(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية والدعوة في العهد المكي   (أحمد أحمد غلوش)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: السيرة النبوية والدعوة في العهد المكي

المؤلف: أحمد أحمد غلوش

الناشر: مؤسسة الرسالة

الطبعة: الأولى 1424هـ-2003م

عدد الصفحات: 625

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সীরাতুন নবী এবং মক্কী যুগের দাওয়াত   (আহমাদ আহমাদ গালুশ)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: সীরাতুন নবী এবং মক্কী যুগের দাওয়াত

লেখক: আহমাদ আহমাদ গালুশ

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৪ হিজরি-২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৭)
ال‌‌مقدمة:

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.. وبعد،،،

فإن دين الله واحد، ورسله جميعًا يتحركون بعقيدة واحدة، يعلنون كلمة الله، ويعملون لنقل الناس من الضلال إلى الهدى، وإخراجهم من الظلمات إلى النور، يقول تعالى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} 1، ويقول تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلامُ} 2، ويقول تعالى: {قُلْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَالنَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ، وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} 3.

والآيات واضحة الدلالة في إثبات وَحْدَة الدين، الذي جاء به الرسل أجمعين، وهذه الوحدة بادية في أركان العقيدة، فهي عقيدة واحدة معلومة من لدن آدم عليه السلام إلى محمد صلى الله عليه وسلم، تناسب الفطرة البشرية، وتتسم بالصدق والحق والواقعية.

ولو كان الإنسان واحدًا، والواقع البشري ثابتًا، لجاء للناس رسول واحد، صالح للناس أجمعين.

--------------------------------------------

1 سورة الشورى الآية 13.

2 سورة آل عمران الآية 19.

3 سورة آل عمران الآيتان 84، 85.
ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর...

নিশ্চয়ই আল্লাহর দ্বীন অভিন্ন, এবং তাঁর সকল রাসূল এক ও অভিন্ন আকিদা নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন। তাঁরা আল্লাহর বাণী ঘোষণা করেন এবং মানুষকে গোমরাহি থেকে হিদায়াতের দিকে নিয়ে যেতে এবং অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনতে কাজ করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি ওহি করেছি আপনার প্রতি, আর যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহিম, মুসা ও ঈসাকে—এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না} ১। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} ২। মহান আল্লাহ বলেন: {বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে আর যা অবতীর্ণ হয়েছে ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের ওপর, এবং যা প্রদান করা হয়েছে মুসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীদের তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে। আমরা তাঁদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত মুসলিম। আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তা কখনো তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} ৩।

এই আয়াতগুলো সকল রাসূল যে অভিন্ন দ্বীন নিয়ে এসেছিলেন, তা প্রমাণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অর্থ বহন করে। আর এই ঐক্য আকিদার মূল ভিত্তিগুলোতে সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। এটি একটি সুনির্দিষ্ট আকিদা যা আদম আলাইহিস সালামের সময় থেকে শুরু করে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সুপরিচিত। এটি মানুষের সহজাত স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সত্য, ন্যায় ও বাস্তবতার গুণে গুণান্বিত।

আর যদি মানুষ এক হতো এবং মানবিক বাস্তবতা অপরিবর্তনীয় থাকতো, তবে মানুষের কাছে একজন মাত্র রাসূল আসতেন, যিনি সকল মানুষের জন্য উপযুক্ত হতেন।

--------------------------------------------

১. সূরা আশ-শুরা, আয়াত ১৩।

২. সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯।

৩. সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৮৪, ৮৫।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৮)
لكن الإنسان ليس واحدا، وإنما هو متعدد النزعات، متنوع الفكر، يتأثر واقعه دائما بعوامل جغرافية، وبيئية، واقتصادية، وثقافية، واجتماعية … إلخ؛ ولذلك قضى الله بحكمته أن يبعث رسولًا لكل أمة يبلغها بالعقيدة الدينية الواحدة، وبأسلوب يتلاءم معها، وبمنهج يقربها من دعوته، مع تكليف الناس بأعمال وتطبيقات تطهر حياتهم، وتقوي عقيدتهم، وتساعد في القضاء على مواريث الجهل والضلال، وبناء الحياة على الحق والصواب.

وقد رأينا في الكتاب الأول الخاص بدعوة الرسل عليهم السلام أن كل رسول دعا قومه بمنهج خاص، وبطريقة خاصة، مع اتحادهم في العقيدة الواحدة.

ورأينا -كذلك- أن كل رسول بُعث لقوم معينين، سواء تتابعوا زمنيًّا، أو بعثوا في وقت واحد كإبراهيم ولوط عليهما السلام.

ورأينا -أيضًا- أن كل رسالة كانت تراعي أحوال المدعوين، وتلاحظ مستواهم العقلي والحضاري في التوجه والمناقشة.

إن هذا الموكب الطويل من الرسل جاءوا للناس بصورة واحدة للاعتقاد الصحيح، القائم على التوحيد الخالص، التوحيد المطلق، الناصع، القاطع، توحيد الألوهية التي يجب أن يتوجه إليها البشر جميعًا، كما يتوجه إليها سائر الخلائق بالتسليم والخضوع والعبودية.

إن هذا التوحيد يعني أن القوامة المطلقة لله لازمة على خلقه جميعًا، فلا يقوم شيء إلا لله، ولا سيادة على الخلق إلا من الله، ومن ثَم فإن الاستسلام كله من البشر يجب أن يكون لله، صاحب الحول والطول، ورب العالمين.

وقد علَّم الله رسله أن يتلاءم كل منهم مع واقعه في الشريعة، وإن اختلفت عن الشرائع الآخرى، يقول تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} 1.

--------------------------------------------

1سورة المائدة الآية 48.
কিন্তু মানুষ অভিন্ন নয়, বরং তার রয়েছে নানামুখী প্রবণতা এবং বৈচিত্র্যময় চিন্তা। তার বাস্তবতা সর্বদা ভৌগোলিক, পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক ইত্যাদি নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয় … ইত্যাদি; একারণেই আল্লাহ তাঁর প্রজ্ঞার মাধ্যমে ফয়সালা করেছেন যে, তিনি প্রতিটি জাতির জন্য একজন করে রাসূল পাঠাবেন, যিনি তাদের কাছে এক ও অভিন্ন ধর্মীয় আকিদা পৌঁছে দেবেন, এমন এক শৈলীতে যা তাদের সাথে মানানসই এবং এমন পদ্ধতিতে যা তাদের তাঁর দাওয়াতের নিকটবর্তী করবে। এর সাথে তিনি মানুষকে এমন কিছু আমল ও প্রায়োগিক বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন যা তাদের জীবনকে পবিত্র করবে, তাদের আকিদাকে শক্তিশালী করবে এবং মূর্খতা ও গোমরাহির উত্তরাধিকার নির্মূল করে সত্য ও সঠিকতার ভিত্তিতে জীবন গঠনে সহায়তা করবে।

আর আমরা রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) দাওয়াত সংক্রান্ত প্রথম কিতাবে দেখেছি যে, প্রত্যেক রাসূলই তাঁর কওমকে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে এবং বিশেষ পন্থায় আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও আকিদার ক্ষেত্রে তাঁরা সবাই এক ও অভিন্ন ছিলেন।

আমরা আরও দেখেছি যে, প্রত্যেক রাসূল নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, চাই তাঁরা সময়ের পরিক্রমায় একের পর এক আসুক অথবা একই সময়ে প্রেরিত হোক, যেমন ইবরাহীম ও লূত (আলাইহিমাস সালাম)।

আমরা এটাও দেখেছি যে, প্রতিটি রিসালাতই যাদের নিকট দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখত এবং সম্বোধন ও আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের বুদ্ধিগত ও সাংস্কৃতিক স্তরের দিকে খেয়াল রাখত।

রাসূলগণের এই দীর্ঘ কাফেলা মানুষের কাছে সহীহ বিশ্বাসের একটি অভিন্ন রূপ নিয়ে এসেছিলেন, যা বিশুদ্ধ তাওহীদ, নিরঙ্কুশ তাওহীদ, স্বচ্ছ ও অকাট্য তাওহীদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সেই উলুহিয়্যাতের তাওহীদ, যার দিকে সমস্ত মানবজাতির অভিমুখী হওয়া আবশ্যক, যেমনভাবে অন্যান্য সমস্ত সৃষ্টি আত্মসমর্পণ, বিনয় এবং দাসত্বের মাধ্যমে সেদিকেই অভিমুখী হয়।

এই তাওহীদের অর্থ হলো আল্লাহর নিরঙ্কুশ অভিভাবকত্ব তাঁর সমস্ত সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য। সুতরাং কোনো কিছুই আল্লাহ ব্যতীত প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং সৃষ্টির ওপর আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। ফলশ্রুতিতে, মানুষের সমস্ত আত্মসমর্পণ কেবল আল্লাহর জন্যই হওয়া আবশ্যক, যিনি অসীম শক্তি ও অনুগ্রহের অধিকারী এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

আর আল্লাহ তাঁর রাসূলদের শিক্ষা দিয়েছেন যেন তাঁদের প্রত্যেকে শরীয়তের ক্ষেত্রে নিজ নিজ বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখেন, যদিও তা অন্যান্য শরীয়ত থেকে ভিন্ন হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরীয়ত ও পথ নির্ধারণ করেছি} ১।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৪৮।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد رأينا لكل رسول شريعته المناسبة لقومه، فيها الحلال، وفيها الحرام، وفيها التكاليف العملية المتنوعة، وهي مع اختلافها مع كل رسول فهي منزلة من الله؛ ولذلك اتسقت مع العقيدة الربانية الواحدة، التي تلزم المعتقد بضرورة التلقي من الله الواحد، والتحاكم إلى الوحي المنزل، والأخذ من توجيهات النبي المبعوث، وبذلك يتحد الضمير الخفي مع الواقع العملي، ويعيش الناس -كل الناس- مع رسلهم مؤمنين مخلصين، مطيعين لله رب العالمين.

وكما اختلف الرسل في الشريعة اختلفوا كذلك في المنهج والأسلوب؛ ليتحقق المراد من الدعوة، يقول تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} 1.

إن طريقة التوجه لقوم ما لا تتناسب مع التوجه لغيرهم؛ لما بين الفريقين من اختلاف تنوع، وتلك دروس مستفادة من تاريخ دعوة رسل الله تعالى.

وقبيل بعثة محمد صلى الله عليه وسلم اقترب الناس فكريًّا، وترقت عقولهم حتى وصلت إلى التصور المجرد، والقدرة على مناقشة الدليل، إلا أنهم مع ذلك كانوا مختلفين واقعًا وسلوكًا وعقيدة.

ووسط هذا الحال بُعث محمد صلى الله عليه وسلم رسولًا للعالم كله، بالعقيدة الإلهية الواحدة، والشريعة الملائمة للناس أجمعين، والصالحة للتطبيق في كل زمان ومكان.

إن الواقع البشري يلتقي مع العقيدة الإلهية؛ لأنها نفس العقيدة التي نادى بها جميع الرسل، وخوطب بها سائر الأقوام، وآمن بها الكثيرون فيما مضى من الزمان.

وسالة محمد صلى الله عليه وسلم هي خاتمة الرسالات، فلا دين بعده، ولا رسول بعده؛ ولذلك جاء الإسلام -بعقيدته وشريعته- صالحا لكل زمان ومكان إلى يوم القيامة.

وحتى تلتقي الشريعة الإسلامية الواحدة مع جميع الناس، وعلى امتداد الزمن

--------------------------------------------

1 سورة إبراهيم آية 4.
আমরা লক্ষ্য করেছি যে প্রত্যেক রাসূলের জন্য তাঁর জাতির উপযোগী একটি শরিয়ত ছিল, যাতে ছিল হালাল, হারাম এবং বিবিধ ব্যবহারিক বিধিবিধান। প্রতিটি রাসূলের ক্ষেত্রে এর ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ হয়েছিল; সে কারণেই এটি এক ও অভিন্ন রব্বানী আকিদার (ঐশী বিশ্বাসের) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, যা বিশ্বাসীকে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর পক্ষ থেকে দ্বীন গ্রহণ করতে, অবতীর্ণ ওহীর বিধান মেনে নিতে এবং প্রেরিত নবীর নির্দেশনা অনুসরণ করতে বাধ্য করে। এর মাধ্যমে মানুষের গোপন বিবেক বাস্তব কর্মজীবনের সাথে একীভূত হয় এবং মানুষ—সকল মানুষই—তাদের রাসূলদের সাথে বিশ্বাসী ও একনিষ্ঠ হয়ে এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর অনুগত হয়ে জীবন অতিবাহিত করে।

রাসূলগণ যেমন শরিয়তের ক্ষেত্রে ভিন্ন ছিলেন, তেমনি দাওয়াতের উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে তাঁদের কর্মপন্থা ও পদ্ধতিও ভিন্ন ছিল। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর নিজ জাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি যেন তিনি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করতে পারেন। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন। আর তিনি মহাপরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।} ১।

একটি জাতির প্রতি আহ্বানের পদ্ধতি অন্য জাতির জন্য উপযোগী হয় না; কারণ উভয় দলের মধ্যে বৈচিত্র্যময় পার্থক্য বিদ্যমান। আর এগুলি মহান আল্লাহর রাসূলগণের দাওয়াতের ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত প্রাপ্তির ঠিক পূর্বমুহূর্তে মানুষ চিন্তাগতভাবে কাছাকাছি পৌঁছেছিল এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে তারা বিমূর্ত ধারণা এবং দলিলের ভিত্তিতে আলোচনার সক্ষমতা অর্জন করেছিল। তা সত্ত্বেও তারা বাস্তব অবস্থা, আচরণ ও আকিদার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ছিল।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র বিশ্বের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরিত হন। তিনি এসেছিলেন এক ও অভিন্ন ইলাহী আকিদা এবং এমন এক শরিয়ত নিয়ে যা সকল মানুষের জন্য উপযোগী এবং সর্বকালে ও সর্বস্থানে প্রয়োগযোগ্য।

মানবীয় বাস্তবতা ইলাহী আকিদার সাথে মিলিত হয়; কারণ এটি সেই একই আকিদা যার প্রতি সকল রাসূল আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে সমস্ত জাতিকে সম্বোধন করা হয়েছিল এবং অতীতে বহু মানুষ যার প্রতি ঈমান এনেছিল।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত হলো সর্বশেষ রিসালাত। তাঁর পর আর কোনো ধর্ম নেই এবং তাঁর পর আর কোনো রাসূল নেই। সে কারণেই ইসলাম—তার আকিদা ও শরিয়তসহ—কিয়ামত পর্যন্ত সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী হয়ে এসেছে।

যাতে অভিন্ন ইসলামি শরিয়ত সকল মানুষের সাথে এবং কালের পরিক্রমায় একীভূত হয়...

--------------------------------------------

১. সূরা ইবরাহিম, আয়াত ৪।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১০)
جعلها الله على نوعين:

النوع الأول: ما يتصل بالعبادات المشروعة، والأعمال التامة، والأحكام الثابتة، وهذه فصَّلها الإسلام تفصيلًا لا يقبل تغييرًا أو تبديلًا، وقد شرعها الله بهذه الدقة والدوام لتنظيم حياة الناس جميعًا إلى يوم القيامة، وهي المعروفة بالثوابت في الإسلام؛ كالصلاة، والصيام، والزكاة، والحج، وأحكام النكاح، والطلاق، والميراث … وهكذا.

النوع الثاني: وهو ما يتصل بالأعمال التي تختلف من مكان إلى مكان، وتتغير من زمن لزمن آخر، ومن جماعة لغيرها؛ كصورة الشورى، ومناهج العمل اليومي، والطبائع المرتبطة بالعادات والتقاليد، ومع هذا النوع كان وضع القواعد العامة المنضبطة بالأصول الشرعية؛ لتكون إطارًا للمتغيرات، تأخذ الحكم منها بواسطة اجتهاد علماء الإسلام … ومن أمثلة ذلك القوة فهي تختلف نوعًا وصورة، فهناك القوة الخَلْقية، وهناك القوة الإيمانية، وهناك القوة العلمية، وهناك القوة العسكرية، من سيف، ورمح، ومدفع، وصاروخ، وطائرة … إلخ، وأمام هذا التنوع للقوة يضع الله تعالى مبدأ كليًّا حيث يقول تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِنْ دُونِهِمْ لا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لا تُظْلَمُونَ} 1، وعلى مثال ذلك وضعت المبادئ الكلية للمتغيرات العملية.

وهكذا ملكت الشريعة القدرة على الالتقاء مع الناس جميعًا، وهي تنظم لهم كافة جوانب الحياة مع اختلافهم وتنوعهم.

