(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ضوابط التكفير في ضوء السنة النبوية   (نوال العيد)

القسم: العقيدة


الكتاب: ضوابط التكفير في ضوء السنة النبوية

المؤلف: نوال بنت عبد العزيز العيد

الناشر: دار الحضارة للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م

عدد الصفحات: 72

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ربيع الأول 1444

সুন্নাহর আলোকে তাকফীরের মূলনীতিসমূহ   (নাওয়াল আল-ঈদ)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: সুন্নাহর আলোকে তাকফীরের মূলনীতিসমূহ

লেখক: নাওয়াল বিনতে আব্দুল আজিজ আল-ঈদ

প্রকাশক: দারুল হাজারা পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরী - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২

[কিতাবের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، وبعد:

فإن المتأمل لكثير من القضايا التي تشهدها ساحتنا الإسلامية سواء على المستوى العقدي أو التشريعي أو الفكري أو النفسي أو الاجتماعي يقف على حاجة المسلم الماسة إلى تأصيل شرعي لموقف المسلم منها في ضوء القرآن وصحيح السنة، ومن القضايا التي برزت على الساحة الإسلامية قضية (التكفير)، وقد كثر الخوض فيه قديما وحديثا، وهو مضلة أفهام ومزلة أقدام، قد يفضي إلى التناحر والشقاق واستحلال الحرام باسم الدين. وقد انقسم الناس فيه إلى طرفين ووسط؛ طرف يعتقد أن التكفير شرط فيه الاستحلال أو الجحود فمن أتي بأي معصية ما لم يستحلها لا يكفر حتى وإن كانت هذه المعصية كفرا منصوصا عليه، وقد يحكمون على الأعمال الكفرية بأنها غير مكفرة وأنها من المعاصي التي هي دون الكفر، وقابلهم في تطرفهم طائفة أخرى تكفر بالشبهات وتتصيد
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমের ওপর। অতঃপর:

আমাদের ইসলামী অঙ্গনে আকিদাগত, আইনি, বুদ্ধিবৃত্তিক, মনস্তাত্ত্বিক কিংবা সামাজিক—বিদ্যমান অসংখ্য বিষয়ের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে এসব বিষয়ে একজন মুসলিমের অবস্থানের জন্য শরয়ি ভিত্তি বা মূলনীতি নির্ধারণের তীব্র প্রয়োজন রয়েছে। ইসলামী পরিমণ্ডলে প্রকাশ পাওয়া এই বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো 'তাকফির' (কাফির সাব্যস্ত করা) এর বিষয়টি। প্রাচীন ও বর্তমান উভয় কালেই এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে। এটি অনুধাবনের ক্ষেত্রে একটি বিভ্রান্তিকর এবং পদস্খলনের জায়গা, যা ধর্মের নামে পারস্পরিক বিবাদ, বিভেদ এবং হারামকে হালাল করার দিকে নিয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে মানুষ দুই প্রান্তিক পক্ষ এবং একটি মধ্যপন্থী দলে বিভক্ত হয়েছে; একপক্ষ মনে করে যে, কাউকে কাফির বলার জন্য (সেই পাপকে) হালাল মনে করা বা অস্বীকার করা অপরিহার্য শর্ত। ফলে কোনো ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো পাপকে হালাল মনে না করছে, ততক্ষণ সে কাফির হবে না—এমনকি সেই পাপটি যদি অকাট্যভাবে কুফরও হয়। তারা কুফরি কাজসমূহকে তাকফিরযোগ্য নয় বলে হুকুম দেয় এবং সেগুলোকে কুফরের নিচের স্তরের অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য করে। তাদের এই চরমপন্থার বিপরীতে আরেকটি দল রয়েছে যারা সন্দেহের বশে তাকফির করে এবং ভুলভ্রান্তি খুঁজে বেড়ায়...
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
الزلات والعثرات، وينصب أحدهم نفسه بلا أهلية معتبرة شرعا قاضيا يحكم على من يشاء بما شاء، فيكفر ويخرج من أراد من حظيرة الإسلام، غير مكترث لخطورة هذا الأمر عليه وعلى المجتمع وعلى وحدة الصف الإسلامي، والحق وسط بين هؤلاء وهؤلاء، كوسطية أهل السنة والجماعة بين الفرق المائلة يمينا أو يسارا عن الصراط، ولهذا لم يترك السلف (تكفير المسلمين) مع خطورته حمى مستباحا لكل أحد، بل درسوه وأصلوه وضبطوه، وقد جاء هذا البحث (ضوابط التكفير في ضوء السنة النبوية) إسهاما في تناول هذه القضية تناولا تأصيليا من خلال حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، أضف إلى الآتي:

1. إن فتنة التكفير التي مزقت جسد الأمة الإسلامية هي أول البدع والفتن ظهورا في الإسلام، وهي منبع لكثير من الانحرافات العقائدية و السلوكية و الخلقية و النفسية التي عانت منها الأمة المسلمة على مدى أربعة عشر قرنا، يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: " أول البدع ظهورا في الإسلام وأظهرها ذما في السنة والآثار: بدعة الحرورية المارقة؛ فإن أولهم قال للنبي صلى الله عليه وسلم في وجهه: اعدل يا محمد
বিচ্যুতি ও পদস্খলন; তাদের কেউ কেউ শরয়িভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো যোগ্যতা ছাড়াই নিজেকে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করে এবং যে কারো বিরুদ্ধে যেমন ইচ্ছা ফয়সালা প্রদান করে। ফলে সে যাকে ইচ্ছা কাফের সাব্যস্ত করে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়। নিজের ওপর, সমাজের ওপর এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর এই বিষয়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে সে মোটেও ভ্রুক্ষেপ করে না। অথচ সত্য হলো এদের উভয়ের মাঝখানে এক মধ্যপন্থা, যেমনটি হচ্ছে সঠিক পথ থেকে ডানে বা বামে বিচ্যুত দলগুলোর মাঝে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মধ্যপন্থা। এই কারণেই সালাফে সালেহীন ‘মুসলিমদের তাকফির’ করার বিষয়টিকে এর ভয়াবহতা সত্ত্বেও প্রত্যেকের জন্য একটি উন্মুক্ত চারণভূমি হিসেবে ছেড়ে দেননি; বরং তারা এটি অধ্যয়ন করেছেন, এর মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন এবং একে সুশৃঙ্খল করেছেন। আর এই গবেষণা (সুন্নাহর আলোকে তাকফিরের নীতিমালা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের মাধ্যমে এই বিষয়টিকে মৌলিকভাবে পর্যালোচনার একটি প্রয়াস। এর সাথে নিচের বিষয়গুলো যুক্ত করা যায়:

১. নিশ্চয়ই তাকফিরের ফিতনা—যা মুসলিম উম্মাহর দেহকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে—তা হলো ইসলামে প্রকাশিত প্রথম বিদআত ও ফিতনা। এটি এমন বহু আকিদাগত, আচরণগত, চারিত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিচ্যুতির উৎস, যার ফলে মুসলিম উম্মাহ চৌদ্দশ বছর ধরে ভুগে আসছে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়য়াহ রহিমানুল্লাহ বলেন: “ইসলামে সর্বপ্রথম যে বিদআতের প্রকাশ ঘটেছে এবং সুন্নাহ ও আসার (বর্ণনা)-সমূহে যার নিন্দা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে এসেছে, তা হলো পথভ্রষ্ট হারুরিয়াদের বিদআত; কেননা তাদের প্রথম ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে সশরীরে বলেছিল: হে মুহাম্মদ! ইনসাফ করুন।”
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
فإنك لم تعدل(1)، وأمر النبي صلى الله عليه وسلم بقتلهم وقتالهم وقاتلهم أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مع أمير المؤمنين علي بن أبي طالب.

والأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم مستفيضةٌ بوصفهم وذمهم»(2).

2. خطورة التكفير سواء على من يلقي هذا الحكم بلا أهلية معتبرة شرعا، أو على المجتمع حين تستباح الحرمات وتسفك الدماء باسم الدين.

3. التأصيل الشرعي لقضية التكفير وتنقيتها من غلو الخوارج وتفريط المرجئة.

4. ضبط التكفير بالضوابط الشرعية التي جاءت في كتاب الله وصحيح سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

5. تسلل هذه الفتة إلى مجتمعنا بفئاته وشرائحه المختلفة يحتم علينا أن نسهم في تحصين المجتمع منها من خلال التأصيل الشرعي و الفهم الصحيح المسألة التكفير.

6. حصر ضوابط التكفير من خلال استقراء نصوص الكتاب

--------------------------------------------

(1) أخرجه بهذا اللفظ ابن ماجة (1/ 61) وصححه الألباني في صحيح سنن ابن ماجة (1/ 244). وأخرجه البخاري كتاب استتابة المرتدين/ باب من ترك قتال الخوارج للتألف (6/ 2450) 6534، ومسلم كتاب الزكاة (3/ 93) 2496.

(2) الفتاوى (19/ 71).
কারণ আপনি ইনসাফ করেননি(১), আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের হত্যা করার এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন, এবং আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো তাদের বিবরণ ও নিন্দায় মুস্তাফিয (তথা অত্যন্ত মশহুর)।(২)

২. তাকফিরের (কাফির সাব্যস্ত করার) ভয়াবহতা; তা যেমন শরীয়ত স্বীকৃত যোগ্যতা ব্যতিরেকে এই বিধান প্রদানকারীর জন্য প্রযোজ্য, তেমনি সমাজের জন্যও ক্ষতিকর যখন ধর্মের নামে মানুষের জান-মাল ও ইজ্জতের পবিত্রতা লঙ্ঘিত হয় এবং রক্ত প্রবাহিত হয়।

৩. তাকফির ইস্যুর শরীয়তসম্মত মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং একে খাওয়ারিজদের বাড়াবাড়ি ও মুরজিয়াদের শিথিলতা থেকে মুক্ত করা।

৪. আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহীহ সুন্নাহয় বর্ণিত শরীয়তসম্মত নিয়মাবলির মাধ্যমে তাকফিরের বিষয়টিকে সুশৃঙ্খল করা।

৫. আমাদের সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের মাঝে এই ফিতনার অনুপ্রবেশ ঘটার কারণে শরীয়তসম্মত মূলনীতি এবং তাকফির বিষয়ে সঠিক উপলব্ধির মাধ্যমে সমাজকে এর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের অবদান রাখা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

৬. কিতাবের (কুরআনের) দলীলসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে তাকফিরের নিয়মাবলি নির্ধারণ করা।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন (১/৬১) এবং আলবানী একে সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ (১/২৪৪)-এ সহীহ বলেছেন। বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন ‘মুরতাদদের তওবা করানো’ অধ্যায়ে/ ‘মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য খারেজীদের সাথে যুদ্ধ পরিহার করা’ পরিচ্ছেদে (৬/২৪৫০) ৬৫৩৪; এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন ‘যাকাত’ অধ্যায়ে (৩/৯৩) ২৪৯৬।

(২) আল-ফাতাওয়া (১৯/৭১)।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
والسنة يشكل حصانة فكرية للمجتمع من فتنة

التكفير

7. خدمة موضوعات الاعتقاد حديثيا.

هذا وقد قسمت البحث إلى تمهيد ومبحثين وخاتمة.

التمهيد، ويشتمل على تعريف الكفر لغة واصطلاحا، والإشارة إلى خطورة التكفير

المبحث الأول: ضوابط عامة في التكفير في ضوء السنة النبوية:

1. التكفير حكم شرعي، وحق لرب العالمين.

2. أهلية المكفِّر.

3. الحكم بالظاهر.

4. التفريق بين التكفير المطلق، وتكفير المعين.

المبحث الثاني: ضوابط تكفير المعين في ضوء السنة النبوية

(الشروط والموانع).

1. العلم شرط ومانعه الجهل.

2. القصد شرط ومانعه الخطأ.

3. الإرادة شرط ومانعها الإكراه.

4. عدم التأويل شرط ومانعه التأويل.
এবং সুন্নাহ তাকফিরের ফিতনা থেকে সমাজের জন্য একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সুরক্ষা তৈরি করে।

৭. হাদিসের আলোকে আকিদাহর বিষয়সমূহের খিদমত করা।

এই গবেষণাটিকে আমি একটি ভূমিকা, দুটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।

ভূমিকা: এতে আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে কুফরের সংজ্ঞা এবং তাকফিরের ভয়াবহতার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর আলোকে তাকফির সম্পর্কিত সাধারণ নীতিমালা:

১. তাকফির একটি শরয়ী বিধান এবং এটি রাব্বুল আলামীনের অধিকার।

২. তাকফিরকারীর যোগ্যতা।

৩. বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিধান প্রদান।

৪. সাধারণ তাকফির এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির তাকফিরের মধ্যে পার্থক্য করা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর আলোকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির তাকফিরের নীতিমালা

(শর্তাবলি ও অন্তরায়সমূহ)।

১. জ্ঞান একটি শর্ত এবং এর অন্তরায় হলো অজ্ঞতা।

২. সংকল্প একটি শর্ত এবং এর অন্তরায় হলো ভুল।

৩. ইচ্ছা একটি শর্ত এবং এর অন্তরায় হলো জবরদস্তি।

৪. অপব্যাখ্যা না থাকা একটি শর্ত এবং এর অন্তরায় হলো অপব্যাখ্যা (তাউয়ীল)।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌التمهيد

الكفر في لغة العرب، الستر والتغطية، وسموا الزراع كفارا، لسترهم البذور بالتراب، ومنه قوله تعالى: {كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ} [الحديد: 20]، وسمي الكافر كافرا لأن الكفر غطى قلبه كله، أو لأنه ستر نعم الله عليه. ويأتي الكفر بمعنى الجحود، يقال: كافرني فلان حقي، إذا جحده، ورجل كافر: جاحد لنعم الله، ومنه قوله تعالى: {وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كَافِرُونَ} [القصص: 48] أي: جاحدون.

