(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: -)
إصلاح المساجد من البدع والعوائد   (جمال الدين القاسمي)

القسم: الفقه العام


الكتاب: إصلاح المساجد من البدع والعوائد

المؤلف: محمد جمال الدين بن محمد سعيد بن قاسم الحلاق القاسمي (ت 1332هـ)

خرج أحادثه وعلق عليه: محمد ناصر الدين الألباني

الناشر: المكتب الإسلامي

الطبعة: الطبقة الخامسة 1403هـ-1983م

عدد الصفحات: 279

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইছলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা'ই ওয়াল আওয়াইদ   (জামালুদ্দীন আল-কাসিমি)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: ইছলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা'ই ওয়াল আওয়াইদ

লেখক: মুহাম্মদ জামালুদ্দীন বিন মুহাম্মদ সাঈদ বিন কাসিম আল-হাল্লাক আল-কাসিমি (মৃত্যু ১৩৩২ হি.)

হাদিসগুলোর তাহরিজ (تخريج) ও টীকা প্রদান করেছেন: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি

সংস্করণ: পঞ্চম সংস্করণ, ১৪০৩ হি.-১৯৮৩ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمات

‌‌مقدمة الناشر

…

باب: المقدمات

بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة الناشر:

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

أما بعد فهذه الطبعة الثانية من "إصلاح المساجد" لعلامة الشام الشيخ محمد جمال الدين القاسمي عليه رحمة الله، نقدمها للقارئ المسلم منهاجًا نيرًا لما يجب أن تكون عليه مساجد المسلمين وأحوالهم في عبادتهم.

وقد حافظنا على مقدمة الطبعة الأولى للأستاذ الكبير محب الدين الخطيب عليه رحمة الله.

كما أضفنا إليها تخريجًا لأحاديثها وتعليقًا على بعض مواطن الإشكال فيها لمحدث الشام الشيخ محمد ناصر الدين الألباني -جزاه الله خيرًا.
ভূমিকাগুলো

প্রকাশকের ভূমিকা

…

অধ্যায়: ভূমিকাগুলো

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

প্রকাশকের ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

অতঃপর, সিরিয়ার বিজ্ঞ পণ্ডিত (علامة) শায়খ মুহাম্মদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমী (রহ.) রচিত 'ইসলাহুল মাসাজিদ' গ্রন্থের এটি দ্বিতীয় সংস্করণ। আমরা এটি মুসলিম পাঠকদের নিকট একটি উজ্জ্বল আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করছি, যাতে মুসলিমদের মসজিদসমূহ এবং তাদের ইবাদত-বন্দেগির অবস্থা কেমন হওয়া উচিত সেই দিকনির্দেশনা রয়েছে।

আমরা এই গ্রন্থে বিশিষ্ট উস্তাদ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিব (রহ.)-এর লিখিত প্রথম সংস্করণের ভূমিকাটি অপরিবর্তিত রেখেছি।

পাশাপাশি আমরা এতে সিরিয়ার হাদিস বিশারদ (محدث) শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন) কর্তৃক হাদিসসমূহের সনদ যাচাই ও উৎস নির্দেশ (تخريج) এবং গ্রন্থের কিছু তাত্ত্বিক জটিল বিষয়ের ওপর টিকা সংযোজন করেছি।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ৪)
وإننا نقدم الشكر الجزيل للصديق الكريم الأستاذ ظافر القاسمي الذي سهل لنا طبع هذه الرسالة، كما يسر طبع الكثير من كتب والده، وإنه في عمله هذا يحيي ذكرى والده مصدقًا لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث؛ صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له".

وإنا لنرجو أن ينفع الله بهذه الطبعة كما نفع بسابقتها وبجميع كتب هذا الإمام الجليل، إنه سميع مجيب.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

بيروت 5/ 2/ 1390

زهير الشاويش
আমরা পরম সম্মানিত বন্ধু উস্তাদ জাফর আল-কাসিমীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাদের জন্য এই রিসালাহটি মুদ্রণের কাজ সহজ করে দিয়েছেন, যেমনটি তিনি তাঁর পিতার বহু কিতাব মুদ্রণের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি তাঁর এই কর্মের মাধ্যমে তাঁর পিতার স্মৃতিকে পুনর্জীবিত করছেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদিসের সত্যায়নস্বরূপ: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে তখন তিনটি বিষয় ছাড়া তার আমল বন্ধ হয়ে যায়; সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে"।"

আমরা আল্লাহর নিকট এই প্রত্যাশা রাখি যে, তিনি এই সংস্করণের মাধ্যমে তদ্রূপ উপকার দান করবেন যেরূপ তিনি এর পূর্ববর্তী সংস্করণ এবং এই মহান ইমামের সকল কিতাব দ্বারা করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

বৈরুত ৫/ ২/ ১৩৯০

জুহাইর আশ-শাভিশ
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة الطبعة الأولى:

الحمد لله رب العالمين، وسلام على عباده الصالحين المصلحين وبعد؛ فإن رجال الإصلاح في الدنيا هم مصابيحها الذين تسطع أشعة حكمتهم في ديجور ظلمتها؛ فتتأذى بنور الإصلاح عيون طالما استأنست بالظلام، وتتنكر له نفوس ذاقت لذة الاستفادة من غفلة جماهير العوام. فلا يزال مصباح الإصلاح جادًّا في الظهور والاستعلاء، وأعداء الإصلاح دائبين على مقاوته في الجلاء والخفاء حتى يتم الله نوره.

وإذا أتم الله نوره على عباده الصالحين بإشاعة مذهبهم الصالح فكثر سواد التابعين له يقف الشيطان أمام قلعة منهم رصينة الأركان، متينة البنيان؛ حتى إذا عجز عن فتحها من الخارج تذرع إلى فتحها من الداخل بتلبيسه الحق بالباطل على أهلها، وتسويله لهم أن يبتدعوا في الدين ما ليس منه، وأن يدخلوا عليه ما ليس فيه، إكمالًا له بزعمهم، ومبالغة في التمسك به. وإن مثل الدين في ذلك كمثل ينبوع الماء يتفجر من سفح الجبل عذبًا زلالًا، فلا يجتاز في مجراه بقاع الأرض من أفق إلى أفق حتى تكدره الأيدي فتمس الحاجة إلى إزالة ما زاد فيه من أوضار وأقذار وكانت به تزال الأوضار والأقذار.

لو بغير الماء حلقي شرق … كنت كالغصان بالماء اعتصاري

هنالك تتجدد الحاجة إلى المصلحين فتتألق مصابيحهم في الأمم التي يريد الله بها خيرًا؛ ولعل ذلك من معاني قول الرسول الأكرم والمصلح الأعظم محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم: "يبعث الله على رأس كل مائة من يجدد لهذه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই সকল বান্দাদের ওপর যারা সৎকর্মশীল ও সংস্কারক। অতঃপর; নিশ্চয়ই পৃথিবীতে সংস্কারক ব্যক্তিগণ হলেন আলোকবর্তিকা স্বরূপ, যাদের প্রজ্ঞার আলোকচ্ছটা অন্ধকারের অমানিশায় বিচ্ছুরিত হয়। ফলে সংস্কারের সেই আলোতে এমন সব চক্ষু কষ্ট পায় যারা দীর্ঘকাল অন্ধকারের সাথে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, এবং সেই সব আত্মা একে প্রত্যাখ্যান করে যারা সাধারণ জনগণের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে পার্থিব ফায়দা হাসিলের স্বাদ আস্বাদন করেছে। সংস্কারের এই প্রদীপ সর্বদা আত্মপ্রকাশ ও সমুন্নত হতে সচেষ্ট থাকে, আর সংস্কারের শত্রুরা প্রকাশ্যে ও গোপনে একে প্রতিহত করতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যায়, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করেন।

আর যখন আল্লাহ তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদের ওপর তাঁদের সঠিক মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যমে তাঁর নূর পূর্ণ করেন এবং তাঁদের অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন শয়তান তাঁদের মজবুত ও সুদৃঢ় দুর্গের সামনে এসে দাঁড়ায়; অবশেষে যখন সে বাহির থেকে সেই দুর্গ জয় করতে অপারগ হয়, তখন সে এর অধিবাসীদের নিকট সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে ভেতর থেকে তা জয় করার বাহানা খুঁজে বের করে। সে তাদের প্ররোচিত করে যেন তারা দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন (ابتداع) করে যা তার অংশ নয়, এবং এতে এমন কিছু প্রবেশ করায় যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়—তাদের ধারণা অনুযায়ী দ্বীনকে পূর্ণ করার লক্ষ্যে এবং তা পালনে অতিশয়োক্তি করার মানসে। দ্বীনের বিষয়টি তখন পাহাড়ের পাদদেশ থেকে প্রবহমান স্বচ্ছ সুপেয় পানির ঝর্ণার মতো হয়ে দাঁড়ায়, যা এক দিগন্ত থেকে অন্য দিগন্তে প্রবাহিত হওয়ার সময় মানুষের হাত তাকে ঘোলাটে করে দেয়; ফলে এতে যুক্ত হওয়া ময়লা-আবর্জনা দূর করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, অথচ এই পানি দিয়েই একসময় যাবতীয় অপবিত্রতা দূর করা হতো।

যদি পানি ছাড়া অন্য কিছুতে আমার কণ্ঠরোধ হতো … তবে আমি পানি দিয়েই সেই রুদ্ধশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের চেষ্টা করতাম।

ঠিক সেই মুহূর্তে পুনরায় সংস্কারকদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং আল্লাহ যে জাতির কল্যাণ চান তাদের মাঝে সংস্কারকদের প্রদীপসমূহ প্রজ্বলিত হয়; সম্ভবত এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল ও মহান সংস্কারক মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর মর্মার্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যিনি এই উম্মতের জন্য তার দ্বীনকে সংস্কার (تجديد) করবেন..."
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ৬)
الأمة أمر دينها" 1. ولعل الانحلال الشنيع الذي منينا به في ديننا وسجايانا وقوميتنا وسائر مقومات حياتنا هذه والحياة الخالدة هو الذي دعا إلى ظهور عدد غير قليل من المصلحين في أكثر الأقطار الإسلامية والعربية لعهدنا هذا، فصاحوا في الأمة صيحتهم يدعونها للرجوع بالإسلام إلى ما كان عليه في الصدر الأول من حالته الفطرية التي تشبه ماء الينابيع عذوبة وصفاء، كما دعوها إلى التسلح بمعارف أوروبا وصناعاتها وأنظمتها ووسائل عمرانها؛ لأن ذلك من معدات القوة التي لا غنى لأمة عنها في معترك الحياة الحاضرة.

والسيد جمال الدين القاسمي رحمه الله مصباح من مصابيح الإصلاح الإسلامي التي ارتفعت فوق دياجير حياتنا الحاضر المظلمة -في الثلث الأول من القرن الهجري الرابع عشر- فنفع الله الناس بعلمه وعمله ما شاء أن ينفعهم، ثم انتقل إلى رحمة الله ورضوانه تاركًا من آثاره العلمية المطبوعة ما لا تكاد تخلو منه مكتبة قائل بالإصلاح في العالم الإسلامي. وها نحن نتقدم اليوم إلى أهل الفضل بكتاب من أجل كتبه شأنًا وأجزلها نفعًا وهو كتاب "إصلاح المساجد من البدع والعوائد" ونظنه الكتاب الوحيد المعروف بالعربية في هذا الموضوع. وأملنا في الله وطيد أن ينفع به المسلمين من أهل هذا الجيل وفي كل جيل، والله الموفق

القاهرة: غرة رمضان 1341

محب الدين الخطيب

--------------------------------------------

1 حديث صحيح، خرجته في سلسلة "الأحاديث الصحيحة" رقم "601".
"উম্মাহর দ্বীনি বিষয়াবলি" ১। সম্ভবত আমাদের দ্বীন, স্বভাব-চরিত্র, জাতীয়তা এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের অন্যান্য সকল মৌলিক উপাদানে আমরা যে জঘন্য অবক্ষয়ের শিকার হয়েছি, তাই বর্তমান যুগে অধিকাংশ ইসলামি ও আরব ভূখণ্ডে বহু সংখ্যক সংস্কারকের আবির্ভাবের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা উম্মাহর মাঝে উচ্চকণ্ঠে ডাক দিয়েছেন এবং ইসলামকে তার প্রাথমিক যুগের সেই স্বভাবজাত অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা ঝরনার পানির মতো মিষ্টতা ও শুভ্রতায় ভাস্বর ছিল। পাশাপাশি তাঁরা ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা, শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়নের উপকরণে সজ্জিত হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন; কারণ বর্তমান জীবনসংগ্রামে কোনো জাতির টিকে থাকার শক্তির জন্য এগুলো অপরিহার্য উপাদান।

সাইয়্যেদ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি (রহিমাহুল্লাহ) ইসলামি সংস্কারের সেই প্রদীপসমূহের অন্যতম, যা চতুর্দশ হিজরি শতকের প্রথম তৃতীয়াংশে আমাদের বর্তমান জীবনের অন্ধকারাচ্ছন্ন তমসার মাঝে প্রজ্জ্বলিত হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁর ইলম ও আমলের মাধ্যমে মানুষকে প্রভূত কল্যাণ দান করেছেন। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির পানে পাড়ি জমান এবং উত্তরসূরিদের জন্য এমন সব মুদ্রিত ইলমি নিদর্শন রেখে যান, যা মুসলিম বিশ্বের যেকোনো সংস্কারবাদী চিন্তাবিদের পাঠাগারে প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। আজ আমরা গুণীজনদের সমীপে তাঁর অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও অত্যন্ত উপকারী একটি গ্রন্থ 'ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়া আল-আওয়াইদ' উপস্থাপন করছি। আমাদের জানামতে আরবি ভাষায় এই বিষয়ে এটিই একমাত্র গ্রন্থ। আল্লাহর নিকট আমাদের সুদৃঢ় আশা যে, তিনি বর্তমান ও আগামী সকল প্রজন্মের মুসলিমদের এই গ্রন্থের মাধ্যমে উপকৃত করবেন। আল্লাহই তাওফিকদাতা।

কায়রো: ১লা রমজান ১৩৪১ হিজরি

মুহিব্বুদ্দিন আল-খতিব

--------------------------------------------

১. এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, আমি এটি 'সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা' এর ৬০১ নম্বরে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة الكتاب:

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي أمر بالدعوة إلى سبيله، وجعل الخير والفضل في قبيله، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم النبيين، وإمام المرسلين، وعلى آله الطاهرين، وأصحابه الطيبين.

أما بعد؛ فلما كان الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر هو القطب الأعظم في الدين، والمهم الذي ابتعث الله له النبيين، وجب على كل مستطيع له، أن يقتحم لوجه الله سبله، خشية أن تعم البدعة وتفشو الضلالة، ويتسع الخرق وتشيع الجهالة، فتموت السنة ويندرس الهدي النبوي، ويمحى من الوجود معالم الصراط السوي، ولما أضحت البدع الفواشي، كالسحب الغواشي، يتعذر على البصير حصرها، وضبط أفرادها وسبرها، رأيت أن أدل بجزئي منها على كلياتها، وبنبذة منها على بقياتها، وذلك في البدع والعوائد، الفاشية في كثير من المساجد؛ لأني ابتليت كآبائي بإمامة بعض الجوامع في دمشق الشام، وبالقيام بالتدريس العام، فكنت أرى من أهم الواجبات إعلام الناس بما ألم بها من البدع والمنكرات، فإن القيم مسئول عن إصلاح من في معيته، وفي الحديث: "كلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته" 1 فاستعنت بالله تعالى في الشروع، وتوكلت عليه في

--------------------------------------------

1 صحيح متفق عليه من حديث ابن عمر، وهو مخرج في "تخريج الحلال والحرام" رقم 267.
গ্রন্থের ভূমিকা:

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর পথের দিকে আহ্বান করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর দলভুক্তদের মধ্যে কল্যাণ ও শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রেখেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি নবীগণের মোহর এবং রাসূলগণের ইমাম; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও পুণ্যবান সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর; যেহেতু সৎকাজের আদেশ এবং বর্জনীয় কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করা হলো দ্বীনের প্রধান স্তম্ভ এবং সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার জন্য আল্লাহ নবীগণকে প্রেরণ করেছিলেন, তাই এ কাজে সক্ষম প্রত্যেকের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এর পথে ঝাঁপিয়ে পড়া আবশ্যক; পাছে উদ্ভাবিত বিষয় (بدعة) ও গোমরাহি ছড়িয়ে পড়ে, বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায় এবং মূর্খতা ব্যাপক আকার ধারণ করে, যার ফলে সুন্নাহ (سنة) বিলুপ্ত হয়ে যায়, নববী আদর্শ বিলীন হয় এবং অস্তিত্ব থেকে সঠিক পথের নিদর্শনসমূহ মুছে যায়। আর যেহেতু বর্তমানে ব্যাপকভাবে প্রচলিত উদ্ভাবিত বিষয়গুলো (بدع) আচ্ছন্নকারী মেঘমালার ন্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তির পক্ষেও সীমাবদ্ধ করা এবং এর স্বতন্ত্র রূপগুলো নিরূপণ ও যাচাই করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে, তাই আমি এর কিয়দাংশ দ্বারা সামগ্রিক রূপগুলো এবং এর সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে অবশিষ্ট বিষয়গুলো নির্দেশ করার সংকল্প করেছি। আর তা হলো অনেক মসজিদে প্রচলিত উদ্ভাবিত বিষয় (بدع) ও রীতিনীতি সম্পর্কে; কারণ আমি আমার পিতৃপুরুষদের ন্যায় দামেস্কের কিছু জামে মসজিদের ইমামতি এবং সাধারণ অধ্যাপনার দায়িত্ব পালনের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছি। ফলে আমি মনে করেছি যে, সেখানে বিদ্যমান উদ্ভাবিত বিষয় (بدع) ও বর্জনীয় বিষয়সমূহ (منكرات) সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কেননা একজন দায়িত্বশীল তার অধীনস্থদের সংশোধনের জন্য দায়বদ্ধ। আর হাদিসে রয়েছে: "তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।" ১ সুতরাং আমি শুরু করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করছি...

--------------------------------------------

১ বিশুদ্ধ (صحيح), যা ইবনে উমরের বর্ণিত হাদিস থেকে সর্বসম্মত (متفق عليه); এটি "তাখরিজুল হালাল ওয়াল হারাম" এর ২৬৭ নম্বর হাদিসে সংকলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ৮)
إتمام هذا الموضوع، ونقبت لأجله من شوارد الأسفار، وضممت إليه ما يروي البصائر والأبصار، وعزوت غالب فروعه لأصلها، ردًّا للأمانات إلى أهلها؛ تطمينًا للمرتابين، وتثبيتًا للمؤمنين، فجاء فريدًا في بابه، أمنية لطلابه ولم أجد من سبقني إليه، فاعرّج بالاحتذار عليه بل كان ترتيبه مخترعًا، وتقسيمه مبتدعًا وذلك من فضل الله علي، ومننه التي لا أحصي ثناءها لدي وبه المستعان، وعليه التكلان، في كل آن.

এই বিষয়টি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমি দুর্লভ গ্রন্থরাজি অনুসন্ধান করেছি এবং এতে এমন বিষয়াদি সন্নিবেশিত করেছি যা অন্তর্দৃষ্টি ও চাক্ষুষ দৃষ্টিকে পরিতৃপ্ত করে। আমি এর অধিকাংশ শাখাগত বিষয়কে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি, আমানতসমূহ তাদের প্রকৃত প্রাপকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে; যা সংশয়বাদীদের আশ্বস্ত করতে এবং মুমিনদের দৃঢ়তা প্রদানের নিমিত্তে। ফলে গ্রন্থটি নিজ বিষয়ে অনন্য (فريدًا) হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে, যা জ্ঞানান্বেষীদের নিকট অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত। আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই বিষয়ে আমার অগ্রগামী ছিলেন, যাতে আমি তাঁর অনুসরণের ওজর পেশ করতে পারি; বরং এর বিন্যাস পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ উদ্ভাবিত (مخترعًا) এবং এর শ্রেণিবিভাগ ছিল অভিনব (مبتدعًا)। আর এটি আমার প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ এবং তাঁর সেইসব নেয়ামত যার প্রশংসা গুনে শেষ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সকল সময়ে তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করি।

(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمات:

1- بيان الميزان الذي يعرف به الاستقامة على الطريق والجور عنه:

قال الله سبحانه وتعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ} وقال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} وقال تعالى: {وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونْ} وقال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} .

