, অতঃপর অভাবমুক্ত করেছেন।} আর মহান আল্লাহ তাঁর চরিত্রের পবিত্রতা বর্ণনা করে বলেছেন: {নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।} তিনি তাঁর দৃষ্টির পবিত্রতা বর্ণনা করে বলেছেন: {তাঁর দৃষ্টি বিভ্রান্ত হয়নি এবং লক্ষ্যচ্যুতও হয়নি।} তিনি তাঁর বাণীর পবিত্রতা বর্ণনা করে বলেছেন: {এবং তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। (৩) এটি তো কেবল অহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।} এবং তিনি তাঁর স্মরণকে সমুন্নত করেছেন; ফলে মহান আল্লাহর স্মরণের সাথেই তাঁর নাম স্মরণ করা হয়, যেমনটা আযান, তাশাহহুদ, খুতবা, জনসমাবেশ এবং ঈদসমূহে দেখা যায়। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি আপনার খাতিরে আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।} তিনি ওয়াসিলাহ
(১), ফাযিলাহ
(২), মাকামে মাহমুদ
(৩), আগমনের প্রস্রবণ (হাউজে কাওসার) এবং প্রশংসার পতাকার অধিকারী, যার নিচে সকল প্রশংসাকারী সমবেত হবে। তিনি আল্লাহর কাছে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং আদম সন্তানদের সরদার। আর এই সবকিছু তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অশেষ মর্যাদার সমুদ্র থেকে কেবল সামান্য বিন্দু এবং তাঁর প্রাচুর্যের মধ্য হতে অল্প মাত্র। আর যেহেতু আল্লাহ আমাদের ওপর তাঁকে সম্মান করা এবং সর্বতভাবে তাঁকে সাহায্য করা ওয়াজিব করেছেন: {যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং তাঁকে সাহায্য করো ও তাঁকে সম্মান করো}, এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের জান ও মালের ওপর তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে তাঁকে রক্ষা করা ও হেফাযত করা আবশ্যক করেছেন, যদিও আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (অন্যের) সাহায্য থেকে অমুখাপেক্ষী করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
الخلق {إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ}، ولكن ليبلوا بعضكم ببعض، وليعلم الله من ينصره ورسوله بالغيب؛ ليحق الجزاء على الأعمال كما سبق في أم الكتاب، أحببت أن أضرب بسهمي في بيان نزر قليل من تفاصيل وجوب محبته، ولزوم نصرته، وإخلاص نصيحته، وحقه على أمته عليه أفضل الصلاة والتسليم ..
واعلم. نور الله قلبك وقلبي، وضاعف في هذا النبي الكريم حبي وحبك. أن لرسول الله عليك صلى الله عليه وسلم حقوقًا عظيمة منها:
1 - {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ}.فإن على كل مؤمن وجوب الإيمان به صلى الله عليه وسلم وتصديقه فيما أتى به، وهذا معنى شهادة أن محمدا رسول الله: طاعته فيما أمر، وتصديقه فيما أخبر واجتناب ما نهى عنه وزجر، وأن لا يعبد الله إلا بما شرع ..
يقول شيخ الإسلام في مجموع الفتاوى: - «ويجب على الخلق الإقرار بما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم، فما جاء به القرآن العزيز أو السنة المعلمة وجب على الخلق الإقرار به جملة وتفصيلا عند العلم بالتفصيل، فلا يكون الرجل مؤمنا حتى يقر بما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم، وهو تحقيق شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، فمن شهد أنه رسول الله، شهد
সৃষ্টি {তোমরা যদি তাঁকে সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেছেন}, কিন্তু তিনি তোমাদের একজনকে অন্যের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান এবং আল্লাহ জানতে চান কে অদৃশ্যে তাঁকে ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে; যাতে আমলসমূহের প্রতিদান সাব্যস্ত হয় যেমনটি উম্মুল কিতাবে পূর্বেই নির্ধারিত হয়েছে। আমি তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণের আবশ্যকতা, তাঁকে সাহায্য করার অপরিহার্যতা, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য এবং তাঁর উম্মতের ওপর তাঁর হকের কিছু সামান্য বিবরণ তুলে ধরার মাধ্যমে নিজের সামান্য অবদান রাখতে চেয়েছি। তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
আর জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার ও আমার অন্তরকে আলোকিত করুন এবং এই মহিমান্বিত নবীর প্রতি আমার ও আপনার ভালোবাসাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিন—নিশ্চয়ই আপনার ওপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান অধিকারসমূহ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:
১ - {অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো}।নিশ্চয়ই প্রত্যেক মুমিনের ওপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি ঈমান আনা এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করা ওয়াজিব। আর এটাই হচ্ছে 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল'—এই সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ: তিনি যা আদেশ করেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করা, তিনি যা থেকে নিষেধ ও বারণ করেছেন তা পরিহার করা এবং আল্লাহ যে বিধান শরীয়তসম্মত করেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে আল্লাহর ইবাদত না করা...
শাইখুল ইসলাম মাজমুউল ফাতাওয়া-তে বলেন: - «আর সৃষ্টির ওপর ওয়াজিব হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার স্বীকৃতি প্রদান করা। সুতরাং মহাগ্রন্থ কুরআন বা শিক্ষা প্রদানকারী সুন্নাহ যা কিছু নিয়ে এসেছে, বিস্তারিত জ্ঞান অর্জনের সময় তার সামগ্রিক ও বিস্তারিত স্বীকৃতি প্রদান করা সৃষ্টির ওপর ওয়াজিব। অতএব কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার স্বীকৃতি প্রদান করে। আর এটিই হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' এবং 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল'—এই সাক্ষ্যের বাস্তবায়ন। সুতরাং যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল যে তিনি আল্লাহর রাসূল, সে সাক্ষ্য দিল...
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
أنه صادق فيما يخبر به عن الله، فإن هذا حقيقة الشهادة بالرسالة» ويقول ابن القيم في مدارج السالكين: «فرأس الأدب مع الرسول صلى الله عليه وسلم: كمال التسليم له والانقياد لأمره، وتلقي خبره بالقبول والتصديق، دون أن يحمله معارضة بخيال باطل يسميه معقولا، أو يحمله شبهة أوشكّا، أو يقدّم عليه آراء الرجال وزبالات أذهانهم، فيوحده بالتحكيم والتسليم، والانقياد والإذعان، كما وحد المرسل سبحانه وتعالى بالعبادة والخضوع والذل والإنابة والتوكل»
وقد تكرر الأمر بالإيمان برسول الله صلى الله عليه وسلم بل وقرنه بالإيمان بالله، يقول تعالى: {آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَنْفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُمْ مُسْتَخْلَفِينَ فِيهِ فَالَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَأَنْفَقُوا لَهُمْ أَجْرٌ كَبِيرٌ (7) وَمَا لَكُمْ لَا تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ لِتُؤْمِنُوا بِرَبِّكُمْ وَقَدْ أَخَذَ مِيثَاقَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} فجعل الرب شرط الإيمان به الإيمان برسوله صلى الله عليه وسلم وبما يدعو إليه، كيف وقد أيده بالآيات الظاهرات الدالة على صدق ما جاء به، ولذا جاء عقب هذا الآية: {هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَى عَبْدِهِ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ} وقال سبحانه: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ
তিনি আল্লাহ সম্পর্কে যা কিছু সংবাদ দেন তাতে তিনি সত্যবাদী, আর এটাই হলো রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদানের প্রকৃত হাকিকত। এবং ইবনুল কাইয়্যিম মাদারিজুস সালিকিন-এ বলেন: "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি শিষ্টাচারের মূল বিষয় হলো: তাঁর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও তাঁর আদেশের আনুগত্য করা, এবং তাঁর সংবাদকে কবুল ও সত্যয়নের সাথে গ্রহণ করা; কোনো বাতিল কল্পনার মাধ্যমে এর বিরোধিতা না করা যাকে মানুষ যুক্তিগ্রাহ্য বলে অভিহিত করে, অথবা কোনো সংশয় বা সন্দেহের বশবর্তী না হওয়া, কিংবা তাঁর ওপর মানুষের রায় ও তাদের চিন্তাপ্রসূত আবর্জনাকে প্রাধান্য না দেওয়া। সুতরাং বিচার-ফয়সালা ও আত্মসমর্পণে এবং আনুগত্য ও বিনম্রতায় তাঁকে একক হিসেবে গ্রহণ করা, ঠিক যেভাবে ইবাদত, আনুগত্য, বিনয়, প্রত্যাবর্তন ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে প্রেরক (আল্লাহ) সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়।"
আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ বারবার দেওয়া হয়েছে, বরং একে আল্লাহর প্রতি ঈমানের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছুর উত্তরাধিকারী করেছেন তা থেকে ব্যয় করো। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও ব্যয় করে, তাদের জন্য রয়েছে বড় পুরস্কার। (৭) আর তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনছ না? অথচ রাসূল তোমাদেরকে তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আনার জন্য ডাকছেন এবং তিনি তোমাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন, যদি তোমরা মুমিন হও।} সুতরাং রব তাঁর প্রতি ঈমান আনার জন্য তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এবং তিনি যার দিকে আহ্বান করেন তার প্রতি ঈমান আনাকে শর্ত করেছেন। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে তিনি তাঁকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাদি দ্বারা সাহায্য করেছেন যা তাঁর আনীত বিষয়ের সত্যতার প্রমাণ দেয়। আর এই কারণেই এই আয়াতের পরপরই এসেছে: {তিনিই তাঁর বান্দার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেন}। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর তাতে কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি এবং আল্লাহর পথে তাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করেছে; তারাই হলো সেই সব ব্যক্তি যারা...}
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
الصَّادِقُونَ} وتأمل حصر الإيمان بأداة الحصر {إِنَّمَا} في من آمن بالله ورسوله، ثم لم يشك أو يتزلزل بل ثبت على حال واحده وهي التصديق المحض، ثم جاء بذل المال والنفس في سبيل الله، فكان الجزاء أن أشار إليهم: {أُولَئِكَ} لما فيه من معنى بعدهم في الفضل والأجر، وعقبه التزكية {هُمُ الصَّادِقُونَ} أي الذين صدق فعلهم قولهم ..
