(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: -)
اللؤلؤ والمرجان فيما اتفق عليه الشيخان   (محمد فؤاد عبد الباقى)

القسم: كتب السنة

الكتاب: اللؤلؤ والمرجان فيما اتفق عليه الشيخان

المؤلف: محمد فؤاد عبد الباقي [ت 1388 هـ]

عدد الأجزاء: 3 أجزاء في مجلد واحد

الناشر: دار إحياء الكتب العربية - محمد الحلبي (بدون طبعة وبدون تاريخ)

ثم صوّره: - كما هو وبنفس ترقيم صفحاته وأحاديثه -: دار الحديث، القاهرة، بتاريخ: 1407 هـ - 1986 م، توزيع: دار الريان للتراث

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-লু’লু’ ওয়াল মারজান ফিমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শায়খান (দুই শায়খ যে বিষয়ে একমত হয়েছেন সে প্রসঙ্গে মুক্তা ও প্রবাল)   (মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

গ্রন্থ: আল-লু’লু’ ওয়াল মারজান ফিমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শায়খান

লেখক: মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি [ওফাত ১৩৮৮ হিজরি]

খণ্ড সংখ্যা: এক খণ্ডে ৩টি অংশ

প্রকাশক: দারু ইহয়ায়িল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ - মুহাম্মাদ আল-হালাবি (সংস্করণ ও তারিখ বিহীন)

অতঃপর এটি পুনর্মুদ্রণ করা হয়েছে: - এর মূল রূপ এবং এর পৃষ্ঠা ও হাদিসের নাম্বারিং অপরিবর্তিত রেখে -: দারুল হাদিস، কায়রো، তারিখ: ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ، পরিবেশনায়: দারুর রাইয়ান লিত-তুরাস

[বইটির নাম্বারিং মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: -)
ـ[اللؤلؤ والمرجان فيما اتفق عليه الشيخان]ـ

المؤلف: محمد فؤاد بن عبد الباقي بن صالح بن محمد (المتوفى: 1388هـ)

عدد الأجزاء: 3 أجزاء في مجلد واحد

الناشر: دار احياء الكتب العربية - محمد الحلبي (بدون طبعة وبدون تاريخ)

ثم صوّره: - كما هو وبنفس ترقيم صفحاته وأحاديثه -: دار الحديث، القاهرة، بتاريخ: 1407 هـ - 1986 م، توزيع: دار الريان للتراث

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ويمكن الانتقال للجزء والصفحة ورقم الحديث]
[আল-লু'লু ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শায়খান]

লেখক: মুহাম্মদ ফুয়াদ বিন আব্দুল বাকি বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ (মৃত্যু: ১৩৮৮ হিজরি)

খণ্ড সংখ্যা: এক খণ্ডে ৩টি খণ্ড

প্রকাশক: দার ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ - মুহাম্মদ আল-হালাবি (সংস্করণ ও তারিখ বিহীন)

অত:পর এটি পুনর্মুদ্রিত হয়েছে: - হুবহু মূল পাণ্ডুলিপির মতো এবং এর পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বরসমূহ অপরিবর্তিত রেখে -: দারুল হাদিস, কায়রো, তারিখ: ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ, পরিবেশনায়: দারুর রাইয়ান লিত-তুরাস

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড, পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বরে সরাসরি যাওয়ার ব্যবস্থা আছে]
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: -)
‌‌طريقة وضع الكتاب

قال مسلم بن قاسم القرطبي، وهو من أقران الدارقطني، في تاريخه عند ذكر مسلم:"لم يضع أحد مثله" وهذا محمول على حسن الوضع، وجودة الترتيب، وسهولة التناول، فإنه جعل لكل حديثا موضعا واحدا يليق به، جمع فيه طرقه التي ارتضاها واختار ذكرها، وأورد فيه ألفاظه المختلفة، بخلاف البخاري فإنه يذكر الطرق في أبواب متفرقة، ويورد كثيرا من الأحاديث في غير الأبواب التي يتبادر إلى الذهن أنها تذكر فيه.

وقد وقع بسبب ذلك لناس من العلماء أنهم نفوا رواية البخاري لأحاديث هي موجودة فيه، حيث لم يجدوها في مظانها السابقة إلى الفهم. (توجيه النظر ص 123) .

 

لهذا كان ترتيب صحيح مسلم هو الترتيب الذي توخيته وارتضيته، فأخذت منه أسماء كتبه وأبوابه مع أرقامها، وأخذت من صحيح البخاري نص الحديث الذي وافقه مسلم عليه.

وبينت عقب سرد كل حديث موضعه من صحيح البخاري بذكر اسم الكتاب وعنوان الباب مع أرقامها.

 

محمد فؤاد عبد الباقي
গ্রন্থ রচনার পদ্ধতি

মুসলিম বিন কাসিম আল-কুরতুবী, যিনি আদ-দারা কুতনীর সমসাময়িক ছিলেন, তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে ইমাম মুসলিমের বর্ণনায় বলেছেন: "তাঁর মতো (গ্রন্থ) কেউ রচনা করেননি।" এটি তাঁর রচনার উত্তম শৈলী, বিন্যাসের চমৎকারিত্ব এবং সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। কেননা তিনি প্রতিটি হাদিসের জন্য একটি উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর পছন্দনীয় এবং নির্বাচিত সূত্রগুলো একত্রে উল্লেখ করেছেন এবং হাদিসের বিভিন্ন শব্দাবলি সেখানে উপস্থাপন করেছেন। ইমাম বুখারীর পদ্ধতি এর বিপরীত, কারণ তিনি বিভিন্ন অধ্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন সূত্র উল্লেখ করেন এবং অনেক হাদিস এমন সব অধ্যায়ে বর্ণনা করেন যা সাধারণত মানুষের মনে প্রথমে আসে না।

এর ফলে একদল আলিমের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে যে, তাঁরা সহীহ বুখারীতে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কিছু হাদিসের বর্ণনা অস্বীকার করেছেন, কারণ তাঁরা সেগুলো সেই সব সম্ভাব্য স্থানে খুঁজে পাননি যা সাধারণত বুঝের মধ্যে আগে আসে। (তাওজীহুন নজর, পৃষ্ঠা ১২৩)।

 

এ কারণেই সহীহ মুসলিমের বিন্যাসই হলো সেই বিন্যাস যা আমি অনুসরণের সংকল্প করেছি এবং পছন্দ করেছি। তাই আমি সেখান থেকে কিতাব ও অধ্যায়গুলোর নাম এবং তাদের নম্বরগুলো গ্রহণ করেছি, আর সহীহ বুখারী থেকে সেই হাদিসের পাঠ গ্রহণ করেছি যেটিতে ইমাম মুসলিম তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

আর প্রতিটি হাদিস বর্ণনার পর আমি সহীহ বুখারীতে তার অবস্থানটি কিতাবের নাম এবং অধ্যায়ের শিরোনামসহ নম্বর উল্লেখ করে স্পষ্ট করে দিয়েছি।

 

মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: -)
‌‌مقدمة محمد فؤاد عبد الباقي

 

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (3) مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (4)

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ

وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجًا (1)

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي الْآَخِرَةِ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ (1)

الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (1)

لَهُ الْحَمْدُ فِي الْأُولَى وَالْآَخِرَةِ وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (70)

وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ

فَلِلَّهِ الْحَمْدُ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَرَبِّ الْأَرْضِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (36) وَلَهُ الْكِبْرِيَاءُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (37)

لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ

مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا

-ج -
মুহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকীর ভূমিকা

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক। (২) পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (৩) বিচার দিবসের মালিক। (৪)

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন।

আর বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই এবং হীনতার কারণে তাঁর কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই; আর পূর্ণ মর্যাদার সাথে তাঁর মহিমা ঘোষণা করুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব নাজিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। (১)

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই এবং আখেরাতেও সকল প্রশংসা তাঁরই। আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত। (১)

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের আদি স্রষ্টা, যিনি ফেরেশতাদের বার্তাবাহক নিয়োগ করেছেন—যারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখা বিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব বিষয়ে পরম সক্ষম। (১)

দুনিয়া ও আখেরাতে সকল প্রশংসা তাঁরই এবং সকল কর্তৃত্ব তাঁরই, আর তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (৭০)

আর আসমানসমূহ ও জমিনে সকল প্রশংসা তাঁরই এবং অপরাহ্নে ও যখন তোমরা মধ্যাহ্নে উপনীত হও তখনো (প্রশংসা তাঁরই)।

অতএব সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহের প্রতিপালক ও জমিনের প্রতিপালক—সকল জগতের প্রতিপালক। (৩৬) আর আসমানসমূহ ও জমিনে সকল মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাঁরই এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (৩৭)

রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব বিষয়ে পরম সক্ষম।

এবং তারা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনো পথ পেতাম না।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন।

মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াশীল; আপনি তাদেরকে রুকুকারী ও সেজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবেন।

- জ -
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: -)
يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ

وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَآَمَنُوا بِمَا نُزِّلَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَهُوَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ كَفَّرَ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَأَصْلَحَ بَالَهُمْ

مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

 

اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد. اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد.

أما بعد ـ فهذا كتاب"اللؤلؤ والمرجان، فيما اتفق عليه الشيخان" إماما المحدثين: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بَرْدِزْبَه البخاري الجُعْفِيّ، المولود عام 194هـ. والمتوفى عام 256 هـ. وأبو الحسين مسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري النيسابوري، المولود عام 204هـ.والمتوفى عام 261هـ. أشار بوضعه، الناشر والقائم بطبعه:السيد محمد الحلبي، مدير دار إحياء الكتب العربية.

وقد ألزمني فيه ذكر نص حديث البخاري الذي هو أقرب النصوص انطباقا على نص الحديث الذي اتفق فيه مسلم معه. فكان لهذا الإلزام من جانبه، والالتزام من جانبي، عسر ومشقة دونهما كل عسر ومشقة.ويكفيني دلالة على صعوبة القيام بتنفيذ هذا الالتزام أن أحدا ممن ألف، أو قال، إن هذا الحديث متفق عليه، لم يتقيد قط بمثل هذا القيد.

ذلك لأن الحافظ ابن حجر، وهو أستاذ الدنيا في علم الحديث، قرر فيما قرره، أن المراد بموافقة مسلم للبخاري، موافقته على تخريج أصل الحديث عن صحابيه، وإن وقعت بعض المخالفة في بعض السياقات.

 

-د-
তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে। সিজদার চিহ্নে তাদের মুখমণ্ডল বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

আর যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে এবং মুহাম্মাদের ওপর যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে—আর তা-ই তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য—তিনি তাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করে দেন।

মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি (৪৫) এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।

আর আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি।

নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।

 

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মহিমান্বিত।

অতঃপর—এটি হচ্ছে ‘আল-লু’লু ওয়াল-মারজান ফিমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শায়খান’ (দুই শায়খ কর্তৃক ঐকমত্য হওয়া হাদিসসমূহ) নামক কিতাব। তাঁরা দুজন হলেন হাদিসশাস্ত্রের ইমাম: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুগীরা ইবনে বারদিজবাহ আল-বুখারী আল-জুফী, জন্ম ১৯৪ হিজরি, মৃত্যু ২৫৬ হিজরি। এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী আন-নাইসাবুরী, জন্ম ২০৪ হিজরি, মৃত্যু ২৬১ হিজরি। এটি রচনার নির্দেশনা দিয়েছেন এর প্রকাশক ও মুদ্রণ ব্যবস্থাপক: সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আল-হালাবী, দারু ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ-এর পরিচালক।

তিনি এই গ্রন্থে বুখারীর হাদিসের সেই মূল পাঠ উল্লেখ করা আমার জন্য আবশ্যক করেছেন, যা মুসলিমের সাথে ঐকমত্য হওয়া হাদিসের পাঠের সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর এই আবশ্যকতা এবং আমার পক্ষ থেকে এই অঙ্গীকার পালনের পথে এমন সব প্রতিকূলতা ও কষ্ট ছিল যার কাছে অন্য সকল কষ্ট তুচ্ছ। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাঠিন্য প্রমাণের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, যারা এই বিষয়ে সংকলন করেছেন বা বলেছেন যে ‘এই হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (ঐকমত্য পোষণ করা হয়েছে)’, তাঁরা কখনোই নিজেদের ওপর এ জাতীয় কোনো শর্ত আরোপ করেননি।

কারণ হাফেজ ইবনে হাজার, যিনি হাদিসশাস্ত্রে বিশ্ববরেণ্য শিক্ষক, তিনি এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, বুখারীর সাথে মুসলিমের ঐকমত্যের উদ্দেশ্য হলো মূল হাদিসটি একই সাহাবী থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তাঁদের একমত হওয়া, যদিও কোনো কোনো শব্দবিন্যাসে বা প্রসঙ্গে কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে।

 

-ঘ-
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: -)
وهذا الإمام النووي، شارح صحيح مسلم، لما وضع كتاب "الأربعون النووية "وابتدأه بحديث الأعمال بالنية، وأشار إلى أنه مما اتفق عليه الشيخان، لم يذكر أقرب نصوص البخاري إلى نص مسلم بل ذكر أول نص أخرجه البخاري في صحيحه، وبينه وبين الحديث الذي أخرجه مسلم بعض المخالفة في السياق.

ويجمل بي أن أسرد هنا جميع طرق حديث الأعمال بالنية، الذي ابتدأ الإمام البخاري صحيحه به ليتيسر للمطلع مقارنة هذه النصوص بالنص الذي أخرجه مسلم.

 

أخرج الإمام البخاري حديث الأعمال بالنية في سبعة مواضع:

الأول: عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه.قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:

إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ

 

الثاني في:2- كتاب الإيمان، 41- باب ما جاء أن الأعمال بالنية.

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

" الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَلِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لدُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ "

 

الثالث في: 49 - كتاب العتق، 6- باب الخطأ والنسيان في العتاقة والطلاق.

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

"الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَلِامْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ "

 

الرابع في: 63 - كتاب مناقب الأنصار، 45 - باب هجرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه إلى المدينة.

عن عمر رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:

" الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ "

 

الخامس في: 67 - كتاب النكاح، 5- باب من هاجر أو عمل خيرا لتزويج امرأة فله ما نوى.

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم:

"العَمَلُ بِالنِّيَّةِ، وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى،

 

-هـ-
আর এই হলেন ইমাম নববী, সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকারক; যখন তিনি 'আরবাউন নববী' (চল্লিশ হাদীস) গ্রন্থটি সংকলন করলেন এবং তা নিয়তের আমল বিষয়ক হাদীস দিয়ে শুরু করলেন, আর তিনি ইঙ্গিত দিলেন যে এটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত একটি হাদীস। তবে তিনি ইমাম মুসলিমের পাঠের সাথে ইমাম বুখারীর সবচেয়ে নিকটবর্তী পাঠটি উল্লেখ না করে ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে সর্বপ্রথম যে পাঠটি সংকলন করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। অথচ ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটির বর্ণনার ধারার সাথে এর কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

আমার জন্য এখানে নিয়তের আমল বিষয়ক হাদীসের সকল সূত্র বর্ণনা করা সমীচীন হবে, যা ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছেন, যাতে পাঠকের পক্ষে ইমাম মুসলিম বর্ণিত পাঠের সাথে এই পাঠগুলোর তুলনা করা সহজ হয়।

 

ইমাম বুখারী নিয়তের আমল বিষয়ক হাদীসটি সাতটি স্থানে বর্ণনা করেছেন:

প্রথম: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি:

নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য হবে অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।

 

দ্বিতীয়: ২- কিতাবুল ঈমান (ঈমান অধ্যায়), ৪১- পরিচ্ছেদ: আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল হওয়া বিষয়ক যা বর্ণিত হয়েছে।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"আমলসমূহ নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য হবে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"

 

তৃতীয়: ৪৯- কিতাবুল ইতক (দাসমুক্তি অধ্যায়), ৬- পরিচ্ছেদ: দাসমুক্তি ও তালাকের ক্ষেত্রে ভুল ও বিস্মৃতি।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"আমলসমূহ নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য হবে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"

 

চতুর্থ: ৬৩- কিতাবুন মানাকিবুল আনসার (আনসারদের ফযীলত অধ্যায়), ৪৫- পরিচ্ছেদ: নবী (সা.) এবং তাঁর সাহাবীগণের মদীনায় হিজরত।

উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি:

"আমলসমূহ নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য হবে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে। আর যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে।"

 

পঞ্চম: ৬৭- কিতাবুন নিকাহ (বিবাহ অধ্যায়), ৫- পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হিজরত করল অথবা কোনো নেক আমল করল, সে যা নিয়ত করেছে তা-ই পাবে।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) বলেছেন:

"আমল নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে তা-ই পাবে।"

 

- সমাপ্ত -
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: -)
فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوِ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ "

 

والسادس في: 83 - كتاب الإيمان والنذور، 23 باب النية في الإيمان.

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول:

" إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ "

 

والسابع في: 90 - كتاب الحيل، 1- باب في ترك الحيل.

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول:

" يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ هَاجَرَ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ "

 

وقد أخرج مسلم هذا الحديث بهذا النص في: 33- كتاب الإمارة، 45- باب قوله صلى الله عليه وسلم: إنما الأعمال بالنية ـ حديث رقم 155.

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

" إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ "

 

هذا النص لا ينطبق إلا على الحديث الذي أخرجه البخاري في كتاب الإيمان والنذور.

هذا العناء الذي يعترضني، ويكاد يقف سدا حائلا دون هذا الالتزام، قد ذلّله كتاباي: "جامع مسانيد صحيح البخاري" و "قرة العينين في أطراف الصحيحين" فمن الكتاب الثاني أهتدى إلى الأحاديث المتفق عليها مع إحصائها وحصرها، ومن الأول أقف على النص الذي ألزمنيه الناشر، والتزمته أنا.

 

أما قيمة كتاب:"اللؤلؤ والمرجان" فقد قال الإمام تقي الدين أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن ابن عثمان بن موسى بن أبي نصر النصري الشهرزوري الشافعي المعروف بابن الصلاح، عند ذكر أقسام الصحيح، ما يأتي

فأولها: صحيح أخرجه البخاري ومسلم جميعا.

الثاني: صحيح انفرد به البخاري، أي عن مسلم.

الثالث: صحيح انفرد به مسلم، أي عن البخاري.

الرابع: صحيح على شرطهما، لم يخرجاه.

 

-و-
সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো স্বার্থ লাভের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত সেই লক্ষ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে। "

 

এবং ষষ্ঠটি: ৮৩ - শপথ ও মানত অধ্যায়, ২৩ - ঈমানের ক্ষেত্রে নিয়তের পরিচ্ছেদ।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

"নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে, তার হিজরত সেই বিষয়ের দিকেই হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"

 

এবং সপ্তমটি: ৯০ - অপকৌশল (হিলা) অধ্যায়, ১ - অপকৌশল বর্জন পরিচ্ছেদ।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

"হে লোকসকল! নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে, তার হিজরত সেই বিষয়ের দিকেই হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"

 

ইমাম মুসলিম এই হাদিসটি এই পাঠে বর্ণনা করেছেন: ৩৩ - নেতৃত্ব (ইমারাহ) অধ্যায়, ৪৫ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল - হাদিস নম্বর ১৫৫।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তসমূহের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তা-ই রয়েছে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে, তার হিজরত সেই বিষয়ের দিকেই হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"

 

এই পাঠটি কেবল সেই হাদিসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা ইমাম বুখারী শপথ ও মানত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

আমার সামনে যে শ্রমসাধ্য কাজটি এসেছিল এবং যা এই প্রতিশ্রুতির পথে প্রায় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তা সহজ করে দিয়েছে আমার দুটি কিতাব: "জামে মাসানিদ সহিহ আল-বুখারী" এবং "কুররাতুল আইনাইন ফি আতরাফিস সহিহাইন"। দ্বিতীয় কিতাবটি থেকে আমি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদিসগুলো সংখ্যা ও সীমানাসহ চিহ্নিত করতে সক্ষম হই, আর প্রথমটি থেকে আমি সেই পাঠটি গ্রহণ করি যা প্রকাশক আমার জন্য আবশ্যক করেছিলেন এবং আমিও তা মেনে নিয়েছি।

 

আর "আল-লু'লু ওয়াল মারজান" কিতাবের গুরুত্ব সম্পর্কে ইমাম তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবন আবদুর রহমান ইবন উসমান ইবন মুসা ইবন আবি নাসর আন-নাসরি আশ-শাহরাজুরি আশ-শাফিঈ, যিনি ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত, সহিহ হাদিসের প্রকারভেদ আলোচনা করতে গিয়ে যা বলেছেন তা নিম্নরূপ:

প্রথমত: সেই সহিহ হাদিস যা বুখারী ও মুসলিম উভয়েই বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়ত: সেই সহিহ হাদিস যা ইমাম বুখারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ ইমাম মুসলিম থেকে আলাদাভাবে।

তৃতীয়ত: সেই সহিহ হাদিস যা ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ ইমাম বুখারী থেকে আলাদাভাবে।

চতুর্থত: সেই সহিহ হাদিস যা উভয়ের শর্তানুযায়ী সহিহ, কিন্তু তাঁরা তাঁদের গ্রন্থে তা বর্ণনা করেননি।

 

-ও-
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: -)
الخامس: صحيح على شرط البخاري، لم يخرجه.

السادس: صحيح على شرط مسلم، لم يخرجه.

السابع: صحيح عند غيرهما، وليس على شرط واحد منهما.

هذه أمهات أقسامه، وأعلاها الأول، وهو الذي يقول فيه أهل الحديث كثيرا: صحيح متفق عليه، يطلقون ذلك ويعنون به اتفاق البخاري ومسلم، لا اتفاق الأمة عليه؛ لكن اتفاق الأمة عليه لازم من ذلك وحاصل معه، لاتفاق الأمة على تلقي ما اتفقا عليه بالقبول.

وهذا القسم جميعه مقطوع بصحته والعلم اليقيني النظري واقع به.

ولا أعلم كتابا جمع فيه مؤلفه الأحاديث المتفق عليها إلا كتاب (زاد المسلم فيما اتفق عليه البخاري ومسلم) لأستاذنا المرحوم الشيخ محمد حبيب الله الشنقيطي ولكنه لم يستوف فيه جميع المتفق عليه بل اقتصر بلفظ (كان) من شمائله صلى الله عليه وسلم، وكذا الأحاديث المصدرة بلفظ (نهي) .

فكان عدد جميع أحاديث الكتاب 1368 حديثا.

وقد قال الإمام النووي في شرح مسلم ما يأتي:

فصل: إذا قال الصحابي: كنا نقول أو نفعل، أو يقولون أو يفعلون كذا، أو كنا لا نرى أو لا يرون بأسا بكذا، اختلفوا فيه. فقال الإمام أبو بكر الإسماعيلي:لا يكون مرفوعا، بل هو موقوف.وسنذكر حكم الموقوف في فصل بعد هذا إن شاء الله تعالى. وقال الجمهور من المحدثين وأصحاب الفقه والأصول، إن لم يضفه إلى زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم فليس بمرفوع بل هو موقوف، وإن أضافه فقال:كنا نفعل في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، أو في زمنه، أو وهو فينا، أو بين أظهرنا، أو نحو ذلك، فهو مرفوع. وهذا هو المذهب الصحيح الظاهر، فإنه إذا فعل في زمنه صلى الله عليه وسلم فالظاهر اطلاعه عليه وتقريره إياه صلى الله عليه وسلم وذلك مرفوع.

وقال آخرون: إن كان الفعل مما يخفي غالبا كان مرفوعا، وإلا كان موقوفا، وبهذا قطع الشيخ أبو إسحاق الشيرازي الشافعي، والله أعلم. وأما إذا قال الصحابي:أمرنا بكذا، أو نهينا عن كذا، أو من السنة كذا، فكله مرفوع على المذهب الصحيح الذي قاله الجماهير من أصحاب الفنون ا. هـ.

وقال السيد جمال الدين القاسمي، في (قواعد التحديث) :

 

-ز-
পঞ্চম: ইমাম বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ, তবে তিনি তা তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেননি।

ষষ্ঠ: ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, তবে তিনি তা তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেননি।

সপ্তম: তাঁদের দুজন ব্যতিরেকে অন্যদের নিকট সহীহ, তবে তাঁদের কারো শর্তের ওপর নয়।

এগুলো হলো এর প্রধান প্রকারভেদসমূহ, এবং এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো প্রথমটি; হাদীস বিশারদগণ সচরাচর যেটির ক্ষেত্রে বলে থাকেন: 'ঐক্যমত্যপূর্ণ সহীহ' (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। তাঁরা এটি ব্যবহার করে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের ঐকমত্যকে বুঝিয়ে থাকেন, সমগ্র উম্মতের ঐকমত্য নয়; তবে উম্মতের ঐকমত্য এর থেকে অনিবার্যভাবে এবং এর সাথেই অর্জিত হয়, কারণ উম্মত তাঁদের দুজনের ঐকমত্য সম্পন্ন হাদীসসমূহকে কবুল করার ক্ষেত্রে একমত হয়েছে।

আর এই প্রকারের সবটুকুই সহীহ হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য এবং এর মাধ্যমে যৌক্তিক নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়।

আমি এমন কোনো কিতাব সম্পর্কে অবগত নই যেখানে লেখক ঐক্যমত্যপূর্ণ হাদীসসমূহকে একত্রিত করেছেন, আমাদের উস্তাদ মরহুম শেখ মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ আশ-শানকিতীর 'জাদুল মুসলিম ফিমা ইত্তাফাকা আলাইহিল বুখারী ওয়া মুসলিম' কিতাবটি ব্যতীত। তবে তিনি সেখানে সকল ঐক্যমত্যপূর্ণ হাদীস অন্তর্ভুক্ত করেননি, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য থেকে 'তিনি ছিলেন' শব্দবিশিষ্ট হাদীসসমূহ এবং 'নিষেধ' শব্দ দিয়ে শুরু হওয়া হাদীসসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

ফলে উক্ত কিতাবের সর্বমোট হাদীস সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৬৮ টি।

ইমাম নববী 'শারহে মুসলিম'-এ নিম্নরূপ বলেছেন:

পরিচ্ছেদ: সাহাবী যদি বলেন, 'আমরা বলতাম বা করতাম', অথবা 'লোকেরা বলত বা করত', অথবা 'আমরা বা তারা এতে কোনো দোষ দেখতাম না', তবে এ ব্যাপারে ওলামাগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু বকর আল-ইসমাঈলী বলেছেন: এটি রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো (মারফু) হবে না, বরং এটি সাহাবী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ (মাওকুফ)। ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তী একটি পরিচ্ছেদে এই ধরনের হাদীসের হুকুম বর্ণনা করব। মুহাদ্দিসগণ, ফিকহবিদগণ এবং মূলনীতিবিদদের (উসুলবিদ) অধিকাংশের মতে, যদি তিনি এটিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ের সাথে সম্পৃক্ত না করেন, তবে তা রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো নয় বরং সাহাবী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আর যদি তিনি এটিকে সম্পৃক্ত করে বলেন: 'আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় এমনটি করতাম', অথবা 'তাঁর যুগে', অথবা 'যখন তিনি আমাদের মাঝে ছিলেন', অথবা 'আমাদের সম্মুখে', অথবা এই জাতীয় শব্দ, তবে তা রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো হাদীস হিসেবে গণ্য হবে। এটিই বিশুদ্ধ ও সুস্পষ্ট মত, কারণ তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুগে যখন কোনো কাজ করা হতো, তখন স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায় যে তিনি তা অবগত ছিলেন এবং তাঁর সমর্থন ছিল, আর তা রাসূলের হাদীস হিসেবেই গণ্য।

অন্যরা বলেছেন: যদি কাজটি এমন হয় যা সাধারণত গোপন থাকে, তবে তা রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো বলে গণ্য হবে, অন্যথায় তা সাহাবী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। শেখ আবু ইসহাক আশ-শিরাজী আশ-শাফিঈ এ ব্যাপারেই অকাট্য সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, আল্লাহই ভালো জানেন। আর সাহাবী যদি বলেন: 'আমাদেরকে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে', বা 'আমাদেরকে এই কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে', বা 'সুন্নত হলো এই', তবে এই সবকিছুই সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে বিশুদ্ধ মতানুসারে রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো হাদীস (মারফু) হিসেবে গণ্য হবে। সমাপ্ত।

সাইয়্যেদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী 'কাওয়ায়েদুত তাহদীস'-এ বলেছেন:

 

-ঝ-
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: -)
قال الإمام تقي الدين ابن تيمية في بعض فتاويه: الحديث النبوي هو عند الإطلاق ينصرف إلى ما حُدِّث به عنه صلى الله عليه وسلم بعد النبوة من قوله، وفعله، وإقراره.

ومن هنا كان الفرق بين عدد الأحاديث التي جمعها مؤلف كتاب (زاد المسلم فيما اتفق عليه البخاري ومسلم) وقدرها 1368، وبين عدد أحاديث (اللؤلؤ والمرجان) وقدرها 2006.

فدونك أيها القارئ كتابا أحصى جميع الأحاديث التي هي في أعلى درجة من درجات الصحة، فأحرز نفسك في حرزه، واشدد يديك بغرزه.

(ربنا ءامنا بما أنزلت واتبعنا الرسول فأكتبنا مع الشهدين) [آل عمران:53]

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

محمد فؤاد عبد الباقي

 

-ح-
ইমাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া তাঁর কোনো এক ফতোয়ায় বলেছেন: সাধারণভাবে হাদিসে নববী বলতে নবুয়ত প্রাপ্তির পর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত তাঁর কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতিকে বোঝায়।

আর এখান থেকেই 'যাদুল মুসলিম ফিমা ইত্তাফাকা আলাইহিল বুখারি ওয়া মুসলিম' গ্রন্থের লেখক কর্তৃক সংগৃহীত হাদিস সংখ্যা ১৩৬৮ এবং 'আল-লু'লু ওয়াল মারজান' গ্রন্থের হাদিস সংখ্যা ২০০৬-এর মধ্যে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অতএব হে পাঠক, আপনার সম্মুখে এমন একটি গ্রন্থ রয়েছে যা বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ স্তরে থাকা সকল হাদিসকে একত্র করেছে; সুতরাং আপনি নিজেকে এর আশ্রয়ে সুরক্ষিত করুন এবং একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন।

(হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি যা অবতীর্ণ করেছেন আমরা তার ওপর ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসুলের অনুসরণ করেছি, সুতরাং আমাদের সাক্ষ্যদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করুন) [আলে ইমরান: ৫৩]

আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

 

মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি

 

-হা-
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌{تغليظ الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم}
{আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপের ভয়াবহতা}
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌1 - حديث عليّ قال: قال النبيّ صلى الله عليه وسلم: لا تكذِبوا عليّ، فإنه من كَذَبَ عليّ فَلْيَلِجِ النارَ

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 3 كتاب العلم: 38 باب إثم من كذب على النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১ - আলীর বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করো না, কারণ যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে প্রবেশ করে।

--------------------------------------------

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন: ৩ ইলম অধ্যায়: ৩৮ পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপকারীর পাপ।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌2 - حديث أَنَسٍ قال: إِنه لَيَمْنَعُنِى أَنْ أحدّثكم حديثًا كثيرًا أَنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: مَنْ تعمَّدَ عليّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ من النار

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 3 كتاب العلم: 38 باب إثم من كذب على النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২ - আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আমাকে তোমাদের নিকট অধিক হাদিস বর্ণনা করা থেকে যা বিরত রাখে তা হলো—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।”

--------------------------------------------

বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন: ৩ ইলম (জ্ঞান) অধ্যায়: ৩৮ অনুচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা বলার গুনাহ।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌3 - حديث أبي هُرَيْرَةَ عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: ومَن كَذَب عليّ مُتعمِّدًا فليتبوَّأْ مَقْعَدَهُ من النار

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 3 كتاب العلم: 38 باب إثم من كذب على النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
3 - আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।

--------------------------------------------

এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন: ৩. ইলম (জ্ঞান) অধ্যায়: ৩৮. পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করার পাপ।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌4 - حديث الْمُغِيرَةِ قال سمعتُ النبيَّ صلى الله عليه وسلم يقول: إِنَّ كذِبًا عليّ ليس ككذِبٍ على أحدٍ، مَن كَذَبَ عليَّ مُتعمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ منَ النار

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 23 كتاب الجنائز: 34 باب ما يكره من النياحة على الميت
৪ - মুগীরাহ (রা.) বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারো ওপর মিথ্যা আরোপ করার মতো নয়। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।

--------------------------------------------

বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন: ২৩ জানাযা অধ্যায়: ৩৪ মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করার অপছন্দনীয়তা সম্পর্কে পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌كتاب الإيمان
ঈমান সংক্রান্ত কিতাব
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الإيمان ما هو وبيان خصاله
ঈমান কী এবং তার বৈশিষ্ট্যসমূহের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌5 - حديث أبي هُرَيْرَةَ قال كان النبيُّ صلى الله عليه وسلم بارزًا يومًا للناسِ فأَتاه رجلٌ فقال: ما الإيمان قال: الإيمان أن تؤمنَ بالله وملائكتِهِ وبلقائِهِ وبرسلِهِ وتؤمَن بالبعثِ قال: ما الإسلامُ قال: الإسلامُ أن تعبدَ اللهَ ولا تشركَ به وتقيمَ الصلاةَ وتؤدِّيَ الزكاةَ المفروضةَ وتصومَ رمضانَ قال: ما الإحسان قال: أن تعبدَ الله كأنك تراهُ، فإِن لم تكن تراه فإِنه يراك قال: متى الساعةُ قال: ما المسئولُ عنها بأَعْلَم مِنَ السائل، وسأُخبرُكَ عن أشراطِها؛ إِذا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّهَا، وَإِذا تطاولَ رُعاةُ الإبِلِ البَهْمُ في البنيان، في خمسٍ لا يعلمهنَّ إِلَاّ الله ثم تلا النبيُّ صلى الله عليه وسلم (إِنَّ الله عنده علم الساعة) الآية: ثم أدبر فقال: رُدُّوه فلم يَرَوْا شيئاً فقال: هذا جبريل جاءَ يُعَلِّمُ الناسَ دينَهم

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 2 كتاب الإيمان: 37 باب سؤال جبريل النبي صلى الله عليه وسلم عن الإيمان والإسلام
৫ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সামনে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: ঈমান কী? তিনি বললেন: ঈমান হলো এই যে, আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর সাথে সাক্ষাতের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন পুনরুত্থানের প্রতি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: ইসলাম কী? তিনি বললেন: ইসলাম হলো এই যে, আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবেন না, সালাত কায়েম করবেন, নির্ধারিত জাকাত প্রদান করবেন এবং রমজানের সিয়াম পালন করবেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: ইহসান কী? তিনি বললেন: আপনি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: কিয়ামত কবে হবে? তিনি বললেন: এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন, তবে আমি আপনাকে এর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে অবহিত করব; যখন দাসী তার মালিককে প্রসব করবে এবং যখন উটের রাখালরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতা করবে। এটি সেই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেলাওয়াত করলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে" (আয়াতটি)। এরপর লোকটি যখন ফিরে গেল, তখন তিনি বললেন: তাকে ফিরিয়ে আনো। কিন্তু তারা কিছুই দেখতে পেলেন না। তখন তিনি বললেন: ইনি জিবরাঈল, তিনি মানুষকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।

--------------------------------------------

এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন: ২ ঈমান অধ্যায়: ৩৭ অনুচ্ছেদ: জিবরাঈল কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌بيان الصلوات التي هي أحد أركان الإسلام
ইসলামের অন্যতম রুকন সালাতসমূহের বিবরণ
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌6 - حديث طَلْحَةَ بن عُبَيْد الله قال: جاءَ رجلٌ إِلى رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم من أهل نجْدٍ ثائرُ الرأسِ يُسْمَعُ دوِيُّ صوتِهِ ولا يُفْقَهُ ما يقول، حتى دنا فإِذا هو يسأَل عن الإسلام؛ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: خمسُ صلواتٍ في اليومِ والليلةِ فقال: هل عليّ غيرُها قال: لا إِلَاّ أَنْ تَطَوَّعَ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: وصيامُ رمضانَ قال: هل عليّ غيره قال: لا إِلَاّ أَن تَطَوَّعَ قال، وذكر له رسول الله صلى الله عليه وسلم الزكاةَ قال هل عليَّ غيرُها قال ‌‌⦗ص: 3⦘ لا إِلَاّ أَنْ تَطَوَّعَ قال فأَدبر الرجل وهو يقول: والله لا أزيد على هذا ولا أَنْقصُ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 2 كتاب الإيمان: 34 باب الزكاة من الإسلام
৬ - তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নজদবাসীদের মধ্য হতে উস্কোখুস্কো চুলের এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। তাঁর কণ্ঠের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল কিন্তু তিনি কী বলছিলেন তা বোঝা যাচ্ছিল না। অবশেষে তিনি নিকটবর্তী হলেন এবং দেখা গেল তিনি ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া আর কিছু আছে? তিনি বললেন: না, তবে তুমি যদি স্বেচ্ছায় নফল হিসেবে কিছু করো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এবং রমজানের রোজা। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া আর কিছু আছে? তিনি বললেন: না, তবে তুমি যদি স্বেচ্ছায় নফল হিসেবে কিছু করো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট জাকাতের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া আর কিছু আছে? তিনি বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩⦘ না, তবে তুমি যদি স্বেচ্ছায় নফল হিসেবে কিছু করো। তখন লোকটি এই বলতে বলতে ফিরে গেলেন: আল্লাহর শপথ! আমি এর চেয়ে বেশিও করব না এবং কমও করব না। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: সে সফল হবে যদি সত্য বলে থাকে।

--------------------------------------------

ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন: ২ ঈমান অধ্যায়: ৩৪ ইসলামে জাকাত বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌بيان الإيمان الذي يدخل به الجنة
সেই ঈমানের বর্ণনা যার দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করা যায়
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌7 - حديث أبي أيوبَ الأَنصاريّ رضي الله عنه أَنَّ رجلاً قال: يا رسول الله أخبرني بعمل يُدْخِلُني الجنة، فقال القوم: مَا لَهُ مَالَه فقال رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَرَبٌ مَّا لَهُ فقال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: تعبُدُ اللهَ لا تُشْرِكُ بهِ شيئًا وتُقيمُ الصَّلاةَ وَتُؤْتِي الزكاةَ وَتَصِلُ الرَّحِمَ ذرْها قَال كأنّه كانَ عَلى رَاحِلَتِهِ

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 78 كتاب الأدب: 10 باب فضل صلة الرحم
৭ - আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস যে, এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে বলে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তখন উপস্থিত লোকজন বলতে লাগল: তার কী হয়েছে? তার কী হয়েছে? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তার একটি বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে; এবার (উটের লাগাম) ছেড়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি তাঁর বাহনের ওপর আরোহী ছিলেন।

--------------------------------------------

বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন: ৭৮ আদব অধ্যায়: ১০ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ফযীলত অনুচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌8 - حديث أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ أَعْرابِيًّا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقالَ: دُلَّني عَلى عَمَلٍ إِذا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الجنة قَالَ: تَعْبُدُ اللهَ لا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقيمُ الصَّلاةَ المَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمفْروضَة وَتَصُومُ رَمَضانَ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا أَزِيدُ عَلى هذا فَلَمّا وَلّى، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلى هَذا

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في 24 كتاب الزكاة: 1 باب وجوب الزكاة
৮ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করব। তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, ফরজ সালাত কায়েম করবে, নির্ধারিত জাকাত প্রদান করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে। সে বলল: যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, আমি এর ওপর বৃদ্ধি করব না। অতঃপর যখন সে চলে গেল, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: যে ব্যক্তি জান্নাতি কোনো মানুষকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই লোকটির দিকে তাকায়।

--------------------------------------------

এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন, ২৪ নম্বর গ্রন্থ জাকাত: ১ নম্বর পরিচ্ছেদ জাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌قول النبي صلى الله عليه وسلم بُني الإسلام على خمس
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌9 - حديث ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: بُنِيَ الإِسْلامُ عَلى خَمْسٍ: ‌‌⦗ص: 4⦘ شَهادَةِ أَنْ لَا إِلهَ إِلَاّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ وَإِقامِ الصَّلاةِ وَإِيتاءَ الزَّكاةِ وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 2 كتاب الإيمان: 2 باب دعاؤكم إيمانكم
‌‌৯ - ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত: ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ৪⦘ এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।

--------------------------------------------

এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন: ২ ইমান অধ্যায়: ২ পরিচ্ছেদ ‘তোমাদের দোয়া ইমানস্বরূপ’
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الأمر بالإيمان بالله ورسوله وشرائع الدين والدعاء إليه
আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও দীনের বিধানসমূহের প্রতি ঈমান আনা এবং এর দিকে আহ্বান করার নির্দেশ
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌10 - حديث ابْنِ عَبّاس قَالَ إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ لَمّا أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنِ الْقَوْمُ أَوْ مَنِ الْوَفْدُ قَالُوا: رَبِيعَةَ قَالَ: مَرْحَبًا بِالْقَوْمِ أَوْ بِالْوَفْدِ غَيْرَ خَزايا وَلَا نَدَامَى فَقالُوا: يا رَسُولَ اللهِ إِنَّا لَا نَسْتَطِيعُ أَنْ نَأْتِيَكَ إِلَاّ في الشَّهْرِ الْحَرامِ، وَبَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذا الْحَيُّ مِنْ كُفّارِ مُضَرَ، فَمُرْنَا بِأَمْرٍ فَصْلٍ نُخْبِرْ بِهِ مَنْ وَرَاءَنا وَنَدْخُلْ بِهِ الْجَنَّةَ وَسَأَلُوهُ عَنِ الأَشْرِبَةِ فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ وَنَهاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: أَمَرَهُمْ بِالإِيمانِ بِاللهِ وَحْدَهُ، قَالَ: أَتَدْرُونَ مَا الإِيمانُ بِاللهِ وَحْدَهُ قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: شَهادَةُ أَنْ لَا إِلهَ إِلاّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقامُ الصَّلاةِ وَإِيتاءُ الزَّكاةِ وَصِيامُ رَمَضَانَ وَأَنْ تُعْطُوا مِنَ الْمغنَمِ الْخُمُسَ وَنَهاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنِ الْحَنْتَمِ وَالدُّبَّاءِ وَالنَّقِيرِ وَالمُزَفَّتِ وَرُبَّما قَالَ المُقَيَّرِ وَقالَ: احْفَظُوهُنَّ وَأَخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَراءَكُمْ

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 2 كتاب الإيمان: 40 باب أداء الخمس من الإيمان
১০ - ইবনে আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন ‘আব্দুল কাইস গোত্রের প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কোন কওম? অথবা তোমরা কোন প্রতিনিধিদল? তারা বললেন: আমরা রাবিয়া গোত্রের। তিনি বললেন: এই কওম বা প্রতিনিধিদলকে স্বাগতম, যারা লাঞ্ছিত বা অনুতপ্ত না হয়েই এসেছে। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কেবল নিষিদ্ধ মাসগুলো ব্যতীত আপনার নিকট আসতে সক্ষম হই না, কারণ আমাদের ও আপনার মাঝে মুযার গোত্রের এই কাফেররা বসবাস করে। অতএব আপনি আমাদের এমন কিছু অকাট্য বিষয়ের আদেশ প্রদান করুন, যা আমরা আমাদের পেছনে থাকা লোকেদের অবহিত করতে পারি এবং যার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তারা তাঁকে পানীয় সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি তাদের চারটি বিষয়ের আদেশ দিলেন এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করলেন: তিনি তাদের এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আদেশ দিলেন এবং বললেন: তোমরা কি জান এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তারা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক অবগত। তিনি বললেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং গনীমতের মালের পঞ্চমাংশ প্রদান করা। আর তিনি তাদের চারটি পাত্র ব্যবহার থেকে নিষেধ করলেন: হানতাম (মাটির মটকা), দুব্বা (শুকনো লাউয়ের খোল), নাকীর (খোদাই করা কাঠের পাত্র) এবং মুজাফফাত (আলকাতরা মাখানো পাত্র)—বর্ণনাকারী সম্ভবত মুকাইয়্যার শব্দটিও উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বললেন: তোমরা এগুলো স্মরণে রাখো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের নিকট এগুলো পৌঁছে দিও।

--------------------------------------------

বুখারী এটি সংকলন করেছেন: ২ ঈমান অধ্যায়: ৪০ ঈমানের অংশ হিসেবে খুমুস (পঞ্চমাংশ) আদায় করা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌11 - حَدْيث ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا بَعَثَ مُعَاذاً رضي الله عنه عَلى الْيَمنِ قَالَ: إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلى قَوْمِ أَهْلِ كِتَابٍ، فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ عِبادَةُ اللهِ، فَإِذَا عَرَفُوا اللهَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَواتٍ في يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ، فَإِذا فَعَلُوا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكاةً مِنْ أَمْوالِهِمْ وَتَردُّ عَلى فُقَرائِهِمْ فَإِذا أَطَاعُوا بِها فَخُذْ مِنْهُمْ وَتَوَقَّ كَرائِم أَمْوالِ النَّاسِ

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 24 كتاب الزكاة: 41 باب لا تؤخذ كرائم أموال الناس في الصدقة
‌১১ - ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুয়াজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামেনে পাঠালেন তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাব বা ঐশী কিতাবের অধিকারী এক জাতির কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান যেন হয় আল্লাহর ইবাদত। তারা যখন আল্লাহকে চিনবে (অর্থাৎ তাওহীদ স্বীকার করবে), তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। তারা যখন এটি পালন করবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া (বণ্টন করা) হবে। যখন তারা এতে আনুগত্য প্রকাশ করবে, তখন তুমি তাদের থেকে তা গ্রহণ কোরো, তবে মানুষের বেছে বেছে শ্রেষ্ঠ সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো।"

--------------------------------------------

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি: ২৪- জাকাত অধ্যায়: ৪১- অনুচ্ছেদ: সদকার ক্ষেত্রে মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ গ্রহণ করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌12 - حديث ابْنُ عَبّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعاذًا إِلى الْيَمَنِ فَقالَ: اتَّقِ دَعْوَةَ المَظْلُومِ فَإِنَّها لَيْسَ بَيْنَها وَبَيْنَ اللهِ حِجابٌ

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 46 كتاب المظالم: 9 باب الاتقاء والحذر من دعوة المظلوم
১২ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন এবং বলেন: “তুমি মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কারণ তার এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।”

--------------------------------------------

এটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন: ৪৬ কিতাবুল মাজালিম (অবিচার অধ্যায়): ৯ অনুচ্ছেদ—মজলুমের বদদোয়া হতে বেঁচে থাকা ও সতর্কতা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الأمر بقتال الناس حتى يقولوا لا إِله إِلا الله محمد رسول الله
মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ যতক্ষণ না তারা বলে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল
(খণ্ড: ১) আল-লুলুউ ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শাইখান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌13 - حديث أَبي بَكْر وَعُمَر قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: لَمّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَكانَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَب، فَقالَ عُمَرُ رضي الله عنه: كَيْفَ تُقاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أُمِرْتُ أَنْ أُقاتِلَ النَّاسَ حَتّى يَقُولوا لا إِلهَ إِلَاّ اللهُ، فَمَنْ قالَها فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَاّ بِحَقِّهِ، وَحِسابُهُ عَلى اللهِ فَقالَ أَبُو بَكْرٍ: وَاللهِ لأُقاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاةِ وَالزَّكاةِ، فَإِنَّ الزَّكاةَ حَقُّ الْمالِ، وَاللهِ لَوْ مَنَعُوني عَناقًا كَانوا يُؤَدُّونَها إِلى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَقاتَلْتُهُمْ عَلى مَنْعِها

قالَ عُمَر رضي الله عنه: فَواللهِ ما هُوَ إِلَاّ أَنْ قَدْ شَرَحَ اللهُ صَدْرَ أَبي بَكْرٍ رضي الله عنه فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ

--------------------------------------------

أخرجه البخاري في: 24 كتاب الزكاة: 1 باب وجوب الزكاة
১৩ - আবু বকর ও উমরের হাদীস। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন এবং আবু বকর (রা.) দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, আর আরবদের মধ্যে যারা ধর্মত্যাগী হওয়ার তারা হয়ে গেল, তখন উমর (রা.) বললেন: আপনি কেন মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন অথচ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি তা বলবে, সে আমার নিকট থেকে তার ধন-সম্পদ ও প্রাণ নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের হক ব্যতীত; আর তার হিসাব আল্লাহর নিকট।" তখন আবু বকর (রা.) বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যে সালাত ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা জাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর শপথ, তারা যদি আমাকে একটি ছাগলের বাচ্চাও দিতে অস্বীকার করে যা তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রদান করত, তবে আমি তাদের সেই অস্বীকৃতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।

উমর (রা.) বলেন: আল্লাহর শপথ, আমি দেখলাম যে আল্লাহ আবু বকর (রা.)-এর বক্ষকে (এ সিদ্ধান্তের জন্য) উন্মোচিত করে দিয়েছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটিই সত্য।

--------------------------------------------

বুখারি এটি উদ্ধৃত করেছেন: ২৪ জাকাত অধ্যায়, ১ জাকাত ওয়াজিব হওয়া পরিচ্ছেদ।