(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: -)
دلائل النبوة - أبو نعيم الأصبهاني القسم: السيرة النبوية
الكتاب: دلائل النبوة
المؤلف: أبو نعيم الأصبهاني (ت 430 هـ)
حققه: الدكتور محمد رواس قلعه جي، عبد البر عباس
الناشر: دار النفائس، بيروت
الطبعة: الثانية، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 640
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী বিভাগ: সীরাতুন্নবী
বই: দালাইলুন নুবুওয়াহ
লেখক: আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী (মৃত্যু ৪৩০ হি.)
সম্পাদনা: ডক্টর মুহাম্মাদ রাওয়াস কালাজি، আব্দুল বার আব্বাস
প্রকাশক: দারুন নাফাইস، বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৬ হি. - ১৯৮৬ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪০
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
دَلَائِلُ النُّبُوَّةِ لِأَبِي نُعَيْمٍ الْأَصْبَهَانِيِّ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الثِّقَةُ الْحَافِظُ سَعْدُ الْخَيْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلٍ الْأَنْصَارِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ، وَذَلِكَ فِي سَنَةِ تِسْعٍ وَثَلَاثِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ فِي مَنْزِلِهِ بِدَارِ الْخِلَافَةِ عَمَّرَهَا اللَّهُ قَالَ: أَنَا الشَّيْخُ الْفَقِيهُ أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُطَرَّزُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي دَارِهِ بِأَصْبَهَانَ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ: أَنَا الْإِمَامُ أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالَ
আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী রচিত নবুওয়াতের প্রমাণাদি। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। নির্ভরযোগ্য ইমাম ও হাফিয সাদুল খাইর ইবন মুহাম্মদ ইবন সাহল আল-আনসারী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমরা শ্রবণ করছিলাম; আর তা ছিল পাঁচশ উনচল্লিশ হিজরী সনে খিলাফত আবাসে অবস্থিত তাঁর নিজ বাসভবনে, আল্লাহ তা আবাদ রাখুন। তিনি বলেন: ফকীহ শাইখ আবু সাদ মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ আল-মুতাররিজ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসবাহানে তাঁর নিজ গৃহে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: ইমাম আবু নুয়াইম আহমদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
: الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمُولِي النِّعَمَ الْجِسَامَ، وَمُسْدِي الْآلَاءِ الْعِظَامِ، الَّذِي تَرَادَفَتْ أَيَادِيهِ السَّابِغَةُ، وَثَبَتَتْ حُجَجُهُ الْبَالِغَةُ بِالدَّلَالَاتِ الْوَاضِحَةِ، وَالْعَلَامَاتِ اللَّائِحَةِ، مُخْتَرِعِ الْمَلَكُوتِ مِنَ الْأَرْضِينَ وَالسَّمَوَاتِ، وَمُبْدِعِ الصَّنَائِعِ الْمُتْقَنَةِ الْوَاقِعَةِ لِخَلْقِهِ بِالْحَرَكَاتِ مِنْهُمْ وَالسَّكَنَاتِ، وَالْمُنْشِئِ لِبَرِيَّتِهِ قَوَامَهُمْ وَأَقْوَاتَهُمْ مِنْ أَنْوَاعِ النَّبَاتِ وَأَلْوَانِ الثَّمَرَاتِ، الظَّاهِرِ آيَاتِهِ لِلْمُؤَيِّدِينَ بِالْعَقْلِ الرَّصِينِ، وَالْمُمَدِّينَ بِالنَّظَرِ الْمَكِينِ، الْمُوَفَّقِينَ لِلتَّفَكُّرِ فِيمَا أَشْهَدَهُمْ مِنْ لَطَائِفِ التَّرْكِيبِ وَأَعَانَهُمْ بِالنَّظَرِ فِي تَوَالِي التَّرْتِيبِ، وَتَحْوِيلِ الْأَعْيَانِ الْمُنْتَقِلَةِ مِنْ طَبَقَةٍ إِلَى طَبَقَةٍ، وَصَنْعَةٍ إِلَى صَنْعَةٍ، الدَّالُّ كُلُّهُ عَلَى تَدْبِيرِ الْعَالِمِ الْحَكِيمِ وَالْقَادِرِ الرَّحِيمِ، الْقَامِعِ لِسُلْطَانِ الْمُبْطِلِينَ بِالْآيَاتِ الْبَاهِرَةِ، الْقَاطِعِ لِطُغْيَانِ الْمُنْكِرِينَ بِالْأَدِلَّةِ الزَّاهِرَةِ، الَّذِي أَزَاحَ عِلَلَ الْمُكَلَّفِينَ بِالرُّسُلِ، الْمُؤَيَّدِينَ بِالْآيَاتِ بِمَا أُعْطُوا مِنَ الْمُعْجِزَاتِ وَالْبَيِّنَاتِ، فَقَالَ تَعَالَى {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ} [سورة: الحديد، آية رقم: 25] وَقَالَ {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} [سورة: النساء، آية رقم: 165] فَأَلْزَمَ الْخَلِيقَةَ بِهِمُ الْحُجَّةَ، وَأَوْضَحَ لَهَمْ بِمَا بَلَّغُوا عَنْهُ الْمَحَجَّةَ، فَحَيَّ مَنْ حَيَّ بِمَا بَعَثَهُمْ عَنْ بَيِّنَةٍ، وَهَلَكَ بِمُفَارَقَتِهِمْ عَنْ بَيِّنَةٍ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশাল নেয়ামত দানকারী এবং মহান অনুগ্রহসমূহ প্রদানকারী; যাঁর প্রশস্ত হাতসমূহ একের পর এক এসেছে এবং যাঁর অকাট্য প্রমাণসমূহ স্পষ্ট নিদর্শন ও প্রতীয়মান চিহ্নাবলীর মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে; যিনি আসমান ও যমীনসমূহের রাজত্বের উদ্ভাবক এবং সৃষ্টির জন্য তাদের নড়াচড়া ও স্থিরতার মাঝে নিপুণ কারুকার্যের রূপদানকারী; যিনি তাঁর সৃষ্টির জন্য তাদের অস্তিত্ব বজায় রাখার উপকরণ এবং বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ ও বিচিত্র বর্ণের ফলমূল হতে তাদের খাদ্যের সংস্থান করেছেন; যাঁর নিদর্শনসমূহ সুদৃঢ় বিবেকসম্পন্ন এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারীদের নিকট সুষ্পষ্ট, যাদেরকে তিনি নিপুণ গঠনের সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ প্রত্যক্ষ করার ক্ষেত্রে চিন্তা-ভাবনার তাওফীক দিয়েছেন এবং সুশৃঙ্খল ধারাবাহিকতা ও পরিবর্তনশীল বস্তুসমূহের এক স্তর থেকে অন্য স্তরে ও এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় বিবর্তনের প্রতি দৃষ্টিপাত করার মাধ্যমে সাহায্য করেছেন, যা সবই মহাজ্ঞানী বিশ্ব-পরিচালক এবং দয়ালু শক্তিমান সত্তার অস্তিত্বের প্রমাণবাহী; যিনি উজ্জ্বল নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে বাতিলপন্থীদের দাপট চূর্ণকারী এবং প্রদীপ্ত প্রমাণাদির মাধ্যমে অস্বীকারকারীদের অবাধ্যতাকে নির্মূলকারী; যিনি রাসূলদের প্রেরণের মাধ্যমে মুকাল্লাফদের (যাদের ওপর বিধান অর্পিত হয়েছে) ওজর-আপত্তি দূর করেছেন, যাদেরকে তিনি মোজেযা ও সুস্পষ্ট প্রমাণের মতো নিদর্শনাবলী প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন, {নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ ইনসাফের সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকে।} [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ২৫] এবং তিনি আরও বলেন, {রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি যাতে রাসূলদের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে।} [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬৫] সুতরাং তিনি তাঁদের মাধ্যমে সৃষ্টির ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁরা তাঁর পক্ষ হতে যা পৌঁছে দিয়েছেন তার দ্বারা তাঁদের জন্য সত্য পথ সুস্পষ্ট করেছেন। অতঃপর যে জীবিত রইল, সে তাঁদের আনীত সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত রইল এবং যে তাঁদের থেকে বিমুখ হয়ে ধ্বংস হলো, সেও সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হলো। আর আল্লাহর দরূদ বর্ষিত হোক...
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
خَيْرِ مَبْعُوثٍ خَتَمَ بِهِ الرِّسَالَةَ، وَغَنَمَ بِالتَّصْدِيقِ بِهِ النَّبَالَةَ وَالْجَلَالَةَ، وَقَرَنَ اسْمَهُ بِاسْمِهِ، وَرَفَعَ فِكْرَهُ لِذِكْرِهِ، مُحَمَّدٍ سَيِّدِ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ، وَخَاتَمِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ، صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ، مَا عَبَدَ عَابِدٌ وَسَجَدَ سَاجِدٌ، أَمَّا بَعْدُ: فَقَدْ سَأَلْتُمْ - عَمَّرَ اللَّهُ بِالْبَصَائِرِ طُوِيَّاتِكُمْ، وَنَوَّرَ فِي الْمَسِيرِ إِلَى وِفَاقِهِ أَوْعِيَتَكُمْ وَنِيَّاتِكُمْ - جَمْعَ الْمُنْتَشِرِ مِنَ الرِّوَايَاتِ فِي النُّبُوَّةِ، وَالدَّلَائِلِ وَالْمُعْجِزَاتِ، وَالْحَقَائِقِ، وَخَصَائِصِ الْمَبْعُوثِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم بِالسَّنَاءِ السَّاطِعِ، وَالشِّفَاءِ النَّافِعِ، الَّذِي اسْتَضَاءَ بِهِ السُّعَدَاءِ، وَاشْتَفَى بِهِ الشُّهَدَاءِ، وَاسْتَوْصَلَ دُونَهُ الْبُعَدَاءُ، فَاسْتَعَنْتُ بِاللَّهِ وَاسْتَوْفَقْتُهُ، وَبِهِ الْحَوْلُ وَالْقُوَّةُ وَهُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزِ، وَاعْلَمُوا - وَفَّقَكُمُ اللَّهُ - أَنَّ الْخَالِقَ الْحَكِيمَ أَنْشَأَ الْخَلْقَ مُخْتَلِفِي الصُّوَرِ وَالْجَوَاهِرِ، مُتَفَاوِتِي الْأَمْزِجَةِ وَالْبَصَائِرِ، أَجْزَاؤُهُمْ فِي الطَّبِيعَةِ وَالْقُوَّةِ مُتَفَاضِلَةٌ، وَأَخْلَاقُهُمْ فِي النَّظَرِ وَالِاعْتِبَارِ مُتَفَاوِتَةٌ، فَمِنْ مُعْتَدِلٍ فِي امْتِزَاجِهِ، مُسْتَغْنٍ بِصِحَّتِهِ عَنِ الْأَطِبَّاءِ وَالْعَقَاقِيرِ، وَمُتَوَسِّطٌ فِي الِاعْتِدَالِ يُطَيِّبُهُ الْقَلِيلُ مِنَ الْأَبَارِيزِ، وَسَاقِطٍ رَذِيلٍ لَا يُقِيمُهُ الْعَزِيزُ مِنَ الْعَنَاصِرِ، كَذَلِكَ الْأَرْوَاحُ مِنْهُمْ صَافٍ ذَكِيٌّ، بِالْحِكْمَةِ مَشْغُوفٌ، وَإِلَى التَّعَرُّفِ وَالتَّبَصُّرِ مَلْهُوفٌ، حَرِيصٌ عَلَى مَا اسْتَبَقَ إِلَيْهِ السُّعَدَاءُ، وَمِنْهَا رَوْحٌ أَكْدَرُ بَطِيْءٌ، عَنِ الْمَعَارِفِ وَالْبَصَائِرِ مَعْصُوفٌ، وَعَنِ الْآيَاتِ وَالْعِبَرِ مَصْرُوفٌ، خَمِيصٌ إِلَى مَا اسْتَلَدَّهُ الْبُعَدَاءُ، وَمِنْهَا رُوحٌ مُتَوَسِّطٌ، حَطَّ بِهِ عَنْ كَمَالِ الصَّفَاءِ وَالذَّكَاءِ، وَنَحَّى بِهِ مِنْ تِلَالِ الْكَدَرِ وَالْعَمَى، فَلِتَفَاوُتِ الْأَشْبَاحِ وَالْأَرْوَاحِ اخْتَلَفَتِ الْأَقْوَالُ وَالْأَحْوَالُ، فَالْمَحْنُوُّ بِصَافِي
সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেরিত পুরুষ, যাঁর মাধ্যমে তিনি রেসালাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন, এবং যাঁর প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে আভিজাত্য ও মহিমা অর্জন করা যায়। তিনি তাঁর নামের সাথে নিজের নাম যুক্ত করেছেন এবং তাঁর যিকিরের জন্য তাঁর মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন। তিনি হলেন মুহাম্মদ, আদি-অন্ত সকলের সরদার এবং নবী ও রাসূলগণের মোহর। তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, যতক্ষণ কোনো ইবাদতকারী ইবাদত করবে এবং কোনো সেজদাকারী সেজদা করবে।
অতঃপর: আপনারা অনুরোধ করেছেন—আল্লাহ আপনাদের অন্তরের অন্তস্থলকে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে আবাদ করুন এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলায় আপনাদের হৃদয় ও নিয়তসমূহকে আলোকিত করুন—নবুয়ত সংক্রান্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বর্ণনাগুলো, প্রমাণাদি ও মুজিজাসমূহ, হাকিকতসমূহ এবং উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা ও উপকারী আরোগ্য স্বরূপ প্রেরিত পুরুষ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহকে একত্রিত করতে; যার মাধ্যমে সৌভাগ্যবানরা আলো লাভ করেছেন, সত্যের সাক্ষীরা আরোগ্য লাভ করেছেন এবং যারা বিচ্যুত ছিল তারা এর মাধ্যমে সত্যের সন্ধান পেয়েছে। তাই আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তাওফিক কামনা করছি। সকল সামর্থ্য ও শক্তি কেবল আল্লাহরই, আর তিনি মহা শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী।
জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের তাওফিক দান করুন—প্রজ্ঞাময় স্রষ্টা সৃষ্টিজগতকে বিবিধ রূপ ও সত্তায় সৃষ্টি করেছেন, যাদের মেজাজ ও অন্তর্দৃষ্টি ভিন্ন ভিন্ন। প্রকৃতি ও শক্তির দিক থেকে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমূহের মধ্যে তারতম্য রয়েছে এবং চিন্তা ও বিবেচনার দিক থেকে তাদের স্বভাব-চরিত্র পৃথক। তাদের মধ্যে কেউ স্বভাবে ভারসাম্যপূর্ণ, সুস্বাস্থ্যের কারণে সে চিকিৎসক ও ওষুধি উপাদানের মুখাপেক্ষী নয়। কেউ ভারসাম্যের ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থী, সামান্য পথ্যেই যার সংশোধন ঘটে। আবার কেউ অত্যন্ত নিচু ও হীন স্তরের, যাকে মূল্যবান উপাদানসমূহও সুস্থির করতে পারে না।
অনুরূপভাবে রুহসমূহের অবস্থাও; তাদের মধ্যে কোনোটি স্বচ্ছ ও তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন, হিকমতের প্রতি অনুরাগী এবং পরিচিতি ও অন্তর্দৃষ্টির প্রতি ব্যাকুল, সৌভাগ্যবানরা যেদিকে ধাবিত হয় সে বিষয়ে অতি আগ্রহী। আবার কোনোটি মলিন ও ধীরগতিসম্পন্ন, যা জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি থেকে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ এবং নিদর্শন ও শিক্ষা থেকে বিমুখ, যা কেবল পথভ্রষ্টদের স্বাদ গ্রহণকৃত বিষয়ের প্রতি ক্ষুধার্ত। আবার কোনোটি মধ্যম স্তরের রুহ, যা পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধা থেকে কিছুটা নিচে, তবে তা মলিনতা ও অন্ধত্বের পাহাড় থেকেও দূরে অবস্থান করে। সুতরাং দেহ ও রুহের এই পার্থক্যের কারণেই মানুষের কথা ও অবস্থায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْأَرْوَاحِ يَحِنُّ جَوْهَرُهُ دَائِمًا إِلَى صَفْوَةِ الرَّوْحَانِيَّةِ الَّذِينَ هُمْ سُكَّانُ الْعُلَى فِي السَّمَوَاتِ، وَالْمَحْنُوُّ بِكَدَرِ الْأَرْوَاحِ يَمِيلُ جَوْهَرُهُ دَائِمًا إِلَى مُمَاثَلَةِ الْمُسَخَّرَةِ مِنَ الْبَهَائِمِ وَالْأَنْعَامِ، الْمُرَكَّبَةُ مِنَ الْكَدَرِ وَالظُّلُمَاتِ، فَإِذَا اخْتْلَفَتِ الْأَبْنِيَةُ وَالْأَمْزِجَةُ فَالْمَخْلُوقُ عَلَى أَعْدَلِ التَّرْتِيبِ وَأَصْفَى التَّرْكِيبِ مِنْ لُبَابِ الْبَشَرِ وَصِبَابِ النَّشْرِ مَنِ ارْتَاحَ لِلتَّأَلُّهِ وَالصَّلَاحِ وَاهْتَنَّ لِلتَّشْمِيرِ، وَالصَّلَاحُ مَخْصُوصٌ بِالْبِشَارَةِ وَالنَّذَارَةِ، مَقْصُودٌ بِالنَّفْثِ وَالْإِيمَاءِ مِنَ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، مُمَدٌّ بِالْمَوْهِبَةِ الْإِلَاهِيَةِ، والْأَثَرَةِ الْعُلْوِيَّةِ، وَيَسْعَدُ بِالْقَبُولِ مِنْهُ الْمُتَوَسِّطُ مِنَ الْمُقْبِلِينَ، وَيُحْجَبُ بِالنُّفُورِ عَنْهُ وَالتَّكَبُّرِ عَنْهُ الْعُمَاةُ مِنَ الْمُدْبِرِينَ، فَأُولَئِكَ الْمَقْصُودُونَ هُمُ الدُّعَاةُ مِنَ الْأَوْلِيَاءِ، وَالسَّادَةُ مِنَ الرُّسُلِ وَالْأَنْبِيَاءِ، فَالنُّبُوَّةُ: سِفَارَةُ الْعَبْدِ بَيْنَ اللَّهِ تَعَالَى وَبَيْنَ الْأَلْبَابِ مِنْ خَلِيقَتِهِ، وَلِهَذَا تُوصَفُ أَبَدًا بِالرِّسَالَةِ وَالْبِعْثَةِ، وَقِيلَ: إِنَّ النُّبُوَّةَ إِزَاحَةُ عِلَلِ ذَوْيِ الْأَلْبَابِ فِيمَا تَقْصُرُ عُقُولُهُمْ عَنْهُ مِنْ مَصَالِحِ الدَّارَيْنِ، وَلِهَذَا يُوصَفُ دَائِمًا بِالْحُجَّةِ وَالْهِدَايَةِ لِيَزِيحَ بِهَا عِلَلَهُمْ عَلَى سَبِيلِ الْهِدَايَةِ وَالتَّثْقِيفِ، وَمَعْنَى النَّبِيِّ: هُوَ ذُو النَّبَأِ وَالْخَبَرِ، أَيْ يِكُونُ مُخْبِرًا عَنِ اللَّهِ عز وجل بِمَا خَصَّهُ بِهِ مِنَ الْوَحْيِ. وَقِيلَ: إِنَّهَا مُشْتَقَّةٌ مِنَ «النَّبْوَةِ» الَّتِي هِيَ الْمَكَانُ الْمُرْتَفِعُ عَنِ الْأَرْضِ، وَهُوَ أَنْ يُخَصَّ بِضَرْبٍ مِنَ الرِّفْعَةِ، فَجُعِلَ سَفِيرًا بَيْنَ اللَّهِ وَبَيْنَ خَلْقِهِ، يَعْنِي بِذَلِكَ وَصْفَهُ بِالشَّرَفِ وَالرِّفْعَةِ، وَمَنْ جَعَلَ النُّبُوَّةَ مِنَِ الْإِنْبَاءِ الَّتِي هِيَ الْإِخْبَارُ لَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ النُّبُوَّةِ وَالرِّسَالَةِ، وَمَعْنَى الرَّسُولِ: فَهُوَ الْمُرْسَلُ، فَعُولٌ عَلَى لَفْظِ مَفْعَلٍ، وَإِرْسَالُهُ: أَمْرُهُ إِيَّاهُ بِإِبْلَاغِ الرِّسَالَةِ وَالْوَحْيِ
