(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: -)
شعب الإيمان - ط الرشد القسم: كتب السنة
الكتاب: شعب الإيمان
المؤلف: أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي (384 - 458 هـ)
حققه وراجع نصوصه وخرج أحاديثه: د عبد العلي عبد الحميد حامد [ت 1443 هـ]
أشرف على تحقيقه وتخريج أحاديثه: مختار أحمد الندوي [ت 1428 هـ]، صاحب الدار السلفية ببومباي - الهند
الناشر: مكتبة الرشد للنشر والتوزيع بالرياض بالتعاون مع الدار السلفية ببومباي بالهند
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2003 م
عدد الأجزاء: 14 (الأخير فهارس)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1432
শুআবুল ঈমান - আর-রুশদ সংস্করণ
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: শুআবুল ঈমান
লেখক: আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকী (৩৮৪ - ৪৫৮ হিজরি)
সম্পাদনা, পাঠ্য পর্যালোচনা এবং হাদিস যাচাই করেছেন: ড. আবদুল আলি আবদুল হামিদ হামিদ [মৃত্যু ১৪৪৩ হিজরি]
সম্পাদনা ও হাদিস যাচাই তত্ত্বাবধান করেছেন: মুখতার আহমদ আন-নাদভী [মৃত্যু ১৪২৮ হিজরি]، বম্বে - ভারতের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ-এর কর্ণধার
প্রকাশক: ভারতের মুম্বাইয়ের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহর সহযোগিতায় রিয়াদের মাকতাবাতুর রুশদ প্রকাশনী ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১৪ (শেষ খণ্ডটি নির্ঘণ্ট)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা সংস্করণে প্রকাশের তারিখ: ২১ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ১)
الجامع لشعب الإيمان
تأليف
الإمام الحافظ أبي بكر أحمد بن الحُسين البيهقي
384 هـ - 458 هـ
الجزء الأول
حققه وراجع نصوصه وخرَّج أحاديثه
الدكتور عبد العلي عبد الحميد حامد
مكتبة الرُّشد
ناشرون
আল-জামি লি-শুআব আল-ইমান
গ্রন্থনা
ইমাম আল-হাফিজ আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকি
৩৮৪ হিজরি - ৪৫৮ হিজরি
প্রথম খণ্ড
সম্পাদনা, পাঠ পর্যালোচনা ও হাদিস যাচাইকরণ করেছেন
ডক্টর আব্দুল আলি আব্দুল হামিদ হামিদ
মাকতাবাতুর রুশদ
প্রকাশনী
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
1423 هـ - 2003 م
مكتبة الرشد للنشر والتوزيع
* المملكة العربية السعودية - الرياض - طريق الحجاز
ص ب 17522 الرياض 11494 هاتف 4593451 فاكس 4573381
E- MAIL: alrushd@suhuf.net.sa
www.alrushd.com
* فرع مكة المكرمة: - هاتف 5585401 - 5583506
* فرع المدينة المنورة: - شارع أبي ذر الغفاري - هاتف 8340600
* فرع القصيم بريدة طريق المدينة - هاتف 2242214
* فرع أبها: - شارع الملك فيصل هاتف 2314307
* فرع الدمام: - شارع ابن خلدون - هاتف 8282175
وكلاؤنا في الخارج
* الكويت: - مكتبة الرشد - حولي - هاتف 2612247
* القاهرة: - مكتبة الرشد - مدينة نصر - هاتف 2744605
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
মাকতাবাতুর রুশদ প্রকাশনা ও বিতরণ
* সৌদি আরব রাজ্য - রিয়াদ - হিজাজ রোড
পি.ও. বক্স ১৭৫২২ রিয়াদ ১১৪৯৪ ফোন ৪৫৯৩৪৫১ ফ্যাক্স ৪৫৭৩৩৮১
ই-মেইল: alrushd@suhuf.net.sa
www.alrushd.com
* মক্কা আল-মুকাররামা শাখা: - ফোন ৫৫৮৫৪০১ - ৫৫৮৩৫০৬
* মদিনা আল-মুনাওয়ারা শাখা: - আবু যার আল-গিফারি সড়ক - ফোন ৮৩৪০৬০০
* আল-কাসিম বুরাইদাহ শাখা, মদিনা সড়ক - ফোন ২২৪২২১৪
* আবহা শাখা: - কিং ফয়সাল সড়ক ফোন ২৩১৪৩০৭
* দাম্মাম শাখা: - ইবনে খালদুন সড়ক - ফোন ৮২৮২১৭৫
বিদেশে আমাদের প্রতিনিধিগণ
* কুয়েত: - মাকতাবাতুর রুশদ - হাওয়ালি - ফোন ২৬১২২৪৭
* কায়রো: - মাকতাবাতুর রুশদ - নাসর সিটি - ফোন ২৭৪৪৬০৫
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ৩)
الجامع لشعب الإيمان
ঈমানের শাখাসমূহের পূর্ণাঙ্গ সংকলন
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ৫)
كلمة الناشرالحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله وصلى الله وسلم على نبينا محمد خاتم الأنبياء والمرسلين والمبعوث رحمة للعالمين وعلى آله وأصحابه ومن سار على منهجه واقتدى بهديه إلى يوم الدين.
أما بعد
فيسر مكتبة الرشد بالتعاون مع الدار السلفية بومباي الهند أن تقدم إلى المكتبة الإسلامية هدية نادرة من كتب التراث الإسلامي مطبوعة في صورة تروق عين الناظرين وترضي ذوق العلماء والباحثين وهي الموسوعة الحديثية العظيمة القدر الجامع المصنف في شعب الإيمان للإمام الحافظ المحدث أبي بكر أحمد بن الحسين البيهقي (م 458). ونحمد الله عز وجل على فضله وإنعامه بأن وفقنا -بكرمه ولطفه- بإصدار هذا الكتاب بتحقيق علمي. ويعتبر ذلك نجاحا كبيرا وخطوة إلى الأمام في تنفيذ المشاريع العلمية التي تتبناها مكتبة الرشد من يوم نشأتها في مجال إحياء التراث الإسلامي.
وقد سبق أن أصدرت الدار أكثر من ثلاثمائة كتابٍ تتناول الموضوعات المختلفة من التفسير والحديث والعقيدة والفقه والفتاوى.
ونسأل الله سبحانه وتعالى العون والتوفيق والسداد في قيامنا بمزيد من الأعمال لخدمة الدين الإسلامي خالصة لوجهه الكريم.
الناشر
প্রকাশকের কথাসমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এই পথে পরিচালিত করেছেন, এবং আল্লাহ আমাদের পরিচালিত না করলে আমরা হেদায়াত পেতাম না। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী এবং জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত। আর তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীগণ এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর মানহাজ অনুসরণ করবে ও তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী চলবে তাদের ওপরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর
ভারতের বোম্বাইয়ের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ-এর সহযোগিতায় মাকতাবাতুর রুশদ ইসলামী লাইব্রেরিতে ইসলামী ঐতিহ্যের কিতাবসমূহের মধ্য থেকে একটি বিরল উপহার পেশ করতে পেরে আনন্দিত, যা এমন এক অবয়বে মুদ্রিত হয়েছে যা পাঠকদের দৃষ্টি জুড়াবে এবং আলিম ও গবেষকদের রুচিকে সন্তুষ্ট করবে। আর তা হলো মহান ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হাদীসকোষ 'আল-জামি' আল-মুসান্নাফ ফী শুআবুল ঈমান', যার লেখক হলেন ইমাম হাফিয মুহাদ্দিস আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হি.)। আমরা মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর অনুগ্রহ ও নিআমতের জন্য যে, তিনি তাঁর দয়া ও মেহেরবানিতে আমাদের এই কিতাবটি ইলমী তাহকীকসহ প্রকাশের তাওফীক দিয়েছেন। ইসলামী ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে মাকতাবাতুর রুশদ তার সূচনালগ্ন থেকে যেসব ইলমী প্রকল্প গ্রহণ করে আসছে, এটি সেগুলোর বাস্তবায়নে একটি বড় সাফল্য এবং সম্মুখপানে অগ্রসর হওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
এই প্রকাশনী ইতিপূর্বে তাফসীর, হাদীস, আকীদা, ফিকহ ও ফাতাওয়া সহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তিনশ’রও অধিক কিতাব প্রকাশ করেছে।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একান্তনিষ্ঠভাবে ইসলাম ধর্মের খিদমতে আরও অধিক কাজ করার জন্য সাহায্য, তাওফীক ও সঠিকতা প্রার্থনা করছি।
প্রকাশক
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ৭)
كلمة المحققإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: - 102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70].
أما بعد فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
أما بعد!
فهذا هو كتاب "الجامع المصنف في شعب الإيمان" للإمام الحافظ أبي بكر أحمد ابن الحسين البيهقي، تقدمه الدار السلفية للقراء، ولعل ذلك يعتبر من أهم الشروعات العلمية التي يتم تنفيذها في هذه الدار التي عكفت منذ أول يوم نشأتها على إحياء التراث الإسلامي وإشاعة السنة النبوية والجهاد ضد البدع والخرافات
والكتاب يتناول موضوعا هاما يمس حياة المسلم على وجه هذه الأرض، فالله تبارك وتعالى خلق الجن والإنس ليعبدوه، وأرسل الرسل والأنبياء لهدايتهم إلى ما فيه صلاحهم وفلاحهم، وختم هذه الحلقة ببعث أفضل الأنبياء وسيد الرسل محمد صلى الله عليه وسلم الذي جاء يعلم البشر طريقة إقامة الصلة المطلوبة بين العبد وربه، كما أوضح معالم
গবেষকের বক্তব্য
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য লাভ করবে।} [আল-আহযাব: ৭০-৭১]।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর!
সুতরাং এটি হলো ইমাম হাফেয আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকী রচিত "আল-জামি আল-মুসান্নাফ ফী শুআবুল ঈমান" গ্রন্থটি, যা আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ পাঠকদের নিকট উপস্থাপন করছে। সম্ভবত এটি এই প্রতিষ্ঠানের দ্বারা বাস্তবায়িত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইলমী প্রকল্পগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হবে, যা তার সূচনালগ্ন থেকেই ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে, সুন্নাতে নববী প্রচার করতে এবং বিদআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে আত্মনিয়োগ করেছে।
আর এই গ্রন্থটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যা এই পৃথিবীতে একজন মুসলিমের জীবনকে স্পর্শ করে। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা জিন ও মানুষকে কেবল তাঁর ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাদের সংশোধন ও সাফল্যের পথে পরিচালিত করার জন্য রসূল ও নবীগণকে প্রেরণ করেছেন এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রসূলগণের সরদার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণের মাধ্যমে এই ধারার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন; যিনি মানবজাতিকে বান্দা ও তার রবের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক স্থাপনের পদ্ধতি শিক্ষা দিতে এসেছেন, যেমনটি তিনি এর নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ৮)
الحياة السعيدة ونبه على أن مناط الفوز والخسران في الدار الآخرة يكون على نجاح الفرد أو فشله في الوفاء بالشروط والواجبات التي يتطلبها الإيمان بالله. وليس الإيمان عبارة عن التفوّه بكلمة الشهادة، ولا هو عبارة عن مجرد الطقوس والعبادات الظاهرة التي يأتي بها الإنسان. بل الإيمان عبارة عن مجموعة من الخصال والأعمال، تغطي جوانب الحياة كلها كما أشار إلى ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله:
"الإيمان بضع وسبعون شعبة أعلاها قول لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق. والحياء شعبة من الإيمان".
وهذه الشعب أشار إليها النبي المصطفى صلى الله عليه وسلم في أحاديثه. وقد حاول جمعها في كتاب بعض العلماء وأحسن ما ألف فيه على طريقة المحدثين هو هذا الكتاب الذي بين أيديكم الآن. وهو يطبع لأول مرة بالتحقيق العلمي.
والفضل يرجع في إخراجه إلى جهود الأخ الفاضل الشيخ مختار أحمد الندوي صاحب الدار السلفية الذي عرف بجهوده المخلصة لإشاعة السنة النبوية وهدم البدع الذميمة في الهند وخارجها.
وأريد أن أعبر عن خالص شكري للأخ الفاضل الشيخ مختار أحمد الندوي الذي رآني أهلًا لهذا العمل ووضع ثقته فيّ. وأرجو أن أكون وفقت في إنجاز ما عهد إليّ من العمل.
كما أشكر أولاده الثلاثة -أسلم وأكرم وأرشد- الذين قاموا بجانبي طوال مدة العمل يحاولون تذليل الصعاب وإزالة العقبات التي كانت تعرقل سبيلنا، كما حاولوا أن يخففوا عني وطأة المسئوليات الاجتماعية. فجزاهم الله وأطال عمرهم وكتب لهم النجاح والسعادة.
وأود أن أشكر الأستاذ الفاضل الشيخ حمدي عبد المجيد السلفي -حفظه الله- الذي قام بالتعاون معنا في إخراج هذا الكتاب، وأخبرنا عن نسخ الكتاب ومواضع وجودها، وساعدنا في الحصول على صور منها. وكان لتوجيهاته ونصائحه المخلصة فائدة كبيرة في عملنا. فجزاه الله أحسن الجزاء وأفادنا بعلمه.
সুখী জীবন এবং তিনি সতর্ক করেছেন যে পরকালে মুক্তি বা ক্ষতির মানদণ্ড হলো আল্লাহর প্রতি ঈমানের দাবি অনুযায়ী শর্ত ও ওয়াজিবসমূহ পালনে ব্যক্তির সফলতা বা ব্যর্থতা। আর ঈমান কেবল শাহাদাহ কালিমা মুখে উচ্চারণ করার নাম নয়, আর না তা কেবল বাহ্যিক কিছু রীতি ও ইবাদতের নাম যা মানুষ পালন করে থাকে। বরং ঈমান হলো এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ও আমলের সমষ্টি, যা জীবনের সকল দিককে পরিবেষ্টন করে থাকে, যেমনটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:
"ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।"
আর এই শাখাগুলোর প্রতি নবী মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাদীসসমূহে ইঙ্গিত করেছেন। কিছু আলিম এগুলোকে একটি কিতাবে সংকলন করার চেষ্টা করেছেন এবং মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতিতে এ বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো এই কিতাবটি যা এখন আপনাদের হাতে রয়েছে। এটিই প্রথমবারের মতো বৈজ্ঞানিক তাহকীক বা গবেষণার সাথে মুদ্রিত হচ্ছে।
এটি প্রকাশের কৃতিত্ব সম্মানীয় ভাই শাইখ মুখতার আহমাদ আন-নাদভীর প্রচেষ্টার দিকেই যায়, যিনি 'আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ'-এর স্বত্বাধিকারী; যিনি ভারত ও ভারতের বাইরে সুন্নাহর প্রচার এবং নিন্দনীয় বিদআতসমূহ নির্মূলে তাঁর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার জন্য সুপরিচিত।
আমি সম্মানীয় ভাই শাইখ মুখতার আহমাদ আন-নাদভীর প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, যিনি আমাকে এই কাজের যোগ্য মনে করেছেন এবং আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। আমি আশা করি যে, আমাকে যে কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল তা সম্পন্ন করার তাওফীক লাভ করেছি।
সেইসাথে আমি তাঁর তিন সন্তান -আসলাম, আকরাম এবং আরশাদ- এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা এই কাজের পুরো সময় জুড়ে আমার পাশে ছিলেন এবং আমাদের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সমস্যা ও অসুবিধাগুলো দূর করতে সচেষ্ট ছিলেন; সেইসাথে তারা আমার সামাজিক দায়িত্বের বোঝাও লাঘব করার চেষ্টা করেছেন। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাদের দীর্ঘজীবী করুন এবং তাদের জন্য সফলতা ও সুখ লিখে দিন।
আমি আরও ধন্যবাদ জানাতে চাই সম্মানিত উস্তাদ শায়খ হামদী আব্দুল মাজীদ আস-সালাফী -আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন- কে, যিনি এই কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের সাথে সহযোগিতা করেছেন এবং আমাদের কিতাবের পাণ্ডুলিপি ও তার প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে অবহিত করেছেন, এমনকি তার অনুলিপি সংগ্রহেও সহায়তা করেছেন। আমাদের কাজে তার আন্তরিক নির্দেশনা ও উপদেশের বিশাল ভূমিকা ছিল। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তার ইলম দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন।
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ৯)
وكذلك أشكر الأستاذ الفاضل صبحي السامرائي -حفظه الله- الذي تكرم بإهداء صور "الجامع المصنف لشعب الإيمان" من مكتبته الخاصة كما زودنا بكتب أخرى هامة استفدنا منها في إخراج هذا الكتاب.
