(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: -)
الجواهر الغوالي في ذكر الأسانيد العوالي للبديري القسم: كتب السنة
الكتاب: الجواهر الغوالي في ذكر الأسانيد العوالي - مخطوط
المؤلف: محمد بن محمد بن محمد بن أحمد البديري الحسيني، الدمياطيّ الأشعري الشافعيّ، أبو حامد (ت 1140هـ)
أعده للشاملة: أحمد الخضري
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 139
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-জাওয়াহির আল-গাওয়ালি ফি জিকরিল আসানিদিল আউয়ালি লিল বুদাইরি বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-জাওয়াহির আল-গাওয়ালি ফি জিকরিল আসানিদিল আউয়ালি - পাণ্ডুলিপি
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-বুদাইরি আল-হুসাইনি, আদ-দামইয়াতি আল-আশআরী আশ-শাফিঈ, আবু হামিদ (মৃত্যু ১১৪০ হিজরি)
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমদ আল-খুদরি
[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৯
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١)
الكتاب: الجواهر الغوالي في ذكر الأسانيد العوالي - مخطوط
المؤلف: محمد البديري الدمياطي الشافعي
المتوفى: 1140 هـ
//2//
بسم الله الرحمان الرحيم
وثقتي به
الحمد لله رب العالمين حمدا يوافي نعمه، ويكافيء مزيده شكرا، حمدا لمن رفع للعلماء بالسند العالي قدرا، وأنار منارهم فازدادوا بعزه عزا وفخرا فهنالك سعوا في تحصيله مسرعين منيبين إليه سرا وجهرا، ونالوا بسلوك مناهجه روضة المعاني مع حرز الأماني تيسيرا ونشرا، وزينوا القرآن بتجويدهم حروفه وقاموا بذلك لله تعالى خدمة وشكرا، وانجلت عليهم عن أيسر خبايا التفسير منذ رفعوا نقابا وكشفوا سترا فلله درهم فكم تزوجوا خدرا وكم افتضوا بكرا // 3// فكيف لا وقد اغترفوا بمعالم التنزيل وخازن الكشاف من البحر نهرا، وذكروا أحاديث الحبيب فطابت لهم سماعا وذكرا، واعتنوا بها نقلا وضبطا ورواية ودراية وأنفقوا في ذلك عاما ودهرا، ومن أعظم إعتنائهم أن سافر أحدهم لحديث واحد شهرا، فسبحان من زادهم بذلك وبقرب السند قربا وفخرا، ونولهم من فضله تعالى كشف الغوامض حتى اتضح لهم كل مشكل غامض بعد أن كان عسرا، وسبحان من بصرهم بتبصرة تذكرته وكفاية كافيته فقاموا بالطاعة له شكرا، وصفاهم بصفوة الخلاصة وشفاهم بشفاعته من الخصاصة فلم يشكوا شيئا ولاضرا، ولهذا صاروافي قصب ميدان التوحيد يتسابقون على خيل أهل لاالسنة فرسا ومهرا، وفي مقاصد جوهرة عقائد أم البراهين يتنافسون وفي ذلك //4 // فليتنافس المتنافسون عمرا، وحموا أذهانهم عن الخطأ بمنطق قضايا يقين البراهين فلا تجد بحماهم نكرا، وأتحفوه ببديع معاني الإستعارات عند حلول الشمس برج الحمل ويكون الطالع سعيدا بدرا.
أحمده سبحانه حمدا يملأ الخافقين مدة دوام الملوين برا وبحرا على أن جعل العلوم النافعة كلها شريفة وجعل العمل بها مهرا، وأسكره شكرا تتضوع به روضة الثناء عليه وتفوح به لديه ندا وعطرا.
কিতাব: আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালি ফি জিকরিল আসানিদিল আ’ওয়ালি - পাণ্ডুলিপি
লেখক: মুহাম্মদ আল-বুদাইরি আদ-দুমইয়াতি আশ-শাফিঈ
মৃত্যু: ১১৪০ হিজরি
//২//
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
এবং তাঁরই ওপর আমার ভরসা।
সমস্ত প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য এবং তাঁর অধিক দানের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ। প্রশংসা তাঁর জন্য, যিনি উচ্চ সনদের মাধ্যমে উলামায়ে কেরামের মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন এবং তাঁদের মিনারকে করেছেন আলোকিত, ফলে তাঁরা তাঁর সম্মান দ্বারা উত্তরোত্তর সম্মান ও গৌরব লাভ করেছেন। তাই তাঁরা তা অর্জনে অতি দ্রুত ও বিনীত হয়ে গোপনে ও প্রকাশ্যে সচেষ্ট হয়েছেন। তাঁরা তাঁর পথে চলার মাধ্যমে অর্থের উদ্যান ও নিরাপত্তার কবজ অর্জন করেছেন এবং তা সহজীকরণ ও প্রচারের সৌভাগ্য লাভ করেছেন। তাঁরা কুরআনের অক্ষরসমূহকে তাজভীদের মাধ্যমে সুশোভিত করেছেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খিদমত ও কৃতজ্ঞতা হিসেবে তা পালন করেছেন। যখনই তাঁরা আবরণ উন্মোচন করেছেন ও পর্দা সরিয়ে দিয়েছেন, তখনই তাঁদের সামনে তাফসীরের অতি সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ উন্মোচিত হয়েছে। আল্লাহ তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন, তাঁরা কতই না গোপন রহস্যের সাথে মিলিত হয়েছেন এবং কতই না নতুন তত্ত্বের দ্বার উন্মোচন করেছেন। // ৩// তা হবেই না কেন? অথচ তাঁরা ওহীর নিদর্শনসমূহ এবং কাশশাফের ভাণ্ডার থেকে সমুদ্রতুল্য নদী থেকে অঞ্জলি ভরে পান করেছেন। তাঁরা প্রিয়নবীর হাদিসসমূহ আলোচনা করেছেন, ফলে তা শ্রবণ ও স্মরণে তাঁদের কাছে অতিশয় প্রীতিকর হয়েছে। তাঁরা হাদিসসমূহ বর্ণনা, নির্ভুল লিখন, রেওয়ায়ত ও দেরায়তের (তত্ত্বজ্ঞান) প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর পেছনে দীর্ঘ সময় ও যুগ ব্যয় করেছেন। তাঁদের এই মহতী গুরুত্বারোপের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো যে, তাঁদের কেউ কেউ মাত্র একটি হাদিসের জন্য এক মাসব্যাপী সফর করেছেন। সুতরাং পবিত্রতা সেই সত্তার, যিনি এর মাধ্যমে এবং সনদের নৈকট্যের দ্বারা তাঁদের নৈকট্য ও গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। তিনি তাঁদেরকে তাঁর অনুগ্রহে জটিল বিষয়সমূহের রহস্য উন্মোচনের সুযোগ দান করেছেন, ফলে তাঁদের কাছে প্রতিটি কঠিন ও দুর্বোধ্য বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে— যা ইতিপূর্বে অতি কঠিন ছিল। পবিত্রতা সেই সত্তার, যিনি তাঁদেরকে তাঁর স্মারকের অন্তর্দৃষ্টি ও পর্যাপ্ততা দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন, ফলে তাঁরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর আনুগত্যে দণ্ডায়মান হয়েছেন। তিনি তাঁদেরকে সারবত্তার নির্যাস দ্বারা পরিশুদ্ধ করেছেন এবং স্বীয় সুপারিশের মাধ্যমে তাঁদের অভাব-অনটন থেকে আরোগ্য দান করেছেন, ফলে তাঁরা কোনো অভাব বা ক্ষতির অভিযোগ করেননি। একারণেই তাঁরা তাওহীদের ময়দানে আহলে সুন্নাহর বীর সওয়ারীদের ঘোড়ায় চড়ে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন। উম্মুল বারাহীনের আকীদার মণি-মুক্তার উদ্দেশ্যে তাঁরা প্রতিযোগিতা করেন এবং এ পথেই //৪ // প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত। তাঁরা নিশ্চিত প্রমাণের যৌক্তিক বিধিমালা দ্বারা তাঁদের মেধা ও মননকে ভুলভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেছেন, ফলে তাঁদের বিচরণক্ষেত্রে আপনি কোনো বিচ্যুতি খুঁজে পাবেন না। তাঁরা যখন মেষ রাশিতে সূর্যের গমনাগমন ঘটে এবং উদয়স্থল সৌভাগ্যের পূর্ণিমার রূপ ধারণ করে, তখন তাঁদেরকে রূপক অলংকারের অপূর্ব মাধুর্যে ভূষিত করেছেন।
আমি তাঁর পবিত্র প্রশংসা করছি, যা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে দেয়— স্থলে ও জলে দিন-রাত্রির স্থায়িত্বকাল পর্যন্ত; এ কারণে যে তিনি সমস্ত উপকারী জ্ঞানকে মর্যাদাপূর্ণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করাকে তার মোহরানা সাব্যস্ত করেছেন। আমি তাঁর এমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যার দ্বারা তাঁর প্রশংসার উদ্যান সুবাসিত হয় এবং তাঁর দরবারে তা সুগন্ধি ও আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢)
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لاشريك له، المنزه عن المحدثات مكانا ودهرا وأشهد أن سيدنا ونبينا وحبيبنا محمدا عبده ورسوله إلى كافة المخلوقات طرا.
ختم الله به الرسالة ولم يجعل أحدا من خلقه مثاله وأبقى شريعته إلى الدار الآخرة وبعثه رحمة للعالمين بشيرا ونذيرا وحصنا حصينا بالبشرى. وبين لنا الحلال والحرام //5 // بل سائر الأحكام فياله من انعام لا تحصى له قدرا.
وأكمل الله له الدين وجعل ملته سهلة سمحة يسرا. فهنيئا لمن تمسك بهذا الدين ، واهتدى بهدي سيد المهتدين ليكون من أصحاب اليمين لا اليسرى ، وفوزا وسعادة لمن أضحى داخلا في سلك عقد الإتصال بطلب سند الكمال من الرجال الذي هو من خصائص هذه الأمة فضلا وفخرا، فينال اتصالا وسندا وقربا من منبع العلوم و....كل موجود من الأنام ومعدوم وفضله على جميع العوالم معلوم مكانة وقدرا.
اللهم صل وسلم عليه وزده شرفا وكرما لديه وعلى آله المنسوبين إليه باطنا وظهرا، وعلى أصحابه الذين أتقنوا أحكام الدين وبينوا الحلال والحرام أحسن التبيين حتى أضحت الشريعة واضحة غرا، صلاة وسلاما فائضي البركات عليهم وعلينا بهم معهم طرا بكرا وعصرا // 6 // ما طلب البارع الفضيل المصفى النبيل أسانيد الإتصال لينال بها شرفا ويشرح الله له بها صدرا.
أما بعد:
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি স্থান ও কালের নব্য বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে পবিত্র। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের নবী ও আমাদের প্রিয়তম মুহাম্মদ তাঁর বান্দা এবং সকল সৃষ্টির প্রতি সামগ্রিকভাবে প্রেরিত তাঁর রাসূল।
আল্লাহ তাঁর মাধ্যমেই রিসালাতের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কাউকে তাঁর সদৃশ করেননি। তিনি তাঁর শরীয়তকে পরকাল পর্যন্ত বলবৎ রেখেছেন এবং তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং সুসংবাদের এক সুরক্ষিত দুর্গ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি আমাদের নিকট হালাল ও হারাম স্পষ্ট করেছেন // ৫ // বরং যাবতীয় বিধানাবলিও; সুতরাং এটি কতই না মহান নিয়ামত যার কদর গণনা করা সম্ভব নয়।
আর আল্লাহ তাঁর জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর ধর্মাদর্শকে সহজ, সহনশীল ও সুগম করেছেন। সুতরাং মোবারকবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যে এই দ্বীনকে আঁকড়ে ধরেছে এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের সরদারের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে যাতে সে বামপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে ডানপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর সেই ব্যক্তির জন্য বিজয় ও সৌভাগ্য যে ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে পূর্ণতার সনদ তলব করার মাধ্যমে সংযোগের শৃঙ্খলে প্রবেশ করেছে, যা এই উম্মতের বিশেষত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও গর্বের বিষয়। ফলে সে ইলমের উৎস এবং... বিদ্যমান ও অবিদ্যমান সকল সৃষ্টির মূল হতে সংযোগ, সনদ ও নৈকট্য লাভ করে; আর সকল জগতের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মর্যাদা ও গুরুত্বের দিক থেকে সুবিদিত।
হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং আপনার নিকট তাঁর সম্মান ও মহিমা বৃদ্ধি করুন; আর তাঁর বংশধরদের ওপর যারা তাঁর সাথে সংগোপনে ও প্রকাশ্যে সম্পর্কিত, এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর যারা দ্বীনের বিধানসমূহকে সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করেছেন এবং হালাল ও হারামকে সর্বোত্তম পন্থায় বয়ান করেছেন, এমনকি শরীয়ত উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁদের ওপর এবং তাঁদের উসিলায় আমাদের ওপর এমন বরকতময় রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক যা সকাল-সন্ধ্যা সর্বদা জারি থাকবে // ৬ // যতক্ষণ কোনো দক্ষ, গুণী, পরিচ্ছন্ন ও মহৎ ব্যক্তি সংযোগের সনদসমূহ অন্বেষণ করবে যার দ্বারা সে মর্যাদা লাভ করবে এবং আল্লাহ তার বক্ষকে উন্মোচিত করে দেবেন।
অতঃপর:
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٣)
فإن أولى ما بذلت فيه المهج الغوالي ، وأنهج ما سلكت فيه المناهج العوالي، وأعلى ما تصرمت فيه الأيام والليالي، وأعلى ما أنفقت فيه الجواهر واللآلي تعلم العلم الشريف وتعليمه وتفهم ما أشكل منه وتفهيمه وفتح ما أغلق منه وتبيينه خصوصا الأحكام الشريعية الفقهية والعلوم الدينية ولاسيما الأحاديث النبوية من ضبطها حرفا ومن معرفة صحيحها وحسنها وضعيفها وغير ذلك عرفا ثم طلب الإجازة فيها بل في كل العلوم كما هو معلوم عند كل حاذق وفاضل مفهوم، ولاسما طلب الأسانيد العالية على ما عرف في الأزمنة الخالية فكانوا يعتنون بعلو الإسناد، لأن عليه في الرواية الإعتماد، إذ معظم مدار // 7 // الأحكام الشرعية عملية كانت أو علمية على علم الحديث متنا واسنادا وفهما واتقانا وانتقادا غير أن هذا المرام عظيم الخطر عند أهل الحديث والأثر كيف وقد قال سيد البشر اتقوا الحديث إلا ما علمتم رواه البخاري بسند عن عبد الله بن عمر – رضي الله تعالى عنهما –لكن الإمتثال لأمره أمثل وأقوم حيث قال صلى الله عليه وسلم: بلغوا عني ولوأية. رواه البخاري عن ابن عمر – رضي الله عنهما – أيضا وقال قال صلى الله عليه وسلم: نضر الله امرءا سمع منا شيئا فبلغه كما سمعه الحديث رواه الترمذي من حديث ابن مسعود – رضي الله تعالى عنه – وقال حسن صحيح.
নিশ্চয়ই মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করার সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত বিষয়, এবং উন্নত পথসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুস্পষ্ট পথ, এবং যার পেছনে দিন ও রাত অতিবাহিত করা শ্রেষ্ঠ কাজ এবং মণি-মুক্তা সদৃশ মূল্যবান সম্পদ ব্যয়ের সর্বোত্তম খাত হলো—সম্মানিত জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষা দান, এর জটিল বিষয়গুলো অনুধাবন করা ও অন্যকে তা অনুধাবন করানো এবং এর রুদ্ধ বা দুর্বোধ্য দিকগুলো উন্মোচন ও ব্যাখ্যা করা; বিশেষত শরয়ি ফিকহ শাস্ত্রের বিধান এবং দ্বীনি ইলমসমূহ, আর বিশেষ করে নববী হাদীসসমূহ—সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে আয়ত্ত করা এবং পরিভাষা অনুযায়ী হাদীসের সহীহ, হাসান, যয়ীফ ও অন্যান্য প্রকারভেদ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। অতঃপর হাদীসের ক্ষেত্রে ইজাযত (সনদ) প্রার্থনা করা, বরং সকল শাস্ত্রেই তা করা—যেমনটি প্রত্যেক দক্ষ, বিদগ্ধ ও বিচক্ষণ ব্যক্তির নিকট সুবিদিত। বিশেষ করে উচ্চতর সনদ অন্বেষণ করা, যেমনটি অতীত যুগে প্রচলিত ছিল। সুতরাং তাঁরা সনদের উচ্চতার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করতেন, কেননা বর্ণনার ক্ষেত্রে এর ওপরই নির্ভর করা হয়। যেহেতু শরীয়তের অধিকাংশ বিধানের আবর্তন—তা আমল সংক্রান্ত হোক কিংবা বিশ্বাসগত— // 7 // হাদীস শাস্ত্রের মতন, সনদ, সঠিক অনুধাবন, পারদর্শিতা ও পর্যালোচনার ওপরই নির্ভরশীল। তবে হাদীস ও আসার শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট এই লক্ষ্যটি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও ঝুঁকিপূর্ণও বটে। তা হবেই না কেন, যেখানে মানবকুলের সরদার বলেছেন: "তোমরা আমার হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করো, তবে যা তোমরা নিশ্চিতভাবে জানো তা ব্যতীত।" এটি ইমাম বুখারী আবদুল্লাহ ইবনে উমর—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—থেকে একটি সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর নির্দেশ পালন করাই হচ্ছে সর্বোত্তম ও অধিক সঠিক পন্থা, যেখানে তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।" এটিও ইমাম বুখারী ইবনে উমর—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আরও বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো কিছু শুনলো, অতঃপর তা ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিলো যেভাবে সে শুনেছিল।" ইমাম তিরমিযী এটি ইবনে মাসউদ—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান সহীহ।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٤)
وقال صلى الله عليه وسلم: اللهم ارحم خلفائي الذين يروون أحاديثي ويعلمونها الناس. رواه الطبراني من حديث عبد الله بن مسعود أيضا فلذلك طلب مني جمع من الفضلاء القائمين // 8 // وطائفة من النبلاء المحصلين أن أكتب لهم ثبتا عميدا ليكون لهم سندا سديدا أذكر فيه أشياخي فأشياخهم فمن فوقهم إلى انتهاء الأسانيد سواء القريب منها والبعيد على وجه مفصل محرر مفيد مع ضبط بعض الأسماء وتقييد الشريد ليكون سندا معتمدا لمن حضرني من الطالبين ولمن سألني الإجازة من العلماء العاملين المحصلين، اللهم شيد بهم أركان الدين يارب العالمين واجلهم رحمة للأنام وأعل بهم ذروة سنام الإسلام وكذا من سمع مني مسألة ولو أية أو تلقى عني حديثا ولو رواية.
