(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: -)
المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر ت الحوفي   (ابن الأثير، ضياء الدين أبو الفتح)

القسم: البلاغة


الكتاب: المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر

المؤلف: ضياء الدين بن الأثير، نصر الله بن محمد (ت 637 هـ)

تحقيق: أحمد الحوفي - بدوي طبانة

الناشر: دار نهضة مصر للطباعة والنشر والتوزيع، الفجالة ـ القاهرة

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মাথালুস সাইর ফি আদাবিল কাতিব ওয়াস শায়ির, তাহকীক: আল-হাউফী   (ইবনুল আসীর, জিয়াউদ্দীন আবুল ফাতহ)

বিভাগ: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)


গ্রন্থ: আল-মাথালুস সাইর ফি আদাবিল কাতিব ওয়াস শায়ির

লেখক: জিয়াউদ্দীন ইবনুল আসীর, নাসরুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ (মৃত্যু ৬৩৭ হিজরী)

তাহকীক: আহমাদ আল-হাউফী - বাদাবী তাবানা

প্রকাশক: দারু নাহদাত মিসর লিত-তিবাআ ওয়ান-নাশর ওয়াত-তাওজি, আল-ফাজ্জালা — কায়রো

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المجلد الأول

‌‌المقدمات

‌‌تصدير

…

المقدمات:

بسم الله الرحمن الرحيم

تصدير:

هذا كتاب "المثل السائر" الذي ألفه ضياء الدين بن الأثير في أدب الكاتب والشاعر، نقدمه اليوم إلى الباحثين عن الفكرة العربية في مظانتها التي يعد "المثل السائر" في طليعة تلك المظان الأصيلة، بما حوى من الآراء والفكر التي تدور حول فنّ الأدب، والتي تتعمَّق إلى أصوله في عصر ابن الأثير، وفي العصور التي سبقته، وهي التي زخرت بكثير من أصول تلك الصناعة التي اهتدى إليها العلماء وكبار الأدباء والنقاد الذين يعرفهم تاريخ الأدب والنقد عند هذه الأمة العربية التي تعمل اليوم في جد ودأب لبناء قوميتها، وتبحث في إصرار عن المقومات الأصيلة لهذه القومية في السياسة والعلم والتفكير والأخلاق والفنون، لتبعثها من جديد مجارية ركب التقدم، ولتعيد إليها سالف مجدها في بناء الحضارة الإنسانية.

وعلى الرغم مما يمتاز به هذا الكتاب من الآراء المستنيرة التي أثرت عن أعلام التفكير الفني، والتي يعد هذا الكتاب سجلًا حافلًا لها، فإن فيه من معالم الأصالة وآثار الشخصية التي تميز صاحبها من غيره من الباحثين شيئًا كثيرًا.

وقد كان لنا من إخراج هذا الأثر وإعادة نشره غايات ثلاث:

أولاها: تقديم نسخة صحيحة من هذا الكتاب يستطيع الباحثون والدارسون الاعتماد عليها، بعد أن عزَّ على كثير من الطالبين اقتناء نسخة منه، بسبب تقادم العهد بينهم وبين عهود نشره، ونفاد هذا السفر الجليل من المكتبات العربية، مع الإحساس بالحاجة إليها، ليقوم بدوره بجانب ما بعث من آثار التراث العربي في الناحية التي يتصدى لها هذا الكتاب.

والثانية: إحياء ناحية لها أهميتها من نواحي التفكير الفنيّ عند العرب في هذا العهد الذي يمتاز ببعث نفائس التراث العربي، وإحياء مصادر الثقافة العربية ونشرها، تمهيدًا لدرسها، واستخراج كل صالح مفيد من الأفكار التي اشتملت عليها.
‌‌প্রথম খণ্ড

‌‌ভূমিকা

‌‌প্রস্তাবনা

…

ভূমিকাঃ

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

প্রস্তাবনাঃ

এটি যিয়াউদ্দীন ইবনুল আসির রচিত "আল-মাছালুস সাইর" নামক গ্রন্থ, যা লেখক ও কবির সাহিত্যশিল্প (আদব) বিষয়ে রচিত। আজ আমরা একে সেইসব আরব্য চিন্তাধারার অনুসন্ধানীদের নিকট পেশ করছি, যাদের কাছে "আল-মাছালুস সাইর" একটি মৌলিক ও প্রাচীন উৎস হিসেবে অগ্রগণ্য। এতে রয়েছে সাহিত্যশিল্প বিষয়ক নানাবিধ মতামত ও চিন্তাধারা, যা ইবনুল আসিরের যুগে এবং তাঁর পূর্ববর্তী যুগে সাহিত্যের মূলনীতির গভীর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি সেই শিল্পের অনেক মূলনীতিতে সমৃদ্ধ যা আলেমগণ, বিশিষ্ট সাহিত্যিকগণ এবং সমালোচকগণ উদ্ভাবন করেছেন; যাঁদেরকে এই আরব জাতির সাহিত্য ও সমালোচনার ইতিহাস চেনে। এই জাতি আজ তাদের জাতীয়তা বিনির্মাণে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং রাজনীতি, বিজ্ঞান, চিন্তা, নৈতিকতা ও শিল্পকলায় এই জাতীয়তার মৌলিক ভিত্তিগুলো অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে অনুসন্ধান করছে, যাতে একে আধুনিক অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে পুনর্জাগরিত করা যায় এবং মানব সভ্যতা বিনির্মাণে এর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা যায়।

শৈল্পিক চিন্তাধারার দিকপালদের থেকে বর্ণিত যে সকল জ্ঞানগর্ভ মতামতের কারণে এই গ্রন্থটি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং যার কারণে এই গ্রন্থটি একটি সমৃদ্ধ সংকলন হিসেবে বিবেচিত, তা সত্ত্বেও এতে মৌলিকত্বের এমন অনেক নিদর্শন ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের ছাপ বিদ্যমান যা লেখককে অন্যান্য গবেষকদের থেকে পৃথক করে।

এই কীর্তিটি সম্পাদনা এবং পুনরায় প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের তিনটি লক্ষ্য রয়েছে:

প্রথমত: এই গ্রন্থের একটি বিশুদ্ধ সংস্করণ পেশ করা যার ওপর গবেষক ও শিক্ষার্থীগণ নির্ভর করতে পারেন। দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার কারণে এবং আরব্য লাইব্রেরিগুলো থেকে এই মহান গ্রন্থটি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক জ্ঞানপিপাসুর পক্ষে এর একটি কপি সংগ্রহ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। এর প্রয়োজনীয়তা অনুভবের সাথে সাথে একে আরব্য ঐতিহ্যের অন্যান্য নিদর্শনের পাশাপাশি স্বীয় ভূমিকা পালনের সুযোগ করে দেওয়া, যে বিশেষ দিকটি এই গ্রন্থ ধারণ করে আছে।

দ্বিতীয়ত: আরবদের শৈল্পিক চিন্তাধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে পুনরুজ্জীবিত করা, বিশেষ করে এই বর্তমান সময়ে যা আরব্য ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ উদ্ধার এবং আরব্য সংস্কৃতির উৎসসমূহকে পুনর্জীবিত ও প্রচার করার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; যাতে এগুলো অধ্যয়ন করা এবং এতে নিহিত সকল কল্যাণকর ও উপকারী চিন্তাধারা আহরণ করার পথ প্রশস্ত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ৪)
والثالثة: وصل تلك الآراء التي اشتمل عليها المثل السائر بغيرها من الآراء التي توافقها أو تخالفها. والغاية من ذلك الوقوف على أصالة مباحث هذا الكتاب ومداها فيما عرضت له من الدراسات، وكذلك معرفة حظ ابن الأثير من تلك الأصالة.

وهذه الغاية الأخيرة وحدها جديرة بأن يفرد لها بحث، بل بحوث مستقلة، ولذلك اكتفينا بالإشارة في هامش هذه الطبعة إلى الآراء التي توارد عليها ابن الأثير وغيره من الذين بحثوا في مثل ما بحث، والآراء التي نقلها عن غيره ناسبًا إياها إلى صاحبها الأصلي، أو التي ادعاها لنفسه، مما وجدنا ثمرة الإفادة منه واضحة، وأثر الاقتفاء بارزًا. ولم يخرج ذلك عن طبيعة ما وضع الهامش من أجله، بما لا يخرج عن حد الإشارة أو اللمحة الدالة.

أما ضروب الأصالة، ومنابع العقلية التي استقى منها هذا الكتاب، فإنا ذاكروها في هذه المقدمة، بما لا يخرج أيضًا عن طبيعة المقدمات.

وإذا كان لكل مؤلف في فن من فنون التأليف لون خاصٌّ من ألوان المعرفة يمتاز به عما سواه، وناحية يظهر تفوقه فيها، ويظهر تقصيره في غيرها، فإن ابن الأثير قد حلَّق في آفاق كثيرة من آفاق المعرفة، تجد صداها واضحًا في هذا السفر النفيس.

فأنت ترى فيه الكثير من الإشارات التاريخية التي لا يعرفها إلا الواقفون على أحداث الزمان، والعارفون بتقلباته وسير أبطاله وأعلامه.

وتقرأ فيه آثار معرفة واسعة بعلوم العربية لا يعرفها إلا المختصون بدراسة أصولها، والمتبحرون في فقه لغتها، والعاكفون على معرفة نحوها وصرفها، وأساليب التعبير بها.

وتطالع في المثل السائر آثار معرفة بكتاب الله، وحفظ لآياته، وقدرة عجيبة على استحضارها، والتمثل بها في كل موضع يريد أن يتمثل فيه بما يوافق آراءه في وسائل الإجادة، وأسباب الإتقان. وتجد فيه كثيرًا من أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وفقه سنته، والوقوف على سيرته وأخبار صحابته.

كل ذلك إلى جانب ما وشيت به صفحات المثل السائر من حكم العرب وأمثالها، ومن مأثور منظومها، وجيد منثورها، مما يروقك الاطلاع عليه، ويأخذ بلبك ما ترى من القدرة على استحضارها، وإجادة التمثل به.

بهذه الألوان الكثيرة من المعرفة، وبهذه الثقافات المتنوعة كمَّل ابن الأثير لنفسه، حتى يحسن إعداد نفسه لما عرض له من علاج الأدب الذي كانوا يعرفون أنه الأخذ من كل فن بطرف.
তৃতীয়ত: আল-মাসালুস সাইর গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত সেই মতামতগুলোকে অন্যান্য মতামতের সাথে সংযুক্ত করা যা সেগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অথবা বিপরীত। এর লক্ষ্য হলো এই গ্রন্থের আলোচনার মৌলিকত্ব এবং এর বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট গবেষণাসমূহের ব্যাপ্তি সম্পর্কে অবগত হওয়া, সেইসাথে এই মৌলিকত্বে ইবনুল আসীরের অবদানের পরিমাণ নির্ণয় করা।

এই শেষোক্ত লক্ষ্যটি একাই একটি স্বতন্ত্র গবেষণার দাবি রাখে, বরং একাধিক স্বতন্ত্র গবেষণার। তাই আমরা এই সংস্করণের টীকায় কেবল সেই মতামতগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হয়েছি যেগুলোতে ইবনুল আসীর এবং তাঁর মতো অন্যান্য গবেষকগণ একমত হয়েছেন, এবং যেসব মতামত তিনি অন্যদের থেকে উদ্ধৃত করে মূল প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধ করেছেন, অথবা যা তিনি নিজের বলে দাবি করেছেন—যেখানে আমরা স্পষ্ট উপকারিতা এবং অনুসরণের সুস্পষ্ট প্রভাব খুঁজে পেয়েছি। আর এটি টীকা রচনার মূল উদ্দেশ্যের বাইরে যায়নি, বরং তা কেবল ইঙ্গিত বা নির্দেশক সংকেতের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

আর মৌলিকত্বের বিভিন্ন দিক এবং চিন্তাধারার উৎসসমূহ যেখান থেকে এই গ্রন্থটি রসদ সংগ্রহ করেছে, তা আমরা এই ভূমিকায় বর্ণনা করছি, যা ভূমিকার প্রচলিত রীতির পরিপন্থী হবে না।

রচনার প্রতিটি শিল্পে যদি প্রত্যেক লেখকের জ্ঞানের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে এবং এমন একটি দিক থাকে যাতে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় ও অন্য দিকে তার অপূর্ণতা ফুটে ওঠে, তবে ইবনুল আসীর জ্ঞানের এমন অনেক দিগন্তে বিচরণ করেছেন যার প্রতিধ্বনি এই মূল্যবান গ্রন্থে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।

আপনি এতে অনেক ঐতিহাসিক ইঙ্গিত দেখতে পাবেন যা কেবল তারাই জানেন যারা কালের ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত এবং এর উত্থান-পতন এবং বীর ও মনীষীদের জীবনচরিত সম্পর্কে অভিজ্ঞ।

এতে আপনি আরবী ভাষাবিজ্ঞানের এক বিশাল জ্ঞানের ছাপ দেখতে পাবেন যা কেবল আরবী ভাষার মূলনীতি গবেষক বিশেষজ্ঞগণ, এর ভাষাতত্ত্বে পারদর্শীগণ এবং এর নাহু, সরফ ও প্রকাশভঙ্গি সম্পর্কে নিবিষ্টচিত্ত পণ্ডিতগণই সম্যক উপলব্ধি করতে পারেন।

আপনি আল-মাসালুস সাইর গ্রন্থে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অগাধ পাণ্ডিত্য, তাঁর আয়াতসমূহের হিফয এবং সেগুলো যথাযথ স্থানে উপস্থাপনের এক অদ্ভুত সক্ষমতা দেখতে পাবেন; যেখানেই তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও নৈপুণ্যের উপায়সমূহ সম্পর্কে নিজের মতামতের সপক্ষে প্রমাণ দিতে চেয়েছেন সেখানেই তা ব্যবহার করেছেন। এছাড়া আপনি এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহু হাদীস, সুন্নাহর প্রজ্ঞা এবং তাঁর সীরাত ও সাহাবায়ে কিরামের খবরাখবর সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা পাবেন।

এই সবকিছুর পাশাপাশি আল-মাসালুস সাইর-এর প্রতিটি পাতা আরবদের প্রজ্ঞা ও প্রবাদসমূহ এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী কাব্য ও উৎকৃষ্ট গদ্যের অলঙ্কারে সজ্জিত, যা পাঠ করা আপনাকে মুগ্ধ করবে এবং লেখক যেভাবে নিপুণভাবে সেগুলো উপস্থাপন করেছেন তা আপনার হৃদয় জয় করে নেবে।

জ্ঞানের এই বহুবিধ ধারা এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মাধ্যমেই ইবনুল আসীর নিজেকে পূর্ণতা দান করেছেন, যাতে সাহিত্যের যে ক্ষেত্রটি তিনি বেছে নিয়েছেন তার জন্য নিজেকে সুন্দরভাবে প্রস্তুত করতে পারেন; যে সাহিত্য সম্পর্কে তৎকালীন মনীষীদের ধারণা ছিল যে এটি হলো প্রতিটি শাস্ত্র থেকে জ্ঞান আহরণ করা।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ৫)
ولقد كان ابن الأثير أديبًا من كبار أدباء العرب، وكاتبًا من كتابهم المعدودين، والكاتب -كما يرى ابن الأثير- ينبغي أن يتعلق بكل علم، وفي رأيه أن كل ذي علم يسوغ له أن ينسب نفسه إليه، فيقال: فلان النحوي، وفلان الفقيه، وفلان المتكلم. ولا يسوغ له أن ينسب إلى الكتابة، فيقال: فلان الكاتب، وذلك لما يفتقر إليه الكاتب من الحوض في كل فن.

وبمثل هذه النظرة إلى الأديب الكاتب وما ينبغي له، نظر ابن الأثير إلى البلاغي أو صاحب البيان، وذهب إلى أنه لا ينبغي له أن يقدِّم على هذا العلم إلّا إذا اكتملت لديه ألوان ثمانية من المعارف، وهي:

1- معرفة علم العربية من النحو والتصريف.

2- معرفة ما يحتاج إليه من اللغو، وهو المتداول المألوف استعماله في فصيح الكلام غير الوحشي الغريب، ولا المستكره المعيب.

3- معرفة أمثال العرب وأيامهم، ومعرفة الوقائع التي جاءت في حوادث خاصة بأقوام، فإن ذلك جرى مجرى الأمثال أيضًا.

4- الاطلاع على كلام المتقدمين من المنظوم والمنثور. فإن في ذلك فوائد جمة؛ لأنه يعلم منه أغراض الناس ونتائج أفكارهم، ويعرف به مقاصد كل فريق منهم، وإلى أين ترامت به صنعته في ذلك، فإن هذه الأشياء مما تشحذ القريحة، وتذكي الفطنة، وإذا كان صاحب الصناعة عارفًا بها تصير المعاني التي ذكرت، وتعب في استخراجها، كالشيء الملقى بين يديه يأخذ منه ما أراد، ويترك ما أراد، وإذا كان مطلعًا على المعاني المسبوق إليها فإنه قد يتهيأ له من بينها معنًى غريب لم يسبق إليه.

5- معرفة الأحكام السلطانية من الإمامة والإمارة والقضاء والحسبة وغير ذلك، لما يحتاج إليه الكاتب عارفًا بالحكم في الحوادث واختلاف أقوال العلماء فيها، وما هو رخصة في ذلك، وما ليس برخصة، فإنه لا يستطيع أن يكتب كتابًا ينتفع به.

6- حفظ القرآن الكريم، فإن صاحب هذه الصناعة ينبغي له أن يكون عارفًا به؛ لأن فيه فوائد كثيرة؛ منها أن يضمِّن كلامه بالآيات في أمكانها اللائقة بها، واستعمالها في مواضعها المناسبة لها، ولا شبهة فيما يصير للكلام بذلك من الفخامة والجزالة والرونق
ইবনুল আসীর ছিলেন আরবদের বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের একজন এবং তাদের অন্যতম খ্যাতিমান লেখক। লেখকের সম্পর্কে ইবনুল আসীরের অভিমত হলো, তার প্রতিটি জ্ঞানশাখার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা উচিত। তার মতে, প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির জন্য জায়েজ আছে নিজেকে সেই বিষয়ের দিকে সম্বন্ধ করা; যেমন বলা হয়: অমুক ব্যাকরণবিদ, অমুক ফকীহ, অমুক মুতাকাল্লিম। তবে নিজেকে লেখক হিসেবে সম্বন্ধ করা তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত সংগত নয় যতক্ষণ না সে লেখক হিসেবে পরিচিত হয়। কারণ, একজন লেখককে প্রতিটি শাস্ত্রের গভীরে অবগাহন করতে হয়।

সাহিত্যিক-লেখকের প্রতি এবং তার যা হওয়া উচিত সে বিষয়ে এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ইবনুল আসীর অলঙ্কারবিদ বা বয়ানশাস্ত্রবিদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন। তিনি মনে করেন, কোনো ব্যক্তির এই বিদ্যায় পদার্পণ করা উচিত নয় যতক্ষণ না সে আট ধরনের জ্ঞান পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জন করে। সেগুলো হলো:

১- নাহু ও সরফ সহ আরবি ভাষা সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা।

২- প্রয়োজনীয় শব্দাবলি সম্পর্কে জ্ঞান। এটি হলো প্রাঞ্জল ভাষায় বহুল ব্যবহৃত ও পরিচিত শব্দাবলি, যা অসংলগ্ন, অদ্ভুত কিংবা শ্রুতিকটু ও ত্রুটিপূর্ণ নয়।

৩- আরবদের প্রবাদ-প্রবচন ও তাদের ঐতিহাসিক যুদ্ধসমূহ এবং নির্দিষ্ট গোত্রসমূহের বিশেষ ঘটনাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; কারণ এগুলোও প্রবাদের মর্যাদা লাভ করেছে।

৪- পূর্বসূরিদের পদ্য ও গদ্য সাহিত্যের ওপর সম্যক ধারণা রাখা। এতে অঢেল উপকারিতা রয়েছে; কারণ এর মাধ্যমে মানুষের উদ্দেশ্য এবং তাদের চিন্তাধারার ফলাফল সম্পর্কে জানা যায়। প্রতিটি দলের লক্ষ্য এবং তাদের এই শিল্প নিপুণতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে তা বুঝা যায়। এই বিষয়গুলো মেধা ও প্রজ্ঞাকে শাণিত করে। যদি এই শিল্পের অধিকারী ব্যক্তি এ সম্পর্কে অবগত থাকেন, তবে পূর্বালোচিত ও কষ্টার্জিত অর্থগুলো তার সামনে এমনভাবে উপস্থিত হবে যেন কোনো কিছু তার সামনে রাখা হয়েছে; সে যা ইচ্ছা গ্রহণ করবে এবং যা ইচ্ছা বর্জন করবে। যখন সে পূর্ববর্তী অর্থগুলো সম্পর্কে অবগত হবে, তখন তার পক্ষে এমন কোনো অনন্য অর্থ উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে যা আগে কেউ করেনি।

৫- ইমামত, ইমারত, বিচারকার্য ও হিসবাহসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। কারণ লেখককে বিভিন্ন ঘটনার বিধান এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ সম্পর্কে অবগত হতে হয়। এছাড়া কোনটি বৈধ এবং কোনটি বৈধ নয় তা-ও জানতে হয়। অন্যথায় সে এমন কোনো কিতাব লিখতে পারবে না যা থেকে মানুষ উপকৃত হবে।

৬- পবিত্র কুরআন হিফজ করা। কারণ এই শিল্পের অধিকারীর জন্য এটি জানা আবশ্যক। এতে অনেক উপকারিতা রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো—নিজের বক্তব্যের উপযুক্ত স্থানে কুরআনের আয়াত সন্নিবেশিত করা এবং সেগুলোকে যথাযথ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা। এর মাধ্যমে বক্তব্যে যে গাম্ভীর্য, মাধুর্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ৬)
وإذا عرف مواقع البلاغة وأسرار الفصاحة المودعة في تأليف القرآن اتخذه بحرًا يستخرج منه الدرر والجواهر، ويودعها مطاوي كلامه.

7- حفظ الأخبار النبوية، مما يحتاج إلى استعماله، فإن الأمر في ذلك يجري مجرى القرآن الكريم.

8- ما يختص بالناظم دون الناثر، وذلك معرفة العروض، وما يجوز فيه من الزحاف، وما لا يجوز، فإن الشاعر محتاج إليه، وإن كان النظم مبنيًّا على الذوق، ولكن الذوق قد ينبو عن الزحافات. ويكون ذلك جائزًا في العروض، وقد ورد للعرب مثله، فإذا كان الشاعر غير عالم به، لم يفرق بين ما يجوز من ذلك وما لا يجوز.

وكذلك يحتاج الشاعر أيضًا إلى معرفة علم القوافي، ليعلم الروي والردف، وما يصح من ذلك وما لا يصح.

وقد اشترط ابن الأثير قبل تحصل تلك المعارف جميعها أن يكون الله تعالى قد ركَّب في الأديب طبعًا قابلًا لهذا الفن، ورأى أن صاحب هذه الصناعة يحتاج إلى التشبث بكل فنٍّ من الفنون، حتى إنه يحتاج إلى معرفة ما تقوله النادبة بين النساء، والماشطة عند جلوة العروس، وإلى ما يقوله المنادي على السلعة في السوق، والسبب في ذلك أنه مؤهَّل لأن يهيم في كل واد، فيحتاج أن يتعلق بكل فن؛ لأن الحكمة ضالة المؤمن، وقد يستفيدها أهلها من غير أهلها.

وهكذا يغالي ابن الأثير في ثقافة الأديب، ويرى أنها لا حصر لمواردها، ويذهب إلى أن البيان كالجمال، لا نهاية لكل منهما.

ولقد كان ضياء الدين على حظٍّ عظيم من تلك الثقافات، كما يشهد لذلك هذا الكتاب، وما أودع من فنونها الكثيرة التي حصلها بجده، والطبع الأصيل الذي منحه الله إياه، وكل ركن من الأركان التي ذكرها، وكل آلة من الآلات التي أوجب أن تكون طوع يمين الكاتب، فقد عني نفسه في البحث عنها في مظانِّها.

