(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: -)
الاختيار لتعليل المختار القسم: الفقه الحنفي
الكتاب: الاختيار لتعليل المختار
المؤلف: عبد الله بن محمود بن مودود الموصلي الحنفي
عليه تعليقات: محمود أبو دقيقة (من علماء الحنفية ومدرس بكلية أصول الدين سابقا)
الناشر: مطبعة الحلبي - القاهرة
(وصورتها دار الكتب العلمية - بيروت، وغيرها)
تاريخ النشر: 1356 هـ - 1937 م
عدد الأجزاء: 5
تنبيه: «المختار للفتوى» لابن مودود الموصلي بأعلى الصفحة، يليه - مفصولا بفاصل - شرحه للمؤلف نفسه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইখতিয়ার লি-তা'লিল আল-মুখতার বিভাগ: হানাফী ফিকহ
বই: আল-ইখতিয়ার লি-তা'লিল আল-মুখতার
লেখক: আবদুল্লাহ বিন মাহমুদ বিন মাওদুদ আল-মাওসিলি আল-হানাফী
টীকা প্রদান করেছেন: মাহমুদ আবু দাকিকাহ (হানাফী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং উসুল আদ-দীন অনুষদের সাবেক শিক্ষক)
প্রকাশক: মাতবাআত আল-হালাবী - কায়রো
(এবং এটি দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত ও অন্যান্য প্রকাশনী হতে পুনর্মুদ্রিত হয়েছে)
প্রকাশকাল: ১৩৫৬ হিজরী - ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫
সতর্কবার্তা: পৃষ্ঠার উপরের অংশে ইবনে মাওদুদ আল-মাওসিলির «আল-মুখতার লিল-ফাতওয়া» রয়েছে, এরপর - একটি বিভাজক দ্বারা পৃথককৃত অবস্থায় - লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) দেওয়া হয়েছে।
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٥)
[مقدمة المؤلف]«مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»
[حَدِيثٌ شَرِيفٌ]
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى جَزِيلِ نَعْمَائِهِ، أَحْمَدُهُ عَلَى جَلِيلِ آلَائِهِ، وَأَشْكُرُهُ عَلَى جَمِيلِ بَلَائِهِ، وَأَشْهَدُ - أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ شَهَادَةً أُعِدُّهَا لِيَوْمِ لِقَائِهِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ سَيِّدُ رُسُلِهِ، وَخَاتَمُ أَنْبِيَائِهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ - وَأَصْحَابِهِ وَأَصْفِيَائِهِ - وَأَحْمَدُهُ عَلَى أَنْ جَعَلَنِي مِمَّنْ سَلَكَ سُنَنَ سُنَّتِهِ وَاقْتَفَاهُ، وَوَرَدَ شَرِيعَةَ شَرْعِهِ فَرَوَّاهُ، حَمْدَ مَنْ غَمَرَتْهُ نِعَمُهُ وَعَمَّتْهُ عَطَايَاهُ.
وَبَعْدُ: فَقَدْ رَغِبَ إِلَيَّ مَنْ وَجَبَ جَوَابُهُ عَلَيَّ أَنْ أَجْمَعَ لَهُ مُخْتَصَرًا فِي الْفِقْهِ عَلَى مَذْهَبِ الْإِمَامِ الْأَعْظَمِ أَبِي حَنِيفَةَ النُّعْمَانِ رضي الله عنه وَأَرْضَاهُ - مُقْتَصِرًا فِيهِ عَلَى مَذْهَبِهِ، مُعْتَمِدًا فِيهِ عَلَى فَتْوَاهُ، فَجَمَعْتُ لَهُ هَذَا الْمُخْتَصَرَ كَمَا طَلَبَهُ وَتَوَخَّاهُ، وَسَمَّيْتُهُ:
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي شَرَعَ لَنَا دِينًا قَوِيمًا، وَهَدَانَا إِلَيْهِ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا، وَجَعَلَنَا مِنْ أَهْلِهِ تَعَلُّمًا وَتَعْلِيمًا، حَمْدَ مَنْ عَمَّتْهُ رَحْمَتُهُ وَإِفْضَالُهُ، وَغَمَرَتْهُ أَعْطِيَتُهُ وَنَوَالُهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، شَهَادَةً أَسْتَزِيدُ بِهَا وُفُورَ نِعَمِهِ، وَأَسْتَرْفِدُ بِهَا وُفُورَ كَرَمِهِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، الَّذِي جَمَعَ بِمَبْعَثِهِ شَمْلَ الْحَقِّ بَعْدَ تَفَرُّقِهِ، وَقَمَعَ بِرِسَالَتِهِ حِزْبَ الْبَاطِلِ بَعْدَ تَطَوُّقِهِ، - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ - وَأَصْحَابِهِ وَأَتْبَاعِهِمُ الَّذِينَ سَلَكُوا سَنَنَ سُنَنِهِ وَصَوَابِهِ.
[লেখকের ভূমিকা]«আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন»
[হাদিস শরিফ]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর অঢেল নিয়ামতের ওপর, আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর মহিমান্বিত অনুগ্রহের জন্য, এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করি তাঁর সুন্দর পরীক্ষার জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই—এমন সাক্ষ্য যা আমি তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনের জন্য প্রস্তুত রেখেছি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর রাসূলগণের নেতা এবং তাঁর নবীদের সমাপ্তকারী—আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর মহান সাথী ও মনোনীত শুদ্ধাত্মাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমি তাঁর প্রশংসা করি যে, তিনি আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা তাঁর সুন্নাহর পথ অনুসরণ করেছে এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে, এবং তাঁর প্রবর্তিত শরীয়তের ঝরনাধারায় উপনীত হয়েছে ও তৃষ্ণা মিটিয়েছে—এমন ব্যক্তির প্রশংসার ন্যায় যাকে তাঁর নিয়ামতসমূহ সিক্ত করেছে এবং তাঁর দানসমূহ পরিব্যাপ্ত করেছে।
অতঃপর: যাঁর আহ্বানে সাড়া দেওয়া আমার জন্য কর্তব্য, তিনি আমার নিকট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যেন আমি তাঁর জন্য ইমামে আজম আবু হানিফা আল-নুমান (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন)-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ সংকলন করি, যেখানে কেবল তাঁর মাযহাবের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকব এবং তাঁর ফতোয়ার ওপর নির্ভর করব। সুতরাং আমি তাঁর জন্য এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি সংকলন করেছি যেমনটি তিনি চেয়েছিলেন ও লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, এবং আমি এর নামকরণ করেছি:
--
[আল-ইখতিয়ার লি-তা’লিলিল মুখতার]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের জন্য একটি সুদৃঢ় দ্বীন বিধিবদ্ধ করেছেন, এবং আমাদের এর দিকে সরল পথে পরিচালিত করেছেন, এবং আমাদের জ্ঞান অর্জন ও প্রদানের মাধ্যমে এই দ্বীনের অনুসারী করেছেন। এমন ব্যক্তির প্রশংসার ন্যায় যাকে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ পরিবেষ্টন করেছে এবং তাঁর দান ও উপহারসমূহ সিক্ত করেছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন সাক্ষ্য যার মাধ্যমে আমি তাঁর অফুরন্ত নিয়ামতের বৃদ্ধি কামনা করি এবং তাঁর মহান করুণার সাহায্য প্রার্থনা করি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাঁর প্রেরণের মাধ্যমে সত্যের বিক্ষিপ্ত অংশসমূহ একত্রিত হয়েছে এবং যাঁর রিসালাতের মাধ্যমে মিথ্যার দলসমূহ শক্তিশালী হওয়ার পর দমিত হয়েছে—আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার, তাঁর সাথীবর্গ ও তাঁদের অনুসারীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যাঁরা তাঁর সুন্নাহর পথ ও সঠিক পন্থা অবলম্বন করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٦)
الْمُخْتَارَ لِلْفَتْوَى لِأَنَّهُ اخْتَارَهُ أَكْثَرُ الْفُقَهَاءِ وَارْتَضَاهُ.
وَلَمَّا حَفِظَهُ جَمَاعَةٌ مِنَ الْفُقَهَاءِ وَاشْتَهَرَ، وَشَاعَ ذِكْرُهُ بَيْنَهُمْ وَانْتَشَرَ، طَلَبَ مِنِّي بَعْضُ أَوْلَادِ بَنِي أَخِي النُّجَبَاءِ أَنْ أَرْمِزَهُ رُمُوزًا يُعْرَفُ بِهَا مَذَاهِبُ بَقِيَّةِ الْفُقَهَاءِ، لِتَكْثُرَ فَائِدَتُهُ، وَتَعُمَّ عَائِدَتُهُ، فَأَجَبْتُهُ إِلَى طَلَبِهِ، وَبَادَرْتُ إِلَى تَحْصِيلِ بُغْيَتِهِ بَعْدَ أَنِ اسْتَعَنْتُ بِاللَّهِ وَتَوَكَّلْتُ عَلَيْهِ وَاسْتَخَرْتُهُ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْهِ، وَجَعَلْتُ لِكُلِّ اسْمٍ مِنْ أَسَمَاءِ الْفُقَهَاءِ حَرْفًا يَدُلُّ عَلَيْهِ مِنْ حُرُوفِ الْهِجَاءِ وَهِيَ:
لِأَبِي يُوسُفَ (س) وَلِمُحَمَّدٍ (م) وَلَهُمَا (سم) وَلِزُفَرَ (ز) وَلِلشَّافِعِيِّ (ف) وَاللَّهَ سبحانه وتعالى أَسْأَلُ أَنْ يُوَفِّقَنِي لِإِتْمَامِهِ، وَيَخْتِمَ لِي بِالسَّعَادَةِ عِنْدَ اخْتِتَامِهِ إِنَّهُ وَلِيُّ ذَلِكَ وَالْقَادِرُ عَلَيْهِ، وَهُوَ حَسْبِي وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] وَبَعْدُ: فَكُنْتُ جَمَعْتُ فِي عُنْفُوَانِ شَبَابِي مُخْتَصَرًا فِي الْفِقْهِ لِبَعْضِ الْمُبْتَدِئِينَ مِنْ أَصْحَابِي. وَسَمَّيْتُهُ بِـ " الْمُخْتَارِ لِلْفَتْوَى " اخْتَرْتُ فِيهِ قَوْلَ الْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ رضي الله عنه، إِذْ كَانَ هُوَ الْأَوَّلَ وَالْأَوْلَى، فَلَمَّا تَدَاوَلَتْهُ أَيْدِي الْعُلَمَاءِ، وَاشْتَغَلَ بِهِ بَعْضُ الْفُقَهَاءِ طَلَبُوا مِنِّي أَنْ أَشْرَحَهُ شَرْحًا أُشِيرُ فِيهِ إِلَى عِلَلِ مَسَائِلِهِ وَمَعَانِيهَا، وَأُبَيِّنُ صُوَرَهَا وَأُنَبِّهُ عَلَى مَبَانِيهَا، وَأَذْكُرُ فُرُوعًا يُحْتَاجُ إِلَيْهَا وَيُعْتَمَدُ فِي النَّقْلِ عَلَيْهَا، وَأَنْقُلُ فِيهِ مَا بَيْنَ أَصْحَابِنَا مِنَ الْخِلَافِ، وَأُعَلِّلُهُ مُتَوَخِّيًا مُوجِزًا فِيهِ الْإِنْصَافَ، فَاسْتَخَرْتُ اللَّهَ تَعَالَى، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْهِ، وَشَرَعْتُ فِيهِ، مُسْتَعِينًا بِهِ وَمُتَوَكِّلًا عَلَيْهِ، وَسَمَّيْتُهُ:
الِاخْتِيَارَ لِتَعْلِيلِ الْمُخْتَارِ
وَزِدْتُ فِيهِ مِنَ الْمَسَائِلِ مَا تَعُمُّ بِهِ الْبَلْوَى، وَمِنَ الرِّوَايَاتِ مَا يُحْتَاجُ إِلَيْهِ فِي الْفَتْوَى، يَفْتَقِرُ إِلَيْهَا الْمُبْتَدِئُ، وَلَا يَسْتَغْنِي عَنْهَا الْمُنْتَهِي.
وَاللَّهُ سبحانه وتعالى أَسْأَلُهُ أَنْ يُوَفِّقَنِي لِلْإِتْمَامِ وَالْإِصَابَةِ، وَيَرْزُقَنِيَ الْمَغْفِرَةَ وَالْإِنَابَةَ، إِنَّهُ قَدِيرٌ عَلَى ذَلِكَ وَجَدِيرٌ بِالْإِجَابَةِ، وَهُوَ حَسْبِي، وَنِعْمَ الْوَكِيلُ، نِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ.
ফতোয়ার জন্য 'আল-মুখতার' (মনোনীত), কারণ অধিকাংশ ফকিহ এটি বেছে নিয়েছেন এবং এর ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
যখন একদল ফকিহ এটি মুখস্থ করলেন এবং এটি প্রসিদ্ধ হলো, এবং তাঁদের মধ্যে এর আলোচনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ল, তখন আমার ভ্রাতুষ্পুত্রদের মধ্য থেকে কিছু মেধাবী সন্তান আমার কাছে অনুরোধ করল যে আমি যেন এতে কিছু চিহ্ন বা সংকেত ব্যবহার করি যার মাধ্যমে অন্যান্য ফকিহগণের মাজহাব চেনা যায়, যাতে এর উপকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং এর সুফল ব্যাপক হয়। আমি তার অনুরোধে সাড়া দিলাম এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর ওপর ভরসা রেখে, তাঁর কাছে ইস্তিখারা করে এবং আমার কাজ তাঁর ওপর সোপর্দ করে তার উদ্দেশ্য পূরণে সচেষ্ট হলাম। আমি ফকিহগণের প্রত্যেকের নামের জন্য বর্ণমালার মধ্য থেকে একটি করে বর্ণ নির্ধারণ করেছি যা তাঁদের নির্দেশ করে, আর সেগুলো হলো:
আবু ইউসুফের জন্য (স), মুহাম্মাদের জন্য (ম), তাঁদের উভয়ের জন্য (সম), যুফারের জন্য (য) এবং শাফেয়ির জন্য (ফ)। আমি মহান পবিত্র আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন এবং এর সমাপ্তির সময় আমার জীবনের সমাপ্তি যেন সৌভাগ্যের সাথে হয়; নিশ্চয়ই তিনি এর অধিপতি এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
--
[আল-মুখতারের কারণ বর্ণনায় আল-ইখতিয়ার]অতঃপর: আমি আমার যৌবনের প্রারম্ভে আমার সাথীদের মধ্যে যারা শিক্ষানবিস ছিল, তাদের জন্য ফিকহ শাস্ত্রের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ সংকলন করেছিলাম। আমি এর নাম রেখেছিলাম 'আল-মুখতার লিল ফাতওয়া'। এতে আমি ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মতকে পছন্দ করেছি, কারণ সেটিই ছিল প্রথম ও সর্বোত্তম। যখন এটি আলেমগণের হস্তগত হলো এবং কিছু ফকিহ এটি নিয়ে চর্চায় নিমগ্ন হলেন, তখন তাঁরা আমার কাছে অনুরোধ করলেন যেন আমি এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করি, যাতে আমি এর মাসআলাগুলোর কারণ ও তাৎপর্যের দিকে ইঙ্গিত করি, সেগুলোর রূপ বর্ণনা করি, সেগুলোর ভিত্তি সম্পর্কে সচেতন করি এবং এমন কিছু আনুষঙ্গিক মাসআলা উল্লেখ করি যেগুলোর প্রয়োজন হয় এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে যেগুলোর ওপর নির্ভর করা যায়। এবং আমি যেন আমাদের সাথীদের মধ্যকার মতভেদ এতে উদ্ধৃত করি এবং সংক্ষেপে ইনসাফের সাথে সেগুলোর কারণ বর্ণনা করি। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম, আমার কাজ তাঁর ওপর সোপর্দ করলাম এবং তাঁর ওপর ভরসা করে ও তাঁর সাহায্য চেয়ে এটি শুরু করলাম। আমি এর নাম রেখেছি:
আল-ইখতিয়ার লি তায়লিলিল মুখতার
এতে আমি এমন কিছু মাসআলা বৃদ্ধি করেছি যা দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপকভাবে ঘটে থাকে এবং এমন কিছু বর্ণনা যোগ করেছি যা ফতোয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়; যা একজন শিক্ষানবিসের জন্য অপরিহার্য এবং একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিও যা থেকে বিমুখ হতে পারেন না।
আমি মহান পবিত্র আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এটি সম্পন্ন করার ও সঠিক হওয়ার তাওফিক দান করেন, এবং আমাকে ক্ষমা ও তাঁর অভিমুখী হওয়ার তাওফিক নসিব করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর ওপর ক্ষমতাবান এবং দোয়া কবুলের যোগ্য। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক, কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٧)
كِتَابُ الطَّهَارَةِ مَنْ أَرَادَ الصَّلَاةَ وَهُوَ مُحْدِثٌ فَلْيَتَوَضَّأْ.
فَرَائِضُ الْوُضُوءِ وَفَرْضُهُ: غَسْلُ الْوَجْهِ، وَغَسْلُ الْيَدَيْنِ مَعَ الْمِرْفَقَيْنِ (ز) ، وَمَسْحُ رُبُعِ (ف) الرَّأْسِ، وَغَسْلُ الرِّجْلَيْنِ مَعَ الْكَعْبَيْنِ (ز) .
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] [كِتَابُ الطَّهَارَةِ]
وَهِيَ فِي اللُّغَةِ: مُطْلَقُ النَّظَافَةِ، وَفِي الشَّرْعِ: النَّظَافَةُ عَنِ النَّجَاسَاتِ.
وَالْوُضُوءُ فِي اللُّغَةِ مِنَ الْوَضَاءَةِ: وَهُوَ الْحُسْنُ.
وَفِي الشَّرْعِ: الْغَسْلُ وَالْمَسْحُ فِي أَعْضَاءٍ مَخْصُوصَةٍ، وَفِيهِ الْمَعْنَى اللُّغَوِيُّ، لِأَنَّهُ يُحَسِّنُ بِهِ الْأَعْضَاءَ الَّتِي يَقَعُ فِيهَا الْغَسْلُ وَالْمَسْحُ، فَالْغَسْلُ: هُوَ الْإِسَالَةُ، وَالْمَسْحُ: الْإِصَابَةُ.
وَسَبَبُ فَرْضِيَّةِ الْوُضُوءِ إِرَادَةُ الصَّلَاةِ مَعَ وُجُودِ الْحَدَثِ، لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا} [المائدة: 6] . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: مَعْنَاهُ إِذَا أَرَدْتُمُ الْقِيَامَ إِلَى الصَّلَاةِ وَأَنْتُمْ مُحْدِثُونَ.
[فَرَائِضُ الْوُضُوءِ]
وَفَرْضُهُ: غَسْلُ الْوَجْهِ، وَغَسْلُ الْيَدَيْنِ مَعَ الْمِرْفَقَيْنِ، وَمَسْحُ رُبُعِ الرَّأْسِ، وَغَسْلُ الرِّجْلَيْنِ مَعَ الْكَعْبَيْنِ لِمَا تَلَوْنَا، فَالْوَجْهُ: مَا يُوَاجَهُ بِهِ، وَهُوَ مِنْ قُصَاصِ الشَّعْرِ إِلَى أَسْفَلِ الذَّقْنِ طُولًا، وَمَا بَيْنَ شَحْمَتَيِ الْأُذُنَيْنِ عَرْضًا، وَسَقَطَ غَسْلُ بَاطِنِ الْعَيْنَيْنِ لِمَا فِيهِ مِنَ الْمَشَقَّةِ وَخَوْفِ الضَّرَرِ بِهِمَا، وَبِهِ تَسْقُطُ الطَّهَارَةَ، وَيَجِبُ غَسْلُ مَا بَيْنَ الْعِذَارِ وَالْأُذُنِ لِأَنَّهُ مِنَ الْوَجْهِ، خِلَافًا لِأَبِي يُوسُفَ بَعْدَ نَبَاتِ اللِّحْيَةِ لِسُقُوطِ غَسْلِ مَا تَحْتَ الْعِذَارِ وَهُوَ أَقْرَبُ مِنْهُ. قُلْنَا سَقَطَ ذَلِكَ لِلْحَائِلِ وَلَا حَائِلَ هُنَا.
وَقَالَ زُفَرُ: لَا يَدْخُلُ الْمِرْفَقَانِ وَالْكَعْبَانِ فِي الْغَسْلِ لِأَنَّ إِلَى لِلْغَايَةِ. قُلْنَا: وَتُسْتَعْمَلُ بِمَعْنَى مَعَ؛ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَلا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ} [النساء: 2] فَتَكُونُ مُجْمَلَةً، وَقَدْ وَرَدَتِ السُّنَّةُ مُفَسِّرَةً لَهَا، فَقَدْ صَحَّ «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم: أَدَارَ الْمَاءَ عَلَى مَرَافِقِهِ» ، وَرَأَى رَجُلًا تَوَضَّأَ وَلَمْ يُوصِلِ الْمَاءَ إِلَى كَعْبَيْهِ فَقَالَ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ» وَأَمَرَهُ بِغَسْلِهِمَا ". وَكَذَا الْآيَةُ مُجْمَلَةٌ فِي مَسْحِ الرَّأْسِ، تَحْتَمِلُ إِرَادَةَ الْجَمِيعِ كَمَا قَالَ مَالِكٌ، وَتَحْتَمِلُ إِرَادَةَ مَا تَنَاوَلَهُ اسْمُ الْمَسْحِ كَمَا قَالَهُ الشَّافِعِيُّ، وَتَحْتَمِلُ إِرَادَةَ بَعْضِهِ كَمَا ذَهَبَ إِلَيْهِ أَصْحَابُنَا، وَقَدْ صَحَّ «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَمَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ» ، فَكَانَ بَيَانًا لِلْآيَةِ وَحُجَّةً عَلَيْهِمَا، وَالْمُخْتَارُ فِي مِقْدَارِ النَّاصِيَةِ مَا ذُكِرَ فِي الْكِتَابِ وَهُوَ الرُّبُعُ، وَلَا يَزِيدُ عَلَى مَرَّةٍ وَاحِدَةٍ ; لِأَنَّ بِالتَّكْرَارِ يَصِيرُ غَسْلًا، وَالْمَأْمُورُ بِهِ الْمَسْحُ.
পবিত্রতা অধ্যায় যে ব্যক্তি অপবিত্র অবস্থায় সালাত আদায়ের ইচ্ছা করে, সে যেন ওযু করে।
ওযুর ফরযসমূহ আর এর ফরয হলো: মুখমণ্ডল ধৌত করা, কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা (যু), মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা (শা) এবং টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করা (যু)।
--
[আল-ইখতিয়ার লি-তা’লীলিল মুখতার] [পবিত্রতা অধ্যায়]
অভিধানে এর অর্থ হলো: নিছক পরিচ্ছন্নতা। আর শরীয়তের পরিভাষায়: অপবিত্রতা থেকে পরিচ্ছন্ন হওয়া।
ওযু শব্দটি আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'ওয়াদায়াহ' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা।
আর শরীয়তের পরিভাষায়: নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ ধৌত করা এবং মাসেহ করা। এর মধ্যে আভিধানিক অর্থও নিহিত রয়েছে, কেননা এর মাধ্যমে সেই অঙ্গগুলো সৌন্দর্যমণ্ডিত হয় যেগুলোতে ধৌত করা ও মাসেহ করা সম্পন্ন হয়। সুতরাং ধৌত করা হলো পানি প্রবাহিত করা, আর মাসেহ করা হলো ভেজা হাত লাগানো।
ওযু ফরয হওয়ার কারণ হলো অপবিত্র (হাদাস) থাকা অবস্থায় সালাত আদায়ের ইচ্ছা করা। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো।" [সূরা আল-মায়েদাহ: ৬]। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এর অর্থ হলো যখন তোমরা অপবিত্র অবস্থায় সালাতে দাঁড়ানোর ইচ্ছা করো।
[ওযুর ফরযসমূহ]
ওযুর ফরয হলো: মুখমণ্ডল ধৌত করা, কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা, মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা এবং টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করা; সেই আয়াতের ভিত্তিতে যা আমরা তিলাওয়াত করেছি। মুখমণ্ডল হলো সেই অংশ যা দ্বারা মুখোমুখি হওয়া যায়; লম্বায় এর সীমা হলো কপালের চুলের প্রবৃদ্ধি স্থল থেকে চিবুকের নিচের অংশ পর্যন্ত, আর প্রস্থে দুই কানের লতি পর্যন্ত। চোখের অভ্যন্তরীণ অংশ ধৌত করা রহিত করা হয়েছে কারণ এতে কষ্ট রয়েছে এবং চোখের ক্ষতির আশঙ্কা আছে, আর ক্ষতির কারণে (সে অংশের) পবিত্রতা অর্জনের আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায়। আর কানের পাশে গজানো দাড়ি ও কানের মধ্যবর্তী স্থান ধৌত করা ওয়াজিব, কারণ তা মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত। তবে ইমাম আবু ইউসুফ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) দাড়ি গজার পর এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন, কারণ দাড়ির নিচের অংশ ধৌত করার আবশ্যকতা তখন রহিত হয়ে যায় অথচ তা (কানের পাশের অংশ থেকে) মুখমণ্ডলের আরও নিকটবর্তী। আমাদের উত্তর হলো: দাড়ির নিচের অংশ ধৌত করা রহিত হয়েছে মূলত আবরণের (চুলের) কারণে, অথচ এখানে কোনো আবরণ নেই।
ইমাম যুফার (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: ধৌত করার ক্ষেত্রে কনুই এবং টাখনু অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ 'পর্যন্ত' শব্দটি সীমানা বোঝানোর জন্য। আমরা বলি: এটি 'সাথে' অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা তাদের সম্পদ তোমাদের সম্পদের সাথে খেয়ো না।" [সূরা আন-নিসা: ২]। সুতরাং আয়াতে শব্দটি অস্পষ্ট রয়ে গেছে এবং সুন্নাহ একে ব্যাখ্যা করেছে। সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কনুইয়ের ওপর পানি ঘুরিয়ে দিতেন।" এবং তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে ওযু করেছে কিন্তু তার টাখনুদ্বয়ে পানি পৌঁছায়নি, তখন তিনি বললেন: "আগুনের কারণে টাখনুসমূহের জন্য ধ্বংস।" এবং তাকে টাখনুদ্বয় ধৌত করার নির্দেশ দিলেন। অনুরূপভাবে মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রেও আয়াতটি অস্পষ্ট; এতে পুরো মাথা মাসেহ করার ইচ্ছা হওয়ার সম্ভাবনা আছে যেমনটি ইমাম মালিক (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, আবার মাসেহ শব্দ দ্বারা যতটুকু বোঝায় ততটুকু হওয়ার সম্ভাবনা আছে যেমনটি ইমাম শাফিঈ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, এবং এর কিয়দাংশ হওয়ারও সম্ভাবনা আছে যেমনটি আমাদের ইমামগণ (হানাফীগণ) অভিমত দিয়েছেন। অথচ এটি সহীহভাবে প্রমাণিত যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওযু করেছেন এবং তাঁর কপালের উপরিভাগ (নাসিয়াহ) মাসেহ করেছেন।" সুতরাং এটি আয়াতের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং তাঁদের উভয়ের বিপরীতে দলিল। আর কপালের উপরিভাগের পরিমাণের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মত হলো যা কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশ। আর এটি একবারের বেশি করা যাবে না; কারণ পুনরাবৃত্তির ফলে তা ধৌত করার পর্যায়ে চলে যাবে, অথচ আদিষ্ট বিষয় হলো মাসেহ করা।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٨)
وَ
سُنَنُ الْوُضُوءِ: غَسْلُ الْيَدَيْنِ إِلَى الرُّسْغَيْنِ ثَلَاثًا قَبْلَ إِدْخَالِهِمَا فِي الْإِنَاءِ لِمَنِ اسْتَيْقَظَ مِنْ نَوْمِهِ، وَتَسْمِيَةُ اللَّهِ تَعَالَى فِي ابْتِدَائِهِ، وَالسِّوَاكُ، وَالْمَضْمَضَةُ، وَالِاسْتِنْشَاقُ ثَلَاثًا ثَلَاثًا، وَمَسْحُ جَمِيعِ الرَّأْسِ وَالْأُذُنَيْنِ بِمَاءٍ وَاحِدٍ (ف) ، وَتَخْلِيلُ اللِّحْيَةِ وَالْأَصَابِعِ، وَتَثْلِيثُ الْغَسْلِ.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] [سُنَنُ الْوُضُوءِ]
قَالَ: (وَسُنَنُ الْوُضُوءِ: غَسْلُ الْيَدَيْنِ إِلَى الرُّسْغَيْنِ ثَلَاثًا قَبْلَ إِدْخَالِهِمَا فِي الْإِنَاءِ لِمَنِ اسْتَيْقَظَ مِنْ نَوْمِهِ) لِحَدِيثِ الْمُسْتَيْقِظِ، ثُمَّ قِيلَ: إِنْ كَانَ الْإِنَاءُ صَغِيرًا يَرْفَعُهُ بِيَدِهِ الْيُسْرَى وَيَصُبُّ عَلَى الْيُمْنَى، ثُمَّ بِالْيُمْنَى فَيَصُبُّ عَلَى الْيُسْرَى، لِتَقَعَ الْبَدَاءَةُ بِالْيُمْنَى كَمَا هُوَ السُّنَّةُ، وَإِنْ كَانَ الْإِنَاءُ كَبِيرًا يُدْخِلُ أَصَابِعَ يَدِهِ الْيُسْرَى مَضْمُومَةً دُونَ الْكَفِّ، وَيَأْخُذُ الْمَاءَ فَيَغْسِلُ يَدَيْهِ لِوُقُوعِ الْكِفَايَةِ بِذَلِكَ، وَلَا يَكْتَفِي بِدُونِ ذَلِكَ فِي الْعَادَةِ.
قَالَ: (وَتَسْمِيَةُ اللَّهِ تَعَالَى فِي ابْتِدَائِهِ) لِمُوَاظَبَتِهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهَا. وَقَالَ عليه الصلاة والسلام: «مَنْ تَوَضَّأَ وَذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى كَانَ طَهُورًا لِجَمِيعِ بَدَنِهِ، وَمَنْ تَوَضَّأَ وَلَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ كَانَ طَهُورًا لِمَا أَصَابَ الْمَاءُ» .
قَالَ: (وَالسِّوَاكُ) لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم وَاظَبَ عَلَيْهِ وَقَالَ: «أَوْصَانِي خَلِيلِي جِبْرِيلُ بِالسِّوَاكِ» قَالُوا: وَالْأَصَحُّ أَنَّهُ مُسْتَحَبٌّ.
قَالَ: (وَالْمَضْمَضَةُ وَالِاسْتِنْشَاقُ ثَلَاثًا ثَلَاثًا) يَأْخُذُ لِكُلِّ مَرَّةٍ مَاءً جَدِيدًا لِمُوَاظَبَتِهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى ذَلِكَ كَذَلِكَ.
قَالَ: (وَمَسْحُ جَمِيعِ الرَّأْسِ وَالْأُذُنَيْنِ بِمَاءٍ وَاحِدٍ) لِمَا رُوِيَ: «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَمَسَحَ بِجَمِيعِ رَأْسِهِ» ، وَقَدْ تَقَدَّمَ أَنَّهُ مَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ، فَيَكُونُ فَرْضًا، وَيَكُونُ مَسْحُ الْجَمِيعِ سُنَّةً. وَقَالَ عليه الصلاة والسلام: «الْأُذُنَانِ مِنَ الرَّأْسِ» وَالْمُرَادُ بَيَانُ الْحُكْمِ دُونَ الْخِلْقَةِ.
قَالَ: (وَتَخْلِيلُ اللِّحْيَةِ) لِمَا رُوِيَ: «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا تَوَضَّأَ شَبَّكَ أَصَابِعَهُ فِي لِحْيَتِهِ كَأَنَّهَا أَسْنَانُ الْمُشْطِ» وَقِيلَ: هُوَ سُنَّةٌ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ جَائِزٌ عِنْدَهُمَا ; لِأَنَّ السُّنَّةَ إِكْمَالُ الْفَرْضِ فِي مَحَلِّهِ وَبَاطِنُ اللِّحْيَةِ لَمْ يَبْقَ مَحَلًّا لِلْفَرْضِ.
قَالَ: (وَ) تَخْلِيلُ (الْأَصَابِعِ) لِأَنَّهُ إِكْمَالُ الْفَرْضِ فِي مَحَلِّهِ، وَلِقَوْلِهِ: عليه الصلاة والسلام: «خَلِّلُوا أَصَابِعَكُمْ قَبْلَ أَنْ تَتَخَلَّلَهَا نَارُ جَهَنَّمَ» قَالَ: (وَتَثْلِيثُ الْغَسْلِ) فَالْوَاحِدَةُ فَرْضٌ، وَالثَّانِيَةُ سُنَّةٌ، وَالثَّالِثَةُ دُونَهَا فِي الْفَضِيلَةِ، وَقِيلَ: الثَّانِيَةُ سُنَّةٌ، وَالثَّالِثَةُ إِكْمَالُ السُّنَّةِ، وَأَصْلُهُ الْحَدِيثُ الْمَشْهُورُ: «أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام تَوَضَّأَ ثَلَاثًا
এবং
ওযুর সুন্নতসমূহ: পাত্রে হাত প্রবেশের পূর্বে কব্জি পর্যন্ত তিনবার দুই হাত ধৌত করা ঐ ব্যক্তির জন্য যে ঘুম থেকে জেগেছে, ওযুর শুরুতে আল্লাহ তাআলার নাম নেওয়া, মেসওয়াক করা, তিনবার কুলি করা ও তিনবার নাকে পানি দেওয়া, এক পানি দিয়েই পুরো মাথা ও দুই কান মাসাহ করা (ফ), দাড়ি ও আঙুলসমূহ খিলাল করা এবং ধৌত করা বিষয়গুলোকে তিনবার করা।
--
[আল-ইখতিয়ার লি-তা‘লীলিল মুখতার] [ওযুর সুন্নতসমূহ]
তিনি বলেন: (এবং ওযুর সুন্নতসমূহ হলো: পাত্রে হাত প্রবেশের পূর্বে কব্জি পর্যন্ত তিনবার দুই হাত ধৌত করা ঐ ব্যক্তির জন্য যে ঘুম থেকে জেগেছে) নিদ্রা থেকে জাগ্রত ব্যক্তির হাদীসের কারণে। এরপর বলা হয়েছে: যদি পাত্রটি ছোট হয় তবে তা তার বাম হাত দিয়ে উঠাবে এবং ডান হাতের ওপর পানি ঢালবে, তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতের ওপর ঢালবে, যাতে সুন্নত অনুযায়ী ডান দিক থেকে শুরু করা যায়। আর যদি পাত্রটি বড় হয়, তবে বাম হাতের আঙুলগুলো তালু বাদ দিয়ে একত্রে করে প্রবেশ করাবে এবং পানি নিয়ে দুই হাত ধৌত করবে; কেননা এতেই প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায় এবং সাধারণত এর চেয়ে কমে তা হয় না।
তিনি বলেন: (এবং ওযুর শুরুতে আল্লাহ তাআলার নাম নেওয়া) যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত তা করতেন। তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেন: "যে ব্যক্তি ওযু করল এবং আল্লাহর নাম নিল, তা তার পুরো শরীরের জন্য পবিত্রতা হয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি ওযু করল কিন্তু আল্লাহর নাম নিল না, তবে তা কেবল শরীরের ঐ অংশের জন্য পবিত্রতা হলো যেখানে পানি পৌঁছেছে।"
তিনি বলেন: (এবং মেসওয়াক করা) কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি নিয়মিত করতেন এবং বলেছেন: "আমার বন্ধু জিবরাঈল আমাকে মেসওয়াকের ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন।" আলেমগণ বলেছেন: অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো এটি মুস্তাহাব।
তিনি বলেন: (এবং তিনবার কুলি করা ও তিনবার নাকে পানি দেওয়া) প্রতিবারের জন্য নতুন করে পানি নেবে, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত একইভাবে করতেন।
তিনি বলেন: (এবং এক পানির মাধ্যমে পুরো মাথা ও দুই কান মাসাহ করা) যেহেতু বর্ণিত হয়েছে যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওযু করলেন এবং তাঁর পুরো মাথা মাসাহ করলেন।" ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি তাঁর কপালে মাসাহ করেছেন, যা ফরয; সুতরাং পুরো মাথা মাসাহ করা সুন্নত হবে। তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেন: "দুই কান মাথার অংশ।" এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিধান বর্ণনা করা, শারীরিক গঠন নয়।
তিনি বলেন: (এবং দাড়ি খিলাল করা) যেহেতু বর্ণিত হয়েছে যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ওযু করতেন তখন তাঁর আঙুলগুলোকে দাড়ির মাঝে চিরুনির দাঁতের মতো করে প্রবেশ করাতেন।" কেউ কেউ বলেছেন: এটি ইমাম আবু ইউসুফের নিকট সুন্নত এবং ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদের নিকট অনুমোদিত (জায়িয); কারণ সুন্নতের কাজ হলো নির্ধারিত স্থানে ফরযকে পূর্ণতা দান করা, অথচ দাড়ির ভেতরের অংশ ফরযের স্থান হিসেবে অবশিষ্ট নেই।
তিনি বলেন: (এবং) আঙুলসমূহ (খিলাল করা) কারণ এটি নির্ধারিত স্থানে ফরযের পূর্ণতা দান। এবং রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বাণীর কারণে: "তোমরা তোমাদের আঙুলসমূহ খিলাল করো, জাহান্নামের আগুন দ্বারা খিলাল করার পূর্বেই।"
তিনি বলেন: (এবং তিনবার করে ধৌত করা) সুতরাং একবার ধৌত করা ফরয, দ্বিতীয়বার সুন্নত এবং তৃতীয়বার ফযীলতের দিক থেকে তার চেয়ে কম। আবার বলা হয়েছে: দ্বিতীয়বার সুন্নত এবং তৃতীয়বার সুন্নতের পূর্ণতা। এর মূল ভিত্তি হলো সেই প্রসিদ্ধ হাদীস: "তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তিনবার করে ওযু করেছেন।"
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٩)
وَيُسْتَحَبُّ فِي الْوُضُوءِ النِّيَّةُ (ف) وَالتَّرْتِيبُ وَالتَّيَامُنُ وَمَسْحُ الرَّقَبَةِ.
فَصْلٌ وَيَنْقُضُهُ كُلُّ مَا خَرَجَ مِنَ السَّبِيلَيْنِ وَمِنْ غَيْرِ (ف) السَّبِيلَيْنِ إِنْ كَانَ نَجِسًا، وَسَالَ عَنْ رَأَسِ الْجُرْحِ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] ثَلَاثًا وَقَالَ: هَذَا وُضُوئِي وَوُضُوءُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِي» . وَمَا رُوِيَ «أَنَّ عُثْمَانَ رضي الله عنه تَوَضَّأَ بِالْمَقَاعِدِ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَيَدَيْهِ ثَلَاثًا، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّةً وَاحِدَةً، وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلَاثًا وَقَالَ: هَكَذَا تَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» .
قَالَ: (وَيُسْتَحَبُّ فِي الْوُضُوءِ النِّيَّةُ وَالتَّرْتِيبُ) لِيَقَعَ قُرْبَةً وَلِيَخْرُجَ عَنْ عُهْدَةِ الْفَرْضِ بِالْإِجْمَاعِ، وَكَذَا يُسْتَحَبُّ الْمُوَالَاةُ، وَهُوَ أَنْ لَا يَشْتَغِلَ بَيْنَ أَفْعَالِ الْوُضُوءِ بِغَيْرِهَا، وَلَيْسَ ذَلِكَ بِفَرْضٍ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا} [المائدة: 6] الْآيَةَ مِنْ غَيْرِ اشْتِرَاطِهَا، وَلِأَنَّهُ ذُكِرَ بِحَرْفِ الْوَاوِ، وَإِنَّهَا لِلْجَمْعِ بِإِجْمَاعِ أَئِمَّةِ النَّحْوِ وَاللُّغَةِ نَقْلًا عَنِ السِّيرَافِيِّ، وَالزِّيَادَةُ عَلَى النَّصِّ نَسْخٌ، وَلَا يَجُوزُ نَسْخُ الْكِتَابِ بِالْخَبَرِ لِأَنَّهُ رَاجِحٌ، وَقِيلَ: إِنَّهُمَا سُنَّتَانِ وَهُوَ الْأَصَحُّ لِمُوَاظَبَتِهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِمَا.
(وَالتَّيَامُنُ) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّيَامُنَ فِي كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى التَّنَعُّلِ وَالتَّرَجُّلِ» .
(وَمَسْحُ الرَّقَبَةِ) قِيلَ: سُنَّةٌ، وَقِيلَ: مُسْتَحَبٌّ.
وَيُكْرَهُ أَنْ يَسْتَعِينَ فِي وُضُوئِهِ بِغَيْرِهِ إِلَّا عِنْدَ الْعَجْزِ لِيَكُونَ أَعْظَمَ لِثَوَابِهِ وَأَخْلَصَ لِعِبَادَتِهِ وَيُصَلِّي بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ مَا شَاءَ مِنَ الْفَرَائِضِ وَالنَّوَافِلِ، لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم «صَلَّى يَوْمَ الْخَنْدَقِ أَرْبَعَ صَلَوَاتٍ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ» .
[فَصْلٌ نَوَاقِضُ الْوُضُوء]فَصْلٌ (وَيَنْقُضُهُ كُلُّ مَا خَرَجَ مِنَ السَّبِيلَيْنِ وَمِنْ غَيْرِ السَّبِيلَيْنِ إِنْ كَانَ نَجِسًا وَسَالَ عَنْ رَأْسِ الْجُرْحِ) لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ} [المائدة: 6] وَالْغَائِطُ حَقِيقَةً الْمَكَانُ الْمُطْمَئِنُّ، وَلَيْسَتْ حَقِيقَتُهُ مُرَادَةً فَيُجْعَلُ مَجَازًا عَنِ الْأَمْرِ الْمُحْوِجِ إِلَى الْمَكَانِ الْمُطْمَئِنِّ، وَهَذِهِ الْأَشْيَاءُ تُحْوِجُ إِلَيْهِ لِتُفْعَلَ فِيهِ تَسَتُّرًا عَنِ النَّاسِ عَلَى مَا عَلَيْهِ الْعَادَةُ، حَتَّى لَوْ جَاءَ مِنَ الْمَكَانِ الْمُطْمَئِنِّ مِنْ غَيْرِ حَاجَةٍ لَا يَجِبُ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ إِجْمَاعًا، وَقَالَ عليه الصلاة والسلام: «الْوُضُوءُ مِنْ كُلِّ دَمٍ سَائِلٍ» ، وَقَالَ عليه الصلاة والسلام: «مَنْ قَاءَ أَوْ رَعَفَ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَنْصَرِفْ وَلْيَتَوَضَّأْ» الْحَدِيثَ، وَقَالَ عليه الصلاة والسلام: «يُعَادُ الْوُضُوءُ مِنْ سَبْعٍ» وَعَدَّ مِنْهَا الْقَيْءَ مَلْءَ الْفَمِ، وَالدَّمَ السَّائِلَ، وَالْقَهْقَهَةَ، وَالنَّوْمَ.
