(খণ্ড: ১) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: -)
الفلك الدائر على المثل السائر   (ابن أبي الحديد)

القسم: البلاغة


الكتاب: الفلك الدائر على المثل السائر (مطبوع بآخر الجزء الرابع من المثل السائر)

المؤلف: عبد الحميد بن هبة الله بن محمد بن الحسين بن أبي الحديد، أبو حامد، عز الدين (ت 656 هـ)

المحقق: أحمد الحوفي - بدوي طبانة

الناشر: دار نهضة مصر للطباعة والنشر والتوزيع، الفجالة ـ القاهرة

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ফালাকুল দা'ইর আলাল মাসালিস সা'ইর   (ইবনে আবিল হাদিদ)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র


গ্রন্থ: আল-ফালাকুল দা'ইর আলাল মাসালিস সা'ইর (আল-মাসালুস সা'ইর এর চতুর্থ খণ্ডের শেষে মুদ্রিত)

লেখক: আব্দুল হামিদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আবিল হাদিদ, আবু হামিদ, ইজ্জুদ্দীন (মৃত্যু ৬৫৬ হি.)

সম্পাদক: আহমদ আল-হুফী - বাদাবী তাবানা

প্রকাশক: দারুন নাহদাহ মিসর লিত-তিবাআহ ওয়ান-নাশরি ওয়াত-তাওজি, আল-ফাজ্জালাহ — কায়রো

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مقدمة

 

تصدير:

رأينا أن نضم إلى كتاب المثل السائر أهم كتاب في الرد عليه، هو "الفلك الدائر على المثل السائر" لابن أبي الحديد، لتكتمل الفائدة بهما معا.

وفي هذه الصفحات التي تصدر بها الكتاب نعرف بمؤلفه ونعرف بالكتاب نفسه.

ابن أبي الحديد 1:

حياته:

هو عز الدين عبد الحميد بن هبة الله بن محمد بن محمد بن الحسين بن أبي الحديد، المدائني المعتزلي الشيعي الفقيه الشاعر.

ولد في غزة ذي الحجة سنة 586هـ وكان من أعيان العلماء الأفاضل، بارعا في علم الكلام على مذهب المعتزلة، أديبا جيد النثر والشعر.

اشتغل زمنا في الدواوين السلطانية، وأدرك إغارة المغول على بغداد، ولما هجم عليها هولاكو في 20 من المحرم سنة 656هـ وأسرف في التخريب والتقتيل كان ابن أبي الحديد وأخوه موفق الدين أحمد بن أبي الحديد من الذين نجوا من القتل في دار الوزير مؤيد الدين محمود بن العلقمي2. وقابل خواجه

--------------------------------------------

1 اعتمدنا في التعريف به على فوات الوفيات لابن شاكر 1/ 6 وعلى ما نقل في نهاية شرح ابن أبي الحديد لنهج البلاغة من "معجز الآداب في معجم الألقاب" لأحمد محمد بن أبي المعالي الشياني القوطي. وعلى محاضرات الخضري في تاريخ الدولة العباسية.

2 كان وزيرا للمستعصم بالله، وكان من كبار رجال الشيعة. وكانت الفتن كثيرة بين أهل السنة والشيعة، وكان يسوءه أن الشيعة مضطهدون من أهل السنة، وأن البيت العباسي يعضد أهل السنة. فيقال إن الوزير كاتب هولاكو وحرضه على فتح بغداد، وهو يريد إسقاط الخلافة العباسية وبعض المؤرخين يدلل على هذه التهمة، وبعضهم يبرئه منها.
ভূমিকা

 

মুখবন্ধ:

আমরা ‘আল-মাছালুস সাইর’ গ্রন্থের সাথে সেটির খণ্ডনে রচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ইবন আবিল হাদীদ রচিত ‘আল-ফালাকুল দা-য়ির আলাল মাছালিস সাইর’ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে উভয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ উপকারিতা অর্জিত হয়।

গ্রন্থের প্রারম্ভে থাকা এই পৃষ্ঠাগুলোতে আমরা গ্রন্থকার ও স্বয়ং গ্রন্থটি সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করব।

ইবন আবিল হাদীদ ১:

তাঁর জীবন:

তিনি হলেন ইজ্জুদ্দীন আব্দুল হামীদ বিন হেবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আবিল হাদীদ, আল-মাদায়িনী, আল-মুতাজিলী, আশ-শিয়ী, ফকীহ ও কবি।

তিনি ৫৮৬ হিজরির যিলহজ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বরেণ্য ও শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং মুতাজিলা মাযহাব অনুযায়ী ইলমুল কালামে পারদর্শী ও গদ্য-পদ্যে সুদক্ষ সাহিত্যিক ছিলেন।

তিনি দীর্ঘকাল রাজকীয় দপ্তরে কর্মরত ছিলেন এবং বাগদাদে মঙ্গোলীয়দের আক্রমণ প্রত্যক্ষ করেন। যখন হালাকু খান ৬৫৬ হিজরির ২০শে মহরম বাগদাদে আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তখন ইবন আবিল হাদীদ এবং তাঁর ভাই মুওয়াফফাকুদ্দীন আহমাদ বিন আবিল হাদীদ উজির মুয়াইয়িদুদ্দীন মাহমুদ বিন আল-আলকামি ২ এর বাসভবনে অবস্থান করে মৃত্যু থেকে রক্ষা পান। এবং তিনি খাজা...

--------------------------------------------

১ তাঁর পরিচয় প্রদানে আমরা ইবন শাকির রচিত ‘ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত’ (১/৬), ইবন আবিল হাদীদের ‘শারহু নাহজিল বালাগা’-র শেষে আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবিল মা’য়ালি আশ-শায়ানী আল-কূতী রচিত ‘মু’জিজুল আদাব ফী মু’জামিল আলকাব’ থেকে উদ্ধৃত অংশ এবং আব্বাসীয় রাষ্ট্রের ইতিহাসের ওপর খুদরী-র লেকচারের ওপর নির্ভর করেছি।

২ তিনি মুসতাসিম বিল্লাহর উজির ছিলেন এবং শিয়াদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তখন আহলে সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যে অনেক ফিতনা বিদ্যমান ছিল। আহলে সুন্নাহ কর্তৃক শিয়াদের নির্যাতিত হওয়া এবং আব্বাসীয় খেলাফত আহলে সুন্নাহর পৃষ্ঠপোষকতা করা তাঁকে ব্যথিত করত। বলা হয়ে থাকে যে, উজির হালাকু খানের নিকট পত্র লিখে তাকে বাগদাদ বিজয়ে প্ররোচিত করেছিলেন; তাঁর উদ্দেশ্য ছিল আব্বাসীয় খেলাফতের পতন ঘটানো। কিছু ঐতিহাসিক এই অভিযোগের সপক্ষে দলিল পেশ করেন এবং কেউ কেউ তাঁকে এ থেকে নির্দোষ সাব্যস্ত করেন।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ১৬)
نصير الدين الطوسي، فوكل الإشراف على خزائن الكتب ببغداد إليه وإلى أخيه موفق الدين والشيخ تاج الدين علي بن أنجب.

ولكن أيامه لم تطل، فقد توفي في جمادى الآخرة سنة 656

مؤلفاته:

أما مؤلفاته فإنها كثيرة تدل على كلفه بالثقافة الشرعية والأدبية، وقد سلم بعضها من عادية الدهر، وطبع.

1- شرح نهج البلاغة.

ألفه لخزانة كتب الوزير مؤيد الدين محمود بن العلقمي. وهو شرح مفصل لخطب ورسائل الإمام علي، يحتوي على مسائل كثيرة لم يحتو عليها كتاب من جنسه.

ولما فرغ من تأليفه بعثه إلى الوزير مع أخيه مؤيد الدين أبي المعالي، فأرسل إليه الوزير مائة دينار، وجلة سنية، وفرسا.

وقد طبع هذا الشرح.

2- العبقري الحسان.

وهو كتاب فريد الوضع، اختار فيه نصوصا شتى من علم الكلام والتاريخ والشعر، وأودعه قطعا من إنشائه وترسلاته ومنظوماته، وقد ذكره في كتابه الفلك الدائر.

3- الاعتبار على كتاب الذريعة في أصول الشريعة للسيد المرتضى، في ثلاثة مجلدات.

4- شرح المحصل للإمام فخر الدين.

وهو نقض لكتاب المحصل وردود عليه.
নাসিরুদ্দিন আত-তুসি; ফলে বাগদাদের কুতুবখানা বা গ্রন্থাগারগুলোর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তাঁর ওপর এবং তাঁর ভাই মুওয়াফফাকুদ্দিন ও শায়খ তাজউদ্দিন আলি ইবনে আনজাবের ওপর অর্পণ করা হয়।

কিন্তু তাঁর আয়ুষ্কাল দীর্ঘ হয়নি; তিনি ৬৫৬ হিজরি সনের জমাদিউল আখিরা মাসে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর রচনাবলি:

তাঁর রচনাবলির সংখ্যা অনেক, যা শরয়ি ও সাহিত্যিক সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের প্রমাণ দেয়। এর মধ্যে কিছু রচনা কালের বিবর্তন থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং মুদ্রিত হয়েছে।

১- শারহু নাহজিল বালাগাহ।

তিনি এটি উজির মুআইয়্যাদুদ্দিন মাহমুদ ইবনুল আলকামির গ্রন্থাগারের জন্য রচনা করেন। এটি ইমাম আলির খুতবা ও পত্রাবলির এক বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা এমন অনেক বিষয়বস্তু ধারণ করে যা সমজাতীয় অন্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না।

গ্রন্থটি রচনা সম্পন্ন করার পর তিনি তাঁর ভাই মুআইয়্যাদুদ্দিন আবুল মা'আলির মাধ্যমে সেটি উজিরের কাছে পাঠান। বিনিময়ে উজির তাঁকে একশ দিনার, একটি মূল্যবান পোশাক এবং একটি ঘোড়া উপহার দেন।

এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছে।

২- আল-আবকারিল হিসান।

এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের গ্রন্থ; এতে তিনি ইলমুল কালাম, ইতিহাস ও কবিতা থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি সংকলন করেছেন এবং এতে নিজের গদ্য রচনা, পত্রাবলি ও পদ্যের কিছু অংশও সন্নিবেশিত করেছেন। তিনি তাঁর ‘আল-ফালাকুদ দাইর’ নামক গ্রন্থে এই বইটির উল্লেখ করেছেন।

৩- আল-ইতিবার আলা কিতাবিদ জারিয়াহ ফি উসুলিশ শারিয়াহ; এটি সাইয়্যিদ মুরতাদার মূল গ্রন্থের ওপর রচিত এবং তিন খণ্ডে সমাপ্ত।

৪- শারহুল মুহাসসাল লিল ইমাম ফাখরুদ্দিন।

এটি মূলত ‘আল-মুহাসসাল’ গ্রন্থের সমালোচনা ও তার খণ্ডন।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ১৭)
5- نقص المحصول في علم الأصول:

وهو رد آخر على الإمام فخر الدين.

6- شرح مشكلات الغرر لأبي الحسن البصري في أصول الكلام.

7- شرح الياقوتة لابن نوبخت في علم الكلام أيضا.

8- الوشاح الذهبي في العلم الأدبي.

9- انتقاد المصفى للغزالي، في أصول الفقه.

10- الحواشي على كتاب المفصل في النحو.

11- الفلك الدائر على المثل السائر.

شعره:

له شعر كثير، أجله وأكثره شهرة القصائد السبع العلويات، نظمها في صباه بالمدائين سنة 611هـ في الإشادة بعلي بن أبي طالب. ويروى أنه نظم فصيح ثعلب في يوم وليلة.

1- من شعره ما كتب به إلى الوزير ابن العلقمي لما بعث إليه مكافأة على تأليف شرح نهج البلاغة:

أيا رب العباد رفعت صنعي

وطلت بمنكبي وبللت ريقي
৫- ইলমুল উসূল-এ নাকসুল মাহসুল:

এটি ইমাম ফখর আল-দীনের প্রতি আরেকটি খণ্ডনমূলক জবাব।

৬- ইলমুল কালামে আবু আল-হাসান আল-বাসরী রচিত মুশকিলাতুল গুরার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৭- ইবনে নওবাখত রচিত আল-ইয়াকুতাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এটিও ইলমুল কালাম শাস্ত্রের।

৮- সাহিত্য বিষয়ক আল-ওয়াশাহ আল-জাহাবি।

৯- উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রে গাযালীর আল-মুস্তাফা-এর সমালোচনা।

১০- নাহু শাস্ত্রের কিতাব আল-মুফাসসাল-এর পাদটীকা।

১১- আল-ফালক আদ-দায়ির আলা আল-মাসাল আস-সায়ির।

তাঁর কবিতা:

তাঁর প্রচুর কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ হলো আস-সাব‘ আল-আলাভিয়্যাত (সাতটি আলাভী কাসিদা)। তিনি তাঁর শৈশবে ৬১১ হিজরিতে মাদায়েন শহরে আলী ইবনে আবি তালিবের প্রশংসায় এগুলো রচনা করেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি একদিন ও এক রাতে সা’লাবের ‘ফাসিহ’ কাব্যবদ্ধ করেছিলেন।

১- তাঁর কবিতার মধ্যে সেটিও অন্তর্ভুক্ত যা তিনি উজির ইবনুল আলকামি-র নিকট লিখেছিলেন, যখন তিনি ‘শারহ নাহজুল বালাগাহ’ রচনার পুরস্কারস্বরূপ তাঁর কাছে উপঢৌকন পাঠিয়েছিলেন:

হে বান্দাদের রব, আপনি আমার কাজকে সমুন্নত করেছেন

এবং আমার কাঁধকে উচ্চ করেছেন ও আমার কণ্ঠকে সিক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ১৮)
وزيغ الأشعري1 كشفت عني … فلم أسلك ثنيات الطريق2

أحب الاعتزال وناصريه … ذوي الألباب والنظر الدقيق

فأهل العدل والتوحيد أهلي … نعم ففريقهم أبدا فريقي

وشرح النهج لم أدركه إلا … بعونك بعد مجهدة وضيق

تمثل إذ بدأت به لعيني … هناك كذروة الطود السحيق

فتم بحسن عونك وهو أنأى … من العيوق3 أو بيض الأنوق4

بآل العلقمي ورت زنادي … وقامت بين أهل الفضل سوقي

فكم ثوب أنيق نلت منهم … ونلت بهم، وكم طرف عتيق5

أدام الله دولتهم وأنحى … على أعدائهم بالخنفقيق6

--------------------------------------------

1 الأشعري هو أبو الحسن علي بن إسماعيل الأشعري، ينتسب إلى أبي موسى الأشعري، كان معتزليا أولا، ثم خرج على مذهب المعتزلة وحاربهم بمثل سلاحهم، وأخذ من مذهبهم بعض الآراء، ومن مذهب خصومهم بعضها، وكون لنفسه مذهبا مختارا حاول فيه أن يوفق بين المعقول والمنقول، وهو أميل إلى مذهب أهل السنة، يثبت الصفات لله تعالى من علم وقدرة وإرادة، وهي صفات أزلية قائمة بذاته تعالى. ويقول بإمكان رؤية الخالق سبحانه وتعالى في الآخرة، لكن يستحيل أن تكون الرؤية على جهة ومكن وصورة ومقابلة.

ومذهبه في الوعد والوعيد مخالف للمعتزلة من كل وجه.

ولكن بعض العلماء الكبار من أهل السنة لم يوافقوه على آرائه كلها، ورأوا أن بعضها مشوب بآراء المعتزلة.

"الملل والنحل 1/ 85".

2 ثنيات الطرق: الطرق الملتوية المعوجة.

3 العيوق: نجم أحمر مضيء في طرف المجرة الأيمن يتلو الثريا لا يتقدمها.

4 بيض الأنوق: الأنوق: على وزن صبور العقاب والرخمة، وهو أعز من بيض الأنوق لأنها تحرزه فلا يكاد يظفر أحد؛ لأن أوكارها في القلل الصعبة.

5 الطرف: الفرس الأصيل الكريم.

6 الخنفقيق: السريعة جد من النوق والغزلان وحكاية جري الخيل، وهو مشى فيه اضطراب والمراد الداهية.
আশআরীর বিভ্রান্তি আমার থেকে উন্মোচিত হয়েছে … তাই আমি পথের বক্রতায় চলিনি

আমি ই'তিযাল এবং এর সাহায্যকারীদের ভালোবাসি … যারা বুদ্ধিমান ও সূক্ষ্ম দৃষ্টিসম্পন্ন

ন্যায়বিচার ও তাওহীদের অনুসারীরাই আমার আপনজন … হ্যাঁ, তাদের দলই সর্বদা আমার দল

আর নাহজ-এর ব্যাখ্যা আমি লাভ করতে পারিনি কেবল … তোমার সাহায্যে, অনেক পরিশ্রম ও সংকীর্ণতার পর

যখন আমি এটি শুরু করি, তখন তা আমার চোখে ভেসে উঠেছিল … যেন এক অতি দূরবর্তী সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়া

তোমার উত্তম সাহায্যে তা পূর্ণ হয়েছে, অথচ তা ছিল অধিক দূরবর্তী … আইয়ূক নক্ষত্র কিংবা দুর্লভ শকুনের ডিমের চেয়েও

আলাকামী পরিবারের মাধ্যমে আমার আগুন জ্বলে উঠেছে … এবং গুণীজনদের মাঝে আমার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

তাদের থেকে আমি কতই না মার্জিত পোশাক লাভ করেছি … এবং তাদের মাধ্যমে কতই না উন্নত জাতের ঘোড়া পেয়েছি

আল্লাহ তাদের শাসন চিরস্থায়ী করুন এবং তাদের শত্রুদের ওপর … মহাবিপদ নামিয়ে দিন

--------------------------------------------

১. আশআরী হলেন আবুল হাসান আলী বিন ইসমাঈল আশআরী, যিনি আবু মুসা আশআরীর বংশধর। তিনি প্রথমে মু'তাযিলা ছিলেন, অতঃপর মু'তাযিলা মাযহাব ত্যাগ করেন এবং তাদেরই অস্ত্রের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তিনি তাদের মাযহাব থেকে কিছু মত গ্রহণ করেন এবং তাদের বিরোধীদের মাযহাব থেকেও কিছু গ্রহণ করেন। তিনি নিজের জন্য একটি মনোনীত মাযহাব তৈরি করেন যাতে তিনি যুক্তি এবং শ্রুতির মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেন। তিনি আহলে সুন্নাতের মাযহাবের প্রতি অধিক ঝোঁক রাখেন। তিনি আল্লাহর জন্য জ্ঞান, ক্ষমতা এবং ইচ্ছার মতো গুণাবলী সাব্যস্ত করেন; এগুলো আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান অনাদি গুণাবলী। তিনি পরকালে স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে দেখার সম্ভাবনার কথা বলেন, তবে এই দেখা কোনো দিক, স্থান, আকৃতি বা মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে হওয়া অসম্ভব বলে মনে করেন।

প্রতিশ্রুতি এবং ধমকি বিষয়ে তার মাযহাব সব দিক থেকেই মু'তাযিলাদের বিরোধী।

তবে আহলে সুন্নাতের কিছু বড় আলেম তার সকল মতের সাথে একমত হননি এবং তারা মনে করেন যে তার কিছু মত মু'তাযিলাদের মতের সাথে মিশ্রিত।

"আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/৮৫"।

২. পথের বক্রতা: আঁকাবাঁকা ও কুটিল পথ।

৩. আইয়ূক: আকাশগঙ্গার ডান প্রান্তে একটি উজ্জ্বল লাল নক্ষত্র যা সুরাইয়া নক্ষত্রের অনুগামী হয়, তার আগে যায় না।

৪. শকুনের ডিম: আনুক হলো ঈগল বা শকুন জাতীয় পাখি। এটি অত্যন্ত দুর্লভ বস্তুর উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কারণ পাখিটি তার ডিম পাহারা দেয় এবং কেউ তা সহজে পায় না; কারণ এদের বাসা থাকে দুর্গম চূড়ায়।

৫. আত-তারফ: কুলীন ও উন্নত জাতের ঘোড়া।

৬. আল-খামফাকীক: উট বা হরিণের খুব দ্রুত গতি এবং ঘোড়ার দৌড়ের ভঙ্গি। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মহাবিপদ।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ১৯)
2- ومن شعره قوله في مناجاة الله وبيان مذهبه في الاعتزال:

وحقك لو أدخلتني النار قلت للـ … ـذين بها قد كنت ممن يحبه

وأفنيت عمري في دقيق علومه … وما بغيتي إلا رضاه وقربه

هبوني مسيئا أوضع العلم جهله … وأربعة دون البرية ذنبه1

أما يقتضي شرع التكرم عفوه … أيحسن أن ينسى هواه وحبه؟

أما رد زيغ ابن الخطيب وشكه … وتمويهم في الدين إذ عز خطبه؟

أما كان ينوي الحق فيما يقوله … ألم تنصر التوحيد والعدل كتبه

وغاية صدق العبد أن يعذب الأسمـ … إذا كان من يهوي عليه يصبه

فرد عليه الشيخ صلاح الدين الصفدي بقوله:

علمنا بهذا القول أنك آخذ … يقول اعتزال جل في الدين خطبه؟

فتزعم أن الله في الحشر ما يرمى … وذاك اعتقاد سوف يرديك غبه

وتنفي صفات الله وهي قديمة … وقد أثبتتها عن إلهك كتبه

وتعتقد القرآن خلقا ومحدثا … وذلك داء عز في الناس طبه

وتثبت للعبد الضعيف مشية … يكون بها ما لم يقدره ربه

وأشياء من هذي الفضائح جمة … فأيكما داعي الضلال وحزبه؟

ومن ذا الذي أضحى قريبا إلى الهدى … وجاء عن الدين الحنيفي ذبه

وما صر فخر الدين قول نظمته … وفيه شناع مفرط إذ تسبه

--------------------------------------------

1 أوضع العلم جهله: لزمه، من أوضعت الإبل إذ رعت الحمض حول الماء ولم تبرحه.
২- তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সাথে তাঁর মুনাজাত এবং মুতাযিলা মতবাদের প্রতি তাঁর ঝোঁকের বর্ণনা:

আপনার হকের কসম! যদি আপনি আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান, তবে আমি সেখানে অবস্থানকারীদের বলব যে, আমি তাঁর প্রেমাসক্তদের একজন ছিলাম।

আমি আমার জীবন তাঁর সূক্ষ্ম ইলম অর্জনে ব্যয় করেছি, আর তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ ছাড়া আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

আমাকে না হয় এক পাপাচারী মনে করুন যার মূর্খতা তাকে জ্ঞানের আলো থেকে বিচ্যুত করেছে, আর সৃষ্টির মাঝে যার গুনাহ অত্যন্ত তুচ্ছ।১

মহান দাতার মহানুভবতা কি তাঁর ক্ষমার দাবি রাখে না? এটি কি শোভন যে তাঁর প্রতি থাকা অনুরাগ ও ভালোবাসা বিস্মৃত হওয়া হবে?

তিনি কি ইবনুল খাতিবের বিচ্যুতি ও সন্দেহসমূহ এবং দ্বীনের বিষয়ে তাদের বিভ্রান্তি খণ্ডন করেননি যখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল?

তিনি যা বলতেন তাতে কি তিনি সত্যের অন্বেষণ করতেন না? তাঁর কিতাবসমূহ কি তাওহীদ ও আদলকে সাহায্য করেনি?

একজন বান্দার সত্যবাদিতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হলো সেই কষ্টকেও উপভোগ করা, যা তার প্রিয়তমের পক্ষ থেকে আপতিত হয়।

অতঃপর শায়খ সালাহউদ্দীন আস-সাফাদী তাঁর প্রতি উত্তরে বলেন:

আপনার এই বাণীর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, আপনি এমন এক ইতিজাল (মুতাযিলা মতবাদ) গ্রহণ করেছেন যার ফিতনা দ্বীনের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

আপনি দাবি করেন যে হাশরের ময়দানে আল্লাহকে দেখা যাবে না; আর এটি এমন এক বিশ্বাস যার অশুভ পরিণতি আপনাকে ধ্বংস করবে।

আপনি আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার করেন অথচ সেগুলো অনাদি, আর আপনার রবের কিতাবসমূহ সেই গুণাবলী সাব্যস্ত করেছে।

আপনি কুরআনকে সৃজিত ও নতুন (মাখলুক) বলে বিশ্বাস করেন; আর এটি এমন এক ব্যাধি যার চিকিৎসা মানুষের মাঝে দুর্লভ।

আপনি দুর্বল বান্দার জন্য এমন ইচ্ছা সাব্যস্ত করেন যার মাধ্যমে এমন কিছু সংঘটিত হয় যা তার রব নির্ধারণ করেননি।

এই জাতীয় বহু কলঙ্কজনক বিষয় আপনার মাঝে বিদ্যমান; সুতরাং আপনাদের দুজনের মধ্যে কে পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বানকারী এবং তার দলের অন্তর্ভুক্ত?

হিদায়াতের অধিক নিকটবর্তী কে? আর কেইবা সত্য দ্বীনের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা প্রদান করেছে?

আপনার রচিত কাব্য ফখরুদ্দীন (রাযী)-এর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, বরং তাঁকে গালি দেওয়ার মাধ্যমে এতে আপনার নিজেরই চরম কুরুচি প্রকাশ পেয়েছে।

--------------------------------------------

১ ‘তার মূর্খতা তাকে জ্ঞানের আলো থেকে বিচ্যুত করেছে’: অর্থাৎ তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। এটি সেই উটের অবস্থা থেকে গৃহীত যা পানির নিকটবর্তী লোনা ঘাস খায় এবং তা ছেড়ে যায় না।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ২০)
3- ومن شعره قوله:

لولا ثلاث لم أخف صرعتي … ليست كما قال فتى العبد1

أن أنصر التوحيد والعدل في … كل مكان باذلا جهدي

وأن أناجي الله مستمتعا … بخلوة أحلى من الشهد

وأن أتيه كبرا على … كل لئيم أصعر الخد

لذاك لا أهوى فتاة ولا … خمرا ولا ذا ميعة نهد

--------------------------------------------

1 يريد طرفة بن العبد حيث قال:

ولولا ثلاث هن من عيشة الفتى … وجدك لم أحفل متى قام عودي

فمنهن سبقي العاذلات بشربة … كميت متى ما تعل بالماء تزبد

وكرى إذا نادى المضاف مجنبا … كسيد الغضا نيهته المتورد

وتقصير يوم الدجن والدجن معجب … ببهكنة تحت الطراف المعمد

"من معلقة طرفة بن العبد"

عودي: من يحضره عند موته وينوح عليه.

الكميت: من الخمر التي تضرب إلى السواد. متى ما تعل بالماء: أي تمزج به.

كرى: عطفي. المضاف: الذي نزلت به الهموم: المجنب: فرس في وظيفيه أحديداب ليس بالاعوجاج الشديد وهذا يدل على القوة. سيد: ذئب. الغضا: شجر، وذئابه أخبث الذئاب. المتورد: الذي يطلب أن يرد الماء.

الدجن: المطر الغزير وإلباس الغيم الأرض. بهكنة: المرأة الممتلئة أو الخفيفة الروح المليحة الطيبة الرائحة. معجب: يعجب من رآه. الطراف المعمد: الخباء ذو الأعمدة من أدم.
৩- এবং তাঁর কবিতার মধ্য থেকে তাঁর এই উক্তিটি অন্যতম:

তিনটি বিষয় না থাকলে আমি আমার পতনকে ভয় করতাম না … এগুলো তেমন নয় যেমনটি আল-আবদের যুবক (তরাফা) বলেছিলেন

তা হলো যেন আমি তাওহীদ ও ন্যায়বিচারকে সাহায্য করতে পারি … প্রতিটি স্থানে আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করে

এবং যেন আমি আল্লাহর সাথে নিভৃতে কথা বলে তৃপ্ত হতে পারি … এমন এক নির্জনতায় যা মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি

এবং যেন আমি অহংকারের সাথে শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে পারি … প্রত্যেক সেই নীচ ব্যক্তির ওপর যে অহংকারে গাল বাঁকিয়ে চলে

এ কারণেই আমি কোনো কিশোরী কিংবা মদ্য … অথবা কোনো লাবণ্যময়ী যৌবনদীপ্ত সুন্দরীর প্রতি আসক্ত নই

--------------------------------------------

১ তিনি তরাফা ইবনুল আবদকে বুঝিয়েছেন যেখানে তিনি বলেছিলেন:

যদি যুবকের জীবনের তিনটি বিষয় না থাকত … তবে তোমার শপথ, আমার অন্তিম সময়ে বিলাপকারীরা কখন দাঁড়াবে তা নিয়ে আমি পরোয়া করতাম না

তার একটি হলো নিন্দুকদের আগেই মদ্যপান করে নেওয়া … এমন লালচে মদ্য যা পানির সাথে মিশ্রিত করলে ফেনা তুলে দেয়

এবং বিপদগ্রস্তের ডাকে সাড়া দিয়ে আমার শক্তিশালী ঘোড়াকে ছুটিয়ে দেওয়া … যেন সেই গাদা বনের নেকড়ে যে পানির ঘাটের সন্ধানে ছুটছে

এবং মেঘাচ্ছন্ন দিনকে দীর্ঘায়িত না করে সংক্ষিপ্ত করা … পিলারের উপর স্থাপিত চামড়ার তাঁবুর নিচে একজন লাবণ্যময়ী নারীর সাথে

"তরাফা ইবনুল আবদের মুয়াল্লাকা থেকে"

উদি: যে ব্যক্তি মৃত্যুর সময় উপস্থিত থাকে এবং তার জন্য বিলাপ করে।

আল-কুমাইত: সেই মদ্য যা কালচে লাল বর্ণের হয়। মাতা মা তু'লা বিল মা: অর্থাৎ যখন তাতে পানি মিশ্রিত করা হয়।

কুররি: আমার ফিরে আসা বা আক্রমণ করা। আল-মুদাফ: যার ওপর বিপদ বা দুশ্চিন্তা আপতিত হয়েছে। আল-মুজান্নাব: এমন ঘোড়া যার পায়ের নলার হাড় সামান্য বাঁকানো কিন্তু তা অতিরিক্ত নয়, যা তার শক্তির পরিচয় দেয়। সাইদ: নেকড়ে। আল-গাদা: এক প্রকার গাছ, আর এই বনের নেকড়েরা অত্যন্ত ধূর্ত ও খবিস হয়। আল-মুতাওয়াররিদ: যে পানির ঘাটে পৌঁছাতে চায়।

আদ-দাজন: প্রবল বৃষ্টি এবং মেঘের কারণে অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া। বাহকানাহ: স্থূলকায় অথবা প্রাণবন্ত, সুন্দরী ও সুগন্ধযুক্ত নারী। মু'জিব: যা দেখে দর্শক বিস্মিত হয়। আত-তিরাফ আল-মুআম্মাদ: চামড়া দিয়ে তৈরি স্তম্ভবিশিষ্ট তাঁবু।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الفلك الدائر على المثل السائر:

1- ألف هذا الكتاب ليرد به على كتاب ابن الأثير "المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر" لأنه وجد فيه -كما في المقدمة- المحمود والمردود.

أما المحمود فإنشاء ابن الأثير وصناعته، إلا في الأقل النادر.

وأما المردود فنظره وجدله واحتجاجه واعتراضه وتحامله على الفضلاء، وإفراطه في الإعجاب بنفسه، والتقريظ لعلمه وصناعته.

كذلك قصد من تأليفه إلى أن يبين لمن راقهم كتاب المثل السائر من أكابر أهل الموصل وبغداد ما في الكتاب من وجوه النقص وألوان المآخذ، وأن يعلم ابن الأثير ورؤساء بلده أن في خدم المستنصر من يفوقه علما وافتنانا.

وكان كتاب المثل السائر قد وصل إليه في غرة ذي الحجة سنة 633هـ فتصفحه، وعلق عليه في خمسة عشر يوما كما ذكر في المقدمة، ولم يعاود النظر فيه مرة ثانية.

ولما ألفه كتب إليه أخوه موفق الدين هذين البيتين:

المثل السائر يا سيدي … صنفت فيه الفلك الدائرا

لكن هذا فلك دائر … أصبحت فيه المثل السائرا

وقد قدم كتابه إلى خزانة كتب الخليفة المستنصر بالله1.

--------------------------------------------

1 أبو جعفر المنصور المستنصر بالله بن الظاهر: بويع بالخلافة يوم وفاة والده في 14 من رجب سنة 623 "11 يوليو سنة 1226" واستمر في الخلافة إلى أن توفي في 10 من جمادى الآخر سنة 640 وله آثار جليلة في بغداد منها المدرسة المستنصرية، وكان شهما جوادا عادلا.
আল-ফালাক আদ-দা’ইর আলা আল-মাছাল আস-সা’ইর:

১- এই গ্রন্থটি ইবনুল আছিরের ‘আল-মাছাল আস-সা’ইর ফি আদাবিল কাতিব ওয়াশ শায়ির’ গ্রন্থের প্রতিবাদে বা উত্তর হিসেবে রচনা করা হয়েছে। কারণ লেখক এতে—ভূমিকার ভাষ্য অনুযায়ী—প্রশংসনীয় এবং বর্জনীয় উভয় প্রকার বিষয় খুঁজে পেয়েছিলেন।

প্রশংসনীয় বিষয়টি হলো ইবনুল আছিরের গদ্য রচনা ও শিল্পশৈলী, তবে অতি সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া।

আর বর্জনীয় বিষয়টি হলো তার দৃষ্টিভঙ্গি, বিতর্ক, যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন, আপত্তি এবং গুণীজনদের প্রতি তার পক্ষপাতমূলক বিদ্বেষ। সেই সাথে তার নিজের প্রতি অতিমাত্রায় মুগ্ধতা এবং নিজের জ্ঞান ও কর্মের অতিশয় প্রশংসা।

একইভাবে এটি রচনার মাধ্যমে লেখকের উদ্দেশ্য ছিল মসুল ও বাগদাদের সেই সব গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে ‘আল-মাছাল আস-সা’ইর’ গ্রন্থের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও দোষের দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা যারা উক্ত গ্রন্থটি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সেই সাথে ইবনুল আছির এবং তার শহরের প্রধানদের এটি জানিয়ে দেওয়া যে, আল-মুসতানসিরের খাদেমদের মধ্যেও এমন লোক রয়েছেন যারা জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

৬৩৩ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শুরুতে ‘আল-মাছাল আস-সা’ইর’ গ্রন্থটি তার নিকট পৌঁছেছিল। তখন তিনি এটি পাঠ করেন এবং ভূমিকার বর্ণনা অনুযায়ী মাত্র পনেরো দিনে এর ওপর টীকা লেখেন। এরপর তিনি আর দ্বিতীয়বার এটি পর্যবেক্ষণ করেননি।

যখন তিনি এটি রচনা করলেন, তখন তার ভাই মুওয়াফফাকুদ্দিন তাকে উদ্দেশ্য করে এই দুই ছত্র কবিতা লিখেছিলেন:

হে আমার নেতা, ‘আল-মাছাল আস-সা’ইর’ সম্পর্কে … আপনি ‘আল-ফালাক আদ-দা’ইর’ রচনা করেছেন।

তবে এটি এমন এক আবর্তনশীল কক্ষপথ … যাতে আপনি নিজেই প্রবাদপ্রতিম হয়ে উঠেছেন।

তিনি তার গ্রন্থটি খলিফা আল-মুসতানসির বিল্লাহর কুতুবখানায় (লাইব্রেরি) পেশ করেছিলেন ১।

--------------------------------------------

১ আবু জাফর আল-মনসুর আল-মুসতানসির বিল্লাহ বিন আজ-জাহির: তিনি তার পিতার মৃত্যুর দিন ৬২৩ হিজরির ১৪ই রজব (১১ জুলাই ১২২৬ খ্রিস্টাব্দ) খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করেন। ৬৪০ হিজরির ১০ই জামাদিউল আখিরায় মৃত্যু পর্যন্ত তিনি খিলাফতে বহাল ছিলেন। বাগদাদে তার বহু মহৎ কীর্তি রয়েছে, যার মধ্যে মুসতানসিরিয়া মাদ্রাসা অন্যতম। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, দানশীল ও ন্যায়পরায়ণ।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ২২)
أما تسمية الكتاب فقد أراد بها -كما ذكر في المقدمة- نقض كتاب المثل وإبطاله ومحوه؛ لأنهم يقولون لما باد ودثر قد دار عليه الفلك، كأنهم يريديون أنه قد طحنه ومحاه.

2- رأينا أن نخرج هذا الكتاب؛ لأنه وثيق الصلة بكتاب المثل السائر، وهو في جملته تعليق عليه ونقد له، وتوسعة لمجال الدراسات البلاغية والنقدية.

والنسخة التي اعتمدنا عليها مطبوعة على الحجر سنة 1309هـ على نفقة الميرزا محمد الشيرازي، في 184 صفحة من القطع المتوسط.

وطبعتها رديئة جدا، تنوء بالتحريف والأغلاط، وليس بها ترتيب ما، وكل ما بها من شعر مدمج بالنثر إدماجا.

وكثيرا ما يكتفي المؤلف بالإشارات إلى بعض النصوص، وكثيرا ما يذكر النص مبتورا، سواء أكان آية قرآنية أم بيت شعر أم مثلا، وكثيرا يورد النصوص غير منسوبة إلى قائليها، وفي بعض الأحيان ينسبها إلى غير قائليها.

فاجتهدنا في معالجة هذا كله.

صححنا النصوص المحتاجة إلى تصحيح، وأكملنا ما يحتاج إلى إكمال، ونسبنا النصوص المجهولة إلى قائليها ما استطعنا، وصوبنا نسبة بعضها إلى أصحابها، ورجعنا كل نص إلى مصدره الذي أخذ منه أو الذي صححناه منه.

وراجعنا نقله من "المثل السائر" فقرة فقرة، سواء أكان النقل كاملا أم ملخصا، ونبهنا على ذلك.
বইটির নামকরণের ক্ষেত্রে তিনি -যেমনটি তিনি ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন- 'আল-মাসাল' কিতাবটির খণ্ডন, বাতিল এবং তা মুছে ফেলার ইচ্ছা করেছেন; কারণ কোনো কিছু বিলুপ্ত ও ধ্বংস হয়ে গেলে তারা বলে থাকে যে, 'তার উপর আকাশচক্র আবর্তিত হয়েছে', যেন তারা এর মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন যে তা চূর্ণবিচূর্ণ ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

২- আমরা এই বইটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; কারণ এটি 'আল-মাসালুস সায়ির' কিতাবের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এটি সামগ্রিকভাবে উক্ত কিতাবের ওপর একটি টীকা ও সমালোচনা এবং এটি অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনামূলক গবেষণার ক্ষেত্রকে বিস্তৃত করে।

আমরা যে কপির ওপর নির্ভর করেছি তা ১৩০৯ হিজরীতে মির্জা মুহাম্মদ আল-শিরাজীর অর্থায়নে পাথুরে মুদ্রণে (লিথোগ্রাফ) মুদ্রিত, যা মাঝারি আকারের ১৮৪ পৃষ্ঠার।

এর মুদ্রণ অত্যন্ত নিম্নমানের, যা বিকৃতি ও ভুলে ভারাক্রান্ত এবং এতে কোনো সুনির্দিষ্ট বিন্যাস নেই; এর প্রতিটি কবিতা গদ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে।

প্রায়শই লেখক বিভিন্ন উদ্ধৃতির প্রতি কেবল ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং অনেক সময় উদ্ধৃতিগুলো অসম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করেছেন—তা কুরআনের আয়াত হোক, কবিতার পঙক্তি হোক কিংবা প্রবাদবাক্য হোক। আবার অনেক ক্ষেত্রে তিনি উদ্ধৃতিগুলো তাদের প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধ করেননি এবং কোনো কোনো সময় তা ভুল ব্যক্তির নামে চালিয়ে দিয়েছেন।

তাই আমরা এই সবকিছুর প্রতিকারে যথাযথ প্রচেষ্টা চালিয়েছি।

আমরা সংশোধনযোগ্য পাঠগুলো সংশোধন করেছি, অসম্পূর্ণ অংশগুলো পূর্ণ করেছি এবং সাধ্যমতো অজ্ঞাত উদ্ধৃতিগুলো তাদের প্রকৃত প্রবক্তাদের নামে চিহ্নিত করেছি। আমরা কিছু ভুল সম্বন্ধকে সঠিকভাবে তাদের প্রকৃত অধিকারীদের নামে সংশোধন করেছি এবং প্রতিটি পাঠকে তার মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে নিয়েছি যেখান থেকে তা সংগৃহীত হয়েছে বা আমরা যা থেকে সংশোধন করেছি।

আমরা 'আল-মাসালুস সায়ির' থেকে নেওয়া প্রতিটি উদ্ধৃতি অনুচ্ছেদ ধরে ধরে মিলিয়ে দেখেছি, তা পূর্ণাঙ্গ উদ্ধৃতি হোক বা সংক্ষিপ্তসার; এবং আমরা সে বিষয়ে টীকা প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعرفنا بكثير من الأعلام والأحداث التي ذكرها في كتابه.

وشرحنا ما يحتاج من نثر المؤلف إلى شرح.

3- يتبين من دراسة "الفلك الدائر" أن ابن أبي الحديد كان معجبا بنثر ابن الأثير، وببراعته في حل المنظوم، والاقتباس من القرآن الكريم والحديث النبوي، ويغلب على نقده الموضوعية:

ونستطيع أن نقسم نقده ثلاثة أقسام:

1- بعضه حق، مثله قوله:

أ- قال المصنف -ابن الأثير: "ولا أدعي فيما ألفته فضيلة الإحسان، ولا السلامة من سبق اللسان". ثم قال بعد سطر واحد: "وإذا تركت الهوى قلت إن هذا الكتب بديع في إغرابه، وليس له صاحب من الكتب فيقال إنه متفرد من بين أصحابه".

وعلق ابن أبي الحديد بقوله: وهل يدعي أحد فضيلة الإحسان بأبلغ من هذا الكلام؟ وقد قال قبل هذا التواضع بثلاثة أسطر: "إن الله هداني لابتداع أشياء لم تكن من قبلي مبدعة، ومنحنى درجة الاجتهاد التي لا تكون أقوالها تابعة وإنما تكون متبعة".

فمن يزعم أن الله هداه في هذا الفن إلى ابتداع أشياء لم يسبق بها، ورزقه فيها درجة الاجتهاد التي يتبعها الناس كيف يقول: لا أدعي فيما ألفته فضيلة إلا وبلغتها؟
আমরা অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ঘটনাবলি সম্পর্কে পরিচিতি পেশ করেছি যা তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

এবং লেখকের গদ্যের যা কিছু ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল তা আমরা ব্যাখ্যা করেছি।

৩- "আল-ফালাক আল-দা-ইর" অধ্যয়ন করলে স্পষ্ট হয় যে, ইবনে আবিল হাদিদ ইবনুল আসিরের গদ্যরীতি এবং কাব্যিক উপমা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে ও পবিত্র কুরআন ও নববী হাদিস থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতার প্রতি মুগ্ধ ছিলেন। তাঁর সমালোচনার ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতাই প্রাধান্য পায়:

আমরা তাঁর সমালোচনাকে তিন ভাগে বিভক্ত করতে পারি:

১- এর কিছু অংশ সঠিক, যেমন তাঁর এই উক্তি:

ক- গ্রন্থকার -ইবনুল আসির- বলেছেন: "আমি আমার এই রচনায় সুনিপুণ শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করি না, আর অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার দাবিও করি না।" এরপর মাত্র এক লাইন পরেই তিনি বলেছেন: "আমি যদি প্রবৃত্তির অনুসরণ ত্যাগ করে বলি, তবে বলব যে এই গ্রন্থটি এর চমৎকার বৈশিষ্ট্যের কারণে এক অনন্য সৃষ্টি এবং গ্রন্থরাজির মধ্যে এর সমকক্ষ কেউ নেই যে বলা যাবে এটি তার সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য।"

ইবনে আবিল হাদিদ মন্তব্য করে বলেন: এর চেয়ে অলঙ্কারপূর্ণভাবে কি আর কেউ শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করতে পারে? অথচ তিনি এই বিনয় প্রকাশের মাত্র তিন লাইন আগেই বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে এমন সব বিষয় উদ্ভাবনের দিশা দিয়েছেন যা আমার আগে কেউ উদ্ভাবন করেনি এবং আমাকে ইজতিহাদের এমন এক স্তরে উন্নীত করেছেন যার কথাগুলো অন্য কারো অনুসারী হবে না বরং সেগুলোই হবে অনুসৃত।"

সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে আল্লাহ তাকে এই শিল্পে এমন কিছু উদ্ভাবনের পথ দেখিয়েছেন যা তার আগে কেউ করেনি এবং তাকে এতে ইজতিহাদের মর্যাদা দান করেছেন যা মানুষ অনুসরণ করে, সে কীভাবে বলতে পারে: আমি যা রচনা করেছি তাতে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করি না, অথচ সে তো সেই দাবির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছে?
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ২৪)
ب- وكان ابن الأثير قد نبه الكُتَّاب على أن يعلموا فيما يعلمون ما يتصل بالنحو والصرف واللغة وقال: "وأما الإدغام فلا حاجة إليه لكاتب، لكن الشاعر ربما احتاج إليه؛ لأنه قد يضطر في بعض الأحوال إلى إدغام حرف، وإلى فك إدغام من أجل إقامة الميزان الشعري". ثم قال بعد ذلك: "وإنما قصدنا أن يكون الكتاب الذي يكتب في هذا المعنى مشتملا على الترغيب والترهيب والمسامحة في موضع والمحاققة في موضع".

وتلقف ابن أبي الحديد كلمة "المحاققة" فعلق عليها بقوله: قد ظهرت فائدة علم الإدغام في باب الكتابة، فإن الكاتب أراد أن يوازن لفظة المسامحة بلفظة المحاققة، وسها عن أن المحاققة بفك الإدغام غير جائزة.

جـ- قال ابن الأثير: "وقد مدح أبو الطيب كافورا بقوله:

فما لك تغني بالأسنة والقنا … وجدك طعان بغير سنان؟

وما لك تختار القسي وإنما … عن السعد يرمي دونك الملوان؟

وهذا يحتمل المدح والذم، بل هو بالذم أشبه؛ لأنه يقول إنك لم تبلغ ما بلغته بسعيك واهتمامك، بل بجد وسعادة، وهذا لا فضل فيه؛ لأن السعادة ينالها الخامل والجاهل ومن لا يستحقها. وأكثر ما كان المتنبي يستعمل هذا الفن في القصائد الكافوريات.

وعلق ابن أبي الحديد على هذا تعليقا يدل على ذوقه الصائب، واطلاعه الواسع، وتحرره مما تناقله الناس، فقال: إن الناس واقع لهم واقع ظريف مع المتنبي في هذا الباب، وكان أصله الشيخ أبو الفتح عثمان بن جني رحمه الله.
খ- ইবনুল আসীর লেখকদের এই মর্মে সতর্ক করেছিলেন যে, তারা যেন তাদের জ্ঞানলব্ধ বিষয়ের মধ্যে নাহু, সরফ এবং ভাষা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেন: "আর ইদগামের ক্ষেত্রে একজন লেখকের কোনো প্রয়োজন নেই, তবে একজন কবির হয়তো এর প্রয়োজন হতে পারে; কারণ ছন্দের ভারসাম্য রক্ষার জন্য তাকে কোনো কোনো অবস্থায় বর্ণের ইদগাম করতে হয়, আবার কখনো ইদগাম পরিহার করতে হয়।" এরপর তিনি বলেন: "আমাদের উদ্দেশ্য হলো এই বিষয়ের ওপর লিখিত গ্রন্থটি যেন উৎসাহ প্রদান, ভীতি প্রদর্শন, কোনো স্থানে নমনীয়তা এবং কোনো স্থানে কঠোর পুঙ্খানুপুঙ্খতার (মুহাক্কাকাহ) সংমিশ্রণ হয়।"

ইবনে আবিল হাদিদ "মুহাক্কাকাহ" শব্দটি লুফে নেন এবং এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: লিখনশৈলীর ক্ষেত্রে ইদগাম শাস্ত্রের উপযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। লেখক আসলে "মুসামাহাহ" শব্দের সাথে ছন্দ মেলাতে "মুহাক্কাকাহ" শব্দটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি এটি বিস্মৃত হয়েছিলেন যে, ইদগাম পরিহার করে "মুহাক্কাকাহ" বলা ব্যাকরণগতভাবে বৈধ নয়।

গ- ইবনুল আসীর বলেন: "আবু তাইয়্যিব কাফুরকে এই বলে প্রশংসা করেছেন:

তোমার কী প্রয়োজন বর্শা আর বল্লম দিয়ে জয়ী হওয়ার … যখন তোমার সৌভাগ্যই বর্শার ফলক ছাড়াই আঘাত হানে?

তোমার কী প্রয়োজন ধনুক বেছে নেওয়ার যখন … সৌভাগ্যের কারণে দিন-রাত তোমার হয়ে তীর নিক্ষেপ করে?

এর মধ্যে প্রশংসা এবং নিন্দা উভয়টিরই অবকাশ রয়েছে, বরং এটি নিন্দারই অধিক সদৃশ; কারণ তিনি বলছেন যে, তুমি তোমার প্রচেষ্টা ও মনোযোগ দিয়ে এই অবস্থানে পৌঁছাওনি, বরং নিছক ভাগ্য ও সৌভাগ্যের জোরে পৌঁছেছ। আর এতে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; কারণ সৌভাগ্য তো অলস, মূর্খ এবং অযোগ্য ব্যক্তিও লাভ করতে পারে। আল-মুতানাব্বি কাফুরকে নিয়ে রচিত কবিতাগুলোতে এই শিল্পটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতেন।

ইবনে আবিল হাদিদ এর ওপর এমন একটি মন্তব্য করেছেন যা তার সঠিক রুচি, বিস্তৃত জ্ঞান এবং লোকমুখে প্রচলিত লোকগাঁথা থেকে তার মুক্ত হওয়ার প্রমাণ দেয়। তিনি বলেন: এই বিষয়ে আল-মুতানাব্বির ব্যাপারে মানুষের মাঝে এক অদ্ভুত ধারণা প্রচলিত আছে, যার মূলে ছিলেন শায়খ আবুল ফাতহ উসমান ইবনে জিননি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ২৫)
وزعم بعضهم أن المتنبي كان يبغض كافورا ويحنق عليه، فكان يقصد ذلك ويتعمده بالشعر الموجه الذي يحتمل المدح والذم.

ومنهم من زعم أن كافورا كان يتفطن لذلك ويغضي عنه، وينقلون هذا عن المتنبي.

وما كان ذلك قط، ولا وقع شيء، ولا قصد أبو الطيب نحو ذلك أصلا.

ثم ضرب أمثلة من مدح المتنبي لسيف الدولة، فيها مدح بالجد وحسن الحظ، كقوله:

ولقد رمت بالسعادة بعضا … من نفوس العدا فأدركت كلا

وقوله:

إذا سعت الأعداء في كيد مجده … سعى جده في كيدهم سعي محنق

وقوله:

لو لم تكن تجري على أسيافهم … مهجاتهم لجرت على إقباله

وقوله:

هم يطلبون فمن أدركوا … وهم يكذبون فمن يقبل

وهم يتمنون ما يشتهون … ومن دونه جدك المقبل

وضرب أمثلة أخرى من شعر المتنبي فيها إشارة بالحظ المواتي والسعد المسعف، ثم قال: ولكن سيف الدولة لما اشتهر إخلاص أبي الطيب له عدل
তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, মুতানাব্বি কাফুরকে ঘৃণা করতেন এবং তার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন, তাই তিনি দ্ব্যর্থবোধক কবিতার মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা করতেন যা প্রশংসা ও নিন্দা—উভয় অর্থই বহন করতে পারে।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন যে, কাফুর বিষয়টি বুঝতে পারতেন কিন্তু তা এড়িয়ে যেতেন; এবং তারা এটি মুতানাব্বির পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন।

প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি কখনোই এমন ছিল না, এ ধরনের কোনো কিছু ঘটেনি এবং আবু তাইয়্যেব আদৌ এমন কোনো উদ্দেশ্য পোষণ করেননি।

এরপর তিনি সাইফ উদ-দাওলার প্রতি মুতানাব্বির প্রশংসাসূচক কাব্যের কিছু উদাহরণ পেশ করেন, যেখানে সৌভাগ্য ও সুপ্রসন্ন নসিবের প্রশংসা করা হয়েছে; যেমন তার উক্তি:

আমি সৌভাগ্যের মাধ্যমে শত্রুদের প্রাণের কিছু অংশ হরণ করতে চেয়েছিলাম … কিন্তু তা তাদের সকলকেই গ্রাস করে নিল।

এবং তার উক্তি:

শত্রুরা যখন তার মর্যাদাকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় … তখন তার সৌভাগ্য তাদের বিরুদ্ধে চরম ক্রুদ্ধ ব্যক্তির ন্যায় পাল্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

এবং তার উক্তি:

তাদের প্রাণ যদি তাদের তলোয়ারের ওপর প্রবাহিত না হতো … তবে তা তার সৌভাগ্যের অনুকূলে প্রবাহিত হতো।

এবং তার উক্তি:

তারা অন্বেষণ করে, কিন্তু তারা কাকে পেয়েছে? … আর তারা মিথ্যা বলে, কিন্তু কে তা গ্রহণ করে?

তারা তাদের আকাঙ্ক্ষিত বস্তুর কামনা করে … অথচ এর অন্তরালে রয়েছে আপনার সুপ্রসন্ন সৌভাগ্য।

তিনি মুতানাব্বির কাব্য থেকে আরও কিছু উদাহরণ পেশ করেন যাতে অনুকূল ভাগ্য ও সহায়ক সুসংবাদের ইঙ্গিত রয়েছে। এরপর তিনি বলেন: কিন্তু আবু তাইয়্যেবের একনিষ্ঠতা যখন সাইফ উদ-দাওলার নিকট সুপ্রসিদ্ধ হলো, তখন তিনি ইনসাফ করলেন...
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ২৬)
الناس عن هذا الشعر الذي يتضمن ذكر الجد والحظ فلم يذكروه، ولم يجعلوه متوسطا بين المدح والذم، وقالوا ذلك في كافور لما حدث تغيره مع أبي الطيب، وانحراف كل منهما عن صاحبه، ومجاهرة أبي الطيب له بالهجاء بعد أن فارقه.

ثم زاد الفكرة تأكيدا بأمثلة من شعراء آخرين.

د- قال ابن الأثير في تفسير بيت أبي صخر الهذلي:

عجبت لسعي الدهر بيني وبينها … فلما انقضى ما بيننا سكن الدهر

إنه يحتمل وجهين من التأويل: أحدهما أنه أراد بسعي الدهر سرعة تقضي الأوقات مدة الوصال، فلما انقضى الوصل عاد الدهر إلى حالته الأولى في السكون والبطء.

والآخر أنه أراد بسعي الدهر سعي أهل الدهر بالنمائم والوشايات، فلما انقضى ما كان بينهما من الوصل سكنوا وتركوا السعاية.

فعلق ابن أبي الحديد بقوله: التفسير الثاني هو الصحيح، والأول غير صحيح، واللفظ لا يحتمله، وفي البيت ما يمنع منه؛ لأنه قال "بيني وبينها" وهذه اللفظة تمنع من أن يريد سرعة تقضي الزمان أيام وصالنا، فإنها قرينة تحمل لفظ السعي على العناية والنميمة بالشر، لا على السعي بمعنى الحركة والسير.

ألا تراهم يقولون سعي فلان بين فلان وفلان بالشر، أي ضرب بينهم، وحمل بعضهم على بعض، ولا يقولون سعى بينهم من السعي بمعنى الحركة والسير؟
মানুষ এই কবিতা সম্পর্কে, যাতে ভাগ্য ও নসিবের উল্লেখ রয়েছে, তা আলোচনা করেনি এবং একে প্রশংসা ও নিন্দার মাঝামাঝি অবস্থানে রাখেনি। তারা কাফুর সম্পর্কে এমনটি বলেছিল যখন আবু তাইয়্যেবের সাথে তার সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে এবং তাদের একে অপরের প্রতি বিমুখতা তৈরি হয়, আর আবু তাইয়্যেব তাকে ছেড়ে যাওয়ার পর প্রকাশ্যে তার নিন্দা শুরু করেন।

এরপর তিনি অন্য কবিদের উদাহরণ দিয়ে এই ধারণাটিকে আরও জোরালো করেন।

ঘ- আবু সাখর আল-হুজালীর একটি পংক্তির ব্যাখ্যায় ইবনুল আসীর বলেছেন:

আমি আমার ও তার মাঝে কালের প্রচেষ্টায় বিস্মিত হয়েছিলাম … অতঃপর যখন আমাদের মধ্যাকার সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল, তখন কাল শান্ত হলো।

এর ব্যাখ্যার দুটি দিক হতে পারে: একটি হলো, তিনি 'কালের প্রচেষ্টা' বলতে মিলনের সময়কাল দ্রুত অতিবাহিত হওয়াকে বুঝিয়েছেন; ফলে যখন মিলন শেষ হয়ে গেল, কাল পুনরায় তার পূর্বের ধীর ও স্থির অবস্থায় ফিরে এল।

আর দ্বিতীয়টি হলো, তিনি 'কালের প্রচেষ্টা' বলতে সমকালীন লোকদের পরনিন্দা ও চোগলখুরির প্রচেষ্টাকে বুঝিয়েছেন; ফলে যখন তাদের মধ্যকার মিলন শেষ হয়ে গেল, তখন তারা শান্ত হলো এবং কুৎসা রটানো ছেড়ে দিল।

ইবনে আবিল হাদীদ এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটিই সঠিক এবং প্রথমটি সঠিক নয়; শব্দসমূহ এটি গ্রহণ করে না এবং পংক্তিটিতে এমন কিছু রয়েছে যা একে বাধা দেয়। কারণ তিনি বলেছেন "আমার ও তার মাঝে", আর এই শব্দটি আমাদের মিলনের দিনগুলোতে সময়ের দ্রুত অতিবাহিত হওয়া বুঝাতে বাধা দেয়। কেননা এটি এমন একটি সূত্র যা 'প্রচেষ্টা' শব্দটিকে অনিষ্টকর তৎপরতা ও চোগলখুরির অর্থে বহন করে, গতি বা চলার অর্থে প্রচেষ্টা হিসেবে নয়।

আপনি কি দেখেন না যে তারা বলে—অমুক ব্যক্তি অমুক ও অমুকের মাঝে মন্দের উদ্দেশ্যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, অর্থাৎ তাদের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করেছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছে; কিন্তু তারা চলাফেরা বা গতির অর্থে তাদের মাঝে 'প্রচেষ্টা চালিয়েছে' বলে না?
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ২৭)
وليس هذا مقصود البيت. ولو أراد السعي بمعنى سرعة مرور الزمان لقال عجبت لسعي الدهر أيام وصلنا، أو ما يشبه ذلك.

وفساد المعنى ظاهر عند من له أدنى نقد للمعاني الشعرية.

هـ- قال ابن الأثير: الأسماء المترادفة هي التي يتحد فيها المسمى وتختلف أسماؤه، كالخمر والراح والمدام.

وعلق ابن أبي الحديد بقوله: هذا من أمثال الغلطات التي نبه عليها المنطقيون، فقالوا قد يظن في كثير من الأسماء أنها مترادفة، وهي في الحقيقة متباينة، كالسيف والصارم والمهند، فكل واحد من هذه مباين للآخر، فالأسماء الموضوعة لها متباينة في الحقيقة، وإن ظن في الظاهر أنها مترادفة.

وكذلك ما مثل به هذا المصنف، فإن الخمر اسم موضوع لهذا الشراب المخصوص، والراح اسم لما ترتاح النفس إليه، والمدام اسم لما يدام استعماله، فالمعاني متباينة لا محالة، وإن توهم في الظاهر أنها مترادفة.

و قال ابن الأثير في بيان المشترك اللفظي: إن مقصود واضع اللغة البيان والتجنيس، والبيان يحصل بالألفاظ المتباينة الكافية في الإفهام، وأما التجنيس فإنه عمدة الفصاحة والبلاغة، ولا يقوم به إلا الأسماء المشتركة.

ورد ابن أبي الحديد بأن عدم الاشتراك اللفظي لا يذهب التجنيس، فإن التجنيس يحدث بين لفظتين متشابهتين في حروفهما الأصيلة، كقول أبي تمام:

متى أنت عن ذهلية الحي ذاهل؟

وأكثر التجنيس في الشعر والرسائل مثل هذا، ولا يستعمل التجنيس بالمشترك إلا نادرا.
এটি এই পংক্তির উদ্দেশ্য নয়। আর যদি তিনি ‘সা’য়ী’ (গতি) দ্বারা সময়ের দ্রুত অতিবাহিত হওয়া বোঝাতে চাইতেন, তবে তিনি বলতেন ‘আমাদের মিলনের দিনগুলোতে কালের গতি দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি’ অথবা এর সদৃশ কিছু।

কাব্যিক অর্থের সামান্যতম সমালোচনা বা পরখ করার ক্ষমতা যার আছে, তার কাছে এই অর্থের অসারতা স্পষ্ট।

৫. ইবনুল আসির বলেন: সমার্থক শব্দাবলি হলো সেই সব শব্দ যেখানে নামকৃত সত্তা এক হয় কিন্তু তার নামগুলো ভিন্ন হয়, যেমন: খামর (মদ), রাহ এবং মুদাম।

ইবনু আবিল হাদিদ এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন: এটি ঐসব ভুলত্রুটির অন্তর্ভুক্ত যে ব্যাপারে যুক্তিবিদগণ সতর্ক করেছেন। তারা বলেছেন যে, অনেক নামের ক্ষেত্রে মনে হতে পারে সেগুলো সমার্থক, অথচ প্রকৃতপক্ষে সেগুলো স্বতন্ত্র; যেমন: সাইফ (তলোয়ার), সারিম (তীক্ষ্ণ তলোয়ার) এবং মুহান্নাদ (ভারতীয় তলোয়ার)। এগুলোর প্রতিটিই অপরটি থেকে ভিন্ন, তাই এগুলোর জন্য নির্ধারিত নামসমূহ প্রকৃতপক্ষে স্বতন্ত্র, যদিও বাহ্যিকভাবে মনে হতে পারে সেগুলো সমার্থক।

অনুরূপভাবে এই লেখক যা উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন; কারণ ‘খামর’ শব্দটি এই নির্দিষ্ট পানীয়ের জন্য নির্ধারিত নাম, ‘রাহ’ হলো সেই জিনিসের নাম যার মাধ্যমে আত্মা প্রশান্তি লাভ করে এবং ‘মুদাম’ হলো সেই জিনিসের নাম যার ব্যবহার দীর্ঘস্থায়ী হয়। সুতরাং অর্থগুলো অনিবার্যভাবেই স্বতন্ত্র, যদিও বাহ্যিকভাবে সমার্থক হওয়ার বিভ্রম হতে পারে।

ইবনুল আসির শাব্দিক অংশীদারিত্বের বর্ণনায় বলেন: ভাষা প্রণেতার উদ্দেশ্য হলো স্পষ্টায়ন এবং অনুপ্রাস। স্পষ্টায়ন অর্জিত হয় এমন স্বতন্ত্র শব্দাবলির মাধ্যমে যা বোধগম্যতার জন্য যথেষ্ট। আর অনুপ্রাস হলো বিশুদ্ধতা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল ভিত্তি, যা সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক নাম ছাড়া সুপ্রতিষ্ঠিত হয় না।

ইবনু আবিল হাদিদ এর উত্তরে বলেন যে, শাব্দিক অংশীদারিত্বের অনুপস্থিতি অনুপ্রাসকে বিলুপ্ত করে না; কারণ অনুপ্রাস সংঘটিত হয় এমন দুটি শব্দের মধ্যে যাদের মূল বর্ণগুলো সদৃশ, যেমন আবু তাম্মামের উক্তি:

তুমি কখন গোত্রের জুহলিয়া নারী থেকে বিস্মৃত হবে?

কবিতা ও পত্রাবলিতে অধিকাংশ অনুপ্রাস এমনই হয়ে থাকে, আর সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের মাধ্যমে অনুপ্রাসের ব্যবহার কেবল কদাচিৎ দেখা যায়।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ২৮)
ورد أيضا بأن عدم التجنيس لا يذهب حسن الكلام، وضرب أمثلة بأدب عبد الحميد وابن المقفع ومن قبلها ومن بعدهما من الفصحاء، وقال: فهل ترى لأحد منهم تجنيسا في كلامه إلا أن يقع اتفاقا غير مقصود؟

2- وبعضه مجانب للحق؛ إذ كان الصواب فيما قاله ابن الأثير.

من ذلك أن ابن الأثير ذهب إلى أن صناعة تأليف الكلام من المنظوم والمنثور تفتقر إلى آلات كثيرة، وثقافة متنوعة، وقد قيل: ينبغي للكاتب أن يتعلق بكل علم، ويخوض في كل فن، وملاك هذا كله الطبع، فإنه إذا لم يكن ثم طبع فإنه لا تغني تلك الآلات شيئا …

وعلق ابن أبي الحديد على هذا بأنه من دعاوي الكتاب وتزويقاتهم، ولا يعول عليه محصل؛ لأن الفنون التي يذكرها الكتاب، ويزعمون أن الكتابة مفتقرة إليها، إن أرادوا بها ضرورتها لها فهذا باطل؛ لأن سحبان وائل وقس بن ساعدة وغيرهما من خطباء العرب ما كانت تعرفها، كذلك من كان في أول الإسلام من الخطباء كمعاوية وزياد وغيرهما.

وإن أرادوا أنها متممة ومكملة فهذا حق، لكن عدمها لا يقتضي سلب اسم الكتابة، مع أن ما يحتاج إليه الكاتب يحتاج إليه الشاعر وزيادة.

ويبدو من تعليقه هذا أنه غفل عما تنبه إليه ابن الأثير من ضرورة الثقافة للكتاب.

ولم يكن موفقا في تمثيله بقس وسحبان ومعاوية وزياد؛ لأن هؤلاء خطباء، ولم يعرض ابن الأثير لثقافة الخطباء، بل عرض لثقافة الكتاب والشعراء.
আরও বর্ণিত হয়েছে যে, অনুপ্রাস না থাকা বক্তব্যের সৌন্দর্য নষ্ট করে না। তিনি আবদুল হামিদ ও ইবনুল মুকাফফা এবং তাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বাগ্মীদের সাহিত্যের উদাহরণ পেশ করেছেন এবং বলেছেন: আপনি কি তাদের কারও কথায় কোনো অনুপ্রাস দেখতে পান, যদি না তা অনিচ্ছাকৃতভাবে কাকতালীয়ভাবে ঘটে থাকে?

২- এবং এর কিছু অংশ সত্য থেকে বিচ্যুত; কারণ সঠিক কথা সেটিই ছিল যা ইবনুল আসির বলেছেন।

এর মধ্যে একটি হলো ইবনুল আসির এই মত পোষণ করেছেন যে, পদ্য ও গদ্য রচনার শিল্পে অনেক উপকরণের প্রয়োজন এবং বিচিত্র পাণ্ডিত্যের মুখাপেক্ষী। বলা হয়ে থাকে: একজন লেখকের উচিত প্রতিটি জ্ঞানের সাথে যুক্ত থাকা এবং প্রতিটি শিল্পে নিমগ্ন হওয়া। আর এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো সহজাত প্রতিভা। কেননা, যদি সেখানে সহজাত প্রতিভা না থাকে, তবে ওইসব উপকরণ কোনো কাজেই আসবে না …

ইবন আবিল হাদিদ এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, এটি লেখকদের দাবি ও তাদের অলঙ্করণ মাত্র, যার ওপর কোনো গবেষক নির্ভর করেন না। কারণ লেখকরা যেসব শিল্পের কথা উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে লেখালেখি সেগুলোর মুখাপেক্ষী, তারা যদি এর দ্বারা সেগুলোর অপরিহার্যতা বোঝাতে চান তবে তা বাতিল; কারণ সাহবান ওয়ায়েল, কাস বিন সায়েদাহ এবং আরবদের অন্যান্য বাগ্মীরা এগুলো জানতেন না। অনুরূপভাবে ইসলামের শুরুর দিকের বাগ্মী যেমন মুয়াবিয়া, জিয়াদ এবং অন্যান্যরাও তা জানতেন না।

আর তারা যদি বোঝাতে চান যে এগুলো পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী, তবে তা সত্য। কিন্তু এগুলোর অনুপস্থিতি 'রচনা' বা সাহিত্য নামটিকে বাতিল করা আবশ্যক করে না। যদিও একজন লেখকের যা প্রয়োজন হয়, একজন কবির তার চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন পড়ে।

তার এই মন্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, লেখকদের জন্য পাণ্ডিত্যের অপরিহার্যতা সম্পর্কে ইবনুল আসির যা লক্ষ্য করেছিলেন, তিনি সে বিষয়ে অসতর্ক ছিলেন।

কাস, সাহবান, মুয়াবিয়া ও জিয়াদকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করার ক্ষেত্রে তিনি সফল হননি; কারণ তারা ছিলেন বাগ্মী বা বক্তা, আর ইবনুল আসির বাগ্মীদের পাণ্ডিত্য নিয়ে আলোচনা করেননি, বরং তিনি লেখক ও কবিদের পাণ্ডিত্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ২৯)
والذي يقرأ ما كتبه ابن الأثير في هذا الفصل يجده قد أشرك الشعراء مع الكتاب في ألوان الثقافة، واختص الشعراء بنوع منها هو علم العروض والقوافي الذي يقام به ميزان الشعر.

فلا محل إذًا لاعتراض ابن أبي الحديد بقوله: مع أن ما يحتاج إليه الكاتب يحتاج إليه الشاعر وزيادة.

- وبعضه يبدو منه أن ابن أبي الحديد يتحامل أحيانا، ويقسو على ابن الأثير، وإن كان السمة الغالبة على كتابه أنه نقد موضوعي مدعوم بالبراهين.

من ذلك قوله: إن هذا الموضع من المواضع التي اشتبهت على هذا الرجل.

وقوله: وهذا من الغلط على ما تراه.

وقوله: إن كان هذا الرجل ممن ينفي القياس في الشرعيات كلمناه كلاما أصوليا، كما نكلم الشيعة والنظام وأهل الظاهر وغيرهم ممن نفى القياس في الفقه.

وإن كان يعترف بالقياس في الشرعيات فالقياس في النحويات كالقياس في الشرعيات.

وإذا كان ابن أبي الحديد قد أخذ على ابن الأثير إعجابه بفنه وإشادته بكتابه، فإن ابن أبي الحديد قد تورط في مثل هذا.

من ذلك قوله:
যে ব্যক্তি ইবনুল আসির এই পরিচ্ছেদে যা লিখেছেন তা পাঠ করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে তিনি সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারায় লেখকদের পাশাপাশি কবিদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে তিনি কবিদের জন্য এর একটি বিশেষ শাখা নির্দিষ্ট করেছেন, আর তা হলো ইলমে আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) এবং কাফিয়া (অন্ত্যমিল), যার মাধ্যমে কবিতার মানদণ্ড নিরূপিত হয়।

সুতরাং ইবনু আবিল হাদিদ-এর এই আপত্তির কোনো অবকাশ নেই যেখানে তিনি বলেছেন: "অথচ একজন লেখকের যা প্রয়োজন, একজন কবিরও তা প্রয়োজন, বরং তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন।"

এবং এর কিছু অংশ থেকে মনে হয় যে, ইবনু আবিল হাদিদ মাঝে মাঝে ইবনুল আসিরের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন এবং কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন, যদিও তার বইটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রমাণভিত্তিক বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা।

এর মধ্যে রয়েছে তার এই বক্তব্য: "এটি সেই সব বিষয়ের অন্যতম যা এই ব্যক্তির কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে।"

এবং তার উক্তি: "আর এটি একটি ভুল যেমনটি আপনি দেখছেন।"

এবং তার উক্তি: "যদি এই ব্যক্তি শরীয়তের বিষয়ে কিয়াসকে (অনুমানলব্ধ তুলনা) অস্বীকারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন, তবে আমরা তার সাথে উসূলি (নীতিগত) ভাষায় কথা বলতাম, যেমনটি আমরা শিয়া, নাজ্জাম, আহলে জাহের এবং ফিকহশাস্ত্রে কিয়াস অস্বীকারকারী অন্যদের সাথে আলোচনা করি।"

"আর যদি তিনি শরীয়তের বিষয়ে কিয়াসকে স্বীকার করেন, তবে ব্যাকরণগত বিষয়ে কিয়াসও শরয়ী বিষয়ের কিয়াসের মতোই।"

ইবনু আবিল হাদিদ যদি ইবনুল আসিরকে তার নিজের শিল্পের প্রতি মুগ্ধতা এবং নিজের বইয়ের প্রশংসা করার জন্য সমালোচনা করে থাকেন, তবে ইবনু আবিল হাদিদ নিজেও একই বিষয়ে জড়িয়ে পড়েছেন।

যেমন তার বক্তব্য:
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد كنت شرعت في حل سينيات المتنبي، وأن أجعل ذلك كتابا مفردا، وأنا أورد ههنا بعض ذلك، ليكون معارضا لما جاء به هذا الرجل.

ومن ذلك أنه أورد مثالا من نثره في حل بيتي المتنبي:

بناها فأعلى والقنا يقرع القنا … وموج المنايا حوله متلاطم

وكان بها مثل الجنون فأصبحت … ومن جثث القتلى عليها تمائم

وأورد مثالين لابن الأثير في حل البيتين.

ثم قال: ومن عنده أدنى ذوق في فن الكتابة يعرف الفرق بين كلامنا وهذا الكلام.

ثم قال: والزيادات العجيبة، والتسميطات والأسجاع التي أتينا بها تزري على ما أتى به هذا الكتاب، وتتجاوزه أضعافا مضاعفة.

ومن هذا ما ذكره في المقدمة من الزهو بعلماء بغداد والفخار بأدبائها، وتفضيلهم على من سواهم تفضيلا مبالغا فيه، وهو يريد نفسه، وإن كان قد حاول أن يستل نفسه ممن أشاد بهم.
আর আমি আল-মুতানাব্বির ‘সিনিয়্যাত’ (সিন বর্ণে সমাপ্ত কবিতাসমূহ) ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছিলাম এবং সেটিকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে বিন্যস্ত করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম। আমি এখানে তার কিছুটা উল্লেখ করছি যাতে এটি এই ব্যক্তির আনীত বক্তব্যের বিপরীতে একটি প্রমাণস্বরূপ হয়।

এরই অংশ হিসেবে তিনি আল-মুতানাব্বির দুটি পঙক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিজের গদ্য রচনার একটি উদাহরণ পেশ করেছেন:

তিনি এটি নির্মাণ করলেন এবং একে সমুন্নত করলেন এমতাবস্থায় যে বর্শা বর্শার সাথে আঘাত হানছিল … আর তার চারপাশে মৃত্যুর ঢেউ আছড়ে পড়ছিল

এতে যেন উন্মাদনার ছোঁয়া ছিল, অতঃপর তা এমন হয়ে গেল যে … নিহতদের মৃতদেহগুলোই তার গলার তাবিজে পরিণত হলো

আর উক্ত দুই পঙক্তির ব্যাখ্যায় তিনি ইবনুল আসিরের দুটি উদাহরণ পেশ করেছেন।

অতঃপর তিনি বললেন: যার মধ্যে লিখনশিল্পের সামান্যতম রুচিবোধ আছে, সে-ই আমাদের বক্তব্য এবং এই বক্তব্যের মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পারবে।

তারপর তিনি বললেন: আমরা যে চমৎকার সংযোগসমূহ, ছন্দোবদ্ধ বিন্যাস এবং অনুপ্রাসসমূহ নিয়ে এসেছি, তা এই গ্রন্থে উপস্থাপিত বিষয়সমূহকে ম্লান করে দেয় এবং তাকে বহু গুণ ছাড়িয়ে যায়।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সে বিষয়গুলো যা তিনি ভূমিকার মধ্যে বাগদাদের উলামাদের প্রতি দম্ভ এবং সেখানকার সাহিত্যিকদের নিয়ে গৌরব প্রদর্শনের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাদের অন্যদের ওপর অত্যধিক মাত্রায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যার মাধ্যমে আসলে তিনি নিজেকেই বুঝিয়েছেন—যদিও তিনি কৌশলে প্রশংসিত ব্যক্তিদের কাতার থেকে নিজেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করেছেন।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৩১)
نص الكتاب:

الحمد الله الذي فاوت بين عقول البشر وأخلاقهم، كما فاوت بين أعمارهم وأرزاقهم، فكان من خفايا تدبيره، ولطائف حكمته وتقديره، أن أرضى كلا منهم بعقله وخلقه، لا بعمره ورزقه، فلست ترى منهم إلا الراضي بعقله وآرائه، المعجب بما يرشح من إنائه، الحامد لسجيته، الزاري على الناكبين عن طريقته؛ تصديقا لقوله تعالى: {قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَتِهِ} 1".

وقل أن تجد منهم القانع بدنياه، الراضي عن وقته بما قسم له "الله"2 وأعطاه.

فلا ترى إلا قانطا أو ساخطا أو حاسدا أو غابطا، دأبهم الكدح والنصب والجد والطلب؛ تصديقا لقوله "صلى الله عليه وسلم"3: "لو كان لابن آدم واديان من ذهب "لتمنى أن يكون له ثالث" 4.

وصلى الله على سيدنا محمد رسوله المويد بروح قدسه، والمعصوم من الخطأ في القول ولبسه، والحاكم بأن من جملة الثلاث المهلكات عجب المرء بنفسه، وعلى آله وأصحابه الذي منهم من هو "من"5 نوعه وجنسه.

وبعد، فقد وقفت على كتاب نصير الدين بن محمد الموصلي المعروف

--------------------------------------------

1 سورة الإسراء: 84.

2 ما بين قوسين زيادات يقتضيها السياق.

3 ما بين قوسين زيادات يقتضيها السياق.

4 ما بين قوسين زيادات يقتضيها السياق.

5 ما بين قوسين زيادات يقتضيها السياق.
গ্রন্থের পাঠ:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষের বুদ্ধি ও চরিত্রের মাঝে তফাৎ করেছেন, যেমনটি তিনি তফাৎ করেছেন তাদের আয়ু ও রিযিকের মাঝে। তাঁর ব্যবস্থাপনার নিগূঢ় রহস্য এবং প্রজ্ঞা ও তকদিরের সূক্ষ্মতা এই যে, তিনি তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ বুদ্ধি ও চরিত্র নিয়ে সন্তুষ্ট রেখেছেন, কিন্তু তাদের আয়ু ও রিযিক নিয়ে নয়। ফলে আপনি তাদের মাঝে কেবল তাকেই দেখতে পাবেন যে নিজ বুদ্ধি ও মতামতে সন্তুষ্ট, নিজ পাত্র থেকে যা নিঃসৃত হয় তাতে মুগ্ধ, নিজ স্বভাবের প্রশংসাকারী এবং তার পথ থেকে বিচ্যুতদের প্রতি দোষারোপকারী; যা মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতা নিশ্চিত করে: "বলুন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বভাব অনুযায়ী কাজ করে।" ১।

আর তাদের মধ্যে খুব কমই এমন কাউকে পাবেন যে তার পার্থিব জীবন নিয়ে তুষ্ট এবং আল্লাহ তার জন্য যা বন্টন করেছেন ও দান করেছেন তা নিয়ে নিজ সময়ে সন্তুষ্ট ২।

ফলে আপনি কেবল হতাশ, অসন্তুষ্ট, হিংসুক অথবা ঈর্ষাকাতর ব্যক্তিকেই দেখবেন; হাড়ভাঙা খাটুনি, ক্লান্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং অন্বেষণই তাদের চিরচেনা অভ্যাস; যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ৩ এর বাণীর সত্যতা নিশ্চিত করে: "যদি আদম সন্তানের জন্য স্বর্ণের দুটি উপত্যকা থাকত, তবে সে অবশ্যই তৃতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করত।" ৪।

আর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, যাকে রূহুল কুদুস (পবিত্র আত্মা) দ্বারা শক্তিশালী করা হয়েছে, যিনি কথায় ও তার অস্পষ্টতায় ভুল থেকে সুরক্ষিত, এবং যিনি ফয়সালা দিয়েছেন যে, তিনটি ধ্বংসাত্মক বিষয়ের একটি হলো মানুষের নিজের ওপর নিজের মুগ্ধ হওয়া। আরও সালাত বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সাথীদের ওপর, যাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁরই প্রকার ও বংশের ৫ অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর, আমি নাসিরুদ্দিন বিন মুহাম্মাদ আল-মাওসিলির কিতাবটি প্রত্যক্ষ করেছি, যিনি পরিচিত

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইসরা: ৮৪।

২ বন্ধনীভুক্ত অংশগুলো প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনে অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে।

৩ বন্ধনীভুক্ত অংশগুলো প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনে অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে।

৪ বন্ধনীভুক্ত অংশগুলো প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনে অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে।

৫ বন্ধনীভুক্ত অংশগুলো প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনে অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৩২)
بابن أثير الجزيرة المسمى "كتاب المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر" فوجدت فيه المحمود والمقبول، والمردود والمرذول.

أما المحمود منه فإنشاؤه وصناعته، فإنه لا بأس بذلك إلا في الأقل النادر. وأما المردود فيه فنظره وجدله، واحتجاجه واعتراضه، فإنه لم يأت في ذلك في الأكثر الأغلب بما يلتفت إليه مما يعتمد عليه.

فحداني على تتبعه ومناقضته في هذه المواضع النظرية أمور، منها إزراؤه على الفضلاء، وغضه منهم، وعيبه لهم، وطعنه عليهم، فإن في ذلك ما يدعو إلى الغيرة عليهم، والانتصار لهم.

ومنها إفراطه في الإعجاب بنفسه، والتبجح برأيه، والتقريظ لمعرفته وصناعته، هذا عيب قبيح عمل الإنسان والاجتهاد، ويوجب المقت من الله والعباد.

ومنها أنه قد أومأ مرارا في كتابه إلى عتاب دهره؛ إذ لم يعطه على قد استحقاقه، فأردنا أن نعرفه أن الأرزاق ليست على مقادير الاستحقاق، وأن الرزق مقسوم لا يجلبه الفضل، ولا يرده النقص.

ومنها أن جماعة من أكابر الموصل قد حسن ظنهم في هذا الكتاب جدا، وتعصبوا له، حتى فضلوه على أكثر الكتب المصنفة في هذا الفن، وأوصلوا منه نسخا معدودة إلى مدينة السلام1 وأشاعوه، وتداوله كثير من أهلها.

--------------------------------------------

1 مدينة السلام: بغداد.
জাযীরার ইবনুল আসীর রচিত "কিতাবুল মাসালুস সা’ইর ফী আদাবিল কাতিব ওয়াস শা’ইর" নামক গ্রন্থটি আমি পাঠ করলাম; এতে আমি যেমন প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য বিষয় পেয়েছি, তেমনি বর্জনীয় ও তুচ্ছ বিষয়ও খুঁজে পেয়েছি।

প্রশংসনীয় দিকগুলো হলো এর রচনাশৈলী ও শিল্পকুশলতা; খুব সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এতে কোনো সমস্যা নেই। আর বর্জনীয় দিকগুলো হলো লেখকের তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, বিতর্ক, যুক্তিপ্রদর্শন ও আপত্তি; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি এমন কিছু উপস্থাপন করতে পারেননি যা মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য কিংবা যার ওপর নির্ভর করা যায়।

এই তাত্ত্বিক বিষয়গুলোতে তাঁর পর্যালোচনা ও খণ্ডন করতে আমাকে কতগুলো বিষয় উদ্বুদ্ধ করেছে। তার মধ্যে একটি হলো—গুণীজনদের প্রতি তাঁর অবজ্ঞা, তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা, দোষারোপ করা এবং তাঁদের প্রতি কটাক্ষ করা। নিশ্চয়ই এ বিষয়টি তাঁদের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধকে জাগ্রত করে এবং তাঁদের পক্ষে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে।

অন্যটি হলো—নিজেকে নিয়ে তাঁর অত্যধিক মুগ্ধতা, নিজ মতামতের ব্যাপারে বাগাড়ম্বর এবং নিজের জ্ঞান ও শৈল্পিক দক্ষতার মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসা। মানুষের কর্ম ও সাধনার ক্ষেত্রে এটি একটি কুৎসিত ত্রুটি, যা আল্লাহ এবং বান্দাদের পক্ষ থেকে ঘৃণার উদ্রেক করে।

আরও একটি কারণ হলো—তিনি তাঁর বইটিতে বারবার সময়ের প্রতি অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সময় তাঁকে তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী মর্যাদা বা সম্পদ দেয়নি। তাই আমরা তাঁকে জানিয়ে দিতে চেয়েছি যে, রিজিক যোগ্যতার পরিমাপ অনুযায়ী নির্ধারিত হয় না; বরং রিজিক সুবন্টিত, যা কোনো গুণ টেনে আনতে পারে না এবং কোনো ত্রুটি তা ফিরিয়ে দিতে পারে না।

অন্য একটি কারণ হলো—মওসিলের একদল গণ্যমান্য ব্যক্তি এই বইটির প্রতি অত্যন্ত সুধারণা পোষণ করেছেন এবং এর প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছেন, এমনকি তাঁরা একে এই শিল্পের অধিকাংশ গ্রন্থের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তাঁরা এর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি মাদিনাতুস সালামে ১ পৌঁছে দিয়েছেন এবং সেখানে এটি প্রচার করেছেন, ফলে সেখানকার অধিবাসীদের অনেকে এটি পাঠ করেছেন।

--------------------------------------------

১ মাদিনাতুস সালাম: বাগদাদ।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فاعترضت عليه بهذا الكتاب، وتقربت به إلى الخزانة الشريفة المقدسة النبوية الإمامية المستنصرية، عمر الله تعالى بعمارتها أندية الفضل ورباعه، وأطال بطول بقاء مالكها يد العلم وباعه، وجعل ملائكة السماء أنصاره وأشياعه، كما جعل ملوك الأرض أعوانه وأتباعه.

وكان أكثر قصدي في ذلك أن يعلم مصنف هذا الكتاب ورؤساء بلدته أن من أصاغر خول1 هذه الدولة الشريفة -فالعجب مبير، ولا أنبئ عني فمثلي كثير- من إذا ألغز أدرى، وإذا ضرب أفرى2 وإذا رشق أصمى3، وإذا نكا4 أدمى، وأن دار السلام، وحضرة الإمام ما خلت كما تزعم المواصلة ممن إذا سوبق خلى، وإذا بوسر5 فاز بالقدح المعلى6 وإذا خطب خضعت لبراعته المناصل7، وإذا كتب سجدت لبراعته الذوابل، وإذا شاء علم الناس السحر، وما أنزل على

--------------------------------------------

1 الخول: الخدم والعبيد والإماء وغيرهم من الحاشية، للواحد والجميع والمذكر والمؤنث.

2 فرى وأفرى: شق.

3 أضمى الصيد: رماه فقتله مكانه.

4 نكأ القرحة على وزن منع: قشرها قبل أن تبرأ فنديت. ونكى الأعداء نكاية: جرحهم.

5 بسر: من معانيها قهر وابتدأ الشيء، ويظهر أن المؤلف صاغ من الفعل باسر بمعنى غالب وسابق، ثم بناه للمجهول.

6 القدح المعلى: أحد قداح الميسر عند العرب في الجاهلية، وهي عيدان تتخذ من النبع وهو شجر متين لين تصنع منه القسي والسهام، والقداح الرامجة سبعة وغير الرابحة ثلاثة، والمعلى أكثر الرابحة حظا لأن له سبعة أنصبة.

7 المناصل: جمع منصل وهو السيف.
আমি এই কিতাবের মাধ্যমে তার বিরোধিতা করেছি এবং এটিকে সম্মানিত, পবিত্র, নববী, ইমামি ও মুস্তানসিরিয়া কুতুবখানার নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে নিবেদন করেছি। আল্লাহ তাআলা এর আবাদকরণের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের মজলিস ও আবাসস্থলসমূহকে সমৃদ্ধ করুন; এর মালিকের দীর্ঘায়ুর মাধ্যমে জ্ঞানের হাত ও ক্ষমতাকে সম্প্রসারিত করুন; আর আসমানের ফেরেশতাদেরকে তাঁর সাহায্যকারী ও অনুসারী করুন, যেমনটি তিনি জমিনের বাদশাহদেরকে তাঁর সহায়ক ও অনুগামী করেছেন।

এক্ষেত্রে আমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এই কিতাবের লেখক এবং তার শহরের নেতৃবৃন্দকে এটি জানানো যে, এই মহান রাষ্ট্রের নগণ্য সেবকদের১ মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে—অহংকার ধ্বংসাত্মক, আর আমি কেবল নিজের কথা বলছি না, কারণ আমার মতো আরও অনেকে আছে—যে যদি কোনো ধাঁধায় পড়ে তবে তা অনুধাবন করে, যখন আঘাত করে তখন বিদীর্ণ করে২, যখন তীর ছোড়ে তখন তৎক্ষণাৎ শিকার করে৩ এবং যখন জখম করে৪ তখন রক্তাপ্লুত করে। আর শান্তিধাম (বাগদাদ) এবং ইমামের দরবার—মসুলবাসীরা যেমনটি দাবি করে—তেমন শূন্য হয়ে যায়নি এমন ব্যক্তিদের থেকে, যাদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামলে তারা অন্যকে পেছনে ফেলে দেয় এবং যাদের সাথে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই৫ করা হলে তারা সর্বোচ্চ সম্মানের তীরটি৬ জয় করে নেয়। আর যখন সে ভাষণ দেয়, তখন তার বাকপটুতার সামনে তলোয়ারসমূহ৭ অবনত হয়; যখন সে লেখে, তখন তার নিপুণতার সামনে বর্শাসমূহ সিজদাবনত হয়; আর সে যদি চায় তবে মানুষকে জাদু শেখাতে পারে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে...

--------------------------------------------

১ খাওয়াল: খাদেম, দাস-দাসী এবং অন্যান্য অনুচরবর্গ; এটি একবচন, বহুবচন, পুরুষ ও নারী—সবার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।

২ ফারা এবং আফরা: বিদীর্ণ করা বা চিরে ফেলা।

৩ শিকারকে আসমা করা: তার দিকে তীর ছুড়ে তাকে সেই স্থানেই হত্যা করা।

৪ ক্ষত নাকআ করা: নিরাময় হওয়ার আগেই তার চামড়া তুলে ফেলা, ফলে তা সিক্ত হয়ে যায়। আর শত্রুকে নাকায়া করার অর্থ হলো তাদের আহত করা।

৫ বুসরা: এর একটি অর্থ হলো পরাভূত করা এবং কোনো কিছুর সূচনা করা। প্রতীয়মান হয় যে, লেখক 'বাসারা' ক্রিয়াটি থেকে এটি গঠন করেছেন, যার অর্থ বিজয়ী হওয়া বা এগিয়ে যাওয়া; অতঃপর এটিকে কর্মবাচ্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

৬ আল-কাদহুল মুআল্লা: জাহেলি যুগে আরবদের জুয়া খেলার (মাইসির) তীরগুলোর একটি। এগুলো 'নাব' নামক গাছের ডাল থেকে তৈরি করা হতো, যা একটি শক্ত অথচ নমনীয় গাছ এবং এটি দিয়ে ধনুক ও তীর তৈরি করা হয়। জয়ী হওয়ার তীর ছিল সাতটি এবং জয়ী না হওয়ার তীর ছিল তিনটি। এর মধ্যে 'মুআল্লা' হলো সবচেয়ে বেশি লাভজনক, কারণ এর সাতটি অংশ থাকত।

৭ মানাসিল: এটি 'মানসাল' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ তলোয়ার।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الملكين ببابل، وأن في الأغفال المغمورين من رعايها من لو هدر1 لقرت له الشقاشق2، ولو نطق لتجلت بشموسه المهارق3، ولو جرد حسام قلمه لقال الملك للسيف اغرب فأنت طالق، فكيف بسدنة4 كعبتها والحافين بشريف سدتها5، فحول البلاغة الذين إذا ركض أحدهم في حلبة البيان أخجل البروق، وسخر بالرياح، وإذا ضرب الأعداء بصارم اللسان قد السلوقي المضاعف، حتى توقد نار الحباجب في الصفاح6.

وهذا الكتاب وقع إليَّ في غرة ذي الحجة من سنة ثلاث وثلاثين وستمائة، فتصفحه، أولا أولا في ضمن الأشغال الديوانية التي أنا بصددها، وعلقت في هذا الكتاب في أثناء تصفحه على المواضع المستدركة فيه إلى نصف الشهر المذكور، فكان مجموع مطالعتي له واعتراضي عليه خمسة عشر يوما، ولم

--------------------------------------------

1 هدر البعير هدرا وهديرا: صوت في غير شقشقة.

2 الشقاشق جمع شقشقة بالكسر: شيء كالرئة يخرجه البعير من فيه إذا هاج.

3 المهارق: جمع مهرق وهي الصحيفة.

4 السدنة: جمع سادن وهو خادم الكعبة أو خادم بيت الصنم.

5 السدة: باب الدار.

6 من قول النابغة في مدح الغساسنة ووصف سيوفهم:

تقد السلوقي المضاعف نسجه … وتوقد بالصفاح نار الحباحب

السلوقي: الدروع المنسوبة إلى سلوق على وزن صبور بلدة باليمن تنسب إليها الدروع والكلاب. الصفاح: حجارة عراض رقاق. الحباحب: ذباب يطير بالليل له شعاع كالسراج، ومنه نار الحباحب. أو نار الحباحب ما اقتدح من شرر النار في الهواء من تصادم الحجارة، وقيل كان أبو حباحب رجلا لا يوقد ناره إلا بالحطب الشخث لئلا ترى، وقيل إنها من الحبحبة وهي الشررة تسقط من الزناد.
ব্যাবিলনের দুই ফেরেশতা, এবং তার প্রজাদের মধ্যে অখ্যাত ও বিস্মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যে যদি গর্জন করত তবে উটের মুখনিঃসৃত ফেনা তার সম্মানে প্রশমিত হতো, আর যদি সে কথা বলত, তবে তার জ্ঞানের সূর্যালোকে চর্মখণ্ড বা কাগজগুলো উজ্জ্বল হয়ে উঠত। সে যদি তার কলমরূপ তলোয়ার কোষমুক্ত করত, তবে বাদশাহ তলোয়ারকে বলতেন, 'দূর হও, তোমাকে তালাক দেওয়া হলো।' তাহলে তার কাবার খাদেমদের এবং তার সম্মানিত আঙিনায় অবস্থানকারীদের অবস্থা কেমন হবে? তারা হলো অলঙ্কারশাস্ত্রের সেই বীরপুরুষ, যাদের কেউ যখন বর্ণনার ময়দানে ঘোড়া দৌড়ায়, তখন সে বিদ্যুৎকেও লজ্জিত করে এবং বায়ুকে উপহাস করে। আর যখন সে জিহ্বারূপ তীক্ষ্ণ তলোয়ার দিয়ে শত্রুদের আঘাত করে, তখন তা দ্বিগুণ মজবুত সালুকি বর্মকেও চিরে ফেলে, এমনকি পাথরের আঘাতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে।

এই বইটি আমার নিকট ৬৬৩ হিজরির জিলহজ মাসের শুরুতে পৌঁছেছে। আমি আমার ওপর অর্পিত দাপ্তরিক কাজের ব্যস্ততার মাঝেই এটি ধীরে ধীরে আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি। এর পাঠ চলাকালীন আমি উক্ত মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এর সংশোধনযোগ্য স্থানগুলোতে টীকা প্রদান করেছি। সুতরাং আমার এটি অধ্যয়ন এবং এর ওপর আপত্তির মোট সময়কাল ছিল পনেরো দিন, আর...

--------------------------------------------

১. উট 'হদর' করা অর্থ হলো মুখনিঃসৃত ফেনা (শাকশিকাহ) ছাড়া শব্দ করা।

২. 'শাকশিক' হলো 'শাকশিকাহ'-এর বহুবচন; এটি ফুসফুসের মতো একটি বস্তু যা উট উত্তেজিত হলে মুখ দিয়ে বের করে।

৩. 'মুহারিক' হলো 'মুহরিক'-এর বহুবচন, যার অর্থ কাগজ বা চর্মখণ্ড।

৪. 'সাদানা' হলো 'সাদান'-এর বহুবচন, যার অর্থ কাবার খাদেম বা মূর্তিগৃহের খাদেম।

৫. 'সুদ্দাহ' অর্থ হলো ঘরের দরজা।

৬. গাসসানি রাজাদের প্রশংসা এবং তাদের তলোয়ারের বর্ণনায় নাবিগা আল-জুবইয়ানীর উক্তি থেকে গৃহীত:

তা দ্বিগুণ বুননের সালুকি বর্মকে চিরে ফেলে … এবং পাথরের আঘাতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ প্রজ্বলিত করে।

সালুকি: ইয়েমেনের সালুক নামক জনপদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত বর্ম। সাফাহ: চওড়া ও পাতলা পাথর। হাবাহাব: রাতে ওড়া এক প্রকার পতঙ্গ যার প্রদীপের মতো আলো আছে, আর এখান থেকেই 'নারুল হাবাহাব' কথাটি এসেছে। অথবা 'নারুল হাবাহাব' হলো পাথর ঠোকাঠুকি করলে বাতাসে যে আগুনের স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হয়। বলা হয়, আবু হাবাহাব নামক এক ব্যক্তি কেবল নিস্তেজ কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে আগুন জ্বালাতেন যাতে কেউ তা দেখতে না পায়। আবার বলা হয়, এটি 'হাবহাবা' থেকে এসেছে যার অর্থ চকমকি পাথর থেকে নির্গত স্ফুলিঙ্গ।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أعاود النظر فيه دفعة ثانية، وربما يسنح له عند المعاودة نكت أخرى، وإن وقع ذلك ألحقتها.

وقد سميت هذا الكتاب "الفلك الدائر على المثل السائر" لأنه شاع من كلامهم، وكثر في استعمالهم أن يقولوا لما بادودثر "قد دار عليه الفلك" كأنهم يرويدون أنه قد طحنه ومحا صورته. من ذلك قول أبي العتاهية:

إن كنت تنشدهم فإنهم

همدوا ودار عليه الفلك1

وأنا أسأل الله المعونة والتوفيق، وأستمنحه الهداية إلى سواء الطريق بمنه وكرمه

1- قال المصنف: "نسأل الله أن يبلغ بنا من الحمد ما هو أهله"2.

أقول إنه أول ما تكلم سأل أمرا يستحيل عقلا؛ لأنه تعالى لا نهاية لما هو أهله من المحامد، سواء جعل الحمد بمعنى المدح أو أخص.

أما الأول فلان جلالته تعالى وعظمته وصفة كماله لا تقف عند غاية، ولا تنقطع عند حد، وأما الثاني فلأن نعمه لا نهاية لها بتعريضه إيانا للثواب والنعيم الذي لا نهاية له، فإذًا هو سبحانه أهل للحمد الذي لا نهاية له على

--------------------------------------------

1 ليس البيت بديوانه.

2 نص عبارة ابن الأثير في أول المقدمة: "نسأل الله ربنا أن يبلغ بنا من الحمد ما هو أهله" 1/ 35.
আমি এতে দ্বিতীয়বার দৃষ্টিপাত করছি, এবং পুনরায় দেখার সময় সম্ভবত আরও কিছু সূক্ষ্ম বিষয় উন্মোচিত হবে; আর যদি তা ঘটে, তবে আমি তা যুক্ত করব।

আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি "আল-ফালকুল দায়ির আলাল মাসালিস সায়ির", কারণ তাদের কথাবার্তায় এটি প্রচলিত এবং তাদের ব্যবহারে এটি প্রচুর যে, কোনো কিছু ধ্বংস ও বিলীন হয়ে গেলে তারা বলে "তার ওপর মহাকাল আবর্তিত হয়েছে", যেন তারা বোঝাতে চায় যে তা তাকে পিষ্ট করে ফেলেছে এবং তার অস্তিত্ব মিটিয়ে দিয়েছে। এরই অন্তর্ভুক্ত আবুল আতাহিয়ার এই উক্তি:

যদি তুমি তাদের সন্ধান করো, তবে (জেনে রেখো) তারা

নিস্তেজ হয়ে গেছে এবং তাদের ওপর মহাকাল আবর্তিত হয়েছে ১

আর আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি, এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণার মাধ্যমে সরল পথের দিশা ভিক্ষা করছি।

১- গ্রন্থকার বলেছেন: "আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সেই প্রশংসা পর্যন্ত পৌঁছে দেন যার তিনি যোগ্য" ২।

আমি বলি যে, তিনি কথা বলা শুরু করেই এমন কিছু প্রার্থনা করেছেন যা যুক্তিগতভাবে অসম্ভব; কারণ মহান আল্লাহ প্রশংসার যে স্তরের যোগ্য তার কোনো শেষ নেই, চাই প্রশংসাকে সাধারণ প্রশংসা অর্থে ধরা হোক বা বিশেষ অর্থে।

প্রথমটির কারণ হলো—মহান আল্লাহর মহিমা, মহানুভবতা এবং পূর্ণতার গুণাবলি কোনো সীমায় গিয়ে থামে না এবং কোনো প্রান্তে শেষ হয় না। আর দ্বিতীয়টির কারণ হলো—আমাদেরকে অশেষ সওয়াব ও নেয়ামতের সম্মুখীন করার মাধ্যমে তাঁর নেয়ামতরাজির কোনো শেষ নেই। সুতরাং তিনি এমন প্রশংসার যোগ্য যার কোনো সমাপ্তি নেই...

--------------------------------------------

১ এই কবিতাটি তাঁর দিওয়ানে (কাব্যগ্রন্থে) নেই।

২ মুখবন্ধের শুরুতে ইবনুল আসিরের মূল বক্তব্য হলো: "আমরা আমাদের রব আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সেই প্রশংসা পর্যন্ত পৌঁছে দেন যার তিনি যোগ্য" ১/ ৩৫।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৩৬)
كلا التفسيرين، ويستحيل أن يبلغ بنا إلى ذلك؛ لأن القوة المتناهية لا تقوى على أمور غير متناهية.

ليس لظان أن يظن هذا القول يجري مجرى قول الناس الحمد لله كما هو أهله، فإن ذلك كلام مجمل، لا يتضمن سؤالا، ولا يقتضي دعاءه تعالى ن يجعلنا حامدين حمدا لا بداية ولا نهاية.

2- قال المصنف: "وأن يعلمنا من البيان ما تقصر عنه مزية للنطق وفضله"1.

أقول: هذا أيضا سؤال أمر مستحيل؛ لأن النطق هو كمال الصورة الإنسانية إن أُخذ على تفسير التعليم الطبيعي، والفصل المميز إن أُخذ على تفسير التعليم المنطقي. وعلى كلا التفسيرين فيه يكون الإنسان إنسانا، فيستحيل أن يفضله البيان في مرتبة وفضيلة؛ لأن الفرع لا يفضل الأصل الذي لولاه لما كان.

واعلم ن هذين الأعتراضين قد يعتذر المصنف عنهما بأنه إنما قال ذلك على سبيل المبالغة، ويسمى غلوًّا، وهو مستهجن في الكتابة وأحد عيوبها القبيحة، وإنما يسلكه الشعراء، وأما الكاتب ففي سعة عنه، ومذهب الكتابة غير مذهب الشعر.

--------------------------------------------

1 عبارة ابن الأثير: "وأن يعلمنا من البيان ما تقصر عنه مزية الفضل وأصله".
উভয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এবং এটি আমাদের সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব; কারণ সসীম শক্তি অসীম বিষয়সমূহের ওপর সক্ষম হয় না।

কোনো ধারণাকারীর এমন ধারণা করা উচিত নয় যে, এই উক্তিটি মানুষের সাধারণ কথা "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যেমনটি তাঁর শান অনুযায়ী হওয়া উচিত" এর মতো, কারণ এটি একটি সংক্ষিপ্ত কথা, যাতে কোনো প্রার্থনা অন্তর্ভুক্ত নেই এবং এটি মহান আল্লাহর কাছে এমন দোয়ার দাবি করে না যে তিনি আমাদের এমন প্রশংসাকারী বানিয়ে দেবেন যার কোনো শুরু বা শেষ নেই।

২- গ্রন্থকার বলেন: "এবং তিনি আমাদের বর্ণনাশৈলী থেকে এমন কিছু শিক্ষা দেবেন যার কাছে বাকশক্তির বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব হার মানবে।"১

আমি বলছি: এটিও একটি অসম্ভব বিষয়ের প্রার্থনা; কারণ বাকশক্তি হলো মানবীয় রূপের পূর্ণতা—যদি তা প্রাকৃতিক শিক্ষার ব্যাখ্যা অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়, আর তা হলো এক পৃথককারী বৈশিষ্ট্য—যদি তা যৌক্তিক শিক্ষার ব্যাখ্যা অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়। উভয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর মাধ্যমেই মানুষ মানুষ হিসেবে গণ্য হয়, তাই মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে বর্ণনাশৈলী তার থেকে শ্রেষ্ঠ হওয়া অসম্ভব; কারণ শাখা কখনো সেই মূলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে না, যা না থাকলে শাখার অস্তিত্বই থাকত না।

জেনে রাখুন যে, এই দুটি আপত্তির বিপরীতে গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে হয়তো এই ওজর পেশ করা যেতে পারে যে, তিনি এটি কেবল অতিশয়োক্তি হিসেবে বলেছেন, যাকে অতিরঞ্জন বলা হয়; আর এটি লিখনশৈলীতে নিন্দনীয় এবং এর একটি কুৎসিত দোষ। এটি কেবল কবিরাই অনুসরণ করে থাকেন, কিন্তু লেখকের জন্য এটি বর্জন করার অবকাশ রয়েছে, কেননা গদ্য রচনার পথ আর কাব্য রচনার পথ এক নয়।

--------------------------------------------

১ ইবনুল আসিরের বক্তব্য: "এবং তিনি আমাদের বর্ণনাশৈলী থেকে এমন কিছু শিক্ষা দেবেন যার কাছে শ্রেষ্ঠত্বের বৈশিষ্ট্য ও তার মূল হার মানবে।"
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৩৭)
3- قال المصنف: وأن يُوفقنا للصلاة على رسوله محمد الذي هو أفصح من نطق بالضاد، ونسخ بهديه شريعة كل هاد1.

أقول في هذا الكلام عيب ظاهر، وذلك أن عطف الفعل وهو "نسخ" على الاسم وهو "أفصح" وهذا قبيح. ألا ترى أنه يقبح أن يقال: زيد أفصح القوم، وضرب زيد. والوجه أن يقال الذي هو أفصح من نطق بالضاد، والمنسوخ بهداه شريعة كل هاد.

4- قال المصنف: "ولا أدعي فيما ألفته فضيلة الإحسان، ولا السلامة من سبق اللسان". ثم قال بعد سطر واحد: "وإذا تركت الهوى قلت إن هذا الكتاب بديع في إعرابه، وليس له صاحب من الكتب، فيقال إنه متفرد من بين أصحابه"2.

أقول: وهي يدعي أحد فضيلة الإحسان بأبلغ من هذا الكلام؟ وقد قال قبل هذا التواضع بثلاثة أسطر: "إن الله هداني لابتدع أشياء لم تكن من قبلي مبتدعة، ومنحنى درجة الاجتهاد التي لا تكون أقوالها تابعة

--------------------------------------------

1 عبارة ابن الأثير: "وأن يوفقنا للصلاة على نبينا ومولانا محمد رسوله الذي هو أفصح من نطق بالضاد. ونسخ هدية شريعة كل هاد" 1/ 35.

2 عبارة ابن الأثير: "فيقال إنه متفرد بين أصحابه من إخوانه أو من أترابه" 1/ 37.
৩- গ্রন্থকার বলেছেন: "এবং তিনি যেন আমাদের তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের ওপর দরূদ পাঠের তাওফিক দান করেন, যিনি 'দদ' উচ্চারণকারীদের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধভাষী এবং যাঁর হিদায়াতের মাধ্যমে তিনি প্রত্যেক হিদায়াতকারীর শরীয়ত রহিত করেছেন।"১

আমি বলছি, এই বক্তব্যের মধ্যে একটি প্রকাশ্য ত্রুটি রয়েছে। আর তা হলো, 'নাসাখা' (রহিত করেছেন) ক্রিয়াটিকে 'আফসাহু' (সর্বাধিক বিশুদ্ধভাষী) বিশেষ্যের ওপর আতফ (সংযুক্ত) করা হয়েছে, আর এটি ব্যাকরণগতভাবে অশোভন। আপনি কি দেখছেন না যে, এটি বলা অশোভন: "যায়েদ গোত্রের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধভাষী এবং যায়েদ প্রহার করেছে"? বরং সঠিক রূপটি হলো এভাবে বলা: "যিনি 'দদ' উচ্চারণকারীদের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধভাষী এবং যাঁর হিদায়াতের মাধ্যমে প্রত্যেক পথপ্রদর্শকের শরীয়ত রহিত করা হয়েছে।"

৪- গ্রন্থকার বলেছেন: "আমি আমার রচিত গ্রন্থে শ্রেষ্ঠত্বের কোনো দাবি করি না এবং জিহ্বার স্খলন থেকে মুক্ত থাকারও দাবি করি না।" এরপর তিনি মাত্র এক লাইন পরেই বলেছেন: "আর আমি যদি কুপ্রবৃত্তি বর্জন করে বলি, তবে বলব যে এই কিতাবটি তার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (ইরাব) দিক থেকে অনন্য এবং কিতাবসমূহের মধ্যে এর কোনো নজির নেই, তাই বলা হয় এটি তার সমজাতীয় কিতাবসমূহের মধ্যে অদ্বিতীয়।"২

আমি বলছি: কেউ কি এই বক্তব্যের চেয়ে অধিক গুরুত্বের সাথে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করতে পারে? অথচ তিনি এই বিনয় প্রকাশের মাত্র তিন লাইন আগেই বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে এমন কিছু বিষয় উদ্ভাবন করার তাওফিক দিয়েছেন যা আমার পূর্বে উদ্ভাবিত হয়নি এবং তিনি আমাকে ইজতিহাদের এমন এক মর্যাদা দান করেছেন যার বক্তব্যসমূহ অন্য কারো অনুগামী নয়।"

--------------------------------------------

১ ইবনুল আসীরের বক্তব্য: "এবং তিনি যেন আমাদের নবী ও আমাদের মাওলা মুহাম্মাদের ওপর দরূদ পাঠের তাওফিক দান করেন, যিনি তাঁর রাসূল এবং 'দদ' উচ্চারণকারীদের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধভাষী। আর যাঁর হিদায়াতের মাধ্যমে তিনি প্রত্যেক হিদায়াতকারীর শরীয়ত রহিত করেছেন।" ১/ ৩৫।

২ ইবনুল আসীরের বক্তব্য: "ফলে বলা হয় যে এটি তার সমজাতীয় ভাইদের বা তার সমসাময়ীকদের মধ্যে অদ্বিতীয়।" ১/ ৩৭।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وإنما تكون متبعة"1. فمن يزعم أن الله هداه في هذا الفن إلى ابتداع أشياء لم يسبق بها، ورزقه فيها بلوغ درجة الاجتهاد التي يتبعها الناس، ولا تكون تابعة لأحد منهم، كيف يقول لا أدعي فيما ألفته فضيلة إلا وبلغتها؟.

5- قال المصنف: "موضوع الحساب هو الأعداد من جهة ما يعرض لها من الضرب والقسمة ونحوهما، وموضوع الطب بدن الإنسان من جهة مايصح ويمرض، وموضوع النحو هو اللفظ من جهة الدلالة على المعنى من طريق الوضع اللغوي، وموضوع علم البيان هو اللفظ والمعنى من جهة الحسن والقبح. ثم قال: صاحب هذا العلم هو والنحوي يشتركان في النظر في دلالة الألفاظ على المعنى من جهة الوضع اللغوي، وتلك دلالة عامة، وصاحب علم البيان ينظر في فضيلة تلك الدلالة، وهي دلالة خاصة"2.

أقول أما موضوع علم النحو فغير ما ذكر، بل الذي ذكر موضوع علم اللغة؛ لأن اللغوي هو الذي ينظر في الألفاظ من حيث كانت دلالة بالوضع

--------------------------------------------

1 المقدمة 1/ 37.

2 قال ابن الاثير: " … وعلى هذا فموضوع علم البيان هو الفصاحة والبلاغة، وصاحبه يسأل عن أحوالهما اللفظية والمعنوية، وهو النحوي يشتركان في أن النحوي ينظر في دلالة الألفاظ على المعاني من جهة الوضع اللغوي، وتلك دلالة عامة وصاحب علم البيان ينظر في فضيلة تلك الدلالة، وهي دلالة خاصة، والمراد بها أن تكون على هيئة مخصوصة من الحسن، وذلك أمر وراء النحو والإعراب، ألا ترى أن النحوي يفهم معنى الكلام المنظوم والمنثور، ويعلم مواقع إعرابه، ومع ذلك فإنه لا يفهم ما فيه من الفصاحة والبلاغة 1/ 39.
এবং এটি কেবল অনুসরণযোগ্য"১। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে, আল্লাহ তাকে এই শিল্পে এমন কিছু উদ্ভাবনের দিকে পরিচালিত করেছেন যা আগে কেউ করেনি এবং তাকে তাতে ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানোর সামর্থ্য দান করেছেন যা মানুষ অনুসরণ করবে এবং সে তাদের কারও অনুসারী হবে না, সে কীভাবে বলে যে, আমি আমার সংকলিত বিষয়াবলীতে এমন কোনো শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করি না যার চূড়ায় আমি পৌঁছাইনি?

৫- গ্রন্থকার বলেন: "পাটিগণিতের আলোচ্য বিষয় হলো সংখ্যা—সেগুলো গুণ, ভাগ এবং এ জাতীয় যা কিছুর সম্মুখীন হয় সেই দিক থেকে। চিকিৎসার আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের শরীর—সুস্থতা ও অসুস্থতার দিক থেকে। নাহু (ব্যাকরণ) এর আলোচ্য বিষয় হলো শব্দ—ভাষাগত বিন্যাসের মাধ্যমে অর্থের ওপর নির্দেশনার দিক থেকে। এবং ইলমুল বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) এর আলোচ্য বিষয় হলো শব্দ ও অর্থ—সৌন্দর্য ও কদর্যতার দিক থেকে।" অতঃপর তিনি বলেন: "এই বিদ্যার অধিকারী এবং ব্যাকরণবিদ—উভয়েই ভাষাগত বিন্যাসের দিক থেকে অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশনার বিষয়ে পর্যালোচনায় অংশীদার, আর তা হলো একটি সাধারণ নির্দেশনা। পক্ষান্তরে ইলমুল বয়ানের পারদর্শী ব্যক্তি সেই নির্দেশনার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা করেন, আর তা হলো একটি বিশেষ নির্দেশনা"২।

আমি বলি, নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় বর্ণিত বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন। বরং যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো ভাষাতত্ত্বের (ইলমুল লুগাহ) আলোচ্য বিষয়; কারণ ভাষাবিদই হলেন তিনি, যিনি শব্দাবলি নিয়ে পর্যালোচনা করেন এই দিক থেকে যে সেগুলো বিন্যাসের মাধ্যমে অর্থ নির্দেশক ছিল।

--------------------------------------------

১ মুকাদ্দিমাহ ১/ ৩৭।

২ ইবনুল আসির বলেন: " ... আর এই ভিত্তিতে, ইলমুল বয়ানের আলোচ্য বিষয় হলো প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কার, এবং এর পারদর্শী ব্যক্তি এদের শাব্দিক ও অর্থগত অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন। তিনি এবং ব্যাকরণবিদ এই বিষয়ে অংশীদার যে, ব্যাকরণবিদ ভাষাগত বিন্যাসের দিক থেকে অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশনার বিষয়ে পর্যালোচনা করেন, যা একটি সাধারণ নির্দেশনা। আর ইলমুল বয়ানের অধিকারী ব্যক্তি সেই নির্দেশনার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা করেন, যা একটি বিশেষ নির্দেশনা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সৌন্দর্যের একটি বিশেষ রূপে থাকা, যা নাহু এবং ইরাব (বাক্য বিশ্লেষণ) এর বাইরের বিষয়। আপনি কি দেখেন না যে, ব্যাকরণবিদ ছন্দোবদ্ধ এবং গদ্যের অর্থ বোঝেন এবং সেগুলোর ইরাবের স্থানগুলো জানেন, তা সত্ত্বেও তিনি এতে বিদ্যমান প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কার অনুধাবন করতে পারেন না ১/ ৩৯।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৩৯)
اللغوي على المعاني، وأما موضوع علم النحو فهو الألفاظ من جهة تغييرات تلحق أواخرها أو تلحقها أنفسها على قول من جعل التصريف جزءا من النحو، ولم يجعله علما مفردا.

6- قال المصنف: "وقد غلط مفسرو الأشعار في اقتصارهم على شرح المعنى، وما في الشعر من الكلمات اللغوية، وتبيين مواضع الإعراب فيه دون ما تضمنه من أسرار البلاغة والفصاحة".

أقول: إن مفسري الأشعار جعلوا قصدهم وكدهم كشف مراد الشاعر ليُعلم، ففسروا الألفاظ اللغوية وما في الشعر من إعراب نحوي يتعلق فهم المعنى به، وتارة يشرحون المعنى فقط، إذا لم يكن في البيت ألفاظ لغوية، ولا يرتبط المعنى بإعرابه، كأنهم إنما وضعوا الشروح المصنفة لتفسير مراد الشاعر فقط، فكل ما يذكرونه من زيادة على ذلك مقصودة بالعرض لا بالذات، وإذا كانت الحال هكذا لم يجز أن يقال إنهم غلطوا لإخلالهم بنقد الشعر والكلام على ما فيه من علم الصناعة الشعرية، والبحث عن فصاحته وبلاغته؛ لأن ذلك فن مفرد لم يضعوا شروحهم له، وكذلك لم يتكلموا في العروض والقوافي ودقائق التصريف. فإن قلت قد تكلم كثير من شارحي الأشعار في العروض والقوافي ودقائق في التصريف أيضا، قلت: وقد تكلم كثير من شارحي الأشعار في نقدها. وبحثوا عن فصاحتها وبلاغتها وما تحتهما من أسرار ذلك. ثم يقال له إن جمهور مفسري القرآن
আভিধানিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে; পক্ষান্তরে নাহু শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো শব্দসমূহ—সেসব পরিবর্তনের দিক থেকে যা শব্দের শেষে ঘটে অথবা শব্দের কাঠামোর মধ্যে ঘটে, সেই মত অনুযায়ী যারা সরফ শাস্ত্রকে নাহুর অংশ হিসেবে গণ্য করেন এবং একে স্বতন্ত্র শাস্ত্র মনে করেন না।

৬- গ্রন্থকার বলেন: "কবিতার ব্যাখ্যাকারগণ কেবল অর্থের ব্যাখ্যা, চরণের আভিধানিক শব্দাবলি এবং এর কারক বিশ্লেষণ স্পষ্ট করার মাঝে সীমাবদ্ধ থেকে ভুল করেছেন; অথচ তারা এর অন্তর্ভুক্ত অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাবলীলতার রহস্যসমূহ এড়িয়ে গিয়েছেন।"

আমি বলি: কবিতার ব্যাখ্যাকারগণ তাদের উদ্দেশ্য ও শ্রমকে কবির অভিপ্রায় উন্মোচনের জন্যই নিয়োজিত করেছেন যাতে তা বোধগম্য হয়। তাই তারা আভিধানিক শব্দাবলি এবং কবিতার সেই ব্যাকরণিক কারক বিশ্লেষণ করেছেন যার ওপর অর্থ উপলব্ধি করা নির্ভরশীল। অনেক সময় তারা কেবল অর্থের ব্যাখ্যা করেন যখন পংক্তির মধ্যে কোনো (জটিল) আভিধানিক শব্দ থাকে না এবং অর্থটি তার কারক বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল হয় না। তারা যেন তাদের রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোকে কেবল কবির উদ্দেশ্য বর্ণনার জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন। সুতরাং এর অতিরিক্ত তারা যা কিছু উল্লেখ করেন তা গৌণ বা প্রাসঙ্গিক হিসেবেই করেন, মুখ্য উদ্দেশ্য হিসেবে নয়। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে তারা কাব্য সমালোচনা, কাব্যিক কারুকার্যের ওপর আলোচনা এবং এর সাবলীলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র নিয়ে গবেষণা না করায় তাদেরকে ভুলকারী বলা সংগত হবে না। কারণ এটি একটি স্বতন্ত্র শিল্প যার জন্য তারা তাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো রচনা করেননি। ঠিক তেমনিভাবে তারা ছন্দ, অন্ত্যমিল এবং রূপান্তরের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি নিয়েও আলোচনা করেননি। আপনি যদি বলেন যে, অনেক কবিতা ব্যাখ্যাকার ছন্দ, অন্ত্যমিল এবং রূপান্তরের সূক্ষ্ম বিষয় নিয়েও তো আলোচনা করেছেন; আমি বলব: অনেক কবিতা ব্যাখ্যাকার কবিতার সমালোচনাও করেছেন এবং এর সাবলীলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র এবং এর গূঢ় রহস্যসমূহ নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন। এরপর তাকে বলা হবে যে, কুরআনের অধিকাংশ ব্যাখ্যাকার
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৪০)
اقتصروا على شرح المعاني واللغة والإعراب وأسباب النزول، وما يتضمنه الكتاب العزيز من الفقه والأصول ونحوها، ولم يذكروا في تفاسيرهم نقد ما فيه من البلاغة والفصاحة وأسرارها، فإن ارتكبت من ذلك قياسك، وغلطت المفسرين، كنت مغلطا لأكابر الصحابة، كعلي بن أبي طالب عليه السلام، وعبد الله بن عباس، وهما اللذان أخذ علم التفسير كله عنهما، ويكفيك ذلك قبحا وشناعة، وإن لم تغلط المفسرين، فقد انتقض ما قلته من شرح الأشعار.

7- قال المصنف: "وصناعة تأليف الكلام من المنشور والمنظوم تفتقر إلى آلات كثيرة. وقد قيل إن كل ذي علم يسوغ له أن ينسب نفسه إليه، فيقال فلان الكاتب لما يفتقر إليه من الخوض في كل فن"1.

أقول هذا الكلام من أبهات2 الكتاب وتزويقاتهم، ولا يعول عليه محصل، وهذه الفنون التي يذكرها الكُتَّاب، ويزعمون أن الكتابة مفتقرة إليها، إن أرادوا بها ضررتها فهذا باطل؛ لأن سحبان3

--------------------------------------------

1 ملخص من كلام ابن الأثير: 1/ 40.

2 الأبهات: جمع أبهة على وزن سكرة وهي العظمة والكبر.

3 سحبان وائل خطيب فصيح يضرب به المثل والبيان والفصاحة، خطب أمام معاوية فلم يشعر شاعر ولم يحطب خطيب؛ لأنهم بهروا بفصاحته البيان والتبيين 1/ 6، 48، 348.
তারা অর্থ, ভাষা, ব্যাকরণ ও অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (শানে নুযূল) এবং এই সম্মানিত কিতাবে ফিকহ ও উসুলসহ যা কিছু রয়েছে কেবল তার ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তারা তাদের তাফসীরসমূহে অলংকারশাস্ত্র (বালাগাত), প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) ও এর নিগুঢ় রহস্যের বিশ্লেষণ উল্লেখ করেননি। এমতাবস্থায় আপনি যদি নিজের অনুমানের ভিত্তিতে তা করতে যান এবং মুফাসসিরগণকে ভুল সাব্যস্ত করেন, তবে আপনি আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মতো বড় বড় সাহাবীদেরই ভুল সাব্যস্ত করলেন, অথচ তাদের দুজনের থেকেই পূর্ণ তাফসীর শাস্ত্র গ্রহণ করা হয়েছে। আপনার জন্য এই কদর্যতা ও ভয়াবহতাটুকুই যথেষ্ট। আর যদি আপনি মুফাসসিরদের ভুল সাব্যস্ত না করেন, তবে কবিতার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আপনার দাবিটি অসার প্রমাণিত হবে।

৭- লেখক বলেছেন: "গদ্য ও পদ্য রচনার শিল্প অনেক সরঞ্জামের মুখাপেক্ষী। বলা হয়ে থাকে যে, প্রতিটি বিষয়ের পারদর্শী ব্যক্তি নিজেকে সেই বিষয়ের দিকে সম্বন্ধিত করতে পারেন। ফলে কাউকে লেখক বলা হয় কারণ তাকে প্রতিটি শাস্ত্রে বিচরণ করতে হয়।" ১।

আমি বলি, এই বক্তব্যটি লেখকদের আত্মগরিমা ও অলঙ্করণ মাত্র, কোনো প্রকৃত গবেষক এর ওপর নির্ভর করেন না। লেখকেরা যে সকল শিল্পের কথা উল্লেখ করেন এবং লেখনী তার মুখাপেক্ষী বলে দাবি করেন, তা যদি তারা আবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে বুঝিয়ে থাকেন তবে তা বাতিল; কারণ সাহবান ৩

--------------------------------------------

১ ইবনে আসীরের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ: ১/৪০।

২ আল-উব্বাহাত: এটি 'উব্বাহ' শব্দের বহুবচন যা 'সাকরাহ' এর ওজনে গঠিত; এর অর্থ মহিমা ও অহংকার।

৩ সাহবান ওয়ায়েল ছিলেন একজন অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাষী বাগ্মী যার বাগ্মিতা প্রবাদতুল্য। তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-এর সামনে ভাষণ দিয়েছিলেন, তখন অন্য কোনো কবি বা বাগ্মী কোনো কথা বলতে সক্ষম হননি; কারণ তারা তাঁর বাগ্মিতায় অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ীন ১/৬, ৪৮, ৩৪৮।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৪১)
وقسا1 وغيرهما من خطباء العرب ما كانت تعرفهما، وكذلك من كان في أول الإسلام من الخطباء كمعاوية2 وزيادة3 وغيرهما.

وإن أرادوا أنها متممة ومكملة فهذا حق، ولكن عدمها لا يقتضي سلب اسم الكتابة، مع أن كل ما يحتاج إليه الكاتب يحتاج إليه الشاعر وزيادة.

8- قال المصنف: "ومن أقسام الفاعل والمفعول ما لا يفهم إلا بعلامة، كتقديم المفعول على الفاعل، فإنه إذا لم يكن ثم علامة تبين أحدهما عن الآخر، وإلا لأشكل الأمر، كقولك "ضرب زيد عمر" بالوقف عليهما ويكون زيد هو المضروب، فإنك إذا لم تنصب زيدا وترفع عمرا لم يُفهم ماذا

--------------------------------------------

1 قس بن ساعدة الإيادي خطيب جاهلي من قبيلة إياد، كان يخطب الناس ويعظهم في سوق عكاظ، وسمعه النبي صلى الله عليه وسلم وقال: رأيته بالسوق على جمل أحمر وهو يقول: أيها الناس اجتمعوا واسمعوا وعوا، من عاش مات، ومن مات فات، وكل ما هو آت آت "البيان والتبيين 1/ 308".

وقال الجاحظ: ولإياد مزية ليست لأحد من العرب؛ لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم هو الذي روى كلام قس بن ساعدة وموقفه على جملة بعكاظ وموعظته، وهذا إسناد تعجز عنه الأماني، وتنقطع دونه الآمال "البيان والتبيين 1/ 52".

2 معاوية بن أبي سفيان مؤسس الدولة الأموية سنة 41هـ وكان من دهاة العرب وفصحائهم.

3 زياد بن أبيه أحد ولاة معاوية وخطباء العرب المشهورين وساستهم. ألحقه معاوية بنسب أبي سفيان سنة 44 فكان عنده عضده القوي وولاة البصرة والكوفة وسائر العراق، ولم يزل واليا حتى توفي.
এবং কুস১ ও তাঁদের মতো অন্যান্য আরব বাগ্মীরা সে সম্পর্কে জানতেন না। অনুরূপভাবে ইসলামের প্রাথমিক যুগের বাগ্মী যেমন মুয়াবিয়া২ ও যিয়াদ৩ এবং তাঁদের ন্যায় অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

আর তারা যদি মনে করেন যে এটি একটি পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী বিষয়, তবে তা সঠিক। তবে এর অনুপস্থিতি 'লিখন' বা 'কিতাবাত' নামটিকে নাকচ করে দেয় না; অথচ একজন লেখকের যা যা প্রয়োজন হয়, একজন কবির তা তো প্রয়োজন হয়ই, বরং তার চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন হয়।

৮- গ্রন্থকার বলেন: "কর্তা (ফাইল) এবং কর্মের (মাফউল) এমন কিছু প্রকার রয়েছে যা চিহ্ন ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। যেমন কর্তার আগে কর্মের আগমন। কারণ সেখানে যদি একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করার মতো কোনো চিহ্ন না থাকে, তবে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যাবে। যেমন আপনার বলা: 'দারাবা যাইদ উমার' (যাইদ উমরকে প্রহার করেছে) উভয়ের ওপর থামা বা ওয়াকফ করা অবস্থায়, যেখানে যাইদ হলো প্রহৃত ব্যক্তি। এমতাবস্থায় আপনি যদি যাইদকে নসব এবং উমরকে রফা না দেন, তবে কী বোঝানো হচ্ছে তা বোঝা যাবে না...

--------------------------------------------

১ কুস বিন সায়িদা আল-ইয়াদি ছিলেন ইয়াদ গোত্রের জাহেলি যুগের একজন বাগ্মী। তিনি উকাজ মেলায় মানুষের সামনে বক্তৃতা ও নসিহত করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শুনেছিলেন এবং বলেছিলেন: আমি তাঁকে বাজারে একটি লাল উটের পিঠে থাকা অবস্থায় দেখেছিলাম, তিনি বলছিলেন: হে লোকসকল! একত্রিত হও, শোনো এবং হৃদয়ে গেঁথে নাও। যে জন্মেছে সে মরবে, আর যে মারা গেছে সে গত হয়ে গেছে এবং যা আসার তা আসবেই। 'আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন ১/৩০৮'।

জাহিয বলেছেন: ইয়াদ গোত্রের এমন এক মর্যাদা রয়েছে যা অন্য কোনো আরবের নেই; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই কুস বিন সায়িদার বক্তব্য এবং উকাজ মেলায় তাঁর উটের ওপর অবস্থানের কথা ও তাঁর নসিহত বর্ণনা করেছেন। এটি এমন এক সনদ (সূত্র) যার সমতুল্য কোনো আকাঙ্ক্ষা হতে পারে না এবং যার সামনে সব আশা স্তব্ধ হয়ে যায়। 'আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন ১/৫২'।

২ মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান ৪১ হিজরিতে উমাইয়া রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি আরবদের অন্যতম বিচক্ষণ ও প্রাঞ্জলভাষী ব্যক্তি ছিলেন।

৩ যিয়াদ বিন আবিহি মুয়াবিয়ার নিযুক্ত অন্যতম গভর্নর এবং আরবদের বিখ্যাত বাগ্মী ও রাজনীতিবিদদের একজন ছিলেন। মুয়াবিয়া ৪৪ হিজরিতে তাঁকে আবু সুফিয়ানের বংশের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি তাঁর শক্তিশালী সহযোগী এবং বসরা, কুফা ও সমগ্র ইরাকের গভর্নর ছিলেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি গভর্নর পদে বহাল ছিলেন।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৪২)
أردت. ومن هذا قوله تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء} 1.

أقول إن هذه الآية لا مدخل له في هذا الموضع؛ لأنا لو وقفنا على الفاعل والمفعول منها لم يحصل الالتباس، لعلمنا أن الله لا يخشى أحدا لا من العلماء ولا من غيرهم، فالآية تدل بنفسها لا بعلاقة لفظية على أنه تعالى مفعول، وأن العلماء فاعل، بخلاف ما إذا وقفنا على زيد ومحمد في ضرب زيد محمدا، فقد بان أن تمثيله بهذه الآية مضاهيا بضرب زيد محمد غير صحيح، وأن أحد المثالين لا يشابه الآخر.

9- قال المصنف: "وكل خماسي يحذف منه في التصغير حرف، سواء كان في الكلمة حرف زائد أو لم يكن، مثال الزائد منطلق تصغيره مُطَيْلق، فإن كان في الكلمة حرفان زائدان استبقيت الميم لأنها زيدت لمعنى وأسقطت النون لأنها زيدت لغير معنى، ومثال الأصول جحمرش تصغيره جُحيمر"2.

أقول: هذه القضية على إطلاقها غير صحيحة، فإنهم قالوا في تصغير حمراء ونحوها حُميراء، وهي خماسية، ولم يسقطوا شيئا، وكذلك لفظة أجمال3 صغروها فقالوا أُجيمال، فهذه الخماسيات ما أسقطوا منها شيئا، ولا تصرفوا فيها بشيء سوى ياء التصغير فقط، ومن الخماسيات ما تصرفوا فيه نوع تصرف،

--------------------------------------------

1 المثل السائر 1/ 45، والآية من سورة فاطر 28.

2 المثل السائر 1/ 49.

3 أجمال: جمع جمل.
আপনি চেয়েছেন। এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই আল্লাহকে ভয় করেন} ১।

আমি বলি যে, এই আয়াতের এই স্থানে কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই; কারণ আমরা যদি এর কর্তা (ফায়েল) এবং কর্ম (মাফউল)-এর অবস্থানের ওপর লক্ষ্য করি, তবে কোনো অস্পষ্টতা তৈরি হবে না। কেননা আমরা জানি যে, আল্লাহ আলেমদের মধ্য থেকে কাউকেও ভয় করেন না এবং আলেমগণ ব্যতীত অন্য কাউকেও নয়। সুতরাং আয়াতটি শাব্দিক সম্পর্কের মাধ্যমে নয়, বরং স্বয়ংসিদ্ধভাবে প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা এখানে কর্ম (মাফউল) এবং আলেমগণ হলেন কর্তা (ফায়েল)। এটি যায়েদ ও মুহাম্মদের উদাহরণের বিপরীত যেমন ‘যায়েদ মুহাম্মদকে প্রহার করেছে’ বাক্যে। ফলে স্পষ্ট হলো যে, এই আয়াতের মাধ্যমে ‘যায়েদ মুহাম্মদকে প্রহার করেছে’ বাক্যের সাদৃশ্য প্রদান করা সঠিক নয় এবং এই উদাহরণ দুটির একটি অপরটির সদৃশ নয়।

৯- গ্রন্থকার বলেছেন: "প্রত্যেক পঞ্চাক্ষরী (খুমাসি) শব্দ থেকে তাসগির (ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ) করার সময় একটি অক্ষর বিলুপ্ত করা হয়, চাই শব্দটিতে অতিরিক্ত কোনো অক্ষর থাকুক বা না থাকুক। অতিরিক্ত অক্ষরের উদাহরণ হলো ‘মুনতালিক’, এর তাসগির হলো ‘মুতাইলিক’। যদি শব্দটিতে দুটি অতিরিক্ত অক্ষর থাকে, তবে ‘মিম’ অক্ষরটি বহাল রাখা হয় কারণ এটি একটি অর্থের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ‘নুন’ অক্ষরটি বিলুপ্ত করা হয় কারণ এটি কোনো অর্থ ছাড়াই বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর মূল অক্ষরের উদাহরণ হলো ‘জাহমারিশ’, এর তাসগির হলো ‘জুহাইমির’" ২।

আমি বলি: এই বিষয়টি সাধারণভাবে সঠিক নয়। কারণ ভাষাবিদগণ ‘হামরা’ এবং এই জাতীয় শব্দের তাসগিরের ক্ষেত্রে ‘হুমাইরা’ বলেছেন, অথচ এটি একটি পঞ্চাক্ষরী শব্দ এবং তারা এখান থেকে কিছুই বিলুপ্ত করেননি। অনুরূপভাবে ‘আজমাল’ ৩ শব্দটিকে তারা তাসগির করে ‘উজাইমাল’ বলেছেন। সুতরাং এই পঞ্চাক্ষরী শব্দগুলো থেকে তারা কিছুই বিলুপ্ত করেননি এবং তাসগিরের ‘ইয়া’ যোগ করা ছাড়া অন্য কোনো পরিবর্তন করেননি। আবার কিছু পঞ্চাক্ষরী শব্দে তারা এক প্রকার পরিবর্তন সাধন করেছেন।

--------------------------------------------

১ আল-মাসালুস সায়ির ১/ ৪৫, এবং আয়াতটি সূরা ফাতির-এর ২৮ নম্বর আয়াত।

২ আল-মাসালুস সায়ির ১/ ৪৯।

৩ আজমাল: জামাল (উট)-এর বহুবচন।
(খণ্ড: ٤) আল-ফুলকুদ দাইর আলাল মাসালিস সাইর (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ولم يسقطوا منه شيئا، نحو ميزان فإنهم قالوا مُويزين، فأبدلوا ولم يسقطوا، وبالجملة فقوله كل خماسي لا بد أن يسقط بعض حروفه قول غير صحيح.

10- قال المصنف: "وقد غلط أبو نواس فيما لا يغلط فيه مثله حيث قال:

كأن صغرى وكبرى من فواقعها … حصباء على أرض من الذهب1

فإن فُعلى أفعل لا يجوز حذف اللام منها إلا إذا أُضيفت، وإنما يُحذفان من فعلى التي لا أفعل لها، نحو حُبلى"2.

أقول إنا لا ننكر أن كثيرا من أئمة العربية طعن في هذا البيت، لكن كثيرا منهم انتصر له، وقالوا قد وجدنا فعلى أفعل في غير موضع وإرادة بغير لام لا مضافة، مثل دنيا في قول الراجز:

في سعي دنيا طال ما قد مدت

وقول الآخر "لا تبخلن بدنيا وهي مقبلة … " ومثلها أخرى، وقد جاء جُلَّى في قوله:

وإن دعوت إلى جلي ومكرمة … ..........................3

--------------------------------------------

1 ديوان أبي نواس 243 وأكثر الرواة على أنها "فقاقعها" وهي النفاخات التي تعلو الماء أو الخمر.

2 المثل السائر 1/ 52.

3 تكملة البيت: يوما سراة كرام الناس فادعينا.

من قصيدة لبعض بني قيس بن ثعلبة، ويقال إنها لبشامة بن جزء "حزن" النهشلي، مطلعها:

إنا محيوك يا سلمى فحيينا … وإن سقيت كرام الناس فاسقينا

"شرح الحماسة للمرزوقي 1/ 100".
তারা এ থেকে কিছুই বাদ দেয়নি, যেমন 'মীযান' (মিজান), তারা এর ক্ষুদ্রার্থবাচক রূপ হিসেবে 'মুওয়াইযীন' (মুয়াইযিন) বলেছে; ফলে তারা বর্ণ পরিবর্তন করেছে কিন্তু বাদ দেয়নি। সারকথা হলো, তার এই উক্তি যে—প্রত্যেক পঞ্চবর্ণীয় শব্দ থেকে অবশ্যই কিছু বর্ণ বাদ দিতে হবে—এটি সঠিক উক্তি নয়।

১০- গ্রন্থকার বলেছেন: "আবু নুওয়াস এমন এক বিষয়ে ভুল করেছেন যাতে তার মতো কারোর ভুল করার কথা নয়। তিনি বলেছেন:

যেন তার বুদবুদগুলোর ছোট এবং বড়টি … স্বর্ণের ভূমির ওপর কঙ্করের মতো১

কেননা 'আফ'আলু' ওজনের স্ত্রীলিঙ্গ 'ফু'লা'-তে 'লাম' (অলিফ-লাম) যুক্ত না থাকলে তা থেকে 'লাম' বিলুপ্ত করা জায়েয নেই, যদি না সেটি অন্য পদের সাথে যুক্ত (ইযাফাত) হয়। এটি কেবল সেই 'ফু'লা' থেকে বিলুপ্ত করা হয় যার কোনো 'আফ'আলু' রূপ নেই, যেমন 'হুবলা' (গর্ভবতী)।"২

আমি বলি, আমরা এটি অস্বীকার করি না যে আরবি ভাষার অনেক ইমাম এই কবিতাংশটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন; তবে তাদের মধ্যে অনেকে এর সমর্থনও করেছেন। তারা বলেছেন, আমরা 'আফ'আলু'-এর স্ত্রীলিঙ্গ 'ফু'লা' রূপটিকে বিভিন্ন স্থানে 'লাম' ব্যতীত এবং সম্বন্ধযুক্ত হওয়া ছাড়াই পেয়েছি। যেমন রাজেযের উক্তিতে 'দুনয়া' শব্দটি:

পার্থিব প্রচেষ্টায়, যা দীর্ঘকাল ধরে সম্প্রসারিত হয়েছে

এবং অপর একজনের উক্তি "দুনয়া (পার্থিব সম্পদ) যখন তোমার দিকে ধাবিত হয় তখন তা নিয়ে কৃপণতা করো না … " এবং অনুরূপভাবে 'উখরা' (অন্যটি) শব্দটিও। আবার 'জুল্লা' (মহৎ কাজ) শব্দটিও এই উক্তিতে এসেছে:

যদি তুমি কোনো মহৎ কাজ বা সম্মানের দিকে আহ্বান করো … ..........................৩

--------------------------------------------

১ আবু নুওয়াসের দিওয়ান ২৪৩; অধিকাংশ বর্ণনাকারীর মতে এটি 'ফাকাকিআহা', আর তা হলো পানি বা মদের ওপর ভেসে ওঠা বুদবুদ।

২ আল-মাসালুস সাঈর ১/ ৫২।

৩ কবিতার অবশিষ্টাংশ: একদিন অভিজাত ও সম্মানিত লোকদের মধ্যে আমাদের ডাকা হলে।

বনু কায়স বিন সা'লাবার কোনো এক ব্যক্তির কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে, এবং বলা হয় এটি বাশামাহ বিন জুয 'হুযন' আন-নাহশালী-এর, যার সূচনা হলো:

হে সালমা! আমরা তোমাকে অভিবাদন জানাচ্ছি, তুমিও আমাদের অভিবাদন জানাও … আর যদি তুমি সম্মানিত লোকদের পান করাও, তবে আমাদেরও পান করাও

"শারহুল হামাসাহ লি-মারযুকী ১/ ১০০"।