(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
التيسير على النساء في الحج في ضوء السنة النبوية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: التيسير على النساء في الحج في ضوء السنة النبوية
المؤلف: نوال بنت عبد العزيز العيد
الناشر: دار الحضارة للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م
عدد الصفحات: 93
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ربيع الأول 1444
সুন্নাহর আলোকে হজের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সহজীকরণ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সুন্নাহর আলোকে হজের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সহজীকরণ
লেখক: নাওয়াল বিনতে আব্দুল আজীজ আল-ঈদ
প্রকাশক: দারুল হাযারা প্রকাশনী ও পরিবেশনী
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা পাঠাগারে প্রকাশের তারিখ: ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، وبعد:
فإن من نعم الله على عباده أن بعث لهم نبيه بالحنيفية السمحة، وجعل التيسير من خصائص هذه الرسالة الخاتمة، فقال: {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الأعراف: 157] لقد رسمت هذه الآية ملامح هذه الرسالة الخالدة من خلال وصف رسولها صلى الله عليه وسلم، ونصت على أنه بعث لوضع الإصر والغل.
إنه تصوير لحالة الضيق والمشقة التي أماطتها هذه الشريعة بالسماحة واليسر.
ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলগণের ওপর। অতঃপর:
বান্দাদের ওপর আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত হলো যে, তিনি তাদের কাছে তাঁর নবীকে উদার ও একনিষ্ঠ দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন এবং সহজসাধ্যতাকে এই সর্বশেষ বার্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: {যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যিনি উম্মি নবী, যাঁর কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; যিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেন ও মন্দ বা অস্বীকৃত (المنكر) কাজ থেকে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হারাম করেন; আর তিনি তাদের ওপর থেকে তাদের গুরুভার বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ যা তাদের ওপর ছিল, তা অপসারিত করেন। সুতরাং যারা তাঁর ওপর ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূরের অনুসরণ করে; তারাই সফলকাম।} [আল-আরাফ: ১৫৭] এই আয়াতটি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি বর্ণনার মাধ্যমে এই শাশ্বত বার্তার রূপরেখা অঙ্কন করেছে এবং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, তিনি গুরুভার বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ মোচনের জন্যই প্রেরিত হয়েছেন।
এটি মূলত সেই সংকীর্ণতা ও ক্লেশদায়ক অবস্থার একটি চিত্রায়ন, যা এই শরিয়ত তার উদারতা ও সহজবোধ্যতার মাধ্যমে দূরীভূত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
والإصر: يقول عنه النضير بن شميل: العهد الثقيل. وكل ثقيل إصر؛ لأنه يأصر صاحبه، أي: يحبسه عن الحركة»
(1) (.
والأغلال جمع غُل -بالضم- وهي جامعة الحديد تكون في العنق واليدين. قال مرتضى في «التاج» عن الأغلال: «وقد تكرر ذكرها في القرآن والسنة، ويراد بها التكاليف الشاقة، والأعمال المتبعة
(2)وليس التيسير ورفع الحرج قاعدة فقهية فحسب عبر عنها الفقهاء بقولهم «المشقة تجلب التيسير» وقول الإمام الشافعي: الأمر إذا ضاق اتسع
(3)، بل التيسير، ورفع الحرج مقصد من مقاصد أعلى الشريعة، والكتاب والسنة يدلان على ذلك بصريح النص في مواضع عدة، يقول تعالى: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ} [البقرة: 286].
--------------------------------------------
এবং 'ইসর' (الإصر): এ সম্পর্কে নজর বিন শুমাইল বলেন: এটি একটি ভারী অঙ্গীকার। প্রতিটি ভারী বোঝা বা বিষয়ই হলো 'ইসর' (إصر); কারণ এটি তার অধিকারীকে আবদ্ধ করে রাখে, অর্থাৎ নড়াচড়া বা চলাফেরা করতে বাধা প্রদান করে।
(১) (
আর 'আঘলাল' (الأغلال) হলো 'গুল্ল' (غُل)-এর বহুবচন —পেশ যোগে— যা মূলত গলার সাথে দুই হাতকে একত্রে বেঁধে রাখা লোহার শিকলকে বোঝায়। মুরতাজা 'তাজুল আরুস' গ্রন্থে আঘলাল সম্পর্কে বলেছেন: "কুরআন ও সুন্নাহতে এর উল্লেখ বারবার এসেছে এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কষ্টসাধ্য বিধানসমূহ এবং ক্লান্তিকর আমলসমূহ।"
(২)সহজসাধ্যতা ও সংকীর্ণতা দূরীকরণ কেবল একটি ফিকহী মূলনীতিই (قاعدة فقهية) নয়—যা ফকিহগণ (فقهاء) তাদের এই উক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন যে, "কষ্ট সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে" এবং ইমাম শাফিয়ী-র এই উক্তি: "কোনো বিষয় যখন সংকীর্ণ হয়, তখন তা প্রশস্ততা লাভ করে"
(৩)—বরং সহজসাধ্যতা ও সংকীর্ণতা দূরীকরণ হলো শরীয়তের (الشريعة) উচ্চতর মাকাসিদসমূহের (مقاصদ/مقاصد الشريعة) অন্তর্ভুক্ত অন্যতম লক্ষ্য। কুরআন ও সুন্নাহ বহু স্থানে সুস্পষ্ট ভাষ্যের (نص) মাধ্যমে এর প্রমাণ প্রদান করে। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ কোনো প্রাণীর ওপর তার সাধ্যের অতীত ভার অর্পণ করেন না। সে যা ভালো অর্জন করেছে তা তারই জন্য এবং সে যা মন্দ কামাই করেছে তাও তার ওপরই বর্তাবে। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি বিস্মৃত হই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন ভারী বোঝা (إصر) চাপিয়ে দেবেন না, যেমনটি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের প্রতিপালক! এমন ভার আমাদের ওপর দেবেন না, যা বহন করার সামর্থ্য আমাদের নেই।} [আল-বাকারা: ২৮৬]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وجاء في المسند
(1) من حديث أبي أمامة مرفوعاً: «إني لم أبعث باليهودية ولا بالنصرانية، ولكني بعثت بالحنيفية السمحة».
وأخرج البخاري
(2) من حديث عائشة رضي الله عنها قالت: «ما خير رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أمرين قط إلا أخذ أيسرهما ما لم يكن إثماً، فإن كان إثماً كان أبعد الناس منه» وإنما قالت: «ما لم يكن إثماً» لأن ترك الإثم لا مشقة فيه.
وما مشروعية الرخص المقطوع بها من قصر الصلاة للمسافر مع الجمع، وتناول المحرمات في حال الاضطرار إلا دليل قطعي على مطلق رفع الحرج والمشقة.
وإذا كانت النصوص الشرعية المتقدمة جاءت لتقرير قاعدة التيسير ورفع الحرج في أمور الدين عامة، فإن قصد التيسير يظهر في الحج بخصوصه، فها هو رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلنها في حجة الوداع، فيما أخرجه البخاري
(3)، ومسلم
(4) من حديث عبد الله بن عمرو بن
--------------------------------------------
Musnad
(1)-এ আবু উমামা থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসে এসেছে: «নিশ্চয়ই আমি ইহুদি ধর্ম কিংবা খ্রিস্টধর্ম দিয়ে প্রেরিত হইনি, বরং আমি সহজ-সরল ও উদার (হানিফিয়াহ) ধর্ম দিয়ে প্রেরিত হয়েছি।»
বুখারি
(2) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তিনি সর্বদা সহজতরটিই গ্রহণ করতেন, যতক্ষণ না তা কোনো পাপের কাজ হতো। আর যদি তা পাপ হতো, তবে তিনি ছিলেন তা থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দূরবর্তী।» আর তিনি মূলত একারণেই বলেছেন যে: «যতক্ষণ তা পাপ না হতো», কারণ পাপ বর্জন করার মাঝে কোনো কষ্ট নেই।
মুসাফিরের জন্য সালাত কসর ও জমা করা এবং নিরুপায় অবস্থায় নিষিদ্ধ বস্তু ভক্ষণ করার মতো অকাট্যভাবে সাব্যস্ত হওয়া ছাড় (رخصة) সমূহের বিধান মূলত সর্বাবস্থায় সংকীর্ণতা ও কাঠিন্য দূর করার এক অকাট্য (قطعي) প্রমাণ।
যদি উল্লিখিত শরয়ি নস (نصوص) সমূহ সাধারণভাবে দ্বীনের বিষয়াবলীতে সহজীকরণ ও কাঠিন্য দূর করার মূলনীতি সাব্যস্ত করার জন্য এসে থাকে, তবে হজের ক্ষেত্রে সহজীকরণের উদ্দেশ্যটি বিশেষভাবে ফুটে ওঠে। এই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের সময় তা ঘোষণা করেছেন, যা বুখারি
(3) এবং মুসলিম
(4) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে... এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
العاص أن رسول الله صلى الله عليه وسلم وقف في حجة الوداع بمنى للناس يسألونه، فجاءه رجل، فقال: لم أشعر فحلقت قبل أن أذبح فقال: «اذبح، ولا حرج». وجاء آخر، فقال: لم أشعر فنحرت قبل أن أرمي؟ قال: «ارم، ولا حرج». فما سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن شيء قدم ولا أخر إلا قال: «افعل ولا حرج».
ولأن الحج عبادة قرنت بالاستطاعة نصاً، والحج في كثير من أحكامه مبني على التخيير، والتخيير أساس التيسير، وهذا حكم عام لجميع الحجيج، فكيف الأمر بالنساء اللائي عدّ رسول الله صلى الله عليه وسلم الحج في حقهن جهاداً، فقال فيما أخرجه الإمام أحمد»
(1)، وابن ماجة»
(2) من حديث عائشة قالت: قلت: يا رسول الله هل على النساء من جهاد؟ قال: «نعم، عليهن جهاد لا قتال فيه الحج والعمرة» واللفظ لأحمد، وصححه الألباني في الإرواء»
(3).
وفي البخاري في باب حج النساء
(4) من حديث عائشة قالت:
--------------------------------------------
আল-আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের সময় মিনায় লোকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য অবস্থান করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে বলল: "আমি না বুঝে জবেহ করার আগেই মাথা মুণ্ডন করে ফেলেছি।" তিনি বললেন: "জবেহ করো, এতে কোনো অসুবিধা নেই।" অন্য একজন এসে বলল: "আমি না বুঝে পাথর নিক্ষেপ করার আগেই পশু জবেহ করে ফেলেছি?" তিনি বললেন: "পাথর নিক্ষেপ করো, এতে কোনো অসুবিধা নেই।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আগে বা পরে করা হয়েছে এমন কোনো কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলেই তিনি বলতেন: "করো, এতে কোনো অসুবিধা নেই।"
তাছাড়া হজ এমন একটি ইবাদত যা অকাট্য দলিলের মাধ্যমে সামর্থ্যের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। হজের অনেক বিধানই ঐচ্ছিকতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, আর এই ঐচ্ছিকতাই হলো সহজকরণের মূল ভিত্তি। এটি সকল হাজিদের জন্য একটি সাধারণ বিধান; তাহলে সেই নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কেমন হবে যাদের পক্ষ থেকে করা হজকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদ হিসেবে গণ্য করেছেন? ইমাম আহমদ এবং ইবনে মাজাহ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! নারীদের ওপর কি জিহাদ আছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তাদের ওপর এমন এক জিহাদ আছে যাতে কোনো লড়াই নেই; তা হলো হজ ও ওমরাহ।" শব্দগুলো আহমদের এবং আলবানি ইরওয়াউল গালিল গ্রন্থে একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন।
এবং বুখারিতে 'নারীদের হজ' পরিচ্ছেদে আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قلت: يا رسول الله ألا نغزو، ونجاهد معكم؟ فقال: «لكن أحسن الجهاد، وأجمله، الحج: حج مبرور» فقالت عائشة: فلا أدع الحج بعد إذ سمعت هذا من رسول الله.
بل إن الحج جهاد كل ضعيف، كما أخرجه ابن ماجة
(1) من حديث أم سلمة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الحج جهاد كل ضعيف» وحسنه الألباني، وعند النسائي
(2) بسند لا بأس به من حديث أبي هريرة مرفوعاً: «جهاد الكبير، والصغير، والضعيف، والمرأة الحج والعمرة».
ولا شك أن اختيار لفظ «الجهاد» من رسول الله صلى الله عليه وسلم له دلالته، ومعانيه، «فالجهاد» حالة يتصور فيها بذل الجهد، ولحوق المشقة، وهي كلمة تعد مقدمة لنتائج من صور التيسير والتخفيف لمن كانت هذه حالة كما ستقف عليه إن شاء الله.
وفي البحث سيتضح لك منحى التعامل مع المشقات في الحج، لاسيما مع وجود الخلاف القائم وعدم وجود النص القاطع.
--------------------------------------------
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি অভিযানে অংশগ্রহণ করব না এবং আপনাদের সাথে জিহাদ করব না? তিনি বললেন: "বরং সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে সুন্দর জিহাদ হলো হজ্জ—অর্থাৎ কবুল হজ্জ।" আয়েশা (রা.) বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে এটি শোনার পর আমি আর কখনো হজ্জ বর্জন করিনি।
বস্তুত হজ্জ হলো প্রত্যেক দুর্বলের জিহাদ, যেমনটি ইবনে মাজাহ
(১) উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হজ্জ হলো প্রত্যেক দুর্বলের জিহাদ।" আলবানী একে হাসান (حسن) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর নাসায়ীর
(২) নিকট মারফূ (مرفوع) সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে যার সনদ (سند) নির্ভরযোগ্য (لا بأس به): "বৃদ্ধ, শিশু, দুর্বল এবং নারীর জিহাদ হলো হজ্জ ও উমরাহ।"
নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক 'জিহাদ' শব্দটি চয়ন করার বিশেষ তাৎপর্য ও অর্থ রয়েছে। কারণ 'জিহাদ' এমন একটি অবস্থা যেখানে প্রচেষ্টা ব্যয় এবং কষ্ট সহ্য করার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। এই শব্দটি মূলত সেই সব মানুষের জন্য সহজীকরণ ও লাঘবের বিভিন্ন পদ্ধতির ফলস্বরূপ একটি ভূমিকা হিসেবে গণ্য হয় যাদের অবস্থা এমন, যা আপনি ইনশাআল্লাহ সামনে জানতে পারবেন।
এই গবেষণায় আপনার নিকট হজ্জের কষ্টগুলো মোকাবিলার কর্মপন্থা স্পষ্ট হবে, বিশেষ করে যেখানে বিদ্যমান মতভেদ রয়েছে এবং কোনো অকাট্য দলিলের অনুপস্থিতি রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
يقول ابن القيم في تغير الأزمنة، والأمكنة، والأحوال: «هذا فصل عظيم النفع جداً، وقع بسبب الجهل به غلط عظيم على الشريعة أوجب من الحرج والمشقة وتكليف ما لا سبيل إليه ما يُعلم أن الشريعة الباهرة التي في أعلى رتب المصالح لا تأتي به، فإن الشريعة مبناها وأساسها على الحكم ومصالح العباد في المعاش والمعاد، وهي عدل كلها، ورحمة كلها، ومصالح كلها، وحكمة كلها، فكل مسألة خرجت عن العدل إلى الجور، وعن الرحمة إلى ضدها، وعن المصلحة إلى المفسدة، وعن الحكمة إلى العبث، فليست من الشريعة، وإن أدخلت فيها بالتأويل، فالشريعة عدل الله بين عباده، ورحمته بين خلقه، وحكمته الدالة عليه، وعلى صدق رسوله»
(1).
وتغير الزمان المشار إليه هو تغير أحوال الناس، فالحجيج
الذين كانوا يعدون بالآلاف أصبحوا يعدون بالملايين، والأنفس القليلة التي كانت تموت في موسم الحج أصبحت تعد بالمئات.
ومحل الشاهد منه أن الإبقاء على أحكام الجزئيات التي تخالف مقاصد الشريعة، وتؤدي إلى مشقة وإعنات مخالف لروح الشريعة وغلط.
--------------------------------------------
ইবনুল কায়্যিম কাল, স্থান ও পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্পর্কে বলেন: «এটি অত্যন্ত উপকারী একটি পরিচ্ছেদ। এ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে শরীয়তের ওপর এক বিরাট ভুল সংঘটিত হয়েছে, যা এমন সংকীর্ণতা, কষ্ট এবং অসাধ্য সাধনকে আবশ্যক করে তুলেছে যা সম্পর্কে এটি সুনিশ্চিত যে, জনকল্যাণের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থানকারী এই উজ্জ্বল শরীয়ত তা নিয়ে আসেনি। কেননা শরীয়তের বুনিয়াদ ও ভিত্তি হলো প্রজ্ঞা (حكمة) এবং ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের জনকল্যাণ (مصلحة)। শরীয়ত পুরোপুরি ন্যায়বিচার (عدل), পুরোপুরি রহমত (رحمة), পুরোপুরি জনকল্যাণ (مصلحة) এবং পুরোপুরি প্রজ্ঞা (حكمة)। সুতরাং যে মাসআলা ন্যায়বিচার (عدل) থেকে অন্যায়ের দিকে, রহমত (رحمة) থেকে তার বিপরীতে, জনকল্যাণ (مصلحة) থেকে অনিষ্টের (مفسدة) দিকে এবং প্রজ্ঞা (حكمة) থেকে নিরর্থকতার দিকে ধাবিত হয়, তা শরীয়তের অংশ নয়—যদিও তা ব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমে এর অন্তর্ভুক্ত করা হোক না কেন। শরীয়ত হলো বান্দাদের মাঝে আল্লাহর ন্যায়বিচার (عدل), তাঁর সৃষ্টির প্রতি তাঁর রহমত (رحمة) এবং তাঁর সত্তা ও তাঁর রাসূলের সত্যতার ওপর প্রমাণকারী প্রজ্ঞা (حكمة)»
(১)।
আর উল্লিখিত সময়ের পরিবর্তন হলো মানুষের অবস্থার পরিবর্তন। সুতরাং হজ পালনকারী
যাঁদের সংখ্যা আগে হাজারে গণনা করা হতো, বর্তমানে তা মিলিয়নে পৌঁছেছে; আর হজের মৌসুমে যেখানে অল্প সংখ্যক লোক মারা যেত, বর্তমানে তা শত শত হচ্ছে।
এ থেকে মূল আলোচ্য বিষয় (محل الشاهد) হলো—শরীয়তের উদ্দেশ্যের (مقاصد الشريعة) পরিপন্থী এবং অহেতুক কষ্ট ও সংকীর্ণতা সৃষ্টিকারী শাখাগত বিধানসমূহের (جزئيات) ওপর অটল থাকা শরীয়তের মূল চেতনার পরিপন্থী এবং একটি ভুল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأي مشقة أعظم من ذهاب الأنفس في الزحام، والإثخان بالجروح والآلام، وإلحاق الضرر بعباد الله، ألا يستحق الأمر اجتهاداً، لاسيما في حق العجزة والضعفاء؟
(1)وقد سعدت بتناول موضوع «التيسير على النساء في الحج في ضوء السنة النبوية»:
وقسمت البحث إلى مقدمة، ومبحثين، وخاتمة.
المقدمة: وضمنتها: أهمية البحث، و
خطة البحث.المبحث الأول: مظاهر التيسير في ما قبل الحج
وفيه خمسة مطالب:
المطلب الأول: الاستطاعة التي توجب الحج على الآفاقي.
المطلب الثاني: أذن الزوج لزوجته في فريضة الحج.
المطلب الثالث: فرض الحج.
المطلب الرابع: إحرام الحائض بالحج.
المطلب الخامس: الاشتراط للحاج.
المبحث الثاني: مظاهر التيسير في أثناء الحج.
وفيه مطلبان:
--------------------------------------------
ভিড়ের মধ্যে মানুষের প্রাণহানি, ক্ষতবিক্ষত হওয়া ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির শিকার হওয়া এবং আল্লাহর বান্দাদের ক্ষতির সম্মুখীন করার চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে? বিষয়টি কি বিশেষ করে অক্ষম ও দুর্বলদের ক্ষেত্রে কোনো ইজতিহাদ (اجتهاد) দাবি করে না?
(১)আমি 'সুন্নাহর আলোকে হজে নারীদের জন্য সহজীকরণ' বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পেরে আনন্দিত:
আমি গবেষণাটিকে একটি ভূমিকা, দুটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।
ভূমিকা: এতে গবেষণার গুরুত্ব এবং
গবেষণা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: হজের পূর্ববর্তী সহজীকরণের দিকসমূহ
এতে পাঁচটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: দূরবর্তী স্থান থেকে আগতদের (আফাকি) ওপর হজ ফরজ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সামর্থ্য (استطاعة)।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ফরজ হজের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে স্বামীর অনুমতি প্রদান।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: হজের বিধান বা ফরজ (فرض)।
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী নারীর হজের ইহরাম (إحرام)।
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: হাজিদের জন্য শর্তারোপ (الاشتراط)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হজ চলাকালীন সহজীকরণের দিকসমূহ।
এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
المطلب الأول: التيسير في أركان الحج: وفيه مسألتان:
المسألة الأولى: التيسير في الوقوف بعرفة.
المسألة الثانية: التيسير في طواف الإفاضة.
المطلب الثاني: التيسير في واجبات الحج: وفيه ثلاث مسائل:
المسألة الأولى: تعجل الدفع من مزدلفة.
المسألة الثانية: التيسير في الرمي.
المسألة الثالثة: سقوط طواف الوداع عن الحائض والنفساء.
الخاتمة.
وقد حرصت على بيان أقوال الفقهاء المتعلقة بالمسألة، مع إيراد أدلتهم، وتعليلاتهم، معتمدة على المنهج العلمي المتبع في البحوث من عزو الآيات والأقوال، وتخريج الحديث.
سائلة الله التوفيق والسداد.
প্রথম পরিচ্ছেদ: হজের রুকনসমূহের ক্ষেত্রে সহজীকরণ: এতে দুটি মাসআলা রয়েছে:
প্রথম মাসআলা: আরাফায় অবস্থানের ক্ষেত্রে সহজীকরণ।
দ্বিতীয় মাসআলা: তাওয়াফে ইফাদাহ্-র ক্ষেত্রে সহজীকরণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হজের ওয়াজিবসমূহের ক্ষেত্রে সহজীকরণ: এতে তিনটি মাসআলা রয়েছে:
প্রথম মাসআলা: মুজদালিফা হতে দ্রুত প্রস্থান করা।
দ্বিতীয় মাসআলা: রমি (কংকর নিক্ষেপ) করার ক্ষেত্রে সহজীকরণ।
তৃতীয় মাসআলা: ঋতুবতী ও নেফাসগ্রস্ত নারীর ক্ষেত্রে তাওয়াফে বিদা মওকুফ হওয়া।
উপসংহার।
আমি মাসআলা সংশ্লিষ্ট ফকীহগণের অভিমতসমূহ তাদের দলীল ও যৌক্তিক ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা করার বিষয়ে সচেষ্ট হয়েছি। এক্ষেত্রে গবেষণায় অনুসৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো কুরআনের আয়াতের সূত্র প্রদান, বাণীসমূহের উদ্ধৃতি এবং হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج) করা।
আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الأولمظاهر التيسير في ما قبل الحج
المطلب الأولالاستطاعة التي توجب الحج على الآفاقيلاشك أن لوجوب الحج شروطاً عند أهل العلم منها ما هو شرط للوجوب والصحة، ومنها ما هو شرط للوجوب والإجزاء، ومنها ما هو شرط للوجوب فقط، وقد بسطها الأئمة في كتبهم.
وسأطرح في هذه المسألة شرطاً من شروط الوجوب ألا وهو الاستطاعة، إذ فيه أول مظهر من مظاهر تيسير الله على عباده في الحج، ولا خلاف بين أهل العلم في أن الاستطاعة شرط لوجوب الحج
(1)، لقوله تعالى: {فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [آل عمران: 97]، ولكن أهل العلم اختلفوا في بيان حقيقة هذه الاستطاعة وشروطها علماً بأن الاستطاعة نوعان:
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদহজের পূর্ববর্তী কার্যাবলিতে সহজীকরণের স্বরূপ
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদআফাকি (আفاقي) ব্যক্তির ওপর যে সামর্থ্য (استطاعة) হজ আবশ্যক করেএতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আলেমগণের নিকট হজ আবশ্যক হওয়ার (وجوب) জন্য কিছু শর্তাবলি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু শর্ত আবশ্যক হওয়া (وجوب) ও বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য, কিছু শর্ত আবশ্যক হওয়া (وجوب) ও পর্যাপ্ততার (إجزاء) জন্য এবং কিছু শর্ত শুধুমাত্র আবশ্যক হওয়ার (وجوب) জন্য। ইমামগণ তাঁদের কিতাবসমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
আমি এই মাসআলায় আবশ্যক হওয়ার (وجوب) শর্তাবলির মধ্য থেকে একটি শর্ত নিয়ে আলোচনা করব, আর তা হলো সামর্থ্য (استطاعة)। কেননা হজের ক্ষেত্রে বান্দাদের ওপর আল্লাহর সহজীকরণের প্রথম বহিঃপ্রকাশ এখানেই বিদ্যমান। আলেমগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, সামর্থ্য (استطاعة) হজ আবশ্যক হওয়ার (وجوب) জন্য একটি শর্ত
(১), মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তাতে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ রয়েছে, যেমন মাকামে ইব্রাহিম। আর যে সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য (استطاعة) আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার জন্য আবশ্যিক। আর যে অস্বীকার করল, তবে আল্লাহ তো জগতসমূহের মুখাপেক্ষী নন।} [আলে ইমরান: ৯৭]। কিন্তু আলেমগণ এই সামর্থ্যের (استطاعة) প্রকৃত স্বরূপ ও এর শর্তাবলি বর্ণনায় ভিন্নমত পোষণ করেছেন, উল্লেখ্য যে, সামর্থ্য (استطاعة) দুই প্রকার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
استطاعة بالنفس، واستطاعة بالغير. والذي يهمنا في هذه المسألة النوع الأول، ألا وهو الاستطاعة بالنفس في حق الآفاقي الذي بينه وبين مكة مسافة يعد فيها مسافراً، وقد ذكر العلماء شروطاً لتبيين حقيقة الاستطاعة بعضها مشترك بين الرجل والمرأة، والبعض الآخر يختص بالمرأة، وسأفصل القول فيما يختص بالمرأة.
ومن الشروط التي يشترك فيها الرجل والمرأة في بيان حقيقة الاستطاعة:
1. صحة البدن بأن لا يكون مريضا لا يستطيع الثبات على الراحلة
(1).
2. أمن الطريق، بأن يغلب على الظن السلامة
(2).
3. وجود الزاد المحتاج إليه.
4. وجود الراحلة إما بالتملك أو بالكراء
(3)».
--------------------------------------------
ব্যক্তিগত সক্ষমতা (استطاعة بالنفس) এবং অন্যের মাধ্যমে সক্ষমতা (استطاعة بالغير)। এই মাসআলায় আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো প্রথম প্রকারটি, আর তা হলো সেই দূরবর্তী জনপদের অধিবাসীর (آفاقي) ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সক্ষমতা (استطاعة بالنفس), যার এবং মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব তাকে মুসাফির (مسافر) হিসেবে গণ্য করে। উলামায়ে কেরাম সক্ষমতার (استطاعة) স্বরূপ বর্ণনায় কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন, যার কিছু পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ এবং অন্যগুলো কেবল নারীর জন্য নির্দিষ্ট। আমি নারীর জন্য নির্দিষ্ট বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করব।
সক্ষমতার (استطاعة) স্বরূপ বর্ণনায় পুরুষ ও নারীর সাধারণ শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে:
১. শারীরিক সুস্থতা, যাতে ব্যক্তি এমন অসুস্থ না হয় যে সে বাহনের (راحلة) ওপর স্থির থাকতে সক্ষম নয়
(১)।
২. পথের নিরাপত্তা, যাতে নিরাপত্তা লাভের বিষয়টি প্রবল ধারণার (غلبة الظن) স্তরে থাকে
(২)।
৩. প্রয়োজনীয় পাথেয় (زاد) বিদ্যমান থাকা।
৪. মালিকানা অথবা ভাড়ার মাধ্যমে বাহনের (راحلة) প্রাপ্যতা
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما الشرط الذي تختص به المرأة:
فوجود المحرم: والمحرم للمرأة هو الزوج أو من تحرم عليه بالتأبيد، وقد اختلف أهل العلم في اشتراطه على أقوال، من أشهرها:
القول الأول، لا يجب الحج على المرأة التي لا محرم لها، قال به الحسن، والنخعي، والحنفية، والحنابلة في المذهب، وإسحاق، وابن المنذر، والبغوي
(1) واستدلوا بما يلي:
ما أخرجه البخاري
(2)، ومسلم
(3) من حديث أبي هريرة قال:
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يحل لمرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تسافر مسيرة يوم وليلة، ليس معها محرم» واللفظ لمسلم. وحمل العلماء هذا الحديث على عمومه؛ لأن (امرأة) في الحديث نكرة في سياق النفي فتحمل على العموم، وعليه بوب النووي في شرحه على صحيح مسلم (باب: سفر المرأة مع محرم إلى حج وغيره).
--------------------------------------------
আর নারীর জন্য যে বিশেষ শর্তটি প্রযোজ্য:
তা হলো মাহরাম-এর উপস্থিতি: আর নারীর জন্য মাহরাম হলো তার স্বামী অথবা যার সাথে তার বিবাহ চিরতরে হারাম, মাহরাম থাকার শর্তারোপের ব্যাপারে আলিমগণ বিভিন্ন মতভেদ করেছেন, যার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো:
প্রথম মত: যে নারীর মাহরাম নেই তার ওপর হজ ফরজ নয়। হাসান বসরি, নাখয়ী, হানাফি মাজহাব এবং হাম্বলি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য মতানুসারে এটিই সিদ্ধান্ত। এছাড়াও ইসহাক, ইবনুল মুনজির এবং বাগাভী
(১) এই মত পোষণ করেছেন এবং তাঁরা নিম্নোক্ত দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন:
ইমাম বুখারি
(২) ও মুসলিম
(৩) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রাখে এমন কোনো নারীর জন্য মাহরাম ব্যতীত একদিন ও একরাতের পথ সফর করা বৈধ নয়» এবং শব্দগুলো মুসলিম থেকে নেওয়া। আলিমগণ এই হাদিসটিকে এর ব্যাপকতা (عموم)-এর ওপর প্রয়োগ করেছেন; কারণ হাদিসে 'নারী' শব্দটি না-বোধক বাক্যের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট (نكرة) হিসেবে এসেছে, যা ব্যাপকতা (عموم) নির্দেশ করে। এই ভিত্তিতেই ইমাম নববী তাঁর সহিহ মুসলিম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন (পরিচ্ছেদ: হজ ও অন্যান্য সফরে নারীর সাথে মাহরাম থাকা)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
2. ما أخرجه البخاري
(1)، ومسلم
(2) من حديث ابن عباس ? قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم، ولا يدخل عليها رجل إلا ومعها محرم، فقال رجل: يا رسول الله، إني أريد أن أخرج في جيش كذا وكذا، وامرأتي تريد الحج، فقال اخرج معها، واللفظ للبخاري، وبوب عليه البخاري: (باب حج النساء) قال الحافظ: أي هل يشترط فيه قدر زائد على حج الرجال أولا؟
(3)» قال النووي: «فيه تقديم الأهم من الأمور المتعارضة؛ لأنه لما تعارض سفره في الغزو وفي الحج معها، رجح الحج معها»
(4) لاسيما وقد رواه سعيد بن منصور عن حماد بن زيد بلفظ: فقال رجل: «يا رسول الله صلى الله عليه وسلم إني نذرت أن أخرج في جيش كذا وكذا»، فلو لم يكن شرطاً ما رخص له في ترك النذر
(5).
3. ما أخرجه الدار قطني
(6) من حديث ابن عباس قال: قال
--------------------------------------------
2. যা বুখারি
(১) এবং মুসলিম
(২) ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সা.) বলেছেন: «মাহরাম (محرم) ব্যতীত কোনো নারী যেন সফর না করে এবং তার কাছে কোনো পুরুষ যেন প্রবেশ না করে যদি না তার সাথে মাহরাম (محرم) থাকে। তখন এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি অমুক অমুক বাহিনীর সাথে যুদ্ধে বের হতে চাই, আর আমার স্ত্রী হজের ইচ্ছা পোষণ করছেন। তখন তিনি বললেন: তুমি তোমার স্ত্রীর সাথেই হজে যাও।» শব্দ (لفظ) বিন্যাস বুখারির এবং বুখারি এর ওপর শিরোনাম (باب) দিয়েছেন: (অধ্যায় (باب): নারীদের হজ)। আল-হাফিজ বলেন: অর্থাৎ এতে কি পুরুষদের হজের অতিরিক্ত কোনো শর্ত সাব্যস্ত করা হয়েছে কি না?
(৩) ইমাম নববী বলেন: «এতে পরস্পরবিরোধী বিষয়াবলির মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি বিদ্যমান; কারণ যখন যুদ্ধে যাওয়া এবং তার সাথে হজে যাওয়ার বিষয়টি পরস্পরবিরোধী হলো, তখন তিনি হজে যাওয়াকেই প্রাধান্য দিলেন»
(৪) বিশেষ করে এটি সাঈদ বিন মনসুর হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে এই শব্দে (لفظ) বর্ণনা করেছেন: তখন এক ব্যক্তি বললেন: «হে আল্লাহর রাসুল (সা.), আমি অমুক অমুক যুদ্ধে বের হওয়ার মানত (نذر) করেছি», সুতরাং যদি এটি শর্ত না হতো, তবে তাকে মানত (نذر) ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হতো না
(৫)।
3. যা দারাকুতনি
(৬) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تحجن امرأة إلا ومعها ذو محرم»، صحح إسناده الحافظ ابن حجر في الدراية في تخريج أحاديث الهداية
(1)، قال ابن قدامة: «هذا صريح في الحكم، وفيه نهي، والنهي يقتضي التحريم»
(2)4. واستدلوا بأن المرأة أنشأت سفراً في دار الإسلام، فلم يجز بغير محرم كحج التطوع، وأن المرأة بدون المحرم يخاف عليها الفتنة.
(3)القول الثاني: أن المحرم ليس بشرط في الحج الواجب، فيجب عليها أن تخرج للحج إذا وجدت رفقة مأمونين رجالاً أو نساء، قال به مالك
(4)، والأوزاعي
(5)»، والشافعي في مذهبه
(6)، وأحمد في رواية
(7). واستدلوا بما يأتي:
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মাহরাম (محرم) ব্যতীত কোনো নারী যেন অবশ্যই হজ্জ না করে।" হাফেজ ইবনে হাজার 'আদ-দিরায়া ফি তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়া' গ্রন্থে এর সনদ (إسناد)-কে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন
(১)। ইবনে কুদামা বলেন: "এটি বিধানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আর নিষেধাজ্ঞা হারাম (تحريم) হওয়াকেই আবশ্যক করে।"
(২)৪. তারা দলিল পেশ করেছেন যে, নারী দারুল ইসলামে সফর শুরু করেছে, তাই মাহরাম (محرم) ছাড়া তা বৈধ নয় যেমন নফল (تطوع) হজ্জের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তাছাড়া মাহরাম (محرم) ছাড়া নারীর ক্ষেত্রে ফিতনার আশঙ্কা থাকে।
(৩)দ্বিতীয় মত: ফরয (واجب) হজ্জের ক্ষেত্রে মাহরাম (محرم) শর্ত নয়। সুতরাং নারী যদি পুরুষ বা মহিলাদের নির্ভরযোগ্য কোনো সফরসঙ্গী পায়, তবে তার জন্য হজ্জে বের হওয়া ওয়াজিব (واجب)। ইমাম মালিক
(৪), আওযাঈ
(৫), ইমাম শাফেঈ তার মাযহাবে
(৬) এবং ইমাম আহমাদ এক বর্ণনা (رواية)
(৭) অনুযায়ী এই মত ব্যক্ত করেছেন। তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
1. ما أخرجه البخاري
(1)، من حديث عدي بن حاتم، قال بينما أنا عند النبي صلى الله عليه وسلم إذا أتاه رجل فشكا إليه الفاقة، ثم أتاه آخر فشكا قطع السبيل، فقال: يا عدي هل رأيت الحيرة، قلت: لم أرها، وقد أنبئت عنها، قال: «فإن طالت بك حياة لترين الظعينة ترحل من الحيرة حتى تطوف بالكعبة لا تخاف أحداً إلا الله .. ».
ووجد الاستدلال أنه خبري سياق المدح، ورفع منار الإسلام فيحمل على الجواز
(2). وأجيب عنه:
بأنه ليس في كل شيء أخبر النبي صلى الله عليه وسلم بأنه سيقع حرمة أوجوازاً، لأنه نص على وجود ذلك لا جوازه. وما دام أن مجرد الإخبار عن الغيبيات لا يؤخذ منه جواز، كيف يؤخذ منه الوجوب؟ على قول من قال بوجوبها عند وجود الرفقة
(3).
2. ما أخرجه البخاري في صحيحه
(4) من طريق إبراهيم بن سعد، عن أبيه، عن جده: أذن عمر لأزواج النبي صلى الله عليه وسلم في آخر حجه
--------------------------------------------
1. ইমাম বুখারি যা বর্ণনা করেছেন
(১), আদি বিন হাতিম বর্ণিত হাদিস থেকে, তিনি বলেন, যখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে অভাব-অনটনের অভিযোগ করল, অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি এসে পথিমধ্যে দস্যুতার অভিযোগ করল। তখন তিনি বললেন: "হে আদি, তুমি কি হীরা (শহর) দেখেছ?" আমি বললাম: "আমি তা দেখিনি, তবে আমাকে সে সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে।" তিনি বললেন: "যদি তোমার হায়াত দীর্ঘ হয় তবে তুমি অবশ্যই দেখতে পাবে যে একজন হাওদাবাসী নারী হীরা থেকে যাত্রা করে কাবা শরিফ তাওয়াফ করছে, সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করছে না..."।
এর মাধ্যমে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো যে, এটি প্রশংসার প্রেক্ষাপটে একটি সংবাদমূলক (خبري) বর্ণনা এবং ইসলামের উচ্চ মর্যাদা প্রকাশের উদ্দেশ্যে, তাই একে বৈধতা (جواز) অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে
(২)। এর উত্তরে বলা হয়েছে:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভবিষ্যতে যা ঘটবে বলে সংবাদ দিয়েছেন তার সবকিছুই যে নিষিদ্ধতা বা বৈধতা প্রকাশ করে তা নয়, বরং তিনি কেবল তা সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) দিয়েছেন, এর বৈধতা (جواز) বিষয়ে নয়। আর যেহেতু কেবল অদৃশ্যের সংবাদ দেওয়া থেকে বৈধতা সাব্যস্ত হয় না, তবে তা থেকে আবশ্যকতা (وجوب) কীভাবে সাব্যস্ত হবে? এটি তাদের মতের বিপরীতে যারা সফরসঙ্গী থাকা অবস্থায় তা আবশ্যক (وجوب) হওয়ার কথা বলেন
(৩)।
২. ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন
(৪) ইবরাহিম ইবনে সাদ-এর সূত্র (طريق) থেকে, তিনি তাঁর পিতা ও দাদার মাধ্যমে বর্ণনা করেন: উমর (রা.) তাঁর শেষ হজের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের (হজের) অনুমতি দিয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
حجها، فبعث معهن عثمان بن عفان، وعبد الرحمن بن عوف.
قال الحافظ: «ومن الأدلة على جواز سفر المرأة مع النسوة الثقات إذ أمن الطريق، أول أحاديث الباب، لاتفاق عمر وعثمان وعبد الرحمن بن عوف، ونساء النبي صلى الله عليه وسلم على ذلك، وعدم نكير غيرهم من الصحابة عليهن في ذلك»
(1).
وأجيب بأن زوجات النبي صلى الله عليه وسلم أمهات المؤمنين، فيحمل هذا على الخصوص.
وتعقب بأنهن مختصات بالتحريم، لا المحرمية، وأجيب عنه أيضاً: بأن هذه الرواية المطلقة، جاءت مقيدة عند ابن الجوزي في المنتظم
(2) بأنه أخرج معهن أولياءهن، وإرسال عثمان وعبدالرحمن المزيد العناية بهن.
3. أن وجود من تأمنه يقوم مقام المحرم
(3)، ويجاب عنه بأنه لا أحد أعظم أمانة من الصحابة، ومع هذا فالرسول صلى الله عليه وسلم نهى نساءهم
--------------------------------------------
তাদের হজ সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে তিনি তাদের সাথে উসমান বিন আফফান ও আবদুর রহমান বিন আউফকে পাঠালেন।
আল-হাফিজ বলেন: «পথ নিরাপদ থাকলে নির্ভরযোগ্য (ثقات) নারীদের সাথে নারীর সফরের বৈধতার অন্যতম দলিল হলো এই অধ্যায়ের প্রথম হাদিসসমূহ। কারণ ওমর, উসমান, আবদুর রহমান বিন আউফ এবং নবী (সা.)-এর সহধর্মিণীগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছিলেন এবং অন্য কোনো সাহাবীও তাদের এই কাজের প্রতি অসম্মতি জ্ঞাপন করেননি»
(১)।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, নবী (সা.)-এর সহধর্মিণীগণ হলেন মুমিনদের জননী, তাই এই বিষয়টি বিশেষ বিধান (خصوص) হিসেবে গণ্য হবে।
এর প্রতিউত্তরে বলা হয়েছে যে, তারা বিবাহের নিষিদ্ধতার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট, মাহরাম (محرم) হওয়ার ক্ষেত্রে নয়। এর জবাবে আরও বলা হয়েছে যে: এই নিঃশর্ত (مطلقة) বর্ণনাটি ইবনুল জাওজি-র আল-মুনতাজাম গ্রন্থে শর্তযুক্ত (مقيدة) ভাবে এসেছে যে, তিনি তাদের সাথে তাদের অভিভাবকদের পাঠিয়েছিলেন; আর উসমান ও আবদুর রহমানকে পাঠানো হয়েছিল তাদের প্রতি অধিকতর যত্নের খাতিরে।
৩. যাকে নিরাপদ মনে করা হয় এমন কারো উপস্থিতি মাহরামের (محرم) স্থলাভিষিক্ত হয়
(৩)। এর উত্তরে বলা হয় যে, সাহাবীদের চেয়ে অধিক আমানতদার আর কেউ নেই, তা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের স্ত্রীদের নিষেধ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
أن يسافرن إلا مع محارمهن.
وبالنظر لما تقدم من الأدلة والتعليمات يظهر والعلم عند الله أنه لا يجب الحج على المرأة، إلا مع وجود زوج أو محرم لما يلي:
1. أن الأحاديث التي استدل بها الجمهور صحيحة صريحة، ولم يوجد ما يعارضها، قال ابن المنذر: «تركوا القول بظاهر الحديث، واشترط كل منهم شرطاً لا حجة له عليه»
(1).
2. أن حديث عدي بن حاتم ? الذي استدل به أهل القول الثاني يدل على أنها تسافر وحدها، ولكنهم شرطوا رفقة من الرجال والنساء، فلم يأخذوا بدليلهم، ولا بأدلة القول الأول.
المطلب الثانيأذن الزوج للمرأة في حج الفريضةإن كان الحج نفلاً لم يختلف العلماء على أن المرأة لا تحرم إلا بإذن الزوج، فإن أحرمت بغير إذنه، جاز له تحليلها إذا أراد ذلك، وقد حكي الإجماع على ذلك
(2).
--------------------------------------------
তারা যেন তাদের মাহরাম ব্যতীত সফর না করে।
উপস্থাপিত দলীল ও নির্দেশনাবলি পর্যালোচনায় এটিই প্রতীয়মান হয়—এবং প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট—যে, স্বামী অথবা মাহরামের উপস্থিতি ব্যতীত নারীর ওপর হজ আবশ্যক (واجب) হয় না, যার কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) উলামাগণ যে হাদিসগুলো দ্বারা দলীল পেশ করেছেন সেগুলো বিশুদ্ধ (صحيحة) ও দ্ব্যর্থহীন (صريحة), এবং এগুলোর পরিপন্থী কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। ইবনুল মুনযির বলেছেন: «তারা হাদিসের বাহ্যিক অর্থ পরিত্যাগ করেছেন এবং তাদের প্রত্যেকে এমন সব শর্তারোপ করেছেন যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই»
(১)।
২. আদী ইবনে হাতিম (রা.)-এর হাদিসটি, যা দ্বিতীয় মতাবলম্বীরা দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তা নির্দেশ করে যে নারী একাকী সফর করতে পারে; কিন্তু তারা পুরুষ ও নারীদের কাফেলার শর্তারোপ করেছেন। ফলে তারা না তাদের দলীলের ওপর আমল করেছেন, আর না প্রথম মতের দলীলসমূহ গ্রহণ করেছেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদফরজ হজের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে স্বামীর অনুমতি প্রদানহজ যদি নফল (نفل) হয়, তবে উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত যে, স্বামী অনুমতি প্রদান না করলে নারী ইহরাম (تحرم) বাঁধবে না। যদি সে স্বামীর অনুমতি ছাড়াই ইহরাম বাঁধে, তবে স্বামী চাইলে তাকে ইহরাম ভঙ্গ করে হালাল হওয়ার (تحليل) নির্দেশ দিতে পারেন; এ বিষয়ে ঐকমত্য (الإجماع) বর্ণিত হয়েছে
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أمّا إذا كان الحج فرضاً، ففي حكم منع الزوج زوجته من الإحرام قولان:
القول الأول، ليس للزوج منع امرأته من المضي إلى الحج الواجب عليها إذا كملت شروط الوجوب. هذا ما ذهب إليه الحنفية»
(1)، والحنابلة»
(2)، والشافعية في قول مرجوح
(3)، وابن حزم»
(4)، وللمالكية قولان مبناهما على القول بفورية الحج، فقال بعضهم: الحج واجب على الفور، اختاره القاضي عبد الوهاب
(5)، وبناء على ذلك فليس للزوج منعها.
وقال بعضهم: الحج واجب على التراخي اختاره القرطبي»، وعلى هذا القول ففي حكم منعها خلاف على قولين: أحدهما ليس له منعها. واستدلوا بما يأتي:
--------------------------------------------
তবে যদি হজ ফরজ হয়, তবে স্বামীর পক্ষ থেকে তার স্ত্রীকে ইহরাম করা থেকে বাধা দেওয়ার বিধান সম্পর্কে দুটি অভিমত রয়েছে:
প্রথম অভিমত: হজের শর্তাবলি পূর্ণ হয়ে থাকলে স্ত্রীর উপর ওয়াজিব হওয়া হজ পালন করতে যেতে বাধা দেওয়ার অধিকার স্বামীর নেই। হানাফিগণ
(১), হাম্বলিগণ
(২), শাফেয়ী মাযহাবের একটি অপ্রাধান্যযোগ্য (مرجوح) অভিমত
(৩) এবং ইবনে হাজম
(৪) এই মত পোষণ করেছেন। মালেকি মাযহাবে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে যেগুলোর ভিত্তি হলো হজ অবিলম্বে আদায় করা সংক্রান্ত প্রসঙ্গের ওপর। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: হজ অবিলম্বে (على الفور) আদায় করা ওয়াজিব; এই মতটি কাজী আব্দুল ওয়াহহাব
(৫) পছন্দ করেছেন। এর ভিত্তিতে, স্বামীর জন্য স্ত্রীকে বাধা দেওয়ার অধিকার নেই।
আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: হজ বিলম্বে (على التراخي) আদায় করা ওয়াজিব; ইমাম কুরতুবী এই মতটি পছন্দ করেছেন। এই মত অনুযায়ী, স্ত্রীকে বাধা দেওয়ার বিধানের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন মত রয়েছে: যার একটি হলো স্বামীর বাধা দেওয়ার অধিকার নেই। তারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
1. ما أخرجه البخاري، ومسلم
(1) من حديث ابن عمر ? أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تمنعوا إماء الله مساجد الله».
قالوا فإذا لم تمنع من المسجد للصلاة، فلا تمنع من قصدها الحرم للحج.
وأجيب عن الحديث بأنه محمول على أنه نهي تنزيه أو على غير المتزوجات؛ لأن غير المتزوجات لم يتعلق بهن حق على الفور، وذلك كالبنت والأخت ونحوهما، وأن المراد لا تمنعوهن مساجد الله للصلوات
(2)(3).
2. أن الحج واجب وليس له منعها من الواجبات كما ليس له منعها من الصلاة والصيام.
وأجاب الشافعية بأن مدة الحج طويلة بخلاف الصوم والصلاة.
القول الثاني. للزوج أن يمنع زوجته من الخروج للحج الواجب،
--------------------------------------------
1. ইমাম বুখারি ও মুসলিম
(১) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে আসতে বাধা দিও না।»
তারা বলেন, যদি তাকে নামাজের জন্য মসজিদে আসতে বাধা না দেওয়া হয়, তবে হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র কাবার দিকে গমনের ক্ষেত্রেও তাকে বাধা দেওয়া যাবে না।
এই হাদিসের উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি মাকরূহে তানজিহি বা অপছন্দনীয় (نهي تنزيه) অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে অথবা এটি অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কারণ অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পালনীয় কোনো (স্বামীর) অধিকার জড়িত থাকে না, যেমন—কন্যা, বোন এবং অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ। আর এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো, নামাজের জন্য তোমরা তাদের আল্লাহর মসজিদে আসতে বাধা দিও না
(২)(৩)।
২. হজ হলো ওয়াজিব (واجب) এবং অপরিহার্য ওয়াজিব (واجب) কার্যাবলি থেকে তাকে বাধা দেওয়ার অধিকার স্বামীর নেই, যেমনটি নামাজ ও রোজা থেকে তাকে বাধা দেওয়ার অধিকার তার নেই।
শাফেঈগণ উত্তর দিয়েছেন যে, রোজা ও নামাজের বিপরীতে হজের সময়কাল দীর্ঘ।
দ্বিতীয় মত: স্বামীর জন্য তার স্ত্রীকে ওয়াজিব (واجب) হজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া থেকে বাধা দেওয়ার অধিকার রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
هذا ما ذهب إليه الشافعية في أصح القولين
(1)، والقول الثاني لبعض المالكية
(2)» الذين ذهبوا إلى أن الحج واجب على التراخي.
واستدلوا بما يأتي:
1. ما أخرجه الطبراني في الصغير
(3)، والأوسط
(4)، والدراقطني
في السنن
(5)، وابن عدي في الكامل
(6)، والبيهقي في الكبرى
(7) من طرق عن حسان بن إبراهيم، عن إبراهيم بن الصائغ، عن نافع، عن ابن عمر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في امرأة لها زوج، ولها مال، ولا يأذن لها في الحج ليس لها أن تنطلق إلا بإذن زوجها. واللفظ للدراقطني.
قال الطبراني: لم يروه عن إبراهيم إلا حسان. وكذا قال ابن عدي.
--------------------------------------------
এটিই শাফেয়ি মাযহাবের দুটি মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) অভিমত
(১) এবং এটি কোনো কোনো মালিকি ফকিহদের দ্বিতীয় অভিমত
(২) যারা মনে করেন যে, হজ বিলম্বিতভাবে আদায় করা ওয়াজিব (واجب على التراخي)।
তারা নিম্নলিখিত দলীলসমূহ দ্বারা প্রমাণ পেশ (استدلوا) করেছেন:
১. যা তাবারানি আস-সগির
(৩), আল-আওসাত
(৪), দারা কুতনি আস-সুনান
(৫), ইবনে আদি আল-কামিল
(৬) এবং বায়হাকি আল-কুবরা
(৭) গ্রন্থে হাসসান বিন ইব্রাহিম থেকে একাধিক সূত্র (طرق) মারফত বর্ণনা করেছেন; তিনি ইব্রাহিম বিন সায়িগ থেকে, তিনি নাফি থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক মহিলার ব্যাপারে বলেছেন যার স্বামী এবং সম্পদ উভয়ই আছে, কিন্তু স্বামী তাকে হজের অনুমতি দিচ্ছে না—এমতাবস্থায় স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে তার পক্ষে হজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া বৈধ নয়। আর হাদীসের শব্দশৈলী দারা কুতনি-র।
তাবারানি বলেছেন: ইব্রাহিম থেকে হাসসান ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা (روى) করেননি। ইবনে আদিও অনুরূপ বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال الهيثمي في مجمع الزوائد
(1): «رواه الطبراني في الصغير والأوسط، ورجاله ثقات».
ورمز السيوطي إلى حسنه في الجامع الصغير
(2)، ونقله الحافظ في الفتح
(3)» وسكت عنه، وضعف الحديث الألباني في ضعيف الجامع الصغير
(4).
2. وذكر أصحاب هذا القول أن حق الزوج على الفور، والحج على التراخي، فقدوم ما كان على الفور، كما تقدم العدة على الحج بلا خلاف
(5).
وأجاب الجمهور بأن حق الزوج مستمر على الدوام فلو ملك منعها في هذا العام لملكه في كل عام، فيفضي إلى إسقاط أحد أركان الإسلام بخلاف العدة فإنها لا تستمر»
(6).
--------------------------------------------
হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদে
(১) বলেছেন: «তাবারানি এটি আল-সগির এবং আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)»।
আর সুয়ুতি আল-জামি আল-সগির গ্রন্থে এটি হাসান (حسن) হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন
(২), এবং হাফিজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন
(৩) ও এ ব্যাপারে নিরবতা অবলম্বন করেছেন, আর আলবানি দাঈফুল জামি আল-সগির গ্রন্থে এই হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) আখ্যা দিয়েছেন
(৪)।
২. এই মতের প্রবক্তারা উল্লেখ করেছেন যে, স্বামীর অধিকার অবিলম্বে পালনীয় (على الفور) আর হজ বিলম্বে সম্পাদনযোগ্য (على التراخي); সুতরাং যা অবিলম্বে পালনীয় তা-ই অগ্রগণ্য, যেমন কোনো মতভেদ ছাড়াই ইদ্দত পালনকে হজের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়
(৫)।
জুমহুর (جمهور) উলামাগণ উত্তর দিয়েছেন যে, স্বামীর অধিকার নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বদা বলবৎ থাকে; সুতরাং তিনি যদি এই বছরে তাকে বাধা দেওয়ার অধিকার রাখেন, তবে তিনি প্রতি বছরই তা প্রতিরোধের অধিকার পাবেন, যা ইসলামের অন্যতম একটি রুকন (أركان) বাতিল হওয়ার দিকে নিয়ে যাবে; যা ইদ্দতের বিপরীত, কারণ তা স্থায়ী হয় না»
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والذي يترجح القول الأول، وهو أن للزوجة أن تحج الفرض بدون إذن الزوج إذا توفرت الشروط؛ لأن القول بمنع الزوج زوجته من أداء فرض الحج يفضي إلى ترك الحج في كثير من الأحوال، وهنا تلحظ أن بعض الأزواج يتعسف في استخدام قوامته، ويفهمها فهماً مقلوباً؛ لتعطيل المرأة المسلمة عن أداء فرائضها بحجة وجوب السمع والطاعة له، ولو علم الدليل، وأراد الله به خيراً وفقهه في الدين ما أقدم على ما أقدم عليه، ولأحجم عن كثير مما هو بين يديه. فلا حول ولا قوة إلا بالله.
المطلب الثالثفرض الحجومن مظاهر التيسير في الحج أن الله فرضه على عباده المستطيعين مرة في العمر، وأجمعت الأمة على ذلك، يقول ابن قدامة في المغني: «وأجمعت الأمة على وجوب الحج على المستطيع في العمرة مرة واحدة
(1)». ومن أدلة ذلك:
1. ما أخرجه مسلم في باب: فرض الحج مرة في العمر
(2) من
--------------------------------------------
প্রথম মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়, আর তা হলো—শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে একজন স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ফরজ (فرض) হজ পালন করা বৈধ; কেননা স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে হজের ফরজ (فرض) পালনে বাধা প্রদানের কথাটি অনেক ক্ষেত্রে হজ ত্যাগ করার দিকে ধাবিত করে। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, কিছু স্বামী তাদের অভিভাবকত্ব বা কর্তৃত্বের (قوامة) অপব্যবহার করেন এবং একে ভুলভাবে বোঝেন; তারা আনুগত্যের দোহাই দিয়ে মুসলিম নারীকে তার ফরজ (فرض) ইবাদত পালন থেকে বিরত রাখেন। যদি তারা দলিল সম্পর্কে জানতেন এবং আল্লাহ যদি তাদের মঙ্গল চাইতেন ও দ্বীনের সঠিক সমঝ (فقه) দান করতেন, তবে তারা যা করেছেন তা থেকে বিরত থাকতেন এবং বর্তমানে যা করছেন তার অনেক কিছুই তারা করতেন না। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
তৃতীয় পরিচ্ছেদহজ ফরজ (فرض) হওয়াহজের সহজসাধ্যতার অন্যতম দিক হলো, আল্লাহ এটি সামর্থ্যবান বান্দাদের ওপর জীবনে মাত্র একবার ফরজ (فرض) করেছেন এবং উম্মাহ এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছে। ইবন কুদামা আল-মুগনি গ্রন্থে বলেন: «উম্মাহ সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার হজ ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছে
(১)।» এর কিছু দলিল নিম্নরূপ:
১. ইমাম মুসলিম ‘জীবনে একবার হজ ফরজ (فرض) হওয়া’ অধ্যায়ে
(২) যা বর্ণনা করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حديث أبي هريرة قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: يا أيها الناس قد فرض الله عليكم الحج فحجوا، فقال رجل: كل عام يا رسول الله؟ فسكت حتى قالها ثلاثاً، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو قلت نعم لوجبت، ولما استطعتم»، ثم قال: «ذروني ما تركتكم، فإنما أهلك من كان قبلكم كثرة سؤالهم، واختلافهم على أنبيائهم، فإذا أمرتكم بشيء فأتوا منه ما استطعتم، وإذا نهيتكم عن شيء فدعوه».
2. ما أخرجه أحمد
(1)، وأبو داود
(2)، وابن ماجه
(3) من حديث ابن عباس، قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «يا أيها الناس كُتِب عليكم الحج، فقام الأقرع بن حابس، فقال: أ في كل عام يا رسول الله؟ فقال: «لو قلتها لوجبت، ولو وجبت لم تعملوا بها، ولن تستطيعوا أن تعملوا بها، الحج مرة، فمن زاد فهو تطوع» واللفظ لأحمد وصححه الألباني
(4).
وتأمل - وفقك الله - ألفاظ الحديث، ففي الحديث الأول «لو قلت
--------------------------------------------
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: "হে লোকসকল! আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ (فرض) করেছেন, সুতরাং তোমরা হজ করো।" তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: "হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছর কি?" তিনি চুপ থাকলেন যতক্ষণ না সে কথাটি তিনবার বলল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি যদি 'হ্যাঁ' বলতাম, তবে তা অবশ্যই ওয়াজিব (واجب) হয়ে যেত এবং তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হতে না।" তারপর তিনি বললেন: "আমি তোমাদের যে বিষয়গুলো (অব্যক্ত) ছেড়ে দিয়েছি, সে বিষয়ে তোমরা আমাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকো। তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিরা তাদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো কিছুর আদেশ করি, তখন তোমরা সাধ্যমতো তা পালন করো, আর যখন কোনো কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তা বর্জন করো।"
২. যা বর্ণনা করেছেন আহমাদ
(১), আবু দাউদ
(২) এবং ইবনে মাজাহ
(৩) ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: "হে লোকসকল! তোমাদের ওপর হজ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।" তখন আকরা ইবনে হাবিস দাঁড়িয়ে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছর কি?" তিনি বললেন: "আমি যদি তা বলতাম তবে তা ওয়াজিব (واجب) হয়ে যেত, আর যদি তা ওয়াজিব (واجب) হতো তবে তোমরা তা পালন করতে না এবং তা পালন করার সামর্থ্যও তোমাদের থাকত না। হজ জীবনে একবারই, আর যে ব্যক্তি অতিরিক্ত করবে তা নফল (تطوع) হিসেবে গণ্য হবে।" শব্দবিন্যাস আহমাদ-এর এবং আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন
(৪)।
আর আপনি লক্ষ্য করুন—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন—হাদিসের শব্দাবলির প্রতি; প্রথম হাদিসে রয়েছে "আমি যদি বলতাম..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نعم، لوجبت» ثم علل فرض الحج مرة في العمر «ولما استطعتم، وفي الرواية الأخرى «لم تعملوا بها، ولن تستطيعوا أن تعملوا بها» ثم أوضح الحكم «الحج مرة، فمن زاد فهو تطوع». وصدق الله حين قال: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 128].
وتجدر الإشارة هنا إلى أن ثمت نوافل تخص الفرد بذاته كالصلاة والصيام، وهذه تعود إلى المتطوع دون غيره، وأخرى تنفع الناس، ويتعدى برها وخيرها لهم كنوافل الصدقة والإحسان، فمهما أكثر منها المرء كان فضلاً له، ونفعاً لغيره ولا إسراف في خير، والقسم الثالث من النوافل لا يتعلق بالمرء ذاته فحسب، بل له تعلق بالآخرين بسبب المزاحمة في المكان أو في غيره.
والحج من القسم الثالث، فإن المشاعر محدودة والزمان ضيق: (ويعلم كل ذي لب أنه لو حج من المسلمين نسبة قليلة ممن لم يأدوا الحج أصلاً، ولتكن (1?) لكان عدد الواقفين بعرفة (12) مليون حاج، ولما وسعهم المكان، ولفات الكثير منهم الحج، وأساء بعضهم إلى بعض
"হ্যাঁ, তবে তা ওয়াজিব (واجب) হয়ে যেত।" অতঃপর তিনি জীবনে একবার হজ ফরজ হওয়ার কারণ দর্শিয়ে বললেন, "এবং তোমরা তা করতে সক্ষম হতে না।" অন্য এক বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে, "তোমরা তার ওপর আমল করতে পারতে না এবং তোমরা তার ওপর আমল করতে সক্ষমও হতে না।" অতঃপর তিনি বিধান (حكم) স্পষ্ট করে দিলেন, "হজ একবারই, সুতরাং যে ব্যক্তি অতিরিক্ত করবে তা নফল (تطوع) হিসেবে গণ্য হবে।" আল্লাহ তাআলা সত্যই বলেছেন: {তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে কষ্ট হয় তা তাঁর জন্য অতিশয় বেদনাদায়ক; তিনি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি অতিশয় স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।} [আত-তাওবাহ: ১২৮]।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এমন কিছু নফল (نوافل) ইবাদত রয়েছে যা নির্দিষ্টভাবে ব্যক্তির নিজের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন সালাত ও সিয়াম; এগুলোর সওয়াব কেবল সেই ইবাদতকারীর (متطوع) নিকটই ফিরে আসে। আবার কিছু ইবাদত রয়েছে যা মানুষের উপকারে আসে এবং তার কল্যাণ ও পুণ্য অন্যদের নিকট পৌঁছে যায়, যেমন সদকা ও ইহসানের মতো নফল (نوافل) কার্যাবলি। মানুষ এ জাতীয় কাজ যতই বেশি করবে, তা তার জন্য যেমন শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হবে, তেমনি অন্যদের জন্যও উপকারী হবে; আর কল্যাণের কাজে কোনো অপচয় নেই। নফল (نوافل) ইবাদতের তৃতীয় প্রকারটি কেবল ব্যক্তির নিজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং স্থান বা অন্য কোনো বিষয়ে ভিড়ের কারণে তা অন্যদের সাথেও সংশ্লিষ্ট হয়।
হজ এই তৃতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, কারণ হজের পবিত্র স্থানসমূহ সীমিত এবং সময়ও সংক্ষিপ্ত। (প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই অবগত আছেন যে, যদি মুসলমানদের মধ্য থেকে যারা কখনো হজ করেননি তাদের একটি সামান্য অনুপাতও—ধরা যাক ১%—হজ আদায় করতে আসতেন, তবে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকারীদের সংখ্যা হতো ১২ মিলিয়ন হাজি, যা সেই স্থানের ধারণক্ষমতায় কুলাত না। ফলে অনেকেরই হজ ছুটে যেত এবং তারা একে অপরের কষ্টের কারণ হতো।)
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بالضرورة. ولذا فالحجاج الآن (0.1 %) من نسبة السكان (أي: واحد بالألف). ومعنى ذلك أن شعبا كإندونيسيا (200 مليون) يحتاجون إلى ألف سنة ليتمكنوا من أداء الحج وهذا افتراض نظري بحتي.
زد على ذلك المعاناة السنوية بالازدحام الهائل الذي يفقد الفريضة روحانياتها وقدسيتها، ويحيلها إلى صخب، وضجيج، وعراك، وجدل، يتكرر المشهد دورياً، ويموت المئات تحت أقدام إخوانهم، وهم جميعاً متلبسون بأداء فريضة من فرائض الله!
وياللحزن العميق؛ يفترض أن الدافع إيماني لهذه الرحلة المباركة، فكيف يغفل المسلم القريب في هذه الديار عن الآثار الصعبة التي يحدثها تكرار الحج كل عام، أو عاماً بعد عام على إخوانه المسلمين القادمين من بعيد، المؤدين للفريضة - وليس للنافلة - من شيوخ ونساء وضعفاء ومرضى، وهو لا يبالي بهم، ولا يكترث لمعاناتهم، المهم أن يداوم على ما اعتاده من الحج!، والكثير من الناس يرددون: ماذا يضر وجودي، وأنا فرد واحد؟ وماذا ينفع غيابي؟ وهذا منطق غريب يوحي باستفحال الرؤية الأنانية، وغياب الإحساس بالمسؤولية؛ ولو أن كل من قرأ هذه السطور أخذ على نفسه أن يتصدق، بقيمة
আবশ্যিকভাবেই। তাই বর্তমানে হাজিদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার (০.১%) শতাংশ (অর্থাৎ: হাজারে একজন)। এর অর্থ হলো, ইন্দোনেশিয়ার মতো একটি বিশাল জনসংখ্যার দেশ (২০ কোটি) তাদের হজ পালনের জন্য এক হাজার বছর সময়ের প্রয়োজন হবে, যা একটি নিছক তাত্ত্বিক অনুমান মাত্র।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিশাল জনাকীর্ণতার কারণে বার্ষিক ভোগান্তি, যা এই ফরজ (فرض) বিধানের আধ্যাত্মিকতা ও পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং একে হট্টগোল, শোরগোল, বিবাদ ও বিতর্কে পর্যবসিত করে। এই দৃশ্যটি পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্ত হয় এবং শত শত মানুষ তাদের ভাইদের পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান, অথচ তারা সবাই আল্লাহর অন্যতম একটি ফরজ (فرض) পালনে রত ছিলেন!
এবং এটি অত্যন্ত গভীর পরিতাপের বিষয়; এই বরকতময় সফরের মূল চালিকাশক্তি ঈমানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই ভূখণ্ডের নিকটবর্তী মুসলমানরা কীভাবে সেই বিরূপ প্রভাবগুলোর কথা বিস্মৃত হন, যা প্রতি বছর বা এক বছর অন্তর হজের পুনরাবৃত্তি দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসলিম ভাইদের ওপর ফেলে? বিশেষ করে যারা নফল (نفل) নয় বরং ফরজ (فرض) বিধান পালন করতে এসেছেন—যাদের মাঝে রয়েছেন বৃদ্ধ, নারী, দুর্বল ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। অথচ সে তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না এবং তাদের কষ্টের তোয়াক্কা করে না; তার কাছে মুখ্য হলো হজের যে অভ্যাস সে গড়ে তুলেছে তা নিরবচ্ছিন্ন রাখা! অনেক মানুষই বলে থাকেন: "আমি একজন ব্যক্তির উপস্থিতিতে কী-ই বা ক্ষতি হবে? আর আমার অনুপস্থিতিতেই বা কী উপকার হবে?" এটি এক অদ্ভুত যুক্তি যা চরম স্বার্থপর দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়িত্ববোধের অভাবকে ফুটিয়ে তোলে। যদি এই পঙক্তিগুলো পাঠকারী প্রত্যেকে নিজের ওপর এটি আবশ্যক করে নিতেন যে, তিনি সদকা (صدقة) করবেন, সেই মূল্যের সমপরিমাণ...
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
حجة النافلة على إخوانه المسلمين، ويتصدق أيضاً بالمكان الذي سوف يحتله لو حج في منى، أو عرفة، أو مزدلفة، لأمكننا أن نساهم فعليا في تخفيف الزحام، وتيسير الحج، وتجنيب المسلمين مغبة الارتباك والقتل عند المشاعر.
والصدقة بقيمة الحج أفضل في مثل هذه الأوقات التي تتعاظم حاجة الناس فيها إلى المال، كما في الكوارث التي تضرب بلاد الإسلام من الزلازل أو المجاعات، أو الحروب التي لم تنقطع منذ عشرات السنين
(1).
ذكر ابن مفلح في الفروع أن الإمام أحمد سئل: أيحج نفلاً أم يصل قرابته؟ قال: إن كانوا محتاجين يصلهم أحب إلىّ، ونقل ابن هاني في هذه المسألة أن الإمام أحمد قال: يضعها في أكباد جائعة
(2).
وفي الزهد للإمام أحمد عن الحسن قال: يقول أحدهم: أحج أحج، وقد حججت! صلْ رحماً، تصدق على مغموم أحسن إلى جار
(3).
--------------------------------------------
একজন মুসলমানের তার ভাইদের কথা চিন্তা করে নফল (نفل) হজের পরিবর্তে সেই অর্থ দান (صدقة) করা, এবং মিনা, আরাফাত বা মুজদালিফায় হজের সময় তিনি যে স্থানটি দখল করতেন সেই স্থানটির সুযোগ ত্যাগের মাধ্যমেও যদি দান (صدقة) করা হয়, তবে আমরা কার্যকরভাবে ভিড় কমাতে, হজ সহজ করতে এবং পবিত্র স্থানগুলোতে বিশৃঙ্খলা ও প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে মুসলমানদের রক্ষা করতে বাস্তবিক অবদান রাখতে পারতাম।
হজের সমপরিমাণ অর্থ দান (صدقة) করা বর্তমানের মতো সময়ে অত্যন্ত উত্তম, যখন মানুষের অর্থের অভাব ও প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়; যেমন মুসলিম দেশগুলোতে আঘাত হানা ভূমিকম্প বা দুর্ভিক্ষের মতো দুর্যোগ, অথবা গত কয়েক দশক ধরে চলে আসা বিরামহীন যুদ্ধবিগ্রহের সময়গুলোতে।
(1)ইবনে মুফলিহ আল-ফুরু গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: একজন ব্যক্তি কি নফল (نفل) হজ করবে নাকি আত্মীয়স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে? তিনি বলেন: "যদি তারা অভাবী হয়, তবে তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাই আমার কাছে অধিক প্রিয়।" ইবনে হানি এই বিষয়ে বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম আহমাদ বলেছেন: "সে যেন এই অর্থ ক্ষুধার্তদের উদরপূর্তিতে ব্যয় করে।"
(2)ইমাম আহমাদ রচিত আজ-জুহদ গ্রন্থে হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "তাদের কেউ কেউ বলে: আমি হজ করব, আমি হজ করব; অথচ সে ইতিমধ্যে হজ সম্পন্ন করেছে! (তার চেয়ে বরং) তুমি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করো, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তিকে দান (صدقة) করো এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করো।"
(3)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية في الفتاوى الكبرى: «والحج على الوجه المشروع أفضل من الصدقة التي ليست واجبة، وأما إن كان له أقارب محاويج فالصدقة عليهم أفضل، وكذلك إن كان هناك قوم مضطرين إلى نفقته
(1)».
وفي مثل هذه الأحوال التي يعاني الحجيج فيها من الازدحام، وكثير من الإشكالات في النسك، نحتاج لطرح فريضة الحج في العمر مرة واحدة، والمفاضلة بين حج التطوع والصدقة، لاسيما و أن الثابت أنه صلى الله عليه وسلم لم يحج إلا حجة الوداع، وقال صلى الله عليه وسلم لزوجاته في حجة الوداع «هذه ثم ظهور الحصر
(2).
وقوله صلى الله عليه وسلم لعمر «يا عمر: إنك رجل قوي، لا تزاحم على الحجر، فتؤذي الضعيف، إن وجدت خلوة فاستلمه، وإلا فاستقبله فهلل وكبر
(3).
وهذا المطلب على وجه الخصوص فيه توسعة على كل ضعيف من شيخ وامرأة ومريض .. إذ لو أن جمع الأقوياء اكتفوا بفريضة
--------------------------------------------
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা গ্রন্থে বলেছেন: «শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে হজ পালন করা নফল সদকার চেয়ে উত্তম। তবে যদি কারো অভাবী আত্মীয়-স্বজন থাকে, তবে তাদের সদকা প্রদান করাই উত্তম। অনুরূপভাবে যদি এমন কোনো সম্প্রদায় থাকে যারা তার সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়, তবে তাদের দান করাই শ্রেয়
(১)»।
হজযাত্রীরা বর্তমানে যে ভিড় এবং ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, এমতাবস্থায় জীবনে একবার হজ ফরজ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা এবং নফল হজ ও সদকার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে এটি সুপ্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ ছাড়া অন্য কোনো হজ করেননি। তিনি বিদায় হজে তাঁর স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: «এটাই (তোমাদের জন্য হজ), এরপর ঘরের চাটাই আঁকড়ে ধরে থাকো (অর্থাৎ ঘরেই অবস্থান করো)
(২)।
ওমর (রা.)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: «হে ওমর! তুমি একজন শক্তিশালী লোক; হাজরে আসওয়াদে ভিড় করো না, নতুবা তুমি দুর্বলদের কষ্ট দেবে। যদি ফাঁকা জায়গা পাও তবে তা স্পর্শ করো, অন্যথায় তার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে তাহলিল ও তাকবির পাঠ করো
(৩)।
এই বিশেষ দাবির মধ্যে বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ—এমন সকল দুর্বলের জন্য সুযোগ প্রশস্ত করার বিষয়টি নিহিত রয়েছে। কারণ যদি সকল সামর্থ্যবান ব্যক্তি কেবল ফরজ হজের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতেন..
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الحج، ولم يوسعوا على أنفسهم بتتابع حج النفل، وتصدقوا بقيمة حجهم على كل مسلم لم يؤدِ فرضه؛ لتصدقوا بمكانهم قبل مالهم، ولما لحق كثير من الضعفاء الضرر عند أدائهم المناسك، والرائي بعين البصر قبل البصيرة يرى آلاف الأقوياء حين يؤذون الضعفاء وقد غاب عنهم قوله تعالى: {لَا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللَّهِ وَلَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلَا الْهَدْيَ وَلَا الْقَلَائِدَ وَلَا آمِّينَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنْ رَبِّهِمْ وَرِضْوَانًا} [المائدة: 2] وقوله صلى الله عليه وسلم المتقدم لعمر: «يا عمر إنك رجل قوي، لا تزاحم على الحجر فتؤذي الضعيف؛ إن وجدت خلوة فاستلمه، وإلا فاستقبله، فهلل، وكبر».
المطلب الرابعإحرام الحائض بالحج أو العمرةأجمع أهل العلم على جواز ومشروعية الإحرام من الحائض
(1)، ويستحب لها إذا أرادت الإحرام أن تغتسل كما تغتسل غير الحائض
(2)، بل هو حق الحائض أكد لورود الخبر فيها. ومن أدلة العلماء على هذا المطلب:
--------------------------------------------
হজ; এবং তারা নফল (نفل) হজের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে নিজেদের জন্য বিষয়টিকে প্রশস্ত করেননি, বরং তারা তাদের হজের সমপরিমাণ অর্থ এমন প্রত্যেক মুসলিমের জন্য সদকা করেছেন যে তার ফরজ (فرض) আদায় করেনি; যাতে তারা তাদের সম্পদের আগে নিজেদের অবস্থানের মাধ্যমে সদকা করতে পারেন। আর যখন অনেক দুর্বল (ضعفاء) ব্যক্তি মানাসিক (হজের কার্যাদি) আদায়ের সময় ক্ষতির সম্মুখীন হন, তখন চর্মচক্ষু ও অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন পর্যবেক্ষক দেখতে পান যে, হাজার হাজার শক্তিশালী ব্যক্তি দুর্বলদের (الضعفاء) কষ্ট দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় তারা মহান আল্লাহর এই বাণী বিস্মৃত হয়েছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অসম্মান করো না, পবিত্র মাসকেও না, কুরবানীর পশুকেও না, গলায় হার পরানো পশুদেরও না এবং ঐসব লোকদেরও না, যারা তাদের রবের অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির সন্ধানে পবিত্র গৃহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে} [আল-মায়িদা: ২]। এবং উমরের প্রতি বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বোল্লিখিত বাণী: «হে উমর, নিশ্চয়ই তুমি একজন শক্তিশালী মানুষ, তাই হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার জন্য ভিড় করো না, অন্যথায় তুমি দুর্বলকে (الضعيف) কষ্ট দেবে; যদি তুমি ফাঁকা জায়গা পাও তবে তা স্পর্শ করবে, অন্যথায় তার অভিমুখী হয়ে তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করবে»।
চতুর্থ পরিচ্ছেদঋতুবতী নারীর হজ বা উমরার ইহরামআলিমগণ ঋতুবতী নারীর ইহরাম বৈধ (جواز) ও বিধিসম্মত (مشروعية) হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ (أجمع) করেছেন
(১)। যখন সে ইহরামের ইচ্ছা করবে, তখন তার জন্য গোসল করা মুস্তাহাব (يستحب), যেমন ঋতুমতী নয় এমন নারী গোসল করে থাকে
(২)। বরং ঋতুবতী নারীর ক্ষেত্রে এই বিধানটি আরও বেশি তাকিদপূর্ণ, কারণ এই বিষয়ে খবর (الخبر) বর্ণিত হয়েছে। এই বিষয়ের সপক্ষে আলিমগণের কতিপয় দলিল নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
1. حديث جابر في صحيح مسلم، وفيه قال: « .. حتى أتينا ذا الحليفة، فولدت أسماء بنت عميس محمد بن أبي بكر، فأرسلت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم: كيف أصنع؟ قال: اغتسلي، واستنفري
(1) بثوب، وأحرمي
(2)»، والحائض في حكم النفساء، بل الحيض نوع منه.
2. ما أخرجه أبو داود
(3)، والترمذي
(4) من حديث ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الحائض والنفساء إذا أتنا على الوَقْت يغتسلان، ويحرمان، ويقضيان المناسك كلها غير الطواف بالبيت». وصححه الألباني في الصحيحة»
(5).
3. أمر النبي صلى الله عليه وسلم عائشة أن تغتسل لإهلال الحج وهي حائض، أخرج البخاري
(6)، ومسلم
(7) من حديث عائشة قالت: خرجا موافين
--------------------------------------------
1. সহীহ মুসলিমে বর্ণিত জাবির (রা.)-এর হাদিস, যাতে তিনি বলেছেন: «...যতক্ষণ না আমরা যুল-হুলাইফায় পৌঁছালাম, সেখানে আসমা বিনতে উমাইস মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরকে প্রসব করলেন। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সংবাদ পাঠালেন: আমি কী করব? তিনি বললেন: তুমি গোসল করো, কাপড় দিয়ে ল্যাঙ্গট বাঁধো
(1) এবং ইহরাম পরিধান করো
(2)», আর ঋতুবতী মহিলা প্রসূতি মহিলার বিধানের অন্তর্ভুক্ত, বরং ঋতুস্রাব তারই একটি প্রকার।
2. যা আবু দাউদ
(3) এবং তিরমিযী
(4) ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ঋতুবতী এবং প্রসূতি মহিলারা যখন মিকাতে আসবে, তখন তারা গোসল করবে, ইহরাম বাঁধবে এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ব্যতীত হজের সমস্ত কাজ সম্পাদন করবে।» আলবানী আস-সহীহাহ-তে একে সহীহ (صححه) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন
(5)।
3. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা (রা.)-কে ঋতুবতী থাকা অবস্থায় হজের ইহরামের জন্য গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন; বুখারী
(6) ও মুসলিম
(7) আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা (মক্কায়) পৌঁছালাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তায়সির আলান নিসা ফিল হাজ্জি ফী দিউইস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
لهلال ذي الحجة وفيه: «فأدركني يوم عرفة وأنا حائض، فشكوت إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: دعي عمرتك، وانقضي رأسك، وامتشطي، وأهلي بحج ففعلت».
4. ولأنه غسل يراد به النسك فاستوت فيه الحائض والطاهر.
لكن أهل العلم قالوا: إن الحائض إذا رجت الطهر قبل الخروج من الميقات، استحب لها تأخير الغسل حتى تطهر؛ ليكون أكمل لها
(1).
وفي هذا المطلب سترى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرر قاعدة للحائض والنفساء، يستصحبانها في جميع المناسك وهي قوله: ويقضيان المناسك كلها غير الطواف بالبيت» وقوله الذي سيأتي بعد لعائشة «افعلي ما يفعل الحاج غير أن لا تطوفي بالبيت حتى تطهري» فالحائض تستوي مع غيرها في جميع المناسك من وقوف بعرفة، ودفع لمزدلفة، ورمي، أو ذكر، بل استدل بعضهم بهذا الحديث على جواز قراءة الحائض للقرآن، وإلى هذا ذهب شيخ الإسلام
(2)، وما هذا إلا أعظم دليل على سماحة الإسلام ويسره، ومراعاته لأحوال العباد، والرفق بهم.
--------------------------------------------
যিলহজ্জের চাঁদের জন্য এবং এতে রয়েছে: «অতঃপর আরাফার দিন উপস্থিত হলো এমতাবস্থায় যে আমি ঋতুবতী (حائض) ছিলাম। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অভিযোগ করলাম। তিনি বললেন: ‘তোমার ওমরাহ ছেড়ে দাও, তোমার মাথা খুলে নাও, চুল আঁচড়াও এবং হজের ইহরাম বাঁধো (أهلي بحج)’; অতঃপর আমি তাই করলাম।»
4. আর যেহেতু এটি এমন একটি গোসল যার উদ্দেশ্য হলো ইবাদত বা হজের কার্যাবলী (النسك), তাই ঋতুবতী (الحائض) এবং পবিত্র (الطاهر) নারী এতে সমান।
কিন্তু আলেমগণ বলেছেন: ঋতুবতী (الحائض) নারী যদি মিকাত (الميقات) অতিক্রম করার আগে পবিত্রতা (الطهر) অর্জনের আশা রাখেন, তবে তার জন্য গোসল বিলম্বিত করা মুস্তাহাব (استحب), যাতে তা তার জন্য অধিকতর পূর্ণাঙ্গ হয়
(1)।
এই পরিচ্ছেদে আপনি দেখবেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋতুবতী (الحائض) এবং প্রসূতি (النفساء) নারীর জন্য একটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন, যা তারা সমস্ত হজের কার্যাবলীতে (المناسك) অনুসরণ করবে; আর তা হলো তাঁর বাণী: «এবং তারা বাইতুল্লাহর তাওয়াফ (الطواف) ব্যতীত হজের সমস্ত কার্যাবলী (المناسك) সম্পাদন করবে» এবং আয়েশা (রা.)-এর প্রতি তাঁর সেই বাণী যা সামনে আসবে: «একজন হাজি যা করেন তুমিও তা করো, তবে পবিত্র (تطهري) না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহর তাওয়াফ (تطوفي) করো না»। সুতরাং ঋতুবতী (الحائض) নারী আরাফায় অবস্থান (وقوف), মুযদালিফায় গমন, পাথর নিক্ষেপ (رمي) বা জিকিরের মতো সমস্ত কার্যাবলীতে (المناسك) অন্যদের সমান। এমনকি কেউ কেউ এই হাদিস দ্বারা ঋতুবতী (الحائض) নারীর কুরআন তিলাওয়াত বৈধ হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন এবং শাইখুল ইসলাম
(2) এই মতই গ্রহণ করেছেন। এটি ইসলামের উদারতা ও সহজসাধ্যতা, বান্দাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং তাদের প্রতি কোমলতার এক মহান নিদর্শন।
--------------------------------------------