(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المدارس النحوية   (شوقي ضيف)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: المدارس النحوية

المؤلف: أحمد شوقي عبد السلام ضيف الشهير بشوقي ضيف (ت 1426هـ)

الناشر: دار المعارف

عدد الصفحات: 375

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ব্যাকরণিক মাযহাবসমূহ (আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ)   (শাওকি দাইফ)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ

লেখক: আহমদ শাওকি আবদুস সালাম দাইফ, যিনি শাওকি দাইফ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ১৪২৬ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল মাআরিফ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة:

حين أعارتني جامعة القاهرة في العام الدراسي 1965-1966 لشقيقتها الجامعة الأردنية، حاضرتُ طلاب قسم اللغة العربية بها في تاريخ المدارس النحوية. ولما رجعت إلى المكتبة العربية الحديثة لم أجد فيها كتابا يُغنِي في هذا الموضوع غناء محمودا، وقد مضيت أحاضر الطلاب فيه محاولا -بقدر جهدي- أن أبلغ حاجتهم بترتيب مقدماته وتوفير الأسباب المعينة على صحة نتائجه، حتى استقامت لي هذه الصورة لمدارسنا النحوية على مرّ التاريخ.

ولعل هذه أول مرة تُبحَث فيها المدارس النحوية بحثا جامعا، وهو بحث يرسم في إجمالٍ الجهود الخصبة لكل مدرسة، وكل شخصية نابهة فيها. وكان طبيعيا أن أبدأ بالمدرسة البصرية؛ لأنها هي التي وضعت أصول نحونا وقواعده ومكنت له من هذه الحياة المتصلة التي لا يزال يحياها إلى اليوم، وكل مدرسة سواها فإنما هي فرع لها وثمرة تالية من ثمارها. وقد تقدمت البحث فيها بتصحيح خطأ شاع وذاع قديما وحديثا، وهو ما ينسب إلى أبي الأسود الدؤلي وتلاميذه من وضع بعض مبادئ النحو، وهي إنما بدأت توضع مع الجيل التالي عند ابن أبي إسحاق الحضرمي. وأوضحت الأسباب التي جعلت عقل البصرة أدق وأعمق من عقل الكوفة وأكثر استعدادا لتسجيل ظواهر النحو العربي ووضع قواعده وقوانينه.

وقد ذهبت إلى أن الخليل بن أحمد الفراهيدي هو المؤسس الحقيقي لمدرسة البصرة النحوية ولعلم النحو العربي بمعناه الدقيق، وصورت في تضاعيف ذلك إقامته لصرح النحو بكل ما يتصل به من نظرية العوامل والمعمولات، وبكل ما يسنده من سماع وتعليل وقياس سديد، مع بيان ما امتاز به من علم بأسرار العربية
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা:

যখন কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৫-১৯৬৬ শিক্ষাবর্ষে আমাকে তার ভ্রাতৃপ্রতিম জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেষণে পাঠিয়েছিল, তখন আমি সেখানে আরবি ভাষা বিভাগের ছাত্রদের নিকট ব্যাকরণিক ঘরানাগুলোর ইতিহাসের ওপর পাঠদান করেছিলাম। আমি যখন আধুনিক আরবি গ্রন্থাগারের দিকে দৃষ্টি ফিরালাম, তখন এই বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ খুঁজে পেলাম না। তাই আমি ছাত্রদের সামনে এ বিষয়ে বক্তৃতা প্রদান অব্যাহত রাখলাম এবং আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করলাম যেন এর প্রস্তাবনাগুলোকে সুবিন্যস্ত করার মাধ্যমে এবং সঠিক ফলাফলে উপনীত হওয়ার সহায়ক উপকরণগুলো সরবরাহ করার মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন পূরণ করা যায়। পরিশেষে ইতিহাসের পরিক্রমায় আমাদের ব্যাকরণিক ঘরানাগুলোর এই চিত্রটি আমার নিকট সুস্পষ্ট হয়ে উঠল।

সম্ভবত এটিই প্রথমবার যখন ব্যাকরণিক ঘরানাগুলো নিয়ে একটি সামগ্রিক গবেষণা পরিচালিত হলো; এটি এমন এক গবেষণা যা প্রতিটি ঘরানার উর্বর প্রচেষ্টা এবং এর প্রতিটি প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের অবদানকে সংক্ষেপে ফুটিয়ে তোলে। আর এটি স্বাভাবিক ছিল যে আমি বসরা ঘরানা দিয়ে শুরু করব; কারণ এটিই আমাদের ব্যাকরণের মূলনীতি ও নিয়মাবলি প্রণয়ন করেছে এবং একে এমন এক নিরবচ্ছিন্ন জীবন দান করেছে যা আজও টিকে আছে। আর এটি ছাড়া অন্য প্রতিটি ঘরানা মূলত এরই একটি শাখা এবং এরই পরবর্তী ফলশ্রুতি মাত্র। আমি এই গবেষণায় প্রাচীন ও আধুনিক কালে সুপরিচিত ও ছড়িয়ে পড়া একটি ভুল সংশোধনের মাধ্যমে অগ্রসর হয়েছি, আর তা হলো ব্যাকরণের কিছু প্রাথমিক মূলনীতি প্রণয়নকে আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালী এবং তাঁর ছাত্রদের দিকে নিসবত করা; অথচ এগুলোর প্রণয়ন মূলত পরবর্তী প্রজন্মের ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামি-এর সময় থেকে শুরু হয়েছিল। আমি সেই কারণগুলোও স্পষ্ট করেছি যা বসরার চিন্তাধারাকে কুফার চিন্তাধারার চেয়ে সূক্ষ্মতর ও গভীরতর করেছে এবং আরবি ব্যাকরণের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যসমূহ লিপিবদ্ধ করতে ও এর নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করতে অধিকতর উপযোগী করে তুলেছে।

আমি এই মত পোষণ করেছি যে, খলিল বিন আহমদ আল-ফারাহিদি-ই হলেন বসরা ব্যাকরণ ঘরানা এবং সূক্ষ্ম অর্থে আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। আমি এই আলোচনার পরতে পরতে ব্যাকরণিক কাঠামোর সুউচ্চ ভিত্তি স্থাপনে তাঁর ভূমিকার চিত্র তুলে ধরেছি—আমেল ও মামুল সংক্রান্ত তত্ত্ব থেকে শুরু করে শ্রুতি (সামা), কারণিক ব্যাখ্যা (তালীল) ও সঠিক অনুমান (কিয়াস) ভিত্তিক সমর্থন পর্যন্ত; সেই সাথে আরবি ভাষার গূঢ় রহস্য সম্পর্কে তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্যের বিবরণও প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وتذوق لخصائصها التركيبية. وخلفه على تراثه تلميذه سيبويه الذي تمثل آراءه النحوية تمثلا غريبا رائعا، نافذا منها إلى ما لا يكاد يحصى من الآراء، فإذا هو يسوي من ذلك "الكتاب" آيته الكبرى، وقد بلغ من إعجاب الأسلاف به أن سموه "قرآن النحو" وكأنما أحسوا فيه ضربا من الإعجاز، لا لتسجيله فيه أصول النحو وقواعده تسجيلا تاما فحسب، بل أيضا لأنه لم يكد يترك ظاهرة من ظواهر التعبير العربي إلا أتقنها، فقها وعلما وتحليلا.

وحمل "الكتاب" عن سيبويه تلميذه الأخفش الأوسط، وأقرأه تلاميذ بصريين في مقدمتهم المازني، وتلاميذ كوفيين في مقدمتهم الكسائي، وكان لهِجا بالاعتراض على سيبويه والخليل، مما جعله ينفذ إلى كثير من الآراء، وخاصة أنه كان يفسح للغات الشاذة، هو بذلك يعد الإمام الحقيقي للكسائي وغيره من أئمة المدرسة الكوفية. وكان يعنى بالدفاع عن القراءات المشتملة على بعض الشذوذ والاحتجاج لها بأشعار العرب الفصحاء. وقد بينت في مواطن أخرى أن الفراء إمام المدرسة الكوفية بعد الكسائي، هو أول من تعرض للقراءات الشاذة بالإنكار العنيف، وتابعه في ذلك المازني وتلميذه المبرد آخر أئمة المدرسة البصرية النابهين.

وأخذت أبحث في نشاط المدرسة الكوفية، ولاحظت أنه بدأ متأخرا عند الكسائي، وقد استطاع هو وتلميذه الفراء أن يستحدثا في الكوفة مدرسة نحوية تستقل بطوابع خاصة من حيث الاتساع في الرواية، ومن حيث بسط القياس وقبضه، ومن حيث وضع بعض المصطلحات الجديدة، ومن حيث رسم العوامل والمعمولات. وتوسع الفراء خاصة في تخطئة بعض العرب وإنكار بعض القراءات الشاذة، وكان ينفذ أحيانا إلى أحكام لا تسندها الشواهد والأمثلة، وهو يعد بحق إمام الكوفيين، فثعلب وغير ثعلب إنما كانوا شارحين لآرائه ومفسرين.

ومضيت أبحث في المدرسة البغدادية وكانت قد ترامت عليها ظلال خدع كثيرة، وخاصة أن عَلَمَيها الفذين: أبا علي الفارسي وابن جني، كثيرا ما يَكْنيان عن البصريين في مصنفاتهما باسم "أصحابنا" مما جعل كثرة المعاصرين تظن
এবং এর গঠনগত বৈশিষ্ট্যের স্বাদ আস্বাদন করেছেন। তাঁর উত্তরাধিকার বহন করেছেন তাঁর ছাত্র সিবওয়াইহ, যিনি তাঁর ব্যাকরণিক মতবাদসমূহকে এক বিস্ময়কর ও চমৎকারভাবে ধারণ করেছিলেন। তিনি এর মাধ্যমে অগণিত মতামতে প্রবেশ করেছেন এবং এর ভিত্তিতেই তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ নিদর্শন "আল-কিতাব" রচনা করেন। পূর্বসূরিরা এর প্রতি এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে তাঁরা একে "নাহুর কুরআন" (ব্যাকরণের কুরআন) বলে অভিহিত করতেন। যেন তাঁরা এতে এক ধরণের অলৌকিকত্বের পরশ পেয়েছিলেন। শুধু এজন্য নয় যে তিনি এতে ব্যাকরণের মূলনীতি ও নিয়মকানুনগুলো সম্পূর্ণভাবে লিপিবদ্ধ করেছিলেন, বরং এজন্যও যে তিনি আরবি অভিব্যক্তির প্রায় প্রতিটি দিক অত্যন্ত নিপুণভাবে উপলব্ধি, জ্ঞান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।

সিবওয়াইহের নিকট থেকে "আল-কিতাব" গ্রহণ করেছিলেন তাঁর ছাত্র আখফাশ আল-আওসাত। তিনি এটি বসরাবাসীদের পড়িয়েছেন যাদের অগ্রভাগে ছিলেন আল-মাযিনি, এবং কুফাবাসীদেরও পড়িয়েছেন যাদের অগ্রভাগে ছিলেন আল-কিসায়ি। তিনি সিবওয়াইহ এবং আল-খালিলের ওপর আপত্তি তোলায় অত্যন্ত মুখর ছিলেন, যা তাঁকে বহু নতুন মতামতে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল। বিশেষ করে তিনি বিরল ও ব্যতিক্রমী ভাষাগত ব্যবহারের সুযোগ করে দিতেন। একারণে তাঁকে আল-কিসায়ি এবং কুফি ধারার অন্যান্য ইমামদের প্রকৃত ইমাম হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি এমন সব কিরাআত বা পঠনরীতির পক্ষে কথা বলতেন যাতে কিছুটা ব্যতিক্রমী ভাব ছিল এবং বিশুদ্ধভাষী আরবদের কবিতার মাধ্যমে সেগুলোর সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতেন। আমি অন্য স্থানে উল্লেখ করেছি যে, আল-কিসায়ির পর কুফি ধারার ইমাম আল-ফাররা হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি অত্যন্ত কঠোরভাবে বিরল কিরাআতগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর এই পথে অনুসরণ করেন আল-মাযিনি এবং তাঁর ছাত্র আল-মুবররাদ, যিনি ছিলেন বসরা ধারার প্রখ্যাত ইমামদের মধ্যে সর্বশেষ প্রাজ্ঞ ব্যক্তি।

আমি কুফি ধারার কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা শুরু করলাম এবং লক্ষ্য করলাম যে এটি আল-কিসায়ির সময় থেকে বিলম্বিতভাবে শুরু হয়েছিল। তিনি এবং তাঁর ছাত্র আল-ফাররা কুফাতে একটি ব্যাকরণিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন, যা বর্ণনার বিস্তৃতি, কিয়াসের সম্প্রসারণ ও সংকোচন, কিছু নতুন পরিভাষা প্রবর্তন এবং আমিল ও মামুল নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল। আল-ফাররা বিশেষভাবে কিছু আরবের ভাষাকে ভুল প্রমাণ করতে এবং কিছু বিরল কিরাআতকে অস্বীকার করতে তৎপর ছিলেন। কখনও কখনও তিনি এমন সব সিদ্ধান্তে পৌঁছাতেন যার স্বপক্ষে কোনো দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ ছিল না। তিনি যথার্থই কুফাবাসীদের ইমাম হিসেবে বিবেচিত হন; কেননা সা'লাব এবং অন্যান্যরা কেবল তাঁর মতামতের ব্যাখ্যাকারী ও ভাষ্যকার ছিলেন।

এরপর আমি বাগদাদী ধারা সম্পর্কে গবেষণা করতে এগিয়ে গেলাম। এই ধারাটি নিয়ে অনেক বিভ্রান্তিকর ধারণা ছড়িয়ে ছিল। বিশেষ করে এর দুই প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব: আবু আলি আল-ফারিসি এবং ইবনে জিন্নি তাঁদের গ্রন্থগুলোতে প্রায়ই বসরাবাসীদের বোঝাতে "আমাদের সাথীবৃন্দ" পরিভাষাটি ব্যবহার করতেন, যা অনেক সমসাময়িককে এই ধারণা পোষণ করতে প্ররোচিত করেছে যে...
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
أنهما بصريان حقا، وهما إنما يصوران بذلك نزوعهما الشديد تلقاء البصريين، أما بعد ذلك فإنهما ينهجان النهج القويم للمدرسة البغدادية القائم على الانتخاب من آراء المدرستين البصرية والكوفية، مع فتح الأبواب للاجتهاد والخلوص إلى الآراء المبتكرة. وقد تداول هذه المدرسة جيلان: جيل أول كانت تغلب عليه النزعة الكوفية، وهو الذي يدور في كتابات ابن جني باسم البغداديين، من أمثال ابن كيسان، ثم جيل ثانٍ خَلَفَ هذا الجيل كانت تغلب عليه النزعة البصرية على نحو ما يلقانا عند الزجاجي، ثم أبي علي الفارسي، وابن جني مؤصل علم التصريف وواضع قوانينه الكلية.

وانتقلت أبحث في المدرسة الأندلسية، متتبعا نشاطها النحوي طوال العصور المتعاقبة، ولاحظت استظهار نحاتها منذ القرن الخامس الهجري لآراء أئمة النحو السابقين من بصريين وكوفيين وبغداديين، مع الاجتهاد الواسع في الفروع ومع وفرة الاستنباطات وكثرة التعليلات والاحتجاجات. ولا نكاد ننتقل من جيل إلى جيل حتى تلقانا مجموعة من الأئمة، وكل إمام منهم يثير من الخواطر والآراء ما لم يسبقه إليه سابق من النحاة المجلين، حتى لنرى ابن مضاء القرطبي يريد أن يصوغ النحو صياغة جديدة تخلو من نظرية العوامل والمعمولات المذكورة والمقدرة ومن العلل والأقيسة المعقدة. وأكبر أئمتهم -على الإطلاق- ابن مالك، وقد رسمت في إجمالٍ آراءه ومنهجه، وعرضت لخالفيه من نحاة الأندلس وخاصة أبا حيان.

وبحثت أخيرا في المدرسة المصرية، ملاحظا أنها كانت في أول نشأتها شديدة الاقتداء بالمدرسة البصرية، ثم أخذت تمزج -منذ القرن الرابع الهجري- بين آراء البصريين والكوفيين، وضمت سريعا إلى تلك الآراء آراء البغداديين، غير أنها لم تونق ولم تزدهر إلا منذ العصر الأيوبي، وسرعان ما تكامل ازدهارها في العصر المملوكي بما أتاحه لها ابن هشام من مَلَكاَته العقلية النادرة ومن إحاطته بآراء النحاة السالفين له، على اختلاف مدارسهم وأعصارهم وبلدانهم، ومن قدرته البارعة في مناقشة تلك الآراء، مع ما امتاز به من طرافة التحليل والاستنباط
তারা যে প্রকৃতপক্ষে বসরা ঘরানার অনুসারী ছিলেন, তা তারা বসরাবাসীদের প্রতি তাদের তীব্র অনুরাগের মাধ্যমেই ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে এরপরে তারা বাগদাদী ঘরানার সেই সঠিক পথটি অনুসরণ করেন যা বসরা ও কুফা—উভয় ঘরানার মতামতের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই ও নির্বাচনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। এর পাশাপাশি তারা ইজতিহাদ বা স্বাধীন গবেষণার দ্বার উন্মুক্ত করেন এবং নতুন নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হন। এই ঘরানাটি দুটি প্রজন্মের হাত ধরে আবর্তিত হয়েছে: প্রথম প্রজন্ম, যাদের মধ্যে কুফী প্রবণতা প্রবল ছিল; ইবনে জিন্নি তাঁর রচনায় ইবনে কায়সানের মতো এই ঘরানার বিদ্বানদের ‘বাগদাদী’ নামে অভিহিত করেছেন। এরপর এই প্রজন্মের স্থলাভিষিক্ত হয় দ্বিতীয় প্রজন্ম, যাদের ওপর বসরী প্রবণতা প্রবল ছিল; যেমনটি আমরা আল-যাজ্জাজী এবং পরবর্তীকালে আবু আলী আল-ফারিসী ও ইবনে জিন্নির মাঝে লক্ষ্য করি—যিনি ছিলেন ইলমে সরফ বা শব্দতত্ত্বের মূলভিত্তি স্থাপনকারী এবং এর সামগ্রিক নীতিমালার প্রণেতা।

এরপর আমি আন্দালুসী ঘরানা নিয়ে গবেষণা শুরু করি এবং ধারাবাহিক যুগগুলোতে এর ব্যাকরণিক তৎপরতা অনুসরণ করি। আমি লক্ষ্য করেছি যে, হিজরি পঞ্চম শতাব্দী থেকে এই অঞ্চলের ব্যাকরণবিদরা তাদের পূর্ববর্তী বসরী, কুফী ও বাগদাদী ব্যাকরণ-ইমামদের মতামতসমূহ ব্যাপকভাবে আত্মস্থ করেছিলেন; সাথে সাথে তারা ব্যাকরণের শাখাগত বিষয়গুলোতে বিস্তৃত ইজতিহাদ, প্রচুর উদ্ভাবন এবং বহুবিধ ব্যাখ্যা ও যুক্তিপ্রমাণ উপস্থাপনের ধারা বজায় রেখেছিলেন। আমরা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে যাওয়ার সাথে সাথেই এমন একদল ইমামের সাক্ষাৎ পাই, যাদের প্রত্যেকেই এমন সব মৌলিক চিন্তা ও মতামতের অবতারণা করেছেন যা তাদের পূর্ববর্তী খ্যাতিমান ব্যাকরণবিদদের মাঝে দেখা যায়নি। এমনকি আমরা ইবনে মাদা আল-কুরতুবীকে দেখতে পাই, যিনি ব্যাকরণকে এক নতুন রূপ দিতে চেয়েছিলেন, যা আমিল ও মামুলের (নিয়ন্ত্রক ও নিয়ন্ত্রিত) উল্লিখিত ও উহ্য তত্ত্ব এবং জটিল ব্যাখ্যা ও কিয়াস (অনুমান) থেকে মুক্ত হবে। আর এই ঘরানার অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ ইমাম হলেন ইবনে মালিক; আমি সংক্ষেপে তাঁর মতামত ও কর্মপদ্ধতি চিত্রিত করেছি এবং আন্দালুসের যেসব ব্যাকরণবিদ তাঁর বিরোধিতা করেছেন—বিশেষ করে আবু হাইয়ান—তাদের সম্পর্কেও আলোচনা করেছি।

সবশেষে আমি মিশরীয় ঘরানা সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং লক্ষ্য করেছি যে, সূচনালগ্নে এটি বসরী ঘরানার কঠোর অনুসারী ছিল। অতপর চতুর্থ হিজরি শতাব্দী থেকে এটি বসরী ও কুফী মতামতের সমন্বয় শুরু করে এবং দ্রুতই সেই মতামতের সাথে বাগদাদী ঘরানার মতামতও যুক্ত করে নেয়। তবে আইয়ুবী আমলের আগে এই ঘরানাটি পূর্ণ শ্রী ও সমৃদ্ধি লাভ করতে পারেনি। অতি দ্রুত মামলুক আমলে এর সমৃদ্ধি পূর্ণতা লাভ করে, যা সম্ভব হয়েছিল ইবনে হিশামের বিরল বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিভা এবং বিভিন্ন ঘরানা, যুগ ও ভূখণ্ডের পূর্ববর্তী ব্যাকরণবিদদের মতামতের ওপর তাঁর গভীর পাণ্ডিত্যের বদৌলতে। সেইসাথে বিভিন্ন মতামত পর্যালোচনায় তাঁর চমৎকার দক্ষতা এবং তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেও এটি সম্ভব হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وجمال العَرْض والأداء. وظلت الدراسات النحوية ناشطة بعده في مصر حتى العصر الحديث.

ولم أتابع البحث في الجهود الخصبة التي بُذلت في عصرنا لتجديد النحو وتيسيره؛ لأنه إنما قصد بها إلى غايات تربوية في تعليم الناشئة، وهي حرية بكتاب مستقل. والله أسأل أن يلهمني السداد والإخلاص في الفكر والقول والعمل، وهو حسبي ونعم الوكيل.

القاهرة في أول يناير سنة 1968م.

شوقي ضيف
এবং উপস্থাপন ও পরিবেশনার সৌন্দর্য। তাঁর পরবর্তী সময়ে আধুনিক যুগ পর্যন্ত মিশরে ব্যাকরণিক চর্চা সক্রিয় ছিল।

আমাদের যুগে ব্যাকরণের সংস্কার ও সহজীকরণের ক্ষেত্রে যে ফলপ্রসূ প্রচেষ্টাগুলো চালানো হয়েছে, আমি সেই গবেষণার অনুগমন করিনি; কারণ এর দ্বারা কেবল তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক লক্ষ্যসমূহ উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যা একটি স্বতন্ত্র বইয়ের দাবি রাখে। আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে চিন্তা, কথা ও কর্মে সঠিক পথ এবং একনিষ্ঠতা দান করেন; তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।

কায়রো, ১লা জানুয়ারি, ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ।

শাওকি দায়ফ
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌القسم الأول: المدرسة البصرية

‌‌الفصل الأول: البصرة واضعة النحو

1-‌‌ أسباب وضع النحو:

يمكن أن نرد أسباب وضع النحو العربي إلى بواعث مختلفة، منها الديني ومنها غير الديني، أما البواعث الدينية فترجع إلى الحرص الشديد على أداء نصوص الذكر الحكيم أداء فصيحا سليما إلى أبعد حدود السلامة والفصاحة، وخاصة بعد أن أخذ اللحن يشيع على الألسنة، وكان قد أخذ في الظهور منذ حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، فقد روى بعض الرواة أنه سمع رجلا يلحن في كلامه فقال: "أرشدوا أخاكم؛ فإنه قد ضل" 1، ورووا أن أحد ولاة عمر بن الخطاب كتب إليه كتابا به بعض اللحن، فكتب إليه عمر: "أَنْ قَنِّعْ كاتبك سوطا"2.

غير أن اللحن في صدر الإسلام كان لا يزال قليلا بل نادرا، وكلما تقدمنا منحدرين مع الزمن اتسع شيوعه على الألسنة، وخاصة بعد تعرب الشعوب المغلوبة التي كانت تحتفظ ألسنتها بكثير من عاداتها اللغوية، مما فسح للتحريف في عربيتهم التي كانوا ينطقون بها، كما فسح اللحن وشيوعه. ونفس نازلة العرب في الأمصار الإسلامية أخذت سلائقهم تضعف لبعدهم عن ينابيع اللغة الفصيحة، حتى عند بلغائهم وخطبائهم المفوهين، ويكفي أن نضرب مثلا لذلك ما يروى عن الحجاج من أنه سأل يحيى بن يعمر هل يلحن في بعض نطقه؟ وسؤاله ذاته يدل على ما استقر في نفسه من أن اللحن أصبح بلاء عاما، وصارحه يحيى بأنه

--------------------------------------------

1 كنز العمال 1/ 151.

2 الخصائص لابن جني "طبعة دار الكتب المصرية" 2/ 8.
প্রথম অংশ: বসরীয় ধারা

প্রথম অধ্যায়: নাহু শাস্ত্রের প্রবর্তক বসরা

১-নাহু শাস্ত্র প্রণয়নের কারণসমূহ:

আরবি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র প্রণয়নের কারণসমূহকে বিভিন্ন প্রেষণার দিকে ধাবিত করা যেতে পারে, যার মধ্যে কিছু ধর্মীয় এবং কিছু অ-ধর্মীয়। ধর্মীয় প্রেষণাগুলো মূলত মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের পাঠসমূহকে শুদ্ধ ও প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপনের গভীর আকাঙ্ক্ষা থেকে উৎসারিত, যাতে বিশুদ্ধতা ও প্রাঞ্জলতার সর্বোচ্চ সীমা রক্ষা করা যায়; বিশেষ করে যখন মানুষের মুখে মুখে 'লাহন' (ভাষাগত ভুল) ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল। আর এই বিচ্যুতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়কাল থেকেই প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল। জনৈক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ) এক ব্যক্তিকে তার কথাবার্তায় ভুল করতে শুনেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "তোমাদের ভাইকে সঠিক পথ দেখাও; কেননা সে পথভ্রষ্ট হয়েছে।" ১। তাঁরা আরও বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব-এর জনৈক গভর্নর তাঁর কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন যাতে কিছু ভাষাগত ভুল ছিল। তখন উমর তাঁকে লিখে পাঠালেন: "তোমার লেখককে একটি চাবুক মারো।" ২।

তবে ইসলামের প্রাথমিক যুগে এই ভাষাগত ভুল ছিল খুবই নগণ্য, বরং বিরল। সময়ের আবর্তনে আমরা যত সামনের দিকে এগিয়েছি, মানুষের মুখে মুখে এর প্রসার ততই বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিজিত জাতিসমূহ যখন আরবি ভাষা গ্রহণ করতে শুরু করল, যারা তাদের নিজস্ব ভাষার অনেক অভ্যাস ও বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেছিল; এর ফলে তাদের উচ্চারিত আরবি ভাষায় বিকৃতি ঘটার অবকাশ তৈরি হয়েছিল এবং ভাষাগত ভুলের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। এমনকি মুসলিম দেশগুলোতে বসবাসকারী আরবদের ভাষাগত সহজাত ক্ষমতাও (সালায়েক) প্রাঞ্জল ভাষার মূল উৎসসমূহ থেকে দূরে থাকার কারণে দুর্বল হতে শুরু করেছিল, এমনকি তাদের বিদগ্ধ সাহিত্যিক ও বাগ্মী বক্তাদের ক্ষেত্রেও এটি পরিলক্ষিত হয়েছিল। এর উদাহরণ হিসেবে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করাই যথেষ্ট যে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—তিনি কি তাঁর উচ্চারণে ভুল করেন? তাঁর এই প্রশ্নটিই প্রমাণ করে যে, তাঁর মনে এই বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছিল যে ভাষাগত ভুল একটি সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তখন ইয়াহইয়া তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে-

--------------------------------------------

১ কানযুল উম্মাল ১/ ১৫১।

২ ইবনে জিন্নীর 'আল-খাসাইস' (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ সংস্করণ) ২/ ৮।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
يلحن في حرف من القرآن الكريم، إذ كان يقرأ قوله عز وجل: {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ} إلى قوله تعالى: {أَحَبَّ} بضم أحبّ، والوجه أن تقرأ بالنصب خبرا لكان لا بالرفع1. وإذا كان الحجاج وهو في الذروة من الخطابة والبيان والفصاحة والبلاغة يلحن في حرف من القرآن، فمَنْ وراءه من العرب نازلة المدن الذين لا يرقون إلى منزلته البيانية كان لحنهم أكثر. وازداد اللحن فشوّا وانتشارا على ألسنة أبنائهم الذين لم ينشئوا في البادية مثلهم ولا تغذوا من ينابيعها الفصيحة، إنما نشئوا في الحاضرة واختلطوا بالأعاجم اختلاطا أدخل الضيم والوهن على ألسنتهم وفصاحتهم على نحو ما هو معروف عن الوليد بن عبد الملك وكثرة ما كان يجري على لسانه من لحن2. وكان كثيرون من أبناء العرب وُلدوا لأمهات أجنبيات أو أعجميات، فكانوا يتأثرون بهن في نطقهن لبعض الحروف وفي تعبيرهن ببعض الأساليب الأعجمية3. وكل ذلك جعل الحاجة تمس في وضوح إلى وضع رسوم يعرف بها الصواب من الخطأ في الكلام؛ خشية دخول اللحن وشيوعه في تلاوة آيات الذكر الحكيم.

وانضمت إلى ذلك بواعث أخرى، بعضها قومي عربي، يرجع إلى أن العرب يعتزون بلغتهم اعتزازا شديدا، وهو اعتزاز جعلهم يخشون عليها من الفساد حين امتزجوا بالأعاجم، مما جعلهم يحرصون على رسم أوضاعها؛ خوفا عليها من الفناء والذوبان في اللغات الأعجمية. وبجانب ذلك كانت هناك بواعث اجتماعية ترجع إلى أن الشعوب المستعربة أحست الحاجة الشديدة لمن يرسم لها أوضاع العربية في إعرابها وتصريفها حتى تتمثّلها تمثلا مستقيما، وتتقن النطق بأساليبها نطقا سليما. وكل ذلك معناه أن بواعث متشابكة دفعت دفعا إلى التفكير في وضع النحو، ولا بد أن نضيف إلى ذلك رقيّ العقل العربي ونمو طاقته الذهنية نموا أعده للنهوض برصد الظواهر اللغوية وتسجيل الرسوم النحوية تسجيلا تطّرد فيه القواعد وتنتظم الأقيسة انتظاما يهيئ لنشوء علم النحو ووضع قوانينه الجامعة المشتقة من

--------------------------------------------

1 طبقات النحويين واللغويين للزبيدي "طبعة الخانجي" ص22. وانظر البيان والتبيين "طبعة لجنة التأليف والترجمة والنشر" 2/ 218.

2 البيان والتبيين 2/ 204، وانظر عيون الأخبار لابن قتيبة 2/ 158، 167.

3 البيان والتبيين 1/ 72، 2/ 210.
পবিত্র কুরআনের একটি শব্দের উচ্চারণে তিনি ভুল করতেন; যখন তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করতেন: {বলুন, যদি তোমাদের পিতা এবং তোমাদের পুত্রগণ...} আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {অধিক প্রিয়}; তিনি 'আহাব্বা' শব্দটিকে পেশ (যম্মাহ) দিয়ে পড়তেন, অথচ নিয়ম অনুযায়ী এটি 'কানা'-এর খবর হওয়ার কারণে যবর (নাসব) দিয়ে পড়ার কথা ছিল, পেশ (রাফ্) দিয়ে নয়।১ আর হাজ্জাজ যখন বাগ্মিতা, প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের শীর্ষে অবস্থান করেও কুরআনের একটি শব্দের উচ্চারণে ভুল করেন, তবে তার পরবর্তী সেইসব আরব যারা শহরে বসবাস করত এবং ভাষাগত দিক থেকে তার স্তরে পৌঁছাতে পারেনি, তাদের ভুল হওয়ার মাত্রা যে আরও বেশি ছিল তা বলাই বাহুল্য। তাদের সন্তানদের মুখে এই অশুদ্ধ উচ্চারণের প্রবণতা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল, যারা তাদের পূর্বপুরুষদের মতো মরুঅঞ্চলে বেড়ে ওঠেনি এবং সেখানকার বিশুদ্ধ ভাষাশৈলী থেকেও পুষ্ট হয়নি। বরং তারা লোকালয়ে বেড়ে উঠেছিল এবং অনারবদের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করেছিল যা তাদের ভাষা ও বাগ্মিতায় ত্রুটি ও দুর্বলতা সৃষ্টি করেছিল। যেমনটি ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের ক্ষেত্রে সুবিদিত এবং তার মুখে প্রচুর পরিমাণে ভুল উচ্চারণ পরিলক্ষিত হতো।২ অনেক আরব সন্তান বিদেশি বা অনারব মায়েদের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিল, ফলে কিছু বর্ণ উচ্চারণের ক্ষেত্রে এবং অনারব বাচনভঙ্গি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা তাদের মায়েদের দ্বারা প্রভাবিত হতো।৩ আর এই সব বিষয়ই কথা বলার ক্ষেত্রে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য নিরূপণের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও রূপরেখা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছিল; যাতে করে পবিত্র কুরআনের আয়াত তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে ভুল উচ্চারণের অনুপ্রবেশ ও তার বিস্তার রোধ করা যায়।

এর সাথে আরও কিছু কারণ যুক্ত হয়েছিল, যার কিছু ছিল আরব জাতীয়তাবোধ সম্পর্কিত। কারণ আরবরা তাদের ভাষার ব্যাপারে অত্যন্ত গর্ববোধ করত। এই গর্ববোধই তাদের মনে এই শঙ্কা তৈরি করেছিল যে, অনারবদের সাথে সংমিশ্রণের ফলে তাদের ভাষা বিকৃত হয়ে যেতে পারে। ফলে তারা এই ভাষার বৈশিষ্ট্যসমূহ সুসংহত করতে সচেষ্ট হয়েছিল, যাতে এটি বিলুপ্ত না হয়ে যায় কিংবা অনারব ভাষাগুলোর মাঝে হারিয়ে না যায়। পাশাপাশি কিছু সামাজিক কারণও বিদ্যমান ছিল। তা হলো, নব্য আরব (আরবায়িত) জাতিগোষ্ঠীসমূহ আরবী ব্যাকরণ ও শব্দরূপান্তরের নিয়মাবলি নিরূপণের তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল, যাতে তারা এই ভাষাটিকে সঠিকভাবে রপ্ত করতে পারে এবং এর বাচনভঙ্গি বিশুদ্ধভাবে আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়। এসব কিছুর অর্থ হলো, নানাবিধ ও পরস্পর সম্পৃক্ত কারণসমূহ ব্যাকরণ শাস্ত্র (নাহু) সংকলনের চিন্তাকে বেগবান করেছিল। এর সাথে আমাদের অবশ্যই আরবদের বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ এবং তাদের মানসিক শক্তির বিকাশের কথা যোগ করতে হবে, যা তাদের ভাষাগত বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণ এবং ব্যাকরণিক নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করতে সক্ষম করে তুলেছিল। এই লিপিবদ্ধকরণ এমন ছিল যেখানে নিয়মাবলি ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে এবং ভাষাগত যুক্তিগুলো সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত হয়, যা মূলত ব্যাকরণ শাস্ত্রের উদ্ভব এবং এর সর্বজনীন আইনসমূহ প্রণয়নের পথ সুগম করেছিল। এই আইনসমূহ সংগৃহীত হয়েছিল...

--------------------------------------------

১ জুবাইদীর ‘তাবাকাতুন নাহভিয়্যিন ওয়াল লুগাউয়িয়্যিন’ (খানজী সংস্করণ), পৃষ্ঠা ২২। আরও দেখুন: ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন’ (তালিফ, তারজামা ওয়া নাশর কমিটি সংস্করণ) ২/ ২১৮।

২ ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন’ ২/ ২০৪; আরও দেখুন: ইবনে কুতাইবার ‘উয়ুনুল আখবার’ ২/ ১৫৮, ১৬৭।

৩ ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন’ ১/ ৭২, ২/ ২১০।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الاستقصاء الدقيق للعبارات والتراكيب الفصيحة، ومن المعرفة التامة بخواصها وأوضاعها الإعرابية.
প্রাঞ্জল অভিব্যক্তি ও গঠনশৈলীসমূহের সূক্ষ্ম অনুসন্ধান, এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য ও ব্যাকরণগত অবস্থান সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করা।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
2- صنيع أبي الأسود 1 الدؤلي وتلاميذه:

لما كانت العلوم في الأمم لا تظهر فجأة، بل تأخذ في الظهور رويدا رويدا حتى تستوي على سوقها، كان ذلك مدعاة في كثير من الأمر لأن تغمض نشأة بعض العلوم، وأن يختلط على الناس واضعوها المبكرون. وهذا نفسه ما حدث فيمن نسبت إليهم الخطوات الأولى في وضع النحو العربي، وفي ذلك يقول السيرافي: اختلف الناس في أول من رسم النحو، فقال قائلون: أبو الأسود الدؤلي، وقيل: هو نصر2 بن عاصم، وقيل: بل هو عبد الرحمن3 بن هرمز، وأكثر الناس على أنه أبو الأسود الدؤلي4.

وتضطرب الروايات في وضع أبي الأسود للنحو، فمنها ما يجعل ذلك من عمله وحده، ومنها ما يصعد به إلى علي بن أبي طالب، إذ يروون عن أبي الأسود نفسه أنه دخل عليه وهو بالعراق، فرآه مطرقا مفكرا، فسأله فيم يفكر؟ فقال له: سمعت ببلدكم لحنا، فأردت أن أصنع كتابا في أصول العربية، وأتاه بعد أيام فألقى إليه

--------------------------------------------

1 انظر في ترجمة أبي الأسود المتوفى سنة 69 للهجرة الشعر والشعراء لابن قتيبة "طبع دار المعارف" ص707، ومراتب النحويين لأبي الطيب اللغوي "طبع مكتبة نهضة مصر" ص6، وأخبار النحويين البصريين للسيرافي "طبع بيروت" ص13، وطبقات النحويين واللغويين للزبيدي "طبعة الخانجي" ص13، وأسد الغابة 3/ 69، والإصابة 2/ 232، والأغاني "طبع دار الكتب المصرية" 12/ 297، ونزهة الألباء لابن الأنباري "طبع دار نهضة مصر بتحقيق محمد أبي الفضل إبراهيم" ص6، ومعجم الأدباء "طبعة فريد رفاعي" 12/ 34، وإنباه الرواة للقفطي "طبعة دار الكتب المصرية" 1/ 13 وما به من مراجع.

2 انظر في ترجمة نصر المتوفى سنة 89 الزبيدي ص21، والسيرافي ص20، وابن الأنباري ص14، وأبا الطيب اللغوي ص13، ومعجم الأدباء 19/ 224، والقفطي 3/ 343، وما به من مراجع.

3 راجع في ترجمة ابن هرمز المتوفى بالإسكندرية سنة 117 طبقات ابن سعد 5/ 209، والزبيدي ص19، والسيرافي ص21، وابن الأنباري ص15، وإنباه الرواة للقفطي 2/ 172 وما به من مراجع.

4 السيرافي ص13.
২- আবুল আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি এবং তাঁর শিষ্যদের অবদান:

যেহেতু জাতিসমূহের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান হঠাৎ করেই আবির্ভূত হয় না, বরং তা ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে যতক্ষণ না তা স্বীয় ভিত্তির উপর সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো কোনো বিজ্ঞানের উৎপত্তির বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যায় এবং প্রাথমিক প্রবর্তকদের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়। আরবি ব্যাকরণ (নাহু) প্রণয়নে যাদের দিকে প্রাথমিক পদক্ষেপের সম্বন্ধ করা হয়, তাদের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই ঘটেছে। এই প্রসঙ্গে সিরাফি বলেন: নাহুর রূপরেখা সর্বপ্রথম কে তৈরি করেছেন তা নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন: আবুল আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি; বলা হয়: তিনি হলেন নাসর ইবনে আসিম; আবার বলা হয়: বরং তিনি হলেন আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ। তবে অধিকাংশ মানুষের মতে তিনি হলেন আবুল আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি।

আবুল আসওয়াদের নাহু প্রণয়ন সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো পরস্পরবিরোধী। কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী এটি ছিল কেবল তাঁর একক কাজ, আবার কোনো কোনো বর্ণনায় একে আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়। তারা আবুল আসওয়াদ থেকে স্বয়ং বর্ণনা করেন যে, তিনি ইরাকে আলীর কাছে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে অধোমুখে চিন্তামগ্ন অবস্থায় দেখতে পান। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কী নিয়ে চিন্তা করছেন? আলী তাঁকে বললেন: "আমি তোমাদের এই জনপদে ব্যাকরণগত ভুল শুনেছি, তাই আমি আরবির মূলনীতি বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করার সংকল্প করেছি।" কয়েক দিন পর তিনি তাঁর কাছে আসলেন এবং তাঁর দিকে (একটি পান্ডুলিপি) প্রদান করলেন।

--------------------------------------------

১. ৬৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবুল আসওয়াদের জীবনী দেখুন: ইবনে কুতাইবার 'আশ-শি'র ওয়াশ-শু'আরা' (দারুল মা'আরিফ সংস্করণ) পৃ. ৭০৭; আবু তাইয়িব আল-লুগাভির 'মারাতিনুন নাহুয়্যিন' (মাকতাবাতু নাহদাতু মিসর সংস্করণ) পৃ. ৬; সিরাফির 'আখবারুন নাহুয়্যিনাল বাসরিয়্যিন' (বৈরুত সংস্করণ) পৃ. ১৩; জুবাইদির 'তাবাকাতুন নাহুয়্যিন ওয়াল লুগাভিয়্যিন' (আল-খানজি সংস্করণ) পৃ. ১৩; আসাদুল গাবাহ ৩/৬৯; আল-ইসাবাহ ২/২৩২; আল-আগানি (দারুল কুতুব আল-মিসরীয়াহ সংস্করণ) ১২/২৯৭; ইবনুল আম্বারির 'নুজহাতুল আলিব্বা' (মুহাম্মদ আবুল ফজল ইব্রাহিমের সম্পাদনায় দারু নাহদাতু মিসর সংস্করণ) পৃ. ৬; মু'জামুল উদাবা (ফারিদ রিফা'য়ি সংস্করণ) ১২/৩৪; কাফতির 'ইনবাহুর রুওয়াত' (দারুল কুতুব আল-মিসরীয়াহ সংস্করণ) ১/১৩ এবং এতে বর্ণিত অন্যান্য তথ্যসূত্র।

২. ৮৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী নাসরের জীবনী দেখুন: জুবাইদি পৃ. ২১, সিরাফি পৃ. ২০, ইবনুল আম্বারি পৃ. ১৪, আবু তাইয়িব আল-লুগাভি পৃ. ১৩, মু'জামুল উদাবা ১৯/২২৪, কাফতি ৩/৩৪৩ এবং এতে বর্ণিত অন্যান্য তথ্যসূত্র।

৩. ১১৭ হিজরিতে আলেকজান্দ্রিয়ায় ইন্তেকালকারী ইবনে হুরমুজের জীবনী সম্পর্কে দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ ৫/২০৯, জুবাইদি পৃ. ১৯, সিরাফি পৃ. ২১, ইবনুল আম্বারি পৃ. ১৫, কাফতির 'ইনবাহুর রুওয়াত' ২/১৭২ এবং এতে বর্ণিত অন্যান্য তথ্যসূত্র।

৪. সিরাফি পৃ. ১৩।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
صحيفة فيها: "بسم الله الرحمن الرحيم. الكلام كله اسم وفعل وحرف، فالاسم ما أنبأ عن المسمى، والفعل ما أنبأ عن حركة المسمى، والحرف ما أنبأ عن معنى ليس باسم ولا فعل" ثم قال له: "اعلم أن الأشياء ثلاثة: ظاهر، ومضمر، وشيء ليس بظاهر ولا مضمر، وإنما يتفاضل العلماء في معرفة ما ليس بمضمر ولا ظاهر". وتمضي هذه الرواية فتذكر أن أبا الأسود جمع لعلي أشياء وعرضها عليه، كان منها حروف النصب: إن وأن وليت ولعل وكأن، ولم يذكر أبو الأسود: لكن، فقال له علي: لم تركتها؟ فقال: لم أحسبها منها، فقال: بل هي منها، فزدها فيها1. ولهذه الرواية صور أخرى2 تلتقي بها. ويقول القفطي المتوفى سنة 646 للهجرة: "رأيت بمصر في زمن الطلب بأيدي الورّاقين جزءا فيه أبواب من النحو يُجمعون على أنها مقدمة علي بن أبي طالب التي أخذها عنه أبو الأسود الدؤلي"3. فالمسألة لم تقف عند سطور أو بعض أبواب نحوية تذكر مجملة، بل اتسعت لتصبح مقدمة أو رسالة صنّفها علي بن أبي طالب، وكأنه لم يكن مشغولا حين ذهب إلى العراق والكوفة بإعداد الجيوش لحرب معاوية، ولا كان مشغولا بحروب الخوارج، إنما كان مشغولا بالنحو ووضع رسومه وأصوله وفصوله. وطبائع الأشياء تنفي أن يكون قد وضع ذلك، ونفس الرواية السالفة وما أشبهها من الروايات تحمل في تضاعيفها ما يقطع بانتحالها لما يجري فيها من تعريفات وتقسيمات منطقية لا يعقل أن تصدر عن علي بن أبي طالب أو عن أحد من معاصريه، ولعل الشيعة هم الذين نحلوه هذا الوضع القديم للنحو الذي لا يتفق في شيء وأولية هذا العلم ونشأته الأولى.

وقد تقف الروايات في الواضع الأول للنحو عند أبي الأسود، غير أنها تعود فتضطرب في السبب الذي جعله يرسمه وفي حاكم البصرة موطنه الذي بعثه على هذا الرسم والأبواب الأولى التي رسمها فيه. فمن قائل: إنه سمع قارئا يقرأ الآية الكريمة:

--------------------------------------------

1 القفطي 1/ 4.

2 انظر ترجمة أبي الأسود في ابن الأنباري ص6 وما بعدها، ومعجم الأدباء لياقوت 14/ 49. وعند ابن الأنباري أن أبا الأسود كان كلما وضع بابا من أبواب النحو، عرضه على إمامه علي بن أبي طالب.

3 القفطي 1/ 5.
একটি পাণ্ডুলিপি যাতে রয়েছে: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। কালাম (বাক্য) সবটুকুই বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয়। বিশেষ্য তা-ই যা নামধারীকে নির্দেশ করে, ক্রিয়া তা-ই যা নামধারীর গতিবিধি নির্দেশ করে, আর অব্যয় তা-ই যা এমন অর্থ প্রকাশ করে যা বিশেষ্য বা ক্রিয়া কোনোটিই নয়।" অতঃপর তিনি তাকে বললেন: "জেনে রাখো যে, বিষয়বস্তু তিন প্রকার: প্রকাশ্য, উহ্য এবং এমন কিছু যা প্রকাশ্যও নয় আবার উহ্যও নয়। আর উলামাগণ কেবল সেই বিষয়ের জ্ঞানেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন যা উহ্য বা প্রকাশ্য কোনোটিই নয়।" এই বর্ণনাটি এগিয়ে চলে এবং উল্লেখ করে যে, আবু আল-আসওয়াদ আলীর জন্য কিছু বিষয় সংগ্রহ করেছিলেন এবং তাঁর সামনে পেশ করেছিলেন। তার মধ্যে ছিল নসব দানকারী অব্যয়সমূহ (হুরুফে নাসিবাহ): ইন্না, আন্না, লাইতা, লা’আল্লা এবং কা-আন্না। কিন্তু আবু আল-আসওয়াদ 'লাকিন্না' উল্লেখ করেননি। তখন আলী তাঁকে বললেন: "তুমি একে ছেড়ে দিলে কেন?" তিনি বললেন: "আমি একে তার অন্তর্ভুক্ত মনে করিনি।" আলী বললেন: "বরং এটি তার অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং এতে এটি যোগ করো।"১। এই বর্ণনার আরও কিছু রূপ রয়েছে২ যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হিজরি ৬৪৬ সালে মৃত্যুবরণকারী কিফতি বলেন: "আমি মিশরে আমার জ্ঞানার্জনের সময় পাণ্ডুলিপি লেখকদের হাতে একটি খণ্ড দেখেছিলাম যাতে নাহুর (ব্যাকরণ) কিছু অধ্যায় ছিল, যেগুলোর ব্যাপারে তারা একমত ছিলেন যে এটি আলী বিন আবি তালিবের রচিত ভূমিকা, যা আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালী তাঁর থেকে গ্রহণ করেছিলেন।"৩। সুতরাং বিষয়টি কেবল সংক্ষেপে বর্ণিত কয়েক লাইন বা ব্যাকরণের কিছু অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি আলী বিন আবি তালিব কর্তৃক রচিত একটি ভূমিকা বা পত্র হিসেবে বিস্তৃত হয়েছে। যেন তিনি যখন ইরাক ও কুফায় গিয়েছিলেন, তখন মুয়াবিয়ার সাথে যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুতে ব্যস্ত ছিলেন না, কিংবা খারেজিদের সাথে যুদ্ধেও লিপ্ত ছিলেন না; বরং তিনি নাহু এবং এর নিয়ম-কানুন, মূলনীতি ও অধ্যায়গুলো প্রণয়নেই মগ্ন ছিলেন। আর বাস্তব প্রকৃতি এটি অস্বীকার করে যে তিনি তা প্রণয়ন করেছেন। পূর্বোক্ত বর্ণনা এবং এর সদৃশ বর্ণনাগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়াদিই নিশ্চিত করে যে এগুলো জাল। কারণ এতে এমন সব যৌক্তিক সংজ্ঞা ও বিন্যাস রয়েছে যা আলী বিন আবি তালিব বা তাঁর সমসাময়িক কারো কাছ থেকে আসা অসম্ভব। সম্ভবত শিয়ারাই নাহু শাস্ত্রের এই প্রাচীন ভিত্তিটি তাঁর দিকে আরোপ করেছে, যা এই শাস্ত্রের প্রাথমিক অবস্থা ও সূচনালগ্নের সাথে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।

নাহু শাস্ত্রের প্রথম প্রবর্তক হিসেবে বর্ণনাগুলো আবু আল-আসওয়াদের কাছে এসে থেমে যেতে পারে, কিন্তু সেগুলো আবার সেই কারণটি নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যা তাঁকে এটি প্রণয়ন করতে প্ররোচিত করেছিল এবং তাঁর জন্মভূমি বসরার সেই শাসক সম্পর্কেও যিনি তাঁকে এই রূপরেখা ও প্রাথমিক অধ্যায়গুলো প্রণয়নে উৎসাহিত করেছিলেন। কারো মতে: তিনি একজন পাঠককে পবিত্র আয়াতাংশ পাঠ করতে শুনেছিলেন:

--------------------------------------------

১ কিফতি ১/ ৪।

২ ইবনুল আনবারির গ্রন্থে আবু আল-আসওয়াদের জীবনী দেখুন পৃষ্ঠা ৬ ও পরবর্তী অংশ, এবং ইয়াকুতের মু’জামুল উদাবা ১৪/ ৪৯। ইবনুল আনবারির মতে, আবু আল-আসওয়াদ যখনই নাহুর কোনো অধ্যায় রচনা করতেন, তা তাঁর ইমাম আলী বিন আবি তালিবের কাছে পেশ করতেন।

৩ কিফতি ১/ ৫।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
{أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ} بكسر اللام في رسوله، فقال: ما ظننت أمر الناس يصل إلى هذا واستأذن زياد بن أبيه والي البصرة "45-53هـ"، وقيل: بل استأذن ابنه عبيد الله واليها من بعده "55-64هـ" في أن يضع للناس رسم العربية. وقيل: بل وفد على زياد، فقال له: إني أرى العرب قد خالطت الأعاجم وتغيرت ألسنتهم، أفتأذن لي أن أضع للعرب كلاما يعرفون -أو يقيمون- به كلامهم. وقيل: بل إن رجلا لحن أمام زياد أو أمام ابنه عبيد الله، فطلب زياد أو ابنه منه أن يرسم للناس العربية. وقيل: إنه رسمها حين سمع ابنته تقول: ما أحسنُ السماء وهي لا تريد الاستفهام وإنما تريد التعجب، فقال لها قولي: "ما أحسنَ السماءَ". وفي رواية أنه شكا فساد لسانها لابن أبي طالب، فوضع له بعض أبواب النحو وقال له: انحُ هذا النحو، ومن أجل ذلك سمي العلم باسم النحو. ويقول بعض الرواة: إنه وضع أبواب التعجب والفاعل والمفعول به وغير ذلك من الأبواب، ويقول آخرون: إنه وضع أبواب التعجب والاستفهام والعطف والنعت وإن وأخواتها. وقد يكون ذلك من صنع الشيعة، وكأنهم رأوا أن يضيفوا النحو إلى شيعي قديم، فارتفع به بعضهم إلى علي بن أبي طالب، ووقف به آخرون عند أبي الأسود صاحبه الذي كان يتشيع له، ويظهر أن نحلهم إياه وضع النحو قديم، إذ نجد ابن النديم يقول: إنه رأى عند بعض الوراقين أربعة أوراق عن أبي الأسود كتبها يحيى1 بن يعمر المتوفى سنة 129 للهجرة وفيها كلام في الفاعل والمفعول2. وأقدم من ذلك ما جاء عند ابن سلام إذ يقول: "كان أول من أسس العربية وفتح بابها وأنهج سبيلها ووضع قياسها أبو الأسود الدؤلي، وإنما قال ذلك حين اضطرب لسان العرب وغلبت السليقة وكان سراة الناس يلحنون، فوضع باب الفاعل والمفعول والمضاف وحروف الجر والرفع والنصب والجزم"3. وقد يُشرك بعض الرواة معه في هذا الصنيع تلميذيه نصر بن عاصم

--------------------------------------------

1 انظر في ترجمة ابن يعمر أبا الطيب اللغوي ص25، والزبيدي ص22، وابن الأنباري ص16، والسيرافي ص22، والبيان والتبيين 1/ 377، ومعجم الأدباء 20/ 42، وبغية الوعاة للسيوطي "طبع مطبعة السعادة" ص417.

2 الفهرست لابن النديم "النشرة الثانية للمكتبة التجارية" ص66.

3 طبقات فحول الشعراء لابن سلام "طبع دار المعارف" ص12.
{নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসুলও}—রাসুলুহূ শব্দের লাম বর্ণে কাসরা (জের) পড়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি বলেছিলেন: "আমি কল্পনাও করিনি যে মানুষের অবস্থা এই পর্যায়ে পৌঁছাবে।" অতঃপর তিনি বসরার গভর্নর জিয়াদ ইবনে আবিহির (৪৫-৫৩ হিজরি) নিকট অনুমতি চাইলেন—আবার বলা হয় যে, তিনি তাঁর পরবর্তী গভর্নর ওবায়দুল্লাহর (৫৫-৬৪ হিজরি) নিকট অনুমতি চেয়েছিলেন—যাতে তিনি মানুষের জন্য আরবির নিয়মাবলি প্রণয়ন করতে পারেন। আরও বলা হয় যে, তিনি জিয়াদের নিকট প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তাকে বলেছিলেন: "আমি দেখছি আরবরা অনারবদের সাথে মিশে যাওয়ার ফলে তাদের ভাষায় বিকৃতি দেখা দিয়েছে। আপনি কি আমাকে অনুমতি দেবেন যাতে আমি আরবদের জন্য এমন কিছু নিয়ম তৈরি করি যার মাধ্যমে তারা তাদের ভাষা বুঝতে পারে অথবা তা শুদ্ধ করতে পারে?" আবার বলা হয় যে, জনৈক ব্যক্তি জিয়াদ অথবা তার পুত্র ওবায়দুল্লাহর সামনে ভুল উচ্চারণ (লাহান) করেছিল, তখন জিয়াদ বা তার পুত্র তাকে মানুষের জন্য আরবির ব্যাকরণ লিখে দিতে বলেন। অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, তিনি এটি তখন লিপিবদ্ধ করেন যখন তিনি তাঁর কন্যাকে বলতে শুনলেন: "মা আহসানুস সামাউ" (আকাশের কোন জিনিসটি সুন্দর?) অথচ সে প্রশ্ন করতে চায়নি, বরং বিস্ময় প্রকাশ করতে চেয়েছিল। তখন তিনি তাকে বললেন, বলো: "মা আহসানাস সামা-আ" (আকাশ কতই না সুন্দর!)। এক বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি তাঁর কন্যার ভাষার এই ত্রুটির অভিযোগ নিয়ে আলী ইবনে আবি তালিবের নিকট গেলে তিনি তাকে নাহুর (ব্যাকরণ) কিছু পরিচ্ছেদ লিখে দেন এবং বলেন: "এই দিকটি অনুসরণ করো" (ইনহু হাযান নাহওয়া); আর এ কারণেই এই শাস্ত্রের নাম ‘নাহু’ রাখা হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনাকারী বলেন: তিনি বিস্ময়বোধক (তাআজ্জুব), কর্তা (ফায়েল), কর্ম (মাফউল বিহি) ও অন্যান্য পরিচ্ছেদগুলো তৈরি করেছিলেন। অন্যরা বলেন: তিনি বিস্ময়বোধক, প্রশ্নবোধক, অব্যয় (আতিফ), বিশেষণ (নাত) এবং ‘ইন্না’ ও তার সমগোত্রীয় অব্যয়গুলোর অধ্যায় তৈরি করেছিলেন। সম্ভবত এটি শিয়াদের কাজ, যেন তারা নাহু শাস্ত্রকে প্রাচীন কোনো শিয়া ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করতে চেয়েছিল। তাই তাদের কেউ কেউ একে আলী ইবনে আবি তালিব পর্যন্ত উন্নীত করেছেন, আবার কেউ কেউ আবু আল-আসওয়াদ পর্যন্ত এসে থেমেছেন, যিনি আলীর অনুসারী ছিলেন। প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর দিকে নাহু শাস্ত্রের উদ্ভাবন আরোপ করাটা বেশ পুরনো। কেননা আমরা ইবনুন নাদিমকে বলতে দেখি যে, তিনি জনৈক কাগজ বিক্রেতার কাছে আবু আল-আসওয়াদের থেকে বর্ণিত চারটি পৃষ্ঠা দেখেছিলেন যা ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর (মৃত্যু ১২৯ হিজরি) লিখেছিলেন এবং সেখানে কর্তা ও কর্ম সম্পর্কে আলোচনা ছিল। এর চেয়েও প্রাচীন হলো ইবনে সাল্লামের বর্ণনা, তিনি বলেন: "যিনি সর্বপ্রথম আরবি ভাষার ভিত্তি স্থাপন করেছেন, এর দুয়ার উন্মোচন করেছেন, এর পথ প্রশস্ত করেছেন এবং এর পরিমাপ বা নীতি নির্ধারণ করেছেন, তিনি হলেন আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি। তিনি এটি তখনই করেছিলেন যখন আরবদের ভাষা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল, তাদের স্বাভাবিক ভাষাজ্ঞান লোপ পাচ্ছিল এবং অভিজাত ব্যক্তিরাও ভুল উচ্চারণ (লাহান) করতে শুরু করেছিল। অতঃপর তিনি কর্তা, কর্ম, সম্বন্ধপদ (মুদাফ), অব্যয় (হরফে জার), রফ্, নাসব এবং জজম-এর অধ্যায়গুলো নির্ধারণ করেন।" কোনো কোনো বর্ণনাকারী তাঁর এই মহান কাজে তাঁর দুই ছাত্র নাসর ইবনে আসিমকে তাঁর সাথে অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

--------------------------------------------

১ ইবনে ইয়ামুরের জীবনী দেখুন: আবু আত-তৈয়্যিব আল-লুগাভী পৃষ্ঠা ২৫, আয-যুবায়দী পৃষ্ঠা ২২, ইবনুল আনবারী পৃষ্ঠা ১৬, আস-সিরাফী পৃষ্ঠা ২২, আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন ১/৩৭৭, মুজামুল উদাবা ২০/৪২, সুয়ুতির বুগইয়াতুল উয়াত (সাআদাত প্রেস সংস্করণ) পৃষ্ঠা ৪১৭।

২ ইবনুন নাদিমের আল-ফিহরিস্ত (তিজারিয়া লাইব্রেরির দ্বিতীয় মুদ্রণ) পৃষ্ঠা ৬৬।

৩ ইবনে সাল্লামের তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা (দারুল মাআরিফ সংস্করণ) পৃষ্ঠা ১২।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وابن هرمز، إذ يقول الزبيدي: "أول من أصّل النحو وأعمل فكره فيه أبو الأسود ظالم بن عمرو الدولي ونصر بن عاصم وعبد الرحمن بن هرمز، فوضعوا للنحو أبوابا وأصلوا له أصولا، فذكروا عوامل الرفع والنصب والخفض والجزم، ووضعوا باب الفاعل والمفعول والتعجب والمضاف"1.

وكل ذلك من عبث الرواة الوضاعين المتزيدين، وهو عبث جاء من أن أبا الأسود نسب إليه حقا أنه وضع العربية، فظن بعض الرواة أنه وضع النحو، وهو إنما وضع أول نقط يحرر حركات أواخر الكلمات في القرآن الكريم بأمر من زياد بن أبيه أو ابنه عبيد الله، وقد اتخذ لذلك كاتبا فطنا حاذقا من بني عبد القيس، وقال له: إذا رأيتني قد فتحت شفتي بالحرف فانقط نقطة فوقه على أعلاه، وإن ضممت شفتي فانقط نقطة بين يدي الحرف، وإن كسرت شفتي فاجعل النقطة من تحت الحرف، فإن أتبعت شيئا من ذلك غنة "تنوينا" فاجعل مكان النقطة نقطتين. وابتدأ أبو الأسود المصحف حتى أتى على آخره، بينما كان الكاتب يضع النقط بصبغ يخالف لونه لون المداد الذي كتبت به الآيات2.

وكان هذا الصنيع الخطير الذي سمي باسم رسم العربية سببا في أن يختلط الأمر فيما بعد على الرواة، فتظن طائفة منهم أن أبا الأسود رسم النحو وشيئا من أبوابه، وهو إنما رسم إعراب القرآن الكريم عن طريق نقط أواخر الكلمات فيه.

وحمل هذا الصنيع عن أبي الأسود تلاميذه من قراء الذكر الحكيم، وفي مقدمتهم نصر بن عاصم وعبد الرحمن بن هرمز ويحيى ين يعمر وعنبسة3 الفيل وميمون4 الأقرن، فكل هؤلاء "نقطوا المصحف وأُخذ عنهم النقط وحُفظ وضُبط وقُيِّد وعُمل به واتُّبع فيه سنتهم واقتُدي فيه بمذاهبهم"5 وأضافوا إلى ذلك عملا جليلا هو اتخاذ نقط جديد للحروف المعجمة في المصاحف تمييزا لها

--------------------------------------------

1 الزبيدي ص2.

2 راجع كتاب المحكم في نقط المصاحف للداني "طبع دمشق" ص3 وما بعدها، والقفطي 1/ 5.

3 انظر في ترجمة عنبسة أبا الطيب اللغوي ص11، والزبيدي ص24، والسيرافي ص23، وابن الأنباري ص12، ومعجم الأدباء 16/ 133، وإنباه الرواة 2/ 381، وبغية الوعاة ص368.

4 راجع في ترجمة ميمون أبا الطيب اللغوي ص11، والزبيدي ص24، والسيرافي ص22، ومعجم الأدباء 19/ 209، وإنباه الرواة 3/ 337، وبغية الوعاة ص401.

5 المحكم في نقط المصاحف ص6.
এবং ইবনে হুরমুজ, যেহেতু যুবাইদী বলেন: "ব্যাকরণকে সর্বপ্রথম যিনি মূল ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন এবং এতে নিজের চিন্তা প্রয়োগ করেছেন তিনি হলেন আবু আল-আসওয়াদ যালিম ইবনে আমর আদ-দুওয়ালি, নাসর ইবনে আসিম এবং আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ। তারা ব্যাকরণের জন্য বিভিন্ন অধ্যায় তৈরি করেছেন এবং এর জন্য মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। তারা রফ' (পেশ), নাসব (যবর), খাফদ (যের) এবং জাযম (সুকুন)-এর প্রভাবকসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং ফায়েল (কর্তা), মাফউল (কর্ম), তা'আজ্জুব (বিস্ময়সূচক) ও মুযাফ (সম্বন্ধপদ) অধ্যায়গুলো সংকলন করেছেন"১।

আর এই সব কিছু বানোয়াট ও অতিরঞ্জিত বর্ণনাকারীদের অনর্থক কাজ মাত্র। এই বিভ্রান্তি এখান থেকেই সৃষ্টি হয়েছে যে, আবু আল-আসওয়াদের প্রতি যথাযথভাবেই আরবী ভাষাকে সুশৃঙ্খল করার কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে কিছু বর্ণনাকারী ধারণা করেছিলেন যে তিনি ব্যাকরণ (নাহু) শাস্ত্র রচনা করেছেন। অথচ তিনি মূলত যিয়াদ ইবনে আবিহ অথবা তার পুত্র উবাইদুল্লাহর আদেশে পবিত্র কুরআনের শব্দের শেষ অক্ষরের স্বরচিহ্ন (হারাকাত) নির্ধারণের জন্য সর্বপ্রথম নুকতা বা বিন্দু পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলেন। এজন্য তিনি বনু আবদ আল-কায়স গোত্রের একজন বুদ্ধিমান ও দক্ষ লেখক নিযুক্ত করেছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন: "যখন তুমি দেখবে যে আমি কোনো বর্ণের উচ্চারণে আমার ঠোঁট খুলেছি, তখন সেই বর্ণের উপরে একটি নুকতা দাও। আর যখন আমি আমার ঠোঁট গোল করব, তখন বর্ণের মাঝ বরাবর সামনে একটি নুকতা দাও। আর যখন আমি ঠোঁট নিচু করব, তখন বর্ণের নিচে একটি নুকতা দাও। আর যদি আমি এগুলোর সাথে গুন্নাহ (তানভীন) যোগ করি, তবে একটি নুকতার জায়গায় দুটি নুকতা দাও।" আবু আল-আসওয়াদ এভাবে মুসহাফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করলেন, অন্যদিকে লেখক এমন এক রঙের কালি দিয়ে নুকতা দিচ্ছিলেন যা আয়াতগুলো যে কালিতে লেখা হয়েছিল তার থেকে ভিন্ন ছিল২।

এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি, যাকে আরবী লিখনপদ্ধতি (রসম আল-আরবিয়া) নামে নামকরণ করা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে বর্ণনাকারীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের একদল মনে করতে শুরু করে যে আবু আল-আসওয়াদ ব্যাকরণ ও এর কিছু অধ্যায় প্রণয়ন করেছেন, অথচ তিনি মূলত কুরআনের শব্দের শেষ বর্ণের নুকতা প্রদানের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের স্বরচিহ্ন (ইরাব) নির্ধারণ করেছিলেন।

আবু আল-আসওয়াদের কাছ থেকে এই পদ্ধতিটি তার ছাত্ররা গ্রহণ করেন যারা ছিলেন পবিত্র কুরআনের কারী। তাদের অগ্রভাগে ছিলেন নাসর ইবনে আসিম, আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর, আনবাসা৩ আল-ফীল এবং মায়মুন৪ আল-আকরান। তাদের সবাই "মুসহাফে নুকতা প্রদান করেন এবং তাদের কাছ থেকেই নুকতা প্রদানের পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। তা সংরক্ষিত, সুবিন্যস্ত ও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী আমল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের প্রবর্তিত রীতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং তাদের পদ্ধতির অনুকরণ করা হয়েছে"৫। তারা এর সাথে আরও একটি মহৎ কাজ যুক্ত করেছিলেন, তা হলো মুসহাফের সদৃশ বর্ণগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য সেগুলোতে নতুন করে নুকতা ব্যবহারের পদ্ধতি গ্রহণ করা।

--------------------------------------------

১. যুবাইদী, পৃষ্ঠা ২।

২. দ্রষ্টব্য দানি কৃত 'আল-মুহকাম ফি নাকতিল মাসাহিফ' (দামেস্ক সংস্করণ), পৃষ্ঠা ৩ এবং পরবর্তী অংশ; এবং কিফতি ১/৫।

৩. আনবাসার জীবনীর জন্য দেখুন: আবু আল-তায়্যিব আল-লুগাভী, পৃষ্ঠা ১১; যুবাইদী, পৃষ্ঠা ২৪; সিরাফি, পৃষ্ঠা ২৩; ইবনুল আনবারী, পৃষ্ঠা ১২; মু'জাম আল-উদাবা ১৬/১৩৩; ইনবাহুর রুওয়াত ২/৩৮১; বুগয়াতুল উয়াত, পৃষ্ঠা ৩৬৮।

৪. মায়মুনের জীবনীর জন্য দেখুন: আবু আল-তায়্যিব আল-লুগাভী, পৃষ্ঠা ১১; যুবাইদী, পৃষ্ঠা ২৪; সিরাফি, পৃষ্ঠা ২২; মু'জাম আল-উদাবা ১৯/২০৯; ইনবাহুর রুওয়াত ৩/৩৩৭; বুগয়াতুল উয়াত, পৃষ্ঠা ৪০১।

৫. আল-মুহকাম ফি নাকতিল মাসাহিফ, পৃষ্ঠা ৬।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
من الحروف المهملة، فقد ذكر الرواة أن الحجاج في ولايته على العرق "74-95هـ" أمر نصر بن عاصم أو يحيى بن يعمر بإعجام حروف المصحف لتمييز الحروف بعضها من بعض1. ويروى أن ابن عاصم كان أول من عشَّر المصاحف وخمَّسها، وبعبارة أخرى: كان أول من قسم آيات المصحف أقساما.

وكل من ذكرناهم من تلاميذ أبي الأسود كانوا من قراء الذكر الحكيم، وكان يؤخذ عنهم النقطان جميعا؛ نقط الإعراب ونقط الإعجام. وكان ذلك عملا خطيرا حقا، فقد أحاطوا لفظ القرآن الكريم بسياج يمنع اللحن فيه، مما جعل بعض القدماء يظن أنهم وضعوا قواعد الإعراب أو أطرافا منها، وهم إنما رسموا في دقة نقط الإعراب لا قواعده، كما رسموا نقط الحروف المعجمة من مثل الباء التاء والثاء والنون.

--------------------------------------------

1 التصحيف والتحريف لأبي أحمد العسكري ص10.
নুকতাহীন বর্ণগুলোর মধ্য থেকে, বর্ণনাকারীরা উল্লেখ করেছেন যে হাজ্জাজ ইরাকে তার শাসনকালে (৭৪-৯৫ হিজরী) নাসর বিন আসিম অথবা ইয়াহইয়া বিন ইয়ামুরকে মুসহাফের বর্ণগুলোতে নুকতাহ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে এক বর্ণকে অপর বর্ণ হতে পৃথক করা যায়।১ এবং বর্ণিত আছে যে, ইবনে আসিমই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি মুসহাফে প্রতি দশ ও পাঁচ আয়াতের মাথায় চিহ্ন প্রদান করেছিলেন; অন্য কথায়, তিনিই প্রথম মুসহাফের আয়াতসমূহকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছিলেন।

আমরা আবু আল-আসওয়াদের যেসব ছাত্রের কথা উল্লেখ করেছি, তারা সকলেই পবিত্র কুরআনের কারী ছিলেন এবং তাদের নিকট থেকে উভয় প্রকার নুকতাহই গ্রহণ করা হতো; ই’রাবের নুকতাহ এবং ই’জামের নুকতাহ। এটি ছিল সত্যিই এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ, কারণ এর মাধ্যমে তারা পবিত্র কুরআনের শব্দাবলিকে এমন এক সুদৃঢ় বেষ্টনী দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছিলেন যা তাতে ভুল উচ্চারণ হওয়া রোধ করত। এর ফলে প্রাচীনদের কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন যে তারাই ই’রাব বা ব্যাকরণের নিয়মাবলী অথবা এর অংশবিশেষ প্রণয়ন করেছেন; অথচ তারা মূলত অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে ই’রাবের নুকতাহসমূহ অঙ্কন করেছিলেন মাত্র, এর নিয়মাবলী নয়—যেমনটি তারা বা, তা, ছা এবং নূনের মতো নুকতাহযুক্ত বর্ণগুলোর ক্ষেত্রে নুকতাহসমূহ অঙ্কন করেছিলেন।

--------------------------------------------

১. আবু আহমাদ আল-আসকারি রচিত আত-তাসহিফ ওয়াল তাহরিফ, পৃষ্ঠা ১০।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
3-‌‌ البصرة تضع النحو:

رأينا البصرة تضع على يد أبي الأسود الدؤلي نقط الإعراب، وقد مضى الناس يأخذونه عن تلاميذه. ولعلنا لا نبعد إذا قلنا: إن ذلك كان باعثا لهم ولمعاصريهم على التساؤل عن أسباب هذا الإعراب، وتفسير ظواهره مما هيأ لبعض أنظار نحوية بسيطة. وكان طبيعيا بعد أن رسموا نقط الإعجام أن يضعوا له هذا الاسم وأن يضعوا لنقط أبي الأسود اسم نقط الإعراب تمييزا لهما بعضهما عن بعض، كما كان طبيعيا أيضا أن يطلقوا على علامات النقط الخاصة بالإعراب أسماء تفرق بينها، وقد اشتقوها من كلماته لكاتبه "فتحت شفتي وضممتهما وكسرتهما" فسموه على التوالي نقط الفتحة ونقط الضمة ونقط الكسرة. ولا بد أنهم لاحظوا اختلافا في إعراب الأسماء حسب مواضعها من الكلام،
৩-‌‌ বসরা কর্তৃক নাহু শাস্ত্রের প্রবর্তন:

আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বসরা আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালির মাধ্যমে ইরাবের নুকতা (স্বরচিহ্ন) প্রবর্তন করেছে, এবং মানুষ তাঁর ছাত্রদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করতে থাকে। আমরা যদি বলি যে—এটিই তাদের এবং তাদের সমসাময়িকদের মনে এই ইরাবের কারণসমূহ এবং এর বাহ্যিক রূপগুলোর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসার উদ্রেক করেছিল, যা কিছু সরল ব্যাকরণিক দৃষ্টিভঙ্গির পথ প্রশস্ত করেছিল—তবে আমরা সত্য থেকে দূরে থাকব না। ই'জাম (বর্ণের পার্থক্যকারী নুকতা) অঙ্কনের পর এটিই স্বাভাবিক ছিল যে তারা এর এই নাম দেবে এবং একে অপরের থেকে পৃথক করার জন্য আবু আল-আসওয়াদের নুকতাগুলোকে 'ইরাবের নুকতা' হিসেবে নামকরণ করবে। তেমনি এটিও স্বাভাবিক ছিল যে, তারা ইরাবের জন্য নির্দিষ্ট নুকতার চিহ্নগুলোর এমন নাম প্রদান করবে যা তাদের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে। তারা তাঁর লেখককে বলা সেই শব্দসমূহ থেকেই এই নামগুলো গ্রহণ করেছিল: "আমি আমার ঠোঁট দুটি উন্মুক্ত করেছি, কুঞ্চিত করেছি এবং অবনমিত করেছি।" ফলে তারা ক্রমানুসারে সেগুলোর নাম দিয়েছিল ফাতহার নুকতা, জাম্মার নুকতা এবং কাসরার নুকতা। আর এটি নিশ্চিত যে, তারা বাক্যে অবস্থানের প্রেক্ষিতে বিশেষ্য পদসমূহের ইরাবের ভিন্নতা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন,
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فهي إذا ابتدأ بها المتكلم في العبارة لزمها الرفع إلا إذا تقدمتها إن وأخواتها، وإذا تلت فعلا كانت إما مرفوعة وإما منصوبة. ولا يبعد أن يكونوا قد وضعوا لذلك "مصطلحات المبتدأ والفاعل والمفعول"، ولا يبعد أيضا أن يكونوا لاحظوا اختلافا في كلمات اللغة وأن منها ما يقبل الحركات الثلاث: الضمة والكسرة والفتحة، وهو الأسماء المعربة، وأن منها ما يلزم حركة واحدة وقد يلزم السكون، وسموا الأولى معربة والثانية مبنية. كل ذلك من الممكن وقوعه، ولكن ليس بين أيدينا ما يثبته إثباتا قاطعا سوى ما تمدنا به طبائع الأشياء، فالأصل في كل علم أن تبدأ فيه نظرات متناثرة هنا وهناك، ثم يتاح له من يصوغ هذه النظرات صياغة علمية تقوم على اتخاذ القواعد وما يطوى فيها من أقيسة وعلل. وأول نحوي بصري حقيقي نجد عنده طلائع ذلك هو ابن أبي إسحاق الحضرمي المتوفى سنة 117 للهجرة، وهو ليس من تلاميذ أبي الأسود، ولكنه من القراء، ومن الملاحظ أن جميع نحاة البصرة الذين خلفوه يسلكون في القراء، فتلميذاه عيسى بن عمر وأبو عمرو بن العلاء وتلميذا عيسى: الخليل بن أحمد ويونس بن حبيب كل هؤلاء من القراء. ويكثر سيبويه في كتابه من التعرض للقراءات، وكأن ما كان بينها من خلافات في الإعراب هو الذي أضرم الرغبة في نفوس قراء البصرة كي يضعوا النحو وقواعده وأصوله، حتى يتبين القارئ مواقع الكلم في آي الذكر الحكيم من الإعراب المضبوط الدقيق.

ومعروف أنه لكي يصاغ علم صياغة دقيقة لا بد له من اطراد قواعده، وأن تقوم على الاستقراء الدقيق، وأن يكفل لها التعليل وأن تصبح كل قاعدة أصلا مضبوطا تقاس عليه الجزئيات قياسا دقيقا. وكل ذلك نهض به ابن أبي إسحاق وتلاميذه البصريون، أما من حيث الاطراد في القواعد فقد تشددوا فيه تشددا جعلهم يطرحون الشاذ ولا يعولون عليه في قليل أو كثير، وكلما اصطدموا به خطئوه أو أولوه. وأما من حيث الاستقراء فقد اشترطوا صحة المادة التي يشتقون منها قواعدهم، ومن أجل ذلك رحلوا إلى أعماق نجد وبوادي الحجاز وتهامة يجمعون تلك المادة من ينابيعها الصافية التي لم تفسدها الحضارة، وبعبارة أخرى: رحلوا إلى القبائل المتبدية المحتفظة بملكة اللغة وسليقتها الصحيحة، وهي قبائل تميم وقيس وأسد
সুতরাং শব্দ যখন বক্তার বাক্যের শুরুতে আসে, তখন তা 'রাফ' (পেশ) গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যদি না তার আগে 'ইন্না' ও তার সমগোত্রীয় অব্যয়সমূহ থাকে। আর শব্দটি যদি ক্রিয়ার পরে আসে, তবে তা হয় 'রাফ' হবে নতুবা 'নাসব' (যবর) হবে। এটি অসম্ভব নয় যে, তারা এই অবস্থার প্রেক্ষিতে "মুবতাদা, ফায়েল এবং মাফউল" পরিভাষাগুলো প্রবর্তন করেছিলেন। এটিও অসম্ভব নয় যে, তারা ভাষার শব্দরাজির মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্য লক্ষ্য করেছিলেন—যেমন কিছু শব্দ তিনটি স্বরচিহ্নই (যম্মাহ, কাসরাহ ও ফাতহাহ) গ্রহণ করে, যা হলো 'মু'রাব' (পরিবর্তনশীল) বিশেষ্য; আবার কিছু শব্দ একটি স্বরচিহ্নের ওপর স্থির থাকে কিংবা সুকুন (স্থিরতা) অবলম্বন করে। তারা প্রথম প্রকারকে 'মু'রাব' এবং দ্বিতীয় প্রকারকে 'মাবনি' (অপরিবর্তনীয়) নামে অভিহিত করেন। এই সব কিছুই ঘটা সম্ভব, তবে পরিপার্শ্বিক অবস্থা আমাদের যা ইঙ্গিত দেয় তা ছাড়া আমাদের কাছে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। প্রতিটি বিজ্ঞানেরই মূল নিয়ম হলো, শুরুতে এখানে-সেখানে কিছু বিক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ থাকে, এরপর এমন কারো আবির্ভাব ঘটে যিনি এই পর্যবেক্ষণগুলোকে একটি সুসংহত বৈজ্ঞানিক রূপ দান করেন, যা নির্দিষ্ট নিয়মাবলি এবং এর অন্তর্নিহিত কিয়াস (যুক্তি) ও ইল্লাতের (কারণ) ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বসরার প্রথম প্রকৃত ব্যাকরণবিদ হিসেবে আমরা ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামিকে (মৃত্যু ১১৭ হিজরি) পাই, যার মধ্যে এই ধারার উন্মেষ ঘটেছিল। তিনি আবু আল-আসওয়াদের ছাত্র ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ক্বারীদের অন্তর্ভুক্ত। এটি লক্ষ্যণীয় যে, বসরার পরবর্তী প্রায় সকল ব্যাকরণবিদই ক্বারীদের পথ অনুসরণ করেছেন; তাঁর দুই ছাত্র ঈসা ইবনে উমর ও আবু আমর ইবনে আল-আলা এবং ঈসার দুই ছাত্র খলিল ইবনে আহমদ ও ইউনুস ইবনে হাবিব—তাঁরা সকলেই ছিলেন ক্বারী। সিবওয়াইহি তাঁর কিতাবে কিরাত বা তিলাওয়াতের বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছেন। সম্ভবত কিরাতসমূহের মধ্যে ব্যাকরণিক এ'রাব সংক্রান্ত যে মতপার্থক্য ছিল, সেটিই বসরার ক্বারীদের মনে নাহু বা ব্যাকরণের নিয়ম-কানুন ও মূলনীতি রচনার স্পৃহা জাগিয়ে তুলেছিল, যাতে পাঠক বিজ্ঞ যিকর তথা আল-কুরআনের আয়াতের শব্দসমূহের ব্যাকরণিক অবস্থান এবং সঠিক ও সূক্ষ্ম এ'রাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন।

এটি সুবিদিত যে, কোনো বিজ্ঞানকে সূক্ষ্মভাবে রূপ দান করতে হলে তার নিয়মাবলির নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা আবশ্যক এবং তা সঠিক আরোহী পদ্ধতির (ইস্তিকরা) ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এছাড়াও তার যৌক্তিক কারণ (তা'লীল) নিশ্চিত করতে হয় যাতে প্রতিটি নিয়ম একটি সুনির্দিষ্ট মূলনীতি হিসেবে গণ্য হয় এবং যার ওপর ভিত্তি করে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোকে সূক্ষ্মভাবে তুলনা করা যায়। ইবনে আবি ইসহাক এবং তাঁর বসরীয় ছাত্ররা এই মহান দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছিলেন। ব্যাকরণিক নিয়মের ধারাবাহিকতার বিষয়ে তারা এতটাই কঠোর ছিলেন যে, তারা বিরল বা ব্যতিক্রমী (শায) প্রয়োগগুলোকে পরিহার করতেন এবং কোনো ব্যাপারেই সেগুলোর ওপর আস্থা রাখতেন না। যখনই তারা এ ধরনের কোনো ব্যতিক্রমের সম্মুখীন হতেন, তারা হয় সেটিকে ভুল বলতেন অথবা তার কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করতেন। আর তথ্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তারা যে উৎস থেকে নিয়মগুলো সংগ্রহ করতেন, তার বিশুদ্ধতার বিষয়ে কঠোর শর্তারোপ করেছিলেন। এজন্য তারা নজদের গভীর অঞ্চল এবং হিজাজ ও তিহামার মরুভূমিতে সফর করেছিলেন, যাতে নাগরিক প্রভাবমুক্ত নিষ্কলুষ উৎস থেকে ভাষা সংগ্রহ করা যায়। অন্য কথায়, তারা সেই যাযাবর আরব গোত্রগুলোর কাছে গিয়েছিলেন যারা ভাষার সঠিক সহজাত প্রবৃত্তি ও ভাষাগত যোগ্যতা অক্ষুণ্ণ রেখেছিল; আর সেই গোত্রগুলো হলো তামীম, কায়েস এবং আসাদ।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وطيئ وهذيل وبعض عشائر كنانة1. وأضافوا إلى هذا الينبوع الأساسي ينبوعا بدويا زحف إلى بلدتهم من بوادي نجد، وهو نفر من الأعراب الكاتبين قدم إلى البصرة واحترف تعليم شبابها الفصحى السليمة وأشعارها وأخبار أهلها. وفي الفهرست لابن النديم ثبت طويل بأسماء هؤلاء المعلمين2 من الإعراب الذين وثَّقهم علماء البصرة وأخذوا عنهم كثيرا من المادة اللغوية والنحوية سجلوها في مصنفاتهم. وكان القرآن الكريم وقراءاته مددا لا ينضب لقواعدهم، وتوقف نفر منهم إزاء أحرف قليلة في القراءات لا تكاد تتجاوز أصابع اليد الواحدة، وجدوها لا تطرد مع قواعدهم، بينما تطرد معها قراءات أخرى آثروها، وتوسع في وصف ذلك بعض المعاصرين، فقالوا: إنهم كانوا يردون بعض القراءات ويضعفونها، كأن ذلك كان ظاهرة عامة عند نحاة البصرة مع أنه لا يوجد في كتاب سيبويه نصوص صريحة مختلفة تشهد لهذه التهمة الكبيرة. وسنرى الأخفش الأوسط يسبق الكوفيين المتأخرين إلى التمسك بشواذ القراءات والاستدلال عليها من كلام العرب وأشعارهم. وفي الحق، إن بصريي القرن الثالث هم الذين طعنوا في بعض القراءات، وهي أمثلة قليلة لا يصح أن تتخذ منها ظاهرة ولا خاصة عامة، وقد كانوا يصفونها بالشذوذ ويؤولونها ما وجدوا إلى التأويل سبيلا. وكانوا لا يحتجون بالحديث النبوي ولا يتخذونه إماما لشواهدهم وأمثلتهم؛ لأنه روي بالمعنى إذ لم يكتب ولم يدون إلا في المائة الثانية للهجرة، ودخلت في روايته كثرة من الأعاجم، فكان طبيعيا أن لا يحتجوا بلفظه وما يجري فيه من إعراب، وتبعهم نحاة الكوفة، وفي ذلك يقول أبو حيان: إن الواضعين الأولين لعلم النحو المستقرئين للأحكام من لسان العرب كأبي عمرو بن العلاء وعيسى بن عمرو والخليل بن أحمد وسيبويه من أئمة البصريين والكسائي والفراء وعلي بن المبارك الأحمر وهشام الضرير من أئمة الكوفيين لم يحتجوا بالحديث، وتبعهم على هذا المسلك المتأخرون من الفريقين3. وأما من حيث القياس والتعليل فقد توسعوا فيهما، إذ طلبوا لكل قاعدة علة، ولم يكتفوا بالعلة التي هي مدار الحكم فقد التمسوا

--------------------------------------------

1 المزهر للسيوطي "طبعة الحلبي" 1/ 211.

2 الفهرست ص71 وما بعدها.

3 الاقتراح للسيوطي "طبعة حيدر آباد" ص71، والهمع 1/ 105.
এবং তাইয়ি, হুযাইল ও কিনানার কিছু গোত্র১। তারা এই মৌলিক উৎসের সাথে মরুচারী এক উৎস যুক্ত করেছিলেন যা নজদের মরুভূমি থেকে তাদের শহরে এসেছিল; তারা ছিল শিক্ষিত বেদুঈনদের একটি দল যারা বসরায় আগমন করেছিলেন এবং এখানকার তরুণদের বিশুদ্ধ প্রাঞ্জল ভাষা, কবিতা ও তাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস শিক্ষাদানকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ইবনে নাদীমের ‘আল-ফিহরিস্ত’-এ এই বেদুঈন শিক্ষকদের নামের একটি দীর্ঘ তালিকা রয়েছে২ যাদের বসরার আলিমগণ নির্ভরযোগ্য মনে করতেন এবং তাদের কাছ থেকে ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণিক অনেক উপাদান গ্রহণ করে নিজেদের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। আল-কুরআনুল কারীম এবং এর কিরাতসমূহ ছিল তাদের ব্যাকরণিক নিয়মের এক অক্ষয় ভাণ্ডার। তবে তাদের কেউ কেউ কিরাতের এমন কিছু শব্দরূপের ক্ষেত্রে সংশয়ে পড়েছিলেন যেগুলো এক হাতের আঙ্গুলের সংখ্যার বেশি হবে না; তারা দেখেছিলেন যে, সেগুলো তাদের প্রবর্তিত নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, অথচ অন্য কিছু কিরাত সেগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল যেগুলোকে তারা অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। আধুনিককালের কেউ কেউ এই বিষয়টিকে বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, তারা কিছু কিরাতকে প্রত্যাখ্যান করতেন ও সেগুলোকে দুর্বল বলতেন; যেন এটি বসরার ব্যাকরণবিদদের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। অথচ সিবওয়াইহ-এর কিতাবে এমন কোনো সুস্পষ্ট পাঠ পাওয়া যায় না যা এই গুরুতর অভিযোগের সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। আমরা দেখতে পাব যে, আল-আখফাশ আল-আওসাত পরবর্তীকালের কুফী ব্যাকরণবিদদের পূর্বেই বিরল কিরাতগুলোকে আঁকড়ে ধরা এবং আরবদের কথা ও কবিতার মাধ্যমে সেগুলোর সপক্ষে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, তৃতীয় শতাব্দীর বসরার আলিমগণই কিছু কিরাতের সমালোচনা করেছিলেন; সেগুলো ছিল গুটিকয়েক উদাহরণ যা দিয়ে কোনো সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা প্রবণতা বিচার করা সঠিক নয়। তারা সেগুলোকে ‘বিরল’ বলে অভিহিত করতেন এবং ব্যাখ্যার কোনো পথ পেলে সেগুলোর ব্যাখ্যা করতেন। তারা হাদীস শরীফকে ব্যাকরণিক দলিল হিসেবে পেশ করতেন না এবং তাদের উদাহরণ বা প্রমাণের মাপকাঠি হিসেবে একে গ্রহণ করতেন না; কারণ হাদীস অর্থের ভিত্তিতে বর্ণিত হয়েছে, যেহেতু হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর আগে তা লিখে সংকলন করা হয়নি এবং এর বর্ণনার ধারায় অনেক অনারব লোকের প্রবেশ ঘটেছিল। ফলে এটিই স্বাভাবিক ছিল যে, তারা হাদীসের শব্দাবলী এবং এর ব্যাকরণিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলিল দেবেন না। কুফার ব্যাকরণবিদগণও তাদের এই পথ অনুসরণ করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে আবু হাইয়ান বলেন: ব্যাকরণ শাস্ত্রের আদি প্রবর্তকগণ, যারা আরবদের ভাষা থেকে নিয়ম-কানুন আহরণ করেছিলেন—যেমন বসরার ইমামদের মধ্য থেকে আবু আমর ইবনুল আলা, ঈসা ইবনে আমর, খলীল ইবনে আহমাদ ও সিবওয়াইহ এবং কুফার ইমামদের মধ্য থেকে কিসাঈ, ফাররা, আলী ইবনুল মুবারক আল-আহমার ও হিশাম আদ-দাবির—তারা হাদীসকে দলিল হিসেবে ব্যবহার করেননি। উভয় পক্ষের পরবর্তীকালের আলিমগণও এই একই পথ অনুসরণ করেছেন৩। আর কিয়াস (সাদৃশ্য) ও তালীল (কারণ বিশ্লেষণ)-এর ক্ষেত্রে তারা ব্যাপকতা অবলম্বন করেছিলেন, কারণ তারা প্রতিটি নিয়মের পেছনে কারণ অনুসন্ধান করতেন এবং কেবল সেই কারণের ওপর ক্ষান্ত থাকতেন না যা হুকুমের আবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু, বরং তারা অন্বেষণ করতেন...

--------------------------------------------

১. আস-সুয়ুতীর আল-মুযহির "হালাবী সংস্করণ" ১/২১১।

২. আল-ফিহরিস্ত পৃষ্ঠা ৭১ এবং পরবর্তী অংশ।

৩. আস-সুয়ুতীর আল-ইকতিরাহ "হায়দ্রাবাদ সংস্করণ" পৃষ্ঠা ৭১, এবং আল-হাম’ ১/১০৫।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
عِلَلا وراءها. وقانون القياس عام، وظلاله مهيمنة على كل القواعد إلى أقصى حد، بحيث يصبح ما يخرج عليها شاذا، وبحيث تفتح الأبواب على مصاريعها ليقاس على القاعدة ما لم يسمع عن العرب ويحمل عليها حملا، فهي المعيار المحكم السديد.

وعلى هذه الشاكلة شادت البصرة صرح النحو ورفعت أركانه، بينما كانت الكوفة مشغولة عن ذلك كله، على الأقل حتى منتصف القرن الثاني للهجرة، بقراءات الذكر الحكيم ورواية الشعر والأخبار، وقلما نظرت في قواعد النحو إلا ما سقط إلى بعض أساتذتها من نحاة البصرة إذ كانوا يتتلمذون لهم ويختلفون إلى مجالس محاضراتهم وإملاءاتهم. وكان القدماء يعرفون ذلك معرفة دقيقة، فنصوا عليه بعبارات مختلفة، من ذلك قول ابن سلام: "وكان لأهل البصرة في العربية قدمة، وبالنحو ولغات العرب والغريب عناية"1، ويصرح ابن النديم في هذا المجال تصريحا أكثر وضوحا إذ يقول في حديثه عن نحاة الكوفة والبصرة: "إنما قدمنا البصريين أولا؛ لأن علم العربية عنهم أخذ"2. وحاول بعض المستشرقين أن يصلوا بين نشوء النحو في البصرة والنحو السرياني واليوناني الهندي، غير أنه لا يمكن إثبات شيء من ذلك إثباتا علميا وخاصة أن النحو العربي يدور على نظرية العامل وهي لا توجد في أي نحو أجنبي، وكل ما يمكن أن يقال: إنه ربما عرف نحاة البصرة الأولون أن لبعض اللغات الأجنبية نحوا، فحاولوا أن يضعوا نحوا للعربية راجعين في ذلك إلى ملكاتهم العقلية التي كانت قد رقيت رقيا بعيدا بتأثير ما وقفوا عليه من الثقافات الأجنبية، وخاصة الفلسفة اليونانية وما يتصل بها من المنطق، مما دعم عقولهم دعما قويا، وجعلها مستعدة لأن تستنبط قواعد النحو وعلله وأقيسته.

ويظهر أنه كُفل للبصرة من الصلة بهذه الثقافات في القرن الثاني للهجرة ما لم يكفل للكوفة، فقد كانت مرفأ تجاريا للعراق على خليج العرب. فنزلتها

--------------------------------------------

1 ابن سلام ص12.

2 الفهرست ص102.
এর পেছনে রয়েছে কিছু নিহিত কারণ। কিয়াসের (যৌক্তিক তুলনা) নীতিটি ছিল ব্যাপক, এবং এর প্রভাব প্রতিটি নিয়মের ওপর সর্বোচ্চ মাত্রায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল, যার ফলে এর ব্যতিক্রম যা কিছু ছিল তা বিচ্ছিন্ন হিসেবে গণ্য হতো। এর ফলে দ্বারগুলো উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল যাতে আরবদের থেকে যা শোনা যায়নি তাও মূল নিয়মের ভিত্তিতে কিয়াস করা যায় এবং তার ওপর প্রয়োগ করা যায়; তাই এটিই ছিল সুদৃঢ় ও সঠিক মানদণ্ড।

এই পদ্ধতিতে বসরা নাহু বা ব্যাকরণের প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল এবং এর স্তম্ভগুলোকে সমুন্নত করেছিল। অন্যদিকে কুফা এই সবকিছু থেকে বিমুখ ছিল—অন্তত হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত—এবং পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত, কবিতা বর্ণনা ও ইতিহাস নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তারা কদাচিৎ ব্যাকরণের নিয়মের দিকে নজর দিত, তবে বসরার বৈয়াকরণদের মধ্য থেকে তাদের কিছু শিক্ষকের মাধ্যমে যা কিছু পৌঁছেছিল তা ছাড়া; কারণ তারা তাদের কাছে ছাত্রত্ব গ্রহণ করত এবং তাদের আলোচনা সভা ও পাঠদান মজলিসগুলোতে যাতায়াত করত। প্রাচীন পণ্ডিতরা বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে জানতেন, তাই তারা বিভিন্ন ভাষায় তা ব্যক্ত করেছেন। তার মধ্যে ইবনে সাল্লামের উক্তি হলো: "আরবি ভাষায় বসরার অধিবাসীদের ছিল অগ্রগণ্যতা, এবং ব্যাকরণ, আরবদের ভাষা ও বিরল শব্দাবলির বিষয়ে ছিল বিশেষ যত্ন।"১ ইবনে নাদিম এই ক্ষেত্রে আরও স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, তিনি কুফা ও বসরার বৈয়াকরণদের সম্পর্কে আলোচনায় বলেন: "আমরা বসরার অধিবাসীদের প্রথমে স্থান দিয়েছি; কারণ আরবি ভাষাবিজ্ঞান তাদের কাছ থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে।"২। কিছু প্রাচ্যবিদ বসরার ব্যাকরণের উদ্ভবকে সিরিয়াক, গ্রীক ও ভারতীয় ব্যাকরণের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন, তবে এর কোনো কিছুই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আরবি ব্যাকরণ ‘আমিল’ (ক্রিয়াশীল শক্তি) তত্ত্বের ওপর আবর্তিত, যা অন্য কোনো বিদেশি ব্যাকরণে নেই। বড়জোর যা বলা যেতে পারে তা হলো: বসরার প্রথম দিকের বৈয়াকরণরা সম্ভবত জানতেন যে কিছু বিদেশি ভাষার ব্যাকরণ রয়েছে, তাই তারা আরবির জন্য একটি ব্যাকরণ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। এক্ষেত্রে তারা তাদের সেই বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিভার সাহায্য নিয়েছিলেন যা বিদেশি সংস্কৃতি—বিশেষ করে গ্রীক দর্শন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট যুক্তিশাস্ত্রের প্রভাবে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এটি তাদের বুদ্ধিকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছিল এবং ব্যাকরণের নিয়মাবলি, তার নিহিত কারণসমূহ ও কিয়াস উদ্ভাবন করার জন্য তাদের প্রস্তুত করে তুলেছিল।

এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে এই সংস্কৃতিগুলোর সাথে সংযোগের যে সুযোগ বসরা লাভ করেছিল, তা কুফার ভাগ্যে জোটেনি। কারণ বসরা ছিল আরব উপসাগরে ইরাকের একটি বাণিজ্যিক বন্দর। ফলে সেখানে অবতরণ করত...

--------------------------------------------

১ ইবনে সাল্লাম, পৃষ্ঠা ১২।

২ আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা ১০২।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
عناصر أجنبية كثيرة أعدت في سرعة لوصلها بثقافاتها المختلفة، وأيضا فإنها كانت أقرب من الكوفة إلى مدرسة جُنْدَيْسابور الفارسية التي كانت تدرس فيها الثقافات اليونانية والفارسية والهندية، مما جعل جداول من تلك الثقافات تصب فيها؛ ولذلك كان طبيعيا أن نجد بها أقدم المترجمين، ونقصد ماسرجويه الذي عهد إليه عمر بن عبد العزيز بترجمة كتيب في الطب، ولا نلبث أن نلتقي بابن المقفع الذي نشأ بها وتوفي سنة 143 للهجرة وكان يتقن الفارسية، ويحذق العربية فترجم إليها أروع ما في الفارسية من كنوز تاريخية وأدبية، كما ترجم كليلة ودمنة الهندية منها، وكذلك منطق أرسططاليس.

وبذلك نفهم السر في أن عقل البصرة كان أدق وأعمق من عقل الكوفة وكان أكثر استعدادا لوضع العلوم، إذ سبقتها إلى الاتصال بالثقافات الأجنبية وبالفكر اليوناني وما وضعه أرسططاليس من المنطق وحدوده وأقيسته. ويمكن أن نلاحظ آثار ذلك في نشاط المباحث الدينية في البلدتين، فقد عُنيت الكوفة بالفقه بينما عُنيت البصرة بعلم الكلام، وحقا أشاع أبو حنيفة في الفقه القياس والرأي أو الاجتهاد، ولكن من يرجع إلى كتب الفقه الحنفي حتى في العصور المتأخرة يلاحظ أنه ينقصها دائما شيء من التعميم والتعريف ووضع القواعد الكلية، فباب البيع مثلا يفتح، ولا يصاغ له تعريف محدد، ولا تذكر له أركان وشروط، وإنما مسائل متناثرة يتوالى بعضها في إثر بعض. وهكذا دائما في الفقه الحنفي يغلب أن يفتح الباب على فروع دون أصول عقلية تضم شعبها الكثيرة. بينما علم الكلام يناقش مسائل كلية، وهي مسائل ميتافيزيقية، والمسألة تثار في ضوء تفكير فلسفي معقد، مما يدل على صلة المتكلمين العميقة بالفلسفة اليونانية، حتى لنرى الجاحظ يقول: "لا يكون المتكلم جامعا لأقطار الكلام، متمكنا في الصناعة، يصلح للرياسة حتى يكون الذي يحسن من كلام الدين في وزن الذي يحسن من كلام الفلسفة"1.

فعقل كل من البلدتين كان مختلفا: عقل مصبوغ بالصبغة الفلسفية المنطقية،

--------------------------------------------

1 الحيوان "طبعة الحلبي" 2/ 134.
বহু বিদেশি উপাদান দ্রুততার সাথে তাদের বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। তা ছাড়া, এটি (বসরা) কুফার তুলনায় পারস্যের জুনদাইশাপুর শিক্ষা কেন্দ্রের অধিকতর নিকটবর্তী ছিল, যেখানে গ্রিক, পারসিক এবং ভারতীয় সংস্কৃতি শিক্ষা দেওয়া হতো। যার ফলে সেই সংস্কৃতিগুলোর ধারা এখানে এসে মিলিত হয়েছে। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানে প্রাচীনতম অনুবাদকদের পাওয়া যায়; আমরা মাসারজাওয়াইহকে বুঝাচ্ছি, যাকে উমর ইবন আবদুল আজিজ চিকিৎসার ওপর একটি ছোট বই অনুবাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। অল্পকাল পরেই আমরা ইবনুল মুকাফফার দেখা পাই, যিনি সেখানে বেড়ে ওঠেন এবং হিজরি ১৪৩ সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পারস্য ভাষায় দক্ষ এবং আরবি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি পারস্যের ইতিহাস ও সাহিত্যের চমৎকার রত্নভাণ্ডারগুলো আরবিতে অনুবাদ করেন, পাশাপাশি সেখান থেকে ভারতীয় 'কলিলা ও দিমনা' এবং আরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যাও অনুবাদ করেন।

এর মাধ্যমেই আমরা সেই রহস্যটি বুঝতে পারি যে, কেন বসরার বুদ্ধিবৃত্তি কুফার বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে অধিকতর সূক্ষ্ম ও গভীর ছিল এবং কেন তা জ্ঞানশাখা প্রণয়নে অধিকতর প্রস্তুত ছিল। কারণ এটি বিদেশি সংস্কৃতির সাথে এবং গ্রিক চিন্তাধারা ও আরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যা, তার সংজ্ঞা ও অনুমান পদ্ধতির সাথে সংযোগ স্থাপনে কুফার অগ্রগামী ছিল। উভয় শহরের ধর্মীয় গবেষণার তৎপরতায় এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়; কুফা ফিকহ নিয়ে ব্যস্ত ছিল, অপরদিকে বসরা ইলমুল কালাম নিয়ে ব্যাপৃত ছিল। এটা সত্য যে, ইমাম আবু হানিফা ফিকহ শাস্ত্রে কিয়াস, রায় বা ইজতিহাদকে প্রসারিত করেছিলেন; কিন্তু পরবর্তী যুগের হানাফি ফিকহ শাস্ত্রের বইগুলোতেও যদি কেউ দৃষ্টিপাত করে, তবে সে লক্ষ্য করবে যে, সেখানে সাধারণীকরণ, সংজ্ঞা প্রদান এবং সামগ্রিক মূলনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সবসময়ই কিছুটা অভাব পরিলক্ষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কেনা-বেচার (বায়) অধ্যায় শুরু হয় ঠিকই, কিন্তু এর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা তৈরি করা হয় না, কিংবা এর রুকন ও শর্তাবলিও উল্লেখ করা হয় না; বরং কিছু বিক্ষিপ্ত মাসআলা একের পর এক আসতে থাকে। হানাফি ফিকহে এভাবেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, কোনো যৌক্তিক মূলনীতি ছাড়াই—যা এর অসংখ্য শাখাকে একত্র করবে—অধ্যায়গুলো শাখা-প্রশাখার (ফুরু) ওপর ভিত্তি করে উন্মোচিত হয়। বিপরীতে ইলমুল কালাম সামগ্রিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে, যা মূলত অধিবিদ্যামূলক বিষয়। সেখানে মাসআলাগুলো একটি জটিল দার্শনিক চিন্তাধারার আলোকে উত্থাপিত হয়, যা গ্রিক দর্শনের সাথে মুতাকাল্লিমদের গভীর সম্পর্কের প্রমাণ দেয়। এমনকি আমরা আল-জাহিজকে বলতে দেখি: "একজন মুতাকাল্লিম ততক্ষণ পর্যন্ত কালাম শাস্ত্রের সকল দিক আয়ত্তকারী, এই বিদ্যায় পারদর্শী এবং নেতৃত্বের যোগ্য হতে পারেন না, যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞানতত্ত্বে তার পারদর্শিতা দার্শনিক তত্ত্বে তার পারদর্শিতার সমপর্যায়ের হয়"১।

সুতরাং উভয় শহরের বুদ্ধিবৃত্তি ছিল ভিন্ন: এক প্রকার বুদ্ধিবৃত্তি যা ছিল দার্শনিক ও যৌক্তিক রঙ্গে রঞ্জিত,

--------------------------------------------

১ আল-হায়ওয়ান "হালাবি সংস্করণ" ২/ ১৩৪।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وعقل لا يرتفع إلى هذه المنزلة إلا في حدود ضيقة؛ لذلك كان طبيعيا أن لا يصاغ الفقه الحنفي الكوفي صياغة علمية دقيقة، بينما يصاغ النحو في أدق صورة علمية ممكنة على نحو ما سنرى في كتاب سيبويه، وهي صياغة لم تستطع العصور التالية أن تضيف إليها إلا بعض تعريفات وبعض تسميات، أما الأصول وأما القواعد والضوابط والأسس فإنها ظلت قائمة كالأطواد الراسخة.
এমন এক প্রজ্ঞা যা সংকীর্ণ সীমাবদ্ধতা ব্যতীত এই উচ্চাসনে আরোহণ করতে পারে না; ফলে কুফী হানাফী ফিকহ যথাযথ বৈজ্ঞানিক বিন্যাসে রূপায়িত না হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। অথচ ব্যাকরণ শাস্ত্রকে (নাহু) সম্ভাব্য সূক্ষ্মতম বৈজ্ঞানিক আদলে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে, যেমনটি আমরা সিবাওয়াইহ-এর গ্রন্থে দেখতে পাব। এটি এমন এক বিন্যাস যেখানে পরবর্তী প্রজন্মগুলো সামান্য কিছু সংজ্ঞা ও পরিভাষা ছাড়া আর কিছুই সংযোজন করতে পারেনি; বরং এর মূলনীতি, নিয়ম-কানুন, মানদণ্ড ও ভিত্তিগুলো সুদৃঢ় পর্বতমালার ন্যায় অটল হয়েই বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
4-‌‌ أوائل النحاة:

يعد ابن أبي إسحاق الحضرمي أول النحاة البصريين بالمعنى الدقيق لهذه الكلمة، ويتبعه في هذه الأولية المبكرة جيل من تلاميذه في مقدمتهم عيسى بن عمر وأبو عمرو بن العلاء ويونس بن حبيب. وتذكر كتب طبقات النحاة طائفة ممن عنوا بالعربية من معاصري تلاميذه، لعل أشهرهم حماد1 بن سلمة بن دينار البصري، وكانت رواية الحديث تغلب عليه، غير أنه كان عالما بالنحو، ويروى أن يونس بن حبيب تتلمذ عليه وكذلك سيبويه، ولم ترو له كتب النحو أنظارا نحوية، ولذلك ينبغي أن نخرجه من دائرة النحاة الحقيقيين، ومثله معاصره الأخفش الأكبر2 شيخ يونس وسيبويه جميعا، وكانت تغلب عليه رواية اللغة وليست له في النحو آراء موروثة، وقد أكثر سيبويه من الرواية اللغوية عنه في كتابه. أما الأربعة الأولون فتتردد أسماؤهم عند النحاة وتتردد لهم آراء تجعلهم خليقين بالوقوف قليلا عندهم، ونبدأ بابن أبي إسحاق الذي يعد بحق أستاذ المدرسة البصرية.

--------------------------------------------

1 انظر ترجمة حماد في الزبيدي ص47، ونزهة الألباء ص40، ومعجم الأدباء 10/ 254، والسيرافي ص42، وإنباه الرواة 1/ 329، وتذكرة الحفاظ 1/ 189، وطبقات القراء لابن الجزري 1/ 258، وبغية الوعاة ص240.

2 انظر ترجمته في الزبيدي ص35، ونزهة الألباء ص43، وإنباه الرواة 2/ 157.
৪-‌‌ প্রথম যুগের বৈয়াকরণগণ:

ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামিকে এই শব্দের যথাযথ অর্থে বসরার প্রথম বৈয়াকরণ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এই প্রারম্ভিক অগ্রগণ্যতায় তাঁর অনুসারী ছিলেন তাঁর একদল ছাত্র, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন ঈসা ইবনে ওমর, আবু আমর ইবনুল আলা এবং ইউনুস ইবনে হাবিব। বৈয়াকরণদের জীবনীগ্রন্থসমূহে তাঁর ছাত্রদের সমসাময়িক এমন একদল ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে যারা আরবি ভাষা চর্চায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত হলেন হাম্মাদ ১ ইবনে সালামাহ ইবনে দিনার আল-বসরি। তাঁর ওপর হাদিস বর্ণনার প্রাধান্য ছিল, তবে তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্রেও পণ্ডিত ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, ইউনুস ইবনে হাবিব এবং সিবওয়াইহি তাঁর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে ব্যাকরণের গ্রন্থসমূহে তাঁর কোনো ব্যাকরণিক দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণিত হয়নি, তাই তাঁকে প্রকৃত বৈয়াকরণদের গণ্ডি থেকে আমাদের বাদ দেওয়া উচিত। তাঁর মতোই অবস্থা তাঁর সমসাময়িক আল-আখফাশ আল-আকবার ২-এরও, যিনি ইউনুস ও সিবওয়াইহি উভয়েরই শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ওপর ভাষাতাত্ত্বিক বর্ণনার প্রাধান্য ছিল এবং ব্যাকরণ শাস্ত্রে তাঁর কোনো উত্তরসূরিযোগ্য মতবাদ নেই; সিবওয়াইহি তাঁর কিতাবে তাঁর নিকট থেকে প্রচুর ভাষাতাত্ত্বিক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তবে প্রথমোক্ত চারজনের নাম বৈয়াকরণদের নিকট বারবার উচ্চারিত হয় এবং তাঁদের এমন সব মতবাদ রয়েছে যা তাঁদের সম্পর্কে বিশদ আলোচনার যোগ্য করে তোলে। আমরা ইবনে আবি ইসহাককে দিয়ে শুরু করছি, যিনি প্রকৃতপক্ষে বসরা ঘরানার শিক্ষক হিসেবে পরিগণিত।

--------------------------------------------

১ জুবায়দিতে হাম্মাদের জীবনী দেখুন, পৃষ্ঠা ৪৭; নুজহাতুল আলিব্বা, পৃষ্ঠা ৪০; মুজামুল উদাবা ১০/২৫৪; সিরাফি, পৃষ্ঠা ৪২; ইনবাহুর রুওয়াত ১/৩২৯; তাজকিরাতুল হুফফাজ ১/১৮৯; ইবনুল জাজারির তাবাকাতুল কুররা ১/২৫৮; বুগয়াতুল উয়াত, পৃষ্ঠা ২৪০।

২ জুবায়দিতে তাঁর জীবনী দেখুন, পৃষ্ঠা ৩৫; নুজহাতুল আলিব্বা, পৃষ্ঠা ৪৩; ইনবাহুর রুওয়াত ২/১৫৭।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ابن 1 أبي إسحاق:

هو عبد الله بن أبي إسحاق مولى آل الحضرمي المتوفى سنة 117 للهجرة، وفيه يقول ابن سلام: "كان أول من بَعَجَ "فتق" النحو ومد القياس وشرح العلل". وبذلك يجعله الواضع الأول لعلم النحو، إذ يجعله أول من اشتق قواعده وأول من طرد فيها القياس، بحيث يحمل ما لم يسمع عن العرب على ما سمع عنهم، ويقول أبو الطيب اللغوي: "فرع عبد الله بن أبي إسحاق النحو وقام وتكلم في الهمز، حتى عُمل فيه كتاب مما أملاه". ويروى أن يونس بن حبيب سأله عن كلمة "السويق"، وهو الناعم من دقيق الحنطة، هل ينطقها أحد من العرب "الصويق" بالصاد؟ فأجابه: نعم قبيلة عمرو بن تميم تقولها، ثم قال له: وما تريد إلى هذا؟ عليك بباب من النحو يطرد وينقاس. وهو لم يُعْنَ بالقياس على قواعد النحو فحسب، بل عُني أيضا بالتعليل للقواعد تعليلا يمكِّن لها في ذهن تلاميذه. وجعله تمسكه الشديد بتلك القواعد المعللة والقياس عليها قياسا دقيقا بحيث لا يصح الخروج عليها، يخطئ كل من ينحرف في تعبيره عنها، وكان لذلك كثير التعرض للفرزدق لما كان يورد في أشعاره من بعض الشواذ النحوية، ويذكر الرواة أنه حين سمعه ينشد قوله في مديحه لبعض بني مروان:

وعض زمان يابن مروان لم يدع … من المال إلا مسحتا أو مجرفُ2

اعترضه؛ لرفعه قافية البيت وكان حقها النصب لأنها معطوفة -كما يتبادر- على كلمة "مسحتا" المنصوبة، أو بعبارة أدق: لأن القياس النحوي يحتم ذلك ويوجبه. ويظهر أن الفرزدق قصد إلى الاستئناف حتى لا يحدث في البيت إقواء يخالف به حركة الروي في القصيدة. وسمعه مرة يصف رحلته إلى الشام في

--------------------------------------------

1 راجع ترجمة ابن أبي إسحاق في أبي الطيب اللغوي ص12، والزبيدي ص25، والسيرافي ص25، وطبقات فحول الشعراء لابن سلام ص14، ونزهة الألباء ص18، وإنباه الرواة 2/ 104، وطبقات القراء لابن الجزري 1/ 410، وتهذيب التهذيب 5/ 148، وخزانة الأدب للبغدادي 1/ 115، وبغية الوعاة ص282.

2 مسحت ومجرف: مستأصل.
ইবনে ১ আবি ইসহাক:

তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক, আল-হাদরামি বংশের মুক্তদাস, যিনি হিজরি ১১৭ সনে মৃত্যুবরণ করেন। তার সম্পর্কে ইবনে সাল্লাম বলেন: "তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নাহুর (ব্যাকরণ) রহস্য উন্মোচন করেছেন, কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) বিস্তার ঘটিয়েছেন এবং ইল্লত বা কারণসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন।" এর মাধ্যমে তিনি তাকে নাহু শাস্ত্রের প্রথম উদ্ভাবক হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, যেহেতু তিনি তাকে এর নিয়মাবলি উদ্ঘাটনকারী এবং এতে কিয়াস বা সাদৃশ্যের নীতি প্রয়োগকারী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করেন, যাতে করে আরবদের থেকে যা শোনা যায়নি, তাকে তাদের থেকে যা শোনা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োগ করা যায়। আবু তাইয়্যিব আল-লুগাভি বলেন: "আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক নাহু শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখা বিন্যাস করেছেন, এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং হামজাহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, এমনকি তার নির্দেশিত বক্তব্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে একটি কিতাবও সংকলিত হয়েছে।" বর্ণিত আছে যে, ইউনুস ইবনে হাবিব তাকে 'আস-সাওয়িক' শব্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—যা গমের মিহি আটা—যে আরবদের কেউ কি এটি 'সাদ' অক্ষর দিয়ে 'আস-সওয়িক' উচ্চারণ করে? তিনি উত্তর দিলেন: হ্যাঁ, আমর ইবনে তামিম গোত্র এটি বলে। এরপর তিনি তাকে বললেন: তোমার এ দিয়ে কী প্রয়োজন? তুমি নাহুর সেই অধ্যায়ের প্রতি মনোনিবেশ করো যা সর্বত্র প্রযোজ্য এবং কিয়াসযোগ্য। তিনি কেবল নাহুর নিয়মাবলির ওপর কিয়াস করার প্রতিই মনোযোগী ছিলেন না, বরং নিয়মাবলির এমন যৌক্তিক কারণ দর্শানোর প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছিলেন যা তার ছাত্রদের মনে তা দৃঢ়ভাবে গেঁথে দিত। এই যুক্তিযুক্ত নিয়মাবলির প্রতি তার প্রগাঢ় অনুরাগ এবং এর ওপর সূক্ষ্মভাবে কিয়াস করার প্রবণতা—যেখান থেকে বিচ্যুত হওয়া সঠিক নয় বলে তিনি মনে করতেন—তাকে এমন করে তুলেছিল যে, কেউ যদি তার অভিব্যক্তিতে তা থেকে বিচ্যুত হতো, তবে তিনি তাকে ভুল সাব্যস্ত করতেন। এই কারণেই তিনি কবি ফারাজদাকের বহু সমালোচনা করতেন, কারণ ফারাজদাক তার কবিতায় কিছু ব্যাকরণগত ব্যতিক্রম ব্যবহার করতেন। বর্ণনাকারীরা উল্লেখ করেন যে, যখন তিনি তাকে বনু মারওয়ানের কারো প্রশংসায় রচিত কবিতা আবৃত্তি করতে শুনলেন:

হে ইবনে মারওয়ান, কঠিন কাল দংশন করেছে, যা সম্পদের কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি … সমূলে বিনাশকারী বা উচ্ছেদকারী ব্যতীত২

তখন তিনি এর বিরোধিতা করেন; কারণ কবি পঙক্তির অন্ত্যমিলকে পেশ দিয়ে উচ্চারণ করেছিলেন, অথচ সেখানে জবর হওয়া উচিত ছিল। কারণ এটি ব্যাকরণগতভাবে—যেমনটি সহজে বোঝা যায়—নসবযুক্ত শব্দ 'মুসহাতান'-এর ওপর আতফ বা সংযোজিত হয়েছে; অথবা আরও সূক্ষ্মভাবে বলতে গেলে: নাহুর কিয়াস বা ব্যাকরণিক যুক্তি এটিকেই অবধারিত ও আবশ্যক করে। প্রতীয়মান হয় যে, ফারাজদাক এখানে নতুন বাক্য শুরু করতে চেয়েছিলেন যাতে কবিতায় 'ইকওয়া' বা অন্ত্যমিলের স্বরচিহ্নের ভিন্নতা সৃষ্টি না হয় যা কবিতার মূল অন্ত্যমিলের স্বরচিহ্নের পরিপন্থী। একবার তিনি তাকে সিরিয়ার সফরের বর্ণনা দিতে শুনলেন...

--------------------------------------------

১. ইবনে আবি ইসহাকের জীবনী দেখুন: আবু তাইয়্যিব আল-লুগাভি, পৃষ্ঠা ১২; আজ-জুবায়দি, পৃষ্ঠা ২৫; আস-সিরাফি, পৃষ্ঠা ২৫; ইবনে সাল্লামের তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা, পৃষ্ঠা ১৪; নুঝহাতুল আলিব্বা, পৃষ্ঠা ১৮; ইনবাহুর রুওয়াত ২/১০৪; ইবনুল জাযারির তাবাকাতুল কুররা ১/৪১০; তাহযিবুত তাহযিব ৫/১৪৮; বাগদাদির খিযানাতুল আদাব ১/১১৫; বুগইয়াতুল উয়াত, পৃষ্ঠা ২৮২।

২. মুসহাত এবং মুজরিফ: সমূলে বিনাশকারী।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
قصيدة مدح بها يزيد بن عبد الملك على هذا النمط:

مستقبلين شمال الشام تضربنا … بحاصب كنديف القطن منثور1

على عمائمنا يلقى، وأرحلنا … على زواحف تزجى، مخها رِير2

فقال له: أسأت، إنما هو "مخها رير" مشيرا بذلك إلى قياس النحو في هذا التعبير؛ لأنه يتألف من مبتدأ وخبر. وما زال ينحي على الفرزدق باللائمة حتى جعل الشطر:

على زواحف نزجيها محاسير

وكانت مراجعته المستمرة له تغضبه، فهجاه بقصيدة يقول في تضاعيفها هذا البيت:

فلو كان عبد الله مولى هجرته … ولكن عبد الله مولى مواليا3

وما كاد يسمعه منه حتى قال له: "أخطأت أخطأت، إنما هو مولى موالٍ" يريد أنه أخطأ في إجرائه كلمة موال المضافة مجرى الممنوع من الصرف، إذ جرها بالفتحة وكان ينبغي أن يصرفها قياسا على ما نطق به العرب في مثل جوار وغواش، إذ يحذفون الياء منونين في الجر والرفع4. وواضح من كل هذه المحاورات بينه وبين الفرزدق مدى احتكامه للقياس وما ينبغي للقاعدة من الاطراد، بحيث لا يجوز للشاعر مهما كان فصيحا أن يخرج عليها. وكان لا يرى بأسا في أن يخالف أحيانا جمهور القراء في بعض قراءاتهم لآي الذكر الحكيم تمسكا بالقياس النحوي، ومن ذلك أنه كان يخالفهم في قراءة آية المائدة: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} فقد كانوا يقرءون: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ} بالرفع على الابتداء، بينما الخبر فعل أمر، وجعله ذلك يقرؤهما بالنصب5 على المفعولية.

وواضح أنه فتح لنحاة البصرة من بعده تلاميذه وغير تلاميذه بمراجعاته للفرزدق أن يخطئوا الشعراء الفصحاء لا من الإسلاميين مثل الفرزدق فحسب،

--------------------------------------------

1 الشمال: الريح. الحاصب: الريح التي تحمل الحصباء.

2 الزواحف: الإبل العجفاء التي أعيت فجرت خفافها. تزجى: تساق. رير: ذائب.

3 كان ابن أبي إسحاق مولى آل الحضرمي، وكانوا بدورهم موالي لبني عبد شمس القرشيين.

4 الكتاب لسيبويه "طبعة بولاق" 2/ 58، وانظر خزانة الأدب 1/ 115.

5 شواذ القراءات لابن خالويه ص32.
ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিকের প্রশংসা করে তিনি এই ধাঁচে একটি কাসিদা পাঠ করেন:

শাম দেশের উত্তরীয় বাতাসের মুখোমুখি হয়ে, যা আমাদের ওপর আঘাত করছিল … তুলা ধুনার মতো ছড়িয়ে পড়া নুড়িবৃষ্টির সাথে১

এটি আমাদের পাগড়ির ওপর পড়ছিল, আর আমাদের বাহনগুলো … ছিল দুর্বল উটের পিঠে যাদের টেনে নেওয়া হচ্ছিল, যেগুলোর হাড়ের মজ্জা ছিল পাতলা ও তরল২

তখন তিনি তাকে বললেন: "তুমি ভুল করেছ, এটি হবে 'মজ্জা পাতলা ও তরল'", এর মাধ্যমে তিনি ব্যাকরণিক নিয়মের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন; কারণ এটি একটি উদ্দেশ্য ও বিধেয় নিয়ে গঠিত। তিনি ফারাজদাককে তিরস্কার করতেই থাকলেন যতক্ষণ না তিনি পঙক্তিটিকে এভাবে পরিবর্তন করলেন:

এমন দুর্বল বাহনের ওপর যাকে আমরা ক্লান্ত-শ্রান্ত অবস্থায় হাঁকিয়ে নিয়ে চলছিলাম

তার এই নিরবচ্ছিন্ন সমালোচনা তাকে রাগান্বিত করেছিল, ফলে তিনি তাকে ব্যঙ্গ করে একটি কাসিদা রচনা করেন, যার এক পর্যায়ে এই চরণটি ছিল:

আব্দুল্লাহ যদি কোনো আযাদকৃত দাস হতো তবে আমি তাকে বর্জন করতাম … কিন্তু আব্দুল্লাহ তো হলো দাসেরও দাস৩

তিনি এটি শোনার সাথে সাথেই তাকে বললেন: "তুমি ভুল করেছ, তুমি ভুল করেছ! এটি হবে 'দাসেরও দাস'।" এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন যে, তিনি সম্বন্ধযুক্ত শব্দটি ব্যবহারে ভুল করেছেন; যেহেতু তিনি এতে জবর প্রদান করেছেন। অথচ আরবরা যেভাবে একই ধরণের শব্দগুলো উচ্চারণ করে, সেই নিয়মানুযায়ী একে পরিবর্তন করা উচিত ছিল, যেখানে জের ও পেশ অবস্থায় তারা শেষ বর্ণ বিলুপ্ত করে তানভীন প্রদান করে৪। ইবনে আবি ইসহাক এবং ফারাজদাকের মধ্যকার এই সমস্ত কথোপকথন থেকে ব্যাকরণিক নিয়মের প্রতি তার কঠোর আনুগত্য এবং নিয়মের ধারাবাহিকতা রক্ষার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়, যাতে করে একজন কবি যতই সাবলীল হোন না কেন, তার পক্ষে এই নিয়ম লঙ্ঘন করা জায়েজ না হয়। তিনি ব্যাকরণগত নিয়মের প্রতি অবিচল থাকার কারণে মাঝে মাঝে পবিত্র কুরআনের আয়াত পাঠের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্বারীর বিরোধী মত পোষণ করতেও কোনো দ্বিধা করতেন না। এর একটি উদাহরণ হলো সূরা মায়িদার এই আয়াত পাঠে তিনি তাদের বিরোধিতা করেছিলেন: "চোর পুরুষ ও চোর নারী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও"। সাধারণ ক্বারীগণ "চোর পুরুষ ও চোর নারী" অংশটিকে পেশ যোগে পড়তেন, যদিও এর পরবর্তী অংশটি হলো একটি আদেশসূচক ক্রিয়া। আর এই কারণেই তিনি শব্দ দুটিকে কর্ম হিসেবে জবর যোগে পাঠ করতেন৫।

এটা স্পষ্ট যে, ফারাজদাকের সাথে তার এই পর্যালোচনার মাধ্যমে তিনি পরবর্তী বসরা নগরীর বৈয়াকরণদের জন্য—চাই তারা তার ছাত্র হোক বা অন্য কেউ—একটি পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, যাতে তারা সাবলীল কবিদের ভুল ধরতে পারেন, এবং তা কেবল ফারাজদাকের মতো ইসলামি যুগের কবিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

--------------------------------------------

১ উত্তরীয়: বাতাস। নুড়িবৃষ্টি: সেই বাতাস যা নুড়ি পাথর বহন করে।

২ জাওয়াফেল: এমন শীর্ণকায় উট যারা ক্লান্ত হয়ে তাদের ক্ষুর টেনে হেঁচড়ে চলে। তুজজা: চালিত করা বা হাঁকিয়ে নেওয়া। রির: গলিত বা তরল।

৩ ইবনে আবি ইসহাক ছিলেন হাযরামি পরিবারের আযাদকৃত দাস, আর তারা নিজেরাও ছিল কুরাইশ বংশীয় বনু আব্দ শামসের আযাদকৃত দাস।

৪ সিবওয়াইহ-এর আল-কিতাব (বুলাক সংস্করণ) ২/৫৮; আরও দেখুন: খিজানাতুল আদব ১/১১৫।

৫ ইবনে খালওয়াইহ-এর শাওয়াযুল ক্বিরাআত, পৃষ্ঠা ৩২।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بل أيضا من الجاهليين على نحو ما سنرى عند تلميذه عيسى بن عمر. ولم يؤثر عنه كتاب في النحو، وكأنه كان يكتفي بمحاضراته وإملاءاته على تلاميذه، وكل ما أثر عنه كتاب في الهمز كما أسلفنا، ويبدو أنه عالج فيه مسألة رسمها حين توصل وحين تقطع وحين تسهل وحين تدخل على همزة أخرى وحين تتصل بحروف العلة، مما يتصل بالدقة في كتابة الذكر الحكيم، إذ كان من القراء النابهين في موطنه.

عيسى 1 بن عمر الثقفي:

بصري من موالي آل خالد بن الوليد، نزل في ثقيف فنُسب إليها، وهو أهم تلاميذ ابن أبي إسحاق، وقد مضى على هديه يطرد القياس ويعمّمه، ومن أقيسته ما حكاه سيبويه عنه من أنه كان يقيس النصب في كلمة "يا مطرا" في قول الأحوص:

سلام الله يا مطرا عليها … وليس عليك يا مطر السلام

على النصب في كلمة "يا رجلا" وكأنه يجعل مطرا في تنوينها ونصبها كالنكرة غير المقصودة2. وكان مثل ابن أبي إسحاق يطعن على العرب الفصحاء إذا خالفوا القياس، وكان يصعد في هذا الطعن حتى العصر الجاهلي، من ذلك تخطئته النابغة في قوله:

فبت كأني ساورتني ضئيلة … من الرقش في أنيابها السم ناقع3

إذ جعل القافية مرفوعة، وحقها أن تنصب على الحال؛ لأن المبتدأ قبلها

--------------------------------------------

1 انظر في ترجمة عيسى أبا الطيب اللغوي ص21، والزبيدي ص35، والسيرافي ص31، والفهرست ص68، ونزهة الألباء ص21، ومعجم الأدباء 16/ 146، وابن الجزري 1/ 613، وإنباه الرواة 2/ 374، ومرآة الجنان لليافعي 1/ 307، وشذرات الذهب لابن العماد 1/ 224، وبغية الوعاة ص270.

2 كتاب سيبويه 1/ 313، وانظر الموشح للمرزباني ص41.

3 ساورتني: واثبتني. ضئيلة: دقيقة، ويريد أفعوانا. الرقش: الأفاعي التي تختلط في جلدها نقط سوداء وبيضاء. ناقع: قاتل.
বরং জাহেলী যুগের কবিদের ব্যাপারেও (সমালোচনামুখর ছিলেন), যেমনটি আমরা তাঁর ছাত্র ঈসা ইবনে ওমরের ক্ষেত্রে দেখতে পাব। তাঁর থেকে ব্যাকরণ বিষয়ে কোনো কিতাব বর্ণিত হয়নি; মনে হয় তিনি তাঁর ছাত্রদের নিকট প্রদানকৃত বক্তৃতা ও শ্রুতিলিখনেই সন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর থেকে বর্ণিত একমাত্র কিতাব হলো 'কিতাবুল হামজ', যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। দৃশ্যত তিনি এতে হামযা লেখার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেছেন—কখন এটি যুক্ত হবে, কখন বিচ্ছিন্ন হবে, কখন সহজভাবে উচ্চারিত হবে, কখন অন্য হামযার ওপর দাখিল হবে এবং কখন স্বরবর্ণের সাথে যুক্ত হবে। এসবই পবিত্র কুরআন নির্ভুলভাবে লেখার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, কেননা তিনি তাঁর অঞ্চলের একজন প্রথিতযশা ক্বারী ছিলেন।

ঈসা ইবনে ওমর আস-সাক্বাফী:

তিনি বসরার অধিবাসী এবং খালিদ ইবনে ওয়ালিদ পরিবারের মুক্তদাসদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সাক্বীফ গোত্রে বসবাস করতেন বিধায় সেদিকেই তাঁর সম্বন্ধ করা হয়। তিনি ইবনে আবি ইসহাকের অন্যতম প্রধান ছাত্র। তিনি তাঁর শিক্ষকের পথ অনুসরণ করে কিয়াস বা ব্যাকরণগত সাদৃশ্য প্রয়োগকে সুসংহত ও ব্যাপক রূপ দান করেন। তাঁর করা কিয়াসগুলোর মধ্যে একটি হলো সিবওয়াইহি বর্ণিত সেই ঘটনা যেখানে তিনি আহওয়াসের কবিতার 'ইয়া মাতরান' শব্দটিতে নসব হওয়ার কিয়াস করেছিলেন। কবিতাটি হলো:

আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক সেই নারীর ওপর, হে বৃষ্টি! … আর হে বৃষ্টি! তোমার ওপর কোনো সালাম নেই

তিনি এখানে 'ইয়া রাজুলান' শব্দের নসবের ওপর কিয়াস করেছেন। যেন তিনি 'মাতরান' শব্দটির তানভীন ও নসবের মাধ্যমে একে অনির্দিষ্ট সাধারণ বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি ইবনে আবি ইসহাকের মতোই বিশুদ্ধভাষী আরবদের সমালোচনা করতেন যখন তারা কিয়াসের পরিপন্থী কিছু বলতেন। তাঁর এই সমালোচনার পরিধি জাহেলী যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এর উদাহরণ হিসেবে নাবিকার কবিতায় তাঁর ভুল ধরা উল্লেখ করা যেতে পারে, যেখানে নাবিকা বলেছিলেন:

আমি সারা রাত এমনভাবে কাটালাম যেন আমাকে কোনো এক ক্ষুদ্র সাপ আক্রমণ করেছে … সাদা-কালো বিন্দুর ছাপযুক্ত সাপ, যার বিষদাঁতে রয়েছে মরণঘাতী বিষ

এখানে তিনি কবিতার অন্তমিলকে রফ' (পেশ) যুক্ত করেছেন, অথচ ব্যাকরণগতভাবে 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে একে নসব (জবর) হওয়া উচিত ছিল; কারণ এর আগে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) রয়েছে।

--------------------------------------------

১. ঈসার জীবনীর জন্য দেখুন: আবু তাইয়িব আল-লুগাভী, পৃষ্ঠা ২১; আজ-জুবাইদী, পৃষ্ঠা ৩৫; আস-সিরাফী, পৃষ্ঠা ৩১; আল-ফিহরিসত, পৃষ্ঠা ৬৮; নুযহাতুল আলিব্বা, পৃষ্ঠা ২১; মুজামুল উদাবা, ১৬/১৪৬; ইবনুল জাযারী, ১/৬১৩; ইনবাহুর রুওয়াত, ২/৩৭৪; ইয়াফেয়ীর মিরআতুল জানান, ১/৩০৭; ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব, ১/২২৪; বুগয়াতুল উয়াত, পৃষ্ঠা ২৭০।

২. কিতাবু সিবওয়াইহি ১/৩১৩ এবং মারযুবানীর আল-মুওয়াশশাহ, পৃষ্ঠা ৪১ দেখুন।

৩. সাওয়ারাতনী: আমাকে আক্রমণ করেছে। জাইলা: ক্ষুদ্র, এখানে সাপ বোঝানো হয়েছে। আর-রাক্বাশ: সেই সাপ যার চামড়ায় কালো ও সাদা বিন্দুর মিশ্রণ থাকে। নাক্বিউন: প্রাণঘাতী।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
تقدمه الخبر وهو الجار والمجرور، وكأنه النابغة ألغاهما لتقدمهما وجعل ناقعا الخبر1. ومن أقيسته في القراءات أنه كان يقرأ الآية الكريمة: {يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ وَالطَّيْرَ} بنصب كلمة الطير، وكان يقول هو على النداء كما تقول: "يا زيد والحارث" ولما لم يكن القائل: "ويا الحارث" نصب الكلمة، لأن يا لا تدخل في النداء على المعرف بالألف واللام. ويروى أنه كان يخالف جمهور القراء في قراءة الآية الكريمة: {هَؤُلاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ} إذ كان يقرؤها بنصب أطهر على الحال وجعل هن ضمير فصل. ويبدو أنه كان يلفظ في تقدير العومل المحذوفة، ومن ذلك ما رواه سيبويه عنه من أنه كان يلفظ قولهم:"ادخلوا الأول فالأول" برفع الكلمتين الأخيرتين على تقدير أنهما مرفوعتان بفعل مضارع محذوف تقديره: "ليدخل"2. وكأنه لقن تلميذه الخليل والنحاة من بعده فكرة تقدير العوامل المحذوفة التي عمومها في كثير من العبارات. ووضع أصلا مهما يدل على دقة حسه اللغوي هو اختيار النصب في الألفاظ التي جاءت عن العرب في بعض العبارات مرفوعة ومنصوبة3، وكأنه أحس في وضوح أن العرب تنزع إلى النصب أكثر مما تنزع إلى الرفع لخفته، فجعل النصب فوق الرفع وعده الأساس. وليس ذلك كل ما تحقق للنحو عنده من رقي، فقد خطا به خطوة كبيرة، إذ ألف فيه رسائل ومصنفات مختلفة، اشتهر منها لعصره مصنفان مهمان هما: "الجامع" و"الإكمال" وكأنه جمع مسائل النحو وقواعده في أولهما ثم رأى إكمال تلك القواعد والمسائل في الكتاب الثاني. وقد أقام قواعده في الجامع على الأكثر في كلام العرب وسمي ما شذ عن ذلك لغات، ويقال إن سيبويه لما أحضره ليقرأه على الخليل أنشد تنويها به وبالإكمال:

بطل النحو جميعا كله … غير ما أحدث عيسى بن عمر

ذاك إكمال وهذا جامع … فيهما للناس شمس وقمر

وزعم بعض القدماء أن الجامع هو أصل كتاب سيبويه زاد فيه وحشاه بأقوال الخليل، ولم يصل إلينا الكتاب للنناقش هذا الزعم ونتبين صحته أو فساده.

--------------------------------------------

1 كتاب سيبويه 1/ 261.

2 الكتاب 1/ 199.

3 ابن سلام ص18؟
এখানে প্রেডিকেট (খবর) আগে এসেছে যা হলো জার ও মাজরুর (অব্যয় ও বিশেষ্য পদ)। মনে হয় নাবিগা শব্দ দুটি আগে আসার কারণে সেগুলোকে উপেক্ষা করেছেন এবং 'নাকিআন' শব্দটিকে খবর বানিয়েছেন। কিরাআতের ক্ষেত্রে তাঁর একটি পদ্ধতি ছিল যে, তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত: {হে পাহাড়সমূহ, তোমরা তাঁর সাথে তাসবিহ পাঠ করো এবং পাখিরাও} পাঠের সময় 'পাখি' (আত-তায়র) শব্দটিকে নসব দিয়ে পড়তেন। তিনি বলতেন যে এটি সম্বোধন বা নিদা হিসেবে হয়েছে, যেমনটি কেউ বলে: "হে যায়েদ এবং হারিস"। যেহেতু কোনো বক্তাই "হে আল-হারিস" বলে না, তাই তিনি শব্দটিকে নসব করেছেন; কারণ 'ইয়া' (হে) অব্যয়টি আলিফ ও লাম যুক্ত সংজ্ঞাবাচক শব্দের শুরুতে সম্বোধনের জন্য সরাসরি প্রবেশ করে না। বর্ণিত আছে যে, তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত: {এরা আমার কন্যা, তারা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র} পাঠের ক্ষেত্রে সাধারণ কিরাআতবিদদের বিরোধিতা করতেন। তিনি 'অধিক পবিত্র' (আতহারু) শব্দটিকে 'হাল' হিসেবে নসব দিয়ে পড়তেন এবং 'তারা' (হুন্না)-কে দমিরে ফাসল বা বিভেদক সর্বনাম হিসেবে গণ্য করতেন। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি উহ্য আমিল বা প্রভাবক অনুমানের ক্ষেত্রে শব্দগুলো স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতেন। সিবওয়াইহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আরবদের প্রবাদ: "প্রবেশ করো প্রথম জন, অতঃপর তার পরের জন" পড়ার সময় শেষোক্ত শব্দ দুটিকে রফ দিয়ে পড়তেন। এর কারণ হিসেবে তিনি মনে করতেন যে, শব্দ দুটি একটি উহ্য 'ফেলে মুদারে' বা বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া দ্বারা রফ হয়েছে, যার অনুমিত রূপ হলো: "সে যেন প্রবেশ করে"। মনে হয় তিনি তাঁর ছাত্র খলিল এবং পরবর্তী ব্যাকরণবিদদের উহ্য আমিল অনুমানের এই ধারণাটি শিখিয়েছিলেন, যা অনেক বাক্যের ক্ষেত্রেই ব্যাপকতা লাভ করেছে। তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি স্থাপন করেছিলেন যা তাঁর ভাষাগত সূক্ষ্ম অনুভূতির পরিচায়ক; আর তা হলো আরবদের থেকে বর্ণিত কিছু শব্দের ক্ষেত্রে নসবকে বেছে নেওয়া, যা কখনো রফ এবং কখনো নসব উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে। স্পষ্টত তিনি অনুভব করেছিলেন যে আরবরা রফ-এর তুলনায় নসবের প্রতি বেশি আগ্রহী কারণ এটি উচ্চারণে সহজ, তাই তিনি রফ-এর উপরে নসবকে স্থান দিয়েছিলেন এবং একেই মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেছিলেন। ব্যাকরণ শাস্ত্র তাঁর হাতে কেবল এই উন্নতির স্তরেই পৌঁছায়নি, বরং তিনি একে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলেন। তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন রিসালা এবং গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর সময়ে এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল, যথা: "আল-জামি" এবং "আল-ইকমাল"। মনে হয় তিনি প্রথমটিতে ব্যাকরণের বিভিন্ন মাসআলা ও নিয়মাবলী সংকলন করেছেন এবং দ্বিতীয়টিতে সেই নিয়ম ও মাসআলাগুলোকে পূর্ণতা দেওয়ার চিন্তা করেছেন। তিনি "আল-জামি" গ্রন্থে তাঁর নিয়মাবলী অধিকাংশ ক্ষেত্রে আরবদের বাচনভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন এবং যা এর ব্যতিক্রম তাকে 'উপভাষা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্ণিত আছে যে, সিবওয়াইহ যখন গ্রন্থটি খলিলের কাছে পড়ার জন্য নিয়ে আসেন, তখন খলিল এই গ্রন্থ এবং "আল-ইকমাল"-এর প্রশংসা করে আবৃত্তি করেন:

সমস্ত ব্যাকরণ শাস্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে … কেবল ঈসা ইবনে উমর যা উদ্ভাবন করেছেন তা ছাড়া

ওটি হলো ইকমাল আর এটি জামি … এ দুটিতে মানুষের জন্য রয়েছে সূর্য ও চন্দ্র

প্রাচীনদের কেউ কেউ দাবি করেন যে, "আল-জামি" গ্রন্থটিই হলো সিবওয়াইহের বইয়ের মূল ভিত্তি, যাতে তিনি খলিলের উক্তিগুলো সংযোজন ও পরিমার্জন করেছেন। তবে এই দাবিটি নিয়ে আলোচনা করার জন্য এবং এর সত্যতা বা অসারতা যাচাই করার জন্য বইটি আমাদের নিকট পৌঁছায়নি।

--------------------------------------------

১ সিবওয়াইহের গ্রন্থ ১/ ২৬১।

২ আল-কিতাব ১/ ১৯৯।

৩ ইবনে সাল্লাম পৃষ্ঠা ১৮?
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وواضح مما قدمنا أن عيسى ين عمر هو الذي مكَّن للنحو وقواعده التي اعتمدها تلميذه الخليل ومن تلاه من البصريين سواء في محاضراته وإملاءاته أو في مصنفاته. وقد توفي سنة 149 للهجرة، تاركا للخليل جهوده النحوية كي يتم صرح النحو، ويكمل تشييده.

أبو عمرو 1 بن العلاء:

اسمه كنيته، وفي بعض الروايات اسمه: زبان بن العلاء المازني التميمي، ولد سنة 70 للهجرة بمكة ونشأ وعاش بالبصرة حتى توفي بها سنة 154 للهجرة، وقد تتلمذ لابن أبي إسحاق على نحو ما تتلمذ عيسى بن عمر، غير أن عيسى قصر عنايته أو كاد على النحو، أما أبو عمرو فعني بإقراء الناس القرآن في المسجد الجامع بالبصرة، وهو أحد قرائه السبعة المشهورين، كما عني بلغات العرب وغريبها وأشعارها وأيامها ووقائعها، وفي ذلك يقول الجاحظ عنه: "كان أعلم الناس بالغريب والعربية وبالقرآن والشعر وبأيام العرب وأيام الناس". فهو إلى أن يكون من اللغويين والقراء أقرب منه إلى أن يكون من النحاة، غير أنه نُقلت عنه بعض أنظار نحوية، جعلتنا نسلكه بين أوائلهم، خاصة أن ابن جني يقول: كان ممن نظروا في النحو والتصريف وتدربوا وقاسوا2. ولكن لم يكن هذا هو الجانب الذي شغله، ولعل ذلك هو السبب في أن سيبويه لم يرو عنه ولا عن تلاميذه شيئا مهما له في النحو ومسائله، إنما روى عنه بعض الشواهد اللغوية، ولم يأخذها عنه مباشرة، إنما أخذها عن تلميذه يونس بن حبيب، وكأنه لم يلقه ولم يجلس إليه. وفي أخباره ما يدل على أنه كان يأخذ بالاطراد في القواعد ويتشدد في القياس، فقد قال له بعض معاصريه: "أخبرني عما وضعتَ مما سميته عربية أيدخل فيها كلام العرب كله؟ فقال: لا، فقال له: كيف تصنع فيما خالفتك

--------------------------------------------

1 انظر في ترجمة أبي عمرو أبا الطيب اللغوي ص13، والزبيدي ص28، والسيرافي ص28، ونزهة الألباء ص24، ومعجم الأدباء 11/ 156، والفهرست ص48، وابن الجزري 1/ 288، والأنساب الورقة 555، وتهذيب التهذيب 12/ 178، ومرآة الجنان 1/ 325، وشذرات الذهب 1/ 237، وبغية الوعاة ص367.

2 الخصائص 1/ 249.
উপরে আমরা যা উপস্থাপন করেছি তা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ঈসা ইবনে ওমরই ব্যাকরণ এবং এর নিয়মগুলোকে সুসংহত করেছিলেন, যা তাঁর ছাত্র খলিল এবং তাঁর পরবর্তী বসরাবাসীরা তাদের লেকচার, শ্রুতিলিখন বা গ্রন্থাবলীতে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ১৪৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, খলিলের জন্য তাঁর ব্যাকরণগত প্রচেষ্টাগুলো রেখে যান যাতে তিনি ব্যাকরণ-প্রাসাদের কাজ সম্পন্ন এবং এর নির্মাণ পূর্ণ করতে পারেন।

আবু আমর ১ ইবনে আল-আলা:

তাঁর কুনিয়তই তাঁর নাম, তবে কিছু বর্ণনায় তাঁর নাম বলা হয়েছে: জাব্বান ইবনে আল-আলা আল-মাজিনি আত-তামিমি। তিনি ৭০ হিজরিতে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং বসরায় বেড়ে ওঠেন ও বসবাস করেন, অবশেষে ১৫৪ হিজরিতে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইবনে আবি ইসহাকের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন ঠিক যেভাবে ঈসা ইবনে ওমর করেছিলেন। তবে ঈসা তাঁর মনোযোগ প্রায় পুরোটাই ব্যাকরণের ওপর সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন, পক্ষান্তরে আবু আমর বসরার জামে মসজিদে মানুষকে কুরআন পাঠ শেখানোর কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তিনি সাতজন প্রসিদ্ধ ক্বারীদের অন্যতম। এছাড়াও তিনি আরবদের ভাষা, বিরল শব্দাবলি, কবিতা, ইতিহাস এবং যুদ্ধবিগ্রহের প্রতিও যত্নবান ছিলেন। এই প্রসঙ্গে আল-জাহিজ তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি বিরল শব্দাবলি, আরবি ভাষা, কুরআন, কবিতা এবং আরব ও অন্যান্য মানুষের ইতিহাস সম্পর্কে সমকালীনদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ছিলেন।" সুতরাং তিনি ব্যাকরণবিদের চেয়ে ভাষাবিদ ও ক্বারী হিসেবেই অধিক পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁর থেকে কিছু ব্যাকরণগত দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণিত হয়েছে, যা আমাদের তাঁকে প্রাথমিক ব্যাকরণবিদদের অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে ইবনে জিন্নি বলেন: তিনি সেইসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছেন, প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং কিয়াস করেছেন ২। তবে এটি তাঁর প্রধান কর্মক্ষেত্র ছিল না। সম্ভবত এ কারণেই সিবওয়াইহ তাঁর থেকে বা তাঁর ছাত্রদের থেকে ব্যাকরণ ও এর মাসআলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বর্ণনা করেননি। তিনি কেবল কিছু ভাষাগত উদাহরণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাও সরাসরি তাঁর কাছ থেকে নেননি, বরং তাঁর ছাত্র ইউনুস ইবনে হাবিবের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন, যেন মনে হয় সিবওয়াইহ তাঁর সাথে কখনো সাক্ষাৎ বা মজলিসে বসেননি। তাঁর জীবনীতে এমন কিছু তথ্য পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে যে, তিনি ব্যাকরণিক নিয়মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেন এবং কিয়াসের ক্ষেত্রে কঠোর ছিলেন। তাঁর জনৈক সমসাময়িক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আপনি যাকে আরবি (ভাষা বা ব্যাকরণ) বলছেন এবং প্রণয়ন করেছেন, তা কি সমগ্র আরবীয় কথ্যভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করে?" তিনি বললেন: "না।" তখন সে ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: "তবে যে বিষয়গুলো আপনার নিয়মের পরিপন্থী, সেগুলোর ক্ষেত্রে আপনি কী করবেন?

--------------------------------------------

১ আবু আমরের জীবনীর জন্য দেখুন: আবু তাইয়িব আল-লুগাভী পৃষ্ঠা ১৩, আল-জুবাইদি পৃষ্ঠা ২৮, আস-সিরাফি পৃষ্ঠা ২৮, নুযহাতুল আলিব্বা পৃষ্ঠা ২৪, মুজামুল উদাবা ১১/১৫৬, আল-ফিহরিসত পৃষ্ঠা ৪৮, ইবনুল জাযারি ১/২৮৮, আল-আনসাব পৃষ্ঠা ৫৫৫, তাহযিবুত তাহযিব ১২/১৭৮, মিরাতুল জানান ১/৩২৫, শাযারাতুয যাহাব ১/২৩৭, বুগয়াতুল উয়াত পৃষ্ঠা ৩৬৭।

২ আল-খাসাইস ১/২৪৯।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فيه العرب وهم حجة؟ قال: أعمل على الأكثر، وأسمي ما خالفني لغات". ورُويت له في كتب النحاة بعض آراء نحوية قليلة، من ذلك أنه كان يرى أن المنصوب في قولهم: "حبذا محمدٌ رجلًا" تمييز لا حال1. وكان يترك صرف سبأ في قوله تعالى: {وَجِئْتُكَ مِنْ سَبَأٍ بِنَبَأٍ يَقِينٍ} وكأنه جعله اسما للقبيلة2. والحق أنه لم يكن نحويا بالمعنى الدقيق لهذه الكلمة، إنما كان لغويا وراويا ثقة من رواة الشعر القديم، إذ كان قد سمع عن العرب وأكثر من السماع.

يونس 3 بن حبيب:

من موالي بني ضَبَّة، وقد لحق ابن أبي إسحاق وروى عنه، إذ وُلد سنة 94 للهجرة، وعاش طويلا، إذ توفي سنة 182، ويظهر أنه اختلف إلى حلقات عيسى بن عمر، وقد لزم أبا عمرو بن العلاء، ورحل إلى البادية وسمع عن العرب كثيرا، مما جعله راويا كبيرا من رواة اللغة والغريب، ولعل ذلك ما جعله يصنف كتابا في اللغات. وكانت حلقته في البصرة تغص بالطلاب، وفي مقدمتهم أبو عبيدة اللغوي وسيبويه، واسمه يتردد في كتابه، ولكن غالبا في شواهد اللغة لا في الآراء النحوية، فسيبويه -على ما يبدو- لم يكن يعجب بتلك الآراء، وكان الخليل قد استولى عليه، فلم يكد يترك فيه بقية لغيره وخاصة في قواعد النحو وأقيسته، وبذلك غدا يونس في نحوه وما وضعه من أقيسة أمة وحده، وتنبه إلى ذلك القدماء، فقالوا: "كانت ليونس مذاهب وأقيسة تفرد بها". ونحن نسوق طائفة من آرائه التي تخالف آراء سيبويه وأستاذه الخليل، من ذلك أن الخليل كان يرى أن الزائد في مثل قطّع هو الحرف الأول، وكان يونس يرى أنه الحرف الثاني4. وكان

--------------------------------------------

1 المغني لابن هشام "طبعة دار الفكر بدمشق" ص515، وكان يذهب إلى أن بني تميم تهمل ليس مع إلا حملا على ما، كقولهم: ليس الطيب إلا المسك بالرفع "همع الهوامع" 1/ 115.

2 الإنصاف في مسائل الخلاف لابن الأنباري "طبعة أوروبا" ص207.

3 انظر في ترجمة يونس أبا الطيب اللغوي ص21، والسيرافي ص33، وابن الأنباري ص49، ومعجم الأدباء 20/ 64، وابن الجزري 2/ 406، وشذرات الذهب 1/ 301، وبغية الوعاة ص426.

4 الخصائص 2/ 61.
এতে কি আরবরা রয়েছে এবং তারা কি দলিলস্বরূপ? তিনি বললেন: "আমি অধিকাংশের ওপর ভিত্তি করে কাজ করি এবং আমার সাথে যা দ্বিমত পোষণ করে তাকে আমি উপভাষা হিসেবে অভিহিত করি।" ব্যাকরণবিদদের গ্রন্থসমূহে তাঁর কিছু নগণ্য ব্যাকরণগত মতামত বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, তিনি মনে করতেন যে "মুহাম্মাদ কতই না চমৎকার একজন ব্যক্তি" (হাব্বাযা মুহাম্মাদুন রাজুলান) বাক্যে নসবযুক্ত শব্দটি একটি 'তাময়িয' (পার্থক্যকারী), 'হাল' (অবস্থা) নয় ১। তিনি মহান আল্লাহর বাণী: "এবং আমি সাবা থেকে আপনার নিকট একটি নিশ্চিত খবর নিয়ে এসেছি"-এ 'সাবা' শব্দটিতে সারফ বা তানউইন বর্জন করতেন, যেন তিনি একে একটি গোত্রের নাম হিসেবে গণ্য করেছেন ২। প্রকৃতপক্ষে তিনি এই শব্দের যথাযথ অর্থে কোনো ব্যাকরণবিদ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন ভাষাবিদ এবং প্রাচীন কবিতার বর্ণনাকারীদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য রাবী। কেননা তিনি আরবদের সান্নিধ্যে থেকেছেন এবং তাদের কাছ থেকে প্রচুর শুনেছেন।

ইউনুস ৩ বিন হাবিব:

তিনি বনু দাব্বার মুক্ত করা দাসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ইবনে আবি ইসহাকের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৯৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘকাল বেঁচে ছিলেন, অবশেষে ১৮২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ঈসা বিন উমরের পাঠচক্রগুলোতে যাতায়াত করতেন এবং আবু আমর বিন আল-আলার সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে থাকতেন। তিনি মরুঅঞ্চলে সফর করেছেন এবং আরবদের কাছ থেকে অনেক শুনেছেন, যা তাঁকে ভাষা ও দুর্লভ শব্দের (গারিব) একজন বড় বর্ণনাকারীতে পরিণত করেছে। সম্ভবত একারণেই তিনি ভাষার ওপর একটি গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন। বসরায় তাঁর পাঠচক্রটি ছাত্রদের দ্বারা কানায় কানায় পূর্ণ থাকত, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন ভাষাবিদ আবু উবাইদাহ এবং সিবাওয়াইহ। সিবাওয়াইহ-র কিতাবে তাঁর নাম বারবার ফিরে এসেছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাষার উদ্ধৃতি হিসেবে, ব্যাকরণগত মতামতের ক্ষেত্রে নয়। সিবাওয়াইহ—যেমনটি মনে হয়—ইউনুসের ঐসব মতামতের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন না। খলিল তাঁর ওপর সম্পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, ফলে তিনি ব্যাকরণের নিয়ম ও কিয়াসের (অনুমানলব্ধ নিয়ম) ক্ষেত্রে অন্য কারো জন্য কোনো স্থান অবশিষ্ট রাখেননি। এর ফলে ইউনুস তাঁর ব্যাকরণ ও তাঁর প্রণীত কিয়াসের ক্ষেত্রে এক অনন্য অবস্থানে পরিণত হন। প্রাচীন পণ্ডিতগণ বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন, তাই তাঁরা বলেছেন: "ইউনুসের এমন কিছু স্বতন্ত্র মাজহাব ও কিয়াস ছিল যাতে তিনি একক ছিলেন।" আমরা তাঁর এমন কিছু মতামত পেশ করছি যা সিবাওয়াইহ এবং তাঁর উস্তাদ খলিলের মতামতের বিপরীত। উদাহরণস্বরূপ, খলিল মনে করতেন যে 'কাত্তা-আ' (قطّع) এর মতো শব্দে অতিরিক্ত বর্ণটি হলো প্রথমটি, আর ইউনুস মনে করতেন সেটি দ্বিতীয় বর্ণ ৪।

--------------------------------------------

১ ইবনে হিশামের আল-মুগনি "দামেস্কের দারুল ফিকর সংস্করণ" পৃষ্ঠা ৫১৫। তিনি মনে করতেন যে, বনু তামিমিরা 'লাইসা' শব্দটিকে 'ইল্লা'-এর সাথে 'মা'-এর সদৃশ হওয়ার কারণে আমলহীন রাখত, যেমন তাদের বক্তব্য: "সুগন্ধি কেবল কস্তুরীই" (লাইসাত তাইয়িবু ইল্লাল মিসকু)—এখানে রাফা বা পেশ পাঠের মাধ্যমে। হামউল হাওয়া-মি ১/১১৫।

২ ইবনে আল-আম্বারির আল-ইনসাফ ফি মাসাইলিল খিলাফ "ইউরোপীয় সংস্করণ" পৃষ্ঠা ২০৭।

৩ ইউনুসের জীবনীর জন্য দেখুন: আবু আল-তায়্যিব আল-লুগাভি পৃষ্ঠা ২১, আস-সিরাফি পৃষ্ঠা ৩৩, ইবনে আল-আম্বারি পৃষ্ঠা ৪৯, মু'জামুল উদাবা ২০/৬৪, ইবনে আল-জাযারি ২/৪০৬, শাযারাতুয যাহাব ১/৩০১, বুগয়াতুল উয়াত পৃষ্ঠা ৪২৬।

৪ আল-খাসাইস ২/৬১।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الخليل يرى أن مفعول ننزع محذوف في الآية الكريمة: {لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ} والتقدير: لننزعن الفريق الذين يقال فيهم: أيهم أشد، وقال يونس: جملة "أيهم أشد" هي المفعول1. وكان الخليل وسيبويه يريان أن تصغير قبائل: قُبَيْئل، وكان يونس يرى أن تصغيرها: قُبَيِّل2. وكان سيبويه لا يرد المحذوف في التصغير، فمثل يضع تصغر على يُضَيْع، بينما كان يرده يونس فيقول في تصغير يضع: يُوَيْضع3. وكان يذهب إلى أن تاء أخت وبنت ليست للتأنيث؛ لأن ما قبلها ساكن صحيح، ولأنها لا تبدل في الوقف هاء4، كما كان يذهب إلى أن الشاعر في قوله:

إن تركبوا فركوب الخيل عادتنا … أو تنزلون فإنا معشر نزل

أراد: أو أنتم تنزلون، فعطف الجملة الاسمية على الجملة الشرطية، وكان الخليل وسيبويه يذهبان إلى أن ذلك من باب العطف على التوهم5. وعلى هذا النحو وقع يونس بعيدا عن تطور نظرية النحو على شاكلة ما انتهت إليه في الكتاب عند سيبويه، والنحاة الذين يوضعون بحق في تطورها هم ابن أبي إسحاق وعيسى بن عمر، ثم الخليل بن أحمد وسيبويه على نحو ما سيتضح ذلك عما قليل.

--------------------------------------------

1 المغني ص82.

2 المنصف شرح تصريف المازني، لابن جني 2/ 85.

3 الخصائص 3/ 71.

4 شرح التصريح على التوضيح "طبعة عيسى الحلبي" وبهامشه حاشية الشيخ يس العليمي 1/ 74.

5 الكتاب 1/ 429، والمغني ص773.
খলীল মনে করেন যে, পবিত্র আয়াতে: {অবশ্যই আমি প্রত্যেক দল থেকে তাদের ছিনিয়ে নেব যারা সবচেয়ে বেশি উদ্ধত ছিল} এখানে ‘আমরা ছিনিয়ে নেব’ (নানজিআন্না) ক্রিয়াটির কর্ম (মাফউল) উহ্য রয়েছে। এর প্রাক্কলিত রূপটি হলো: আমরা সেই দলকে ছিনিয়ে নেব যাদের সম্পর্কে বলা হয়: তাদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি উদ্ধত। অন্যদিকে ইউনুস বলেছেন: ‘তাদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি উদ্ধত’ এই বাক্যটিই হলো কর্ম। খলীল ও সিবওয়াইহ মনে করতেন যে, ‘কাবাইল’ (গোত্রসমূহ) শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ (তাসগির) হলো ‘কুবাইয়িল’ (হামযাসহ), আর ইউনুস মনে করতেন এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হবে ‘কুবাইয়িল’ (ইয়া-এর তাশদীদসহ)। সিবওয়াইহ ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিলুপ্ত বর্ণকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতেন না, যেমন—‘যাউ’ (রাখা) শব্দটির ক্ষুদ্রার্থ রূপ তিনি করতেন ‘ইউদাইউ’, বিপরীতে ইউনুস তা ফিরিয়ে আনতেন এবং ‘যাউ’-এর ক্ষুদ্রার্থ রূপে বলতেন ‘ইউওয়াইদিউ’। তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, ‘উখত’ (বোন) এবং ‘বিনত’ (কন্যা) শব্দদ্বয়ের ‘তা’ বর্ণটি স্ত্রীলিঙ্গবোধক নয়; কারণ এর পূর্ববর্তী বর্ণটি স্থির ও সহীহ (ব্যঞ্জনবর্ণ), এবং বিরতিকালে এটি ‘হা’ বর্ণে রূপান্তরিত হয় না। এছাড়া তিনি মনে করতেন যে, কবির এই উক্তিতে:

যদি তোমরা আরোহণ করো তবে ঘোড়ায় চড়া আমাদের অভ্যাস … অথবা তোমরা যদি অবতরণ করো তবে আমরাও অবতরণকারী দল

এখানে কবি মূলত ‘অথবা তোমরা অবতরণ করছ’ বোঝাতে চেয়েছেন, ফলে তিনি শর্তবাচক বাক্যের ওপর নামবাচক বাক্যের সংযোগ (আতফ) ঘটিয়েছেন। কিন্তু খলীল ও সিবওয়াইহ মনে করতেন যে, এটি ‘ধারণাপ্রসূত সংযোগ’ (আতফ আলাত তাওয়াহহুম) এর অন্তর্ভুক্ত। এভাবেই ইউনুস ব্যাকরণতত্ত্বের সেই বিবর্তনধারা থেকে দূরে অবস্থান করেছিলেন যা সিবওয়াইহের ‘আল-কিতাব’ গ্রন্থে পূর্ণতা পেয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যাকরণতত্ত্বের এই বিবর্তনে যাদের নাম অগ্রগণ্য তারা হলেন ইবনে আবি ইসহাক এবং ঈসা বিন উমর, অতঃপর খলীল বিন আহমাদ ও সিবওয়াইহ, যা অচিরেই স্পষ্ট হবে।

--------------------------------------------

১. আল-মুগনি, পৃষ্ঠা ৮২।

২. আল-মুনসিফ শারহু তাসরিফ আল-মাযিনি, ইবনে জিন্নি ২/৮৫।

৩. আল-খাসাইস ৩/৭১।

৪. শারহুত তাসরিহ আলাত তাওদিহ "ঈসা আল-হালাবি সংস্করণ" এবং এর পার্শ্বটীকায় শেখ ইয়াসীন আল-আলিমির হাশিয়া ১/৭৪।

৫. আল-কিতাব ১/৪২৯, এবং আল-মুগনি পৃষ্ঠা ৭৭৩।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الفصل الثاني: الخليل

1-‌‌ نشاطه العقلي والعلمي:

هو الخليل1 بن أحمد الفراهيدي البصري، عربي من أزدعمان، ولد سنة مائة للهجرة، وتوفي سنة مائة وخمس وسبعين، ومنشؤه ومرباه وحياته في البصرة، وقد أخذ يختلف منذ نعومة أظفاره إلى حلقات المحدثين والفقهاء وعلماء اللغة والنحو، وأكبّ إكبابا على حلقات أستاذيه عيسى بن عمر وأبي عمرو بن العلاء، كما أكب على ما نُقل من علوم الشعوب المستعربة، وخاصة العلوم الرياضية، وكان صديقا لابن المقفع مواطنه، فقرأ كل ما ترجمه وخاصة منطق أرسططاليس، كما قرأ ما ترجمه غيره من علم الإيقاع الموسيقي عند اليونان، وحذق هذا العلم حذقا جعله يؤلف فيه كتابا كان الأصل الذي اعتمد عليه إسحاق الموصلي في تأليف كتابه الذي صنفه في النغم واللحون.

وكان عقل الخليل من العقول الخصبة النادرة، فهو لا يلم بعلم حتى يلتهمه التهاما، بل حتى يستوعبه ويتمثله وينفذ منه إلى ما يفتح به أبوابه الموصده، وحقا ما قاله ابن المقفع فيه من أن عقله كان أكثر من علمه، وهو عقل جعله يتصل بكل علم ويحوز لنفسه منه كل ما يبتغي من ثراء في التفكير ودقة في الاستنباط،

--------------------------------------------

1 انظر في ترجمة الخليل أبا الطيب اللغوي ص27، والزبيدي ص43، والسيرافي ص38، ونزهة الألباء ص45، والأنساب للسمعاني الورقة 421، ومعجم الأدباء 11/ 72، ومقدمة تهذيب اللغة للأزهري، وابن خلكان في الخليل، وإنباه الرواة 1/ 341، وتهذيب الأسماء واللغات 1/ 177، وتهذيب التهذيب 3/ 163، وطبقات القراء لابن الجزري 1/ 275، وسرح العيون لابن نباتة "طبعة دار الفكر العربي" ص268، ومرآة الجنان 1/ 362، وشذرات الذهب 1/ 275، وروضات الجنات ص272، وبغية الوعاة ص243.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-খলিল

১-‌‌ তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ড:

তিনি হলেন খলিল বিন আহমদ আল-ফারাহিদি আল-বাসরি; ওমানের আজদ গোত্রের এক আরব। হিজরি একশ সালে তাঁর জন্ম এবং একশ পঁচাত্তর সালে তাঁর মৃত্যু। তাঁর বেড়ে ওঠা, লালন-পালন ও জীবন কেটেছে বসরায়। শৈশব থেকেই তিনি মুহাদ্দিস, ফকিহ, ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদদের মজলিসে যাতায়াত শুরু করেন। তিনি তাঁর দুই শিক্ষক ঈসা বিন উমর এবং আবু আমর বিন আল-আলার মজলিসে একনিষ্ঠভাবে নিমগ্ন ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আরবীকৃত জাতিগুলোর অনূদিত জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রতিও মনোনিবেশ করেন, বিশেষ করে গাণিতিক বিজ্ঞানসমূহের ওপর। তিনি তাঁর স্বদেশী ইবনুল মুকাফফার বন্ধু ছিলেন এবং তাঁর অনূদিত সবকিছুই পাঠ করেছিলেন, বিশেষ করে এরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যা। গ্রীকদের সংগীতের ছন্দবিজ্ঞান সম্পর্কিত অন্যদের অনূদিত রচনাগুলোও তিনি অধ্যয়ন করেছিলেন। এই বিদ্যায় তিনি এমন দক্ষতা অর্জন করেছিলেন যে, তিনি এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা ছিল ইসহাক আল-মাওসিলির সুর ও তালের ওপর লেখা গ্রন্থের মূল ভিত্তি।

খলিলের মস্তিষ্ক ছিল বিরল উর্বর মেধাসম্পন্ন। তিনি কোনো জ্ঞানের সান্নিধ্যে গেলেই তা যেন আষ্টেপৃষ্ঠে গ্রাস করে নিতেন; এমনকি তা পুরোপুরি আয়ত্ত করে, আত্মস্থ করে তার রুদ্ধদ্বারগুলো উন্মোচন করে দিতেন। ইবনুল মুকাফফা তাঁর সম্পর্কে যথার্থই বলেছিলেন যে, তাঁর জ্ঞান অপেক্ষা তাঁর বুদ্ধি ছিল অধিক। এই বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাই তাঁকে প্রতিটি জ্ঞানের সাথে যুক্ত করেছিল এবং চিন্তার প্রাচুর্য ও উদ্ভাবনের সূক্ষ্মতার ক্ষেত্রে নিজের কাম্য সবটুকুই অর্জন করতে সক্ষম করে তুলেছিল।

--------------------------------------------

১. খলিলের জীবনীর জন্য দেখুন: আবু আল-তায়্যিব আল-লুগাভি পৃ. ২৭, আল-জুবাইদি পৃ. ৪৩, আল-সিরাফি পৃ. ৩৮, নুযহাতুল আলিব্বা পৃ. ৪৫, আস-সামআনি কৃত আল-আনসাব ফোলিও ৪২১, মুজামুল উদাবা ১১/৭২, আল-আযহারি কৃত তাহযিবুল লুগার ভূমিকা, ইবনে খাল্লিকান (খলিল অধ্যায়), ইনবাহুর রুওয়াত ১/৩৪১, তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ১/১৭৭, তাহযিবুত তাহযিব ৩/১৬৩, ইবনুল জাযারি কৃত তাবাকাতুল কুররা ১/২৭৫, ইবনু নুবাতাহ কৃত সারহুল উয়ুন (দারুল ফিকর আল-আরাবি সংস্করণ) পৃ. ২৬৮, মিরাতুল জানান ১/৩৬২, শাযারাতুয যাহাব ১/২৭৫, রওদাতুল জান্নাত পৃ. ২৭২ এবং বুগয়াতুল উআত পৃ. ২৪৩।
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
دقة تذهل كل من يقف على وضعه لعروض الشعر ورفعه لصرح النحو ورسمه المنهج الذي ألف عليه معجم العين أول معجم في العربية. ولما أدركته الشهرة لم يستغلها لنفسه وتحقيق ما حققه بعض معاصريه من الثراء العريض، بل مضى مزدريا للشهرة وما قد يطوى فيها من مجد مادي، مكتفيا بكفاف العيش، وفي ذلك يقول النضر بن شميل أحد تلاميذه: "أقام الخليل في خص من أخصاص البصرة لا يقدر على فلس، وأصحابه يكسبون بعلمه الأموال".

وعلى هذا النحو كان يزدري الخليل متاع الحياة الدنيا الذي كان الناس يشغفون به من حوله، ومتاع واحد هو الذي كان يلتمسه ويسعى إليه ويلح في السعي، هو المتاع العقلي الذي جعله يتكلف الجهد العنيف الممضّ في فتح أبواب العلوم اللغوية التي طال على العلماء من قبله ومن حوله قَرْعها دون أن تنفتح لهم، حتى إذا مستها عصاه السحرية انفتحت أغلاقها وفارقتها طلاسمها، وذلت له وانقادت. وأول ما يلاحظ من ذلك اكتشافه علم العروض اكتشافا ليس له سابقة ولا تدانيه لاحقة، إذ استطاع أن يرسمه بكل أوزانه وحدوده وتفاعيله وتفاريعه، غير مبق لمن جاءوا بعده شيئا يضيفونه إليه. وهو يحمل في تضاعيفه ما يشهد بتمثله تمثلا رائعا للنغم وعلم الإيقاع ومواضعه، كما يحمل ما يشهد بإتقانه لنظريات العلوم الرياضية في عصره علما وفقها وتحليلا، وخاصة نظريتي المعادلات، والتباديل والتوافيق، فقد اشتق له تفاعيل خاصة، وأدارها في دوائر كدوائر المهندسين مستخدما إشارات من النقط والحلقات تصور ما يجري في التفعيلات من زحافات، كما تفسح لأجزائها في التقدم والتأخر، بحيث تجمع الأوزان العروضية التي عرفها العرب وما لا يحصى من أوزان جديدة لم يعرفوها ولا ألفوها، مما أتاح للعباسيين أن ينظموا على أوزان جديدة أهملها أسلافهم، ولم يودعوا فيها شيئا من منظوماتهم.

ولم يستغل الخليل نظرية التباديل والتوافيق الرياضية في وضعه علم العروض فحسب، فقد استغلها أيضا في وضع منهج قويم لمعجم العين المشهور، إذ بناه على تقليب كل الصيغ الأصلية، بحيث تندرج فيه مع كل كلمة الكلمات الأخرى التي تجمع حروفها، وتختلف في ترتيبها بتقديم بعض منها على بعض،
এমন এক সূক্ষ্মতা যা তাকেই বিস্মিত করে যে কাব্যিক ছন্দ (আরুয) উদ্ভাবন, ব্যাকরণ বা নাহুর প্রাসাদ নির্মাণ এবং 'মুজামুল আইন' (আরবি ভাষার প্রথম অভিধান) সংকলনের ক্ষেত্রে খলিলের নির্দেশিত পদ্ধতির ওপর দৃষ্টিপাত করে। যখন তিনি খ্যাতি অর্জন করলেন, তখন তিনি নিজের স্বার্থে বা তার সমসাময়িকদের মতো বিপুল সম্পদ অর্জনের উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করেননি; বরং তিনি খ্যাতি এবং এর সাথে জড়িত পার্থিব প্রতিপত্তির প্রতি অবজ্ঞা পোষণ করে সাধারণ জীবনযাপনেই সন্তুষ্ট ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তার অন্যতম ছাত্র নাযর ইবনে শুমাইল বলেন: "খলিল বসরার এক জীর্ণ কুটিরে বসবাস করতেন, যেখানে তার কাছে একটি কানাকড়িও ছিল না, অথচ তার ছাত্ররা তার জ্ঞান ব্যবহার করে প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জন করত।"

এভাবেই খলিল দুনিয়ার জীবনের সেই ভোগবিলাসের প্রতি অনীহা প্রকাশ করতেন, যার পেছনে তার চারপাশের মানুষ মোহগ্রস্ত ছিল। তার অন্বেষণ ও প্রচেষ্টার লক্ষ্য ছিল কেবল একটিই পাথেয়—তা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক আনন্দ। এটিই তাকে ভাষাতাত্ত্বিক বিজ্ঞানের সেই সব রুদ্ধ দ্বার উন্মোচনে কঠোর ও কষ্টসাধ্য পরিশ্রমে নিয়োজিত করেছিল, যা তার পূর্ববর্তী ও সমসাময়িক বিদ্বানরা দীর্ঘদিন ধরে করাঘাত করেও খুলতে পারেননি। অবশেষে যখন তার জাদুকরী স্পর্শ তাতে লাগল, তখন সেগুলোর তালা খুলে গেল, রহস্যগুলো অন্তর্হিত হলো এবং তা তার অনুগত হয়ে পড়ল। এর মধ্যে প্রথম লক্ষণীয় বিষয় হলো তার ছন্দতত্ত্ব (ইলমে আরুয) আবিষ্কার, যার কোনো পূর্বসূরি ছিল না এবং পরবর্তী কেউ তার সমকক্ষ হতে পারেনি। তিনি এর প্রতিটি ছন্দ (ওজন), সীমা, মাত্রা (তাফায়িল) এবং উপশাখাগুলোকে এমনভাবে বিন্যস্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, তার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এতে নতুন কিছু যোগ করার অবকাশ রাখেননি। এটি তার অভ্যন্তরে এমন সব প্রমাণ বহন করে যা সুর, ছন্দবিজ্ঞান ও তার প্রয়োগক্ষেত্রের প্রতি তার চমৎকার অনুধাবনের সাক্ষ্য দেয়। পাশাপাশি এটি তার সমসাময়িক গাণিতিক বিজ্ঞানের তত্ত্বসমূহের—বিশেষ করে সমীকরণ এবং বিন্যাস ও সমাবেশের—উপর অগাধ পাণ্ডিত্য, জ্ঞান ও বিশ্লেষণের প্রমাণ দেয়। তিনি এর জন্য বিশেষ মাত্রা উদ্ভাবন করেন এবং সেগুলোকে প্রকৌশলীদের মতো বৃত্তাকারে সাজান। তিনি বিন্দু ও বৃত্তের সংকেত ব্যবহার করে ছন্দমাত্রার পরিবর্তন চিত্রায়িত করেন এবং অংশগুলোর অগ্রপশ্চাৎ বিন্যাসের সুযোগ সৃষ্টি করেন। এর ফলে আরবরা আগে থেকে জানত এমন ছন্দগুলোর পাশাপাশি অসংখ্য নতুন ছন্দও এতে অন্তর্ভুক্ত হয় যা আগে পরিচিত বা প্রচলিত ছিল না। এর মাধ্যমেই আব্বাসীয় যুগের কবিরা এমন সব নতুন ছন্দে কাব্য রচনার সুযোগ পান যা তাদের পূর্বসূরিরা উপেক্ষা করেছিলেন এবং যাতে তারা আগে কোনো কবিতা রচনা করেননি।

খলিল কেবল ছন্দতত্ত্ব প্রণয়নেই গাণিতিক বিন্যাস ও সমাবেশের তত্ত্ব ব্যবহার করেননি; বরং তিনি তার বিখ্যাত 'মুজামুল আইন' অভিধানের সুদৃঢ় কাঠামো তৈরিতেও এটি কাজে লাগিয়েছিলেন। তিনি এর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন মূল শব্দমূলের প্রতিটি রূপান্তরের ওপর, যার ফলে একটি শব্দের সাথে সেই সব শব্দও অন্তর্ভুক্ত হয় যা একই বর্ণ দ্বারা গঠিত কিন্তু বর্ণের বিন্যাসক্রম অনুযায়ী একে অপরের থেকে পৃথক,
(খণ্ড: ১) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
فكتب مثلا يوضع معها: كبت، وتكب، وتبك، وبكت، وبتك. وبذلك حصر في المعجم جميع الكلمات التي يمكن أن تقع في العربية، مميزا دائما بين ما استعملته العرب منها وما أهملته ولم تنطق به، على نحو ما ميز في العروض بين الأوزان المستعملة والأخرى المهملة. ورأى أن يكون ترتيب الكلمات في المعجم على مخارج الحروف ومواقعها من الجهاز الصوتي وهو الحلق واللسان والفم والشفتان، بادئا بحرف العين وبه سماه. وهو صنيع يلتقي فيه بصنيع الهنود في ترتيبهم لحروف لغتهم السنسكريتية وربما عرف ذلك من بعض نازلتهم في موطنه، وهي في معجمه مرتبة على هذا النحو1:

العين، الحاء، الهاء، الخاء، الغين، القاف، الكاف، الجيم، الشين، الضاد، الصاد، السين، الزاي، الطاء، الدال، التاء، الظاء، الذال، الثاء، الراء، اللام، النون، الفاء، الباء، الميم، الياء، الواو، الألف.

وهو ترتيب أساسه كما ذكرنا آنفا مخارج الحروف ومدارجها، وهي عنده سبعة عشر مخرجا موزعة على الجوف والحلق وأول الفم ومناطق اللسان وحافته وطرفه والثنايا والشفة السفلى والشفتين. واتهم القدماء مادة هذا المعجم وقالوا: إنها ليست من عمله، وإنما هي من عمل تلميذه الليث بن رافع باسطين في ذلك أدلة قوية2، غير أنهم اتفقوا على أنه هو الذي رسم منهجه له، لما لاحظوه من التقاء منهجه بمنهج علم العروض الذي رسمه، وقيام المنهجين جميعا على أساس نظرية التباديل والتوافيق الرياضية.

ويظهر أنه عرف المباحث الصوتية عند الهنود وكانت قد نمت عندهم نموا واسعا3، وأضاف على ضوئها مادة صوتية غزيرة، نقل منها تلميذه سيبويه في كتابه نقولا كثيرة، كما نقلت منها الكتب المتأخرة، وهي ترد إلى ثلاثة جوانب، أولها ذوق أصوات الحروف عن طريق فتح الفم بألف مهموزة يليها الحرف المذاق ساكنا، فيقال في الباء: أبْ وفي التاء: أتْ وهلم جرا4. وبذلك يتضح صوت الحرف بالوقوف عليه ساكنا والمكث عنده قليلا، بخلاف ما

--------------------------------------------

1 انظر ذلك في مقدمة لسان العرب.

2 المزهر للسيوطي "طبعة الحلبي" 1/ 77 وما بعدها.

3 راجع التطور النحوي للغة العربية لبرجشتراسر ص5.

4 مقدمة لسان العرب.
তিনি উদাহরণস্বরূপ এমন শব্দ লিখেছেন যা এর সাথে রাখা যেতে পারে: কা-বা-তা, তা-কা-বা, তা-বা-কা, বা-কা-তা, এবং বা-তা-কা। এর মাধ্যমে তিনি অভিধানে আরবি ভাষায় আসতে পারে এমন সকল শব্দকে সীমাবদ্ধ করেছেন, যেখানে তিনি সর্বদা আরবরা যা ব্যবহার করেছে এবং যা তারা বর্জন করেছে বা উচ্চারণ করেনি তার মধ্যে পার্থক্য করেছেন; ঠিক যেমনটি তিনি ছন্দশাস্ত্রে ব্যবহৃত ছন্দোমাত্রা এবং পরিত্যক্ত ছন্দোমাত্রাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন যে অভিধানে শব্দগুলোর বিন্যাস হওয়া উচিত বর্ণের উচ্চারণস্থল (মাখরাজ) এবং বাগযন্ত্রে তাদের অবস্থান অনুযায়ী, যা হলো কণ্ঠনালি, জিহ্বা, মুখ এবং ওষ্ঠাধর। তিনি 'আইন' বর্ণ দিয়ে এটি শুরু করেছিলেন এবং এর নামেই এর নামকরণ করেছিলেন। এটি এমন একটি কাজ যা তাদের সংস্কৃত ভাষার বর্ণ বিন্যাসে ভারতীয়দের কাজের সাথে মিলে যায় এবং সম্ভবত তিনি এটি তার জন্মভূমিতে বসবাসকারী তাদের কিছু লোকের কাছ থেকে জেনেছিলেন। তার অভিধানে এগুলো নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত রয়েছে ১:

আইন, হা, হা, খা, গাইন, কাফ, কাফ, জিম, শিন, দদ, সদ, সিন, ঝা, ত, দাল, তা, জো, যাল, ছা, রা, লাম, নুন, ফা, বা, মিম, ইয়া, ওয়াও, আলিফ।

আমরা ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, এই বিন্যাসের ভিত্তি হলো বর্ণের উচ্চারণস্থল ও তাদের পর্যায়ক্রম। তার মতে উচ্চারণস্থল সতেরোটি যা মুখবিবরের শূন্যস্থান, কণ্ঠনালি, মুখবিবরের শুরু, জিহ্বার বিভিন্ন স্থান, এর পার্শ্বভাগ, এর অগ্রভাগ, সামনের দাঁতসমূহ, নিচের ঠোঁট এবং উভয় ওষ্ঠাধরের মধ্যে বিন্যস্ত। প্রাচীন পণ্ডিতগণ এই অভিধানের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি তুলেছেন এবং বলেছেন: এটি তার কাজ নয়, বরং এটি তার ছাত্র লায়স বিন রাফে'র কাজ; এ বিষয়ে তারা জোরালো প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন ২। তবে তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তিনিই এর কর্মপদ্ধতি বা রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। কারণ তারা লক্ষ্য করেছেন যে এর পদ্ধতির সাথে তার উদ্ভাবিত ছন্দশাস্ত্রের পদ্ধতির মিল রয়েছে এবং উভয় পদ্ধতিই গাণিতিক বিন্যাস ও সমাবেশের তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

এটি স্পষ্ট যে তিনি ভারতীয়দের ধ্বনিবিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা সম্পর্কে জানতেন, যা তাদের কাছে ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়েছিল ৩। এর আলোকে তিনি প্রচুর ধ্বনিতাত্ত্বিক তথ্য সংযোজন করেছেন, যেখান থেকে তার ছাত্র সিবওয়াইহি তার কিতাবে অনেক উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন; একইভাবে পরবর্তী গ্রন্থসমূহও সেখান থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছে। এগুলো তিনটি দিকে ফিরে যায়, যার প্রথমটি হলো মুখ খুলে একটি হামজা যুক্ত আলিফ উচ্চারণ করা এবং এর পরপরই সেই বর্ণটিকে সাকিন অবস্থায় উচ্চারণ করার মাধ্যমে বর্ণের ধ্বনি আস্বাদন করা। যেমন ‘বা’ বর্ণের ক্ষেত্রে বলা হয়: ‘আব’ এবং ‘তা’ বর্ণের ক্ষেত্রে বলা হয়: ‘আত’ এবং এভাবেই চলতে থাকে ৪। এর মাধ্যমে বর্ণটিকে সাকিন অবস্থায় থামার এবং সেখানে সামান্য সময় অবস্থান করার দ্বারা বর্ণের ধ্বনিটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা এর বিপরীত...

--------------------------------------------

১. এটি লিসানুল আরবের ভূমিকায় দেখুন।

২. সুয়ূতির আল-মুযহির (হালাবি সংস্করণ) ১/ ৭৭ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা।

৩. বার্গস্ট্রাসার রচিত ‘আরবি ভাষার ব্যাকরণিক বিবর্তন’ (আত-তাতাওয়ুরুন নাহওয়ি লিলুগাতিল আরাবিয়্যাহ), পৃষ্ঠা ৫ দেখুন।

৪. লিসানুল আরবের ভূমিকা।