كما أشكر الزملاء الذين اشتركوا معي في العمل وهم: السيد/ ضياء الحسن السلفي الذي قام بنسخ الكتاب من المخطوطات، وقام بعمل فهارس ومراجعتها لتخريج أحاديث شعب الإيمان، والسيد/ زكي إختر الذي قام بإعداد فهرس كامل لرجال الكتاب، كما أعد فهرسًا منفصلًا لشيوخ البيهقي الذين يبلغ عددهم حوالي مائتي شيخ، وساهم في البحث عن تراجمهم في كتب التاريخ.
والسيد خورشيد أنور الذي قام بصف الحروف على الكمبيوتر وإعطاء الكتاب شكله النهائي.
أشكر كل هؤلاء وغيرهم ممن ساهم في إخراج هذا الكتاب. وأدعو الله أن يثيبهم على ما قاموا به من عمل ويكتب لهم التوفيق والسعادة.
وضعت في أول الكتاب فصلين يتناول أحدهما ترجمة المؤلف والآخر كتابه الذي نحن بصدد نشره. وقد كتب كثير من العلماء، الذين قاموا بتحقيق كتب البيهقي ونشرها -أخيرًا- ترجمته، ولكن أحسن ما رأيت هو ما كتب أستاذي الجليل السيد أحمد صقر في مقدمة كتاب "معرفة السنن والآثار" ولقد استفدت من كلامه واقتبست منه.
وأرجو الله أن يوفقني للسداد ويعصمني من الخطأ والزلل، ويقبله مني. إنه على كل شئ قدير.
وصلى الله على النبي الأمي وعلى آله وأصحابه وأهل بيته أجمعين.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
عبد العلي عبد الحميد حامد
তেমনিভাবে আমি শ্রদ্ধেয় উস্তাদ সুবহি সামাররাঈ -আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন- এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি তাঁর ব্যক্তিগত লাইব্রেরি থেকে "আল-জামেউল মুসান্নাফ লি-শুআবুল ঈমান"-এর প্রতিলিপি উপহার দেওয়ার মহানুভবতা দেখিয়েছেন এবং আমাদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বইও সরবরাহ করেছেন যা থেকে আমরা এই বইটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছি।
এছাড়া আমি সেই সব সহকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানাই যারা এই কাজে আমার সঙ্গে শরিক ছিলেন, তাঁরা হলেন: জনাব জিয়াউল হাসান সালাফি, যিনি পাণ্ডুলিপি থেকে বইটি অনুলিপি করেছেন এবং শুআবুল ঈমানের হাদিসগুলোর তাখরিজের (উৎস নির্দেশ) জন্য সূচিপত্র তৈরি ও তা পুনরায় নিরীক্ষণ করেছেন; এবং জনাব জাকি আখতার, যিনি বইটির বর্ণনাকারীদের একটি পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রস্তুত করেছেন, এবং তিনি ইমাম বায়হাকির শায়খদের জন্য একটি পৃথক সূচিও তৈরি করেছেন যাদের সংখ্যা প্রায় দুইশ জন, আর তিনি ইতিহাসের বইগুলো থেকে তাঁদের জীবনী সন্ধানের ক্ষেত্রেও অবদান রেখেছেন।
এবং জনাব খুরশীদ আনোয়ার, যিনি কম্পিউটারে কম্পোজ করেছেন এবং বইটিকে এর চূড়ান্ত রূপ দান করেছেন।
আমি এঁদের সকলকে এবং অন্যদেরও ধন্যবাদ জানাই যারা এই বইটি প্রকাশে অবদান রেখেছেন। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন তাঁদের এই কাজের জন্য উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁদের জন্য তাওফিক ও সৌভাগ্য লিখে দেন।
আমি বইটির শুরুতে দুটি পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছি, যার একটিতে লেখকের জীবনী এবং অন্যটিতে তাঁর এই বইটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা আমরা বর্তমানে প্রকাশ করতে যাচ্ছি। অনেক আলেম, যারা সম্প্রতি ইমাম বায়হাকির বইসমূহ তাহকিক ও প্রকাশ করেছেন, তাঁরা তাঁর জীবনী লিখেছেন; তবে আমি যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হলো আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ জনাব আহমদ সাকরের লেখাটি যা তিনি "মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার" বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন এবং আমি তাঁর কথা থেকে উপকৃত হয়েছি ও তা থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছি।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে সঠিক পথের তাওফিক দান করেন এবং ভুল ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন এবং আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
আল্লাহ উম্মি নবী এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল সাহাবী ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
এবং আমাদের সর্বশেষ আহ্বান হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আব্দুল আলী আব্দুল হামীদ হামিদ
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأولترجمة المؤلفهو الإمام، العلامة، الحافظ، المحدث، الفقيه، الأصولي، الزاهد، أبو بكر أحمد ابن الحسين بن علي بن موسى البيهقي الخسروجردي.
ونسبته إلى بيهق، قال ياقوت: ناحية كبيرة، وكورة واسعة، كثيرة البلدان والعمارة من نواحي نيسابور، وتشتمل على ثلاثمائة واحدى وعشرين قرية بين نيسابور وقومس وجوين، بين أول حدودها ونيسابور ستون فرسخًا، وكان قصبتها أولاً "خسروجرد"، ثم صارت "سبزوار".
وأول حدود بيهق من جهة نيسابور آخر حدود ريوند إلى قرب دامغان خمسة وعشرون فرسخاً طولا وعرضها قريب منه
… إلى أن قال:
"وقد أخرجت هذه الكورة من لا يحصى من الفضلاء، والعلماء، والفقهاء، والأدباء، ومع ذلك فالغالب على أهلها مذهب الرافضة الغلاة
(1) ".
ولد الإمام البيهقي في سنة أربع وثمانين وثلاثمائة في شمعبان، وتوفي سنة ثمان وخمسين وأربعمائة في جمادى الأولى. عاش 74 سنة. وقف حياته كلها في خدمة العلم، في البحث والدراسة، والتصنيف والتأليف، والإفادة والتدريس. ساعده على ذلك القناعة باليسير، والتجمل بالزهد والورع. كانت نفسه أشربت حب العلم والمعرفة فأحاطها من جميع أقطارها، وملك خوف الله عز وجل ومحبة دينه قلبه من كل جانب فلم يترك فيه مكانا للدنيا وأسبابها، ولذائذها ومنافعها. فركز همومه وصرفها إلى جهة واحدة هي العمل على بث العلم، وإفادة الناس، ونشر السنة
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদলেখকের জীবনী
তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, হাফিজ, মুহাদ্দিস, ফকিহ, উসুলি, যাহিদ, আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মুসা আল-বায়হাকী আল-খুসরওজারদী।
তার নিসবত বা সম্বন্ধ বায়হাকের দিকে। ইয়াকুত বলেন: এটি একটি বড় অঞ্চল এবং প্রশস্ত প্রদেশ, যা নিশাপুরের নিকটবর্তী বহু জনপদ ও জনবসতি সমৃদ্ধ। এটি নিশাপুর, কুমিস এবং জুওয়াইনের মধ্যবর্তী তিনশত একুশটি গ্রাম নিয়ে গঠিত। এর প্রথম সীমানা এবং নিশাপুরের মধ্যবর্তী দূরত্ব ষাট ফারসাখ। এর প্রধান শহর প্রথমে ছিল "খুসরওজারদ", পরবর্তীতে তা "সাবযাওয়ার" এ রূপান্তরিত হয়।
নিশাপুরের দিক থেকে বায়হাকের প্রথম সীমানা রেভান্দের শেষ সীমানা থেকে দামগানের নিকট পর্যন্ত দৈর্ঘ্য পঁচিশ ফারসাখ এবং এর প্রস্থও এর কাছাকাছি। তিনি আরও বলেন:
"এই প্রদেশটি অসংখ্য গুণীজন, আলেম, ফকিহ এবং সাহিত্যিক তৈরি করেছে। এতদসত্ত্বেও এর অধিবাসীদের অধিকাংশের ওপর চরমপন্থী রাফেযী মতবাদ প্রবল।
(১)
"।
ইমাম বায়হাকী তিনশত চুরাশি হিজরীর শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং চারশত আটান্ন হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে ইন্তেকাল করেন। তিনি ৭৪ বছর বেঁচে ছিলেন। তিনি তাঁর সমগ্র জীবন ইলমের সেবা, গবেষণা ও অধ্যয়ন, গ্রন্থ রচনা ও সংকলন এবং শিক্ষা দান ও উপকারের কাজে উৎসর্গ করেছিলেন। অল্পে তুষ্টি এবং যুহদ ও তাকওয়ার ভূষণ তাঁকে এই কাজে সহায়তা করেছিল। তাঁর অন্তর ইলম ও মা'রিফাতের ভালোবাসায় সিক্ত ছিল, ফলে তিনি এর সকল দিক আয়ত্ত করেছিলেন। মহান আল্লাহর ভয় এবং তাঁর দ্বীনের মহব্বত তাঁর হৃদয়ের সকল দিক অধিকার করে নিয়েছিল, ফলে সেখানে দুনিয়া, দুনিয়ার উপায়-উপকরণ, স্বাদ বা স্বার্থের জন্য কোনো স্থান অবশিষ্ট ছিল না। তিনি তাঁর সকল চিন্তা ও মনোযোগ একটি দিকেই নিবদ্ধ করেছিলেন, আর তা হলো ইলম প্রচার করা, মানুষের উপকার করা এবং সুন্নাহর প্রসার ঘটানো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ১২)
والدفاع عنها، والحرب ضد من تسول له نفسه النيل منها، أو الغض من شأنها. وكان في ذلك كله متدرعًا بسلاحٍ من التقوى والورع والتواضع وكسر النفس، مع نزاهة القصد، وخلوص النية، وسعة الاطلاع، وقوة الحفظ، ودقة الفهم.
كان أول سماعه للحديث في سنة تسع وتسعين وثلاثمائة وهو ابن خمس عشرة سنة
(1) ورحل وطوف الآفاق في طلب العلم، فسافر إلى العراق والجبال والحجاز، وتجول في قراها ومدنها كنوقان وإسفرايين ونيسابور، والطابران، والدامغان، وبغداد، والكوفة، ومكة، وسمع من شيوخها، وأفاد واستفاد.
وبعدما حصل على بغيته، وسكنت نفسه المتعطشة إلى الطلب والحصول رجع إلى موطنه، وعكف فيه يبث ما كان جمعه من العلوم فأقبل على التأليف والتصنيف والبحث والتدريس بنفس مطمئنة راضية لا يقلقها طلب معاش، وفكر متجمع لا يشوشه فكرة مال ولا تجارة، ولا التقرب إلى ذي سلطان. وهذه ميزة يتعجب منها الإنسان حينما يرى أن العصر الذي عاشه كان يسوده قدر غير قليل من الفتن والقلاقل السياسية والدينية.
عصره:عاش البيهقي في فترة كانت من أشد الفترات اضطرابًا، وأكثرها فتنًا وقلاقل. كانت بلاد المسلمين كلها تموج بالفتن، وكان الوضع السياسي غير مستقر، فضعف الخلافة المركزية في بغداد أتاح لكل مغامر فرصة للوثوب على الحكم، واقتطاع جزء من الأرض لإقامة دولة جديدة. وهكذا كثرت الدويلات في طول البلاد وعرضها، ولم تكن العلاقات بينها تقوم على مودة وصفاء، وتفاهم وتعاون، بل كان يجري بينها حروب متواصلة مما قضى على الأمن والسلام، وأصبح الناس يعيشون في خوف دائم وقلق مستمر. وصار بلاط الأمراء والوزراء مسرح مؤامرات ومكيدات. ولم يكن يهم الإمام البيهقي ما كان يجري في الدوائر السياسية، ولكن كان عصره يموج بنوع
--------------------------------------------
এবং তা রক্ষা করা এবং যারা এর অমর্যাদা করার কিংবা এর মান ক্ষুণ্ন করার দুঃসাহস দেখাবে তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। এই সবকিছুর মাঝে তিনি তাকওয়া, পরহেজগারি, বিনয় ও আত্মসংযমের বর্ম পরিহিত ছিলেন; সেই সাথে ছিল তাঁর নিষ্কলুষ উদ্দেশ্য, নিয়তের একনিষ্ঠতা, বিস্তৃত অধ্যয়ন, প্রখর মুখস্থশক্তি এবং সূক্ষ্ম প্রজ্ঞা।
তিনি ৩৯৯ হিজরী সালে পনেরো বছর বয়সে প্রথম হাদিস শ্রবণ করেন
(১)
এবং ইলম অন্বেষণে দেশ-দেশান্তর পরিভ্রমণ করেন। তিনি ইরাক, পার্বত্য অঞ্চল (জিবাল) ও হিজাজ সফর করেন এবং সেখানকার বিভিন্ন গ্রাম ও শহর যেমন—নুকান, ইসফিরায়িন, নিশাপুর, তবারান, দামগান, বাগদাদ, কুফা ও মক্কায় ভ্রমণ করেন। তিনি সেখানকার শাইখদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন এবং জ্ঞান আহরণ ও বিতরণ করেন।
অতঃপর যখন তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করলেন এবং জ্ঞান অন্বেষণ ও প্রাপ্তির পিপাসার্ত হৃদয়ে প্রশান্তি এলো, তখন তিনি নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি তাঁর সংগৃহীত ইলম প্রসারে মনোনিবেশ করেন। তিনি অত্যন্ত প্রশান্ত ও পরিতৃপ্ত চিত্তে গ্রন্থ রচনা, সংকলন, গবেষণা ও পাঠদানে আত্মনিয়োগ করেন, যেখানে জীবিকা অন্বেষণের দুশ্চিন্তা তাঁকে অস্থির করত না এবং তাঁর একাগ্র চিন্তাকে ধন-সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা কোনো শক্তিধরের নৈকট্য লাভের চিন্তা বিঘ্নিত করত না। এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যা দেখে মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করে যখন সে দেখে যে, তিনি যে যুগে বসবাস করতেন তা যথেষ্ট ফিতনা এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অস্থিরতায় পূর্ণ ছিল।
তাঁর যুগ:
ইমাম বায়হাকী এমন এক যুগে বসবাস করতেন যা ছিল চরম অস্থিরতাপূর্ণ এবং ফিতনা ও বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ। সমস্ত মুসলিম ভূখণ্ড ফিতনার জোয়ারে ভাসছিল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অস্থিতিশীল। বাগদাদের কেন্দ্রীয় খেলাফতের দুর্বলতা প্রতিটি দুঃসাহসী ব্যক্তিকে ক্ষমতা দখলের এবং একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভূখণ্ডের একাংশ বিচ্ছিন্ন করে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। এভাবে দেশজুড়ে ছোট ছোট রাজ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্ক হৃদ্যতা, স্বচ্ছতা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে ছিল না; বরং তাদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধ চলত যা নিরাপত্তা ও শান্তি বিনষ্ট করেছিল এবং মানুষ স্থায়ী ভয় ও নিরন্তর উদ্বেগের মধ্যে বসবাস করতে শুরু করেছিল। আমীর ও উজিরদের রাজদরবার ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশলের মঞ্চে পরিণত হয়েছিল। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে কী ঘটছে তা নিয়ে ইমাম বায়হাকী বিচলিত ছিলেন না, তবে তাঁর যুগ এক বিশেষ প্রকার আলোড়নে পূর্ণ ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
آخر من الفتن كان كل عالم مخلص يقلق لها. كانت الأمة الإسلامية انقسمت إلى معسكرات متناحرة متقاتلة
(1)، فهناك طائفة الشيعة في حرب مع أهل السنة، وهؤلاء في مناظرة مع المعتزلة، وأهل السنة أنفسهم لم يكونوا متوافقين فيما بينهم، مجتمعين على كلمة واحدة. فكانت العلاقات بينهم عبارة عن مطارحات ومناقشات كانت سرعان ما تتحول إلى قتال دامٍ. وكانت الوحدة التي دعا إليها الإسلام اختفت، والألفة بين الناس تلاشت، وعواطف الأخوة والمحبة انعدمت، ومات الشعور بالتعاون والتضامن، وحل مكانه الشعور بالأنانية، والتفرق والتشتت والكراهية والحقد، والاختلاف والتحازب. وكانت النتيجة أن ضعفت شوكة المسلمين، وانعدم ذلك الرعب الذي نصر الله به هذه الأمة، وذهبت ريح المسلمين طبقًا لما أنذر الله في كتابه حين قال: {وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ}
(2).
