(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: -)
الفوائد المعللة لأبي زرعة الدمشقي القسم: كتب السنة
الكتاب: الفوائد المعللة: الجزء الأول والثاني من حديثه
المؤلف: عبد الرحمن بن عمرو بن عبد الله بن صفوان النصري المشهور بأبي زرعة الدمشقي الملقب بشيخ الشباب (ت 281هـ)
المحقق: رجب بن عبد المقصود
توزيع: مكتبة الإمام الذهبي - الكويت
الطبعة: الأولى، 1423هـ -2003م
عدد الصفحات: 268
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433
আবু জুরআ আদ-দিমাশকীর আল-ফাওয়াইদ আল-মুআল্লালাহ বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আল-ফাওয়াইদ আল-মুআল্লালাহ: তাঁর বর্ণিত হাদিসের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড
রচয়িতা: আবদুর রহমান বিন আমর বিন আবদুল্লাহ বিন সাফওয়ান আন-নাসরি, যিনি আবু জুরআ আদ-দিমাশকী নামে পরিচিত এবং 'শাইখুশ শাবাব' উপাধিতে ভূষিত (মৃত্যু ২৮১ হি.)
গবেষক ও সম্পাদক: রজব বিন আবদুল মাকসুদ
পরিবেশক: মাকতাবাতুল ইমাম আয-যাহাবি - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হি. -২০০৩ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৮
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খাইরি আকবিল
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: -)
الفوائد المعللة
الجزء الأول والثاني من حديثه
تأليف
عبد الرحمن بن عمرو النصري
المشهور بأبي زرعة الدمشقي
الملقب بشيخ الشباب
(المولود قبل المائتين، والمتوفى سنة 281هـ)
دراسة وتحقيق
رجب بن عبد المقصود
توزيع
مكتبة الإمام الذهبي
الكويت
الطبعة الأولى
1423هـ -2003م
কারণ-সংবলিত ফায়দাহসমূহ
তাঁর বর্ণিত হাদিসের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড
গ্রন্থনা
আবদুর রহমান বিন আমর আন-নাসরি
যিনি আবু যুরআহ আদ-দিমাশকি নামে প্রসিদ্ধ
যাঁকে 'শাইখুশ শাবাব' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে
(জন্ম দুইশত হিজরির পূর্বে এবং মৃত্যু ২৮১ হিজরি সালে)
অধ্যয়ন ও সম্পাদনা
রজব বিন আব্দুল মাকসুদ
পরিবেশনা
মাকতাবাতুল ইমাম আয-যাহাবি
কুয়েত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٧٥)
الجزء الأول
من فوائد أبي زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرِو النصري الحافظ الدمشقي.
- رواية أبي الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إبراهيم بن أبي العقب عنه.
- رواية أبي محمد وأبي القاسم وأبي نصر وأبي القاسم وأبي بكر عنه.
- رواية أبي محمد عبد العزيز بن أحمد بن محمد الكتاني عنه.
- رواية أبي القاسم إسماعيل بن أحمد بن عمر بن الأشعث السمرقندي عنه.
- رواية أبي الحسن علي بن أبي العباس أحمد بن أبي الحسن علي بن هبل الحكم عنه.
سماع عنه لصاحبه إبراهيم بن محمد بن الأزهر الصريفيني نفعه الله به عنه.
প্রথম খণ্ড
হাফিজ আবু জুরআ আবদুর রহমান বিন আমর আন-নাসরি আদ-দিমাশকি-এর ফাওয়াইদ (শিক্ষণীয় বিষয়াদি) হতে।
- তাঁর থেকে আবুল কাসিম আলী বিন ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম বিন আবুল উক্বব-এর বর্ণনা।
- তাঁর থেকে আবু মুহাম্মাদ, আবুল কাসিম, আবু নাসর, আবুল কাসিম এবং আবু বকর-এর বর্ণনা।
- তাঁর থেকে আবু মুহাম্মাদ আবদুল আজিজ বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ আল-কাত্তানি-এর বর্ণনা।
- তাঁর থেকে আবুল কাসিম ইসমাইল বিন আহমদ বিন উমর বিন আল-আশআদ আস-সামারকান্দি-এর বর্ণনা।
- তাঁর থেকে আবুল হাসান আলী বিন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবুল হাসান আলী বিন হুবাল আল-হাকাম-এর বর্ণনা।
তাঁর থেকে তাঁর সঙ্গী ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আযহার আস-সারিফিনি-এর শ্রবণ (সামা'), আল্লাহ তাঁকে এর দ্বারা উপকৃত করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٧٦)
بسم الله الرحمن الرحيم
أَخْبَرَنَا الشيخ الإمام الأجل مهذب الدين أبو الحسن علي بن أبي العباس أحمد بن أبي الحسن علي بن هبل أيده الله قراءة عليه وأنا أسمع بإربل في منزل الشيخ في مستهل المحرم سنة خمس وستمائة قال أنا الشيخ الحافظ أبو القاسم إسماعيل بن أحمد بن عمر بن الأشعث السمرقندي قراءة عليه ببغداد يوم الأربعاء رابع عشرين شهر ربيع الآخر من سنة ثمان وعشرين وخمس مئة أنا أبو محمد عبد العزيز بن أحمد بن محمد الكتاني قراءة عليه من لفظه وأنا أسمع بدمشق في سنة اثنتين وستين وأربعمئة قال أنا أبو محمد عبد الرحمن بن عثمان بن أبي نصر وأبو القاسم تمام بن محمد الرازي والقاضي أبو نصر محمد بن أحمد بن هارون الغساني المعروف بابن الجندي وأبو القاسم عبد الرحمن بن حسين بن الحسن بن علي بن أبي العقب وأبو بكر محمد بن عبد الرحمن بن عبيد الله بن يحيى القطان قراءة عليهم قالوا أنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي العقب قراءة عليه.