وَيُشْتَرَطُ السَّيَلَانُ فِي الْخَارِجِ مِنْ غَيْرِ السَّبِيلَيْنِ ; لِأَنَّ تَحْتَ كُلِّ جِلْدَةٍ دَمًا وَرُطُوبَةً، فَمَا لَمْ يَسِلْ يَكُونُ بَادِيًا لَا خَارِجًا بِخِلَافِ السَّبِيلَيْنِ ; لِأَنَّهُ مَتَى ظَهَرَ يَكُونُ
ওযুতে নিয়ত করা, তারতীব (ধারাবাহিকতা) রক্ষা করা, ডান দিক থেকে শুরু করা এবং ঘাড় মাসাহ করা মুস্তাহাব।
পরিচ্ছেদ: দুই পথ (মল ও মূত্রদ্বার) দিয়ে যা কিছু বের হয় এবং দুই পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথ দিয়েও যদি অপবিত্র কিছু বের হয়ে ক্ষতের মুখ থেকে প্রবাহিত হয়, তবে তা ওযু ভঙ্গ করে দেয়।
--
[আল-ইখতিয়ার লি-তা’লিলিল মুখতার] তিনবার এবং বললেন: "এটি আমার ওযু এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের ওযু।" আর যা বর্ণিত হয়েছে যে, "উসমান (রা.) বসার স্থানে ওযু করলেন। তিনি তার মুখমণ্ডল তিনবার ও হাত দুটি তিনবার ধৌত করলেন, একবার মাথা মাসাহ করলেন এবং পা দুটি তিনবার ধৌত করলেন। এরপর বললেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) এভাবেই ওযু করতেন।"
তিনি বললেন: (ওযুতে নিয়ত ও তারতীব রক্ষা করা মুস্তাহাব) যাতে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে ফরজের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তদ্রূপ মুওয়ালাত (বিরতিহীনতা) রক্ষা করাও মুস্তাহাব, আর তা হলো ওযুর কাজগুলোর মাঝে অন্য কোনো কাজে লিপ্ত না হওয়া। এটি ফরজ নয়, কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: "যখন তোমরা নামাযের জন্য দাঁড়াও, তখন ধৌত করো" [আল-মায়িদাহ: ৬] আয়াতে এর কোনো শর্তারোপ করা হয়নি। এছাড়া এটি 'ওয়াও' (এবং) অব্যয় দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যা নাহু ও লুগাত শাস্ত্রের ইমামগণের ঐকমত্যে এবং সিরাফী থেকে বর্ণিত মতে কেবল সমষ্টিকরণ বুঝায়। আর নসের (মূল পাঠের) উপর অতিরিক্ত কিছু যোগ করা মানসুখ (রহিতকরণ) করার নামান্তর। আর কিতাবুল্লাহর বিধান খবরের (হাদীসের) মাধ্যমে রহিত করা বৈধ নয়, কারণ কিতাবুল্লাহ অগ্রগণ্য। বলা হয়েছে: এই দুটি (নিয়ত ও তারতীব) সুন্নাত, আর এটিই অধিকতর সঠিক মত; কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা এ দুটি আমল করতেন।
(ডান দিক থেকে শুরু করা) কারণ নবী (সা.)-এর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করেন, এমনকি জুতা পরিধান করা ও চুল আঁচড়ানোর ক্ষেত্রেও।"
(ঘাড় মাসাহ করা) বলা হয়েছে: এটি সুন্নাত, আবার বলা হয়েছে: এটি মুস্তাহাব।
অক্ষমতা ব্যতীত ওযুর ক্ষেত্রে অন্যের সাহায্য নেওয়া মাকরূহ, যাতে সাওয়াব অধিক হয় এবং ইবাদত অধিকতর একনিষ্ঠ হয়। আর এক ওযু দিয়ে ইচ্ছামতো ফরজ ও নফল নামায আদায় করা যাবে। কেননা নবী (সা.) খন্দকের যুদ্ধের দিন এক ওযু দিয়ে চার ওয়াক্ত নামায আদায় করেছিলেন।
[পরিচ্ছেদ: ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ]পরিচ্ছেদ (ওযু ভঙ্গ করে দেয় দুই পথ দিয়ে যা কিছু বের হয় এবং দুই পথ ব্যতীত অন্য পথ দিয়ে যদি অপবিত্র কিছু বের হয় এবং তা ক্ষতের মুখ থেকে প্রবাহিত হয়) কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: "অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসলে" [আল-মায়িদাহ: ৬]। মূলত 'গাইত' হলো নিচু জায়গা। এখানে এর প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য নয়, বরং এটি সেই বিষয়টির জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা নিচু জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। আর এই বিষয়গুলো মানুষের সাধারণ অভ্যাস অনুযায়ী মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়ালে থাকার জন্য সেখানে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। এমনকি যদি কেউ কোনো প্রয়োজন ছাড়া নিচু জায়গা থেকে আসে, তবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে তার ওপর ওযু ওয়াজিব হবে না। নবী (সা.) বলেছেন: "প্রতিটি প্রবাহিত রক্ত থেকেই ওযু করতে হবে।" তিনি (সা.) আরও বলেছেন: "যার নামাযে বমি হবে অথবা নাক দিয়ে রক্ত পড়বে, সে যেন ফিরে যায় এবং ওযু করে নেয়" - হাদীসটি। নবী (সা.) আরও বলেছেন: "সাতটি কারণে ওযু পুনরায় করতে হয়" এবং তিনি সেগুলোর মধ্যে মুখভর্তি বমি, প্রবাহিত রক্ত, উচ্চৈঃস্বরে হাসি এবং ঘুমকে গণ্য করেছেন।
দুই পথ ব্যতীত অন্য পথ দিয়ে যা বের হয়, তার ক্ষেত্রে প্রবাহিত হওয়া শর্ত; কারণ প্রতিটি চামড়ার নিচে রক্ত ও আর্দ্রতা থাকে। যতক্ষণ তা প্রবাহিত না হয়, ততক্ষণ তা কেবল প্রকাশ পাওয়া হিসেবে গণ্য হবে, বের হওয়া হিসেবে নয়। দুই পথের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ সেখানে তা প্রকাশ পাওয়া মাত্রই বের হওয়া হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وَالْقَيْءُ مِلْءَ (ز) الْفَمِ، وَإِنْ قَاءَ دَمًا أَوْ قَيْحًا نَقَضَ وَإِنْ لَمْ يَمْلَأِ الْفَمَ (م) ، وَإِذَا اخْتَلَطَ الدَّمُ بِالْبُصَاقِ إِنْ غَلَبَهُ نَقَضَ، وَيَنْقُضُهُ النَّوْمُ مُضْطَجِعًا، وَكَذَلِكَ الْمُتَّكِئُ وَالْمُسْتَنِدُ وَالْإِغْمَاءُ وَالْجُنُونُ، وَالنَّوْمُ قَائِمًا (ف) وَرَاكِعًا (ف) وَسَاجِدًا (ف) وَقَاعِدًا (ف) وَمَسُّ الْمَرْأَةِ لَا يَنْقُضُ الْوُضُوءَ، وَكَذَا مَسُّ الذَّكَرِ (ف) ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] مُنْتَقِلًا فَيَكُونُ خَارِجًا.
قَالَ: (وَالْقَيْءُ مِلْءَ الْفَمِ) لِمَا تَقَدَّمَ وَهُوَ مَا لَا يُمْكِنُهُ إِمْسَاكُهُ إِلَّا بِمَشَقَّةٍ، وَإِنْ قَاءَ قَلِيلًا قَلِيلًا، وَلَوْ جَمَعَ كَانَ مِلْءَ الْفَمِ، فَأَبُو يُوسُفَ اعْتَبَرَ اتِّحَادَ الْمَجْلِسِ ; لِأَنَّهُ جَامِعٌ لِلْمُتَفَرِّقَاتِ عَلَى مَا عُرِفَ كَمَا فِي سَجْدَةِ التِّلَاوَةِ وَغَيْرِهَا، وَمُحَمَّدٌ اعْتَبَرَ اتِّحَادَ السَّبَبِ وَهُوَ الْغَثَيَانُ لِأَنَّهُ دَلِيلٌ عَلَى اتِّحَادِهِ، وَعِنْدَ زُفَرَ يَنْقُضُ الْقَلِيلُ أَيْضًا كَالْخَارِجِ مِنَ السَّبِيلَيْنِ وَقَدْ مَرَّ جَوَابُهُ، وَلَا يَنْقُضُ إِذَا قَاءَ بَلْغَمًا وَإِنْ مَلَأَ الْفَمَ، وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ: إِنْ كَانَ مِنَ الْجَوْفِ نَقَضَ لِأَنَّهُ مَحَلُّ النَّجَاسَةِ فَأَشْبَهَ الصَّفْرَاءَ، قُلْنَا: الْبَلْغَمُ طَاهِرٌ، لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْخُذُهُ بِطَرَفِ رِدَائِهِ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ، وَلِهَذَا لَا يَنْقُضُ النَّازِلُ مِنَ الرَّأْسِ بِالْإِجْمَاعِ، وَهُوَ لِلُزُوجَتِهِ لَا تَتَدَاخَلُهُ النَّجَاسَةُ، وَبَقِيَ مَا يُجَاوِرُهُ مِنَ النَّجَاسَةِ وَهُوَ قَلِيلٌ، وَالْقَلِيلُ غَيْرُ نَاقِضٍ بِخِلَافِ الصَّفْرَاءِ فَإِنَّهَا تُمَازِجُهَا.
(وَإِنْ قَاءَ دَمًا أَوْ قَيْحًا نَقَضَ وَإِنْ لَمْ يَمْلَأِ الْفَمَ) وَقَالَ مُحَمَّدٌ: لَا يَنْقُضُ مَا لَمْ يَمْلَأِ الْفَمَ كَغَيْرِهِ مِنَ الْأَخْلَاطِ. قُلْنَا: الْمَعِدَةُ لَيْسَتْ مَحَلًّا لِلدَّمِ، وَالْقَيْحُ إِنَّمَا يَسِيلُ إِلَيْهَا مِنْ قُرْحَةٍ أَوْ جُرْحٍ، فَإِذَا خَرَجَ فَقَدْ سَالَ مِنْ مَوْضِعِهِ فَيَنْقُضُ حَتَّى لَوْ قَاءَ عَلَقًا لَا يَنْقُضُ مَا لَمْ يَمْلَأِ الْفَمَ ; لِأَنَّهُ يَكُونُ فِي الْمَعِدَةِ، هَكَذَا رَوَى الْحَسَنُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ رضي الله عنه.
(وَإِذَا اخْتَلَطَ الدَّمُ بِالْبُصَاقِ إِنْ غَلَبَهُ نَقَضَ) حُكْمًا لِلْغَالِبِ، وَكَذَا إِذَا تَسَاوَيَا احْتِيَاطًا وَإِنْ غَلَبَ الْبُصَاقُ لَا ; لِأَنَّ الْقَلِيلَ مُسْتَهْلَكٌ فِي الْكَثِيرِ فَيَصِيرُ عَدَمًا.
قَالَ: (وَيَنْقُضُهُ النَّوْمُ مُضْطَجِعًا لِمَا رَوَيْنَا، وَكَذَلِكَ الْمُتَّكِئُ وَالْمُسْتَنِدُ) لِأَنَّهُ مِثْلُهُ فِي الْمَعْنَى. قَالَ عليه الصلاة والسلام: «الْعَيْنُ وِكَاءُ السَّهِ، فَإِذَا نَامَتِ الْعَيْنُ انْحَلَّ الْوِكَاءُ» قَالَ: (وَالْإِغْمَاءُ وَالْجُنُونُ) لِأَنَّهُمَا أَبْلَغُ فِي إِزَالَةِ الْمَسْكَةِ مِنَ النَّوْمِ ; لِأَنَّ النَّائِمَ يَسْتَيْقِظُ بِالِانْتِبَاهِ، وَالْمَجْنُونُ وَالْمُغْمَى عَلَيْهِ لَا.
قَالَ: (وَالنَّوْمُ قَائِمًا وَرَاكِعًا وَسَاجِدًا وَقَاعِدًا) لَا يَنْقُضُ لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا وُضُوءَ عَلَى مَنْ نَامَ قَائِمًا أَوْ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا أَوْ قَاعِدًا، إِنَّمَا الْوُضُوءُ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا» .
قَالَ: (وَمَسُّ الْمَرْأَةِ لَا يَنْقُضُ الْوُضُوءَ) لِرِوَايَةِ عَائِشَةَ رضي الله عنها: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَ بَعْضَ نِسَائِهِ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ» ، وَالْآيَةُ مُتَعَارِضَةُ التَّأْوِيلِ، فَإِنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ: الْمُرَادُ بِاللَّمْسِ الْجِمَاعُ، وَقَدْ تَأَكَّدَ بِفِعْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
(وَكَذَا مَسُّ الذَّكَرِ) «لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام لِطَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ حِينَ سَأَلَهُ: هَلْ فِي مَسِّ
মুখভর্তি (যু) বমি, আর যদি রক্ত বা পুঁজ বমি করে তবে ওজু নষ্ট হবে যদিও তা মুখভর্তি না হয় (মু), আর যখন লালার সাথে রক্ত মিশ্রিত হয় তখন যদি রক্ত প্রবল হয় তবে ওজু নষ্ট হবে। আর ওজু নষ্ট করে কাত হয়ে শোয়া অবস্থায় ঘুমানো, এবং অনুরূপভাবে হেলান দিয়ে বসা ও কোনো কিছুর ওপর ভর দিয়ে বসা এবং অজ্ঞান হওয়া ও পাগল হওয়া। আর দাঁড়িয়ে (ফা), রুকু অবস্থায় (ফা), সিজদা অবস্থায় (ফা) ও বসে (ফা) ঘুমানো এবং নারীকে স্পর্শ করা ওজু নষ্ট করে না, আর অনুরূপভাবে লিঙ্গ স্পর্শ করাও (ফা) ওজু নষ্ট করে না।
—
[আল-ইখতিয়ার লি-তালিদিল মুখতার] স্থানান্তরিত হওয়ার ফলে তা নির্গত হওয়া হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি বলেন: (আর মুখভর্তি বমি) পূর্বোক্ত কারণে, আর তা হলো যা কষ্ট ছাড়া আটকে রাখা সম্ভব নয়। আর যদি অল্প অল্প করে বমি করে, যা একত্র করলে মুখভর্তি পরিমাণ হয়, তবে আবু ইউসুফ মজলিস এক হওয়াকে বিবেচনা করেছেন; কারণ তা পরিচিত নিয়ম অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোকে একত্রকারী, যেমন তিলাওয়াতের সিজদা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে। আর মুহাম্মদ কারণ এক হওয়াকে বিবেচনা করেছেন, আর তা হলো বমি বমি ভাব; কারণ তা কারণের ঐক্যের প্রমাণ। আর যুফারের মতে অল্প বমিও ওজু নষ্ট করে যেমন দুই পথ দিয়ে নির্গত বস্তুর ক্ষেত্রে হয়, আর এর উত্তর পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যদি শ্লেষ্মা বা কফ বমি করে তবে ওজু ভাঙবে না যদিও তা মুখভর্তি হয়। আবু ইউসুফ বলেন: যদি তা পাকস্থলী থেকে আসে তবে ওজু ভাঙবে, কারণ তা অপবিত্রতার স্থান, ফলে তা পিত্তের সদৃশ হবে। আমরা বলি: শ্লেষ্মা পবিত্র, কারণ নবী (সা.) সালাতরত অবস্থায় তা তাঁর চাদরের আঁচল দিয়ে নিতেন। এই কারণে সর্বসম্মতভাবে মাথা থেকে নামা শ্লেষ্মাতে ওজু ভাঙে না। আর এর আঠালো ভাবের কারণে এতে নাপাকি প্রবেশ করতে পারে না, বরং যা এর সাথে লেগে থাকে তা সামান্য নাপাকি, আর সামান্য নাপাকি ওজু ভঙ্গকারী নয়; পিত্তের বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ এতে নাপাকি মিশে যায়।
(আর যদি রক্ত বা পুঁজ বমি করে তবে তা ওজু নষ্ট করবে যদিও তা মুখভর্তি না হয়) মুহাম্মদ বলেন: মুখভর্তি না হওয়া পর্যন্ত ওজু ভাঙবে না যেমন অন্যান্য মিশ্রিত বস্তুর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আমরা বলি: পাকস্থলী রক্তের স্বাভাবিক স্থান নয়, আর পুঁজ কেবল সেখানে কোনো ক্ষত বা জখম থেকেই গড়িয়ে পড়ে। সুতরাং যখন তা বের হলো, তখন তা তার মূল স্থান থেকে প্রবাহিত হলো, ফলে তা ওজু নষ্ট করবে। এমনকি যদি জমাট রক্ত বমি করে তবে মুখভর্তি না হওয়া পর্যন্ত ওজু ভাঙবে না; কারণ তা পাকস্থলীতেই অবস্থান করে। হাসান এভাবেই আবু হানিফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(আর যখন লালার সাথে রক্ত মিশ্রিত হয় তখন যদি রক্ত প্রবল হয় তবে ওজু নষ্ট করবে) প্রাবল্যের বিধান অনুযায়ী। অনুরূপভাবে যদি উভয়টি সমান হয় তবে সতর্কতামূলকভাবে ওজু ভেঙে যাবে। আর যদি লালা প্রবল হয় তবে ওজু ভাঙবে না; কারণ অল্প বস্তু বেশির মাঝে বিলীন হয়ে যায়, ফলে তা অস্তিত্বহীন বলে গণ্য হয়।
তিনি বলেন: (আর কাত হয়ে ঘুমানো ওজু নষ্ট করে) আমরা যা বর্ণনা করেছি সেই কারণে। (এবং অনুরূপভাবে হেলান দিয়ে বসা ও কোনো কিছুর ওপর ভর দিয়ে বসা) কারণ অর্থের দিক থেকে তা একই রকম। নবী (সা.) বলেছেন: «চোখ হলো মলদ্বারের বন্ধনী, সুতরাং যখন চোখ ঘুমিয়ে পড়ে তখন বন্ধনী খুলে যায়»। তিনি বলেন: (আর অজ্ঞান হওয়া ও পাগল হওয়া) কারণ এ দুটি বিষয় ঘুম অপেক্ষা শারীরিক নিয়ন্ত্রণ দূর করার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর; কেননা ঘুমন্ত ব্যক্তি সজাগ করলে জেগে ওঠে, কিন্তু পাগল ও অজ্ঞান ব্যক্তি ওঠে না।
তিনি বলেন: (আর দাঁড়িয়ে, রুকু অবস্থায়, সিজদা অবস্থায় ও বসে ঘুমানো) ওজু নষ্ট করে না। কারণ নবী (সা.)-এর বাণী: «যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে, রুকু করে, সিজদা করে বা বসে ঘুমায় তার ওপর ওজু নেই; ওজু কেবল তার ওপর যে কাত হয়ে ঘুমায়»।
তিনি বলেন: (আর নারীকে স্পর্শ করা ওজু নষ্ট করে না) আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনার কারণে: «নবী (সা.) তাঁর জনৈক স্ত্রীকে চুম্বন করলেন অতঃপর সালাত আদায় করলেন এবং ওজু করেননি», আর আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে; ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: স্পর্শ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সহবাস। আর নবী (সা.)-এর আমল দ্বারা তা সুদৃঢ় হয়েছে।
(আর অনুরূপভাবে লিঙ্গ স্পর্শ করাও) «কারণ নবী (সা.) তালক ইবনে আলী (রা.)-কে বলেছিলেন যখন তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: লিঙ্গ স্পর্শ করার মধ্যে কি...»
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ١١)
وَالْقَهْقَهَةُ فِي الصَّلَاةِ تَنْقُضُ (ف) .
فَصْلٌ فَرْضُ الْغُسْلِ: الْمَضْمَضَةُ (ف) ، وَالِاسْتِنْشَاقُ (ف) ، وَغَسْلُ جَمِيعِ الْبَدَنِ.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] الذَّكَرِ وُضُوءٌ؟ قَالَ: لَا، هَلْ هُوَ إِلَّا بَضْعَةٌ مِنْكَ» نَفَى الْوُضُوءَ، وَنَبَّهَ عَلَى الْعِلَّةِ وَمَا رُوِيَ: «مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ» طَعَنَ فِيهِ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَغَيْرُهُ مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ.
قَالَ: (وَالْقَهْقَهَةُ فِي الصَّلَاةِ تَنْقُضُ) لِمَا رَوَيْنَا، وَلِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «أَلَا مَنْ ضَحِكَ مِنْكُمْ قَهْقَهَةً فَلْيُعِدِ الْوُضُوءَ وَالصَّلَاةَ جَمِيعًا» ، وَأَنَّهُ وَرَدَ فِي صَلَاةٍ كَامِلَةٍ فَيُقْتَصَرُ عَلَيْهَا لِوُرُودِهِ عَلَى خِلَافِ الْقِيَاسِ حَتَّى لَوْ ضَحِكَ فِي صَلَاةِ الْجِنَازَةِ وَسَجْدَةِ التِّلَاوَةِ لَا يَنْقُضُ الْوُضُوءَ، وَالْقَهْقَهَةُ أَنْ يَسْمَعَهَا جَارُهُ، وَحُكْمُهَا انْتِقَاضُ الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ جَمِيعًا، وَالضَّحِكُ أَنْ يَسْمَعَهَا هُوَ لَا غَيْرَ، قَالْوا: وَتَبْطُلُ الصَّلَاةَ لَا غَيْرَ، وَالتَّبَسُّمُ مَا لَا يَسْمَعُهُ هُوَ وَلَا غَيْرُهُ وَلَا حُكْمَ لَهُ، وَإِنْ شَكَّ فِي نَقْضِ وُضُوئِهِ. فَإِنْ كَانَ أَوَّلَ شَكِّهِ أَعَادَهُ ; لِأَنَّهُ تَيَقَّنَ بِالْحَدَثِ وَشَكَّ فِي زَوَالِهِ، وَإِنْ كَانَ يَحْدُثُ لَهُ كَثِيرًا لَمْ يُعِدْ دَفْعًا لِلْحَرَجِ، وَمَنْ أَيْقَنَ بِالْحَدَثِ وَشَكَّ فِي الطَّهَارَةِ أَوْ بِالْعَكْسِ أَخَذَ بِالْيَقِينِ.
[فَصْلٌ فَرضُ الْغُسْلِ وَسُنَنُهُ]فَصْلٌ فَرْضُ الْغُسْلِ: الْمَضْمَضَةُ، وَالِاسْتِنْشَاقُ، وَغَسْلُ جَمِيعِ الْبَدَنِ. وَالْفَرْقُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْوُضُوءِ أَنَّهُ مَأْمُورٌ بِغَسْلِ الْوَجْهِ فِي الْوُضُوءِ، وَالْمُوَاجَهَةُ لَا تَقَعُ بِبَاطِنَيِ الْأَنْفِ وَالْفَمِ، وَفِي الْغَسْلِ مَأْمُورٌ بِتَطْهِيرِ جَمِيعِ الْبَدَنِ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا} [المائدة: 6] فَيَجِبُ غَسْلُ جَمِيعِ مَا يُمْكِنُ غَسْلُهُ مِنَ الْبَدَنِ إِلَّا بَاطِنَ الْعَيْنِ عَلَى مَا مَرَّ بِخِلَافِ بَاطِنِ الْأَنْفِ وَالْفَمِ حَيْثُ يُمْكِنُ غَسْلُهُمَا، وَلَا ضَرَرَ فِيهِ ; فَيَجِبُ وَقَدْ تَأَكَّدَ ذَلِكَ بِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «إِنَّ تَحْتَ كُلِّ شَعْرَةٍ جَنَابَةً أَلَا فَبُلُّوا الشَّعْرَ وَأَنْقُوا الْبَشَرَةَ» ، وَيَجِبُ إِيصَالُ الْمَاءِ إِلَى أُصُولِ الشَّعْرِ وَأَثْنَائِهِ فِي اللِّحْيَةِ وَالرَّأْسِ لِمَا تَقَدَّمَ إِلَّا إِذَا كَانَ ضَفِيرَةً فِي رِوَايَةٍ لِلْحَرَجِ.
সালাতে অট্টহাসি উযূ ভঙ্গ করে।
পরিচ্ছেদ: গোসলের ফরযসমূহ: কুলি করা, নাকে পানি দেয়া এবং সমস্ত শরীর ধৌত করা।
--
[আল-ইখতিয়ার লি-তা’লিলিল মুখতার]লিঙ্গ স্পর্শ করলে কি উযূ হবে? তিনি বললেন: "না, এটি তো তোমার শরীরের একটি অংশ মাত্র।" তিনি উযূ ভঙ্গ হওয়াকে অস্বীকার করেছেন এবং কারণটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আর যা বর্ণিত হয়েছে যে: "যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করবে সে যেন উযূ করে", এই বর্ণনার ব্যাপারে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং অন্যান্য মুহাদ্দিস ইমামগণ আপত্তি উত্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন: (সালাতে অট্টহাসি উযূ ভঙ্গ করে) সেই দলিলের কারণে যা আমরা বর্ণনা করেছি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: "সাবধান! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অট্টহাসি দিবে, সে যেন উযূ এবং সালাত উভয়টিই পুনরায় আদায় করে।" আর এটি পূর্ণাঙ্গ সালাতের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে, তাই এটি শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে; যেহেতু এই বিধানটি কিয়াসের (যৌক্তিক নিয়ম) পরিপন্থী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। এমনকি যদি কেউ জানাযার সালাত এবং তিলাওয়াতে সিজদাহয় হাসে, তবে তা উযূ ভঙ্গ করবে না। অট্টহাসি (কাহকাহাহ) হলো যা তার পাশের লোক শুনতে পায়; এর বিধান হলো উযূ এবং সালাত উভয়টিই ভঙ্গ হওয়া। হাসি (দাহিক) হলো যা সে নিজে শুনতে পায় কিন্তু অন্য কেউ নয়; ফকীহগণ বলেছেন: এতে শুধু সালাত বাতিল হবে (উযূ নয়)। আর মুচকি হাসি (তাবাসসুম) হলো যা সে নিজেও শুনতে পায় না এবং অন্য কেউও নয়; এর কোনো বিধান নেই। আর যদি কেউ তার উযূ ভঙ্গের ব্যাপারে সন্দেহ করে, তবে এটি যদি তার প্রথম সন্দেহ হয় তবে সে উযূ পুনরায় করবে; কারণ সে অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত এবং তা দূরীভূত হওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান। আর যদি এমন সন্দেহ তার প্রায়ই ঘটে থাকে, তবে সংকীর্ণতা দূর করার জন্য সে পুনরায় উযূ করবে না। যে ব্যক্তি অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত এবং পবিত্রতার ব্যাপারে সন্দিহান অথবা এর উল্টো হয়, তবে সে নিশ্চিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করবে।
[পরিচ্ছেদ: গোসলের ফরয ও সুন্নাতসমূহ]পরিচ্ছেদ: গোসলের ফরযসমূহ: কুলি করা, নাকে পানি দেয়া এবং সমস্ত শরীর ধৌত করা। গোসল ও উযূর মধ্যে পার্থক্য হলো, উযূতে মুখমণ্ডল ধৌত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আর মুখ দেখানোর (মুকাবালা) বিষয়টি মুখ ও নাকের অভ্যন্তরীণ অংশকে শামিল করে না। কিন্তু গোসলে সমস্ত শরীর পবিত্র করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যদি তোমরা অপবিত্র থাকো তবে পবিত্রতা অর্জন করো (গোসল করো)" [সূরা মায়িদা: ৬]। সুতরাং শরীরের যতটুকু ধৌত করা সম্ভব তা ধৌত করা ওয়াজিব, তবে চোখের ভেতরকার অংশ পূর্বোক্ত বর্ণনানুসারে এর অন্তর্ভুক্ত নয়। পক্ষান্তরে নাক ও মুখের ভেতরকার অংশ ধৌত করা সম্ভব এবং এতে কোনো ক্ষতি নেই; তাই তা ধৌত করা ওয়াজিব। আর এই বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী দ্বারা সুদৃঢ় হয়েছে: "নিশ্চয়ই প্রতিটি পশমের নিচে অপবিত্রতা (জানাবত) রয়েছে; সুতরাং তোমরা পশমগুলো ভিজিয়ে দাও এবং চামড়া পরিষ্কার করো।" চুলের গোড়ায় এবং দাঁড়ি ও মাথার চুলের অভ্যন্তরে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব—যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তবে চুলের বেণী করা থাকলে একটি বর্ণনা অনুযায়ী (ভিতরে পানি পৌঁছানো আবশ্যক নয়) সংকীর্ণতা এড়ানোর জন্য।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وَسُنَنُهُ: أَنْ يَغْسِلَ يَدَيْهِ وَفَرْجَهُ، وَيُزِيلَ النَّجَاسَةَ عَنْ بَدَنِهِ، ثُمَّ يَتَوَضَّأَ لِلصَّلَاةِ، ثُمَّ يُفِيضَ الْمَاءَ عَلَى جَمِيعِ بَدَنِهِ ثَلَاثًا.
وَيُوجِبُهُ غَيْبُوبَةُ الْحَشَفَةِ فِي قُبُلٍ أَوْ دُبُرٍ عَلَى الْفَاعِلِ وَالْمَفْعُولِ بِهِ، وَإِنْزَالُ الْمَنِيِّ عَلَى وَجْهِ الدَّفْقِ (ف) وَالشَّهْوَةِ، وَانْقِطَاعُ الْحَيْضِ وَالنِّفَاسِ، وَمَنِ اسْتَيْقَظَ فَوَجَدَ فِي ثِيَابِهِ مَنِيًّا أَوْ مَذْيًا (س) ، فَعَلَيْهِ الْغُسْلُ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] قَالَ: (وَسُنَنُهُ أَنْ يَغْسِلَ يَدَيْهِ وَفَرْجَهُ، وَيُزِيلَ النَّجَاسَةَ عَنْ بَدَنِهِ، ثُمَّ يَتَوَضَّأَ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ يُفِيضَ الْمَاءَ عَلَى جَمِيعِ بَدَنِهِ ثَلَاثًا) هَكَذَا حُكِيَ غُسْلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ مَيْمُونَةُ: «وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غُسْلًا فَاغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ فَأَكْفَأَ الْإِنَاءَ بِشِمَالِهِ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ، ثُمَّ أَفَاضَ الْمَاءَ عَلَى فَرْجِهِ فَغَسَلَهُ. ثُمَّ مَالَ بِيَدِهِ عَلَى الْحَائِطِ أَوْ عَلَى الْأَرْضِ فَدَلَكَهَا، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ، وَأَفَاضَ الْمَاءَ عَلَى رَأْسِهِ، ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى سَائِرِ جَسَدِهِ، ثُمَّ تَنَحَّى فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ» .
وَيُسْتَحَبُّ تَأْخِيرُ غَسْلِ رِجْلَيْهِ إِنْ كَانَتَا فِي مُسْتَنْقَعِ الْمَاءِ لِمَا رَوَيْنَا وَتَحَرُّزًا عَنِ الْمَاءِ الْمُسْتَعْمَلِ.
[مُوجِبَاتُ الْغُسْلِ]قَالَ: (وَيُوجِبُهُ غَيْبُوبَةُ الْحَشَفَةِ فِي قُبُلٍ أَوْ دُبُرٍ عَلَى الْفَاعِلِ وَالْمَفْعُولِ بِهِ) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «إِذَا الْتَقَى الْخِتَانَانِ وَتَوَارَتِ الْحَشَفَةُ وَجَبَ الْغُسْلُ أَنْزَلَ أَوْ لَمْ يُنْزِلْ» ، قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: فَعَلْتُهُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ فَاغْتَسَلْنَا "، وَكَذَا فِي الدُّبُرِ ; لِأَنَّهُ مَحَلٌّ مُشْتَهًى مَقْصُودٌ بِالْوَطْءِ كَالْقُبُلِ، وَلِقَوْلِ عَلِيٍّ رضي الله عنه: تُوجِبُونَ فِيهِ الْحَدَّ وَلَا تُوجِبُونَ فِيهِ صَاعًا مِنْ مَاءٍ؟ . وَفِي الزِّيَادَاتِ يَجِبُ عَلَى الْمَفْعُولِ بِهِ احْتِيَاطًا.
قَالَ: (وَإِنْزَالُ الْمَنِيِّ عَلَى وَجْهِ الدَّفْقِ وَالشَّهْوَةِ) لِأَنَّهُ يُوجِبُ الْجَنَابَةَ إِجْمَاعًا، فَيَجِبُ الْغُسْلُ بِالنَّصِّ: «وَسَأَلَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَرْأَةِ تَرَى فِي مَنَامِهَا أَنَّ زَوْجَهَا يُجَامِعُهَا، قَالَ: عَلَيْهَا الْغُسْلُ إِذَا وَجَدَتِ الْمَاءَ» ، وَلَوْ خَرَجَ لَا عَلَى وَجْهِ الدَّفْقِ وَالشَّهْوَةِ، كَمَا إِذَا ضُرِبَ عَلَى ظَهْرِهِ أَوْ سَقَطَ مِنْ عُلُوٍّ أَوْ أَصَابَهُ مَرَضٌ يَجِبُ الْوُضُوءُ دُونَ الْغُسْلِ كَمَا فِي الْمَذْيِ فَإِنَّهُ مِنْ أَجْزَاءِ الْمَنِيِّ، لَكِنْ لَمَّا لَمْ يَخْرُجْ عَلَى وَجْهِ الدَّفْقِ لَمْ يَجِبِ الْغُسْلُ، ثُمَّ الشَّرْطُ انْفِصَالُهُ عَنْ مَوْضِعِهِ عَنْ شَهْوَةٍ لِأَنَّ بِذَلِكَ يُعْرَفُ كَوْنُهُ مَنِيًّا وَهُوَ الشَّرْطُ، وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ خُرُوجُهُ عَنِ الْعُضْوِ؛ لِأَنَّ حُكْمَهُ إِنَّمَا يَثْبُتُ بَعْدَ الْخُرُوجِ فَيُعْتَبَرُ وَقْتَئِذٍ.
قَالَ: (وَانْقِطَاعُ الْحَيْضِ وَالنِّفَاسِ) أَمَّا الْحَيْضُ فَلِقَوْلِهِ تَعَالَى: {حَتَّى يَطْهُرْنَ} [البقرة: 222] بِالتَّشْدِيدِ، مَنَعَ مِنْ قُرْبَانِهِنَّ حَتَّى يَغْتَسِلْنَ، وَلَوْلَا وُجُوبُهُ لَمَا مَنَعَ. وَأَمَّا النِّفَاسُ فَبِالْإِجْمَاعِ، وَكَذَا يَجِبُ عَلَى الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا كَمَّلَتْ أَيَّامَ حَيْضِهَا ; لِأَنَّهَا فِي أَحْكَامِ الْحَيْضِ كَالطَّاهِرَاتِ.
قَالَ: (وَمَنِ اسْتَيْقَظَ فَوَجَدَ فِي ثِيَابِهِ مَنِيًّا أَوْ مَذْيًا فَعَلَيْهِ الْغُسْلُ) أَمَّا الْمَنِيُّ فَلِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «مَنْ ذَكَرَ حُلْمًا وَلَمْ يَرَ بَلَلًا فَلَا غُسْلَ عَلَيْهِ، وَمَنْ رَأَى بَلَلًا وَلَمْ يَذْكُرْ حُلْمًا فَعَلَيْهِ الْغُسْلُ» . وَأَمَّا الْمَذْيُ
এর (গোসলের) সুন্নতসমূহ হলো: উভয় হাত এবং লজ্জাস্থান ধৌত করা, শরীর থেকে অপবিত্রতা দূর করা, অতঃপর সালাতের ন্যায় অজু করা, তারপর সারা শরীরে তিনবার পানি প্রবাহিত করা।
আর গোসল ওয়াজিব হয় অগ্রপথ বা পশ্চাৎপথে লিঙ্গাগ্রের প্রবেশের কারণে, যা সম্পাদনকারী এবং যার সাথে করা হয়েছে—উভয়ের ওপরই প্রযোজ্য; উত্তেজনার সাথে সবেগে বীর্যপাত হওয়ার কারণে; হায়েজ (ঋতুস্রাব) ও নিফাস (প্রসবোত্তর স্রাব) বন্ধ হওয়ার কারণে; এবং কেউ যদি ঘুম থেকে জেগে তার কাপড়ে বীর্য বা মজি দেখতে পায়, তবে তার ওপর গোসল ওয়াজিব হয়।
—
[আল-ইখতিয়ার লি-তালীলিল মুখতার] তিনি (মূল গ্রন্থকার) বলেছেন: (এর সুন্নতসমূহ হলো উভয় হাত ও লজ্জাস্থান ধৌত করা, শরীর থেকে অপবিত্রতা দূর করা, অতঃপর সালাতের ন্যায় অজু করা, তারপর সারা শরীরে তিনবার পানি প্রবাহিত করা) এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গোসলের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গোসলের জন্য পানি রাখলাম। তিনি জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করলেন। তিনি পাত্র থেকে বাম হাত দিয়ে ডান হাতে পানি ঢাললেন এবং উভয় কবজি ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর হাত দেয়াল বা জমিনের ওপর ঘষলেন। অতঃপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধৌত করলেন। এরপর মাথার ওপর পানি ঢাললেন এবং সারা শরীরে পানি প্রবাহিত করলেন। সবশেষে তিনি সরে গিয়ে উভয় পা ধৌত করলেন।"
যদি পা দুটি জমা পানিতে থাকে, তবে পা ধৌত করা বিলম্বিত করা মুস্তাহাব। এটি বর্ণিত হাদিসের কারণে এবং ব্যবহৃত পানি থেকে বেঁচে থাকার জন্য।
[গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ]তিনি বলেছেন: (অগ্রপথ বা পশ্চাৎপথে লিঙ্গাগ্রের প্রবেশের কারণে সম্পাদনকারী এবং যার সাথে করা হয়েছে—উভয়ের ওপর গোসল ওয়াজিব হয়) কেননা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: "যখন দুটি খতনাস্থান পরস্পর মিলিত হয় এবং লিঙ্গাগ্র অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন গোসল ওয়াজিব হয়, বীর্যপাত হোক বা না হোক।" আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: "আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি করেছি এবং আমরা গোসল করেছি।" আর পশ্চাৎপথের বিধানও একই; কেননা এটিও কামনার স্থান এবং অগ্রপথের ন্যায় মিলনের উদ্দেশ্যস্থল। এছাড়া আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি: "তোমরা কি এই কাজের কারণে 'হদ' (নির্ধারিত শাস্তি) আবশ্যক করো অথচ এক সা' পরিমাণ পানি (গোসলের জন্য) আবশ্যক করো না?" আর 'যিয়াদাত' গ্রন্থে উল্লেখ আছে, সতর্কতামূলকভাবে যার সাথে করা হয়েছে তার ওপরও গোসল ওয়াজিব হবে।
তিনি বলেছেন: (এবং উত্তেজনার সাথে সবেগে বীর্যপাত হওয়া) কেননা সর্বসম্মতিক্রমে এটি জানাবাত (অপবিত্রতা) সৃষ্টি করে। ফলে নস (ধর্মীয় পাঠ) অনুযায়ী গোসল ওয়াজিব হয়: "উম্মে সুলাইম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঐ নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যে স্বপ্নে দেখে যে তার স্বামী তার সাথে সহবাস করছে। তিনি বললেন: যদি সে পানি (বীর্য) দেখতে পায় তবে তার ওপর গোসল ওয়াজিব।" আর যদি সবেগে এবং উত্তেজনার সাথে বীর্য নির্গত না হয়—যেমন পিঠে আঘাতের কারণে, উঁচু স্থান থেকে পড়ে গেলে অথবা অসুস্থতার কারণে—তবে অজুর ন্যায় অজু করা ওয়াজিব হবে, গোসল নয়; যেমনটি 'মজি'-এর ক্ষেত্রে হয়। কারণ মজি বীর্যেরই অংশবিশেষ, কিন্তু তা সবেগে নির্গত না হওয়ায় গোসল ওয়াজিব হয় না। বীর্য বের হওয়ার শর্ত হলো স্বীয় স্থান থেকে উত্তেজনার সাথে বিচ্ছিন্ন হওয়া; কারণ এর মাধ্যমেই তা বীর্য হিসেবে পরিচিত হয় এবং এটিই শর্ত। ইমাম আবু ইউসুফের মতে, অঙ্গ থেকে বাইরে বের হওয়ার সময় উত্তেজনা থাকা শর্ত; কেননা গোসলের বিধান বের হওয়ার পরেই সাব্যস্ত হয়, তাই তখনকার অবস্থাই ধর্তব্য।
তিনি বলেছেন: (এবং হায়েজ ও নিফাস বন্ধ হওয়া)। হায়েজের বিষয়ে আল্লাহ তাআলার বাণী: {যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়} [বাকারা: ২২২]—এখানে শব্দের তাশদীদযুক্ত পাঠ অনুযায়ী, গোসল না করা পর্যন্ত তাদের সাথে সংগত হওয়া নিষেধ করা হয়েছে। যদি গোসল ওয়াজিব না হতো, তবে এই নিষেধাজ্ঞা থাকত না। আর নিফাসের বিধান ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা প্রমাণিত। একইভাবে মুস্তাহাজা নারী যখন তার ঋতুস্রাবের দিনগুলো পূর্ণ করবে, তখন তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে; কারণ সে তখন ঋতুস্রাবের বিধানের ক্ষেত্রে পবিত্র নারীদের ন্যায়।
তিনি বলেছেন: (এবং যে ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে তার কাপড়ে বীর্য বা মজি দেখতে পায়, তার ওপর গোসল ওয়াজিব)। বীর্যের ক্ষেত্রে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বাণী: "যে ব্যক্তি স্বপ্নের কথা মনে রেখেছে কিন্তু আর্দ্রতা দেখেনি, তার ওপর গোসল নেই। আর যে ব্যক্তি আর্দ্রতা দেখেছে কিন্তু স্বপ্নের কথা মনে নেই, তার ওপর গোসল ওয়াজিব।" আর মজি...
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وَغُسْلُ الْجُمُعَةِ وَالْعِيدَيْنِ وَالْإِحْرَامِ سُنَّةٌ.
وَلَا يَجُوزُ لِلْمُحْدِثِ وَالْجُنُبِ مَسُّ الْمُصْحَفِ إِلَّا بِغِلَافِهِ (ف) ، وَلَا يَجُوزُ لِلْجُنُبِ قِرَاءَةُ الْقُرْآنِ. وَيَجُوزُ لَهُ الذِّكْرُ وَالتَّسْبِيحُ وَالدُّعَاءُ، وَلَا يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ إِلَّا لِضَرُورَةٍ، وَالْحَائِضُ وَالنُّفَسَاءُ كَالْجُنُبِ.
فَصْلٌ تَجُوزُ الطَّهَارَةُ بِالْمَاءِ الطَّاهِرِ فِي نَفْسِهِ الْمُطَهِّرِ لِغَيْرِهِ كَالْمَطَرِ وَمَاءِ الْعُيُونِ وَالْآبَارِ، وَإِنْ تَغَيَّرَ
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] فَفِيهِ خِلَافُ أَبِي يُوسُفَ ; لِأَنَّ الْمَذْيَ لَا يُوجِبُ الْغُسْلَ كَمَا فِي حَالَةِ الْيَقَظَةِ. وَلَنَا أَنَّ الظَّاهِرَ أَنَّهُ مَنِيٌّ قَدْ رَقَّ فَيَجِبُ الْغُسْلُ احْتِيَاطًا، وَالْمَرْأَةُ إِذَا احْتَلَمَتْ وَلَمْ تَرَ بَلَلًا إِنِ اسْتَيْقَظَتْ وَهِيَ عَلَى قَفَاهَا يَجِبُ الْغُسْلُ لِاحْتِمَالِ خُرُوجِهِ ثُمَّ عَوْدِهِ ; لِأَنَّ الظَّاهِرَ فِي الِاحْتِلَامِ الْخُرُوجُ، بِخِلَافِ الرَّجُلِ فَإِنَّهُ لَا يَعُودُ لِضِيقِ الْمَحَلِّ، وَإِنِ اسْتَيْقَظَتْ وَهِيَ عَلَى جِهَةٍ أُخْرَى لَا يَجِبُ.
قَالَ: (وَغُسْلُ الْجُمُعَةِ وَالْعِيدَيْنِ وَالْإِحْرَامِ سُنَّةٌ) وَقِيلَ: مُسْتَحَبٌّ فَإِنَّهُ يَوْمُ ازْدِحَامٍ، فَيُسْتَحَبُّ لِئَلَّا يَتَأَذَّى الْبَعْضُ بِرَائِحَةِ الْبَعْضِ، وَأَدْنَى مَا يَكْفِي مِنَ الْمَاءِ فِي الْغُسْلِ صَاعٌ وَفِي الْوُضُوءِ مُدٌّ، وَالصَّاعُ ثَمَانِيَةُ أَرْطَالٍ، وَالْمُدُّ رَطْلَانِ، لِمَا رُوِيَ: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ وَيَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ» . ثُمَّ اخْتَلَفُوا هَلِ الْمُدُّ مِنَ الصَّاعِ أَمْ مِنْ غَيْرِهِ؟ وَهَذَا لَيْسَ بِتَقْدِيرٍ لَازِمٍ حَتَّى لَوْ أَسْبَغَ الْوُضُوءَ وَالْغُسْلَ بِدُونِ ذَلِكَ جَازَ، وَلَوِ اغْتَسَلَ بِأَكْثَرَ مِنْهُ جَازَ مَا لَمْ يُسْرِفْ فَهُوَ الْمَكْرُوهُ.
[مَا يَحْرُمُ عَلَى الْمُحْدِثِ والجنب والحائض]قَالَ: (وَلَا يَجُوزُ لِلْمُحْدِثِ وَالْجُنُبِ مَسُّ الْمُصْحَفِ إِلَّا بِغُلَافِهِ) غَيْرِ الْمُشَرَّزِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {لا يَمَسُّهُ إِلا الْمُطَهَّرُونَ} [الواقعة: 79] وَلَا بَأْسَ أَنْ يُمْسِكَهُ بِكُمِّهِ، وَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ.