وهذا الصراط المستقيم الذي وصانا باتباعه هو الصراط الذي كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وهو قصد السبيل، وما خرج عنه فهو من السبل الجائرة. لكن الجور قد يكون جورًا عظيمًا عن الصراط وقد يكون يسيرًا، وبين ذلك مراتب لا يحصيها إلا الله.

فالميزان الذي يعرف به الاستقامة على الطريق والجور عنه هو ما كان رسول الله صلوات الله عليه وأصحابه عليه. والجائر عنه إما مفرط ظالم أو مجتهد أو متأول أو مقلد أو جاهل، فمنهم المستحق للعقوبة، ومنهم المغفور له، ومنهم المأجور أجرًا واحدًا، بحسب نياتهم ومقاصدهم واجتهادهم
‌‌ভূমিকা:

১- সঠিক পথে অবিচল থাকা (استقامة) এবং তা থেকে বিচ্যুত হওয়া (جور) চেনার মানদণ্ডের বর্ণনা:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাঁর জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে।} আল্লাহ তায়ালা বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।} তিনি আরও বলেন: {তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পারো।} আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ (صراط مستقيم), সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা পরহেজগার হতে পারো।}

আর এই সরল পথ (صراط مستقيم), যার অনুসরণের নির্দেশ তিনি আমাদের দিয়েছেন, তা হলো সেই পথ যার ওপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন; আর এটিই হলো মধ্যম পন্থা। যা কিছু এ থেকে বিচ্যুত হয়, তা ভ্রষ্ট পথসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তবে এই বিচ্যুতি (جور) কখনো সঠিক পথ থেকে অনেক বড় হতে পারে, আবার কখনো সামান্য হতে পারে; আর এর মাঝে এমন অনেক স্তর রয়েছে যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারে না।

সুতরাং সঠিক পথে অবিচল থাকা (استقامة) এবং তা থেকে বিচ্যুত হওয়া (جور) চেনার মানদণ্ড হলো তা-ই, যার ওপর আল্লাহর রাসূল (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহি) ও তাঁর সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর যে ব্যক্তি তা থেকে বিচ্যুত হয়, সে হয় সীমালঙ্ঘনকারী জালিম, অথবা গবেষক (مجتهد), অথবা অপব্যাখ্যাকারী (متأول), অথবা অনুসারী (مقلد), অথবা মূর্খ। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে কেউ শাস্তির যোগ্য, কেউ ক্ষমাযোগ্য, আবার কেউ একগুণ সওয়াব প্রাপ্ত হবেন; যা তাদের নিয়ত, উদ্দেশ্য ও গবেষণার (اجتهاد) ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ১০)
في طاعة الله تعالى ورسوله أو تفريطهم. وبالجملة فمن اتبع رسول الله صلى الله عليه وسلم في قوله أو فعله فهو على صراط الله المستقيم، وهو ممن يحبه الله ويغفر له ذنوبه. ومن خالفه في قوله أو فعله فهو مبتدع، متبع لسبيل الشيطان، غير داخل فيمن وعد الله بالمحبة والمغفرة والإحسان.

"أفاده شمس الدين ابن القيم في الباب الثالث عشر في مكايد الشيطان من "إغاثة اللهفان".

2- الترهيب من الابتداع:

لا يخفى أن النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه ومن تبعهم حذروا قومهم من البدع ومحدثات الأمور، وامروهم بالاتباع الذي فيه النجاة من كل محذور. وجاء في كتاب الله تعالى من الأمر بالاتباع بما لا يرتفع معه الترك، قال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} وقال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ} الآية، وهذا نص فيما نحن فيه.

وقد روينا عن أبي الحجاج بن جبير المكي1 -وهو من كبار التابعين وإمام المفسرين- في قوله تعالى: {وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُل} قال: البدع والشبهات.

وقال عز وجل: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} قال ميمون بن مهران -وهو من فقهاء التابعين- الرد إلى الله الرد إلى كتابه، والرد إلى رسوله إذا قبض إلى سنته.

وفي "صحيح مسلم" عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ما من نبي بعثه الله عز وجل في أمة قبلي إلا كان له من

--------------------------------------------

1 هو الإمام سعيد بن جبير.
মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য অথবা তাতে শিথিলতা প্রদর্শন প্রসঙ্গে। সারকথা হলো, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কথা ও কাজে অনুসরণ করবে, সে আল্লাহর সরল পথের ওপর রয়েছে; এবং সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আর যে ব্যক্তি তাঁর কথা বা কাজে রাসূলের বিরোধিতা করবে, সে হলো বিদআত উদ্ভাবনকারী (مبتدع), শয়তানের পথের অনুসারী; সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যাদের সাথে আল্লাহ ভালোবাসা, ক্ষমা ও অনুগ্রহের ওয়াদা করেছেন।

শামসুদ্দিন ইবনুল কায়্যিম তাঁর 'ইগাসাতুল লাহফান' গ্রন্থের শয়তানের চক্রান্ত সংক্রান্ত ত্রয়োদশ অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করেছেন।

২- বিদআত প্রবর্তনের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন:

এটি সুস্পস্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁরা তাঁদের কওমকে বিদআত (البدع) এবং দ্বীনের নব উদ্ভাবিত বিষয়াবলী (محدثات الأمور) সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং তাঁদেরকে অনুসরণের আদেশ দিয়েছেন যার মধ্যে রয়েছে সকল আপদ থেকে মুক্তি। মহান আল্লাহর কিতাবে অনুসরণের এমন নির্দেশ এসেছে যা বর্জনের কোনো অবকাশ রাখে না। মহান আল্লাহ বলেন: “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।” মহান আল্লাহ আরও বলেন: “আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং এরই অনুসরণ করো।” এ আয়াতটি আমাদের আলোচ্য বিষয়ের একটি অকাট্য পাঠ (نص)।

আমরা আবুল হাজ্জাজ বিন জুবায়ের আল-মাক্কী ১ —যিনি প্রবীণ তাবেয়ী (كبار التابعين) এবং মুফাসসিরদের ইমাম ছিলেন— থেকে বর্ণনা করেছি, মহান আল্লাহর বাণী: “আর তোমরা অন্য পথগুলোর অনুসরণ করো না” এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: তা হলো বিদআত (البدع) ও সংশয়সমূহ (الشبهات)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: “অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও; যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখো। এটিই উত্তম এবং পরিণামে চমৎকার।” মাইমুন বিন মেহরান —যিনি তাবেয়ী ফকিহগণের (فقهاء التابعين) অন্যতম— বলেন: আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো তাঁর কিতাবের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া, আর রাসূলের ইন্তেকালের পর তাঁর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো তাঁর সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া।

এবং সহীহ মুসলিম-এ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা আমার পূর্বে এমন কোনো নবী পাঠাননি যার উম্মতের মধ্যে তাঁর কিছু...”

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন ইমাম সাঈদ বিন জুবায়ের।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ১১)
أمته حواريون أصحاب يأخذون بسنته ويقتدون بأمره -وفي رواية: يهتدون بهديه، ويستنون بسنته- ثم إنها تخلف من بعدهم خلوف يقولون ما لا يفعلون، ويفعلون ما لا يؤمرون، فمن جاهدهم بيده فهو مؤمن، ومن جاهدهم بقلبه فهو مؤمن، وليس وراء ذلك من الإيمان حبة خردل".

وفيه عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول في خطبته: "خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة" زاد البيهقي: "وكل ضلالة في النار" 1.

وفي "الصحيحين" و"سنن أبي داود" عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من أحدث في أمرنا ما ليس منه فهو رد" وفي رواية "من صنع أمرًا على غير أمرنا فهو رد"2 أي مردود على فاعله.

وأخرج "الدارمي" أن أبا موسى الأشعري قال لابن مسعود: إني رأيت في المسجد قومًا حلقًا جلوسًا ينتظرون الصلاة في كل حلقة رجل وفي أيديهم حصى فيقول: كبروا مائة فيكبرون مائة فيقول: هللوا مائة فيهللون مائة فيقول: سبحوا مائة فيسبحون مائة. قال: أفلا أمرتهم أن يعدوا سيئاتهم وضمنت لهم أن لا يضيع من حسناتهم شيء. ثم أتى حلقة من تلك الحلق فوقف عليهم فقال: ما هذا الذي أراكم تصنعون؟ قالوا: يا أبا عبد الرحمن حصى نعد به التكبير والتهليل والتسبيح والتحميد. قال: فعدوا سيئاتكم فأنا ضامن أن لا يضيع من حسناتكم شيء. ويحكم يا أمة محمد ما أسرع هلكتكم، هؤلاء أصحابه متوافرون، وهذه ثيابه لم تبل، وآنيته لم تكسر. والذي نفسي بيده إنكم لعلى ملة هي أهدى من ملة محمد؛ أو مفتتحو باب ضلالة! قالوا: والله يا أبا عبد الرحمن ما أردنا إلا الخير. قال: وكم من مريد

--------------------------------------------

1 وأخرجها النسائي أيضًا، وإسناده صحيح. انظر رسالتي "الأجوبة النافعة" "ص47" و"الإرواء" 608 طبع المكتب الإسلامي.

2 متفق عليه من حديث عائشة باللفظ الأول، وهو مخرج في "تخريج الحلال والحرام" رقم 5.
"তাঁর উম্মতের মধ্যে তাঁর এমন কিছু একনিষ্ঠ সহচর ও সাহাবী ছিলেন যারা তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করতেন এবং তাঁর আদেশ মেনে চলতেন। —অন্য একটি বর্ণনায় (رواية): তারা তাঁর আদর্শের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করতেন এবং তাঁর সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতেন— অতঃপর তাদের পরে এমন কিছু অযোগ্য উত্তরসূরি আসবে যারা যা বলে তা নিজেরা করে না, এবং যা করতে তাদের আদেশ দেওয়া হয়নি তারা তাই করে। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের হাত দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন, আর যে ব্যক্তি নিজের অন্তর দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সেও মুমিন; এর বাইরে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট নেই।"

এতে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর খুতবায় বলতেন: "সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثات); এবং প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), আর প্রত্যেক বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।" বায়হাকী এতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "এবং প্রত্যেক পথভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।" ১

সহীহাইন এবং সুনান আবু দাউদে আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যা আমাদের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)।" অর্থাৎ এটি আমলকারীর ওপর প্রত্যাখ্যাত (مردود)। ২

দারিমী বর্ণনা করেছেন যে, আবু মুসা আল-আশআরি ইবনে মাসউদকে বললেন: আমি মসজিদে কিছু লোককে গোল হয়ে বসে নামাজের জন্য অপেক্ষা করতে দেখেছি। প্রতিটি মজলিসে একজন করে লোক রয়েছে এবং তাদের হাতে ছোট পাথর রয়েছে। সে বলছে: একশবার তাকবীর পাঠ করো, তখন তারা একশবার তাকবীর পাঠ করছে। সে বলছে: একশবার তাহলীল পাঠ করো, তখন তারা একশবার তাহলীল পাঠ করছে। সে বলছে: একশবার তাসবীহ পাঠ করো, তখন তারা একশবার তাসবীহ পাঠ করছে। তিনি (ইবনে মাসউদ) বললেন: আপনি কি তাদের নিজেদের গুনাহ গণনা করার আদেশ দিলেন না এবং তাদের জন্য নিশ্চয়তা দিলেন না যে তাদের নেকিগুলো থেকে কিছুই হারিয়ে যাবে না? অতঃপর তিনি ওই মজলিসগুলোর একটির কাছে আসলেন এবং তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: আমি তোমাদের এসব কী করতে দেখছি? তারা বলল: হে আবু আব্দুর রহমান! এগুলো পাথর, যা দিয়ে আমরা তাকবীর, তাহলীল, তাসবীহ এবং তাহমীদ গণনা করছি। তিনি বললেন: বরং তোমরা তোমাদের গুনাহগুলো গণনা করো, আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে তোমাদের নেকিগুলো থেকে কিছুই বিনষ্ট হবে না। হায় আফসোস হে মুহাম্মাদের উম্মত! কত দ্রুতই না তোমাদের ধ্বংস ঘনিয়ে এল! এই তো তাঁর সাহাবীগণ বিপুল সংখ্যায় বিদ্যমান, তাঁর কাপড় এখনো জীর্ণ হয়নি এবং তাঁর পাত্রগুলো এখনো ভাঙেনি। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা কি এমন এক মিল্লাতের ওপর আছ যা মুহাম্মাদের মিল্লাত থেকে অধিকতর সঠিক; নাকি তোমরা পথভ্রষ্টতার (ضلالة) দুয়ার উন্মোচন করছ? তারা বলল: আল্লাহর কসম হে আবু আব্দুর রহমান! আমরা তো কেবল কল্যাণেরই ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম। তিনি বললেন: আর কতই না কল্যাণকামী...

--------------------------------------------

১ নাসাঈও এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) সহীহ (صحيح)। দেখুন আমার রিসালাহ "আল-আজওিবাতুন নাফিয়াহ" (পৃ. ৪৭) এবং "আল-ইরওয়া" ৬০৮, মাকতাবুল ইসলামী সংস্করণ।

২ প্রথম শব্দে আয়িশার বর্ণিত হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه), এবং এটি "তাখরীজুল হালাল ওয়াল হারাম" এর ৫ নম্বরে উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ১২)
للخير لن يصيبه … الحديث1.

وروى "الدارمي" أيضًا عن عبد الله قال: اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم2.

وعنه قال: القصد في السنة خير من الاجتهاد في البدعة.

وعنه قال: تعلموا العلم قبل أن يقبض، وقبضه ذهاب أهله. ألا وإياكم والتنطع والتعمق والبدع، وعليكم بالعتيق.

وعنه قال: أيها الناس، إنكم ستحدثون ويحدث لكم، فإذا رأيتم محدثة فعليكم بالأمر الأول.

وعن عمر قال: يهدم الإسلام زلة العالم، وجدال المنافق بالكتاب، وحكم الأئمة المضلين.

وعنه قال: سيأتي ناس يجادلونكم بشبهات القرآن فخذوهم بالسنن فإن أصحاب السنن أعلم بكتاب الله تعالى.

وعن ابن عباس قال: عليك بتقوى الله تعالى والاستقامة. اتبع ولا تبتدع.

وعنه أن أبغض الأمور إلى الله تعالى البدع، وأن من البدع الاعتكاف في المساجد التي في الدور3.

وفي سنن أبي داود عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنهما: كل عبادة لا يتعبدها أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا تعبدوها، فإن الأول لم يدع للآخر مقالا. فاتقوا الله يا معشر القراء وخذوا طريق من كان قبلكم4.

وفي كلام عمر بن عبد العزيز رحمه الله تعالى: أوصيكم بتقوى الله

--------------------------------------------

1 وإسناده صحيح، كما حققته في "الرد على الشيخ الحبشي" "ص45-47".

2 إسناده صحيح.

3 أغلب هذه الآثار، ضعيفة الأسانيد، والمؤلف رحمه الله نقلها عن أبي شامة عن "الدارمي" كما يأتي.

4 لم أره في "السنن"، وقد عزاه إليه غير المصنف أيضًا. وأظنه تابعًا لهم فيه. والله أعلم.
কল্যাণের জন্য এটি তাকে স্পর্শ করবে না … হাদিস ১।

এবং "দারিমি" আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কারণ তোমাদের জন্য যা যথেষ্ট তা প্রদান করা হয়েছে ২।

তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: সুন্নাহর ওপর পরিমিত থাকা বিদআতের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম।

তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: জ্ঞান তুলে নেওয়ার পূর্বেই তা অর্জন করো; আর জ্ঞান তুলে নেওয়া হলো জ্ঞানী ব্যক্তিদের চলে যাওয়া। সাবধান! তোমরা কঠোরতা, বাড়াবাড়ি ও বিদআত থেকে বেঁচে থাকো এবং প্রাচীন পথ আঁকড়ে ধরো।

তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমরা নতুন বিষয়ের সম্মুখীন হবে এবং তোমাদের জন্য নতুন বিষয় উদ্ভাবন করা হবে। সুতরাং যখনই তোমরা কোনো নতুন উদ্ভাবিত বিষয় দেখবে, তখন পূর্ববর্তী বিষয়ের ওপর অটল থেকো।

ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তিনটি বিষয় ইসলামকে ধ্বংস করে দেয়—বিদ্বানের পদস্খলন, কিতাব নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং পথভ্রষ্ট ইমামদের শাসন।

তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: অচিরেই এমন এক কওম আসবে যারা কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তোমাদের সাথে বিতর্ক করবে। তোমরা তাদের সুন্নাহ দিয়ে প্রতিহত করো; কেননা সুন্নাহর অনুসারীরা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তোমার ওপর আল্লাহর তাকওয়া এবং ইস্তেকামাত (অটল থাকা) আবশ্যক। অনুসরণ করো এবং বিদআত সৃষ্টি করো না।

তাঁর থেকেই বর্ণিত যে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বিষয় হলো বিদআত; আর গৃহের মধ্যস্থিত মসজিদে ইতিকাফ করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত ৩।

সুনানে আবু দাউদে হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত: যে ইবাদত আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সাহাবীগণ করেননি, তোমরা তা করো না। কারণ পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীদের জন্য নতুন কিছু বলার অবকাশ রাখেননি। হে কারীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করো ৪।

ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর বাণীতে রয়েছে: আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের অসিয়ত করছি...

--------------------------------------------

১ এবং এর সনদটি (إسناد) সহিহ (صحيح), যেমনটি আমি "আর-রাদ আলাশ শাইখ আল-হাবাশি" গ্রন্থের ৪৫-৪৭ পৃষ্ঠায় তাহকিক করেছি।

২ এর সনদটি (إسناد) সহিহ (صحيح)।

৩ এই আসার (آثار) গুলোর অধিকাংশেরই সনদগুলো (أسانيد) দুর্বল (ضعيفة); লেখক (রহ.) এগুলো আবু শামা থেকে, তিনি "দারিমি" থেকে উদ্ধৃত করেছেন, যেমনটি সামনে আসবে।

৪ আমি এটি "সুনান" গ্রন্থে দেখিনি, তবে গ্রন্থকার ছাড়াও অন্য অনেকে এটি তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আমার ধারণা তিনি এ বিষয়ে তাঁদেরই অনুসরণ করেছেন। আল্লাহু আলাম।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
تعالى والاقتصاد في أمره واتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وترك ما أحدث المحدثون بعد.

وعن محمد بن مسلم من وقر صاحب بدعة فقد أعان على هدم الإسلام. قال أبو معشر: سألت إبراهيم بن موسى عن هذه الأهواء فقال: ما جعل الله في شيء منها مثقال ذرة من خير، ما هي إلا نزعة من الشيطان، عليك بالأمر الأول.

وسأل عبد الملك بن مروان "غضيف بن الحارث" عن القصص ورفع الأيدي على المنابر فقال غضيف: إنهما لمن أمثل ما أحدثتم، وإني لا أجيبك إليهما لأني حدثت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ما من أمة تحدث في دينها بدعة إلا أضاعت مثلها في السنة". والتمسك بالسنة أحب إلي من أن أحدث بدعة1.

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: كل بدعة ضلالة وإن رآها الناس حسنة2.

