(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: -)
المنصف لابن جني، شرح كتاب التصريف لأبي عثمان المازني القسم: النحو والصرف
الكتاب: المنصف لابن جني، شرح كتاب التصريف لأبي عثمان المازني
المؤلف: أبو الفتح عثمان بن جني الموصلي (ت 392هـ)
الناشر: دار إحياء التراث القديم
الطبعة: الأولى في ذي الحجة سنة 1373هـ - أغسطس سنة 1954م
عدد الصفحات: 491
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে জিন্নী বিরচিত আল-মুনসিফ, আবু উসমান আল-মাযিনী বিরচিত কিতাবুত তাসরীফের ব্যাখ্যা বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: ইবনে জিন্নী বিরচিত আল-মুনসিফ, আবু উসমান আল-মাযিনী বিরচিত কিতাবুত তাসরীফের ব্যাখ্যা
লেখক: আবুল ফাতাহ উসমান বিন জিন্নী আল-মাওসিলী (মৃত্যু ৩৯২ হিজরি)
প্রকাশক: দারু ইহয়ায়িত তুরাছিল কদীম
সংস্করণ: প্রথম, জিলহজ ১৩৭৩ হিজরি - আগস্ট ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২)
المجلد الأول
مقدمة…وهي متوسطة الخط، كثيرة الهوامش والحواشي بين السطور، كثيرة الأخطاء، وفي مواضع كثيرة منها عبارات ساقطة يفسد المعنى بسقوطها، وفي بعض صفحاتها تقديم وتأخير.
وكنا -قبل عثورنا على النسخة الأولى- اعتمدنا على هذه النسخة، فكلفتنا جهدًا وعناء لسقمها، ورمزنا لها بالحرف "ظ".
الثالثة: نسخة مخطوطة بخط مغربي دقيق، وفي بعض حروفها غموض، وكان يملكها الإمام المرحوم محمد محمود بن التلاميذ التركزي المغربي الشنقيطي، وهي الآن في مكتبته بدار الكتب المصرية برقم 2 صرف ش.
في آخرها أنها عن نسخة محمد بن المظفر المخطوطة بمكتبة كوبرللي بالأستانة السابق ذكرها، كتبها للإمام الشنقيطي عبد الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن التلمودي الجزولي الحسني اليعلاوي في مدة آخرها منتصف ذي الحجة من سنة 1303هـ.
وهذه النسخة خالية من الهوامش والحواشي بين السطور التي اكتظّ بها الأصل الذي نقلت عنه لابن المظفر إلا القليل جدا الذي لا حكم له، وفيها تصويب لبعض أخطاء الأصل، غير أنها لم تسلم من سقوط العبارات الكثيرة التي سقطت من نسخة ابن المظفر، ومن بعض التحريف الذي وقعت فيه، ورمزنا لها بالحرف "ش".
وهي والنسخة الثانية لابن المظفر، مع ما فيهما من نقص وخطأ، قد انتفعنا بهما انتفاعا كبيرا، وبخاصة في المواضع الضائعة في الأولى في ملتقى كل صفحتين.
وجعل الكتاب في النسخة الأولى ثلاثة أجزاء: الأول: يشتمل على المتن والشرح جميعا، والثاني: تفسير المشكل من اللغات التي أوردها مؤلف المتن، والثالث: تفسير ما فيه من مشكلات عويص التصريف. وجعل في النسختين الثانية والثالثة أربعة أجزاء، بجعل المتن والشرح فيهما جزأين، وقد جعلنا هذه النسخة المطبوعة أربعة أجزاء مثلهما.
প্রথম খণ্ডভূমিকা...এটি মধ্যম মানের লিপিতে লিখিত, এর পার্শ্বটীকা এবং পঙ্ক্তিগুলোর মধ্যবর্তী টীকা অনেক বেশি, এতে ভুলের পরিমাণও অধিক। এর অনেক স্থানে এমন সব বাক্য বিলুপ্ত হয়েছে যার ফলে অর্থের বিকৃতি ঘটেছে এবং কোনো কোনো পৃষ্ঠায় বিন্যাসের অগ্র-পশ্চাৎ ঘটেছে।
প্রথম পাণ্ডুলিপিটি পাওয়ার পূর্বে আমরা এই পাণ্ডুলিপিটির ওপরই নির্ভর করেছিলাম; কিন্তু এর পাঠের ত্রুটির কারণে আমাদের অনেক শ্রম ও কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে। আমরা এটিকে "ظ" (জ) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
তৃতীয়টি: সূক্ষ্ম মাগরিবী (মরক্কীয়) লিপিতে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি, যার কিছু কিছু বর্ণ অস্পষ্ট। এটি মরহুম ইমাম মুহাম্মদ মাহমুদ ইবনে আত-তালামীয আত-তুর্কুযী আল-মাগরিবী আশ-শিনকীতীর মালিকানাধীন ছিল। এটি বর্তমানে মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ তাঁর কুতুবখানায় ২ সরফ শ (২ صرف ش) নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
এর শেষে উল্লেখ আছে যে, এটি ইস্তাম্বুলের কোপরুলু লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত মুহাম্মদ ইবনে আল-মুযাফফরের যে পাণ্ডুলিপিটির কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে নকল করা হয়েছে। ইমাম শিনকীতীর জন্য এটি অনুলিখন করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আত-তিলমুদী আল-জাযুলী আল-হাসানী আল-ইয়ালাওয়ী, যার সমাপ্তি কাল ছিল ১৩০৩ হিজরির যিলহজ মাসের মাঝামাঝি সময়।
এই পাণ্ডুলিপিটি সেই পার্শ্বটীকা ও পঙ্ক্তি-মধ্যবর্তী টীকাগুলো থেকে মুক্ত, যা ইবনে আল-মুযাফফরের মূল পাণ্ডুলিপিতে ঠাসা ছিল, কেবল সামান্য কিছু ছাড়া যা ধর্তব্য নয়। এতে মূল পাণ্ডুলিপির কিছু ভুল সংশোধন করা হয়েছে। তবে ইবনে আল-মুযাফফরের পাণ্ডুলিপি থেকে যেসব বাক্য বিলুপ্ত হয়েছিল এবং তাতে যেসব বিকৃতি ঘটেছিল, এটিও সেগুলো থেকে পুরোপুরি রক্ষা পায়নি। আমরা এটিকে "ش" (শীন) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
এই পাণ্ডুলিপিটি এবং ইবনে আল-মুযাফফরের দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটিতে ত্রুটি ও ভুল থাকা সত্ত্বেও আমরা এগুলো থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছি; বিশেষ করে প্রথম পাণ্ডুলিপির প্রতিটি দুই পৃষ্ঠার সংযোগস্থলে যেসব অংশ বিলুপ্ত হয়েছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে।
প্রথম পাণ্ডুলিপিতে কিতাবটিকে তিন খণ্ডে ভাগ করা হয়েছে: প্রথম খণ্ড মূল পাঠ (মাতন) ও ব্যাখ্যা (শারহ) উভয়টিকেই অন্তর্ভুক্ত করে; দ্বিতীয় খণ্ড মূল লেখক কর্তৃক ব্যবহৃত জটিল শব্দাবলির ব্যাখ্যা; এবং তৃতীয় খণ্ড শব্দরূপান্তরের (সরফ) জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাণ্ডুলিপিতে এটিকে চার খণ্ডে ভাগ করা হয়েছে—সেখানে মূল পাঠ এবং ব্যাখ্যাকে দুই খণ্ডে রাখা হয়েছে। আমরাও বর্তমান মুদ্রিত সংস্করণটিকে সেই দুই পাণ্ডুলিপির ন্যায় চার খণ্ডে বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১)
المقدمة…مقدمة:
بسم الله الرحمن الرحيم 1:
الحمد2 لله رب العالمين، وصلواته على نبيه محمد وآله أجمعين، الطيبين الطاهرين2.
قال أبو الفتح عثمان بن جني رحمه الله3:
هذا كتاب أشرح فيه كتاب أبي عثمان بكر بن محمد بن بقية المازني رحمه الله في التصريف، بتمكين أصوله، وتهذيب فصوله، ولا أدع فيه4 بحول الله وقوته غامضًا إلا شرحته، ولا مشكلًا إلا أوضحته، ولا5 كثيرًا من الأشباه والنظائر5 إلا أوردته؛ ليكون هذا الكتاب قائمًا بنفسه، ومتقدمًا في جنسه، فإذا أتيت على آخره، أفردت فيه بابًا لتفسير ما فيه من اللغة الغريبة، فإذا فرغت من ذلك الباب أوردت فصلًا من المسائل المشكلة العويصة التي تشحذ الأفكار، وتروض الخواطر، وليس ينبغي أن يتخطى إلى النظر في هذه المسائل من لم يُحكِم الأصول قبلها، فإنه إن هجم عليها غير ناظر فيما قبلها من أصول التصريف الموطئة للفروع، لم يحظ منها بكبير طائل، وصعبت عليه أيما صعوبة، وكان حكمه في ذلك حكم من أراد الصعود إلى قُلة جبل سامق في غير ما سبيل، أو كجازع مفازة لا يهتدي لها بلا دليل.
--------------------------------------------
উপলব্ধি…ভূমিকা:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে ১:
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন সকল পরিবারবর্গের ওপর তাঁর রহমত বর্ষিত হোক ২।
আবু আল-ফাতহ উসমান ইবনে জিননি (রহিমাহুল্লাহ) ৩ বলেছেন:
এটি এমন একটি কিতাব যাতে আমি ইলমুত তাসরিফের (শব্দ রূপান্তর বিদ্যা) ওপর আবু উসমান বকর বিন মুহাম্মদ বিন বাকিয়্যাহ আল-মাজিনি (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবের ব্যাখ্যা করছি; এর মূলনীতিসমূহকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে এবং এর অধ্যায়গুলোকে পরিমার্জিত করার মাধ্যমে। আল্লাহর সাহায্য ও শক্তিতে আমি এতে ৪ কোনো অস্পষ্ট বিষয় ব্যাখ্যা করা ছাড়া ছাড়ব না, কোনো জটিল বিষয় স্পষ্ট করা ছাড়া রাখব না এবং অনুরূপ ও সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের ৫ অনেক কিছুই উল্লেখ করা ছাড়া ছাড়ব না ৫; যাতে এই কিতাবটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় এবং এর শ্রেণিতে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। অতঃপর যখন আমি এর শেষ প্রান্তে পৌঁছাব, তখন এতে থাকা দুর্লভ বা বিরল শব্দগুলোর ব্যাখ্যার জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করব। যখন আমি সেই পরিচ্ছেদ থেকে অবসর হব, তখন আমি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন মাসয়ালাসমূহের একটি অনুচ্ছেদ উপস্থাপন করব যা চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং মননকে প্রশিক্ষিত করে। আর যে ব্যক্তি এর আগের মূলনীতিগুলো আয়ত্ত করেনি, তার জন্য এই জটিল মাসয়ালাগুলো পর্যালোচনার দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত নয়। কেননা সে যদি তাসরিফের সেই মূলনীতিসমূহ না দেখেই এগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যা শাখা-প্রশাখাগুলোর জন্য ভিত্তি স্বরূপ, তবে সে এর থেকে বড় কোনো সুফল পাবে না এবং এটি তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে তার অবস্থা হবে সেই ব্যক্তির মতো যে কোনো পথ ছাড়াই একটি আকাশচুম্বী পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করতে চায়, অথবা এমন এক মরুভূমি পাড়ি দিতে চায় যেখানে কোনো পথপ্রদর্শক ছাড়া সে পথ খুঁজে পায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২)
علم التصريف والحاجة إليه:
وهذا القبيل من العلم -أعني التصريف- يحتاج إليه جميع أهل العربية1 أتم حاجة، وبهم إليه أشد فاقة؛ لأنه ميزان العربية، وبه تعرف أصول كلام العرب من الزوائد الداخلة عليها، ولا يوصل إلى معرفة الاشتقاق إلا به، وقد يؤخذ جزء من اللغة كبير بالقياس، ولا يوصل إلى ذلك إلا من طريق التصريف؛ وذلك نحو قولهم: إن المضارع من فَعُل لا يجيء إلا على يَفْعُل بضم العين، ألا ترى أنك لو سمعت إنسانا يقول: كرُم يكرَم بفتح الراء من المضارع، لقضيت بأنه تارك لكلام العرب، سمعتهم يقولون: يكرم أو لم تسمعهم؛ لأنك إذا صح عندك أن العين مضمومة من الماضي قضيت بأنها مضمومة في المضارع أيضا قياسا على ما جاء. ولم تحتج إلى السماع في هذا ونحوه2، وإن كان السماع أيضا مما يشهد بصحة3 قياسك. ومن ذلك أيضا قولهم: إن المصدر من الماضي إذا كان على مثال أَفْعَلَ يكون مفعلا -بضم الميم وفتح العين- نحو: أدخلته مُدْخَلا، وأخرجته مُخْرَجا، ألا ترى أنك لو أردت المصدر من أكرمته على هذا الحد لقلت: مُكْرَما قياسا، ولم تحتج فيه إلى السماع، وكذلك قولهم: كل اسم كانت في أوله ميم زائدة مما يُنقَل ويُعمَل به فهو مكسور الأول، نحو مِطْرَقة ومِرْوَحة، إلا ما استُثني4 من ذلك. فهذا لا يعرفه إلا من يعلم أن الميم زائدة، ولا يعلم ذلك إلا من طريق التصريف، فهذا ونحوه مما يستدرك من اللغة بالقياس.
--------------------------------------------
ইলমুত তাসরিফ এবং এর প্রয়োজনীয়তা:
এই প্রকারের জ্ঞান—অর্থাৎ তাসরিফ—এর প্রতি সমস্ত আরবী ভাষা বিশেষজ্ঞের পূর্ণ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং তাদের এর প্রতি তীব্র মুখাপেক্ষীতা বিদ্যমান। কারণ এটি হলো আরবী ভাষার মানদণ্ড। এর মাধ্যমেই আরবী শব্দের মূল অক্ষরগুলোকে সেগুলোর সাথে সংযুক্ত অতিরিক্ত অক্ষর থেকে পৃথক করে চেনা যায়। ইশতিকাক বা শব্দমূল প্রতিপাদন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এটি ব্যতিরেকে সম্ভব নয়। কখনো ভাষার একটি বড় অংশ কিয়াসের (ভাষাতাত্ত্বিক অনুমান বা নিয়ম) মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়, আর তাসরিফের পথ ব্যতিরেকে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। যেমন তাদের একটি নিয়ম হলো: 'ফা-উ-লা' ওজনের অতীতকালীন ক্রিয়া থেকে বর্তমানকালীন ক্রিয়া কেবল 'আইন' বর্ণে পেশসহ 'ইয়াফ-উ-লু' ওজনেই আসে। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আপনি যদি কাউকে অতীতকালীন ক্রিয়ার 'রা' বর্ণে পেশ দিয়ে 'কারুমা ইয়াকরামা' (বর্তমানকালীন ক্রিয়ার আইন বর্ণে জবরসহ) বলতে শোনেন, তবে আপনি সিদ্ধান্ত দেবেন যে সে আরবদের ভাষা পদ্ধতি ত্যাগ করেছে; আপনি আরবদের থেকে 'ইয়াকরামু' বলতে শুনে থাকুন বা না থাকুন। কারণ, যখন আপনার কাছে এটি সুনিশ্চিত হলো যে অতীতকালীন ক্রিয়ায় আইন বর্ণটি পেশযুক্ত, তখন আপনি যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে কিয়াস করে সিদ্ধান্ত দেবেন যে বর্তমানকালীন ক্রিয়াতেও এটি পেশযুক্ত হবে। এক্ষেত্রে আপনার শ্রুতিনির্ভর জ্ঞানের প্রয়োজন পড়বে না, যদিও শ্রুতিনির্ভর জ্ঞান আপনার কিয়াসের সঠিক হওয়ার সাক্ষ্য দেয়। অনুরূপভাবে তাদের নিয়ম: যদি অতীতকালীন ক্রিয়া 'আফ-আ-লা' ওজনের হয়, তবে তার মাসদার (ক্রিয়ামূল) 'মুফ-আলান'—মীম বর্ণে পেশ এবং আইন বর্ণে জবরসহ—হবে। যেমন: 'আদখালতুহু মুদখালান' এবং 'আখরাজতুহু মুখরাজান'। আপনি কি দেখেন না যে, যদি আপনি এই নিয়ম অনুযায়ী 'আকরামানি' এর মাসদার বের করতে চান, তবে আপনি কিয়াস অনুযায়ী 'মুকরামান' বলবেন এবং এর জন্য আপনার শ্রুতিনির্ভর জ্ঞানের প্রয়োজন হবে না। তেমনিভাবে তাদের নিয়ম: যে সমস্ত ব্যবহারিক যন্ত্রবাচক বিশেষ্যের শুরুতে অতিরিক্ত 'মীম' বর্ণ থাকে, সেগুলোর প্রথম বর্ণটি জেরযুক্ত হয়। যেমন: 'মিতরাকাহ' এবং 'মিরওয়াহাহ', তবে এর ব্যতিক্রম হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে তা ভিন্ন কথা। এটি কেবল সেই ব্যক্তিই চিনতে পারবে যে জানে যে এখানে মীম বর্ণটি অতিরিক্ত, আর এটি কেবল তাসরিফের মাধ্যমেই জানা সম্ভব। সুতরাং এটি এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো ভাষার কিয়াসের মাধ্যমে আয়ত্ত করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ৩)
ما لا يُؤخذ من اللغة إلا بالسماع:
ومنها ما لا يُؤخذ إلا بالسماع، ولا يُلتفت فيه إلى القياس، وهو الباب الأكثر نحو قولهم: رجل وحجر، فهذا مما لا يقدم عليه بقياس، بل يرجع فيه إلى السماع. فلهذه المعاني ونحوها ما كانت الحاجة بأهل علم العربية إلى التصريف ماسّة، وقليلا ما يعرفه أكثر1 أهل اللغة؛ لاشتغالهم بالسماع عن القياس.
تخليط أهل اللغة فيما سبيله القياس:
ولهذا ما لا2 تكاد تجد لكثير من مصنفي اللغة كتابا إلا وفيه سهو وخلل في التصريف، وترى كتابه أسد شيء فيما يحكيه، فإذا رجع إلى القياس وأخذ يصرف ويشتق اضطرب كلامه وخلّط. وإذا تأملت ذلك في كتبهم لم يكد يخلو منه كتاب إلى الفرد، ويتكرر هذا التخليط على حسب طول الكتاب وقصره، وليس هذا غضا من أسلافنا، ولا توهينا لعلمائنا، كيف وبعلومهم نقتدي، وعلى أمثلتهم نحتذي، وإنما أردت بذلك التنبيه على فضل هذا القبيل من علم العربية، وأنه من أشرفه وأنفسه، حتى إن أهله المُشْبِلين عليه والمنصرفين إليه، كثيرا ما يخطئون فيه ويخلطون، فكيف بمن هو عنه بمعزل، وبعلم سواه متشاغل.
ما بين التصريف والاشتقاق والنحو واللغة:
وينبغي أن يعلم أن بين التصريف والاشتقاق نسبا3 قريبا، واتصالا شديدا؛ لأن التصريف إنما هو أن تجيء إلى الكلمة الواحدة فتصرفها على وجوه شتى،
--------------------------------------------
ভাষার যা কিছু কেবল শ্রুতির মাধ্যমেই গৃহীত হয়:
তার মধ্যে কিছু বিষয় এমন যা কেবল শ্রুতি (সামা‘) ব্যতীত গ্রহণ করা যায় না এবং সেখানে কিয়াসের (নিয়ম বা পরিমাপ) প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হয় না। আর এটিই হলো অধিকাংশ অধ্যায়, যেমন তাদের উক্তি: 'রজুল' (পুরুষ) এবং 'হজর' (পাথর)। এটি এমন বিষয় যেখানে কিয়াসের মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া যায় না, বরং এক্ষেত্রে শ্রুতির দিকেই ফিরে যেতে হয়। এই সকল অর্থ ও তদ্রূপ বিষয়ের কারণেই আরবি ভাষাবিদদের নিকট রূপান্তর বিদ্যার (তাসরিফ) প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ ভাষাবিদই এটি খুব কম জানেন; কারণ তারা কিয়াসের চেয়ে শ্রুতি নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন।
কিয়াসের ক্ষেত্রে ভাষাবিদদের বিশৃঙ্খলা:
এ কারণেই আপনি ভাষা বিষয়ক অনেক লেখকের এমন কোনো কিতাব পাবেন না যাতে তাসরিফ বা রূপান্তর সংক্রান্ত কোনো ভুল ও বিচ্যুতি নেই। আপনি দেখবেন যে, তিনি যা বর্ণনা করছেন সে ক্ষেত্রে তার কিতাব অত্যন্ত মজবুত, কিন্তু যখনই তিনি কিয়াসের দিকে ফিরে যান এবং শব্দ রূপান্তর ও বুৎপত্তি নির্ণয় (ইশতিকাক) শুরু করেন, তখনই তার কথা এলোমেলো হয়ে যায় এবং তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। আপনি যদি তাদের কিতাবসমূহে এটি নিয়ে চিন্তা করেন, তবে প্রতিটি কিতাবেই আপনি এটি পাবেন। কিতাবের দৈর্ঘ্য ও সংক্ষিপ্ততা অনুযায়ী এই বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এটি আমাদের পূর্বসূরিদের কোনো অবমাননা নয়, কিংবা আমাদের আলেমদের কোনো তুচ্ছজ্ঞান করাও নয়; কারণ আমরা তো তাদের জ্ঞানকেই অনুসরণ করি এবং তাদের আদর্শকেই অনুকরণ করি। বরং এর মাধ্যমে আমি আরবি সাহিত্যের এই শাখার শ্রেষ্ঠত্ব ও গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করতে চেয়েছি যে, এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও মূল্যবান। এমনকি এই বিদ্যায় পারদর্শী ও এতে আত্মনিয়োগকারীরাও প্রায়ই ভুল ও বিশৃঙ্খলা করে ফেলেন, তাহলে তার অবস্থা কী হবে যে এর থেকে দূরে অবস্থান করে এবং অন্য বিদ্যায় মগ্ন থাকে!
তাসরিফ, ইশতিকাক, নাহু ও ভাষার মধ্যবর্তী সম্পর্ক:
জেনে রাখা উচিত যে, রূপান্তর বিদ্যা (তাসরিফ) এবং বুৎপত্তি বিদ্যার (ইশতিকাক) মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও গভীর সংযোগ রয়েছে; কারণ তাসরিফ হলো একটি একক শব্দকে গ্রহণ করে তাকে বিভিন্ন রূপে রূপান্তর করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ৪)
مثال ذلك أن تأتي إلى "ضَرَبَ" فتبني منه مثل "جَعْفَر" فتقول: "ضَرْبَب"، ومثل "قِمَطْر": "ضِرَبّ"، ومثل "دِرْهَم": "ضِرْبَب"، ومثل "عَلِم": "ضَرِب"، ومثل "ظَرُف": "ضرُب"، أفلا ترى إلى تصريفك الكلمة على وجوه كثيرة. وكذلك الاشتقاق أيضا، ألا ترى أنك تجيء إلى الضرب الذي هو المصدر فتشتق منه الماضي فتقول: "ضَرَبَ"، ثم تشتق منه المضارع فتقول: "يضرب"، ثم تقول في اسم الفاعل: "ضارب"، وعلى هذا ما أشبه هذه الكلمة. أولا ترى إلى قول رؤبة في وصفه1 امرأة بكثرة الصخب والخصومة:
تشتق في الباطل منها المُمْتَذَق
وهذا2 كقولك: تتصرف في الباطل، أي: تأخذ في ضروبه وأفانينه. فمن ها3 هنا تقاربا واشتبكا، إلا أن التصريف وسيطة بين النحو واللغة يتجاذبانه، والاشتقاق أقعد في اللغة من التصريف. كما أن التصريف أقرب إلى النحو من الاشتقاق، يدلك على ذلك أنك لا تكاد تجد كتابا في النحو إلا والتصريف في آخره، والاشتقاق إنما يمر بك4 في كتب النحو، منه ألفاظ مشردة لا يكاد يعقد لها باب. فالتصريف إنما هو لمعرفة أنفس الكلم الثابتة، والنحو إنما هو لمعرفة أحواله المتنقلة، ألا ترى أنك إذا قلت: "قام بكر، ورأيت بكرا، ومررت ببكر" فإنك إنما خالفت بين حركات حروف5 الإعراب لاختلاف العامل، ولم تعرض لباقي الكلمة، وإذا كان ذلك كذلك فقد كان من الواجب على من أراد معرفة النحو أن يبدأ بمعرفة التصريف؛ لأن معرفة ذات الشيء الثابتة ينبغي أن يكون أصلا لمعرفة حاله المتنقلة، إلا أن هذا الضرب
--------------------------------------------
এর উদাহরণ হলো, আপনি 'দ্বরাবা' ক্রিয়াটি নিলেন এবং তা থেকে 'জা'ফার' এর ওজনে শব্দ গঠন করলেন, তখন আপনি বলবেন: 'দ্বারবাব'; এবং 'ক্বিমাত্র' এর ওজনে: 'দ্বিরব্ব'; এবং 'দিরহাম' এর ওজনে: 'দ্বিরবাব'; এবং 'আলিমা' এর ওজনে: 'দ্বারিবা'; এবং 'যারুফা' এর ওজনে: 'দ্বারুবা'। আপনি কি দেখছেন না যে আপনি একটি শব্দকে কত বিভিন্ন রূপে পরিবর্তন করছেন? ব্যুৎপত্তিও (ইশতিকাক) ঠিক তেমনি। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন না যে আপনি 'আদ-দ্বারব'-এ আসেন যা মূল ধাতু (মাসদার), অতঃপর তা থেকে অতীতকাল ব্যুৎপন্ন করেন এবং বলেন: 'দ্বরাবা', তারপর তা থেকে বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল ব্যুৎপন্ন করেন এবং বলেন: 'ইয়াদ্বরিবু', তারপর কর্তৃবাচক বিশেষ্যের (ইসমুল ফায়িল) ক্ষেত্রে বলেন: 'দ্বারিবুন'। এই শব্দের সদৃশ অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। অথবা আপনি কি একজন মহিলার অতিরিক্ত চিৎকার ও বিবাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে রু'বার এই উক্তিটি দেখেননি:
সে মিথ্যার মধ্যে নানাবিধ বিভ্রান্তি তৈরি করে
আর এটি আপনার এই কথার মতো যে: সে মিথ্যার বিভিন্ন দিকে বিচরণ করে, অর্থাৎ সে মিথ্যার নানা প্রকার ও বৈচিত্র্য গ্রহণ করে। এখান থেকেই এই দুটির (রূপান্তর ও ব্যুৎপত্তি) মাঝে নৈকট্য ও সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়েছে। তবে শব্দ রূপান্তর (তাসরিফ) হলো ব্যাকরণ (নাহব) ও ভাষার মধ্যবর্তী একটি মাধ্যম যা উভয়টিকে আকর্ষণ করে। আর ব্যুৎপত্তি (ইশতিকাক) ভাষার ক্ষেত্রে রূপান্তরের চেয়েও বেশি সুপ্রতিষ্ঠিত। যেমন রূপান্তর ব্যুৎপত্তির তুলনায় ব্যাকরণের অধিকতর নিকটবর্তী। আপনার নিকট এর প্রমাণ হলো আপনি ব্যাকরণের এমন কোনো বই পাবেন না যার শেষে রূপান্তর শাস্ত্রের আলোচনা নেই। আর ব্যুৎপত্তি ব্যাকরণ গ্রন্থগুলোতে আপনার সামনে কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন শব্দ হিসেবে আসবে যার জন্য সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায় বরাদ্দ করা হয় না। সুতরাং রূপান্তর হলো শব্দের মূল ও স্থির সত্তা জানার জন্য, আর ব্যাকরণ হলো শব্দের পরিবর্তনশীল অবস্থা জানার জন্য। আপনি কি দেখছেন না যে যখন আপনি বলেন: "ক্বামা বাকরুন (বাকর দাঁড়িয়েছে)", "রাআইতু বাকরান (আমি বাকরকে দেখেছি)" এবং "মারারতু বি-বাকরিন (আমি বাকরের পাশ দিয়ে গিয়েছি)", তখন আপনি কেবল আমিল বা প্রভাবকের পরিবর্তনের কারণে ইরাবের স্বরচিহ্নে ভিন্নতা আনছেন, কিন্তু শব্দের বাকি অংশে কোনো হস্তক্ষেপ করছেন না। আর যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে যে ব্যক্তি ব্যাকরণ জানতে চায় তার জন্য রূপান্তর (তাসরিফ) জানার মাধ্যমে শুরু করা আবশ্যক। কারণ কোনো বিষয়ের স্থির সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাই তার পরিবর্তনশীল অবস্থা জানার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। তবে এই প্রকারটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ৫)
من العلم لما كان عويصا صعبا بُدِئ قبله بمعرفة النحو، ثم جيء به بعد؛ ليكون الارتياض في النحو موطئا للدخول فيه، ومعينا على معرفة أغراضه ومعانيه، وعلى تصرف الحال. فمن أمدّه الله بصفاء القريحة، وأيده بمضاء الخاطر والروية1، وواصل الدرس، وأجشم النفس، وهجر في العلم لَذَّاته، ووهب له أيام حياته؛ امتاز من الجمهور الأعظم، ولحق بالصدر المقدم، ولحظته العيون بالنفاسة، وأشارت إليه الأصابع بالرياسة، وكان موفقا لما يرفعه ويُعْليه، مسددا فيما يقصد له وينتحيه.
قيمة كتاب التصريف للمازني:
ولما كان هذا الكتاب الذي قد شرعت في تفسيره وبسطه من أنفَس كتب التصريف وأسدها وأرصنها، عريقا في الإيجاز والاختصار، عاريا من الحشو والإكثار، متخلصا من كَزَازة ألفاظ المتقدمين، مرتفعا عن تخليط كثير من المتأخرين، قليل الألفاظ، كثير المعاني، عُنيت بتفسير مشكله، وكشف غامضه، والزيادة في شرحه، محتسبا ذلك في جنب ثواب الله، ومزكيا به ما وهبه لي من العلم.
ما يجب على من يطلع على كتاب ذي قيمة:
وحقيق على من2 نظر في كتاب قد عُني به واضعه3، وانصرف إلى الاهتمام به مصنفه3، فحظي منه بأقصى ما طلب، ووصل إلى غايته من كَثَب، أن يحمد الله على ما وهبه له من فهمه، وأن يسلم لصاحبه ما وفره الله عليه
--------------------------------------------
জ্ঞানের এই শাখাটি যেহেতু ছিল জটিল ও কঠিন, তাই এর পূর্বে ব্যাকরণ (নাহু) চর্চার মাধ্যমে সূচনা করা হয়েছে এবং একে পরে নিয়ে আসা হয়েছে; যাতে ব্যাকরণের অনুশীলন এতে প্রবেশের সোপান হয় এবং এর উদ্দেশ্য ও অর্থসমূহ অনুধাবনে এবং এর বিবিধ প্রয়োগে সহায়ক হয়। অতঃপর আল্লাহ যাকে স্বচ্ছ মেধা দিয়ে পুষ্ট করেছেন, তীক্ষ্ণ ধীশক্তি ও চিন্তাশক্তির মাধ্যমে সমর্থন যুগিয়েছেন, যে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাঠদান অব্যাহত রেখেছে, জ্ঞানার্জনে নিজেকে কষ্টে নিপতিত করেছে, জ্ঞানের নেশায় নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়েছে এবং তার জীবনের দিনগুলোকে এর জন্য উৎসর্গ করেছে; সে বৃহত্তর জনসমষ্টি থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, অগ্রগণ্যদের কাতারে শামিল হয়েছে, মর্যাদার সাথে মানুষের দৃষ্টি তার প্রতি নিবদ্ধ হয়েছে এবং নেতৃত্বের ইঙ্গিতে আঙুলগুলো তার দিকে নির্দেশিত হয়েছে। সে এমন বিষয়ের তাওফীকপ্রাপ্ত হয়েছে যা তাকে উচ্চাসীন ও মহিমান্বিত করে এবং সে যা সংকল্প করে ও যার দিকে ধাবিত হয় তাতে সে সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়েছে।
মাযিনীর 'কিতাবুত তাসরীফ'-এর গুরুত্ব ও মূল্য:
এই কিতাবটি—যার ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণ আমি শুরু করেছি—রূপতত্ত্বের (তাসরীফ) অন্যতম মূল্যবান, সঠিক ও সুদৃঢ় কিতাব। এটি অত্যন্ত সারগর্ভ ও সংক্ষিপ্ত, অনর্থক বাহুল্য ও অতিকথন থেকে মুক্ত। এটি পূর্ববর্তীদের শব্দের রুক্ষতা থেকে বিমুক্ত এবং পরবর্তী অনেকের বিভ্রান্তিকর জটিলতা থেকে ঊর্ধ্বে। এর শব্দ বিন্যাস অল্প হলেও অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। আমি এর জটিল বিষয়ের ব্যাখ্যা, অস্পষ্টতা উন্মোচন এবং এর ভাষ্য সম্প্রসারণে মনোনিবেশ করেছি। আল্লাহর নিকট সওয়াবের প্রত্যাশায় এবং তিনি আমাকে যে জ্ঞান দান করেছেন তার যাকাত স্বরূপ আমি এটি সম্পাদন করেছি।
একটি মূল্যবান কিতাব পাঠকারীর জন্য যা আবশ্যক:
যে ব্যক্তি এমন একটি কিতাব পাঠ করে যার প্রতি তার রচয়িতা বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং তার সংকলক যার গুরুত্বারোপে নিবিষ্ট ছিলেন, ফলে সে তা থেকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছে এবং নিকট থেকেই গন্তব্যে উপনীত হয়েছে—তবে তার জন্য সমীচীন হলো, আল্লাহ তাকে যে বোধশক্তি দান করেছেন তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং এর রচয়িতাকে আল্লাহ যা দান করেছেন তার স্বীকৃতি প্রদান করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ৬)
من حفظه1، وأن يعتزي فيما يحكيه عنه إليه، فإن فعل ذلك فعلى محجّة أهل العلم والأدب وقف، وإن أبى إلا كفران النعمة فعن المروءة والإنسانية صَدَف.
وأنا أسوق هذا الكتاب شيئا فشيئا، وأتبع كل فصل مما رويته ورأيته ما يكون مقنعا في معناه، ومغنيا عما سواه، فما كان فيما أُورده من سداد وصواب فبتوفيق الله وإرشاده، وإن وقع سهو أو تقصير2 فما لا يعرى منه الحذاق المتقدمون، ولا يستنكفه العلماء المبرّزون.
والله أستهدي، وإياه أسترشد، وعليه أتوكل، وهو حسبي وكفى.
بسم الله الرحمن الرحيم
رواة كتاب المازني:
3قال أبو الفتح عثمان بن جني3: أخبرني الشيخ4 أبو علي الحسن بن أحمد بن عبد الغفار الفارسي النحوي5 قراءة مني عليه بحلب، عن أبي بكر محمد بن السري السراج، عن أبي العباس محمد بن يزيد المبرد، عن أبي عثمان بكر بن محمد بن بقية المازني، رحمهم الله أجمعين6.
قال أبو عثمان7:
--------------------------------------------
তার স্মৃতি থেকে১, এবং তিনি যা তার থেকে বর্ণনা করবেন তা যেন তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেন। যদি তিনি তা করেন, তবে তিনি জ্ঞান ও শিষ্টাচারীগণের প্রশস্ত পথে অবস্থান করলেন। আর যদি তিনি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ছাড়া অন্য কিছু করতে অস্বীকার করেন, তবে তিনি বীরত্ব ও মনুষ্যত্ব থেকে বিচ্যুত হলেন।
আমি এই গ্রন্থটিকে অল্প অল্প করে উপস্থাপন করছি এবং প্রতিটি অধ্যায়ে আমি যা বর্ণনা করেছি ও দেখেছি তা থেকে এমন কিছু যুক্ত করছি যা অর্থের দিক থেকে সন্তোষজনক হবে এবং অন্য কিছুর মুখাপেক্ষিতা দূর করবে। আমি যা কিছু সঠিক ও নির্ভুল উপস্থাপন করেছি তা আল্লাহর তাওফিক ও নির্দেশনায় হয়েছে। আর যদি কোনো ভুল বা ত্রুটি২ ঘটে থাকে, তবে তা এমন বিষয় যা থেকে পূর্ববর্তী দক্ষ ব্যক্তিগণও মুক্ত ছিলেন না এবং প্রথিতযশা আলেমগণও একে তুচ্ছজ্ঞান করেন না।
আমি আল্লাহর কাছে হিদায়াত প্রার্থনা করি, তাঁর কাছেই সঠিক পথ চাই, তাঁর ওপরই ভরসা করি এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
মাজিনির গ্রন্থের বর্ণনাকারীগণ:
৩আবুল ফাতহ উসমান ইবনে জিননি বলেন৩: আমাকে শাইখ৪ আবু আলি হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল গাফফার আল-ফারিসি আন-নাহবি৫ (ব্যাকরণবিদ) সংবাদ দিয়েছেন—যা আমি আলেপ্পোতে তাঁর কাছে পাঠ করেছি—তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আস-সাররি আস-সাররাজ থেকে, তিনি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুবাররাদ থেকে, তিনি আবু উসমান বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বকিয়্যাহ আল-মাজিনি থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন৬।
আবু উসমান বলেন৭:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ৭)
باب الأسماء والأفعال:كم يكون عدد1 حروفه في الأصل، وما يزاد فيهما عن الأصل؟
قال أبو الفتح2: أول ما في هذا أن يسأل فيقال: لِمَ لَمْ يذكر الحروف في هذا الموضع مع الأسماء والأفعال؟ وما السبب في ذلك؟ والجواب3: أنه إنما قصد أن يمثل الأسماء والأفعال؛ ليُرِي أصلها من زائدها؛ لأنها مما يصرف ويشتق بعضها من بعض، والحروف لا يصح فيها التصريف ولا الاشتقاق؛ لأنها مجهولة الأصول، وإنما هي كالأصوات نحو صَهْ ومَهْ ونحوهما، فالحروف لا تمثل بالفعل؛ لأنها لا يعرف لها اشتقاق، فلو قال لك قائل: ما مثال: هل أوقد أو حتى أو هلا ونحو4 ذلك من الفعل لكانت مسألته محالا، وكنت تقول له: إن هذا ونحوه لا يمثل؛ لأنه ليس بمشتق، إلا أن تنقلها إلى التسمية بها، فحينئذ يجوز وزنها بالفعل، فأما وهي على ما هي عليه من الحرفية فلا تصرف.
الألفات في أواخر حروف المعاني أصول:
ولهذا المعنى ما كانت الألفات في أواخر الحروف أصولا غير زوائد، ولا منقلبة من واو ولا ياء وذلك نحو: "ما " و"لا"5 وما أشبههما5، لا تقل: إن الألف فيهما منقلبة كألف عصا ورحى وغزا ورمى؛ لأنها لو كان أصلها واوا أو ياء لظهرتا لسكونهما، كما ظهرتا في نحو "كي وأي ولو وأو".
--------------------------------------------
ইসিম (বিশেষ্য) ও ফে’ল (ক্রিয়া) পরিচ্ছেদ:মূলে এদের বর্ণের সংখ্যা১ কত হয়, এবং মূলে এদের সাথে অতিরিক্ত কী যুক্ত হয়?