وكان العلماء أهملوا واجبهم، فبدلاً من أن يعملوا على تأليف القلوب والإصلاح بين الناس، صاروا في مقدمة الذين يوقدون نيران الفتن، أو ينضمون للقائمن عليها.
وهذا التشتت في صفوف الأمة أدى إلى ضعف بين أدركه أعداء الإسلام الذين كانوا يتربصون بالمسلمين، فاغتنموا ذلك، وأعدوا عدتهم، وبدأوا حملاتهم، وأذاقوا المسلمين أنواعا من العذاب من القتل والأسر والتشريد.
وكان الخلفاء والأمراء والسلاطين يخوضون أحيانًا غمار هذه الفتن. وكان انحيازهم إلى طائفة ما يعني غلبتها وانتصارها من مخالفيهم الذين كانوا يتعرضون لأقصى المحن والبلايا على أيديهم. فمثلا كان هوى الخليفة القادر بالله مع أهل السنة وقام بنصرتهم في أكثر من موقع، ففي سنة ثمان وأربعمائة وقعت فتنة عظيمة في بغداد بين أهل السنة والشيعة قتل فيها عدد كبير من الخليقة، فتدخل الخليفة، وطرد زعماء الباطنية والجهمية والمشبهة، واستتاب فقهاء المعتزلة فأظهروا الرجوع، وتبرءوا من
--------------------------------------------
ফেতনা-ফাসাদের এমন এক চরম অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল যা প্রত্যেক নিষ্ঠাবান আলেমকে উদ্বিগ্ন করে তুলত। মুসলিম উম্মাহ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ও বিবাদমান শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল
(১)
, সেখানে শিয়া গোষ্ঠী আহলে সুন্নাতের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, আর তারা মুতাজিলাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত ছিল। স্বয়ং আহলে সুন্নাতও নিজেদের মধ্যে একমত এবং এক কথার ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিল না। তাদের মধ্যকার সম্পর্কগুলো ছিল নিছক তর্ক-বিতর্ক ও বাহাস কেন্দ্রিক, যা দ্রুতই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিত। ইসলাম যে ঐক্যের দাওয়াত দিয়েছিল তা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল, মানুষের মধ্যকার হৃদ্যতা লোপ পেয়েছিল এবং ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার আবেগ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার অনুভূতি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, বিভেদ, বিচ্ছিন্নতা, ঘৃণা, বিদ্বেষ, মতবিরোধ ও দলাদলি। এর ফলশ্রুতিতে মুসলমানদের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ল এবং সেই ভীতি ও দাপট বিলুপ্ত হয়ে গেল যার মাধ্যমে আল্লাহ এই উম্মতকে সাহায্য করতেন। আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা সতর্ক করেছিলেন সেই অনুযায়ী মুসলমানদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিলীন হয়ে গেল, যখন তিনি বলেছিলেন: "তোমরা নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না, নতুবা তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।"
(২)
।
আলেমরা তাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছিলেন; তারা মানুষের অন্তর জয় করা এবং মানুষের মধ্যে সংস্কার ও সন্ধি স্থাপনের পরিবর্তে ফিতনার আগুন প্রজ্বলনকারীদের অগ্রভাগে চলে গিয়েছিলেন অথবা ফিতনা সৃষ্টিকারীদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন।
উম্মাহর কাতারগুলোর এই বিচ্ছিন্নতা এমন এক দুর্বলতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল যা ইসলামের শত্রুরা বুঝতে পেরেছিল, যারা মুসলমানদের বিপদের অপেক্ষায় ওত পেতে ছিল। তারা এই সুযোগ লুফে নিল, তাদের সাজসরঞ্জাম প্রস্তুত করল, তাদের অভিযান শুরু করল এবং মুসলমানদের হত্যা, বন্দিত্ব ও দেশান্তরের মতো বিভিন্ন ধরনের শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাল।
খলিফা, আমির এবং সুলতানরা মাঝে মাঝে এই ফিতনার গহ্বরে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। আর কোনো একটি দলের প্রতি তাদের পক্ষপাতিত্বের অর্থ ছিল তাদের বিরোধীদের উপর বিজয় ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ, যারা তাদের হাতে চরম পরীক্ষা ও বিপদের সম্মুখীন হতো। উদাহরণস্বরূপ, খলিফা আল-কাদির বিল্লাহর সমর্থন ছিল আহলে সুন্নাতের প্রতি এবং তিনি একাধিক ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করেছিলেন। চারশত আট হিজরি সালে বাগদাদে আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের মধ্যে এক ভয়াবহ ফিতনা সংঘটিত হয়, যাতে বিপুল সংখ্যক সৃষ্টি (মানুষ) নিহত হয়। তখন খলিফা হস্তক্ষেপ করেন এবং বাতেনিয়া, জাহমিয়া ও মুশাব্বিহাদের নেতাদের বহিষ্কার করেন। তিনি মুতাজিলা ফকিহদের নিকট তওবা তলব করেন, ফলে তারা ফিরে আসার কথা প্রকাশ করে এবং তারা সম্পর্ক ছিন্ন করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الاعتزال والرفض والمقالات المخالفة للإسلام -وتبع السلطان محمود بن سبكتكين- وهو الحاكم على خراسان، خطوة الخليفة، فسعى في قتل المعتزلة والرافضة والإسماعيلية والقرامطة والجهمية والمشبهة، وصلبهم وحبسهم، ونفاهم وأمر بلعنهم على المنابر، وأبعد جميع طوائف أهل البدع، ونفاهم عن ديارهم.
ولم يكتف الخليفة على ما فعل من استتابة المعتزلة وطرد زعماء أهل البدع، فجمع كتابا في مظاهرة أهل السنة، فيه الرد على أهل البدع وتفسيق من قال بخلق القرآن، وأمر بجمع العلماء والأعيان من كل الفرق، وقرئ عليهم الكتاب، وأخذت عهودهم ومواثيقهم بالموافقة عليه.
ثم تقدم الخليفة خطوة أخرى فعزل خطباء الشيعة وولى خطباء السنة وعلى تشجيع من الخليفة اضطهد السلطان محمود بناحية من الري بطائفة من الباطنية، وأحل بهم قتلا ذريعا وصلبا شنيعا.
وهكذا تمتع أهل السنة بنوع من حماية الدولة وأفادوا منها وانتفعوا بها في تنكيل معارضيهم، ولكن لم تدم هذه الحماية، ودالت الدولة عليهم فمات الخليفة المنتصر لهم، وزالت دولة بني سبكتكين، واستولى آل سلجوق على الملك في خراسان، ووجدت أهل التشيع والرفض والاعتزال الفرصة فانتصروا من أهل السنة، وكالوا لهم الكيل، وأشعلوا بمساعدة الحكام نيرانا للفتن اصطلى فيها البيهقي نفسه مع غيره من العلماء فعُذّبوا، وطُردوا من ديارهم، وسُجنوا ونُهبت بيوتهم، وأُبعدوا عن الوظائف ولا سيما الخطابة، وأُحل غيرهم محلهم.
حدث ذلك في سنة خمس وأربعين وأربعمائة وكان طغرلبك سلطان الوقت وكان رجلاً سنيا حنفيا. والأحناف كانوا معروفين بلين الجانب مع المعتزلة بخاصة
(1) فانتهز هؤلاء الفرصة وتقربوا إلى وزيره عميد الملك أبي نصر محمد بن نصر الكندري الذي يقول عنه السبكي
(2) الذي ذكر هذه الفتنة بإسهاب -إنه كان معتزليا، رافضيا،
--------------------------------------------
মুতাযিলাবাদ, রাফেযিবাদ এবং ইসলামের পরিপন্থী মতবাদসমূহ - খোরাসানের শাসক সুলতান মাহমুদ বিন সবুক্তগিন খলীফার পদক্ষেপ অনুসরণ করেন। তিনি মুতাযিলা, রাফেযি, ইসমাইলি, কারামিতা, জাহমি এবং মুসাব্বিহাদের হত্যা করতে সচেষ্ট হন এবং তাদের ক্রুশবিদ্ধ করেন, কারারুদ্ধ করেন ও নির্বাসিত করেন। তিনি মিম্বর থেকে তাদের অভিশাপ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বিদআতিদের সকল গোষ্ঠীকে দূরে সরিয়ে দিয়ে তাদের স্বদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
খলীফা মুতাযিলাদের তওবা করানো এবং বিদআতিদের নেতাদের বহিষ্কার করার ওপর ক্ষান্ত হননি; বরং তিনি আহলুস সুন্নাহর সমর্থনে একটি গ্রন্থ সংকলন করেন। এতে বিদআতিদের খণ্ডন করা হয়েছে এবং যারা কুরআন সৃষ্টির কথা বলে তাদের ফাসেক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তিনি সকল দলের উলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একত্রিত করার নির্দেশ দেন এবং তাদের সামনে কিতাবটি পাঠ করা হয়। অতঃপর এর সাথে একমত হওয়ার বিষয়ে তাদের থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হয়।
এরপর খলীফা আরও এক ধাপ অগ্রসর হয়ে শিয়া খতীবদের বরখাস্ত করেন এবং সুন্নি খতীবদের নিযুক্ত করেন। খলীফার উৎসাহে সুলতান মাহমুদ রাই অঞ্চলের বাতিনিয়া সম্প্রদায়ের একটি গোষ্ঠীর ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালান এবং তাদের ওপর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংস ক্রুশবিদ্ধকরণ পরিচালনা করেন।
এভাবে আহলে সুন্নাত এক প্রকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভোগ করেছিলেন এবং তা থেকে উপকৃত হয়ে নিজ বিরোধীদের শায়েস্তা করার কাজে তা ব্যবহার করেছিলেন, কিন্তু এই নিরাপত্তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি তাদের প্রতিকূলে চলে গেল এবং তাদের সাহায্যকারী খলিফা মারা গেলেন। বনু সাবুক্তগিনদের শাসনের অবসান ঘটল এবং সেলজুক বংশ খরাসানের ক্ষমতা দখল করল। তখন শিয়া, রাফেজি এবং মুতাজিলা গোষ্ঠীগুলো সুযোগ পেয়ে আহলে সুন্নাতের ওপর প্রতিশোধ নিল এবং তাদের কড়ায়-গণ্ডায় বুঝিয়ে দিল। তারা শাসকদের সহায়তায় ফিতনার এমন আগুন জ্বালিয়ে দিল যাতে স্বয়ং আল-বাইহাকি এবং অন্যান্য আলেমগণ দগ্ধ হলেন; তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হলো, নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করা হলো, কারারুদ্ধ করা হলো, তাদের ঘরবাড়ি লুণ্ঠন করা হলো এবং তাদের পদ থেকে, বিশেষ করে খুতবা প্রদানের দায়িত্ব থেকে অপসারিত করা হলো এবং তাদের স্থলে অন্যদের স্থলাভিষিক্ত করা হলো।
এটি চারশত পঁয়তাল্লিশ হিজরি সনে ঘটেছিল এবং তুঘরিল বেগ ছিলেন তৎকালীন সুলতান, যিনি ছিলেন একজন সুন্নি হানাফি ব্যক্তি। হানাফিগণ বিশেষ করে মুতাজিলাদের প্রতি নমনীয়তার জন্য পরিচিত ছিলেন
(১)। ফলে তারা এই সুযোগ লুফে নেয় এবং তার উজির আমিদুল মুলক আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-কুন্দুরির নিকটবর্তী হয়। সুবকি—যিনি এই ফিতনার ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন—তার সম্পর্কে বলেন
(২) যে, তিনি ছিলেন একজন মুতাজিলি ও রাফেজি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
خبيث العقيدة. كان جمع أنواعا من النقائص والنقائض، فكان يقول بخلق الأفعال وغيره من قبائح القدرية، وسبّ الشيخين وسائر الصحابة وغير ذلك من قبائح شر الروافض، وتشبيه الله بخلقه وغير ذلك من قبائح الكرامية والمجسمة.
فاجتمع حوله طوائف من القدرية والباطنية وتظاهروا بالانتساب إلى المذهب الحنفي. وتقربوا إليه، وما زالوا يمكرون ويدبرون حتى أغروه بالتوسل لدى السلطان، إقناعه بسب المبتدعة على المنابر في أيام الجمع، فأصدر أمره بذلك. فاتخذ الكندري ومعارضو الأشعريين ذلك وسيلة إلى سبّ أبي الحسن الأشعري على المنابر وأحلوا بأصحابة من الشافعية أنواعا من النكال بالإهانة والأذى، والضرب والسجن، والمنع من الوعظ والتدريس، والإقصاء عن الوظائف ولا سيما الخطابة وإحلال الأحناف محلهم. ونسبوا إلى الأشعري أقوالاً لم يقلها، فقالوا إنه يقول إن نبوة النبي صلى الله عليه وسلم انتهت بموته، إن الله تعالى لا يجازي المطيعين على إيمانهم وطاعتهم، ولا يعذب الكفار والعصاة على كفرهم ومعاصيهم، إن موسى عليه السلام لم يسمع كلام الله عز وجل، وإن القرآن لم يكن بين الدفتين، وليس القرآن في المصحف. واتهموا الأشعري أيضًا بأنه يقول بتكفير العوام.