أخرج هذه الآثار "الدارمي" في مسنده ونقلها عنه الإمام "أبو شامة" الدمشقي كتاب "الباعث عن إنكار البدع والحوادث".

3- معنى البدعة:

أصل هذه الكلمة من الاختراع، وهو الشيء يحدث من غير أصل سبق، ولا مثال احتذي ولا ألف مثله. ومنه قولهم: أبدع الله الخلق أي خلقهم ابتداء ومنه قوله تعالى: {بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْض} وقوله: {قُلْ

--------------------------------------------

1 ضعيف الإسناد.

2 صحيح الإسناد.
আল্লাহ তাআলার ভয় এবং তাঁর নির্দেশের ওপর অবিচল থাকা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণ করা এবং পরবর্তীতে উদ্ভাবনকারীদের উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ বর্জন করা।

মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি কোনো বিদআতীকে (صاحب بدعة) সম্মান করল, সে যেন ইসলামকে ধ্বংস করতে সহায়তা করল। আবু মাশার বলেন: আমি ইবরাহিম ইবনে মুসাকে এই ভ্রান্ত প্রবৃত্তিগুলো (الأهواء) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আল্লাহ এগুলোর কোনোটিতেই অণু পরিমাণ কল্যাণ রাখেননি; এগুলো শয়তানের কুমন্ত্রণা বৈ কিছু নয়। তোমাদের কর্তব্য হলো আদি বিষয়ের ওপর অটল থাকা।

আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান 'গুদাইফ ইবনুল হারিস'-কে কিচ্ছা-কাহিনী (القصص) এবং মিম্বারের ওপর হাত তোলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। গুদাইফ বললেন: এ দুটি আপনাদের উদ্ভাবিত কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমি এ বিষয়ে আপনার আহবানে সাড়া দেব না, কারণ আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো জাতি যখনই তাদের দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআত (بدعة) উদ্ভাবন করে, তখনই তারা এর সমপরিমাণ সুন্নাহ হারিয়ে ফেলে।" বিদআত (بدعة) উদ্ভাবন করার চেয়ে সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা আমার কাছে অধিক প্রিয়।১

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: প্রত্যেক বিদআতই (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة), যদিও মানুষ একে উত্তম মনে করুক না কেন।২

এই আসারগুলো দারেমি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে সংকলন করেছেন এবং ইমাম আবু শামাহ আল-দামেশকি তাঁর 'আল-বায়িস আন ইনকারিল বিদা ওয়াল হাওয়াদিস' গ্রন্থে তাঁর থেকে তা উদ্ধৃত করেছেন।

৩- বিদআতের (البدعة) অর্থ:

এই শব্দটির মূল উৎস হলো নতুন উদ্ভাবন (الاختراع), যা ইতিপূর্বেকার কোনো ভিত্তি, অনুসরণযোগ্য নমুনা বা সদৃশ কোনো উদাহরণ ছাড়াই প্রকাশ পায়। এর থেকেই বলা হয়: আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে কোনো পূর্ব-নমুনা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ তিনি সেগুলোকে প্রারম্ভিকভাবে সৃষ্টি করেছেন। এ অর্থেই মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি আসমান ও জমিনের অতুলনীয় উদ্ভাবক" এবং তাঁর বাণী: "বলুন...

--------------------------------------------

১. সনদে দুর্বল (ضعيف الإسناد)।

২. সনদে বিশুদ্ধ (صحيح الإسناد)।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
مَا كُنْتُ بِدْعاً مِنَ الرُّسُل} أي لم أكن أول رسول إلى أهل الأرض. وهذا الاسم يدخل فيما تخترعه القلوب، وفيما تنطق به الألسنة، وفيما تفعله الجوارح. ثم غلب لفظ "البدعة" على الحدث المكروه في الدين، ومثله لفظ المبتدع لا يكاد يستعمل إلا في الذم. وأما من حيث أصل الاشتقاق فإنه يقال ذلك في المدح والذم لأن المراد أنه شيء مخترع على غير مثال سبق. وقال الجوهري: "البديع المبتدع، والبدعة الحدث في الدين بعد الإكمال". ا. هـ.

وهو كل ما لم يكن في عصر النبي صلى الله عليه وسلم مما فعله أو أقر عليه أو عُلم من قواعد شريعته الإذن فيه وعدم النكير عليه. وفي معنى ذلك ما كان في عصر الصحابة رضي الله عنهم، مما أجمعوا عليه قولًا أو فعلًا أو تقريرًا. وكذلك ما اختلفوا فيه فإن اختلافهم رحمة1 مهما كان للاجتهاد والتردد مساغ وليس لغيرهم إلا الاتباع دون الابتداع.

وما أحسن ما قاله إبراهيم النخعي رحمة الله عليه: "ما أعطاكم الله خيرًا أُخبئ عنهم، وهم أصحاب رسوله وخيرته من خلقه" فأشار بذلك إلى ترك الغلو في الدين وإلى الاقتداء بالسلف الصالح.

وقد قال الله تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ} فكل من فعل أمرًا موهمًا أنه مشروع وليس كذلك فهو غالٍ في دينه، مبتدع فيه، قائل على الله غير الحق بلسان مقاله أو لسان حاله. وروي أن رجلا قال لمالك بن أنس: من أين أحرم؟ قال: من حيث أحرم رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال الرجل. فإن احرمت من أبعد منه؟ قال: فلا تفعل، فإني أخاف عليك الفتنة. قال: وأي فتنة في ازدياد

--------------------------------------------

1 قلت: ما كان الاختلاف برحمة يومًا ما ولن يكون، وحسبه أن يكون مغفورًا إذا كان عن اجتهاد وإخلاص، وحديث "اختلاف أمتي رحمة" وما في معناه، لا يصح رواية ولا دراية، كما حققته في "الأحاديث الضعيفة" "رقم 57-62".
{আমি রাসুলদের মধ্যে অভিনব (بدعًا) কেউ নই} অর্থাৎ আমি পৃথিবীর অধিবাসীদের নিকট প্রেরিত প্রথম রাসুল নই। আর এই নামটি এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা অন্তরসমূহ উদ্ভাবন করে, জিহ্বা যা উচ্চারণ করে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যা সম্পাদন করে। অতঃপর "বিদআত" (البدعة) শব্দটি দ্বীনের মধ্যে অপছন্দনীয় নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের অর্থে প্রচলিত হয়ে গেছে এবং অনুরূপভাবে "বিদআতী" (المبتدع) শব্দটি নিন্দার ক্ষেত্র ছাড়া সচরাচর ব্যবহৃত হয় না। আর শব্দমূলের ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে এটি প্রশংসা ও নিন্দা উভয় ক্ষেত্রেই বলা হয়, কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন কোনো কিছু উদ্ভাবন করা যা পূর্বের কোনো নমুনা ছাড়াই করা হয়েছে। আল-জাওহারী বলেন: "আল-বাদিউ হলো উদ্ভাবক, আর বিদআত (البدعة) হলো দ্বীন পূর্ণ হওয়ার পর তাতে নতুন কোনো বিষয়ের উদ্ভব ঘটানো।" (সমাপ্ত)।

আর এটি হলো এমন প্রতিটি বিষয় যা নবী (সা.)-এর যুগে ছিল না—হোক তা তাঁর আমল, কিংবা তাঁর মৌন সম্মতি (تقرير), অথবা যা তাঁর শরীয়তের মূলনীতিসমূহ থেকে অনুমোদিত বলে জানা যায় এবং যার প্রতি কোনো অস্বীকৃতি নেই। সাহাবী (রা.)-গণের যুগে তাঁরা কথা, কাজ বা মৌন সম্মতির (تقرير) মাধ্যমে যা কিছুর ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন, তাও এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত। তদ্রূপ তাঁরা যে বিষয়ে মতভেদ করেছেন তাও এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ তাঁদের মতভেদ একটি রহমত (অনুগ্রহ), যতক্ষণ না পর্যন্ত সেখানে ইজতিহাদ (اجتهاد) ও সংশয়ের অবকাশ থাকে; আর অন্যদের জন্য কেবল অনুসরণই (اتباع) কর্তব্য, উদ্ভাবন (ابتداع) নয়।

ইব্রাহিম আন-নাখায়ী (রহ.) কতই না সুন্দর বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদের এমন কোনো কল্যাণ দান করেননি যা তাঁদের (সাহাবীদের) নিকট গোপন রাখা হয়েছিল; অথচ তাঁরা ছিলেন তাঁর রাসুলের সঙ্গী এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম।" এর মাধ্যমে তিনি দ্বীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি (غلو) বর্জন করার এবং সালাফে সালেহীনদের অনুসরণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি (غلو) করো না এবং আল্লাহর শানে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না}। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করে যা শরীয়তসম্মত হওয়ার ভ্রম তৈরি করে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়, তবে সে তার দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি (غلو) করছে, তাতে নতুন কিছু উদ্ভাবনকারী (مبتدع), এবং নিজের মুখের কথা বা অবস্থার মাধ্যমে আল্লাহর নামে অসত্য প্রবক্তা। বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি মালিক ইবনে আনাসকে জিজ্ঞেস করল: আমি কোথা থেকে ইহরাম বাঁধব? তিনি বললেন: যেখান থেকে আল্লাহর রাসুল (সা.) ইহরাম বেঁধেছেন। লোকটি বলল: যদি আমি তাঁর চেয়ে দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে ইহরাম বাঁধি? তিনি বললেন: এমনটি করো না, কেননা আমি তোমার ওপর ফিতনার (فتنة) আশঙ্কা করছি। লোকটি বলল: অতিরিক্ত আমলে কিসের ফিতনা?

--------------------------------------------

১. আমি বলছি: মতভেদ কখনো রহমত ছিল না এবং হবেও না। এটি বড়জোর ক্ষমাযোগ্য হতে পারে যদি তা ইজতিহাদ (اجتهاد) ও একনিষ্ঠতার (إخلاص) সাথে হয়। আর "আমার উম্মতের মতভেদ রহমত" এবং এই অর্থের হাদিসগুলো বর্ণনাগত (رواية) বা জ্ঞানগত (دراية) কোনো দিক থেকেই সঠিক (صحيح) নয়; যেমনটি আমি "আল-আহাদিস আদ-দায়িফাহ" (৫৭-৬২ নং) গ্রন্থে বিশ্লেষণ করেছি।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الخير؟ فقال مالك: فإن الله تعالى يقول: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِه} الآية، وأي فتنة أعظم من أن ترى أنك خصصت بفضل لم يخص به رسول الله صلى الله عليه وسلم. انتهى من "الباعث لأبي شامة".

4- انقسام البدعة إلى حسنة وسيئة:

تنقسم المحدثات إلى بدع مستحسنة وإلى بدع مستقبحة. قال حرملة: سمعت "الشافعي" يقول: "البدعة بدعتان: بدعة محمودة، وبدعة مذمومة. فما وافق السنة فهو محمود. وما خالف السنة فهو مذموم" واحتج بقول عمر رضي الله عنه في التراويح: "نعمت البدعة"1. يعني أنها محدثة لم تكن وإذا كانت فليس فيها رد لما مضى2، وإنما كان كذلك لأن النبي صلى الله عليه وسلم حث على قيام شهر رمضان، وفعله صلى الله عليه وسلم في المسجد، واقتدى به بعض

--------------------------------------------

1 قلت: هذا الكلام ليس دقيقًا؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قد صلى التروايح جماعة كما يأتي من المؤلف، بل وحض عليها بقوله: "إنه من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة" أخرجه أصحاب السنن وغيرهم بسند صحيح، وقد خرجته في رسالتي "صلاة التراويح" "ص17"، فكيف توصف صلاة التراويح جماعة بأنها محدثة لم تكن! فاللهم غفرا، والحق أن عمر رضي الله عنه لم يعن بقوله: "نعمت البدعة هذه" البدعة الشرعية فإنها كلها ضلالة. وإنما أراد البدعة اللغوية، وهو الأمر الجديد الذي لم يكن، ولا شك أن الجماعة في صلاة التراويح وراء إمام واحد، لم يكن معروفًا في عهد عمر ولا في عهد أبي بكر رضي الله عنهما، فبهذا الاعتبار سماه بدعة، ووصفها بالحسن لقيام الدليل الشرعي على حسنها، هذه كلمة عاجلة، والمسألة تتطلب الإفاضة، والمجال ضيق، فمن شاء البسط فليراجع رسالتنا الآنفة للذكر، أو "الاعتصام" للإمام الشاطبي "ناصر الدين".

2 أخرجه البخاري في حديث إحياء عمر رضي الله عنه لسنة التجميع في صلاة التراويح. وقد سقته مخرجًا في رسالتي "صلاة التروايح" "47، 48".
কল্যাণ? ইমাম মালিক (রহ.) বললেন: মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয়} (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। আর এর চেয়ে বড় ফিতনা আর কী হতে পারে যে, আপনি নিজেকে এমন এক শ্রেষ্ঠত্বের জন্য নির্দিষ্ট মনে করছেন যা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়নি। আবু শামা-এর 'আল-বাইস' থেকে সমাপ্ত।

4- বিদআতকে (بدعة) উত্তম ও মন্দে বিভক্ত করা:

নব আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ (محدثات) প্রশংসনীয় বিদআত (بدعة مستحسنة) এবং নিন্দনীয় বিদআতে (بدعة مستقبحة) বিভক্ত। হারমালাহ বলেন: আমি ইমাম শাফেঈকে বলতে শুনেছি: "বিদআত (بدعة) দুই প্রকার: প্রশংসিত বিদআত (بدعة محمودة) এবং নিন্দিত বিদআত (بدعة مذمومة)। যা সুন্নাহর অনুকূল তা প্রশংসিত (محمود)। আর যা সুন্নাহর পরিপন্থী তা নিন্দিত (مذموم)।" তিনি তারাবির নামাজ সম্পর্কে উমর (রা.)-এর উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "কতই না উত্তম এই বিদআত (بدعة)!"১। অর্থাৎ এটি একটি নব আবিষ্কৃত বিষয় (محدثة) যা ইতিপূর্বে ছিল না, আর যখন এটি সংঘটিত হলো তখন এতে অতীতের কোনো বিষয়ের খণ্ডন ছিল না২। আর বিষয়টি এ কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের কিয়ামের (রাতের নামাজের) প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং তিনি নিজে মসজিদে তা আদায় করেছেন এবং কিছু লোক তাঁর অনুসরণ করেছেন...

--------------------------------------------

১ আমি (নাসিরুদ্দিন আলবানি) বলছি: এই কথাটি সুক্ষ্ম নয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাতের সাথে তারাবি পড়েছেন যেমনটি গ্রন্থকারের আলোচনা থেকে সামনে আসবে। বরং তিনি এই বলে উৎসাহিত করেছেন: "যে ব্যক্তি ইমামের সাথে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত দাঁড়াবে, তার জন্য পুরো রাত কিয়ামের সওয়াব লেখা হবে।" এটি সুনান গ্রন্থকারগণ এবং অন্যান্যরা সহিহ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণনা (أخرجه) করেছেন। আমি আমার 'সালাতুত তারাবি' (পৃষ্ঠা ১৭) নামক পুস্তিকায় এর তাখরিজ করেছি। সুতরাং জামাতে তারাবির নামাজকে কীভাবে নব আবিষ্কৃত বিষয় (محدثة) হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে যা আগে ছিল না! হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমা করুন। সত্য হলো উমর (রা.) তাঁর কথা "কতই না উত্তম এই বিদআত (بدعة) এটি" দ্বারা শরিয়তগত বিদআত (بدعة شرعية) উদ্দেশ্য করেননি, কারণ তার প্রতিটিই তো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)। বরং তিনি আভিধানিক বিদআত (بدعة لغوية) উদ্দেশ্য করেছেন, যা এমন নতুন বিষয় যা (আগে) ছিল না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একজন ইমামের পেছনে তারাবির নামাজের জামাত উমর (রা.)-এর যুগে কিংবা আবু বকর (রা.)-এর যুগে পরিচিত ছিল না। এই বিবেচনায় তিনি একে বিদআত (بدعة) নামে অভিহিত করেছেন এবং এর সপক্ষে শরিয়তগত দলিল (دليل شرعي) বিদ্যমান থাকায় একে উত্তম বলে বিশেষিত করেছেন। এটি একটি সংক্ষিপ্ত কথা, বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে এবং পরিসরও সীমিত। সুতরাং যে ব্যক্তি বিস্তারিত জানতে চায়, সে যেন আমাদের উল্লিখিত পুস্তিকাটি অথবা ইমাম শাতিবির 'আল-ইতিসাম' দেখে নেয়।

২ বুখারি এটি উমর (রা.) কর্তৃক তারাবির নামাজে জামাতবদ্ধ হওয়ার সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করার হাদিসে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন। আমি আমার পুস্তিকা 'সালাতুত তারাবি' (পৃষ্ঠা ৪৭, ৪৮)-তে এর বর্ণনা ও তাখরিজ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الصحابة ليلة بعد أخرى، ثم ترك النبي صلى الله عليه وسلم ذلك خشية أن يفرض عليهم. فلما قبض النبي صلى الله عليه وسلم أُمن ذلك فاتفق الصحابة رضي الله عنهم على فعل قيام رمضان في المسجد جماعة لما فيه من إحياء ما أمر به الشارع وفعله وحث عليه ورغب فيه.

فالبدع الحسنة المتفق على جواز فعلها والاستحباب لها ورجاء الثواب لمن حسنت نيته فيها هي كل مبتدع موافق لقواعد الشريعة غير مخالف لشيء فيها ولا يلزم من فعله محذور شرعي، وذلك نحو بناء المنائر والمدارس وخانات السبل وغير ذلك من الأنواع التي لم تعهد في الصدر الأول، فإنه موافق لما جاءت به الشريعة من اصطناع المعروف والمعاونة على البر والتقوى "انتهى من الباعث".

5- رد البدعة في الدين:

لا يخفى أن مدار العبادات إنما هو على المأثور في الكتاب العزيز والسنة الصحيحة مع الإخلاص في القلب وصحة التوجه إلى الله تعالى. ولكل مسلم الحق في إنكار كل عبادة لم ترد في الكتاب والسنة في ذاتها أو صورتها، فقد أخبرنا الله تعالى في كتابه بأنه أكمل لنا ديننا وأتم علينا به نعمته، فكل من يزيد فيه شيئًا فهو مردود عليه لأنه مخالف للآية الشريفة وللحديث الصحيح "من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد" 1.