আবু আল-ফাতহ২ বলেছেন: এ বিষয়ে সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি করা যায় তা হলো: এই স্থানে ইসিম ও ফে’লের সাথে হরফ (অব্যয়) সমূহকে কেন উল্লেখ করা হলো না? এবং এর কারণ কী? উত্তর৩ হলো: তিনি মূলত ইসিম এবং ফে’লকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করতে চেয়েছেন; যাতে এগুলোর মূল বর্ণ এবং অতিরিক্ত বর্ণের পার্থক্য দেখানো যায়। কারণ এগুলো এমন শব্দ যা রূপান্তরিত (তাসরিফ) হয় এবং একটি থেকে অন্যটি উদ্ভূত (ইশতিকাক) হয়। কিন্তু হরফের ক্ষেত্রে রূপান্তর বা ব্যুৎপত্তি কোনোটিই সম্ভব নয়; কারণ এগুলোর মূল অজ্ঞাত। এগুলো মূলত ‘সাহ’ (চুপ করো) ও ‘মাহ’ (থামো) ইত্যাদি শব্দের মতো নিছক ধ্বনি মাত্র। সুতরাং হরফকে ফে’লের ওজনে পরিমাপ করা যায় না; কারণ এর কোনো ব্যুৎপত্তি জানা নেই। যদি কেউ আপনাকে প্রশ্ন করে: ‘হাল’, ‘কাদ’, ‘হাত্তা’ বা ‘হাল্লা’৪ ইত্যাদির ফে’লের ওজন বা উদাহরণ কী? তবে তার প্রশ্নটিই হবে অসম্ভব। আপনি তাকে বলবেন: এগুলো বা এই জাতীয় শব্দগুলোর কোনো ওজন হয় না; কারণ এগুলো ব্যুৎপন্ন নয়। তবে যদি আপনি এদেরকে নাম (ইসিম) হিসেবে ব্যবহার করেন, তবেই কেবল ফে’লের সাথে এদের ওজনে তুলনা করা বৈধ হবে। কিন্তু যতক্ষণ এগুলো হরফ হিসেবে থাকবে, ততক্ষণ এগুলোর কোনো রূপান্তর ঘটবে না।
অর্থবোধক হরফের শেষে অবস্থিত আলিফগুলো মূল বর্ণ:
এই কারণেই হরফের শেষে অবস্থিত আলিফগুলো মূল বর্ণ হিসেবে গণ্য হয়, অতিরিক্ত হিসেবে নয়। এগুলো ‘ওয়াও’ বা ‘ইয়া’ থেকেও পরিবর্তিত হয়ে আসেনি। যেমন: ‘মা’ এবং ‘লা’৫ ও এই জাতীয় শব্দগুলো৫। আপনি বলবেন না যে, এই দুটির আলিফ ‘আসা’, ‘রাহা’, ‘গাযা’ এবং ‘রামা’ এর আলিফের মতো পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। কারণ যদি এগুলোর মূলে ‘ওয়াও’ বা ‘ইয়া’ থাকতো, তবে সুকুন হওয়ার কারণে সেগুলো প্রকাশ পেত; যেমনটি ‘কাই’, ‘আইয়্যু’, ‘লাও’ এবং ‘আও’ শব্দগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ৮)
فلو1 كان أصل ألف " " من الواو لقلت: "مَوْ" كما قلت: "لو" وكذلك لو كانت من الياء2 لوجب أن تقول2: "مَيْ" كما قلت: "كي"3 ولم تقلب ياء "كي" وواو "أو" ألفا3؛ لأنها إنما تقلب إذا كانت متحركة وما قبلها مفتوح، وهي في الحروف ساكنة كلام "هل وبل"4، ودال "قد"؛ فلهذا بطل أن تكون منقلبة، ولو قال قائل: إن الألفات في أواخر الحروف زوائد لكان مبطلا؛ لأنه إنما تعرف الزيادة من غيرها بالاشتقاق، والحروف لا تشتق، فلا يعرف ذلك فيها؛ فلذلك لم يذكر الحروف في هذا الموضع5.
ما في حكم الحروف من الأسماء المبنية:
وقول أبي عثمان: الأسماء: يعني الأسماء المتمكنة، والتي يمكن تصريفها واشتقاقها نحو "رجل وفرس"، ولا يريد الأسماء المبنية الموغلة في شبه الحروف6؛ لأن تلك الأسماء في حكم الحروف، ألا ترى أن "كم ومن وإذ " سواكن الأواخر "كهل وبل وقد". وإنما كان ذلك فيها لمضارعتها الحروف، وإذا كان ذلك كذلك، فمعلوم أن الألف في "متى وإذا وأنى وإياك" ونحوها غير منقلبة من ياء ولا واو، كما أن الألف "في حتى وكلا" كذلك.
وكما كانت "مَنْ وكم كهل وبل"، فهذه الأسماء المبنية التي7 في حكم الحروف لا تشتق ولا تمثل من الفعل، كما أن الحروف كذلك.
--------------------------------------------
যদি "মা" এর আলিফের মূল ওয়াও হতো, তবে আপনি "মাও" বলতেন যেমন আপনি "লাও" বলেন। একইভাবে যদি তা ইয়া থেকে হতো, তবে "মাই" বলা আবশ্যক হতো যেমন আপনি "কায়" বলেন। আর "কায়" এর ইয়া এবং "আও" এর ওয়াও আলিফে রূপান্তরিত হয়নি; কারণ এগুলো কেবল তখনই রূপান্তরিত হয় যখন এগুলো হারাকাতযুক্ত হয় এবং এর পূর্বের বর্ণটি ফাতহাযুক্ত (জবর বিশিষ্ট) হয়। অথচ এগুলো হরফের ক্ষেত্রে "হাল" ও "বাল" এর লাম এবং "কাদ" এর দালের ন্যায় সাকিন (স্থির)। একারণেই এগুলো রূপান্তরিত হওয়া বাতিল হয়ে গেল। আর যদি কেউ বলে যে, হরফের শেষে বিদ্যমান আলিফগুলো অতিরিক্ত (যায়েদ), তবে সে ভুল প্রতিপন্ন হবে; কারণ ব্যুৎপত্তির (ইশতিশাক) মাধ্যমেই কেবল অতিরিক্ত বর্ণ সম্পর্কে জানা যায়, আর হরফের কোনো ব্যুৎপত্তি হয় না। তাই হরফের ক্ষেত্রে তা জানা সম্ভব নয়। একারণেই তিনি এই স্থানে হরফসমূহ উল্লেখ করেননি।
হরফের হুকুমে থাকা মাবনি (অপরিবর্তনীয়) বিশেষ্যসমূহ (ইসিম):
আবু উসমানের বক্তব্য: "ইসিমসমূহ" বলতে তিনি সেই সকল মুতামাক্কিন (পরিবর্তনশীল) বিশেষ্য বুঝিয়েছেন যেগুলোর রূপান্তর এবং ব্যুৎপত্তি সম্ভব, যেমন "ব্যক্তি" (রাজুল) ও "ঘোড়া" (ফারাস)। তিনি সেই সকল মাবনি বিশেষ্যকে বুঝাননি যা হরফের সাদৃশ্যে গভীরভাবে সম্পৃক্ত; কারণ ওই সকল বিশেষ্য হরফের হুকুমভুক্ত। আপনি কি দেখেন না যে, "কত" (কাম), "কে" (মান) ও "যখন" (ইয) এর শেষাক্ষরগুলো "হাল", "বাল" ও "কাদ" এর ন্যায় সাকিন? হরফের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণেই তাদের মধ্যে এমনটি হয়েছে। আর যখন বিষয়টি এরূপ, তখন এটি জানা কথা যে—"কখন" (মাতা), "যখন" (ইযা), "কোথা থেকে" (আন্না) এবং "কেবল আপনাকে" (ইয়্যাকা) ও এর সদৃশ শব্দগুলোর আলিফ ইয়া বা ওয়াও থেকে পরিবর্তিত হয়ে আসেনি, যেমনটি "পর্যন্ত" (হাত্তা) ও "কখনো নয়" (কাল্লা) এর আলিফের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আর যেভাবে "কে" (মান) ও "কত" (কাম) শব্দদ্বয় "হাল" ও "বাল" এর অনুরূপ, তেমনি এই সকল মাবনি বিশেষ্য যা হরফের হুকুমভুক্ত, সেগুলোর কোনো ব্যুৎপত্তি হয় না এবং এগুলো কোনো ক্রিয়া (ফেল) থেকে গঠিত হয় না, যেমনটি হরফের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ৯)
ما جاء مشتقا من الأسماء المبنية:
وقد جاء بعض هذه المبنية مشتقا نحو "لبيك"؛ لأنهم يقولون: أَلَبَّ بالمكان، ونحو "قط"؛ لأنها من قططت أي: قطعت؛ لأن قولك: ما فعلته قط معناه: فيما انقطع ومضى من عمرك. وكذلك "ذا وذي والذي" ونحو ذلك مما يدخله التحقير، أو يستعمل استعمال المتصرف، وليس ذلك بالكثير، وكلما كان الاسم في شبه الحروف1 أقعد، كان من الاشتقاق والتصريف أبعد.
الألف في "أنا" في الوقف، والهاء التي تلحق في الوقف لبيان الحركة:
فأما الألف في "أنا" في الوقف فزائدة، وليست بأصل، ولم نقض بذلك فيها من قِبَل الاشتقاق، هذا محال في الأسماء المضمرة؛ لأنها مبنية كالحروف، ولكن قضينا بزيادتها من حيث كان الوصل يزيلها ويذهبها، كما يُذهِب الهاء التي تلحق لبيان الحركة في الوقف، ألا ترى أنك تقول في الوصل: أنا2 زيد، كما قال الله تعالى: {إِنِّي أَنَا رَبُّكَ} 3 يكتب في الوقف4 بألف بعد النون، وليست الألف في اللفظ، وإنما كتبت على الوقف، فصار سقوط الألف في الوصل كسقوط الهاء التي تلحق في الوقف لبيان الحركة في الوصل، ألا ترى أنك تقول: "ارمِهْ" إذا وقفت وأنت تريد "ارْمِ"، فإذا وصلت قلت: "ارمِ يا رجل"، فالألف في "أنا" كالهاء في "ارمِهْ" زائدة مثلها، وبُيِّنت الفتحة بالألف كما بُيِّنت الكسرة5 بالهاء؛ لأن الهاء مجاورة للألف، ومثل ذلك
--------------------------------------------
অব্যয় বিশেষ্যসমূহ থেকে যা ব্যুৎপন্ন হয়ে এসেছে:
এই অব্যয় শব্দগুলোর মধ্য থেকে কিছু শব্দ ব্যুৎপন্ন হিসেবে এসেছে, যেমন ‘লাব্বাইকা’; কারণ তারা বলে: ‘আলাব্বা বিল মাকান’ (সে স্থানে অবস্থান করল)। তদ্রূপ ‘কাত্তু’; কারণ এটি ‘কাতাৎতু’ অর্থাৎ ‘আমি কেটেছি’ থেকে এসেছে। কেননা আপনার কথা: ‘আমি তা কখনোই (কাত্তু) করিনি’ এর অর্থ হলো: আপনার জীবনের যে অংশটি অতিবাহিত ও কর্তিত হয়েছে তার মধ্যে। একইভাবে ‘যা’, ‘যী’ এবং ‘আল্লাযী’ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ যেগুলোতে তুচ্ছতা বা ক্ষুদ্রতা প্রকাশ পায়, অথবা যা রূপান্তরযোগ্য শব্দের মতো ব্যবহৃত হয়। তবে এমন শব্দের সংখ্যা খুব বেশি নয়। বিশেষ্যটি বর্ণের (হরফ) সাদৃশ্যের যত বেশি দৃঢ় হবে, সেটি ব্যুৎপত্তি ও শব্দ রূপান্তর থেকে ততটাই দূরে থাকবে।
বিরতি (ওয়াকফ) প্রদানের ক্ষেত্রে ‘আনা’ শব্দের আলিফ এবং হরকত স্পষ্ট করার জন্য বিরতির সময় যুক্ত হওয়া ‘হা’:
বিরতির অবস্থায় ‘আনা’ শব্দের শেষে যে আলিফটি আসে তা অতিরিক্ত, এটি মূল শব্দের অংশ নয়। আমরা ব্যুৎপত্তির নিরিখে এই সিদ্ধান্ত দিইনি; সর্বনামের ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব, কারণ এগুলো বর্ণের মতোই অব্যয়। বরং আমরা এর অতিরিক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছি এই কারণে যে, মিলিয়ে পড়ার (ওয়াসল) সময় এটি বিলুপ্ত হয়ে যায়, ঠিক যেভাবে বিরতির সময় হরকত স্পষ্ট করার জন্য যুক্ত হওয়া ‘হা’ মিলিয়ে পড়ার সময় বিলুপ্ত হয়ে যায়। আপনি কি দেখেন না যে, মিলিয়ে পড়ার সময় আপনি বলেন: ‘আনা যায়দুন’, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমিই তোমার রব}। বিরতির অবস্থায় এটি নূনের পরে আলিফ যোগে লেখা হয়, কিন্তু উচ্চারণে আলিফটি থাকে না। এটি মূলত বিরতির অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই লেখা হয়েছে। ফলে মিলিয়ে পড়ার সময় আলিফের পড়ে যাওয়া ঠিক সেই ‘হা’ পড়ে যাওয়ার মতো যা বিরতির সময় হরকত স্পষ্ট করার জন্য যুক্ত করা হয়। আপনি কি দেখেন না যে, যখন আপনি বিরতি দেন এবং ‘নিক্ষেপ করো’ অর্থ প্রকাশ করতে চান, তখন আপনি বলেন: ‘ইরমিহ’। আবার যখন মিলিয়ে পড়েন, তখন বলেন: ‘ইরমি ইয়া রাজুল’। সুতরাং ‘আনা’ শব্দের আলিফটি ‘ইরমিহ’ শব্দের ‘হা’-এর মতোই অতিরিক্ত। আলিফ দিয়ে ফাতাহ (যবর) স্পষ্ট করা হয়েছে, যেমন ‘হা’ দিয়ে কাসরাহ (যের) স্পষ্ট করা হয়েছে; কারণ ‘হা’ বর্ণের অবস্থান আলিফের নিকটবর্তী। এবং এর অনুরূপ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ما حكاه سيبويه أن من العرب من يقول في الوقف: "قالا" وهو يريد "قال"، فيبين الحركة بالألف، وقد قالوا1 في الوقف: "أَنَهْ" فبينوا الفتحة بالهاء كما بينوها بالألف، وكلتاهما ساقطة في الوصل.
"إجراء العرب كثيرا من ألفاظها في الوصل مجراها في الوقف":
فأما قول الشاعر:
أنا سيف العشيرة فاعرفوني
… حميدا قد تذريت السناما
فإنه أجراه في الوصل على حد ما كان عليه في الوقف، وعلى هذا قول أبي النجم:
أنا أبو النجم وشعري شعري
أي: وشعري الذي سمعت به، وقد أجرت العرب كثيرا من ألفاظها في الوصل على حد ما تكون عليه في الوقف، وأكثر ما يجيء ذلك في ضرورة الشعر، حكى سيبويه عن العرب "ثلاثهَ رْبَعه" بفتح الهاء من ثلاثة وحذف الهمزة من أربعة وإلقاء حركتها على الهاء، وكان قياسه إذا حركها أن يردها تاء، إلا أنها لما كانت هاء في الوقف تركها في الوصل على ذلك، وأنشد سيبويه أيضا:
ضخما يحب الخلق الأضخما
يريد الأضخم خفيف الميم، وهذا التثقيل إنما يكون في الوقف ليعلم باجتماع الساكنين في الوقف أنه متحرك في الوصل، حرصا على البيان؛ لأنه معلوم أنه لا يجتمع في الوصل ساكنان، وعلى هذا قالوا: "خالد، وهو يجعل"، فإذا وصلوا قالوا: "خالدٌ يا فتى" فكان سبيله إذا أطلق الميم في "الأضخم" بالنصب أن يزيل التثقيل، إلا أنه أجراه في الوصل مجراه في الوقف للضرورة، ومثله:
--------------------------------------------
সিবাওয়াইহ যা বর্ণনা করেছেন যে, আরবদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা বিরতি প্রদানের সময় (ওয়াকফ) বলেন: "ক্বলা", অথচ তিনি "ক্বালা" বুঝাতে চান; ফলে তিনি আলিফের মাধ্যমে হরকতকে সুস্পষ্ট করেন। আবার তারা বিরতির সময় "আনাহ"ও বলেছেন; ফলে আলিফের মাধ্যমে যেভাবে তারা হরকত স্পষ্ট করেছিলেন, এখানে 'হা' বর্ণের মাধ্যমে জবরকে (ফাতহা) স্পষ্ট করেছেন। আর ওয়াসল বা সংযুক্ত অবস্থায় এ উভয়টিই বিলুপ্ত হয়ে যায়।
"আরবগণ তাদের অনেক শব্দকে সংযুক্ত অবস্থায় সেভাবেই প্রয়োগ করে থাকে যেভাবে তারা বিরতির অবস্থায় করে":
কবির উক্তির ক্ষেত্রে:
আমি গোত্রের তলোয়ার, অতএব তোমরা আমাকে চিনে রাখো... প্রশংসিত অবস্থায় আমি কুঁজের শিখরে আরোহণ করেছি
কেননা তিনি এখানে সংযুক্ত অবস্থায় শব্দটিকে সেভাবেই ব্যবহার করেছেন যেভাবে তা বিরতির অবস্থায় থাকে। আবু নাজম-এর উক্তিটিও এর ওপর ভিত্তি করে:
আমি আবু নাজম এবং আমার কবিতা আমারই কবিতা
অর্থাৎ: আমার সেই কবিতা যার কথা তোমরা শুনেছ। আরবগণ তাদের অনেক শব্দকে সংযুক্ত অবস্থায় সেভাবেই ব্যবহার করেছে যেভাবে সেগুলো বিরতির অবস্থায় থাকে। এটি কবিতার প্রয়োজনেই সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। সিবাওয়াইহ আরবদের থেকে বর্ণনা করেছেন "সালাসাহ রাবা'আহ", যেখানে 'সালাসাহ' শব্দের শেষের 'হা' বর্ণে জবর দেয়া হয়েছে এবং 'আরবা'আহ' শব্দের হামযা বিলুপ্ত করে তার হরকত 'হা' বর্ণের ওপর প্রদান করা হয়েছে। ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী যখন একে হরকত প্রদান করা হয়েছিল, তখন একে 'তা' বর্ণে ফিরিয়ে আনা উচিত ছিল। কিন্তু যেহেতু বিরতির অবস্থায় এটি 'হা' ছিল, তাই তিনি সংযুক্ত অবস্থাতেও একে সেভাবেই রেখে দিয়েছেন। সিবাওয়াইহ আরও উদ্ধৃত করেছেন:
একজন বিশালদেহী, যে বিশালদেহী সৃষ্টিকে পছন্দ করে
তিনি এখানে মিম বর্ণকে হালকা রেখে 'আল-আদখামা' বুঝিয়েছেন। এই দ্বিত্বকরণ বা তাশদীদ প্রদান শুধুমাত্র বিরতির অবস্থায় হয়, যাতে বিরতির সময় দুটি সাকিন একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে জানা যায় যে সংযুক্ত অবস্থায় তা হরকতযুক্ত ছিল। এটি মূলত স্পষ্ট করার প্রয়াস থেকেই করা হয়; কারণ এটি জানা কথা যে সংযুক্ত অবস্থায় দুটি সাকিন একত্রিত হয় না। এই ভিত্তিতেই তারা বলেন: "খালিদ, এবং সে করছে", কিন্তু যখন তারা সংযুক্ত করেন তখন বলেন: "হে যুবক, খালিদ"। অতএব 'আল-আদখাম' শব্দে যখন মিম বর্ণকে জবর দিয়ে মুক্ত করা হয়েছে, তখন তার নিয়ম ছিল দ্বিত্বকরণ দূর করা। কিন্তু তিনি কবিতার প্রয়োজনে সংযুক্ত অবস্থাতেও একে বিরতির অবস্থার মতো বজায় রেখেছেন। আর এর অনুরূপ উদাহরণ হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১১)
ببازل وجناء أو عيهل
… كأن مهواها على الكلكل
يريد العيهل والكلكل، وهذا أكثر من أن أضبطه لك لسعته وكثرته، والذي أذكر منه ومن أشباهه فوق ما يحتاج إليه استظهارا وتأنيسا بالأمثال والنظائر، فإن سيبويه كثيرا ما كان يعتمد في كتابه على إيراد النظائر ليؤنس بها، فكذلك أجرى الشاعر قوله:
أنا سيف العشيرة فاعرفوني
في الوصل مجراه في الوقف.
