(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
حقوق المرأة في ضوء السنة النبوية   (نوال العيد)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: حقوق المرأة في ضوء السنة النبوية

بحث فائز بجائزة نايف بن عبد العزيز آل سعود العالمية للسنة النبوية والدراسات الإسلامية المعاصرة لعام 1427 هـ

المؤلف: نوال بنت عبد العزيز العيد

الناشر: دار الحضارة للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م

عدد الصفحات: 957

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ربيع الأول 1444

সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকার   (নওয়াল আল-ঈদ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকার

এটি ১৪২৭ হিজরি সালের সুন্নাহ এবং সমকালীন ইসলামি গবেষণার জন্য নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত একটি গবেষণাপত্র।

লেখক: নওয়াল বিনতে আব্দুল আজিজ আল-ঈদ

প্রকাশক: দার আল-হাদারাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫৭

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}(1)

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}(2) {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}(3).

--------------------------------------------

(1) آل عمران: (102).

(2) النساء: (1)

(3) الأحزاب: (70 - 71).

وحديث خطبة الحاجة أخرجه أبو داود في السنن (2/ 238) 2118، وابن ماجه في السنن (1/ 609) 1893، والترمذي في السنن (3/ 413) 1105، والنسائي في المجتبى (6/ 89) 3277 وغيرهم من حديث ابن مسعود رضي الله عنه.

قال الترمذي: «حديث عبد الله حديث حسن، رواه الأعمش عن أبي إسحاق، عن أبي الأحوص، عن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم، ورواه شعبة، عن أبي إسحاق، عن أبي الأحوص، وأبي عبيدة، عن عبد الله بن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم «وأصله في صحيح مسلم (2/ 593).

وأفرد الألباني رحمه الله رسالة في تخريج الحديث وسمّها: (خطبة الحاجة).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}(১)

{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}(২) {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।}(৩)।

--------------------------------------------

(১) আলে ইমরান: (১০২)।

(২) আন-নিসা: (১)

(৩) আল-আহজাব: (৭০ - ৭১)।

খুতবাতুল হাজাহ-র হাদীসটি আবু দাউদ আস-সুনান (২/২৩৮) ২১১৮, ইবনে মাজাহ আস-সুনান (১/৬০৯) ১৮৯৩, তিরমিযী আস-সুনান (৩/৪১৩) ১১০৫, নাসায়ী আল-মুজতাবা (৬/৮৯) ৩২৭৭ গ্রন্থে এবং আরও অনেকে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিযী বলেন: «আবদুল্লাহর হাদীসটি হাসান হাদীস। আমাশ এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে। আর শু'বাহ এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস ও আবু উবায়দাহ থেকে, তারা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে।» এর মূল সহীহ মুসলিমে (২/৫৯৩) রয়েছে।

আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদীসটির তাখরীজের বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন: (খুতবাতুল হাজাহ)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
أما بعد:

فإن من أعظم ما اشتغل به البشر من القضايا الاجتماعية في القديم الماضي، وفي الحديث الحاضر، وما سيشغلهم في المستقبل القادم -على ما أعتقد- قضية المرأة، وقد تخبط البشر في معالجتها؛ لأنهم كانوا بمعزل عن شرع الله القويم، فجاءت أحكامهم مشوبة بالظلم، مغلفة بهوى النفس، وكانت المرأة الضحية في تلك الاجتهادات البشرية … وتوالت العصور، وعُرِضت «قضية المرأة» ولا تزال تعرض على مأدبة شعارها «الحرية»، وذروة سنامها «المساواة» وكأن الداعين لهذه الشعارات أُناسٌ مردوا على حب الفاحشة، والسطو على الأعراض، وهتك الحرمات، وتضخيم الأرصدة … وقد نجحوا في حملتهم الماكرة حتى آل الأمر في دول الغرب إلى تفكك الأسر، وتقوضت دعائم الفضيلة، وراج سوق الرذيلة، وكثر اللقطاء، وأمراض لم تعرف فيمن سبق، وأنذر الناصحون منهم بني جلدتهم من غب فعلتهم؛ ولكن هيهات بعد أن غرق القوم في مستنقع الرذيلة.

وأمّا في بلاد المسلمين -حماها الله- فإن الأمر لم يصل إلى ما وصل إليه في بلاد الغرب، إلا أن بداية الشرر تطايرت إلى بعض أجزائه، بل وأحرقت الأجزاء الأخرى، وكانت هذه المجالات تثار في وقت مضى، واحدة تلو الأخرى بعد زمن، ويقضي عليها العلماء في مهدها، ويصيحون بأهلها من أقطار الأرض، ويرمون في آثارهم بالشهب، وفي أيامنا هذه كفأ الجُنَاة المِكْتل مملوءًا بهذه الرذائل بكل قوة وجرأة واندفاع، ومن خبيث مكرهم تحين الإلقاء بما في أحوال العسر والمكره، وزحمة الأحداث.

وهذه الدعوات الوافدة المستوفدة قد جمعت أنواع التناقضات ذاتًا، وموضوعًا، وشكلًا.
অতঃপর:

আমার বিশ্বাস মতে, সুদূর অতীত হতে বর্তমান কাল পর্যন্ত মানবজাতি যে সকল সামাজিক বিষয়াবলি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থেকেছে এবং অনাগত ভবিষ্যতেও যা তাদের ব্যতিব্যস্ত রাখবে, তার অন্যতম হলো নারী বিষয়ক ইস্যু। এই বিষয়ের সমাধানে মানুষ বিভ্রান্তির গোলকধাঁধায় হাবুডুবু খেয়েছে; কারণ তারা আল্লাহর সুপ্রতিষ্ঠিত শরিয়ত থেকে বিমুখ ছিল। ফলে তাদের বিধানগুলো হয়েছে জুলুম মিশ্রিত এবং প্রবৃত্তি তাড়িত। আর এই মানবিক চিন্তা ও গবেষণার শিকারে পরিণত হয়েছে নারী … যুগের পর যুগ অতিবাহিত হয়েছে, আর 'নারী ইস্যু' উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এখনো করা হচ্ছে এমন এক দস্তরখানে যার স্লোগান হলো 'স্বাধীনতা' এবং যার শীর্ষবিন্দু হলো 'সমতা'। মনে হয় যেন এই স্লোগানগুলোর প্রবক্তারা এমন একদল লোক যারা অশ্লীলতা প্রিয়তা, সতীত্ব লুণ্ঠন, পবিত্রতা পদদলিত করা এবং সম্পদের পাহাড় গড়ার নেশায় মত্ত … তারা তাদের ধূর্ত প্রচারণায় সফল হয়েছে, যার ফলে পশ্চিমা দেশগুলোতে পারিবারিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সচ্চরিত্রের ভিত্তি ধসে পড়েছে, অশ্লীলতার বাজার সরগরম হয়েছে, জারজ সন্তানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এমন সব রোগব্যাধি ছড়িয়েছে যা পূর্ববর্তীদের মাঝে ছিল না। তাদের মধ্য থেকেই হিতাকাঙ্ক্ষীরা নিজ জাতির লোকদের তাদের এই কর্মের অশুভ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল; কিন্তু যখন তারা অশ্লীলতার পঙ্কিল আবর্তে নিমজ্জিত হয়েছে, তখন আর সতর্কবাণী কী কাজে আসবে!

আর মুসলিম দেশগুলোতে—আল্লাহ সেগুলোকে রক্ষা করুন—পরিস্থিতি এখনো পশ্চিমা দেশগুলোর মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে আগুনের ফুলকি তার কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়েছে, বরং কিছু অংশকে দগ্ধও করেছে। অতীতে এই বিষয়গুলো মাঝে মাঝে একে একে উত্থাপিত হতো এবং আলেমগণ সূচনালগ্নেই সেগুলোকে নির্মূল করতেন। পৃথিবীর দিগন্ত থেকে তাঁরা ভ্রান্ত মতবাদীদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতেন এবং উল্কাপিণ্ডের মতো জোরালো যুক্তির মাধ্যমে তাদের পিছু হটিয়ে দিতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে অপরাধীরা এই সকল পাপাচার পরিপূর্ণ ঝুড়িকে সর্বশক্তি, দুঃসাহস ও ক্ষিপ্রতার সাথে উপুড় করে দিয়েছে। তাদের নিকৃষ্ট চক্রান্তের অন্যতম হলো বিপদাপদ, প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং উত্তাল ঘটনাবলির সুযোগে এ সবের বিস্তার ঘটানো।

আর আমদানিকৃত এই দাওয়াত বা আহ্বানগুলো তার সত্তা, বিষয়বস্তু এবং কাঠামোগত দিক থেকে সকল প্রকার স্ববিরোধিতাকে একত্র করেছে।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
فإذا نظرت إلى كاتبيها وجدتهم يحملون أسماءً إسلاميةً، وإذا نظرت إلى المضمون والإعداد، وجدته معول هدم في الإسلام، لا يحمله إلا مستغرب مُسَيَّر، أشرب قلبه الهوى والتفرنج، وإذا نظرت إلى الصياغة وجدت الألفاظ المولّدة، والتراكيب الركيكة، واللحن الفاحش، وتصيّد عبارات صحفية تقمش من هنا وهناك على جادة «القص واللزق» طريقة العجزة الذين قعدت بهم قدراتهم عن أن يكونوا كُتابًا، وقد آذوا من له في لسان العرب والذوق البياني أدنى نصيب.

وهكذا من جَهِل لسان العرب، والقرآن والسنة أتي بمثل هذه العجائب!.

وساعدهم ويساعدهم في سعيهم غير المشكور غفلة المسلمين، وضعف العلم الشرعي، وخطر الحملات التغريبية عند الرجال والنساء على حد سواء.

وانقسم الناس حيال قضية المرأة إلى قسمين: غال في مطالباته، متجاوز في أطروحاته، لا يعي خطورة ما يكتبه، ولا ما يدعو إليه، (وما يفسده اللسان من الأديان أضعاف ما تفسده اليد)(1) يخطو آثار كل مستغرب، ويخترق سد الذرائع إلى الرذائل، ويتقحم الفضائل، وانبسط لسانه بالسوء، وجرى قلمه بالسُّوء، باسم المساواة والحرية.

والثاني: جاف في شأن المرأة، يرى أنها نالت الحق، وتربعت عرش الفضل، وأن لا ظلم عليها، ولا خوف عليها، ويكذب مقاله حاله، وواقع نساء عصره.

والعاقل من يرى أن في مجتمع النسوة حقوقًا مسلوبة، سُلبت منها على يد رجل جاهل بالشرع، يقيم حروف الكتاب لا حدوده، يحكّم العادة والتقليد على الكتاب والسنة، أو على يد مستغرب أرادها سلعة تباع وتشترى، وتستأجر وتكترى، يتباكى على حقوقها، وفي دخيلة نفسه س عي لإشباع شهواته، وإطفاء نزواته، مقتطعًا من

--------------------------------------------

(1) الصارم المسلول لشيخ الإسلام ابن تيمية (2/ 735).
আপনি যখন এদের লেখকদের দিকে তাকাবেন, দেখবেন তারা মুসলিম নাম ধারণ করে আছে। কিন্তু যখন এর বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনার দিকে তাকাবেন, তখন একে ইসলামের মূলে কুঠারাঘাতকারী হিসেবে পাবেন, যা কেবল সেই পরানুকরণকারী পশ্চিমা ভাবধারায় পরিচালিত ব্যক্তিই বহন করে, যার অন্তর প্রবৃত্তি ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির রসে সিক্ত। আর যদি এর রচনারীতি দেখেন, তবে সেখানে পাবেন নবসৃষ্ট শব্দাবলি, দুর্বল বাক্যগঠন, জঘন্য ভাষাগত ভুল এবং যত্রতত্র থেকে কুড়িয়ে আনা সাংবাদিকতাসুলভ বাক্য যা কেবল «কাট অ্যান্ড পেস্ট» পদ্ধতিতে সাজানো—এটি মূলত সেই অক্ষমদের পথ যাদের লেখক হওয়ার মতো কোনো যোগ্যতা নেই। তারা আরবি ভাষা ও অলংকারশাস্ত্রে সামান্যতম জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও মর্মাহত করেছে।

এভাবেই যে ব্যক্তি আরবি ভাষা, কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ, সে এই ধরণের আজগুবি বিষয় নিয়ে আসে!

তাদের এই অকৃতজ্ঞ প্রচেষ্টায় সাহায্য করছে মুসলমানদের অসচেতনতা, শরয়ি জ্ঞানের দুর্বলতা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ওপর পাশ্চাত্যকরণ অভিযানের ভয়াবহতা।

নারী প্রশ্নে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে: একদল তাদের দাবিতে চরমপন্থী, তাদের উপস্থাপনায় সীমা লঙ্ঘনকারী; তারা যা লিখছে বা যার দিকে আহ্বান করছে তার ভয়াবহতা সম্পর্কে তারা সচেতন নয়, (আর জিহ্বা দ্বীনের যে পরিমাণ ক্ষতি করে তা হাতের দ্বারা কৃত ক্ষতির চেয়ে বহুগুণ বেশি)(১) তারা প্রতিটি পশ্চিমা ভাবাপন্ন ব্যক্তির পদাঙ্ক অনুসরণ করে, পাপের পথ রুদ্ধ করার দেয়াল ভেঙে ফেলে, সচ্চরিত্রের ওপর চড়াও হয় এবং সাম্য ও স্বাধীনতার নামে তাদের জিহ্বা ও কলম মন্দ কাজে লিপ্ত হয়েছে।

দ্বিতীয় দল: নারীর বিষয়ে কঠোর ও রূঢ়। তারা মনে করে নারী তার প্রাপ্য অধিকার পেয়ে গেছে এবং শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন হয়েছে; তার ওপর কোনো জুলুম নেই এবং তার কোনো ভয়ও নেই। কিন্তু তার এই বক্তব্যকে তার নিজের অবস্থা এবং তার সমসাময়িক নারীদের বাস্তব পরিস্থিতি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।

আর বুদ্ধিমান তো সেই ব্যক্তি, যে বুঝতে পারে যে নারী সমাজে এমন কিছু অধিকার রয়েছে যা হরণ করা হয়েছে। এই অধিকার হরণ করা হয়েছে হয় শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ এমন পুরুষের হাতে, যে কিতাবের অক্ষরগুলো রক্ষা করলেও এর সীমারেখাগুলো মেনে চলে না এবং কুরআন ও সুন্নাহর ওপর কুসংস্কার ও অন্ধ অনুকরণকে প্রাধান্য দেয়; অথবা এমন পশ্চিমা ভাবাপন্ন ব্যক্তির হাতে, যে নারীকে ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত করতে চায়, যাকে ভাড়া নেওয়া যায় বা ইজারা দেওয়া যায়। সে নারীর অধিকারের জন্য লোকদেখানো কান্না কাঁদে, অথচ অন্তরে সে নিজের লালসা চরিতার্থ করতে এবং কুপ্রবৃত্তি মেটাতে সচেষ্ট থাকে...