وكل البدع التي منها حسن ومنها سيئ فهي الاختراعات المتعلقة بأمور المعاش ووسائله ومقاصده وهي المراد بحديث "من سن سنة حسنة فله أجرها

--------------------------------------------

1 صحيح قد مضى "ص9".
সাহাবীগণ একের পর এক রাতে [জামাতে নামাজ আদায় করলেন], অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি তাদের ওপর ফরজ (فرض) হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তা ছেড়ে দেন। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন, তখন সেই আশঙ্কা দূরীভূত হলো। ফলে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মসজিদে জামাতবদ্ধভাবে রমজানের কিয়াম (তারাবিহ) পালনের বিষয়ে একমত হলেন, কারণ এতে শরীয়তপ্রণেতা কর্তৃক নির্দেশিত, কৃত এবং উৎসাহিত আমলকে পুনর্জীবিত করার বিষয় রয়েছে।

সুতরাং উত্তম উদ্ভাবন (بدعة حسنة), যা পালন করা বৈধ হওয়া এবং মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত রয়েছে এবং যাতে উত্তম নিয়তকারীর জন্য সওয়াবের আশা করা হয়, তা হলো এমন প্রতিটি উদ্ভাবিত বিষয় যা শরীয়তের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এর কোনো কিছুর বিরোধী নয় এবং যার পালনে শরীয়ত পরিপন্থী কোনো কিছু অবধারিত হয় না। যেমন: মিনারের নির্মাণ, মাদরাসা, মুসাফিরখানা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা প্রথম যুগে (الصدر الأول) প্রচলিত ছিল না। কেননা এগুলো শরীয়ত কর্তৃক আনীত সৎকর্ম সম্পাদন এবং নেক কাজ ও আল্লাহভীতিতে সহযোগিতার নির্দেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। "আল-বায়েস থেকে সমাপ্ত।"

৫- দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবন (بدعة) প্রত্যাখ্যান:

এটি গোপন নয় যে, ইবাদতের ভিত্তি হলো অন্তরের ইখলাস এবং মহান আল্লাহর প্রতি সঠিক অভিমুখিতার পাশাপাশি মহাগ্রন্থ (আল-কুরআন) ও সহিহ (صحيحة) সুন্নাহতে বর্ণিত বর্ণনাসমূহের ওপর। প্রত্যেক মুসলমানের এমন প্রতিটি ইবাদত অস্বীকার করার অধিকার রয়েছে যা কুরআন ও সুন্নাহতে তার স্বরূপে বা পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়নি। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি আমাদের জন্য আমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে নতুন কিছু যোগ করবে, তা তার প্রতি প্রত্যাখ্যাত (مردود); কারণ এটি সম্মানীত আয়াত এবং সহিহ (صحيح) হাদিসের পরিপন্থী: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)" ১।

আর সেই সব নব-উদ্ভাবনসমূহ (بدع) যার কোনোটি উত্তম এবং কোনোটি মন্দ, সেগুলো মূলত জীবনযাপন, এর মাধ্যম এবং লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট আবিষ্কারসমূহ। "যে ব্যক্তি কোনো উত্তম পদ্ধতির সূচনা করবে, সে তার সওয়াব পাবে" - এই হাদিস দ্বারা সেগুলোই উদ্দেশ্য।

--------------------------------------------

১. সহিহ (صحيح), যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে "পৃষ্ঠা ৯"।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة" ولولا ذلك لكان لنا أن نزيد في ركعات الصلاة أو سجداتها "حققه بعض الفضلاء" والله أعلم.

6- بغض المبتدع:

اعلم أن كل من يحب في الله لا بد أن يبغض في الله فإنك إن أحببت إنسانًا لأنه مطيع لله ومحبوب عند الله فإن عصاه فلا بد أن تبغضه لأنه عاص لله وممقوت عند الله، ومن أحب بسبب فبالضرورة يبغض لضده، وهذان متلازمان لا ينفصل أحدهما عن الآخر، وهو مطرد في الحب والبغض في العادات ولكن كل واحد من الحب والبغض داء دفين في القلب، وإنما يترشح عند الغلبة، ويترشح بظهور أفعال المحبين والمبغضين في المقاربة والمباعدة، وفي المخالفة والموافقة. فإذا ظهر في الفعل شيء سمي موالاة ومعاداة، ولذلك قال الله تعالى: "هل واليت في وليًّا وهل عاديت في عدوًّا"1 وأثر البغض إما في الإعراض والتباعد وقلة الالتفات، أو في الاستخفاف وتغليظ القول، أو في قطع المعونة والرفق والنصرة.

ومن الذين يُبغَضون في الله المبتدع، فإن كان يدعو إلى بدعته وهي ضلالة سبب لغواية الخلق فالاستحباب إظهار بغضه ومعاداته والانقطاع عنه وتحقيره والتشنيع عليه ببدعته وتنفير الناس عنه. وإن كان عاميا لا يقدر على الدعوة ولا يخاف الاقتداء به فأمره أهون فالأولى أن لا يفاتح بالتغليظ والإهانة بل يتلطف به بالنصح، فإن قلوب العوام سريعة التقلب، فإن لم ينفع النصح وكان في الإعراض عنه تقبيح لبدعته في عينه تأكد الاستحباب في الإعراض، وإن علم أن ذلك لا يؤثر فيه لجمود طبعه ورسوخ عقده

--------------------------------------------

1 حديث قدسي. قلت: لا أعرفه في شيء من كتب السنة المعتمدة.
"এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াব।" আর তা না হলে আমাদের পক্ষে নামাজের রাকাত বা সিজদাহ বৃদ্ধি করার অবকাশ থাকত। "কিছু বিদগ্ধ আলেম এটি যাচাই করেছেন" এবং আল্লাহই ভালো জানেন।

৬- বিদআতিকে (المبتدع) ঘৃণা করা:

জেনে রাখুন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসেন তাকে অবশ্যই আল্লাহরই সন্তুষ্টির জন্য ঘৃণা করতে হবে। কেননা আপনি যদি কোনো ব্যক্তিকে এই কারণে ভালোবাসেন যে সে আল্লাহর অনুগত এবং আল্লাহর নিকট প্রিয়, তবে সে যদি আল্লাহর নাফরমানি করে তাহলে অবশ্যই তাকে ঘৃণা করতে হবে; কারণ তখন সে আল্লাহর অবাধ্য এবং তাঁর নিকট অপ্রিয়। যে ব্যক্তি কোনো গুণের কারণে কাউকে ভালোবাসে, সে আবশ্যিকভাবেই তার বিপরীত গুণের কারণে তাকে ঘৃণা করবে। এই দুটি বিষয় পরস্পর অবিচ্ছেদ্য, একটি অপরটি থেকে পৃথক হয় না। এটি অভ্যাসগত ভালোবাসা ও ঘৃণার ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। তবে ভালোবাসা ও ঘৃণা—উভয়ই অন্তরে নিহিত এক গোপন বিষয়, যা কেবল অনুভূতির প্রাবল্য দেখা দিলে প্রকাশ পায়। আর এটি মহব্বতকারী বা বিদ্বেষ পোষণকারীর কর্মকাণ্ডে—নৈকট্য বা দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে এবং ঐকমত্য বা মতবিরোধের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। যখন অন্তরের এই অবস্থা কর্মে প্রকাশ পায়, তখন তাকে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা বলা হয়। এই কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: "তুমি কি আমার সন্তুষ্টির জন্য কোনো বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব করেছ এবং আমার সন্তুষ্টির জন্য কোনো শত্রুর সাথে শত্রুতা করেছ?" ঘৃণার প্রভাব প্রকাশিত হয় বিমুখতা, দূরত্ব বজায় রাখা ও ভ্রুক্ষেপ না করার মাধ্যমে, অথবা অবজ্ঞা করা ও কঠোর ভাষায় কথা বলার মাধ্যমে, কিংবা সাহায্য-সহযোগিতা ও সমর্থন বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে।

যাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘৃণা করা হয় তাদের অন্যতম হলো বিদআতি (المبتدع)। সে যদি তার বিদআতের (بدعة) দিকে আহ্বান জানায়—যা একটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) এবং সৃষ্টির বিভ্রান্তির কারণ—তবে তার প্রতি ঘৃণা ও শত্রুতা প্রকাশ করা, তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা, তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা, তার বিদআতের (بدعة) কারণে তাকে নিন্দা করা এবং মানুষকে তার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা মুস্তাহাব (مستحب)। আর যদি সে সাধারণ স্তরের মানুষ হয় যে দাওয়াত দিতে সক্ষম নয় এবং তাকে অনুসরণেরও কোনো আশঙ্কা নেই, তবে তার বিষয়টি তুলনামূলক শিথিল। এক্ষেত্রে শুরুতেই কঠোরতা বা অবমাননাকর আচরণ না করে বরং সদুপদেশের মাধ্যমে তার সাথে নম্র ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। কারণ সাধারণ মানুষের অন্তর দ্রুত পরিবর্তনশীল। যদি সদুপদেশ কোনো কাজে না আসে এবং তার থেকে বিমুখ থাকার মাধ্যমে তার নিজের দৃষ্টিতেই তার কৃত বিদআতটি (بدعة) মন্দ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে বিমুখ থাকার মুস্তাহাব (مستحب) বিধানটি আরও জোরালো হয়। আর যদি জানা যায় যে, তার স্বভাবের জড়তা ও বিশ্বাসের দৃঢ়তার কারণে এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না...

--------------------------------------------

১. হাদিসে কুদসি। আমি বলছি: নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর কোনো কিতাবে আমি এটি সম্পর্কে অবগত নই।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
في قلبه فالإعراض أولى؛ لأن البدعة إذا لم يبالغ في تقبيحها شاعت بين الخلق وعم فسادها "انتهى من الإحياء للإمام الغزالي".

7- وعيد من سنَّ سُنَّة سيئة:

أخرج مسلم وغيره عن جرير رضي الله عنه في حديث وفد مصر والحث على إكرامهم قوله صلى الله عليه وسلم: "من سن في الإسلام سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أجورهم شيء، ومن سن في الإسلام سنة سيئة كان عليه وزرها ووزر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أوزارهم شيء".

8- إنكار المنكرات المحظورة والمكروهة:

كان الصحابة رضوان الله تعالى عليهم أجمعين ينكرون أشد الإنكار على من أحدث أمرًا أو ابتدع رسمًا لم يعهدوه قل أو كثر، صغر ذلك أو كبر، كان ذلك في المعاملة أو في العبادة أو في الذكر.

والمنكرات تنقسم إلى مكروهة وإلى محظورة، فالمنكر المكروه يستحب المنع ويكره السكوت عليه ولا يحرم إلا إذا لم يعلم الفاعل أنه مكروه، فيجب ذكره له لأن الكراهة حكم في الشرع يجب تبليغه إلى من لا يعرفه، أما المنكر المحظور فالسكوت عليه مع القدرة محظور "انتهى من الإحياء للغزالي".
...তার অন্তরে, তাই উপেক্ষা করাই শ্রেয়; কারণ বিদআত (بدعة)-এর কুৎসিত রূপ বর্ণনায় যদি কঠোরতা অবলম্বন করা না হয়, তবে তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে এবং এর অনিষ্টতা সর্বব্যাপী হবে। "ইমাম গাজালির এহিয়াউ উলুমিদ্দীন থেকে সমাপ্ত।"

৭- যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতির প্রচলন করে তার জন্য হুঁশিয়ারি:

ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যরা জারির (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন—মিশরের প্রতিনিধি দলের আগমন এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব সংক্রান্ত একটি হাদিস বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির সূচনা করল, সে তার প্রতিদান পাবে এবং পরবর্তীতে যারা তা পালন করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে, তবে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির প্রবর্তন করল, তার ওপর সেই মন্দ কাজের পাপ বর্তাবে এবং পরবর্তীতে যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের পাপের বোঝাও তার ওপর বর্তাবে, তবে তাদের পাপ থেকে কিছুই কমানো হবে না।"

৮- নিষিদ্ধ (محظور) এবং অপছন্দনীয় (مكروه) অপকর্মসমূহ (منكرات) প্রত্যাখ্যান করা:

সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সেই ব্যক্তির ওপর তীব্রতম প্রতিবাদ জ্ঞাপন করতেন, যে এমন কোনো নতুন বিষয়ের অবতারণা করত বা রীতির উদ্ভাবন করত যা তাদের নিকট পরিচিত ছিল না; চাই তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি, ছোট হোক বা বড়, আর তা সামাজিক লেনদেন সংক্রান্ত হোক কিংবা ইবাদত বা জিকিরের ক্ষেত্রে হোক।

অপকর্মসমূহ (منكرات) দুই ভাগে বিভক্ত: অপছন্দনীয় (مكروه) এবং নিষিদ্ধ (محظور)। সুতরাং অপছন্দনীয় অপকর্ম (منكر مكروه) প্রতিহত করা মুস্তাহাব এবং সে বিষয়ে নীরব থাকা মাকরুহ; এটি ততক্ষণ হারাম নয় যতক্ষণ আমলকারী ব্যক্তি এটি যে অপছন্দনীয় (مكروه) তা না জানে। এমতাবস্থায় তাকে বিষয়টি অবহিত করা ওয়াজিব, কারণ কোনো বিষয় মাকরুহ হওয়া একটি শরয়ি বিধান যা অজানা ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো আবশ্যক। পক্ষান্তরে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ (محظور) অপকর্মের ক্ষেত্রে নীরব থাকা নিষিদ্ধ (محظور)। "গাজালির এহিয়াউ উলুমিদ্দীন থেকে সমাপ্ত।"
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
9- مفاسد الإقرار على البدع:

من الغيرة لله ولرسوله ولدينه تعطيل ما ألصق بالدين وليس منه وهجره وإطراحه واستقباحه وتنفير الناس عنه. إذا يلزم من الموافقة عليه مفاسد:

الأولى: اعتماد العوام على صحته أو حسنه.

الثانية: إضلال الناس به وإعانة لهم على الباطل وإغراء به.

الثالثة: في فعل العالم ذلك تسبب إلى أن تكذب العامة على رسول الله صلى الله عليه وسلم فتقول: هذه سنة من السنن. والتسبب إلى الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يجوز لأنه يورط العامة في عهدة قوله صلى الله عليه وسلم: "من كذب علي متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار" 1.

الرابعة: أن الرجل العالم المقتدى به والمرموق بعين الصلاح إذا فعلها كان موهمًا أنها من السنن فيكون كاذبًا على رسول الله صلى الله عليه وسلم بلسان الحال، ولسان الحال قد يقوم مقام لسان المقال، وأكثر ما أُتي الناس في البدع بهذا السبب، يظن في شخص أنه من أهل العلم والتقوى وليس هو في نفس الأمر كذلك فيرمقون أقواله وأفعاله فيتبعونه في ذلك فتفسد أمورهم.

وفي الحديث عن ثوبان رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن مما أتخوف على أمتي أئمة مضلين" أخرجه ابن ماجه والترمذي وصححه. وفي الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله لا يقبض العلم انتزاعًا ينتزعه من الناس، ولكن يقبض العلم بموت العلماء، حتى إذا لم يبق عالم اتخد الناس رءوسا جهالا فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا" 2. قال الإمام الطرطوشي فتدبروا هذا الحديث

--------------------------------------------

1 حديث صحيح متواتر. وللطبراني فيه جزء لطيف، جمع فيه طرقه، وهو محفوظ في مخطوطات ظاهرية دمشق.

2 أخرجه الشيخان، والمصنف ساقه بالمعنى، فإنه مغاير لسياقهما في بعض الألفاظ.
9- বিদআতের স্বীকৃতির অপকারিতাগুলো:

আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি মর্যাদাবোধের (গাইরাহ) দাবি হলো, দ্বীনের সাথে যা জুড়ে দেওয়া হয়েছে অথচ তা দ্বীনের অংশ নয়, তাকে অকেজো করে দেওয়া, বর্জন করা, পরিহার করা, কদর্য মনে করা এবং মানুষকে তা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। কারণ বিদআতকে সমর্থন করার ফলে কিছু অপকারিতা অনিবার্য হয়ে পড়ে:

প্রথমত: সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সেটির বিশুদ্ধতা (صحة) বা হাসান (حسن) হওয়ার ওপর নির্ভর করা।

দ্বিতীয়ত: এর মাধ্যমে মানুষকে পথভ্রষ্ট করা, বাতিলের ওপর তাদের সহায়তা করা এবং এর প্রতি প্রলুব্ধ করা।

তৃতীয়ত: কোনো আলেমের এমন কাজ করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপ করার কারণ হওয়া। ফলে তারা বলে: এটি সুন্নাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি সুন্নাহ। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপের কারণ হওয়া বৈধ নয়; কারণ এটি সাধারণ মানুষকে তাঁর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত করে দেয়: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" ১

চতুর্থত: যাকে অনুসরণ করা হয় এবং যাকে নেককার হিসেবে গণ্য করা হয়, এমন আলেম ব্যক্তি যখন বিদআতটি সম্পাদন করেন, তখন তিনি এটি সুন্নাহ হওয়ার বিভ্রান্তি তৈরি করেন। ফলে তিনি তার অবস্থার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপকারী হিসেবে সাব্যস্ত হন। আর অবস্থার ভাষা অনেক সময় মুখের ভাষার স্থলাভিষিক্ত হয়। অধিকাংশ মানুষ বিদআতে লিপ্ত হয়েছে এই কারণেই যে, তারা কোনো এক ব্যক্তিকে ইলম ও তাকওয়াসম্পন্ন মনে করে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি তেমনটি নন। ফলে তারা তার কথা ও কাজকে অনুসরণ করে এবং সে অনুযায়ী পথ চলে, যার ফলে তাদের বিষয়াদি নষ্ট হয়ে যায়।

হাদিসে সাওবান (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি আমার উম্মতের জন্য পথভ্রষ্টকারী ইমামদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি।" ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন। সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মানুষের মাঝ থেকে ইলমকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তুলে নেবেন না, বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে ইলমকে তুলে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে, ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।" ২। ইমাম তর্তুশি বলেছেন, "আপনারা এই হাদিসটি নিয়ে চিন্তা করুন।"

--------------------------------------------

১ এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস। তাবারানি এই বিষয়ে একটি চমৎকার পুস্তিকা সংকলন করেছেন যেখানে তিনি এর সূত্রগুলো (طرق) একত্রিত করেছেন। এটি দামেস্কের যাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিতে সংরক্ষিত আছে।

২ এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। লেখক এটি ভাবানুবাদ করেছেন, কারণ এটি তাঁদের বর্ণিত কিছু শব্দের চেয়ে ভিন্ন।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ২০)
فإنه يدل على أنه لا يؤتى الناس قط من قبل علمائهم وإنما يؤتون من قبل إذا مات علماؤهم أفتى من ليس بعالم فيؤتى الناس من قبلهم. قال: وقد صرف عمر رضي الله عنه هذا المعنى تصريفًا فقال: ما خان أمين قط، ولكنه ائتمن غير أمين فخان" قال ونحن نقول: ما ابتدع عالم قط ولكنه استفتي من ليس بعالم فضل وأضل وكذلك فعل ربيعة قال مالك رحمه الله تعالى: بكى ربيعة يومًا بكاء شديدًا فقيل له: أمصيبة نزلت بك؟ قال: لا ولكن استفتي من لا علم عنده، وظهر في الإسلام أمر عظيم.

"انتهى من الباعث لأبي شامة".