(وَلَا يَجُوزُ لِلْجُنُبِ قِرَاءَةُ الْقُرْآنِ) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «لَا يَقْرَأُ الْجُنُبُ وَلَا الْحَائِضُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ» ، وَعَنِ الطَّحَاوِيِّ أَنَّهُ يَجُوزُ لَهُ بَعْضُ آيَةٍ، وَالْحَدِيثُ لَا يَفْصِلُ، وَلَا بَأْسَ بِأَنْ يَقْرَأَ شَيْئًا مِنْهُ لَا يُرِيدُ بِهِ الْقُرْآنَ كَالْبَسْمَلَةِ وَالْحَمْدَلَةِ.
(وَيَجُوزُ لَهُ الذِّكْرُ وَالتَّسْبِيحُ وَالدُّعَاءُ) لِأَنَّ الْمَنْعَ وَرَدَ عَنِ الْقُرْآنِ خَاصَّةً.
(وَلَا يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ إِلَّا لِضَرُورَةٍ) لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا أُحِلُّ الْمَسْجِدَ لِجُنُبٍ وَلَا حَائِضٍ» فَإِنِ احْتَاجَ إِلَى ذَلِكَ تَيَمَّمَ وَدَخَلَ، لِأَنَّهُ طَهَارَةٌ عِنْدَ عَدَمِ الْمَاءِ، وَإِنْ نَامَ فِي الْمَسْجِدِ فَأَجْنَبَ، قِيلَ: لَا يُبَاحُ لَهُ الْخُرُوجُ حَتَّى يَتَيَمَّمَ، وَقِيلَ: يُبَاحُ.
(وَالْحَائِضُ وَالنُّفَسَاءُ كَالْجُنُبِ) فِي جَمِيعِ ذَلِكَ.
[فَصْلٌ في الْمَاءُ الَّذِي يَجُوزُ التَّطَهيُّرُ بِهِ]فَصْلٌ (تَجُوزُ الطَّهَارَةُ بِالْمَاءِ الطَّاهِرِ فِي نَفْسِهِ الْمُطَهِّرِ لِغَيْرِهِ، كَالْمَطَرِ وَمَاءِ الْعُيُونِ وَالْآبَارِ وَإِنْ تَغَيَّرَ
জুমুআহ, দুই ঈদ এবং ইহরামের গোসল সুন্নাত।
অজুহীন ব্যক্তি এবং জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য আবরণ ব্যতীত কুরআন স্পর্শ করা জায়েয নেই, আর জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েয নেই। তবে তার জন্য যিকর, তাসবীহ এবং দুআ করা জায়েয। সে প্রয়োজন ছাড়া মসজিদে প্রবেশ করবে না, আর ঋতুবতী ও নিফাসওয়ালী নারী জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির মতোই গণ্য হবে।
পরিচ্ছেদ: যা নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন জায়েয, যেমন বৃষ্টি, ঝর্ণা ও কূপের পানি, যদিও তা পরিবর্তিত হয়ে যায়
--
[আল-ইখতিয়ার লি-তালীলি আল-মুখতার] এ ক্ষেত্রে ইমাম আবু ইউসুফের দ্বিমত রয়েছে; কেননা জাগ্রত অবস্থার মতো এক্ষেত্রেও মাযী (উত্তেজনায় নির্গত পাতলা বীর্য) নির্গত হওয়া গোসল ওয়াজিব করে না। আমাদের পক্ষ থেকে দলীল হলো, বাহ্যত এটি পাতলা হয়ে যাওয়া বীর্য, তাই সতর্কতাস্বরূপ গোসল ওয়াজিব হবে। আর নারী যদি স্বপ্ন দেখে কিন্তু কোনো আর্দ্রতা না দেখে, তবে সে যদি চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় জাগ্রত হয়, তবে গোসল ওয়াজিব হবে, কারণ তা নির্গত হয়ে পুনরায় ভেতরে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; কেননা স্বপ্নে বীর্য নির্গত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে এমনটি হয় না, কারণ পথ সঙ্কীর্ণ হওয়ার কারণে তা ফিরে যায় না। আর যদি সে অন্য কোনো পাশে ফিরে থাকা অবস্থায় জাগ্রত হয়, তবে গোসল ওয়াজিব হবে না।
তিনি বলেন: (জুমুআহ, দুই ঈদ এবং ইহরামের গোসল সুন্নাত) এবং কেউ কেউ বলেছেন: মুস্তাহাব। কারণ এটি জনসমাগমের দিন, তাই গোসল মুস্তাহাব যাতে একজনের শরীরের গন্ধে অন্যজন কষ্ট না পায়। গোসলের জন্য পানির সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো এক সা' এবং অজুর জন্য এক মুদ। এক সা' হলো আট রতল এবং এক মুদ হলো দুই রতল। কেননা বর্ণিত আছে যে: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সা' পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং এক মুদ পানি দিয়ে অজু করতেন»। অতঃপর তাঁরা মতভেদ করেছেন যে মুদ কি সা'-এর অংশ কি না? তবে এটি কোনো অবধারিত পরিমাণ নয় যে এর কম পানি দিয়ে অজু বা গোসল পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করলে জায়েয হবে না, বরং তা জায়েয হবে। আবার কেউ যদি এর চেয়ে বেশি পানি ব্যবহার করে তবে অপচয় না করা পর্যন্ত তাও জায়েয, অন্যথায় তা মাকরূহ হবে।
[অজুহীন, জানাবাতগ্রস্ত ও ঋতুবতী ব্যক্তির জন্য যা নিষিদ্ধ]তিনি বলেন: (অজুহীন ও জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য আবরণ ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা জায়েয নেই) অর্থাৎ যা কুরআনের সাথে সেলাই করে জোড়া লাগানো নয়, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {পবিত্ররা ব্যতীত কেউ তা স্পর্শ করবে না} [আল-ওয়াকিয়াহ: ৭৯]। আর জামার আস্তিন দিয়ে ধরায় কোনো সমস্যা নেই, তবে কেউ কেউ একে অপছন্দ করেছেন।
(জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য কুরআন পাঠ করা জায়েয নেই) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর কারণে: «জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তি এবং ঋতুবতী নারী কুরআনের কিছুই পাঠ করবে না»। ইমাম তাহাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, আয়াতের অংশবিশেষ পাঠ করা জায়েয, তবে হাদীসটি এই পার্থক্য করেনি। আর কুরআন পাঠের উদ্দেশ্য না করে যদি কেউ বিসমিল্লাহ বা আলহামদুলিল্লাহ-এর মতো যিকর পাঠ করে তবে তাতে কোনো দোষ নেই।
(তার জন্য যিকর, তাসবীহ এবং দুআ করা জায়েয) কারণ নিষেধাজ্ঞাটি কেবল বিশেষভাবে কুরআন পাঠের ক্ষেত্রে এসেছে।
(সে প্রয়োজন ছাড়া মসজিদে প্রবেশ করবে না) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর কারণে: «আমি জানাবাতগ্রস্ত ও ঋতুবতী নারীর জন্য মসজিদ বৈধ করি না»। তবে যদি তার প্রয়োজন হয়, তবে সে তায়াম্মুম করে প্রবেশ করবে, কারণ পানির অভাবে এটিই পবিত্রতা। আর যদি কেউ মসজিদে ঘুমানোর পর জানাবাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তবে কেউ বলেছেন: তায়াম্মুম না করা পর্যন্ত বের হওয়া বৈধ নয়, আবার কেউ বলেছেন: বের হওয়া বৈধ।
(ঋতুবতী ও নিফাসওয়ালী নারী জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির মতো) এ সকল হুকুমের ক্ষেত্রে।
[পরিচ্ছেদ: যে পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন জায়েয]পরিচ্ছেদ (যা নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্র করতে সক্ষম এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন জায়েয, যেমন বৃষ্টি, ঝর্ণা ও কূপের পানি, যদিও তা পরিবর্তিত হয়ে যায়...
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ١٤)
بِطُولِ الْمُكْثِ، وَيَجُوزُ بِمَاءٍ خَالَطَهُ شَيْءٌ طَاهِرٌ فَغَيَّرَ أَحَدَ أَوْصَافِهِ كَالزَّعْفَرَانِ وَالْأُشْنَانِ وَمَاءِ الْمَدِّ. وَلَا تَجُوزُ بِمَاءٍ غَلَبَ عَلَيْهِ غَيْرُهُ فَأَزَالَ عَنْهُ طَبْعَ الْمَاءِ، كَالْأَشْرِبَةِ وَالْخَلِّ وَمَاءِ الْوَرْدِ، وَتُعْتَبَرُ الْغَلَبَةُ بِالْأَجْزَاءِ.
وَالْمَاءُ الرَّاكِدُ إِذَا وَقَعَتْ فِيهِ نَجَاسَةٌ لَا يَجُوزُ بِهِ الْوُضُوءُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ عَشَرَةَ (ف) أَذْرُعٍ فِي عَشَرَةٍ.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] بِطُولِ الْمُكْثِ) وَالْأَصْلُ فِيهِ قَوْله تَعَالَى: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا} [الفرقان: 48] . وَتَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ آبَارِ الْمَدِينَةِ وَقَالَ: «الْمَاءُ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ إِلَّا مَا غَيَّرَ طَعْمَهُ أَوْ لَوْنَهُ أَوْ رِيحَهُ» ، وَطُولُ الْمُكْثِ لَا يُنَجِّسُهُ فَيَبْقَى طَاهِرًا.
قَالَ: (وَيَجُوزُ بِمَاءٍ خَالَطَهُ شَيْءٌ طَاهِرٌ فَغَيَّرَ أَحَدَ أَوْصَافِهِ) وَلَمْ يُزِلْ رِقَّتَهُ.
(كَالزَّعْفَرَانِ وَالْأُشْنَانِ وَمَاءِ الْمَدِّ) وَفِي اللَّبَنِ رِوَايَتَانِ.
(وَلَا تَجُوزُ بِمَاءٍ غَلَبَ عَلَيْهِ غَيْرُهُ فَأَزَالَ عَنْهُ طَبْعَ الْمَاءِ كَالْأَشْرِبَةِ وَالْخَلِّ وَمَاءِ الْوَرْدِ) وَطَبْعُ الْمَاءِ كَوْنُهُ سَيَّالًا مُرَطِّبًا مُسَكِّنًا لِلْعَطَشِ.
(وَتُعْتَبَرُ الْغَلَبَةُ بِالْأَجْزَاءِ) وَالْأَصْلُ فِيهِ أَنَّ الْمَاءَ الَّذِي خَالَطَهُ شَيْءٌ مِنَ الطِّينِ يَجُوزُ الْوُضُوءُ بِهِ إِجْمَاعًا لِبَقَاءِ اسْمِ الْمَاءِ الْمُطْلَقِ، وَلَا يَجُوزُ بِالْخَلِّ إِجْمَاعًا لِزَوَالِ الِاسْمِ عَنْهُ، فَكُلُّ مَا غَلَبَ عَلَى الْمَاءِ وَأَخْرَجَهُ عَنْ طَبْعِهِ أَلْحَقْنَاهُ بِالْخَلِّ، وَمَا غَلَبَ عَلَيْهِ الْمَاءُ وَطَبْعُهُ بَاقٍ أَلْحَقْنَاهُ بِالْأَوَّلِ ; لِأَنَّهُ عَلَى حُكْمِ الْإِطْلَاقِ، وَإِضَافَتُهُ إِلَيْهِ كَإِضَافَتِهِ إِلَى الْعَيْنِ وَالْبِئْرِ، وَإِنْ تَغَيَّرَ بِالطَّبْخِ لَا يَجُوزُ كَالْمَرَقِ إِلَّا مَا يُقْصَدُ بِهِ التَّنْظِيفُ كَالسِّدْرِ وَالْحَرَضِ وَالصَّابُونِ مَا لَمْ يَثْخُنْ، فَإِنَّهُ يَجُوزُ لِوُرُودِ السُّنَّةِ بِغُسْلِ الْمَيِّتِ بِذَلِكَ.
[حكم الْمَاءُ الرَّاكِدُ إِذَا وَقَعَتْ فِيهِ نَجَاسَةٌ](وَ) أَمَّا (الْمَاءُ الرَّاكِدُ إِذَا وَقَعَتْ فِيهِ نَجَاسَةٌ لَا يَجُوزُ الْوُضُوءُ بِهِ) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ أَوْ يَشْرَبُ» .
قَالَ: (إِلَّا أَنْ يَكُونَ عَشَرَةَ أَذْرُعٍ فِي عَشَرَةِ أَذْرُعٍ) ، وَالْأَصْلُ أَنَّ الْمَاءَ الْقَلِيلَ يَنْجَسُ بِوُقُوعِ النَّجَاسَةِ فِيهِ وَالْكَثِيرُ لَا، لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام فِي الْبَحْرِ: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ» وَاعْتَبَرْنَاهُ فَوَجَدْنَاهُ مَا لَا يَخْلُصُ بَعْضُهُ إِلَى بَعْضٍ. فَنَقُولُ: كُلُّ مَا لَا يَخْلُصُ بَعْضُهُ إِلَى بَعْضٍ لَا يَنْجُسُ بِوُقُوعِ النَّجَاسَةِ فِيهِ، وَهَذَا مَعْنَى قَوْلِهِمْ لَا يَتَحَرَّكُ أَحَدُ طَرَفَيْهِ بِتَحَرُّكِ الطَّرَفِ الْآخَرِ، وَامْتَحَنَ الْمَشَايِخُ الْخُلُوصَ بِالْمِسَاحَةِ فَوَجَدُوهُ عَشْرًا فِي عَشْرٍ فَقَدَّرُوهُ بِذَلِكَ تَيْسِيرًا. وَقَالَ أَبُو مُطِيعٍ الْبَلْخِيِّ: إِذَا كَانَ خَمْسَةَ عَشَرَ فِي خَمْسَةَ عَشَرَ لَا يَخْلُصُ، أَمَّا عِشْرِينَ فِي عِشْرِينَ لَا أَرَى فِي نَفْسِي شَيْئًا، وَإِنْ كَانَ لَهُ طُولٌ وَلَا عَرْضَ لَهُ، فَالْأَصَحُّ أَنَّهُ إِنْ كَانَ بِحَالٍ لَوْ ضُمَّ طُولُهُ إِلَى عَرْضِهِ يَصِيرُ عَشْرًا فِي عَشْرٍ فَهُوَ كَثِيرٌ، وَالْمُخْتَارُ فِي الْعُمْقِ مَا لَا يَنْحَسِرُ أَسْفَلُهُ بِالْغَرْفِ، ثُمَّ إِنْ كَانَتِ النَّجَاسَةُ مَرْئِيَّةٌ لَا يَتَوَضَّأُ مِنْ
দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে পানির গুণাগুণ পরিবর্তিত হলেও তা দ্বারা অজু জায়েজ। এবং এমন পানি দ্বারাও অজু জায়েজ যাতে কোনো পবিত্র বস্তু মিশে তার কোনো একটি গুণ পরিবর্তন করে দিয়েছে, যেমন জাফরান, উশনান (ক্ষারজাতীয় উদ্ভিদ) এবং প্লাবনের ঘোলা পানি। তবে এমন পানি দ্বারা অজু জায়েজ নয় যাতে অন্য কোনো বস্তু প্রবল হয়ে পানির প্রকৃতি বিলুপ্ত করে দিয়েছে, যেমন বিভিন্ন পানীয়, সিরকা এবং গোলাপ জল। আর আধিক্য বা প্রবলতা বিবেচিত হবে উপাদানের পরিমাণের ভিত্তিতে।
স্থির পানিতে যদি নাপাকি পড়ে তবে তা দ্বারা অজু করা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না তা দশ হাত দীর্ঘ ও দশ হাত প্রস্থ হয়।
ــ
[আল-মুখতারের ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থ আল-ইখতিয়ার] (দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে পরিবর্তিত হওয়া পানি) এ বিষয়ে মূল দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি আকাশ থেকে পবিত্রকারী পানি বর্ষণ করেছি} [সূরা আল-ফুরকান: ৪৮]। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার কূপসমূহ থেকে অজু করেছেন এবং বলেছেন: «পানি পবিত্র, কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করে না, যতক্ষণ না তা পানির স্বাদ, বর্ণ বা গন্ধ পরিবর্তন করে দেয়।» আর দীর্ঘদিন একস্থানে পড়ে থাকা পানিকে অপবিত্র করে না, তাই তা পবিত্র হিসেবেই গণ্য থাকে।
তিনি বলেন: (এবং এমন পানি দ্বারা অজু জায়েজ যাতে কোনো পবিত্র বস্তু মিশে তার কোনো একটি গুণ পরিবর্তন করে দিয়েছে) অথচ তার তারল্য বা পাতলা অবস্থা নষ্ট করেনি।
(যেমন জাফরান, উশনান এবং প্লাবনের পানি)। আর দুধের ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে।
(তবে এমন পানি দ্বারা অজু জায়েজ নয় যাতে অন্য কিছু প্রবল হয়ে পানির স্বাভাবিক প্রকৃতি মিটিয়ে দিয়েছে, যেমন বিভিন্ন পানীয়, সিরকা ও গোলাপ জল)। পানির প্রকৃতি হলো তা প্রবাহমান, আর্দ্রতা দানকারী এবং পিপাসা নিবারক হওয়া।
(আর আধিক্য বিবেচিত হবে উপাদানের পরিমাণের ভিত্তিতে)। এর মূলনীতি হলো: যে পানিতে সামান্য মাটি মিশেছে, সর্বসম্মতিক্রমে তা দ্বারা অজু করা জায়েজ, কারণ তার ওপর 'সাধারণ পানি' (মাউ মুতলাক) নামটি বহাল থাকে। কিন্তু সিরকা দ্বারা অজু করা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েজ, কারণ তার থেকে পানির নাম বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সুতরাং যা কিছু পানির ওপর প্রবল হবে এবং তার প্রকৃতি থেকে তাকে বের করে দেবে, আমরা তাকে সিরকার বিধানের অন্তর্ভুক্ত করব। আর যে ক্ষেত্রে পানি প্রবল থাকবে এবং পানির প্রকৃতি অবশিষ্ট থাকবে, আমরা তাকে প্রথম প্রকারের (জায়েজ) অন্তর্ভুক্ত করব; কারণ তা সাধারণ পানির হুকুমেই থাকবে। আর পানির সাথে অন্য কিছু যুক্ত হওয়াটা কোনো ঝরনা বা কূপের দিকে পানিকে সম্পৃক্ত করার মতোই। যদি আগুনের তাপে সিদ্ধ করার কারণে পানির অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা দ্বারা অজু জায়েজ হবে না, যেমন ঝোল; তবে যা পরিচ্ছন্নতার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় যেমন কুল পাতা, হারাদ (এক প্রকার উদ্ভিদ) এবং সাবান—যতক্ষণ না তা ঘন হয়ে যায়—তা দ্বারা অজু করা জায়েজ। কেননা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, মৃত ব্যক্তিকে তা দিয়ে গোসল করানো হয়েছে।
[স্থির পানিতে নাপাকি পড়ার বিধান](এবং) স্থির পানিতে (যখন নাপাকি পড়ে, তখন তা দ্বারা অজু করা জায়েজ নয়) কেননা নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে, এরপর তা দিয়ে অজু করে অথবা তা থেকে পান করে।»
তিনি বলেন: (যদি না তা দশ হাত দীর্ঘ ও দশ হাত প্রস্থ হয়)। এর মূলনীতি হলো: অল্প পানিতে নাপাকি পড়লে তা অপবিত্র হয়ে যায়, কিন্তু বেশি পানি অপবিত্র হয় না। সমুদ্র সম্পর্কে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তার পানি পবিত্র।» আমরা এটি বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখেছি যে, বেশি পানি বলতে এমন পানিকে বোঝায় যার একদিকের অংশ অন্যদিকের সাথে মিশ্রিত হয় না। সুতরাং আমরা বলি: যে পানির একদিকের অংশ অন্যদিকের সাথে মিশ্রিত হয় না, তাতে নাপাকি পড়লে তা অপবিত্র হয় না। আর ফকিহদের এই উক্তির অর্থও এটাই যে, পানির এক প্রান্ত নাড়ালে অন্য প্রান্ত নড়ে না। মাশায়েখগণ (উস্তাদগণ) এই মিশ্রিত না হওয়াকে পরিমাপের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখেছেন এবং তা দশ হাত বাই দশ হাত পেয়েছেন। তাই সহজ করার উদ্দেশ্যে তাঁরা এই পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। আবু মুতি আল-বালখি বলেন: যদি পনের হাত বাই পনের হাত হয় তবে তা মিশ্রিত হয় না, আর বিশ হাত বাই বিশ হাত হলে তো আমার মনে কোনো সংশয়ই নেই। যদি পানির দৈর্ঘ্য থাকে কিন্তু প্রস্থ না থাকে, তবে বিশুদ্ধতম মত হলো, যদি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থকে একত্রে যোগ করলে দশ বাই দশ হাত হয়, তবে তা 'বেশি পানি' হিসেবে গণ্য হবে। আর গভীরতার ক্ষেত্রে পছন্দনীয় মত হলো, এক অঞ্জলি পানি তুললে যেন নিচ থেকে মাটি বের হয়ে না আসে। এরপর নাপাকি যদি দৃশ্যমান হয়, তবে সেখান থেকে অজু করবে না।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وَالْمَاءُ الْجَارِي إِذَا وَقَعَتْ فِيهِ نَجَاسَةٌ وَلَمْ يُرَ لَهَا أَثَرٌ جَازَ الْوُضُوءُ مِنْهُ، وَالْأَثَرُ طَعْمٌ أَوْ لَوْنٌ أَوْ رِيحٌ.
وَمَا كَانَ مَائِيَّ الْمَوْلِدِ مِنَ الْحَيَوَانِ مَوْتُهُ فِي الْمَاءِ لَا يُفسِدُهُ (ف) وَكَذَا مَا لَيْسَ لَهُ نَفْسٌ سَائِلَةٌ كَالذُّبَابِ وَالْبَعُوضِ وَالْبَقِّ، وَمَا عَدَاهُمَا يُفْسِدُ الْمَاءَ الْقَلِيلَ. وَالْمَاءُ الْمُسْتَعْمَلُ لَا يُطَهِّرُ الْأَحْدَاثَ، وَهُوَ مَا أُزِيلَ (م) بِهِ حَدَثٌ، أَوِ اسْتُعْمِلَ فِي الْبَدَنِ عَلَى وَجْهِ الْقُرْبَةِ وَيَصِيرُ مُسْتَعْمَلَا
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] مَوْضِعِ الْوُقُوعِ لِلتَّيَقُّنِ بِالنَّجَاسَةِ بِرُؤْيَةِ عَيْنِهَا وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ مَرْئِيَّةٍ، فَلَوْ تَوَضَّأَ مِنْهُ جَازَ لِعَدَمِ التَّيَقُّنِ بِالنَّجَاسَةِ لِاحْتِمَالِ انْتِقَالِهَا، وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: لَا يَجُوزُ أَيْضًا؛ لِأَنَّ الظَّاهِرَ بَقَاؤُهَا فِي الْحَالِ.
قَالَ: (وَالْمَاءُ الْجَارِي إِذَا وَقَعَتْ فِيهِ نَجَاسَةٌ وَلَمْ يُرَ لَهَا أَثَرٌ جَازَ الْوُضُوءُ مِنْهُ) مِنْ أَيْ مَوْضِعٍ شَاءَ.
(وَالْأَثَرُ طَعْمٌ أَوْ لَوْنٌ أَوْ رِيحٌ) لِأَنَّهَا لَا تَبْقَى مَعَ الْجَرَيَانِ، وَالْجَارِي: مَا يَعُدُّهُ النَّاسُ جَارِيًا هُوَ الْأَصَحُّ، وَلَوْ وَقَعَتْ جِيفَةٌ فِي نَهْرٍ كَبِيرٍ لَا يُتَوَضَّأُ مِنْ أَسْفَلِ الْجَانِبِ الَّذِي فِيهِ الْجِيفَةُ وَيُتَوَضَّأُ مِنْ أَسْفَلِ الْجَانِبِ الْآخَرِ، وَإِنْ كَانَ النَّهْرُ صَغِيرًا إِنْ كَانَ يَجْرِي أَكْثَرُ الْمَاءِ عَلَيْهَا لَا يَجُوزُ، وَإِنْ كَانَ أَقَلُّهُ يَجُوزُ، وَإِنْ كَانَ نِصْفُهُ يَجُوزُ، وَالْأَحْوَطُ التَّرْكُ. وَعَنْ مُحَمَّدٍ فِي مَاءِ الْمَطَرِ إِذَا مَرَّ بِالنَّجَاسَةِ وَلَا يُوجَدُ أَثَرُهَا يَتَوَضَّأُ مِنْهُ ; لِأَنَّهُ كَالْجَارِي.
قَالَ: (وَمَا كَانَ مَائِيَّ الْمَوْلِدِ مِنَ الْحَيَوَانِ مَوْتُهُ فِي الْمَاءِ لَا يُفْسِدُهُ) كَالسَّمَكِ وَالضِّفْدَعِ وَالسَّرَطَانِ لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ» ، فَاسْتَفَدْنَا بِهِ عَدَمَ تَنَجُّسِهِ بِالْمَوْتِ وَإِذَا لَمْ يَكُنْ نَجِسًا لَا يَنْجَسُ مَا يُجَاوِرُهُ، وَلِأَنَّهُ لَا دَمَ فِي هَذِهِ الْأَشْيَاءِ وَهُوَ الْمُنَجِّسُ، إِذِ الدَّمَوِيُّ لَا يَتَوَالَدُ فِي الْمَاءِ، وَكَذَا لَوْ مَاتَ خَارِجَ الْمَاءِ ثُمَّ وَقَعَ فِيهِ لِمَا بَيَّنَّا، وَلَوْ مَاتَ فِي غَيْرِ الْمَاءِ كَالْخَلِّ وَاللَّبَنِ رُوِيَ عَنْ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ لَا يُفْسِدُهُ، وَسَوَاءٌ فِيهِ الْمُنْتَفِخُ وَغَيْرُهُ، وَعَنْهُ أَنَّهُ سَوَّى بَيْنَ الضِّفْدَعِ الْبَرِّيِّ وَالْمَائِيِّ، وَقِيلَ: إِنْ كَانَ لِلْبَرِّيِّ دَمٌ سَائِلٌ أَفْسَدَهُ، وَهُوَ الصَّحِيحُ.
قَالَ: (وَكَذَا مَا لَيْسَ لَهُ نَفْسٌ سَائِلَةٌ كَالذُّبَابِ وَالْبَعُوضِ وَالْبَقِّ) إِذَا مَاتَ فِي الْمَائِعِ لَا يُفْسِدُهُ، لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي طَعَامِ أَحَدِكُمْ فَامْقُلُوهُ ثُمَّ انْقُلُوهُ» الْحَدِيثَ، وَأَنَّهُ يَمُوتُ بِالْمَقْلِ فِي الطَّعَامِ سِيَّمَا الْحَارُّ مِنْهُ، وَلَوْ كَانَ مَوْتُهُ يُنَجِّسُ الطَّعَامَ لَمَا أُمِرَ بِهِ. قَالَ: (وَمَا عَدَاهُمَا يُفْسِدُ الْمَاءَ الْقَلِيلَ) لِأَنَّهُ دَمَوِيٌّ يَنْجَسُ بِالْمَوْتِ فَيَنْجَسُ مَا يُجَاوِرُهُ كَالْآدَمِيِّ الْمَيِّتِ إِذَا وَقَعَ فِي الْمَاءِ يُنَجِّسُهُ ; لِأَنَّهُ تَنَجَّسَ بِالْمَوْتِ. وَإِنْ وَقَعَ بَعْدَ الْغُسْلِ فَكَذَلِكَ إِنْ كَانَ كَافِرًا، وَإِنْ كَانَ مُسْلِمًا لَا يُنَجِّسُهُ، لِأَنَّهُ لَمَّا حُكِمَ بِجَوَازِ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُسْلِمِ حُكِمَ بِطَهَارَتِهِ وَلَا كَذَلِكَ الْكَافِرُ فَافْتَرَقَا.
قَالَ: (وَالْمَاءُ الْمُسْتَعْمَلُ لَا يُطَهِّرُ الْأَحْدَاثَ، وَهُوَ مَا أُزِيلَ بِهِ حَدَثٌ، أَوِ اسْتُعْمِلَ فِي الْبَدَنِ عَلَى وَجْهِ الْقُرْبَةِ) كَالْوُضُوءِ عَلَى الْوُضُوءِ بِنِيَّةِ الْعِبَادَةِ.
(وَيَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا
প্রবাহিত পানিতে যদি কোনো অপবিত্রতা পড়ে এবং তার কোনো চিহ্ন দেখা না যায়, তবে তা দিয়ে ওজু করা জায়েজ। আর চিহ্ন হলো স্বাদ, বর্ণ অথবা গন্ধ।
আর যেসব প্রাণীর জন্ম পানিতে, সেগুলোর পানিতে মৃত্যু পানিকে অপবিত্র করে না। অনুরূপভাবে যেসব প্রাণীর প্রবাহমান রক্ত নেই, যেমন মাছি, মশা ও ছারপোকা (তাও পানিকে অপবিত্র করে না)। আর এই দুই প্রকার ব্যতীত অন্য সব প্রাণী অল্প পানিকে অপবিত্র করে দেয়। আর ব্যবহৃত পানি দিয়ে হাদাস (অশুচিতা) দূর করা যায় না। ব্যবহৃত পানি হলো তা, যা দিয়ে কোনো হাদাস দূর করা হয়েছে, অথবা সওয়াবের উদ্দেশ্যে শরীরে ব্যবহার করা হয়েছে; এবং তা ব্যবহৃত হিসেবে গণ্য হয়...
ــ
[আল-ইখতিয়ার লি-তা’লীলিল মুখতার]অপবিত্রতা পড়ার স্থানটি (নাপাক হবে), যদি নাজাসাতের মূল বস্তু দেখার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া যায়, যদিও তা দৃশ্যমান না হয়। তবে সেখান থেকে কেউ ওজু করলে তা জায়েজ হবে; কারণ তা স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অপবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটিও জায়েজ হবে না; কারণ বাহ্যত তা সেই অবস্থায় সেখানেই বিদ্যমান থাকার কথা।
তিনি বলেছেন: (প্রবাহিত পানিতে যদি কোনো অপবিত্রতা পড়ে এবং তার কোনো চিহ্ন দেখা না যায়, তবে তা দিয়ে ওজু করা জায়েজ) যে কোনো স্থান থেকেই সে ইচ্ছা করুক।
(আর চিহ্ন হলো স্বাদ, বর্ণ অথবা গন্ধ) কারণ প্রবাহের সাথে এগুলো অবশিষ্ট থাকে না। আর প্রবাহমান পানি বলতে তাকেই বুঝায় যাকে মানুষ প্রবাহমান মনে করে—এ মতটিই অধিক বিশুদ্ধ। যদি কোনো বড় নদীতে মৃতদেহ পড়ে থাকে, তবে মৃতদেহটি যে পাশে রয়েছে তার নিচের দিক থেকে ওজু করা যাবে না, কিন্তু অন্য পাশের নিচের দিক থেকে ওজু করা যাবে। আর নদীটি যদি ছোট হয়, তবে যদি এর অধিকাংশ পানি সেই নাপাক বস্তুর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে ওজু জায়েজ হবে না। আর যদি অল্প অংশ প্রবাহিত হয় তবে জায়েজ হবে। আর যদি অর্ধেক হয় তবুও জায়েজ হবে, তবে সতর্কতা হলো তা ত্যাগ করা। ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বৃষ্টির পানি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তা নাজাসাতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং তাতে কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না, তখন তা দিয়ে ওজু করা যাবে; কারণ তা প্রবাহমান পানির মতোই।
তিনি বলেছেন: (আর যেসব প্রাণীর জন্ম পানিতে, সেগুলোর পানিতে মৃত্যু পানিকে অপবিত্র করে না) যেমন মাছ, ব্যাঙ ও কাঁকড়া। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "এর (সমুদ্রের) পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।" এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে মৃত্যুর ফলে এগুলো অপবিত্র হয় না। আর যখন এটি অপবিত্র নয়, তখন তার স্পর্শে থাকা বস্তুও অপবিত্র হবে না। তা ছাড়া এসব প্রাণীর মধ্যে প্রবাহমান রক্ত নেই, যা মূলত অপবিত্রকারী; কারণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী পানিতে জন্মায় না। একইভাবে এগুলো যদি পানির বাইরে মারা গিয়ে পানিতে পড়ে, তবে আমরা যা বর্ণনা করেছি সেই কারণেই তা অপবিত্র হবে না। আর যদি পানি ব্যতীত অন্য কিছুতে মারা যায়, যেমন সিরকা বা দুধে, তবে ইমাম মুহাম্মদ (র.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তা একে অপবিত্র করবে না, চাই তা ফুলে যাক বা না যাক। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি ডাঙার ব্যাঙ ও পানির ব্যাঙের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। তবে কেউ কেউ বলেছেন: ডাঙার ব্যাঙের যদি প্রবাহমান রক্ত থাকে তবে তা অপবিত্র করবে, আর এটিই সঠিক মত।
তিনি বলেছেন: (অনুরূপভাবে যেসব প্রাণীর প্রবাহমান রক্ত নেই, যেমন মাছি, মশা ও ছারপোকা) তা যদি কোনো তরল পদার্থে মারা যায় তবে তা অপবিত্র করে না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "তোমাদের কারো খাবারে যখন মাছি পড়ে, তখন সেটিকে তাতে ডুবিয়ে দাও, এরপর তুলে ফেলে দাও" (হাদীস)। আর মাছিকে খাবারে ডুবিয়ে দিলে তা মারা যায়, বিশেষ করে খাবার যদি গরম হয়। যদি এর মৃত্যু খাবারকে অপবিত্র করত, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডুবিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন না। তিনি বলেছেন: (আর এই দুই প্রকার ব্যতীত অন্য সব প্রাণী অল্প পানিকে অপবিত্র করে দেয়) কারণ এগুলো রক্তবিশিষ্ট এবং মৃত্যুর কারণে নাপাক হয়ে যায়, ফলে তার নিকটবর্তী বস্তুও নাপাক হয়। যেমন মৃত মানুষ পানিতে পড়লে তা নাপাক করে দেয়; কারণ মৃত্যুর কারণে সে নাপাক হয়েছে। যদি গোসল করানোর পর পানিতে পড়ে, তবে কাফের হলে একই বিধান (নাপাক হবে)। কিন্তু মুসলিম হলে তা নাপাক করবে না; কারণ যেহেতু মুসলিমের জানাজা জায়েজ হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হয়েছে, সেহেতু তার পবিত্রতারও ফয়সালা দেওয়া হয়েছে। কাফেরের বিষয়টি এমন নয়, তাই উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেছেন: (ব্যবহৃত পানি দিয়ে হাদাস বা অশুচিতা দূর করা যায় না। আর ব্যবহৃত পানি হলো তা, যা দিয়ে কোনো হাদাস দূর করা হয়েছে অথবা সওয়াবের উদ্দেশ্যে শরীরে ব্যবহার করা হয়েছে) যেমন ইবাদতের নিয়তে ওজুর ওপর ওজু করা।
(আর তা ব্যবহৃত হিসেবে গণ্য হয়...
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ١٦)
إِذَا انْفَصَلَ عَنِ الْعُضْوِ.
[جُلُودُ الْمَيْتَةِ وَشَعْرُهَا وَعَظْمُهَا] وَكُلُّ إِهَابٍ (ف) دُبِغَ فَقَدْ طَهُرَ إِلَّا جِلْدَ الْآدَمِيِّ لِكَرَامَتِهِ، وَالْخِنْزِيرِ لِنَجَاسَةِ عَيْنِهِ، وَشَعْرُ الْمَيْتَةِ وَعَظْمُهَا طَاهِرٌ، وَشَعْرُ الْإِنْسَانِ وَعَظْمُهُ طَاهِرٌ.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] إِذَا انْفَصَلَ عَنِ الْعُضْوِ) . وَرَوَى النَّسَفِيُّ أَنَّهُ لَا يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا حَتَّى يَسْتَقِرَّ فِي مَكَانٍ، وَالْأَوَّلُ الْمُخْتَارُ. وَقَالَ مُحَمَّدٌ: لَا يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا إِلَّا بِإِقَامَةِ الْقُرْبَةِ لَا غَيْرَ، وَإِنَّمَا يَقَعُ قُرْبَةً بِالنِّيَّةِ، وَتَظْهَرُ ثَمَرَتُهُ فِي الْجُنُبِ الْمُنْغَمِسِ فِي الْبِئْرِ لِطَلَبِ الدَّلْوِ فَعِنْدَهُمَا طَاهِرَانِ ; لِأَنَّ النِّيَّةَ عِنْدَهُ شَرْطٌ فِي صَيْرُورَةِ الْمَاءِ مُسْتَعْمَلًا، وَلَيْسَتْ بِشَرْطٍ فِي إِزَالَةِ الْجَنَابَةِ، وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ الرَّجُلُ بِحَالِهِ لِعَدَمِ الصَّبِّ، وَالْمَاءُ بِحَالِهِ؛ لِعَدَمِ إِزَالَةِ الْحَدَثِ، وَعِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ هُمَا نَجِسَانِ: الْمَاءُ لِإِزَالَتِهِ الْجَنَابَةَ عَنِ الْبَعْضِ، وَالرَّجُلُ لِبَقَاءِ الْحَدَثِ فِي بَاقِي الْأَعْضَاءِ. وَقِيلَ: يَطْهُرُ مِنَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ يَتَنَجَّسُ بِنَجَاسَةِ الْمَاءِ الْمُسْتَعْمَلِ حَتَّى يَجُوزَ لَهُ قِرَاءَةُ الْقُرْآنِ وَنَحْوُهُ، وَقِيلَ: هُوَ طَاهِرٌ لِأَنَّ الْمَاءَ لَا يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا إِلَّا بَعْدَ الِانْفِصَالِ، وَعَلَى هَذَا لَوْ تَوَضَّأَ مُحْدِثٌ لِلتَّبَرُّدِ يَصِيرُ الْمَاءُ مُسْتَعْمَلًا خِلَافًا لِمُحَمَّدٍ، ثُمَّ الْمَاءُ الْمُسْتَعْمَلُ طَاهِرٌ غَيْرُ طَهُورٍ عِنْدَ مُحَمَّدٍ، وَهُوَ رِوَايَتُهُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، وَهُوَ اخْتِيَارُ أَكْثَرِ الْمَشَايِخِ ; لِأَنَّ الصَّحَابَةَ رضي الله عنهم كَانُوا يَتَبَادَرُونَ إِلَى وُضُوءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَمْسَحُونَ بِهِ وُجُوهَهُمْ وَلَمْ يَمْنَعْهُمْ، وَلَوْ كَانَ نَجِسًا لَمَنَعَهُمْ كَمَا مَنَعَ الْحَجَّامَ مِنْ شُرْبِ دَمِهِ. وَرَوَى الْحَسَنُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ نَجِسٌ نَجَاسَةً مُغَلَّظَةً لِأَنَّهُ أَزَالَ النَّجَاسَةَ الْحُكْمِيَّةَ فَصَارَ كَمَا إِذَا أَزَالَ الْحَقِيقِيَّةَ، بَلْ أَوْلَى لِأَنَّ النَّجَاسَةَ الْحُكْمِيَّةَ أَغْلَظُ حَتَّى لَا يُعْفَى عَنِ الْقَلِيلِ مِنْهَا، وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ وَهِيَ رِوَايَتُهُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ إِنَّ نَجَاسَتَهُ خَفِيفَةٌ لِمَكَانِ الِاخْتِلَافِ.
وَقَالَ زُفَرُ: إِنْ كَانَ الْمُسْتَعْمِلُ مُحْدِثًا فَهُوَ كَمَا قَالَ مُحَمَّدٌ، وَإِنْ كَانَ طَاهِرًا فَهُوَ طَهُورٌ ; لِأَنَّهُ لَمْ يُزِلِ النَّجَاسَةَ فَلَمْ يَتَغَيَّرْ وَصْفُهُ.
[طهارة جُلُودُ الْمَيْتَةِ]قَالَ: (وَكُلُّ إِهَابٍ دُبِغَ فَقَدْ طَهُرَ) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «أَيُّمَا إِهَابٍ دُبِغَ فَقَدْ طَهُرَ» .
قَالَ: (إِلَّا جِلْدَ الْآدَمِيِّ لِكَرَامَتِهِ) فَيَحْرُمُ الِانْتِفَاعُ بِشَيْءٍ مِنْ أَجْزَائِهِ لِمَا فِيهِ مِنَ الْإِهَانَةِ.
(وَ) إِلَّا جِلْدَ. (الْخِنْزِيرِ لِنَجَاسَةِ عَيْنِهِ) قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَإِنَّهُ رِجْسٌ} [الأنعام: 145] وَهُوَ أَقْرَبُ الْمَذْكُورَاتِ فَيُصْرَفُ إِلَيْهِمْ، وَالْفِيلُ كَالْخِنْزِيرِ عِنْدَ مُحَمَّدٍ، وَعِنْدَهُمَا يَنْتَفِعُ بِهِ وَيَطْهُرُ بِالذَّكَاةِ، وَعَنْ مُحَمَّدٍ: إِذَا أَصْلَحَ مَصَارِينَ مَيْتَةً أَوْ دَبَغَ الْمَثَانَةَ طَهُرَتْ حَتَّى يَتَّخِذَ مِنْهَا الْأَوْتَارَ، وَمَا طَهُرَ بِالدِّبَاغِ يَطْهُرُ بِالذَّكَاةِ ; لِأَنَّهَا تُزِيلُ الرُّطُوبَاتِ كَالدِّبَاغِ، وَالدِّبَاغُ أَنْ يُخْرِجَهُ مِنْ حَدِّ الْفَسَادِ سَوَاءً كَانَ بِالتُّرَابِ أَوْ بِالشَّمْسِ أَوْ غَيْرِهِمَا.
قَالَ: (وَشَعْرُ الْمَيْتَةِ وَعَظْمُهَا طَاهِرٌ) لِأَنَّ الْحَيَاةَ لَا تُحِلُّهُمَا حَتَّى لَا تَتَأَلَّمَ بِقَطْعِهِمَا فَلَا يَحِلُّهُمَا الْمَوْتُ وَهُوَ الْمُنَجِّسُ، وَكَذَلِكَ الْعَصَبُ وَالْحَافِرُ وَالْخُفُّ وَالظِّلْفُ وَالْقَرْنُ وَالصُّوفُ وَالْوَبَرُ وَالرِّيشُ وَالسِّنُّ وَالْمِنْقَارُ وَالْمِخْلَبُ لِمَا ذَكَرْنَا، وَلِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمِنْ أَصْوَافِهَا وَأَوْبَارِهَا وَأَشْعَارِهَا} [النحل: 80] امْتَنَّ بِهَا عَلَيْنَا مِنْ غَيْرِ فَصْلٍ.
