(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: -)
النحو الوافي   (عباس حسن)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: النحو الوافي

المؤلف: عباس حسن (ت 1398هـ)

الناشر: دار المعارف

الطبعة: الطبعة الخامسة عشرة

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আন-নাহু আল-ওয়াফি   (আব্বাস হাসান)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: আন-নাহু আল-ওয়াফি

লেখক: আব্বাস হাসান (মৃত্যু ১৩৯৮ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল মাআরিফ

সংস্করণ: পঞ্চদশ সংস্করণ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে মিল রয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌المجلد الأول

‌‌مقدمة

 

النصوص الواردة في "كتاب النحوالوافي/ عباس حسن" ضمن الموضوع "مقدمة الكتاب"

مقدمة الكتاب، ودُستور تأليفه.

بيان هامّ.

1- الحمد لله على ما أنعم، والشكر على ما أوْلَى، والصلاة على أنبيائه ورسله؛ دعاة الهدى، ومصابيح الرشاد. وبعد.

فهذا كتاب جديد فى النحو. والنحو- كما وصفته من قبل1 - دعامة العلوم العربية، وقانونها الأعلى؛ منه تستمد العون، وتستلهم القصد، وترجع إليه فى جليل مسائلها، وفروع تشريعها؛ ولن تجد علماً منها يستقل بنفسه عن النحو، أويستغنى عن معونته، أويسير بغير نوره وهداه.

وهذه العلوم النقلية - على عظيم شأنها - لا سبيل إلى استخلاص حقائقها، والنفاذ إلى أسرارها، بغير هذا العلم الخطير؛ فهل ندرك كلام الله تعالى، ونفهم دقائق التفسير، وأحاديث الرسول عليه السلام، وأصول العقائد، وأدلة الأحكام، وما يتبع ذلك من مسائل فقهية، وبحوث شرعية مختلفة قد ترْقى بصاحبها إلى مراتب الإمامة، وتسموبه إلى منازل المجتهدين - إلا بإلهام النحووإرشاده؟ ولأمرٍ ما قالوا: "إن الأئمة من السلف والخلف أجمعوا قاطبة على أنه شرْط فى رتبة الاجتهاد، وأن المجتهد لوجمع كل العلوم لم يبلغ رتبة الاجتهاد حتى يعلم النحو، فيعرف به المعانى التى لا سبيل لمعرفتها بغيره. فرتبة الاجتهاد متوقفة عليه، لا تتم إلا به2 … ".

وهذه اللغة التى نتخذها - معاشر المستعربين - أداة طَيِّعة للتفاهم، ونسخرها مركبًا ذلولا للإبانة عن أغراضنا، والكشف عما فى نفوسنا، ما الذى هيأها لنا، وأقدرنا على استخدامها قدرة الأولين من العرب عليها، ومَكَّن لنا من نظمها

--------------------------------------------

1 في كتاب المسمى: "رأي في بعض الأصول اللغوية والنحوية".

2 الفصل الحادي عشر - باختصار - من كتاب: "لمع الأدلة، في أصول النحو" لأبي البركات كمال الدين بن محمد الأنباري، المتوفي سنة 577 هـ.
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা

 

“আন-নাহবুল ওয়াফি / আব্বাস হাসান” গ্রন্থের “গ্রন্থের ভূমিকা” বিষয়ের অন্তর্গত পাঠসমূহ

গ্রন্থের ভূমিকা এবং এর রচনার মূলনীতি।

গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য।

১- সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি যা নেয়ামত দান করেছেন তার ওপর; এবং সকল কৃতজ্ঞতা তাঁর জন্য, তিনি যা প্রদান করেছেন তার ওপর। সালাত বর্ষিত হোক তাঁর নবী ও রাসূলগণের প্রতি; যাঁরা হেদায়েতের আহ্বানকারী এবং সঠিক পথের প্রদীপ। অতঃপর।

এটি নাহু (আরবি ব্যাকরণ) শাস্ত্রের একটি নতুন গ্রন্থ। আর নাহু—যেমনটি আমি পূর্বে বর্ণনা করেছি ১—তা হলো আরবি জ্ঞানবিজ্ঞানের স্তম্ভ এবং এর সর্বোচ্চ মূলনীতি; এটি থেকেই সাহায্য গ্রহণ করা হয়, এর থেকেই উদ্দেশ্য আহরণ করা হয় এবং এর বড় বড় মাসআলা ও শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হয়। আপনি এই জ্ঞানসমূহের মধ্যে এমন কোনো জ্ঞান পাবেন না যা নাহু থেকে স্বতন্ত্র হতে পারে, অথবা এর সাহায্য থেকে বিমুখ থাকতে পারে, কিংবা এর আলো ও পথনির্দেশনা ব্যতিরেকে চলতে পারে।

আর এই নকলি (প্রথাগত/শরয়ী) জ্ঞানসমূহ—তাদের সুউচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও—সেগুলোর হাকিকত বা বাস্তবতা উদ্ধার করা এবং সেগুলোর রহস্যের গভীরে প্রবেশ করার কোনো উপায় নেই এই গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানটি ছাড়া। আমরা কি আল্লাহর কালাম উপলব্ধি করতে পারি, তাফসিরের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ বুঝতে পারি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ, আকিদার মূলনীতিসমূহ, বিধানের দলিলসমূহ এবং এর অনুগামী ফিকহী মাসআলা ও বিভিন্ন শরয়ী গবেষণা—যা তার অধিকারীকে ইমামতের স্তরে উন্নীত করতে পারে এবং তাকে মুজতাহিদদের মর্যাদায় আসীন করতে পারে—তা কি নাহুর অনুপ্রেরণা ও নির্দেশনা ছাড়া সম্ভব? এক বিশেষ কারণেই তাঁরা বলেছেন: “নিশ্চয়ই সালাফ ও খালাফদের (পূর্বসূরি ও উত্তরসূরি) মধ্য হতে ইমামগণ সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছেন যে, এটি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানোর জন্য একটি শর্ত। একজন মুজতাহিদ যদি সকল জ্ঞানও অর্জন করেন, তবুও তিনি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছাতে পারবেন না যতক্ষণ না তিনি নাহু জানবেন, যার মাধ্যমে তিনি সেই সব অর্থ বুঝতে পারবেন যা এটি ছাড়া জানার কোনো পথ নেই। সুতরাং ইজতিহাদের মর্যাদা এর ওপর নির্ভরশীল, এটি ছাড়া তা পূর্ণতা পায় না ২ … ”।

আর এই ভাষা যাকে আমরা—আরব অনুসারী সম্প্রদায়—পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য একটি সহজ হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করি এবং আমাদের উদ্দেশ্যসমূহ ব্যক্ত করার ও আমাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য একটি অনুগত বাহন হিসেবে ব্যবহার করি; কোন বিষয়টি একে আমাদের জন্য সুগম করেছে এবং একে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরবদের পূর্বপুরুষদের মতো আমাদের সক্ষম করে তুলেছে এবং এর বিন্যাসকে আমাদের জন্য সহজসাধ্য করেছে?

--------------------------------------------

১ আমার রচিত গ্রন্থ: “রা’ইউন ফী বা’দিল উসুলিল লুগাওয়িইয়া ওয়ান নাহউইয়্যাহ”।

২ আবুল বারাকাত কামালুদ্দীন ইবনে মুহাম্মদ আল-আনবারি (মৃত্যু ৫৭৭ হিজরি) রচিত “লুমাউল আদিল্লাহ ফি উসুলিন নাহু” গ্রন্থের একাদশ অধ্যায় হতে সংক্ষেপে।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২)
ونثرها تمكنهم منها، وأطلق لساننا فى العصور المختلفة صحيحًا فصيحًا كما أطلق لسانهم، وأجرى كلامنا فى حدود مضبوطة سليمة كالتى يجرى فيها كلامهم، وإن كان ذلك منهم طبيعة، ومنا تطبعًا؟

إنه: "النحو"؛ وسيلة المستعرب، وسلاح اللغوى، وعماد البلاغىّ، وأداة المشرّع والمجتهد، والمدخل إلى العلوم العربية والإسلامية جميعًا.

فليس عجيباً أن يصفه الأعلام السابقون بأنه: "ميزان العربية، والقانون الذى تُحكَم به فى كل صورة من صورها"1 وأن يفرغ له العباقرة من أسلافنا؛ يجمعون أصوله، ويثبتون قواعده، ويرفعون بنيانه شامخًا، ركينًا، فى إخلاص نادر، وصبر لا ينفد. ولقد كان الزمان يجري عليهم بما يجري على غيرهم؛ من مرض، وضعف، وفقر؛ فلا يقدر على انتزاعهم مما هم فيه، كما كان يقدر على سواهم، ولا ينجح فى إغرائهم بمباهج الحياة كما كان ينجح فى إغراء ضعاف العزائم، ومرضى النفوس، من طلاب المغانم، ورواد المطامع. ولقد يترقبهم أولياؤهم وأهلوهم الساعات الطوال، بل قد يترصدهم الموت؛ فلا يقع عليهم إلا فى حلقة درس، أوقاعة بحث، أوجِلسة تأليف، أوميدان مناظرة، أورحلة مُخْطرة فى طلب النحو. وهوحين يظفر بهم لا ينتزع علمهم معهم؛ ولا يذهب بآثارهم بذهاب أرواحهم؛ إذ كانوا يُعِدون لهذا اليوم عُدته من قبل؛ فيدونون بحوثهم، ويسجلون قواعدهم، ويختارون خلفاء من تلاميذهم؛ يهيئونهم لهذا الأمر العظيم. ويشرفون على تنشئتهم، وتعهد مواهبهم؛ إشراف الأستاذ البارع القدير على التلميذ الوفىّ الأمين. حتى إذا جاء أجلهم ودّعوا الدنيا بنفس مطمئنة، واثقة أن ميدان الإنشاء والتعمير النحوى لم يخل من فرسانه، وأنهم خلَّفوا وراءهم خلفًا صالحًا يسير على الدرب، ويحتذى المثال. وربما كان أسعد حظًّا وأوفر نجحًا من سابقيه، وأسرع إدراكًا لما لم يدركه الأوائل.

على هذا المنهج الرفيع تعاقبت طوائف النحاة، وتوالت زمرهم فى ميدانه، وتلقى الراية نابغ عن نابغ، وألمعىّ فى إثر ألمعىّ، وتسابقوا مخلصين دائبين. فرادى وزَرافات، فى إقامة صرحه، وتشييد أركانه، فأقاموه سامق البناء، وطيد

--------------------------------------------

1 صبح الأعشى.
এবং তিনি সেগুলোকে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের তা আয়ত্ত করার সক্ষমতা দান করেছেন। তিনি বিভিন্ন যুগে আমাদের জিহ্বাকে সেভাবে শুদ্ধ ও প্রাঞ্জল করেছেন যেভাবে তাদের জিহ্বাকে করেছিলেন। তিনি আমাদের কথাকে এমন সুনিয়ন্ত্রিত ও ত্রুটিমুক্ত সীমার মধ্যে পরিচালিত করেছেন যেমনটি তাদের কথা পরিচালিত হতো; যদিও তাদের ক্ষেত্রে তা ছিল প্রকৃতিজাত আর আমাদের ক্ষেত্রে তা ছিল অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জিত।

নিশ্চয়ই তা হলো: "নাহু" (ব্যাকরণ); যা আরবি ভাষা অন্বেষণকারীর মাধ্যম, ভাষাবিদের অস্ত্র, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদের স্তম্ভ, বিধানপ্রণেতা ও মুজতাহিদের হাতিয়ার এবং সমস্ত আরবি ও ইসলামি বিজ্ঞানে প্রবেশের দ্বার।

তাই এটি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, পূর্বসূরি বরেণ্য মনীষীগণ একে বর্ণনা করেছেন এই বলে যে: "এটি হলো আরবি ভাষার মানদণ্ড এবং এমন এক বিধান যার মাধ্যমে ভাষার প্রতিটি রূপ নিয়ন্ত্রিত হয়।" ১ এবং আরও আশ্চর্যের নয় যে, আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্য থেকে প্রতিভাবান ব্যক্তিগণ নিজেদের এর জন্য উৎসর্গ করেছেন; তারা এর মূলনীতিসমূহ সংকলন করেছেন, এর নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং এক বিরল নিষ্ঠা ও অফুরন্ত ধৈর্যের সাথে এর ইমারতকে সুউচ্চ ও সুদৃঢ়ভাবে গড়ে তুলেছেন। কালচক্র অন্যদের মতো তাদের ওপর দিয়েও প্রবাহিত হয়েছে—অসুস্থতা, দুর্বলতা ও দারিদ্র্যের মাধ্যমে; কিন্তু তা তাদের সেই সাধনা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি যা অন্যদের ক্ষেত্রে পেরেছিল। পার্থিব জীবনের চাকচিক্য দিয়ে তাদের প্রলুব্ধ করতেও তা সফল হয়নি, যেমনটি সফল হয়েছিল দুর্বল সংকল্পের অধিকারী এবং জাগতিক সম্পদ ও লোভের অন্বেষী ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের অধিকারীদের ক্ষেত্রে। তাদের হিতাকাঙ্ক্ষী ও পরিবার-পরিজন দীর্ঘ সময় ধরে তাদের অপেক্ষায় থাকত, এমনকি মৃত্যুও তাদের ওত পেতে থাকত; অথচ মৃত্যু তাদের নাগাল পেত কেবল দরসের মজলিসে, গবেষণার কক্ষে, গ্রন্থ রচনার আসরে, বিতর্কের ময়দানে অথবা নাহু অন্বেষণে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সফরে। মৃত্যু যখন তাদের ওপর জয়ী হতো, তখন সে তাদের সাথে তাদের জ্ঞানকেও কেড়ে নিতে পারত না; তাদের আত্মা চলে যাওয়ার সাথে তাদের কীর্তিগুলোও বিলীন হতো না। কারণ তারা আগে থেকেই এই দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন; তারা তাদের গবেষণালব্ধ বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করতেন, নিয়মাবলি নথিবদ্ধ করতেন এবং তাদের ছাত্রদের মধ্য থেকে উত্তরসূরি নির্বাচন করতেন, যাদের তারা এই মহান কাজের জন্য প্রস্তুত করে যেতেন। একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক যেভাবে একজন অনুগত ও বিশ্বস্ত ছাত্রের লালন-পালন ও প্রতিভার তদারকি করেন, তারাও সেভাবেই তাদের গড়ে তুলতেন। অবশেষে যখন তাদের অন্তিম সময় উপস্থিত হতো, তখন তারা এক প্রশান্ত চিত্তে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতেন। তারা এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেতেন যে, নাহু শাস্ত্রের বিনির্মাণ ও সংস্কারের ময়দান অশ্বারোহী শূন্য হয়নি এবং তারা পেছনে এমন যোগ্য উত্তরসূরি রেখে যাচ্ছেন যারা একই পথে চলবে এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। আর সম্ভবত সেই উত্তরসূরি তার পূর্বসূরিদের চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবান ও সফল হবে এবং পূর্ববর্তীরা যা উপলব্ধি করতে পারেননি তা দ্রুত উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে।

এই উচ্চতর মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই বৈয়াকরণদের দলগুলো একের পর এক এসেছে এবং এই ময়দানে তাদের কাফেলা অব্যাহত থেকেছে। এক মেধাবীর কাছ থেকে অন্য মেধাবী ঝাণ্ডা গ্রহণ করেছে এবং এক প্রতিভাশালীর পর অন্য প্রতিভাশালী আগমন করেছে। তারা একা এবং দলগতভাবে এর প্রাসাদ নির্মাণ ও স্তম্ভগুলো সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একনিষ্ঠভাবে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রতিযোগিতা করেছে। ফলে তারা একে এক সুউচ্চ ও সুদৃঢ় কাঠামো হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

--------------------------------------------

১ সুবহুল আ’শা।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ৩)
الدعامة، مكين الأساس. حتى وصل إلى أهل العصور الحديثة التى يسمونها: "عصور النهضة"، راسخًا، قويًّا؛ من فرط ما اعتنى به الأسلاف، ووجهوا إليه من بالغ الرعاية؛ فاستحقوا منا عظيم التقدير، وخالد الثناء. وحملوا كثيرًا من علماء اللغة الأجانب على الاعتراف بفضلهم، والإشادة ببراعتهم1 …

هذه كلمة حق يقتضينا الإنصاف أن نسجلها؛ لننسب الفضل لروّاده، وإلا كنَّا من عصبة الجاحدين، الجاهلين، أوالمغرورين.

2- وليس من شك أن التراث النحوى الذى تركه أسلافنا نفيس غاية النفاسة، وأن الجهد الناجح الذى بذلوه فيه خلال الأزمان المتعاقبة جهد لم يهيأ للكثير من العلوم المختلفة فى عصورها القديمة والحديثة، ولا يقدر على احتمال بعضه حشود من الثرثارين العاجزين، الذين يوارون عجزهم وقصورهم - عَلِمَ الله - بغمز "النحو والصرف" بغير حق، وطعن أئمته الأفذاذ.

بيد أن "النحو"- كسائر العلوم - تنشأ ضعيفة، ثم تأخذ طريقها إلى النمو، والقوة والاستكمال بخطا وئيدة أوسريعة؛ على حسب ما يحيط بها من صروف وشئون. ثم يتناولها الزمان بأحداثه؛ فيدفعها إلى التقدم، والنمو، والتشكل بما يلائم البيئة، فتظل الحاجة إليها شديدة، والرغبة فيها قوية. وقد يعوّقها ويحول بينها وبين التطور، فيضعف الميل إليها، وتفتر الرغبة فيها. وقد يشتط فى مقاومتها؛ فيرمى بها إلى الوراء، فتصبح فى عداد المهملات، أوتكاد.

وقد خضع النحوالعربى لهذا الناموس الطبيعى2؛ فولد فى القرن الأول الهجرى ضعيفا، وحَبَا وئيدًا أول القرن الثانى، وشب -بالرغم من شوائب

--------------------------------------------

1 من ذلك ما قاله العلامة الكبير: "دي بور" في كتابه: تاريخ الفلسفة في الإسلام، ونصه - كما جاء في ترجمة الدكتور محمد أبو ريدة، ص 4-:

"علم النحو أثر رائع من آثار العقل العربي، بما له من دقة في الملاحظة، ومن نشاط في جمع ما تفرق. وهو أثر عظيم يرغم الناظر فيه على تقديره، ويحق للعرب أن يفخروا به."

2 هذا النسب صحيح.
ভিত্তিপ্রস্তর, সুদৃঢ় বুনিয়াদ। এমনকি এটি আধুনিক যুগের মানুষের কাছে পৌঁছেছে—যাকে তারা "রেনেসাঁ যুগ" বলে অভিহিত করে—অত্যন্ত সুসংহত ও শক্তিশালী রূপে; পূর্বসূরিরা এর প্রতি যে চরম যত্ন এবং প্রগাঢ় মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন তারই আধিক্যের কারণে। ফলে তারা আমাদের পক্ষ থেকে মহান শ্রদ্ধা এবং চিরন্তন প্রশংসার যোগ্য হয়েছেন। তারা অনেক বিদেশি ভাষাতত্ত্ববিদকেও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে এবং তাদের নৈপুণ্যের গুণগান গাইতে বাধ্য করেছেন ১ …

এটি একটি সত্য কথা যা ইনসাফ রক্ষার খাতিরে আমাদের নথিভুক্ত করা আবশ্যক; যাতে আমরা এর পথপ্রদর্শকদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করতে পারি, নতুবা আমরা অকৃতজ্ঞ, অজ্ঞ অথবা অহংকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।

২- এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের পূর্বসূরিগণ ব্যাকরণের যে ঐতিহ্য রেখে গেছেন তা অত্যন্ত মূল্যবান। উত্তরোত্তর যুগজুড়ে তারা এতে যে সফল পরিশ্রম করেছেন, তা প্রাচীন ও আধুনিক কালের বহু বিচিত্র বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও সম্ভব হয়নি। একদল অক্ষম বাচাল, যারা তাদের অক্ষমতা ও ত্রুটি গোপন করার জন্য—আল্লাহ ভালো জানেন—অন্যায়ভাবে "নাহু ও সরফ" (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)-কে বিদ্রূপ করে এবং এর অনন্য ইমামদের নিন্দা করে, তারা এই পরিশ্রমের সামান্য অংশও বহন করার ক্ষমতা রাখে না।

তবে "নাহু" বা ব্যাকরণ—অন্যান্য বিজ্ঞানের মতো—দুর্বলভাবে উৎপন্ন হয়, তারপর পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও ঘটনাবলির ওপর ভিত্তি করে ধীর বা দ্রুত পদক্ষেপে বৃদ্ধি, শক্তি ও পূর্ণতার পথে অগ্রসর হয়। এরপর কাল তার ঘটনাবলি দিয়ে একে স্পর্শ করে; ফলে একে অগ্রগতির দিকে ঠেলে দেয়, বৃদ্ধি পায় এবং পরিবেশের উপযোগী রূপ ধারণ করে, যার ফলে এর প্রয়োজনীয়তা তীব্র এবং এর প্রতি আগ্রহ প্রবল থাকে। আবার কখনও কাল একে বাধাগ্রস্ত করে এবং এর বিবর্তনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, ফলে এর প্রতি আকর্ষণ কমে যায় এবং আগ্রহ শিথিল হয়ে পড়ে। এমনকি কখনও বিরোধিতায় চরম সীমা লঙ্ঘন করে একে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়, ফলে এটি পরিত্যক্তের তালিকায় গণ্য হয় অথবা প্রায় তেমনই হয়ে পড়ে।

আরবি ব্যাকরণ এই প্রাকৃতিক নিয়মেরই অনুবর্তী হয়েছে ২; ফলে এটি প্রথম হিজরি শতাব্দীতে দুর্বল অবস্থায় জন্মলাভ করে, দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে ধীরে ধীরে হামাগুড়ি দেয় এবং বড় হতে থাকে—নানা ত্রুটি সত্ত্বেও

--------------------------------------------

১ এর মধ্যে রয়েছে যা প্রখ্যাত পণ্ডিত "ডি বোর" তার 'ইসলামে দর্শনের ইতিহাস' গ্রন্থে বলেছেন, যার পাঠ—ডক্টর মুহাম্মদ আবু রিদাহ-র অনুবাদ অনুযায়ী, পৃ. ৪—হলো:

"নাহু শাস্ত্র বা ব্যাকরণ বিজ্ঞান হলো আরবি মেধার এক চমৎকার নিদর্শন, যার রয়েছে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্রিত করার সক্রিয়তা। এটি এমন এক মহান নিদর্শন যা পর্যালোচনাকারীকে এর কদর করতে বাধ্য করে এবং আরবদের অধিকার রয়েছে এটি নিয়ে গর্ব করার।"

২ এই সূত্রটি সঠিক।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ৪)
خالطته- وبلغ الفتَاء آخر ذلك القرن، وسنوات من الثالث، فلمع من أئمته نجوم زاهرة؛ كعبد الله بن أبى إسحاق، والخليل، وأبى زيد، وسيبويه، والكسائى، والفراء، ونظرائهم من الأعلام، ثم توالت أخلافهم، على تفاوت فى المنهج، وتخالف فى المادة، إلى عصر النهضة الحديثة التى يجرى اسمها على الألسنة اليوم، ويتخذون مطلع القرن التاسع عشر مبدأ لها. فمن هذا المبدأ ألَحَّ الوهن والضعف، على "النحو"، وتمالأت عليه الأحداث؛ فأظهرت من عيبه ما كان مستورًا، وأثقلت من حمله ما كان خِفًّا، وزاحمته العلوم العصرية فقهرته، وخلفتْه وراءها مبهورًا. ونظر الناس إليه فإذا هو فى الساقة من علوم الحياة، وإذا أوقاتهم لا تتسع للكثير بل للقليل مما حواه، وإذا شوائبه التى برزت بعد كمون، ووضحت بعد خفاء - تزهدهم فيه، وتزيدهم نفارًا منه، وإذا النفار والزهد يكران على العيوب؛ فيحيلان الضئيل منها ضخمًا، والقليل كثيرًا، والموهوم واقعًا. وإذا معاهد العلم الحديث تزوَرّ عنه، وتجهر بعجزها عن استيعابه، واستغنائها عن أكثره، وتقنع منه باليسير أوما دون اليسير؛ فيستكين ويخنع.

والحق أن "النحو" منذ نشأته داخلته - كما قلنا - شوائب؛ نمت على مر الليالى، وتغلغلت برعاية الصروف، وغفلة الحراس؛ فشوهت جماله، وأضعفت شأنه، وانتهت به إلى ما نرى.

فلم يبق بد أن تمتد إليه الأيدى البارّة القوية، متمالئة فى تخليصه مما شابه، متعاونة على إنقاذه مما أصابه. وأن تبادر إليه النفوس الوفية للغتها وتراثها؛ المعتزة بحاضرها وماضيها؛ فتبذل فى سبيل إنهاضه، وحياطته، وإعلاء شأنه، ما لا غاية بعده لمستزيد.

ومن كريم الاستجابة أن رأينا فى عصرنا هذا -طوائف من تلك النفوس البارّة الوفية سارعت إلى النجدة؛ كُلٌّ بما استطاع، وبما هوميسر له؛ فمنهم من ذلل للناشئة لغته، أواختصر قاعدته، أوأوضح طريقة تدريسه، أوأراحهم من مصنوع العِلل، وضارّ الخلاف، أوجمع بين مزيتين أوأكثر من هذه المزايا الجليلة الشأن. لكنا -على الرغم من ذلك- لم نرَ من تصدى للشوائب كلها أوأكثرها؛ ينتزعها من مكانها، ويجهز عليها ما وسعته القدرة، ومكنته الوسيلة؛
এটি তার সাথে সংমিশ্রিত হলো- এবং সেই শতাব্দীর শেষভাগে এবং তৃতীয় শতাব্দীর প্রাথমিক বছরগুলোতে তার পূর্ণ যৌবন বিকশিত হলো। তখন তার ইমামগণের মধ্য হতে প্রোজ্জ্বল নক্ষত্ররা উদিত হলেন; যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক, খলিল, আবু যায়েদ, সিবওয়াইহ, কিসায়ি, ফাররা এবং তাদের সমপর্যায়ের প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গ। এরপর তাদের উত্তরসূরিরা আসলেন, পদ্ধতির ভিন্নতা এবং উপাদানের বৈচিত্র্য নিয়ে, বর্তমানের আধুনিক রেনেসাঁ যুগ পর্যন্ত যার নাম আজ মুখে মুখে ফেরে। তারা উনবিংশ শতাব্দীর শুরুকে এর প্রারম্ভ হিসেবে গণ্য করেন। এই প্রারম্ভকাল থেকেই 'নাহু' (ব্যাকরণ)-এর ওপর দুর্বলতা ও শিথিলতা জেঁকে বসেছে এবং ঘটনাবলি তার প্রতিকূলে সমবেত হয়েছে। ফলে তা তার সেই দোষগুলোকে প্রকাশ করে দিয়েছে যা এতদিন ঢাকা ছিল এবং তার যে বোঝা হালকা ছিল তাকে ভারী করে তুলেছে। আধুনিক বিজ্ঞানসমূহ তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাকে পরাজিত করেছে এবং তাকে হতভম্ব অবস্থায় পিছনে ফেলে গিয়েছে। মানুষ যখন এর দিকে তাকাল, তখন দেখল এটি জীবনমুখী বিজ্ঞানসমূহের সারির একেবারে শেষে পড়ে আছে। তাদের সময় এতে থাকা অধিকাংশ বিষয়ের জন্য তো নয়ই, বরং সামান্য অংশের জন্যও সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এর যে ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সুপ্ত থাকার পর প্রকাশ পেয়েছে এবং অস্পষ্ট থাকার পর স্পষ্ট হয়েছে, তা মানুষকে এর প্রতি বিমুখ করেছে এবং তাদের বিতৃষ্ণাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিতৃষ্ণা ও অনীহা দোষত্রুটির ওপর এমনভাবে জেঁকে বসেছে যে, তা সামান্য ত্রুটিটিকে বিশালাকার, অল্পকে অনেক এবং কাল্পনিককে বাস্তবে রূপান্তর করছে। আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এবং একে আয়ত্ত করতে তাদের অক্ষমতা ও এর অধিকাংশ বিষয় থেকে তাদের অমুখাপেক্ষিতার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে। তারা যৎসামান্য বা তার চেয়েও কম নিয়েই সন্তুষ্ট থাকছে; ফলে তা হীনবল ও নতি স্বীকার করছে।

সত্য কথা এই যে, 'নাহু' তার উৎপত্তিকাল থেকেই - যেমনটি আমরা বলেছি - কিছু ত্রুটির সংমিশ্রণ ঘটেছিল; যা কালের আবর্তে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিস্থিতির আনুকূল্যে ও পাহারাদারদের অসতর্কতায় ভেতরে প্রবেশ করেছে। ফলে তা এর সৌন্দর্যকে বিকৃত করেছে, এর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং একে সেই অবস্থায় নিয়ে ঠেকিয়েছে যা আমরা আজ দেখছি।

অতএব, এখন সৎ ও শক্তিশালী হাতগুলো এর দিকে প্রসারিত হওয়া ব্যতিরেকে আর কোনো গত্যন্তর নেই, যারা একে কলুষতা থেকে মুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ হবে এবং এর ওপর আপতিত বিপদ থেকে উদ্ধারে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। আর তাদের এগিয়ে আসা উচিত যারা তাদের ভাষা ও ঐতিহ্যের প্রতি অনুগত এবং নিজেদের বর্তমান ও অতীত নিয়ে গর্বিত; তারা যেন একে পুনরুজ্জীবিত করতে, হেফজত করতে এবং এর মর্যাদা সমুন্নত করতে এমন প্রচেষ্টা ব্যয় করে যার ঊর্ধ্বে আর কোনো আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে না।

এটি অত্যন্ত চমৎকার সাড়া যে আমরা আমাদের এই যুগে সেই সৎ ও অনুগত ব্যক্তিদের একদলকে দেখেছি যারা সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন; প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য ও সহজলভ্য উপায় অনুযায়ী। তাদের মধ্যে কেউ নতুন প্রজন্মের জন্য ভাষাকে সহজ করেছেন, কেউ এর নিয়মাবলি সংক্ষিপ্ত করেছেন, কেউ পাঠদান পদ্ধতি স্পষ্ট করেছেন, আবার কেউ কৃত্রিম তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও ক্ষতিকর মতবিরোধ থেকে তাদের রেহাই দিয়েছেন, অথবা এই মহৎ বৈশিষ্ট্যগুলোর দুই বা ততোধিক সমন্বয় ঘটিয়েছেন। কিন্তু এতৎসত্ত্বেও আমরা কাউকে দেখিনি যিনি সমস্ত বা অধিকাংশ ত্রুটির মোকাবিলা করেছেন; যা তাকে স্বস্থান থেকে উপড়ে ফেলবে এবং সামর্থ্য ও উপায় অনুযায়ী তাকে সমূলে নির্মূল করবে।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ৫)
فيربح المعلمين والمتعلمين من أوزارها. وهذا ما حاولته جاهدًا مخلصًا قدر استطاعتى، فقد مددت يدى لهذه المهمة الجليلة، وتقدمت لها رابط الجأش، وجمعت لها أشهر مراجعها الأصيلة، ومظانها الوافية الوثيقة، وضممت إليها ما ظهر فى عصرنا من كتب، وأطلت الوقوف عند هذه وتلك؛ أديم النظر، وأجيل الفكر، وأعتصر أطيب ما فيهما حتى انتهيت إلى خطة جديدة؛ تجمع مزاياهما، وتسلم من شوائبهما، وقمت على تحقيقها فى هذا الكتاب متأنيًا صبورًا. ولا أدري مبلغ توفيقي. ولكن الذى أدريه أني لم أدخر جهدًا، ولا إخلاصًا.

إن تلك الشوائب كثيرة، ومن حق "النحو" علينا -ونحن بصدد إخراج كتاب جديد فيه- أن نعرضها هنا، ونسجل سماتها، ونفصل ما اتخذناه لتدارك أمرها. وهذا كله -وأكثر منه- قد عرضنا له فى رسالة سابقة نشرناها منذ سنوات بعنوان: "رأى فى بعض الأصول اللغوية والنحوية"، ثم أتممناها بمقالات عشر؛ نشرت تباعًا فى مجلة "رسالة الإسلام"، خلال سنتى 1957، 1958م وجاوزت صفحاتها المائة. وقد جعلت من هذه وتلك، ولمحات غيرهما، مقدمة لهذا الكتاب ستنشر مستقلة؛ بسبب طولها، وكثرة ما اشتملت عليه -فى رسالة عنوانها: "مقدمة كتاب النحو الوافى" وهى اليوم فى طريقها للنشر على أن هذا لا يعفينى من الإشارة العابرة إلى الدستور الذى قام عليه الكتاب، والغرض الذى رميت من تأليفه، مستعينًا بخبرة طويلة ناجعة، وتجربة صادقة فى تعليم النحو؛ طالبًا مستوعبًا، ثم تعليمه فى مختلف المعاهد الحكومية مدرسًا، فأستاذًا ورئيسًا لقسم النحووالصرف والعروض بكلية "دار العلوم"، بجامعة "القاهرة"، سنوات طوالًا.

3- وأظهر مواد ذلك الدستور ما يأتي:

1- تجميع مادة "النحو" كله فى كتاب واحد ذي أجزاء أربعة كبار، تحوي صفحاتها وما تضمنته من مسائل كل ما تفرق فى أمهات الكتب، وتغني عنها. على أن يقسم كل جزء قسمين، تقسيمًا فنيًّا بارعًا. أحدهما موجز دقيق يناسب طلاب الدراسات "النحوية والصرفية"، بالجامعات -دون غيرهم- غاية المناسبة، ويوفيهم ما يحتاجون إليه غاية التوفية
এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এর বোঝা থেকে নিষ্কৃতি পাবেন। আমি আমার সাধ্যমতো অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এটিই করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আমি এই মহান কাজের জন্য হাত বাড়িয়েছি, অবিচল চিত্তে এর পথে অগ্রসর হয়েছি এবং এর জন্য সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য মূল উৎসসমূহ এবং পূর্ণাঙ্গ নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার সংগ্রহ করেছি। এর সাথে আমাদের যুগে প্রকাশিত বইগুলোকেও যুক্ত করেছি এবং এই সকল উৎসের ওপর দীর্ঘক্ষণ মনোনিবেশ করেছি; গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি, চিন্তা-ভাবনা করেছি এবং তাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম নির্যাস বের করে নিয়েছি, যতক্ষণ না আমি একটি নতুন পরিকল্পনায় উপনীত হয়েছি; যা উভয় ধারার বৈশিষ্ট্যসমূহকে একত্রিত করে এবং তাদের ত্রুটিসমূহ থেকে মুক্ত থাকে। আমি এই গ্রন্থে অত্যন্ত ধৈর্য ও ধীরস্থিরভাবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন করেছি। আমার এই প্রচেষ্টা কতটুকু সফল হয়েছে তা আমি জানি না, তবে আমি জানি যে আমি শ্রম ও নিষ্ঠার কোনো ত্রুটি করিনি।

সেই ত্রুটিগুলো অনেক, আর "নাহু" (ব্যাকরণ)-এর আমাদের ওপর অধিকার হলো—যেহেতু আমরা এ বিষয়ে একটি নতুন বই প্রকাশ করতে যাচ্ছি—সেগুলোকে এখানে উপস্থাপন করা, তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো লিপিবদ্ধ করা এবং সেগুলো সংশোধনের জন্য আমরা কী পদক্ষেপ নিয়েছি তা বিস্তারিত বর্ণনা করা। এই সব কিছু—এবং এর চেয়েও বেশি—আমরা পূর্ববর্তী একটি প্রবন্ধে আলোচনা করেছি যা কয়েক বছর আগে "ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণিক কিছু মূলনীতির বিষয়ে অভিমত" শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর আমরা দশটি নিবন্ধের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করেছি; যা ১৯৫৭ ও ১৯৫৮ সালে "রিসালাতুল ইসলাম" নামক সাময়িকীতে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং যার পৃষ্ঠা সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আমি এই সকল বিষয় এবং আরও কিছু বিষয়ের সমন্বয়ে এই গ্রন্থের জন্য একটি ভূমিকা তৈরি করেছি, যা এর কলেবর বৃদ্ধি এবং প্রচুর বিষয়বস্তুর কারণে "আল-নাহু আল-ওয়াফি গ্রন্থের ভূমিকা" শিরোনামে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হবে এবং বর্তমানে এটি প্রকাশের পথে রয়েছে। তবে এটি আমাকে সেই বিধানের প্রতি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত দেওয়া থেকে অব্যাহতি দেয় না যার ওপর ভিত্তি করে এই গ্রন্থটি রচিত হয়েছে এবং যে উদ্দেশ্যে আমি এটি রচনা করেছি। এক্ষেত্রে আমি দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা এবং নাহু শিক্ষার একনিষ্ঠ অভিজ্ঞতার সাহায্য নিয়েছি; একজন মনোযোগী শিক্ষার্থী হিসেবে, অতঃপর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে এবং দীর্ঘ বছর ধরে "কায়রো" বিশ্ববিদ্যালয়ের "দারুল উলূম" অনুষদের নাহু, সরফ ও আরূয বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে।

৩- সেই বিধানের প্রধান বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

১- সমগ্র "নাহু"-র বিষয়বস্তু চারটি বৃহৎ খণ্ডে একটি গ্রন্থে একত্রিত করা, যার পৃষ্ঠাগুলো এবং তাতে অন্তর্ভুক্ত মাসআলাগুলো মৌলিক গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত বিষয়কে ধারণ করে এবং সেগুলোর অভাব পূরণ করে। প্রতিটি খণ্ডকে অত্যন্ত নিপুণ শৈল্পিক বিভাজনে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যার একটি সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের "নাহু ও সরফ" বিষয়ের গবেষণারত শিক্ষার্থীদের জন্য—অন্যদের তুলনায়—অত্যন্ত উপযোগী এবং তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে সক্ষম।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ৬)
الحكيمة التى تساير مناهجهم الرسمية، ومكانهُ "أول المسائل"، وصدرها. ويليه الآخر1 -بعد نهاية كل مسألة- بعنوان مستقل هو: "زيادة وتفصيل"؛ ويلائم الأساتذة والمتخصصين أكمل الملائمة وأتمها، فتبتدئ "المسألة" -وبجانبها رقم خاص بها- بتقديم المادة النحوية الصالحة للطالب الجامعيّ، الموائمة لقدرته ومقَرّره الرسمّي، ودرجته فى التحصيل والفهم، مع تَوَخّي الدقة والإحكام فيما يقدم له، نوعًا ومقدارًا. فإذا استوفى نصيبه المحمود انتقلتُ إلى بَسْط يتطلع إليه المتخصص، وزيادة يتطلبها المستكمل. كل ذلك فى إحكام وحسن وتقدير، بغير تكرار، ولا تداخل بين القسمين، أو اضطراب. وبهذا التقسيم والتنسيق يجد هؤلاء وهؤلاء حاجتهم ميسرة، موائمة، قريبة التناول؛ لا يَكُدُّون فى استخلاصها ولا يجهدون فى السعى وراءها فى متاهات الكتب القديمة؛ وقد يبلغون أولًا يبلغون.

2- العناية أكمل العناية بلغة الكتاب وضوحًا، وإشراقًا، وإحكامًا، واسترسالًا؛ فلا تعقيد، ولا غموض، ولا حشو، ولا فضول، ولا توقف لمناقشة لفظ، أو إرسال اعتراض، أوالإجابة عنه؛ ولا حرص على أساليب القدامى وتعبيراتهم. إلا حين تسايرنا فى البيان الأوفى، والجلاء الأكمل.

أما الاصطلاحات العلمية المأثورة فلم أفكر فى تغييرها، إيمانًا واقتناعًا بما سجله العلماء قديمًا وحديثًا من ضرر هذا التغيير الفرديّ، ووفاء بما اشترطوه فى تغيير "المصطلحات"، أن يكون بإجماع المختصين، المشتغلين بالعلم الذى يحويها.

3- اختيار الأمثلة ناصعة، بارعة فى أداء مهمتها؛ من توضيح القاعدة، وكشف غامضها فى سهولة ويسر، واقتراب، لهذا تركت كثيرًا من الشواهد القديمة، المترددة بين أغلب المراجع النحوية؛ لأنها مليئة بالألفاظ اللغوية الصعبة، وبالمعانى البعيدة التى تتطلب اليوم من المتعلم عناء وجهدًا لا يطيقهما، ولا يتسع وقته لشيء منهما. فإن خلَت من هذا العيب، وتجملت بالوضوح والطرافة فقد نستبقيها.

--------------------------------------------

1 في صفحة جديدة، تبدأ بسطر أو سطرين من النقط الأفقية المتقاربة، لتكون رمزًا يميز صحف "الزيادة والتفصيل" من غيرها.
সুবিজ্ঞ পদ্ধতি যা তাদের দাপ্তরিক পাঠ্যক্রমের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং এর স্থান হলো 'মাসআলাসমূহের শুরুতে' ও এর উপোদ্ঘাতে। প্রতিটি মাসআলার শেষে স্বতন্ত্র শিরোনামে অন্যটি ১ -আসবে- যার নাম: 'সংযোজন ও বিস্তারিত আলোচনা'; এটি শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞগণের জন্য পরিপূর্ণভাবে ও সর্বোত্তমভাবে উপযোগী। 'মাসআলা' শুরু হয় -তার পাশে নির্দিষ্ট নম্বরসহ- বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত ব্যাকরণিক বিষয়বস্তু উপস্থাপনের মাধ্যমে, যা তার সক্ষমতা, নির্ধারিত পাঠ্যসূচি এবং তার অর্জন ও অনুধাবনের স্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাথে সাথে তার কাছে যা পেশ করা হচ্ছে তার ধরন ও পরিমাণের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতা ও নির্ভুলতার পূর্ণ লক্ষ্য রাখা হয়েছে। যখন সে তার নির্ধারিত অংশটুকু গ্রহণ করে নেয়, তখন আমি এমন এক বিস্তারিত বর্ণনার দিকে অগ্রসর হই যার প্রত্যাশা বিশেষজ্ঞগণ করেন এবং এমন এক বর্ধিত অংশের দিকে যা পূর্ণতাকামী শিক্ষার্থীর প্রয়োজন। এই সবকিছুই অত্যন্ত সুচারুভাবে, উত্তমরূপে ও পরিমিতভাবে করা হয়েছে, যেখানে কোনো পুনরাবৃত্তি নেই এবং দুই বিভাগের মধ্যে কোনো সংমিশ্রণ বা বিশৃঙ্খলা নেই। এই বিভাজন ও বিন্যাসের ফলে উভয় পক্ষই তাদের প্রয়োজনগুলো সহজসাধ্য, সংগতিপূর্ণ ও নিকটবর্তী হিসেবে পাবে; এগুলো আহরণ করতে তাদের কোনো ক্লেশ পেতে হবে না এবং প্রাচীন কিতাবসমূহের গোলকধাঁধায় এগুলোর পেছনে ছুটে তাদের শ্রান্ত হতে হবে না; যেখানে তারা সফল হতেও পারে আবার নাও পারে।

২- কিতাবের ভাষার স্বচ্ছতা, প্রাঞ্জলতা, নির্ভুলতা ও সাবলীলতার প্রতি সর্বোচ্চ যত্ন নেওয়া হয়েছে; এতে কোনো জটিলতা, অস্পষ্টতা, অনর্থকতা, বাহুল্য কিংবা কোনো শব্দের ব্যবচ্ছেদ বা কোনো আপত্তির অবতারণা অথবা তার উত্তর দেওয়ার জন্য থমকে দাঁড়ানো নেই। প্রাচীনদের শৈলী ও অভিব্যক্তি আঁকড়ে ধরার ব্যাপারেও কোনো বিশেষ আগ্রহ দেখানো হয়নি, কেবল তখনই তা গ্রহণ করা হয়েছে যখন তা অধিকতর সুস্পষ্ট বর্ণনা ও পূর্ণতর স্বচ্ছতার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছে।

তবে ঐতিহ্যগত ইলমি পরিভাষাগুলো পরিবর্তনের কথা আমি ভাবিনি; প্রাচীন ও আধুনিক আলিমগণ এই ব্যক্তিগত পরিবর্তনের যে ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন তার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থেকে এবং পরিভাষা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তারা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গবেষকদের ঐকমত্যের যে শর্তারোপ করেছেন তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আমি তা অপরিবর্তিত রেখেছি।

৩- উদাহরণ নির্বাচনে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিপুণ হওয়া হয়েছে যাতে সেগুলো নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে; অর্থাৎ নিয়মের স্পষ্টিকরণ এবং তার অস্পষ্টতাগুলো অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে উন্মোচন করা। এই কারণে আমি অধিকাংশ ব্যাকরণিক কিতাবে প্রচলিত অনেক প্রাচীন কাব্যিক উদ্ধৃতি বর্জন করেছি; কারণ সেগুলো কঠিন শাব্দিক প্রয়োগ এবং এমন দূরবোধ্য অর্থে পরিপূর্ণ যা বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীর নিকট এমন শ্রম ও কষ্ট দাবি করে যা সহ্য করা তাদের সাধ্যাতীত এবং তাদের সময়ের স্বল্পতার কারণে তা সম্ভবও নয়। তবে যদি সেগুলো এই ত্রুটিমুক্ত হয় এবং স্পষ্টতা ও চমৎকারিত্বে ভূষিত হয়, তবে কখনো কখনো আমরা সেগুলো বহাল রেখেছি।

--------------------------------------------

১ নতুন পৃষ্ঠায়, যা এক বা দুই লাইনের কাছাকাছি আনুভূমিক ডট বা বিন্দু দিয়ে শুরু হবে, যাতে তা 'সংযোজন ও বিস্তারিত আলোচনা' সম্বলিত পৃষ্ঠাগুলোকে অন্যগুলো থেকে পৃথক করার চিহ্ন হিসেবে কাজ করে।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ৭)
والحق أن كثيرًا من تلك الشواهد يحتل المكانة العليا من سمو التعبير، وجمال الأداء، وروعة الأسلوب، وفتنة المعنى. لكنها اختيرت فى عصور تباين عصرنا، ولدواعٍ تخالف ما نحن فيه؛ فقد كانت وسائل العيش حينذاك ميسرة، والمطالب قليلة، والقصد استنباط قاعدة، أو تأييد مذهب. وكان طالب العلم حافظًا القرآن، مستظهرًا الكثير من الأحاديث والنصوص الأدبية، متفرغًا للعلوم العربية والشرعية أوكالمتفرغ. أما اليوم فالحال غير الحال، ووسائل العيش صعبة، والمطالب كثيرة؛ فطالب العلم يمر بهذه العلوم مرًّا سريعًا عابرًا قبل الدراسة الجامعية، فإن قدّر له الدخول فى الجامعة1، انقطعت صلته بتلك العلوم، ولم يجد بينها وبين مناهجه الدراسية سببًا، إلا إن كان متفرغًا للدراسات اللغوية؛ فيزاولها وحصيلته منها ضئيلة، لا تمكنه من فهم دقائقها، ولا ترغبه فى مزيد، وغايته المستقبلة لا ترتبط -فى الغالب- ارتباطًا وثيقًا بالضلاعة فى هذه العلوم، والتمكن منها؛ فمن الإساءة إليه وإلى اللغة أن نستمسك بالشواهد الموروثة، ونقيمها حِجَازًا يصعب التغلب عليه، وإدراك ما وراءه من كريم الغايات.

نعم إنها نماذج من الأدب الرائع؛ ولكن يجب ألا ننسى الغاية إزاء الروعة، أو نُغْفِل القصد أمام المظهر، وإلا فقدنا الاثنين معًا، وفى دروس النصوص الأدبية، وفى القراءة الحرة، والاطلاع على مناهل الأدب الصفو، متسع للأدباء والمتأدبين؛ يشبع رغبتهم، من غير أن يضيع عليهم ما يبغون من دراسة "النحو والصرف" دراسة نافعة، لا تطغى على وقت رصدته النظم التعليمية الحديثة لغيرها، ولا تنتهب جهدًا وقفته الحياة المعاصرة على سواها.

وإن بعض معلمي اليوم ممنَّ يقومون بالتدريس لكبار المتعلمين -لَيُسْرف فى اتخاذ تلك الشواهد مجالًا لما يسميه: "التطبيق النحوي"، ومادة مهيأة لدروسه. وليس هذا من وكْدي2، ولا وكْد من احتشد للمهمة الكبرى، مهمة: "النحو الأصيل" التى تتلخص فى إعداد مادته إعدادًا وافيًا شاملًا، وعرضها عرضًا حديثًا شائقًا، وكتابتها كتابة مشرقة بهية، مع استصفاء أصولها النافعة. واستخلاص قواعدها وفروعها مما ران عليها، وارتفعت بسببه صيحات الشكوى،

--------------------------------------------

1 وهو اليوم من حملة الشهادة الثانوية العامة -غالبًا- أو ما في مستواها.

2 قصدي وغرضي.
বস্তুত সত্য কথা এই যে, সেই উদাহরণগুলোর অধিকাংশই অভিব্যক্তির আভিজাত্য, পরিবেশনার সৌন্দর্য, শৈলীর চমৎকারিত্ব এবং অর্থের মাধুর্যের দিক থেকে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। কিন্তু সেগুলো আমাদের বর্তমান যুগ থেকে ভিন্ন এমন সব যুগে এবং আমাদের বর্তমান অবস্থার বিপরীত এমন সব প্রয়োজনে নির্বাচন করা হয়েছিল; যখন জীবনধারণের উপায়সমূহ সহজ ছিল, চাহিদা ছিল সীমিত এবং লক্ষ্য ছিল কোনো নিয়ম উদ্ভাবন করা কিংবা কোনো বিশেষ মতবাদের সমর্থন করা। তৎকালীন জ্ঞানান্বেষী কুরআন হিফজকারী ছিলেন, বিপুল সংখ্যক হাদিস ও সাহিত্যিক পাঠ তাঁর মুখস্থ থাকত এবং তিনি আরবি ও শরিয়তি শাস্ত্রের জন্য পূর্ণ নিবেদিত বা নিবেদিতপ্রায় থাকতেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন, জীবনধারণ কঠিন এবং চাহিদা অনেক; তাই একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনার পূর্বে এই শাস্ত্রগুলো খুব দ্রুত ও ভাসাভাসাভাবে অতিক্রম করে যায়। আর যদি তার ভাগ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে১ প্রবেশের সুযোগ ঘটে, তবে সেই শাস্ত্রগুলোর সাথে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সে তার পাঠ্যসূচির সাথে এগুলোর কোনো যোগসূত্র খুঁজে পায় না, যদি না সে ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় নিবেদিত হয়। সে ক্ষেত্রেও সে এগুলো নিয়ে চর্চা করে বটে, কিন্তু তার অর্জিত জ্ঞান থাকে অতি সামান্য, যা তাকে এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বুঝতে সক্ষম করে তোলে না এবং এর গভীরে যাওয়ার আগ্রহও তৈরি করে না। তাছাড়া তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্যও সাধারণত এই শাস্ত্রগুলোতে অগাধ পাণ্ডিত্য ও দক্ষতা অর্জনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত নয়। সুতরাং সেই শিক্ষার্থীর প্রতি এবং ভাষার প্রতি এটি একটি অবিচার হবে যদি আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সেই উদাহরণগুলোকেই আঁকড়ে ধরে থাকি এবং সেগুলোকে এমন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিই, যা অতিক্রম করা এবং এর অন্তরালে থাকা মহৎ লক্ষ্যগুলো অর্জন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

হ্যাঁ, সন্দেহ নেই যে সেগুলো চমৎকার সাহিত্যের নমুনা; কিন্তু চমৎকারিত্বের মোহে আমাদের লক্ষ্য ভুলে যাওয়া উচিত নয়, কিংবা বাহ্যিক রূপের চাকচিক্যে উদ্দেশ্যকে উপেক্ষা করা সমীচীন নয়; অন্যথায় আমরা উভয়টিই হারাব। সাহিত্যিক পাঠের ক্লাসে, স্বাধীন পাঠে এবং নির্মল সাহিত্যের উৎসগুলো অধ্যয়নের ক্ষেত্রে সাহিত্যিক ও সাহিত্যানুরাগীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে, যা তাদের তৃষ্ণা মেটাতে পারে। এতে তাদের "নাহু ও সরফ" (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব) এর উপকারী শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যও ব্যাহত হবে না—এমন এক শিক্ষা, যা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা কর্তৃক অন্যান্য বিষয়ের জন্য নির্ধারিত সময়ের ওপর চড়াও হবে না এবং বর্তমান জীবনব্যবস্থা অন্য খাতের জন্য সংরক্ষিত শ্রমকেও কেড়ে নেবে না।

বর্তমানকালের কিছু শিক্ষক যারা উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন, তারা সেই উদাহরণগুলোকে তথাকথিত "নাহু বা ব্যাকরণিক প্রয়োগ"-এর ক্ষেত্র এবং তাদের পাঠের প্রস্তুতকৃত উপাদান হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অতিশয়তা করেন। এটি আমার উদ্দেশ্য২ নয়, আর না এটি সেই ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য যারা সেই মহৎ দায়িত্ব পালনে সমবেত হয়েছেন, যা হলো: "মৌলিক নাহু"। এই দায়িত্বের সারকথা হলো এর বিষয়বস্তুকে পরিপূর্ণ ও সামগ্রিকভাবে প্রস্তুত করা, আধুনিক ও চিত্তাকর্ষক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা এবং এর উপকারী মূলনীতিসমূহকে পরিশুদ্ধ করে এক উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় আঙ্গিকে লিপিবদ্ধ করা। সেইসাথে এর নিয়ম ও শাখাগুলোকে সেই সমস্ত আবিলতা থেকে মুক্ত করা যা একে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে এবং যার কারণে অভিযোগের সুর উচ্চকিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১. বর্তমানে সে মূলত উচ্চ মাধ্যমিক সনদধারী -সাধারণত- অথবা সমমান পর্যায়ের।

২. আমার সংকল্প ও উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ৮)
كل هذا بل بعض هذا - لا يساير ذلك "التطبيق التعليمي"؛ فإنه مدرسيّ موضعي متغير لا يتسم بسمة العموم، أوما يشبه العموم، ولا يثبت على حال. على أن هذا الفريق الذى اختار تلك الشواهد ميدانًا لتطبيقه قد فاته ما أشرنا إليه من حاجتها إلى طويل الوقت، وكبير الجهد فى تيسير صعوباتها اللغوية التى أوضحناها. وطلاب اليوم -خاصة- أشد احتياجًا لذلك الوقت والجهد، كي يبذلوهما فى تحصيل ما يتطلبه مستقبلهم الغامض. كما فاته أن خير التطبيق لكبار الطلاب ما ليس محدد المجال، مصنوع الغرض، متكلف الأداء، كالشواهد التى نحن بصددها. وإن مناقشة لنص أدبي كامل، أو صفحة من كتاب مستقيم الأسلوب، أومقال أدبى -لهي أجدى فى التطبيق، وأوسع إفادة فى النواحي اللغوية المتعددة، وأعمق أثرًا فى علومها وآدابها -من أكثر تلك الشواهد المبتورة المعقدة. فليتنا نلتفت لهذا، وندرك قيمته العملية، فنحرص على مراعاته، ونستمسك باتباعه مع كبار المتعلمين، ولعل هؤلاء الكبار أنفسهم يدركونه ويعملون به، فيحقق لهم ما يبتغون.

على أن لتلك الشواهد خطرًا آخر؛ هى أنها -فى كثير من اتجاهاتها- قد تمثل لهجات عربية متعارضة، وتقوم دليلًا على لغات قديمة متباينة، وتساق لتأييد آراء متناقضة؛ فهى معوان على البلبلة اللغوية، ووسيلة للحيرة والشك فى ضبط قواعدها، وباب للفوضى فى التعبير. وتلك أمور يشكو منها أنصار اللغة، والمخلصون لها.

وعلى الرغم من هذا قد نسجل -أحيانًا مع الحيطة والحذر- بعض الشواهد الغريبة، أو الشاذة، وبعض الآراء الضعيفة، لا لمحاكاتها، ولا للأخذ بها -ولكن ليتنبه لها المتخصصون، فيستطيعوا فهم النصوص القديمة الواردة بها حين تصادفهم، ولا تصيبهم أمامها حيرة، أو توقف فى فهمها.

4- الفرار من العلل الزائفة1، وتعدد الآراء الضارة فى المسألة الواحدة، فلهما من سوء الأثر وقبيح المغبة ما لا يخفى. وحسبنا من التعليل2: أن يقال:

--------------------------------------------

1 وفي مقدمتها ما كان تعليلًا لأمر واقع، ولا سبب له إلا نطق العربي، كالتعليل لرفع الفاعل، والمبتدأ والخبر، ولنصب المفعولات- فإن التعليل لهذه الأمور الوضعية عيب وفساد، إذ الوضعيات لا تعلل، كما قال أبو حيان وغيره، ونقله الهمع حـ1 ص 56، ونقلناه في رقم 3 من هامش ص 91.

2 لموضوع "التعليل" بحث مستقبل في كتابنا المسمى: "اللغة والنحو، بين القديم والحديث" يوضح معناه، وأنواعه، وآثاره.
এই সব—বরং এর কিছু অংশ—সেই "শিক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োগের" সাথে সংগতিপূর্ণ নয়; কারণ এটি প্রাতিষ্ঠানিক, স্থানিক এবং পরিবর্তনশীল, যা ব্যাপকতা বা ব্যাপকতার সদৃশ কোনো বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নয় এবং কোনো একটি অবস্থায় স্থির থাকে না। অধিকন্তু, যে দল এই কাব্যিক নিদর্শনগুলোকে (শাওয়াহিদ) তাদের প্রয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তারা আমাদের নির্দেশিত সেই বিষয়টি লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, এগুলোর ভাষাগত জটিলতা নিরসনে দীর্ঘ সময় ও ব্যাপক প্রচেষ্টার প্রয়োজন। বর্তমানের শিক্ষার্থীরা—বিশেষ করে—সেই সময় ও প্রচেষ্টার মুখাপেক্ষী বেশি, যাতে তারা তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রয়োজনে সেগুলো ব্যয় করতে পারে। তারা আরও লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, উচ্চতর শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোত্তম প্রয়োগ হলো সেটি যার ক্ষেত্র সীমাবদ্ধ নয়, উদ্দেশ্য কৃত্রিম নয় এবং উপস্থাপন কষ্টকল্পিত নয়, যেমনটি এই কাব্যিক নিদর্শনগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়। একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যিক পাঠ, বা সাবলীল গৈদ্যের কোনো বইয়ের একটি পৃষ্ঠা, অথবা কোনো সাহিত্য প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা করা—ভাষার বিভিন্ন দিক থেকে অধিক ফলপ্রসূ, অধিক উপকারী এবং এর বিজ্ঞান ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে অনেক বেশি গভীর প্রভাব বিস্তারকারী—ঐ সকল বিচ্ছিন্ন ও জটিল কাব্যিক নিদর্শনগুলোর চেয়ে। আমরা যদি এই বিষয়টি লক্ষ্য করতাম এবং এর ব্যবহারিক গুরুত্ব অনুধাবন করে এটি মেনে চলার ব্যাপারে যত্নশীল হতাম এবং উচ্চতর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এটি অনুসরণে অবিচল থাকতাম, তবে ভালো হতো। সম্ভবত এই উচ্চতর শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বিষয়টি অনুধাবন করবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে, যা তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

উপরন্তু, এই কাব্যিক নিদর্শনগুলোর আরেকটি বিপদ রয়েছে; তা হলো—এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরবিরোধী আরবি উপভাষাগুলোকে উপস্থাপন করে এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রাচীন ভাষার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে, যা কি-না বিপরীতমুখী মতামতের সমর্থনে ব্যবহৃত হয়। ফলে এগুলো ভাষাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে সহায়ক এবং এর নিয়মকানুনের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সংশয় ও সন্দেহের মাধ্যম, এবং প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার দ্বার উন্মোচনকারী। আর এগুলো এমন বিষয় যা নিয়ে ভাষার সমর্থক এবং এর প্রতি একনিষ্ঠ ব্যক্তিরা অভিযোগ করে থাকেন।

তা সত্ত্বেও, আমরা কখনও কখনও—সতর্কতা ও সাবধানতার সাথে—কিছু অদ্ভুত বা বিরল (শায) কাব্যিক নিদর্শন এবং কিছু দুর্বল অভিমত লিপিবদ্ধ করতে পারি; সেগুলো অনুকরণ করার জন্য নয়, কিংবা গ্রহণ করার জন্য নয়—বরং বিশেষজ্ঞগণ যেন সেগুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকেন, যাতে তারা যখন প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে এগুলোর সম্মুখীন হন তখন সেগুলো বুঝতে সক্ষম হন এবং সেগুলোর সামনে কোনো বিভ্রান্তি বা দ্বিধায় না পড়েন।

৪- ভিত্তিহীন কারণসমূহ (ইল্লাত) থেকে পলায়ন এবং একটি বিষয়ে ক্ষতিকারক মতভেদের আধিক্য পরিহার করা; কারণ এগুলোর অশুভ প্রভাব ও মন্দ পরিণাম গোপন থাকার নয়। আমাদের জন্য কারণ দর্শানোর (তা'লীল) ক্ষেত্রে এতটুকুই যথেষ্ট যে, বলা হবে:

--------------------------------------------

১. এর শীর্ষে রয়েছে সেই বিষয়গুলো যা একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয়ের কারণ হিসেবে দেখানো হয়, অথচ আরবদের উচ্চারণ ব্যতিরেকে যার কোনো কারণ নেই; যেমন ফায়িল (কর্তা) ও মুবতাদা-খবরকে রফা প্রদান এবং মাফউলসমূহকে নসব প্রদানের কারণ দর্শানো—কেননা এই প্রচলিত প্রথাগত বিষয়গুলোর কারণ দর্শানো একটি ত্রুটি ও বিকৃতি। কারণ আল-ওয়াদিয়াত (প্রচলিত বিষয়)-এর কোনো কারণ দর্শানো যায় না, যেমনটি আবু হাইয়ান ও অন্যান্যরা বলেছেন এবং 'আল-হাম' গ্রন্থটি (১ম খণ্ড, পৃ. ৫৬) তা উদ্ধৃত করেছে এবং আমরা ৯১ পৃষ্ঠার ৩ নম্বর টীকায় তা উদ্ধৃত করেছি।

২. "তা'লীল" (কারণ দর্শানো) বিষয়ে আমাদের "আল-লুগাহ ওয়ান নাহু, বাইনাল কাদীম ওয়াল হাদীস" নামক গ্রন্থে একটি স্বতন্ত্র গবেষণা রয়েছে, যা এর অর্থ, প্রকারভেদ এবং প্রভাবসমূহ স্পষ্ট করবে।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ৯)
"المطابقة للكلام العربى الناصع"، ومن الآراء أن يقال: "مُسَايرة فصيح اللغة وأفصحها". والقرآنُ الكريم -بقراءاته الثابتة الواردة عن الثقات- فى مكان الصدارة من هذا؛ لا نقبل فى أسلوبه تأولًا ولا تمحلًا، ثم الكلام العربى الذائع. والأفصح والفصيح هما الباعثان لنا على أن نردف بعض الأحكام النحوية بأن الخير فى اتباع رَأي دون آخر، وأن الأفضل إيثاره على سواه … أوغير هذا من العبارات الدالة على الترجيح. وإنما كان الخير وتمام الفضل فى إيثاره؛ لأن يجمع الناطقين بلغة العرب على أنصع الأساليب وأسماها، ويوجد بيانهم، ويريحهم من خُلف المذاهب، وبلبلة اللهجات، فى وقت نتلقى فيه اللغة تعلمًا وكسبًا، لا فطرة ومحاكاة أصيلة، ونقتطع لها من حياتنا التعليمية المزدحمة المرهقة - الأيَّام القليلة، والساعات المحدودة؛ فمن الحكمة والسداد أن نقصر تلك الأيام والساعات على ما هو أحسن وأسمى. ولن نلجأ إلى تعليل آخر، أو ترديد خلاف فى الآراء إلا حيث يكون من وراء ذلك نفع محقق، وفائدة وثيقة، وتوسعة محمودة، دون تعصب لبصريّ أولكوفيّ، أو بغدادي، أوأندلسي … أو غير هؤلاء … ودون فتح باب الفوضى فى التعبير، أو الاضطراب فى الفهم، أوالبلبلة فى الأداء والاستنباط.

ومن مظاهر النفع الاستعانة "بالتعليل"، وبتعدد المذاهب فى تيسير مفيد، أو في تشريع لغويّ مأمون، أو تبصير المتخصصين -وحدهم- ببعض اللغات واللهجات التى تعينهم على فهم النصوص القديمة الواردة بها، لا لمحاكاتها -فأكثرها لا يوائمنا اليوم كما سبق- ولكن ليدركوها، ويفسروا بعض الضواهر اللغوية الغامضة، ولا يقفوا أمام تفسيرها حائرين مضطربين. وقد بسطنا القول فى هذا كله، وفى أسبابه، ونتائجه -فى المقدمة التى أشرنا إليها1.

5- تدوين أسماء المراجع أحيانًا فى بعض مسائل قد تتطلب الرجوع إليها؛ استجلاءً لحقيقة، أو إزالة لوهم. وفي ذلك التدوين نفع آخر؛ هو: تعريف الطلاب بتلك المراجع، وترديد أسمائها عليهم، وتوجيههم إلى الانتفاع بها، والإيحاء بأن الرجوع إلى مثلها قد يقتضيه تحصيل العلم، وتحقيق مسائله.

--------------------------------------------

1 في رقم 2 من هامش الصفحة السالفة، وهو المسمى: "اللغة والنحو، بين القديم والحديث".
"বিশুদ্ধ আরবি বাচনভঙ্গির সাথে সংগতি বিধান করা", এবং অভিমতসমূহের মধ্যে একটি হলো: "ভাষার প্রাঞ্জল ও সর্বাধিক প্রাঞ্জল রূপের অনুসরণ করা।" আর পবিত্র কুরআন -নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে প্রাপ্ত এর সুপ্রতিষ্ঠিত কিরাআতসমূহসহ- এক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে; আমরা এর শৈলীতে কোনো অপব্যাখ্যা বা কৃত্রিমতা গ্রহণ করি না। এরপর রয়েছে বহুল প্রচলিত আরবি বাচনভঙ্গি। আর এই সর্বাধিক প্রাঞ্জল ও প্রাঞ্জল রূপটিই আমাদের এই প্রেরণা দেয় যে, আমরা কিছু নাহব সংক্রান্ত বিধানের সাথে এ কথা যুক্ত করি যে, কল্যাণের পথ হলো অন্য মতের তুলনায় একটি নির্দিষ্ট মত অনুসরণ করা এবং অন্যটির পরিবর্তে একে অগ্রাধিকার দেওয়াই শ্রেয় … অথবা প্রাধান্য জ্ঞাপনকারী অন্যান্য শব্দমালা ব্যবহার করা। আর একে অগ্রাধিকার প্রদানের মধ্যেই কল্যাণ ও পরিপূর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত; কেননা এটি আরবি ভাষাভাষীদের সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও উন্নত শৈলীর ওপর ঐক্যবদ্ধ করে, তাদের বর্ণনাভঙ্গিকে একীভূত করে এবং মাযহাবগত বিরোধ ও উপভাষার বিভ্রান্তি থেকে তাদের স্বস্তি দেয়। এমন এক সময়ে যখন আমরা ভাষাকে শিক্ষা ও অর্জনের মাধ্যমে গ্রহণ করছি, স্বভাবগত প্রবৃত্তি বা মূল অনুকরণে নয়; এবং যখন আমরা আমাদের ব্যস্ত ও ক্লান্তিকর শিক্ষাজীবন থেকে এর জন্য কেবল কয়েক দিন এবং সীমিত কিছু সময় বরাদ্দ করি। তাই প্রজ্ঞা ও সঠিকতার দাবি হলো সেই দিন ও সময়গুলোকে যা সবচেয়ে উত্তম ও উন্নত তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা। আমরা অন্য কোনো ব্যাখ্যা প্রদান অথবা মতপার্থক্যের পুনরাবৃত্তি করব না, যদি না তার পেছনে কোনো সুনিশ্চিত কল্যাণ, অকাট্য উপকারিতা এবং প্রশংসনীয় প্রশস্ততা থাকে। এখানে বসরী বা কুফী, অথবা বাগদাদী কিংবা আন্দালুসী... অথবা অন্য কারো প্রতি কোনো অন্ধ পক্ষপাত থাকবে না … অথবা অন্য কেউ … এবং এতে প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা, অনুধাবনে অস্থিতিশীলতা কিংবা প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ রাখা হবে না।

উপযোগিতার অন্যতম দিক হলো "যৌক্তিক ব্যাখ্যার" সহায়তা গ্রহণ এবং বিভিন্ন মাযহাবের বহুত্বকে কাজে লাগিয়ে উপকারী সহজীকরণ অথবা নিরাপদ ভাষাতাত্ত্বিক বিধান প্রণয়ন করা। অথবা কেবল বিশেষজ্ঞদের -একান্তভাবে- এমন কিছু ভাষা ও উপভাষা সম্পর্কে সচেতন করা যা তাদের প্রাচীন পাঠসমূহ অনুধাবনে সহায়তা করবে—সেগুলো অনুকরণ করার জন্য নয় (কারণ এগুলোর অধিকাংশ বর্তমান সময়ের জন্য উপযোগী নয়, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে)—বরং তারা যেন সেগুলো বুঝতে পারে এবং কিছু অস্পষ্ট ভাষাতাত্ত্বিক রহস্যের ব্যাখ্যা দিতে পারে এবং তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে যেন তারা বিভ্রান্ত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে না পড়ে। আমরা এই সব বিষয়ে এবং এর কারণ ও ফলাফল নিয়ে সেই ভূমিকাতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি যার দিকে আমরা ইঙ্গিত দিয়েছি১।

৫- মাঝে মাঝে কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে মূল উৎসগ্রন্থের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যেগুলোতে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে; সত্যকে উন্মোচন করার জন্য অথবা কোনো ভ্রান্তি দূর করার জন্য। এই লিপিবদ্ধ করার আরেকটি উপকারিতা হলো: ছাত্রদেরকে সেই উৎসগ্রন্থগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, তাদের সামনে এগুলোর নাম বারবার উচ্চারণ করা, সেগুলোর মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার পথ দেখানো এবং এই ইঙ্গিত দেওয়া যে, জ্ঞান অর্জন এবং মাসআলাসমূহের গভীর বিশ্লেষণের জন্য এ জাতীয় গ্রন্থের শরণাপন্ন হওয়া অপরিহার্য হতে পারে।

--------------------------------------------

১. পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার ২ নম্বর টীকায়, যার নাম: "ভাষা ও নাহব: প্রাচীন ও আধুনিকের মাঝে"।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ১০)
6- عدم التزام طريقة تربوية معينة فى التأليف، فقد تكون الطريقة استنباطية، وقد تكون إلقائية، وقد تكون حوارًا، أو غير ذلك مما يقتضيه صادق الخبرة، وملاءمة الموضوع. وإذا عرفنا أن الكتاب لكبار الطلاب، وللأساتذة المتخصصين، وأن موضوعاته كثيرة متباينة -أدركنا الحكمة فى اختلاف الطرائق باختلاف تلك الموضوعات وقرّائها. على أن تكون الطريقة محكومة بحسن الاختيار، وصدق التقدير، وضمان النجح من أيسر السبل وأقربها. ومهما اختلفت فلن تكون من طرائق القدماء التى أساسها: المتن، فالشرح، فالحاشية، فالتقرير … فما يصاحب هذا من جدل، ونقاش، وكثرة خلاف، وتباين تعليل … وما إلى ذلك مما دعت إليه حاجات عصور خلت، ودواعي حقب انقضت، ولم يبقَ من تلك الحاجات والدواعي ما يغرينا بالتمسك به، أو بتجديد عهده.

على أن بحوثهم وطرائقهم تنطوى -والحق يقال- على ذخائر غالية، وتضم فى ثناياها كنوزًا نفيسة. إلا أن استخلاص تلك الذخائر والكنوز مما يغَشيها اليوم عسير أي عسير على جمهرة الراغبين -كما أسلفنا.

7- تسجيل أبيات: "ابن مالك" كما تضمنتها "ألفيته"، المشهورة، وتدوين كل بيت فى أنسب مكان من الهامش، بعد القاعدة وشرحها، مع الدقة التامة فى نقله، وإيضاح المراد منه؛ فى إيجاز مناسب، وحرص على ترتيب الأبيات، إلا إن خالفت فى ترتيبها تسلسل المسائل وتماسكها المنطقي النحوي الذي ارتضيناه. فعندئذ نوفق بين الأمرين؛ ترتيب الناظم: وما يقتضيه التسلسل المنطقي التعليمي؛ فننقل البيت من مكانه فى "الألفية"، ونضعه فى المكان الذى نراه مناسبًا، ونضع على يساره الرقم الدال على ترتيبه بين أبيات الباب كما رتبها الناظم، ولا نكتفى بهذا؛ فحين نصل إلى شرح المسألة المتصلة بالبيت الذى قبله، ونفرغ منها ومن ذكر البيت الخاص بها؛ تأييدًا لها - نعود فنذكر البيت الذى نقلناه من مكانه، ونضعه فى مكانه الأصلي الذى ارتضاه الناظم، ونشير إلى أن هذا البيت قد سبق ذكره وشرحه فى مكانه الأنسب من صفحة كذا …

وقد دعانا إلى الحرص على ترتيب "ألفية ابن مالك"، تسجيل أبوابها وأبياتها مرتبة كاملة -في الهامش- ما نعلمه في مصر وغير مصر من تمسك بعض
৬- রচনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ না করা। পদ্ধতিটি কখনও অবরোহী হতে পারে, আবার কখনও বর্ণনামূলক হতে পারে, কিংবা কথোপকথনমূলক বা অন্য কোনো পদ্ধতি হতে পারে যা বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং বিষয়ের উপযোগিতা দাবি করে। আমরা যখন জানতে পারি যে বইটি উচ্চপর্যায়ের শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকদের জন্য এবং এর বিষয়গুলো বহুবিধ ও বৈচিত্র্যময়—তখন আমরা বিষয়বস্তু ও পাঠকদের ভিন্নতার প্রেক্ষিতে পদ্ধতির ভিন্নতার পেছনের প্রজ্ঞা অনুধাবন করতে পারি। তবে শর্ত হলো, পদ্ধতিটি হতে হবে উত্তম নির্বাচন, সঠিক মূল্যায়ন এবং সহজতম ও নিকটতম উপায়ে সাফল্য নিশ্চিত করার ওপর ভিত্তি করে। পদ্ধতি যা-ই হোক না কেন, তা প্রাচীনদের পদ্ধতির মতো হবে না যার ভিত্তি হলো: মূল পাঠ, এরপর ব্যাখ্যা, এরপর টীকা, এরপর সংযুক্তি … এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিতর্ক, আলোচনা, প্রচুর মতবিরোধ ও বর্ণনার বৈচিত্র্য … এবং অনুরূপ বিষয় যা গত হওয়া যুগের প্রয়োজন ও অতিবাহিত সময়ের চাহিদার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল; এখন আর সেই প্রয়োজন ও চাহিদাগুলোর এমন কিছু অবশিষ্ট নেই যা আমাদের তা আঁকড়ে ধরতে বা নতুন করে শুরু করতে প্রলুব্ধ করবে।

তবে সত্য কথা এই যে, তাদের গবেষণা ও পদ্ধতিগুলোর মধ্যে মূল্যবান সম্পদ নিহিত রয়েছে এবং সেগুলোর ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে অমূল্য ভাণ্ডার। কিন্তু বর্তমান যুগে আগ্রহীদের বৃহৎ অংশের জন্য সেই সম্পদ ও ভাণ্ডারসমূহকে ঢেকে রাখা বিষয়গুলো থেকে উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি।

৭- "ইবনে মালিক"-এর পংক্তিমালা লিপিবদ্ধ করা যেভাবে তা তাঁর বিখ্যাত "আলফিয়্যাহ"-তে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পংক্তিকে নিয়ম ও তার ব্যাখ্যার পরে পাদটিকার সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানে নির্ভুলভাবে উদ্ধৃত করা এবং সংক্ষেপে তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা। পংক্তিগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া হয়েছে, তবে যদি সেই ধারাবাহিকতা আমাদের মনোনীত ব্যাকরণিক ও যৌক্তিক ধারাবাহিকতার পরিপন্থী হয়, তবে সেক্ষেত্রে আমরা দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করি: রচয়িতার ক্রম এবং শিক্ষামূলক ও যৌক্তিক ক্রমের চাহিদা। তাই আমরা পংক্তিটিকে "আলফিয়্যাহ"-র মূল স্থান থেকে সরিয়ে আমাদের কাছে উপযুক্ত মনে হওয়া স্থানে স্থাপন করি এবং তার বাম পাশে রচয়িতা কর্তৃক নির্ধারিত অধ্যায়ের পংক্তি ক্রমিক নম্বরটি বসিয়ে দিই। আমরা শুধু এতেই ক্ষান্ত হই না; বরং যখন আমরা পূর্ববর্তী পংক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যায় পৌঁছাই এবং সেটি ও তার স্বপক্ষে নির্ধারিত পংক্তিটি উল্লেখ করা শেষ করি, তখন আমরা স্থানান্তরিত পংক্তিটি পুনরায় উল্লেখ করি এবং রচয়িতা যে মূল স্থানে সেটি রেখেছিলেন সেখানেই তা স্থাপন করি। আর আমরা ইশারা করে দেই যে, এই পংক্তিটি অমুক পৃষ্ঠার উপযুক্ত স্থানে ইতিপূর্বে উল্লেখ ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে …

"আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক"-এর বিন্যাস রক্ষার ব্যাপারে আমাদের এই আগ্রহ এবং পাদটিকায় এর অধ্যায় ও পংক্তিগুলো পূর্ণ বিন্যাসে লিপিবদ্ধ করার কারণ হলো, মিশর ও মিশরের বাইরে কিছু লোকের যে একনিষ্ঠতা আমরা লক্ষ্য করেছি...
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ১১)
المعاهد والكليات الجامعية بها، وإقبال طوائف من الطلاب على تفهمها، والتشدد فى دراستها واستظهارهم كثيرًا منها للانتفاع بها حين يريدون. وقد تخيرنا لها مكانًا فى ذيل الصفحات، يقربها من راغبيها، ويبعدها من الزاهدين فيها.

وإنما آثرنا في ترتيب الأبواب النحوية الترتيب الذي ارتضاه، "ابن مالك" لأنه الذي ارتضاه كثيرون ممن جاءوا بعده؛ ولأنه الترتيب الشائع اليوم، وهو فوق شيوعه -أكثر ملاءمة في طريقته، وأوفر إفادة في التحصيل والتعليم ويشيع بعده الترتيب القائم على جمع الأبواب الخاصة بالأسماء متعاقبة، يليها الخاصة بالأفعال، ثم الحروف.... كما فعل الزمخشري في مفصله. وتبعه عليه شراحه.

وهذه طريقة حميدة أيضًا. ولكنها تفيد المتخصصين دون سواهم من الراغبين في المعرفة العامة أولًا فأولًا، فالمبتدأ يلازم الخبر أو ما يقوم مقامه. والمفعول لا بد له من الاثنين … فكيف يتعلم الراغب أحكام المبتدأ وحده، أو الخبر وحده، أو الفعل، أو الفاعل كذلك؟

وهناك أنواع أخرى من الترتيب لكل منها مزاياه التي نراها لا تعدل مزية الترتيب الذي اخترناه، ولا تناسب عصرنا القائم.

8- الإشارة إلى صفحة سابقة أو لاحقة، وتدوين رقمها إذا اشتملت على ما له صلة وثيقة بالمسألة المعروضة؛ كي يتيسر لمن شاء أن يجمع شتاتها فى سهولة ويسر، ويضم -بغير عناء- فروعها وما تفرق منها فى مناسبات وموضوعات مختلفة.

ولا نكتفي بذكر الرقم الخاص بالصفحة، وإنما نذكره ونذكر بعده رقم المسألة. ونرمز للمسألة بالحرف الهجائي الأول من حروفها، وهو: "م" اختصارًا.، ويليه رقمها، كما نرمز للصفحة بالحرف: "ص" وبعده رقمها. وللجزء بالحرف "جـ".

والسبب فى الجمع بينهما أن رقم الصفحة عرضة للتغيير بتغير طبعات الكتاب أما رقم المسألة فثابت لا يتغير وإن تعددت الطبعات، فالإحالة عليه إحالة على شيء موجود دائمًا؛ فيتحقق الغرض من الرجوع إليه.

والله أرجومخلصًا أن يجعل الكتاب نافعًا لغة القرآن، عونًا لطلابها، محققًا الغاية النبيلة التى دعت لتأليفه، والقصد الكريم من إعداده.

المؤلف
উচ্চতর ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মাঝে এগুলো অনুধাবন করার আগ্রহ, এদের পঠন-পাঠনে গভীর মনোনিবেশ এবং নিজেদের প্রয়োজনে এগুলোর অনেক কিছু মুখস্থ করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। আমরা এগুলোর জন্য পৃষ্ঠার নিচের অংশে একটি স্থান নির্ধারণ করেছি, যা উৎসুক পাঠকদের জন্য বিষয়টিকে সহজলভ্য করবে এবং অনাগ্রহীদের থেকে দূরে রাখবে।

ব্যাকরণিক অধ্যায়গুলোর বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমরা "ইবনে মালিক" কর্তৃক মনোনীত বিন্যাসটিকেই প্রাধান্য দিয়েছি; কারণ তাঁর পরবর্তী অধিকাংশ আলেম এটিই পছন্দ করেছেন এবং এটিই বর্তমানে বহুল প্রচলিত বিন্যাস। প্রচলিত হওয়ার পাশাপাশি এটি এর পদ্ধতির দিক থেকে অধিকতর উপযোগী এবং জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে অধিক ফলপ্রসূ। এর পরে সেই বিন্যাসটি প্রচলিত যা বিশেষ্য সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোকে ক্রমান্বয়ে সাজানোর ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যার পরে আসে ক্রিয়া সংক্রান্ত এবং তারপর অব্যয় সংক্রান্ত অধ্যায়সমূহ... যেমনটি আল-জামাখশারী তাঁর ‘মুফাসসাল’ গ্রন্থে করেছেন এবং তাঁর ব্যাখ্যাকারগণও তাঁর অনুসরণ করেছেন।

এটিও একটি উত্তম পদ্ধতি। তবে এটি সাধারণ জ্ঞান অন্বেষণকারীদের তুলনায় কেবল বিশেষজ্ঞদের জন্য বেশি কার্যকর। কেননা মুক্তাদা (উদ্দেশ্য) সর্বদা খবর (বিধেয়) বা তার স্থলাভিষিক্ত কোনো বিষয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আবার মাফউলের (কর্ম) জন্য পূর্ববর্তী দুটির প্রয়োজন অনস্বীকার্য … এমতাবস্থায় একজন শিক্ষার্থী কীভাবে কেবল মুক্তাদার বিধান, অথবা কেবল খবরের বিধান, অথবা কেবল ফেল বা ফায়েলের বিধান এককভাবে শিখবে?

বিন্যাসের আরও অন্যান্য প্রকারভেদ রয়েছে যার প্রত্যেকটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, তবে আমাদের দৃষ্টিতে সেগুলো আমাদের নির্বাচিত বিন্যাসের সমতুল্য নয় এবং আমাদের বর্তমান যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়।

৮- পূর্ববর্তী বা পরবর্তী পৃষ্ঠার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান এবং তার নম্বর উল্লেখ করা, যদি তাতে আলোচিত বিষয়ের সাথে গভীর সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় থাকে; যাতে আগ্রহী ব্যক্তি সহজেই এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলো অনায়াসে একত্রিত করতে পারেন এবং কোনো পরিশ্রম ছাড়াই বিভিন্ন প্রসঙ্গ ও বিষয়ে ছড়িয়ে থাকা এর শাখা-প্রশাখাগুলোকে একত্রে জুড়ে দিতে পারেন।

আমরা কেবল পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হইনি, বরং পৃষ্ঠা নম্বরের সাথে সাথে মাসআলা (বিষয়) নম্বরও উল্লেখ করেছি। আমরা মাসআলার সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে এর প্রথম বর্ণ "ম" ব্যবহার করেছি এবং তার পরে তার নম্বর দিয়েছি। একইভাবে পৃষ্ঠার জন্য "পৃ" বর্ণ এবং তার পরে তার নম্বর ব্যবহার করেছি। আর খণ্ডের জন্য "খ" বর্ণ ব্যবহার করেছি।

এই দুইয়ের সমন্বয়ের কারণ হলো, বইয়ের সংস্করণ পরিবর্তনের সাথে সাথে পৃষ্ঠা নম্বর পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে মাসআলা নম্বর অপরিবর্তিত থাকে, সংস্করণ যত বেশিই হোক না কেন। সুতরাং এর প্রতি ইঙ্গিত করা মানে এমন এক স্থায়ী বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা যা সর্বদা বিদ্যমান থাকে; ফলে এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উদ্ধৃতি খুঁজে পাওয়ার উদ্দেশ্য সফল হয়।

আমি আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই গ্রন্থটিকে কুরআনের ভাষার জন্য উপকারী করেন, এর শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক করেন এবং যে মহৎ লক্ষ্য নিয়ে এটি সংকলন ও প্রস্তুত করা হয়েছে তা সফল করেন।

লেখক
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ১৩)
المسألة الأولى:‌‌ الكلام وما يتألف منه

الكلمة، الكلام "أو: الجملة"، الكَلِم، القول:

ما المراد من هذه الألفاظ الاصطلاحية فى عُرف النحويين؟

الكلمة:

حروف الهجاء تسعة وعشرون حرفًا، "وهى: أ1، ب، ت، ث، ج … " وكل واحد منها رمز مجرد؛ لا يدل إلا على نفسه، ما دام مستقلًا لا يتصل بحرف آخر. فإذا اتصل بحرف أو أكثر، نشأ من هذا الاتصال ما يسمى: "الكلمة". فاتصال الفاء بالميم -مثلًا- يوجِد كلمة: "فَم"، واتصال العين بالياء فالنون، يوجد كلمة: "عين"، واتصال الميم بالنون فالزاي فاللام، يحدِث كلمة: "منزل" … وهكذا تنشأ الكلمات الثنائية، والثلاثية، والرباعية -وغيرها"2- من انضمام بعض حروف الهجاء إلى بعض"3.

وكل كلمة من هذه الكلمات التى نشأت بالطريقة السالفة تدل على معنى؛

--------------------------------------------

1 الأرجح أن الحرف الأول من حروف الهجاء هو: "الهمزة" وليس الألف التي تحمل الهمزة فوقها، لتظهرها بارزة لا تختفي، ولا تختلط بغيرها، فشأن الألف في هذا كشأن الواو والياء اللتين تستقر فوقهما الهمزة في كتابة بعض الكلمات. أما الألف الأصلية، فمكانها في الترتيب الأبجدي بعد اللام مباشرة، حتى لقد اندمجت بسبب سكونها واستحالة النطق بها منفردة في اللام، وصارتا: "لا" مع أنهما حرفان، لا حرف واحد.

2 لا تزيد أحرف الاسم على سبعة، نحو: "استغفار" ولا أحرف الفعل على ستة، نحو: "استغفر" ولا أحرف الحرف على خمسة، نحو: "لكن" باعتبارها كلمة واحدة -على الأصح- مشددة النون، ثابتة الألف بعد اللام نطقًا. ومن النحاة من يجعل: "حيثما" كلمة واحدة، ويعدها من الحروف. ورأيه ضعيف مردود.

- انظر "جـ" ص 711-.

3 لهذا تسمى الحروف الهجائية: "بحروف المباني" لأن الكلمة تبنى وتتكون صيغتها منها، فهي أساس بنية الكلمة، وهي غير "حروف الربط" التي ستجيء في ص 66، ومنها: "حروف المعاني".
প্রথম পরিচ্ছেদ:‌‌ কালাম (বাক্য) এবং যা দ্বারা এটি গঠিত হয়

কালিমা (শব্দ), কালাম (বাক্য) "অথবা: জুমলা", কালিম, কাওল:

ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় এই পারিভাষিক শব্দগুলো দ্বারা কী উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে?

কালিমা (শব্দ):

বর্ণমালার বর্ণ ঊনত্রিশটি, "যথা: আলিফ, বা, তা, সা, জিম … " এবং এগুলোর প্রত্যেকটি একেকটি একক প্রতীক; যতক্ষণ পর্যন্ত তা স্বতন্ত্র থাকে এবং অন্য কোনো বর্ণের সাথে যুক্ত না হয়, ততক্ষণ তা কেবল নিজেকেই প্রকাশ করে। অতঃপর যখন এটি এক বা একাধিক বর্ণের সাথে যুক্ত হয়, তখন এই সংযোগ থেকে যা সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয়: "কালিমা"। উদাহরণস্বরূপ, 'ফা'-এর সাথে 'মিম'-এর সংযোগে 'ফাম' (মুখ) শব্দটি তৈরি হয়, 'আইন'-এর সাথে 'ইয়া' ও 'নুন' যুক্ত হলে 'আইন' (চোখ) শব্দটি গঠিত হয়, আর 'মিম'-এর সাথে 'নুন', 'যা' এবং 'লাম' যুক্ত হলে 'মানজিল' (ঘর) শব্দটি সৃষ্টি হয় … এভাবেই বর্ণমালার একেকটি বর্ণ অপরটির সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে দ্বি-অক্ষরী, ত্রি-অক্ষরী, চতুর্-অক্ষরী -ও অন্যান্য-২ শব্দ গঠিত হয়৩।

পূর্বোক্ত পদ্ধতিতে গঠিত এই শব্দগুলোর প্রতিটিই কোনো না কোনো অর্থ প্রকাশ করে;

--------------------------------------------

১. অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো, বর্ণমালার প্রথম বর্ণটি হলো: "হামজা", সেই আলিফ নয় যা কেবল হামজাকে ধারণ করে যাতে সেটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়, হারিয়ে না যায় এবং অন্যটির সাথে মিশে না যায়। এক্ষেত্রে আলিফের অবস্থা ঠিক 'ওয়াও' এবং 'ইয়া'-এর মতোই, যার উপরে কোনো কোনো শব্দ লেখার সময় হামজা অবস্থান করে। আর আসল 'আলিফ'-এর স্থান বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে ঠিক 'লাম'-এর পরে। এমনকি সাকিন হওয়ার কারণে এবং এককভাবে উচ্চারণ করা অসম্ভব হওয়ায় এটি 'লাম'-এর সাথে একীভূত হয়ে গেছে এবং উভয়টি মিলে "লা" হয়ে গেছে, যদিও এগুলো দুটি ভিন্ন বর্ণ, একটি নয়।

২. ইসিমের (বিশেষ্য) বর্ণসংখ্যা সাতের অধিক হয় না, যেমন: "ইস্তিগফার"; ফেলের (ক্রিয়া) বর্ণসংখ্যা ছয়ের অধিক হয় না, যেমন: "ইস্তাগফারা"; আর হারফের (অব্যয়) বর্ণসংখ্যা পাঁচের অধিক হয় না, যেমন: "লাকিন্না" —বিশুদ্ধ মতানুযায়ী একে একটি শব্দ বিবেচনা করলে— যার 'নুন' বর্ণটি তাশদীদযুক্ত এবং উচ্চারণে 'লাম'-এর পরে 'আলিফ' বহাল থাকে। কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ "হাইসুমা"-কে একটি শব্দ মনে করেন এবং একে হারফের অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে তাদের এই মতটি দুর্বল ও প্রত্যাখ্যাত।

- দেখুন "খণ্ড ৩" পৃষ্ঠা ৭১১।

৩. এ কারণেই বর্ণমালার বর্ণগুলোকে "হুরুফুল মাবানি" (গাঠনিক বর্ণ) বলা হয়; কারণ শব্দ এগুলো দ্বারা গঠিত হয় এবং এর মাধ্যমেই শব্দের রূপ তৈরি হয়। সুতরাং এগুলোই শব্দের গাঠনিক ভিত্তি। আর এগুলো "হুরুফুর রাবত" (সংযোগকারী বর্ণ) থেকে ভিন্ন যা ৬৬ পৃষ্ঠায় আসবে এবং যার অন্তর্ভুক্ত হলো "হুরুফুল মাআনি" (অর্থবোধক বর্ণ)।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ১৪)
لكنه معنى جزئي؛ "أيْ: مفرد"؛ فكلمة: "فم" حين نسمعها، لا نفهم منها أكثر من أنها اسم شيء معين. أما حصول أمر من هذا الشيء، أو عدم حصوله … ، أما تكوينه، أو وصفه، ببناء أو إعراب1..... أو دلالته على زمان أو مكان، أو معنى آخر -فلا نفهمه من كلمة: "فم" وحدها.

وكذلك الشأن فى كلمة: "عين"، و"منزل" وغيرهما من باقي الكلمات المفردة.

ولكن الأمر يتغير حين نقول: "الفم مفيد" -"العين نافعة"- "المنزل واسع النواحي"، فإن المعنى هنا يصير غير جزئي؛ "أي: غير مفرد"؛ لأن السامع يفهم منه فائدة وافية إلى حدّ كبير، بسبب تعدد الكلمات، وما يتبعه من تعدد المعاني الجزئية، وتماسكها، واتصال بعضها ببعض اتصالًا ينشأ عنه معنى مركب. فلا سبيل للوصول إلى المعنى المركب إلا من طريق واحد؛ هو: اجتماع المعاني الجزئية بعضها إلى بعض، بسبب اجتماع الألفاظ المفردة التي لكل لفظ منها معنى جزئي.

ومن المعنى المركب تحدث تلك الفائدة التي: "يستطيع المتكلم أن يسكت بعدها، ويستطيع السامع أن يكتفي بها". وهذه الفائدة -وأشباهها- وإن شئت فقل: هذا "المعنى المركب"، هو الذى يهتم به النحاة، ويسمونه بأسماء مختلفة، المراد منها واحد؛ فهو: "المعنى المركب، أو: "المعنى التام"، أو: "المعنى المفيد" أو: "المعنى الذى يحسن السكوت عليه" …

يريدون: أن المتكلم يرى المعنى قد أدى الغرض المقصود فيَستحسن الصمت، أو: أن السامع يكتفي به؛ فلا يستزيد من الكلام. بخلاف المعنى الجزئي، فإن المتكلم لا يقتصر عليه فى كلامه؛ لعلمه أنه لا يعطي السامع الفائدة التي ينتظرها من الكلام. أو: لا يكتفي السامع بما فهمه من المعنى الجزئي، وإنما يطلب المزيد. فكلاهما إذا سمع كلمة منفردة مثل: باب، أو: ريَحان، أو: سماء، أو: سواها … لا يقنع بها.

--------------------------------------------

1 يقول الخضري- ص 1 جـ 2 أول باب. الإضافة - ما نصه: "إن الكلمة قبل التركيب - أي قبل تركيبها مع غيرها. لا معربة ولا مبنية فوصف الحركة بكونها إعرابًا أو بناء متأخر عن وجود الكلمة وعن تركيبها" أهـ.

فلا يصحح الحكم عليها بالبناء أو الإعراب إلا بعد وضعها في جملة- كما سبق، وكما سيجيء في ص 75- وهناك كلمات أخرى لا توصف بإعراب ولا بناء كالتي ستجيء في "جـ" من ص 106 وتفصيل الكلام عليها في "جـ" 3 باب النعت م 114 ص 452.
কিন্তু এটি একটি আংশিক অর্থ; "অর্থাৎ: একক শব্দ"; সুতরাং "মুখ" শব্দটি যখন আমরা শুনি, তখন আমরা এটি একটি নির্দিষ্ট জিনিসের নাম হওয়ার চেয়ে বেশি কিছু বুঝতে পারি না। আর এই জিনিসটি থেকে কোনো কাজ ঘটা বা না ঘটা ..., অথবা এর গঠন কিংবা এর বর্ণনা, তথা এর রূপান্তরহীনতা বা রূপান্তরযোগ্যতা১ ..., অথবা এর দ্বারা কোনো কাল বা স্থান অথবা অন্য কোনো অর্থের নির্দেশনা—এসব কিছুই আমরা শুধু "মুখ" শব্দটি থেকে বুঝতে পারি না।

একইভাবে "চোখ" এবং "বাড়ি" শব্দটির অবস্থা এবং অবশিষ্ট অন্যান্য একক শব্দগুলোর ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম।

কিন্তু বিষয়টি পরিবর্তিত হয়ে যায় যখন আমরা বলি: "মুখ উপকারী" - "চোখ কল্যাণকর" - "বাড়িটি প্রশস্ত প্রাঙ্গণ বিশিষ্ট", তখন এখানকার অর্থটি আর আংশিক থাকে না; "অর্থাৎ: এটি আর একক থাকে না"; কারণ শ্রোতা এখান থেকে বেশ পূর্ণাঙ্গ একটি উপকারিতা বুঝতে পারে। কারণ এখানে একাধিক শব্দের উপস্থিতি রয়েছে এবং এর ফলে একাধিক আংশিক অর্থের সংশ্লিষ্টতা ও একটির সাথে অপরটির এমন সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে যার ফলে একটি যৌগিক অর্থ উৎপন্ন হয়েছে। সুতরাং যৌগিক অর্থে পৌঁছানোর কেবল একটিই পথ রয়েছে; আর তা হলো: আংশিক অর্থগুলোর একটির সাথে অপরটির মিলন, যা মূলত একক শব্দগুলোর মিলনের কারণে ঘটে, যার প্রতিটি শব্দেরই একটি করে আংশিক অর্থ রয়েছে।

আর এই যৌগিক অর্থ থেকেই সেই উপকারিতাটি তৈরি হয় যার মাধ্যমে: "বক্তা কথা শেষ করে থামতে পারেন এবং শ্রোতা তাতেই তুষ্ট হতে পারেন"। আর এই উপকারিতাটি—এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো—আপনি চাইলে একে "যৌগিক অর্থ" বলতে পারেন, এটিই সেই বিষয় যা নিয়ে ব্যাকরণবিদগণ আলোচনা করেন এবং তারা একে বিভিন্ন নামে অভিহিত করেন, যেগুলোর উদ্দেশ্য মূলত একই; আর তা হলো: "যৌগিক অর্থ", বা "পূর্ণাঙ্গ অর্থ", বা "উপকারী অর্থ", অথবা "এমন অর্থ যার ওপর নীরব থাকা সমীচীন" ...

তারা বোঝাতে চান যে: বক্তা দেখতে পান অর্থটি উদ্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণ করেছে, ফলে তিনি নীরব থাকাকেই উত্তম মনে করেন, অথবা শ্রোতা তাতেই সন্তুষ্ট হন; ফলে তিনি আর কথা শোনার আকাঙ্ক্ষা করেন না। আংশিক অর্থের বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ বক্তা তার কথায় কেবল এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন না; কেননা তিনি জানেন যে এটি শ্রোতাকে সেই উপকারিতা প্রদান করে না যা সে কথা থেকে আশা করে। অথবা: শ্রোতা আংশিক অর্থ থেকে যা বুঝেছেন তাতে সন্তুষ্ট হন না, বরং তিনি আরও কিছু জানতে চান। সুতরাং তারা উভয়েই যখন কোনো একক শব্দ শোনেন যেমন: দরজা, অথবা সুগন্ধি ফুল, অথবা আকাশ, অথবা অন্য কিছু... তখন তারা তাতে তৃপ্ত হন না।

--------------------------------------------

১ খুজরি—২য় খণ্ডের ১ম পৃষ্ঠার ইদাফাহ অধ্যায়ের শুরুতে—বলেন: "বাক্য গঠনের পূর্বে—অর্থাৎ অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হওয়ার পূর্বে—শব্দটি রূপান্তরযোগ্য (মু'রাব) কিংবা রূপান্তরহীন (মাবনি) কোনোটিই নয়। সুতরাং হরকতের (স্বরের) অবস্থাকে ই’রাব বা বিনা হিসেবে বর্ণনা করা মূলত শব্দটির অস্তিত্ব এবং তার বাক্য গঠনের পরের বিষয়।" সমাপ্ত।

সুতরাং শব্দের ওপর রূপান্তরহীন বা রূপান্তরযোগ্য হওয়ার বিধান দেওয়া তখনই সঠিক হবে যখন তাকে একটি বাক্যের অন্তর্ভুক্ত করা হবে—যেমনটি পূর্বে আলোচনা হয়েছে এবং সামনে ৭৫ পৃষ্ঠায় আসবে—আরও কিছু শব্দ রয়েছে যেগুলোকে রূপান্তরযোগ্য বা রূপান্তরহীন কোনোটিই বলা যায় না, যেমনটি সামনে ১০৬ পৃষ্ঠার "জ" অংশে আসবে এবং এর বিস্তারিত আলোচনা ৩য় খণ্ডের না’ত অধ্যায়ের ১১৪ অনুচ্ছেদের ৪৫২ পৃষ্ঠায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ১৫)
لذلك لا يقال عن الكلمة الواحدة إنها تامة الفائدة، برغم أن لها معنى جزئيًّا لا تسمى "كلمةً" بدونه؛ لأن الفائدة التامة لا تكون بمعنى جزئى واحد.

مما تقدم نعلم أن الكلمة هى: "اللفظة الواحدة التى تتركب من بعض الحروف الهجائية، وتدل على معنى جزئي؛ أيْ: "مفرد"1. فإن لم تدل على معنى عربي وُضِعت لأدائه فليست كلمة، وإنما هي مجرد صوت.

الكلام "أو: الجملة":

هو: "ما تركب من كلمتين أو أكثر، وله معنى مفيد مستقل". مثل: أقبل ضيف. فاز طالب نبيه. لن يهمل عاقل واجبًا … 2

فلا بد فى الكلام من أمرين معًا؛ هما: "التركيب"، و"الإفادة المستقلة" فلو قلنا: "أقبلَ" فقط، أو: "فاز" فقط، لم يكن هذا كلامًا؛ لأنه غير مركب. ولو قلنا: أقبلَ صباحًا … أو: فاز فى يوم الخميس … أو: لن

--------------------------------------------

1 وهي واحد: "الكلم" وقد يراد منها: "الكلام"، طبقًا للملاحظة الآتية في ص 17 واللفظ هو: الصوت المشتمل على بعض الحروف الهجائية، تحقيقًا مثل: شمس قمر - كتاب....، أو تقديرًا كالضمير المستتر. "راجع الأشموني الحضري.

2 "أ"- إذا وقعت الجملة الخبرية صلة الموصول، أو نعتا، أو حالا، أو تابعة لشيء آخر -كجملة الشرط- لا جوابه، فإنها لا تسمى جملة خبرية؛ لأنها تسمى خبرية يحسب أصلها الأول الذي كانت مستقلة فيه. فإذا صارت صلة، أو تابعة لغيرها لم يصح تسميتها: "خبرية"، إذ لا يكون فيها حكم مستقل بالسلب أو الإيجاب، تنفرد به، ويقتصر عليها وحدها. بل هي لذلك لا تسمى: "كلاما" ولا "جملة"، فعدم تسميتها جملة خبرية من باب أولى … ومثلها الجملة الواقعة خبرًا،.... فلا تسمى واحدة من كل من سبق كلامًا ولا جملة، إذ ليس لها كيان معنوي مستقل.

- كما سيجيء عند الكلام على صلة الموصولة رقم. من هامش ص 374 وله إشارة في رقم 4 من هامش ص 466.

"ب"- وكذلك إذا خرجت الجملة عن أصلها الذي شرحناه فصارت علمًا على مسمى معين، فإنها في حالتها الجديدة لا تسمى جملة. ومن هذا بعض الأعلام الشائعة اليوم، مثل: فتح الله، زاد المجد، بهر النور، الحسن كامل،.... فكل واحدة من هذه الألفاظ كانت في أصلها جملة خبرية، ثم صارت بعد التسمية بها نوعًا من اللفظ المفرد لا يدل جزء اللفظ منها على جزء من المعنى الأول، فتحولت مفردة بالوضع

- راجع شرح المفصل جـ 1 ص 18 معنى: الكلم.
তাই একটি একক শব্দ সম্পর্কে বলা হয় না যে এটি সম্পূর্ণ অর্থবহ, যদিও এর একটি আংশিক অর্থ থাকে যা ব্যতীত একে "শব্দ" বলা যায় না; কারণ একটিমাত্র আংশিক অর্থের মাধ্যমে পূর্ণ অর্থবহতা অর্জিত হয় না।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারি যে, শব্দ (কালিমা) হলো: "এমন একক উচ্চারণ যা কিছু বর্ণমালার সমন্বয়ে গঠিত এবং একটি আংশিক অর্থের প্রতি নির্দেশ করে; অর্থাৎ: 'একক' ১। যদি তা এমন কোনো আরবি অর্থের প্রতি নির্দেশ না করে যার জন্য একে গঠন করা হয়েছে, তবে তা শব্দ নয়, বরং কেবল একটি ধ্বনি মাত্র।"

আল-কালাম "বা: বাক্য":

এটি হলো: "যা দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এবং যার একটি স্বাধীন অর্থপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে"। যেমন: একজন মেহমান এসেছে। একজন মেধাবী ছাত্র সফল হয়েছে। কোনো বিবেকবান তার দায়িত্বে অবহেলা করবে না... ২

সুতরাং কালাম বা বাক্যের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় একত্রে থাকা আবশ্যক; সেগুলো হলো: "গঠন" এবং "স্বাধীন অর্থ প্রদান"। আমরা যদি শুধু বলি: "এসেছে", অথবা শুধু: "সফল হয়েছে", তবে তা কালাম বা বাক্য হবে না; কারণ এটি যৌগিক বা গঠিত নয়। আর আমরা যদি বলি: সকালে এসেছে... অথবা: বৃহস্পতিবার দিন সফল হয়েছে... অথবা: না...

--------------------------------------------

১. এটি হলো 'কালিম'-এর একবচন। ১৭ পৃষ্ঠার পরবর্তী টীকা অনুযায়ী এর দ্বারা কখনও 'কালাম'ও উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। আর 'লফয' বা শব্দোচ্চারণ হলো: এমন ধ্বনি যা কিছু বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত, বাস্তবে হোক যেমন: শামস (সূর্য), কামার (চাঁদ) - কিতাব (বই)... অথবা উহ্যভাবে হোক যেমন: উহ্য সর্বনাম। (দ্রষ্টব্য: আল-আশমুনি আল-হাদরি)।

২. "ক"- যখন কোনো বর্ণনামূলক বাক্য 'সিলাতুল মাউসুল' (সংযোজক বাক্যাংশ), 'নাআত' (গুণবাচক), 'হাল' (অবস্থাবাচক), অথবা অন্য কিছুর অনুগামী হিসেবে আসে—যেমন শর্তের বাক্য, তার উত্তর (জাওয়াব) নয়—তখন তাকে বর্ণনামূলক বাক্য বলা হয় না; কারণ তাকে তার মূল অবস্থার ভিত্তিতে বর্ণনামূলক বলা হয় যাতে সে স্বাধীন ছিল। যখন তা 'সিলা' বা অন্য কিছুর অনুগামী হয়, তখন তাকে "বর্ণনামূলক" বলা সঠিক নয়, যেহেতু তাতে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো স্বাধীন বিধান থাকে না যা দ্বারা সে স্বতন্ত্র হয় এবং যার ওপর তা সীমাবদ্ধ থাকে। বরং এই কারণে একে "কালাম" বা "জুমলা" (বাক্য) বলা হয় না, তাই একে বর্ণনামূলক বাক্য না বলাটাই অধিক যুক্তিযুক্ত... এর অনুরূপ হলো সেই বাক্য যা 'খবর' (বিধেয়) হিসেবে আসে... সুতরাং পূর্বোক্তগুলোর কোনোটিকেই কালাম বা জুমলা বলা যাবে না, যেহেতু এদের কোনো স্বাধীন অর্থগত সত্তা নেই।

- যেমনটি সামনে আসবে 'সিলাতুল মাউসুল' সংক্রান্ত আলোচনায়, ৩৭৪ পৃষ্ঠার টীকা নং... এবং ৪৬৬ পৃষ্ঠার ৪ নং টীকাতেও এর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।

"খ"- একইভাবে যদি কোনো বাক্য তার ব্যাখ্যাত মূল অবস্থা থেকে বিচ্যুত হয়ে নির্দিষ্ট কোনো কিছুর নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে নতুন অবস্থায় তাকে আর বাক্য বলা যাবে না। বর্তমানে প্রচলিত কিছু নাম এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন: ফাতহুল্লাহ, যাদাল মাজদ, বাহরান নূর, আল-হাসান কামিল... এগুলোর প্রতিটি শব্দই মূলত বর্ণনামূলক বাক্য ছিল, কিন্তু নাম হিসেবে নির্ধারিত হওয়ার পর তা এক প্রকার একক শব্দে পরিণত হয়েছে, যার কোনো অংশ তার পূর্ববর্তী অর্থের কোনো অংশের প্রতি নির্দেশ করে না। ফলে তা প্রয়োগগতভাবে একক শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে।

- দ্রষ্টব্য: শারহুল মুফাসসাল, ১ম খণ্ড, ১৮ পৃষ্ঠা, 'কালিম'-এর অর্থ।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ১৬)
يهمل واجبه … ، لم يكن هذا كلامًا أيضًا؛ لأنه -على رغم تركيبه- غير مفيدة فائدة يكتفى بها المتكلم أو السامع …

وليس من اللازم فى التركيب المفيد أن تكون الكلمتان ظاهرتين فى النطق؛ بل يكفى أن تكون إحداهما ظاهرة، والأخرى مستترة؛ كأن تقول للضيف: تفضلْ. فهذا كلام مركب من كلمتين؛ إحداهما ظاهرة، وهى: تفضلْ1، والأخرى مستترة، وهى: أنت2. ومثل: "تفضل": "أسافرُ" … أو: "نشكر" أو: "تخرجُ" … وكثير غيرها مما يعد فى الواقع كلامًا، وإن كان ظاهره أنه مفرد.

هذا، ويقول النحاة: إن الجملة ثلاثة أنواع: "أ" الجملة الأصلية. وهي التي تقتصر على ركني الإسناد "أي: على المبتدأ مع خبره، أو ما يقوم مقام الخبر أو تقتصر على الفعل مع فاعله، أو ما ينوب عن الفعل" "ب" الجملة الكبرى، وهي ما تتركب من مبتدأ خبره جملة اسمية أو فعلية، نحو: الزهور رائحته طيبة، أو: الزهر طبت رائحته. "حـ" الجملة الصغرى: وهي: الجملة الاسمية أو الفعلية إذا وقعت إحداهما خبرًا لمبتدأ.

الكَلِم:

هو: ما تركب من ثلاث كلمات فأكثر؛ سواء أكان لها معنى مفيد، أم لم يكن لها معنى مفيد. فالكلم المفيد مثل: النيل ثروة مصر -القطن محصول أساسي فى بلادنا. وغير المفيد مثل: إن تكثر الصناعات …

القول:

هو كل لفظ نطق به الإنسان؛ سواء أكان لفظًا مفردًا أم مركبًا، وسواء أكان تركيبه مفيدًا أم غير مفيد. فهو ينطبق على: "الكلمة" كما ينطبق على: "الكلام" وعلى: "الكلم". فكل نوع من هذه الثلاثة يدخل فى نطاق: "القول" ويصح أن يسمى: "قولًا" على الصحيح، وقد سبقت الأمثلة. كما ينطبق أيضًا على كل تركيب آخر يشتمل على كلمتين لا تتم بهما الفائدة؛ مثل:

--------------------------------------------

1 فعل أمر.

2 فاعله. ولما كانت الكلام هنا مفيدًا ولا يظهر منه في النطق إلا الفعل، والفعل، لا بد له. من فاعل -وجب التسليم بأن الكلمة الثانية مستترة.
তার কর্তব্য অবহেলা করে … , এটিও কালাম (বাক্য) ছিল না; কারণ—এর গঠন থাকা সত্ত্বেও—এটি এমন কোনো অর্থবহ ফায়দা দেয় না যা বক্তা বা শ্রোতার জন্য যথেষ্ট হয় …

অর্থবহ গঠনের ক্ষেত্রে এটি আবশ্যক নয় যে, উভয় শব্দ উচ্চারণে প্রকাশ্য হতে হবে; বরং এর একটি প্রকাশ্য এবং অন্যটি উহ্য থাকাই যথেষ্ট। যেমন আপনি মেহমানকে বললেন: আসুন। এটি দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত একটি কালাম; যার একটি প্রকাশ্য, আর তা হলো: আসুন১, এবং অন্যটি উহ্য, আর তা হলো: আপনি২। আর "আসুন"-এর মতোই হলো: "আমি সফর করছি" … অথবা: "আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি" অথবা: "তুমি বের হচ্ছো" … এবং এমন আরও অনেক শব্দ রয়েছে যা বাস্তবে কালাম হিসেবে গণ্য হয়, যদিও বাহ্যিকভাবে মনে হয় যে এটি একটি একক শব্দ।

ব্যাকরণবিদগণ বলেন: জুমলা (বাক্য) তিন প্রকার: "ক" জুমলা আসলিয়্যাহ (মৌলিক বাক্য)। এটি হলো সেই বাক্য যা ইসনাদের (সম্বন্ধের) দুটি রুকনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে "অর্থাৎ: মুবতাদা ও তার খবর, অথবা যা খবরের স্থলাভিষিক্ত হয়, অথবা ফেল (ক্রিয়া) ও তার ফায়েল (কর্তা), অথবা যা কর্তার স্থলাভিষিক্ত হয়"। "খ" জুমলা কুবরা (বৃহৎ বাক্য), এটি এমন বাক্য যা মুবতাদা দ্বারা গঠিত এবং যার খবরটি একটি জুমলা ইসমিয়্যাহ বা জুমলা ফেলিয়্যাহ হয়। যেমন: ফুলের সুগন্ধি চমৎকার, অথবা: ফুলের সুবাস ভালো লেগেছে। "গ" জুমলা সুগরা (ক্ষুদ্র বাক্য): এটি হলো সেই জুমলা ইসমিয়্যাহ বা জুমলা ফেলিয়্যাহ যা অন্য কোনো মুবতাদার খবর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আল-কালিম:

এটি হলো যা তিনটি বা তার বেশি শব্দ দ্বারা গঠিত হয়; চাই তা অর্থবহ ফায়দা প্রদান করুক বা না করুক। সুতরাং অর্থবহ কালিমের উদাহরণ হলো: নীল নদ মিসরের সম্পদ—তুলা আমাদের দেশের একটি প্রধান ফসল। আর অর্থহীন কালিমের উদাহরণ হলো: যদি শিল্পায়ন বৃদ্ধি পায় …

আল-কওল (কথা):

এটি হলো মানুষের মুখ থেকে উচ্চারিত প্রতিটি লফজ (শব্দ); চাই তা একক শব্দ হোক বা যৌগিক, এবং তার গঠন অর্থবহ হোক বা না হোক। সুতরাং এটি "কালিমা" (শব্দ)-এর ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি প্রযোজ্য "কালাম" (বাক্য) এবং "কালিম"-এর ক্ষেত্রেও। অতএব, এই তিন প্রকারের প্রতিটিই "কওল"-এর অন্তর্ভুক্ত এবং বিশুদ্ধ মতানুসারে এগুলোকে "কওল" বলা সঠিক, যার উদাহরণ ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। এছাড়াও এটি এমন প্রত্যেকটি গঠনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত কিন্তু তার দ্বারা পূর্ণ ফায়দা অর্জিত হয় না; যেমন:

--------------------------------------------

১ এটি আদেশসূচক ক্রিয়া।

২ এটি তার কর্তা। যেহেতু এখানে কালামটি অর্থবহ এবং উচ্চারণে কেবল ক্রিয়াটিই প্রকাশ পাচ্ছে, আর ক্রিয়ার জন্য অবশ্যই একজন কর্তা প্রয়োজন—তাই এটি স্বীকার করে নেওয়া আবশ্যক যে দ্বিতীয় শব্দটি এখানে উহ্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ১৭)
إن مصر … ، أو: قد حضر … أو: هل أنت. أو: كتاب عليّ1 … فكل تركيب من هذه التراكيب لا يصح أن يسمى: "كلمة"؛ لأنه ليس لفظًا مفردًا، ولا يصح أن يسمى: "كلامًا"؛ لأنه ليس مفيدًا. ولا: "كلمًا"؛ لأنه ليس مؤلفًا من ثلاث كلمات؛ وإنما يسمى: "قوْلاً".

"ملاحظة": ويقول أهل اللغة: إن "الكلمة" واحد: "الكلم". ولكنها قد تستعمل أحيانًا2 بمعنى: "الكلام"؛ فتقول: حضرتُ حفل تكريم الأوائل؛ فسمعت "كلمة" رائعة لرئيس الحفل، و"كلمة" أخرى لأحد الحاضرين، و"كلمة" ثالثة من أحد الأوائل يشكر المحتفلِين. ومثل: اسمعْ مني "كلمة" غالية؛ وهى:

أحْسِنْ إلى الناس تَستعبدْ قلوبهمُ … فطالما استعبدَ الإنسانَ إحسانُ

فالمراد بالكلمة فى كل ما سبق هو: "الكلام"، وهو استعمال فصيح، يشيع على ألسنة الأدباء وغيرهم.

وللكلمة ثلاثة أقسام، اسم. وفعل، وحرف3.

--------------------------------------------

1 وهذا هو: المركب الإضافي. ومثله: المركب الوصفي، نحو: "رجل شجاع … "، والمزجي، نحو سيبويه. ويلحق به العددي، نحو: خمسة عشر.

2 مجازا.

3 سيجيء تفصيل الكلام على الثلاثة في ص 26 - أما اسم الفعل الذي اعتبره بعض النحاة قسما رابعا، فالتحقيق أنه داخل في قسم: "الاسم" كما سيجيء في بابه الخاص جـ 4 م 141.

وقد لخص ابن مالك في ألفيته ما سبق بقوله:

كلامنا لفظ مفيد كاستقم … واسم، و "فعل" ثم حرف: الكلم

واحده: "كلمة" و "القول" عم … وكلمة بها كلام قد يؤم

يريد: أن "الكلام" عند النحاة هو: اللفظ المفيد "ولا يكون مفيدا إلا إذا كان مركبا، كاستقم" "والكلم" ثلاثة أقسام، اسم، وفعل، وحرف، وواحده: "كلمة". و "القول" يشمل بمعناه كل الأقسام، "فكلمة: عم، وأصلها: عم" فعل ماض. والكلمة قد يؤم بها الكلام، أي: يقصد إطلاقها على الكلام بمعناه الذي سبق.

أما اللفظ فقد سبق تعريفه في رقم 1 من هامش ص 15.
নিশ্চয়ই মিশর ..., অথবা: উপস্থিত হয়েছে ... অথবা: তুমি কি? অথবা: আলীর কিতাব ১ ... এই গঠনগুলোর কোনোটিকেই 'কালিমা' (শব্দ) বলা সঠিক হবে না; কারণ এটি একক শব্দ নয়। আবার একে 'কালাম' (বাক্য) বলাও সঠিক হবে না; কারণ এটি পূর্ণ অর্থবোধক নয়। একে 'কিলম'-ও বলা যাবে না; কারণ এটি তিনটি শব্দ দ্বারা গঠিত নয়। বরং একে কেবল 'কাওল' (বাণী) বলা হয়।

"দ্রষ্টব্য": ভাষাবিদগণ বলেন: 'কালিমা' হলো 'কিলম'-এর একবচন। তবে কখনো কখনো এটি ২ 'কালাম' (বক্তব্য/কথা) অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনি বলবেন: আমি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলাম; সেখানে আমি অনুষ্ঠানের সভাপতির একটি চমৎকার 'কালিমা' (বক্তব্য) শুনেছি, উপস্থিতদের একজনের পক্ষ থেকে আরেকটি 'কালিমা' এবং কৃতিদের একজনের পক্ষ থেকে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তৃতীয় একটি 'কালিমা' শুনেছি। অনুরূপভাবে: আমার কাছ থেকে একটি মূল্যবান 'কালিমা' শোনো; আর তা হলো:

মানুষের প্রতি সদাচরণ করো, তবেই তাদের অন্তর জয় করতে পারবে; ... কেননা সদাচরণ দীর্ঘকাল মানুষকে অনুগত করে রাখে।

উপরের সকল ক্ষেত্রে 'কালিমা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: 'কালাম' (বক্তব্য), যা একটি সাবলীল প্রয়োগ এবং সাহিত্যিক ও অন্যদের নিকট বহুল প্রচলিত।

কালিমার তিনটি প্রকার: বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফিল) এবং অব্যয় (হারফ) ৩।

--------------------------------------------

১ এটি হলো: সম্বন্ধযুক্ত পদসমষ্টি (মুরাক্কাবে ইযাফি)। এর অনুরূপ হলো: বিশেষণযুক্ত পদসমষ্টি (মুরাক্কাবে ওয়াসফি), যেমন: "সাহসী ব্যক্তি ...", এবং মিশ্র পদসমষ্টি (মুরাক্কাবে মাজজি), যেমন: সিবওয়াইহি। এর সাথে সংখ্যাবাচক পদসমষ্টিও যুক্ত হয়, যেমন: পনেরো।

২ রূপক অর্থে।

৩ এই তিনটির বিস্তারিত আলোচনা ২৬ পৃষ্ঠায় আসবে। তবে ক্রিয়া-বিশেষ্য (ইসমু ফিল), যাকে কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ চতুর্থ প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন, তা মূলত 'বিশেষ্য' (ইসম) এর অন্তর্ভুক্ত হওয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত, যা এর নিজস্ব অধ্যায়ে (৪র্থ খণ্ড, ১৪১ নং অনুচ্ছেদে) আলোচিত হবে।

ইবনে মালিক তার আলফিয়্যাহ-তে ওপরের বিষয়গুলোকে সংক্ষেপে এভাবে বলেছেন:

আমাদের (ব্যাকরণবিদদের) নিকট বাক্য (কালাম) হলো এমন অর্থবোধক শব্দ যা 'অটল থাকো'-এর মতো ... আর বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয় মিলেই হলো 'কিলম'।

এর একবচন হলো 'কালিমা' এবং 'কাওল' শব্দটি সব প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে ... আর 'কালিমা' দ্বারা কখনো কখনো পূর্ণ বক্তব্য (কালাম) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়।

তিনি বোঝাতে চেয়েছেন: ব্যাকরণবিদদের নিকট 'কালাম' হলো: অর্থবোধক শব্দ "আর এটি শব্দসমষ্টি না হওয়া পর্যন্ত অর্থবোধক হয় না, যেমন: অটল থাকো"। আর 'কিলম' তিন প্রকার: বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয় এবং এর একবচন হলো 'কালিমা'। আর 'কাওল' তার অর্থের দিক থেকে সব কটি প্রকারকে শামিল করে। এখানে 'আম্মা' (ব্যাপক হওয়া) শব্দটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া। আর কালিমার প্রয়োগ ঘটিয়ে কখনো কালাম উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, অর্থাৎ কালিমার ব্যবহার করে ওপরের অর্থ অনুযায়ী পূর্ণ বক্তব্যকে বোঝানো হয়।

আর 'শব্দ' (লাফজ)-এর সংজ্ঞা ১৫ পৃষ্ঠার ১ নং টীকায় ইতিপূর্বে গত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ১৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

زيادة وتفصيل:

تعود النحاة -بعد الكلام على الأنواع الأربعة السابقة- أن يوازنوا بينها موازنة أساسها: "علم المنطق" ويطيلوا فيها الجدل المرهق، مع أن الموضوع فى غنى عن الموازنة؛ لبعد صلتها "بالنحو". وبالرغم من هذا سنلخص كلامهم … "وقد يكون الخير فى الاستغناء عنه".

"أ" يقولون: إن موازنة الأنواع السابقة بعضها ببعض؛ لمعرفة أوسعها شمولًا، وأكثرها أفرادًا، تدل على أن: "القول" هو الأوسع والأكثر؛ لأنه ينطبق عليها جميعًا، وعلى كل فرد من أفرادها. أما غيره فلا ينطبق إلا على أفراده الخاصة به، دون أفراد نوع آخر؛ فكل ما يصدق عليه أنه: "كلمة" أو: "كلام" أو: "كلم" -يصْدُق عليه أنه: "قول"، ويُعَدّ من أفراد: "القول"، ولا عكس.

هذا إلى أن القول يشمل نوعًا آخر غير تلك الأنواع، وينطبق وحده على أفراد ذلك النوع؛ وهو: كل تركيب اشتمل على كلمتين من غير إفادة تامة منهما؛ مثل: "إنْ حضر" … "ليس حامد"، "ليت مصر" … ، "سيارةُ رجل" … فمثل هذا لا يصح أن يسمى: "كلمة، ولا "كلامًا"، ولا "كَلما" ومن هنا يقول النحاة: إن القول أعم من كل نوع من الأنواع الثلاثة عمومًا مطلقًا، وأن كل نوع أخص منه خصوصًا مطلقاً … يريدون بالعموم: أن "القول" يشمل من الأنواع أكثر من غيره. ويريدون "بالإطلاق": أن ذلك الشمول عام فى كل الأحوال، بغير تقييد بحالة معينة؛ فكلما وُجد نوع وجد أن "القول"؛ يشمله وينطبق على كل فرد من أفراده -دائمًا-

وأما أن كل نوع أخص -وأن ذلك الخصوص مطلق- فلأن كل نوع من الثلاثة لا يشمل عددًا من الأفراد المختلفة بقدر ما يشمله "القول" ولا ما يزيد عليه. وأن هذا شأنه فى كل الأحوال بغير تقييد، كما يتضح مما يأتي:

كتب: كلمة، ويصح أن تسمى: "قولًا" وكذلك كل كلمة أخرى.

كتب عليّ: كلام، ويصح أن يسمى: "قولًا. " وكذلك كل جملة
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

অতিরিক্ত আলোচনা ও বিস্তারিত বিবরণ:

ব্যাকরণবিদগণ—পূর্বোক্ত চারটি প্রকার নিয়ে আলোচনার পর—সেগুলোর মধ্যে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনার রীতি অনুসরণ করেন যার ভিত্তি হলো "তর্কশাস্ত্র" (ইলমুল মানতিক), এবং তারা এতে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর বিতর্ক করেন। যদিও ব্যাকরণশাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক ক্ষীণ হওয়ায় বিষয়টি এমন তুলনামূলক পর্যালোচনার মুখাপেক্ষী নয়। তা সত্ত্বেও আমরা তাদের আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরব … "তবে তা বর্জন করার মধ্যেই হয়তো কল্যাণ নিহিত আছে।"

"ক" তারা বলেন: ব্যাপকতা এবং অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের আধিক্য জানার উদ্দেশ্যে পূর্বোক্ত প্রকারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক তুলনা করলে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, "কওল" (উক্তি) হলো সর্বাধিক ব্যাপক ও সংখ্যায় অধিক; কারণ এটি পূর্বোক্ত সবগুলোর ওপর এবং সেগুলোর প্রত্যেকটি সদস্যের ওপর প্রযোজ্য হয়। পক্ষান্তরে অন্যগুলো কেবল তাদের নিজস্ব সদস্যের ওপরই প্রযোজ্য হয়, অন্য কোনো প্রকারের সদস্যের ওপর নয়। সুতরাং যা কিছুর ওপর "কালিমা" (শব্দ), "কালাম" (বাক্য) বা "কালিম" (তিন বা ততোধিক শব্দের সমষ্টি)-এর সংজ্ঞা সত্য হয়, তার ওপর "কওল"-এর সংজ্ঞাও সত্য হয় এবং তা "কওল"-এর সদস্য হিসেবে গণ্য হয়; কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়।

এর পাশাপাশি "কওল" সেই প্রকারগুলো ছাড়াও অন্য আরেকটি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং শুধুমাত্র এটিই সেই প্রকারের সদস্যদের ওপর প্রযোজ্য হয়; তা হলো: এমন প্রতিটি গঠন যা দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত হলেও কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করে না; যেমন: "যদি উপস্থিত হয়" … "হামেদ নয়", "হায় যদি মিশর" … , "ব্যক্তির গাড়ি" … এ জাতীয় গঠনকে "কালিমা", "কালাম" বা "কালিম" বলা সঠিক নয়। এই প্রেক্ষাপটেই ব্যাকরণবিদগণ বলেন: "কওল" পূর্বোক্ত তিনটি প্রকারের প্রত্যেকটি থেকে নিরঙ্কুশভাবে সাধারণ (আম্মে মুতলাক), এবং অন্য প্রতিটি প্রকার এর তুলনায় নিরঙ্কুশভাবে বিশেষ (খাসসে মুতলাক) … সাধারণ বলতে তারা বুঝিয়েছেন: "কওল" অন্যগুলোর চেয়ে বেশি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর "নিরঙ্কুশ" বলতে তারা বুঝিয়েছেন: সেই অন্তর্ভুক্তি সকল অবস্থায় সাধারণ, কোনো বিশেষ অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ নয়; ফলে যখনই কোনো প্রকার পাওয়া যায়, তখনই দেখা যায় যে "কওল" তাকে অন্তর্ভুক্ত করছে এবং সর্বদা তার প্রতিটি সদস্যের ওপর প্রযোজ্য হচ্ছে।

আর প্রতিটি প্রকার বিশেষ হওয়া—এবং সেই বিশেষত্ব নিরঙ্কুশ হওয়া—এর কারণ হলো, পূর্বোক্ত তিনটি প্রকারের কোনোটিই ততসংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে না যতসংখ্যক "কওল" অন্তর্ভুক্ত করে, কিংবা তার চেয়ে বেশিকেও নয়। আর এটি কোনো শর্ত ছাড়াই সব অবস্থায় প্রযোজ্য, যা নিচের উদাহরণ থেকে স্পষ্ট হয়:

সে লিখেছে (কাতাবা): এটি একটি শব্দ (কালিমা), এবং একে "কওল" বলাও সঠিক। অনুরূপভাবে প্রতিটি শব্দের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।

আলী লিখেছে (কাতাবা আলিয়্যুন): এটি একটি বাক্য (কালাম), এবং একে "কওল" বলাও সঠিক। অনুরূপভাবে প্রতিটি বাক্যের ক্ষেত্রেও একই কথা।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ১৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

مفيدة مستقلة بمعناها، مكونة من كلمتين. -أوأكثر كما سيجيء،

قد كتب صباحًا: كلم، ويصح أن يسمى: "قولا. " وكذلك كل تركيب يشتمل على ثلاث كلمات فأكثر، من غير أن يفيد.

كتب عليّ صباحًا: كَلِم أيضًا. ويصح أن يسمى: "كلامًا، أو: قولًا". وكذلك كل تركيب يشتمل على ثلاث كلمات فأكثر مع الإفادة المستقلة.

كتاب علي: يسمى: "قولا" فقط … وكذلك كل تركيب يشتمل على كلمتين فقط من غير إفادة.

فالقول منطبق على كل نوع، وصادق على كل فرد من أفراد ذلك النوع ومن غيره.

وقد يوضح هذا كلمة أخرى مثل:؛ "معدن"؛ فإن " المعدن" أنواع كثيرة؛ منها الذهب، والفضة والنحاس … فكلمة؛ "معدن" أعم من كل كلمة من تلك الكلمات عمومًا مطلقًا، وكل نوع أخص منه خصوصًا مطلقًا؛ لأن كلمة "معدن" بالنسبة للذهب -مثلًا- تشمله، وتشمل نوعًا أوأكثر غيره -كالفضة-. أما الذهب فمقصور على نوعه الخاص، فالمعدن عام؛ لأنه يشمل نوعين أو أكثر. والذهب خاص؛ لأنه لا يشمل إلا نوعًا واحدًا. و"المعدن" عام عمومًا مطلقًا؛ لأنه ينطبق دائمًا على كل فرد من أفراد نوعيه أو أنواعه وذلك فى كل حالات.

"ب" ثم تأتى الموازنة بين "الكلم" و"الكلام" فتدل على أمرين:

أحدهما: أن "الكلم" و"الكلام" يشتركان معًا فى بعض الأنواع التى يصدق على كل منها أنه: "كلم" وأنه: "كلام"؛ فيصح أن نسميه بهذا أو ذاك؛ كالعبارات التى تتكون من ثلاث كلمات مفيدة؛ فإنها نوع صالح لأن يسمى: "كلامًا" أو: "كلمًا". وكالعبارات التى تتكون من أربع كلمات مفيدة؛ فإنها نوع صالح لأن يسمى: "كلامًا" أو: "كلمًا" وهكذا كل جملة اشتملت على أكثر من ذلك مع الإفادة المستقلة.

ثانيهما: أن كلا منهما قد يشتمل على أنواع لا يشتمل عليها الآخر،
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

এটি তার নিজ অর্থ প্রকাশে স্বতন্ত্র ও ফলপ্রসূ এবং এটি দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, যেমনটি সামনে আসবে।

‘সে সকালে লিখেছে’: এটি কালিম (তিনটি শব্দের সমষ্টি), এবং একে ‘কাওল’ (কথা) বলাও সঠিক। অনুরূপভাবে প্রতিটি গঠন যা তিন বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত কিন্তু কোনো পূর্ণ অর্থ প্রদান করে না, তাকেও কালিম ও কাওল বলা হয়।

‘আলী সকালে লিখেছে’: এটিও কালিম। তবে একে ‘কালাম’ (বাক্য) বা ‘কাওল’ বলাও সঠিক। অনুরূপভাবে প্রতিটি গঠন যা স্বতন্ত্র অর্থ প্রদানের পাশাপাশি তিন বা ততোধিক শব্দ নিয়ে গঠিত, তা কালাম, কালিম ও কাওল নামে অভিহিত হতে পারে।

‘আলীর বই’: একে শুধুমাত্র ‘কাওল’ বলা হয় … অনুরূপভাবে প্রতিটি গঠন যা কোনো পূর্ণ অর্থ প্রদান ছাড়াই মাত্র দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, তাকেও শুধু কাওল বলা হয়।

সুতরাং ‘কাওল’ প্রতিটি প্রকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং সেই প্রকারের প্রতিটি সদস্য বা অন্যান্য সবকিছুর ক্ষেত্রেও সমানভাবে সত্য।

এই বিষয়টি অন্য একটি শব্দের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে, যেমন: ‘ধাতু’; কেননা ‘ধাতু’র অনেক প্রকার রয়েছে; যেমন স্বর্ণ, রৌপ্য ও তামা … এখানে ‘ধাতু’ শব্দটি উক্ত শব্দগুলোর প্রত্যেকটির চেয়ে নিরঙ্কুশভাবে অধিক ব্যাপক, আর প্রতিটি প্রকার (স্বর্ণ বা রৌপ্য) তার চেয়ে নিরঙ্কুশভাবে অধিক বিশিষ্ট। কারণ ‘ধাতু’ শব্দটি স্বর্ণের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি এটি স্বর্ণ ছাড়াও অন্য এক বা একাধিক প্রকারকে—যেমন রৌপ্য—অন্তর্ভুক্ত করে। পক্ষান্তরে স্বর্ণ কেবল তার নিজস্ব প্রকারেই সীমাবদ্ধ। তাই ধাতু হলো সাধারণ; কারণ এটি দুই বা ততোধিক প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর স্বর্ণ হলো বিশেষ; কারণ এটি একটি মাত্র প্রকার ছাড়া অন্য কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে না। সুতরাং ‘ধাতু’ নিরঙ্কুশভাবে ব্যাপক; কারণ এটি সর্বদা তার প্রতিটি প্রকারের সদস্যের ওপর সব অবস্থায় প্রযোজ্য হয়।

“খ” এরপর ‘কালিম’ ও ‘কালাম’-এর মধ্যে তুলনা আসে, যা দুটি বিষয়ের দিকে নির্দেশ করে:

প্রথমটি হলো: ‘কালিম’ ও ‘কালাম’ উভয়ই কিছু প্রকারের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে মিলিত হয়, যেখানে প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই সেটি ‘কালিম’ এবং সেটি ‘কালাম’ হওয়ার বিষয়টি সত্য হয়; ফলে একে এই বা ওই যেকোনো নামে অভিহিত করা সঠিক। যেমন এমন অভিব্যক্তি যা তিনটি অর্থপূর্ণ শব্দের সমন্বয়ে গঠিত; এটি এমন এক প্রকার যা ‘কালাম’ অথবা ‘কালিম’ নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য। আবার এমন অভিব্যক্তি যা চারটি অর্থপূর্ণ শব্দ নিয়ে গঠিত; এটিও ‘কালাম’ বা ‘কালিম’ নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য। অনুরূপভাবে স্বতন্ত্র অর্থ প্রদানের পাশাপাশি এর চেয়ে অধিক শব্দ সম্বলিত প্রতিটি বাক্যই এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয়টি হলো: এদের প্রত্যেকেই এমন কিছু স্বতন্ত্র প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে যা অন্যটি করে না,
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

فيصير أعم من نظيره أنواعًا، وأوسع أفرادًا؛ مثال ذلك: أن "الكلم" وحده يصدق على كل تركيب يحوي ثلاث كلمات أو أكثر، سواء أكانت مفيدة، مثل: "أنت خير مرشد" أم غير مفيدة، مثل: "لما حضر فى يوم الخميس" فهو من هذه الناحية أعم وأشمل من الكلام؛ لأن الكلام لا ينطبق إلا على المفيد، فيكون -بسبب هذا- أقل أنواعًا وأفرادًا؛ فهو أخص.

لكن "الكلام" -من جهة أخرى- ينطبق على نوع لا ينطبق عليه "الكلم" كالنوع الذى يتركب من كلمتين مفيدتين؛ مثل: "أنت عالم" وهذا يجعل الكلام أعم. وأشمل من نظيره، ويجعل الكلم أخص.

فخلاصة الموازنة بين الاثنين: أنهما يشتركان حينًا فى نوع "أى: فى عدد من الأفراد"، ثم يختص كل واحد منهما بعد ذلك بنوع آخر ينفرد به دون نظيره؛ فيصير به أعم وأشمل. فكل منهما أعم وأشمل حينًا، وأخص وأضيق حينًا آخر. ويعبر العلماء عن هذا بقولهم: "إن بينهما العموم من وجه، والخصوص من وجه. " أو: " بينهما العموم والخصوص الوجهي".

يريدون من هذا: أنهما يجتمعان حينًا فى بعض الحالات، وينفرد كل منهما فى الوقت نفسه ببعض حالات أخرى يكون فيها أعم من نظيره، ونظيره أعم منه أيضًا؛ فكلاهما أعم وأخص معًا. وإن شئت فقل: إن بينهما العموم من وجه والخصوص من وجه "أي؛ الوجهي" فيجتمعان فى مثل قد غاب على … وينفرد الكلام بمثل: حضر محمود … وينفرد الكلم بمثل: إنْ جاء رجل … فالكلم أعم من جهة المعنى؛ لأنه يشمل المفيد وغير المفيد، وأخص من جهة اللفظ؛ لعدم اشتماله على اللفظ المركب من كلمتين.

و"الكلام" أعم من جهة اللفظ؛ لأنه يشمل المركب من كلمتين فأكثر. وأخص من جهة المعنى؛ لأنه لا يطلق على غير المفيد.

"حـ" أما موازنة الكلمة بغيرها فتدل على أنها أخص الأنواع جميعًا1.

شيء آخر يعرض له النحاة بمناسبة: "كلِم". يقولون:

إننا حين نسمع كلمة: رجال، أو: كتب، أو: أقلام، أو: غيرها

--------------------------------------------

1 وقد سبق -في ص 18- أن "القول" أعم الأنواع جميعًا.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

ফলে এটি তার সমপর্যায়ের তুলনায় প্রকারভেদে অধিক সাধারণ এবং উদাহরণের ক্ষেত্রে অধিক প্রশস্ত হয়ে থাকে। এর উদাহরণ হলো: "কালিম" এককভাবে এমন প্রতিটি কাঠামোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা তিনটি বা ততোধিক শব্দ ধারণ করে, চাই তা অর্থপূর্ণ হোক, যেমন: "তুমি শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক", অথবা অর্থহীন হোক, যেমন: "যখন বৃহস্পতিবার উপস্থিত হলো"। এই দিক থেকে এটি "কালাম"-এর তুলনায় অধিক সাধারণ ও ব্যাপক; কারণ "কালাম" কেবল অর্থপূর্ণ বাক্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। ফলে এই কারণে "কালাম" প্রকার ও উদাহরণের দিক থেকে সীমিত হয়; অর্থাৎ এটি অধিক সুনির্দিষ্ট।

কিন্তু "কালাম" অন্য দিক থেকে এমন একটি প্রকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যার ক্ষেত্রে "কালিম" প্রযোজ্য হয় না; যেমন এমন প্রকার যা দুটি অর্থপূর্ণ শব্দ দ্বারা গঠিত, উদাহরণস্বরূপ: "তুমি বিদ্বান"। এটি "কালাম"কে তার সমপর্যায়ের তুলনায় অধিক সাধারণ ও ব্যাপক করে তোলে এবং "কালিম"কে অধিক সুনির্দিষ্ট করে দেয়।

সুতরাং এই দুইয়ের মধ্যে তুলনার সারসংক্ষেপ হলো: তারা কোনো কোনো সময় একটি প্রকারে (অর্থাৎ নির্দিষ্ট সংখ্যক উদাহরণের ক্ষেত্রে) অংশীদার হয়, অতঃপর তাদের প্রত্যেকে এমন এক একটি প্রকারে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয় যাতে সে তার সমপর্যায়ের অপরটি ছাড়াই এককভাবে অবস্থান করে; ফলে এর মাধ্যমে সে অধিক সাধারণ ও ব্যাপক হয়ে ওঠে। সুতরাং তাদের প্রত্যেকেই কোনো সময় অধিক সাধারণ ও ব্যাপক, আবার কোনো সময় অধিক সুনির্দিষ্ট ও সংকীর্ণ। আলেমগণ একে তাঁদের এই উক্তির মাধ্যমে ব্যক্ত করেন: "নিশ্চয় এই দুইয়ের মাঝে এক দিক থেকে সাধারণত্ব এবং অন্য দিক থেকে সুনির্দিষ্টতা রয়েছে।" অথবা: "তাদের মাঝে আংশিক সাধারণত্ব ও আংশিক সুনির্দিষ্টতা বিদ্যমান"।

এর দ্বারা তাঁরা বোঝাতে চান যে: তারা কোনো কোনো সময় কিছু অবস্থায় একীভূত হয়, আবার একই সাথে তারা প্রত্যেকে এমন কিছু অন্য অবস্থায় এককভাবে অবস্থান করে যেখানে সে তার প্রতিপক্ষের তুলনায় অধিক সাধারণ হয়, আবার তার প্রতিপক্ষও তার তুলনায় অধিক সাধারণ হয়; ফলে তারা উভয়েই একই সাথে সাধারণ এবং সুনির্দিষ্ট। আপনি চাইলে বলতে পারেন: তাদের উভয়ের মাঝে এক দিক থেকে সাধারণত্ব এবং অন্য দিক থেকে সুনির্দিষ্টতা বিদ্যমান। তারা এমন বাক্যে একীভূত হয় যেমন: "সে অনুপস্থিত হয়েছে..."। আর কালাম এককভাবে ব্যবহৃত হয় এমন বাক্যে যেমন: "মাহমুদ উপস্থিত হয়েছে..."। এবং কালিম এককভাবে ব্যবহৃত হয় এমন বাক্যে যেমন: "যদি কোনো ব্যক্তি আসে..."। সুতরাং "কালিম" অর্থের দিক থেকে অধিক সাধারণ; কারণ তা অর্থপূর্ণ ও অর্থহীন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু শব্দের দিক থেকে এটি অধিক সুনির্দিষ্ট; কারণ এটি দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত শব্দসমষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে না।

আর "কালাম" শব্দের দিক থেকে অধিক সাধারণ; কারণ তা দুই বা ততোধিক শব্দ দ্বারা গঠিত বাক্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু অর্থের দিক থেকে এটি অধিক সুনির্দিষ্ট; কারণ এটি অর্থহীন বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না।

"জিম" (৩): অন্যান্যের সাথে "কালিমাহ" (শব্দ)-এর তুলনা করলে দেখা যায় যে এটি সকল প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুনির্দিষ্ট।১

"কালিম" প্রসঙ্গের সাথে সম্পৃক্ত অন্য একটি বিষয় ব্যাকরণবিদগণ উপস্থাপন করেন। তাঁরা বলেন:

আমরা যখন 'পুরুষগণ', অথবা 'বইসমূহ', অথবা 'কলমসমূহ' বা এ জাতীয় শব্দ শুনি...

--------------------------------------------

১ ইতোপূর্বে ১৮ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে যে, "কাওল" (উক্তি) হলো সকল প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

من جموع التكسير نفهم أمرين:

أولهما: أن هذه الكلمة تدل على جماعة لا تقل عن ثلاثة، وقد تزيد.

ثانيهما: أن لهذا الجمع مفردًا نعرفه من اللغة؛ هو: رجل، كتاب، قلم … وكذلك حين نسمع لفظ: "كَلِم" نفهم أمرين:

أولهما: أنه يدل على جماعة من الكلمات، لا تقل عن ثلاث، وقد تزيد؛ "لأن "الكَلِم" فى الأصل يتركب من ثلاث كلمات أو أكثر؛ فهو من هذه الجهة يشبه الجمع فى الدلالة العددية؛ فكلاهما يدل على ثلاث أو أكثر".

ثانيهما: أن "للكلم" مفردًا نعرفه ونصل إليه بزيادة تاء للتأنيث فى آخره؛ فيصير بزيادتها -وموافقة اللغة- دالا على الواحد، بعد أن كان دالًا على الجمع، فتكون: "كلمة" هى مفردة: "الكلم"؛ مع أنهما متشابهان فى الحروف، وفى ضبطها، ولا يختلفان فى شيء؛ إلا فى زيادة التاء فى آخر: "الكلمة" -بموافقة اللغة-. وهو بسبب هذا يختلف عن الجموع؛ فليس بين الجموع ما ينقلب مفردًا وينقص معناه من الجمع إلى الواحد من أجل اتصال تاء التأنيث بآخره. ولذلك لا يسمونه جمعًا، وإنما يسمونه: "اسم جنس1 جمعيًّا"2. ويقولون فى تعريفه:

"إنه لفظ معناه معنى الجمع، وإذا زيدت على آخره تاء التأنيث -غالبًا- صار مفردًا".

أو هو: "ما يُفْرَق بينه وبين واحده بزيادة تاء التأنيث -غالبًا- فى آخره".

ومن أمثلته: تفاح وتفاحة -عنب وعنبة- تمر وتمرة

--------------------------------------------

1 سيجيء تفصيل الكلام على النكرة، واسم الجنس، وعلم الجنس، وعلم الشخص، في مكانه الخاص من باب: العلم" ص 288، هنا، وفي باب: "النكرة والمعرفة "ص 206م 17" وسنعرف أن النكرة "أي: اسم الجنس" إن قصد بها معين فهي النكر المقصودة، وإلا فهي النكرة غير المقصودة. ولكل منهما أحكامه الخاصة، ولا سيما عند ندائه "كما سيجيء في باب النداء، أول جـ4".

2 صفة لكلمة اسم، حتمًا؛ لأن الاسم هو الذي يدل على الجمعية، فلا يكون اسم الجنس الجمعي إلا دالًا على الجمع، ولا يكون دالًا على المفرد، ولا على المثنى، وبالرغم من أن اسم الجنس الجمعي يدل على ما يدل عليه الجمع فإنه يجوز تثنيته وجمعه في أغلب أحواله عند فريق من النحاة، غير سيبويه ومن معه -كما جاء في الهمع، باب جمع التكسير، فالمراد من وصفه بالجمعي: تأكيد أنه لا يراد به واحد ولا اثنان، وإنما يراد به ثلاثة على الأقل كما يراد بالجمع عند النحاة. وبسبب هذه الدلالة العددية قد يطلق عليه في اللغة -لا في النحو- أنه جمع "راجع الصبان، باب، جمع التكسير، عند بيت ابن مالك: "من غير ما مضى ومن خماسي" حيث الكلام على مفرد، "فرزدق" "ثم انظر ص 23 ورقم 3 من هامش ص 24".
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--

ভগ্ন বহুবচনসমূহ থেকে আমরা দুটি বিষয় বুঝতে পারি:

প্রথমত: এই শব্দটি এমন একটি সমষ্টিকে নির্দেশ করে যা সংখ্যায় তিনের কম নয়, বরং তার বেশিও হতে পারে।

দ্বিতীয়ত: এই বহুবচনের একটি একবচন রয়েছে যা আমরা ভাষা থেকে জানতে পারি; যেমন: ব্যক্তি, বই, কলম … অনুরূপভাবে যখন আমরা 'কালিম' (শব্দসমষ্টি) শব্দটি শুনি, তখন আমরা দুটি বিষয় বুঝতে পারি:

প্রথমত: এটি এমন একদল শব্দের প্রতি নির্দেশ করে, যা সংখ্যায় তিনের কম নয়, বরং বেশিও হতে পারে; কারণ 'কালিম' মূলত তিনটি বা তার অধিক শব্দ দ্বারা গঠিত হয়। তাই এটি সংখ্যাগত অর্থের দিক থেকে বহুবচনের সদৃশ; কারণ তারা উভয়ই তিন বা ততোধিককে নির্দেশ করে।

দ্বিতীয়ত: 'কালিম'-এর একটি একবচন রয়েছে যা আমরা জানি এবং এর শেষে একটি স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক 'তা' যুক্ত করার মাধ্যমে তা লাভ করি। তখন এই 'তা' যুক্ত করার ফলে—এবং ভাষারীতি অনুযায়ী—তা বহুবচনবাচক হওয়ার পরিবর্তে একবচনবাচক হয়ে যায়। সুতরাং 'কালিমাহ' (একটি শব্দ) হলো 'কালিম'-এর একবচন; যদিও তারা উভয়ই অক্ষর এবং হরকতে (স্বরচিহ্নে) এক এবং অভিন্ন, কেবল 'কালিমাহ'-এর শেষে 'তা' যুক্ত হওয়া ছাড়া—ভাষারীতি অনুযায়ী। আর এই কারণেই এটি বহুবচন থেকে ভিন্ন; কেননা বহুবচনসমূহের মধ্যে এমন কিছু নেই যা কেবল শেষে স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক 'তা' যুক্ত হওয়ার কারণে একবচনে রূপান্তরিত হয় এবং যার অর্থ বহুবচন থেকে একবচনে সংকুচিত হয়ে যায়। এই কারণেই তারা একে বহুবচন বলেন না, বরং একে 'ইসমে জিনস জামঈ' (সামষ্টিক জাতিবাচক বিশেষ্য) বলে অভিহিত করেন। এর সংজ্ঞায় তারা বলেন:

"এটি এমন একটি শব্দ যার অর্থ বহুবচনের ন্যায়, এবং যখন এর শেষে স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক 'তা' যুক্ত করা হয়—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—তখন তা একবচনে পরিণত হয়।"

অথবা এটি হলো: "যার এবং তার একবচনের মাঝে সাধারণত শেষে স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক 'তা' যুক্ত করার মাধ্যমে পার্থক্য করা হয়।"

এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে: আপেলসমূহ ও একটি আপেল—আঙ্গুরসমূহ ও একটি আঙ্গুর—খেজুরসমূহ ও একটি খেজুর।

--------------------------------------------

১ অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ), জাতিবাচক বিশেষ্য (ইসমে জিনস), শ্রেণিবাচক বিশেষ্য (আলামে জিনস) এবং ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য (আলামে শাখস) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা 'আলাম' (বিশেষ্য) অধ্যায়ের নির্দিষ্ট স্থানে ২৮৮ পৃষ্ঠায় আসবে। এছাড়া ২০৬ পৃষ্ঠার ১৭ নম্বর টীকায় 'নাকিরাহ ও মারেফাহ' অধ্যায়েও এটি আলোচিত হবে। সেখানে আমরা জানতে পারব যে, অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ) বা জাতিবাচক বিশেষ্য দ্বারা যদি নির্দিষ্ট কিছু বোঝানো হয়, তবে তাকে 'নাকিরাহ মাকসুদাহ' (উদ্দিষ্ট অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) বলা হয়, অন্যথায় তা 'নাকিরাহ গায়র মাকসুদাহ' (অনুদ্দিষ্ট অনির্দিষ্ট বিশেষ্য)। এই দুটির প্রত্যেকটির নিজস্ব বিধান রয়েছে, বিশেষ করে যখন সেগুলোকে সম্বোধন (নিদা) করা হয়, যা চতুর্থ খণ্ডের শুরুতে সম্বোধন অধ্যায়ে আসবে।

২ এটি নিশ্চিতভাবেই 'ইসমে' শব্দের গুণবাচক বিশেষণ (সিফাত); কারণ এই 'ইসম' বা বিশেষ্যই বহুবচনের অর্থ প্রদান করে। সুতরাং 'ইসমে জিনস জামঈ' কেবল বহুবচনের অর্থেই ব্যবহৃত হয়; এটি একবচন বা দ্বিবচনের অর্থ প্রদান করে না। যদিও 'ইসমে জিনস জামঈ' সেই অর্থই প্রদান করে যা বহুবচন প্রদান করে, তবুও সিবওয়াইহ এবং তার অনুসারী ব্যতীত একদল ব্যাকরণবিদের মতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর দ্বিবচন এবং বহুবচন রূপ গঠন করা জায়েজ। যেমনটি 'হাম' গ্রন্থে 'ভগ্ন বহুবচন' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং একে 'জামঈ' (সামষ্টিক) হিসেবে বিশেষিত করার উদ্দেশ্য হলো এটি নিশ্চিত করা যে, এর দ্বারা এক বা দুই উদ্দেশ্য নয়, বরং কমপক্ষে তিন উদ্দেশ্য, যেমনটি ব্যাকরণবিদদের নিকট বহুবচনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এই সংখ্যাগত অর্থের কারণে আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে একে বহুবচন বলা হতে পারে—তবে ব্যাকরণগত পরিভাষায় নয়। (দ্রষ্টব্য: সাব্বান, 'ভগ্ন বহুবচন' অধ্যায়, ইবনে মালিকের কবিতা: 'যা গত হয়েছে তা ছাড়া এবং পঞ্চাক্ষরী শব্দ থেকে' যেখানে 'ফারাজদাক' শব্দের একবচন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর ২৩ পৃষ্ঠা এবং ২৪ পৃষ্ঠার ৩ নম্বর টীকা দেখুন)।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

-شجر وشجرة- وهذا هوالنوع الغالب، كما أشرنا.

وهناك نوع يُفرَق بينه وبين مفرده بالياء المشددة، مثل: عرب وعربيّ، جُنْد وجندي، رُوم ورومي، تُرْك وترْكيّ.

وقد يُفْرَق بينه وبين واحده بالتاء فى جمعه، لا فى مفرده؛ مثل كَمْأة، وكمْء"2.

--------------------------------------------

1 هذا النوع الذي يفرق بينه وبين واحدة بالتاء المربوطة إذا وصف -وكذلك إن أخبر عنه، أو عاد عليه ضمير، أو إشارة … - جاز في صفته: إما الإفراد مع التذكير على اعتبار اللفظ، لأنه جنس، أو: مع التأنيث على تأويل معنى الجماعة، نحو قوله تعالى: {أَعْجَازُ نَخْلٍ مُنْقَعِر} ، {أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ} وإما جمع الصفة جمع تكسير أو جمع مؤنث سالِمًا، نحو قوله تعالى: {السَّحَابَ الثِّقَال} وقوله: {وَالنَّخْل بَاسِقَاتٍ} ومثل: الصفة الخير، والإشارة إليه … والضمير العائد عليه -كما أسلفنا.

وفي كل ما سبق خلاف أشار إليه الصبان، في باب العدد وقد تخيرنا أقوى الأوجه.

ويؤيد ما تخيرناه ما جاء في: المصباح المنير، مادة: "النخل" ونصه الحرفي:

"النخل: اسم جمع "كذا يقول" الواحدة: "نخلة"، وكل جمع بينه وبين واحدة الهاء "يريد: تاء التأنيث المربوطة" قال ابن السكيت: فأهل الحجاز يؤنثون أكثره، فيقولون: هي التمر، وهي البر، وهي النخل، وهي البقر.... وأهل نجد وتميم يذكرون، فيقولون: نخل كريم، وكريمة، وكرائم، وفي التنزيل: {نَخْلٍ مُنْقَعِر} ، {نَخْلٍ خَاوِيَةٍ} وأما النخيل -بالياء- فمؤنثة. قال أبو حاتم: لا اختلاف في ذلك" اهـ.

لكن يتضح من أمثلة هذا النص أن أهل نجد وتميم لا يقتصرون على التذكير، وإنما يؤنثون أيضًا. ويلاحظ أنه جعل "النخل" اسم جمع. فكيف يتفق أنه اسم جمع مع قوله السابق إن "الواحدة نخلة"؟ فهل يريد: اسم جنس جمعي؟

ومما يؤيد ما تخيرناه أيضًا ما جاء في كتاب: "بصائر ذوي التمييز"- تأليف: الفيروزآبادي، صاحب: "القاموس المحيط" - في البصرة 51 ص 277 ونصه عند الكلام على كلمة: "بنيان": "البنيان: واحد لا جمع له. وقال بعضهم: جمع واحدته: "بنيانه" على حد: "نخلة ونخل". وهذا النحو من الجمع يصح تذكيره وتأنيثه" أهـ. ومن التذكير قوله تعالى: {السَّمَاء مُنْفَطِرٌ بِهِ} على اعتبار أن "السماء" اسم جنس جمعي، مفرده: سماءة.

وهناك مواضع أخرى للاختلاف، تجيء في رقم 6 من ص 265 "حيث الكلام على الصورة السادسة من صور مطابقة الضميرة لمرجعه، وعدم مطابقته، ثم رقم 4 من هامش ص 321 ثم ص 457 وما بعدها.

هذا، ولا يفرق في اسم الجنس الجمعي بين مذكره ومؤنثه الحقيقيين بالتاء المربوطة، فلا يقال:

- في الغالب - حمامة أو بطة، للمؤنثة المفردة، وحمام، وبط، للمذكر المفرد، منعا للالتباس، وإنما يؤنثونه بالصفة فيقال: حمامة أنثى، وحمامة ذكر، وبطة أنثى، وبطة ذكر، ولهذا الحكم تكملة - تجيء في باب "التأنيث" جـ 4 م 169.

أما تأنيث عامله فكان الكلام عليه باب "الفاعل جـ2 ص 74 طبعة 3 وما بعدها، م 66 ثم "ا" ص 82 من الزيادة والتفصيل، بعد تلك الصفحات".

2 اسم نبات صحراوي.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--

-গাছ এবং একটি গাছ- এবং এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রকার, যেমনটি আমরা ইঙ্গিত করেছি।

এমন এক প্রকার রয়েছে যার একবচন ও বহুবচনের মধ্যে ইয়া-এ-মুশাদ্দাদ (দ্বিত্ব ‘য়’) দ্বারা পার্থক্য করা হয়, যেমন: আরব ও একজন আরব, সৈন্য ও একজন সৈন্য, রোমীয় জাতি ও একজন রোমীয়, তুর্কি ও একজন তুর্কি।

আবার কখনও কখনও এর একবচন ও বহুবচনের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য বহুবচনে ‘তা’ যুক্ত করা হয়, একবচনে নয়; যেমন: ‘কামআহ’ (বহুবচন) এবং ‘কাম’ (একবচন)২।

--------------------------------------------

১ এই প্রকারটি, যেখানে একবচন থেকে আলাদা করার জন্য গোল ‘তা’ ব্যবহার করা হয়, যখন এর গুণ বর্ণনা করা হয়—এবং একইভাবে যখন এর সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়, বা এর দিকে কোনো সর্বনাম বা ইশারা ফিরে আসে … —তখন এর বিশেষণের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বৈধ: শব্দের দিকে লক্ষ্য রেখে একবচন ও পুরুষবাচক হওয়া, কারণ এটি একটি জিনস (জাতীয় শব্দ); অথবা সমষ্টির অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে স্ত্রীবাচক হওয়া। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “উপড়ে পড়া খেজুর গাছ”, “নিঃশেষিত খেজুর গাছ”। আবার বিশেষণের বহুবচন (তাকসির বা মুয়ান্নাস সালিম) হিসেবে ব্যবহার করাও জায়েজ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “ভারী মেঘমালা” এবং “সুউচ্চ খেজুর গাছ”। অনুরূপভাবে এর গুণবাচক শব্দ, এর দিকে ইশারা … এবং এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে যা সাব্বান ‘আদাদ’ (সংখ্যা) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন, এবং আমরা সবচেয়ে শক্তিশালী মতটি গ্রহণ করেছি।

আমাদের চয়ন করা মতটিকে ‘আল-মিসবাহুল মুনীর’ গ্রন্থের ‘আন-নাখল’ শব্দমূলের আলোচনা সমর্থন করে, যার হুবহু পাঠ হলো:

“নাখল: এটি একটি ইসম জাম (সমষ্টিবাচক বিশেষ্য)—তিনি এমনই বলেছেন—এর একক হলো: ‘নাখলাহ’। আর প্রতিটি বহুবচন এবং তার এককের মধ্যে ‘হা’ (অর্থাৎ গোল ‘তা’) দ্বারা পার্থক্য করা হয়।” ইবনুস সিক্কীত বলেন: হিজাযবাসীরা এর অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্ত্রীবাচক প্রয়োগ করেন, তাই তারা বলেন: এটি (স্ত্রীবাচক) খেজুর, এটি গম, এটি খেজুর গাছ, এটি গরু... আর নাজদ ও তামীম গোত্রের লোকেরা একে পুরুষবাচক হিসেবে ব্যবহার করেন। তারা বলেন: সম্মানীয় খেজুর গাছ (পুরুষবাচক), সম্মানীয় (স্ত্রীবাচক) এবং সম্মানীয়গণ (বহুবচন)। পবিত্র কুরআনে এসেছে: “উপড়ে পড়া খেজুর গাছ” (পুরুষবাচক শব্দে) এবং “নিঃশেষিত খেজুর গাছ” (স্ত্রীবাচক শব্দে)। তবে ‘নাখীল’ (ইয়া যোগে) শব্দটি সর্বসম্মতভাবে স্ত্রীবাচক। আবু হাতিম বলেছেন: এতে কোনো দ্বিমত নেই। সমাপ্ত।

তবে এই পাঠের উদাহরণগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, নাজদ ও তামীমবাসীরা কেবল পুরুষবাচক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন, বরং তারা একে স্ত্রীবাচক হিসেবেও ব্যবহার করেন। আরও লক্ষণীয় যে, তিনি ‘নাখল’ শব্দটিকে ‘ইসম জাম’ বলেছেন। কিন্তু এটি ‘ইসম জাম’ হওয়া কীভাবে সম্ভব যখন তিনি আগেই বলেছেন যে ‘এর একক হলো নাখলাহ’? তবে কি তিনি ‘ইসম জিনস জামঈ’ বোঝাতে চেয়েছেন?

আমাদের চয়ন করা মতটিকে ফিরোজাবাদীর (যিনি ‘কামূসুল মুহীত’-এর লেখক) ‘বাসায়িরু যাউইত তামীয’ গ্রন্থের ৫১তম অধ্যায়, ২৭৭ পৃষ্ঠার বর্ণনাটিও সমর্থন করে। ‘বুনিয়ান’ শব্দটির আলোচনায় তাঁর বক্তব্য হলো: “বুনিয়ান: এটি একক শব্দ, এর কোনো বহুবচন নেই। কেউ কেউ বলেছেন: এর একক হলো ‘বুনিয়ানাহ’, যেমন ‘নাখলাহ ও নাখল’-এর নিয়ম। এই ধরণের বহুবচনকে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক উভয়ভাবেই ব্যবহার করা শুদ্ধ।” সমাপ্ত। পুরুষবাচক ব্যবহারের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আসমান ফেটে যাবে”—এখানে আসমানকে ‘ইসম জিনস জামঈ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে যার একক হলো ‘সামাআহ’।

মতভেদের আরও কিছু স্থান রয়েছে যা ২৬৫ পৃষ্ঠার ৬ নম্বর পয়েন্টে আসবে (যেখানে সর্বনামের সাথে তার মারজি বা নির্দেশিত শব্দের মিল বা অমিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে), এরপর ৩২১ পৃষ্ঠার ৪ নম্বর টীকা এবং ৪৫৭ পৃষ্ঠা ও তৎপরবর্তী অংশগুলোতে।

উল্লেখ্য যে, ‘ইসম জিনস জামঈ’-এর ক্ষেত্রে প্রকৃত পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচকের মধ্যে গোল ‘তা’ দিয়ে পার্থক্য করা হয় না। সুতরাং সাধারণত—

- কবুতর বা হাঁসের ক্ষেত্রে—একক স্ত্রীলিঙ্গের জন্য ‘হামামাহ’ বা ‘বাত্তাহ’ এবং একক পুংলিঙ্গের জন্য ‘হামাম’ বা ‘বাত্ত’ বলা হয় না (যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়)। বরং গুণের মাধ্যমে একে স্ত্রীবাচক করা হয়, যেমন বলা হয়: স্ত্রী কবুতর, পুরুষ কবুতর, স্ত্রী হাঁস, পুরুষ হাঁস। এই নিয়মের পরিশিষ্ট অংশ চতুর্থ খণ্ডের ১৬৯ পৃষ্ঠায় ‘তানিছ’ (স্ত্রীলিঙ্গ) অধ্যায়ে আসবে।

আর এর আমিল (ক্রিয়া বা সমজাতীয় শব্দ)-কে স্ত্রীবাচক করার আলোচনা ‘ফায়িল’ অধ্যায়ের দ্বিতীয় খণ্ড, ৭৪ পৃষ্ঠা (তৃতীয় সংস্করণ) এবং তার পরবর্তী ৬৬ নম্বর পয়েন্টে এবং অতিরিক্ত ও বিস্তারিত আলোচনার ৮২ পৃষ্ঠায় করা হয়েছে।

২ এটি একটি মরু উদ্ভিদের নাম।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

ولهم فى اسم الجنس الجمعيّ -من ناحية أنه جمع تكسير، أوأنه قسم مستقل بنفسه- آراء متضاربة ومجادلات عنيفة؛ لا خير فيها، وإنما الخير فى الأخذ بالرأى القائل: إنه جمع تكسير1. وهو رأي فيه سداد، وتيسير، ولن يترتب على الأخذ به مخالفة أصل من أصول اللغة، أو خروج على قاعدة من قواعدها، وأحكامها السليمة.

هذا من جهة الجمع أوعدمه. بقي الكلام فى المراد من: "اسم الجنس" والمعنى الدقيق له. وفيما يلي إشارة موجزة إليهما2:

إن كلمة مثل كلمة: "حديد" تدل على معنى خاص؛ هو: تلك المادة المعروفة، وذلك العنصر المفهوم لنا. فمن أين جاء لنا فهمه؟ وكيف وصل العقل إلى انتزاع المعنى وإقراره فى باطنه؟

رأينا قطعة من الحديد أول مرة، ثم قطعة أخرى بعد ذلك، ثم ثالثة، فرابعة، فخامسة، … ولم نكن نعرف الحديد، ولا اسمه، ثم استعملنا تلك القطَع فى شئوننا، وعرفنا بالاستعمال المتكرر بعض خواصها الأساسية؛ وإذا رأينا بعد ذلك قطعًا من صنفها فإننا نعرفها، ولا تكون غريبة على عقولنا، ونشعر بحاجة إلى اسم نسمي به هذا الصنف …

فإذا رأينا بعد ذلك قطعة من جنس آخر "أي: من صنف آخر" كالذهب، ولم نكن استعملناه فى شئوننا -وعرفنا بالاستعمال بعض خواصها الذاتية؛ فلا شك أننا سنحتاج إلى اسم يميز هذا الجنس من سابقه، بحيث إذا سمعنا الاسم ندرك منه المراد، ونتصور معناه تصورًا عقليًّا من غير حاجة إلى رؤية تلك القطَع والنماذج؛ فوضَعْنا للجنس الأول اسمًا هو: "الحديد"، ووضعنا للجنس الثانى اسما يخالفه هو: "الذهب". فالحديد اسم لذلك الجنس "الصنف المعروف"، وكذلك "الذهب"، وغيرهما من أسماء الأجناس … وصرنا بعد ذلك حين نسمع كلمة: "الذهب" أو"الحديد" ندرك المراد منها إدراكًا عقليًّا بحتًا، فيقفز إلى ذهننا مباشرة مدلولها الخاص، من غير ربط -فى الغالب3- بينها وبين شىء آخر من عنصرها، ومادتها، أومن غيرهما. وهذا الفهم العقلي المحض هوما يعبر

--------------------------------------------

1 راجع الأشموني، وهامش التصريح، وشرح الشذور عند الكلام على المسألة المذكورة. في باب: "الكلام"

2 أما التفصيل، وبسط الإيضاح فمكانهما ص 288 من باب العلم، "في النكرة والمعرفة".

3 لأن اسم الجنس الآحادي الذي سيجيء الكلام عليه يرتبط بصورة فرد من أفراده.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

সমষ্টিবাচক জাতিবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে—এটি কি একটি ভগ্ন বহুবচন, নাকি এটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র প্রকার—সে বিষয়ে তাদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী মত এবং তীব্র বিতর্ক রয়েছে; যাতে কোনো কল্যাণ নেই। বরং কল্যাণ রয়েছে সেই মতটি গ্রহণ করার মাঝে যা বলে: এটি একটি ভগ্ন বহুবচন। এটি এমন একটি মত যাতে সঠিকতা ও সহজসাধ্যতা রয়েছে। এটি গ্রহণ করার ফলে ভাষার কোনো মৌলিক নীতির লঙ্ঘন হবে না, কিংবা এর কোনো নিয়ম বা সঠিক বিধান থেকে বিচ্যুতি ঘটবে না।

এটি বহুবচন হওয়া বা না হওয়ার দিক থেকে আলোচনা। এখন ‘জাতিবাচক বিশেষ্য’ বলতে কী বোঝায় এবং এর সূক্ষ্ম অর্থ কী, সে বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে। নিম্নে এ দুটির প্রতি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত প্রদান করা হলো:

‘লোহা’ শব্দের মতো একটি শব্দ একটি বিশেষ অর্থের ওপর প্রমাণ দেয়; আর তা হলো: সেই পরিচিত পদার্থ এবং আমাদের নিকট বোধগম্য সেই উপাদান। আমাদের মাঝে এর বোধগম্যতা কোথা থেকে এল? এবং কীভাবে মস্তিষ্ক এই অর্থটি আহরণ করে তার অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত করল?

আমরা প্রথমবার লোহার একটি টুকরো দেখলাম, তারপর আরও একটি, এরপর তৃতীয়টি, চতুর্থটি, পঞ্চমটি, … আমরা লোহা সম্পর্কে জানতাম না, এমনকি এর নামও জানতাম না। এরপর আমরা আমাদের প্রয়োজনে সেই টুকরোগুলো ব্যবহার করলাম এবং বারবার ব্যবহারের মাধ্যমে সেগুলোর কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানলাম। এরপর যখন আমরা সেই শ্রেণির আরও কিছু টুকরো দেখি, তখন আমরা সেগুলোকে চিনতে পারি, আর সেগুলো আমাদের বুদ্ধিবৃত্তির কাছে অপরিচিত থাকে না এবং আমরা অনুভব করি যে এই শ্রেণিকে ডাকার জন্য একটি নাম প্রয়োজন …

এরপর যদি আমরা অন্য কোনো জাতির (অর্থাৎ অন্য শ্রেণির) কোনো টুকরো দেখি—যেমন স্বর্ণ—এবং আমরা তা ইতিপূর্বে আমাদের কাজে ব্যবহার না করে থাকি এবং ব্যবহারের মাধ্যমে এর কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য না জেনে থাকি; তবে নিঃসন্দেহে আমাদের এমন একটি নামের প্রয়োজন হবে যা এই জাতিকে পূর্বেরটি থেকে পৃথক করবে। যাতে করে আমরা নামটি শোনামাত্র এর উদ্দেশ্য বুঝতে পারি এবং সেই টুকরো বা নমুনাগুলো দেখা ছাড়াই বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এর অর্থ কল্পনা করতে পারি। ফলে আমরা প্রথম জাতির জন্য একটি নাম নির্ধারণ করলাম: ‘লোহা’, এবং দ্বিতীয় জাতির জন্য তার থেকে ভিন্ন একটি নাম নির্ধারণ করলাম: ‘স্বর্ণ’। সুতরাং ‘লোহা’ হলো সেই জাতির (পরিচিত শ্রেণী) নাম, একইভাবে ‘স্বর্ণ’ এবং অন্যান্য জাতিবাচক বিশেষ্যসমূহও … এরপর থেকে আমরা যখনই ‘স্বর্ণ’ বা ‘লোহা’ শব্দ দুটি শুনি, তখনই বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সেগুলোর উদ্দেশ্য অনুধাবন করি। ফলে সরাসরি সেগুলোর বিশেষ অর্থটি আমাদের মস্তিস্কে ভেসে ওঠে, কোনো সংযোগ ছাড়াই—সাধারণত—সেটির উপাদানের অন্য কোনো বস্তু বা পদার্থের সাথে। এই নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক বোধগম্যতাকেই প্রকাশ করা হয়

--------------------------------------------

১. আশমুনি, হামিশুত তাসরিহ এবং ‘কালাম’ পরিচ্ছেদে উক্ত মাসআলার আলোচনার সময় শারহুশ শুজুর দেখুন।

২. বিস্তারিত এবং বিশদ ব্যাখ্যা ‘আলাম’ (সংজ্ঞা) পরিচ্ছেদের ২৮৮ পৃষ্ঠায়, ‘নাকিরা ও মারেফা’ অধ্যায়ে রয়েছে।

৩. কারণ একক জাতিবাচক বিশেষ্য, যার আলোচনা সামনে আসবে, তা তার কোনো এককের রূপের সাথে সম্পৃক্ত থাকে।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

عنه: بأنه "إدراك الماهية المجردة" أي: "إدراك حقيقة الشيء الذهنية، وصورته المرسومة فى العقل وحده". يريدون بذلك: المعنى الذى يفهم من الكلمة فهمًا عقليًّا مجردًا -فى الغالب- أى: بعيدًا عن عالم الحسّ، وعن تخيل النماذج والصور المختلفة المصنوعة منه، أو غير المصنوعة، والتى تساعد فى إيضاح المراد منه"1.

ومثل كلمة: الـ"حديد" غيرها من أسماء الأجناس -كما أسلفنا- ومنها: فضة، رجل، خشب. طائر …

ثم إن هذا الجنس "أو: الماهية المجردة، والحقيقة الذهنية البحتة" ثلاثة أنواع، لكل منها اسم:

الأول: اسم الجنس الجمعي2، وقد سبق3.

الثانى: اسم الجنس الإفرادي؛ وهو الذى يصدق على القليل والكثير من الماهية "أي: من الحقيقة الذهنية" من غير اعتبار للقلة أوالكثرة. "مثل: هواء، ضوء، دم، ماء" فكل واحد من هذه وأشباهها يسمى بهذا الاسم؛ سواء أكان قليلًا أم كثيرًا.

والثالث: اسم الجنس الآحادي؛ وهو: الذى يدل على الماهية "أي الحقيقة الذهنية" ممثلة فى فرد غير معين من أفرادها، ولا يمكن تصورها فى العقل إلا

--------------------------------------------

1 انظر رقم 1 من هامش صفحتي 206 و 288.

2 قد أوضحنا المراد من كلمة: "اسم" ومن كلمة: "جنس" وأشرنا- في رقم 2 من هامش ص 21 - إلى أن كلمة "جمعي" هي صفة: لـ "أسم" حتما، وليست صفة: لـ "جنس".

3 وقد يقال: إن اسم الجنس - مطلقا - يدل: "على الماهية المجردة، "أي: الحقيقة الذهنية البحتة"، طبقا للرأي المختار، وهذه الماهية المجردة " أو الحقيقة الذهنية البحتة" كتلة واحدة متماسكة قد يكون لها أجزاء تتكون منها ومن انضمام بعضها إلى بعض، ولكن لا يمكن أن يكون لها أفراد مستقلة متعددة، بحيث يستقل كل فرد منها بنفسه كاملة. ويتميز بذاته المركبة من أجزاء خاصة به، وذرات يقوم عليها كيانه التام الذي ينفرد به. فكيف يتفق هذا مع اسم الجنس الجمعي الذي يدل على أفراد - لا على أجزاء وذرات - لا تقل عن ثلاثة. وقد تزيد كما عرفنا في رقم 2 من هامش ص 21 ففي هذه الدلالة العددية الحتمية منافاة واضحة للدلالة الأصلية التي يقوم عليها اسم الجنس، وتعارض جلي بين الأصل وأنواعه.

أجاب الرضى: بأن اسم الجنس موضوع في أصله للماهية من حيث هي ثم استعمل في الجمع، فهو اسم "جنس وضعا"، جمعي "استعمالا" ثم قال الصبان: والأولى أن يقال: إنه غلب استعماله في ثلاثة أفراد فأكثر حتى صار حقيقة عرفية في ذلك.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

তার সম্পর্কে বলা হয়েছে: এটি হলো "বিমূর্ত সারসত্তার উপলব্ধি" অর্থাৎ: "বস্তুর মানসিক হাকীকত বা প্রকৃত রূপ এবং কেবল বুদ্ধিবৃত্তিতে অঙ্কিত তার প্রতিচ্ছবিকে উপলব্ধি করা।" এর মাধ্যমে তারা উদ্দেশ্য নেন: সেই অর্থ যা শব্দ থেকে বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তিক উপলব্ধির মাধ্যমে বোঝা যায়—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—অর্থাৎ: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগত থেকে দূরে থেকে এবং তা থেকে তৈরি বা তৈরি নয় এমন বিভিন্ন নমুনা ও রূপের কল্পনা পরিহার করে, যা মূলত উদ্দেশ্যটি স্পষ্ট করতে সহায়তা করে।১।

আর "লোহা" শব্দের মতো অন্যান্য জাতিবাচক বিশেষ্যসমূহও—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—এর অন্তর্ভুক্ত: রূপা, পুরুষ, কাঠ, পাখি ...

অতঃপর এই জাতি "বা: বিমূর্ত সারসত্তা এবং বিশুদ্ধ মানসিক হাকীকত" তিন প্রকার, যার প্রতিটির একটি নাম রয়েছে:

প্রথম: সমষ্টিবাচক জাতিবাচক বিশেষ্য২, যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে৩।

দ্বিতীয়: একক জাতিবাচক বিশেষ্য; এটি এমন শব্দ যা সারসত্তার "অর্থাৎ: মানসিক হাকীকতের" কম বা বেশি উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, পরিমাণে অল্প বা প্রাচুর্যের বিবেচনা ছাড়াই। "যেমন: বাতাস, আলো, রক্ত, পানি।" এর প্রতিটি এবং এর অনুরূপ শব্দগুলোকে এই নামে অভিহিত করা হয়; তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি।

এবং তৃতীয়: অদ্বৈত জাতিবাচক বিশেষ্য; এটি এমন শব্দ যা সারসত্তার "অর্থাৎ: মানসিক হাকীকতের" ওপর দালালাত বা ইঙ্গিত করে যা তার ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে কোনো এক অনির্দিষ্ট ব্যক্তির মাঝে উপস্থাপিত হয়, এবং বুদ্ধিবৃত্তিতে এটি কল্পনা করা সম্ভব নয় কেবল

--------------------------------------------

১. ২০৬ এবং ২৮৮ পৃষ্ঠার ১ নম্বর টীকা দেখুন।

২. আমরা "বিশেষ্য" এবং "জাতি" শব্দ দুটির উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছি এবং ২১ পৃষ্ঠার ২ নম্বর টীকায় ইশারা করেছি যে, "সমষ্টিবাচক" শব্দটি অবশ্যই "বিশেষ্য" শব্দের বিশেষণ, "জাতি" শব্দের বিশেষণ নয়।

৩. বলা হয়ে থাকে যে: জাতিবাচক বিশেষ্য—সাধারণভাবে—"বিমূর্ত সারসত্তা" অর্থাৎ "বিশুদ্ধ মানসিক হাকীকতের" ওপর দালালাত করে, যা গ্রহণযোগ্য মতানুসারে সঠিক। আর এই বিমূর্ত সারসত্তা বা বিশুদ্ধ মানসিক হাকীকত হলো একটি সুসংবদ্ধ একক সত্তা যার এমন কিছু অংশ থাকতে পারে যা দিয়ে এটি গঠিত হয় এবং একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে, কিন্তু এর এমন একাধিক স্বাধীন সদস্য বা ব্যক্তি থাকা সম্ভব নয় যেখানে প্রতিটি সদস্য পূর্ণাঙ্গভাবে নিজেই স্বতন্ত্র হবে এবং তার নিজস্ব অংশ ও অণু দ্বারা গঠিত সত্তার মাধ্যমে বিশিষ্টতা লাভ করবে যার ওপর তার পূর্ণ অস্তিত্ব নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় এটি সমষ্টিবাচক জাতিবাচক বিশেষ্যের সাথে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে যা এমন ব্যক্তিবর্গের ওপর দালালাত করে—অংশ বা অণুর ওপর নয়—যাদের সংখ্যা তিনের কম নয়? এবং এটি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে যেমনটি আমরা ২১ পৃষ্ঠার ২ নম্বর টীকায় জেনেছি। সুতরাং এই অনিবার্য সংখ্যাতাত্ত্বিক নির্দেশনার মধ্যে জাতিবাচক বিশেষ্যের মূল নির্দেশনার সাথে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য এবং মূল ও তার প্রকারভেদের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। ইমাম রাযী উত্তর দিয়েছেন যে: জাতিবাচক বিশেষ্য মূলত সারসত্তার জন্যই গঠিত হয়েছে, অতঃপর তা সমষ্টির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং এটি শব্দগতভাবে "জাতিবাচক" এবং ব্যবহারগতভাবে "সমষ্টিবাচক"। অতঃপর সাব্বান বলেছেন: উত্তম কথা হলো এটি বলা যে, তিন বা ততোধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর ব্যবহার এত বেশি প্রবল হয়েছে যে তা ঐ বিষয়ে পারিভাষিক সত্যে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

بتخيل ذلك الفرد غير المعهود، واستحضار صورة له فى الذهن؛ مثل: أسامة للأسَدَ1.

ملاحظة: يُردد النحاة وغيرهم من المشتغلين بالعلوم والفنون المختلفة كلمة: "القاعدة" ويذكرونها فى المناسبات المختلفة، فما تعريفها؟

قالوا: "القاعدة -وجمعها: قواعد- هي فى اللغة: الأساس. وفي الاصطلاح: حُكم كُلّيّ ينطبق على جميع أجزائه وأفراده؛ لتعرف أحكامها منه".

وعلى الرغم من شيوع هذا التعريف فى مراجعهم ومطولاتهم -عارضَ بعض النحاة فى كلمة: "حكم" مفضلاً عليها كلمة "قضية" كليّة بحجة أن القاعدة فى مثل قولنا: "كل فاعل مرفوع" تشمل "المحكوم به"، و"المحكوم عليه"، و"الحكم"، فلا بدّ أن تشمل أمورًا ثلاثة، ولا تقتصر على "الحكم".

وقد دفع الاعتراض: بأن الاقتصار على "الحكم" فى ذلك التعريف الشائع، مقبول؛ لأنه نوع من المجاز، إذ فيه إطلاق الجزء -وهوالحُكم- على القضية الكليّة التى هى اسم يجمع المحكوم به، والمحكوم عليه، والحكم2.

--------------------------------------------

1 انظر رقم 1 من هامش ص 206، وص 288، وما بعدها.

2 راجع في كل ما سبق عن "القاعدة" شرح التصريح وحاشية ياسين عليه، جـ1 باب: الضمير: أول الفصل الخاص باتصال الضمير. وجاء في "المصباح المنير" في مادة: "قعد" ما نصه:

"القاعدة في الاصطلاح بمعنى: الضابط، وهي الأمر الكلي المنطبق على جميع جزئياته"، وهذا التعريف أحسن، لخلوه من الاعتراضات الموجهة للآخر....
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

সেই অপ্রচলিত ব্যক্তি বা বস্তুর কল্পনা করা এবং মনে তার একটি চিত্র উপস্থিত করার মাধ্যমে; যেমন: সিংহের জন্য 'উসামা' ১।

দ্রষ্টব্য: ব্যাকরণবিদগণ এবং বিভিন্ন বিজ্ঞান ও শিল্পকলার অন্যান্য চর্চাকারীগণ 'কায়েদা' (নিয়ম) শব্দটি বারবার ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন উপলক্ষে এটি উল্লেখ করেন। তাহলে এর সংজ্ঞা কী?

তাঁরা বলেছেন: "কায়েদা (যার বহুবচন: কাওয়াইদ) শাব্দিক অর্থে হলো: ভিত্তি। আর পারিভাষিক অর্থে এটি হলো: একটি সামষ্টিক বিধান যা এর সমস্ত অংশ ও ব্যক্তির ওপর প্রযোজ্য হয়; যাতে এর মাধ্যমেই তাদের বিধানসমূহ জানা যায়।"

তাঁদের তথ্যসূত্র ও বিস্তারিত গ্রন্থসমূহে এই সংজ্ঞাটি প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যাকরণবিদ 'বিধান' (হুকুম) শব্দটির বিরোধিতা করেছেন এবং এর পরিবর্তে 'সামষ্টিক প্রস্তাবনা' শব্দটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি হলো, আমাদের এই উক্তির মতো কায়েদা: "প্রত্যেক ফায়েল বা কর্তা পেশযুক্ত", এতে 'যদ্বারা বিধান দেওয়া হয়' (মাহকুম বিহি), 'যার ওপর বিধান দেওয়া হয়' (মাহকুম আলাইহি) এবং 'বিধান' (হুকুম)—এই তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। সুতরাং একে অবশ্যই তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং কেবল 'বিধান'-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।

এই আপত্তির জবাব দেওয়া হয়েছে এভাবে যে: সেই প্রচলিত সংজ্ঞায় কেবল 'বিধান' শব্দের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য; কারণ এটি এক প্রকার রূপক। এখানে আংশিক শব্দ (অর্থাৎ বিধান) ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনার অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে, যা মূলত 'যদ্বারা বিধান দেওয়া হয়', 'যার ওপর বিধান দেওয়া হয়' এবং 'বিধান'—এই তিনটিরই সমষ্টির নাম ২।

--------------------------------------------

১ ২০৬ পৃষ্ঠার ১ নং পাদটীকা এবং ২৮৮ পৃষ্ঠা ও তার পরবর্তী অংশ দেখুন।

২ 'কায়েদা' সম্পর্কিত পূর্বোক্ত আলোচনার জন্য শরহুত তাসরিহ এবং এর ওপর ইয়াসিনের হাশিয়া, ১ম খণ্ড, দমির অধ্যায়: দমির সংযুক্ত হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদের শুরু দেখুন। 'মিসবাহুল মুনির' গ্রন্থে 'কাদা' মূলশব্দের অধীনে যা বলা হয়েছে তা হলো:

"পরিভাষায় কায়েদা হলো নিয়ন্ত্রক বা দ্বাবিত-এর সমার্থক, আর এটি হলো এমন একটি সামষ্টিক বিষয় যা এর সমস্ত খুঁটিনাটি অংশের ওপর প্রযোজ্য হয়"। এই সংজ্ঞাটিই অধিকতর উত্তম, কারণ এটি অন্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তি থেকে মুক্ত।...
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المسألة الثانية: الكلام على أقسام الكلمة الثلاثة:

الاسم، والفعل والحرف:

الاسم: كلمة تدل بذاتها1 على شيء محسوس، -مثل: نحاس، بيت، جَمل، نخلة، عصفورة، محمد … - أوشيء غير محسوس، يعرف بالعقل؛ "مثل: شجاعة، مروءة، شرف، نُبل، نبوغ … " وهو في الحالتين لا يقترن بزمن2.

علاماته: أهمها خمسة، إذا وجدت واحدة منها كانت دليلًا على أن الكلمة "اسم".

العلامة الأولى: الجر؛ فإذا رأينا كلمة مجرورة لداع من الدواعي النحوية، عرفنا أنها اسم؛ مثل: كنت فى زيادةِ صديقٍ كريمٍ. فكلمة: "زيارةِ" اسم؛ لأنها مجرورة بحر الجر "في"، وكلمة: "صديق" اسم؛ لأنها مجرورة؛ إذ هى "مضاف إليه"، وكلمة: "كريم" اسم؛ لأنها مجرورة بالتبعية لما قبلها؛ فهي نعت لها.

العلامة الثانية: التنوين؛ فمن الكلمات ما يقتضى أن يكون فى آخره ضمتان، أو فتحتان، أو كسرتان؛ مثل: جاء حامدٌ، رأيت حامدًا،

--------------------------------------------

1 أي: من غير أن تحتاج إلى كلمة أخرى.

2 لإيضاح التعريف وبيان معنى الاسم نذكر ما يأتي: لو وضعنا فاكهة معينة أمام إنسان لا يعرفها، فسأل: ما هذه؟ فأجبنا: "رمان" -مثلًا- لكانت الكلمة: "رمّان" هي الرمز، أو العلامة، أو اللفظ الدال على تلك الفاكهة. وإن شئت فقل: إنها اسم يفهم منه السامع تلك الفاكهة المعينة، دون غيرها. فعندنا شيئان، فاكهة لها أوصاف حسية خاصة بها، ولفظ معين، إذا نطقنا به انصر الذهن مباشرة إلى تلك الفاكهة الخاصة. فلهذا اللفظ معنى، أو مدلول، أو مراد، وما معناه، أو مدلوله، أو المراد منه إلا هذه الفاكهة. وإن شئت فقل: إنه اسم هي معناه ومسماه، وإن هذا المعنى والمسمى له اسم، هو: "الرمان" فالاسم ليس إلا رمزًا، أو علامة، أو إشارة يراد بها أن تدل على شيء آخر، وأن تعينه، وتميزه، وهذا الشيء الآخر هو المراد من تلك الشارة، والغرض من اتخاذها، فهو مدلولها ومرماها، أي: هو المسمى بها، وهي الاسم الذي يميزه من غيره، ويحدده، فلا يختلط بسواه ومتى ثبت أن الاسم هو الرمز والعلامة، وأم المسمى هو المرموز له، المطلوب إدراكه بالعقل- كان الاسم متضمنًا في ذاته كل أوصاف المسمى، فهو مع مسماه كالصورة التي يكتب اسمها إزاءها، فإذا قرئ الاسم أولًا دل على الصورة ومضمونها كاملة. ومثل ما سبق يقال في كل اسم آخر، ومنه يتضح تعريفهم الاسم أحيانًا بأنه: "ما يدل على مسمى فقط"، أي: من غير أن يدل معه على زمن أو شيء آخر.

ولهذا الكلام أمثلة متعددة في جـ 4 ص 137 - من الطبعة الثانية - م 141 رقم 1 من هامشها. باب: أسماء الأفعال.
দ্বিতীয় মাসআলা: কালিমার (শব্দের) তিন প্রকারের আলোচনা:

ইসিম (বিশেষ্য), ফে'ল (ক্রিয়া) এবং হরফ (অব্যয়):

ইসিম: এমন একটি শব্দ যা নিজেই১ কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুকে নির্দেশ করে—যেমন: তামা, ঘর, উট, খেজুর গাছ, চড়ুই পাখি, মুহাম্মদ...—অথবা এমন কোনো বিষয় যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় বরং বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন করা যায়; যেমন: বীরত্ব, বীর্যবত্তা, মর্যাদা, আভিজাত্য, প্রতিভা...। আর এটি উভয় অবস্থায় সময়ের২ সাথে যুক্ত হয় না।

এর আলামতসমূহ: এর প্রধান আলামত পাঁচটি, এগুলোর কোনো একটি পাওয়া গেলে তা ওই শব্দটি "ইসিম" হওয়ার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।

প্রথম আলামত: জার (জের হওয়া); সুতরাং যখন আমরা কোনো শব্দকে ব্যাকরণগত কোনো কারণে মাজরুর (জেরযুক্ত) অবস্থায় দেখি, তখন আমরা বুঝতে পারি যে সেটি ইসিম; যেমন: "আমি একজন সম্মানিত বন্ধুর সাক্ষাতে ছিলাম।" এখানে 'সাক্ষাৎ' শব্দটি ইসিম; কারণ এটি 'ফি' নামক জার প্রদানকারী অব্যয়ের কারণে মাজরুর হয়েছে। আর 'বন্ধু' শব্দটি ইসিম; কারণ এটি মাজরুর, যেহেতু এটি 'মুদাফ ইলাইহি'। এবং 'সম্মানিত' শব্দটি ইসিম; কারণ এটি তার পূর্ববর্তী শব্দের অনুগামী হয়ে মাজরুর হয়েছে; কেননা এটি তার ন'আত বা গুণবাচক শব্দ।

দ্বিতীয় আলামত: তানভীন; কিছু শব্দ এমন রয়েছে যার শেষে দুই পেশ, দুই জবর বা দুই জের হওয়া আবশ্যক হয়; যেমন: হামিদ এসেছে, আমি হামিদকে দেখেছি,

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ: অন্য কোনো শব্দের মুখাপেক্ষী হওয়া ছাড়াই।

২ সংজ্ঞার ব্যাখ্যা ও ইসিমের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য আমরা নিম্নোক্ত বিষয়টি উল্লেখ করছি: যদি আমরা কোনো মানুষের সামনে এমন একটি নির্দিষ্ট ফল রাখি যা সে চেনে না, আর সে প্রশ্ন করে: এটি কী? তখন আমরা উত্তর দিলাম: "ডালিম"—উদাহরণস্বরূপ—তবে এই "ডালিম" শব্দটিই হবে ওই ফলের প্রতীক, চিহ্ন বা নির্দেশক শব্দ। আপনি চাইলে বলতে পারেন: এটি এমন একটি নাম (ইসিম) যা থেকে শ্রোতা অন্য কিছু না বুঝে ওই নির্দিষ্ট ফলটিই বুঝতে পারে। সুতরাং এখানে আমাদের সামনে দুটি বিষয় রয়েছে: একটি ফল যার নিজস্ব কিছু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, এবং একটি নির্দিষ্ট শব্দ, যা উচ্চারণ করলে সরাসরি ওই নির্দিষ্ট ফলের দিকেই মন চলে যায়। অতএব এই শব্দটির একটি অর্থ, নির্দেশিত বিষয় বা উদ্দেশ্য রয়েছে, আর এর অর্থ বা উদ্দেশ্য এই ফলটি ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনি চাইলে বলতে পারেন: এটি একটি নাম (ইসিম), আর ওই ফলটিই এর অর্থ ও নামধারী (মুসাম্মা)। আর এই অর্থ ও নামধারীর একটি নাম আছে, তা হলো: "ডালিম"। সুতরাং নাম বা ইসিম প্রতীক, চিহ্ন বা ইঙ্গিত ছাড়া আর কিছুই নয় যা দ্বারা অন্য কোনো কিছুকে নির্দেশ করা, তাকে নির্দিষ্ট করা এবং স্বতন্ত্র করা উদ্দেশ্য। আর এই অন্য বস্তুটিই হলো সেই চিহ্নের উদ্দেশ্য এবং তা গ্রহণের লক্ষ্য; অর্থাৎ সেটিই তার দ্বারা নির্দেশিত বস্তু এবং লক্ষ্য, অর্থাৎ সেটিই ওই নামের নামধারী (মুসাম্মা)। আর এই নামটিই তাকে অন্য কিছু থেকে পৃথক ও নির্ধারিত করে, ফলে তা অন্যের সাথে মিশে যায় না। যখন এটি প্রমাণিত হলো যে নাম হলো প্রতীক ও চিহ্ন, আর নামধারী হলো সেই বিষয় যাকে প্রতীক দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে—যা বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন করতে হয়—তখন নামটি তার আপন সত্তায় নামধারীর সমস্ত বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত রাখে। ফলে নাম এবং নামধারী সেই ছবির মতো যার পাশে তার নাম লেখা থাকে; সুতরাং যদি প্রথমে নামটি পড়া হয়, তবে তা ছবি এবং তার বিষয়বস্তুর পূর্ণাঙ্গ রূপটিই নির্দেশ করে। পূর্বোক্ত আলোচনার মতোই প্রতিটি ইসিমের ক্ষেত্রে বলা যায়। আর এখান থেকেই ইসিমের এই সংজ্ঞাটি স্পষ্ট হয় যে: "যা কেবল নামধারীর ওপর দালালত বা নির্দেশ করে", অর্থাৎ এর সাথে সময় বা অন্য কোনো কিছু নির্দেশ করা ছাড়া।

এই আলোচনার বহু উদাহরণ রয়েছে ৪র্থ খণ্ড, ১৩৭ পৃষ্ঠায় — দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে — ১৪১ নং অনুচ্ছেদ, তার ১ নং টীকা। পরিচ্ছেদ: আসমাউল আফ'আল (ক্রিয়াসূচক বিশেষ্য)।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ذهبت إلى حامد، طار عصفورٌ جميلٌ، شاهدت عصفورًا جميلاً، استمعت إلى عصفورٍ جميلٍ … وهذه الكلمات لا تكون إلا أسماء.

وكان الأصل أن تكتب هي وأشباهها كما يكتبها علماء "العَروض" هكذا:

حامدُنْ، حامدَنْ، حامدِنْ، عصفورُنْ جميلُنْ … عصفورَنْ جميلَنْ … عصفورِنْ جَميلِنْ … أي: بزيادة نون ساكنة في آخر الكلمة؛ تحدث رنينًا خاصًّا؛ وتنغيمًا عند النطق بها. ولهذا يسمونها: "والتنوين" أي: التصويت والترنيم؛ لأنها سببه. ولكنهم عدلوا عن هذا الأصل1، ووضعوا مكان "النون"2 رمزًا مختصرًا يغني عنها، ويدل -عند النطق به- على ما كانت تدل عليه؛ وهذا الرّمز هو: الضمة الثانية، والفتحة الثانية، والكسرة الثانية … على حسب الجمل … ويسمونه: "التنوين"، كما كانوا يسمون النون السالفة، واستغنوا بها الرمز المختصر عن "النون"؛ فحذفوها فى الكتابة، ولكنها لا تزال ملحوظة يُنْطَق بها عند وصل بعض الكلام ببعض، دون الوقف.

ومما تقدم نعلم: أن التنوين نون ساكنة، زائدة3. تلحق آخر الأسماء لفظًا، لا خطًا ولا وقفًا4.

العلامة الثالثة: أن تكون الكلمة مناداة5، مثل: يا محمدُ، ساعد

--------------------------------------------

1 اختصارًا، ومنعًا للخلط بين هذه النون الزائدة وغيرها من النونات الأخرى، الزائدة والأصلية.

2 راجع شرح المفصل "جـ 9 ص 35" في الكلام على "التنوين" حيث تراه مكتوبا "بالنون" كما في الأمثلة السالفة …

3 أي: ليست من أصل بنية الكلمة، ولا من حروفها الأصلية، لأن هذه النون -وإن كانت حرفا واحدًا- تعد كلمة كاملة، وتدخل في قسم الحرف المعنوي المعدود من أقسام الكلمة الثلاثة، فمثلها مثل واو العطف، وفائه، وباء الجر، وتائه … وغيرها من "حروف المعاني" التي سيجيء الكلام عليهما في هامش ص 66 وص 70 وفي الجزء الثاني ص 229 م 78 "أول باب: الظرف" ويبنون على هذا تعليلات لبعض الأحكام، كتعليلهم وجوب حذف التنوين من المضاف بأن التنوين كلمة كاملة، ولا يصح الفصل بكلمة بين المضاف والمضاف إليه، وهما شيئان متلازمان. إلا بعض حالات فيها الفصل بينهما، وستجيء في باب: "الإضافة" "جـ 3".

4 سيجيء في المسألة الثالثة: "ص 33" تفصيل مناسب يتضمن أنواع التنوين وحكم كل نوع.

5 لأن المنادى "مفعول به" فقولك: "يا محمد" هو بمثابة قولك: "أدعو محمدا" فهو مفعول به حقيقة، أو تقديرا - تبعا للخلاف الذي سجله الصبان وغيره، في هذا والمفعول به لا يكون إلا اسما. وكان الأوضح والأنسب أن يقال: "أن تكون الكلمو مفعولا به "كما يرى بعض النحاة - لتكون هذه العلامة هي الدالة على اسمية الضمير: إياك" وأخواته، مما يكون "مفعولا به" ولا يكون "منادي".
আমি হামিদের কাছে গেলাম, একটি সুন্দর চড়ুই পাখি উড়ল, আমি একটি সুন্দর চড়ুই পাখি দেখলাম, আমি একটি সুন্দর চড়ুই পাখির ডাক শুনলাম … এবং এই শব্দগুলো কেবল বিশেষ্য বা ইসম হতে পারে।

মূল নিয়ম ছিল যে, এগুলো এবং এ জাতীয় শব্দগুলো সেভাবেই লেখা হবে যেভাবে ছন্দবিজ্ঞানীরা (ইলমুল আরূয-এর পণ্ডিতরা) লিখে থাকেন, এভাবে:

হামিদুল-ন, হামিদান-ন, হামিদিন-ন, উসফুরুন-ন জামিলুন-ন … উসফুরান-ন জামিলান-ন … উসফুরিন-ন জামিলিন-ন … অর্থাৎ: শব্দের শেষে একটি সাকিনযুক্ত নুন বৃদ্ধির মাধ্যমে; যা উচ্চারণের সময় একটি বিশেষ ঝংকার এবং সুর সৃষ্টি করে। আর এই কারণেই তারা একে "তানভীন" বলেন, যার অর্থ: শব্দ করা ও সুর করা; কারণ এটিই তার কারণ। কিন্তু তারা এই মূল নিয়মটি পরিবর্তন করেছেন ১, এবং 'নুন'-এর ২ পরিবর্তে একটি সংক্ষিপ্ত চিহ্ন ব্যবহার করেছেন যা তার বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং উচ্চারণের সময় সেটিই নির্দেশ করে যা ঐ নুনটি নির্দেশ করত। এই চিহ্নটি হলো: দ্বিতীয় পেশ (যম্মাহ), দ্বিতীয় জবর (ফাতহাহ) এবং দ্বিতীয় যের (কাসরাহ) … বাক্য অনুযায়ী … এবং তারা একে "তানভীন" বলে অভিহিত করেন, যেমনটি তারা পূর্ববর্তী নুনটিকে বলতেন। তারা এই সংক্ষিপ্ত চিহ্নের মাধ্যমে 'নুন' থেকে বিমুখ হয়েছেন; ফলে তারা লেখার সময় তা বাদ দিয়েছেন, কিন্তু পঠনকালে মিলিয়ে পড়ার সময় তা উচ্চারিত হয়, থামার সময় নয়।

আর যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা থেকে আমরা জানি যে: তানভীন হলো একটি সাকিনযুক্ত নুন, যা অতিরিক্ত ৩। এটি বিশেষ্যের শেষে উচ্চারণে যুক্ত হয়, লেখায় এবং থামার সময় নয় ৪।

তৃতীয় চিহ্ন: শব্দটি সম্বোধনসূচক বা মুনাদা হওয়া ৫, যেমন: হে মুহাম্মদ, সাহায্য করো।

--------------------------------------------

১ সংক্ষেপ করার জন্য এবং এই অতিরিক্ত নুন ও অন্যান্য অতিরিক্ত বা মূল নুনগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে।

২ শারহুল মুফাসসাল "৯ম খণ্ড, ৩৫ পৃষ্ঠা" দেখুন "তানভীন" সম্পর্কে আলোচনায়, যেখানে আপনি এটি "নুন" সহকারে লিখিত দেখতে পাবেন যেমন পূর্ববর্তী উদাহরণগুলোতে ছিল …

৩ অর্থাৎ: এটি শব্দের মূল কাঠামোর অংশ নয় এবং এর মূল অক্ষরগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ এই নুনটি—যদিও এটি একটি মাত্র বর্ণ—তবুও একে একটি পূর্ণাঙ্গ শব্দ গণ্য করা হয় এবং এটি অর্থবাহী বর্ণের (হারফুল মা’আনি) অন্তর্ভুক্ত যা শব্দের তিন প্রকারের একটি। এর উদাহরণ হলো 'ওয়াও আতিফাহ', 'ফা', 'বা' জাররাহ, 'তা' … এবং অন্যান্য অর্থবাহী বর্ণসমূহ যেগুলোর আলোচনা ৬৬ ও ৭০ পৃষ্ঠার টীকায় এবং দ্বিতীয় খণ্ড, ২২৯ পৃষ্ঠা, ৭৮ নম্বর পরিচ্ছেদে "যরফ-এর প্রথম অধ্যায়"-এ আসবে। তারা এর ওপর ভিত্তি করে কিছু বিধানের কারণ ব্যাখ্যা করেন, যেমন মুযাফ (সম্বন্ধযুক্ত পদ) থেকে তানভীন বিলুপ্ত করার ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে তারা বলেন যে, তানভীন একটি পূর্ণাঙ্গ শব্দ, আর মুযাফ ও মুযাফ ইলাইহ-এর মাঝে কোনো শব্দ দিয়ে বিচ্ছেদ করা সঠিক নয়, কারণ তারা দুটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়। তবে কিছু ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ ঘটে যা "ইযাফাত" (সম্বন্ধ) অধ্যায়ে (৩য় খণ্ড) আসবে।

৪ ৩৩ পৃষ্ঠার ৩য় মাসআলায় এ বিষয়ে উপযুক্ত বিস্তারিত আলোচনা আসবে যাতে তানভীনের প্রকারভেদ এবং প্রত্যেক প্রকারের বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৫ কারণ মুনাদা (যাকে সম্বোধন করা হয়) হলো "মাফউল বিহ" (কর্মপদ)। সুতরাং আপনার কথা: "হে মুহাম্মদ" হলো আপনার এই কথার সমতুল্য: "আমি মুহাম্মদকে ডাকছি"। অতএব এটি প্রকৃতপক্ষে বা উহ্যভাবে মাফউল বিহ—সাব্বান এবং অন্যদের উল্লিখিত মতভেদ অনুযায়ী। আর মাফউল বিহ কেবল বিশেষ্যই হতে পারে। অধিকতর স্পষ্ট এবং উপযুক্ত হতো যদি বলা হতো: "শব্দটি মাফউল বিহ হওয়া", যেমনটি কিছু ব্যাকরণবিদ মনে করেন—যাতে এই চিহ্নটি সর্বনাম: "ইয়্যাকা" এবং এর সমগোত্রীয় শব্দগুলোর বিশেষ্য হওয়ার প্রমাণ দেয়, যা "মাফউল বিহ" হয় কিন্তু "মুনাদা" হয় না।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২৮)
الضعيف. يا فاطمة، أكرمي أهلك. فنحن ننادي محمدًا، وفاطمة. وكل كلمة نناديها اسم، ونداؤها علامة اسميتها1.

العلامة الرابعة: أن تكون الكلمة مبدوءة "بأل"2 مثل: العدل أساس الملك.

العلامة الخامسة: أن تكون الكلمة منسوبًا إليها -أي: إلى مدلولها- حصولُ شيء، أو عدم حصوله، أو مطلوبًا منها إحداثه، مثل: عليٌّ سافرَ. محمود لم يسافر. سافرْ يا سعيد. فقد تحدثنا عن "عليّ" بشيء نسبناه إليه. هو: السفر، وتحدثنا عن "محمود" بشيء نسبناه إليه؛ هو عدم السفر، وطلبنا من "سعيد" السفر. فالحكم بالسفر، أو بعدمه، أو بغيرهما، من كل ما تتم به الفائدة الأساسية يسمى: إسنادًا، وكذلك الحكم بطلب شيء من إنسان أو غيره … فالإسناد هو: "إثبات شيء لشيء، أو نفيه عنه، أو طلبه منه".

هذا، واللفظ الذى نسب إلى صاحبه فعل شيء أو عدمه أو طُلب منه ذلك، يسمى: "مسنَدًا إليه"، أى: منسوبًا إليه الفعل، أو الترك، أو طُلب منه الأداء. أما الشيء الذى حصل ووقع، أو لم يحصل ولم يقع، أو طُلب حصوله -فيسمى: "مسندًا"، ولا يكون المسند إليه اسما. والإسناد هو العلامة التى دلت على أن المسند إليه اسم5.

--------------------------------------------

1 إذا رأينا حرف النداء داخلًا في الظاهر على ما ليس باسم "كالفعل، أو: الحرف، في نحو: يا … ادخل الحجرة -يا … ليتك تحترم الميعاد،" فإنه يكون في الحقيقة داخلا على منادي محذوف، لسبب بلاغي.. أو: تكون" يا" حرف تنبيه، وليست حرف نداء. وسيجيء البيان في أول الجزء الرابع: "باب المنادى".

2 زائدة كانت أم أصيلة "إلا الاستفهامية عند من يستعملها في الاستفهام، والموصولة عند من يجيز دخولها على الفعل" وبهذه العلامة قوي الحكم على كلمة: "العزى" أنها اسم، وهي كلمة مؤقتة، علم لضم مشهور في الجاهلية، و "أل" في أولها زائدة لازمة لا تفارقها ومذكرها: الأعز.

3 انظر ما يتصل بهذا في "جـ" ص 30.

4 بهذه العلامة أمكن الحكم بالاسمية على ضمائر الرفع، كالتاء، ونا، وأنا، وعلى "ما" الاستفهامية، والموصولة …

5 أشار ابن مالك في ألفيته إلى تلك العلامات بقوله:

بالجر والتنوين، والنداء، وأل … ومسند للاسم تمييز حصل

أي: حصل تمييز للاسم من غيره: بالجر، والتنوين، والنداء، وأل، ومسند، أي: إسناد" والإسناد هو الذي يدل على أن الضمائر المرفوعة أسماء: مثل: "أنا" كتبت رسالة كما تقدم....
দুর্বল। হে ফাতেমা, তোমার পরিজনদের সম্মান করো। এখানে আমরা মুহাম্মদ এবং ফাতেমাকে সম্বোধন করছি। আমরা যাকে সম্বোধন করে ডাকি এমন প্রতিটি শব্দই বিশেষ্য (ইসম), আর তাকে সম্বোধন করা বা ডাকা তার বিশেষ্য হওয়ার একটি চিহ্ন।১

চতুর্থ চিহ্ন: শব্দটি "আল" (নির্ধারক অব্যয়) দিয়ে শুরু হওয়া,২ যেমন: ন্যায়বিচারই সাম্রাজ্যের ভিত্তি।

পঞ্চম চিহ্ন: শব্দটির প্রতি কোনো কিছু ঘটা, না ঘটা বা কোনো কিছু করার দাবি করার সম্বন্ধ থাকা—অর্থাৎ এর অর্থবহ সত্তার প্রতি কোনো বিষয়কে সম্পৃক্ত করা, যেমন: আলী ভ্রমণ করেছে। মাহমুদ ভ্রমণ করেনি। হে সাঈদ, ভ্রমণ করো। এখানে আমরা 'আলী' সম্পর্কে এমন কিছু বলেছি যা তার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছি, আর তা হলো: ভ্রমণ করা। আমরা 'মাহমুদ' সম্পর্কে এমন কিছু বলেছি যা তার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছি; আর তা হলো ভ্রমণ না করা। এবং আমরা 'সাঈদ'-এর কাছে ভ্রমণ করার দাবি করেছি। সুতরাং ভ্রমণ হওয়া বা না হওয়া অথবা অন্য যেকোনো বিষয়ের মাধ্যমে যখন একটি মৌলিক অর্থপূর্ণ বাক্য পূর্ণ হয়, তখন সেই বিধান প্রদানকে 'ইসনদ' (সম্বন্ধকরণ) বলা হয়। তেমনিভাবে কোনো মানুষ বা অন্য কারো কাছে কোনো কিছু দাবি করার বিধানকেও ইসনদ বলা হয় … সুতরাং ইসনদ হলো: "এক বস্তুকে অন্য বস্তুর জন্য সাব্যস্ত করা, অথবা তা থেকে অস্বীকার করা, কিংবা তার কাছে কোনো কিছু দাবি করা।"

আর যে শব্দের অধিকারীর প্রতি কোনো কাজ করা বা না করার সম্বন্ধ করা হয় অথবা যার কাছে কোনো কিছু দাবি করা হয়, তাকে 'মুসনাদ ইলাইহি' (যার প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে) বলা হয়। অর্থাৎ যার প্রতি কাজ বা বর্জন সম্পৃক্ত করা হয়েছে কিংবা যার কাছে কোনো কিছু সম্পাদনের দাবি করা হয়েছে। পক্ষান্তরে যে বিষয়টি ঘটেছে বা সম্পাদিত হয়েছে, অথবা ঘটেনি বা সম্পাদিত হয়নি, কিংবা ঘটার দাবি করা হয়েছে—তাকে 'মুসনাদ' (যা সম্বন্ধ করা হয়েছে) বলা হয়। আর মুসনাদ ইলাইহি সর্বদা বিশেষ্যই (ইসম) হয়ে থাকে। ইসনদ হলো এমন একটি চিহ্ন যা প্রমাণ করে যে, মুসনাদ ইলাইহি একটি বিশেষ্য।৫

--------------------------------------------

১ যদি আমরা দেখি যে সম্বোধনসূচক অব্যয়টি (হরফে নিদা) বাহ্যিকভাবে এমন কিছুর ওপর প্রবেশ করেছে যা বিশেষ্য নয় (যেমন ক্রিয়া বা অব্যয়), যেমন: 'হে... কামরায় প্রবেশ করো' - 'হায়... যদি তুমি ওয়াদা রক্ষা করতে', তবে প্রকৃতপক্ষে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কোনো কারণে সেখানে একজন সম্বোধিত ব্যক্তি উহ্য থাকে... অথবা এখানে "ইয়া" শব্দটি কেবল সতর্কীকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, সম্বোধনের জন্য নয়। এর বিস্তারিত আলোচনা চতুর্থ খণ্ডের শুরুতে "সম্বোধিত অধ্যায়"-এ আসবে।

২ সেটি অতিরিক্ত হোক বা মূল শব্দের অংশ হোক (তবে যারা প্রশ্নবোধক অর্থে ব্যবহার করেন তাদের নিকট 'আলিফ লাম ইস্তিফহামিয়া' এবং যারা ক্রিয়ার ওপর এর প্রবেশ বৈধ মনে করেন তাদের নিকট 'আলিফ লাম মাওসুলা' ব্যতীত)। এই চিহ্নের মাধ্যমেই 'আল-উজ্জা' শব্দটি বিশেষ্য হওয়ার বিষয়টি জোরালো হয়েছে। এটি একটি বিশেষ নাম, যা জাহেলি যুগে একটি বিখ্যাত মূর্তির নাম ছিল। এর শুরুতে থাকা "আল" হলো অতিরিক্ত কিন্তু অবিচ্ছেদ্য, যা শব্দটির থেকে আলাদা হয় না। এর পুংলিঙ্গ হলো: 'আল-আআজ্জ'।

৩ এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি ৩০ পৃষ্ঠার "জিম" অংশে দেখুন।

৪ এই চিহ্নের মাধ্যমেই কর্তৃকারক সর্বনামসমূহ (যথা: তা, না, আনা) এবং প্রশ্নবোধক ও সম্বন্ধবাচক "মা"-এর বিশেষ্য হওয়ার বিধান দেওয়া সম্ভব হয়েছে...

৫ ইবনে মালিক তার আলফিয়্যাহ গ্রন্থে এই চিহ্নগুলোর দিকে ইশারা করে বলেছেন:

জের, তানভিন, নিদা, আল এবং ইসনাদের মাধ্যমে বিশেষ্যের স্বাতন্ত্র্য অর্জিত হয়।

অর্থাৎ: জের, তানভিন, নিদা, আল এবং মুসনাদ বা ইসনদের মাধ্যমে অন্য বিষয় থেকে বিশেষ্যের পার্থক্য স্পষ্ট হয়। এই ইসনদই প্রমাণ করে যে কর্তৃকারক সর্বনামগুলো বিশেষ্য; যেমন: "আনা" (আমি) একটি পত্র লিখেছি, যা আগে অতিক্রান্ত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

زيادة وتفصيل:

"أ"- تعددت علامات الاسم، لأن الأسماء متعددة الأنواع؛ فما يصلح علامة لبعض منها، لا يصلح لبعض آخر، كالجر، فإنه لا يصلح علامة لضمائر الرفع، كالتاء- ولا يصلح لبعض الظروف؛ مثل: قَطُّ: وعَوْضُ. وكالتنوين؛ فإنه يصلح لكثير من الأسماء المعربة المنصرفة، ولا يصلح لكثير من المبنيات. وكالنداء فإنه يصلح وحده للأسماء الملازمة للنداء؛ مثل: يا فل "أي: يا فلان"، ويا مكرَمان للكريم الجواد، وغيرهما مما لا يكون إلا منادى1. وهكذا اقتضى الأمر تعدد العلامات بتعدد أنواع الأسماء …

"ب"- للاسم علامات أخرى؛ أهمها:

1- أن يكون مضافًا؛ مثل: تطرب نفسي لسماع الغناء. وقراءة كتب الأدب.

2- أن يعود عليه الضمير2، مثل: جاء المحسن. ففي "المحسن" ضمير. فما مرجعه؟ لا مرجع له إلا "أل"3؛ لأن المعنى: "جاء الذى هو محسن" ولهذا قالوا "أل" هنا: اسم موصول. وكذلك قد فاز المخلص، وأفلح الأمين.

3- أن يكون مجموعًا. مثل: مفاتيح الحضارة بيد علماء، وهبوا أنفسهم للعلم. فكوْن الاسم جمعًا خاصة من خواص الأسماء.

4- أن يكون مصغرًا؛ "لأن التصغير من خواص الأسماء كذلك" مثل: حُسَين أصغر من أخيه الحسن.

5- أن يبدل منه اسم صريح؛ مثل: كيف عليّ؟ أصحيح أم مريض؛ فكلمة: "صحيح" اسم واضح الاسمية، وهو بدل من كلمة: "كيف" فدلّ على أن "كيف" اسم؛ لأن الأغلب في البدل والمبدل منه أن يتحدا معًا، في الاسمية والفعلية.

--------------------------------------------

1 انظر ما يتصل بالعلامة الثالثة: "المناداة" - ص 27.

2 بهذه العلامة أمكن الحكم بالاسمية على "ما" التعجبية، وعلى "مهما" في مثل: ما أجمل المعروف! ومثل قوله تعالى: {وَقَالُوا مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِنْ آيَةٍ} … إلخ.

3 سيجيء بيان السبب مفصلًا عند الكلام على صلة "أل" في باب: "الموصول". "رقم 2 من هامش ص 356".
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

অতিরিক্ত আলোচনা ও বিস্তারিত বিবরণ:

"ক"- বিশেষ্যের চিহ্নগুলো একাধিক, কারণ বিশেষ্যের প্রকারভেদ অনেক; যা কোনো কোনোটির জন্য চিহ্ন হিসেবে উপযুক্ত, তা অন্যদের জন্য উপযুক্ত নয়। যেমন 'জর' (বিভক্তিযুক্ত হওয়া); এটি রফ-বাচক সর্বনামগুলোর (যেমন: 'তা') জন্য চিহ্ন হতে পারে না, আবার কিছু ক্রিয়াবিশেষণের (যেমন: 'ক্বত্তু' এবং 'আওদ়ু') জন্যও প্রযোজ্য নয়। আবার যেমন 'তানভীন'; এটি অনেক পরিবর্তনশীল বিশেষ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও অপরিবর্তনীয় শব্দগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তদ্রূপ 'নিদা' বা আহ্বান; এটি কেবল সেই বিশেষ্যগুলোর ক্ষেত্রে এককভাবে প্রযোজ্য যেগুলো কেবল আহ্বানের জন্যই নির্দিষ্ট; যেমন: "হে অমুক", এবং কোনো দানশীল ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলা "হে পরম দাতা", এবং এগুলো ছাড়া অন্য যা কিছু কেবল আহ্বানের পাত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হয়১। এভাবে বিশেষ্যের প্রকারভেদের কারণে চিহ্নেরও বিভিন্নতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে …

"খ"- বিশেষ্যের আরও কিছু চিহ্ন রয়েছে; যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

১- সম্বন্ধযুক্ত বা মুদাফ হওয়া; যেমন: গান শোনার জন্য আমার অন্তর পুলকিত হয়, এবং সাহিত্যের বই পাঠ করা।

২- তার দিকে কোনো সর্বনামের ফিরে আসা২; যেমন: "উপকারী ব্যক্তি এসেছে।" এখানে "উপকারী" শব্দে একটি সর্বনাম নিহিত আছে। তবে তার উৎস কী? তার উৎস "আল"৩ ছাড়া আর কিছু নয়; কারণ এর অর্থ হলো: "সেই ব্যক্তি এসেছে যে উপকারী।" এজন্য ব্যাকরণবিদগণ বলেছেন এখানে "আল" হলো একটি সংযোগকারী বিশেষ্য (ইসম মাউসুল)। তদ্রূপ: নিষ্ঠাবান ব্যক্তি সফল হয়েছে এবং আমানতদার ব্যক্তি কামিয়াব হয়েছে।

৩- বহুবচন হওয়া। যেমন: সভ্যতার চাবিকাঠি সেইসব জ্ঞানীদের হাতে, যারা নিজেদের জীবনকে জ্ঞানের জন্য উৎসর্গ করেছেন। কোনো শব্দের বহুবচন হওয়া বিশেষ্যের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি।

৪- ক্ষুদ্রার্থবোধক বা তাসগির হওয়া; "কেননা ক্ষুদ্রার্থ প্রকাশ করাও বিশেষ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য", যেমন: হুসাইন তার ভাই হাসানের চেয়ে ছোট।

৫- কোনো স্পষ্ট বিশেষ্য তার বদল বা পরিপূরক হিসেবে আসা; যেমন: আলী কেমন আছে? সে কি সুস্থ নাকি অসুস্থ? এখানে "সুস্থ" শব্দটি স্পষ্টতই একটি বিশেষ্য এবং এটি "কেমন" শব্দের বদল। এটি প্রমাণ করে যে "কেমন" শব্দটিও একটি বিশেষ্য; কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বদল এবং যার বদল করা হচ্ছে (মুবদাল মিনহু), বিশেষ্য বা ক্রিয়া হওয়ার দিক থেকে অভিন্ন হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

১ তৃতীয় চিহ্নের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি দেখুন: "আহ্বান বা মুনাদা" - পৃষ্ঠা ২৭।

২ এই চিহ্নের মাধ্যমে বিস্ময়বোধক "মা" এবং "মাহমা"-এর বিশেষ্য হওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে, যেমন: "সদাচরণ কতই না সুন্দর!" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তারা বলল, তুমি আমাদের কাছে যে নিদর্শনই নিয়ে আসো না কেন..." ইত্যাদি।

৩ "সংযোগকারী" (আল-মাউসুল) অধ্যায়ে "আল"-এর সংযুক্তি বা সিলাহ আলোচনার সময় এর কারণ বিস্তারিতভাবে আসবে। "৩৫৬ পৃষ্ঠার ২ নং টীকা"।
(খণ্ড: ১) আন-নাহবুল ওয়াফী (পৃষ্ঠা: ৩০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

6- أن يكون لفظه موافقاً لوزن اسم آخر، لا خلاف فى اسميته؛ كنزَال1 فإنه موافق فى اللفظ لوزن: "حَذَامِ" اسم امرأة، وهو وزن لا خلاف فىَ أنه مقصور على الأسماء. ولولا هذه العلامة لصعب الحكم على "نَزَالِ" بالاسمية؛ لصعوبة الاهتداء إلى علامة أخرى.

7- أن يكون معناه موافقًا لمعنى لفظ آخر ثابت الاسمية؛ مثل: قَطُّ. عَوْضُ. حيث … فالأولى ظرف يدل على الزمن الماضي2، والثانية ظرف يدل على الزمن المستقبل، والثالثة بمعنى المكان -في الأغلب- وبهذه العلامة أمكن الحكم على الكلمات الثلاثة بالاسمية؛ إذ يصعب وجود علامة أخرى.

"جـ" سبق أن من علامات الاسم الإسناد: وقد وضحناه. وبقي أن نقول: إذا أسندتَ إلى كلمة قاصدًا منها لفظها، وكان لفظها مبنيًا -كما لو رأيت كلمة مكتوبة؛ مثل: "قَطفَ" أو: "مَنْ" "أو: رُبَّ"، وأردت أن تقول عن لفظها المكتوب؛ إنه جميل، وهو لفظ مبني فى أصله كما ترى -فإنه يجوز أحد أمرين.

أولهما: أن تحكيها بحالة لفظها، وهو الأكثر؛ فيكون إعرابها مقدرًا، منع من ظهور علامته حكاية اللفظ على ما كان عليه أولًا؛ من حركة، أو سكون، فلا يدخل على آخر الكلمة تغيير4 لفظي، مهما اختلفت العوامل. تقول: قطف جميل، إن قطف جميل، سررت من قطف.... و.... .

ثانيهما: أن تعربها على حسب العوامل إعرابًا ظاهرًا مع التنوين؛ فتقول: قَطَفٌ جميلةٌ، بالرفع والتنوين فى هذا المثال، إلا إن كان فى آخر الكلمة ما يمنع ظهور الحركة؛ كوجود ألف مثلا، كقولك: "علىَ" حرف جر، فإنها تعرب بحركة مقدرة، وتُنَون، مالم يمنع من تنوينها مانع؛ كالإضافة5 …

--------------------------------------------

1 اسم فعل، بمعنى، انزل.

2 ولا تستعمل إلا في جملة منفية.

3 في صفحة 28

4 إلا إن كان اللفظ في أصله حرفا ثنائيّا، فيجوز أن يكون مبنيًّا للشبه اللفظي بالحروف -كما ستعرف. وهذه صورة من الحكاية غير التي ستيجيء في رقم "7" من ص 200.

5 يلاحظ الفرق الواضح بين دلالة الأمرين السابقين في "جـ" ودلالة الملاحظة التي في صفحة 79 وما يتصل بها في ص 309، 310 وما يخالفها في "جـ" من ص 146.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

৬- শব্দটির রূপ অন্য একটি শব্দের ওজনের সাথে মিলে যাওয়া, যার বিশেষ্য বা ইসম হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই; যেমন: 'নাযালি'। এটি শব্দগতভাবে 'হাযামি' (একজন মহিলার নাম) এর ওজনের সাথে মিলে যায়, আর এটি এমন এক ওজন যা কেবল বিশেষ্যের জন্যই নির্ধারিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। এই চিহ্নটি না থাকলে 'নাযালি'-কে বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করা কঠিন হতো; কারণ অন্য কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল।

৭- শব্দটির অর্থ অন্য একটি শব্দের অর্থের সাথে মিলে যাওয়া যার বিশেষ্য হওয়া প্রমাণিত; যেমন: 'কাত্তু', 'আওদু', 'হাইসু'...। প্রথমটি এমন একটি কালবাচক অব্যয় (যরফ) যা অতীত কালকে নির্দেশ করে, দ্বিতীয়টি ভবিষ্যৎ কাল নির্দেশক অব্যয় এবং তৃতীয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থানবাচক অর্থ প্রকাশ করে। এই চিহ্নের মাধ্যমেই এই তিনটি শব্দকে বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করা সম্ভব হয়েছে; যেহেতু অন্য কোনো চিহ্ন পাওয়া কঠিন ছিল।

"জ" - ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশেষ্যের একটি চিহ্ন হলো ইসনাদ (উদ্দেশ্য হওয়া): যা আমরা ব্যাখ্যা করেছি। এখন অবশিষ্ট কথা হলো: যদি আপনি কোনো শব্দের প্রতি কিছু সম্পর্কিত করেন এবং এর মাধ্যমে কেবল শব্দটির রূপকে উদ্দেশ্য করেন, আর শব্দটি যদি মূলত মাবনি (অপরিবর্তনীয়) হয় - যেমন আপনি কোনো লিখিত শব্দ দেখলেন; উদাহরণস্বরূপ: "কাতাফা" অথবা "মান" অথবা "রুব্বা", এবং আপনি সেই লিখিত শব্দটি সম্পর্কে বলতে চাইলেন যে সেটি সুন্দর, অথচ শব্দটি এর মূলে মাবনি যেমন আপনি দেখতে পাচ্ছেন - তবে এক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি জায়েয।

প্রথমটি: শব্দটিকে তার মূল অবস্থার বর্ণনা (হিকায়াহ) অনুযায়ী রাখা, এটিই অধিক প্রচলিত; সেক্ষেত্রে এর ই’রাব হবে ঊহ্য (মুকাদ্দার)। শব্দের পূর্বাবস্থা যেমন ছিল - হরকত বা সুকুন - তা বর্ণনার কারণে এর মূল চিহ্ন প্রকাশে বাধা দিবে। ফলে আমেল বা প্রভাবক ভিন্ন ভিন্ন হলেও শব্দের শেষে কোনো শাব্দিক পরিবর্তন আসবে না। আপনি বলবেন: কাতাফা সুন্দর, নিশ্চয়ই কাতাফা সুন্দর, আমি কাতাফা দ্বারা আনন্দিত হয়েছি... ইত্যাদি।

দ্বিতীয়টি: আমেল অনুযায়ী একে প্রকাশ্য ই’রাব এবং তানভীন প্রদান করা; ফলে আপনি বলবেন: 'কাতাফুন' সুন্দর, এই উদাহরণে রফা ও তানভীন যোগে। তবে শব্দের শেষে যদি হরকত প্রকাশে কোনো বাধা থাকে; যেমন আলিফ থাকা, যেমন আপনার উক্তি: "আলা" একটি হরফে জার। সেক্ষেত্রে এটি ঊহ্য হরকতের মাধ্যমে ই’রাব প্রাপ্ত হবে এবং এতে তানভীন যুক্ত হবে, যতক্ষণ না তানভীন যুক্ত হতে কোনো বাধা থাকে; যেমন ইদাফাত (সম্বন্ধ)...।

--------------------------------------------

১ এটি ইসমু ফিল, যার অর্থ: নামো।

২ এটি কেবল না-বোধক বাক্যে ব্যবহৃত হয়।

৩ ২৮ পৃষ্ঠায়।

৪ তবে যদি শব্দটি মূলে দুই অক্ষরবিশিষ্ট হরফ হয়, তবে হরফের সাথে শব্দগত সাদৃশ্যের কারণে এটি মাবনি হওয়া জায়েয - যা আপনি জানতে পারবেন। এটি হিকায়াহ বা বর্ণনার একটি রূপ যা ২০০ পৃষ্ঠার ৭ নং-এ বর্ণিত বিষয় থেকে ভিন্ন।

৫ "জ" অনুচ্ছেদে উল্লিখিত পূর্ববর্তী দুটি বিষয়ের তাৎপর্য এবং ৭৯ পৃষ্ঠার টীকা ও ৩০৯, ৩১০ পৃষ্ঠার সংশ্লিষ্ট আলোচনা এবং ১৪৬ পৃষ্ঠার "জ" অনুচ্ছেদের বিপরীত আলোচনার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।