10- ما يجب على العالم فيما يرد عليه مما يأمن فيه من الابتداع:

لا يخفى أن السلف الصالح بلغوا إلينا هدي النبي صلى الله عليه وسلم وسنته، وشرحوا لنا سيرته وطريقته، وميزوا ما نقل عنه مما يجب الرجوع إليه من ذلك وما يطرح كما دون في كتب السنة. فالواجب على العالم فيما يرد عليه من الوقائع، وما يسأل عنه من الشرائع، الرجوع إلى ما دل عليه كتاب الله المنزل، وما صح عن نبيه المرسل، وما كان عليه الصحابة ومن بعدهم من الصدر الأول، فما وافق ذلك أذن فيه وأمر، وما خالفه نهى عنه وزجر، فيكون بذلك قد آمن واتبع، ولا يستحسن، فإن من استحسن فقد شرع. قال أبو العباس أحمد بن يحيى: كان عبد الله بن الحسن يكثر الجلوس إلى ربيعة فتذاكروا يومًا السنن فقال رجل كان في المجلس: ليس العمل على هذا، فقال عبد الله: "أرأيت أن كثر الجهال حتى يكونوا هم الحكام فهم الحجة على السنة" فقال ربيعة: أشهد أن هذا لكلام أبناء الأنبياء. "انتهى من الباعث لأبي شامة".
এটি নির্দেশ করে যে, মানুষ কখনই তাদের আলেমদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; বরং তারা তখনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যখন তাদের আলেমগণ মৃত্যুবরণ করেন এবং যারা আলেম নন তারা ফতোয়া প্রদান করেন, ফলে মানুষ তাদের মাধ্যমেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন: উমর (রা.) এই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে বর্ণনা করে বলেছেন: "কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি কখনো খিয়ানত করেন না, বরং অবিশ্বস্ত ব্যক্তিকে বিশ্বাস করা হয় বলেই সে খিয়ানত করার সুযোগ পায়।" তিনি (গ্রন্থকার) বলেন: আর আমরা বলি যে, কোনো আলেম কখনো বিদআত সৃষ্টি করেন না, বরং যখন এমন ব্যক্তির কাছে ফতোয়া চাওয়া হয় যে আলেম নয়, তখন সে নিজে পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করে। রবীআও অনুরূপ করেছেন। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন: রবীআ একদিন অঝোর ধারায় কাঁদছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার ওপর কি কোনো বিপদ আপতিত হয়েছে? তিনি বললেন: না, বরং এমন ব্যক্তির কাছে ফতোয়া চাওয়া হয়েছে যার কোনো জ্ঞান নেই, আর ইসলামে এক ভয়াবহ বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে।

"আবু শামা রচিত আল-বাইস থেকে সমাপ্ত।"

১০- বিদআত থেকে নিরাপদ থাকা যায় এমন বিষয়ে আলেমদের ওপর যা আবশ্যক হয়:

এটি অস্পষ্ট নয় যে, সালাফে সালেহীন আমাদের কাছে নবী (সা.)-এর হিদায়াত ও সুন্নাহ পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁরা আমাদের নিকট তাঁর সীরাত ও আদর্শ ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত বিষয়গুলোর মধ্যে কোনটি প্রত্যাবর্তনযোগ্য এবং কোনটি বর্জনীয় তা তাঁরা পৃথক করেছেন, যেভাবে সুন্নাহর গ্রন্থসমূহে সংকলিত হয়েছে। সুতরাং একজন আলেমের নিকট যখন কোনো ঘটনা উপস্থাপিত হয় কিংবা শরীয়তের কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তাঁর জন্য কর্তব্য হলো নাযিলকৃত আল্লাহর কিতাব, প্রেরিত নবী থেকে যা সহিহ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত এবং সাহাবী ও তাঁদের পরবর্তী প্রথম যুগের মনীষীগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন, তার দিকে প্রত্যাবর্তন করা। যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা তিনি অনুমতি দেবেন ও নির্দেশ করবেন, আর যা এর পরিপন্থী হবে তা থেকে নিষেধ ও বারণ করবেন। এর মাধ্যমে তিনি নিরাপদ থাকবেন ও অনুসরণ করবেন, এবং নিজ থেকে কোনো কিছুকে উত্তম মনে করবেন না (استحسان); কেননা যে ব্যক্তি ইস্তহসান (استحسان) করে, সে যেন নতুন শরীয়ত প্রবর্তন করল। আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান প্রায়ই রবীআর মজলিসে বসতেন। একদিন তাঁরা সুন্নাহর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন মজলিসে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলল: আমল তো এর ওপর নয়। আবদুল্লাহ বললেন: "তুমি কি মনে করো মূর্খদের সংখ্যা যদি এত বৃদ্ধি পায় যে তারাই বিচারক হয়ে যায়, তবে কি তারা সুন্নাহর বিপরীতে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে?" রবীআ বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এটি আম্বিয়া-সন্তানদের কথা। "আবু শামা রচিত আল-বাইস থেকে সমাপ্ত।"
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ২১)
11- اجتناب العالم ما يتورط بسببه العامة:

هذا باب من أبواب الدين موضوعة إصلاح المعتقدات في العبادات، وتنبيه العامة على حكم ما ألفوه من العادات. وقد سبق للعمل بهذا الباب علماء الصحابة وساسة الخلفاء الراشدين، ورأوه من المراشد الصالحة، والمناهج السامية؛ ثم نبه عليه حكماء العلماء.

قال الإمام أبو شامة في كتاب "الباعث": لا ينبغي للعالم أن يفعل ما يتورط العوام بسبب فعله في اعتقاد أمر على مخالفة الشرع. وقد امتنع جماعة من الصحابة من فعل أشياء إما واجبة وإما مؤكدة خوفا من ظن العامة خلاف ما هي عليه: قال الشافعي رحمة الله تعالى عليه: وقد بلغنا أن أبا بكر الصديق وعمر رضي الله عنهما كانا لا يضحيان كراهية أن يقتدى بهما فيظن من رآهما أنها واجبة. وعن ابن عباس أنه جلس مع أصحابه ثم أرسل بدرهمين فقال: اشتروا بهما لحمًا ثم قال: هذه أضحية ابن عباس. قال الشافعي: وقد كان قلما يمر به يوم إلا نحر فيه أو ذبح بمكة قال: وإنما أراد بذلك مثل الذي روي عن أبي بكر وعمر رضي الله عنهما، وعن أبي مسعود الأنصاري قال: "إني لأترك أن أضحي كراهية أن يرى جيراني وأهلي أنه علي حتم".

أخرجهن الحافظ البيهقي في "كتاب المعرفة"1.

قال أبو بكر الطرطوشي: انظروا رحمكم الله فإن لأهل الإسلام قولين في الأضحية، أحدهما: سنة، والثاني: واجبة، ثم اقتحمت الصحابة ترك السنة حذرًا من أن يضع الناس الأمر على غير وجهه فيعتقدوها فريضة.

--------------------------------------------

1 قلت: وأخرجها أيضًا في "السنن الكبرى" "9: 265"، وأسانيدها صحيحة عنهم، وقد صح الأمر بالأضحية في "الصحيحين" وغيرهما عن النبي صلى الله عليه وسلم، بل ثبت عنه أنه قال: "من وجد سعة ولم يضح فلا يقربن مصلانا"، فلعلهم لم يبلغهم ذلك أو بلغهم، ولكنهم تأولوا الأمر على الاستحباب، ولكن الحديث الأخير لا يساعد على ذلك فتأمل.
11- আলেমগণের এমন বিষয় পরিহার করা যার কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে:

এটি দ্বীনের এমন একটি অধ্যায় যার বিষয়বস্তু হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে বিশ্বাসের সংশোধন এবং সাধারণ মানুষকে তাদের অভ্যস্ত রীতিনীতির বিধান সম্পর্কে সচেতন করা। সাহাবীগণের মধ্য থেকে যারা আলেম ছিলেন এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের মধ্য থেকে যারা শাসক ছিলেন, তারা এই অধ্যায়ের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন। তারা একে একটি সঠিক পথনির্দেশক এবং সুউচ্চ কর্মপন্থা হিসেবে বিবেচনা করতেন; পরবর্তীতে বিজ্ঞ আলেমগণও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

ইমাম আবু শামা "আল-বাইস" গ্রন্থে বলেছেন: আলেমের জন্য এমন কাজ করা উচিত নয়, যার কারণে সাধারণ মানুষ শরিয়তের পরিপন্থী কোনো বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপনের বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হতে পারে। সাহাবীগণের একটি দল এমন কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকতেন যা হয়তো ওয়াজিব অথবা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ছিল, এই ভয়ে যে সাধারণ মানুষ যেন এর প্রকৃত বিধানের বিপরীত কিছু মনে না করে। ইমাম শাফেঈ (রহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি) বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আবু বকর সিদ্দিক এবং ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এই আশঙ্কায় কুরবানি করতেন না যে, মানুষ তাদের অনুসরণ করবে এবং যারা তাদের দেখবে তারা এটিকে ওয়াজিব মনে করতে পারে। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে বসে ছিলেন, অতঃপর তিনি দুই দিরহাম পাঠিয়ে বললেন: এই টাকা দিয়ে গোশত কিনে আনো, এরপর তিনি বললেন: এটি ইবনে আব্বাসের কুরবানি। ইমাম শাফেঈ বলেন: মক্কায় এমন দিন খুব কমই যেত যেদিন তিনি উট বা বকরি জবেহ করতেন না। তিনি বলেন: তিনি এর মাধ্যমে আবু বকর এবং ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে অনুরূপ উদ্দেশ্য পোষণ করেছিলেন। আবু মাসউদ আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি এই অপছন্দনীয়তার কারণে কুরবানি করা ত্যাগ করি যে, আমার প্রতিবেশী এবং পরিবার যেন মনে না করে এটি আমার ওপর একটি অলঙ্ঘনীয় বিধান।"

হাফেজ বায়হাকী এগুলো "কিতাবুল মা’রিফা" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।১

আবু বকর আল-তোরতুশী বলেন: আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন, আপনারা লক্ষ্য করুন যে, কুরবানি সম্পর্কে ইসলাম অনুসারীদের দুটি মত রয়েছে, একটি হলো: সুন্নাহ, এবং দ্বিতীয়টি হলো: ওয়াজিব। এরপর সাহাবীগণ সুন্নাহ বর্জন করার পদক্ষেপ নিয়েছেন এই সতর্কতায় যে, পাছে মানুষ বিষয়টিকে তার প্রকৃত অবস্থানের বাইরে স্থাপন করে এবং একে ফরজ মনে করতে শুরু করে।

--------------------------------------------

১ আমি বলছি: তিনি এগুলো "সুনানুল কুবরা" (৯: ২৬৫) গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন এবং তাদের থেকে এগুলোর বর্ণনাসূত্রসমূহ (أسانيد) সহীহ (صحيحة)। কুরবানি করার নির্দেশ সম্পর্কে "সহীহাইন" এবং অন্যান্য গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহীহ (صحيح) বর্ণনা রয়েছে, বরং তাঁর থেকে এটিও সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।" সম্ভবত তাদের নিকট এই হাদিস পৌঁছেনি অথবা পৌঁছেছে কিন্তু তারা এই নির্দেশকে মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় হওয়ার ওপর ব্যাখ্যা করেছেন, তবে শেষোক্ত হাদিসটি এই ব্যাখ্যার অনুকূলে নয়, সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ২২)
قال: ومن ذلك قصة عثمان بن عفان رضي الله عنه وذلك أنه كان يسافر فيتم في السفر فيقال له: "أليس قصرت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم" قال: "بلى. ولكني إمام الناس، فينظر إلي الأعراب وأهل البادية أصلي ركعتين فيقولون: هكذا فرضت"1 قال الطرطوشي رحمه الله تعالى: تأملوا رحمكم الله تعالى فإن في القصر قولين لأهل الإسلام، منهم من يقول: فريضة ومنهم من يقول: سنة، ثم اقتحم عثمان رضي الله عنه ترك الفرض أو السنة لما خاف من سوء العاقبة وأن يعتقد الناس أن الفرض ركعتان.

قال: وكان عمر ينهى الإماء عن لبس الإزار وقال: "لا تشبهن بالحرائر"2 وقال لابنه عبد الله: "ألم أخبر أن جاريتك لبست الإزار لو لقيتها لأوجعتها ضربا" قال الطرطوشي: ومعلوم أن هذه سترة، ولكن فهموا أن مقصود الشرع المحافظة على حدوده، وأن لا يظن الناس أن الحرة والأمة في السترة سواء فتموت سنة وتحيي بدعة.

ثم قال "أبو شامة": ونظير ما حكي عن أبي بكر وعمر رضي الله عنهما في الأضحية ما أخرجه "البيهقي في كتاب السنن"3 عن عبد الرحمن بن أبزى أن أبا بكر وعمر كانا يمشيان أمام الجنازة وكان علي يمشي خلفها، فقيل لعلي رضي الله عنه: كانا يمشيان أمامها فقال: "إنهما يعلمان أن المشي خلفها أفضل من المشي أمامها كفضل صلاة الرجل في جماعة على صلاته فذًّا ولكنهما يسهلان للناس".

--------------------------------------------

1 قلت: لم يصح عن عثمان، وقد كان الأعراب يصلون وراء النبي صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع، فكان إمامهم، ومع ذلك فلم يثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه أتم.

2 أخرجه البيهقي "2: 226" وفيه أحمد بن عبد الحميد، ولم أجد له ترجمة، لكن قال البيهقي عقبه: "والآثار عن عمر بن الخطاب في ذلك صحيحة" وراجع "المحلى" لابن حزم.

3 "ج4: 25" وفيه زائدة وهو ابن خراس، وقيل: ابن أوس بن خراس الكندي، كما قال البيهقي وسكت عنه، وكذا ابن أبي حاتم في "الجرح" "1-2-612" فلم يذكرا فيه جرحًا ولا تعديلاً.
তিনি বলেন: এরই অন্তর্ভুক্ত হলো উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনা। সেটি এই যে, তিনি সফরে থাকাকালীন পূর্ণ (চার রাকাত) সালাত আদায় করতেন। তাকে বলা হলো: "আপনি কি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কসর (সংক্ষিপ্ত) করেননি?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, করেছি। কিন্তু আমি মানুষের ইমাম। ফলে বেদুঈন ও মরুবাসীরা আমাকে দেখে বলবে: সালাত এভাবেই (চার রাকাত) ফরজ (فريضة) করা হয়েছে।"১ তর্তুশি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: হে আল্লাহ্‌র রহমতপ্রাপ্তগণ, আপনারা লক্ষ্য করুন; কসর সম্পর্কে মুসলিমদের মাঝে দুটি অভিমত রয়েছে; তাদের কেউ কেউ বলেন এটি ফরজ (فريضة), আর কেউ বলেন এটি সুন্নাহ (سنة)। অতঃপর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ফরজ বা সুন্নাহ ত্যাগ করার পথ বেছে নিলেন এ আশঙ্কায় যে এর পরিণাম মন্দ হতে পারে এবং মানুষ মনে করতে পারে যে ফরজ দুই রাকাত।

তিনি বলেন: উমর (রা.) দাসীদের চাদর পরিধান করতে নিষেধ করতেন এবং বলতেন: "তোমরা স্বাধীন নারীদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করো না।"২ তিনি তার পুত্র আব্দুল্লাহকে বললেন: "আমি কি সংবাদ পাইনি যে তোমার দাসী চাদর পরেছে? আমি যদি তাকে দেখতাম তবে তাকে প্রহার করে ব্যথিত করতাম।" তর্তুশি বলেন: এটি সুবিদিত যে এটি সতর বা আবরণের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তারা বুঝেছিলেন যে শরিয়তের উদ্দেশ্য হলো তার সীমারেখা রক্ষা করা এবং মানুষ যেন এটি ধারণা না করে যে আবরণের ক্ষেত্রে স্বাধীন নারী ও দাসী সমান; যার ফলে একটি সুন্নাহ (سنة) বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং একটি বিদআত (بدعة) জিন্দা হবে।

অতঃপর "আবু শামা" বলেন: কুরবানির ক্ষেত্রে আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার সদৃশ হলো যা "সুনানুল বায়হাকি" তে আব্দুর রহমান বিন আবযা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু বকর ও উমর জানাজার সামনে হাঁটতেন এবং আলী তার পেছনে হাঁটতেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলা হলো: তারা দুজন সামনে হাঁটছেন। তিনি বললেন: "তারা উভয়ই জানেন যে জানাজার পেছনে হাঁটা সামনে হাঁটার চেয়ে উত্তম, যেমন একজন ব্যক্তির জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত একাকী নামাজের ওপর। কিন্তু তারা মানুষের জন্য বিষয়টি সহজ করতে এমনটি করছেন।"

--------------------------------------------

১ আমি (সম্পাদক) বলছি: এটি উসমান (রা.) থেকে সহিহ নয় (لم يصح)। বিদায় হজের সময় বেদুঈনরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে সালাত আদায় করেছিলেন এবং তিনি তাদের ইমাম ছিলেন, তা সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্ণ (চার রাকাত) পড়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়নি।

২ এটি বায়হাকি (২: ২২৬) বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আহমদ বিন আব্দুল হামিদ রয়েছেন, যার কোনো জীবনী আমি খুঁজে পাইনি। তবে বায়হাকি এর পরপরই বলেছেন: "এ বিষয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো সহিহ (صحيحة)।" ইবনে হাজমের "আল-মুহাল্লা" দ্রষ্টব্য।

৩ (৪: ২৫)। এতে যায়িদাহ রয়েছেন, যিনি হলেন ইবনে খেরাস; কেউ কেউ তাকে কিন্দী গোত্রের ইবনে আউস ইবনে খেরাস বলেছেন, যেমনটি বায়হাকি বলেছেন এবং এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন। একইভাবে ইবনে আবি হাতিম তার "আল-জারহ ওয়াত তাদিল" (১-২-৬১২) গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু তার সম্পর্কে কোনো জেরা বা সমালোচনা (جرحًا) কিংবা তাদিল বা প্রশংসা (تعديلاً) উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد أنكر عمر على طلحة رضي الله عنهما فعلا يغتر بظاهره الجهال فيحملونه على غير وجهه ففي الموطأ1 عن نافع أنه سمع أسلم يحدث أن عمر رأى على طلحة ثوبًا مصبوغًا وهو محرم فقال: ما هذا الثوب المصبوغ يا طلحة؟ فقال طلحة: يا أمير المؤمنين إنما هو مدر2. فقال عمر: إنكم أيها الرهط أئمة يقتدى بكم، فلو أن رجلًا جاهلًا رأى هذا الثوب لقال: إن طلحة قد كان يلبس الثياب المصبغة في الإحرام، فلا تلبسوا أيها الرهط شيئًا من هذه الثياب المصبغة. ا. هـ.

وقال الإمام الغزالي في "الإحياء" في باب السماع: يمنع التشبه بأهل الفسق لأن من تشبه بقوم فهو منهم، وبهذه العلة نقول بترك السنة مهما صارت شعارًا لأهل البدعة خوفًا من التشبه بهم3 ثم قال: لهذا ينهى عن لبس القباء وترك الشعر على الرأس قزعًا في بلاد صار القباء من لبس أهل الفساد فيها.

وقال الشهاب ابن حجر في فتاويه الحديثية: ما يفعله كثير عند ذكر مولده صلى الله عليه وسلم ووضع أمه له من القيام بدعة لم يرد فيها شيء. قال: على أن الناس إنما يفعلون ذلك تعظيمًا له صلى الله عليه وسلم. فالعوام معذورون بذلك بخلاف الخواص فلا ينبغي لهم فعله. ا. هـ.

وقال البدر العيني في "شرح البخاري" في باب المساجد التي على طريق المدينة. ينبغي للعالم إذا رأى الناس يلتزمون بالنوافل التزامًا شديدًا أن يترخص

--------------------------------------------

1 وعنه أخرجه البيهقي "5-60"، وإسناده صحيح.

2 أي مصبوغ به وهو الطين العلك الذي لا يخالطه شيء من رمل.