(وَشَعْرُ الْإِنْسَانِ وَعَظْمُهُ طَاهِرٌ) وَهُوَ الصَّحِيحُ، إِلَّا أَنَّهُ لَا يَجُوزُ الِانْتِفَاعُ بِهِ لِمَا بَيَّنَّا، أَمَّا الْخِنْزِيرُ فَجَمِيعُ أَجْزَائِهِ نَجِسَةٌ لِمَا مَرَّ عَنْ مُحَمَّدٍ أَنَّ
যখন তা অঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।
[মৃত পশুর চামড়া, চুল ও হাড়] এবং যে কোনো কাঁচা চামড়া যখন পাকা (দাবাগাত) করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়। তবে মানুষের চামড়া ব্যতীত, তার মর্যাদার কারণে, এবং শূকরের চামড়া ব্যতীত, তার সত্তাগত নাপাকির কারণে। আর মৃত পশুর চুল ও হাড় পবিত্র, এবং মানুষের চুল ও হাড় পবিত্র।
--
[আল-ইখতিয়ার লি-তা’লীলিল মুখতার] (যখন তা অঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়)। ইমাম নাসাফী বর্ণনা করেছেন যে, কোনো স্থানে স্থির না হওয়া পর্যন্ত পানি ব্যবহৃত (মুস্তামাল) হয় না; তবে প্রথম মতটিই পছন্দনীয় (মুখতার)। ইমাম মুহাম্মদ বলেন: ইবাদত (কুরবত) সম্পাদন করা ব্যতীত পানি মুস্তামাল হয় না। আর ইবাদত মূলত নিয়তের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। এর ফলাফল প্রকাশ পায় এমন এক জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যে বালতি খোঁজার জন্য কূপে ডুব দেয়; তাদের (আবু হানিফা ও মুহাম্মদ) মতে উভয়েই (ব্যক্তি ও পানি) পবিত্র থাকে। কারণ ইমাম মুহাম্মদের মতে পানি মুস্তামাল হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত, কিন্তু জানাবাত (অপবিত্রতা) দূর করার জন্য নিয়ত শর্ত নয়। ইমাম আবু ইউসুফের মতে, পানি ঢালা না হওয়ার কারণে লোকটি পূর্বের অবস্থায় (অপবিত্র) থাকবে এবং হদস (নাপাকি) দূর না হওয়ার কারণে পানিও পূর্বের অবস্থায় (পবিত্র ও পবিত্রকারী) থাকবে। আর ইমাম আবু হানিফার মতে উভয়েই অপবিত্র (নাজিস): পানি অপবিত্র এ কারণে যে তা শরীরের অংশ বিশেষ থেকে জানাবাত দূর করেছে, আর লোকটির শরীরের বাকি অংশে হদস অবশিষ্ট থাকার কারণে সে নাপাক। কেউ কেউ বলেন: সে জানাবাত থেকে পবিত্র হয়ে যাবে, অতঃপর মুস্তামাল পানির সংস্পর্শে সে নাপাক হয়ে যাবে, যাতে করে তার জন্য কুরআন পাঠ ইত্যাদি বৈধ হয়। কেউ কেউ বলেন: পানিটি পবিত্র, কারণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে পানি মুস্তামাল হয় না। এই মতানুসারে, হদসগ্রস্ত ব্যক্তি যদি শরীর ঠাণ্ডা করার উদ্দেশ্যে ওযু করে, তবে ইমাম মুহাম্মদের ভিন্নমত সত্ত্বেও পানি মুস্তামাল হয়ে যাবে। এরপর, ইমাম মুহাম্মদের মতে ব্যবহৃত পানি (মুস্তামাল) পবিত্র তবে তা পবিত্রকারী নয়। এটিই ইমাম আবু হানিফা থেকে তাঁর বর্ণনা এবং অধিকাংশ মাশায়েখদের পছন্দ। কারণ সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওযুর পানির জন্য প্রতিযোগিতা করতেন এবং তা দিয়ে নিজেদের মুখমণ্ডল মসেহ করতেন, অথচ তিনি তাদের বাধা দেননি। যদি তা নাপাক হতো, তবে তিনি অবশ্যই তাদের বাধা দিতেন যেমনটি রক্তমোক্ষণকারীকে (হাজ্জাম) নিজের রক্ত পান করার ব্যাপারে বাধা দিয়েছিলেন। ইমাম হাসান ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি নাজাাসাতে মুগাল্লাজাহ (গুরুতর নাপাকি)। কারণ এটি হুকমি নাপাকি দূর করেছে, তাই তা হাকিকি নাপাকি দূর করার মতোই হয়ে গেল। বরং এটি আরও গুরুতর, কারণ হুকমি নাপাকির সামান্য অংশও ক্ষমা করা হয় না। ইমাম আবু ইউসুফের মতে এবং ইমাম আবু হানিফা থেকে তাঁর বর্ণনামতে, মতভেদের কারণে এর নাপাকি হালকা বা নাজাাসাতে খফিফাহ।
ইমাম যুফার বলেন: যদি পানি ব্যবহারকারী হদসগ্রস্ত হয়, তবে ইমাম মুহাম্মদের বর্ণনার মতো হবে। আর যদি সে পবিত্র হয়, তবে পানিও পবিত্রকারী থাকবে; কারণ এটি কোনো নাপাকি দূর করেনি, তাই এর বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
[মৃত পশুর চামড়া পবিত্র হওয়া]তিনি বলেন: (যে কোনো কাঁচা চামড়া যখন পাকা করা হয়, তা পবিত্র হয়ে যায়) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর কারণে: "যে কোনো কাঁচা চামড়া যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।"
তিনি বলেন: (মানুষের চামড়া ব্যতীত, তার মর্যাদার কারণে) সুতরাং মানুষের দেহের কোনো অংশ দ্বারা উপকৃত হওয়া হারাম, কারণ এতে তাকে অবমাননা করা হয়।
(এবং) চামড়া ব্যতীত (শূকরের, তার সত্তাগত নাপাকির কারণে)। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তা অপবিত্র} [সূরা আল-আনআম: ১৪৫]। এটি উল্লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যে নিকটতমের (অর্থাৎ শূকরের) দিকে ফিরে যাবে। ইমাম মুহাম্মদের মতে হাতিও শূকরের মতো (নাপাক)। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের মতে হাতি থেকে উপকৃত হওয়া যাবে এবং যবেহ করার মাধ্যমে তা পবিত্র হবে। ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত: যখন মৃত পশুর অন্ত্র পরিষ্কার করা হয় অথবা মূত্রাশয় পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়, এমনকি তা দিয়ে বাদ্যযন্ত্রের তারও তৈরি করা যায়। আর যা পাকা করার মাধ্যমে পবিত্র হয়, তা যবেহ করার মাধ্যমেও পবিত্র হয়; কারণ যবেহ করা আর্দ্রতা দূর করে দেয় যেমনটি পাকা (দাবাগাত) করলে হয়। আর দাবাগাত হলো চামড়াকে পচনের সীমা থেকে বের করে আনা, চাই তা মাটি দিয়ে হোক, বা রোদে শুকিয়ে হোক কিংবা অন্য কিছু দিয়ে।
তিনি বলেন: (মৃত পশুর চুল ও হাড় পবিত্র) কারণ জীবন এ দুটির মধ্যে প্রবেশ করে না, যার ফলে এগুলো কাটলে ব্যথার উদ্রেক হয় না; সুতরাং মৃত্যুও এতে প্রবেশ করবে না যা একে অপবিত্র করে। একইভাবে রগ, ঘোড়ার খুর, উটের পায়ের তলা, গরুর খুর, শিং, পশম, লোম, পালক, দাঁত, পাখির ঠোঁট এবং নখও আমরা যা উল্লেখ করেছি সে কারণে পবিত্র। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তাদের পশম, লোম ও চুল থেকে} [সূরা আন-নাহল: ৮০]। আল্লাহ এগুলোকে কোনো পার্থক্য ছাড়াই আমাদের জন্য নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
(মানুষের চুল ও হাড় পবিত্র) এবং এটিই সঠিক মত। তবে এর দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ নয় যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। আর শূকরের ক্ষেত্রে তার সকল অংশই অপবিত্র, যা ইমাম মুহাম্মদ থেকে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ١٧)
فَصْلٌ إِذَا وَقَعَتْ فِي الْبِئْرِ نَجَاسَةٌ فَأُخْرِجَتْ ثُمَّ نُزِحَتْ طَهُرَتْ، وَإِذَا وَقَعَ فِي آبَارِ الْفَلَوَاتِ مِنَ الْبَعْرِ وَالرَّوْثِ وَالْأَخْثَاءِ لَا يُنَجِّسُهَا مَا لَمْ يَسْتَكْثِرْهُ النَّاظِرُ، وَخُرْءُ الْحَمَامِ وَالْعُصْفُورِ لَا يُفْسِدُهَا (ف) ، وَإِذَا مَاتَ فِي الْبِئْرِ فَأْرَةٌ أَوْ عُصْفُورَةٌ أَوْ نَحْوُهُمَا نُزِحَ مِنْهَا عِشْرُونَ دَلْوًا إِلَى ثَلَاثِينَ، وَفِي الْحَمَامَةِ وَالدَّجَاجَةِ وَنَحْوِهِمَا مِنْ أَرْبَعِينَ إِلَى سِتِّينَ، وَفِي الْآدَمِيِّ وَالشَّاةِ وَالْكَلْبِ جَمِيعُ الْمَاءِ، وَإِنِ انْتَفَخَ الْحَيَوَانُ أَوْ تَفَسَّخَ نُزِحَ جَمِيعُ الْمَاءِ.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] شَعْرَهُ طَاهِرٌ حَتَّى يَحِلَّ الِانْتِفَاعُ بِهِ، وَجَوَابُهُ أَنَّهُ رَخَّصَ لِلْخَرَّازِينَ لِلْحَاجَةِ ضَرُورَةً.
[فصل في حكم وقوع النجاسة في البئر]فَصْلٌ (إِذَا وَقَعَتْ فِي الْبِئْرِ نَجَاسَةٌ فَأُخْرِجَتْ ثُمَّ نُزِحَتْ طَهُرَتْ) وَالْقِيَاسُ أَنَّهُ لَا تَطْهُرُ، لِأَنَّهُ إِذَا تَنَجَّسَ الْمَاءُ تَنَجَّسَ الطِّينُ، فَإِذَا نَزَحَ الْمَاءَ بَقِيَ الطِّينُ نَجِسًا، فَكُلَّمَا نَبَعَ الْمَاءُ نَجَّسَهُ لَكُنَّا خَالَفْنَا الْقِيَاسَ بِإِجْمَاعِ السَّلَفِ، وَمَا رُوِيَ عَنْهُمْ مِنَ الْآثَارِ غَيْرُ مَعْقُولِ الْمَعْنَى، فَالظَّاهِرُ أَنَّهُمْ قَالُوهُ سَمَاعًا.
(وَإِذَا وَقَعَ فِي آبَارِ الْفَلَوَاتِ مِنَ الْبَعْرِ وَالرَّوْثِ وَالْأَخْثَاءِ لَا يُنَجِّسُهَا مَا لَمْ يَسْتَكْثِرْهُ النَّاظِرُ) لِأَنَّ آبَارَ الْفَلَوَاتِ بِغَيْرِ حَوَاجِزَ، وَالدَّوَابُّ تَبْعَرُ حَوْلَهَا وَالرِّيَاحُ تُلْقِيهَا فِيهَا، فَكَانَ فِي الْقَلِيلِ ضَرُورَةٌ دُونَ الْكَثِيرِ. وَحَدُّهُ أَنْ يَأْخُذَ رُبُعَ وَجْهِ الْمَاءِ عَنْ مُحَمَّدٍ، وَقِيلَ: ثُلُثُهُ، وَقِيلَ: أَنْ لَا يَخْلُوَ دَلْوٌ مِنْ شَيْءٍ مِنْهُ، وَالْمُخْتَارُ مَا ذَكَرَهُ فِي الْكِتَابِ وَهُوَ أَنْ يَسْتَكْثِرَهُ النَّاظِرُ، وَهُوَ الْمَرْوِيُّ عَنْ صَاحِبِ الْمَذْهَبِ رضي الله عنه، وَالرَّطْبُ وَالْيَابِسُ وَالصَّحِيحُ وَالْمُنْكَسِرُ سَوَاءٌ لِعُمُومِ الْبَلْوَى وَآبَارُ الْأَمْصَارِ كَذَلِكَ، وَقِيلَ يُعْتَبَرُ مَا ذَكَرْنَا مِنَ الضَّرُورَةِ.
قَالَ: (وَخُرْءُ الْحَمَامِ وَالْعُصْفُورِ لَا يُفْسِدُهَا) لِأَنَّهُ لَيْسَ بِنَجِسٍ عَلَى مَا سَيَأْتِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
قَالَ: (وَإِذَا مَاتَ فِي الْبِئْرِ فَأْرَةٌ أَوْ عُصْفُورَةٌ أَوْ نَحْوُهُمَا نُزِحَ مِنْهَا عِشْرُونَ دَلْوًا إِلَى الثَّلَاثِينَ) لِمَا رُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه أَنَّهُ يُنْزَحُ مِنْهَا دِلَاءٌ، وَعَنْ أَنَسٍ عِشْرُونَ دَلْوًا، وَعَنِ النَّخَعِيِّ عِشْرُونَ أَوْ ثَلَاثُونَ، فَالْعِشْرُونَ لِلْإِيجَابِ وَالثَّلَاثُونَ لِلِاسْتِحْبَابِ، وَعَنْ مُحَمَّدٍ فِي الْفَأْرَتَيْنِ عِشْرُونَ، وَفِي الثَّلَاثِ أَرْبَعُونَ، وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ فِي الْفَأْرَةِ عِشْرُونَ إِلَى أَرْبَعٍ، وَفِي الْخَمْسِ أَرْبَعُونَ إِلَى تِسْعٍ، وَفِي الْعَشْرِ جَمِيعُ الْمَاءِ.
قَالَ: (وَفِي الْحَمَامَةِ وَالدَّجَاجَةِ وَنَحْوِهِمَا مِنْ أَرْبَعِينَ إِلَى سِتِّينَ) هَكَذَا رُوِيَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَلِأَنَّهَا ضِعْفُ الْفَأْرَةِ فَضَعَّفْنَا الْوَاجِبَ.
(وَفِي الْآدَمِيِّ وَالشَّاةِ وَالْكَلْبِ جَمِيعُ الْمَاءِ) هَكَذَا حَكَمَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَابْنُ الزُّبَيْرِ فِي بِئْرِ زَمْزَمَ حِينَ مَاتَ فِيهَا الزِّنْجِيُّ، وَلِأَنَّهُ لِثِقَلِهِ يَنْزِلُ إِلَى قَعْرِ الْبِئْرِ فَيُلَاقِي جَمِيعَ الْمَاءِ.
قَالَ: (وَإِنِ انْتَفَخَ الْحَيَوَانُ أَوْ تَفَسَّخَ نُزِحَ جَمِيعُ الْمَاءِ) لِأَنَّهُ لَا يَخْلُو عَنْ بِلَّةٍ نَجِسَةٍ فَتَشِيعُ فَصَارَ كَمَا إِذَا وَقَعَتِ
পরিচ্ছেদ: যদি কূপে কোনো অপবিত্রতা পতিত হয় এবং তা বের করে নেওয়া হয়, অতঃপর পানি সেচে ফেলা হয়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে। আর যদি মরুভূমির কূপসমূহে উট, গরু বা ছাগলের নাদ বা বিষ্ঠা পতিত হয়, তবে দর্শক যতক্ষণ সেটাকে অধিক মনে না করবে, ততক্ষণ তা পানিকে অপবিত্র করবে না। কবুতর ও চড়ুই পাখির বিষ্ঠা পানিকে নষ্ট করে না। আর যদি কূপে ইঁদুর, চড়ুই বা অনুরূপ কোনো ছোট প্রাণী মারা যায়, তবে তা থেকে বিশ থেকে ত্রিশ বালতি পানি সেচে ফেলতে হবে। কবুতর, মুরগি বা অনুরূপ প্রাণীর ক্ষেত্রে চল্লিশ থেকে ষাট বালতি এবং মানুষ, বকরি বা কুকুরের ক্ষেত্রে সমস্ত পানি সেচে ফেলতে হবে। আর যদি প্রাণীটি ফুলে যায় বা ফেটে পচে যায়, তবে সমস্ত পানি সেচে ফেলতে হবে।
--
[আল-মুখতারের ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থ 'আল-ইখতিয়ার'] এর চুল পবিত্র যাতে তা থেকে উপকৃত হওয়া বৈধ হয়। এর উত্তর হলো যে, প্রয়োজনের খাতিরে মুচিদের জন্য বিশেষ অবস্থায় এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
[কূপে অপবিত্রতা পতিত হওয়ার বিধান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ: (যদি কূপে কোনো অপবিত্রতা পতিত হয় এবং তা বের করে নেওয়া হয়, অতঃপর পানি সেচে ফেলা হয়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে)। যৌক্তিক বিচার (কিয়াস) অনুযায়ী তা পবিত্র হওয়ার কথা নয়; কারণ পানি যখন অপবিত্র হয়, তখন কাদার মাটিও অপবিত্র হয়ে যায়। ফলে পানি সেচে ফেললেও মাটি অপবিত্রই থেকে যায়, আর যখনই নতুন পানি বের হবে তখনই তা অপবিত্র হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা পূর্বসূরিদের (সালাফ) ঐকমত্যের কারণে কিয়াস বা যুক্তি পরিত্যাগ করেছি। আর তাঁদের থেকে যে সকল বর্ণনা এসেছে সেগুলোর নিহিত কারণ সাধারণ বুদ্ধিগম্য নয়; তাই স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, তাঁরা তা শ্রুতির (রাসূলুল্লাহ ﷺ বা সাহাবীদের থেকে শোনার) ভিত্তিতেই বলেছেন।
(আর যদি মরুভূমির কূপসমূহে উট, গরু বা ছাগলের বিষ্ঠা বা গোবর পতিত হয়, তবে দর্শক যতক্ষণ সেটাকে অধিক মনে না করবে, ততক্ষণ তা পানিকে অপবিত্র করবে না); কারণ মরুভূমির কূপসমূহের কোনো বেষ্টনী থাকে না, আর পশুরা তার চারপাশে বিষ্ঠা ত্যাগ করে এবং বাতাস তা উড়িয়ে কূপে নিয়ে ফেলে। তাই অল্প পরিমাণের ক্ষেত্রে অপারগতার কারণে ছাড় দেওয়া হয়েছে, অধিকের ক্ষেত্রে নয়। ইমাম মুহাম্মাদের মতে এর সীমা হলো পানির উপরিভাগের এক-চতুর্থাংশ ঢেকে যাওয়া। কেউ বলেছেন এক-তৃতীয়াংশ। আবার কেউ বলেছেন এমন হওয়া যে কোনো বালতিই তা থেকে খালি না থাকা। তবে কিতাবে যা উল্লেখ করা হয়েছে তাই গ্রহণযোগ্য, আর তা হলো দর্শক সেটিকে অধিক মনে করা। এটিই মাযহাবের ইমাম (ইমাম আবু হানিফা) আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন হতে বর্ণিত। এক্ষেত্রে বিষ্ঠা আর্দ্র বা শুষ্ক এবং আস্ত বা ভাঙ্গা হওয়া সমান, কারণ এটি সবার জন্য একটি সাধারণ সমস্যার বিষয়। শহরের কূপগুলোর বিধানও একই। কেউ বলেছেন শহরের ক্ষেত্রে উল্লিখিত অপারগতাকে বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন: (কবুতর ও চড়ুই পাখির বিষ্ঠা পানিকে নষ্ট করে না); কারণ এটি অপবিত্র নয়, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আসবে।
তিনি বলেন: (যদি কূপে ইঁদুর, চড়ুই বা অনুরূপ কোনো ছোট প্রাণী মারা যায়, তবে তা থেকে বিশ থেকে ত্রিশ বালতি পানি সেচে ফেলতে হবে); এর সপক্ষে আলী আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এ ক্ষেত্রে কয়েক বালতি পানি সেচতে বলেছেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বিশ বালতি বর্ণিত হয়েছে। ইমাম নাখায়ী থেকে বিশ বা ত্রিশ বালতি বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বিশ বালতি হলো ওয়াজিব বা আবশ্যক এবং ত্রিশ বালতি হলো মুস্তাহাব। ইমাম মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত যে, দুটি ইঁদুরের ক্ষেত্রে বিশ বালতি এবং তিনটির ক্ষেত্রে চল্লিশ বালতি সেচতে হবে। ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত যে, একটি ইঁদুরের ক্ষেত্রে বিশ থেকে চল্লিশ বালতি, পাঁচটির ক্ষেত্রে পঁতাল্লিশ থেকে ঊনপঞ্চাশ বালতি এবং দশটির ক্ষেত্রে সমস্ত পানি সেচতে হবে।
তিনি বলেন: (কবুতর, মুরগি বা অনুরূপ প্রাণীর ক্ষেত্রে চল্লিশ থেকে ষাট বালতি সেচতে হবে); আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া এই প্রাণীগুলো ইঁদুরের তুলনায় দ্বিগুণ বড়, তাই আমরা আবশ্যক পরিমাণকেও দ্বিগুণ করেছি।
(মানুষ, বকরি ও কুকুরের ক্ষেত্রে সমস্ত পানি সেচতে হবে); ইবনে আব্বাস ও ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা যমযম কূপের ব্যাপারে এই ফয়সালা দিয়েছিলেন যখন তাতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি মারা গিয়েছিল। তাছাড়া এর অধিক ওজনের কারণে এটি কূপের তলদেশে চলে যায় এবং সমস্ত পানির সংস্পর্শে আসে।
তিনি বলেন: (আর যদি প্রাণীটি ফুলে যায় বা ফেটে পচে যায়, তবে সমস্ত পানি সেচে ফেলতে হবে); কারণ এটি অপবিত্র রস নির্গত হওয়া থেকে মুক্ত থাকে না যা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এটি এমন হয়ে যায় যেন অপবিত্রতা পতিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وَيُعْتَبَرُ فِي كُلِّ بِئْرٍ دَلْوُهَا، وَإِذَا لَمْ يُمْكِنْ إِخْرَاجُ جَمِيعِ الْمَاءِ نُزِحَ مِنْهَا مِائَتَا دَلْوٍ إِلَى ثَلَاثِمِائَةٍ.
فَصْلٌ سُؤْرُ الْآدَمِيِّ وَالْفَرَسِ وَمَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ طَاهِرٌ.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] ابْتِدَاءً، وَلَوْ وَقَعَ الْحَيَوَانُ فِي الْبِئْرِ ثُمَّ أُخْرِجَ حَيًّا فَإِنْ كَانَ طَاهِرًا كَالْآدَمِيِّ وَمَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عَلَى بَدَنِهِ نَجَاسَةٌ لَمْ يُنْزَحْ شَيْءٌ، وَإِنْ كَانَ عَلَى مَخْرَجِهِ نَجَاسَةٌ نُزِحَ الْجَمِيعُ، وَكَذَلِكَ سِبَاعُ الطَّيْرِ وَالْوَحْشِ وَهُوَ الصَّحِيحُ، وَكَذَلِكَ الْبَغْلُ وَالْحِمَارُ لَا يَصِيرُ الْمَاءُ مَشْكُوكًا فِيهِ ; لِأَنَّ بَدَنَ هَذِهِ الْحَيَوَانَاتِ طَاهِرٌ، وَإِنْ وَصَلَ الْمَاءُ إِلَى لُعَابِهِ أَخَذَ حُكْمَهُ. وَذَكَرَ الْقُدُورِيُّ: إِنْ كَانَ الرَّجُلُ مُحْدِثًا نُزِحَ أَرْبَعُونَ دَلْوًا، وَإِنْ كَانَ جُنُبًا فَالْجَمِيعُ.
وَقَالَ مُحَمَّدٌ: إِنْ نَوَى الْغُسْلَ أَوِ الْوُضُوءَ يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا فَيَفْسَدُ وَإِلَّا فَلَا. وَعَنْ أَبِي حَنِيفَةَ رضي الله عنه فِي الْكَافِرِ يُنْزَحُ جَمِيعُ الْمَاءِ فَإِنَّهُ لَا يَخْلُو بَدَنُهُ مِنَ النَّجَاسَةِ غَالِبًا.
قَالَ: (وَيُعْتَبَرُ فِي كُلِّ بِئْرٍ دَلْوُهَا) لِأَنَّ السَّلَفَ أَطْلَقُوا فَيُنْصَرَفُ إِلَى الْمُعْتَادِ كَمَا فِي النُّقُودِ ; وَعَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ قَدَّرَهُ بِالصَّاعِ.
(وَإِذَا لَمْ يُمْكِنْ إِخْرَاجُ جَمِيعِ الْمَاءِ نُزِحَ مِنْهَا مِائَتَا دَلْوٍ إِلَى ثَلَثِمِائَةٍ) لِأَنَّ غَالِبَ مَاءِ الْآبَارِ لَا يَزِيدُ عَلَى ذَلِكَ، وَهَذَا أَيْسَرُ عَلَى النَّاسِ، وَهُوَ الْمَرْوِيُّ عَنْ مُحَمَّدٍ. وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: يُنْزَحُ حَتَّى يَغْلِبَهُمُ الْمَاءُ وَلَمْ يُقَدِّرْ فِيهِ شَيْئًا، فَيَعْمَلُ بِغَلَبَةِ الظَّنِّ، فَيُرْجَعُ إِلَى قَوْلِ رَجُلَيْنِ لَهُمَا مَعْرِفَةٌ بِذَلِكَ. وَإِذَا نُزِحَ مَا وَجَبَ نَزْحُهُ وَحُكِمَ بِطَهَارَةِ الْبِئْرِ طُهِّرَ الدَّلْوُ وَالرِّشَا وَالْبَكَرَةُ وَنَوَاحِيهَا وَيَدُ الْمُسْتَقَى، مَرْوِيٌّ ذَلِكَ عَنْ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله.
[فصل في حُكْمُ الْأَسْآرِ]فَصْلٌ (سُؤْرُ الْآدَمِيِّ وَالْفَرَسِ وَمَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ طَاهِرٌ) الْأَسْآرُ أَرْبَعَةٌ: طَاهِرٌ غَيْرُ مَكْرُوهٍ، وَهُوَ سُؤْرُ الْآدَمِيِّ جُنُبًا كَانَ أَوْ حَائِضًا أَوْ مُشْرِكًا ; لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ وَأَعْطَى فَضْلَ سُؤْرِهِ أَعْرَابِيًّا عَنْ يَمِينِهِ فَشَرِبَ، ثُمَّ شَرِبَ أَبُو بَكْرٍ سُؤْرَ الْأَعْرَابِيِّ، وَأَرَادَ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُصَافِحَ أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَالَ: إِنِّي جُنُبٌ، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «الْمُؤْمِنُ لَا يَنْجُسُ» ، وَقَالَ عليه الصلاة والسلام لِعَائِشَةَ رضي الله عنها: «نَاوِلِينِي الْخُمْرَةَ، قَالَتْ: إِنِّي حَائِضٌ، قَالَ: لَيْسَتْ حَيْضَتُكِ فِي يَدِكِ» إِشَارَةٌ إِلَى أَنَّ النَّجِسَ مَوْضِعُ الْحَيْضِ، وَلِأَنَّ بَدَنَ الْإِنْسَانِ طَاهِرٌ مُسْلِمًا كَانَ أَوْ كَافِرًا، فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنْزَلَ وَفْدَ ثَقِيفٍ فِي الْمَسْجِدِ، وَلَوْ كَانَتْ أَبْدَانُهُمْ نَجِسَةً لَمْ يُنْزِلْهُمْ فِيهِ تَنْزِيهًا لَهُ وَكَذَا سُؤْرُ مَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ ; لِأَنَّهُ مُتَوَلِّدٌ مِنْ لَحْمِهِ فَيَكُونُ طَاهِرًا كَاللَّبَنِ إِلَّا الدَّجَاجَةَ الْمُخَلَّاةَ وَالْإِبِلَ وَالْبَقَرَ الْجَلَّالَةَ فَإِنَّهُ مَكْرُوهٌ
প্রতিটি কূপের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব বালতি ধর্তব্য হবে। আর যদি সমস্ত পানি বের করা সম্ভব না হয়, তবে সেখান থেকে দুইশ থেকে তিনশ বালতি পানি সেচে ফেলতে হবে।
পরিচ্ছেদ: মানুষ, ঘোড়া এবং যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তার উচ্ছিষ্ট পবিত্র।
—
[আল-ইখতিয়ার লি-তালী লিল-মুখতার] শুরুতে, যদি কোনো প্রাণী কূপে পড়ে এবং পরে তাকে জীবিত অবস্থায় বের করা হয়, তবে সে যদি পবিত্র হয় যেমন মানুষ এবং যার গোশত খাওয়া হয়, আর যদি তার দেহে কোনো নাপাকি না থাকে, তবে কিছুই সেচতে হবে না। কিন্তু যদি তার মলদ্বারে নাপাকি থাকে, তবে সমস্ত পানি সেচে ফেলতে হবে। অনুরূপভাবে হিংস্র পাখি ও হিংস্র পশুর ক্ষেত্রেও, আর এটাই বিশুদ্ধ মত। তদ্রূপ খচ্চর ও গাধার ক্ষেত্রেও পানি সন্দেহযুক্ত হবে না; কারণ এই সব প্রাণীর শরীর পবিত্র। আর যদি পানি তার লালা পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে তা লালার হুকুম গ্রহণ করবে। ইমাম কুদুরি উল্লেখ করেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি অজুবিহীন অবস্থায় কূপে নামে তবে চল্লিশ বালতি পানি সেচতে হবে, আর যদি সে জুনুবি (গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি) হয় তবে সমস্ত পানি সেচতে হবে।
ইমাম মুহাম্মদ বলেন: যদি সে গোসল বা অজুর নিয়ত করে তবে পানি ব্যবহৃত (মুস্তামাল) হয়ে যাবে ফলে তা নষ্ট হবে, অন্যথায় নয়। ইমাম আবু হানিফা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে অমুসলিম সম্পর্কে বর্ণিত যে, তার ক্ষেত্রে সমস্ত পানি সেচে ফেলতে হবে, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার শরীর নাপাকি থেকে মুক্ত থাকে না।
তিনি বলেন: (প্রতিটি কূপের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব বালতি ধর্তব্য হবে) কারণ সালাফগণ একে সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন, তাই এটি প্রচলিত বালতির দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে যেমনটি মুদ্রার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত যে, তিনি এর পরিমাণ 'সা' দ্বারা নির্ধারণ করেছেন।
(আর যদি সমস্ত পানি বের করা সম্ভব না হয়, তবে সেখান থেকে দুইশ থেকে তিনশ বালতি পানি সেচে ফেলতে হবে) কারণ অধিকাংশ কূপের পানি এর চেয়ে বেশি হয় না এবং এটি মানুষের জন্য অধিক সহজ। এটিই ইমাম মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: যতক্ষণ না পানি তাদের ওপর জয়ী হয় (অর্থাৎ কূপ খালি হয়) ততক্ষণ সেচতে হবে এবং তিনি এতে কোনো পরিমাণ নির্ধারণ করেননি। সুতরাং এক্ষেত্রে প্রবল ধারণার ওপর আমল করা হবে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যক্তির মতামতের দিকে ফিরে যেতে হবে। যখন ওয়াজিব পরিমাণ পানি সেচে ফেলা হবে এবং কূপকে পবিত্র বলে গণ্য করা হবে, তখন বালতি, রশি, চড়কা, তার চারপাশ এবং পানি উত্তোলনকারীর হাতও পবিত্র হয়ে যাবে। এটি ইমাম আবু ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত।
[উচ্ছিষ্টের বিধান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ: (মানুষ, ঘোড়া এবং যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তার উচ্ছিষ্ট পবিত্র) উচ্ছিষ্ট চার প্রকার: প্রথমত— পবিত্র এবং মাকরুহ নয়; আর তা হলো মানুষের উচ্ছিষ্ট, চাই সে জুনুবি হোক বা ঋতুবতী কিংবা মুশরিক। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পান করেছেন এবং তাঁর উচ্ছিষ্টের অবশিষ্টাংশ তাঁর ডান দিকে থাকা এক বেদুইনকে দিয়েছিলেন, সে তা পান করল। অতঃপর আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু সেই বেদুইনের উচ্ছিষ্ট পান করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে মুসাফাহা করতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি বললেন: আমি জুনুবি (অপবিত্র)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "মুমিন নাপাক হয় না"। তিনি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন: "আমাকে ছোট মাদুরটি দাও"। তিনি বললেন: আমি ঋতুবতী। তিনি বললেন: "তোমার ঋতু তো তোমার হাতে নয়"। এটি এই দিকে ইঙ্গিত করে যে, নাপাক হওয়ার স্থান হলো কেবল ঋতুস্রাবের স্থান। আর এ কারণে যে, মানুষের দেহ পবিত্র, চাই সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাকিফ গোত্রের প্রতিনিধি দলকে মসজিদে অবস্থান করিয়েছিলেন, যদি তাদের দেহ নাপাক হতো তবে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে তিনি তাদের সেখানে অবস্থান করাতেন না। তদ্রূপ যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় তার উচ্ছিষ্টও পবিত্র; কারণ এটি তার গোশত থেকে উৎপন্ন, তাই দুধের মতো এটিও পবিত্র হবে। তবে ছেড়ে রাখা মুরগি এবং মলভক্ষক উট ও গরুর উচ্ছিষ্ট মাকরুহ।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وَالثَّانِي مَكْرُوهٌ وَهُوَ سُؤْرُ الْهِرَّةِ وَالدَّجَاجَةِ الْمُخَلَّاةِ، وَسَوَاكِنِ الْبُيُوتِ، وَسِبَاعِ الطَّيْرِ. وَالثَّالِثُ نَجِسٌ وَهُوَ سُؤْرُ الْخِنْزِيرِ وَالْكَلْبِ وَسِبَاعِ الْبَهَائِمِ (ف) . وَالرَّابِعُ مَشْكُوكٌ فِيهِ، وَهُوَ سُؤْرُ الْبَغْلِ وَالْحِمَارِ (ف) ، وَعِنْدَ عَدَمِ الْمَاءِ يَتَوَضَّأُ وَيَتَيَمَّمُ.
بَابُ التَّيَمُّمِــ
[الاختيار لتعليل المختار] لِاحْتِمَالِ بَقَاءِ النَّجَاسَةِ عَلَى مِنْقَارِهَا وَفَمِهَا، وَكَذَا سُؤْرُ الْفَرَسِ؛ لِأَنَّ كَرَاهَةَ لَحْمِهِ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ لِاحْتِرَامِهِ لَا لِنَجَاسَتِهِ، وَعَنْهُ أَنَّهُ مَكْرُوهٌ كَلَحْمِهِ.
(وَالثَّانِي) طَاهِرٌ (مَكْرُوهٌ وَهُوَ سُؤْرُ الْهِرَّةِ وَالدَّجَاجَةِ الْمُخَلَّاةِ، وَسَوَاكِنِ الْبُيُوتِ) كَالْحَيَّةِ وَالْعَقْرَبِ وَالْفَأْرَةِ ; لِأَنَّ نَجَاسَةَ لَحْمِهَا تُوجِبُ نَجَاسَتَهُ، إِلَّا أَنَّهُ لَمَّا لَمْ يُمْكِنِ الِاحْتِرَازُ عَنْهُ لِكَوْنِهَا مِنَ الطَّوَّافَاتِ عَلَيْنَا كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ النَّصُّ فَقُلْنَا بِالطَّهَارَةِ مَعَ الْكَرَاهَةِ.
(وَ) كَذَا سُؤْرُ. (سِبَاعِ الطَّيْرِ) لِأَنَّ الْأَصْلَ طَهَارَةُ الْمِنْقَارِ إِلَّا أَنَّهَا تَأْكُلُ الْمَيْتَاتِ فَقُلْنَا بِالْكَرَاهَةِ، وَالْمَاءُ الْمَكْرُوهُ إِذَا تَوَضَّأَ بِهِ مَعَ وُجُودِ الْمَاءِ الْمُطْلَقِ كَانَ مَكْرُوهًا، وَعِنْدَ عَدَمِهِ لَا يَكُونُ مَكْرُوهًا.
(وَالثَّالِثُ نَجِسٌ، وَهُوَ سُؤْرُ الْخِنْزِيرِ وَالْكَلْبِ وَسِبَاعِ الْبَهَائِمِ) أَمَّا الْخِنْزِيرُ فَلِأَنَّهُ نَجِسُ الْعَيْنِ وَلُعَابُهُ يَتَوَلَّدُ مِنْ لَحْمِهِ. وَأَمَّا الْكَلْبُ فَلِأَنَّ النَّبِيَّ عليه الصلاة والسلام أَمَرَ بِغَسْلِ الْإِنَاءِ مِنْ وُلُوغِهِ ثَلَاثًا، وَفِي رِوَايَةٍ سَبْعًا، وَلِسَانُهُ يُلَاقِي الْمَاءَ دُونَ الْإِنَاءِ فَكَانَ أَوْلَى بِالنَّجَاسَةِ. وَأَمَّا سِبَاعُ فَلِأَنَّ فِيهِ لُعَابَهَا، وَأَنَّهُ نَجِسٌ لِتَوَلُّدِهِ مِنْ لَحْمٍ نَجِسٍ كَاللَّبَنِ بِخِلَافِ الْعَرَقِ فَإِنَّ فِيهِ ضَرُورَةً لِعُمُومِ الْبَلْوَى.
(وَالرَّابِعُ مَشْكُوكٌ فِيهِ وَهُوَ سُؤْرُ الْبَغْلِ وَالْحِمَارِ) لِتَعَارُضِ الْأَدِلَّةِ، فَإِنَّ حُرْمَةَ اللَّحْمِ وَاللَّبَنِ دَلِيلُ النَّجَاسَةِ، وَطَهَارَةُ الْعَرَقِ دَلِيلُ الطَّهَارَةِ، فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَرْكَبُ الْحِمَارَ مُعْرَوْرِيًا فِي حَرِّ الْحِجَازِ وَيُصِيبُ الْعَرَقُ ثَوْبَهُ، وَكَانَ يُصَلِّي فِي ذَلِكَ الثَّوْبِ. وَمَعْنَى الشَّكِّ التَّوَقُّفُ فِيهِ فَلَا يَنْجَسُ الطَّاهِرُ وَلَا يَطْهُرُ النَّجِسُ.
(وَعِنْدَ عَدَمِ الْمَاءِ يَتَوَضَّأُ بِهِ وَيَتَيَمَّمُ) احْتِيَاطًا لِلْخُرُوجِ عَنِ الْعُهْدَةِ، وَأَيْهُمَا قَدَّمَ جَازَ ; لِأَنَّ الْمُطَهِّرَ مِنْهُمَا غَيْرُ مُتَيَقَّنٍ فَلَا فَائِدَةَ فِي التَّرْتِيبِ. وَقَالَ زُفَرُ: يَبْدَأُ بِالْوُضُوءِ لِيَصِيرَ عَادِمًا لِلْمَاءِ حَقِيقَةً، وَجَوَابُهُ إِنْ كَانَ طَهُورًا فَالتَّيَمُّمُ ضَائِعٌ قَبْلَهُ أَوْ بَعْدَهُ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَ طَهُورٍ فَالتَّيَمُّمُ مُعْتَبَرٌ سَوَاءٌ كَانَ قَبْلَهُ أَوْ بَعْدَهُ، وَلَا مَعْنَى لِاشْتِرَاطِ التَّرْتِيبِ، ثُمَّ قِيلَ: الشَّكُّ فِي طَهَارَتِهِ لِتَعَارُضِ الْأَدِلَّةِ، وَعَنْ مُحَمَّدٍ الشَّكُّ فِي طَهُورِيَّتِهِ لِأَنَّا لَا نَأْمُرُهُ بِغَسْلِ الْأَعْضَاءِ إِذَا تَوَضَّأَ بِهِ بَعْدَ مَا وَجَدَ الْمَاءَ، وَعَرَقُ كُلِّ دَابَّةٍ مِثْلُ سُؤْرِهَا.
[بَابُ التَّيَمُّمِ]
وَهُوَ فِي اللُّغَةِ مُطْلَقُ الْقَصْدِ، قَالَ الشَّاعِرُ:
وَلَا أَدْرِي إِذَا يَمَّمْتُ أَرْضًا
… أُرِيدُ الْخَيْرَ أَيُّهُمَا يَلِينِي
এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো মাকরুহ; আর তা হলো বিড়াল, মুক্তভাবে বিচরণকারী মুরগি, ঘরে বসবাসকারী প্রাণী এবং শিকারি পাখির উচ্ছিষ্ট পানি। তৃতীয় প্রকার হলো অপবিত্র; আর তা হলো শূকর, কুকুর এবং হিংস্র চতুষ্পদ জন্তুর উচ্ছিষ্ট পানি। চতুর্থ প্রকার হলো সন্দেহযুক্ত; আর তা হলো খচ্চর ও গাধার উচ্ছিষ্ট পানি। এবং পানি না পাওয়া গেলে এর দ্বারা ওজু করবে এবং তায়াম্মুমও করবে।
তায়াম্মুম অধ্যায়ــ
[আল-ইখতিয়ার লি-তা'লিলিল মুখতার] এর কারণ হলো তাদের ঠোঁট বা মুখে অপবিত্রতা লেগে থাকার সম্ভাবনা। একইভাবে ঘোড়ার উচ্ছিষ্ট পানিও মাকরুহ; কারণ ইমাম আবু হানিফার মতে এর মাংস মাকরুহ হওয়াটা তার প্রতি সম্মানের কারণে, অপবিত্রতার কারণে নয়। তবে তাঁর থেকে অপর এক বর্ণনায় এসেছে যে, এটি তার মাংসের ন্যায় মাকরুহ।
(দ্বিতীয় প্রকারটি) পবিত্র তবে (মাকরুহ; আর তা হলো বিড়াল, মুক্তভাবে বিচরণকারী মুরগি এবং ঘরে বসবাসকারী প্রাণীদের) যেমন সাপ, বিচ্ছু ও ইঁদুরের উচ্ছিষ্ট পানি। কারণ তাদের মাংস অপবিত্র হওয়াটা তাদের উচ্ছিষ্টকেও অপবিত্র করার দাবি রাখে, কিন্তু যেহেতু এগুলো থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় কারণ তারা আমাদের আশেপাশে অধিক বিচরণকারী, যেমনটি হাদিসে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাই আমরা মাকরুহ হওয়ার সাথে সাথে এর পবিত্রতার কথা বলি।
(এবং) একইভাবে (শিকারি পাখির) উচ্ছিষ্ট পানিও মাকরুহ। কারণ মূলগতভাবে তাদের ঠোঁট পবিত্র, তবে যেহেতু তারা মৃতদেহ ভক্ষণ করে, তাই আমরা মাকরুহ হওয়ার কথা বলি। সাধারণ পানি থাকা অবস্থায় মাকরুহ পানি দিয়ে ওজু করা মাকরুহ, কিন্তু পানি না থাকলে তা মাকরুহ হবে না।
(তৃতীয় প্রকারটি অপবিত্র; আর তা হলো শূকর, কুকুর এবং হিংস্র চতুষ্পদ জন্তুর উচ্ছিষ্ট পানি)। শূকরের ক্ষেত্রে কারণ হলো এটি সত্তাগতভাবেই অপবিত্র এবং এর লালা তার মাংস থেকেই তৈরি হয়। কুকুরের ক্ষেত্রে কারণ হলো নবী (সা.) তার উচ্ছিষ্ট পাত্র তিনবার ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন, অন্য বর্ণনায় সাতবার; আর তার জিহ্বা পাত্রের চেয়ে সরাসরি পানির স্পর্শে আসে, তাই তা অপবিত্র হওয়ার অধিক যোগ্য। আর হিংস্র চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে কারণ হলো তাতে তাদের লালা থাকে, যা অপবিত্র মাংস থেকে তৈরি হওয়ায় দুধের মতোই অপবিত্র। তবে ঘামের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি ব্যাপক সমস্যার কারণে প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত।
(চতুর্থ প্রকারটি সন্দেহযুক্ত; আর তা হলো খচ্চর ও গাধার উচ্ছিষ্ট পানি)। এর কারণ হলো দলিলের মাঝে বৈপরীত্য থাকা। কেননা এর মাংস ও দুধ হারাম হওয়াটা অপবিত্রতার দলিল, আবার ঘাম পবিত্র হওয়াটা পবিত্রতার দলিল। কারণ নবী (সা.) হিজাজের প্রচণ্ড গরমে গাধার পিঠে জিন ছাড়াই আরোহণ করতেন এবং এর ঘাম তাঁর কাপড়ে লাগত, আর তিনি সেই কাপড়েই নামাজ পড়তেন। এখানে সন্দেহের অর্থ হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে থমকে যাওয়া; সুতরাং এর দ্বারা পবিত্র বস্তু অপবিত্র হবে না, আবার অপবিত্র বস্তু পবিত্র হবে না।
(এবং পানি না থাকলে এটি দিয়ে ওজু করবে এবং তায়াম্মুম করবে) দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার সতর্কতাস্বরূপ। এই দুটির মধ্যে যেটিই আগে করুক তা জায়েজ; কারণ এই দুটির মধ্যে কোনটি প্রকৃতপক্ষে পবিত্রকারী তা নিশ্চিত নয়, তাই ক্রম অনুসরণের কোনো ফায়দা নেই। ইমাম জুফার বলেন: প্রথমে ওজু শুরু করবে যাতে সে প্রকৃতপক্ষে পানিহীন হয়ে পড়ে। এর উত্তর হলো: যদি এটি পবিত্রকারী হয় তবে তায়াম্মুম তার আগে বা পরে করা বৃথা, আর যদি এটি পবিত্রকারী না হয় তবে তায়াম্মুমই ধর্তব্য হবে চাই তা আগে করা হোক বা পরে। সুতরাং ক্রমের শর্তারোপের কোনো অর্থ নেই। এরপর বলা হয়েছে: দলিলের বৈপরীত্যের কারণে এর পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সন্দেহ এর পবিত্রকারী হওয়ার বিষয়ে; কারণ পানি পাওয়ার পর এটি দিয়ে ওজু করলে আমরা তাকে পুনরায় অঙ্গগুলো ধোয়ার নির্দেশ দেই না। আর প্রত্যেক পশুর ঘাম তার উচ্ছিষ্টের অনুরূপ।
[তায়াম্মুম অধ্যায়]
এটি শাব্দিক অর্থে নিরঙ্কুশ সংকল্প বা ইচ্ছা করা। কবি বলেন:
"আমি জানি না যখন আমি কোনো ভূমির অভিমুখে যাত্রা করি... কল্যাণের প্রত্যাশায়, তখন কোনটি আমার নিকটবর্তী হবে।"
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
مَنْ لَمْ يَقْدِرْ عَلَى اسْتِعْمَالِ الْمَاءِ لِبُعْدِهِ مِيلًا أَوْ لِمَرَضٍ (ف) أَوْ بَرْدٍ (ف) أَوْ خَوْفِ عَدُوٍّ أَوْ عَطَشٍ أَوْ عَدَمِ آلَةٍ، يَتَيَمَّمُ بِمَا كَانَ مِنْ أَجْزَاءِ الْأَرْضِ كَالتُّرَابِ وَالرَّمْلِ وَالْجِصِّ (فس) وَالْكُحْلِ (فس) ، وَلَا بُدَّ فِيهِ مِنَ الطَّهَارَةِ وَالنِّيَّةِ (ز) ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] وَفِي الشَّرْعِ قَصْدُ الصَّعِيدِ الطَّاهِرِ وَاسْتِعْمَالُهُ بِصِفَةٍ مَخْصُوصَةٍ لِإِقَامَةِ الْقُرْبَةِ، وَسَبَبُ وُجُوبِهِ مَا هُوَ سَبَبُ وُجُوبِ الْوُضُوءِ، وَشَرْطُ جَوَازِهِ الْعَجْزُ عَنِ اسْتِعْمَالِ الْمَاءِ لِأَنَّهُ خَلَفُ الْوُضُوءِ، فَلَا يُشْرَعُ مَعَهُ، وَالْأَصْلُ فِي جَوَازِ التَّيَمُّمِ قَوْله تَعَالَى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} [المائدة: 6] وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «التَّيَمُّمُ كَافِيكَ وَلَوْ إِلَى عَشْرِ حِجَجٍ مَا لَمْ تَجِدِ الْمَاءَ» . قَالَ: (مَنْ لَمْ يَقْدِرْ عَلَى اسْتِعْمَالِ الْمَاءِ لِبُعْدِهِ مِيلًا أَوْ لِمَرَضٍ أَوْ بَرْدٍ أَوْ خَوْفِ عَدُوٍّ أَوْ عَطَشٍ أَوْ عَدَمِ آلَةٍ) يَسْتَقِي بِهَا، (يَتَيَمَّمُ بِمَا كَانَ مِنْ أَجْزَاءِ الْأَرْضِ كَالتُّرَابِ وَالرَّمْلِ وَالْجِصِّ وَالْكُحْلِ) أَمَّا بَعْدَ الْمَاءِ فَلِقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [المائدة: 6] ، وَأَمَّا التَّقْدِيرُ بِالْمِيلُ فَلِمَا يَلْحَقُهُ مِنَ الْحَرَجِ بِذَهَابِهِ إِلَيْهِ وَإِيَابِهِ، وَالْمِيلُ: ثُلُثُ فَرْسَخٍ، وَأَمَّا الْمَرَضُ فَلِلْآيَةِ، وَسَوَاءٌ خَافَ ازْدِيَادَ الْمَرَضِ أَوْ طُولَهُ، أَوْ خَافَ مِنْ بَرْدِ الْمَاءِ أَوْ مِنَ التَّحْرِيكِ لِلِاسْتِعْمَالِ ; لِأَنَّ الْآيَةَ لَا تُفَصِّلُ، وَكَذَلِكَ الصَّحِيحُ إِذَا خَافَ الْمَرَضَ مِنِ اسْتِعْمَالِ الْمَاءِ الْبَارِدِ لِمَا فِيهِ مِنَ الْحَرَجِ، وَيَسْتَوِي فِيهِ الْمِصْرُ وَخَارِجُهُ.
