(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
القبور لابن أبي الدنيا القسم: كتب السنة
الكتاب: القبور لابن أبي الدنيا
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
المحقق: طارق محمد سكلوع العمود
الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية
الطبعة: الأولى 1420هـ - 2000م
عدد الصفحات: 195
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবন আবিদ দুনিয়া রচিত আল-কুবুর বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: ইবন আবিদ দুনিয়া রচিত আল-কুবুর
লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন উবাইদ ইবন সুফিয়ান ইবন কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবন আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)
সম্পাদক: তারিক মুহাম্মদ সাকলুয় আল-আমূদ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিয়া
সংস্করণ: প্রথম ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৫
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাঘিয়াল খাইরি আকবিল
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب القبور
للحافظ
ابن أبي الدنيا القرشي
المتوفى سنة 281 هـ
قدم له وضبط نصه وخرج نصوصه
طارق محمد سكلوع العمود
مكتبة الغرباء الأثرية
1420هـ - 2000م
কবরের কিতাব
হাফিয
ইবন আবিদ দুনিয়া আল-কুরাশি
মৃত্যু: ২৮১ হিজরি
মুখবন্ধ, পাঠ্য বিন্যাস এবং বর্ণনা যাচাইকরণে
তারিক মুহাম্মদ সাকলু আল-আমূদ
মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিয়্যাহ
১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
بسم الله الرحمن الرحيموهو حسبنا ونعم الوكيل
1- أخبرنا أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد القرشي المعروف بابن أبي الدنيا رحمه الله حدثني محمد بن الحسين ثنا مسلم بن إبراهيم العبدي ثنا الحسن الجفري قال سمعت مالك بن دينار يقول خرجت أنا وزين القراء حسان بن أبي حسان نزور المقابر فلما أشرف عليها سبقته عبرة ثم أقبل علي فقال يا مالك هذه عساكر الموتى ينتظر بها من بقي من الأحياء ثم يصاح بهم صيحة فإذ هم قيام ينظرون قال فوضع مالك يده على رأسه وجعل يبكي ويقول واي ازان روز واي ازان روز يعني ويل من ذلك اليوم ويل من ذلك اليوم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেতিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক
১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া (রহিমাহুল্লাহ) নামে পরিচিত। তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আল-আবদি। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন হাসান আল-জাফরি। তিনি বলেন, আমি মালিক ইবনে দিনারকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: আমি এবং ক্বারিদের অলঙ্কার হাসসান ইবনে আবি হাসসান কবর যিয়ারত করার জন্য বের হলাম। অতঃপর যখন তিনি কবরের সন্নিকটে পৌঁছালেন, তখন তার অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। এরপর তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন, হে মালিক! এটি মৃতদের বাহিনী, যাদের মাধ্যমে অবশিষ্ট জীবিতদের অপেক্ষা করা হচ্ছে। অতঃপর তাদের প্রতি একটি বিকট শব্দে আহ্বান করা হবে, আর তখনই তারা দাঁড়িয়ে দেখতে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মালিক নিজের হাত নিজের মাথায় রাখলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন আর বলতে লাগলেন, "ওয়াই আযান রোয, ওয়াই আযান রোয", যার অর্থ হলো—হায় আফসোস সেই দিনের জন্য, হায় আফসোস সেই দিনের জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
2- وحدثنا محمد بن يحيى بن بسطام ثنا محمد بن مروان العجلي حدثني أبو عاصم الحنطي قال كنت أمشي مع محمد بن واسع فأتينا على المقابر فدمعت عيناه ثم قال لي يا أبا عاصم لا يغرنك ما ترى من خمودهم فكأنك بهم قد وثبوا من هذه الأجداث فمن بين مسرور ومغموم.
২- এবং মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন বাসতাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন মারওয়ান আল-ইজলি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আল-হিনতি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবন ওয়াসি’-এর সাথে হাঁটছিলাম, এমতাবস্থায় আমরা কবরস্থানের নিকট পৌঁছালাম। তখন তাঁর দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল। এরপর তিনি আমাকে বললেন: হে আবু আসিম! তাদের এই নিস্তব্ধতা দেখে তুমি যেন প্রবঞ্চিত না হও; অচিরেই তুমি তাদের দেখবে যে তারা এই কবরগুলো থেকে লাফিয়ে উঠেছে, তখন তাদের কেউ হবে আনন্দিত আর কেউ হবে শোকাকুল।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
3- حدثني إبراهيم بن عبد الملك عن أبي جعفر الفراء قال كان الحسن بن صالح إذا صعد الصومعة يشرف على أهل القبور فيقول ما أحسن ظاهرك إنما الدواهي بواطنك.
৩- ইব্রাহিম বিন আব্দুল মালিক আবু জাফর আল-ফাররা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন সালিহ যখন নির্জন উপাসনালয়ে আরোহণ করতেন, তখন তিনি কবরবাসীদের দিকে দৃষ্টিপাত করতেন এবং বলতেন, তোমার বাহ্যিক রূপ কতই না সুন্দর! অথচ তোমার অভ্যন্তরেই নিহিত রয়েছে সকল ভয়াবহ বিপদ।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
4- حدثني سلمة بن شبيب ثنا سهل عن الفيض بن إسحاق ⦗ص: 47⦘ قال قال حذيفة بن قتادة قال أبو يونس القشيري احضر القبور بعقلك.
৪- আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে শাবিব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল, আল-ফায়দ ইবনে ইসহাক থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ তিনি বলেন যে হুজায়ফা ইবনে কাতাদা বলেছেন, আবু ইউনুস আল-কুশায়রী বলেছেন: তোমার বিবেক দিয়ে কবরের নিকট উপস্থিত হও।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
5- حدثنا محمد بن الحسين ثنا إسماعيل بن سليمان الحرشي حدثني عبيد الله بن شميط حدثني حجاج الأسود ونحن في جنازة في الجبان قال رأيت في المنام كأني دخلت المقابر وإذا أنا بأهل القبور نيام في قبورهم وقد تشققت عنهم الأرض فمنهم النائم على التراب ومنهم النائم على القباطي ومنهم النائم على السندس والإستبرق ومنهم النائم على الديباج ومنهم النائم على الريحان ومنهم النائم ⦗ص: 48⦘ كهيئة المتبسم في نومه ومنهم من أشرق لونه ومنهم حائل اللون قال فبكيت عندما رأيت منهم ثم قلت في منامي رب لو شئت سويت بينهم في الكرامة فنادى مناد من بين تلك القبور يا حجاج هذه منازل الأعمال قال فاستقظت من كلمته فزعا.