3 قلت: ليس هذا من التشبه بهم في شيء، بل هو تشبه بمن سن السنة وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإذا أخذ بها بعض الفساق، فليس ذلك بالذي يمنع من استمرار الحكم السابق، وهو التشبه به صلى الله عليه وسلم، والتشبه الممنوع إنما هو التشبه بالفساق الكفار فيما هو من مميزاتهم، ألست ترى أنه صلى الله عليه وسلم لبس جبة رومية كما في "الصحيحين" من حديث المغيرة بن شعبة، فإذا كان هذا ليس تشبهًا بالروم، فبالأولى ليس تشبهًا بالفساق إذا لبسوا ما لبسه النبي صلى الله عليه وسلم. وهذا بين لا يخفى إن شاء الله تعالى. "ناصر الدين".
ওমর (রা.) তালহা (রা.)-এর একটি কাজের প্রতি আপত্তি জানিয়েছিলেন যার বাহ্যিক রূপ দেখে অজ্ঞ ব্যক্তিরা বিভ্রান্ত হতে পারত এবং একে ভুল অর্থে গ্রহণ করতে পারত। মুয়াত্তা-তে নাফে থেকে বর্ণিত যে, তিনি আসলামকে বলতে শুনেছেন যে, ওমর (রা.) তালহার গায়ে ইহরাম অবস্থায় একটি রঙিন কাপড় দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে তালহা, এই রঙিন কাপড় কেন? তালহা (রা.) বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, এটি তো কেবল লাল মাটি (মাদার) দ্বারা রঞ্জিত। ওমর (রা.) বললেন: হে জামাত, আপনারা হলেন অনুসরণীয় ইমাম, আপনাদের অনুকরণ করা হয়। যদি কোনো অজ্ঞ লোক এই কাপড় দেখে, তবে সে বলবে: তালহা ইহরাম অবস্থায় রঙিন কাপড় পরিধান করতেন। সুতরাং হে জামাত, আপনারা এই ধরনের রঙিন কাপড়ের কোনোটি পরিধান করবেন না।

ইমাম গাজালি ‘ইহইয়া’ গ্রন্থের ‘সামা’ অধ্যায়ে বলেছেন: পাপাচারী লোকদের অনুকরণ (تشبه) করা নিষিদ্ধ, কারণ যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ (تشبه) করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই আমরা কোনো কোনো সুন্নাহ (سنة) বর্জন করার কথা বলি যখন সেটি বিদআত (بدعة) পন্থীদের পরিচায়ক প্রতীকে পরিণত হয়, যেন তাদের অনুকরণ (تشبه) না হয়ে যায়। এরপর তিনি বলেছেন: এই কারণেই 'কাবা' (এক প্রকার পোশাক) পরিধান করা এবং মাথায় 'কাজা' (মাথার কিছু চুল কাটা ও কিছু রাখা) নিষিদ্ধ করা হয় এমন সব দেশে যেখানে 'কাবা' ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পোশাকে পরিণত হয়েছে।

শিহাব ইবনে হাজার তাঁর ‘ফাতাওয়া হাদিসিয়্যাহ’-তে বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মকাহিনী আলোচনা ও তাঁর জননীর প্রসবকালীন বর্ণনার সময় অনেকে যে দাঁড়িয়ে যান, তা একটি বিদআত (بدعة) যার স্বপক্ষে কোনো দলিল বর্ণিত হয়নি। তিনি আরও বলেন: তবে মানুষ তা কেবল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই করে থাকে। সাধারণ মানুষ এতে ক্ষমাপ্রাপ্ত হলেও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমনটি করা উচিত নয়।

বদর আল-আইনি ‘শারহুল বুখারি’-তে ‘মদিনার পথে অবস্থিত মসজিদসমূহ’ অধ্যায়ে বলেছেন: কোনো আলেম যখন দেখেন যে মানুষ নফল (نوافل) ইবাদত পালনে অত্যধিক কড়াকড়ি করছে, তখন তাঁর উচিত হবে তাতে ছাড় দেওয়া...

--------------------------------------------

১. তাঁর থেকেই এটি বায়হাকি (৫-৬০) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।

২. অর্থাৎ যা দ্বারা রঞ্জিত করা হয়েছে এবং তা হলো আঠালো কাদা মাটি যাতে বালু মিশ্রিত থাকে না।

৩. আমি (নাসিরুদ্দিন আলবানি) বলছি: এটি তাদের অনুকরণ (تشبه) নয়, বরং এটি তাঁরই অনুকরণ (تشبه) যিনি সুন্নাহ (سنة) প্রবর্তন করেছেন আর তিনি হলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি সেই সুন্নাহর ওপর আমল করে, তবে তা পূর্ববর্তী বিধান অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুকরণের ধারাবাহিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে না। যে অনুকরণ (تشبه) নিষিদ্ধ, তা হলো কাফির ও পাপাচারীদের সেই সব বিষয়ে অনুকরণ (تشبه) করা যা তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। আপনি কি দেখেন না যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রোমান জুব্বা পরিধান করেছিলেন, যেমনটি মুগিরা ইবনে শুবা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে সহিহাইন-এ পাওয়া যায়? যদি এটি রোমানদের অনুকরণ (تشبه) না হয়ে থাকে, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) যা পরিধান করেছেন তা পাপাচারীরা পরিধান করলে সেটি (রাসুলুল্লাহর পরিহিত হওয়ার কারণে অন্যদের জন্য) অনুকরণ (تشبه) না হওয়া তো আরও যুক্তিযুক্ত। ইনশাআল্লাহ এটি একটি স্পষ্ট বিষয় যা অস্পষ্ট নয়। ‘নাসিরুদ্দিন’।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فيها في بعض المرات ويتركها ليعلم بفعله ذلك أنها غير واجبة، كما فعل ابن عباس في ترك الأضحية. ا. هـ.

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى في فتواه أن ليس للجمعة راتبة قبلية ما نصه: الأذان الذي على المنائر لم يكن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكن عثمان أمر به لما كثر الناس ولم يكن يبلغهم الأذان حين خروج الإمام وقعوده على المنبر. ويتوجه أن يقال هذا الأذان الثالث لما سنه عثمان واتفق عليه المسلمون صار أذانًا شرعيًّا وحينئذ فتكون الصلاة بينه وبين الأذان الثاني جائزة حسنة1 وليست سنة راتبة كالصلاة قبل المغرب. وحينئذ فمن فعل ذلك لم ينكر عليه ومن ترك ذلك لم ينكر عليه، وهذا أعدل الأقوال وكلام الإمام أحمد عليه. وحينئذ فقد يكون تركها أفضل إذا كان الجهال يعتقدون أن هذه سنة راتبة أو واجبة فتترك حتى يعرف الناس أنها ليست سنة راتبة ولا واجبة، لا سيما إذا داوم الناس عليها فينبغي تركها أحيانا حتى لا تشبه الفرض كما استحب أكثر العلماء "يعني المالكية والحنفية والحنابلة" أن لا يداوم على قراءة السجدة يوم الجمعة مع أنه قد ثبت في الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم فعلها؛ فإذا كان يكره المداومة على ذلك فترك المداومة على ما لم يسنه صلى الله عليه وسلم أولى، وإن صلاها الرجل بين الأذانين أحيانا لأنها تطوع مطلق أو صلاة بين أذانين كما يصلى قبل العصر والعشاء لا لأنها سنة راتبة فهذا جائز، وإذا كان رجل مع قوم يصلونها فإن كان مطاعًا إذا تركها وبين لهم السنة لم ينكروا عليه بل عرفوا السنة فتركها حسن وإن لم يكن مطاعًا ورأى أن في صلاتها تأليفًا لقلوبهم إلى ما هو أنفع أو دفعًا للخصام والشر لعدم التمكن من بيان الحق لهم وقبولهم له ونحو ذلك فهذا أيضًا حسن. فالعمل الواحد يكون مستحبًّا فعله تارة وتركه تارة باعتبار ما يترجح من مصلحة فعله وتركه بحسب الأدلة الشرعية، والمسلم قد يترك المستحب إذا كان في فعله فساد راجح على مصلحة، كما ترك النبي صلى الله عليه وسلم بناء

--------------------------------------------

1 قلت: فيه نظر بينته في رسالتي "الأجوبة النافعة" 21/ 33. "ناصر الدين".
তিনি মাঝে মাঝে এটি করতেন এবং এটি বর্জন করতেন যাতে তাঁর এই আমলের মাধ্যমে জানা যায় যে এটি ওয়াজিব (واجبة) নয়, যেমনটি ইবনে আব্বাস কুরবানি বর্জনের ক্ষেত্রে করেছিলেন। (সমাপ্ত)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ফতোয়ায় জুমার আগে কোনো সুন্নতে রাতিবাহ নেই—এ মর্মে যা বলেছেন তার পাঠ হলো: মিনারসমূহের ওপর যে আজান দেওয়া হয় তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ছিল না, কিন্তু উসমান (রা.) এর নির্দেশ দিয়েছিলেন যখন লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ইমামের বের হওয়া ও মিম্বরে বসার সময়ের আজান তাদের কাছে পৌঁছাত না। এটি বলা সঙ্গত যে, এই তৃতীয় আজানটি যখন উসমান (রা.) প্রবর্তন করেছেন এবং মুসলমানগণ এতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তখন এটি একটি শরয়ি আজানে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় এই আজান এবং দ্বিতীয় আজানের মধ্যবর্তী সময়ের সালাত জায়েজ (جائزة) ও উত্তম (حسنة) ১ এবং এটি মাগরিবের আগের সালাতের মতো কোনো সুন্নতে রাতিবা (سنة راتبة) নয়। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি তা আদায় করবে তাকে নিষেধ করা হবে না এবং যে তা বর্জন করবে তাকেও তিরস্কার করা হবে না; এটিই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মত এবং ইমাম আহমাদ-এর বক্তব্য এর পক্ষেই। এমতাবস্থায় এটি বর্জন করা উত্তম (أفضل) হতে পারে যদি সাধারণ মানুষ মনে করে যে এটি সুন্নতে রাতিবা (سنة راتبة) বা ওয়াজিব (واجبة); ফলে এটি বর্জন করা হবে যাতে মানুষ জানতে পারে যে এটি সুন্নতে রাতিবাও নয় এবং ওয়াজিবও নয়। বিশেষ করে যখন মানুষ এটি নিয়মিত পালন করতে শুরু করে, তখন মাঝে মাঝে তা বর্জন করা উচিত যাতে তা ফরজের (الفرض) মতো মনে না হয়। যেমনটি অধিকাংশ আলিম—অর্থাৎ মালিকি, হানাফি ও হাম্বলিগণ—মুস্তাহাব (استحب) মনে করেছেন যে, জুমার দিন (সুরা) সাজদাহ পাঠ করা যেন নিয়মিত না করা হয়, যদিও সহিহ (صحيح) হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করেছেন। সুতরাং যদি সেটির ওপর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অপছন্দনীয় (يكره) হয়, তবে যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নত হিসেবে সাব্যস্ত করেননি, সেটির ওপর ধারাবাহিকতা বর্জন করা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। আর যদি কোনো ব্যক্তি দুই আজানের মধ্যবর্তী সময়ে মাঝে মাঝে সালাত আদায় করে—এই হিসেবে যে এটি নফল (تطوع مطلق) সালাত বা আসর ও এশার আগের সালাতের মতো দুই আজানের মধ্যবর্তী সালাত, সুন্নতে রাতিবা (سنة راتبة) হিসেবে নয়—তবে তা জায়েজ (جائز)। আর কোনো ব্যক্তি যদি এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে থাকে যারা এটি আদায় করে, তবে সে যদি এমন মান্যবর ব্যক্তি হয় যে বর্জন করার পর তাদের কাছে সুন্নত (السنة) বর্ণনা করলে তারা তাকে তিরস্কার করবে না বরং সুন্নত (السنة) চিনে নেবে, তবে তা বর্জন করাই উত্তম (حسن)। আর যদি সে মান্যবর ব্যক্তি না হয় এবং সে দেখে যে এটি আদায় করার মাধ্যমে তাদের অন্তরসমূহকে আরও উপকারী বিষয়ের দিকে আকৃষ্ট করা যাবে অথবা সত্য প্রকাশে অক্ষমতা ও তাদের পক্ষ হতে তা গ্রহণ না করার আশঙ্কার কারণে বিবাদ ও অনিষ্ট রোধ করা যাবে, তবে এটিও উত্তম (حسن)। সুতরাং একই আমল ক্ষেত্রবিশেষে করা মুস্তাহাব (مستحب) হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে বর্জন করাও মুস্তাহাব হয়, যা শরয়ি দলিলের ভিত্তিতে কাজটির সম্পাদন বা বর্জনের মাসলাহাত বা কল্যাণের প্রাবল্যের ওপর নির্ভর করে। একজন মুসলিম মুস্তাহাব (المستحب) আমল বর্জন করতে পারে যদি সেটি পালনের মধ্যে জনকল্যাণের চেয়ে ফাসাদ বা অমঙ্গল প্রবল থাকে, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাবা পুনর্নির্মাণ বর্জন করেছিলেন...

--------------------------------------------

১ আমি বলছি: এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে যা আমি আমার রিসালাহ "আল-আজওয়িবাতুন নাফিয়াহ" ২১/ ৩৩-এ বর্ণনা করেছি। "নাসিরুদ্দিন"।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
البيت على قواعد إبراهيم، وقال لعائشة: "لولا أن قومك حديثو العهد بجاهلية لنقضت الكعبة، ولألصقتها بالأرض ولجعلت لها بابين بابا يدخل الناس منه وبابا يخرجون منه" والحديث في الصحيحين. فترك النبي صلى الله عليه وسلم هذا الأمر الذي كان عنده أفضل الأمرين للمعارض الراجح وهو حدثان عهد قريش بالإسلام لما في ذلك من التنفير لهم فكانت المفسدة راجحة على المصلحة ولذلك استحب الأئمة أحمد وغيره أن يدع الإمام ما هو عنده أفضل إذا كان فيه تأليف المأمومين، مثل أن يكون عنده فصل القنوت1 فضل بأن يسلم في الشفع ثم يصلي ركعة الوتر وهو يؤم قومًا لا يرون إلا وصل الوتر، فإذا لم يمكنه أن ينقلهم إلى الأفضل كانت المصلحة الحاصلة بموافقته لهم بوصل الوتر أرجح من مصلحة فصله مع كراهتهم للصلاة خلفه. وكذلك لو كان ممن يرى المخافتة بالبسملة أفضل أو الجهر بها وكان المأمون على خلاف رأيه ففعل المفضول عنده لمصلحة الموافقة والتأليف التي هي راجحة على مصلحة تلك الفضيلة كان هذا جائزًا حسنًا. وكذلك لو فعل خلاف الأفضل لأجل بيان السنة وتعليمها لمن لم يعلمها كان حسنًا مثل أن يجهر بالاستفتاح أو التعوذ أو البسملة ليعرف الناس أن فعل ذلك حسن مشروع في الصلاة كما ثبت في الصحيح2 "أن عمر بن الخطاب جهر بالاستفتاح فكان يكبر ويقول: سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك. قال الأسود بن يزيد: صليت خلف عمر أكثر من سبعين صلاة فكان يكبر ثم يقول ذلك. رواه مسلم في صحيحه3

--------------------------------------------

1 كذا ولعل الأصل: الوتر.

2 يعني "صحيح مسلم"، وإسناده منقطع، لكن قد صح موصولا عند غيره كما حققته في "إرواء الغليل" رقم "340" يسر الله طبعه.

3 هذا العزو خطأ، تابعه عليه صاحب "منار السبيل"، فلم يخرجه مسلم من طريق الأسود بن يزيد، وإنما أخرجه "2: 12" عن عبدة أن عمر … وهذا منقطع كما تقدم، وإنما أخرجه عن الأسود ابن أبي شيبة وغيره نحوه. كما خرجته في المصدر السابق.
ঘরটি ইব্রাহিম (আ.)-এর ভিত্তিসমূহের উপর (পুনর্নির্মাণ করা)। তিনি আয়েশা (রা.)-কে বলেছিলেন: "যদি তোমার সম্প্রদায় জাহিলিয়্যাতের নিকটবর্তী সময়ের না হতো, তবে আমি অবশ্যই কা'বা ভেঙে ফেলতাম এবং একে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতাম। আর এতে মানুষের প্রবেশের জন্য একটি এবং বের হওয়ার জন্য আরেকটি—এইভাবে দুটি দরজা তৈরি করতাম।" এই হাদিসটি সহীহাইন-এ রয়েছে। নবি (সা.) এই বিষয়টি, যা তাঁর কাছে অধিক উত্তম ছিল, তা পরিত্যাগ করেছিলেন একটি প্রবলতর বিরোধী কারণের জন্য; আর তা হলো কুরাইশদের ইসলামে নতুন হওয়া, যার ফলে কা'বা পুনর্নির্মাণ করলে তাদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। সুতরাং এক্ষেত্রে কল্যাণ (مصلحة)-এর তুলনায় অনিষ্ট (مفسدة)-এর পাল্লাই ভারি ছিল। এই কারণেই ইমাম আহমদ এবং অন্যান্য ইমামগণ মুস্তাহাব মনে করেছেন যে, ইমাম যেন তাঁর নিকট যা অধিক উত্তম তা বর্জন করেন যদি তাতে মুক্তাদিদের সাথে হৃদ্যতা বা ঐক্য তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি তাঁর মতে বিতর নামাজে সালামের মাধ্যমে 'ফাসল' বা পৃথক করা উত্তম হয়—অর্থাৎ শাফ' পড়ে সালাম ফিরিয়ে তারপর এক রাকাত বিতর পড়া—অথচ তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের ইমামতি করছেন যারা বিতরকে অবিচ্ছিন্ন (وصل) ভাবে পড়া ছাড়া অন্য কিছু সমীচীন মনে করে না। এমতাবস্থায় যদি তাদেরকে অধিক উত্তম পদ্ধতির দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হয়, তবে তাদের সাথে একমত হয়ে বিতর অবিচ্ছিন্নভাবে (وصل) পড়ার মাধ্যমে অর্জিত কল্যাণ (مصلحة), তাদের অপছন্দ থাকা সত্ত্বেও পৃথকভাবে (فصل) পড়ার কল্যাণের চেয়ে অগ্রগণ্য হবে। একইভাবে, যদি কেউ বিসমিল্লাহ নীরবে পাঠ করাকে উত্তম মনে করেন কিংবা উচ্চস্বরে পাঠ করাকে, আর মুক্তাদিরা যদি তার মতের পরিপন্থী হয়, তবে ঐক্যের স্বার্থে অনুত্তম (مفضول) আমলটি করা যদি সেই ফজিলতের চেয়ে বেশি কল্যাণকর (مصلحة) হয়, তবে তা জায়েজ ও উত্তম হবে। তদ্রূপ, সুন্নাহর বর্ণনা ও তা শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে যারা জানে না তাদেরকে শেখানোর জন্য যদি কেউ অনুত্তম কাজটি করেন, তবে তাও উত্তম হবে। যেমন—ইস্তিপ্তাহ (প্রারম্ভিক দোয়া), আউযুবিল্লাহ বা বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পাঠ করা যাতে মানুষ জানতে পারে যে এটি উত্তম এবং নামাজের জন্য শরিয়তসম্মত। যেমনটি সহীহ বর্ণনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, "উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ইস্তিপ্তাহ উচ্চস্বরে পাঠ করতেন। তিনি তাকবীর বলতেন এবং পড়তেন: 'সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা তাবারাকাসমুকা ওয়া তা'আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা'। আসওয়াদ বিন ইয়াযিদ বলেন: আমি উমরের পেছনে সত্তরটিরও বেশি নামাজ পড়েছি, তিনি তাকবীর দিতেন এবং এরপর এটি বলতেন।" এটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. এই রূপই আছে, তবে সম্ভবত মূল পাঠ হবে: বিতর।

২. অর্থাৎ "সহীহ মুসলিম"; এর সনদ (إسناد) বিচ্ছিন্ন (منقطع), কিন্তু অন্যদের নিকট এটি সংযুক্ত (موصول) হিসেবে সহীহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে, যেমনটি আমি "ইরওয়াউল গালীল" (নং ৩৪০)-এ যাচাই করেছি; আল্লাহ এর মুদ্রণ সহজ করে দিন।