والواقع أن أكثر ما ذكر ضياء الدين من أصول فن الأدب، وما يسمو به وما ينحط
যখনি কেউ কুরআনের রচনারীতিতে নিহিত অলঙ্কারশাস্ত্রের স্থানসমূহ এবং বাগ্মিতার রহস্যগুলো জানতে পারে, তখন সে একে এমন এক সমুদ্র হিসেবে গ্রহণ করে যেখান থেকে সে মুক্তা ও মণি-মাণিক্য আহরণ করে এবং সেগুলো তার নিজ বক্তব্যের ভাঁজে ভাঁজে গচ্ছিত রাখে।

৭- প্রয়োজনীয় নববী সংবাদসমূহ (হাদিস) মুখস্থ করা, কারণ এই বিষয়টি পবিত্র কুরআনের মতোই গুরুত্ববহ।

৮- যা গদ্যকারের চেয়ে পদ্যকারের সাথে নির্দিষ্ট, আর তা হলো ছন্দবিজ্ঞান (আরুজ) এবং এতে কোন ধরনের পরিবর্তন (জিহাফ) অনুমোদিত আর কোনটি নয় সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। কেননা কবি এর মুখাপেক্ষী, যদিও কাব্যরচনার ভিত্তি রুচির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তবুও অনেক সময় রুচি ছন্দের বিচ্যুতি (জিহাফ) গ্রহণে অনাগ্রহী হতে পারে। অথচ ছন্দবিজ্ঞানে তা অনুমোদিত হতে পারে এবং আরবদের কাব্যেও এর অনুরূপ দৃষ্টান্ত রয়েছে। অতএব, কবি যদি এ সম্পর্কে জ্ঞানী না হন, তবে তিনি কোনটি অনুমোদিত আর কোনটি নয় তার মধ্যে পার্থক্য করতে পারবেন না।

তেমনিভাবে কবির অন্ত্যমিলের বিজ্ঞান (কাওয়াফি) সম্পর্কেও জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে তিনি ‘রাবি’, ‘রাদিফ’ এবং এর মধ্যে কোনটি সঠিক আর কোনটি সঠিক নয় তা জানতে পারেন।

ইবনুল আসীর এই সকল জ্ঞান অর্জনের পূর্বে শর্তারোপ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা যেন সাহিত্যিকের মাঝে এই শিল্পের উপযোগী একটি সহজাত প্রবণতা সৃষ্টি করে দেন। তিনি মনে করেন যে, এই শিল্পের অধিকারীকে শিল্পের প্রতিটি শাখার সাথে যুক্ত হতে হয়, এমনকি নারীদের মাঝে বিলাপকারিণী যা বলে, কনে সাজানোর সময় রূপসজ্জাকারিণী যা বলে এবং বাজারে পণ্য বিক্রির সময় ঘোষক যা বলে, তা জানারও তার প্রয়োজন পড়ে। এর কারণ হলো, সে প্রতিটি উপত্যকায় বিচরণ করার যোগ্য, তাই তাকে প্রতিটি বিষয়ের সাথে সম্পর্ক রাখতে হয়; কেননা প্রজ্ঞা হলো মুমিনের হারানো সম্পদ, যা অনেক সময় এর যোগ্য ব্যক্তি অযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকেও লাভ করতে পারে।

এভাবেই ইবনুল আসীর সাহিত্যিকের পাণ্ডিত্যের পরিধি নিয়ে উচ্চ ধারণা পোষণ করেছেন এবং মনে করেন যে এর উৎসের কোনো সীমা নেই। তিনি মনে করেন যে, অলঙ্কারশাস্ত্র সৌন্দর্যের মতোই, যার কোনোটিরই কোনো শেষ নেই।

নিশ্চয়ই জিয়াউদ্দিন এই সংস্কৃতি ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে এক বিশাল অংশ লাভ করেছিলেন, যার সাক্ষ্য এই কিতাবটি দিচ্ছে। এতে তিনি অনেক প্রকার শিল্পকলা সন্নিবেশিত করেছেন যা তিনি তার কঠোর পরিশ্রম এবং আল্লাহ প্রদত্ত সেই মৌলিক সহজাত মেধার মাধ্যমে অর্জন করেছেন। তিনি যেসব স্তম্ভের কথা উল্লেখ করেছেন এবং যেসব উপকরণ একজন লেখকের করায়ত্ত থাকা আবশ্যক বলে মনে করেছেন, তার প্রতিটি তিনি তার প্রকৃত উৎস থেকে অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

বাস্তবতা হলো, জিয়াউদ্দিন সাহিত্য শিল্পের যেসব মূলনীতি এবং যা দ্বারা এর মান উচ্চমার্গীয় বা নিম্নগামী হয় সে সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ৭)
لم يكن من أثر النظر وضروب التخيُّل لمثل الفن الأدبي، كما كان ذلك شأن أكثر الآراء التي أثرت عن الذين قننوا لهذا الفن، ووضعوا قواعده، وقد كان جهد أكثرهم أهمية، وأجدرهم بالاعتبار، الموازنة بين الأعمال الأدبية، واستخلاص مظاهر القوة والجمال التي تمتاز بها بعض تلك الأعمال على بعض، وكان أكثر تلك الأعمال من صنع غيرهم، على حين أن ابن الأثير كانت صفته الأساسية البارزة اشتغاله بالأدب، واحترافه فنّ الكتابة الذي عد علمًا من أعلامه، وارتقى به هذا الفن حتى وصل به إلى مرتبة الوزارة، وتصريف شئون المملكة، بصرف النظر عن مدى توفيقه في ذلك المنصب الخطير، وسوء تدبيره للأمور، مما كانت عاقبته نكالًا عليه وعلى من ولاه.

لذلك كانت آراؤه في الأدب والنقد صادرة عن الفن الذي أعدَّ نفسه له، وعن التجربة التي عاش فيها حياته. ولذلك قرأ ضياء الدين آثار الكُتَّاب الذين ذاع صيتهم وحلَّق نجمهم في سماء صناعة الكتابة، ليقف على مناهجهم فيها، وينقد منها ما لا يراه جاريًا وفق مقاييسه التي يرتضيها، وهي المقاييس التي رأى أنها أكثر دلالة على إتقان الصنعة، ولم يقف في سبيل ذلك عند آثار القدماء من فحول هذه الصناعة، بل إنه نقد معاصريه منهم، وهم الذين كان يشار إليهم في عصره في هذه الصناعة بالبنان.

وكان ابن الأثير لا يقنع بما يوجهه إلى أولئك الأعلام من النقد لآثارهم، ولكنه كان يتبع هذا النقد بنماذج من آثاره، ويوقف على الفرق بين أسلوبه وأسلوب غيره، حتى يستدرج قارئه إلى الإذعان لنبوغه، والتسليم بتفوقه، ثم يثني على نفسه وفنه بما استطاع. والأدلة على ذلك كثيرة منها:

1- نقده للقاضي الفاضل في قوله1: "وعرض عليّ كتاب كتبه عبد الرحيم بن علي البيساني رحمه الله عن الملك صلاح الدين يوسف بن أيوب رحمه الله إلى ديوان الخلافة ببغداد في ستة إحدى وسبعين وخمسمائة، وضمَّنه ما أبلاه في خدمة الدولة من فتح الديار المصرية، ومحو الدولة العلوية، وإقامة الدعوة العباسية، وشرح فيه ما قاساه في الفتح من الأهوال".

--------------------------------------------

1 انظر صفحة 54 وما بعدها من هذه الطبعة.
এটি সাহিত্যকলার মতো বিষয়ে নিছক তাত্ত্বিক চিন্তাভাবনা বা কল্পনাপ্রসূত কোনো বিষয় ছিল না, যেমনটি ছিল এই শিল্পের জন্য যারা নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করেছেন এবং এর মূলনীতিগুলো নির্ধারণ করেছেন তাদের অধিকাংশের মতামতের ক্ষেত্রে। তাদের অধিকাংশেরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিবেচনাযোগ্য প্রচেষ্টা ছিল সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে তুলনামূলক বিচার করা এবং এক কাজের ওপর অন্য কাজের শক্তিমত্তা ও সৌন্দর্যের যে বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছে তা নিরূপণ করা। অথচ সেই সাহিত্যকর্মগুলোর অধিকাংশ ছিল অন্যদের সৃষ্টি। পক্ষান্তরে, ইবনুল আসীরের মৌলিক ও প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল সাহিত্যে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এবং লেখালেখির শিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা, যার অন্যতম দিকপাল হিসেবে তিনি গণ্য হতেন। এই শিল্পই তাকে উজিরের পদমর্যাদায় এবং রাষ্ট্রের কাজ পরিচালনার স্তরে উন্নীত করেছিল; যদিও সেই গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি কতটা সফল ছিলেন কিংবা তার ব্যবস্থাপনার ত্রুটি কতটা ছিল—যার পরিণাম তার এবং তাকে নিয়োগদাতার জন্য মন্দ ফল বয়ে এনেছিল—সেটি ভিন্ন বিষয়।

এ কারণেই সাহিত্য ও সমালোচনা বিষয়ে তার মতামতগুলো ছিল সেই শিল্পজাত যার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন এবং সেই অভিজ্ঞতাপ্রসূত যা তিনি সারা জীবন অতিবাহিত করেছেন। আর এ জন্যই যিয়াউদ্দীন ইবনুল আসীর সেই সব লেখকের রচনাবলি পাঠ করেছিলেন যাদের খ্যাতি ও নক্ষত্র লেখালেখির শিল্পের আকাশে উজ্জ্বল ছিল, যাতে তিনি তাদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন এবং যা তার নিজস্ব পছন্দনীয় মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক মনে হয়নি তা সমালোচনা করতে পারেন। এই মানদণ্ডগুলো ছিল এমন যা তার মতে শিল্পের নিপুণতা প্রমাণের জন্য অধিকতর নির্দেশক। এই পথে তিনি কেবল এই শিল্পের প্রাচীন দিকপালদের রচনাবলির ওপরই থেমে থাকেননি, বরং তার সমসাময়িকদেরও সমালোচনা করেছেন, যাদের দিকে সেই যুগে এই শিল্পের ক্ষেত্রে অঙ্গুলি নির্দেশ করা হতো।

ইবনুল আসীর কেবল সেই সব বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের রচনার ওপর সমালোচনা করেই সন্তুষ্ট হতেন না, বরং তিনি এই সমালোচনার পরপরই নিজের রচনার কিছু নমুনা তুলে ধরতেন এবং তার ও অন্যদের শৈলীর মধ্যকার পার্থক্য পরিষ্কার করতেন, যাতে পাঠক তার অসাধারণ প্রতিভার কাছে নতি স্বীকার করতে এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়। এরপর তিনি নিজের এবং নিজের শিল্পের প্রশংসা যতটুকু সম্ভব করতেন। এর অনেক প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:

১- কাযী আল-ফাদিলের ওপর তার সমালোচনা, যেখানে তিনি বলেন: "আমার কাছে একটি পত্র পেশ করা হলো যা আব্দুর রহীম বিন আলী আল-বাইসানি (রহ.) সুলতান সালাহুদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুব (রহ.)-এর পক্ষ থেকে ৫৭১ হিজরিতে বাগদাদের খিলাফত দরবারে লিখেছিলেন। এতে তিনি রাষ্ট্রের সেবায় তার কৃত বিভিন্ন কার্যাবলি যেমন—মিশর বিজয়, আলাউয়ি (ফাতেমি) শাসনের অবসান এবং আব্বাসীয় দাওয়াত প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং সেই বিজয়ের পথে তিনি যে সব ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন তা বর্ণনা করেছিলেন।"

--------------------------------------------

১ এই সংস্করণের ৫৪ পৃষ্ঠা এবং এর পরবর্তী অংশ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ৮)
قال: ولما تأملته وجدته كتابًا حسنًا قد وفَّى فيه الخطابة حقَّها، إلا أنه أخلَّ بشيء واحد، وهو أن مصر لم تفتح إلّا بعد أن قصدت من الشام ثلاث مرات، وكان الفتح في المرة الثالثة، وهذا له نظير في فتح النبي صلى الله عليه وسلم مكة، فإنه قصدها عام الحديبية، ثم سار إليها في عمرة القضاء، ثم سار إليها عام الفتح، ففتحها.

ثم يقول: وقد سألني بعض الإخوان أن أنشئ في ذلك كتابًا إلى ديوان الخلافة معارضًا للكتاب الذي أنشأه عبد الرحيم بن علي رحمه الله، فأجبته إلى سؤاله، وعدَّدت مساعي صلاح الدين يوسف بن أيوب رحمه الله فقلت … إلخ.

إلى أن يقول: وعجب من عبد الرحيم بن علي البيساني، مع تقدُّمه في فن الكتابة، كيف فاته أن يأتي به في الكتاب الذي كتبه!؟

2- قوله في ابن زياد الكاتب البغدادي: "وجدت لابن زياد البغدادي كتابًا كتبه إلى الملك الناصر صلاح الدين يوسف المقدَّم ذكره في سنة ثلاث وثمانين وخمسمائة، وضمَّنه فصولًا تشتمل على أمور أنكرت عليه من ديوان الخلافة، فمن تلك الأمور التي أنكرت عليه أنه تلقَّب بالملك الناصر، وذلك اللقب هو لأمير المؤمنين خاصة، فإنه الإمام الناصر لدين الله. فلمَّا وقفت على ذلك الكتاب وجدته كتابًا حسنًا، قد أجاد فيه كل الإجادة، ولم أجد فيه مغمزًا إلّا في هذا الفصل الذي يتضمَّن حديث اللقب، فإنه لم يأت بكلام يناسب باقي الفصول المذكورة، بل أتى بكلام فيه غثاثة كقوله: "ما يستصلحه المولى فهو على عبده حرام"، وشيئًا من هذا النسق، وكان الأليق والأحسن أن يحتج بحجة فيها روح، ويذكر كلامًا فيه ذلاقة ورشاقة".

قال: وحضر عندي في بعض الأيام بعض إخواني، وجرى حديث ذلك، فسألني عمَّا كان ينبغي أن يكتب في هذا الفصل، فذكرت ما عندي، وهو: … إلخ.

إلى أن يقول منبهًا القارئ إلى ما وفِّق إليه، وموازنًا بين نفسه وابن زياد: "فانظر أيها المتأمِّل كيف جئت بالخبر النبوي، وجعلته شاهدًا على هذا الموضع، ولا يمكن أن يحتج في مثل ذلك إلّا بمثل هذا الاحتجاج، وما أعلم كيف شذَّ عن ابن زياد أن
তিনি বলেন: আমি যখন এটি নিয়ে চিন্তা করলাম, তখন একে একটি উত্তম কিতাব হিসেবে পেলাম যা বাগ্মিতার হক আদায় করেছে। তবে এতে একটি বিষয়ের কমতি রয়ে গেছে; আর তা হলো, সিরিয়া থেকে তিনবার সংকল্প করার পরেই কেবল মিসর বিজিত হয়েছিল এবং তৃতীয়বারেই বিজয় অর্জিত হয়েছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মক্কা বিজয়ের সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে। কারণ তিনি হুদায়বিয়ার বছর মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন, এরপর উমরাতুল কাযা’র জন্য সেখানে গিয়েছিলেন এবং সবশেষে বিজয়ের বছর সেখানে গিয়ে তা জয় করেছিলেন।

এরপর তিনি বলেন: জনৈক ভাই আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন আমি এ বিষয়ে খিলাফত দেওয়ানের উদ্দেশ্যে একটি কিতাব রচনা করি, যা আব্দুর রহীম বিন আলী (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত কিতাবটির প্রতিবাদী হবে। আমি তার অনুরোধে সাড়া দিয়েছি এবং সালাহউদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুব (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রচেষ্টাসমূহ গণনা করেছি। অতঃপর আমি বললাম … ইত্যাদি।

পরিশেষে তিনি বলেন: লিখনশৈলীতে অগ্রসর হওয়া সত্ত্বেও আব্দুর রহীম বিন আলী আল-বাইসানির ব্যাপারে এটি বিস্ময়কর যে, তাঁর লিখিত কিতাবে এই বিষয়টি উল্লেখ করতে তিনি কীভাবে ভুল করলেন!?

২- বাগদাদী লেখক ইবনে যিয়াদ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য: "আমি বাগদাদী ইবনে যিয়াদের একটি কিতাব পেয়েছি যা তিনি পূর্বোল্লিখিত আল-মালিকুন নাসির সালাহউদ্দীন ইউসুফকে হিজরী ৫৮৩ সনে লিখেছিলেন। তিনি এতে এমন কিছু অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা খিলাফত দেওয়ান থেকে তাঁর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছিল। যেসব বিষয়ে তাঁর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছিল তার মধ্যে একটি ছিল এই যে, তিনি 'আল-মালিকুন নাসির' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন; অথচ এই উপাধিটি শুধুমাত্র আমীরুল মুমিনীন-এর জন্য নির্দিষ্ট, কারণ তিনিই হলেন 'আল-ইমামুন নাসির লি-দীনিল্লাহ'। যখন আমি সেই কিতাবটি পাঠ করলাম, তখন দেখলাম এটি একটি উত্তম কিতাব এবং তিনি এতে সর্বোচ্চ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। এই উপাধি সংক্রান্ত অধ্যায়টি ছাড়া আমি এতে আর কোনো ত্রুটি খুঁজে পাইনি। কারণ তিনি এতে এমন কোনো কথা নিয়ে আসেননি যা উল্লিখিত অন্যান্য অধ্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; বরং তিনি এমন কিছু দুর্বল কথা এনেছেন যেমন তাঁর উক্তি: 'মনিব যা নিজের জন্য সংশোধনযোগ্য মনে করেন, তা তাঁর দাসের জন্য হারাম', এবং এ জাতীয় কিছু কথা। অথচ একটি প্রাণবন্ত যুক্তির মাধ্যমে দলিল পেশ করা এবং প্রাঞ্জল ও সুনিপুণ ভাষা ব্যবহার করাই ছিল অধিকতর যুক্তিযুক্ত ও সুন্দর।"

তিনি বলেন: একদিন আমার কোনো এক ভাই আমার কাছে আসলেন এবং সেই আলোচনাটি উঠল। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, এই অধ্যায়ে কী লেখা উচিত ছিল? তখন আমার কাছে যা ছিল আমি তা উল্লেখ করলাম, আর তা হলো: … ইত্যাদি।

পাঠককে তিনি যে তাওফীক প্রাপ্ত হয়েছেন সেদিকে মনোযোগী করে এবং নিজের সাথে ইবনে যিয়াদের তুলনা করে পরিশেষে তিনি বলেন: "হে চিন্তাশীল পাঠক! লক্ষ করুন, আমি কীভাবে নববী হাদীস নিয়ে এসেছি এবং একে এই স্থানের সপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেছি। এ জাতীয় বিষয়ে এই প্রকার দলিল ব্যতীত অন্য কোনোভাবে যুক্তি প্রদর্শন সম্ভব নয়। আমি জানি না কীভাবে ইবনে যিয়াদ এটি ভুলে গেলেন যে..."
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ৯)
يأتي به، مع أنه كان كاتبًا مفلقًا ارتضى كتابته، ولم أجد في متأخري العراقيين من يماثله في هذا الفن"1.

3- وقد نقد أبا إسحاق الصابيّ في كثير من المواضع، وأورد له الرسائل الطويلة، والنتف اليسيرة، وأتبعها بكتابته، ليرى الفرق بين الكتابتين؛ فمن ذلك ما أورده من قول الصابيّ في صفة النبي صلى الله عليه وسلم: "لم ير للكفر أثرًا إلّا طمسه ومحاه، ولا رسمًا إلّا أزاله وعفاه"، وقد عابه ابن الأثير بأنه لا فرق بين مرور العصور وكرور الدهور، وكذلك لا فرق بين محو الأثر وعفاء الرسم.

وأورد للصابي أيضًا قوله في بعض كتبه "وقد علمت أن الدولة العباسية لم تزل على سالف الأيام، ومتعاقب الأعوام، تعتلّ تارة، وتصح أطوارًا، وتلتاث مرة، وتستقل مرارًا، من حيث أصلها راسخ لا يتزعزع، وبنياتها ثابت لا يتضعضع"، وعابه ابن الأثير بأن هذه الأسجاع كلها متساوية المعاني، فإن الاعتلال والالتباث، والطور والمرة، والرسوخ والثبات، كل ذلك سواء، وساق على هذا النحو من النثر الصابي أمثله أخرى.

4- وعاب على الصاحب بن عبَّاد ما كتبه في وصف مهزومين "طاروا واقين بظهورهم صدورهم، وبأصلابهم نحورهم" بقوله: إن كلا المعنيين سواء..

وكذلك نقد قول الصاحب في وصف ضيق مجال الحرب "مكان ضنك على الفارس والراجل، ضيق على الرامح والنابل"، وقوله في كتابه "لا تتوجّه همته إلى أعظم مرقوب إلا طاع ودان، ولا تمتد عزيمته إلى أفخم مطلوب إلّا كان واستكان"، فإن كل هذا الذي ذكره الصاحب في نظر ابن الأثير شيء واحد؛ لأنها ألفاظ متعددة تؤدي معاني واحدة.

وقول الصاحب من كتاب "وصل كتابه جامعًا من الفوائد، أشدها للشكر استحقاقًا، وأتمها للحمد استغراقًا، وتعرفّت من إحسان الله فيما وفر من سلامته، وهنأه من كرامته، أنفس موهوب ومطلوب، وأحمد مرقوب ومخطوب" نقده ابن الأثير بأنَّ هذا كله متماثل المعاني متشابه الألفاظ2.

--------------------------------------------

1 انظر صفحة 57 وما بعدها من هذه الطبعة.

2 انظر صفحة 214 وما بعدها من هذه الطبعة.
তিনি তা উপস্থাপন করেন, যদিও তিনি একজন অত্যন্ত সুনিপুণ লেখক ছিলেন যার লেখনী পছন্দ করা হয়েছিল, এবং পরবর্তী যুগের ইরাকিদের মধ্যে আমি এই শিল্পে তাঁর সমকক্ষ কাউকে খুঁজে পাইনি।"১

৩- এবং তিনি অনেক স্থানে আবু ইসহাক আস-সাবিকে সমালোচনা করেছেন, এবং তাঁর দীর্ঘ পত্রাবলি ও সংক্ষিপ্ত অংশবিশেষ উদ্ধৃত করেছেন, আর সেগুলোর পর নিজের লেখনী পেশ করেছেন যেন দুই ধরনের লেখনীর মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়; এর মধ্যে একটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি বর্ণনায় সাবির একটি উক্তি যা তিনি উদ্ধৃত করেছেন: "তিনি কুফরির এমন কোনো চিহ্ন দেখেননি যা তিনি বিলোপ ও বিনাশ করেননি, এবং এমন কোনো রেখা দেখেননি যা তিনি অপসারিত ও বিলুপ্ত করেননি"। ইবনুল আসির এর এই বলে দোষ ধরেছেন যে, যুগের আবর্তন ও কালের পরিক্রমার মধ্যে যেমন কোনো তফাত নেই, তেমনি চিহ্ন মুছে ফেলা ও রেখা বিলুপ্ত করার মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই।

তিনি সাবির আরও একটি উক্তি তাঁর কোনো এক কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছেন: "এবং আপনি জেনেছেন যে আব্বাসীয় রাষ্ট্র বিগত দিনগুলোতে এবং বছরের পর বছর ধরে কখনো রুগ্ন হয়েছে, কখনো সুস্থ হয়েছে, কখনো বিপর্যস্ত হয়েছে এবং বারবার সামলে উঠেছে, কারণ এর মূল সুদৃঢ় যা বিচলিত হয় না, এবং এর ভিত্তি অটল যা দুর্বল হয় না"। ইবনুল আসির এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, এই সব অনুপ্রাসযুক্ত বাক্যাংশগুলোর অর্থ একই; কেননা রুগ্ন হওয়া ও বিপর্যস্ত হওয়া, এবং অবস্থা ও বার, এবং সুদৃঢ় হওয়া ও অটল থাকা—সবই সমান। তিনি সাবির গদ্য থেকে এই ধরনের আরও উদাহরণ পেশ করেছেন।

৪- এবং তিনি আস-সাহিব ইবন আব্বাদের সমালোচনা করেছেন পরাজিতদের বর্ণনা দিতে গিয়ে তাঁর এই উক্তির জন্য: "তারা পালিয়ে গেল তাদের পিঠ দিয়ে বুককে রক্ষা করে এবং মেরুদণ্ড দিয়ে গ্রীবাকে রক্ষা করে।" এই বলে যে: উভয় অর্থের সারকথা একই।

একইভাবে তিনি যুদ্ধের ময়দানের সংকীর্ণতা বর্ণনায় সাহিবের উক্তির সমালোচনা করেছেন: "স্থানটি অশ্বারোহী ও পদাতিকের জন্য সংকীর্ণ, বর্শাধারী ও তিরন্দাজের জন্য দুর্গম," এবং তাঁর কিতাবে বলা উক্তি: "সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের প্রতি তাঁর সংকল্প নিবদ্ধ হয় না যতক্ষণ না তা বশীভূত ও অনুগত হয়, এবং কোনো মহান লক্ষ্যের প্রতি তাঁর ইচ্ছা প্রসারিত হয় না যতক্ষণ না তা বাস্তবায়িত ও অবনত হয়।" ইবনুল আসিরের দৃষ্টিতে সাহিব যা উল্লেখ করেছেন তার সবই এক জিনিস; কারণ এগুলো একাধিক শব্দ যা একই অর্থ প্রকাশ করে।

এবং একটি কিতাব থেকে সাহিবের উক্তি: "তাঁর পত্রটি পৌঁছেছে যা নানাবিধ উপকারে ভরপুর, যা কৃতজ্ঞতার জন্য সর্বাধিক উপযোগী এবং প্রশংসার জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে শামিল। আর আমি আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে জানতে পেরেছি তাঁর সুস্থতার প্রাচুর্য এবং তাঁর মর্যাদার তৃপ্তি সম্পর্কে, যা অত্যন্ত মূল্যবান দান ও কাম্য বস্তু এবং অত্যন্ত প্রশংসনীয় প্রত্যাশিত ও অভীষ্ট বিষয়।" ইবনুল আসির এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, এই সবগুলোর অর্থ অভিন্ন এবং শব্দগুলো সদৃশ।২

--------------------------------------------

১ এই মুদ্রণের ৫৭ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ দেখুন।

২ এই মুদ্রণের ২১৪ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد أراد ابن الأثير أن ينفي عن نفسه مظنَّة التحامل على هذين الكاتبين الكبيرين والتعصب عليهما، فيما قدمه من الأمثلة المسجوعة للصابيّ والصاحب ابن عبَّاد، فقد يذهب بعض الناس إلى أن المآخذ فيها يسيرة لأنها جمل قصيرة، قد يقال: إنه التقطها التقاطًا من جملة رسائلهما الطويلة.