بل حكم الله بكفر من لم يؤمن برسوله وحذره من سعيره فقال سبحانه: {وَمَنْ لَمْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ سَعِيرًا}
وأخرج مسلم
(1) من حديث أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «والذي نفس محمد بيده لا يسمع بي أحد من هذه الأمة يهودي ولا نصراني ثم يموت ولم يؤمن بالذي أرسلت به إلا كان من أصحاب النار» ..
وأخرج أيضا
(2) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله ويؤمنوا بما جئت به، فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دمائهم أموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله»
--------------------------------------------
"তারাই সত্যবাদী।" সীমাবদ্ধকারী অব্যয় 'নিশ্চয়ই' (ইন্নামা) দ্বারা ঈমানকে কেবল তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করুন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে, অতঃপর তারা কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি বা দ্বিধাগ্রস্ত হয়নি; বরং তারা একটি অবস্থার ওপর অটল ছিল এবং তা হলো নিছক বিশ্বাস। অতঃপর তারা আল্লাহর পথে মাল ও জান উৎসর্গ করল। ফলে তাদের প্রতিদান হলো এই যে, তাদের দিকে 'তারাই' (উলাইকা) শব্দ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা মর্যাদা ও সওয়াবের ক্ষেত্রে তাদের সুউচ্চ অবস্থান নির্দেশ করে। এর পরপরই তাদের বিশুদ্ধতা ঘোষণা করে বলা হয়েছে: "তারাই সত্যবাদী।" অর্থাৎ, যাদের কর্ম তাদের কথাকে সত্য প্রমাণিত করেছে...
বরং যারা তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনেনি, আল্লাহ তাদের কুফরির ফয়সালা দিয়েছেন এবং তাদেরকে প্রজ্বলিত আগুনের ভয় দেখিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনে না, তবে আমি কাফিরদের জন্য প্রজ্বলিত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি।"
মুসলিম
(১) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এই উম্মতের যে কেউ—সে ইহুদি হোক কিংবা খ্রিষ্টান—যদি আমার কথা শোনে, অতঃপর মৃত্যুবরণ করে কিন্তু যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না আনে, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"...
তিনি আরও
(২) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার ওপর ঈমান আনে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার পক্ষ থেকে তাদের রক্ত ও মালকে সুরক্ষিত করে নিল—তবে হকের বিষয়টি ভিন্ন, আর তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর ওপর।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
وانظر إلى المنزلة الرفيعة والمكانة العظيمة التي بلغها صديق هذه الأمة، حين صدق رسول الله حق تصديقه، وآمن به حق الإيمان، فعن عائشة رضي الله عنها قالت: «لما أسري بالنبي إلى المسجد الأقصى، أصبح يتحدث الناس بذلك فارتد ناس ممن كانوا آمنوا به وصدقوه، وسعوا بذلك إلى أبي بكر، فقال: هل لك إلى صاحبك، يزعم أنه أسري به الليلة إلى بيت المقدس؟ قال: أو قال ذلك؟. قال: نعم! قال: لئن كان قال ذلك لقد صدق،
قالوا: أو تصدق أنه ذهب الليلة إلى بيت المقدس وجاء قبل أن يصبح؟! قال: نعم إني لأصدق فيما هو أبعد من ذلك، أصدقه بخبر السماء في غدوه أو روحة «فلذلك سمي الصديق .. أخرجه الحاكم
(1)، وصححه الألباني
(2). ومن لطائف هذا الباب التي تدل على منزلة الشيخين الجليلة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأصحابه: «بينما راع في غنمه عدا عليه الذئب فأخذ منها شاة فطلبها حتى استنقذها، فالتفت إليه الذئب، فقال له: من لها يوم السبع، ليس لها راع غيري؟! وبينما رجل يسوق بقرة وقد حمل عليها، فالتفتت إليه، فكلمته فقالت: إني لم أخلق لهذا، ولكني
--------------------------------------------
এবং এই উম্মতের সিদ্দীকের অর্জিত সুউচ্চ মর্যাদা ও মহান অবস্থানের দিকে লক্ষ্য করুন, যখন তিনি আল্লাহর রাসূলকে যথাযথভাবে সত্য বলে মেনে নিয়েছিলেন এবং তাঁর প্রতি যথার্থ ঈমান এনেছিলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন নবীকে মসজিদে আকসায় নৈশভ্রমণ করানো হলো, সকালে মানুষ এ বিষয়ে কথা বলতে শুরু করল। তখন তাদের মধ্যে কিছু লোক যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল এবং তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল, তারা মুরতাদ হয়ে গেল এবং তারা এ খবর নিয়ে আবু বকরের কাছে ছুটে গেল। তারা বলল: আপনি কি আপনার সাথীর কথা শুনবেন? তিনি দাবি করছেন যে, গত রাতে তাঁকে বাইতুল মাকদিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি বললেন: তিনি কি সত্যিই তা বলেছেন? তারা বলল: হ্যাঁ! তিনি বললেন: যদি তিনি তা বলে থাকেন, তবে অবশ্যই সত্য বলেছেন।
তারা বলল: আপনি কি বিশ্বাস করেন যে তিনি গত রাতে বাইতুল মাকদিসে গিয়েছেন এবং সকাল হওয়ার আগেই ফিরে এসেছেন?! তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি এর চেয়েও দূরবর্তী বিষয়ের ক্ষেত্রে তাঁকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করি; আমি সকাল বা সন্ধ্যায় তাঁর কাছে আসা আসমানী খবরের বিষয়ে তাঁকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করি।" এই কারণেই তাঁর নাম রাখা হয়েছে 'সিদ্দীক'। এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন
(১) এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন
(২)। এই অধ্যায়ের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর মধ্যে যা শাইখাইনের (আবু বকর ও উমর) মহান মর্যাদার প্রমাণ দেয় তা হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বলেছিলেন: "একদা এক রাখাল তার মেষপাল চরাচ্ছিল, তখন একটি নেকড়ে তার ওপর আক্রমণ করে একটি ভেড়া ছিনিয়ে নিল। রাখাল সেটিকে তাড়া করল এবং উদ্ধার করল। তখন নেকড়েটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং তাকে বলল: হিংস্র প্রাণীর দিনে এদের কে রক্ষা করবে, যখন আমি ছাড়া এদের কোনো রাখাল থাকবে না?! এবং এক ব্যক্তি একটি গরুকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল এবং সেটির ওপর বোঝা চাপিয়েছিল। তখন গরুটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং তার সাথে কথা বলল। সে বলল: নিশ্চয়ই আমি এর জন্য সৃষ্টি হইনি, বরং আমি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
خلقت للحرث، فقال الناس: سبحان الله! قال النبي صلى الله عليه وسلم «فإني أؤمن بذلك وأبو بكر وعمر بن الخطاب» أخرجه البخاري
(1) ..
وانظر. رحمك الله. إلى مبلغ الإيمان برسول الله صلى الله عليه وسلم عند الصحابة ومدى التصديق، فيما أخرجه مسلم
(2) من حديثه النواس بن سمعان في قصة المسيح الدجال وفيه: «إنه خارج من خلة بين الشام والعراق، فعاث يمينا وعاث شمالا يا عباد الله فاثبتوا، قلنا: يا رسول الله وما لبثه في الأرض؟ قال: أربعون يوما، يوم كسنة، ويوم كشهر، ويوم كجمعة وسائر أيامه كأيامكم، قلنا يا رسول الله فذلك اليوم الذي كسنة أتكفينا فيه صلاة يوم؟ قال: لا؛ اقدروا له قدره» فها هو يخبرهم صلى الله عليه وسلم بطول يوم في عصر الدجال حتى يغدو كسنة، فلا يسأل أصحابه إلا عن الصلاة وما ذاك إلا لسرعة استجابتهم، ورسوخ فضلهم، ولا غروفهم من زكاهم ربهم
…وفي يوم الأحزاب حين تمايزت الصفوف عن أصناف ثلاثة لا رابع لها إما مؤمن خالص، أو كافر جاهر بكفره، أو منافق كشف خبث سريرته يوم أصاب المسلمين ما أصابهم من جوع، وخوف، وتكالب
--------------------------------------------
চাষাবাদের জন্য (আমাকে) সৃষ্টি করা হয়েছে, তখন মানুষ বলল: সুবহানাল্লাহ! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এর ওপর ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমর ইবনুল খাত্তাবও।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন
(১) ..
আর আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, সাহাবায়ে কেরামের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানের গভীরতা এবং তাঁর সত্যায়নের মাত্রা কতখানি ছিল তা লক্ষ্য করুন; যা ইমাম মুসলিম নওয়াস ইবনে সামআন-এর বর্ণিত হাদীসে মাসীহ দাজ্জালের ঘটনায় বর্ণনা করেছেন, তাতে রয়েছে: "সে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী একটি পথ দিয়ে বের হবে এবং ডানে ও বামে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা অবিচল থেকো।" আমরা বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল, পৃথিবীতে সে কতদিন অবস্থান করবে?" তিনি বললেন: "চল্লিশ দিন; একদিন এক বছরের সমান, একদিন এক মাসের সমান, একদিন এক জুমআর (সপ্তাহের) সমান এবং তার অন্যান্য দিনগুলো তোমাদের দিনগুলোর মতোই হবে।" আমরা বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল, যে দিনটি এক বছরের সমান হবে, সেখানে কি আমাদের জন্য একদিনের নামাজই যথেষ্ট হবে?" তিনি বললেন: "না; তোমরা তার জন্য সময়ের পরিমাপ নির্ধারণ করে নিও।" সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের যুগে দিনের দীর্ঘতা সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে তা এক বছরের মতো হয়ে যাবে, অথচ তাঁর সাহাবীগণ কেবল নামাজ সম্পর্কেই প্রশ্ন করছেন। আর তা কেবল তাদের দ্রুত সাড়াদান এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্বের সুদৃঢ় অবস্থানের কারণেই হয়েছে। আর কেনই বা এমন হবে না তাদের ক্ষেত্রে, যাদেরকে স্বয়ং তাদের রব পবিত্র করেছেন...