والعالم كله لا يجتمع على منهج واحد؛ ولذلك احتاجت الرسالة المحمدية إلى عديد من المناهج لتتوجه إلى الناس، أينما كانوا، وكيفما كانوا، وبخاصة أنها

--------------------------------------------

1 سورة الأنفال الآية 60.
আল্লাহ এগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম প্রকার: যা বিধিবদ্ধ ইবাদত, পূর্ণাঙ্গ আমল এবং অপরিবর্তনীয় বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট। ইসলাম এগুলোকে এমন বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে যা কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন গ্রহণ করে না। আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জীবন সুসংগঠিত করার জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও স্থায়িত্বের সাথে এগুলো বিধিবদ্ধ করেছেন। এগুলো ইসলামে 'সাওয়াবিত' (অপরিবর্তনীয় বিষয়) হিসেবে পরিচিত; যেমন—সালাত, সিয়াম, জাকাত, হজ এবং বিবাহ, তালাক ও মিরাসের বিধানাবলি … ইত্যাদি।

দ্বিতীয় প্রকার: এটি ঐসব কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট যা স্থানভেদে ভিন্ন হয় এবং কালভেদে ও এক জনপদ থেকে অন্য জনপদে পরিবর্তিত হয়; যেমন—পরামর্শের স্বরূপ, দৈনন্দিন কাজের পদ্ধতি এবং রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত স্বভাবসমূহ। এই প্রকারের ক্ষেত্রে শরয়ি মূলনীতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সাধারণ নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তা পরিবর্তনশীল বিষয়গুলোর জন্য একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করে এবং ইসলামের আলিমদের ইজতিহাদের মাধ্যমে তা থেকে বিধান গ্রহণ করা যায় … এর একটি উদাহরণ হলো 'শক্তি'। এটি প্রকার ও রূপভেদে ভিন্ন হয়। যেমন—সৃষ্টিগত শক্তি, ঈমানি শক্তি, জ্ঞানগত শক্তি এবং সামরিক শক্তি—যা তলোয়ার, বল্লম, কামান, মিসাইল, বিমান … ইত্যাদি হতে পারে। শক্তির এই বৈচিত্র্যের সামনে আল্লাহ তাআলা একটি সামগ্রিক মূলনীতি প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সাধ্যানুযায়ী শক্তি ও পালিত ঘোড়া প্রস্তুত রাখো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে এবং তারা ছাড়া অন্যদেরকে আতঙ্কিত করবে যাদেরকে তোমরা জানো না, কিন্তু আল্লাহ তাদের জানেন। আর আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের ওপর কোনো জুলুম করা হবে না} ১, একইভাবে ব্যবহারিক পরিবর্তনশীল বিষয়গুলোর জন্যও সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এভাবে শরিয়ত সকল মানুষের সাথে সমন্বয় করার সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং তাদের বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা সত্ত্বেও জীবনের সকল দিক সুসংগঠিত করে।

সমগ্র বিশ্ব কোনো একটি একক কর্মপদ্ধতির ওপর একমত হয় না; তাই মুহাম্মাদি রিসালাতের জন্য বহুবিধ কর্মপদ্ধতির প্রয়োজন হয়েছে যাতে মানুষ যেখানেই থাকুক এবং যেভাবেই থাকুক তাদের কাছে পৌঁছানো যায়, বিশেষ করে এটি যেহেতু

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৬০।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১১)
تمتد إلى آخر الزمان، وتشمل العالم كله، ولم يكن المطلب عسيرا أبدا، فقد قص الله تاريخ الأنبياء، وسحل حركة الدعوة الإسلامية من خلال الوحي المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم؛ ليقدم العديد من المناهج والوسائل للقائمين بأمر الدعوة إلى الله تعالى.

إن مناهج الرسل تعد طرقا عملية، تطبيقية للدعوة، تحتاج إلى من يفهمها ويطبقها في حركة الدعوة للناس.

ولم يبقَ تعدد اللغات واللهجات عائقا أمام الدعوة، بعدما هيأ الله من المسلمين دعاة يتقنون كافة اللغات، ويعرفون الجوانب النفسية والفكرية التي تساعد في نجاح الدعوة.

وهكذا..

جاء الإسلام للناس صالحا لكل زمان ومكان..

ومحمد صلى الله عليه وسلم هو الرسول المختار لتبليغ دعوة الإسلام للناس؛ ولذلك أنزل الله عليه القرآن الكريم محكما، مفصلا، قيما، مهيمنا، لا عوج فيه، ولا ريب.

وقد استمرت البعثة المحمدية ثلاثا وعشرين سنة، أقام خلالها رسول الله صلى الله عليه وسلم في مكة ثلاث عشرة سنة، والمدة الباقية عاشها في المدينة المنورة بهجرته صلى الله عليه وسلم إليها.

في مدة البعثة نزل وحي الله للناس، وكمل الدين، وتمت النعمة، وأصبح الإسلام دين البشرية جميعا، في كافة أرجاء الأرض، وعلى طول الزمن إلى يوم القيامة.

وقد هيأ الله محمدا صلى الله عليه وسلم للدعوة، وصنعه للرسالة، وأمده بكل ما يحتاجه لتصل الدعوة إلى الناس على وجه صحيح واضح، قطعا للأعذار {لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} .
এটি শেষ যামান পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সমগ্র বিশ্বকে পরিবেষ্টন করে। এই লক্ষ্য অর্জনের দাবি কখনোই কঠিন ছিল না; কেননা আল্লাহ নবীদের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহীর মাধ্যমে ইসলামী দাওয়াতী তৎপরতা লিপিবদ্ধ করেছেন; যাতে মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য তিনি বহুবিধ কর্মপন্থা ও মাধ্যম উপস্থাপন করতে পারেন।

রাসুলগণের কর্মপন্থাগুলো হলো দাওয়াতের জন্য ব্যবহারিক ও প্রয়োগমূলক পদ্ধতি, যার জন্য এমন ব্যক্তির প্রয়োজন যারা এগুলো বুঝবেন এবং মানুষের মাঝে দাওয়াতী কর্মকাণ্ডে তা প্রয়োগ করবেন।

ভাষা ও উপভাষার বৈচিত্র্য দাওয়াতের পথে আর কোনো বাধা হয়ে থাকেনি, কারণ আল্লাহ মুসলিমদের মধ্য থেকে এমন দাঈ বা আহ্বানকারীদের প্রস্তুত করেছেন যারা সকল ভাষায় পারদর্শী এবং তারা মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিকগুলো সম্পর্কে অবগত যা দাওয়াতের সাফল্যে সহায়ক।

এভাবেই..

ইসলাম সকল কাল ও সকল স্থানের মানুষের জন্য উপযোগী হিসেবে এসেছে..

আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার জন্য মনোনীত রাসুল; আর সেই কারণেই আল্লাহ তাঁর ওপর পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যা সুসংহত, বিস্তারিত, সুপ্রতিষ্ঠিত ও সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড; যাতে কোনো বক্রতা নেই এবং কোনো সন্দেহ নেই।

মুহাম্মাদী নবুয়তের সময়কাল ছিল তেইশ বছর, যার মধ্যে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তেরো বছর মক্কায় অবস্থান করেছিলেন এবং অবশিষ্ট সময় তিনি হিজরত করে মদীনা মুনাওয়ারায় অতিবাহিত করেছিলেন।

নবুয়তের এই সময়ে মানুষের নিকট আল্লাহর ওহী অবতীর্ণ হয়েছে, দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে, নি’য়ামত সম্পূর্ণ হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের পরিক্রমায় পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তে ইসলাম সমস্ত মানবজাতির দ্বীন হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

আর আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দাওয়াতের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, তাঁকে রিসালাতের জন্য তৈরি করেছিলেন এবং দাওয়াত যেন মানুষের কাছে সঠিক ও স্পষ্টভাবে পৌঁছে যায় সেজন্য যা কিছু প্রয়োজন ছিল তা দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন, যাতে ওজর-আপত্তির কোনো সুযোগ না থাকে {যাতে রাসুলদের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে}।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১২)
وقد ترك الرسول صلى الله عليه وسلم لأمته رصيدا هائلا، يمكِّنهم من نشر الدين، وتبليغه إلى العالم، والتعامل مع كل إنسان بواقعه ولغته؛ لأن هذا الرصيد كما يقدم موضوعه يقدم معه الأسلوب الأمثل والطريق السديد.

وقد أعانني الله تعالى فكتبت في تاريخ دعوة الرسل عليهم السلام وفيه حاولت إبراز منهجهم في الحركة بالدعوة، وتوضيح أهم الركائز المستفادة من تاريخهم، من أجل أن تكون أسسا للدعاة إلى الله من بعدهم وإلى يوم القيامة.

وأصبحتُ أمام الدعوة المحمدية لأكتب بعون الله فيها، ورأيتُ ضرورة اتباع المنهج الذي اتبعته مع تاريخ الرسل؛ حيث الأسس التالية:

أولا: التعريف بقوم الرسول، من ناحية: موطنهم وحضارتهم، وأديانهم، ومستواهم الفكري؛ لأن هذا يساعد على اكتشاف الجوانب الفنية التي واجه بها الرسول قومه منهجا وأسلوبا، وحتى يتمكن دعاة العصر من الاستفادة بهذه الناحية؛ كاختيار الموضوع المناسب، والطريقة اللائقة، والأسلوب المفيد … وهكذا.

ثانيا: التعريف بالرسول نفسه، من ناحية: أصله ونشأته، ورحلاته، وكافة المؤثرات في شخصيته، وصفاته، وكلها عوامل نجاح في تكوين الدعاة؛ لأنه صلى الله عليه وسلم قائدهم ورائدهم، يقول تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} 1.

ثالثا: تتبع حركة الرسول بالدعوة، وإبراز كيفية مواجهته للناس على اختلافهم، فمنهم الملأ، ومنهم الضعفاء، منهم السادة، ومنهم العبيد، وبذلك دعا الرسول قومه جميعا، ووصل إلى عقولهم، وناقش حججهم، وهدم ضلالهم، وبذلك ظهرت منهجية الدعوة، والطريقة المثلى للحركة بها مع الطوائف المختلفة وأصحاب المذاهب والملل المحرَّفة.

--------------------------------------------

1 سورة الأحزاب الآية 21.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য এক বিশাল সম্পদ রেখে গেছেন, যা তাদেরকে দ্বীন প্রচার করতে, বিশ্ববাসীর নিকট তা পৌঁছে দিতে এবং প্রতিটি মানুষের বাস্তবতা ও ভাষার নিরিখে তাদের সাথে আচরণ করতে সক্ষম করে তোলে; কারণ এই সম্পদ যেমন এর বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে, তেমনি এর সাথে সর্বোত্তম শৈলী ও সঠিক পথও প্রদর্শন করে।

আল্লাহ তাআলা আমাকে সাহায্য করেছেন, ফলে আমি রাসুলগণের (আলাইহিমুস সালাম) দাওয়াতের ইতিহাসের ওপর লিখেছি এবং তাতে আমি দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের কর্মপদ্ধতি ফুটিয়ে তোলার এবং তাঁদের ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিগুলো স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি, যাতে সেগুলো পরবর্তীকাল থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীদের জন্য মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়।

এখন আমি মুহাম্মাদী দাওয়াতের ওপর আল্লাহর সাহায্যে লেখার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়েছি এবং রাসুলগণের ইতিহাসের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলাম, এখানেও সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক মনে করেছি; যেখানে নিম্নোক্ত ভিত্তিগুলো বিদ্যমান:

প্রথমত: রাসুলের কওম বা জাতি সম্পর্কে পরিচয় প্রদান—তাদের আবাসভূমি, সভ্যতা, ধর্মবিশ্বাস এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ডের দিক থেকে; কারণ এটি রাসুল তাঁর কওমের মোকাবিলায় দাওয়াতের পদ্ধতি ও শৈলী হিসেবে যে কৌশলগত দিকসমূহ অবলম্বন করেছিলেন তা উদ্ঘাটনে সহায়তা করে, যেন বর্তমান যুগের দাওয়াতদানকারীরা এই দিকটি থেকে উপকৃত হতে পারেন; যেমন উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন, যথাযথ পদ্ধতি এবং ফলপ্রসূ শৈলী অবলম্বন … ইত্যাদি।

দ্বিতীয়ত: স্বয়ং রাসুলের পরিচয় প্রদান—তাঁর বংশপরিচয় ও বেড়ে ওঠা, তাঁর সফরসমূহ এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী সকল বিষয় ও তাঁর গুণাবলির দিক থেকে; এগুলোর প্রতিটিই দাঈদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাফল্যের উপাদান; কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের নেতা ও অগ্রপথিক। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।} ১।

তৃতীয়ত: দাওয়াতের ক্ষেত্রে রাসুলের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করা এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সাথে তাঁর মোকাবিলার ধরণ ফুটিয়ে তোলা। তাঁদের মধ্যে ছিল প্রভাবশালী উচ্চবিত্ত শ্রেণি, আবার ছিল দুর্বল শ্রেণি, ছিল মনিব গোষ্ঠী এবং ছিল ক্রীতদাস। এভাবে রাসুল তাঁর কওমের সকলের নিকট দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরে পৌঁছেছেন, তাঁদের যুক্তিতর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাঁদের ভ্রান্তিকে চূর্ণ করেছেন। এভাবেই দাওয়াতের পদ্ধতি এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী ও বিকৃত মতাদর্শ ও ধর্মের অনুসারীদের সাথে দাওয়াতি কাজ পরিচালনার সর্বোত্তম পথ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আহযাব, আয়াত ২১।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৩)
رابعا: استنباط أهم الركائز المستفادة من دعوة الرسول صلى الله عليه وسلم؛ لتكون ركيزة يستفاد بها في الدعوة إلى الله تعالى.

خامسا: المحافظة مع الأسس المذكورة على ذكر الوقائع ورواية الأخبار وتصحيح الخطأ للمحافظة على التاريخ وأحداثه، وبخاصة أنه تاريخ الدعوة.

إن اتباع هذا المنهج مع الدعوة الإسلامية دفعني إلى عدة أمور:

الأمر الأول: التعريف بأمم العالم كله، فإليها جاء الإسلام، ومن أجلها بُعث محمد صلى الله عليه وسلم، يقول تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} 1، ويقول تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِين} 2، ويقول سبحانه: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ} 3، ويقول سبحانه: {قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ} 4، ويقول النبي صلى الله عليه وسلم: "كان كل نبي يُبعث لقومه خاصة، وبعثت إلى الناس كافة" 5، ويقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "إني رسول الله إليكم خاصة، وإلى الناس كافة" 6.

وهذا التعريف بالعالم له أهميته؛ لأنه يعرف بمدى حاجة العالم إلى الدعوة، ويبين الحكمة في تنوع المناهج والطرق والأساليب التي وجه الله رسوله صلى الله عليه وسلم إلى

--------------------------------------------

1 سورة الفرقان الآية 1.

2 سورة الأنبياء الآية 107.

3 سورة سبأ الآية 28.

4 سورة الأنعام الآية 19.

5 صحيح البخاري - كتاب التيمم ج1 ص436 بشرح فتح الباري.

6 المرجع السابق - كتاب التفسير - باب سورة المسد ج1 ص737.
চতুর্থত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াত থেকে প্রাপ্ত প্রধান স্তম্ভগুলো আহরণ করা; যাতে সেগুলো আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

পঞ্চমত: উল্লিখিত মূলনীতিগুলোর পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঘটনাবলী উল্লেখ করা, সংবাদ বর্ণনা করা এবং ভুল সংশোধন করার প্রতি যত্নবান হওয়া, যাতে ইতিহাস ও এর ঘটনাবলী সংরক্ষিত থাকে; বিশেষ করে যেহেতু এটি দাওয়াতের ইতিহাস।

ইসলামী দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অনুসরণ আমাকে কয়েকটি বিষয়ের দিকে ধাবিত করেছে:

প্রথম বিষয়: সমগ্র বিশ্বের জাতিসমূহ সম্পর্কে পরিচিতি প্রদান; কেননা তাদের কাছেই ইসলাম এসেছে এবং তাদের উদ্দেশ্যেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন} ১, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আমি আপনাকে কেবল বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি} ২, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না} ৩, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {বলুন, সাক্ষ্যের দিক থেকে সবচেয়ে বড় কে? বলুন, আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী এবং আমার নিকট এই কুরআন ওহী করা হয়েছে, যাতে আমি এর মাধ্যমে তোমাদের এবং যাদের কাছে এটি পৌঁছায় তাদের সতর্ক করি} ৪। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "প্রত্যেক নবীকে বিশেষভাবে তাঁর স্বজাতির কাছে পাঠানো হতো, আর আমাকে পাঠানো হয়েছে সমগ্র মানবজাতির কাছে" ৫। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "আমি বিশেষভাবে তোমাদের প্রতি এবং সাধারণভাবে সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর রাসূল" ৬।

বিশ্বের এই পরিচিতি প্রদানের গুরুত্ব রয়েছে; কারণ এটি দাওয়াতের প্রতি বিশ্বের প্রয়োজনীয়তার পরিধি তুলে ধরে এবং আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে বৈচিত্র্যময় কর্মপদ্ধতি, পথ ও কৌশলের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তার হিকমত বর্ণনা করে যার দিকে

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ১।

২ সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ১০৭।

৩ সূরা সাবা, আয়াত ২৮।

৪ সূরা আল-আনআম, আয়াত ১৯।

৫ সহীহ বুখারী - কিতাবুত তায়াম্মুম, ১ খণ্ড, ৪৩৬ পৃষ্ঠা, ফাতহুল বারীর ব্যাখ্যাসহ।

৬ পূর্বোক্ত উৎস - কিতাবুত তাফসীর - সূরা আল-মাসাদ পরিচ্ছেদ, ১ খণ্ড, ৭৩৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৪)
استخدامها في مجال الدعوة، ويشير إلى السر في تكليف الرسول أصحابَه بحمل الدعوة في حياته، وتحميلهم مسئولية التبليغ من بعده إلى أن تقوم الساعة.

الأمر الثاني: في قضية التعريف بالرسول وجدت نفسي أمام السيرة النبوية، ولاحظت أن مرحلة ما قبل البعثة؛ حيث التنشئة والتربية والتكوين الشخصي لرسول الله صلى الله عليه وسلم لها ارتباط وثيق بالبيئة والواقع؛ ولذا كان الاهتمام بدراستها لما لهما من تأثير في التربية الإسلامية، ولإظهار قيمة الحق والصواب ومكارم الأخلاق الذي عاشه رسول الله صلى الله عليه وسلم وسط واقع مليء بالفساد والضلال.

إن مرحلة ما قبل البعثة المحمدية تعد دراسة للسيرة، ولها صلة مباشرة في التعريف بالرسول صلى الله عليه وسلم، ومن الممكن الاستفادة بأحداث هذه المرحلة وأثرها في نشأة رسول الله صلى الله عليه وسلم في: اختيار الدعاة، وتربيتهم، وتكوين شخصياتهم النفسية، والاجتماعية، والخلقية، والقيادية؛ ليتمكنوا من حمل الدعوة، وتبليغ الإسلام على الوجه المطلوب.

أما مرحلة ما بعد البعثة، فقد لا حظت أن تاريخ السيرة وتاريخ الدعوة متداخلان بحيث يصعب الفصل بينها، فقد كانت حياة الرسول صلى الله عليه وسلم خلالها حركة دائمة للدعوة؛ حيث عد نومه صلى الله عليه وسلم، ومشيه، وصمته، وحياته في بيته، ومع الناس، جزءًا من حركته صلى الله عليه وسلم بالدعوة، وقد اعتبرها المسلمون ركائز يأخذون منها، ويستفيدون من توجيهاتها وإيحاءاتها.

وتبعا لهذه الحقيقة سأعيش مع السيرة النبوية في مرحلة ما قبل البعثة، وأدرسها دراسة تفصيلية، وآخذ منها الركائز التربوية في مجال التكوين والتنشئة.