وقد حاول أن يخرج نفسه من هذه التهمة، بأنه وجد للصابيّ تقليدًا بنقابة الأشراف العلويين ببغداد، وكان ابن الأثير قد أنشأ تقليدًا بنقابة الأشراف العلويين بالموصل، وقد أورد التقليدين في كتابه1، ليتأملهما الناظر، ويحكم بينهما إن كان عارفًا، أو يسأل عنهما العارف إن كان مقلدًا.

وعلى الرغم من أن كلام ابن الأثير هنا غاية الوضوح؛ إذ أنه يحاول أن يقود القارئ إلى الحكم الذي يريد، وهو الحكم بتفوقه، أو تفوق كتابته على الصابي أو كتابته، فإنه يحاول أن يستر ما أظهر من انتقاصه، ولا يجد سبيلًا إلى ذلك إلّا أن يورد تقليد الصابي أولًا، لأنه كما يقول: "المقدَّم زمانًا وفضلًا! ".

ومعنى ذلك أنه يريد أن يقول: إنه إذا كان قد بَذَّ المقدَّم زمانًا وفضلًا في نظر الناس، فهو أحق بالفضل والتقدمة، وإن تأخَّر به زمانه!

وحين يرى وضوح الغاية من كلامه، يحاول أن يسترها بأنه لم يقصد بما أورد من كتابة الصابي وكتابته الوضع من منزلة الرجل: أو التهوين من خطر فنه.

وقد يكون ذلك حقًّا، وقد يكون الوضع من شأن الصابي في حد ذاته لم يكن هدف ابن الأثير من هذه الكلمات وتلك الموازنات، وإنما كان القصد الحقيقيّ هو إثبات تفوقه عليه، وتمكُّنه من صناعة الكتابة في على درجة لم يستطع أن يصل إليها الصابي، أو غيره من أعلام الكُتَّاب، الذين اعترف لهم الناس بالإجادة والسبق.

ولذلك تراه يعترف بمنزلة الصابي، وبأن علم الكتابة قد رفعه، وأنه إمام هذا الفن، والواحد فيه، وأنه أجاد في السلطانيات كل الإجادة، وأحسن كل الإحسان، ولكنه في الإخوانيات مقصِّر، وكذلك في كتب التعازي، مع أن

--------------------------------------------

1 تقليد الصابي في صفحة 287-259، وتقليد ابن الأثير في صفحة 295-301.
ইবনে আল-আসির সাবী এবং সাহেব ইবনে আব্বাদ—এই দুই মহান লেখকের প্রতি বিদ্বেষ বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিজের ওপর থেকে দূর করতে চেয়েছেন। তিনি সাবী এবং সাহেব ইবনে আব্বাদের যেসব ছন্দোবদ্ধ গদ্যের (সাজ‘) উদাহরণ উপস্থাপন করেছেন, সে সম্পর্কে কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, সেগুলোতে ত্রুটি সামান্য, কারণ বাক্যগুলো ছোট। আবার এমনও বলা হতে পারে যে, তিনি তাঁদের দীর্ঘ পত্রাবলী থেকে বেছে বেছে এই অংশগুলো সংগ্রহ করেছেন।

তিনি এই অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন এই যুক্তিতে যে, তিনি বাগদাদে আলবীয় বংশীয় অভিজাতদের নেতৃত্বের (নিকাবাতুল আশরাফ) বিষয়ে সাবীর লেখা একটি নিয়োগপত্র (তাকলীদ) খুঁজে পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, ইবনে আল-আসির নিজেও মোসেলের আলবীয় বংশীয় অভিজাতদের নেতৃত্বের বিষয়ে একটি নিয়োগপত্র রচনা করেছিলেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে এই উভয় নিয়োগপত্রই উল্লেখ করেছেন১, যাতে পাঠক এগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং অভিজ্ঞ হলে বিচার করতে পারেন, অথবা যদি বিশেষজ্ঞ না হন তবে এ বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞাসা করেন।

যদিও এখানে ইবনে আল-আসিরের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট; যেহেতু তিনি পাঠককে তাঁর কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্তের দিকেই নিয়ে যেতে চান, আর তা হলো সাবীর লেখার ওপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বা নিজের রচনার উৎকর্ষ প্রমাণ করা। তথাপি তিনি তাঁর প্রকাশিত অবজ্ঞাকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন। এটি করার জন্য তিনি সাবীর নিয়োগপত্রটি আগে উল্লেখ করা ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পাননি, কারণ তিনি বলেন যে, সাবী হলেন: "সমকাল ও মর্যাদার বিচারে অগ্রগণ্য!"

এর অর্থ হলো তিনি বলতে চান: মানুষের দৃষ্টিতে যিনি সমকাল ও মর্যাদার দিক থেকে অগ্রগণ্য, তাঁকে যদি তিনি অতিক্রম করতে পারেন, তবে সময় বিচারে পেছনে থাকলেও মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে তিনিই অধিকতর যোগ্য!

যখন তিনি তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্যের স্পষ্টতা অনুভব করেন, তখন তিনি তা আড়াল করার চেষ্টা করেন এই বলে যে, সাবীর এবং তাঁর নিজের লেখা পাশাপাশি তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি ওই ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা বা তাঁর শিল্পের গুরুত্ব খাটো করার ইচ্ছা পোষণ করেননি।

এটি সত্য হতে পারে, আর সাবীর মর্যাদা কমানো হয়তো স্বয়ং ইবনে আল-আসিরের এই শব্দগুলো বা এই তুলনামূলক পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য ছিল না। বরং তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সাবীর ওপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা এবং রচনাশিল্পে এমন এক স্তরে নিজের সক্ষমতা প্রদর্শন করা, যেখানে সাবী বা অন্য কোনো নামজাদা লেখক—যাঁদের নৈপুণ্য ও অগ্রগামিতা সর্বজনস্বীকৃত—পৌঁছাতে পারেননি।

এই কারণেই আপনি তাঁকে সাবীর মর্যাদা স্বীকার করতে দেখেন এবং বলতে দেখেন যে, রচনাশৈলী বা লিখনশিল্পের জ্ঞানই তাঁকে উচ্চাসীন করেছে, এবং তিনি এই শিল্পের ইমাম ও অনন্য প্রতিভা। রাজকীয় ও দাপ্তরিক চিঠিপত্র (সুলতানিয়াত) রচনায় তিনি পূর্ণ নৈপুণ্য ও চরম উৎকর্ষ প্রদর্শন করেছেন; কিন্তু ব্যক্তিগত ও ভ্রাতৃত্বমূলক চিঠিপত্র (ইখওয়ানিয়াত) এবং শোকবার্তামূলক রচনার ক্ষেত্রে তিনি মানোত্তীর্ণ নন, যদিও...

--------------------------------------------

১ সাবীর নিয়োগপত্র ২৫৯-২৮৭ পৃষ্ঠায়, এবং ইবনে আল-আসিরের নিয়োগপত্র ২৯৫-৩০১ পৃষ্ঠায়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ১১)
التقليدين الذين سجلهما ابن الأثير، ووزانهما بتقليديه، إنما يدخلان في باب السلطانيات، ولا علاقة لهما بالرسائل الإخوانية أو بكتب التعازي!

وهذا من أهم مظاهر اضطراب ابن الأثير، في تقدير الصابي بين الغاية والوسيلة، ففي هذا الكلام مدح جاري به المشهور الذي لا ينكره أحد، وذم أشبع به ما في نفسه من الزهو والغرور، فوصف الرجل بأن عقله في كتابته زائد على فصاحته وبلاغته، وزيادة العلم على المنطق هجنة، وزيادة المنطق على العلم خدعة!

وقد يكون ابن الأثير على حقٍّ في كل ما قال، أو في أكثر ما قال مما نقد به أولئك الكُتَّاب من الناحية الفنية، وقد لا يكون كذلك، وإنما الغاية من سوق هذه الشواهد أن ابن الأثير قد عاش في جو الكتابة والكُتَّاب كاتبًا يقرأ كثيرًا، ويتعمَّق فيما يقرأ، ويبحث عن أسباب القوة وأسباب الضعف، ثم يعرض ذلك على ذهنه وبصيرته الفنية الواعية، ثم يكتب ما شاء أن يكتب مجردًا كتابته من أسباب الضعف، ومضيفًا إليها من أسباب القوة ما رآه يزيد في قدره، ويرفع من شأن كتابته، ومحققًا المثل التي تصورها لفن الكتابة.

وكذلك كان ابن الأثير شاعرًا، وإن غلبت صناعة الكتابة على فنه الأدبي، ولذلك كان ما رُوِيَ له من الشعر قليلًا، وإنما ذكرنا ذلك لندلَّ على أن ابن الأثير كان يعبِّر عن تجربته شعرًا، كما عبَّر عنها نثرًا، وأنه فيما كتب في المثل السائر كان يستوحي طبيعته الفنية، قبل أن يتخيل الرسوم والقواعد التي تخيلها من قبله علماء البلاغة والنقد.

وقد أقدم ابن الأثير على صناعة الأدب بعامَّة، وصناعة الكتابة بخاصة، بعد أن زود نفسه بآلاتها، وثقفها بألوان الثقافات التي عددها، وقد أحسَّ بالحاجة إليها كلَّما أوغل فيها، وأحسَّ أن خطورة هذا الفن، وبعد أثره لا تقلّ عن خطورة المناصب الرفيعة التي يتولاها صاحبه في قربه من الحكام، وفي تصريفه لأمور الدولة.
ইবনে আল-আসির যে দুটি নিয়োগপত্র লিপিবদ্ধ করেছেন এবং স্বীয় নিয়োগপত্রের সাথে সেগুলোর তুলনা করেছেন, তা মূলত রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক বিষয়ের (সুলতানিয়্যাত) অন্তর্ভুক্ত; ভ্রাতৃত্বসুলভ পত্রাবলী কিংবা শোকগাথা সংক্রান্ত গ্রন্থের সাথে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই!

আর সাবেয়ীর লক্ষ্য ও উপায়ের মূল্যায়নে ইবনে আল-আসিরের বিভ্রান্তির এটি অন্যতম প্রধান বহিঃপ্রকাশ। এই বক্তব্যে এমন প্রশংসা রয়েছে যা সর্বজনবিদিত এবং যা কেউ অস্বীকার করে না, আবার এমন নিন্দাও রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি নিজের অন্তরের অহংকার ও দম্ভের তৃপ্তি ঘটিয়েছেন। তিনি লোকটিকে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তার রচনায় তার বুদ্ধি তার বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পারদর্শিতাকে ছাড়িয়ে গেছে; আর যুক্তির তুলনায় জ্ঞানের আধিক্য হলো একটি ত্রুটি, এবং জ্ঞানের তুলনায় যুক্তির আধিক্য হলো একটি প্রতারণা!

শিল্পশৈলীর বিচারে ওই লেখকদের সম্পর্কে ইবনে আল-আসির যা কিছু সমালোচনা করেছেন, তার সবটুকুতে অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি সঠিক হতে পারেন, আবার নাও হতে পারেন। এই দৃষ্টান্তগুলো উপস্থাপনের উদ্দেশ্য হলো এটি দেখানো যে, ইবনে আল-আসির লেখালেখি এবং লেখকদের পরিবেশে এমন একজন লেখক হিসেবে বসবাস করেছেন যিনি প্রচুর পড়াশোনা করতেন, পঠিত বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করতেন এবং শক্তির উৎস ও দুর্বলতার কারণসমূহ অনুসন্ধান করতেন। অতঃপর তিনি তা তাঁর সচেতন শৈল্পিক অন্তর্দৃষ্টি ও মেধার সামনে উপস্থাপন করতেন এবং নিজের রচনাকে দুর্বলতা থেকে মুক্ত করে তাতে শক্তির এমন সব উপাদান যোগ করে লিখতেন যা তাঁর মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে এবং লেখার মানকে উন্নত করে। এভাবেই তিনি রচনাশিল্পের যে আদর্শ কল্পনা করেছিলেন তা বাস্তবায়িত করতেন।

একইভাবে ইবনে আল-আসির একজন কবিও ছিলেন, যদিও তাঁর সাহিত্যকর্মে গদ্য রচনার শৈল্পিক নিপুণতাই প্রবল ছিল। একারণেই তাঁর থেকে বর্ণিত কবিতার সংখ্যা খুবই কম। আমরা এটি উল্লেখ করেছি এই প্রমাণ দিতে যে, ইবনে আল-আসির তাঁর অভিজ্ঞতাকে গদ্যের ন্যায় পদ্যেও প্রকাশ করতেন এবং 'আল-মাসালুস সায়ির' গ্রন্থে যা কিছু লিখেছেন, তাতে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ ও সমালোচকদের কল্পিত রূপরেখা ও নিয়মনীতির আগেই নিজের শৈল্পিক প্রকৃতি থেকে প্রেরণা লাভ করতেন।

ইবনে আল-আসির সামগ্রিকভাবে সাহিত্য শিল্পে এবং বিশেষভাবে গদ্য রচনা শিল্পে আত্মনিয়োগ করেছিলেন এর প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ অর্জনের পর এবং বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান-সংস্কৃতির মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করার পর। তিনি এর গভীরে যত প্রবেশ করেছেন, ততই এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, এই শিল্পের গুরুত্ব এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব শাসকদের নৈকট্য লাভ এবং রাষ্ট্রীয় কার্যপরিচালনায় নিয়োজিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গুরুত্বের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ১২)
وما رأيك في رجل كان يحفظ القرآن، والحديث النبوي، ودواوين الشعراء، ويعرف من اللغة شاردها وواردها، ومن النحو أصوله وفروعه، ومن الصرف دقائقه، ومن الأخبار والأمثال ما يعيا بوعيه المختصون في كل لون من تلك الألوان، وهذه صورة من تلك الجهود المضنية التي بذلها في تكميل نفسه، يقول عن نفسه: وكنت جردت من الأخبار النبوية كتابًا يشتمل على ثلاثة آلاف خبر، كلها تدخل في الاستعمال، وما زلت أواظب على مطالعته مدة تزيد على عشر سنين، فكنت أنهي مطالعته في كل أسبوع مرة، حتى دار على ناظري وخاطري ما يزيد على خمسمائة مرة، وصار محفوظًا لا يشذَّ عني منه شيء.. "ص150".

ويقول في موضع آخر: واعلم أن المتصدي لحل معاني القرآن يحتاج إلى كثرة الدرس، فإنه كلما ديم على درسه ظهر من معانيه مالم يظهر من قبل، وهذا شيء جرَّبته وخَبَرْتُه، فإني كنت آخذ سورة من السور وأتلوها، وكلما مرَّ بي معنًى أثبته في ورقة مفردة، حتى أنتهي إلى آخرها، ثم آخذ في حل تلك المعاني التي أثبتها واحدًا بعد واحد، ولا أقنع بذلك حتى أعاود تلاوة تلك السورة، وأفعل ما فعلته أولًا، وكلما صقلتها التلاوة مرةً بعد مرةٍ ظهر في كل مرة من المعاني ما لم يظهر في التي قبلها.. "ص135".

وأما معرفة ابن الأثير بالشعراء وحفظه الشعر فحدّث عنهما ما شئت، ولقد برزت آثار تلك المعرفة وذلك الحفظ واضحة في المثل السائر وغيره من آثار ضياء الدين، يقول في المثل: "إني وقفت على أشعار الشعراء قديمها وحديثها، حتى لم أترك ديوانًا لشاعر مفلق يثبت شعره على المحك إلا وعرضته على نظري"، ويقول: "ولقد وقفت من الشعر على كل ديوان ومجموع، وأنفدت شطرًا من العمر في المحفوظ منه والمسموع، فألفيته بحرًا لا يوقف على ساحله، وكيف ينتهي إلى إحصاء قول لم تحص أسماء قائله". ثم يقول: "ولقد مارست من الشعر كل أول وأخير، ولم أقل ما أقول فيه إلّا عن تنقيب وتنقير، فمن حفظ شعر الرجل، وكشف عن غامضه، وراض فكره برائضه، أطاعته أعنَّة الكلام، وكان قوله في البلاغة ما قالت حذام".
এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার কী অভিমত, যিনি কুরআন, নববী হাদীস এবং কবিদের কাব্যসমগ্র মুখস্থ করেছিলেন; ভাষার বিরল ও প্রচলিত শব্দাবলি, নাহুর (ব্যাকরণ) মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা এবং সরফের (রূপতত্ত্ব) সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন; আর ইতিহাস ও প্রবাদ-প্রবচনের ক্ষেত্রে এমন গভীর জ্ঞান রাখতেন যা ঐ সকল বিষয়ের বিশেষজ্ঞদেকেও বিস্মিত করে দেয়? নিজেকে পূর্ণতা দানে তিনি যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, এটি তারই একটি চিত্র। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমি নববী হাদীসসমূহ থেকে তিন হাজার হাদীস সংবলিত একটি গ্রন্থ সংকলন করেছিলেম, যার প্রতিটিই আমল বা ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট। আমি দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত সেটি অধ্যয়ন করেছি; প্রতি সপ্তাহে একবার করে এর পাঠ শেষ করতাম। এভাবে পাঁচশ বারেরও বেশি সময় সেটি আমার দৃষ্টি ও চিন্তার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, ফলে তা আমার এমনভাবে মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল যে, সেখান থেকে কোনো কিছুই আমার স্মৃতিচ্যুত হতো না।" (পৃষ্ঠা ১৫০)।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: "জেনে রেখো, কুরআনের অর্থ উদ্ঘাটনে ব্রতী ব্যক্তির জন্য প্রচুর অধ্যয়ন প্রয়োজন। কেননা যত বেশি এটি নিয়মিত অধ্যয়ন করা হবে, এর এমন সব অর্থ প্রকাশিত হবে যা আগে কখনো প্রতিভাত হয়নি। এটি এমন এক বিষয় যা আমি নিজে পরীক্ষা করেছি এবং অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। আমি কুরআন থেকে একটি সূরা গ্রহণ করতাম এবং সেটি তিলাওয়াত করতাম। যখনই কোনো অর্থ আমার সামনে ভেসে উঠত, আমি তা একটি আলাদা কাগজে লিখে রাখতাম, এভাবে সূরার শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতাম। এরপর আমি সেই লিখিত অর্থগুলো একটি একটি করে বিশ্লেষণ করতে শুরু করতাম। তাতেও তৃপ্ত না হয়ে আমি পুনরায় সেই সূরাটি তিলাওয়াত করতাম এবং প্রথমবার যা করেছি তাই করতাম। তিলাওয়াতের মাধ্যমে বারবার ঘষামাজার ফলে প্রতিবারই এমন নতুন নতুন অর্থের উদয় হতো যা পূর্ববর্তীবার হয়নি।" (পৃষ্ঠা ১৩৫)।

(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وبعد أن حصل ضياء الدين هذه الثروة الضخمة من فنِّ المنظوم، اقتصر منها على ما تكثر فوائده، وتتشعّب مقاصده، ويقول عن نفسه: "لم أجد أجمع من ديوان أبي تمام وأبي الطيب للمعاني الدقيقة، ولا أكثر استخراجًا منهما للطيف الأغراض والمقاصد، ولم أجد أحسن تهذيبًا للألفاظ من أبي عبادة، ولا أنقش ديباجة، ولا أبهج سبكًا، فاخترت حينئذ دواوينهم، لاشتمالها على محاسن الطرفين من المعاني والألفاظ، ولما حفظتها ألغيت ما سواها، مع ما بقي على خاطري من غيرها.

ثم يؤكد هذا القول، وبفصل أسباب إيثاره لشعر أولئك الثلاثة الفحول، فيقول: "ولم أكن ممن أخذ بالتقليد والتسليم في اتِّباع من قصر نظره على الشعر القديم؛ إذ المراد من الشعر إنما هو إيداع المعنى الشريف في اللفظ الجزل واللطيف، فمتى وجد ذلك فكل مكان خيمت فهو بابل. وقد اكتفيت في هذا بشعر أبي تمام حبيب بن أوس، وأبي عبادة الوليد، وأبي الطيب المتنبي، وهؤلاء الثلاثة هم لات الشعر وعزاه ومناته، الذين ظهرت على أيديهم حسناته ومستحسناته، وقد حوت أشعارهم غرابة المحدثين إلى فصاحة القدماء، وجمعت بين الأمثال السائرة وحكمة الحكماء:

أما أبو تمام، فإنه رب معان، وصيقل ألباب وأذهان، وقد شهد له بكل معنى مبتكر، لم يمش فيه على أثر، فهو غير مدافع عن مقام الإغراب، الذي برز فيه على الأضراب.

وأما أبو عبادة البحتري فإنه أحسن في سبك الألفاظ على المعنى، وأراد أن يشعر فغنى، ولقد حاز طرفي الرقة والجزالة على الإطلاق، فبينا هو في شظف نجد؛ إذ تشبَّث بريف العراق. وسئل أبو الطيب المتنبي عنه وعن أبي تمام وعن نفسه، فقال: "أنا وأبو تمام حكيمان، والشاعر البحتري" ولعمري إنه أنصف في حكمه، وأغرب بقوله هذا عن متانة علمه، فإن أبا عبادة أتى في شعره بالمعنى المقدود من الصخرة الصماء، في اللفظ المصوغ من سلاسة الماء، فأدرك بذلك بعد المرام، مع قربه إلى الأفهام، وما أقول إلا أنه أتى في معانيه بأخلاطه الغالية، ورقي في ديباجة لفظه إلى الدرجة العالية.
জিয়াউদ্দীন পদ্যকলার এই বিশাল সম্পদ অর্জনের পর, তা থেকে কেবল সেই বিষয়গুলোকেই গ্রহণ করলেন যেগুলোর উপকারিতা ব্যাপক এবং উদ্দেশ্য বহুমুখী। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমি সূক্ষ্ম অর্থের ক্ষেত্রে আবু তাম্মাম ও আবু তাইয়্যিবের কাব্যসংকলনের চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ আর কিছু পাইনি। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যবস্তুর সূক্ষ্মতা নিরূপণের ক্ষেত্রেও তাদের চেয়ে পারদর্শী কাউকে দেখিনি। আর শব্দের পরিমার্জন, অলঙ্কৃত ভূমিকা ও চমৎকার বিন্যাসের ক্ষেত্রে আবু উবাদাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে পাইনি। তাই আমি তাদের কাব্যসংকলনগুলোকেই নির্বাচন করেছি; কারণ এতে শব্দ ও অর্থের উভয় দিকের সৌন্দর্যই বিদ্যমান। যখন আমি এগুলো মুখস্থ করে ফেললাম, তখন অন্য যা কিছু আমার স্মৃতিতে অবশিষ্ট ছিল তা বর্জন করে এগুলোকেই আঁকড়ে ধরলাম।"

অতঃপর তিনি এই উক্তির সপক্ষে জোরালো মত প্রদান করেন এবং এই তিন দিকপাল কবির কাব্যকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেন: "আমি তাদের মতো অন্ধ অনুকরণ ও নিঃশর্ত অনুসরণে বিশ্বাসী নই, যাদের দৃষ্টি কেবল প্রাচীন কবিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কেননা কবিতার মূল উদ্দেশ্য হলো সাবলীল ও মার্জিত শব্দের আধারে মহৎ অর্থ ফুটিয়ে তোলা। যখনই তা অর্জিত হবে, তবে সেটিই হবে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড। আমি এক্ষেত্রে আবু তাম্মাম হাবিব ইবনে আউস, আবু উবাদাহ আল-ওয়ালিদ এবং আবু তাইয়্যিব আল-মুতানাব্বির কাব্যকেই যথেষ্ট মনে করেছি। এই তিনজনই হলেন কবিতার লাত, উজ্জা ও মানাত (অর্থাৎ কবিতার প্রধান স্তম্ভস্বরূপ), যাদের হাতেই এর যাবতীয় মহিমা ও সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে। তাদের কবিতায় আধুনিকদের চমৎকার অভিনবত্বের সাথে প্রাচীনদের প্রাঞ্জলতার সমন্বয় ঘটেছে এবং এতে প্রচলিত প্রবাদ ও জ্ঞানীদের প্রজ্ঞার সংমিশ্রণ ঘটেছে:

আবু তাম্মামের কথা যদি বলি, তবে তিনি হলেন অর্থের অধিপতি এবং বিবেক ও চিন্তাশক্তির শাণিতকারী। প্রতিটি উদ্ভাবনী অর্থের জন্য তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হয়েছে, যে পথে তাঁর আগে কেউ চলেনি। অনন্য ও বিস্ময়কর রচনাশৈলীর যে সুউচ্চ শিখরে তিনি আরোহণ করেছেন, সেখানে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

আর আবু উবাদাহ আল-বুহতুরির কথা বললে, তিনি অর্থের সাথে শব্দের সুনিপুণ বিন্যাস সাধনে ছিলেন সিদ্ধহস্ত; তিনি যখনই কবিতা বলতে চেয়েছেন, তা যেন সুললিত সংগীতে রূপ নিয়েছে। তিনি নিরঙ্কুশভাবে কোমলতা ও বলিষ্ঠতা—উভয় গুণই আয়ত্ত করেছেন। তিনি কখনো নজদের রুক্ষ মরুপ্রান্তরের কঠোরতায় আবিষ্ট হন, আবার কখনো ইরাকের শস্যশ্যামল স্নিগ্ধতাকে স্পর্শ করেন। আবু তাইয়্যিব আল-মুতানাব্বিকে তাঁর নিজের সম্পর্কে, আবু তাম্মাম ও বুহতুবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: 'আমি এবং আবু তাম্মাম হলাম দুজন প্রজ্ঞাবান দার্শনিক, আর প্রকৃত কবি হলেন বুহতুবি।' আমার জীবনের শপথ, তিনি তাঁর বিচারে ইনসাফ করেছেন এবং এই উক্তির মাধ্যমে তাঁর জ্ঞানের গভীরতারই পরিচয় দিয়েছেন। কারণ আবু উবাদাহ তাঁর কবিতায় নিরেট পাথর খোদাই করা গাম্ভীর্যপূর্ণ অর্থকে প্রবহমান পানির মতো স্বচ্ছ ও সহজ শব্দে উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন দুর্লভ লক্ষ্য অর্জন করেছেন, অন্যদিকে তা সাধারণের বোধগম্যতারও নিকটবর্তী রেখেছেন। আমি শুধু এটুকুই বলব যে, তিনি তাঁর অর্থের গভীরতায় উচ্চমানের সুগন্ধি মিশ্রিত করেছেন এবং শব্দের বুননে এক অনন্য উচ্চতায় আরোহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأما أبو الطيب المتنبي فإنه أراد أن يسلك مسلك أبي تمام، فقصرت عنه خطاه، ولم يعطه الشعر من قياده ما أعطاه، لكنه حظي في شعره بالحكم والأمثال، واختص بالإبداع في وصف مواقف القتال، وأنا أقول قولًا لست فيه متأثمًَا، ولا منه متلثمًا، وذاك أنه إذا خاض في وصف معركة كان لسانه أمضى من نصالها، وأشجع من أبطالها، وقامت أقواله للسامع مقام أفعالها، حتى تظن الفريقين قد تقابلا، والسلاحين قد تواصلا، فطريقه في ذلك تضل بسالكه، وتقوم بعذر تاركه، ولا شك أنه كان يشهد الحروب مع سيف الدولة بن حمدان، فيصف لسانه ما أدّى إليه عيانه".

ولا شكّ في أن ضياء الدين كان صادقًا في كل وصف من تلك الأوصاف، التي آثر بها كل شاعر من أولئك الفحول، ولا يكاد يشك ناقد من النقاد في صحة ما ذكر من نعوت الشعر عند كل واحد منهم، ولكن مجال القول إنما هو في سعة اطلاع ابن الأثير على الشعر العربي قديمه ومحدثه، وإيثاره دواوين أولئك الثلاثة بالحفظ والاستظهار.

ولقد كان اطلاع ابن الأثير على هذا الشعر الكثير، وحفظه ما استطاع من نصوصه سببًا من أهم الأسباب في توسيع مجال دراسته البيانية، وكثرة ما اهتدى إليه من أحكام، أكثرها سديد مصيب، تظهر فيه شخصية الواثق بعلمه، المطمئن إلى حسن رأيه.

وتطالعنا في ثنايا المثل السائر أسماء كثير من الكتب التي قرأها ابن الأثير، وفقه ما فيها، فأعانته على ما تعرض له من دراسة الأدب في فنونه المشهورة، وفي كل جزئية من جزئيات العمل الأدبي.

فأنت تقرأ في هذا الكتاب كلامًا في النحو العربي، وفي علم التصريف، وفي فقه اللغة، فلا يسعك إلا أن تستجيد ما تقرأ، وإلّا أن تعترف بأنك أمام عالم من صفوة العلماء الثقات المختصين في كل فنِّ من تلك الفنون.

وتقرأ كلامًا في التأويل وفي التفسير وفي الحديث النبوي، فيأخذك ما ترى من كثرة الاطلاع وسعة الباع في الفهم والتحصيل، وكأنك أمام عَلَمٍ من أعلام المفسرين والمحدثين.
আর আবু আত-তৈয়্যিব আল-মুতানাব্বির কথা বলতে গেলে, তিনি আবু তাম্মামের পথ অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার পদবিক্ষেপ সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি এবং কাব্যকলা তার নিকট সেই বশ্যতা স্বীকার করেনি যা সে তাকে (আবু তাম্মামকে) দিয়েছিল। তবে তিনি তার কবিতায় প্রজ্ঞা ও প্রবাদের সমাবেশ ঘটিয়ে সফল হয়েছেন এবং যুদ্ধের ময়দানের বর্ণনায় বিশেষ নৈপুণ্য অর্জন করেছেন। আমি এমন এক কথা বলছি যাতে আমি পাপাচারী হব না এবং যা গোপন করারও কিছু নেই; আর তা হলো, তিনি যখন যুদ্ধের বর্ণনায় লিপ্ত হতেন, তখন তার জবান যুদ্ধের তলোয়ারের ফলার চেয়েও ধারালো এবং বীর যোদ্ধাদের চেয়েও সাহসী হয়ে উঠত। তার কথাগুলো শ্রোতার সামনে কাজের স্থলাভিষিক্ত হতো, এমনকি আপনার মনে হতো যেন দুই পক্ষ মুখোমুখী হয়েছে এবং অস্ত্রসমূহ পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি অনুসরণকারীকে বিভ্রান্ত করে এবং তা বর্জনকারীর ওজরকে প্রতিষ্ঠিত করে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি সাইফুদ্দৌলা বিন হামদানের সাথে যুদ্ধসমূহে উপস্থিত থাকতেন, ফলে তার জবান সেই দৃশ্যই বর্ণনা করত যা তার চোখ প্রত্যক্ষ করত।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যিয়াউদ্দীন সেই সকল বর্ণনায় সত্যবাদী ছিলেন, যা তিনি এই সব শ্রেষ্ঠ কবিদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। এই সকল কবিদের প্রত্যেকের কবিতার যে বৈশিষ্ট্য তিনি উল্লেখ করেছেন, তার সঠিকতার বিষয়ে কোনো সমালোচকই সন্দেহ পোষণ করবেন না। তবে আলোচনার মূল বিষয় হলো প্রাচীন ও আধুনিক আরবি কবিতার ওপর ইবনুল আসীরের ব্যাপক পাণ্ডিত্য এবং এই তিনজনের কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ ও আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে তার একাগ্রতা।

এই বিপুল পরিমাণ কবিতার ওপর ইবনুল আসীরের ব্যাপক জ্ঞান এবং সাধ্যমতো সেগুলোর মূল পাঠ মুখস্থ রাখা তার আলঙ্কারিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। এর ফলেই তিনি বহু সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছেন, যার অধিকাংশ ছিল সঠিক ও নিঁখুত; যেখানে তার পাণ্ডিত্যের দৃঢ়তা এবং নিজস্ব মতামতের ওপর আস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

'আল-মাসালুস সায়ির' গ্রন্থের পরতে পরতে আমরা ইবনুল আসীরের পঠিত অসংখ্য কিতাবের নাম দেখতে পাই, যা তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন। এই জ্ঞান তাকে সাহিত্যের সুপরিচিত শাখাগুলো এবং সাহিত্যকর্মের প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে গবেষণায় সাহায্য করেছে।

সুতরাং আপনি এই গ্রন্থে আরবি ব্যাকরণ, রূপতত্ত্ব এবং ভাষাতত্ত্বর ওপর এমন আলোচনা পাবেন, যা প্রশংসা না করে আপনি পারবেন না; এবং আপনি স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে, আপনি এই প্রতিটি শিল্পে পারদর্শী শ্রেষ্ঠ নির্ভরযোগ্য আলেমদের একজনের সামনে রয়েছেন।

এবং আপনি যখন ব্যাখ্যাতত্ত্ব, তাফসির এবং হাদিসে নববীর ওপর আলোচনা পাঠ করবেন, তখন তার ব্যাপক জ্ঞান এবং অনুধাবন ও অর্জনের গভীরতা আপনাকে বিমোহিত করবে; মনে হবে যেন আপনি তাফসির ও হাদিস শাস্ত্রের বরেণ্য ইমামদের একজনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وتقرأ أمثالًا وأخبارًا وشعرًا ونثرًا، فتعجب من هذا المحصول الذي عني ابن الأثير نفسه في تحصيله، وتعترف أنك أمام ثقافة لا تكاد تقف عند حد، أو تتوقف عند غاية من الغايات.

وقد اعتمد ابن الأثير نفسه على كثر من أمهات، الكتب في كل فنٍّ من الفنون التي تعرَّض لها، وقد أشار إلى هذه المراجع في أثناء دراسته.

1- فقد ذكر أن مما قرأ في التفسير تفسير البلاذري، وتفسير النقاش المسمَّى "شفاء الصدور".

2- وقرأ في الحديث النبوي كتاب "الشهاب"، وصحيح البخاري، وصحيح مسلم، والموطأ، والترمذي؛ وسنن أبي داود، وسنن النسائي، وغيرها من كتب الحديث.

3- وقرأ في الدين وأصوله "إحياء علوم الدين" وكتاب "الأربعين" للإمام أبي حامد الغزالي.

4- وقرأ في اللغة والتصريف كتاب "الخصائص" لأبي الفتح بن جني، وكتاب "التصريف" لأبي عثمان المازني، وكتاب "الفصيح" للإمام ثعلب، وكتاب "إصلاح ما تغلط فيه العامة" لأبي منصور الجواليقي، و"مجمع الأمثال" للميداني.

5- وكان مما قرأ من كتب الأدب وموسوعاته ودواوين الشعراء وشروحها: كتاب "الأغاني" لأبي الفرج الأصفهاني، وكتاب "الروضة" لمحمد بن يزيد المبرد، الذي وصفه بأنه كتاب جمعه، واختار فيه أشعار شعراء، بدأ فيه بأبي نواس، ثم بمن كان في زمانه، وانحسب على ذيله.

كما قرأ كتاب "العقد الفريد" لابن عبد ربه، و"ديوان الحماسة" لأبي تمام، و"البيان والتبيين" لأبي عثمان الجاحظ، وقرأ "مقامات الحريري"، ورسائل أبي إسحاق الصابي، ورسائل الصاحب بن عبَّاد، وشرح ديوان المتنبي لأبي الفتح ابن جني، و"لزوم ما لا يلزم" لأبي العلاء المعري، ومعجز أحمد له، وكما قرأ كتاب "النقائض"، وديوان الفرزدق، وأبي تمام، والمتنبي، وأبو نواس،
আপনি সেখানে প্রবাদ, সংবাদ, কবিতা ও গদ্য পাঠ করবেন এবং ইবনুল আসির নিজে যে জ্ঞানভাণ্ডার সংগ্রহের পেছনে শ্রম দিয়েছেন তা দেখে আপনি বিস্মিত হবেন। আপনি স্বীকার করবেন যে, আপনি এমন এক পাণ্ডিত্যের সামনে রয়েছেন যার কোনো সীমা নেই এবং যা কোনো লক্ষ্যেই থেমে যায় না।

ইবনুল আসির নিজে তাঁর আলোচিত প্রতিটি বিষয়ের মৌলিক গ্রন্থাবলির একটি বড় অংশের ওপর নির্ভর করেছেন এবং তাঁর পর্যালোচনার সময় তিনি এই সূত্রগুলোর প্রতি ইঙ্গিতও করেছেন।

১- তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাফসিরের মধ্যে তিনি বালাগুরির তাফসির এবং 'শিফাউস সুদুর' নামক নাক্কাশের তাফসির পাঠ করেছেন।

২- হাদিসে নববীর মধ্যে তিনি 'আশ-শিহাব', সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, মুয়াত্তা, তিরমিজি, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ এবং হাদিসের অন্যান্য কিতাব পাঠ করেছেন।

৩- দ্বীন ও এর মূলনীতি (উসুল) বিষয়ে তিনি ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালির 'ইহয়াউ উলুমিদ্দিন' এবং 'আল-আরবাঈন' গ্রন্থটি পাঠ করেছেন।

৪- ভাষা ও শব্দতত্ত্ব (সরফ) বিষয়ে তিনি আবুল ফাতহ ইবনে জিন্নির 'আল-খাসাইস', আবু উসমান আল-মাযিনির 'আত-তাসরিফ', ইমাম সা'লাবের 'আল-ফাসিহ', আবু মনসুর আল-জাওয়ালিকির 'ইসলাহু মা তাগলাতু ফিহিল আম্মাহ' এবং ময়দানির 'মাজমাউল আমসাল' পাঠ করেছেন।

৫- সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থাবলি, বিশ্বকোষ এবং কবিদের কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে তিনি যা পাঠ করেছেন তা হলো: আবুল ফারাজ আল-ইসফাহানির 'আল-আঘানি' এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুবররাদের 'আর-রাওদাহ', যেটিকে তিনি নিজের সংকলিত গ্রন্থ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে কবিদের কবিতা নির্বাচন করেছেন। তিনি এতে আবু নুওয়াসকে দিয়ে শুরু করেছেন, এরপর তাঁর সমসাময়িকদের এবং তাঁদের অনুসারীদের উল্লেখ করেছেন।

তেমনিভাবে তিনি ইবনে আবদ রাব্বিহির 'আল-ইকদুল ফারিদ', আবু তাম্মামের 'দিওয়ানুল হামাসাহ', আবু উসমান আল-জাহিজের 'আল-বায়ান ওয়াত তাবিঈন' পাঠ করেছেন। এছাড়াও তিনি 'মাকামাতে হারিরি', আবু ইসহাক আস-সাবির পত্রাবলি, আস-সাহিব ইবনে আব্বাদের পত্রাবলি, আবুল ফাতহ ইবনে জিন্নির লেখা মুতানাব্বির কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা, আবুল আলা আল-মাআররির 'লুযুমু মা লা ইয়ালযাম' ও তাঁর 'মুজিজু আহমদ' পাঠ করেছেন। পাশাপাশি তিনি 'আন-নাকায়িদ' এবং ফারাজদাক, আবু তাম্মাম, মুতানাব্বি ও আবু নুওয়াসের কাব্যগ্রন্থ পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ১৬)
والبحتري، وابن الرومي، وكشاجم، وديك الجن، وأبي العتاهية، والعباس بن الأحنف … إلخ.

6- أما كتب البلاغة والبيان فقد قرأ أمهاتها، وأفاد منها، ونقدها، قال في خطبة المثل السائر: وقد ألف الناس فيه -علم البيان- كتبًا، وجلبوا ذهبًا، وحطبوا حطبًا، وما من تأليف إلّا وقد تصفحت شينه وسينه، وعلمت غثَّه وسمينه، فلم أجد ما ينتفع به في ذلك إلّا كتاب "الموازنة" لأبي القاسم الحسن بن بشر الآمدي، وكتاب "سر الفصاحة" لأبي محمد عبد الله بن سنان الخفاجي1.

وقال في خطبة: "الجامع الكبير" بعد كلامه في أهمية علم البيان، وصعوبة مرامه: "فشرعت عند ذلك في تطلبه، والبحث عن تصانيفه وكتبه، فلم أترك في تحصيله سبيلًا إلّا نهجته، ولا غادرت في إدراكه بابًا إلا ولجته، حتى اتَّضح عندي باديه وخافيه، وانكشفت لي أقوال الأئمة المشهورين فيه، كأبي الحسن علي بن عيسى الرماني، وأبي القاسم بن بشر الآمدي، وأبي عثمان الجاحظ، وقدامة بن جعفر الكاتب، وأبي هلال العسكري، وأبي العلاء محمد بن غانم المعروف بالغانميّ، وأبي محمد عبد الله بن سنان الخفاجي، وغيرهم ممن له كتاب يشار إليه، وقول تعقد الخناصر عليه2.

وأشهر كتب هؤلاء الأعلام التي تَتَّصل بهذا الفن هي النكت في إعجاز القرآن للرماني، والموازنة بين أبي تمام والبحتري للآمدي، والبيان والتبيين للجاحظ، وكتاب نقد الشعر، وكتاب الخراج وصناعة الكتابة، وكتاب جواهر الألفاظ، ثلاثتها لقدامة بن جعفر، وكتاب الصناعتين لأبي هلال العسكري، وكتاب صناعة الشعر للغانميّ، وكتاب سر الفصاحة لابن سنان الخفاجي.

كما قرأ وأفاد من كتاب البديع الذي ألَّفه عبد الله بن المعتز، وكتاب الوساطة بين المتنبي وخصومه للقاضي أبي الحسن علي بن عبد العزيز الجرجاني، وكتاب حلية المحاضرة للحاتميّ، وكتاب دلائل الإعجاز وأسرار البلاغة لعبد القاهر الجرجاني،

--------------------------------------------

1 انظر صفحة "32" من هذه الطبعة.

2 الجامع الكبير في صناعة المنظوم من الكلام والمنثور، تحقيق الدكتور مصطفى جواد والدكتور جميل سعيد: ص2، مطبعة المجمع العلمي العراقي، بغداد 1375هـ.
এবং আল-বুহতুহী, ইবনে রুমি, কুশাজিম, দিক আল-জিন, আবুল আতাহিয়া এবং আল-আব্বাস ইবনুল আহনাফ ... ইত্যাদি।

৬- অলংকারশাস্ত্র (বালাঘাত) ও বর্ণনাশৈলী (বয়ান) সংক্রান্ত গ্রন্থাবলির ক্ষেত্রে তিনি এগুলোর মূল উৎসগ্রন্থসমূহ পাঠ করেছেন, সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং সেগুলোর সমালোচনা করেছেন। তিনি 'আল-মাছালুস সা’ইর' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "মানুষ এই বিষয়ে—অর্থাৎ বর্ণনাশৈলী (বয়ান) বিজ্ঞানে—অনেক গ্রন্থ রচনা করেছে, প্রচুর সম্পদ আহরণ করেছে এবং বিস্তর পরিশ্রম করেছে। এমন কোনো রচনা নেই যা আমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করিনি এবং এর দোষ-গুণ ও অসারতা ও সারবত্তা সম্পর্কে অবগত হইনি। এই বিষয়ে আমি আবু কাসিম হাসান ইবনে বিশর আল-আমীদির 'আল-মুওয়াযানা' এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে সিনান আল-খাফাজির 'সিররুল ফাসাহা'১ গ্রন্থ দুটি ছাড়া অন্য কিছুতে বিশেষ কোনো উপকারিতা পাইনি।"

তিনি 'আল-জামি আল-কবীর' গ্রন্থের ভূমিকায় বর্ণনাশৈলী বিজ্ঞানের গুরুত্ব এবং এর লক্ষ্য অর্জনের কাঠিন্য নিয়ে আলোচনার পর বলেন: "অতঃপর আমি এটি অন্বেষণে এবং এর বিভিন্ন রচনা ও গ্রন্থাবলি অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হলাম। এটি অর্জনের কোনো পথই আমি বাকি রাখিনি যা আমি অতিক্রম করিনি, এবং এর জ্ঞান লাভে কোনো দরজাই অবশিষ্ট রাখিনি যাতে আমি প্রবেশ করিনি। শেষ পর্যন্ত এর প্রকাশ্য ও গোপন সব বিষয় আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল এবং এতে প্রসিদ্ধ ইমামদের বক্তব্যসমূহ আমার নিকট উন্মোচিত হলো, যেমন আবু হাসান আলী ইবনে ঈসা আর-রুম্মানি, আবু কাসিম ইবনে বিশর আল-আমীদি, আবু উসমান আল-জাহিজ, কুদামা ইবনে জাফর আল-কাতিব, আবু হিলাল আল-আসকারি, আবু আল-আলা মুহাম্মদ ইবনে গানিম—যিনি আল-গানিমী নামে পরিচিত, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে সিনান আল-খাফাজি এবং তাঁদের ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ যাদের গ্রন্থাবলির প্রতি ইঙ্গিত করা হয় এবং যাদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা হয়২।"

এই মহান মনীষীদের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ যা এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেগুলো হলো: রুম্মানির 'আন-নুকাতে ফি ই’জাযিল কুরআন', আমীদির 'আল-মুওয়াযানা বাইনা আবি তাম্মাম ওয়াল বুহতুহী', জাহিজের 'আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন', কুদামা ইবনে জাফরের তিনটি গ্রন্থ যথা— 'নাকদুশ শির', 'আল-খারাজ ওয়া সিনাআতুল কিতাবা' এবং 'জাওয়াহিরুল আলফাজ', আবু হিলাল আল-আসকারির 'কিতাবুস সিনাআতাইনি', আল-গানিমীর 'সিনাআতুশ শির' এবং ইবনে সিনান আল-খাফাজির 'সিররুল ফাসাহা'।

এছাড়াও তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মু’তায রচিত 'আল-বাদি' গ্রন্থ, কাজী আবু হাসান আলী ইবনে আবদুল আজিজ আল-জুরজানি রচিত 'আল-ওয়াসাতাহ বাইনা আল-মুতানাব্বি ওয়া খুসুমিহি', আল-হাতিমি রচিত 'হিলইয়াতুল মুহাদারা', এবং আবদুল কাহের আল-জুরজানি রচিত 'দালাইলুল ই’জায' ও 'আসরারুল বালাগা' গ্রন্থসমূহ পাঠ করেছেন এবং সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন।

--------------------------------------------

১ এই সংস্করণের "৩২" নম্বর পৃষ্ঠা দেখুন।

২ আল-জামি আল-কবীর ফি সিনাআতিল মানযুম মিনাল কালাম ওয়াল মানসুর, ড. মুস্তফা জাওয়াদ ও ড. জামিল সাঈদ কর্তৃক সম্পাদিত: পৃষ্ঠা ২, আল-মাজমা আল-ইলমি আল-ইরাকি প্রেস, বাগদাদ ১৩৭৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومقدمة ابن أفلح البغدادي التي ذكر ابن الأثير أنه قصرها على تفصيل أقسام علم الفصاحة والبلاغة.

بهذه الثقافة بل بتلك الثقافات التي حصلها، والعقول التي سبر أغوارها، اقتحم ابن الأثير ميدان البحث البلاغي، فكان كتابه مجموعة من الأفكار المأثورة عن أولئك العلماء الأعلام مزجها بأفكاره، وبدت شخصيته واضحة مستقلة بين سمات تلك الشخصيات، ولم يكتف بأن يكون جامعًا أو ناقلًا، بل أراد أن يكون مؤلفًا في البلاغة، ورائدًا من روَّاد علم البيان، بما أضاف وصحَّحَ، وعاب ونقد.

ومن هنا كان المثل السائر لونًا متميزًا من ألوان التأليف في البيان العربي، واستطاع على الرغم من كثرة الآثار فيه، ووفرة الدراسات المتباينة في هذا الكتاب أن يكون مرجعًا من مراجع البلاغة العربية، ولا يستغني عنه باحث من الباحثين فيها.

وقد تأثَّر ابن الأثير في تلك الدراسة الخصبة التي نجدها في المثل السائر بعاملين مهمين؛ هما: العصر الذي عاش فيه، والفن الذي اشتغل به، ووصل به ما كان يشتهي من المنصب والجاه.

1- فقد وصل ابن الأثير إلى قمة مجده، وذروة نضجه، أخريات القرن السادس الهجري وشطرًا كبيرًا من القرن السابع، فجاء بعد ازدهار البحوث البيانية ونضجها، واختلاف مناهج البحث، وتعدد الآراء في البيان، من رأى ينادي بتحكيم الذوق، إلى آخر يدعو إلى التقليد في النظر إلى الأدب، والحكم عليه إلى رأي ينادي بالموضوعية والمنهج العلمي، ويعنى بالتعريف والتنظيم وحصر الأقسام، إلى ذلك الأسلوب النقدي التحليلي النفسي الذي نراه في كتابي عبد القاهر: دلائل الإعجاز، وأسرار البلاغة، وما تميزا به من فكرة النظم التي تبناها عبد القاهر، وأرسى قواعدها في النقد والنظر إلى البيان، وما نادى به من النظرة الكلية للأدب والانتصار للمعنى.

بل رأينا ما هو أكثر من ذلك: رأينا الصورة النهائية للبلاغة العربية قد تَمَّ وضعها
এবং ইবন আফলাহ আল-বাগদাদীর মুকাদ্দিমাহ, যার সম্পর্কে ইবনুল আসির উল্লেখ করেছেন যে তিনি এটিকে অলঙ্কারশাস্ত্র (ফাসাহাত) এবং ভাষালঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) বিভিন্ন বিভাগ বিস্তারিতভাবে বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

এই জ্ঞানতত্ত্ব বা বরং তিনি যা অর্জন করেছিলেন সেই সকল জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি এবং যে সকল প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের চিন্তার গভীরতা তিনি পরিমাপ করেছিলেন, তার মাধ্যমে ইবনুল আসির অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণার ময়দানে প্রবেশ করেন। ফলশ্রুতিতে তার গ্রন্থটি সেই সকল প্রখ্যাত আলেমদের থেকে বর্ণিত চিন্তাধারার একটি সংকলনে পরিণত হয়, যা তিনি নিজের চিন্তার সাথে মিশ্রিত করেছিলেন। সেই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বৈশিষ্ট্যের মাঝে তার নিজস্ব ব্যক্তিত্ব সুস্পষ্ট ও স্বতন্ত্রভাবে ফুটে ওঠে। তিনি কেবল একজন সংকলক বা বর্ণনাকারী হয়েই সন্তুষ্ট থাকেননি, বরং যা তিনি যোগ করেছেন, সংশোধন করেছেন এবং ত্রুটি নির্দেশ ও সমালোচনা করেছেন তার মাধ্যমে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রে একজন লেখক এবং ইলমুল বয়ানের অন্যতম পথিকৃৎ হতে চেয়েছিলেন।

এই প্রেক্ষাপটে 'আল-মাসালুস সা’ইর' আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রে রচনার এক অনন্য ধারায় পরিণত হয়েছে। এতে পূর্ববর্তী রচনার আধিক্য এবং এই গ্রন্থ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের গবেষণার প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও এটি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যতম প্রধান মডেলে পরিণত হতে সক্ষম হয়েছে এবং এই বিষয়ের কোনো গবেষকই এটি বাদ দিয়ে চলতে পারেন না।

ইবনুল আসির তার সেই সমৃদ্ধ গবেষণায়, যা আমরা 'আল-মাসালুস সা’ইর'-এ দেখতে পাই, দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন; সেগুলো হলো: তিনি যে যুগে বাস করতেন এবং যে শিল্প বা শাস্ত্র নিয়ে তিনি কাজ করেছিলেন এবং যার মাধ্যমে তিনি তার কাঙ্ক্ষিত পদমর্যাদা ও সম্মান লাভ করেছিলেন।

১- ইবনুল আসির তার গৌরবের শিখরে এবং পরিপক্কতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে এবং সপ্তম শতাব্দীর একটি বড় অংশ জুড়ে। ফলে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণার সমৃদ্ধি ও পরিপক্কতা, গবেষণার পদ্ধতির ভিন্নতা এবং বয়ানশাস্ত্রে মতামতের বৈচিত্র্যের পরে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তখন রুচিবোধের বিচারের আহ্বানকারী মতবাদ থেকে শুরু করে সাহিত্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে অন্ধ অনুকরণের আহ্বানকারী মতবাদ ছিল; আবার বস্তুনিষ্ঠতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আহ্বানকারী মতবাদও ছিল, যা সংজ্ঞা প্রদান, বিন্যাস এবং বিভাগগুলো সীমাবদ্ধ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করত। এছাড়া সেই সমালোচনামূলক বিশ্লেষণধর্মী মনস্তাত্ত্বিক শৈলীও বিদ্যমান ছিল যা আমরা আব্দুল কাহিরের দুটি গ্রন্থে দেখতে পাই: 'দালাইলুল ই'জাজ' এবং 'আসরারুল বালাগাত'। এই গ্রন্থদ্বয় আব্দুল কাহিরের গৃহীত 'নাজম' (বিন্যাস) তত্ত্বের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল, যার মাধ্যমে তিনি সমালোচনা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে নিয়মাবলী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সাহিত্যের প্রতি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অর্থের শ্রেষ্ঠত্বের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন তাও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বরং আমরা তার চেয়েও বেশি কিছু দেখতে পেয়েছি: আমরা দেখতে পেয়েছি যে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ১৮)
على يد السكاكي في كتابه المشهور، مفتاح العلوم، الذي نظَّم دراسة البلاغة، وقنَّنَ لها، وقسمها إلى علومها، وحدَّد مباحث كل فنٍّ منها.

2- وكذلك كان ابن الأثير كاتبًا من كتاب الدواوين، كتب للقاضي الفاضل في دولة صلاح الدين، كما كتب لأولاد صلاح الدين من بعده، والذي يعرف أساليب الكتابة في ذلك العصر الذي عمل فيه ابن الأثير يعرف أنها كانت تمتاز امتيازًا ظاهرًا بلزوم السجع واستعمال الجناس وبعض أنواع البديع واستخدام معاني الشعر وألفاظه في كتابه الرسائل، بحلِّ الأبيات السائرة والحكم المأثورة، حتى كادت الرسائل تكون شعرًا منثورًا، والاقتباس من كلام البلغاء، وتضمين الأفذاذ من أبيات الشعراء، ولما نبَّه شأن القاضي الفاضل أراد أن يحاكي كتاب المشارقة في البديع، فزاد عليهم وأربى، وجاراهم في التزام السجع والجناس والطباق، وزاد عليهم أن استعمل في رسالة كل أنواع البديع التي كانت فاشية وقتئذ في الشعر، كالتورية والاستخدام والتلميح وغيرها، وأكثر من حل المنظوم، والاقتباس من الآيات، وتضمين الأمثال ومشهور الأقوال، وأمعن في التشبيه والاستعارة حتى جاءت معاني رسائله منقادة لألفاظها وأساليبها.

وقد كانت هاتان الناحيتان عظيمتا الأثر في ابن الأثير، وفي إدركه لمعنى البيان، كما تصوره في المثل السائر.

تكلم ابن الأثير في خطبة كتابه عن أهمية علم البيان، وذكر أن منزلته في تأليف النَّظْمِ والنثر بمنزلة أصول الفقه للأحكام وأدلة الأحكام.

ويبدو من أول كلامه أنه رجل كثير الاعتداد بنفسه، والتباهي بعلمه، وكثيرًا ما جرَّه هذا الاعتداد إلى انتقاص غيره من الباحثين فيما بحث فيه، فقد ذكر أن الذين ألفوا في البيان من قبله ألفوا كتبًا، وجلبوا ذهبًا، وحطبوا حطبًا، وما من تأليف إلّا وقد تصفَّحه، وعلم غثَّه وسمينه، ثم لم يجد ما ينتفع به في ذلك إلا كتاب "الموازنة" للآمدي، وكتاب "سر الفصاحة" للخفاجي، والكتاب الأول هو الذي حظي بإعجابه، لأنه -كما يقول: أجمع أصولًا وأجدى محصولًا، مع أن المناسبة بين
সাক্কাকীর হাত ধরে তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'মিফতাহুল উলুম'-এর মাধ্যমে, যা অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) অধ্যয়নকে বিন্যস্ত করেছে, এর জন্য নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করেছে, একে এর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে বিভক্ত করেছে এবং এর প্রতিটি শিল্পের আলোচ্য বিষয়সমূহ নির্দিষ্ট করেছে।

২- একইভাবে ইবনুল আসীর ছিলেন সরকারি দপ্তরের একজন লেখক, যিনি সালাহউদ্দিনের শাসনকালে কাযী আল-ফাদিলের অধীনে লিখতেন এবং পরবর্তীতে সালাহউদ্দিনের সন্তানদের জন্যও লিখেছেন। যে ব্যক্তি ইবনুল আসীরের কর্মকালের রচনারীতি সম্পর্কে অবগত, সে জানে যে সেই যুগের রচনাগুলো স্পষ্টভাবেই অন্ত্যমিল (সাজ') বজায় রাখা, শব্দালঙ্কার (জিনাস) ও বাদি' শাস্ত্রের কিছু প্রকারের ব্যবহার এবং পত্রাবলি (রাসাইল) লিখন পদ্ধতিতে কবিতার অর্থ ও শব্দের ব্যবহারের জন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিল। এতে প্রচলিত কাব্য পঙক্তি ও প্রবাদবাক্যের গদ্যরূপ দেওয়া হতো, যার ফলে পত্রগুলো যেন গদ্য-কবিতায় রূপ নিত। এছাড়া এতে প্রাঞ্জলভাষীদের বাণী থেকে উদ্ধৃতি প্রদান এবং কবিদের অনন্য পঙক্তিগুলোর অন্তর্ভুক্তি ঘটানো হতো। যখন কাযী আল-ফাদিলের মর্যাদা উচ্চকিত হলো, তখন তিনি 'বাদি' শাস্ত্রে প্রাচ্যের লেখকদের অনুকরণ করতে চাইলেন; ফলে তিনি তাঁদের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন এবং তাঁদের ছাড়িয়ে গেলেন। অন্ত্যমিল (সাজ'), শব্দালঙ্কার (জিনাস) এবং বৈপরীত্য (তিবাক) বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি তাঁদের সাথে পাল্লা দিয়েছেন। অধিকন্তু, তিনি প্রতিটি পত্রে সেই সময়ের কবিতায় প্রচলিত সব ধরণের অলঙ্কার ব্যবহার করেছেন, যেমন: দ্ব্যর্থবোধকতা (তাওরিয়া), ইস্তিখদাম, ইঙ্গিত (তালমিহ) ইত্যাদি। তিনি পদ্যাংশকে গদ্যে রূপান্তর করা, আয়াত থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ, প্রবাদ ও প্রসিদ্ধ উক্তিগুলোর ব্যবহার অত্যধিক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি রূপক (তাশবিহ) ও উৎপ্রেক্ষার (ইস্তি’আরা) গভীরতায় এমনভাবে প্রবেশ করেছিলেন যে, তাঁর পত্রগুলোর বিষয়বস্তু তাঁর ব্যবহৃত শব্দ ও রীতির অনুগত হয়ে গিয়েছিল।

এই দুটি দিক ইবনুল আসীরের উপর এবং 'বায়ান' শাস্ত্রের অর্থ উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল, যা তিনি তাঁর 'আল-মাসালুস সা’ইর' গ্রন্থে চিত্রায়িত করেছেন।

ইবনুল আসীর তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় অলঙ্কারশাস্ত্রের (ইলমুল বায়ান) গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, পদ্য ও গদ্য রচনার ক্ষেত্রে এর অবস্থান ঠিক তেমনই, যেমনটি বিধিবিধান এবং এর দলীলসমূহের ক্ষেত্রে উসূলে ফিকহের অবস্থান।

তাঁর আলোচনার শুরু থেকেই এটা স্পষ্ট হয় যে, তিনি অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয়ী এবং নিজের জ্ঞান নিয়ে গর্ববোধ করতেন। আর এই আত্মবিশ্বাস প্রায়শই তাঁকে সেসব গবেষকদের অবমূল্যায়ন করতে প্ররোচিত করত যারা তাঁর আলোচিত বিষয়ে কাজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পূর্বে যারা বায়ান শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন তারা বই লিখেছেন, সোনা আহরণ করেছেন এবং কাষ্ঠ সংগ্রহ করেছেন (অর্থাৎ নানা মানের কাজ করেছেন)। এমন কোনো রচনা নেই যা তিনি পাঠ করেননি এবং সেগুলোর অসার ও সারবস্তু সম্পর্কে অবগত হননি। তবে এক্ষেত্রে তিনি আমেদী-র 'আল-মুওয়াজানা' এবং খাফাজী-র 'সিররুল ফাসাহাহ' গ্রন্থ ছাড়া অন্য কিছুতে বিশেষ কোনো উপকার পাননি। প্রথম গ্রন্থটিই তাঁর প্রশংসা কুড়িয়েছে, কারণ তাঁর ভাষায়: এটি মূলনীতিগত দিক থেকে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ এবং ফলপ্রসূতার দিক থেকে অধিক কার্যকর। যদিও এ দুটির মধ্যে সামঞ্জস্য...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ১৯)
الكتابين بعيدة، لأن كتاب الآمدي يعرض للشاعرين أبي تمام والبحتري، ويعرض شعرهما، ويوازن بينهما، ويعرض أقوال الأنصار والخصوم فيهما.

أما كتاب الخفاجيّ فإنه يبحث بحثًا عامًّا في أصول الفصاحة والبلاغة والبيان، بما بحث عن أسرارها ودرس من فنونها.

وقد عاب ابن الأثير كتاب سر الفصاحة بأن صاحبه أكثر مما قلَّ به مقدار كتابه من ذكر الأصوات والحروف والكلام عليها، ومن الكلام على اللفظة المقررة، وصفاتها مما لا حاجة إلى ذكره.

ولا يقنع من ذلك إلّا بأن يعود فيعيب الكتابين معًا، فيصفهما بأنهما قد أهملا من علم البيان أبوابًا، وربما ذكرا في بعض المواضع قشورًا أو تركا لبابًا!

وشبيه بهذا الانتقاص وصفه لمقدمة ابن أفلح البغدادي في قوله: ووقعت على كتاب يقال له: "مقدمة ابن أفلح البغدادي" قد قصرها على تفصيل أقسام علم الفصاحة والبلاغة، وللعراقيين بها عناية، وهم واصفون لها، ومكبول عليها، ولما تأمَّلتها وجدتها قشورًا لا لبَّ تحتها؛ لأن غاية ما عند الرجل أن يقول: وأما الفصاحة فإنها كقول النابغة مثلًا، أو كقول الأعشى، أو غيرهما، ثم يذكر بيتًا من الشعر أو أبياتًا، وما بهذا نعرف حقيقة الفصاحة، حتى إذا وردت في كلام عرفنا أنه فصيح، بما عرفنا من حقيقتها الموجودة فيه، وكذلك يقول في غير الفصاحة.

ويذكر في موضع آخر أنه عثر على ضروب كثيرة من البيان في القرآن الكريم، وأنه لم يجد أحد تقدمه تعرض لذكر شيء منها، وهي إن عدت كانت في علم البيان بمقدار شطره، وإذا نظر إلى فوائد وجدت محتوية عليه بأسره، وأن الله هداه لابتداع أشياء لم تكن من قبله مبتدعة، ومنحه درجة الاجتهاد التي لا تكون أقوالها تابعة، وإنما هي متبعة.

وأمثال هذا كثير في ثنايا المثل السائر الذي زيَّف فيه كثيرًا من آراء العلماء والبلاغيين والنقاد، وقد سبقت إشارات إلى حملاته على الأدباء والكُتَّاب ليبني على هذا الانتقاص إعجابه بنفسه، وزهوه بفنه، وإن كان في هذا الزهو شيء من الصدق، إلّا أن أخلاق العلماء وما اختصوا به من فضيلة التواضع يأبى إقراره على كل ما ذهب إليه في هذا الموضع وغيره.
দুই কিতাবের মধ্যে ব্যবধান অনেক; কারণ আমেদির কিতাব আবু তাম্মাম ও বুহতুরি—এই দুই কবির কাব্য নিয়ে আলোচনা করে, তাঁদের কবিতা উপস্থাপন করে, তাঁদের মধ্যে তুলনা করে এবং তাঁদের সম্পর্কে সমর্থক ও বিরোধীদের বক্তব্য তুলে ধরে।

পক্ষান্তরে খাফাজির কিতাবটি ফাসাহাত, বালাগাত ও বায়ানের মূলনীতিসমূহ নিয়ে একটি সাধারণ গবেষণা পরিচালনা করে, যার মাধ্যমে তিনি এর রহস্যসমূহ উদ্ঘাটন করেছেন এবং এর বিভিন্ন শিল্প নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন।

ইবনুল আসির 'সিররুল ফাসাহাহ' কিতাবটির এই মর্মে সমালোচনা করেছেন যে, এর লেখক ধ্বনি, বর্ণ ও সেগুলো নিয়ে আলোচনা এবং প্রচলিত শব্দের ব্যবহার ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহের বর্ণনায় এমন কিছু বিষয়ের অবতারণা করে কিতাবের কলেবর বৃদ্ধি করেছেন, যার বর্ণনার কোনো প্রয়োজন ছিল না।

তিনি এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং পুনরায় ফিরে এসে উভয় কিতাবেরই দোষ বর্ণনা করেছেন; তিনি সেগুলোকে এই বলে অভিহিত করেছেন যে, কিতাব দুটিতে ইলমুল বায়ানের অনেক অধ্যায় উপেক্ষা করা হয়েছে এবং কোনো কোনো স্থানে সম্ভবত তাঁরা কেবল বাহ্যিক বিষয় আলোচনা করেছেন অথবা মূল নির্যাস বর্জন করেছেন!

এই অবমূল্যায়নেরই অনুরূপ হলো ইবনে আফলাহ আল-বাগদাদির মুকাদ্দিমা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, যেখানে তিনি বলেন: "আমি 'মুকাদ্দিমা ইবনে আফলাহ আল-বাগদাদি' নামক একটি কিতাব পেয়েছি, যা তিনি ফাসাহাত ও বালাগাতের প্রকারভেদের বিস্তারিত বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। ইরাকিদের কাছে এর গুরুত্ব রয়েছে, তারা এর প্রশংসা করে এবং এর ওপর নিবিষ্ট থাকে। কিন্তু যখন আমি এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন একে সারবত্তাহীন কেবল খোসা ছাড়া আর কিছুই পেলাম না। কারণ সেই ব্যক্তির সর্বোচ্চ দৌড় হলো কেবল এই বলা যে: ফাসাহাত হলো যেমন উদাহরণস্বরূপ নাবিগার উক্তি, অথবা আ’শার উক্তি বা অন্য কারো উক্তি। এরপর তিনি কাব্যের একটি বা একাধিক পঙক্তি উল্লেখ করেন। কিন্তু এর মাধ্যমে আমরা ফাসাহাতের প্রকৃত স্বরূপ জানতে পারি না, যাতে করে কোনো বক্তব্যে এটি প্রযুক্ত হলে আমরা বুঝতে পারি যে সেটি ফাসাহাতপূর্ণ—যেহেতু আমরা তার মাঝে বিদ্যমান স্বরূপ সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ফাসাহাত ব্যতীত অন্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও তিনি অনুরূপ বলেন।"

তিনি অন্য এক স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি পবিত্র কুরআনে বায়ানের অনেক প্রকার বা বৈচিত্র্য খুঁজে পেয়েছেন এবং তাঁর পূর্বে অন্য কাউকে তিনি পাননি যিনি এগুলোর কোনো একটি নিয়েও আলোচনা করেছেন। এগুলো যদি গণনা করা হয় তবে তা ইলমুল বায়ানের অর্ধেক পরিমাণ হবে এবং যদি এর উপকারিতার দিকে লক্ষ্য করা হয় তবে দেখা যাবে এটি সম্পূর্ণ ইলমুল বায়ানকেই পরিবেষ্টন করে আছে। আল্লাহ তাঁকে এমন কিছু অভিনব বিষয় উদ্ভাবনের তাওফিক দিয়েছেন যা তাঁর পূর্বে কেউ উদ্ভাবন করেনি এবং তাঁকে ইজতিহাদের এমন এক মর্যাদা দান করেছেন যার বক্তব্যসমূহ অন্য কারো অনুসারী নয়, বরং তা অনুসরণের যোগ্য।

'আল-মাসালুস সায়ির' কিতাবের পরতে পরতে এই জাতীয় উদাহরণ প্রচুর রয়েছে, যেখানে তিনি আলেম, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ ও সমালোচকদের অনেক মতামতের অসারতা প্রতিপন্ন করেছেন। সাহিত্যিক ও লেখকদের ওপর তাঁর এই আক্রমণের ইঙ্গিত ইতিপূর্বে দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি এই অবমূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে নিজের প্রতি আত্মমুগ্ধতা ও নিজের শিল্পের বড়ত্ব প্রকাশ করতে পারেন। যদিও এই দম্ভের মধ্যে সত্যের কিছুটা ছোঁয়া আছে, তবুও ওলামায়ে কেরামের আখলাক এবং তাঁদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য 'বিনয়' এই স্থান বা অন্য কোথাও তাঁর সকল বক্তব্যের সাথে একমত হতে বাধা দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ২০)
ولقد عرف كتاب "المثل السائر" في بيئات الثقافة العربية على أنه كتاب أدب، وعُرِفَ كذلك على أنه كتاب في أصول البلاغة العربية أحيانًا، وعلى أنه كتاب في النقد الأدبي أيضًا.

وكان الذين عدَّوا المثل السائر كتاب أدب على حقٍّ، لأنهم وجدوا أنفسهم أمام دراسة خصبة في صناعة الأدب، وفي أشهر فنونه، وهي فنّ الشعر وفن الكتابة، ووجدوا فيه أصول للأدب تجمع صفاته، وتعرف بأركانه، وإشارات إلى عدد كبير من الأدباء الذين عرفهم تاريخ الأمة العربية، ونصوصًا من المنظوم والمنثور تمثل عصوره المختلفة، واتجاهاته المتباينة.

وكان الذين عدوا هذا الكتاب من كتب النقد على حق أيضًا؛ لأنهم رأوه يفيض بكثير من الفكر والآراء الحرة في الأدب والأدباء، ولم يسلم من نقد ابن الأثير كثير من فحول الشعراء الذين يعرفهم تاريخ الأدب العربي بالإجلال والإكبار، كامرئ القيس، وتأبط شرًّا، والفرزدق، وأبي نواس وأبي تمام، وأبي الطيب المتنبي، وغيرهم من كبار شعراء العربية.

وفي كثير من الأحيان نجد نقدًا موضوعيًّا، وفي كثير من الأحيان أيضًا نرى ابن الأثير لا يكتفي في النقد الأدبي بحكم المعرفة المستنيرة، بل يكبر من حكم الذوق السليم الذي يرى أنه أكبر من حكم القاعدة الموضوعية والمعرفة المحدودة، ويشجِّع على تربية هذا الذوق بكثرة القراءة ومداومة الاطلاع، فتراه يقول بالرغم من اعتداده بنفسه، والزهو بتأليفه: اعلم أيها الناظر في كتابي أن مدار علم البيان على حكم الذوق السليم الذي هو أنفع من ذوق التعليم، وهذا الكتاب إن كان فيما يلقيه إليك أستاذًا، وإذا سألت عمَّا ينتفع به في فنه قيل لك هذا! فإن الدربة والإدمان أجدى عليك نفعًا، وأهدى بصرًا وسمعًا، وهما يريانك الخبر عيانًا، ويجعلان عسرك من القول إمكانًا، وكل جارحة منك قلبًا ولسانًا، فخد من هذا الكتاب ما أعطاك، واستنبط بإدمانك ما أخطاك، وما مثلي فيما مهدته لك من هذا الطريق إلا كمن طبع سيفًا، ووضعه في يمينك لتقاتل به، وليس عليه أن يخلق لك قلبًا، فإن حمل النصال غير مباشرة القتال!.

ثم إن هذا الكتاب معدود من أمهات الكتب في البلاغة العربية، ومرجعًا من أهم
"আল-মাসালুস সাঈর" কিতাবটি আরব সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে একটি সাহিত্য গ্রন্থ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে, তেমনি এটি কখনো কখনো আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতির কিতাব হিসেবে এবং কখনো সাহিত্য সমালোচনার কিতাব হিসেবেও পরিচিত হয়েছে।

যারা "আল-মাসালুস সাঈর"-কে সাহিত্যের কিতাব হিসেবে গণ্য করেছেন তারা সঠিক ছিলেন; কারণ তারা এতে সাহিত্য নির্মাণ এবং এর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ শাখা অর্থাৎ কাব্য ও গদ্য শিল্পের ওপর একটি সমৃদ্ধ গবেষণা খুঁজে পেয়েছেন। তারা এতে সাহিত্যের এমন সব মূলনীতি খুঁজে পেয়েছেন যা এর গুণাবলিকে সংহত করে এবং এর স্তম্ভগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়। সেই সাথে এখানে আরব জাতির ইতিহাসের অসংখ্য প্রথিতযশা সাহিত্যিকের উল্লেখ এবং বিভিন্ন যুগের ও ভিন্ন ভিন্ন ধারার প্রতিনিধিত্বকারী পদ্য ও গদ্যের পাঠ্যসমূহ বিদ্যমান।

যারা এই কিতাবটিকে সমালোচনা শাস্ত্রের কিতাব হিসেবে গণ্য করেছেন তারাও সঠিক ছিলেন; কারণ তারা একে সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের সম্পর্কে প্রভূত চিন্তা ও স্বাধীন মতামতে ভরপুর হিসেবে দেখতে পেয়েছেন। ইবনুল আসিরের সমালোচনা থেকে এমন অনেক শ্রেষ্ঠ কবিও রেহাই পাননি যাদেরকে আরবি সাহিত্যের ইতিহাস গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করে, যেমন ইমরুল কায়েস, তায়াব্বাতা শাররান, আল-ফারাযদাক, আবু নুওয়াস, আবু তাম্মাম, আবু তাইয়্যেব আল-মুতানাব্বি এবং আরবি সাহিত্যের অন্যান্য মহান কবিগণ।

অনেক ক্ষেত্রে আমরা এখানে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা দেখতে পাই, আবার অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে, ইবনুল আসির সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে কেবল প্রজ্ঞালব্ধ জ্ঞানের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করেন না, বরং তিনি মার্জিত রুচিবোধের (যাওকে সালিম) সিদ্ধান্তকে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন এই রুচিবোধ বস্তুনিষ্ঠ নিয়ম বা সীমাবদ্ধ জ্ঞানের সিদ্ধান্তের চেয়েও বড়। তিনি প্রচুর পাঠ ও নিয়মিত অধ্যয়নের মাধ্যমে এই রুচিবোধ গড়ে তোলার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। নিজের ওপর অগাধ আত্মবিশ্বাস এবং নিজের রচনার প্রতি বিশেষ অনুরাগের পরেও তাকে বলতে দেখা যায়: "হে আমার কিতাবের পাঠক, জেনে রাখুন যে ইলমুল বয়ানের ভিত্তি হলো মার্জিত রুচিবোধের ওপর, যা নিছক শিক্ষালব্ধ রুচির চেয়েও অধিক ফলদায়ক। এই কিতাব যদি তার বিষয়বস্তুর বিচারে আপনার জন্য শিক্ষক স্বরূপ হয়, আর যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে এই বিদ্যায় কোন জিনিসটি ফলদায়ক, তখন যদি একেই (এই কিতাবকে) নির্দেশ করা হয়! তবে নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন ও মগ্নতাই আপনার জন্য অধিক উপকারী এবং আপনার দৃষ্টি ও শ্রুতির জন্য অধিক পথপ্রদর্শক হবে। এই নিরন্তর চর্চাই আপনাকে শ্রুত বিষয়কে চাক্ষুষ দেখাবে, আপনার বাচনভঙ্গির কাঠিন্যকে সহজলভ্য করবে এবং আপনার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কলব ও জবানে পরিণত করবে। সুতরাং এই কিতাব আপনাকে যা দান করেছে তা গ্রহণ করুন, আর আপনার মগ্নতার মাধ্যমে সেই বিষয়গুলো উদ্ভাবন করুন যা আমার থেকে বাদ পড়েছে। আমি আপনার জন্য এই যে পথটি সুগম করে দিয়েছি, তাতে আমার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে একটি তলোয়ার তৈরি করে তা আপনার ডান হাতে তুলে দিয়েছে যেন আপনি তা দিয়ে যুদ্ধ করতে পারেন; কিন্তু আপনার মধ্যে লড়াইয়ের অদম্য প্রাণশক্তি তৈরি করা তার দায়িত্ব নয়, কারণ তলোয়ার বহন করা আর সরাসরি যুদ্ধ করা এক কথা নয়!"

অতঃপর এই কিতাবটি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল কিতাবগুলোর (উম্মাহাতুল কুতুব) অন্তর্ভুক্ত এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ২১)
مراجعها، بما حوى من فنونها الكثيرة المنثورة في بطون الكتب المختلفة في موضوعاتها، المتباينة في مناهجها.

ويمتاز كتاب ابن الأثير من بين أكثر كتب البلاغة بأنه درس تلك الفنون دراستين:

إحداهما: دراسة قاعدية، عني فيها بالحدود والتعاريف وحصر الأقسام، وجمع فيها كل ما استطاع جمعه من معالمها التي اهتدى إليها الذين سبقوه إلى البحث البلاغي، وهو في كثير من المواضع يصحح أخطاءهم، ويضيف إلى تحديداتهم ما جعلها جامعة مانعة على الوجه الذي يهتدي إليه، وبالنظر الذي يهتدى به.

والأخرى: دراسة نقدية، وفيها ألمَّ بكثير من العيوب التي يقع فيها مستعملو تلك الفنون في أشعارهم أو خطبهم أو كتاباتهم.

ولذلك كان من الممكن أن يقال: إن ابن الأثير قد جمع في المثل السائر كثيرًا من أصول البلاغة العربية والنقد الأدبي، وأنه وحَّد هذين الفنين الجمالين، ومزجهما، وأعادهما إلى طبيعتها التي تنفر من الأسلوب القاعدي الجاف، وخلطهما بنصوص من الأدب وآراء فيه أكثرها جيد مصيب.

ومن جيد ما وفِّقَ إليه من النظرات الصائبة في هذا الكتاب محاولته التفريق بين مهمة البياني، ومهمة كل من النحوي واللغوي، ويقول في ذلك: إن موضوع علم البيان هو الفصاحة والبلاغة، ويسأل صاحب هذا العلم عن أحوالها اللفظية والمعنوية، ويشترك هو والنحوي أو اللغوي في أن الثاني ينظر في دلالته على المعاني من جهة الوضع اللغوي، وتلك دلالة عامة.

أما صاحب البيان فإن له نظرةً فوق هذه النظرة؛ لأنه ينظر في فضيلة تلك الدلالة، التي هي دلالة خاصة، والمراد بها أن يكون الكلام على هيئة مخصوصة من الحسن، وذلك أمر وراء اللغة والنحو والإعراب، ألا ترى أن النحو يفهم معنى الكلام المنظور والمنثور، ويعلم مواقع إعرابه، ومع ذلك فإنه لا يفهم ما فيه من أسرار الفصاحة والبلاغة؟ وهذا هو السر في خطأ مفسري الأشعار؛ لأنهم اقتصروا على شرح
এর সূত্রসমূহ, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে রচিত এবং ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির কিতাবসমূহের মাঝে ছড়িয়ে থাকা অলঙ্কারশাস্ত্রের অসংখ্য শিল্প বা কলা।

ইবনুল আসিরের কিতাবটি অলঙ্কারশাস্ত্রের অধিকাংশ কিতাবগুলোর মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যে অনন্য যে, তিনি এই শিল্পগুলোকে দুটি পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করেছেন:

প্রথমটি: তাত্ত্বিক অধ্যয়ন, যাতে তিনি সংজ্ঞা এবং প্রকারভেদ নির্ধারণ ও সীমিতকরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণায় তাঁর পূর্বসূরিরা যেসব নিদর্শনে পৌঁছেছিলেন, তিনি সেগুলোর মধ্যে যা সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল তা একত্রিত করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি তাদের ভুলগুলো সংশোধন করেছেন এবং তাদের সংজ্ঞার সাথে এমন কিছু যোগ করেছেন যা সেগুলোকে তাঁর নির্দেশিত ও অনুসৃত দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পরিপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট করে তুলেছে।

এবং অন্যটি: সমালোচনামূলক অধ্যয়ন, যাতে তিনি সেই সব ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন যা এই শিল্পসমূহ ব্যবহারকারীরা তাঁদের কবিতা, ভাষণ বা লেখায় ঘটিয়ে থাকেন।

তাই এটি বলা সম্ভব যে, ইবনুল আসির 'আল-মাসালুস সাইর' গ্রন্থে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাহিত্য সমালোচনার অনেক মূলনীতি একত্রিত করেছেন। তিনি এই দুটি সৌন্দর্যমণ্ডিত শিল্পকে একীভূত ও মিশ্রিত করেছেন এবং সেগুলোকে তাদের নিজস্ব প্রকৃতির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন যা শুষ্ক তাত্ত্বিক পদ্ধতিকে পরিহার করে। তিনি সেগুলোকে সাহিত্যের বিভিন্ন পাঠ এবং সাহিত্যের ওপর এমন কিছু মতামতের সাথে সংমিশ্রিত করেছেন যার অধিকাংশই চমৎকার ও সঠিক।

এই কিতাবে তাঁর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিগুলোর মধ্যে অন্যতম উত্তম বিষয় হলো অলঙ্কারবিদ এবং নাহুবিদ ও ভাষাবিদদের কাজের মধ্যে পার্থক্য করার প্রচেষ্টা। এ বিষয়ে তিনি বলেন: ইলমে বয়ানের আলোচ্য বিষয় হলো প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারিতা। এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞকে এর শব্দগত ও অর্থগত অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি নাহুবিদ বা ভাষাবিদের সাথে এক বিষয়ে অংশীদার হন যে, দ্বিতীয়জন (ভাষাবিদ) আভিধানিক কাঠামোর দিক থেকে অর্থের নির্দেশনার দিকে লক্ষ্য করেন, আর তা হলো একটি সাধারণ নির্দেশনা।

পক্ষান্তরে, অলঙ্কারবিদের দৃষ্টিভঙ্গি এর চেয়েও ঊর্ধ্বের; কারণ তিনি সেই নির্দেশনার শ্রেষ্ঠত্বের দিকে লক্ষ্য করেন, যা একটি বিশেষ নির্দেশনা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বক্তব্যটি সৌন্দর্যের একটি বিশেষ কাঠামোর ওপর হওয়া, যা ভাষা, নাহু এবং ইরাবের (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) ঊর্ধ্বের একটি বিষয়। আপনি কি দেখেন না যে, নাহুশাস্ত্র কবিতা ও গদ্যের অর্থ বোঝে এবং তার ব্যাকরণিক অবস্থানগুলো জানে, তবুও এটি তার মধ্যে নিহিত প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারিতার রহস্যগুলো বুঝতে পারে না? কবিতার ব্যাখ্যাকারীদের ভুলের রহস্য এখানেই; কারণ তারা কেবল ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ২২)
معناها، وما فيها من الكلمات اللغوية، وتبيين مواضع الإعراب منها، دون العناية بشرح ما تضمنته من أسرار الفصاحة والبلاغة.

وهذا كلام جيد؛ لأن ابن الأثير يفرِّق فيه بين أمرين هامين، ينبغي أن يكون التفريق بينهما أساسًا لفهم مهمة اللغوي أو النحوي، ومهمة الناقد أو صاحب البيان.

ذلك أن هناك علومًا تتخصَّص في البحث عن صحة العبارة، من حيث صحة مفرداتها، وصحة دلالتها على معانيها، وصحة التركيب الذي توضع فيه وضعًا صحيحًا على حسب ما يقتضي المعنى وفقًا لقواعد النحو والإعراب، وتلك مهمة علماء اللغة الذين يبحثون في بنية الكلمة، وفي دلالتها على معناها، طبقًا للوضع اللغوي، وفهم أصحاب اللغة لتلك الدلالة، وهي مهمة علماء النحو والإعراب الذين يبحثون في صحة ضبط كل لفظ في الجملة على حسب موقعه من العبارة ضبطًا يوافق ما جرى عليه العرب في ذلك الضبط، وما بنيت عليه قواعد النحو والإعراب التي استنبطها أولئك العلماء بالقياس على نهج العرب في كلامهم.

ثم إن هنالك علومًا أخرى لا تقف عند تلك المسائل التقليدية المعروفة، ولكنها تعالج النواحي الجمالية في الأعمال الأدبية على حسب التقاليد الفنية المعروفة التي استنَّها كبار الأدباء، والقواعد المستقاة من مظاهر الحسن التي توافرت للفن الأدبي المأثور عن أولئك الأدباء، نتيجة لطول المدارسة والموازنة بين نصٍّ ونصٍّ، وبين أديبٍ وأديبٍ، وتلك مهمة النقاد أو البلاغين، أو علماء البيان.

والنظرة الأولى من هاتين النظرتين عامة، تتناول العبارة المقولة، والعبارة المكتوبة بكل أنواعها، سواء أكانت تلك العبارة عبارة علمية تخاطب العقل، أم كانت عبارة أدبية تخاطب المشاعر، وتثير العاطفة والوجدان، وسواء أكانت في أعلى درجات السموِّ، أم كانت هابطة إلى مستوى لغة التفاهم التي تجري بين الناس، ولا تسموا عن العامية إلّا بصحة كلماتها، وسلامة تركيبها.

أما النظرة الأولى فإنها تختص بالعبارة الأدبية، أو الأسلوب الفني، الذي يعتمد عليه الشعر والخطابة، وسائر أساليب الكتابة الفنية.
এর অর্থ, এতে বিদ্যমান ভাষাগত শব্দসমূহ এবং এর ব্যাকরণগত অবস্থানের স্পষ্টীকরণ, তবে এর অন্তর্নিহিত সাবলীলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্যসমূহের ব্যাখ্যার প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে।

এটি একটি চমৎকার কথা; কেননা ইবনুল আসীর এতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, যে পার্থক্যটি ভাষাবিদ বা ব্যাকরণবিদ এবং সমালোচক বা অলঙ্কারবিদের কাজের পরিধি বোঝার ভিত্তি হওয়া উচিত।

কারণ এমন কিছু বিজ্ঞান রয়েছে যা বাক্যের বিশুদ্ধতা নিয়ে গবেষণায় বিশেষায়িত, যেমন- এর শব্দসমূহের সঠিকতা, অর্থের প্রতি তাদের নির্দেশনার সঠিকতা এবং বাক্যের গঠনের সঠিকতা, যেখানে অর্থ ও ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী শব্দগুলোকে যথাযথভাবে স্থাপন করা হয়। আর এটি হলো সেই সব ভাষাবিদদের কাজ যারা শব্দের গঠন এবং ভাষাগত মানদণ্ড অনুযায়ী তার অর্থের নির্দেশনার বিষয়ে গবেষণা করেন এবং ওই ভাষার পারদর্শীরা সেই নির্দেশনাকে যেভাবে বোঝেন তা নিয়ে কাজ করেন। এটি ব্যাকরণবিদদেরও কাজ যারা বাক্যে প্রতিটি শব্দের অবস্থানের প্রেক্ষিতে তার সঠিক স্বরচিহ্ন বা উচ্চারণের বিষয়ে গবেষণা করেন; এমন এক উচ্চারণ যা আরবদের অনুসৃত পদ্ধতির সাথে সংগতিপূর্ণ এবং যার ওপর ভিত্তি করে সেইসব আলেমগণ আরবদের বাকরীতির সাথে তুলনা করে ব্যাকরণ ও ই’রাবের নিয়মাবলী উদ্ভাবন করেছেন।

অতঃপর এমন আরও কিছু বিজ্ঞান রয়েছে যা কেবল এই প্রচলিত বিষয়গুলোতে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা সাহিত্যকর্মের নান্দনিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করে। এটি সেসব পরিচিত শৈল্পিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে করা হয় যা বড় বড় সাহিত্যিকগণ প্রবর্তন করেছেন এবং সেসব সৌন্দর্যের মাপকাঠি থেকে সংগৃহীত নিয়মাবলীর আলোকে করা হয় যা ওই সাহিত্যিকদের থেকে প্রাপ্ত সাহিত্যকর্মে বিদ্যমান ছিল। এটি দীর্ঘকালীন অধ্যয়ন এবং এক পাঠ্যের সাথে অন্য পাঠ্যের এবং এক সাহিত্যিকের সাথে অন্য সাহিত্যিকের তুলনার ফল। আর এটি হলো সমালোচক, অলঙ্কারবিদ বা বয়ান শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাজ।

এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে প্রথমটি হলো সাধারণ, যা সব ধরণের মৌখিক ও লিখিত বাক্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। চাই সেই বাক্যটি জ্ঞানভিত্তিক হোক যা বুদ্ধিকে সম্বোধন করে, অথবা সাহিত্যিক হোক যা অনুভূতিকে স্পর্শ করে এবং আবেগ ও চেতনাকে জাগ্রত করে। আবার তা অত্যন্ত উচ্চমার্গের হোক কিংবা মানুষের পারস্পরিক সাধারণ কথোপকথনের স্তরের হোক, যা কেবল শব্দের সঠিকতা এবং গঠনের শুদ্ধতার কারণেই আঞ্চলিকতা থেকে পৃথক থাকে।

আর প্রথম দৃষ্টিভঙ্গিটি সাহিত্যিক বাক্য বা শৈল্পিক রীতির সাথে বিশেষায়িত, যার ওপর কবিতা, বক্তৃতা এবং অন্যান্য শৈল্পিক লিখনশৈলী নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن تلك المسائل أيضًا، مما انفرد به ابن الأثير برأي، أنه في سبيل بحثه عن فصاحة اللفظة المفردة عرض للحوشي من الألفاظ الذي أنكره النقاد، وأجمعوا على إخلاله بالفصاحة، ولكن ضياء الدين يرى أن هذا الوحشي خفي على جماعة من المنتمين إلى صناعة النظم والنثر، وظنُّوه المستقبَح من الألفاظ، وليس كذلك، وذلك أن الوحشي منسوب إلى اسم الوحش الذي يسكن القفار، وليس بأنيس. وكذلك الألفاظ التي لم تكن مأنوسة الاستعمال، وليس من شرط الوحش أن يكون مستقبحًا، بل أن يكون نافرًا، فتارة يكون حسنًا، وتارة يكون قبيحًا.

ويبنى على هذا أن الوحشي ينقسم إلى قسمين:

أحدها الوحشي الذي جاءت إليه هذه الصفة من غرابته، وهو يختلف باختلاف النسب والإضافات.

وأما القسم الآخر من الوحشي فقبيح، والناس في استقباحه سواء، ولا يختلف فيه عربي باد، ولا قروي متحضر.

وعلى هذا يكون اللفظ عند ابن الأثير أنواعًا:

1- ما تداول استعماله الأول والآخر من الزمن القديم إلى زماننا هذا، ولا ينعت بالوحشية أو الحوشية، وهذا هو الحسن من الألفاظ.

2- وما تداول استعماله الأول دون الآخر، ويختلف في استعماله بالنسبة إلى الزمن وأهله، وهذا هو الذي لا يعاب استعماله عند العرب؛ لأنه لم يكن عندهم وحشيًّا، وهو عندنا وحشي.

3- الوحشي الغليظ، ويسمَّى أيضًا المتوعِّر، وليس وراءه في القبح درجة أخرى، ولا يستعمله إلّا أجهل الناس، ممن لم يخطر بباله شيء من معرفة هذا الفن، وإذا ورد كرهه السمع، وثقل على اللسان النطق به.

وإذا كان معنى الحوشي عند ابن الأثير هو الغريب، فإن العرب لا تلام على استعمال الغريب الحسن، وإنما تلام على استعمال الغريب القبيح.

وأما الحضري فإنه يلام على استعمال القسمين معًا، وهو في أحدهما أحق بالملاءمة من الآخر.
আর সেসব বিষয়ের মধ্যে এটিও একটি, যাতে ইবনুল আসীর একক অভিমত ব্যক্ত করেছেন; সেটি হলো, একক শব্দের প্রাঞ্জলতা অনুসন্ধানের পথে তিনি এমন সব অপ্রচলিত (হাওশী) শব্দের অবতারণা করেছেন যা সমালোচকগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁরা একমত হয়েছেন যে এগুলো প্রাঞ্জলতাকে ক্ষুণ্ণ করে। কিন্তু জিয়াউদ্দীন মনে করেন যে, এই অপ্রচলিত (ওয়াহশী) শব্দের বিষয়টি কাব্য ও গদ্য শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট একদল লোকের নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেছে এবং তাঁরা এগুলোকে মন্দ শব্দ বলে মনে করেছেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। কারণ 'ওয়াহশী' শব্দটি মূলত 'ওয়াহশ' (বন্য প্রাণী) এর সাথে সম্পর্কিত, যারা জনমানবহীন প্রান্তরে বাস করে এবং মানুষের সাথে পরিচিত নয়। অনুরূপভাবে ঐ সকল শব্দও যা ব্যবহারে সুপরিচিত নয়। আর কোনো শব্দ অপ্রচলিত হওয়ার জন্য তা কদর্য হওয়া শর্ত নয়, বরং তা কেবল অপরিচিত হওয়া। ফলে তা কখনো সুন্দর হতে পারে, আবার কখনো কদর্য হতে পারে।

এর ওপর ভিত্তি করে অপ্রচলিত শব্দ দুই ভাগে বিভক্ত হয়:

প্রথমটি হলো ঐ অপ্রচলিত শব্দ, যার মাঝে এই বৈশিষ্ট্য এসেছে তার অপরিচিত হওয়ার কারণে; আর এটি প্রেক্ষিত ও প্রাসঙ্গিকতার ভিন্নতায় ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

আর অপ্রচলিত শব্দের দ্বিতীয় প্রকারটি হলো কদর্য, যা মন্দ হওয়ার ব্যাপারে সকল মানুষই একমত; এক্ষেত্রে মরুচারী আরব হোক বা সভ্য নগরবাসী—কারো মাঝেই কোনো মতভেদ নেই।

এ অনুযায়ী ইবনুল আসীরের নিকট শব্দ কয়েক প্রকার:

১- যার ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং একে অপ্রচলিত বা দুর্ভেদ্য বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয় না; আর এগুলোই হলো উত্তম শব্দ।

২- যার ব্যবহার শুরুতে প্রচলিত ছিল কিন্তু পরবর্তীতে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সময় ও যুগের মানুষের প্রেক্ষিতে এর ব্যবহারে ভিন্নতা দেখা দেয়। আর এটি এমন শব্দ যার ব্যবহার আরবদের নিকট দোষণীয় ছিল না; কারণ তাদের নিকট এটি অপ্রচলিত ছিল না, যদিও আমাদের নিকট এটি অপ্রচলিত।

৩- কর্কশ অপ্রচলিত শব্দ, একে দুর্গম শব্দও বলা হয়। কদর্যতার দিক থেকে এর ঊর্ধ্বে আর কোনো পর্যায় নেই। এই শিল্প সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান রাখে না এমন চরম মূর্খ ব্যক্তি ব্যতীত কেউ এটি ব্যবহার করে না। যখন এই শব্দ উচ্চারিত হয়, শ্রবণকারী তা অপছন্দ করে এবং জিহ্বায় এর উচ্চারণ করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

ইবনুল আসীরের নিকট যেহেতু অপ্রচলিত শব্দের অর্থ হলো অপরিচিত, তাই আরবরা সুন্দর অপরিচিত শব্দ ব্যবহার করলে তাদের নিন্দা করা যাবে না, বরং কেবল কদর্য অপরিচিত শব্দ ব্যবহারের কারণেই তাদের নিন্দা করা হবে।

আর নগরবাসীদের ক্ষেত্রে এই উভয় প্রকার শব্দ ব্যবহারের জন্যই তাদের নিন্দা করা হবে, তবে একটির ক্ষেত্রে সে অন্যটির তুলনায় অধিক তিরস্কারের যোগ্য।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي هذا الكتاب أدلى ابن الأثير بكثير من الآراء النقدية التي لها اعتبارها في موازين النقد الأدبي، وتراه في كثير من الأحيان لا يرضى بآراء الغير، بل يبسط الرأي الذي يراه، والذي يتمشَّى مع ذوقه، والذي يساير -في أكثر الأحيان- الفكرة النقدية السليمة، التي لا يسع القارئ إلّا الإقرار بها والإذعان لها، والشهادة لابن الأثير بالذوق السليم، ومن ذلك هذا العيب الذي سماه أبو هلال العسكري "التضمين" وسماه قدامة بن جعفر "المبتور"، وهو أن يطول المعنى عن أن يحتمل العروض تمامه في بيت واحد، فيقطعه بالقافية، ويتمِّمُه في البيت الثاني.

وعند أبي هلال العسكري أن التضمين هو أن يكون الفصل الأول مفتقرًا إلى الفصل الثاني، والبيت الأول محتاجًا إلى الأخير.

ومرجع هذا العيب في نظرهم أن نقَّاد الشعر العربي قد درجوا على أن وحدة الشعر هي البيت لا القصيدة، ولهذا عدّوا احتياج البيت إلى ما بعده، ليتمم معناه عيبًا من العيوب التي يجب على الشاعر المجيد أن يتجنبها، وهم لا يقصرون هذا العيب على الشعر، بل يجملونه على النثر أيضًا، إذا كانت الفقرة التي تليها.

وهذا الاعتبار لا يخفى فساده؛ لأن القصيدة ينبغي أن تكون وحدة متماسكة، والحكم على الشعر أو الشاعر ببيت واحد لا يخلو من ظلم وتعسف، واحتجاجهم بأن خير الشعر ما كان البيت فيه قائمًا بنفسه، مستقلًّا عمَّا قبله وعمَّا بعده، حتى يكون كالمثل يصلح للاقتباس، ويصلح للاستشهاد، فيه خروج عن طبيعة الشعر الذي لا يتحرَّى الحكمة وإن كانت فيه، وإنما القصيدة من الشعر أو الفصل من النثر يحدث تأثيره بمجموعه الكلي، حين يحس القارئ أو السامع بالنشوة أو الطرب أو الانفعال، حين يتم قراءة القصيدة من الشعر، أو الفصل من النثر، وإلا فقد جوزنا للشاعر -حين نقصر النظر على البيت الواحد- أن يرضينا في بيت، وأن يسخطنا في تاليه، ويكون الأول في غاية الجودة، ويكون الثاني كذلك، من غير نظر إلى تتابع الأفكار وتناسق الصور، ولا بأس حينئذ بالتعارض أو التناقض على رأيهم.

نعم! قد يكون ذلك عيبًا إذا لم تتمّ الكلمة في البيت، وأتَمَّها الشاعر في البيت الثاني، كتلك الأبيات التي نقلها الخفاجي في سر الفصاحة، ووصفها بأنها قبيحة ظاهرة التكلف، أما احتياج بعض الكلام إلى بعض فلا عيب فيه، بل هو دليل
এই গ্রন্থে ইবনুল আসীর অনেক সমালোচনামূলক মতামতের অবতারণা করেছেন, যেগুলোর সাহিত্য সমালোচনার মানদণ্ডে যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আপনি তাকে প্রায়শই অন্যের মতামতে সন্তুষ্ট হতে দেখবেন না, বরং তিনি নিজের সেই অভিমতকে বিস্তারিত তুলে ধরেন যা তার রুচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা অধিকাংশ সময় সঠিক সমালোচনামূলক চিন্তাধারার অনুগামী হয়। পাঠক এটি স্বীকার ও মেনে নিতে বাধ্য হন এবং ইবনুল আসীরের সূক্ষ্ম রুচিবোধের সাক্ষ্য প্রদান করেন। এরই একটি উদাহরণ হলো সেই দোষ, যাকে আবু হিলাল আল-আসকারি "তাদমিন" এবং কুদামা ইবনে জাফর "আল-মাবতুর" নামে অভিহিত করেছেন। তা হলো কোনো ভাব বা অর্থ একটি মাত্র পঙ্ক্তির ছন্দোবদ্ধ সীমানার চেয়ে দীর্ঘ হওয়া, ফলে কবি অনুপ্রাস দিয়ে তা ছিন্ন করেন এবং দ্বিতীয় পঙ্ক্তিতে তা পূর্ণ করেন।

আবু হিলাল আল-আসকারির মতে, তাদমিন হলো প্রথম অংশটি দ্বিতীয় অংশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া এবং প্রথম পঙ্ক্তিটি শেষোক্তটির মুখাপেক্ষী থাকা।

তাদের দৃষ্টিতে এই দোষটির উৎস হলো যে, আরবি কাব্য সমালোচকগণ এই রীতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন যে কবিতার একক হলো পঙ্ক্তি, পূর্ণ কাসিদা নয়। এ কারণেই তারা অর্থ পূর্ণ করার জন্য একটি পঙ্ক্তির পরবর্তীটির মুখাপেক্ষী হওয়াকে এমন একটি দোষ হিসেবে গণ্য করেছেন যা একজন দক্ষ কবির পরিহার করা উচিত। তারা এই দোষকে কেবল কবিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন না, বরং গদ্যের ক্ষেত্রেও অন্তর্ভুক্ত করেন, যদি তার পরের অনুচ্ছেদের প্রয়োজন পড়ে।

এই দৃষ্টিভঙ্গির অসারতা গোপন নয়; কারণ কাসিদাকে একটি সুসংহত একক হওয়া উচিত এবং একটি মাত্র পঙ্ক্তির ভিত্তিতে কোনো কবিতা বা কবির ওপর রায় দেওয়া জুলুম ও অন্যায্যতা থেকে মুক্ত নয়। তাদের যুক্তি হলো শ্রেষ্ঠ কবিতা সেটিই যার প্রতিটি পঙ্ক্তি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং তার আগের ও পরের পঙ্ক্তি থেকে স্বাধীন, যাতে তা প্রবাদের মতো উদ্ধৃতি ও প্রমাণের যোগ্য হয়। কিন্তু এতে কবিতার সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি থেকে বিচ্যুতি ঘটে যা কেবল প্রজ্ঞার অনুসন্ধান করে না, যদিও তাতে প্রজ্ঞা থাকতে পারে। বরং কবিতার কাসিদা বা গদ্যের অনুচ্ছেদ তার সামগ্রিক রূপের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে, যখন পাঠক বা শ্রোতা কাসিদা বা গদ্য অংশটি পড়া শেষ করে উল্লাস, আনন্দ বা আবেগ অনুভব করেন। অন্যথায়, আমরা যদি দৃষ্টিকে কেবল একটি পঙ্ক্তির ওপর সীমাবদ্ধ রাখি, তবে কবির জন্য এটি বৈধ করে দিই যে তিনি এক পঙ্ক্তিতে আমাদের সন্তুষ্ট করবেন এবং তার পরেরটিতে অসন্তুষ্ট করবেন; যেখানে প্রথমটি অত্যন্ত চমৎকার হবে এবং দ্বিতীয়টিও তাই হবে, কিন্তু চিন্তার ধারাবাহিকতা ও চিত্রকল্পের সামঞ্জস্যের দিকে কোনো নজর থাকবে না। এমতাবস্থায় তাদের মতে বিরোধ বা বৈপরীত্য থাকলেও কোনো সমস্যা নেই।

হ্যাঁ! এটি দোষের হতে পারে যদি একটি শব্দ পঙ্ক্তির মধ্যে পূর্ণ না হয় এবং কবি তা দ্বিতীয় পঙ্ক্তিতে পূর্ণ করেন, যেমনটি খাফাজি 'সিররুল ফাসাহাহ' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন এবং সেগুলোকে কুৎসিত ও সুস্পষ্ট কৃত্রিমতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে বক্তব্যের একাংশ অপর অংশের মুখাপেক্ষী হওয়ার মধ্যে কোনো দোষ নেই, বরং এটি তো প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ২৫)
التماسك والترابط بين أجزاء النص الأدبي، وهذا هو المحمود الذي يكون به بعض جزاء الكلام آخذًا برقاب بعض.

ولا يقرّ ابن الأثير أولئك النقاد فيما ذهبوا إليه، فيقول: إن المعيب عند قوم "تضمين الإسناد"، وذلك يقع في بيتين من الشعر أو فصلين من الكلام المنثور، على أن يكون الأول منهما مسندًا إلى الثاني، فلا يقوم الأول ولا يتمّ معناه إلّا بالثاني، وهذا هو المعدود من عيوب الشعر، وهو عندي غير معيب؛ لأنه إن كان سبب عيبه أن يعلق البيت الأول على الثاني، فليس ذلك بسبب يوجب عيبًا؛ إذ لا فرق بين البيتين من الشعر في تعلق أحدهما بالآخر، وبين الفقرتين من الكلام المنثور في تعلق إحداهما بالأخرى؛ لأن الشعر هو كل لفظ موزون مقفَّى دلَّ على معنى.

والكلام المسجوع هو كل لفظ مقفَّى دل على معنى، فالفرق بينهما يقع في الوزن لا غير، والفقر المسجوعة التي يرتبط بعضها ببعض قد وردت في القرآن الكريم في مواضع منه، فمن ذلك قوله عز وجل في سورة الصافات: {فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ، قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٌ، يَقُولُ أَئِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ، أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَدِينُونَ} . فهذه الفقر الثلاث الأخيرة مرتبط بعضها ببعض، فلا تفهم كل واحد منهن إلّا بالتي تليها، وهذا كالأبيات الشعرية في ارتباط بعضها ببعض، ولو كان ذلك عيبًا لما ورد في كتاب الله عز وجل. وكذلك ورد قوله تعالى في سورة الصافات أيضًا: {فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ، مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ بِفَاتِنِينَ، إِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ الْجَحِيمِ} ، فالآيتان الأوليان لا تفهم إحداهما إلا بالأخرى، وهكذا ورد قوله عز وجل في سورة الشعراء: {أَفَرَأَيْتَ إِنْ مَتَّعْنَاهُمْ سِنِينَ، ثُمَّ جَاءَهُمْ مَا كَانُوا يُوعَدُونَ، مَا أَغْنَى عَنْهُمْ مَا كَانُوا يُمَتَّعُونَ} .

فهذه ثلاث آيات لا تفهم الأولى ولا الثانية إلا بالثالثة، ألا ترى أن الأولى والثانية في معرض استفهام يفتقر إلى جواب، والجواب هو في الثالثة، وقد استعمله العرب كثيرًا، وورد في شعر فحول شعرائهم، فمن ذلك قول الشاعر:

ومن البلوى التي ليس … لها في الناس كنه

أن من يعرف شيئًا … يدَّعي أكثر منه
সাহিত্যিক পাঠের অংশগুলোর মধ্যে সংহতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক; এটিই সেই প্রশংসনীয় পদ্ধতি যার মাধ্যমে বাণীর একাংশ অপরাংশকে সুসংবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে।

ইবনুল আসির সেই সমালোচকদের মতের সাথে একমত নন। তিনি বলেন: একদল লোকের নিকট 'তাদমিনুল ইসনাদ' (নির্ভরশীলতা অন্তর্ভুক্ত করা) দোষণীয়; এটি কবিতার দুটি চরণে বা গদ্যের দুটি অনুচ্ছেদে ঘটে থাকে, যেখানে প্রথমটি দ্বিতীয়টির ওপর নির্ভরশীল হয়। ফলে দ্বিতীয়টি ছাড়া প্রথমটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় না এবং এর অর্থও পূর্ণ হয় না। একে কবিতার দোষ হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু আমার মতে এটি কোনো দোষ নয়। কারণ, যদি এর দোষের কারণ প্রথম পংক্তিটি দ্বিতীয় পংক্তির ওপর ঝুলে থাকা হয়, তবে তা দোষ সৃষ্টির কারণ হতে পারে না। কেননা কবিতার দুটি চরণের একে অপরের ওপর নির্ভর করা এবং গদ্যের দুটি অনুচ্ছেদের একে অপরের ওপর নির্ভর করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ কবিতা হলো ছন্দোবদ্ধ ও অন্ত্যমিলযুক্ত এমন শব্দসমষ্টি যা কোনো অর্থ প্রকাশ করে।

আর অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্য হলো অন্ত্যমিলবিশিষ্ট এমন শব্দসমষ্টি যা কোনো অর্থ প্রকাশ করে। সুতরাং এই দুটির মধ্যে পার্থক্য কেবল ছন্দ বা ওজনে। অন্ত্যমিলযুক্ত অনুচ্ছেদগুলো যেগুলোর একটি অপরটির সাথে সংশ্লিষ্ট, তা কুরআন মজিদের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে। যেমন সূরা আস-সাফফাতে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল। তাদের একজন বলল, আমার এক সঙ্গী ছিল। সে বলত, তুমি কি সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে যে, আমরা যখন মরে যাব এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হব, তখন কি আমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে?}। এই শেষের তিনটি অনুচ্ছেদ একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার প্রতিটি পরবর্তীটির সাহায্য ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। এটি কবিতার চরণের একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার মতোই। যদি এটি দোষের হতো, তবে তা মহান আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত হতো না। অনুরূপভাবে সূরা আস-সাফফাতে মহান আল্লাহর আরও বাণী এসেছে: {অতএব তোমরা এবং তোমরা যার ইবাদত করো। তোমরা তার বিরুদ্ধে কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। কেবল তাকে ছাড়া যে জাহান্নামে প্রবেশ করবে}। এখানে প্রথম দুই আয়াতের একটি অপরটি ছাড়া বোঝা যায় না। একইভাবে সূরা আশ-শুআরায় মহান আল্লাহর বাণী এসেছে: {তুমি কি ভেবে দেখেছ, আমি যদি তাদের বহু বছর ভোগবিলাস করতে দেই। অতঃপর তাদের কাছে সেই আজাব চলে আসে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা যা ভোগ করছিল তা তাদের কোনো উপকারে আসবে না}।

এখানে এই তিনটি আয়াতের প্রথম বা দ্বিতীয়টি তৃতীয়টি ছাড়া বোঝা যায় না। আপনি কি দেখছেন না যে, প্রথম ও দ্বিতীয় আয়াতটি একটি প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে আছে যার উত্তর প্রয়োজন, আর উত্তরটি রয়েছে তৃতীয় আয়াতে। আরবরা এটি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করেছে এবং বড় বড় কবিদের কবিতায় এটি বর্ণিত হয়েছে। যেমন এক কবির উক্তি:

আর সেই বিপদগুলোর অন্তর্ভুক্ত যার মানুষের মাঝে কোনো সীমা নেই …

তা হলো যে সামান্য কিছু জানে … সে তার চেয়ে বেশি দাবি করে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ২৬)
ألا ترى أن البيت الأول لم يقم بنفسه، ولا تَمَّ معناه إلّا بالبيت الثاني؟ ومنه أيضًا قول امرئ القيس:

فقلت له لما تمطَّى بصلبه … وأردف أعجازًا وناء بكلكل

ألا أيها الليل الطويل ألا أنجل … بصبح وما الإصباح منك بأمثل

وكذلك ورد قول الفرزدق:

وما أحدٌ من الأقوام عدوا … عروف الأكرمين إلى التراب

بمحتفظين إن فضلتمونا … عليهم في القديم ولا غضاب

وكذلك قول الشاعر:

لعمري لرهط المرء خير نقية … عليه وإن عالوا به كل مركب

من الجانب الأقصى وإن كان ذا غنى … جزيل ولم يخبرك مثل مجرب

وبهذه الحافظة الواعية يؤيد ابن الأثير قوله، جاعلًا أمامه الكتاب الكريم، وهو المثل الأعلى للبيان والبلاغة، وشعر الفحول من السابقين "كلامه يوافق الرأي الذي يجب أن يحتذى، وإن لم يذكر له من أسباب التأييد والتعليل سوى ورود أمثاله في غرر الكلام، وأما العلة الأدبية فتلتمس في مثل ما قدمناه.

ويعد ابن الأثير من أعظم نقاد العرب الذين درسوا السرقات الشعرية وفصَّلوا القول في ضروبها، ويعد المثل السائر من أعظم الكتب التي درس فيها هذا الموضوع دراسة خصبة مجدية، يرجع إليها الباحثون في هذا الموضع الذي يشتمل في كثير من أصول النقد عند العرب.

تلك بعض لمحات مما اشتمل عليه هذا الأثر النفيس الذي احتلَّ منزلته بحق بين أصول البلاغة والنقد الفني عند العرب.
আপনি কি দেখছেন না যে প্রথম পঙ্‌ক্তিটি নিজে নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং দ্বিতীয় পঙ্‌ক্তিটি ছাড়া তার অর্থ পূর্ণতা পায় না? ইমরাউল কায়িসের এই উক্তিটিও এর অন্তর্ভুক্ত:

অতঃপর আমি তাকে বললাম যখন সে তার পৃষ্ঠদেশ প্রসারিত করল … এবং তার পশ্চাৎদেশকে অনুগামী করল ও তার বক্ষদেশ দিয়ে চেপে ধরল

ওহে দীর্ঘ রাত! তুমি কি ভোরের আলোয় অপসৃত হবে না? … অথচ ভোর হওয়া তোমার চেয়ে অধিক উত্তম কিছু নয়

একইভাবে আল-ফারাযদাকের এই উক্তিটি এসেছে:

আর গোত্রসমূহের এমন কেউ নেই যারা গণনা করবে … সম্মানীদের পরিচিতি মাটির সাথে

তারা রক্ষা করবে না যদি তোমরা আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করো … অতীতে তাদের ওপর, আর তারা রাগান্বিতও নয়

একইভাবে কবির এই উক্তি:

আমার জীবনের কসম, মানুষের গোত্র তার জন্য সর্বোত্তম সুরক্ষাকারী … তার জন্য, যদিও তারা তাকে প্রতিটি উচ্চ সওয়ারিতে আরোহণ করায়

দূরতম প্রান্ত থেকে যদিও সে ছিল সম্পদের অধিকারী … প্রচুর, আর অভিজ্ঞ ব্যক্তির মতো কেউ তোমাকে সংবাদ দেবে না

এই সচেতন মেধার মাধ্যমে ইবনুল আসীর তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন, তাঁর সম্মুখে মহাগ্রন্থ (আল-কুরআন)-কে রেখে—যা বর্ণনাভঙ্গি ও অলঙ্কারশাস্ত্রের সর্বোচ্চ আদর্শ—এবং পূর্ববর্তী শ্রেষ্ঠ কবিদের কাব্যসমূহকেও। "তাঁর কথা সেই মতামতের সাথে সংগতিপূর্ণ যা অনুসরণ করা আবশ্যক, যদিও তিনি এর স্বপক্ষে কোনো সমর্থন বা কারণ উল্লেখ করেননি কেবল এই জাতীয় চমৎকার বক্তব্যের উপস্থিতি ব্যতীত। আর সাহিত্যিক কারণসমূহ আমরা পূর্বে যা পেশ করেছি তার মধ্যেই অনুসন্ধান করতে হবে।"

ইবনুল আসীরকে আরবদের মহান সমালোচকদের অন্যতম গণ্য করা হয়, যাঁরা কাব্য-চৌর্যবৃত্তি (সারিকাত) নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এর বিভিন্ন প্রকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। 'আল-মাসালুস সা’ইর' গ্রন্থটিকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয় যাতে এই বিষয়টি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সার্থকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষকগণ এই প্রসঙ্গের জন্য এই গ্রন্থের দিকেই প্রত্যাবর্তন করেন যা আরবদের নিকট সমালোচনা সাহিত্যের বহু মূলনীতি ধারণ করে আছে।

এগুলো হচ্ছে এই মূল্যবান রচনার অন্তর্ভুক্ত কিছু বিশেষ দিক, যা আরবদের অলঙ্কারশাস্ত্র এবং শিল্প-সমালোচনার মূলনীতির মাঝে যথাযোগ্য স্থান দখল করে নিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ترجمة ابن الأثير 1:

هو أبو الفتح نصر الله بن أبي الكرم محمد بن محمد بن عبد الكريم بن عبد الواحد الشيباني، المعروف بابن الأثير الجزري، الملقب ضياء الدين.

كان مولده بجزيرة ابن عمر ونشأ بها، وانتقل مع والده إلى الموصل، وبها اشتغل، وحصل العلوم، وحفظ كتاب الله الكريم، وكثيرًا من الأحاديث النبوية، وطرفًا صالحًا من النحو واللغة وعلم البيان، وشيئًا كثيرًا من الأشعار.

ولما كملت لضياء الدين المذكور الأدوات قصد جناب الملك الناصر صلاح الدين -تغمَّده الله برحمته- في شهر ربيع الأول سنة سبع وثمانين وخمسمائة، فوصله القاضي الفاضل بخدمة صلاح الدين في جمادى الآخرة من تلك السنة، وأقام عنده إلى شوال من السنة.

ثم طلبه ولده الملك الأفضل نور الدين من والده، فخيَّره صلاح الدين بين الإقامة في خدمته، والانتقال إلى ولده، ويبقى المعلوم الذي قرره له باقيًا عليه، فاختار ولده، فمضى إليه، وكان يومئذ شابًّا، فاستوزره ولده الملك الأفضل نور الدين على المقدَّم ذكره -رحمه الله تعالى، وحسنت حاله عنده.

ولما توفي السلطان صلاح الدين، واستقلَّ ولده الملك الأفضل بمملكة دمشق، استقلَّ ضياء الدين المذكور بالوزارة، وردت أمور الناس إليه، وصار الاعتماد في جميع الأحوال عليه.

ولما أخذت دمشق من الملك الأفضل، وانتقل إلى صرخد، وكان ضياء الدين قد أساء العشرة من أهلها، فهموا بقتله، فأخرجه الحاجب محاسن بن عجم

--------------------------------------------

1 مختصرة من وفيات الأعيان لابن خلكان 2/ 208.
ইবনুল আসিরের জীবনী ১:

তিনি হলেন আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ ইবনে আবিল কারাম মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শাইবানি, যিনি ইবনুল আসির আল-জাযারি নামে পরিচিত এবং যিয়াউদ্দীন উপাধিতে ভূষিত।

তাঁর জন্ম জাযিরা ইবনে উমরে এবং সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন। এরপর তিনি তাঁর পিতার সাথে মসুলে স্থানান্তরিত হন। সেখানে তিনি জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন এবং ইলম অর্জন করেন। তিনি মহান আল্লাহর কিতাব হিফজ করেন এবং প্রচুর পরিমাণে হাদিসে নববী মুখস্থ করেন। এছাড়াও তিনি নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (অভিধান), ইলমুল বায়ান (অলংকারশাস্ত্র) এবং প্রচুর পরিমাণ কবিতা আয়ত্ত করেন।

যখন উল্লিখিত যিয়াউদ্দীনের জ্ঞান ও যোগ্যতার পূর্ণতা লাভ করল, তখন তিনি ৫৮৭ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে মালিকুন নাসির সালাহউদ্দীন —আল্লাহ তাঁকে স্বীয় রহমতে আবৃত করুন— এর দরবারে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। সে বছরের জুমাদাল আখিরা মাসে কাযী আল-ফাদিল তাঁকে সালাহউদ্দীনের খিদমতে পৌঁছে দেন এবং তিনি সে বছরের শাওয়াল মাস পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।

অতঃপর তাঁর পুত্র মালিকুল আফজাল নুরুদ্দীন তাঁর পিতার নিকট থেকে তাঁকে তলব করেন। সালাহউদ্দীন তাঁকে নিজের খিদমতে থাকা অথবা তাঁর পুত্রের নিকট চলে যাওয়ার স্বাধীনতা প্রদান করেন, এই শর্তে যে, তাঁর জন্য নির্ধারিত ভাতা অব্যাহত থাকবে। তিনি তাঁর পুত্রের নিকট যাওয়াকেই বেছে নিলেন এবং তাঁর কাছে চলে গেলেন। সে সময় তিনি যুবক ছিলেন। মালিকুল আফজাল নুরুদ্দীন তাঁকে উল্লিখিত পদের উজির বা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন। তাঁর নিকট তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সম্মানজনক ছিল।

যখন সুলতান সালাহউদ্দীন ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর পুত্র মালিকুল আফজাল দামেস্কের রাজ্যের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন উল্লিখিত যিয়াউদ্দীন স্বতন্ত্রভাবে উজিরের দায়িত্ব লাভ করেন। জনগণের যাবতীয় বিষয়াদি তাঁর কাছে ন্যস্ত করা হয় এবং সকল পরিস্থিতিতে তাঁর ওপরই নির্ভর করা হতে থাকে।

যখন মালিকুল আফজালের নিকট থেকে দামেস্ক কেড়ে নেওয়া হলো এবং তিনি সারখাদে স্থানান্তরিত হলেন, তখন যিয়াউদ্দীন সেখানকার অধিবাসীদের সাথে রূঢ় আচরণ করেছিলেন। ফলে তারা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করল। অতঃপর হাজিব মাহাসিন ইবনে আজম তাঁকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসেন।

--------------------------------------------

১. ইবনে খাল্লিকানের 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' (২/২০৮) থেকে সংক্ষেপিত।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ২৮)
مستخفيًا في صندوق مقفل عليه، ثم سار إليه، وصحبه إلى مصر لما استدعي لنيابة ابن أخيه الملك المنصور.

ولما قصد الملك العادل الديار المصرية، وأخذها من ابن أخيه، وتعوض الملك الأفضل البلاد الشرقية، وخرج من مصر، لم يخرج ضياء الدين في خدمته؛ لأنه خاف على نفسه من جماعة كانوا يقصدونه، فخرج منها مستترًا.

وغاب عن مخدومه الملك الأفضل مُدَيْدَة، ولما استقرَّ الأفضل في سميساط عاد إلى خدمته، وأقام عنده مدة، ثم فارقه في ذي القعدة سنة 607هـ واتصل بخدمة أخيه الملك الظاهر غازي صاحب حلب، فلم يطل مقامه عنده ولا انتظم أمره، وخرج مغاضبًا، وعاد إلى الموصل، فلم يستقم حاله، فورد إربل، فلم يستقم حاله، فسافر إلى سنجار، ثم عاد إلى الموصل، واتخذها دار إقامته، واستقرَّ وكتب الإنشاء لصاحبها ناصر الدين محمود بن الملك القاهر عز الدين مسعود بن نور الدين أرسلان شاه، وأتابك يومئذ بدر الدين أبو الفضائل النوري، وذلك في سنة 618هـ.

قال ابن خلكان: ولقد ترددت إلى الموصل من إربل أكثر من عشر مرات وهو مقيم بها، وكنت أود الاجتماع به لآخذ عنه شيئًا، ولما كان بينه وبين الوالد -رحمه الله تعالى- من المودة الأكيدة، فلم يتفق ذلك، ثم فارقت بلاد المشرق، وانتقلت إلى الشام، وأقمت به مقدار عشر سنين، ثم انتقلت إلى الديار المصرية، وهو في قيد الحياة، ثم بلغني بعد ذلك خبر وفاته وأنا بالقاهرة.

ولضياء الدين من التصانيف، الدالة على غزارة فضله، وتحقيق نبله كتابه الذي سماه "المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر" وهو في مجلدين جمع فيه فأوعى، ولم يترك شيئًا يتعلق بفنِّ الكتابة إلا ذكره، ولما فرغ من تصنيفه كتبه الناس عنه، فوصل إلى بغداد منه نسخة.

وله كتاب "الواشي المرقوم في حل المنظوم" وهو مع وجازته في غاية الحسن والإفادة.

وله كتاب المعاني المخترعة في صناعة الإنشاء، وهو أيضًا نهاية في بابه.
একটি তালাবদ্ধ বাক্সের ভেতর আত্মগোপন করে, এরপর তিনি তাঁর কাছে যাত্রা করেন এবং তাঁর সাথে মিসরে যান যখন তাঁকে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আল-মালিকুল মানসুরের প্রতিনিধি হিসেবে তলব করা হয়েছিল।

যখন আল-মালিকুল আদিল মিসর অভিমুখে যাত্রা করলেন এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের কাছ থেকে তা গ্রহণ করলেন, আর আল-মালিকুল আফদালকে তাঁর বিনিময়ে পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলো দেওয়া হলো এবং তিনি মিসর ত্যাগ করলেন, তখন জিয়াউদ্দিন তাঁর অধীনে বের হননি; কারণ তিনি এমন এক দলের ব্যাপারে নিজের প্রাণের ভয় করছিলেন যারা তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল, ফলে তিনি সেখান থেকে গোপনে প্রস্থান করেন।

এবং তিনি তাঁর মনিব আল-মালিকুল আফদালের নিকট থেকে কিছুকাল অনুপস্থিত ছিলেন, এরপর যখন আল-আফদাল সামিসাতে স্থায়ী হলেন, তখন তিনি পুনরায় তাঁর অধীনে ফিরে আসলেন এবং তাঁর কাছে কিছুকাল অবস্থান করলেন, এরপর ৬০৭ হিজরি সনের জিলকদ মাসে তাঁকে ছেড়ে চলে যান এবং তাঁর ভাই হালবের অধিপতি আল-মালিকুজ জাহির গাজীর অধীনে যুক্ত হন। সেখানে তাঁর অবস্থান দীর্ঘ হয়নি এবং তাঁর কাজও সুশৃঙ্খল হয়নি, ফলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বেরিয়ে যান এবং মসুলে ফিরে আসেন। সেখানে তাঁর অবস্থা অনুকূল হয়নি, ফলে তিনি ইরবিলে উপস্থিত হন, সেখানেও তাঁর অবস্থা অনুকূল হয়নি, এরপর তিনি সিনজারে সফর করেন, অতঃপর পুনরায় মসুলে ফিরে আসেন এবং সেটিকে নিজের আবাসস্থল বানিয়ে নেন। তিনি সেখানে স্থায়ী হন এবং এর অধিপতি নাসিরুদ্দিন মাহমুদ ইবনুল মালিকুল কাহিরা ইযযুদ্দিন মাসউদ ইবনে নুরউদ্দিন আরসালান শাহ-এর জন্য সরকারি পত্রাদি লিখতে শুরু করেন; তখন আতাবেক ছিলেন বদরুদ্দিন আবুল ফাদায়েল আন-নুরী। আর এটি ছিল ৬১৮ হিজরি সনের ঘটনা।

ইবনে খাল্লিকান বলেন: আমি ইরবিল থেকে মসুলে দশবারের বেশি যাতায়াত করেছি যখন তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন, আর আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর কাছ থেকে কিছু শিক্ষা অর্জন করতে ইচ্ছুক ছিলাম, যেহেতু তাঁর এবং আমার পিতার—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—মধ্যে গভীর হৃদ্যতা ছিল, কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি। এরপর আমি পূর্বাঞ্চলীয় দেশ ত্যাগ করি এবং শামে চলে যাই, সেখানে প্রায় দশ বছর অবস্থান করি, এরপর আমি মিসরীয় জনপদে চলে আসি, তখন তিনি জীবিত ছিলেন। এরপর কায়রোতে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আমার কাছে পৌঁছায়।

জিয়াউদ্দিনের অনেক গ্রন্থ রয়েছে যা তাঁর জ্ঞানের গভীরতা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। এর মধ্যে একটি হলো সেই কিতাব যার নাম তিনি রেখেছেন "আল-মাসালুস সাঈর ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ শাঈর" (লেখক ও কবির শিষ্টাচারের প্রবহমান দৃষ্টান্ত)। এটি দুই খণ্ডে রচিত যাতে তিনি প্রচুর জ্ঞান সঞ্চার করেছেন। লেখালেখির শিল্প সম্পর্কিত কোনো কিছুই তিনি উল্লেখ করতে বাদ রাখেননি। যখন তিনি এটি রচনা শেষ করেন, তখন মানুষ তাঁর কাছ থেকে এটি অনুলিপি করতে থাকে, এমনকি বাগদাদেও এর একটি পাণ্ডুলিপি পৌঁছেছিল।

তাঁর আরও একটি কিতাব হলো "আল-ওয়াশিল মারকুম ফি হাল্লিল মানজুম", যা সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত চমৎকার ও উপকারী।

তাঁর "আল-মাআনিল মুখতারাআহ ফি সিনাআতিল ইনশা" নামক একটি কিতাব রয়েছে, যা তার নিজ বিষয়ে অনন্য।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وله مجموع اختار فيه شعر أبي تمام، والبحتري وديك الجن والمتنبي، وهو في مجلد واحد كبير، وحفظه مفيد.

وله أيضًا ديوان ترسل في عدة مجلدات، والمختار منه في مجلد واحد.

وذكر أبو البركات بن المستوفى في تاريخ إربل، وبالغ في الثناء عليه، وقال: ورد إربل في شهر ربيع الأول سنة 611هـ، وكانت ولادته بجزيرة ابن عمر في يوم الخميس العشرين من شعبان سنة 558هـ، وتوفي في إحدى الجماديين سنة 637هـ ببغداد، وقد توجه إليها رسولًا من جهة صاحب الموصل، وصُلِّيَ عليه من الغد بجامع القصر، ودفن بمقابر قريش في الجانب الغربي بمشهد موسى بن جعفر رضي الله عنهما.

قال أبو عبد الله محمد بن النجار البغدادي في تاريخ بغداد، توفي يوم الاثنين التاسع والعشرين من شهر ربيع الآخر من السنة، وهو أخبر؛ لأنه صاحب هذا الفن، وقد مات عندهم.

ولضياء الدين أخوان نابهان، مجد الدين أبو السعادات المبارك، وأبو الحسن علي الملقب عز الدين، وكان الإخوة الثلاثة فضلاء نجباء رؤساء، لكل واحد منهم تصانيف نافعة -رحمهم الله تعالى.

وكان لضياء الدين المذكور ولد نبيه له النظم والنثر الحسن، وصنَّف عدة تصانيف نافعة، من مجاميع وغيرها، ورأيت له مجموعًا جمعه الملك الأشرف ابن الملك العادل بن أيوب، وأحسَّ فيه، وذكر فيه جملة من نظمه ونثره ورسائل أبيه، ومولده بالموصل في شهر رمضان سنة 585هـ، وتوفي بكرة نهار الاثنين ثاني جمادى سنة 622، واسمه محمد، ولقبه الشرف -رحمه الله تعالى.
তাঁর একটি সংকলন রয়েছে যাতে তিনি আবু তাম্মাম, আল-বুহতুরি, দিকুল জিন এবং আল-মুতানাব্বির কবিতা নির্বাচন করেছেন। এটি একটি বড় খণ্ডে সমাপ্ত এবং এটি মুখস্থ করা অত্যন্ত উপকারী।

তাঁর একটি পত্রাবলি সংকলনও রয়েছে যা কয়েক খণ্ডে বিভক্ত, আর তার থেকে নির্বাচিত অংশগুলো এক খণ্ডে সংকলিত।

আবু আল-বারাকাত বিন আল-মুস্তাওফি 'তারিখু ইরবিল'-এ তাঁর আলোচনা করেছেন এবং তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। তিনি বলেছেন: তিনি ৬১১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে ইরবিলে আগমন করেন। তাঁর জন্ম জাজিরাতু ইবনে উমর-এ ৫৫৮ হিজরির ২০শে শাবান বৃহস্পতিবার। তিনি ৬৩৭ হিজরির জুমাদাইন মাসের (জুমাদাল উলা অথবা জুমাদাল আখিরা) কোনো এক মাসে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মসুলের শাসকের পক্ষ থেকে দূত হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। পরের দিন জামিউল কাসর-এ তাঁর জানাজা পড়া হয় এবং পশ্চিম পার্শ্বের মাকাবিরে কুরাইশে মুসা বিন জাফরের (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হয়।

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আন-নাজ্জার আল-বাগদাদি 'তারিখু বাগদাদ'-এ বলেছেন, তিনি সেই বছরের ২৯শে রবিউল আখিরা সোমবার ইন্তেকাল করেছেন। আর তিনিই এ বিষয়ে অধিক অবগত; কারণ তিনি এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ এবং তিনি (মরহুম) তাঁদের কাছেই থাকাবস্থায় মারা গিয়েছেন।

জিয়াউদ্দীনের দুজন যশস্বী ভাই ছিলেন: মাজদুদ্দীন আবুল সাআদাত আল-মুবারক এবং আবুল হাসান আলি, যাঁর উপাধি ছিল ইজ্জুদ্দীন। এই তিন ভাই-ই ছিলেন বিদগ্ধ, অভিজাত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁদের প্রত্যেকেরই উপকারী রচনাবলি রয়েছে—আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

উল্লিখিত জিয়াউদ্দীনের এক মেধাবী পুত্র ছিল যাঁর কবিতা ও গদ্যশৈলী ছিল চমৎকার। তিনি বিভিন্ন সংকলনসহ বেশ কিছু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমি তাঁর একটি সংকলন দেখেছি যা আল-মালিক আল-আশরাফ ইবনে আল-মালিক আল-আদিল বিন আইয়ুব সংগ্রহ করেছিলেন এবং তিনি তাতে নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। তিনি এতে তাঁর (পুত্রের) কবিতা, গদ্য এবং তাঁর পিতার কিছু পত্রাবলি উল্লেখ করেছেন। তাঁর জন্ম ৫৮৫ হিজরির রমজান মাসে মসুলে এবং তিনি ৬২২ হিজরির ২রা জুমাদা সোমবার প্রাতঃকালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর নাম মুহাম্মদ এবং উপাধি আশ-শরাফ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌خطبة الكتاب:

بسم الله الرحمن الرحيم

نسأل الله ربنا أن يبلغ بنا من الحمد ما هو أهله، وأن يعلمنا من البيان ما يقصر عنه مزية الفضل وأصله، وحكمة الخطاب وفضله، ونرغب إليه أن يوفقنا للصلاة على نبينا ومولانا محمد رسوله، الذي هو أفصح من نطق بالضاد، ونسخ هديه شريعة كل هاد، وعلى آله وصحبه الذي منهم من سبق وبدر، ومنهم من صابر وصبر، ومنهم من آوى ونصر.

وبعد؛ فإن علم البيان لتأليف النظم والنثر بمنزلة أصول الفقه1 للأحكام وأدلة الأحكام، وقد ألَّف الناس فيه كتبًا، وجلبوا ذهبًا وحطبًا، وما من تأليف إلّا وقد تصفَّحت شِينَه وسِينَه2، وعلمت غَثَّه3 وسَمِينَه، فلم أجد ما ينتفع يه في ذلك إلّا كتاب "الموازنة" لأبي القاسم الحسن بن بشر الآمدي4، وكتاب "سر الفصاحة" لأبي

--------------------------------------------

1 أصول الفقه: هي القواعد التي يتوصَّل بها المجتهد إلى استنباط الأحكام الشرعية الفرعية من الأدلة التفصيلية.

2 يريد أنه تصفَّحه كله، حاليه وعاطله، ومعجمه ومهمله.

3 الغثّ: المهزول.

4 أبو القاسم الحسن بن بشر الآمدي، صاحب كتاب الموازنة بين الطائيين، كان حسن الفهم جيد الدراية والرواية، سريع الإدراك، وهو معدود من أئمة البيان والنقد الأدبي، وصفه صاحب الفهرست بأنه مليح التصنيف جيد التأليف، يتعاطى مذهب الجاحظ فيما يعمله من الكتب، وله من الكتب: كتاب المختلف والمؤتلف في أسماء الشعراء، وكتاب معاني شعر البحتري، وكتاب نثر المنظوم، وكتاب الرد على ابن عمَّار فيما خطَّأ فيه أبا تمام، وكتاب في أنّ الشاعرين لا تتفق خواطراهما، وكتاب ما في معيار الشعر لابن طباطبا من الخطأ، وكتاب فرق ما بين الخاص والمشترك من معاني الشعر، وكتاب تفصيل شعر امرئ القيس على الجاهيلين، وكتاب في شدة حاجة الإنسان أن يعرف نفسه، وكتاب نقد الشعر، وكتاب فعلت وأفعلت، وكتاب الحروف، وديوان شعره.

ونقل ياقوت عن القاضي أبي القاسم التنوخي أن مولد أبي القاسم الحسن بن بشر الآمدي بالبصرة، وأنه قدم بغداد يحمل عن الأخفش والخفاجي والزجاج وابن دريد وابن السراج وغيرهم اللغة والنحو. وروى الأخبار في آخر عمره بالبصرة، وكان يكتب بمدينة السلام لأبي جعفر هارون بن محمد الضبي ولغيره، وكتب بالبصرة لآل عبد الواحد وغيرهم … وكان كثير الشعر حسن الطبع، جيد الصنعة، مشتهرًا بالتشبيهات، قال: ولأبي القاسم تصانيف كثيرة جيدة مرغوب فيها، منها كتاب الموازنة بين البحتري وأبي تمام، وهو كتاب حسن، وإن كان قد عيب عليه في مواضع منه، ونسب إلى الميل مع البحتري فيما أورده، والتعصب على أبي تمام فيما ذكره. توفي الآمدي سنة 370هـ، وقد طبع كتاب الموازنة عدة طبعات كلها ناقصة، وبين أيدينا نسخة كاملة من هذا الكتاب -نسأل الله أن يعين على نشرها وتحقيقها- إن لم يقم بهذا الواجب غيرنا.
গ্রন্থের ভূমিকা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এমন প্রশংসায় পৌঁছে দেন যার যোগ্য তিনি স্বয়ং; এবং তিনি যেন আমাদের এমন সাবলীল ভাষণ শিক্ষা দেন যার সামনে শ্রেষ্ঠত্বের সকল বৈশিষ্ট্য ও মূল উৎস এবং ভাষণের প্রজ্ঞা ও মর্যাদা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে। আমরা তাঁর কাছে আরও প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের আমাদের নবী ও অভিভাবক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করার তাওফিক দান করেন, যিনি দাদ বর্ণ উচ্চারণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে সাবলীল ভাষী এবং যাঁর প্রদর্শিত পথ প্রতিটি পথপ্রদর্শকের শরীয়তকে রহিত করেছে; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর, যাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন অগ্রগামী ও বদরের যোদ্ধা, কেউ ছিলেন ধৈর্যশীল ও সহনশীল এবং কেউ ছিলেন আশ্রয়দাতা ও সাহায্যকারী।

অতঃপর; নিশ্চয় কাব্য ও গদ্য রচনার ক্ষেত্রে ইলমে বয়ান বা অলঙ্কারশাস্ত্রের মর্যাদা হলো বিধান ও বিধানের দলীলসমূহের জন্য উসুলে ফিকহ১-এর মর্যাদার সমরূপ। মানুষ এই বিষয়ে অনেক কিতাব রচনা করেছে এবং তাতে মূল্যবান ও গুরুত্বহীন বহু বিষয়ের সমাহার ঘটিয়েছে। এমন কোনো রচনাই নেই যার দোষ-গুণ২ এবং অসার৩ ও সারবস্তু সম্পর্কে আমি অবগত হইনি। আমি সেগুলোর মধ্যে এমন কিছুই পাইনি যা এই বিষয়ে ফলপ্রসূ হতে পারে, কেবল আবুল কাসিম হাসান বিন বিশর আল-আমিদি৪-এর "আল-মুওয়াজানাহ" এবং আবুর "সিররুল ফাসাহাহ" কিতাবটি ব্যতীত...

--------------------------------------------

১. উসুলে ফিকহ: এগুলো হলো এমন কিছু মূলনীতি যার মাধ্যমে একজন মুজতাহিদ বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে গৌণ শরয়ী বিধানসমূহ আহরণ করেন।

২. এর দ্বারা লেখক বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি এর আদ্যোপান্ত পর্যবেক্ষণ করেছেন—এর অলঙ্কৃত ও অলঙ্কারহীন অংশ এবং এর নুকতাযুক্ত ও নুকতাহীন সকল বর্ণ।

৩. আল-গাস: অসার বা অন্তঃসারশূন্য।

৪. আবুল কাসিম হাসান বিন বিশর আল-আমিদি, "আল-মুওয়াজানাহ বাইনাত তায়িয়াইন" কিতাবের লেখক। তাঁর বোধশক্তি ছিল প্রখর এবং জ্ঞান ও বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও দ্রুত উপলব্ধিক্ষম। তিনি অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাহিত্য সমালোচনার ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। "আল-ফিহরিস্ট" এর লেখক তাঁকে চমৎকার বিন্যাস ও উৎকৃষ্ট রচনার অধিকারী বলে অভিহিত করেছেন। তিনি তাঁর কিতাবসমূহে জাহিজের লেখনশৈলী অনুসরণ করতেন। তাঁর রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: "কিতাবুল মুখতালিফ ওয়াল মুতালিফ ফি আসমাইশ শুআরা", "কিতাবুন মাআনি শিরিল বুহতারি", "কিতাবুন নাশরিল মানজুম", "কিতাবুর রাদ্দ আলা ইবনু আম্মার ফিমা খাত্তাআ ফিহি আবা তাম্মাম", "কিতাবুন ফি আন্নাস শাইরাইনি লা তাত্তা ফিকু খাওয়াতিরাহুমা", "কিতাবুন মা ফি মায়ারিশ শির লি-ইবনু তাবাতাবা মিনাল খাতা", "কিতাবুন ফারকু মা বাইনাল খাস ওয়াল মুশ্তারাক মিন মাআনিল শির", "কিতাবুন তাফসিলু শিরি ইমরাউল কায়িস আলাল জাহিলিয়্যিন", "কিতাবুন ফি শিদ্দাতি হাজাতিল ইনসানি আন ইয়ারিফা নাফসাহু", "কিতাবুন নাকদিশ শির", "কিতাবু ফায়ালতু ওয়া আফআলতু", "কিতাবুল হুরুফ" এবং তাঁর কাব্যসংকলন।

ইয়াকুত, কাজী আবু কাসিম আত-তানুখি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবুল কাসিম হাসান বিন বিশর আল-আমিদির জন্ম বসরায়। তিনি বাগদাদে এসে আখফাশ, খাফাজি, জাদ্দাজ, ইবনে দুরিদ, ইবনে সিরাজ এবং অন্যদের নিকট ভাষা ও ব্যাকরণ শিক্ষা লাভ করেন। জীবনের শেষভাগে তিনি বসরায় হাদীস ও সংবাদ বর্ণনা করেন। তিনি "মদিনাতুস সালাম"-এ আবু জাফর হারুন বিন মুহাম্মাদ আদ-দাব্বি ও অন্যদের জন্য লেখক হিসেবে কাজ করেছেন এবং বসরায় আল-আবদুল ওয়াহিদ ও অন্যদের জন্য লিখেছেন … তিনি প্রচুর কবিতা লিখতেন, তাঁর স্বভাবজাত প্রতিভা ছিল চমৎকার এবং শিল্পশৈলী ছিল উৎকৃষ্ট; তিনি উপমা ব্যবহারের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি বলেছেন: আবুল কাসিমের অনেকগুলো উৎকৃষ্ট ও জনপ্রিয় রচনা রয়েছে, তার মধ্যে বুহতারি ও আবু তাম্মামের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার কিতাব "আল-মুওয়াজানাহ" অন্যতম। এটি একটি চমৎকার কিতাব, যদিও এর কিছু স্থানে সমালোচনা করা হয়েছে এবং এতে বুহতারির প্রতি তাঁর ঝোঁক ও আবু তাম্মামের প্রতি গোঁড়ামির অভিযোগ আনা হয়েছে। আমিদি ৩৭০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। "আল-মুওয়াজানাহ" কিতাবটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে তবে সবকটিই ছিল অসম্পূর্ণ। বর্তমানে আমাদের হাতে এই কিতাবটির একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি রয়েছে—আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি যেন এটি প্রকাশ ও তাহকীক করার তাওফিক দান করেন—যদি অন্য কেউ এই দায়িত্ব পালন না করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালুস সাইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াশ শাইর ত আল-হাউফী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
محمد عبد الله بن سنان الخفاجي1، غير أن كتاب الموازنة أجمع أصولًا، وأجدى محصولًا، وكتاب سر الفصاحة وإن نبَّه فيه على نكتٍ منيرة، فإنه قد أكثر مما قلَّ به مقدرًا كتابه، من ذكر الأصوات والحروف والكلام عليها، ومن الكلام على اللفظة المفردة وصفاتها، مما لا حاجة إلى أكثره2، ومن الكلام في مواضع شذَّ عنه الصواب فيها، وسيرد بيان ذلك كله في مواضع من هذا الكتاب -إن شاء الله تعالى، على أن كلا الكتابين قد أهملا من هذا العلم أبوابًا، ولربما ذكرا في بعض المواضع قشورًا، وتركا لبابًا.

وكنت عثرت على ضروب كثيرة منه3 في غضون القرآن الكريم، ولم أجد أحدًا ممن تقدمني تعرض لذكر شيء منها، وهي إذا عُدَّتْ كانت في هذا العلم بمقدار شطره، وإذا نظر إلى فوائدها وجدت محتوية عليه بأسره، وقد أوردتها ههنا، وشفعتها بضروب أخر مدونة في الكتب المتقدمة، بعد أن حذفت منها ما حذفته، وأضفت إليها ما أضفته، وهداني الله لابتداع أشياء لم تكن من قبلي مبتدعة، ومنحني درجة الاجتهاد التي لا تكون أقوالها تابعة وإنما هي متَّبعة، وكل ذلك يظهر عند الوقوف على كتابي هذا وعلى غيره من الكتب، وقد بنيته على مقدمة ومقالتين:

--------------------------------------------

1 أبو محمد عبد الله بن محمد بن سعيد بن سنان الخفاجي، من بني خفاجة الذين كانوا ينزلون بأعمال حلب، وكان أبوه من أشرافها، وقد أخذ العلم والأدب عن علماء عصره، ثم اتَّصل بأبي العلاء أحمد بن سليمان المعري، فأخذ عنه العلم والأدب، وكان يرى رأي الشيعة، وتولَّى بعض أعمال الدولة، حتى ثار على ولاته، ومات مسمومًا سنة 466هـ، وكتابه "سر الفصاحة" من أنفس كتب البلاغة، سار فيه بالبلاغة والنقد سيرًا مزودجًا فيه التعريف والتحديد، وإلى جانبه النص والمثال، وإلى جانبهما الرأي في الإصابة أو سوء الاستعمال، مما يدل على تمرُّسه بفن الأدب، وتمتُّعه بالذوق المستنير، وقد طبع في مصر طبعتين جيدتين.

2 لا عبرة بهذا النقد؛ لأن الخفاجي في كلامه على الأصوات وعلى الحروف ذكر منها ما يؤلف وما لا يؤلف، ولذلك من بعد الأثر في وقع الكلام على السمع والذوق، وتقديره عند أهل صناعة البيان ما لا يخفى، وكلام الخفاجي على اللفظة المفردة من أمتع الدراسات النقدية، وهو أصل لما كتب البلاغيون في فصاحة الكلمة وفصاحة الكلام في مقدمات كتب البلاغة، بل إن ابن الأثير نفسه قد درس الكلمة المفردة وصفاتها في هذا الكتاب، وأفاد كما أفاد غيره من تلك الدراسة المنظَّمة التي مهد سبيلها الخفاجي.

3 الضمير في "منه" عائد إلى "علم البيان" الذي ذكر من قبل.
মুহম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে সিনান আল-খাফাজি ১, তবে 'আল-মুওয়াজানাহ' গ্রন্থটি মূলনীতির দিক থেকে অধিক পূর্ণ এবং উপযোগিতার দিক থেকে অধিক ফলপ্রসূ। আর 'সিররুল ফাসাহাহ' গ্রন্থটি, যদিও লেখক এতে কিছু উজ্জ্বল সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, তবুও তিনি এতে এমন সব বিষয়ের আধিক্য ঘটিয়েছেন যা তার গ্রন্থের গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছে; যেমন: শব্দ ও বর্ণমালা এবং সেগুলোর ওপর দীর্ঘ আলোচনা, একক শব্দ ও তার গুণাবলি নিয়ে এমন সব আলোচনা যার অধিকাংশেরই প্রয়োজন নেই ২, এবং এমন সব স্থানের আলোচনা যেখানে তিনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। এই গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে সেই সবকিছুর বর্ণনা আসবে—ইনশাআল্লাহ তা'আলা। উপরন্তু, উভয় গ্রন্থই এই শাস্ত্রের বেশ কিছু অধ্যায় বাদ দিয়েছে, এবং সম্ভবত কোনো কোনো স্থানে তারা শুধু বাহ্যিক বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন এবং সারবস্তু ছেড়ে দিয়েছেন।

আমি পবিত্র কুরআনের ভাঁজে ভাঁজে এর ৩ অনেক প্রকারভেদ পেয়েছি, যা আমার পূর্ববর্তী কাউকেই উল্লেখ করতে দেখিনি। এগুলো গণনা করলে এই শাস্ত্রের অর্ধেক পরিমাণ হবে। আর যদি এর উপযোগিতার দিকে তাকানো হয়, তবে দেখা যাবে এটি পুরো শাস্ত্রকেই অন্তর্ভুক্ত করে আছে। আমি এখানে সেগুলো উল্লেখ করেছি এবং পূর্ববর্তী কিতাবগুলোতে লিপিবদ্ধ অন্যান্য প্রকারের সাথে সেগুলোকে যুক্ত করেছি; যেখান থেকে কিছু বাদ দেওয়ার ছিল তা বাদ দিয়েছি এবং যা যোগ করার ছিল তা যোগ করেছি। আল্লাহ আমাকে এমন কিছু নতুন বিষয় উদ্ভাবনের তাওফিক দিয়েছেন যা আমার পূর্বে উদ্ভাবিত হয়নি এবং আমাকে ইজতিহাদের এমন এক স্তরে উন্নীত করেছেন যার কথাগুলো কেবল অনুগামী নয় বরং অনুসরণযোগ্য। আমার এই গ্রন্থ এবং অন্যান্য কিতাবগুলো পর্যবেক্ষণ করলে এর সত্যতা স্পষ্ট হবে। আমি এটি একটি ভূমিকা ও দুটি প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছি:

--------------------------------------------

১ আবু মুহম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে সিনান আল-খাফাজি, তিনি বনু খাফাজা গোত্রের লোক ছিলেন যারা হালব অঞ্চলে বসবাস করতেন। তাঁর পিতা ছিলেন সেখানকার অন্যতম সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। তিনি তাঁর যুগের আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান ও সাহিত্য অর্জন করেন। এরপর তিনি আবুল আলা আহমাদ ইবনে সুলাইমান আল-মা'আররির সাথে যুক্ত হন এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম ও আদব শিক্ষা করেন। তিনি শিয়া মতাদর্শ পোষণ করতেন। তিনি রাষ্ট্রের কিছু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন, এমনকি নিজের শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং ৪৬৬ হিজরিতে বিষপ্রয়োগে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত 'সিররুল ফাসাহাহ' অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যতম মূল্যবান গ্রন্থ, যাতে তিনি অলঙ্কার ও সমালোচনাকে সংজ্ঞা ও সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে সমন্বিত করেছেন। এর পাশাপাশি রয়েছে উদ্ধৃতি ও উদাহরণ এবং সঠিক বা ভুল ব্যবহারের ওপর তাঁর নিজস্ব মতামত। এটি তাঁর সাহিত্যকলায় দক্ষতা এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ রুচির প্রমাণ দেয়। মিশরে এটি দুবার চমৎকারভাবে মুদ্রিত হয়েছে।

২ এই সমালোচনার কোনো গুরুত্ব নেই; কারণ আল-খাফাজি শব্দ ও বর্ণমালা নিয়ে তাঁর আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে কোনটি সুসংবদ্ধ হয় আর কোনটি হয় না। আর শ্রবণ ও রুচির ওপর বক্তব্যের প্রভাবের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অলঙ্কারশাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট অস্পষ্ট নয়। একক শব্দ সম্পর্কে আল-খাফাজির আলোচনা সমালোচনামূলক গবেষণার অন্যতম চমৎকার অংশ, যা পরবর্তী অলঙ্কারবিদদের জন্য অলঙ্কারশাস্ত্রের কিতাবসমূহের ভূমিকায় শব্দের প্রাঞ্জলতা ও বাক্যের প্রাঞ্জলতা সম্পর্কে আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি ইবনে আল-আসির নিজেও এই গ্রন্থে একক শব্দ ও তার গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং আল-খাফাজির দেখানো সেই সুশৃঙ্খল গবেষণাপদ্ধতি থেকে উপকৃত হয়েছেন যেমনটি অন্যান্যরাও হয়েছেন।

৩ "এর" সর্বনামটি পূর্বে উল্লেখিত "ইলমুল বয়ান" বা অলঙ্কারশাস্ত্রের দিকে ফিরেছে।