وأما الكفر في الاصطلاح، فنقيض الإيمان بالله، وهو نوعان:

كفر أكبر مخرج من الملة: وهو كل كفر أخرج صاحبه من دائرة الإيمان، وقضت النصوص الشرعية بأن صاحبه خالد مخلد في النار، وهو المقصود من البحث، وله ستة أنواع:

تكذيب، وجحود، وعناد، وإعراض، ونفاق، وشك.

وكفر أصغر لا يخرج من الملة، وهو كل ما أطلق عليه الشارع كلمة الكفر، وقامت الأدلة على أنه لم يرد الكفر الأكبر المخرج من الملة، وإنما أراد الشارع التهديد والزجر.

والتكفير رمي المسلم الذي شهد أن لا إله إلا الله وأن محمدًا
ভূমিকা

আরবি ভাষায় কুফর অর্থ হলো গোপন করা এবং ঢেকে রাখা। তারা কৃষকদের কাফের বলে সম্বোধন করত, কারণ তারা বীজকে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {যেমন বৃষ্টির ন্যায়, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে} [আল-হাদিদ: ২০]। আর কাফেরকে কাফের বলা হয় কারণ কুফর তার সমগ্র অন্তরকে ঢেকে ফেলে, অথবা সে তার ওপর আল্লাহর নিয়ামতসমূহকে গোপন করে। কুফর শব্দটি অস্বীকার করা অর্থেও আসে। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি আমার পাওনা অস্বীকার করেছে, যখন সে তা অস্বীকার করে। আর কাফের ব্যক্তি হলো আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকারকারী। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা বলেছিল: আমরা অবশ্যই সবকিছুই অস্বীকারকারী} [আল-কাসাস: ৪৮] অর্থাৎ: অস্বীকারকারী বা প্রত্যাখ্যানকারী।

আর পারিভাষিক অর্থে কুফর হলো আল্লাহর প্রতি ঈমানের বিপরীত। এটি দুই প্রকার:

কুফরে আকবর (বড় কুফর) যা ধর্ম থেকে বের করে দেয়: এটি হলো সেই কুফর যা এর অধিকারীকে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয় এবং শরীয়তের দলীলসমূহ ফয়সালা দিয়েছে যে, এর অধিকারী জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। এটিই এই গবেষণার মূল লক্ষ্য, আর এটি ছয় প্রকার:

মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, অস্বীকার করা, হঠকারিতা করা, বিমুখ হওয়া, নিফাক এবং সন্দেহ।

কুফরে আসগর (ছোট কুফর) যা ধর্ম থেকে বের করে দেয় না: এটি হলো সেই সব বিষয় যেগুলোকে শরীয়ত প্রণেতা 'কুফর' শব্দ দ্বারা অভিহিত করেছেন, তবে প্রমাণাদি সাব্যস্ত করেছে যে এর দ্বারা ইসলাম থেকে বের করে দেওয়া বড় কুফর উদ্দেশ্য নয়; বরং এর দ্বারা শরীয়ত প্রণেতা কেবল ধমক ও সতর্কতা প্রদান করতে চেয়েছেন।

আর তাকফির হলো এমন মুসলমানকে কুফরের অপবাদ দেওয়া, যে সাক্ষ্য দিয়েছে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল...
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
رسول الله بالكفر بالله ورسوله، وإخراجه من نور الإيمان والهدى إلى ظلمة الكفر والجهل، ومن سبيل الله إلى سبل الشيطان، وإخراجه من جماعة المسلمين، وانتفاء ولايته على ذريته، وتحريم زوجته عليه، وسقوط إرثه، وعدم حل ذبيحته، وعدم جواز تغسيله، والصلاة عليه إذا مات، و أنه لا يدفن في مقابر المسلمين، وعدم جواز الاستغفار له، وما إلى ذلك من أحكام امتلأت بها كتب الفقه والعقائد، ولذا وقف الإسلام منه موقفا شديدا محذرا من عاقبة إطلاقه، و خطورة التساهل مع المتولين كبره. يقول شيخ الإسلام: «ولا يجوز تكفير المسلم بذنب فعله ولا بخطأ أخطأ فيه كالمسائل التي تنازع فيها أهل القبلة فإن الله تعالى قال: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} [البقرة: 285] وقد ثبت في الصحيح أن الله تعالى أجاب هذا الدعاء وغفر للمؤمنين خطأهم(1). والخوارج المارقون الذين أمر النبي صلى الله عليه وسلم بقتالهم قاتلهم أمير المؤمنين علي بن أبي طالبٍ أحد الخلفاء الراشدين. واتفق على قتالهم أئمة الدين من الصحابة والتابعين ومن بعدهم. ولم يكفرهم علي ابن

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم كتاب الإيمان (1/ 80، 81) 344، 345.
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি করার অপবাদ দেওয়া, তাকে ঈমান ও হিদায়াতের নূর থেকে বের করে কুফর ও অজ্ঞতার অন্ধকারে এবং আল্লাহর পথ থেকে শয়তানের পথে ধাবিত করা, তাকে মুসলিম জামাত থেকে বহিষ্কার করা, বংশধরের ওপর তার অভিভাবকত্ব বিলুপ্ত হওয়া, তার স্ত্রীর তার ওপর হারাম হয়ে যাওয়া, মিরাস বা উত্তরাধিকার বাতিল হওয়া, তার জবেহকৃত পশুর মাংস হালাল না হওয়া, মৃত্যুর পর তাকে গোসল করানো ও তার জানাজার সালাত আদায় করা নাজায়েজ হওয়া, তাকে মুসলিমদের গোরস্তানে দাফন না করা, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অবৈধতা এবং অনুরূপ আরও বহু বিধান, যেগুলোতে ফিকহ ও আকীদার কিতাবসমূহ ভরপুর। এ কারণেই ইসলাম এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নির্বিচারে কাউকে কাফির বলার পরিণাম ও যারা এর নেতৃত্ব দেয় তাদের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শনের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছে। শায়খুল ইসলাম বলেন: «কোনো মুসলিমকে তার কৃত কোনো পাপ বা ভুলের কারণে কাফির বলা জায়েজ নয়, যেমন ওইসব মাসআলা যেগুলোতে আহলে কিবলাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {রাসূল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা সকলে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছে; (তারা বলে) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। তারা বলে, আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।} [আল-বাকারা: ২৮৫]। সহিহ হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা এই দোয়া কবুল করেছেন এবং মুমিনদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন(১)। আর ধর্মচ্যুত খারেজিরা, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে খুলাফায়ে রাশেদীনের অন্যতম আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব যুদ্ধ করেছেন। সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী দ্বীনের ইমামগণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। কিন্তু আলী ইবনে

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, ঈমান অধ্যায় (১/ ৮০, ৮১) ৩৪৪, ৩৪৫।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
أبي طالب وسعد بن أبي وقاصٍ وغيرهما من الصحابة بل جعلوهم مسلمين مع قتالهم، ولم يقاتلهم علي حتى سفكوا الدم الحرام وأغاروا على أموال المسلمين، فقاتلهم لدفع ظلمهم وبغيهم لا لأنهم كفارٌ، ولهذا لم يسب حريمهم ولم غنم أموالهم، وإذا كان هؤلاء الذين ثبت ضلالهم بالنص والإجماع لم يكفروا مع أمر الله ورسوله بقتالهم، فكيف بالطوائف المختلفين الذين اشتبه عليهم الحق في مسائل غلط فيها من هو أعلم منهم؟»(1). وقد كثر الكلام حول التكفير، ولحظ المسارعة فيه، والجرأة عليه، مع أن الخوض فيه دحض مزلة، خصوصا ونحن نرى بعض صغار السن، زادهم من العلم: قيل وقال: ولا يظهر عليهم أثر علم ولا التزام سنة؛ يخوضون في مثل هذه المسائل التي لو عرضت على عمر لجمع لها أهل بدر!.(2) وقد جاء هذا البحث متناولا ضوابط التكفير في ضوء السنة النبوية على صاحبها أفضل الصلاة وأتم التسليم، مبينا أنه لا ينبغي الخوض في التكفير من قبل أن يقف المؤمن على أصوله، ويتحقق من شروطه وموانعه، وإلا أورد نفسه المهالك، وباء بغضب من الله.

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (3/ 282).

(2) حتى لا تبوء بها الشيخ السحيم بتصرف.
আবি তালিব এবং সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও অন্যান্য সাহাবীগণ; বরং তারা তাদের সাথে যুদ্ধ করা সত্ত্বেও তাদেরকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করেছেন। আলী তাদের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করেননি যতক্ষণ না তারা নিষিদ্ধ রক্তপাত করেছে এবং মুসলিমদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। তিনি তাদের জুলুম ও বিদ্রোহ দমন করার জন্য যুদ্ধ করেছেন, তারা কাফের হওয়ার কারণে নয়। এই কারণেই তিনি তাদের নারী ও শিশুদের বন্দি করেননি এবং তাদের সম্পদ গনিমত হিসেবে গ্রহণ করেননি। আর যদি এই সমস্ত লোক—যাদের পথভ্রষ্টতা অকাট্য দলীল (নস) ও ইজমা দ্বারা প্রমাণিত—তাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কাফের গণ্য করা না হয়, তবে সেই সব দল বা গোষ্ঠী সম্পর্কে কী বলা যাবে যাদের কাছে সত্য অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এমন সব মাসআলায় যাতে তাদের চেয়েও অধিক জ্ঞানী ব্যক্তিরা ভুল করেছেন?(১) বর্তমানে তাকফির সম্পর্কে আলোচনা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এতে দ্রুততা ও দুঃসাহস প্রদর্শন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অথচ এই বিষয়ে গভীরে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও পদস্খলনের স্থান। বিশেষ করে যখন আমরা দেখি যে এমন কিছু অল্পবয়সী যুবক—যাদের ইলমের পুঁজি হলো কেবল শোনা কথা—যাদের মধ্যে ইলমের কোনো প্রভাব বা সুন্নাহ অনুসরণের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না; তারা এমন সব জটিল বিষয়ে লিপ্ত হচ্ছে যা যদি উমরের নিকট পেশ করা হতো তবে তিনি এর (মীমাংসার) জন্য বদর যুদ্ধের সাহাবীদের সমবেত করতেন!(২) এই গবেষণাটি সুন্নাহর আলোকে তাকফিরের নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করেছে—সুন্নাহর অধিকারীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক—এবং এটি স্পষ্ট করেছে যে, একজন মুমিনের জন্য তাকফিরের বিষয়ে ততক্ষণ লিপ্ত হওয়া উচিত নয় যতক্ষণ না সে এর মূলনীতিগুলো অবগত হয় এবং এর শর্তাবলি ও প্রতিবন্ধকতাগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে; অন্যথায় সে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে এবং আল্লাহর ক্রোধের শিকার হবে।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (৩/ ২৮২)।

(২) শায়খ আস-সুহাইম রচিত 'হাত্তা লা তাবুআ বিহা' থেকে পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الأول ضوابط عامة في التكفير في ضوء السنة النبوي

‌‌الضابط الأول التكفير حكم شرعي، وحق لله رب العالمين

(التكفير حكم شرعي، وحق محض للرب سبحانه وتعالى، لا تملكه هيئة من الهيئات، أو جماعة من الجماعات، ولا اعتبار فيه لذوق أو عقل، ولا دخل فيه لحماسة طاغية، أو عداوة ظاهرة، ولا يحمل عليه ظلم ظالم تمادى في ظلمه وغيه، وإنما لا يكفر إلا من كفره الله ورسوله)(1).

يقول شيخ الإسلام: "وهذا بخلاف ما كان يقوله بعض الناس، كأبي إسحاق الإسفراييني ومن اتبعه، يقولون: لا يكفر إلا من يكفر. فإن التكفير ليس حقا لهم، بل هو حق الله، وليس للإنسان أن يكذب على من يكذب عليه، ولا يفعل الفاحشة بأهل من فعل الفاحشة بأهله، بل لو استكرهه رجل على اللواطة، لم يكن له أن يستكرهه على ذلك،

--------------------------------------------

(1) التكفير في ضوء السنة النبوية لباسم الجوابرة (58).
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর আলোকে তাকফীরের সাধারণ নীতিমালা

‌প্রথম মূলনীতি: তাকফীর একটি শরয়ী বিধান এবং বিশ্বজগতের রব আল্লাহর অধিকার

(তাকফীর একটি শরয়ী বিধান এবং মহান রবের নিরঙ্কুশ অধিকার; কোনো সংস্থা বা দল এর মালিক নয়। এতে প্রবৃত্তি বা বিবেকের কোনো স্থান নেই, এবং এতে কোনো প্রবল আবেগ বা প্রকাশ্য শত্রুতার কোনো হাত নেই। কোনো জালেমের জুলুম বা অন্যায় সীমা লঙ্ঘন করলেও তাকে তাকফীরের দিকে নিয়ে যাবে না। মূলত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যাকে কাফের বলেছেন, সে ব্যতীত কাউকে কাফের বলা যাবে না।)(১).

শাইখুল ইসলাম বলেন: "এটি সেই মতের বিপরীত যা কিছু লোক বলতেন, যেমন আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন; তারা বলেন: যে তাকে কাফের বলে তাকে ছাড়া সে কাউকে কাফের বলে না। কারণ তাকফীর তাদের অধিকার নয়, বরং এটি আল্লাহর অধিকার। কোনো ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা বলতে পারে না, এবং যে তার পরিবারের সাথে অশ্লীল কাজ করেছে সে তার পরিবারের সাথে অশ্লীল কাজ করতে পারে না। এমনকি যদি কোনো ব্যক্তি কাউকে সমকামিতার জন্য বাধ্য করে, তবে তার জন্য তাকে সে কাজে বাধ্য করার অধিকার নেই,

--------------------------------------------

(১) বাসেম আল-জওয়াবিরা রচিত সুন্নাহর আলোকে তাকফীর (৫৮)।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولو قتله بتجريع خمر أو تلوط به لم يجز قتله بمثل ذلك، لأن هذا حرام لحق الله تعالى، ولو سب النصارى نبينا، لم يكن لنا أن نسب المسيح، والرافضة إذا كفروا أبا بكر و عمر فليس لنا أن نكفر عليا».(1)

 

‌‌الضابط الثاني أهلية المكفر

التكفير حكم شرعي، و مسألة كبرى لا يتصدى لها إلا الأئمة الكبار و أهل العلم الذين أمر الله بسؤالهم والرد إليهم، حين قال: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43] وهذا الضابط سيتناول المؤهل لإصدار حكم التكفير.

 

‌‌أ. تعريف الأهلية:

يقال: أهلٌ لكذا: أي مستوجب له؛ الواحد والجمع في ذلك سواء.

ويقال: هو أهل ذاك، وأهل لذاك، ويقال: هو أهلة ذلك، وأهله لذلك الأمر تأهيلا، وأهله: رآه له أهلا، واستأهله: استوجبه(2).

 

‌‌ب. شروط المكفر:

لابد أن يكون المكفر عالما مجتهدا، لأن التكفير يقوم على أدلة شرعية إما قرآنية معلومة الثبوت أو حديثية لا يستطيع القطع بثبوتها

--------------------------------------------

(1) منهاج السنة النبوية (5/ 244)

(2) لسان العرب: مادة (أهل).
আর যদি তাকে মদ পান করিয়ে অথবা তার সাথে সমকামিতার মাধ্যমে হত্যা করা হয়, তবে তাকে অনুরূপভাবে হত্যা করা জায়েজ নয়, কারণ এটি মহান আল্লাহর হকের কারণে হারাম। যদি খ্রিস্টানরা আমাদের নবীকে গালি দেয়, তবে আমাদের জন্য মসীহকে গালি দেওয়া জায়েজ নয়। আর রাফেজিরা যদি আবু বকর ও ওমরকে কাফের বলে, তবে আমাদের জন্য আলীকে কাফের বলা জায়েজ নয়।(১)

 

‌‌দ্বিতীয় মূলনীতি: তাকফিরকারীর যোগ্যতা

তাকফির একটি শরয়ি বিধান এবং একটি বড় বিষয়, যা কেবল বড় ইমামগণ এবং ইলমের অধিকারীরাই পরিচালনা করেন যাদেরকে জিজ্ঞাসা করার এবং বিষয়গুলো যাদের কাছে ন্যস্ত করার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন, যখন তিনি বলেছেন: {তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [আন-নাহল: ৪৩]। এই মূলনীতিটি তাকফিরের বিধান জারী করার যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করবে।

 

‌‌ক. যোগ্যতার সংজ্ঞা:

বলা হয়: অমুক বিষয়ের জন্য যোগ্য; অর্থাৎ সে এর হকদার বা দাবিদার; এক্ষেত্রে একবচন ও বহুবচন উভয়ই সমান।

আরও বলা হয়: সে ওই বিষয়ের যোগ্য, অথবা সে ওই বিষয়ের জন্য উপযুক্ত। আরও বলা হয়: সে ওই বিষয়ের উপযুক্ত ব্যক্তি। তাকে সেই কাজের জন্য যোগ্য করা হয়েছে। তাকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সে এর দাবিদার হয়েছে।(২)

 

‌‌খ. তাকফিরকারীর শর্তাবলি:

তাকফিরকারীকে অবশ্যই একজন মুজতাহিদ আলেম হতে হবে, কারণ তাকফির শরয়ি দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত, চাই তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত কুরআনি দলিল হোক কিংবা হাদিস ভিত্তিক দলিল হোক যার প্রমাণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

(১) মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ (৫/ ২৪৪)

(২) লিসানুল আরব: মূলধাতু (আ-হা-লা)।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولا يمتلك أدوات فهمها فهما سليما إلا العلماء، وأما العوام فالواجب عليهم الرجوع إليهم في هذه المسائل وغيرها من مسائل العقائد والأحكام، يقول تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43]، ويقول رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم « … إن القرآن لم ينزل يكذب بعضه بعضا، بل يصدق بعضه بعضا فما عرفتم منه فاعملوا به وما جهلتم منه فردوه إلى عالمه»(1).

وأهل الأهواء من قديم الزمان يسلكون مسلكا مريبا في طعنهم العلماء، ويسقطون هيبتهم من النفوس حتى لا يرجع إليهم، كما سبق أن أسقطوا هيبة الأمراء، وقد قال ابن المبارك: «من استخف بالعلماء ذهبت آخرته، ومن استخف بالأمراء ذهبت دنياه، ومن استخف بالإخوان ذهبت مروءته»(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في مسنده (11/ 304) قال شعيب الأرنؤوط: صحيح. والطبراني في الأوسط (1/ 165).

(2) رواه ابن المبارك في الزهد برقم (61) وأبو عمرو الداني في الفتن (2/ 62) وذكره الألباني في السلسلة الصحيحة برقم (695) وانظر: التكفير في ضوء السنة لباسم الجوابرة (92).
এগুলো সঠিকভাবে বোঝার জ্ঞান ও উপকরণ কেবল ওলামায়ে কেরামের কাছেই রয়েছে। আর সাধারণ মানুষের জন্য এসব বিষয়ে এবং আকিদা ও আহকামের অন্যান্য বিষয়ে তাদের নিকট ফিরে যাওয়া আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমার পূর্বেও আমরা কেবল পুরুষদেরই পাঠিয়েছিলাম যাদের নিকট আমরা ওহী অবতীর্ণ করতাম। অতএব তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [আন-নাহল: ৪৩], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেন « … নিশ্চয়ই কুরআন অবতীর্ণ হয়নি যাতে এর এক অংশ অন্য অংশকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে, বরং এটি একে অন্যকে সত্যায়ন করে। সুতরাং তোমরা এর যতটুকু জানবে সে অনুযায়ী আমল করবে, আর যা তোমাদের অজানা থাকবে তা এর জ্ঞানীর নিকট সোপর্দ করবে»(১).

আর প্রবৃত্তিপূজারীরা প্রাচীনকাল থেকেই ওলামায়ে কেরামের সমালোচনা ও অপবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে এক সন্দেহজনক পথ অবলম্বন করে আসছে এবং তারা মানুষের অন্তর থেকে ওলামাদের মর্যাদা ও গাম্ভীর্য ধূলিসাৎ করে দেয় যাতে মানুষ তাদের নিকট ফিরে না যায়, যেমনটি তারা ইতিপূর্বে শাসকদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছিল। ইবনুল মুবারক বলেন: «যে ব্যক্তি ওলামায়ে কেরামকে তুচ্ছজ্ঞান করবে তার আখিরাত বরবাদ হবে, আর যে শাসকদের তুচ্ছজ্ঞান করবে তার দুনিয়া বরবাদ হবে এবং যে ব্যক্তি তার ভাইদের তুচ্ছজ্ঞান করবে তার ব্যক্তিত্ব ও মনুষ্যত্ব বিনষ্ট হবে»(২).

--------------------------------------------

(১) আহমাদ তার মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন (১১/ ৩০৪), শুয়াইব আল-আরনাউত বলেছেন: সহীহ। এবং তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে (১/ ১৬৫)।

(২) ইবনুল মুবারক ‘আয-যুহদ’ গ্রন্থে (নং ৬১) এবং আবু আমর আদ-দানি ‘আল-ফিতান’ গ্রন্থে (২/ ৬২) এটি বর্ণনা করেছেন। আলবানী ‘আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ’ গ্রন্থে (নং ৬৯৫) এটি উল্লেখ করেছেন। দেখুন: বাসেম আল-জওয়াবরাহ রচিত ‘আত-তাকফির ফি দ্বাউইস সুন্নাহ’ (৯২)।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ت. النصوص الواردة في أهلية المكفر:

أمر الله بسؤال أهل الذكر {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43]، قال الشيخ السعدي: (وهذه الآية وإن كان سببها خاصا بالسؤال عن حالة الرسل المتقدمين لأهل الذكر، وهم: أهل العلم؛ فإنها عامة في كل مسألة من مسائل الدين أصوله وفروعه، إذا لم يكن عند الإنسان علم منها، أن يسأل من يعلمه)(1)

2. {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء: 59] قال الشيخ السعدي: «أمر بطاعة أولي الأمر وهم: الولاة على الناس، من الأمراء والحكام والمفتين، فإنه لا يستقيم للناس أمر دينهم ودنياهم إلا بطاعتهم والانقياد لهم، طاعة لله ورغبة فيما عنده، ولكن بشرط ألا يأمروا بمعصية الله، فإن أمروا بذلك فلا طاعة لمخلوق في معصية الخالق. ولعل هذا هو السر في حذف الفعل عند الأمر بطاعتهم وذكره مع طاعة الرسول، فإن الرسول لا يأمر إلا بطاعة الله، ومن يطعه فقد أطاع الله، وأما أولو الأمر فشرط الأمر بطاعتهم أن لا يكون معصية».(2)

--------------------------------------------

(1) تفسير السعدي (ص 322).

(2) تفسير السعدي (ص 183)
ত. তাকফির করার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি সম্পর্কিত বর্ণিত বক্তব্যসমূহ:

আল্লাহ তাআলা জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিয়েছেন: {আমি আপনার পূর্বে কেবল পুরুষদেরই প্রেরণ করেছি যাদের নিকট আমি ওহী পাঠাতাম। সুতরাং তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করো} [আন-নাহল: ৪৩], শায়খ আস-সাদী বলেছেন: (এই আয়াতটির অবতরণের প্রেক্ষাপট যদিও পূর্ববর্তী রাসূলদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করার বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট ছিল, আর তাঁরা হলেন: ইলমের অধিকারীগণ; তথাপি এই আয়াতটি দ্বীনের উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা) সংক্রান্ত প্রতিটি মাসআলার ক্ষেত্রে ব্যাপক। যখনই কোনো মানুষের নিকট কোনো বিষয়ে জ্ঞান না থাকবে, তখন সে যেন তাকে জিজ্ঞাসা করে যে এ বিষয়ে অবগত রয়েছে)(১)

২. {হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলিল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদের} [আন-নিসা: ৫৯] শায়খ আস-সাদী বলেছেন: «এখানে উলিল আমরের আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর তাঁরা হলেন: জনগণের ওপর দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, যেমন—আমিরগণ, শাসকবৃন্দ এবং মুফতিগণ। কেননা মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াদি তাঁদের আনুগত্য করা এবং তাঁদের প্রতি অনুগত থাকা ব্যতীত সুসংহত হয় না। আল্লাহর আনুগত্যস্বরূপ এবং তাঁর নিকট যা রয়েছে তার প্রত্যাশায় এই আনুগত্য করতে হবে। তবে শর্ত হলো, তাঁরা যেন আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কোনো নির্দেশ না দেন; যদি তাঁরা এমন নির্দেশ দেন তবে সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতা করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না। সম্ভবত এটিই গূঢ় রহস্য যে, তাঁদের আনুগত্যের নির্দেশের ক্ষেত্রে ক্রিয়াটি (আনুগত্য করো) উহ্য রাখা হয়েছে কিন্তু রাসূলের আনুগত্যের সাথে তা উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা রাসূল কেবল আল্লাহর আনুগত্যেরই নির্দেশ দেন, আর যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করল সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। পক্ষান্তরে উলিল আমরের আনুগত্যের শর্ত হলো তা যেন আল্লাহর অবাধ্যতামূলক না হয়»।(২)

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে সাদী (পৃষ্ঠা ৩২২)।

(২) তাফসীরে সাদী (পৃষ্ঠা ১৮৩)
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
3. {وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ} [النساء: 83] قال الشيخ السعدي:

«هذا تأديب من الله لعباده عن فعلهم هذا غير اللائق. وأنه ينبغي لهم إذا جاءهم أمر من الأمور المهمة والمصالح العامة ما يتعلق بالأمن وسرور المؤمنين، أو بالخوف الذي فيه مصيبة عليهم أن يتثبتوا ولا يستعجلوا بإشاعة ذلك الخبر، بل يردونه إلى الرسول وإلى أولي الأمر منهم، أهل الرأي والعلم والنصح والعقل والرزانة، الذين يعرفون الأمور ويعرفون المصالح وضدها».(1)

4. روى الإمام مسلم عن جندب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدث أن رجلا قال: والله لا يغفر الله لفلان، وإن الله تعالى قال: "من ذا الذي يتألى علي أن لا أغفر لفلان، فإني قد غفرت لفلان، وأحبطت عملك».(2)

ربما نتعاظم جميعا ما قاله ذلك الرجل ونتساءل: من يستطيع أن يقول كما قال ذلك الرجل؟ ومن يستطيع أن يحجر واسعا؟ أو يحكم على مسلم بالخلود في النار؟

أقول: من يحمل راية التكفير الواسعة يستطيع أن يقول ذلك، بل

--------------------------------------------

(1) تفسير السعدي (ص 190).

(2) (ص 1053) 2621 كتاب البر والصلة والآداب.
৩. {আর যখন তাদের কাছে নিরাপত্তা কিংবা ভয়ের কোনো খবর আসে, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়; যদি তারা তা রাসুলের প্রতি কিংবা তাদের উলিল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) প্রতি সোপর্দ করত} [আন-নিসা: ৮৩]। শায়খ আস-সা’দী বলেন:

«এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য তাদের এই অনুচিত আচরণের ব্যাপারে একটি শিষ্টাচার শিক্ষা। তাদের জন্য উচিত হলো—যখন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো খবর আসে, যা মুমিনদের নিরাপত্তা ও আনন্দের সাথে সম্পৃক্ত, অথবা এমন ভয়ের সংবাদ যাতে তাদের জন্য বিপদ রয়েছে—তখন তারা যেন বিষয়টি যাচাই করে এবং সেই খবর ছড়িয়ে দিতে তাড়াহুড়ো না করে। বরং তারা যেন তা রাসুলের কাছে এবং তাদের মধ্যকার উলিল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) কাছে সোপর্দ করে; যারা প্রজ্ঞা, জ্ঞান, সদুপদেশ, বুদ্ধি ও গাম্ভীর্যের অধিকারী এবং যারা বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারেন এবং ভালো-মন্দ ও লাভ-ক্ষতি নিরূপণ করতে পারেন।»(১)

৪. ইমাম মুসলিম জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন—এক ব্যক্তি বলল: আল্লাহর কসম, আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না। তখন মহান আল্লাহ বললেন: ‘সে কে, যে আমার নামে শপথ করে বলছে যে আমি অমুককে ক্ষমা করব না? আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার আমল নষ্ট করে দিয়েছি।’(২)

সম্ভবত আমরা সবাই সেই লোকটির বলা কথাটিকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করছি এবং প্রশ্ন করছি: সেই লোকটির মতো কথা বলার সাহস কার হতে পারে? আর কে-ই বা প্রশস্ত বিষয়কে (আল্লাহর রহমতকে) সংকীর্ণ করতে পারে? কিংবা কোনো মুসলিমের ওপর চিরস্থায়ী জাহান্নামের ফয়সালা দিতে পারে?