وقد ردّ على هذه الاتهامات الباطلة أبو القاسم القشيري في رسالة وجهها إلى علماء البلاد وسماها "شكاية أهل السنة بحكاية ما نالهم من الفتنة"
(1) وأثارت الرسالة مشاعر العلماء فكتبوا إلى الوزير يطلبون منه إخماد نيران هذه الفتنة التي طار شررها في الآفاق في خراسان والشام والعراق والحجاز ومن الذين كتبوا إليه أبو إسحاق الشيرازي، والقاضي الدامغاني. والبيهقي، ولم يكن لهذه الرسائل أثر في نفس الكندري وعملائه. وسدروا في غيهم، وتمادوا في عدوانهم حتى ضاقت على أهل السنة الأرض بما رحبت، واضطروا إلى الفرار بأنفسهم وأهاليهم فمنهم من خرج إلى العراق، ومنهم من ذهب إلى الحجاز وكان فيمن ذهب إلى الحج الحافظ أبو بكر البيهقي، والأستاذ أبو القاسم القشيري، وإمام الحرمين أبو المعالي الجويني. ويقال
--------------------------------------------
সে ছিল কদর্য আকিদাপোষণকারী। সে বিভিন্ন প্রকার ত্রুটি ও বৈপরীত্যের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিল। সে কর্ম সৃষ্টি এবং কাদারিয়াদের অন্যান্য ঘৃণ্য মতবাদ প্রচার করত। সে শাইখাইন এবং অন্যান্য সকল সাহাবীকে গালি দিত এবং রাফেজিদের নিকৃষ্টতম পর্যায়ের অন্যান্য ঘৃণ্য কাজ করত। সে আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করত এবং কাররামিয়া ও মুজাসসিমাদের অন্যান্য জঘন্য মতবাদ পোষণ করত।
ফলে কাদারিয়া ও বাতিনিয়াদের বিভিন্ন দল তার চারপাশে সমবেত হলো এবং তারা হানাফি মাযহাবের অনুসারী হওয়ার ভান করল। তারা তার ঘনিষ্ঠতা লাভ করল এবং অনবরত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চালিয়ে যেতে থাকল, যতক্ষণ না তারা সুলতানের কাছে সুপারিশ করার মাধ্যমে তাকে প্ররোচিত করল যে, জুমার দিন মিম্বরগুলোতে বিদআতিদের অভিশাপ দেওয়ার ব্যাপারে যেন সুলতানকে রাজি করানো হয়। সুলতান এ ব্যাপারে আদেশ জারি করলেন। তখন কুন্দুরি ও আশআরি-বিরোধীরা একে মিম্বরগুলোতে আবুল হাসান আশআরিকে গালি দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করল। তারা আশআরিদের শাফিয়ি বন্ধুদের ওপর অবমাননা, কষ্ট দেওয়া, মারধর, কারারুদ্ধ করা, ওয়াজ ও শিক্ষকতা থেকে বিরত রাখা এবং পেশা থেকে বহিষ্কার করার মতো বিভিন্ন ধরনের শাস্তি আরোপ করল, বিশেষ করে খতিবের দায়িত্ব থেকে তাদের সরিয়ে সেখানে হানাফিদের স্থলাভিষিক্ত করল। তারা আশআরির দিকে এমন কিছু উক্তি আরোপ করল যা তিনি কখনোই বলেননি। তারা বলল যে, তিনি নাকি বলেন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই শেষ হয়ে গেছে; আল্লাহ তাআলা অনুগতদের তাদের ঈমান ও আনুগত্যের জন্য প্রতিদান দেবেন না এবং কাফির ও পাপীদের তাদের কুফর ও পাপাচারের জন্য শাস্তি দেবেন না; মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কথা শোনেননি; এবং কুরআন দুই মলাটের মাঝে নেই কিংবা মাসহাফে নেই। তারা আশআরির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে কাফির বলার অভিযোগও উত্থাপন করল।
আবু কাসিম আল-কুশাইরি এই মিথ্যা অভিযোগগুলোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের আলেমদের কাছে পাঠানো একটি পত্রে, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন "শিকায়াতু আহলিস সুন্নাহ বি হিকায়াতি মা নালাহুম মিনাল ফিতনাহ" (আহলুস সুন্নাহর অভিযোগ: তাদের ওপর আপতিত ফিতনার বিবরণ)
(১)
এই পত্রটি আলেমদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, ফলে তাঁরা উজিরের কাছে পত্র লিখে এই ফিতনার আগুন নেভানোর অনুরোধ জানান, যার স্ফুলিঙ্গ খোরাসান, শাম, ইরাক ও হিজাজের দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। যাঁরা তাঁর কাছে পত্র লিখেছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবু ইসহাক আশ-শিরাজি, কাজি আদ-দামাগানি এবং আল-বায়হাকি। কিন্তু কান্দারি এবং তার সহযোগীদের মনে এসব পত্রের কোনো প্রভাব পড়েনি। তারা তাদের গোমরাহিতে অবিচল থাকে এবং সীমালঙ্ঘনে এতোটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আহলুস সুন্নাহর জন্য প্রশস্ত পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে আসে এবং তাঁরা নিজেদের ও তাঁদের পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। তাঁদের মধ্যে কেউ ইরাকের দিকে বেরিয়ে যান, আবার কেউ হিজাজে চলে যান। আর যাঁরা হজের উদ্দেশে গিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন হাফিজ আবু বকর আল-বায়হাকি, উস্তাদ আবুল কাসিম আল-কুশায়রি এবং ইমামুল হারামাইন আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনি। আরও বলা হয় যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جمعت تلك السنة أربعمائة قاض من قضاة المسلمين من الشافعية والحنفية
(1) هجروا بلادهم بسبب عدوان الوزير الكندري وعملائه.
وقدر الله أن يموت السلطان طغرلبك في عام 455 هـ وأن يتولى الملك بعده ابنه ألب أرسلان، ولم يمض شهور حتى نقم السلطان الجديد على الكندري وعزله وولى الوزارة مكانه نظام الملك، وأمره بالقبض على الكندري، وسجنه ومصادرة أمواله ثم قتله. وأبطل الوزير الجديد ما كان بدأ الكندري من سبّ الأشاعرة على المنابر، وانتصر للشافعية وأكرم علمائهم.
في هذا العصر المليء بالمحن والفتن عاش الإمام البيهقي، وجاهد وكافح في سبيل مناصرة السنة. وألف كتبا في علوم الحديث والفقه وأصول الدين والزهد. وهذه النواحي الأربعة هي أبرز ما عنده ولذلك نود أن نخصص كل واحد منها بالكلام على وجه الاختصار.
(أ) البيهقي وعلم الحديث:يبدو أن علم الحديث كان أول ما استرعى انتباه البيهقي وجذبه إليه فاندفع في تعلمه وتلقيه من الشيوخ برغبة شديدة وطموح جامح. فبدأ السماع وهو لا يزال في مقتبل الشباب في الخامسة عشرة من عمره، واستمر يقصد الشيوخ الكبار ويضرب أكباد الإبل إلى المدن البعيدة في طلب الحديث النبوي حتى تم له ما أراد، وأتقن علم الحديث وتبحّر فيه، وصار له في ذلك مكانة مرموقة ومنزلة عالية، وقد اعترف بفضله، وعلو درجته في علم الحديث، ومعرفة الوجوه والأسانيد، وإتقانه صناعة المحدثين الشيخ أبو محمد الجويني والد إمام الحرمين أبي المعالي الجويني الذي كان بدأ بتاليف كتاب سماه "بالمحيط" وعزم فيه على عدم التقيد بالمذهب، فلما اطلع البيهقي على الأجزاء الأولى من هذا الكتاب، رأى فيه أوهامًا حديثية فبادر بالكتابة إليه يبين له ذلك، ويوضح ما كان خفي على أبي محمد من معرفة علوم الحديث. فلما
--------------------------------------------
সেই বছর শাফিয়ী ও হানাফী মাযহাবের মুসলিম বিচারকদের মধ্য থেকে চারশ বিচারক একত্রিত হয়েছিলেন
(১)
যারা উজির আল-কুন্দুরি ও তার সহযোগীদের নিপীড়নের কারণে নিজ দেশ ত্যাগ করেছিলেন।
আল্লাহর ইচ্ছায় ৪৫৫ হিজরীতে সুলতান তুঘরিল বেগ ইন্তেকাল করেন এবং তার পরে তার পুত্র আল্প আরসালান রাজত্ব গ্রহণ করেন। কয়েক মাস পার হওয়ার আগেই নতুন সুলতান কুন্দুরির প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং তাকে পদচ্যুত করেন, আর তার স্থলে নিজামুল মুলককে উজির নিয়োগ করেন। তিনি তাকে কুন্দুরিকে গ্রেফতার, কারারুদ্ধ ও তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়। নতুন উজির মিম্বরগুলোতে আশআরীদের গালি দেওয়ার যে প্রথা কুন্দুরি শুরু করেছিলেন তা বন্ধ করে দেন এবং শাফিয়ীদের সহযোগিতা করেন ও তাদের আলেমদের সম্মান দান করেন।
পরীক্ষা ও ফিতনায় পূর্ণ এই যুগে ইমাম বায়হাকী বসবাস করেছেন এবং সুন্নাহর সাহায্যার্থে সংগ্রাম ও প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি হাদীস বিজ্ঞান, ফিকহ, উসূলে দ্বীন এবং যুহদ বা কৃচ্ছ্রসাধন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই চারটি দিকই ছিল তাঁর জ্ঞানের প্রধান ক্ষেত্র, তাই আমরা সংক্ষেপে এগুলোর প্রত্যেকটি নিয়ে আলোচনা করতে চাই।
(ক) বায়হাকী ও হাদীস শাস্ত্র:
মনে হয় যে, ইলমে হাদীসই সর্বপ্রথম বায়হাকীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল এবং তাঁকে নিজের দিকে টেনে নিয়েছিল, ফলে তিনি তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে শায়খদের নিকট থেকে এটি শিক্ষা ও গ্রহণ করতে প্রবৃত্ত হন। তিনি পনের বছর বয়সে তাঁর যৌবনের প্রারম্ভেই হাদীস শ্রবণ শুরু করেন এবং বড় বড় শায়খদের সান্নিধ্য লাভ ও নববী হাদীস অন্বেষণে দূরদূরান্তের শহরগুলোতে কঠোর সফর অব্যাহত রাখেন, যতক্ষণ না তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়। তিনি ইলমে হাদীসে পারদর্শিতা অর্জন করেন ও এতে গভীর ব্যুৎপত্তি লাভ করেন, ফলে এই শাস্ত্রে তাঁর এক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ও উচ্চস্তর তৈরি হয়। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, ইলমে হাদীসে তাঁর উচ্চ মর্যাদা, হাদীসের বিভিন্ন দিক ও সনদ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এবং মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতিতে তাঁর পারদর্শিতাকে স্বীকার করেছেন শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনী—যিনি ইমামুল হারামাইন আবু আল-মাআলী আল-জুওয়াইনীর পিতা। তিনি 'আল-মুহিত' নামক একটি গ্রন্থ রচনা শুরু করেছিলেন এবং তাতে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুবর্তী না হওয়ার সংকল্প করেছিলেন। অতঃপর বায়হাকী যখন এই গ্রন্থের প্রাথমিক অংশগুলো দেখেন, তখন তাতে হাদীস বিষয়ক কিছু ভুল খুঁজে পান। ফলে তিনি অবিলম্বে তাঁকে চিঠি লিখে তা অবহিত করেন এবং উলূমুল হাদীসের এমন কিছু বিষয় স্পষ্ট করেন যা আবু মুহাম্মদের নিকট অস্পষ্ট ছিল। অতঃপর যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وصلت الرسالة
(1) إلى أبي محمد ما كان منه إلا التوقف عما كان عزم عليه، والاعتراف بمبلغ علم البيهقي في الحديث.
وقال البيهقي في رسالته: "وقد علم الشيخ -أدام الله توفيقه- اشتغالي بالحديث واجتهادي في طلبه، ومعظم مقصودي فيه في الابتداء التمييز بين ما يصح الاحتجاج به من الأخبار وبين ما لا يصح".
وقد نعى على الفقهاء عدم خبرتهم بالحديث وعدم الدقة في نقل الألفاظ مما يعطي المعارضين للشافعي الفرصة للكلام عليه. بينما كان منهج الإمام التمسك بما صح من السنة وترك العمل برواية الضعفاء والمجهولين.
ثم وضح أن كل عالم يريد أن يشتغل بالحديث ويتكلم في متونه عليه أن يعلم مبدئيا أن الأحاديث المرفوعة على ثلاثة أنواع.
1 - نوع اتفق أهل العلم به على صحته.
2 - ونوع اتفقوا على ضعفه.
3 - ونوع اختلف في ثبوته.
فبعضهم يضعف بعض رواته بأسباب ظهرت له وخفيت على غيره، أو علل اطلع عليها فاتت من عداه. وكان البيهقي من أول أمره مولعا بالجمع والتصنيف لأحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه والتمييز بين الصحيح والضعيف، كما عبر عن ذلك بنفسه، فيقول في كتابه "معرفة السنن والآثار": "وإني مذ نشأت وابتدأت في طلب العلم، أكتب أخبار سيدنا المصطفى صلى الله عليه وسلم وعلى آله أجمعين، وأجمع آثار الصحابة الذين كانوا أعلام الدين، وأسمعها ممن حملها. وأتعرف أحوال رواتها من حفاظها، وأجتهد في تمييز صحيحها من سقيمها، ومرفوعها من موقوفها، وموصولها من مرسلها".
--------------------------------------------
আবু মুহাম্মাদের নিকট যখন পত্রটি
(১) পৌঁছালো, তখন তিনি যা করার সংকল্প করেছিলেন তা থেকে বিরত হলেন এবং হাদীস শাস্ত্রে বায়হাকীর অগাধ জ্ঞানকে স্বীকার করে নিলেন।
আর বায়হাকী তাঁর পত্রে বলেছেন: "শাইখ—আল্লাহ তাঁর তাওফিক দীর্ঘস্থায়ী করুন—হাদীস নিয়ে আমার ব্যস্ততা এবং তা অন্বেষণে আমার পরিশ্রম সম্পর্কে জানেন; আর শুরুতে হাদীসের ক্ষেত্রে আমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সেই সকল সংবাদের মধ্যে পার্থক্য করা যা দ্বারা দলিল প্রদান করা সঠিক এবং যা সঠিক নয়।"
তিনি ফকীহদের হাদীস বিষয়ে অভিজ্ঞতার অভাব এবং শব্দ বর্ণনার ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতার অভাবের সমালোচনা করেছেন, যা শাফিঈর বিরোধীদের তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ করে দেয়। অথচ ইমামের মানহাজ (পদ্ধতি) ছিল সুন্নাহর মধ্য থেকে যা সহীহ তা আঁকড়ে ধরা এবং দুর্বল ও অজ্ঞাত রাবীদের বর্ণনা অনুযায়ী আমল করা বর্জন করা।
এরপর তিনি স্পষ্ট করেন যে, যে কোনো আলেম যিনি হাদীস নিয়ে কাজ করতে চান এবং এর মতন (মূল পাঠ) নিয়ে আলোচনা করতে চান, তাঁকে প্রাথমিকভাবে জানতে হবে যে মারফূ হাদীসসমূহ তিন প্রকার।
১ -
এমন প্রকার যেটির সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ইলম অর্জনকারীগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
২ -
এমন প্রকার যেটির দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
৩ -
এমন প্রকার যেটির সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
তাদের কেউ কেউ এর কিছু বর্ণনাকারীকে এমন সব কারণে দুর্বল সাব্যস্ত করেন যা তার নিকট স্পষ্ট হয়েছে কিন্তু অন্যদের নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেছে, অথবা এমন কিছু গোপন ত্রুটির কারণে যা তিনি অবগত হয়েছেন কিন্তু অন্যরা তা পাননি। ইমাম বায়হাকী তার জীবনের শুরু থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের হাদীসসমূহ সংগ্রহ ও সংকলন এবং সহীহ ও যয়ীফ হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করার প্রতি অতি অনুরাগী ছিলেন, যেমনটি তিনি নিজেই ব্যক্ত করেছেন। তিনি তার 'মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার' গ্রন্থে বলেন: "আমি যখন থেকে বেড়ে উঠেছি এবং জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেছি, তখন থেকেই আমাদের নেতা আল-মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সকল পরিজনের সংবাদসমূহ লিপিবদ্ধ করছি, আর দ্বীনের উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ সাহাবীদের আসারসমূহ সংগ্রহ করছি এবং যারা তা বহন (বর্ণনা) করেছেন তাদের থেকে তা শ্রবণ করছি। আমি হাদীস বিশারদগণের নিকট থেকে বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হচ্ছি এবং হাদীসের সহীহ ও সাকীম, মারফু ও মাওকুফ এবং মাউসুল ও মুরসালের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে কঠোর পরিশ্রম করছি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كما أشار إلى منهجه في التأليف فيما يتعلق بقبول الأخبار وردها. فقال في مقدمة "دلائل النبوة"
(1): "وعادتي في كتبي المصنفة في الأصول والفروع الاقتصار من الأخبار على ما يصح منها دون ما لا يصح، أو التمييز بين ما يصح منها وما لا يصح، ليكون الناظر فيها من أهل السنة على بصيرة لما يقع الاعتماد عليه ولا يجد من زاغ قلبه من أهل البدع عن قبول الأخبار مغمزا فيما اعتمد عليه أهل السنة من الآثار".
وأضاف قائلا: "ومن وقف على تمييزي في كتبي بين صحيح الأخبار وسقيمها -وساعده التوفيق- علم صدقي فيما ذكرته. ومن لم ينعم النظر في ذلك ولم يساعده التوفيق فلا يغنيه شرحي لذلك وإن أكثرت، ولا إيضاحي له وإن بلغت كما قال الله عز وجل: {وَمَا تُغْنِي الْآيَاتُ وَالنُّذُرُ عَنْ قَوْمٍ لَا يُؤْمِنُونَ}
(2) ".