وَقَالَا: لَا يَجُوزُ التَّيَمُّمُ فِي الْمِصْرِ ; لِأَنَّ الْغَالِبَ قُدْرَتُهُ عَلَى الْمَاءِ الْمُسَخَّنِ. قُلْنَا: لَا نُسَلِّمُ ذَلِكَ فِي حَقِّ الْغَرِيبِ الْفَقِيرِ، عَلَى أَنَّ الْكَلَامَ عِنْدَ عَدَمِ الْقُدْرَةِ فَيَكُونُ عَاجِزًا فَيَتَيَمَّمُ بِالنَّصِّ، وَكَذَلِكَ لَوْ حَالَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمَاءِ عَدُوٌّ أَوْ سَبْعٌ لِأَنَّهُ عَادِمٌ حَقِيقَةً، وَكَذَلِكَ إِنْ كَانَ مَعَهُ مَاءٌ وَيَخَافُ الْعَطَشَ لَوِ اسْتَعْمَلَهُ فَإِنَّهُ يَتَيَمَّمُ، لِأَنَّهُ عَادِمٌ حُكْمًا، إِمَّا لِخَوْفِ الْهَلَاكِ، أَوْ لِأَنَّهُ مَشْغُولٌ بِالْأَهَمِّ فَصَارَ عَادِمًا، وَكَذَلِكَ إِذَا كَانَ عَلَى بِئْرٍ وَلَيْسَ مَعَهُ مَا يَسْتَقِي بِهِ لِأَنَّهُ عَادِمٌ أَيْضًا حُكْمًا، وَيَتَيَمَّمُ بِمَا كَانَ مِنْ أَجْزَاءِ الْأَرْضِ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {صَعِيدًا طَيِّبًا} [المائدة: 6] وَالصَّعِيدُ: مَا يَصْعَدُ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ لُغَةً، وَالطَّيِّبُ: الطَّاهِرُ، وَحَمْلُهُ عَلَى ذَلِكَ أَوْلَى مِنْ حَمْلِهِ عَلَى الْمَنْبَتِ ; لِأَنَّ الْمُرَادَ مِنَ الْآيَةِ التَّطْهِيرُ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ} [المائدة: 6] فَكَانَ إِرَادَةُ الطَّاهِرِ أَلْيَقُ، وَهُوَ حُجَّةٌ عَلَى أَبِي يُوسُفَ فِي التَّخْصِيصِ بِالتُّرَابِ وَالرَّمْلِ، وَعَلَى الشَّافِعِيِّ فِي التَّخْصِيصِ بِالتُّرَابِ لَا غَيْرَ بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْمُرَادِ بِالطَّيِّبِ الْمَنْبَتُ؛ وَلِأَنَّ الطَّيِّبَ اسْمٌ مُشْتَرَكٌ بَيْنَ الطَّاهِرِ وَالْمَنْبَتِ وَالْحَلَالِ. وَإِرَادَةُ مَا ذَكَرْنَا أَوْلَى لِمَا بَيَّنَّا، ثُمَّ كَلُّ مَا لَا يَلِينُ وَلَا يَنْطَبِعُ بِالنَّارِ فَهُوَ مِنْ جِنْسِ الْأَرْضِ، وَكُلُّ مَا يَلِينُ وَيَنْطَبِعُ أَوْ يَحْتَرِقُ فَيَصِيرُ رَمَادًا لَيْسَ مِنْ جِنْسِ الْأَرْضِ؛ لِأَنَّ مِنْ طَبْعِ الْأَرْضِ أَنْ لَا تَلِينَ بِالنَّارِ.
(وَلَا بُدَّ فِيهِ مِنَ الطَّهَارَةِ) لِمَا قَدَّمْنَا. (وَ) لَا بُدَّ مِنَ (النِّيَّةِ) وَهِيَ أَنْ يَنْوِيَ رَفْعَ الْحَدَثِ أَوِ اسْتِبَاحَةَ الصَّلَاةِ. وَقَالَ زُفَرُ: لَا تُشْتَرَطُ النِّيَّةُ كَالْوُضُوءِ. وَلَنَا أَنَّهُ مَأْمُورٌ بِالتَّيَمُّمِ وَهُوَ الْقَصْدُ، وَالْقَصْدُ: النِّيَّةُ فَلَا بُدَّ مِنْهَا، بِخِلَافِ الْوُضُوءِ فَإِنَّهُ مَأْمُورٌ بِغَسْلِ الْأَعْضَاءِ وَقَدْ وُجِدَ،
যে ব্যক্তি পানি ব্যবহার করতে সক্ষম নয়—এক মাইল দূরত্বে হওয়ার কারণে, কিংবা অসুস্থতার কারণে, কিংবা শীতের কারণে, কিংবা শত্রুর ভয়ের কারণে, কিংবা তৃষ্ণার কারণে, অথবা যন্ত্রের অভাবের কারণে, সে ভূ-পৃষ্ঠের জাতীয় বস্তু যেমন মাটি, বালু, জিপসাম এবং সুরমা দ্বারা তায়াম্মুম করবে। আর তায়াম্মুমে পবিত্রতা এবং নিয়ত থাকা আবশ্যক।
—
[আল-মুখতারের কারণ দর্শনের জন্য আল-ইখতিয়ার] শরীয়তের পরিভাষায়, ইবাদত আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পবিত্র ভূ-পৃষ্ঠের সংকল্প করা এবং তা ব্যবহার করা। এর ওয়াজিব হওয়ার কারণ সেটিই যা ওজু ওয়াজিব হওয়ার কারণ। আর এটি বৈধ হওয়ার শর্ত হলো পানি ব্যবহারে অক্ষমতা; কারণ এটি ওজুর স্থলাভিষিক্ত, তাই পানির উপস্থিতিতে এটি বিধিবদ্ধ নয়। তায়াম্মুম বৈধ হওয়ার মূল দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো" [আল-মায়িদাহ: ৬] এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তায়াম্মুম তোমার জন্য যথেষ্ট, যদিও তা দশ বছর পর্যন্ত হয় যতক্ষণ না তুমি পানি পাও।" তিনি (গ্রন্থকার) বলেন: (যে ব্যক্তি পানি ব্যবহার করতে সক্ষম নয়—এক মাইল দূরত্বে হওয়ার কারণে, কিংবা অসুস্থতার কারণে, কিংবা শীতের কারণে, কিংবা শত্রুর ভয়ের কারণে, কিংবা তৃষ্ণার কারণে, অথবা যন্ত্রের অভাবের কারণে) যা দিয়ে সে পানি তুলবে, (সে ভূ-পৃষ্ঠের জাতীয় বস্তু যেমন মাটি, বালু, জিপসাম এবং সুরমা দ্বারা তায়াম্মুম করবে)। পানি না পাওয়ার পরের বিধানের ক্ষেত্রে দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে তায়াম্মুম করো" [আল-মায়িদাহ: ৬]। আর এক মাইলের পরিমাপ নির্ধারণ করা হয়েছে এজন্য যে, সেখানে যাওয়া এবং ফিরে আসায় যে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। এক মাইল হলো এক ফারসাখের এক-তৃতীয়াংশ। আর অসুস্থতার বিষয়টি আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত; চাই তা রোগ বৃদ্ধির ভয় হোক বা রোগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ভয় হোক, অথবা ঠান্ডা পানির ভয় হোক কিংবা ব্যবহারের জন্য নাড়াচাড়া করার ভয় হোক; কারণ আয়াতে কোনো বিস্তারিত পার্থক্য করা হয়নি। তদ্রূপ সুস্থ ব্যক্তিও যদি ঠান্ডা পানি ব্যবহারের কারণে অসুস্থ হওয়ার ভয় করে তবে সে কষ্টের কারণে তায়াম্মুম করবে। আর এক্ষেত্রে শহর এবং শহরের বাইরের অবস্থা সমান।
সাহেবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ.) বলেন: শহরে তায়াম্মুম জায়েজ নয়; কারণ সাধারণত গরম পানির ওপর সক্ষমতা থাকে। আমরা বলি: আমরা কোনো দরিদ্র মুসাফিরের ক্ষেত্রে তা মেনে নিচ্ছি না। তদুপরি আলোচনা তো অক্ষমতার সময়ের, এমতাবস্থায় সে অক্ষম হিসেবে গণ্য হবে এবং শরয়ী দলিলের ভিত্তিতে তায়াম্মুম করবে। একইভাবে যদি তার ও পানির মাঝে শত্রু বা হিংস্র প্রাণী বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে সে বাস্তবে পানি না পাওয়া ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবে। তদ্রূপ যদি তার কাছে পানি থাকে কিন্তু তা ব্যবহার করলে তৃষ্ণার্ত হওয়ার ভয় থাকে, তবে সে তায়াম্মুম করবে; কারণ সে হুকুমতগতভাবে (আইনত) পানি না পাওয়া ব্যক্তি। হয় ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কায়, অথবা অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকায় সে পানিহীন হিসেবে গণ্য হয়েছে। একইভাবে যদি সে কূপের পাড়ে থাকে কিন্তু পানি তোলার কোনো সরঞ্জাম না থাকে, তবে সে-ও হুকুমতগতভাবে পানিহীন। আর সে ভূ-পৃষ্ঠের অংশসমূহ দ্বারা তায়াম্মুম করবে আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: "পবিত্র মাটি (সাঈদ) দ্বারা" [আল-মায়িদাহ: ৬]। আভিধানিক অর্থে 'সাঈদ' হলো যা ভূ-পৃষ্ঠের উপরে উঠে থাকে। আর 'তৈয়িব' মানে পবিত্র। একে পবিত্র অর্থে গ্রহণ করা 'উৎপাদনশীল' (মাটি) অর্থে গ্রহণ করার চেয়ে অধিক উত্তম; কারণ আয়াতের উদ্দেশ্য হলো পবিত্রতা অর্জন করা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কিন্তু তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান" [আল-মায়িদাহ: ৬]। সুতরাং 'পবিত্র' অর্থ গ্রহণ করাই অধিক উপযুক্ত। আর এটি ইমাম আবু ইউসুফের বিপক্ষে দলিল যিনি তায়াম্মুমকে কেবল মাটি ও বালুর সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন, এবং ইমাম শাফেয়ির বিপক্ষেও দলিল যিনি তায়াম্মুমকে কেবল মাটির সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন এই ভিত্তিতে যে 'তৈয়িব' অর্থ হলো উৎপাদনশীল মাটি। অথচ 'তৈয়িব' শব্দটি পবিত্র, উৎপাদনশীল এবং হালাল—এই তিন অর্থের মাঝে সাধারণ। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা গ্রহণ করাই উত্তম যা আমরা বর্ণনা করেছি। অতঃপর যে সকল বস্তু আগুনে নরম হয় না এবং গলে যায় না, তা মাটির শ্রেণিভুক্ত। আর যা কিছু নরম হয়, গলে যায় কিংবা পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তা মাটির শ্রেণিভুক্ত নয়; কারণ মাটির বৈশিষ্ট্য হলো তা আগুনে নরম হয় না।
(আর তাতে পবিত্রতা থাকা আবশ্যক) যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। (এবং) অবশ্যই (নিয়ত) থাকতে হবে। আর নিয়ত হলো নাপাকি দূর করার অথবা সালাত বৈধ করার সংকল্প করা। ইমাম যুফার (রহ.) বলেন: ওজুর মতো এখানেও নিয়ত শর্ত নয়। আমাদের দলিল হলো—তাকে 'তায়াম্মুম' করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর 'তায়াম্মুম' মানে হলো ইচ্ছা বা সংকল্প করা। আর সংকল্পই হলো নিয়ত, তাই এটি আবশ্যক। ওজুর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ সেখানে অঙ্গসমূহ ধোয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়িত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وَيَسْتَوِي فِيهِ الْمُحْدِثُ وَالْجُنُبُ وَالْحَائِضُ. وَصِفَةُ التَّيَمُّمِ أَنْ يَضْرِبَ بِيَدَيْهِ عَلَى الصَّعِيدِ فَيَنْفُضَهُمَا ثُمَّ يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ، ثُمَّ يَضْرِبَهُمَا كَذَلِكَ، وَيَمْسَحَ بِكُلِّ كَفٍّ ظَهْرَ ذِرَاعِ الْأُخْرَى وَبَاطِنَهَا مَعَ الْمِرْفَقِ (ف) وَالِاسْتِيعَابُ شَرْطٌ، وَيَجُوزُ قَبْلَ الْوَقْتِ (ف) وَقَبْلَ طَلَبِ الْمَاءِ (ف) ، - وَلَوْ صَلَّى بِالتَّيَمُّمِ - ثُمَّ وَجَدَ الْمَاءَ لَمْ يُعِدْ، وَإِنْ وَجَدَهُ فِي خِلَالِ الصَّلَاةِ تَوَضَّأَ (ف) وَاسْتَقْبَلَ، وَيُصَلِّي بِالتَّيَمُّمِ الْوَاحِدِ مَا شَاءَ (ف) مِنَ الصَّلَوَاتِ كَالْوُضُوءِ ; وَيُسْتَحَبُّ تَأُخِيرُ الصَّلَاةِ لِمَنْ طَمِعَ فِي الْمَاءِ، وَتَجُوزُ الصَّلَاةُ عَلَى الْجِنَازَةِ (ف) بِالتَّيَمُّمِ إِذَا خَافَ فَوْتَهَا لَوْ تَوَضَّأَ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] ثُمَّ التُّرَابُ مُلَوَّثٌ وَمُغَبَّرٌ، وَإِنَّمَا يَصِيرُ مُطَهِّرًا ضَرُورَةَ إِرَادَةِ الصَّلَاةِ وَذَلِكَ بِالنِّيَّةِ بِخِلَافِ الْوُضُوءِ ; لِأَنَّ الْمَاءَ مُطَهِّرٌ فِي نَفْسِهِ فَاسْتَغْنَى فِي وُقُوعِهِ طَهَارَةً عَنِ النِّيَّةِ، لَكِنْ يَحْتَاجُ إِلَيْهَا فِي وُقُوعِهِ عِبَادَةً وَقُرْبَةً.
قَالَ: (وَيَسْتَوِي فِيهِ الْمُحْدِثُ وَالْجُنُبُ) لِلْآيَةِ «وَلِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام لِعَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ حِينَ أَجْنَبَ فَتَمَعَّكَ بِالتُّرَابِ: " يَكْفِيكَ ضَرْبَتَانِ: ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ، وَضَرْبَةٌ لِلْيَدَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ» .
(وَالْحَائِضُ) وَالنُّفَسَاءُ كَالْجُنُبِ.
(وَصِفَةُ التَّيَمُّمِ أَنْ يَضْرِبَ بِيَدَيْهِ عَلَى الصَّعِيدِ فَيَنْفُضَهُمَا ثُمَّ يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ، ثُمَّ يَضْرِبَهُمَا كَذَلِكَ، وَيَمْسَحَ بِكُلِّ كَفٍّ ظَهْرَ ذِرَاعِ الْأُخْرَى وَبَاطِنَهَا مَعَ الْمِرْفَقِ) لِحَدِيثِ عَمَّارٍ، وَلِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «التَّيَمُّمُ ضَرْبَتَانِ: ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ، وَضَرْبَةٌ لِلذِّرَاعَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ» .
(وَالِاسْتِيعَابُ شَرْطٌ) حَتَّى يُخَلِّلَ أَصَابِعَهُ ذَكَرَهُ مُحَمَّدٌ فِي الْأَصْلِ، وَهُوَ ظَاهِرُ الرِّوَايَةِ اعْتِبَارًا بِالْوُضُوءِ. وَرَوَى الْحَسَنُ فِي الْمُجَرَّدِ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ إِذَا يَمَّمَ الْأَكْثَرَ جَازَ لِمَا فِيهِ مِنَ الْحَرَجِ وَالْأَوَّلُ أَصَحُّ.
(وَيَجُوزُ قَبْلَ الْوَقْتِ) تَمْكِينًا لَهُ مِنَ الْأَدَاءِ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ، وَكَمَا فِي الْوُضُوءِ؛ لِأَنَّهُ خَلَفُهُ.
(وَيَجُوزُ قَبْلَ طَلَبِ الْمَاءِ) ؛ لِأَنَّهُ عَادِمٌ حَقِيقَةً، وَالظَّاهِرُ الْعَدَمُ فِي الْمَفَاوِزِ إِلَّا إِذَا غَلَبَ عَلَى ظَنِّهِ أَنَّ بِقُرْبِهِ مَاءً فَلَا يَجُوزُ مَا لَمْ يُطْلَبْ لِأَنَّهُ وَاجِدٌ نَظَرًا إِلَى الدَّلِيلِ، وَالدَّلِيلُ إِخْبَارٌ أَوْ عَلَامَةٌ يُسْتَدَلُّ بِهَا عَلَى الْمَاءِ وَيَطْلُبُهُ مِقْدَارَ غَلْوَةٍ، وَهِيَ مِقْدَارُ رَمْيَةِ سَهْمٍ وَلَا يَبْلُغُ مِيلًا، وَقِيلَ: مِقْدَارُ مَا لَا يَنْقَطِعُ عَنْ رُفَقَائِهِ.
(وَلَوْ صَلَّى بِالتَّيَمُّمِ ثُمَّ وَجَدَ الْمَاءَ لَمْ يُعِدْ) لِأَنَّهُ أَتَى بِمَا أُمِرَ بِهِ وَهُوَ الصَّلَاةُ بِالتَّيَمُّمِ فَخَرَجَ عَنِ الْعُهْدَةِ.
(وَإِنْ وَجَدَهُ فِي خِلَالِ الصَّلَاةِ تَوَضَّأَ وَاسْتَقْبَلَ) لِأَنَّهُ قَدَرَ عَلَى الْأَصْلِ قَبْلَ حُصُولِ الْمَقْصُودِ بِالْخُلْفِ، وَلِأَنَّ التَّيَمُّمَ يَنْتَقِضُ بِرُؤْيَةِ الْمَاءِ فَانْتَقَضَتْ طَهَارَتُهُ فَيَتَوَضَّأُ وَيَسْتَقْبِلُ.
وَيُصَلِّي بِالتَّيَمُّمِ الْوَاحِدِ مَا شَاءَ مِنَ الصَّلَوَاتِ كَالْوُضُوءِ) فَرْضًا وَنَفْلَا لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «التُّرَابُ طَهُورُ الْمُسْلِمُ مَا لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ أَوْ يُحْدِثْ» ، وَلِأَنَّ طَهَارَتَهُ ضَرُورَةُ عَدَمِ الْمَاءِ وَهِيَ قَائِمَةٌ.
(وَيُسْتَحَبُّ تَأْخِيرُ الصَّلَاةِ لِمَنْ طَمِعَ فِي) وُجُودِ (الْمَاءِ) لِيُؤَدِّيَهَا بِأَكْمَلِ الطَّهَارَتَيْنِ.
(وَتَجُوزُ الصَّلَاةُ عَلَى الْجِنَازَةِ بِالتَّيَمُّمِ إِذَا خَافَ فَوْتَهَا لَوْ تَوَضَّأَ) لِأَنَّهَا لَا تُعَادُ
ওযুহীন ব্যক্তি, নাপাক ব্যক্তি এবং ঋতুবতী নারী—সবাই এতে (তায়াম্মুমে) সমান। তায়াম্মুমের পদ্ধতি হলো, ব্যক্তি পবিত্র মাটির ওপর তার দুই হাত মারবে, এরপর হাত দুটি ঝেড়ে ফেলবে, তারপর তা দিয়ে তার মুখমণ্ডল মাসাহ করবে। পুনরায় একইভাবে হাত মারবে এবং প্রত্যেক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতের কনুইসহ পিঠ ও ভেতরভাগ মাসাহ করবে। পুরো অঙ্গ পরিবেষ্টন করা শর্ত। আর ওয়াক্ত হওয়ার আগে তায়াম্মুম করা জায়েজ। পানি খোঁজার আগেও তা জায়েজ। যদি তায়াম্মুম করে নামায পড়ে ফেলে, এরপর পানি পায়, তবে নামায পুনরায় পড়তে হবে না। আর যদি নামাযের মাঝখানে পানি পায়, তবে ওযু করবে এবং নতুন করে নামায শুরু করবে। এক তায়াম্মুম দিয়ে ইচ্ছামতো ফরয ও নফল নামায পড়া যাবে যেমন ওযু দিয়ে পড়া যায়। যার পানি পাওয়ার আশা আছে, তার জন্য নামায দেরি করে পড়া মুস্তাহাব। জানাজার নামায তায়াম্মুম করে পড়া জায়েজ যদি ওযু করতে গেলে তা ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে।
—
[আল-ইখতিয়ার লি-তাইলিলিল মুখতার] অতঃপর মাটি হলো মলিন ও ধূলিময় বস্তু। এটি কেবল নামায আদায়ের সংকল্পের প্রয়োজনে পবিত্রতা অর্জনকারী হিসেবে গণ্য হয়, আর তা নিয়তের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়; ওযুর বিষয়টি এর বিপরীত। কারণ পানি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পবিত্রকারী, তাই পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি নিয়তের মুখাপেক্ষী নয়। তবে ইবাদত ও নৈকট্য লাভের সওয়াব পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন হয়।
তিনি বলেন: (এতে ওযুহীন ও নাপাক ব্যক্তি সমান) কুরআনের আয়াতের কারণে এবং আম্মার ইবন ইয়াসির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অপবিত্র অবস্থায় যখন মাটিতে গড়াগড়ি করেছিলেন, তখন তার প্রতি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: "তোমার জন্য দুইবার হাত মারাই যথেষ্ট: একবার মুখমণ্ডলের জন্য এবং একবার কনুই পর্যন্ত দুই হাতের জন্য।"
(ঋতুবতী নারী) এবং প্রসূতি নারীও নাপাক ব্যক্তির ন্যায়।
(তায়াম্মুমের পদ্ধতি হলো, সে মাটির ওপর তার দুই হাত মারবে এবং তা ঝেড়ে ফেলবে, এরপর তা দিয়ে তার মুখমণ্ডল মাসাহ করবে, পুনরায় একইভাবে হাত মারবে এবং প্রত্যেক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতের কনুইসহ পিঠ ও ভেতরভাগ মাসাহ করবে) আম্মার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "তায়াম্মুম হলো দুইবার হাত মারা: একবার মুখমণ্ডলের জন্য এবং একবার কনুই পর্যন্ত দুই হাতের জন্য।"
(পুরো অঙ্গ পরিবেষ্টন করা শর্ত) এমনকি সে তার আঙুলগুলো খিলাল করবে; ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) 'আল-আসল' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। ওযুর সাথে তুলনা করে এটিই 'জাহিরুর রিওয়ায়াহ' বা প্রসিদ্ধ বর্ণনা। আল-হাসান 'আল-মুজাররাদ' গ্রন্থে ইমাম আবু হানিফা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, অধিকাংশ অঙ্গ মাসাহ করলেই তা জায়েজ হবে, কারণ এতে কষ্ট লাঘবের বিষয়টি রয়েছে। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ।
(ওয়াক্তের আগে তায়াম্মুম করা জায়েজ) যাতে ওয়াক্তের শুরুতেই নামায আদায় করা সম্ভব হয়, যেমনটি ওযুর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে; কারণ তায়াম্মুম ওযুর স্থলাভিষিক্ত।
(পানি খোঁজার আগেও তায়াম্মুম করা জায়েজ); কারণ সে প্রকৃতপক্ষে পানিহীন, আর মরুভূমিতে পানির অনুপস্থিতিই স্বাভাবিক। তবে যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে নিকটে পানি আছে, তবে খোঁজা ছাড়া তায়াম্মুম জায়েজ হবে না; কারণ প্রমাণের ভিত্তিতে সে পানিপ্রাপ্য হিসেবে গণ্য। আর প্রমাণ হলো কারো সংবাদ দেওয়া অথবা কোনো চিহ্ন, যা দিয়ে পানির অবস্থান নির্ণয় করা যায়। সে এক 'গালোয়াহ' পরিমাণ দূরত্ব পর্যন্ত পানি খুঁজবে—যা একটি তীর নিক্ষেপের দূরত্বের সমান এবং এক মাইলের কম। কেউ কেউ বলেছেন: কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার মতো দূরত্ব পর্যন্ত খুঁজবে।
(যদি তায়াম্মুম করে নামায পড়ে ফেলে, এরপর পানি পায়, তবে নামায পুনরায় পড়তে হবে না) কারণ সে যা নির্দেশিত হয়েছিল তা পালন করেছে—আর তা হলো তায়াম্মুম করে নামায পড়া; ফলে সে দায়িত্বমুক্ত হয়ে গেছে।
(আর যদি নামাযের মাঝখানে পানি পায়, তবে ওযু করবে এবং নতুন করে নামায শুরু করবে) কারণ স্থলাভিষিক্ত জিনিসের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার আগেই সে মূল জিনিসের ওপর সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া পানি দেখার সাথে সাথে তায়াম্মুম নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তার পবিত্রতাও নষ্ট হয়ে গেল; তাই সে ওযু করবে এবং নতুন করে নামায শুরু করবে।
(এক তায়াম্মুম দিয়ে ইচ্ছামতো নামায পড়া যাবে যেমন ওযু দিয়ে পড়া যায়) চাই তা ফরয হোক বা নফল; কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পবিত্র মাটিই মুসলমানের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম, যতক্ষণ না সে পানি পায় অথবা অপবিত্র হয়।" তাছাড়া পানির অনুপস্থিতির প্রয়োজনে তার এই পবিত্রতা অর্জিত হয়েছে, যা বিদ্যমান রয়েছে।
(যার পানি পাওয়ার আশা আছে, তার জন্য নামায দেরি করে পড়া মুস্তাহাব) যাতে সে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতার সাথে নামায আদায় করতে পারে।
(জানাজার নামায তায়াম্মুম করে পড়া জায়েজ যদি ওযু করতে গেলে তা ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে) কারণ জানাজার নামায পুনরায় পড়ার সুযোগ নেই।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَكَذَلِكَ صَلَاةُ الْعِيدِ (ف) ، وَلَا يَجُوزُ لِلْجُمُعَةِ وَإِنْ خَافَ الْفَوْتَ، وَلَا لِلْفَرْضِ إِذَا خَافَ فَوْتَ الْوَقْتِ، وَيَنْقُضُهُ نَوَاقِضُ الْوُضُوءِ وَالْقُدْرَةُ عَلَى الْمَاءِ وَاسْتِعْمَالِهِ وَلَوْ صَلَّى الْمُسَافِرُ بِالتَّيَمُّمِ وَنَسِيَ الْمَاءَ فِي رَحْلِهِ لَمْ يُعِدْ (فس) ، وَيَطْلُبُ الْمَاءَ مِنْ رَفِيقِهِ فَإِنْ مَنَعَهُ تَيَمَّمَ، وَيَشْتَرِي الْمَاءَ بِثَمَنِ الْمِثْلِ إِذَا كَانَ قَادِرًا عَلَيْهِ، وَلَا يَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَشْتَرِيَهُ بِأَكْثَرَ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] عَلَى مَا يَأْتِيكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى فَتَفُوتُ.
(وَكَذَلِكَ صَلَاةُ الْعِيدِ) لِأَنَّهَا لَا تُعَادُ وَلَا تُقْضَى وَهُوَ مُخَاطَبٌ بِهَا، وَلَا يُمْكِنُهُ أَدَاؤُهَا بِالْوُضُوءِ فَيَتَيَمَّمُ كَالْمَرِيضِ.
قَالَ: (وَلَا يَجُوزُ لِلْجُمُعَةِ وَإِنْ خَافَ الْفَوْتَ) لِأَنَّهَا تَفُوتُ إِلَى خَلَفٍ وَهُوَ الظُّهْرُ؛ لِأَنَّ الظُّهْرَ فَرْضُ الْوَقْتِ عَلَى مَا نُبَيِّنُهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
(وَلَا) يَجُوزُ (لِلْفَرْضِ إِذَا خَافَ فَوْتَ الْوَقْتِ) لِأَنَّهَا تَفُوتُ إِلَى خُلْفٍ وَهُوَ الْقَضَاءُ.
قَالَ: (وَيَنْقُضُهُ نَوَاقِضُ الْوُضُوءِ) لِأَنَّهُ خَلَفٌ عَنْهُ، وَمَا يَنْقُضُ الْأَصْلَ أَوْلَى أَنْ يَنْقُضَ الْخَلَفَ لِأَنَّ الْأَصْلَ أَقْوَى.
قَالَ: (وَ) يَنْقُضُهُ (الْقُدْرَةُ عَلَى الْمَاءِ وَاسْتِعْمَالُهُ) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «مَا لَمْ تَجِدِ الْمَاءَ» ، وَالْمَاءُ مَوْضُوعٌ فِي الْجُبِّ وَغَيْرِهِ بِالْفَلَاةِ لَا يَنْقُضُهُ لِأَنَّهُ مَوْضُوعٌ لِلشُّرْبِ.
قَالَ: (وَلَوْ صَلَّى الْمُسَافِرُ بِالتَّيَمُّمِ وَنَسِيَ الْمَاءَ فِي رَحْلِهِ لَمْ يُعِدْ) وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ: يُعِيدُ لِأَنَّهُ تَيَمَّمَ قَبْلَ الطَّلَبِ مَعَ الدَّلِيلِ، فَإِنَّ الرَّحْلَ لَا يَخْلُو عَنِ الْمَاءِ عَادَةً، وَصَارَ كَمَا إِذَا صَلَّى عُرْيَانًا وَنَسِيَ الثَّوْبَ، أَوْ كَفَّرَ بِالصَّوْمِ وَنَسِيَ الْمَالَ. وَلَهُمَا أَنَّهُ عَاجِزٌ عَنِ اسْتِعْمَالِ الْمَاءِ لِأَنَّهُ لَا قُدْرَةَ عَلَيْهِ مَعَ النِّسْيَانِ، وَعَجْزُهُ بِأَمْرٍ سَمَاوِيٍّ وَهُوَ النِّسْيَانُ، قَالَ عليه الصلاة والسلام لِلَّذِي أَفْطَرَ نَاسِيًا: «إِنَّمَا أَطْعَمَكَ رَبُّكَ وَسَقَاكَ» بِخِلَافِ الْمَحْبُوسِ ; لِأَنَّ الْعَجْزَ مِنْ جِهَةِ الْعِبَادِ فَلَا يُؤَثِّرُ فِي إِسْقَاطِ حَقِّ الشَّرْعِ فَلَا يَجُوزُ لَهُ التَّيَمُّمُ. وَأَمَّا مَسْأَلَةُ الثَّوْبِ فَمَمْنُوعَةٌ عَلَى الصَّحِيحِ، وَلَئِنْ سَلِمَتْ فَالْفَرْقُ أَنَّ الْوُضُوءَ فَاتَ إِلَى خَلَفٍ وَسَتْرُ الْعَوْرَةِ فَاتَ لَا إِلَى خَلَفٍ. وَأَمَّا مَسْأَلَةُ الْكَفَّارَةِ فَالْفَرْقُ أَنَّ شَرْطَ جَوَازِ الصَّوْمِ عَدَمُ كَوْنِ الْمَاءِ فِي مِلْكِهِ وَلَمْ يُوجَدْ وَشَرْطُ جَوَازِ التَّيَمُّمِ الْعَجْزُ عَنِ اسْتِعْمَالِ الْمَاءِ وَقَدْ وُجِدَ، وَالرَّحْلُ عَادَةً لَا يَخْلُو عَنْ مَاءِ الشُّرْبِ، أَمَّا مَاءُ الْوُضُوءِ فَالْغَالِبُ الْعَدَمُ فِيهِ، وَلَوْ ظَنَّ أَنَّ مَاءَهُ قَدْ فَنِيَ وَلَمْ يَتَيَقَّنْ لَمْ يَجُزْ تَيَمُّمُهُ؛ لِأَنَّ الْيَقِينَ لَا يَزُولُ بِالظَّنِّ.
(وَيَطْلُبُ الْمَاءَ مِنْ رَفِيقِهِ) لِاحْتِمَالِ أَنْ يُعْطِيَهُ.
(فَإِنْ مَنَعَهُ تَيَمَّمَ) لِأَنَّ بِالْمَنْعِ صَارَ عَادِمًا لِلْمَاءِ، وَإِنْ تَيَمَّمَ قَبْلَ الطَّلَبِ جَازَ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ؛ لِأَنَّهُ عَاجِزٌ وَلَا يَجِبُ عَلَيْهِ الطَّلَبُ، وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ لَا يَجُوزُ لِأَنَّ الْمَاءَ مَبْذُولٌ عَادَةً فَصَارَ كَالْمَوْجُودِ، وَعَلَى قِيَاسِ قَوْلِ مُحَمَّدٍ إِنْ غَلَبَ عَلَى ظَنِّهِ أَنَّهُ يُعْطِيهِ لَا يَجُوزُ، وَإِلَّا يَجُوزُ.
(وَيَشْتَرِي الْمَاءَ بِثَمَنِ الْمِثْلِ إِذَا كَانَ قَادِرًا عَلَيْهِ) لِأَنَّ الْقُدْرَةَ عَلَى الْبَدَلِ قُدْرَةٌ عَلَى الْمُبْدَلِ. (وَلَا يَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَشْتَرِيَهُ بِأَكْثَرَ) وَالْكَثِيرُ: مَا فِيهِ غَبْنٌ فَاحِشٌ، وَهُوَ ضِعْفُ ثَمَنِ
তেমনিভাবে ঈদের সালাত (ফাতওয়া); তবে জুমুআর জন্য (তায়াম্মুম) বৈধ নয় যদিও তা ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে, এবং ফরয সালাতের জন্যও নয় যখন ওয়াক্ত শেষ হওয়ার ভয় থাকে। উযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ তায়াম্মুমকেও ভঙ্গ করে দেয় এবং পানি পাওয়া ও তা ব্যবহারের সক্ষমতাও একে ভঙ্গ করে। যদি মুসাফির তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করে এবং তার হাওদায় থাকা পানির কথা ভুলে যায়, তবে তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে না (ফখরুুল ইসলাম), সে তার সঙ্গীর কাছে পানি চাইবে, যদি সে তাকে দিতে অস্বীকার করে তবে তায়াম্মুম করবে। সে সমমূল্যে পানি ক্রয় করবে যদি সে তাতে সক্ষম হয়, আর এর চেয়ে বেশি মূল্যে ক্রয় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়।
—
[আল-ইখতিয়ার লি-তালীলি আল-মুখতার]সেসব বিষয়ের ভিত্তিতে যা আপনার সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ তাআলা, ফলে তা ছুটে যাবে।
(তেমনিভাবে ঈদের সালাত) কারণ তা পুনরায় আদায় করা হয় না এবং তার কাযাও করা হয় না, অথচ সে এর জন্য আদিষ্ট। আর তার পক্ষে উযুর মাধ্যমে তা আদায় করা সম্ভব নয়, তাই সে অসুস্থ ব্যক্তির ন্যায় তায়াম্মুম করবে।
তিনি বলেন: (এবং জুমুআর জন্য বৈধ নয় যদিও তা ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে) কারণ এটি একটি বিকল্পের দিকে স্থানান্তরিত হয় আর তা হলো যুহর; কেননা যুহর হলো সেই সময়ের ফরয যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা বর্ণনা করব।
এবং (না) বৈধ নয় (ফরয সালাতের জন্য যখন ওয়াক্ত শেষ হওয়ার ভয় থাকে) কারণ এটি একটি বিকল্পের দিকে চলে যায় আর তা হলো কাযা।
তিনি বলেন: (এবং উযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ তায়াম্মুম ভঙ্গ করে দেয়) কারণ এটি উযুর স্থলাভিষিক্ত। আর যা আসলকে ভঙ্গ করে তা স্থলাভিষিক্তকে ভঙ্গ করার জন্য অধিক উপযোগী, কারণ আসল হলো অধিক শক্তিশালী।
তিনি বলেন: (এবং) তায়াম্মুম ভঙ্গ করে (পানি পাওয়া এবং তা ব্যবহারের সক্ষমতা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই বাণীর কারণে: "যতক্ষণ না তুমি পানি পাও"। আর মরুভূমিতে কুপ বা অন্য কিছুতে রাখা পানি তায়াম্মুম ভঙ্গ করবে না কারণ তা পান করার জন্য রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন: (যদি মুসাফির তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করে এবং তার হাওদায় পানির কথা ভুলে যায়, তবে তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে না)। ইমাম আবু ইউসুফ (র.) বলেন: পুনরায় আদায় করবে; কারণ সে খোঁজাখুঁজি করার আগে এবং নিদর্শন থাকা সত্ত্বেও তায়াম্মুম করেছে, কেননা সাধারণত হাওদা পানি শূন্য থাকে না। এটি এমন ব্যক্তির ন্যায় হলো যে নগ্ন অবস্থায় সালাত আদায় করল অথচ সে কাপড়ের কথা ভুলে গিয়েছিল, অথবা যে ব্যক্তি সিয়ামের মাধ্যমে কাফফারা আদায় করল অথচ সে সম্পদের কথা ভুলে গিয়েছিল। আর শাইখাইনের (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদ) দলিল হলো যে, সে পানি ব্যবহারে অক্ষম ছিল কারণ ভুলে যাওয়ার কারণে তার কোনো সক্ষমতা ছিল না, আর তার এই অক্ষমতা একটি আসমানী বিষয়ের কারণে অর্থাৎ ভুলে যাওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলবশত রোজা ভঙ্গকারীর উদ্দেশ্যে বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তোমাকে আহার করিয়েছেন এবং পান করিয়েছেন।" কারারুদ্ধ ব্যক্তির বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ সেই অক্ষমতা বান্দার পক্ষ থেকে, যা শরীয়তের হক বিলোপ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না, তাই তার জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ হবে না। আর কাপড়ের মাসআলাটি বিশুদ্ধ মতানুসারে অগ্রহণযোগ্য, আর যদি তা মেনেও নেওয়া হয় তবে পার্থক্য হলো, উযু বিলুপ্ত হয়ে তার বিকল্পে (তায়াম্মুম) স্থানান্তরিত হয়েছে, কিন্তু সতর ঢাকা বিলুপ্ত হয়ে কোনো বিকল্পে যায়নি। আর কাফফারার মাসআলার পার্থক্য হলো, রোজা বৈধ হওয়ার শর্ত হলো তার মালিকানায় সম্পদ না থাকা, যা এখানে বিদ্যমান ছিল না; আর তায়াম্মুম বৈধ হওয়ার শর্ত হলো পানি ব্যবহারে অক্ষম হওয়া, যা এখানে পাওয়া গিয়েছে। আর হাওদা সাধারণত পানের পানি শূন্য থাকে না, কিন্তু উযুর পানির ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় না থাকাই প্রবল। আর যদি সে ধারণা করে যে তার পানি শেষ হয়ে গিয়েছে কিন্তু নিশ্চিত না হয়, তবে তার তায়াম্মুম বৈধ হবে না; কারণ নিশ্চিত বিষয় নিছক ধারণার কারণে দূরীভূত হয় না।
(এবং সে তার সাথীর কাছে পানি চাইবে) কারণ সম্ভাবনা আছে সে তাকে তা প্রদান করবে।
(যদি সে তাকে দিতে অস্বীকার করে তবে তায়াম্মুম করবে) কারণ দিতে অস্বীকার করার মাধ্যমে সে পানিহীন ব্যক্তিতে পরিণত হলো। যদি সে চাওয়ার আগেই তায়াম্মুম করে তবে ইমাম আবু হানিফার মতে তা বৈধ হবে; কারণ সে অক্ষম এবং তার ওপর চাওয়া ওয়াজিব নয়। ইমাম আবু ইউসুফের মতে বৈধ হবে না কারণ সাধারণত পানি সরবরাহ করা হয় তাই এটি পানি বিদ্যমান থাকার মতোই। ইমাম মুহাম্মাদের বর্ণনার কিয়াস অনুযায়ী, যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে সে তাকে পানি দিবে তবে তায়াম্মুম বৈধ হবে না, অন্যথায় বৈধ হবে।
(এবং সে সমমূল্যে পানি ক্রয় করবে যদি সে তাতে সক্ষম হয়) কারণ বিকল্পের ওপর সক্ষমতা মূল বিষয়ের ওপর সক্ষমতা বলে গণ্য। (এবং তার ওপর এর চেয়ে বেশি মূল্যে ক্রয় করা ওয়াজিব নয়)। আর বেশি মূল্য হলো যাতে গাবনে ফাহেশ (অত্যধিক ঠকানো) থাকে, আর তা হলো মূল দামের দ্বিগুণ।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَلَا يَجْمَعُ بَيْنَ الْوُضُوءَ وَالتَّيَمُّمِ، فَمَنْ كَانَ بِهِ جِرَاحَةٌ غَسَلَ بَدَنَهُ إِلَّا مَوْضِعَهَا، وَلَا يَتَيَمَّمُ لَهَا.
بَابُ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِوَيَجُوزُ لِمَنْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ لَا الْغُسْلُ، وَيُشْتَرَطُ لُبْسُهُمَا عَلَى طَهَارَةٍ كَامِلَةٍ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] الْمِثْلِ فِي ذَلِكَ الْمَكَانِ لِأَنَّهُ ضَرَرٌ بِهِ. وَرَوَى الْحَسَنُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ إِذَا قَدَرَ أَنْ يَشْتَرِيَ مَا يُسَاوِي دِرْهَمًا بِدِرْهَمٍ وَنِصْفٍ لَا يَتَيَمَّمُ، وَقِيلَ: يُعْتَبَرُ الْغَبْنُ الْفَاحِشُ، وَهُوَ مَا لَا يَدْخُلُ تَحْتَ تَقْوِيمِ الْمُقَوِّمِينَ.
