(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: -)
جامع تفاسير الأحلام = تنبيه الأفهام بتأويل الأحلام   (الملا الإحسائي)

القسم: علوم أخرى


الكتاب: جامع تفاسير الأحلام = تنبيه الأفهام بتأويل الأحلام

المؤلف: أبو بكر بن محمد بن عمر المُلَّا الحنفي الإحسائي (ت 1270هـ)

الناشر: دار الثقافة - الدوحة - قطر

الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988م

عدد الصفحات: 200

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

স্বপ্ন ব্যাখ্যার সংকলন = স্বপ্ন ব্যাখ্যার মাধ্যমে বোধোদয়   (আল-মুল্লা আল-ইহসায়ী)

বিভাগ: অন্যান্য উলূম


গ্রন্থ: স্বপ্ন ব্যাখ্যার সংকলন = স্বপ্ন ব্যাখ্যার মাধ্যমে বোধোদয়

লেখক: আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-মুল্লা আল-হানাফি আল-ইহসায়ী (মৃত্যু ১২৭০ হিজরি)

প্রকাশক: দারুস সাকাফাহ - দোহা - কাতার

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الْمُقدمَة

 

‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه أستعين

الْحَمد لله الَّذِي جعل الْمَنَام رَاحَة للأنام واختص أولي الْعلم من ذَوي الأحلام بِمَعْرِِفَة علم الرُّؤْيَا وأضغاث الأحلام وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد الْمَخْصُوص بالمزايا الْعِظَام وعَلى آله الْكِرَام وَأَصْحَابه الَّذين يهتدى بهم كَالنُّجُومِ فِي الظلام وعَلى التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الْبَعْث وَالْقِيَام وَبعد فَهَذَا كتاب فِي تَعْبِير الأحلام لخصه من كتب الْعلمَاء الْأَعْلَام لَيْسَ بالطويل الممل وَلَا بالقصير المخل فصدره بجمعه نفع نَفِيس وَمن شَاءَ الله من أَبنَاء جنسي وَأَنا فِي ذَلِك معبر وسفير وَلَيْسَ لي مِنْهُ إِلَّا تَرْتِيب اللَّفْظ وَالتَّعْبِير وسميته تَنْبِيه الأفهام بِتَأْوِيل الأحلام وَالله سُبْحَانَهُ المسؤول أَن ينفع بِهِ إِنَّه أكْرم مأمول

‌‌تقدمة فِي فضل هَذَا الْعلم

إِن علم الرُّؤْيَا علم حسن شرِيف وفضله مشتهر منيف إِذْ بِهِ يسْتَدلّ على بعض المغيبات وَيعرف مَا هُوَ حَاصِل أَو آتٍ وَيفرق بَين الصّلاح وَالْفساد ويميز الغي من الرشاد وَمن ثمَّ أعتبره وعول عَلَيْهِ أكَابِر النَّبِيين وأعاظم الْمُرْسلين كإبراهيم الْخَلِيل وَيَعْقُوب ويوسف وَأفضل النَّاس أَجْمَعِينَ وَقد ورد فِيهِ أيات وأخبار قَالَ الله تَعَالَى (وَكَذَلِكَ مكنا ليوسف فِي الأَرْض ولنعلمه من تَأْوِيل
ভূমিকা

 

‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি নিদ্রাকে সৃষ্টিজীবের জন্য প্রশান্তি স্বরূপ করেছেন এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের মধ্য হতে আলেমদেরকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা ও অলীক কল্পনার জ্ঞান দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি মহান বিশেষত্বসমূহে বিশিষ্ট, এবং তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গ ও সাহাবাগণের প্রতি, যাদের মাধ্যমে অন্ধকারে নক্ষত্ররাজির ন্যায় হেদায়েত লাভ করা যায়, এবং কিয়ামত ও পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের প্রতি। অতঃপর, এটি স্বপ্ন ব্যাখ্যার একটি কিতাব, যা প্রথিতযশা আলেমদের কিতাবসমূহ হতে সংক্ষেপিত করা হয়েছে। এটি বিরক্তিদায়ক দীর্ঘও নয়, আবার অসম্পূর্ণ সংক্ষিপ্তও নয়। এটি সংকলনের মাধ্যমে মূল্যবান উপকারের সূচনা করা হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে আমার সমজাতীয় ব্যক্তিদের জন্য তা ফলপ্রসূ হবে। আর আমি এক্ষেত্রে কেবল একজন ভাষ্যকার ও বার্তাবাহক মাত্র, শব্দ ও ব্যাখ্যার বিন্যাস ছাড়া এতে আমার আর কোনো কৃতিত্ব নেই। আমি এর নামকরণ করেছি 'তানবিহুল আফহাম বি তাবিলিল আহলাম' (স্বপ্নের ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রজ্ঞার জাগরণ)। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ আশার স্থল।

‌এই ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক ভূমিকা

নিশ্চয়ই স্বপ্ন ব্যাখ্যার ইলম একটি উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ বিষয় এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব সুপ্রসিদ্ধ ও মহান। কেননা এর মাধ্যমে কিছু অদৃশ্যের বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং বর্তমানে যা ঘটছে বা ভবিষ্যতে যা ঘটবে তা জানা যায়। এর দ্বারা কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে পার্থক্য করা যায় এবং পথভ্রষ্টতা ও সঠিক পথের মধ্যে প্রভেদ করা যায়। আর এ কারণেই নবীগণের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিবর্গ ও মহান রাসূলগণ এর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এর ওপর নির্ভর করেছেন, যেমন ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, ইয়াকুব ও ইউসুফ এবং মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ। এ বিষয়ে অনেক আয়াত ও বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর এভাবেই আমি ইউসুফকে সেই জমিনে প্রতিষ্ঠিত করলাম এবং যাতে তাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিতে পারি..."
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
الْأَحَادِيث} قَالَ الواحدي هُوَ تَأْوِيل الرُّؤْيَا وَقَالَ تَعَالَى {لَهُم الْبُشْرَى فِي الْحَيَاة الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة} قَالَ بعض الْمُفَسّرين يَعْنِي الرُّؤْيَا الصَّالِحَة وَفِي الْآخِرَة المعاينة وَقَالَ صلى الله عليه وسلم رُؤْيا الْمُؤمن كَلَام يكلم بِهِ العَبْد ربه فِي الْمَنَام

وَقَالَت عَائِشَة رضي الله عنها أول مَا بُدِئَ بِهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم من الْوَحْي الرُّؤْيَا الصَّالِحَة فَكَانَ لَا يرى رُؤْيا إِلَّا جَاءَت مثل فلق الصُّبْح

وَقَالَ النَّبِي الرُّؤْيَا الصَّالِحَة جُزْء من سِتَّة وَأَرْبَعين جُزْء من النُّبُوَّة

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم ذهبت النُّبُوَّة وَبقيت الْمُبَشِّرَات الرُّؤْيَا الصَّالِحَة يَرَاهَا الرجل أَو ترى لَهُ

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْكُم من أحد إِلَّا وَيرى فِي مَنَامه مَا يرى فِي يقظته عرف ذَلِك من عرفه وجهله من جَهله

وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم من لم يُؤمن بالرؤيا الصَّالِحَة لم يُؤمن بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم أصدقكم حَدِيث أصدقكم رُؤْيا وَإِذا اقْترب الزَّمَان لم تكد تكذب رُؤْيا الْمُؤمن

وَكَانَ صلى الله عليه وسلم إِذا صلى بِالنَّاسِ الْغَدَاة أقبل عَلَيْهِم بِوَجْهِهِ وَقَالَ من رأى مِنْكُم رُؤْيا يقصها علينا وَكَانَ الْأَنْبِيَاء عليهم السلام يأمرون وَينْهَوْنَ ويبشرون كَذَلِك وأنما كَانَ مَا أَرَادَ إِبْرَاهِيم الْخَلِيل عليه السلام من ذبح وَلَده برؤيا رَآهَا

‌‌فصل

وَاعْلَم أَن أصدق الرُّؤْيَا إِذا نمت على جَنْبك الْأَيْمن لَا من نَام على جنبه الْأَيْسَر وعَلى ظَهره وَرَأى رُؤْيا وَرُبمَا يَصح بعض ذَلِك وَمَا كَانَ مِنْهَا فِي مَنَامه وعَلى ظَهره وَرَأى رُؤْيا وَرُبمَا يَصح بعض ذَلِك وَمَا كَانَ مِنْهَا فِي مَنَامه على بَطْنه فَهُوَ أضغاث أَحْلَام وأصدق مَا تكون الرُّؤْيَا فِي الرّبيع والصيف وأضعف مَا تكون فِي الخريف والشتاء وَأقرب مَا تكون إِذا رَأَيْت فِي آخر اللَّيْل وَأقوى مَا تكون إِذا كَانَ الرَّائِي صَادِقا وَأما الكذوب وَكَذَا الْكَافِر وَالْفَاسِق فَإِن رؤياهم ضَعِيفَة وَقد تصح نَادرا وَأما الْجنب فقد جزم جمع أَن رُؤْيَاهُ صَحِيحَة وَمِمَّنْ جرى على ذَلِك ابْن سينا وَكَذَا ابْن سِيرِين فَقَالَ رُؤْيا الْجنب وَالْحَائِض وَالنُّفَسَاء
হাদিসসমূহ} আল-ওয়াহিদি বলেন, এটি হলো স্বপ্নের ব্যাখ্যা। আর মহান আল্লাহ বলেন, "তাদের জন্য দুনিয়ার জীবনে এবং আখেরাতে সুসংবাদ রয়েছে।" কিছু মুফাসসির বলেন, এর অর্থ হলো নেক স্বপ্ন, আর আখেরাতে এর অর্থ হলো সরাসরি দর্শন। এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "মুমিনের স্বপ্ন হলো এমন এক কথা যার মাধ্যমে বান্দা ঘুমের মধ্যে তার রবের সাথে কথা বলে।"

আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সা.)-এর প্রতি ওহী আসার সূচনা হয়েছিল নেক স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা সকালের আলোর মতো সুস্পষ্ট হয়ে দেখা দিত।

নবী (সা.) বলেছেন, "নেক স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।"

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নবুওয়ত চলে গেছে, কিন্তু সুসংবাদসমূহ (মুবাশশিরাত) অবশিষ্ট রয়েছে। আর তা হলো নেক স্বপ্ন, যা মানুষ নিজে দেখে অথবা তার জন্য দেখা হয়।"

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে ঘুমের ঘোরে তা দেখে না যা সে জাগ্রত অবস্থায় দেখে; যে এটি চিনেছে সে চিনেছে এবং যে এ সম্পর্কে অজ্ঞ সে অজ্ঞই রয়ে গেছে।"

নবী (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি নেক স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস রাখে না, সে আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না।"

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যার কথা যত বেশি সত্য, তার স্বপ্নও তত বেশি সত্য। আর যখন সময় ঘনিয়ে আসবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে।"

রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মানুষের সাথে ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন এবং বলতেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ কি কোনো স্বপ্ন দেখেছ যা আমাদের কাছে বর্ণনা করবে?" নবীরাও (আ.) এভাবেই আদেশ করতেন, নিষেধ করতেন এবং সুসংবাদ দিতেন। আর ইবরাহিম খলিল (আ.) তাঁর সন্তানকে জবেহ করার যে ইচ্ছা করেছিলেন, তা একটি স্বপ্নের মাধ্যমেই ছিল যা তিনি দেখেছিলেন।

‌‌পরিচ্ছেদ

জেনে রাখুন যে, সবচেয়ে সত্য স্বপ্ন হলো সেটি যা আপনি ডান কাতে ঘুমানোর সময় দেখেন; বাম কাতে বা পিঠের ওপর শুয়ে দেখা স্বপ্ন এমন নয়, যদিও তার কিছু অংশ সত্য হতে পারে। আর পিঠের ওপর শুয়ে যা দেখা হয় এবং তার কিছু অংশ সত্য হতে পারে, আর পেটের ওপর উপুড় হয়ে শোয়া অবস্থায় যা দেখা হয় তা হলো অর্থহীন কল্পনা। স্বপ্ন সবচেয়ে বেশি সত্য হয় বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে, আর সবচেয়ে দুর্বল হয় শরৎ ও শীতকালে। স্বপ্ন সবচেয়ে নিকটবর্তী (বাস্তব হওয়ার ক্ষেত্রে) হয় যখন তা রাতের শেষাংশে দেখা যায়। আর তা সবচেয়ে শক্তিশালী হয় যখন স্বপ্নদ্রষ্টা সত্যবাদী হয়। পক্ষান্তরে মিথ্যাবাদী, কাফের এবং ফাসেক ব্যক্তির স্বপ্ন দুর্বল হয়ে থাকে, তবে কদাচিৎ তা সত্য হতে পারে। আর নাপাক (জুনুবি) ব্যক্তির ক্ষেত্রে একদল বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করেছেন যে তার স্বপ্নও সঠিক হতে পারে। যারা এ মত পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে ইবনে সিনা এবং ইবনে সিরিনও রয়েছেন। তিনি বলেছেন, জুনুবি, ঋতুবতী এবং নেফাসগ্রস্ত নারীর স্বপ্নও (সঠিক হতে পারে)।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
والمستحاضة والسكران والمتلطخ بالخبث صَحِيحَة وأصدق مَا تكون عِنْد الِاسْتِغْرَاق فِي النّوم وَأما مَا يرَاهُ الناعس فَلَا عِبْرَة بِهِ وَلَا يجوز لأحد أَن يكذب فِي رُؤْيَاهُ وَيَزْعُم أَنه رأى غير مَا رأى فقد قَالَ صلى الله عليه وسلم من تحلم بحلم لم يره كلف أَن يعْقد بَين شعيرتين وَلنْ يفعل

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم من كذب على غير مَا يرى كَانَ عِنْد الله من الْكَاذِبين وَإِذا قصّ إِنْسَان على آخر رُؤْيا وَزعم أَنه رَآهَا وَهُوَ كَاذِب فعبرها لَهُ أَو كَانَ رَآهَا فَلَمَّا عبرت أنكر أَنه رَآهَا عنادا كَانَت سَببا لحُصُول الْخَيْر للمعبر وسببا للوبال على الْقَاص وَينْدب لمن رأى فِي مَنَامه رُؤْيا مَكْرُوهَة أَن يتفل عَن يسَاره ثَلَاثًا ويستعيذ بِاللَّه من شَرها ويتحول إِلَى جنبه الآخر وَلَا يحدث بهَا فَإِن الرُّؤْيَا على رجل طَائِر كَمَا ورد مَا لم يحدث بهَا فَإِذا حدث بهَا سَقَطت وَإِذا قصّ رُؤْيَاهُ على رجل وَكَانَت خيرا وعبرها لَهُ بشر عَامِدًا كَانَ شرا على الْمعبر وَلَا يلْحق الرَّائِي من ذَلِك ضَرَر وَلَا تبطل الرُّؤْيَا بِتَأْوِيل يُخَالف التَّعْبِير وَإِذا رأى الْإِنْسَان رُؤْيا فَقَصَّهَا على رجل فِي النّوم فعبرها لَهُ فَهِيَ كَمَا عبر أَو رأى الطِّفْل الَّذِي لم يبلغ أَوَان النُّطْق فَكَلمهُ وَأخْبرهُ بِشَيْء فَهِيَ رُؤْيا صَادِقَة أَو رأى مَيتا فَأخْبرهُ بِشَيْء فَهُوَ حق لِأَنَّهُ مَشْغُول عَن الْبَاطِل بِمَا هُوَ فِيهِ من خير أَو شَرّ فَإِن قَالَ بَاطِلا فَهُوَ من الأضغاث أَو هاتفا أَو ملكا فَقَالَ لَهُ شَيْئا فَإِن كَلَامه حق لِأَن هَؤُلَاءِ لَا يكذبُون وَلَا يتَمَثَّل الشَّيْطَان فِي الرُّؤْيَا بِاللَّه وَلَا بملائكته وَكتبه وَرُسُله وَالْإِنْسَان قد يرى مناما وَيكون التَّعْبِير لَازِما لَا يتعداه وَقد يكون مُشْتَركا بَينه وَبَين شَرِيكه وسميه وَنَظِيره وَإِذا رأى رُؤْيا من لَيْسَ لَهَا بِأَهْل كَانَ ذَلِك لمن يصلح لَهُ من أَهله وَذَوِيهِ فرؤيا العَبْد لسَيِّده لِأَنَّهُ مَاله
মুস্তাহাযাহ (প্রদর আক্রান্ত নারী), মদ্যপ এবং অপবিত্রতায় লিপ্ত ব্যক্তির স্বপ্নও সঠিক হতে পারে। স্বপ্নের মধ্যে সবচেয়ে সত্য সেই স্বপ্ন যা গভীর ঘুমের সময় দেখা হয়। আর তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তি যা দেখে তার কোনো গুরুত্ব নেই। কারো জন্য তার স্বপ্নে মিথ্যা বলা জায়েজ নয় এবং সে যা দেখেনি তা দেখেছে বলে দাবি করাও বৈধ নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো স্বপ্নের দাবি করল যা সে দেখেনি, তাকে দুটি যব দানার মধ্যে গিট দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হবে, অথচ সে তা কখনোই করতে পারবে না।"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি যা দেখেনি সে সম্পর্কে মিথ্যা বলল, সে আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারো কাছে কোনো স্বপ্নের কথা বর্ণনা করে এবং মিথ্যাভাবে দাবি করে যে সে তা দেখেছে, এরপর সে ব্যক্তি তার ব্যাখ্যা করে দেয়; অথবা সে স্বপ্নটি দেখেছিল কিন্তু যখন ব্যাখ্যা করা হলো তখন সে হঠকারিতাবশত তা দেখার কথা অস্বীকার করল, তবে এটি ব্যাখ্যাকারীর জন্য কল্যাণ প্রাপ্তির কারণ হবে এবং বর্ণনাকারীর জন্য তা অমঙ্গলের কারণ হবে। যে ব্যক্তি স্বপ্নে কোনো অপছন্দনীয় বিষয় দেখে, তার জন্য মুস্তাহাব হলো তার বাম দিকে তিনবার থুতু নিক্ষেপ করা এবং এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা, আর অন্য পার্শ্বে ফিরে শোয়া এবং কারো কাছে তা বর্ণনা না করা। কেননা বর্ণিত হয়েছে যে, স্বপ্ন যতক্ষণ বর্ণনা করা না হয় ততক্ষণ তা পাখির পায়ের ওপর থাকে; যখন তা বর্ণনা করা হয় তখন তা বাস্তবায়িত হয়। যদি কেউ কোনো ব্যক্তির কাছে তার স্বপ্ন বর্ণনা করে এবং তা ভালো স্বপ্ন হয়, কিন্তু ব্যাখ্যাকারী ইচ্ছাকৃতভাবে তার মন্দ ব্যাখ্যা দেয়, তবে তা ব্যাখ্যাকারীর জন্যই মন্দ হবে এবং স্বপ্নদ্রষ্টার কোনো ক্ষতি হবে না। সঠিক ব্যাখ্যার বিপরীত কোনো ব্যাখ্যার কারণে স্বপ্ন বাতিল হয়ে যায় না। যদি কোনো মানুষ স্বপ্ন দেখে এবং ঘুমের মধ্যেই কারো কাছে তা বর্ণনা করে আর সে তার ব্যাখ্যা করে দেয়, তবে স্বপ্নটি সেই ব্যাখ্যার অনুরূপই হবে। অথবা যদি এমন কোনো শিশু কিছু দেখে যে এখনো কথা বলতে শেখেনি এবং সে কারো সাথে কথা বলে কোনো সংবাদ দেয়, তবে তা সত্য স্বপ্ন। অথবা যদি কেউ কোনো মৃত ব্যক্তিকে দেখে এবং সে তাকে কোনো সংবাদ দেয়, তবে তা সত্য; কারণ মৃত ব্যক্তি মিথ্যা ও অসারতা থেকে মুক্ত হয়ে তার বর্তমান অবস্থা—চাই তা ভালো হোক বা মন্দ—তাতে নিমগ্ন থাকে। তবে মৃত ব্যক্তি যদি কোনো অবাস্তব কথা বলে তবে তা অলীক স্বপ্ন। অথবা যদি কোনো অদৃশ্য কণ্ঠস্বর কিংবা কোনো ফেরেশতা তাকে কিছু বলে, তবে তাদের কথা সত্য; কারণ তারা মিথ্যা বলেন না। শয়তান স্বপ্নে আল্লাহর রূপ ধারণ করতে পারে না, আর না ফেরেশতাগণ, আসমানী কিতাবসমূহ এবং রাসূলগণের রূপ ধারণ করতে পারে। মানুষ কখনো এমন স্বপ্ন দেখে যার ব্যাখ্যা শুধু তার জন্যই নির্দিষ্ট থাকে, আবার কখনো তা তার এবং তার অংশীদার, সমনামী বা সমপর্যায়ের ব্যক্তির মধ্যে সাধারণ হতে পারে। যদি এমন কেউ স্বপ্ন দেখে যে এর উপযুক্ত নয়, তবে তা তার পরিবারের বা আত্মীয়দের মধ্য থেকে যে উপযুক্ত তার জন্য প্রযোজ্য হবে। যেমন দাসের দেখা স্বপ্ন তার মুনীবের জন্য হতে পারে, কারণ দাস তার মুনীবের সম্পদ।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
وَالْمَرْأَة لزَوجهَا لِأَنَّهَا خلقت مِنْهُ وَالْولد لوالده لِأَنَّهُ خلق من مَائه وَقد رأى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي مَنَامه أسيد ابْن أبي الْعيص فِي الْجنَّة بعد مَوته وَكَانَ مُشْركًا فأولها صلى الله عليه وسلم عتاب بن أسيد لِأَنَّهُ كَانَ نَظِيره

‌‌فصل

والمنام قد يكون مَحْمُودًا ظَاهرا وَبَاطنا كرؤية الْمَلَائِكَة والأنبياء ومعاشرتهم وَقد يكون مذموما فيهمَا كرؤية الْأَشْيَاء المخوفة المفزعة كمن رأى أَنه حبس أَو سقط من مَحل عَال أَو مرض وَقد يكون مذموما فِي الظَّاهِر مَحْمُودًا فِي الْبَاطِن كمن يرى الصاعقة فَإِن كَانَ عبدا أعتق أَو فَقِيرا تمول أَو فِي الْبَحْر خرج مِنْهُ سالما ومحاربا مَعَ عَدو ظفر بِهِ وَقد يكون مَحْمُودًا فِي الظَّاهِر مذموما فِي الْبَاطِن كمن رأى أَنه أَخذ من الشَّمْس عشرَة أَقْرَاص فَأكلهَا فَعَاشَ عشرَة أَيَّام وَمَات لِأَن تِلْكَ الأقراص قوت الْعشْرَة أَيَّام فَلَمَّا نفدت مَاتَ وكل هَذِه وجدت فِي التجارب وَقد يكون الْمَنَام تَصْرِيحًا وَقد يكون تعريضا وَقد يَنْقَسِم بِحَسب مصلحَة العَبْد فَإِن اقْتَضَت التَّصْرِيح أريها مصرحة أَو التَّعْرِيض أريها كَذَلِك وَقد تكون الْقُوَّة الْقَابِلَة للرؤيا غير مُعْتَدَّة لقبُول التَّصْرِيح فتعجز عَن إِدْرَاكهَا كالحاسة الَّتِي لَيست بسليمة وَلَا قَوِيَّة فتدرك محسوسها على غير مَا فِي الْوُجُود من اللَّوْن والشكل وَمن الرُّؤْيَا الصَّرِيحَة مَا حُكيَ أَن المعتصم نَام فِي خيمة فَرَأى قَائِلا يَقُول قُم وَعجل فَإِن الأفعى قصدتك لتقتلك فانتبه فَرَأى أَفْعَى بَينه وَبَينهَا ذراعان وَرَأى أَيْضا قَائِلا يَقُول إِلَى مَتى لم تطلق مَنْصُور الْجمال تحبسه ظلما فانتبه وتفكر فَلم يعرفهُ فَسَأَلَ عَنهُ فأحضر إِلَيْهِ وَبحث عَنهُ فَوَجَدَهُ مَظْلُوما فَأَطْلقهُ وَكَانَ بطبرستان امْرَأَة صَالِحَة وَلها ابْن فادخرت لَهُ مبلغا ليدفع بِهِ
এবং স্ত্রী তার স্বামীর জন্য, কারণ সে তার থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আর সন্তান তার পিতার জন্য, কারণ সে তার বীর্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্বপ্নে উসাইদ ইবন আবিল আইসকে তাঁর মৃত্যুর পর জান্নাতে দেখেছিলেন, অথচ সে ছিল একজন মুশরিক। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ব্যাখ্যা করেছিলেন ইত্তাব ইবন উসাইদ হিসেবে, কারণ সে ছিল তার সদৃশ।

‌‌পরিচ্ছেদ

স্বপ্ন কখনো প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় দিক থেকেই প্রশংসনীয় হয়, যেমন ফেরেশতা ও নবীগণকে দেখা এবং তাঁদের সাথে মেলামেশা করা। আবার কখনো উভয় দিক থেকেই নিন্দনীয় হয়, যেমন ভয়ংকর ও আতঙ্কজনক দ্রব্যাদি দেখা; যেমন কেউ দেখল যে তাকে বন্দি করা হয়েছে, অথবা সে কোনো উঁচু স্থান থেকে পড়ে গেছে, কিংবা সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কখনো আবার বাহ্যিকভাবে নিন্দনীয় কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে প্রশংসনীয় হতে পারে। যেমন কেউ বজ্রপাত দেখল; সে যদি দাস হয় তবে সে মুক্ত হবে, যদি দরিদ্র হয় তবে সম্পদশালী হবে, যদি সমুদ্রে থাকে তবে সেখান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসবে এবং শত্রুর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকলে তার ওপর বিজয় লাভ করবে। আবার কখনো বাহ্যিকভাবে প্রশংসনীয় কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে নিন্দনীয় হতে পারে। যেমন কেউ দেখল যে সে সূর্য থেকে দশটি চাকতি নিয়েছে এবং সেগুলো খেয়ে ফেলেছে; অতঃপর সে দশ দিন জীবিত থাকল এবং মারা গেল। কারণ সেই চাকতিগুলো ছিল দশ দিনের খাদ্য বা শক্তি, যা ফুরিয়ে যাওয়ার পর সে মারা গেল। এ জাতীয় সবকিছুই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। স্বপ্ন কখনো সরাসরি হতে পারে, আবার কখনো রূপক হতে পারে। এটি বান্দার কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে বিভক্ত হয়; যদি কল্যাণ সরাসরি হওয়ার মধ্যে থাকে তবে তাকে সরাসরি স্বপ্ন দেখানো হয়, আর যদি কল্যাণের দাবি রূপক হওয়া হয় তবে সেভাবেই দেখানো হয়। আবার কখনো স্বপ্ন গ্রহণকারী শক্তিটি সরাসরি বিষয়টি গ্রহণের উপযোগী থাকে না, ফলে তা অনুধাবন করতে অক্ষম হয়। এটি সেই ইন্দ্রিয়ের মতো যা সুস্থ বা শক্তিশালী নয়, ফলে তা অনুভূত বস্তুকে তার প্রকৃত বর্ণ ও আকৃতির বিপরীতে ভিন্নভাবে প্রত্যক্ষ করে। সরাসরি বা স্পষ্ট স্বপ্নের একটি দৃষ্টান্ত হলো যা বর্ণিত হয়েছে যে, মুতাসিম একটি তাবুতে ঘুমানোর সময় স্বপ্নে একজনকে বলতে শুনলেন: "ওঠো এবং দ্রুত করো! নিশ্চয়ই একটি সাপ তোমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তোমার দিকে আসছে।" তিনি সজাগ হয়ে দেখলেন তাঁর ও সাপের মাঝে মাত্র দুই হাত দূরত্ব রয়েছে। তিনি আরও দেখলেন যে কেউ তাকে বলছে: "কতক্ষণ তুমি মানসুর আল-জাম্মালকে মুক্ত করবে না? তুমি তাকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রেখেছো।" তিনি জাগ্রত হয়ে চিন্তা করলেন কিন্তু তাকে চিনতে পারলেন না। অতঃপর তিনি তার সম্পর্কে খোঁজ নিলেন এবং তাকে তাঁর নিকট উপস্থিত করা হলো। অনুসন্ধানের পর তিনি তাকে মজলুম হিসেবে পেলেন এবং তাকে মুক্ত করে দিলেন। তাবারোস্তানে এক নেককার মহিলা ছিলেন যার একজন পুত্র ছিল। তিনি তার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন যাতে তা দিয়ে কোনো বিপদ-আপদ প্রতিহত করা যায়।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
عَنهُ يَوْمًا شدَّة فَمَاتَتْ وَابْنهَا لم يعلم بذلك فصودر وَحبس فَرَأى أمه فِي النّوم تَقول لَهُ استخرج من مَوضِع كَذَا مَا خبأته لَك لهَذَا الْيَوْم فانتبه وَتوجه إِلَى الْمحل الَّذِي عينته وحفره وَأخذ مَا فِيهِ من الدَّرَاهِم وتخلص ونظائر ذَلِك كَثِيرَة ثمَّ إِن النَّاس فِي الرُّؤْيَا أَقسَام مِنْهُم من لَا يرى رُؤْيا أصلا وَسبب ذَلِك بلادة نَفسه وَمِنْهُم من يرى وينسى وَمِنْهُم من يرى وَلَا يفهم وَمِنْهُم من يرى وَيفهم وَمِنْهُم من يتَمَنَّى رُؤْيَة ميته فَلَا يرَاهُ أَلا نَادرا فَإِن رَآهُ لم يُخبرهُ عَن حَاله وَإِن سَأَلَهُ لم يجبهُ لاشتغال الْمَيِّت عَنهُ بِمَا هُوَ فِيهِ من خير أَو شَرّ وَمِنْهُم من يرَاهُ ويخبره فَمن أحب أَن يرَاهُ يكثر الصَّدَقَة عَنهُ وَالْقِرَاءَة لَهُ ويواصله بِالدُّعَاءِ والترحم فيراه ويخبره

ذكر ذَلِك الْمَنَاوِيّ فِي شَرحه لمنظومة الشَّيْخ عمر بن الوردي

‌‌فصل

والرؤيا تَنْقَسِم إِلَى ثَلَاثَة أَقسَام الأول بشرى من الله تَعَالَى وَالثَّانِي تحزين من الشَّيْطَان وَالثَّالِث رُؤْيا الهمة وَهِي مَا يهم بِهِ الْإِنْسَان فِي الْيَقَظَة ويبيت مهما بِهِ فيراه فِي مَنَامه وَذَلِكَ كُله مَذْكُور فِي السّنة

قَالَ صلى الله عليه وسلم الرُّؤْيَا ثَلَاثَة فبشرى من الله وَحَدِيث النَّفس وتخويف من الشَّيْطَان

قَالَ بعض الْعلمَاء أَشَارَ بِالْحَدِيثِ إِلَى أَنه لَيْسَ كل مَا يرَاهُ النَّائِم صَحِيحا وَيجوز تَعْبِيره إِنَّمَا الصَّحِيح مَا جَاءَ بِهِ الْملك

قَالَ صلى الله عليه وسلم الرُّؤْيَا الصَّالِحَة من الله والحلم من الشَّيْطَان فَإِذا رأى أحدكُم شَيْئا يكرههُ فليتفل عَن يسَاره ثَلَاثًا حِين يَسْتَيْقِظ ويتعوذ بِاللَّه من شَرها فَإِنَّهَا لَا تضره

قَالَ الْمَنَاوِيّ فِي شرح منظومة ابْن الوردي ثمَّ جَمِيع الْمرَائِي تَنْحَصِر فِي قسمَيْنِ الصادقة وَهِي رُؤْيا الْأَنْبِيَاء وَمن تَبِعَهُمْ من الصَّالِحين والأولياء وَقد تقع لغَيرهم منذرة وَهِي الَّتِي تنذر فِي الْيَقَظَة على وفْق مَا وَقعت فِي النّوم والأضغاث لَا تنذر بِشَيْء وَهِي أَنْوَاع الأول تلاعب
কোনো একদিন তিনি চরম সংকটে পতিত হয়ে ইন্তেকাল করেন, আর তাঁর ছেলে সে সম্পর্কে জানত না। অতঃপর তাকে পাকড়াও করে কারারুদ্ধ করা হলো। তখন সে স্বপ্নে তার মাকে দেখল, তিনি তাকে বলছেন: "অমুক জায়গা থেকে তা বের করো যা আমি তোমার জন্য এই দিনের জন্য লুকিয়ে রেখেছিলাম।" সে জাগ্রত হয়ে তার নির্ধারিত স্থানে গেল এবং সেখানে খনন করল। অতঃপর সেখানে থাকা দিরহামগুলো নিয়ে নিল এবং মুক্তি পেল। এ জাতীয় দৃষ্টান্ত প্রচুর রয়েছে। অতঃপর স্বপ্নের ক্ষেত্রে মানুষ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে মোটেও স্বপ্ন দেখে না, আর এর কারণ হলো তার আত্মার স্থবিরতা। আবার তাদের মধ্যে কেউ আছে যে দেখে কিন্তু ভুলে যায়। কেউ আছে যে দেখে কিন্তু বুঝে না। কেউ আছে যে দেখে এবং বুঝতেও পারে। আবার কেউ আছে যে তার মৃত স্বজনকে দেখার তামান্না করে কিন্তু কদাচিৎ ব্যতীত দেখতে পায় না; আর যদি দেখেও তবে মৃত ব্যক্তি তাকে নিজের অবস্থা সম্পর্কে জানায় না, আর যদি সে জিজ্ঞাসা করে তবে সে উত্তর দেয় না। কারণ মৃত ব্যক্তি নিজের যে অবস্থায় (ভালো কিংবা মন্দ) রয়েছে তাতে মগ্ন থাকে। আবার কেউ আছে যে তাকে দেখে এবং সে তাকে সংবাদও দেয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তাকে (মৃত ব্যক্তিকে) দেখতে চায়, সে যেন তার পক্ষ থেকে অধিক সদকা করে, তার জন্য তিলাওয়াত করে এবং দুআ ও রহমত কামনার মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে; তবেই সে তাকে দেখতে পাবে এবং সে তাকে সংবাদও দেবে।

আল-মানাউই শেখ উমর ইবনে আল-ওয়ার্দির মানজুমার (কাব্যগ্রন্থ) ব্যাখ্যায় এটি উল্লেখ করেছেন।

‌‌পরিচ্ছেদ

স্বপ্ন তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথমত: মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ। দ্বিতীয়ত: শয়তানের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তা। তৃতীয়ত: চিন্তাপ্রসূত স্বপ্ন; আর তা হলো মানুষ জাগ্রত অবস্থায় যা নিয়ে চিন্তিত থাকে এবং সেই চিন্তা নিয়েই রাত কাটায়, অতঃপর তা ঘুমের মধ্যে দেখে। এর সবই সুন্নাহর মধ্যে বর্ণিত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "স্বপ্ন তিন প্রকার; আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, মনের খেয়াল এবং শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শন।"

কতিপয় আলিম বলেন: হাদিসের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, ঘুমন্ত ব্যক্তি যা দেখে তার সবকিছুই সঠিক নয় এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা করাও সমীচীন নয়। বরং কেবল তা-ই সঠিক যা ফিরিশতা নিয়ে আসেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "উত্তম স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে সে যেন জাগ্রত হওয়ার সময় তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে; তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।"

আল-মানাউই ইবনে আল-ওয়ার্দির মানজুমার ব্যাখ্যায় বলেন: অতঃপর সকল প্রকার স্বপ্ন দুই ভাগে সীমাবদ্ধ। সত্য স্বপ্ন: আর তা হলো নবীগণের স্বপ্ন এবং তাঁদের অনুসারী নেককার ও ওলীগণের স্বপ্ন। আর কখনো কখনো অন্যদের ক্ষেত্রেও এটি সতর্ককারী হিসেবে হতে পারে; যা ঘুমের মধ্যে যেভাবে ঘটেছে সে অনুযায়ী জাগ্রত অবস্থায় সতর্ক করে। আর অলীক কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন কোনো কিছুর সতর্কবার্তা দেয় না। এটি কয়েক প্রকারের হয়; প্রথমটি হলো শয়তানের খেলা।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
الشَّيْطَان ليحزن الرَّائِي كَأَن رأى أَن رَأسه قطع وَهُوَ يتبعهُ أَو وَاقع فِي هول وَلم يجد من ينجده وَنَحْو ذَلِك الثَّانِي أَن يرى بعض الْمَلَائِكَة يَأْمُرهُ بِمَعْصِيَة أَو بِشَيْء من المحالات الْعَقْلِيَّة الثَّالِث مَا تحدث بِهِ نَفسه فِي الْيَقَظَة أَو يرى مَا جرت بِهِ عَادَته فِي الْيَقَظَة أَو مَا يغلب على مزاجه

وَقَالَ أَيْضا نقلا عَن ابْن سينا الْفرق بَين الرُّؤْيَا والإضغاث أَن مَاله تَعْبِير يُسمى الرُّؤْيَا وَمَا لَا تَعْبِير لَهُ فأضغاث وَهُوَ مَا لَا يدل على شَيْء حَاصِل وَلَا فَائِدَة فِيهِ وَلَا يعبر والرؤيا تدل على مَا هُوَ كَائِن فِي الْمُسْتَقْبل والإضغاث على الْأُمُور الْحَاضِرَة كَأَن خَافَ شَيْئا فَرَآهُ فِي نَومه أَو جَائِع أَو عطشان رأى أَنه يَأْكُل أَو يشرب أَو ينَام وَهُوَ ممتلئ فَرَأى أَنه يقذف فَكل ذَلِك لَا يعبر لعدم دلَالَته على الكائنات فِي الْمُسْتَقْبل على الْحَاضِرَة والماضية وَكَذَا الْأُمُور النفسانية كخوف وَأمن ورجاء وحزن وسرور فَإِذا نَام مَعَ وَاحِد من هَذِه ورأه بِعَيْنِه لَا يعبر وَسبب رُؤْيَة الأضغاث من الْأَسْبَاب الجسمانية اثْنَان إِمَّا خلاء وَهُوَ يحْتَاج إِلَى شَيْء فَيرى اجتلابه وَإِمَّا امتلاء أَي يَسْتَغْنِي عَن شَيْء فَيرى اجتنابه وَالسَّبَب البقائي أَيْضا فِيهِ اثْنَان إِمَّا خوف من شَيْء أَو رَجَاء لَهُ فعلى الْمعبر السُّؤَال عَن هَؤُلَاءِ الْأَرْبَع إِن كَانَ ممتلئا أَو خَالِيا خاويا أَو خَائفًا أَو راجيا فَإِن لم يكن لرؤياه سَبَب من هَذِه علم أَن رُؤْيَاهُ أضغاث وَيَنْبَغِي أَن لَا تقص الرُّؤْيَا إِلَّا على عَالم بأصول التَّعْبِير وقوانينه مجرب فِي الْإِصَابَة حَلِيم ذِي تأن وتدبر وَأَن لَا يقصها الرَّائِي إِلَّا على من يُحِبهُ وَالْأَفْضَل أَن تقص الرُّؤْيَا وتعبر فِي أول النَّهَار وَأَن لَا تعبر فِي
শয়তানের পক্ষ থেকে স্বপ্নদ্রষ্টাকে দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্য (স্বপ্ন দেখানো হয়), যেমন কেউ দেখল যে তার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে এবং সে সেটির পিছু নিচ্ছে, অথবা সে কোনো ভয়াবহ বিপদে পড়েছে এবং তাকে উদ্ধার করার মতো কাউকে পাচ্ছে না এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। দ্বিতীয়ত, কোনো ফেরেশতাকে দেখা যে তাকে কোনো পাপের নির্দেশ দিচ্ছে অথবা যুক্তিবিরুদ্ধ কোনো বিষয়ের আদেশ দিচ্ছে। তৃতীয়ত, জাগ্রত অবস্থায় তার মনে যা জল্পনা-কল্পনা চলে, অথবা জাগ্রত অবস্থায় তার যা অভ্যাস বা যা তার স্বভাবের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে।

তিনি ইবনে সিনার উদ্ধৃতি দিয়ে আরও বলেন: রু'ইয়া (স্বপ্ন) এবং আদগাছ (অসংলগ্ন স্বপ্ন)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, যার ব্যাখ্যা রয়েছে তাকে রু'ইয়া বলা হয়, আর যার কোনো ব্যাখ্যা নেই তা হলো আদগাছ। এটি এমন কিছু যা কোনো বাস্তব বিষয়ের ওপর প্রমাণ বহন করে না, এতে কোনো উপকার নেই এবং এর কোনো ব্যাখ্যাও করা হয় না। রু'ইয়া ভবিষ্যতে যা ঘটবে তা নির্দেশ করে, আর আদগাছ বর্তমান বিষয়গুলোকে নির্দেশ করে। যেমন কেউ কোনো বিষয় নিয়ে ভয় পেল এবং স্বপ্নে তা দেখল, অথবা সে ক্ষুধার্ত বা তৃষ্ণার্ত থাকা অবস্থায় দেখল যে সে আহার করছে বা পান করছে, কিংবা ভরা পেটে ঘুমিয়ে দেখল যে সে বমি করছে। এগুলোর কোনো ব্যাখ্যা করা হয় না, কারণ এগুলো ভবিষ্যতে যা ঘটবে তা নির্দেশ করে না, বরং বর্তমান ও অতীত অবস্থার প্রতিফলন ঘটায়। তদ্রূপ মানসিক বিষয়সমূহ যেমন— ভয়, নিরাপত্তা, আশা, দুঃখ এবং আনন্দ। যদি কেউ এই মানসিক অবস্থাগুলোর কোনোটি নিয়ে ঘুমায় এবং স্বপ্নে অবিকল সেটিই দেখে, তবে তার কোনো ব্যাখ্যা হয় না। আদগাছ দেখার শারীরিক কারণ দুইটি: হয় শরীর খালি থাকা (ক্ষুধা) যেখানে সে কোনো কিছুর অভাব বোধ করে এবং তা অর্জনের স্বপ্ন দেখে, অথবা শরীরের পূর্ণতা যেখানে সে কোনো কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী হয় এবং তা পরিহার করার স্বপ্ন দেখে। অবশিষ্ট কারণও দুইটি: হয় কোনো কিছুর ভয় অথবা কোনো কিছুর আশা। অতএব, স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীর উচিত এই চারটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা— সে কি উদরপূর্তি অবস্থায় ছিল নাকি খালি পেটে ছিল, অথবা সে কি ভীত ছিল নাকি আশাবাদী ছিল। যদি তার স্বপ্নের পেছনে এই কারণগুলোর কোনোটি না থাকে, তবে জানা যাবে যে তার স্বপ্নটি আদগাছ। আর স্বপ্নের ব্যাখ্যার মূলনীতি ও নিয়মাবলী সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেম ছাড়া অন্য কারও কাছে স্বপ্ন বর্ণনা করা উচিত নয়, যিনি সঠিক ব্যাখ্যা প্রদানে অভিজ্ঞ, সহনশীল, ধীরস্থির ও চিন্তাশীল। আর স্বপ্নদ্রষ্টা যেন তার প্রিয়জন ছাড়া অন্য কারও কাছে স্বপ্ন বর্ণনা না করে। দিনের শুরুর ভাগে স্বপ্ন বর্ণনা করা ও ব্যাখ্যা করা সর্বোত্তম, আর যেন ব্যাখ্যা না করা হয়...
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
أَرْبَعَة أَوْقَات وَقت طُلُوع الشَّمْس وَوقت غُرُوبهَا وَإِذا جن اللَّيْل وَوقت الزَّوَال وَينْدب للمعبر إِذا أَتَاهُ من يسْأَله عَن رُؤْيَاهُ أَن يبْدَأ كَلَامه بِخَير فَيَقُول للسَّائِل خيرا تَلقاهُ وشرا توقاه أذكر رُؤْيَاك فَإِذا قصها قَالَ الْحَمد لله رب الْعَالمين وَصلى الله عَلَيْهِ وَسلم وعَلى آله وَصَحبه الطاهرين قد دلّت رُؤْيَاك على كَذَا وَلَا يشرع فِي الْجَواب حَتَّى يَسْتَوْفِي السُّؤَال بِتَمَامِهِ ويطيل التَّأَمُّل والتدبر وَلَا يعجل وَلَا يعبر حَتَّى يعلم من الرَّائِي واسْمه وَهل هُوَ ذكر أَو أُنْثَى طِفْل أَو بَالغ حر شرِيف أَو وضيع وحرفته فَإِن احتملت الرُّؤْيَا تعبيرين يُخرجهَا على مَا هُوَ أليف وموافق بالرائي وَإِذا ظهر لَهُ من الرُّؤْيَا عَورَة لكَون الرَّائِي مكبا على معصة كتم ذَلِك وَلَا يذكرهُ لَهُ بل يَأْمُرهُ بالتقوى ويعظه وَإِن دلّت على حُصُول غم أَو كرب أَو مُصِيبَة كتم ذَلِك أَيْضا ويأمره بِالصَّدَقَةِ وَيَنْبَغِي أَن يكون الْمعبر ذَا حذافة وفطنة صَدُوقًا فِي كَلَامه حسنا فِي أَفعاله مشتهرا بالديانة والصيانة وانما يُمَيّز بَين رُؤْيَة كل أحد بِحَسب حَاله وَمَا يَلِيق بِهِ ويناسبه وَلَا يُسَاوِي النَّاس فِي مَا يرونه وَيعْتَبر فِي تَعْبِيره على مَا يظْهر لَهُ من آيَات الْقُرْآن وَمن حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمَا نَقله المتقدمون فِي كتبهمْ وَإِذا أصَاب فِي تَعْبِيره فَلَا يعجب بِنَفسِهِ بل يشْكر الله الَّذِي هداه ووفقه لإصابة الصَّوَاب وَإِذا اجْتمع فِي الرُّؤْيَا مَا يدل على خير وعَلى شَرّ فَإِن الْمعبر يغلب الْأَرْجَح والأقوى مِنْهُمَا وَيحكم بِهِ ثمَّ إِذا علمت الرُّؤْيَا وفهمت من أَولهَا إِلَى آخرهَا فتأويلها سهل وَإِن علم بَعْضهَا وأشكل الْبَعْض فيعبر مَا علم ويفحص عَن الْبَاقِي بَعْضًا فبعضا فَإِن صَارَت أبعاضها مفهومة فَذَلِك وَإِن لم تفهم كلهَا نظر فِي الْمُنَاسبَة بَين أَجْزَائِهَا فَإِن كَانَ لَهَا مُنَاسبَة اسْتدلَّ لتِلْك الْمُنَاسبَة من بَعْضهَا

চারটি সময়: সূর্যোদয়ের সময়, সূর্যাস্তের সময়, যখন রাত ঘনিয়ে আসে এবং সূর্য ঢলে পড়ার সময়। স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীর জন্য মুস্তাহাব হলো, যখন কেউ তার কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে আসে, তখন সে যেন কল্যাণকর কথা দিয়ে আলোচনা শুরু করে। সে প্রশ্নকারীকে বলবে, "তুমি কল্যাণ লাভ করো এবং অকল্যাণ থেকে নিরাপদ থাকো; তোমার স্বপ্ন বর্ণনা করো।" যখন সে তা বর্ণনা করবে, তখন ব্যাখ্যাকারী বলবে, "সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর। তোমার স্বপ্ন অমুক বিষয়ের ওপর নির্দেশ করছে।" সে উত্তর প্রদান শুরু করবে না যতক্ষণ না সে সম্পূর্ণ বর্ণনাটি পুরোপুরি শুনে নেয় এবং দীর্ঘ চিন্তা ও গভীর মনোনিবেশ না করে; আর সে তাড়াহুড়ো করবে না। সে ততক্ষণ ব্যাখ্যা দেবে না যতক্ষণ না স্বপ্নদ্রষ্টার পরিচয়, তার নাম, সে পুরুষ না নারী, শিশু না প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন সম্ভ্রান্ত না সাধারণ ব্যক্তি এবং তার পেশা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করে। যদি স্বপ্নটি দুটি ব্যাখ্যার সম্ভাবনা রাখে, তবে সেটিকে এমনভাবে ব্যক্ত করবে যা স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য অধিক পরিচিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদি স্বপ্নের মাধ্যমে স্বপ্নদ্রষ্টার কোনো গোপন দোষ প্রকাশ পায়—যেহেতু সে পাপে লিপ্ত—তবে ব্যাখ্যাকারী তা গোপন রাখবে এবং তার নিকট তা প্রকাশ করবে না; বরং তাকে তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দেবে এবং উপদেশ প্রদান করবে। আর যদি স্বপ্নটি কোনো দুঃখ, উদ্বেগ বা বিপদের ইঙ্গিত দেয়, তবে সেটিও সে গোপন রাখবে এবং তাকে দান-সদকা করার নির্দেশ দেবে। স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীর উচিত অত্যন্ত দক্ষ ও প্রজ্ঞাবান হওয়া, নিজ কথায় সত্যবাদী হওয়া, কর্মে উত্তম হওয়া এবং দ্বীনদারি ও চারিত্রিক পবিত্রতার জন্য সুপরিচিত হওয়া। মূলত সে প্রত্যেকের স্বপ্নের মাঝে তাদের অবস্থা এবং তাদের জন্য যা উপযুক্ত ও মানানসই সেই অনুযায়ী পার্থক্য করবে; স্বপ্নের ক্ষেত্রে সে সব মানুষকে সমান মনে করবে না। সে তার ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে কুরআন মাজিদের আয়াত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস এবং পূর্ববর্তীগণ তাদের কিতাবসমূহে যা লিপিবদ্ধ করেছেন, সেগুলোর ওপর নির্ভর করবে। যদি সে তার ব্যাখ্যায় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে, তবে যেন আত্মতুষ্টিতে না ভোগে; বরং সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে যিনি তাকে হেদায়েত দান করেছেন এবং সঠিক ব্যাখ্যা প্রদানের তাওফিক দিয়েছেন। যদি স্বপ্নের মাঝে কল্যাণ এবং অকল্যাণ উভয় প্রকারের লক্ষণ একত্রিত হয়, তবে ব্যাখ্যাকারী সেগুলোর মধ্যে যেটি অধিক প্রবল ও শক্তিশালী সেটিকে প্রাধান্য দেবে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। অতঃপর যদি স্বপ্নটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি জানা ও বোঝা যায়, তবে তার ব্যাখ্যা প্রদান সহজ হয়। আর যদি স্বপ্নের কিছু অংশ জানা যায় এবং কিছু অংশ অস্পষ্ট থাকে, তবে সে যতটুকু বুঝেছে তার ব্যাখ্যা করবে এবং অবশিষ্ট অংশগুলো একে একে অনুসন্ধান করবে। যদি এর অংশগুলো বোধগম্য হয় তবে ভালো, অন্যথায় সে এর বিভিন্ন অংশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি লক্ষ করবে। যদি সেগুলোর মাঝে কোনো সামঞ্জস্য থাকে, তবে সেই সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে একটি অংশ থেকে অন্য অংশের ওপর প্রমাণ গ্রহণ করবে।

(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
الْبَعْض ويدقق النّظر فِي استنباط تَأْوِيلهَا فَإِن كَانَت الرُّؤْيَا غَرِيبَة نادرة لم يَقع مثلهَا فَلَا يتجاسر وَلَا يُبَادر فِي تعبيرها بل يتَوَقَّف فِيهَا حَتَّى تظهر عَاقبَتهَا وَالله الْمُوفق وَقد اقتصرنا فِي هَذِه الْمُقدمَة على بعض المهم مِمَّا يتَعَلَّق بِهَذَا الْعلم وَمن أَرَادَ الْمَزِيد من ذَلِك فَعَلَيهِ بشرح الْمَنَاوِيّ على الألفية الوردية وَالله أعلم

কিছু ব্যক্তি এর ব্যাখ্যা নিরূপণে সূক্ষ্ম দৃষ্টি প্রদান করেন। যদি স্বপ্নটি অদ্ভুত ও বিরল হয়, যার সদৃশ পূর্বে কখনো ঘটেনি, তবে তার ব্যাখ্যা প্রদানে দুঃসাহস দেখানো বা তড়িঘড়ি করা সমীচীন নয়; বরং এর পরিণাম প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে অপেক্ষা করা উচিত। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা। আমরা এই ভূমিকায় এই শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চায়, সে যেন 'আল-আলফিয়্যাহ আল-ওয়ারদিয়্যাহ'-এর ওপর আল-মুনাউয়ীর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দেখে নেয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
الصُّورَة الأولى
প্রথম চিত্র
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
الصُّورَة الثَّانِيَة
দ্বিতীয় চিত্র
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الْبَاب الأول فِي‌‌ رُؤْيَة الله تَعَالَى وَالْعرش والكرسي واللوح والقلم

 

رُؤْيَة الله تَعَالَى

اعْلَم أَن رُؤْيَة الله تَعَالَى لَا تكون غَالِبا إِلَّا للأصفياء والأولياء لكرامتهم عَلَيْهِ وَقد تقع لغَيرهم لَكِن نَادرا بل قد تقع للْكَافِرِ وَيدل ذَلِك على أَنه يسلم فَمن رأى الله تَعَالَى كَمَا يَنْبَغِي لجلاله من غير تَشْبِيه وَلَا كَيفَ فَإِنَّهُ ينظر إِلَيْهِ فِي الْآخِرَة فَإِن رأى أَنه تَعَالَى كَلمه ووعده بِخَير فَإِنَّهُ يغْفر لَهُ ويقربه من رَحمته وَيَرْزقهُ حَلَالا وَمن رأى أَنه تَعَالَى كَلمه من وَرَاء حجاب فَإِنَّهُ يدل على زِيَادَة مَاله وَنعمته وَقُوَّة دينه وأمانته وَمن رأى أَنه تَعَالَى يلاطفه ويعامله بالشفقة فَإِنَّهُ يلطف بِهِ وَيُدبر أُمُوره لَكِن يحصل لَهُ بلَاء وَمن رأى أَنه تَعَالَى نزل فِي أَرض أَو فِي بلد فَإِن الْعدْل يَشْمَل ذَلِك الْمَكَان وَيدل على الخصب لأَهْلهَا فَإِن كَانُوا ظالمين حلت بهم النقمَة وَمن رأى أَنه تَعَالَى نَاوَلَهُ شَيْئا من مَتَاع الدُّنْيَا فَإِنَّهُ يَبْتَلِيه لَكِن لَا يَخْذُلهُ وَمن رأى أَنه تَعَالَى ساخطا عَلَيْهِ دلّ على عقوقه لوَالِديهِ أَو أَحدهمَا وَمن رأى أَنه تَعَالَى اشْتَرَاهُ من نَفسه فَإِنَّهُ يقتل شَهِيدا وَمن رأى أَنه تَعَالَى على غير مَا وصف بِهِ من صِفَات الْكَمَال فَإِنَّهُ يرتكب أمرا بَاطِلا من بِدعَة أَو غَيرهَا وَمن رأى أَن بَينه وَبَينه تَعَالَى حِجَابا خشِي عَلَيْهِ من عمل الْكَبَائِر
প্রথম অধ্যায়: মহান আল্লাহকে দেখা এবং আরশ, কুরসি, লাওহ ও কলম প্রসঙ্গে

 

মহান আল্লাহকে দেখা

জেনে রাখুন যে, মহান আল্লাহকে দেখা সাধারণত মনোনীত বান্দা ও আউলিয়াগণ ব্যতীত অন্যদের ভাগ্যে জোটে না, যা তাঁদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। তবে অন্যদের ক্ষেত্রেও তা ঘটতে পারে কিন্তু তা অত্যন্ত বিরল। এমনকি কাফেরও তাঁকে দেখতে পারে এবং এটি তার ইসলাম গ্রহণের ইঙ্গিত প্রদান করে। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে তাঁর মহিমার শানে যেভাবে উপযুক্ত সেভাবে দেখল—কোনো প্রকার সাদৃশ্য প্রদান ও ধরন নির্ধারণ ব্যতীত—তবে সে পরকালে তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করবে (দিদার লাভ করবে)। যদি কেউ দেখে যে, আল্লাহ তাআলা তার সাথে কথা বলেছেন এবং তাকে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন, তাঁর রহমতের নিকটবর্তী করবেন এবং তাকে হালাল রিযিক দান করবেন। আর যে ব্যক্তি দেখে যে, মহান আল্লাহ পর্দার অন্তরাল থেকে তার সাথে কথা বলছেন, তবে এটি তার সম্পদ ও নেয়ামত বৃদ্ধি এবং তার দ্বীন ও আমানতদারির দৃঢ়তার প্রমাণ। যে ব্যক্তি দেখে যে, মহান আল্লাহ তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করছেন এবং করুণার সাথে আচরণ করছেন, তবে আল্লাহ তার প্রতি সদয় হবেন এবং তার যাবতীয় বিষয় পরিচালনা করবেন, তবে তার ওপর কোনো বিপদ বা পরীক্ষা আসতে পারে। যে ব্যক্তি দেখে যে, মহান আল্লাহ কোনো জমিনে বা কোনো শহরে অবতীর্ণ হয়েছেন, তবে সেই স্থানে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার পরিব্যাপ্ত হবে এবং তা ওই জনপদের অধিবাসীদের জন্য প্রাচুর্যের ইঙ্গিত বহন করবে; কিন্তু তারা যদি জালেম হয়, তবে তাদের ওপর শাস্তি আপতিত হবে। যে ব্যক্তি দেখে যে, আল্লাহ তাআলা তাকে পার্থিব কোনো সামগ্রী প্রদান করেছেন, তবে আল্লাহ তাকে পরীক্ষা করবেন কিন্তু তাকে লাঞ্ছিত করবেন না। যে ব্যক্তি দেখে যে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর অসন্তুষ্ট, তবে এটি তার পিতামাতা বা তাঁদের কোনো একজনের অবাধ্য হওয়ার প্রমাণ। যে ব্যক্তি দেখে যে, মহান আল্লাহ তাকে তার নিজের থেকে ক্রয় করে নিয়েছেন, তবে সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে তাঁর কামালিয়াত বা পূর্ণতার গুণাবলি বহির্ভূত কোনো অবস্থায় দেখে, তবে সে বিদআত বা এ জাতীয় কোনো বাতিল কাজে লিপ্ত রয়েছে। আর যে ব্যক্তি দেখে যে, তার ও মহান আল্লাহর মাঝে পর্দা রয়েছে, তবে তার ব্যাপারে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌رُؤْيَة الْعَرْش والكرسي

وَمن رأى الْعَرْش والكرسي دلّ على أَن الرَّائِي زاكي الْعَمَل كثير الْخَيْر وَالْبركَة هَذَا إِن رآهما على هَيْئَة حَسَنَة وَإِلَّا دلّ على بِدعَة وضلالة وَمن رأى الْعَرْش وَهُوَ مَرِيض دلّ على أَنه يَمُوت وَمن رأى أَنه جَالس عَلَيْهِ فَإِنَّهُ رفْعَة وَعز وَشرف إِن كَانَ أَهلا والكرسي يدل للْعُلَمَاء وَذَوي المناصب على الرّفْعَة وَالْعدْل لمن جلس عَلَيْهِ وَيدل على التَّزَوُّج وَالسّفر وللمريض على الْمَوْت

‌‌(رُؤْيَة اللَّوْح)

وَمن رأى اللَّوْح الْمَحْفُوظ فَإِنَّهُ يدل للرائي على حُصُول علم وَقُرْآن وَحِكْمَة فَإِن رَآهُ صَغِيرا حَقِيرًا دلّ على كَون حَال الرَّائِي رديا وَمن رأى اسْمه مَكْتُوبًا فِيهِ دلّ على قرب أَجله ورؤية اللَّوْح الَّذِي يتَعَلَّم فِيهِ الصّبيان تؤول على سِتَّة أوجه رياسة وَولد وعالم وهداية ونفاذ أَمر وَعلم

‌‌(رُؤْيَة الْقَلَم)

وَمن رأى قلم الْقُدْرَة وَهُوَ يكْتب فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ وَعرف الْكِتَابَة فَإِن الرُّؤْيَة تكون كَمَا هُوَ مَكْتُوب وَمن رأى أَن بِيَدِهِ قَلما دلّ على أَنه يرْزق ولدا عَالما فَاضلا وَقيل إِنَّه وصيفه وَقيل علم وَمن رأى بِيَدِهِ عدَّة أَقْلَام فَهُوَ خير على كل حَال وَمن رأى أَنه يبري قَلما وَأتم برايته يكون مُسَددًا فِي أُمُوره وَإِن عسرت عَلَيْهِ بَرَاءَته يكون بضد ذَلِك وَمن رأى أَنه يمد قَلما فِي دَوَاة مَجْهُولَة فَإِنَّهُ يرتكب فَاحِشَة
আরশ ও কুরসি দেখা

যে ব্যক্তি আরশ ও কুরসি দেখবে, তা নির্দেশ করে যে স্বপ্নদ্রষ্টার আমল পবিত্র এবং তার কল্যাণ ও বরকত অনেক; এটি তখন হবে যখন সে এই দুটিকে সুন্দর অবস্থায় দেখবে। অন্যথায় তা বিদআত ও গোমরাহির দলিল। যে ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় আরশ দেখে, তা তার মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়। যে ব্যক্তি নিজেকে এর উপর উপবিষ্ট দেখে, তবে তা উচ্চমর্যাদা, সম্মান ও আভিজাত্যের দলিল যদি সে তার যোগ্য হয়। আর কুরসি আলেম ও পদস্থ ব্যক্তিদের জন্য উচ্চমর্যাদা এবং যে তার উপর বসেছে তার ইনসাফের দলিল। এটি বিবাহ ও সফরেরও ইঙ্গিত দেয়, আর অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এটি মৃত্যুর লক্ষণ।

(লাওহ বা লিপিফলক দেখা)

যে ব্যক্তি লাওহে মাহফুজ দেখে, তা স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য ইলম, কুরআন ও হিকমত অর্জনের দলিল। যদি সে তা ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ অবস্থায় দেখে, তবে তা স্বপ্নদ্রষ্টার মন্দ অবস্থার দলিল। যে ব্যক্তি তাতে নিজের নাম লিখিত দেখে, তা তার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার দলিল। আর শিশুদের পাঠ গ্রহণের তখতি বা স্লেট দেখার ছয়টি ব্যাখ্যা রয়েছে: নেতৃত্ব, সন্তান, আলেম, হিদায়াত, নির্দেশ কার্যকর হওয়া এবং ইলম।

(কলম দেখা)

যে ব্যক্তি কুদরতের কলমকে লাওহে মাহফুজে লিখতে দেখে এবং সেই লেখা বুঝতে পারে, তবে স্বপ্নটি ঠিক তেমনই বাস্তবায়িত হবে যা সেখানে লেখা রয়েছে। যে ব্যক্তি দেখে যে তার হাতে একটি কলম রয়েছে, তা নির্দেশ করে যে সে একজন আলেম ও গুণী সন্তান লাভ করবে; কারো মতে এটি তার সেবক, আবার কারো মতে এটি ইলম। যে ব্যক্তি তার হাতে অনেকগুলো কলম দেখে, তা সর্বাবস্থায় কল্যাণকর। যে ব্যক্তি দেখে যে সে কলম ধার দিচ্ছে এবং ধার দেওয়া সম্পন্ন করেছে, সে তার কাজে সঠিক পথে পরিচালিত হবে। আর যদি কলম ধার দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়, তবে তা এর বিপরীত হবে। যে ব্যক্তি দেখে যে সে কোনো অপরিচিত দোয়াতের কালিতে কলম ডুবাচ্ছে, তবে সে কোনো অশ্লীল কাজে লিপ্ত হবে।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌(الْبَاب الثَّانِي فِي‌‌ رُؤْيَة الْمَلَائِكَة والأنبياء وَالصَّحَابَة)

 

(رُؤْيَة الْمَلَائِكَة)

وَمن رأى الْمَلَائِكَة تنزل فِي مَكَان دلّ على حُصُول عز وَنصر لأَهله وَقيل تدل على وُقُوع مطر نَافِع وَيسر وَزَوَال عسر ورؤية الْمَرِيض للْملك مَوته وَلغيره نصر وَمن رأى أَنه يطير مَعَ الْمَلَائِكَة يستشهد وَمن رأى أَنه يُجَامع ملكا فَإِن وجد لَذَّة أصَاب مَالا والأدل على مَوته وَمن رأى أحدا من الْمَلَائِكَة على هَيْئَة إِنْسَان حسن الملبس والمنظر فَإِنَّهُ سرُور وَخير وَإِن رَآهُ بضد ذَلِك كَانَ بضد ذَلِك وَمن رأى أحدا من الْمَلَائِكَة الروحانيين والكرام الْكَاتِبين فَإِنَّهُ يرْزق شَهَادَة إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَمن رأى جِبْرِيل عليه السلام فَإِنَّهُ يُسَافر فِي طلب الْعلم ويدرس أُمْنِية وَإِن تَكَرَّرت رُؤْيَاهُ ظفر على الْأَعْدَاء وَرُبمَا أَمر بِمَعْرُوف وَنهى عَن مُنكر وَمن رأى مِيكَائِيل نَالَ مناه فِي الدَّاريْنِ وَمن رأى إسْرَافيل حصل لَهُ خير وسفر فِيهِ مَنْفَعَة وَإِن سَمعه ينْفخ فِي الصُّور مَاتَ قَرِيبا فَإِن ظن أَن النَّاس يسمعونه حصل الوباء ورؤيته نجاة لأهل الْخَيْر وبلاء لغَيرهم وَمن رأى ملك الْمَوْت فليستعد للْمَوْت وَإِن كَانَ هُنَاكَ عليل دلّ على مَوته وَرُبمَا دلّ ذَلِك على عَدو قَاصد بِسوء وَإِن رَآهُ فِي مَوضِع لَيْسَ فِيهِ عليل دلّ على خلائه وفقر أَهله وافتراقهم وَمن رأى أَنه يقبله فَإِنَّهُ يُصِيب مِيرَاثا
‌(দ্বিতীয় অধ্যায়: ‌ ফেরেশতা, নবীগণ এবং সাহাবীগণের দর্শন প্রসঙ্গে)

 

(ফেরেশতা দর্শন)

যে ব্যক্তি ফেরেশতাদের কোনো স্থানে অবতরণ করতে দেখে, তা সেই স্থানের অধিবাসীদের জন্য সম্মান ও বিজয় অর্জনের প্রমাণ দেয়। বলা হয়েছে যে, এটি উপকারী বৃষ্টিপাত, স্বাচ্ছন্দ্য এবং কষ্টের দূরীকরণেরও ইঙ্গিত দেয়। অসুস্থ ব্যক্তির ফেরেশতা দর্শন তার মৃত্যুর লক্ষণ, আর অন্যদের জন্য তা বিজয়ের লক্ষণ। যে ব্যক্তি নিজেকে ফেরেশতাদের সাথে উড়তে দেখে, সে শাহাদাত বরণ করবে। যে ব্যক্তি কোনো ফেরেশতার সাথে সংগম করতে দেখে এবং তাতে আনন্দ পায়, সে সম্পদ লাভ করবে; তবে এটি তার মৃত্যুর অধিকতর প্রমাণবাহী। যে ব্যক্তি কোনো ফেরেশতাকে সুন্দর পোশাক ও অবয়বে মানুষের আকৃতিতে দেখে, তবে তা আনন্দ ও কল্যাণের লক্ষণ; আর যদি এর বিপরীতে দেখে, তবে তার ফলও বিপরীত হবে। যে ব্যক্তি রুহানি ফেরেশতা বা কিরামান কাতিবিনদের কাউকে দেখে, আল্লাহ তাআলা চাইলে সে শাহাদাত লাভ করবে। যে ব্যক্তি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে, সে ইলম অন্বেষণে সফর করবে এবং কোনো আকাঙ্ক্ষিত বিষয় অধ্যয়ন করবে। যদি তার দর্শন বারবার হয়, তবে সে শত্রুদের ওপর বিজয়ী হবে এবং সম্ভবত সে সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। যে ব্যক্তি মিকাঈলকে দেখে, সে উভয় জগতে তার উদ্দেশ্য হাসিল করবে। যে ব্যক্তি ইসরাফিলকে দেখে, তার জন্য কল্যাণ অর্জিত হবে এবং এমন এক সফর হবে যাতে উপকার রয়েছে। আর যদি তাকে সূরে ফুৎকার দিতে শোনে, তবে সে শীঘ্রই মারা যাবে। যদি সে মনে করে যে মানুষও তা শুনছে, তবে মহামারি দেখা দেবে। তাঁর দর্শন পুণ্যবানদের জন্য মুক্তি এবং অন্যদের জন্য বালা-মুসিবত। যে ব্যক্তি মালাকুল মাউতকে দেখে, সে যেন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে; আর যদি সেখানে কোনো রুগ্ন ব্যক্তি থাকে, তবে তা তার মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়। আবার কখনো তা অনিষ্টকারী শত্রুর আগমনের ইঙ্গিত দেয়। আর যদি তাকে এমন কোনো স্থানে দেখে যেখানে কোনো রুগ্ন ব্যক্তি নেই, তবে তা সেই স্থানের জনশূন্যতা, অধিবাসীদের দারিদ্র্য এবং তাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার প্রমাণ। আর যে ব্যক্তি দেখে যে সে তাকে চুম্বন করছে, তবে সে উত্তরাধিকার লাভ করবে।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌(رُؤْيَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم

 

وَمن رأى النَّبِي فَإِن كَانَ مهموما ذهب همه أَو مديونا قضى الله دينه أَو مَغْلُوبًا نصر أَو مَحْبُوسًا أطلق أَو عبدا أعتق أَو غَائِبا رَجَعَ إِلَى أهل سالما أَو مُعسرا أغناه الله أَو مَرِيضا شفا الله وَإِن رَأَتْهُ حَامِل ولدت ذكرا وَكَذَا لَو رَآهُ الزَّوْج وَإِن رثي بِبِلَاد الْكفَّار حدث فِيهَا وباء وَإِن رَآهُ إِنْسَان غضبانا فَهُوَ مسيء أَو مرتكب للسيئات وَإِن رَآهُ دفن فِي مَكَان فأهله على غير سنته وَإِن رَآهُ فِي مَوضِع حَرْب أَو كرب أَو غلاء فَإِن أَهله ينْصرُونَ وَيرْفَع عَنْهُم مَا هم فِيهِ وَمن رأى أَنه يتبعهُ ويقفو أَثَره فَإِنَّهُ يتبع سنته وَمن رأى أَنه يُعَاتب النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَو يجادله، أَو يرفع عَلَيْهِ صَوته، فَإِن ذَلِك بدعا قد أحدثتها فِي الدّين وَالسّنَن. (رُؤْيَة الْأَنْبِيَاء عليهم السلام

‌‌وَمن رأى آدم عليه السلام جماله وبهائه ولي ولَايَة إِن كَانَ أَهلا وَإِلَّا نَالَ من كَبِير عزا أَو دلّ على أَنه أذْنب ذَنبا فليتب فَإِن رأى أَنه كَلمه حصل لَهُ علم وَمَعْرِفَة وَمن رأى شيت نَالَ نعْمَة وفرحا وَمن رأى إِدْرِيس نَالَ عزا ودرجة عالية

وَمن رأى نوحًا عمر طَويلا وَأصَاب شدَّة وأذى ويظفر ويرزق أَوْلَادًا من زَوْجَة دينة

وَمن رأى هودا يُسَلط عَلَيْهِ قوم سُفَهَاء جهال وينجو ويفوز برشد وَخير وَمن رأى صَالحا ناله هم من سُفَهَاء ثمَّ يظفر أَو يكون فِي أمره صَالحا وَفِي قَوْله صَادِقا وَمن رأى لوطا فَإِنَّهُ يتَحَوَّل من مَكَان إِلَى مَكَان وعاقبة أمره محمودة أَو يكون لَهُ امْرَأَة فاسقة وَإِن كَانَ مِمَّن يعْمل عمل قومه فليتق الله وليتب

وَمن رأى إِبْرَاهِيم فَإِنَّهُ يحجّ أَو يرْزق محبَّة الله وَيذْهب همه وغمه وَقيل يصل إِلَيْهِ جور من سُلْطَان ظَالِم وينصر وَقيل يعق أَبَاهُ

وَمن رأى إِسْمَاعِيل نَالَ فصاحة ورياسة وَعمر مَسْجِدا أَو يوعده أحد بوعد يصدق فِيهِ وَمن رأى
(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখা)

 

এবং যে ব্যক্তি নবীকে দেখল, সে যদি চিন্তিত থাকে তবে তার দুশ্চিন্তা দূর হবে, অথবা ঋণগ্রস্ত হলে আল্লাহ তার ঋণ পরিশোধ করে দেবেন, অথবা পরাজিত হলে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, অথবা কারাবন্দী হলে মুক্তি পাবে, অথবা দাস হলে আযাদ হবে, অথবা প্রবাসী হলে সহি-সালামতে পরিবারের নিকট ফিরে আসবে, অথবা অসচ্ছল হলে আল্লাহ তাকে ধনী করবেন, অথবা অসুস্থ হলে আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করবেন। আর যদি কোনো গর্ভবতী নারী তাঁকে দেখে তবে সে পুত্রসন্তান প্রসব করবে এবং স্বামী দেখলেও অনুরূপ ফলাফল হবে। আর যদি কাফেরদের ভূখণ্ডে তাঁকে দেখা যায় তবে সেখানে মহামারি দেখা দেবে। আর যদি কোনো মানুষ তাঁকে রাগান্বিত অবস্থায় দেখে তবে সে মন্দ কাজ করছে অথবা পাপে লিপ্ত রয়েছে। আর যদি তাঁকে কোনো স্থানে দাফন করতে দেখা যায় তবে সেই স্থানের অধিবাসীরা তাঁর সুন্নতের ওপর প্রতিষ্ঠিত নেই। আর যদি তাঁকে কোনো যুদ্ধের স্থানে অথবা বিপদের সময় কিংবা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির স্থানে দেখা যায় তবে সেখানকার অধিবাসীরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং তারা যে কষ্টের মধ্যে রয়েছে তা দূর করে দেওয়া হবে। এবং যে দেখল সে তাঁকে অনুসরণ করছে এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করছে তবে সে তাঁর সুন্নত অনুসরণ করছে। এবং যে দেখল সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভর্ৎসনা করছে অথবা তাঁর সাথে তর্কে লিপ্ত হচ্ছে কিংবা তাঁর সামনে কণ্ঠস্বর উচ্চ করছে, তবে তা হচ্ছে এমন বিদআত যা সে দ্বীন ও সুন্নতের মধ্যে উদ্ভাবন করেছে। (নবীদেরকে (আলাইহিমুস সালাম) স্বপ্নে দেখা)

এবং যে ব্যক্তি আদম আলাইহিস সালামকে তাঁর সৌন্দর্য ও মহিমায় দেখল, সে যদি যোগ্য হয় তবে শাসনক্ষমতা লাভ করবে, অন্যথায় সে কোনো উচ্চপদস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে মর্যাদা লাভ করবে, অথবা এটি প্রমাণ করে যে সে কোনো গুনাহ করেছে তাই তার তওবা করা উচিত। যদি দেখে যে তিনি তার সাথে কথা বলছেন তবে সে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভ করবে। আর যে শীসকে (আলাইহিস সালাম) দেখল সে নেয়ামত ও আনন্দ লাভ করবে। আর যে ইদ্রিসকে (আলাইহিস সালাম) দেখল সে মর্যাদা ও উচ্চ মর্তবা লাভ করবে।

এবং যে নূহকে (আলাইহিস সালাম) দেখল সে দীর্ঘায়ু হবে এবং কঠোরতা ও কষ্টের সম্মুখীন হবে, অতঃপর সে জয়ী হবে এবং একজন দ্বীনদার স্ত্রীর গর্ভে সন্তান লাভ করবে।

আর যে হুদকে (আলাইহিস সালাম) দেখল তার ওপর একদল নির্বোধ ও মূর্খ লোক চড়াও হবে, তবে সে মুক্তি পাবে এবং সঠিক পথ ও কল্যাণ লাভে সফল হবে। আর যে সালেহকে (আলাইহিস সালাম) দেখল সে নির্বোধদের পক্ষ থেকে দুশ্চিন্তায় পতিত হবে অতঃপর জয়ী হবে, অথবা সে তার কাজে নেককার হবে এবং কথায় সত্যবাদী হবে। আর যে লুতকে (আলাইহিস সালাম) দেখল সে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হবে এবং তার কাজের পরিণতি প্রশংসনীয় হবে, অথবা তার একজন পাপাচারী স্ত্রী থাকবে। আর যদি সে এমন কেউ হয় যে লুতের সম্প্রদায়ের মতো কাজ করে, তবে তার উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং তওবা করা।

আর যে ইব্রাহিমকে (আলাইহিস সালাম) দেখল সে হজ করবে অথবা আল্লাহর মহব্বত লাভ করবে এবং তার দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর হবে। বলা হয়ে থাকে যে, কোনো জালেম শাসকের পক্ষ থেকে তার ওপর জুলুম আসতে পারে কিন্তু সে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আরও বলা হয় যে, সে তার পিতার অবাধ্য হবে।

আর যে ইসমাইলকে (আলাইহিস সালাম) দেখল সে বাকপটুতা ও নেতৃত্ব লাভ করবে এবং কোনো মসজিদ নির্মাণ করবে, অথবা কেউ তাকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে সে তাতে সত্যবাদী হবে। আর যে ব্যক্তি দেখল
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
إِسْحَاق أَصَابَهُ هول ثمَّ ينجو وَيحصل لَهُ بِشَارَة وَفتح وغنيمة

وَمن رأى يَعْقُوب رزق همة وأولادا أقوياء أَو يحصل لَهُ هم وغم من جِهَة الْأَوْلَاد ويفرح بعد ذَلِك وَإِن كَانَ لَهُ غَائِب يَأْتِي إِلَيْهِ بِخَير وَبشَارَة

وَمن رأى يُوسُف حبس ونال شدَّة ثمَّ نصر وَولي ولَايَة أَو رُبمَا يحصل لَهُ من قبل امْرَأَة وعاقبته إِلَى خير أَو رُبمَا دلّت رُؤْيَته على بشرى

وَمن رأى مُوسَى وَهَارُون فَإِنَّهُ يهْلك على يَده جَبَّار وَإِن كَانَ فِي بَحر ينجو سالما

وَمن رأى أَيُّوب أَصَابَهُ بلَاء ثمَّ يخلص ويعوض خيرا وَإِن كَانَ مَرِيضا أَو لَهُ مَرِيض حصل لَهُ الشِّفَاء من الله تَعَالَى

وَمن رأى يُونُس فَإِنَّهُ يعجل فِي أَمر يُصِيبهُ من حبس وضيق ثمَّ يخلص

وَمن رأى دَاوُد ولي ولَايَة وَرُبمَا ابْتُلِيَ بِسَبَب امْرَأَة وَرُبمَا كَانَ عِنْده شَيْء مدخرا فأثر فِيهِ السوس وَمن رأى سُلَيْمَان ولي ولَايَة ورزق فقها وَمن رأى زَكَرِيَّا نَالَ عِنْد كبره ولدا تقيا وَمن رأى يحيى نَالَ ورعا وتقوى أَو صَار ذَا جاه ودولة وَبشَارَة تَأتيه وَمن رأى عِيسَى صَار زاهدا عابدا كثير السّفر وَمن رأى إلْيَاس فَإِن لَهُ دَعْوَة مجابة على أعدائه وَمن رأى الْخضر فَإِنَّهُ يحجّ وَيكون عمره طَويلا وَرُبمَا دلّ على خصب بعد غلاء وَمن رأى لُقْمَان رزق حِكْمَة أَو ولدا صَالحا وَمن رأى نَبيا من الْأَنْبِيَاء عليهم السلام فِي مَوضِع فَإِن كَانَ أَهله فِي حَرْب ظفروا بعدوهم وَإِن كَانُوا فِي كرب أَو قحط فرج الله عَنْهُم وَمن رأى أَنه يزور نَبيا من الْأَنْبِيَاء حَيا أَو مَيتا فَإِن كَانَ تقيا زَاد فِي تقواه وَإِن كَانَ عَاصِيا تَابَ الله عَلَيْهِ أَو دلّ على أَنه يزوره كَمَا رأى أَو دلّ على أَنه من أهل الْجنَّة أَو حصل لَهُ خير وبركة وَمن رأى أحدا مِنْهُم وَهُوَ فِي صُورَة حَسَنَة حصل لَهُ صَلَاح فِي دينه ودنياه وَإِن رأى فِيهِ نُقْصَانا وعَلى غير صُورَة حَسَنَة دلّ على نُقْصَان دين الرَّائِي وَمن رأى أَنه نَبِي من الْأَنْبِيَاء فَإِنَّهُ يَمُوت شَهِيدا ويقتر فِي رزقه ويرزق الصَّبْر على المصائب وَيصير بعد إِلَى الظفر وَمن رأى ضريح نَبِي من الْأَنْبِيَاء
ইসহাক (আ.)-কে স্বপ্নে দেখলে সে আতঙ্কে পতিত হবে, অতঃপর নিষ্কৃতি পাবে এবং তার সুসংবাদ, বিজয় ও গনিমত অর্জিত হবে।

আর যে ব্যক্তি ইয়াকুব (আ.)-কে দেখবে, তাকে উচ্চ সংকল্প ও শক্তিশালী সন্তানাদি দান করা হবে অথবা সন্তানদের পক্ষ থেকে সে দুশ্চিন্তা ও দুঃখের সম্মুখীন হবে এবং পরবর্তীতে আনন্দিত হবে; আর যদি তার কেউ নিরুদ্দেশ থাকে, তবে সে কল্যাণ ও সুসংবাদসহ ফিরে আসবে।

আর যে ব্যক্তি ইউসুফ (আ.)-কে দেখবে, সে কারারুদ্ধ হবে এবং কঠোর কষ্টের সম্মুখীন হবে, অতঃপর সে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে ও শাসনক্ষমতা লাভ করবে; অথবা সম্ভবত কোনো মহিলার পক্ষ থেকে তার কোনো ঘটনা ঘটবে এবং তার পরিণতি কল্যাণের দিকে যাবে, অথবা সম্ভবত তাকে দেখা সুসংবাদের ইঙ্গিত বহন করে।

আর যে ব্যক্তি মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-কে দেখবে, তবে তার হাতে কোনো জালিম ধ্বংস হবে; আর যদি সে সমুদ্রে থাকে, তবে সে নিরাপদে মুক্তি পাবে।

আর যে ব্যক্তি আইয়ুব (আ.)-কে দেখবে, সে বিপদে পতিত হবে, অতঃপর তা থেকে নিষ্কৃতি পাবে এবং বিনিময়ে কল্যাণ লাভ করবে; আর যদি সে অসুস্থ থাকে অথবা তার কোনো রোগী থাকে, তবে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সে আরোগ্য লাভ করবে।

আর যে ব্যক্তি ইউনুস (আ.)-কে দেখবে, সে কোনো বিষয়ে তাড়াহুড়ো করবে যার ফলে সে কারাবাস ও সংকীর্ণতায় পতিত হবে, অতঃপর মুক্তি পাবে।

আর যে ব্যক্তি দাউদ (আ.)-কে দেখবে, সে শাসনক্ষমতা লাভ করবে, সম্ভবত কোনো মহিলার কারণে সে পরীক্ষায় পড়বে এবং সম্ভবত তার নিকট গচ্ছিত কোনো বস্তু থাকবে যাতে ঘুনপোকা ধরবে; আর যে ব্যক্তি সুলাইমান (আ.)-কে দেখবে, সে ক্ষমতা লাভ করবে এবং তাকে দ্বীনি প্রজ্ঞা দান করা হবে; আর যে ব্যক্তি জাকারিয়া (আ.)-কে দেখবে, সে বার্ধক্যে এক মুত্তাকী সন্তান লাভ করবে; আর যে ব্যক্তি ইয়াহইয়া (আ.)-কে দেখবে, সে পরহেজগারি ও তাকওয়া লাভ করবে অথবা সে মর্যাদা ও প্রতিপত্তির অধিকারী হবে এবং তার নিকট সুসংবাদ আসবে; আর যে ব্যক্তি ঈসা (আ.)-কে দেখবে, সে দুনিয়াবিমুখ ইবাদতকারী ও অধিক সফরকারী হবে; আর যে ব্যক্তি ইলিয়াস (আ.)-কে দেখবে, তবে তার শত্রুদের বিরুদ্ধে তার দোয়া কবুল হবে; আর যে ব্যক্তি খিজির (আ.)-কে দেখবে, সে হজ পালন করবে এবং তার আয়ু দীর্ঘ হবে, আর সম্ভবত এটি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পর প্রাচুর্যের ইঙ্গিত বহন করে; আর যে ব্যক্তি লোকমান (আ.)-কে দেখবে, তাকে হিকমত বা প্রজ্ঞা অথবা নেককার সন্তান দান করা হবে; আর যে ব্যক্তি আম্বিয়ায়ে কিরাম (আলাইহিমুস সালাম)-এর মধ্য থেকে কোনো নবীকে কোনো স্থানে দেখবে, তবে সেখানকার অধিবাসীরা যদি যুদ্ধে লিপ্ত থাকে তবে তারা শত্রুদের ওপর জয়ী হবে এবং যদি তারা কষ্টে বা দুর্ভিক্ষের মধ্যে থাকে, তবে আল্লাহ তাদের সেই বিপদ দূর করে দেবেন; আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে কোনো নবীকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় জিয়ারত করছে, সে যদি মুত্তাকী হয় তবে তার তাকওয়া বৃদ্ধি পাবে, আর যদি পাপিষ্ঠ হয় তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন অথবা এটি নির্দেশ করে যে সে বাস্তবেও তাঁকে জিয়ারত করবে যেভাবে সে দেখেছে অথবা এটি নির্দেশ করে যে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে অথবা সে কল্যাণ ও বরকত লাভ করবে; আর যে ব্যক্তি তাঁদের মধ্য থেকে কাউকে সুন্দর আকৃতিতে দেখবে, তার দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধন হবে, আর যদি তাতে কোনো ত্রুটি দেখে বা অসুন্দর আকৃতিতে দেখে, তবে তা স্বপ্নদ্রষ্টার দ্বীনের ত্রুটি নির্দেশ করে; আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে নবীদের মধ্য থেকে কোনো একজন নবী হয়ে গিয়েছে, তবে সে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে, তার রিজিকে সংকীর্ণতা আসবে এবং তাকে বিপদের ওপর ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করা হবে এবং পরবর্তীতে সে বিজয় লাভ করবে; আর যে ব্যক্তি নবীদের মধ্য থেকে কোনো নবীর রওজা দেখবে...
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
فَهُوَ حُصُول خير وبركة وَقيل يكون فِي شَفَاعَته وَإِن كَانَ عزبا يتَزَوَّج وَقَالَ بَعضهم من رأى أَنه يزور ضريح أحد من الْأَنْبِيَاء أَو من الصَّحَابَة أَو من الصَّالِحين فَإِنَّهُ يفرج همه وغمه وتكفر ذنُوبه

‌‌(رُؤْيَة الصَّحَابَة رضي الله عنهم

وَمن رأى أَبَا بكر الصّديق رضي الله عنه فَإِنَّهُ يكون رجلا أَمينا صَادِقا كثير الْخَيْر وَمن رأى عمر بن الْخطاب صَار طَوِيل الْعُمر قوالا للحق وَرُبمَا رزق الاعتمار بِالْبَيْتِ وَالطّواف وَمن رأى عُثْمَان بن عَفَّان صَار خيرا فَاضلا وَرُبمَا قتل ظلما وَمن رأى عَليّ بن أبي طَالب صَار عَالِيا رفيع الْمَكَان ورعا شجاعا متصدقا وَرُبمَا وَقعت فِي الْموضع فتْنَة وَمن رأى أحدا من الصَّحَابَة رضي الله عنهم فليتأول لَهُ بالاشتقاق مثل سعد وَسَعِيد فَإِنَّهُ يكون سعيدا
এটি কল্যাণ ও বরকত লাভের মাধ্যম। বলা হয়েছে, এটি তাঁর শাফায়াত বা সুপারিশের অন্তর্ভুক্ত হবে। যদি স্বপ্নদ্রষ্টা অবিবাহিত হয়, তবে সে বিবাহ করবে। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার বলেছেন, যে ব্যক্তি দেখবে যে সে কোনো নবী, সাহাবী কিংবা নেককার ব্যক্তিদের কারো সমাধি জিয়ারত করছে, তবে তার দুশ্চিন্তা ও শোক দূরীভূত হবে এবং তার গুনাহসমূহ মোচন করা হবে।

‌‌(সাহাবীগণ রাযিয়াল্লাহু আনহুমকে দেখা)

যে ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখবে, সে একজন আমানতদার, সত্যবাদী ও প্রভূত কল্যাণময় ব্যক্তি হবে। যে ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখবে, সে দীর্ঘায়ু লাভ করবে ও সত্যের প্রবক্তা হবে এবং সম্ভবত সে বায়তুল্লাহর উমরাহ ও তাওয়াফ করার তাওফিক লাভ করবে। যে ব্যক্তি উসমান ইবনে আফফান রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখবে, সে কল্যাণময় ও ফজিলতপূর্ণ হবে এবং সম্ভবত সে অন্যায়ভাবে নিহত হবে। যে ব্যক্তি আলী ইবনে আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখবে, সে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও উচ্চাসীন, মুত্তাকী, সাহসী ও দানশীল হবে এবং সম্ভবত সেই স্থানে কোনো ফিতনা বা গোলযোগ দেখা দেবে। যে ব্যক্তি সাহাবীগণের রাযিয়াল্লাহু আনহুমের কাউকে দেখবে, তবে তার নামের বুৎপত্তিগত অর্থ অনুযায়ী ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে হবে; যেমন— সাদ ও সাঈদ, যার অর্থ সে সৌভাগ্যবান হবে।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌(الْبَاب الثَّالِث فِي‌‌ رُؤْيَة الْقِيَامَة وأشراطها وَالْجنَّة وَالنَّار)

 

(رُؤْيَة الْقِيَامَة)

من رأى أَن الْقِيَامَة قد قَامَت حصل لَهُ الْفَوْز والنجاة إِن كَانَ من أهل الصّلاح وَإِن كَانَ من أهل الْفساد فَهُوَ تحذير لَهُ من عَاقِبَة ذَلِك وَمن رَآهَا قد قَامَت بمَكَان فَإِن الْعدْل يبسط فِي ذَلِك الْمَكَان فَإِن كَانَ أَهله ظالمين انتقم مِنْهُم أَو غير ظالمين نصروا وظفروا وَمن رَآهَا قَامَت عَلَيْهِ وَحده فقد قرب أَجله وَمن رأى من أَشْرَاط السَّاعَة شَيْئا مثل النفخ فِي الصُّور وطلوع الشَّمْس من مغْرِبهَا وَخُرُوج الدَّابَّة وَنَحْو ذَلِك فَإِن تَأْوِيله كتأويل الْقِيَامَة وَقيل خُرُوج الدَّابَّة فتْنَة تظهر وَيهْلك فِيهَا قوم وينجو أخرون وَخُرُوج الدَّجَّال رجل ذُو بِدعَة يظْهر فِي النَّاس والنفخ فِي الصُّور طاعون أَو إنذار السُّلْطَان فِي بعث أَو غَيره أَو سفر عَام إِلَى الْحَج واجتماع الْخلق لِلْحسابِ عدل من الله تَعَالَى يكون فِي النَّاس بِإِمَام عَادل يقدم عَلَيْهِم أَو يَوْم عَظِيم يشهدونه وَمن رأى كَأَنَّهُ أَخذ كِتَابه بِيَمِينِهِ فَازَ بالصلاح وبالثناء الْجَمِيل وَمن أَخذه بِشمَالِهِ هلك بالإثم أَو بالفقر وَالْحَاجة

‌‌(رُؤْيَة الْحساب وَالْمِيزَان والصراط والحوض)

وَمن رأى أَنه حُوسِبَ وَقع فِي محنة وَعَذَاب وَمن رأى مِيزَانه قد رجح حسن عمله وأطاع بِهِ وَإِلَّا فعلى قدر مَا رَآهُ وَمن رأى الْمِيزَان دلّ
‌(তৃতীয় অধ্যায়: কিয়ামত দর্শন , এর আলামতসমূহ এবং জান্নাত ও জাহান্নাম প্রসঙ্গে)

 

(কিয়ামত দর্শন)

যে ব্যক্তি দেখবে যে কিয়ামত কায়েম হয়েছে, সে যদি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে সে সফলতা ও মুক্তি লাভ করবে; আর যদি সে পাপাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে এটি তার অশুভ পরিণাম সম্পর্কে একটি সতর্কবার্তা। যে ব্যক্তি দেখবে যে কোনো স্থানে কিয়ামত কায়েম হয়েছে, তবে সেই স্থানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে; যদি সেখানকার অধিবাসীরা জালিম হয় তবে তাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে, আর যদি তারা জালিম না হয় তবে তারা সাহায্য ও বিজয় লাভ করবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে শুধুমাত্র তার ওপর কিয়ামত কায়েম হয়েছে, তবে তার মৃত্যু নিকটবর্তী। যে ব্যক্তি কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্য থেকে কোনো কিছু দেখবে—যেমন সিঙায় ফুঁক দেওয়া, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, ভূগর্ভস্থ প্রাণীর নির্গমন এবং এই জাতীয় বিষয়—তবে এর ব্যাখ্যা কিয়ামতের ব্যাখ্যার মতোই হবে। বলা হয়েছে যে, ভূগর্ভস্থ প্রাণীর নির্গমন হলো এমন এক ফিতনা যা প্রকাশ পাবে, যাতে একদল লোক ধ্বংস হবে এবং অন্যরা মুক্তি পাবে। দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হলো এমন এক বিদআতি ব্যক্তির আবির্ভাব যে মানুষের মাঝে প্রকাশ পাবে। সিঙায় ফুঁক দেওয়া হলো প্লেগ মহামারি অথবা সৈন্য প্রেরণ বা অন্য কোনো বিষয়ে সুলতানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা, অথবা হজের জন্য সাধারণ সফর। হিসাবের জন্য সৃষ্টির একত্রিত হওয়া হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার, যা মানুষের মাঝে এমন একজন ন্যায়পরায়ণ ইমামের মাধ্যমে কার্যকর হবে যিনি তাদের ওপর নিযুক্ত হবেন, অথবা এটি এমন এক মহান দিবস যা তারা প্রত্যক্ষ করবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে তার আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করেছে, সে পুণ্য ও উত্তম প্রশংসার মাধ্যমে সফল হবে। আর যে ব্যক্তি তা বাম হাতে গ্রহণ করবে, সে পাপের কারণে অথবা দারিদ্র্য ও অভাবের কারণে ধ্বংস হবে।

‌‌(হিসাব, মিজান, সিরাত ও হাউজ দর্শন)

যে ব্যক্তি দেখবে যে তার হিসাব নেওয়া হয়েছে, সে পরীক্ষা ও শাস্তির সম্মুখীন হবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে তার মিজানের পাল্লা ভারী হয়েছে, তবে তার আমল সুন্দর হবে এবং সে তার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করবে; অন্যথায় সে যা দেখেছে সেই অনুযায়ী হবে। আর যে ব্যক্তি মিজান দেখবে তা নির্দেশ করে...
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
على انبساط الْعدْل وارتفاع الظُّلم وَمن رأى أَنه مر على الصِّرَاط سليما نجا من شدَّة وَفتن وبلاء وَإِن سقط مِنْهُ فِي النَّار يَقع فِي فتْنَة وبلاء وَإِن رأى أَنه قَائِم عَلَيْهِ تستقيم على يَدَيْهِ أُمُور معوجة وَمن رأى أَنه شرب من الْحَوْض فَإِنَّهُ يَمُوت على الْإِسْلَام

‌‌(رُؤْيَة الْجنَّة)

وَمن رأى أَنه دخل الْجنَّة فَإِنَّهُ يعْمل عملا صَالحا يسْتَوْجب بِهِ الْجنَّة وَإِن كَانَ خَائفًا أَمن وَأَن كَانَ مَرِيضا انْتقل من الدُّنْيَا إِلَيْهَا فَإِن رأى أَنه آتى إِلَيْهَا ليدْخل فَرد أَفَاق من مَرضه وَمن رأى أَنه تنَاول من ثمارها أَو أَعْطَاهَا لَهُ غَيره وَأكل مِنْهَا فَإِنَّهُ ينْتَفع بِعَمَل من أَعمال الْبر وَمن رأى أَنه فِيهَا وَلَا يدْرِي مَتى دَخلهَا فَإِنَّهُ لَا يزَال فِي الدُّنْيَا منعما عَزِيز وَمن رأى من حورها أَو ولدانها فَإِنَّهُ من أَعمال الْبر على حَال وَمن رأى أَن بِيَدِهِ مِفْتَاح الْجنَّة فَإِنَّهُ يتوفى على التَّوْحِيد

‌‌(رُؤْيَة النَّار أعاذنا الله تَعَالَى مِنْهَا)

وَمن رأى أَنه فِي نَار جَهَنَّم فَهُوَ زجر لَهُ عَن ذنُوب هُوَ مصر عَلَيْهَا وَإِن كَانَ صَالحا فَإِنَّهُ يحم أَو يَقع فِي بلَاء أَو يسجن فَإِن خرج تخلص من ذَلِك وَمن رأى أَنه مُقيم فِيهَا وَلم يدر مَتى دَخلهَا دلّ على أَنه لَا يزَال فِي ضيق وَأمره مخذول وَمن رأى أَنه تنَاول من مأكولها شَيْئا فَإِن ذَلِك من أَعمال العَاصِي وَإِن رَأَتْ امْرَأَة أَنَّهَا دخلت النَّار دلّ على طَلاقهَا إِن كَانَ الطَّلَاق يؤذيها وَمن رَآهَا وَلم يصبهُ مِنْهَا مَكْرُوه فَإِن ذَلِك من هموم الدُّنْيَا وأحزانها يُصِيبهُ مِنْهَا بِقدر مَا ناله من حرهَا وَمن رَآهَا فِي مَوضِع دلّ على أَن هُنَاكَ سُلْطَانا غشوما أَو رجلا مسلطا لَا يحل حَلَالا وَلَا يحرم حَرَامًا وَيكون فِي ذَلِك الْموضع حَرْب أَو جوع وارتفاع الأسعار والسلع
ন্যায়বিচার বিস্তৃত হওয়া এবং জুলুম দূরীভূত হওয়ার ওপর। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে নিরাপদে সিরাত পার হয়ে গেল, সে কঠোরতা, ফেতনা ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাবে। আর যদি সেখান থেকে জাহান্নামের আগুনে পড়ে যায়, তবে সে ফেতনা ও বিপদে পতিত হবে। আর যদি দেখে যে সে তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তবে তার হাতে বক্র বিষয়সমূহ সঠিক হবে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে হাউজ থেকে পান করল, তবে সে ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করবে।

‌‌(জান্নাত দর্শন)

আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে জান্নাতে প্রবেশ করেছে, তবে সে এমন সৎকর্ম করবে যার দ্বারা সে জান্নাতের উপযুক্ত হবে। আর যদি সে ভীত থাকে তবে সে নিরাপদ হবে, আর যদি অসুস্থ হয় তবে দুনিয়া থেকে সে সেখানে স্থানান্তরিত হবে। আর যদি দেখে যে সে জান্নাতে প্রবেশের জন্য এসেছে কিন্তু তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে, তবে সে তার রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠবে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে জান্নাতের ফল থেকে কিছু গ্রহণ করল অথবা অন্য কেউ তাকে তা দিল এবং সে তা ভক্ষণ করল, তবে সে কোনো একটি নেক আমলের মাধ্যমে উপকৃত হবে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে জান্নাতে আছে অথচ জানে না কখন সেখানে প্রবেশ করেছে, তবে সে দুনিয়াতে সর্বদা নিয়ামতপ্রাপ্ত ও সম্মানিত অবস্থায় থাকবে। আর যে ব্যক্তি জান্নাতের হুর অথবা কিশোরদের দেখল, তবে তা কোনো এক অবস্থায় নেক আমলের পরিচয় বহন করে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে তার হাতে জান্নাতের চাবিকাঠি রয়েছে, তবে সে তাওহিদের ওপর মৃত্যুবরণ করবে।

‌‌(জাহান্নাম দর্শন, আল্লাহ তাআলা আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন)

আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে জাহান্নামের আগুনে আছে, তবে এটি তার জন্য সেই গুনাহসমূহ থেকে সতর্কবাণী যাতে সে লিপ্ত রয়েছে। আর যদি সে নেককার হয়, তবে সে জ্বরে আক্রান্ত হবে অথবা বিপদে পড়বে কিংবা কারাবরণ করবে; অতঃপর যদি সে বের হয়ে আসে তবে সে তা থেকে মুক্তি পাবে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে সেখানে অবস্থান করছে এবং জানে না কখন তাতে প্রবেশ করেছে, তবে এটি নির্দেশ করে যে সে সর্বদা সংকটে থাকবে এবং তার বিষয়াদি লাঞ্ছিত হবে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে সেখানকার খাদ্যদ্রব্য থেকে কিছু গ্রহণ করল, তবে তা পাপাচারীদের কর্মের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি কোনো নারী দেখে যে সে আগুনে প্রবেশ করেছে, তবে তা তার তালাকের নির্দেশ করে যদি তালাক তার জন্য কষ্টদায়ক হয়। আর যে ব্যক্তি আগুন দেখল অথচ তার কোনো অনিষ্ট হলো না, তবে তা দুনিয়াবি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-বেদনা যা আগুনের উত্তাপ তাকে যতটুকু স্পর্শ করেছে সেই পরিমাণ তাকে পেয়ে বসবে। আর যে ব্যক্তি কোনো স্থানে আগুন দেখল, তবে তা নির্দেশ করে যে সেখানে কোনো অত্যাচারী শাসক অথবা প্রভাবশালী ব্যক্তি আছে যে হালালকে হালাল জ্ঞান করে না এবং হারামকে হারাম মনে করে না; আর সেই স্থানে যুদ্ধ অথবা দুর্ভিক্ষ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেবে।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌(الْبَاب الرَّابِع فِي‌‌ رُؤْيَة السَّمَاء وَالشَّمْس وَالْقَمَر والنجوم)

 

(رُؤْيَة السَّمَاء)

من رأى أَنه فِي السَّمَاء من غير صعُود أَو صعد إِلَيْهَا بِسَبَب نَالَ عزا ورفعة وَإِن صعد إِلَيْهَا بِغَيْر سَبَب نَالَ خوفًا من قبل سُلْطَان وَمن رأى أَنه نَازل مِنْهَا فَإِنَّهُ يشرف على الْمَوْت ثمَّ ينجو وَمن رأى أَنه بنى بهَا بَيْتا فَإِنَّهُ يستشهد وَمن رأى أَن أَبْوَابهَا مفتحة أَو أَنَّهَا قربت إِلَى الأَرْض دلّ على إِجَابَة الدُّعَاء وَكَثْرَة الْمَطَر وَإِن رأى أَن أَبْوَابهَا مغلقة دلّ على قلَّة الْمَطَر وَمن رأى أَنه وَقع من السَّمَاء فَإِن ذَلِك مَكْرُوه فِي الدّين فَإِن كَانَ الرَّائِي ذَا سُلْطَان زَالَ عَنهُ سُلْطَانه وَمن رأى نسرا أَو عقَابا طَار بِهِ إِلَى السَّمَاء وَلم يَقع فَإِنَّهُ يُصِيب خيرا وَرَفعه وَمن رأى فِي السَّمَاء سِرَاجًا أول بالشمس فَإِن انطفأ كسفت وَمن رأى أَن السَّمَاء انشقت فَإِنَّهُ اخْتِلَاف بَين النَّاس وَكذب على الله تَعَالَى وَمن رأى أَنَّهَا انشقت فَخرج مِنْهَا شيخ حل بِتِلْكَ الأَرْض خصب أَو شَاب فعدو يظْهر وَمن رأى أَنه مَشى فَوق السَّمَاء مَشى فِي أثر الْمَطَر وَمن رأى أَنَّهَا خضراء دلّ على خصب فِي ذَلِك الْعَام أَو صفراء دلّ على مرض فِيهِ أَو أَنَّهَا من حَدِيد فمطر ذَلِك الْعَام قَلِيل وَمن رأى أَنَّهَا وَقعت عَلَيْهِ دلّ على أَن سقف بَيته يَقع عَلَيْهِ

‌‌(رُؤْيَة الشَّمْس)

ورؤية الشَّمْس تؤول بالسلطان فَمن رأى أَنه ملكهَا أَو استمكن مِنْهَا نَالَ من السُّلْطَان جاها وَمن رَآهَا وَلَا شُعَاع لَهَا فَإِنَّهُ نُقْصَان من ملك
‌(চতুর্থ অধ্যায়: ‌আকাশ দর্শন এবং সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি প্রসঙ্গে)

 

(আকাশ দেখা)

যে ব্যক্তি দেখবে যে সে আরোহণ ছাড়াই আকাশে অবস্থান করছে অথবা কোনো মাধ্যমের সাহায্যে সেখানে আরোহণ করেছে, সে সম্মান ও উচ্চমর্যাদা লাভ করবে। আর যদি কোনো মাধ্যম ছাড়াই সেখানে আরোহণ করে, তবে সে শাসকের পক্ষ থেকে ভীতির সম্মুখীন হবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে আকাশ থেকে নামছে, তবে সে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে রক্ষা পাবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে আকাশে ঘর নির্মাণ করেছে, তবে সে শাহাদাত বরণ করবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে আকাশের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত অথবা আকাশ জমিনের নিকটবর্তী হয়েছে, তবে তা দোয়া কবুল হওয়া এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের লক্ষণ। আর যদি দেখে যে আকাশের দ্বারসমূহ বন্ধ, তবে তা বৃষ্টিপাতের স্বল্পতার লক্ষণ। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে আকাশ থেকে পড়ে গিয়েছে, তবে তা দ্বীনের ক্ষেত্রে অশুভ বা অমঙ্গলজনক; আর স্বপ্নদ্রষ্টা যদি শাসক হন, তবে তার শাসনক্ষমতা বিলুপ্ত হবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে কোনো ঈগল বা শিকারি পাখি তাকে নিয়ে আকাশে উড়ে গিয়েছে এবং সে পড়ে যায়নি, তবে সে কল্যাণ ও উচ্চপদ লাভ করবে। যে ব্যক্তি আকাশে কোনো প্রদীপ দেখবে, তার ব্যাখ্যা সূর্য দ্বারা করা হবে; আর যদি তা নিভে যায়, তবে সূর্যগ্রহণ হবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে আকাশ বিদীর্ণ হয়েছে, তবে তা মানুষের মধ্যে মতভেদ এবং আল্লাহ তাআলার প্রতি মিথ্যারোপের লক্ষণ। যে ব্যক্তি দেখবে যে আকাশ বিদীর্ণ হয়ে তা থেকে কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তি বের হয়েছে, তবে সেই ভূমিতে প্রাচুর্য ও উর্বরতা নেমে আসবে; আর যদি কোনো যুবক বের হয়, তবে শত্রুর আবির্ভাব ঘটবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে আকাশের উপর দিয়ে হাঁটছে, তবে সে বৃষ্টির রেশ ধরে চলবে। যদি দেখে যে আকাশ সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে, তবে তা সেই বছরের প্রাচুর্যের লক্ষণ; আর হলুদ বর্ণ হলে তা সেই বছরের রোগের লক্ষণ; অথবা আকাশ যদি লোহার তৈরি দেখে, তবে সেই বছর বৃষ্টিপাত খুব কম হবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে আকাশ তার উপর ভেঙে পড়েছে, তবে তা নির্দেশ করে যে তার ঘরের ছাদ তার উপর ভেঙে পড়বে।

‌‌(সূর্য দেখা)

সূর্য দেখার ব্যাখ্যা সুলতান বা শাসক দ্বারা করা হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি দেখবে যে সে সূর্যের মালিক হয়েছে অথবা তার ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে, সে শাসকের পক্ষ থেকে প্রভাব-প্রতিপত্তি লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি সূর্যকে কিরণহীন অবস্থায় দেখবে, তবে তা রাজত্ব বা ক্ষমতার হ্রাসের পরিচায়ক।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
السُّلْطَان وهبوطها يدل على عزل أَو مَرضه أَو مَوته وَمن رأى أَنَّهَا كسفت أَو حَال دونهَا دُخان متراكم وسحاب كثيف أَو اسودت أَو اصْفَرَّتْ أَو سَقَطت من السَّمَاء أَو صَار جرمها أعظم أَو أَصْغَر أَو أبعد أَو أقرب أَو أنور أَو أظلم اعْتبر حَال الْملك بِمَا يُنَاسِبه وَمن رأى أَن الشَّمْس سجدت لَهُ فَإِن السُّلْطَان يمِيل إِلَيْهِ ويخضع لَهُ أَو يَقع عدل وَاسع من جِهَته وَمن رأى أَنه تنَازع هُوَ وَالشَّمْس فَإِن السُّلْطَان ينازعه بِقدر ذَلِك وَمن رأى أَن شمسين اصطدمتا فهما ملكان يتقابلان وَمن رأى أَنه يسْجد للشمس أَو الْقَمَر دلّ على أَنه ارْتكب ذَنبا عَظِيما فليتب مِنْهُ وَمن رأى أَن الشَّمْس طلعت فِي بَيته فَإِن كَانَ عزبا تزوج من أهل بَيت السُّلْطَان ونال من سُلْطَانه بِقدر مَا رأى من ضوئها وَمن رأى أَن الشَّمْس قد غَابَتْ أَو على أَن تغيب فَإِن الْأَمر الَّذِي هُوَ فِيهِ أَو طَالبه من خير أَو شَرّ قد انْقَضى وَمن رأى أَن الشَّمْس طالعة من غير مطْلعهَا فَإِنَّهُ آيَة وَحدث يحدث وَمن رأى أَنه قد أَصَابَهُ حر الشَّمْس حصل لَهُ ظلم من الْملك أَو نوابه وتؤول الشَّمْس أَيْضا بِالزَّوْجَةِ إِذا كَانَت لسلطان أَو رَئِيس أَو جميلَة وتؤول أَيْضا بِالذَّهَب على حسب مَا يَقْتَضِيهِ حَال المرئي لَهُ وَقد تؤول الشَّمْس مَعَ الْقَمَر بالأبوين فَإِن سقط أَحدهمَا أَو ذهب نوره هلك أحد الْأَبَوَيْنِ

‌‌(رُؤْيَة الْقَمَر والأنجم الْخَمْسَة السيارة)

ويؤول الْقَمَر بوزير السُّلْطَان أَو عَامله وَكَذَا الأنجم الْخمس السيارة الزهرة والمريخ وَعُطَارِد وَالْمُشْتَرِي وزحل فَمن رأى مِنْهَا تلطفا وإقبالا حصل لَهُ عز ورفعة فالزهرة تؤول بِزَوْجَة الْملك والمريخ بِصَاحِب الْجَيْش وَعُطَارِد بكائن وَالْمُشْتَرِي بالخزان أَي خَازِن الْملك وزحل بِصَاحِب عَذَابه وَأما سَائِر النُّجُوم فهم أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَمن رأى أَنه اقْتدى بهم اهْتَدَى وتؤول أَيْضا بأشراف النَّاس فَمن رَآهَا قد
সুলতান এবং সূর্যের নিম্নগমন বা অস্ত যাওয়া তার পদচ্যুতি, অসুস্থতা অথবা মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সূর্য গ্রহণ লেগেছে অথবা পুঞ্জীভূত ধোঁয়া বা ঘন মেঘ একে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে, অথবা এটি কালো বা হলুদ হয়ে গিয়েছে, অথবা আকাশ থেকে পড়ে গিয়েছে, অথবা এর আয়তন বড় বা ছোট হয়ে গিয়েছে, অথবা এটি দূরে বা নিকটে চলে এসেছে, অথবা অধিক উজ্জ্বল বা অন্ধকার হয়ে গিয়েছে, তবে বাদশাহর অবস্থাকে সেই অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে যা তার অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সূর্য তাকে সিজদা করছে, তবে সুলতান তার প্রতি অনুরাগী হবেন এবং তার কাছে নতি স্বীকার করবেন, অথবা তার পক্ষ থেকে ব্যাপক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে এবং সূর্য বিবাদে লিপ্ত হয়েছে, তবে সুলতান সেই পরিমাণ তার সাথে বিবাদ করবেন। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে দুটি সূর্যের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, তবে তারা এমন দুইজন বাদশাহ যারা একে অপরের মুখোমুখি হবেন। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে সূর্য বা চন্দ্রকে সিজদা করছে, তবে তা নির্দেশ করে যে সে একটি মহাপাপ করেছে, সুতরাং সে যেন তা থেকে তওবা করে। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সূর্য তার ঘরে উদিত হয়েছে, সে যদি অবিবাহিত হয় তবে সুলতানের পরিবারে বিবাহ করবে এবং সে সূর্যের যতটুকু আলো দেখেছিল সেই পরিমাণ সুলতানের পক্ষ থেকে মর্যাদা লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সূর্য ডুবে গিয়েছে অথবা ডুবুডুবু অবস্থায় আছে, তবে সে যে বিষয়ের মধ্যে আছে বা যা সে অনুসন্ধান করছে—চাই তা কল্যাণকর হোক বা অকল্যাণকর—তা সমাপ্ত হয়েছে। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সূর্য তার উদয়স্থল ব্যতীত অন্য স্থান থেকে উদিত হয়েছে, তবে তা একটি নিদর্শন এবং এমন কোনো ঘটনা যা সঙ্ঘটিত হবে। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সূর্যের উত্তাপ তাকে স্পর্শ করেছে, তবে বাদশাহ বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তার ওপর জুলুম আপতিত হবে। সূর্যের ব্যাখ্যা স্ত্রী হিসেবেও করা হয় যদি তা সুলতান বা প্রধানের স্ত্রী হয় অথবা সুন্দরী নারী হয়। আবার দ্রষ্টার অবস্থা অনুযায়ী সূর্যের ব্যাখ্যা স্বর্ণ হিসেবেও করা হয়। আর সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রে পিতামাতা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়; সুতরাং যদি তাদের কোনো একটি খসে পড়ে অথবা তার আলো চলে যায়, তবে পিতামাতার একজনের মৃত্যু ঘটবে।

‌‌(চন্দ্র এবং পাঁচটি বিচরণশীল গ্রহ দেখার ব্যাখ্যা)

চন্দ্রের ব্যাখ্যা সুলতানের উজির বা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে করা হয়। তেমনিভাবে পাঁচটি বিচরণশীল গ্রহ—শুক্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি এবং শনি। এদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কোনো গ্রহের কোমলতা ও অনুকূল অবস্থা দেখবে, সে সম্মান ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে। শুক্র গ্রহের ব্যাখ্যা বাদশাহর স্ত্রী হিসেবে, মঙ্গলের ব্যাখ্যা সেনাপতি হিসেবে, বুধের ব্যাখ্যা সচিব হিসেবে, বৃহস্পতির ব্যাখ্যা ধনাধ্যক্ষ অর্থাৎ বাদশাহর কোষাগার রক্ষক হিসেবে এবং শনির ব্যাখ্যা বাদশাহর দণ্ডদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে করা হয়। আর অন্যান্য সকল নক্ষত্র হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণ। সুতরাং যে ব্যক্তি দেখবে যে সে তাদের অনুসরণ করছে, সে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে। এগুলোকে মানুষের মধ্যে যারা সম্ভ্রান্ত ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন তাদের মাধ্যমেও ব্যাখ্যা করা হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি দেখবে যে...
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
اجْتمعت فِي حَال إشراق فَإِنَّهُ صَلَاح حَال أَشْرَاف النَّاس واجتماع أَمرهم وَإِن رَآهَا قد تَفَرَّقت أَو طمست فَإِنَّهُ افْتِرَاق أَمرهم وَفَسَاد حَالهم وَمن رأى أَنه يصنع شَيْئا لَهَا فَإِنَّهُ يصنع بِالنَّاسِ مثل ذَلِك وَمن رأى أَنه يأكلها فَإِن ذَلِك غيبَة ووقيعة فِي النَّاس وَمن رأى أَنه أَخذ نجما من السَّمَاء فَإِن كَانَت امْرَأَته حُبْلَى ولد لَهُ ابْن وَمن رأى نجوما انْقَضتْ على رَأسه أَو رَآهَا فِي بَيته أصَاب سُلْطَانا ورفعة وَمن رأى نجما سقط فِي الأَرْض دلّ على سُقُوط رجل كَبِير عَن مَنْزِلَته وَإِن كَانَ لَهُ غَائِب قدم عَلَيْهِ أَو حَامِل أَتَت بِولد شرِيف وَإِن كَانَ ذَلِك من النُّجُوم المؤنثة فَإِن الْوَلَد جَارِيَة وَإِن رأى نجما سقط عَلَيْهِ مَاتَ سَرِيعا

‌‌(رُؤْيَة الْهلَال

وَمن رأى هلالا ولد لَهُ مَوْلُود وَإِن رَآهُ سقط على الأَرْض فَيَمُوت عَالم أَو رَآهُ ملك فقتال وَإِن رأى إِنْسَان الْهلَال دون غَيره مَاتَ عَاجلا وَمن رأى الْقَمَر فِي حجرَة تزوج رجلا كَانَ أَو امْرَأَة وَتَمام الْقَمَر ونوره نفع الْوَزير للنَّاس
যদি সেগুলো উজ্জ্বল অবস্থায় একত্রিত হয়, তবে তা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবস্থার সংস্কার ও তাদের বিষয়সমূহ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার লক্ষণ। আর যদি কেউ সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন বা নিষ্প্রভ অবস্থায় দেখে, তবে তা তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ এবং অবস্থার বিপর্যয়ের প্রমাণ। যে ব্যক্তি নিজেকে তাদের জন্য কিছু করতে দেখে, তবে সে মানুষের সাথে অনুরূপ আচরণ করবে। যে ব্যক্তি নিজেকে সেগুলো খেতে দেখে, তবে তা মানুষের গীবত ও তাদের মর্যাদাহানি করার নামান্তর। যে ব্যক্তি আকাশ থেকে একটি নক্ষত্র গ্রহণ করতে দেখে, যদি তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয় তবে তার একটি পুত্র সন্তান জন্মাবে। যে ব্যক্তি নক্ষত্রসমূহকে তার মাথার উপর আছড়ে পড়তে দেখে অথবা সেগুলোকে তার ঘরে দেখে, তবে সে প্রভাব-প্রতিপত্তি ও উচ্চমর্যাদা লাভ করবে। যে ব্যক্তি একটি নক্ষত্রকে মাটিতে পড়তে দেখে, তবে তা কোনো বড় ব্যক্তির পদমর্যাদা হারানোর ইঙ্গিত দেয়। আর যদি তার কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি থাকে তবে সে ফিরে আসবে, অথবা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী থাকলে সে এক সম্মানিত সন্তান প্রসব করবে। আর যদি সেই নক্ষত্রটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক নক্ষত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সন্তানটি হবে কন্যা। আর যদি কেউ দেখে যে একটি নক্ষত্র তার ওপর পড়েছে, তবে সে দ্রুত মৃত্যুবরণ করবে।

(নতুন চাঁদ দেখা প্রসঙ্গে)

যে ব্যক্তি নতুন চাঁদ দেখে, তবে তার একটি সন্তান জন্ম নেবে। আর যদি কেউ দেখে যে সেটি মাটিতে পড়েছে, তবে একজন আলেমের মৃত্যু ঘটবে। অথবা যদি কোনো রাজা তা দেখেন, তবে যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটবে। আর যদি কোনো মানুষ অন্যদের ছাড়াই একা চাঁদ দেখে, তবে সে দ্রুত মারা যাবে। যে ব্যক্তি চাঁদকে নিজের কোলে দেখে, সে বিবাহ করবে—সে পুরুষ হোক বা নারী। আর চাঁদের পূর্ণতা ও তার আলো জনগণের প্রতি মন্ত্রীর উপকারের লক্ষণ।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌(الْبَاب الْخَامِس فِي‌‌ رُؤْيَة السَّحَاب والمطر وَالْبرد والثلج والرعد والبرق وَالصَّوَاعِق والرياح والهواء والسراب)

 

(رُؤْيَة السَّحَاب)

من رأى أَنه أَخذ شَيْئا من السَّحَاب فَإِنَّهُ يُصِيب من الْحِكْمَة أَو يكثر من الْحَرْث والضياع وَمن رأى أَنه يركب على السَّحَاب فَإِنَّهُ يدْرك الْحِكْمَة كلهَا ويتزوج أَو يركب سفينة إِن أمل سفرا وَمن رأى قِطْعَة سَحَاب على رَأسه يحصل لَهُ عَظمَة على قدرهَا وَمن رأى سَحَابَة استقبلته فَإِنَّهُ أَمن وَعدل وَبشَارَة وراحة من كل غم فَإِن لم يكن أَهلا لذَلِك فَإِنَّهُ عُقُوبَة وَعَذَاب ينزل بِهِ وَمن رأى أَن السَّحَاب سقط على الأَرْض فَإِنَّهُ سيول أَو خراب بَلْدَة وَمن رأى سحابا فِيهِ غياث للْعَالم فَإِن ذَلِك رَحْمَة فَمن نَالَ من ذَلِك شَيْئا فَإِنَّهُ ينَال من ذَلِك الْغَيْث وَالرَّحْمَة بِقدر ذَلِك وَرُبمَا دلّ السَّحَاب إِذا اسود على أَمر مَكْرُوه أَو عَارض من سُلْطَان فَإِن كَانَ مَعَ السَّحَاب رعد أَو برق فَهُوَ أعجل الرُّؤْيَا لتصديقها وَمن رأى أَنه فِي ظلّ السَّحَاب وجد فِي تِلْكَ السّنة خيرا ونعمة وَمن رأى أَن السَّحَاب ستر جَمِيع الدُّنْيَا وَلم ينزل فِيهِ مطر لَيْسَ بمحمود وَمن رأى أَن السَّحَاب غطى الشَّمْس فَإِن الْملك يَمُوت أَو يقهر أَو يعْزل

‌‌(رُؤْيَة الْمَطَر)

وَمن رأى كَأَن مَطَرا عَاما صب فِي مَوضِع فَإِن ذَلِك رَحْمَة وخصب وبركة لِلْخلقِ وَإِن كَانَ خَاصّا بِقوم دون قوم فَإِن ذَلِك مُصِيبَة أَو
‌(পঞ্চম অধ্যায়: মেঘ দেখার বর্ণনা, এবং বৃষ্টি, শিলা, বরফ, বজ্রধ্বনি, বিদ্যুৎ, বজ্রপাত, বাতাস, আবহাওয়া ও মরীচিকা)

 

(মেঘ দেখা)

যে ব্যক্তি দেখল যে সে মেঘের কিছু অংশ গ্রহণ করেছে, তবে সে প্রজ্ঞা লাভ করবে অথবা তার কৃষি ও ভূসম্পত্তি বৃদ্ধি পাবে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে মেঘের উপর আরোহণ করছে, তবে সে পূর্ণ প্রজ্ঞা অর্জন করবে এবং বিবাহ করবে অথবা যদি সফরের ইচ্ছা থাকে তবে জাহাজে আরোহণ করবে। আর যে ব্যক্তি দেখল তার মাথার উপর একখণ্ড মেঘ রয়েছে, তবে সে সেই মেঘের পরিমাণ অনুযায়ী মাহাত্ম্য ও মর্যাদা লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি দেখল মেঘ তাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে, তবে তা নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, সুসংবাদ এবং সকল প্রকার দুঃখ থেকে মুক্তির লক্ষণ; কিন্তু যদি সে এর উপযুক্ত না হয়, তবে তা তার উপর অবতীর্ণ হওয়া শাস্তি ও আযাব। আর যে ব্যক্তি দেখল মেঘ ভূমিতে পতিত হয়েছে, তবে তা প্লাবন বা কোনো জনপদ ধ্বংস হওয়া নির্দেশ করে। আর যে ব্যক্তি এমন মেঘ দেখল যাতে জগতের জন্য সাহায্য রয়েছে, তবে তা রহমত; সুতরাং যে ব্যক্তি এর কিছু অংশ পেল, সে সেই পরিমাণ সাহায্য ও রহমত লাভ করবে। মেঘ যদি কালো হয় তবে কখনও কখনও তা কোনো অপ্রীতিকর বিষয় অথবা সুলতানের পক্ষ থেকে কোনো বিপত্তির প্রমাণ দেয়; আর যদি মেঘের সাথে বজ্রধ্বনি বা বিদ্যুৎ থাকে, তবে সেই স্বপ্নের সত্যতা প্রকাশের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত দ্রুত হবে। আর যে ব্যক্তি দেখল সে মেঘের ছায়ায় রয়েছে, তবে সে সেই বছর কল্যাণ ও নেয়ামত লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি দেখল মেঘ সমগ্র পৃথিবীকে আবৃত করে ফেলেছে কিন্তু তাতে কোনো বৃষ্টি বর্ষিত হয়নি, তবে তা শুভ নয়। আর যে ব্যক্তি দেখল মেঘ সূর্যকে ঢেকে ফেলেছে, তবে বাদশাহ মৃত্যুবরণ করবেন অথবা পরাজিত হবেন কিংবা অপসারিত হবেন।

‌‌(বৃষ্টি দেখা)

আর যে ব্যক্তি দেখল কোনো স্থানে ব্যাপক বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছে, তবে তা সৃষ্টির জন্য রহমত, উর্বরতা এবং বরকত। আর যদি তা অন্যদের বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের জন্য হয়, তবে তা কোনো বিপদ অথবা...
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
أمراض أَو جوع أَو جلاء ينزل بهم وَإِذا رأى أَنه نزل عَلَيْهِ خَاصَّة فَإِنَّهُ ضرب وأذى ينزل بِهِ وَمن رأى كَأَن مَطَرا ينزل وَلَيْسَ كَهَيئَةِ الْمَطَر فَإِن كَانَ محبوبا فَإِنَّهُ صَلَاح وَإِن كَانَ مَكْرُوها فَإِنَّهُ بلَاء وفتنة فَإِن أمطر عسلا أَو لَبَنًا أَو نَحوه فَإِنَّهُ خير وبر وغنيمة وَصَلَاح دين وَإِن أمْطرت تُرَابا أَو رملا فَهُوَ صَلَاح مَا لم يكن غَالِبا وَإِن أمْطرت ذبابا أَو عقارب أَو حيات أَو نَحْو ذَلِك فَإِنَّهُ لَا خير فِيهِ خَاصَّة وَعَامة وَهُوَ عَذَاب يُصِيب أهل ذَلِك الْموضع وَمن رأى أَنه اغْتسل بالمطر وَتَوَضَّأ بِهِ فَإِنَّهُ صَلَاح فِي دينه ودنياه وَمن رأى أَنه يشرب من مَاء الْمَطَر فَإِن كَانَ صافيا أصَاب خيرا وَإِن كَانَ كدرا مرض بِقدر مَا شرب وَإِن رأى مَرِيض أَنه نزل مطر خَفِيف متواتر شفي وَإِن رأى مَطَرا شَدِيدا كدرا متواترا هلك فِي ذَلِك الْمَرَض

‌‌(رُؤْيَة الْبرد)

وَمن رأى أَن الْبرد وَقع بِأَرْض فَهُوَ غوث من الله مَا لم يفْسد فَإِن أفسد أَو فحش فَإِن ذَلِك عَذَاب ينزل بذلك الْمَكَان

‌‌(رُؤْيَة الثَّلج)

وَمن رأى الثَّلج فَإِنَّهُ خصب وَرَحْمَة مَا لم يكن غَالِبا كثير أَو قَلِيل إِن كَانَ فِي وقته فَهُوَ خصب وَإِن كَانَ فِي غير وقته فَهُوَ جود من السُّلْطَان أَو من عماله وَإِن نزل الثَّلج فِي غير مَوضِع ينزل فِيهِ فَإِنَّهُ بلَاء وأسقام تنزل هُنَاكَ وَمن رأى رعدا أَو برقا حصل لأهل تِلْكَ الأَرْض خوف شَدِيد وَالصَّوَاعِق أَشد من ذَلِك وَرُبمَا كَانَ الرَّعْد والبرق وَعِيد السُّلْطَان أَو تهديده فَمن سمع رعدا فَإِنَّهُ يسمع مَا يكره من السُّلْطَان وَمن رأى صَاعِقَة وَقعت فِي بلد فأحرقت أَهلهَا فَإِن ذَلِك سُلْطَان ينزل فِي ذَلِك الْبَلَد وَيحدث فِيهِ فَسَادًا وَيكون فِيهِ حروب غلاء أَو أمراض وَإِن رَآهَا وَقعت
অসুস্থতা, ক্ষুধা অথবা দেশান্তর তাদের ওপর আপতিত হবে। আর যদি কেউ দেখে যে তা বিশেষভাবে কেবল তার নিজের ওপর বর্ষিত হচ্ছে, তবে তা তার ওপর নেমে আসা আঘাত ও যন্ত্রণার লক্ষণ। আর যে ব্যক্তি দেখল যেন বৃষ্টি হচ্ছে অথচ তা বৃষ্টির রূপ পরিগ্রহ করেনি; এমতাবস্থায় তা যদি মনোরম হয় তবে তা কল্যাণ, আর যদি তা অপ্রীতিকর হয় তবে তা বালা-মসিবত ও ফিতনা। যদি মধু, দুধ বা অনুরূপ কিছু বর্ষিত হয়, তবে তা মঙ্গল, বরকত, গনিমত এবং দ্বীনের সংশোধন। আর যদি মাটি বা বালু বর্ষিত হয়, তবে তা যতক্ষণ না প্রবল আকার ধারণ করছে ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণকর। আর যদি মাছি, বিচ্ছু, সাপ বা অনুরূপ কিছু বর্ষিত হয়, তবে তাতে বিশেষ বা সাধারণ কোনো মঙ্গল নেই, বরং তা ওই জনপদের অধিবাসীদের ওপর আপতিত কোনো আজাব। আর যে ব্যক্তি দেখল সে বৃষ্টির পানিতে গোসল করেছে এবং তা দিয়ে অজু করেছে, তবে তা তার দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধনের লক্ষণ। আর যে ব্যক্তি দেখল সে বৃষ্টির পানি পান করছে; সেই পানি যদি স্বচ্ছ হয় তবে সে কল্যাণ লাভ করবে, আর যদি ঘোলা হয় তবে পান করা পানির পরিমাণ অনুযায়ী সে অসুস্থ হবে। আর কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যদি দেখে যে অবিরাম মৃদু বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছে, তবে সে সুস্থ হবে। আর যদি অবিরাম প্রবল ঘোলা বৃষ্টি হতে দেখে, তবে সে ওই রোগে মৃত্যুবরণ করবে।

‌‌(শিলার স্বপ্নদর্শন)

যে ব্যক্তি দেখে কোনো স্থানে শিলাবৃষ্টি হচ্ছে, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য, যতক্ষণ না তা ধ্বংসাত্মক হয়। আর যদি তা ধ্বংসাত্মক বা মাত্রাতিরিক্ত হয়, তবে তা ওই স্থানে নেমে আসা আজাব।

‌‌(বরফের স্বপ্নদর্শন)

যে ব্যক্তি বরফ দেখে, তবে তা প্রাচুর্য ও রহমত যতক্ষণ না তা প্রবল আকার ধারণ করে। তা কম হোক বা বেশি, যদি তা নিজ সময়ে হয় তবে তা প্রাচুর্য; আর যদি অসময়ে হয় তবে তা সুলতান বা তার কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বদান্যতা। আর যদি বরফ এমন স্থানে পড়ে যেখানে সাধারণত পড়ে না, তবে তা সেখানে নেমে আসা বালা-মসিবত ও ব্যাধি। আর যে ব্যক্তি মেঘের গর্জন বা বিদ্যুৎ চমক দেখল, তবে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ভীতি সৃষ্টি হবে, আর বজ্রপাত এর চেয়েও ভয়াবহ। কখনো কখনো মেঘের গর্জন ও বিদ্যুৎ চমক সুলতানের ধমকি বা হুমকির প্রতীক হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি মেঘের গর্জন শুনল, সে সুলতানের পক্ষ থেকে অপ্রীতিকর কিছু শুনবে। আর যে ব্যক্তি দেখল কোনো জনপদে বজ্রপাত হয়ে সেখানকার অধিবাসীদের পুড়িয়ে ফেলেছে, তবে তা ওই জনপদে কোনো সুলতানের আগমনকে নির্দেশ করে, যিনি সেখানে ফাসাদ সৃষ্টি করবেন এবং সেখানে যুদ্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বা মহামারি দেখা দেবে। আর যদি তা দেখে যে আপতিত হয়েছে
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
بِغَيْر نَار فسلطان مقبل يظنّ النَّاس بِهِ ظن السوء وينجون من بأسه وَإِن رَآهَا وَقعت فِي دَاره فَإِن كَانَ رَبهَا مَرِيضا مَاتَ أَو طرقه لص أَو سلط عَلَيْهِ صَاحب الْمَدِينَة

‌‌(رُؤْيَة الرّيح)

وَمن رأى أَن ريحًا هَاجَتْ فَإِنَّهُ يهيج فِي النَّاس هم وَخَوف بِقدر ذَلِك وَمن رَآهَا قلعت الشّجر أَو هدمت الدّور فَإِن ذَلِك مصائب تنزل فِي ذَلِك الْموضع وَمن رأى ريحين تقابلتا فهما جيشان متقابلان وَمن رأى أَن الرّيح تحمله من مَوضِع إِلَى آخر فَإِنَّهُ يُسَافر سفرا بَعيدا أَو يُصِيب رفْعَة وَمن رأى أَنه ملك الرّيح فَإِنَّهُ يُصِيب سُلْطَانا

‌‌(رُؤْيَة الْهَوَاء والسراب)

وَمن رأى أَنه جَالس على الْهَوَاء فَإِنَّهُ على هوى من دينه وغرور من أمره وَمن رأى أَنه ينظر فِي سراب فَإِنَّهُ كَلَام بَاطِل يبلغهُ أَو هُوَ مُقيم على أَمر بَاطِل وَكَذَلِكَ الهباء فِي التَّأْوِيل لَا خير فِيهِ
আগুন ব্যতীত হলে তা এমন এক আসন্ন শাসককে নির্দেশ করে যার সম্পর্কে মানুষ কুধারণা পোষণ করবে এবং তারা তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাবে। আর যদি সে তা নিজের ঘরে পড়তে দেখে এবং ঘরের মালিক অসুস্থ থাকে, তবে সে মারা যাবে অথবা সেখানে চোর হানা দেবে কিংবা শহরের অধিপতি তার ওপর চড়াও হবে।

‌‌(বাতাস দেখা)

যে ব্যক্তি দেখল যে প্রবল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, তবে সেই বাতাসের তীব্রতা অনুযায়ী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতি ছড়িয়ে পড়বে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে বাতাস গাছপালা উপড়ে ফেলছে অথবা ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে, তবে তা সেই স্থানে আপতিত কোনো বিপদ-আপদকে নির্দেশ করে। যে ব্যক্তি দেখল দুটি বাতাস একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে, তবে তা হলো দুটি মুখোমুখি অবস্থানে থাকা সেনাবাহিনী। আর যে ব্যক্তি দেখল বাতাস তাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে, তবে সে দূরপাল্লার সফর করবে অথবা উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি দেখল সে বাতাসের মালিক হয়ে গেছে, তবে সে ক্ষমতা লাভ করবে।

‌‌(শূন্যস্থান ও মরীচিকা দেখা)

যে ব্যক্তি দেখল সে শূন্যে বসে আছে, তবে সে তার দ্বীনের ব্যাপারে প্রবৃত্তির অনুসারী এবং তার পার্থিব বিষয়ে প্রবঞ্চনার মধ্যে রয়েছে। আর যে ব্যক্তি দেখল সে মরীচিকার দিকে তাকিয়ে আছে, তবে তা কোনো মিথ্যা কথা যা তার কাছে পৌঁছাবে অথবা সে কোনো বাতিল বা অসত্য বিষয়ের ওপর অটল রয়েছে। তেমনিভাবে ব্যাখ্যা ও স্বপ্নের তাবিরের ক্ষেত্রে বাতাসে উড়ন্ত ধূলিকণার মধ্যেও কোনো কল্যাণ নেই।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌(الْبَاب السَّادِس فِي الْوضُوء وَالْغسْل وَالتَّيَمُّم وَالصَّلَاة)

 

‌‌(رُؤْيَة الْوضُوء)

فَمن رأى أَنه يتَوَضَّأ بِمَاء صَاف وَأتم وضوءه فَإِن كَانَ مهموما فرج الله همه أَو خَائفًا أَمنه الله أَو مَرِيضا شفَاه الله أَو مديونا قضى الله دينه أَو ذَا ذنُوب كفر الله عَنهُ وَمن رأى أَنه تَوَضَّأ بِمَاء كدر فَإِنَّهُ هم وغم وَلَكِن يُرْجَى لَهُ الْفرج وَمن رأى أَن لم يتم وضوءه فَإِنَّهُ لَا يتم لَهُ أَمر هُوَ طَالبه ويرجى لَهُ النجاح وَمن رأى أَنه تَوَضَّأ بِمَاء لَا يجوز الْوضُوء بِهِ فَهُوَ بِمَنْزِلَة من لم يتم وضوءه وَقيل من رأى أَنه يتَوَضَّأ بِلَبن أَو عسل فَإِنَّهُ حسن فِي الدّين وَمن رأى أَنه تَوَضَّأ بِمَاء حَار أَو اغْتسل بِهِ أَو شربه أَصَابَهُ هم أَو مرض وَمن رأى أَنه يطْلب الْوضُوء وَلَا يجد المَاء فَإِنَّهُ عسر عَلَيْهِ فِي أمره حَتَّى يتَوَضَّأ وَيتم وضوءه ثمَّ يسهل عَلَيْهِ أمره

‌‌(رُؤْيَة الْغسْل)

وَمن رأى أَنه جنب وَلم يجد مَاء لغسله فَإِنَّهُ يعسر عَلَيْهِ مَا يَطْلُبهُ من أَمر الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَمن رأى أَنه اغْتسل من الْجَنَابَة وَأتم غسله فَإِنَّهُ يتم لَهُ الْأَمر الَّذِي يُريدهُ وَإِن لم يتم غسله لم يتم أمره وَمن رأى أَنه اغْتسل غسل الْجُمُعَة وَالْعِيدَيْنِ فَإِنَّهُ زِيَادَة درجاته فِي الْآخِرَة وَمن رأى أَنه اغْتسل وَلبس ثيابًا فَإِنَّهُ يسلم من كل بلَاء وسقم وَإِن كَانَت الثِّيَاب جددا كَانَ أبلغ وَإِن رأى أَنه اغْتسل وَلم يلبس فَإِنَّهُ يفرج عَنهُ بعض كربه وَلَا
‌(ষষ্ঠ অধ্যায়: অজু, গোসল, তায়াম্মুম এবং নামাজ প্রসঙ্গে)

 

‌‌(স্বপ্নে অজু দেখা)

যে ব্যক্তি দেখল যে সে পরিষ্কার পানি দিয়ে অজু করছে এবং তার অজু পূর্ণ করেছে, তবে সে যদি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় তবে আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করবেন, অথবা যদি সে ভীত হয় তবে আল্লাহ তাকে নিরাপত্তা দেবেন, অথবা অসুস্থ হলে আল্লাহ তাকে সুস্থতা দান করবেন, অথবা ঋণগ্রস্ত হলে আল্লাহ তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন, অথবা সে যদি পাপী হয় তবে আল্লাহ তার পাপ মোচন করবেন। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে ঘোলা পানি দিয়ে অজু করেছে, তবে তা দুশ্চিন্তা ও শোকের কারণ, কিন্তু তার জন্য মুক্তির আশা রয়েছে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে তার অজু পূর্ণ করেনি, তবে সে যা অন্বেষণ করছে তা পূর্ণ হবে না, তবে তার সফলতার আশা রাখা যায়। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে এমন পানি দিয়ে অজু করেছে যা দিয়ে অজু করা বৈধ নয়, তবে তার অবস্থা ওই ব্যক্তির মতো যে অজু পূর্ণ করেনি। বলা হয়ে থাকে, যে ব্যক্তি দেখল যে সে দুধ বা মধু দিয়ে অজু করছে, তবে তা দ্বীনের ক্ষেত্রে উত্তম। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে গরম পানি দিয়ে অজু করছে অথবা তা দিয়ে গোসল করছে অথবা তা পান করছে, তবে সে দুশ্চিন্তা বা রোগে আক্রান্ত হবে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে অজু করার জন্য পানি খুঁজছে কিন্তু পাচ্ছে না, তবে তার উদ্দেশ্য অর্জনে কঠোরতা দেখা দেবে যতক্ষণ না সে অজু করে এবং তার অজু পূর্ণ করে, এরপর তার কাজ সহজ হয়ে যাবে।

‌‌(স্বপ্নে গোসল দেখা)

যে ব্যক্তি দেখল যে সে অপবিত্র (জুনুবি) অবস্থায় আছে কিন্তু গোসলের জন্য পানি পাচ্ছে না, তবে দুনিয়া ও আখিরাতের যে বিষয় সে অন্বেষণ করছে তা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে জানাবাত (নাপাকি) থেকে গোসল করেছে এবং তার গোসল পূর্ণ করেছে, তবে সে যা চায় সেই উদ্দেশ্য তার পূর্ণ হবে; আর যদি গোসল পূর্ণ না করে তবে তার কাজ পূর্ণ হবে না। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে জুমার গোসল অথবা দুই ঈদের গোসল করেছে, তবে তা পরকালে তার মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষণ। আর যে ব্যক্তি দেখল যে সে গোসল করেছে এবং কাপড় পরিধান করেছে, তবে সে যাবতীয় বিপদ-আপদ ও ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকবে; আর কাপড়গুলো যদি নতুন হয় তবে তা আরও বেশি কার্যকর। আর যদি দেখে যে সে গোসল করেছে কিন্তু পোশাক পরিধান করেনি, তবে তার কিছু দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে কিন্তু পূর্ণরূপে নয়...

(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
يجْتَمع لَهُ أمره على مَا يُوَافقهُ وَمن رأى أَنه غسل يَدَيْهِ وَوَجهه فَلَا بَأْس بِهِ

‌‌(رُؤْيَة التَّيَمُّم)

وَمن رأى أَنه يتَيَمَّم فِي مَكَان لَا يُوجد فِيهِ المَاء وَأتم ذَلِك فتعبيره كتعبير تَمام الْوضُوء وَالْغسْل وَمن رأى أَنه يتَيَمَّم وَالْمَاء مَوْجُود دلّ على أَنه منحرف عَن الشَّرِيعَة فليتب إِلَى الله تَعَالَى

‌‌(رُؤْيَة الصَّلَاة)

وَمن رأى أَنه يُصَلِّي الْفَرِيضَة وتمت صلَاته واستقامت قبلته فَإِن حَاجته تتمّ ويبلغ مِنْهَا مَا أمله وَمن رأى أَنه يُصَلِّي الصُّبْح فَإِنَّهُ حُصُول كسب حَلَال أَو وعد قريب يَأْتِيهِ خيرا كَانَ أَو شرا وَإِن رأى أَنه يُصَلِّي الظّهْر فَإِنَّهُ يظفر بحاجته ويستظهر على جَمِيع مَا يَطْلُبهُ من أَمر دُنْيَاهُ وآخرته وَإِن رأى أَنه يُصَلِّي الْجُمُعَة فَإِنَّهُ يتم لَهُ مَا يُريدهُ ويبلغ مَا أمله وَإِن رأى أَنه يُصَلِّي الْعَصْر فَهُوَ حُصُول مُرَاد لَكِن بعد مشقة وَإِن رأى أَنه يُصَلِّي الْمغرب فَإِنَّهُ الْأَمر الَّذِي هُوَ طَالبه من خير أَو شَرّ قد انْقَضى وَإِن رأى أَنه يُصَلِّي الْعشَاء فَإِنَّهُ يُعَامل أقرباءه وَيحصل لَهُ سرُور وَقيل يحصل لَهُ مكر وبكاء وَشرط فِيمَا ذكر ان يُؤَدِّي كل صَلَاة فِي وَقتهَا كَامِلَة فَإِن حصل فِيهَا نقص أَو زِيَادَة فَهُوَ مُخَالف لما ذكر وَمن رأى أَنه يُصَلِّي صَلَاة فَاتَتْهُ من هَذِه الصَّلَوَات فَإِنَّهُ يدل على قَضَاء دينه وَمن رأى أَنه يصلى بِالْقصرِ فِي صلَاته فَإِنَّهُ يُسَافر وَمن رأى أَنه يُصَلِّي النَّافِلَة فِي ليل أَو نَهَار فَإِنَّهُ يعْمل عملا صَالحا وَمن رأى أَنه يُصَلِّي وَهُوَ يضْحك فِيهَا فَإِنَّهُ كثير اللَّهْو عَنْهَا وَمن رأى أَنه يُصَلِّي وَهُوَ جنب أَو فِي مَكَان لَا تجوز الصَّلَاة فِيهِ فَإِنَّهُ فَاسد الدّين وَمن رأى أَنه يُصَلِّي بِغَيْر وضوء فَإِنَّهُ يمرض وَمن رأى أَنه يُصَلِّي شرقا أَو غربا فقد انحرف عَن الْإِسْلَام
তার বিষয়গুলো তার অনুকূলে একত্রিত হবে। আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখবে যে সে তার দুই হাত ও মুখ ধৌত করেছে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।

‌‌(তায়াম্মুম দেখার ব্যাখ্যা)

আর যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখবে যে সে এমন কোনো স্থানে তায়াম্মুম করছে যেখানে পানি পাওয়া যায় না এবং সে তা পূর্ণ করেছে, তবে তার ব্যাখ্যা ওজু ও গোসল পূর্ণ করার ব্যাখ্যার মতোই। আর যে ব্যক্তি পানি থাকা সত্ত্বেও তায়াম্মুম করার স্বপ্ন দেখে, তবে তা নির্দেশ করে যে সে শরীয়ত থেকে বিচ্যুত; সুতরাং সে যেন মহান আল্লাহর নিকট তাওবা করে।

‌‌(সালাত দেখার ব্যাখ্যা)

যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখবে যে সে ফরজ সালাত আদায় করছে এবং তার সালাত পূর্ণ হয়েছে ও কিবলা ঠিক ছিল, তবে তার প্রয়োজন পূর্ণ হবে এবং সে তার আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে ফজরের সালাত আদায় করছে, তবে তা হালাল উপার্জন লাভ অথবা কোনো নিকটবর্তী প্রতিশ্রুতি আসার লক্ষণ, চাই তা ভালো হোক বা মন্দ। যদি দেখে যে সে জোহরের সালাত আদায় করছে, তবে সে তার প্রয়োজন পূরণে সফল হবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের যা কিছু সে অন্বেষণ করে তার সবকিছুর ওপর সাহায্য লাভ করবে। আর যদি দেখে যে সে জুমার সালাত আদায় করছে, তবে সে যা চায় তা তার জন্য পূর্ণ হবে এবং সে তার প্রত্যাশায় উপনীত হবে। যদি দেখে যে সে আসরের সালাত আদায় করছে, তবে তা উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার লক্ষণ, কিন্তু তা কষ্টের পর অর্জিত হবে। আর যদি দেখে যে সে মাগরিবের সালাত আদায় করছে, তবে সে যা অন্বেষণ করছে—চাই তা ভালো হোক বা মন্দ—তা সমাপ্ত হয়েছে। আর যদি দেখে যে সে এশার সালাত আদায় করছে, তবে সে তার আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদাচরণ করবে এবং তার আনন্দ লাভ হবে; আবার কেউ কেউ বলেছেন, এতে প্রতারণা ও ক্রন্দন প্রকাশ পায়। উল্লিখিত বিষয়গুলোর শর্ত হলো প্রত্যেক সালাত তার নিজ সময়ে পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করা; যদি তাতে কোনো ঘাটতি বা আধিক্য ঘটে, তবে তা বর্ণিত ব্যাখ্যার বিপরীত হবে। যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখবে যে সে তার ছুটে যাওয়া কোনো সালাত কাজা করছে, তবে তা তার ঋণ পরিশোধের প্রমাণ। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে সালাতে কসর করছে, তবে সে সফর করবে। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে দিনে বা রাতে নফল সালাত আদায় করছে, তবে সে সৎ কাজ করবে। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে সালাত আদায়রত অবস্থায় হাসছে, তবে সে সালাত সম্পর্কে অত্যন্ত উদাসীন ও খেল-তামাশায় মত্ত। যে ব্যক্তি দেখবে যে সে নাপাক অবস্থায় সালাত আদায় করছে অথবা এমন স্থানে সালাত আদায় করছে যেখানে সালাত বৈধ নয়, তবে সে দ্বীনের ক্ষেত্রে কলুষিত। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে ওজু ছাড়া সালাত আদায় করছে, তবে সে অসুস্থ হবে। আর যে ব্যক্তি দেখবে যে সে পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছে, তবে সে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَرُبمَا التمس من امْرَأَته دبرهَا أَو توجه عَنْهَا لغَيْرهَا أَو يرْزق الْحَج إِن كَانَ الرَّائِي مَشْهُورا بِالْخَيرِ وَقيل من رأى أَن أهل الْمَسْجِد يصلونَ إِلَى غير قبْلَة عزل رئيسهم وَمن رأى عَالما يُصَلِّي إِلَى غير قبْلَة أَو عمل بِخِلَاف السّنة أَو أَنه يُصَلِّي فَوق الْكَعْبَة فقد خَالف الشَّرِيعَة وَاتبع الْأَهْوَاء وَمن رأى أَنه يُصَلِّي فِي الصَّحرَاء فَهُوَ إِمَّا سفر أَو حج وَمن رأى أَنه يُصَلِّي بِأحد الْمَسَاجِد الثَّلَاثَة فَإِنَّهُ دَلِيل على مضاعفة الأجور لَهُ وَقبُول أَعماله وَمن رأى أَنه يُصَلِّي على دَابَّة فَهُوَ حُصُول هم وَمن رأى أَن الصَّلَاة فَاتَتْهُ عَن وَقتهَا وَلَا يجد موضعا يُصليهَا فِيهِ عسر فِي أَمر

‌‌(رُؤْيَة الْإِمَامَة فِي الصَّلَاة)

وَمن رأى أَنه يؤم قوما فِي الصَّلَاة فَإِنَّهُ يَلِي ولَايَة يعدل فِيهَا أَو يَسْتَقِيم أمره وَيصْلح حَاله وَمن رأى أَنه يؤم قوما مجهولين بِموضع مَجْهُول وَلَا يدْرِي مَا يقْرَأ فَهُوَ على شرف الْمَوْت وَمن رأى أَنه يُصَلِّي قَائِما وَالنَّاس يصلونَ خَلفه قَاعِدين فَإِنَّهُ يَلِي أمرا لَا ينقاد إِلَيْهِ من ينْسب لذَلِك الْأَمر وَمن رأى أَنه يُصَلِّي قَاعِدا وَالنَّاس يصلونَ خَلفه قيَاما فتعبيره ضد مَا تقدم وَمن رأى أَنه يُصَلِّي قَاعِدا أَو رَاقِدًا فَإِنَّهُ يدل على عجز عَن امْر وَرُبمَا دلّ على توعك الْبدن أَو دلّ على كبر السن وَمن رأى أَنه يسْأَل الله فِي صلواته فَإِنَّهُ يرْزق ولدا وَمن رأى أَنه جلس فِي التَّحِيَّات فَهُوَ زِيَادَة خير وَمن رأى أَنه يسْجد لله تَعَالَى فَإِنَّهُ شكر لله وَطول حَيَاة للرائي وَمن رأى أَنه رَاكِع أَو ساجد كَانَ ذَلِك ظفرا وصلاحا إِلَّا أَنه يرى أَنه خر على وَجهه من غير أَن يَنْوِي بِهِ السُّجُود وَهُوَ إِن كَانَ فِي خُصُومَة أَو حَرْب أَو مُنَازعَة لم يظفر
হয়তো সে তার স্ত্রীর নিকট পশ্চাৎপথ কামনা করবে অথবা তার থেকে বিমুখ হয়ে অন্য কোনো দিকে ধাবিত হবে। আর স্বপ্নদ্রষ্টা যদি নেককার হিসেবে পরিচিত হন, তবে তাকে হজের রিযিক দান করা হবে। বলা হয়ে থাকে যে, যদি কেউ দেখে মসজিদের মুসল্লিগণ কিবলার বিপরীত দিকে নামাজ আদায় করছে, তবে তাদের প্রধানকে পদচ্যুত করা হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো আলেমকে কিবলার বিপরীত দিকে নামাজ পড়তে দেখে অথবা সুন্নাহর পরিপন্থী কোনো আমল করতে দেখে অথবা কাবার উপরে নামাজ পড়তে দেখে, তবে সে ব্যক্তি শরীয়তের বিরোধিতা করেছে এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে সে মরুভূমিতে নামাজ পড়ছে, তবে তা হয় সফর নতুবা হজের ইঙ্গিত। আর যে ব্যক্তি দেখে সে (পবিত্র) তিন মসজিদের কোনো একটিতে নামাজ পড়ছে, তবে তা তার সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার এবং তার আমল কবুল হওয়ার দলিল। যে ব্যক্তি দেখে সে পশুর পিঠে আরোহণ করে নামাজ পড়ছে, তবে তা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ। আর যে ব্যক্তি দেখে যে তার নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে এবং সে নামাজ পড়ার মতো কোনো স্থান পাচ্ছে না, তবে তা কোনো কাজে জটিলতার লক্ষণ।

‌‌(নামাজে ইমামতি দেখার ব্যাখ্যা)

যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে সে কোনো জনসমষ্টির নামাজে ইমামতি করছে, তবে সে কোনো দায়িত্ব বা শাসনভার লাভ করবে এবং তাতে ন্যায়বিচার করবে, অথবা তার বিষয়াদি সুসংহত হবে এবং তার অবস্থার সংশোধন হবে। যে ব্যক্তি দেখে সে কোনো এক অপরিচিত স্থানে অপরিচিত লোকদের ইমামতি করছে এবং সে কী পাঠ করছে তা জানে না, তবে সে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। যে ব্যক্তি দেখে সে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছে আর মানুষ তার পেছনে বসে নামাজ পড়ছে, তবে সে এমন কোনো বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ তার অনুগত হবে না। যে ব্যক্তি দেখে সে নিজে বসে নামাজ পড়ছে আর মানুষ তার পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছে, তবে এর ব্যাখ্যা পূর্বোক্ত অবস্থার বিপরীত হবে। যে ব্যক্তি দেখে সে বসে বা শুয়ে নামাজ পড়ছে, তবে তা কোনো কাজে অক্ষমতা প্রকাশ করে; আর কখনো কখনো তা শারীরিক অসুস্থতা বা বার্ধক্যের ইঙ্গিত দেয়। যে ব্যক্তি দেখে সে তার নামাজে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে, তবে সে সন্তান লাভ করবে। যে ব্যক্তি দেখে সে (নামাজে) তাশাহহুদের বৈঠকে বসেছে, তবে তা কল্যাণ বৃদ্ধির লক্ষণ। যে ব্যক্তি দেখে সে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে সিজদা করছে, তবে তা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং স্বপ্নদ্রষ্টার দীর্ঘায়ুর লক্ষণ। যে ব্যক্তি দেখে সে রুকু বা সিজদা করছে, তবে তা বিজয় ও সংশোধনের লক্ষণ; কিন্তু যদি দেখে সে সিজদার নিয়ত ছাড়াই উপুড় হয়ে পড়ে গিয়েছে এবং সে কোনো বিবাদ, যুদ্ধ বা দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে, তবে সে জয়ী হতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌(الْبَاب السَّابِع فِي الْقِرَاءَة والمصحف والكتب)

 

‌‌(رُؤْيَة الْقِرَاءَة والمصحف والكتب)

من رأى أَنه يقْرَأ شَيْئا من الْقُرْآن وَلَا يعرف مَا قَرَأَهُ أَو نَسيَه فَإِن كَانَ مَرِيضا شفَاه الله أَو مهموما فرج الله همه وَقيل من رأى أَنه يقْرَأ الْقُرْآن فَإِنَّهُ يتَكَلَّم بِالْحَقِّ وَمن رأى أَنه يقْرَأ آيَة الرَّحْمَن فَهُوَ حُصُول خير وَإِن كَانَت آيَة عَذَاب فضد ذَلِك وَمن رأى أَنه قَرَأَ الْقُرْآن وأتمه فَإِنَّهُ يَنْقَضِي أَجله على خير وَقيل من رأى أَنه ختم الْقُرْآن يحصل لَهُ بُلُوغ مَقْصُوده وَإِن قَرَأَ نصفه فقد انْقَضى نصف عمره وَمن رأى أَن أحدا يقْرَأ الْقُرْآن وَهُوَ يسمعهُ فَهُوَ يتبع الْقُرْآن وَإِن رأى ذَلِك وَلم يفهم مَا يَقُوله فضد ذَلِك وَمن رأى أَنه يقْرَأ بمَكَان لَا تجوز الْقِرَاءَة فِيهِ دلّ على أَن فِي دينه خللا وَمن رأى أَنه قَرَأَ بعض سُورَة كَانَ حكمه كمن قَرَأَ تِلْكَ السُّورَة فتعبير تعبيرها

‌‌(قِرَاءَة الْفَاتِحَة)

فقراءة الْفَاتِحَة تدل على حج أَو دُعَاء يُسْتَجَاب أَو تسهيل الْأُمُور الصعاب وَحُصُول الْخَيْر وَالسعَة وَمن رأى أَنه يقْرَأ بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم خَاصَّة فَإِنَّهُ يسْأَل الله الْبركَة فِي مَاله وَالزِّيَادَة فِي رزقه وَرُبمَا يُجَاب دعاؤه ببركتها
‌(সপ্তম অধ্যায়: তিলাওয়াত, মুসহাফ ও কিতাবসমূহ প্রসঙ্গে)

 

‌‌(তিলাওয়াত, মুসহাফ ও কিতাবসমূহ দেখার ব্যাখ্যা)

যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করছে কিন্তু কী তিলাওয়াত করছে তা সে চেনে না অথবা তা ভুলে গিয়েছে, এমতাবস্থায় সে যদি অসুস্থ হয় তবে আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করবেন অথবা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি স্বপ্নে নিজেকে কুরআন তিলাওয়াত করতে দেখে, সে সত্য কথা বলবে। আর যে ব্যক্তি রহমতের আয়াত তিলাওয়াত করতে দেখে, তা কল্যাণ লাভের নিদর্শন; তবে যদি আযাবের আয়াত হয় তবে তা এর বিপরীত। যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে কুরআন তিলাওয়াত করে শেষ করেছে, তবে তার জীবন কল্যাণের সাথে সমাপ্ত হবে। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি স্বপ্নে কুরআন খতম করতে দেখে, তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে। আর যদি অর্ধেক তিলাওয়াত করে থাকে তবে তার জীবনের অর্ধেক অতিবাহিত হয়েছে। যে ব্যক্তি দেখে যে কেউ কুরআন তিলাওয়াত করছে আর সে তা মনোযোগ দিয়ে শুনছে, তবে সে কুরআনের অনুসরণ করবে। আর যদি সে তা দেখে কিন্তু কী বলা হচ্ছে তা না বোঝে, তবে তা এর বিপরীত। যে ব্যক্তি নিজেকে এমন স্থানে তিলাওয়াত করতে দেখে যেখানে তিলাওয়াত করা জায়েয নয়, তবে তা তার দ্বীনের মধ্যে ত্রুটির লক্ষণ। আর যে ব্যক্তি কোনো সূরার কিয়দংশ তিলাওয়াত করতে দেখে, তার হুকুম ঐ সূরার সম্পূর্ণ তিলাওয়াতকারীর মতো হবে এবং এর ব্যাখ্যাও অনুরূপ হবে।

‌‌(সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত)

সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করা হজ অথবা কবুলযোগ্য দুআ কিংবা কঠিন কাজ সহজ হওয়া এবং কল্যাণ ও প্রাচুর্য লাভের নিদর্শন। যে ব্যক্তি স্বপ্নে বিশেষভাবে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' তিলাওয়াত করতে দেখে, তবে সে আল্লাহর কাছে তার সম্পদের বরকত ও রিযিক বৃদ্ধির প্রার্থনা করছে। আর সম্ভবত এর বরকতে তার দুআ কবুল করা হবে।
(খণ্ড: ১) জামি তাফাসিরিল আহলাম = তানবীহুল আফহাম বিতাওয়ীলিল আহলাম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌(قِرَاءَة الْبَقَرَة)

وَقِرَاءَة الْبَقَرَة تدل على مَال وفسحة فِي الْأَجَل وَصَلَاح فِي الدّين ونجابة ولد أَو مِيرَاث مَعَ خصام وَآيَة الْكُرْسِيّ تدل على الْأَمْن من الْآفَات وَحُصُول المُرَاد

‌‌(وَآل عمرَان)

تدل على طول عمر أَو ولد صَالح وَتزَوج نسَاء ويرثهن أَو عدم النَّفْع من أَهله أَو يكون محبوبا عِنْد النَّاس ويأمن الْأَفْعَال السَّيئَة أَو يكون دينه وَقَوله صَحِيحا أَو يخْتم لَهُ بِالْخَيرِ

‌‌(وَالنِّسَاء)

تدل على سَعَة الْعُمر وَحُصُول مِيرَاث وَيكثر أقرباؤه وَيكون كثير الِاحْتِجَاج قوي الْكَلَام

‌‌(والمائدة)

تدل على دَعْوَة مجابة وبركة ورزق وتكرم على النَّاس لكنه يبتلى بِقوم لَا وَفَاء لَهُم

‌‌(والأنعام)

تدل على بركَة ونعمة وتكرم على النَّاس وَحُصُول خيرات الدُّنْيَا وَالْآخِرَة

‌‌(والأعراف)

تدل على علم وَمَال وَقُوَّة فِي الدّين أَو شماته بعدو ورؤيته على سوء حَال

‌‌(والأنفال)

نصر على الْأَعْدَاء وغنيمة وعلو مرتبَة

‌‌(وَالتَّوْبَة)

تدل على محبَّة الدّين والأولياء وتوبة وإخلاص

‌‌(وَيُونُس)

تدل على الْخُرُوج من ضيق إِلَى سَعَة وَإِن كَانَ سقيما شفي أَو مكروبا زَالَ كربه ونال عبَادَة ويقينا ورد الله عَنهُ كيد السَّحَرَة والكفرة
(সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত)

সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত করা ধন-সম্পদ লাভ, দীর্ঘায়ু লাভ, দ্বীনের সংহতি, নেক সন্তান লাভ অথবা বিবাদপূর্ণ কোনো উত্তরাধিকার প্রাপ্তির নিদর্শন। আর আয়াতুল কুরসী তিলাওয়াত করা বিপদ-আপদ থেকে নিরাপত্তা এবং উদ্দেশ্য সফল হওয়ার প্রমাণ।

(সূরা আলে ইমরান)

এটি দীর্ঘ জীবন লাভ অথবা নেক সন্তান লাভ, অনেক নারী বিবাহ করা এবং তাদের উত্তরাধিকারী হওয়া অথবা পরিবার থেকে উপকৃত না হওয়া, কিংবা মানুষের কাছে প্রিয় হওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে নিরাপদ থাকা অথবা তার দ্বীন ও কথা সঠিক হওয়া কিংবা নেক পরিণতির মাধ্যমে জীবন শেষ হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

(সূরা আন-নিসা)

এটি দীর্ঘ জীবন লাভ, উত্তরাধিকার প্রাপ্তি, আত্মীয়-স্বজনের আধিক্য এবং অধিক যুক্তি প্রদানকারী ও বাকপটু হওয়ার নির্দেশ করে।

(সূরা আল-মায়িদাহ)

এটি দোয়া কবুল হওয়া, বরকত ও রিযিক লাভ এবং মানুষের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করা নির্দেশ করে; তবে সে এমন এক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে পরীক্ষায় পতিত হবে যাদের মধ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা বা বিশ্বস্ততা নেই।

(সূরা আল-আনআম)

এটি বরকত, নেয়ামত লাভ, মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জনের নিদর্শন।

(সূরা আল-আরাফ)

এটি ইলম (জ্ঞান), সম্পদ এবং দ্বীনের পথে শক্তি অর্জন করা অথবা শত্রুর পরাজয়ে আনন্দিত হওয়া এবং তাকে দুরবস্থায় দেখার ইঙ্গিত দেয়।

(সূরা আল-আনফাল)

এটি শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ, গনীমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) অর্জন এবং সুউচ্চ মর্যাদা লাভের নিদর্শন।

(সূরা আত-তাওবাহ)

এটি দ্বীন এবং আল্লাহর ওলীদের প্রতি মহব্বত রাখা এবং তাওবা ও ইখলাস (একনিষ্ঠতা) অর্জনের নিদর্শন।

(সূরা ইউনুস)

এটি সংকীর্ণতা থেকে প্রশস্ততার দিকে উত্তরণ নির্দেশ করে। যদি ব্যক্তি অসুস্থ থাকে তবে সে আরোগ্য লাভ করবে, অথবা বিপদগ্রস্ত থাকলে তার বিপদ দূর হবে। সে ইবাদত ও ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) লাভ করবে এবং আল্লাহ তার থেকে জাদুকর ও কাফেরদের চক্রান্ত প্রতিহত করবেন।