আত্মাসমূহের যার সারাংশ সর্বদা সেই আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতার প্রতি লালায়িত থাকে, যারা আসমানের সুউচ্চ স্তরের অধিবাসী। আর আত্মিক পঙ্কিলতায় আচ্ছন্ন ব্যক্তিদের সত্তা সর্বদা সেই অনুগত চতুষ্পদ জন্তু ও গবাদি পশুর সাদৃশ্যের দিকে ঝুঁকে থাকে, যা পঙ্কিলতা ও অন্ধকারের সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং যখন গঠন ও মেজাজ ভিন্ন ভিন্ন হয়, তখন মানবজাতির সারনির্যাস এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠাংশের মধ্যে সেই সৃষ্টিই সর্বাধিক ভারসাম্যপূর্ণ বিন্যাস ও বিশুদ্ধতম গঠনে রয়েছে, যে ঐশ্বরিক দাসত্ব ও নেক আমলের প্রতি প্রশান্তি পায় এবং কোমর বেঁধে পরিশ্রম করতে আগ্রহী হয়। আর নেক আমল সুসংবাদ ও সতর্কবাণীর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যা সম্মানিত নেককারদের পক্ষ থেকে ফুঁৎকার ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে অন্বিষ্ট এবং যা ঐশ্বরিক দান ও উচ্চতর অনুগ্রহ দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত। এবং অগ্রসরমানদের মধ্য হতে যারা মধ্যমপন্থী, তারা তা গ্রহণ করার মাধ্যমে সৌভাগ্য লাভ করে, আর পশ্চাদপসরণকারী অন্ধ ব্যক্তিরা বিমুখতা ও অহঙ্কারের কারণে তা থেকে বঞ্চিত হয়। অতএব সেই অন্বিষ্ট ব্যক্তিরাই হলেন ওলীদের মধ্য হতে আহবানকারী এবং রাসূল ও নবীদের মধ্য হতে নেতৃবৃন্দ। সুতরাং নবুওয়ত হলো মহান আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যকার বুদ্ধিমানদের মাঝে বান্দার দূতিয়ালি বা প্রতিনিধিত্ব। আর এই কারণেই একে সর্বদা রিসালাত এবং প্রেরণ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এবং বলা হয়েছে যে, নবুওয়ত হলো বুদ্ধিমানদের সেই সকল ত্রুটি দূর করা যে বিষয়ে তাদের বিবেক উভয় জগতের কল্যাণ অনুধাবনে অক্ষম। এ কারণেই একে সর্বদা প্রমাণ ও হিদায়াত হিসেবে অভিহিত করা হয়, যাতে হিদায়াত ও সংশোধনের মাধ্যমে তাদের ত্রুটিগুলো দূর করা যায়। আর 'নবী' শব্দের অর্থ হলো: সংবাদ ও খবরের অধিকারী, অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত বিশেষ বার্তার সংবাদ দানকারী। আবার বলা হয়েছে যে, এটি 'নাবওয়াহ' শব্দ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ জমিন থেকে উঁচু স্থান। আর তা হলো এক প্রকার উচ্চমর্যাদায় ভূষিত হওয়া; ফলে তাকে আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে দূত বানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁকে সম্মান ও উচ্চ মর্যাদায় গুণান্বিত করাই উদ্দেশ্য। আর যারা নবুওয়তকে সংবাদ প্রদান থেকে উদ্ভূত মনে করেন, তারা নবুওয়ত ও রিসালাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। আর 'রাসূল' শব্দের অর্থ হলো: প্রেরিত ব্যক্তি। আর তাঁর প্রেরণ হলো: তাঁকে বার্তা এবং ওহী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
، وَمَعْنَى الْوَحْيِ: مِنَ الْوَحَا وَهُوَ الْعَجَلَةُ، فَلَمَّا كَانَ الرَّسُولُ مُتَعَجِّلًا لِمَا يَفْهَمُ، قِيلَ لِذَلِكَ التَّفَهُّمِ «وَحْيٌ» ، وَلَهُ مَرَاتِبٌ وَوُجُوهٌ فِي الْقُرْآنِ وَحْيٌ إِلَى الرَّسُولِ: وَهُوَ أَنْ يُخَاطِبَهُ الْمَلَكُ شِفَاهًا، أَوْ يَلْقِيَ فِي رَوْعِهِ، وَذَلِكَ قَوْلُهُ عز وجل {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ} [سورة: الشورى، آية رقم: 51] يُرِيدُ بِذَلِكَ خِطَابًا يُلْقِي فَهْمَهُ فِي قَلْبِهِ حَتَّى يَعِيَهُ وَيَحْفَظَهُ. وَمَا عَدَاهُ مِنْ غَيْرِ خِطَابٍ إِنَّمَا هُوَ ابْتِدَاءُ إِعْلَامٍ وَإِلْهَامٍ، وَتَوْقِيفٌ مِنْ غَيْرِ كَلَامٍ وَلَا خِطَابٍ كَقَوْلِهِ تَعَالَى {وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ} [سورة: النحل، آية رقم: 68] ، {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى} [سورة: القصص، آية رقم: 7] وَمَا فِي مَعْنَاهُمَا، ثُمَّ إِنَّ هَذِهِ النُّبُوَّةَ الَّتِي هِيَ السِّفَارَةُ لَا تَتِمُّ إِلَّا بِخَصَائِصَ أَرْبَعَةٍ يَهَبُهَا اللَّهُ عز وجل لَهُمْ، كَمَا أَنَّ إِزَالَةَ عِلَلِ الْعُقُولِ لَا تَتِمُّ إِلَّا بِالسَّلَامَةِ مِنْ آفَاتٍ أَرْبَعَةٍ يُعْصَمُ مِنْهَا، فَالسَّفِيرُ السَّعِيدُ بِالْمَوَاهِبِ الْأَرْبَعَةِ سَلِيمٌ عَنِ الْآفَاتِ الْأَرْبَعَةِ، وَالْعَاقِلُ السَّلِيمُ مِنَ الْآفَاتِ الْأَرْبَعَةِ لَيْسَ بِسَعِيدٍ بِالْمَوَاهِبِ الْأَرْبَعَةِ، فَالْمَوَاهِبُ الْأَرْبَعَةُ: أَوَّلُهَا: الْفَضِيلَةُ النَّوْعِيَّةُ. وَثَانِيهَا: الْفَضِيلَةُ الْإِكْرَامِيَّةُ. وَثَالِثُهَا: الْإِمْدَادُ بِالْهِدَايَةِ. وَرَابِعُهَا: التَّثْقِيفُ عِنْدَ الزَّلَّةِ، وَالْآفَاتُ الْأَرْبَعَةُ الَّتِي يُعْصَمُ مِنْهَا السَّلِيمُ مِنَ الْأَوْلِيَاءِ. أَوَّلُهَا: الْكُفْرُ بِاللَّهِ عز وجل، وَثاَنِيهَا: التَّقَوُّلُ عَلَى اللَّهِ، وَثَالِثُهَا: الْفِسْقُ فِي أَوَامِرِ اللَّهِ، وَرَابِعُهَا: الْجَهْلُ بِأَحْكَامِ اللَّهِ، فَمَعْنَى الْفَضِيلَةِ النَّوْعِيَّةِ: أَنَّ الْأَحْسَنَ فِي سِيَرِ الْمُلُوكِ وَالْأَحْمَدَ فِي حُكْمِهِمْ أَنَّهُمْ لَا يُرْسِلُونَ مُبَلِّغًا عَنْهُمْ إِلَّا الْأَفْضَلَ، وَالْمُسْتَقِلُّ بِأَثْقَالِ الرِّسَالِةِ قَدْ ثَقَّفَتْهُ خِدْمَتُهُ، وَخَرَّجَتْهُ أَيَّامُهُ، وَالْعُقُولُ تَشْهَدُ أَنَّ مِثْلَهُ مُقَيَّضًا مُرْتَادًا عِنْدَ الْمُرْسِلِ لِمِثْلِهِ فِي الْإِبْلَاغِ وَالتَّأْدِيَةِ عَنْهُ، فَاللَّهُ الْحَكِيمُ الْقَدِيرُ لَا يَخْتَارُ لِلرِّسَالَةِ
ওহী-এর অর্থ: আল-ওয়াহা থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ দ্রুততা। যেহেতু রাসূল যা অনুধাবন করেন তার প্রতি দ্রুত ধাবিত হন, তাই সেই অনুধাবনকে 'ওহী' বলা হয়। কুরআনে এর বিভিন্ন স্তর ও দিক রয়েছে। রাসূলের প্রতি ওহী: তা হলো ফেরেশতা তাঁর সাথে সরাসরি মৌখিকভাবে কথা বলেন অথবা তাঁর হৃদয়ে তা ঢেলে দেন। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "কোনো মানুষের জন্যই এমন নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ছাড়া, অথবা পর্দার আড়াল ছাড়া, অথবা তিনি কোনো রাসূল (ফেরেশতা) পাঠান, অতঃপর তিনি তাঁর অনুমতিতে যা চান তা ওহী করেন।" [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৫১]। এর মাধ্যমে এমন এক সম্বোধনকে বোঝানো হয়েছে যার উপলব্ধি তিনি তাঁর অন্তরে ঢেলে দেন যাতে তিনি তা আয়ত্ত করতে ও সংরক্ষণ করতে পারেন। এ ছাড়া সরাসরি সম্বোধন ব্যতীত যা কিছু আছে তা কেবল প্রাথমিক জ্ঞাপন ও ইলহাম (অনুপ্রেরণা), এবং কথা বা সম্বোধন ছাড়াই কোনো বিষয়ের নির্দেশ বা জ্ঞান প্রদান; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আপনার রব মৌমাছিকে ওহী (নির্দেশ) দিলেন" [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৬৮], এবং "আমরা মূসার জননীকে ওহী (ইলহাম) করলাম" [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৭] এবং সমজাতীয় অর্থবোধক আয়াতসমূহ।
এরপর, এই নবুওয়াত যা মূলত এক প্রকার প্রতিনিধিত্ব বা দূতগিরি, তা চারটি বৈশিষ্ট্য ব্যতীত পূর্ণ হয় না যা মহান আল্লাহ তাঁদের দান করেন। ঠিক যেমন বুদ্ধিবৃত্তিক ত্রুটিসমূহ দূরীকরণ চারটি আপদ থেকে সুরক্ষা লাভ করা ব্যতীত সম্পন্ন হয় না, যা থেকে তাঁদের রক্ষা করা হয়। সুতরাং এই চারটি দানের মাধ্যমে সৌভাগ্যবান দূত (রাসূল) উক্ত চারটি আপদ থেকে মুক্ত থাকেন। তবে চারটি আপদ থেকে মুক্ত সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি এই চারটি বিশেষ দানের কারণে সৌভাগ্যবান নন (অর্থাৎ নবুওয়াত প্রাপ্ত হন না)। এই চারটি বিশেষ দান হলো: প্রথমটি: শ্রেণিগত শ্রেষ্ঠত্ব। দ্বিতীয়টি: সম্মানসূচক শ্রেষ্ঠত্ব। তৃতীয়টি: হেদায়েতের মাধ্যমে সাহায্য প্রদান। চতুর্থটি: পদস্খলনের সময় সংশোধন। আর চারটি আপদ যা থেকে ওলীগণের মধ্যে যারা সুস্থ প্রকৃতির তারা সুরক্ষিত থাকেন, তা হলো: প্রথমটি: মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করা। দ্বিতীয়টি: আল্লাহর নামে মিথ্যা আরোপ করা। তৃতীয়টি: আল্লাহর আদেশের ক্ষেত্রে পাপাচার বা অবাধ্যতা করা। চতুর্থটি: আল্লাহর বিধানাবলি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা।
শ্রেণিগত শ্রেষ্ঠত্বের অর্থ হলো: রাজন্যবর্গের কর্মপন্থা ও তাঁদের শাসনরীতির মধ্যে সর্বোত্তম ও প্রশংসনীয় দিক হলো এই যে, তাঁরা তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো বার্তাবাহক প্রেরণ করেন না শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি ব্যতীত; যে ব্যক্তি রিসালাতের গুরুভার বহনে সক্ষম, যাঁর সেবা তাঁকে মার্জিত করেছে এবং অতিবাহিত সময় তাঁকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছে। আর বিবেক এ সাক্ষ্য দেয় যে, প্রেরণকারীর নিকট এমন ব্যক্তিই তাঁর পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছানো ও তা আদায়ের জন্য নির্ধারিত ও কাম্য। সুতরাং প্রজ্ঞাময় ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ রিসালাতের জন্য (এমন কাউকে) নির্বাচন করেন না—
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
إِلَّا الْمُتَقَدِّمَ عَلَى الْمَبْعُوثِ إِلَيْهِمْ، الَمُزَيَّنَ بِكُلِّ الْمَنَاقِبِ، وَلِهَذَا لِمْ يُوجَدْ نَبِيٌّ قَطُّ بِهِ عَاهَةٌ فِي بَدَنِهِ أَوِ اخْتِلَاطٌ فِي عَقْلِهِ، أَوْ دَنَاءَةٌ فِي نَسَبِهِ، أَوْ رَدَاءَةٌ فِي خُلُقِهِ، وَإِلَيْهِ رَجَعَ قَوْلُهُ عز وجل {اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} [سورة: الأنعام، آية رقم: 124] . وَمَعْنَى الْفَضِيلَةِ الْإِكْرَامِيَّةِ: أَنَّ الْمُلُوكَ مَتَى أَرْسَلُوا رَسُولًا اخَتْارُوهُ لِلْوِفَادَةِ، أَيَّدُوهُ فِي حَالِ الْإِرْسَالِ بِلَطَائِفَ وَكَرَامَاتٍ وَزَوَائِدَ وَمُعَاوَنَاتٍ يُيَسِّرُ الْخَطْبَ عَلَيْهِ فَوْقَ مَا كَانَ مَكَّنَهُ مِنْهُ، وَخَوَّلَهُ فِي مَاضِي خِدْمَتِهِ، فَاللَّهُ الرَّءُوفُ الرَّحِيمُ إِذَا أَمَرَهُ لِلْإِبْلَاغِ عَنْهُ أَمَدَّهُ بِزَوَائِدَ تُقَوِّي قَلْبَهُ، وَتَشْحَذُ قَرِيحَتَهُ، وَتُمَكِّنُهُ مِنَ الْأَخْلَاقِ الْحَمِيدَةِ وَالْعَزَائِمِ الْقَوِيَّةِ، وَالْحُكْمِ الْمَدِيدِ، كَمَا أَيَّدَ مُوسَى عليه السلام بِحَلِّ الْعُقْدَةِ مِنْ لِسَانِهِ، وَإِشْرَاكِهِ هَارُونَ فِي الْإِرْسَالِ، وَهُوَ قَوْلُهُ عز وجل {فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِي} [سورة: القصص، آية رقم: 34] فَإِلَيْهِ يَرْجِعُ قَوْلُهُ عز وجل {قَدْ أُوتِيتَ سُؤْلَكَ يَا مُوسَى} [سورة: طه، آية رقم: 36] ، وَمَعْنَى الْإِمْدَادِ بِالْهِدَايَةِ: فَإِنَّ الْمُلُوكَ إِذَا اخْتَارُوا لِلْإِبْلَاغِ عَنْهُمْ مَنْ عَلِمُوا مِنْهُ الْكَفَاءَةَ وَالِاسْتِغْلَالَ بِمَا وَلُّوهُ فَلَا يُخْلُونَهُ مِنْ كَتْبٍ مِنْهُمْ إِلَيْهِ تَتَضَمَّنُ الرُّشْدَ وَالْهِدَايَةَ، عِلْمًا مِنْهُمْ بِأَنَّهُ مَجْبُولٌ عَلَى صَنِيعَةِ الْآدَمِيِّينَ. فَاللَّهُ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ مَتَى قَلَّدَ عَبْدًا قَلَائِدَ الرِّسَالَةِ فَحِكْمَتُهُ تَقْضِي أَنْ لَا يُخْلِيَهُ مِنْ مَوَادِّ الْإِرْشَادِ لِعِلْمِهِ أَنَّ الْعُلُومَ الْمُكْتَسَبَةَ لَا تَنَالُ إِلَّا تَعْرِيفًا، وَلَا تُصَابُ الْمَصَالِحُ الْكُلِّيَّةُ إِلَّا تَوْفِيقًا، وَإِلَيْهِ يَرْجِعُ قَوْلُهُ عز وجل {كَذَلِكَ لِنُثَبِتَّ بِهِ فُؤَادَكَ} [سورة: الفرقان، آية رقم: 32] ، {وَلَوْلَا أَنْ ثَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ} [سورة: الإسراء، آية رقم: 74] ، وَمَعْنَى التَّثْقِيفَ عِنْدَ الزَّلَّةِ: فَمَا بَعَثَ مَلِكٌ وَاحِدًا يُحَبِّبُ بِهِ الرَّعِيَّةَ إِلَى طَاعَةٍ فَيَرَى طَبْعَهُ مَائِلًا فِي حَالَ الْإِبْلَاغِ إِلَّا زَجَرَهُ عِنْدَ أَدْنَى هَفْوَةٍ بِأَبْلَغِ
...কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যিনি যাদের নিকট প্রেরিত হয়েছেন তাদের চেয়ে অগ্রগণ্য, যিনি সকল প্রশংসনীয় গুণাবলীতে সুশোভিত। আর এই কারণেই এমন কোনো নবী কখনোই পাওয়া যায়নি যাঁর দেহে কোনো খুঁত ছিল, কিংবা যাঁর বুদ্ধিবৃত্তিতে কোনো বৈকল্য ছিল, অথবা যাঁর বংশমর্যাদায় কোনো হীনতা ছিল, কিংবা যাঁর চরিত্রে কোনো কদর্যতা ছিল। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণীর দিকেই বিষয়টি ফিরে যায়: {আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন} [সূরা: আল-আনআম, আয়াত নং: ১২৪]। আর ‘সম্মানসূচক শ্রেষ্ঠত্ব’-এর অর্থ হলো: রাজন্যবর্গ যখন কোনো দূতকে প্রতিনিধি হিসেবে কোথাও প্রেরণ করেন, তখন তাঁরা তাকে পাঠানোর সময় এমন সব সূক্ষ্ম অনুগ্রহ, সম্মাননা, অতিরিক্ত মর্যাদা ও সাহায্য দিয়ে শক্তিশালী করেন যা তাঁর জন্য সেই কঠিন কর্মভারকে সহজ করে দেয়—এমনকি তা তাকে ইতিপূর্বে দেওয়া সামর্থ্য এবং তাঁর অতীত সেবায় অর্পিত ক্ষমতার চেয়েও বেশি হয়। সুতরাং পরম স্নেহশীল ও দয়ালু আল্লাহ যখন তাঁকে তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারের আদেশ দেন, তখন তিনি তাঁকে এমন সব অতিরিক্ত নেয়ামত দিয়ে সাহায্য করেন যা তাঁর অন্তরকে মজবুত করে, তাঁর মেধাকে শাণিত করে এবং তাঁকে প্রশংসনীয় চরিত্র, সুদৃঢ় সংকল্প ও সুদীর্ঘ প্রজ্ঞা অর্জনে সমর্থ করে; যেমনটি তিনি মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর জিহ্বার জড়তা দূর করে এবং হারুনকে রিসালাতে তাঁর সহযোগী করার মাধ্যমে শক্তিশালী করেছিলেন, আর এটিই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {সুতরাং আপনি তাকে আমার সাথে সাহায্যকারী হিসেবে পাঠান, যে আমাকে সত্যায়ন করবে} [সূরা: আল-কাসাস, আয়াত নং: ৩৪]। আর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণীর দিকেই বিষয়টি ফিরে যায়: {হে মুসা! তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর করা হয়েছে} [সূরা: তাহা, আয়াত নং: ৩৬]। আর ‘হেদায়াত বা দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করা’-এর অর্থ হলো: রাজন্যবর্গ যখন তাঁদের পক্ষ থেকে প্রচার করার জন্য এমন কাউকে নির্বাচন করেন যাঁর যোগ্যতা ও অর্পিত দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা সম্পর্কে তাঁরা অবহিত, তখন তাঁরা তাঁকে সঠিক পথ ও দিকনির্দেশনা সম্বলিত তাঁদের পক্ষ থেকে পত্রাদি পাঠানো থেকে বিরত থাকেন না; কারণ তাঁরা জানেন যে তিনি মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের ওপরই সৃষ্টি। সুতরাং সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে রিসালাতের অলঙ্কারে ভূষিত করেন, তখন তাঁর হিকমত বা প্রজ্ঞা এটাই দাবি করে যে, তিনি তাঁকে দিকনির্দেশনামূলক উপকরণাদি থেকে বঞ্চিত রাখবেন না। কারণ তিনি জানেন যে, অর্জিত জ্ঞান কেবল পরিচয়দানের মাধ্যমেই লাভ করা যায় এবং সামগ্রিক কল্যাণ কেবল আল্লাহর তৌফিক বা আনুকূল্য ছাড়া অর্জিত হয় না। আর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণীর দিকেই বিষয়টি ফিরে যায়: {এভাবেই, যাতে আমি এর মাধ্যমে আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করতে পারি} [সূরা: আল-ফুরকান, আয়াত নং: ৩২], এবং {আমি যদি আপনাকে দৃঢ়পদ না রাখতাম, তবে আপনি প্রায় তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়তেন} [সূরা: আল-ইসরা, আয়াত নং: ৭৪]। আর ‘স্খলনের সময় সংশোধন করা’-এর অর্থ হলো: কোনো রাজাই এমন কাউকে প্রেরণ করেন না যাঁর মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রজাদের আনুগত্যের প্রতি আকৃষ্ট করতে চান, অথচ প্রচারের সময় তাঁর স্বভাবকে বিচ্যুত হতে দেখলে তাঁকে সামান্যতম ত্রুটির জন্যও কঠোরতম বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করেন না...
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
مَزْجَرَةٍ، يُثَقِّفُهُ بِهَا صِيَانَةً لِمَحِلِّهِ وَحِفْظًا لِحِرَاسَتِهِ وَاسْتِقَامَتِهِ، عِلْمًا مِنْهُ بِأَنَّ مَنْ يَنْتَهِ عَنْ فَلَتَاتِهِ أَوْشَكَ أَنْ يَأْلَفَهُ وَيَعْتَادَهُ، فَاللَّهُ اللَّطِيفُ بِعِبَادِهِ، الْوَافِي لِأَوْلِيَائِهِ بِالنَّصْرِ وَالتَّأْيِيدِ، لَا يَعْدِمُ وَافِدَهُ وَصَفِيَّهُ الْمُرَشَّحَ لِحَمْلِ أَثْقَالِ النُّبُوَّةِ التَّنْبِيهَ وَالتَّثْقِيفَ، وَإِلَيْهِ يَرْجِعُ قَوْلُهُ تَعَالَى لِنُوحٍ عليه السلام {فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمُ إِنِّي أَعِظُكَ أَنْ تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ} [سورة: هود، آية رقم: 46] وَقَوْلُهُ عز وجل لِدَاوُدَ عليه السلام {فَاحْكُمْ بَيْنَنَا بِالْحَقِّ وَلَا تُشْطِطْ} [سورة: ص، آية رقم: 22] وَقَوْلُهُ عز وجل لِسُلَيْمَانَ عليه السلام {وَأَلْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيِّهِ جَسَدًا ثُمَّ أَنَابَ} [سورة: ص، آية رقم: 34] وَقَوْلُهُ عز وجل لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم {فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ} [سورة: هود، آية رقم: 112] ، {لَوْلَا كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ} [سورة: الأنفال، آية رقم: 68] وَقَوْلُهُ تَعَالَى {وَإِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَيْكَ إِعْرَاضُهُمْ} [سورة: الأنعام، آية رقم: 35] ، فَهَذِهِ الْخَصَائِصُ الْأَرْبَعَةُ لَا تُنَالُ بِالِاكْتِسَابِ وَالِاجْتِهَادِ، لِأَنَّهَا مَوْهِبَةٌ إِلَهِيَّةٌ، وَأَثَرَةٌ عُلْوِيَّةٌ، حِكَمُهَا مُعَلَّقَةٌ بِتَدْبِيرٍ مَنْ لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ، وَلَا يُظْهِرُهَا إِلَّا فِي أَخَصِّ الْأَزْمِنَةِ، وَأَحَقِّ الْأَمْكِنَةِ، عِنْدَ إِحْسَاسِ الْحَاجَةِ الْكُلِّيَّةِ، وَإِطْبَاقِ الدَّهْمَاءِ عَلَى الضُّلَّالِ مِنَ الْبَرِيَّةِ، وَكُلُّهَا أَعْلَى مِنْ أَنْ تَفُوزَ بِهِ الْعُقُولُ الْجُزْئِيَّةُ، أَوْ تُحَصِّلُهَا الْمَسَاعِي الْمُكْتَسَبَةُ، وَإِلَيْهِ يَرْجِعُ قَوْلُهُ عز وجل {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى الْغَيْبِ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَجْتَبِي مِنْ رُسُلِهِ مَنْ يَشَاءُ} [سورة: آل عمران، آية رقم: 179] وَقَوْلُهُ {إِنْ نَحْنُ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ} [سورة: إبراهيم، آية رقم: 11] وَقَوْلُهُ {فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ}
একটি ধমক, যার মাধ্যমে তিনি তাকে সংশোধন করেন তার মর্যাদাকে রক্ষা করার জন্য এবং তার নিরাপত্তা ও সরলতা বজায় রাখার জন্য। তাঁর এই জ্ঞান অনুযায়ী যে, যে ব্যক্তি তার বিচ্যুতি থেকে বিরত না হয়, খুব শীঘ্রই তা তার অভ্যাসে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়। সুতরাং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত করুণাময়, তিনি তাঁর বন্ধুদের সাহায্য ও সমর্থনের মাধ্যমে ওয়াদা পূর্ণকারী। তিনি নবুওয়াতের গুরুভার বহনের জন্য মনোনীত তাঁর প্রিয় ও নির্বাচিত ব্যক্তিকে সতর্কীকরণ ও সংশোধন থেকে বঞ্চিত করেন না। আর এর দিকেই নূহ আলাইহিস সালামের প্রতি মহান আল্লাহর এই বাণীটি ফিরে যায়: {অতএব তুমি আমার কাছে এমন কিছুর জন্য আবেদন করো না যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যাতে তুমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না হও।} [সূরা: হুদ, আয়াত নম্বর: ৪৬] এবং দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {অতএব আমাদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করো এবং সীমালঙ্ঘন করো না।} [সূরা: সদ, আয়াত নম্বর: ২২] এবং সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রতি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আর আমি সুলাইমানকে পরীক্ষা করলাম এবং তার সিংহাসনের ওপর একটি দেহ রাখলাম, অতঃপর সে ফিরে এল।} [সূরা: সদ, আয়াত নম্বর: ৩৪] এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {অতএব তুমি অবিচল থাকো যেভাবে তুমি আদিষ্ট হয়েছ।} [সূরা: হুদ, আয়াত নম্বর: ১১২], {আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বলিখিত বিধান না থাকলে...} [সূরা: আনফাল, আয়াত নম্বর: ৬৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তাদের বিমুখতা তোমার কাছে কষ্টকর মনে হয়...} [সূরা: আনআম, আয়াত নম্বর: ৩৫]। সুতরাং এই চারটি বৈশিষ্ট্য অর্জন ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে লাভ করা যায় না; কারণ এগুলো ঐশ্বরিক দান এবং উচ্চতর অনুগ্রহ। এগুলোর হিকমত তাঁরই ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত যাঁর হাতে সৃষ্টি ও আদেশ, এবং তিনি এগুলো প্রকাশ করেন না বিশেষ সময় ও যোগ্যতম স্থানসমূহ ছাড়া, যখন সামগ্রিক প্রয়োজনের অনুভূতি দেখা দেয় এবং সাধারণ মানুষ সৃষ্টির বিভ্রান্তির ওপর নিপতিত হয়। এগুলোর প্রতিটিই আংশিক বুদ্ধিমত্তা দিয়ে জয় করার বা অর্জিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে হাসিল করার উর্ধ্বে। আর এর দিকেই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণীটি ফিরে যায়: {আর আল্লাহ তোমাদের অদৃশ্যের সংবাদ দিতে প্রস্তুত নন, তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন।} [সূরা: আলে ইমরান, আয়াত নম্বর: ১৭৯] এবং তাঁর বাণী: {আমরা তোমাদের মতোই মানুষ ছাড়া কিছুই নই, কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন।} [সূরা: ইবরাহিম, আয়াত নম্বর: ১১] এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না, তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া।}
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
[سورة: الجن، آية رقم: 27] ، وَاعْلَمُوا أَنَّ مُعْجِزَاتِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم أَكْثَرُ مِنْ أَنْ يَحْصُرَهَا عَدَدٌ، وَأَشْهَرُ مِنْ أَنْ يَنْصُرَهَا سَنَدٌ، فَأَعْظَمُ مُعْجِزَاتِهِ الْقُرْآنُ الَّذِي هُوَ أُمُّ الْمُعْجِزَاتِ الَّذِي لَا يَدْفَعُهُ الْإِنْكَارُ وَلَا الْجَحْدُ، وَقَدْ حَرَّرَ الْكَلَامَ فِيهِ وَفِي مَسَائِلِه وَإِبْطَالِ طَعْنِ الَمَلَاحِدَةِ وَالْفَلَاسِفَةِ وَأَصْحَابِ الطَّبَائِعِ الْمُتَقَدِّمُونَ مِنْ عُلَمَائِنَا وَأَبْنَائِنَا، فَبَيَّنُوا فَسَادَ مَقَالَاتِهِمْ، وَبُطْلَانَ مُعَارَضَاتِهِمْ بِمَا يُعَارِضُ بِهِ أَمْثَالُهُمْ مِنَ الْجَائِرِينَ عَنْ مَنْهَجِ النُّبُوَّةِ وَمَنَارِ الشَّرِيعَةِ، وَكَذَلِكَ الْكَلَامَ فِي الِاسْتِدْلَالِ عَلَى صِحَّةِ النُّبُوَّةِ وَالرِّسَالَةِ وَأَنَّ بَعْثَةَ الْمُرْسَلَينَ مِمَّا لَا يَسْتَحِيلُ، وَأَنَّهُ مِنْ بَابِ الْمُمْكِنِ وَالْمَقْدُورِ، وَأَنَّ إِرْسَالَ الرُّسُلِ لَيْسَ بِوَاجِبٍ عَلَى اللَّهِ عز وجل، بَلْ هُوَ مِنَ الْجَائِزِ الَّذِي لِلَّهِ تَعَالَى فِعْلُهُ وَتَرْكُهُ، وَأَنَّ الْمُعْجِزَاتِ أَقْسَامٌ، مِنْهَا مَا يَجُوزُ دُخُولُ نَوْعٍ مِنْهَا تَحْتَ مَقْدُورِنَا عَلَى وَجْهٍ، وَمِنْهَا مَا لَا يَدْخُلُ. وَذِكْرُ الْكَلَامِ فِي الْفَصْلِ بَيْنَ الْمُعْجِزَةِ وَالْكَرَامَةِ، وَأَنَّهُمَا مُتَّفِقَتَانِ فِي حَالَةٍ وَمُفْتَرِقَتَانِ فِي حَالَةٍ أُخْرَى، وَذِكْرُ أَنْوَاعِ مَا يَقَعُ بِه التَّحَدِّي فَسُمِّيَ مُعْجِزًا، وَذِكْرُ الرَّدِّ عَلَى مُنْكِرِي النُّبُوَّاتِ مِنْ بَرْهَمِيٍّ وَفَلْسَفِيٍّ وَطَبَائِعِيٍّ وَغَيْرِهِمْ سَكَتْنَا عَنْ ذَلِكَ إِذِ الْكَلَامُ فِي ذَلِكَ وَالِانْفِصَالُ عَنْ مُعَارَضَتِهِمْ مُسْلَمٌ إِلَى أَرْبَابِهِ مِنَ الْمُتَكَلِّمِينَ وَالنُّظَّارِ، وَقَصَدْنَا جَمْعَ مَا نَحْنُ بِسَبِيلِهِ وَتَجْبِيَتَهُ مِنْ جَمِيعِ الْمُنْتَشِرِ مِنَ الْآبَارِ، وَالصَّحِيحِ وَالْمَشْهُورِ مِنْ مَرْوِيِّ الْأَخْبَارِ، وَرَتَّبْنَاهُ تَرْتِيبَ مَنْ تَقَدَّمْنَا مِنْ رُوَاةِ الْآثَارِ وَالْعُلَمَاءِ وَالْفُقَهَاءِ، وَجَعَلْنَا ذَلِكَ فُصُولًا، ذَكَرْنَاهَا لِتَسْهُلَ عَلَى الْمُتَحَفِّظِ أَنْوَاعُهُ وَأَقْسَامُهُ فَيَكُونَ أَجْمَعَ لِفَهْمِهِ، وَأَقْرَبَ مِنْ ذِهْنِهِ، وَأَبْعَدَ مِنْ تَحَمُّلِ الْكُلْفَةِ فِي طَلَبِهِ، وَبِهِ الْحَوْلُ وَالْقُوَّةُ فِي ذَلِكَ وَفِي كُلِّ مَا نُرِيدُهُ وَنَقْصُدُهُ.
[সূরা: আল-জিন, আয়াত নং: ২৭] , এবং আপনারা জেনে রাখুন যে, মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজাসমূহ এতই অধিক যে তা কোনো সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয় এবং তা এতই প্রসিদ্ধ যে কোনো সনদের সমর্থনের মুখাপেক্ষী নয়। তাঁর মুজিজাসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কুরআন, যা সকল মুজিজার মূল উৎস, যাকে কোনো অস্বীকার বা বিবাদ দমিত করতে পারে না। আমাদের পূর্ববর্তী আলেম ও উত্তরসূরিগণ এ বিষয়ে, এর মাসআলাসমূহ সম্পর্কে এবং নাস্তিক, দার্শনিক ও প্রকৃতিবাদীদের আপত্তির অসারতা প্রমাণের ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ফলে তাঁরা তাদের বক্তব্যের অসারতা এবং নবুওয়াতের পথ ও শরীয়তের আলোকবর্তিকা থেকে বিচ্যুত ব্যক্তিদের ন্যায় তাদের বিরোধিতার অন্তঃসারশূন্যতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে নবুওয়াত ও রিসালাতের সত্যতার প্রমাণ এবং রাসূলগণের প্রেরণ যে অসম্ভব কিছু নয়, বরং তা সম্ভব ও ক্ষমতার আওতাভুক্ত—সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ওপর রাসূল প্রেরণ করা ওয়াজিব নয়; বরং তা আল্লাহ তাআলার জন্য একটি বৈধ বিষয় যা তিনি করা বা না করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখেন। মুজিজা কয়েক প্রকার; এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা কোনোভাবে আমাদের ক্ষমতার আওতাভুক্ত হওয়া সম্ভব এবং এমন কিছু রয়েছে যা সম্ভব নয়। মুজিজা ও কারামতের মধ্যকার পার্থক্যের আলোচনাও এখানে রয়েছে এবং এটিও যে তারা এক অবস্থায় অভিন্ন কিন্তু অন্য অবস্থায় ভিন্নতর। আর যার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ প্রদান করা হয় সেটির প্রকারসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে বলেই একে মুজিজা বলা হয়। এছাড়া ব্রাহ্মণ, দার্শনিক, প্রকৃতিবাদী এবং অন্যান্য নবুওয়াত অস্বীকারকারীদের জবাব প্রদানের বিষয়ে আমরা নীরব থেকেছি। কারণ এ বিষয়ে আলোচনা এবং তাদের আপত্তির নিরসন করার বিষয়টি ইলমে কালামের পণ্ডিত ও গবেষকদের ওপর ন্যস্ত। আমাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের অভীষ্ট বিষয়গুলো একত্রিত করা এবং বিভিন্ন ছড়িয়ে থাকা উৎস থেকে তা সংগ্রহ করা এবং বর্ণিত সংবাদসমূহের মধ্যে সহীহ ও প্রসিদ্ধ বিষয়গুলো সংকলন করা। আমরা একে আমাদের পূর্ববর্তী হাদিস বর্ণনাকারী, আলেম ও ফকিহগণের বিন্যাসের ন্যায় সুবিন্যস্ত করেছি এবং একে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি; যা আমরা উল্লেখ করেছি যাতে মুখস্থকারীর জন্য এর প্রকার ও বিভাগসমূহ আয়ত্ত করা সহজ হয়, তার উপলব্ধির জন্য পূর্ণাঙ্গ হয়, মেধার নিকটবর্তী হয় এবং তা অনুসন্ধানের কষ্ট লাঘব করে। আর এ বিষয়ে এবং আমরা যা কিছু ইচ্ছা ও সংকল্প করি তার জন্য একমাত্র আল্লাহরই সাহায্য ও শক্তি কাম্য।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الفَصْلُ الْأَوَّلُ فِي ذِكْرِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ مِنْ فَضْلِهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى جَعَلَ بِعْثَتَهُ لِلْعَالَمِينَ رَحْمَةً، فَقَالَ: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107] ، فَأَمَّنَ أَعْدَاءَهُ مِنَ الْعَذَابِ مُدَّةَ حَيَاتِهِ عليه السلام ، وَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ} [الأنفال: 33] ، فَلَمْ يُعَذِّبْهُمْ مَعَ اسْتِعْجَالِهِمْ إِيَّاهُ تَحْقِيقًا لِمَا نَعَتَهُ بِهِ، فَلَمَّا ذَهَبَ عَنْهُمْ إِلَى رَبِّهِ تَعَالَى أَنْزَلَ اللَّهُ بِهِمْ مَا عَذَّبَهُمْ بِهِ مِنْ قَتْلٍ وَأَسْرٍ، وَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {فَإِمَّا نَذْهَبَنَّ بِكَ فَإِنَّا مِنْهُمْ مُنْتَقِمُونَ} [الزخرف: 41]
প্রথম পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যে মর্যাদা অবতীর্ণ করেছেন তার বর্ণনায়। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর প্রেরণকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: {আর আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি} [আল-আম্বিয়া: ১০৭]। সুতরাং তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর শত্রুদের আজাব থেকে নিরাপত্তা দান করেছেন। আর এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তিনি তাদের আজাব দেবেন} [আল-আনফাল: ৩৩]। অতঃপর তারা আজাব ত্বরান্বিত করতে চাইলেও তিনি তাদের আজাব দেননি, যাতে তাঁকে যে গুণাবলীতে ভূষিত করা হয়েছে তার সত্যতা বাস্তবায়িত হয়। এরপর যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাঁর মহান রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন, তখন আল্লাহ তাদের ওপর হত্যা ও বন্দিত্বের মাধ্যমে আজাব অবতীর্ণ করলেন যা দ্বারা তিনি তাদের শাস্তি প্রদান করেন। আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {অতঃপর যদি আমি আপনাকে নিয়ে যাই, তবে অবশ্যই আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী} [আয-যুখরুফ: ৪১]।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
1 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثنا قُتَيْبَةُ، ثنا الْفَرَجُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، رضي الله عنه، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَعَثَنِي رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ وَهُدًى لِلْمُتَّقِينَ»
১ - আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট কুতাইবা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-ফারাজ ইবনে ফাদালা বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আল-কাসিম ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত এবং মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত স্বরূপ পাঠিয়েছেন।»
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ
⦗ص: 40⦘، قَالَ: ثنا مَرْوَانُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلَا تَدْعُو عَلَى الْمُشْرِكِينَ؟ قَالَ: " إِنَّمَا بُعِثْتُ نِعْمَةً، وَلَمْ أُبْعَثْ عَذَابًا وَمِنْ فَضَائِلِهِ: إِخْبَارُ اللَّهِ عز وجل عَنْ إِجْلَالِ قَدْرِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، وَتَبْجِيلِهِ، وَتَعْظِيمِهِ، وَذَلِكَ أَنَّهُ مَا خَاطَبَهُ فِي كِتَابِهِ، وَلَا أَخْبَرَ عَنْهُ إِلَّا بِالْكِنَايَةِ الَّتِي هِيَ النُّبُوَّةُ وَالرِّسَالَةُ الَّتِي لَا أَجَلَّ مِنْهَا فَخْرًا، وَلَا أَعْظَمَ خَطَرًا، وَخَاطَبَ غَيْرَهُ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ وَقَوْمِهِمْ، وَأَخْبَرَ عَنْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ، وَلَمْ يَذْكُرْهُمْ بِالْكِنَايَةِ الَّتِي هِيَ غَايَةُ الْمَرْتَبَةِ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم فِي جُمْلَتِهِمْ بِمُشَارَكَتِهِ مَعَهُمْ فِي الْخِطَابِ وَالْخَبَرِ، فَأَمَّا فِي حَالِ الِانْفِرَادِ، فَمَا ذَكَرَهُمْ إِلَّا بِأَسْمَائِهِمْ، وَالْكِنَايَةُ عَنِ الِاسْمِ غَايَةُ التَّعْظِيمِ لِلْمُخَاطَبِ الْمُجَلَّلِ، وَالْمَدْعُوِّ الْعَظِيمِ؛ لِأَنَّ مَنْ بَلَغَ بِهِ غَايَةَ التَّعْظِيمِ كُنِّيَ عَنِ اسْمِهِ، إِنْ كَانَ مَلِكًا قِيلَ لَهُ: يَا أَيُّهَا الْمَلِكُ، وَإِنْ كَانَ أَمِيرًا قِيلَ لَهُ: يَا أَيُّهَا الْأَمِيرُ، وَإِنْ كَانَ خَلِيفَةً قِيلَ: يَا أَيُّهَا الْخَلِيفَةُ، وَإِنْ كَانَ دَيَّانًا قِيلَ: يَا أَيُّهَا الْحَبْرُ، أَيُّهَا الْقِسُّ، أَيُّهَا الْعَالِمُ، أَيُّهَا الْفَقِيهُ، فَفَضَّلَ اللَّهُ عز وجل نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم، وَبَلَغَ بِهِ غَايَةَ الرُّتْبَةِ، وَأَعَالِيَ الرِّفْعَةِ، فَقَالَ لِنَبِيِّهِ: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا} [الأحزاب: 45] ، {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ} [الأنفال: 64] ، {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ} [المائدة: 41] ، {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} [المائدة: 67] فِي آيَاتٍ كَثِيرَةٍ
⦗ص: 41⦘، وَخَاطَبَ آدَمَ وَمَنْ دُونَهُ مِنَ النَّبِيِّينَ بِأَسْمَائِهِمْ، وَكَذَلِكَ الْإِخْبَارُ عَنْهُمْ، فَقَالَ: {يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ} [البقرة: 35] ، {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى} [طه: 121] فِي الْإِخْبَارِ عَنْهُ، وَ {يَا نُوحُ اهْبِطْ} [هود: 48] ، {وَنَادَى نُوحٌ ابْنَهُ} [هود: 42] ، وَ {يَا إِبْرَاهِيمُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا} [هود: 76] ، وَ {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ} [البقرة: 127] ، وَ {يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ} [الأعراف: 144] ، وَقَالَ: {فَوَكَزَهُ مُوسَى فَقَضَى عَلَيْهِ} [القصص: 15] ، وَ {يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ} [المائدة: 110] ، وَ {إِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ} [الصف: 6] ، وَكَذَلِكَ غَيْرُهُمْ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ {يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ} [هود: 53] ، وَ {يَا صَالِحُ ائْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا} [الأعراف: 77] ، وَ {يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ} ، {وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَانَ} [ص: 34] ، وَ {يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ} [مريم: 7] ، وَ {يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ} [مريم: 12] ، كُلُّ أُولَئِكَ خُوطِبُوا بِأَسْمَائِهِمْ؛ فَكُلُّ مَوْضِعٍ ذَكَرَ مُحَمَّدًا عليه السلام بِاسْمِهِ أَضَافَ إِلَيْهِ ذِكْرَ الرِّسَالَةِ، فَقَالَ: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ} [آل عمران: 144] ، وَقَالَ: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ} [الفتح: 29] ، وَقَالَ: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ، وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ} [الأحزاب: 40] ، وَقَالَ: {وَآمَنُوا بِمَا نُزِّلَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَهُوَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ} [محمد: 2] ، فَسَمَّاهُ لِيَعْلَمَ مَنْ جَحْدَهُ أَنَّ أَمْرَهُ وَكِتَابَهُ هُوَ الْحَقُّ؛ وَلِأَنَّهُمْ لَمْ يَعْرِفُوهُ إِلَّا بِمُحَمَّدٍ، وَلَوْ لَمْ يُسَمِّهِ لَمْ يُعْلَمِ اسْمُهُ مِنَ الْكِتَابِ، وَكَذَلِكَ سَائِرُ الْأَنْبِيَاءِ لَوْ لَمْ يُسَمُّوا فِي الْكِتَابِ مَا عُرِفَتْ أَسَامِيهُمْ كَتَسْمِيَةِ اللَّهِ لَهُ مُحَمَّدًا، وَذَلِكَ كُلُّهُ زِيَادَةٌ فِي جَلَالَتِهِ، وَنَبَالَتِهِ، وَنَبَاهَتِهِ، وَشَرَفِهِ؛ لِأَنَّ اسْمَهُ مُشْتَقٌّ مِنِ اسْمٍ لِلَّهِ كَمَا مَدَحَهُ عَمُّهُ فَقَالَ:
[البحر الطويل]
وَشَقَّ لَهُ مِنِ اسْمِهِ لِيُجِلَّهُ
… فَذُو الْعَرْشِ مَحْمُودٌ وَهَذَا مُحَمَّدُ
ثُمَّ جَمَعَ فِي الذِّكْرِ بَيْنَ اسْمِ خَلِيلِهِ وَنَبِيِّهِ، فَسَمَّى خَلِيلَهُ بِاسْمِهِ
⦗ص: 42⦘ وَكَنَّى حَبِيبَهُ بِالنُّبُوَّةِ، فَقَالَ: {إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِإِبْرَاهِيمَ لَلَّذِينَ اتَّبَعُوهُ وَهَذَا النَّبِيُّ} [آل عمران: 68] ، فَكَنَّاهُ إِجْلَالًا، وَرَفَعَهُ لِفَضْلِ مَرْتَبَتِهِ، وَنَبَاهَتِهِ عِنْدَهُ، ثُمَّ قَدَّمَهُ فِي الذِّكْرِ عَلَى مَنْ تَقَدَّمَهُ فِي الْبَعْثِ، فَقَالَ: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ} إِلَى قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا} ، وَقَالَ: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ} [الأحزاب: 7]
২ - আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘, তিনি বলেন: মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে কায়সান থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করবেন না? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি রহমত হিসেবেই প্রেরিত হয়েছি, আযাব হিসেবে প্রেরিত হইনি।" আর তাঁর মর্যাদালোকের অন্তর্ভুক্ত হলো: মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর নবীর (সা.) উচ্চ মর্যাদার সংবাদ প্রদান, তাঁর সম্মান ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা। আর তা এই যে, আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁকে সম্বোধন করেননি এবং তাঁর সম্পর্কে কোনো সংবাদ দেননি 'কুনিয়াহ' বা উপাধি (নবুওয়াত ও রিসালাত) ব্যতীত, যার চেয়ে গৌরবের আর কোনো বিষয় নেই এবং যার চেয়ে গুরুত্ববহ আর কিছু নেই। অথচ তিনি তাঁর ব্যতীত অন্যান্য নবীদের ও তাঁদের কওমকে সম্বোধন করেছেন এবং তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁদের নিজ নিজ নামে। তিনি তাঁদেরকে সেই উপাধির মাধ্যমে উল্লেখ করেননি যা হলো মর্যাদার চূড়ান্ত স্তর; তবে রাসূল (সা.) যদি তাঁদের সাথে সম্বোধন ও সংবাদে অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন তবে ভিন্ন কথা। কিন্তু এককভাবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে তিনি তাঁদের নাম ছাড়া উল্লেখ করেননি। আর নামের পরিবর্তে উপাধি ব্যবহার করা হলো মহান সম্বোধিত ব্যক্তি ও মহান আহুত ব্যক্তির জন্য সম্মান প্রদর্শনের সর্বোচ্চ পর্যায়। কারণ যার সম্মানের চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছানো হয়, তার নাম না নিয়ে উপাধি ব্যবহার করা হয়। যদি তিনি রাজা হন তবে তাঁকে বলা হয়: হে রাজা, যদি আমির হন তবে তাঁকে বলা হয়: হে আমির, যদি খলিফা হন তবে তাঁকে বলা হয়: হে খলিফা, আর যদি তিনি দ্বীনদার হন তবে তাঁকে বলা হয়: হে পণ্ডিত, হে পুরোহিত, হে আলিম, হে ফকীহ। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে (সা.) শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাঁকে মর্যাদার চূড়ান্ত শিখরে ও সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছিয়েছেন। তিনি তাঁর নবীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {হে নবী! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে} [আহযাব: ৪৫], {হে নবী! আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট} [আনফাল: ৬৪], {হে রাসূল! তারা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে যারা কুফরিতে দ্রুত ধাবিত হয়} [মায়েদা: ৪১], {হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন} [মায়েদা: ৬৭] - এ রূপ অনেক আয়াতে
⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘। অথচ তিনি আদম এবং তাঁর পরবর্তী নবীদের তাঁদের নিজ নামে সম্বোধন করেছেন এবং একইভাবে তাঁদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেন: {হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো} [বাকারা: ৩৫], আর তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বলেছেন: {আদম তাঁর রবের অবাধ্যতা করল, ফলে সে পথভ্রষ্ট হলো} [ত্বহা: ১২১]। আর বলেছেন: {হে নূহ! অবতরণ করো} [হূদ: ৪৮], {এবং নূহ তার পুত্রকে ডাকলেন} [হূদ: ৪২], এবং {হে ইব্রাহিম! এ থেকে নিবৃত্ত হও} [হূদ: ৭৬], এবং {স্মরণ করো যখন ইব্রাহিম গৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল} [বাকারা: ১২৭], এবং {হে মুসা! আমি তোমাকে মানুষের ওপর মনোনীত করেছি} [আরাফ: ১৪৪], এবং বলেছেন: {অতঃপর মুসা তাকে ঘুষি মারল এবং এতেই তার মৃত্যু হলো} [কাসাস: ১৫], এবং {হে মারয়াম পুত্র ঈসা! আমার অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো যা তোমার ওপর বর্ষিত হয়েছে} [মায়েদা: ১১০], এবং {যখন মারয়াম পুত্র ঈসা বলল: হে বনী ইসরাঈল!} [সাফ: ৬]। একইভাবে অন্যান্য নবীদের ক্ষেত্রেও: {হে হূদ! তুমি আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নিয়ে আসোনি} [হূদ: ৫৩], এবং {হে সালিহ! তুমি যার ভয় দেখাচ্ছ তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো} [আরাফ: ৭৭], এবং {হে দাউদ! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে প্রতিনিধি বানিয়েছি}, {আর আমি অবশ্যই সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছি} [সোয়াদ: ৩৪], এবং {হে জাকারিয়া! আমি তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছি} [মারয়াম: ৭], এবং {হে ইয়াহইয়া! কিতাবটি শক্তভাবে ধরো} [মারয়াম: ১২]। তাঁদের প্রত্যেককে তাঁদের নিজ নামে সম্বোধন করা হয়েছে। আর প্রতিটি স্থানে যেখানে মুহাম্মদ (আ.)-কে তাঁর নামে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে তাঁর সাথে রিসালাতের প্রসঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন: {আর মুহাম্মদ তো একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নন, যাঁর পূর্বে অনেক রাসূল গত হয়েছেন} [আলি ইমরান: ১৪৪], এবং বলেছেন: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল} [ফাতহ: ২৯], এবং বলেছেন: {মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল} [আহযাব: ৪০], এবং বলেছেন: {এবং তারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে যা মুহাম্মদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, আর তা-ই তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য} [মুহাম্মদ: ২]। আল্লাহ তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন যাতে যারা তাঁকে অস্বীকার করে তারা জানতে পারে যে তাঁর বিষয় এবং তাঁর কিতাবই সত্য; এবং এ কারণে যে তারা তাঁকে মুহাম্মদ হিসেবেই চিনত। যদি তিনি তাঁর নাম উল্লেখ না করতেন তবে কিতাব থেকে তাঁর নাম জানা যেত না। একইভাবে অন্যান্য নবীদের নামও যদি কিতাবে উল্লেখ না করা হতো তবে তাঁদের নাম জানা যেত না, যেমনটি আল্লাহ তাঁর নাম মুহাম্মদ রেখেছেন। এর পুরোটাই তাঁর মহিমা, গাম্ভীর্য, খ্যাতি ও সম্মানের আধিক্য। কারণ তাঁর নাম আল্লাহর একটি নাম থেকে উদ্ভূত, যেমনটি তাঁর চাচা তাঁর প্রশংসা করে বলেছিলেন:
[বাহরে তাবীল]
আর আল্লাহ তাঁকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিজের নাম থেকে তাঁর নাম উদ্ভূত করেছেন
… আরশের অধিপতি হলেন 'মাহমুদ' (প্রশংসিত) আর ইনি হলেন 'মুহাম্মদ' (প্রশংসিত)।
অতঃপর তিনি তাঁর বর্ণনায় তাঁর খলীল (বন্ধু) এবং তাঁর নবীর নামের মধ্যে সমন্বয় করেছেন। তিনি তাঁর খলীলকে তাঁর নাম ধরে উল্লেখ করেছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ এবং তাঁর হাবীবকে (প্রিয়তম) নবুওয়াতের উপাধি দিয়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ইব্রাহিমের সর্বাধিক নিকটবর্তী তারা যারা তাঁর অনুসরণ করেছে এবং এই নবী} [আলি ইমরান: ৬৮]। এখানে তাঁকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য এবং তাঁর মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর কাছে তাঁর মাহাত্ম্যের কারণে উপাধিতে ভূষিত করেছেন। অতঃপর প্রেরিত হওয়ার ক্রমানুসারে যারা তাঁর পূর্বে ছিলেন, আল্লাহ তাঁর বর্ণনায় তাঁদের আগে তাঁকে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যেমন ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীদের প্রতি, এবং আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম ইব্রাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক ও ইয়াকুবের প্রতি} আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং আমি দাউদকে যাবুর দান করেছি}। তিনি আরও বলেছেন: {স্মরণ করো যখন আমি নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার কাছ থেকে এবং নূহের কাছ থেকে} [আহযাব: ৭]
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
3 - وَذَلِكَ مَا حَدَّثَنَاهُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَيُّوبَ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَاصِمٍ، قَالَ: ثنا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: ثنا بَقِيَّةُ، قَالَ: ثنا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ، ثنا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ} [الأحزاب: 7] قَالَ: " كُنْتُ أَوَّلَ النَّبِيِّينَ فِي الْخَلْقِ وَآخِرَهُمْ فِي الْبَعْثِ وَمِنْ فَضَائِلِهِ أَنَّ النَّاسَ نَهَاهُمُ اللَّهُ عز وجل أَنْ يُخَاطِبُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاسْمِهِ، وَأَخْبَرَ عَنْ سَائِرِ الْأُمَمِ أَنَّهُمْ كَانُوا يُخَاطِبُونَ أَنْبِيَاءَهُمْ وَرُسُلَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ، كَقَوْلِهِمْ: {يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ} [الأعراف: 138] ، وَقَوْلِهِ: {يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ هَلْ يَسْتَطِيعُ رَبُّكَ} [المائدة: 112] ، وَ {يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا} [هود: 53] ، وَ {يَا صَالِحُ ائْتِنَا} [الأعراف: 77] ، وَقَالَ: {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا} [النور: 63] ، فَنَدَبَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى إِلَى تَكْنِيَتِهِ بِالنُّبُوَّةِ وَالرِّسَالَةِ؛ تَرْفِيعًا لِمَنْزِلَتِهِ، وَتَشْرِيفًا ⦗ص: 43⦘ لِمَرْتَبَتِهِ، خَصَّهُ اللَّهُ بِهَذِهِ الْفَضِيلَةِ مِنْ بَيْنِ رُسُلِهِ، وَأَنْبِيَائِهِ
৩ - আর এটিই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আইয়ুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে আহমদ ইবনে আসিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে আম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে বশীর, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেন: {আর যখন আমি নবীদের থেকে তাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম} [আল-আহযাব: ৭], তিনি বলেন: "আমি সৃষ্টির দিক থেকে নবীদের মধ্যে প্রথম এবং প্রেরণের দিক থেকে তাদের মধ্যে সর্বশেষ।" এবং তাঁর মর্যাদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, মহান আল্লাহ মানুষকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর নাম ধরে সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি অন্যান্য জাতিদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা তাদের নবী ও রাসূলদের তাঁদের নাম ধরে সম্বোধন করত, যেমন তাদের উক্তি: {হে মূসা, আমাদের জন্য একজন উপাস্য নির্ধারণ করে দিন যেমন তাদের অনেক উপাস্য রয়েছে} [আল-আরাফ: ১৩৮], এবং তাঁর বাণী: {হে ঈসা ইবনে মারইয়াম, আপনার প্রতিপালক কি সক্ষম...} [আল-মায়িদাহ: ১১২], এবং {হে হূদ, আপনি আমাদের নিকট কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসেননি} [হূদ: ৫৩], এবং {হে সালেহ, আপনি আমাদের নিকট তা নিয়ে আসুন...} [আল-আরাফ: ৭৭]। এবং তিনি বলেছেন: {তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করো না} [আন-নূর: ৬৩]। ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর মর্যাদাকে উচ্চকিত করতে এবং তাঁর অবস্থানকে সম্মানিত করতে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ তাঁকে নবুওয়াত ও রিসালাতের উপাধিতে সম্বোধন করতে উৎসাহিত করেছেন; আল্লাহ তাঁর সকল রাসূল ও নবীদের মধ্য থেকে তাঁকে বিশেষভাবে এই মর্যাদা দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، وَأنا الْقَاضِي أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْأَهْوَازِيُّ، قَالَا: ثنا مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ: ثنا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ: ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي رَوْقٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا} [النور: 63] قَالَ: " كَانُوا يَقُولُونَ: يَا مُحَمَّدُ، يَا أَبَا الْقَاسِمِ، فَنَهَاهُمُ اللَّهُ عَنْ ذَلِكَ؛ إِعْظَامًا لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَقَالُوا: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، يَا رَسُولَ اللَّهِ "
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবি শায়বাহ। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইবরাহিম ও মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-আহওয়াজি, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিনজাব বিন আল-হারিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন উমারা, আবু রওক থেকে, তিনি আদ-দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা রাসুলের ডাককে তোমাদের একে অপরের ডাকের মতো গণ্য করো না} [আন-নূর: ৬৩] প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "তারা বলত: হে মুহাম্মদ, হে আবুল কাসিম; তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তাদের তা থেকে নিষেধ করেন। তিনি বলেন: অতঃপর তারা বলল: হে আল্লাহর নবী, হে আল্লাহর রাসুল।"
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
5 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: ثنا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْغَنِيِّ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنْ مُقَاتِلٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: " {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا} [النور: 63] يُرِيدُ يَصَيِحُ مِنْ بَعِيدٍ: يَا أَبَا الْقَاسِمِ، وَلَكِنْ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْحُجُرَاتِ: {إِنَّ الَّذِينَ يَغُضُّونَ أَصْوَاتَهُمْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ} [الحجرات: 3] وَمِنْ فَضَائِلِهِ صلى الله عليه وسلم: أَنَّ اللَّهَ عز وجل فَصَّلَ مُخَاطَبَةَ الْمُتَقَدِّمِينَ قَبْلَهُ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ تَشْرِيفًا لَهُ، وَإِجْلَالًا، وَذَلِكَ أَنَّ غَيْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنَ الْأُمَمِ كَانُوا يَقُولُونَ لِأَنْبِيَائِهِمْ وَرُسُلِهِمْ: رَاعِنَا سَمْعَكَ، فَنَهَى اللَّهُ عز وجل هَذِهِ الْأُمَّةَ أَنْ يُخَاطِبُوا ⦗ص: 44⦘ رَسُولَهُمْ بِهَذِهِ الْمُخَاطَبَةِ الَّتِي فِيهَا مَغْمَزٌ وَضَعَةٌ، وَذَمَّهُمْ أَنْ يَسْلُكُوا بِنَبِيِّهِمْ ذَلِكَ الْمَسْلَكِ، فَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينُ آمَنُوا لَا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا} [البقرة: 104]
৫ - সুলায়মান ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বকর ইবনে সাহল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং মুকাতিল থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: " {তোমরা রাসূলের ডাককে তোমাদের একে অপরের ডাকের মতো গণ্য করো না} [আন-নূর: ৬৩] এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দূর থেকে চিৎকার করে বলা: হে আবুল কাসিম; বরং আল্লাহ তাআলা সূরা আল-হুজুরাতে যেমন বলেছেন: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর রাসূলের নিকট তাদের কণ্ঠস্বর নিচু করে} [আল-হুজুরাত: ৩]। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো যে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর সম্মানে ও তাঁকে বিশেষত্ব দানে তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের সম্বোধনের ধরন থেকে তাঁর সম্বোধনকে পৃথক করেছেন। আর তা এই জন্য যে, এই উম্মত ব্যতীত অন্যান্য উম্মতরা তাদের নবী ও রাসূলদের বলত: 'আমাদের প্রতি কর্ণপাত করুন'; ফলে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এই উম্মতকে তাঁদের ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ রাসূলকে এই ধরনের সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন যাতে বিদ্রূপ ও অবমাননার অবকাশ রয়েছে, এবং তাঁদের নবীর সাথে এই পথ অনুসরণ করার কারণে তিনি তাঁদের নিন্দা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা 'রা-ইনা' বলো না, বরং 'উনযুরনা' বলো} [আল-বাকারা: ১০৪]।"
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
6 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: ثنا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنْ مُقَاتِلٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: رضي الله عنه " {لَا تَقُولُوا رَاعِنَا} [البقرة: 104] ، وَذَلِكَ أَنَّهَا سُبَّةٌ بِلُغَةِ الْيَهُودِ، وَقَالَ: {وَقُولُوا انْظُرْنَا} [البقرة: 104] يُرِيدُ اسْمَعْنَا، فَقَالَ الْمُؤْمِنُونَ بَعْدَهَا: مَنْ سَمِعْتُمُوهُ يَقُولُهَا فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ، فَانْتَهَتِ الْيَهُودُ بَعْدَ ذَلِكَ. وَمِنْ فَضَائِلِهِ: أَنَّ مَنَ تَقَدَّمَهُ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ عليهم السلام كَانُوا يَدْفَعُونَ وَيَرُدُّونَ عَنْ أَنْفُسِهِمْ مَا قَرَفَهُمْ بِهِ مُكَذِّبُوهُمْ مِنَ السَّفَهِ، وَالضَّلَالِ، وَالْكَذِبِ، وَتَوَلَّى اللَّهُ عز وجل ذَلِكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: فِيمَا أَخْبَرَ عَنْ قَوْمِ نُوحٍ: {إِنَّا لَنَرَاكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [الأعراف: 60] ، فَقَالَ دَافِعًا عَنْ نَفْسِهِ: {يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي ضَلَالَةٌ} [الأعراف: 61] ، وَقَوْلُهُمْ لِهُودٍ عليه السلام: {إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ} [الأعراف: 66] ، فَقَالَ نَافِيًا عَنْ نَفْسِهِ مَا نَسَبُوهُ إِلَيْهِ: {يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ} [الأعراف: 67] . وَقَالَ فِرْعَوْنُ لِمُوسَى: {إِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا مُوسَى مَسْحُورًا} [الإسراء: 101] ، فَقَالَ مُوسَى مُجِيبًا لَهُ: {إِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا فِرْعَوْنُ مَثْبُورًا} [الإسراء: 102]
⦗ص: 45⦘ ، فَنَزَّهَ اللَّهُ عز وجل نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم عَمَّا نَسَبُوهُ إِلَيْهِ؛ تَشْرِيفًا لَهُ، وَتَعْظِيمًا، فَقَالَ: {مَا أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونٍ} [القلم: 2] ، وَقَالَ: {وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ} [يس: 69] ، وَقَالَ: {مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى} [النجم: 2] ، وَبَرَّأَهُ اللَّهُ مِنْ كُلِّ مَا رَمَوْهُ بِهِ مِنَ السِّحْرِ، وَالْكَهَانَةِ وَالْجُنُونِ، فَقَالَ: {أَفَمَنْ كَانَ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّهِ وَيَتْلُوهُ شَاهِدٌ مِنْهُ} [هود: 17] ، وَذَبَّ اللَّهُ عَنِ اسْتِهْزَائِهِمْ بِقَوْلِهِمْ لَهُ: {هَلْ نَدُلُّكُمْ عَلَى رَجُلٍ يُنَبِّئُكُمْ إِذَا مُزِّقْتُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ} [سبأ: 7] ، فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {بَلِ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ فِي الْعَذَابِ وَالضَّلَالِ الْبَعِيدِ} [سبأ: 8] . وَمِنْ فَضَائِلِهِ: أَنَّ اللَّهَ خَاطَبَ دَاوُدَ عليه السلام بِأَنْ لَا تَتَّبِعِ الْهَوَى، فَقَالَ: {يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ، فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ، وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} ، وَأَخْبَرَ اللَّهُ تَعَالَى عَنِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ أَنْ أَقْسَمَ بِمَسَاقِطِ النُّجُومِ، وَطَوَالِعِهَا، وَنُزُولِ الْقُرْآنِ، وَمَوَاقِعِهِ أَنَّهُ لَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، فَقَالَ: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى} [النجم: 3] ؛ تَبْرِئَةً لَهُ، وَتَنْزِيهًا عَنْ مُتَابَعَةِ الْهَوَى. وَمِنْ فَضَائِلِهِ: أَنَّ كُلَّ نَبِيٍّ ذَكَرَ اللَّهُ تَعَالَى حَالَهُ، وَأَنَّهُ غَفَرَ لَهُ مَا كَانَ مِنْهُ نَصَّ عَلَيْهِ، فَقَالَ فِي قِصَّةِ مُوسَى: {رَبِّ إِنِّي قَتَلْتُ مِنْهُمْ نَفْسًا} [القصص: 33] ، وَقَالَ: {إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي، فَغَفَرَ لَهُ} [القصص: 16] ، فَنَصَّ عَلَى ذَنْبِهِ، وَسَأَلَ رَبَّهُ الْمَغْفِرَةَ، وَأَخْبَرَ عَنْ دَاوُدَ إِذْ تَسَوَّرَ عَلَيْهِ الْمَلَكَانِ، فَقَالَ: {إِنَّ هَذَا أَخِي لَهُ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ نَعْجَةً، وَلِيَ نَعْجَةٌ وَاحِدَةٌ} [ص: 23] ، فَذَكَرَ الظُّلْمَ وَالْبَغْيَ، فَقَالَ: {لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إِلَى
⦗ص: 46⦘ نِعَاجِهِ وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ الْخُلَطَاءِ لَيَبْغِي بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ} [ص: 24] ، فَقَالَ: {وَظَنَّ دَاوُدُ أَنَّمَا فَتَنَّاهُ فَاسْتَغْفَرَ رَبَّهُ وَخَرَّ رَاكِعًا وَأَنَابَ فَغَفَرْنَا لَهُ ذَلِكَ} ، وَنَصَّ عَلَى زَلَلِهِمْ، وَخَطَايَاهُمْ، وَأَخْبَرَ عَنْ غُفْرَانِهِ لِنَبِيِّهِ عليه السلام، وَلَمْ يَنُصَّ عَلَى شَيْءٍ مِنْ زَلَلِهِ إِكْرَامًا لَهُ، وَتَشْرِيفًا، فَقَالَ: {لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ} [الفتح: 2] ، فَهَذَا غَايَةُ الْفَضْلِ وَالشَّرَفِ. وَمِنْ فَضَائِلِهِ: أَخْذُ اللَّهِ الْمِيثَاقَ عَلَى جَمِيعِ أَنْبِيَائِهِ، إِنْ جَاءَهُمْ رَسُولٌ آمَنُوا بِهِ، وَنَصَرُوهُ، فَلَمْ يَكُنْ لَيُدْرِكُ أَحَدٌ مِنْهُمُ الرَّسُولَ إِلَّا وَجَبَ عَلَيْهِ الْإِيمَانُ بِهِ، وَالنُّصْرَةُ لَهُ؛ لِأَخْذِ الْمِيثَاقِ مِنْهُ، فَجَعَلَهُمْ كُلَّهُمْ أَتْبَاعًا لَهُ، يَلْزَمُهُمُ الِانْقِيَادُ وَالطَّاعَةُ لَهُ لَوْ أَدْرَكُوهُ
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবন আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বকর ইবন সাহল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবন সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবন আব্দুর রহমান, তিনি ইবন জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে এবং মুকাতিল থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: "{তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না} [আল-বাকারা: ১০৪], আর তা একারণে যে ইহুদিদের ভাষায় এটি ছিল একটি গালি। তিনি বলেন: {বরং বলো ‘উনযুরনা’} [আল-বাকারা: ১০৪] এর অর্থ হলো ‘আমাদের দিকে লক্ষ্য করুন’। এরপর মুমিনরা বলেছিল: যাকে আমরা এটি বলতে শুনব তার গর্দান উড়িয়ে দেব। এরপর ইহুদিরা তা বলা বন্ধ করল। তাঁর (রাসূলের) মর্যাদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) তাঁদের অস্বীকারকারীদের পক্ষ থেকে আরোপিত নির্বুদ্ধিতা, পথভ্রষ্টতা ও মিথ্যার অপবাদ নিজেদের থেকে প্রতিহত ও খণ্ডন করতেন। কিন্তু আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে নিজেই তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সুতরাং নূহের কওম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে তারা বলেছিল: {নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মধ্যে দেখছি} [আল-আরাফ: ৬০]। তখন তিনি নিজের পক্ষ থেকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছিলেন: {হে আমার কওম, আমার মধ্যে কোনো পথভ্রষ্টতা নেই} [আল-আরাফ: ৬১]। আর হূদ (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি তাদের উক্তি: {নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতার মাঝে দেখছি} [আল-আরাফ: ৬৬]। তখন তিনি তাঁর প্রতি যা আরোপ করা হয়েছিল তা অস্বীকার করে বলেছিলেন: {হে আমার কওম, আমার মধ্যে কোনো নির্বুদ্ধিতা নেই} [আল-আরাফ: ৬৭]। আর ফেরাউন মূসাকে বলেছিল: {হে মূসা, আমি তো তোমাকে জাদুগ্রস্ত মনে করি} [আল-ইসরা: ১০১]। তখন মূসা তাকে উত্তর দিয়ে বলেছিলেন: {হে ফেরাউন, আমি তো তোমাকে ধ্বংসপ্রাপ্ত মনে করি} [আল-ইসরা: ১০২]
⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ , অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্মান ও মহানুভবতা প্রদর্শনার্থে তারা তাঁর প্রতি যা আরোপ করেছিল তা থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন: {তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি উন্মাদ নও} [আল-কালাম: ২]। তিনি আরও বলেছেন: {আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটা তার জন্য শোভনীয়ও নয়} [ইয়াসীন: ৬৯]। আরও বলেছেন: {তোমাদের সাথী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি} [আন-নাজম: ২]। আল্লাহ তাঁকে জাদু, গণকগিরি এবং উম্মাদনার মতো যত অপবাদ তারা দিয়েছিল তা থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন: {তবে কি সে ব্যক্তি যে তার রবের পক্ষ থেকে আসা প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তার সাথে থাকে তাঁর পক্ষ থেকে এক সাক্ষী?} [হূদ: ১৭]। আর তাদের উপহাস থেকেও আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছেন যখন তারা বলেছিল: {আমরা কি তোমাদের এমন এক ব্যক্তির সন্ধান দেব, যে তোমাদের খবর দেয় যে যখন তোমরা সম্পূর্ণ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে (তখন তোমাদের পুনরায় সৃষ্টি করা হবে)?} [সাবা: ৭]। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: {বরং যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তারা আযাব ও ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত} [সাবা: ৮]। তাঁর মর্যাদাসমূহের আরও অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-কে সম্বোধন করে প্রবৃত্তি অনুসরণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {হে দাঊদ, আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলীফা বানিয়েছি, সুতরাং মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে বিচার করো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে}। আর আল্লাহ তাআলা নক্ষত্ররাজির অস্তাচল ও উদয়স্থল এবং কুরআনের অবতরণ ও তার স্থানসমূহের শপথ করার পর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। তিনি বলেছেন: {এবং তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না} [আন-নাজম: ৩]; এটি তাঁকে প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে নির্দোষ ও পবিত্র করার জন্য। তাঁর মর্যাদাসমূহের আরও অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবীর অবস্থা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের থেকে যা প্রকাশ পেয়েছিল তা ক্ষমা করার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন মূসার কিসসায় তিনি বলেছেন: {হে আমার রব, আমি তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছি} [আল-কাসাস: ৩৩]। তিনি আরও বলেছেন: {আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন} [আল-কাসাস: ১৬]। এখানে তিনি তাঁর গুনাহের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তাঁর রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আর দাঊদ সম্পর্কে খবর দিয়েছেন যখন দুই ফেরেশতা দেয়াল টপকে তাঁর কাছে এসেছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: {নিশ্চয়ই এ আমার ভাই, তার নিরানব্বইটি দুম্বা আছে আর আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা} [সোয়াদ: ২৩]। অতঃপর তিনি জুলুম ও অবিচারের কথা উল্লেখ করে বললেন: {সে তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বাগুলোর সাথে যুক্ত করার দাবি করে তোমার প্রতি অবশ্যই জুলুম করেছে। আর শরীকদের অনেকেই একে অপরের প্রতি জুলুম করে থাকে} [সোয়াদ: ২৪]। এরপর তিনি বললেন: {আর দাঊদ বুঝতে পারল যে আমি তাকে পরীক্ষা করেছি, তাই সে তার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং সেজদায় লুটিয়ে পড়ল ও তওবা করল। অতঃপর আমি তাকে তা ক্ষমা করে দিলাম}। এভাবে তিনি তাঁদের পদস্খলন ও ত্রুটিগুলোর কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর তিনি তাঁর নবী (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষমার কথা সংবাদ দিয়েছেন কিন্তু তাঁর কোনো পদস্খলনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি; বরং তাঁকে সম্মানিত ও মহিমান্বিত করার জন্য বলেছেন: {যাতে আল্লাহ তোমার অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন} [আল-ফাতহ: ২]। এটি হলো শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার চূড়ান্ত পর্যায়। তাঁর মর্যাদাসমূহের আরও অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ সকল নবীর নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন যে, যদি তাঁদের নিকট কোনো রাসূল আসেন তবে তাঁরা অবশ্যই তাঁর ওপর ঈমান আনবেন এবং তাঁকে সাহায্য করবেন। সুতরাং তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি যদি রাসূলের সাক্ষাৎ পেতেন তবে তাঁর ওপর ঈমান আনা এবং তাঁকে সাহায্য করা তাঁর জন্য ওয়াজিব হয়ে যেত; কারণ তাঁদের থেকে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল। এভাবে তিনি তাঁদের সকলকেই তাঁর অনুসারী বানিয়েছেন, যদি তাঁরা তাঁর সাক্ষাৎ পেতেন তবে তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করা তাঁদের জন্য আবশ্যক হতো।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
7 - وَذَلِكَ مَا حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، قَالَ: ثنا يُوسُفُ بْنُ الْحَكَمِ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الدَّعَّاءُ، ثنا هُشَيْمٌ، قَالَ: ثنا مُجَالِدٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: أَتَيْتُ الْنَبَيَّ صلى الله عليه وسلم، وَمَعِي كِتَابٌ أَصَبْتُهُ مِنْ بَعْضِ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَقَالَ:، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَوْ أَنَّ مُوسَى كَانَ حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا أَنْ يَتَّبِعَنِي، وَمِنْ فَضَائِلِهِ: أَنْ فَرَضَ اللَّهُ طَاعَتَهُ عَلَى الْعَالَمِ فَرْضًا مُطْلَقًا لَا شَرْطَ فِيهِ، وَلَا اسْتِثْنَاءَ، كَمَا فَرَضَ طَاعَتَهُ، فَقَالَ: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] ، وَلَمْ يَقُلْ مِنْ طَاعَتِي، أَوْ مِنْ كِتَابِي، أَوْ بِأَمْرِي ⦗ص: 47⦘، وَوَحْيِي، بَلْ فَرَضَ أَمْرَهُ وَنَهْيَهُ عَلَى الْخَلْقِ طُرًّا، كَفَرْضِ التَّنْزِيلِ لَا يُرَادُّ فِي ذَلِكَ، وَلَا يُحَاجُّ، وَلَا يُنَاظَرُ، وَلَا يُطْلَبُ مِنْهُ بَيِّنَةٌ، كَمَا أَخْبَرَ عَنْ قَوْمِ مُوسَى، فَقَالُوا: {لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً} [البقرة: 55] . وَمِنْ فَضَائِلِهِ: أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى عز وجل قَرَنَ اسْمَهُ بِاسْمِهِ فِي كِتَابِهِ عِنْدَ ذِكْرِ طَاعَتِهِ، وَمَعْصِيَتِهِ، وَفَرَائِضِهِ، وَأَحْكَامِهِ، وَوَعْدِهِ، وَوَعِيدِهِ، فَقَالَ: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [النساء: 59] ، وَقَالَ: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [الأنفال: 1] ، وَقَالَ: {وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ} [التوبة: 71] ، وَقَالَ: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ} [النور: 62] ، وَقَالَ: {اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ} [الأنفال: 24] ، وَقَالَ: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [النساء: 14] ، وَقَالَ: {إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [الأحزاب: 57] ، وَقَالَ: {بَرَاءَةٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} [التوبة: 1] ، {وَأَذَانٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} [التوبة: 3] ، وَقَالَ: {وَلَمْ يَتَّخِذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَا رَسُولِهِ} [التوبة: 16] ، وَقَالَ: {أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَنْ يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [التوبة: 63] ، وَقَالَ: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [المائدة: 33] ، وَقَالَ: {وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ} [التوبة: 29] ، وَقَالَ: {وَمَنْ يُشَاقِقِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} [الأنفال: 13] ، وَقَالَ {قُلِ الْأَنْفَالُ لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ} ، وَقَالَ {فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59] ، وَقَالَ: {وَلَوْ أَنَّهُمْ رَضُوا مَا آتَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ سَيُؤْتِينَا اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَرَسُولُهُ} [التوبة: 59] ، وَقَالَ: {فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ} [الأنفال: 41] ، وَقَالَ: {وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَغْنَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ} [التوبة: 74] ، وَقَالَ: {وَقَعَدَ الَّذِينَ كَذَبُوا اللَّهَ ⦗ص: 48⦘ وَرَسُولَهُ} [التوبة: 90] ، وَقَالَ: {أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ} [الأحزاب: 37] ، قَرَنَ اسْمَهُ بِاسْمِهِ فِي هَذِهِ الْأَحْكَامِ، وَالْأَحْوَالِ؛ تَعْظِيمًا لَهُ، وَتَشْرِيفًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وُسُلَّمَ
৭ - আর এটিই মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনুল হাকাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল দা'আ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুজালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শা'বি থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলাম, এমতাবস্থায় আমার সাথে আহলে কিতাবদের থেকে প্রাপ্ত একটি কিতাব ছিল। তখন তিনি বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, যদি মুসা জীবিত থাকতেন তবে আমাকে অনুসরণ করা ছাড়া তাঁর অন্য কোনো উপায় থাকত না।" এবং তাঁর (রাসূলের) মর্যাদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ বিশ্ববাসীর ওপর তাঁর আনুগত্যকে নিঃশর্তভাবে ফরয করেছেন, যাতে কোনো শর্ত বা ব্যতিক্রম নেই, ঠিক যেভাবে তিনি নিজের আনুগত্য ফরয করেছেন। তিনি বলেছেন: {আর রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]। তিনি এ কথা বলেননি যে, 'আমার আনুগত্য থেকে' অথবা 'আমার কিতাব থেকে' অথবা 'আমার আদেশে' ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ এবং 'আমার ওহী থেকে', বরং তিনি সমগ্র সৃষ্টির ওপর তাঁর আদেশ ও নিষেধকে ফরয করেছেন, ঠিক যেমন অবতীর্ণ ওহীকে ফরয করেছেন; যাতে কোনো প্রতিবাদ চলবে না, কোনো তর্ক করা যাবে না, কোনো বিতর্ক করা যাবে না এবং তাঁর কাছে কোনো প্রমাণ চাওয়া যাবে না; যেমনটি তিনি মুসার কউম সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা বলেছিল: {আমরা কখনোই তোমার ওপর ঈমান আনব না যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখতে পাই} [আল-বাকারা: ৫৫]। তাঁর মর্যাদাসমূহের আরও অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নিজের আনুগত্য, অবাধ্যতা, ফরযসমূহ, বিধানসমূহ, প্রতিশ্রুতি এবং হুঁশিয়ারির বর্ণনার সময় তাঁর নামের সাথে রাসূলের নাম যুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: {আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো} [আন-নিসা: ৫৯], এবং বলেছেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো যদি তোমরা মুমিন হও} [আল-আনফাল: ১], এবং বলেছেন: {এবং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তাদের ওপরই আল্লাহ দয়া করবেন} [আত-তাওবাহ: ৭১], এবং বলেছেন: {মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে} [আন-নূর: ৬২], এবং বলেছেন: {তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও} [আল-আনফাল: ২৪], এবং বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়} [আন-নিসা: ১৪], এবং বলেছেন: {নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়} [আল-আহজাব: ৫৭], এবং বলেছেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা} [আত-তাওবাহ: ১], {এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে এক ঘোষণা} [আত-তাওবাহ: ৩], এবং বলেছেন: {এবং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাড়া অন্য কাউকে (অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে) গ্রহণ করেনি} [আত-তাওবাহ: ১৬], এবং বলেছেন: {তারা কি জানে না যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে...} [আত-তাওবাহ: ৬৩], এবং বলেছেন: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের শাস্তি তো কেবল এই যে...} [আল-মায়িদাহ: ৩৩], এবং বলেছেন: {আর তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না} [আত-তাওবাহ: ২৯], এবং বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে} [আল-আনফাল: ১৩], এবং বলেছেন {বলো, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ ও রাসূলের}, এবং বলেছেন {তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও} [আন-নিসা: ৫৯], এবং বলেছেন: {আর যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট হতো এবং বলত, 'আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আল্লাহ অচিরেই আমাদের তাঁর অনুগ্রহ থেকে দান করবেন এবং তাঁর রাসূলও'...} [আত-তাওবাহ: ৫৯], এবং বলেছেন: {তবে জেনে রেখো যে, এর এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ ও রাসূলের জন্য} [আল-আনফাল: ৪১], এবং বলেছেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দিয়েছিলেন বলেই তারা শত্রুতা করেছিল} [আত-তাওবাহ: ৭৪], এবং বলেছেন: {আর যারা আল্লাহ ও ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ তাঁর রাসূলের কাছে মিথ্যা বলেছিল তারা বসে রইল} [আত-তাওবাহ: ৯০], এবং বলেছেন: {আল্লাহ যার ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার ওপর অনুগ্রহ করেছেন} [আল-আহজাব: ৩৭]। আল্লাহ এই সকল বিধান ও অবস্থায় রাসূলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তাঁকে মহিমান্বিত করার জন্য তাঁর নামের সাথে রাসূলের নাম যুক্ত করেছেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
مَا رُوِيَ فِي تَقَدُّمِ نُبُوَّتِهِ قَبْلَ تَمَامِ خَلْقِ آدَمَ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمَا وَسَلَامُهُ
আদম (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সৃষ্টি সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে তাঁর নবুওয়াতের অগ্রগণ্যতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
8 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ الْمِهْرَجَانِ، قَالَ: ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ، ثنا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ الثَّقَفِيُّ الدِّمَشْقِيُّ، قَالَ: ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: ثنا الْأَوْزَاعِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَتَى وَجَبَتْ لَكَ النُّبُوَّةُ؟ قَالَ: «بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ وَنَفْخِ الرُّوحِ فِيهِ،»
৮ - আহমাদ বিন ইয়াকুব বিন আল-মিহরাজান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফিরিয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর বিন হাফস আস-সাকাফি আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আওজায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার জন্য নবুওয়াত কখন নির্ধারিত হয়েছে? তিনি বললেন: «আদমকে সৃষ্টি করা এবং তাঁর মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে।»
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرِو مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَانَ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، ثنا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ هِلَالٍ السُّلَمِيِّ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «إِنِّي عِنْدَ اللَّهِ مَكْتُوبٌ لَخَاتَمُ النَّبِيِّينَ، وَإِنَّ آدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ،»
৯ - আমাদের নিকট আবু আমর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হামদান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হাসান বিন সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হারমালাহ বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট মুআবিয়াহ বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন সুওয়াইদ থেকে, তিনি আবদুল আ’লা বিন হিলাল আস-সুলামী থেকে, তিনি ইরবাদ বিন সারিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর নিকট শেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম, যখন আদম তাঁর কাদার মধ্যে শায়িত ছিলেন।»
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ: ثنا مُعَاوِيَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ الْكَلْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِلَالٍ السُّلَمِيِّ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي عِنْدَ اللَّهِ لَخَاتَمُ النَّبِيِّينَ، وَإِنَّ آدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ،»
১০ - আবু বকর বিন মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআবিয়াহ আমাদের নিকট সাঈদ বিন সুওয়াইদ আল-কালবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ বিন হিলাল আস-সুলামী থেকে, তিনি ইরবায বিন সারিয়াহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর নিকট সর্বশেষ নবী হিসেবে লিখিত ছিলাম, যখন আদম (আলাইহিস সালাম) আপন মাটির মধ্যে লীন ছিলেন।»
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شِيرَوَيْهِ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثنا مَعْمَرٌ، ثنا هَمَّامٌ، قَالَ: هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «نَحْنُ الْآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ،»
১১ - আবু আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শিরাওয়াইহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মা’মার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এটি সেই বিষয় যা আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «আমরা কিয়ামতের দিন শেষে এসেও অগ্রগামী হব।»
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ قَالَ: ثنا أَبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْحِيرِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَبِيبٍ، وثنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا مُوسَى بْنُ هَارُونَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عُمَرَ - وَرَّاقِ الْحُمَيْدِيِّ -، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي أُمُّ عُثْمَانَ بِنْتُ سَعِيدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهَا سَعِيدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي جُبَيْرَ بْنَ مُطْعِمٍ، يَقُولُ: " لَمَّا بَعَثَ اللَّهُ عز وجل نَبِيَّهُ، وَظَهَرَ أَمْرَهُ بِمَكَّةَ، خَرَجْتُ إِلَى الشَّامِ، فَلَمَّا كُنْتُ بِبُصْرَى أَتَانِي جَمَاعَةٌ مِنَ النَّصَارَى، فَقَالُوا لِي: مِنْ أَهْلِ الْحَرَامِ أَنْتَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالُوا: هَلْ تَعْرِفُ هَذَا الَّذِي تَنَبَّأَ فِيكُمْ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، فَأَخَذُوا بِيَدِي، فَأَدْخَلُونِي دَيْرًا، لَهُمْ فِيهِ تَمَاثِيلُ وَصُوَرٌ، فَقَالُوا: انْظُرْ، هَلْ تَرَى صُورَةَ هَذَا الَّذِي بُعِثَ؟ فَنَظَرْتُ فَلَمْ أَرَ صُورَتَهُ، فَقُلْتُ: لَا أَرَى صُورَتَهُ ⦗ص: 50⦘، فَأَدْخَلُونِي دَيْرًا أَكْبَرَ مِنْ ذَلِكَ الدَّيْرِ، فَإِذَا فِيهِ تَمَاثِيلُ وَصُورٌ أَكْثَرُ مِمَّا فِي ذَلِكَ الدَّيْرِ، فَقَالُوا لِي: انْظُرْ هَلْ تَرَى صُورَتَهُ؟ فَنَظَرْتُ، فَإِذَا أَنَا بِصِفَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصُورَتِهِ، وَإِذَا أَنَا بِصِفَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصُورَتِهِ، وَهُوَ آخِذٌ بِعَقِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا: هَلْ تَرَى صُورَتَهُ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، وَقُلْتُ: لَا أُخْبِرُكُمُ، حَتَّى أَعْلَمَ مَا تَقُولُونَ، قَالُوا: هُوَ هَذَا؟ قُلْتُ: نَعَمْ، وَأَشَارُوا إِلَى جَبْهَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: اللَّهُمَّ نَعَمْ، أَشْهَدُ أَنَّهُ هُوَ، قَالُوا: هَلْ تَعْرِفُ هَذَا؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالُوا لِي: نَشْهَدُ أَنَّ هَذَا صَاحِبُكُمْ، وَأَنَّ هَذَا لَخَلِيفَةٌ مِنْ بَعْدِهِ "
১২ - আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনুল ফজল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আমর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-হীরী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে শাবীব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, এবং সুলাইমান ইবনে আহমদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা ইবনে হারুন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস, ওমর - হুমাইদীর লিপিকার - থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদী উম্মু উসমান বিনতে সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর তাঁর পিতা সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা জুবাইর ইবনে মুতয়িমকে বলতে শুনেছি: "যখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর নবীকে প্রেরণ করলেন এবং মক্কায় তাঁর দাওয়াত প্রকাশ পেল, তখন আমি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলাম। যখন আমি বুসরায় পৌঁছালাম, তখন একদল খ্রিষ্টান আমার নিকট এল এবং তারা আমাকে বলল: আপনি কি হারামের (মক্কার) অধিবাসী? আমি বললাম: হ্যাঁ। তারা বলল: আপনাদের মধ্যে যিনি নবুয়তের দাবি করেছেন তাঁকে কি আপনি চেনেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। অতঃপর তারা আমার হাত ধরল এবং আমাকে তাদের একটি গির্জায় নিয়ে গেল যেখানে অনেক মূর্তি ও ছবি ছিল। তারা বলল: দেখুন, প্রেরিত সেই ব্যক্তির ছবি কি আপনি এখানে দেখতে পাচ্ছেন? আমি তাকালাম কিন্তু তাঁর ছবি দেখতে পেলাম না। আমি বললাম: আমি তাঁর ছবি দেখতে পাচ্ছি না ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘, অতঃপর তারা আমাকে সেই গির্জার চেয়েও বড় একটি গির্জায় নিয়ে গেল, সেখানে পূর্বের গির্জার চেয়েও অধিক পরিমাণে মূর্তি ও ছবি ছিল। তারা আমাকে বলল: দেখুন, আপনি কি তাঁর ছবি দেখতে পাচ্ছেন? আমি তাকালাম, তখন হঠাৎ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবয়ব ও তাঁর ছবি দেখতে পেলাম, আর হঠাৎ আমি আবু বকরের অবয়ব ও তাঁর ছবিও দেখতে পেলাম, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোড়ালি ধরে আছেন। তারা বলল: আপনি কি তাঁর ছবি দেখতে পাচ্ছেন? আমি বললাম: হ্যাঁ, এবং আমি বললাম: আমি তোমাদের কিছু বলব না যতক্ষণ না আমি জানতে পারি তোমরা কী বল। তারা বলল: তিনি কি ইনি? আমি বললাম: হ্যাঁ, এবং তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কপালের দিকে ইঙ্গিত করল। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহ, হ্যাঁ, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনিই তিনি। তারা বলল: আপনি কি একে চেনেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। তারা আমাকে বলল: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে ইনিই আপনাদের সেই ব্যক্তি (নবী), আর ইনি তাঁর পরবর্তী খলিফা।"
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَسَنِ، ثنا مَسْعُودُ بْنُ يَزِيدَ الْقَطَّانُ، قَالَ: ثنا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ: ثنا عَبَّادُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ الْقُرَشِيِّ، أَنَّ هِشَامَ بْنَ الْعَاصِ، وَنُعَيْمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، وَرَجُلًا، آخَرَ قَدْ سَمَّاهُ بُعِثُوا إِلَى مَلِكِ الرُّومِ زَمَنَ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ: " فَدَخَلْنَا عَلَى جَبَلَةَ بْنِ الْأَيْهَمِ، وَهُوَ بِالْغُوطَةِ، فَإِذَا عَلَيْهِ ثِيَابٌ سُودٌ، وَإِذَا كُلُّ شَيْءٍ حَوْلَهُ أَسْوَدُ، فَقَالَ: يَا هِشَامُ، كَلِّمْهُ، فَكَلَّمَهُ وَدَعَاهُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى، فَقَالَ: مَا هَذِهِ الثِّيَابُ السُّودُ؟ قَالَ: لَبِسْتُهَا نَذْرًا، وَلَا أَنْزِعُهَا، حَتَّى أُخْرِجَكُمْ مِنَ الشَّامِ كُلِّهَا، قَالَ: فَقُلْنَا: فَوَاللَّهِ، لَنَأْخُذَنَّهُ مِنْكَ، وَمُلْكَ الْمَلِكِ الْأَعْظَمِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ نَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَأَنْتُمْ إِذًا السَّمْرَاءُ؟ قُلْنَا: السَّمْرَاءُ ⦗ص: 51⦘ قَالَ: لَسْتُمْ بِهِمْ، قُلْنَا: وَمَنْ هُمْ؟ قَالَ: هُمُ الَّذِينَ يَصُومُونَ بِالنَّهَارِ، وَيَقُومُونَ اللَّيْلَ، قُلْنَا: نَحْنُ هُمْ وَاللَّهِ، قَالَ: فَكَيْفَ صَوْمُكُمْ؟ فَوَصَفْنَا لَهُ صَوْمَنَا، قَالَ: فَكَيْفَ صَلَاتُكُمْ؟ فَوَصَفْنَا لَهُ صَلَاتَنَا، قَالَ: فَاللَّهُ يَعْلَمُ لَقَدْ غَشِيَهُ سَوَادٌ، حَتَّى صَارَ وَجْهُهُ كَأَنَّهُ قِطْعَةُ مِنْ طَابِقٍ، قَالَ: قُومُوا، فَأَمَرَ بِنَا إِلَى الْمَلِكِ، قَالَ: فَانْطَلَقْنَا، فَلَقِيَنَا الرَّسُولُ بِبَابِ الْمَدِينَةِ، فَقَالَ: إِنْ شِئْتُمْ أَتَيْتُكُمْ بِبِغَالٍ، وَإِنْ شِئْتُمْ أَتَيْتُكُمْ بِبَرَاذِينَ؟ فَقُلْنَا: لَا وَاللَّهِ، لَا نَدْخُلُ عَلَيْهِ إِلَّا كَمَا نَحْنُ، قَالَ: فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ أَنَّهُمْ يَأْبَوْنَ قَالَ: فَأَرْسَلَ أَنْ خَلِّ سَبِيلَهُمْ، قَالَ: فَدَخَلْنَا مُتَعَمِّمِينَ، مُتَقَلِّدِينَ السُّيُوفَ عَلَى الرَّوَاحِلِ، فَلَمَّا كُنَّا بِبَابِ الْمَلِكِ، إِذَا هُوَ فِي غُرْفَةٍ عَالِيَةٍ، فَنَظَرَ إِلَيْنَا، قَالَ: فَرَفَعْنَا رُءوسَنَا، فَقُلْنَا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، قَالَ: فَاللَّهُ يَعْلَمُ لَنَفَضَتِ الْغُرْفَةُ كُلُّهَا، حَتَّى كَأَنَّهَا عِذْقٌ نَفَضَتْهُ الرِّيحُ، قَالَ: فَأَرْسَلَ إِلَيْنَا إنَّ هَذَا لَيْسَ لَكُمْ، أَنْ تَجْهَرُوا بِدِينِكُمْ عَلَيَّ، فَأَرْسَلَ إِلَيْنَا أَنِ ادْخُلُوا، فَدَخَلْنَا، فَإِذَا هُوَ عَلَى فِرَاشٍ إِلَى السَّقْفِ، وَإِذَا عَلَيْهِ ثِيَابٌ حُمْرٌ، وَإِذَا كُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ أَحْمَرُ، وَإِذَا عِنْدَهُ بَطَارِقَةُ الرُّومِ، قَالَ: وَإِذَا هُوَ يُرِيدُ أَنْ يُكَلِّمَنَا بِرَسُولٍ، فَقُلْنَا: لَا وَاللَّهِ، لَا نُكَلِّمُهُ بِرَسُولٍ، وَإِنَّمَا بُعِثْنَا إِلَى الْمَلِكِ، فَإِنْ كُنْتَ تُحِبُّ أَنْ نُكَلِّمَكَ، فَائْذَنْ لَنَا نُكَلِّمْكَ، فَلَمَّا دَخَلْنَا عَلَيْهِ ضَحِكَ، فَإِذَا هُوَ رَجُلٌ فَصِيحٌ يُحْسِنُ الْعَرَبِيَّةَ، فَقُلْنَا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، قَالَ: فَاللَّهُ يَعْلَمُ لَقَدْ نَفَضَ السَّقْفُ حَتَّى رَفَعَ رَأْسَهُ هُوَ ⦗ص: 52⦘ وَأَصْحَابُهُ، فَقَالَ: مَا أَعْظَمُ كَلَامِكُمْ عِنْدَكُمْ؟ فَقُلْنَا: هَذِهِ الْكَلِمَةُ قَالَ: الَّتِي قُلْتُمَاهَا قَبْلُ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَ: وَإِذَا قُلْتُمُوهَا فِي بِلَادِ عَدُوِّكُمْ نَفَضَتْ سُقُوفُهُمْ؟ قُلْنَا: لَا، قَالَ: فَإِذَا قُلْتُمُوهَا فِي بِلَادِكُمْ نَفَضَتْ سُقُوفُكُمْ؟ قُلْنَا: لَا، وَمَا رَأَيْنَاهَا فَعَلَتْ هَذَا، وَمَا هُوَ إِلَّا شَيْءٌ مُيِّزْتَ بِهِ، فَقَالَ: مَا أَحْسَنَ الصِّدْقَ فَمَا تَقُولُونَ إِذَا فَتَحْتُمُ الْمَدَائِنَ؟ قَالُوا: نَقُولُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، قَالَ: تَقُولُونَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ لَيْسَ مَعَهُ شَيْءٌ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، أَكْبَرُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَ: فَمَا مَنَعَكُمْ أَنْ تُحَيُّونِي بِتَحِيَّتِكُمْ بَيْنَكُمْ؟ قُلْنَا: إِنَّ تَحِيَّةً بَيْنَنَا لَا تَحِلُّ لَكَ، وَتَحِيَّتُكَ لَا تَحِلُّ لَنَا فَنُحَيِّيكَ بِهَا، قَالَ: وَمَا تَحِيَّتُكُمْ؟ قُلْنَا: تَحِيَّةُ أَهْلِ الْجَنَّةِ، قَالَ: وَبِهَا كُنْتُمْ تُحَيُّونَ نَبِيَّكُمْ؟ قُلْنَا: نَعَمْ قَالَ: وَبِهَا يُحَيِّيكُمْ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَ: فَمَنْ كَانَ يُورَثُ مِنْكُمْ؟ قُلْنَا: مَنْ كَانَ أَقْرَبَ قَرَابَةٍ، قَالَ: وَكَذَلِكُمْ مُلُوكُكُمْ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَ: فَأَمَرَ لَنَا بِمَنْزِلٍ كَبِيرٍ، وَمَنْزِلٍ حَسَنٍ، قَالَ: فَمَكَثْنَا ثَلَاثًا، ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَيْنَا لَيْلًا، فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ، وَلَيْسَ عِنْدَهُ أَحَدٌ، فَاسْتَعَادَنَا كَلَامَنَا، فَأَعَدْنَاهُ عَلَيْهِ، فَإِذَا عِنْدَهُ شِبْهُ الرَّبْعَةِ الْعَظِيمَةِ مُذَهَّبَةٌ، وَإِذَا فِيهَا أَبْوَابٌ صِغَارٌ ⦗ص: 53⦘، فَفَتَحَ مِنْهَا بَابًا، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ خِرْقَةَ حَرِيرٍ سَوْدَاءَ، فِيهَا صُورَةٌ بَيْضَاءُ، فَإِذَا رَجُلٌ طَوِيلٌ أَكْثَرُ النَّاسِ شَعْرًا، فَقَالَ: تَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا، قَالَ: هَذَا آدَمُ، ثُمَّ أَعَادَهُ، وَفَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ حَرِيرَةً سَوْدَاءَ، فِيهَا صُورَةٌ بَيْضَاءُ، فَإِذَا رَجُلٌ ضَخْمُ الرَّأْسِ، عَظِيمٌ، لَهُ شَعَرٌ كَشَعْرِ الْقِبْطِ، أَعْظَمُ النَّاسِ إِلْيَتَيْنِ، أَحْمَرُ الْعَيْنَيْنِ، فَقَالَ: أَتَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا، قَالَ: هَذَا نُوحٌ، ثُمَّ أَعَادَهُ، وَفَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ حَرِيرَةً سَوْدَاءَ، فِيهَا صُورَةٌ بَيْضَاءُ، فَإِذَا رَجُلٌ أَبْيَضُ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ، كَأَنَّهُ حَيُّ يَتَبَسَّمُ، فَقَالَ: أَتَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا، فَقَالَ: هَذَا إِبْرَاهِيمُ، ثُمَّ أَعَادَهُ، وَفَتَحَ بَابًا آخَرَ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ حَرِيرَةً سَوْدَاءَ، فِيهَا صُورَةٌ بَيْضَاءُ، قَالَ: قُلْنَا: النَّبِيُّ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: هَذَا وَاللَّهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: فَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنَّهُ قَامَ، ثُمَّ قَعَدَ، ثُمَّ قَالَ: آللَّهِ بِدِينِكُمْ، إِنَّهُ نَبِيُّكُمْ؟ قُلْنَا: آللَّهِ بِدِينِنَا إِنَّهُ نَبِيُّنَا، كَأَنَّمَا نَنْظُرُ إِلَيْهِ حَيًّا، قَالَ: إِنَّمَا كَانَ آخِرَ الْأَبْوَابِ، وَلَكِنِّي عَجَّلْتُهُ؛ لِأَنْظُرَ مَاذَا عِنْدَكُمْ، ثُمَّ أَعَادَهُ، وَفَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ خِرْقَةً سَوْدَاءَ، فِيهَا صُورَةٌ بَيْضَاءُ، فَإِذَا رَجُلٌ مُقَلَّصُ الشَّفَتَيْنِ، غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ، مُتَرَاكِبُ الْأَسْنَانِ، كَثُّ اللِّحْيَةِ عَابِسٌ، فَقَالَ: تَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا، قَالَ: هَذَا مُوسَى، وَإِلَى جَنْبِهِ رَجُلٌ يُشْبِهُهَ غَيْرَ أَنَّ فِي عَيْنَيْهِ قُبْلًا، وَفِي رَأْسِهِ اسْتِدَارَةٌ، فَقَالَ: هَذَا هَارُونُ، ثُمَّ رَفَعَهَا، ثُمَّ فَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ خِرْقَةً سَوْدَاءَ، فِيهَا صُورَةٌ حَمْرَاءُ، أَوْ ⦗ص: 54⦘ بَيْضَاءُ، وَإِذَا رَجُلٌ مَرْبُوعٌ، فَقَالَ: تَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا، قَالَ: هَذَا دَاوُدُ، ثُمَّ أَعَادَهُ، وَفَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ حَرِيرَةً، أَوْ خِرْقَةً سَوْدَاءَ، فِيهَا صُورَةٌ بَيْضَاءُ، وَإِذَا رَجُلٌ رَاكِبٌ عَلَى فَرَسٍ طَوِيلِ الرِّجْلَيْنِ، قِصِيرِ الظَّهْرِ، كُلُّ شَيْءٍ مِنْهُ جَنَاحٌ تَحُفُّهُ الرِّيحُ، قَالَ: أَتَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا، قَالَ: سُلَيْمَانُ، ثُمَّ أَعَادَهُ، وَفَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ حَرِيرَةً سَوْدَاءَ، فِيهَا صُورَةٌ بَيْضَاءُ، وَإِذَا صُورَةُ شَابٍّ تَعْلُوهُ صُفْرَةٌ، صَلْتُ الْجَبِينِ، حَسَنُ اللِّحْيَةِ، يُشْبِهُهُ كُلُّ شَيْءٍ مِنْهُ قَالَ: أَتَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا، قَالَ: هَذَا عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ، ثُمَّ أَعَادَهُ، وَأَمَرَ بِالرَّبْعَةِ، فَرُفِعَتْ، فَقُلْنَا: هَذِهِ صُورَةُ نَبِيِّنَا، قَدْ عَرَفْنَاهَا، فَإِنَّا قَدْ رَأَيْنَاهُ فَهَذِهِ الصُّوَرُ الَّتِي لَمْ نَرَهَا كَيْفَ نَعْرِفُهَا أَنَّهَا هِيَ؟ فَقَالَ: إِنَّ آدَمَ عليه السلام سَأَلَ رَبَّهُ أَنْ يُرِيَهُ صُورَةَ نَبِيٍّ نَبِيٍّ، فَأَخْرَجَ إِلَيْهِ صُوَرَهُمْ فِي خِرَقِ الْحَرِيرِ مِنَ الْجَنَّةِ، فَأَصَابَهَا ذُو الْقَرْنَيْنِ فِي خِزَانَةِ آدَمَ فِي مَغْرِبِ الشَّمْسِ، فَلَمَّا كَانَ دَانْيَالُ صَوَّرَهَا هَذِهِ الصُّوَرَ، فَهِيَ بِأَعْيَانِهَا، فَوَاللَّهِ لَوْ تَطِيبُ نَفْسِي فِي الْخُرُوجِ عَنْ مُلْكِي مَا بَالَيْتُ أَنْ أَكُونَ عَبْدًا لِأَشَدِّكُمْ مَلَكَةً، وَلَكِنْ عَسَى أَنْ تَطِيبَ نَفْسِي قَالَ: فَأَحْسَنَ جَائِزَتَنَا، وَأَخْرَجَنَا. وَفِي رِوَايَةِ شُرَحْبِيلَ: فَفَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ حَرِيرَةً بَيْضَاءَ، إِذَا فِيهَا صُورَةُ رَجُلٍ، كَأَنَّهُ صُورَةُ آدَمَ سَبْطٍ رَبْعَةٍ، كَأَنَّهُ غَضْبَانُ حَسَنُ الْوَجْهِ قَالَ: هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا قَالَ: هَذَا لُوطٌ، ثُمَّ أَعَادَهُ ⦗ص: 55⦘، وَفَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ حَرِيرَةً بَيْضَاءَ، فِيهَا صُورَةُ رَجُلٍ أَبْيَضَ، مُشْرَبِ حُمْرَةٍ، أَحْنَى خَفِيفِ الْعَارِضَيْنِ، حَسَنِ الْوَجْهِ قَالَ: هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا قَالَ: هَذَا إِسْحَاقُ، ثُمَّ فَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ حَرِيرَةً بَيْضَاءَ، فِيهَا صُورَةٌ تُشْبِهُ صُورَةَ إِسْحَاقَ، إِلَّا أَنَّ عَلَى شَفَتِهِ السُّفْلَى خَالًا قَالَ: تَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا قَالَ: هَذَا يَعْقُوبُ، ثُمَّ فَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ حَرِيرَةً بَيْضَاءَ، فِيهَا صُورَةُ رَجُلٍ أَبْيَضَ، حَسَنِ الْوَجْهِ، أَقْنَى الْأَنْفِ، حَسَنِ الْقَامَةِ، يَعْلُو وَجْهَهُ النُّورُ، يُعْرَفُ فِي وَجْهِهِ الْخُشُوعُ، يَضْرِبُ إِلَى الْحُمْرَةِ، فَقَالَ: هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا قَالَ: هَذَا إِسْمَاعِيلُ جَدُّ نَبِيِّكُمْ، ثُمَّ فَتَحَ بَابًا آخَرَ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ حَرِيرَةً بَيْضَاءَ، فِيهَا صُورَةُ رَجُلٍ كَأَنَّهُ صُورَةُ آدَمَ، كَأَنَّ وَجْهَهُ الشَّمْسُ قَالَ: هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ قُلْنَا: لَا قَالَ: يُوسُفُ، ثُمَّ ذَكَرَ الْقِصَّةَ إِلَى آخِرِهَا، وَزَادَ: فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى أَبِي بَكْرٍ حَدَّثْنَاهُ بِمَا رَأَيْنَا، وَمَا قَالَ لَنَا، وَمَا أَدْنَانَا، فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ، وَقَالَ: مِسْكِينٌ لَوْ أَرَادَ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا لَفَعَلَ، ثُمَّ قَالَ: أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمُ الْيَهُودُ يَجِدُونَ بَعْثَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ اللَّهُ عز وجل: {يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ} [الأعراف: 157] قَالَ الشَّيْخُ رضي الله عنه: فَفِي هَذِهِ الْقِصَّةِ عِلْمُ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ بِصِفَةِ نَبِيِّنَا عليه السلام وَبِاسْمِهِ، وبَبَعْثِهِ ⦗ص: 56⦘، وَانْتِفَاضِ الْغُرْفَةِ حِينَ أَهَلُّوا بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَمَا يُوجَدُ مِنَ الْمُعْجِزَاتِ بَعْدَ مَوْتِ الْأَنْبِيَاءِ، كَمَا يُوجَدُ أَمْثَالُهَا قَبْلَ بَعْثَتِهِمْ إِعْلَامًا، وَإِيذَانًا بِقُرْبِ مَبْعَثِهِمْ وَمَجِيئِهِمْ، وَلِهَذَا قَرَائِنُ وَنَظَائِرُ تُذْكَرُ فِي تَضَاعِيفِ الْأَبْوَابِ عَلَى مَا شَرَطْنَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى
১৩ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মাসউদ ইবনে ইয়াজিদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আব্বাদ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুসা ইবনে উকবা আল-কুরাশি থেকে বর্ণনা করেন যে, হিশাম ইবনুল আস, নুয়াইম ইবনে আব্দুল্লাহ এবং আরও একজন ব্যক্তি যার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন, আবু বকর (রা.)-এর যুগে রোম সম্রাটের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন: "আমরা জাবালাহ বিন আল-আয়হামের নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি গুতায় অবস্থান করছিলেন। দেখা গেল তিনি কালো পোশাক পরে আছেন এবং তার চারপাশের সবকিছুই কালো। তিনি বললেন: হে হিশাম, তার সাথে কথা বলো। হিশাম তার সাথে কথা বললেন এবং তাকে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন। হিশাম জিজ্ঞাসা করলেন: এই কালো পোশাক কেন? তিনি বললেন: আমি এটি মানত হিসেবে পরেছি এবং সিরিয়ার সম্পূর্ণ এলাকা থেকে তোমাদের বের না করা পর্যন্ত আমি তা খুলব না। তিনি বলেন: আমরা বললাম: আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই এটি তোমার নিকট থেকে এবং মহান সম্রাটের সাম্রাজ্য ছিনিয়ে নেব ইনশাআল্লাহ। আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের তা জানিয়েছেন। তিনি বললেন: তবে কি তোমরাই সেই বাদামী বর্ণের লোক? আমরা বললাম: বাদামী বর্ণের লোক... ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ তিনি বললেন: তোমরা তারা নও। আমরা বললাম: তবে তারা কারা? তিনি বললেন: তারা হলো সেইসব লোক যারা দিনে রোজা রাখে এবং রাতে নামাজে দাঁড়ায়। আমরা বললাম: আল্লাহর কসম, আমরাই তারা। তিনি বললেন: তোমাদের রোজা কেমন? আমরা তার কাছে আমাদের রোজার বর্ণনা দিলাম। তিনি বললেন: তোমাদের নামাজ কেমন? আমরা তার কাছে আমাদের নামাজের বর্ণনা দিলাম। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহ জানেন, তার চেহারা ম্লান হয়ে কালো হয়ে গেল, যেন তা মাটির চুলার একটি অংশ। তিনি বললেন: দাঁড়াও। এরপর তিনি আমাদের সম্রাটের কাছে পাঠানোর আদেশ দিলেন।"