আর আহযাবের যুদ্ধের দিন, যখন দলগুলো এমন তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল যার চতুর্থ কোনোটি ছিল না—হয়তো একনিষ্ঠ মুমিন, অথবা প্রকাশ্য কুফরি অবলম্বনকারী কাফের, অথবা এমন মুনাফিক যার অভ্যন্তরীণ কলুষতা উন্মোচিত হয়ে পড়েছে; সেদিন যখন মুসলিমদের ওপর ক্ষুধা, ভয় ও শত্রুদের সম্মিলিত আক্রমণের বিপর্যয় নেমে এসেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أعداؤهم عليهم، واعترض أثناء حفر الخندق للمسلمين صخرة بيضاء صلدة شق عليهم كسرها، فذهب سلمان رضي الله عنه. ليخبر رسول الله لا فقام صلى الله عليه وسلم بأبي هو أمي. وهو لها، فأخذ المعول من سلمان، فضرب الصخرة ضربة صدغها، وبرقت منها برقة أضاءت ما بين لابتيّ المدينة كأنها مصباح في ليل مظلم، فكبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وكبّر صحابته، فضربها الثانية فكذلك، ثم الثالثة .. فسألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: «إني حين ضربت الأولى رفعت لي مدائن كسرى وما حولها ومدائن كثيرة حتى رأيتها بعيني، قال له من حضره من أصحابه: يا رسول الله ادع الله أن يفتحها علينا، ويغنمنا ديارهم، ويخرب بأيدينا بلادهم، فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بذلك، ثم ضربت الثانية فرفعت لي مدائن قيصر وما حولها حتى رأيتها بعيني، فقالوا: يا رسول الله ادع الله أن يفتحها علينا، ويغنمنا ديارهم، ويخرب بأيدينا بلادهم، فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك، ثم ضربت الثالثة فرفعت لي مدائن الحبشة وما حولها من القرى حتى رأيتها بعيني. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك: دعوا الحبشة ما ودعوكم». أخرجه النسائي وحسنه الألباني
(1) ..
--------------------------------------------
তাদের শত্রুরা তাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছিল। মুসলমানদের পরিখা খননের সময় একটি শক্ত সাদা পাথর সামনে পড়ল যা ভাঙা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠল। তখন সালমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে খবর দিতে গেলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে দাঁড়ালেন—আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক—এবং তিনি সেই কাজের জন্য এগিয়ে গেলেন। তিনি সালমানের কাছ থেকে কোদালটি নিলেন এবং পাথরটিতে একটি আঘাত করলেন যা তাকে বিদীর্ণ করে দিল। তা থেকে একটি বিদ্যুৎ চমক নির্গত হলো যা মদিনার দুই পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী স্থানকে এমনভাবে আলোকিত করে দিল যেন তা অন্ধকার রাতের এক প্রদীপ। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবীর দিলেন এবং তাঁর সাহাবীগণও তাকবীর দিলেন। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং একইভাবে আলো বের হলো। তারপর তৃতীয়বারও তাই হলো। এরপর তাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: «আমি যখন প্রথমবার আঘাত করলাম, তখন আমার সামনে কিসরার শহরগুলো এবং তার আশপাশের অনেক শহর তুলে ধরা হলো, এমনকি আমি তা নিজের চোখে দেখতে পেলাম। উপস্থিত সাহাবীগণ তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের জন্য সেগুলো জয় করে দেন, তাদের ঘরবাড়ি আমাদের গনীমত হিসেবে দান করেন এবং আমাদের হাতে তাদের দেশগুলো বিধ্বস্ত করেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই দোয়া করলেন। এরপর আমি দ্বিতীয়বার আঘাত করলাম, তখন আমার সামনে কায়সারের শহরগুলো এবং তার আশপাশ তুলে ধরা হলো, এমনকি আমি তা নিজের চোখে দেখতে পেলাম। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের জন্য সেগুলো জয় করে দেন, তাদের ঘরবাড়ি আমাদের গনীমত হিসেবে দান করেন এবং আমাদের হাতে তাদের দেশগুলো বিধ্বস্ত করেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই দোয়া করলেন। তারপর আমি তৃতীয়বার আঘাত করলাম, তখন আমার সামনে হাবশার শহরগুলো এবং তার আশপাশের জনপদগুলো তুলে ধরা হলো, এমনকি আমি তা নিজের চোখে দেখতে পেলাম। সে সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমরা হাবশাবাসীদের ছেড়ে দাও, যতক্ষণ তারা তোমাদের ছেড়ে দেয় (আক্রমণ না করে)»। এটি নাসায়ি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে হাসান বলেছেন
(১) ..
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وارع سمعك وبصرك لما تقرأ ترى ما بثه رسول الله صلى الله عليه وسلم من روح الأمل والبشارة في زمن جوع شكي فيه الصحابة إلى رسول الله الجوع، فرفعوا عن بطوهم عن حجر، فرفع رسول الله عن حجرين، وفي خوف شديد، ومع ذلك يؤمن صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أخبرهم به في هذا الزمن الحرج ولا ريب فحكمه عدل، وخبره صدق، ولذلك كان أبو هريرة رضي الله عنه. يقول حين فتحت هذه الأمصار: افتتحوا ما بدا لكم فوالذي نفس أبي هريرة بيده ما افتتحتم من مدينة، ولا تفتحوها إلى يوم القيامة، إلا وقد أعطى الله محمد صلى الله عليه وسلم مفاتيحها قبل ذلك ..
ومما مضى عليك بالمسارعة في الإيمان برسول الله صلى الله عليه وسلم، واحذر أن تورد الشبهة على الأحاديث النبوية، ولا تجعل قلبك كالإسفنجة تتلقى ما يرد عليها، واجتنب إثارة الشبهة وإيرادها على نفسك أو غيرك، فالشبهة خطّافة، والقلوب ضعيفة، وأكثر من يلقيها حمّالة الحطب. المبتدعة وأذنابهم. فتوقّهم، ولك في سلفك الصالح قدوة، فبهداهم اقتده ..
আপনি যা পাঠ করছেন তাতে আপনার শ্রবণ ও দৃষ্টি নিবিষ্ট করুন; আপনি দেখতে পাবেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই ক্ষুধার সময়ে কীভাবে আশা ও সুসংবাদের প্রেরণা সঞ্চার করেছিলেন, যখন সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ক্ষুধার অভিযোগ করেছিলেন। তাঁরা তাঁদের উদর থেকে একটি করে পাথর উন্মোচন করলেন, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উন্মোচন করলেন দুটি পাথর। সেই চরম ভীতি ও সংকটের সময়েও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে সাহাবীগণ কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই ঈমান এনেছিলেন। কারণ তাঁর ফয়সালা হলো ন্যায়সঙ্গত এবং তাঁর সংবাদ হলো সত্য। এ কারণেই এই অঞ্চলগুলো বিজিত হওয়ার সময় আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "তোমাদের যা ইচ্ছা বিজয় করো; সেই সত্তার কসম যার হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ, তোমরা ইতিপূর্বে যে শহরই জয় করেছ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছুই জয় করবে, আল্লাহ তাআলা তার চাবিকাঠি এর পূর্বেই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রদান করেছেন।"
আর যা গত হয়েছে তা থেকে আপনার কর্তব্য হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনয়নে দ্রুততা প্রদর্শন করা। সাবধান! নববী হাদীসসমূহের ওপর কোনো প্রকার সংশয় বা সন্দেহ আনয়ন করবেন না। আপনার অন্তরকে স্পঞ্জের মতো বানাবেন না যা তার নিকট আগত সব কিছুকেই শুষে নেয়। নিজের মনে বা অন্যের নিকট সংশয় উদ্রেক করা এবং তা পেশ করা থেকে বিরত থাকুন। কেননা সংশয় হলো অত্যন্ত আকর্ষণীয়, আর অন্তরসমূহ হলো দুর্বল। আর যারা সংশয় নিক্ষেপ করে তাদের অধিকাংশই হলো লাকড়ি বহনকারী বিদআতী ও তাদের অনুসারী। সুতরাং তাদের থেকে বেঁচে থাকুন। আপনার জন্য আপনার সালাফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরীদের মাঝে আদর্শ রয়েছে, সুতরাং তাঁদের হেদায়েতেরই অনুসরণ করুন।
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
2 - حتى يحبك الله ..ادعى قوم على عهد رسول الله أنهم يحبون الله، فنزلت آية المحنة {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (31) قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ} يقول ابن كثير: «هذه الآية حاكمة على كل من ادعى محبة الله، وليس هو على الطريقة المحمدية، فإنه كاذب في دعواه في نفس الأمر حتى يتبع الشرع المحمدي والدين المحمدي في جميع أقواله وأفعاله»
(1)وقال ابن القيم: «يحبكم الله، إشارة إلى دليل المحبة وثمرتها وفائدتها محبة المرسل لكم، فما لم تحصل المتابعة فليست محبتكم له حاصلة، ومحبّته لكم منتفية»
(2)، فمحبة الله تكون ثابتة بمتابعة رسول الله صلى الله عليه وسلم في أعماله وأقواله وأخلاقه ..
وتأمل. وفقك الله. ثمرة متابعة رسول الله: محبة الله، ومغفرة الذنوب واحذر من ترك طاعته {فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ}
--------------------------------------------
২ - আল্লাহ যাতে আপনাকে ভালোবাসেন..আল্লাহর রাসূলের যুগে এক সম্প্রদায় দাবি করল যে তারা আল্লাহকে ভালোবাসে, তখন পরীক্ষার এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (৩১) বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের ভালোবাসেন না।} ইবনে কাসীর বলেন: «এই আয়াতটি ঐ প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফয়সালাকারী যে আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করে অথচ সে মুহাম্মদী তরীকার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; প্রকৃতপক্ষে সে তার দাবিতে মিথ্যাবাদী, যতক্ষণ না সে তার সমস্ত কথা ও কাজে মুহাম্মদী শরীয়ত ও মুহাম্মদী দ্বীন অনুসরণ করে।»
(১)ইবনুল কায়্যিম বলেন: «'আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন'—এটি ভালোবাসার প্রমাণ, তার ফল ও উপযোগিতা তথা প্রেরকের (আল্লাহর) পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি ভালোবাসার ইঙ্গিত। সুতরাং যতক্ষণ অনুসরণ অর্জিত না হবে, ততক্ষণ তাঁর প্রতি তোমাদের ভালোবাসা অর্জিত হবে না এবং তোমাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসাও অনুপস্থিত থাকবে।»
(২) সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম, কথা ও চরিত্রের অনুসরণের মাধ্যমেই আল্লাহর ভালোবাসা সুসাব্যস্ত হয়..
গভীরভাবে চিন্তা করুন। আল্লাহ আপনাকে তাওফীক দান করুন। রাসূলুল্লাহর অনুসরণের ফল হলো: আল্লাহর ভালোবাসা ও পাপ মোচন। আর তাঁর আনুগত্য ত্যাগ করা থেকে সতর্ক থাকুন {অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের ভালোবাসেন না।}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تعصي الإله وأنت تزعم حبه
… هذا لعمري في القياس بديع
لو كان حبك صادقا لأطعته
… إن المحب لمن يحب مطيع
يقول الإمام أحمد - رحمة الله -: «نظرت في المصحف فوجدت طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم في ثلاثة وثلاثين موضعا»
(1) ويقول شيخ الإسلام: «وقد أمر الله بطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم في أكثر من ثلاثين موضعا من القرآن، وقرن طاعته بطاعته، وقرن بين مخالفته ومخالفته، كما قرن بين اسمه واسمه، فلا يذكر الله إلا وذكر معه»
فطاعة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم رحمة {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} ..
وطاعة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم فوز {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ}، {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} ..
--------------------------------------------
তুমি ইলাহ্র অবাধ্যতা করছ অথচ তুমি তাঁর প্রতি ভালোবাসার দাবি করছ
… আমার জীবনের শপথ, যুক্তির বিচারে এটি এক অদ্ভুত বিষয়
তোমার ভালোবাসা যদি সত্য হতো তবে অবশ্যই তুমি তাঁর আনুগত্য করতে
… নিশ্চয়ই প্রেমিক যার সাথে প্রেম করে তার অনুগত থাকে
ইমাম আহমাদ -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- বলেন: «আমি মুসহাফের (কুরআনের) দিকে দৃষ্টিপাত করলাম এবং তেত্রিশটি স্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের নির্দেশ পেলাম»
(১) এবং শায়খুল ইসলাম বলেন: «আল্লাহ কুরআনের ত্রিশটিরও বেশি স্থানে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তাঁর আনুগত্যকে নিজের আনুগত্যের সাথে যুক্ত করেছেন এবং তাঁর অবাধ্যতাকে নিজের অবাধ্যতার সাথে যুক্ত করেছেন, যেমনভাবে তিনি তাঁর নামের সাথে তাঁর (রাসূলের) নামকে যুক্ত করেছেন। ফলে আল্লাহর যিকির করা হলেই তাঁর সাথে তাঁর (রাসূলের) যিকিরও করা হয়»
সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য হলো রহমত {আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমাদের প্রতি রহম করা হয়} ..
এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য হলো সফলতা {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই সফলকাম}, {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল} ..
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وطاعة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم سبب دخول الجنة {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} ..
بل إن طاعة الله ورسوله سبب عظيم في اللحاق بأولي الدرجات العلى {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا} ..
واحذر - هداك الله - مخالفة الله ورسوله فإن المخالفة سبب الشقاء في الدنيا والآخرة يقول تعالى: {وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَالَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا (27) يَاوَيْلَتَا لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا} وفي هذه الآية بيان حال مخالف الرسول صلى الله عليه وسلم حين يقوم الناس لرب العالمين فيعض الظالم على يديه أسفا وحسرة لمخالفة الرسول صلى الله عليه وسلم لكن أنى له الذكرى .. ؟!
ويقول سبحانه: {يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يَالَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا (66) وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا (67) رَبَّنَا آتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنًا كَبِيرًا}
আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য হলো জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম। {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আর এটাই হলো মহাসাফল্য।} ..
বস্তুত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য উচ্চ মর্যাদার অধিকারীদের সাথে মিলিত হওয়ার এক মহান কারণ। {আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সাথে থাকবে যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ। আর সাথী হিসেবে তারা কতই না উত্তম।} ..
আর আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুন—আপনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ থেকে সতর্ক থাকুন; কেননা বিরুদ্ধাচরণ হলো দুনিয়া ও আখিরাতে দুর্ভাগ্যের কারণ। মহান আল্লাহ বলেন: {আর সেদিন জালেম ব্যক্তি নিজের দুই হাত দংশন করবে আর বলবে, হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে কোনো পথ অবলম্বন করতাম! হায় দুর্ভোগ আমার! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম!} এই আয়াতে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরুদ্ধাচরণকারীর অবস্থার বর্ণনা রয়েছে যখন মানুষ রাব্বুল আলামীনের সামনে দাঁড়াবে; তখন জালেম ব্যক্তি রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য আক্ষেপ ও পরিতাপে নিজের দুই হাত দংশন করবে। কিন্তু তখন আর শিক্ষা গ্রহণ করে কী লাভ হবে?! ..
এবং তিনি (পবিত্র মহান) বলেন: {যেদিন অগ্নিতে তাদের চেহারাগুলো উলটপালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম! তারা আরও বলবে, হে আমাদের রব! আমরা তো আমাদের নেতাদের ও বড়দের আনুগত্য করেছিলাম, আর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের রব! আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদের ওপর মহা অভিশাপ বর্ষণ করুন।}
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقارن بين حال المتبع والمخالف أو المبتدع، فالمتبعون في جنات فائزون مهتدون مرحومون، والمخالفون قد بلغ منهم الأسى مبلغه وعضوا الأنامل حسرات، وشروا في جهنم جماعات يلعن بعضهم بعضا، ويدعو بعضهم على بعض.
ومن أدل الآيات الموجبة للتسليم لحكمه صلى الله عليه وسلم، والانقياد له قوله تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} وفي هذه الآية أقسم سبحانه بأجل مقسم به - وهو نفسه عز وجل على أنه لا يثبت لهم إيمان، ولا يكونون من أهله، حتى يحكموا رسول الله في جميع موارد النزاع وفي جميع أبواب الدين فإن لفظه (ما) من صيغ العموم، ولم يقتصر الأمر على مجرد التحاكم، بل ضم إليه انشراح صدورهم بحكمه حيث لا يجدون في أنفسهم حرجا. ضيقا. من حكمه، بل يقبلوا حكمه بالانشراح، ويقابلوه بالتسليم لا أنهم يأخذونه على إغماض، ويشربونه على قذى، فإن هذا مناف للإيمان، ثم لم يقتصر سبحانه على ذلك حتى ضم إليه قوله تعالى: {وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} فذكر الفعل مؤكدة بمصدره القائم على ذكره مرتين، وهو التسليم والخضوع والانقياد طوعًا ورضًا، وتسليمًا لا قهرًا ومصابرة، كما يسلم المقهور لمن قهره كرهًا، بل تسليم عبد مطيع لمولاه وسيده
অনুসরণকারী এবং বিরোধিতাকারী বা বিদআতী—এই দুই শ্রেণির অবস্থার মধ্যে তুলনা করুন। অনুসরণকারীরা জান্নাতে সফলকাম, হেদায়েতপ্রাপ্ত এবং রহমতপ্রাপ্ত। আর বিরোধিতাকারীদের দুঃখ-বেদনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, তারা আক্ষেপে আঙুল কামড়াচ্ছে। তারা জাহান্নামে দলে দলে নিক্ষিপ্ত হবে, যেখানে তারা একে অপরকে অভিশাপ দেবে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে বদদোয়া করবে।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফয়সালার প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ এবং তাঁর আনুগত্য করার আবশ্যকতা সম্পর্কে সবচেয়ে সুস্পষ্ট আয়াতগুলোর অন্যতম হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: "অতএব আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিযুক্ত করবে, এরপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব করবে না এবং তা পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নেবে।" এই আয়াতে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবচেয়ে মহান সত্তার শপথ করেছেন—আর তিনি হলেন তিনি স্বয়ং—এই মর্মে যে, তাদের ঈমান সাব্যস্ত হবে না এবং তারা ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত হবে না, যতক্ষণ না তারা বিবাদের সকল ক্ষেত্রে এবং দ্বীনের সকল বিষয়ে আল্লাহর রাসূলকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করবে। কারণ আয়াতে ব্যবহৃত ‘যা কিছু’ শব্দটি ব্যাপকতা অর্থবোধক। আর বিষয়টি কেবল বিচার মানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সাথে তাঁর ফয়সালার প্রতি হৃদয়ের প্রশস্ততাকেও যুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা তাঁর ফয়সালার ব্যাপারে নিজেদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব না করে। বরং তারা তাঁর ফয়সালাকে হৃষ্টচিত্তে কবুল করবে এবং আত্মসমর্পণের মাধ্যমে গ্রহণ করবে। এমন নয় যে তারা চোখ বন্ধ করে কোনোমতে তা মেনে নেবে, কারণ এটি ঈমানের পরিপন্থী। এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কেবল এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং এর সাথে তাঁর এই বাণীকেও যুক্ত করেছেন: "এবং তারা পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নেবে।" এখানে তিনি ক্রিয়াটি উল্লেখ করেছেন তার মূল ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য দ্বারা গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে, যা দুইবার উল্লেখ করার সমতুল্য। আর তা হলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও সন্তুষ্টির সাথে আনুগত্য, বিনয় এবং আত্মসমর্পণ। এটি কোনো জবরদস্তি বা নিরুপায় হয়ে মেনে নেওয়া নয়, যেমন কোনো পরাজিত ব্যক্তি অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিজয়ীর কাছে নতি স্বীকার করে। বরং এটি হলো এক অনুগত দাসের তার অভিভাবক ও প্রভুর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ।
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
