(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: -)
الشرح الممتع على زاد المستقنع القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: الشرح الممتع على زاد المستقنع
المؤلف: محمد بن صالح العثيمين
دار النشر: دار ابن الجوزي
الطبعة: الأولى، 1422 - 1428 هـ
عدد الأجزاء: 15
أعده للشاملة: أبو أيوب السليمان، 1429 هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আশ-শারহুল মুমতি' আলা জাদিল মুস্তাকনি' বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
বই: আশ-শারহুল মুমতি' আলা জাদিল মুস্তাকনি'
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন
প্রকাশনী: দার ইবনুল জাওজি
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ - ১৪২৮ হিজরি
খণ্ডের সংখ্যা: ১৫
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু আইয়ুব আল-সুলাইমান, ১৪২৯ হিজরি
[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة المؤلف (الشيخ محمد بن صالح العثيمين)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه؛ والذين اتبعوهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليما كثيرا.
أما بعدُ:
فإن كتاب " زاد المستقنع في اختصار المقنع " - تأليف: أبي النجا موسى بن أحمد بن موسى الحجاوي - كتاب قليل الألفاظ، كثير المعاني، اختصره من " المقنع "، واقتصر فيه على قولٍ واحدٍ، وهو الراجح من مذهب الإمام أحمد بن حنبل، ولم يخرُج فيه عن المشهور من المذهب عند المتأخرين إلا قليلاً.
وقد شُغِفَ به المبتدئون من طلاب العلم على مذهب الحنابلة، وحَفِظَهُ كثير منهم عن ظهر قلب.
وكان شيخُنا عبد الرحمن بن ناصر بن سعدي " رحمه الله تعالى "، يَحُثنا على حفظه، ويُدرِّسنا فيه.
وقد انتفعنا به كثيرا ولله الحمد، وصرنا نُدرِّس الطلبة فيه بالجامع الكبير بعُنيزة، بحلِّ ألفاظه، وتبيين معانيه، وذِكر القول الراجح بدليله أو تعليله، وقد اعتنى به الطلبة وسجَّلوه وكتبوه.
লেখকের ভূমিকা(শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীবৃন্দের উপর এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের উপর অজস্র ধারায় শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই ‘যাদুল মুস্তাকনি’ ফী ইখতিসারিল মুকনি’ গ্রন্থটি—যা আবু নাজা মুসা বিন আহমাদ বিন মুসা আল-হাজ্জাউয়ি কর্তৃক রচিত—একটি শব্দে সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থে ব্যাপক গ্রন্থ। তিনি এটি ‘আল-মুকনি’ গ্রন্থ থেকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এতে কেবল একটি মতের উপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের অগ্রগণ্য মত। পরবর্তী যুগের আলিমদের নিকট মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতের বাইরে তিনি খুব কমই গিয়েছেন।
হাম্বলি মাযহাবের ইলম অন্বেষণকারী প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা এই কিতাবটির প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং তাদের অনেকে এটি মুখস্থ করেছেন।
আমাদের শায়খ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের এটি মুখস্থ করতে উৎসাহ দিতেন এবং আমাদের এটি পড়াতেন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা এই কিতাবটি থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি এবং উনাইযাহ-র জামে আল-কাবীরে ছাত্রদের এটি পড়াতে শুরু করেছি। পাঠদানের ক্ষেত্রে আমরা এর শব্দাবলির ব্যাখ্যা, অর্থ পরিষ্কারকরণ এবং দলিল বা যুক্তিসহ অগ্রগণ্য মত উল্লেখ করতাম। ছাত্ররা এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হয়েছে এবং তারা এটি রেকর্ড ও লিপিবদ্ধ করেছে।
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٦)
ولما كَثُرَ تداوله بين الناس عبر الأشرطة والمذكرات؛ قام الشيخان الكريمان الدكتور سليمان بن عبد الله أبا الخيل، والدكتور خالد بن علي المشيقح بإخراجه في كتاب سُمِّيَ: " الشرح الممتع على زاد المستقنع "، فخرَّجا أحاديثه، ورقَّما آياته، وعلَّقا عليه ما رأياه مناسباً، وطبعاه الطبعة الأولى، فجزاهما الله خيراً.
ولما كان الشرح بالتقرير لا يساوي الشرح بالتحرير؛ من حيث انتقاء الألفاظ؛ وتحرير العبارة؛ واستيعاب الموضوع؛ تَبيَّن أنَّ من الضروري إعادة النظر في الكتاب، وتهذيبه وترتيبه. وقد تمَّ ذلك فعلاً - ولله الحمد -؛ فحذفنا ما لا يُحتاج إليه، وزدنا ما تدعو الحاجة إليه، وأبقينا الباقي على ما كان عليه.
وقد كان في مقدمة من قرأه علينا في هذه الطبعة الدكتور خالد بن علي المشيقح، جزاه الله خيراً.
والله أسأل؛ أن يجعل عملنا خالصاً لوجهه، موافقاً لمرضاته، وأن ينفع به عباده، إنه سميعٌ قريبٌ، وصلى الله وسلم على نبينا محمد؛ وعلى آله وأصحابه؛ والتَّابعين لهم بإحسان.
المؤلف
محمد الصالح العثيمين
4/ 6 / 1420 هـ
যখন ক্যাসেট এবং পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে জনগণের মাঝে এর ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটে, তখন দুই সম্মানিত শায়খ ডক্টর সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আবা আল-খাইল এবং ডক্টর খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ এটিকে 'আশ-শারহুল মুমতি আলা জাদিল মুসতাকনি' নামক কিতাব হিসেবে সংকলন করেন। তাঁরা এর হাদিসগুলোর সূত্র নির্দেশ (তাখরিজ) করেছেন, আয়াতগুলোর নম্বর প্রদান করেছেন এবং যেখানে উপযুক্ত মনে করেছেন সেখানে প্রয়োজনীয় টীকা যুক্ত করেছেন। অতঃপর তাঁরা এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করেন। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
যেহেতু মৌখিক আলোচনা এবং লিখিত সংকলন শব্দ চয়ন, বাক্যের বিন্যাস এবং বিষয়ের পরিব্যাপ্তির দিক থেকে সমান নয়; সেহেতু গ্রন্থটি পুনর্বিবেচনা করা, এর পরিমার্জন করা এবং একে সুবিন্যস্ত করা জরুরি হয়ে পড়ে। আল্লাহর প্রশংসায় তা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়েছি, প্রয়োজনীয় অংশ যুক্ত করেছি এবং অবশিষ্ট অংশ অপরিবর্তিত রেখেছি।
এই সংস্করণের জন্য যারা আমাদের সামনে এটি পাঠ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন ডক্টর খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত এবং তাঁর মর্জির অনুকূল করেন। তিনি যেন এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী। আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবিবৃন্দ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
লেখক
মুহাম্মদ আস-সালেহ আল-উসাইমিন
৪/ ৬ / ১৪২০ হিজরি
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٧)
شرح مقدمة الزادقال المؤلف رحمه الله تعالى: بسم الله الرحمن الرحيم
قوله: «بسم الله»، الجار والمجرور متعلِّق بمحذوف فعلٍ مؤخَّرٍ مناسبٍ للمقام، فعندما تريد أن تقرأ تقدِّر: بسم الله أقرأُ، وعندما تريد أن تتوضَّأ تقدِّر: بسم الله أتوضَّأُ، وعندما تريد أن تذبحَ تقدِّر: بسم الله أذبحُ، وإنما قَدَّرناه فعلاً، لأن الأصلَ في العمل للأفعال، وقدَّرناه مؤخَّراً لفائدتين:
الأولى: التبرُّكُ بالبَداءة باسم الله سبحانه وتعالى.
الثانية: إفادةُ الحصر؛ لأن تقديم المتعلِّق يُفيد الحصر.
وقدّرناه مناسباً؛ لأنه أدلُّ على المُراد، فلو قلت مثلاً ـ عندما تريد أن تقرأَ كتاباً ـ: بسم الله أبتدئُ ما يُدْرَى بماذا تبتدئُ؟ لكن: بسم الله أقرأ، يكون أدلَّ على المراد الذي ابتدئ به.
قوله: «الله»، هو عَلَمٌ على الباري جلَّ وعلا، وهو الاسم الذي تَتْبَعُه جميعُ الأسماء، حتى إِنه في قوله تعالى: {كِتابٌ أنزلناهُ إِليكَ لتُخرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلماتِ إِلى النُّور بإِذنِ رَبهم إِلى صِراطِ العزِيزِ الحميدِ * اللَّهِ الذي لهُ ما في السَّماواتِ وما في الأَرضِ} [إبراهيم: 1، 2]، لا نقولُ: إِن لفظ الجلالة «الله» صفة، بل نقول: هو عطف بيان؛ لئلا يكون لفظُ الجلالة تابعاً.
قوله: «الرحمن»، من أسماء الله المختصَّة به، لا يُطلقُ على غيره، و «الرَّحْمن» معناه: المتَّصف بالرَّحمةِ الواسعةِ.
قوله: «الرَّحيم»، المُراد به ذو الرحمةِ الواصلةِ.
وإِذا جُمِعَا ـ الرَّحمن الرَّحيم ـ صار المُراد بالرَّحيم: الموصل رحمته إلى من يشاء من عباده، كما قال تعالى: {يُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَيَرْحَمُ مَنْ يَشَاءُ وَإِلَيْهِ تُقْلَبُونَ *} [العنكبوت]، فهو ملحوظٌ فيه الفعل.
যাদুল মুস্তাকনির ভূমিকার ব্যাখ্যালেখক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
তাঁর কথা: «বিসমিল্লাহ» (আল্লাহর নামে), এখানে যার ও মাজরুর (অব্যয় ও বিশেষ্য) একটি উহ্য ক্রিয়ার (ফে'ল) সাথে সংশ্লিষ্ট যা শেষে অবস্থিত এবং সংশ্লিষ্ট কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, যখন আপনি পড়ার ইচ্ছা করবেন, তখন মনে মনে ধরবেন: আল্লাহর নামে আমি পড়ছি; যখন আপনি ওজু করার ইচ্ছা করবেন, তখন ধরবেন: আল্লাহর নামে আমি ওজু করছি; আর যখন আপনি জবাই করার ইচ্ছা করবেন, তখন ধরবেন: আল্লাহর নামে আমি জবাই করছি। আমরা একে ক্রিয়া হিসেবে নির্ধারণ করেছি, কারণ কর্মের ক্ষেত্রে ক্রিয়াই মূল ভিত্তি। আর একে শেষে নির্ধারণ করার পেছনে দুটি উপকারিতা রয়েছে:
প্রথমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নাম দিয়ে শুরু করার মাধ্যমে বরকত লাভ করা।
দ্বিতীয়ত: সীমাবদ্ধতার (হাসর) অর্থ প্রদান করা; কারণ সংশ্লিষ্ট অংশকে (মুতাআল্লাক) আগে নিয়ে আসা সীমাবদ্ধতার অর্থ প্রদান করে।
আর আমরা একে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে নির্ধারণ করেছি কারণ এটি উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর অধিকতর স্পষ্ট নির্দেশক। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যখন একটি বই পড়ার ইচ্ছা করেন এবং বলেন: «আল্লাহর নামে আমি শুরু করছি», তখন আপনি কী শুরু করছেন তা স্পষ্ট হয় না। কিন্তু আপনি যখন বলেন: «আল্লাহর নামে আমি পড়ছি», তখন এটি যে কাজের মাধ্যমে শুরু করা হচ্ছে তার প্রতি অধিকতর স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
তাঁর কথা: «আল্লাহ», এটি মহান স্রষ্টার জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ নাম (আলাম), যার অনুগামী হয় অন্য সকল নাম। এমনকি মহান আল্লাহর এই বাণীতেও: {এটি এমন এক কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন, পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে। সেই আল্লাহর (পথের দিকে), যাঁর মালিকানায় রয়েছে যা কিছু আছে আসমানসমূহে এবং যা কিছু আছে জমিনে} [ইবরাহিম: ১, ২] — এখানে আমরা পবিত্র «আল্লাহ» শব্দটিকে গুণবাচক শব্দ (সিফাত) বলব না, বরং বলব এটি ব্যাখ্যামূলক অনুগামী শব্দ (আতফে বায়ান); যাতে আল্লাহর পবিত্র নামটি অন্য কোনো শব্দের অনুগামী না হয়।
তাঁর কথা: «আর-রাহমান», এটি আল্লাহর জন্য নির্ধারিত বিশেষ নামসমূহের একটি, যা অন্য কারো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় না। আর «আর-রাহমান» শব্দের অর্থ হলো: ব্যাপক ও প্রশস্ত রহমত বা দয়ার অধিকারী।
তাঁর কথা: «আর-রাহীম», এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন রহমতের অধিকারী যা (সৃষ্টির কাছে) পৌঁছে থাকে।
যখন এই দুটি নাম—আর-রাহমান ও আর-রাহীম—একত্রে আসে, তখন «আর-রাহীম» দ্বারা উদ্দেশ্য হয়: যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার জন্য ইচ্ছা করেন তার কাছে নিজের রহমত পৌঁছে দেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যার ওপর ইচ্ছা রহমত বর্ষণ করেন; আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে} [আনকাবুত]। সুতরাং এতে ক্রিয়ার (আমল) বিষয়টি লক্ষণীয়।
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٨)
وأما الرَّحمن: فهو الموصوف بالرَّحمة الواسعة؛ فهو ملحوظٌ فيه الصِّفةُ.
وابتدأَ المؤلِّفُ كتابَه بالبسملة اقتداءً بكتاب الله عز وجل، فإِنه مبدوءٌ بالبسملة، واقتداءً بالنبيِّ صلى الله عليه وسلم فإنه كان يبدأ كُتُبَه بالبسملة
(1).
إِنَّ الحمدَ لله .................قوله: «الحمدُ لله»، جملةٌ اسميَّةٌ مكوَّنةٌ من مبتدأ وخبر.
والحمدُ: وصفُ المحمود بالكمال؛ سواءٌ كان ذلك كمالاً بالعَظَمة؛ أو كمالاً بالإحسان والنِّعمة. واللَّهُ تعالى محمودٌ على أوصافه كلِّها وأفعاله كلِّها.
واللام في قوله: «لله»، قال أهل العلم: إنها للاختصاص والاستحقاق.
فالمستحقُّ للحمد المطلق هو الله، والمختصُّ به هو الله، ولهذا كان النبيُّ صلى الله عليه وسلم إِذا أصابته السَّرَّاءُ قال: «الحمدُ لله الذي بنعَمِه تَتمُّ الصَّالحاتُ»، وإن أصابته الضَّرَّاءُ قال: «الحمدُ لله على كُلِّ حالٍ»
(2).
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে ‘আর-রহমান’ হলেন সেই সত্তা, যিনি সুপ্রসারিত দয়ায় গুণান্বিত; ফলে এতে (পরম করুণাময় হওয়ার) গুণটিই বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
লেখক তাঁর গ্রন্থটি বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন মহান আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ করে, কারণ তা বিসমিল্লাহর মাধ্যমে সূচিত হয়েছে; আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে, কারণ তিনি তাঁর পত্রসমূহ বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করতেন
(১)।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য .................তাঁর উক্তি: «আল-হামদুলিল্লাহ», এটি একটি নামবাচক বাক্য (জুমলা ইসমিয়্যাহ), যা মুক্তাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়) দ্বারা গঠিত।
আর ‘হামদ’ হলো: প্রশংসিত সত্তাকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা; চাই সেই পূর্ণতা মহত্ত্বের দিক থেকে হোক কিংবা ইহসান ও অনুগ্রহের দিক থেকে হোক। আর মহান আল্লাহ তাঁর সমস্ত গুণাবলি ও সকল কার্যাবলির জন্য প্রশংসিত।
«লিল্লাহ» শব্দে ‘লাম’ বর্ণটির ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম বলেছেন: এটি বৈশিষ্ট্যকরণ (ইখতিসাস) ও অধিকার (ইসতিহকাক) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
অতএব, নিরঙ্কুশ প্রশংসার প্রকৃত অধিকারী হলেন আল্লাহ এবং এটি কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো আনন্দদায়ক বিষয়ের সম্মুখীন হতেন, তখন বলতেন: «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে সকল কল্যাণকর কাজ পূর্ণতা পায়», আর যখন কোনো কষ্টের সম্মুখীন হতেন, তখন বলতেন: «সর্বাবস্থায় আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٩)
أما غيرُ اللَّهِ فيُحمَدُ على أشياءَ خاصَّة؛ ليس على كُلِّ حالٍ.