وتوفرت له الوسائل الكفيلة لبلوغ هذه الدرجة من الإتقان والخبرة في علوم الحديث بأن رزقه الله شيوخا كانوا بلغوا الغاية في هذا الفن، ولما أحسوا منه الرغبة الصادقة واكتشفوا مواهبه، عنوا به عناية بالغة وقاموا بتدريبه على أحسن وجه، وأعدوه أكمل إعداد، لكي يكون خلفا من بعدهم في بث العلم وإذاعة السنة، على بصيرة ومعرفة.
وقد ظفرت مؤلفات البيقهي في الحديث بإعجاب العلماء وتقديرهم قديما وحديثا، فقال النووي: إن الحفاظ متفقون على أنه أشد تحريا من أستاذه وشيخه الحاكم أبي عبد الله صاحب "المستدرك"
(3) وقال شيخ الإسلام ابن تيمية في فتاواه (32/ 240) البيهقي أعلم أصحاب الشافعي بالحديث. ولقبه ابنه أبو علي شيخ القضاة "بشيخ السنة"
(4)، ولقبه أستاذنا السيد أحمد صقر
(5) في العصر الحديث "بمنظم السنة"،
--------------------------------------------
তেমনিভাবে তিনি হাদীস গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর রচনার পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি "দালাইলুন নুবুওয়াহ" এর ভূমিকায়
(১)
বলেছেন: "উসূল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা) বিষয়ে আমার রচিত কিতাবসমূহে আমার রীতি হলো হাদীসের মধ্য থেকে কেবল যা সহীহ তার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং যা সহীহ নয় তা বর্জন করা, অথবা সহীহ ও অহিহ হাদীসের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে দেওয়া; যাতে আহলে সুন্নাতের পাঠকরা যার ওপর নির্ভর করা হয় সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারে এবং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে এমন বিদআতিরা আহলে সুন্নাত যেসব আছারের (বর্ণনার) ওপর নির্ভর করে সেগুলোর ত্রুটি ধরার কোনো সুযোগ না পায়।"
তিনি আরও যোগ করে বলেন: "যে ব্যক্তি আমার কিতাবসমূহে সহীহ এবং যয়ীফ হাদীসের মধ্যে আমার কৃত পার্থক্য সম্পর্কে অবগত হবে—এবং আল্লাহর তাওফীক তার সঙ্গী হবে—সে আমি যা উল্লেখ করেছি সে ব্যাপারে আমার সত্যবাদিতা জানতে পারবে। আর যে ব্যক্তি এতে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করবে না এবং আল্লাহর তাওফীকও যাকে সাহায্য করবে না, তবে আমি যত বেশিই বর্ণনা করি না কেন আমার ব্যাখ্যা তার কোনো উপকারে আসবে না, এবং আমি যতই বুঝাই না কেন আমার স্পষ্টীকরণ তার কোনো কাজে আসবে না; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর নিদর্শনাবলি ও ভীতিপ্রদর্শনকারীগণ এমন কওমের কোনো উপকারে আসে না যারা ঈমান আনে না}
(২)
।"
হাদীসশাস্ত্রে এই পর্যায়ের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত উপায়-উপকরণ তাঁর জন্য সহজলভ্য ছিল। কারণ আল্লাহ তাঁকে এমন সব শিক্ষক দান করেছিলেন যারা এই বিদ্যায় চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন। যখন তাঁরা তাঁর মধ্যে সত্যনিষ্ঠ আগ্রহ অনুভব করলেন এবং তাঁর মেধা আবিষ্কার করলেন, তখন তাঁরা তাঁর প্রতি অত্যন্ত যত্নবান হলেন এবং তাঁকে সর্বোত্তমভাবে প্রশিক্ষণ দিলেন। তাঁরা তাঁকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত করলেন যাতে তিনি তাঁদের পর জ্ঞান প্রচার এবং সুন্নাহর প্রসারে দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার সাথে তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরি হতে পারেন।
হাদিস শাস্ত্রে ইমাম বাইহাকীর রচনাসমূহ প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমদের প্রশংসা ও সমাদর লাভ করেছে। ইমাম নববী বলেন: হাফেজগণ এ বিষয়ে একমত যে, তিনি তাঁর উস্তাদ ও শায়খ "আল-মুস্তাদরাক" প্রণেতা হাকীম আবু আব্দুল্লাহ অপেক্ষা অধিকতর সূক্ষ্ম অনুসন্ধানকারী
(৩)
এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে (৩২/ ২৪০) বলেন: বাইহাকী ইমাম শাফেয়ীর অনুসারীদের মধ্যে হাদিস শাস্ত্রে সর্বাধিক বিজ্ঞ। তাঁর পুত্র প্রধান বিচারপতি আবু আলী তাঁকে "শায়খুস সুন্নাহ"
(৪)
উপাধিতে ভূষিত করেছেন এবং আধুনিক যুগে আমাদের উস্তাদ সাইয়্যেদ আহমদ সাকর
(৫)
তাঁকে "মুনাজ্জিমুস সুন্নাহ" (সুন্নাহর সুশৃঙ্খলকারী) বলে অভিহিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لجهوده في تنظيم السنة وتقريبها إلي طلابها. ورجع كماله وفضله في هذا المجال إلى شيوخه الذين تدرب على أيديهم البيهقي، والذين عنوا بالبيهقي المتعلم لما رأوا فيه من الاهتمام بهذا العلم. وفي مقدمة هؤلاء الشيوخ:
1 - أبو عبد الله الحاكم، محمد بن عبد الله بن محمد بن حَمدوَيْه، النيسابوري، الملقب بابن البيّع (321 - 405 هـ)
(1).
صاحب "المستدرك على الصحيحين" وشيخ المحدثين في عصره. طلب الحديث في صغره بعناية والده وخاله. وكان أول سماعه في سنة ثلاثين ولحق الأسانيد العالية بخراسان، والعراق وما وراء النهر، يقال إنه سمع من نحو ألفي شيخ.
وحدث عن أبي العباس الأصم، وأبي عبد الله بن الأخرم، ومحمد بن أحمد بن بالويه الجلاب، وأبي بكر أحمد بن إسحاق الصبغي، وأمم سواهم.
روى عنه الدارقطني -وهو من شيوخه- وأبو يعلى الخليلي، وأبو القاسم القشيري، وأبو ذر الهروي، وأبو بكر البيهقي وخلق سواهم.
وصنف وخرج، وجرح وعدل، وصحح وعلل، وكان من بحور العلم على تشيع قليل منه.
كان يقول: شربت ماء زمزم وسألت الله أن يرزقني حسن التصنيف
(2).
قال ابن طاهر: سألت سعد بن علي الحافظ عن أربعة تعاصروا أيهم أحفظ؟
--------------------------------------------
সুন্নাহ বিন্যাস এবং শিক্ষার্থীদের নিকট তা সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টার কারণে। এই ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্বের কৃতিত্ব তাঁর সেই শিক্ষকদের প্রাপ্য, যাঁদের নিকট বায়হাকী প্রশিক্ষণ লাভ করেছিলেন। বায়হাকীর এই ইলমের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখে তাঁরা তাঁর প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। সেই শিক্ষকদের অগ্রগণ্য হলেন:
১ -
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হামদুয়াহ, আন-নাইসাবুরী, ইবনুল বায়্যি' উপাধিতে পরিচিত (৩২১ - ৪০৫ হিজরি)
(১)
।
তিনি "আল-মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন"-এর লেখক এবং তাঁর সময়ের মুহাদ্দিসদের শায়খ। তিনি তাঁর পিতা ও মাতুলের তত্ত্বাবধানে শৈশব থেকেই হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন। ৩৩০ হিজরি সালে তিনি প্রথম হাদিস শ্রবণ শুরু করেন এবং খুরাসান, ইরাক ও মা ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলের উচ্চ সনদসমূহ অর্জন করেন। বলা হয় যে, তিনি প্রায় দুই হাজার শিক্ষকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তিনি আবুল আব্বাস আল-আসাম, আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-আখরাম, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন বালোয়াহ আল-জাল্লাব, আবু বকর আহমদ বিন ইসহাক আস-সিবগি এবং আরও অসংখ্য পণ্ডিতের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন আদ-দারাকুতনী—যিনি তাঁর শিক্ষকদেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—আবু ইয়ালা আল-খলীলি, আবুল কাসিম আল-কুশাইরী, আবু যার আল-হারাউয়ী, আবু বকর আল-বায়হাকী এবং আরও বহু মানুষ।
তিনি গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেছেন, বর্ণনাকারীদের জরাহ-তা'দীল করেছেন, হাদিসের বিশুদ্ধতা ও ত্রুটি নির্ণয় করেছেন। সামান্য শিয়া ভাবধারা থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন ইলমের এক সুবিশাল সমুদ্র।
তিনি বলতেন: আমি যমযমের পানি পান করেছি এবং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেছি যেন তিনি আমাকে উত্তম গ্রন্থ রচনার তাওফিক দান করেন
(২)
।
ইবনে তাহের বলেন: আমি হাফেজ সা’দ বিন আলীকে সমসাময়িক চারজন হাফেজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তাঁদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال. من؟
قلت: الدارقطني، وعبد الغني، وابن منده، والحاكم.
قال: أما الدارقطني فأعلمهم بالعلل، وأما عبد الغني فأعلمهم بالأنساب، وأما ابن منده فأكثرهم حديثا مع معرفة تامة. وأما الحاكم فأحسنهم تصنيفا
(1).
قال الخطيب: كان من أهل العلم والفضل والمعرفة والاطلاع
(2).
وقال عبد الغافر: هو أمام أهل الحديث في عصره، العارف به حق معرفته
(3).
له مؤلفات كثيرة يقال إنها خمسمائة جزء، وقيل ألف جزء، وقيل ألف وخمسمائة جزء
(4). منها:
1 - المستدرك على الصحيحين: قصد فيه جمع أحاديث صحت على شرط
الشيخين -البخاري ومسلم- أو على شرط أحدهما ولم يخرجاه، ولكنه لم يلتزم بمنهجه فأخرج فيه أشياء كثيرة من الضعيف والموضوع وانتقده العلماء لذلك.
وقيل في الدفاع عنه أنه لم يجد فرصة لإعادة النظر فيما كتب، فمات ولم يبيض المسودة، والله أعلم.
2 - معرفة علوم الحديث.
3 - تاريخ نيسابور.
4 - الإكليل.
5 - المدخل إلى الصحيح.
6 - فضائل الشافعي. وغير ذلك. روى عنه البيهقي فأكثر ومعظم الروايات في هذا الكتاب عنه.
--------------------------------------------
তিনি বললেন, "কারা?"
আমি বললাম: দারাকুতনি, আবদুল গনি, ইবনে মান্দাহ এবং হাকেম।
তিনি বললেন: দারাকুতনি ছিলেন ইলমে ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, আবদুল গনি ছিলেন বংশতত্ত্ব বিষয়ে সর্বাধিক পারদর্শী, আর ইবনে মান্দাহ ছিলেন পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞার সাথে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাদিসের অধিকারী। আর হাকেম ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার গ্রন্থ সংকলক
(১)।
খতিব আল-বাগদাদি বলেন: তিনি জ্ঞান, মর্যাদা, প্রজ্ঞা ও গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন
(২)।
আবদুল গাফির বলেন: তিনি তাঁর সমসাময়িক হাদিস বিশারদদের ইমাম এবং হাদিস শাস্ত্রের প্রকৃত সমঝদার ছিলেন
(৩)।
তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে; বলা হয়ে থাকে যে সেগুলো পাঁচশ খণ্ড, আবার বলা হয় এক হাজার খণ্ড, এমনকি পনেরশ খণ্ডের কথাও বর্ণিত আছে
(৪)। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন: এতে তিনি এমন সব হাদিস সংকলনের সংকল্প করেছিলেন যা শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ
অর্থাৎ ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম -বা তাঁদের কোনো একজনের শর্তানুযায়ী সহিহ হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা তা বর্ণনা করেননি। তবে তিনি তাঁর এই মানদণ্ড বা পদ্ধতি পুরোপুরি রক্ষা করতে পারেননি, ফলে তিনি এতে অনেক দুর্বল ও জাল হাদিসও অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এ কারণে উলামায়ে কেরাম তাঁর সমালোচনা করেছেন।
তাঁর সমর্থনে বলা হয় যে, তিনি যা লিখেছিলেন তা পুনরায় পর্যালোচনা করার সুযোগ পাননি; ফলে পাণ্ডুলিপিটি চূড়ান্ত করার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
২ - মারিফাতু উলুমিল হাদিস।
৩ - তারিখু নাইসাবুর (নাইসাবুরের ইতিহাস)।
৪ - আল-ইকলিল।
৫ - আল-মাদখাল ইলাস সহিহ।
৬ -
ইমাম শাফিঈর গুণাবলি এবং এছাড়া আরও অন্যান্য। বায়হাকী তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন এবং এই গ্রন্থের অধিকাংশ বর্ণনা তাঁর থেকেই এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২১)
2 - علي بن أحمد بن عبدان بن الفرج، أبو الحسن الأهوازي، الشيرازي (م 415 هـ)
(1).
ثقة، مشهور، عالي الإسناد، سمع أحمد بن عبيد الصفار وأبا القاسم الطبراني وعدة. أكثر عنه البيهقي في هذا الكتاب.
3 - أبو علي الروذباري، الحسين بن محمد بن محمد بن علي بن حاتم، الطوسي
(2) (م 403 هـ).
سمع إسماعيل الصفار، وأبا بكر بن داسة، وعبد الله بن عمر بن شوذب وطائفة. حدث بسنن أبي داود بنيسابور، وعقد له مجلس في الجامع، ثم مرض ورد إلي وطنه بالطابران وتوفي هناك.
حدث عنه الحاكم -وهو من أقرانه- والبيهقي وعدد كثير.
أكثر عنه البيهقي في هذا الكتاب.
4 - علي بن محمد بن عبد الله بن بشران، أبو الحسن، الأموي، البغدادي
(3) (328 - 415 هـ).
قال الخطيب: كان تامّ المروءة، ظاهر الديانة، صدوقا، ثبتا.
وقال الذهبي
(4): روى شيئا كثيرا على سداد وصدق وصحة رواية. وكان عدلا وقورا.
سمع من أبي جعفر بن البختري، وإسماعيل الصفار، وعثمان بن السماك وعدة
--------------------------------------------
২ -
আলী বিন আহমাদ বিন আবদান বিন আল-ফারাজ, আবুল হাসান আল-আহওয়াজী, আশ-শিরাজী (মৃ. ৪১৫ হিজরি)
(১)
।
তিনি নির্ভরযোগ্য, সুপ্রসিদ্ধ, উচ্চ সনদধারী; তিনি আহমাদ বিন উবাইদ আস-সাফফার, আবুল কাসিম আত-তাবারানি এবং আরও অনেকের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। ইমাম বায়হাকী এই গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
৩ -
আবু আলী আর-রূদবারী, আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন হাতিম, আত-তুসী
(২)
(মৃ. ৪০৩ হিজরি)।
তিনি ইসমাইল আস-সাফফার, আবু বকর বিন দাসাহ, আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন শাওযাব এবং একদল উলামার নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি নিশাপুরে সুনানে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং জামে মসজিদে তাঁর জন্য একটি (ইলমি) মজলিস নির্ধারিত ছিল। অতঃপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নিজের মাতৃভূমি তাবারানে ফিরে যান ও সেখানেই ইন্তেকাল করেন।
তাঁর থেকে হাকেম—যিনি তাঁর সমসাময়িকদের একজন—এবং বায়হাকীসহ বহু সংখ্যক রাবী বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বায়হাকী এই গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
৪ -
আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান, আবুল হাসান, আল-উমাবী, আল-বাগদাদী
(৩)
(৩২৮ - ৪১৫ হিজরি)।
খতিব আল-বাগদাদী বলেন: তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, ধর্মপ্রাণ হিসেবে সুপরিচিত, সত্যবাদী ও বর্ণনায় সুদৃঢ়।
আয-যাহাবী বলেন
(৪)
: তিনি সঠিকতা, সততা ও বর্ণনার বিশুদ্ধতার সাথে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ।
তিনি আবু জাফর বিন আল-বাখতারী, ইসমাইল আস-সাফফার, উসমান বিন আস-সাম্মাক এবং আরও অনেকের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২২)
حدث عنه الخطيب، والحسن بن البناء، وعاصم بن الحسن وغيرهم. أكثر عنه البيهقي في هذا الكتاب.