الذي هو أحب شيء إليه، يعلم أن سعادته وخلاصه في تسليمه إليه، وليعلم بأنه أولى به من نفسه، وأبر به منها، وأقدر على تخليصها، كما قال تعالى: {النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ} ومتى أراد العبد أن يعلم قبوله لحكم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتسليمه له، فلينظر في حاله، ويطالع قلبه عند ورود حكمه على خلاف هواه وغرضه، أو على خلاف ما قلد فيه أسلافه من المسائل الكبار والصغار {بَلِ الْإِنْسَانُ عَلَى نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ} فسبحان الله كم من حزازة في نفوس كثير من الناس من كثير النصوص بودهم أن لولم ترد!! وكم من حرارة في أكبادهم منها!! وكم من شجي في حلوقهم منها ومن موردها!! ستبدولهم تلك السرائر بالذي يسود ويخزي يوم تبلى السرائر {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا}
وأخرج البخاري
(1) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى، قالوا: يا رسول الله ومن يأبى؟ قال: من أطاعني دخل الجنة ومن عصاني فقد
--------------------------------------------
যিনি তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয়, তিনি জানেন যে তাঁর সুখ ও মুক্তি নিহিত রয়েছে তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণের মাঝে। আর তিনি যেন জেনে রাখেন যে, তিনি (রাসূল) তাঁর নিজের চেয়েও তাঁর প্রতি অধিক হকদার, তাঁর প্রতি তাঁর নিজের চেয়েও অধিক দয়ালু এবং তাঁকে বিপদমুক্ত করতে অধিক সক্ষম। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ}। যখনই কোনো বান্দা জানতে চায় যে সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফয়সালা গ্রহণ করেছে কি না এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেছে কি না, তবে সে যেন নিজের অবস্থার দিকে লক্ষ করে এবং স্বীয় অন্তরকে পর্যবেক্ষণ করে—যখন তাঁর ফয়সালা তার প্রবৃত্তি ও উদ্দেশ্যের প্রতিকূলে আসে, অথবা বড় ও ছোট মাসআলাসমূহে সে তার পূর্বপুরুষদের যে বিষয়ের অন্ধ অনুসরণ করে আসছে তার বিপরীতে আসে। {বরং মানুষ নিজেই নিজের সম্পর্কে সম্যক অবগত}। সুবহানাল্লাহ! কত মানুষের অন্তরে বহু দলিলের কারণে কতই না বিরক্তি ও সংকীর্ণতা রয়েছে; তারা কামনা করে যদি এই দলিলগুলো বর্ণিত না হতো! এ কারণে তাদের কলিজায় কতই না দহন! এ কারণে এবং এর উৎসের কারণে তাদের গলায় কতই না বিষম লাগে! অচিরেই তাদের নিকট সেই গোপন বিষয়গুলো এমনভাবে প্রকাশিত হবে যা তাদের কালো ও লাঞ্ছিত করবে, যে দিন সকল গোপন রহস্য পরীক্ষা করা হবে। {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ নেই। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হলো।}
ইমাম বুখারী
(১) আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যতীত যে অস্বীকার করেছে। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে তো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
أبى»، وأخرج - أيضا من حديث جابر قال: «جاءت الملائكة إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو نائم. فقال بعضهم إنه نائم. وقال بعضهم: إن العين نائمة، وإن القلب يقظان. فقالوا: إن لصاحبكم هذا مثلًا، فقالوا: مثله كمثل رجل بنى دارًا، وجعل فيها مأدبة، وبعث داعيا، فمن أجاب الداعي دخل الدار، وأكل من المأدبة، ومن لم يجب الداعي لم يدخل الدار، ولم يأكل من المأدبة. فقالوا: أولوها له يفقهها. فقال بعضهم: الدار الجنة، والداعي محمد صلى الله عليه وسلم، فمن أطاع محمد عليه الصلاة والسلام فقد أطاع الله، ومن عصى محمدًا فقد عصى الله، ومحمد فرق بين الناس»
وفي حديث العرباض بن ساريه. رضي الله عنه. قال: «وعظنا رسول الله صلى الله عليه وسلم موعظة وجلت منها القلوب، وذرفت منها العيون، فقلنا يا رسول الله كأنها موعظة مودع، فأوصنا. قال: أوصيكم بتقوى الله، والسمع والطاعة، وإن تأمر عليكم عبد، وإنه من يعش منكم فسيرى اختلافا كثيرا، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا
তিনি অস্বীকার করেছেন। এবং জাবির (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকেও সংকলন করা হয়েছে, তিনি বলেন: "ফেরেশতারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন যখন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। তখন তাদের কেউ বললেন, তিনি তো ঘুমাচ্ছেন। আবার কেউ বললেন: চোখ ঘুমাচ্ছে কিন্তু অন্তর জাগ্রত। তারা বললেন: তোমাদের এই সঙ্গীর একটি উদাহরণ আছে। তারা বললেন: তাঁর উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তাতে ভোজের আয়োজন করল, অতঃপর একজন আহ্বানকারী পাঠাল। যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিল, সে ঘরে প্রবেশ করল এবং ভোজ থেকে আহার করল। আর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিল না, সে ঘরে প্রবেশ করল না এবং ভোজ থেকেও আহার করল না। তারা বললেন: তোমরা এটি তাঁর কাছে ব্যাখ্যা করো যেন তিনি তা বুঝতে পারেন। তখন কেউ কেউ বললেন: ঘরটি হলো জান্নাত এবং আহ্বানকারী হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মদের আনুগত্য করল সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে মুহাম্মদের অবাধ্য হলো সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্য হলো। মুহাম্মদ হলেন মানুষের মধ্যে পার্থক্যকারী।"
এবং ইরবাদ বিন সারিয়া (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এমন এক উপদেশ প্রদান করলেন যাতে অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো এবং চোখসমূহ হতে অশ্রু প্রবাহিত হলো। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি যেন কোনো বিদায়ী উপদেশ, অতএব আমাদের অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি এবং শোনার ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও তোমাদের ওপর কোনো দাসকে আমীর নিযুক্ত করা হয়। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের ওপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা..."
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
عليها بالنواجد، وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل بدعة ضلالة» أخرجه أبو داوود، وصححه الألباني
(1) ..
يقول الإمام الخطابي: - إنما أراد بذلك الجد في لزوم السنة، فعل من أمسك بشيء بين أضراسه، وعض عليه مانعا له أن ينتزع، وذلك أشد ما يكون التمسك بالشيء، إذ كان ما يمسكه بمقاديم فمه أقرب تناولا وأسهل نزعا» وقد حوى الحديث ركيزتين أساسيتين:
1/ الإتباع .. 2/ وذم الابتداع ..
وكل ما تركه الرسول صلى الله عليه وسلم من جنس العبادات، ولم يفعله مع وجود المقتضي لفعله على عهده صلى الله عليه وسلم ففعله بدعه، وتركه سنه، كالاحتفال بالمولد، وإحياء ليلة الإسراء والمعراج، وإحياء ليلة الهجرة، ورأس السنة وغيرها، لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد». وقال ابن مسعود: «اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم»
(2).
--------------------------------------------
সেটি মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো। আর তোমরা দ্বীনের নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলী থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন
(১) ..
ইমাম খাত্তাবী বলেন: - "এর দ্বারা তিনি সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকার ব্যাপারে এমন ব্যক্তির মতো ঐকান্তিক প্রচেষ্টা বুঝিয়েছেন, যে কোনো কিছুকে তার মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে এবং তা যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে সে জন্য দৃঢ়ভাবে আটকে রাখে। আর এটিই কোনো কিছুকে সবচাইতে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার উদাহরণ; কেননা মুখের সামনের দাঁত দিয়ে যা ধরা হয় তা আয়ত্ত করা এবং ছিনিয়ে নেওয়া সহজতর।" এই হাদীসটি দুটি মৌলিক ভিত্তি ধারণ করেছে:
১/ অনুসরণ .. ২/ এবং নব-উদ্ভাবনের (বিদআতের) নিন্দা ..
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত যা কিছু বর্জন করেছেন এবং তাঁর যুগে তা করার প্রেক্ষাপট বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তিনি তা করেননি, তবে তা করা বিদআত এবং তা বর্জন করা সুন্নাত। যেমন—জন্মোৎসব পালন করা, ইসরা ও মিরাজের রাত উদযাপন করা, হিজরতের রাত উদযাপন করা, নববর্ষ পালন করা ইত্যাদি। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কেননা তোমাদের জন্য (দীনই) যথেষ্ট।"
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يقول الإمام مالك: «فما لم يكن يومئذ دينا، فلا يكون اليوم دينا»
(1)، ويقول شيخ الإسلام: «والترك الراتب سنة، كما أن الفعل الراتب سنّة»
(2)وتعال لنقف على حال السلف الصالح في اتباعهم، وسرعة اقتدائهم بحبيبهم صلى الله عليه وسلم ..
أخرج البخاري
(3) عن البراء رضي الله عنه قال: «لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة صلّى نحو بيت المقدس ستّة عشر أو سبعة عشر شهرًا، وكان يحبّ أن يُوَجّه إلى الكعبة فأنزل الله تعالى {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا} فتوجه نحو الكعبة، وصلّى معه رجل العصر ثم خرج فمرّ على قوم من الأنصار فقال: «هو يشهد أنه صلى مع النبي صلى الله عليه وسلم، وأنه قد وجه إلى الكعبة»، فانحرفوا وهم ركوع في صلاة العصر ..
فما أسرع تأسيهم فلم يترددوا في التمسك بما جاء به، بل لم ينتظروا رفع رؤوسهم من الركوع، وبادروا بالتوجه إلى حيث توجه
--------------------------------------------
ইমাম মালিক বলেন: «সেদিন যা দ্বীন হিসেবে গণ্য ছিল না, তা আজকেও দ্বীন হিসেবে গণ্য হবে না»
(১), এবং শাইখুল ইসলাম বলেন: «অব্যাহতভাবে কোনো কাজ বর্জন করাও সুন্নাহ, যেমনিভাবে অব্যাহতভাবে কোনো কাজ করা সুন্নাহ»
(২)আসুন, আমরা সালাফে সালিহীনদের অনুসরণের অবস্থা এবং তাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্রুত অনুসরণের বিষয়টি লক্ষ্য করি..
ইমাম বুখারী
(৩) বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসলেন, তখন তিনি ষোলো বা সতেরো মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেন। তিনি চাচ্ছিলেন যেন তাঁকে কাবার দিকে অভিমুখী করা হয়। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার মুখ বারবার আকাশের দিকে তাকাতে দেখছি, সুতরাং আমি আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন}। এরপর তিনি কাবার দিকে মুখ করলেন। এক ব্যক্তি তাঁর সাথে আসরের সালাত আদায় করল এবং পরে সে বেরিয়ে আনসারদের এক গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলল: সে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেছে এবং কিবলা কাবার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন তারা আসরের সালাতে রুকু অবস্থায় থাকা কালীনই ঘুরে গেলেন..»