أما مرحلة ما بعد البعثة فسأوردها مجملة، مع التركيز على الأحداث المتصلة بشخصية محمد الرسول صلى الله عليه وسلم، تاركا تفصيل الجانب الحركي لمبحث حركة الرسول بالدعوة، مع أن هذه الحركة جزء من شخصيته صلى الله عليه وسلم العملية، وإظهار لرسالته
দাওয়াহর ক্ষেত্রে এর ব্যবহার, এবং এটি রাসূলুল্লাহ কর্তৃক তাঁর জীবদ্দশায় সাহাবীদেরকে দাওয়াহ বহনের দায়িত্ব অর্পণ এবং তাঁর পরে কিয়ামত পর্যন্ত প্রচারের দায়িত্ব প্রদানের রহস্যের দিকে ইঙ্গিত করে।

দ্বিতীয় বিষয়: রাসূলের পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে আমি নিজেকে সীরাত-উন-নবীর সামনে দেখতে পেলাম, এবং লক্ষ্য করলাম যে নবুওয়াত-পূর্ব পর্যায়—যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লালন-পালন, শিক্ষা এবং চারিত্রিক গঠন পরিবেশ ও বাস্তবতার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল; তাই এটি অধ্যয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা ইসলামী শিক্ষায় এর প্রভাব রয়েছে এবং দুর্নীতি ও পথভ্রষ্টতায় পরিপূর্ণ এক বাস্তবতার মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সত্য, সঠিকতা এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয়ে বেঁচে ছিলেন তার মূল্য প্রদর্শনের জন্য।

মুহাম্মদী নবুওয়াতের পূর্ববর্তী পর্যায়টি সীরাত অধ্যয়নের অন্তর্ভুক্ত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিচয় প্রদানের সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই পর্যায়ের ঘটনাবলী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেড়ে ওঠার ওপর এর প্রভাব থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব: দায়ী (আহ্বানকারী) নির্বাচন, তাদের লালন-পালন এবং তাদের মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, নৈতিক ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব গঠনের ক্ষেত্রে; যাতে তারা দাওয়াহর দায়িত্ব বহন করতে এবং যথাযথভাবে ইসলামের পয়গাম প্রচার করতে সক্ষম হয়।

আর নবুওয়াত-পরবর্তী পর্যায়ের ক্ষেত্রে আমি লক্ষ্য করেছি যে, সীরাতের ইতিহাস এবং দাওয়াহর ইতিহাস একে অপরের সাথে এমনভাবে মিশে আছে যে তাদের পৃথক করা কঠিন। সেই সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ছিল দাওয়াহর একটি নিরন্তর আন্দোলন; যেখানে তাঁর ঘুম, তাঁর হাঁটাচলা, তাঁর নীরবতা, তাঁর পারিবারিক জীবন এবং মানুষের সাথে মেলামেশাকে তাঁর দাওয়াহ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গণ্য করা হতো। মুসলমানরা এগুলোকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন যেখান থেকে তারা শিক্ষা নেন এবং এর দিকনির্দেশনা ও ইঙ্গিত থেকে উপকৃত হন।

এই সত্যের প্রেক্ষিতে আমি নবুওয়াত-পূর্ব পর্যায়ের সীরাত-উন-নবীর সাথে অবস্থান করব এবং এটি বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করব, এবং গঠন ও লালন-পালনের ক্ষেত্রে এটি থেকে শিক্ষামূলক ভিত্তিগুলো গ্রহণ করব।

আর নবুওয়াত-পরবর্তী পর্যায়টি আমি সংক্ষেপে বর্ণনা করব, যেখানে রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীর ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হবে। আমি আন্দোলনের বিস্তারিত দিকটি রাসূলের দাওয়াহ আন্দোলন সংক্রান্ত আলোচনার জন্য রেখে দেব, যদিও এই আন্দোলন তাঁর কর্মময় ব্যক্তিত্বের অংশ এবং তাঁর রিসালাতের বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৫)
مع الناس.

الأمر الثالث: سأحاول مستعينا بتوفيق الله تعالى إبراز الركائز التي فيها فائدة للدعوة والدعاة، متصلة بكل دراسة، سواء كانت الدارسة للواقع البشري، أو في السيرة قبل البعثة، أو الحركة بالدعوة بعد البعثة، على أن تكون هذه الركائز في فصل مستقل يجمعها جميعا.. وبذلك التزم نفس المنهج الذي اتبعته مع تاريخ رسل الله تعالى.

ونظرا لطول دراسة تاريخ الدعوة خلال البعثة المحمدية، فقد قسمتها إلى قسمين:

القسم الأول: ويشمل دراسة المرحلة المكية قبل الهجرة، بحيث يتكون منه الكتاب الثاني من سلسلة تاريخ الدعوة.

القسم الثاني: ويشمل دارسة المرحلة المدنية الذي ستصدر بإذن الله تعالى في كتاب مستقل، يمثل الكتاب الثالث في سلسلة تاريخ الدعوة.

وسيتضمن تاريخ المرحلة المكية -بعون الله تعالى- النقاط التالية تبعا للمنهج الذي رجوته في دارستي لتاريخ الدعوة، وهي كما يلي:

الأولى: التعريف بالعالم قبيل ظهور الإسلام، وسيشمل دراسة أوضاع أقاليم العالم المختلفة؛ لأن مواطن الدعوة الإسلامية هو العالم كله.

الثانية: التعريف بالرسول صلى الله عليه وسلم من الميلاد إلى الهجرة.

الثالثة: الحركة بالدعوة في مرحلة ما قبل الهجرة.

الرابعة: إبراز الركائز المستفادة من سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وحركته بالدعوة، وبخاصة ما لها صلة بالدعوة والدعاة في العصر الحديث.

وسوف أورد كل نقطة من هذه النقاط في فصل مستقل؛ لما لكل منها من دراسة مطولة، وعمق علمي، وفوائد عديدة.
মানুষের সাথে।

তৃতীয় বিষয়: আমি মহান আল্লাহর তাওফিকের সাহায্য নিয়ে সেই সমস্ত মূল ভিত্তিগুলোকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব যাতে দাওয়াত ও দায়ীদের জন্য উপকার রয়েছে এবং যা প্রতিটি আলোচনার সাথে সম্পৃক্ত; চাই তা মানবীয় বাস্তবতার পর্যালোচনা হোক, কিংবা নবুওয়াত-পূর্ব সীরাত হোক, অথবা নবুওয়াত-পরবর্তী দাওয়াতি তৎপরতা হোক। এই মূল ভিত্তিগুলোকে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে রাখা হবে যা সবগুলোকে একত্রিত করবে। এর মাধ্যমে আমি সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করব যা আমি মহান আল্লাহর রাসুলগণের ইতিহাসের ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছি।

মুহাম্মাদী নবুওয়াতের সময়কালের দাওয়াতের ইতিহাস পর্যালোচনার দীর্ঘতার কারণে আমি একে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অংশ: এটি হিজরতের পূর্বের মক্কী যুগের পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত, যা দাওয়াতের ইতিহাস সিরিজের দ্বিতীয় বই হিসেবে গঠিত হবে।

দ্বিতীয় অংশ: এটি মাদানী যুগের পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহর ইচ্ছায় স্বতন্ত্র একটি বই হিসেবে প্রকাশিত হবে, যা দাওয়াতের ইতিহাস সিরিজের তৃতীয় বই হিসেবে গণ্য হবে।

আল্লাহর সাহায্যে মক্কী যুগের ইতিহাসে দাওয়াতের ইতিহাস পর্যালোচনায় আমার কাঙ্ক্ষিত পদ্ধতি অনুযায়ী নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:

প্রথম: ইসলাম আবির্ভাবের অব্যবহিত পূর্বে বিশ্ব পরিস্থিতির পরিচয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অবস্থার পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে; কারণ ইসলামী দাওয়াতের ক্ষেত্র হলো সমগ্র বিশ্ব।

দ্বিতীয়: জন্ম থেকে হিজরত পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিচয়।

তৃতীয়: হিজরত-পূর্ব পর্যায়ে দাওয়াতি তৎপরতা।

চতুর্থ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাত ও তাঁর দাওয়াতি তৎপরতা থেকে অর্জিত মূল ভিত্তিগুলোকে ফুটিয়ে তোলা, বিশেষ করে বর্তমান যুগে দাওয়াত ও দায়ীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো।

আমি এই প্রতিটি বিষয়কে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে উল্লেখ করব; কারণ এর প্রত্যেকটির রয়েছে দীর্ঘ পর্যালোচনা, বৈজ্ঞানিক গভীরতা এবং অসংখ্য উপকারিতা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وبهذا التقسيم أكتب في السيرة، وهو الأمل الذي كنت أتمناه، كما أكتب في تاريخ الدعوة الذي أرجو له أن يصير علما شامخا بين سائر العلوم الإسلامية، وأكتب للدعاة الذين هم أمل الأمة في النهوض والتقدم، ولسوف أستفيد من سائر العلوم الإنسانية والدينية؛ لأن الدعوة في الحقيقة هي غاية كل العلوم، والحركة بها تحتاح لدراسات عديدة.

إن الدعوة إلى الله تعالى من أهم علوم الإسلام في أي جانب من جوانبها، ويكفي شهادة على ذلك موقف القرآن الكريم معها، فهو الذي حدد موضوعها، ورسم مناهجها، وقص تاريخها، وأنزل العديد من أساليبها ووسائلها..

ومن المعلوم أن كل العلوم الإسلامية نشأت لخدمة القرآن الكريم، وخدمة أهدافه، والدعوة هي هدفه الأول، وغايته الأساسية..

وأملي في الله، ودعائي له أن يهيئ العلماء المخلصين، وييسر لهم العمل لإبراز علوم الدعوة، متميزة بموضوعها، ومنهجها، وغايتها، وشرفها؛ ليتتلمذ بها ومعها وعليها المؤمنون المخلصون.

يقول الله تعالى: {وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ} 1، ويقول سبحانه: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجَا، قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا، مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا، وَيُنْذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا} 2، ويقول سبحانه: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} 3.

فالقرآن الكريم هو كتاب الدعوة، ولا جديد في الدعوة بعد القرآن الكريم، اللهم إلا اجتهادات عقلية في مجال التطبيق، والملاءمة بين القضية والواقع في إطار

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام الآية 19.

2 سورة الكهف الآيات 1-4.

3 سورة الفرقان الآية 1.
এই বিভাজন অনুযায়ী আমি সীরাত বিষয়ে লিখছি, যা ছিল আমার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। পাশাপাশি আমি দাওয়াতের ইতিহাস সম্পর্কেও লিখছি, যার ব্যাপারে আমি আশা করি যে, এটি অন্যান্য সকল ইসলামী বিজ্ঞানের মাঝে একটি সমুন্নত জ্ঞান হিসেবে পরিগণিত হবে। আমি সেই সকল দাঈদের উদ্দেশ্যে লিখছি যারা জাতির পুনরুত্থান ও অগ্রগতির আশা-ভরসা। আমি অন্যান্য সকল মানবিক ও ধর্মীয় বিজ্ঞান থেকে উপকৃত হব; কারণ দাওয়াত প্রকৃতপক্ষে সকল বিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য এবং এর দাওয়াতি তৎপরতার জন্য বহুবিধ গবেষণার প্রয়োজন।

আল্লাহ তায়ালার দিকে দাওয়াত বা আহ্বান এর যেকোনো দিক থেকেই ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিজ্ঞান। এর সপক্ষে কুরআনুল কারীমের অবস্থানই সাক্ষ্য হিসেবে যথেষ্ট। কারণ কুরআনই দাওয়াতের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেছে, এর কর্মপন্থা অঙ্কন করেছে, এর ইতিহাস বর্ণনা করেছে এবং এর বহুবিধ পদ্ধতি ও মাধ্যম অবতীর্ণ করেছে।

এটি সুবিদিত যে, সকল ইসলামী বিজ্ঞান কুরআনুল কারীমের সেবা এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সৃষ্টি হয়েছে। আর দাওয়াত হলো কুরআনের প্রথম লক্ষ্য এবং মূল উদ্দেশ্য।

আল্লাহর কাছে আমার প্রত্যাশা ও তাঁর কাছে প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন একনিষ্ঠ আলেমদের প্রস্তুত করেন এবং তাদের জন্য দাওয়াতের বিজ্ঞানসমূহকে এর স্বতন্ত্র বিষয়বস্তু, কর্মপন্থা, লক্ষ্য ও শ্রেষ্ঠত্বসহ ফুটিয়ে তোলার কাজ সহজ করে দেন; যাতে একনিষ্ঠ মুমিনরা এর মাধ্যমে, এর সাথে এবং এর ভিত্তিতে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন: "আমার প্রতি এই কুরআন ওহী করা হয়েছে যাতে এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকে এবং যার কাছে এটি পৌঁছাবে তাদের সবাইকে সতর্ক করতে পারি।" ১, তিনি আরও বলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত কিতাব যা তাঁর পক্ষ থেকে আসা কঠোর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য এবং সেইসব মুমিনদের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য যারা সৎকাজ করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। আর এটি তাদের সতর্ক করার জন্য যারা বলে যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।" ২, তিনি আরও বলেন: "অত্যন্ত বরকতময় সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।" ৩।

সুতরাং কুরআনুল কারীমই দাওয়াতের কিতাব। কুরআনুল কারীমের পর দাওয়াত বিষয়ে নতুন কিছু নেই; তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে এবং কাঠামোর মধ্যে দাওয়াতের বিষয় ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য বিধানের ক্ষেত্রে কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক ইজতিহাদ থাকতে পারে মাত্র।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আনআম, আয়াত ১৯।

২. সূরা আল-কাহাফ, আয়াত ১-৪।

৩. সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ১।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৭)
مفهوم القرآن الكريم.

والرسول صلى الله عليه وسلم بُعث للدعوة، فهي مسئوليته ووظيفته، يقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ} 1، ويقول سبحانه: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا، وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيرًا، وَلا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ وَدَعْ أَذَاهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا} 2.

هذا التزاوج الواضح بين القرآن الكريم وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم مع الدعوة، وكذا الصلة الوثيقة بينهما، فالقرآن الكريم دعوة تعليمية توجيهية، ورسول الله صلى الله عليه وسلم دعوة تطبيقية عملية، وبهذا التلاقي تحققت المثالية الإسلامية في مجال الواقع، والتقت الفطرة البشرية مع الوحي الإلهي العظيم، وتجسدت في رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي جعل القرآن تطبيقا عمليا في خُلُقه وسلوكه.

يروي مسلم بسنده عن سعد بن هشام قال: "قلت لعائشة رضي الله عنها: يا أم المؤمنين، أنبئيني عن خُلُق رسول الله صلى الله عليه وسلم.

قالت: ألست تقرأ القرآن؟

قلت: بلى.

--------------------------------------------

1 سورة المائدة الآية 67.

2 سورة الأحزاب الآيات 45-48.
পবিত্র কুরআনের ধারণা।

এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াতের জন্যই প্রেরিত হয়েছেন, এটিই তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে রাসুল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে তো আপনি তাঁর বার্তা পৌঁছে দিলেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়েত করেন না} ১, এবং তিনি সুবহানাহু বলেন: {হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপস্বরূপ। আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য রয়েছে মহা অনুগ্রহ। আপনি কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না, তাদের দেওয়া কষ্ট উপেক্ষা করুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট} ২।

পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দাওয়াতের এই স্পষ্ট মেলবন্ধন এবং তাদের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক অনস্বীকার্য। কেননা পবিত্র কুরআন হলো একটি শিক্ষামূলক ও দিকনির্দেশনামূলক দাওয়াত, আর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন এর প্রায়োগিক ও বাস্তব দাওয়াত। এই মিলনের মাধ্যমেই বাস্তব ক্ষেত্রে ইসলামি আদর্শের পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে এবং মানবীয় স্বভাব মহান ঐশী ওহীর সাথে মিলিত হয়েছে; যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে মূর্ত হয়ে উঠেছে, যিনি কুরআনকে তাঁর চরিত্র ও আচরণে বাস্তব প্রয়োগে পরিণত করেছিলেন।

ইমাম মুসলিম তাঁর সনদে সা'দ ইবন হিশাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে বললাম: হে উম্মুল মুমিনীন, আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে বলুন।

তিনি বললেন: তুমি কি কুরআন পাঠ করো না?

আমি বললাম: হ্যাঁ, অবশ্যই।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৬৭।

২ সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪৫-৪৮।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৮)
قالت: فإن خُلُق نبي الله صلى الله عليه وسلم كان القرآن"1.

ومن هنا تكون السيرة إبرازا لشخصية الرسول صلى الله عليه وسلم في خصائصها وكمالاتها، ويكون تاريخ الدعوة إظهارا لجهاد الرسول صلى الله عليه وسلم، وتحمل مشاق الدعوة وهو يتحرك بها مع الناس.

ولي قصة مع السيرة أحب أن أذكرها هنا:

فلقد كان شيخاي اللذان حفظت القرآن الكريم على يديهما، وهما الشيخ/ عيسى أحمد طه، والشيخ/ إبراهيم ويح2، يحكيان لي ولزملائي نُتَفًا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين نقرأ على أحدهما سورة من السور التي تتحدث عن رسول الله مثل سورة "الضحى" و"الانشراح" و"الفيل"، وكان الشيخ يشرح لنا خواطره بأسلوب مبسط، مما حببني في السيرة منذ الصغر؛ حيث كنت مع زملائي الصغار، نتداول كلام الشيخ، ونسعد معه بحب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونتمثله حركة معجبين بها.

ولما انتسبت للأزهر الشريف، ودخلت المرحلة الابتدائية على النظام القديم3، صارت السيرة مقررا دراسيا، يعيش تاريخ رسول الله صلى الله عليه وسلم من

--------------------------------------------

1 فيض القدير ج5 ص170.

2 ولد الشيخ عيسى أحمد طه ونشأ بقرية "مدينة مسير" من أعمال محافظة كفر الشيخ، وأسس كُتَّاب القرية، واهتم به مع زميل هو الشيخ/ إبراهيم ويح -عليهما رحمة الله- وقد بارك الله في عملهما، وتخرج من هذا الكُتَّاب علماء أفذاذ، وظهر جيل من علماء القرية يدين لهما بالفضل، ويكفي أن قرية ريفية صغيرة هي قرية "منية مسير" تخرج من أبنائها أكثر من ثلاثين أستاذ بجامعة الأزهر يدينون لكُتَّاب القرية بالفضل، ومن الواضح أن أبناء هذه القرية قد بارك الله لهم وحبب أبناءهم في العلم والتعلم.