1 - ثنا أَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بن عمرو بن عبد الله بن صفوان النصري سنة ثمانين ومأتين ثنا أبو عمارة سوار بن عمارة الربعي ورأيت يحيى بن معين يكتب بين يديه سنة أربع عشرة ومأتين ثنا مسرّة بن معبد اللخمي قال صلى بنا يزيد بن أبي كبشة صلاة العصر ثم انصرف إلينا بعد سلامه فقال إني صليت وراء مروان
⦗ص: 77⦘ بن الحكم فسجد بنا مثل هاتين السجدتين ثم انصرف إلينا فعلمنا أنه صلى وراء عثمان بن عفان فسجد بنا مثل هاتين السجدتين ثم قال إني كنت عند نبيكم صلى الله عليه وسلم أتى رجل فسلم عليه ثم قال يا نبي الله إني صليت فلم أدر أشفعت أم وترت ثم صليت فلم أدر أشفعت أم وترت ثلاثا يقولها فأجابه نبي اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فقال يتلاعب بكم الشيطان في صلاتكم من صلى فلم يدر أشفع أم وتر فليسجد سجدتين فإنهما تمام صلاته سمعت أبا زرعة يقول هذا الحديث رأس المال.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মহান ইমাম ও শ্রেষ্ঠ শায়খ মুহাজ্জিবুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আবিল আব্বাস আহমাদ বিন আবিল হাসান আলী বিন হুবাল (আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন) আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন। আমি ৬০৫ হিজরির মুহাররম মাসের শুরুতে ইরবিলে শায়খের নিজগৃহে তাঁর নিকট পাঠ করার সময় তা শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন: শায়খ হাফিজ আবুল কাসিম ইসমাইল বিন আহমাদ বিন উমর বিন আশ-আস আস-সামারকান্দি ৫২৮ হিজরির রবিউস সানি মাসের চব্বিশ তারিখ বুধবার বাগদাদে পাঠকালে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-কাত্তানি ৪৬২ হিজরিতে দামেশকে তাঁর নিকট পাঠকালে স্বীয় উচ্চারণে আমাদের শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন উসমান বিন আবি নাসর, আবুল কাসিম তাম্মাম বিন মুহাম্মদ আর-রাজি, কাজি আবু নাসর মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন হারুন আল-গাসসানি (যিনি ইবনুল জুনদি নামে পরিচিত), আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন হুসাইন বিন আল-হাসান বিন আলী বিন আবিল আকিব এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আল-কাত্তান আমাদের নিকট পাঠকালে বলেছেন। তাঁরা বলেন: আবুল কাসিম আলী বিন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম বিন আবিল আকিব তাঁর নিকট পাঠকালে আমাদের জানিয়েছেন।
১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুরআ আব্দুর রহমান বিন আমর বিন আব্দুল্লাহ বিন সাফওয়ান আন-নাসরি ২৮০ হিজরিতে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমারা সাওয়ার বিন আমারা আর-রাবায়ি—এবং আমি ২১৪ হিজরিতে ইয়াহইয়া বিন মাইনকে তাঁর সামনে (হাদিস) লিখতে দেখেছি—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাসাররাহ বিন মাবাদ আল-লাখমি। তিনি বলেন: ইয়াযিদ বিন আবি কাবশাহ আমাদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেন: আমি মারওয়ান
⦗পৃষ্ঠা: ৭৭⦘ বিন হাকামের পেছনে সালাত আদায় করেছি, তখন তিনি আমাদের নিয়ে এই দুটি সিজদার ন্যায় সিজদা করেছিলেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে ফিরে জানিয়েছিলেন যে, তিনি উসমান বিন আফফানের পেছনে সালাত আদায় করেছিলেন এবং তিনিও তাঁদের নিয়ে এই দুটি সিজদার ন্যায় সিজদা করেছিলেন। এরপর তিনি (উসমান) বলেছিলেন: আমি তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে তাঁকে সালাম দিলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর নবী! আমি সালাত আদায় করেছি কিন্তু আমি জানি না যে আমি জোড় রাকাত পড়েছি নাকি বিজোড়। এরপর পুনরায় আমি সালাত আদায় করেছি কিন্তু আমি জানি না যে আমি জোড় পড়েছি নাকি বিজোড়। এভাবে তিনি তিনবার বললেন। তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে উত্তর দিয়ে বললেন: "শয়তান তোমাদের সালাত নিয়ে খেলা করে। অতএব, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করার পর বুঝতে পারে না যে সে জোড় রাকাত পড়েছে নাকি বিজোড়, সে যেন দুটি সিজদা করে। কেননা তা তার সালাতকে পূর্ণ করে দেয়।" আমি আবু জুরআকে বলতে শুনেছি যে, এই হাদিসটি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٧٧)
2 - حدثنا أبو زرعة ثنا الوليد بن النضر المسعودي ثنا مسرة بن معبد اللخمي عن الزهري عن سعيد بن المسيب عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ اقتلوا الحيات وعليكم بذي الطفيتين الأبتر فإنهما يلتمسان البصر ويسقطان الحبل.
২ - আবু যুরআ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-ওয়ালিদ ইবনুন নাযর আল-মাসউদী থেকে, তিনি মাসাররাহ ইবনু মা'বাদ আল-লাখমি থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তোমরা সাপ হত্যা করো এবং বিশেষ করে পিঠে দুই রেখা বিশিষ্ট ও লেজ কাটা (ছোট লেজের) সাপ মারো; কেননা এ দুটি দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয় এবং গর্ভপাত ঘটায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٧٨)
3 - حدثنا أبو زرعة ويزيد بن أحمد السلمي قالا نا أبو مسهر عبد الأعلى بن مسهر الغساني نا محمد بن مسلم الطائفي عن إبراهيم بن ميسرة عن طاووس عن ابن عباس قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لم ير للمتحابين مثل التزويج ولفظ الحديث لأبي زرعة.
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুরআ এবং ইয়াযিদ ইবনে আহমাদ আস-সুলামী, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুশহির আব্দুল আ'লা ইবনে মুশহির আল-গাসসানী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম আত-তায়েফী, ইব্রাহিম ইবনে মাইসারা থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পরস্পরকে ভালোবাসেন এমন দুই ব্যক্তির জন্য বিবাহের অনুরূপ আর কিছুই দেখা যায় না।" আর হাদিসের শব্দাবলি আবু জুরআ-র।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٧٨)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو مسهر سنة اثنتي عشرة ومأتين نا سعيد بن عبد العزيز التنوخي عن مكحول عن زياد بن جارية عن حبيب بن مسلمة قال شهدت رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نفل الربع قال سعيد فسره سليمان بن موسى الربع في البدأة والثلث في الرجعة.
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুরআ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুশহির দুইশত বারো হিজরি সনে, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ আত-তানুখি, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি জিয়াদ ইবনে জারিয়া থেকে, তিনি হাবিব ইবনে মাসলামা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রত্যক্ষ করেছি যে তিনি গনিমতের এক-চতুর্থাংশ অতিরিক্ত পুরস্কার হিসেবে প্রদান করেছেন। সাঈদ বলেন, সুলাইমান ইবনে মুসা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, অভিযানের শুরুর দিকে এক-চতুর্থাংশ এবং ফেরার পথে এক-তৃতীয়াংশ (অতিরিক্ত প্রদান করা হয়)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٧٩)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو مسهر نا سعيد بن عبد العزيز عن ربيعة بن يزيد عن أبي إدريس الخولاني عن أبي ذر عن رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عن الله عز وجل قال يا عبادي إني حرمت الظلم على نفسي وجعلته محرما بينكم فلا تظالموا يا عبادي إنكم الذين تخطئون بالليل والنهار وأنا أغفر الذنوب ولا أبالي فاستغفروني أغفر لكم يا عبادي كلكم جائع إلا من أطعمته فاستطعموني أطعمكم يا عبادي كلكم عار إلا من كسوته فاستسكوني أكسكم يا عبادي لو أن أولكم وآخركم وإنسكم وجنكم كانوا على أتقى قلب رجل منكم لم يزد ذلك في ملكي شيئا يا عبادي لو أن أولكم وآخركم وإنسكم وجنكم اجتمعوا على أفجر قلب رجل منكم لم ينقص ذلك من ملكي شيئا يا عبادي لو أن أولكم وآخركم وأنسكم وجنكم اجتمعوا في صعيد واحد فأعطيت كل واحد منهم مسألته لم ينقص ذلك من ملكي إلا كما ينقص البحر أن يغمس فيه المخيط غمسة واحدة يا عبادي إنما هي أعمالكم أحفظها عليكم فمن وجد خيرا فليحمد الله تعالى ومن وجد غير ذلك فلا يلومن إلا نفسه
قال سعيد كان أبو إدريس إذا حدث بهذا الحديث جثا على ركبتيه قال أبو زرعة قالوا لأبي مسلم إن الوليد بن مسلم لا يرفعه فاثبت رفعه وجعل يتعجب
صحيح أخرجه مسلم عن محمد بن إسحاق الصغاني عن أبي مسهر الغساني الدمشقي عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرحمن الدارمي عن مروان كلاهما عن سعيد بن عبد العزيز.
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুশহির, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয, তিনি বর্ণনা করেছেন রাবীআহ ইবনে ইয়াজীদ থেকে, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানী থেকে, তিনি আবু যার থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আমার বান্দাগণ! আমি নিজের ওপর যুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের মাঝেও একে হারাম করে দিয়েছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর যুলুম করো না। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা দিবা-রাত্রি গুনাহ করে থাকো, আর আমিই সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করি এবং আমি এতে কোনো পরোয়া করি না। সুতরাং তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলেই ক্ষুধার্ত, তবে আমি যাকে আহার করাই সে ব্যতীত। সুতরাং তোমরা আমার কাছে আহার চাও, আমি তোমাদের আহার করাবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলেই বস্ত্রহীন, তবে আমি যাকে পরিধান করাই সে ব্যতীত। সুতরাং তোমরা আমার কাছে পোশাক চাও, আমি তোমাদের পরিধান করাবো। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এবং মানুষ ও জিন জাতি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে আল্লাহভীরু ব্যক্তির হৃদয়ের মতো হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বে বিন্দুমাত্র বৃদ্ধি ঘটাবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এবং মানুষ ও জিন জাতি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে পাপিষ্ঠ ব্যক্তির হৃদয়ের মতো হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বে বিন্দুমাত্র কমতি ঘটাবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এবং মানুষ ও জিন জাতি সকলে এক ময়দানে সমবেত হয়ে আমার কাছে প্রার্থনা করে আর আমি তাদের প্রত্যেকের চাওয়া পূরণ করি, তবে তা আমার কাছে যা আছে তাতে ততটুকুই কমতি ঘটাবে যতটুকু একটি সুচ সমুদ্রে ডুবালে তার পানি কমিয়ে থাকে। হে আমার বান্দাগণ! এগুলো কেবল তোমাদেরই আমল যা আমি তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করে রাখি, অতঃপর আমি তোমাদের এর পূর্ণ প্রতিদান দেবো। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করবে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে এর ব্যতিক্রম কিছু পাবে সে যেন নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে তিরস্কার না করে।
সাঈদ বলেন, আবু ইদরীস যখন এই হাদীস বর্ণনা করতেন তখন তিনি হাঁটু গেড়ে বসতেন। আবু যুরআহ বলেন, তারা আবু মুসলিমকে বলেছিলেন যে ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম একে মারফূ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হিসেবে) বর্ণনা করেন না। অতঃপর তিনি এর মারফূ হওয়াকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেন এবং বিস্ময় প্রকাশ করতে লাগলেন।
সহীহ। ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানী থেকে, তিনি আবু মুশহির আল-গাসসানী আদ-দিমাশকী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমী থেকে, তিনি মারওয়ান থেকে—তাঁরা উভয়ই সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٠)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو مسهر نا سعيد بن عبد العزيز عن ربيعة بن يزيد عن أبي إدريس الخولاني عن أبي مسلم الخولاني حدثني الحبيب الأمين أما هو إلي فحبيب وأما هو عندي فأمين عوف بن مالك الأشجعي قال كنا عند رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سبعة أو ثمانية أو تسعة فقال ألا تبايعون رسول الله فرددها ثلاث مرات فقدمنا أيدينا وبايعنا فقلنا يا رسول الله قد بايعناك فعلام نبايعك قال على أن تعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا والصلوات الخمس وأسر كلمة خفية لا تسألوا الناس شيئا قال فلقد رأيت بعض أولئك النفر يسقط سوطه فلا يسأل أحدا أن يناوله زاد القاضي وعبد الرحمن إياه.
৬ - আমাদের নিকট আবু যুরআ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু মুশহির বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয বর্ণনা করেছেন রাবিয়াহ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানী থেকে, তিনি আবু মুসলিম আল-খাওলানী থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট সেই প্রিয় ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন—যিনি আমার নিকট প্রিয় এবং আমার কাছে বিশ্বস্ত—অর্থাৎ আউফ ইবনে মালিক আল-আশজাঈ। তিনি বলেন, আমরা সাত, আট বা নয়জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম। তখন তিনি বললেন, "তোমরা কি আল্লাহর রাসূলের কাছে বাইআত গ্রহণ করবে না?" তিনি কথাটি তিনবার বললেন। অতঃপর আমরা আমাদের হাত বাড়িয়ে দিলাম এবং বাইআত হলাম। আমরা বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার নিকট বাইআত হলাম, তবে আমরা কিসের ওপর বাইআত হবো?" তিনি বললেন, "যেন তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করো, আর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করো।" এরপর তিনি নিচু স্বরে একটি গোপন কথা বললেন যে, "তোমরা মানুষের কাছে কোনো কিছু চাইবে না।" বর্ণনাকারী বলেন, আমি সেই দলের কিছু ব্যক্তিকে দেখেছি যে, তাদের কারো চাবুক নিচে পড়ে গেলে তিনি কাউকে তা তুলে দেওয়ার জন্য বলতেন না। কাজী এবং আব্দুর রহমান এটি বর্ধিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨١)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو صالح ثنا معاوية بن صالح عن ربيعة بن يزيد عن أبي إدريس الخولاني عن عوف بن مالك وذكر الحديث قلت ولم يذكر أبا مسلم.
৭ - আমাদের নিকট আবু যুরআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু সালেহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুয়াবিয়া বিন সালেহ বর্ণনা করেছেন রাবিয়া বিন ইয়াজিদ হতে, তিনি আবু ইদরিস আল-খাওলানি হতে, তিনি আওফ বিন মালিক হতে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। আমি বললাম, আর তিনি আবু মুসলিমের কথা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨١)
8 - حدثنا أبو زرعة ثنا سعيد بن منصور نا حفص بن ميسرة الصنعاني حدثني عبد الرحمن بن حرملة عن عدي الجذامي أنه لقى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في بعض أسفاره قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كان لي امرأتان اقتتلتا فرميت إحداهما فرمي في جنازتها فماتت قال اعقلها ولا ترثها قال فكأني أنظر إلى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم على ناقة حمراء جدعاء وهو يقول هلموا أيها الناس فإنما الأيدي ثلاثة فيد الله العليا ويد المعطي الوسطى ويد المعطى السفلى فتعففوا بحزم الحطب اللهم هل بلغت اللهم هل بلغت.
8 - আবু যুরআ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে মানসূর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফস ইবনে মাইসারা আস-সানআনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে হারমালাহ আমার নিকট আদী আল-জুজামি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কোনো এক সফরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার দুইজন স্ত্রী ছিল যারা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল, তখন আমি তাদের একজনকে লক্ষ্য করে কিছু ছুড়ে মারি এবং সে মারা যায়। তিনি বললেন: "তার রক্তপণ (দিয়াত) আদায় করো এবং তার উত্তরাধিকারী হয়ো না।" তিনি বলেন, আমি যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি কানকাটা লাল উটনীর ওপর দেখতে পাচ্ছি এবং তিনি বলছেন: "হে লোকসকল! তোমরা এগিয়ে এসো। নিশ্চয়ই হাত তিন প্রকার: আল্লাহর হাত সবার উপরে, দাতার হাত মাঝখানে এবং যাঞ্চাকারীর হাত সবার নিচে। অতএব তোমরা কাঠের আঁটি সংগ্রহের মাধ্যমে (অর্থাৎ শ্রমের মাধ্যমে) পবিত্রতা অবলম্বন করো। হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?"