তাদের অনুসরণ কতই না দ্রুত ছিল! তিনি যা নিয়ে এসেছিলেন তা আঁকড়ে ধরতে তারা কোনো দ্বিধা করেননি, এমনকি রুকু থেকে মাথা তোলার অপেক্ষাও করেননি, বরং তিনি যেদিকে মুখ করেছিলেন সেদিকে মুখ করতে অগ্রণী হয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحبيب صلى الله عليه وسلم إلى الكعبة المشرفة وهم ركوع ..
وأخرج أبوداود وصحح الألباني
(1) من حديث أبي ثعلبة الخشني قال: «كان الناس إذا نزلوا منزلا تفرقوا في الشعاب والأودية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن تفرقكم في هذه الشعاب والأودية إنما ذلكم من الشيطان فلم ينزلوا بعد ذلك منزلا إلا انضم بعضهم إلى بعض» حتى يقال: «لو بسط عليهم ثوب لعمهم» فبمجرد أن طرق الأمر أسماعهم، كان فعلهم يترجم قوله {سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا} ويأتي الراوي ليصف حالهم بعد الأمر «لو بسط عليهم ثوب لوسعهم»
… وقد يخفى على المسلمة الحكم الشرعي في أمر من أمور حياتها، ومسألة في دينها، ويعزّ عليها الإجتهاد والتماس النصوص الشرعية، فالمتعين هنا التورع عن العمل بلا علم وسؤال الراسخين في العلم؛ لمعرفة الحق المبين، أخرج مسلم
(2) من حديث أسماء قالت: جاءت امرأة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله إن لي ابنة عريسا،
--------------------------------------------
প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্মানিত কাবার দিকে, এমতাবস্থায় যে তারা রুকুতে ছিলেন...
আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন
(১) আবু ছালাবা আল-খুশানি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন: «লোকেরা যখন কোনো স্থানে অবতরণ করত, তখন তারা গিরিপথ ও উপত্যকাগুলোতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমাদের এই গিরিপথ ও উপত্যকাগুলোতে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা কেবল শয়তানের পক্ষ থেকে। এরপর তারা কোনো স্থানে অবতরণ করলে একে অপরের সাথে এমনভাবে মিশে থাকত যে, বলা হতো: যদি তাদের ওপর একটি কাপড় বিছিয়ে দেওয়া হতো, তবে তা তাদের সবাইকে ঢেকে ফেলত» নির্দেশটি তাদের কানে পৌঁছানো মাত্রই তাদের আমল এই বাণীর প্রতিফলন ঘটাত যে, {আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম}। বর্ণনাকারী নির্দেশের পর তাদের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: «যদি তাদের ওপর একটি কাপড় বিছিয়ে দেওয়া হতো, তবে তা তাদের সবার জন্য পর্যাপ্ত হতো»
… কখনো একজন মুসলিম নারীর কাছে তার জীবনের কোনো বিষয়ে শরয়ী বিধান এবং দ্বীনের কোনো মাসআলা অজানা থাকতে পারে, আর তার জন্য ইজতিহাদ করা ও শরয়ী দলীল অনুসন্ধান করা কঠিন হতে পারে। এমতাবস্থায় জ্ঞান ছাড়া আমল করা থেকে বিরত থাকা এবং সুস্পষ্ট সত্য জানার জন্য ইলমে পারদর্শী ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করা আবশ্যক। মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(২) আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে, তিনি বলেন: এক নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার এক নববিবাহিতা কন্যা রয়েছে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أصابتها حصبة، فتمزق شعرها، أفأصله؟ قال: «لعن الله الواصلة والمستوصلة» ..
وتأمل. أعانك الله على طاعته. لهجة الأم الحنون التي تفيء بظلال العاطفة والمحبة الوارفة، وهي تستأذن رسول الله صلى الله عليه وسلم في وصل شعر ابنتها الناقهة من المرض، حديثة العهد بالعرس، إن المشاعر الجياشة التي تضطرب في فؤاد تلك الوالدة، والرغبة الجامحة لتزيين بنيتها، وتحقيق فرحتها، لم تسوغ لها ارتكاب المنكر ..
فلم تطب نفسا بالوصل بحجّة الجهل بالحكم، أو احتياج العروس إليه، بل أتت تستفتي رسول الله، راضية بحكمه، مسلمة لأمره ..
وما أحوجنا في هذا العصر الذي شاع فيه حب الملذات، وإرضاء الشهوات بالمحرمات، أن نطوع أنفسنا لما يرضي ربنا عز وجل وبجعل هوانا تبعا لسنة نبينا صلى الله عليه وسلم حتى نحب ما يحبه وندع ما يبغضه مقتدين في ذلك بسلفنا الصالح
…ولا يظنن أحد أن الامتثال كان سمة أفراد من هذا العصر المشرق فحسب بل كان صبغة جميع أفراده، أخرج أبو داوود وصحح
তার হাম হয়েছিল, ফলে তার চুল পড়ে গিয়েছিল। আমি কি তার চুলে অন্য চুল লাগিয়ে দেব? তিনি বললেন: "আল্লাহ সেই নারীকে অভিশাপ দিয়েছেন যে অন্যের চুলে আলগা চুল লাগিয়ে দেয় এবং যে নারী তা লাগিয়ে নেয়।"
এবং চিন্তা করুন—আল্লাহ আপনাকে তাঁর আনুগত্যে সাহায্য করুন। এটি একজন মমতাময়ী মায়ের সেই সুর যা গভীর আবেগ ও ভালোবাসার ছায়ায় সিক্ত ছিল, যখন তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে তার অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা এবং সদ্য বিবাহিতা কন্যার চুলে আলগা চুল সংযোগ করার অনুমতি চাইছিলেন। সেই মায়ের হৃদয়ে আলোড়িত প্রবল আবেগ এবং তার কন্যাকে সাজিয়ে তার আনন্দ পূর্ণ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষাও তাকে কোনো গর্হিত কাজ করতে প্ররোচিত করেনি...
হুকুম না জানা বা কনের প্রয়োজনের অজুহাতে তিনি নিজ থেকে চুল লাগিয়ে প্রশান্তি খোঁজেননি; বরং তিনি আল্লাহর রাসূলের কাছে ফতোয়া নিতে এসেছিলেন, তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থেকে এবং তাঁর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে...
বর্তমান যুগে, যেখানে ভোগবিলাসিতা এবং হারামের মাধ্যমে নফসের খায়েশ মেটানোর প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে আমাদের কতই না প্রয়োজন নিজেদেরকে আমাদের মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টির অনুগত করা এবং আমাদের প্রবৃত্তিকে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতের অনুসারী করা। যাতে আমরা আমাদের নেককার পূর্বসূরিদের অনুসরণ করে তা-ই ভালোবাসি যা তিনি ভালোবাসতেন এবং তা-ই বর্জন করি যা তিনি অপছন্দ করতেন
...আর কেউ যেন মনে না করে যে, এই আদেশ পালন কেবল সেই উজ্জ্বল যুগের গুটিকয়েক ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য ছিল; বরং এটি ছিল সেই যুগের সকল স্তরের মানুষের সাধারণ চরিত্র। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الألباني
(1) من حديث أبي أسيد الأنصاري رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو خارج من المسجد، فاختلط الرجال مع النساء في الطريق، فقال: " استأخرن فإنه ليس لكن أن تحققن الطريق، عليكن بحافات الطريق»
فكانت المرأة تلتصق بالجدار حتى إن ثوبها يتعلق بالجدار من التصاقها به ..
وقال إبراهيم بن مجمع: «كنا نستعين على حفظ الحديث بالعمل به»
وقال أحمد بن حنبل: «ما كتبت حديثا إلا وقد عملت به، حتى مرّ بي أن النبي صلى الله عليه وسلم «احتجم وأعطى أبا شيبة دينارًا، فاحتجمت وأعطيت الحجام دينارًا»
(2)فابذل وسعك في حفظ العلم حفظ رعاية بالعلم والإتباع لا على فعل الواجبات وترك المحرمات فحسب، بل في الحرص على فعل المسنونات، وترك المكروهات، وتميز في عامة أمرك باستعمال آثار
--------------------------------------------
আলবানী
(১) আবু উসাইদ আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে উল্লেখ করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় বলতে শুনেছেন, যখন রাস্তায় পুরুষ ও মহিলারা একে অপরের সাথে মিশে যাচ্ছিল, তখন তিনি বললেন: "তোমরা পিছিয়ে যাও, কেননা রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলা তোমাদের জন্য সমীচীন নয়; তোমরা রাস্তার প্রান্তভাগ দিয়ে চলাফেরা করো।"
ফলে নারী দেয়ালের সাথে এমনভাবে ঘেঁষে চলতেন যে, দেয়ালের সাথে অতিশয় লেগে থাকার কারণে তাঁর কাপড় পর্যন্ত দেয়ালে আটকে যেত...
ইবরাহীম ইবনে মাজমা বলেন: "আমরা হাদীস মুখস্থ রাখার জন্য তার ওপর আমল করার সাহায্য নিতাম।"
আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: "আমি এমন কোনো হাদীস লিখিনি যার ওপর আমল করিনি। এমনকি যখন আমি জানতে পারলাম যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিঙা লাগিয়েছেন এবং আবু শাইবাহকে এক দীনার দিয়েছেন, তখন আমিও সিঙা লাগালাম এবং সিঙা প্রদানকারীকে এক দীনার প্রদান করলাম।"
(২)সুতরাং ইলম এবং ইত্তিবা বা অনুসরণের মাধ্যমে ইলমের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও চর্চায় তোমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করো; তা কেবল ওয়াজিব পালন এবং হারাম বর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সুন্নাতসমূহ পালনে এবং মাকরূহ বিষয়সমূহ বর্জনের ক্ষেত্রেও সচেষ্ট হও। আর তোমার সার্বিক বিষয়ে আসার বা পূর্বসূরিদের আদর্শ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رسول الله ما أمكنك ووظف السنن على نفسك، فإن الله تعالى يقول: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} فاشتر نفسك اليوم فإن السوق قائمة، والثمن موجود، والبضائع رخيصة، وسيأتي على تلك السوق والبضائع يوما لا تصل فيه إلى قليل ولا كثير، ذلك يوم التغابن، يوم يعض الظالم على يديه ..