৩. এই সূত্রোল্লেখটি ভুল, "মানারুস সাবীল"-এর লেখকও এক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি আসওয়াদ বিন ইয়াযিদের সূত্রে বর্ণনা করেননি, বরং তিনি এটি (২: ১২) আবদাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে উমর … এবং এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এটি কেবল আসওয়াদ বিন আবি শাইবাহ এবং অন্যদের সূত্রে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, যা আমি পূর্বোক্ত উৎসে তাখরীজ (تخريج) করেছি।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولهذا شاع الاستفتاح حتى عمل به أكثر الناس. وكذلك ابن عمر وابن عباس رضي الله عنهم يجهران بالاستعاذة، وكان غير واحد من الصحابة يجهر بالبسملة، وهذا عند الأئمة الجمهور الذين لا يرون الجهر بها سنة راتبة كان لتعليم الناس أن قراءتها في الصلاة سنة، كما ثبت في الصحيح: "أن ابن عباس صلى على جنازة فقرأ بأم القرآن جهرًا" وذكر أنه فعل ذلك ليعلم الناس أنها سنة. وذلك أن الناس في صلاة الجنازة على قولين: منهم من لا يرى فيها قراءة بحال كما قاله كثير من السلف وهو مذهب أبي حنيفة ومالك، ومنهم من يرى القراءة فيها سنة كقول الشافعي وأحمد لحديث ابن عباس هذا وغيره. ثم من هؤلاء من يقول: القراءة فيها واجبة كالصلاة، ومنهم من يقول: بل هي سنة مستحبة ليست واجبة وهذا أعدل الأقوال الثلاثة1، فإن السلف فعلوا هذا وهذا وكان كلا الفعلين مشهورًا بينهم: كانوا يصلون على الجنازة بقراءة وبغير قراءة كما كانوا يصلون تارة بالبسملة وتارة بغير جهر، وتارة باستفتاح وتارة بغير استفتاح، وتارة برفع اليدين في المواطن الثلاثة وتارة بغير رفع، وتارة يسلمون تسليمتين وتارة تسليمة واحدة، وتارة يقرءون خلف الإمام بالسر وتارة لا يقرءون، وتارة يكبرون على الجنازة سبعًا وتارة خمسًا وتارة أربعًا كان فيهم من يفعل هذا وفيهم من يفعل هذا كل هذا ثابت عن الصحابة، كما ثبت عنهم أن فيهم من كان يرجع في الأذان وفيهم من لا يرجع فيه، وفيهم من يوتر الإقامة وفيهم من كان يشفعها، وكلاهما ثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم. فهذه الأمور وإن كان أحدها أرجح من الآخر فمن فعل المرجوح فقد فعل جائزًا، وقد يكون فعل المرجوح للمصلحة الراجحة كما يكون ترك الراجح أرجح أحيانًا

--------------------------------------------

1 قلت: في هذا نظر؛ لأن عموم قوله صلى الله عليه وسلم: "لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب" يشمل الصلاة على الجنازة، كما هو ظاهر. وكون السلف فعلوا هذا، وهذا، إنما يصح الاحتجاج به لو أنهم جميعًا فعلوا ذلك ورأوه مستحبًّا، أما وهم قد اختلفوا كما تقدم في كلامه، فلا يصح جعل اختلافهم دليلًا على الاستحباب كما لا يخفى، بل الواجب عند الاختلاف الرجوع إلى الدليل، وهو ما فعلنا. "ناصر الدين"

এই কারণে প্রারম্ভিক দোয়া পাঠ করার বিষয়টি ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, এমনকি অধিকাংশ মানুষ এর ওপর আমল করতেন। অনুরূপভাবে ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) উচ্চস্বরে আউযুবিল্লাহ পাঠ করতেন এবং একাধিক সাহাবী উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ পাঠ করতেন। আর এটি জমহুর ইমামগণের নিকট—যারা উচ্চস্বরে তা পাঠ করাকে নিয়মিত সুন্নাহ (سنة) মনে করেন না—এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে এটি শেখানো যে, সালাতে তা পাঠ করা সুন্নাহ (سنة); যেমন সহিহ (صحيح) বর্ণনায় প্রমাণিত হয়েছে: "ইবনে আব্বাস একটি জানাজার সালাত আদায় করলেন এবং উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন।" তিনি উল্লেখ করলেন যে, তিনি এটি করেছেন যাতে মানুষ জানতে পারে যে এটি সুন্নাহ (سنة)। এর কারণ হলো, জানাজার সালাতের ব্যাপারে মানুষের দুটি মত রয়েছে: তাদের মধ্যে কেউ কেউ এতে কোনো অবস্থাতেই কিরাত পাঠ করা সাব্যস্ত করেন না, যেমনটি অনেক সালাফ বলেছেন এবং এটি আবু হানিফা ও মালিকের মাযহাব। আবার কেউ কেউ এতে কিরাত পাঠ করাকে সুন্নাহ (سنة) মনে করেন, যেমন শাফিয়ী ও আহমাদের মত; ইবনে আব্বাসের এই হাদিস ও অন্যান্য দলিলের ভিত্তিতে। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: এতে কিরাত পাঠ করা সালাতের মতোই ওয়াজিব (واجبة); আবার কেউ কেউ বলেন: বরং এটি সুন্নাহ ও মুস্তাহাব (مستحبة), ওয়াজিব (واجبة) নয়। আর এই তিনটি মতের মধ্যে এটিই অধিকতর ভারসাম্যপূর্ণ মত১, কেননা সালাফগণ এটিও করেছেন আবার ওটিও করেছেন এবং উভয় আমলই তাদের মাঝে প্রসিদ্ধ ছিল: তারা জানাজার সালাতে কিরাতসহ এবং কিরাত ছাড়াও সালাত আদায় করতেন, যেমন তারা কখনও বিসমিল্লাহসহ আবার কখনও উচ্চস্বরে পাঠ না করে সালাত আদায় করতেন। কখনও প্রারম্ভিক দোয়া পাঠ করতেন আবার কখনও তা ছাড়াই পড়তেন। কখনও তিন স্থানে হাত তুলতেন আবার কখনও হাত তোলা ছাড়াই পড়তেন। কখনও দুই দিকে সালাম ফিরাতেন আবার কখনও এক দিকে। কখনও ইমামের পেছনে নীরবে কিরাত পাঠ করতেন আবার কখনও কিরাত পাঠ করতেন না। কখনও জানাজায় সাত তাকবির দিতেন, কখনও পাঁচ তাকবির আবার কখনও চার তাকবির। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি করতেন আবার কেউ ওটি করতেন; এর প্রতিটিই সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত (ثابت)। যেমন তাদের থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তাদের মধ্যে কেউ আজানে তারজি' করতেন, আবার কেউ তা করতেন না। কেউ ইকামতের শব্দগুলো একবার করে বলতেন, আবার কেউ জোড়ায় জোড়ায় বলতেন। উভয় পদ্ধতিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت)। এই বিষয়গুলোর মধ্যে কোনোটি অন্যটির চেয়ে অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য (أرجح) হলেও, কেউ যদি কম অগ্রাধিকারযোগ্য (مرجوح) আমলটি করে তবে সে বৈধ (جائزًا) কাজই করল। আর কখনও কখনও কোনো উত্তম স্বার্থে অগ্রাধিকারহীন (مرجوح) আমল করা, উত্তম আমলটি বর্জন করার চেয়েও অধিকতর শ্রেয় হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

১. আমি বলছি: এই বক্তব্যে আপত্তির অবকাশ আছে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ বাণী: "যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করল না তার সালাত হবে না"—এটি জানাজার সালাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি সুস্পষ্ট। আর সালাফগণ এটি ও সেটি উভয়ই করেছেন—এটির মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা তখনই সঠিক হতো যদি তারা সবাই মিলে তা করতেন এবং একে মুস্তাহাব (مستحب) মনে করতেন। কিন্তু যেহেতু তারা এ ব্যাপারে মতভেদ করেছেন—যেমনটি তাঁর আলোচনার পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—তাই তাদের এই মতভেদকে মুস্তাহাব হওয়া (استحباب)-এর দলিল হিসেবে গণ্য করা সঠিক নয়, যা অস্পষ্ট নয়। বরং মতভেদের সময় ওয়াজিব (واجب) হলো দলিলের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, আর আমরা সেটিই করেছি। "নাসিরুদ্দিন"
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
لمصلحة راجعة. وهذا وقع في عامة الأعمال، فإن العمل الذي هو في جنسه أفضل قد يكون في موطن غيره أفضل منه كما أن جنس الصلاة أفضل من جنس القراءة وجنس القراءة أفضل الذكر، وجنس الذكر أفضل من جنس الدعاء. ثم الصلاة بعد الفجر والعصر منهي عنها، والقراءة والدعاء والذكر أفضل منها في تلك الأوقات، وكذلك القراءة في الركوع والسجود منهي عنها، والذكر هناك أفضل منها، والدعاء في آخر الصلاة بعد التشهد أفضل من الذكر. وقد يكون العمل المفضول أفضل بحسب حال الشخص المعين لكونه عاجزًا عن الأفضل، أو لكون محبته ورغبته واهتمامه وانتفاعه بالمفضول أكثر فيكون أفضل في حقه لما يقترن به من مزيد علمه وحبه وإرادته وانتفاعه كما أن المريض ينتفع بالدواء الذي يشتهيه ما لا ينتفع بما لا يشتهيه وإن كان جنس ذلك أفضل، ومن هذا الباب صار الذكر لبعض الناس في بعض الأوقات خيرًا من القراءة والقراءة لبعضهم في بعض الأوقات خيرًا من الصلاة وأمثال ذلك لكمال انتفاعه به لا لأنه في جنسه أفضل.

وهذا الباب باب تفضيل بعض الأعمال على بعض إن لم يعرف فيه التفضيل، وأن ذلك يتنوع بتنوع الأحوال في كثير من الأعمال وإلا وقع فيه اضطراب كثير فإن من الناس من إذا اعتقد استحباب فعل ورجحانه يحافظ عليه ما لا يحافظ على الواجبات حتى يخرج به الأمر إلى الهوى والتعصب والحمية الجاهلية كما تجده فيمن يختار بعض هذه الأمور فيراها شعارًا لمذهبه. ومنهم من إذا رأى ترك ذلك هو الأفضل يحافظ أيضًا على هذا الترك أعظم من محافظته على ترك المحرمات حتى يخرج به الأمر إلى اتباع الهوى والحمية الجاهلية كما تجده فيمن يرى الترك شعارًا لمذهبه وأمثال ذلك. وهذا كله خطأ والواجب أن يعطى كل ذي حق حقه، ويوسع ما وسع الله ورسوله، ويؤلف ما ألف الله بينه ورسوله، ويراعي في ذلك ما يحبه الله ورسوله من المصالح الشرعية والمقاصد الشرعية، ويعلم أن خير الكلام كلام الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وأن الله بعثه رحمة للعالمين، بعثه بسعادة الدنيا والآخرة في كل أمر من الأمور
কোনো অগ্রগণ্য কল্যাণের (مصلحة راجعة) স্বার্থে। আর এটি সাধারণ আমলসমূহের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। কেননা একটি আমল যা মূলত স্বীয় প্রকারে শ্রেষ্ঠ (أفضل), তা অন্য কোনো ক্ষেত্রে অন্য আমলের তুলনায় শ্রেষ্ঠতর হতে পারে। যেমন সালাতের প্রকারটি কিরাত (কুরআন তিলাওয়াত) থেকে শ্রেষ্ঠ, কিরাত যিকর থেকে শ্রেষ্ঠ এবং যিকর দুআ থেকে শ্রেষ্ঠ। অতঃপর ফজর ও আসরের পর সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ (منهي عنها), সেই সময়ে কিরাত, দুআ ও যিকর সালাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। একইভাবে রুকু ও সাজদায় কিরাত পাঠ করা নিষিদ্ধ (منهي عنها), সেখানে যিকর শ্রেষ্ঠতর। আর সালাতের শেষে তাশাহহুদের পর দুআ করা যিকরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদার আমলটিও (المفضول) শ্রেষ্ঠ হতে পারে যদি সে অধিক শ্রেষ্ঠটি পালনে অক্ষম হয়, অথবা সেই অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদার আমলটিতে তার মহব্বত, আগ্রহ, মনোযোগ ও উপকারিতা বেশি থাকে। ফলে তার ক্ষেত্রে সেটিই শ্রেষ্ঠ (أفضل) হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এর সাথে তার অতিরিক্ত জ্ঞান, ভালোবাসা, ইচ্ছা ও উপকারিতা যুক্ত থাকে। যেমন একজন রোগী যে ঔষধটি পছন্দ করে তা থেকে সে যতটুকু উপকৃত হয়, অপছন্দীয় ঔষধ থেকে ততটা হয় না, যদিও সেই ঔষধটি মূলগতভাবে শ্রেষ্ঠ (أفضل) হোক না কেন। এই প্রেক্ষাপটেই কোনো কোনো মানুষের জন্য কোনো কোনো সময়ে যিকর করা কিরাতের চেয়ে উত্তম হয়, আবার কারো জন্য কোনো কোনো সময়ে কিরাত পাঠ সালাতের চেয়ে উত্তম হয়; এটি তার পূর্ণাঙ্গভাবে উপকৃত হওয়ার কারণে হয়, আমলটি তার স্বীয় প্রকারে শ্রেষ্ঠ (أفضل) হওয়ার কারণে নয়।

এক আমলকে অন্য আমলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার এই অধ্যায়টি যদি যথাযথভাবে জানা না থাকে—অর্থাৎ অনেক আমলের ক্ষেত্রে অবস্থার ভিন্নতার কারণে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড ভিন্ন হয়—তবে তাতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা (اضطراب) দেখা দেয়। কেননা কিছু মানুষ এমন আছে যে, যখন সে কোনো কাজকে মুস্তাহাব (مستحب) বা অগ্রগণ্য বলে বিশ্বাস করে, তখন সে তার প্রতি এমনভাবে যত্নবান হয় যা ওয়াজিব (واجبات) আমলগুলোর ক্ষেত্রেও করে না। এমনকি বিষয়টি প্রবৃত্তি, অন্ধভক্তি ও জাহেলি গোঁড়ামির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। যেমনটি আপনি দেখতে পান তাদের ক্ষেত্রে, যারা এমন কিছু বিষয় বেছে নেয় এবং সেগুলোকে তাদের মাযহাবের প্রতীক মনে করে। আবার তাদের মধ্যে কেউ এমনও আছে যে, যখন সে কোনো কাজ বর্জন করাকে শ্রেষ্ঠ মনে করে, তখন সে তা বর্জনের ক্ষেত্রে হারাম (المحرمات) বর্জনের চেয়েও বেশি কঠোরতা প্রদর্শন করে। এমনকি বিষয়টি প্রবৃত্তি অনুসরণ ও জাহেলি গোঁড়ামির রূপ নেয়। যেমনটি তাদের মাঝে দেখা যায় যারা বর্জন করাকে তাদের মাযহাবের প্রতীক মনে করে। এই সব কিছুই ভুল। বরং আবশ্যক হলো প্রত্যেক হকদারের হক আদায় করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা প্রশস্ত করেছেন তাকে প্রশস্ত রাখা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে বিষয়গুলোর মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করেছেন তা বজায় রাখা। এক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা পছন্দ করেন সেই শরয়ী কল্যাণ (المصالح الشرعية) ও শরয়ী লক্ষ্যসমূহ (المقاصد الشرعية) বিবেচনায় রাখা কর্তব্য। আর এটি জেনে রাখা উচিত যে, সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কালাম এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আল্লাহ তাকে বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং প্রতিটি বিষয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্যসহ পাঠিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأن يكون مع الإنسان ما يحفظ به هذا الإجمال، وإلا فكثير من الناس يعتقد هذا مجملا وبدعه عند التفصيل إما جهلا، وإما ظلمًا، وإما ظنًا، وإما اتباعًا للهوى، فنسأل الله أن يهدينا الصراط المستقيم صراط الذين أنعم عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقًا.

12- فريضة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:

لا خفاء في أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من أعظم شعائر الدين. وأهم المفترضات على المؤمنين. وقد أمر الله بذلك في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم. وحث عليه ورغب فيه فقال تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} وأبرز القائمين في أجل مظهر يمكن أن تظهر فيه حال أمة فقال: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} فقدم ذكر الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر إلى الإيمان في هذه الآية مع أن الإيمان هو الأصل الذي تقوم عليه أعمال البر والدوحة التي تتفرع عنها أفنان الخير؛ تشريفًا لتلك الفريضة، وإعلاء لمنزلتها بين الفرائض. بل تنبيهًا على أنها حفاظ الإيمان وملاك أمره. ثم شد بالإنكار على قوم أغفلوها. وأهل دين أهملوها فقال: {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرائيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ، كَانُوا لا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} فقذف عليهم اللعنة وهي أشد ما عنون به على مقته وغضبه.

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من رأى منكم منكرًا فليغيره بيده فإن لم يستطع فبلسانه؛ فإن لم يستطع فبقلبه؛ وذلك أضعف الإيمان" 1.

--------------------------------------------

1 حديث صحيح، رواه مسلم وغيره عن أبي سعيد الخدري، وهو مخرج في "مشكلة الفقر" "66".
এবং মানুষের সাথে এমন কিছু থাকা আবশ্যক যা দ্বারা সে এই সামগ্রিক বিষয়টি সংরক্ষণ করতে পারে। অন্যথায় বহু মানুষ একে সামগ্রিকভাবে বিশ্বাস করলেও বিস্তারিত আলোচনার সময় অজ্ঞতা, অন্যায়, কুধারণা কিংবা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে একে বিদআত সাব্যস্ত করে বসে। সুতরাং আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করেন; সেই পথ যাতে তিনি অনুগ্রহ করেছেন নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং নেককারদের। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না চমৎকার!

১২- সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের (منكر) নিষেধের আবশ্যকতা:

এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের (منكر) নিষেধ দ্বীনের মহান নিদর্শনসমূহের অন্যতম এবং মুমিনদের ওপর অর্পিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবশ্যকতাগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসুল (সা.)-এর পবিত্র জবানে এর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এর প্রতি তাকিদ দিয়েছেন এবং উৎসাহিত করে বলেছেন: {তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি উম্মত থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।} তিনি এই দায়িত্ব পালনকারীদের এমন এক শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় ফুটিয়ে তুলেছেন যা কোনো জাতির অবস্থার ক্ষেত্রে প্রকাশ পাওয়া সম্ভব। তিনি ইরশাদ করেছেন: {তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজ (منكر) থেকে বারণ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো।} এই আয়াতে ঈমানের বর্ণনার পূর্বেই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের (منكر) নিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যদিও ঈমানই হলো সেই মূল ভিত্তি যার ওপর সকল পুণ্যকর্ম প্রতিষ্ঠিত এবং এটিই সেই বৃক্ষ যার থেকে কল্যাণের শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়। মূলত এই ফরিদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অন্যান্য ফরজের মধ্যে এর মর্যাদা সমুন্নত করার জন্যই এটি করা হয়েছে। বরং এটি এ বিষয়ে সতর্ক করা যে, এটিই ঈমানের রক্ষক এবং এর সমস্ত বিষয়ের মূল নিয়ন্ত্রক। অতঃপর তিনি সেই সম্প্রদায়ের প্রতি কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন যারা একে উপেক্ষা করেছে এবং ঐসব ধর্মাবলম্বীদের প্রতি যারা একে বর্জন করেছে। তিনি ইরশাদ করেছেন: {বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তাদেরকে দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটি একারণে যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা যেসব গর্হিত কাজ (منكر) করত তা থেকে একে অপরকে বারণ করত না। তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট!} ফলে তিনি তাদের ওপর লানত বর্ষণ করেছেন, যা তাঁর ঘৃণা ও ক্রোধ প্রকাশের কঠোরতম বহিঃপ্রকাশ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমাদের কেউ যদি কোনো গর্হিত কাজ (منكر) হতে দেখে, তবে সে যেন তা নিজ হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন নিজ মুখ দিয়ে; আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন অন্তর দিয়ে (ঘৃণা করে); আর এটিই হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।" ১।

--------------------------------------------

১ এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, মুসলিম ও অন্যান্যগণ আবু সাঈদ খুদরি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি "মুশকিলাতুল ফাকর" (৬৬) গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال عليه الصلاة والسلام: "أيها الناس مروا بالمعروف وأنهوا عن المنكر قبل أن تدعوا فلا يستجاب لكم؛ وقبل أن تستغفروا فلا يغفر لكم. إن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لا يدفع رزقًا ولا يقرب أجلا وإن الأحبار من اليهود والرهبان من النصارى لما تركوا الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لعنهم الله على لسان أنبيائهم ثم عموا بالبلاء"1. وقال عليه الصلاة والسلام: "أفضل الجهاد كلمة حق عند سلطان جائر" 2. وسئل صلوات الله عليه عن خير الناس فقال: "أتقاهم للرب وأوصلهم للرحم؛ وآمرهم بالمعروف. وأنهاهم عن المنكر"3.