5 - أبو الحسن محمد بن الحسين بن داود بن علي، العلوي، الحسني، النيسابوري
(1) (م 401 هـ).
رئيس السادة. سمع أبا حامد بن الشرقي، ومحمد بن الحسين القطان، وأبا بكر بن دلويه الدقاق، وعدة.
حدث عنه الحاكم والبيهقي -وهو أكبر شيخ له- ومحمد بن القاسم الصفار وخلق سواهم.
ذكره الحاكم في تاريخه فقال: هو ذو الهمة العالية، والعبادة الظاهرة. وكان يسأل أن يحدث فلا يحدث، ثم في الآخر عقدتُ له مجلس الإملاء، وانتقيت له ألف حديث. وكان يعد في مجلس ألف محبرة، فحدث وأملى ثلاث سنين
(2).
روى عنه البيهقي كثيرا في هذا الكتاب.
6 - محمد بن الحسين بن محمد بن الفضل أبو الحسين، القطان، البغدادي
(3) (335 - 415 هـ).
سمع وهو ابن خمس سنين من إسماعيل الصفار -وهو أكبر شيخ له- وعبد الله ابن جعفر بن درستويه الفارسي، وروى عنه تاريخ الفسوي.
وهو مجمع على ثقته. أكثر البيهقي الرواية عنه في هذا الكتاب، ومعظم أحاديث الفسوي عنده من طريقه.
--------------------------------------------
আল-খতিব, আল-হাসান ইবনে আল-বান্না, আসিম ইবনুল হাসান এবং আরও অনেকে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আল-বায়হাকি এই গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন।
৫ - আবু হাসান মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে দাউদ ইবনে আলি, আল-আলাভি, আল-হাসানি, আন-নিসাবুরি
(১) (মৃত্যু ৪০১ হিজরি)।
তিনি ছিলেন সাইয়্যেদদের নেতা। তিনি আবু হামিদ ইবনে আশ-শারকি, মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-কাত্তান, আবু বকর ইবনে দালাওয়াইহ আদ-দাক্কাক এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শুনেছেন।
আল-হাকিম, আল-বায়হাকি—যিনি তাঁর প্রধান শায়খ—মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আস-সাফফার এবং আরও অনেক সৃষ্টি (মানুষ) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
আল-হাকিম তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করে বলেন: তিনি ছিলেন উচ্চ হিম্মত ও প্রকাশ্য ইবাদতের অধিকারী। তাঁকে হাদিস বর্ণনা করার জন্য অনুরোধ করা হতো কিন্তু তিনি করতেন না। অতঃপর শেষে আমি তাঁর জন্য ইমলা (শ্রুতিলিপি) মজলিসের ব্যবস্থা করি এবং তাঁর জন্য এক হাজার হাদিস নির্বাচন করি। তাঁর মজলিসে এক হাজার দোয়াত গণনা করা হতো। তিনি তিন বছর পর্যন্ত হাদিস বর্ণনা ও শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন
(২)।
আল-বায়হাকি এই গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন।
৬ - মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল আবু হাসান, আল-কাত্তান, আল-বাগদাদি
(৩) (৩৩৫ - ৪১৫ হিজরি)।
পাঁচ বছর বয়সে তিনি ইসমাইল আস-সাফফার—যিনি তাঁর সবচেয়ে বড় শায়খ—এবং আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ আল-ফারিসির নিকট থেকে শুনেছেন এবং তাঁর থেকে ফাসাবির ইতিহাস বর্ণনা করেছেন।
তাঁর নির্ভরযোগ্যতার (সিকাহ) বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। আল-বায়হাকি এই গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন এবং ফাসাবির অধিকাংশ হাদিস তাঁর মাধ্যমেই সংকলিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
7 - الحسين بن الحسن بن محمد بن حلبس، أبو عبد الله المخزومي، الغضائري، البغدادي
(1) (م 414 هـ).
كان ثقة، فاضلا. والغضائري نسبة إلى الغضارة، وهو إناء يؤكل فيه الطعام، سمع إسماعيل بن محمد الصفار، وأبا عمرو بن السماك، وجعفر الخلدي وغيرهم.
روى عنه البيهقي كثيرا في هذا الكتاب.
8 - أبو حازم العبدويي، عمر بن أحمد بن إبراهيم بن عبدويه، النيسابوري
(2) (م 417 هـ).
ولد بعد سنة 320 هـ، وتميز في علم الحديث وكتب العالي والنازل، وجمع وخرج.
قال الخطيب: لم أر أحدا أطلق عليه اسم الحافظ غير رجلين: أبو نعيم وأبوحازم العبدويي.
سمع من أبي بكر الإسماعيلي، وأبي أحمد الحاكم، وأبي عمرو بن مطر، وطبقتهم.
وقال: كتبت بخطي عن عشرة من شيوخي عشرة آلاف جزء، عن كل واحد ألف جزء.
قال الخطيب: كان أبو حازم ثقة، صادقا، حافظا، عارفا
(3).
وقال الذهبي: من ورعه أنه ما حدث عن الصِّبغي ولا عن حامد الرفَّاء لصغره، وكانا أكبر مشايخه
(4).
أكثر عنه البيهقي الرواية في هذا الكتاب.
--------------------------------------------
৭ -
আল-হুসাইন বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন হালবাস, আবু আব্দুল্লাহ আল-মাখজুমি, আল-গাযায়িরি, আল-বাগদাদী
(১)
(মৃত্যু ৪১৪ হিজরি)।
তিনি নির্ভরযোগ্য ও গুণী ছিলেন। 'গাযায়িরি' নিসবতটি (উপাধি) 'গাযারাহ' থেকে এসেছে, যা এমন এক প্রকার পাত্র যাতে খাবার খাওয়া হয়। তিনি ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আস-সাফফার, আবু আমর বিন আস-সাম্মাক, জাফর আল-খুলদি এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
ইমাম বায়হাকী এই গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন।
৮ -
আবু হাযিম আল-আবদুয়ী, উমর বিন আহমাদ বিন ইব্রাহিম বিন আবদুউয়াহ, আন-নিশাপুরী
(২)
(মৃত্যু ৪১৭ হিজরি)।
তিনি ৩২০ হিজরির পর জন্মগ্রহণ করেন এবং হাদিসশাস্ত্রে বিশেষ বুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি উচ্চ ও নিম্ন উভয় স্তরের (আলী ও নাযিল) সনদ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন।
আল-খাতীব বলেন: আমি আবু নুয়াইম এবং আবু হাযিম আল-আবদুয়ী ব্যতীত আর কাউকে দেখিনি যাদের নামের সাথে নিঃসংকোচে 'হাফিয' উপাধিটি প্রয়োগ করা হয়েছে।
তিনি আবু বকর আল-ইসমাঈলী, আবু আহমাদ আল-হাকিম, আবু আমর বিন মাতার এবং তাঁদের সমপর্যায়ের মুহাদ্দিসদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তিনি বলেন: আমি আমার নিজ হাতে আমার দশজন শিক্ষকের নিকট থেকে দশ হাজার 'জুয' (হাদিসের পাণ্ডুলিপি) লিখেছি; যার মধ্যে প্রত্যেকের নিকট থেকে এক হাজার করে 'জুয' ছিল।
আল-খাতীব বলেন: আবু হাযিম ছিলেন নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী, হাফিয এবং বিজ্ঞ।
(৩)
আয-যাহাবী বলেন: তাঁর তাকওয়ার একটি প্রমাণ হলো, তিনি আস-সিবগী কিংবা হামিদ আর-রাফ্ফা থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি কারণ তখন তিনি অল্পবয়স্ক ছিলেন, যদিও তাঁরা তাঁর বড় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(৪)
বায়হাকী এই গ্রন্থে তাঁর থেকে অধিক পরিমাণে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২৪)
9 - يحيى بن إبراهيم بن محمد بن يحيى، أبو زكريا بن أبي إسحاق، النيسابوري
(1) (333 - 414 هـ).
شيخ التزكية في بلده، الشيخ الإمام الصدوق، القدوة العالم.
حدث عن أبي العباس الأصم، وأبي عبد الله بن الأخرم، ومحمد بن علي بن
دحيم، وغيرهم. وأملى مدة على ورع وإتقان، وكان شيخا ثقة، نبيلا، خيّرًا، زاهدا، ورعا، متقنا. ما كان يحدث إلا وأصله بيده يعارض. حدث بالكثير. وكان بصيرا بمذهب الإمام الشافعي. تفقه على أبي الوليد حسان بن محمد.
10 - محمد بن الفضل بن نظيف، أبو عبد الله، المصري، الفراء
(2) (341 - 431 هـ).
قال الذهبي: تفرد في الدنيا بعلوّ الإسناد
(3).
سمع من أبي الفوارس أحمد بن محمد بن السندي الصابوني، والعباس بن محمد ابن نصر الرافقي، وأحمد بن محمد بن أبي الموت المكي، وغيرهم.
حدث عنه البيهقي وأبو القاسم القشيري، والقاضي أبو الحسن الخلعي، وغيرهم.
قال أبو إسحاق الحبال: كان أبو عبد الله بن نظيف يصلي بالناس في مسجد عبد الله سبعين سنة وكان شافعيا يقنت. فأم بعده رجل مالكي، وجاء الناس على عادتهم فلم يقنت فتركوه وانصرفوا وقالوا: لا يُحسن يصلّي
(4).
أكثر عنه البيهقي في هذا الكتاب وغيره.
هؤلاء بعض مشايخه الذين تدرب عليهم البيهقي في الحديث، وكان خير خلف لهم. وألف مؤلفات نافعة منها:
1 - كتاب السنن الكبرى في عشر مجلدات.
--------------------------------------------
৯ - ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, আবু জাকারিয়া ইবনে আবি ইসহাক, আন-নিশাপুরী
(১) (৩৩৩ - ৪১৪ হিজরি)।
নিজ শহরের আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির শাইখ, ইমাম, অত্যন্ত সত্যবাদী শাইখ, আদর্শবান আলিম।
তিনি আবুল আব্বাস আল-আসাম্ম, আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল আখরাম, মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে দুহাইম এবং অন্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তিনি দীর্ঘ সময় যাবৎ তাকওয়া ও নিখুঁতভাবে হাদিসের শ্রুতলিপি (ইমলা) করিয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য শাইখ, মহৎ, কল্যাণকামী, দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার ও সুনিপুণ। তিনি যখনই হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন তার হাতে মূল পাণ্ডুলিপি থাকত যা দিয়ে তিনি মিলিয়ে নিতেন। তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ইমাম শাফিঈর মাজহাবে পারদর্শী ছিলেন। তিনি আবুল ওয়ালিদ হাসসান ইবনে মুহাম্মদের কাছে ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন।
১০ - মুহাম্মদ ইবনুল ফজল ইবনে নাজিফ, আবু আব্দুল্লাহ, আল-মিসরি, আল-ফাররা
(২) (৩৪১ - ৪৩১ হিজরি)।
আজ-জাহাবি বলেছেন: তিনি উচ্চতর সনদের (উলুউউল ইসনাদ) ক্ষেত্রে পৃথিবীতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন
(৩)।
তিনি আবুল ফাওয়ারিস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সিন্দী আস-সাবুনী, আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর আর-রাফিকী, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি আল-মাউত আল-মাক্কী এবং অন্যদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তার থেকে আল-বায়হাকী, আবুল কাসেম আল-কুশাইরী, কাজি আবুল হাসান আল-খালাঈ এবং অন্যরা হাদিস বর্ণনা করেছেন।
আবু ইসহাক আল-হাব্বাল বলেন: আবু আব্দুল্লাহ ইবনে নাজিফ সত্তর বছর যাবৎ আব্দুল্লাহর মসজিদে লোকদের নামাজ পড়িয়েছেন। তিনি শাফিঈ মাজহাবের অনুসারী ছিলেন এবং (ফজরে) কুনুত পড়তেন। তার পরে একজন মালিকি মাজহাবের লোক ইমামতি করলেন। লোকেরা তাদের অভ্যাস অনুযায়ী এল, কিন্তু তিনি কুনুত পড়লেন না। তখন তারা তাকে ছেড়ে চলে গেল এবং বলল: সে ভালো করে নামাজ পড়াতে পারে না।
(৪)
.
ইমাম বায়হাকী এই গ্রন্থে এবং অন্যান্য গ্রন্থে তাঁর থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন।
এরা হলেন তাঁর ঐ সকল উস্তাদদের কতিপয় ব্যক্তি যাদের নিকট বায়হাকী হাদিস শাস্ত্রের প্রশিক্ষণ লাভ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাঁদের জন্য এক উত্তম উত্তরসূরি। তিনি বেশ কিছু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১ -
দশ খণ্ডে সমাপ্ত কিতাবুস সুনানিল কুবরা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - المدخل إلى السنن.
3 - الجامع المصنف في شعب الإيمان.
4 - دلائل النبوة.
5 - كتاب الدعوات.
6 - الترغيب والترهيب. وغير ذلك.
(ب) البيهقي والفقه:لم تكن رغبة البيهقي في تعلم الفقه، ومعرفة وجوه الاستنباط أقل من رغبته في إتقان صناعة الحديث. ولذلك اهتم منذ مبدأ أمره بهذا العلم وتلقاه من الشيوخ الكبار في عصره حتى بلغ رتبة الاجتهاد والفتيا، يقول الذهبي: لو شاء البيهقي أن يعمل لنفسه مذهبا يجتهد فيه لكان قادرا على ذلك لسعة علومه ومعرفته بالاختلاف
(1). ولكنه آثر البقاء في حدود المذاهب المعروفة في أيامه ووقع اختياره علي مذهب الإمام المطلبي أبي عبد الله الشافعي لأنه رآه بعد المقارنة أقرب إلى السنة من غيره من المذاهب الفقهية. يقول:
"وقد قابلت بتوفيق الله تعالى أقوال كل واحد منهم (أي الأئمة المجتهدين) بمبلغ علمي من كتاب الله ثم بما جمعت من السنن والآثار في الفرائض والنوافل، والحلال والحرام، والحدود والأحكام، فوجدت الشافعي أكثرهم اتباعا، وأقواهم احتجاجا، وأصحّهم قياسا، وأوضحهم إرشادا. وذلك فيما صنف من الكتب القديمة والجديدة في الأصول والفروع بأبْين بيان وأفصح لسان، وكيف لا يكون ذلك وقد تبحر أولاً في لسان من ختم الله النبوة به، وأنزل به القرآن؟ مع كونه عربيّ اللسان، قرشي الدار والنسب من خير قبائل العرب، من نسل هاشم والمطلب، ثم اجتهد في حفظ كتاب الله حتى عرف الخاص من العام، والمفسر من المجمل، والفرض من الأدب، والحتم من الندب، واللازم من الإباحة، والناسخ من المنسوخ، والقوي من الأخبار من
--------------------------------------------
২ -
আল-মাদখাল ইলা আস-সুনান।
৩ -
আল-জামি আল-মুসান্নাফ ফি শুআব আল-ঈমান।
৪ -
দালায়েলুন নুবুওয়াহ।
৫ -
কিতাবুদ দাওয়াত।
৬ -
আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব। এবং এছাড়া আরও অন্যান্য।
(খ) আল-বাইহাকী ও ফিকহ শাস্ত্র:
ফিকহ শাস্ত্র শিক্ষা এবং ইস্তিম্বাত বা বিধান আহরণের পদ্ধতিসমূহ জানার প্রতি আল-বাইহাকীর আগ্রহ হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জনের আগ্রহের চেয়ে কোনো অংশেই কম ছিল না। এই কারণে তিনি তার শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই এই ইলমের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন এবং স্বীয় যুগের প্রখ্যাত শায়খদের নিকট থেকে তা অর্জন করেন, এমনকি তিনি ইজতিহাদ ও ফতোয়া প্রদানের স্তরে উপনীত হন। আয-যাহাবী বলেন: বাইহাকী যদি চাইতেন যে তিনি নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র মাযহাব গঠন করবেন যাতে তিনি ইজতিহাদ করবেন, তবে তার ইলমের বিশালতা এবং ইখতিলাফ বা মতপার্থক্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের কারণে তিনি তাতে সক্ষম হতেন
(১)। কিন্তু তিনি তার সময়ে প্রচলিত মাযহাবগুলোর গণ্ডির মধ্যে থাকাকেই শ্রেয় মনে করেন এবং তিনি ইমাম আল-মুত্তালিবি আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ-এর মাযহাবকে বেছে নেন। কারণ অন্যান্য ফিকহি মাযহাবের সাথে তুলনা করার পর তিনি একে সুন্নাহর অধিকতর নিকটবর্তী মনে করেছিলেন। তিনি বলেন:
আল্লাহ তাআলার তৌফিকে আমি তাদের (অর্থাৎ মুজতাহিদ ইমামগণের) প্রত্যেকের বক্তব্যকে আল্লাহর কিতাব থেকে অর্জিত আমার জ্ঞানের আলোকে এবং ফরজ ও নফল ইবাদত, হালাল ও হারাম, এবং দণ্ডবিধি ও বিধিবিধান সংক্রান্ত সুন্নাহ ও আসার থেকে যা কিছু সংগ্রহ করেছি তার সাথে তুলনা করেছি। অতঃপর আমি ইমাম শাফেয়ীকে তাদের মধ্যে সর্বাধিক সুন্নাহর অনুসারী, শক্তিশালী দলীল উপস্থাপনকারী, সর্বাধিক নির্ভুল কিয়াস প্রদানকারী এবং অত্যন্ত সুস্পষ্ট পথপ্রদর্শক হিসেবে পেয়েছি। আর তা উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু’ (শাখা মাসয়ালা) বিষয়ে তাঁর রচিত প্রাচীন ও আধুনিক কিতাবসমূহে অত্যন্ত স্পষ্ট বর্ণনা ও বিশুদ্ধ ভাষার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। আর তা কেনই বা হবে না, অথচ তিনি প্রথমেই সেই মহান সত্তার ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন যার মাধ্যমে আল্লাহ নবুওয়াতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং যাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন? এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন আরবি ভাষী এবং আরবের শ্রেষ্ঠ গোত্র হাশেম ও মুত্তালিবের বংশধর হিসেবে কুরাইশ বংশীয়। অতঃপর তিনি আল্লাহর কিতাব আত্মস্থ করার ক্ষেত্রে এমন কঠোর সাধনা করেছেন যে, তিনি খাস ও আম, মুফাসসার ও মুজমাল, ফরজ ও আদব, অবধারিত ও মুস্তাহাব, অপরিহার্য ও বৈধ, এবং নাসিখ ও মানসুখ এবং সংবাদের মধ্যে শক্তিশালী বর্ণনাগুলো পৃথকভাবে চিনতে পেরেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الضعيف، والشاذ منها من المعروف، والإجماع من الاختلاف. ثم شبه الفرع المختلف فيه بالأصل المتفق عليه، من غير مناقضة منه للبناء الذي أسسه، ولا مخالفة منه للأصل الذي أصله. فخرجت -بحمد الله ونعمته- أقواله مستقيمة وفتاويه صحيحة
(1) ".
فهذا الاختيار من البيهقي لمذهب الشافعي لم يكن إلا بعد دراسة وبحث، ومقارنة وتحقيق، واختبار واقتناع. ولكنه تمسك بمسلك الاعتدال فلم يتعصب لمذهبه يؤيده بحق وبباطل، بل قام يدافع عن كل المذاهب وفقهائها، وأعلن أنهم كلهم على حق، بنى كل واحد منهم مذهبه على مبلغ علمه من الكتاب والسنة، وقصد قصد الحق في الاجتهاد للمسائل الحادثة. وهو إن شاء الله يكون مأجورا عند الله وإن أخطأ في ذلك.
قال: "ونحن نرجو أن لا يؤخذ على واحد منهم أنه خالف كتابا نصا، ولا سنة قائمة ولا جماعة، ولا قياسا صحيحا عنده، ولكن قد يجهل الرجل السنة، فيكون له قول يخالفها، لا أنه عمد خلافها، وقد يغفل المرء، ويخطئ في التأويل
(2) ".
وهكذا دافع البيهقي عن أئمة المذاهب وفقهائهم، وليت الأمر كان كذلك، فإن كثيرا من فقهاء المذاهب لا يتركون قول إمامهم وإن ظهر لهم الحق في خلافه بدلائل قوية وحجج دامغة. نعوذ بالله من فتن التعصب والضلال!
وبعد أن وقع اختيار البيهقي لمذهب الإمام الشافعي، تجرد للدفاع عنه وعمل على جمع نصوصه، وشرح أقواله، وتبين أرائه، وتأييد مذهبه، وعكف حياته في خدمة مذهبه حتى قال إمام الحرمين أبو المعالي الجويني: ما من فقيه إلا وللشافعي عليه منة إلا أبا بكر البيهقي، فإن المنة له على الشافعي لتصانيفه في نصرة مذهبه
(3).
--------------------------------------------
দুর্বলকে এবং প্রসিদ্ধ বর্ণনা থেকে বিচ্ছিন্ন বর্ণনাকে, আর মতভেদ থেকে ঐকমত্যকে তিনি পৃথক করেছেন। অতঃপর তিনি তার প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর কোনো স্ববিরোধিতা ছাড়াই এবং তার প্রবর্তিত মূলনীতির কোনো প্রকার লঙ্ঘন ব্যতিরেকে মতভেদপূর্ণ শাখাগত বিষয়কে ঐকমত্যপূর্ণ মূল বিষয়ের সাথে তুলনা করেছেন। ফলে আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে তার বক্তব্যসমূহ সুসংহত এবং ফতোয়াগুলো সঠিক হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে
(1).
ইমাম বায়হাকীর শাফেয়ী মাযহাব নির্বাচন করা কেবল গভীর অধ্যয়ন, গবেষণা, তুলনা, যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা ও দৃঢ় বিশ্বাসের পরেই হয়েছিল। কিন্তু তিনি মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছিলেন, তাই তিনি নিজের মাযহাবের ব্যাপারে এমন অন্ধ গোঁড়ামি করেননি যে ন্যায়-অন্যায় নির্বিশেষে তাকেই সমর্থন করতে হবে; বরং তিনি সকল মাযহাব এবং তাদের ফকীহদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে তারা সকলেই সত্যের ওপর রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই কিতাব ও সুন্নাহর যতটুকু জ্ঞান তাদের নিকট পৌঁছেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই স্বীয় মাযহাব গড়ে তুলেছেন এবং নতুন উদ্ভূত মাসআলাসমূহে ইজতিহাদের ক্ষেত্রে সত্যের অন্বেষণই করেছেন। আর আল্লাহ চাহেন তো তিনি এর জন্য আল্লাহর নিকট পুরস্কৃত হবেন, যদিও তিনি তাতে ভুল করে থাকেন।
তিনি বলেন: "আর আমরা আশা করি যে, তাদের কারো ব্যাপারে এমন অভিযোগ তোলা হবে না যে তিনি কিতাবের স্পষ্ট পাঠ (নস), অথবা প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ, অথবা ইজমা কিংবা তার নিকট সঠিক কিয়াসের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তি হয়তো সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত নন, ফলে তার এমন কোনো বক্তব্য থাকতে পারে যা সুন্নাহর পরিপন্থী, এর অর্থ এই নয় যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিরোধিতা করেছেন। আর মানুষ কখনো অসতর্ক হতে পারে এবং ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুল করতে পারে
(2)।"
এভাবেই বায়হাকী মাযহাবের ইমাম ও ফকীহদের পক্ষ অবলম্বন করেছেন। আর হায়! বিষয়টি যদি সর্বদা এমনই হতো! কারণ বিভিন্ন মাযহাবের অনেক ফকীহ তাদের ইমামের বক্তব্য ত্যাগ করেন না, যদিও শক্তিশালী দলিল ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে তার বিপরীতে সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমরা গোঁড়ামি ও বিভ্রান্তির ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি!
ইমাম আল-বায়হাক্বী যখন ইমাম শাফিঈর মাযহাব গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তিনি এর প্রতিরক্ষায় নিজেকে একনিষ্ঠভাবে নিয়োজিত করেন এবং এর মূল পাঠসমূহ সংগ্রহ করা, তাঁর বাণীসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করা, তাঁর মতামতসমূহ সুস্পষ্ট করা এবং তাঁর মাযহাবকে শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেন। তিনি তাঁর সমগ্র জীবন এই মাযহাবের সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন, এমনকি ইমামুল হারামাইন আবু আল-মা'আলী আল-জুওয়াইনী বলেছেন: "এমন কোনো ফকীহ নেই যার ওপর ইমাম শাফিঈর অনুগ্রহ নেই, কেবল আবু বকর আল-বায়হাক্বী ব্যতীত; কেননা শাফিঈ মাযহাবের সমর্থনে তাঁর গ্রন্থনা ও রচনার কারণে ইমাম শাফিঈর ওপর তাঁরই অনুগ্রহ রয়েছে"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ويقال إن الشافعي أثنى علي كتبه في المنام كما يحكي قاضي القضاة أبو علي بن البيهقي عن ثلاثة أشخاص رأوا الإمام في المنام وهو يمسك بيده تصانيف البيهقي ويلقبه بالفقيه. ويقول الذهبي: هذه رؤيا حق. فتصانيف البيهقي عظيمة القدر، غزيرة الفوائد، قل من جود تآليفه مثله
(1).
ومن تصانيفه المفيدة في الفقه "المبسوط في نصوص الشافعي"، "ومعرفة السنن والآثار"، و"كتاب الخلافيات بين أبي حنيفة و الشافعي". و"أحكام القرآن"، و"بيان خطأ من أخطأ على الشافعي" و"كتاب رد الانتقاد علي أبي عبد الله الشافعي". وغير ذلك.
وكان عصره يزخر بالفقهاء الشافعية وقد حاول الاستفادة من كبار علمائهم ففي مقدمة الشيوخ الذين تفقه بهم:
1 - أبو الفتح، ناصر بن الحسين بن محمد بن علي، القرشي العمري المروزي
(2) (م 444 هـ).
الإمام الفقيه، شيخ الشافعية. تفقه علي أبي بكر القفال، وعلى أبي الطيب الصعلوكي، وأبي طاهر محمد بن محمد بن محمش الزيادي. وروى الحديث عن أبي العباس السرخسي، وأبي محمد المخلدي، وجماعة.
وبرع في المذهب، ودرّس في أيام مشايخه، وتفقه به أهل نيسابور، وكتب بخطه الكثير، وكان مدار الفتوى والمناظرة عليه، وكان مع ذلك متواضعا، فقيرا، خيرا، متعففا قانعا باليسير، كبير القدر.
وقد روى عنه البيهقي في هذا الكتاب وله عنه رواية في "السنن الكبرى" وغيره.
--------------------------------------------
কথিত আছে যে, ইমাম শাফিঈ স্বপ্নে তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রশংসা করেছেন, যেমনটি প্রধান বিচারপতি আবু আলী বিন বায়হাকী তিনজন ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যারা ইমামকে স্বপ্নে দেখেছিলেন এই অবস্থায় যে, তিনি তাঁর হাতে বায়হাকীর রচনাসমূহ ধরে রেখেছেন এবং তাঁকে ফকীহ উপাধিতে ভূষিত করছেন। আয-যাহাবী বলেন: এটি একটি সত্য স্বপ্ন। বায়হাকীর রচনাবলি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং প্রচুর উপকারী; তাঁর মতো নিপুণভাবে খুব কম লোকই গ্রন্থ রচনা করতে পেরেছেন
(১).
ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর উপকারী রচনাসমূহের মধ্যে রয়েছে "আল-মাবসুত ফি নুসুসিশ শাফিঈ", "মা'রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার", "কিতাবুল খিলাফিয়্যাত বাইনা আবি হানিফাতা ওয়াশ শাফিঈ", "আহকামুল কুরআন", "বায়ানু খাতায়ি মান আখতাআ আলাশ শাফিঈ" এবং "কিতাবু রাদ্দিল ইনতিকাদি আলা আবি আব্দুল্লাহিশ শাফিঈ" এবং এ ছাড়া আরও অনেক কিছু।
তাঁর যুগ শাফিঈ ফকীহদের দ্বারা মুখরিত ছিল এবং তিনি তাঁদের বড় আলেমদের থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সেই উস্তাদদের অগ্রভাগে রয়েছেন যাঁদের নিকট তিনি ফিকহ শিক্ষা করেছেন:
১ -
আবু আল-ফাতহ, নাসির বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আলী, আল-কুরাশি আল-উমারি আল-মারওয়াযি
(২)
(মৃত্যু ৪৪৪ হিজরি)।
তিনি ছিলেন ইমাম, ফকীহ এবং শাফিঈদের শায়খ। তিনি আবু বকর আল-কাফফাল, আবু তাইয়িব আস-সা'লুকি এবং আবু তাহির মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহমিশ আয-যিয়াদির নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি আবুল আব্বাস আস-সারাকসি, আবু মুহাম্মদ আল-মাখলাদি এবং একদল আলেম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তিনি মাযহাবে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং তাঁর উস্তাদদের জীবদ্দশাতেই পাঠদান শুরু করেন। নিশাপুরের অধিবাসীরা তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন এবং তিনি নিজ হাতে অনেক লিখেছেন। ফতোয়া ও বিতর্কের মূল কেন্দ্র ছিলেন তিনি। এতদসত্ত্বেও তিনি ছিলেন বিনয়ী, দরিদ্র, কল্যাণকামী, পবিত্র স্বভাবের, অল্পে তুষ্ট এবং সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
আল-বায়হাকী এই গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং 'আস-সুনানুল কুবরা' ও অন্যান্য গ্রন্থেও তাঁর থেকে তাঁর বর্ণনা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
2 - أبو الطيب الصعلوكي، سهل بن محمد بن سليمان، النيسابوري
(1) (م 404 هـ). الإمام، مفتي نيسابور. سمع الحديث من أبي العباس الأصم، وأبي علي الوفاء، وطائفة. وتفقه بوالده أبي سهل الذي كان من العلماء الفقهاء وكان يُجلّ ابنه.
كان أبو الطيب فقيها أديبا، جمع رياسة الدنيا والدين، أخذ عنه فقهاء نيسابوو اتفق علماء عصره على أمانته وسيادته وجمعه بين العلم والعمل والأصالة والرئاسة.
قال الحاكم: هو من أنظر من رأينا، تخرج به جماعة وحدث وأملى وقال: بلغني أنه كان في مجلسه أكثر من خمسمائة محبرة
(2) وكان بعض العلماء يعدّه المجدد للأمة دينها على رأس الأربعمائة
(3). وله كلمات بديعة منها
(4):
من تصدّر قبل أوانه، فقد تصدى لهوانه.
ومنها: أنا نحتاج إلى إخوان العشرة لوقت العسرة.
وسئل عن الشطرنج فقال: إذا سلم المالُ من الخسران، والصلاة عن النسيان فذلك أنس بين الإخوان، وكتبه سهل بن محمد بن سليمان.
وكان فيما قيل: عالماً في شخص، وأمة في نفس، وإمام الدنيا بالإطلاق وشافعي عصره بالإطباق. لو رآه الشافعي لقرت عينه. وشهد أنه صدر المذهب وعينه
(5).
أكثر عنه المؤلف الرواية في هذا الكتاب.
--------------------------------------------
২ - আবু তৈয়ব আস-সালুকি, সাহল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান, আন-নাইসাবুরি
(১) (মৃত্যু: ৪০৪ হিজরি)। তিনি ছিলেন ইমাম এবং নিশাপুরের মুফতি। তিনি আবু আল-আব্বাস আল-আসাম্ম, আবু আলী আল-ওয়াফা এবং এক দল উলামার নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি তার পিতা আবু সাহলের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, যিনি প্রাজ্ঞ ফকিহ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি তার পুত্রকে অত্যন্ত সম্মান করতেন।
আবু তৈয়ব ছিলেন একজন ফকিহ ও সাহিত্যিক, যিনি পার্থিব ও ধর্মীয় উভয় নেতৃত্বের অধিকারী ছিলেন। নিশাপুরের ফকিহগণ তার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং তার সমসাময়িক আলেমগণ তার বিশ্বস্ততা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং ইলম, আমল, আভিজাত্য ও নেতৃত্বের সমন্বয়ের বিষয়ে একমত ছিলেন।
আল-হাকিম বলেন: তিনি আমাদের দেখা শ্রেষ্ঠ সমঝদার ও সূক্ষ্মদর্শী ব্যক্তিদের অন্যতম। তার নিকট থেকে একদল ছাত্র তৈরি হয়েছে, তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন। তিনি আরও বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তার মজলিসে পাঁচশ’র বেশি দোয়াত বা কালি রাখার পাত্র উপস্থিত থাকত
(২) এবং কোনো কোনো আলেম তাকে চারশ হিজরি শতকের প্রারম্ভে এই উম্মতের দ্বীনের সংস্কারকারী বা মুজাদ্দিদ হিসেবে গণ্য করতেন
(৩)। তার কিছু চমৎকার উক্তি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে
(৪):
"যে ব্যক্তি উপযুক্ত সময়ের পূর্বেই নেতৃত্ব দিতে চায়, সে মূলত নিজের লাঞ্ছনারই সম্মুখীন হয়।"
তার আরও উক্তি: "বিপদের সময়ের জন্য আমাদের এমন ভাইদের প্রয়োজন যারা দীর্ঘ সাহচর্যে পরীক্ষিত।"
তাকে দাবা খেলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "যদি সম্পদ লোকসান থেকে নিরাপদ থাকে এবং নামাজ বিস্মৃতি থেকে রক্ষা পায়, তবে তা ভাইদের মাঝে একটি হৃদ্যতা বা চিত্তবিনোদন।" এটি সাহল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান লিখেছেন।
তার সম্পর্কে বলা হতো: তিনি একক অবয়বে একজন পূর্ণাঙ্গ আলেম এবং একাই একটি উম্মত। তিনি নিরঙ্কুশভাবে বিশ্বের ইমাম এবং সর্বসম্মতভাবে নিজ যুগের শ্রেষ্ঠ শাফেঈ। ইমাম শাফেঈ যদি তাকে দেখতেন তবে তার চক্ষু শীতল হতো। তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি এই মাজহাবের প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং এর মধ্যমণি।
(৫)
.
লেখক এই কিতাবে তাঁর থেকে অধিক পরিমাণে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
3 - أبو عمرو الرزجاهي، محمد بن عبد الله بن أحمد البسطامي
(1) (351 - 427 هـ).
وهو من أقران أبي الطيب الصعلوكي ومن تلاميذ والده أبي سهل. سمع الحديث من الإسماعيلي، وابن عدي، وطائفة من الفقهاء، والمحدثين، والأدباء.
روى عنه البيهقي كثيرا في هذا الكتاب.
4 - أبو إسحاق الطوسي، إبراهيم بن محمد بن إبراهيم
(2).
أحد كبار الفقهاء والمناظير، تفقه على الأستاذ أبي الوليد الفقيه، وروى الحديث عن أبي العباس الأصم، وغيره.
روى عنه البيهقي قليلاً في هذا الكتاب.
5 - أبو بكر البرقاني، أحمد بن محمد بن غالب، الخوارزمي
(3) (336 - 425 هـ).
شيخ الفقهاء والمحدثين، تفقه في حداثته، وصنف في الفقه، ثم اشتغل بعلم الحديث فصار فيه إماما، وانقطع إلى هذا العلم، قال يوما لرجل من الفقهاء معروف بالصلاح وقد حضر عنده، ادع الله أن ينزع شهوة الحديث من قلبي. فليس لي اهتمام بالليل والنهار إلا به
(4).
سمع من أبي بكر الإسماعيلي، وأبي بكر القطيعي، وأبي أحمد الحاكم، وعدة.
قال الخطيب: كان البرقاني ثقة، ورعا، ثبتا، فهما، لم نر في شيوخنا أثبت منه.
عاما بالفقه، له حظ من علم العربية، كثير الحديث صنف "مسندا" ضمنه ما
--------------------------------------------
৩ - আবু আমর আর-রুজবাহী, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-বিস্তামি
(১) (৩৫১ - ৪২৭ হিজরি)।
তিনি আবু তৈয়ব আস-সালুকির সমসাময়িক এবং তাঁর পিতা আবু সহলের অন্যতম ছাত্র। তিনি আল-ইসমাঈলি, ইবনে আদি এবং একদল ফকিহ, মুহাদ্দিস ও সাহিত্যিকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
বায়হাকি এই গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন।
৪ - আবু ইসহাক আত-তুসি, ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম
(২)।
অন্যতম প্রবীণ ফকিহ ও তার্কিক; তিনি উস্তাদ আবু ওয়ালিদ আল-ফকিহর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং আবু আব্বাস আল-আসাম ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেন।
বায়হাকি এই গ্রন্থে তাঁর থেকে সামান্য কিছু বর্ণনা করেছেন।
৫ - আবু বকর আল-বারকানি, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন গালিব আল-খাওয়ারিজমি
(৩) (৩৩৬ - ৪২৫ হিজরি)।
ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের শায়খ; তিনি তাঁর যৌবনে ফিকহ শিক্ষা করেন এবং ফিকহ শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেন। অতঃপর তিনি হাদিস শাস্ত্রের ইলমে মনোনিবেশ করেন এবং তাতে ইমামে পরিণত হন। তিনি নিজেকে এই ইলমের জন্যই উৎসর্গ করেন। তিনি একদিন তাঁর নিকট উপস্থিত সৎকর্মশীল হিসেবে পরিচিত এক ফকিহকে বলেছিলেন, "আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমার অন্তর থেকে হাদিসের মোহ দূর করে দেন। কারণ দিন-রাত এটি ছাড়া আমার আর কোনো চিন্তা নেই।"
(৪)।
তিনি আবু বকর আল-ইসমাঈলি, আবু বকর আল-কাতিয়ি, আবু আহমদ আল-হাকিম এবং আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
আল-খতিব বলেন: আল-বারকানি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, পরহেজগার, সুদৃঢ় এবং প্রাজ্ঞ; আমাদের শায়খদের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য আর কাউকে আমরা দেখিনি।
তিনি ফিকহশাস্ত্রে বিজ্ঞ ছিলেন, আরবি ভাষাতত্ত্বে তাঁর বিশেষ পাণ্ডিত্য ছিল, তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং একটি "মুসনাদ" সংকলন করেছেন যার মধ্যে তিনি এমন বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ৩০)
اشتمل عليه صحيح البخاري ومسلم
(1). كان حريصا على العلم، منصرف
الهمة إليه. ولم يترك التصنيف حتى مات.
لم يرو عنه البيهقي في هذا الكتاب إلا قليلاً، وله عنه رواية في كتبه الأخرى.
6 - أبو بكر الطوسي، النَّوقاني، محمد بن بكر بن محمد
(2) (م 420 هـ).
إمام أصحاب الشافعي في نيسابور وفقيههم ومفتيهم ومدرسهم، كان إليه الفتوى والمناظرة وله مع ذلك الورع والزهد، والانقباض عن الناس، وترك طلب الجاه والدخول على السلاطين، وما لا يليق بأهل العلم من الدخول في الوصايا والأوقاف.
تفقه على أبي الحسن الماسرجسي بنيسابور، وببغداد على الشيخ أبي محمد البافي.
قال محمد بن مأمون: كنت مع الشيخ أبي عبد الرحمن السلمي ببغداد فقال لي: تعال حتى أريك شابا ليس في جملة الصوفية ولا المتفقهين أحسن طريقة، ولا أكثر أدبا منه فأخذ بيدي فذهب إلى حلقة البافي وأراني الشيخ أبا بكر الطوسي
(3).
تفقه عليه جماعة منهم الأستاذ أبو القاسم القشيري.
وللبيهقي عنه في هذا الكتاب روايات قليلة.
7 - أبو طاهر الزيادي، محمد بن محمد بن محمش، الفقيه، النيسابوري
(4) (327 - 410 هـ).
عرف بالزيادي لكونه يسكن ميدان زياد بن عبد الرحمن. وقيل إنه نسبة إلى بعض أجداده
(5).
--------------------------------------------
যা সহীহ বুখারী ও মুসলিম অন্তর্ভুক্ত করেছে
(১)। তিনি ইলমের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং নিজের সমস্ত মনোযোগ সেদিকেই নিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি আমৃত্যু গ্রন্থ রচনা ত্যাগ করেননি।
বায়হাকী এই কিতাবে তাঁর থেকে খুব সামান্যই বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর অন্যান্য কিতাবে তাঁর থেকে বর্ণনা রয়েছে।
৬ - আবু বকর আত-তুসী, আন-নাওকানি, মুহাম্মদ বিন বকর বিন মুহাম্মদ
(২) (মৃত্যু ৪২০ হিজরী)।
নিশাপুরে শাফেয়ী অনুসারীদের ইমাম এবং তাদের ফকীহ, মুফতি ও শিক্ষক। ফতোয়া প্রদান ও বিতর্কের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল; এর পাশাপাশি তাঁর ছিল তাকওয়া ও যহদ (দুনিয়াবিমুখতা), লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা, পদমর্যাদার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা এবং সুলতানদের দরবারে যাতায়াত বর্জন করা। এছাড়া অসিয়ত ও ওয়াকফ সংক্রান্ত বিষয়ে জড়ানোর মতো ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য যা অনুপযুক্ত, সেসব থেকেও তিনি দূরে থাকতেন।
তিনি নিশাপুরে আবুল হাসান আল-মাসারজিসীর নিকট এবং বাগদাদে শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-বাফীর নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন।
মুহাম্মদ বিন মামুন বলেন: আমি বাগদাদে শায়খ আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামীর সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: "এসো, আমি তোমাকে এমন এক যুবককে দেখাই, সুফি বা ফকীহদের মাঝে যার চেয়ে উত্তম তরীকা এবং অধিক আদব সম্পন্ন আর কেউ নেই।" এরপর তিনি আমার হাত ধরে আল-বাফীর হালকায় নিয়ে গেলেন এবং আমাকে শায়খ আবু বকর আত-তুসীকে দেখালেন
(৩)।
একদল লোক তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন, যাদের মধ্যে উস্তাদ আবুল কাসিম আল-কুশায়রী অন্যতম।
এই কিতাবে বায়হাকীর তাঁর থেকে অল্প কিছু বর্ণনা রয়েছে।
৭ - আবু তাহের আয-যিয়াদী, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহমিশ, ফকীহ, নিশাপুরী
(৪)
(৩২৭ - ৪১০ হিজরি)।
তিনি আল-জিয়াদি নামে পরিচিত ছিলেন, যেহেতু তিনি জিয়াদ বিন আব্দুর রহমানের ময়দানে বসবাস করতেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটি তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষের দিকে সম্বন্ধযুক্ত
(৫)
।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুআবুল ঈমান - (তহ আর-রুশদ)
(পৃষ্ঠা: ৩১)
كان إماما في المذهب الشافعي، متبحرا في علم الشروط
(1)، وله فيه مصنف، بصيرا بالعربية كبير الشأن. وكان إمام أصحاب الحديث بخراسان، ومسندهم ومفتيهم بالاتفاق بلا مدافعة.
قال عبد الغافر الفارسي: أملى نحوا من ثلاث سنين، ولولا ما اختص به من الإفتاء، وحرفة أهل العلم، لما تقدم عليه أحد
(2). أخذ الفقه عن أبي الوليد، وأبي سهل. كان متبحرا في الفقه، لا يصعب عليه شيء. يناظر غيره بكل مهارة واتقان.
روى الحديث عن أبي العباس الأصم، وأبي بكر بن القطان، وعدة.
أكثر عنه البيهقي في هذا الكتاب.
8 - القاضي أبو عمر، محمد بن الحسين بن محمد بن الهيثم، البسطامي
(3) (م 401 هـ).
كان أحد الأئمة في المذهب الشافعي وكبير العلماء تولى قضاء نيسابور سمع الحديث من الطبراني والقطيعي وأحمد بن جارود وعدة.
له رحلة واسعة وفضائل جمة. وعظ مدة ثم تصدر للإفتاء والإفادة. كان كبير القدر. وافر الحشمة.
روى عنه البيهقي في هذا الكتاب.
ج- البيهقي وعلم الكلام:
عاش البيهقي في فترة كانت مسائل الكلام موضوع مناقشات ومناظرات بين علماء الفرق المختلفة، فلم يجد بدأ من أن يدل بدلوه في هذا المضمار وألف كتبا حول
--------------------------------------------
তিনি শাফেয়ী মাযহাবের একজন ইমাম এবং ইলমুশ শুরুত (শর্তাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান)-এ অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন
(১)। এই বিষয়ে তাঁর গ্রন্থ রয়েছে। তিনি আরবি ভাষায় প্রাজ্ঞ ও উচ্চমর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি খুরাসানের আহলে হাদিসগণের ইমাম এবং সর্বসম্মতিক্রমে ও বিনাদ্বন্দ্বে তাঁদের মুসনিদ ও মুফতি ছিলেন।
আবদুল গাফির আল-ফারিসী বলেন: তিনি প্রায় তিন বছর হাদিস পাঠ করিয়েছেন (ইমলা দিয়েছেন)। ফাতাওয়া প্রদান এবং ইলম চর্চার বিশেষ ব্যস্ততা না থাকলে তাঁর চেয়ে অগ্রবর্তী কেউ হতো না
(২)। তিনি আবুল ওয়ালিদ ও আবু সাহলের নিকট থেকে ফিকহ শিক্ষা করেছেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন, কোনো কিছুই তাঁর নিকট কঠিন মনে হতো না। তিনি পূর্ণ দক্ষতা ও নিপুণতার সাথে অন্যের সাথে মুনাজারা (তর্ক-বিতর্ক) করতেন।
তিনি আবুল আব্বাস আল-আসাম, আবু বকর ইবনুল কাত্তান এবং আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
বায়হাকী এই গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন।
৮ -
কাজী আবু উমর, মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাইসাম আল-বিস্তামী
(৩) (মৃত্যু ৪০১ হিজরি)।
তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অন্যতম ইমাম ও বড় আলেম ছিলেন। তিনি নিশাপুরের কাজীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তাবারানী, কুতাইয়ী, আহমদ বিন জারুদ ও আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তাঁর ব্যাপক সফরের অভিজ্ঞতা ও প্রচুর গুণাবলি রয়েছে। তিনি কিছুকাল ওয়াজ-নসিহত করেন, অতঃপর ফাতাওয়া দান ও জ্ঞান বিতরণের জন্য সমাসীন হন। তিনি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিলেন।
বায়হাকী এই কিতাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
জ- বায়হাকী ও ইলমুল কালাম:
বায়হাকী এমন এক সময়ে জীবনযাপন করেছেন যখন ইলমুল কালামের বিষয়সমূহ বিভিন্ন দলের আলেমদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্কের বিষয়বস্তু ছিল। ফলে এই অঙ্গনে নিজের অবদান রাখা ছাড়া তাঁর অন্য কোনো উপায় ছিল না এবং তিনি এই বিষয়ে বিভিন্ন কিতাব রচনা করেন।
--------------------------------------------