3 - حتى من نفسك ..اعلم. وفقك الله. أن حبّ رسول الله صلى الله عليه وسلم من الإيمان، بل إنه مقدم على حب النفس، كما روى البخاري
(1) من حديث عبد الله بن هشام. رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو آخذ بيد عمر. رضي الله عنه. فقال له عمر:
يا رسول الله لأنت أحب إلي من كل شيء إلا من نفسي، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا والذي نفسي بيده حتى أكون أحبّ إليك من نفسك» فقال له عمر: «فإنه الآن والله!! لأنت أحب إليّ من نفسي» قال: «الآن يا عمر» ومما يلاحظ في قوله «والذي نفسي بيده» أنه لا أقسم وهو الصادق المصدوق، فالقسم للتأكيد، وقوله «الآن يا عمر» يعني: كمل
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূলকে যতটা সম্ভব অনুসরণ করো এবং নিজের ওপর সুন্নাহসমূহকে অর্পণ করো, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ}। সুতরাং আজই নিজেকে ক্রয় করে নাও, কারণ বাজার এখনো জমজমাট, মূল্য বিদ্যমান এবং পণ্যসামগ্রী সস্তা। শীঘ্রই সেই বাজার ও পণ্যের ওপর এমন এক দিন আসবে যখন তুমি সামান্য বা অধিক কোনো কিছুতেই পৌঁছাতে পারবে না; সেটি হলো পারস্পরিক লোকসানের দিন, যেদিন জালেম তার দুই হাত কামড়াবে...
৩ - এমনকি নিজের প্রাণের চেয়েও..জেনে রেখো—আল্লাহ তোমাকে তাওফিক দান করুন—যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, বরং তা নিজের প্রাণের ভালোবাসার চেয়েও অগ্রগণ্য; যেমনটি বুখারি
(১) আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম এবং তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত ধরেছিলেন। তখন উমর তাকে বললেন:
হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার নিকট আমার নিজের প্রাণ ব্যতীত অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «না, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় হই»। তখন উমর তাকে বললেন: «আল্লাহর শপথ, এখন আপনি আমার নিকট আমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়!» তিনি বললেন: «হে উমর, এখন (তোমার ঈমান পূর্ণ হলো)»। তাঁর কথা «যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে» এর মধ্যে লক্ষ্যণীয় যে, তিনি শপথ করেছেন অথচ তিনি সত্যবাদী ও সত্য প্রত্যাদিষ্ট; সুতরাং এই শপথ হলো দৃঢ়তা প্রদানের জন্য। আর তাঁর কথা «হে উমর, এখন» এর অর্থ হলো: পূর্ণ হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إيمانك
(1) .. مصداق هذا الحديث قوله تعالى: {النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ}، ومقدم على حب الوالد والولد كما أخرج البخاري
(2) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «فوالّذي نفسي بيده لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحبّ إليه من والده وولده».
بل لا بدّ أن تكون محبته مقدّمة على الأهل والمال والناس أجمع، أخرج مسلم
(3) من حديث أنس رضي الله عنه. قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من أهله وماله، والناس أجمعين»
فالمتأمل فيما تقدم من الأحاديث يجد أنواع المحبّة؛ فالمحبة إما محبة إجلال وتعظيم كمحبة الوالد، وإما محبة تحنن وود كمحبة الولد، وإما محبة لأجل الإحسان وصفات الكمال كمحبة الناس بعضهم بعضا، وإما محبة غنا كمحبة المال، وإما محبة بقاء كمحبة النفس، ولا يؤمن العبد حتى يكون حب الرسول صلى الله عليه وسلم عنده أشد من هذا المحابّ كلها،
--------------------------------------------
আপনার ঈমান
(১) .. এই হাদিসের সত্যায়ন হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের প্রাণের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ}, এবং (নবীর প্রতি ভালোবাসা) পিতামাতা ও সন্তানের ভালোবাসার ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য, যেমনটি ইমাম বুখারি
(২) আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে সংকলন করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।»
বরং তাঁর (নবীর) ভালোবাসা পরিবার, সম্পদ এবং সকল মানুষের ভালোবাসার ঊর্ধ্বে হওয়া আবশ্যক; ইমাম মুসলিম
(৩) আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পরিবার, সম্পদ এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।»
অতএব, উপর্যুক্ত হাদিসগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করলে বিভিন্ন প্রকার ভালোবাসার সন্ধান পাওয়া যায়; ভালোবাসা হয় শ্রদ্ধা ও সম্মানের জন্য—যেমন পিতামাতার প্রতি ভালোবাসা, অথবা হয় মমতা ও স্নেহের জন্য—যেমন সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, অথবা হয় পরোপকার ও পূর্ণতার গুণাবলির জন্য—যেমন মানুষের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, অথবা হয় সচ্ছলতার জন্য—যেমন সম্পদের প্রতি ভালোবাসা, অথবা হয় টিকে থাকার জন্য—যেমন নিজের প্রাণের প্রতি ভালোবাসা। আর একজন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা তার কাছে এই সকল প্রকার ভালোবাসার চেয়ে অধিক প্রবল হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولقد هدد الله سبحانه وتعالى من كان شيء من الخلق أحب إليه من الله ورسوله فقال {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ}
يقول مجاهد والحسن
(1) - رحمهما الله - في تفسير قوله تعالى {حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ} «بعقوبة آجلة أو عاجلة، ثم فسقهم الله بتمام الآية، وأعلمهم أفهم ممن ضل ولم يهده الله».
يقول الزمخشري
(2): - «وهذه آية شديدة لا ترى أشد منها»
ويقول القرطبي
(3): - «وفي الآية دليل على وجوب حب الله ورسوله ولا خلاف في ذلك، وأن ذلك مقدم على كل محبوب»
ولن تجد حلاوة الإيمان التي تعني استلذاذ الطاعات، وتحمل المشاق في الدين، وإيثار ذلك على عرض الدنيا، الذي يعني سلامة
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ঐ ব্যক্তিকে সতর্ক করেছেন যার নিকট সৃষ্টির কোনো কিছু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে অধিক প্রিয়। তিনি বলেছেন, {বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের এমন ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার তোমরা ভয় কর এবং তোমাদের এমন বাসগৃহ যা তোমরা পছন্দ কর— আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহর ফয়সালা আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।}
মুজাহিদ ও হাসান
(১) - রহিমাহুমাল্লাহ - আল্লাহ তাআলার বাণী {আল্লাহর ফয়সালা আসা পর্যন্ত} এর তাফসিরে বলেন: «পরকালীন বা ইহকালীন শাস্তির মাধ্যমে। অতঃপর আল্লাহ আয়াতের শেষাংশে তাদের পাপাচারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তাদের হিদায়াত দেননি।»
যামাখশারি
(২) বলেন: - «এটি একটি অত্যন্ত কঠোর আয়াত, এর চেয়ে কঠোর কোনো আয়াত দেখা যায় না।»
কুরতুবি
(৩) বলেন: - «এই আয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসা ওয়াজিব হওয়ার দলিল রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই; আর এই ভালোবাসা অন্য সকল প্রিয় বস্তুর ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য।»
আর তুমি ঈমানের মিষ্টতা খুঁজে পাবে না— যার অর্থ হলো ইবাদত-আনুগত্যে স্বাদ লাভ করা, দ্বীনের পথে কষ্ট সহ্য করা এবং পার্থিব ভোগবিলাসের ওপর তাকে প্রাধান্য দেওয়া— যা মূলত সুস্থতা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قلبك وصحتك حتى تكمل محبة الله ورسوله لا تكتفي منها بأصل الحب، بل لابد أن يكون الله ورسوله أحب إليك من مما سواهما، وبفرع المحبة بأن لا يحب المرء إلا لله، ولا بد أن يدفع المرء ضدها بأن يكره أن يعود إلى الكفر أو الفسق بعد أن هداه الله، أخرج الشيخان
(1) من حديث أنس مرفوعا: «ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان: أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، وأن يحب المرء لا يحبه إلا الله، وأن يكره أن يعود في الكفر كما يكره أن يقذف في النار»
وأبشر أيها المحب بمرافقتك من أحببت، فقد روى مسلم
(2) من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه. قال: «جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله متى الساعة؟ قال: «وما أعددت للساعة؟» قال: حب الله ورسوله، قال: «فإنك مع من أحببت»
قال أنس رضي الله عنه.: فما فرحنا بعد الإسلام فرحا أشد من قول النبي صلى الله عليه وسلم «فإنك مع من أحببت» قال أنس: «فانا أحب الله ورسوله وأبا بكر وعمر رضي الله عنهما فأرجو الله أن أكون معهم، وأن أعمل بأعمالهم»
--------------------------------------------
তোমার অন্তর ও তোমার স্বাস্থ্যকে (নিযুক্ত করো) যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা পূর্ণতা লাভ করে। তুমি কেবল ভালোবাসার মূল ভিত্তি নিয়েই সন্তুষ্ট থেকো না, বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেন তোমার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া আবশ্যক। আর ভালোবাসার শাখা হলো এই যে, ব্যক্তি কেবল আল্লাহর জন্যই কাউকে ভালোবাসবে। আর মানুষের জন্য আবশ্যক হলো এর বিপরীত বিষয়কে প্রতিহত করা—অর্থাৎ আল্লাহ তাকে হেদায়েত দেওয়ার পর পুনরায় কুফরি বা পাপাচারের দিকে ফিরে যাওয়াকে অপছন্দ করা। শাইখাইন
(১) আনাস থেকে বর্ণিত মারফূ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন: «তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের স্বাদ পাবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া, কাউকে ভালোবাসলে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা এবং কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে তেমনি অপছন্দ করা যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে»
হে প্রেমিক! তুমি যাকে ভালোবাসো তার সঙ্গ পাওয়ার সুসংবাদ গ্রহণ করো। ইমাম মুসলিম
(২) আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?» সে বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো»
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ইসলাম গ্রহণের পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী—«নিশ্চয়ই তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো»—শুনে আমরা যতটা আনন্দিত হয়েছিলাম, অন্য কিছুতে তেমন হইনি। আনাস বলেন: «আমি আল্লাহ, তাঁর রাসূল, আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ভালোবাসি; তাই আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে আমি তাঁদের সাথে থাকব এবং তাঁদের আমল অনুযায়ী আমল করব»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ومحبة الله ورسوله على درجتين:
محبة واجبة، وهي درجة المقتصدين وتقتضي أن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، بحيث لا يبغض شيئا يبغضه وإنما يحب جميع ما أوجبه الله ورسوله، ويبغض ما حرمه الله ورسوله، يقول الله تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ}
وأما المستحبة وهي درجة السابقين وتكون بمحبة ما أحبه الله من النوافل والفضائل محبة تامة، وهذا حال المقربين الذين قربهم الله إليه، جعلني الله وإياك منهم
(1) ..