৫- আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে সুলায়মান আল-হারশী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট উবায়দুল্লাহ ইবনে শুমাইত বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট হাজ্জাজ আল-আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন—আমরা যখন কবরস্থানে একটি জানাযায় ছিলাম—তিনি বললেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কবরস্থানে প্রবেশ করেছি, এমতাবস্থায় আমি কবরবাসীদের তাদের কবরের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম এবং তাদের ওপর থেকে মাটি বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ মাটির ওপর ঘুমানো, কেউ কিবতী (সাদা মিহি) কাপড়ের ওপর ঘুমানো, কেউ পাতলা ও পুরু রেশমের ওপর ঘুমানো, কেউ দিবায (রেশমি বস্ত্র) এর ওপর ঘুমানো, কেউ সুগন্ধি পুষ্প-পল্লবের ওপর ঘুমানো, আবার কেউ ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ ঘুমের মধ্যে মুচকি হাসা ব্যক্তির ন্যায় অবস্থায় আছে। তাদের কারও গায়ের রঙ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, আবার কারও গায়ের রঙ বিবর্ণ হয়ে গিয়েছে। তিনি বললেন, আমি যখন তাদের এই অবস্থা দেখলাম তখন কেঁদে ফেললাম, অতঃপর আমি আমার স্বপ্নে বললাম: "হে আমার প্রতিপালক! আপনি চাইলে মর্যাদার ক্ষেত্রে তাদের সকলকে সমান করে দিতে পারতেন।" তখন সেই কবরগুলোর মধ্য থেকে এক আহ্বানকারী ডেকে বললেন: "হে হাজ্জাজ! এগুলো হলো আমলের ফলাফল স্বরূপ নির্ধারিত স্তর।" তিনি বললেন, তার সেই কথা শুনে আমি আতঙ্কিত অবস্থায় জাগ্রত হলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
6- حدثني محمد ثنا عمار بن عثمان ثنا حصين بن القاسم الوزان قال سمعت عبد الواحد بن زيد يقول حدثني رجل من العباد قال رأيت كأن أهل القبور قد تشققت عنهم القبور فوثبوا من قبورهم فمنهم الشاحب ومنهم النضر ومنهم كهيئة المريض ومنهم من قربت إليه مطيته ليركبها ومنهم الراكب على الخيل ومنهم الماشي على رجليه فقلت ما بال هؤلاء يمشون وهؤلاء ركبان فقال لي قائل تحمل كل امرئ منهم عمله فقلت أول ليس هؤلاء موتى قال بلى ولكنهم يبشرون.
৬- মুহাম্মাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আম্মার বিন উসমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হুসাইন বিন আল-কাসিম আল-ওয়াযান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল ওয়াহিদ বিন যায়েদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবাদতগুজারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি দেখলাম যেন কবরের অধিবাসীদের ওপর থেকে কবরসমূহ বিদীর্ণ হয়ে গেছে, অতঃপর তারা তাদের কবর থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে এল। তাদের মধ্যে কেউ ছিল বিবর্ণ চেহারার, কেউ ছিল উজ্জ্বল চেহারার, কেউ ছিল রুগ্ন ব্যক্তির ন্যায়, আবার কারো কাছে তার সওয়ারী নিকটবর্তী করা হয়েছে যাতে সে তাতে আরোহণ করতে পারে। তাদের মধ্যে কেউ ঘোড়ার ওপর আরোহী ছিল, আর কেউ নিজের পায়ে হেঁটে চলছিল। আমি বললাম: এদের কী হলো যে এরা পায়ে হেঁটে চলছে আর ওরা আরোহী অবস্থায় আছে? তখন এক বক্তা আমাকে বললেন: তাদের প্রত্যেকের আমলই তাদের বহন করছে। আমি বললাম: এরা কি মৃত নয়? তিনি বললেন: অবশ্যই, তবে তাদের সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
7- وحدثنا محمد بن الحسين ثنا خالد بن خداش ثنا سلام بن أبي مطيع قال كنا مع محمد بن واسع في جنازة فأسرعوا بها المشي ⦗ص: 49⦘ فانتهينا إلى الجبان ولم تتلاحق الناس فانتظروا بها حتى تلاحقوا قال فصلينا عليها ثم انتهينا بها إلى القبر فوضعت وجئت إلى محمد بن واسع فسمعته يقول لرجل إلى جنبه كل يوم ينقل منا إلى المقابر نقلة وكأنك بهذا الأمر قد تمم كاد آخرنا حتى يلحق بأولنا.
৭- আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট খালিদ বিন খিদাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সালাম বিন আবি মুতি‘ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা মুহাম্মদ বিন ওয়াসি‘-এর সাথে একটি জানাজায় ছিলাম। তারা দ্রুতগতিতে জানাজা নিয়ে হাঁটছিলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ অতঃপর আমরা গোরস্তানে পৌঁছালাম, কিন্তু সব মানুষ তখনও এসে পৌঁছায়নি। তাই তারা (বাকি) মানুষেরা এসে পৌঁছানো পর্যন্ত জানাজা নিয়ে অপেক্ষা করলেন। তিনি (সালাম) বললেন: এরপর আমরা তার জানাজার সালাত আদায় করলাম, অতঃপর আমরা তাকে কবরের নিকট নিয়ে গেলাম এবং তাকে (কবরে) রাখা হলো। আমি মুহাম্মদ বিন ওয়াসি‘-এর নিকট আসলাম এবং তাকে তার পাশের এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম: "প্রতিদিন আমাদের মধ্য থেকে একদলকে কবরস্থানে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন এই বিষয়টি শীঘ্রই পূর্ণতা লাভ করবে; আমাদের শেষ ব্যক্তিটি প্রায় আমাদের প্রথম ব্যক্তির সাথে মিলিত হতে চলেছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
8- حدثني محمد ثنا عمر بن سعد ثنا نهيم العجلي عن رجل من البصريين قال شهدت الحسن في جنازة واجتمع إليه الناس فقال اعملوا لمثل هذا اليوم رحمكم الله فإنهم إخوانكم تقدموكم وأنتم بالأثر أيها المتخلف بعد أخيه أنت الميت غدا قبل الباقي بعدك والباقي بعدك هو الميت في إثرك أولا فأولا حتى يوافوا جميعا قد عمكم الموت فاستويتم جميعا في غصصه وكربه حتى حللتم جميعا القبور ثم تنشرون جميعا ثم تعرضون على الله وجلا ثم تنفس فخر مغشيا عليه.
8- মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নুহাইম আল-আজলি বসরার জনৈক এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসানকে একটি জানাজায় উপস্থিত থাকতে দেখেছি এবং সেখানে লোকজন তাঁর কাছে সমবেত হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন, আপনারা এই দিনের মতো দিনের জন্য কাজ করুন। কেননা তারা আপনাদের ভাই, যারা আপনাদের আগে চলে গেছে এবং আপনারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন। হে নিজের ভাইয়ের পর পেছনে অবস্থানকারী! আপনার পরে যারা অবশিষ্ট থাকবে তাদের আগে আগামীকাল আপনিই মৃত ব্যক্তি। আর আপনার পরে যে অবশিষ্ট থাকবে সে-ও আপনার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মৃত্যুবরণ করবে; এভাবে একে একে সবাই গিয়ে পৌঁছাবে। মৃত্যু আপনাদের সবাইকে পরিবেষ্টন করবে, ফলে আপনারা এর কণ্ঠরোধকারী যন্ত্রণা ও কষ্টে সমান হয়ে যাবেন, এমনকি আপনারা সবাই কবরে সমাহিত হবেন। এরপর আপনাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করা হবে, অতঃপর আল্লাহর সামনে অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় পেশ করা হবে।” এরপর তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন এবং মূর্ছিত হয়ে পড়ে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
9- حدثنا محمد بن الحسين ثنا سجف بن منظور قال شهدت ⦗ص: 50⦘ عبد العزيز بن سلمان في جنازة فلما حمل الميت من السرير ليوضع في قبره نادى فإذا بصوت له عال أيها المقدم إخوانه ليت شعري ماذا ترد عليه ثم سقط مغشيا عليه.
৯- মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাজাফ ইবনে মানযুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ আবদুল আজিজ ইবনে সালমানের সাথে একটি জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। যখন মৃত ব্যক্তিকে খাটিয়া থেকে কবরে রাখার জন্য বহন করা হলো, তখন তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার করে বললেন, হে নিজ ভাইদের অগ্রগামী! হায়, আমি যদি জানতাম তুমি তাকে কী জবাব দেবে! এরপর তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫০)
10- حدثني محمد بن الحسين ثنا الوليد بن الأغر المكي ثنا عبد الله بن طلحة بن محمد التيمي قال سمعت سعيد بن السائب الطائفي يقول ونحن في جنازة والله ما ترك الموت للنفس سرورا في أهل ولا ولد والله لقد نقص الموت على المؤمنين الموسع لهم من هذه الدنيا حتى ضيق ذلك عليهم فرفضوه مسرورين برفضه قال ثم سبقته دمعته فقام.
১০- মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনুল আগার আল-মাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু তালহা ইবনু মুহাম্মাদ আত-তাইমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুস সাইব আত-ত্বায়িফীকে বলতে শুনেছি—এমতাবস্থায় যে আমরা একটি জানাযায় ছিলাম—: "আল্লাহর কসম, মৃত্যু পরিবার-পরিজন বা সন্তান-সন্ততির মাঝে আত্মার জন্য কোনো আনন্দ অবশিষ্ট রাখেনি। আল্লাহর কসম, মৃত্যু মুমিনদের নিকট দুনিয়ার প্রাচুর্যকে এমনভাবে কমিয়ে দিয়েছে যে, তা তাদের ওপর সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, ফলে তারা একে বর্জন করেছে এবং তা বর্জন করতেই তারা আনন্দিত হয়েছে।" তিনি বলেন: অতঃপর তার অশ্রু গড়িয়ে পড়ল এবং তিনি উঠে দাঁড়ালেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫০)
11- حدثني محمد بن الحسين ثنا بشر بن مصلح ثنا سلمان بن ⦗ص: 51⦘ صالح قال فقد الحسن ذات يوم فلما أمسى قال له أصحابه أين كنت اليوم قال كنت عند إخوان لي إن نسيت ذكروني وإن غبت عنهم لم يغتابوني فقال له أصحابه هم الإخوان والله هؤلاء يا أبا سعيد دلنا عليهم قال هؤلاء أهل القبور.
১১- মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাকে বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে মুসলিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালমান ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন হাসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। যখন সন্ধ্যা হলো, তখন তাঁর সাথীরা তাঁকে বললেন, "আজ আপনি কোথায় ছিলেন?" তিনি বললেন, "আমি আমার এমন কিছু ভাইদের নিকট ছিলাম যে, যদি আমি ভুলে যেতাম তবে তারা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতেন, আর যদি আমি তাদের থেকে অনুপস্থিত থাকতাম তবে তারা আমার গীবত করতেন না।" তখন তাঁর সাথীরা তাঁকে বললেন, "হে আবু সাঈদ! আল্লাহর কসম, এরাই তো প্রকৃত ভাই! আমাদের তাদের পথ দেখিয়ে দিন।" তিনি বললেন, "তারা হলো কবরবাসী।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫১)
من هتف من المقبرة بموعظة12- حدثني محمد بن الحسين ثنا داود بن المحبر ثنا كثير بن كثير بن هاشم السلمي عن أبيه قال أعرس رجل من الحي على ابنة قال فاتخذ لذلك لهوا قال وكانت منازلهم إلى جانب المقابر قال فوالله إنهم لفي لهوهم ذلك ليلا إذ سمعوا صوتا منكرا أفزعهم قال فأصغوا مطرقين فإذا هاتف من بين القبور
ياأهل لذة لهو لا تدوم لهم
… إن المنايا تبيد اللهو واللعبا
كم قد رأيناه مسرورا بلذته
… أمسى فريدا من الأهلين مغتربا
قال فوالله إن لبث بعد ذلك إلا ثلاثا حتى مات الفتى المتزوج.
কবরস্থান থেকে নসিহতপূর্ণ আহ্বানের বিবরণ১২- মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনুল মুহাব্বর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসীর ইবনে কাসীর ইবনে হাশেম আস-সুলামী তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: গোত্রের এক ব্যক্তি এক নারীকে বিবাহ করল। তিনি বলেন, সে এজন্য আমোদ-প্রমোদের আয়োজন করেছিল। তিনি বলেন, তাদের ঘরবাড়ি ছিল কবরস্থানের পাশে। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, তারা যখন রাতের বেলা সেই আমোদ-প্রমোদে মত্ত ছিল, হঠাৎ তারা এক ভয়ংকর আওয়াজ শুনতে পেল যা তাদেরকে আতঙ্কিত করে তুলল। তিনি বলেন, তারা মাথা নিচু করে কান পেতে রইল, এমতাবস্থায় কবরের মধ্য থেকে এক অশরীরী আহ্বানকারীর আওয়াজ ভেসে এল—
হে নশ্বর আনন্দ ও আমোদ-প্রমোদে মত্ত দল!