আমি বলব: যারা তাকফিরের (কাফের সাব্যস্ত করার) বিশাল ঝাণ্ডা বহন করে, তারা এমন কথা বলতে পারে, বরং

--------------------------------------------

(১) তাফসিরে আস-সা’দী (পৃ. ১৯০)।

(২) (পৃ. ১০৫৩) ২৬২১ কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাব।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
لا بد أن يقول ذلك؟ ومن يجرؤ على التكفير أو يتساهل في أمره فهو واقع في ذلك لا محالة: وكيف ذلك؟ وإذا حكم على معين بأنه كافر فقد حكم بأن الله لا يغفر له، وقد قال بلسان حاله إن لم يكن بلسان مقاله: والله لا يغفر الله لفلان. وهذا أمر بالغ الخطورة!!(1)

 

‌‌ث. أقسام المكفرين:

‌‌القسم الأول: أن يكون المكفر من صلحاء الأمة متأولا مخطئا، وهو ممن يسوغ له التأويل:

فهذا وأمثاله ممن رفع عنه الحرج والتأثيم لاجتهاده، وبذل وسعه، كما في قصة حاطب بن أبي بلتعة ?، فإن عمر ? وصفه بالنفاق واستأذن رسول الله صلى الله عليه وسلم في قتله، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: "وما يدريك أن الله اطلع على أهل بدر فقال: اعملوا ما شئتم، فقد غفرت لكم»(2)، ومع ذلك فلم يعنف عمر على قوله لحاطب: إنه قد نافق.

 

‌‌القسم الثاني: المكفر لأحد من هذه الأمة يستند في تكفيره له إلى نص وبرهان من كتاب الله وسنة رسوله، وقد رأى كفرا بواحا،

--------------------------------------------

(1) (حتى لا تبوء بها) الشيخ السحيم.

(2) أخرجه البخاري كتاب استتابة المرتدين/ باب ما جاء في المتأولين (6/ 2452) 6540، ومسلم كتاب فضائل الصحابة (7/ 167)، 2494.
তাকে কি অবশ্যই এটি বলতে হবে? যে ব্যক্তি কাউকে কাফির সাব্যস্ত করার সাহস দেখায় অথবা এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করে, সে অনিবার্যভাবেই তাতে পতিত হয়। আর তা কীভাবে? সে যখন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যাপারে কাফির হওয়ার ফয়সালা দেয়, তখন সে মূলত এই ফয়সালা দেয় যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। সে তার অবস্থার মাধ্যমে এমন কথা বলে ফেলেছে, যদি সে মুখে তা উচ্চারণ না-ও করে থাকে যে: "আল্লাহর কসম, আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না।" আর এটি অত্যন্ত ভয়াবহ একটি বিষয়!!(১)

 

‌‌৩. যারা কাফির সাব্যস্ত করে তাদের প্রকারভেদ:

‌‌প্রথম প্রকার: যিনি কাফির সাব্যস্ত করছেন তিনি উম্মতের পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, যিনি ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং তিনি এমন ব্যক্তি যার জন্য ব্যাখ্যা প্রদান করা জায়েজ:

এই ব্যক্তি এবং তাঁর মতো যারা রয়েছেন, তাঁদের ইজতিহাদ এবং যথাসাধ্য চেষ্টার কারণে তাঁদের থেকে সংকীর্ণতা ও গুনাহ তুলে নেওয়া হয়েছে। যেমনটি হাতিব বিন আবি বালতা’আ (রা.)-এর ঘটনার ক্ষেত্রে ঘটেছে। কেননা ওমর (রা.) তাকে মুনাফিক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং তাকে হত্যা করার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুমতি চেয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে অবগত হয়ে বলেছেন: ‘তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি’।" তা সত্ত্বেও ওমর (রা.) হাতিবকে মুনাফিক বলার কারণে তাঁকে তিরস্কার করা হয়নি।(২)

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার: যিনি এই উম্মতের কাউকে কাফির সাব্যস্ত করেন আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে, এবং তিনি সুস্পষ্ট কুফরি প্রত্যক্ষ করেছেন,

--------------------------------------------

(১) (যাতে তুমি এতে লিপ্ত না হও) শেখ সুহাইম।

(২) ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, মুরতাদদের তওবা করানো অধ্যায়/ যারা ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে তাদের সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ (৬/২৪৫২) ৬৫৪০; এবং ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন, সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায় (৭/১৬৭), ২৪৯৪।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
كالشرك بالله، وعبادة ما سواه، والاستهزاء به تعالى، أو بآياته، أو رسله، أو تكذيبهم، أو كراهة ما أنزل الله من الهدى ودين الحق، أو جحود الحق، أو جحد صفات الله تعالى ونعوت جلاله ونحو ذلك:

فالمكفر بهذا وأمثاله مصيب مأجور، مطيع لله ورسوله، قال الله تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ} [النحل: 36] فمن لم يكن من أهل عبادة الله تعالى، وإثبات صفات كماله، ونعوت جلاله، مؤمنا بما جاءت به رسله، مجتنباً لكل طاغوت يدعو إلى خلاف ما جاءت به الرسل، فهو ممن حقت عليه الضلالة، وليس ممن هدى الله للإيمان به، وبما جاءت به الرسل عنه، والتكفير بترك هذه الأصول، وعدم الإيمان بها من أعظم دعائم.

 

‌‌القسم الثالث: من أطلق لسانه بالتكفير لمجرد عداوة، أو هوى، أو المخالفة في المذهب، كما يقع لكثير من الجهال: فهذا من الخطأ البين، والتجاسر على التكفير، والتفسيق، والتضليل، لا يسوغ إلا لمن رأى كفرا بواحا عنده فيه من الله برهان.

والمخالفة في المسائل الاجتهادية، التي قد يخفي الحكم فيها
যেমন আল্লাহর সাথে শিরক করা, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদত করা, আল্লাহ তাআলাকে অথবা তাঁর নিদর্শনসমূহকে কিংবা তাঁর রাসূলগণকে বিদ্রূপ করা অথবা তাঁদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, কিংবা আল্লাহ তাআলা যে হিদায়াত ও সত্য দীন নাযিল করেছেন তা অপছন্দ করা, কিংবা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা অথবা আল্লাহ তাআলার সিফাতসমূহ ও তাঁর মহিমার গুণাবলিকে অস্বীকার করা এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ:

সুতরাং এসব এবং এর অনুরূপ বিষয়ের ভিত্তিতে যে কাফির সাব্যস্ত করে সে সঠিক এবং সওয়াবের অধিকারী, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ এমন ছিল যাকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন, আর কেউ এমন ছিল যার ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে" [আন-নাহল: ৩৬]। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার ইবাদতকারীগণের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাঁর পূর্ণাঙ্গ সিফাতসমূহ ও মহিমার গুণাবলি সাব্যস্তকারী নয়, তাঁর রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমানদার নয় এবং রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার পরিপন্থী বিষয়ের দিকে আহ্বানকারী প্রতিটি তাগুতকে বর্জনকারী নয়, সে ওইসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যাদেরকে আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণ তাঁর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান আনার হিদায়াত দিয়েছেন। আর এই সকল মূলনীতি বর্জন করা এবং এগুলোর ওপর ঈমান না আনার কারণে কাফির সাব্যস্ত করা অন্যতম মহান স্তম্ভ।

 

তৃতীয় বিভাগ: যে ব্যক্তি কেবল শত্রুতা, প্রবৃত্তি বা মাযহাবগত বিরোধের কারণে কাফির সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে নিজের জিহ্বাকে অবারিত করে, যেমনটি অনেক মূর্খ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে: এটি স্পষ্ট ভুল এবং কাফির সাব্যস্ত করা, ফাসেক সাব্যস্ত করা ও পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে দুঃসাহস প্রদর্শন। এটি কেবল তার জন্যই বৈধ হবে যে এমন প্রকাশ্য কুফর প্রত্যক্ষ করেছে যার স্বপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে।

আর ইজতিহাদী মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করা, যে মাসআলাগুলোতে বিধান অস্পষ্ট থাকতে পারে
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
على كثير من الناس، لا تقتضي كفرا ولا فسقا، وقد يكون الحكم فيها قطعيا جليا عند بعض الناس، وعند آخرين يكون الحكم فيها مشتبها خفيا، والله لا يكلف نفسا إلا وسعها.

والواجب على كل أحد، أن يتقي الله ما استطاع، وما يظهر لخواص الناس من الفهوم والعلوم، لا يجب على من خفيت عليه عند العجز عن معرفتها، والتقليد ليس بواجب، بل غايته أن يسوغ عند الحاجة، وقد قرر بعض مشايخ الإسلام أن الشرائع لا تلزم إلا بعد البلوغ، وقيام الحجة، ولا يحل لأحد أن يكفر، أو يفسق بمجرد المخالفة للرأي والمذهب.

 

‌‌القسم الرابع: الذين يكفرون بما دون الشرك من الذنوب، كالسرقة، والزنا، وشرب الخمر:

وهؤلاء هم الخوارج، وهم عند أهل السنة أهل ضلال وبدعة، قاتلهم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لأن الحديث قد صح بالأمر بقتالهم، والترغيب فيه، وفيه: «أنهم يقرؤون القرآن لا يجاوز حناجرهم».(1)

 

‌‌الضابط الثالث الحكم بالظاهر

اتفق أئمة أهل السنة والجماعة على قاعدة (من ثبت إسلامه فلا يزول بشك)؛ فكانوا أعظم الناس ورعا؛ لأن تكفير المسلم مسألة

--------------------------------------------

(1) الإتحاف في الرد على الصحاف [ص 27].
অনেক মানুষের নিকট, এটি কুফর বা ফাসিকি দাবি করে না। কিছু মানুষের কাছে এই বিষয়ে হুকুম বা ফয়সালা অকাট্য ও সুস্পষ্ট হতে পারে, আবার অন্যদের কাছে এই হুকুমটি অস্পষ্ট ও গুপ্ত হতে পারে। আর আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না।

প্রত্যেকের জন্য কর্তব্য হলো সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় করা। বিদগ্ধ ব্যক্তিদের নিকট যেসকল সূক্ষ্ম বুঝ ও ইলম প্রকাশিত হয়, তা ঐ ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব নয় যার নিকট তা অক্ষমতার কারণে গোপন রয়ে গেছে। তাকলীদ করা ওয়াজিব নয়, বরং প্রয়োজনের সময় তা বৈধ হওয়াই এর শেষ সীমা। ইসলামের কোনো কোনো শাইখ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, বালেগ হওয়া এবং হুজ্জত কায়েম হওয়ার আগে শরীয়তের বিধানসমূহ অপরিহার্য হয় না। কারো জন্য জায়েজ নয় যে, শুধুমাত্র কোনো মত বা মাযহাবের বিরোধিতার কারণে কাউকে কাফির বা ফাসিক ঘোষণা করবে।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যারা শিরকের নিম্নপর্যায়ের গুনাহের কারণে কাফির ঘোষণা করে, যেমন: চুরি, যিনা এবং মদ পান করা:

এরাই হলো খারেজি সম্প্রদায়। আহলুস সুন্নাহর নিকট তারা গোমরাহি ও বিদআতের অনুসারী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন; কেননা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ এবং এর প্রতি উৎসাহিত করার ব্যাপারে সহীহ হাদীস বিদ্যমান রয়েছে। তাতে আছে: «তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না»।(১)

 

‌‌তৃতীয় মূলনীতি: বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে ফয়সালা করা

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামগণ এই কায়েদা বা মূলনীতির ওপর একমত হয়েছেন যে, (যার ইসলাম সাব্যস্ত হয়েছে, তা কোনো সন্দেহের কারণে দূরীভূত হয় না); তারা ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পরহেযগার; কারণ কোনো মুসলিমকে কাফির ঘোষণা করার বিষয়টি একটি গুরুতর বিষয়...

--------------------------------------------

(১) আল-ইত্তিহাফ ফি-রদ্দি আলাস সাহহাফ [পৃ. ২৭]।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
خطيرة، يجب عدم الخوض فيها دون دليل وبرهان، وينبغي الاحتراز من التكفير ما وجد إلى ذلك سبيلا، فباب التكفير باب خطير، وقد حذر النبي صلى الله عليه وسلم أن يكفر أحدٌ أحدا دون برهان.

والأصل في المسلم السلامة من الفسق والكفر، فإذا تقرر هذا الأصل صار هو القدر المتيقن، و … (اليقين لا يزول بالشك) ولا يعدل عن هذا اليقين أو الأصل إلا بدليل صريح صحيح، أما الظن والتخمين فليس هذا مجاله أبدا. وإذا كانت هذه القاعدة تقرر أنه لا يجوز الحكم بنقض وضوء المسلم إلا بدليل، فكيف الحال عند الحكم بنقض إسلامه بالكلية؟!.(1)

ويتفرع عن هذا الأصل حرمة دم المسلم وعرضه وماله، ودليله حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطبته يوم النحر في حجة الوداع أخرجه البخاري(2) ومسلم(3) في صحيحيهما: ( .. فإن دماءكم وأموالكم وأعراضكم عليكم حرام، كحرمة يومكم هذا، في شهركم هذا، في بلدكم هذا، فليبلغ الشاهد الغائب).(4)

--------------------------------------------

(1) قواعد الأحكام (2/ 26)

(2) كتاب الحج، باب الخطبة أيام منى (4/ 335) 1741.

(3) كتاب القسامة والمحاربين (3/ 2305) 1679.

(4) [وقفات تأصيلية] (التكفير بين العلم والجهل) د. فهد بن سعد الزايدي الجهني.
এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়, দলিল ও প্রমাণ ছাড়া এতে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। তাকফির (কাউকে কাফের ঘোষণা করা) থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকা উচিত, কেননা তাকফিরের পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রমাণ ছাড়া কাউকে কাফের ঘোষণা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

একজন মুসলিমের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো সে ফাসিকি ও কুফরি থেকে মুক্ত থাকা। যখন এই মূল নীতি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা সুনিশ্চিত বিষয়ে পরিণত হয়। আর … (নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না)। কোনো স্পষ্ট ও সঠিক দলিল ছাড়া এই নিশ্চয়তা বা মূল নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। পক্ষান্তরে ধারণা ও অনুমানের কোনো অবকাশ এখানে নেই। যদি এই মূলনীতি এটিই সাব্যস্ত করে যে, দলিল ছাড়া একজন মুসলিমের অজু ভঙ্গ হওয়ার ফয়সালা দেওয়া বৈধ নয়, তবে তার সামগ্রিক ইসলাম ভঙ্গ হওয়ার ফয়সালা দেওয়ার বিষয়টি কতটা গুরুতর হতে পারে?!(১)

এই মূলনীতি থেকেই একজন মুসলিমের রক্ত, সম্মান ও সম্পদের পবিত্রতার বিষয়টি উৎসারিত হয়েছে। এর দলিল হলো বিদায় হজের দিন কোরবানির প্রাক্কালে প্রদত্ত ভাষণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই হাদিস, যা বুখারি(২) ও মুসলিম(৩) তাঁদের সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: ( .. নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের জন্য হারাম (পবিত্র), যেমন তোমাদের এই দিনটি পবিত্র, এই মাসটি পবিত্র এবং তোমাদের এই শহরটি পবিত্র। সুতরাং উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয়)।(৪)

--------------------------------------------

(১) কাওয়াইদুল আহকাম (২/ ২৬)

(২) কিতাবুল হাজ্জ, বাবুল খুতবাহ আইয়ামি মিনা (৪/ ৩৩৫) ১৭৪১।

(৩) কিতাবুল কাসামাহ ওয়াল মুহারিবিন (৩/ ২৩০৫) ১৬৭৯।

(৪) [ওয়াকফাতু তাসিলিয়্যাহ] (আত-তাকফির বাইনাল ইলমি ওয়াল জাহলি) ড. ফাহাদ বিন সাদ আজ-জাইদি আল-জুহানি।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وقبل الكلام على أدلة الحكم بالظاهر لابد أن نتعرف على معنى الظاهرة:

 

‌‌أ. تعريف الظاهرة

ظهر يظهر ظهورا فهو ظاهر، والظاهر خلاف الباطن.(1)

 

‌‌ب. الحكم بالظاهر وأدلة ذلك (2):

هذه من المسائل العظيمة في مذهب أهل السنة في الحكم على الناس، فلا تكون أحكامهم مبنية على ظنون وأوهام أو دعاوي لا يملكون عليها بينات، وهذه من رحمة الله وتيسيره على عباده ومن باب تكليفهم بما يطيقون ويستطيعون، وكل ما سبق المقصود به الحكم الدنيوي على الشخص بالإسلام أو الكفر، أما الحكم على الحقيقة فلا سبيل إليه، يقول الإمام الشاطبي الله رحمه الله مبينا أهمية هذا الأصل وخطورة إهماله: (إن أصل الحكم بالظاهر مقطوع به في الأحكام خصوصا، وبالنسبة إلى الاعتقاد في الغير عموما، فإن سيد البشر مع إعلامه بالوحي يجري الأمور على ظواهرها في المنافقين

--------------------------------------------

(1) لسان العرب: مادة (ظهر).

(2) مستفاد من نواقض الإيمان الاعتقادية د. محمد الوهيبي (1/ 201)
বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে বিধান প্রদানের দলীলসমূহ আলোচনার পূর্বে 'যাহের' (বাহ্যিকতা) এর অর্থ সম্পর্কে আমাদের জানা আবশ্যক:

 

‌‌ক. যাহের (বাহ্যিকতা)-এর সংজ্ঞা

যা প্রকাশিত হয় তাই ‘যাহের’ (বাহ্যিক), আর ‘যাহের’ হলো ‘বাতিন’ (অভ্যন্তরীণ) এর বিপরীত।(১)

 

‌‌খ. বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে বিধান প্রদান ও এর দলীলসমূহ (২):

মানুষের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে এটি আহলুস সুন্নাহর মাযহাবের একটি মহান মূলনীতি। ফলে তাদের বিধানসমূহ ধারণা, কল্পনা কিংবা এমন দাবির ওপর ভিত্তি করে হয় না যার ওপর তাদের কোনো প্রমাণ নেই। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের ওপর এক রহমত ও সহজীকরণ এবং তাদের সাধ্য ও সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করার একটি দিক। ইতিপূর্বে যা কিছু আলোচিত হয়েছে তার উদ্দেশ্য হলো কোনো ব্যক্তির ওপর ইসলাম বা কুফরের পার্থিব বিধান প্রদান করা; পক্ষান্তরে প্রকৃত সত্য বা হাকীকত অনুযায়ী বিচার করার কোনো পথ নেই। ইমাম শাতবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই মূলনীতির গুরুত্ব এবং এটি অবহেলা করার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: “বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে হুকুম প্রদানের মূলনীতিটি বিশেষভাবে শরয়ী বিধানে এবং সাধারণভাবে অন্যের আকিদা-বিশ্বাসের বিষয়ে অকাট্যভাবে প্রমাণিত। কেননা মানবজাতির সরদার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহীর মাধ্যমে অবগত হওয়া সত্ত্বেও মুনাফিকদের ক্ষেত্রে বিষয়সমূহকে তাদের বাহ্যিক অবস্থার ওপরই পরিচালনা করতেন...

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব: মূল শব্দ (য-হ-র)।

(২) ড. মুহাম্মাদ আল-উহাইবী লিখিত ‘নাওয়াকিদুল ঈমান আল-ই’তিকাদিয়্যাহ’ (১/২০১) থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وغيرهم، و إن علم بواطن أحوالهم، ولم يكن ذلك بمخرجه عن جريان الظواهر على ما جرت عليه. لا يقال: إنما كان ذلك من قبيل ما قال: (خوفا من أن يقول الناس أن محمدا يقتل أصحابه)(1) فالعلة أمر آخر لا ما زعمت، فإذا عدم ما علل به فلا حرج. لأنا نقول: هذا أدل الدليل على ما تقرر، لأن فتح هذا الباب يؤدي إلى أن لا يحفظ ترتيب الظواهر فإن من وجب عليه القتل بسبب ظاهر، فالعذر فيه ظاهر واضح، ومن طلب قتله بغير سبب ظاهر بل بمجرد أمر غيبي ريما شوش الخواطر وران على الظواهر، وقد فهم من الشرع سد هذا الباب جملة ألا ترى إلى باب الدعاوي المستند إلى أن «البينة على المدعي واليمين على من أنكر»(2)، ولم يستثن من ذلك أحدا حتى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم احتاج في ذلك إلى البينة، فقال من يشهد لي؟ حتى شهد له خزيمة بن ثابت(3) فجعلها

--------------------------------------------

(1) جزء من حديث، رواه البخاري، كتاب التفسير، باب قوله تعالى: {? ? ? ? … } الآية .. الفتح (8/ 648) 4622.

(2) أخرجه البخاري 8/ 398 في تفسير سورة الأحزاب.

(3) أما خزيمة فهو: خزيمة بن ثابت بن الفاكه بن ثعلبة بن ساعده، أبو عمار الأنصاري المدني، ذو الشهادتين شهد أحدا وما بعدها. استشهد مع علي رضي الله عنه يوم صفين، صحابي جليل وله أحاديث، انظر لترجمته: طبقات ابن سعد 4/ 378، أسد الغابة 2/ 133. والإصابة 3/ 930.
এবং অন্যান্যরা, যদিও তিনি তাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে জানতেন, তবুও তা বাহ্যিক বিষয়গুলোকে যেভাবে চলছে সেভাবে চলতে দেয়া থেকে তাকে সরিয়ে দেয়নি। এটা বলা যাবে না যে: এটি কেবল সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল যা তিনি বলেছিলেন: (মানুষ যাতে এ কথা না বলে যে মুহাম্মদ তার সঙ্গীদের হত্যা করে)(১) ফলে কারণটি ছিল অন্য কিছু, আপনি যা দাবি করেছেন তা নয়; সুতরাং যখন সেই কারণটি বিদ্যমান থাকে না তখন আর কোনো বাধা থাকে না। কারণ আমরা বলি: এটি নির্ধারিত বিষয়ের ওপর সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল, কারণ এই পথ উন্মুক্ত করা বাহ্যিক শৃঙ্খলা বজায় না থাকার দিকে নিয়ে যাবে। কেননা যার ওপর বাহ্যিক কারণে মৃত্যুদণ্ড আবশ্যক হয়, তার স্বপক্ষে যুক্তি স্পষ্ট ও প্রকাশ্য; কিন্তু যার হত্যা কোনো বাহ্যিক কারণ ছাড়াই কেবল কোনো অদৃশ্য বিষয়ের ভিত্তিতে দাবি করা হয়, তা হয়তো মানুষের মনে সংশয় তৈরি করবে এবং বাহ্যিক অবস্থার ওপর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। শরিয়ত থেকে এই পথটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার বিষয়টি বোঝা গেছে। আপনি কি মামলার সেই নীতির দিকে লক্ষ্য করেন না যা এই সূত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, «প্রমাণ পেশ করা বাদীর দায়িত্ব এবং অস্বীকারকারীর ওপর শপথ করা আবশ্যক»(২)? এখান থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি, এমনকি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কেও এক্ষেত্রে প্রমাণের প্রয়োজন হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন: "আমার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে?" পরিশেষে খুজাইমাহ ইবনে সাবিত(৩) তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন এবং তিনি সেটিকে...

--------------------------------------------

(১) হাদিসের অংশবিশেষ, বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, তাফসির অধ্যায়, আল্লাহ তাআলার বাণী: { ... } আয়াতের পরিচ্ছেদ.. আল-ফাতহ (৮/ ৬৪৮) ৪৬২২।

(২) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন ৮/ ৩৯৮, সূরা আল-আহযাব-এর তাফসিরে।

(৩) খুজাইমাহ হলেন: খুজাইমাহ ইবনে সাবিত ইবনে আল-ফাকিহ ইবনে সালাবা ইবনে সায়িদা, আবু আম্মার আল-আনসারী আল-মাদানি, দুই সাক্ষ্যের অধিকারী, তিনি উহুদ এবং পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সিফফিনের যুদ্ধে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে শহীদ হন। তিনি একজন মহান সাহাবী এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিস রয়েছে। তাঁর জীবনী দেখুন: তাবাকাতে ইবনে সাদ ৪/ ৩৭৮, আসাদুল গাবাহ ২/ ১৩৩ এবং আল-ইসাবাহ ৩/ ৯৩০।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الله شهادتين(1) فما ظنك بأحاد الأمة، فلو ادعي أكذب الناس على أصلح الناس لكانت البينة على المدعي، واليمين على من أنكر وهذا من ذلك والنمط واحد، فالاعتبارات الغيبية مهملة بحسب الأوامر والنواهي الشرعية)(2)

واستند أهل السنة في تقريرهم لهذا الأصل العظيم إلى أدلة كثيرة منها:

1. قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} [النساء: 94]

--------------------------------------------

(1) والقصة في هذا: أن النبي صلى الله عليه وسلم ابتاع فرسا من أعرابي فاستتبعه النبي صلى الله عليه وسلم ليقضيه ثمن فرسه فأسرع رسول الله صلى الله عليه وسلم المشي وأبطأ الأعرابي فطفق رجال يعترضون الأعرابي فيساومونه بالفرس ولا يشعرون أن النبي صلى الله عليه وسلم ابتاعه فنادى الأعرابي رسول صلى الله عليه وسلم فقال إن كنت مبتاعا هذا الفرس وإلا بعته فقام النبي صلى الله عليه وسلم حين سمع نداء الأعرابي فقال «أوليس قد ابتعته منك «فقال الأعرابي لا والله ما بعتكه فقال النبي صلى الله عليه وسلم «بلى قد ابتعته منك «فطفق الأعرابي يقول هلم شهيدا فقال خزيمة بن ثابت أنا أشهد أنك قد بايعته فأقبل النبي صلى الله عليه وسلم على خزيمة فقال «بم تشهد؟ «فقال بتصديقك يا رسول الله فجعل النبي صلى الله عليه وسلم شهادة خزيمة بشهادة رجلين. أخرجه أبو داود (2/ 331)، والنسائي (7/ 301)، وأحمد (5/ 215). وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود 3607.

(2) الموافقات للشاطبي 2/ 271، 272.
আল্লাহর পক্ষ থেকে খুযাইমাহর সাক্ষ্যকে দুইজনের সাক্ষ্যের সমান গণ্য করা হয়েছে(১)। এমতাবস্থায় উম্মতের সাধারণ ব্যক্তিদের ব্যাপারে আপনার ধারণা কী হতে পারে? যদি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী ব্যক্তি সবচেয়ে সৎ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো দাবি করে, তবে প্রমাণ পেশ করার দায়িত্ব দাবিদারের ওপর এবং অস্বীকারকারীর ওপর শপথ করা আবশ্যক। এটিও সেই পর্যায়ের এবং এর ধরন একই। সুতরাং শরয়ী আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে অদৃশ্যের বিষয়সমূহ (যা বাহ্যিক প্রমাণের বিপরীত) বিবেচনাযোগ্য নয়।(২)

আহলে সুন্নাত এই মহান মূলনীতিটি প্রতিষ্ঠিত করতে অনেক দলিলের ওপর নির্ভর করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১. মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা আল্লাহর পথে (জিহাদে) যাত্রা করো, তখন যাচাই করে নাও এবং যে তোমাদেরকে সালাম দেয় তাকে বলো না যে ‘তুমি মুমিন নও’, পার্থিব জীবনের সম্পদের আশায়।} [নিসা: ৯৪]

--------------------------------------------

(১) এই ঘটনার প্রেক্ষাপট হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন বেদুইনের কাছ থেকে একটি ঘোড়া কিনলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ঘোড়ার দাম পরিশোধ করার জন্য সাথে আসতে বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত হাঁটছিলেন আর বেদুইনটি ধীরগতিতে আসছিল। এমন সময় কিছু লোক বেদুইনটির সামনে পড়ে ঘোড়াটির দামাদামি শুরু করল, অথচ তারা জানত না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি ইতোমধ্যেই কিনে নিয়েছেন। তখন বেদুইনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ডেকে বলল, ‘যদি আপনি এই ঘোড়াটি কিনতে চান তবে কিনুন, নতুবা আমি এটি বিক্রি করে দেব।’ বেদুইনের ডাক শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, ‘আমি কি তা তোমার কাছ থেকে কিনে নিইনি?’ বেদুইনটি বলল, ‘না, আল্লাহর কসম, আমি তা আপনার কাছে বিক্রি করিনি।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘অবশ্যই আমি তা তোমার কাছ থেকে কিনেছি।’ তখন বেদুইনটি বলতে লাগল, ‘একজন সাক্ষী নিয়ে আসুন।’ তখন খুযাইমাহ ইবনে সাবিত (রা.) বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি তা কিনেছেন।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুযাইমাহর দিকে ফিরে বললেন, ‘তুমি কিসের ভিত্তিতে সাক্ষ্য দিচ্ছ?’ তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনার সত্যবাদিতার ওপর বিশ্বাস রেখে।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুযাইমাহর সাক্ষ্যকে দুই ব্যক্তির সাক্ষ্যের সমতুল্য গণ্য করলেন। আবু দাউদ (২/৩৩১), নাসায়ী (৭/৩০১), এবং আহমাদ (৫/২১৫) এটি বর্ণনা করেছেন। আলবানী ‘সহীহ সুনান আবি দাউদ’ (৩৬০৭) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।

(২) আশ-শাতিবি রচিত আল-মুওয়াফাকাত, ২/২৭১, ২৭২।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
قال الشوكاني قال: (والمراد هنا: لا تقولوا لمن ألقى بيده إليكم واستسلم لست مؤمنا فالسلم والسلام كلاهما بمعنى الاستسلام، وقيل هما بمعنى الإسلام: أي لا تقولوا لمن ألقى إليكم التسليم فقال السلام عليكم: لست مؤمنا والمراد نهي المسلمين عن أن يهملوا ما جاء به الكافر مما يستدل به على إسلامه ويقولوا إنه إنما جاء بذلك تعوذا وتقية)(1).

وقال الإمام المجدد محمد بن عبد الوهاب رحمه الله (فالآية تدل على أنه يجب الكف عنه والتثبت، فإذا تبين منه بعد ذلك ما يخالف الإسلام قتل، لقوله تعالى: {فَتَبَيَّنُوا} ولو كان لا يقتل إذا قالها لم يكن للتثبت معنى، إلى أن يقول: (وإن من أظهر التوحيد و الإسلام وجب الكف عنه إلى أن يتبين منه ما يناقض ذلك)(2)

2. واستدلوا بقوله صلى الله عليه وسلم: " أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله، و أن محمدا رسول الله، ويقيموا الصلاة، ويؤتوا الزكاة، فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحق الإسلام،

--------------------------------------------

(1) فتح القدير 1/ 501.

(2) كشف الشبهات 49.
আশ-শাওকানী বলেন: (আর এখানে উদ্দেশ্য হলো: যে ব্যক্তি তোমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং বশ্যতা স্বীকার করেছে তাকে বলো না যে ‘তুমি মুমিন নও’। কারণ ‘আস-সালম’ ও ‘আস-সালাম’ উভয়ই আত্মসমর্পণের অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার বলা হয়েছে যে, এই দুটি ইসলামের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি তোমাদের কাছে সালাম পেশ করে বলেছে ‘আস-সালামু আলাইকুম’, তাকে বলো না যে ‘তুমি মুমিন নও’। এর উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের এই কাজ থেকে নিষেধ করা যে, কোনো কাফির তার ইসলাম গ্রহণের প্রমাণস্বরূপ যা পেশ করে তারা যেন তা উপেক্ষা না করে এবং এই কথা না বলে যে, সে কেবল আত্মরক্ষা বা তাকিয়া হিসেবে এটি প্রকাশ করেছে)(১).

ইমাম মুজাদ্দিদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আয়াতটি প্রমাণ করে যে, তার থেকে বিরত থাকা এবং বিষয়টি যাচাই করা ওয়াজিব। এরপর যদি তার পক্ষ থেকে ইসলাম পরিপন্থী কোনো কিছু প্রকাশ পায়, তবে তাকে হত্যা করা হবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা যাচাই করে নাও}। সে এই কথা বলার পর যদি তাকে হত্যা করাই না যেত, তবে যাচাই করার কোনো অর্থ থাকত না। তিনি আরও বলেন: (যে ব্যক্তি তাওহীদ ও ইসলাম প্রকাশ করবে, তার থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব যতক্ষণ না তার থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা এর পরিপন্থী)(২)

২. তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: “আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। তারা যখন তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হক ব্যতীত...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল কাদির ১/ ৫০১।

(২) কাশফুশ শুবুহাত ৪৯।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وحسابهم على الله».(1)

والشاهد من الحديث قوله (وحسابهم على الله) قال ابن رجب: (وأما في الآخرة فحسابه على الله عز وجل، فإن كان صادقا أدخله الله بذلك الجنة، و إن كان كاذبا فإنه من جملة المنافقين في الدرك الأسفل من النار)(2). وقال الحافظ في الفتح: (أي أمر سرائرهم .. وفيه دليل على قبول الأعمال الظاهرة والحكم بما يقتضيه الظاهر)(3) وقال الإمام البغوي: (وفي الحديث دليل على أن أمور الناس في معاملة بعضهم بعضا إنما تجري على الظاهر من أحوالهم دون باطنها، و أن من أظهر شعار الدين أجري عليه حكمه، ولم يكشف عن باطن أمره، ولو وجد مختون فيما بين قتلى غلف، عزل عنهم في المدفن، ولو وجد لقيط في بلد المسلمين حكم بإسلامه)(4).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري كتاب الإيمان، {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ} .. الآية (الفتح) 1/ 75، ومسلم كتاب الإيمان، باب الأمر بقتال الناس حتى يقولوا (لا إله إلا الله محمد رسول الله) (شرح النووي) 1/ 210.

(2) جامع العلوم والحكم 83.

(3) فتح الباري 1/ 77، وانظر شرح النووي 1/ 212، وجامع العلوم والحكم 83.

(4) شرح السنة 1/ 70.
এবং তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।”(১)

হাদিস থেকে প্রমাণ হলো তাঁর এই বাণী: (এবং তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়)। ইবনে রজব বলেন: (আর পরকালের কথা যদি বলা হয়, তবে তার হিসাব মহান আল্লাহর ওপর। যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে আল্লাহ তাকে এর মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে সে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকা মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত হবে)(২)। হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে বলেন: (অর্থাৎ তাদের গোপন বিষয়ের ফয়সালা.. আর এতে বাহ্যিক আমলসমূহ কবুল করা এবং বাহ্যিক অবস্থা যা দাবি করে সে অনুযায়ী হুকুম দেওয়ার দলিল রয়েছে)(৩)। ইমাম বাগভী বলেন: (এই হাদিসে এ কথার দলিল রয়েছে যে, মানুষের পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে তাদের বিষয়গুলো তাদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হবে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর নয়। আর যে ব্যক্তি দ্বীনের নিদর্শন প্রকাশ করবে, তার ওপর সেই দ্বীনের হুকুম প্রয়োগ করা হবে এবং তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ের অনুসন্ধান করা হবে না। যদি খতনাকৃত কাউকে খতনাবিহীন লাশের মাঝে পাওয়া যায়, তবে তাকে দাফনের ক্ষেত্রে তাদের থেকে আলাদা রাখা হবে। আর মুসলিম দেশে যদি কোনো কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে পাওয়া যায়, তবে তাকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হবে)(৪)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি কর্তৃক বর্ণিত, ঈমান অধ্যায়, {যদি তারা তওবা করে এবং সালাত কায়েম করে}.. আয়াত (আল-ফাতহ) ১/৭৫, এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ যতক্ষণ না তারা বলে (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল) (শরহুন নববী) ১/২১০।

(২) জামি উল উলুম ওয়াল হিকাম ৮৩।

(৩) ফাতহুল বারি ১/৭৭, এবং দেখুন শরহুন নববী ১/২১২, জামি উল উলুম ওয়াল হিকাম ৮৩।

(৪) শরহুস সুন্নাহ ১/৭০।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
3. واستدلوا أيضا بقصة أسامة ? المشهورة قال: "بعشنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في سرية فصبحنا الحرقات من جهينة)(1)

فأدركت رجلا فقال لا إله إلا الله فطعنته فوقع في نفسي من ذلك فذكرته للنبي صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أقال لا إله إلا الله وقتلته قال: قلت: يا رسول الله إنما قالها خوفا من السلاح، قال: أفلا شققت عن قلبه حتى تعلم أقالها أم لا، فما زال يكررها علي حتى تمنيت أني أسلمت يومئذ»(2)،(3)

والحديث فيه زجر شديد وتحذير من الإقدام على قتل من تلفظ بالتوحيد وتحذير صريح من تجاوز الظاهر والحكم على ما في القلب دون بينة، قال النووي رحمه الله: (وقوله صلى الله عليه وسلم أفلا شققت عن قلبه حتى تعلم أقالها أم لا؟

الفاعل في قوله أقالها هو القلب(4)، ومعناه

--------------------------------------------

(1) الحرقات من جهينة: هم بطن من جهينة، وانظر في سبب تسميتهم الفتح 12/ 195.

(2) حتى تمنيت أني أسلمت يومئذ: (أي لم يكن تقدم إسلامي بل ابتدأت الآن الإسلام ليمحو عني ما تقدم) شرح النووي 2/ 104.

(3) رواه مسلم، واللفظ له كتاب الإيمان، " باب تحريم قتل الكافر بعد قوله لا إله إلا الله " (مسلم بشرح النووي 2/ 99)، والبخاري، كتاب الديات "باب قول الله تعالى: {ومن احياها .. الآية) (الفتح 7/ 517، 12/ 191)، وانظر أحاديث شبيهة، مسلم بشرح النووي 2/ 98 - 101، "كتاب المغازي" باب بعث النبي صلى الله عليه وسلم أسامة.

(4) أي أقالها خوفا من السلاح أم لا؟
৩. এবং তারা উসামার (রা.) বিখ্যাত ঘটনা দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের একটি সেনাদল পাঠিয়েছিলেন। আমরা ভোরে জুহাইনা গোত্রের হুরক্বাত নামক স্থানে পৌঁছালাম।

অতঃপর আমি এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করলাম, তখন সে বলল: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'। কিন্তু আমি তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করলাম। পরবর্তীতে আমার মনে এই নিয়ে খটকা তৈরি হলো। আমি বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'সে কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে আর তুমি তাকে হত্যা করেছ?' আমি বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কেবল অস্ত্রের ভয়ে তা বলেছে।' তিনি বললেন: 'তবে কি তুমি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে যাতে জানতে পারতে যে সে তা বলেছে কি না?' তিনি আমার কাছে কথাটি বারবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমি কামনা করলাম যে যদি আমি আজই ইসলাম গ্রহণ করতাম!"(২),(৩)

হাদিসটিতে কঠোর ধমক এবং যে ব্যক্তি তাওহীদের বাণী উচ্চারণ করেছে তাকে হত্যা করতে উদ্যত হওয়ার ব্যাপারে সতর্কবাণী রয়েছে। আর বাহ্যিক অবস্থার সীমা লঙ্ঘন করা এবং প্রমাণ ব্যতিরেকে অন্তরের বিষয়ের ওপর হুকুম দেওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট সতর্কবাণী রয়েছে। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তবে কি তুমি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে যাতে জানতে পারতে যে সে তা বলেছে কি না?")

এখানে 'সে বলেছে কি না' বাক্যের কর্তা হলো 'অন্তর'(৪), আর এর অর্থ হলো

--------------------------------------------

(১) জুহাইনার হুরক্বাত: তারা জুহাইনা গোত্রের একটি শাখা। তাদের এই নামকরণের কারণ সম্পর্কে দেখুন: ফাতহুল বারী ১২/১৯৫।

(২) এমনকি আমি কামনা করলাম যে যদি আমি আজই ইসলাম গ্রহণ করতাম: (অর্থাৎ আমার ইসলাম গ্রহণ যেন ইতিপূর্বে ছিল না, বরং আমি এখনই নতুন করে ইসলাম শুরু করলাম যাতে আমার আগের গুনাহ মিটে যায়) শারহে নববী ২/১০৪।

(৩) মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দ বিন্যাস তাঁরই; কিতাবুল ঈমান, "কাফির লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পর তাকে হত্যা করা হারাম হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়" (শারহে নববীসহ মুসলিম ২/৯৯); এবং বুখারী, কিতাবুদ দিয়াত, "আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং যে একে জীবিত করল... আয়াত} সংক্রান্ত অধ্যায়" (ফাতহুল বারী ৭/৫১৭, ১২/১৯১)। একই ধরনের হাদিসের জন্য আরও দেখুন: শারহে নববীসহ মুসলিম ২/৯৮-১০১, "কিতাবুল মাগাজি", নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উসামাকে প্রেরণের অধ্যায়।

(৪) অর্থাৎ সে কি অস্ত্রের ভয়ে বলেছে নাকি বলেনি?
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أنك إنما كلفت بالعمل بالظاهر وما ينطق به اللسان، وأما القلب فليس لك طريق إلى معرفة ما فيه فأنكر عليه امتناعه من العمل بما ظهر باللسان، وقال أفلا شققت عن قلبه التنظر، هل قالها القلب واعتقدها وكانت فيه أم لم تكن فيه بل جرت على اللسان فحسب، يعني وأنت الست بقادر على هذا فاقتصر على اللسان فحسب ولا تطلب غيره)(1) وقال أيضا في تعليقه على قوله صلى الله عليه وسلم: "أفلا شققت عن قلبه؟» (وفيه دليل على القاعدة المعروفة في الفقه والأصول أن الأحكام فيها بالظاهر والله يتولى السرائر)(2)

4. ومن الأحاديث العظيمة في هذا الباب حديث جارية معاوية بن الحكم السلمي لما سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أفلا أعتقها؟ قال: ائتني بها فأتيته بها فقال لها: أين الله؟ قالت: في السماء، قال: من أنا؟ قالت: أنت رسول الله، قال: أعتقها فإنها مؤمنة»(3).

قال شيخ الإسلام في تعليقه على هذا الحديث: ( … فإن الإيمان الذي علقت به أحكام الدنيا، هو الإيمان الظاهر وهو

--------------------------------------------

(1) مسلم بشرح النووي 2/ 104.

(2) نفسه 2/ 107.

(3) رواه مسلم كتاب المساجد، "باب تحريم الكلام في الصلاة" رقم 537.
নিশ্চয়ই আপনাকে কেবল প্রকাশ্য বিষয়ের ওপর এবং জিহ্বা যা উচ্চারণ করে তার ওপর ভিত্তি করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর অন্তরের বিষয়ে, তাতে কী আছে তা জানার কোনো পথ আপনার নেই। তাই তিনি তার (উসামার) সেই ব্যক্তির জিহ্বা দ্বারা প্রকাশ পাওয়া বিষয়ের ওপর আমল করতে অস্বীকৃতি জানানোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: "তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে যাতে বুঝতে পারতে যে, অন্তর তা বলেছে কি না এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল কি না, নাকি তা অন্তরে ছিল না বরং কেবল জিহ্বায় উচ্চারিত হয়েছিল?" অর্থাৎ, আপনি এই কাজের সক্ষমতা রাখেন না, সুতরাং জিহ্বার উচ্চারণের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকুন এবং এর বাইরে কিছু অনুসন্ধান করবেন না)(১) এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে?"-এর ব্যাখ্যায় আরও বলেছেন: (এর মধ্যে ফিকহ ও উসূলের সেই সুপরিচিত মূলনীতির দলিল রয়েছে যে, বিচার-ফায়সালা প্রকাশ্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হবে এবং আল্লাহ গোপন বিষয়গুলোর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন)(২)

৪. এই অধ্যায়ের মহান হাদিসসমূহের মধ্যে একটি হলো মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামীর দাসীর হাদিস, যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব না? তিনি বললেন: তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। অতঃপর আমি তাকে তাঁর কাছে নিয়ে এলাম। তিনি তাকে বললেন: আল্লাহ কোথায়? সে বলল: আসমানে। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: একে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিনাহ (ঈমানদার)"(৩)।

শাইখুল ইসলাম এই হাদিসের ওপর তাঁর মন্তব্যে বলেছেন: ( ... কেননা যে ঈমানের ওপর দুনিয়াবী বিধানাবলি নির্ভরশীল, তা হলো প্রকাশ্য ঈমান এবং তা হলো

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বিশারহি আন-নববী ২/ ১০৪।

(২) প্রাগুক্ত ২/ ১০৭।

(৩) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মাসাজিদ, "সালাতে কথা বলা হারাম হওয়া সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ" নং ৫৩৭।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الإسلام، فالمسمى واحد في الأحكام الظاهرة، ولهذا لما ذكر الأثرم لأحمد احتجاج المرجئة بقول النبي صلى الله عليه وسلم: " أعتقها فإنها مؤمنة» أجابه بأن المراد حكمها في الدنيا حكم المؤمنة، لم يرد أنها مؤمنة عند الله تستحق دخول الجنة بلا نار إذا لقيته بمجرد هذا الإقرار)(1)، (لأن الإيمان الظاهر الذي تجري عليه الأحكام في الدنيا لا يستلزم الإيمان في الباطن الذي يكون صاحبه من أهل السعادة في الآخرة)(2)

ولذلك كان صلى الله عليه وسلم يعامل المنافقين على ظواهرهم مع علمه بنفاق كثير منهم ليقرر هذا الأصل العظيم (فهم في الظاهر مؤمنون يصلون مع الناس ويصومون، ويحجون ويغزون والمسلمون يناكحونهم ويوارثونهم .. ولم يحكم النبي صلى الله عليه وسلم في المنافقين بحكم الكفار المظهرين للكفر، لا في مناكحتهم ولا موارثتهم ولا نحو ذلك، بل لما مات عبد الله بن أبي ابن سلول وهو من أشهر الناس بالنفاق ورثه ابنه عبد الله وهومن خيار المؤمنين، وكذلك سائر من كان يموت منهم يرثه ورثته المؤمنون، و إذا مات لأحدهم وارث ورثوه مع المسلمين .. لأن الميراث مبناه على الموالاة الظاهرة، لا على المحبة التي في القلوب، فإنه لو

--------------------------------------------

(1) الإيمان 398، وانظر 201، 202، 243.

(2) نفسه 197.
ইসলাম, তাই বাহ্যিক বিধানের ক্ষেত্রে পরিভাষাটি একই। একারণেই যখন আল-আছরাম ইমাম আহমাদের নিকট মুরজিআদের সেই দলীলটি উল্লেখ করলেন যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিনাহ (মুমিন নারী)", তখন তিনি তাকে উত্তর দিলেন যে, এর উদ্দেশ্য হলো দুনিয়াতে তার বিধান মুমিনাহর বিধানের ন্যায়। এর দ্বারা এটি বোঝানো হয়নি যে, সে আল্লাহর নিকট এমন মুমিন যে কেবল এই স্বীকৃতির মাধ্যমেই তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলে জাহান্নামের আগুন ব্যতিরেকেই জান্নাতে প্রবেশের যোগ্য হবে)(১), (কারণ বাহ্যিক ঈমান যার ওপর ভিত্তি করে দুনিয়াবি বিধানগুলো পরিচালিত হয়, তা অন্তরের সেই ঈমানকে অনিবার্য করে না যার অধিকারী ব্যক্তি পরকালে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবে)(২)

আর এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনেক মুনাফিকের নিফাক সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তাদের বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতেই তাদের সাথে কারবার করতেন, যাতে এই মহান মূলনীতিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। (কেননা তারা বাহ্যিকভাবে মুমিন, তারা মানুষের সাথে সালাত আদায় করে, রোজা রাখে, হজ করে এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে; আর মুসলিমরা তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং একে অপরের উত্তরাধিকার লাভ করে... নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুনাফিকদের ব্যাপারে প্রকাশ্য কুফরকারী কাফেরদের বিধান প্রয়োগ করেননি—তাদের বিবাহ, উত্তরাধিকার কিংবা এজাতীয় কোনো বিষয়েই নয়। বরং যখন আবদুল্লাহ বিন উবাই ইবনে সুলুল মারা গেল—যে কি না নিফাকের জন্য মানুষের কাছে সর্বাধিক পরিচিত ছিল—তখন তার পুত্র আবদুল্লাহ তার ওয়ারিশ হলো, অথচ সে ছিল শ্রেষ্ঠ মুমিনদের একজন। একইভাবে তাদের মধ্য থেকে অন্য যারা মারা যেত, তাদের মুমিন উত্তরাধিকারীরাই তাদের উত্তরাধিকার লাভ করত। আর যদি তাদের কারো কোনো উত্তরাধিকারী মারা যেত, তবে তারা মুসলিমদের সাথে তার উত্তরাধিকার লাভ করত... কারণ উত্তরাধিকারের ভিত্তি হলো বাহ্যিক আনুগত্যের ওপর, অন্তরের ভালোবাসার ওপর নয়; কেননা যদি

--------------------------------------------

(১) আল-ঈমান ৩৯৮, এবং দেখুন ২০১, ২০২, ২৪৩।

(২) প্রাগুক্ত ১৯৭।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
علق بذلك لم تمكن معرفته، والحكمة إذا كانت خفية أو منتشرة علق الحكم بمظنتها، وهو ما أظهروه من موالاة المؤمنين .. وكذلك كانوا في الحقوق والحدود كسائر المسلمين)(1)

 

‌‌الضابط الرابع التفريق بين التكفير المطلق و التكفير المعين

من أصول أهل السنة والجماعة، التفريق بين التكفير المطلق وتكفير المعين، لأنه من الممكن أن يقول المسلم قولا أو يفعل فعلا قد دل الكتاب والسنة وإجماع الأمة على أنه كفر وردة عن الإسلام، ولكن لا تلازم عندهم بين القول بأن هذا كفر، وبين تكفير الشخص بعينه.(2)

فالتكفير المطلق: هو الحكم بالكفر على القول أو العمل، أو الاعتقاد الذي ينافي أصل الإسلام ويناقضه، وعلى فاعليها على سبيل الإطلاق، بدون تحديد أحد بعينه.

أما تكفير المعين: فهو الحكم على المعين بالكفر، الإتيانه بأمر يناقض الإسلام بعد استيفاء شروط التكفير فيه، وانتفاء موانعه.(3)

--------------------------------------------

(1) الإيمان لابن تيمية 198.

(2) الإيمان حقيقته، خوارمه، نواقضه عند أهل السنة والجماعة (107/ 1).

(3) منهج ابن تيمية في مسألة التكفير لعبدالله المشعبي (1/ 193).
এর সাথে সংশ্লিষ্ট করার ফলে তা জানা সম্ভব হয়নি; আর হিকমত বা প্রজ্ঞা যখন গোপন বা অস্পষ্ট থাকে, তখন বিধানকে তার সম্ভাব্য নিদর্শনের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়, আর তা হলো মুমিনদের প্রতি তাদের প্রদর্শিত বন্ধুত্ব... একইভাবে অধিকার এবং দণ্ডবিধির ক্ষেত্রেও তারা অন্যান্য মুসলিমদের মতোই ছিল।(১)

 

‌‌চতুর্থ মূলনীতি: সাধারণ তাকফির এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির তাকফিরের মধ্যে পার্থক্য করা

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্যতম মূলনীতি হলো সাধারণ তাকফির এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির তাকফিরের মধ্যে পার্থক্য করা। কারণ, এটি সম্ভব যে কোনো মুসলিম এমন কথা বলল বা এমন কাজ করল যা কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মাহর ইজমা অনুযায়ী কুফর এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুতি হিসেবে প্রমাণিত; কিন্তু তাদের নিকট কোনো কথা কুফর হওয়া এবং উক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্টভাবে কাফির বলার মধ্যে কোনো আবশ্যকতা নেই।(২)

সাধারণ তাকফির হলো: ইসলামের মূলভিত্তির পরিপন্থী ও তার সাথে সাংঘর্ষিক কোনো কথা, কাজ বা বিশ্বাসের ওপর কুফরের বিধান দেওয়া এবং নির্দিষ্ট কাউকে চিহ্নিত না করে সাধারণভাবে তা সম্পাদনকারীদের ওপর এই বিধান প্রয়োগ করা।

আর নির্দিষ্ট ব্যক্তির তাকফির হলো: ইসলামের পরিপন্থী কোনো বিষয় লিপ্ত হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ওপর কুফরের বিধান প্রদান করা, তবে তা তাকফিরের শর্তাবলি পূর্ণ হওয়ার এবং এর অন্তরায়সমূহ দূরীভূত হওয়ার পরই সম্ভব।(৩)

--------------------------------------------

(১) ইবন তাইমিয়্যাহ রচিত আল-ঈমান, পৃষ্ঠা ১৯৮।

(২) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট ঈমান: এর হাকিকত, হানিকর বিষয় এবং ঈমান ভঙ্গের কারণসমূহ (১/১০৭)।

(৩) আবদুল্লাহ আল-মুশআবি রচিত তাকফির মাসআলায় ইবন তাইমিয়্যাহর মানহাজ (১/১৯৩)।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
والحكم على الفعل الظاهر بأنه كفر متعلق ببيان الحكم الشرعي مطلقا، وأما الفاعل فلابد من النظر إلى قصده لما فعل والتبيين عن حاله في ذلك قبل الجزم، وليس المراد بالقصد هنا مجرد القصد إلى الفعل فإن هذا لا يتخلف عنه عمل أصلا خلا عمل المجنون والنائم وهو في حقيقته الإرادة الجازمة لتحقيق الفعل بحيث يكون الإنسان معها مخيرا أن يفعل الفعل وأن لا يفعله، وهذا القصد هو مناط ذالتكليف، وإنما المراد القصد هنا القصد بالفعل الذي هو غاية الفاعل من فعله والباعث له عليه، والدافع على تحقيقه ومراده به، ولهذا كان القصد بفعل هو حقيقة النية التي عليها الثواب والعقاب والمدح والذم، وهي المرادة في قول الرسول صلى الله عليه وسلم، "إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى»(1)(2)

 

‌‌أ. نصوص تحذر من إطلاق تكفير المعين.

لما كان الأصل في المسلم العدالة، جاءت النصوص الشرعية بالتحذير من إطلاق الكفر على شخص بعينه ما لم تجتمع الشروط

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب كيف كان بدء الوحي إلى رسول الله (1/ 1) 1، ومسلم الإمارة (6/ 48) 5036.

(2) ضوابط التكفير عند أهل السنة والجماعة لعبد الله القرني ص 275.
প্রকাশ্য কোনো কাজকে কুফর হিসেবে গণ্য করা মূলত ঢালাওভাবে শরয়ী বিধান বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে কর্তার ক্ষেত্রে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তিনি যা করেছেন সে বিষয়ে তাঁর উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা এবং তাঁর অবস্থা স্পষ্ট করা আবশ্যক। এখানে উদ্দেশ্য বলতে কেবল কাজটির সংকল্প করা বোঝায় না; কেননা পাগল ও ঘুমন্ত ব্যক্তি ব্যতীত কোনো কাজই মূলত এ ধরনের সাধারণ সংকল্প ব্যতিরেকে সংঘটিত হয় না। বরং এর প্রকৃত অর্থ হলো কাজটি সম্পন্ন করার জন্য এমন সুদৃঢ় ইচ্ছা, যার উপস্থিতিতে মানুষ কাজটি করা বা না করার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাধীন থাকে। আর এই উদ্দেশ্যই হলো শরয়ী দায়বদ্ধতার (তাকলিফ) মূল ভিত্তি। এখানে উদ্দেশ্য বলতে মূলত সেই উদ্দেশ্যকে বোঝানো হয়েছে যা কাজটির পেছনে কর্তার মূল লক্ষ্য এবং যা তাকে কাজটি করতে প্ররোচিত ও চালিত করে। এজন্য কোনো কাজের সংকল্পই হলো নিয়তের প্রকৃত স্বরূপ, যার ওপর ভিত্তি করে সওয়াব-গুনাহ এবং প্রশংসা ও নিন্দা নির্ধারিত হয়। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীতে এটিই বোঝানো হয়েছে: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার নিয়ত সে করেছে।"(১)(২)

 

‌‌ক. নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কাফির ঘোষণার বিষয়ে সতর্ককারী দলীলসমূহ।

যেহেতু একজন মুসলিমের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তার সততা ও ইসলামে অবিচল থাকা, তাই প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কাফির হিসেবে আখ্যায়িত করার ব্যাপারে শরয়ী দলীলসমূহে কঠোর সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী তাঁর 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ওহী শুরুর অধ্যায়' (১/১) ১, এবং মুসলিম 'নেতৃত্ব (ইমারাহ)' অধ্যায়ে (৬/৪৮) ৫০৩৬ বর্ণনা করেছেন।

(২) আবদুল্লাহ আল-কারনি রচিত 'দাওয়াবিতুত তাকফির ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ', পৃষ্ঠা ২৭৫।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وتنتفي الموانع، ومن الأحاديث المحذرة من تكفير المسلم:

1. عن عبد الله بن عمر ? أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أيما رجل قال لأخيه يا كافر فقد باء بها أحدهما»(1).

وفي رواية عند ابن حبان عن أبي سعيد قال: قال رسول الله: «ما أكفر رجل رجلا قط إلا باء أحدهما بها إن كان كافرا وإلا كفر بتكفيره».(2)

وفي تأويل الحديث أوجه: أحدها: أنه محمول على المستحل لذلك وهذا يكفر.

والوجه الثاني: معناه رجعت عليه نقيصته لأخيه ومعصية تكفيره.

والثالث: أنه محمول على الخوارج المكفرين للمؤمنين وهذا الوجه نقله القاضي عياض خلاله عن الإمام مالك بن أنس.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري كتاب الأدب/ باب من أكفر أخاه بغير تأويل فهو كما قال (5/ 2246) 5753 و مسلم كتاب الإيمان (1/ 65) 225.

(2) صحيح ابن حبان (1/ 483)، وأخرجه الطحاوي في شرح مشكل الآثار (2/ 202)، والخرائطي في مساوئ الأخلاق (1/ 20)، والأصبهاني في الحجة في بيان المحجة (2/ 452)، قال الألباني في صحيح الترغيب والترهيب: صحيح لغيره (3/ 35).
এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো বিলুপ্ত হয়, আর কোনো মুসলিমকে কাফির সাব্যস্ত করা (তাকফির) সম্পর্কে সতর্ককারী হাদিসসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তিই তার ভাইকে বলল: ‘হে কাফির’, তখন তাদের দুইজনের একজনের ওপর তা আপতিত হলো»(১)।

ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনায় আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তিকে কখনো কাফির বলে অপবাদ দেয় না, যদি না তাদের মধ্যে একজন তার অন্তর্ভুক্ত হয়; যদি সে (যাকে বলা হয়েছে) কাফির হয় (তবে তো হলোই), অন্যথায় তাকে কাফির বলার কারণে সে (বক্তা) কুফরিতে লিপ্ত হলো»।(২)

এই হাদিসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কয়েকটি দিক রয়েছে: প্রথমটি হলো: এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে একে (অন্য মুসলিমকে কাফির বলাকে) বৈধ মনে করে, আর এটি তাকে কাফির করে দেয়।

দ্বিতীয় দিক: এর অর্থ হলো, সে তার ভাইয়ের প্রতি যে ত্রুটিারোপ করেছে এবং তাকে কাফির বলার যে পাপ করেছে, তা তার নিজের দিকেই ফিরে এসেছে।

তৃতীয় দিক: এটি সেই খারেজীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা মুমিনদের কাফির বলে থাকে; এই অভিমতটি কাজী আয়াজ ইমাম মালিক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, আদব অধ্যায়/ পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তার ভাইকে কাফির বলে, তবে সে তেমনই যেমনটি সে বলেছে (৫/২২৪৬) ৫৭৫৩ এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায় (১/৬৫) ২২৫।

(২) সহিহ ইবনে হিব্বান (১/৪৮৩), এবং এটি বর্ণনা করেছেন তাহাবি ‘শারহু মুশকিলিল আসার’ (২/২০২)-এ, খারাইতি ‘মাসাবিউল আখলাক’ (১/২০)-এ এবং আসবাহানি ‘আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ’ (২/৪৫২)-এ; আলবানি ‘সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব’ (৩/৩৫)-এ বলেছেন: এটি অন্য সূত্রের কারণে সহিহ।
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
والوجه الرابع: معناه أن ذلك يؤول به إلى الكفر، وذلك أن المعاصي كما قالوا بريد الكفر ويخاف على المكثر منها أن يكون عاقبة شؤمها المصير إلى الكفر، ويؤيد هذا الوجه ما جاء في رواية لأبي عوانة الإسفرايني في كتابه المخرج على صحيح مسلم: «فإن كان كما قال وإلا فقد باء بالكفر» وفي رواية «إذا قال لأخيه يا كافر وجب الكفر على أحدهما»(1).

الوجه الخامس: ورجح الحافظ ابن حجر معنى آخر، واستحسنه: أن من قال ذلك لمن يعرف منه الإسلام ولم يقم له شبهة في زعمه أنه كافر فإنه يكفر بذلك .. فمعنى الحديث فقد رجع عليه تكفيره، فالراجع التكفير لا الكفر، فكأنه كفر نفسه لكونه كفر من هو مثله، ومن لا يكفره إلا كافر يعتقد بطلان دين الإسلام، ويؤيده أن في بعض طرقه «وجب الكفر على أحدهما ".(2)

2. وجاء عند البخاري من حديث ثابت بن الضحاك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من حلف بملة غير الإسلام كاذبا فهو كما قال، ومن قتل نفسه بشيء عذب به في نار جهنم، ولعن المؤمن كقتله، ومن رمى مؤمنا

--------------------------------------------

(1) ينظر شرح النووي على مسلم (1/ 153).

(2) فتح الباري 17/ 199
চতুর্থ ব্যাখ্যা: এর অর্থ হলো যে এটি তাকে কুফরির দিকে নিয়ে যায়। আর তা এ কারণে যে, পাপাচার হলো কুফরির বার্তাবাহক—যেমনটি উলামাগণ বলেছেন—এবং অধিক পাপাচারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে আশঙ্কা করা হয় যে, তার অশুভ পরিণাম তাকে কুফরির দিকে ধাবিত করবে। এই ব্যাখ্যাটিকে সমর্থন করে আবু আওয়ানা আল-ইসফারায়িনি তাঁর সহীহ মুসলিমের মুস্তাখরাজ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন: "যদি বিষয়টি তেমনই হয় যা সে বলেছে তবে ঠিক আছে, অন্যথায় সে কুফরি নিয়ে ফিরল।" অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "যখন কেউ তার ভাইকে 'হে কাফির' বলে সম্বোধন করে, তখন তাদের কোনো একজনের ওপর কুফরি সাব্যস্ত হয়ে যায়।"(১).

পঞ্চম ব্যাখ্যা: হাফেজ ইবনে হাজার অন্য একটি অর্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং সেটিকে উত্তম বলেছেন: যে ব্যক্তি এমন কাউকে এটি বলবে যার মধ্যে ইসলাম বিদ্যমান বলে জানা যায় এবং তাকে কাফির দাবি করার পেছনে কোনো যৌক্তিক সংশয়ও নেই, তবে সে এর মাধ্যমে কাফির হয়ে যাবে। সুতরাং হাদিসের অর্থ হলো—তার তাকফির (কাফির সাব্যস্ত করা) তার নিজের ওপর ফিরে এসেছে। অতএব ফিরে আসা বিষয়টি হলো তাকফির, কুফর নয়। যেন সে নিজেকেই কাফির সাব্যস্ত করল যেহেতু সে তার মতো একজনকেই কাফির বলেছে, যাকে কেবল ইসলাম ধর্ম বাতিল বলে বিশ্বাসকারী কাফির ছাড়া আর কেউ কাফির বলবে না। এর সমর্থনে কোনো কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে—"তাদের একজনের ওপর কুফরি সাব্যস্ত হয়ে যায়।"(২)

২. ইমাম বুখারী রহ. সাবেত বিন যাহহাক রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি মিথ্যাচার করে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের শপথ করে, সে তেমনই হবে যা সে বলেছে। আর যে ব্যক্তি কোনো কিছু দিয়ে আত্মহত্যা করে, জাহান্নামের আগুনে তাকে সেই বস্তু দিয়েই শাস্তি দেওয়া হবে। আর মুমিনকে অভিশাপ দেওয়া তাকে হত্যা করার সমতুল্য। এবং যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে অভিযুক্ত করল..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (১/ ১৫৩)।

(২) ফাতহুল বারী ১৭/ ১৯৯
(খণ্ড: ১) দাওয়াবিতুত তাকফীর ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بكفر فهو كقتله»(1)

3. وعن جندب ? أن رسول الله حدث: «أن رجلا قال والله لا يغفر الله لفلان، وإن الله تعالى قال من ذا الذي يتألي(2) علي، أن لا أغفر لفلان، فإني قد غفرت لفلان وأحبطت عملك». أو كما قال(3)

4. وعن أبي ذر ? أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم، يقول: " لا يرمي رجلٌ رجلا بالفسوق ولا يرميه بالكفر إلا ارتدت عليه إن لم يكن صاحبه كذلك»(4).

وعن أبي ذر أيضا أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ليس من رجل ادعى لغير أبيه وهو يعلمه إلا كفر، ومن ادعي ما ليس له فليس منا وليتبوأ مقعده من النار، ومن دعا رجلا بالكفر أو قال عدو الله وليس كذلك

إلا حار(5) عليه»(6).

--------------------------------------------

(1) كتاب الأدب/ باب من أكفر أخاه بغير تأويل فهو كما قال (5/ 2264) 5754.

(2) يتألى: يحلف والألية اليمين. شرح النووي على مسلم (16/ 174).

(3) أخرجه مسلم كتاب البر والصلة والآداب (8/ 36) 6847.

(4) أخرجه البخاري كتاب الأدب/ باب ما ينهى من السباب واللعان (5/ 2247) 5968.

(5) حار عليه: رجع عليه، والحور الرجوع. إكمال المعلم شرح صحيح مسلم للقاضي عياض (1/ 224).

(6) أخرجه مسلم كتاب الإيمان (1/ 75) 226.
কুফরি দ্বারা (অপবাদ দেওয়া), তবে তা তাকে হত্যা করার মতোই।(১)

৩. এবং জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল বর্ণনা করেছেন: "জনৈক ব্যক্তি বলেছিল, 'আল্লাহর শপথ! আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না।' তখন মহামহিম আল্লাহ বললেন, 'সে কে যে আমার নামে শপথ করে(২) যে, আমি অমুককে ক্ষমা করব না? নিশ্চয়ই আমি অমুককে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার আমলকে আমি নিস্ফল করে দিয়েছি'।" অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।(৩)

৪. এবং আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: "কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে ফাসেকী (পাপাচার) অথবা কুফরির অপবাদ দেয় না, তবে তা তার নিজের ওপরই ফিরে আসে যদি তার সঙ্গী তেমনটি না হয়ে থাকে।"(৪).

আবু যার (রা.) থেকে আরও বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে জেনে-বুঝে নিজ পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা বলে দাবি করে, সে কুফরি করল। আর যে ব্যক্তি এমন কিছু দাবি করল যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়; সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়। আর যে ব্যক্তি কাউকে কুফরি দ্বারা ডাকল কিংবা বলল 'আল্লাহর শত্রু', অথচ সে তেমন নয়,

তবে তা তার ওপরই ফিরে আসবে(৫)।"(৬).

--------------------------------------------

(১) কিতাবুল আদাব/ পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তার ভাইকে কাফের বলবে, তবে বিষয়টি তেমনই যেমন সে বলেছে (৫/২২৬৪) ৫৭৫৪।

(২) ইয়াতাআল্লা: সে শপথ করে; আর আল-আলিয়্যাহ অর্থ হলো শপথ। শারহুন নববী আলা মুসলিম (১৬/১৭৪)।

(৩) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাব (৮/৩৬) ৬৮৪৭।

(৪) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল আদাব/ পরিচ্ছেদ: গালিগালাজ ও অভিশাপ দেওয়া থেকে যা কিছু নিষেধ করা হয়েছে (৫/২২৪৭) ৫৯৬৮।

(৫) হারা আলাইহি: তার ওপর ফিরে আসল; আর আল-হাওর অর্থ হলো ফিরে আসা। ইকমালুল মুয়াল্লিম শারহু সহিহ মুসলিম, কাজী ইয়াজ (১/২২৪)।

(৬) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ঈমান (১/৭৫) ২২৬।