--------------------------------------------

(১) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত আস-সারিমুল মাসলুল (২/ ৭৩৫)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
النصوص الشرعية ما يوافق هواه، لاويًا عنق النص تطويعًا لمبتغاه.

والحق المبين، والطريق القويم سلوك طريق الكتاب والسنة، وإعطاء المرأة ما أعطاها الله من حق، وتكليفها بما عليها من واجب، في ضوء الكتاب وصحيح السنة على فهم السلف الصالح، فإن الله سبحانه قد حث على الاتباع، وذم التكلف والاختراع، يقول تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا}(1).

وفي ضوء ما تقدم أحببت أن أضرب بسهمي في هذا الموضوع بالإضافة إلى ما يأتي:

1 - بيان تحرير الإسلام الحقيقي للمرأة، ورفعه لمكانتها، وتعزيزه لشأنها.

2 - الحاجة الماسة للتأصيل الشرعي لحقوق المرأة، وتخليصها من مطالبات التغريبيين، وتمديدات التقليديين.

3 - الإسهام في تثقيف المرأة المسلمة بما لها من حقوق في ضوء الكتاب وصحيح السنة، وتقديم الآليات للحصول عليها.

4 - تفنيد الشبهات المثارة حول الإسلام من قبل أعدائه أو أتباعهم حسدًا من عند أنفسهم.

5 - تحقيق القول في قضايا المرأة المعاصرة، وبيان الراجح منها بناء على الدليل والتعليل.

6 - كشف عوار وسوءات الحضارة الغربية، والمؤتمرات الدولية، وما ألحقته بالمرأة من أذى وحيرة.

واخترت دراسة «حقوق المرأة فِي ضَوْءِ السُّنَّةِ النَّبَوِيَّةِ» لأن الله قد هيَّأ للوحيين الشريفين حفاظًا، ولشرعه حراسًا، من أوعية العلم والأمانة في النقل،

--------------------------------------------

(1) النساء: (115).
শরয়ী দলীলসমূহের মধ্য থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করে যা তার প্রবৃত্তির অনুকূলে যায়, নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে সে দলীলগুলোর অপব্যাখ্যা করে।

আর সুস্পষ্ট সত্য এবং সঠিক পথ হলো কুরআন ও সুন্নাহর পথ অনুসরণ করা; আল্লাহ নারীকে যে অধিকার দান করেছেন তা তাকে প্রদান করা এবং তার উপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ পালন করতে তাকে নির্দেশ দেওয়া; আর এই সবকিছু হতে হবে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অনুসরণের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং দ্বীনের মধ্যে কৃত্রিমতা ও নব-উদ্ভাবনকে নিন্দা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: “আর হেদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস!”(১)।

উপরোক্ত আলোচনার আলোকে আমি এই বিষয়ে আমার সামান্য অবদান রাখার ইচ্ছা করেছি, পাশাপাশি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোও লক্ষ্য ছিল:

১ - নারীর প্রকৃত মুক্তির ক্ষেত্রে ইসলামের অবদান বর্ণনা করা, তার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তার অবস্থানকে সুদৃঢ় করা।

২ - নারীর অধিকারসমূহের শরয়ী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তীব্র প্রয়োজনীয়তা এবং তাকে পাশ্চাত্যপন্থীদের দাবি ও গতানুগতিক অনুসারীদের বাড়াবাড়ি থেকে মুক্ত করা।

৩ - কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে মুসলিম নারীকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে ভূমিকা রাখা এবং তা অর্জনের সঠিক পদ্ধতিসমূহ তুলে ধরা।

৪ - ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে অথবা তাদের অনুসারীদের অন্তরের হিংসা প্রসূত ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সংশয়গুলোর অসারতা প্রমাণ করা।

৫ - নারীর সমসাময়িক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা এবং দলীল ও যৌক্তিক ব্যাখ্যার ভিত্তিতে সেগুলোর মধ্যে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মতটি স্পষ্ট করা।

৬ - পাশ্চাত্য সভ্যতার নগ্নতা ও কুশ্রীতা এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোর প্রকৃত রূপ উন্মোচন করা, যা নারীকে কেবল কষ্ট ও বিভ্রান্তির মধ্যেই নিপতিত করেছে।

আর আমি ‘সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকার’ বিষয়টি অধ্যয়নের জন্য বেছে নিয়েছি, কারণ আল্লাহ তাআলা উভয় প্রকার ওহীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন এবং তাঁর শরীয়তের পাহারাদার হিসেবে একদল আমানতদার ও বিদগ্ধ আলিম তৈরি করেছেন যারা নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমে তা আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা: (১১৫)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
فأُخِذ أول هذا الدين عن رسول الله صلى الله عليه وسلم مشافهة وكتابةً لم يشبه لبس ولا شبهة، ثم نقله العدول عن العدول من غير تحامل ولا ميل، ثم الكافة عن الكافة، أخذ كف بكف، وتمسك خلف بسلف كالحروف يتلو بعضها بعضًا، ويتسق آخرها على أولها وصفًا ونظمًا(1)، فأحببت أن أعرض القضية في ضوء هذا الحفظ المكين، وأسهم في خدمة السنة النبوية، والأسوة المحمدية على صاحبها ما يستحق من الصلاة والسلام؛ إذ إنها المنبع الثاني مع كتاب الله الذي تتفجر منه ينابيع حياة العالم الإسلامي، وسعادة المجتمع البشري.

--------------------------------------------

(1) ينظر: اعتقاد أهل السنة والجماعة، للالكائي (1/ 23).
সুতরাং এই দীনের সূচনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে সরাসরি মৌখিক ও লিখিতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা বা সংশয় মিশ্রিত ছিল না। অতঃপর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ কোনো প্রকার পক্ষপাত বা বিচ্যুতি ছাড়াই একে অন্যের থেকে তা বর্ণনা করেছেন। এরপর এক বিশাল দল অন্য এক বিশাল দলের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছেন, যেন এক হাত অন্য হাতের সাথে মিলিত হয়েছে। উত্তরসূরিগণ পূর্বসূরিদের আদর্শকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছেন যেমন বর্ণমালার একটি অক্ষর অন্যটির অনুগামী হয় এবং যার শেষাংশ বর্ণনা ও বিন্যাসের দিক থেকে প্রথমাংশের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়(১)। তাই আমি এই সুদৃঢ় সংরক্ষণের আলোকে বিষয়টি উপস্থাপন করতে এবং সুন্নাতে নববী ও মুহাম্মাদী আদর্শের সেবায় অংশ নিতে আগ্রহী হয়েছি—যাঁর অধিকারীর প্রতি বর্ষিত হোক যথাযথ সালাত ও সালাম; কেননা এটি আল্লাহর কিতাবের পাশাপাশি এমন এক দ্বিতীয় উৎস, যেখান থেকে মুসলিম বিশ্বের জীবন ও মানবসমাজের সৌভাগ্যের ঝর্ণাধারা উৎসারিত হয়।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ, লালকায়ী (১/ ২৩)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌موضوعات البحث:

يشتمل البحث على مقدمة، وتمهيد، وأربعة أبواب، وخاتمة.

المقدمة: وضمنتها:

1 - أهمية البحث.

2 - أسباب اختياره.

3 - موضوعات البحث.

4 - منهج البحث.

التمهيد: ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: مكانة المرأة في بعض الحضارات القديمة والأديان الأخرى.

المبحث الثاني: المرأة العربية في العصر الجاهلي. وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: مكانة المرأة عندهم.

المطلب الثاني: وأد البنات.

المطلب الثالث: زواج المرأة عندهم.

المطلب الرابع: طلاق المرأة، ونظام عدها عندهم.

المطلب الخامس: حقوق المرأة المالية.

المبحث الثالث: تأصيل معنى «حقوق المرأة». وفيه مطالبان:

المطلب الأول: تقسيمات الحق.

المطلب الثاني: التنوع في الحقوق والواجبات بين النساء والرجال.
গবেষণার বিষয়বস্তু:

গবেষণাটিতে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভূমিকা: এতে আমি অন্তর্ভুক্ত করেছি:

১ - গবেষণার গুরুত্ব।

২ - এটি নির্বাচনের কারণসমূহ।

৩ - গবেষণার বিষয়বস্তু।

৪ - গবেষণা পদ্ধতি।

উপক্রমণিকা: এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাচীন কিছু সভ্যতা ও অন্যান্য ধর্মে নারীর অবস্থান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাহেলি যুগে আরব নারী। এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাদের নিকট নারীর মর্যাদা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কন্যা সন্তানদের জীবন্ত প্রোথিত করা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাদের নিকট নারীর বিবাহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: নারীর তালাক এবং তাদের নিকট ইদ্দত পালনের নিয়ম।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নারীর আর্থিক অধিকার।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: «নারীর অধিকার» শব্দের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অধিকারের শ্রেণিবিভাগ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নারী ও পুরুষের অধিকার ও কর্তব্যের মাঝে বৈচিত্র্য।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الباب الأول

حقوق المرأة الشرعية

وفيه سبعة فصول:

الفصل الأول: أهلية التكليف. وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: دلالة القرآن والسنة على أهلية المرأة للتكليف.

المبحث الثاني: المساواة بين المرأة والرجل في الحدود. وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: حد السرقة.

المطلب الثاني: حد القذف.

المطلب الثالث: حق اللعان.

المطلب الرابع: حد الزنى.

المبحث الثالث: المساواة بين المرأة والرجل في جزاء الآخرة.

الفصل الثاني: حق المرأة في العبادات. وفيه ستة مباحث:

المبحث الأول: الطهارة. وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: التخفيف عن المرأة في نقض الشعر عند الغسل.

المطلب الثاني: وضوء وغسل الرجل مع امرأته.

المطلب الثالث: أحكام تتعلق بالحائض. وفيه ثلاث مسائل:

المسألة الأولى: مباشرة الحائض.

المسألة الثانية: طهارة ذات الحائض.

المسألة الثالثة: التخفيف عن الحائض.

المطلب الرابع: أحكام تتعلق بالمستحاضة. وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: حق المرأة في العبادة.

المسألة الثانية: مباشرة المستحاضة.
প্রথম অধ্যায়

নারীর শরীয়তপ্রদত্ত অধিকারসমূহ

এবং এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শরীয়তের বিধান পালনের যোগ্যতা। এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: নারীর শরীয়তের বিধান পালনের যোগ্যতার বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর দলীল।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হদ বা নির্ধারিত শাস্তির ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমতা। এবং এতে চারটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: চুরির হদ বা শাস্তি।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: অপবাদের হদ বা শাস্তি।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: লিআনের অধিকার।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: ব্যভিচারের হদ বা শাস্তি।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পরকালীন প্রতিদানের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার। এবং এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্রতা। এবং এতে চারটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: গোসলের সময় নারীর চুল বা বেণী খোলার বিষয়ে শিথিলতা।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: স্ত্রীর সাথে পুরুষের ওযু ও গোসল করা।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: ঋতুবর্তী নারীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ। এবং এতে তিনটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: ঋতুবর্তী নারীর সাথে মেলামেশা।

দ্বিতীয় মাসআলা: ঋতুবর্তী নারীর শারীরিক পবিত্রতা।

তৃতীয় মাসআলা: ঋতুবর্তী নারীর জন্য বিধানের শিথিলতা।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ। এবং এতে দুইটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: ইবাদতের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার।

দ্বিতীয় মাসআলা: ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীর সাথে মেলামেশা।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الثاني: الصلاة. وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: خروجها للصلاة في المسجد.

المطلب الثاني: إمامة النساء، وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: جماعة النساء.

المسألة الثانية: إمامة المرأة الرجال.

المطلب الثالث: شهود المرأة لصلاة العيدين.

المطلب الرابع: شهود المرأة لصلاة الكسوف.

المبحث الثالث: الزكاة والصدقة. وفيه مطلبان:

المطلب الأول: دفع المرأة زكاة أو صدقة أموالها بدون إذن زوجها.

المطلب الثاني: أجر المرأة إذا تصدقت أو أطعمت من بيت زوجها غير مفسدة.

المبحث الرابع: حق المرأة في المبادرة إلى قضاء رمضان.

المبحث الخامس: الاعتكاف.

المبحث السادس: الحج. وفيه مطلبان:

المطلب الأول: حج الفريضة.

المطلب الثاني: تعجل الدفع من مزدلفة.

الفصل الثالث: حق المرأة في الهجرة.

الفصل الرابع: حق المرأة في التعليم. وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: الأحاديث النبوية في تعليم المرأة.

المبحث الثاني: بعض المسائل العلمية من النساء لرسول الله صلى الله عليه وسلم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সালাত। এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সালাতের জন্য নারীর মসজিদে গমন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নারীদের ইমামত, এতে দুটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: নারীদের জামাত।

দ্বিতীয় মাসআলা: পুরুষদের ওপর নারীর ইমামত।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: দুই ঈদের সালাতে নারীর উপস্থিতি।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কুসুফ (সূর্যগ্রহণ) সালাতে নারীর উপস্থিতি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাকাত ও সদকা। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নারীর নিজের সম্পদের জাকাত বা সদকা প্রদান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কোনো ক্ষতি সাধন না করে স্বামীর ঘর থেকে সদকা করলে বা অন্ন দান করলে নারীর সওয়াব।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রমজানের কাজা দ্রুত আদায়ে নারীর অধিকার।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইতিকাফ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: হজ। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ফরজ হজ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুজদালিফা থেকে দ্রুত প্রস্থান করা।

তৃতীয় অধ্যায়: হিজরতের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার।

চতুর্থ অধ্যায়: শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীর অধিকার। এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: নারী শিক্ষা বিষয়ে নববী হাদিসসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নারীদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত কিছু ইলমি মাসআলা।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الثالث: عناية السلف الصالح بتعليم النساء.

المبحث الرابع: صور مشرقة للمرأة في طلب العلم

المبحث الخامس: حكم تعليم المرأة.

الفصل الخامس: حق المرأة في الفتوى.

الفصل السادس: حق المرأة في الدعوة.

الفصل السابع: تفنيد الشبهات المثارة حول النصوص الشرعية.

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: شبهات حول النصوص القرآنية.

المبحث الثاني: شبهات حول الأحاديث النبوية. وفيه سبعة مطالب:

المطلب الأول: شبهة شؤم المرأة.

المطلب الثاني: شبهة نقصان عقل المرأة ودينها.

المطلب الثالث: شبهة حول شهادة المرأة.

المطلب الرابع: شبهة المرأة والشيطان في الحديث النبوي.

المطلب الخامس: شبهة خلق المرأة من ضلع أعوج.

المطلب السادس: شبهة اقتران المرأة بالحمار والكلب الأسود في الحديث النبوي.

المطلب السابع: شبهة الغسل من بول الجارية، والرش من بول الغلام.

الباب الثاني

حقوق المرأة السياسية

وفيه سبعة فصول:

الفصل الأول: البيعة. وفيه مبحثان:

المبحث الأول: أنواع البيعة للنساء في ضوء السنة النبوية.

وفيه أربعة مطالب:
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নারী শিক্ষায় সালাফে সালেহীনের গুরুত্বারোপ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জ্ঞান অন্বেষণে নারীদের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নারী শিক্ষার বিধান।

পঞ্চম অধ্যায়: ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার।

ষষ্ঠ অধ্যায়: দাওয়াতের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার।

সপ্তম অধ্যায়: শরয়ি দলীলসমূহকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত সংশয়সমূহের খণ্ডন।

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের আয়াতসমূহকে কেন্দ্র করে সংশয়সমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসসমূহকে কেন্দ্র করে সংশয়সমূহ। এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: নারীর অশুভ হওয়া বিষয়ক সংশয়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর বুদ্ধি ও দ্বীনের স্বল্পতা বিষয়ক সংশয়।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর সাক্ষ্য বিষয়ক সংশয়।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: হাদিসে নারী ও শয়তান বিষয়ক সংশয়।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নারীকে বাঁকা পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা বিষয়ক সংশয়।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: হাদিসে গাধা ও কালো কুকুরের সাথে নারীর অনুষঙ্গ বিষয়ক সংশয়।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: কন্যাশিশুর প্রস্রাব ধৌত করা এবং ছেলেশিশুর প্রস্রাবে পানি ছিটানো বিষয়ক সংশয়।

দ্বিতীয় ভাগ

নারীর রাজনৈতিক অধিকার

এতে সাতটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ)। এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর আলোকে নারীদের বাইয়াতের প্রকারভেদ।

এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
المطلب الأول: البيعة على الإسلام.

المطلب الثاني: بيعة الامتحان.

المطلب الثالث: بيعة النساء. وفيه خمس مسائل:

المسألة الأولى: وقت البيعة.

المسألة الثانية: أدلة البيعة.

المسألة الثالثة: حكم البيعة.

المسألة الرابعة: أركان البيعة.

المسألة الخامسة: كيفية البيعة.

المطلب الرابع: بيعة النصرة والمنعة.

المبحث الثاني: البيعة لولي الأمر.

الفصل الثاني: حق المرأة في الاحتساب على أصحاب السلطة.

الفصل الثالث: حق المرأة في الأمان والإجارة.

الفصل الرابع: المرأة والجهاد. وفيه مطلبان:

المطلب الأول: جهاد الكفاية. وفيه ثلاث مسائل:

المسألة الأولى: الأدلة على جواز خروج المرأة لجهاد الكفاية.

المسألة الثانية: شروط خروج المرأة الجهاد الكفاية.

المسألة الثالثة: أعمال المرأة في الجهاد.

المطلب الثاني: الجهاد العيني.
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলামের ওপর বায়আত।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পরীক্ষার বায়আত।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নারীদের বায়আত। এতে পাঁচটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: বায়আতের সময়।

দ্বিতীয় মাসআলা: বায়আতের দলীলসমূহ।

তৃতীয় মাসআলা: বায়আতের বিধান।

চতুর্থ মাসআলা: বায়আতের রুকনসমূহ।

পঞ্চম মাসআলা: বায়আতের পদ্ধতি।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: সাহায্য ও সুরক্ষার বায়আত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উলুল আমরের প্রতি বায়আত।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ক্ষমতাসীনদের ওপর ইহতিসাব (জবাবদিহিতা) করার ক্ষেত্রে নারীর অধিকার।

তৃতীয় অধ্যায়: নিরাপত্তা ও আশ্রয় প্রদানের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার।

চতুর্থ অধ্যায়: নারী ও জিহাদ। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ফরজে কিফায়া জিহাদ। এতে তিনটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: ফরজে কিফায়া জিহাদের জন্য নারীর বের হওয়ার বৈধতার দলীলসমূহ।

দ্বিতীয় মাসআলা: ফরজে কিফায়া জিহাদের জন্য নারীর বের হওয়ার শর্তাবলি।

তৃতীয় মাসআলা: জিহাদে নারীর কার্যাবলি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ফরজে আইন জিহাদ।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الخامس: المرأة والقضاء.

الفصل السادس: المرأة والولايات العامة. وفيه مبحثان:

المبحث الأول: أقسام الولايات العامة.

المبحث الثاني: حكم تولي المرأة الولايات العامة.

الفصل السابع: مجلس الشورى. وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف أهل الشورى.

المبحث الثاني: وظائف مجلس الشورى.

المبحث الثالث: حكم عضوية المرأة في مجلس الشورى.

الباب الثالث

حقوق المرأة المالية

وفيه ستة فصول:

الفصل الأول: حق المرأة في الصداق. وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: أدلة مشروعية الصداق.

المبحث الثاني: مقدار الصداق.

المبحث الثالث: استحقاق الزوجة كامل الصداق.

المبحث الرابع: استحقاق الزوجة نصف الصداق.

المبحث الخامس: متعة المطلقات. وفيه مطلبان:

المطلب الأول: مقدار المتعة.

المطلب الثاني: مذاهب العلماء في حكمها.

المبحث السادس: حكم تحديد ولي الأمر للصداق، وإلزام الناس به.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নারী ও বিচারব্যবস্থা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নারী ও জনকল্যাণমূলক নেতৃত্ব। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: জনকল্যাণমূলক নেতৃত্বের প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর জনকল্যাণমূলক নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের বিধান।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: মজলিসে শূরা। এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: শূরা সদস্যদের পরিচয়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মজলিসে শূরার কার্যাবলি।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মজলিসে শূরায় নারীর সদস্যপদের বিধান।

তৃতীয় অধ্যায়

নারীর আর্থিক অধিকারসমূহ

এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মোহরানা লাভে নারীর অধিকার। এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মোহরানা বৈধ হওয়ার প্রমাণাদি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মোহরানার পরিমাণ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: স্ত্রীর পূর্ণ মোহরানা পাওয়ার অধিকার।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: স্ত্রীর অর্ধেক মোহরানা পাওয়ার অধিকার।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য মুত'আ (সান্ত্বনামূলক উপহার)। এতে দুটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: মুত'আর পরিমাণ।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: এর বিধান সম্পর্কে আলিমগণের মতামত।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক মোহরানা নির্ধারণ এবং তা পালনে জনগণকে বাধ্য করার বিধান।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الفصل الثاني: حق المرأة في النفقة. وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تعريف النفقة.

المبحث الثاني: أقسام النفقة. وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: نفقة القرابة.

المطلب الثاني: نفقة الملك.

المطلب الثالث: النفقة الزوجية. وفيه عشر مسائل:

المسألة الأولى: أدلة وجوب النفقة الزوجية.

المسألة الثانية: سبب وجوب النفقة الزوجية.

المسألة الثالثة: مقدار النفقة الزوجية.

المسألة الرابعة: توابع النفقة الزوجية، وفيها: نفقة خادم الزوجة، علاج الزوجة، جَهاز الزوجة.

المسألة الخامسة: امتناع الزوج عن الإنفاق.

المسألة السادسة: نفقة زوجة الغائب.

المسألة السابعة: نفقة الزوجة المريضة.

المسألة الثامنة: نفقة الزوجة الموظفة.

المسألة التاسعة: نفقة الناشز.

المسألة العاشرة: نفقة المعتدات من طلاق.

الفصل الثالث: حق المرأة في الإرث. وفيه مبحثان:

المبحث الأول: ميراث المرأة في الكتاب والسنة.

المبحث الثاني: شبهة حول ميراث المرأة والرد عليها.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ভরণপোষণে নারীর অধিকার। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ভরণপোষণের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ভরণপোষণের প্রকারভেদ। এতে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: আত্মীয়তার কারণে ভরণপোষণ।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: মালিকানার কারণে ভরণপোষণ।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: দাম্পত্য ভরণপোষণ। এতে দশটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: দাম্পত্য ভরণপোষণ ওয়াজিব হওয়ার দলীলসমূহ।

দ্বিতীয় মাসআলা: দাম্পত্য ভরণপোষণ ওয়াজিব হওয়ার কারণ।

তৃতীয় মাসআলা: দাম্পত্য ভরণপোষণের পরিমাণ।

চতুর্থ মাসআলা: দাম্পত্য ভরণপোষণের আনুষঙ্গিক বিষয়াদি; এতে রয়েছে: স্ত্রীর পরিচারিকার ভরণপোষণ, স্ত্রীর চিকিৎসা, স্ত্রীর আসবাবপত্র।

পঞ্চম মাসআলা: স্বামীর ভরণপোষণ প্রদানে অস্বীকৃতি।

ষষ্ঠ মাসআলা: অনুপস্থিত ব্যক্তির স্ত্রীর ভরণপোষণ।

সপ্তম মাসআলা: অসুস্থ স্ত্রীর ভরণপোষণ।

অষ্টম মাসআলা: চাকুরিজীবী স্ত্রীর ভরণপোষণ।

নবম মাসআলা: অবাধ্য স্ত্রীর ভরণপোষণ।

দশম মাসআলা: তালাকপ্রাপ্ত ইদ্দত পালনকারী নারীদের ভরণপোষণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মীরাস বা উত্তরাধিকারে নারীর অধিকার। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নারীর উত্তরাধিকার।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত একটি সংশয় ও তার খণ্ডন।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الرابع: حق المرأة في التعاقدات المالية.

الفصل الخامس: المرأة والغنيمة.

الفصل السادس: المرأة والدية.

الباب الرابع

حقوق المرأة الاجتماعية

وفيه خمسة فصول:

الفصل الأول: حق المرأة أما.

الفصل الثاني: حق المرأة بنتا. وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: الأمر بالإحسان للبنات.

المبحث الثاني: تسوية البنت مع الذكر في العطية.

المبحث الثالث: حرية البنت في اختيار الزوج.

المبحث الرابع: تحريم العَضْل.

الفصل الثالث: حق المرأة زوجةً. وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: لزوم الإحسان والعشرة بالمعروف.

المبحث الثاني: حقوق المرأة الجنسية. وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: حق المرأة في الجماع.

المطلب الثاني: أوقات الوطء وهيئاته.

المطلب الثالث: حكم العزل.

المطلب الرابع: حفظ الأسرار الخاصة بين الزوجين.

المبحث الثالث: حفظها من الأنكحة الفاسدة. وفيه أربعة مطالب:
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আর্থিক লেনদেনে নারীর অধিকার।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নারী ও গনীমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ)।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নারী ও দিয়াত (রক্তপণ)।

চতুর্থ অধ্যায়

নারীর সামাজিক অধিকারসমূহ

এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মা হিসেবে নারীর অধিকার।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কন্যা হিসেবে নারীর অধিকার। এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কন্যাদের প্রতি সদাচরণের নির্দেশ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দান-প্রদানের ক্ষেত্রে কন্যার সাথে পুত্রের সমতা বিধান।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: স্বামী নির্বাচনে কন্যার স্বাধীনতা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: 'আদল' (বিবাহে অন্যায়ভাবে বাধা প্রদান) নিষিদ্ধকরণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্ত্রী হিসেবে নারীর অধিকার। এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সদাচরণ ও সদ্ভাব বজায় রাখার আবশ্যকতা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নারীর যৌন অধিকার। এতে চারটি পরিশিষ্ট রয়েছে:

প্রথম পরিশিষ্ট: সহবাসে নারীর অধিকার।

দ্বিতীয় পরিশিষ্ট: সহবাসের সময় ও পদ্ধতিসমূহ।

তৃতীয় পরিশিষ্ট: 'আজল' (বীর্য বাইরে ফেলা)-এর বিধান।

চতুর্থ পরিশিষ্ট: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার গোপন বিষয়সমূহ রক্ষা করা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাকে ফাসিদ (অশুদ্ধ) বিবাহসমূহ থেকে রক্ষা করা। এতে চারটি পরিশিষ্ট রয়েছে:
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
المطلب الأول: نكاح المتعة.

المطلب الثاني: نكاح الشغار.

المطلب الثالث: نكاح المحلِّل.

المطلب الرابع: النكاح العرفي.

المبحث الرابع: حق المرأة في الحضانة. وفيه مطلبان:

المطلب الأول: أجرة الحضانة.

المطلب الثاني: مدة الحضانة.

المبحث الخامس: حقوق المرأة المعنوية.

الفصل الرابع: حق المرأة في العمل. وفيه تمهيد وثلاثة مباحث:

المبحث الأول: عمل المرأة الحقيقي في الإسلام.

المبحث الثاني: حق المرأة في العمل خارج المنزل.

المبحث الثالث: ضوابط عمل المرأة في الإسلام.

الفصل الخامس: شبهات حول قضايا المرأة الاجتماعية. وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: القوامة.

المبحث الثاني: ضرب المرأة.

المبحث الثالث: التعدد.

المبحث الرابع: الطلاق.

الخاتمة: وتشتمل على أهم النتائج، والتوصيات.
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুত’আ বিবাহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিগার বিবাহ (বিনিময় বিবাহ)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুহাল্লিল বিবাহ (হালালা)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: উরফি বিবাহ (প্রথাগত বিবাহ)।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: শিশু লালন-পালনে (হাযানাহ) নারীর অধিকার। এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: লালন-পালনের পারিশ্রমিক।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লালন-পালনের সময়সীমা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নারীর আত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক অধিকারসমূহ।

চতুর্থ অধ্যায়: কর্মসংস্থানে নারীর অধিকার। এতে একটি ভূমিকা এবং তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলামে নারীর প্রকৃত কর্ম।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ঘরের বাইরে নারীর কর্মসংস্থানের অধিকার।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইসলামে নারীর কর্মসংস্থানের নীতিমালা।

পঞ্চম অধ্যায়: নারীর সামাজিক বিষয়াবলি সংক্রান্ত সংশয়সমূহ। এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অভিভাবকত্ব (কাওয়ামাহ)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: স্ত্রীকে প্রহার।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বহুবিবাহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তালাক।

উপসংহার: এটি প্রধান ফলাফল এবং সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الفهارس:

1 - فهرس الآيات.

2 - فهرس الأحاديث النبوية.

3 - فهرس المصادر والمراجع.

4 - فهرس الموضوعات.

 

‌‌منهج البحث

وقد اتبعت في البحث المنهج الآتي:

1 - جمعت المسائل المتعلقة بحقوق المرأة في الكتاب والسنة النبوية.

2 - إن كان الحق متفقًا عليه صدرت عنوان الفصل بـ «حق المرأة في … » وإن كان مختلفًا فيه صدرته بـ «المرأة و … ».

3 - جمعت النصوص الشرعية من الكتاب والسنة على إثبات ما رأيته حقًا، وكلام المفسرين والمحدثين حول الآي والحديث، ووقائع التاريخ، التي تشهد لكونه حقًا.

4 - ذكرت مذاهب العلماء في الحق المختلف فيه، مع بيان أدلتهم وتعليلاتهم، ومناقشتها، وتوثيقها من مصادرها.

5 - حرصت على جمع قضايا العصر المتعلقة بحقوق المرأة، وأقوال العلماء المعاصرين فيها، وأدلتهم، وتعليلاتهم، ومناقشتها.

6 - التزمت الترجيح بين الآراء المختلفة مبينة سبب الترجيح.

7 - أوردت الأحكام الشرعية التي رجحت التخفيف في جانب النساء، مع إيراد الأدلة من الكتاب والسنة وأقوال أهل العلم على ما أذكر.

8 - تتبعت الشبهات المثارة حول الإسلام فيما يتعلق بقضايا المرأة، وأفردها بفصل في نهاية كل باب، ما لم ترتبط بحق للمرأة فإني أوردها خلفه، مع تفنيد الشبه عن طريق بيان مورد النص، ومفهومه، وكلام العلماء حوله.

9 - أوردت نقولات عن علماء ومفكرين غربيين، وإحصاءات لحال المرأة في الغرب تدليلًا على نقض الحقوق المزعومة الناعق بهما أذناب المستشرقين.

10 - أدخلت كل فصل تحت أنسب الأبواب إليه، وراعيت في الأحكام الشرعية تبويبات المحدثين في مؤلفاتهم.
সূচিপত্রসমূহ:

১ - আয়াতের সূচি।

২ - নববী হাদিসের সূচি।

৩ - উৎস ও তথ্যসূত্রের সূচি।

৪ - বিষয়সূচি।

 

‌‌গবেষণাপদ্ধতি

এই গবেষণায় আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ - কুরআন ও নববী সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সংগ্রহ করেছি।

২ - যদি কোনো অধিকারের ব্যাপারে আলেমগণ একমত হন, তবে পরিচ্ছেদের শিরোনাম দিয়েছি ‘...বিষয়ে নারীর অধিকার’ হিসেবে। আর যদি তাতে মতভেদ থাকে, তবে শিরোনাম দিয়েছি ‘নারী ও...’ হিসেবে।

৩ - যা আমি অধিকার হিসেবে সাব্যস্ত করেছি তার সপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে শরয়ি দলিল এবং আয়াত ও হাদিসের ব্যাখ্যায় মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণের বক্তব্য এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সংগ্রহ করেছি, যা তার অধিকার হওয়ার সাক্ষ্য দেয়।

৪ - মতভেদপূর্ণ অধিকারের ক্ষেত্রে আলেমগণের মাযহাব বা মতামতসমূহ উল্লেখ করেছি, সাথে তাদের দলিল ও যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যাসমূহ বর্ণনা ও পর্যালোচনা করেছি এবং মূল উৎস থেকে সেগুলো যাচাই করেছি।

৫ - নারীর অধিকার সংশ্লিষ্ট বর্তমান সময়ের সমস্যাসমূহ, সে বিষয়ে সমকালীন আলেমগণের বক্তব্য, তাদের দলিল ও যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা এবং তার ওপর আলোচনা সংকলন করতে সচেষ্ট হয়েছি।

৬ - বিভিন্ন মতামতের মধ্য থেকে অগ্রাধিকারযোগ্য মত নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার কারণও স্পষ্ট করেছি।

৭ - আমি সেই সব শরয়ি বিধান উল্লেখ করেছি যাতে নারীদের ক্ষেত্রে শিথিলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, সাথে কুরআন ও সুন্নাহর দলিল এবং সে বিষয়ে আলেমগণের বক্তব্যও উল্লেখ করেছি।

৮ - নারী বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সংশয়গুলো আমি অনুসন্ধান করেছি এবং সেগুলোকে প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে একটি আলাদা পরিচ্ছেদে আলোচনা করেছি। তবে যদি সংশয়টি কোনো অধিকারের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তা সেই অধিকারের আলোচনার পরেই উল্লেখ করেছি। সাথে সাথে নসের (মূল পাঠের) প্রেক্ষাপট, এর সঠিক মর্ম এবং এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে সেই সব সংশয় খণ্ডন করেছি।

৯ - প্রাচ্যবিদদের অনুসারীদের আস্ফালন করা তথাকথিত অধিকারসমূহ খণ্ডন করার লক্ষ্যে পশ্চিমা আলেম ও চিন্তাবিদদের উদ্ধৃতি এবং পশ্চিমে নারীদের অবস্থার পরিসংখ্যান পেশ করেছি।

১০ - প্রতিটি পরিচ্ছেদকে তার সবচেয়ে উপযুক্ত অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহের অধ্যায়বিন্যাস অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
11 - عزوت الآيات القرآنية إلى مواضعها من كتاب الله تعالى مبنية رقم الآية، واسم السورة.

12 - تجنبت ذكر الحديث الضعيف ما استطعت - ولم أورده إلا إن كان دليلًا المذهب عالم، والتزمت بيان ضعفه.

13 - التزمت تخريج الأحاديث النبوية، فإن كانت في الصحيحين أو في أحدهما اكتفيت بالعزو لهما لتلقي الأمة لهما بالقبول، وإن تكرر الحديث في صحيح البخاري اخترت أقرب الألفاظ الدالة على المسألة، وأحلت على اسم الكتاب، والباب، ورقم الجزء، والصفحة، والحديث، وغالبًا ما أوردها في الحاشية إلا إن ترجحت مصلحة لذكرها في الأصل.

وإن كان الحديث في غير الصحيحين اجتهدت في عزوه المصادر السنة المختلفة مبينة رقم الجزء، والصفحة، والحديث، ثم درست إسناده، ونقلت أقوال الأئمة المتقدمين في الحكم عليه إن وجد، وإن كان في إسناده ضعف وله متابعات وشواهد يرتقي بها أشرت إليها، والتزمت الحكم على إسناد كل حديث أورده.

12 - حررّت القول في بعض رجال الأسانيد لاسيما المختلف فيهم.

13 - بينت غريب الحديث واللغة محيلة على كتبهما.

14 - ختمت هذا البحث بخاتمة بينت فيها أهم نتائج البحث وتوصياته.

د. نوال العيد
১১ - আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে মহান আল্লাহর কিতাবের নিজ নিজ স্থানের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং আয়াতের নম্বর ও সূরার নাম উল্লেখ করেছি।

১২ - আমি সাধ্যমতো দুর্বল হাদিস উল্লেখ করা পরিহার করেছি; আর কোনো আলেমের মাযহাবের দলিল হিসেবে না হলে তা উল্লেখ করিনি এবং এর দুর্বলতা স্পষ্ট করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি।

১৩ - আমি নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসসমূহের তাখরিজ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি। সুতরাং হাদিসটি যদি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা তার যেকোনো একটিতে থাকে, তবে উম্মাহর নিকট তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার কারণে আমি কেবল সেই কিতাবদ্বয়ের উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি। যদি সহিহ বুখারিতে হাদিসটি একাধিকবার উল্লেখ থাকে, তবে আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নিকটতর শব্দাবলি চয়ন করেছি এবং কিতাবের নাম, অধ্যায়, খণ্ড নম্বর, পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বরের হাওয়ালা দিয়েছি। আমি সাধারণত এগুলো পাদটীকায় উল্লেখ করেছি, যদি না মূল পাঠে উল্লেখ করার বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়।

আর যদি হাদিসটি সহিহাইনের বাইরে অন্য কিতাবে থাকে, তবে আমি সুন্নাহর বিভিন্ন উৎস থেকে তা উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেছি এবং খণ্ড নম্বর, পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি। এরপর আমি এর সনদ (বর্ণনাসূত্র) যাচাই করেছি এবং পূর্ববর্তী ইমামগণের কোনো রায় পাওয়া গেলে তা উদ্ধৃত করেছি। যদি সনদে দুর্বলতা থাকে তবে এর এমন কোনো মুতাবাআত (সমর্থনকারী বর্ণনা) ও শওয়াহিদ (সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা) আছে কি না যার মাধ্যমে হাদিসটি উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়, আমি সেদিকে ইঙ্গিত করেছি। আমি আমার উল্লিখিত প্রতিটি হাদিসের সনদের ওপর হুকুম প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি।

১২ - আমি সনদের কিছু বর্ণনাকারী সম্পর্কে বক্তব্য পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করেছি, বিশেষ করে যাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

১৩ - আমি হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দাবলি ও ভাষাগত জটিলতা সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্যাখ্যা করেছি।

১৪ - আমি এই গবেষণার ইতি টেনেছি একটি উপসংহারের মাধ্যমে, যেখানে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এবং সুপারিশসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।

ড. নাওয়াল আল-ঈদ
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌التمهيد

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: مكانة المرأة في بعض الحضارات القديمة، والأديان الأخرى.

المبحث الثاني: المرأة العربية في العصر الجاهلي.

المبحث الثالث: تأصيل معنى «حقوق المرأة».
উপক্রমণিকা

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাচীন কিছু সভ্যতা ও অন্যান্য ধর্মে নারীর অবস্থান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাহেলি যুগে আরব নারী।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ‘নারীর অধিকার’ সংজ্ঞার মৌলিক বিশ্লেষণ।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الأول مكانة المرأة في بعض الحضارات القديمة والأديان الأخرى

على مر التاريخ، وتعاقب الأمم والحضارات كانت المرأة ممسوخة الهوية، فاقدة الأهلية، منزوعة الحرية، لا قيمة لها تذكر أو شأنًا يعتبر.

بل كانت تقاسي في عامة أحوالها باستثناء عصور الرسالات الإلهية- ألوانًا من الظلم والذل، والقهر والشقاء، صاغتها أهواء ضالة، أو عقائد فاسدة.

• فهي في مجتمع الصين متاع يباع ويشترى، بل كانت مسلوبة الحقوق الحسية والمعنوية، وكانوا يعتبرون ولادتها شؤمًا وسوءًا، وكانت طوال حياتها خاضعة لطاعات ثلاث: الأب، والزوج، والأخ البكر في حال غياب الأب، أو الابن في حال غياب الزوج، يقول «ول ديورانت»: فهي تابعة للرجل تقضي عمرها في طاعته، كما كانت محرومة من كافة حقوقها الاجتماعية والمالية. فهي عندهم قاصرة لا تملك من أمرها شيئًا. بل إن الرجل هو الوصي عليها في كل ذلك- كما لا تستحق تعليمًا ولا تثقيفًا …(1)» وكانت المرأة إذا تزوجت انتقلت إلى بيت زوجها وسميت باسمه، وكانت المرأة المتزوجة تسمى (فو) ومعناها (خضوع) دلالة على خضوعها التام لزوجها، وإذا مات الزوج كان على أرملته ألّا تتزوج بعده، وكان يطلب

--------------------------------------------

(1) قصة الحضارة ج 4، م 1، ص: 272.
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাচীন কিছু সভ্যতা ও অন্যান্য ধর্মে নারীর মর্যাদা

ইতিহাসের পরিক্রমায় এবং জাতি ও সভ্যতাগুলোর বিবর্তনে নারী ছিল পরিচয়হীন, যোগ্যতাশূন্য এবং স্বাধীনতাহীন; তার উল্লেখযোগ্য কোনো মূল্য বা বিবেচ্য কোনো মর্যাদা ছিল না।

বরং ঐশী বার্তাপ্রাপ্ত যুগসমূহ ব্যতীত সাধারণ অবস্থায় সে নানা প্রকার জুলুম, লাঞ্ছনা, নিপীড়ন ও কষ্টের শিকার ছিল, যা ভ্রান্ত প্রবৃত্তি বা কলুষিত আকিদাহ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।

• চীনা সমাজে সে ছিল ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য পণ্যের ন্যায়, বরং সে ছিল বস্তুগত ও আত্মিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা তার জন্মকে অমঙ্গল ও অশুভ মনে করত। সারাজীবন তাকে তিনটি আনুগত্যের অধীনে থাকতে হতো: পিতা, স্বামী এবং পিতার অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা, অথবা স্বামীর অনুপস্থিতিতে পুত্র। উইল ডুরান্ট বলেন: «সে পুরুষের অনুগামী এবং তার জীবন পুরুষের আনুগত্যে অতিবাহিত করে। তেমনিভাবে সে তার সকল সামাজিক ও আর্থিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তাদের নিকট সে ছিল এক অক্ষম সত্তা, যার নিজের বিষয়ে কোনো অধিকার ছিল না। বরং পুরুষই ছিল এসকল বিষয়ে তার অভিভাবক—তেমনিভাবে সে শিক্ষা বা দীক্ষার যোগ্যও ছিল না …(১)» নারী যখন বিবাহিত হতো, তখন সে তার স্বামীর ঘরে চলে যেত এবং তার নামেই নামাঙ্কিত হতো। বিবাহিত নারীকে বলা হতো (ফু), যার অর্থ (আনুগত্য), যা স্বামীর প্রতি তার পূর্ণ আনুগত্যের নিদর্শন বহন করত। স্বামী মারা গেলে বিধবার জন্য আর বিবাহ করা নিষিদ্ধ ছিল এবং চাওয়া হতো

--------------------------------------------

(১) সভ্যতার ইতিহাস, খণ্ড ৪, ভাগ ১, পৃষ্ঠা: ২৭২।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
إليها في بداية الأمر أن تحرق نفسها تكريمًا له.

وإليك ملخص ما كانت تقاسيه (لقد سميت المرأة في كتب الصين القديمة «بالمياه المؤلمة» التي تفسد المجتمع أو تكنسه من السعادة والمال، فهي شر يستبقيه الرجل بمحض إرادته، ويتخلص منه بالطريقة التي يرتضيها ولو بيعًا -كبيع الرقيق والمتاع، حتى كان بالصين زهاء ثلاثة ملايين جارية سنة 1937 م وقد يعضلون المرأة عن الزواج إذا مات زوجها فتبقى حيوان يخدم في البيت دون حق إنساني- تمامًا كالحمير والبغال)(1).

• وأما أختها في الهند فليست بأحسن حالًا منها، بل إن الكتب المقدسة عندهم جعلت المرأة دون الرجل منذ الخلق الأول. ففي أساطير مَنو قوله: «عندما خلق النساء فرض عليهن حب الفراش، والمقاعد والزينة، والشهوات الدنسة، والغضب، والتجرد من الشرف وسوء السلوك، فالنساء دنسات كالباطل نفسه وهذه قاعدة ثابتة»(2).

ومن هنا يتبين أن المرأة في معتقدهم هي رمز غواية، وعنوان شر، ومصدر بنجاسة، وهذه نظرة ظالمة ليس لها ما يبررها، ألبسها الهنود ثوبًا دينيًّا حتى صارت عقيدة يتربى عليها الناس.

ومما يدعو للعجب أن الهنود الذين عدُّوا المرأة مصدرًا للرذائل يجب إبعاده، حولوا معابدهم إلى مراكز للدعارة، مما يوجب التناقض في المفاهيم الهندية ففي كل معبد في «تامل» مجموعة من النساء المقدسات اللاتي يستخدمهن المعبد أول الأمر في الرقص والغناء أمام الأوثان ثم من الجائز أن يستخدمن بعد ذلك في

--------------------------------------------

(1) المرأة في التصور الإسلامي، لعبد المتعال الجبري (156 - 157).

(2) المرأة في التاريخ والشريعة، لأسعد الحمراني (25).
শুরুতে তাকে তার সম্মানে নিজেকে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হতো।

সে যা সহ্য করত তার একটি সারসংক্ষেপ এখানে দেওয়া হলো: (প্রাচীন চীনের বইগুলোতে নারীকে «কষ্টদায়ক পানি» বলা হয়েছে যা সমাজকে কলুষিত করে অথবা সমাজ থেকে সুখ ও সম্পদ ঝেঁটিয়ে বিদায় করে। সুতরাং সে এক অনিষ্ট যাকে পুরুষ তার নিজ ইচ্ছায় রেখে দেয় এবং সে যেভাবে চায় সেভাবেই তাকে ত্যাগ করে, এমনকি দাস ও আসবাবপত্র বিক্রির মতো বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে হলেও—এমনকি ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে চীনে প্রায় ত্রিশ লক্ষ দাসী ছিল। তার স্বামী মারা গেলে তারা নারীকে পুনরায় বিয়ে করতে বাধা দিত, ফলে সে কোনো মানবিক অধিকার ছাড়াই বাড়িতে সেবা করার জন্য একটি প্রাণীর মতো পড়ে থাকত—ঠিক গাধা ও খচ্চরের মতো)(১)।

• আর ভারতে তার বোনের অবস্থা তার চেয়ে ভালো ছিল না, বরং তাদের পবিত্র গ্রন্থসমূহ সৃষ্টির শুরু থেকেই নারীকে পুরুষের চেয়ে অধম গণ্য করেছে। মনু সংহিতায় বলা হয়েছে: «যখন নারীদের সৃষ্টি করা হলো, তখন তাদের ওপর বিছানার প্রতি ভালোবাসা, আসন ও অলঙ্কার, অপবিত্র লালসা, ক্রোধ, সম্মানহীনতা এবং অসদাচরণ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে; সুতরাং নারীরা মিথ্যার মতোই অপবিত্র এবং এটি একটি অমোঘ নীতি»(২)।

এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী নারী হলো পথভ্রষ্টতার প্রতীক, অনিষ্টের শিরোনাম এবং অপবিত্রতার উৎস। এটি একটি জুলুমপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি যার কোনো যৌক্তিকতা নেই; ভারতীয়রা একে ধর্মীয় আবরণে আবৃত করেছে, এমনকি এটি এমন এক আকিদায় পরিণত হয়েছে যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ গড়ে ওঠে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে ভারতীয়রা নারীকে এমন এক অনাচারের উৎস মনে করত যা থেকে দূরে থাকা উচিত, তারা তাদের উপাসনালয়গুলোকে বেশ্যালয়ে পরিণত করেছে, যা ভারতীয় ধারণায় একটি স্ববিরোধিতা তৈরি করে। তামিলনাড়ুর প্রতিটি মন্দিরে একদল «পবিত্র নারী» থাকত যাদের মন্দির কর্তৃপক্ষ শুরুতে মূর্তির সামনে নাচ ও গানের কাজে ব্যবহার করত, এরপর সম্ভবত তাদের ব্যবহার করা হতো...

--------------------------------------------

(১) আল-মারআতু ফিত তাসাউরিল ইসলামি, আব্দুল মুতাআল আল-জাবরি (১৫৬ - ১৫৭)।

(২) আল-মারআতু ফিত তারিখি ওয়াশ শারিয়াহ, আসআদ আল-হামরানি (২৫)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
إمتاع الكهنة البراهمة(1).

أمّا نظرة بوذا للمرأة فإنها لا تختلف كثيرًا عن نظرة منو للمرأة، فقد اعتبر «بودا» المرأة خطرًا على دعوته (لذلك تجد بوذا يتردد كثيرًا في قبولها لتكون من أتباعه، وقد سأله مرة أحد خاصته، وهو ابن عمه آئندا: كيف تعامل النساء أيها السيد؟ فأجاب: لا تنظر إليهن.

ولكن إذا اضطررنا إلى النظر إليهن؟ لا تُخاطبْهن. ولكن إذا خاطبنا؟ إذًا كُنْ على حذر تام منهن)(2).

كما أوجبت شرائع الهند على الزوجة أن تتفانى في حب زوجها وطاعته، والصبر على المكاره معه، وأوجبت عليها أن تخدم زوجها كما لو كان إلهًا.

(ولم يكن للمرأة حق في الاستقلال عن أبيها أو زوجها أو ولدها، فإذا مات هؤلاء جميعًا وجب أن تنتمي إلى رجل من أقارب زوجها، وهي قاصرة طيلة حياتها، ولم يكن لها الحق في الحياة بعد وفاة زوجها بل يجب أن تموت يوم موت زوجها، وأن تحرق معه وهي حية على موقد واحد. واستمرت هذه العادة حتى القرن السابع عشر حيث أبطلت على كره من رجال الدين الهنود)(3).

• ولما كان الفرس أمة حربية كانوا يفضلون الذكور على الإناث؛ لأن الذكور عماد الجيش في الحرب، وأما البنات فإنهن ينشأن لغيرهم، ويستفيد منهن غير آبائهن.

وخضعت المرأة الفارسية القديمة للتيارات الدينية الثلاثة، فمن الزرادشتية

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق (27).

(2) أديان الهند الكبرى، لأحمد شلبي (74).

(3) المرأة في الفقه والقانون، لمصطفى السباعي (17).
ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের তুষ্টি(১).

নারীর প্রতি বুদ্ধের দৃষ্টিভঙ্গি মনুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়। কেননা, ‘বুদ্ধ’ নারীকে তার দাওয়াতের ক্ষেত্রে একটি বিপদ হিসেবে বিবেচনা করতেন (এজন্যই আপনি দেখবেন যে, বুদ্ধ নারীকে তার অনুসারী হিসেবে গ্রহণ করতে অনেক দ্বিধাবোধ করতেন। একবার তার একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, যিনি ছিলেন তার চাচাতো ভাই আনন্দ, তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: হে প্রভু, আপনি নারীদের সাথে কেমন আচরণ করেন? তিনি উত্তর দিলেন: তাদের দিকে তাকাবেন না।

কিন্তু যদি আমরা তাদের দিকে তাকাতে বাধ্য হই? তবে তাদের সাথে কথা বলবেন না। কিন্তু যদি আমরা কথা বলি? তখন তাদের ব্যাপারে পূর্ণ সতর্ক থাকুন)(২)।

অনুরূপভাবে, ভারতের বিধানসমূহ স্ত্রীর ওপর তার স্বামীর ভালোবাসা ও আনুগত্যে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া এবং তার সাথে দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করা আবশ্যক করেছিল। তার ওপর আবশ্যক ছিল স্বামীর সেবা করা যেন সে একজন উপাস্য।

(পিতা, স্বামী বা সন্তান থেকে স্বাধীন হওয়ার কোনো অধিকার নারীর ছিল না। যখন এরা সবাই মারা যেত, তখন স্বামীর আত্মীয়দের মধ্যে কোনো পুরুষের সাথে তাকে যুক্ত হওয়া আবশ্যক ছিল। সে সারা জীবনই পরনির্ভরশীল ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর তার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার ছিল না, বরং স্বামীর মৃত্যুর দিনই তাকে মরতে হতো এবং তাকে জীবিত অবস্থায় স্বামীর সাথে একই চিতায় পুড়িয়ে মারা হতো। এই প্রথা সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত জারি ছিল, অতঃপর ভারতীয় ধর্মগুরুদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা বিলুপ্ত করা হয়)(৩)।

• যেহেতু পারস্যবাসীরা একটি যুদ্ধপ্রিয় জাতি ছিল, তারা কন্যাসন্তানের চেয়ে পুত্রসন্তানকে বেশি পছন্দ করত; কারণ পুরুষরাই ছিল যুদ্ধে সেনাবাহিনীর মূল ভিত্তি। আর কন্যারা তো লালিত-পালিত হতো অন্যদের জন্য এবং তাদের পিতাদের পরিবর্তে অন্যরা তাদের থেকে উপকৃত হতো।

প্রাচীন পারস্যের নারীরা তিনটি ধর্মীয় ধারার অধীনে ছিল, যার মধ্যে জরোয়াস্টিজম (জরথুস্ত্রবাদ) অন্যতম...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (২৭)।

(২) আদিয়ানুল হিন্দ আল-কুবরা, আহমদ শালবি (৭৪)।

(৩) আল-মারআতু ফিল ফিকহি ওয়াল কানুন, মুস্তফা আস-সিবাঈ (১৭)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
إلى المانوية، إلى المزدكية، وقد تركت كل ديانة من هذه الديانات بصماتها الواضحة على كيان الأسرة والمجتمع، ويكفي أن نعرف ما عند المزدكية، فقد ظهر مزدك سنة 487 م ودعا إلى المنهج ذاته الذي سلكه زرادشت من القول بالثنائية في العالم، وأنه نشأ من أصلين: النور والظلمة، ولكنه خلع على النور والظلمة مفهومًا آخر غير مفهوم (ماني وزرادشت) فكان يرى في النور والظلام أنما أخوة، ومن ثم يرى أن الناس جميعًا سواسية، وما داموا كذلك فليعيشوا في حالة مساواة، وأهم ما تحب المساواة فيه هو: المال والنساء.

وفي ذلك يقول الشهرستاني: «وكان مزدك ينهى الناس عن المخالفة والمباغضة والقتال، ولما كان أكثر ذلك بسبب النساء والأموال، فقد أحل النساء، وأباح الأموال، وجعل الناس شركة فيها كاشتراكهم في الماء والنار والهواء»(1)

ويقول الطبري: «لقد ذهب مزدك وأصحابه إلى أن الله إنما جعل الأرزاق في الأرض ليقسمها العباد بينهم بالتأسي، ولكن الناس تظالموا فيها، وزعموا أهم يأخذون للفقراء، من الأغنياء، ويردون من المكثرين على المقلين. وأن من كان عنده فضل من الأموال والنساء والأمتعة، فليس هو بأولى من غيره، فارتضي السفلة ذلك واغتنموه، وكاتفوا (مزدك) وأصحابه وشايعوهم، فابتلي الناس بهم، وقوي أمرهم، حتى كانوا يدخلون على الرجل في داره فيغلبونه على منزله ونسائه وأمواله، وحملوا (قباذ) على تزيين ذلك وتوعدوه بخلعه، فلم يلبثوا إلا قليلًا حتى صاروا لا يعرف الرجل منهم ولده، ولا المولود أباه، ولا يملك الرجل شيئًا … »(2) واستمر الوضع كذلك حتى قضى عليه كسرى أنو شروان.

--------------------------------------------

(1) الملل والنحل (2/ 86).

(2) تاريخ الأمم والملوك (2/ 98).
মানুয়ীয় ধর্ম এবং মাজদাকীয় ধর্ম পর্যন্ত; এই ধর্মগুলোর প্রতিটিই পরিবার ও সমাজের কাঠামোর ওপর তাদের সুস্পষ্ট ছাপ রেখে গেছে। মাজদাকীয় ধর্মে কী ছিল তা জানাই যথেষ্ট; ৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে মাজদাকের আবির্ভাব ঘটে এবং তিনি সেই একই মতবাদের দিকে আহ্বান জানান যা জরাথুস্ত্র অনুসরণ করেছিলেন। সেটি ছিল জগতের দ্বৈতবাদে বিশ্বাস করা; অর্থাৎ পৃথিবী দুটি মূল উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে: আলো এবং অন্ধকার। তবে তিনি আলো ও অন্ধকারের ওপর (মানি ও জরাথুস্ত্রের) ধারণার বাইরে ভিন্ন এক ধারণা আরোপ করেন। তিনি আলো ও অন্ধকারকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ মনে করতেন। ফলস্বরূপ তিনি মনে করতেন যে সকল মানুষ সমান। আর যেহেতু তারা সমান, তাই তাদের সাম্যাবস্থায় বসবাস করা উচিত। আর যে বিষয়গুলোতে সাম্য থাকা সবচেয়ে জরুরি তা হলো: সম্পদ এবং নারী।

এ প্রসঙ্গে শাহরিস্তানি বলেন: «মাজদাক মানুষকে বিরোধ, বিদ্বেষ ও যুদ্ধবিগ্রহ থেকে নিষেধ করতেন। যেহেতু এর অধিকাংশ কারণ ছিল নারী ও সম্পদ, তাই তিনি নারীদের সকলের জন্য বৈধ করে দেন এবং সম্পদকে উন্মুক্ত করে দেন। তিনি মানুষকে এই বিষয়গুলোতে অংশীদার করে দেন, যেমন তারা পানি, আগুন ও বাতাসের ক্ষেত্রে পরস্পর অংশীদার»(১)

তাবারী বলেন: «মাজদাক ও তার অনুসারীরা এই মত পোষণ করতেন যে, আল্লাহ পৃথিবীতে রিযিক কেবল এজন্যই নির্ধারণ করেছেন যাতে বান্দারা সমতার ভিত্তিতে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। কিন্তু মানুষ এ ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর জুলুম করেছে। তারা দাবি করত যে তারা ধনীদের কাছ থেকে দরিদ্রদের জন্য সম্পদ গ্রহণ করছে এবং প্রাচুর্যশালীদের থেকে নিয়ে অভাবীদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। যার কাছে অতিরিক্ত সম্পদ, নারী ও আসবাবপত্র থাকত, সে অন্যের তুলনায় সেগুলোর কোনো অংশে বেশি হকদার ছিল না। ফলে নিম্নস্তরের লোকেরা এটি পছন্দ করল এবং একে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করল। তারা মাজদাক ও তার অনুসারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করল এবং তাদের অনুসরণ করল। ফলে মানুষ তাদের দ্বারা বিপদগ্রস্ত হলো এবং তাদের শক্তি বৃদ্ধি পেল। এমনকি তারা কোনো ব্যক্তির ঘরে ঢুকে তাকে তার বাসস্থান, নারী ও সম্পদের ওপর পরাস্ত করত। তারা রাজা কুবদকে এই মতাদর্শকে সুশোভিত করে দেখাতে বাধ্য করল এবং তাকে সিংহাসনচ্যুত করার হুমকি দিল। অল্পকালও অতিবাহিত হয়নি যে, তাদের অবস্থা এমন হলো যে কোনো ব্যক্তি তার সন্তানকে চিনত না, আর কোনো সন্তান তার পিতাকে চিনত না; কোনো ব্যক্তির কোনো কিছুর ওপর মালিকানা অবশিষ্ট ছিল না … »(২) কিসরা আনুশিরওয়ান তাকে নির্মূল করা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (২/ ৮৬)।

(২) তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক (২/ ৯৮)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وكانت النساء تحت سلطة الرجل المطلقة الذي كان يحق له أن يحكم عليها بالموت، أو ينعم عليها بالحياة طبقًا لما يراه وتطيب له نفسه، فكانت كالسلعة بين يديه.

كما كانت المرأة عندهم بخسة في الأدوار الطبيعية «كالحيض والنفاس» يُبْعدن في وقته عن المنازل، ويقمن في خيام صغيرة تضرب لهن في ضواحي المدينة أو البلدة، ولا يجوز مخالطتهن قطعًا، بل كانوا يعتقدون أنهم يتنحسون إذا مسوهم أو مسوا الخيام أو الأشياء المحيطة بهن(1).

• أمّا الرومان فقد ابتدأوا حياهم بالمحافظة على نظام الأسرة وعلى معايير الشرف تمشيًا مع مستوى الأخلاق الذي كان مسيطرًا في بادئ أمرهم، وكانت الأم موضع تقدير واحترام، ولم تكن البغايا ومن يعاشرهن موضع تقدير، على الرغم من انتشارهن نسبيًّا في كبريات المدن، ولما توغل الرومان في الحضارة رقت أخلاقهم تدريجيًّا، وأصبح الاختلاط وغشيان المنتديات والحفلات منطلقًا لإبراز محاسن الأنثى، والتنافس في إرضائها أو إغوائها حتى كثر الفحش بين كبار العائلات، بعد أن كان تفاخر الأسر بحرص فتياها على العفاف.

ولم يعد لعقد الزواج عندهم معني سِوى أنه عقد مدني، يتوقف استمراره على رضا المتعاقدين، لذلك كان انفصام عرى الزوجية يتم لأتفه الأسباب.

ونتيجة لهذا التفلت من القيود التي كانت تحافظ عليها الأسرة الرومانية، تغيرت نظرهم إلى العلاقة غير الشرعية، فكثر الزين وانتشر الخنا.

وقد كان القانون الروماني يعتبر الأنثى سببًا من أسباب انعدام الأهلية

--------------------------------------------

(1) انظر: المرأة بين القديم والحديث لعمر رضا كحالة (1/ 132).
নারীরা পুরুষের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বের অধীনে ছিল, যে তার ইচ্ছানুযায়ী এবং মর্জিমাফিক তাদের মৃত্যু দণ্ড দেওয়ার অথবা জীবন দান করার অধিকার রাখত; ফলে নারী ছিল তার হাতের পণ্যের মতো।

তেমনিভাবে তাদের কাছে নারীরা স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থায় (যেমন ঋতুস্রাব ও প্রসূতি অবস্থা) অত্যন্ত তুচ্ছ হিসেবে গণ্য হতো; এই সময়ে তাদেরকে ঘর থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো এবং তারা শহর বা জনপদের উপকণ্ঠে তাদের জন্য টাঙানো ছোট ছোট তাঁবুতে অবস্থান করত। তাদের সাথে মেলামেশা করা একেবারেই নিষিদ্ধ ছিল, বরং তারা বিশ্বাস করত যে, তাদেরকে স্পর্শ করলে কিংবা তাদের তাঁবু বা চারপাশের জিনিসপত্র স্পর্শ করলে তারা অপবিত্র হয়ে যাবে(১)।

• আর রোমানদের কথা বলতে গেলে, তারা তাদের জীবনের সূচনা করেছিল পারিবারিক ব্যবস্থা এবং সম্মানের মানদণ্ড রক্ষার মাধ্যমে, যা ছিল তাদের প্রাথমিক সময়ের প্রচলিত নৈতিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মা ছিলেন শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্রী। আর গণিকা ও তাদের সঙ্গীরা সম্মানের পাত্র ছিল না, যদিও বড় শহরগুলোতে তাদের বিস্তৃতি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। কিন্তু রোমানরা যখন সভ্যতায় অনেক দূর অগ্রসর হলো, তখন তাদের নৈতিকতার ক্রমাবনতি ঘটল। মেলামেশা এবং সভা ও অনুষ্ঠানে যাতায়াত করা নারীর রূপ-সৌন্দর্য প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিণত হলো এবং তাদের সন্তুষ্ট করার বা প্রলুব্ধ করার প্রতিযোগিতা শুরু হলো। শেষ পর্যন্ত অভিজাত পরিবারগুলোর মধ্যেও অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ল, অথচ এক সময় এই পরিবারগুলো তাদের তরুণীদের সতীত্ব রক্ষার ব্যাপারে গর্ববোধ করত।

তাদের কাছে বিবাহ চুক্তির কোনো অর্থ অবশিষ্ট রইল না কেবল একটি দেওয়ানি চুক্তি ছাড়া, যার স্থায়িত্ব নির্ভর করত চুক্তি সম্পাদনকারী দ্বয়ের সম্মতির ওপর। এ কারণে অত্যন্ত তুচ্ছ কারণেও বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন হয়ে যেত।

রোমান পরিবার যেসব বিধিনিষেধ রক্ষা করে চলত, তা থেকে এই বিচ্যুতির ফলশ্রুতিতে অবৈধ সম্পর্কের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেল; ফলে ব্যভিচার বৃদ্ধি পেল এবং পাপাচার ছড়িয়ে পড়ল।

আর রোমান আইন নারীকে আইনগত অযোগ্যতার অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য করত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: উমর রেজা কাহহালা-র আল-মারআ বাইনাল কদিম ওয়াল হাদিস (১/ ১৩২)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
كحداثة السن والجنون، ولم تكن لها أي أهلية أو شخصية قانونية.

وكانت سلطة رب الأسرة على أبنائه وبناته تمتد حتى وفاته مهما بلغ سن الأبناء والبنات، كما كانت له سلطة -أيضًا- على زوجته وزوجات أبنائه وأبناء أبنائه، وكانت هذه السلطة تشمل البيع والنفي والتعذيب والقتل، وكان رب الأسرة هو مالك كل أموالها، فليس لفرد فيها حق التملك.

وعرف الرومان نوعًا من أنواع الزواج اسمه «الزواج بالسيادة» وبه تدخل المرأة في سيادة زوجها، وتصير في حكم ابنته، وتنقطع صلتها بأسرتها الأولى، ولقد بلغ من سيادة زوجها عليها، أن كانت تحال إليه إذا ما اتهمت بجريمة، ليحاكمها ويعاقبها بنفسه وكان له أن يحكم عليها بالإعدام في بعض التهم كالخيانة مثلًا، وكان إذا توفي عنها زوجها دخلت تحت وصاية أبنائه الذكور، أو إخوان زوجها أو أعمامه(1).

وبذلك يتضح أن المرأة في الحضارة الرومانية مسلوبة الأهلية الإنسانية والقانونية.

• وعلى الرغم من أن اليونان من أرقى الأمم القديمة حضارة إلا أن المرأة عندهم كانت أنموذجًا يمثل مصدر مصائب الإنسان وآلامه حتى أسموها رجسًا من عمل الشيطان، مسلوبة العقل ليس لها حق التعليم.

يقول أرسطو: «إن الطبيعة لم تزود المرأة بأي استعداد عقلي يعتد به، ولذلك يجب أن تقتصر تربيتها على شؤون التدبير المنزلي والأمومة والحضانة وما إلى ذلك … ثم يقول: ثلاث ليس لهم التصرف في أنفسهم: العبد ليس له إرادة، والطفل له

--------------------------------------------

(1) انظر: الإسلام وقضايا المرأة، للبهي الخولي (11 - 12)، والمرأة بين الفقه والقانون، لمصطفى السباعي (15).
যেমন অপ্রাপ্তবয়স্কতা এবং উন্মাদনা, এবং তার কোনো আইনি যোগ্যতা বা ব্যক্তিত্ব ছিল না।

পরিবারের প্রধানের কর্তৃত্ব তার পুত্র ও কন্যাদের ওপর তার মৃত্যু পর্যন্ত বিস্তৃত থাকত, সন্তানদের বয়স যাই হোক না কেন। অনুরূপভাবে, তার স্ত্রী, তার পুত্রদের স্ত্রী এবং তার পৌত্র-পৌত্রীদের ওপরও তার কর্তৃত্ব ছিল। এই কর্তৃত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল বিক্রয়, নির্বাসন, নির্যাতন এবং হত্যা। পরিবারের প্রধানই ছিলেন পরিবারের সকল সম্পদের মালিক; ফলে পরিবারের কোনো সদস্যের স্বতন্ত্র মালিকানা স্বত্ব ছিল না।

রোমানরা এক প্রকারের বিবাহ সম্পর্কে জানত যার নাম ছিল "কর্তৃত্বাধীন বিবাহ", যার মাধ্যমে নারী তার স্বামীর কর্তৃত্বাধীনে চলে আসত এবং তার নিজের কন্যার মর্যাদায় পর্যবসিত হতো, আর তার পিতৃপরিবারের সাথে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। তার ওপর স্বামীর কর্তৃত্ব এতটাই চরম ছিল যে, সে কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হলে তার বিচার ও শাস্তির জন্য তাকে স্বামীর কাছেই সোপর্দ করা হতো, যাতে স্বামী নিজেই তার বিচার ও শাস্তি বিধান করতে পারে। এমনকি কিছু অভিযোগে, যেমন বিশ্বাসঘাতকতার ক্ষেত্রে, স্বামী তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতাও রাখত। আর যদি তার স্বামী মারা যেত, তবে সে তার পুত্রদের অথবা স্বামীর ভাইদের কিংবা চাচাদের অভিভাবকত্বের অধীনে চলে যেত(১)।

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, রোমান সভ্যতায় নারী মানবিক ও আইনি যোগ্যতা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল।

• গ্রীকরা প্রাচীন জাতিসমূহের মধ্যে সভ্যতায় অত্যন্ত উন্নত হওয়া সত্ত্বেও, তাদের নিকট নারী ছিল মানুষের বিপদ ও কষ্টের উৎসস্বরূপ একটি দৃষ্টান্ত; এমনকি তারা তাকে শয়তানের অপবিত্র কাজ হিসেবে অভিহিত করত। সে ছিল বিচারবুদ্ধিহীন এবং তার শিক্ষার কোনো অধিকার ছিল না।

এরিস্টটল বলেন: «প্রকৃতি নারীকে উল্লেখযোগ্য কোনো মানসিক যোগ্যতা প্রদান করেনি, তাই তার প্রতিপালন কেবল গৃহস্থালি পরিচালনা, মাতৃত্ব, শিশু পালন এবং এই জাতীয় কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত … এরপর তিনি বলেন: তিন শ্রেণীর সত্তার নিজেদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই: দাসের কোনো ইচ্ছা নেই, আর শিশুর আছে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইসলাম ওয়া কাদায়ান নিসা, আল-বাহী আল-খুলি (১১ - ১২), এবং আল-মারআহ বাইনাল ফিকহ ওয়াল কানুন, মুস্তাফা আস-সিবায়ি (১৫)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
إرادة ناقصة، والمرأة لها إرادة وهي عاجزة»(1).

وإذا انتقلنا إلى أفلاطون رائد المدرسة العقلية لم نجده أحسن فكرًا منه (فقد كان يضع النساء في مرتبة الأطفال والخدم ويرى أن الرجال هم أرقى منزلة من النساء، بينما يلاحظ «أيروبيد» أن النساء غير قادرات، ولا من أهل للعمل الصالح، بل هن آلات للشر وبث السوء في المجتمع)(2).

ولذا فقد اقتصرت النساء في «أثينا» على الأعمال المنزلية وخدمة البيت، وإن كن في «إسبارطة» قد أعطين شيئا من الحقوق المدنية، فما ذلك عن سماحة منهم واعترافٍ بأهلية المرأة، وإنما كان ذلك لحاجة المجتمع الحربي للقوة فكانوا يدربون الفتاة الإسبارطية على الرياضة البدنية والمصارعة وقذف القرص والحربة وما إلى ذلك.

وقد جرد القانون اليوناني المرأة من حقوقها المدنية ووضعها تحت السيطرة المطلقة للرجل في مختلف مراحل حياتها بل يعتبرها من ممتلكات ولي أمرها قبل زواجها، ومن ممتلكات الزوج بعد الزواج، فكانت كسقط المتاع تباع وتشترى، ولم يعطوها حقًا في الميراث(3).

وبعد استعراض سريع للحضارات القديمة أترك للقارئ فرصة التأمل ومعايشة أنواع الظلم والإهانة التي قاستها حواء في مجتمعات منزوعة الرحمة، مستعبِدة الضعفاء. ثم أنتقل إلى حال المرأة في ظل الأديان السابقة المحرفة التي قضت المرأة حياتها فيها في متاهات الذل والاحتقار، وأهدرت آدميتها بسبب تحريف الديانات السماوية عن موضعها، فاليهود عدُّوها سبب الخطيئة الأولى، والنصارى

--------------------------------------------

(1) المرأة من خلال الآيات القرآنية، لعصمة الدين كركر (27).

(2) المرأة في القديم والحديث، لعمر رضا كحالة (170).

(3) انظر: المرأة في التصور القرآني، لسوسن الحوّال (29).
অপূর্ণ ইচ্ছা, আর নারীর ইচ্ছা থাকলেও সে অক্ষম»(১).

আর আমরা যদি বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শনের পথপ্রদর্শক প্লেটোর দিকে ফিরে তাকাই, তবে তাকে তার চেয়ে উত্তম চিন্তার অধিকারী পাব না; (কেননা তিনি নারীদের শিশু ও ভৃত্যদের সমপর্যায়ে রাখতেন এবং মনে করতেন যে পুরুষরা নারীদের চেয়ে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। অন্যদিকে ‘ইউরিপিডিস’ লক্ষ্য করেন যে, নারীরা অক্ষম এবং তারা কোনো সৎ কাজের যোগ্য নয়, বরং তারা মন্দের যন্ত্র এবং সমাজে অমঙ্গল বিস্তারের মাধ্যম)(২).

এ কারণে ‘এথেন্স’-এ নারীদের সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল গৃহস্থালি কাজ ও ঘরের সেবার মধ্যে। যদিও ‘স্পার্টা’-তে তাদের কিছু নাগরিক অধিকার দেওয়া হয়েছিল, তবে তা তাদের উদারতা কিংবা নারীর যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ ছিল না; বরং তা ছিল যুদ্ধংদেহী সমাজের শক্তির প্রয়োজনের খাতিরে। তাই তারা স্পার্টান মেয়েদের শারীরিক কসরত, কুস্তি, চাকতি নিক্ষেপ, বল্লম নিক্ষেপ এবং এই জাতীয় বিষয়ের প্রশিক্ষণ দিত।

গ্রিক আইন নারীকে তার নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে পুরুষের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বে রেখেছিল। এমনকি বিয়ের আগে তাকে তার অভিভাবকের সম্পত্তি এবং বিয়ের পরে স্বামীর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হতো। সে ছিল তুচ্ছ পণ্যসামগ্রীর মতো যা ক্রয়-বিক্রয় করা হতো, এবং তারা তাকে উত্তরাধিকারের কোনো অধিকার দেয়নি(৩).

প্রাচীন সভ্যতাগুলোর এই সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার পর, আমি পাঠকের জন্য দয়াহীন ও দুর্বলের দাসত্বকারী সমাজগুলোতে হাওয়া (নারী জাতি) যে ধরণের জুলুম ও অপমানের শিকার হয়েছে, তা নিয়ে চিন্তা ও উপলব্ধি করার সুযোগ রেখে দিচ্ছি। এরপর আমি পূর্ববর্তী বিকৃত ধর্মগুলোর অধীনে নারীর অবস্থার দিকে ফিরে যাব, যেখানে নারী তার জীবন অতিবাহিত করেছে লাঞ্ছনা ও অবজ্ঞার গোলকধাঁধায়, এবং আসমানি ধর্মগুলোর মূল অবস্থান থেকে বিকৃতির কারণে তার মানবতা ভুলুণ্ঠিত হয়েছিল। ইহুদিরা তাকে আদি পাপের কারণ হিসেবে গণ্য করত, আর খ্রিস্টানরা...

--------------------------------------------

(১) আল-মারআতু মিন খিলালিল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ, আসমাতুদ্দিন কারকার (২৭)।

(২) আল-মারআতু ফিল কদিমি ওয়াল হাদিস, উমর রিদা কাহহালাহ (১৭০)।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-মারআতু ফিত তাসাউরিল কুরআনি, সাওসান আল-হাওয়াল (২৯)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
عدُّوها البعد عن المرأة أساس دخول ملكوت السماوات.

• كانت النظم اليهودية مصطبغة بسمات صحراوية، وما برحت عاداتهم البدوية غلّابة على أجيالهم المتعاقبة، وفي التوراة إشارة إلى أصلهن الصحراوي، فقد جاء في سفر التثنية: «أن قسم الرب هو شعبة يعقوب حبل ونصبه، وجده في أرض قفر وفي خلاء مستوحش خرب وإلى أن قال - أركبه على مرتفعات الأرض، فأكل ثمار الصحراء وأرضعه عسلًا من حجر وزيتًا من صوان الصخر)(1) ويؤكد هذا ما جاء على لسان يوسف عليه السلام حين ذكر نعم الله عليه وعلى أبويه حين جاء بهم من البدو … قال تعالى: {وَقَدْ أَحْسَنَ بِي إِذْ أَخْرَجَنِي مِنَ السِّجْنِ وَجَاءَ بِكُمْ مِنَ الْبَدْوِ}(2) ولهذا قامت شريعة إسرائيل على ما يقتضيه نظام الأمة الحربية من خضوع المرأة للرجل، والرغبة في كثرة النسل، الذي هو ضرورة من ضرورات الحرب التي لا تغني فيها النساء شيئًا.

ويعدُّ اليهودُ المرأةَ لعنة، وأنها أغوت آدم، وأوقعته في شراك المعصية، لقد جاء عندهم في التوراة أن الرب سال آدم: (هل أكلت من الشجرة التي أوصيتك ألا تأكل منها. قال آدم: المرأة التي جعلتها معي هي أعطتني من الشجرة فأكلت)(3).

ولا شك أن هذا تحريف للكلم عن مواضعه، فالموقف من المرأة عند اليهود هو موقف يتهمها منذ البداية، فقد ورد في العهد القديم عن المرأة ما يلي: «درت أنا وقلبي لأعلم ولأبحث وأطلب حكمة وعقلًا، ولأعرف الشر أنه جهالة، والحماقة

--------------------------------------------

(1) الكتاب المقدس، الإصحاح الثاني والثلاثون من سفر التثنية، فقرة (9 - 13) ص: 232.

(2) يوسف: 100.

(3) سفر التكوين، الإصحاح الثالث، الفقرتان: 11 - 12.
তারা নারীর থেকে দূরত্ব বজায় রাখাকে আসমানি রাজত্বে প্রবেশের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করত।

• ইহুদি সমাজব্যবস্থা মরুভূমির বৈশিষ্ট্যে রঞ্জিত ছিল, এবং তাদের যাযাবর স্বভাব তাদের উত্তরসূরি প্রজন্মের ওপর প্রবল ছিল। তাওরাতেও তাদের মরুজোদ্ভূত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। দ্বিতীয় বিবরণ পুস্তকে এসেছে: «প্রভুর অংশ হলো ইয়াকুবের বংশ, তাঁর উত্তরাধিকারের রশি; তিনি তাকে এক নির্জন মরুভূমিতে এবং এক বিরাণ জনমানবহীন প্রান্তরে খুঁজে পেলেন। এরপর বলা হয়েছে—তিনি তাকে পৃথিবীর উচ্চস্থানে আরোহণ করালেন, ফলে সে মরুভূমির ফলসমূহ ভক্ষণ করল এবং তিনি তাকে পাথর থেকে মধু ও চকমকি পাথর থেকে তেল পান করালেন)(১) ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাষ্যও এটিকে সুনিশ্চিত করে, যখন তিনি তাঁর প্রতি এবং তাঁর পিতামাতার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করছিলেন, যখন তিনি তাদেরকে যাযাবর পল্লী থেকে নিয়ে এসেছিলেন … আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যখন আমাকে কারাগার থেকে বের করেছেন এবং আপনাদেরকে যাযাবর পল্লী থেকে নিয়ে এসেছেন}(২) এ কারণেই বনী ইসরাঈলের শরিয়ত একটি যুদ্ধবাজ জাতির ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যার দাবি ছিল পুরুষের নিকট নারীর আনুগত্য এবং অধিক সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষা, যা যুদ্ধের এক অপরিহার্য প্রয়োজন ছিল, যেখানে নারীরা কোনো কাজে আসত না।

ইহুদিরা নারীকে অভিশাপ মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে, সে-ই আদমকে প্রলুব্ধ করেছিল এবং পাপাচারের জালে ফেলেছিল। তাদের তাওরাতে এসেছে যে, প্রভু আদমকে জিজ্ঞাসা করলেন: (তুমি কি সেই বৃক্ষ থেকে আহার করেছ যেখান থেকে তোমাকে আহার না করতে আমি আদেশ দিয়েছিলাম? আদম বললেন: যে নারীকে আপনি আমার সাথে দিয়েছেন, সে-ই আমাকে বৃক্ষ থেকে দিয়েছিল, ফলে আমি খেয়েছি)(৩)।

নিঃসন্দেহে এটি মূল বিষয়কে বিকৃত করা। ইহুদিদের দৃষ্টিতে নারীর অবস্থান এমন যা তাকে শুরু থেকেই অভিযুক্ত করে। ওল্ড টেস্টামেন্টে (পুরাতন নিয়মে) নারী সম্পর্কে নিম্নোক্ত বক্তব্য এসেছে: «আমি এবং আমার হৃদয় জ্ঞান ও বুদ্ধির অন্বেষণ ও অনুসন্ধানে লিপ্ত হলাম এবং জ্ঞান অন্বেষণ করতে চাইলাম, যাতে জানতে পারি মন্দ হচ্ছে মূর্খতা এবং নির্বুদ্ধিতা

--------------------------------------------

(১) বাইবেল, দ্বিতীয় বিবরণ পুস্তক, অধ্যায় ৩২, অনুচ্ছেদ (৯ - ১৩), পৃষ্ঠা: ২৩২।

(২) ইউসুফ: ১০০।

(৩) আদিপুস্তক, অধ্যায় ৩, অনুচ্ছেদ: ১১ - ১২।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
أنها جنون، فوجدت أمر من الموت: المرأة التي هي شباك، وقلبها إشراك، ويداها قيود»(1).

كما أن شرعة اليهود تحرد المرأة من معظم حقوقها المدنية في مختلف مراحل حياتها، وتجعلها تحت وصاية أبيها وأهلها قبل الزواج، وتحت زواجها بعد الزواج، وتنزلها في كلا الحالتين منزلة الرقيق، بل إنها تبيح للوالد المعسر أن يبيع ابنته بيع الرقيق. يؤكد ذلك ما جاء في سفر الخروج ما نصه: «وإذا باع رجل ابنته أمة لا تخرج كما يخرج العبيد»(2) أي لا تعتق بل تظل أمة مدى الحياة.

والمتأمل لحال المرأة في المجتمع اليهودي يجدها لا تختلف عن المجتمعات البدائية فهي مملوكة لأبيها قبل الزواج، ثم تشترى منه عند نكاحها؛ لأن المهر كان يدفع لأبيها أو لأخيها على أنه من شراء، وبذلك تصبح مملوكة لزوجها، وهو سيدها المطلق، إذ إن العقد في شريعتهم «عقد سيادة» لا عقد زواج»(3).

والمرأة في الشريعة اليهودية تورث كجزء من تركة الميت، فإذا مات زوجها ورثها وارثه مع بقية المتروكات وله أن يبيعها أو يعضلها، ومن ذلك ما جاء في العهد القديم في سفر التثنية: «إذا سكن أخوة معًا ومات واحد منهم، وليس له ابن فلا تصر امرأة الميت إلى خارج الرجل أجنبي. أخو زوجها يدخل عليها ويتخذها لنفسه زوجة، ويقوم لها بواجب أخ الزوج»(4) فبمجرد موت الزوج تصبح أرملته

--------------------------------------------

(1) سفر الجامعة، الإصحاح السابع، الفقرتان: 25 - 26، وسيأتي موقف الإسلام من أكل آدم وحواء من الشجرة، ص: (375).

(2) الإصحاح الثالث: الفقرة: 8.

(3) انظر: حقوق المرأة وواجباتها في ضوء الكتاب والسنة لفاطمة نصيف (34).

(4) الإصحاح الخامس والعشرون، فقرة (5)، ص (318).
সেটি উন্মাদনা, আমি মৃত্যুর চেয়েও তিক্ত বিষয় খুঁজে পেয়েছি: এমন এক নারী যে একটি জাল, যার হৃদয় ফাঁদ এবং যার হাত দু'টি শিকল»(১)।

তেমনিভাবে ইহুদি আইন নারীকে তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অধিকাংশ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। এটি তাকে বিয়ের পূর্বে তার পিতা ও পরিবারের অভিভাবকত্বে এবং বিয়ের পর তার স্বামীর অধীনে রাখে। উভয় অবস্থায় এটি তাকে দাসীর স্তরে নামিয়ে দেয়। এমনকি এটি অভাবগ্রস্ত পিতার জন্য তার কন্যাকে দাসী হিসেবে বিক্রি করাও বৈধ করে দেয়। যাত্রাপুস্তক (এক্সোডাস)-এ যা বর্ণিত হয়েছে তা এই বিষয়টিকেই নিশ্চিত করে: «যদি কোনো ব্যক্তি তার কন্যাকে দাসী হিসেবে বিক্রি করে, তবে সে পুরুষ দাসদের মতো মুক্ত হবে না»(২) অর্থাৎ সে মুক্তি পাবে না, বরং সারাজীবন দাসী হয়েই থাকবে।

ইহুদি সমাজে নারীর অবস্থা নিয়ে যিনি চিন্তা করবেন, তিনি দেখবেন যে তা আদিম সমাজগুলোর চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। বিয়ের আগে সে তার পিতার মালিকানাধীন থাকে, আর বিয়ের সময় তার কাছ থেকে তাকে কিনে নেওয়া হয়; কারণ মোহরানা পিতা বা ভাইকে ক্রয়ের মূল্য হিসেবে দেওয়া হতো। এর মাধ্যমে সে তার স্বামীর সম্পত্তিতে পরিণত হয় এবং স্বামীই হয় তার নিরঙ্কুশ প্রভু। কারণ তাদের শরিয়তে বিবাহচুক্তি হলো একটি «কর্তৃত্বের চুক্তি», কোনো বিবাহচুক্তি নয়»(৩)।

ইহুদি শরিয়তে নারীকে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি তার স্বামী মারা যায়, তবে তার উত্তরাধিকারী অন্য সব ত্যাজ্য সম্পত্তির সাথে তাকেও উত্তরাধিকার সূত্রে পায় এবং তার তাকে বিক্রি করার বা আটকে রাখার অধিকার থাকে। এর প্রমাণ হিসেবে পুরাতন নিয়মের দ্বিতীয় বিবরণ (ডিউটেরোনমি) পুস্তকে এসেছে: «যদি ভাইয়েরা একত্রে বাস করে এবং তাদের একজন নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায়, তবে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী পরিবারের বাইরের কোনো অপরিচিত লোকের স্ত্রী হবে না। বরং তার দেবর তার সাথে মিলিত হবে এবং তাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবে এবং দেবরের দায়িত্ব পালন করবে»(৪) ফলে স্বামী মারা যাওয়ার সাথে সাথেই তার বিধবা স্ত্রী উত্তরাধিকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।

--------------------------------------------

(১) উপদেশক (ইক্লেসিয়াস্টেস), সপ্তম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: ২৫ - ২৬। আদম ও হাওয়ার নিষিদ্ধ বৃক্ষ থেকে ভক্ষণ সম্পর্কে ইসলামের অবস্থান সামনে (৩৭৫ পৃষ্ঠায়) আসবে।

(২) তৃতীয় অধ্যায়: অনুচ্ছেদ: ৮।

(৩) দেখুন: ফাতিমা নাসীফ রচিত 'কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকার ও কর্তব্য' (৩৪)।

(৪) পঁচিশতম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ (৫), পৃষ্ঠা (৩১৮)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
المسماة عند اليهود (يا باماه) زوجة تلقائيا لشقيق زوجها أو أخيه لأبيه، ولاسيما إذا لم تنجب لزوجها الأول ابنًا، سواءٌ أرضيت بذلك أم كرهت، ولا تحل لأحد غيره ما دام حيا إلا إذا تبرأ منها.

وبدهي أن المرأة التي تورث كالمتاع لا حق لها في الميراث، فالقاعدة أن الرجل إذا مات وليس له أبناء ورثه إخوته أو بنو عشيرته، أمّا النساء فلا نصيب لهن مما ترك الرجل بل كن يورثن، ثم بعد فترة ورثت التوراة البنت، إذا لم يكن للأب أبناء ذكور على أن تتزوج رجلًا من عشيرته كما جاء ذلك في سفر العدد: «وكل بنت ورثت نصيبًا من أسباط بني إسرائيل كل واحد نصيب أبنائه»(1).

(ثم إن المرأة عندهم غير طاهرة من اليوم الذي تبدأ فيه بالشعور بأن عادها الشهرية قد اقتربت، وحتى إذا لم يكن هناك أثر ظاهر، وعلى الزوج عدم ملامستها ولا حتى بأصبعه الصغير ولا يسمح له بمناولتها أي شيء، ولا حتى شيئًا طويلًا، ولا أن يأخذ منها شيئًا من يده إليها أو العكس غير مسموح به أيضًا، ولا يسمح له بالأكل معها على نفس المائدة. إلا إذا فرق شيء بين طبقه وطبقها، ولا يسمح له بشرب ما تفضل منها في الكوب ولا يسمح لهما بالمبيت في السرير نفسه، ولا بالركوب معه في عربة واحدة أو قارب واحد، وإذا عملا في مكان واحد فيشترط ألّا يتلامسا، وإذا مرض زوجها ولم يكن هناك من يقوم عليه غيرها، فإنه مسموح لها بذلك ما دامت لا تلامسه ملامسة مباشرة، أما إذا مرضت المرأة فإن زوجها غير مسموح له بأن يقوم عليها حتى وإن لم يلمسها)(2).

ومن هنا يظهر أن المرأة في اليهودية المحرّفة شَرٌّ لا بد منه، وآفة مرغوب

--------------------------------------------

(1) الإصحاح السادس والثلاثون، فقرة (8)، ص (376).

(2) مجموعة من القوانين اليهودية والعادات، بقلم الحاخام أبي سلمان جاز فرايد (22).
ইহুদিদের নিকট (ইয়া বামাহ) নামে পরিচিত নারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার স্বামীর সহোদর ভাই বা তার বৈমাত্রেয় ভাইয়ের স্ত্রীতে পরিণত হয়, বিশেষ করে যদি সে তার প্রথম স্বামীর কোনো পুত্রসন্তান জন্ম না দিয়ে থাকে, চাই সে তাতে রাজি থাকুক বা না থাকুক। আর স্বামী (দেবর) জীবিত থাকা পর্যন্ত সে অন্য কারো জন্য বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে তাকে দায়মুক্ত করে দেয়।

এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, যে নারীকে সম্পদের ন্যায় উত্তরাধিকার হিসেবে লাভ করা হয়, মিরাসে তার কোনো অধিকার থাকে না। নিয়ম ছিল যে, কোনো ব্যক্তি যদি মারা যায় এবং তার কোনো পুত্রসন্তান না থাকে, তবে তার ভাইয়েরা বা তার গোত্রের লোকেরা তার উত্তরাধিকারী হতো। পক্ষান্তরে নারীদের ক্ষেত্রে, পুরুষ যা রেখে যেত তাতে তাদের কোনো অংশ ছিল না, বরং তারা নিজেরাই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হতো। অতঃপর একটি সময় পর তাওরাত কন্যাকে উত্তরাধিকার প্রদান করে যদি পিতার কোনো পুত্রসন্তান না থাকে, তবে শর্ত হলো তাকে তার গোত্রেরই কোনো পুরুষকে বিবাহ করতে হবে; যেমনটি 'গণনা পুস্তক'-এ এসেছে: "ইসরায়েল সন্তানদের গোত্রের যে কোনো কন্যা উত্তরাধিকার লাভ করলে, তাদের প্রত্যেকেই যেন নিজ নিজ পিতৃবংশের মিরাস লাভ করে"(১)।

(তাছাড়া তাদের নিকট নারী সেই দিন থেকেই অপবিত্র হয়ে যায় যেদিন থেকে সে অনুভব করতে শুরু করে যে তার ঋতুস্রাব নিকটবর্তী, এমনকি যদি কোনো প্রকাশ্য চিহ্ন নাও থাকে। স্বামীর জন্য তাকে স্পর্শ করা বৈধ নয়, এমনকি তার কনিষ্ঠ আঙুল দিয়েও নয়। স্বামী তাকে কোনো কিছু প্রদান করতে পারবে না, এমনকি কোনো দীর্ঘ বস্তুও নয়। তার হাত থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা বা তার হাতে কোনো কিছু প্রদান করাও অনুমোদিত নয়। তার সাথে একই টেবিলে বসে খাবার খাওয়াও তার জন্য অনুমোদিত নয়, যতক্ষণ না তার পাত্র ও স্বামীর পাত্রের মাঝে কোনো কিছু আড়াল হিসেবে থাকে। স্বামী তার পানের পর গ্লাসে অবশিষ্ট অংশ পান করতে পারবে না এবং তাদের একই বিছানায় রাত কাটানোও বৈধ নয়। এমনকি একই বাহন বা নৌকায় চড়াও বৈধ নয়। যদি তারা একই স্থানে কাজ করে, তবে শর্ত হলো তারা যেন পরস্পরকে স্পর্শ না করে। যদি স্বামী অসুস্থ হয় এবং সে ছাড়া সেবা করার মতো কেউ না থাকে, তবে সে সেবা করতে পারবে যতক্ষণ না সে তাকে সরাসরি স্পর্শ করে। কিন্তু যদি স্ত্রী অসুস্থ হয়, তবে স্বামীর জন্য তার সেবা করা বৈধ নয়, এমনকি যদি সে তাকে স্পর্শ না-ও করে)(২)।

এখান থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, বিকৃত ইহুদি ধর্মে নারী হলো একটি অপরিহার্য মন্দ এবং কাম্য ব্যাধি

--------------------------------------------

(১) অধ্যায় ছত্রিশ, অনুচ্ছেদ (৮), পৃষ্ঠা (৩৭৬)।

(২) ইহুদি আইন ও রীতিনীতির সংকলন, লেখক: রাব্বি আবি সালমান গাজ ফ্রাইড (২২)।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فيها، محبوبة فتاكة.

• ولم تكن المرأة في النصرانية المحرّفة بأحسن حالًا من المرأة اليهودية. فقد عُّدوها أصل الخطيئة ورأس الشر؛ لأنها سبب كل الفساد وسبب خروج آدم من الجنة، وفي ذلك يقول صاحب كتاب المرأة في مختلف العصور: «كان لقصة آدم وحواء أشد الأثر في الإساءة إلى المرأة في بعض عصور المسيحية. فرجال مثل «ترتليان» قد ذهبوا إلى أن المرأة عون الشيطان في الأرض، أليست هي التي أطاعت الشيطان وعصت كلام الله؟ وهذه النظرة التي أسرف في شرحها «ترتليان» وبسط نتائجها، أثرت في تاريخ المرأة المسيحية، وكانت من أهم ما حال بينها وبين التقدم في كثير من العصور»(1).

فكانت المرأة نتيجة لذلك مطالبة بنوع من سلوك معين حتى وهي داخل الكنيسة فقد أصدر بولس أوامر صارمة لأتباعه وكما يقول صاحب كتاب قصة الحضارة: «لتصمت نساؤكم في الكنائس لأنه ليس مأذونًا لهن أن يتكلمن، ولكن إذا كن يردن أن يتعلمن شيئًا فليسألن رجالهن في البيت؛ لأنه قبيح بالنساء أن تتكلم في الكنيسة»(2).

ولقد تسربت إلى المسيحية فكرة الخوف من المرأة فقال «كريستوه»: «المرأة شر لا بد منه، وإغواء طبيعي، وكارثة لازمة، وخطر منزلي، وفتنة مهلكة، وشر عليه طلاء»(3).

--------------------------------------------

(1) المرأة في مختلف العصور، للدكتور أحمد خاكي (33).

(2) قصة الحضارة، «لول ديورانت» (3/ 278).

(3) نقلته عنه د. فاطمة نصيف في حقوق المرأة وواجباتها (37).
সেখানে, সে ছিল এক প্রাণঘাতী প্রেমিকা।

• আর বিকৃত খ্রিষ্টধর্মে নারীর অবস্থা ইহুদি নারীর অবস্থার চেয়ে ভালো ছিল না। তারা তাকে পাপের মূল এবং মন্দের উৎস বলে গণ্য করত; কারণ সে-ই সকল ফাসাদ এবং জান্নাত থেকে আদমের বের হওয়ার কারণ। এই প্রসঙ্গে 'আল-মারআতু ফি মুখতালিফিল উসুর' (বিভিন্ন যুগে নারী) গ্রন্থের লেখক বলেন: «আদম ও হাওয়ার কাহিনী খ্রিষ্টধর্মের কিছু যুগে নারীর প্রতি অমর্যাদাকর আচরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গভীর প্রভাব ফেলেছিল। 'টারটুলিয়ান'-এর মতো ব্যক্তিরা মনে করতেন যে, নারী পৃথিবীতে শয়তানের সহায়িকা। সে-ই কি শয়তানের আনুগত্য করেনি এবং আল্লাহর বাণী অমান্য করেনি? এই দৃষ্টিভঙ্গি, যা টারটুলিয়ান বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর ফলাফল বর্ণনা করেছেন, খ্রিষ্টান নারীর ইতিহাসে প্রভাব ফেলেছিল এবং অনেক যুগে তার অগ্রগতির পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল»(১)।

এর ফলে নারীকে নির্দিষ্ট ধরণের আচরণ পালন করতে হতো, এমনকি গির্জার অভ্যন্তরেও। পল তার অনুসারীদের প্রতি কঠোর নির্দেশ জারি করেছিলেন, যেমনটি 'কিসসাতুল হাদারা' (সভ্যতার ইতিহাস) গ্রন্থের লেখক বলেন: «তোমাদের নারীরা গির্জায় নীরব থাকুক, কারণ তাদের কথা বলার অনুমতি নেই। তবে তারা যদি কিছু শিখতে চায়, তবে তারা যেন বাড়িতে তাদের স্বামীদের জিজ্ঞাসা করে; কারণ গির্জায় নারীর কথা বলা অশোভন»(২)।

খ্রিষ্টধর্মে নারীভীতির ধারণাটি অনুপ্রবেশ করেছিল, তাই 'ক্রিস্টো' বলেছিলেন: «নারী হলো এক অনিবার্য মন্দ, এক প্রাকৃতিক প্রলোভন, এক আবশ্যকীয় দুর্যোগ, এক ঘরোয়া বিপদ, এক ধ্বংসাত্মক ফিতনা এবং চাকচিক্যময় অনিষ্ট»(৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-মারআতু ফি মুখতালিফিল উসুর (বিভিন্ন যুগে নারী), ড. আহমদ খাকি (৩৩)।

(২) কিসসাতুল হাদারা (সভ্যতার ইতিহাস), 'উইল ডুরান্ট' (৩/ ২৭৮)।

(৩) এটি তার থেকে ড. ফাতিমা নাসীফ 'হুকুকুল মারআতি ওয়া ওয়াজিবাতিহা' (নারীর অধিকার ও কর্তব্য) (৩৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুকুকুল মারআতি ফী দাউইস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقد وصمت الكنيسة العلاقة الزوجية بين الرجل والمرأة بالنجاسة، ولذا يجب أن تجتنب، ولو كانت عن طريق نكاح مشروع، ومن هذه النظرة انتشرت الرهبانية لدى كثير من الرجال، وامتنعوا عن الزواج، كما انتشرت نظرت الازدراء لمن يكشف عن زواجه … ؛ لأن علاقة الزواج مبنية على أمر نجس(1).

وقد حرمت الكنيسة الطلاق، مهما بلغ التباغض بين الزوجين مداه، وأقصى ما يمكن اتخاذه في مثل هذه الحال، أن يفرق بينهما جسدية مع امتناع كل منهما عن الزواج حتى يفرق بينهما الموت(2).

وفي عام 581 م عقد مجمع «ماكون» المشهور مؤتمرًا، ليبحث فيه بعض اللاهوتيين عن أصل المرأة وجنسها؟ وهل هي جسد ذو روح يناط بها الخلاص والهلاك أو لا؟ وهل لها أن تعبد الله كما يعبده الرجل؟!(3).

ومن هنا يعلم ما عانته المرأة في ظل حكم البشر، وما طالها من الذل والاحتقار، وأنواع الصَّغار حتى انجلى الليل بظلمته، وتنفس نور الصباح ليغطي الكون لحجته، ونالت المرأة في الشرعة المحمدية، والملة الإسلامية ما حرمها البشر إياه، فأصبحت بحقٍّ شقيقةَ الرجل، فلله الحمد من قبل ومن بعد.

--------------------------------------------

(1) مقام المرأة في الإسلام، لمحمود بايللي (37).

(2) المرجع السابق.

(3) ينظر المرأة في التصور القرآني، لسوسن الحوّال (41)، حقوق المرأة وواجباتها.

ينظر: المزيد في أحوال المرأة في الحضارات القديمة والأديان السابقة إلى: المرأة بين الفقه والقانون (13 - 18)، المرأة في التصور القرآني، لسوسن الحوّال (27 - 42)، حقوق المرأة وواجباتها في ضوء الكتاب والسنة، لفاطمة نصيف (8 - 38)، مقام المرأة في الإسلام، لمحمود محمد بابللي (25 - 38)، الإسلام ومكانة المرأة، لمحمد عبد العليم (21 - 46).
চার্চ নারী ও পুরুষের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ককে অপবিত্রতা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, তাই এটি বর্জন করা আবশ্যক ছিল, যদিও তা বৈধ বিবাহের মাধ্যমেও হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই অনেক পুরুষের মধ্যে সন্ন্যাসবাদের বিস্তার ঘটে এবং তারা বিবাহ থেকে বিরত থাকে। তেমনিভাবে যারা তাদের বিবাহের কথা প্রকাশ করত, তাদের প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টি ছড়িয়ে পড়েছিল … ; কারণ বৈবাহিক সম্পর্ক একটি অপবিত্র বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত(১).

চার্চ বিবাহবিচ্ছেদকে নিষিদ্ধ করেছিল, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারস্পরিক ঘৃণা যে পর্যায়েরই হোক না কেন। এমন পরিস্থিতিতে বড়জোর যা করা যেত তা হলো, তাদের মধ্যে শারীরিক বিচ্ছেদ ঘটানো, যেখানে মৃত্যু বিচ্ছেদ না ঘটানো পর্যন্ত তাদের প্রত্যেকেই বিবাহ থেকে বিরত থাকত(২).

৫৮১ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত 'ম্যাকন' কাউন্সিল একটি সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে কিছু ধর্মتত্ত্ববিদ নারীর উৎস ও লিঙ্গ নিয়ে বিতর্ক করেন। নারী কি এমন আত্মা বিশিষ্ট দেহ যার ওপর মুক্তি বা ধ্বংস নির্ভর করে, নাকি নয়? আর পুরুষের মতো তার কি আল্লাহর ইবাদত করার অধিকার আছে?!(৩).

এখান থেকেই জানা যায় যে, মানবরচিত শাসনের অধীনে নারী কতটা কষ্টের শিকার হয়েছিল, এবং কতটা লাঞ্ছনা, অবজ্ঞা ও হীনম্মন্যতা তাকে স্পর্শ করেছিল; যতক্ষণ না অন্ধকারের রাত বিদায় নিয়েছে এবং সকালের আলো প্রস্ফুটিত হয়ে মহাবিশ্বকে তার অকাট্য প্রমাণে আচ্ছন্ন করেছে। নারী মুহাম্মদী শরিয়তে ও ইসলামি মিল্লাতে এমন সব অধিকার লাভ করেছে যা থেকে মানুষ তাকে বঞ্চিত করেছিল। ফলে সে প্রকৃতপক্ষেই পুরুষের সহোদরা হয়েছে। সুতরাং আদি ও অন্তে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য।

--------------------------------------------

(১) ইসলামে নারীর মর্যাদা, মাহমুদ বায়েলি (৩৭)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) দ্রষ্টব্য: কুরআনি ভাবনায় নারী, সাওসান আল-হাওয়াল (৪১), নারীর অধিকার ও কর্তব্য।

দ্রষ্টব্য: প্রাচীন সভ্যতা ও পূর্ববর্তী ধর্মগুলোতে নারীর অবস্থার বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: ফিকহ ও আইনের মাঝে নারী (১৩ - ১৮), কুরআনি ভাবনায় নারী, সাওসান আল-হাওয়াল (২৭ - ৪২), কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকার ও কর্তব্য, ফাতিমা নাসীফ (৮ - ৩৮), ইসলামে নারীর মর্যাদা, মাহমুদ মুহাম্মদ বাবেলি (২৫ - ৩৮), ইসলাম ও নারীর অবস্থান, মুহাম্মদ আব্দুল আলিম (২১ - ৪৬)।