قَالَ: (وَلَا يَجْمَعُ بَيْنَ الْوُضُوءِ وَالتَّيَمُّمِ، فَمَنْ كَانَ بِهِ جِرَاحَةٌ) يَضُرُّهَا الْمَاءُ وَوَجَبَ عَلَيْهِ الْغُسْلُ. (غَسَلَ بَدَنَهُ إِلَّا مَوْضِعَهَا وَلَا يَتَيَمَّمُ لَهَا) ، وَكَذَلِكَ إِنْ كَانَتِ الْجِرَاحَةُ فِي شَيْءٍ مِنْ أَعْضَاءِ الْوُضُوءِ غَسَلَ الْبَاقِيَ إِلَّا مَوْضِعَهَا. وَلَا يَتَيَمَّمُ لَهَا وَإِنْ كَانَ الْجِرَاحُ أَوِ الْجُدَرِيُّ فِي أَكْثَرِ جَسَدِهِ فَإِنَّهُ يَتَيَمَّمُ وَلَا يَغْسِلُ بَقِيَّةَ جَسَدِهِ؛ لِأَنَّ الْجَمْعَ بَيْنَهُمَا جَمْعٌ بَيْنَ الْبَدَلِ وَالْمُبْدَلِ وَلَا نَظِيرَ لَهُ فِي الشَّرْعِ، بِخِلَافِ الْجَمْعِ بَيْنَ التَّيَمُّمِ وَسُؤْرِ الْحِمَارِ ; لِأَنَّ الْفَرْضَ يَتَأَدَّى بِأَحَدِهِمَا لَا بِهِمَا، فَجَمَعْنَا بَيْنَهُمَا لِمَكَانِ الشَّكِّ. وَإِنْ كَانَ النِّصْفُ جَرِيحًا وَالنِّصْفُ صَحِيحًا لَا رِوَايَةَ فِيهِ، وَاخْتَلَفَ فِيهِ الْمَشَايِخُ، فَمِنْهُمْ مَنْ أَوْجَبَ التَّيَمُّمَ لِأَنَّهُ طَهَارَةٌ كَامِلَةٌ، وَمِنْهُمْ مَنْ أَوْجَبَ غَسْلَ الصَّحِيحِ وَمَسْحَ الْجَرِيحِ إِذَا لَمْ يَضُرُّهُ الْمَسْحُ لِأَنَّهَا طَهَارَةٌ حَقِيقِيَّةٌ وَحُكْمِيَّةٌ فَكَانَ أَوْلَى، وَالْأَوَّلُ أَحْسَنُ.
[بَابُ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ]
الْأَصْلُ فِي جَوَازِهِ السُّنَّةُ، وَهِيَ مَا رُوِيَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَمْسَحُ الْمُسَافِرُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ بِلَيَالِيهَا، وَالْمُقِيمُ يَوْمًا وَلَيْلَةً» . وَقَالَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ: «حَدَّثَنِي سَبْعُونَ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمْ رَأَوْهُ يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ» . وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: مَنْ أَنْكَرَ الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ يُخَافُ عَلَيْهِ الْكُفْرُ، فَإِنَّهُ وَرَدَ فِيهِ مِنَ الْأَخْبَارِ مَا يُشْبِهُ التَّوَاتُرَ. وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ: يَجُوزُ نَسْخُ الْقُرْآنِ بِمِثْلِهِ. وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: لَوْلَا أَنَّ الْمَسْحَ لَا يُخْتَلَفُ فِيهِ لَمَا مَسَحْنَا.
قَالَ: (وَيَجُوزُ لِمَنْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ لَا الْغُسْلُ) لِحَدِيثِ صَفْوَانَ قَالَ: «أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كُنَّا سَفَرًا أَنْ لَا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهَا لَا عَنْ جَنَابَةٍ، لَكِنْ عَنْ بَوْلٍ أَوْ غَائِطٍ أَوْ نَوْمٍ» .
(وَيُشْتَرَطُ لُبْسُهُمَا عَلَى طَهَارَةٍ كَامِلَةٍ) سَوَاءٌ أُكْمِلَتْ قَبْلَ اللَّبْسِ أَوْ بَعْدَهُ، حَتَّى لَوْ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثُمَّ لَبِسَ خُفَّيْهِ، ثُمَّ أَكْمَلَ الطَّهَارَةَ جَازَ الْمَسْحُ. وَكَمَالُ الطَّهَارَةِ شَرْطٌ عِنْدَ الْحَدَثِ ; لِأَنَّ الْخُفَّ يَمْنَعُ سِرَايَةَ
ওযু এবং তায়াম্মুমকে একত্রে মিলিত করা যাবে না। সুতরাং যার শরীরে ক্ষত আছে, সে ক্ষতস্থান ব্যতীত শরীরের বাকি অংশ ধৌত করবে এবং সেটির জন্য তায়াম্মুম করবে না।
মোজার ওপর মাসেহ করার অধ্যায়আর এটি তার জন্য বৈধ যার ওপর ওযু ওয়াজিব হয়েছে, গোসল নয়। আর শর্ত হলো পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় মোজা দুটি পরিধান করা,
--
[আল-ইখতিয়ার লি-তা'লিলিল মুখতার] সেই স্থানে সমমূল্য হওয়া জরুরি, কারণ এটি তার জন্য ক্ষতিকর। হাসান ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যদি কেউ এক দিরহাম মূল্যের বস্তু দেড় দিরহাম দিয়ে ক্রয় করতে সক্ষম হয়, তবে সে তায়াম্মুম করবে না। এবং বলা হয়েছে: এক্ষেত্রে 'গাবনে ফাহিশ' (অত্যধিক লোকসান) ধর্তব্য হবে, আর তা হলো যা কোনো বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নকারীর মূল্যায়নের আওতার বাইরে থাকে।
তিনি (গ্রন্থকার) বলেন: (ওযু এবং তায়াম্মুমকে একত্রে মিলিত করা যাবে না। সুতরাং যার শরীরে ক্ষত আছে) যা পানি ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার ওপর গোসল ওয়াজিব হয়। (তবে সে ক্ষতস্থান ব্যতীত তার পুরো শরীর ধৌত করবে এবং সেটির জন্য তায়াম্মুম করবে না)। তেমনিভাবে যদি ক্ষত ওযুর অঙ্গসমূহের কোনো একটিতে হয়, তবে সে ক্ষতস্থান বাদে বাকি অংশ ধৌত করবে এবং সেটির জন্য তায়াম্মুম করবে না। আর যদি ক্ষত বা বসন্তের গুটি শরীরের অধিকাংশ স্থানে হয়, তবে সে তায়াম্মুম করবে এবং শরীরের বাকি অংশ ধৌত করবে না; কারণ এই দুটির সমন্বয় করা হলো মূল এবং তার স্থলাভিষিক্তের (বদল ও মুবদাল) সমন্বয় করা, আর শরীয়তে এর কোনো নজির নেই। তবে তায়াম্মুম এবং গাধার উচ্ছিষ্ট পানির সমন্বয়ের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ ফরজ কোনো একটির মাধ্যমেই আদায় হয়ে যায়, উভয়টির মাধ্যমে নয়। সুতরাং আমরা সন্দেহের অবকাশ থাকার কারণে উভয়ের সমন্বয় করেছি। আর যদি শরীরের অর্ধেক ক্ষতবিক্ষত হয় এবং অর্ধেক সুস্থ থাকে, তবে এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো বর্ণনা নেই এবং মাশায়েখগণ এতে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তায়াম্মুম করা ওয়াজিব করেছেন কারণ এটি পূর্ণ পবিত্রতা। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ সুস্থ অংশ ধৌত করা এবং ক্ষতস্থান মাসেহ করা ওয়াজিব করেছেন—যদি মাসেহ করা তার ক্ষতি না করে—কারণ এটি একইসাথে প্রকৃত এবং হুকমী পবিত্রতা, তাই এটিই উত্তম। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর সুন্দর।
[মোজার ওপর মাসেহ করার অধ্যায়]
এর বৈধতার মূল ভিত্তি হলো সুন্নাহ। আর তা হলো যা আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "মুসাফির তিন দিন তিন রাত এবং মুকিম (নিবাসী) এক দিন এক রাত মাসেহ করবে।" হাসান বসরী বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সত্তরজন সাহাবী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তারা তাঁকে মোজার ওপর মাসেহ করতে দেখেছেন।" ইমাম আবু হানিফা বলেন: যে ব্যক্তি মোজার ওপর মাসেহ করা অস্বীকার করে তার ব্যাপারে কুফরীর আশঙ্কা করা হয়; কেননা এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির বা অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার কাছাকাছি। ইমাম আবু ইউসুফ বলেন: এ ধরনের হাদীস দ্বারা কুরআনের হুকুম নাসখ (রহিত) করা জায়েয। ইমাম আবু হানিফা বলেন: যদি মোজার ওপর মাসেহ করার বিষয়ে কোনো দ্বিমত না থাকতো, তবে আমরা মাসেহ করতাম না।
তিনি বলেন: (এবং এটি তার জন্য বৈধ যার ওপর ওযু ওয়াজিব হয়েছে, গোসল নয়) সাফওয়ান (রা.) বর্ণিত হাদীসের কারণে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, যখন আমরা সফরে থাকি তখন যেন তিন দিন তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি; জানাবাতের (বড় নাপাকি) কারণে নয়, বরং প্রস্রাব, পায়খানা বা ঘুমের কারণে (মোজা খোলার প্রয়োজন নেই)।"
(আর শর্ত হলো পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় মোজা দুটি পরিধান করা) চাই তা পরিধানের আগে পূর্ণ হোক বা পরে। এমনকি যদি কেউ তার দুই পা ধুয়ে মোজা পরিধান করে, এরপর ওযু পূর্ণ করে, তবে মাসেহ করা জায়েয হবে। আর হাদাস (অপবিত্রতা) ঘটার সময় পবিত্রতা পূর্ণ থাকা শর্ত; কারণ মোজা অপবিত্রতা ছড়িয়ে পড়াকে বাধা দেয়।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وَيَمْسَحُ الْمُقِيمُ يَوْمًا وَلَيْلَةً، وَالْمُسَافِرُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهَا عَقِيبَ الْحَدَثِ بَعْدَ اللُّبْسِ، وَيَمْسَحُ عَلَى ظَاهِرِهِمَا خُطُوطًا بِالْأَصَابِعِ، وَفَرْضُهُ مِقْدَارُ ثَلَاثَةِ (ف) أَصَابِعَ مِنَ الْيَدِ. وَالسُّنَّةُ أَنْ يَبْدَأَ مِنْ أَصَابِعِ الرِّجْلِ إِلَى السَّاقِ، وَلَا يَجُوزُ عَلَى خُفٍّ فِيهِ خَرْقٌ يُبَيِّنُ مِنْهُ مِقْدَارَ ثَلَاثَةِ (ف) أَصَابِعَ مِنْ أَصَابِعِ الرِّجْلِ الصِّغَارِ، وَتُجْمَعُ خُرُوقُ كُلِّ خُفٍّ عَلَى حِدَتِهِ. وَيَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَى الْجُرْمُوقِ (ف) فَوْقَ الْخُفِّ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] الْحَدَثِ إِلَى الرِّجْلِ، وَلَا يَرْفَعُهُ فَيَظْهَرُ حُكْمُهُ عِنْدَ الْحَدَثِ فَيُعْتَبَرُ الشَّرْطُ عِنْدَهُ.
قَالَ: (وَيَمْسَحُ الْمُقِيمُ يَوْمًا وَلَيْلَةً، وَالْمُسَافِرُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهَا) لِلْحَدِيثِ أَوَّلَهَا.
(عَقِيبَ الْحَدَثِ بَعْدَ اللَّبْسِ) لِأَنَّ مَا قَبْلَ ذَلِكَ فَهِيَ طَهَارَةُ الْغُسْلِ لَا الْمَسْحِ ; لِأَنَّ الْخُفَّ جُعِلَ مَانِعًا مِنْ سِرَايَةِ الْحَدَثِ، وَذَلِكَ عِنْدَ الْحَدَثِ لَا قَبْلَهُ.
قَالَ: (وَيَمْسَحُ عَلَى ظَاهِرِهِمَا) حَتَّى لَوْ مَسَحَ بَاطِنَهُ أَوْ عَقِبَهُ أَوْ سَاقَهُ لَا يَجُوزُ لِقَوْلِ عَلِيٍّ رضي الله عنه: «لَوْ كَانَ الدِّينُ بِالرَّأْيِ لَكَانَ بَاطِنُ الْخُفِّ أَوْلَى بِالْمَسْحِ، لَكِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ ظَاهِرَهُمَا» .
(خُطُوطًا بِالْأَصَابِعِ) . قَالَ: (وَفَرْضُهُ مِقْدَارُ ثَلَاثَةِ أَصَابِعَ مِنَ الْيَدِ) ذَكَرَهُ مُحَمَّدٌ وَهُوَ الْأَصَحُّ، لِأَنَّهَا آلَةُ الْمَسْحِ.
وَقَالَ الْكَرْخِيُّ: مِنْ أَصَابِعِ الرِّجْلِ، وَلَوْ أَصَابَ مَوْضِعَ الْمَسْحِ مَاءٌ قَدْرَ ثَلَاثِ أَصَابِعَ جَازَ، وَكَذَلِكَ لَوْ مَشَى فِي حَشِيشٍ مُبْتَلٍّ بِالْمَطَرِ، وَلَوْ كَانَ مُبَتَّلًا بِالطَّلِّ قِيلَ: يَجُوزُ لِأَنَّهُ مَاءٌ، وَقِيلَ: لَا، لِأَنَّهُ نَفَسُ دَابَّةٍ مِنَ الْبَحْرِ يَجْذِبُهُ الْهَوَاءُ إِلَى الْأَرْضِ.
(وَالسُنَّةُ أَنْ يَبْدَأَ مِنْ أَصَابِعِ الرِّجْلِ إِلَى السَّاقِ) هَكَذَا نُقِلَ فِعْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَلَوْ بَدَأَ مِنَ السَّاقِ إِلَى الْأَصَابِعِ جَازَ لِحُصُولِ الْمَقْصُودِ إِلَّا أَنَّهُ خِلَافُ السُّنَّةِ.
قَالَ: (وَلَا يَجُوزُ عَلَى خُفٍّ فِيهِ خَرْقٌ يَبِينُ مِنْهُ مِقْدَارُ ثَلَاثَةِ أَصَابِعَ مِنْ أَصَابِعِ الرِّجْلِ الصِّغَارِ) وَإِنْ كَانَ أَقَلَّ مِنْ ذَلِكَ يَجُوزُ؛ لِأَنَّ خِفَافَ النَّاسِ لَا تَخْلُو عَنِ الْقَلِيلِ، فَلَوِ اعْتَبَرْنَاهُ لَخَرَجُوا، وَلَا كَذَلِكَ الْكَبِيرُ ; وَلِأَنَّ الْكَبِيرَ يَمْنَعُ الْمَشْيَ الْمُعْتَادَ، فَلَا يَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَيْهِ كَاللِّفَافَةِ وَلَا كَذَلِكَ الْقَلِيلُ، وَالْخَرْقُ الْمَانِعُ أَنْ يَكُونَ مُنْفَرِجًا يُظْهِرُ مَا تَحْتَهُ حَتَّى لَوْ كَانَ طُولًا، أَوْ كَانَ الْخُفُّ قَوِيًّا لَا يُبَيِّنُ مَا تَحْتَهُ لَا يَمْنَعُ ; لِأَنَّ الْمُعْتَبَرَ الظُّهُورُ حَتَّى يَجِبَ الْغَسْلُ، فَإِذَا لَمْ يَظْهَرْ لَا يُؤَثِّرُ وَلَوْ كَانَ الْخَرْقُ تَحْتَ الْقَدَمِ، فَإِنْ كَانَ أَكْثَرَ الْقَدَمِ مَنَعَ، وَإِنْ كَانَ فَوْقَ الْكَعْبَيْنِ لَمْ يَمْنَعْ وَإِنْ كَثُرَ، وَاعْتَبَرَ ثَلَاثَةَ أَصَابِعَ لِأَنَّهَا أَكْثَرُ الرِّجْلِ وَالْأَصَابِعُ هِيَ الْأَصْلُ فِي الْقَدَمِ، وَاعْتَبَرْنَا الصِّغَارَ احْتِيَاطًا.
قَالَ: (وَتُجْمَعُ خُرُوقُ كُلِّ خُفٍّ عَلَى حِدَتِهِ) وَلَا يَجْمَعُ خُرُوقَ الْخُفَّيْنِ، وَلَوْ كَانَتِ النَّجَاسَةُ فِي خُفَّيِ الْمُصَلِّي أَوْ ثَوْبَيْهِ أَوْ ثَوْبِهِ وَبَدَنِهِ تُجْمَعُ ; لِأَنَّ النَّجَاسَةَ مَانِعَةٌ مِنَ الصَّلَاةِ لِعَيْنِهَا، وَخَرْقُ الْخُفِّ لَيْسَ مَانِعًا لِعَيْنِهِ، بَلْ لِكَوْنِهِ مَانِعًا مِنْ تَتَابُعِ الْمَشْيِ، وَذَلِكَ فِي الْوَاحِدِ لَا فِي الْخُفَّيْنِ.
قَالَ: (وَيَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَى الْجُرْمُوقِ فَوْقَ الْخُفِّ) لِمَا رُوِيَ «أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام مَسَحَ عَلَى الْجَرْمُوقَيْنِ» ، وَلِأَنَّهُمَا كَخُفٍّ ذِي طَاقَيْنِ، وَمَعْنَاهُمَا إِذَا لَبِسَهُمَا عَلَى الْخُفَّيْنِ قَبْلَ الْحَدَثِ، حَتَّى لَوْ لَبِسَهُمَا بَعْدَ الْحَدَثِ أَوْ بَعْدَ
একজন মুকিম একদিন ও একরাত, এবং একজন মুসাফির তিনদিন ও তিনরাত পর্যন্ত মাসেহ করবে; তা হবে মোজা পরিধান করার পর অজু ভঙ্গের (হাদাস) সময় থেকে। সে তার আঙ্গুলগুলো দিয়ে উভয় মোজার উপরিভাগে রেখা টেনে মাসেহ করবে। এর ফরজ হলো হাতের তিন আঙ্গুল পরিমাণ জায়গা মাসেহ করা। আর সুন্নাত হলো পায়ের আঙ্গুল থেকে শুরু করে নলার দিকে মাসেহ করা। এমন মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েজ নয় যাতে এমন ছিদ্র থাকে যা থেকে পায়ের ছোট তিন আঙ্গুল পরিমাণ স্থান প্রকাশ পায়; আর প্রতিটি মোজার ছিদ্র পৃথকভাবে গণনা করা হবে। মোজার ওপর জুর্মুক (অতিরিক্ত চামড়ার মোজা) পরিধান করলে তার ওপরও মাসেহ করা জায়েজ,
--
[আল-ইখতিয়ার লি-তালীিল আল-মুখতার] অপবিত্রতা পা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, এবং অজু ভঙ্গের সময় পর্যন্ত তা খুলে ফেলবে না; ফলে অজু ভঙ্গের সময় মাসেহ করার বিধান কার্যকর হবে এবং সেই সময়ই শর্তটি বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন: (একজন মুকিম একদিন ও একরাত এবং মুসাফির তিনদিন ও তিনরাত মাসেহ করবে) কারণ অনুচ্ছেদের শুরুতে বর্ণিত হাদিসে এই সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।
(মোজা পরিধানের পর অজু ভঙ্গের সময় থেকে) কারণ এর আগের সময়টুকুতে মাসেহ নয় বরং ধোয়ার পবিত্রতা বিদ্যমান থাকে। কেননা মোজা পরিধান করা হয় অপবিত্রতা ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য, আর এটি অপবিত্রতা অর্জিত হওয়ার সময়ই কার্যকর হয়, তার আগে নয়।
তিনি বলেন: (উভয় মোজার উপরিভাগে মাসেহ করবে) এমনকি যদি কেউ মোজার নিচের অংশে, গোড়ালিতে বা নলায় মাসেহ করে তবে তা জায়েজ হবে না। কারণ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তি: «যদি দ্বীন ব্যক্তিগত মতামতের ওপর ভিত্তি করে হতো, তবে মোজার উপরিভাগের চেয়ে নিচের অংশ মাসেহ করাই বেশি যুক্তিযুক্ত হতো। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর উভয় মোজার উপরিভাগে মাসেহ করতে দেখেছি।»
(আঙ্গুল দিয়ে রেখা টেনে)। তিনি বলেন: (আর মাসেহ-এর ফরজ হলো হাতের তিন আঙ্গুল পরিমাণ জায়গা) ইমাম মুহাম্মদ এটি উল্লেখ করেছেন এবং এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত; কারণ হাত হলো মাসেহ করার মাধ্যম।
আর ইমাম কারখী বলেছেন: পায়ের তিন আঙ্গুল পরিমাণ। যদি মাসেহ করার স্থানে তিন আঙ্গুল পরিমাণ পানি পৌঁছে যায় তবে তা জায়েজ হবে। একইভাবে যদি বৃষ্টির পানিতে ভেজা ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটে (এবং ঐ পরিমাণ জায়গা ভিজে যায় তবে জায়েজ হবে)। আর যদি ঘাস কুয়াশায় ভেজা থাকে, তবে কেউ কেউ বলেছেন: জায়েজ হবে, কারণ তা পানি। আবার কেউ বলেছেন: না, কারণ তা সমুদ্রের কোনো প্রাণীর নিঃশ্বাস যা বাতাস মাটি পর্যন্ত টেনে আনে।
(সুন্নাত হলো পায়ের আঙ্গুল থেকে শুরু করে নলা পর্যন্ত মাসেহ করা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। যদি কেউ নলা থেকে শুরু করে আঙ্গুলের দিকে মাসেহ করে তবে মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়ার কারণে তা জায়েজ হবে, কিন্তু এটি সুন্নাতের পরিপন্থী।
তিনি বলেন: (এমন মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েজ নয় যাতে এমন ছিদ্র থাকে যা থেকে পায়ের ছোট তিন আঙ্গুল পরিমাণ স্থান দৃশ্যমান হয়) যদি ছিদ্র এর চেয়ে কম হয় তবে জায়েজ; কারণ মানুষের মোজা সাধারণত সামান্য ছিদ্র থেকে মুক্ত থাকে না। সুতরাং আমরা যদি সামান্য ছিদ্রকেও গণ্য করতাম তবে মানুষের জন্য সংকীর্ণতা তৈরি হতো। কিন্তু বড় ছিদ্রের বিষয়টি এমন নয়। তদুপরি, বড় ছিদ্র স্বাভাবিক চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করে, তাই তার ওপর মাসেহ করা জায়েজ নয় যেমনটি পট্টির (লিফাফাহ) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু সামান্য ছিদ্র চলাচলে বাধা দেয় না। আর যে ছিদ্র মাসেহ করতে বাধা দেয় তা হলো যা বিস্তৃত হয়ে নিচের অংশ প্রকাশ করে দেয়। এমনকি যদি ছিদ্রটি লম্বালম্বি হয় বা মোজাটি শক্ত হওয়ার কারণে নিচের অংশ দেখা না যায়, তবে তা মাসেহ করতে বাধা দেবে না। কারণ বিবেচ্য বিষয় হলো অঙ্গের প্রকাশ পাওয়া যার ফলে ধোয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। সুতরাং যখন প্রকাশ পায় না, তখন তা কোনো প্রভাব ফেলবে না। ছিদ্র যদি পায়ের পাতার নিচে হয় এবং তা যদি পায়ের পাতার অধিকাংশ স্থান জুড়ে থাকে তবে মাসেহ করতে বাধা দেবে। আর ছিদ্র যদি টাখনুর উপরে হয় তবে তা বেশি হলেও মাসেহ করতে বাধা দেবে না। তিন আঙ্গুল পরিমাণকে মানদণ্ড ধরা হয়েছে কারণ এটি পায়ের অধিকাংশের হুকুম রাখে এবং পায়ের ক্ষেত্রে আঙ্গুলগুলোই মূল। আর আমরা সতর্কতাস্বরূপ ছোট আঙ্গুলকে বিবেচনার বিষয় ধরেছি।
তিনি বলেন: (প্রতিটি মোজার ছিদ্র আলাদাভাবে হিসাব করা হবে) উভয় মোজার ছিদ্র একত্রে যোগ করা হবে না। যদি মুসল্লির দুই মোজায় বা দুই কাপড়ে অথবা তার কাপড় ও শরীরে নাপাকি থাকে, তবে তা একত্রে যোগ করা হবে; কারণ নাপাকি তার নিজস্ব কারণেই নামাজে বাধা দেয়। কিন্তু মোজার ছিদ্র নিজস্ব কারণে বাধা দেয় না, বরং অনবরত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার কারণে তা মাসেহ করতে বাধা দেয়; আর এই চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রতিটি মোজার ক্ষেত্রে পৃথকভাবে বিবেচিত হয়, উভয়টি মিলে নয়।
তিনি বলেন: (মোজার ওপর জুর্মুক পরিধান করলে তার ওপর মাসেহ করা জায়েজ) কারণ বর্ণিত হয়েছে যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুর্মুকাইন বা জোড়া জুর্মুকের ওপর মাসেহ করেছেন», আর যেহেতু তা দুই স্তরবিশিষ্ট মোজার মতো। এর অর্থ হলো যখন সেই ব্যক্তি অজু ভঙ্গের আগেই মোজার ওপর জুর্মুক পরিধান করবে। এমনকি যদি সে অজু ভঙ্গের পর অথবা মাসেহ করার পর তা পরিধান করে...
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وَيَجُوزُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ إِذَا كَانَا ثَخِينَيْنِ (ف) أَوْ مُجَلَّدَيْنِ أَوْ مُنَعَّلَيْنِ.
وَيَنْقُضُهُ مَا يَنْقُضُ الْوُضُوءَ وَنَزْعُ الْخُفِّ وَمُضِيُّ الْمُدَّةِ، فَإِذَا مَضَتِ الْمُدَّةُ نَزَعَهُمَا وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ، وَخُرُوجُ الْقَدَمِ إِلَى سَاقِ الْخُفِّ نَزْعٌ، وَلَوْ مَسَحَ مُسَافِرٌ ثُمَّ أَقَامَ بَعْدَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ نَزَعَ، وَقَبْلَ ذَلِكَ يُتِمُّ يَوْمًا وَلَيْلَةً، وَلَوْ مَسَحَ مُقِيمٌ ثُمَّ سَافَرَ قَبْلَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ تَمَّمَ مُدَّةَ الْمُسَافِرِ (ف) .
وَلَا يَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَى الْعِمَامَةِ وَالْقَلَنْسُوَةِ وَالْبُرْقُعِ وَالْقُفَّازَيْنِ، وَيَجُوزُ عَلَى الْجَبَائِرِ
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] مَا مَسَحَ عَلَى الْخُفِّ لَا يَمْسَحُ عَلَيْهِمَا ; لَأَنَّ الْحَدَثَ حَلَّ الْخُفَّ، وَيَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَى الْمُكَعَّبِ إِذَا سَتَرَ الْكَعْبَيْنِ، وَكَذَا إِذَا كَانَتْ مُقَدِّمَتُهُ مَشْقُوقَةً، إِلَّا أَنَّهَا مَشْدُودَةٌ أَوْ مُزَرَّرَةٌ لِأَنَّهَا بِمَنْزِلَةِ الْمُخَرَّزَةِ.
قَالَ: (وَيَجُوزُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ إِذَا كَانَا ثَخِينَيْنِ أَوْ مُجَلَّدَيْنِ أَوْ مُنَعَّلَيْنِ) لِمَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «أَنَّهُ مَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ» ، وَرُوِيَ ذَلِكَ عَنْ عَشَرَةٍ مِنَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم. وَكَانَ أَبُو حَنِيفَةَ رضي الله عنه أَوَّلًا يَقُولُ: لَا يَجُوزُ إِلَّا أَنْ يَكُونَا مُنَعَّلَيْنِ ; لِأَنَّهُ لَا يَقْطَعُ فِيهِمَا الْمَسَافَةَ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مَا ذَكَرْنَا وَعَلَيْهِ الْفَتْوَى. قَالَ: (وَيَنْقُضُهُ مَا يَنْقُضُ الْوُضُوءَ) لِأَنَّهُ يَنْقُضُ الْغُسْلَ فَلِأَنْ يَنْقُضَ الْمَسْحَ أَوْلَى.
قَالَ: (وَنَزْعُ الْخُفِّ) لِأَنَّهُ الْمَانِعُ مِنْ سِرَايَةِ الْحَدَثِ إِلَى الرِّجْلِ، فَإِذَا نَزَعَهُ زَالَ الْمَانِعُ، وَلِأَنَّ الْجَوَازَ دَفْعًا لِحَرَجِ النَّزْعِ، وَلَمْ يَبْقَ فَيَغْسِلُهُمَا كَمَا قَبْلَ اللُّبْسِ، وَكَذَلِكَ نَزْعُ أَحَدِ خُفَّيْهِ؛ لِأَنَّهُ يَجِبُ غَسْلُهُمَا فَيَجِبُ غَسْلُ الْأُخْرَى؛ لِئَلَّا يَجْمَعَ بَيْنَ الْأَصْلِ وَالْبَدَلِ.
قَالَ: (وَمُضِيُّ الْمُدَّةِ) لِأَنَّهُ رُخْصَةٌ ثَبَتَتْ مُؤَقَّتَةً فَتَزُولُ بِمُضِيِّ الْوَقْتِ كَالْمُسْتَحَاضَةِ.
قَالَ: (فَإِذَا مَضَتِ الْمُدَّةُ نَزَعَهُمَا وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ) لِمَا بَيَّنَّا.
(وَخُرُوجُ الْقَدَمِ إِلَى سَاقِ الْخُفِّ نَزْعٌ) لِأَنَّهُ لَا يُمْكِنُهُ الْمَشْيُ فِيهِ كَذَلِكَ وَلَوْ خَرَجَ بَعْضُهُ. قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: إِنْ خَرَجَ أَكْثَرُ عَقِبِهِ إِلَى السَّاقِ بَطَلَ مَسْحُهُ لِمَا تَقَدَّمَ. وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ: مَا لَمْ يَخْرُجْ أَكْثَرُ الْقَدَمِ إِلَى السَّاقِ لَا يَبْطُلُ لِأَنَّ لِلْأَكْثَرِ حُكْمَ الْكُلِّ. وَقَالَ مُحَمَّدٌ: إِنْ بَقِيَ مِنَ الْقَدَمِ مِقْدَارُ ثَلَاثَةِ أَصَابِعَ لَمْ يَبْطُلْ لِبَقَاءِ مَحَلِّ الْمَسْحِ.
قَالَ: (وَلَوْ مَسَحَ مُسَافِرٌ ثُمَّ قَامَ بَعْدَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ نَزَعَ) لِأَنَّ الثَّلَاثَ مُدَّةُ السَّفَرِ، وَلَا سَفَرَ فَلَا يَجُوزُ.
(وَقَبْلَ ذَلِكَ يُتِمُّ يَوْمًا وَلَيْلَةً) لِأَنَّهُ مُقِيمٌ فَلْيَسْتَكْمِلْ مُدَّةَ الْإِقَامَةِ.
(وَلَوْ مَسَحَ مُقِيمٌ ثُمَّ سَافَرَ قَبْلَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ تَمَّمَ مُدَّةَ الْمُسَافِرِ) لِأَنَّهُ مُسَافِرٌ، فَإِنَّ الْحُكْمَ يَتَعَلَّقُ بِآخِرِ الْوَقْتِ كَمَا فِي الْمَسْأَلَةِ الْمُتَقَدِّمَةِ بِخِلَافِ مَا إِذَا سَافَرَ بَعْدَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ؛ لِأَنَّ الْحَدَثَ سَرَى إِلَى الرِّجْلِ فَلَا بُدَّ مِنَ الْغَسْلِ.
قَالَ: (وَلَا يَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَى الْعِمَامَةِ وَالْقَلَنْسُوَةِ وَالْبُرْقُعِ وَالْقُفَّازَيْنِ) وَاللِّفَافَةِ ; لِأَنَّ الْمَسْحَ ثَبَتَ فِي الْخُفَّيْنِ لِلْحَرَجِ، وَلَا حَرَجَ فِي نَزْعِ هَذِهِ الْأَشْيَاءِ.
قَالَ: (وَيَجُوزُ) الْمَسْحُ (عَلَى الْجَبَائِرِ) وَلَيْسَ بِفَرْضٍ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ، وَهُوَ الصَّحِيحُ حَتَّى لَوْ تَرَكَهُ مِنْ غَيْرِ ضَرَرٍ جَازَ.
وَقَالَا: لَا يَجُوزُ. لَهُمَا مَا رُوِيَ «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ عَلِيًّا حِينَ كُسِرَتْ زِنْدُهُ يَوْمَ أُحُدٍ بِالْمَسْحِ عَلَيْهَا» ، وَقِيَاسًا عَلَى الْخُفِّ. وَلَهُ أَنَّ الْمَسْحَ بَدَلٌ عَنِ الْغَسْلِ وَلَا يَجِبُ غَسْلُ مَا تَحْتَ الْجَبِيرَةِ لَوْ ظَهَرَ بِخِلَافِ مَا تَحْتَ الْخُفِّ
মোজা যদি মোটা হয় অথবা তাতে চামড়া লাগানো থাকে অথবা তলা বিশিষ্ট হয়, তবে তার ওপর মাসেহ করা জায়েজ।
যেসব বিষয় ওজু ভঙ্গ করে, সেগুলো মাসেহও ভঙ্গ করে। আর চামড়ার মোজা (খুফ) খুলে ফেলা এবং মাসেহর সময়সীমা পার হয়ে যাওয়াও মাসেহ ভঙ্গ করে। সময়সীমা পার হয়ে গেলে সেগুলো খুলে পা ধুয়ে নিতে হবে। চামড়ার মোজার নলি পর্যন্ত পায়ের পাতা বেরিয়ে আসা মোজা খোলার নামান্তর। যদি কোনো মুসাফির মাসেহ করার পর একদিন-একরাত অতিবাহিত হওয়ার পর মুকিম (বাসিন্দার ন্যায় অবস্থানকারী) হয়, তবে সে মোজা খুলে ফেলবে। আর তার আগে একদিন-একরাত পূর্ণ করবে। যদি কোনো মুকিম মাসেহ করার পর একদিন-একরাত পূর্ণ হওয়ার আগে সফরে বের হয়, তবে সে মুসাফিরের সময়সীমা পূর্ণ করবে।
পাগড়ি, টুপি, নেকাব এবং দস্তানার ওপর মাসেহ করা জায়েজ নয়। তবে ব্যান্ডেজ বা পট্টির (জাবাইর) ওপর মাসেহ করা জায়েজ।
—
[আল-ইখতিয়ার লি-তা’লিলিল মুখতার] যে ব্যক্তি চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করেছে, সে ঐ দুইয়ের (পাগড়ি বা টুপি) ওপর মাসেহ করবে না; কারণ অশুচিতা চামড়ার মোজায় নিপতিত হয়েছে। টাখনু আবৃতকারী গোড়ালি ঢাকা জুতার ওপর মাসেহ করা জায়েজ। তেমনি যদি জুতার সম্মুখভাগ চেরা থাকে কিন্তু তা ফিতা বা বোতাম দিয়ে আটকানো থাকে, তবে তা জায়েজ; কারণ তা সেলাই করা জুতার স্থলাভিষিক্ত।
তিনি বলেছেন: (মোজা যদি মোটা হয় অথবা তাতে চামড়া লাগানো থাকে অথবা তলা বিশিষ্ট হয়, তবে তার ওপর মাসেহ করা জায়েজ)। এর কারণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "তিনি মোজার ওপর মাসেহ করেছেন।" এটি দশজন সাহাবী (রাদিআল্লাহু আনহুম) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) প্রথমে বলতেন: তলা বিশিষ্ট না হলে জায়েজ হবে না; কারণ তা দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে তিনি আমরা যা উল্লেখ করেছি সেই মতের দিকে ফিরে আসেন এবং এর ওপরই ফতোয়া। তিনি বলেছেন: (যেসব বিষয় ওজু ভঙ্গ করে, সেগুলো মাসেহও ভঙ্গ করে) কারণ যদি তা গোসলকে ভঙ্গ করে, তবে মাসেহ ভঙ্গ করা তো আরও সমীচীন।
তিনি বলেছেন: (চামড়ার মোজা খুলে ফেলা) কারণ এটিই অশুচিতা পায়ে ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেয়। সুতরাং যখন সে এটি খুলে ফেলবে, তখন সেই বাধা দূর হয়ে যাবে। তাছাড়া মাসেহর অনুমতি দেওয়া হয়েছে মোজা খোলার কষ্ট লাঘব করার জন্য, আর এখন তো সেই কষ্ট অবশিষ্ট নেই। ফলে মোজা পরিধানের আগের ন্যায় সে উভয় পা ধুয়ে নেবে। একইভাবে এক পায়ের মোজা খুললেও একই বিধান; কারণ উভয় পা ধোয়া ওয়াজিব, তাই অপর পা-টিও ধোয়া ওয়াজিব হবে; যাতে মূল (পা ধোয়া) এবং স্থলাভিষিক্তের (মাসেহ) মধ্যে একত্রীকরণ না ঘটে।
তিনি বলেছেন: (সময়সীমা পার হওয়া) কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্ধারিত ছাড়, যা সময় পার হওয়ার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়; যেমন ইস্তিহাজাগ্রস্ত মহিলার হুকুম।
তিনি বলেছেন: (সময়সীমা পার হয়ে গেলে সেগুলো খুলে ফেলবে এবং উভয় পা ধুয়ে নেবে) যা আমরা ইতোমধ্যেই বর্ণনা করেছি।
(চামড়ার মোজার নলি পর্যন্ত পায়ের পাতা বেরিয়ে আসা মোজা খোলার নামান্তর) কারণ এমতাবস্থায় সে তা পরে হাঁটতে পারবে না, যদিও তার কিয়দাংশ বেরিয়ে আসে। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: যদি গোড়ালির অধিকাংশ নলি পর্যন্ত বেরিয়ে আসে তবে তার মাসেহ বাতিল হয়ে যাবে, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম আবু ইউসুফ বলেছেন: যতক্ষণ না পায়ের পাতার অধিকাংশ নলিতে বেরিয়ে আসে ততক্ষণ বাতিল হবে না, কারণ অধিকাংশের হুকুমই পূর্ণাংশের হুকুমের মতো। ইমাম মুহাম্মদ বলেছেন: যদি পায়ের পাতার তিন আঙ্গুল পরিমাণ ভেতরে বাকি থাকে তবে মাসেহ বাতিল হবে না, কারণ মাসেহর স্থানটি তখনো অবশিষ্ট আছে।
তিনি বলেছেন: (যদি কোনো মুসাফির মাসেহ করার পর একদিন-একরাত অতিবাহিত হওয়ার পর মুকিম হয়, তবে সে মোজা খুলে ফেলবে) কারণ তিন দিন হলো সফরের সময়সীমা, আর এখন তো সফর নেই, তাই এটি জায়েজ হবে না।
(আর তার আগে একদিন-একরাত পূর্ণ করবে) কারণ সে এখন মুকিম, তাই সে মুকিমের সময়সীমা পূর্ণ করবে।
(যদি কোনো মুকিম মাসেহ করার পর একদিন-একরাত পূর্ণ হওয়ার আগে সফরে বের হয়, তবে সে মুসাফিরের সময়সীমা পূর্ণ করবে) কারণ সে এখন মুসাফির। হুকুম সময়ের শেষাংশের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমনটি আগের মাসয়ালায় বর্ণিত হয়েছে। এর বিপরীত হলো যদি একদিন-একরাত অতিবাহিত হওয়ার পর সফরে বের হয়; কারণ তখন অশুচিতা পায়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তাই পা ধোয়া আবশ্যক।
তিনি বলেছেন: (পাগড়ি, টুপি, নেকাব এবং দস্তানার ওপর মাসেহ করা জায়েজ নয়) এবং পায়ের ব্যাণ্ডেজ বা কাপড়ের ওপরও নয়; কারণ চামড়ার মোজার ওপর মাসেহর বিধান কষ্টের কারণে সাব্যস্ত হয়েছে, অথচ এই জিনিসগুলো খোলার মধ্যে কোনো বিশেষ কষ্ট নেই।
তিনি বলেছেন: (ব্যান্ডেজ বা পট্টির ওপর) মাসেহ করা জায়েজ। ইমাম আবু হানিফার মতে এটি ফরজ নয়, এবং এটাই বিশুদ্ধ মত। এমনকি যদি কোনো ক্ষতি ছাড়াই তা ছেড়ে দেওয়া হয় তবে তা জায়েজ হবে।
সাহিবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ) বলেছেন: এটি জায়েজ নয়। তাঁদের দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "উহুদ যুদ্ধের দিন যখন আলী (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর কবজি ভেঙে যায়, তখন তিনি তাকে তার ওপর মাসেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।" এবং চামড়ার মোজার ওপর কিয়াস করেও এটি প্রমাণিত। আর ইমাম আবু হানিফার দলিল হলো: মাসেহ হলো ধোয়ার স্থলাভিষিক্ত, আর ব্যান্ডেজ খুলে ফেললে তার নিচের অংশ ধোয়া ওয়াজিব হয় না যদি তা প্রকাশ পায়, যা চামড়ার মোজার হুকুমের বিপরীত।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وَإِنْ شَدَّهَا عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ فَإِنْ سَقَطَتْ عَنْ بُرْءٍ بَطَلَ.
بَابُ الْحَيْضِوَهُوَ الدَّمُ الَّذِي تَصِيرُ الْمَرْأَةُ بِهِ بَالِغَةً،. وَأَقَلُّ الْحَيْضِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهَا (س) ، وَأَكْثَرُهُ عَشَرَةٌ (ف) بِلَيَالِيهَا، وَمَا نَقَصَ عَنْ أَقَلِّهِ، وَمَا زَادَ عَلَى أَكْثَرِهِ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] وَحَدِيثُ عَلِيٍّ لَا يُوجِبُ الْفَرْضِيَّةَ لِأَنَّهُ خَبَرُ آحَادٍ.
قَالَ: (وَ) يَجُوزُ (إِنَّ شَدَّهَا عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ) لِأَنَّ فِي اعْتِبَارِهِ حَرَجًا، وَلِأَنَّ غَسْلَ مَا تَحْتَهَا سَقَطَ بِخِلَافِ مَا تَحْتَ الْخُفَّيْنِ.
(فَإِنْ سَقَطَتْ عَنْ بُرْءٍ بَطَلَ) لِأَنَّ الْمَسْحَ لِلْعُذْرِ وَقَدْ زَالَ، بِخِلَافِ مَا إِذَا سَقَطَتْ لَا عَنْ بُرْءٍ لَمْ يَبْطُلِ الْمَسْحُ؛ لِأَنَّ الْعُذْرَ بَاقٍ، وَإِنْ كَانَتِ الْجَبِيرَةُ زَائِدَةً عَلَى رَأْسِ الْجُرْحِ، فَإِنْ كَانَ حَلُّ الْخِرْقَةَ وَغَسْلُ مَا تَحْتَهَا يَضُرُّهُ مَسَحَ عَلَى الْكُلِّ، وَإِنْ كَانَ لَا يَضُرُّهُ ذَلِكَ غَسَلَ مَا حَوْلَ الْجِرَاحَةِ وَمَسَحَ عَلَيْهَا لَا عَلَى الْخِرْقَةِ، وَإِنْ كَانَ يَضُرُّهُ الْمَسْحُ دُونَ الْحَلِّ مَسَحَ عَلَى الْخِرْقَةِ الَّتِي عَلَى الْجُرْحِ وَغَسَلَ حَوَالَيْهَا وَمَا تَحْتَ الْخِرْقَةِ الزَّائِدَةِ ; لِأَنَّ جَوَازَ الْمَسْحِ لِلضَّرُورَةِ فَيَتَقَدَّرُ بِقَدْرِهَا، وَهَذَا التَّفْصِيلُ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ زِيَادٍ، وَهَكَذَا الْكَلَامُ فِي عِصَابَةِ الْفِصَادِ وَالْقُرُوحِ وَالْجِرَاحَاتِ. وَعَلَى هَذَا لَوْ وَضَعَ عَلَى شِقَاقِ رِجْلَيْهِ دَوَاءً لَا يَصِلُ الْمَاءُ تَحْتَهُ يُجْرِي الْمَاءَ عَلَى ظَاهِرِ الدَّوَاءِ لِمَا ذَكَرْنَا.
[بَابُ الْحَيْضِ]
ِ الْحَيْضُ فِي اللُّغَةِ: السَّيَلَانُ، يُقَالُ: حَاضَتِ الْأَرْنَبُ: إِذَا سَالَ مِنْهَا الدَّمُ، وَحَاضَتِ الشَّجَرَةُ: إِذَا سَالَ مِنْهَا الصَّمْغُ.
وَفِي الشَّرْعِ: سَيَلَانُ دَمٍ مَخْصُوصٍ مِنْ مَوْضِعٍ مَخْصُوصٍ فِي وَقْتٍ مَعْلُومٍ. وَالدِّمَاءُ ثَلَاثَةٌ: حَيْضٌ.