এবং আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: হে আল্লাহ! আমার উত্তরসূরিদের ওপর দয়া করুন, যারা আমার হাদিসসমূহ বর্ণনা করে এবং মানুষকে তা শিক্ষা দেয়। তাবারানি এটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকেও বর্ণনা করেছেন। এই কারণেই একদল নিষ্ঠাবান গুণী ব্যক্তি // ৮ // এবং একদল বিদ্যান সজ্জন ব্যক্তি আমার নিকট অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাদের জন্য একটি সুদৃঢ় ‘সাবাত’ (সনদ সংকলন) রচনা করি, যাতে তা তাদের জন্য একটি সঠিক সনদ হয়। সেখানে আমি আমার শায়খদের কথা উল্লেখ করব, এরপর তাঁদের শায়খদের এবং তাঁদেরও ঊর্ধ্বতনদের, এভাবে সনদসমূহ সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত; চাই তা নিকটবর্তী হোক বা দূরবর্তী, বিস্তারিত, সম্পাদিত ও উপকারী পন্থায়, সাথে কিছু নামের নির্ভুল উচ্চারণ নির্ধারণ এবং বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো সংকলিত করার মাধ্যমে। যাতে এটি আমার কাছে উপস্থিত থাকা ছাত্রদের জন্য এবং সেই আমলকারী গবেষক আলেমদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সনদ হয় যারা আমার কাছে ইজাজত প্রার্থনা করেছেন। হে আল্লাহ! হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! তাদের মাধ্যমে আপনি দ্বীনের স্তম্ভগুলোকে মজবুত করুন, তাদের সৃষ্টির জন্য রহমত হিসেবে কবুল করুন এবং তাদের দ্বারা ইসলামের মর্যাদার সর্বোচ্চ শিখরকে সমুন্নত করুন। একইভাবে যারা আমার কাছ থেকে কোনো মাসয়ালা শুনেছেন—তা একটি আয়াত হলেও—অথবা আমার কাছ থেকে কোনো হাদিস গ্রহণ করেছেন—তা একটি বর্ণনা হলেও।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٥)
بل قد أجزت أيضا بكل ما يحل لي وعني أهل زماني على التمام اقتداء بمن سبقني من الأئمة الأعلام كما سيأتي التنبيه بالإشارة إليه لكن شتان ما بين مجتهد وكسلان ويقظان ونومان فليس من قرأ البخاري أو سمعه كمن تلقاه كله وجمعه وليس من عليه // 9 // اقتصر كمن سمع الكتب الستة وانتصر وليس من اقتصر على الستة كمن زاد عليها سماع ما يأتي بيانه البتة لكن الجماعة الذين سألوني وعلى تحصيل ذلك حثوني منهم من في مذهب إمامنا الشافعي – رضي الله عنه – وافقوني ،فالإجازة لهم عامة في الأحاديث النبوية والعلوم الشرعية فقهية كانت أو علمية أوعملية أو تفسيرية أو آلية ومنهم غير الشافعية فأجزتهم إجازة عامة سنية في أي زمان وأي مكان وأي علم إلا المسائل الفقهية فإنه لايتقن المذهب إلا أهله ولا يتولى على الفرع إلا أصله ثم إني أوصي كل مجاز بالتقوى والإخلاص فإنه سبب الخلاص يوم لا تحين مناص، إن تتقوا الله يجعل لكم فرقانا أي نورا قلبيا تفرقون به وهو العلم الذوقي عند أرباب القلوب ويرشد إليه قوله صلى الله عليه وسلم من عمل بما علم ورثه الله علم ما علم يعلم // 10 // واعلم أن طالب العلم يتعين عليه أن يقصد بتعلمه العمل به وإلا كان حجة عليه وأنه إذا لم يعمل بعلمه كان كالشمعة ينفع الغير ويحرق نفسه وانظر إلى قول بن رسلان عليه رحمة الرحمان.
বস্তুত আমি আমার জন্য যা বৈধ এবং আমার সমসাময়িকদের পক্ষ থেকে আমার কাছে যা পৌঁছেছে তার সবকিছুর পূর্ণ অনুমতি (এজাযত) প্রদান করেছি আমার পূর্ববর্তী মহান ইমামগণের অনুসরণে, যেমনটি অচিরেই ইশারার মাধ্যমে উল্লেখ করা হবে। তবে পরিশ্রমী ও অলস এবং সচেতন ও নিদ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তির মাঝে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি বুখারী পাঠ করেছে বা শুনেছে, সে ওই ব্যক্তির মতো নয় যে তা পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ ও সংকলন করেছে। আর যে ব্যক্তি শুধু এর // ৯ // ওপর সীমাবদ্ধ থাকল, সে ওই ব্যক্তির মতো নয় যে ছয়টি কিতাব (কুতুবে সিত্তা) শ্রবণ করেছে এবং সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছে। আর যে ব্যক্তি কেবল ছয়টি কিতাবের ওপর সীমাবদ্ধ থাকল, সে ওই ব্যক্তির মতো নয় যে তার অতিরিক্ত যা কিছু সামনে বর্ণিত হবে তা শ্রবণ করেছে। তবে যে দলটি আমার কাছে আবেদন করেছে এবং তা অর্জনে আমাকে উৎসাহিত করেছে, তাদের মধ্যে যারা আমাদের ইমাম শাফিয়ী —আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন— এর মাযহাবের অনুসারী, তাদের জন্য হাদীসে নববী এবং শরয়ী ইলমসমূহে সাধারণ এজাযত রইল; চাই তা ফিকহ শাস্ত্রীয় হোক বা তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক, তাফসীর সংক্রান্ত কিংবা সহায়ক শাস্ত্র (আলাত) হোক। আর যারা শাফিয়ী নন, আমি তাদেরকেও যে কোনো সময়, যে কোনো স্থান এবং যে কোনো ইলমের ক্ষেত্রে সাধারণ সুন্নী এজাযত প্রদান করলাম; তবে ফিকহী মাসআলাসমূহ ব্যতীত। কেননা মাযহাবের বিশেষজ্ঞগণ ব্যতীত অন্য কেউ এতে পারদর্শী হতে পারে না এবং মূল ভিত্তি ব্যতীত কেউ শাখার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে না। অতঃপর আমি প্রত্যেক এজাযতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তাকওয়া ও ইখলাসের (নিষ্ঠা) উপদেশ দিচ্ছি; কেননা তা সেই দিনে মুক্তির কারণ হবে যেদিন পালানোর কোনো পথ থাকবে না। "যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তিনি তোমাদের জন্য ফুরকান দান করবেন" অর্থাৎ একটি হৃদয়ের নূর যার মাধ্যমে তোমরা সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করতে পারবে; আর এটিই হলো আধ্যাত্মিক সাধকদের নিকট আস্বাদনযোগ্য ইলম। আর সেদিকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী পথনির্দেশ করে: "যে ব্যক্তি তার জানামতে আমল করবে, আল্লাহ তাকে এমন ইলমের উত্তরাধিকার দান করবেন যা সে জানত না।" // ১০ // আর জেনে রেখো যে, ইলম অন্বেষণকারীর জন্য কর্তব্য হলো তার শিক্ষার মাধ্যমে আমল করার সংকল্প করা, অন্যথায় এটি তার বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে সাব্যস্ত হবে। আর যদি সে তার ইলম অনুযায়ী আমল না করে, তবে সে সেই মোমবাতির ন্যায় হবে যা অন্যকে আলো দেয় কিন্তু নিজেকে পুড়িয়ে ফেলে। আর ইবনে রুসলান —পরম করুণাময় আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক— এর উক্তির দিকে লক্ষ্য করো।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٦)
وعالم بعلمه لم يعملن، معذب من قبل عابد الوثن والأخبار والأوثان في هذا المعنى كثيرة مدونة في مجالها شهيرة وإنما أشرت إلى ذلك بهذه الإشارة القصيرة ليكون الطالب من أول أمره على بصيرة فإن الإنسان لاينفعه عند الميزان إلا مزيد الإيمان فنسأل الله تعالى الأمان الأمان لكن بحمد الله رئي الإكرام أن الطالبين مني لهذا المرام ظهرت عليهم لوائح الإخلاص التي هي من شيم الخواص فلذا رأيت إجابتهم لمطلوبهم صوابا راجيا من الله تعالى بذلك معونة وثوابا ولما في ذلك من الرغبة في نشر السنة الشريفة ورفع أعلامها المنيفة // 11 // وحرصا على دوام سلسلة الإسناد التي هي من خواص هذه الأمة المحمدية إلى يوم المعاد فإن ذلك من الأعمال الباقية ومن الإنقطاع لمحصلها واقية ولذا قيل مشايخ الإنسان آباؤه في الدين ووصلة بينه وبين رب العالمين وقال بعضهم مشيرا إليه أنه كالسلم يصعد عليه
وقال بعض الأعلام إن السند في يد الطالب كالحسام وهو معنى قول بعض الأفاضل أنه كالسيف للمقاتل وفي أول صحيح الإمام مسلم عن عبد الله بن المبارك الذي تنزل الرحمة عند ذكره – رحمه الله تعالى – وبارك أنه قال الإسناد من الدين ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء فلذا بادرت العلماء إلى تحصيله.
وقال إمامنا الشافعي – رضي الله عنه – الذي يطلب الحديث بلا سند كحاطب ليل يحمل الحطب وبه أفعى وهو لايدري.
এবং যে আলেম তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না, তাকে মূর্তিপূজারীর পূর্বেই শাস্তি প্রদান করা হবে। এই মর্মে হাদীসসমূহ ও মূর্তিপূজা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো প্রচুর, যা স্বীয় ক্ষেত্রে সংকলিত এবং সুপ্রসিদ্ধ। আমি কেবল এই সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিতের মাধ্যমে এ বিষয়ের প্রতি ইশারা করেছি যেন তলেবে ইলম তার বিষয়ের শুরু থেকেই অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে পারে। কেননা মিজানের নিকট মানুষের ঈমানের আধিক্য ব্যতীত অন্য কিছু কোনো উপকারে আসবে না। সুতরাং আমরা মহান আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা ও আমান প্রার্থনা করছি। তবে আল্লাহর প্রশংসায় এ সম্মান দৃষ্ট হয়েছে যে, আমার নিকট এই উদ্দেশ্যটি অন্বেষণকারীদের মধ্যে ইখলাসের আলামত প্রকাশ পেয়েছে, যা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য। ফলে তাদের আহবানে সাড়া দেওয়াকে আমি সঠিক মনে করেছি, মহান আল্লাহর নিকট এর মাধ্যমে সাহায্য ও সওয়াব প্রত্যাশা করে। আর এটি সুন্নাহর প্রচার-প্রসার এবং এর সুউচ্চ নিশানসমূহ সমুন্নত করার আকাঙ্ক্ষায় // ১১ // এবং ইসনাদ বা বর্ণনাসূত্রের ধারা অব্যাহত রাখার আগ্রহে—যা এই উম্মতে মুহাম্মাদীর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। নিশ্চয়ই এটি অবশিষ্ট নেক আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং অর্জনকারীর জন্য বিচ্ছিন্নতা থেকে সুরক্ষা। এই কারণেই বলা হয়েছে, মানুষের মাশায়েখগণই হলেন দীনি ক্ষেত্রে তার পিতা এবং তাঁর ও রব্বুল আলামীনের মধ্যকার যোগসূত্র। কেউ কেউ এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, এটি একটি সিঁড়ির ন্যায়, যার মাধ্যমে উপরে আরোহণ করা যায়।
জনৈক ইমাম বলেছেন যে, তলেবে ইলমের হাতে সনদ হলো তীক্ষ্ণ তলোয়ারের ন্যায়; আর এটিই কোনো এক বুজুর্গের উক্তির মর্মার্থ যে, এটি যোদ্ধার নিকট তরবারির ন্যায়। ইমাম মুসলিমের সহীহ গ্রন্থের শুরুতে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক—যাঁর স্মরণে রহমত নাযিল হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন ও বরকত দান করুন—হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: ইসনাদ (সনদ) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যার যা ইচ্ছা তাই বলত। ফলে ওলামায়ে কেরাম এটি অর্জনে ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়েছেন।
আমাদের ইমাম শাফেয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: যে ব্যক্তি সনদ ব্যতীত হাদীস অন্বেষণ করে, সে রাতের বেলা কাঠ সংগ্রহকারীর ন্যায়, যে কাঠের বোঝা বহন করে অথচ তার মধ্যে বিষধর সর্প রয়েছে কিন্তু সে তা জানে না।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٧)
وقال الإمام الطوسي – رحمه الله تعالى – قرب الأسانيد قرب من الله عز وجل // والأثار في هذه كثيرة وبالجملة ففضائل الأسانيد مشهورة وفيما ذكر كفاية لمن لاحظته عناية ولئن منّ الله تعالى بإتمام هذا الثبت الأنبق وبما ند كشته يد التنميق والتدقيق فهو جدير بأن يسمى بالجواهر الغوالي في بيان الأسانيد العوالي جعله الله خالصا لوجهه الكريم ونفع به من تلقاه بقلب سليم فأقول وبالله المستعان وإليه تفويضي وعليه التكلان قد أخذت علم التفسير الذي هو أجل العلوم من حيث تعلقه بكلام رب العزة ولذا قدمته على غيره، أخذ فهم وتحقيق وبحث وتدقيق وتثبت وإمعان وإحكام وإتقان عن أئمة أعلام وجهابذة كرام من أجلهم سيبويه زمانه وكشاف أوانه نور الدين أبو الضياء الشيخ علي الشبراملسي وأسانيده شهيرة والتفاسير كثيرة والمشهور منها معالم التنزيل للإمام البغوي محبي السنة أخذه // 12 // عن البرهان إبراهيم اللقاني المالكي عن أبي النجاء سالم السنهوري عن النجم الغيطي عن شيخ الإسلام ابن يحيى زكريا الأنصاري قطب زمانه فإنه تولى الخطابة في آخر عمره سبع سنين نفعنا الله ببركاته ومدنا بمدده آمين.
এবং ইমাম আত-তুসী — আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন — বলেছেন: সনদসমূহের নৈকট্য হলো মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর নৈকট্য। এই বিষয়ে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে এবং সংক্ষেপে সনদসমূহের ফযীলত সুপ্রসিদ্ধ। আর যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সেই ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট যাকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বেষ্টন করে আছে। আর যদি আল্লাহ তাআলা এই সুশোভিত সনদ-সংকলনটি সম্পন্ন করার এবং সূক্ষ্ম অলঙ্করণ ও গবেষণার হাতের কারুকার্যের মাধ্যমে একে পূর্ণতা দেওয়ার তাওফীক দান করেন, তবে এটি "উচ্চমানের সনদ বর্ণনায় মহামূল্যবান মণিমাণিক্য" নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য। আল্লাহ একে নিছক তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন এবং এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তিকে উপকৃত করুন যে সুস্থ অন্তরে এটি গ্রহণ করবে। সুতরাং আমি বলছি — আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁর ওপরই আমার সকল বিষয় সোপর্দ করছি এবং তাঁর ওপরই আমার ভরসা — আমি তাফসীর শাস্ত্র শিক্ষা করেছি, যা সম্মান ও প্রতিপত্তির রবের বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে শাস্ত্রসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ; আর একারণেই আমি একে অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দিয়েছি। আমি এটি গ্রহণ করেছি প্রখ্যাত ইমাম ও সম্মানিত বিশেষজ্ঞগণের নিকট থেকে অনুধাবন, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান, সূক্ষ্মতা, যাচাই-বাছাই, গভীর পর্যবেক্ষণ, সুদৃঢ়করণ এবং সুনিপুণতার সাথে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলেন স্বীয় যুগের সিবওয়াইহি এবং সমকালের রহস্য উন্মোচনকারী নূরুদ্দীন আবুয যিয়া শায়খ আলী আশ-শুবরামানালিসী। তাঁর সনদসমূহ সুপ্রসিদ্ধ এবং তাফসীর গ্রন্থসমূহও অসংখ্য; সেগুলোর মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো সুন্নাহর পুনরুজ্জীবনকারী ইমাম বাগাবীর 'মাআলিমুত তানযীল'। তিনি এটি গ্রহণ করেছেন // ১২ // বুরহান ইবরাহীম আল-লাক্কানী আল-মালিকী থেকে, তিনি আবুন্নাজা সালিম আস-সানহুরী থেকে, তিনি নাজম আল-গাইতী থেকে, তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে ইয়াহইয়া যাকারিয়া আল-আনসারী থেকে, যিনি ছিলেন নিজ যুগের প্রধানতম ব্যক্তিত্ব। কেননা তিনি তাঁর জীবনের শেষ ভাগে সাত বছর যাবৎ খতীবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আল্লাহ আমাদের তাঁর বরকত দ্বারা উপকৃত করুন এবং তাঁর সাহায্য দিয়ে আমাদের ধন্য করুন। আমীন।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٨)
- … عن العز عبد الرحيم بن أبي الفرات الحنفي عن الصلاح بن عمر عن الفخر علي بن أحمد عن فضل الله بن سعد التوقاني عن مؤلفه الحسين بن مسعود البغوي ومنها تفسير الإمام فخر الدين الرازي وهو من أجل التفاسير وأنفعها أرويه إجازة بالسند إلى شيخ الإسلام زكريا ابن محمد عن التقي محمد بن محمد بن فهد عن مجد الدين اللغوي عن سراج الدين القزويني عن القاضي بن أبي بكر محمد بن عبد الله التفتازاني عن شرف الدين أبي بكر محمد بن عبد الله الهروي عن المفسر الفخر الرازي محمد بن عمر ومنها تفسير الإمام الواحدي أرويه وسائر // … 13// تصنيفاته إجازة بالسند إلى الحافظ الجلال السيوطي الآتي، قال: أخبرني بجميع تصنيفات الواحدي محمد بن مقبل بن علي بن يوسف الحراوي عن الحافظ عبد المؤمن بن خلف الدمياطي عن أبي الحسن بن المقير عن أبي الفضل أحمد بن طاهر عن الهيثمي عن المفسر أبي الحسن علي بن أحمد الواحدي ومنها تفسير ابن عطية المشهور أرويه إجازة بالسند إلى زكريا الأنصاري عن صالح البلقيني عن والده عن أثير الدين أبي حيان قال: أنبأنا أبو الحسن ابن أبي عامر الأشعري عن أبي الحسن علي بن أحمد عن المفسر الحافظ أبي محمد عبد الحق بن غالب بن عطية جعل الله تعالى درجته عنده علية ومنها الكشاف للإمام الفهامة محمود الزمخشري فيرويه شيخنا المذكور عن شيخه إبراهيم اللقاني عن محمد بن محمد العقيلي البهنسي عن أبي الحسن البكري عن الزين زكريا عن // 14 // العز عبد الرحيم عن الحافظ أبي عمر عبد العزيز الشهير بابن جماعة عن أبي الفضل أحمد بن هبة الله بن عساكر عن زينب بنت عبد الرحمان الشعري عن مؤلفه محمود بن عمر الزمخشري ومنها تفسير القاضي ناصر الدين الشهير بالبيضاوي المسمى بأنوار التنزيل وأسرار التأويل وكذا سائر تصنيفاته كالطوابع والمنهاج وغاية القصوى في الرواية والفتوى وشرح المصابيح فأروي بعضا منها قراءة ولاسيما التفسير على شيخنا الشبراملسي وإجازة