... নিশ্চয়ই মৃত্যু সমস্ত আনন্দ ও খেলাধুলাকে বিনাশ করে দেয়।
কতজনকে দেখেছি আমরা যারা নিজের সুখে ছিল আনন্দিত,
... আজ সে পরিবার-পরিজন হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রবাসী ও নিঃসঙ্গ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, এর পর মাত্র তিন দিন অতিবাহিত হতে না হতেই সেই বিবাহিত যুবকটি মৃত্যুবরণ করল।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫২)
13- حدثنا محمد بن الحسين ثنا حكيم بن جعفر قال سمعت صالح المري يقول دخلت المقابر يوما في شدة الحر فنظرت إلى القبور خامدة كأنهم قوم صموت فقلت سبحان الله من يجمع بين أرواحكم وأجسامكم بعد افتراقها ثم يحييكم ثم ينشركم من بعد طول البلى قال فنادى منادي من بين تلك الحفر يا صالح ومن آياته أن تقوم السماء والأرض بأمره ثم إذا دعاكم دعوة من الأرض إذا أنتم تخرجون قال فسقطت والله لوجهي فزعا من ذلك الصوت.
13- মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাকিম বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালিহ আল-মুরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: একদিন প্রচণ্ড গরমের সময় আমি কবরস্থানে প্রবেশ করলাম। আমি কবরগুলোর দিকে তাকালাম, সেগুলো নিথর হয়ে পড়ে ছিল যেন তারা এক নীরব সম্প্রদায়। তখন আমি বললাম, "সুবহানাল্লাহ! বিচ্ছেদের পর কে তোমাদের রুহ ও দেহের মাঝে পুনরায় সংযোগ ঘটাবেন? অতঃপর তোমাদের জীবিত করবেন এবং দীর্ঘকাল জীর্ণ অবস্থায় থাকার পর তোমাদের পুনরুত্থিত করবেন?" তিনি বলেন, তখন সেই কবরগুলোর মধ্য থেকে এক আহ্বানকারী ডেকে বললেন, "হে সালিহ! তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি হলো এই যে, আসমান ও জমিন তাঁরই আদেশে দণ্ডায়মান থাকে; অতঃপর তিনি যখন তোমাদের মাটি থেকে একবার ডাক দেবেন, তখনই তোমরা বের হয়ে আসবে।" সালিহ বলেন, আল্লাহর শপথ! সেই আওয়াজের আতঙ্কে আমি উপুড় হয়ে পড়ে গেলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
14- حدثني أبو أيوب مولى بني هاشم قال بينا ثابت البناني في مقبرة يحدث نفسه فهتف هاتف إن تراهم ساكتين فكم فيهم من مغموم.
১৪- বনু হাশিমের মুক্তদাস আবু আইয়ুব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাবিত আল-বুনানী যখন একটি কবরস্থানে নিজের সাথে কথা বলছিলেন, তখন এক অদৃশ্য আহ্বানকারী ডেকে বললেন, "আপনি যদিও তাদের নিশ্চুপ দেখছেন, তবে তাদের মধ্যে কতই না বিষণ্ণ ব্যক্তি রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
15- حدثنا سلمة بن شبيب ثنا سهل بن عاصم ثنا وداع بن مرجى بن وداع قال سمعت بشر بن منصور يقول قال لي عطاء الأزرق إذا حضرت المقابر فليكن قلبك فيمن أنت بين ظهريه فإني ⦗ص: 54⦘ بينا أنا نائم ذات ليلة في المقابر إذ تذكرت في شيء فإذا أنا بصوت إليك يا غافل إنما أنت بين ناعم في نعيمه مدلل أو معذب في سكراته مغلل.
১৫- সালামাহ ইবনে শাবিব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাহল ইবনে আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াদা ইবনে মুরজী ইবনে ওয়াদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি বিশর ইবনে মানসুরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আতা আল-আযরাক আমাকে বলেছেন: যখন তুমি কবরস্থানে উপস্থিত হও, তখন তোমার অন্তর যেন তাদের মাঝে থাকে যাদের মধ্যে তুমি অবস্থান করছ। কেননা ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ আমি এক রাতে কবরস্থানে ঘুমন্ত অবস্থায় কোনো একটি বিষয়ে চিন্তা করছিলাম, হঠাৎ একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম: হে গাফেল! তুমি তো এমন সব ব্যক্তিদের মাঝে আছ যারা হয় নিজ নেয়ামতের মাঝে অতি আদরে নিমজ্জিত, অথবা নিজ যন্ত্রণার মধ্যে শৃঙ্খলিত অবস্থায় শাস্তিপ্রাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
16-حدثنا يحيى بن سعيد القرشي قال سمعت أبي عن شرقي بن قطامي قال كان رجلان بينهما إخاء ومودة فتصارما فمات أحدهما على صرامه فذكر الحديث.
১৬-আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে শারকি ইবনে কুতামি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: দু’জন লোক ছিল যাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও হৃদ্যতা ছিল, অতঃপর তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে। এরপর তাদের একজন ওই বিচ্ছিন্নাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। অতঃপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
17- حدثنا أبو عبد الرحمن القرشي ثنا العلاء بن أبي الصهباء التيمي عن سوار بن مصعب الهمداني عن أبيه عن أخوين جارين له وكان كل واحد منهما يجد بصاحبه وجدا لا يرى مثله فخرج الأكبر إلى أصبهان فقدم وقد مات الأصغر فاختلف إلى قبره تسعة أشهر فلما حضره أجله إذا هاتف يهتف من خلفه يقول
⦗ص: 56⦘يا أيها الباكي على غيره
… نفسك أصلحها ولا تبكه
إن الذي تبكي على إثره
… يوشك يوشك يوشك أن تسلك في سلكه
قال فالتفت فلم يرى خلفه أحدا فاقشعر وحم فرجع إلى أهله فلم يلبث إلا ثلاثا حتى مات فدفن إلى جنبه فكانت كل واحدة من قوله يوشك يوما.
১৭- আবু আবদুর রহমান আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আলা ইবনে আবিস সাহবা আত-তাইমি থেকে, তিনি সাওয়ার ইবনে মুসাব আল-হামদানি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দুই প্রতিবেশী ভাই সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তাদের প্রত্যেকের একে অপরের প্রতি এমন প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল যার দৃষ্টান্ত দেখা যায় না। অতঃপর বড় ভাই ইসফাহানে গেলেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, ততক্ষণে ছোট ভাই ইন্তেকাল করেছেন। এরপর তিনি দীর্ঘ নয় মাস যাবৎ তাঁর কবরে যাতায়াত করতে থাকলেন। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো, তখন হঠাৎ তাঁর পিছন থেকে এক অশরীরী আহ্বানকারী উচ্চস্বরে বলতে লাগল
⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘হে অন্যের জন্য ক্রন্দনকারী!
… নিজের সংশোধন করো এবং তাঁর জন্য কেঁদো না
নিশ্চয় তুমি যার বিরহে কাঁদছ
… শীঘ্রই, শীঘ্রই, শীঘ্রই তুমিও তাঁর পথেই চলতে শুরু করবে
তিনি বলেন, এরপর তিনি পিছনে ফিরে তাকালেন কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। এতে তিনি শিউরে উঠলেন এবং জ্বরাক্রান্ত হলেন। অতঃপর তিনি তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে গেলেন এবং মাত্র তিন দিন অতিবাহিত হতে না হতেই ইন্তেকাল করলেন। তাঁকে তাঁর ভাইয়ের পাশেই দাফন করা হলো। সেই অশরীরী কণ্ঠের বলা প্রতিটি 'শীঘ্রই' শব্দ ছিল এক একটি দিনের সমান।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
18- حدثنا عمار بن نصر المروزي ثنا بقية ثنا صفوان بن عمرو عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير عن يزيد بن شريح أنه سمع صوتا من قبر إن ترون اليوم أمثالنا فقد كنا أمثالكم وكنا أقرانا في الحياة كشكلكم فتلك البيداء تسفي رياحها ونحن في مقصورة لا ننالكم ومن يكن منا فليس براجع فتلك ديارنا فهي مصيركم.
১৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আম্মার ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ইবনে আমর, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে শুরাইহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একটি কবর থেকে একটি আওয়ায শুনতে পেলেন (যা বলছিল): "যদি তোমরা আজ আমাদের মতো কাউকে দেখো, তবে জেনে রেখো আমরাও তোমাদের মতোই ছিলাম। আমরা জীবনে তোমাদের মতোই সমসাময়িক এবং একই আকৃতির ছিলাম। সেই বিজন মরুভূমি যার ওপর দিয়ে বাতাস ধূলি উড়িয়ে নিয়ে যায়, আর আমরা এক সংকীর্ণ প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ যেখান থেকে আমরা তোমাদের নিকট পৌঁছাতে পারি না। আমাদের মধ্য থেকে যারা এখানে এসেছে তারা আর ফিরে যাবে না। এগুলিই আমাদের আবাসস্থল এবং এটাই তোমাদের শেষ গন্তব্য।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
19- حدثني محمد السمسار قال أخبرنا أبو اليمان قال أخبرنا صفوان بن عمرو عن سليمان بن يسار الحضرمي قال كان ناس يسيرون بالمقابر إذ سمعوا من قبر قائلا يقول
يا أيها الركب سيروا
… من قبل أن لا تسيروا
فهذه الدار حقا
… فيها إلينا المصير
كم منعم في نعيم
… وتسلبنه الدهور
وآخر في عذاب
… لبئس ذلك المصير
فكما كنتم كنا فغيرنا ريب المنون وسوف كما كنا تكونون.
১৯- মুহাম্মাদ আস-সিমসার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবুল ইয়ামান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, সাফওয়ান ইবনে আমর সুলায়মান ইবনে ইয়াসার আল-হাদরামি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কিছু লোক কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তারা একটি কবর থেকে জনৈক বক্তাকে বলতে শুনলেন:
হে আরোহী দল! তোমরা পথ চলতে থাকো
… তোমরা পথ চলতে অক্ষম হওয়ার পূর্বেই
কেননা প্রকৃতপক্ষে এই ঘরটিই ধ্রুব সত্য
… এখানেই আমাদের ফিরে আসতে হবে
কতই না নেয়ামতভোগী ব্যক্তি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে ছিল
… যাকে মহাকাল তা থেকে বঞ্চিত করেছে
আর অন্যজন যন্ত্রণার মধ্যে নিমজ্জিত
… কতই না নিকৃষ্ট সেই গন্তব্য!
তোমরা বর্তমানে যেমন আছ, আমরাও তেমনই ছিলাম; অতঃপর কালের আবর্তন আমাদের পরিবর্তন করে দিয়েছে। আর অচিরেই আমরা বর্তমানে যে অবস্থায় আছি, তোমরাও তেমন হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
20- قال وحدثت عن سعيد بن محمد الجرمي ثنا أبو نميلة ثنا يزيد بن عمرو التيمي ثنا مجالد بن سعيد عن الشعبي قال كان صفوان بن أمية في بعض المقابر فإذا شعل نيران قد أقبلت ومعها جنازة فلما دنوا من المقبرة قالوا انظر قبر كذا وكذا قال فسمع رجل صوتا من القبر حزينا موجعا يقول
أنعم الله بالظعينة عينا
… وبمسراك ياأمين إلينا
جزعا ما جزعت من ظلمة القبر
… ومن مسك التراب أمينا
قال فأخبر القوم بما سمع فبكوا حتى أخضبوا لحاهم ثم قال هل تدري من أمينة قلت لا قالوا صاحبة السرير وهذه أختها ماتت عام أول فقال صفوان قد علمنا إن الميت لا يتكلم فمن أين هذا الصوت.
২০- তিনি বলেন, আমাকে সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আল-জারমি থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু নুমাইলা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে আমর আত-তাইমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুজালিদ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন শা'বী থেকে, তিনি বলেন: সাফওয়ান ইবনে উমাইয়্যাহ কোনো এক কবরস্থানে অবস্থান করছিলেন, এমতাবস্থায় কিছু অগ্নিশিখা এগিয়ে আসতে দেখা গেল এবং তার সাথে একটি জানাজা ছিল। যখন তারা কবরস্থানের নিকটবর্তী হলো, তারা বলল: অমুক অমুক কবরের দিকে তাকাও। বর্ণনাকারী বলেন, তখন এক ব্যক্তি কবর থেকে একটি বিষণ্ণ ও বেদনাদায়ক কণ্ঠস্বর শুনতে পেল, যা বলছিল:
আল্লাহ এই ভ্রমণকারিণীর চোখ শীতল করুন
… এবং হে আমিনা, আমাদের নিকট তোমার এই নৈশ-যাত্রায়।
কবরের অন্ধকার এবং আমিনার গায়ে মাটি স্পর্শ করার কারণে আমি প্রচণ্ড বিচলিত হয়েছি।
…তিনি বলেন, তখন সেই ব্যক্তি যা শুনেছেন তা উপস্থিত লোকদের জানালেন, ফলে তারা কান্নায় ভেঙে পড়লেন এমনকি তাদের দাড়ি সিক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: তুমি কি জানো আমিনা কে? আমি বললাম: না। তারা বলল: সে হলো খাটিয়ার ওপর শায়িত নারী, আর এটি (কণ্ঠস্বরটি) তার বোন যে গত বছর মারা গেছে। তখন সাফওয়ান বললেন: আমরা তো জানি যে মৃত ব্যক্তি কথা বলে না, তবে এই শব্দ কোথা থেকে আসছে?
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
21- حدثني الحسن بن عبد العزيز الجروي حدثني سحيم بن ميمون وكان من جلساء الليث عن الليث بن سعد قال كان رجل نائم في مقبرة فسمع هاتف يهتف
أنعم الله بالخليلين عينا
… وبمسراك يا أميم إلينا
فأجابها مجيب قال وما ينفعها وأبي عليها ساخط فلما أصبح الرجل إذا بقبر يحفر ورجل هناك فسأله عن القبر وأخبره بما سمع فقال هذان قبرا بنتي وهذه أميمة أمهما وقد كنت ساخطا عليها أما إني لأقرن اليوم أعينهما بالرضا عنها قال فرضي عنها وولي أمرها حتى وارها.
২১- আল-হাসান ইবন আবদিল আজিজ আল-জারভি আমাকে বর্ণনা করেছেন, সুহাইম ইবন মাইমুন আমাকে বর্ণনা করেছেন—যিনি লাইসের মজলিসের সঙ্গীদের একজন ছিলেন—লাইস ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি কবরস্থানে ঘুমাচ্ছিলেন। তখন তিনি এক অদৃশ্য বক্তাকে আহ্বান করতে শুনলেন:
আল্লাহ দুই বন্ধুর চোখ শীতল করুন
… এবং হে উমাইমাহ, আমাদের কাছে তোমার আগমনে।
অতঃপর এক উত্তরদাতা তাকে উত্তর দিয়ে বলল, "এতে তার কী লাভ হবে, অথচ তার পিতা তার ওপর রাগান্বিত?" যখন সকাল হলো, লোকটি দেখল সেখানে একটি কবর খনন করা হচ্ছে এবং এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত আছে। তিনি তাকে কবরটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং যা শুনেছিলেন তা তাকে জানালেন। সে বলল, "এই দুটি আমার মেয়েদের কবর এবং এই উমাইমাহ তাদের মা। আমি তার ওপর রাগান্বিত ছিলাম। জেনে রাখো, আজ আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের দুইজনের চোখ শীতল করব।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন এবং তাকে দাফন করা পর্যন্ত তার যাবতীয় কার্যাবলি আঞ্জাম দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
22- حدثنا الحسن بن عبد العزيز ثنا عمرو بن أبي سلمة عن عمر بن سليمان قال مات رجل من اليهود وعنده وديعة لمسلم وكان لليهودي ابن مسلم فلم يعرف موضع الوديعة فأخبر شعيبا الجبائي فقال إإت برهوت فإن دونه عين تسبت فإذا جفت في يوم السبت ⦗ص: 60⦘ فامش عليها حتى تأتي عينا هناك فادع أباك فإنه سيجيبك فاسأله عما تريد ففعل ذلك الرجل ومضى حتى أتى العين فدعا أباه مرتين أو ثلاثا فأجابه فقال أين وديعة فلان قال تحت أسكفة الباب فادفعها إليه والزم ما أنت عليه.
২২- হাসান ইবনে আবদুল আজিজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আবি সালামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি বলেন: জনৈক ইহুদি ব্যক্তি মারা গেল যার নিকট একজন মুসলিমের আমানত গচ্ছিত ছিল। সেই ইহুদির এক পুত্র ছিল যে মুসলিম, কিন্তু সে আমানতটি কোথায় রাখা হয়েছে তা জানত না। অতঃপর সে শুআইব আল-জাব্বাইকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বললেন, "তুমি বারাহুতে যাও; সেখানে একটি ঝরনা রয়েছে যা কেবল শনিবারে প্রবাহিত হয়। যখন শনিবার দিন সেটি শুকিয়ে যাবে ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ তখন তুমি তার ওপর দিয়ে হেঁটে যাবে যতক্ষণ না সেখানে একটি ঝরনার কাছে পৌঁছাও। সেখানে তোমার পিতাকে ডাকবে, সে তোমাকে উত্তর দেবে। এরপর তুমি যা জানতে চাও তাকে জিজ্ঞাসা করো।" সেই ব্যক্তি তাই করল এবং পথ চলল যতক্ষণ না সে সেই ঝরনার কাছে পৌঁছাল। সে তার পিতাকে দুই বা তিনবার ডাকল এবং সে উত্তর দিল। সে জিজ্ঞেস করল, "অমুক ব্যক্তির আমানত কোথায়?" সে বলল, "দরজার চৌকাঠের নিচে। সেটি তাকে দিয়ে দাও এবং তুমি যে (দীনের) ওপর আছো তাতেই অটল থাকো।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৬০)
23- حدثنا عبيد الله بن جرير العتكي ثنا محمد بن عمرو بن عباد بن جبلة بن أبي رواد ثنا محمد بن مروان عن يونس بن أبي الفرات قال حفر رجل قبرا فقعد ليستظل فيه من الشمس فجاءت ريح باردة فأصاب ظهره فنظر فإذا ثقب صغير فوسعه بإصبعه فإذا قبر ينظر فيه مد البصر وإذا شيخ مخضوب وكأنما رفعت المواشط أيديها عنه وقد بقي من أكفانه على صدره شيء.
২৩- উবাইদুল্লাহ ইবনে জারীর আল-আতাকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আব্বাদ ইবনে জাবালাহ ইবনে আবি রাওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে আবিল ফুরাত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি একটি কবর খনন করল এবং সূর্যের তাপ থেকে ছায়া পেতে তাতে বসল। তখন একটি শীতল বাতাস এল এবং তার পিঠে লাগল। সে লক্ষ্য করল এবং সেখানে একটি ছোট ছিদ্র দেখতে পেল, অতঃপর সে তার আঙুল দিয়ে তা প্রশস্ত করল। হঠাৎ সে একটি কবর দেখতে পেল যা দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। সেখানে একজন খেজাব লাগানো বৃদ্ধ লোক ছিল, মনে হচ্ছিল যেন প্রসাধনকারিণীরা এইমাত্র তার থেকে তাদের হাত সরিয়ে নিয়েছে। আর তার কাফনের কাপড়ের কিছু অংশ তার বুকের উপর অবশিষ্ট ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৬০)
24- حدثني مروان بن محمد القرشي ثنا الوليد بن مسلم حدثني عبد الرحمن بن يزيد بن جابر إن شيخا من شيوخ الجاهلية العتاة قال يا محمد ثلاث بلغني أنك تقولهن لا ينبغي لذي عقل أن ⦗ص: 61⦘ يصدقك بهن بلغني أنك تقول إن العرب تاركة ما كانت تعبد هي وآباؤها وأنك ظهرت على كنوز كسرى وقيصر وإنا سنبعث من بعد أن نموت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم والذي نفسي بيده لتتركن العرب ما كانت تعبد هي وآباؤها ولتظهرن على كنوز كسرى وقيصر ولتموتن ولتبعثن ولآخذن بيدك يوم القيامة فلأذكرنك مقالتك هذه قال ولا تضلني في الموت ولا تنساني قال ولا أضلك في الموتى ولا أنساك فبقي الشيخ حتى قبض رسول الله صلى الله عليه وسلم ورأى ظهور المسلمين على كنوز كسرى وقيصر فأسلم فحسن إسلامه وكان عمر بن الخطاب كثيرا ما يسمع نحيبه في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم لإعطائه ما كان.. . رسول الله عليه السلام فكان عمر ربما يأتيه فيسكن هينة فيقول قد أسلمت ووعدك رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يأخذ بيدك ولا يأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيد أحد يوم القيامة إلا أفلح وسعد.
২৪- মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাশি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাবির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, জাহেলি যুগের এক উদ্ধত বৃদ্ধ লোক বলল: হে মুহাম্মদ, তিনটি কথা আমার নিকট পৌঁছেছে যা আপনি বলছেন বলে শোনা যায়, কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে উচিত নয় যে ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ সে বিষয়গুলোতে আপনাকে বিশ্বাস করবে। আমার কাছে পৌঁছেছে যে, আপনি বলছেন আরবরা তাদের ও তাদের পিতৃপুরুষদের উপাস্যদের বর্জন করবে, আপনি কিসরা ও কায়সারের ধনভাণ্ডার জয় করবেন এবং আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করা হবে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই আরবরা তাদের ও তাদের পিতৃপুরুষদের উপাস্যদের বর্জন করবে, অবশ্যই তোমরা কিসরা ও কায়সারের ধনভাণ্ডারের ওপর বিজয় লাভ করবে, অবশ্যই তোমরা মৃত্যুবরণ করবে এবং অবশ্যই তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে; আর কিয়ামতের দিন আমি অবশ্যই তোমার হাত ধরব এবং তোমাকে তোমার এই কথাটি মনে করিয়ে দেব। সে বলল: মৃত্যুর মধ্যে আমাকে পথভ্রষ্ট করবেন না এবং আমাকে ভুলে যাবেন না। তিনি বললেন: আমি তোমাকে মৃতদের মধ্যে পথভ্রষ্ট হতে দেব না এবং তোমাকে ভুলেও যাব না। অতঃপর সেই বৃদ্ধ ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং কিসরা ও কায়সারের ধনভাণ্ডারের ওপর মুসলমানদের বিজয় প্রত্যক্ষ করেছিলেন। অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ অত্যন্ত সুন্দর হয়েছিল। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রায়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে তাঁর বিলাপের শব্দ শুনতে পেতেন, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন... রাসুলুল্লাহ আলাইহিস সালাম। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রায়ই তাঁর কাছে আসতেন এবং তাঁকে কোমলভাবে শান্ত করে বলতেন: আপনি তো ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার হাত ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; আর কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যার হাত ধরবেন, সে সফল ও সৌভাগ্যবান হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৬১)
باب الموعظة بالجنازة والاعتبار بها25- حدثنا عبد الرحمن بن صالح الأزدي ثنا عبد الرحمن بن محمد البخاري عن رجل من أهل البصرة عن الخليل بن مرة عن زيد بن أسلم عن عمر بن الخطاب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من ميت يوضع على سريره فيخطى به ثلاث خطى إلا تكلم بكلام يسمع من
⦗ص: 62⦘ شاء الله إلا الثقلين الجن والإنس يقول يا إخوتاه.. . ويا حملة نعشاه لا تغرنكم الدنيا كما غرتني ولا يلعب بكم الزمان كما لعب بي خلفت ما تركت لورثتي والديان يوم القيامة محاسبي وأنتم تشيعوني وتودعوني.
জানাজা দ্বারা উপদেশ প্রদান এবং এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত অধ্যায়২৫- আবদুর রহমান ইবনে সালিহ আল-আজদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-বুখারী থেকে, তিনি বসরার জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি খলীল ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি উমর ইবনে আল-খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন, "কোনো মৃত ব্যক্তিকে যখন তার খাটিয়ার ওপর রাখা হয় এবং তাকে নিয়ে তিন কদম অগ্রসর হওয়া হয়, তখন সে এমন কথা বলে যা
⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ আল্লাহর ইচ্ছানুসারে জিন ও মানুষ—এই দুই ভারী জাতি ব্যতীত সবাই শুনতে পায়। সে বলে: হে আমার ভাইয়েরা! হে আমার খাটিয়া বহনকারীরা! দুনিয়া যেন তোমাদের সেভাবে প্রতারিত না করে যেভাবে আমাকে প্রতারিত করেছে এবং মহাকাল যেন তোমাদের নিয়ে সেভাবে খেলা না করে যেভাবে আমার সাথে করেছে। আমি যা কিছু পেছনে রেখে এলাম তা আমার উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে গেলাম, আর কিয়ামতের দিন মহাবিচারক আমার হিসাব গ্রহণ করবেন, অথচ তোমরা আমাকে অনুসরণ করছ এবং বিদায় দিচ্ছ।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৬২)
26- حدثني عبد الله بن محمد بن يحيى الرازي حدثني أبي عن عمرو بن شمر عن جابر عم أبي جعفر عن جابر بن عبد الله قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إذا كان حين يحمل عدوا به إلى قبره نادى حملته ألا تسمعوني يا إخوتاه إني أشكو إليكم ما وقع فيه أخوكم الشقي إن عدوي خدعني فأوردني ولم يصدرني وأقسم لي إنه لي ناصح فغشني وأشكو إليكم دنيا غرتني حتى اطمأننت إليها صرعتني وأشكو إليكم أخلائي ألهوني ومنوني ثم تبرؤا مني وخذلوني وأشكو إليكم أولادا حاميت عنهم وآثرتهم على نفسي فأكلوا مالي ثم أسلموني وأشكو إليكم مالا منعت منه حق الله فكان وباله علي وكان نفعه لغيري وأشكو إليكم دارا أنفقت فيها ⦗ص: 63⦘ خزينتي فصار سكانها غيري وأشكو إليكم طول الثوى في قبر يناديني أنا ببيت الدود والظلمة والبعد والوحشة والضيق والغربة والعذاب والنقمة فيا إخوتاه فاجتنبوني ما استطعتم واحذروا مثل ما لقيت فإني قد بشرت بالنار والصغار وغضب العزيز الجبار فيا حسرتاه على ما فرطت في جنب الله ويا طول ثبوراه فما لي من شفيع يطاع ولا صديق حميم فلو أن لي كرة فأكون من المحسنين قال ما يقر أحدهم ينادي حتى يدخل حفرته قال ثم يبكي أبو جعفر إذا ذكر هذا.
২৬- আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আর-রাজি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমর ইবনে শিমর থেকে, তিনি জাবির (আবু জাফরের চাচা) থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যখন কোনো (আল্লাহর) শত্রুকে তার কবরের দিকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে তার বাহকদের ডেকে বলে, হে আমার ভাইয়েরা! তোমরা কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ না? তোমাদের এই দুর্ভাগা ভাই যে বিপদে পড়েছে, সে সম্পর্কে আমি তোমাদের কাছে অভিযোগ করছি। নিশ্চয়ই আমার শত্রু আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, সে আমাকে (ধ্বংসের মুখে) ঠেলে দিয়েছে কিন্তু উদ্ধার করেনি। সে আমার কাছে শপথ করেছিল যে সে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, অথচ সে আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমি তোমাদের কাছে সেই দুনিয়ার ব্যাপারে অভিযোগ করছি যা আমাকে প্রলুব্ধ করেছিল, এমনকি যখন আমি তাতে আশ্বস্ত হলাম তখন সে আমাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিল। আমি তোমাদের কাছে আমার বন্ধুদের ব্যাপারে অভিযোগ করছি, যারা আমাকে গাফেল করেছিল এবং মিথ্যা আশা দিয়েছিল, এরপর তারা আমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। আমি তোমাদের কাছে সেই সন্তানদের ব্যাপারে অভিযোগ করছি যাদের আমি আগলে রেখেছিলাম এবং নিজের ওপর তাদের প্রাধান্য দিয়েছিলাম; অথচ তারা আমার সম্পদ ভোগ করল এবং এরপর আমাকে একাকী ছেড়ে চলে গেল। আমি তোমাদের কাছে সেই সম্পদের ব্যাপারে অভিযোগ করছি যা থেকে আমি আল্লাহর হক আদায় করতে বিরত থেকেছিলাম; ফলে এর কুফল আমার ওপর বর্তালো এবং এর কল্যাণ ভোগ করল অন্যরা। আমি তোমাদের কাছে সেই ঘরের ব্যাপারে অভিযোগ করছি যার পেছনে আমি আমার ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ সঞ্চিত ভাণ্ডার ব্যয় করেছিলাম, কিন্তু এখন এর অধিবাসী হলো অন্য কেউ। আমি তোমাদের কাছে সেই কবরে দীর্ঘ অবস্থানের বিষয়ে অভিযোগ করছি যা আমাকে ডেকে বলছে: আমি পোকা-মাকড়, অন্ধকার, দূরত্ব, ভীতি, সংকীর্ণতা, পরবাস, আজাব ও শাস্তির ঘর। হে আমার ভাইয়েরা! তোমরা সাধ্যানুযায়ী আমার থেকে দূরে থাকো (অর্থাৎ আমার অবস্থা থেকে শিক্ষা নাও) এবং আমি যা ভোগ করছি তা থেকে সতর্ক হও। কারণ আমাকে জাহান্নাম, লাঞ্ছনা এবং পরাক্রমশালী মহাপ্রতাপশালী আল্লাহর ক্রোধের সংবাদ দেওয়া হয়েছে। হায় আফসোস! আল্লাহর হকের ব্যাপারে আমি যে অবহেলা করেছি তার জন্য। হায় আমার দীর্ঘ ধ্বংস ও বিলাপ! আমার জন্য এমন কোনো সুপারিশকারী নেই যার কথা মানা হবে, আর না আছে কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু। যদি আমার জন্য একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকত, তবে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) বললেন: তাদের কেউ যতক্ষণ না কবরের গর্তে প্রবেশ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত এমন আর্তনাদ করা বন্ধ করে না। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আবু জাফর যখনই এটি স্মরণ করতেন তখনই কাঁদতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
27- حدثني علي بن حسين العامري ثنا أبو النضر ثنا المسعودي عن عون بن عبد الله قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا تبع جنازة علته كآبة وأكثر حديث النفس وأقل الكلام.
২৭- আলী ইবনে হুসাইন আল-আমিরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল নাযর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মাসউদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আউন ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো জানাজার অনুসরণ করতেন, তখন বিষণ্ণতা তাঁকে আচ্ছন্ন করত, তিনি মনে মনে অধিক চিন্তা করতেন এবং কথা খুব কম বলতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-কুবুর লি ইবনি আবিদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
28- حدثنا هارون بن عبد الله ثنا سيار ثنا جعفر ثنا سعيد الحريري عن بعض أشياخه أن أبا الدرداء أبصر رجلا في جنازة وهو يقول جنازة من هذا فقال أبو الدرداء هذا أنت يقول الله عز وجل: {إنك ميت وإنهم ميتون} .
২৮- হারুন বিন আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাইয়ার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাঈদ আল-হারীরী তার জনৈক শিক্ষকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবু দারদা (রা.) একটি জানাজায় একজন লোককে দেখলেন যে বলছিল, "এটি কার জানাজা?" তখন আবু দারদা (রা.) বললেন, "এটি আপনি নিজে।" আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে।"