(وَهُوَ الدَّمُ الَّذِي تَصِيرُ الْمَرْأَةُ بِهِ بَالِغَةً) بِابْتِدَائِهِ الْمُمْتَدِّ إِلَى وَقْتٍ مَعْلُومٍ، قَالَهُ الْكَرْخِيُّ. قَالَ عليه الصلاة والسلام: «لَا صَلَاةَ لِحَائِضٍ إِلَّا بِخِمَارٍ» ، أَيْ بَالِغَةٍ. وَقَالَ الْإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ الْبُخَارِيُّ: الْحَيْضُ هُوَ الدَّمُ الَّذِي يَنْفُضُهُ رَحِمُ الْمَرْأَةِ السَّلِيمَةِ عَنِ الصِّغَرِ وَالدَّاءِ. وَاسْتِحَاضَةٌ: وَهُوَ الدَّمُ الْخَارِجُ مِنَ الْفَرْجِ دُونَ الرَّحِمِ. وَنِفَاسٌ: وَهُوَ مَا يَخْرُجُ مَعَ الْوَلَدِ أَوْ عَقِيبَهُ. قَالَ: (وَأَقَلُّ الْحَيْضِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهَا، وَأَكْثَرُهُ عَشَرَةٌ بِلَيَالِيهَا) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «أَقَلُّ الْحَيْضِ لِلْجَارِيَةِ الْبِكْرِ وَالثَّيِّبِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ بِلَيَالِيهَا، وَأَكْثَرُهُ عشَرَةُ أَيَّامٍ بِلَيَالِيهَا» وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ: أَقَلُّهُ يَوْمَانِ، وَأَكْثَرُ الثَّالِثِ إِقَامَةً لِلْأَكْثَرِ مَقَامَ الْكُلِّ، وَلَا اعْتِبَارَ بِهِ لِأَنَّهُ تَنْقِيصٌ عَنْ تَقْدِيرِ الشَّرْعِ.
قَالَ: (وَمَا نَقَصَ عَنْ أَقَلِّهِ وَمَا زَادَ عَلَى أَكْثَرِهِ) اسْتِحَاضَةٌ ; لِأَنَّهُ زَائِدٌ عَلَى تَقْدِيرِ الشَّرْعِ، فَلَا يَكُونُ حَيْضًا وَلَيْسَ بِنِفَاسٍ فَيَكُونُ اسْتِحَاضَةً ; لِأَنَّ الدِّمَاءَ الْخَارِجَةَ مِنَ الرَّحِمِ مُنْحَصِرَةٌ
আর যদি সে অজু ছাড়া তা (পট্টি) বাঁধে এবং তা রোগমুক্তির কারণে পড়ে যায়, তবে তা বাতিল হয়ে যাবে।
ঋতুস্রাব অধ্যায়আর এটি এমন রক্ত যার দ্বারা একজন নারী প্রাপ্তবয়স্কা হয়। ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন মেয়াদ তিন দিন ও তিন রাত এবং এর সর্বোচ্চ মেয়াদ দশ দিন ও দশ রাত। যা সর্বনিম্ন মেয়াদের চেয়ে কম হয় এবং যা সর্বোচ্চ মেয়াদের চেয়ে বেশি হয়,
––
[আল-মুখতারের ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থ আল-ইখতিয়ার] এবং আলীর বর্ণিত হাদিসটি ফরজ হওয়া সাব্যস্ত করে না, কারণ তা ‘খবরে ওয়াহিদ’ (একক সূত্রীয় সংবাদ)।
লেখক বলেন: এবং অজু ছাড়া তা (পট্টি) বাঁধা বৈধ; কারণ এটি (অজু থাকা) শর্ত করার মধ্যে কঠিন সংকীর্ণতা রয়েছে এবং কারণ এর নিচের অংশ ধৌত করার আবশ্যকতা রহিত হয়ে গেছে, মোজা জোড়ার নিচের অংশের বিধানের বিপরীতে।
(যদি তা রোগমুক্তির কারণে পড়ে যায় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে) কারণ মাসেহ করা ছিল ওজরের (অপারগতার) কারণে এবং তা দূর হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে যদি রোগমুক্তি ছাড়া অন্য কোনো কারণে পড়ে যায় তবে মাসেহ বাতিল হবে না; কারণ ওজর বিদ্যমান রয়েছে। যদি ব্যান্ডেজটি ক্ষতের মাথার চেয়ে অতিরিক্ত জায়গায় থাকে, তবে কাপড় খোলা এবং এর নিচের অংশ ধোয়া যদি তার জন্য ক্ষতিকর হয় তবে সে সম্পূর্ণটির ওপর মাসেহ করবে। আর যদি তা ক্ষতিকর না হয় তবে সে ক্ষতের চারপাশ ধৌত করবে এবং ক্ষতের ওপর মাসেহ করবে, কাপড়ের ওপর নয়। আর যদি কাপড় খোলা ছাড়াই মাসেহ করা ক্ষতিকর হয়, তবে সে ক্ষতের ওপর থাকা কাপড়ের ওপর মাসেহ করবে এবং এর চারপাশ এবং অতিরিক্ত কাপড়ের নিচের অংশ ধৌত করবে; কারণ প্রয়োজনে মাসেহ করা বৈধ এবং তা প্রয়োজনের পরিমাণ অনুযায়ীই নির্ধারিত হবে। এই বিস্তারিত বিবরণ হাসান ইবনে জিয়াদের পক্ষ থেকে বর্ণিত। অনুরূপ হুকুম রক্তমোক্ষণ (ফিসাদ), ফোঁড়া এবং ক্ষতের পট্টির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এর ওপর ভিত্তি করেই, যদি কেউ তার পায়ের ফাটা অংশে এমন ঔষধ লাগায় যার নিচে পানি পৌঁছায় না, তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার আলোকে সে ঔষধের উপরিভাগের ওপর পানি প্রবাহিত করবে।
[ঋতুস্রাব অধ্যায়]
অভিধানে 'হায়দ' অর্থ: প্রবাহিত হওয়া। বলা হয়: খরগোশ ঋতুবতী হয়েছে, যখন তার থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়। গাছ ঋতুবতী হয়েছে, যখন তা থেকে আঠা প্রবাহিত হয়।
আর শরীয়তের পরিভাষায়: নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থান থেকে নির্গত নির্দিষ্ট রক্ত। আর রক্ত তিন প্রকার: হায়দ (ঋতুস্রাব)।
(আর এটি এমন রক্ত যার দ্বারা নারী প্রাপ্তবয়স্কা হয়) নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রলম্বিত সূচনার মাধ্যমে—একথা ইমাম কারখী বলেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'ঋতুবতী মহিলার নামাজ ওড়না ছাড়া কবুল হয় না', অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্কা নারীর। ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আল-বুখারি বলেন: হায়দ হচ্ছে সেই রক্ত যা সুস্থ নারীর জরায়ু থেকে নির্গত হয় যা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া বা অসুস্থতার কারণে নয়। ইস্তিহাজা (প্রদর): যা জরায়ু ছাড়া অন্য যোনিপথ দিয়ে বের হওয়া রক্ত। নিফাস (প্রসূতি অবস্থা): যা সন্তানের সাথে বা সন্তান প্রসবের পর বের হয়। লেখক বলেন: (ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন মেয়াদ তিন দিন ও তিন রাত এবং এর সর্বোচ্চ মেয়াদ দশ দিন ও দশ রাত) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: ‘কুমারী বা বিবাহিত নারীর হায়দের সর্বনিম্ন মেয়াদ তিন দিন ও তিন রাত এবং সর্বোচ্চ মেয়াদ দশ দিন ও দশ রাত।’ আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত: এর সর্বনিম্ন মেয়াদ দুই দিন এবং তৃতীয় দিনের অধিকাংশ সময়, অধিকাংশকে পূর্ণ হিসেবে গণ্য করার কারণে। তবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি শরীয়তের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কমিয়ে ফেলা।
লেখক বলেন: (আর যা এর সর্বনিম্ন মেয়াদের চেয়ে কম এবং যা এর সর্বোচ্চ মেয়াদের চেয়ে বেশি হবে) তা ইস্তিহাজা; কারণ এটি শরীয়তের নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত, তাই তা হায়দ হবে না এবং এটি নিফাসও নয়, সুতরাং তা ইস্তিহাজা হবে; কারণ জরায়ু থেকে নির্গত রক্তসমূহ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وَمَا تَرَاهُ الْحَامِلُ (ف) اسْتِحَاضَةٌ، وَهُوَ لَا يَمْنَعُ الصَّوْمَ وَلَا الصَّلَاةَ وَلَا الْوَطْءَ، وَمَا تَرَاهُ الْمَرْأَةُ مِنَ الْأَلْوَانِ فِي مُدَّةِ حَيْضِهَا حَيْضٌ حَتَّى تَرَى الْبَيَاضَ الْخَالِصَ، وَالطُّهْرُ الْمُتَخَلِّلُ فِي الْمُدَّةِ حَيْضٌ، وَهُوَ يُسْقِطُ عَنِ الْحَائِضِ الصَّلَاةَ أَصْلًا. وَيُحَرِّمُ عَلَيْهَا الصَّوْمَ فَتَقْضِيهِ.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] فِي هَذِهِ الثَّلَاثَةِ.
قَالَ: (وَمَا تَرَاهُ الْحَامِلُ اسْتِحَاضَةٌ) لِأَنَّهَا لَا تَحِيضُ لِأَنَّ بِالْحَمْلِ يَنْسَدُّ فَمُ الرَّحِمِ، وَيَصِيرُ دَمُ الْحَيْضِ غِذَاءً لِلْجَنِينِ فَلَا يَكُونُ حَيْضًا.
قَالَ: (وَهُوَ لَا يَمْنَعُ الصَّوْمَ وَلَا الصَّلَاةَ وَلَا الْوَطْءَ) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام لِلْمُسْتَحَاضَةِ «تَوَضَّئِي وَصَلِّي وَإِنْ قَطَرَ الدَّمُ عَلَى الْحَصِيرِ قَطْرًا» وَفِي حَدِيثٍ آخَرَ: «إِنَّمَا هُوَ دَمُ عِرْقٍ انْفَجَرَ» ، وَلَا يَمْنَعُ كَالرُّعَافِ.
قَالَ: (وَمَا تَرَاهُ الْمَرْأَةُ مِنَ الْأَلْوَانِ فِي مُدَّةِ حَيْضِهَا حَيْضٌ حَتَّى تَرَى الْبَيَاضَ الْخَالِصَ) لِمَا رُوِيَ: «أَنَّ النِّسَاءَ كُنَّ يَعْرِضْنَ الْكَرَاسِفَ عَلَى عَائِشَةَ، فَكَانَتْ إِذَا رَأَتِ الْكُدْرَةَ قَالَتْ: لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقُصَّةَ الْبَيْضَاءَ» ، أَيِ الْبَيَاضَ الْخَالِصَ. وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ: لَا تَكُونُ الْكَدْرَةُ حَيْضًا إِلَّا بَعْدَ الدَّمِ ; لِأَنَّ الْكَدْرَةَ مَا يَتَكَدَّرُ، وَأَوَّلُ الشَّيْءِ لَا يَتَكَدَّرُ. وَلَنَا مَا رَوَيْنَا عَنْ عَائِشَةَ مِنْ غَيْرِ فَصْلٍ، وَلِأَنَّهَا مِنْ أَلْوَانِ الدَّمِ، فَسَوَاءٌ كَانَتْ أَوَّلًا وَآخِرًا كَغَيْرِهَا مِنَ الْأَلْوَانِ، وَقَوْلُهُ: أَوَّلُ الشَّيْءِ لَا يَتَكَدَّرُ. قُلْنَا: لِمَ قُلْتَ: إِنَّ هَذَا أَوَّلَهُ وَهَذَا إِنَّمَا يَكُونُ فِي إِنَاءٍ يَسِيلُ مِنْ أَعْلَاهُ وَهَذَا يَسِيلُ مِنْ أَسْفَلِهِ؟ فَيَجِبُ أَنْ تَكُونَ الْكُدْرَةُ أَوَّلًا كَالْجَرَّةِ يُثْقَبُ أَسْفَلُهَا فَإِنَّهُ يَسِيلُ الْكَدَرُ أَوَّلَا كَذَا هَذَا. وَحُكْمُ الْحَيْضِ وَالِاسْتِحَاضَةِ وَالنِّفَاسِ إِنَّمَا يَثْبُتُ بِخُرُوجِ الدَّمِ إِلَى الْفَرْجِ الْخَارِجِ ; لِأَنَّهُ مَا لَمْ يَظْهَرْ فَهُوَ فِي مَعْدِنِهِ.
قَالَ: (وَالطُّهْرُ الْمُتَخَلِّلُ فِي الْمُدَّةِ حَيْضٌ) لِأَنَّ الْمُدَّةَ لَا تُسْتَوْعَبُ بِالدَّمِ فَاعْتُبِرَ أَوَّلُهَا وَآخِرُهَا.
قَالَ: (وَهُوَ يُسْقِطُ عَنِ الْحَائِضِ الصَّلَاةَ أَصْلًا، وَيُحَرِّمُ عَلَيْهَا الصَّوْمَ فَتَقْضِيهِ) لِقَوْلِ عَائِشَةَ: «كُنَّ النِّسَاءُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْضِينَ الصَّوْمَ وَلَا يَقْضِينَ الصَّلَاةَ» ، وَلِأَنَّ الصَّلَاةَ تَتَكَرَّرُ فِي كُلِّ
গর্ভবতী নারী যা দেখে তা ইস্তিহাযা (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব), এটি রোজা, নামাজ বা সহবাসে বাধা প্রদান করে না। ঋতুস্রাবের (হায়েযের) সময়কালে নারী যে সমস্ত বর্ণ দেখে তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে যতক্ষণ না সে স্বচ্ছ শুভ্রতা দেখে। আর উক্ত সময়কালের মধ্যবর্তী পবিত্রতাও হায়েয হিসেবে গণ্য। এটি ঋতুবতী নারীর ওপর থেকে নামাজকে মৌলিকভাবে রহিত করে দেয় এবং তার ওপর রোজা হারাম করে, ফলে সে এর কাজা করবে।
—
[আল-মুখতারের ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থ আল-ইখতিয়ার] এই তিনটির ক্ষেত্রে।
তিনি বলেন: (গর্ভবতী নারী যা দেখে তা ইস্তিহাযা) কারণ তার হায়েয হয় না; কেননা গর্ভধারণের ফলে জরায়ুর মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং হায়েযের রক্ত ভ্রূণের খাদ্যে পরিণত হয়, ফলে তা আর হায়েয থাকে না।
তিনি বলেন: (এটি রোজা, নামাজ বা সহবাসে বাধা দেয় না) কারণ ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীর প্রতি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বাণী: "তুমি অজু করো এবং নামাজ পড়ো, যদিও চাটাইয়ের ওপর ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ঝরে।" অন্য এক হাদিসে এসেছে: "এটি কেবল একটি ছিঁড়ে যাওয়া শিরার রক্ত।" আর এটি নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতোই ইবাদতে বাধা দেয় না।
তিনি বলেন: (ঋতুস্রাবের সময়কালে নারী যে সমস্ত বর্ণ দেখে তা হায়েয যতক্ষণ না সে স্বচ্ছ সাদা বর্ণ দেখে) কারণ বর্ণিত আছে যে: "নারীরা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট তুলার টুকরো পেশ করতেন। তিনি যখন ঘোলাটে ভাব দেখতেন তখন বলতেন: তাড়াহুড়ো করো না যতক্ষণ না তোমরা স্বচ্ছ শুভ্রতা দেখতে পাও," অর্থাৎ স্বচ্ছ সাদা বর্ণ। ইমাম আবু ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: ঘোলাটে বর্ণ রক্তের পরে আসলেও কেবল তখনই হায়েয হবে; কারণ ঘোলা হওয়া মানে কোনো কিছু ঘোলাটে হয়ে যাওয়া, আর কোনো জিনিসের শুরুটা ঘোলাটে হয় না। আমাদের দলিল হলো আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে যা আমরা বর্ণনা করেছি কোনো পার্থক্য ছাড়া। এছাড়া এটি রক্তের রঙেরই অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি শুরুতে হোক বা শেষে, অন্যান্য বর্ণের মতোই সমান। আর তাঁর (আবু ইউসুফের) কথা: "কোনো জিনিসের শুরুটা ঘোলাটে হয় না"—এর উত্তরে আমরা বলি: আপনি কেন বললেন যে এটি শুরু? এটি (শুরুতে ঘোলা না হওয়া) কেবল তখনই হয় যখন কোনো পাত্রের ওপরের অংশ থেকে কিছু প্রবাহিত হয়, অথচ এটি তো নিচ থেকে প্রবাহিত হচ্ছে। সুতরাং ঘোলাটে ভাবটিই আগে আসা উচিত; যেমন কোনো কলসের নিচে ছিদ্র করা হলে প্রথমে তার ঘোলা অংশটিই নির্গত হয়, এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। আর হায়েয, ইস্তিহাযা এবং নিফাসের বিধান কেবল বাইরের লজ্জাস্থানে রক্ত বের হওয়ার দ্বারাই সাব্যস্ত হয়; কারণ যতক্ষণ তা প্রকাশ না পায় ততক্ষণ তা তার উৎপত্তিস্থলেই অবস্থান করছে বলে ধরা হয়।
তিনি বলেন: (উক্ত সময়কালের মধ্যবর্তী পবিত্রতাও হায়েয হিসেবে গণ্য) কারণ ঋতুকালীন পুরো সময়টা রক্তে ব্যপ্ত থাকা জরুরি নয়, বরং এর শুরু এবং শেষ সময়টিকেই বিবেচনা করা হয়।
তিনি বলেন: (এটি ঋতুবতী নারীর ওপর থেকে নামাজকে মৌলিকভাবে রহিত করে দেয় এবং তার ওপর রোজা হারাম করে, ফলে সে তা কাজা করবে) কারণ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে নারীরা রোজার কাজা করত কিন্তু নামাজের কাজা করত না।" এছাড়া নামাজ বারবার ফিরে আসে প্রতিটি...
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَيَحْرُمُ وَطْؤُهَا، وَيَكْفُرُ مُسْتَحِلُّهُ، وَيُسْتَمْتَعُ بِهَا مَا فَوْقَ الْإِزَارِ.
وَإِنِ انْقَطَعَ دَمُهَا لِأَقَلِّ مِنْ عَشَرَةِ أَيَّامٍ لَمْ يَجُزْ وَطْؤُهَا حَتَّى تَغْتَسِلَ، أَوْ يَمْضِيَ عَلَيْهَا وَقْتُ صَلَاةٍ، وَإِنِ انْقَطَعَ لِعَشَرَةٍ (زف) جَازَ قَبْلَ الْغُسْلِ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] شَهْرٍ وَكُلِّ يَوْمٍ فَتُحَرَّجُ فِي الْقَضَاءِ، وَالصَّوْمُ فِي السَّنَةِ مَرَّةً فَلَا حَرَجَ.
(وَيَحْرُمُ وَطْؤُهَا) لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ} [البقرة: 222] وَالنَّهْيُ لِلتَّحْرِيمِ، وَإِنْ وَطِئَهَا فِي الْحَيْضِ إِنْ كَانَا طَائِعَيْنِ أَثِمَا، وَيَكْفِيهِمَا الِاسْتِغْفَارُ وَالتَّوْبَةُ، لِقَوْلِ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه لِمَنْ سَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ: اسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَلَا تَعُدْ. وَإِنْ كَانَ أَحَدُهُمَا طَائِعًا وَالْآخَرُ مُكْرَهًا أَثِمَ الطَّائِعُ وَحْدَهُ. قَالَ فِي الْفَتَاوَى: وَهَذَا فِي الْحُكْمِ، وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُتَصَدَّقَ بِدِينَارٍ أَوْ نِصْفِ دِينَارٍ. قِيلَ: مَعْنَاهُ إِنْ كَانَ فِي أَوَّلِ الْحَيْضِ فَدِينَارٌ، وَفِي آخِرِهِ نِصْفُهُ. وَقِيلَ: إِنْ كَانَ الدَّمُ أَسْوَدَ فَدِينَارٌ، وَإِنْ كَانَ أَصْفَرَ فَنِصْفُهُ، وَبِجَمِيعِ ذَلِكَ وَرَدَ الْحَدِيثُ.
(وَيَكْفُرُ مُسْتَحِلُّهُ) لِأَنَّ حُرْمَتَهُ ثَبَتَتْ بِالْكِتَابِ وَالْإِجْمَاعِ.
قَالَ: (وَيُسْتَمْتَعُ بِهَا مَا فَوْقَ الْإِزَارِ) لِقَوْلِ ابْنِ عُمَرَ: «سَأَلَتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنِ امْرَأَتِهِ الْحَائِضِ؟ قَالَ: " مَا فَوَقَ الْإِزَارِ» . وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنِي فَأَتَّزِرُ فَيُبَاشِرُنِي وَأَنَا حَائِضٌ» . وَقَالَ مُحَمَّدٌ: يَجْتَنِبُ شِعَارَ الدَّمِ وَلَهُ مَا سِوَاهُ، لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «يَصْنَعُ الرَّجُلُ بِامْرَأَتِهِ الْحَائِضِ كُلَّ شَيْءٍ إِلَّا الْجِمَاعَ» وَلَهُمَا مَا رُوِّينَا وَقَوْلُهُ عليه الصلاة والسلام " لَهُ مَا فَوْقَ الْإِزَارِ وَلَيْسَ لَهُ مَا دُونَهُ " أَيْ لَهُ أَنْ يَسْتَمْتِعَ بِمَا فَوْقَ السُّرَّةِ لَا بِمَا تَحْتَهَا.
وَفِيمَا قَالَ مُحَمَّدٌ: رَتْعٌ حَوْلَ الْحِمَى فَيُمْنَعُ مِنْهُ حَذَرًا مِنَ الْوُقُوعِ فِيهِ.
(وَإِنِ انْقَطَعَ دَمُهَا لِأَقَلَّ مِنْ عَشَرَةِ أَيَّامٍ لَمْ يَجُزْ وَطْؤُهَا حَتَّى تَغْتَسِلَ أَوْ يَمْضِيَ عَلَيْهَا وَقْتُ صَلَاةٍ، وَإِنِ انْقَطَعَ لِعَشَرَةٍ جَازَ قَبْلَ الْغُسْلِ) لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {حَتَّى يَطْهُرْنَ} [البقرة: 222] بِالتَّخْفِيفِ وَالتَّشْدِيدِ، فَمَعْنَى التَّخْفِيفِ حَتَّى يَنْقَطِعَ حَيْضُهَا فَحَمَلْنَاهُ عَلَى الْعَشَرَةِ، وَمَعْنَى التَّشْدِيدِ حَتَّى يَغْتَسِلْنَ فَحَمَلْنَاهُ عَلَى مَا دُونَهَا عَمَلًا بِالْقِرَاءَتَيْنِ، وَلِأَنَّ مَا قَبْلَ الْعَشَرَةِ لَا يُحْكَمُ بِانْقِطَاعِ الْحَيْضِ لِاحْتِمَالِ عَوْدِ الدَّمِ، فَيَكُونُ حَيْضًا، فَإِذَا اغْتَسَلَتْ أَوْ مَضَى عَلَيْهَا وَقْتُ صَلَاةٍ دَخَلَتْ فِي حُكْمِ الطَّاهِرَاتِ، وَمَا بَعْدَ الْعَشَرَةِ حَكَمْنَا بِانْقِطَاعِ الْحَيْضِ، لِأَنَّهَا لَوْ رَأَتِ الدَّمَ لَا يَكُونُ حَيْضًا فَلِهَذَا حَلَّ وَطْؤُهَا. وَقَالَ زُفَرُ:
তার সাথে সহবাস করা হারাম, এবং যে একে হালাল মনে করে সে কুফরি করবে। আর লুঙ্গির উপরের অংশ দিয়ে তার সাথে আনন্দ লাভ করা যাবে।
যদি দশ দিনের কম সময়ে তার রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তবে গোসল না করা পর্যন্ত অথবা তার উপর এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে সহবাস করা জায়েজ নয়। আর যদি দশ দিনে রক্ত বন্ধ হয়, তবে গোসলের আগেই [সহবাস] জায়েজ।
—
[আল-ইখতিয়ার লি-তা’লিলিল মুখতার] মাস এবং প্রতিটি দিন, ফলে কাজা আদায় করার ক্ষেত্রে কাঠিন্য তৈরি হয়; আর রোজা বছরে একবার, তাই তাতে কোনো কাঠিন্য নেই।
(তার সাথে সহবাস করা হারাম) মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর তোমরা তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়" [আল-বাকারা: ২২২]। আর এখানে নিষেধ হারাম হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। যদি তারা ঋতুস্রাব (হায়দ) চলাকালীন সহবাস করে এবং তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় এটি করে থাকে, তবে তারা গুনাহগার হবে। তাদের জন্য ইস্তিগফার ও তাওবাই যথেষ্ট। যেমনটি সিদ্দীক (রা.) তাকে বলেছিলেন যে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল: আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং পুনরায় এমনটি করো না। আর যদি তাদের একজন স্বেচ্ছায় এবং অন্যজন বাধ্য হয়ে করে, তবে শুধু স্বেচ্ছায় সম্পাদনকারী গুনাহগার হবে। ফাতাওয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি হুকুমের ক্ষেত্রে। আর এক দিনার বা অর্ধ দিনার সদকা করা মুস্তাহাব। বলা হয়ে থাকে: এর অর্থ হলো, যদি ঋতুস্রাবের শুরুর দিকে হয় তবে এক দিনার, আর শেষ দিকে হলে অর্ধ দিনার। আরও বলা হয়েছে: যদি রক্ত কালো হয় তবে এক দিনার, আর হলুদ হলে অর্ধ দিনার। এ সবকিছুর ব্যাপারেই হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
(এবং যে একে হালাল মনে করে সে কুফরি করবে) কারণ এর হারাম হওয়া কিতাব (কুরআন) এবং ইজমা দ্বারা প্রমাণিত।
তিনি বলেন: (আর লুঙ্গির উপরের অংশ দিয়ে তার সাথে আনন্দ লাভ করা যাবে) ইবনে উমরের (রা.) বাণীর কারণে: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছি: একজন পুরুষের জন্য তার ঋতুবতী স্ত্রীর থেকে কী কী হালাল? তিনি বললেন: 'যা লুঙ্গির উপরে থাকে'।" আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিতেন, ফলে আমি লুঙ্গি পরিধান করতাম, অতঃপর তিনি আমার সাথে শরীর স্পর্শ করতেন অথচ আমি ঋতুবতী থাকতাম।" ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন: সে রক্তের জায়গা পরিহার করবে এবং এ ছাড়া বাকি সব তার জন্য বৈধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: "একজন পুরুষ তার ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস ছাড়া সবকিছুই করতে পারবে।" আর শায়খাইনের (ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ) দলীল হলো আমরা যা বর্ণনা করেছি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তার জন্য লুঙ্গির উপরের অংশ বৈধ এবং তার নিচের অংশ বৈধ নয়" অর্থাৎ নাভির উপরের অংশ দ্বারা আনন্দ লাভ করতে পারবে কিন্তু নিচের অংশ দ্বারা নয়।
আর ইমাম মুহাম্মদ যা বলেছেন তা হলো সংরক্ষিত সীমানার আশেপাশে বিচরণ করার মতো, তাই তাতে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
(আর যদি দশ দিনের কম সময়ে তার রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তবে গোসল না করা পর্যন্ত অথবা তার উপর এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সহবাস জায়েজ নয়; আর যদি দশ দিনে রক্ত বন্ধ হয় তবে গোসলের আগেই জায়েজ) মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়" [আল-বাকারা: ২২২] তখফিফ (পবিত্র হওয়া) এবং তশদিদ (গোসল করা) উভয় কিরাআতে। তখফিফের অর্থ হলো যতক্ষণ না তাদের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়, যা আমরা দশ দিনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছি। আর তশদিদের অর্থ হলো যতক্ষণ না তারা গোসল করে, যা আমরা দশ দিনের কম সময়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছি উভয় কিরাআতের উপর আমল করার উদ্দেশ্যে। কারণ দশ দিনের আগে রক্ত বন্ধ হওয়াকে নিশ্চিতভাবে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া বলা যায় না, রক্ত পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে, যা ঋতুস্রাব হিসেবেই গণ্য হবে। সুতরাং যখন সে গোসল করবে অথবা তার উপর এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হবে, তখন সে পবিত্র নারীদের হুকুমে দাখিল হবে। আর দশ দিনের পর আমরা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার হুকুম দিয়েছি, কারণ এরপর রক্ত দেখলেও তা ঋতুস্রাব হবে না, একারণেই সহবাস হালাল হবে। ইমাম জুফার বলেন:
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَأَقَلُّ الطُّهْرِ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا، وَلَا حَدَّ لِأَكْثَرِهِ.
فصل الْمُسْتَحَاضَةُ وَمَنْ بِهِ سَلَسُ الْبَوْلِ، وَانْطِلَاقُ الْبَطْنِ، وَانْفِلَاتُ الرِّيحِ، وَالرُّعَافُ الدَّائِمُ، وَالْجُرْحُ الَّذِي لَا يَرْقَأُ يَتَوَضَّئُونَ لِوَقْتِ كُلِّ صَلَاةٍ، وَيُصَلُّونَ بِهِ مَا شَاءُوا (ف) ، فَإِذَا خَرَجَ الْوَقْتُ بَطَلَ وُضُوءُهُمْ فَيَتَوَضَّئُونَ لِصَلَاةٍ أُخْرَى.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] لَا يَحِلُّ وَطْؤُهَا حَتَّى تَغْتَسِلَ وَإِنِ انْقَطَعَ لِعَشَرَةِ أَيَّامٍ، عَمَلًا بِقِرَاءَةِ التَّشْدِيدِ وَجَوَابُهُ مَا مَرَّ.
قَالَ: (وَأَقَلُّ الطُّهْرِ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا) هَكَذَا رُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ وَلَا يُعْرَفُ إِلَّا تَوْقِيفًا (وَلَا حَدَّ لِأَكْثَرِهِ) لِأَنَّهُ يَسْتَمِرُّ مُدَّةً كَثِيرَةً فَلَا يَتَقَدَّرُ.
[فصل أَحْكَامُ أَهْلِ الْأَعْذَار]فَصْلٌ (وَالْمُسْتَحَاضَةُ وَمَنْ بِهِ سَلَسُ الْبَوْلِ وَانْطِلَاقُ الْبَطْنِ وَانْفِلَاتُ الرِّيحِ وَالرُّعَافُ الدَّائِمُ وَالْجُرْحُ الَّذِي لَا يَرْقَأُ، يَتَوَضَّئُونَ لِوَقْتِ كُلِّ صَلَاةٍ وَيُصَلُّونَ بِهِ مَا شَاءُوا) لِرِوَايَةِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «تَتَوَضَّأُ الْمُسْتَحَاضَةُ لِوَقْتِ كُلِّ صَلَاةٍ» . «وَقَالَ عليه الصلاة والسلام لِفَاطِمَةَ بِنْتِ أَبِي حُبَيْشٍ حِينَ قَالَتْ لَهُ: إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ " تَوَضَّئِي لِوَقْتِ كُلِّ صَلَاةٍ» وَعَلَيْهِ يُحْمَلُ قَوْلُهُ عليه الصلاة والسلام «الْمُسْتَحَاضَةُ تَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلَاةٍ» ، لِأَنَّهُ يُرَادُ بِالصَّلَاةِ الْوَقْتُ. قَالَ عليه الصلاة والسلام: «أَيْنَمَا أَدْرَكَتْنِي الصَّلَاةُ تَيَمَّمْتُ وَصَلَّيْتُ» ، وَيُقَالْ: آتِيكَ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ: أَيْ لِوَقْتِهَا.
قَالَ: (فَإِذَا خَرَجَ الْوَقْتُ بَطَلَ وُضُوؤُهُمْ، فَيَتَوَضَّئُونَ لِصَلَاةٍ أُخْرَى) لِمَا رَوَيْنَا. وَطَهَارَةُ الْمَعْذُورِ تَنْتَقِضُ بِخُرُوجِ الْوَقْتِ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ، وَعِنْدَ زُفَرَ بِالدُّخُولِ، وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ بِأَيِّهِمَا كَانَ.
وَثَمَرَةُ الْخِلَافِ تَظْهَرُ فِي مَسْأَلَتَيْنِ: إِذَا تَوَضَّأَ لِلصُّبْحِ ثُمَّ طَلَعَتِ الشَّمْسُ، وَإِذَا تَوَضَّأَ بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ لِلْعِيدِ أَوْ لِلضُّحَى ثُمَّ دَخَلَ وَقْتُ الظُّهْرِ، فَعِنْدَهُمَا يَنْتَقِضُ فِي الْأُولَى لِلْخُرُوجِ، وَلَا يَنْتَقِضُ فِي الثَّانِيَةِ لِعَدَمِهِ، وَعِنْدَ زُفَرَ بِالْعَكْسِ، وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ يَنْتَقِضُ فِيهِمَا لِأَنَّهَا طَهَارَةٌ مَعَ الْمُنَافِي فَتَتَقَدَّرُ بِالْوَقْتِ، فَلَا تُعْتَبَرُ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ، وَلِزُفَرَ أَنَّهَا لَوْ لَمْ تَبْطُلْ بِالدُّخُولِ لَزَادَتْ عَلَى وَقْتِ صَلَاةٍ وَأَنَّهُ خِلَافُ النَّصِّ. وَلَهُمَا أَنَّهَا تَثْبُتُ لِلْحَاجَةِ وَخُرُوجُ الْوَقْتِ دَلِيلُ زَوَالِ الْحَاجَةِ، وَالدُّخُولُ دَلِيلُ الْوُجُوبِ، فَتَعَلُّقُ الِانْتِقَاضِ بِالْخُرُوجِ أَوْلَى. وَقَوْلُ زُفَرَ: يَلْزَمُهُ مِثْلُهُ فِيمَا إِذَا تَوَضَّأَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ. وَقَوْلُنَا: انْتَقَضَ وُضُوءُهُمْ بِخُرُوجِ الْوَقْتِ: أَيْ عِنْدَهِ، لَكِنْ بِالْحَدَثِ السَّابِقِ فَإِنَّ الصَّلَاةَ مَعَ الدَّمِ رُخْصَةٌ ; لِأَنَّ الْوُضُوءَ
পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদ পনেরো দিন, আর এর সর্বোচ্চ মেয়াদের কোনো সীমা নেই।
পরিচ্ছেদ: ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী এবং যার প্রস্রাব ঝরা রোগ আছে, পেট নামা (উদরাময়), অনবরত বায়ু নির্গত হওয়া, স্থায়ীভাবে নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং এমন ক্ষত যা বন্ধ হয় না—তারা প্রত্যেক সালাতের ওয়াক্তের জন্য অজু করবে এবং সেই অজু দিয়ে তারা যা ইচ্ছা (সালাত) আদায় করবে। অতঃপর যখন ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে, তখন তাদের অজু নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারা অন্য সালাতের জন্য পুনরায় অজু করবে।
ــ
[আল-ইখতিয়ার লি-তা’লীলিল মুখতার] তার সাথে সহবাস করা হালাল নয় যতক্ষণ না সে গোসল করবে, যদিও রক্ত দশ দিনের মাথায় বন্ধ হয়। এটি তাশদীদযুক্ত কিরাআতের ওপর আমল করার কারণে, আর এর উত্তর পূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে।
তিনি বলেন: (পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদ পনেরো দিন) ইবরাহীম আন-নাখায়ী থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে এবং এটি শরয়ি নিরূপণ (তাউকীফ) ব্যতীত জানা সম্ভব নয়। (আর এর সর্বোচ্চ মেয়াদের কোনো সীমা নেই) কারণ তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে, তাই তা নির্দিষ্ট করা যায় না।
[পরিচ্ছেদ: ওজরগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিধান]পরিচ্ছেদ (ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী এবং যার প্রস্রাব ঝরা রোগ আছে, উদরাময়, অনবরত বায়ু নির্গত হওয়া, স্থায়ীভাবে নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং এমন ক্ষত যা বন্ধ হয় না—তারা প্রত্যেক সালাতের ওয়াক্তের জন্য অজু করবে এবং তা দিয়ে যা ইচ্ছা সালাত আদায় করবে)। কারণ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী প্রত্যেক সালাতের ওয়াক্তের জন্য অজু করবে।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতেমা বিনতে আবি হুবাইশকে যখন তিনি বলেছিলেন: "আমি ইস্তিহাযাগ্রস্ত হই এবং পবিত্র হই না", তখন বলেছিলেন: "প্রত্যেক সালাতের ওয়াক্তের জন্য অজু করো।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী: "ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করবে"—এর ব্যাখ্যাও এটাই হবে; কারণ এখানে সালাত দ্বারা ওয়াক্ত উদ্দেশ্য। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যেখানেই সালাত আমাকে পাবে (ওয়াক্ত হবে), আমি তায়াম্মুম করব ও সালাত আদায় করব।" তদ্রূপ বলা হয়: 'আমি তোমার কাছে জোহরের সালাতের সময় আসব', অর্থাৎ তার ওয়াক্তের সময়।
তিনি বলেন: (অতঃপর যখন ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে, তাদের অজু নষ্ট হয়ে যাবে, ফলে তারা অন্য সালাতের জন্য পুনরায় অজু করবে)। আমরা যা বর্ণনা করেছি তার ভিত্তিতে। ওজরগ্রস্ত ব্যক্তির পবিত্রতা ওয়াক্ত শেষ হওয়ার মাধ্যমে ভঙ্গ হয় ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদের মতে; ইমাম যুফারের মতে ওয়াক্ত শুরু হওয়ার মাধ্যমে এবং ইমাম আবু ইউসুফের মতে এই দুটির মধ্যে যা আগে ঘটে তার মাধ্যমে।
এই মতপার্থক্যের ফলাফল দুটি মাসআলায় স্পষ্ট হয়: যখন কেউ ফজরের জন্য অজু করে এবং এরপর সূর্য উদিত হয়। এবং যখন কেউ সূর্যোদয়ের পর ঈদের সালাত বা চাশতের সালাতের জন্য অজু করে এবং এরপর জোহরের ওয়াক্ত প্রবেশ করে। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদের মতে প্রথম ক্ষেত্রে অজু ভেঙে যাবে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার কারণে, কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ভাঙবে না কারণ সেখানে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার বিষয়টি নেই। ইমাম যুফারের মতে এর বিপরীত। ইমাম আবু ইউসুফের মতে উভয় ক্ষেত্রেই অজু ভেঙে যাবে, কারণ এটি হলো বিরুদ্ধ অবস্থার (অপবিত্রতা) সাথে পবিত্রতা অর্জন যা ওয়াক্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ; সুতরাং তা ওয়াক্তের আগে বা পরে গ্রহণযোগ্য হবে না। ইমাম যুফারের যুক্তি হলো, যদি ওয়াক্ত প্রবেশের মাধ্যমে অজু বাতিল না হয়, তবে তা এক সালাতের ওয়াক্তের চেয়ে বেশি সময় স্থায়ী হবে, যা নসের পরিপন্থী। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদের দলিল হলো, এই পবিত্রতা প্রয়োজনে সাব্যস্ত হয়েছে এবং ওয়াক্ত শেষ হওয়া হলো প্রয়োজন শেষ হওয়ার প্রমাণ, আর ওয়াক্ত প্রবেশ করা হলো ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ; সুতরাং অজু ভঙ্গ হওয়াকে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার সাথে যুক্ত করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত। ইমাম যুফারের উক্তির বিপরীতে বলা হবে: সূর্যোদয়ের পূর্বে অজু করার ক্ষেত্রেও একই বিষয় তার ওপর আবশ্যক হবে। আর আমাদের কথা 'ওয়াক্ত শেষ হওয়ার মাধ্যমে তাদের অজু নষ্ট হবে' এর অর্থ হলো ওয়াক্ত শেষ হওয়ার সময়, তবে তা পূর্ববর্তী অপবিত্রতার (হাদাস) কারণেই হবে; কেননা রক্তের উপস্থিতিতে সালাত আদায় করা হলো একটি ছাড় (রুখসত); কারণ অজু...
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَالْمَعْذُورُ هُوَ الَّذِي لَا يَمْضِي عَلَيْهِ وَقْتُ صَلَاةٍ إِلَّا وَالْحَدَثُ الَّذِي ابْتُلِيَ بِهِ مَوْجُودٌ، وَإِذَا زَادَ الدَّمُ عَلَى الْعَشَرَةِ وَلَهَا عَادَةٌ فَالزَّائِدُ عَلَى عَادَتِهَا اسْتِحَاضَةٌ، وَإِذَا بَلَغَتْ مُسْتَحَاضَةً فَحَيْضَتُهَا عَشَرَةٌ (ف) مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَالْبَاقِي اسْتِحَاضَةٌ.
فَصْلٌ النِّفَاسُ: الدَّمُ الْخَارِجُ عَقِيبَ الْوِلَادَةِ، وَلَا حَدَّ لِأَقَلِّهِ، وَأَكْثَرُهُ أَرْبَعُونَ يَوْمًا. وَإِذَا جَاوَزَ الدَّمُ الْأَرْبَعِينَ وَلَهَا عَادَةٌ، فَالزَّائِدُ عَلَيْهَا اسْتِحَاضَةٌ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا عَادَةٌ فَنِفَاسُهَا أَرْبَعُونَ، وَالنِّفَاسُ فِي التَّوْأَمَيْنِ عَقِيبَ الْأَوَّلِ (مز) ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] لَا يَرْفَعُ حَدَثًا وُجِدَ بَعْدَهُ.
قَالَ: (وَالْمَعْذُورُ هُوَ الَّذِي لَا يَمْضِي عَلَيْهِ وَقْتُ صَلَاةٍ إِلَّا وَالْحَدَثُ الَّذِي ابْتُلِيَ بِهِ مَوْجُودٌ) حَتَّى لَوِ انْقَطَعَ الدَّمُ وَقْتًا كَامِلًا خَرَجَ مِنْ أَنْ يَكُونَ صَاحِبَ عُذْرٍ مِنْ وَقْتِ الِانْقِطَاعِ.
قَالَ: (وَإِذَا زَادَ الدَّمُ عَلَى الْعَشَرَةِ وَلَهَا عَادَةٌ) مَعْرُوفَةٌ.
(فَالزَّائِدُ عَلَى عَادَتِهَا اسْتِحَاضَةٌ) لِأَنَّ بِالزِّيَادَةِ عَلَى الْعَشَرَةِ عُلِمَ كَوْنُهَا مُسْتَحَاضَةً فَتُرَدُّ إِلَى أَيَّامِ أَقْرَائِهَا. «قَالَ عليه الصلاة والسلام لِلْمُسْتَحَاضَةِ دَعِي الصَّلَاةَ أَيَّامَ أَقْرَائِكِ ثُمَّ تَوَضَّئِي وَصَلِّي» .
قَالَ: (وَإِذَا بَلَغَتْ مُسْتَحَاضَةٌ فَحَيْضُهَا عَشَرَةٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ) لِأَنَّهَا مُدَّةٌ صَالِحَةٌ لِلْحَيْضِ فَلَا تَخْرُجُ بِالشَّكِّ (وَالْبَاقِي اسْتِحَاضَةٌ) لِمَا تَقَدَّمَ.
[فصل في أَحْكَامُ النُّفَسَاءِ]فَصْلٌ (النِّفَاسُ: الدَّمُ الْخَارِجُ عَقِيبَ الْوِلَادَةِ) لِأَنَّهُ مُشْتَقٌّ مِنْ تَنَفُّسِ الرَّحِمِ بِالدَّمِ أَوْ مِنْ خُرُوجِ النَّفْسِ، وَهُوَ الْوَلَدُ أَوِ الدَّمُ وَالْكُلُّ مَوْجُودٌ.
قَالَ: (وَلَا حَدَّ لِأَقَلِّهِ، وَأَكْثَرُهُ أَرْبَعُونَ يَوْمًا) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام «تَقْعُدُ النُّفَسَاءُ أَرْبَعِينَ يَوْمًا إِلَّا أَنْ تَرَى طُهْرًا قَبْلَ ذَلِكَ» قَدَّرَ الْأَكْثَرَ وَلَمْ يُقَدِّرِ الْأَقَلَّ، وَلَوْ كَانَ لَهُ حَدٌّ لِقَدْرِهِ، وَلِأَنَّ خُرُوجَ الْوَلَدِ دَلِيلُ خُرُوجِ الدَّمِ مِنَ الرَّحِمِ فَاسْتَغْنَى عَنِ التَّقْدِيرِ وَلَا دَلِيلَ فِي الْحَيْضِ، فَاحْتَجْنَا إِلَى التَّقْدِيرِ لِيُسْتَدَلَّ بِدَوَامِهِ عَلَى أَنَّهُ مِنَ الرَّحِمِ.
قَالَ: (وَإِذَا جَاوَزَ الدَّمَ الْأَرْبَعِينَ وَلَهَا عَادَةٌ فَالزَّائِدُ عَلَيْهَا اسْتِحَاضَةٌ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا عَادَةٌ فَنِفَاسُهَا أَرْبَعُونَ) وَقَدْ بَيَّنَّاهُ فِي الْحَيْضِ.
قَالَ: (وَالنِّفَاسُ فِي التَّوْءَمَيْنِ عَقِيبَ الْأَوَّلِ) . وَقَالَ مُحَمَّدٌ وَزُفَرُ: عَقِيبَ الْأَخِيرِ، فَلَوْ كَانَ بَيْنَ الْوِلَادَتَيْنِ أَقَلُّ مِنْ سِتَّةِ أَشْهُرٍ فَلَا نِفَاسَ لَهَا مِنَ الثَّانِي، وَعِنْدَ مُحَمَّدٍ: مَا بَيْنَهُمَا اسْتِحَاضَةٌ وَالنِّفَاسُ مِنَ الثَّانِي. لَهُ أَنَّ النِّفَاسَ وَالْحَيْضَ سَوَاءٌ مِنْ حَيْثُ الْمَخْرَجِ، وَالْمَانِعِيَّةُ مِنَ الصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ وَالْوَطْءِ وَالْحَيْضِ لَا يُوجَدُ مِنَ الْحَامِلِ، فَكَذَا النِّفَاسُ. وَلَهُمَا مَا ذَكَرْنَا مِنْ حَدِّ النِّفَاسِ وَقَدْ وُجِدَ،
আর মাজুর (অপারগ ব্যক্তি) হলেন তিনি, যাঁর ওপর দিয়ে এমন কোনো সালাতের ওয়াক্ত অতিক্রান্ত হয় না যে সময়ে তাঁর আক্রান্ত নাপাকিটি বিদ্যমান থাকে না। আর রক্ত যদি দশ দিনের বেশি হয়ে যায় এবং ওই মহিলার (মাসিকের) নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে, তবে তাঁর অভ্যাসের অতিরিক্ত রক্তটুকু ইস্তিহাযা (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি কোনো মেয়ে বালিগা (প্রাপ্তবয়স্কা) হওয়ার শুরু থেকেই ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়, তবে প্রতি মাসে তাঁর হায়েজ (ঋতুস্রাব) দশ দিন বলে গণ্য হবে এবং অবশিষ্ট সময় ইস্তিহাযা।
পরিচ্ছেদ: নিফাস। সন্তান প্রসবের পর যে রক্ত বের হয় তাই নিফাস। এর কোনো সর্বনিম্ন সীমা নেই এবং এর সর্বোচ্চ সীমা হলো চল্লিশ দিন। আর রক্ত যদি চল্লিশ দিন অতিক্রম করে এবং ওই মহিলার (নিফাসের) নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে, তবে অভ্যাসের অতিরিক্ত রক্তটুকু ইস্তিহাযা। আর যদি তাঁর কোনো নির্দিষ্ট অভ্যাস না থাকে, তবে তাঁর নিফাস চল্লিশ দিন গণ্য হবে। আর যমজ সন্তানের ক্ষেত্রে প্রথম সন্তান প্রসবের পরই নিফাস শুরু হবে।
ــ
[আল-ইখতিয়ার লি-তা’লিলিল মুখতার] এটি তাঁর পরে বিদ্যমান নাপাকিকে দূরীভূত করে না।
তিনি (গ্রন্থকার) বলেন: (আর মাজুর হলেন তিনি, যাঁর ওপর দিয়ে এমন কোনো সালাতের ওয়াক্ত অতিক্রান্ত হয় না যে সময়ে তাঁর আক্রান্ত নাপাকিটি বিদ্যমান থাকে না।) এমনকি যদি পূর্ণ এক ওয়াক্ত সময় রক্ত বন্ধ থাকে, তবে বন্ধ হওয়ার সময় থেকেই তিনি মাজুর হওয়ার তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন: (আর রক্ত যদি দশ দিনের বেশি হয়ে যায় এবং ওই মহিলার নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে), যা আগে থেকেই জানা।
(তবে তাঁর অভ্যাসের অতিরিক্ত রক্তটুকু ইস্তিহাযা); কারণ দশ দিনের অতিরিক্ত হওয়ার কারণে তাঁর ইস্তিহাযা হওয়ার বিষয়টি জানা গেল, ফলে তাঁকে তাঁর ঋতুস্রাবের দিনগুলোর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীকে বলেছেন: "তোমার ঋতুকালীন দিনগুলোতে সালাত ত্যাগ করো, এরপর অজু করো ও সালাত আদায় করো।"
তিনি বলেন: (আর যদি কোনো মেয়ে বালিগা হওয়ার শুরু থেকেই ইস্তিহাযাগ্রস্ত হয়, তবে প্রতি মাসে তাঁর হায়েজ দশ দিন); কারণ এটি হায়েজের জন্য একটি উপযুক্ত সময়সীমা, তাই নিছক সন্দেহের কারণে তা থেকে বের হওয়া যাবে না। (এবং অবশিষ্ট সময় ইস্তিহাযা) যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে তার কারণে।
[নিফাসগ্রস্ত মহিলার বিধান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ]পরিচ্ছেদ: (নিফাস: সন্তান প্রসবের পরপরই যে রক্ত নির্গত হয়); কারণ এটি রক্তের মাধ্যমে জরায়ুর নিঃশ্বাস (তানাফ্ফুস) গ্রহণ থেকে উদ্ভূত, অথবা 'নাফস' (প্রাণ) বের হওয়া থেকে উদ্ভূত; এখানে নাফস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সন্তান অথবা রক্ত, আর এর প্রতিটিই এখানে বিদ্যমান।
তিনি বলেন: (এর কোনো সর্বনিম্ন সীমা নেই এবং এর সর্বোচ্চ সীমা হলো চল্লিশ দিন)। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: "নিফাসগ্রস্ত নারী চল্লিশ দিন অপেক্ষা করবে, যদি না এর আগেই সে পবিত্রতা দেখতে পায়।" তিনি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছেন কিন্তু সর্বনিম্ন কোনো সীমা নির্ধারণ করেননি। যদি এর কোনো সীমা থাকত তবে তিনি তা নির্ধারণ করতেন। তাছাড়া সন্তান বের হওয়াই জরায়ু থেকে রক্ত নির্গত হওয়ার প্রমাণ, ফলে তা নির্ধারণের প্রয়োজন নেই। কিন্তু হায়েজের ক্ষেত্রে জরায়ু থেকে রক্ত আসার এমন কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ নেই, তাই আমাদের সেটি নির্ধারণের প্রয়োজন হয়েছে যাতে রক্ত প্রবাহের স্থায়িত্ব দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যায় যে এটি জরায়ু থেকে আসছে।
তিনি বলেন: (আর রক্ত যদি চল্লিশ দিন অতিক্রম করে এবং ওই মহিলার নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে, তবে অভ্যাসের অতিরিক্ত রক্তটুকু ইস্তিহাযা। আর যদি তাঁর কোনো নির্দিষ্ট অভ্যাস না থাকে, তবে তাঁর নিফাস চল্লিশ দিন), এটি আমরা হায়েজের আলোচনায় বর্ণনা করেছি।
তিনি বলেন: (আর যমজ সন্তানের ক্ষেত্রে প্রথম সন্তানের পরেই নিফাস শুরু হবে)। আর ইমাম মুহাম্মদ ও ইমাম যুফার (রহি.) বলেন: শেষ সন্তানের পর থেকে নিফাস শুরু হবে। অতএব, দুই সন্তানের প্রসবের মাঝে যদি ছয় মাসের কম সময় হয়, তবে দ্বিতীয় সন্তানের কারণে কোনো নিফাস হবে না। ইমাম মুহাম্মদের মতে, দুই সন্তানের মধ্যবর্তী রক্ত হলো ইস্তিহাযা এবং নিফাস দ্বিতীয় সন্তানের পর থেকে শুরু হবে। তাঁর দলিল হলো, নির্গমন পথ হিসেবে নিফাস ও হায়েজ সমান; আর রোজা, সালাত ও সহবাসে বাধা হওয়ার ক্ষেত্রেও। গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রে যেমন হায়েজের বিধান পাওয়া যায় না, তেমনি নিফাসও হবে না। আর তাঁদের (শায়খাইনের) দলিল হলো নিফাসের যে সংজ্ঞার কথা আমরা উল্লেখ করেছি তা এখানে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وَالسَّقْطُ الَّذِي اسْتَبَانَ بَعْضُ (ف) خَلْقِهِ وَلَدٌ.
بَابُ الْأَنْجَاسِ وَتَطْهِيرِهَا النَّجَاسَةُ غَلِيظَةٌ وَخَفِيفَةٌ، فَالْمَانِعُ مِنَ الْغَلِيظَةِ أَنْ يَزِيدَ عَلَى قَدْرِ الدِّرْهَمِ مِسَاحَةً إِنْ كَانَ مَائِعًا، وَوَزْنًا إِنْ كَانَ كَثِيفًا، وَالْمَانِعُ مِنَ الْخَفِيفَةِ أَنْ يَبْلُغَ رُبُعَ الثَّوْبِ (ف) ،
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] بِخِلَافِ الْحَيْضِ لِمَا ذَكَرْنَا أَنَّهُ يَنْسَدُّ فَمُ الرَّحِمِ بِالْحَمْلِ فَلَا تَحِيضُ، وَالْعِدَّةُ تَنْقَضِي بِالْأَخِيرِ إِجْمَاعًا، لِأَنَّهُ مُعَلَّقٌ بِوَضْعِ الْحَمْلِ، فَيَتَنَاوَلُ الْجَمِيعَ وَهِيَ حَامِلٌ بَعْدَ الْأَوَّلِ.
قَالَ: (وَالسَّقْطُ الَّذِي اسْتَبَانَ بَعْضُ خَلْقِهِ وَلَدٌ) فَتَصِيرُ بِهِ نُفَسَاءَ، وَتَنْقَضِي بِهِ الْعِدَّةُ، وَتَصِيرُ الْأَمَةُ بِهِ أُمَّ وَلَدٍ، وَيَنْزِلُ الشَّرْطُ الْمُعَلَّقُ بِمَجِيءِ الْوَلَدِ أَخْذًا بِالِاحْتِيَاطِ.
[بَابُ الْأَنْجَاسِ وَتَطْهِيرِهَا]
(النَّجَاسَةُ غَلِيظَةٌ وَخَفِيفَةٌ) فَالْغَلِيظَةُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ مَا وَرَدَ فِي نَجَاسَتِهِ نَصٌّ وَلَمْ يُعَارِضْهُ آخَرُ، وَلَا حَرَجَ فِي اجْتِنَابِهِ وَإِنِ اخْتَلَفُوا فِيهِ؛ لِأَنَّ الِاجْتِهَادَ لَا يُعَارِضُ النَّصَّ. وَالْمُخَفَّفَةُ مَا تَعَارَضَ نَصَّانِ فِي طَهَارَتِهِ وَنَجَاسَتِهِ، وَعِنْدَهُمَا الْمُغَلَّظَةُ: مَا اتُّفِقَ عَلَى نَجَاسَتِهِ وَلَا بَلْوَى فِي إِصَابَتِهِ، وَالْمُخَفَّفَةُ: مَا اخْتُلِفَ فِي نَجَاسَتِهِ؛ لِأَنَّ الِاجْتِهَادَ حُجَّةٌ شَرْعِيَّةٌ كَالنَّصِّ.
قَالَ: (فَالْمَانِعُ مِنَ الْغَلِيظَةِ أَنْ يَزِيدَ عَلَى قَدْرِ الدِّرْهَمِ مِسَاحَةً إِنْ كَانَ مَائِعًا، وَوَزْنًا إِنْ كَانَ كَثِيفًا) وَهُوَ أَنْ تَكُونَ مِثْلَ عَرْضِ الْكَفِّ، لِقَوْلِ عُمَرَ رضي الله عنه: إِذَا كَانَتِ النَّجَاسَةُ قَدْرَ ظُفْرِي هَذَا لَا تَمْنَعُ جَوَازَ الصَّلَاةِ حَتَّى تَكُونَ أَكْثَرَ مِنْهُ، وَظُفْرُهُ كَانَ قَرِيبًا مِنْ كَفِّنَا. وَعَنْ مُحَمَّدٍ: الدِّرْهَمُ الْكَبِيرُ الْمِثْقَالُ: أَيْ مَا يَكُونُ وَزْنُهُ مِثْقَالًا، فَيُحْمَلُ الْأَوَّلُ عَلَى الْمِسَاحَةِ إِنْ كَانَ مَائِعًا، وَقَوْلُ مُحَمَّدٍ عَلَى الْوَزْنِ إِنْ كَانَ مُسْتَجْسِدًا.
قَالَ النَّخَعِيُّ: أَرَادُوا أَنْ يَقُولُوا قَدْرَ الْمَقْعَدَةِ فَكَنَّوْا بِقَدْرِ الدِّرْهَمِ عَنْهُ، وَإِنَّمَا قَدَّرَهُ أَصْحَابُنَا بِالدِّرْهَمِ ; لِأَنَّ قَلِيلَ النَّجَاسَةِ عَفْوٌ بِالْإِجْمَاعِ كَالَّتِي لَا يُدْرِكُهَا الْبَصَرُ وَدَمُ الْبَعُوضِ وَالْبَرَاغِيثِ، وَالْكَثِيرُ مُعْتَبَرٌ بِالْإِجْمَاعِ، فَجَعَلْنَا الْحَدَّ الْفَاصِلَ قَدْرَ الدِّرْهَمِ أَخْذًا مِنْ مَوْضِعِ الِاسْتِنْجَاءِ، فَإِنَّ بَعْدَ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْحَجَرِ إِنْ كَانَ الْخَارِجُ قَدْ أَصَابَ جَمِيعَ الْمَخْرَجِ يَبْقَى الْأَثَرُ فِي جَمِيعِهِ، وَذَلِكَ يَبْلُغُ قَدْرَ الدِّرْهَمِ، وَالصَّلَاةُ جَائِزَةٌ مَعَهُ إِجْمَاعًا، فَعَلِمْنَا أَنَّ قَدْرَ الدِّرْهَمِ عَفْوٌ شَرْعًا.
(وَالْمَانِعُ مِنَ الْخَفِيفَةِ أَنْ يَبْلُغَ رُبُعَ الثَّوْبِ) لِأَنَّ لِلرُّبْعِ حُكْمَ الْكُلِّ فِي أَحْكَامِ الشَّرْعِ كَمَسْحِ الرَّأْسِ وَحَلْقِهِ، ثُمَّ قِيلَ: رُبُعَ جَمِيعِ الثَّوْبِ، وَقِيلَ: رُبُعَ مَا أَصَابَهُ كَالْكُمِّ وَالذَّيْلِ وَالدِّخْرِيصِ، وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ شِبْرٌ
যে গর্ভপাতকৃত সন্তানের কোনো অঙ্গ স্পষ্ট হয়েছে, সে সন্তান হিসেবে গণ্য।
নাজাসাত (অপবিত্রতা) এবং তা পবিত্রকরণ অধ্যায় নাজাসাত গাঢ় (গালিজাহ) ও হালকা (খাফিফাহ) দুই প্রকার। গাঢ় নাজাসাতের ক্ষেত্রে যা সালাতে প্রতিবন্ধক, তা হলো যদি তরল হয় তবে দিরহামের আয়তনের বেশি হওয়া, আর যদি ঘন হয় তবে দিরহামের ওজনের বেশি হওয়া। আর হালকা নাজাসাতের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হলো কাপড়ের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ হওয়া।
ــ
[আল-ইখতিয়ার লি-তালীলি আল-মুখতার] ঋতুস্রাবের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ আমরা উল্লেখ করেছি যে, গর্ভধারণের ফলে জরায়ুর মুখ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে গর্ভবতী নারী ঋতুবতী হয় না। আর ইদ্দত সর্বশেষ সন্তান প্রসবের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে—এ ব্যাপারে ঐকমত্য (ইজমা) রয়েছে। কারণ ইদ্দত গর্ভ খালাস হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, যা পূর্ণ গর্ভস্থ অবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর প্রথম সন্তান প্রসবের পরও সে নারী গর্ভবতী হিসেবেই গণ্য থাকে।
তিনি (গ্রন্থকার) বলেন: (যে গর্ভপাতকৃত সন্তানের কোনো অঙ্গ স্পষ্ট হয়েছে, সে সন্তান হিসেবে গণ্য।) এর মাধ্যমে নারী নিফাসগ্রস্ত বলে গণ্য হবে, এর দ্বারা ইদ্দত শেষ হবে, এর মাধ্যমে দাসী 'উম্মে ওয়ালাদ' (সন্তানের জননী) হবে এবং সতর্কতা অবলম্বন করে সন্তান জন্মের ওপর স্থগিত রাখা শর্তটিও কার্যকর হবে।
[নাজাসাত এবং তা পবিত্রকরণ অধ্যায়]
(নাজাসাত গাঢ় এবং হালকা): ইমাম আবু হানিফার মতে গাঢ় নাজাসাত হলো সেই বস্তু যার অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তের অকাট্য দলীল (নস) বিদ্যমান এবং এর বিপরীতে অন্য কোনো দলীল নেই, আর তা থেকে বেঁচে থাকাতেও কোনো বিশেষ কষ্ট নেই, যদিও আলেমগণ সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন; কারণ ইজতিহাদ অকাট্য দলীলের (নস) বিরোধিতা করতে পারে না। আর হালকা নাজাসাত হলো সেই বস্তু যার পবিত্রতা ও অপবিত্রতা নিয়ে দুটি দলীলের মাঝে বৈপরীত্য রয়েছে। আর সাহেবাইনের (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ) মতে গাঢ় নাজাসাত হলো সেই বস্তু যার অপবিত্রতার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে এবং যা লেগে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের লিপ্ত হওয়ার সমস্যা (উমুমুল বালওয়া) নেই। আর হালকা নাজাসাত হলো যার অপবিত্রতার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; কারণ ইজতিহাদ শরয়ী দলীল হিসেবে নসের মতোই গণ্য।
তিনি বলেন: (গাঢ় নাজাসাতের ক্ষেত্রে যা প্রতিবন্ধক তা হলো যদি তরল হয় তবে দিরহামের আয়তনের বেশি হওয়া, আর যদি ঘন হয় তবে দিরহামের ওজনের বেশি হওয়া।) আর তা হলো হাতের তালুর বিস্তৃতির সমান হওয়া। কেননা হযরত উমর (রা.) বলেন: "যখন অপবিত্রতা আমার এই নখের সমান হয়, তখন তা সালাত জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয় না, যতক্ষণ না তা এর চেয়ে বেশি হয়।" আর তাঁর নখ আমাদের হাতের তালুর কাছাকাছি ছিল। ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত: বড় দিরহাম হলো মিসকাল; অর্থাৎ যার ওজন এক মিসকাল। সুতরাং প্রথম মতটি আয়তনের ওপর প্রযোজ্য হবে যদি নাজাসাত তরল হয়, আর ইমাম মুহাম্মদের উক্তিটি ওজনের ওপর প্রযোজ্য হবে যদি নাজাসাত ঘন বা জমাটবদ্ধ হয়।
ইমাম নাখঈ বলেন: তাঁরা মলদ্বারের পরিমাণ বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দিরহামের পরিমাণের মাধ্যমে তা পরোক্ষভাবে ব্যক্ত করেছেন। আমাদের (হানাফি মাযহাবের) ফকিহগণ দিরহামের দ্বারা এটি নির্ধারণ করেছেন; কারণ অল্প পরিমাণ নাজাসাত সর্বসম্মতভাবে ক্ষমাযোগ্য, যেমন যা খালি চোখে দেখা যায় না কিংবা মশা ও মাছির রক্ত। আর অধিক পরিমাণ নাজাসাত সর্বসম্মতভাবেই ধর্তব্য। তাই আমরা দিরহামের পরিমাণকে সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছি ইস্তিনজার স্থান থেকে গ্রহণ করে। কারণ পাথর দিয়ে ইস্তিনজা করার পর যদি নির্গত বস্তু পুরো মলদ্বার স্পর্শ করে তবে এর চিহ্ন অবশিষ্ঠ থাকে, আর তা দিরহামের পরিমাণের সমান হয় এবং এর সাথে সালাত আদায় করা সর্বসম্মতভাবে জায়েজ। ফলে আমরা জানতে পারলাম যে, দিরহাম পরিমাণ নাজাসাত শরীয়তসম্মতভাবে ক্ষমাযোগ্য।
(আর হালকা নাজাসাতের ক্ষেত্রে যা প্রতিবন্ধক তা হলো কাপড়ের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ হওয়া।) কারণ শরীয়তের বিধানে এক-চতুর্থাংশ পূর্ণ অংশের স্থলাভিষিক্ত, যেমন মাথা মাসাহ করা এবং চুল মুণ্ডন করার ক্ষেত্রে। এরপর বলা হয়েছে: এটি পুরো কাপড়ের এক-চতুর্থাংশ; আবার কেউ বলেছেন: কাপড়ের যে অংশে নাজাসাত লেগেছে তার এক-চতুর্থাংশ যেমন হাতা, কাপড়ের নিচের অংশ বা পাশের জোড়া লাগানো অংশ। আর ইমাম আবু ইউসুফের মতে তা এক বিঘত পরিমাণ।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وَكُلُّ مَا يَخْرُجُ مِنْ بَدَنِ الْإِنْسَانِ وَهُوَ مُوجِبٌ لِلتَّطْهِيرِ فَنَجَاسَتُهُ غَلِيظَةٌ، وَكَذَلِكَ الرَّوْثُ (سم) وَالْأَخْثَاءُ، وَبَوْلُ الْفَأْرَةِ، وَالصَّغِيرِ وَالصَّغِيرَةِ أَكَلَا أَوْ لَا، وَالْمَنِيُّ نَجِسٌ (ف) يَجِبُ غَسْلُ رَطْبِهِ، وَيُجْزِئُ الْفَرْكُ فِي يَابِسِهِ.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] فِي شِبْرٍ، وَعِنْدَ مُحَمَّدٍ ذِرَاعٌ فِي ذِرَاعٍ، وَعَنْهُ مَوْضِعُ الْقَدَمَيْنِ، وَالْمُخْتَارُ الرُّبُعُ، وَعَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ غَيْرُ مُقَدَّرٍ، وَهُوَ مَوْكُولٌ إِلَى رَأْيِ الْمُبْتَلَى لِتَفَاوُتِ النَّاسِ فِي الِاسْتِفْحَاشِ.
(وَكُلُّ مَا يَخْرُجُ مِنْ بَدَنِ الْإِنْسَانِ وَهُوَ مُوجِبٌ لِلتَّطْهِيرِ فَنَجَاسَتُهُ غَلِيظَةٌ) كَالْغَائِطِ وَالْبَوْلِ وَالدَّمِ وَالصَّدِيدِ وَالْقَيْءِ، وَلَا خِلَافَ فِيهِ، وَكَذَلِكَ الْمَنِيُّ لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام لِعَائِشَةَ: «إِنْ كَانَ رَطْبًا فَاغْسِلِيهِ، وَإِنْ كَانَ يَابِسًا فَافْرُكِيهِ» ، وَقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام لِعَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ: «إِنَّمَا يُغْسَلُ الثَّوْبُ مِنَ الْمَنِيِّ وَالْبَوْلِ وَالدَّمِ» ، وَلَوْ أَصَابَ الْبَدَنَ وَجَفَّ. رَوَى الْحَسَنُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ لَا يَطْهُرُ بِالْفَرْكِ. وَذَكَرَ الْكَرْخِيُّ عَنْ أَصْحَابِنَا أَنَّهُ يَطْهُرُ؛ لِأَنَّ الْبَلْوَى فِيهِ أَعَمُّ، وَالِاكْتِفَاءُ بِالْفَرْكِ لَا يَدَلُّ عَلَى طَهَارَتِهِ، فَإِنَّ الصَّحِيحَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ يَقِلُّ بِالْفَرْكِ فَتَجُوزُ الصَّلَاةُ فِيهِ، حَتَّى إِذَا أَصَابَهُ الْمَاءُ يَعُودُ نَجِسًا عِنْدَهُ، خِلَافًا لَهُمَا، ثُمَّ رَأَيْنَا كُلَّ مَا يُوجِبُ الطَّهَارَةَ كَالْغَائِطِ وَالْبَوْلِ وَدَمِ الْحَيْضِ وَالنِّفَاسِ نَجِسًا، فَقُلْنَا بِنَجَاسَةِ الْمَنِيِّ؛ لِأَنَّهُ يُوجِبُ أَكْبَرَ الطَّهَارَاتِ، وَكَوْنُهُ أَصْلَ الْآدَمِيِّ لَا يُوجِبُ طَهَارَتَهُ كَالْعَلَقَةِ.
قَالَ: (وَكَذَلِكَ الرَّوْثُ وَالْأَخْثَاءُ) وَبَوْلُ مَا لَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ مِنَ الدَّوَابِّ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ ; لِأَنَّ نَجَاسَتَهَا ثَبَتَتْ بِنَصٍّ لَمْ يُعَارِضْهُ غَيْرُهُ وَهُوَ قَوْلُهُ عليه الصلاة والسلام فِي الرَّوْثِ: " إِنَّهُ رِجْسٌ ".
وَالْأَخْثَاءُ مِثْلُهُ، وَعِنْدَهُمَا مُخَفَّفَةٌ لِعُمُومِ الْبَلْوَى بِهِ فِي الطُّرُقَاتِ وَوُقُوعِ الِاخْتِلَافِ فِيهِ، فَعِنْدَ مَالِكٍ الْأَرْوَاثُ كُلُّهَا طَاهِرَةٌ، وَعِنْدَ زُفَرَ رَوْثُ مَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ طَاهِرٌ. وَلِأَبِي حَنِيفَةَ أَنَّهُ اسْتَحَالَ إِلَى نَتَنٍ وَفَسَادٍ، وَهُوَ مُنْفَصِلٌ عَنْ حَيَوَانٍ يُمْكِنُ التَّحَرُّزُ عَنْهُ فَصَارَ كَالْآدَمِيِّ وَالضَّرُورَةُ فِي النِّعَالِ، وَقَدْ قُلْنَا بِالتَّخْفِيفِ فِيهَا حَتَّى تَطْهُرَ بِالْمَسْحِ، وَبِمَا ذَكَرْنَا مِنَ الْحَدِيثِ وَالْمَعْقُولِ خَرَجَ الْجَوَابُ عَنْ قَوْلِ مَالِكٍ وَزُفَرَ.
قَالَ: (وَ) كَذَلِكَ (بَوْلُ الْفَأْرَةِ) وَخَرْؤُهَا لِمَا تَقَدَّمَ، وَلِإِطْلَاقِ قَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «اسْتَنْزِهُوا مِنَ الْبَوْلِ» ، وَالِاحْتِرَازُ عَنْهُ مُمْكِنٌ فِي الْمَاءِ، غَيْرُ مُمْكِنٍ فِي الطَّعَامِ وَالثِّيَابِ فَيُعْفَى عَنْهُ فِيهِمَا.
قَالَ: (وَ) كَذَلِكَ بَوْلُ (الصَّغِيرِ وَالصَّغِيرَةِ أَكَلَا أَوْ لَا) لِمَا رَوَيْنَا مِنْ غَيْرِ فَصْلٍ، وَمَا رُوِيَ مِنْ نَضْحِ بَوْلِ الصَّبِيِّ إِذَا لَمْ يَأْكُلْ، فَالنَّضْحُ يُذْكَرُ بِمَعْنَى الْغَسْلِ. «قَالَ عليه الصلاة والسلام لَمَّا سُئِلَ عَنِ الْمَذْيِ: " انْضَحْ فَرْجَكَ بِالْمَاءِ» ، أَيِ اغْسِلْهُ، فَيُحْمَلُ عَلَيْهِ تَوْفِيقًا.
قَالَ: (وَالْمَنِيُّ نَجِسٌ يَجِبُ غَسْلُ رَطْبِهِ، وَيُجْزِئُ الْفَرْكُ فِي يَابِسِهِ) وَقَدْ بَيَّنَّا الْوَجْهَ فِيهِ.
মানুষের শরীর থেকে যা কিছু নির্গত হয় যা পবিত্রতা অর্জন আবশ্যক করে, তার নাপাকি হলো গলীজা (ভারী); তদ্রূপ পশুর গোবর ও বিষ্ঠা, ইঁদুরের প্রস্রাব এবং ছোট ছেলে ও মেয়ের প্রস্রাব—তারা খাবার গ্রহণ করুক বা না করুক। বীর্য নাপাক; এর ভেজা অবস্থা ধোয়া ওয়াজিব এবং শুকনো অবস্থায় তা ঘষে তুলে ফেলা যথেষ্ট।
—
[আল-ইখতিয়ার লি-তালীলি আল-মুখতার] এক বিঘত পরিমাপে; আর ইমাম মুহাম্মদের মতে এক হাত বাই এক হাত। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য বর্ণনা অনুযায়ী দুই পায়ের পাতা রাখার জায়গা। আর পছন্দসই মত হলো এক-চতুর্থাংশ। ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত আছে যে, এটি নির্ধারিত নয়, বরং আক্রান্ত ব্যক্তির বিবেচনার ওপর ন্যস্ত; কারণ ঘৃণা ও অপবিত্রতার ক্ষেত্রে মানুষের রুচির পার্থক্য থাকে।
(মানুষের শরীর থেকে যা কিছু নির্গত হয় যা পবিত্রতা অর্জন আবশ্যক করে, তার নাপাকি হলো গলীজা) যেমন মল, প্রস্রাব, রক্ত, পুঁজ এবং বমি; এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। বীর্যও তদ্রূপ নাপাক, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "যদি তা ভেজা থাকে তবে ধুয়ে ফেলো, আর যদি শুকনো হয় তবে তা ঘষে তুলে ফেলো।" এবং আম্মার ইবন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন: "কাপড় কেবল বীর্য, প্রস্রাব এবং রক্ত থেকে ধোয়া হয়।" যদি তা শরীরে লাগে এবং শুকিয়ে যায়, তবে ইমাম আবু হানিফা থেকে হাসান বর্ণনা করেছেন যে, ঘষার মাধ্যমে তা পবিত্র হবে না। কিন্তু কারখী আমাদের ফকীহগণের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তা পবিত্র হবে; কারণ এটি একটি সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আর ঘষে তোলা যথেষ্ট হওয়ার অর্থ এই নয় যে এটি পবিত্র হয়ে গেছে; কারণ ইমাম আবু হানিফার সঠিক মত হলো ঘষার দ্বারা এটি কমে যায় ফলে তাতে নামাজ পড়া বৈধ হয়, এমনকি যদি এতে পুনরায় পানি লাগে তবে তা তাঁর মতে পুনরায় নাপাক হয়ে যাবে—যা সাহেবাইনের মতের পরিপন্থী। অতঃপর আমরা লক্ষ্য করেছি যে, যা কিছু পবিত্রতা অর্জন আবশ্যক করে যেমন মল, প্রস্রাব, হায়েয ও নেফাসের রক্ত—তা সবই নাপাক। তাই আমরা বীর্য নাপাক হওয়ার কথা বলি; কারণ এটি বৃহত্তম পবিত্রতা (গোসল) আবশ্যক করে। আর মানুষের মূল উপাদান হওয়া একে পবিত্র করে না, যেমন আলাকা (রক্তপিণ্ড) মানুষের মূল হওয়া সত্ত্বেও নাপাক।
তিনি বলেন: (অনুরূপভাবে গোবর ও পশুর বিষ্ঠা) এবং ইমাম আবু হানিফার মতে যে সব পশুর গোশত খাওয়া হয় না তাদের প্রস্রাব নাপাকে গলীজা; কারণ এর নাপাকি অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত যার বিপরীতে অন্য কোনো দলিল নেই। আর তা হলো গোবর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই তা অপবিত্র।"
গবাদিপশুর বিষ্ঠাও তদ্রূপ। সাহেবাইনের মতে তা নাপাকে খাফিফা (হালকা), কারণ রাস্তায় এর আধিক্য থাকে এবং এ বিষয়ে ইমামদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মালিকের মতে সকল প্রাণীর বিষ্ঠাই পবিত্র। ইমাম যুফারের মতে যেসব পশুর গোশত খাওয়া যায় তাদের বিষ্ঠা পবিত্র। ইমাম আবু হানিফার যুক্তি হলো এটি দুর্গন্ধ ও বিকৃতিতে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এটি এমন প্রাণী থেকে নির্গত হয়েছে যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব, ফলে এটি মানুষের বিষ্ঠার ন্যায় সাব্যস্ত হলো। আর জুতোর ক্ষেত্রে যে ছাড় দেওয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তাগিদে; আমরা জুতোর ক্ষেত্রে শিথিলতার কথা বলেছি যে তা ঘষে ফেললে পবিত্র হবে। আমরা যে হাদিস ও যুক্তি পেশ করেছি তা থেকে ইমাম মালিক ও ইমাম যুফারের মতের উত্তর স্পষ্ট হয়ে যায়।
তিনি বলেন: (এবং) তদ্রূপ (ইঁদুরের প্রস্রাব) ও তার বিষ্ঠা—পূর্বোক্ত কারণে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ বাণীর কারণে: "তোমরা প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করো।" পানির ক্ষেত্রে ইঁদুরের প্রস্রাব থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হলেও খাবার ও কাপড়ের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়, তাই শেষোক্ত দুই ক্ষেত্রে তা ক্ষমাযোগ্য।
তিনি বলেন: (এবং) তদ্রূপ (ছোট ছেলে ও মেয়ের) প্রস্রাব (তারা খাবার গ্রহণ করুক বা না করুক)—কারণ আমরা কোনো পার্থক্য ছাড়াই সাধারণ হাদিস বর্ণনা করেছি। আর ছেলে শিশু খাবার না ধরা পর্যন্ত তার প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দেওয়ার যে বর্ণনা রয়েছে, সেখানে 'পানি ছিটানো' ধোয়ার অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন মযী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বলেছিলেন: "তোমার লজ্জাস্থানে পানি ছিটিয়ে দাও," অর্থাৎ ধুয়ে ফেলো। সুতরাং বিধানের সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য একে ধোয়ার অর্থেই গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন: (বীর্য নাপাক, এর ভেজা অবস্থা ধোয়া ওয়াজিব এবং শুকনো অবস্থায় ঘষে তোলা যথেষ্ট) এবং আমরা এর কারণ ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ١)
আল-ইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَإِذَا أَصَابَ الْخُفَّ نَجَاسَةٌ لَهَا جِرْمٌ كَالرَّوْثِ فَجَفَّ فَدَلَكَهُ بِالْأَرْضِ جَازَ (مز) ، وَالرَّطْبُ وَمَا لَا جِرْمَ لَهُ كَالْخَمْرِ لَا يَجُوزُ فِيهِ إِلَّا الْغَسْلُ، وَالسَّيْفُ وَالْمِرْآةُ يُكْتَفَى بِمَسْحِهِمَا (ز) فِيهِمَا، وَإِذَا أَصَابَتِ الْأَرْضَ نَجَاسَةٌ فَذَهَبَ أَثَرُهَا جَازَتِ (زف) الصَّلَاةُ عَلَيْهَا دُونَ التَّيَمُّمِ.
ــ
[الاختيار لتعليل المختار] وَفِي الْفَتَاوَى: مَرَارَةُ كُلِّ شَيْءٍ كَبَوْلِهِ فِي الْحُكْمِ، وَإِذَا اجْتَرَّ الْبَعِيرُ فَأَصَابَ ثَوْبَ إِنْسَانٍ فَحُكْمُهُ حُكْمُ سِرْقِينِهِ لِوُصُولِهِ إِلَى جَوْفِهِ كَالْمَاءِ إِذَا وَصَلَ إِلَى جَوْفِهِ حُكْمُهُ حُكْمُ بَوْلِهِ.
قَالَ: (وَإِذَا أَصَابَ الْخُفَّ نَجَاسَةٌ لَهَا جِرْمٌ كَالرَّوْثِ) وَالْعَذِرَةِ (فَجَفَّ فَدَلَكَهُ بِالْأَرْضِ جَازَ، وَالرَّطْبُ وَمَا لَا جِرْمَ لَهُ كَالْخَمْرِ) وَالْبَوْلِ.
(لَا يَجُوزُ فِيهِ إِلَّا الْغَسْلُ) وَهَذَا عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ. وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ: يُجْزِئُ الْمَسْحُ فِيهِمَا إِلَّا الْبَوْلَ وَالْخَمْرَ. وَقَالَ مُحَمَّدٌ: لَا يَجُوزُ فِيهِمَا إِلَّا الْغَسْلُ كَالثَّوْبِ، وَلِأَبِي يُوسُفَ إِطْلَاقُ قَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «إِذَا أَصَابَ خُفَّ أَحَدِكُمْ أَوْ نَعْلَهُ أَذًى فَلْيَدْلُكْهُمَا فِي الْأَرْضِ وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا، فَإِنَّ ذَلِكَ طَهُورٌ لَهُمَا» ، مِنْ غَيْرِ فَصْلٍ بَيْنَ الْيَابِسِ وَالرَّطْبِ وَالْمُسْتَجِدِّ وَغَيْرِهِ وَلِلضَّرُورَةِ الْعَامَّةِ، وَعَلَيْهِ أَكْثَرُ الْمَشَايِخِ، لِأَبِي حَنِيفَةَ هَذَا الْحَدِيثُ إِلَّا أَنَّ الرَّطْبَ إِذَا مُسِحَ بِالْأَرْضِ يَتَلَطَّخُ بِهِ الْخُفُّ أَكْثَرَ مِمَّا كَانَ فَلَا يُطَهِّرُهُ بِخِلَافِ الْيَابِسِ؛ لِأَنَّ الْخُفَّ لَا يَتَدَاخَلُهُ إِلَّا شَيْءٌ يَسِيرٌ وَهُوَ مَعْفُوٌّ عَنْهُ، وَلَا كَذَلِكَ الْبَوْلُ وَالْخَمْرُ؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ فِيهِ مَا يَجْتَذِبُ مِمَّا عَلَى الْخُفِّ فَيَبْقَى عَلَى حَالِهِ، حَتَّى لَوْ لَصَقَ عَلَيْهِ طِينٌ رَطْبٌ فَجَفَّ ثُمَّ دَلَّكَهُ جَازَ كَالَّذِي لَهُ جِرْمٌ، يُرْوَى ذَلِكَ عَنْ أَبِي يُوسُفَ، وَبِخِلَافِ الثَّوْبِ لِأَنَّهُ مُتَخَلِّلٌ فَتَتَدَاخَلُهُ أَجْزَاءُ النَّجَاسَةِ فَلَا تَزُولُ بِالْمَسْحِ فَيَجِبُ الْغَسْلُ.
قَالَ: (وَالسَّيْفُ وَالْمِرْآةُ يُكْتَفَى بِمَسْحِهِمَا) فِيهِمَا؛ لِأَنَّهُمَا لِصَلَابَتِهِمَا لَا يَتَدَاخَلُهُمَا شَيْءٌ مِنَ النَّجَاسَةِ فَيَزُولُ بِالْمَسْحِ.
قَالَ: (وَإِذَا أَصَابَتِ الْأَرْضَ نَجَاسَةٌ فَذَهَبَ أَثَرُهَا جَازَتِ الصَّلَاةُ عَلَيْهَا دُونَ التَّيَمُّمِ) ؛ لِأَنَّ طَهَارَةَ الصَّعِيدِ ثَبَتَتْ شَرْطًا بِنَصِّ الْكِتَابِ فَلَا يَتَأَدَّى بِمَا ثَبَتَ بِالْحَدِيثِ. وَقَالَ زُفَرُ:
আর যদি মোজায় এমন কোনো নাপাকি লাগে যার দেহ বা অবয়ব আছে যেমন গোবর, অতঃপর তা শুকিয়ে যায় এবং তা মাটিতে ঘষে ফেলা হয়, তবে তা জায়েজ (মুজানি)। আর আর্দ্র নাপাকি এবং যার কোনো দেহ নেই যেমন মদ, ধৌত করা ছাড়া তা জায়েজ নয়। আর তলোয়ার ও আয়নার ক্ষেত্রে সেগুলোর মুছে ফেলাই যথেষ্ট (জুফার)। আর যখন জমিনে নাপাকি লাগে এবং তার চিহ্ন দূরীভূত হয়ে যায়, তখন তার উপর সালাত আদায় করা জায়েজ (জুফার), তবে তায়াম্মুম করা জায়েজ নয়।
—
[আল-ইখতিয়ার লি-তালিদিল মুখতার] আর ফাতাওয়া গ্রন্থে রয়েছে: প্রত্যেক প্রাণীর পিত্তথলির রস হুকুমের ক্ষেত্রে তার পেশাবের ন্যায়। উট যখন জাবর কাটে এবং তা কোনো মানুষের কাপড়ে লাগে, তখন তার হুকুম হবে তার গোবরের হুকুমের ন্যায়; কারণ তা তার পেটের ভেতর পর্যন্ত পৌঁছেছে। যেমন পানি যখন পেটের ভেতর পৌঁছে যায়, তখন তার হুকুম হয় পেশাবের হুকুমের ন্যায়।
তিনি (গ্রন্থকার) বলেন: (আর যদি মোজায় এমন কোনো নাপাকি লাগে যার দেহ বা অবয়ব আছে যেমন গোবর) এবং মল (অতঃপর তা শুকিয়ে যায় এবং তা মাটিতে ঘষে ফেলা হয়, তবে তা জায়েজ। আর আর্দ্র নাপাকি এবং যার কোনো দেহ নেই যেমন মদ) এবং পেশাব।
(ধৌত করা ছাড়া তা জায়েজ নয়) এবং এটি ইমাম আবু হানিফার অভিমত। ইমাম আবু ইউসুফ বলেন: পেশাব ও মদ ব্যতীত উভয় ক্ষেত্রে মুছে ফেলাই যথেষ্ট। ইমাম মুহাম্মদ বলেন: কাপড়ের ন্যায় উভয় ক্ষেত্রেই ধৌত করা ছাড়া জায়েজ হবে না। ইমাম আবু ইউসুফের দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর ব্যাপকতা: "তোমাদের কারো মোজা বা জুতোয় যখন কোনো ময়লা লাগে, সে যেন তা মাটিতে ঘষে ফেলে এবং তাতে সালাত আদায় করে। কেননা এটিই উভয়ের জন্য পবিত্রতা।" এখানে শুকনা ও ভেজা, কিংবা নতুন বা পুরাতন নাপাকির মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি এবং এটি সাধারণ প্রয়োজনের তাগিদে। অধিকাংশ মাশায়েখ এর ওপরই ফতোয়া দিয়েছেন। ইমাম আবু হানিফার দলিলও এই হাদিসটিই, তবে কথা হলো আর্দ্র নাপাকি যখন মাটিতে ঘষা হয়, তখন মোজায় তা আগের চেয়ে বেশি লেপ্টে যায়, ফলে তা তাকে পবিত্র করে না; শুকনা নাপাকির বিষয়টি এর ভিন্ন, কারণ শুকনা অবস্থায় মোজার ভেতরে খুব সামান্যই নাপাকি প্রবেশ করে যা ক্ষমারযোগ্য। আর পেশাব ও মদের বিষয়টি এমন নয়; কারণ তাতে এমন কিছু নেই যা মোজার ওপর থেকে নাপাকিকে টেনে নেবে, ফলে তা তার পূর্বাবস্থায় থেকে যায়। এমনকি যদি এর ওপর কোনো আর্দ্র কাদা লেগে শুকিয়ে যায়, এরপর তা ঘষে ফেলা হয়, তবে তা দেহযুক্ত নাপাকির ন্যায় জায়েজ হবে; এটি ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত। আর কাপড়ের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ কাপড় সচ্ছিদ্র হওয়ার ফলে তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে নাপাকির অংশসমূহ প্রবেশ করে যায়, ফলে ঘষার মাধ্যমে তা দূরীভূত হয় না, তাই ধৌত করা আবশ্যক।
তিনি বলেন: (আর তলোয়ার ও আয়নার ক্ষেত্রে সেগুলোর মুছে ফেলাই যথেষ্ট); কারণ তাদের কাঠিন্যের কারণে তার ভেতরে কোনো নাপাকি প্রবেশ করতে পারে না, ফলে মোছার মাধ্যমেই তা দূরীভূত হয়ে যায়।
তিনি বলেন: (আর যখন জমিনে নাপাকি লাগে এবং তার চিহ্ন দূরীভূত হয়ে যায়, তখন তার উপর সালাত আদায় করা জায়েজ, তবে তায়াম্মুম করা জায়েজ নয়); কারণ পবিত্র মাটির পবিত্রতা কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশ দ্বারা শর্ত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, সুতরাং যা হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে তার মাধ্যমে তা অর্জিত হবে না। আর ইমাম জুফার বলেন: