(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: -)
الأربعون لمحمد بن أسلم الطوسي (محمد بن أسلم الطوسي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الأربعون
المؤلف: الإمام الحافظ أبي الحسن محمد بن أسلم الطوسي
حققها وعلق عليه: مشعل بن باني الجبرين المطيري
الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 102
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তুসির আল-আরবাউন (মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তুসি)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আল-আরবাউন
লেখক: ইমাম আল-হাফিয আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তুসি
তাহকিক ও টীকা প্রদান: মিশআল বিন বানি আল-জাবরিন আল-মুতাইরি
প্রকাশক: দার ইবনে হাযম, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপার অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السِّلَفِيُّ اْلَأْصْبَهَانِيُّ بِاْلْأَسْكَنْدَرِيَّةِ أَخْبَرَنَا أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْكَرْجِيُّ غَيْرَ مَرَّةٍ فِيمَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ بِبَغْدَادَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ بُكَيْرٍ النَّجَّارُ الْمُقْرِئُ أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ وَكِيعِ بْنِ دَوَّاسِ بْنِ الشَّرْقِيِّ الطُّوسِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَسْلَمَ الطُّوسِيُّ بِهَا أَبُو الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو: " أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنِ الْمُسْلِمُ؟ قَالَ: «مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ» قَالَ: فَمَنِ الْمُؤْمِنُ؟ قَالَ: «مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ» قَالَ: فَمَنِ الْمُهَاجِرُ؟ قَالَ: «مَنْ هَجَرَ السَّيِّئَاتِ» ⦗ص: 40⦘ قَالَ: فَمَنِ الْمُجَاهِدُ؟ قَالَ: «مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ لِلَّهِ عز وجل»
১ - আলেকজান্দ্রিয়ায় শাইখ ইমাম হাফেজ আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আস-সিলাফি আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু গালিব মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ আল-কারজি আমাকে একাধিকবার সংবাদ দিয়েছেন যা আমি বাগদাদে ৪৯৪ হিজরি সনে তাঁর কাছে পাঠ করেছি। তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে বুকাইর আন-নাজ্জার আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আন-নাইসাবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ওয়াকি' ইবনে দাওয়াস ইবনে আশ-শারকি আত-তুসি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আসলাম আত-তুসি সেখানে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে জিয়াদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন যে: "এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! মুসলিম কে? তিনি বললেন: «সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে» তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তবে মুমিন কে? তিনি বললেন: «সেই ব্যক্তি যার নিকট মানুষ তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপদ থাকে» তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তবে মুহাজির কে? তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি মন্দ কাজসমূহ বর্জন করে» ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তবে মুজাহিদ কে? তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে»"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
بَابٌ فِي الْوُضُوءِ
অজু সম্পর্কিত অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
2 - حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا، وَاعْلَمُوا أَنَّ أَفْضَلَ أَعْمَالِكُمُ الصَّلَاةُ، وَلَا يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ إِلَّا مُؤْمِنٌ»
২ - আমাদের নিকট ইয়ালা ইবনে উবাইদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমাশ বর্ণনা করেছেন সালেম ইবনে আবুল জাদ থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা অবিচল থাকো, তবে তোমরা তা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারবে না। আর জেনে রেখো যে, তোমাদের সর্বোত্তম আমল হলো সালাত, আর মুমিন ব্যতীত অন্য কেউ ওযুর হিফাজত করে না।»
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
3 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ بِقَدْرِ الْمُدِّ وَيَغْتَسِلُ بِقَدْرِ الصَّاعِ»
৩ - ইয়াজিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদা থেকে বর্ণিত, সাফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহ থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক মুদ পরিমাণ পানি দিয়ে ওজু করতেন এবং এক সা' পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন»
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
بَابُ كَيْفَ الْوُضُوءُ
ওযু করার পদ্ধতি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
4 - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ عُرْفُطَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ خَيْرٍ يَقُولُ: رَأَيْتُ عَلِيًّا أَتَى بِكُرْسِيٍّ فَقَعَدَ عَلَيْهِ فِي الرَّحَبَةِ، ثُمَّ أَتَى بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ فَأَكْفَاهُ عَلَى كَفِّهِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثَلَاثًا، جَمَعَ بَيْنَ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ بِكَفٍّ وَاحِدٍ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا، ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدِهِ، - وَوَصَفَ شُعْبَةُ بِكَفَّيْهِ، مِنْ مُقَدَّمِ رَأْسِهِ إِلَى مُؤَخَّرِهِ، قَالَ شُعْبَةُ: فَلَا أَدْرِي أَرَدَّهُمَا أَمْ لَا؟ - ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلَاثًا ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ «هَذَا وُضُوءُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى وُضُوءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَهَذَا وُضُوءُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»
৪ - হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনু উরফুতাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদ খাইরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছি যে, তাঁর নিকট একটি চেয়ার আনা হলো এবং তিনি প্রশস্ত প্রাঙ্গণে তার ওপর বসলেন। অতঃপর একটি পানির পাত্র আনা হলো, তিনি তা থেকে নিজের কব্জির ওপর পানি ঢাললেন এবং দুই কব্জি তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনি তিনবার কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন; তিনি একই হাতের তালু ব্যবহার করে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া সম্পন্ন করলেন। এরপর তিনি তাঁর মুখমন্ডল তিনবার এবং দুই বাহু তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে মাথা মাসেহ করলেন—আর শুবা তাঁর দুই হাতের তালু দিয়ে মাথার অগ্রভাগ থেকে পশ্চাৎভাগ পর্যন্ত মাসেহ করার পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। শুবা বলেন: আমি জানি না তিনি হাত দু’টি পুনরায় সামনে ফিরিয়ে এনেছিলেন কি না?—এরপর তিনি তাঁর দুই পা তিনবার করে ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, “এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উযূ; সুতরাং যাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উযূ দেখা আনন্দিত করে, তবে এটিই হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উযূ।”
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
بَابٌ فِي شَأْنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ
চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ، عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ: جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيكُمُ «الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ لِلْمُسَافِرِ، وَيَوْمًا لِلْمُقِيمِ» ، وَلَوْ مَضَى السَّائِلُ فِي مَسْأَلَتِهِ لَجَعَلَهَا خَمْسَةً
৫ - আবু নুআইম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান সাওরী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে, তিনি ইবরাহীম আত-তাইমী থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-জাদালী থেকে, তিনি খুজায়মাহ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের জন্য মোজার উপর মাসেহ করার সময়সীমা মুসাফিরের জন্য তিন দিন এবং মুকীমের জন্য একদিন নির্ধারণ করেছেন। আর প্রশ্নকারী যদি তার প্রশ্নে অটল থাকত, তবে তিনি তা পাঁচ দিন করে দিতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
بَابٌ فِي شَأْنِ الْغُسْلِ مِنَ الْجَنَابَةِ وَمَا فِيهَا
জানাবাত হতে গোসলের বিষয় এবং এ সংক্রান্ত বিধিবিধানের পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
6 - حَدَّثَنَا مُحَاضِرُ بْنُ الْمُوَرِّعِ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، قَالَتْ: «وَضَعْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غُسْلًا مِنَ الْجَنَابَةِ، فَصَبَّ بِشِمَالِهِ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ، ثُمَّ صَبَّ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ فَغَسَلَ فَرْجَهُ، ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ الْأَرْضَ، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ غَسَلَ رَأْسَهُ، ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى جَسَدِهِ، ثُمَّ تَنَحَّى فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ، فَأَتَيْتُهُ بِمِنْدِيلٍ فَلَمْ يَبْغِهِ، وَجَعَلَ يَنْفُضُ عَنْهُ الْمَاءَ»
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাদির ইবনুল মুওয়াররি‘, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ, তিনি সালিম ইবনে আবিল জা‘দ থেকে, তিনি কুরায়ব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি মায়মুনা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য জানাবাতের গোসলের পানি রাখলাম। অতঃপর তিনি তাঁর বাম হাত দিয়ে ডান হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং তাঁর উভয় হাত ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাত মাটির ওপর মারলেন। এরপর তিনি কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর সারা দেহে পানি প্রবাহিত করলেন। এরপর তিনি একপাশে সরে গিয়ে তাঁর উভয় পা ধৌত করলেন। আমি তাঁর নিকট একটি রুমাল নিয়ে এলাম, কিন্তু তিনি তা নিতে চাইলেন না এবং তিনি শরীর থেকে পানি ঝাড়তে লাগলেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
بَابٌ فِي شَأْنِ الْمُسْتَحَاضَةِ وَمَا فِيهَا
ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলার অবস্থা এবং এ সংক্রান্ত বিধানাবলি বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
7 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ، أَفَأَدَعُ الصَّلَاةَ؟ قَالَ: «إِنَّمَا ذَلِكَ عِرْقٌ وَلَيْسَ بِحَيْضَةٍ، فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَدَعِي الصَّلَاةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي»
৭ - আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন এক নারী যার ইস্তিহাজা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) হয়, ফলে আমি পবিত্র হতে পারি না। তবে কি আমি সালাত ছেড়ে দেব? তিনি বললেন: "এটি তো কেবল একটি শিরার রক্ত, ঋতুস্রাব নয়। সুতরাং যখন ঋতুস্রাব শুরু হবে তখন সালাত ছেড়ে দাও, আর যখন তা শেষ হয়ে যাবে তখন তোমার শরীর থেকে রক্ত ধুয়ে ফেলো এবং সালাত আদায় করো।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
بَابٌ فِي شَأْنِ النُّفَسَاءِ وَمَا فِيهَا
নিফাসগ্রস্ত নারীর অবস্থা এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াবলির পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ أَبِي سَهْلٍ - رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ - عَنْ مُسَّةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: «كَانَتَ النُّفَسَاءُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَقْعُدُ بَعْدَ نِفَاسِهَا أَرْبَعِينَ يَوْمًا - أَوْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً -، كُنَّا نَطْلِي عَلَى وُجُوهِنَا بِالْوَرْسِ مِنَ الْكَلَفِ»
৮ - আবু নুআইম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যুহায়র আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবদিল আলা থেকে, তিনি আবু সাহল থেকে - যিনি বসরার একজন লোক - তিনি মুস্সাহ থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে নিফাসওয়ালী (প্রসূতি) নারীরা তাদের নিফাসের পর চল্লিশ দিন - অথবা চল্লিশ রাত - (ইবাদত থেকে) বিরত থাকতেন। আমরা মেছতার কারণে আমাদের চেহারায় 'ওয়ারস' (এক প্রকার সুগন্ধি উদ্ভিদ) মাখতাম।»
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
بَابٌ فِي شَأْنِ مَوَاقِيتِ الصَّلَاةِ وَمَا فِيهَا
সালাতের ওয়াক্তসমূহ এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াবলি বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
9 - حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَمَّنِي جِبْرِيلُ عِنْدَ الْبَيْتِ مَرَّتَيْنِ، فَصَلَّى بِيَ الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ فَكَانَ كَقَدْرِ الشِّرَاكِ، ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْعَصْرَ حِينَ صَارَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَهُ، ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْمَغْرِبَ حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ، ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ، ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْفَجْرَ حِينَ حَرُمَ الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ عَلَى الصَّائِمِ، ثُمَّ صَلَّى بِيَ الظُّهْرَ مِنَ الْغَدِ حِينَ صَارَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَهُ، ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْعَصْرَ حِينَ صَارَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَيْهِ، ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْمَغْرِبَ حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ، ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْعِشَاءَ حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ، ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ، ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيَّ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ هَذَا وَقْتُ الْأَنْبِيَاءِ قَبْلَكَ، الْوَقْتُ فِيمَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ "
৯ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ক্বাবীসাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী, তিনি আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে আইয়্যাশ ইবনে আবী রাবীআহ থেকে, তিনি হাকীম ইবনে হাকীম ইবনে আব্বাদ ইবনে হুনায়ফ থেকে, তিনি নাফে ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জিবরাঈল কাবার নিকট আমাকে দুইবার ইমামতি করেছেন; তিনি আমাকে যোহরের সালাত আদায় করালেন যখন সূর্য ঢলে পড়ল এবং ছায়া ছিল জুতার ফিতার সমান। এরপর তিনি আমাকে আসরের সালাত আদায় করালেন যখন কোনো বস্তুর ছায়া তার সমান হলো। তারপর তিনি আমাকে মাগরিবের সালাত আদায় করালেন যখন রোজাদার ইফতার করে। অতঃপর তিনি আমাকে এশার সালাত আদায় করালেন যখন পশ্চিম দিগন্তের লালিমা অদৃশ্য হলো। এরপর তিনি আমাকে ফজরের সালাত আদায় করালেন যখন রোজাদারের জন্য পানাহার হারাম হয়। এরপর পরবর্তী দিন তিনি আমাকে যোহরের সালাত আদায় করালেন যখন কোনো বস্তুর ছায়া তার সমান হলো। তারপর তিনি আমাকে আসরের সালাত আদায় করালেন যখন কোনো বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হলো। এরপর তিনি আমাকে মাগরিবের সালাত আদায় করালেন যখন রোজাদার ইফতার করে। অতঃপর তিনি আমাকে এশার সালাত আদায় করালেন যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলো। এরপর তিনি আমাকে ফজরের সালাত আদায় করালেন যখন বেশ ফর্সা হয়ে গেল। তারপর তিনি আমার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! এটিই আপনার পূর্ববর্তী নবীগণের নির্ধারিত সময়, আর (সালাতের) সময় হলো এই দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময়টুকু।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
بَابٌ فِي شَأْنِ الصَّلَاةِ وَمَا فِيهَا
সালাতের মর্যাদা ও এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
10 - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ يَحْيَى بْنِ خَلَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَعَلَيْكَ، ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ» ، قَالَ: فَرَجَعَ فَصَلَّى فَجَعَلْنَا نَرْمُقُ صَلَاتَهُ لَا نَدْرِي مَا يَعِيبُ فِيهَا، فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَعَلَيْكَ، ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ» فَذَكَرَ ذَلِكَ إِمَّا مَرَّتَيْنِ وَإِمَّا ثَلَاثًا، فَقَالَ الرَّجُلُ: لَا أَدْرِي مَا عِبْتَ عَلَيَّ مِنْ صَلَاتِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّهَا لَا تَتِمُّ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يُسْبِغَ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عز وجل فَيَغْسِلَ وَجْهَهُ، وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ، وَيَمْسَحَ بِرَأْسِهِ وَرِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ، ثُمَّ يُكَبِّرَ اللَّهَ وَيَحْمَدَهُ وَيُمَجِّدَهُ، وَيَقْرَأَ مِنَ الْقُرْآنِ مَا أَذِنَ اللَّهُ لَهُ فِيهِ وَتَيَسَّرَ، ثُمَّ يُكَبِّرَ فَيَرْكَعَ فَيَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ وَتَسْتَرْخِيَ ثُمَّ يَقُولُ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، وَيَسْتَوِيَ قَائِمًا حَتَّى يَأْخُذَ كُلُّ عُضْوٍ مَأْخَذَهُ وَيُقِيمَ صُلْبَهُ ثُمَّ يُكَبِّرَ فَيَسْجُدَ وَيُمَكِّنَ ⦗ص: 59⦘ جَبْهَتَهُ مِنَ الْأَرْضِ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ وَتَسْتَرْخِيَ، ثُمَّ يُكَبِّرَ فَيَرْفَعَ رَأْسَهُ فَيَسْتَوِيَ قَاعِدًا عَلَى مَقْعَدَتِهِ وَيُقِيمَ صُلْبَهُ " فَوَصَفَ الصَّلَاةَ هَكَذَا حَتَّى فَرَغَ ثُمَّ قَالَ: «لَا تَتِمُّ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يَفْعَلَ ذَلِكَ»
১০ - হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম ইবনু ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবি তালহা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলি ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু খাল্লাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর চাচা রিফায়াহ ইবনু রাফে' থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এল এবং মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। যখন সে তার সালাত শেষ করল, তখন সে এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উপস্থিত লোকজনের প্রতি সালাম দিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তোমার উপরও শান্তি বর্ষিত হোক, ফিরে যাও এবং পুনরায় সালাত আদায় করো, কারণ তুমি সালাত আদায় করোনি।" বর্ণনাকারী বলেন: সে ফিরে গেল এবং সালাত আদায় করল। আমরা তার সালাতের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছিলাম কিন্তু তাতে কী ত্রুটি ছিল তা আমরা বুঝতে পারছিলাম না। যখন সে তার সালাত শেষ করল, তখন এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও উপস্থিত লোকজনকে সালাম দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমার উপরও শান্তি বর্ষিত হোক, ফিরে যাও এবং পুনরায় সালাত আদায় করো, কারণ তুমি সালাত আদায় করোনি।" তিনি এটি দুই অথবা তিনবার বললেন। তখন লোকটি বলল: "আমি জানি না আপনি আমার সালাতে কী ত্রুটি পেয়েছেন।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমাদের কারো সালাত ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে পরিপূর্ণভাবে অজু করে যেমনটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সে তার মুখমণ্ডল এবং কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করবে, তার মাথা মাসেহ করবে এবং টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধৌত করবে। তারপর আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করবে (তাকবির দেবে), তাঁর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করবে এবং কুরআন থেকে যা আল্লাহ তার জন্য পাঠের অনুমতি দিয়েছেন ও যা সহজ করেছেন তা পাঠ করবে। এরপর তাকবির বলবে এবং রুকু করবে, আর তার দুই হাতের তালু দুই হাঁটুর ওপর রাখবে যতক্ষণ না তার জোড়াসমূহ স্থির ও শিথিল হয়। তারপর বলবে: 'আল্লাহ তাঁর প্রশংসা শ্রবণ করেন যে তাঁর প্রশংসা করে', এবং সোজা হয়ে দাঁড়াবে যতক্ষণ না প্রতিটি অঙ্গ তার নিজ নিজ স্থানে স্থির হয় এবং পিঠ সোজা হয়। তারপর তাকবির বলবে এবং সিজদা করবে এবং ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ যমীনে তার কপাল স্থির করবে যতক্ষণ না তার জোড়াসমূহ স্থির ও শিথিল হয়। তারপর তাকবির বলবে এবং তার মাথা তুলবে এবং নিতম্বের ওপর সোজা হয়ে বসবে এবং তার পিঠ সোজা করবে।" এভাবে তিনি সালাতের বর্ণনা প্রদান করলেন যতক্ষণ না তা শেষ হলো, তারপর বললেন: "তোমাদের কারো সালাত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে এরূপ করবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
11 - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، أَخْبَرَنَا رَبِيعُ بْنُ صُبَيْحٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: ⦗ص: 60⦘ «كُلُّ صَلَاةٍ لَا يَحْضُرُهَا قَلْبُكَ، فَهِيَ إِلَى الْعُقُوبَةِ أَسْرَعُ مِنْهَا إِلَى الثَّوَابِ»
১১ - হাজ্জাজ বিন মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাবী বিন সবিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ «এমন প্রত্যেক সালাত যাতে তোমার অন্তর উপস্থিত থাকে না, তা সওয়াবের তুলনায় শাস্তির দিকেই অধিক দ্রুত ধাবিত হয়।»
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
بَابٌ فِي شَأْنِ الْجُمُعَةِ وَمَا فِيهَا
জুমুআর মাহাত্ম্য ও এতে যা রয়েছে সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
12 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، وَقَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ الثَّقَفِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ غَسَّلَ وَاغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَغَدَا وَابْتَكَرَ فَجَلَسَ مِنَ الْإِمَامِ قَرِيبًا فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا أَجْرُ سَنَةٍ صِيَامُهَا وَقِيَامُهَا»
12 - আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা এবং কাবীসাহ ইবনে উকবাহ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আবু আল-আশ'আস আস-সান'আনী থেকে, তিনি আওস ইবনে আওস আস-সাকাফী থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জুমার দিনে (মাথা) ধুইয়ে দিল এবং নিজে গোসল করল, অতি ভোরে বের হলো এবং শুরুতেই মসজিদে উপস্থিত হলো, অতঃপর ইমামের কাছাকাছি বসল এবং মনোযোগ দিয়ে শুনল ও চুপ থাকল, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য এক বছরের রোজা ও (রাতের) সালাতের সওয়াব থাকবে।»
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
بَابٌ فِي شَأْنِ مَنْ يَتَخَلَّفُ عَنِ الْجُمُعَةِ
জুমুআর সালাত হতে যারা অনুপস্থিত থাকে তাদের অবস্থা বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِقَوْمٍ يَتَخَلَّفُونَ عَنِ الْجُمُعَةِ: «لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ أُحَرِّقُ عَلَى الَّذِينَ يَتَخَلَّفُونَ عَنِ الْجُمُعَةِ بُيُوتَهُمْ»
১৩ - আবু নুআইম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহাইর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক হতে, তিনি আবুল আহওয়াস হতে, তিনি আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমুআর সালাত থেকে পেছনে থেকে যাওয়া (অনুপস্থিত থাকা) এক কওমের উদ্দেশ্যে বলেছেন: "অবশ্যই আমি সংকল্প করেছি যে, আমি একজনকে নির্দেশ দেব যেন সে মানুষকে সালাত পড়ায়, এরপর যারা জুমুআর সালাত হতে পেছনে থেকে যায়, তাদের ঘরবাড়িগুলো জ্বালিয়ে দেব।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
بَابٌ فِي شَأْنِ الزَّكَاةِ وَمَا فِيهَا
যাকাতের মাহাত্ম্য এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
14 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ بْنَ خَالِدٍ، يُحَدِّثُ طَاوُسًا قَالَ: " جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَلَا تَغْزُو؟ فقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ "
১৪ - উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হানজালা ইবনে আবি সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইকরিমা ইবনে খালিদকে তাউসের নিকট বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি ইবনে উমরের নিকট এসে বলল: হে আবু আবদুর রহমান, আপনি কি যুদ্ধে বের হবেন না? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের রোজা পালন করা।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
بَابُ مَا تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ
যে সকল সম্পদে জাকাত ওয়াজিব হয় তার অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
15 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ»
১৫ - আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের সুফিয়ান সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমর ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণে কোনো যাকাত নেই, পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে কোনো যাকাত নেই এবং পাঁচটির কম উটে কোনো যাকাত নেই।»
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
بَابٌ فِي شَأْنِ زَكَاةِ الْفِطْرِ
যাকাতুল ফিতর সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাউন লি-মুহাম্মাদ বিন আসলাম আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
16 - حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ أَبِي عَمَّارٍ، قَالَ: سَأَلْنَا قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ عَنْ صَدَقَةِ الْفِطْرِ، فَقَالَ: «أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهَا قَبْلَ أَنْ تَنْزِلَ الزَّكَاةُ، فَلَمَّا نَزَلَتِ الزَّكَاةُ لَمْ يَأْمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا وَكُنَّا نَفْعَلُهُ»
১৬ - ইয়ালা ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান আস-সাওরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি আল-কাসিম ইবনে মুখাইমিরাহ থেকে, তিনি আবু আম্মার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা কাইস ইবনে সাদকে সদাকাতুল ফিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাকাতের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আমাদের তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন জাকাতের বিধান অবতীর্ণ হলো, তখন তিনি আমাদের পুনরায় নির্দেশও দেননি এবং এটি থেকে নিষেধও করেননি, আর আমরা তা পালন করতাম।»