وأيضاً: هي للاختصاص، فالذي يَختصُّ بالحمد المطلق الكامل هو الله، فهو المستحقُّ له المختصُّ به.
حَمْداً لا يَنْفَدُ، أفضَلَ مَا يَنْبغِي أن يُحْمَدَ، ..........
قوله: «حمداً لا ينفد»، «حمداً» مصدر، والعامل فيه المصدر قبله، فهو مصدرٌ معمولٌ لمصدر. والمصدر المحلَّى بأل يعمل مطلقاً، و «حمداً» مصدرٌ مؤكِّدٌ لعامله؛ لأنه إذا جاء المصدر بلفظ الفعل أو معناه فهو مؤكِّدٌ؛ كقوله تعالى: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} [النساء: 164].
ومع كونه مؤكِّداً وُصِفَ بقوله: «لا يَنفَدُ». فيكون أيضاً بصفته مبيِّناً لنوع الحمد؛ وأنَّه حمدٌ لا ينفَدُ، بل هو دائم، والربُّ عز وجل مُستحِقٌّ للحمد الدي لا ينفَد، لأن كمالاته لا تنفد، فكذلك الحمد ـ الذي هو وصفه بالكمالات ـ لا ينفَد.
وليس المعنى: لا ينفَدُ منِّي قولاً، لأنَّه ينفَد منه بموته، أو بتشاغله، بغيره، ولكن المعنى: أن اللَّه مُستحِقٌّ للحمد الذي لا ينفَدُ باعتبار ذلك منسوباً إِليه؛ فهو لا ينفَدُ.
قوله: «أَفْضَلَ ما يَنْبَغِي أنْ يُحمدَ»، صفةٌ لحمد،
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো প্রশংসা কেবল নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের প্রেক্ষিতে করা হয়; সর্বাবস্থায় নয়।
আরও বলা যায়: এটি (আল-হামদু-এর ‘আল’) নির্দিষ্টকরণের জন্য, সুতরাং যিনি নিরঙ্কুশ ও পূর্ণাঙ্গ প্রশংসার জন্য নির্দিষ্ট, তিনি হলেন আল্লাহ। অতএব, তিনিই এর যোগ্য এবং এর সাথে সুনির্দিষ্ট।
এমন প্রশংসা যা কখনো শেষ হবে না, যা প্রশংসিত হওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি, ..........
তাঁর উক্তি: ‘এমন প্রশংসা যা কখনো শেষ হবে না’, এখানে ‘প্রশংসা’ শব্দটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), আর এর আমিল (ক্রিয়া সংগঠক) হলো এর পূর্বের মাসদারটি। সুতরাং এটি একটি মাসদার যা অন্য একটি মাসদারের দ্বারা পরিচালিত। আর ‘আলিফ-লাম’ যুক্ত মাসদার নিঃশর্তভাবে আমল করে থাকে। এখানে ‘প্রশংসা’ শব্দটি তার আমিলের জন্য তাকিদ (দৃঢ়তাসূচক মাসদার); কারণ মাসদার যদি ক্রিয়ার শব্দ বা অর্থের অনুরূপ আসে, তবে তা তাকিদ হিসেবে গণ্য হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ মুসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন} [আন-নিসা: ১৬৪]।
দৃঢ়তাসূচক হওয়ার পাশাপাশি একে ‘যা কখনো শেষ হবে না’ কথাটি দ্বারা বিশেষায়িত করা হয়েছে। ফলে এটি তার গুণ হিসেবে প্রশংসার ধরন বর্ণনা করছে; অর্থাৎ এটি এমন প্রশংসা যা ফুরিয়ে যায় না, বরং তা চিরস্থায়ী। আর মহান রব এমন প্রশংসার যোগ্য যা কখনো শেষ হয় না, কারণ তাঁর পূর্ণতা ও গুণাবলির কোনো শেষ নেই। তাই প্রশংসাও — যা মূলত তাঁর পূর্ণতার বর্ণনা — কখনো শেষ হবে না।
এর অর্থ এই নয় যে: আমার মৌখিক উচ্চারণ কখনো শেষ হবে না, কারণ মানুষের মৃত্যুর মাধ্যমে বা অন্য কাজে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে তার উচ্চারণ শেষ হয়ে যায়। বরং এর অর্থ হলো: আল্লাহ এমন প্রশংসার যোগ্য যা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার নিরিখে কখনো শেষ হওয়ার নয়; সুতরাং তা চিরস্থায়ী।
তাঁর উক্তি: ‘যা প্রশংসিত হওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি’, এটি ‘প্রশংসা’ শব্দের একটি বিশেষণ,
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ١٠)
فيكون المؤلِّفُ رحمه الله وصفَ الحمدَ بوصفين:
الأول: الاستمرارية بقوله: «لا ينفَدُ».
الثاني: كمالُ النَّوعيَّة بقوله: «أفضل ما ينبغي أن يُحمَد»، أي: أفضل حَمْدٍ يَستحقُّ أن يُحمدَهُ.
وعلى هذا تكون «ما» نكرة موصوفة، يعني: أفضل حمدٍ ينبغي أن يُحمَده.
وَصَلَّى الله وسَلَّمَ ...............قوله: «وصلَّى الله وسلَّمَ»، لما أثنى على الله عز وجل بما ينبغي أن يُثْنَى عليه، ثَنَّى بالصَّلاة والسَّلام على أفضل الخلق.
قال بعضُ العلماء: الصَّلاةُ من الله: الرَّحمة، ومن الملائكة: الاستغفار، ومن الآدميين: الدُّعاء
(1).
والصَّواب ما قاله أبو العالية: «إنَّ الصَّلاة من الله ثناؤه على المُصَلَّى عليه في الملأ الأعلى»
(2)، أي: عند الملائكة المقرَّبين، وهذا أخصُّ من الرَّحمة المطلقة.
وعلى هذا، فمعنى «صلَّى الله على محمَّدٍ»، أي: أثنى عليه في الملأ الأعلى. وهذه جملة خبرية لفظاً، إنشائية
--------------------------------------------
সুতরাং লেখক (রহিমাহুল্লাহ) প্রশংসাকে দুইটি বিশেষণে বিশেষিত করেছেন:
প্রথমত: তাঁর "যা শেষ হয় না" বাণীর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নতা ও স্থায়িত্ব বুঝিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত: তাঁর "যা সর্বোত্তম প্রশংসার দাবিদার" বাণীর মাধ্যমে গুণগত পূর্ণতা বুঝিয়েছেন; অর্থাৎ এমন সর্বোত্তম প্রশংসা যা তাঁর প্রাপ্য।
এই ভিত্তিতে 'মা' শব্দটি 'নাকেরা মাওসুফাহ' (বিশেষিত অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) হিসেবে গণ্য হবে, যার অর্থ: এমন সর্বোত্তম প্রশংসা যা করা বাঞ্ছনীয়।
আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক ...............তাঁর উক্তি: "আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক"; যখন তিনি মহান আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা নিবেদন করলেন, তখন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তার প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে দ্বিতীয় ধাপ পূর্ণ করলেন।
কোনো কোনো আলেম বলেছেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে 'সালাত' হলো রহমত (দয়া), ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে হলো ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) এবং মানুষের পক্ষ থেকে হলো দুআ (প্রার্থনা)
(১)।
তবে সঠিক মত সেটিই যা আবুল আলিয়া বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো উচ্চাসনে ফেরেশতাদের নিকট (যাঁর প্রতি সালাত প্রেরিত হচ্ছে তাঁর) প্রশংসা করা"
(২), অর্থাৎ: নিকটবর্তী ফেরেশতাদের সান্নিধ্যে; আর এটি সাধারণ রহমতের চেয়ে আরও বিশেষ মর্যাদা বহন করে।
এই অনুযায়ী, "মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক" এর অর্থ হলো: আল্লাহ উচ্চাসনে তাঁর প্রশংসা করেছেন। এটি শব্দগতভাবে একটি বর্ণনামূলক বাক্য হলেও অর্থগতভাবে এটি কামনামূলক বাক্য (দুআ)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ١١)
معنى؛ لأنه ليس المراد أنِّي أُخبرُ بأن الله صلَّى؛ ولكنَّني أدعو الله عز وجل أن يُصلِّيَ، فهي بمعنى الدُّعاء، والدُّعاءُ إِنشاءٌ.
وقوله: «وسلَّم»، وهذه أيضاً جملةٌ خبريةٌ لفظاً، إِنشائيَّةٌ معنى، أي: أدعو الله تعالى بأن يُسَلِّمَ على محمَّدٍ صلى الله عليه وسلم.
والسَّلامُ: هو السَّلامةُ من النقائص والآفات. فإِذا ضُمَّ السَّلامُ إلى الصَّلاةِ حَصَلَ به المطلوبُ، وزال به المرهوبُ، فَبالسَّلامِ يزولُ المرهوبُ وتنتفي النقائصُ، وبالصَّلاة يحصُلُ المطلوبُ وتَثْبُتُ الكمالاتُ.
على أفضلِ المُصْطَفَيْنَ ................قوله: «المُصْطَفَيْن»، بضمِّ الميم وفتح الفاء، أصله «المصتفين» بالتَّاء من الصفوة؛ وهي خُلاصة الشَّيء. والمصطفَوْنَ من الرُّسل: أولو العزم من الرُّسل. وهم مَذْكُورون في القرآن الكريم في موضعين: في سورة الأحزاب: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ} [الآية: 7]، وفي الشُّورى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى} [الشورى الآية: 13].
فهؤلاء الخمسة هم أولو العزم، ومحمَّدٌ صلى الله عليه وسلم أفضلهم. ويدلُّ على ذلك أنَّه خاتمهم
(1)، وإمامُهم ليلة المعراج
(2)؛ ولا يُقَدَّم إلا الأفضل، وصاحبُ الشَّفاعةِ العُظمى
(3)، وهناك أشياء
--------------------------------------------
অর্থের দিক থেকে; কারণ এর অর্থ এই নয় যে আমি খবর দিচ্ছি যে আল্লাহ সালাত পাঠ করেছেন; বরং আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে তিনি যেন সালাত (রহমত) বর্ষণ করেন। অতএব এটি দোয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আর দোয়া হলো ইনশা (প্রার্থনামূলক বাক্য)।
আর তাঁর উক্তি: «ওয়াসাল্লাম» (এবং শান্তি বর্ষিত হোক), এটিও শব্দের দিক থেকে একটি বর্ণনামূলক বাক্য, কিন্তু অর্থের দিক থেকে প্রার্থনামূলক; অর্থাৎ: আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে তিনি যেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর শান্তি বর্ষণ করেন।
আর 'আস-সালাম' হলো সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং আপদ-বিপদ থেকে মুক্তি। সুতরাং যখন 'সালাম'কে 'সালাত'-এর সাথে যুক্ত করা হয়, তখন তার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বস্তু অর্জিত হয় এবং ভীতিকর বস্তু দূর হয়ে যায়। সুতরাং সালামের মাধ্যমে ভীতিকর বিষয় দূরীভূত হয় এবং ত্রুটিসমূহ অপসারিত হয়, আর সালাতের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বস্তু অর্জিত হয় এবং পূর্ণতা সাব্যস্ত হয়।
মনোনীতদের মধ্যে সর্বোত্তমের ওপর ................তাঁর উক্তি: «আল-মুসতফাইন» (মনোনীতগণ), মীম বর্ণে পেশ এবং ফা বর্ণে জবরসহ; এর মূল শব্দ হলো 'আল-মুসতাফিন' (তা বর্ণ যোগে), যা 'সাফওয়াহ' থেকে উদ্ভূত; আর এটি হলো কোনো বস্তুর সারনির্যাস। রাসূলগণের মধ্যে মনোনীতগণ হলেন উলুল আযম (দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী) রাসূলগণ। পবিত্র কুরআনের দুটি স্থানে তাঁদের উল্লেখ করা হয়েছে: সূরা আল-আহযাবে: {আর স্মরণ করুন, যখন আমি নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার কাছ থেকেও আর নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও মারইয়াম তনয় ঈসার কাছ থেকেও} [আয়াত: ৭], এবং সূরা আশ-শূরায়: {তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন দ্বীনের সেই পথ, যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি আপনার কাছে ওহী করেছি এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে} [সূরা আশ-শূরা আয়াত: ১৩]।
এই পাঁচজনই হলেন উলুল আযম, এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম। এর প্রমাণ হলো তিনি তাঁদের সমাপ্তিকারী (সর্বশেষ নবী)
(১), এবং মিরাজ রজনীতে তাঁদের ইমাম ছিলেন
(২); আর সর্বোত্তম ব্যক্তি ব্যতীত কাউকে ইমাম হিসেবে অগ্রগামী করা হয় না। তদুপরি তিনি মহান শাফায়াতের (সুপারিশ) অধিকারী
(৩), এবং আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ١٢)
أخرى تدلُّ على أنَّه أفضلُهم لكن هذه أمثلة.
محمَّدٍ، وعلى آلِهِ، ...................
قوله: «محمد»، عطفُ بيان؛ لأن أفضل المُصطَفَيْن لا يُعرف من هو، فإِذا قيل: «محمَّد»
صار عطف بيان بَيَّنَ مَنْ هذا الأفضل.
وهو: محمد بن عبد الله بن عبد المطَّلب بن هاشم القُرشي؛ كما قال عن نفسه: «إن الله اصطفى من بني إسماعيل كِنانة، واصطفى من كِنانة قريشاً، واصطفى من قريشٍ بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم، فأنا خِيارٌ من خِيارٍ»
(1).
قوله: «وعلى آله»، إذا ذُكِر «الآل» وحده فالمرادُ جميعُ أتباعه على دينه، ويدخلُ بالأولويَّة مَنْ على دينه من قرابته؛ لأنهم آلٌ من وجهين: من جهة الاتِّباع، ومن جهة القَرابة، وأما إِذا ذُكِرَ معه غيرُه فإِنَّه يكون المرادُ بحسب السِّياق، وهنا ذُكِرَ الآلُ والأصحابُ ومن تعبَّد، فنفسِّرُها بأنهم المؤمنون من قرابته؛ مثل
--------------------------------------------
অন্যান্য দলিল যা নির্দেশ করে যে তিনি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তবে এগুলো কেবল উদাহরণ।
মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের উপর, ...................
তাঁর বক্তব্য: «মুহাম্মদ», এটি একটি আতফে বয়ান (পরিচয়মূলক বর্ণনা); কারণ মনোনীতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি কে তা কেবল এই বিশেষণের মাধ্যমে জানা যায় না, তাই যখন «মুহাম্মদ» বলা হলো,
তখন এটি একটি আতফে বয়ান হিসেবে সাব্যস্ত হলো যা স্পষ্ট করে দিল যে এই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিটি কে।
তিনি হলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম আল-কুরাশি; যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং আমি উত্তমেরও উত্তম»
(১)।
তাঁর বক্তব্য: «এবং তাঁর পরিবারের উপর», যখন ‘আল’ (পরিবার) শব্দটি এককভাবে উল্লেখ করা হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় তাঁর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত সকল অনুসারী। আর তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা তাঁর দ্বীনের ওপর রয়েছে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ তারা দুই দিক থেকে ‘আল’: অনুসরণের দিক থেকে এবং আত্মীয়তার দিক থেকে। তবে যখন এর সাথে অন্য কাউকে উল্লেখ করা হয়, তখন প্রসঙ্গের আলোকে এর অর্থ নির্ধারিত হয়। আর এখানে ‘আল’, ‘আসহাব’ (সাহাবীগণ) এবং ‘ইবাদতকারীগণ’-কে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই আমরা এর ব্যাখ্যা করব যে তারা হলেন তাঁর আত্মীয়দের মধ্যে যারা ঈমানদার; যেমন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ١٣)
عليِّ بن أبي طالب، وفاطمة، وابن عبَّاس، وحمزة، والعبَّاس، وغيرهم.
وأصْحَابِهِ، وَمَنْ تَعَبَّدَ ..................قوله: «وأصحابِه»، جمع صَحْب، وصَحْبٌ اسم جمعِ صاحبٍ، فأصحابه: كُلُّ من اجتمع به مؤمناً به، ومات على ذلك، ولو لم يَرَهُ ولو لم تَطُل الصُّحبةُ.
وهذا من خصائصه صلى الله عليه وسلم، أما غيرُه من النَّاس فلا يكون صاحباً له إلا من لازمه مُدَّةً يَستحِقُّ بها أن ينطبق عليه وصفُ صاحب.
قوله: «ومن تعبَّد»، مَنْ: اسم موصول، وهي للعموم.
وقوله: «تعبَّد»، أي: تعبَّد لله؛ وتذلَّل له بالعبادة والطَّاعة.
والعبادة مبنيَّة على أمرين:
1 - الحُبّ.
2 - والتَّعظيم.
فبالحبِّ يكون طلب الوصول إلى مرضاة المعبود، وبالتَّعظيم يكون الهرب من الوقوع في معصيته؛ لأنك تعظِّمه فتخافه، وتحبّه فتطلبه.
وأما شرطا قَبولها فهما: الإِخلاصُ لله، والمتابعةُ لرسوله.
وكلمة «من تعبّد» عامة في كل من تعبَّد لله من هذه الأمَّة، ومن غيرها؛ ولهذا قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم في قولنا: السَّلام علينا وعلى عباد الله الصَّالحين: «إنكم إذا قلتم ذلك فقد سلَّمتم على كُلِّ عبدٍ
আলী ইবনে আবি তালিব, ফাতিমা, ইবনে আব্বাস, হামজা, আল-আব্বাস এবং অন্যান্যরা।
এবং তাঁর সাথীবৃন্দ, ও যারা ইবাদত করে ..................তাঁর বাণী: «এবং তাঁর সাথীবৃন্দ», এটি 'সাহব' শব্দের বহুবচন, আর 'সাহব' শব্দটি 'সাহিব'-এর সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। সুতরাং তাঁর সাথীবৃন্দ (সাহাবী) হলেন: ঈমান অবস্থায় তাঁর সাথে যাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে এবং সেই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন, যদিও তিনি তাঁকে স্বচক্ষে না দেখে থাকেন এবং সাহচর্য দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে থাকলেও।
আর এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু অন্য মানুষের ক্ষেত্রে, দীর্ঘ সময় সাথে থাকা ব্যতীত কাউকে তার 'সাথী' বলা যায় না, যার ফলে তার ওপর সাথী হওয়ার বিবরণটি যথাযথভাবে প্রযোজ্য হয়।
তাঁর বাণী: «এবং যারা ইবাদত করে», এখানে 'যারা' শব্দটি একটি সংশ্লিষ্ট সর্বনাম, যা ব্যাপকতা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়।
এবং তাঁর বাণী: «ইবাদত করে», অর্থাৎ: আল্লাহর ইবাদত করে; এবং ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নিকট নিজেকে সমর্পণ করে।
আর ইবাদত দুটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
১ - ভালোবাসা।
২ - এবং সম্মান ও মাহাত্ম্যবোধ।
ভালোবাসার মাধ্যমে উপাস্যের সন্তুষ্টি অর্জনের অন্বেষণ করা হয়, আর সম্মান ও মাহাত্ম্যবোধের মাধ্যমে তাঁর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়া থেকে পলায়ন করা হয়; কারণ আপনি যখন তাঁকে মহান মনে করেন তখন তাঁকে ভয় পান, আর যখন তাঁকে ভালোবাসেন তখন তাঁকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেন।
আর ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত দুটি হলো: আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা এবং তাঁর রাসুলের অনুসরণ।
«যারা ইবাদত করে» বাক্যটি এই উম্মত এবং অন্যান্য উম্মতের মধ্য থেকে যারা আল্লাহর ইবাদত করে, তাদের সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই কারণেই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এই উক্তি: "আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক" সম্পর্কে বলেছেন: «তোমরা যখন এটি বলো, তখন তোমরা প্রতিটি বান্দার ওপর শান্তি বর্ষণ করো...»
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ١٤)
صالحٍ في السَّماء والأرض»
(1) حتى الملائكة، وصالحو الجنِّ وأتباع الأنبياء السابقين يدخلون في هذا.
وهل يدخل فيها أصحابُ النبيِّ صلى الله عليه وسلم وآله المؤمنون؟ هذا مبنيٌّ على الخلاف بين العلماء، هل إِذا عطفنا العامَّ على الخاصِّ يكون الخاصُّ داخلاً في العام، أو خارجاً بالتَّخصيص؟ في هذا قولان: فمنهم من يقول: إنه داخل فيه؛ لأن العموم يشمله. ومنهم من يقول: إِنَّ ذكره بخاصَّته يدلُّ على أنه غير مراد
(2).
وهذا الخلاف قد يترتَّبُ عليه بعضُ المسائل، لكن من قال: إنه يدخل في العموم قال: إن الخاصَّ يكون مذكوراً مرَّتين: مرَّة بالخصوص، ومرَّة بالعموم.
أمَّا بَعْدُ: ................
قوله: «أما بعد»، هذه كلمة يُؤتى بها عند الدُّخول في الموضوع الذي يُقْصَدُ.
وأما قول بعضهم: إنها كلمة يُؤتى بها للانتقال من أسلوب إلى آخر
(3)، فهذا غيرُ صحيح، لأنه ينتقلُ العلماءُ دائماً من أسلوب إلى آخر، ولا يأتون بأمَّا بعدُ.
وأما إعرابها فنقول: «أما» نائبة عن شرط وفعلِ الشَّرط، والتَّقدير: مهما يكن من شيءٍ بعد ذلك فهذا مختصرٌ، فيكون
--------------------------------------------
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নেককার বান্দাদের ওপর»
(১) এমনকি ফেরেশতাগণ, নেককার জিন সম্প্রদায় এবং পূর্ববর্তী নবীগণের অনুসারীগণও এর অন্তর্ভুক্ত।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এবং তাঁর মুমিন পরিবার-পরিজন কি এর অন্তর্ভুক্ত হবেন? এটি আলেমদের মধ্যকার মতভেদের ওপর নির্ভরশীল; তা হলো—যখন আমরা বিশেষের ওপর সাধারণকে সংযোজন (আতফ) করি, তখন সেই বিশেষ বিষয়টি কি সাধারণের অন্তর্ভুক্ত থাকে, নাকি বিশেষীকরণের (তাখসিস) কারণে তা থেকে বের হয়ে যায়? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, তিনি এর অন্তর্ভুক্ত; কেননা সাধারণের ব্যাপকতা তাকেও শামিল করে। আবার কেউ কেউ বলেন, তাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা এই ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি (পরবর্তী সাধারণ অংশে) উদ্দেশ্য নন।
(২)এই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে কিছু মাসআলা সৃষ্টি হতে পারে। তবে যারা বলেন যে, তিনি সাধারণের অন্তর্ভুক্ত হবেন, তাঁরা বলেন: বিশেষ বিষয়টি তখন দুবার উল্লিখিত হয়; একবার বিশেষভাবে এবং আরেকবার সাধারণভাবে।
অতঃপর (আম্মা বা’দু): ................
তাঁর উক্তি: «অতঃপর (আম্মা বা’দু)», এটি এমন একটি শব্দ যা উদ্দিষ্ট মূল বিষয়ে প্রবেশের সময় ব্যবহার করা হয়।
আর কারও কারও এই উক্তি যে—এটি এক প্রকাশভঙ্গি থেকে অন্য প্রকাশভঙ্গিতে উত্তরণের জন্য ব্যবহৃত শব্দ
(৩)—তা সঠিক নয়। কারণ আলেমগণ সর্বদা এক প্রকাশভঙ্গি থেকে অন্য প্রকাশভঙ্গিতে পরিবর্তিত হন, কিন্তু তখন তাঁরা ‘আম্মা বা’দু’ শব্দ ব্যবহার করেন না।
আর এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (ই’রাব) ক্ষেত্রে আমরা বলি: ‘আম্মা’ শব্দটি শর্ত এবং শর্তসূচক ক্রিয়ার (ফেলুশ শর্ত) স্থলাভিষিক্ত। এর নিহিত রূপ হলো: ‘এর পরে যা কিছুই হোক না কেন, এটি একটি সংক্ষিপ্ত সার’, সুতরাং তা হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ١٥)
«أما» بمعنى مهما يكن من شيء، و «بعدُ» ظرف متعلِّق بـ «يكن» المحذوفة مع شرطها؛ مبني على الضمِّ في محلِّ نصبٍ، لأنه حُذف المضافُ إليه، ونُوِيَ معناه، وهذه الظُّروف ـ بعدُ وأخواتها ـ إِذا حُذف المضاف إليه ونُويَ معناه بُنيت على الضمِّ؛ كما في قوله تعالى: {لِلَّهِ الأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ} [الروم: 4].
فهذا مخْتَصَرٌ فِي الفقهِ، ..............
قوله: «مختصرٌ»، مُفْتَعَلٌ فهو اسم مفعول.
والمختصر: قال العلماء: هو ما قلَّ لفظُه وكثُرَ معناه
(1).
قوله: «في الفقه»، الفقة لغةً: الفهم، ومنه قوله تعالى: {وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ} [الإسراء: 44]. وقوله: {قَالُوا ياشُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ} [هود: 91]. بمعنى لا نفهم.
وفي الشَّرع: معرفة أحكام الله العَقَديَّة والعَمَليَّة.
فالفقه في الشَّرع ليس خاصاً بأفعال المكلَّفين، أو بالأحكام العمليَّة، بل يشمل حتى الأحكام العَقَديَّة، حتى إن بعضَ أهل العلم يقولون: إِن عِلمَ العقيدة هو الفقهُ الأكبرُ
(2). وهذا حَقٌّ، لأنك لا تتعبَّد للمعبود إلا بعد معرفة توحيده بربوبيّته وألوهيّتِه وأسمائه وصفاته، وإلا فكيف تتعبَّد لمجهول؟!
ولذلك كان الأساسُ الأولُ هو التَّوحيدَ، وحُقَّ أن يُسمَّى بالفقه الأكبر.
لكنَّ مرادَ المؤلِّف هنا: الفقه الاصطلاحي وهو: معرفة الأحكام العمليَّة بأدلتها التفصيلِيَّة.
--------------------------------------------
«অতঃপর» (আম্মা) শব্দের অর্থ যাই ঘটুক না কেন, এবং «পরে» (বাদু) একটি ক্রিয়াবিশেষণ (জরফ), যা তার শর্তসহ ঊহ্য «ইয়াকুন» ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত; এটি ‘যম্মাহ’ (পেশ)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (মাবনি), যা ‘নসব’-এর স্থলাভিষিক্ত। কারণ এখানে ‘মুযাফ ইলাইহি’ (সম্বন্ধ পদ) উহ্য রাখা হয়েছে এবং তার অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। আর এই ক্রিয়াবিশেষণগুলো—অর্থাৎ «বাদু» এবং এর সমগোত্রীয় শব্দগুলো—যখন ‘মুযাফ ইলাইহি’ উহ্য থাকে এবং তার অর্থ উদ্দেশ্য করা হয়, তখন তা ‘যম্মাহ’-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (মাবনি) হয়; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {আগের ও পরের সকল ফয়সালা আল্লাহরই।} [রূম: ৪]।
সুতরাং এটি ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থ, ..............
লেখকের উক্তি: «সংক্ষিপ্ত সার» (মুখতাসার), এটি ‘মুফতাআল’ ওজনে ‘ইসম মাফউল’ (কর্মবাচক বিশেষ্য)।
আর সংক্ষিপ্ত সার সম্পর্কে আলেমগণ বলেছেন: এটি এমন বিষয় যার শব্দ কম কিন্তু অর্থ ব্যাপক
(১)।
লেখকের উক্তি: «ফিকহ শাস্ত্রে», ফিকহ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো: উপলব্ধি করা বা বুঝা। মহান আল্লাহর বাণী এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে: {কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ (পবিত্রতা ঘোষণা) বুঝতে পারো না।} [ইসরা: ৪৪]। এবং আল্লাহর বাণী: {তারা বলল: হে শুআইব! তুমি যা বলছ তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না।} [হূদ: ৯১]। অর্থাৎ আমরা বুঝতে পারছি না।
আর শরয়ি পরিভাষায় ফিকহ হলো: আল্লাহর আকিদাগত (বিশ্বাসগত) ও আমলগত (কর্মগত) বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
সুতরাং শরয়ি পরিভাষায় ফিকহ কেবল শরয়ি বিধানের অনুসারীদের (মুকাল্লাফ) কার্যাবলি বা আমলগত বিধানের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং এটি আকিদাগত বিধানকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এমনকি কোনো কোনো আলেম বলেন: আকিদা শাস্ত্রই হলো ‘আল-ফিকহুল আকবার’ (সর্বশ্রেষ্ঠ ফিকহ)
(২)। আর এটিই সঠিক, কারণ মাবুদের (উপাস্য) রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির তাওহীদ সম্পর্কে অবগত হওয়া ছাড়া আপনি তাঁর ইবাদত করতে পারবেন না। অন্যথায়, আপনি এক অজ্ঞাত সত্তার ইবাদত কীভাবে করবেন?!
এই কারণেই প্রথম ও প্রধান ভিত্তি হলো তাওহীদ, এবং একে ‘আল-ফিকহুল আকবার’ নামে অভিহিত করাই সংগত।
তবে এখানে লেখকের উদ্দেশ্য হলো: পারিভাষিক ফিকহ, যা হলো— বিস্তারিত দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে আমলগত বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ١٦)
شرح التَّعريف:
قولنا: «معرفة» ولم نقل: علم؛ لأن الفقه إما علمٌ وإما ظنٌّ. وليس كلُّ مسائل الفقه علميَّة قطعاً، ففيه كثيرٌ من المسائل الظنِّيَّة، وهذا كثيرٌ في المسائل الاجتهادية التي لا يصلُ فيها الإِنسان إلى درجة اليقين، لكن لا يُكلِّفُ اللَّهُ نفساً إلا وسعها.
فقولنا: «معرفةُ» لأجل أن يتناول العلم والظنَّ.
وقولنا: «العمليَّة» احترازاً من الأحكام العَقَديَّة، فلا تدخل في اسم الفقه في الاصطلاح، وإن كانت تدخل في الشرع.
وقولنا: «بأدلتها التفصيليَّة» احترازاً من أصول الفقه، لأن البحث في أصول الفقه في أدلة الفقه الإجمالية، وربما تأتي بمسألة تفصيليَّة للتمثيل فقط.
وعُلِمَ من قولنا: «بأدلَّتها» أن المقلِّدَ ليس فقيهاً؛ لأنه لا يعرف الأحكام بأدلَّتها، غايةُ ما هنالك أن يكرِّرَها كما في الكتاب فقط. وقد نقل ابنُ عبد البَرِّ الإجماعَ على ذلك
(1).
وبهذا نعرف أهميَّة معرفة الدَّليل، وأن طالب العلم يجب عليه أن يتلقَّى المسائل بدلائلها، وهذا هو الذي يُنجيه عند الله سبحانه وتعالى؛ لأن الله سيقول له يوم القيامة: {مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ} [القصص: 65]، ولن يقول: ماذا أجبتم المؤلِّفَ الفلاني،
--------------------------------------------
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
আমাদের উক্তি: «পরিজ্ঞান» (মা’রিফাহ), আমরা «নিশ্চিত জ্ঞান» (ইলম) বলিনি; কারণ ফিকহ হয় নিশ্চিত জ্ঞান অথবা প্রবল ধারণা। ফিকহের সকল মাসআলাই অকাট্যভাবে জ্ঞানগত নয়, বরং এতে বহু ধারণাপ্রসূত মাসআলা রয়েছে। ইজতিহাদমূলক মাসআলাসমূহে এটি অহরহ দেখা যায় যেখানে মানুষ নিশ্চিত বিশ্বাসের স্তরে পৌঁছাতে পারে না, তবে আল্লাহ কোনো প্রাণীর ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না।
সুতরাং আমাদের «পরিজ্ঞান» বলার উদ্দেশ্য হলো যেন তা নিশ্চিত জ্ঞান ও প্রবল ধারণা—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
এবং আমাদের «ব্যবহারিক» বলাটি হলো বিশ্বাসগত বা আকিদাগত বিধানসমূহকে বাদ দেওয়ার জন্য; অতএব পারিভাষিক অর্থে সেগুলো ফিকহ নামের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও শরয়ি অর্থে তা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এবং আমাদের «বিস্তারিত দলিলসমূহসহ» বলাটি উসূলে ফিকহকে বাদ দেওয়ার জন্য, কারণ উসূলে ফিকহের আলোচনা হলো ফিকহের সামষ্টিক বা মৌলিক দলিলসমূহ নিয়ে, আর সেখানে বিস্তারিত মাসআলা কেবল উদাহরণের জন্যই আসতে পারে।
আর আমাদের «দলিলসমূহসহ» বলা থেকে এটি জানা যায় যে, মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) ফকিহ নন; কেননা তিনি দলিলসহ বিধানসমূহ জানেন না, বড়জোর তিনি কিতাবে যেভাবে আছে সেভাবেই তা পুনরুক্তি করেন মাত্র। ইবনুল বার এ বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন
(১)।
এর মাধ্যমেই আমরা দলিলের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারি এবং এটিও জানতে পারি যে, ইলম অন্বেষণকারীর জন্য মাসআলাসমূহ তার দলিলসহ গ্রহণ করা আবশ্যক। এটিই তাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট মুক্তি দেবে; কারণ আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে বলবেন: {তোমরা রাসুলগণকে কী জবাব দিয়েছিলে?} [আল-কাসাস: ৬৫], তিনি এটি বলবেন না যে: তোমরা অমুক লেখককে কী জবাব দিয়েছিলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ١٧)
فإذاً لا بُدَّ أن نعرفَ ماذا قالت الرُّسل لنعمل به.
ولكن التَّقليد عند الضَّرورة جائزٌ لقوله تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43]، فإِذا كُنَّا لا نستطيع أن نعرف الحقَّ بدليله فلا بُدَّ أن نسأل؛ ولهذا قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: إن التَّقليد بمنزلة أكل الميتة، فإذا استطاع أن يستخرج الدَّليلَ بنفسه فلا يحلُّ له التقليد
(1).
من مُقْنعِ الإِمامِ ..................قوله: «من مُقْنِعِ»، جار ومجرور، صفة لمختصر. و «مُقْنِع» اسم كتاب للموفّق رحمه الله، مؤلف «زاد المستقنع».
قوله: «الإمام»، هذا من باب التَّساهل بعض الشيءِ، لأن الموفَّق ليس كالإِمام أحمد، أو الشَّافعي، أو مالك، أو أبي حنيفة، لكنه إِمام مقيَّد، له مَنْ يَنْصُرُ أقوالَه ويأخذُ بها، فيكون إِماماً بهذا الاعتبار، أما الإِمامةُ التي مثل إِمامة الإِمام أحمد ومَنْ أشْبَهَهُ فإِنَّه لم يصلْ إلى دَرجتها.
وقد كَثُر في الوقت الأخير إطلاق الإمام عند النَّاس؛ حتى إِنه يكون الملقَّب بها من أدنى أهل العلم، وهذا أمرٌ لو كان لا يتعدَّى اللفظَ لكان هيِّناً، لكنه يتعدَّى إلى المعنى؛ لأنَّ الإِنسان إِذا رأى هذا يُوصفُ بالإِمام تكون أقوالُه عنده قدوة؛ مع أنَّه لا يستحِقُّ. وهذا كقولهم الآن لكل مَنْ قُتِلَ في معركة: إِنَّه شهيد. وهذا حرام، فلا يجوز أن يُشْهَدَ لكل شخصٍ بعينه بالشَّهادة، وقد بَوَّبَ البخاريُّ رحمه الله على هذه المسألة بقوله: (بابٌ:
--------------------------------------------
অতএব, রাসূলগণ যা বলেছেন তা আমাদের অবশ্যই জানতে হবে যেন আমরা তদনুসারে আমল করতে পারি।
তবে প্রয়োজনের সময় তাকলিদ (অনুসরণ) করা জায়েজ; কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [আন-নাহল: ৪৩], সুতরাং আমরা যদি দলিলের মাধ্যমে সত্য অনুধাবন করতে সক্ষম না হই, তবে আমাদের অবশ্যই জিজ্ঞাসা করতে হবে। এজন্যই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: তাকলিদ হলো মৃত জন্তুর গোশত খাওয়ার সমতুল্য। অতএব, যদি কেউ নিজেই দলিল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়, তবে তার জন্য তাকলিদ করা হালাল নয়
(১)।
ইমামের মুকনি হতে ..................তাঁর উক্তি: «মুকনি হতে», এটি জার ও মাজরুর, যা ‘মুখতাসার’ এর বিশেষণ। আর «মুকনি» হলো মুয়াফফাক (রহ.) রচিত একটি কিতাবের নাম, যিনি «যাদুল মুস্তাকনি» এরও রচয়িতা।
তাঁর উক্তি: «ইমাম», এটি কিছুটা শিথিলতার বহিঃপ্রকাশ; কারণ মুয়াফফাক (রহ.) ইমাম আহমাদ, শাফেঈ, মালিক অথবা আবু হানিফার মতো নন। বরং তিনি একজন সীমাবদ্ধ ইমাম; তাঁর এমন অনুসারী রয়েছে যারা তাঁর মতসমূহকে সমর্থন করে এবং গ্রহণ করে, তাই এই বিবেচনায় তিনি একজন ইমাম। কিন্তু ইমাম আহমাদ ও তাঁর সদৃশ ব্যক্তিদের ইমামতির যে মর্যাদা, তিনি সেই স্তরে পৌঁছাননি।
বর্তমান সময়ে মানুষের মাঝে ‘ইমাম’ শব্দের প্রয়োগ অনেক বেড়ে গেছে; এমনকি অতি সাধারণ স্তরের আলেমদেরও এই উপাধিতে ভূষিত করা হচ্ছে। বিষয়টি যদি কেবল শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত তবে তা সহজ হতো, কিন্তু এটি অর্থের ওপরও প্রভাব ফেলে; কারণ মানুষ যখন কাউকে ‘ইমাম’ হিসেবে বর্ণিত হতে দেখে, তখন তার কথাগুলো তাদের কাছে অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে দাঁড়ায়, যদিও তিনি এর যোগ্য নন। এটি বর্তমানে যুদ্ধের ময়দানে নিহত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ‘শহীদ’ বলার মতো। আর এটি হারাম; কারণ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য শাহাদাতের সাক্ষ্য দেওয়া জায়েজ নয়। ইমাম বুখারী (রহ.) এই মাসআলাটির ওপর পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন এই বলে: (পরিচ্ছেদ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ١٨)
لا يقول: فلانٌ شهيدٌ، وقال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: «واللَّهُ أعلمُ بمن يُجاهدُ في سبيله، والله أعلم بمن يُكْلَمُ في سبيله»)
(1).
وعمر بن الخطاب رضي الله عنه نهى عن ذلك
(2).
نعم يقال: من قُتِل في سبيل الله فهو شهيد، ومن قُتِل بهدمٍ، أو غرق فهو شهيد، لكن لا يُشْهَدُ لرَجُلٍ بعينه.
ولو أنَّنَا سوَّغنا لأنفسنا هذا الأمر؛ لساغَ لنا أن نشهد للرَّجُلِ المعيَّن الذي مات على الإِيمان أنَّه في الجنَّة؛ لأنَّه مؤمنٌ، وهذا لا يجوز.
المُوَفَّق أبي مُحَمَّد ...................قوله: «الموفَّق أبي محمَّد»، الموفَّق: اسم مفعول، وهو لقب لهذا الرَّجل العالم رحمه الله
(3).
«والمقنع»: كتابٌ متوسِّطٌ يذكر فيه مؤلِّفُه القولين، والرِّوايتين، والوجهين، والاحتمالين في المذهب، ولكن بدون ذِكْرِ الأدلَّة أو التَّعليل إِلا نادراً.
وله كتاب فوقه اسمه «الكافي» يذكر القولين، أو الرِّوايتين، أو الوجهين في المذهب، أو الاحتمالين، ولكنه يذكر الدَّليل والتَّعليل، إِلا أنَّه لا يخرج عن مذهب أحمد.
--------------------------------------------
এভাবে বলা যাবে না যে: অমুক শহীদ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহই ভালো জানেন কে তাঁর পথে জিহাদ করছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন কে তাঁর পথে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে»।
(১)এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এটি করতে নিষেধ করেছেন
(২)।
হ্যাঁ, এভাবে বলা যাবে: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে সে শহীদ, আর যে ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অথবা ডুবে মারা গেছে সে শহীদ; তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে (শহীদ হওয়ার) সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
যদি আমরা নিজেদের জন্য এই বিষয়টি বৈধ মনে করতাম, তবে ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণকারী নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জান্নাতি হওয়ার সাক্ষ্য দেওয়াও আমাদের জন্য বৈধ হতো; যেহেতু সে মুমিন। অথচ এটি জায়েয নয়।
আল-মুওয়াফফাক আবু মুহাম্মদ ...................তাঁর উক্তি: «আল-মুওয়াফফাক আবু মুহাম্মদ»; আল-মুওয়াফফাক: এটি একটি ইসমে মাফউল, এবং এটি এই আলেম (রহিমাহুল্লাহ)-এর উপাধি
(৩)।
«আল-মুকনি»: এটি একটি মধ্যম মানের কিতাব, যাতে এর লেখক মাযহাবের দুটি উক্তি, দুটি বর্ণনা, দুটি অভিমত এবং দুটি সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন; তবে কদাচিৎ ব্যতীত এতে দলিল বা কারণ উল্লেখ করেননি।
এর ওপর তাঁর আরও একটি কিতাব রয়েছে যার নাম «আল-কাফি»; সেখানে তিনি মাযহাবের দুটি উক্তি, অথবা দুটি বর্ণনা, অথবা দুটি অভিমত, অথবা দুটি সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে তিনি দলিল ও কারণও উল্লেখ করেছেন। তবে এটি ইমাম আহমদের মাযহাবের গণ্ডি থেকে বের হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وله كتاب فوق ذلك هو «المغني»، فقه مُقَارَنٌ يذكر القولين، والرِّوايتين عن الإِمام أحمد وغيره من علماء السَّلف والخلف.
وله كتاب «العُمدة في الفقه» وهو مختصر على قول واحد، لكنه يذكر الأدلة مع الأحكام.
ولذا قيل:
وفي عصرنا كان الموفَّقُ حُجَّةً
… على فقهه الثَّبت الأصول معوَّل
كفى الخلق بالكافي، وأقنع طالباً
… بمقنع فقه عن كتاب مطوَّل
وأغنى بمغني الفقه مَنْ كان باحثاً
… وعمدته من يعتمدها يحصِّل
وروضته ذات الأصول كروضة
… أماست بها الأزهار أنفاس شمأل
تدلُّ على المنطوق أقوى دلالة
… وتحمل في المفهوم أحسن محمل
وذلك مما قاله الأديب يحيى بن يوسف الصَّرصري من قصيدة طويلة يُثني بها على الله عز وجل ويمدح النبيَّ صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم، ويذكر جماعة من التَّابعين وتابعيهم، ويَذكر الإِمام أحمد وجماعةً من أصحابه رحمهم الله تعالى
(1).
وقد تُوفِّيَ الموفَّق؛ عبد الله بن أحمد بن قُدامة المقدسي سنة (620 هـ).
على قَوْلٍ وَاحِدٍ، وهو الرَّاجِحُ ...................قوله: «على قولٍ واحد»، بمعنى أنه لا يأتي بأكثرَ من قولٍ لأجل الاختصار؛ وعدم تشتيت ذهن الطَّالب.
قوله: «وهو الرَّاجح»، يعني: الرَّاجح من القولين، وقد لا يكون في المسألة إلا قولٌ واحد.
--------------------------------------------
তার এর ঊর্ধ্বে একটি বিশাল গ্রন্থ রয়েছে যার নাম 'আল-মুগনি', এটি একটি তুলনামূলক ফিকহ গ্রন্থ যেখানে ইমাম আহমাদ এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য উলামায়ে কিরামের দু’টি মত বা দু’টি বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিকহ শাস্ত্রে তার 'আল-উমদাহ' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে যা একটি মতের ওপর ভিত্তি করে রচিত সংক্ষিপ্ত সার, তবে তিনি বিধানের সাথে সাথে দলীলও উল্লেখ করেছেন।
এ কারণেই বলা হয়েছে:
আমাদের যুগে মুয়াফফাক (ইবনে কুদামাহ) ছিলেন এক অকাট্য প্রমাণ
… তার সুদৃঢ় ফিকহী মূলনীতির ওপরই নির্ভর করা হয়
তিনি 'আল-কাফি' দ্বারা সৃষ্টিজগতকে অভাবমুক্ত করেছেন এবং কোনো দীর্ঘ গ্রন্থের পরিবর্তে
… ফিকহের 'আল-মুকনি' দ্বারা জ্ঞানান্বেষীকে পরিতৃপ্ত করেছেন
তিনি 'মুগনি আল-ফিকহ' দ্বারা গবেষককে অমুখাপেক্ষী করেছেন
… আর তার 'আল-উমদাহ' যে ব্যক্তি আঁকড়ে ধরে সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করে
উসুল (মূলনীতি) সম্বলিত তার 'আর-রাওদাহ' এমন এক বাগানের ন্যায়
… যেখানে উত্তরীয় বায়ুর হিল্লোলে পুষ্পরাজি দুলছে
এটি শব্দের বাহ্যিক অর্থের ওপর শক্তিশালী প্রমাণ প্রদান করে
… এবং অন্তর্নিহিত অর্থের সর্বোত্তম ব্যাখ্যা বহন করে
এটি সাহিত্যিক ইয়াহইয়া বিন ইউসুফ আস-সারসারী কর্তৃক রচিত একটি দীর্ঘ কবিতার অংশ বিশেষ, যাতে তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) গুণগান গেয়েছেন, একদল তাবিঈ ও তাবে-তাবিঈনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম আহমাদ ও তাঁর একদল অনুসারীর (রাহিমাহুমুল্লাহ) স্মৃতিচারণ করেছেন
(১)।
মুয়াফফাক আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-মাকদিসী হিজরী (৬২০) সনে মৃত্যুবরণ করেন।
একটি মতের ওপর, এবং সেটিই অধিক শক্তিশালী (রাজহ) ...................তাঁর কথা: "একটি মতের ওপর", এর অর্থ হলো সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এবং ছাত্রের মনকে বিক্ষিপ্ত না করার জন্য তিনি একাধিক মত উল্লেখ করেননি।
তাঁর কথা: "সেটিই অধিক শক্তিশালী (রাজহ)", অর্থাৎ: দু’টি মতের মধ্যে যেটি অগ্রগণ্য, আর অনেক সময় মাসআলাটিতে মাত্র একটিই মত থাকতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
في مَذْهَب أحْمَد.قوله: «في مذهب أحمد»، المذهب في اللُّغَةِ: اسم لمكان الذَّهاب، أو زمانه، أو الذَّهاب نفسِه.
وفي الاصطلاح: مذهب الشَّخص: ما قاله المجتهدُ بدليلٍ، ومات قائلاً به، فلو تغيَّر قولُه فمذهبه الأخير.
وقولنا: ما قاله المجتهدُ. خرج به ما قاله المقلِّدُ؛ لأن المقلِّدَ لا مذهبَ له، وليس عنده علم، وقد تقدَّم حكايةُ ابنِ عبد البَرِّ الإِجماعَ على أنَّ المقلِّد ليس عالماً
(1)، ولهذا قال ابنُ القيم رحمه الله في النونيَّة:
العلم معرفةُ الهدى بدليله
… ما ذاك والتقليدُ يستويان
(2)وأحمد: هو ابن حَنْبَل الشيباني، إِمام أهل السُّنَّة والفقه والحديث. فهو إِمام أهل السُّنَّة في العقائد والتَّوحيد، وإمام أهل الفقه في المسائل الفقهية، وإِمام أهل الحديث في روايته ونقد رجاله. وقد جرى عليه من المِحَنِ في ذات الله عز وجل، ما نرجو له به رِفْعَةَ الدَّرجات، وتكفير السَّيئات، ولم يصمُدْ أمام المأمون وأعوانه من المُحَرِّفين لكلام الله إِلا هو ونفرٌ قليل؛ ولكنَّه رحمه الله أشدُّهم وأوثقهم عند العامَّة؛ ولهذا كان النَّاس ينتظرون ما يقول أحمد في خلق القرآن، إلا أنَّه جزم بأنَّ القرآنَ كلامُ الله غيرُ مخلوقٍ، حتى إِنهم كانوا يضربونه بالسِّياط فيُغشى عليه، ويجرُّونه في الأسواق، فأثابه الله بأن جعله إماماً {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ *} [السجدة].
واعلمْ أن قول العلماء: مذهب فلان، يُراد به أمران:
--------------------------------------------
ইমাম আহমদের মাযহাব প্রসঙ্গে।তাঁর উক্তি: «আহমদ-এর মাযহাব-এ», আভিধানিক অর্থে মাযহাব (المذهب): যাওয়ার স্থান, যাওয়ার সময় অথবা স্বয়ং যাওয়ার কাজকে বোঝায়।
আর পারিভাষিক অর্থে: কোনো ব্যক্তির মাযহাব হলো—একজন মুজতাহিদ দলীলসহকারে যা বলেছেন এবং যার ওপর তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। যদি তাঁর মত পরিবর্তিত হয়, তবে তাঁর সর্বশেষ মতটিই তাঁর মাযহাব হিসেবে গণ্য হবে।
আমাদের উক্তি: «যা মুজতাহিদ বলেছেন», এর মাধ্যমে মুকাল্লিদ (অনুসারী)-এর বক্তব্য বাদ পড়ে যায়; কারণ মুকাল্লিদের কোনো নিজস্ব মাযহাব নেই এবং তার কাছে প্রকৃত ইলম নেই। ইমাম ইবনে আব্দুল বার (রহ.) ইতিপূর্বেই এই ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন যে, মুকাল্লিদ কোনো আলিম নন। একারণেই ইবনুল কায়্যিম (রহ.) তাঁর ‘নূনিয়্যাহ’ কাব্যে বলেছেন:
ইলম হলো দলীলসহ হিদায়াতকে চেনা
… সেটি এবং তাকলীদ কখনো সমান হতে পারে না।
আর আহমদ হলেন: ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানী, আহলে সুন্নাহ, ফিকহ এবং হাদীসের ইমাম। তিনি আকীদা ও তাওহীদের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহর ইমাম, ফিকহী মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে ফিকহ শাস্ত্রের ইমাম এবং বর্ণনা ও রাবী যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে হাদীস শাস্ত্রের ইমাম। মহান আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে তাঁর ওপর এমন সব কঠিন পরীক্ষা ও বিপদ আপতিত হয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা লাভ এবং গুনাহ মাফের আশা করি। খলীফা মামুন এবং আল্লাহর কালাম পরিবর্তনকারী তার সহযোগীদের সামনে তিনি এবং মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ অটল থাকতে পারেননি। তবে সাধারণ মানুষের নিকট তিনি (রহ.) ছিলেন সবচেয়ে দৃঢ়চেতা ও নির্ভরযোগ্য; একারণেই মানুষ প্রতীক্ষায় ছিল যে, ‘কুরআন সৃষ্টি’ (খালকে কুরআন) বিষয়ে ইমাম আহমদ কী বলেন। তিনি অটলভাবে সিদ্ধান্ত দিলেন যে, কুরআন আল্লাহর কালাম, তা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়। এমনকি তাঁকে চাবুক দিয়ে প্রহার করা হতো যার ফলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়তেন এবং বাজারে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হতো। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে ইমামত বা নেতৃত্বের মর্যাদা দিয়ে পুরস্কৃত করলেন: {আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশ অনুযায়ী পথপ্রদর্শন করত, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত} [আস-সাজদাহ]।
জেনে রাখুন, ওলামায়ে কেরামের উক্তি: «অমুকের মাযহাব», এর দ্বারা দুটি বিষয় উদ্দেশ্য হয়ে থাকে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الأول: المذهب الشَّخصي.
الثاني: المذهب الاصطلاحي.
والغالب عند المتأخِّرين إذا قالوا: هذا مذهب الشَّافعي، أو أحمد، أو ما أشبه ذلك، فالمراد المذهب الاصطلاحي، حتى إِنَّ الإِمام نفسَه قد يقول بخلاف ما يُسمَّى بمذهبه، ولكنهم يجعلون مذهبه ما اصطلحوا عليه.
ومُراد المؤلِّف هنا بمذهب أحمد: المذهب الاصطلاحي.
ورُبَّما حَذَفْتُ مِنْهُ مَسَائِلَ نَادِرَةَ الوقُوعِ، وزِدْتُ مَا على مِثْلِه يُعتَمد؛ ..............
قوله: «وربما حَذفتُ منه مسائلَ»، منه: الضَّميرُ عائدٌ على «المقنع».
والمسائل: جمع مسألة، والمسألة ما يُستدلُّ له في العلم؛ ولهذا قالوا: العلم دلائل ومسائل. والدلائل سمعية: إِن كانت نصاً من كتاب أو سُنَّة أو إجماع، أو عقليَّة: إن كانت قياساً.
قوله: «نادرةَ الوقوعِ»، يعني: قليلة الوقوع؛ لأن المسائل النادرة لا ينبغي للإنسان أن يشغل بها نفسه.
قوله: «وزدتُ ما على مثله يُعتَمد»، «ما» اسم موصول بمعنى الذي، صلتها قوله: «يعتمد»، و «على مثله» متعلِّق بـ «يعتمد»، والمعنى: زدت من المسائل أشياء مهمة يُعتمد عليها.
إذاً؛ هذا الكتاب اشتمل على ثلاثة أمور:
الأول: الاقتصار على قول واحد.
الثاني: حذف المسائل النادرة.
প্রথমটি: ব্যক্তিগত মাযহাব।
দ্বিতীয়টি: পারিভাষিক মাযহাব।
পরবর্তী যুগের আলিমদের মাঝে সাধারণত যখন বলা হয়: এটি শাফেয়ি বা আহমদের মাযহাব কিংবা এই জাতীয় কিছু, তখন এর দ্বারা ‘পারিভাষিক মাযহাব’ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এমনকি খোদ ইমাম নিজে হয়তো তাঁর মাযহাব হিসেবে পরিচিত মতের বিপরীতে কোনো মত পোষণ করেছেন, কিন্তু তাঁরা (পরবর্তী আলিমগণ) যা পারিভাষিকভাবে স্থির করেছেন তাকেই তাঁর মাযহাব হিসেবে গণ্য করেন।
এখানে ইমাম আহমদের মাযহাব বলতে গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য হলো: পারিভাষিক মাযহাব।
এবং কখনও কখনও আমি তা থেকে বিরল ঘটনাপ্রবাহের মাসআলাগুলো বাদ দিয়েছি এবং এমন বিষয় যুক্ত করেছি যার ওপর নির্ভর করা যায়; ..............
তাঁর উক্তি: “এবং কখনও কখনও আমি তা থেকে মাসআলাগুলো বাদ দিয়েছি”, এখানে ‘তা থেকে’ সর্বনামটি ‘আল-মুকনি’ গ্রন্থের দিকে ফিরেছে।
আর ‘মাসাইল’ হলো ‘মাসআলা’র বহুবচন। ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে যার স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয় তাকেই মাসআলা বলা হয়। এই কারণেই তাঁরা বলেন: ইলম হলো দলিল ও মাসআলার সমষ্টি। দলিলসমূহ যদি কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমার সুস্পষ্ট পাঠ হয় তবে তা শ্রুতিনির্ভর (সাময়ি), আর যদি কিয়াস হয় তবে তা যৌক্তিক (আকলি)।
তাঁর উক্তি: “বিরল ঘটনাপ্রবাহের”, অর্থাৎ যা সচরাচর ঘটে না। কারণ বিরল মাসআলাগুলো নিয়ে মানুষের নিজেকে ব্যস্ত রাখা সমীচীন নয়।
তাঁর উক্তি: “এবং এমন বিষয় যুক্ত করেছি যার ওপর নির্ভর করা যায়”, এখানে ‘মা’ হলো অব্যয় যা ‘যেটি’ অর্থ প্রকাশ করছে, এর পরবর্তী অংশ ‘নির্ভর করা যায়’ এর সাথে সম্পৃক্ত। এর অর্থ হলো: আমি মাসআলাগুলোর মধ্য থেকে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি যোগ করেছি যার ওপর নির্ভর করা যায়।
সুতরাং, এই গ্রন্থটি তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে:
প্রথমত: কেবল একটি মতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা।
দ্বিতীয়ত: বিরল মাসআলাসমূহ বাদ দেওয়া।
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
الثالث: زيادة ما يُعتمد عليه من المسائل.
إِذ الهِمَمُ قَد قَصُرَتُ، والأسباب المثبِّطَة عن نيل المُرادِ قد كَثُرَتْ.قوله: «إِذ الهِمَمُ قد قَصُرَتْ»، إذ: حرف تعليل، والهمم مبتدأ، وجملة «قد قصرت» خبره.
والهمم: جمع همَّة وهي الإِرادة الجازمة، وقد يُراد بالهمَّة ما دون الإرادة الجازمة، وهي شاملة لهذا وهذا.
والجملة تعليلٌ لقوله: «مختصر»، و «حَذفتُ».
قوله: «والأسباب المثبِّطةُ عن نيل المراد قد كَثُرت»، مع قصور الهمم هناك صوارف، ولهذا قال: «والأسباب
… إلخ».
الأسباب: جمع سبب، وهو في اللغة: ما يُتَوَصَّلُ به إلى المطلوبِ، وهو المراد هنا.
قوله: «المثبِّطة» بمعنى المفتِّرة للهمم.
قوله: «قد كثُرت»، ولكن مع الاستعانة بالله عز وجل وبذل المجهود يحصُل المقصود. وليُعلَمْ أنه كلَّما قَويَ الصَّارف، فإِن الطَّالب في جهاد، وأنه كلَّما قوِيَ الصَّارف ودافعه الإِنسان فإِنه ينال بذلك أجرين: أجر العمل، وأجر دفع المقاوم؛ ولهذا قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: «إن أيام الصَّبر للعامل فيهن أجر خمسين من الصَّحابة»
(1).
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: নির্ভরযোগ্য মাসআলাসমূহ বৃদ্ধি করা।
যেহেতু সংকল্পসমূহ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বাধাদানকারী উপকরণসমূহ বৃদ্ধি পেয়েছে।তাঁর উক্তি: "যেহেতু সংকল্পসমূহ দুর্বল হয়ে পড়েছে", এখানে 'ইয' (إذ) হলো কারণবাচক অব্যয়, 'আল-হিমাম' হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং 'কদ কসোরাত' বাক্যটি তার খবর (বিধেয়)।
'আল-হিমাম' শব্দটি 'হিম্মাহ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ সুদৃঢ় সংকল্প। কখনো কখনো 'হিম্মাহ' দ্বারা সুদৃঢ় সংকল্পের চেয়ে কম মাত্রার ইচ্ছাকেও বোঝানো হয়; তবে এটি উভয় অর্থকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
এই বাক্যটি তাঁর উক্তি "সংক্ষিপ্ত" এবং "আমি বর্জন করেছি" এর সপক্ষে কারণ হিসেবে এসেছে।
তাঁর উক্তি: "এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বাধাদানকারী উপকরণসমূহ বৃদ্ধি পেয়েছে", অর্থাৎ সংকল্পের দুর্বলতার পাশাপাশি সেখানে প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে; এই কারণেই তিনি বলেছেন: "এবং উপকরণসমূহ... ইত্যাদি"।
'আল-আসবাব' শব্দটি 'সাবাব' এর বহুবচন, আভিধানিক অর্থে যা দ্বারা উদ্দিষ্ট বস্তুর নিকট পৌঁছানো যায়; আর এখানে এটাই উদ্দেশ্য।
তাঁর উক্তি: "বাধাদানকারী" এর অর্থ হলো সংকল্পকে শিথিলকারী।
তাঁর উক্তি: "বৃদ্ধি পেয়েছে", তবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র সাহায্য প্রার্থনা এবং প্রচেষ্টা ব্যয়ের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল হয়। জেনে রাখা উচিত যে, প্রতিবন্ধকতা যত প্রবল হয়, অন্বেষণকারী তত বেশি জিহাদের অবস্থায় থাকে। আর যখনই প্রতিবন্ধকতা শক্তিশালী হয় এবং মানুষ তা প্রতিহত করে, তখন সে দুটি নেকি লাভ করে: কর্মের নেকি এবং বাধাদানকারীকে প্রতিহত করার নেকি। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয় ধৈর্যের দিনগুলোতে আমলকারীর জন্য পঞ্চাশজন সাহাবীর সমান সওয়াব রয়েছে।"
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
لأن هناك أسباباً مثبِّطة كثيرة، ولكن إِذا أَعْرَضْتَ فهذه المصيبة.
والذُّنوب من أكبر العوائق. قال الله تعالى: {فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ} [المائدة: 49]. وهذا دليل على أنَّ تولِّي الإِنسان عن الذِّكر سببه الذُّنوب، ولكن مع الاستغفار وصدق النيَّة يُيسِّر الله الأمر.
واستنبط بعض العلماء من قوله تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلَا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا *وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا *} [النساء]، أنَّه ينبغي للإِنسان إذا نزلت به حادثةٌ، سواءٌ إِفتاء أو حكم قضائيٌّ، أن يُكْثِرَ من الاستغفار
(1)؛ لأنَّ الله قال: {لِتَحْكُمَ} ثم قال: {وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ} وهذا ليس ببعيد؛ لأنَّ الذُّنوب تمنع من رؤية الحقِّ، قال تعالى: {كَلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ *} [المطففين].
ومعَ صغَر حجمه حَوَى ما يُغْني عن التَّطوِيلِ، ولا حَوْلَ ولا قُوَّةَ إِلاَّ بِالله، ...........
قوله: «ومع صغر حجمه حَوى ما يُغني عن التَّطويل»، حوى: جَمَعَ، وهو أجمع من كتاب الشيخ مرعي رحمه الله «دليل الطَّالب»، و «دليل الطَّالب» أحسن من هذا ترتيباً؛ لأنه يذكر الشُّروط، والأركان، والواجبات، والمستحبَّات، على وجه مفصَّل.
قوله: «ولا حول ولا قُوَّة إلا بالله»، لا: نافية للجنس، والحَوْلُ: التَّحوُّل وتَغيُّر الشيء عن وجهه.
--------------------------------------------
কারণ সেখানে অনেক নিরুৎসাহমূলক কারণ রয়েছে, কিন্তু আপনি যদি মুখ ফিরিয়ে নেন তবে তা হবে এক মহাবিপদ।
আর পাপসমূহ হলো সবচাইতে বড় অন্তরায়। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন যে, আল্লাহ কেবল তাদের কিছু পাপের কারণে তাদেরকে আক্রান্ত করতে চান} [আল-মায়েদাহ: ৪৯]। এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, আল্লাহর জিকির বা স্মরণ থেকে মানুষের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণ হলো পাপসমূহ; তবে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) এবং নিয়তের একনিষ্ঠতার মাধ্যমে আল্লাহ বিষয়টিকে সহজ করে দেন।
কোনো কোনো আলেম মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে বিচার করতে পারেন আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী; এবং আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষে কলহকারী হবেন না। আর আপনি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন; নিশ্চয় আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [আন-নিসা]—এ থেকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে, কোনো মানুষের সামনে যখনই কোনো ঘটনা বা সমস্যা উপস্থিত হয়, চাই তা ফতোয়া প্রদান হোক বা বিচারকার্য, তখন তার অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করা উচিত
(১); কেননা আল্লাহ বলেছেন: {যাতে আপনি বিচার করতে পারেন}, এরপর বলেছেন: {এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন}। আর এই বিষয়টি যুক্তিহীন নয়; কারণ পাপসমূহ সত্য দর্শনে বাধা প্রদান করে। মহান আল্লাহ বলেন: {কখনই নয়, বরং তারা যা অর্জন করত, তা-ই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে} [আল-মুতাফফিফিন]।
এটি ক্ষুদ্রাকৃতির হওয়া সত্ত্বেও এমন অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে যা দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দেয়; আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই, ...........
তাঁর উক্তি: «এটি ক্ষুদ্রাকৃতির হওয়া সত্ত্বেও এমন অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে যা দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দেয়», 'হাওয়া' অর্থ: একত্র করা। আর এটি শেখ মারঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব «দালিলুত তালিব» অপেক্ষা অধিক বিষয় সংবলিত; তবে «দালিলুত তালিব» বিন্যাসের দিক থেকে এটি অপেক্ষা অধিক উত্তম; কারণ তিনি সেখানে শর্তাবলি, রোকনসমূহ, ওয়াজিবসমূহ এবং মুস্তাহাবসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাঁর উক্তি: «আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই», এখানে ‘লা’ হলো জাতীয় নেতিবাচক অব্যয় (নাফিয়া লিল জিনস), আর ‘হাওল’ অর্থ হলো রূপান্তর হওয়া এবং কোনো বিষয়কে তার নিজ অবস্থা থেকে পরিবর্তন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
والقوَّة: صفة يستطيع بها القويُّ أن يفعل بدون ضعف.
قوله: «إلا بالله»، الباء للاستعانة. فكأن المؤلِّف استعان بالله تعالى أن يُيَسِّرَ له الأمر.
وهو حَسبُنَا، ونِعْمَ الْوَكِيلُ.قوله: «وهو حسبنا»، الضَّمير «هو» عائدٌ إلى الله، والحَسْبُ بمعنى الكافي، وكلُّ من توكَّلَ على الله فهو حَسْبُه، كما قال تعالى: {وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ} [الطلاق: 3]، ومن لا يتوكَّل عليه فليس الله حَسْبَه، بل هو موكول إلى من توكَّل عليه.
قوله: «ونِعْمَ الوكيل»، الوكيل: فاعل، وقال النَّحْويُّون: إن «نِعْم» يحتاج إلى فاعل ومخصوص. والمخصوص هنا محذوفٌ والتَّقدير: نِعْمَ الوكيل الله.
والوكيل: هو الذي فُوِّضَ إليه الأمر. فيكون تفويضنا الأمر إلى الله تفويضَ افتقار وحاجة؛ لأنه هو الذي منه الإعداد والإِمداد، كما أنَّه هو الذي منه الإِيجاد.
ونظيرُ هذا في القرآن قوله تعالى: {الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَاناً وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ *} [آل عمران].
قال ابن عباس رضي الله عنهما: «قالها إبراهيمُ عليه الصلاة والسلام حين أُلقيَ في النَّار»
(1) دفعاً للمكروه، وطلباً للمحبوب وهو النَّجاة.
--------------------------------------------
শক্তি হলো এমন এক গুণ যার মাধ্যমে শক্তিশালী ব্যক্তি কোনো দুর্বলতা ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম হয়।
তাঁর উক্তি: "আল্লাহ ছাড়া", এখানে 'বা' অক্ষরটি সাহায্য প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত। যেন লেখক তাঁর কাজ সহজ করার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।
আর তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।তাঁর উক্তি: "তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট", এখানে 'তিনি' সর্বনামটি আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়েছে। 'হাসব' শব্দের অর্থ হলো পর্যাপ্ত বা যথেষ্ট। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট} [আত-তালাক: ৩]। আর যে ব্যক্তি তাঁর ওপর ভরসা করে না, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হন না; বরং তাকে তার ওপরই ন্যস্ত করা হয় যার ওপর সে ভরসা করেছে।
তাঁর উক্তি: "এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক", এখানে 'আল-ওয়াকিল' শব্দটি হলো কর্তা (ফায়িল)। ব্যাকরণবিদরা বলেন: 'নি'মা' (কতই না চমৎকার) শব্দটির জন্য একটি কর্তা ও একটি বিশেষায়িত পদ (মাখসুস) প্রয়োজন। এখানে সেই বিশেষায়িত পদটি উহ্য রয়েছে এবং এর পূর্ণরূপ হলো: আল্লাহ কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
আর 'ওয়াকিল' বা কর্মবিধায়ক হলেন তিনি, যাঁর নিকট কাজ ন্যস্ত করা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর নিকট আমাদের কাজ ন্যস্ত করা হলো চরম অভাব ও মুখাপেক্ষিতার সোপর্দকরণ; কারণ প্রস্তুতি ও সাহায্য তাঁর পক্ষ থেকেই আসে, যেমন অস্তিত্ব দানও তাঁরই পক্ষ থেকে।
কুরআনে এর অনুরূপ দৃষ্টান্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো। এতে তাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পেল এবং তারা বলল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।} [আলি ইমরান]।
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যখন অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হন, তখন তিনি এই কথাটি বলেছিলেন"
(১) কোনো অপছন্দনীয় বিষয় বা অনিষ্ট প্রতিহত করতে এবং কাঙ্ক্ষিত বস্তু তথা মুক্তি লাভের আশায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
كِتَابُ الطَّهارة
[باب المياه]
وهِيَ ارْتِفَاعُ الْحَدَثِ، ............
قوله: «كتاب»، فِعال بمعنى مفعول: أي مكتوب. يعني: هذا مكتوب في الطَّهارة.
والطَّهارة لُغةً: النَّظافة. طَهُرَ الثَّوبُ من القَذَر، يعني: تنظَّفَ.
وفي الشَّرع: تُطلقُ على معنيين:
الأول: أصْل، وهو طهارة القلب من الشِّرك في عبادة الله، والغِلِّ والبغضاء لعباد الله المؤمنين، وهي أهمُّ من طهارة البدن؛ بل لا يمكن أن تقومَ طهارة البدن مع وجود نَجَس الشِّرك، قال تعالى: {إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} [التوبة: 28].
وقال النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ المؤمن لا يَنْجُسُ»
(1).
الثاني: فَرْع، وهي الطَّهارة الحسِّيَّةُ.
قوله: «وهي ارتفاعُ الحَدَث»، أي: زواله.
والحَدَثُ: وصفٌ قائمٌ بالبدن يمنع من الصَّلاة ونحوها مما تُشْتَرَطُ له الطَّهارةُ.
مثاله: رجل بَالَ واستنجى، ثم توضَّأ. فكان حين بوله لا يستطيع أن يُصلِّيَ، فلما توضأ ارتفع الحَدَثُ، فيستطيع بذلك
--------------------------------------------
পবিত্রতা অধ্যায়
[পানির পরিচ্ছেদ]
আর তা হলো অপবিত্র অবস্থা (হাদাস) দূর হওয়া, ............
লেখকের উক্তি: "কিতাব" (গ্রন্থ), এটি 'ফি-আল' এর ওজনে 'মাফ-উল' এর অর্থে ব্যবহৃত; অর্থাৎ যা লিখিত। এর অর্থ হলো: এটি পবিত্রতা বিষয়ক একটি লিখিত সংকলন।
আভিধানিকভাবে পবিত্রতা (তাহারাত) হলো: পরিচ্ছন্নতা। যেমন: পোশাকটি ময়লা থেকে পবিত্র হয়েছে, অর্থাৎ এটি পরিষ্কার হয়েছে।
শরয়ি পরিভাষায় এটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
প্রথমটি: মূল ভিত্তি, আর তা হলো আল্লাহর ইবাদতে শিরক থেকে এবং আল্লাহর মুমিন বান্দাদের প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখা। এটি দৈহিক পবিত্রতার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ; বরং শিরকের অপবিত্রতা বিদ্যমান থাকলে দৈহিক পবিত্রতা অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র} [আত-তাওবাহ: ২৮]।
এবং নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুমিন অপবিত্র হয় না"
(১)।
দ্বিতীয়টি: শাখা বা গৌণ বিষয়, যা হলো বাহ্যিক বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পবিত্রতা।
লেখকের উক্তি: "আর তা হলো অপবিত্র অবস্থা দূর হওয়া", অর্থাৎ তার অবসান ঘটা।
অপবিত্রতা (হাদাস) হলো: দেহের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন একটি অবস্থা যা সালাত এবং অনুরূপ ইবাদত পালনে বাধা দেয় যেগুলোর জন্য পবিত্রতা শর্ত।
উদাহরণস্বরূপ: এক ব্যক্তি প্রস্রাব করল এবং ইস্তিঞ্জা করল, তারপর অজু করল। প্রস্রাব করার সময় সে সালাত আদায় করতে পারছিল না, কিন্তু যখন সে অজু করল, তখন অপবিত্র অবস্থা দূর হয়ে গেল, ফলে এর মাধ্যমে সে সক্ষম হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
أن يصلِّي لزوال الوصف المانع من الصَّلاة.
ومَا في مَعْنَاهُ، وَزَوَالُ الخَبَثِ.قوله: «وما في معناه»، الضَّمير يعود على «ارتفاع»، لا على الحَدَث، أي: وما في معنى ارتفاع الحَدَث، فلا يكون فيها ارتفاع حَدَث، ولكن فيها معناه.
مثاله: غسل اليدين بعد القيام من نوم الليل، فهذا واجب، ويُسمَّى طهارة، وليس بحَدَث؛ لأنَّه لا يرتفع به الحَدَث، فلو غُسلت الأيدي ما جازت الصَّلاة. وأيضاً لو جَدّد رجلٌ وضُوءَه، أي توضَّأ وهو على وضُوء، فلا يكون فيه ارتفاع للحدث مع أنه يُسمَّى طهارة؛ لأنَّه في معنى ارتفاع الحدث.
وأيضاً: صاحب سَلَسِ البول لو توضَّأ من البول ليُصلِّيَ، فيكون هذا الوضُوء حصل به معنى ارتفاع الحدث؛ لأن البول لم يزل.
فصار معنى ارتفاع الحدث: هو كل طهارة لا يحصُل بها رفع الحَدَث، أو لا تكون عن حَدَث.
قوله: «وزوال الخَبَث»، لم يقل: وإزالة الخَبَث، فزوال الخَبَث طهارة، سواءٌ زال بنفسه، أو زالَ بمزيل آخر، فيُسمَّى ذلك طهارة.
والخَبَثُ: هو النَّجاسة.
والنَّجاسة: كلُّ عَينٍ يَحْرُم تناولُها؛ لا لحرمتها؛ ولا لاستقذارها؛ ولا لضررٍ ببدَنٍ أو عقلٍ. وإنْ شئت فقل: كلُّ عينٍ يجب التطهُّرُ منها. هكذا حدُّوها
(1).
--------------------------------------------
যাতে তিনি সালাত আদায় করতে পারেন সেই গুণের অবসান ঘটলে যা তাকে সালাত থেকে বিরত রাখছিল।
এবং যা এর সমার্থবোধক, আর অপবিত্রতার অবসান।লেখকের উক্তি: "এবং যা এর সমার্থবোধক", এখানে সর্বনামটি "অপসারণ" শব্দের দিকে ফিরেছে, "অশুচিতা" (হাদাস)-এর দিকে নয়। অর্থাৎ: যা অশুচিতা অপসারণের মর্মার্থ বহন করে। সুতরাং এতে প্রকৃত অশুচিতা অপসারিত হয় না, কিন্তু এতে তার অর্থ বিদ্যমান থাকে।
উদাহরণস্বরূপ: রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর উভয় হাত ধৌত করা। এটি ওয়াজিব এবং একে পবিত্রতা বলা হয়, কিন্তু এটি অশুচিতা (হাদাস) নয়; কারণ এর দ্বারা অশুচিতা দূরীভূত হয় না। কেননা যদি কেবল হাত ধৌত করা হয়, তবে সালাত জায়েজ হবে না। অনুরূপভাবে, যদি কোনো ব্যক্তি তার ওজু নবায়ন করেন—অর্থাৎ ওজু থাকা অবস্থাতেই পুনরায় ওজু করেন—তবে এতে অশুচিতা দূরীভূত হওয়ার বিষয় নেই, যদিও একে পবিত্রতা বলা হয়; কারণ এটি অশুচিতা দূরীভূত হওয়ার মর্মার্থের অন্তর্ভুক্ত।
আরও উদাহরণ: বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রস্রাবের পর ওজু করেন, তবে এই ওজুর মাধ্যমে অশুচিতা দূরীভূত হওয়ার মর্মার্থ অর্জিত হয়; কারণ প্রস্রাব আসা বন্ধ হয়নি।
সুতরাং অশুচিতা দূরীভূত হওয়ার মর্মার্থ হলো: এমন প্রতিটি পবিত্রতা যার মাধ্যমে প্রকৃত অশুচিতা দূরীভূত হয় না অথবা যা অশুচিতার কারণে (সম্পাদন) করা হয় না।
লেখকের উক্তি: "এবং অপবিত্রতার অবসান", তিনি "অপবিত্রতা দূর করা" বলেননি। সুতরাং অপবিত্রতার অবসান ঘটাই হলো পবিত্রতা, চাই তা নিজে থেকেই অপসারিত হোক অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে অপসারিত হোক; তাকে পবিত্রতা বলা হয়।
আর "খাবাস" হলো নাপাকি বা অপবিত্রতা।
আর নাপাকি হলো: এমন প্রত্যেকটি বস্তু যা গ্রহণ করা হারাম; এর মর্যাদার কারণে নয়, অত্যন্ত ঘৃণিত হওয়ার কারণেও নয়, কিংবা শরীর বা মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণেও নয়। আর আপনি চাইলে বলতে পারেন: এমন প্রতিটি বস্তু যা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব। এভাবেই তাঁরা এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فقولنا: «يحرم تناولُها» خرج به المباحُ، فكلُّ مباحٍ تناولُه فهو طاهر.
وقولنا: «لا لضررها» خرج به السُّمُّ وشبهُه، فإنَّه حرام لضرره، وليس بنجس.
وقولنا: «ولا لاستقذارها»: خرج به المخاطُ وشبهُه، فليس بنجس؛ لأنَّه محرَّمٌ لاستقذاره.
وقولنا: «ولا لحرمتها» خرج به الصَّيْدُ في حال الإحرام، والصَّيْدُ داخلَ الحرمِ؛ فإِنه حرام لحرمته.
فيكون قوله: «وزوال الخَبَث» أعَمَّ من إِزالة الخَبَث، لأن الخَبَث قد يزول بنفسه، فمثلاً: إذا فرضنا أن أرضاً نجسة بالبول، ثم جاء المطر وطَهَّرَها، فإِنها تَطْهُرُ بدون إزالةٍ مِنَّا، ولو أنَّ عندنا ماءً متنجِّساً بتغيُّر رائحته، ثم زالت الرائحة بنفسها طَهُرَ، ولو كان عندنا خَمْرٌ ثم تخلَّل بنفسه صار طاهراً، وإِن كان الصَّواب أن الخمرَ ليست بنجسة؛ ولو كانت على صفتها خَمْراً؛ كما سيأتي ـ إن شاء الله ـ في باب «إزالة النجاسة».
وبدأ المؤلِّفُ بالطَّهارة لسببين:
الأول: أنَّ الطَّهارة تخليةٌ من الأذى.
الثاني: أنَّ الطَّهارة مفتاح الصَّلاة. والصَّلاة آكدُ أركان الإسلام بعد الشَّهادتين، ولذلك بدأ الفقهاء رحمهم الله بكتاب الطَّهارة.
والطَّهارة تحتاج إِلى شيء يُتطهَّرُ به، يُزَال به النَّجسُ، ويُرفعُ به الحدثُ وهو الماء؛ ولذلك بدأ المؤلفُ به.
আমাদের উক্তি: "এর ভক্ষণ হারাম"—এর মাধ্যমে মুবাহ (বৈধ) বিষয়সমূহ বাদ পড়েছে; কারণ প্রতিটি মুবাহ বস্তু ভক্ষণ করাই পবিত্র।
আমাদের উক্তি: "ক্ষতিকর হওয়ার কারণে নয়"—এর মাধ্যমে বিষ ও তদ্রূপ বস্তুসমূহ বাদ পড়েছে; কারণ তা ক্ষতিকর হওয়ার কারণে হারাম, নাপাক হওয়ার কারণে নয়।
আমাদের উক্তি: "ঘৃণ্য হওয়ার কারণেও নয়"—এর মাধ্যমে শ্লেষ্মা ও তদ্রূপ বস্তুসমূহ বাদ পড়েছে; কারণ তা নাপাক নয়, বরং ঘৃণা উদ্রেককারী হওয়ার কারণে তা হারাম বা নিষিদ্ধ।
আমাদের উক্তি: "মর্যাদা বা পবিত্রতার কারণেও নয়"—এর মাধ্যমে এহরাম অবস্থায় শিকার এবং হারাম শরীফের সীমানার ভেতরের শিকার বাদ পড়েছে; কেননা তা এর বিশেষ মর্যাদার কারণে নিষিদ্ধ।
সুতরাং তাঁর উক্তি: "নাপাকি দূরীভূত হওয়া" কথাটি "নাপাকি দূর করা" অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। কারণ নাপাকি কখনো কখনো নিজে থেকেই দূর হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ: যদি আমরা ধরে নেই যে কোনো একটি জমিন প্রস্রাবের মাধ্যমে নাপাক হয়েছে, অতঃপর বৃষ্টি এসে তাকে পবিত্র করে দিল, তবে তা আমাদের পক্ষ থেকে কোনো রূপ প্রচেষ্টা ছাড়াই পবিত্র হয়ে যাবে। আর যদি আমাদের কাছে এমন কোনো পানি থাকে যা দুর্গন্ধের কারণে নাপাক হয়েছিল, অতঃপর নিজে থেকেই সেই দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে। তেমনিভাবে যদি আমাদের কাছে মদ থাকে এবং তা নিজে থেকেই সিরকায় রূপান্তরিত হয়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে—যদিও সঠিক মত হলো এই যে, মদ অপবিত্র নয়, এমনকি তা মদ্য অবস্থায় থাকলেও; যা 'নাপাকি দূরীকরণ' অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ বিস্তারিত আসবে।
লেখক পবিত্রতার অধ্যায় দিয়ে গ্রন্থ শুরু করেছেন দুটি কারণে:
প্রথমত: পবিত্রতা হলো অপবিত্রতা বা ময়লা থেকে মুক্ত হওয়া।
দ্বিতীয়ত: পবিত্রতা হলো সালাতের চাবিকাঠি। আর শাহাদাতদ্বয়ের পর সালাত হলো ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুকন; এ কারণেই ফকীহগণ (রাহিমাহুল্লাহ) 'কিতাবুত তাহারাহ' (পবিত্রতার অধ্যায়) দিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
আর পবিত্রতা অর্জনের জন্য এমন একটি উপকরণের প্রয়োজন যার দ্বারা নাপাকি দূর করা যায় এবং হদস (অজু বা গোসল ভঙ্গের অবস্থা) থেকে পবিত্রতা লাভ করা যায়—আর তা হলো পানি। এই কারণেই লেখক পানি দিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
المِياهُ ثلاثةٌ: طَهُورٌ لا يَرْفَعُ الحَدَثَ، ........
قوله: «المياهُ ثلاثةٌ: طَهُورٌ»، المياه: جمعُ ماء، والمياه ثلاثة أقسام:
الأول: الطَّهور، بفتح الطَّاء على وزن فَعول، وفَعول: اسم لما يُفعَلُ به الشيءُ، فالطَّهورُ ـ بالفتح ـ: اسم لما يُتطهَّر به، والسَّحور ـ بالفتح ـ: اسم للطَّعام الذي يُتسحَّرُ به.
وأما طُهور، وسُحور بالضمِّ، فهو الفعل.
والطَّهور: الماء الباقي على خلقته حقيقة، بحيث لم يتغيَّر شيء من أوصافه، أو حكماً بحيث تغيَّر بما لا يسلبُه الطَّهوريَّةَ.
فمثلاً: الماء الذي نخرجه من البئر على طبيعته ساخناً لم يتغيَّر، وأيضاً: الماء النَّازل من السَّماء طَهور، لأنَّه باقٍ على خلقته، هذان مثالان للباقي على خلقته حقيقة، وقولنا: «أو حُكْماً» كالماء المتغيِّر بغير ممازج، أو المتغيِّر بما يشقُّ صون الماء عنه، فهذا طَهور لكنه لم يبقَ على خلقته حقيقة، وكذلك الماء المسخَّن فإِنه ليس على حقيقته؛ لأنَّه سُخِّن، ومع ذلك فهو طَهور؛ لأنَّه باقٍ على خلقته حكماً.
قوله: «لا يرفع الحدث»، أي: لا يرفع الحَدَث إلا الماء الطَّهُور.
فالبنزين وما أشبهه لا يرفع الحَدَثَ؛ فكل شيء سوى الماء لا يرفع الحَدَث، والدَّليل قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [المائدة: 6]، فأمر بالعدول إلى التيمُّم إذا لم نجد الماء، ولو وجدنا غيره من المائعاتِ والسوائل.
والتُّراب في التيمُّم على المذهب لا يرفع الحَدَث.
পানি তিন প্রকার: তাহুর (পবিত্র ও পবিত্রতাকারী), যা ব্যতীত অন্য কিছু হাদাস দূর করে না, ........
তাঁর উক্তি: "পানি তিন প্রকার: তাহুর", 'মিয়াহ' শব্দটি 'মা' (পানি) এর বহুবচন, আর পানি তিন ভাগে বিভক্ত:
প্রথম: তাহুর; এটি 'ত' বর্ণের ওপর ফাতহা (যবর) যোগে 'ফাউল' ওজনে। আর 'ফাউল' হলো এমন নাম যা দ্বারা কোনো কাজ সম্পাদন করা হয়। সুতরাং ‘তাহুর’ (ফাতহা যোগে) হলো ঐ বস্তুর নাম যা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয়। আর ‘সাহুর’ (ফাতহা যোগে) হলো ঐ খাবারের নাম যা দ্বারা সাহরি করা হয়।
পক্ষান্তরে যম্মাহ (পেশ) যোগে ‘তুহুর’ এবং ‘সুহুর’ বলতে সেই কাজটিকে বোঝায়।
তাহুর পানি হলো সেই পানি যা প্রকৃতপক্ষে তার আদি সৃষ্টির ওপর অবশিষ্ট রয়েছে, এভাবে যে তার কোনো গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়নি; অথবা হুকুমগতভাবে আদি অবস্থায় রয়েছে, এভাবে যে এমন কিছুর দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে যা তার পবিত্রতাকারী বৈশিষ্ট্যকে হরণ করে না।
উদাহরণস্বরূপ: কূপ থেকে আমরা যে পানি তার স্বাভাবিক অবস্থায় গরম হিসেবে আহরণ করি এবং যা পরিবর্তিত হয়নি। অনুরূপভাবে আকাশ থেকে বর্ষিত পানিও ‘তাহুর’, কারণ তা তার আদি সৃষ্টিগত অবস্থায় রয়েছে। এই দুটি হলো প্রকৃতপক্ষে আদি অবস্থায় থাকার উদাহরণ। আর আমাদের কথা "অথবা হুকুমগতভাবে", যেমন এমন পানি যা অমিশ্রণীয় কোনো বস্তুর সংস্পর্শে পরিবর্তিত হয়েছে, অথবা যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন এমন কিছুর দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। এটি ‘তাহুর’, তবে প্রকৃতপক্ষে আদি অবস্থায় অবশিষ্ট নেই। অনুরূপভাবে উত্তপ্ত করা পানিও তার প্রকৃত আদি অবস্থায় নেই; কারণ তাকে উত্তপ্ত করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এটি ‘তাহুর’, কারণ এটি হুকুমগতভাবে আদি অবস্থায় বিদ্যমান বলে গণ্য।
তাঁর উক্তি: "হাদাস দূর করে না", অর্থাৎ: ‘তাহুর’ পানি ব্যতীত অন্য কোনো বস্তু হাদাস (শরয়ি অপবিত্রতা) দূর করতে পারে না।
সুতরাং পেট্রোল এবং এর সদৃশ কোনো তরল পদার্থ হাদাস দূর করে না; পানি ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই হাদাস দূর করতে পারে না। এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]। এখানে পানি না পাওয়া গেলে তায়াম্মুম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও পানি ভিন্ন অন্য কোনো তরল পদার্থ বিদ্যমান থাকে।
আর মাযহাব অনুযায়ী তায়াম্মুমের মাটিও হাদাস দূর করে না।
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
والصَّواب أنَّه يرفع الحَدَث
(1) لقوله تعالى عَقِبَ التيمُّم: {مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ} [المائدة: 6]، ومعنى التَّطهير: أن الحَدَث ارتفع، وقوله صلى الله عليه وسلم: «جُعلت لي الأرضُ مسجداً وطَهُوراً»
(2) بالفتح، فيكون التُّراب مطهِّراً. لكن إِذا وُجِدَ الماءُ، أو زال السَّبب الذي من أجله تيمَّم؛ كالجرح إذا برئ، فإنه يجب عليه أن يتوضَّأ، أو يغتسل إِن كان تيمَّم عن جنابة.
ولا يُزِيلُ النَّجَسَ الطَّارِئَ غَيْرُهُ ............قوله: «ولا يزيل النَّجس الطارئَ غيرُه»، أي: لا يزيل النَّجس إلا الماء، والدَّليل قوله صلى الله عليه وسلم في دم الحيض يصيب الثَّوب: «تَحُتُّه، ثم تَقْرُصُه بالماء، ثم تَنْضَحُه، ثم تُصلِّي فيه»
(3).
والشَّاهد قوله: «بالماء»، فهذا دليل على تعيُّن الماء لإزالة النَّجاسة.
وقوله صلى الله عليه وسلم في الأعرابي الذي بَالَ في المسجد: «أهْريقوا على بوله سَجْلاً من ماء»
(4).
--------------------------------------------
সঠিক মত হলো, এটি অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করে
(১), কারণ আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের বিধান বর্ণনার পর ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা তৈরি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান} [মায়েদাহ: ৬]। আর পবিত্রকরণের অর্থ হলো: অপবিত্রতা দূরীভূত হওয়া। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: «আমার জন্য জমিনকে সিজদাহগাহ ও পবিত্রকারী করা হয়েছে»
(২) এখানে ‘তাহুর’ (ত-এ যবরসহ) শব্দ ব্যবহারের ফলে মাটি পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য হয়। তবে যদি পানি পাওয়া যায়, অথবা যে কারণে তায়াম্মুম করা হয়েছিল সেই কারণটি দূর হয়ে যায়; যেমন ক্ষত সেরে যাওয়া, তবে তার জন্য অযু করা আবশ্যক হবে, অথবা যদি জানাবাত (বড় অপবিত্রতা) থেকে তায়াম্মুম করে থাকে তবে গোসল করা আবশ্যক হবে।
আর পানি ব্যতীত অন্য কিছু আকস্মিক অপবিত্রতা দূর করতে পারে না ............তাঁর বক্তব্য: «আর পানি ব্যতীত অন্য কিছু আকস্মিক অপবিত্রতা দূর করতে পারে না», অর্থাৎ: পানি ছাড়া অন্য কিছু নাপাকি বা অপবিত্রতা দূর করতে পারে না। এর দলিল হলো পোশাকে লেগে যাওয়া ঋতুর রক্ত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: «তুমি তা খুঁটে ফেলবে, এরপর পানি দিয়ে কচলে নেবে, অতঃপর তা ধুয়ে ফেলবে এবং এরপর তাতে সালাত আদায় করবে»
(৩)।
এখানে প্রামাণ্য অংশ হলো তাঁর বাণী: «পানি দিয়ে», এটি অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে পানি নির্ধারিত হওয়ার দলিল।
এছাড়া মসজিদে পেশাব করা সেই গ্রাম্য ব্যক্তির বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: «তোমরা তার পেশাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
«ولمَّا بال الصبيُّ على حِجْره؛ دعا بماء فأتْبَعَهُ إِيَّاه»
(1)، فدلَّ هذا على أنَّه لا يزيل النَّجَس إِلا الماء، فلو أزلنا النَّجاسة بغير الماء لم تَطْهُر على كلام المؤلِّفِ.
والصَّواب: أنَّه إِذا زالت النَّجاسة بأي مزيل كان طَهُر محلُّها؛ لأنَّ النَّجاسة عينٌ خبيثة، فإذا زالت زال حكمها، فليست وصفاً كالحدث لا يُزال إِلا بما جاء به الشَّرع، وقد قال الفقهاء رحمهم الله: «إذا زال تغيُّر الماء النَّجس الكثير بنفسه صار طَهُوراً
(2)، وإِذا تخلَّلت الخمر بنفسها صارت طاهرة»
(3)، وهذه طهارة بغير الماء.
وأما ذِكْرُ الماء في التَّطهير في الأدلة السَّابقة فلا يدلُّ تعيينُه على تعيُّنِهِ؛ لأن تعيينَه لكونه أسرعَ في الإِزالة، وأيسرَ على المكلَّف.
وقوله: «النَّجس الطَّارئ»، أي: الذي وَرَدَ على محَلٍّ طاهر.
فمثلاً: أن تقع النَّجاسة على الثَّوب أو البساط، وما أشبه ذلك، فقد وقعت على محَلٍّ كان طاهراً قبل وقوع النَّجاسة، فتكون النَّجاسةُ طارئةً.
أما النَّجاسة العينيَّة فهذه لا تطهُر أبداً، لا يطهِّرُها لا ماء
--------------------------------------------
«যখন শিশুটি তাঁর কোলে প্রস্রাব করে দিল, তখন তিনি পানি চাইলেন এবং তার ওপর তা ঢেলে দিলেন»
(১); এটি প্রমাণ করে যে, পানি ব্যতীত অন্য কিছু নাপাকি দূর করে না। সুতরাং আমরা যদি পানি ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে নাপাকি দূর করি, তবে লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী তা পবিত্র হবে না।
আর সঠিক অভিমত হলো: যে কোনো অপসারক মাধ্যম দ্বারা নাপাকি দূরীভূত হলে তার আধার বা স্থানটি পবিত্র হয়ে যাবে। কারণ নাপাকি হলো একটি অশুচি বস্তু (আইন খবীসাহ); সুতরাং তা দূরীভূত হলে তার বিধানও রহিত হয়ে যাবে। এটি 'হাদাস' (অযু-গোসল ভঙ্গের অবস্থা)-এর মতো কোনো বিমূর্ত গুণ নয় যা কেবল শরীয়ত নির্ধারিত পদ্ধতি (পানি বা মাটি) ছাড়া দূর হয় না। ফকীহগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) বলেছেন: «যদি অধিক পরিমাণ অপবিত্র পানির গুণাগুণের পরিবর্তনটি আপনা-আপনি দূর হয়ে যায়, তবে তা পবিত্রকারী হয়ে যায়
(২), এবং যদি মদ নিজে নিজেই সিরকায় পরিণত হয়, তবে তা পবিত্র হয়ে যায়»
(৩); আর এটি হলো পানি ব্যতীত পবিত্রতা অর্জনের উদাহরণ।
আর পূর্বোক্ত দলীলসমূহে পবিত্রকরণের ক্ষেত্রে পানির উল্লেখ থাকাটা একে ব্যবহারের আবশ্যকতা প্রমাণ করে না; বরং পানি উল্লেখ করার কারণ হলো এটি দ্রুত নাপাকি দূরকারী এবং মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) জন্য অধিক সহজতর।
তাঁর বক্তব্য: «আপতিত নাপাকি», অর্থাৎ: যা কোনো পবিত্র বস্তুর ওপর এসে পতিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ: পোশাক বা গালিচা অথবা এই জাতীয় কোনো বস্তুর ওপর নাপাকি পড়া; এটি এমন একটি আধারে পড়েছে যা নাপাকি পড়ার আগে পবিত্র ছিল, সুতরাং এই নাপাকিটি হবে আপতিত।
পক্ষান্তরে স্বকীয় নাপাকি (নাজাসাতে আইনিয়্যাহ) কখনো পবিত্র হয় না; পানিও একে পবিত্র করতে পারে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ولا غيره؛ كالكلب، فلو غُسِلَ سبع مرات إِحداهن بالتُّراب فإِنَّه لا يَطْهُر؛ لأنَّ عينَه نجسة.
وذهب بعض العلماء إِلى أنَّ النَّجاسة العينية إِذا استحالت طَهُرت
(1)؛ كما لو أوقد بالرَّوث فصار رماداً؛ فإِنه يكون طاهراً، وكما لو سقط الكلب في مملحة فصار ملحاً؛ فإنه يكون طاهراً، لأنَّه تحوَّلَ إِلى شيء آخر، والعين الأولى ذهبت، فهذا الكلب الذي كان لحماً وعظاماً ودماً، صار ملحاً، فالملح قضى على العين الأولى.
وَهُوَ الْبَاقِي على خِلْقَتِهِ، فَإِنْ تَغَيَّرَ بغير مُمَازجٍ كَقِطَع كَافُور ........قوله: «وهو الباقي على خلقته»، هذا تعريفُ الماء الطَّهور، وقد تقدم شرحُه.
قوله: «فإن تغيَّر بغير ممازجٍ كقطع كافور»، إن تغيَّر الماءُ بشيء لا يُمازجه كقطع الكافور؛ وهو نوع من الطِّيب يكون قِطعاً، ودقيقاً ناعماً غير قطع، فهذه القطع إذا وُضِعَت في الماء فإنَّها تُغيِّر طعمه ورائحته، ولكنها لا تمازجُه، أي: لا تُخالطه، أي: لا تذوب فيه، فإذا تغيَّر بهذا فإنه طَهُور مكروه.
فإن قيل: كيف يكون طهوراً وقد تغيَّر؟
فالجواب: إن هذا التغيُّر ليس عن ممازجة، ولكن عن مجاورة، فالماء هنا لم يتغير لأن هذه القطع مازجته، ولكن لأنها جاورته.
فإن قيل: لماذا يكون مكروهاً؟
--------------------------------------------
অন্য কিছুও নয়; যেমন কুকুর। সুতরাং যদি একে সাতবার ধৌত করা হয় যার মধ্যে একবার মাটি দিয়ে হয়, তবুও এটি পবিত্র হবে না; কারণ এর সত্তা অপবিত্র।
কোনো কোনো আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে, সত্তাগত অপবিত্রতা যদি রূপান্তরিত হয়, তবে তা পবিত্র হয়ে যায়
(১); যেমন যদি গোবর জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হয় এবং তা ছাইয়ে পরিণত হয়, তবে তা পবিত্র হবে। অনুরূপভাবে, যদি কোনো কুকুর লবণের খনিতে পড়ে লবণে পরিণত হয়, তবে তা পবিত্র হবে। কারণ এটি অন্য একটি বস্তুতে রূপান্তরিত হয়ে গেছে এবং পূর্বের সত্তা বিলুপ্ত হয়েছে। সুতরাং এই কুকুর যা ইতিপূর্বে গোশত, হাড় ও রক্ত ছিল, তা লবণে পরিণত হয়েছে; ফলে লবণ সেই পূর্ববর্তী সত্তাকে বিলুপ্ত করে দিয়েছে।
এবং তা যা তার মৌলিক প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট থাকে। সুতরাং যদি এমন কিছুর দ্বারা পরিবর্তিত হয় যা পানির সাথে মিশে যায় না, যেমন কর্পূরের টুকরো...লেখকের বক্তব্য: "এবং তা যা তার মৌলিক প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট থাকে", এটি পবিত্র ও পবিত্রকারী পানির সংজ্ঞা, যার ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
লেখকের বক্তব্য: "সুতরাং যদি এমন কিছুর দ্বারা পরিবর্তিত হয় যা পানির সাথে মিশে যায় না, যেমন কর্পূরের টুকরো", যদি পানি এমন কিছুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয় যা পানির সাথে মিশে যায় না, যেমন কর্পূরের টুকরো; এটি এক প্রকার সুগন্ধি যা খণ্ড আকারে থাকে আবার মিহি চূর্ণ হিসেবেও থাকে। এই টুকরোগুলো যখন পানিতে রাখা হয়, তখন তা পানির স্বাদ ও ঘ্রাণ পরিবর্তন করে দেয়, কিন্তু তা পানির সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে যায় না, অর্থাৎ এতে দ্রবীভূত হয় না। সুতরাং যদি এর দ্বারা পানির পরিবর্তন ঘটে, তবে তা পবিত্র ও পবিত্রকারী থাকবে কিন্তু তা ব্যবহার করা মাকরূহ।
যদি প্রশ্ন করা হয়: পানি পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ার পর কীভাবে তা পবিত্র ও পবিত্রকারী থাকে?
উত্তরে বলা হবে: এই পরিবর্তনটি সংমিশ্রণের কারণে নয়, বরং পাশাপাশি অবস্থানের কারণে। সুতরাং এখানে পানি পরিবর্তিত হয়েছে কারণ এই টুকরোগুলো তার সান্নিধ্যে ছিল, এগুলোর সংমিশ্রণের কারণে নয়।
যদি প্রশ্ন করা হয়: এটি কেন মাকরূহ হবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
فالجواب: لأن بعض العلماء يقول: إنه طاهر غير مطهِّر
(1). فيرون أن هذا التغيُّر يسلبه الطَّهوريَّةَ فصار التَّعليل بالخلاف، فمن أجل هذا الخلاف كُرِهَ.
والصَّواب: أن التَّعليل بالخلاف لا يصحُّ؛ لأنَّنا لو قُلنا به لكرهنا مسائل كثيرة في أبواب العلم، لكثرة الخلاف في المسائل العلمية، وهذا لا يستقيم.
فالتعليل بالخلاف ليس علَّة شرعية، ولا يُقبل التَّعليل بقولك: خروجاً من الخلاف؛ لأنَّ التَّعليل بالخروج من الخلاف هو التَّعليل بالخلاف. بل نقول: إن كان لهذا الخلاف حظٌّ من النَّظر، والأدلَّة تحتمله، فنكرهه؛ لا لأنَّ فيه خلافاً، ولكن لأنَّ الأدلَّة تحتمله، فيكون من باب «دَعْ ما يَرِيبُك إلى ما لا يَريبُك»
(2).
أما إذا كان الخلاف لا حَظَّ له من النَّظر فلا يُمكن أن نعلِّلَ به المسائل؛ ونأخذ منه حكماً.
فليس كلُّ خلافٍ جاء مُعتَبراً إِلا خلافٌ له حظٌّ من النَّظر
(3)--------------------------------------------
উত্তর হলো: কারণ কিছু আলেম বলেন যে, এটি পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়
(১)। তাঁরা মনে করেন যে, এই পরিবর্তন এর পবিত্র করার ক্ষমতা (তহুরিয়্যাত) হরণ করে। ফলে ইল্লাত বা যুক্তিটি মতভেদের ভিত্তিতে দাঁড়ালো; আর এই মতভেদের কারণেই এটি মাকরূহ সাব্যস্ত হয়েছে।
আর সঠিক কথা হলো: মতভেদের ভিত্তিতে ইল্লাত বা কারণ দর্শানো সঠিক নয়; কারণ আমরা যদি এটি গ্রহণ করি, তবে ইলমের বিভিন্ন অধ্যায়ের অসংখ্য মাসয়ালাকে মাকরূহ বলতে হবে, যেহেতু ইলমি মাসয়ালাগুলোতে মতভেদের প্রাচুর্য রয়েছে। আর এটি সুসংগত নয়।
সুতরাং মতভেদের ভিত্তিতে কারণ দর্শানো কোনো শরয়ী ইল্লাত নয়। আপনার এই কথাটিও ইল্লাত হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় যে: "মতভেদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য (এটি করা হয়েছে)"; কারণ মতভেদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার যুক্তি দেওয়া মূলত মতভেদের ভিত্তিতেই কারণ দর্শানো। বরং আমরা বলি: যদি এই মতভেদের পিছনে জোরালো কোনো ভিত্তি থাকে এবং দলিলসমূহ তার অবকাশ রাখে, তবে আমরা সেটাকে মাকরূহ মনে করি; সেটি সেখানে মতভেদ থাকার কারণে নয়, বরং দলিলসমূহ সেই সম্ভাব্যতা রাখে বলে। তখন এটি এই নীতির অন্তর্ভুক্ত হবে: "যা তোমাকে সন্দেহে নিপতিত করে তা বর্জন করে যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না তার দিকে ধাবিত হও"
(২)।
পক্ষান্তরে, যদি মতভেদের পিছনে কোনো জোরালো যুক্তি বা ভিত্তি না থাকে, তবে তার মাধ্যমে মাসয়ালার কারণ দর্শানো সম্ভব নয় এবং তা থেকে কোনো হুকুম বা বিধানও গ্রহণ করা যাবে না।
সুতরাং প্রতিটি মতভেদই গ্রহণযোগ্য নয়, কেবল সেই মতভেদ ছাড়া যার জোরালো ভিত্তি রয়েছে
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
لأن الأحكام لا تثبت إلاَّ بدليل، ومراعاة الخلاف ليست دليلاً شرعياً تثبتُ به الأحكامُ، فيقال: هذا مكروه، أو غير مكروه.
أو دُهْنٍ، أو بملْحٍ مَائِيٍّ، أوْ سُخِّن بنَجَسٍ كُره ............قوله: «أو دُهْنٍ»، معطوف على «غير ممازج» أو على «قطع كافور». مثاله: لو وضع إِنسان دُهْناً في ماء، وتغيَّر به، فإنه لا يسلبه الطَّهوريةَ، بل يبقى طَهوراً؛ لأن الدُّهن لا يمازج الماء فتجده طافياً على أعلاه، فتغيُّره به تغيُّر مجاورة لا ممازجة.
قوله: «أو بملح مائي»، وهو الذي يتكوَّن من الماء، فهذا الملح لو وضعتَ كِسْرةً منه في ماء، فإِنه يُصبح مالحاً، ويبقى طَهوراً مع الكراهة خروجاً من الخلاف
(1).
فإن قيل: لماذا لا تنسلب طَهوريته؟
فالجواب أن يقال: لأن هذا الملح أصله الماء.
والتَّعليل بالخلاف للكراهة قد تقدَّم الكلام عليه.
وعُلِم من قوله: «مائي» أنَّه لو تغيَّر بملح معدني يُستخرَجُ من الأرض فإنه يسلبه الطَهوريَّةَ على المذهب، فيكون طاهراً غير مطهِّر.
قوله: «أو سُخِّن بنَجَسٍ كُرِه»؛ أي: إِذا سُخِّن الماءُ بنجَسٍ تَغيَّر أو لم يتغيَّر فإِنه يُكره.
مثاله: لو جمع رجلٌ روث حمير، وسخَّن به الماء فإِنه
--------------------------------------------
কারণ দলিল ব্যতীত কোনো বিধান সাব্যস্ত হয় না, আর মতপার্থক্য বিবেচনা করা কোনো শরয়ি দলিল নয় যার মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত করা যায় এবং বলা যায় যে, এটি মাকরূহ বা মাকরূহ নয়।
অথবা তেল, কিংবা পানিজাত লবণ দ্বারা, অথবা অপবিত্র বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা হলে তা মাকরূহ হবে...তাঁর বক্তব্য: «অথবা তেল», এটি «অমিশ্রিত» অথবা «কর্পূরের টুকরো» এর ওপর সংযুক্ত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো ব্যক্তি পানিতে তেল রাখে এবং এর কারণে পানির পরিবর্তন ঘটে, তবে এটি তার পবিত্রতা প্রদানকারী গুণকে ছিনিয়ে নেয় না, বরং তা পবিত্রতা প্রদানকারী হিসেবেই অবশিষ্ট থাকে; কারণ তেল পানির সাথে মিশ্রিত হয় না, ফলে আপনি একে পানির উপরিভাগে ভাসমান পাবেন। সুতরাং এর মাধ্যমে পরিবর্তন হওয়াটা হলো কেবল সান্নিধ্যজনিত পরিবর্তন, মিশ্রণজনিত নয়।
তাঁর বক্তব্য: «অথবা পানিজাত লবণ দ্বারা», যা পানি থেকেই তৈরি হয়। সুতরাং এই লবণের একটি টুকরো যদি আপনি পানিতে রাখেন, তবে তা লোনা হয়ে যাবে এবং মতভেদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে তা মাকরূহ হওয়া সত্ত্বেও পবিত্রতা প্রদানকারী হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে
(১)।
যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন এর পবিত্রতা প্রদানকারী গুণ অপসারিত হয় না?
তবে উত্তরে বলা হবে: কারণ এই লবণের উৎস হলো পানি।
আর মতভেদের কারণে মাকরূহ হওয়ার কারণ দর্শানোর বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
তাঁর «পানিজাত» উক্তি থেকে এটি জানা গেল যে, যদি মাটি থেকে উত্তোলিত খনিজ লবণ দ্বারা পানির পরিবর্তন ঘটে, তবে মাযহাব অনুযায়ী তা পানির পবিত্রতা প্রদানকারী গুণকে ছিনিয়ে নেবে, ফলে তা পবিত্র হবে কিন্তু পবিত্রতা প্রদানকারী হবে না।
তাঁর বক্তব্য: «অথবা অপবিত্র বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা হলে তা মাকরূহ হবে»; অর্থাৎ যখন পানি কোনো অপবিত্র বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা হয়, চাই তার পরিবর্তন ঘটুক বা না ঘটুক, তা মাকরূহ হবে।
উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো ব্যক্তি গাধার বিষ্ঠা সংগ্রহ করে তা দিয়ে পানি উত্তপ্ত করে, তবে তা...
--------------------------------------------