… ইজ্জ আবদুর রহিম বিন আবি আল-ফুরাত আল-হানাফি থেকে বর্ণিত, তিনি সালাহ বিন উমর থেকে, তিনি ফখর আলি বিন আহমদ থেকে, তিনি ফজলুল্লাহ বিন সাদ আল-তাওকানি থেকে, তিনি এর গ্রন্থকার হুসাইন বিন মাসউদ আল-বাগাউয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন। সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো ইমাম ফখরুদ্দিন আল-রাজির তাফসির, যা অন্যতম মহান ও উপকারী তাফসির। আমি এটি শাইখুল ইসলাম জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ থেকে সূত্রে প্রাপ্ত অনুমতির মাধ্যমে বর্ণনা করি, তিনি তাকি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ফাহদ থেকে, তিনি মাজদুদ্দিন আল-লুগাভি থেকে, তিনি সিরাজুদ্দিন আল-কাজউইনি থেকে, তিনি কাজি বিন আবি বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-তাফতাজানি থেকে, তিনি শারাফুদ্দিন আবি বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হারাউয়ি থেকে, তিনি মুফাসসির আল-ফখর আল-রাজি মুহাম্মদ বিন উমর থেকে। এবং সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ইমাম আল-ওয়াহিদির তাফসির, আমি এটি এবং তার অন্যান্য // … ১৩ // সকল রচনাবলী হাফেজ জালালুদ্দিন আল-সুয়ুতির নিকট পর্যন্ত পৌঁছানো সূত্রের অনুমতির মাধ্যমে বর্ণনা করি। তিনি (সুয়ুতি) বলেন: আমাকে আল-ওয়াহিদির সকল রচনাবলী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুকবিল বিন আলি বিন ইউসুফ আল-হারাউয়ি, তিনি হাফেজ আবদুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দামিয়াতি থেকে, তিনি আবুল হাসান বিন আল-মুকাইয়ির থেকে, তিনি আবুল ফজল আহমদ বিন তাহির থেকে, তিনি আল-হাইসামি থেকে, তিনি মুফাসসির আবুল হাসান আলি বিন আহমদ আল-ওয়াহিদি থেকে। সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ইবনে আতিয়্যাহর প্রসিদ্ধ তাফসির, আমি এটি জাকারিয়া আল-আনসারি থেকে সূত্রে প্রাপ্ত অনুমতির মাধ্যমে বর্ণনা করি, তিনি সালিহ আল-বুলকিনি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আসিরুদ্দিন আবু হাইয়ান থেকে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান ইবনে আবি আমির আল-আশআরি, তিনি আবুল হাসান আলি বিন আহমদ থেকে, তিনি মুফাসসির হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল হক বিন গালিব বিন আতিয়্যাহ থেকে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নিকট তাঁর মর্যাদাকে উন্নত করুন। সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ইমাম আল-ফাহহামাহ মাহমুদ আল-জামাকশারি রচিত আল-কাশশাফ। আমাদের উল্লিখিত শাইখ এটি তাঁর শাইখ ইব্রাহিম আল-লাক্কানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-উকাইলি আল-বাহনাসি থেকে, তিনি আবুল হাসান আল-বাকরি থেকে, তিনি জাইন জাকারিয়া থেকে // ১৪ // ইজ্জ আবদুর রহিম থেকে, তিনি ইবনে জামাআহ হিসেবে পরিচিত হাফেজ আবু উমর আবদুল আজিজ থেকে, তিনি আবুল ফজল আহমদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আসাকির থেকে, তিনি জাইনাব বিনতে আবদুর রহমান আশ-শা’রি থেকে, তিনি এর গ্রন্থকার মাহমুদ বিন উমর আল-জামাকশারি থেকে। এবং সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত আনওয়ারুত তানজিল ওয়া আসরারুত তাবিল নামক কাজি নাসিরুদ্দিন আল-বায়দাউয়ি হিসেবে প্রসিদ্ধ ব্যক্তির তাফসির এবং একইভাবে তাঁর অন্যান্য সকল গ্রন্থ যেমন: আল-তাওয়ালি, আল-মিনহাজ, গায়াতুল কুসওয়া ফিল রিওয়াইয়া ওয়াল ফাতওয়া এবং শারহুল মাসাবিহ। আমি সেগুলোর কিছু অংশ পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করি, বিশেষ করে আমাদের শাইখ আল-শুবরামানাল্লিসির নিকট তাফসিরটি, এবং অনুমতির মাধ্যমেও বর্ণনা করি।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٩)
منه لسائرها وهو يرويها عن شيخه البرهان عن سالم بن محمد عن النجم محمد بن أحمد بن زكريا الأنصاري عن الفضل المرجاني عن أبي هريرة عبد الرحمان الشهير بالذهبي عن عمر بن إلياس المراغي عن الإمام العمدة الهمام ناصر الدين عبد الله بن عمر البيضاوي ح وأرويها أيضا قراءة لبعضها // 15 // وإجازة لسائرها عن شيخنا المنلا إبراهيم الكردي ثم المدني عمت بركاته قال رحمه الله تعالى: سمعت من تفسيره من أوله إلى تمام جزء من البقرة على الأستاذ الزاهد منلا محمد شريف بن منلا يوسف الكوداني الصديقي ببغداد سنة 1055وقبل هذا سمعت عليه أطرافا بالبلاد وبإجازته عن الفقيه علي بن محمد الحكمي عن الشهاب أحمد بن حجر الهيتمي عن شيخ الإسلام زكريا عن النجم عمر بن فهد عن الجمال المرشدي عن حسام الدين بن علي بن الحسن الأبيودي عن شهاب الدين أحمد الكردي عن نور الدين الأربلي عن زين الدين التبريزي عن ناصر الدين البيضاوي عمت بركاته وأما تفاسير أبي حيان الثلاثة المسماة بالبحر وبالنهر وبالساقية فيرويها شيخنا الشبراملسي عن سيدي علي الأجهوري المالكي الشهير بالولاية والكرامات عن عمر بن الجاي عن أبي الفضل // 16 // الجلال السيوطي عن العالم صالح بن عمر البلقيني عن والده عن مؤلفها هو الحافظ أثير الدين أبي حيان، وأما تفسير الجلالين، الجلال المحلي وهو الذي فسر نصف القرآن الآخير والجلال السيوطي وهو الذي فسر النصف الأول بعد موت المحلي رحمهما الله تعالى فإن شيخنا المذكور يرويه بل والتفسير المشهور بالدر المنثور وكذا الجامع الكبير والجامع الصغير في أحاديث البشير النذير وغير ذلك من تصنيفات الجلال السيوطي رحمه الله تعالى عن جماعة أجلاء منهم الشيخ علي الحلبي صاحب السيرة الشهيرة ومنهم الشيخ علي الأجهوري المالكي بحق رواية الشيخ علي الحلبي عن شيخه شيخ الشافعية على الإطلاق وولي الله تعالى بالإتفاق الشيخ نور الدين علي الزيادي رحمه الله تعالى
এটি এবং এর অবশিষ্টাংশ তিনি বর্ণনা করছেন তাঁর শায়খ আল-বুরহান থেকে, তিনি সালিম বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আন-নাজম মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন যাকারিয়া আল-আনসারি থেকে, তিনি আল-ফজল আল-মারজানি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা আবদুর রহমান (যিনি আয-যাহাবি নামে পরিচিত) থেকে, তিনি উমর বিন ইলিয়াস আল-মারাগি থেকে, তিনি প্রখ্যাত ও সুদৃঢ় ইমাম নাসিরুদ্দিন আবদুল্লাহ বিন উমর আল-বায়জাবি থেকে। এবং আমি এর কিছু অংশ পাঠ করার মাধ্যমে // ১৫ // এবং অবশিষ্টাংশ ইজাযত প্রাপ্ত হয়ে আমাদের শায়খ মোল্লা ইব্রাহিম আল-কুর্দি (পরবর্তীতে আল-মাদানি), যাঁর বরকত ব্যাপক হোক, থেকে বর্ণনা করছি। তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: আমি বাগদাদে ১০৫৫ হিজরিতে পরহেযগার উস্তাদ মোল্লা মুহাম্মদ শরিফ বিন মোল্লা ইউসুফ আল-কুদানি আস-সিদ্দিকির নিকট তাঁর তাফসিরের শুরু থেকে সূরা বাকারার এক পারা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পাঠ শুনেছি। এর পূর্বে আমি দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর নিকট কিছু অংশ শুনেছি এবং তাঁর ইজাযত ক্রমে ফকিহ আলি বিন মুহাম্মদ আল-হাকামি থেকে, তিনি শিহাব আহমদ বিন হাজার আল-হাইতামি থেকে, তিনি শায়খুল ইসলাম যাকারিয়া থেকে, তিনি আন-নাজম উমর বিন ফাহাদ থেকে, তিনি আল-জামাল আল-মুরশিদি থেকে, তিনি হুসামুদ্দিন বিন আলি বিন হাসান আল-আবইউদি থেকে, তিনি শিহাবউদ্দিন আহমদ আল-কুর্দি থেকে, তিনি নুরুদ্দিন আল-আরবিলি থেকে, তিনি যাইনুদ্দিন আত-তাবরিজি থেকে, তিনি নাসিরুদ্দিন আল-বায়জাবি থেকে (তাঁর বরকত ব্যাপক হোক)। আর আবু হাইয়ানের তিনটি তাফসির, যার নাম আল-বাহর, আন-নাহর এবং আস-সাকিয়া, তা আমাদের শায়খ আশ-শুবরামালসি বর্ণনা করছেন সায়্যিদি আলি আল-উজহুরি আল-মালিকি থেকে (যিনি তাঁর বেলায়েত ও কারামতের জন্য প্রসিদ্ধ), তিনি উমর বিন আল-জায় থেকে, তিনি আবুল ফজল // ১৬ // জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতি থেকে, তিনি আলিম সালেহ বিন উমর আল-বালকিনি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি এর গ্রন্থকার হাফিজ আসিরুদ্দিন আবু হাইয়ান থেকে। আর তাফসিরুল জালালাইন—জালালুদ্দিন আল-মাহাল্লি, যিনি কুরআনের শেষ অর্ধাংশের তাফসির করেছেন এবং জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতি, যিনি আল-মাহাল্লির মৃত্যুর পর প্রথম অর্ধাংশের তাফসির করেছেন (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন)—উল্লিখিত শায়খ তা বর্ণনা করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি 'আদ-দুররুল মানসুর' নামে প্রসিদ্ধ তাফসির এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীর হাদিস বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-জামি আল-কাবির' ও 'আল-জামি আস-সগির' সহ জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতির (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) অন্যান্য কিতাবসমূহ বর্ণনা করছেন একদল মহান ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে, যাদের মধ্যে রয়েছেন প্রসিদ্ধ সীরাত গ্রন্থের লেখক শায়খ আলি আল-হালাবি এবং শায়খ আলি আল-উজহুরি আল-মালিকি। এটি শায়খ আলি আল-হালাবি কর্তৃক তাঁর শায়খ—যিনি নিঃসন্দেহে শাফেয়ী মাযহাবের শায়খ এবং সর্বজনস্বীকৃত আল্লাহর অলি—শায়খ নুরুদ্দিন আলি আজ-যিয়াদি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাসূত্রে।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الهادي وبحق روايته أيضا عن البرهان العلقمي أما الشيخ // 17 // الزيادي فعن الشيخ العفيف السيد الشريف يوسف الأرميوني عن الجلال عبد الرحمن السيوطي، وأما البرهان العلقمي عن أخيه شمس العلماء الأعلام محمد مؤلف الحاشية عن الجلال نفعنا الله تعالى ببركتهم في كل حال وأما الجلال المحلي فيروي شيخنا تفسيره المذكور وباقي مؤلفاته فقهية وغيرها عن شيخه علي الحلبي عن النور الزيادي عن الشمس الرملي عن شيخ الإسلام زكريا عن الجلال أحمد وإنما عممت السند هنا في التفسير والأحاديث وغير ذلك ردما للإختصار وهو الشهير بالمحقق عند الإطلاق وبالسند المتقدم إلى الجلال السيوطي عن الجلال المحلي أيضا وهناك تفاسير أخرى كالخازن وتفسير القرطبي ومنلا أبي السعود والكواشي والنسفي والحدادي الحنفيين وتفاسير محيي الدين ابن العربي وغيرهما أرويها إجازة بالسند إلى شيخ الإسلام زكريا وسنده إليها معلوم محقق بالأصالة تركت //18// ذكرها خوف الإطالة وأما سند باقي مشايخي في التفسير كالمنلا إبراهيم الكردي ثم المدني العارف الرباني والعلامة المحقق الشهاب أحمد البشبيشي والفهامة المدقق شهاب الدين أحمد السندوبي وغيرهم فتركته لأجل الإختصار واكتفأ بالكبار ثم ثنيت وثلثت بعلم التجويد وعلم القراءات لتعلقها بالقرآن المجيد لمزيد البركات أيضا فقد أخذتهما عن أعلام من أجلهم شيخنا الشيخ زين الدين المنزلي أصلا الدمياطي منشأ الشافعي مذهبا قد قرأت عليه كتبا في علم التجويد وجمعت عليه السبعة من طريق الشاطبية في دمياط أخذ فهم وإتقان بحق أخذه لذلك عن شيخه الولي الصالح الشيخ سلطان المزاحي شيخ الجامع الأزهر في أوانه ثم لما جاورت في الأزهر سنة 1082 اثنين وثمانين وألف وما بعد ذلك من السنين أخذت التجويد //19// والقرآات العشرة من طريق الشاطبية والدرة من أول القرآن إلى آخره عن البحرين الذين لاساحل لهما شيخنا الشبراملسي المذكور ضاعف الله له الأجور، وشيخنا
আল-হাদি এবং তাঁর বর্ণনাসূত্রে বুরহান আল-আলকামি থেকেও। আর শাইখ // ১৭ // জিয়াদি (বর্ণনা করেছেন) পবিত্রমনা শাইখ সায়্যিদ শরীফ ইউসুফ আল-আরমিউনি থেকে, তিনি জালালুদ্দিন আবদুর রহমান আস-সুয়ুতি থেকে। আর বুরহান আল-আলকামি তাঁর ভাই উলামায়ে কেরামের সূর্য মুহাম্মদ থেকে, যিনি উক্ত টীকাগ্রন্থের রচয়িতা, তিনি আল-জালাল থেকে— আল্লাহ তাআলা প্রতিটি অবস্থায় তাঁদের বরকত দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। আর জালালুদ্দিন আল-মহল্লি সম্পর্কে আমাদের শাইখ তাঁর উল্লিখিত তাফসির এবং তাঁর ফিকহ ও অন্যান্য সমস্ত রচনাবলি বর্ণনা করেন তাঁর শাইখ আলী আল-হালাবি থেকে, তিনি নুর আল-জিয়াদি থেকে, তিনি শামস আল-রামলি থেকে, তিনি শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া থেকে, তিনি জালালুদ্দিন আহমদ থেকে। আমি এখানে তাফসির, হাদিস এবং অন্যান্য বিষয়ে বর্ণনাসূত্রকে সাধারণ করেছি সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে। সাধারণভাবে তিনি 'মুহাক্কিক' (গবেষক) হিসেবে প্রসিদ্ধ। এবং পূর্বোক্ত বর্ণনাসূত্রে জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি থেকে জালালুদ্দিন আল-মহল্লি পর্যন্তও। সেখানে অন্যান্য তাফসির গ্রন্থও রয়েছে, যেমন— তাফসিরে খাজিন, তাফসিরে কুরতুবি, মোল্লা আবু সাউদ, আল-কাওয়াশি, আন-নাসাফি এবং আল-হাদ্দাদি আল-হানাফিদ্বয়; এবং মুহিউদ্দিন ইবনুল আরাবির তাফসিরসমূহ ও অন্যান্য। আমি এগুলো বর্ণনা করি শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া পর্যন্ত বর্ণনাসূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত ইজাজতের ভিত্তিতে। এর প্রতি তাঁর বর্ণনাসূত্র সুবিদিত এবং মূলগতভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমি সেগুলোর // ১৮ // উল্লেখ বর্জন করেছি। তাফসির শাস্ত্রে আমার বাকি শাইখগণের বর্ণনাসূত্র— যেমন আরেফ রাব্বানি মোল্লা ইব্রাহিম আল-কুর্দি অতপর আল-মাদানি, আল্লামা মুহাক্কিক শিহাব আহমদ আল-বাশবিশি এবং সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিত শিহাব উদ্দিন আহমদ আস-সানদুবি ও অন্যান্যদের বর্ণনাসূত্র আমি সংক্ষিপ্ত করার জন্য এবং বড়দের ওপর নির্ভর করে বর্জন করেছি। অতঃপর আমি দ্বিতীয়ত এবং তৃতীয়ত তাজবিদ ও কিরাত শাস্ত্রকে স্থান দিয়েছি, কারণ এগুলোর সম্পর্ক কুরআন মাজিদের সাথে এবং অধিক বরকত লাভের উদ্দেশ্যেও। আমি এই দুটি শাস্ত্র একদল ইমাম থেকে গ্রহণ করেছি যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমাদের শাইখ, শাইখ যয়নুদ্দিন আল-মানজালি (মূল নিবাস), আদ-দামইয়াতি (জন্মস্থান), মাযহাবে শাফেয়ি। আমি তাঁর কাছে তাজবিদ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ পড়েছি এবং দামইয়াতে তাঁর কাছে শাতিবিয়া তরিকায় সাবআ (সাত) কিরাত একত্রিত করেছি— যা ছিল বোধগম্যতা ও নিপুণতার সাথে গ্রহণ করা। তিনি এটি গ্রহণ করেছিলেন তাঁর শাইখ ওলি সালিহ শাইখ সুলতান আল-মুযাহি থেকে, যিনি তাঁর সময়ে জামে আল-আযহারের শাইখ ছিলেন। অতঃপর যখন আমি ১০৮২ (এক হাজার বিরাশি) হিজরি সনে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে আল-আযহারে অবস্থান করি, তখন আমি তাজবিদ // ১৯ // এবং শাতিবিয়া ও দুররা তরিকায় দশ কিরাত কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করেছি এমন দুই সমুদ্র থেকে যাদের কোনো তটরেখা নেই; তাঁরা হলেন— আমাদের উল্লিখিত শাইখ আশ-শুবরামাল্লাসি, আল্লাহ তাঁর প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করুন, এবং আমাদের শাইখ...
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١١)
شيخ القراء الأزهري الشيخ محمد بن قاسم بن إسماعيل البقري وختمت ذلك عليه في صحن الجامع الأزهر بجمع من العلماء ما بين كبير وأكبر على عادته وعادة أشياخه من قبله ثم جمعت عليه العشرة من طريق الطيبة من أول القرآن العظيم إلى قوله تعالى (قل أءنبئكم بخير) من سورة آل عمران وكل منهما قد أخذ ذلك على شيخه شيخ القراء الذي شاع فضله في الأفاق وانعقد على فضله وجلالته وضبط قراءته كلمة الوفاق الوثاق بربه الغني الشيخ عبد الرحمن زين الدين اليمني وهو قد أخذ ذلك عن والده نزيل الحرم النبوي على ساكنه أفضل الصلاة والسلام الشيخ شحاذة اليمني فقرأ عليه // 20// من أول القرآن إلى قوله تعالى
শাইখুল কুররা আল-আজহারি শাইখ মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে ইসমাইল আল-বাকারির নিকট। আমি তাঁর নিকট জামে আজহারের প্রাঙ্গণে একদল প্রবীণ ও বরেণ্য উলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে তা সমাপ্ত করেছি, যা ছিল তাঁর এবং তাঁর পূর্বসূরি উস্তাদগণের রীতি। অতঃপর আমি তাঁর নিকট 'তাইয়িবাহ'র পদ্ধতিতে দশ কিরাত (আশারা) একত্রিত করে মহান কুরআনের শুরু থেকে সূরা আলে ইমরানের আল্লাহর বাণী (বলুন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম কিছুর সংবাদ দেব?) পর্যন্ত পাঠ করেছি। তাঁদের প্রত্যেকেই তা গ্রহণ করেছেন এমন এক শাইখুল কুররার নিকট থেকে যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব দিগন্তময় প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং যাঁর মর্যাদা, মহিমা ও কিরাতের নিখুঁততার বিষয়ে ঐকমত্যের বাণী সুদৃঢ় হয়েছে; তিনি স্বীয় ঐশ্বর্যশালী রবের প্রতি দৃঢ় আস্থাশীল শাইখ আবদুর রহমান যাইনুদ্দীন আল-ইয়ামানি। আর তিনি এটি গ্রহণ করেছেন তাঁর পিতা, হারামে নববীর (যার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) নিবাসী শাইখ শুহাযাহ আল-ইয়ামানি থেকে। সুতরাং তিনি তাঁর নিকট কুরআনের শুরু থেকে মহান আল্লাহর বাণী... পর্যন্ত // ২০ // পাঠ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
(فكيف إذا جئنا من كل أمة بشهيد وجئنا بك على هؤلاء شهيدا) بسورة النساء فاخترمت المنية الشيخ شحاذة بالمدينة المنورة ودفن بجانب قبر سيدنا إبراهيم بن نبينا وحبيبنا محمد عليه أفضل الصلاة والسلام فختم الشيخ عبد الرحمن القراءة السبعة من المحل الذي وقف عليه إلى آخر القرآن على تلميذ والده الشيخ شهاب الدين بن عبد الحق بالأزهر ثم قرأ عليه أيضا ختمة كاملة للقراء العشرة من طريق الشاطبية والدرة ولما أن ختم عليه بحضرة جمع من العلماء والفضلاء بصحن الجامع الأزهر على عادة من سلف من مشايخه قام المنشد شنشد قصيدة مدحا في عبد الرحمن فكان من جملتها أن قال تلك بضاعة ردت إلى أهلها فاستفول الشيخ ابن عبد الحق بأن ذلك إشارة إلى قرب موته // 21 // فكان ذلك وقد أخذ الشيخ شحاذة اليمني عن محقق زمانه الشيخ ناصر الدين الطبلاوي وأخذ الطبلاوي عن قطب الغوث فريد الأنام شيخ الإسلام أبي زكريا الأنصاري عليه رحمة الباري وقد أخذ شيخ الإسلام عن الشيخ العمدة رضوان العقبي وأخذ الشيخ رضوان عن صاحب الفن على الإطلاق من شاع علمه وكتبه في الأفاق وساوى من سلفه وفاق في التجويد والقرآن بل وفي فن الحديث أيضا حتى صار من الحفاظ شمس الدين محمد بن محمد الجزري وسبب كونه من الحفاظ كما قال بعض أشياخي أنه قيل له ذات يوم أن علم القرآات كثير التعب قليل الجدوى وأنت ذهنك رائق وفهمك فائق ومن كان هكذا فعليه بعلم الحديث لسعته فاجتهد فيه حتى حفظ مئة ألف حديث بأسانيدها وألف في مصطلح //22 // الحديث أرجوزة خمس مئة بيت أغزر علما من ألفية العراقي وشرحها السخاوي وغيرها. وقد شرعت أنا في شرحها أيضا.
(অতএব অবস্থা কেমন হবে যখন আমি প্রতিটি উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব) — সূরা আন-নিসা। এরপর মদিনা মুনাওয়ারায় শায়খ শুহাজাহ ইন্তেকাল করলেন এবং তাকে আমাদের নবী ও প্রিয়তম মুহাম্মদ (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর পুত্র সাইয়্যেদুনা ইব্রাহিমের কবরের পাশে দাফন করা হলো। অতঃপর শায়খ আবদুর রহমান তাঁর পিতার ছাত্র শায়খ শিহাবুদ্দিন বিন আবদুল হকের নিকট আজহারে যে স্থান থেকে পাঠ বন্ধ হয়েছিল, সেখান থেকে কুরআনের শেষ পর্যন্ত সাত কিরাআতের খতম সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি তাঁর নিকট শাতবিয়্যাহ ও দুররাহ-এর পদ্ধতিতে দশ কিরাআতের একটি পূর্ণ খতমও সম্পন্ন করেন। যখন তিনি তাঁর পূর্বসূরি মাশায়েখদের রীতি অনুযায়ী জামে আজহারের প্রাঙ্গণে একদল আলেম ও গুণীজনের উপস্থিতিতে খতম শেষ করলেন, তখন একজন গায়ক দাঁড়িয়ে আবদুর রহমানের প্রশংসায় একটি কাসিদা আবৃত্তি করলেন। তাঁর পঙ্ক্তিগুলোর মধ্যে একটি ছিল এই যে— "এটি এমন এক পণ্য যা তার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।" তখন শায়খ ইবনুল আব্দুল হক এটি শুনে এই মর্মে শুভলক্ষণ গ্রহণ করলেন যে, এটি তাঁর মৃত্যুর নিকটবর্তী হওয়ার একটি ইঙ্গিত। // ২১ // এবং বাস্তবেও তাই ঘটেছিল। শায়খ শুহাজাহ আল-ইয়ামানি তাঁর সময়ের অন্যতম গবেষক শায়খ নাসিরুদ্দিন আত-তাবলাউয়ির নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। আর তাবলাউয়ি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন কুতুবুল গাউস, সৃষ্টির অনন্য ব্যক্তিত্ব শায়খুল ইসলাম আবু জাকারিয়া আল-আনসারির (তাঁর ওপর স্রষ্টার রহমত বর্ষিত হোক) নিকট থেকে। আর শায়খুল ইসলাম শিক্ষা নিয়েছিলেন নির্ভরযোগ্য আলেম শায়খ রিদওয়ান আল-উকবির নিকট থেকে। শায়খ রিদওয়ান শিক্ষা নিয়েছিলেন সেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী শাস্ত্রবিদ যার জ্ঞান ও কিতাবসমূহ দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাজবিদ ও কুরআন তো বটেই, এমনকি হাদিস শাস্ত্রেও যিনি তাঁর পূর্বসূরিদের সমকক্ষতা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন, এমনকি হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন—অর্থাৎ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-জাজারির নিকট থেকে। তাঁর হাফেজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে আমার জনৈক উস্তাদ বলেছেন যে, একদিন তাঁকে বলা হয়েছিল: "কিরাআত শাস্ত্র অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কিন্তু এর বৈষয়িক সুফল সীমিত। অথচ আপনার মেধা অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং আপনার বোধশক্তি প্রখর। যার অবস্থা এমন, তাঁর উচিত হাদিস শাস্ত্রের বিশালতা নিয়ে সাধনা করা।" অতঃপর তিনি হাদিস শাস্ত্রে কঠোর পরিশ্রম করলেন, এমনকি তিনি সনদসহ এক লক্ষ হাদিস মুখস্থ করলেন। এবং তিনি হাদিস পরিভাষার // ২২ // ওপর পাঁচশত পঙক্তির একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন, যা ইরাকির আলফিয়্যাহ থেকে অধিকতর জ্ঞানসমৃদ্ধ। সাখাভি ও অন্যান্যরা এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। আমি নিজেও এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা শুরু করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وأخذ محمد بن الجزري عن أشياخ كثيرين بن منهم الشيخ محمد الشهير بابن أخت ولي الله فخر الدين إمام الجامع الأزهر وكان حسن الصوت نقل شيخنا البقري عنه أنه قرأ مرة وهو إمام في صلاة جهرية قوله تعالى (وتفقد الطير فقال مالي لا أرى الهدهد أم كان من الغائبين) إلى آخر الأية، فسقط على رأسه وهو في الصلاة طائر فمسك الطائر وإذا هو هدهد فتعجب الحاضرون من هذه الإتفاقية ومنهم الشيخ أبو بكر الشهير بابن اللبان وأخذ ابن اللبان عن الشيخ محمد بن رافع عن الشيخ محمد بن رافع عن الشيخ أحمد صهر الشيخ الشاطبي وأخذ الشيخ أحمد عن ولي الله تعالى الشيخ أبي القاسم الرعيني الشاطبي رحمه الله تعالى ونفعنا الله ببركاته وسند الشاطبي مذكور //23 // في كثير من كتب القرآات مشهور عند أهل الفن متصل بالنبي صلى الله عليه وسلم والنبي صلى الله عليه وسلم قد قرأ على جبريل عليه السلام عن اللوح المحفوظ عن رب العزة والعظمة جل جلاله وعز سلطانه وتقدست ذاته وعمت بركاته ما تليت آياته وأما أسانيد الحديث فهي الذي أحثثت على ذكرها أشد حثيث فهو المقصود بالذات لأنه المبني عن علو الدرجات وهو الذي يتعين فيه صرف الهمات عليه معظم مدار الأحكام الشرعية العملية والإعتقادية متنا وإسنادا وضبطا وإتقانا وانتقادا فلذلك اعتنى به العلماء المحصلون وفاز بشرفه المحدثون بمثل هذا فليعمل العاملون وفي ذلك فليتنافس المتنافسون وليعلم أني قد أخذت ذلك من أئمة فضلاء ومصاقع نبلاء يصوع نشرهم ويفوح ذكرهم وأسانيدهم في غاية //24 // الإشتهار كالشمس رابعة النهار أذكر منهم ومن أسانيدهم ما يقرب تناوله ردما للإختصار اقتباسا من أنوارهم واقتفاء بآثارهم وتبركا بذكر أسمائهم وأخبارهم فأقول منهم العارف الرباني الهيكل الهمداني المنلا إبراهيم بن حسن بن شهاب الدين الكوراني الشهرزوري الشهراني الشافعي الأشعري نزل المدينة المنورة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام وله كرامات ظاهرة
মুহাম্মদ ইবনুল জাযারি অনেক শাইখের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন শাইখ মুহাম্মদ, যিনি আল্লাহর ওলি ফখর উদ্দীনের ভাগ্নে হিসেবে পরিচিত এবং তিনি আল-আজহার মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। আমাদের শাইখ বাক্বরি তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার উচ্চস্বরে কিরাত পাঠের নামাজে ইমাম থাকাকালীন মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করছিলেন: "আর তিনি পাখিদের খোঁজ নিলেন এবং বললেন, কী ব্যাপার! আমি হুদহুদকে দেখছি না কেন? নাকি সে অনুপস্থিত?"—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তখন নামাজরত অবস্থায় তাঁর মাথার ওপর একটি পাখি এসে পড়ল। তিনি পাখিটি ধরলেন এবং দেখা গেল সেটি একটি হুদহুদ পাখি। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ এই কাকতালীয় ঘটনায় বিস্মিত হলেন।//২৩// এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট তা প্রসিদ্ধ এবং তা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে। আর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করেছেন জিবরাঈল আলাইহিস সালামের নিকট থেকে, তিনি লাওহে মাহফুজ থেকে এবং লাওহে মাহফুজ তা গ্রহণ করেছে প্রতাপ ও মহত্ত্বের অধিপতি রব্বুল আলামিনের নিকট থেকে—যাঁর মহিমা সুউচ্চ, যাঁর রাজত্ব পরাক্রমশালী, যাঁর সত্তা পবিত্র এবং যাঁর বরকত ব্যাপক, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হবে।
আর হাদিসের সনদসমূহের কথা বললে, আমি তা উল্লেখ করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছি। কারণ এটিই হলো মূল লক্ষ্য, যেহেতু এর ওপরই উচ্চ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত। আর এর পেছনেই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা আবশ্যক। আমলি ও আকিদাগত শরয়ি বিধানসমূহের অধিকাংশের মূল ভিত্তি হলো এই হাদিস—এর মূল পাঠ, সনদ, নির্ভুলতা, পারদর্শিতা এবং সমালোচনার বিচারে। এই কারণেই জ্ঞানান্বেষী উলামায়ে কেরাম এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং মুহাদ্দিসগণ এর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। আমলকারীদের উচিত এমন জিনিসের জন্যই আমল করা এবং প্রতিযোগীদের উচিত এমন বিষয়েই প্রতিযোগিতা করা। জেনে রাখা উচিত যে, আমি এই জ্ঞান অর্জন করেছি অত্যন্ত গুণী এবং বিশুদ্ধভাষী শ্রেষ্ঠ ইমামগণের নিকট থেকে, যাঁদের সুখ্যাতি ও চর্চা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। তাঁদের সনদসমূহ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ //২৪// যেমন দ্বিপ্রহরের সূর্য। আমি তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম এবং তাঁদের সনদের এমন কিছু অংশ উল্লেখ করব যা সংক্ষিপ্ত আকারে সহজে আয়ত্ত করা যায়, যাতে তাঁদের নূর থেকে আলো গ্রহণ করা যায়, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা যায় এবং তাঁদের নাম ও ঘটনাবলি উল্লেখের মাধ্যমে বরকত হাসিল করা যায়।
আমি বলছি, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আরেফ রাব্বানি, হাইকাল হামদানি, মোল্লা ইব্রাহিম ইবনে হাসান ইবনে শিহাব উদ্দীন আল-কুরানি আশ-শাহরাযুরি আশ-শাহরানি আশ-শাফেয়ি আল-আশআরি। তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় বসতি স্থাপন করেছিলেন—এর অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। তাঁর বহু প্রকাশ্য অলৌকিক ঘটনা বা কারামাত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وتحقيقات باهرة وتصنيفات وأبحاث رائقة وأما صدقاته فكثيرة وطال ما تصدق بنحو القميص الذي عليه وقدم السائل على نفسه بالطعام الذي بين يديه وأما تقلله من الدنيا وترك ما على الحاجة زاد فذلك من غلبة حبه ليوم المعاد وقد ترجمته في كتابي المسمى ببلغة المراد في التحذير عن الإفتتان بالأموال // 25 // والأولاد بما يدل على بعض أعماله الصالحة وأنواره الواضحة نفعنا الله تعالى ببركاته وأسعدنا بنفحاته ومنهم ولي الله تعالى العابد القانت الورع الزاهد إمام السادة الصوفية وأعلم العلماء المكية العارف بالله تعالى معرفة خالصة سالمة من الزيغ والضرر الشيخ حسن بن علي بن يحيى بن عمر الشهير بالعجمي المكي الصوفي الحنفي عامله الله برضوان الوفي قد أخذت عن شيخي الأول علم التفسير والتوحيد والحديث من صحيح البخاري ومسلم وباقي الكتب الستة وغيرها من كتب الأحاديث وكثيرا من مصنفاته زمن مجاورتي بالمدينة المنورة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام سنة 1092 بعض ذلك بالقراءة عليه وبعضه بالسماع وبعضه بالإجازة لذلك ولغيره على عادة المحدثين وأخذت عن الثاني غالب ذلك كذلك زمن //26// مجاورتي بمكة المشرفة وفي زمن مجاورتي فيها شرفها الله تعالى اجتمعت على المرأة العالمة الصالحة الفاهمة ذات الشيم المرضية وإلا الرضية سيدة قريش الهاشمية الحسينية المكية الطبرية بنت الإمام عبد القادر الطبري فقرأت عليها في بيتها بمكة المشرفة طرفا من الكتب الستة الشهيرة بالفضل عند المحدثين ثم طرفا من موطأ مالك الإمام ابن أنس الأصبحي فمن مسند الإمام محمد بن إدريس الشافعي، رضي الله عنه، فمن مسند الإمام أحمد بن حنبل ثم من باقي المسانيد الآتي بيانها ثم إجازتي كل من هؤلاء الثلاثة بفمه وقلمه المباركين ثم بين لي سنده أما الأول فقد أخذ ذلك عن جمع كثير من الفضلاء ذوي الإرشاد بسبب رحلته إلى البلاد من أجلهم قطب زمانه العارف بالله تعالى صفي الدين //27// أحمد بن محمد
এবং বিস্ময়কর গবেষণাকর্ম, উন্নতমানের রচনা ও সূক্ষ্ম অনুসন্ধান। তার দান-সদকার পরিমাণ ছিল অঢেল। অনেক সময় তিনি নিজের পরিহিত কামিজটিও দান করে দিতেন এবং নিজের সামনের খাবারটুকু নিজে না খেয়ে প্রার্থীকে দিয়ে তাকে অগ্রাধিকার দিতেন। দুনিয়ার প্রতি তার অনাশক্তি এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত বর্জন ছিল পরকালের প্রতি তার প্রবল ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আমি 'বুলগাতুল মুরাদ ফিত তাহযীর আনিল ইফতিতান বিল আমওয়াল // ২৫ // ওয়াল আওলাদ' নামক আমার গ্রন্থে তার জীবনী বর্ণনা করেছি, যা তার নেক আমল এবং উজ্জ্বল নূরসমূহের কিছু নিদর্শনের প্রমাণ দেয়। মহান আল্লাহ আমাদের তার বরকত দ্বারা উপকৃত করুন এবং তার পবিত্র পরশ দ্বারা আমাদের ধন্য করুন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর ওলী, ইবাদতকারী, অনুগত, মুত্তাকী ও যাহিদ, সূফীগণের ইমাম এবং মক্কী উলামায়ে কেরামের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী, মহান আল্লাহর খাঁটি মারেফাতপ্রাপ্ত—যা বিচ্যুতি ও ক্ষতি থেকে মুক্ত—শায়খ হাসান বিন আলী বিন ইয়াহইয়া বিন উমর, যিনি আল-আজামী আল-মাক্কী আস-সূফী আল-হানাফী নামে সুপরিচিত। মহান আল্লাহ তার সাথে পরম সন্তুষ্টির আচরণ করুন। আমি আমার প্রথম শায়খের নিকট মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থানকালীন সময়ে—যার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—১০৯২ হিজরীতে তাফসীর, তাওহীদ এবং হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সহীহ বুখারী, মুসলিম, সিহাহ সিত্তার বাকি কিতাবসমূহ ও অন্যান্য হাদীসগ্রন্থ এবং তার বহুসংখ্যক রচনা। এর কিছু অংশ তার নিকট পাঠ করে, কিছু শুনে এবং মুহাদ্দিসগণের রীতি অনুযায়ী কিছু অংশ ইজাযতের মাধ্যমে অর্জন করেছি। এবং আমি দ্বিতীয় শায়খের নিকট থেকেও মক্কা মোয়াজ্জমায় অবস্থানকালে একইভাবে এগুলোর অধিকাংশ অর্জন করেছি। // ২৬ // মক্কায় অবস্থানকালে—আল্লাহ তা'আলা একে সম্মানিত করুন—আমি বিদুষী, পুণ্যবতী ও প্রজ্ঞাবান নারী, উত্তম চরিত্রের অধিকারিণী, কুরাইশ বংশীয় সাইয়্যেদাহ, হাশেমী, হুসাইনী, মাক্কী ও তাবারী বংশোদ্ভূত ইমাম আব্দুল কাদির তাবারীর কন্যার সাক্ষাৎ লাভ করি। আমি মক্কা মোয়াজ্জমায় তার নিজ গৃহে মুহাদ্দিসগণের নিকট মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে প্রসিদ্ধ সিহাহ সিত্তার কিছু অংশ পাঠ করেছি। এরপর ইমাম মালেক বিন আনাস আল-আসবাহীর মুয়াত্তার কিছু অংশ, এরপর ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরীস আশ-শাফেয়ী (রা.)-এর মুসনাদের কিছু অংশ, এরপর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মুসনাদের কিছু অংশ এবং অন্যান্য মুসনাদসমূহের কিছু অংশ পাঠ করেছি যা সামনে বর্ণিত হবে। অতঃপর এই তিনজনের প্রত্যেকেই তাদের মুখনিসৃত বাণী ও বরকতময় কলমের মাধ্যমে আমাকে ইজাযত প্রদান করেছেন। এরপর তারা আমার কাছে তাদের সনদ বর্ণনা করেছেন। প্রথম শায়খের ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে বহু সংখ্যক দিকনির্দেশনা প্রদানকারী শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন তার সময়ের কুতুব ও আল্লাহর মারেফাতপ্রাপ্ত শায়খ সফিউদ্দীন // ২৭ // আহমাদ বিন মুহাম্মদ।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الشهير بالقشاشي المدني بإجازته العامة عن الشمس محمد بن أحمد بن حمزة الرملي عن القطب الرباني شيخ الإسلام أبي يحيى زكريا بن محمد بن أحمد بن محمد الأنصاري السنبكي القاهري الأزهري عن حافظ العصر أبي الفضل أحمد بن حجر الكتابي العسقلاني إلى آخر السند ولم أذكره هنا لأن الحافظ المذكور أسانيده شهيرة مذكورة في بعض مؤلفاته وسيأتي بيان أشياء منها متصلة بالبخاري وبغيرها من سائر كتب الحديث.
وأما الثاني فقد قال: رويت ذلك عن شيوخ يطول تعداد أسمائهم منهم شيخنا محمد العلامة المحقق الفهامة المدقق الشيخ عيسى بن محمد المغربي الجعفري ثم المكي وأسانيده مذكورة في فهرسته ومنهم شيخنا شيخ الشيوخ وقدوة أهل الرسوخ صفي الين أحمد بن محمد المدني بن عبد الغني الشهير بالقشاشي //28// وأسانيده مذكورة في فهرسته خليفته الشيخ إبراهيم الكردي يعني المتقدم ذكره ومنهم شيخنا خاتمة أهل الإسناد وملحق الأحفاد بالأجداد الإمام زين العابدين بن عبد القادر الطبري الحسيني وأعلا أسانيده روايته عن الشيخ المعمر الخطيب المسند شمس الدين العمري عن الحافظ بن حجر العسقلاني ومنهم شيخنا خاتمة الحفاظ شمس الدين محمد بن علاء الدين البابلي الأزهري شيخ زمانه في الحديث وأعلا ما عنده رواية عن الشيخ محمد حجازي الواعظ الشعرواي عن المعمر المسند محمد بن أركماس الحنفي عن حافظ العصر ابن حجر العسقلاني ومنهم شيخنا مفتي الحنفية العلامة محمد صادق بن أحمد بن أمين بادشاه الحسيني وهؤلاء من أكابر شيوخ السماع والإجازة وأما من أخذت عنهم إجارة فقط // 29// فخلق كثير منهم خاتمة المحققين من علماء مصر الشيخ علي الشبراملسي انتهى كلام العجمي.
যিনি আল-কুশাশি আল-মাদানি নামে পরিচিত, শামস মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হামজা আল-রামলির নিকট হতে প্রাপ্ত তাঁর সাধারণ ইজাজতের মাধ্যমে, তিনি কুতুবুর রব্বানী শাইখুল ইসলাম আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি আস-সুনবাকি আল-কাহিরি আল-আযহারি থেকে, তিনি যুগের হাফিয আবুল ফজল আহমদ বিন হাজার আল-কিতাবি আল-আসকালানি থেকে সনদের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। আমি এখানে তা উল্লেখ করিনি কারণ উক্ত হাফিযের সনদসমূহ সুপ্রসিদ্ধ এবং তাঁর কিছু কিতাবে তা বর্ণিত রয়েছে। অচিরেই বুখারি এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট এ সংক্রান্ত কিছু বিষয় বিস্তারিতভাবে সামনে আসবে।
আর দ্বিতীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: আমি তা এমন অনেক শাইখের নিকট হতে বর্ণনা করেছি যাদের নাম গণনা করলে দীর্ঘ হবে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের শাইখ আল্লামা মুহাক্কিক, গভীর প্রজ্ঞাবান ও সূক্ষ্মদর্শী শাইখ ঈসা বিন মুহাম্মদ আল-মাগরিবি আল-জাফরি অতঃপর আল-মাক্কি, এবং তাঁর সনদসমূহ তাঁর ক্যাটালগে বর্ণিত রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন আমাদের শাইখ, শাইখদের শাইখ এবং দৃঢ়পদ ব্যক্তিদের আদর্শ সফীউদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মাদানি বিন আব্দুল গণি, যিনি আল-কুশাশি //২৮// নামে প্রসিদ্ধ, এবং তাঁর সনদসমূহ তাঁর স্থলাভিষিক্ত শাইখ ইব্রাহিম আল-কুরদি—অর্থাৎ যিনি পূর্বে উল্লিখিত হয়েছেন—তাঁর ক্যাটালগে বর্ণিত রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন আমাদের শাইখ, সনদ শাস্ত্রবিদদের শেষ প্রদীপ এবং যিনি উত্তরসূরিদের পূর্বসূরিদের সাথে সংযুক্ত করেন, ইমাম যাইনুল আবিদীন বিন আব্দুল কাদির আত-তবারি আল-হুসাইনি; তাঁর উচ্চতর সনদসমূহের মধ্যে একটি হলো দীর্ঘজীবী শাইখ খতিব ও মুসনিদ শামসুদ্দীন আল-উমারির মাধ্যমে হাফিয ইবনে হাজার আল-আসকালানি হতে তাঁর বর্ণনা। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন আমাদের শাইখ হাফিযদের সমাপ্তিকারী শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আলাউদ্দীন আল-বাবেলি আল-আযহারি, যিনি হাদীস শাস্ত্রে তাঁর যুগের শাইখ ছিলেন; তাঁর নিকট সবথেকে উচ্চতর বর্ণনাটি হলো শাইখ মুহাম্মদ হিজাযি আল-ওয়ায়িয আশ-শারাওয়ির মাধ্যমে দীর্ঘজীবী মুসনিদ মুহাম্মদ বিন আরকামাস আল-হানাফি হতে, তিনি যুগের হাফিয ইবনে হাজার আল-আসকালানি হতে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন আমাদের শাইখ হানাফিদের মুফতি আল্লামা মুহাম্মদ সাদিক বিন আহমদ বিন আমিন বাদশাহ আল-হুসাইনি। এঁরা শ্রবণ এবং ইজাজত প্রদানকারী প্রবীণ শাইখদের অন্তর্ভুক্ত। আর যাদের নিকট হতে আমি কেবল ইজাজত গ্রহণ করেছি //২৯// তাঁদের সংখ্যা অনেক; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মিসরের ওলামাদের মধ্য হতে মুহাক্কিকগণের শেষ প্রদীপ শাইখ আলী আশ-শুবরামাল্লিসি। আল-আজমির বক্তব্য সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وأما الثالثة وهي السيدة الشريفة فقد أخذت عن أبيها الإمام بالمقام عبد القادر الطبري الشافعي الحسيني بحق روايته عن عمدة الشافعية الشمس محمد بن أحمد الرملي وهو عن شيخ الإسلام زكريا الأنصاري وهو عن الحافظ بن حجر العسقلاني صاحب فتح الباري على البخاري وبحق روايته أيضا عن عبد الواحد الحصاري وهو عن شمس الدين العمري وهو عن الحافظ بن حجر العسقلاني أمير المؤمنين في الحديث ونسأل الله الوصول إلى تمييز الحسن من الخبيث ومنهم ولي الله تعالى بلا نزاع وواضح الصلاح بلا دفاع ذو الحسب الرفيع والنسب المتين سيدي شرف الدين شرف الله به الدين ونفعنا بمدده في الدنيا ويوم الدين قد قرأت عليه من صحيح // 29 // الإمام البخاري أحاديث كثيرة من أبواب عديدة في مدد طويلة مديدة مع مطالعة شرح جده الأعلى شيخ الإسلام زكريا عليه وإجازتي بباقيه وسائر كتب الحديث وقرأت أيضا من مؤلفات جده المذكور أطرافا من شرح الروض والبهجة والمنهج والتحرير ومن غيرها من باقي العلوم المنسوبة إلى شيخ الإسلام وإجازتي بالجميع وهو قد أخذ عن جمع من أجلهم والده زين العابدين وأخذ زين العابدين عن والده محيي الدين وهو عن والده ولي الدين وهو عن والده سيدي يوسف جمال الدين وهو عن والده شيخ الإسلام أبي يحيى زكريا بن محمد الأنصاري السنبكي وسنبك بالسين المهملة فنون ساكنة فموحدة فكاف قرية من قرى مصر ومشايخه في العلوم كثيرون من أجلهم في الحديث حافظ العصر أحمد بن حجر العسقلاني //30// كتاب التفسير على الفقيه سلطان المزاحي وإجازتي رواية سائرة بقراءته لجميعه على الشيخ شهاب الدين أحمد بن خليل السبكي بقراءته لجميعه على الشيخ نجم الدين محمد الغيطاني بروايته هو والشمس الرملي، والشهاب بن حجر والبدر الدمشقي أربعتهم عن شيخ الإسلام زكريا عن الحافظ بن حجر العسقلاني أبي الفضل الكناني ثم المصري عن أبي إسحاق إبراهيم بن أحمد بن عبد الواحد التنوخي البعلي الأصل الدمشقي
আর তৃতীয়জন হলেন মহীয়সী নারী, তিনি তার পিতা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ইমাম আব্দুল কাদির তাবারী শাফিঈ হুসাইনী থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন, শাফিঈ মাযহাবের মূল স্তম্ভ শামস মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আর-রামলীর বর্ণনার সূত্রে; আর তিনি শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া আনসারী থেকে; আর তিনি বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারীর রচয়িতা হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী থেকে। এছাড়া তিনি আব্দুল ওয়াহিদ হিসারীর বর্ণনার সূত্রেও ইলম লাভ করেছেন, তিনি শামসুদ্দীন উমরী থেকে, আর তিনি হাদীস শাস্ত্রে আমীরুল মুমিনীন হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী থেকে বর্ণনা করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে উত্তম ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করার সামর্থ্য প্রার্থনা করি। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আল্লাহর ওলী, যার ব্যাপারে কোনো বিতর্ক নেই এবং যার সৎকর্মশীলতা সন্দেহাতীতভাবে স্পষ্ট, উচ্চ বংশীয় ও সুদৃঢ় মর্যাদার অধিকারী আমার সাইয়্যেদ শরফুদ্দীন—আল্লাহ যার মাধ্যমে দীনকে সম্মানিত করেছেন এবং দুনিয়া ও হাশরের ময়দানে তাঁর বরকত দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। আমি দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর কাছে সহীহ // ২৯ // ইমাম বুখারীর বিভিন্ন অধ্যায় থেকে অসংখ্য হাদীস পাঠ করেছি, সাথে তাঁর ঊর্ধ্বতন দাদা শাইখুল ইসলাম যাকারিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থও পাঠ করেছি। এছাড়া বুখারীর অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য সমস্ত হাদীসগ্রন্থের জন্য আমার ইজাযত রয়েছে। আমি তাঁর উল্লিখিত দাদার রচনাবলী থেকেও ‘শারহুল রওয’, ‘আল-বাহজাহ’, ‘আল-মানহাজ’ ও ‘আত-তাহরীর’-এর কিছু অংশ পাঠ করেছি, এবং শাইখুল ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকেও পাঠ করেছি এবং সবগুলোর জন্যই আমার ইজাযত রয়েছে। তিনি একদল মহান ব্যক্তিত্ব থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে প্রধান হলেন তাঁর পিতা যয়নুল আবেদীন; আর যয়নুল আবেদীন গ্রহণ করেছেন তাঁর পিতা মুহিউদ্দীনের নিকট থেকে; তিনি তাঁর পিতা ওলীউদ্দীন থেকে; তিনি তাঁর পিতা সাইয়্যেদ ইউসুফ জামালুদ্দীন থেকে; আর তিনি তাঁর পিতা শাইখুল ইসলাম আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া বিন মুহাম্মাদ আনসারী সানবাকী থেকে। ‘সানবাক’ শব্দটি নুকতাহীন সীন, অতঃপর সুকুনযুক্ত নূন, এরপর বা এবং সবশেষে কাফ যোগে গঠিত, যা মিসরের একটি গ্রাম। বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর উস্তাদগণ সংখ্যায় অনেক, যাদের মধ্যে হাদীস শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠ হলেন সমকালীন হাফিয আহমদ বিন হাজার আসকালানী। // ৩০ // তাফসীর গ্রন্থটি আমি ফকীহ সুলতান আল-মাযাহীর নিকট পাঠ করেছি এবং আমার বর্ণনার ইজাযত প্রবাহমান রয়েছে শাইখ শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন খলীল সুবকীর নিকট পূর্ণাঙ্গ পাঠের মাধ্যমে, তিনি পূর্ণাঙ্গ পাঠ করেছেন শাইখ নাজমুদ্দীন মুহাম্মাদ আল-গাইতানীর নিকট। তাঁর এবং শামস আর-রামলী, শিহাব বিন হাজার ও বদর আদ-দিমাশকী—এই চারজনের বর্ণনাসূত্রে, তারা সকলে শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া থেকে, তিনি হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী আবুল ফযল আল-কিনানী অতঃপর আল-মিসরী থেকে, তিনি আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আত-তানূখী থেকে, যিনি বাআলবেকের বংশোদ্ভূত কিন্তু দামেস্কের অধিবাসী।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
المنشأ نزيل القاهرة المعروف بالبرهان الشامي عن السند المعمر أبي العباس أحمد بن أبي طالب الصالحي الحجار سماعا عليه لجميعه عن الشيخ الصالح سراج الدين أبي عبد الله الحسين بن المبارك بن محمد بن يحيى البغدادي الدار والوفاة سماعا منه عن الشيخ الصالح أبي الوقت عبد الأول بن عيسى السجزي الهروي الصوفي قدس سره سماعا // 31 // منه عن الشيخ أبي الحسن عبد الرحمن بن المظفر الداوودي سماعا منه عن أبي محمد عبد الله بن أحمد بن حمويه الحموي السرخسي سماعا منه عن أبي عبد الله محمد بن يوسف الفربري سماعا منه عن مؤلف الصحيح الإمام البخاري، عليه رحمة الباري، ح
যিনি কায়রোতে লালিত-পালিত ও বসবাসকারী এবং বুরহান আশ-শামি নামে সুপরিচিত, তিনি বর্ণনা করেন—সুদীর্ঘকাল বেঁচে থাকা সনদধারী আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আবি তালিব আস-সালিহি আল-হাজ্জারের নিকট থেকে তাঁর নিকট পূর্ণাঙ্গভাবে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি নেককার শায়খ সিরাজুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-মুবারক বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-বাগদাদি (যিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন) থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি নেককার শায়খ আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা আস-সিজজি আল-হারাউই আস-সুফি (আল্লাহ তাঁর গোপন রহস্য পবিত্র করুন) থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে // ৩১ // তিনি শায়খ আবু আল-হাসান আব্দুর রহমান বিন আল-মুজাফ্ফর আদ-দাউদি থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হামুওয়াই আল-হামুউয়ি আস-সারখাসি থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরি থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি সহিহ গ্রন্থের লেখক ইমাম বুখারি (তাঁর ওপর মহান স্রষ্টার রহমত বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন। (হ)
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وأخبرنا عاليا العبد الصالح المعمر الصوفي عبد الله بن منلا سعد الله اللاهوري نزيل المدينة المنورة زادها الله تعالى شرفا سماعا عليه لجميع ثلاثيات البخاري وحديثين من رباعياته الملحقة بالثلاثيات، وهي التي بين البخاري وبين البخاري وبين التابعي واحد ثم التابعي يرويه عن تابعي آخر عن الصحابي أو يرويه عن صحابي وهو عن صحابي آخر وإجازة لسائره عن الشيخ قطب الدين محمد بن أحمد النهرواني،ونهروان قرية من قرى كجرات، وهو عن والده علاء الدين أحمد بن محمد عن الحافظ نور الدين // 32 // أبي الفتح أحمد الطاووسي عن المعمر بابا يوسف الهروي عن الشيخ المعمر محمد بن شاد بخت الفرغاني عن الشيخ المعمر أبي لقمان يحيى بن عمار الختلاني بسماعه عن الفربري عن مؤلفه، رحمه الله تعالى، فبيننا وبين البخاري ثمانية وأعلا أسانيد الحافظ بن حجر أن يكون بينه وبين البخاري سبعة فبإعتبار العدد كأني سمعت من الحافظ بن حجر وصافحته وكان شيخنا اللاهوري، رحمه الله تعالى، سمعه من التنوخي وصافحه وبين وفاتهما مئتا سنة وبضعة وثمانون فإن اللاهوري توفي سنة 1083 والتنوخي سنة 800 وهذا عال جدا وأعلى أسانيد الجلال السيوطي فساويت الجلال فيه ولله الحمد انتهى كلام شيخنا المنلا إبراهيم، رحمه الله تعالى، رحمة واسعة.
قلت وبالسند إلى الإمام البخاري قال حدثنا عمران بن ميسرة قال: حدثنا عبد الوارث //33 // عن التياح عن أنس قال: (قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن من أشراط الساعة أن يرفع العلم ويظهر الجهل ويظهر الزنا وتكثر النساء ويقل الرجال حتى يكون لخمسين امرأة القيم الواحد) .
وبالسند إليه أيضا قال: باب قول المحدث حدثنا أو أخبرنا وقال لنا الحميدي كان عند ابن عيينة حدثنا، وأخبرنا، وأنبأنا، وسمعت واحدا انتهى. يعني هذه الألفاظ الأربعة في مرتبة واحدة عند المحدثين وهو مذهب البخاري تبعا لابن عيينة.
এবং আমাদের উচ্চ সনদসহ সংবাদ দিয়েছেন নেক বান্দা, দীর্ঘায়ু লাভকারী, সূফী আব্দুল্লাহ ইবনে মোল্লা সাদুল্লাহ আল-লাহোরী, যিনি মদিনা মুনাওয়ারায় বসবাস করতেন—আল্লাহ তাআলা এর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন। আমি তাঁর নিকট সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে ইমাম বুখারীর সমস্ত ‘সুলাসিয়াত’ (তিন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট হাদিস) এবং ‘রুবাঈয়াত’ (চার বর্ণনাকারী বিশিষ্ট হাদিস) এর মধ্য থেকে দুটি হাদিস পড়েছি যা সুলাসিয়াতের সাথে যুক্ত। এগুলো এমন হাদিস যেখানে ইমাম বুখারী এবং তাবিঈর মাঝে মাত্র একজন বর্ণনাকারী থাকেন, অতঃপর তাবিঈ অপর একজন তাবিঈ থেকে, তিনি সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন; অথবা তিনি একজন সাহাবী থেকে এবং সেই সাহাবী অপর সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন। এছাড়া অন্যান্য সমস্ত বর্ণনার জন্য তিনি শায়খ কুতুবুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আন-নাহরওয়ানী থেকে ইজাজতপ্রাপ্ত ছিলেন। আর ‘নাহরওয়ান’ হলো গুজরাটের একটি গ্রাম। তিনি বর্ণনা করেন তাঁর পিতা আলাউদ্দীন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি হাফেজ নূরুদ্দীন // ৩২ // আবুল ফাতহ আহমদ আত-তাউসী থেকে, তিনি দীর্ঘায়ু লাভকারী বাবা ইউসুফ আল-হারাবী থেকে, তিনি দীর্ঘায়ু লাভকারী শায়খ মুহাম্মদ ইবনে শাদ বাখত আল-ফারগানী থেকে, তিনি দীর্ঘায়ু লাভকারী শায়খ আবু লুকমান ইয়াহইয়া ইবনে আম্মার আল-খুতলানী থেকে, তিনি ইমাম ফিরবরী থেকে শ্রবণের মাধ্যমে এবং তিনি গ্রন্থকারের (ইমাম বুখারী) থেকে—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। ফলে আমাদের এবং ইমাম বুখারীর মাঝে মধ্যস্থতাকারী হলেন আটজন। আর হাফেজ ইবনে হাজারের সর্বোচ্চ সনদগুলোতে তাঁর এবং বুখারীর মাঝে সাতজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। সুতরাং বর্ণনাকারীর সংখ্যার দিক থেকে বিষয়টি এমন যে, যেন আমি হাফেজ ইবনে হাজারের নিকট থেকে শুনেছি এবং তাঁর সাথে মুসাফাহা করেছি। আমাদের শায়খ লাহোরী (রাহিমাহুল্লাহ) এটি আত-তানূখী থেকে শুনেছিলেন এবং তাঁর সাথে মুসাফাহা করেছিলেন, অথচ তাঁদের উভয়ের ইন্তেকালের মাঝে দুইশ আশি বছরেরও বেশি সময়ের ব্যবধান ছিল। কেননা লাহোরী ১০৮৩ হিজরিতে এবং তানূখী ৮০০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। এটি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের সনদ। জালালুদ্দীন সুয়ূতীর উচ্চতর সনদগুলোর মতো আমার সনদটিও তাঁর সমপর্যায়ের হয়েছে, আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা। আমাদের শায়খ মোল্লা ইব্রাহিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য এখানে শেষ হলো, আল্লাহ তাঁর ওপর প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।
আমি বলছি, ইমাম বুখারী পর্যন্ত পৌঁছানো সনদের মাধ্যমে তিনি বলেন: ইমরান ইবনে মাইসারা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়ারিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন // ৩৩ // আত-তায়্যাহ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "নিশ্চয়ই কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে—ইলম বা জ্ঞান উঠিয়ে নেওয়া হবে, মূর্খতা প্রকাশ পাবে, ব্যভিচার প্রকাশ পাবে, নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে, এমনকি পঞ্চাশজন নারীর জন্য মাত্র একজন তত্ত্বাবধায়ক থাকবে")।
একই সনদে তিনি আরও বলেন: ‘মুহাদ্দিসের কথা: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হাদ্দাসানা) অথবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (আখবারানা)’ অনুচ্ছেদ। হুমাইদী আমাদের নিকট বলেছেন যে, ইবনে উইয়াইনার নিকট ‘হাদ্দাসানা’ (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন), ‘আখবারানা’ (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন), ‘আনবায়ানা’ (আমাদের অবহিত করেছেন) এবং ‘সামিতু’ (আমি শুনেছি)—সবগুলো একই অর্থবোধক। অর্থাৎ, মুহাদ্দিসগণের নিকট এই চারটি শব্দ একই স্তরের এবং এটিই ইবনে উইয়াইনার অনুসরণে ইমাম বুখারীর মাজহাব বা মত।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
تنبيه، هذا الحديث المروي عن أنس، رضي الله تعالى عنه، من رباعيات البخاري وقد جمع منها شيخنا المنلا إبراهيم الكردي أربعين حديثا في جزء سماه لوامع اللآلي في الأربعين العوالي.
وأطول أسانيد البخاري تسعة وأعلا ماعنده الثلاثي وقد جمع ثلاثيات كلها في جزء الحافظ ابن حجر، رحمه الله تعالى، وقد ألحقها شيخنا المذكور //34 // بالأربعين العوالي وجعلها خاتمة للوامع اللآلي وهو اثنان وعشرون حديثا على ما في هذا الكتاب ولنتبرك بالأخير منها في كلام شيخنا فنقول: قال شيخنا.
وبالسند إلى البخاري قال حدثنا خلاد بن يحيى هو أبو محمد السلمي الكوفي، نزيل مكة، حدثنا عيسى بن طهمان هو أبو بكر الجشمي البصري، نزيا الكوفة، قال: سمعت أنس بن مالك، رضي الله تعالى عنه، يقول: نزلت أية الحجاب في زينب بنت جحش وأطعم عليها يومئذ خبزا ولحما أي النبي صلى الله عليه وسلم حين بنى بها وكانت تفتخر على نساء النبي صلى الله عليه وسلم وكانت تقول إن الله أنكحني في السماء انتهى.
وتمييز الثلاثيات بالفضل عن غيرها لقرب سندها من النبي صلى الله عليه وسلم فيكون السند عاليا قال الجلال السيوطي، رحمه الله تعالى، في كتابه الذي سماه النادريات من العشاريات ما نصه وبعد
فإن الإسناد العالي // 35 // سنة محبوبة وللقرب من رسول الله صلى الله عليه وسلم رتبة مطلوبة ولذلك اعتنى أهل الحديث بتخريج عواليهم وأعلاها وأرفعها في الدرجة وأسناها فخرجوا الثلاثيات ثم الرباعيات ثم الخماسيات ثم السداسيات ثم السباعيات ثم الثمانيات وكلها قبل السبع مئة سنة، وخرجوا بعد السبع مئة التساعيات والعشاريات انتهى وإلى الله المنتهى.
সতর্কবার্তা: আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি ইমাম বুখারীর ‘রুবায়িয়্যাত’ (চার রাবী বিশিষ্ট সনদ) সমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের শাইখ মোল্লা ইব্রাহিম আল-কুর্দি এই ধরণের চল্লিশটি হাদিস একটি খণ্ডে সংকলন করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘লাওয়ামি আল-লাআলি ফিল আরবাঈন আল-আওয়ালি’।
ইমাম বুখারীর দীর্ঘতম সনদ নয় রাবী বিশিষ্ট, আর তাঁর কাছে সর্বোচ্চ সনদ হলো ‘সুলাসি’ (তিন রাবী বিশিষ্ট)। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) সকল সুলাসি হাদিস একটি খণ্ডে সংকলন করেছেন। আমাদের উল্লিখিত শাইখ // ৩৪ // সেগুলোকে ‘আরবাঈন আল-আওয়ালি’-র সাথে যুক্ত করেছেন এবং ‘লাওয়ামি আল-লাআলি’-র উপসংহার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই কিতাবের তথ্য অনুযায়ী এর সংখ্যা বাইশটি হাদিস। বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে আমরা আমাদের শাইখের কথা থেকে এর শেষটি উল্লেখ করছি। আমাদের শাইখ বলেছেন:
ইমাম বুখারী পর্যন্ত সনদের মাধ্যমে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খাল্লাদ বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন আবু মুহাম্মাদ আস-সুলামি আল-কুফি, যিনি মক্কায় বসবাস করতেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট ঈসা বিন তাহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন আবু বকর আল-জুশামি আল-বাসরি, যিনি কুফায় বসবাস করতেন। তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)-কে বলতে শুনেছি: জয়নাব বিনতে জাহাশের ব্যাপারে পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল। সেদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাথে বাসর উদযাপনের সময় রুটি ও গোশত খাইয়েছিলেন। তিনি (জয়নাব) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্য স্ত্রীদের সামনে গর্ব করে বলতেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানে আমার বিবাহ দিয়েছেন। সমাপ্ত।
অন্যান্য হাদিসের তুলনায় সুলাসিয়াত বা তিন রাবী বিশিষ্ট হাদিসের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এর সনদের নিকটবর্তী হওয়া, ফলে সনদটি উচ্চ পর্যায়ের হয়। জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর ‘আন-নাদরিয়াত মিনাল উশারিয়াত’ নামক কিতাবে যা লিখেছেন তার পাঠ হলো: অতঃপর—
নিশ্চয়ই উচ্চ সনদ // ৩৫ // একটি প্রিয় সুন্নত এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটবর্তী হওয়া একটি কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা। এ কারণেই হাদিস বিশারদগণ তাঁদের উচ্চ সনদগুলো সংকলনে যত্নবান হয়েছেন, যা মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ। তাই তাঁরা প্রথমে সুলাসিয়াত (তিন রাবী বিশিষ্ট), এরপর রুবায়িয়াত (চার), খুমাসিয়াত (পাঁচ), সুদাসিয়াত (ছয়), সুবাঈয়াত (সাত) এবং সুমানিয়াত (আট) বের করেছেন। আর এ সবই ছিল সাতশ হিজরি সনের পূর্বের। সাতশ হিজরির পরে তাঁরা তিসাঈয়াত (নয়) এবং উশারিয়াত (দশ) বের করেছেন। সমাপ্ত। আর আল্লাহর নিকটই সবকিছুর সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وأما صحيح الحافظ الحجة أبي الحسين مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري فإني أرويه عن من تقدم ذكرهم إجازة إلا شيخنا المنلا إبراهيم فأرويه عنه سماعا بقراءة بعض الإخوان عليه في بيته الكائن بظاهر المدينة المنورة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام في مجالس كثيرة لطائفة منه كبيرة مع مطالعة شرحه للإمام النواوي يحيى أبي زكريا، رحمه الله تعالى، وإجازة لسائره قال: شيخنا المنلا // 36 // إبراهيم، رحمه الله تعالى، قرأت طرفا منه على أبي العزائم الشيخ سلطان المزاحي، وسمعت طرفا منه على الشيخ صفي الدين القشاشي، بسند كل منهما إلى شيخ الإسلام زكريا، عن مسند الديار المصرية، عز الدين عبد الرحيم المعروف بابن الفرات القاهري الحنفي، عن أبي الثناء محمود ابن الخليفة المنبجي، ومنبج قرية من قرى حلب، عن الحافظ شرف الدين عبد المؤمن بن خلف الدمياطي، بإجازته، عن أبي الحسن ابن محمد الطوسي النيسابوري، بسماعه من فقيه الحرم أبي عبد الله محمد بن الفضل الفراوي، أخبرنا أبو الحسين عبد الغافر بن محمد بن عبد الغافر الفارسي، أخبرنا أبو أحمد محمد بن عيسى الجلوي حدثنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان الزاهد النيسابوري، عن مؤلفه.
وبه حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ // 37 // النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى حَتَّى انْتَفَخَتْ قَدَمَاهُ، فَقِيلَ لَهُ: أَتَكَلَّفُ هَذَا؟ وَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ، فَقَالَ: أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا.
وهذا من رباعياته، وهو أعلى ما عنده، والله أعلم.
سنن الحافظ أبي داود سليمان بن الأشعث السجستاني:
আর হাফেজ হুজ্জাহ আবুল হোসেন মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল-কুশাইরি আন-নিশাপুরি-এর সহীহ মুসলিমের ক্ষেত্রে, আমি তা পূর্বে উল্লেখিত ব্যক্তিদের নিকট থেকে ইজাজাতসূত্রে বর্ণনা করছি, তবে আমাদের শায়খ আল-মোল্লা ইবরাহিমের নিকট থেকে আমি তা সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করছি। যা মদিনা মুনাওয়ারার উপকণ্ঠে অবস্থিত তাঁর বাড়িতে—তার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—অনেকগুলো মজলিসে তাঁর সামনে কিছু ভাইয়ের পাঠের মাধ্যমে এর একটি বড় অংশ শুনেছি, সাথে ইমাম নববী ইয়াহিয়া আবু জাকারিয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেছি এবং কিতাবটির অবশিষ্টাংশের জন্য ইজাজাত লাভ করেছি। আমাদের শায়খ আল-মোল্লা // ৩৬ // ইবরাহিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি এর একটি অংশ আবুল আজায়েম শায়খ সুলতান আল-মাজাহির নিকট পাঠ করেছি এবং একটি অংশ শায়খ সফিউদ্দিন আল-কাশাশির নিকট শুনেছি; তাদের প্রত্যেকের সনদে শায়খুল ইসলাম জাকারিয়া পর্যন্ত, তিনি মিশরের মুসনিদ ইজ্জুদ্দিন আবদুর রহিম—যিনি ইবনুল ফুরাত আল-কাহিরি আল-হানাফি নামে পরিচিত—তাঁর নিকট থেকে, তিনি আবুল সানা মাহমুদ ইবনে আল-খলিফা আল-মানবিজি (মানবিজ হলো হালবের একটি গ্রাম) থেকে, তিনি হাফেজ শরাফুদ্দিন আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দুমইয়াতি থেকে তাঁর ইজাজাতসূত্রে, তিনি আবুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ আত-তুসি আন-নিশাপুরি থেকে, তিনি হারামের ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-ফারাভির নিকট শ্রবণসূত্রে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হোসেন আব্দুল গাফির বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল গাফির আল-ফারিসি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-জুলুদি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান আল-জাহিদ আন-নিশাপুরি, তিনি এর গ্রন্থকার থেকে।
এবং এই একই সনদে কুতাইবা বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জিয়াদ বিন ইলাকাহ থেকে, তিনি মুগীরা বিন শুবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, // ৩৭ // নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করতেন এমনকি তাঁর পা দ্বয় ফুলে যেত। তাঁকে বলা হলো: আপনি কেন এত কষ্ট করছেন? অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বের এবং পরের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন: "আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?"
এটি তাঁর 'রুবাইয়াত' (চার রাবির সনদবিশিষ্ট হাদিস)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি তাঁর নিকট উচ্চমানের সনদ, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
হাফেজ আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি-এর সুনান:
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
أرويها عمّن سبق ومنهم المنلا إبراهيم، قال: سمعت طرفا منه على شيخنا العارف صفي الدين القشاشي، بسنده إلى ابن الفرات، عن أبي حفص عمر بن الحسين بن يزيد المراغي، عن الفخر علي بن أحمد بن عبد الواحد، عن أبي حفص عمر بن محمد بن طبرزاد البغدادي، حدثنا بها الشيخان إبراهيم بن محمد بن منصور الكرخي، وأبو الفتح مفلح بن أحمد الرومي، سماعا عليهما ملفقا، أخبرنا بها الحافظ الكبير أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي، حدثنا أبو عمر القاسم بن جعفر الهاشمي، حدثنا أبو علي محمد بن أحمد اللؤلؤي // 38 // حَدَّثَنَا بها أبو داود، يعني المؤلف، رحمه الله تعالي، قال: حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ أَبُو طَالُوتَ، قَالَ: شَهِدْتُ أَبَا بَرْزَةَ دَخَلَ عَلَى عُبَيْدِ اللهِ بْنِ زِيَادٍ، فَحَدَّثَنِي فُلَانٌ، سَمَّاهُ مُسْلِمٌ وَكَانَ فِي السِّمَاطِ، فَلَمَّا رَآهُ عُبَيْدُ اللهِ قَالَ: إِنَّ مُحَمَّدِيَّكُمْ هَذَا الدَّحْدَاحُ، فَفَهِمَهَا الشَّيْخُ، فَقَالَ: مَا كُنْتُ أَحْسَبُ أَنِّي أَبْقَى فِي قَوْمٍ يُعَيِّرُونِي بِصُحْبَةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ عُبَيْدُ اللهِ: إِنَّ صُحْبَةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لَكَ زَيْنٌ غَيْرُ شَيْنٍ، قَالَ: إِنَّمَا بَعَثْتُ إِلَيْكَ لأَسْأَلَكَ عَنِ الْحَوْضِ، سَمِعْتَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ فِيهِ شَيْئًا؟ فَقَالَ لَهُ أَبُو بَرْزَةَ: نَعَمْ لَا مَرَّةً، وَلَا ثِنْتَيْنِ، وَلَا ثَلَاثًا، وَلَا أَرْبَعًا، وَلَا خَمْسًا، فَمَنْ كَذَّبَ بِهِ فَلَا سَقَاهُ اللَّهُ مِنْهُ، ثُمَّ خَرَجَ مُغْضَبًا.
আমি এটি বর্ণনা করছি পূর্ববর্তীদের পক্ষ থেকে, যাদের মধ্যে মোল্লা ইব্রাহিম রয়েছেন। তিনি বলেন: আমি এর একাংশ আমাদের শায়খ আরিফ সফিউদ্দীন আল-কুশাশির নিকট শ্রবণ করেছি, ইবনুল ফুরাতের প্রতি তাঁর সনদে, আবু হাফস উমর ইবনুল হুসাইন ইবনে ইয়াযিদ আল-মারগি থেকে, ফখর আলী ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ থেকে, আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাবারযাদ আল-বাগদাদি থেকে। আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন দুই শায়খ ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মানসুর আল-কারখি এবং আবুল ফাতহ মুফলিহ ইবনে আহমদ আর-রুমি, তাঁদের উভয়ের নিকট সম্মিলিতভাবে শ্রবণের মাধ্যমে। আমাদের নিকট এটি সংবাদ দিয়েছেন হাফিযুল কাবির আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর কাসিম ইবনে জাফর আল-হাশেমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-লুলুই // ৩৮ // আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, অর্থাৎ গ্রন্থকার—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুস সালাম ইবনে আবি হাযিম আবু তালুত, তিনি বলেন: আমি প্রত্যক্ষ করেছি যে, আবু বারযাহ উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদের নিকট প্রবেশ করলেন। অতঃপর আমাকে অমুক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন—মুসলিম তার নাম উল্লেখ করেছেন এবং তিনি মজলিসের সারিতে উপস্থিত ছিলেন—যখন উবায়দুল্লাহ তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: তোমাদের এই মুহাম্মাদী (অনুসারী) তো খর্বকায়। শায়খ (আবু বারযাহ) এটি বুঝতে পারলেন এবং বললেন: আমি কখনও ভাবিনি যে আমি এমন এক সম্প্রদায়ের মাঝে বেঁচে থাকব যারা আমাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যের কারণে উপহাস করবে। তখন উবায়দুল্লাহ তাঁকে বললেন: নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য আপনার জন্য সম্মান ও সৌন্দর্য, কোনো কলঙ্ক নয়। তিনি (উবায়দুল্লাহ) বললেন: আমি আপনাকে কেবল হাওয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য ডেকে পাঠিয়েছি। আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ করতে শুনেছেন? আবু বারযাহ তাঁকে বললেন: হ্যাঁ, একবার নয়, দুইবার নয়, তিনবার নয়, চারবার নয় এবং পাঁচবারও নয় (বরং বহুবার)। সুতরাং যে ব্যক্তি একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, আল্লাহ তাকে তা থেকে পান করাবেন না। অতঃপর তিনি রাগান্বিত অবস্থায় বের হয়ে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وهذا من الرباعيات وهو أن يروي تابعي عن // 39 // تابعي عن الصحابي أو صحابي وهو عن صحابي آخر فيحسب التابعيات أو الصحابيات بدرجة واحدة فهما اثنان في حكم واحد فإذا كان معهم راو أخذ عنه المؤلف يقال فيه رباعي في حكم الثلاثي وهذا أعلا ما عند أبي داود والله أعلم.
جامع الترمذي
وهو الحافظ أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة أرويه عن من سبق بحق قراءة شيخنا المنلا إبراهيم لطرف منه على الشيخ صفي الدين القشاشي بسندهما إلى ابن طبرزد أنبأنا أبو الفتح عبد الملك بن أبي القاسم الكروخي عن أبي عامر محمود بن القاسم الأزدي وسمعه الكروخي أيضا من أبي المظفر عبيد الله بن علي بن يسر الدهان الهروي قال: أنبأنا أبو محمد عبد الجبار بن محمد بن عبد الله بن الجراح المروزي حَدَّثَنَا // 40 // الشيخ الثقة الأمين أبو العباس محمد بن أحمد بن محبوب بن فضيل التاجر المحبوبي عن مؤلفه الترمذي، رحمه الله تعالى، وبالسند إليه قال: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى الفَزَارِيُّ ابْنُ بِنْتِ السُّدِّيِّ الكُوفِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ شَاكِرٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ منهِمْ عَلَى دِينِهِ كَالقَابِضِ عَلَى الجَمْرِ.
قَالَ أَبُو عِيسَى: يعني الترمذي نفسه، هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الوَجْهِ.
وهذا الحديث قد وقع له ثلاثيات وهو أعلى ما عنده والله أعلم.
سنن النسائي
এটি ‘রুবায়িয়াত’ (চার স্তরের সূত্র) সমূহের অন্তর্ভুক্ত। তা হলো একজন তাবেয়ী অপর একজন তাবেয়ী থেকে, তিনি একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন; অথবা একজন সাহাবী অপর একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন। এমতাবস্থায় তাবেয়ীগণ বা সাহাবীগণকে এক স্তর হিসেবে গণ্য করা হয়, ফলে তারা দুজন একজনের হুকুমে থাকেন। যখন তাদের সাথে এমন একজন রাবী (বর্ণনাকারী) থাকেন যার থেকে গ্রন্থকার বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, তখন তাকে ‘সুলাসি’র (তিন স্তরের) হুকুমে ‘রুবায়ি’ (চার স্তরের) বলা হয়। আবু দাউদের নিকট এটিই সর্বোচ্চ সনদ। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
জামে তিরমিযী
তিনি হলেন হাফেজ আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ। আমি এটি পূর্বোক্ত ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে বর্ণনা করছি আমাদের শায়খ মোল্লা ইব্রাহিম কর্তৃক এর কিয়দাংশ শায়খ সফিউদ্দিন আল-কাশাশীর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, তাঁদের উভয়ের সনদে ইবন তাবারজাদ পর্যন্ত; তিনি বলেন: আবুল ফাতহ আব্দুল মালিক ইবনে আবিল কাসিম আল-কুরুখী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমির মাহমুদ ইবনে কাসিম আল-আযদি থেকে। আল-কুরুখী এটি আবু মুজাফফর উবায়দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে ইউসর আদ-দাহহান আল-হারাভী থেকেও শ্রবণ করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল জাররাহ আল-মারওয়াযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার শায়খ আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাহবুব ইবনে ফুদাইল আত-তাজির আল-মাহবুবি, এর গ্রন্থকার তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) থেকে। এবং তাঁর প্রতি সনদে তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে মুসা আল-ফাযারী ইবনে বিনতে সুদ্দী আল-কুফী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে শাকির, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন তাদের মধ্যে নিজের দ্বীনের ওপর ধৈর্যধারণকারী ব্যক্তি জ্বলন্ত কয়লা মুষ্টিবদ্ধকারীর ন্যায় হবে।
আবু ঈসা (অর্থাৎ তিরমিযী নিজে) বলেন: এই সূত্রে এই হাদীসটি ‘গারীব’।
আর এই হাদীসটি তাঁর নিকট ‘সুলাসিয়াত’ (তিন স্তরের সূত্র) হিসেবে এসেছে, যা তাঁর নিকট থাকা সর্বোচ্চ সনদ। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
সুনানে নাসাঈ
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وهو الإمام الحافظ أبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي، رحمه الله تعالى، أرويه عن شيخنا المذكور قال، رحمه الله تعالى، سمعت طرفا منه على الشيخ صفي الدين بسنده السابق إلى التنوخي بسماعه على أيوب بن نعمة النابلسي بكسر الموحدة أنبأنا إسماعيل // 41 // بن أحمد العراقي عن عبد الرزاق بن إسماعيل القومسي أخبرنا أبو محمد عبد الرحمن بن أحمد الدوني أخبرنا أبو نصر أحمد بن الحسين القاضي الدينوري المعروف بالكسار، أخبرنا الحافظ أبو بكر أحمد بن محمد بن إسحاق القاضي الدينوري المعروف بابن السني قال: أنبأنا مؤافها النسائي وبالسند إليه قال رحمه الله تعالى أَخْبَرَنا مُحَمَّدُ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ الرَّحِيمِ، هو خالد بن يزيد الحراني، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيِّ، كَتَبَ إِلَيْهِ يَذْكُرُ أَنَّ عُبَيْدَ اللهِ بْنَ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَهُ أَنَّ زُفَرَ بْنَ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ النَّصْرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا السَّنَابِلِ بْنَ بَعْكَكِ بْنِ السَّبَّاقِ، قَالَ لِسُبَيْعَةَ الأَسْلَمِيَّةِ: لَا تَحِلِّينَ حَتَّى يَمُرَّ عَلَيْكِ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ أَقْصَى الأَجَلَيْنِ، فَأَتَتْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَتْهُ عَنْ ذَلِكَ فَزَعَمَتْ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَفْتَاهَا أَنْ تَنْكِحَ إِذَا وَضَعَتْ // 42 // حَمْلَهَا، وَكَانَتْ حُبْلَى فِي تِسْعَةِ أَشْهُرٍ حِينَ تُوُفِّيَ زَوْجُهَا، وَكَانَتْ تَحْتَ سَعْدِ بْنِ خَوْلَةَ، فَتُوُفِّيَ عَنْهَا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَنَكَحَتْ فَتًى مِنْ قَوْمِهَا حِينَ وَضَعَتْ مَا فِي
তিনি হলেন ইমাম হাফিজ আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসাঈ, আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমি এটি বর্ণনা করছি আমাদের উল্লিখিত শায়খ থেকে, তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, আমি এর কিছু অংশ শায়খ সফিউদ্দিনের নিকট তাঁর পূর্বোক্ত সনদে শুনেছি যা আত-তানুখি পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি তা শুনেছেন আইয়ুব ইবনে নি'মাহ আন-নাবুলুসি থেকে (বা বর্ণে কাসরা যোগে)। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল // ৪১ // ইবনে আহমদ আল-ইরাকি, তিনি আবদুর রাজ্জাক ইবনে ইসমাইল আল-কাওমাসি থেকে, আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আহমদ আদ-দুনি, আমাদের জানিয়েছেন আবু নাসর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-কাদি আদ-দিনাওয়ারি যিনি আল-কাসসার নামে পরিচিত, আমাদের জানিয়েছেন হাফিজ আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-কাদি আদ-দিনাওয়ারি যিনি ইবনুস সুন্নি নামে পরিচিত। তিনি বলেন: নাসাঈর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতে তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর সনদে তিনি (ইমাম নাসাঈ) বলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ওয়াহাব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহিম—তিনি হলেন খালিদ ইবনে ইয়াজিদ আল-হাররানি—আমার কাছে বর্ণনা করেছেন জাইদ ইবনে আবি উনাইসাহ, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আজ-জুহরি থেকে, তিনি তাঁকে লিখে জানিয়েছেন যে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে যুফার ইবনে আওস ইবনুল হাদাসান আন-নাসরি তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে আবুল সানাবিল ইবনে বা'কাক ইবনে আস-সাব্বাক, সুবাইআহ আল-আসলামিয়্যাহকে বলেছিলেন: দুই মেয়াদের দীর্ঘতমটি অর্থাৎ চার মাস দশ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তুমি বিয়ের জন্য হালাল হবে না। তখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাঁকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ফতোয়া দিলেন যে তিনি যখনই তাঁর সন্তান প্রসব করবেন // ৪২ // তখনই বিবাহ করতে পারবেন। তাঁর স্বামী যখন মারা যান তখন তিনি নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তিনি সাদ ইবনে খাওলার বিবাহধীনে ছিলেন, যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিদায় হজের সময় মৃত্যুবরণ করেন। অতঃপর তিনি যখন তাঁর গর্ভস্থিত সন্তান প্রসব করলেন, তখন তিনি তাঁর কওমের এক যুবককে বিবাহ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
بَطْنِهَا. والله أعلم.
سنن الحافظ ابن ماجة
بسكون الهاء لأنه اسم أعجمي وهو أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني المعروف بابن ماجة، رحمه الله تعالى، وماجة لقب يزيد والد محمد لا جده كما في القاموس أرويه عن شيخنا المذكور قال: سمعت طرفا منه على شيخنا الإمام صفي الدين أواخر سنة 1071 بسنده إلى الحافظ ابن حجر العسقلاني بقراءته على أبي الحسن ابن أبي المجد الدمشقي عن أبي العباس الحجار عن أنجب بن أبي السعادات قال: أخبرنا أبو زرعة المقدسي، أخبرنا أبو منصور المقدسي، أخبرنا أبو طلحة الخطيب، أخبرنا أبو الحسن القطان، أخبرنا بها مؤلفها أبو عبد الله محمد بن ماجة والله أعلم. //43 // وبالسند إلى ابن ماجة قال: وهو أول ثلاثياته حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، قَالَ: حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ سُلَيْمٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُكْثِرَ اللَّهُ خَيْرَ بَيْتِهِ، فَلْيَتَوَضَّأْ إِذَا حَضَرَ غَدَاؤُهُ، وَإِذَا رُفِعَ. انتهى
تنبيه
الكتب المذكورة أعني البخاري وما ذكر بعده هي الكتب المشهورة بين المحدثين بالفضل المبين قالوا وينبغي لطالب الحديث أن يتلقاها على ترتيبها المذكور البخاري فمسلم فسنن أبي داود.. الخ سواء كان ذلك التلقي قراءة منه على شيخه أو سماعا من شيخه أو إجازة منه أي وكذا تلقى ما يأتي ذكره من الكتب يكون على ترتيبها الآتي كما تقدمت الإشارة إلى ذلك وقد عقبت الكتب الستة بقولي.
তার পেট। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
হাফেজ ইবনে মাজার সুনান
'হা' বর্ণের সুকুনসহ (মাজা), কারণ এটি একটি অনারব নাম। তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-কাজভিনি, যিনি ইবনে মাজা নামে পরিচিত, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন। 'মাজা' হলো মুহাম্মদের পিতা ইয়াজিদের উপাধি, তাঁর দাদার নয়, যেমনটি আল-কামুস গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। আমি এটি আমার উল্লিখিত শায়খের নিকট থেকে বর্ণনা করছি। তিনি বলেছেন: আমি এর কিয়দাংশ আমার শায়খ ইমাম সফিউদ্দিনের নিকট ১০৭১ হিজরি সালের শেষভাগে তাঁর সনদে শুনেছি যা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা তিনি আবু হাসান ইবনুল আবি মাজদ আদ-দিমাশকির নিকট পাঠ করেছিলেন, তিনি আবুল আব্বাস আল-হাজ্জার থেকে, তিনি আনজাব বিন আবি আস-সাআদাত থেকে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জুরআ আল-মাকদিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর আল-মাকদিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালহা আল-খতিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আল-কাত্তান, আর আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন এর সংকলক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাজা। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। // ৪৩ // এবং ইবনে মাজা পর্যন্ত পৌঁছানো সনদের মাধ্যমে তিনি বলেন: এটি তাঁর সংকলনের প্রথম 'সুলাসিয়াত' (তিন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট হাদিস)। জুবাহরা বিন আল-মুগাল্লিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসির বিন সুলাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে আল্লাহ তার ঘরের কল্যাণ বৃদ্ধি করে দিন, সে যেন তার দুপুরের খাবার হাজির হলে এবং খাবার তুলে নেওয়া হলে অজু (হাত মুখ ধৌত) করে।" সমাপ্ত।
সতর্কবার্তা
উল্লিখিত কিতাবসমূহ—অর্থাৎ বুখারি এবং এর পরে যা উল্লেখ করা হয়েছে—তা হাদিস বিশারদদের নিকট সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্বের কারণে প্রসিদ্ধ। তাঁরা বলেছেন: হাদিসের ছাত্রের উচিত এগুলোকে তাদের উল্লিখিত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী গ্রহণ করা; প্রথমে বুখারি, এরপর মুসলিম, এরপর সুনানে আবু দাউদ... ইত্যাদি। চাই সেই গ্রহণ করাটা শায়খের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে হোক, অথবা শায়খের নিকট থেকে শোনার মাধ্যমে হোক, কিংবা তাঁর পক্ষ থেকে অনুমতির (ইজাজত) মাধ্যমে হোক। অর্থাৎ, পরবর্তীতে যেসব কিতাবের কথা আসবে সেগুলোও তাদের আসার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে, যেমনটি আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আমি 'কুতুবে সিত্তা' বা ছয়টি কিতাবের পর আমার বক্তব্যের মাধ্যমে অনুগমন করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الموطأ لإمام دار الهجرة الإمام مالك بن أنس الأصبحي نجم الهدى، رضي الله تعالى عنه، // 44 // أرويه عن شيخنا المنلا إبراهيم المذكور قراءة لبعضه وإجازة لسائره وهوقد قال: سمعت منه طرفا على شيخنا العارف بالله تعالى صفي الدين القشاشي المدني الأنصاري روح الله روحه عن الشمس الرملي عن الزين زكريا عن الحافظ أحمد بن حجر عن المسند المعمر عمر بن حسن بن أميلة المراغي عن عز الدين أحمد بن إبراهيم بن عمر الفاروبي، حدثنا به أبو إسحاق إبراهيم بن يحيى بن أبي حفاظ المكناسي، أخبرنا أبو الحسين محمد بن محمد بن سعيد بن زدقوت بإجازته عن أبي عبد الله أحمد بن محمد بن عبد الله بن غليون بن الحصار الخولاني عن أبي عمر وعثمان بن أحمد التيجاطي عن أبي عيسى يحيى بن عبد الله بن يحيى بن عبد الله بن يحيى بن يحيى بن يحيى عن عم أبيه مروان عبيد الله بن يحيى بن يحيى عن أبيه يحيى بن يحيى المصمودي // 45 // الليثي عن إمام الأئمة الحجة مالك بن أنس الأصبحي وبه إلى الإمام مالك قال في كتابه الجامع النهي عن القول بالقدر (عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأََعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله تعالى عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: تَحَاجَّ آدَمُ وَمُوسَى، فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى قَالَ لَهُ مُوسَى: أَنْتَ آدَمُ الَّذِي أَغْوَيْتَ النَّاسَ وَأَخْرَجْتَهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ، فَقَالَ لَهُ آدَمُ: أَنْتَ مُوسَى الَّذِي أَعْطَاهُ اللَّهُ عِلْمَ كُلِّ شَيْءٍ، وَاصْطَفَاهُ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَتِهِ قَالَ: نَعَمْ قَالَ: أَفَتَلُومُنِي عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِّرَ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ.
দারুল হিজরতের ইমাম, হিদায়াতের নক্ষত্র ইমাম মালিক ইবন আনাস আল-আসবাহী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) রচিত আল-মুয়াত্তা। // ৪৪ // আমি এটি বর্ণনা করছি আমাদের শাইখ উল্লিখিত মোল্লা ইব্রাহিমের নিকট থেকে, এর কিছু অংশ পাঠ করার মাধ্যমে এবং অবশিষ্টাংশ ইজাজতের (অনুমতি) মাধ্যমে। তিনি বলেছেন: আমি এর একাংশ শ্রবণ করেছি আল্লাহ তাআলার আরিফ (পরিচয় লাভকারী) আমাদের শাইখ সফিউদ্দীন আল-কুশাশি আল-মাদানি আল-আনসারির নিকট (আল্লাহ তাঁর রূহকে শান্তিতে রাখুন), তিনি শামস আল-রামলি থেকে, তিনি যয়ন জাকারিয়া থেকে, তিনি হাফেজ আহমদ ইবন হাজার থেকে, তিনি দীর্ঘজীবী মুসনিদ উমর ইবন হাসান ইবন উমাইলা আল-মারানি থেকে, তিনি ইজ্জুদ্দীন আহমদ ইবন ইব্রাহিম ইবন উমর আল-ফারুবি থেকে। আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবি হাফফায আল-মিকনাসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন সাঈদ ইবন যাদাকুত, তিনি ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন গালইয়ুন ইবনুল হাসসার আল-খাওলানি থেকে, তিনি আবু উমর ও উসমান ইবন আহমদ আত-তিজাতি থেকে, তিনি আবু ঈসা ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতার চাচা মারওয়ান উবায়দুল্লাহ ইবন ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আল-মাসমুদি // ৪৫ // আল-লায়সী থেকে, তিনি আইম্মাহগণের ইমাম, হুজ্জাত মালিক ইবন আনাস আল-আসবাহী থেকে। এবং এই সূত্রেই ইমাম মালিক পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি তাঁর 'কিতাবুল জামে' অধ্যায়ে তাকদির সম্পর্কে কোনো কথা বলা নিষেধ হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন: (আবুয যিনাদ থেকে বর্ণিত, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আদম ও মুসা পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হলেন, আর আদম মুসার উপর তর্কে জয়ী হলেন। মুসা তাঁকে বললেন: আপনিই কি সেই আদম, যিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং তাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন? তখন আদম তাঁকে বললেন: আপনিই কি সেই মুসা, যাকে আল্লাহ সকল বিষয়ের জ্ঞান দান করেছেন এবং তাঁর রিসালাত দিয়ে মানুষের উপর মনোনীত করেছেন? মুসা বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তবে আপনি কি আমাকে এমন একটি বিষয়ের জন্য তিরস্কার করছেন, যা আমার সৃষ্টির পূর্বেই আমার উপর নির্ধারিত ছিল?)
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
انتهى كلام شيخنا المنلا إبراهيم والمراد هنا النهي عن القول بجحد القدر فجحد القدر منهي عنه لأن الإيمان بالقدر وإن أصابك ام يكن ليخطأك وإن ما أخطأك لم يكن ليصيبك واجب وإنما حج آدم موسى على نبينا وعليهما الصلاة والسلام لأن لوم موسى عليه السلام إنما // 46 // يتجه على تقدير استقلال العبد في كسب أفعاله، والإستقلال باطل بنص: (ما شاء الله لا قوة إلا بالله) ، ونص: (وما تشاؤون إلا أن يشاء الله) ، و (ما شاء الله كان، وما لم يشأ لم يكن) .
وموسى،عليه السلام كان يعلم ذلك، فإن الذي قال فيه آدم، عليه السلام، أعطاه الله علم كل شيىء، وخصوصا اعترف بأن في التوراة كان مكتوبا على آدم، عليه السلام، قبل أن يخلق بأربعين عاما، كما في رواية أخرى لكن كان حين اللوم ناسيا لذلك كما في قصة الخضر، عليه السلام، فقال: (أخرقتها لتغرق أهلها) ، فلما ذكره الخضر تذكر، وقال: (لا تؤاخذني بما نسيت) ، وهذا لما ذكره آدم بالقدر المستلزم لعدم الإستقلال تذكر أن آدم، عليه السلام، كان مضطرا إلى إختيار ما صدر منه، مما كان سببا للإخراج من الجنة، بنص التوراة لا إستقلالا // 47 // بإختيار وكل ما كان كذلك لم يتجه اللوم فيه. فلهذا حج آدم موسى.