"তিনি বলেন: আমরা রওয়ানা হলাম। শহরের দরজায় সম্রাটের দূতের সাথে আমাদের দেখা হলো। তিনি বললেন: তোমরা চাইলে আমি তোমাদের জন্য খচ্চর নিয়ে আসব, আর চাইলে ঘোড়া নিয়ে আসব। আমরা বললাম: না, আল্লাহর কসম, আমরা যেভাবে আছি সেভাবেই তার নিকট প্রবেশ করব। দূত সম্রাটের নিকট সংবাদ পাঠালেন যে তারা অস্বীকার করছে। সম্রাট সংবাদ পাঠালেন যে তাদের পথ ছেড়ে দাও। তিনি বলেন: আমরা পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় এবং পিঠে তলোয়ার ঝুলিয়ে বাহনে চড়ে প্রবেশ করলাম। যখন আমরা সম্রাটের দরজায় পৌঁছলাম, তিনি তখন একটি উঁচু কক্ষে ছিলেন। তিনি আমাদের দিকে তাকালেন। আমরা আমাদের মাথা উঁচু করলাম এবং বললাম: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহ জানেন, পুরো কক্ষটি এমনভাবে কেঁপে উঠল যেন বাতাসের ঝাপটায় কোনো গাছের শাখা কাঁপছে। সম্রাট আমাদের নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, আমার সামনে তোমাদের দ্বীনের উচ্চরধ্বনি করা তোমাদের জন্য সমীচীন নয়। এরপর তিনি আমাদের প্রবেশের অনুমতি দিলেন এবং আমরা প্রবেশ করলাম। দেখা গেল তিনি ছাদ পর্যন্ত উঁচু একটি বিছানায় আছেন এবং লাল পোশাক পরিহিত, তার চারপাশের সবকিছুই লাল। তার কাছে রোমের পাদ্রী ও সেনাপতিরা উপস্থিত ছিল। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি একজন দোভাষীর মাধ্যমে আমাদের সাথে কথা বলতে চাইলেন। আমরা বললাম: না, আল্লাহর কসম, আমরা দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলব না। আমরা কেবল সম্রাটের নিকট প্রেরিত হয়েছি। আপনি যদি আমাদের সাথে কথা বলতে চান তবে আমাদের অনুমতি দিন, আমরা আপনার সাথে কথা বলব। আমরা যখন তার নিকট প্রবেশ করলাম, তিনি হাসলেন। তিনি ছিলেন একজন প্রাঞ্জল ভাষী ব্যক্তি যিনি আরবী ভাষা ভালো জানতেন। আমরা বললাম: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহ জানেন, ছাদটি এমনভাবে কেঁপে উঠল যে তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ এবং তার সঙ্গীরা মাথা উঁচু করে দেখলেন। তিনি বললেন: তোমাদের নিকট সবচেয়ে মহান বাক্য কোনটি? আমরা বললাম: এই বাক্যটিই। তিনি বললেন: যা তোমরা আগে বলেছিলে? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমরা যখন তোমাদের শত্রুর দেশে এটি বলো তখন কি তাদের ছাদ কেঁপে ওঠে? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: তোমরা যখন তোমাদের নিজ দেশে এটি বলো তখন কি তোমাদের ছাদ কেঁপে ওঠে? আমরা বললাম: না, আমরা এমনটি হতে দেখিনি। এটি কেবল এমন কিছু যা দ্বারা আপনাকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে। তিনি বললেন: সত্যবাদিতা কতই না চমৎকার! তোমরা যখন শহরগুলো জয় করবে তখন কী বলবে? তারা বলল: আমরা বলব: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। তিনি বললেন: তোমরা বলবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, যার সাথে আর কেউ নেই এবং আল্লাহ সবচেয়ে মহান, সবকিছুর চেয়ে মহান? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমাদের নিজেদের মধ্যে যে অভিবাদন প্রচলিত তা দিয়ে আমাকে অভিবাদন জানাতে তোমাদের কিসে বাধা দিল? আমরা বললাম: আমাদের মধ্যকার অভিবাদন আপনার জন্য বৈধ নয় এবং আপনার অভিবাদন আমাদের জন্য বৈধ নয় যে আমরা তা দিয়ে আপনাকে অভিবাদন জানাব। তিনি বললেন: তোমাদের অভিবাদন কী? আমরা বললাম: জান্নাতবাসীদের অভিবাদন। তিনি বললেন: তোমরা কি এভাবেই তোমাদের নবীকে অভিবাদন জানাতে? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তিনিও কি তোমাদের এভাবেই অভিবাদন জানাতেন? আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে উত্তরাধিকারী কে হয়? আমরা বললাম: যে নিকটতম আত্মীয়। তিনি বললেন: তোমাদের রাজাদের ক্ষেত্রেও কি তাই? আমরা বললাম: হ্যাঁ। এরপর তিনি আমাদের জন্য একটি বিশাল ও সুন্দর বাসস্থানের আদেশ দিলেন।"
"তিনি বলেন: আমরা সেখানে তিন দিন অবস্থান করলাম। এরপর তিনি রাতে আমাদের ডেকে পাঠালেন। আমরা তার নিকট প্রবেশ করলাম, সেখানে অন্য কেউ ছিল না। তিনি আমাদের কথাগুলো পুনরায় শুনতে চাইলেন, আমরা তা শোনালাম। সেখানে একটি বিশাল স্বর্ণখচিত সিন্দুকের মতো বস্তু ছিল যাতে ছোট ছোট দরজা ছিল ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘। তিনি তার একটি দরজা খুললেন এবং সেখান থেকে একটি কালো রেশমি কাপড় বের করলেন যাতে একটি সাদা ছবি ছিল। সেখানে একজন দীর্ঘকায় ব্যক্তি ছিলেন যার চুল ছিল প্রচুর। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইনি আদম। এরপর তিনি সেটি ফিরিয়ে রাখলেন এবং অন্য একটি দরজা খুললেন। সেখান থেকে একটি কালো রেশমি কাপড় বের করলেন যাতে একটি সাদা ছবি ছিল। সেখানে একজন বৃহৎ মস্তক বিশিষ্ট, বিশালদেহী ব্যক্তি ছিলেন যার চুল কিবতিদের চুলের মতো ছিল, তার নিতম্ব ছিল বিশাল এবং চোখ দুটি লালচে। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইনি নূহ। এরপর তিনি সেটি ফিরিয়ে রাখলেন এবং অন্য একটি দরজা খুললেন। সেখান থেকে একটি কালো রেশমি কাপড় বের করলেন যাতে একটি সাদা ছবি ছিল। সেখানে সাদা মস্তক ও দাড়ি বিশিষ্ট একজন ব্যক্তি ছিলেন, যেন তিনি জীবন্ত এবং হাসছেন। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইনি ইব্রাহিম। এরপর তিনি সেটি ফিরিয়ে রাখলেন এবং অন্য একটি দরজা খুললেন। সেখান থেকে একটি কালো রেশমি কাপড় বের করলেন যাতে একটি সাদা ছবি ছিল। তিনি বলেন: আমরা বললাম: নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, ইনিই আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহ জানেন যে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন, এরপর বসলেন এবং বললেন: তোমাদের দ্বীনের কসম, ইনিই কি তোমাদের নবী? আমরা বললাম: আমাদের দ্বীনের কসম, ইনিই আমাদের নবী, যেন আমরা তাকে জীবন্ত দেখছি। তিনি বললেন: এটি ছিল সর্বশেষ দরজায়, কিন্তু তোমাদের কাছে কী আছে তা দেখার জন্য আমি এটি আগে বের করেছি। এরপর তিনি সেটি ফিরিয়ে রাখলেন এবং অন্য একটি দরজা খুললেন। সেখান থেকে একটি কালো কাপড় বের করলেন যাতে একটি সাদা ছবি ছিল। সেখানে একজন সংকুচিত ওষ্ঠ বিশিষ্ট, কোটরগত চক্ষু বিশিষ্ট, ঘন দাঁত বিশিষ্ট, ঘন দাড়িওয়ালা এবং গম্ভীর চেহারার ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইনি মুসা। তার পাশে একজন লোক ছিল তার সদৃশ, তবে তার চোখ দুটি ছিল কিছুটা বাঁকা এবং মাথাটি ছিল গোলাকার। তিনি বললেন: ইনি হারুন। এরপর তিনি সেটি তুলে নিলেন এবং অন্য একটি দরজা খুললেন। সেখান থেকে একটি কালো কাপড় বের করলেন যাতে একটি লাল অথবা ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ সাদা ছবি ছিল। সেখানে একজন মাঝারি গড়নের লোক ছিলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইনি দাউদ। এরপর তিনি সেটি ফিরিয়ে রাখলেন এবং অন্য একটি দরজা খুললেন। সেখান থেকে একটি রেশমি বা কালো কাপড় বের করলেন যাতে একটি সাদা ছবি ছিল। সেখানে দীর্ঘ পা ও ছোট পিঠ বিশিষ্ট একটি ঘোড়ার ওপর আরোহী একজন ব্যক্তি ছিলেন, তার প্রতিটি অংশ যেন ডানা যা বাতাস বেষ্টন করে আছে। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: সুলাইমান। এরপর তিনি সেটি ফিরিয়ে রাখলেন এবং অন্য একটি দরজা খুললেন। সেখান থেকে একটি কালো রেশমি কাপড় বের করলেন যাতে একটি সাদা ছবি ছিল। সেখানে একজন যুবকের ছবি ছিল যার গায়ে হলদে আভা, প্রশস্ত কপাল ও সুন্দর দাড়ি ছিল এবং তার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইনি ঈসা ইবনে মারিয়াম। এরপর তিনি সেটি ফিরিয়ে রাখলেন এবং সিন্দুকটি তুলে রাখার আদেশ দিলেন। আমরা বললাম: এটি আমাদের নবীর ছবি, আমরা তা চিনেছি কারণ আমরা তাকে দেখেছি। কিন্তু এই ছবিগুলো যা আমরা দেখিনি, সেগুলো যে তাদেরই তা আমরা কীভাবে জানব? তিনি বললেন: আদম (আলাইহিস সালাম) তার রবের কাছে আবেদন করেছিলেন যে তিনি যেন তাকে প্রত্যেক নবীর ছবি দেখান। তখন আল্লাহ জান্নাত থেকে রেশমি কাপড়ে তাদের ছবি বের করে তাকে দিয়েছিলেন। যুল-কারনাইন সূর্যাস্তের স্থানে আদমের ভাণ্ডারে সেগুলো পেয়েছিলেন। এরপর দানিয়াল সেই ছবিগুলোই অঙ্কন করেছিলেন। আল্লাহর কসম, আমার অন্তর যদি রাজত্ব ত্যাগ করতে রাজি হতো, তবে আমি তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে কঠোর তার অধীনে গোলাম হয়ে থাকতেও দ্বিধা করতাম না। কিন্তু সম্ভবত আমার অন্তর তা মেনে নেবে। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি আমাদের উত্তম পুরস্কার দিলেন এবং বিদায় দিলেন।"
"শুরাহবিলের বর্ণনায় রয়েছে: তিনি অন্য একটি দরজা খুললেন এবং একটি সাদা রেশমি কাপড় বের করলেন। তাতে একজন লোকের ছবি ছিল, যেন তিনি আদমের আকৃতিসম্পন্ন, ঋজু ও মাঝারি গড়নের, যেন তিনি রাগান্বিত এবং তার চেহারা ছিল সুন্দর। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইনি লুত। এরপর তিনি সেটি ফিরিয়ে রাখলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ এবং অন্য একটি দরজা খুললেন। সেখান থেকে একটি সাদা রেশমি কাপড় বের করলেন যাতে একজন গৌরবর্ণ ব্যক্তির ছবি ছিল যার গায়ে লালচে আভা ছিল, তিনি ছিলেন কিছুটা অবনত, দাড়ি ছিল হালকা এবং চেহারা সুন্দর। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইনি ইসহাক। এরপর তিনি অন্য একটি দরজা খুললেন এবং একটি সাদা রেশমি কাপড় বের করলেন। তাতে ইসহাকের ছবির মতো একটি ছবি ছিল, তবে তার নিচের ঠোঁটে একটি তিল ছিল। তিনি বললেন: একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইনি ইয়াকুব। এরপর তিনি অন্য একটি দরজা খুললেন এবং একটি সাদা রেশমি কাপড় বের করলেন। তাতে একজন গৌরবর্ণ লোকের ছবি ছিল যার চেহারা সুন্দর, নাকটি দীর্ঘ ও উন্নত, সুঠাম দেহী, যার চেহারায় নূর চমকাচ্ছিল এবং বিনয় প্রকাশ পাচ্ছিল, গায়ের রং লালচে আভা যুক্ত। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইনি ইসমাইল, তোমাদের নবীর পূর্বপুরুষ। এরপর তিনি অন্য একটি দরজা খুললেন এবং একটি সাদা রেশমি কাপড় বের করলেন। তাতে আদমের ছবির মতো একজন লোকের ছবি ছিল, যেন তার চেহারাটি সূর্য। তিনি বললেন: তোমরা কি একে চেনো? আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: ইউসুফ। অতঃপর তিনি গল্পের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন এবং আরও বললেন: আমরা যখন আবু বকর (রা.)-এর নিকট ফিরে এলাম, তখন আমরা যা দেখেছি, সম্রাট আমাদের যা বলেছিলেন এবং আমাদের যে সম্মান দিয়েছিলেন তা তার কাছে বর্ণনা করলাম। তখন আবু বকর (রা.) কাঁদলেন এবং বললেন: বেচারা! আল্লাহ যদি তার কল্যাণ চাইতেন তবে তিনি তা করতেন। এরপর তিনি বললেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জানিয়েছিলেন যে, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবির্ভাবের কথা (তাদের কিতাবে) পায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা তাকে তাদের নিকট তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়} [আরাফ: ১৫৭]। শায়খ (রা.) বলেন: এই কাহিনীর মধ্যে আহলে কিতাবদের নিকট আমাদের নবী (আলাইহিস সালাম)-এর বৈশিষ্ট্য, তার নাম এবং তার প্রেরিত হওয়ার জ্ঞান থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় ⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘। আর যখন তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' ধ্বনি দিল তখন কক্ষের কেঁপে ওঠা হলো নবীদের মৃত্যুর পরেও প্রকাশ পাওয়া মুজেজা, যেমনটি তাদের প্রেরিত হওয়ার পূর্বে তাদের আবির্ভাব ও আগমনের সংকেত হিসেবে প্রকাশ পেত। এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আরও অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে যা আমরা আমাদের শর্ত অনুযায়ী ইনশাআল্লাহ এই কিতাবের বিভিন্ন অধ্যায়ে উল্লেখ করব।"
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
ذِكْرُ فَضِيلَتِهِ صلى الله عليه وسلم بِطِيبِ مَوْلِدِهِ، وَحَسَبِهِ وَنَسَبِهِ
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পবিত্র জন্ম এবং তাঁর বংশীয় আভিজাত্য ও বংশপরম্পরার মাধ্যমে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حُمَيْدٍ، قَالَ: ثنا هَارُونُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: أَشْهَدُ عَلَى أَبِي، حَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «خَرَجْتُ مِنْ نِكَاحٍ، وَلَمْ أَخْرُجْ مِنْ سِفَاحٍ مِنْ لَدُنْ آدَمَ إِلَى أَنْ وَلَدَنِي أَبِي وَأُمِّي، لَمْ يُصِبْنِي مِنْ سِفَاحِ الْجَاهِلِيَّةِ شَيْءٌ»
১৪ - আমাদের নিকট আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন হুমায়িদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হারুন বিন ইউসুফ বিন জিয়াদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আবি উমর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার উদ্ধৃতি দিয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আমার নিকট তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি তাঁর দাদার সূত্রে, আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি বিবাহের মাধ্যমে আগমন করেছি এবং ব্যভিচারের মাধ্যমে আসিনি; আদম থেকে শুরু করে আমার পিতা ও মাতা আমাকে জন্ম দেওয়া পর্যন্ত জাহেলি যুগের কোনো ব্যভিচারই আমাকে স্পর্শ করেনি।»
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْهَاشِمِيُّ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ عِيسَى، قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَمْ يَلْتَقِ أَبَوَايَ فِي سِفَاحٍ، لَمْ يَزَلِ اللَّهُ عز وجل يُنَقِّلُنِي مِنْ أَصْلَابٍ طَيِّبَةٍ إِلَى أَرْحَامٍ طَاهِرَةٍ، صَافِيًا، مُهَذَّبًا، لَا تَتَشَعَّبُ شُعْبَتَانِ إِلَّا كُنْتُ فِي خَيْرِهِمَا،»
১৫ - মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-হাশেমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস বিন মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা বিন ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ বিন আবি হাকিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার পিতা-মাতা কখনো ব্যভিচারে মিলিত হননি। মহান আল্লাহ আমাকে সর্বদা পবিত্র পৃষ্ঠদেশসমূহ থেকে পবিত্র গর্ভাশয়সমূহে স্থানান্তরিত করেছেন; আমি ছিলাম অত্যন্ত স্বচ্ছ ও পরিমার্জিত। যখনই কোনো দুটি শাখা বিভক্ত হয়েছে, আমি তাদের মধ্যে সর্বোত্তমটিতেই ছিলাম।»
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو بَحْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ كَوْثَرٍ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْحَارِثِ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ قُرَيْشًا جَلَسُوا، فَتَذَاكَرُوا أَحْسَابَهُمْ وَأَنْسَابَهُمْ، فَجَعَلُوا مَثَلَكَ مَثَلَ نَخْلَةٍ نَبَتَتْ فِي رَبْوَةٍ مِنَ الْأَرْضِ قَالَ: فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل حِينَ خَلَقَ الْخَلْقَ جَعَلَنِي مِنْ خَيْرِ خَلْقِهِ، ثُمَّ حِينَ خَلَقَ الْقَبَائِلَ جَعَلَنِي مِنْ خَيْرِ قَبِيلَتِهِمْ، وَحِينَ خَلَقَ الْأَنْفُسَ جَعَلَنِي مِنْ خَيْرِ أَنْفُسِهِمْ، ثُمَّ حِينَ خَلَقَ الْبُيُوتَ جَعَلَنِي مِنْ خَيْرِ بُيُوتِهِمْ، فَأَنَا خَيْرُهُمْ أَبًا، وَخَيْرُهُمْ نَفْسًا،»
১৬ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বাহর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন কাওসার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন আল-হারিস, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন মুসা, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আবি খালিদ, ইয়াজিদ বিন আবি জিয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ বিন আল-হারিস বিন নাওফাল থেকে, তিনি আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: হে আল্লাহর রাসুল, কুরাইশরা যখন একত্রে বসে তাদের মর্যাদা ও বংশপরম্পরা নিয়ে আলোচনা করছিল, তখন তারা আপনার উদাহরণ এমন এক খেজুর গাছের মতো দিল যা পৃথিবীর কোনো এক উঁচু ভূমিতে জন্মেছে। বর্ণনাকারী বলেন: এতে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী যখন সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তখন আমাকে তাঁর সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অতঃপর যখন গোত্রসমূহ সৃষ্টি করেছেন তখন আমাকে তাদের সর্বোত্তম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর যখন সত্তাসমূহ (ব্যক্তিবর্গ) সৃষ্টি করেছেন তখন আমাকে তাদের সর্বোত্তম সত্তার অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অতঃপর যখন পরিবারসমূহ সৃষ্টি করেছেন তখন আমাকে তাদের সর্বোত্তম পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং আমি তাদের মধ্যে পিতৃপরিচয়ে শ্রেষ্ঠ এবং সত্তাগতভাবেও শ্রেষ্ঠ।»
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو بَحْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ، قَالَ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ، ثنا سَعْدَانُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، {وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ} [الشعراء: 219] ، مَا زَالَ النَّبِيُِّ صلى الله عليه وسلم يَتَقَلَّبُ فِي أَصْلَابِ الْأَنْبِيَاءِ، حَتَّى وَلَدَتْهُ أُمُّهُ "
১৭ - আমাদের নিকট আবু বাহর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনু গালিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান ইবনু বিশর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সা’দান ইবনুল ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, আতা থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: {এবং সিজদাকারীদের মধ্যে আপনার আবর্তন} [আশ-শুআরা: ২১৯], নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারাবাহিকভাবে নবীদের পৃষ্ঠদেশসমূহে আবর্তিত হতে থাকেন, পরিশেষে তাঁর মাতা তাঁকে জন্ম দেন।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
18 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَارُونَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: ثنا أحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامُ، ثنا حَمَّادُ بْنُ وَاقِدٍ الصَّفَّارُ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ ذَكْوَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل خَلَقَ السَّمَاوَاتِ سَبْعًا، فَاخْتَارَ الْعُلْيَا مِنْهَا فَسَكَنَهَا، وَأَسْكَنَ سَائِرَ سَمَاوَاتِهِ مَنْ شَاءَ مِنْ خَلْقِهِ، وَخَلَقَ الْأَرَضِينَ سَبْعًا، فَاخْتَارَ الْعُلْيَا مِنْهَا، فَأَسْكَنَهَا مَنْ شَاءَ مِنْ خَلْقِهِ، ثُمَّ خَلَقَ الْخَلْقَ، فَاخْتَارَ مِنَ الْخَلْقِ بَنِي آدَمَ، وَاخْتَارَ مِنْ بَنِي آدَمَ الْعَرَبَ، وَاخْتَارَ مِنَ ⦗ص: 59⦘ الْعَرَبِ مُضَرَ، وَاخْتَارَ مِنْ مُضَرَ قُرَيْشًا، وَاخْتَارَ مِنْ قُرَيْشٍ بَنِي هَاشِمٍ، وَاخْتَارَنِي مِنْ بَنِي هَاشِمٍ، فَأَنَا مِنْ خِيَارٍ إِلَى خِيَارٍ، فَمَنْ أَحَبَّ الْعَرَبَ فَبِحُبِّي أَحَبَّهُمْ، وَمَنْ أَبْغَضَ الْعَرَبَ فَبِبُغْضِي أَبْغَضَهُمْ،»
১৮ - আলী ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে আল-মিকদাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে ওয়াকিদ আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাকওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সাতটি আসমান সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চটিকে মনোনীত করেছেন এবং সেখানে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। আর তাঁর অবশিষ্ট আসমানসমূহে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বসবাস করিয়েছেন। তিনি সাতটি জমিন সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাদের মধ্যে উপরিভাগটিকে মনোনীত করেছেন এবং সেখানে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বসবাস করিয়েছেন। অতঃপর তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টিজগত থেকে বনী আদমকে মনোনীত করেছেন। বনী আদম থেকে আরবদের মনোনীত করেছেন। এবং ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ আরবদের মধ্য থেকে মুদারকে মনোনীত করেছেন। মুদার থেকে কুরাইশদের মনোনীত করেছেন। কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং আমি সর্বোত্তমদের থেকে আসা সর্বোত্তম। অতএব যে ব্যক্তি আরবদের ভালোবাসল, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল; আর যে ব্যক্তি আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, সে আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল।»