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٢)
9 - حدثنا أبو زرعة ثنا حيوة بن شريح ثنا بقية بن الوليد عن بحير بن سعد عن خالد بن معدان عن جبير بن نفير أن نفرا قالوا لعمر بن الخطاب ما رأينا رجلا أقضي بالقسط ولا أقول بالحق ولا أشد على المنافقين منك يا أمير المؤمنين فأنت خير الناس بعد رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فأنصت عنهم عمر فقال عوف بن مالك كذبتم والله لقد رأينا خيرا منه بعد رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فأقبل عليه عمر رضي الله عنه فقال من هو يا عوف قال أبو بكر قال عمر صدق عوف وكذبتم والله لقد كان أبو بكر أطيب من ريح المسك وإني لمثل بعير أهلي.
৯ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাইওয়াহ ইবন শুরাইহ, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ, তিনি বুহাইর ইবন সাদ থেকে, তিনি খালিদ ইবন মা’দান থেকে, তিনি জুবাইর ইবন নুফাইর থেকে বর্ণনা করেন যে, একদল লোক উমর ইবনুল খাত্তাবকে বললেন, “হে আমীরুল মুমিনীন! আমরা আপনার চেয়ে অধিক ন্যায়পরায়ণ বিচারক, সত্যবাদী এবং মুনাফিকদের প্রতি কঠোর আর কাউকে দেখিনি। আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সর্বোত্তম ব্যক্তি।” উমর তাদের কথা শুনে নীরব থাকলেন। তখন আউফ ইবন মালিক বললেন, “আল্লাহর কসম, তোমরা মিথ্যা বলেছ! আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর তার চেয়েও উত্তম একজনকে দেখেছি।” তখন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার দিকে ফিরে বললেন, “হে আউফ, তিনি কে?” তিনি বললেন, “আবু বকর।” উমর বললেন, “আউফ সত্য বলেছে এবং তোমরা মিথ্যা বলেছ। আল্লাহর কসম, আবু বকর কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুবাসিত ছিলেন, আর আমি তো কেবল আমার পরিবারের একটি উটের মতো।”
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٢)
10 - حدثنا أبو زرعة ثنا أبو مسهر ثنا سعيد بن عبد العزيز عن ربيعة بن يزيد عن أبي إدريس الخولاني عن عبد الله بن حوالة الأزدي عن رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال ستجندون أجنادا مجندة جندا بالشام وجندا بالعراق وجندا باليمن فقال الحوالي خرلي يا رسول الله قال عليكم بالشام فمن أبى فليحلق بيمنه وليستق من غدره فإن الله قد تكفل لي بالشام وأهله.
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসহির, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ, তিনি রবীআ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে হাওয়ালা আল-আযদী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা শীঘ্রই বিভিন্ন সুসংগঠিত বাহিনীতে বিভক্ত হয়ে পড়বে; এক বাহিনী শামে, এক বাহিনী ইরাকে এবং এক বাহিনী ইয়ামেনে।" তখন আল-হাওয়ালা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য একটি পছন্দ করে দিন।" তিনি বললেন, "তোমরা শামকে আঁকড়ে ধরো। আর যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করবে, সে যেন ইয়ামেনে চলে যায় এবং তার জলাধার থেকে পানি পান করে। কারণ আল্লাহ তাআলা আমার জন্য শামের এবং তার অধিবাসীদের জিম্মাদারী গ্রহণ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٣)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو مسهر نا سعيد بن عبد العزيز عن ربيعة بن يزيد عن أبي إدريس الخولاني عن ابن الديلمي عن عبد الله بن عمرو عن رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أن سليمان بن داود لما بنى بيت المقدس سأل الله تعالى حكما يصادف حكمه فأوتيه وسأل الله حين فرغ من بنيان المسجد أن لا يأتيه أحد لا ينهزه إلا الصلاة فيه أن يخرجه من ذنوبه كهيئته يوم ولدته أمه.
১১ - আবু যুরআ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুশহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি রাবিয়া বিন ইয়াযিদ থেকে, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানী থেকে, তিনি ইবনুুদ দাইলামি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, দাউদ তনয় সুলাইমান যখন বাইতুল মাকদিস নির্মাণ করলেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর নিকট এমন বিচারিক ফয়সালার ক্ষমতা প্রার্থনা করলেন যা আল্লাহর ফয়সালার অনুরূপ হয়; অতঃপর তাঁকে তা দান করা হলো। আর তিনি যখন মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করলেন, তখন আল্লাহর নিকট এই প্রার্থনা করলেন যে, যে ব্যক্তিই কেবল সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে সেখানে আসবে, আল্লাহ যেন তাকে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত করে বের করেন, যেন সে আজই তার মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٣)
12 - حدثنا أبو زرعة حدثني أبو النضر إسحاق بن إبراهيم قال كنت أسمع وقع دموع سعيد بن عبد العزيز على الحصير في الصلاة في المسجد.
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আন-নাদর ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম। তিনি বলেন: আমি মসজিদে সালাত আদায়কালে চাটাইয়ের ওপর সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজের চোখের পানির পতনের শব্দ শুনতে পেতাম।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٣)
13 - حدثنا أبو زرعة ثنا أبو مسهر حدثني محمد بن شعيب أخبرني أبو ⦗ص: 84⦘ زرعة يحيى بن أبي عمرو الشيباني عن عبد الله بن ناشره أنه أخبره عن حديث سعد بن سفيان القارئ قال توفي أخوه وأوصى بمائة دينار في سبيل الله قال فوافق ذلك صالح بن فرعون فلم يكن يومئذ غازية قال فقدمت المدينة في حج أو عمرة فدخلت على عثمان فإذا رجل عنده قاعد وكان علي قباء بزيون كنت أصبته من علج سلبته بأرض الروم وكان فروجه وجيبه مكففا بحرير فلما رأى ذلك الرجل أقبل علي يجاذبني قبائي بخرقه فلما رأى ذلك عثمان قال دع الرجل عنك وذكر الحديث بطوله قال أبو القاسم أنا اختصرته قال فلما خرجت من عنده سألت عن الرجل الذي جاذبني فقيل هو علي بن أبي طالب فأتيته في منزله فقلت له ما رأيت مني فقال سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يقول أوشك أن تستحل أمتي فروج النساء والحرير. وهذا أول حرير رأيته على أحد من المسلمين قال فخرجت من عنده فبعته من الخياط.
১৩ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জুরআ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুশহির, তিনি বলেন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন শুআইব, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৮৪⦘ জুরআ ইয়াহইয়া বিন আবু আমরু আশ-শায়বানী, আবদুল্লাহ বিন নাশিরাহ থেকে যে, তিনি তাঁকে সা'দ বিন সুফিয়ান আল-কারীর হাদিস সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর ভাই মারা যান এবং আল্লাহর পথে একশ দিনার ব্যয় করার অসিয়ত করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সালিহ বিন ফিরআউনের নিকট উত্থাপন করা হলো, কিন্তু সে সময় কোনো যুদ্ধাভিযান ছিল না। তিনি বলেন, এরপর আমি হজ বা উমরা উপলক্ষে মদীনায় আসলাম এবং উসমানের নিকট প্রবেশ করলাম। তখন দেখলাম তাঁর নিকট একজন লোক বসে আছেন। আমার গায়ে 'বাজিউন' নামক এক প্রকার জুব্বা ছিল যা আমি রোম ভূখণ্ডে একজন অমুসলিম যোদ্ধার নিকট থেকে গণিমত হিসেবে লাভ করেছিলাম। সেটির সামনের অংশ এবং কলার রেশম দিয়ে মোড়ানো ছিল। যখন ঐ ব্যক্তি তা দেখলেন, তিনি আমার দিকে এগিয়ে আসলেন এবং রুক্ষভাবে আমার জুব্বা ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করলেন। উসমান যখন তা দেখলেন, তখন তিনি বললেন, লোকটিকে ছেড়ে দাও। এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করলেন। আবুল কাসিম বলেন, আমি এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি যখন তাঁর নিকট থেকে বের হলাম, তখন আমি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যিনি আমাকে ধরে টেনেছিলেন। বলা হলো, তিনি হলেন আলী বিন আবি তালিব। এরপর আমি তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে বললাম, আপনি আমার মাঝে কী দেখলেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: অচিরেই আমার উম্মত ব্যভিচার ও রেশম ব্যবহারকে হালাল মনে করে নেবে। আর কোনো মুসলিমের শরীরে এটাই প্রথম রেশম যা আমি দেখলাম। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে গেলাম এবং তা একজন দর্জির কাছে বিক্রি করে দিলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٤)
14 - حدثنا أبو زرعة ثنا أبو مسهر ومحمد بن المبارك قال ثنا صدقة بن خالد ح وثنا أبو زرعة قال ونا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ نا محمد بن شعيب قال صدقة في حديثه أخبرني خالد بن دهقان قال أخبرني خالد بن سيلان عن كهيل بن حرملة النمري قال قدم أبو هريرة دمشق فنزل على أبي كلثم الدوسي قال محمد بن المبارك في حديثه فجلس في المسجد في عريشه فتذاكروا الصلاة ⦗ص: 85⦘ الوسطى فاختلفا فقال أبو هريرة اختلفنا كما اختلفتم ونحن بفناء بيت رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وفينا الرجل الصالح أبو هاشم بن عتبة بن ربيعة بن عبد شمس فقال أنا أعلم لكم ذلك وكان جريئا عليه فدخل فاستأذن على رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فدخل ثم خرج فأخبرنا أنها صلاة العصر.
১৪ - আমাদের নিকট আবু জুরআ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু মুশহির এবং মুহাম্মদ ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন আমাদের নিকট সাদাকা বিন খালিদ বর্ণনা করেছেন। (অন্য সূত্রে) আবু জুরআ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন শুআইব বর্ণনা করেছেন; সাদাকা তার বর্ণিত হাদিসে বলেছেন, আমাকে খালিদ বিন দেহকান সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাকে খালিদ বিন সাইলান কুহাইল বিন হারমালাহ আন-নামারি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা দামেস্কে আসলেন এবং আবু কালসাম আদ-দাওসির নিকট অবস্থান করলেন। মুহাম্মদ ইবনুল মুবারক তার হাদিসে বলেন, অতঃপর আবু হুরায়রা মসজিদের একটি ছাউনিতে বসলেন এবং তারা মধ্যবর্তী নামাজ ⦗পৃষ্ঠা: ৮৫⦘ (সালাতুল উসতা) সম্পর্কে আলোচনা করলেন ও এ নিয়ে মতভেদ করলেন। তখন আবু হুরায়রা বললেন: তোমরা যেমন মতভেদ করছ, আমরাও তেমন মতভেদ করেছিলাম যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরের প্রাঙ্গণে ছিলাম। আমাদের মাঝে পুণ্যবান ব্যক্তি আবু হাশিম বিন উতবাহ বিন রাবিয়াহ বিন আবদু শামস উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: আমি তোমাদের জন্য বিষয়টি জেনে আসছি; আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে কথা বলার ব্যাপারে তিনি সাহসী ছিলেন। অতঃপর তিনি ভেতরে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি প্রবেশ করলেন এবং পরে বের হয়ে আমাদের জানালেন যে, তা হলো আসরের নামাজ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٥)
15 - سمعت أبا زرعة يقول سمعت أبا مسهر يقول صدقة بن خالد صحيح الأخذ صحيح الإعطاء.
১৫ - আমি আবু যুরআহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু মুশহিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: সাদাকাহ ইবনে খালিদ গ্রহণে বিশুদ্ধ এবং প্রদানেও বিশুদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٥)
16 - حدثنا أبو زرعة نا علي بن عياش الألهاني أبو الحسن البكاء نا شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ نافع عن ابن عمر أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قال إذا جاء أحدكم إلى الجمعة فليغتسل.
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি বিন আইয়াশ আল-আলহানি আবু আল-হাসান আল-বুক্কা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুআইব বিন আবি হামযাহ, নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মধ্যে কেউ যখন জুমার নামাজে আসে, সে যেন গোসল করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٦)
17 - حدثنا أبو زرعة نا عبد الله بن صالح نا معاوية بن سلام عَنْ يَحْيَى ⦗ص: 87⦘ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عن نافع أن عبد الله بن عمر أخبره أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال من جاء منكم الجمعة فليغتسل.
১৭ - আমাদের নিকট আবু যুরআ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন সালিহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুয়াবিয়া বিন সালাম ইয়াহইয়া ⦗পৃষ্ঠা: ৮৭⦘ বিন আবু কাসীর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফি থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ বিন উমর তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমুআর (সালাতে) আসবে, সে যেন গোসল করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٧)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو نعيم نا مالك بن مغول عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال من جاء منكم الجمعة فليغتسل.
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে মিগওয়াল, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসবে, সে যেন গোসল করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٧)
19 - حدثنا أبو زرعة نا علي بن عياش نا شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الخيل معقود في نواصيها الخير إلى يوم القيامة.
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুরআহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আইয়াশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুআইব ইবনে আবি হামযাহ, নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ আবদ্ধ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٧)
20 - حدثنا أبو زرعة نا علي بن عياش نا حريز بن عثمان حدثني عبد الرحمن بن ميسرة عن جبير بن نفير عن بسر بن جحاش القرشي أَنَّ رَسُولَ ⦗ص: 88⦘ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بزق يوما على كفه فوضع عليه أصبعه ثم قال يقول الله تبارك وتعالى ابن آدم أنى تعجزني وقد خلقتك من مثل هذه حتى إذا سويتك وعدلتك مشيت بين بردين وللأرض منك وئيد فجمعت ومنعت حتى إذا بلغت التراقي قلت أتصدق وأنى أوان الصدقة.
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আইয়াশ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারিয বিন উসমান, তিনি বলেন আমাকে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন মাইসারা, তিনি জুবায়ের বিন নুফাইর থেকে, তিনি বুসর বিন জাহাশ আল-কুরাশি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল ⦗পৃষ্ঠা: ৮৮⦘ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন তাঁর হাতের তালুর ওপর থুতু ফেললেন, অতঃপর তার ওপর নিজের আঙুল রাখলেন। তারপর বললেন, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: হে আদমসন্তান! তুমি কীভাবে আমাকে অক্ষম করতে পারো অথচ আমি তোমাকে এই সদৃশ বস্তু হতেই সৃষ্টি করেছি? এমনকি যখন আমি তোমাকে সুগঠিত ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ করলাম, তখন তুমি দুই চাদরের মাঝে দম্ভভরে পথ চলতে থাকলে এবং তোমার পদভারে জমিন শব্দ করতে লাগল। অতঃপর তুমি সম্পদ পুঞ্জীভূত করলে এবং তা দিতে কার্পণ্য করলে। পরিশেষে যখন প্রাণ কণ্ঠনালীতে এসে পৌঁছাল, তখন তুমি বললে, "আমি এখন সদকা করব"; অথচ এখন কি সদকা করার সময় আছে?
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٨٩)
21 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو نعيم الفضل بن دكين الأحول نا فطر بن خليفة عن إسماعيل بن رجاء عن أبيه قال سمعت أبا سعيد الخدري قال كنا جلوسا ننتظر النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فخرج علينا من بعض بيوت نسائه فقمنا فانقطع شسع نعله فأخذها علي بن أبي طالب فتخلف عليها ليصلحها فقام رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ينتظره ونحن قيام معه وفي القوم يومئذ أبو بكر وعمر فقال إن منكم من يقاتل على تأويل القرآن كما قاتلت على تنزيله فاستشرف لها أبو بكر وعمر فقال لا ولكنه صاحب النعل فأتيته لأبشره بما قيل له فكأنه لم يرفع به رأسا كأنه شيء قد سمعه.
২১ - আমাদের নিকট আবু যুরআহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু নুআইম আল-ফাযল ইবন দুকাইন আল-আহওয়াল হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ফিতর ইবন খলিফা ইসমাইল ইবন রাজা থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অপেক্ষায় বসে ছিলাম। অতঃপর তিনি তাঁর স্ত্রীদের কোনো এক ঘর থেকে আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন। তখন আমরা দাঁড়ালাম, এমতাবস্থায় তাঁর জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেল। আলী ইবন আবু তালিব সেটি নিলেন এবং তা মেরামত করার জন্য পেছনে থেকে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে থাকলাম। সেদিন উপস্থিত লোকদের মধ্যে আবু বকর এবং উমরও ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে, যে কুরআনের ব্যাখ্যার (তাওয়ীল) ওপর যুদ্ধ করবে যেমন আমি এর অবতীর্ণ হওয়ার (তানযীল) ওপর যুদ্ধ করেছি।" তখন আবু বকর এবং উমর এর জন্য উৎসুক হলেন। তিনি বললেন: "না, বরং সে হলো ঐ জুতার অধিকারী (যে তা মেরামত করছে)।" আবু সাঈদ বলেন, অতঃপর আমি আলীকে সেই সুসংবাদ দিতে গেলাম যা তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে, কিন্তু তিনি যেন এতে ভ্রুক্ষেপই করলেন না; মনে হচ্ছিল যেন বিষয়টি তিনি আগেই শুনেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٩٠)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو نعيم نا شيبان هو ابن عبد الرحمن النحوي عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عن أبي سلمة عن ابن عباس وعائشة أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مكث بمكة عشر سنين ينزل عليه القرآن وبالمدينة عشرا.
২২ - আবু যুরআ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শায়বান—যিনি ইবনে আবদুর রহমান আন-নাহবী—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস ও আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেছিলেন যখন তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল, এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٩٠)
23 - حدثنا أبو زرعة نا أحمد بن جميل المروزي نا عبد الله بن المبارك عن صفوان بن عمرو عن عبد الرحمن بن جبير عن أبيه قال قلنا للمقداد بن الأسود طوبى لهاتين العينين اللتين رأتا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وأننا لوددنا أنا رأينا ما رأيت وشهدنا ما شهدت فغضب وقال يتمنى أحدكم مشهدا لو شهده لم يدر كيف كان يكون فيه والله لقد أدرك رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أقوام لم يؤمنوا به ولم يصدقوه ولقد كان أحدهم ينظر إلى والده أو ولده أو أخيه قد فتح الله قفل قلبه للإسلام فإنها التي قال الله: {ربنا هب لنا من أزواجنا وذرياتنا قرة أعين}
سمعت أبا زرعة يقول هذا حديث جليل حديث ابن جميل المروزي.
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুরআহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন জামিল আল-মারওয়াযী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক, সাফওয়ান বিন আমর থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন জুবাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা মিকদাদ বিন আল-আসওয়াদকে বললাম: "কতই না সৌভাগ্যবান সেই দুটি চোখ যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে। আমরা একান্ত কামনা করি যে, আপনি যা দেখেছেন আমরাও যদি তা দেখতে পেতাম এবং আপনি যা প্রত্যক্ষ করেছেন আমরাও যদি তা প্রত্যক্ষ করতাম!" তখন তিনি রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "তোমাদের কেউ এমন এক পরিস্থিতির আকাঙ্ক্ষা করে যা সে প্রত্যক্ষ করলে জানত না সেখানে তার অবস্থা কেমন হতো। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন বহু সম্প্রদায় পেয়েছিল যারা তাঁর ওপর ঈমান আনেনি এবং তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি। তাদের কেউ তার পিতা, তার সন্তান অথবা তার ভাইয়ের দিকে তাকাত যাদের অন্তরের তালা আল্লাহ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন (অথচ সে নিজে অবিশ্বাসী রয়ে গেছে)। আর এটিই হলো সেই বিষয় যা সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে নয়নপ্রীতি দান করুন}।"
আমি আবু জুরআহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: ইবনে জামিল আল-মারওয়াযীর বর্ণিত এই হাদীসটি অত্যন্ত মহিমান্বিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٩١)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو نعيم نا عصام بن قدامة نا مالك بن نمير الخزاعي من أهل البصرة أن أباه حدثه أنه رأى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قاعدا في الصلاة واضعا ذراعه اليمنى على فخذه اليمنى رافعا إصبعه السبابة قد حناها شبها وهو يدعو.
২৪ - আমাদের নিকট আবু যুরআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইসাম বিন কুদামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বসরার অধিবাসী মালিক বিন নুমাইর আল-খুজাঈ বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাতে বসা অবস্থায় দেখেছেন। তিনি তাঁর ডান বাহুকে তাঁর ডান উরুর ওপর রেখেছিলেন এবং তাঁর তর্জনী আঙুলটি উঁচু করেছিলেন, যা তিনি সামান্য বাঁকিয়েছিলেন এবং তিনি তখন দোয়া করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٩١)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو نعيم نا الأعمش عن إبراهيم عن الأسود عن عائشة قالت أهدى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مرة غنما.
২৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু জুরআ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আল-আসওয়াদ থেকে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার বকরি হাদীয়া হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٩٢)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو نعيم نا الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عن أبي سعيد الخدري قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لا تسافر المرأة سفرا ثلاثة أيام فصاعدا إلا مع زوجها أو ابنها أو ذوي محرم.
২৬ - আবু যুরআ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কোনো নারী তার স্বামী, তার পুত্র অথবা কোনো মাহরাম ব্যতীত তিন দিন বা তার অধিক সময়ের সফর করবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল মুআল্লালাহ লি-আবী যুরআহ আদ-দিমাশকী
(পৃষ্ঠা: ٩٣)
27 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ نا أَبُو نعيم نا الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال قال الله عز وجل الصوم لي وأنا أجزي به يدع شهوته وأكله وشربه من أجلي والصوم جنة وللصائم فرحتان فرحة حين يفطر وفرحة حين يلقى ربه ولخلوف فيه أطيب عند الله من ريح المسك.
২৭ - আবু যুরআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সলিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: "রোজা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। সে (বান্দা) আমারই জন্য তার প্রবৃত্তি, আহার ও পানীয় বর্জন করে। রোজা হলো একটি ঢাল। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে—একটি আনন্দ যখন সে ইফতার করে এবং অন্য আনন্দটি যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। আর অবশ্যই রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশক (কস্তুরী)-এর সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।"