وأما ما يقال أن القدر السابق لو كان حجة للعاصي لبطل الأمر والنهي، فجوابه أن آدم، عليه السلام، لم يحتج بالقدر على أنه لم يرتكب المنهي عنه، المشار إليه، في لوم موسى، عليه السلام، أهبطت الناس بخطيئتك إلى الأرض.
আমাদের শাইখ মোল্লা ইব্রাহিমের বক্তব্য এখানে শেষ হলো। এখানে উদ্দেশ্য হলো তাকদির অস্বীকার করার কথা বলতে নিষেধ করা। তাকদির অস্বীকার করা নিষিদ্ধ, কারণ তাকদিরে বিশ্বাস করা ওয়াজিব; অর্থাৎ যা তোমার ভাগ্যে ঘটেছে তা তোমাকে ভুল করে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তোমাকে এড়িয়ে গেছে তা তোমার ভাগ্যে ঘটার ছিল না। আমাদের নবী এবং তাঁদের উভয়ের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—আদম আলাইহিস সালাম মূসা আলাইহিস সালামের ওপর তর্কে জয়ী হয়েছিলেন কারণ মূসা আলাইহিস সালামের তিরস্কার তখনই // 46 // সঙ্গত হতো যদি বান্দা তার কাজ অর্জনে স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে গণ্য হতো। অথচ বান্দার এই স্বাধীনতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অকাট্য দলিলের মাধ্যমে বাতিল সাব্যস্ত হয়েছে: "আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই", এবং "আল্লাহ না চাইলে তোমরা কিছুই ইচ্ছা করতে পারো না", এবং "আল্লাহ যা চেয়েছেন তা হয়েছে, আর যা তিনি চাননি তা হয়নি"।
মূসা আলাইহিস সালাম এটি জানতেন। কারণ যার সম্পর্কে আদম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন যে, আল্লাহ তাঁকে প্রতিটি বিষয়ের জ্ঞান দান করেছেন; বিশেষ করে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তাওরাত কিতাবে আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টির চল্লিশ বছর আগেই তাঁর সম্পর্কে তা লিখিত ছিল, যেমনটি অন্য বর্ণনায় এসেছে। কিন্তু তিরস্কারের সময় তিনি বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন, যেমনটি খিজির আলাইহিস সালামের ঘটনায় ঘটেছিল। তখন তিনি বলেছিলেন: "আপনি কি এটি ছিদ্র করে দিলেন যাতে এর আরোহীদের ডুবিয়ে দিতে পারেন?" এরপর যখন খিজির তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলেন, তখন তিনি তা স্মরণ করলেন এবং বললেন: "আমার বিস্মৃতির জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না।" এখানেও যখন আদম আলাইহিস সালাম তাঁকে তাকদিরের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন—যা বান্দার স্বয়ংসম্পূর্ণতা না থাকার নামান্তর—তখন তিনি স্মরণ করলেন যে, জান্নাত থেকে বের হওয়ার কারণ হিসেবে যা কিছু আদম আলাইহিস সালামের থেকে প্রকাশ পেয়েছে, তাওরাতের অকাট্য বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তা করতে বাধ্য ছিলেন, তা তাঁর স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ // 47 // ইচ্ছায় ঘটেনি। আর যেখানে বিষয়টি এমন হয়, সেখানে তিরস্কার করা চলে না। এই কারণেই আদম আলাইহিস সালাম মূসা আলাইহিস সালামের ওপর তর্কে জয়ী হয়েছিলেন।
আর এ কথা যে বলা হয়—পূর্বনির্ধারিত তাকদির যদি পাপাচারীর জন্য দলিল হতো তবে তো শরয়ি আদেশ ও নিষেধ বাতিল হয়ে যেত—এর উত্তর হলো: আদম আলাইহিস সালাম এই যুক্তিতে তাকদিরকে দলিল হিসেবে পেশ করেননি যে তিনি নিষিদ্ধ কাজ করেননি; বরং মূসা আলাইহিস সালামের তিরস্কারের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এটি পেশ করেছিলেন, যেখানে মূসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: "আপনি আপনার ভুলের কারণে মানুষকে পৃথিবীতে নামিয়ে এনেছেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
ففي بعض طرق الحديث: هَلْ وَجَدْتَ فِيهَا، أي في التوراة وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى، قَالَ: نَعَمْ، فاعترف هو لموسى، عليهما السلام أن الله، تعالى، سماه معصية، وبأنه ارتكب المنهي، ولكنه قال: إنه كان مكتوبا علي قبل أن أخلق، فلا بد من اختبار كسبه فأنا مضطر إلى اختياركسبه فأنا مضطر إلى اختياره لا مستقل فيه، وليس معناه أن هذا العمل مع كونه ارتكابا للمنهي ليس بمعصية لكونه مضطر إلى إختياره لا مستقلا فيه فإن هذا مما لا ينبغي أن يتوهم في حق مؤمن بالقدر. // 48 // من عامة المؤمنين لأن لله تعالى الحجة البالغة فكيف بصفي الله آدم عليه السلام هذا هو التحقيق في فهم الحديث انتهى الغرض من كلام شيخنا وإنما قال هذا هو التحقيق لأن هناك وجوها أخرى في بيان حجية آدم على موسى على نبينا وعليهما الصلاة والسلام لكنها مردودة ولهذا تركت نقلها والله تعالى هو الموفق للصواب.
مسند الإمام أبي عبد الله محمد بن إدريس الشافعي، رضي الله تعالى عنه، وشكر مسعاه أرويه عن شيخنا المنلا إبراهيم المذكور إجازة وهو قد قال سمعت طرفا منه على شيخنا العارف بالله تعالى صفي الدين أحمد بن محمد المدني قدس سره بإجازته عن الشمس الرملي عن الزين زكريا عن الحافظ بن حجر عن الصلاح بن أبي عمر عن الفخر بن البخاري عن القاضي أبي المكارم أحمد بن محمد بن محمد بن عبد الله // 49 // اللبان وأبي جعفر محمد بن أحمد بن نصر الصيدلاني عن أبي علي الحسن بن أحمد الحداد عن الحافظ أبي نعيم أحمد بن عبد الله الأصبهاني عن أبي العباس محمد بن يعقوب الأصم، أخبرنا الربيع بن سليمان المرادي، حدثنا الشافعي وهو أعلى ما عنده:
হাদীসের কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে: “আপনি কি তাতে—অর্থাৎ তাওরাতে—পেয়েছেন যে, ‘আদম তার রবের অবাধ্য হলেন, ফলে তিনি পথভ্রষ্ট হলেন’?” তিনি বললেন: “হ্যাঁ”। অতঃপর তিনি মূসা আলাইহিস সালামের নিকট স্বীকার করলেন যে, আল্লাহ তাআলা এটিকে ‘অবাধ্যতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তিনি নিষিদ্ধ কাজটিই করেছেন। তবে তিনি বললেন: “এটি আমার সৃষ্টির পূর্বেই আমার ভাগ্যে লিখে রাখা হয়েছিল; সুতরাং তাঁর উপার্জনের পরীক্ষা হওয়া ছিল অনিবার্য। ফলে আমি তা বেছে নিতে বাধ্য ছিলাম, এতে আমার কোনো স্বাধীনতা ছিল না।” এর অর্থ এই নয় যে, এই কাজটি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বেছে নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে এটি অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য হবে না; কেননা তাকদিরে বিশ্বাসী সাধারণ কোনো মুমিনের ক্ষেত্রেও এমনটি ধারণা করা অনুচিত, // ৪৮ // কারণ আল্লাহ তাআলারই রয়েছে অকাট্য দলিল। তাহলে আল্লাহর মনোনীত বান্দা আদম আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে সম্ভব? হাদীসের মর্ম উপলব্ধির ক্ষেত্রে এটিই হলো সঠিক ব্যাখ্যা। আমাদের শায়খের বক্তব্যের উদ্দেশ্য এখানেই সমাপ্ত। তিনি যে বলেছেন “এটিই সঠিক ব্যাখ্যা”, তার কারণ হলো—আমাদের নবী এবং তাঁদের উভয়ের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—মূসার বিরুদ্ধে আদমের দলিল পেশ করার বিষয়ে আরও কিছু অভিমত রয়েছে, তবে সেগুলো প্রত্যাখ্যাত। এই কারণেই আমি সেগুলো বর্ণনা করা বর্জন করেছি। আর আল্লাহ তাআলাই সঠিক পথ প্রদর্শনের তৌফিকদাতা।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু-এর মুসনাদ—আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন—আমি এটি আমাদের শায়খ পূর্বোক্ত মোল্লা ইব্রাহীমের নিকট থেকে ইজাজত সূত্রে বর্ণনা করছি। তিনি বলেছেন: আমি এর কিছু অংশ আমাদের শায়খ আরেফ বিল্লাহ সফিউদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মাদানী (আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন)-এর নিকট তাঁর ইজাজতসহ শ্রবণ করেছি। তিনি শামস আল-রামলী থেকে, তিনি জাইন জাকারিয়া থেকে, তিনি হাফেজ ইবনে হাজার থেকে, তিনি সালাহ বিন আবি ওমর থেকে, তিনি ফখর বিন আল-বুখারী থেকে, তিনি কাজী আবুল মাকারিম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ // ৪৯ // আল-লুব্বান এবং আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন নাসর আস-সাইদালানী থেকে, তিনি আবু আলী আল-হাসান বিন আহমদ আল-হাদ্দাদ থেকে, তিনি হাফেজ আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানী থেকে, তিনি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম থেকে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাবি বিন সুলাইমান আল-মুরাদী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শাফিঈ, আর এটিই তাঁর নিকট থাকা সর্বোচ্চ পর্যায়ের সনদ:
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: بَيْنَمَا النَّاسُ بِقُبَاءٍ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ إِذْ أَتَاهُمْ آتٍ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ، وَقَدْ أُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ فَاسْتَقْبِلُوهَا، وَكَانَتْ وُجُوهُهُمْ إِلَى الشَّامِ فَاسْتَدَارُوا إِلَى الْكَعْبَةِ.
والله أعلم.
مسند الإمام أحمد
ابن محمد بن حنبل الشيباني، رضي الله تعالى عنه، وشكر سعيه، أرويه إجازة عن شيخنا المنلا إبراهيم قال رحمه الله تعالى سمعت طرفا منه على شيخنا الإمام صفي الدين أحمد بسنده // 50 // السابق إلى الفخر بن الفجاري، أخبرنا أبو علي حنبل بن عبد الله بن الفرج المكي، أخبرنا أبو القاسم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد بن الحصين، أخبرنا أبو علي الحسن بن علي التميمي المذهب الواعظ، أخبرنا أبو بكر بن جعفر القطيعي، حدثنا عبد الله بن الإمام أحمد حدثني أبي وبالسند إلى الإمام أحمد بن حنبل حَدَّثَنَا رَوْحٌ، أَمْلاهُ عَلَيْنَا بِبَغْدَادَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، رضي الله تعالى عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مِنْ سَعَادَةِ ابْنِ آدَمَ اسْتِخَارَتُهُ اللَّهَ، عز وجل، وَمِنْ سَعَادَةِ ابْنِ آدَمَ رِضَاهُ بِمَا قَضَى اللَّهُ،، عز وجل، وَمِنْ شِقْوَةِ ابْنِ آدَمَ تَرْكُهُ اسْتِخَارَةَ اللهِ، عز وجل، وَمِنْ شِقْوَةِ ابْنِ آدَمَ سَخَطُهُ بِمَا قَضَى اللَّهُ عز وجل.
মালিক ইবন আনাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন দীনার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: মানুষ যখন কুবায় ফজরের সালাত আদায় করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁদের নিকট এসে বললেন: আজ রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁকে কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অতএব তোমরাও সেদিকে মুখ করো। তখন তাঁদের মুখ সিরিয়ার দিকে ছিল, এরপর তাঁরা কাবার দিকে ঘুরে গেলেন।
আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
মুসনাদে ইমাম আহমাদ
ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাম্বল আশ-শায়বানী (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু, আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন)। আমি এটি আমাদের শাইখ আল-মোল্লা ইবরাহীমের নিকট থেকে ইজাযত সূত্রে বর্ণনা করছি। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: আমি এর কিছু অংশ আমাদের শাইখ ইমাম সাফি উদ্দিন আহমাদ-এর নিকট তাঁর সনদে // ৫০ // শুনেছি যা পূর্বোল্লিখিত আল-ফাখর ইবনুল ফাজারী পর্যন্ত পৌঁছেছে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাম্বল ইবন আবদুল্লাহ ইবন আল-ফারাজ আল-মাক্কী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাসান ইবন আলী আত-তামীমী আল-মাযহাব আল-ওয়ায়িয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবন জা’ফর আল-কাতিয়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল পর্যন্ত সনদে; রাওহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বাগদাদে আমাদের নিকট এটি ইমলা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন আবু হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবন মুহাম্মাদ ইবন সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আদম সন্তানের সৌভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করা এবং আদম সন্তানের সৌভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা। আর আদম সন্তানের দুর্ভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করা ত্যাগ করা এবং আদম সন্তানের দুর্ভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন তাতে অসন্তুষ্ট হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-জাওয়াহিরুল গাওয়ালী ফী যিকরিল আসানিদিল আওয়ালী লিল বুদাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
قال الحافظ زين الدين العراقي رواه البزار من رواية عامر بن سعد // 51 // عن أبيه يعني فلم ينفرد به ابنه قال: وأما محمد بن أبي حميد فقال فيه بن عدي حديثه مقارب ولفظه مقارب الحديث من ألفاظ التوثيق.
وقال الحافظ بن حجر في فتح الباري: حديث سعد إسناده حسن والله أعلم.
فائدة استطرادية في بيان سلسلة الذهب المشهورة بين المحدثين
وهي ما رواه أحمد بن حنبل عن محمد بن إدريس عن مالك بن أنس عن نافع عن ابن عمر، رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم وفي بيان كم حديث ورد بهذا السند ومحصل ذلك هو ما ذكره الحافظ ابن حجر العسقلاني في توالي التأنيس بمعالي ابن إدريس بقوله: سلسلة الذهب هي جامعة بين طريقي المحدثين والفقهاء، وذلك أن أئمة الحديث اختلف اختيارهم في أصح الأسانيد، فاشتهر عن إمام الفن أبي عبد الله // 52 // محمد بن إسماعيل البخاري أنه قال: أصح الأسانيد كلها مالك، عن نافع، عن ابن عمر، فجاء من بعده، فقال: ينبغي أن يضم إلى هذه الترجمة الإمام الشافعي لاطباقهم على أنه أجل من أخذ عن مالك، فيقال: الشافعي عن مالك، عن نافع، عن ابن عمر.
ثم جاء بعض المتأخرين فقالوا أحصن هذا أن يكون من رواية أحمد بن حنبل، عن الشافعي عن مالك، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله تعالى عنهما.
ففتشنا فما وجدنا ورد بهذه الترجمة إلا أربعة أحاديث هي في الأم أي في الكتاب المسمى بالأم للإمام الشافعي رضي الله تعالى عنه. وأوردها أيضا الإمام أحمد في مسنده وهاك هي الحديث الأول وبسندنا المتصل من الطرق المتقدمة إلى الحافظ أحمد بن حجر العقسلاني قال رحمه الله تعالى أخبرني أبو محمد عمر بن محمد بن أحمد بن سليمان الصالحي فيما قرأت عليه // 53 // بجامع دمشق عن أم عبد الله سماعا عليها وإجازة عن أبي محمد عبد الخالق بن أنجب بن المعمر المارديني وهو آخر من حدثت عنه.
হাফেজ জয়নুদ্দীন আল-ইরাকী বলেছেন, আল-বাযযার এটি আমের বিন সাদ-এর বর্ণনায় // ৫১ // তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ তার পুত্র এতে একাকী নন। তিনি বলেন: আর মুহাম্মদ বিন আবি হুমাইদ সম্পর্কে ইবনে আদি বলেছেন, তার হাদিস গ্রহণযোগ্যতার কাছাকাছি এবং 'মুকারিবুল হাদিস' (হাদিসের কাছাকাছি) শব্দটি নির্ভরযোগ্যতা জ্ঞাপক শব্দাবলির অন্তর্ভুক্ত।
এবং হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন: সা'দ-এর হাদিসের সনদ হাসান, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ 'সিলসিলাতুয যাহাব' (স্বর্ণালি সূত্র) বর্ণনায় একটি আনুষঙ্গিক তথ্য।
এটি হলো যা আহমদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস থেকে, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে। এই সনদে কতটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং এর সারসংক্ষেপ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী 'তাওয়ালিত তানীস বি-মাআলি ইবনে ইদ্রিস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এভাবে: সিলসিলাতুয যাহাব হলো মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের উভয় পদ্ধতির সংমিশ্রণ। কারণ, হাদিস বিশারদ ইমামগণ সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদের নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। এই শাস্ত্রের ইমাম আবু আবদুল্লাহ // ৫২ // মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী থেকে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, তিনি বলেছেন: সমস্ত সনদের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো মালিক, নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। এরপর পরবর্তীগণ এসে বললেন: এই বর্ণনাকারীদের তালিকায় ইমাম শাফেয়ীকে যুক্ত করা উচিত, কারণ তাদের সর্বসম্মত মতে তিনি ইমাম মালিকের কাছ থেকে গ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। সুতরাং বলা হবে: শাফেয়ী, মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।
অতঃপর পরবর্তীকালের কেউ কেউ এসে বললেন, এটি সবচেয়ে শক্তিশালী হবে যদি আহমদ বিন হাম্বলের বর্ণনায় হয়, তিনি শাফেয়ী থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা) থেকে।
আমরা অনুসন্ধান করে দেখেছি যে, এই বর্ণনাসূত্রে মাত্র চারটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা 'আল-উম্ম' গ্রন্থে বিদ্যমান, অর্থাৎ ইমাম শাফেয়ী (রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) রচিত 'আল-উম্ম' নামক কিতাবে। ইমাম আহমদও তার মুসনাদে এগুলো উল্লেখ করেছেন। সেগুলো নিম্নরূপ: প্রথম হাদিস—পূর্বোক্ত পদ্ধতিসমূহের মাধ্যমে হাফেজ আহমদ বিন হাজার আসকালানী পর্যন্ত আমাদের নিরবচ্ছিন্ন সনদে পৌঁছেছে, তিনি (রহমাতুল্লাহি তাআলা) বলেছেন: আবু মুহাম্মদ উমর বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সুলাইমান আস-সালিহী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন দামেস্কের জামে মসজিদে তার নিকট পাঠ করার সময় // ৫৩ // উম্মু আবদুল্লাহ থেকে শ্রবণ ও ইজাযত প্রাপ্ত হয়ে, তিনি আবু মুহাম্মদ আবদুল খালিক বিন আনজাব বিন আল-মুয়াম্মার আল-মারদিনি থেকে, আর তিনিই তার বর্ণিত শেষ ব্যক্তি।