وانقسم الناس في محبة رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى أقسام ثلاثة: - أهل إفراط، وأهل تفريط، ووسط بينهما وكذلك جعل الله أمة محمد أمة وسطا ..
أما الأوائل منهم فهم الذين ابتدعوا أمورا لم يشرعها الله ورسوله، ظنا منهم أن فعل هذه الأمور هو علامة المحبة وبرهانها، ونسوا قوله تعالى: {فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} فاحتفلوا بمولده ولو كان
--------------------------------------------
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মহব্বত (ভালোবাসা) দুই স্তরের:
ওয়াজিব (আবশ্যকীয়) মহব্বত: এটি পরিমিতপন্থীদের স্তর। এটি দাবি করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যক্তির নিকট অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হবেন, এমনভাবে যে আল্লাহ যা ঘৃণা করেন তিনিও তা ঘৃণা করবেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা ওয়াজিব করেছেন তার সবকিছুকে তিনি ভালোবাসবেন, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা অপছন্দ করবেন। মহান আল্লাহ বলেন: {এটি এ কারণে যে, তারা সেই বিষয়ের অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে, ফলে তিনি তাদের আমলসমূহকে নিষ্ফল করে দিয়েছেন।}
আর মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) মহব্বত: এটি অগ্রগামীদের স্তর এবং এটি অর্জিত হয় আল্লাহ যেসব নফল ও ফজিলতপূর্ণ কাজ পছন্দ করেন সেগুলোকে পূর্ণরূপে ভালোবাসার মাধ্যমে। এটি হচ্ছে সেই নৈকট্যপ্রাপ্তদের অবস্থা যাদেরকে আল্লাহ তাঁর সান্নিধ্যে নিয়েছেন। আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
(1) ..
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহব্বতের ক্ষেত্রে মানুষ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়েছে: অতিরঞ্জনকারী বা বাড়াবাড়িকারী, অবহেলাকারী বা শিথিলতাকারী এবং এই দুইয়ের মাঝে মধ্যমপন্থাকারী। আর এভাবেই আল্লাহ মুহাম্মদী উম্মতকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন..
তাদের মাঝে প্রথম দলটি হলো তারা যারা এমন সব নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের (বিদআত) সূচনা করেছে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিধান হিসেবে দেননি; তাদের ধারণা এই যে, এসব কাজ করাই হলো মহব্বতের চিহ্ন ও প্রমাণ। অথচ তারা মহান আল্লাহর এই বাণী ভুলে গেছে: {আপনারা আমার অনুসরণ করুন, তবেই আল্লাহ আপনাদের ভালোবাসবেন}। ফলে তারা তাঁর জন্মদিবস উদযাপন করল, যদিও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
خيرًا ما سبقوه إليه، وبالغوا في مدحه، ووقعوا في الغلو الذي نهاهم عنه، فوا عجبي لمحبتهم المزعومة، وفي ذلك يقول قائلهم:
يا أكرم الخلق مالي من ألوذ به
… سواك عند حلو الحادث العمم
إن لم تكن في معادي آخذا بيدي
… فضلا وإلا فقل يا زلة القدم
(1)واشتغلوا بحفظ المدائح النبوية عن حفظ سنته، فسار القوم ووقفوا، ووصل القوم وانقطعوا، حتى بلغ الحال ببعضهم أن صار يدعو رسول الله من دون الله، ويحلف به، ويتمسح بالحجرة التي فيها قبره إلى غير ذلك من الشركيّات التي تفعل بدعوى محبة رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي منافية لها بعيدة عنها ..
أما المفرط فهو الذي لم يرع حق رسول الله صلى الله عليه وسلم في وجوب تقديم محبته على محبة النفس والأهل والمال .. ولم يعزره، ويجله، ويطيع أمره، ويتبع سنته، وما ذاك إلا بسبب ذنبه، وإغراقه في شهوات نفسه، وتقديم هواه على ما جاء في شرع ربه، ثم أنه اعتقد جاهل
--------------------------------------------
তারা কল্যাণের সেই পথ অতিক্রম করে গেছে যেদিকে তারা ধাবিত হয়েছিল, তারা তাঁর প্রশংসায় অতিরঞ্জন করেছে এবং সেই সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত হয়েছে যা থেকে তিনি তাদের নিষেধ করেছিলেন। তাদের এই তথাকথিত ভালোবাসার দাবি দেখে আমার বিস্ময় জাগে! এ প্রসঙ্গে তাদের এক প্রবক্তা বলেন:
হে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম! সর্বগ্রাসী মহাবিপদ আপতিত হওয়ার সময় আপনি ব্যতীত আমার আশ্রয় নেওয়ার মতো আর কেউ নেই।
…যদি পরকালে আপনি অনুগ্রহবশত আমার হাত না ধরেন, তবে বলুন: ওহে পদস্খলন! (অর্থাৎ আমি ধ্বংস হয়ে গেলাম)।
(১)আর তারা তাঁর সুন্নাহ মুখস্থ ও সংরক্ষণের পরিবর্তে নবীর প্রশংসামূলক গীতি মুখস্থ করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে একদল লোক পথ চলল আর তারা থেমে রইল; একদল লোক পৌঁছে গেল আর তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। এমনকি তাদের কারও কারও অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আল্লাহর রাসূলকে ডাকতে শুরু করেছে, তাঁর নামে শপথ করছে এবং যে কক্ষে তাঁর কবর রয়েছে তা স্পর্শ করছে; এছাড়াও আরও অনেক শিরক যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার নামে করা হচ্ছে, অথচ এগুলো প্রকৃত ভালোবাসার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং তা থেকে অনেক দূরে।
আর শৈথিল্যকারী হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফস, পরিবার ও সম্পদের ভালোবাসার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আবশ্যকতা রক্ষা করেনি। সে তাঁকে যথাযথ সম্মান করেনি, শ্রদ্ধা করেনি, তাঁর আদেশ পালন করেনি এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করেনি। আর তা কেবল তার পাপের কারণে এবং কুপ্রবৃত্তির লালসায় নিমজ্জিত হওয়ার কারণে এবং তার প্রতিপালকের শরীয়তের ওপর নিজের খেয়ালখুশিকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলে হয়েছে। এরপর সে অজ্ঞতাবশত বিশ্বাস করল যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইফা তানসুরু নাবিয়্যাকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قومه أن مجرد التصديق يكفي في تحقيق الإيمان، حاله كحال أهل الإرجاء الذين يؤخرون العمل عن مسمى الإيمان، ويقولون إن الإيمان هو التصديق بالقلب فقط، أو تصديق القلب وإقرار اللسان، وما أكثر هؤلاء. لا كثرهم الله. في هذا الزمان ..
وأما القسم الثالث وهم من وفق الله فالذين توسطوا بين الطرفين وأصحاب هذا القسم هم السلف من الصحابة والتابعين ومن سار على نهجهم إلى يوم الدين، فأحبوا النبي صلى الله عليه وسلم فوق محبة النفس والولد والأهل وجميع الخلق، وتابعوه، وعزروه، ونصروه، وحفظوا سنته رعاية ورواية، واعتقدوا أنه ليس من المحبة في شيء الغلوفي حقه، وقدره، ووصفه بأمور قد اختص الله بها وحده، بل علموا أن هذا مخالفة ومضادة لتلك المحبة {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} ..
ومن علامات هذه المحبة: الحرص على رؤيته، والإكثار من ذكره بالصلاة والسلام عليه، ولزوم طاعته، وحفظ ونصر سنته و، والذب عن عرضه، ومحبة من أحب، وبغض من أبغض. وقد مضى بعضها، وسيأتي البعض الآخر بشيء من الذكر. إن شاء الله
…
তার সম্প্রদায়ের দাবি হলো যে, কেবল অন্তরে বিশ্বাস করাই ঈমান অর্জনের জন্য যথেষ্ট; তার অবস্থা সেই ইরজা পন্থীদের মতো যারা আমলকে ঈমানের সংজ্ঞা থেকে বিযুক্ত করে। তারা বলে যে ঈমান হলো কেবল অন্তরের বিশ্বাস, অথবা অন্তরের বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকৃতি। বর্তমান সময়ে এই শ্রেণির মানুষের সংখ্যা অনেক। আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না করুন। ..
আর তৃতীয় প্রকার হলো তারা যাদের আল্লাহ তাওফিক দান করেছেন, যারা দুই প্রান্তিকতার মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। এই দলের অন্তর্ভুক্ত হলেন সাহাবী, তাবেয়ী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করবেন সেই সালাফগণ। তাঁরা নবীকে (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) নিজের প্রাণ, সন্তান-সন্ততি, পরিবার-পরিজন এবং সকল সৃষ্টির চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। তাঁরা তাঁর অনুসরণ করেছেন, তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন, তাঁকে সাহায্য করেছেন এবং চর্চা ও বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর সুন্নাহকে হিফাযত করেছেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, তাঁর অধিকার ও মর্যাদার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করা এবং তাঁকে এমন সব গুণাবলীতে গুণান্বিত করা যা এককভাবে কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট, তা ভালোবাসার কোনো অংশ নয়। বরং তাঁরা জানতেন যে, এটি সেই ভালোবাসারই বিরুদ্ধাচরণ ও পরিপন্থী। {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} ..
এই ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন হলো: তাঁকে দেখার ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা, তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের মাধ্যমে তাঁকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করা, তাঁর আনুগত্যে অবিচল থাকা, তাঁর সুন্নাহর হিফাযত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাঁর মান-সম্মান রক্ষা করা এবং তিনি যাকে ভালোবাসতেন তাকে ভালোবাসা ও তিনি যাকে ঘৃণা করতেন তাকে ঘৃণা করা। এর কিছু অংশ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং বাকি অংশ বিস্তারিতভাবে সামনে আসবে। যদি আল্লাহ চান
…