3 كان النظام القديم في الأزهر يقصر الدراسة قبل الجامعة على مرحلتين: المرحلة الابتدائية ومدتها أربع سنوات، والمرحلة الثانوية ومدتها خمس سنوات، على أن يكون التحاق الطالب بالمرحلة الابتدائية بعد امتحان للقبول في مستوى نهاية التعليم الأساسي، وحفظ القرآن الكريم كله.
তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র ছিল আল-কুরআন।"১

এখান থেকেই সীরাত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য ও পূর্ণতাসমূহকে ফুটিয়ে তোলা, আর দাওয়াতের ইতিহাস হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জিহাদ এবং মানুষের মাঝে দাওয়াত নিয়ে চলার পথে এর কষ্টসমূহ সহ্য করার বিষয়টি প্রকাশ করা।

সীরাতের সাথে আমার একটি গল্প রয়েছে যা আমি এখানে উল্লেখ করতে পছন্দ করি:

আমার যে দুই শাইখের নিকট আমি কুরআন মাজীদ হিফজ করেছি, তারা হলেন—শাইখ ঈসা আহমদ ত্বহা এবং শাইখ ইবরাহিম ওয়াইহ২। আমরা যখন তাদের কারোর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কিত কোনো সূরা তিলাওয়াত করতাম, যেমন— সূরা 'আদ-দুহা', 'আল-ইনশিরাহ' এবং 'আল-ফীল'; তখন শাইখ আমাদের সামনে তার উপলব্ধিগুলো অত্যন্ত সহজবোধ্য পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করতেন, যা আমাকে শৈশব থেকেই সীরাতের প্রতি অনুরাগী করে তুলেছিল। তখন আমি আমার ছোট ছোট সহপাঠীদের সাথে শাইখের কথাগুলো নিয়ে আলোচনা করতাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহব্বতে আমরা আনন্দিত হতাম এবং মুগ্ধ হয়ে তা নিজেদের মাঝে চিত্রায়িত করতাম।

যখন আমি আল-আযহার আল-শরীফে ভর্তি হলাম এবং পুরাতন পদ্ধতিতে৩ প্রাথমিক স্তরে প্রবেশ করলাম, তখন সীরাত একটি নির্ধারিত পাঠ্য বিষয়ে পরিণত হলো, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইতিহাসকে জীবন্ত করে তুলে ধরত...

--------------------------------------------

১ ফয়জুল কাদির, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৭০।

২ শাইখ ঈসা আহমদ ত্বহা কাফরুশ শাইখ প্রদেশের অন্তর্গত 'মাদিনাতু মাসীর' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ও সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং তিনি গ্রামের মক্তবটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তাঁর সহকর্মী শাইখ ইবরাহিম ওয়াইহ-এর (তাদের উভয়ের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) সাথে মিলে এর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখাশোনা করেন। আল্লাহ তাআলা তাদের কাজে বরকত দান করেছেন এবং এই মক্তব থেকে অনেক প্রথিতযশা আলেম বের হয়েছেন। ওই গ্রামের আলেমদের এমন এক প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটেছে যারা তাঁদের নিকট ঋণী। এটিই যথেষ্ট যে, 'মিনইয়াতু মাসীর' নামক একটি ছোট পল্লী গ্রাম থেকে আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিশ জনেরও বেশি অধ্যাপক বের হয়েছেন যারা এই মক্তবের অবদানের কথা স্বীকার করেন। এটা স্পষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা এই গ্রামের সন্তানদের প্রতি বরকত দান করেছেন এবং তাদের অন্তরে জ্ঞান ও জ্ঞানার্জনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

৩ আল-আযহারের পুরাতন পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়-পূর্ব শিক্ষাজীবন দুটি স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল: প্রাথমিক স্তর যার মেয়াদ ছিল চার বছর এবং মাধ্যমিক স্তর যার মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। শর্ত ছিল যে, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীর ভর্তি হবে মৌলিক শিক্ষা সমাপনের স্তরে একটি ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করার পর।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ১৯)
مولده إلى لقائه ربه، ونالت مقررات السيرة اهتمامي؛ إذ كنت أحفظها مع بداية الدراسة، وأذكر أن بعض زملائي كان يشيد بذلك عند الأساتذة.

ولما بدأت في دراسة المرحلة الثانوية القديمة، لاحظت أننا في الدراسة كلها نعيش مع رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فالتفسير بيان لوحي الله إلى الرسول صلى الله عليه وسلم.

والحديث شرح لأقوال رسول الله وأفعاله صلى الله عليه وسلم.

والفقه أحكام مأخوذة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وعلوم اللغة تدور كلها حول القرآن؛ لمعرفة معانيه، وبيان إعجازه، وإظهار سمو الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وأذكر أن مدرس الخط كان يورد الآيات والأحاديث، ويكلفنا بكتابتها رحمه الله ويشرح لنا معناها، وما يستفاد بها؛ وبذلك عملت المقررات كلها في بناء الصورة الإسلامية، وكان الأساتذة خير مَن يتفاعلون مع أهداف هذه المناهج، وتحويلها إلى عنصر يتفاعل معه الطالب الأزهري في النظام القديم.

ومن هنا لم تعد السيرة مجرد تاريخ، وإنما صارت الدين كله، مما رغبني في أن أكتب فيها منذ صغري، وأذكر هنا أني كتبت عن محمد اليتيم، وعن غزوة أحد، وغزوة الحديبية.. وغير ذلك وأنا في المرحلة الثانوية.

وكلما تقدم بي السن كبر معي الأمل، وأخذت أتصور نفسي أمام مؤلَّف ضخم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أتناول فيه كافة جوانب شخصيته صلى الله عليه وسلم.. فأخذت أقرأ، وأطلع..

ومع القراءة، وعمق النظرة، وتكشف الحقيقة، أخذت أستشعر ضآلة همتي أمام هامة المصطفى صلى الله عليه وسلم، وبان لي أني كنت في أمنية حالمة، صعبة المنال، لكني لم أفقد الرغبة، ولم يملكني اليأس والقنوط، عشت مع أمنيتي راجيا مؤملا في توفيق الله
তাঁর জন্ম থেকে তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ পর্যন্ত; আর সীরাতের পাঠ্যক্রম আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল; যেহেতু আমি পড়াশোনার শুরু থেকেই সেগুলো মুখস্থ করতাম, এবং আমার মনে পড়ে যে আমার কিছু সহপাঠী শিক্ষকদের কাছে এর প্রশংসা করত।

যখন আমি প্রাচীন মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনা শুরু করলাম, তখন আমি লক্ষ করলাম যে আমরা আমাদের পুরো পড়াশোনা জুড়েই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসবাস করছি।

কেননা তাফসীর হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহর ওহীর বর্ণনা।

আর হাদীস হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কাজের ব্যাখ্যা।

আর ফিকহ হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গৃহীত বিধিবিধান।

আর ভাষাবিজ্ঞান পুরোটাই কুরআনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়; এর অর্থ অনুধাবন করা, এর অলৌকিকত্ব স্পষ্ট করা এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ ওহীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য।

আমার মনে পড়ে যে হস্তলিপির শিক্ষক আয়াত ও হাদীস উপস্থাপন করতেন এবং আমাদের সেগুলো লিখতে দিতেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—আর তিনি আমাদের কাছে সেগুলোর অর্থ এবং তা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতেন; এভাবে সমস্ত পাঠ্যক্রম একটি ইসলামী অবয়ব গঠনে কাজ করেছিল, এবং শিক্ষকরা ছিলেন এই পাঠ্যক্রমের লক্ষ্যগুলোর সাথে মিথস্ক্রিয়া করার এবং একে এমন একটি উপাদানে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম ব্যক্তি, যার সাথে প্রাচীন ব্যবস্থার আল-আযহারী ছাত্ররা সম্পৃক্ত হতো।

এখান থেকেই সীরাত কেবল নিছক ইতিহাসে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা পূর্ণাঙ্গ দ্বীনে পরিণত হয়েছে, যা আমাকে শৈশব থেকেই এই বিষয়ে লিখতে আগ্রহী করে তুলেছিল। আমি এখানে উল্লেখ করছি যে, আমি মাধ্যমিক স্তরে থাকাকালেই 'এতিম মুহাম্মদ', 'উহুদ যুদ্ধ' এবং 'হুদায়বিয়ার যুদ্ধ' ও অন্যান্য বিষয়ে লিখেছিলাম।

আমার বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার আশাও বড় হতে লাগল, এবং আমি নিজেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে একটি বিশাল গ্রন্থের সামনে কল্পনা করতে শুরু করলাম, যেখানে আমি তাঁর ব্যক্তিত্বের সমস্ত দিক নিয়ে আলোচনা করব... তাই আমি পড়তে ও গবেষণা করতে শুরু করলাম...

পড়াশোনা, গভীর দৃষ্টিপাত এবং সত্য উন্মোচিত হওয়ার সাথে সাথে আমি মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুউচ্চ মর্যাদার সামনে আমার হিম্মতের ক্ষুদ্রতা অনুভব করতে শুরু করলাম। আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠল যে আমি একটি স্বপ্নীল আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ছিলাম, যা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু আমি আগ্রহ হারাইনি এবং হতাশা ও নিরাশা আমাকে গ্রাস করতে পারেনি; আমি আল্লাহর তাওফীকের আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে আমার স্বপ্নের সাথেই বেঁচে ছিলাম।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২০)
أن يسدد الْخُطَى، وييسر الصعب، ويقرب البعيد، والله على كل شيء قدير.

وزاد من تباعد الأمنية بروز المؤلفات الضخمة العديدة حول شخصية المصطفى صلى الله عليه وسلم، متناولة أهم جوانب العظمة في السيرة النبوية، حتى خُيل إليَّ أن هذه المؤلفات لم تترك لي ولمن يأتي بعدي مجالًا نبرزه في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وحمدت الله، ولجأت للسكوت الهادئ، واكتفيت بالقراءة والتعلم، وقلت لنفسي: لأكن متعلمًا ما دمت قد عجزت عن أن أكون عالِمًا معلِّمًا.

ولم يطل بي الحال إذ وقع أمر قدري أعاد لي الأمل مرة أخرى، حين حدث حِوار علمي حول ماهية الفروق بين السيرة النبوية، وبين تاريخ الإسلام في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، أو بين فقه السيرة النبوية، وبين الدعوة في عصر النبوة، ووجدت نفسي في خضم المناقشة أؤكد أن السيرة النبوية لا بد معها من فقه يعيش مع الحدث ويأخذ العبرة حتى لا تروى السيرة في صورة جامدة خامدة، لا تليق برسول الله صلى الله عليه وسلم الذي أفنى حياته في خدمة الإسلام، وتبليغ الدعوة، والدفاع عن دين الله تعالى، وتلك كانت مهمته، يقول تعالى: {وَإِنْ تُكَذِّبُوا فَقَدْ كَذَّبَ أُمَمٌ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلاغُ الْمُبِينُ} 1.

إن السيرة النبوية إذا درست مع التحليل واستنباط العبر، فإنها تعد تاريخا للدعوة في عصر رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وفي زيارة لمسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم وقفت أمام قبره صلى الله عليه وسلم، وجاشت الخواطر في ضميري، ودارت تصوراتي دورة سريعة حول حياة وجهاد المصطفى صلى الله عليه وسلم، وقلت لنفسي: إني أقف أمام محرك البشرية كلها، وأرى الآن التاريخ مجسدا في قوته النابضة، وألفت ضميري يلتصق بعالم اللاشعور الخفي، متنقلا بين روابي مكة، وبادية بني سعد، وفي غار حراء، وثور، وعند بدر، وأُحُد،

--------------------------------------------

1 سورة العنكبوت الآية 18.
তিনি যেন আমাদের পদক্ষেপগুলো সঠিক পথে পরিচালিত করেন, কঠিনকে সহজ করেন এবং দূরকে নিকটবর্তী করেন। আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

এই আকাঙ্ক্ষাকে আরও সুদূরপরাহত করেছিল নবী মুস্তাফা (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে অসংখ্য বিশালাকার গ্রন্থসমূহের আবির্ভাব, যা সীরাতুন্নবীর শ্রেষ্ঠত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। এমনকি আমার কাছে মনে হচ্ছিল যে, এই গ্রন্থগুলো আমার জন্য কিংবা যারা আমার পরে আসবে তাদের জন্য আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর জীবনের ওপর আলোকপাত করার মতো আর কোনো ক্ষেত্রই অবশিষ্ট রাখেনি।

আমি আল্লাহর প্রশংসা করলাম, শান্ত নিরবতা অবলম্বন করলাম এবং কেবল পাঠ ও জ্ঞানার্জনেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলাম। মনে মনে বললাম: যেহেতু আমি একজন জ্ঞানী শিক্ষক হতে অক্ষম হয়েছি, সেহেতু আমি অন্তত একজন ছাত্র হয়েই থাকি।

তবে এই অবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, কারণ একটি তাকদিরি ঘটনা আমার মাঝে পুনরায় আশার সঞ্চার করল। ঘটনাটি ছিল সীরাতুন্নবী এবং নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর যুগের ইসলামের ইতিহাসের মধ্যকার পার্থক্যের স্বরূপ নিয়ে, অথবা সীরাতুন্নবীর ফিকহ এবং নবুওয়াত যুগের দাওয়াতের মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে আয়োজিত একটি জ্ঞানগর্ভ আলোচনা। সেই আলোচনার গভীরে গিয়ে আমি নিজেকে এই কথাটি দৃঢ়ভাবে বলতে দেখলাম যে, সীরাতুন্নবীর সাথে অবশ্যই এমন এক ফিকহ থাকা প্রয়োজন যা ঘটনার সাথে জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং শিক্ষা গ্রহণ করে, যাতে করে সীরাত কেবল একটি প্রাণহীন নিথর চিত্ররূপে বর্ণিত না হয়; যা আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর জন্য শোভনীয় নয়, যিনি ইসলামের সেবা, দাওয়াত প্রচার এবং আল্লাহর দ্বীন রক্ষার কাজে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আর এটাই ছিল তাঁর দায়িত্ব। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা যদি অস্বীকার করো, তবে তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোও অস্বীকার করেছিল। আর রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।" ১।

সীরাতুন্নবী যদি বিশ্লেষণ ও শিক্ষা আহরণের সাথে পাঠ করা হয়, তবে তা আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর যুগের দাওয়াতের ইতিহাস হিসেবে পরিগণিত হবে।

আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর মসজিদে এক যিয়ারতের সময় আমি তাঁর কবরের সামনে দাঁড়ালাম। আমার অন্তরে ভাবনার ঢেউ খেলে গেল এবং মুস্তাফা (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর জীবন ও জিহাদ সম্পর্কে আমার কল্পনাগুলো দ্রুত আবর্তিত হতে লাগল। মনে মনে বললাম: আমি সমগ্র মানবজাতির মূল চালিকাশক্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমি এখন ইতিহাসকে তার স্পন্দিত শক্তিতে মূর্ত দেখতে পাচ্ছি। আমার বিবেক অবচেতন জগতের এক গোপন জগতের সাথে মিশে গেল, যা মক্কার টিলাসমূহ, বনী সা'দ গোত্রের মরুভূমি, হেরা ও সওর গুহা এবং বদর ও উহুদের প্রান্তরগুলোর মাঝে বিচরণ করতে লাগল।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত ১৮।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২১)
والأحزاب، وتبوك، وأخذت أتصور المسلمين مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهم يواجهون الطواغيت وهم يعملون للقضاء على الإسلام وتضليل المسلمين.

وسرح خاطري بعد ذلك إلى واقع المسلمين المعاصر، ورأيت ما فيه من تباعد عن المجتمع الإسلامي الذي رباه محمد صلى الله عليه وسلم، وقلت متسائلا:

- لِمَ كل هذا التباعد الذي ألحقه المسلمون بأنفسهم؟!

- وما أسباب هذا التباعد؟!

- وهل من عودة مرة أخرى إلى حيوية الإسلام، وعظمة الحياة فيه؟!

- ألم يتأكد المسلمون من فشل كافة السبل اللاإسلامية؟

- وهل يتصور المسلمون نصرهم في غير الإسلام وهم مسلمون؟!

- وهل يضع مجد الإسلام غير المسلمين؟!

- ما هي العراقيل؟ وكيف نتغلب عليها؟!

- ومن الإسلام في عالم اليوم؟!

وهكذا:

عشت الإسلام كله، ونظرت أمامي إلى قبر حبيبي وسيدي المصطفى صلى الله عليه وسلم، ودعوت الله أن يجزيه عن الإسلام والمسلمين الجزاء الأوفَى.

وعشت مع المسلمين ودعوت لهم بالفوز والفلاح..

وفي هذه اللحظات عشت السيرة كلها، بأحدائها، وحركتها، وقيمتها، وقيمها.. وتأكدت أن أملي القديم ضرورة نفسية تسرني وتسعدني.

وهو في الوقت نفسه ضرورة إيمانية؛ لأن العصر الأول -سيرة ودعوة- هو منهج الإسلام وعبرة التاريخ للمؤمنين..

كما أنه ضرورة الاجتماعية يحتاجها الناس في وقت تتنازع فيه المذاهب، وتكثر المعارضات، وتشتد الحاجة إلى العلم والمعرفة بالإسلام؛ لأن به وَحْدَة النصر،
আল-আহযাব ও তাবুক যুদ্ধের কথা ভাবতে লাগলাম এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুসলিমদের কল্পনা করতে শুরু করলাম, যখন তাঁরা সেইসব তাগুতদের মোকাবিলা করছিলেন যারা ইসলাম নির্মূল এবং মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার জন্য কাজ করছিল।

এরপর আমার চিন্তা সমকালীন মুসলিমদের বাস্তব অবস্থার দিকে ধাবিত হলো এবং আমি দেখতে পেলাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ইসলামি সমাজ গড়ে তুলেছিলেন, তা থেকে তারা কত দূরে সরে গেছে। আমি প্রশ্নাকুল চিত্তে বললাম:

- মুসলিমরা নিজেদের ওপর কেন এই দূরত্ব চাপিয়ে দিল?!

- এই দূরত্বের কারণগুলোই বা কী?!

- ইসলামের প্রাণবন্ত রূপ এবং এর মহান জীবনবোধের দিকে কি পুনরায় ফিরে আসা সম্ভব?!

- ইসলাম-বহির্ভূত সকল পথের ব্যর্থতা সম্পর্কে কি মুসলিমরা নিশ্চিত হয়নি?!

- মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও মুসলিমরা কি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুতে নিজেদের বিজয় কল্পনা করতে পারে?!

- অমুসলিমরা কি ইসলামের গৌরব প্রতিষ্ঠিত করবে?!

- প্রতিবন্ধকতাগুলো কী কী? আর আমরা কীভাবে সেগুলো কাটিয়ে উঠব?!

- আর বর্তমান বিশ্বে ইসলামের অবস্থানই বা কী?!

এভাবে:

আমি সমগ্র ইসলামের মাঝে ডুবে গেলাম এবং আমার সামনে প্রিয় ও নেতা আল-মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের দিকে তাকালাম। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম তিনি যেন ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

আমি মুসলিমদের সাথেও একাত্ম হলাম এবং তাদের সফলতা ও কামিয়াবির জন্য দোয়া করলাম...

সেই মুহূর্তগুলোতে আমি পূর্ণ সীরাতকে এর ঘটনাবলি, গতিশীলতা, গুরুত্ব ও আদর্শসহ প্রত্যক্ষ করলাম... এবং নিশ্চিত হলাম যে আমার পুরনো আশাটি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজনীয়তা যা আমাকে আনন্দিত ও সুখী করে।

একই সাথে এটি একটি ঈমানি আবশ্যকতা; কারণ প্রথম যুগ—সীরাত ও দাওয়াত—হলো ইসলামের কর্মপন্থা এবং মুমিনদের জন্য ইতিহাসের শিক্ষা...

তদুপরি এটি একটি সামাজিক আবশ্যকতা যা এমন এক সময়ে মানুষের প্রয়োজন যখন বিভিন্ন মতবাদের মাঝে সংঘাত চলছে, বিরোধ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইসলামের জ্ঞান ও উপলব্ধির প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে; কারণ এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে বিজয়ের ঐক্য।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২২)
والفوز، الفلاح.

إن عرض السيرة بصورة حركية ومنهجية فنية ضرورة ليعيش الناس السيرة، ويجيوا بها، ويعيدوا الإسلام للحياة كما حققه النبي صلى الله عليه وسلم للناس.

وزاد اقتناعي بهذا التصور بعد أن اطلعت على مناهج أقسام وكليات الدعوة في الجامعات التي قمت بالتدريس فيها1، ورأيت أنها تهتم بدراسة تاريخ الدعوة، وتخص عصر النبوة بالدراسة الموسعة، وشرفني الله تعالى فقمت بتدريس مقررات تاريخ الدعوة، لسنوات عديدة في جامعات مختلفة، الأمر الذي أحيا الأمل القديم مرة أخرى في أن أكتب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من هذه الزاوية المنهجية، وبذلك أكتب سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأؤرخ للدعوة في عصره صلى الله عليه وسلم، وأقدم للدعوة والدعاة الفوائد والعبر المأخوذة من السيرة النبوية، وتاريخ عصر النبوة، وأوضح منهج التقدم للمجتمع كله.

إن سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم غنية بالأحداث، مليئة بالوقائع، متنوعة في العطاء رائدة في التربية والتوجيه، وعلى دارسها أن يوسع اهتمامه ليشمل جوانبها جميعا: من شخصية، وسياسية، ودعوية، واجتماعية … إلخ.

وسأحاول بإذن الله تعالى أن أكتب في الجوانب كلها؛ إيفاء لحق السيرة النبوية، وإبرازا للدعوة في إطار السيرة الكاملة..

وسوف أعمل على إيراد الحقائق المدعمة بالدليل، الخالية من المبالغة أو التهويل.. ولن أقف موقف الدفاع أمام أكاذيب أعداء الإسلام، وسأترك الحقيقة التاريخية تعلو بصدقها وأحقيتها، فليس أقوى من الحق نصرا للحقيقة في مجال المنازعة العلمية، وفي كل مجال.

ولن أجري وراء المبالغة والتهويل في ذكر الحوادث والوقائع، حتى لا أتعارض مع مسلمات العقل، وأكون كالدبة التي قتلت صاحبها وهي تحبه.

--------------------------------------------

1 قام المؤلف بتدريس مقررات تاريخ الدعوة في قسم الدعوة بكلية أصول الدين - جامعة الأزهر، وجامعة أم القرى بمكة المكرمة، وجامعة الملك سعود بالرياض، وفي كلية الدعوة الإسلامية بجامعة الأزهر بالقاهرة.
এবং বিজয়, সফলতা।

সীরাতকে একটি গতিশীল এবং সুশৃঙ্খল শৈল্পিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা অপরিহার্য, যাতে মানুষ সীরাতকে উপলব্ধি করতে পারে, এর মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করতে পারে এবং ইসলামকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারে, যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মানুষের জন্য বাস্তবায়িত করেছিলেন।

এই ধারণার প্রতি আমার বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে যখন আমি সেই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ বিভাগ ও অনুষদসমূহের পাঠ্যক্রম দেখেছি যেখানে আমি শিক্ষকতা করেছি১। আমি দেখেছি যে, তারা দাওয়াহর ইতিহাস অধ্যয়নের ওপর গুরুত্ব দেয় এবং নবুওয়াতের যুগকে বিস্তৃত অধ্যয়নের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করে। আল্লাহ তাআলা আমাকে সম্মানিত করেছেন, তাই আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ বছর ধরে দাওয়াহর ইতিহাসের পাঠ্যদান করেছি। এই বিষয়টি আমার সেই পুরাতন আশাকে পুনরায় জাগ্রত করেছে যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এই পদ্ধতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে লিখব। এর মাধ্যমে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত রচনা করব এবং তাঁর যুগের দাওয়াহর ইতিহাস লিপিবদ্ধ করব। এছাড়া দাওয়াহ এবং দায়ীদের জন্য সীরাতে নববী ও নবুওয়াত যুগের ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও উপদেশগুলো উপস্থাপন করব এবং সমগ্র সমাজের জন্য অগ্রগতির পথ স্পষ্ট করব।

নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ঘটনাবলীতে সমৃদ্ধ, বাস্তবতায় ভরপুর, দানে বৈচিত্র্যময় এবং তারবিয়ত ও দিকনির্দেশনায় অগ্রগামী। এর অধ্যয়নকারীর উচিত তার মনোযোগকে প্রশস্ত করা যাতে সীরাতের সকল দিক অন্তর্ভুক্ত হয়: যেমন ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক, দাওয়াহ বিষয়ক এবং সামাজিক ... ইত্যাদি।

আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা এর সকল দিক নিয়ে লেখার চেষ্টা করব; যাতে সীরাতে নববীর হক আদায় হয় এবং পূর্ণাঙ্গ সীরাতের কাঠামোতে দাওয়াহর বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা যায়।

আমি দলীল দ্বারা সমর্থিত তথ্যগুলো উল্লেখ করার জন্য কাজ করব, যা অতিরঞ্জন বা অহেতুক ভীতি প্রদর্শন থেকে মুক্ত হবে। আমি ইসলামের শত্রুদের মিথ্যার সামনে কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে থাকব না, বরং আমি ঐতিহাসিক সত্যকে তার সততা ও যোগ্যতার মাধ্যমে সমুন্নত হতে ছেড়ে দেব। কারণ বৈজ্ঞানিক বিতর্ক এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্যের বিজয়ের জন্য সত্যের চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই।

ঘটনা ও বাস্তবতা বর্ণনায় আমি অতিরঞ্জন ও ভীতিকর বর্ণনার পিছে ছুটব না, যাতে আমি বিবেকের স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের সাথে বিরোধে জড়িয়ে না পড়ি এবং সেই ভল্লুকের মতো না হয়ে যাই যে তার মালিককে ভালোবাসার আতিশয্যে হত্যা করেছিল।

--------------------------------------------

১ লেখক আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের দাওয়াহ বিভাগে, মক্কা মুকাররামায় উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে, রিয়াদে কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কায়রোতে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি দাওয়াহ অনুষদে দাওয়াহর ইতিহাসের পাঠ্যদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৩)
لقد كان صلى الله عليه وسلم في حركته بالدعوة واقعيا، ربَّى أصحابه على الصبر وتحمل المشاق، وتحمل صلى الله عليه وسلم من أذى أعدائه ما لا يتصوره عاقل، وبذلك بنَى أمته على الإيمان بسنن الله في الحياة والأحياء، وأبعدها عن الجري وراء الخيال والأوهام.

إن الحقيقة يجب أن تعرض في ثوب يليق بها، ثوب خالٍ من المبالغة والتهويل، بعيد عن الإخفاء والصمت؛ لأن كل ذلك يبعدها عن صورتها المستقيمة.

والسيرة النبوية هي شخصية رسول الله صلى الله عليه وسلم الحقيقية، وتاريخ الدعوة هو الحركة الحقيقية بدين الله تعالى وتبليغه للناس.

وهاتان القضيتان -السيرة وتاريخ الدعوة- من أمهات الحقائق التي يجب أن يعيشها الناس، بعقل مفتوح، وتأمل دقيق، وتفهم واعٍ، من أجل أن تظهر فترة الدعوة المكية والمدنية -كما كانت- بنبضها الحي، وقوتها المتدفقة.

ومن أفضل السبل لعرض حقائق السيرة والدعوة أن نأخذ من المؤرخين القدامى والمحدثين ما يفيد، فمن القدامى نأخذ: حشد الآثار، وتمحيص الأسانيد، وحقائق الوقائع والأحداث.. ونأخذ من المحدثين: التفحص، والتحليل، والموازنة، واستنباط الدروس، والعبر.

وبذلك نعرض أحداث السيرة، ووقائع الدعوة بوسطية حية، محببة، يتأسى بها من كان يرجو الله واليوم الآخر، وذكر الله كثيرا.

إنني أكتب في السيرة كمؤمن محب لصاحب السيرة، سيدي محمد صلى الله عليه وسلم، تدفعه عواطفه المحبة إلى مواصلة المديح والإشادة، ويدفعه إيمانه إلى التزام الدقة والصدق، الذي دعا إليها رسول الله صلى الله عليه وسلم، والحمد لله أن رواية الصدق لا تُظهر إلا عظمة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وأكتب في الدعوة كذلك كعالِم شرفه الله بالتخصص في علوم الدعوة، وقدر الله تعالى -بفضله ومننه- عليَّ العمل لها؛ ولذلك فإني أود أن آخذ من السيرة الدروس المفيدة للدعوة والدعاة، وأحبب الدعاة في أن يعيشوا مع السيرة فهما واستفادة وعملا.
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দাওয়াহ আন্দোলনের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী ছিলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের ধৈর্য ও কষ্ট সহ্য করার ওপর লালন-পালন করেছেন। তিনি তাঁর শত্রুদের থেকে এমন কষ্ট সহ্য করেছেন যা কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কল্পনাও করতে পারে না। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর উম্মতকে জীবন ও জীবজগতের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানসমূহের ওপর ঈমান আনার ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন এবং তাঁদেরকে কল্পনা ও অলীক ধারণার পেছনে ছুটে চলা থেকে দূরে রেখেছেন।

নিশ্চয়ই সত্যকে তার উপযুক্ত পোশাকে উপস্থাপন করা উচিত; এমন এক পোশাক যা অতিরঞ্জন ও ভীতি প্রদর্শন থেকে মুক্ত এবং গোপন করা ও নীরবতা অবলম্বন করা থেকে দূরে। কারণ এসব কিছু সত্যকে তার সঠিক রূপ থেকে বিচ্যুত করে দেয়।

আর সীরাতে নববী হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রকৃত ব্যক্তিত্ব, এবং দাওয়াহর ইতিহাস হলো আল্লাহর দীনের প্রকৃত আন্দোলন ও মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া।

এই দুটি বিষয়—সীরাত ও দাওয়াহর ইতিহাস—সেই সকল মৌলিক সত্যের অন্তর্ভুক্ত যা মানুষের মুক্ত মন, সূক্ষ্ম চিন্তা ও সচেতন উপলব্ধির সাথে যাপন করা উচিত; যাতে করে মক্কী ও মাদানী দাওয়াহর সময়কাল—ঠিক যেমনটি তা ছিল—তার জীবন্ত স্পন্দন ও প্রবহমান শক্তিসহ ফুটে ওঠে।

সীরাত ও দাওয়াহর তথ্যাবলি উপস্থাপনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হলো প্রাচীন ও আধুনিক ইতিহাসবিদদের থেকে যা উপকারী তা গ্রহণ করা। প্রাচীনদের থেকে আমরা গ্রহণ করি: বর্ণনাগুলোর সংকলন, সনদসমূহের যাচাই-বাছাই এবং ঘটনা ও বিষয়াবলির সঠিক তথ্য। আর আধুনিকদের থেকে আমরা গ্রহণ করি: গভীর পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ, তুলনা এবং শিক্ষা ও উপদেশ আহরণ।

আর এভাবেই আমরা সীরাতের ঘটনাবলি ও দাওয়াহর বিষয়সমূহকে একটি জীবন্ত ও প্রিয় মধ্যমপন্থায় উপস্থাপন করি, যা দেখে সেই ব্যক্তি আদর্শ গ্রহণ করবে যে আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।

আমি সীরাত লিখছি সীরাতের অধিকারী তথা আমার নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একজন প্রেমময় মুমিন হিসেবে। তাঁর প্রতি ভালোবাসার আবেগ আমাকে নিরন্তর প্রশংসা ও স্তুতির দিকে ধাবিত করে, আর আমার ঈমান আমাকে সেই নির্ভুলতা ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে যার দিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহ্বান করেছেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যে, সত্য বর্ণনা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মহানুভবতা ছাড়া অন্য কিছু প্রকাশ করে না।

অনুরূপভাবে আমি দাওয়াহর বিষয়ে লিখছি একজন আলেম হিসেবে যাকে আল্লাহ দাওয়াহর ইলমে বিশেষজ্ঞ হওয়ার সম্মান দান করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাকে এর জন্য কাজ করার তাওফিক দিয়েছেন। তাই আমি সীরাত থেকে দাওয়াহ ও দাঈদের জন্য উপকারী শিক্ষাগুলো গ্রহণ করতে চাই এবং দাঈদের জন্য সীরাতের সাথে উপলব্ধি, উপকার লাভ ও আমলের মাধ্যমে জীবন যাপন করাকে প্রিয় করে তুলতে চাই।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وليس من اللائق أن يبقى رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الكتب حبيسا، أو في ثنايا الألسنة ذكرا وفقط، وإنما الواجب أن يصير عملا وسلوكا وقدوة؛ لتحيا الأمة مرة أخرى، ويعيش الإسلام حاضره العظيم.

لقد عاش أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم وتمثلوها في نومهم، ويقظتهم، وحركتهم، وسكونهم.. وهو الأمل الذي أرجوه لنفسي وللمسلمين أجمعين؛ ولذلك جعلت دراستي للسيرة والدعوة في إطار واحد.

وبذلك أكون قد سلكت منهجا وسطا، لا إفراط فيه ولا تفريط؛ لتتحقق الفائدة، ويبدو الإسلام بواقعيته وشموخه.

وبهذه الوسطية المنهجية أشعر أني من الحق والصواب، أورده بدليله الصحيح بعيدا عن الشطط الذي لا أرتضيه، سواء كان مدحا أو ذما.. وبذلك ألتزم مع السيرة والدعوة بالصدق والأمانة، واضعا أمام عيني قول النبي صلى الله عليه وسلم: "مَن كذب عليَّ متعمدا فليتبوأ مقعده من النار" 1.

أسأل الله سبحانه وتعالى أن يوفقني في مقصدي، ويبارك لي فيه، ويجعله ذخرا لي في يوم لا ينفع فيه مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.

ربنا عليك توكلنا، وإليك أنبنا، وإليك المصير.

أ. د/ أحمد أحمد غلوش

مدينة نصر 11/ 3/ 1424هـ

12/ 5/ 2003م

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري بشرح فتح الباري - كتاب العلم - باب إثم مَن كذب على النبي صلى الله عليه وسلم ج1 ص202.
এটা শোভনীয় নয় যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল বইয়ের পাতায় বন্দি থাকবেন অথবা কেবল জিহ্বার চর্চায় সীমাবদ্ধ থাকবেন। বরং কর্তব্য হলো তাঁকে আমল, আচরণ এবং আদর্শে পরিণত করা; যাতে উম্মাহ পুনরায় জীবন ফিরে পায় এবং ইসলাম তার মহান বর্তমানকে যাপন করতে পারে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবন যাপন করেছেন এবং তাঁদের ঘুমে, জাগরণে, চলনে ও স্থিরতায় তা ধারণ করেছেন। এটাই সেই আশা যা আমি নিজের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য পোষণ করি; একারণেই আমি সীরাত ও দাওয়াহর অধ্যয়নকে একই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করেছি।

এর মাধ্যমে আমি একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছি, যাতে কোনো অতিরঞ্জন বা শৈথিল্য নেই; যাতে প্রকৃত ফায়দা অর্জিত হয় এবং ইসলাম তার বাস্তবতা ও গরিমা নিয়ে প্রকাশিত হয়।

এই পদ্ধতিগত মধ্যপন্থার মাধ্যমে আমি অনুভব করছি যে আমি সত্য ও সঠিকতার পথে আছি, যা আমি সঠিক দলীলসহ উপস্থাপন করছি এবং সেই বিচ্যুতি থেকে দূরে থাকছি যা আমি অনুমোদন করি না—তা প্রশংসা বা নিন্দা যাই হোক না কেন। এর মাধ্যমে আমি সীরাত ও দাওয়াহর ক্ষেত্রে সততা ও আমানতদারিতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকছি, আর আমার দৃষ্টির সামনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীটি রাখছি: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।" ১

আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে আমার উদ্দেশ্যে সফল করেন, এতে আমার জন্য বরকত দান করেন এবং একে আমার জন্য সেই দিনের সঞ্চয় হিসেবে কবুল করেন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে সুস্থ হৃদয় নিয়ে উপস্থিত হবে।

হে আমাদের রব! আমরা আপনার ওপরই ভরসা করেছি, আপনার দিকেই আমরা প্রত্যাবর্তন করেছি এবং আপনার দিকেই শেষ প্রত্যাবর্তন।

প্রফেসর ড. আহমদ আহমদ গালুশ

মাদিনাতুন নাসর ১১/ ৩/ ১৪২৪ হিজরি

১২/ ৫/ ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

--------------------------------------------

১. সহীহ বুখারী, ফাতহুল বারী শরহসহ - কিতাবুল ইলম - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপকারীর গুনাহ পরিচ্ছেদ, ১ম খণ্ড, ২০২ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الفصل الأول: الواقع العالمي قبيل مجيء الإسلام

‌‌تمهيد:

تمهيد: العالم هو أمة الدعوة، فإليه بُعث محمد صلى الله عليه وسلم، وأُمر بتبليغ الإسلام إلى الناس أجمعين.

فمن أجاب ودخل في دين الله تعالى صار من أمة الإجابة التي عرفت الحق، وآمنت به، واستقامت على الصراط المستقيم.

والتعريف بهذا العالم ضرورة مهمة؛ لأنه يبين واقعه، وما ساده من انحراف وضلال، ويُظهر المناهج التي دعا بها الرسول صلى الله عليه وسلم الأمم كلها على اختلافهم وتنوعهم، ويوضح طريقة المواجهة بين الإسلام ومعارضيه في هذا الزمان السحيق.. وبذلك تستفيد الدعوة، ويأخذ الدعاة الدروس والعبر..

لقد انقسم العالم في هذا الزمان إلى أمم كبرى هي: الفرس، والروم، والعرب، والهنود، وكان لكل منها وضعه ونظامه ودينه، وانضوت بقية الأقاليم تحت سلطان إحدى هذه الأمم، كولايات تابعة لها، تعيش بنظمها، وتتمذهب بمذهبها … وهكذا.

وفي هذا الفصل سأتناول هذه الأمم بالدراسة، وأُعرِّف بواقعها، وأهم نظمها، وأديانها، وأخلاقها، وسأعقد لكل أمة مبحثا على أن أعقد مبحثا أخيرا أبين فيه مدى حاجة العالم يومذاك لحمل الإسلام، وكيف تهيأت الظروف العالمية لاستقباله، وبذلك سيكون هذا الفصل مكونا من خمسة مباحث هي:

* المبحث الأول: "واقع العرب".

* المبحث الثاني: "واقع الرومان".

* المبحث الثالث: "واقع الفرس".

* المبحث الرابع: "واقع الهنود".

* المبحث الخامس: "ملاءمة الواقع العالمي للحركة بالإسلام".

وبذلك ينتهي الفصل بتوفيق الله تعالى،،،
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামের আগমনের প্রাক্কালে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

‌ভূমিকা:

ভূমিকা: বিশ্ব হলো দাওয়াতের উম্মত; তাদের নিকটই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করা হয়েছে এবং সকল মানুষের কাছে ইসলাম পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফলে যারা সাড়া দিয়েছে এবং মহান আল্লাহর দ্বীনে দাখিল হয়েছে, তারা সেই ‘সাড়াদানকারী উম্মত’-এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যারা সত্যকে চিনতে পেরেছে, তার ওপর ঈমান এনেছে এবং সরল পথের ওপর অবিচল রয়েছে।

এই বিশ্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা একটি অপরিহার্য প্রয়োজন; কারণ এটি তৎকালীন বাস্তবতাকে এবং সেখানে বিদ্যমান বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতাকে ফুটিয়ে তোলে। এছাড়া এটি সেই পদ্ধতিগুলোও প্রকাশ করে যার মাধ্যমে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকল জাতিকে তাদের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য সত্ত্বেও দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং সেই সুদূর অতীতে ইসলামের সাথে তার বিরোধীদের সংঘাতের পদ্ধতিও স্পষ্ট করে। এর ফলে দাওয়াতী কার্যক্রম উপকৃত হয় এবং দায়ীরা বিভিন্ন শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করতে পারেন।

তৎকালীন সময়ে বিশ্ব কয়েকটি প্রধান জাতিতে বিভক্ত ছিল, সেগুলো হলো: পারস্য, রোম, আরব এবং ভারত। তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব অবস্থা, শাসনব্যবস্থা ও ধর্ম ছিল। আর অন্যান্য অঞ্চলগুলো এই জাতিগুলোর কোনো একটির কর্তৃত্বাধীন ছিল; সেগুলো তাদের অধীনস্থ প্রদেশ হিসেবে তাদেরই নিয়ম-নীতিতে চলত এবং তাদেরই মতাদর্শ অনুসরণ করত … এভাবেই সব চলত।

এই পরিচ্ছেদে আমি এই জাতিগুলো নিয়ে অধ্যয়ন করব এবং তাদের বাস্তব অবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ শাসনব্যবস্থা, ধর্ম ও নৈতিকতা সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেব। আমি প্রতিটি জাতির জন্য একটি করে আলাদা অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করব এবং শেষে একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করব যেখানে তৎকালীন বিশ্বে ইসলাম প্রচারের প্রয়োজনীয়তা এবং এটি গ্রহণের জন্য বৈশ্বিক পরিস্থিতি কীভাবে অনুকূল হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করব। এভাবে এই পরিচ্ছেদটি পাঁচটি অনুচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত হবে, সেগুলো হলো:

* প্রথম অনুচ্ছেদ: "আরবদের বাস্তবতা"।

* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: "রোমানদের বাস্তবতা"।

* তৃতীয় অনুচ্ছেদ: "পারস্যবাসীদের বাস্তবতা"।

* চতুর্থ অনুচ্ছেদ: "ভারতীয়দের বাস্তবতা"।

* পঞ্চম অনুচ্ছেদ: "ইসলামি আন্দোলনের জন্য বৈশ্বিক পরিস্থিতির অনুকূলতা"।

এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর তাওফিকে এই পরিচ্ছেদটি সমাপ্ত হবে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الأول: "العرب":

1- جغرافية بلاد العرب:

العرب هم أبناء إسماعيل عليه السلام، نشئوا في مكة أولا، وبعدها انتشروا في شبه جزيرة العرب1، وهاجروا إلى البلدان المجاورة.

وتنقسم الجزيرة العربية إلى خمسة أقاليم تبعا لجغرافية الأرض وطبيعة المكان؛ ذلك أن جبل السراة بدأ من ثغر اليمن جنوبا، وامتد حتى بلغ أطراف الشام شمالا، فسمي بإقليم "الحجاز" لأنه يحجز إقليم "تهامة" الواقع في غربه على ساحل البحر الأحمر، عن إقليم "نجد" الواقع شرقه.. وتسمى المنطقة الواقعة جنوب جبل السراة بإقليم "اليمن"، والمنطقة الواقعة شرق نجد بإقليم "العروض".

وهذه الأقاليم تتمايز عن بعضها على النحو التالي:

1- تهامة: يشمل الأرض المنخفضة، الساحلية، المحاذية للبحر الأحمر بدءا من ينبع في الشمال، إلى نجران في جنوب السعودية، وسميت تهامة بتهامة لشدة حرها وركود ريحها، كما تسمى "الغور" لانخفاض أرضها بالنسبة لغيرها.

2- الحجاز: ويتكون من عدد من الوديان التي تتخلل جبال السراة المتدة من الشام شمالا إلى نجران جنوبا، وسميت بالحجاز لأنها تحجز تهامة عن نجد، وفي هذا الإقليم تقع مدينتا "مكة" "والمدينة"، ويرتبط هذه الإقليم بالبحر الأحمر بعدة طرق عرضية كما يرتبط بسائر الجهات.

--------------------------------------------

1 يسمي العرب بلادهم بـ"جزيرة العرب" على سبيل التجوز؛ لأن المياه تحيط بها من ثلاث جهات فقط هي: الشرق، والجنوب، والغرب، ويحدها من الشمال بلاد الشام، والعرب يُدخلون في جزيرتهم برية سيناء، وفلسطين، وسوريا.
প্রথম পরিচ্ছেদ: "আরব জাতি":

১- আরব ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অবস্থা:

আরবরা হলো ইসমাইল আলাইহিস সালামের সন্তান, তারা প্রথমে মক্কায় লালিত-পালিত হয়েছে, অতঃপর তারা আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়েছে১ এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে হিজরত করেছে।

ভূপ্রকৃতি ও স্থানের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আরব উপদ্বীপ পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত; তা এই জন্য যে, আস-সরাত পর্বতমালা দক্ষিণে ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে শুরু হয়েছে এবং উত্তরে শামের প্রান্তভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে একে "হিজাজ" অঞ্চল নামকরণ করা হয়েছে, কারণ এটি লোহিত সাগরের উপকূলে এর পশ্চিমে অবস্থিত "তিহামাহ" অঞ্চলকে এর পূর্বে অবস্থিত "নাজদ" অঞ্চল থেকে পৃথক করে রেখেছে। আস-সরাত পর্বতমালার দক্ষিণে অবস্থিত অঞ্চলটিকে "ইয়েমেন" অঞ্চল বলা হয় এবং নাজদের পূর্বে অবস্থিত অঞ্চলটিকে "আল-আরূদ" অঞ্চল বলা হয়।

এবং এই অঞ্চলগুলো একে অপরের থেকে নিম্নোক্তভাবে স্বতন্ত্র:

১- তিহামাহ: এটি লোহিত সাগরের তীরবর্তী নিচু উপকূলীয় ভূমিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা উত্তরে ইয়ানবু থেকে শুরু করে সৌদি আরবের দক্ষিণে নাজরান পর্যন্ত বিস্তৃত। তিহামাহর প্রচণ্ড গরম এবং বাতাসের নিথরতার কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে তিহামাহ। আবার অন্যান্য ভূমির তুলনায় এর নিচু অবস্থানের কারণে একে "আল-গাওর"ও বলা হয়।

২- হিজাজ: এটি বেশ কিছু উপত্যকার সমন্বয়ে গঠিত যা উত্তরে শাম থেকে দক্ষিণে নাজরান পর্যন্ত বিস্তৃত আস-সরাত পর্বতমালার মাঝে অবস্থিত। একে হিজাজ বলা হয় কারণ এটি তিহামাহকে নাজদ থেকে পৃথক করে রাখে। এই অঞ্চলেই "মক্কা" ও "মদিনা" শহর দুটি অবস্থিত। এই অঞ্চলটি বেশ কিছু আড়াআড়ি পথের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত এবং অন্যান্য দিকের সাথেও এর যোগাযোগ রয়েছে।

--------------------------------------------

১ আরবরা আলঙ্কারিকভাবে তাদের দেশকে "আরব উপদ্বীপ" বলে অভিহিত করে; কারণ এর তিন দিক থেকে পানি বেষ্টন করে আছে, আর তা হলো: পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম। উত্তর দিকে শাম দেশ একে সীমাবদ্ধ করেছে। আর আরবরা তাদের এই উপদ্বীপের মধ্যে সিনাই মরুভূমি, ফিলিস্তিন ও সিরিয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ২৯)
3- نجد: ويمتد من اليمن جنوبا، وبادية السماوة والعروض والعراق شمالا، والخليج العربي شرقا، والحجاز غربا، وسمي "نجد" لارتفاع أرضه.

4- اليمن: ويمتد من نجد شمالا، إلى المحيط الهندي جنوبا، والبحر الأحمر غربا إلى حضرموت والشمر وعمار شرقا، وقد أقيم باليمن سد مأرب وقصر غمدان.

5- العروض: ويشمل: اليمامة، وعمان، والبحرين، والإمارات العربية، وقطر، وسمي بـ"العروض" لاعتراضه بين اليمن، ونجد، والعراق.

وبلاد العرب صحراوية، شحيحة المياه، نادرة الزرع، إلا في بعض المناطق كالطائف واليمن؛ ولذلك اتجه الناس إلى الرعي والتنقل والتجارة؛ طلبا للرزق والمعاش، وساعدهم على ذلك تعدد الطرق المهددة التي تربط الشمال بالجنوب، والشرق بالغرب، بطرق ومسالك عديدة، وكانت الجزيرة قبيل البعثة معبر التجارات المختلفة الآتية: من وإلى الهند، وروما، والحبشة، ومصر، وغيرها.

وتعد مدينة "مكة" حاضرة الجزيرة العربية؛ لوجود الحرم بها، وقد حفظ العرب لمكة حقها، وصانوا حرمتها، وتعارفوا على الأشهر الحرم؛ لينتشر السلام في الحرم ويحج الناس إليه آمنين.

وكان العرب على اختلاف قبائلهم وأديانهم يؤمنون بأن دعوة إبراهيم عليه السلام الواردة في قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ قَالَ وَمَنْ كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلًا ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ} 1 قد استجيبت، حتى صارت مكة التي دعا لها إبراهيم عليه السلام بلدا يأمن فيه الخائف، ويشبع الجائع، وتأتيها الثمرات من كل الآفاق، ويخيب فيها الظالم، ويهلك المعتدي، وقد رأوا

--------------------------------------------

1 سورة البقرة الآية 126.
৩- নজদ: এটি দক্ষিণে ইয়ামান, উত্তরে সামাওয়া মরুভূমি, আরুজ ও ইরাক, পূর্বে পারস্য উপসাগর এবং পশ্চিমে হিজাজ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ভূমি উঁচু হওয়ার কারণে একে "নজদ" নামকরণ করা হয়েছে।

৪- ইয়ামান: এটি উত্তরে নজদ থেকে দক্ষিণে ভারত মহাসাগর এবং পশ্চিমে লোহিত সাগর থেকে পূর্বে হাজরামাউত, শাম্মার ও আম্মার পর্যন্ত বিস্তৃত। ইয়ামানে মা’রিব বাঁধ ও গুনদান প্রাসাদ নির্মিত হয়েছিল।

৫- আরুজ: এটি ইয়ামামা, ওমান, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করে। ইয়ামান, নজদ ও ইরাকের মাঝখানে আড়াআড়িভাবে অবস্থানের কারণে একে "আরুজ" নামকরণ করা হয়েছে।

আরব দেশ মরুভূমিপ্রধান, যেখানে পানির স্বল্পতা ও ফসলের দুষ্প্রাপ্যতা রয়েছে; তবে তায়েফ ও ইয়ামানের মতো কিছু অঞ্চল এর ব্যতিক্রম। এ কারণে মানুষ জীবিকা ও জীবনধারণের তাগিদে পশুপালন, যাযাবর জীবন ও ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। উত্তরকে দক্ষিণের সাথে এবং পূর্বকে পশ্চিমের সাথে সংযুক্তকারী বহুবিধ সুগম পথ তাদের এই কাজে সহায়তা করেছিল, যা উত্তরকে দক্ষিণের সাথে এবং পূর্বকে পশ্চিমের সাথে বিভিন্ন পথ ও পন্থায় সংযুক্ত করত। নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বমুহূর্তে আরব উপদ্বীপ ভারত, রোম, আবিসিনিয়া, মিসর ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা-যাওয়া করা বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের পারাপার কেন্দ্র বা ট্রানজিট ছিল।

"মক্কা" নগরীকে আরব উপদ্বীপের কেন্দ্রস্থল মনে করা হয়; কারণ সেখানে হারাম শরীফ অবস্থিত। আরবরা মক্কার যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করত এবং এর পবিত্রতা বজায় রাখত। তারা ‘নিষিদ্ধ মাস’ বা আশহুরে হারামগুলোর প্রথার সাথে পরিচিত ছিল; যাতে হারামে শান্তি বজায় থাকে এবং মানুষ নিরাপদে হজ করতে পারে।

বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মে বিভক্ত হওয়া সত্ত্বেও আরবরা বিশ্বাস করত যে, মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দোয়াটি কবুল হয়েছে: {এবং স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম বলেছিল, ‘হে আমার রব! একে একটি নিরাপদ শহর বানিয়ে দিন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে, তাদেরকে ফলমূল থেকে জীবিকা দান করুন।’ তিনি (আল্লাহ) বললেন, ‘আর যে কুফরি করবে, তাকেও আমি সামান্য কিছুকাল জীবনোপভোগ করতে দেব, তারপর তাকে জাহান্নামের আগুনের আজাবে বাধ্য করব; আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য!’} ১। ফলে মক্কা, যার জন্য ইবরাহিম আলাইহিস সালাম দোয়া করেছিলেন, এমন এক শহরে পরিণত হয়েছে যেখানে ভীত ব্যক্তি নিরাপদ থাকে, ক্ষুধার্ত ব্যক্তি তৃপ্ত হয়, সব দিক থেকে ফলমূলের আগমন ঘটে, জালিমরা ব্যর্থ হয় এবং আক্রমণকারীরা ধ্বংস হয়। তারা প্রত্যক্ষ করেছিল...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১২৬।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৩০)
"أبرهة" يهلك أمامهم بجيشه وفيله1، عندما جاء لهدم الكعبة، وصرف الحجيج عنها إلى الـ"قليس" الذين بناه في اليمن ليقصده الناس بدل الكعبة.

وقد سمى العرب مكة بـ"ناسة" لأنها تطرد مَن يظلم فيها، كما سموها "بكة" لأنها تبك أعناق الجبابرة2.

يقول جصاص بن عمرو بن الحارث لقومه الجراهمة: "لا تستخفوا بحق الحرم، وحرمة البيت، ولا تظلموا مَن دخله، وجاء معظما لحرمته، أو آخر جاء بايعا لسلعته، أو راغبا في جواركم، فإن فعلتم ذلك تخوفت أن تخرجوا منها خروج ذل وصغار"3.

ومن أقوال سبيعة بنت الأحب بن عيلان توصي ولدها باحترام مكة، وبأهمية تجنب الظلم في الحرم، تقول:

ابني لا تظلم بمكـ … ـة لا الصغير ولا الكبير

واحفظ محارمها بنـ … ـي ولا يغرنك الغرور

ابني من يظلم بمكـ … ـة يلقَ أطراف الشرور

ابني يضرب وجهه … ويلح بخديه السعير

ابني قد جربتها … فوجدت ظالمها يبور

الله أمنها وما … بنيت بعرصتها قصور

والله آمن طيرها … والعصم تأمن في ثبير

ولقد غزاها تبع … فكسا بنيتها الحبير

وأذل ربي ملكه … فيها فأوفى بالنذور

والفيل أهلك جيشه … يرمون فيها الصخور

--------------------------------------------

1 أخبار مكة للأزرقي ج1 ص113.

2 سيرة النبي لابن هشام ج1 ص126.

3 عبقرية خالد ص17.
"আবরাহা" তার সেনাবাহিনী ও হাতিসহ তাদের সামনে ধ্বংস হয়ে যায়১, যখন সে কাবা ধ্বংস করতে এবং হাজীদের কাবা থেকে সরিয়ে ইয়েমেনে তার নির্মিত "কুলাইস" গির্জার দিকে ফিরিয়ে নিতে এসেছিল, যাতে মানুষ কাবার পরিবর্তে সেখানে যায়।

আর আরবরা মক্কার নামকরণ করেছিল "নাসাহ" (বিতাড়নকারী), কারণ এটি তার ভেতরে জুলুমকারীদের বহিষ্কার করে দেয়। তেমনি তারা এর নাম "বাক্কাহ" রেখেছিল, কারণ এটি অহংকারী স্বৈরশাসকদের ঘাড় মটকে দেয়২।

জাসাস বিন আমর বিন আল-হারিস তার কওম জুরহুমকে উদ্দেশ্য করে বলেন: "তোমরা হারামের অধিকার এবং বাইতুল্লাহর পবিত্রতাকে তুচ্ছজ্ঞান করো না। যে ব্যক্তি হারামে প্রবেশ করে তার ওপর জুলুম করো না—সে এর পবিত্রতাকে সম্মান জানাতে আসুক, কিংবা পণ্য বিক্রি করতে আসুক, অথবা তোমাদের প্রতিবেশী হতে চাক। যদি তোমরা এমনটা করো, তবে আমি ভয় পাচ্ছি যে, তোমরা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত অবস্থায় বহিষ্কৃত হবে"৩।

সুবাইআ বিনতে আল-আহাব বিন আয়লানের উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো তিনি তার সন্তানকে মক্কার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এবং হারামে জুলুম বর্জন করার গুরুত্ব নিয়ে অসিয়ত করে বলতেন:

হে বৎস! মক্কায় জুলুম করো না … ছোট বা বড় কারও ওপর

হে বৎস! এর পবিত্রতা রক্ষা করো … আর প্রতারণা যেন তোমাকে ধোঁকা না দেয়

হে বৎস! যে মক্কায় জুলুম করে … সে অকল্যাণের প্রান্তসমূহের সম্মুখীন হয়

হে বৎস! তার মুখে আঘাত করা হবে … আর তার গণ্ডদ্বয় লেলিহান আগুনে দগ্ধ হবে

হে বৎস! আমি এটি পরীক্ষা করেছি … আর দেখেছি এর জালিম ধ্বংস হয়ে যায়

আল্লাহ একে নিরাপদ করেছেন এবং … এর প্রাঙ্গণে কোনো প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়নি

আল্লাহ এর পাখিদের নিরাপদ করেছেন … আর শাবীর পাহাড়ে হরিণগুলোও নিরাপদ থাকে

এবং তুব্বা এটি আক্রমণ করতে চেয়েছিল … কিন্তু পরে সে এর কাঠামোকে ইয়ামানি চাদর দ্বারা আবৃত করেছিল

আর আমার রব সেখানে তার রাজত্বকে … বিনীত করে দিয়েছিলেন, ফলে সে তার মানত পূর্ণ করেছিল

আর হাতিটি তার বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছিল … যারা সেখানে পাথর নিক্ষেপ করছিল

--------------------------------------------

১ আজরুকি রচিত আখবারু মক্কাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৩।

২ ইবনে হিশাম রচিত সিরাতুন্নবী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৬।

৩ আবকারিয়াতু খালিদ, পৃষ্ঠা ১৭।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৩১)
فاسمع إذا حدثت وافـ … ـهم كيف عاقبة الأمور1

إن هذه المرأة العربية تشير في نصيحتها تلك إلى مقام مكة في ضمير أبنائها، والعرب جميعا منذ القديم.

وقد اعتبر العرب مكة حاضرتهم ومقصدهم؛ ولذلك سموها بأم القرى.

وقد ازدادت أهمية "مكة" بعد الإسلام بمبعث محمد صلى الله عليه وسلم فيها، وشروق الإسلام من بين جنباتها، وتَوَجُّهِ المسلمين في كافة أنحاء الكون إليها، قاصدين الكعبة في صلواتهم وحجهم.

--------------------------------------------

1 السيرة النبوية لابن هشام ج1 ص26، يبور: يهلك، وثبير: اسم جبل بمكة، بنيتها: الكعبة.
সুতরাং শোনো যখন আমি কথা বলি এবং বুঝে... নাও বিষয়াবলির পরিণতি কেমন হয়১

নিশ্চয়ই এই আরব নারী তার সেই উপদেশে তার সন্তানদের অন্তরে এবং প্রাচীনকাল থেকেই সমস্ত আরবের নিকট মক্কার যে উচ্চ মর্যাদা ছিল, সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

আরবরা মক্কাকে তাদের মূল নগরী ও গন্তব্যস্থল হিসেবে বিবেচনা করত; এ কারণেই তারা একে 'উম্মুল কুরা' (জনপদসমূহের জননী) নামে নামকরণ করেছিল।

ইসলামের পরে মক্কায় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তি, মক্কার জনপদ থেকে ইসলামের আলো বিচ্ছুরিত হওয়া এবং বিশ্বের সকল প্রান্তের মুসলিমদের তাদের সালাত ও হজে কাবার সংকল্প করে এই নগরীর দিকে অভিমুখী হওয়ার মাধ্যমে মক্কার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

--------------------------------------------

১ ইবনে হিশামের আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৬; ইয়াবুর: ধ্বংস হওয়া, সাবীর: মক্কার একটি পাহাড়ের নাম, বুনিয়্যাতুহা: কাবা।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৩২)
2- الأوضاع السياسية والاجتماعية والأخلاقية عند العرب:

اختلفت الأقاليم العربية في أنظمتها السياسية، وأوضاعها الاجتماعية والأخلاقية.

ففي إقليم اليمن قامت مملكة "حمير الثانية" التي ضمت إلى سلطانها مناطق كثيرة، وكان مكلها يسمى بملك "سبأ، وذي ريدان، وحضرموت، ويمنات، وعربهم في الجبال، وفي تهامة"1.

وكان هذا الإقليم محل صراع وتنافس بين الفرس والروم خلال القرن السادس الميلادي..

حكمهم "ذونواس" الحميري وكان يهوديا متعصبا، حاول فرض يهوديته على أهل نجران النصارى، فلما أبوا خد لهم أخدودا، وأحرقهم بالنار، وأعمل فيهم السيوف، فاستنجدوا بإمبراطور الروم، فأعانهم بجيش نصراني حبشي بقيادة "أبرهة" قوامه سبعون ألف جندي، فقضى على دولة "حمير" الثانية2 وسار في اليمنيين بجبروته وطغيانه حتى ملوا من ظلمة وعدوانيته، وبخاصة بعدما بني "القليس" ليصرف العرب إليها، ويهجروا الكعبة الموجودة بمكة، فاستعان اليمنيون بالفرس الذين أسسوا دولة لهم بقيادة "وهرز" الفارسي، وقد استمرت هذه الدولة حتى ظهور الإسلام.

وقد سار ملوك اليمن التابعين للفرس أو للروم على نظام سياسي واحد، قائم على وراثة الحكم بين الأبناء والإخوة، وكان يساعد الملك مجلس من شيوخ

--------------------------------------------

1 عصر ما قبل الإسلام ص79.

2 سيرة النبي صلى الله عليه وسلم لابن هشام ج1 ص36.
২- আরবদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক অবস্থা:

আরব অঞ্চলগুলো তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সামাজিক ও নৈতিক অবস্থার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ছিল।

ইয়েমেন অঞ্চলে 'দ্বিতীয় হিমইয়ার' রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা অনেক অঞ্চলকে নিজ শাসনের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এর রাজাকে 'সাবা, যু-রাইদান, হাদরামাউত, ইয়ামানাত এবং পাহাড় ও তিহামার আরবদের রাজা'১ বলা হতো।

এই অঞ্চলটি ষষ্ঠ খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে পারস্য ও রোমানদের মধ্যে সংঘাত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র ছিল।

তাদের শাসন করতেন হিমইয়ারি শাসক 'যু-নাওয়াস', যিনি ছিলেন একজন উগ্র ইহুদি। তিনি নাজরানের খ্রিস্টানদের ওপর ইহুদি ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা যখন তা গ্রহণে অস্বীকার করল, তখন তিনি তাদের জন্য পরিখা খনন করলেন এবং তাদের আগুনে পুড়িয়ে মারলেন ও তাদের ওপর তলোয়ার চালালেন। তারা তখন রোমান সম্রাটের কাছে সাহায্য চাইল। সম্রাট সত্তর হাজার সৈন্যের একটি আবিসিনীয় খ্রিস্টান সেনাবাহিনী দিয়ে তাদের সাহায্য করলেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন 'আবরাহা'। এই বাহিনী 'দ্বিতীয় হিমইয়ার'২ রাষ্ট্রের পতন ঘটাল। আবরাহা ইয়েমেনিদের ওপর তার দম্ভ ও স্বৈরাচারী শাসন পরিচালনা করলেন, এমনকি তারা তার জুলুম ও শত্রুতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠল; বিশেষ করে যখন তিনি 'আল-কুলাইস' গির্জা নির্মাণ করলেন যেন আরবদের সেদিকে ধাবিত করা যায় এবং তারা মক্কায় অবস্থিত কাবা ত্যাগ করে। এরপর ইয়েমেনিরা পারস্যদের সাহায্য চাইল, যারা 'ওয়াহরিজ' পারস্যের নেতৃত্বে সেখানে তাদের একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করল। এই রাষ্ট্র ইসলামের আবির্ভাব পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।

পারস্য বা রোমের অনুগত ইয়েমেনি রাজাগণ একটি অভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুসরণ করতেন, যা সন্তান ও ভাইদের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। রাজাকে প্রবীণদের একটি পরিষদ সহায়তা করত

--------------------------------------------

১ ইসলাম-পূর্ব যুগ, পৃ. ৭৯।

২ ইবনে হিশাম প্রণীত সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খণ্ড ১, পৃ. ৩৬।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
القبائل، يتولون شئون الأقاليم؛ حيث يرأس كل قبيلة شيخها على أن يقدم الأموال التي يكلف بجمعها إلى حاكم اليمن.

وكان المجتمع في اليمن ينقسم إلى طبقات أربع هي:

1- طبقة الجند: وتتكون في أغلبها من جنود الفرس أو الروم.

2- طبقة الفلاحين: وهم الذين يقومون بالزراعة والرعي.

3- طبقة الصناع: وهؤلاء يقومون بالصناعات المطلوبة التي يحتاجها الناس.

4- طبقة التجار: وهم جماعات في المدن والقبائل كثيرو السفر والتنقل.

وقد أدى الثراء المادي في إقليم اليمن إلى تعاون الناس، وإلى قيام حضارة مزدهرة، وإلى بعدهم عن الشحناء والتحارب، كما ساعدهم على الحركة وركوب البحر، والانتقال إلى أقاليم العالم المختلفة، وكانوا دائما حلقة وصل بين العرب وسائر الأمم في الشرق أو الغرب أو الشمال أو الجنوب، وكان لهم نشاطهم الواسع من أقاليم الجزيرة الغربية، وقبيل ظهور الإسلام تأثر اليمنيون بحادثة محاولة أبرهة هدم الكعبة وبناء القليس، وشعروا بأن هذا يتعارض مع مشاعرهم القومية، ويتناقض مع توجه عرب الجزيرة جميعا إلى الكعبة بيت الله تعالى الذي بناه إبراهيم وإسماعيل عليهما السلام.

وقد تبدلت أوضاعهم الاقتصادية بهدم سد مأرب؛ بسبب بغيهم، وظلمهم، وإعراضهم عن الحق والصواب، يقول الله تعالى: {فَأَعْرَضُوا فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ سَيْلَ الْعَرِمِ وَبَدَّلْنَاهُمْ بِجَنَّتَيْهِمْ جَنَّتَيْنِ ذَوَاتَيْ أُكُلٍ خَمْطٍ وَأَثْلٍ وَشَيْءٍ مِنْ سِدْرٍ قَلِيلٍ، ذَلِكَ جَزَيْنَاهُمْ بِمَا كَفَرُوا وَهَلْ نُجَازِي إِلَّا الْكَفُورَ} 1 وهكذا انقلبت أوضاعهم، وعاشوا في اضطراب وضجر حتى جاء الإسلام.

--------------------------------------------

1 سورة سبأ الآية 16، 17.
গোত্রসমূহ, তারা বিভিন্ন অঞ্চলের বিষয়াদি পরিচালনা করত; যেখানে প্রত্যেক গোত্রের প্রধান ছিল তার শেখ, এই শর্তে যে সে তার উপর অর্পিত সংগৃহীত অর্থ ইয়ামেনের শাসকের নিকট প্রদান করবে।

ইয়ামেনের সমাজ চারটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল, সেগুলো হলো:

১- সৈন্য শ্রেণি: তাদের অধিকাংশই পারস্য বা রোমক সৈন্যদের নিয়ে গঠিত ছিল।

২- কৃষক শ্রেণি: তারা মূলত কৃষি ও পশুপালনের কাজ করত।

৩- কারিগর শ্রেণি: তারা মানুষের প্রয়োজনীয় বিবিধ শিল্পজাত সামগ্রী তৈরি করত।

৪- বণিক শ্রেণি: তারা শহর ও গোত্রসমূহের এমন দল ছিল যারা প্রচুর ভ্রমণ ও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করত।

ইয়ামেন অঞ্চলে আর্থিক প্রাচুর্য মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, এক সমৃদ্ধ সভ্যতার উত্থান এবং তাদের মধ্যে বিবাদ ও যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিমুখতার পরিবেশ তৈরি করেছিল। এটি তাদের চলাফেরা, সমুদ্রাভিযান এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও সহায়তা করেছিল। তারা সর্বদা আরব এবং পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর বা দক্ষিণের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করত। জাজিরাতুল আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে তাদের ব্যাপক তৎপরতা ছিল। ইসলামের আবির্ভাবের কিছুকাল পূর্বে ইয়ামেনীরা আবরাহা কর্তৃক কাবা ধ্বংসের অপচেষ্টা এবং 'কুলাইস' গির্জা নির্মাণের ঘটনায় গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। তারা অনুভব করেছিল যে এটি তাদের জাতীয় চেতনার পরিপন্থী এবং জাজিরাতুল আরবের সমস্ত আরবের কাবা অভিমুখী হওয়ার বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক; যা মহান আল্লাহর ঘর এবং যা ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম) নির্মাণ করেছিলেন।

তাদের অবাধ্যতা, জুলুম এবং সত্য ও সঠিক পথ থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে মা'রিব বাঁধ ধ্বংসের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর তারা মুখ ফিরিয়ে নিল, ফলে আমি তাদের ওপর পাঠালাম বাঁধভাঙ্গা বন্যা। আর আমি তাদের বাগান দুটিকে পরিবর্তন করে দিলাম এমন দুটি বাগানে যাতে উৎপন্ন হয় বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ এবং সামান্য কিছু কুল গাছ। এটি তাদের কুফরির কারণে আমার দেয়া প্রতিফল। আর আমি অকৃতজ্ঞ ছাড়া কাউকে এ রূপ শাস্তি দিই না} ১। এভাবে তাদের অবস্থার বিপর্যয় ঘটে এবং ইসলামের আগমন পর্যন্ত তারা অস্থিরতা ও কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করে।

--------------------------------------------

১. সূরা সাবা, আয়াত ১৬, ১৭।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وفي شمال الجزيرة العربية؛ حيث قرب قبائلها من الفرس والروم، تأسست مملكتان، هما: مملكة الحيرة في الشرق تابعة للفرس، ويحكمها المناذرة، ومملكة الغساسنة في الغرب تابعة للروم.

وقد اتخذ الفرس والروم هاتين المملكتين حائلا بشريا لكل منهما، يتقي به هجوم الدولة الأخرى.

وقد تشبه ملوك العرب في كل دولة بأسيادهم، وساند كلا منهم جيش كبير مدعوم من الفرس أو من الروم.

وكثيرا ما قامت الحروب بين الغساسنة والمناذرة، وبذلك تحقق للدول الكبرى ما أرادت؛ حيث كان الصدام بين العرب والعرب، ولم يقع صدام بين الفرس والروم بصورة مباشرة.

إلا أن هذا الحال أدى في الوقت نفسه إلى عدم العدوان على داخل الجزيرة العربية؛ حيث لا مطمع لأحد من الفرس أو من الروم فيها؛ لأنها بدت في نظرهم أماكن صحراوية، متباعدة، خالية من الخير والنفع، وتحتاج لجهد كبير من أجل السيطرة عليها.

وأما أقاليم نجد والعروض والحجاز وتهامة، فقد عاشت حياة بدوية، تعتمد على الرحلة والتنقل ما عدا أهل مكة والمدينة والطائف، فقد سكنها أهلها وعاشوا حياتهم بين الحضارة والبداوة، فقد أخذوا الحضارة من الحجاج والزوار والتجار، وتمسكوا ببداوتهم التي ورثوها، وعاشوا نظامهم عليها.

ومن هنا كان لهم شيء من الحضارة، ففي مكة أنشأ "قصي بن كلاب" نظاما سياسيا، فأسس دارا سماها "دار الندوة" وجعل بابها يؤدي إلى الكعبة، وخصصها لاجتماع كل من بلغ أربعين سنة، متمتعا بالحكمة، والفصحاة، وتدبر الأمور من أهل مكة، ولا يستثنى من شرط السن فقط إلا أبناء قصي1.

--------------------------------------------

1 أخبار مكة ج1 ص61.
আরব উপদ্বীপের উত্তরে, যেখানে এর গোত্রগুলো পারসিক এবং রোমানদের সন্নিকটে ছিল, সেখানে দুটি রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো হলো: পূর্বে পারসিকদের অনুগত হিরা রাজ্য, যা মুনাজিরাগণ শাসন করত এবং পশ্চিমে রোমানদের অনুগত গাসসানিদ রাজ্য।

পারসিক ও রোমানরা এই দুই রাজ্যকে একে অপরের বিরুদ্ধে নিজেদের জন্য মানববর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছিল, যার মাধ্যমে তারা অন্য রাষ্ট্রের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করত।

প্রতিটি রাষ্ট্রের আরব রাজারা তাদের প্রভুদের অনুকরণ করত এবং তাদের প্রত্যেককে পারসিক বা রোমানদের দ্বারা সমর্থিত একটি বিশাল সেনাবাহিনী সহায়তা করত।

গাসসানিদ এবং মুনাজিরাদের মধ্যে প্রায়ই যুদ্ধ সংঘটিত হতো, আর এভাবেই শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্য সফল হতো; যেহেতু সংঘর্ষটি ছিল আরব বনাম আরব, আর পারসিক ও রোমানদের মধ্যে সরাসরি কোনো সংঘর্ষ ঘটত না।

তবে এই পরিস্থিতি একই সাথে আরব উপদ্বীপের অভ্যন্তরে কোনো আগ্রাসন না হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; কারণ পারসিক বা রোমানদের সেখানে কোনো লোভ ছিল না; তাদের দৃষ্টিতে এটি ছিল মরুভূমিময়, বিচ্ছিন্ন এবং কল্যাণ ও উপকারবর্জিত স্থান, যার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচুর প্রচেষ্টার প্রয়োজন ছিল।

আর নজদ, আরুজ, হিজাজ এবং তিহামা অঞ্চলের কথা বলতে গেলে, সেখানে মক্কা, মদিনা এবং তায়েফের অধিবাসী ছাড়া বাকিরা যাযাবর জীবন যাপন করত, যা ছিল ভ্রমণ ও স্থানান্তরের ওপর নির্ভরশীল। এখানকার অধিবাসীরা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করত এবং সভ্যতা ও যাযাবর জীবনের মাঝামাঝি এক জীবন যাপন করত। তারা হাজি, দর্শনার্থী এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সভ্যতা গ্রহণ করেছিল, আবার তাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত যাযাবর রীতিনীতি আঁকড়ে ধরেছিল এবং সেই ব্যবস্থার ওপরই জীবন অতিবাহিত করত।

এখান থেকেই তাদের মধ্যে কিছুটা সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। মক্কায় "কুসাই বিন কিলাব" একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তিনি একটি সভাঘর প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম দেন "দারুন নদওয়া" এবং এর প্রবেশদ্বার কাবার দিকে স্থাপন করেন। মক্কাবাসীদের মধ্যে যাদের বয়স চল্লিশ বছর পূর্ণ হয়েছিল এবং যারা প্রজ্ঞা, বাগ্মিতা ও বিষয়াদি পরিচালনায় দক্ষ ছিলেন, তাদের সভার জন্য তিনি এটি নির্দিষ্ট করেন। বয়সের এই শর্ত থেকে কেবল কুসাইয়ের পুত্রদেরই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল ১।

--------------------------------------------

১ আখবার মক্কা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬১।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
حمل قصي قومه على دفع ضربية سنوية تسمى بـ"الرفادة".. ينفق منها على الحجيج، ضيوف الله، فهم أحق الناس بالكرم.

وقد اتفق القرشيون فيما بينهم -منذ عهد قصي- على توزيع مناصب المسئولية العامة، على مختلف القبائل، مع استقلال كل قبيلة بشئونها1.

استمر هذا النظام إلى ظهور الإسلام؛ حيث كانت توزع المناصب على النحو التالي:

1- الحجابة والسدانة: والمقصود بها حراسة مفاتيح الكعبة، وكانت في بيت "عبد الدار".

2- السقاية: وهي الإشراف على بئر زمزم، وكانت في بيت هاشم.

3- الديات: وتسمى الأشناق، وكانت في بيت "تيم".

4- السفارة: وتختص بالبت في الصلح، وكانت في بيت "الخطاب".

5- اللواء: وحامله هو كبير القواد إذا هوجمت مكة، وكان في بني أمية.

6- الرفادة: وهي الإشراف على جمع الأموال، وكانت لـ"عبد المطلب".

7- الندوة: وهي الإشراف على دار الندوة، وكانت لأبناء عبد العزى.

8- الخيمة: وهي حراسة دار الندوة وتولاها بنو مخروم.

9- الخازنة: وهي إدارة أموال الكعبة وكانت لبني كعب.

10- الأزلام: وهي الاستخارة لمعرفة رأي الآلهة في القضايا العامة، وكانت في بني أمية2.

وقد أرضى هذا التقسيم قبائل مكة، فعاشوا في استقرار وتعاون، واستقلت كل قبيلة بشئونها ونشاطها وحركتها.

--------------------------------------------

1 سيرة النبي لابن هشام ج1 ص138.

2 عصر ما قبل الإسلام ص178.
কুসাই তাঁর কওমকে ‘রিফাদাহ’ নামক একটি বার্ষিক কর প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেন। এর মাধ্যমে হাজীদের জন্য ব্যয় করা হতো, যারা আল্লাহর মেহমান; আর তারাই মহানুভবতার সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি।

আর কুসাইয়ের যুগ থেকেই কুরাইশরা নিজেদের মধ্যে সাধারণ দায়িত্বের পদগুলো বিভিন্ন গোত্রের মাঝে বণ্টন করে দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছিল, যার পাশাপাশি প্রতিটি গোত্র তাদের নিজস্ব বিষয়ে স্বাধীন ছিল১।

ইসলামের আবির্ভাব পর্যন্ত এই ব্যবস্থা অব্যাহত ছিল; যেখানে পদগুলো নিম্নোক্তভাবে বণ্টন করা হতো:

১- হিজাবাহ ও সিদানাহ: এর উদ্দেশ্য ছিল কাবার চাবিকাঠি পাহারা দেওয়া এবং এটি ‘আবদু আদ-দার’ পরিবারের দায়িত্বে ছিল।

২- সিকায়াহ: এটি হলো জমজম কূপের তত্ত্বাবধান করা এবং এটি হাশিম পরিবারের দায়িত্বে ছিল।

৩- দিয়াত: একে আশনাক বলা হতো এবং এটি ‘তায়ম’ পরিবারের দায়িত্বে ছিল।

৪- সিফারাহ: এটি সন্ধি স্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল এবং এটি ‘আল-খাত্তাব’ পরিবারের দায়িত্বে ছিল।

৫- লিওয়া: মক্কা আক্রান্ত হলে এর বাহক হতেন প্রধান সেনাপতি এবং এটি বনু উমাইয়্যার দায়িত্বে ছিল।

৬- রিফাদাহ: এটি অর্থ সংগ্রহের তত্ত্বাবধান করা এবং এটি ‘আবদুল মুত্তালিব’-এর দায়িত্বে ছিল।

৭- নাদওয়াহ: এটি দারুন নাদওয়াহর তত্ত্বাবধান করা এবং এটি আবদু আল-উজ্জার সন্তানদের দায়িত্বে ছিল।

৮- খাইমাহ: এটি দারুন নাদওয়াহ পাহারা দেওয়া এবং বনু মাখজুম এটি পরিচালনা করত।

৯- খাজিনাহ: এটি কাবার অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং এটি বনু কা’বের দায়িত্বে ছিল।

১০- আযলাম: এটি ছিল সাধারণ বিষয়গুলোতে উপাস্যদের অভিমত জানার জন্য ভাগ্য নির্ধারণী তীরের মাধ্যমে ইস্তিখারা করা এবং এটি বনু উমাইয়্যার দায়িত্বে ছিল২।

এই বণ্টন পদ্ধতি মক্কার গোত্রগুলোকে সন্তুষ্ট করেছিল, ফলে তারা স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার সাথে বসবাস করত এবং প্রতিটি গোত্র তাদের নিজস্ব বিষয়, কর্মকাণ্ড ও তৎপরতায় স্বাধীন ছিল।

--------------------------------------------

১ ইবনে হিশাম রচিত সিরাতুন্নবী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৮।

২ আসর মা কবল আল-ইসলাম, পৃষ্ঠা ১৭৮।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وظهرت في الجزيرة طبقات اجتماعية متعددة أهمها:

1- الصرحاء: وهؤلاء يتكونون من أبناء القبائل المعروفين بانتسابهم إلى آبائهم الموالين لهم ولقبيلتهم.

2- العبيد والموالي: وهم الأسرى الذين ملكتهم القبائل، أو الرقيق المشترون، أو الموالي الذين لجئوا إلى القبيلة، أو المحرر من العبيد.

3- الصعاليك: وهم الأحرار الذين فروا من قبائلهم، واجتمعوا في الصحارى، وكوَّنوا مجتمعات جديدة معارضة لقبائلهم الأولى، وتعتمد على السلب والنهب1.

وأغلب نشاط العرب قائم على الرعي والتجارة، وبخاصة بعد أن نظم هاشم بن عبد مناف رحلتي الشتاء والصيف، وعقد محالفات عدة، ضمنت الأمن للتجار، كما أخذ الأمن "الإيلاف" من القبائل المنتشرة على الطرق في مختلف أرجاء الجزيرة.

وقد استفاد أهل مكة من الحركة التجارية كثيرا؛ لأن التجارة مدرسة تعلم السياسة، والكياسة، وحسن الجوار، وعمق الفهم، فتعلموا من الحيرة القراءة والكتابة، وأخذوا من الروم السياسة، ونقلوا من الفرس ما للسلطة من سيادة وطاعة.

وفي يثرب كثرت الآبار، والأشجار، واعتدل ريحها عن مكة، سكنها اليهود منذ القرون الأولى بعد الميلاد، ونزل عليهم الأوس والخزرج، وكان لكل من اليهود والأوس والخزرج وضع خاص ونظام معين، فاليهود انطووا على أنفسهم واهتموا بالزراعة والتجارة وتحصين المساكن، خاصة وأنهم رأوا قبيلتي الأوس والخزرج في قتال دائم جعلهما يقدمان شبابهما وأموالهما للحروب الطويلة المستمرة بينهما، وأغلب أيام العرب كانت في يثرب.

--------------------------------------------

1 الشعراء الصعاليك ص103-106 بتصرف.
আরব উপদ্বীপে বিভিন্ন সামাজিক স্তরের উদ্ভব হয়েছিল, যার মধ্যে প্রধান হলো:

১- সুরুহা (শুদ্ধ বংশজাত): এরা সেই সব গোত্রীয় সন্তানদের নিয়ে গঠিত ছিল যারা তাদের পিতা এবং তাদের গোত্রের সাথে সম্পর্কের জন্য পরিচিত এবং তাদের প্রতি অনুগত ছিল।

২- দাস ও মাওয়ালি: এরা ছিল গোত্রগুলোর মালিকানাধীন যুদ্ধবন্দী, অথবা ক্রয়কৃত দাস, অথবা সেই সব মাওয়ালি যারা কোনো গোত্রে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল, অথবা মুক্ত করা দাস।

৩- সাআলিক (ভবঘুরে দস্যু): এরা ছিল সেই সব স্বাধীন ব্যক্তি যারা তাদের গোত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এবং মরুভূমিতে একত্রিত হয়েছিল; তারা তাদের মূল গোত্রগুলোর বিরোধী নতুন নতুন সমাজ গঠন করেছিল এবং তারা লুণ্ঠন ও ডাকাতির ওপর নির্ভরশীল ছিল১।

আরবদের অধিকাংশ কর্মকাণ্ড ছিল পশুপালন ও ব্যবসার ওপর ভিত্তি করে, বিশেষ করে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ যখন শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সফরের ব্যবস্থা করেন এবং বেশ কিছু মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করেন, যা বণিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল; তেমনি তিনি উপদ্বীপের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা গোত্রগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বা 'ঈলাফ' গ্রহণ করেছিলেন।

মক্কাবাসীরা বাণিজ্যিক তৎপরতা থেকে অনেক উপকৃত হয়েছিল; কারণ ব্যবসা হলো এমন একটি পাঠশালা যা রাজনীতি, বিচক্ষণতা, সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টি শিক্ষা দেয়। তারা হীরা থেকে পড়া ও লেখা শিখেছিল, রোমানদের কাছ থেকে রাজনীতি গ্রহণ করেছিল এবং পারস্যদের কাছ থেকে ক্ষমতার সার্বভৌমত্ব ও আনুগত্যের বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রহণ করেছিল।

ইয়াসরিবে প্রচুর কূপ ও বৃক্ষরাজি ছিল এবং এর আবহাওয়া মক্কার তুলনায় নাতিশীতোষ্ণ ছিল। ঈসায়ী সনের প্রথম শতাব্দী থেকেই ইহুদিরা সেখানে বসবাস করত এবং পরে আউস ও খাজরাজ গোত্র সেখানে বসতি স্থাপন করে। ইহুদি, আউস ও খাজরাজ—প্রত্যেকেরই স্বতন্ত্র অবস্থা ও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল। ইহুদিরা নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে থাকত এবং কৃষি, ব্যবসা ও ঘরবাড়ি সুরক্ষিত করার প্রতি মনোযোগ দিত; বিশেষ করে তারা যখন দেখেছিল যে আউস ও খাজরাজ গোত্র দুটি স্থায়ী দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছে, যা তাদের যুবকদের জীবন এবং সম্পদকে তাদের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধের ইন্ধন হিসেবে উৎসর্গ করতে বাধ্য করছে। আরবদের অধিকাংশ যুদ্ধ-বিগ্রহের দিনগুলো ইয়াসরিবেই সংঘটিত হয়েছিল।

--------------------------------------------

১ আশ-শুআরা আস-সাআলিক, পৃ. ১০৩-১০৬ (পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাক্কী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وقد أدت هذه الحروب إلى اضطراب الحياة في المدينة، فاقتصادهم مهلهل، وأفراد القبائل كلهم محاربون، ورؤساء القبائل لا يعدون إلا للحرب، وطالت الأيام بين الأوس والخزرج مما جعلهم ينتظرون الخلاص من هذا التنافس، وقد حاولوا أن يتوجوا "عبد الله بن أبي الخزرجي" ملِكا عليهم يخضع له الجميع، لكنهم فوجئوا بالبعثة المحمدية في مكة فوجهوا أملهم إليها.

وأما الطائف فإنها تتمتع بخصوبة التربة، وجودة المناخ، وحسن الثمر1، وجمال الموقع؛ حيث يمر بها الطريق التجاري القادم من الجنوب، وترتبط بمكة وبالمدينة بأكثر من طريق، وقد نشأت بها صناعات عديدة وإن كانت بدائية، كل هذا جعل أبناء الطائف يتمتعون بما فيها، فعاشوا في رغد ورفاهية، مع تمسكهم ببداوتهم فكانوا يرعون الإبل والغنم ويهتمون بالزراعة، وكانت القبيلة هي النظام السائد فيها؛ حيث يدير شئونها رؤساء القبائل بالتشاور فيما بينهم، وقد قام بالطائف نظام يشبه المزارعة في العصر الحديث؛ إذ تنازل "بنو عامر" وهم البدو المجاورون للطائف عن أرضهم، وسلموها لمن يعمرها ويحييها بالغرس والزراعة، على أن تنقسم الثمار بينهم نصفين2، وقد اكتسبت الطائف شهرة عظيمة عند ظهور الإسلام.

وأما سكان المناطق الصحراوية في وسط الجزيرة، فهم مجموعة من القبائل الرُّحَل يتولى شئونهم مشايخهم بلا دولة أو جند أو حصون3.

وعاشت هذه المناطق الجدب والحر وقلة المطر، وكان أهلها دائما في تنقل وراء رعيهم ومعايشهم4.

وعاش أهل هذه البوادي حياة فقيرة؛ لبعدهم عن رحلات التجارة، وخلو

--------------------------------------------

1 مراصد الاطلاع ص265.

2 معجم ما استعجم، البكري ج1 ص65، 66.

3 العرب قبل الإسلام ص240.

4 الشعراء الصعاليك ص62.
এই যুদ্ধসমূহ মদিনার জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল, ফলে তাদের অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর, গোত্রের সকল সদস্যই ছিল যোদ্ধা এবং গোত্রপ্রধানগণ যুদ্ধ ব্যতীত অন্য কিছুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন না। আউস ও খাজরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যকার দ্বন্দ্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল, যা তাদেরকে এই পারস্পরিক প্রতিযোগিতা থেকে মুক্তির অপেক্ষায় রেখেছিল। তারা 'আবদুল্লাহ ইবন উবাই আল-খাজরাজি'-কে তাদের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করতে চেয়েছিল যার অধীনে সবাই অনুগত থাকবে, কিন্তু মক্কায় মুহাম্মদী নবুওয়াতের আগমনে তারা বিস্মিত হলো এবং তাদের সকল আশা সেদিকে নিবদ্ধ করল।

আর তায়েফ ছিল ভূমির উর্বরতা, চমৎকার জলবায়ু, উৎকৃষ্ট ফলমূল এবং মনোরম অবস্থানের অধিকারী; কারণ দক্ষিণ দিক থেকে আসা বাণিজ্য পথ এর মধ্য দিয়েই অতিক্রম করত এবং এটি মক্কা ও মদিনার সাথে একাধিক পথে সংযুক্ত ছিল। সেখানে বেশ কিছু শিল্প গড়ে উঠেছিল, যদিও সেগুলো ছিল প্রাথমিক স্তরের। এই সবকিছু তায়েফবাসীদের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছিল, ফলে তারা সচ্ছলতা ও বিলাসিতার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করত। তবে তারা তাদের মরুজ ঐতিহ্যও ধরে রেখেছিল, ফলে তারা উট ও বকরি চরাত এবং কৃষিকাজে মনোনিবেশ করত। সেখানে গোত্রীয় প্রথাই ছিল প্রচলিত ব্যবস্থা; যেখানে গোত্রপ্রধানগণ পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে সকল বিষয় পরিচালনা করতেন। তায়েফে আধুনিক যুগের বর্গা চাষের (মুজারাআহ) ন্যায় একটি ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল; যেখানে তায়েফের নিকটবর্তী যাযাবর 'বনু আমির' সম্প্রদায় তাদের ভূমি ছেড়ে দিয়েছিল এবং যারা বৃক্ষরোপণ ও চাষাবাদের মাধ্যমে তা আবাদ করত তাদের হাতে অর্পণ করেছিল, এই শর্তে যে উৎপাদিত ফসল তাদের মধ্যে সমান দুই ভাগে বিভক্ত হবে। ইসলাম আবির্ভাবের সময় তায়েফ ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিল।

আর আরব উপদ্বীপের মধ্যাঞ্চলের মরুভূমি এলাকার অধিবাসীগণ ছিল যাযাবর গোত্রসমূহের সমষ্টি, কোনো রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী বা দুর্গ ছাড়াই তাদের শায়খগণ তাদের বিষয়াদি পরিচালনা করতেন।

এই অঞ্চলগুলো অনাবৃষ্টি, প্রচণ্ড তাপ ও স্বল্প বৃষ্টির সম্মুখীন ছিল এবং এখানকার অধিবাসীরা তাদের গবাদিপশু ও জীবিকার অন্বেষণে সর্বদা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত।

এই মরুচারীগণ এক দরিদ্র জীবন যাপন করত; বাণিজ্যিক কাফেলা থেকে তাদের দূরত্ব এবং শূন্যতা...

--------------------------------------------

১ মারাসিদুল ইত্তিলা, পৃষ্ঠা ২৬৫।

২ মু'জাম মা ইস্তাজাম, আল-বাকরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৫, ৬৬।

৩ আল-আরব কাবলাল ইসলাম, পৃষ্ঠা ২৪০।

৪ আশ-শুআরা আস-সাআলিক, পৃষ্ঠা ৬২।