الأصلي والزائد:
وقول أبي عثمان: كم يكون عددهما في الأصل، وما يزاد فيهما على الأصل؟
قال أبو الفتح1: اعلم أنه إنما يريد بقوله الأصل: الفاء والعين واللام، والزائد: ما لم يكن فاء ولا عينا ولا لاما، مثال ذلك قولك: ضرب، فالضاد من ضرب فاء الفعل، والراء عينه، والباء لامه، فصار مثال ضرب: فعل، فالفاء الأصل الأول، والعين الأصل الثاني، واللام الأصل الثالث، فإذا ثبت ذلك، فكل ما زاد على الضاد والراء والباء من أول الكلمة أو وسطها أو آخرها، فهو زائد، ومعنى زائد أنه ليس بفاء ولا عين ولا لام، وليس يعنون بقولهم: زائد أنه لو حُذف من الكلمة لدلت بعد حذفه على ما كانت تدل عليه وهو فيها، ألا ترى أن الألف من ضارب زائدة، فلو2 حذفتها فقلت: ضَرِب لم يدل على اسم الفاعل بعد الحذف، كما كان يدل عليه قبل الحذف، وكذلك قولهم: مضروب، لو حذفت الميم والواو لم يكن ما بقي من الكلمة
--------------------------------------------
একটি শক্তিশালী ও স্থূলকায় অথবা দ্রুতগামী উষ্ট্রীর পিঠে চড়ে
… যেন তার বুক জমিনে আছড়ে পড়ার স্থান।
তিনি ‘আইহাল’ এবং ‘কালকাল’ শব্দ দুটি বুঝিয়েছেন। এর ব্যাপকতা ও প্রাচুর্যের কারণে এটি আপনার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে সীমাবদ্ধ করা আমার পক্ষে কঠিন। তবে আমি এ থেকে এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো থেকে যা উল্লেখ করছি, তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত—স্মৃতিতে ধারণ করা এবং উদাহরণ ও অনুরূপ বিষয়গুলোর মাধ্যমে পরিচিত হওয়ার জন্য। কারণ সিবওয়াইহি প্রায়ই তাঁর গ্রন্থে অনুরূপ উদাহরণ উপস্থাপনের ওপর নির্ভর করতেন যেন পাঠক তাতে অভ্যস্ত হতে পারে। একইভাবে কবি তাঁর এই পঙ্ক্তিটি প্রয়োগ করেছেন:
আমি গোত্রের তলোয়ার, তাই আমাকে চিনে রাখো
শব্দ সংযোগের সময় এর উচ্চারণ বিরতি বা থামার সময়ের উচ্চারণের মতোই।
মূল এবং অতিরিক্ত:
আবু উসমানের উক্তি: মূল বর্ণসমূহের সংখ্যা কত হয় এবং মূলে সেগুলোর সাথে অতিরিক্ত কী যুক্ত করা হয়?
আবুল ফাতহ বলেন১: জেনে রাখুন যে, তিনি তাঁর ‘মূল’ (আসল) কথাটি দ্বারা কেবল ‘ফা’, ‘আইন’ এবং ‘লাম’ বর্ণত্রয়কে বুঝিয়েছেন। আর ‘অতিরিক্ত’ (যাইদ) দ্বারা যা ‘ফা’, ‘আইন’ বা ‘লাম’ এর কোনোটিই নয় তাকে বুঝিয়েছেন। এর উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: ‘দ-র-ব’ (প্রহার করল)। এখানে ‘দাদ’ বর্ণটি ক্রিয়ার ‘ফা’ বর্ণ, ‘রা’ বর্ণটি তার ‘আইন’ বর্ণ এবং ‘বা’ বর্ণটি তার ‘লাম’ বর্ণ। ফলে ‘দ-র-ব’ শব্দের ওজন বা ছাঁচ হলো: ‘ফা-আ-লা’। সুতরাং ‘ফা’ হলো প্রথম মূল বর্ণ, ‘আইন’ দ্বিতীয় মূল বর্ণ এবং ‘লাম’ হলো তৃতীয় মূল বর্ণ। যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন শব্দের শুরু, মধ্য বা শেষ থেকে ‘দাদ’, ‘রা’ এবং ‘বা’-এর অতিরিক্ত যা কিছু হবে, তা-ই অতিরিক্ত। আর অতিরিক্ত হওয়ার অর্থ হলো তা ‘ফা’, ‘আইন’ বা ‘লাম’-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা ‘অতিরিক্ত’ বলতে এটি বোঝাতে চান না যে, যদি সেটি শব্দ থেকে বাদ দেওয়া হয় তবে বাদ দেওয়ার পরেও শব্দটি সেই অর্থই প্রদান করবে যা সেটি থাকা অবস্থায় করত। আপনি কি দেখেন না যে, ‘দারিব’ (প্রহারকারী) শব্দের আলিফটি অতিরিক্ত; সুতরাং আপনি যদি২ সেটি বাদ দিয়ে ‘দারিিব’ বলেন, তবে বাদ দেওয়ার পর সেটি আর ‘কর্তাবাচক বিশেষ্য’ (ইসমুল ফাঈল) এর অর্থ নির্দেশ করবে না, যেমনটি বাদ দেওয়ার আগে করত। একইভাবে তাঁদের কথা: ‘মাদরুব’ (প্রহৃত); আপনি যদি ‘মিম’ এবং ‘ওয়াও’ বাদ দেন, তবে শব্দের অবশিষ্টাংশ আর আগের অর্থ প্রদান করবে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১২)
دالا على اسم المفعول، كما يدل عليه "مضروب" بكماله، بل لم يكن يمكن النطق بهذه الكلمة وما أشبهها بعد حذف الميم؛ لأن الضاد بعدها ساكنة، والابتداء بالساكن ممتنع كما تعلم. فمما زيد1 في "ضرب" من أوله قولهم: "استضرب" فالهمزة والسين والتاء زوائد؛ لأنه ليس في ضرب شيء من ذلك، ومثاله: استفعل، وكذلك يضرب الياء زائدة، ومثاله يَفْعِل، والزيادة في وسطه قولك: "ضَرُوب" الواو زائدة، ومثاله: فَعُول، والزيادة في آخره، قولك: "ضَرَبان" فالألف والنون زائدتان، ومثاله: فَعَلان، فالأصول يقابل بها في المثال: الفاء، والعين، واللام. ويُلفَظ بالزائد بعينه لفظا في المثال، ولا يقابل به فاء ولا عين ولا لام؛ لأنه لو كان أحد الثلاثة2 لكان أصلا لا زائدا، ألا ترى أنك تقول في "ضروب: فعول"، فتأتي في "فعول" بالواو التي كانت في "ضروب" بعينها؛ لأنها زائدة، فإن تكرر الثاني من الأصول وهو العين كررت في المثال العين بإزائه، فتقول في "ضرّب: فعّل" فتثقل العين من "فعّل"؛ لأنها بإزاء الراء من "ضرّب"، فإن تكرر الأصل الثالث وهو اللام، كررت في المثال اللام بإزائه، فتقول في "ضربب: فعلل" جئت في المثال بلامين، لما كان في ضربب باءان، فإن تكرر الأصلان كلاهما، كررت في المثال العين واللام كلتيهما، تقول في "ضَرَبْرَب: فَعَلْعَل" زدت عينا ولاما لما زدت في "ضربرب" راء وباء، والفاء لم تكرر في كلام العرب إلا في حرف واحد، وهو "مرمريس" وهي3 الداهية والشدة، قال الراجز:
--------------------------------------------
এটি কর্মবাচক বিশেষ্য বা 'ইসম মাফউল'-এর অর্থ নির্দেশ করে, যেমনটি 'মাদরুব' শব্দটির পূর্ণ রূপ দ্বারা নির্দেশিত হয়। বরং 'মীম' বর্ণটি বিলোপ করার পর এই শব্দ বা এর অনুরূপ শব্দগুলো উচ্চারণ করা সম্ভব ছিল না; কারণ এর পরবর্তী বর্ণ 'দাদ' সাকিন (স্বরহীন), আর আপনি জানেন যে সাকিন বর্ণ দিয়ে শব্দ শুরু করা অসম্ভব। 'দারাবা' এর শুরুতে যা অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে তার একটি উদাহরণ হলো তাদের কথা: 'ইস্তাদরাবা'; এখানে হামজা, সীন এবং তা হলো অতিরিক্ত বর্ণ; কারণ 'দারাবা' এর মূল গঠনে এগুলোর কিছুই নেই। এর ছাঁচ বা ওজন হলো 'ইস্তাফআলা'। একইভাবে 'ইয়াদরিবু' শব্দে 'ইয়া' বর্ণটি অতিরিক্ত, আর এর ওজন হলো 'ইয়াফইলু'। শব্দের মাঝখানে অতিরিক্ত বর্ণ হওয়ার উদাহরণ হলো আপনার কথা: 'দারুব'; এখানে 'ওয়াও' অতিরিক্ত এবং এর ওজন হলো 'ফাউল'। আর শব্দের শেষে অতিরিক্ত হওয়ার উদাহরণ হলো আপনার কথা: 'দারাবান'; এখানে আলিফ ও নুন অতিরিক্ত এবং এর ওজন হলো 'ফাআলান'। সুতরাং ওজনে মূল বর্ণগুলোর বিপরীতে 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' রাখা হয়। আর অতিরিক্ত বর্ণটিকে ওজনে তার হুবহু রূপেই উচ্চারণ করা হয়, তার বিপরীতে ফা, আইন বা লাম আনা হয় না; কারণ যদি সেটি এই তিনটির কোনো একটি হতো তবে তা মূল বর্ণ হতো, অতিরিক্ত নয়। আপনি কি দেখছেন না যে আপনি 'দারুব' এর ক্ষেত্রে বলেন 'ফাউল'? ফলে আপনি 'ফাউল' ওজনে সেই 'ওয়াও' বর্ণটিই নিয়ে এসেছেন যা 'দারুব' শব্দে ছিল; কারণ এটি অতিরিক্ত। যদি মূল বর্ণগুলোর দ্বিতীয়টি অর্থাৎ 'আইন' দ্বিত্ব হয়, তবে ওজনেও তার বিপরীতে 'আইন' দ্বিত্ব করা হয়। যেমন আপনি 'দাররাবা' এর ওজনে বলেন 'ফাউয়ালা'; এখানে 'ফাউয়ালা' এর আইন বর্ণটিকে দ্বিত্ব করা হয়েছে কারণ এটি 'দাররাবা' এর 'রা' বর্ণের বিপরীতে অবস্থিত। যদি তৃতীয় মূল বর্ণ অর্থাৎ 'লাম' দ্বিত্ব হয়, তবে ওজনেও তার বিপরীতে 'লাম' দ্বিত্ব করা হয়। যেমন আপনি 'দারবাবা' এর ওজনে বলেন 'ফালালা'; আপনি ওজনে দুটি 'লাম' নিয়ে এসেছেন কারণ 'দারবাবা' শব্দে দুটি 'বা' ছিল। যদি উভয় মূল বর্ণই দ্বিত্ব হয়, তবে ওজনে আইন ও লাম উভয়কেই দ্বিত্ব করা হয়। যেমন আপনি 'দারাবরাব' এর ক্ষেত্রে বলেন 'ফাউলালআল'; আপনি একটি আইন ও একটি লাম বৃদ্ধি করেছেন যেহেতু আপনি 'দারাবরাব' শব্দে একটি 'রা' এবং একটি 'বা' বৃদ্ধি করেছেন। আর আরবদের ভাষায় প্রথম মূল বর্ণ বা 'ফা' বর্ণটি কেবল একটি শব্দ ছাড়া পুনরাবৃত্তি বা দ্বিত্ব হয়নি, আর তা হলো 'মারমারীস'; যার অর্থ হলো মহাবিপদ ও তীব্র সংকট। ছন্দকার বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
داهية حدباء مَرْمَرِيس
ومَرْمَرِيت: في معناه، فمثاله من الفعل1 "فَعْفَعيل"؛ لأنه من المراسة وهي الشدة، فتكررت الفاء والعين، ولا نظير لهذه الكلمة، وإنما بسطت هذا الموضع؛ لأن أكثر من يتعرض للنظر في هذا العلم يسمع الأصل والزائد ولا2 يعرف الغرض فيهما، ولا حقيقة ما يراد بهما، فكشفت هذا المعنى؛ ليشترك في معرفته المبتدئ والمتمكن فيه.
الزيادة للإلحاق ولغيره:
قال أبو عثمان: فمما يزاد ما يلحق بناء ببناء، ومنه ما يكون للمد، ومنه ما يلحق للمعنى، وفيه ما يلحق في الكلام ولا يتكلم به إلا بزائد؛ لأنه وُضع على المعنى الذي أرادوا بهذه الهيئة.
قال أبو الفتح: فصّل في هذه الجمل أنواع الزيادات، وعرّف الغرض في أن زِيدت، وما الذي دعا إلى ذلك.
الزيادة للإلحاق:
فما زِيد فيه للإلحاق كثير، منه "كَوْثَر وصَيْرَف" فالواو والياء فيهما زائدتان؛ لأنهما من الكثرة والصرف، وهما ملحقان "بجعفر وسلهب"، وكذلك "جَدْوَل" الواو فيه زائدة ملحقة "بجعفر" وقد قيل: "جدول" بكسر الجيم، فالواو في هذا ملحقة له ببناء "درهم وهجرع وهبلع"
--------------------------------------------
চরম এবং কঠিন বিপদ: 'মারমারিস' এবং 'মারমারিত' এর অর্থ একই। ক্রিয়া থেকে এর উদাহরণ হলো 'ফাফাঈল'; কারণ এটি 'মুরাসাহ' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কঠোরতা। এখানে 'ফা' এবং 'আইন' বর্ণটি দ্বিত্ব হয়েছে এবং এই শব্দটির কোনো অনুরূপ নেই। আমি এই স্থানটি বিস্তারিত আলোচনা করেছি; কারণ এই শাস্ত্র নিয়ে যারা পড়াশোনা করেন, তাদের অধিকাংশই মূল এবং অতিরিক্ত বর্ণ সম্পর্কে শোনেন কিন্তু সেগুলোর উদ্দেশ্য জানেন না, এমনকি সেগুলোর দ্বারা কী অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে তার হাকিকত বা বাস্তবতাও জানেন না। তাই আমি এই অর্থটি উন্মোচন করেছি, যাতে এই বিষয়ে শিক্ষানবিশ এবং পারদর্শী—উভয়েই জ্ঞানের অংশীদার হতে পারে।
সমন্বয় (ইলহাক) এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত বর্ণের ব্যবহার:
আবু উসমান বলেন: অতিরিক্ত বর্ণগুলোর মধ্যে কোনোটি একটি গঠনকে অন্য গঠনের সাথে সমন্বয় করার জন্য আসে, কোনোটি দীর্ঘ করার (মাদ্দ) জন্য, আবার কোনোটি অর্থের প্রয়োজনে যুক্ত হয়। আবার কোনোটি বাক্যে এমনভাবে যুক্ত হয় যে, সেই অতিরিক্ত বর্ণ ছাড়া শব্দটি উচ্চারণই করা হয় না; কারণ তারা যে অর্থটি চেয়েছেন তার জন্য শব্দটিকে এই আকৃতিতেই গঠন করা হয়েছে।
আবুল ফাতহ বলেন: এই বাক্যগুলোতে তিনি অতিরিক্ত বর্ণের প্রকারভেদগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং কেন সেগুলো বৃদ্ধি করা হয়েছে তার উদ্দেশ্য ও কারণ পরিষ্কার করেছেন।
সমন্বয়ের (ইলহাক) জন্য অতিরিক্ত বর্ণ:
সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত বর্ণ ব্যবহারের উদাহরণ অনেক, যেমন: 'কাওসার' এবং 'সাইরাফ'। এখানে 'ওয়াও' এবং 'ইয়া' অতিরিক্ত; কারণ শব্দ দুটি 'কাসরাহ' (প্রাচুর্য) এবং 'সারফ' (বিনিময়) থেকে উদ্ভূত। এগুলোকে 'জা'ফার' ও 'সালহাব' এর ওজনের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। একইভাবে 'জাদওয়াল' শব্দে 'ওয়াও' বর্ণটি অতিরিক্ত যা 'জা'ফার' ওজনের সাথে সমন্বিত। কেউ কেউ 'জাদওয়াল' শব্দটিকে 'জিম' বর্ণে কাসরা (যের) দিয়েও পড়েছেন। সেক্ষেত্রে এর 'ওয়াও' বর্ণটি শব্দটিকে 'দিরহাম', 'হিজরা' এবং 'হিবলা' এর গঠনের সাথে সমন্বয় করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن ذلك "سَمَيْدَع" الياء فيه زائدة ملحقة بفرزدق ومثاله فَعَيْلَل، وكذلك "فَدَوْكس". وهذا1 أكثر من أن أضبطه لك، وإنما أذكر منه ومن نظائره ما يدعو إليه القياس.
الزيادة للمد:
وقوله: ومنه ما يكون للمد، يعني الواو في "عجوز وعمود"، والياء في "جَرِيب وقَضِيب"، والألف في "كتاب وسراج" لم يرد بهذه وما أشبهها إلا امتداد الصوت والتكثير بها، ولأنهم كثيرا ما يحتاجون إلى المد في كلامهم؛ ليكون المد عوضا من شيء قد حذفوه، أو للين الصوت فيه2، ألا ترى أن الضرب الثالث من الطويل قد أُلزم حرف المد نحو قول الشاعر:
أقيموا بني النعمان عنا صدوركم
… وإلا تقيموا صاغرين الرءوسا
ونحو قول الآخر، أنشدناه أبو علي لقطري بن الفجاءة:
لعمرك إني في الحياة لزاهد
… وفي العيش ما لم ألق أم حكيم
ونحو قول الآخر، قرأته على أبي علي في نوادر أبي زيد:
جزوني بما ربيتهم وحملتهم
… كذلك ما إن الخطوب دوال
فهذه الألف في "دوال"، والياء في "حكيم"، والواو في3 "الرءوس"، تسمى الردف. وإنما لزمت هذا الضرب لتكون عوضا من لام مفاعيلن، وهذا مبين في علم القوافي، وإنما يعرفه أهل العروض، فلهذا ونحوه ما زِيدت
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে 'সামাইদা', এতে 'ইয়া' অক্ষরটি অতিরিক্ত এবং এটি 'ফারাজদাক'-এর ওজনে যুক্ত করা হয়েছে, এর ছন্দোকাঠামো হলো 'ফা'আইলাল'। অনুরূপভাবে 'ফাদাওকাস'। এটি আপনার জন্য সংকলন করে দেওয়া আমার সাধ্যাতীত, তবে আমি এখানে এর মধ্য থেকে এবং এর অনুরূপ উদাহরণগুলো থেকে তাই উল্লেখ করছি যা নিয়মতান্ত্রিক বিশ্লেষণের (কিয়াস) দাবি রাখে।
দীর্ঘায়নের (মাদ্দ) জন্য অতিরিক্ত বর্ণ:
এবং লেখকের উক্তি: 'এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা দীর্ঘায়নের জন্য হয়', অর্থাৎ 'আজূয' ও 'আমূদ'-এর মধ্যে বিদ্যমান 'ওয়াও', 'জারীব' ও 'কাদীব'-এর মধ্যে বিদ্যমান 'ইয়া' এবং 'কিতাব' ও 'সিরাজ'-এর মধ্যে বিদ্যমান 'আলিফ'—এগুলো এবং এ জাতীয় উদাহরণগুলোর মাধ্যমে কেবল শব্দের ধ্বনিকে প্রলম্বিত করা এবং এর মাধ্যমে ধ্বনির ব্যাপ্তি বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। কারণ আরবগণ তাদের বক্তব্যে প্রায়শই দীর্ঘায়নের প্রয়োজন বোধ করে; যাতে এই দীর্ঘায়ন তাদের বিলুপ্তকৃত কোনো কিছুর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে অথবা ধ্বনিকে কোমল করার জন্য। আপনি কি দেখছেন না যে, তবিল ছন্দের তৃতীয় প্রকারের (দারব) জন্য দীর্ঘায়নের বর্ণ (হরফে মাদ্দ) আবশ্যক করা হয়েছে, যেমন কবির উক্তি:
হে নু'মানের বংশধররা, তোমরা আমাদের দিক থেকে তোমাদের বক্ষসমূহ ফিরিয়ে নাও (বিদ্বেষ বর্জন করো) … নতুবা তোমরা অবনত মস্তকে হীনাবস্থায় লীন হবে।
এবং অন্যজনের উক্তির ন্যায়, যা আবু আলী আমাদের শুনিয়েছেন কাতারি ইবনুল ফুজায়া থেকে:
তোমার জীবনের কসম, নিশ্চয়ই আমি পার্থিব জীবনের প্রতি অনীহা পোষণকারী … এবং জীবন ধারণের প্রতিও, যতক্ষণ না আমি উম্মে হাকিমের সাক্ষাৎ পাই।
এবং অপর একজনের উক্তির ন্যায়, যা আমি আবু আলীর নিকট আবু যায়িদের 'নাওয়াদির' গ্রন্থে পাঠ করেছি:
আমি তাদের লালন-পালন করেছি এবং তাদের ভার বহন করেছি, কিন্তু তারা আমাকে তার প্রতিদান দিয়েছে … বস্তুত বিপদাপদ এভাবেই আবর্তিত হয়।
সুতরাং 'দাওয়াল'-এর এই আলিফ, 'হাকীম'-এর ইয়া এবং 'রুউস'-এর ওয়াও-কে 'রাদিফ' বলা হয়। এবং এগুলো এই ছন্দের প্রকারের জন্য আবশ্যক করা হয়েছে যাতে এগুলো 'মাফাইলুন'-এর 'লাম'-এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। এটি ইলমুল কাওয়াফি (অন্ত্যমিল শাস্ত্র)-তে সুস্পষ্ট করা হয়েছে এবং ছন্দশাস্ত্রবিদরাই কেবল এটি জানেন। এ কারণে এবং এই জাতীয় কারণেই এগুলো অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
هذه1 المدات، وللحاجة1 إلى الاتساع في كلامهم؛ لأنهم قد2 يعبرون عن المعنى الواحد بالألفاظ الكثيرة، وهذا يضطر إلى الاتساع، فمن ها3 هنا احتِيج إلى الزوائد المكثرة للكلام.
الزيادة للمعنى:
وقوله: ومنه ما يلحق للمعنى، يريد به نحو التنوين الذي دخل الكلام علامة للخفة والتمكن في الأسماء في نحو "زيدٌ وزيدًا وزيدٍ". ومن ذلك: حروف المضارعة إنما جاءت لتجعل الفعل يصلح لزمانين نحو قولك: زيد يقرأ، ألا ترى أنه يصلح أن يكون إخبارا عنه بأنه في حال قراءة، ويصلح أن يكون يراد به أنه4 سيقرأ فيما يستقبل، ومن ذلك: ألف "أنا"، إنما زيدت لبيان حركة النون، وقد مضى ذكرها، ومن ذلك: ألف الندبة، إنما زيدت لمد الصوت وإظهار التفجع على المندوب، فهذه الأشياء ونحوها مما زيد للمعنى، ألا ترى أن الدلالة على ذلك5 المعنى تزول بزوال ذلك الزائد، إلا أن الندبة قد تكون بغير ألف تقول: وا زيدُ6.
الزيادة من أصل الوضع:
وقوله: "ومنه ما يلحق في الكلام ولا يتكلم به إلا بزائد؛ لأنه وُضع على المعنى الذي أرادوا بهذه الهيئة" فإنما يعنى به: افتقر ونحوه، ألا ترى أن الماضي من هذا اللفظ لم ينطق به إلا على مثال: افتعل، والزيادة لازمة له، وهي
--------------------------------------------
এই১ দীর্ঘস্বরসমূহ, এবং কথোপকথনে প্রশস্ততার প্রয়োজনের১ জন্য; কারণ তারা কখনো কখনো একটি অর্থকে বহু শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে, আর এটি ভাষার প্রশস্ততার দিকে ধাবিত করে। এই কারণেই এখানে কথাকে বর্ধিতকারী অতিরিক্ত বর্ণসমূহের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
অর্থের জন্য আধিক্য:
এবং তাঁর উক্তি: "এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা অর্থের খাতিরে যুক্ত হয়", এর মাধ্যমে তিনি তানভীন জাতীয় বিষয়গুলোকে বুঝিয়েছেন যা বিশেষ্যসমূহের (ইসম) লঘুতা এবং সামর্থ্যের চিহ্ন হিসেবে বাক্যে প্রবেশ করে, যেমন: "যাইদুন, যাইদান এবং যাইদিন"। অনুরূপভাবে: মুদারি-র বর্ণসমূহ কেবল এই জন্য আনা হয়েছে যাতে ক্রিয়াটি (ফেল) দুটি কালের জন্য উপযোগী হয়, যেমন তোমার কথা: "যাইদ ইয়াগরাউ (যাইদ পড়ছে/পড়বে)"। তুমি কি দেখছ না যে, এটি সে বর্তমানে পাঠ করছে—এই সংবাদ প্রদানের উপযোগী, আবার এর দ্বারা এটিও উদ্দেশ্য হতে পারে যে৪ সে ভবিষ্যতে পাঠ করবে। অনুরূপভাবে: "আনা" (আমি) শব্দের আলিফ, এটি কেবল নূন-এর হরকত স্পষ্ট করার জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ইতিপূর্বে এর আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে: বিলাপের আলিফ (আলিফুন নুদবাহ), এটি কেবল আওয়াযকে দীর্ঘ করার জন্য এবং যার জন্য বিলাপ করা হচ্ছে তার প্রতি শোক প্রকাশের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। সুতরাং এই বিষয়গুলো এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলো অর্থের জন্য বর্ধিত হয়। তুমি কি দেখছ না যে, সেই অতিরিক্ত অংশটি বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে সেই অর্থের দ্যোতনাও বিলুপ্ত হয়ে যায়? তবে বিলাপ (নুদবাহ) কখনো কখনো আলিফ ছাড়াও হতে পারে, যেমন তুমি বলো: "ওয়া যাইদ"৬।
মূল গঠনগত দিক থেকে আধিক্য:
এবং তাঁর উক্তি: "এবং এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা বাক্যে যুক্ত হয় এবং অতিরিক্ত অংশ ব্যতীত তা ব্যবহৃত হয় না; কারণ তারা যে অর্থটি চেয়েছিল তা এই কাঠামোর উপরই গঠন করা হয়েছে", এর দ্বারা তিনি "ইফাতাকারা" এবং এর অনুরূপ শব্দগুলোকে বুঝিয়েছেন। তুমি কি দেখছ না যে, এই শব্দের অতীতকাল (মাদি) কেবল "ইফতাআলা" ওজনের অনুসারেই উচ্চারিত হয়? আর অতিরিক্ত অংশটি এর জন্য অপরিহার্য, এবং তা হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الهمزة والتاء في أوله. وقولهم: "فقير" يشهد بأنهم كأنهم1 قد قالوا فيه: "فَقُرَ" مثل "ظَرُفَ فهو ظريف"، هذا أخص به من فَعِلَ وفَعَلَ، وإن كانوا قد قالوا: "شَقِيَ فهو شَقِيّ وقدَر فهو قدير"، فإن باب "فَعِيل" أن يكون "لفعُل" وإذا2 كانوا قد3 قالوا: "يَذَرُ ويَدَعُ" ولم يقولوا: "وَذَرَ ولا وَدَعَ" استغناء عنهما "بترك" على ما قال سيبويه، مع أن بين الماضي والمضارع نسبا قريبا، فأن يقولوا: "فقير" ولا يقولوا: "فقر" -وإن كان عليه جاء- أجدر؛ لبعد ما بين الاسم والفعل4، وإن كان في هذه الأسماء كثير من أحكام الأفعال، فإن الفعل بالفعل أشبه منه بالاسم، وكذلك "اشتد" لم ينطق به بلا زيادة، لم يقولوا: شَدَّ في هذا المعنى، على أن أبا زيد قد حكاها في كتاب5 مصادره، وقولهم: "شديد" كأنهم قد قالوا فيه: "شدُدت" وإن لم يجيئوا به. قال سيبويه: استغنوا "بافتقر واشتد" عن "فقُرتُ وشددتُ"، كما استغنوا "باحمارّ عن حَمِرَ"، يريد أن "احمارّ" أيضا لم ينطق بالماضي منه إلا بزائد نحو "احمرّ واحمارّ"، قال سيبويه أيضا: كما استغنوا "بارتفع" عن "رفُع" وعليه جاء "رفيع"، يريد أن قولهم: "رَفِيع: فَعِيل" و"فعيل" إنما يأتي من "فعُل" نحو كرم فهو كريم. وكذلك قولهم: "ارْعَوَى الرجل" وزنه افعلَّ ولم أسمعهم استعملوا الماضي منه بلا زيادة، وليس من لفظ رعيت؛ لأن لام "رعيت" ياء، ولام "ارعوى" واو؛ لظهورها6 كما ترى. وليس "الرعوى من "ارعوى" إنما هي "فَعْلَى" من "رعيت" قُلبت ياؤها واوا، بمنزلة
--------------------------------------------
এর শুরুতে হামজা এবং তা রয়েছে। তাদের উক্তি "ফাকীর" সাক্ষ্য দেয় যে তারা যেন এই ক্ষেত্রে "ফাকুরা" বলেছে, যেমন "যারুফা ফাহুওয়া যারীফ" (সে মার্জিত হয়েছে তাই সে মার্জিত) বলা হয়। এটি "ফা-ইলা" এবং "ফা-আলা" অপেক্ষা এর সাথে অধিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। যদিও তারা "শাকিয়া ফাহুওয়া শাকী" (সে দুর্ভাগা হয়েছে তাই সে দুর্ভাগা) এবং "কাদারা ফাহুওয়া কাদীর" (সে সক্ষম হয়েছে তাই সে সক্ষম) বলেছে, তবুও "ফা-ঈল" ওজনটি মূলত "ফা-উলা" ওজনের জন্য নির্ধারিত। আর যেহেতু সিবওয়াইহ-এর উক্তি অনুযায়ী তারা "তারকা" (বর্জন করা) ব্যবহারের মাধ্যমে "ওয়াজারা" ও "ওয়াদা'আ" এর আবশ্যকতা থেকে বিমুখ হয়ে "ইয়াযারু" ও "ইয়াদাউ" ব্যবহার করেছে, যদিও মাযী (অতীতকাল) ও মুদারে (বর্তমানকাল) এর মধ্যে নিকটবর্তী সম্পর্ক বিদ্যমান, সেহেতু তাদের "ফাকীর" বলা এবং "ফাকুরা" না বলা—যদিও এটি সেই নিয়মেই এসেছে—অধিক যুক্তিসঙ্গত; কারণ বিশেষ্য ও ক্রিয়ার মধ্যকার দূরত্ব অনেক বেশি। যদিও এই বিশেষ্যগুলোর মধ্যে ক্রিয়ার অনেক বিধান বিদ্যমান, তবুও একটি ক্রিয়া বিশেষ্যের তুলনায় অন্য একটি ক্রিয়ার সাথে অধিক সদৃশ হয়। অনুরূপভাবে "ইশতাদদা" (তীব্র হওয়া) শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণ ব্যতীত উচ্চারিত হয়নি; তারা এই অর্থে "শাদ্দা" বলেনি, যদিও আবু যায়েদ তাঁর মাসদার (মূলধাতু) বিষয়ক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তাদের উক্তি "শাদীদ" (তীব্র) দ্বারা যেন মনে হয় তারা এতে "শাদুদতু" বলেছে, যদিও তারা তা প্রয়োগ করেনি। সিবওয়াইহ বলেন: তারা "ইফ্তাকারা" ও "ইশতাদদা" ব্যবহারের মাধ্যমে "ফাকুরতু" ও "শাদুদতু" এর প্রয়োজনীয়তা থেকে বিমুখ হয়েছে, যেমনটি তারা "হামিরা" এর পরিবর্তে "ইহামাররা" ব্যবহার করে অভাব পূরণ করেছে। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, "ইহামাররা" এর মাযী বা অতীতকালীন রূপও অতিরিক্ত বর্ণ ব্যতীত উচ্চারিত হয় না, যেমন "ইহমাররা" ও "ইহামাররা"। সিবওয়াইহ আরও বলেন: যেমন তারা "রাফু'আ" এর পরিবর্তে "ইরতাফা'আ" ব্যবহার করেছে এবং এরই ভিত্তিতে "রাফী" শব্দটি এসেছে। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, তাদের উক্তি "রাফী: ফা-ঈল" মূলত "ফা-উলা" থেকে আগত, যেমন "কারুমা ফাহুওয়া কারীম"। অনুরূপভাবে তাদের উক্তি "ইরআওয়া আর-রাজুলু" (লোকটি নিবৃত্ত হলো) এর ওজন হলো "ইফআল্লা"। আমি তাদেরকে অতিরিক্ত বর্ণ ছাড়া এর অতীতকালীন রূপ ব্যবহার করতে শুনিনি। এটি "রাআইতু" শব্দমূল থেকে ব্যুৎপন্ন নয়; কারণ "রাআইতু" এর শেষ বর্ণ হলো 'ইয়া', আর "ইরআওয়া" এর শেষ বর্ণ হলো 'ওয়াও', যেমনটি আপনি স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন। "আর-রা'ওয়া" শব্দটি "ইরআওয়া" থেকে আসেনি, বরং এটি "রাআইতু" থেকে "ফা'লা" ওজনে গঠিত হয়েছে যার 'ইয়া' বর্ণটি 'ওয়াও' এ রূপান্তরিত হয়েছে, যেমনটি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
"تَقْوَى"، وكذلك قولهم: "اقطارّ النَّبْتُ واقطَرَّ واشمأززتُ" لم يستعملوها1 إلا بتكرير اللام، فهذا ونحوه مما لم ينطق به إلا بزيادة؛ لأنهم قد يستغنون بالشيء عن الشيء حتى يكون المستغنى عنه مسقطا من كلامهم، ألا ترى أن قولهم: "مَلَامح" إنما هو في القياس جمع "مَلْمَحة"، لا جمع "لمحة"، و"سُمَحاء" إنما هو جمع "سَمِيح" في القياس لا "سَمْح"، و"مَشَابِه" إنما هو جمع "مَشْبَه" لا "شِبْه"، فكأنهم قد نطقوا "بملمحة وسميح ومشبه" لما جاء الجمع عليها، إلا أنهم استغنوا بسمح عن سميح، وبلمحة عن ملمحة، وبشبه عن مشبه حتى صار المستغنى عنه مسقطا، وقد قال بعضهم: "سميح" وهو شاذ في الاستعمال. وإذا2 كانوا قد نطقوا بالمضارع ولم ينطقوا بالماضي في "وذر وودع" على قرب ما بين الماضي والمضارع، فالجمع على بعده من الواحد أجدر ألا يلزم أن يجيئوا بواحده من أجل مجيئهم به، فهذا شرح هذا.
أبنية الأسماء والأفعال الثلاثية التي لا زيادة فيها:
قال أبو عثمان3: "فأقل الأصول في الأسماء عددا الثلاثة، نحو زيد وعمرو وبكر وعِدْل وبُرْد وجبل وفَخِذ وعَضُد وزُفَر ومِعًى، والأفعال نحو ضَرَب وعلم وضُرِب وظرُف"3.
--------------------------------------------
"তাকওয়া", এবং তেমনিভাবে তাদের বক্তব্য: "ইকত্বাররান নাবতু", "ইকত্বাররা" এবং "ইশমাআযযাতু" তারা শেষ বর্ণের দ্বিত্ব করা ব্যতীত ব্যবহার করেননি। এটি এবং এর সদৃশ শব্দগুলো কেবল অতিরিক্ত বর্ণ সহকারেই উচ্চারিত হয়; কেননা তারা অনেক সময় একটির মাধ্যমে অন্যটির অভাব পূরণ করেন, ফলে যা থেকে বিমুখ হওয়া হয় সেটি তাদের কথোপকথন থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, তাদের শব্দ "মালামিহ" এর গঠনমূলক নিয়ম (কিয়াস) অনুযায়ী এটি "মালমাহাহ" এর বহুবচন, "লামহাহ" এর নয়। আর "সুমাহা" কিয়াস অনুযায়ী "সামিহ" এর বহুবচন, "সাম্হ" এর নয়। "মাশাবিহ" শব্দটি "মাশবাহ" এর বহুবচন, "শিব্হ" এর নয়। যেন তারা "মালমাহাহ", "সামিহ" এবং "মাশবাহ" শব্দগুলো উচ্চারণ করেছেন বলেই এগুলোর বহুবচন এমন এসেছে, তবে তারা "সামিহ" এর পরিবর্তে "সাম্হ" দ্বারা, "মালমাহাহ" এর পরিবর্তে "লামহাহ" দ্বারা এবং "মাশবাহ" এর পরিবর্তে "শিব্হ" দ্বারা উদ্দেশ্য পূর্ণ করেছেন, ফলে মূল শব্দটি পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে কেউ কেউ "সামিহ" শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা ব্যবহারে বিরল। আর যেহেতু তারা "ওয়াদার" এবং "ওয়াদাআ" শব্দদ্বয়ের ক্ষেত্রে অতীত কাল ও বর্তমান কালের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান কাল ব্যবহার করেছেন কিন্তু অতীত কাল ব্যবহার করেননি, তাই বহুবচন যা একবচন থেকে বেশ দূরবর্তী, সেখানে বহুবচন ব্যবহারের কারণে একবচনটি নিয়ে আসা আবশ্যক না হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। এটিই হলো এর ব্যাখ্যা।
অতিরিক্ত বর্ণহীন তিন অক্ষরবিশিষ্ট বিশেষ্য ও ক্রিয়ার গঠনপ্রকৃতি:
আবু উসমান বলেন: "বিশেষ্যের মূল বর্ণের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো তিনটি, যেমন: যাইদ, আমরু, বাকর, ইদল, বুরদ, জাবাল, ফাযিয, আদুদ, যুফার এবং মিআন। আর ক্রিয়ার উদাহরণ হলো: দরাবা, আলিমা, দুরিবা এবং যরুফা।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قال أبو الفتح: اعلم أن الأسماء التي لا زيادة فيها تكون على ثلاثة أصول: أصل ثلاثي، وأصل رباعي، وأصل خماسي، والأفعال التي لا زيادة فيها تكون على أصلين: أصل ثلاثي، وأصل رباعي. ولا يكون فعل1 على خمسة أحرف لا زيادة فيه2، وأنا أذكر كل أصل في موضعه مستقصى3 بحول الله وقوته3.
فالأسماء الثلاثية تكون على عشرة أمثلة: "فَعْل، وفَعَل، وفَعِل، وفَعُل، وفِعْل4، وفِعِل، وفِعَل، وفُعْل، وفُعُل، وفُعَل" وجميع هذه الأمثلة تكون اسما وصفة، فمثال:
فَعْل ويكون اسما صفة. فالاسم كلب وكعب، والصفة ضخم وخدل.
وفَعَل يكون يكون اسما وصفة. فالاسم رسن وطلل، والصفة بطل وحسن.
وفَعِلٌ يكون اسما وصفة. فالاسم كبد وفخذ، والصفة حذر وفطن.
وفَعُل يكون اسما وصفة. فالاسم رجل وعضد، والصفة يقظ وندس.
وفِعْل يكون اسما وصفة. فالاسم جذع وعدل، والصفة نضو، ونقض.
وفِعِل يكون اسما وصفة. فالاسم إبل وإطل، والصفة قالوا: امرأة بلز، وهي الضخمة5. وقد قالوا: أتان إبد5، فأما قول الشاعر:
أرتني حِجْلا على ساقها
… فهش الفواد لذاك الحِجِل
فقلت ولم أخف عن صاحبي
… ألا بأبي أصل تلك الرِّجِل
--------------------------------------------
আবু আল-ফাতহ বলেন: জেনে রেখো, যেসব ইসম (নামশব্দ) অতিরিক্ত অক্ষর থেকে মুক্ত, সেগুলো তিনটি মূল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে হয়: তিন অক্ষর বিশিষ্ট মূল, চার অক্ষর বিশিষ্ট মূল এবং পাঁচ অক্ষর বিশিষ্ট মূল। আর যেসব ফি’ল (ক্রিয়াপদ) অতিরিক্ত অক্ষর থেকে মুক্ত, সেগুলো দুটি মূল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে হয়: তিন অক্ষর বিশিষ্ট মূল এবং চার অক্ষর বিশিষ্ট মূল। অতিরিক্ত অক্ষরহীন কোনো ফি’ল১ পাঁচ অক্ষর বিশিষ্ট হয় না২, আর আমি আল্লাহর সামর্থ্য ও শক্তিতে৩ প্রত্যেকটি মূল কাঠামোকে তার নিজ নিজ স্থানে সবিস্তারে৩ বর্ণনা করব।
তিন অক্ষর বিশিষ্ট ইসমগুলো দশটি ওজন বা ছাঁচে আসে: "ফাল, ফায়াল, ফায়িল, ফায়ুল, ফিল৪, ফিয়িল, ফিয়াল, ফুল, ফুয়ুল এবং ফুয়াল"। এই ওজনগুলোর প্রতিটিই ইসম (সংজ্ঞাবাচক নাম) এবং সিফাত (গুণবাচক নাম) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন:
ফাল: এটি ইসম এবং সিফাত হিসেবে আসে। ইসমের উদাহরণ হলো কালব (কুকুর) এবং কাব (গোড়ালি), আর সিফাতের উদাহরণ হলো দাখম (বিশাল) এবং খাদল (স্থূল)।
ফায়াল: এটি ইসম এবং সিফাত হিসেবে আসে। ইসমের উদাহরণ হলো রাসান (লাগাম) এবং তালাল (ধ্বংসাবশেষ), আর সিফাতের উদাহরণ হলো বাতাল (বীর) এবং হাসান (সুন্দর)।
ফায়িল: এটি ইসম এবং সিফাত হিসেবে আসে। ইসমের উদাহরণ হলো কাবিদ (কলিজা) এবং ফাখিদ (ঊরু), আর সিফাতের উদাহরণ হলো হাযির (সতর্ক) এবং ফাতিন (বুদ্ধিমান)।
ফায়ুল: এটি ইসম এবং সিফাত হিসেবে আসে। ইসমের উদাহরণ হলো রুজুল (পা) এবং আদুদ (বাহু), আর সিফাতের উদাহরণ হলো ইয়াকিজ (জাগ্রত) এবং নাদুস (চৌকস)।
ফিল: এটি ইসম এবং সিফাত হিসেবে আসে। ইসমের উদাহরণ হলো জিয (কাণ্ড) এবং ইদল (সমপরিমাণ), আর সিফাতের উদাহরণ হলো নিদউ (শীর্ণ) এবং নিকদ (ক্লান্ত উট)।
ফিয়িল: এটি ইসম এবং সিফাত হিসেবে আসে। ইসমের উদাহরণ হলো ইবিল (উট) এবং ইতিল (কোমর)। সিফাত হিসেবে আরবরা বলে: 'ইমরাআতুন বিলিয', যার অর্থ স্থূলাঙ্গী নারী৫। তারা আরও বলে: 'আতানুন ইবিদ' (বন্য গাধা)৫। কবির বাণীর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়:
সে আমাকে তার পায়ের নূপুর দেখাল
… তখন সেই নূপুরের কারণে হৃদয় প্রফুল্ল হলো
আমি বললাম এবং আমার সঙ্গীর কাছে তা গোপন করলাম না
… হায়! আমার পিতা যেন সেই পায়ের মূলের জন্য উৎসর্গিত হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويروى بِيبَا1، فإنما أراد به الإتباع لإقامة الوزن وأصل بنائها2 على "فِعْل" ساكنة العين. ألا ترى أن هذا الشعر من الضرب الثالث من المتقارب ووزنه في العروض فَعَل. وبيته:
وأبني3 من الشعر شعرا عويصا
… ينسي الرواة الذي قد رووا
فلو أسكن الجيم لفسد البيت كله؛ لأنه كان يصير ضربه على فِعْل، وهذا فاسد ممتنع. وأما قولهم: "رجل جِئِز، ومِحِك، ونِفِر" ونحوه، فإنما أصل بنائه على4 فَعِل كحَذِر. ولكنهم كسروا فاء الفعل إتباعا من أجل حرف الحلق، كما قالوا: شِعِير وبِعِير، فكسروا فاء الفعل لكسرة عينه وعلى هذا تقول: "في رَغِيف رِغِيف" بكسر الراء. وحكى أبو زيد عن العرب: "الجنة لمن خاف وِعِيدَ اللهِ" ولا تقول: "في جَرِيب وقَفِيز: جِرِيب ولا5 قِفِيز"؛ لأنه ليس ثاني حروفهما حرفا من حروف الحلق، فهذا تشعب، ثم نعود لما كنا فيه:
وفِعَل: يكون اسما وصفة. فالاسم نحو6 ضلع وعنب، والصفة: قوم عدى ومكان سوى. وقال النابغة:
باتت ثلاث ليالٍ ثم واحدة
… بذي المجاز تراعي منزلا زيما
وفُعْل: يكون اسما وصفة. فالاسم: قفل وبرد، والصفة: حلو ومر.
وفُعُل: يكون اسما وصفة. فالاسم عنق وطنب، والصفة: سرح وطلق.
وفُعَل: يكون اسما وصفة. فالاسم ربع وخزز، والصفة: ختع وسكع، وقال7 الراجز:
--------------------------------------------
এবং 'বিবা' ১ পাঠ করা হয়, এর দ্বারা মূলত ছন্দের ওজন ঠিক রাখার জন্য পরবর্তী স্বরের অনুসরণ উদ্দেশ্য এবং এর মূল গঠন হলো 'ফি'ল' যার দ্বিতীয় বর্ণটি সাকিনযুক্ত। আপনি কি দেখছেন না যে, এই কবিতাটি মুতাকারিদ ছন্দের তৃতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত এবং ইলমে আরুজে এর ওজন হলো 'ফা'আল'। এর পঙক্তি হলো:
এবং আমি কবিতা থেকে এমন জটিল কবিতা নির্মাণ করছি ৩ … যা বর্ণনাকারীদের তারা যা বর্ণনা করেছে তা ভুলিয়ে দেয়।
যদি তিনি 'জীম' বর্ণকে সাকিন করতেন তবে পুরো পঙক্তিটিই নষ্ট হয়ে যেত; কারণ তখন এর ছন্দ 'ফি'ল' ওজনে হয়ে যেত, আর এটি ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্ভব। আর তাদের কথা: "রজুলুন জিইজ, মিহিক এবং নিফির" ইত্যাদি, এগুলোর মূল গঠন ৪ হলো 'হাজির' এর ন্যায় 'ফা'ইল' ওজনে। কিন্তু তারা কণ্ঠনালীর বর্ণ (হলকী বর্ণ) থাকার কারণে পরবর্তী স্বরবর্ণের অনুসরণে শব্দের প্রথম বর্ণে কাসরা (জের) দিয়েছে, যেমন তারা বলে: 'শিয়ীর' এবং 'বিয়ীর', তারা শব্দের দ্বিতীয় বর্ণের কাসরার কারণে প্রথম বর্ণে কাসরা দিয়েছে এবং এই নিয়মেই আপনি 'রাগীফ' শব্দের ক্ষেত্রে রা বর্ণে কাসরা দিয়ে 'রিগীফ' বলেন। আবু যায়েদ আরবদের থেকে বর্ণনা করেছেন: "জান্নাত তার জন্য যে আল্লাহর ধমকিকে ভয় করে।" এবং আপনি 'জারীব' এবং 'কাফীজ' এর ক্ষেত্রে 'জিরীব' বা ৫ 'কিফীজ' বলবেন না; কারণ তাদের দ্বিতীয় বর্ণটি কণ্ঠনালীর বর্ণ নয়। এটি একটি অপ্রাসঙ্গিক শাখা আলোচনা, এবার আমরা আমাদের মূল বিষয়ে ফিরে যাই:
'ফি'আল': এটি বিশেষ্য এবং বিশেষণ উভয়ই হয়। বিশেষ্য যেমন ৬ 'দিল'আ' (পাঁজর) এবং 'ইনাব' (আঙ্গুর), আর বিশেষণ: 'কাওমুন ইদা' এবং 'মাকানুন সিওয়া'। নাবিগাহ বলেছেন:
সে তিন রাত অতিবাহিত করল অতঃপর আরও এক রাত … যুল-মাজাযে একাকী একটি মঞ্জিলের খোঁজ করছিল।
'ফু'ল': এটি বিশেষ্য এবং বিশেষণ হয়। বিশেষ্য: 'কুফল' (তালা) এবং 'বুরদ' (চাদর), আর বিশেষণ: 'হুলউ' (মিষ্টি) এবং 'মুরর' (তিক্ত)।
'ফু'উল': এটি বিশেষ্য এবং বিশেষণ হয়। বিশেষ্য 'উনুক' (ঘাড়) এবং 'তুনুব' (তাঁবুর রশি), আর বিশেষণ: 'সারুহ' (দ্রুতগামী) এবং 'তুলুক' (মুক্ত)।
'ফু'আল': এটি বিশেষ্য এবং বিশেষণ হয়। বিশেষ্য 'রুবা' এবং 'খুযায', আর বিশেষণ: 'খুতা' এবং 'সুকা', এবং রাজেয কবি বলেছেন ৭:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২০)
قد لفها الليل بسواق حُطَم
ولا يوجد في الكلام: فِعُل -بكسر الفاء وضم العين- وإنما لم يجئ ذلك كراهية خروجهم من الكسر إلى الضم بناء لازما، وإذا كانوا قد قالوا: اقتُلْ فضموا الهمزة لضمة1 التاء ولم يكسروها على ما كان يجب فيها مع أن بين الهمزة والتاء حاجزا وهو القاف، فألا يخرجوا من كسر إلى ضم بلا حاجز أجدر، فأما قولهم: هو يَضْرِبك. وخروجهم من كسرة الراء إلى ضمة الباء فليس يكسر ما قدمناه؛ لأن هذه الضمة ليست بلازمة، ألا ترى أن النصب والجزم يزيلانها، وإنما يكره من ذلك أن تكون الحركة لازمة، وليس في الكلام اسم على فُعِل -بضم الفاء وكسر العين- إنما هذا بناء يختص به الفعل المبني للمفعول نحو: ضُرِب وقُتِل إلا في اسم واحد وهو دُئِل، وهي2 دُوَيْبَّة وبها سُميت قبيلة أبي الأسود الدؤلي وإنما فُتحت الهمزة في النسب لتوالي الكسرتين مع ياءي الإضافة، فهربوا إلى الفتح، كما قالوا في شَقِرة شَقَريّ، وفي الصَّعِق صَعَقيّ. قال الشاعر3:
جاءوا بجيش لو قيس معرسه
… ما كان إلا كمعرس الدُّئِل
فهذه الأسماء. وأما الأفعال الثلاثية التي لا زيادة فيها، فعلى ضربين: فِعْل مبني للفاعل، وفعل مبني للمفعول. فالمبني للفاعل على ثلاثة أضرب: "فَعَلَ وفَعِلَ وفَعُلَ".
فمثال فَعَل يكون متعديا وغير متعد؛ فالمتعدي نحو: "ضرب وقتل"، وغير المتعدي نحو "جلس ونهض".
وفَعِلَ يكون متعديا وغير متعد، فالمتعدي نحو "شرب وركب"، وغير المتعدي نحو "سلم وقدم".
--------------------------------------------
রাত তাকে এক কঠোর চালকের মাধ্যমে বেষ্টন করেছে।
আর আরবি ভাষায় 'ফি'উল' (ফা-বর্ণে কাসরা এবং আইন-বর্ণে দাম্মা বিশিষ্ট) ওজনে কোনো শব্দ নেই। মূলত আবশ্যিক গঠনের ক্ষেত্রে কাসরা থেকে দাম্মার দিকে যাওয়াকে অপছন্দ করার কারণেই এমনটি ঘটেনি। তারা যখন 'উকতুল' (আদেশসূচক ক্রিয়া) বলে, তখন 'তা' বর্ণের দাম্মার কারণে হামজাতে দাম্মা প্রদান করে, অথচ মূল নিয়ম অনুযায়ী এতে কাসরা হওয়ার কথা ছিল। এক্ষেত্রে হামজা ও 'তা' বর্ণের মাঝে 'কাফ' বর্ণের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও যদি তারা দাম্মা দেয়, তবে কোনো ব্যবধানহীন অবস্থায় কাসরা থেকে দাম্মার দিকে না যাওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। আর তাদের কথা: 'হুয়া ইয়াদরিবুকা' (সে তোমাকে প্রহার করছে)—এক্ষেত্রে 'রা' বর্ণের কাসরা থেকে 'বা' বর্ণের দাম্মার দিকে যাওয়া আমাদের পূর্বোক্ত নিয়মকে খণ্ডন করে না; কারণ এই দাম্মাটি আবশ্যিক বা স্থায়ী নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, নসব (যবর) ও জজম (সাকিন) এই দাম্মাকে দূর করে দেয়? মূলত হারাকাত বা স্বরচিহ্ন যদি আবশ্যিক হয়, তবেই সেটি অপছন্দ করা হয়। আর আরবি ভাষায় 'ফু'ইল' (ফা-বর্ণে দাম্মা এবং আইন-বর্ণে কাসরা বিশিষ্ট) ওজনে কোনো বিশেষ্য নেই। এটি কেবল কর্মবাচ্যের ক্রিয়ার (প্যাসিভ ভয়েস) জন্য নির্দিষ্ট একটি কাঠামো, যেমন: 'দুরিবা' এবং 'কুতিলা'। তবে একটিমাত্র বিশেষ্য শব্দ এর ব্যতিক্রম, আর তা হলো 'দুয়িল'। এটি একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর নাম এবং এর নামানুসারেই আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালির গোত্রের নামকরণ করা হয়েছে। সম্বন্ধবাচক শব্দ (নিসবত) তৈরির সময় দুটি কাসরা এবং 'ইয়া' অক্ষরের আধিক্য এড়ানোর জন্য হামজাতে ফাতহা (যবর) প্রদান করা হয়েছে; তাই তারা ফাতহার দিকে আশ্রয় নিয়েছে। যেমন তারা 'শাক্বিরা' থেকে 'শাক্বারি' এবং 'সা'ইক্ব' থেকে 'সা'আক্বি' বলে থাকে। কবি বলেছেন:
তারা এমন এক সৈন্যদল নিয়ে এসেছে যে, যদি তাদের বিশ্রামের স্থান পরিমাপ করা হয়... তবে তা 'দুয়িল' প্রাণীর বিশ্রামের স্থানের মতোই (ক্ষুদ্র) হবে।
এগুলো হলো বিশেষ্য সংক্রান্ত আলোচনা। আর অতিরিক্ত অক্ষর বর্জিত ত্রিমূলীয় ক্রিয়া (ফে'ল সুলাসি মুজাররাদ) দুই প্রকার: কর্তৃবাচ্য (মা'লুম) এবং কর্মবাচ্য (মাজহুল)। কর্তৃবাচ্যের গঠন তিন প্রকার: 'ফা'আলা', 'ফা'ইলা' এবং 'ফা'উলা'।
'ফা'আলা' ওজনের উদাহরণ সকর্মক (মুতা'আদ্দি) এবং অকর্মক (লাজিম) উভয়ই হয়; সকর্মক যেমন: 'দারা-বা' (প্রহার করা) এবং 'কাতা-লা' (হত্যা করা), আর অকর্মক যেমন: 'জালা-সা' (বসা) এবং 'নাহা-দা' (উঠা)।
'ফা'ইলা' ওজনটিও সকর্মক ও অকর্মক হয়ে থাকে। সকর্মক যেমন: 'শারি-বা' (পান করা) এবং 'রাকি-বা' (আরোহণ করা), আর অকর্মক যেমন: 'সালি-মা' (নিরাপদ থাকা) এবং 'ক্বাদি-মা' (আগমন করা)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২১)
وفَعُلَ لا يكون أبدا إلا غير متعد؛ لأنه إنما جاء في كلامهم للهيئة التي يكون عليها الفاعل لا لشيء يفعله قصدا لغيره نحو "شرف وظرف"، فأما ما جاء في كلامهم نحو قوله:
وإن أهجه يضجر كما ضَجْرَ بازلٌ
… من الأدم دبرت صفحتاه وغاربه
فإنما أراد به الشاعر ضَجِرَ ودَبِرَتْ، ولكنه أسكن الحرف استثقالا للكسرة، وعلى هذا قالوا: "قد كَرْمَ الرجلُ" يريدون: كرُم، وقالوا: "لَقَضْوَ الرجلُ" يريدون: لَقَضُو الرجلُ، فأسكنوا المضموم كما أسكنوا المكسور، ولم يجئ من هذا شيء في المفتوح لخفة الفتحة، ألا ترى أن من قال: فَخْذ ورَجْل وهو يريد: فَخِذًا ورَجُلًا، لم يقل في جَمَل: جَمْل لخفة الفتحة، إلا أنهم قد أنشدوا للأخطل:
وما كل مبتاع ولو سَلْفَ صَفْقُهُ
… براجع ما قد فاته بِرِداد
قالوا: أراد سَلَفَ، ولكنه اضطُر فخفّف المفتوح، وهذا عندهم من الشاذ، فهذا ما قال1 أصحابنا فيه، ويحتمل عندي وجها آخر، وهو أن يكون مخففا من فَعِل مكسور العين، ولكنه فِعْل غير مستعمل إلا أنه في تقدير الاستعمال وإن لم ينطق به، كما أن قولهم: "تفرقوا عبادِيدَ وشماطِيطَ"، كأنهم قد نطقوا فيه بالواحد من هذين الجمعين وإن لم يكن مستعملا في اللفظ، فكأنهم2 استغنوا بسَلَفَ هذا المفتوح عن ذلك المكسور أن ينطقوا به غير مسكن.
وإذا كانوا قد جاءوا بجموع لم ينطقوا لها بآحاد، مع أن الجمع لا يكون إلا عن واحد، فأن يستغنى بفَعَل عن فَعِل من لفظه ومعناه -وليس بينهما إلا فتحة عين هذا وكسرة عين ذاك- أجدر.
--------------------------------------------
'ফাউলা' ওজোনটি সর্বদা কেবল অকর্মক হিসেবেই ব্যবহৃত হয়; কারণ আরবদের বক্তব্যে এটি কেবল কর্তার নির্দিষ্ট কোনো অবস্থার বর্ণনার জন্যই আসে, অন্য কারো প্রতি উদ্দেশ্যমূলক কোনো কাজের জন্য নয়। যেমন: 'শারাফা' (সে মর্যাদাবান হয়েছে) এবং 'যারাফা' (সে মার্জিত হয়েছে)। আর তাদের বক্তব্যে যা এসেছে, যেমন কবির উক্তি:
আর যদি আমি তার নিন্দা করি, তবে সে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে যেমন অতিষ্ঠ হয় নয় বছরের প্রৌঢ় উট ... চামড়া ছিঁড়ে যার দুই পাঁজর ও কুঁজ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে।
কবি এর মাধ্যমে মূলত 'যাজিরা' ও 'দাবিরাত' বুঝিয়েছেন, কিন্তু কাসরাহর ভার লাঘব করতে তিনি অক্ষরটিকে সুকুনযুক্ত করেছেন। এরই ভিত্তিতে তারা বলে: 'লোকটি সম্মানিত হয়েছে', এর মাধ্যমে তারা মূলত 'কারুমা' বুঝাতে চায়। তারা আরও বলে: 'লোকটি ফয়সালা করেছে', এর মাধ্যমে তারা মূলত 'লাকাদুয়া' বুঝাতে চায়। ফলে তারা যম্মাহযুক্ত অক্ষরকে সুকুনযুক্ত করেছে যেমন তারা কাসরাহযুক্ত অক্ষরকে সুকুনযুক্ত করেছিল। ফাতহাহ হালকা হওয়ার কারণে ফাতহাহর ক্ষেত্রে এমন কোনো উদাহরণ পাওয়া যায় না। আপনি কি দেখেন না যে, যারা 'ফাখিজ' ও 'রাজুল' বুঝাতে 'ফাখয' ও 'রাজল' বলে, তারা ফাতহাহ হালকা হওয়ার কারণে 'জামাল'-কে 'জামল' বলে না? তবে তারা আল-আখতালের একটি পঙ্ক্তি পাঠ করে থাকে:
প্রত্যেক ক্রেতাই, যদিও তার লেনদেন অতীতে সম্পন্ন হয়ে থাকে, যা হাতছাড়া হয়ে গেছে তা সে আর ফিরে পায় না।
তারা বলেন: তিনি 'সালাফা' বুঝিয়েছেন, কিন্তু ছন্দের প্রয়োজনে ফাতহাহযুক্ত শব্দটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন। তাদের মতে এটি একটি বিরল বা ব্যতিক্রমী উদাহরণ। আমাদের সহকর্মীরা এ বিষয়ে যা বলেছেন তা-ই উপরে বর্ণিত হয়েছে। তবে আমার কাছে এর আরেকটি ব্যাখ্যা সম্ভাব্য মনে হয়, আর তা হলো এটি 'ফায়িলা' (আইন বর্ণ কাসরাহযুক্ত) ওজোনের সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে এই ক্রিয়াটি সরাসরি ব্যবহৃত হয় না, যদিও ব্যবহারের অনুমানে তা বিদ্যমান থাকে যদিও তা মুখে উচ্চারণ করা হয় না। যেমন তাদের বক্তব্য: 'তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল', এখানে তারা যেন এই দুই বহুবচনের একবচন শব্দ উচ্চারণ করেছে যদিও তা শব্দগতভাবে ব্যবহৃত হয় না। ফলে তারা যেন এই ফাতহাহযুক্ত 'সালাফা' ব্যবহারের মাধ্যমে সেই কাসরাহযুক্ত শব্দটি উচ্চারণ করা থেকে বিরত থেকেছে।
আর যখন তারা এমন বহুবচন ব্যবহার করেছে যার একবচন তারা উচ্চারণ করেনি—অথচ বহুবচন তো একবচন থেকেই উদ্ভূত হয়—তবে একই অর্থ ও শব্দমূলের ক্ষেত্রে 'ফায়িলা'-এর পরিবর্তে 'ফায়ালা' ব্যবহার করা অনেক বেশি সংগত, যেহেতু উভয়ের মধ্যে পার্থক্য কেবল আইন বর্ণের ফাতহাহ ও কাসরাহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وأرى أنهم استغنوا بالمفتوح عن المكسور لخفة الفتحة، فهذا ما يحتمله القياس وهو أحسن من أن تحمل الكلمة على الشذوذ ما1 وجدتَ لها2 ضربا من القياس.
فإن قلت: فإنَّا لم3 نسمعهم يقولون: يَسْلَف -بفتح اللام- فما تنكر أن يكون هذا يدل على أنهم لا يريدون: سَلِفَ على وجه، إذ لو كان مرادا عندهم لقالوا في مضارعه: يَسْلَفُ، كا أن من يقول: قد عَلْمَ فيُسكن عين الفعل، لا يقول في مضارعه إلا: يَعْلَمُ، فالجواب أنهم لما4 لم ينطقوا بالمكسور على وجه واستغنوا عنه بالمفتوح، صار عندهم كالمرفوض الذي لا أصل له واجتمعوا على مضارع المفتوح.
وهذا ينبغي أن يكون مما ذكره سيبويه: أنهم يستغنون فيه بالشيء عن الشيء حتى يكون المستغنى عنه مسقطا لا سيما إذا دلت عليه دلالة وهي تسكينهم عين الفعل، وهذا التسكين لم نره في المفتوح البتة.
فإن قلت: إنا5 قد رأيناه في هذا الحرف، فإن نفس الشيء6 المتنازع فيه لا يكون حجة على7 الخصم، إنما يكون حجة ما قد ثبت بلا خلاف، فأما ما الخلاف واقع فيه فلا يكون حجة، ونظير هذا الذي ذهبت إليه في هذه الكلمة من أنهم أسكنوا عينها من مكسور لم ينطقوا به وكأنهم قد نطقوا به، ما ذهب إليه أبو علي في قول الكميت:
وبالعذوات منبتنا نضار
… ونبع لا فصافص في كبينا
--------------------------------------------
আমি মনে করি যে, তারা ফাতহাযুক্ত বর্ণের আধিক্যের কারণে কাসরাযুক্ত বর্ণ হতে বিমুখ হয়েছে ফাতহার লঘুত্বের দরুন। এটি কিয়াসের (নিয়মানুগ যৌক্তিকতা) অনুকূল, এবং শব্দটিকে শায (ব্যতিক্রমী) হিসেবে গণ্য করার চেয়ে এটিই উত্তম যতক্ষণ আপনি কিয়াসের কোনো একটি দিক খুঁজে পান।
যদি আপনি বলেন: আমরা তো তাদের ‘ইসলফ’—লাম-এর ফাতহাসহ—বলতে শুনিনি, সুতরাং এটি কি প্রমাণ করে না যে তারা কোনোভাবেই ‘সালিফা’ (কাসরাসহ) উদ্দেশ্য করেনি? কেননা যদি এটি তাদের কাছে উদ্দিষ্ট হতো, তবে তারা এর মুদারি (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল)-তে ‘ইয়াসলাফু’ বলত। যেমনটি যারা ‘আলমা’ (আইন বর্ণকে সাকিন করে) বলে, তারা এর মুদারি-তে ‘ইয়া’লামু’ ছাড়া অন্য কিছু বলে না। এর উত্তর হলো: যেহেতু তারা কাসরাযুক্ত রূপটি আদৌ উচ্চারণ করেনি এবং ফাতহাযুক্ত রূপের মাধ্যমে তার অভাব পূরণ করেছে, তাই এটি তাদের কাছে একটি পরিত্যক্ত বিষয়ের মতো হয়ে গেছে যার কোনো ভিত্তি নেই এবং তারা ফাতহাযুক্ত রূপের মুদারির ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে।
এটি সিবওয়াইহি যা উল্লেখ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত: যে তারা কোনো কিছুর মাধ্যমে অন্য কিছুর প্রয়োজন এমনভাবে পূরণ করে যে, যার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় তাকে তারা বিলুপ্ত করে দেয়। বিশেষ করে যখন এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ থাকে, আর তা হলো ক্রিয়ার আইন (দ্বিতীয়) বর্ণকে সাকিন করা। আর এই সুকুন আমরা ফাতহাযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে আদৌ দেখি না।
যদি আপনি বলেন: আমরা তো এই বর্ণের ক্ষেত্রে তা দেখেছি। তবে (উত্তর হলো) বিতর্কিত বিষয়টি নিজেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দলিল হতে পারে না। দলিল কেবল তা-ই হতে পারে যা কোনো মতভেদ ছাড়াই প্রমাণিত। কিন্তু যেখানে মতভেদ বিদ্যমান, তা দলিল হতে পারে না। এই শব্দের ক্ষেত্রে আমি যে অভিমত গ্রহণ করেছি—অর্থাৎ তারা এমন এক কাসরাযুক্ত মূল থেকে আইন বর্ণকে সাকিন করেছে যা তারা উচ্চারণ করেনি, অথচ মনে হয় যেন তারা তা উচ্চারণ করেছে—তার অনুরূপ উদাহরণ হলো আল-কুমাইত-এর কবিতায় আবু আলি যা উল্লেখ করেছেন:
এবং আল-আযাওয়াতে (উর্বর ভূমিতে) আমাদের উৎপত্তিস্থল হলো নুদার ও নাবা বৃক্ষ, আমাদের শস্যক্ষেতে কোনো ফসফাসাহ (একপ্রকার ঘাস) নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يكون فُعِلَ منقولا من فَعُلَ أبدا؛ لأن فَعُلَ لا يتعدى، والفعل لا ينقل إلى فُعِلَ حتى يكون متعديا قبل النقل.
ألا ترى أن "ضَرَبَ" متعد؛ فلذلك جاز أن تبنيه للمفعول فتقول: "ضُرب" وكذلك "ركب" ثم تقول: "رُكب"، و"فَعُل" لا يتعدى أبدا، فلا يجوز أن تبنيه للمفعول؛ لأنك إذا لم تذكر الفاعل ولم يكن ثم مفعول يقوم مقامه في أن يجعل الفعل حديثا عنه، بقي الفعل حديثا عن غير محدث عنه، وهذا محال.
فإن أقمت الظرف مقام الفاعل جاز أن تبني فُعِل من فَعُل نحو ظُرِف في هذا المكان، فأما قول القطامي:
ونُفْخُوا عن مدائنهم فطاروا
وقول أبي النجم:
لو عُصْرَ منه البان والمسك انعصر
فإنما أريد به: "نُفِخُوا، وعُصِرَ" ولكنه خفف الكلمة بحذف الكسرة، فأما1 قولهم: "قد قيل، وخيف" ونحوهما، فأصلهما: "قُوِل، وخُوِف"، ثم غُيِّرا بعد ذلك، وهذا مبين مشروح في موضعه بحول الله.
فهذه أبنية الأسماء والأفعال الثلاثية التي لا زيادة فيها.
أبنية الأسماء والأفعال الرباعية لا زيادة فيها:
قال أبو عثمان: وتكون الأسماء والأفعال على أربعة أحرف ليس فيها زائد، فالأسماء نحو "جعفر وقِمَطْر وسِبَطْر ودِرَفْس، ومثل جعفر سَلْهَب"،
--------------------------------------------
'ফুইলা' (fu'ila) রূপটি কখনোই 'ফাউলা' (fa'ula) রূপ থেকে স্থানান্তরিত হয় না; কারণ 'ফাউলা' অকর্মক হয়, আর ক্রিয়াকে ততক্ষণ পর্যন্ত 'ফুইলা' (কর্মবাচ্য) রূপে স্থানান্তর করা যায় না যতক্ষণ না তা স্থানান্তরের পূর্বে সকর্মক হয়।
আপনি কি দেখেন না যে "দ্বরাবা" (daraba) সকর্মক; একারণেই একে কর্মবাচ্য হিসেবে গঠন করা বৈধ, ফলে আপনি বলেন: "দুরিবা" (duriba)। তদ্রূপ "রাকিবা" (rakiba), এরপর আপনি বলেন "রুকিবা" (rukiba)। কিন্তু 'ফাউলা' (fa'ula) কখনোই সকর্মক হয় না, তাই একে কর্মবাচ্যে রূপান্তর করা জায়েজ নয়; কারণ আপনি যখন কর্তার (ফায়িল) উল্লেখ করবেন না এবং সেখানে এমন কোনো কর্ম (মাফউল) থাকবে না যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ক্রিয়াটিকে তার সম্পর্কে সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করবে, তখন ক্রিয়াটি এমন কিছু সম্পর্কে সংবাদ হিসেবে থেকে যাবে যার সম্পর্কে কোনো সংবাদ দেওয়া হচ্ছে না, আর এটি অসম্ভব।
তবে আপনি যদি ক্রিয়া সংগঠনের স্থান বা কালকে (যরফ) কর্তার স্থলাভিষিক্ত করেন, তবে 'ফাউলা' থেকে 'ফুইলা' গঠন করা জায়েজ হবে, যেমন: "যুরিফা ফী হাযাল মাকান" (এই স্থানটি চমৎকার হয়েছে)। আর আল-ক্বাতামির উক্তিটির ক্ষেত্রে:
এবং তাদের শহরগুলো থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, ফলে তারা পলায়ন করেছিল
এবং আবু নাজমের উক্তি:
যদি তা থেকে বন ও কস্তুরী নিংড়ানো হতো তবে তা নিংড়ে বের হতো
এখানে মূলত "নুফিখু" এবং "উসিরা" উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু কাসরাহ (জের) বিলুপ্ত করার মাধ্যমে শব্দটিকে সহজ বা লঘু করা হয়েছে। আর তাদের কথা: "ক্বিলা" (বলা হয়েছে), "খীফা" (ভীত হয়েছে) এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর ক্ষেত্রে সেগুলোর মূল রূপ ছিল: "কুউইলা" এবং "খুউইফা", পরবর্তীতে সেগুলোকে পরিবর্তন করা হয়েছে। আল্লাহর শক্তিতে এটি তার নির্দিষ্ট স্থানে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এগুলো হলো সেই সকল অতিরিক্ত বর্ণহীন ত্রিমৌলিক (সুলাসী) বিশেষ্য ও ক্রিয়ার গঠনপ্রণালী।
অতিরিক্ত বর্ণহীন চর্তুমৌলিক (রুবায়ী) বিশেষ্য ও ক্রিয়ার গঠনপ্রণালী:
আবু উসমান বলেন: বিশেষ্য ও ক্রিয়া চারটি অক্ষরের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয় যাতে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকে না। বিশেষ্য যেমন "জা'ফার", "ক্বিমাত্বর", "সিবাত্বর" এবং "দিরাফ্স", আর জা'ফারের ওজনে রয়েছে "সালহাব"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وهذه الأشياء في الأربعة تكون أسماء وصفات، وأما1 الأفعال التي على أربعة أحرف2 ليس فيها زائد فنحو "دَحْرَجَ وسَرْهَفَ" وما أشبه ذلك، فالثلاثة والأربعة تشترك فيها الأسماء والأفعال على ما ذكرت لك.
قال أبو الفتح: اعلم أن الأسماء الرباعية التي لا زيادة فيها تجيء على ستة أمثلة: خمسة وقع عليها إجماع أهل العربية، وواحد تجاذبه الخلاف وهي: "فَعْلَل، وفِعْلِل، وفُعْلُل، وفِعْلَل، وفِعِلّ، وفُعْلَل".
ففَعْلَل يكون اسما وصفة. فالاسم "جعفر وصعتر"، والصفة "سلهب وصقعب".
وفِعْلِل: يكون اسما وصفة. فالاسم "قرطم وعظلم"، والصفة "صمرد وهرمل وخرمل وخضرم وضمرز ولطلط ودردح" وإنما أكثرت من هذا؛ لأن أبا العباس ذكر أن فِعْلِلا في الصفة قليل.
وفُعْلُل يكون اسما وصفة. فالاسم "برثن وترتم"، والصفة "كلكل وقلقل".
وفِعْلَل يكون اسما وصفة. فالاسم "قلفع وقرطع"، والصفة "هجرع وهبلع"، وقد قيل: إن الهاء في "هجرع وهبلع" زائدة، وإنهما من "البلع والجرع"، ومثالهما على هذا القول "هِفْعَل". وقد حكي عن الخليل أنه كان يقول: إن الهاء في "هِرْكَوْلَة" زائدة؛ لأنها تَرْكُل3 في مشيها وهي في هذا القول "هِفْعَوْلَة".
هذا قولهم كما ترى، وإنما ارتكبوه على شذوذه عن النظائر؛ لأن الاشتقاق
--------------------------------------------
এই বিষয়গুলো চতুর্মূলীয় (চার অক্ষর বিশিষ্ট) শব্দের ক্ষেত্রে বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয়ই হয়ে থাকে। আর যেসকল ক্রিয়া কোনো অতিরিক্ত অক্ষর ছাড়াই চার অক্ষর বিশিষ্ট হয়, সেগুলো হচ্ছে যেমন: ‘দাহরাজা’ (গড়িয়ে দেওয়া) এবং ‘সারহাফা’ (উত্তমরূপে লালন-পালন করা) এবং এই জাতীয় শব্দ। সুতরাং আমি আপনার নিকট যা উল্লেখ করেছি, সেই অনুযায়ী বিশেষ্য ও ক্রিয়া উভয়ই ত্রিমূলীয় ও চতুর্মূলীয় শব্দের ক্ষেত্রে অংশীদার বা অন্তর্ভুক্ত।
আবু আল-ফাতহ বলেন: জেনে রাখুন যে, অতিরিক্ত অক্ষরহীন চতুর্মূলীয় বিশেষ্যগুলো ছয়টি ওজনে বা কাঠামোতে আসে: এর মধ্যে পাঁচটির ব্যাপারে আরবি ভাষাবিদগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং একটির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। সেগুলো হলো: ‘ফাল্লাল’, ‘ফিল্লিল’, ‘ফুল্লুল’, ‘ফিল্লাল’, ‘ফিয়িল্ল’ এবং ‘ফুল্ল্যাল’।
‘ফাল্লাল’ ওজনটি বিশেষ্য এবং বিশেষণ উভয়ই হয়। বিশেষ্য যেমন: ‘জা’ফার’ (ছোট নদী) এবং ‘সা’তার’ (থাইম জাতীয় উদ্ভিদ), আর বিশেষণ যেমন: ‘সালহাব’ (দীর্ঘকায়) এবং ‘সাক’আব’ (দীর্ঘকায় ও শক্তিশালী)।
‘ফিল্লিল’ ওজনটি বিশেষ্য এবং বিশেষণ হয়। বিশেষ্য যেমন: ‘কিরতিম’ (কুসুম ফুল) এবং ‘ইজলিম’ (নীল গাছ), আর বিশেষণ যেমন: ‘সিমরিদ’ (শক্তিশালী উটনী), ‘হিরমিল’ (বৃদ্ধা নারী), ‘খিরমিল’ (মূর্খ নারী), ‘খিদরিম’ (দানশীল ব্যক্তি বা গভীর সমুদ্র), ‘দিমরিজ’ (বিদ্বেষী নারী), ‘লিতলিত’ (বৃদ্ধ ব্যক্তি) এবং ‘দির্দাহ’ (বেঁটে ও মোটা বৃদ্ধা)। আমি এগুলোর উদাহরণ আধিক্যের সাথে দিয়েছি কারণ আবু আল-আব্বাস উল্লেখ করেছেন যে, বিশেষণের ক্ষেত্রে ‘ফিল্লিল’ ওজনের প্রয়োগ খুব কম।
‘ফুল্লুল’ ওজনটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয়ই হয়। বিশেষ্য যেমন: ‘বুরসুন’ (হিংস্র প্রাণীর থাবা) ও ‘তুরতুম’ (এক ধরণের উদ্ভিদ বা ধুলোবালি), আর বিশেষণ যেমন: ‘কুলকুল’ (শক্তিশালী বা দ্রুতগতি সম্পন্ন) ও ‘কূলকূল’ (চঞ্চল)।
‘ফিল্লাল’ ওজনটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয়ই হয়। বিশেষ্য যেমন: ‘কিলফাউ’ (মেঘের খণ্ড বা শুষ্ক কাদা) ও ‘কিরতাউ’ (ছোট বর্শা), আর বিশেষণ যেমন: ‘হিজরাউ’ (দীর্ঘকায় ও হালকা পাতলা) ও ‘হিবলাউ’ (পেটুক), কেউ কেউ বলেছেন যে, ‘হিজরাউ’ ও ‘হিবলাউ’ শব্দ দুটিতে ‘হা’ অক্ষরটি অতিরিক্ত, এবং এগুলো মূলত ‘বালউ’ (গিলে ফেলা) ও ‘জারউ’ (ঢোক গেলা) থেকে উৎপন্ন। এই মতানুযায়ী শব্দ দুটির ওজন হবে ‘হিফ’আল’। খলীল থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন: ‘হিরকাউলা’ (সুঠাম দেহী নারী) শব্দে ‘হা’ বর্ণটি অতিরিক্ত; কারণ সে তার হাঁটার সময় ‘তারকুলু’ (পা ঝাপটানো) করে, আর এই মতানুযায়ী এর ওজন হবে ‘হিফ’আউলা’।
যেমনটি দেখছেন এটিই তাদের অভিমত। তারা এই ব্যতিক্রমী নিয়মটি গ্রহণ করেছেন কারণ এটি অন্যান্য সদৃশ শব্দ থেকে বিচ্যুত; কেননা শব্দতাত্ত্বিক বুৎপত্তি (ইশতিকাক)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قادهم إليه، والصواب في ذلك ألا تكون هذه الهاءات مزيدة وهو المذهب الذي عليه أكثر أهل العلم، وإن كان في "هِجْرَع وهِبْلَع وهِرْكَوْلَة" من معنى ما لا هاء فيه، ولكن على أن يكون لفظه قريبا من لفظه، ومعناه كمعناه.
ولهذا الذي ذهبت إليه نظائر في كلام العرب1، من ذلك قولهم للمكان اللين: "دَمِث"، وقالوا: "دِمَثْر" أيضا، وقالوا للطويل المنبسط: "سَبِط" وقالوا فيه أيضا: "سِبَطْر"، فسبط ودمث لفظهما قريب من لفظ سبطر ودمثر ومعناهما واحد1، ولا يمكن أحد أن يقول: إن الراء من حروف الزيادة.
ومثل ذلك قولهم: "ثَعْلَب وثُعَالة، فثعلب رباعي وثعالة" ثلاثي والمعنى فيهما واحد، وسآتي على أكثر من هذا في مواضعه2، فكذلك3 يجوز أيضا أن تحمل "هجرعا وهبلعا وهركولة" على أنها من معنى "الجرع والبلع والركل"4 وقريبة من لفظه هربا من أن تجعل الهاء زائدة في أول الكلمة، وليس موضع زيادتها أول الكلمة، إنما موضعها أن تقع آخِرا، فهذا ما يحتمله القياس عندي5، والقول الأول له وجه أيضا، ألا ترى أنهم حكموا بزيادة الهاء في أمهات، وإن كانت في حشو الكلمة إلا أن الهاء في أمهات تلي الطرف، فهي من6 موضع الزيادة أقرب.
--------------------------------------------
তিনি তাদের সেদিকে নিয়ে গেছেন। এই বিষয়ে সঠিক মত হলো, এই 'হা' অক্ষরগুলো অতিরিক্ত নয় এবং এটিই অধিকাংশ জ্ঞানীর অভিমত; যদিও 'হিজরা', 'হিবলা' এবং 'হিরকাউলা' শব্দগুলোর মধ্যে এমন অর্থ বিদ্যমান যা 'হা' বিহীন শব্দেও পাওয়া যায়; তবে শর্ত হলো এর উচ্চারণ মূল শব্দের উচ্চারণের কাছাকাছি হতে হবে এবং এর অর্থও সেই শব্দের অর্থের মতো হতে হবে।
আমি যে মতটি গ্রহণ করেছি, আরবদের কথাবার্তায় তার অনেক নজির রয়েছে। যেমন, তারা নরম জায়গাকে 'দামিস' বলে এবং তারা একে 'দিমাসর'-ও বলে থাকে। তেমনিভাবে তারা দীর্ঘ ও প্রশস্ত বস্তুকে 'সাবিত' বলে এবং একে তারা 'সিবাতর'-ও বলে থাকে। সুতরাং 'সাবিত' ও 'দামিস' এর উচ্চারণ 'সিবাতর' ও 'দিমাসর' এর কাছাকাছি এবং এদের উভয়ের অর্থও অভিন্ন। আর কেউ এটা বলতে পারবে না যে, এখানে 'রা' অক্ষরটি অতিরিক্ত অক্ষরের অন্তর্ভুক্ত।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো তাদের বক্তব্য: 'সা'লাব' এবং 'সুয়ালা'। এখানে 'সা'লাব' শব্দটি চার অক্ষরবিশিষ্ট আর 'সুয়ালা' শব্দটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট, কিন্তু উভয়ের অর্থ একই। আমি এর যথাযথ স্থানে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করব। একইভাবে 'হিজরা', 'হিবলা' এবং 'হিরকাউলা' শব্দগুলোকে 'জারা', 'বালা' এবং 'রাকাল' এর অর্থের অন্তর্ভুক্ত করা বৈধ, যা উচ্চারণের দিক থেকেও কাছাকাছি; আর এটি করা হয়েছে শব্দের শুরুতে 'হা' অক্ষরটিকে অতিরিক্ত ধরা থেকে বাঁচার জন্য। কেননা শব্দের শুরু বর্ণ অতিরিক্ত হওয়ার স্থান নয়, বরং এর স্থান হলো শেষে থাকা। আমার কাছে যুক্তিগ্রাহ্য বিচারে এটিই সম্ভাব্য বিষয়। তবে প্রথম মতটিরও একটি দিক রয়েছে; আপনি কি দেখছেন না যে, তারা 'উম্মাহাত' শব্দের ক্ষেত্রে 'হা' অক্ষরটিকে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন? যদিও তা শব্দের মাঝখানে অবস্থিত, তবুও 'উম্মাহাত' শব্দের 'হা' প্রান্তের কাছাকাছি হওয়ায় তা অতিরিক্ত হওয়ার স্থানের অধিকতর নিকটবর্তী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفِعَلّ يكون اسما وصفة. فالاسم "صقعل، وفطحل"، والصفة "حبجر وسبطر".
فهذه الأمثلة الخمسة وقع الإجماع عليها.
وأما السادس الذي يتنازع فيه الناس: "فجُخْدَب" ومثاله "فُعْلَل" -بفتح اللام- حكاه أبو الحسن وحده بالفتح وخالفه فيه1 جميع البصريين إلا من قال بقوله، والذي رواه الناس غيره: "جُخْدُب" -بضم الدال- وهو اسم لا صفة، وقد حكى غيره "بُرْقُع وبُرْقَع، وطُحْلُب وطُحْلَب، وجؤذر وجؤذر"، إلا أن جُؤْذَرا ذكر أبو علي أنه أعجمي، قال2: فلا حجة فيه2. والضم في برقع وطحلب هو المعروف الشائع.
فأما قولهم: "عُلَبِط، وعُكَمِس، وهُدَبِد، وخزخز، وجَنَدِل، وذَلَذِل، وزلزل، وعَرَتُن" فهذه كلها محذوفات، وأصلها: "عُلابِط، وعُكامِس، وهُدابِد، وخزاخز، وجَنادِل، وذَلاذِل، وزَلازِل، وعَرَنْتُن" ولكن الألف والنون حُذفتا تخفيفا، ودل على أنه قد حذف منها شيء، أنهم قد نطقوا بها تامة نحو: "علابط وعكامس وجنادل". قال الراجز:
ما راعني إلا جناح هابطا
… على البيوت قوطه العُلابِطا
جناح: قالوا: اسم الراعي، ونصب القوط بهابط؛ لأنه يقال: هبط الشيء وهبطته، وقال الآخر:
أعددت للورد إذا الورد حضر
… غربا جرورا وجلالا خُزَخِزْ
وقال الآخر:
وزعموا وكذبوا بأنه
… لقيهم عُلابِط فشربوا
--------------------------------------------
ফিয়াল্ল (Fi'all) বিশেষ্য এবং বিশেষণ উভয়ই হয়ে থাকে। বিশেষ্য হলো "সাকআল" এবং "ফাতহাল", আর বিশেষণ হলো "হাবাজার" এবং "সাবাত্তার" । এই পাঁচটি উদাহরণের ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আর ষষ্ঠটি যা নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে: তা হলো "জুখদাব", এর উদাহরণ হলো "ফুললাল" —লাম বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে— আবুল হাসান একাই এটি ফাতহা দিয়ে বর্ণনা করেছেন এবং অন্যান্য সকল বসরাবাসী তার বিরোধিতা করেছেন, কেবল যারা তার মতের অনুসারী তারা ছাড়া। অন্যরা যা বর্ণনা করেছেন তা হলো: "জুখদুব" —দাল বর্ণে দম্মা (পেশ) যোগে— এবং এটি একটি বিশেষ্য, বিশেষণ নয়। অন্য কেউ "বুরকু" ও "বুরকা", এবং "তুহলাব" ও "তুহলাবা", এবং "জু'যার" ও "জু'জারা" শব্দগুলো বর্ণনা করেছেন। তবে "জু'যার" সম্পর্কে আবু আলী উল্লেখ করেছেন যে, এটি অনারব শব্দ। তিনি বলেন: সুতরাং এতে কোনো দলিল নেই। আর "বুরকু" এবং "তুহলাব" শব্দদ্বয়ে দম্মা (পেশ) হওয়াই সুপরিচিত ও প্রচলিত।
আর তাদের কথা: "উলাবিত", "উকামিস", "হুদাবিদ", "খুজাখুজ", "জানাদিল", "যালাযিল", "যালযাল" এবং "আরাতুন" —এসবগুলোই মূলত বিলুপ্ত বা সংক্ষেপিত রূপ। এগুলোর মূল রূপ হলো: "উলাবিত", "উকামিস", "হুদাবিদ", "খুজাখুজ", "জানাদিল", "যালাযিল", "যালাযিল" এবং "আরাউনতুন"। কিন্তু উচ্চারণ সহজ করার জন্য আলিফ এবং নুন বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখান থেকে যে কিছু বিলুপ্ত করা হয়েছে তার প্রমাণ হলো তারা এগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপেও উচ্চারণ করেছেন, যেমন: "উলাবিত", "উকামিস" এবং "জানাদিল"। রাজায ছন্দকার বলেছেন:
জানাহ-এর অবতরণ ছাড়া কোনো কিছুই আমাকে আতঙ্কিত করেনি … ঘরের উপর তার উলাবিত (বিশাল) পশুপালের দল।
জানাহ: তারা বলেছেন এটি রাখালের নাম। আর 'কুত' (পশুপাল) শব্দটিকে 'হাবিত' দ্বারা নসব (যবর) প্রদান করা হয়েছে; কারণ বলা হয়: 'আমি বস্তুটি নামিয়েছি' (হাবাত্তুহু) বা 'বস্তুটি নেমেছে' (হাবাতা)। অন্য একজন বলেছেন:
পানির ঘাটে আসার সময়ের জন্য আমি প্রস্তুতি নিয়েছি … একটি বিশাল ভারী বালতি এবং খুজাখুজ (শক্তিশালী) উট।
অন্যজন বলেছেন:
তারা দাবি করেছে এবং মিথ্যা বলেছে যে, তাদের সাথে উলাবিত (ব্যক্তি)-র দেখা হয়েছে এবং তারা পান করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولولا تقدير المحذوف من هذه الأسماء ونحوها، لكانت خارجة عما عليه كلامهم، ألا ترى أنه ليس في كلامهم كلمة يجتمع فيها1 أربعة متحركات، فهذه الأسماء الرباعية.
وأما الأفعال: فعلى ضربين أيضا: فعل مبني للفاعل، وفعل مبني للمفعول. فالمبني للفاعل لا يكون إلا على مثال فَعْلَلَ وهو على ضربين: متعد وغير متعد. فالمتعدي نحو: "دحرج وخرفج" وغير المتعدي نحو: "خندف وهملج"، والمبني للمفعول لا يكون إلا على "فُعْلِلَ" نحو: "قلقل وزلزل"، فهذا ما في الفصل.
الأسماء على خمسة أحرف لا زيادة فيها:
قال أبو عثمان: وتكون الأسماء على خمسة أحرف لا زيادة فيها، ولا يكون ذلك في الأفعال؛ لأن الأسماء أقوى من الأفعال، فجعلوا لها على الأفعال فضيلة2 لقوتها، واستغناء الأسماء عن الأفعال، وحاجة الأفعال إليها، ولا يكون فعل من بنات3 الخمسة البتة.
قال أبو الفتح: اعلم أنه قد عرّف العلة في أن لم يكن فعل من ذوات الخمسة، وأبان عن مذهبه، وقد قال سيبويه في هذا المعنى قولا، أنا أذكره ليضاف إلى هذا القول.
وذلك أن الأفعال لم تكن على خمسة أحرف كلها أصول؛ لأن الزوائد تلزمها
--------------------------------------------
যদি এই বিশেষ্যগুলো এবং এজাতীয় শব্দগুলো থেকে বিলুপ্ত অংশ উহ্য ধরা না হতো, তবে সেগুলো তাদের (আরবদের) বাকরীতি বহির্ভূত হয়ে যেত। আপনি কি দেখছেন না যে, তাদের ভাষায় এমন কোনো শব্দ নেই যেখানে চারটি স্বরযুক্ত বর্ণ (মুতাহাররিক) একত্রে মিলিত হয়? সুতরাং এগুলো হলো চতুরক্ষরী বিশেষ্য।
আর ক্রিয়ার ক্ষেত্রে: সেগুলোও দুই প্রকার: কর্তৃবাচ্য (মাবনি লিল-ফায়েল) এবং কর্মবাচ্য (মাবনি লিল-মাফউল)। কর্তৃবাচ্য কেবল 'ফাউলালা' ওজনের মতো হয় এবং তা দুই প্রকার: সকর্মক (মুতাআদ্দি) ও অকর্মক (লাজিম)। সকর্মক যেমন: "দাহরাজা" ও "খারফাজা" এবং অকর্মক যেমন: "খানদাফা" ও "হামলাজা"। আর কর্মবাচ্য কেবল "ফাউলিলা" ওজনের ওপর হয়, যেমন: "কুলকিলা" ও "জুলজিলা"। এই পরিচ্ছেদে এ বিষয়গুলোই বর্ণিত হয়েছে।
অতিরিক্ত বর্ণহীন পঞ্চাক্ষরী বিশেষ্য:
আবু উসমান বলেন: বিশেষ্য অতিরিক্ত বর্ণহীন পঞ্চাক্ষরী হয়ে থাকে, কিন্তু ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এমনটি হয় না; কারণ বিশেষ্য ক্রিয়ার চেয়ে শক্তিশালী। ফলে বিশেষ্যের শক্তির কারণে এবং বিশেষ্য ক্রিয়ার মুখাপেক্ষী না হওয়ায় বরং ক্রিয়াই বিশেষ্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণে তারা ক্রিয়ার ওপর বিশেষ্যকে এই শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছে। পঞ্চাক্ষরী মূলবিশিষ্ট কোনো ক্রিয়া একেবারেই নেই।
আবু আল-ফাতহ বলেন: জেনে রাখুন যে, তিনি পঞ্চাক্ষরী মূল থেকে ক্রিয়া না হওয়ার কারণ বর্ণনা করেছেন এবং নিজের মত ব্যক্ত করেছেন। সিবওয়াইহ এই বিষয়ে একটি কথা বলেছেন, যা আমি এখানে উল্লেখ করছি যাতে এই বক্তব্যের সাথে তা যুক্ত করা যায়।
আর তা হলো এই যে, ক্রিয়া এমন হতে পারে না যার পাঁচটি বর্ণই মূল বর্ণ (আসল); কারণ অতিরিক্ত বর্ণসমূহ তার সাথে অপরিহার্যভাবে যুক্ত থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনসিফ লিইবনি জিন্নি, শারহু কিতাবিত তাসরীফ লি আবি উসমান আল-মাযিনী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
للمعاني، نحو حروف المضارعة، وتاء المطاوعة في تَدَحْرَجَ، وألف الوصل والنون في نحو1 احْرَنْجَمَ، فكرهوا أن يلزمها ذلك على طولها.
فإن قلت: إنهم قد قالوا: عَنْدَلِيب، وعَضْرَفُوط، وقَبَعْثَرى ونحوها، فألحقوها الزوائد وهي2 خماسية، فإن الأفعال أقعد في الزوائد من الأسماء؛ لأنها تنقلها من حال إلى حال.
الدليل على أن الزيادة بابها الأفعال:
ويدل3 على أن الزوائد بابها الأفعال، أن أبا عثمان ذهب إلى أن الألف والنون الزائدتين4 في آخر فَعْلان5 بابها أن تكون5 في آخر6 غضبان وعطشان ونحوهما من الصفات التي تشبههما. قال: قالوا7: لأن غضبان صفة، والصفة قريبة من الفعل، والزيادة بالفعل وما شابهه أحق. ومن ذلك أيضا أنك لا تجد اسما اجتمع في أوله زيادتان، إلا أن يكون جاريا على الفعل نحو: مُنْطَلق، ومُستَخْرج، فلولا أنهما جاريان على الفعل الذي هو أحق بالزيادة، لما جاز وقوع زائدين8 في أولهما، وكذلك ما أشبههما من أسماء الفاعلين والمفعولين والمصادر والأمكنة.
فقد علمت أن الفعل في الزوائد أقعد، وقد حمل هذا قوما على أن قالوا:
--------------------------------------------
অর্থ প্রকাশের জন্য, যেমন মুদারের (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালবোধক) বর্ণসমূহ, 'তাদাহরাজা' শব্দে মুতাওয়াআতের (ক্রিয়ার ফল প্রকাশকারী) 'তা', এবং 'ইহরাঞ্জামা' জাতীয় শব্দে আলিফে ওয়াসল ও 'নুন'। তারা শব্দের দীর্ঘতা সত্ত্বেও এই অতিরিক্ত বর্ণগুলো তাতে আবশ্যিক হওয়াকে অপছন্দ করেছেন।
আপনি যদি বলেন: তারা তো 'আন্দালীব', 'আদরাফুত' এবং 'কাবা’ছারা' ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যেখানে পঞ্চমূলীয় হওয়া সত্ত্বেও তারা অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত করেছেন। (এর উত্তরে বলা হবে) নিশ্চয়ই বিশেষ্যের চেয়ে ক্রিয়া অতিরিক্ত বর্ণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক উপযুক্ত; কারণ তা শব্দকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত করে।
অতিরিক্ত বর্ণের মূল ক্ষেত্র যে ক্রিয়া, তার প্রমাণ:
অতিরিক্ত বর্ণের মূল ক্ষেত্র যে ক্রিয়া, তার প্রমাণ হলো—আবু উসমান এই মত পোষণ করতেন যে, 'ফালান' ছাঁচের শেষে যে অতিরিক্ত আলিফ ও নুন থাকে, তার মূল ক্ষেত্র হলো 'গদবান' এবং 'আতশান' এর মতো বিশেষণসমূহ এবং এদের সদৃশ অন্যান্য শব্দ। তিনি বলেন: তারা বলেছেন, কারণ 'গদবান' একটি বিশেষণ, আর বিশেষণ ক্রিয়ার নিকটবর্তী; আর ক্রিয়া এবং তার সদৃশ শব্দসমূহ অতিরিক্ত বর্ণ লাভের ক্ষেত্রে অধিক হকদার। এর আরেকটি প্রমাণ হলো, আপনি এমন কোনো বিশেষ্য পাবেন না যার শুরুতে দুটি অতিরিক্ত বর্ণ একত্রিত হয়েছে, যদি না সেটি ক্রিয়ার ধারা অনুযায়ী গঠিত হয়, যেমন: 'মুনতালিক' এবং 'মুস্তাখরিজ'। যদি এই শব্দ দুটি ক্রিয়ার ধারা অনুযায়ী না হতো—যা অতিরিক্ত বর্ণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিক অগ্রগণ্য—তবে তাদের শুরুতে দুটি অতিরিক্ত বর্ণ থাকা বৈধ হতো না। অনুরূপভাবে এদের সদৃশ ইসমে ফায়েল, ইসমে মাফউল, মাসদার এবং স্থানবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
সুতরাং আপনি জানতে পারলেন যে, অতিরিক্ত বর্ণের ক্ষেত্রে ক্রিয়াই অধিক সুদৃঢ়। আর এই বিষয়টিই একদল লোককে এ কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করেছে যে:
--------------------------------------------