فقد تبين واتضح أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لا رخصة لأحد في تركهما عند القدرة والإمكان. وأن من أضاع ذلك وتساهل فيه فهو متهاون بحق الله، وغير معظم لحرماته كما ينبغي، وقد ضعف إيمانه، وقل من الله خوفه وحياؤه، فإن كان سكوته رغبة في الدنيا وطمعًا في الجاه والمال ويخشى أنه إذا أمر أو نهى سقطت منزلته وضعف جاهه عند من أمره أو نهاه من العصاة والظلمة فقد عظم أثمه وتعرض بسكوته لسخط ربه ومقته، فأما إذا سكت عن الأمر والنهي لعلمه أنه يحصل له إذا أمر أو نهي مكروه في نفسه أو ماله فقد يجوز له السكوت إذا تحقق ذلك وكان المكروه الذي يحصل له شديدًا وله وقع ظاهر؛ ولو أمر أو نهى مع ذلك كان له أجر عظيم وثواب جزيل وكان ذلك منه دليلا على محبة الله وإيثاره على نفسه وعلى نهاية الحرص على نصرته لدينه كما قال تعالى: {وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ} وما أحسن حال العبد إذا ضرب أو حبس أو شتم بسبب قيامه بحقوق ربه وأمره بطاعته ونهيه عن معصيته، ذلك دأب الأنبياء والصالحين والعلماء العاملين، كما هو منقول في أخبارهم، ومعروف من سيرهم وآثارهم. ولا خير في

--------------------------------------------

1 إسناده ضعيف، كما بينته في "الضعيفة" "2092".

2 حديث صحيح خرجته في "الصحيحة" "487".

3 إسناده ضعيف كما في "الضعيفة" "2093".
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "হে লোকসকল! তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো সেই সময় আসার আগে, যখন তোমরা দোয়া করবে কিন্তু তোমাদের দোয়া কবুল করা হবে না; এবং তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করবে কিন্তু তোমাদের ক্ষমা করা হবে না। নিশ্চয়ই সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা জীবিকা দূরে সরিয়ে দেয় না এবং মৃত্যুকেও নিকটবর্তী করে না। আর ইহুদিদের পণ্ডিতরা এবং খ্রিস্টানদের সন্ন্যাসীরা যখন সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা পরিত্যাগ করেছিল, তখন আল্লাহ তাদের নবীদের মুখে তাদের ওপর অভিশাপ দিয়েছিলেন, অতঃপর তারা বালা-মুসিবতে নিমজ্জিত হয়েছিল।"১। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন: "অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলাই হলো সর্বোত্তম জিহাদ।" ২। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সর্বোত্তম মানুষ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "তাদের মধ্যে যে তার রবের প্রতি সর্বাধিক তাকওয়াবান, যে আত্মীয়তার সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি বজায় রাখে এবং যে সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ সবচেয়ে বেশি করে।"৩।

সুতরাং এটি স্পষ্ট ও পরিষ্কার হয়ে গেল যে, সামর্থ্য ও সুযোগ থাকা অবস্থায় সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ পরিত্যাগ করার কোনো অনুমতি কারো নেই। যে ব্যক্তি একে বিনষ্ট করবে এবং এতে শিথিলতা প্রদর্শন করবে, সে আল্লাহর হকের ব্যাপারে অবহেলাকারী এবং তাঁর অলঙ্ঘনীয় বিধানাবলির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনকারী নয়। তার ঈমান দুর্বল হয়ে গেছে এবং আল্লাহর প্রতি তার ভয় ও লজ্জাবোধ কমে গেছে। যদি তার এই নীরবতা দুনিয়ার মোহ এবং পদমর্যাদা ও সম্পদের লোভের কারণে হয় এবং সে এই আশঙ্কা করে যে, আদেশ বা নিষেধ করলে পাপাচারী ও জালেমদের নিকট তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে এবং প্রতিপত্তি কমে যাবে, তবে তার গুনাহ অত্যন্ত বড় হবে এবং তার এই নীরবতার কারণে সে তার রবের অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের সম্মুখীন হবে। তবে যদি সে আদেশ ও নিষেধ থেকে এই কারণে বিরত থাকে যে, সে জানে যে আদেশ বা নিষেধ করলে তার নিজের বা সম্পদের ওপর কোনো অনিষ্ট নেমে আসবে, এমতাবস্থায় যদি সেই ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং তা অত্যন্ত প্রবল ও প্রকাশ্য হয়, তবে তার জন্য নীরব থাকা বৈধ হতে পারে। কিন্তু এর পরেও যদি সে আদেশ বা নিষেধ করে, তবে তার জন্য রয়েছে মহান প্রতিদান ও বিপুল সওয়াব। এটি আল্লাহর প্রতি তার ভালোবাসা, নিজের ওপর আল্লাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করার ব্যাপারে তার চরম আগ্রহের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {সৎ কাজের আদেশ দাও, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং তোমার ওপর যা আপতিত হয় তাতে ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই এটি দৃঢ় সংকল্পের কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত}। সেই বান্দার অবস্থা কতই না চমৎকার, যাকে তার রবের হক আদায় করতে গিয়ে এবং তাঁর আনুগত্যের আদেশ ও নাফরমানি থেকে নিষেধ করতে গিয়ে প্রহার করা হয়, কারারুদ্ধ করা হয় কিংবা লাঞ্ছিত করা হয়। এটিই নবীগণ, পুণ্যবান ব্যক্তিবর্গ এবং আমলকারী আলেমদের রীতি, যা তাঁদের জীবনী ও ইতিহাসের পাতায় সুপরিচিত ও বর্ণিত রয়েছে।

--------------------------------------------

১. এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), যেমনটি আমি আদ-দয়িফাহ (২০৯২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছি।

২. এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, যা আমি আস-সহিহাহ (৪৮৭) গ্রন্থে সংকলন করেছি।

৩. এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), যেমনটি আদ-দয়িফাহ (২০৯৩) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الجبن والضعف المانعين من نصرة الدين ومجاهدة الظالمين والفاسقين لردهم إلى طاعة الله رب العالمين، فإن الغضب لله والغيرة له عند ترك أوامره، وارتكاب نواهيه، وزواجره، شأن الأنبياء والصديقين، وبذلك وصفوا، واشتهروا وعرفوا، كما ورد في الحديث أنه عليه الصلاة والسلام كان لا يغضب لنفسه، فإذا انتهك شيء من حرمات الله تعالى لم يقم لغضبه شيء1 وكما قال عليه الصلاة والسلام في حق عمر بن الخطاب رضي الله عنه: "تركه قوله الحق وما له في الناس من صديق"2 وقال تعالى في وصف أحبابه من المؤمنين: {أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لائِمٍ} .

فتبين أن المؤمن الكامل لا يقدر أن يملك نفسه عند مشاهدة المنكرات يغيرها أو يحال بينه وبين ذلك بما لا طاقة له على دفعه. وأما المنافق ومن ضعف إيمانه جدًّا فإذا رأوا المنكرات تعللوا وعذروا أنفسهم بالأعذار الركيكة التي لا يقوم بها حجة عند الله وعند رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتراهم إذا شتموا أو ظلموا بشيء من أموالهم يقومون أتم القيام ويغضبون أشد الغضب، ومن فعل معهم ذلك يخاصمونه ويصارمونه الزمان الطويل، ولا يفعلون شيئًا من ذلك مع المصرين على الظلم والمنكر المضيعين لحقوق الله، وأن المؤمنين الصادقين على العكس من ذلك يغضبون لله ولا يغضبون لأنفسهم ويقاطعون من عصى الله وترك أمره ويصارمونه إذا لم يقبل الحق ويصفحون ويتجاوزون عمن ظلمهم أو شتمهم. فانظروا الفرق ما بين الفريقين وكونوا مع أحسنهم فريقًا، وأقومهم طريقًا {اسْتَعِينُوا بِاللَّهِ وَاصْبِرُوا إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ} .

--------------------------------------------

1 غريب بهذا اللفظ، والمعروف من حديث عائشة بلفظ: " … وما انتقم رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه، إلا أن تنتهك حرمة الله، فينتقم لله بها". أخرجه مالك "2/ 902/ 2" وعنه البخاري "2: 394" ومسلم "7: 80" وأحمد "6: 114، 116، 262".

2 حديث ضعيف جدًّا، وقد استغربه الترمذي، واستنكره جمع، وبيانه في الضعيفة "2049".
কাপুরুষতা এবং দুর্বলতা দ্বীনের সাহায্য করা এবং জালিম ও ফাসিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যাতে তাদের বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে আনা যায়। কারণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাগান্বিত হওয়া এবং তাঁর আদেশ বর্জন ও তাঁর নিষেধসমূহ এবং সতর্কবাণী অমান্য করার সময় তাঁর সম্মানে আত্মমর্যাদাবোধ পোষণ করা নবী ও সিদ্দীকগণের বৈশিষ্ট্য। এ গুণেই তাঁরা বিশেষিত এবং এ জন্যই তাঁরা প্রসিদ্ধ ও পরিচিত। যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য রাগান্বিত হতেন না, কিন্তু যখন মহান আল্লাহর কোনো পবিত্র সীমালঙ্ঘন করা হতো, তখন তাঁর ক্রোধের সামনে কোনো কিছুই টিকতে পারত না।১ আর যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে বলেছেন: "সত্য কথা বলা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়েছে যে, মানুষের মধ্যে তার কোনো বন্ধু অবশিষ্ট নেই।"২ আর মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় মুমিন বান্দাদের বর্ণনায় বলেছেন: {তারা মুমিনদের প্রতি বিনয়ী ও কাফিরদের প্রতি কঠোর, তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করে না}।

সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, একজন পূর্ণাঙ্গ মুমিন যখন কোনো অন্যায় (منكر) প্রত্যক্ষ করেন, তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না যতক্ষণ না তিনি তা পরিবর্তন করেন অথবা তার সামনে এমন কোনো বাধা না আসে যা দূর করার সাধ্য তার নেই। পক্ষান্তরে মুনাফিক এবং যাদের ঈমান অত্যন্ত দুর্বল, তারা যখন কোনো অন্যায় দেখেন তখন নানাবিধ টালবাহানা করে এবং নিজেদের এমন তুচ্ছ অজুহাত দিয়ে নির্দোষ প্রমাণ করতে চায় যা আল্লাহর কাছে বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোনো প্রমাণ হিসেবে গণ্য নয়। কিন্তু আপনি দেখবেন যে, যখন তাদের গালি দেওয়া হয় বা তাদের ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে কোনো জুলুম করা হয়, তখন তারা পূর্ণ শক্তিতে রুখে দাঁড়ায় এবং প্রচণ্ড রাগান্বিত হয়। যারা তাদের সাথে এমন আচরণ করে, তাদের সাথে তারা দীর্ঘকাল ঝগড়া ও বিবাদ চালিয়ে যায়। অথচ যারা জুলুম ও অন্যায়ে লিপ্ত এবং আল্লাহর হক নষ্টকারী, তাদের সাথে তারা এমন কিছুই করে না। কিন্তু সত্যবাদী মুমিনগণ এর সম্পূর্ণ বিপরীত; তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাগান্বিত হন এবং নিজেদের স্বার্থে রাগ করেন না। যারা আল্লাহর অবাধ্য হয় এবং তাঁর আদেশ বর্জন করে, তারা তাদের বর্জন করেন এবং সত্য গ্রহণ না করলে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। আর যারা তাদের ওপর জুলুম করে বা গালি দেয়, তাদের তারা ক্ষমা ও মার্জনা করে দেন। অতএব, আপনারা এই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য অনুধাবন করুন এবং সর্বোত্তম ও সঠিক পথের অনুসারী দলের সাথে যুক্ত হোন। {তোমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং ধৈর্য ধরো। নিশ্চয়ই জমিন আল্লাহর, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকার দান করেন এবং শেষ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্যই}।

--------------------------------------------

১ এই শব্দে এটি অপরিচিত (غريب)। তবে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসটি এই শব্দে সুপরিচিত: "...এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না আল্লাহর কোনো বিধানের অবমাননা করা হতো, তখন তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতিশোধ নিতেন।" এটি মুয়াত্তা মালিকে (২/৯০২/২) বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর থেকে সহীহ বুখারী (২:৩৯৪), সহীহ মুসলিম (৭:৮০) এবং মুসনাদে আহমাদে (৬:১১৪, ১১৬, ২৬২) সংকলিত হয়েছে।

২ হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا)। ইমাম তিরমিযী এটিকে অপরিচিত (غريب) বলেছেন এবং একদল আলেম এটিকে প্রত্যাখ্যাত (منكر) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর বিস্তারিত বর্ণনা আদ-দঈফাহ (২০৪৯) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসলাহুল মাসাজিদ মিনাল বিদা ওয়াল আওয়াঈদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ثم إن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر واجب على الكفاية فحيث قام به البعض من المسلمين سقط الحرج بقيامهم عن الباقين، واختص الثواب بالقائمين فقط. وحيث قصروا كلهم عم الإثم والحرج كل عالم بالمنكر منهم يستطيع إزالته وتغييره بيد ولسان.

وأول ما يجب عند مشاهدة المنكرات التعريف والنهي بلطف ورفق وشفقة، فإن حصل بذلك المقصود وإلا انتقل منه إلى الوعظ والتخويف والغلظة في القول والتعنيف ثم إلى المنع والقهر باليد وغيرها ومباشرة تغيير المنكر بالفعل. أما الرتبتان الأوليان -التعريف باللطف والوعظ والتخويف- منهما فعامتان والغالب فيهما الاستطاعة ومدعي العجز عنهما متعلل ومتعذر في الأكثر بما لا يقوم به عذر، وأما الرتبة الثانية التي هي المنع بالقهر وتغيير المنكر فلا يستطيعه ويتمكن منه في الأكثر إلا من بذل نفسه لله تعالى، وجاهد بماله ونفسه في سبيل الله، وصار لا يخاف في الله لومة لائم، أو كان حاكمًا أو مأذونًا له من قبله.

والحاصل أن الإنسان يأتي من ذلك بما يستطيع ولا يقصر في نصرة دين الله ولا يعتذر في إسقاط ذلك بالأعذار التي لا تصح ولا يسقط بها ما وجب عليه من أمر الله.

واعلم أن الأخذ بالرفق واللطف، وإظهار الشفقة والرحمة، عليه مدار كبير عند الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فعليك به ولا تعدل عنه ما دمت ترجو نفعه وحصول المقصود به وفي الحديث: "ما كان الرفق في شيء إلا زانه، وما نزع من شيء إلا شانه" 1 وورد أيضًا "أنه لا يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر إلا رفيق فيما يأمر به رفيق فيما ينهى عنه"2.

--------------------------------------------

1 حديث صحيح، ومن حديث أنس وعائشة، وقد خرجته في التعليق على "المشكاة" "4854".

2 حديث لا يعرف له أصل إنما هو من أحاديث الغزالي في "الإحياء" "2: 292" وقال الحافظ العراقي: "لم أجده هكذا، والبيهقي في "الشعب" من رواية عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده: "من أمر بمعروف فليكن أمره بمعروف". قلت: هذا التخريج يوهم أن إسناده إلى عمرو سالم من العلة، وليس كذلك، فإن دونه ثلاثة من الضعفاء على التسلسل كما بينته، في "الأحاديث الضعيفة" "2097".
পরবর্তীতে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা ফরজে কিফায়া (واجب على الكفاية)। যখন মুসলিমদের একটি অংশ এটি পালন করবে, তখন তাদের পালনের মাধ্যমে অবশিষ্টদের পক্ষ থেকে এর আবশ্যিকতা ও দায়ভার দূর হয়ে যাবে এবং সওয়াব কেবল পালনকারীদের জন্যই নির্দিষ্ট হবে। আর যখন তারা সকলেই অবহেলা করবে, তখন তাদের মধ্যকার এমন প্রত্যেক আলেম যারা সেই মন্দ কাজ সম্পর্কে জানে এবং হাত ও মুখ দিয়ে তা পরিবর্তন বা দূর করতে সক্ষম, তারা সকলেই পাপাচার ও দায়বদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত হবে।

যখন কোনো মন্দ কাজ প্রত্যক্ষ করা হয়, তখন প্রথম কর্তব্য হলো নম্রতা, কোমলতা এবং মমত্ববোধের সাথে তা পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং নিষেধ করা। যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল হয় তবে ভালো, নতুবা নসিহত, ভীতি প্রদর্শন, কঠোর ভাষা ও তিরস্কারের দিকে অগ্রসর হতে হবে। এরপর হাত বা অন্য কিছুর মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করে বাধা প্রদান এবং সরাসরি কাজের মাধ্যমে মন্দ বিষয়টি পরিবর্তনের স্তরে যেতে হবে। প্রথম দুটি স্তর—অর্থাৎ নম্রতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং নসিহত ও ভীতি প্রদর্শন—সাধারণ সবার জন্য প্রযোজ্য এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলোর সামর্থ্য থাকে; তাই যে ব্যক্তি এই দুটি বিষয়ে অক্ষমতা দাবি করে, সে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন অজুহাত পেশ করে যা গ্রহণযোগ্য নয়। আর দ্বিতীয় স্তরটি, যা হলো শক্তির মাধ্যমে বাধা প্রদান এবং মন্দ বিষয় পরিবর্তন করা, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল সেই ব্যক্তিই করতে সক্ষম হয় যে আল্লাহ তাআলার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে, আল্লাহর পথে মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করেছে এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করে না, অথবা সে ব্যক্তি শাসক বা তার পক্ষ থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত কেউ।

সারকথা হলো, মানুষ যতটুকু সামর্থ্য রাখে সে অনুযায়ী তা পালন করবে এবং আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা করবে না। আর তা পালনে বিরত থাকার জন্য এমন সব অজুহাত পেশ করবে না যা সঠিক নয় এবং যার দ্বারা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ওপর যা ওয়াজিব হয়েছে তা রহিত হয় না।

জেনে রাখুন যে, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করার ক্ষেত্রে নম্রতা ও কোমলতা অবলম্বন এবং মমতা ও করুণা প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সুতরাং আপনার উচিত এটি আঁকড়ে ধরা এবং যতক্ষণ এর উপকারিতা ও উদ্দেশ্য হাসিলের আশা থাকে ততক্ষণ তা ত্যাগ না করা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "নম্রতা যে কোনো জিনিসেই সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, আর যে জিনিস থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাকে কলঙ্কিত করে।" ১ এবং আরও বর্ণিত হয়েছে যে, "যে ব্যক্তি আদেশ করার ক্ষেত্রে নম্র এবং নিষেধ করার ক্ষেত্রে নম্র, সে ছাড়া অন্য কেউ যেন সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ না করে।" ২।

--------------------------------------------

১ এটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস। এটি আনাস এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমি মিশকাত-এর টিকায় (৪৮৫৪) এটি তাখরিজ করেছি।

২ এটি এমন এক হাদিস যার কোনো ভিত্তি জানা নেই (لا يعرف له أصل), এটি মূলত ইহয়া-এ (২: ২৯২) ইমাম গাজালির বর্ণিত হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। হাফেজ ইরাকি বলেন: "আমি এটি এভাবে পাইনি।" বায়হাকি শুআবুল ঈমান গ্রন্থে আমর ইবন শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন: "যে ব্যক্তি ভালো কাজের আদেশ দেয়, তার আদেশ যেন ভালোভাবেই হয়।" আমি বলি: এই তাখরিজটি এই ভ্রম সৃষ্টি করে যে আমর পর্যন্ত এর সনদ বা সূত্র দোষমুক্ত, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। কারণ এর নিচে ধারাবাহিকভাবে তিনজন দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারী রয়েছেন, যা আমি সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ (২০৯৭) গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি।