(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
حصول المأمول بشرح مختصر الفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم القسم: السيرة النبوية
الكتاب: حصول المأمول بشرح «مختصر الفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، للحافظ إسماعيل بن عمر بن كثير الدمشقي»
شرحه وعلق عليه: د هاني فقيه
الناشر: نادي المدينة المنورة الأدبي
الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م
عدد الصفحات: 334
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ربيع الأول 1444
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বিষয়ক 'মুখতাসার আল-ফুসুল'-এর ব্যাখ্যা: হুসুলুল মামুল বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: হাফিজ ইসমাঈল বিন উমর বিন কাসীর আদ-দিমাশকী রচিত «রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বিষয়ক মুখতাসার আল-ফুসুল»-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ «হুসুলুল মামুল»
ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান করেছেন: ড. হানী ফাকীহ
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারা সাহিত্য ক্লাব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪০ হিজরী - ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
فاتحة الكتابالحمدُ لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحقّ ليظهره على الدّين كلّه ولو كره المشركون، والصلاة والسلام على سيّد الأولين والآخرين، سيّدنا ونبيّا محمد المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحابته الطيبين الطاهرين .... وبعد:
1 ــ فهذه تقييدات طريفة، وحواش نافعة ــ إن شاء الله ــ لطيفة، على كتابي "مختصر الفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم" للحافظ أبي الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي الدّمشقي، المولود سنة: 701 هـ، والمتوفى سنة: 774 هـ رحمه الله تعالى.
2 ــ وكتاب "الفصول في سيرة الرسول" يعد من أحسن كتب السيرة المختصرة، وقد تحرَّى مؤلفُه صحة المرويات غالباً، وأجاد في عرض الحوادث، وكتابتها بأسلوب واضح مليح.
3 ــ لكنه رغم ذلك لم يسلم من بعض المآخذ، خاصة خوضه في بعض الزوائد والاستطرادات في الأحداث، وتفصيله أحياناً في بعض المسائل المتعلقة بالأنساب، وإيراد الأشعار، وتنبيهه على الخلافات الفقهية داخل المذهب الشافعي .. فضلاً عن كونه ختم الكتاب بفصول مطولة في معجزات النبي صلى الله عليه وسلم وشمائله وخصائصه ..
هذه الزوائد دفعتني إلى اختصار الكتاب قبل شرحه؛ أولاً: لأن الاختصار
কিতাবের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা, আমাদের সরদার ও নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে, এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর... অতঃপর:
১ — এগুলো হলো কিছু চমৎকার টীকা এবং ইনশাআল্লাহ উপকারী ও সূক্ষ্ম হাশিয়া, যা হাফিজ আবুল ফিদা ইসমাঈল ইবনে উমর ইবনে কাসীর আল-কুরাশী আদ-দিমাশকী (জন্ম: ৭০১ হিজরী, মৃত্যু: ৭৭৪ হিজরী, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) রচিত আমার "মুখতাসারুল ফুসুল ফী সিরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" গ্রন্থের ওপর।
২ — "আল-ফুসুল ফী সিরাতির রাসূল" কিতাবটি সংক্ষিপ্ত সিরাত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত। এর লেখক অধিকাংশ ক্ষেত্রে বর্ণিত বর্ণনাসমূহের বিশুদ্ধতা যাচাই করেছেন এবং ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্টভাবে ও চমৎকার শৈলীতে উপস্থাপনে দক্ষতা দেখিয়েছেন।
৩ — তবে তা সত্ত্বেও এটি কিছু সমালোচনা থেকে মুক্ত নয়, বিশেষ করে ঘটনার বর্ণনায় কিছু অতিরিক্ত ও অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা, কখনও কখনও বংশপরম্পরা সম্পর্কিত বিষয়াদির বিস্তারিত বিবরণ, কাব্য উদ্ধৃত করা এবং শাফেয়ী মাযহাবের অভ্যন্তরীণ ফিকহী মতপার্থক্য উল্লেখ করা... এছাড়া তিনি কিতাবটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিযা, গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য বিষয়ক দীর্ঘ পরিচ্ছেদসমূহ দ্বারা শেষ করেছেন...
এই অতিরিক্ত বিষয়গুলোই আমাকে কিতাবটির ব্যাখ্যা করার পূর্বে একে সংক্ষিপ্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে; প্রথমত: কারণ সংক্ষিপ্তকরণ
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
هو سمة هذا الزمان ومطلب أكثر أبنائه، وثانياً: لأنني أرى أن التفاصيل والاستطرادات تشوش ذهن القارئ، وتشتت انتباهه، وتقطع مقدرته على متابعة الحوادث الأساسية.
4 ــ لكنني ومع هذا لم أختصر من الكتاب إلا القليل
(1)، وقد حافظتُ على نصّ المؤلف كما هو، ولم أغيّر منه حرفاً، بحيث يمكن للقارئ والباحث أن يعزو منه إلى ابن كثير وهو مطمئن إن شاء الله.
والشيء الوحيد الذي أضفته إلى كلام المصنف هو عناوين الفصول والمقاطع، فقد أغفل المصنف كتابتها، واجتهدت في وضع ما يناسب منها ويعبر عنها باللون الأحمر.
5 ـ وأما عن منهجي في الشرح والتعليق، فإني أُثبت نصَّ المصنف أولاً كما هو بخط بارز بين قوسين.
ثم أشرحُ منه ما يحتاج إلى شرح وإيضاح، وأوثق ما يذكره من حوادث السيرة من مصادرها الأصلية، وبيان درجة كل حادثة من حيث الصحة أو الضعف، حسب قواعد علم الحديث المرعيّة، مع توجيه ما قد يقع في كلام المصنف من عبارة مشكلة، أو تعقبه فيما رأيت الصواب في خلافه.
كل هذا أكتبه على ضوء ما حرره أئمة هذا الشأن، كالإمام ابن إسحاق صاحب السيرة، والحافظ الذهبي، والحافظ ابن حجر، وغيرهم من أهل العلم المعتبرين المختصين.
--------------------------------------------
এটি এই সময়ের বৈশিষ্ট্য এবং এর অধিকাংশ মানুষের দাবি। দ্বিতীয়ত: কারণ আমি মনে করি যে, বিস্তারিত বর্ণনা ও অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা পাঠকের মনকে বিভ্রান্ত করে, তার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে এবং মূল ঘটনাবলি অনুসরণের সক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
৪ — তবে তা সত্ত্বেও আমি মূল কিতাব থেকে খুব সামান্যই সংক্ষিপ্ত করেছি
(১)। আমি লেখকের মূল পাঠকে অবিকল বজায় রেখেছি এবং এর একটি অক্ষরও পরিবর্তন করিনি, যাতে পাঠক ও গবেষক নিশ্চিত হয়ে ইনশাআল্লাহ এর উদ্ধৃতি ইবনে কাসীরের দিকে সম্বন্ধ করতে পারেন।
লেখকের বক্তব্যের সাথে আমি একমাত্র যে বিষয়টি যোগ করেছি তা হলো পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদের শিরোনাম; লেখক সেগুলো লিখতে বাদ দিয়েছিলেন, আর আমি লাল রঙে সেগুলো যথোপযুক্তভাবে স্থাপন করার এবং বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।
৫ — আর ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি হলো, প্রথমে আমি লেখকের মূল পাঠকে বন্ধনীর মধ্যে মোটা হরফে অবিকলভাবে উল্লেখ করি।
এরপর আমি সেখান থেকে যা ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন তা ব্যাখ্যা করি এবং তিনি সীরাতের যেসকল ঘটনাবলি উল্লেখ করেছেন সেগুলোকে তাদের মূল উৎস থেকে প্রমাণীকরণ করি। পাশাপাশি ইলমে হাদিসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ঘটনার শুদ্ধতা বা দুর্বলতার মান বর্ণনা করি। সেই সাথে লেখকের বক্তব্যে কোনো জটিল বাক্য থাকলে তার সমাধান প্রদান করি অথবা যেখানে আমি সত্যকে এর বিপরীতে দেখেছি সেখানে তার পর্যালোচনা পেশ করি।
এসব কিছু আমি এই বিষয়ের ইমামগণের বিশ্লেষণের আলোকে লিখেছি, যেমন সীরাত রচয়িতা ইমাম ইবনে ইসহাক, হাফেজ জাহাবি, হাফেজ ইবনে হাজার এবং বিশেষজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য অন্যান্য আলেমগণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
وبما أن كتاب "السيرة النبوية" لابن إسحاق مفقودٌ معظمه فإن الإحالة إليه تكون في الأغلب عن طريق مختصره المعروف "بسيرة ابن هشام"، أو ما ينقله أهل العلم عنه، خاصة الطبري في تاريخه، والبيهقي في دلائله، فقد استوعبا كثيراً من سيرة ابن إسحاق ونصوصه.
6 ـ وقد رأيت ألّا أُخلي الشرح من بعض ما يستفاد ويستنبط من حوادث السيرة من فوائد فقهية وآداب تشريعية حسبما تيسر، لأنه باب يطول جداً.
7 ـ كذلك لم أُخله من تعقب بعض أباطيل المستشرقين في تفسير بعض حوادث السيرة وبيان ما في كلامهم من خطأ وخطل.
8 ــ وقد كنت كتبت مقدمة في التعريف بالسيرة النبوية وأهميتها والكلام على مصادرها مع ترجمة موجزة لابن كثير رحمه الله .. ثم تركت ذلك كله وأغفلته لكثرة ما كتب في هذا مما يستغنى به عن الإعادة.
9 ــ وقبل مغادرة المقدمة تجدر الإشارة إلى أن السيرة النبوية ليست مجرد قَصَص وحكايات، وحوادث وروايات، تُقرأ من أجل ترقيق القلوب واستجلاب العَبَرات!
هذا تصور قاصر للسيرة النبوية.
إن السيرة النبوية علمٌ قائمٌ بذاته، كعلم التوحيد والفقه، وعلم التفسير والأصول.
إن السيرة النبوية مصدر أساسي من مصادر التشريع في الإسلام، لاشتمالها على كثير من أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته.
ومن ثم لا بد لمن يتحدث في السيرة أن يكون مؤهلاً في علم الحديث،
যেহেতু ইবনে ইসহাকের "আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ" গ্রন্থের অধিকাংশ অংশই হারিয়ে গিয়েছে, তাই এর উদ্ধৃতি সাধারণত তার প্রসিদ্ধ সংক্ষেপিত রূপ "সিরাতে ইবনে হিশাম" অথবা আলেমগণ তার থেকে যা বর্ণনা করেছেন—বিশেষ করে তাবারী তার ইতিহাসে এবং বায়হাকী তার দালায়িল গ্রন্থে—তার মাধ্যমে দেওয়া হয়। তাঁরা ইবনে ইসহাকের সীরাত ও তাঁর মূল পাঠের একটি বড় অংশ ধারণ করেছেন।
৬ — আর আমি সীরাতের ঘটনাবলী থেকে আহরিত ও উদ্ভাবিত কিছু ফিকহী উপকারিতা এবং আইনি শিষ্টাচার দ্বারা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থকে খালি না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতটুকু সহজসাধ্য হয়, কারণ এটি একটি অত্যন্ত দীর্ঘ বিষয়।
৭ — অনুরূপভাবে, সীরাতের কিছু ঘটনার ব্যাখ্যায় প্রাচ্যবিদদের কিছু অসার বক্তব্যের খণ্ডন এবং তাদের কথার ভুল ও অসারতা স্পষ্ট করা থেকেও আমি এটিকে খালি রাখিনি।
৮ — আমি সীরাতুন নববীর পরিচিতি, এর গুরুত্ব, এর উৎসসমূহ এবং ইবনে কাসীর রহ.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী সম্বলিত একটি ভূমিকা লিখেছিলাম। অতঃপর আমি তা সবই বর্জন করেছি এবং বাদ দিয়েছি, কারণ এ বিষয়ে এত অধিক লেখা হয়েছে যে তা পুনরাবৃত্তির প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।
৯ — ভূমিকা শেষ করার পূর্বে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সীরাতুন নববী কেবল কিছু গল্প-কাহিনী এবং ঘটনা ও বর্ণনার নাম নয়, যা কেবল হৃদয়কে নরম করা এবং অশ্রু বিসর্জনের জন্য পাঠ করা হয়!
এটি সীরাতুন নববী সম্পর্কে একটি অসম্পূর্ণ ধারণা।
নিশ্চয়ই সীরাতুন নববী একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইলম বা জ্ঞান, যেমন তাওহীদ, ফিকহ, তাফসীর এবং উসূলে ফিকহের ইলম।
নিশ্চয়ই সীরাতুন নববী ইসলামের শরীয়ত প্রণয়নের একটি মৌলিক উৎস, কারণ এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অতএব, সীরাত নিয়ে যিনি আলোচনা করবেন, তাকে অবশ্যই ইলমে হাদীসে যোগ্য ও পারদর্শী হতে হবে।
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
حتى يكون قادراً على دراسة أسانيد الروايات، وتمييز ما يصح منها مما لا يصح، وما يقبل منها مما لا يقبل.
ولا بد أن تكون له دُربة قويّة في علم الفقه وأصول الفقه حتى يكون قادراً على استنباط ما يستفاد من أحداث السيرة من أحكام تشريعية ودلالات عقدية وفقهية، ويستطيع أن يوفق بين ما قد يقع بين نصوصها أحياناً من تعارض وإشكالات.
ولا بد أن يكون على معرفة وإلمام بعلم التربية والاجتماع حتى يتمكن من انتزاع ما يقع في السيرة من آداب تربوية وفوائد سلوكية واجتماعية يحتاجها الفرد أو المجتمع.
وإذن فليست السيرة النبوية كلأً مباحاً يتحدث فيها من يشاء، كيف شاء.
وليست السيرة النبوية تخصص من لا تخصص له كما يحسب البعض؟!!
إن هذا كلام من لا يعرف السيرة النبوية، ولا يعرف قدرها وأهميتها وخطورتها ومكانتها في الإسلام.
10 ــ هذا وقد عنونت هذا الشرح بـ"حصول المأمول بشرح مختصر الفصول في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم". سائلاً المولى فيه القبول، وأن ييسر لي به إلى جنّة الخلد الوصول، إنه أكرم مسؤول، وأعظم مأمول، وآخر دعوانا أن الحمد لله ربّ العالمين.
وكتبه: أ. د هاني فقيه
أستاذ الحديث وعلومه بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
যাতে তিনি বর্ণনাগুলোর সনদসমূহ অধ্যয়ন করতে এবং সেগুলোর মধ্যে কোনটি সহিহ ও কোনটি সহিহ নয়, এবং কোনটি গ্রহণযোগ্য ও কোনটি অগ্রহণযোগ্য তা পার্থক্য করতে সক্ষম হন।
আর ফিকহ এবং উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে তার শক্তিশালী ব্যুৎপত্তি থাকা আবশ্যক, যাতে তিনি সিরাতের ঘটনাবলি থেকে প্রাপ্ত শরয়ী বিধানসমূহ এবং আকিদাগত ও ফিকহগত অর্থসমূহ উদঘাটন করতে সক্ষম হন, এবং এর বর্ণনাগুলোর মধ্যে কখনও কখনও যে বৈপরীত্য ও জটিলতা দেখা দেয়, সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে পারেন।
এবং শিক্ষা ও সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে তার জ্ঞান ও গভীর ধারণা থাকা প্রয়োজন, যাতে তিনি সিরাত থেকে সেই শিক্ষামূলক শিষ্টাচার এবং চারিত্রিক ও সামাজিক উপকারিতাগুলো আহরণ করতে পারেন যা ব্যক্তি বা সমাজের প্রয়োজন।
অতএব, সিরাতে নববী কোনো উন্মুক্ত চারণভূমি নয় যে, সেখানে যে কেউ যেভাবে ইচ্ছা কথা বলবে।
আর সিরাতে নববী এমন কোনো ক্ষেত্র নয় যে, যার কোনো বিশেষায়িত জ্ঞান নেই সে-ই এতে পারদর্শী হবে, যেমনটি অনেকে মনে করে থাকে?!!
প্রকৃতপক্ষে এটি এমন লোকের কথা, যে সিরাতে নববী সম্পর্কে জানে না এবং ইসলামে এর মর্যাদা, গুরুত্ব, স্পর্শকাতরতা ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত নয়।
১০- আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম রেখেছি "হুসুলুল মামূল বি শারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফি সিরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম"। আমি মহান রবের নিকট এটি কবুল করার প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন এর মাধ্যমে আমার জন্য চিরস্থায়ী জান্নাতে পৌঁছানো সহজ করে দেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দানকারী এবং মহান আশার স্থল। আর আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন: প্রফেসর ড. হানি ফকিহ
মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক।
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة المصنّفقال المصنّف رحمه الله: «بسم الله الرحمن الرحيم وبه نستعين: الحمدُ لله وسلامٌ على عبادِه الذين اصطفى، حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه، كما يُحبُّ ربُّنا ويَرضى. وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحدَه لا شريك له، شهادةَ من أخلص له قلبُه، وانجابت عنه أكدارُ الشّرك وصفا، وأقرّ له برقّ العبودية، واستعاذَ بهِ من شرّ الشيطان والهوى، وتمسّك بحبلِه المتين المنزَّل على رسوله الأمين؛ محمدٍ خيرِ الورى، صلواتُ الله وسلامُه عليه دائماً إلى يوم الحشر واللقا. ورضي الله عن أصحابِهِ وأزواجِهِ وذُرّيتِهِ وأتباعِهِ أجمعين، أولي البصائرِ والنُّهى.
أما بعد: فإنَّه لا يَجْمُل بأولي العلم إهمالُ معرفة الأيام النبويّةِ، والتواريخ الإسلامية، وهي مشتملةٌ على علومٍ جمّةٍ، وفوائدَ مهمّةٍ، لا يستَغني عالمٌ عنها، ولا يُعذَر في العِرْو منها.
وقد أحببتُ أنْ أُعلّق تذكرةً في ذلك لتكونَ مدخلاً إليه، وأنموذجاً وعوناً له وعليه، وعلى الله اعتمادي، وإليه تفويضي واستنادي.
وهي مشتملةٌ على ذكر نَسَبِ رسُولِ الله عليه الصلاة والسلام، وسيرتِه،
গ্রন্থকারের ভূমিকাগ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) বলেন: “পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই নিকট আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; এমন প্রশংসা যা অগণিত, পবিত্র ও বরকতময়, যেমনটি আমাদের রব ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য যার অন্তর তাঁর জন্য একনিষ্ঠ হয়েছে এবং যার থেকে শিরকের কলুষতা দূর হয়ে তা নির্মল হয়েছে। সে তাঁর নিকট দাসত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং শয়তান ও প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে। সে তাঁর সেই মজবুত রশিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছে যা তাঁর বিশ্বস্ত রাসুল, সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে; হাশর ও সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত সর্বদা তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর আল্লাহ তাঁর সকল সাহাবী, স্ত্রীগণ, বংশধর এবং অনুসারীদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, যারা ছিলেন অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞার অধিকারী।
অতঃপর: জ্ঞানীদের জন্য নববী দিনলিপি এবং ইসলামী ইতিহাস সম্পর্কে উদাসীন থাকা শোভা পায় না। এটি এমন সব বিষয় যা প্রচুর জ্ঞান ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সম্বলিত, যা থেকে কোনো আলিম অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না এবং এ বিষয়ে জ্ঞানশূন্য থাকা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
তাই আমি এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত স্মারক লিপি প্রস্তুত করতে চেয়েছি, যেন তা এই বিষয়ে প্রবেশের পথ, একটি উদাহরণ এবং এর জন্য সহায়ক হয়। আল্লাহর ওপরই আমার পূর্ণ নির্ভরতা এবং তাঁরই নিকট আমার সমর্পণ ও অবলম্বন।
এটি আল্লাহর রাসুল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বংশপরিচয় এবং তাঁর সীরাত বা জীবনচরিত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত,
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأعلامِه
(1)، وذكر أيامِ الإسلام بعده إلى يومنا هذا، مما تمسُّ حاجةُ ذوي الأرَبِ إليه، على سبيلِ الاختصارِ، إن شاء الله تعالى».
الكلام على مقدمة المصنف من وجوه:
1 ــ بدأ المصنف رحمه الله بمقدمة موجزة جداً، تحدّث فيها عن أهمية دراسة السيرة النبوية، ومعرفة التاريخ الإسلامي، وأنها مشتملة على علوم جمّة، وفوائد مهمّة، لا يستغني عنها عالِمٌ، ولا يُعذر بالجهل بها.
2 ــ ثم أشار إلى أنه يريد كتابة كتاب في ذلك، سماه تواضعاً بالتذكرة.
3 ــ لكن قوله بعد ذلك: "وهي مشتملة على ذكر نسب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسيرته .. وذكر أيام الإسلام بعده إلى يومنا هذا"، هذه الجملة فيها إشكال، لأن ظاهرها يفيد أن الكتاب المصنف هذا لا يقتصر على السيرة النبوية فحسب، بل ويذكر أيضاً تاريخ الإسلام إلى عصر المؤلف!!
والذي بين أيدينا من الكتاب إنما هو مقتصر على حوادث السيرة وملحقاتها من الخصائص والشمائل، وليس فيه شيء من أيام الإسلام كما يفيده كلام المصنّف!!
ولعل أحسن ما يقال في الجواب عن هذا الإشكال: أن المصنّف ربما أراد ذكر حوادث السيرة وتاريخ الإسلام بعدها على وجه مختصر، ثم إنه عدل عن ذلك، واقتصر على قسم السيرة النبوية وملحقاتها فحسب، اكتفاء منه بكتابه الكبير الآخر، المسمَّى بالبداية والنهاية، حيث أسهب فيه وأطنب في الحديث عن حوادث التاريخ الإسلامي إلى عصره رحمه الله.
--------------------------------------------
এবং তাঁর (নবুওয়তের) নিদর্শনসমূহ
(১), এবং তাঁর পরবর্তী ইসলামি ইতিহাসের দিনগুলোর আলোচনা আজ পর্যন্ত, যার প্রয়োজনীয়তা জ্ঞানপিপাসুদের রয়েছে, সংক্ষেপে ইনশাআল্লাহ তায়ালা।
গ্রন্থকারের ভূমিকার ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:
১ — গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছেন, যাতে তিনি সীরাতে নববী অধ্যয়ন এবং ইসলামি ইতিহাস জানার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এবং এটি বহুবিধ ইলম এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা সমৃদ্ধ, যা থেকে কোনো আলিম বিমুখ হতে পারেন না এবং এ বিষয়ে অজ্ঞতা ক্ষমার যোগ্য নয়।
২ — এরপর তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করতে চান, বিনয়বশত যার নাম দিয়েছেন 'আত-তাযকিরা'।
৩ — কিন্তু এরপর তাঁর উক্তি: "এবং এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশপরিচয়, তাঁর সীরাত... এবং তাঁর পরবর্তী ইসলামি ইতিহাসের দিনগুলোর বর্ণনার ওপর আজ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত," এই বাক্যটিতে একটি সমস্যা রয়েছে। কারণ এর বাহ্যিক দিক এটাই বুঝায় যে, এই রচিত গ্রন্থটি কেবল সীরাতে নববীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি লেখকের সময় পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসকেও উল্লেখ করে!!
অথচ বর্তমানে আমাদের হাতে বিদ্যমান গ্রন্থটি কেবল সীরাতের ঘটনাবলী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীর (শামায়িল) মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এতে ইসলামের দিনগুলোর (পরবর্তী ইতিহাসের) কিছুই নেই, যেমনটি গ্রন্থকারের কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে!!
সম্ভবত এই সমস্যার জবাবে সবথেকে উত্তম কথা হলো: গ্রন্থকার সম্ভবত সীরাতের ঘটনাবলী এবং তার পরবর্তী ইসলামের ইতিহাস সংক্ষেপে উল্লেখ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তা থেকে সরে আসেন এবং কেবল সীরাতে নববী ও এর সংশ্লিষ্ট অংশের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেন। কারণ তিনি তাঁর অপর বৃহৎ গ্রন্থ 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'-কেই যথেষ্ট মনে করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর সময় (রহিমাহুল্লাহ) পর্যন্ত ইসলামি ইতিহাসের ঘটনাবলী বিস্তারিত ও দীর্ঘভাবে আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
وهناك من أهل العلم كالعلامة أحمد محمد شاكر (ت: 1377 هـ) من أبدى احتمال أن يكون قسم التاريخ من كتاب الفصول قد فُقد!! فقد قال رحمه الله: "إن المطبوع غير كامل يقيناً، فلا أدري اقتصر المؤلف على هذا القدر، أم فُقد باقي الكتاب؟ "
(1).
ومسألة فقدان شيء من الكتاب بعيد في نظري، لأن جميع من وصفوا الكتاب قالوا إنه سيرة صغيرة، كابن العماد الحنبلي في الشذرات
(2) وغيره، ولم يشر أحدٌ منهم إلى ما أشار له الشيخ شاكر، أو قال إن الكتاب ناقص، والله تعالى أعلم.
--------------------------------------------
আলেমদের মাঝে আল্লামা আহমদ মুহাম্মদ শাকের (মৃত্যু: ১৩৭৭ হিজরি)-এর মতো এমন ব্যক্তি রয়েছেন যিনি এই সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন যে, 'আল-ফুসুল' কিতাবের ইতিহাস অংশটি হয়তো হারিয়ে গেছে!! তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই যা মুদ্রিত হয়েছে তা নিশ্চিতভাবেই অসম্পূর্ণ। আমি জানি না লেখক কি এই পরিমাণ অংশটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন, নাকি কিতাবের বাকি অংশ হারিয়ে গেছে?"
(১)।
তবে কিতাবের কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে সুদূরপরাহত। কেননা যারা এই কিতাবটির বর্ণনা দিয়েছেন তারা সকলেই একে একটি সংক্ষিপ্ত সীরাত গ্রন্থ বলে অভিহিত করেছেন, যেমন 'আশ-শাযারাত' গ্রন্থে ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী
(২) এবং অন্যান্যরা। তাদের কেউই শেখ শাকের যা ইঙ্গিত করেছেন সেদিকে কোনো ইশারা করেননি, অথবা বলেননি যে কিতাবটি অসম্পূর্ণ। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فصلنَسَبه(1) صلى الله عليه وسلم وأسمائهقال المصنّف: «هو سيّدُ ولدِ آدم: أبو القاسم، محمدٌ، وأحمدٌ، والماحِي الذي يُمحى به الكفرُ، والحاشِرُ الذي يَحشُرُ الناسَ، والعاقِبُ الذي ليس بعده نبيٌّ، والمُقَفّيّ، ونبيّ الرَّحمة، ونبيّ التوبة، ونبيّ المَلْحَمَة».
الكلام عليه من وجوه:
1 ـ قول المصنّف: "هو سيَد ولد آدم": هذا محلّ اتفاق بين العلماء، وقد دلت عليه النصوص الصريحة الثابتة كقوله صلى الله عليه وسلم في حديث أبي هريرة: «أنا سيّد الناس يوم القيامة»
(2).
2 ــ وقوله: "أبو القاسم": هذه كنيته صلى الله عليه وسلم، وقد تواترت النصوص بذلك كما قال الحافظ الذهبي
(3).
و"القاسم" هو أكبر أبنائه صلى الله عليه وسلم، ولد بمكة قبل النبوة، ومات بها طفلاً، وهو ابن سنتين. وقد كان للنبي صلى الله عليه وسلم ثلاثة من الولد في قول جمهور العلماء
(4): أولهم:
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদতাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশপরিচয়(১) ও নামসমূহগ্রন্থকার বলেন: «তিনি আদমসন্তানদের সর্দার: আবুল কাসিম, মুহাম্মদ, আহমাদ, আল-মাহি (মোচনকারী) যার মাধ্যমে কুফর মিটিয়ে দেওয়া হয়, আল-হাশির (একত্রকারী) যার পশ্চাতে মানুষকে সমবেত করা হবে, আল-আকিব (সর্বশেষ) যার পরে কোনো নবী নেই, আল-মুকাফ্ফি (সর্বশেষ আগমনকারী), রহমতের নবী, তাওবার নবী এবং যুদ্ধের নবী।»
এর ওপর আলোচনা কতিপয় দিক থেকে:
১. গ্রন্থকারের উক্তি: "তিনি আদমসন্তানদের সর্দার": এটি আলেমদের মধ্যে একটি ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়। সুষ্পষ্ট ও সুসাব্যস্ত দলীলসমূহ এর ওপর প্রমাণ পেশ করে, যেমন আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি কিয়ামতের দিন মানুষের সর্দার হব»
(২)।
২. এবং তাঁর উক্তি: "আবুল কাসিম": এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপনাম (কুনিয়াত)। হাফেজ আয-যাহাবি যেমনটি বলেছেন, এ সংক্রান্ত দলীলসমূহ মুতাওয়াতির (সুসংবাদিত) পর্যায়ে পৌঁছেছে
(৩)।
আর "কাসিম" ছিলেন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্তানদের মধ্যে সবার বড়। তিনি নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই শিশু অবস্থায় দুই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। জমহুর আলেমদের মতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পুত্রসন্তান ছিল তিনজন
(৪): তাঁদের প্রথমজন হলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
القاسم، وقد تقدم الكلام حوله.
وثانيهم: عبد الله، ويُلقب بالطيّب والطاهر، لأنه ولد بعد النبوة على الصحيح، وقد مات بمكة طفلاً رضيعاً.
وثالثهم: إبراهيم، ولد بالمدينة، ومات بها وعمره (18) شهراً في السنة العاشرة للهجرة.
ــــــ وأما بناته صلى الله عليه وسلم فهنّ: زينب، ثم رقية، ثم أم كلثوم، ثم فاطمة رضي الله عنهن.
ــــــ وأفضلهن وأحبّهن إلى النبي صلى الله عليه وسلم ابنته فاطمة رضي الله عنها، وقد صحّ عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال لها في مرض موته: «أما ترضين أن تكوني سيدة نساء أهل الجنة، أو نساء المؤمنين»
(1).
ـــــــ وكلّ أولاده صلى الله عليه وسلم ذكوراً وإناثاً من زوجه خديجة رضي الله عنها إلا إبراهيم فأمُّه مارية بنت شمعون القبطية جارية النبي صلى الله عليه وسلم، التي أهداها إليه المقوقس عظيم مصر.
3 ــ وهل يجوز التكني بأبي القاسم لغير النبي صلى الله عليه وسلم؟ هذه مسألة اختلف فيها على مذاهب، ومذهب الجمهور وهو الراجح أن النهي مقيّد بزمن النبي صلى الله عليه وسلم، أما بعد وفاته فلا بأس بالتكني بهذه الكنية.
ويدلّ على هذا التفصيل حديث أنس بن مالك رضي الله عنه: قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم في السوق، فقال رجلٌ: يا أبا القاسم، فالتفت إليه النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: إنما دعوتُ هذا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «سموا باسمي ولا تكنوا بكنيتي»
(2). ففهم من هذا أن
--------------------------------------------
কাসিম, যার সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
আর তাদের দ্বিতীয়জন হলেন আব্দুল্লাহ, যাকে তায়্যিব ও তাহির উপাধিতে ভূষিত করা হয়। কেননা সঠিক মতানুসারে তিনি নবুওয়াত পরবর্তী সময়ে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং মক্কায় শিশু দুগ্ধপোষ্য অবস্থায় মারা গেছেন।
এবং তাদের তৃতীয়জন হলেন ইব্রাহিম। তিনি মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ১০ হিজরি সনে ১৮ মাস বয়সে ইন্তেকাল করেন।
ــــــ আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যাগণ হলেন: যয়নব, অতঃপর রুকাইয়া, অতঃপর উম্মে কুলসুম, অতঃপর ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না।
ــــــ তাদের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন তাঁর কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা। তাঁর থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন তাঁকে বলেছিলেন: «তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি জান্নাতী নারীদের নেত্রী অথবা মুমিন নারীদের নেত্রী হবে?»
(১)।
ـــــــ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সন্তান—চাই তিনি পুত্র হোন বা কন্যা—তাঁর স্ত্রী খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা-র গর্ভজাত ছিলেন, কেবল ইব্রাহিম ব্যতীত। কেননা তাঁর মা ছিলেন মারিয়া বিনতে শামউন আল-কিবতিয়্যাহ, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাসী ছিলেন এবং মিশরের অধিপতি মুকাওকিস তাঁকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।
৩ ــ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো জন্য কি 'আবুল কাসিম' কুনিয়াত (উপনাম) গ্রহণ করা জায়েয? এটি এমন একটি মাসয়ালা যা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। জমহুর উলামায়ে কেরামের মাযহাব তথা অগ্রগণ্য মত হলো—এই নিষেধাজ্ঞা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে তাঁর ইন্তেকালের পর এই উপনাম ব্যবহারে কোনো অসুবিধা নেই।
এই বিশদ বিবরণের সপক্ষে আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদিসটি প্রমাণস্বরূপ, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বাজারে ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি ডাক দিল: হে আবুল কাসিম! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন। লোকটি বলল: আমি তো এই ব্যক্তিকে ডেকেছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা আমার নামে নাম রাখো, তবে আমার উপনামে উপনাম রেখো না»
(২)। এ থেকে বোঝা যায় যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
النهي مختصٌّ بحياته صلى الله عليه وسلم للسبب المذكور، وقد زالت العلة بوفاته
(1).
4 ــ وقوله: "محمد": أخذ المصنف يذكر بعض أسمائه صلى الله عليه وسلم وهي كثيرة، فبدأ باسمه الأجل والأشهر "محمد" صلى الله عليه وسلم، قيل إن الذي سمّاه به جدُّه عبد المطلب، وقيل بل أمّه آمنة، رأت في المنام من يأمرها بتسميته محمداً
(2).
ــــ وقد تكرر هذا الاسم في القرآن الكريم مرات عدة. وهو مشتق من الحمْد، لكثرة محامده وخصاله المحمودة.
ــــ ولم يكن هذا الاسم مشهوراً في الجاهلية، وإنما تسمَّى به بعض العرب قرب بعثته عليه الصلاة والسلام، لمّا سمعوا من الأحبار والرهبان أن نبياً يبعث آخر الزمان اسمه «محمداً»، فسمُّوا أبناءهم بهذا الاسم رجاء نيل النبوة
(3)!!
5 ــ وقوله: "وأحمد": هذا هو الاسم الثاني في المكانة والشهرة لنبينا صلى الله عليه وسلم. وقد ورد ذكره في القرآن مرة واحدة على لسان نبي الله عيسى بن مريم في قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} [الصَّفِّ: 6].
6 ــ وقوله: "والماحِي": هذا أيضاً من أسمائه صلى الله عليه وسلم، وفسره المصنف بالذي يمحو الله به الكفر، وهو نص تفسير النبي صلى الله عليه وسلم في قوله من حديث جبير بن مُطعم واللفظ للبخاري: «لي خمسة أسماء: أنا محمّد، وأحمد، وأنا الماحي الذي يمحو الله
--------------------------------------------
উল্লিখিত কারণে এই নিষেধ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের সাথে নির্দিষ্ট ছিল, এবং তাঁর ইন্তেকালের মাধ্যমে সেই কারণটি বিলুপ্ত হয়েছে
(১)।
৪ — এবং তাঁর কথা: "মুহাম্মাদ": গ্রন্থকার তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু নাম উল্লেখ করতে শুরু করেছেন যা সংখ্যায় অনেক। তাই তিনি তাঁর মহত্তম ও সর্বাধিক প্রসিদ্ধ নাম "মুহাম্মাদ" (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিয়ে শুরু করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর এই নামকরণ করেছিলেন; আবার বলা হয় যে বরং তাঁর মাতা আমিনা স্বপ্নে এক ব্যক্তিকে দেখেছিলেন যিনি তাঁকে তাঁর নাম মুহাম্মাদ রাখার নির্দেশ দিচ্ছিলেন
(২)।
— এই নাম পবিত্র কুরআনে কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এটি ‘হামদ’ (প্রশংসা) শব্দ হতে উদ্ভূত, তাঁর বহুবিধ প্রশংসনীয় গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যের আধিক্যের কারণে।
— জাহেলিয়াতের যুগে এই নাম প্রসিদ্ধ ছিল না। বরং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নবুওয়াত লাভের প্রাক্কালে কিছু আরব এই নাম গ্রহণ করেছিল, যখন তারা পণ্ডিত ও পাদ্রীদের নিকট থেকে শুনেছিল যে শেষ জামানায় একজন নবী আবির্ভূত হবেন যার নাম হবে "মুহাম্মাদ"। ফলে তারা নবুওয়াত লাভের আশায় তাদের সন্তানদের এই নাম রেখেছিল
(৩)!!
৫ — এবং তাঁর কথা: "আহমাদ": এটি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মর্যাদা ও খ্যাতির দিক থেকে দ্বিতীয় নাম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলার বাণীতে আল্লাহর নবী ঈসা ইবনে মারইয়ামের যবানীতে এটি একবার বর্ণিত হয়েছে: {এবং স্মরণ করো, যখন মারইয়াম-পুত্র ঈসা বলেছিল: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আগমনকারী এমন একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা যার নাম আহমাদ} [আস-সাফ: ৬]।
৬ — এবং তাঁর কথা: "আল-মাহী": এটিও তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থকার এর ব্যাখ্যা করেছেন এমন সত্তা হিসেবে যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে মিটিয়ে দেন। এটি জুবায়ের ইবনে মুতয়িম বর্ণিত হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিজস্ব ব্যাখ্যার ভাষ্য, যার শব্দাবলী বুখারীর: «আমার পাঁচটি নাম রয়েছে: আমি মুহাম্মাদ, আহমাদ, এবং আমি আল-মাহী (মিটিয়ে দানকারী) যার মাধ্যমে আল্লাহ মিটিয়ে দেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بي الكفر، وأنا الحاشر الذي يحُشر الناس على قدمي، وأنا العاقب»
(1).
ـــ وفي الصحيح من حديث أبي موسى الأشعري رضي الله عنه، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمِّي لنا نفسه أسماء، فقال: «أنا محمّد، وأحمد، والمقفِّي، والحاشر، ونبيّ التَّوبة، ونبيّ الرحمة»
(2).
7 ــ وقوله: "والحاشِر": قلت: هذا من أسمائه صلى الله عليه وسلم، وقد فسره في حديث جبير بن مُطعم السابق بالذي يُحشر الناس على قدمه.
ومعناه: أن الخلق يُحشرون يوم القيامة على أثره، فليس بينه وبين يوم القيامة نبي آخر، كما أفاده ابن الملقن
(3).
8 ــ وقوله: "والعاقِب": فسَّره المصنف بالذي ليس بعده نبي، وهو نص تفسير النبي صلى الله عليه وسلم في رواية مسلم لحديث جبير بن مُطعم.
9 ــ وقوله: "والمقفّي": أي: آخر الأنبياء المتَّبِع لهم، فإذا قفّى فلا نبي بعده، أفاده ابن الأثير
(4).
ـــــ وبناء على ما تقدَّم فإن الحاشِرَ والعاقِبَ والمقفِّي كلها بمعنى واحد: أي الذي لا نبيّ بعده.
10 ــ وقوله: "ونبيّ التوبة": دل على هذا الاسم حديث أبي موسى الأشعري المتقدم، قال العلماء: سمّي بذلك لأنه كان كثير الرجوع والتوبة إلى الله، أو لأنه
--------------------------------------------
...কুফরকে মিটিয়ে দেন, আর আমি হাশির (সমবেতকারী), যাঁর পায়ের ওপর মানুষকে সমবেত করা হবে, আর আমি আকিব (সর্বশেষ নবী)»
(১).
— এবং সহীহ গ্রন্থে আবু মুসা আল-াশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে তাঁর নিজের বেশ কিছু নাম উল্লেখ করতেন। তিনি বলতেন: «আমি মুহাম্মদ, আহমদ, আল-মুকাফ্ফী (সর্বশেষ অনুসরণকারী), আল-হাশির (সমবেতকারী), তাওবার নবী এবং রহমতের নবী»
(২).
৭ — তাঁর উক্তি: "আল-হাশির": আমি বলব: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যতম নাম। জুবাইর ইবনে মুতইম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পূর্বোক্ত হাদীসে তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, যাঁর পায়ের ওপর মানুষকে সমবেত করা হবে।
এর অর্থ হলো: কিয়ামতের দিন সৃষ্টিজগতকে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সমবেত করা হবে। তাঁর এবং কিয়ামতের মাঝে আর কোনো নবী নেই, যেমনটি ইবনুল মুলাক্কিন উল্লেখ করেছেন
(৩).
৮ — তাঁর উক্তি: "আল-আকিব": গ্রন্থকার এর ব্যাখ্যা করেছেন এমন সত্তা হিসেবে যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। এটি জুবাইর ইবনে মুতইম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসের মুসলিমের বর্ণনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেওয়া ব্যাখ্যারই ভাষ্য।
৯ — তাঁর উক্তি: "আল-মুকাফ্ফী": অর্থাৎ নবীদের সমাপ্তিকারী যিনি তাঁদের অনুসরণ করেন। যখন তিনি সমাপ্তি টানলেন, তখন তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। ইবনুল আসীর এটি উল্লেখ করেছেন
(৪).
— পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে, আল-হাশির, আল-আকিব এবং আল-মুকাফ্ফী—সবগুলোই একই অর্থ বহন করে: অর্থাৎ যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।
১০ — তাঁর উক্তি: "তাওবার নবী": আবু মুসা আল-াশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পূর্বোক্ত হাদীস এই নামের ওপর প্রমাণ বহন করে। উলামায়ে কিরাম বলেছেন: তাঁকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তিনি আল্লাহর দিকে অধিক প্রত্যাবর্তনকারী ও তওবাকারী ছিলেন, অথবা কারণ তিনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قُبل من أمته التوبة بمجرد الاستغفار بخلاف الأمم السالفة
(1).
11 ــ وقوله: "ونبيّ الرحمة": سُمي بذلك: لأنه بعث رحمة للناس، كما في قوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107].
12 ــ وقوله: "ونبيّ المَلحمة": قلت: ورد هذا الاسم في إحدى ألفاظ روايات مسلم لحديث أبي موسى الأشعري المتقدم
(2).
ومعنى "نبي الملحمة": أي نبي الحرب والجهاد، فالإسلام كما أنه دين لين ورحمة، فهو دين جهاد وقوة، كلٌ بحسب الحاجة والمناسبة، وهذا من واقعيته ووسطيته.
بقيّة نَسَبه صلى الله عليه وسلم:قال المصنف: «ابن عبد الله بن عبدِ المطَّلِب بن هَاشِم بن عبد مَنَاف بن قُصيّ بن كِلَاب بن مُرَّة بن كَعْب بن لؤيّ بن غَالِب بن فِهْر بن مَالك بن النَّضر بن كِنَانَة بن خُزيمة بن مُدرِكة بن إِلياس بن مُضَر بن نِزَار بن مَعَد بن عَدنَان.
فهذا النَّسب الذي سُقناه إلى عَدْنان لا مِرية فيه، ولا نِزاع، وهو ثابتٌ بالتواتر والإجماع. وإنما الشأنُ فيما بعد ذلك، لكن لا خِلَاف بين أهل النَّسب وغيرِهم من عُلماء أهلِ الكتاب أن عَدْنان من ولدِ إسماعيل؛ نبيّ الله، وإسماعيل بن إبراهيم؛ خليل الرحمن عليه أفضل الصلاة والسلام.
وأمُّه صلى الله عليه وسلم آمنةُ بنت وَهْب بن عبد مَنَاف بن زُهرة بن كِلَاب بن مُرَّة».
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী জাতিগুলোর বিপরীতে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কেবল ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমেই তাওবা কবুল করা হয়েছে
(১)।
১১ – এবং তাঁর উক্তি: "রহমতের নবী": তাঁকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ তাঁকে মানুষের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি} [আল-আম্বিয়া: ১০৭]।
১২ – এবং তাঁর উক্তি: "সংগ্রামের নবী": আমি বলি: আবু মুসা আল-আশআরী বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসের মুসলিমের বর্ণনার একটি শব্দে এই নামটি এসেছে
(২)।
"সংগ্রামের নবী" (নাবিয়্যুল মালহামাহ) এর অর্থ হলো: যুদ্ধ ও জিহাদের নবী। কেননা ইসলাম যেমন কোমলতা ও করুণার ধর্ম, তেমনি এটি জিহাদ ও শক্তিরও ধর্ম; প্রতিটিই প্রয়োজন এবং প্রেক্ষিত অনুযায়ী। এটি ইসলামের বাস্তবতা এবং মধ্যপন্থারই বহিঃপ্রকাশ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশপরম্পরার অবশিষ্টাংশ:লেখক বলেন: «তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুওয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান।
আদনান পর্যন্ত আমরা যে বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছি তাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং কোনো বিরোধ নেই; এটি তোয়াতুর (অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা) এবং ইজমার (ঐক্যমত) মাধ্যমে প্রমাণিত। তবে আদনানের পরবর্তী বংশপরম্পরা নিয়ে মতভেদ আছে। কিন্তু বংশবিদ্যাবিদ এবং আহলে কিতাব আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, আদনান আল্লাহর নবী ইসমাইলের বংশধর; আর ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ছিলেন খলিলুর রহমান (পরম করুণাময় আল্লাহর বন্ধু), তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে জুহরাহ ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الكلام عليه من وجوه:
1 ــ قوله "ابن عبد الله": هذا هو اسم والد النبي صلى الله عليه وسلم، وقد مات قبل البعثة شاباً بالمدينة ودفن بها.
كان قد قدم إلى المدينة من مكة ليشتري تمراً فاتفق أنه مرض بها ومات، وقيل بل مرّ بها مريضاً وهو راجع من بلاد الشام
(1).
وكان عمره عندما مات ثماني عشرة سنة كما صححه الحافظ العلائي وابن حجر والسيوطي، وقيل: خمساً وعشرين سنة
(2).
2 ــ قوله "ابن عبد المطلب": هذا هو جدّ النبي صلى الله عليه وسلم، واسمه الحقيقي: شيبة الحَمْد، كان شيخاً معظّماً في قريش، وزعيماً من زعمائها، وهو الذي حفر بئر زمزم، وهو الذي كَفَل النبيَّ صلى الله عليه وسلم بعد وفاة أمّه، وقد رقّ عليه جداً، وكان يجلسه معه على فراشه في ظل الكعبة، وكان عُمُره صلى الله عليه وسلم عندما مات جدُّه ثمان سنين، وقد أوصى بكفالة حفيده من بعده إلى عمّه أبي طالب
(3).
3 ــ وإذن فإبراهيم الخليل هو جدّ النبي الأعلى، وقد انتقلت منه إلى النبي صلى الله عليه وسلم بعض الصفات الوراثية الجسمانية، فكان النبيُّ صلى الله عليه وسلم أشبه الناس به في الخِلْقَة، كما ورد في الحديث الصحيح: «أشبه الناس به صاحبكم يعني نفسه»
(4).
4 ــ وقد اقتضت حكمة الله عز وجل أن يجعل نسب نبيه صلى الله عليه وسلم من أرفع الأنساب
--------------------------------------------
এর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:
১ - তাঁর বাণী "ইবনে আব্দুল্লাহ": এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিতার নাম। তিনি নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে মদিনায় যুবক অবস্থায় ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।
তিনি মক্কা থেকে খেজুর কেনার উদ্দেশ্যে মদিনায় এসেছিলেন, এরপর সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান। আবার বলা হয় যে, তিনি সিরিয়া থেকে ফেরার পথে অসুস্থ অবস্থায় মদিনার ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন
(১)।
তিনি যখন মারা যান তখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর, যেমনটি হাফেজ আল্লায়ী, ইবনে হাজার এবং সুয়ূতী বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন। আবার বলা হয়েছে: পঁচিশ বছর
(২)।
২ - তাঁর বাণী "ইবনে আব্দুল মুত্তালিব": এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দাদা। তাঁর প্রকৃত নাম: শায়বাতুল হামদ। তিনি কুরাইশ বংশের একজন সম্মানিত মুরুব্বি এবং তাদের নেতাদের অন্যতম ছিলেন। তিনিই যমযম কূপ খনন করেছিলেন এবং তিনিই তাঁর মাতার মৃত্যুর পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং কাবার ছায়ায় নিজের বিছানায় তাঁকে নিজের সাথে বসাতেন। যখন তাঁর দাদা মারা যান তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বয়স ছিল আট বছর। তিনি তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নাতির লালন-পালনের ভার তাঁর চাচা আবু তালিবের কাছে অর্পণ করার ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন
(৩)।
৩ - সুতরাং ইব্রাহিম খলিল হলেন নবীর ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ, তাঁর পক্ষ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে কিছু শারীরিক বংশগত বৈশিষ্ট্য স্থানান্তরিত হয়েছিল। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দৈহিক গঠনে মানুষের মধ্যে তাঁর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন, যেমনটি সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «তোমাদের সঙ্গী (অর্থাৎ তিনি নিজে) তাঁর সাথে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ»
(৪)।
৪ - আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল-এর প্রজ্ঞা এটাই দাবি করেছে যে, তিনি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশকে সর্বোচ্চ বংশমর্যাদার অন্তর্ভুক্ত করবেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقبيلته من أشرف القبائل.
ولعل من حكم ذلك: أن يكون أدعى لقبول كلامه، لأن العرب كانت في ذلك الوقت لا تستمع إلا لذوي الأنساب العالية.
وأيضاً حتى لا يتوهم متوهم أن رسالة النبي صلى الله عليه وسلم كانت وسيلة لرفع مستواه الاجتماعي بين الناس، فهو لم يكن بحاجة إلى ذلك صلوات الله وسلامه عليه.
5 ــ ومن النصوص الدالة على شريف نسبه صلى الله عليه وسلم ما ثبت في الصحيح مرفوعاً: «إن الله اصطفى كنانة من ولد إسماعيل، واصطفى قريشاً من كنانة، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم»
(1).
6 ــ وقوله: "وهذا النَّسَب إلى عَدْنان لا مِرية فيه، وهو ثابتٌ بالتواتر والإجماع": قلتُ: الأمر كما ذكر المصنف، فإن العلماء متفقون على هذا القدر من نسبه صلى الله عليه وسلم، ولذلك ساقه الإمام البخاري في صحيحه بدون إسناد
(2).
وأما ما بعد عدنان فهو محلّ خلاف، والقدر المتفق عليه بعد عدنان، أن عدنان من ولد إسماعيل بن إبراهيم الخليل عليهما الصلاة والسلام
(3).
7 ــ وقوله: "وأمُّه صلى الله عليه وسلم آمنة بنت وهب": هذا هو اسم أمه صلوات الله وسلامه عليه، وهي من أفضل قريش نسباً وموضعاً، وتجتمع به صلى الله عليه وسلم في كِلَاب بن مُرة، وسيأتي مزيد كلام عنها في الفصل القادم
--------------------------------------------
এবং তাঁর গোত্র হলো শ্রেষ্ঠ গোত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
সম্ভবত এর হিকমত বা তাৎপর্য হলো: তাঁর কথা গ্রহণ করার প্রতি এটি অধিক আহ্বানকারী হওয়া। কারণ তৎকালে আরবরা উচ্চ বংশীয় ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও কথা শুনত না।
আর যাতে কোনো সন্দেহ পোষণকারী এই কল্পনা করতে না পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত ছিল মানুষের মাঝে তাঁর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির কোনো মাধ্যম। কারণ তাঁর এর প্রয়োজন ছিল না, তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
৫ ــ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানিত বংশপরম্পরার স্বপক্ষে দলীলসমূহের মধ্যে একটি হলো যা সহীহ গ্রন্থে মারফু' হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।"
(১)।
৬ ــ এবং তাঁর বক্তব্য: "আদনান পর্যন্ত এই বংশপরম্পরার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, আর এটি তাওয়াতুর (অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা) ও ইজমা (ঐক্যমত্য) দ্বারা প্রমাণিত": আমি বলব: বিষয়টি লেখক যেমন উল্লেখ করেছেন তেমনই। কারণ ওলামায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশপরম্পরার এই অংশটুকুর ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এ কারণেই ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন।
(২)।
আর আদনানের পরবর্তী বংশপরম্পরা মতভেদের ক্ষেত্র। তবে আদনানের পরবর্তী পর্যায়ে যেটুকু বিষয়ে ঐক্যমত্য রয়েছে তা হলো, আদনান হলেন খলীল ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর বংশধর।
(৩)।
৭ ــ এবং তাঁর বক্তব্য: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব": এটিই হলো তাঁর জননীর নাম, তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। তিনি বংশ ও মর্যাদার দিক থেকে কুরাইশদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছিলেন। কিলাব বিন মুররাহ-এর বংশে গিয়ে তাঁর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশ মিলেছে। পরবর্তী পরিচ্ছেদে তাঁর সম্পর্কে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
فصلمولدُهُ صلى الله عليه وسلم ورضاعُه ونشأتُهقال المصنف: «ووُلد رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يومَ الاثنين لليلتين خلتا من ربيع الأوّلِ. وقِيل: ثامنُه، وقِيل عاشرُه، وقِيل لثنتي عشرة منه، وذلكَ عَام الفيلِ على الصحيح.
ومات أبوه وهو حَمْل، واستُرضع له في بني سَعْدٍ، فأرضعته حَلِيمة السَّعدية، وأقامَ عندها في بني سَعْدٍ نحواً من أربعِ سنين، وشُقّ عن فُؤادِه هناك، فردَّته إلى أُمّه. فخَرجتْ به أمُّه إلى المدينة؛ تزورُ أخوالَه بالمدينة، فتوفيت بالأَبواء، وهي راجعةٌ إلى مكة، وله من العُمُر ستّ سنين وثلاثة أشهر وعشرة أيام».
الكلام عليه من وجوه:
1 ــ قوله: "وُلد صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين .. إلى آخره": قلت: ثمة مواضع اتفاق ومواضع اختلاف في تحديد تاريخ مولده صلى الله عليه وسلم.
فقد اتفق العلماء على أن مولده صلى الله عليه وسلم كان في يوم الاثنين، كما صح بذلك حديث أبي قتادة الأنصاري أنه صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم يوم الاثنين؟ فقال: «ذاك يوم ولدت فيه، ويوم بعثت فيه»
(1). وكذلك اتفقوا تقريباً على أن
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদতাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্ম, দুগ্ধপান এবং বেড়ে ওঠাগ্রন্থকার বলেন: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনে জন্মগ্রহণ করেন। কারো মতে (মাসের) অষ্টম দিনে, কারো মতে দশম দিনে এবং কারো মতে দ্বাদশ দিনে; আর বিশুদ্ধ মতানুসারে এটি ছিল হস্তীবর্ষের ঘটনা।
তিনি যখন মাতৃগর্ভে ছিলেন তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। বনু সাদ গোত্রে তাঁর দুগ্ধপানের ব্যবস্থা করা হয় এবং হালিমা আস-সাদিয়া তাঁকে দুগ্ধপান করান। তিনি বনু সাদ গোত্রে তাঁর নিকট প্রায় চার বছর অবস্থান করেন। সেখানে তাঁর বক্ষ বিদারণ করা হয়, অতঃপর তিনি (হালিমা) তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। এরপর তাঁর মা তাঁকে নিয়ে মদিনায় তাঁর মামাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে বের হন। মদিনা থেকে মক্কায় ফেরার পথে ‘আবওয়া’ নামক স্থানে তিনি ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর তিন মাস দশ দিন।»
এর ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:
১ ــ তাঁর উক্তি: "তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সোমবার দিনে জন্মগ্রহণ করেন... শেষ পর্যন্ত": আমি বলছি: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মতারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের এবং মতপার্থক্যের কিছু দিক রয়েছে।
উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্ম সোমবার দিনে হয়েছিল। যেমনটি আবু কাতাদা আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে যে, তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন: «এটি সেই দিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমাকে নবুওয়াত প্রদান করা হয়েছে»
(১)। তেমনিভাবে তাঁরা প্রায় একমত হয়েছেন যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
مولده كان عام الفيل
(1).
وأما الشهر، فقال الحافظ ابن حجر: "الصحيح المشهور أنه في ربيع الأول"
(2).
وحدده الجمهور باليوم الثاني عشر من شهر ربيع الأول، وهو قول ابن إسحاق شيخ السيرة
(3)، الموافق لسنة: (571) للميلاد.
2 ــ وقد صحبت ولادته الشريفة بعض العجائب والآيات؛ من ذلك أن أمه رأت حين حملت به كأن نوراً خرج منها، أضاءت له قصور الشام
(4).
ــــ كذلك اشتهر في كتب السيرة أنه في اليوم الذي ولد فيه: إرتجس إيوان كسرى، وسقطت منه أربع عشرة شرفة، وخمدت نارُ المجوس، ولم تكن خمدت منذ ألف عام، وأن ماء بحيرة ساوة
(5) ذَهَبَ في الأرض.
وهذه الثلاث الآيات وإن كانت قد اشتهرت في كتب السيرة إلا أنها لم تثبت من طريق يمكن الوثوق به
(6).
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম হয়েছিল হস্তী বর্ষে
(১)।
আর মাসের ব্যাপারে হাফিয ইবনে হাজার বলেন: "সঠিক ও প্রসিদ্ধ অভিমত হলো এটি রবিউল আউয়াল মাসে"
(২)।
জমহুর (অধিকাংশ আলেম) একে রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন, যা সীরাত শাস্ত্রের ইমাম ইবনে ইসহাকের বক্তব্য
(৩), যা (৫৭১) খ্রিস্টাব্দের সাথে সংগতিপূর্ণ।
২ — তাঁর সম্মানিত জন্মের সময় কিছু অলৌকিক ঘটনা ও নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছিল; তার মধ্যে একটি হলো, তাঁর মা যখন গর্ভবতী ছিলেন তখন তিনি দেখেছিলেন যে তাঁর থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছে, যার মাধ্যমে শামের (সিরিয়া) প্রাসাদসমূহ উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল
(৪)।
অনুরূপভাবে সীরাতের কিতাবসমূহে এটি প্রসিদ্ধ হয়েছে যে, যেদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেদিন: কিসরার রাজপ্রাসাদ প্রকম্পিত হয়েছিল এবং সেখান থেকে চৌদ্দটি চূড়া ধসে পড়েছিল, অগ্নিউপাসকদের আগুন নিভে গিয়েছিল যা গত এক হাজার বছর ধরে কখনো নেভেনি এবং সাওয়া হ্রদের
(৫) পানি শুকিয়ে মাটিতে চলে গিয়েছিল।
সীরাতের কিতাবসমূহে এই তিনটি নিদর্শন প্রসিদ্ধ হলেও এগুলো নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وكأن المقصود بهذه الآيات تنبيه البشرية بأنها مقبلة على حدث كبير سوف يغير العالم، ويدخله دوراً جديداً في الدين والأخلاق
(1).
3 ــ وقوله: "ومات أبوه وهو حمل": هذا هو القول الراجح الذي عليه عامة علماء السيرة، وصححه الحافظ الذهبي
(2). وقد ثبت ما يؤيده عن الإمام الزهري، أنه قال: "ولدت آمنةُ رسول الله صلى الله عليه وسلم بعدما توفي أبوه"
(3).
4 ــ وقوله: "واستُرضع له في بني سعد": بنو سعد يُنسبون إلى سعد بن بكر بن هوازن، إحدى فروع قبيلة هوازن المعروفة التي كانت تسكن الطائف، وكانوا مشهورين بالفصاحة وسلامة اللغة، لذلك كانت قريش ترسل أبناءها إليهم في سنواتهم الأولى.
ورضاعه صلى الله عليه وسلم في بني سعد بن بكر مما لا شك في ثبوته، وقد دلت عليه نصوص كثيرة، منها ما رواه ابن إسحاق قال: حدثني ثور بن يزيد، عن خالد بن معدان، عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أنهم قالوا: يا رسول الله، أخبرنا عن نفسك، فقال: «دعوة أبي إبراهيم، وبشرى عيسى، واستُرضعت في بني سعد بن بكر»
(4).
5 ــ وقوله: "فأرضعته حليمة السعدية": حليمة السعدية هي: بنت أبي ذؤيب، أسلمت بعد ذلك، وترجم لها غير واحد في الصحابة
(5).
--------------------------------------------
যেন এই আয়াতগুলোর উদ্দেশ্য হলো মানবজাতিকে সতর্ক করা যে, তারা এক মহা ঘটনার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে যা বিশ্বকে পরিবর্তন করে দেবে এবং একে দ্বীন ও আখলাকের এক নতুন যুগে প্রবেশ করাবে
(১).
৩ ــ এবং তাঁর কথা: "তিনি গর্ভে থাকাকালীন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন": এটিই হলো অগ্রগণ্য মত যার ওপর সীরাত শাস্ত্রের সাধারণ আলেমগণ একমত রয়েছেন এবং হাফেজ যাহাবী একে বিশুদ্ধ (সহীহ) বলেছেন
(২)। ইমাম যুহরী থেকে এর সমর্থনে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "পিতার ইন্তেকালের পর আমিনা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জন্ম দেন"
(৩).
৪ ــ এবং তাঁর কথা: "বনু সা'দ গোত্রে তাঁর দুধপানের ব্যবস্থা করা হয়": বনু সা'দ হলো সা'দ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াজিনের বংশধর, যা তায়েফে বসবাসকারী প্রসিদ্ধ হাওয়াজিন গোত্রের একটি শাখা। তারা সাবলীলতা ও ভাষার বিশুদ্ধতার জন্য সুপরিচিত ছিল, এই কারণে কুরাইশরা তাদের সন্তানদের জীবনের শুরুর বছরগুলোতে তাদের কাছে পাঠাত।
বনু সা'দ ইবনে বকরে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুধপান করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই এবং অনেক বর্ণনা এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়। তার মধ্যে একটি ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে সাওর ইবনে ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ ইবনে মা'দান থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ থেকে যে, তাঁরা বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার নিজের সম্পর্কে আমাদের বলুন। তখন তিনি বললেন: «আমি আমার পিতা ইবরাহীমের দোয়া, ঈসার সুসংবাদ এবং আমি বনু সা'দ ইবনে বকর গোত্রে দুধপান করেছি»
(৪).
৫ ــ এবং তাঁর কথা: "অতঃপর হালিমা সাদিয়া তাঁকে দুধপান করান": হালিমা সাদিয়া হলেন আবু জুয়াইবের কন্যা। তিনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং একাধিক লেখক সাহাবীদের জীবনীগ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وكذا أسلم زوجها، واسمه الحارث بن عبد العزى، والد النبي صلى الله عليه وسلم بالرضاعة
(1).
ورضاعته صلى الله عليه وسلم من حليمة ثابت من طرق عدة
(2).
6 ــ وكان النبي صلى الله عليه وسلم قد رضع من ثويبة جارية عمّه أبي لهب بضعة أيام قبل أن يرضع من حليمة السعدية
(3).
7 ــ واسترضاعه صلى الله عليه وسلم في بني سعد بن بكر فيه دلالة على عناية العرب ذلك الوقت بلغتهم العربية، حيث كانوا يرضعون أطفالهم في البادية لإكسابهم سلامة اللغة وفصاحة اللسان، وأيضاً لما في البادية من نقاء الهواء، وبعد أهلها عن مفاسد المدنية.
8 ــ وقوله: "وأقام عندها في بني سعد نحواً من أربع سنين": اختلف في عمر النبي صلى الله عليه وسلم عندما ردّته حليمة إلى أمه، والمشهور الذي جزم به الحافظان العراقي وابن حجر ورجحه الزرقاني أنه كان في سنّ الرابعة بعد حادثة شقّ الصدر مباشرة
(4).
وكان سبب ردّها له هو ما حصل له من حادثة شقّ الصدر، فقد خافت حليمة عليه، ورغبت في إخلاء مسؤوليتها عنه، بالرغم من شدة حبّها له وتعلقها به.
--------------------------------------------
তেমনিভাবে তাঁর স্বামীও ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যাঁর নাম ছিল হারিস বিন আবদুল উজ্জা, তিনি দুগ্ধপানের সম্পর্কের ভিত্তিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতা ছিলেন
(১)।
হালিমা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুগ্ধপান করার বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে প্রমাণিত
(২)।
৬ ─ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালিমা সাদিয়ার নিকট দুগ্ধপানের পূর্বে তাঁর চাচা আবু লাহাবের দাসী সুওয়াইবা থেকে কয়েক দিন দুধ পান করেছিলেন
(৩)।
৭ ─ বনু সাদ বিন বকর গোত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুগ্ধপানের ব্যবস্থার মাঝে তৎকালীন সময়ে আরবদের তাদের আরবি ভাষার প্রতি বিশেষ যত্নের প্রমাণ পাওয়া যায়; কারণ তাঁরা তাঁদের শিশুদের মরুভূমিতে লালনপালনের জন্য পাঠাতেন যাতে তারা ভাষার বিশুদ্ধতা ও বাকপটুতা অর্জন করতে পারে, এবং মরুভূমির নির্মল বাতাস লাভ ও নগরজীবনের যাবতীয় মন্দ প্রভাব থেকে দূরে থাকতে পারে।
৮ ─ এবং তাঁর কথা: "তিনি তাঁর কাছে বনু সাদ গোত্রে প্রায় চার বছর অবস্থান করেছিলেন": হালিমা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন, তখন তাঁর বয়স কত ছিল তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ মত—যা দুই হাফেজ (হাদিস বিশারদ) ইরাকি ও ইবনে হাজার নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং যুরকানি যাকে প্রাধান্য দিয়েছেন—তা হলো, বক্ষ বিদারণের ঘটনার পরপরই তখন তাঁর বয়স ছিল চার বছর
(৪)।
তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ ছিল তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া বক্ষ বিদারণের ঘটনাটি; কারণ হালিমা তাঁর ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর প্রতি প্রবল ভালোবাসা ও আসক্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে চেয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
9 ــ وقوله: ""وشُقّ عن فؤاده هناك فردّته إلى أمه": حادثة شقّ الصدر ذكرها ابن إسحاق في السيرة بإسناد جيد: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «استرضعت في بني سعد بن بكر، فبينا أنا مع أخ لي في بَهْمٍ لنا، أتاني رجلان عليهما ثياب بياض، معهما طست من ذهب مملوءة ثلجاً، فأضجعاني، فشقّا بطني، ثم استخرجا قلبي فشقاه، فأخرجا منه علقة سوداء، فألقياها، ثم غسلا قلبي وبطني بذاك الثلج، حتى إذا أنقياه، ردّاه كما كان»
(1).
وكان عمره صلى الله عليه وسلم عندما شُقَّ صدره في بني سعد أربع سنوات أو خمسة
(2).
10 ــ وقد حاول بعض المستشرقين ومن تلوث بأفكارهم إنكار حادثة الشقّ، وزعموا أنها أسطورة وخيال
(3)!!
ورُدّ عليهم بأن الحادثة ذكرها عامة علماء السيرة في كتبهم المعتمدة، وأصلها مخرج في صحيح الإمام مسلم، ولم ينكرها أحدٌ من علماء المسلمين، فالواجب التصديق بها.
وما أحسن قول الحافظ ابن حجر في الرد على هؤلاء: "وجميع ما ورد من شقّ الصدر واستخراج القلب وغير ذلك من الأمور الخارقة للعادة مما يجب التسليم له دون التعرض لصرفه عن حقيقته لصلاحية القدرة فلا يستحيل شيء من ذلك"
(4).
--------------------------------------------
৯ ــ এবং তাঁর কথা: "সেখানে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয় এবং তিনি তাঁকে তাঁর মায়ের নিকট ফিরিয়ে দেন": বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনাটি ইবনে ইসহাক তাঁর সীরাত গ্রন্থে উত্তম সনদে উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: «আমি বনু সাদ বিন বকর গোত্রে দুধ পান করেছি। একদিন আমি ও আমার এক দুধ-ভাই আমাদের ছোট পশুগুলোর (ছাগল-ভেড়া) সাথে থাকাবস্থায় শ্বেতবস্ত্র পরিহিত দুজন ব্যক্তি স্বর্ণের একটি তশতরি নিয়ে আমার নিকট আসলেন যা বরফে পূর্ণ ছিল। তাঁরা আমাকে শুইয়ে দিলেন এবং আমার পেট বিদীর্ণ করলেন। এরপর তাঁরা আমার হৃদপিণ্ড বের করে তা ফেড়ে ফেললেন এবং সেখান থেকে একটি কালো রক্তপিণ্ড বের করে ফেলে দিলেন। অতঃপর তাঁরা সেই বরফ দিয়ে আমার হৃদপিণ্ড ও পেট ধৌত করলেন। যখন তাঁরা তা পরিষ্কার করে ফেললেন, তখন তাঁরা একে আগের মতো করে দিলেন»
(১).
বনু সাদ গোত্রে যখন তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়, তখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বয়স ছিল চার বা পাঁচ বছর
(২).
১০ ــ কিছু প্রাচ্যবিদ এবং তাদের চিন্তাধারায় কলুষিত ব্যক্তিরা বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনাটি অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি একটি রূপকথা ও কল্পনা
(৩)!!
তাঁদের জবাবে বলা হয়েছে যে, সীরাত শাস্ত্রের সাধারণ সকল আলিম তাঁদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে এ ঘটনা উল্লেখ করেছেন এবং এর মূল বর্ণনা ইমাম মুসলিমের সহীহ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। মুসলিম বিদ্বানগণের কেউ এটি অস্বীকার করেননি, তাই এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য বা ওয়াজিব।
এদের খণ্ডন করতে গিয়ে হাফেজ ইবনে হাজারের উক্তিটি কতই না চমৎকার: "বক্ষ বিদীর্ণ করা, হৃদপিণ্ড বের করা এবং এ জাতীয় অলৌকিক বিষয়াবলি সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিকে তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত না করে সেগুলোর প্রতি আত্মসমর্পণ করা ওয়াজিব। কারণ আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতা এগুলোর জন্য যথেষ্ট, তাই এর কোনো কিছুই অসম্ভব নয়"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
11 ــ وقد تكررت حادثة شقّ الصدر للنبي صلى الله عليه وسلم على ما رجحه السهيلي مرتين
(1)، مرة في بني سعد بن بكر عندما كان صغيراً، والثانية قبيل صعوده في رحلة الإسراء والمعراج، وسيأتي الحديث عنها بمشيئة الله تعالى.
12 ـ قوله: "فخرجت به أمّه إلى المدينة تزور أخواله
(2)، فتوفيت بالأبواء وهي راجعة إلى مكة": هذه الحادثة رواها ابن إسحاق، قال حدثني عبد الله بن أبي بكر بن حزم به مرسلاً
(3)، وبهذا جزم الذهبي وعامة كتاب السيرة
(4).
13 ـ وقوله: "وله من العُمُر ستّ سنين وثلاثة أشهر وعشرة أيام": قلت: هكذا جزم به ابن إسحاق
(5) والذهبي
(6) وغيرهما دون ذكر عدد الأشهر والأيام.
حضانة أمّ أَيمن وكفالة عمّه أبي طالب:قال المصنف: «فلمَّا ماتت أمُّه: حضنته أمُّ أَيمن وهي مولاتُه، ورثها من أبيه، وكَفلهُ جدُّه عبد المطَّلب، فلما بَلَغَ رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم من العُمُر ثماني سنين توفي جدُّه، وأوصى به إلى عمّه أبي طالب، لأنه كان شقيقَ عبد الله فكَفَلَه، وحاطَه أتم حِياطة، ونَصَرَه حين بعثَه الله أعزَّ نصرٍ، مع أنه كان مستمراً على شركه إلى أن ماتَ،
--------------------------------------------
১১ ــ সুহাইলি যে মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন সেই অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্ষ বিদারণের ঘটনাটি দুইবার সংঘটিত হয়েছে
(১), একবার শৈশবে বনু সাদ ইবনে বকর গোত্রে থাকাকালীন সময়ে এবং দ্বিতীয়বার তাঁর ইসরা ও মিরাজের সফরের প্রাক্কালে। অচিরেই সে সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ তায়ালা আলোচনা আসবে।
১২ ـ তাঁর উক্তি: "অতঃপর তাঁর মা তাঁকে নিয়ে মদিনায় তাঁর মামাদের সাথে দেখা করতে বের হলেন
(২) এবং মক্কায় ফেরার পথে আবওয়া নামক স্থানে তিনি ইন্তেকাল করেন": এই ঘটনাটি ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে হাজম আমার কাছে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন
(৩)। ইমাম যাহাবি এবং সাধারণ সিরাত লেখকগণ এই বিষয়টিই নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন
(৪)।
১৩ ـ এবং তাঁর উক্তি: "তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর তিন মাস দশ দিন": আমি বলব: ইবনে ইসহাক
(৫), যাহাবি
(৬) এবং অন্যরা মাস ও দিনের সংখ্যা উল্লেখ না করেই এটি এভাবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন।
উম্মে আয়মানের লালন-পালন এবং তাঁর চাচা আবু তালিবের অভিভাবকত্ব:গ্রন্থকার বলেন: «অতঃপর যখন তাঁর মা মারা গেলেন, তখন উম্মে আয়মান তাঁকে লালন-পালন করেন। তিনি ছিলেন তাঁর দাসী, যাকে তিনি তাঁর পিতার উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন। তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স আট বছর হলো, তখন তাঁর দাদা ইন্তেকাল করেন এবং তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের নিকট তাঁর (নবীর) ব্যাপারে অসিয়ত করে যান; কারণ তিনি ছিলেন আবদুল্লাহর সহোদর ভাই। অতঃপর আবু তালিব তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁকে পূর্ণাঙ্গভাবে আগলে রাখেন। আল্লাহ যখন তাঁকে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন, তখন তিনি তাঁকে সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করেন, যদিও তিনি মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর শিরকের ওপর অটল ছিলেন।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فخفَّفَ الله بذلك من عذابه كما صَحَّ الحديثُ بذلك».
الكلام عليه من وجوه:
1 ــ قوله: "حضنته أم أيمن": اسمها: بركة بنت ثعلبة الحبشية، مولاة النبي صلى الله عليه وسلم وحاضنته، وقد زوجها صلى الله عليه وسلم بمولاه زيد بن حارثة، وأنجبت له أسامة بن زيد رضي الله عنهما، معدودة في الصحابة
(1).
2 ــ وقوله: "فكَفَلَه ــ أبو طالبٍ ــ وحاطَه أتم حِياطةٍ، ونَصَرَه حين بعَثَه الله .. ": قلت: كفالة أبي طالب للنبي صلى الله عليه وسلم وحَدَبه عليه وذوده عنه ونصرته له بعد بعثته قد صحت بها الأحاديث، كحديث العباس الآتي بعد قليل.
3 ــ وقوله: "فخفَّفَ الله بذلك من عذابه": قلت: يشير إلى حديث العباس بن عبد المطلب في الصحيحين: أنه قال: يا رسول الله، هل نفعتَ أبا طالب بشيء، فإنه كان يحوطك ويغضب لك؟ قال: «نعم، هو في ضحضاح من نار، ولولا أنا لكان في الدرك الأسفل من النار»
(2).
4 ــ ولعل من أسباب بقاء أبي طالب على شركه رغم نصرته للنبي صلى الله عليه وسلم ووقوفه معه هو التمسك بالإلف والعادة واتباع الآباء، كما قال تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْاْ إِلَى مَا أَنْزَلَ اللّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُوا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا} [المائدة: 104].
خروج عمّه به إلى الشَّام وما صَحِبَه من الآيات:قال المصنف: «وخَرَجَ به عمُّه إلى الشَّام في تجارة وهو ابنُ ثنتي عشرة سنة، وذلك من تمام لطفِه بهِ، لعدمِ من يقوم به إذا تركه بمكة، فرأى هو وأصحابه ممن
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর শাস্তি লাঘব করেছেন, যেমনটি হাদিসে সহিহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
এর ওপর আলোচনা কয়েক দিক থেকে:
১ ــ তাঁর বক্তব্য: "উম্মে আয়মান তাঁকে লালন-পালন করেছেন": তাঁর নাম: বারাকাহ বিনতে সা'লাবাহ আল-হাবাশিয়্যাহ, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাসী এবং তাঁর ধাত্রী ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর মুক্তদাস যায়েদ ইবনে হারিসাহর সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর গর্ভে উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে জন্ম দেন। তিনি সাহাবীদের মধ্যে গণ্য
(১)।
২ ــ এবং তাঁর বক্তব্য: "অতঃপর আবু তালিব তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁকে পূর্ণাঙ্গভাবে আগলে রাখেন, আর আল্লাহ যখন তাঁকে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন তখন তিনি তাঁকে সাহায্য করেন...": আমি বলি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আবু তালিবের অভিভাবকত্ব, তাঁর প্রতি তাঁর মমতা, তাঁকে রক্ষা করা এবং নবুওয়াতের পর তাঁকে সাহায্য করার বিষয়টি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, যেমন কিছুক্ষণ পরেই বর্ণিতব্য আব্বাসের হাদিসটি।
৩ ــ এবং তাঁর বক্তব্য: "এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর শাস্তি লাঘব করেছেন": আমি বলি: এটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করছে: তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি আবু তালিবের কোনো উপকারে এসেছেন? কারণ তিনি আপনাকে রক্ষা করতেন এবং আপনার জন্য রাগান্বিত হতেন। তিনি বললেন: «হ্যাঁ, তিনি আগুনের এক অগভীর স্তরে আছেন, আর আমি না থাকলে তিনি জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকতেন»
(২)।
৪ ــ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাহায্য করা এবং তাঁর পাশে থাকা সত্ত্বেও আবু তালিবের শিরকের ওপর অটল থাকার অন্যতম কারণ হতে পারে পরিচিত রীতি-নীতি ও অভ্যাসের প্রতি আসক্তি এবং পূর্বপুরুষদের অনুসরণ। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার দিকে এবং রাসুলের দিকে এসো’, তারা বলে, ‘আমাদের জন্য তাই যথেষ্ট যার ওপর আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি’} [সূরা আল-মায়িদাহ: ১০৪]।
তাঁর চাচা কর্তৃক তাঁকে নিয়ে সিরিয়া অভিমুখে যাত্রা এবং এ সময় সংঘটিত নিদর্শনসমূহ:লেখক বলেন: «তাঁর বারো বছর বয়সে তাঁর চাচা তাঁকে নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া অভিমুখে বের হন। এটি ছিল তাঁর প্রতি আল্লাহর পূর্ণ অনুগ্রহের বহিঃপ্রকাশ, কারণ মক্কায় তাঁকে রেখে গেলে দেখাশোনা করার মতো কেউ ছিল না। অতঃপর তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা তাদের মধ্য থেকে যা দেখলেন...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
خَرَجَ معه إلى الشَّام من الآيات فيه صلى الله عليه وسلم ما زاد عمَّه في الوصاة بهِ والحرصِ عليهِ؛ كما رواه الترمذي في جامعه بإسنادٍ رجالُه كلُّهم ثقاتٍ، من تظليل الغَمَامةِ له ومَيْلِ الشجرة بظلّها عليه، وتبشير بَحيرا الرَّاهب به، وأمره لعمّه بالرجوع به لئلَّا يراه اليهود فيرومونه سوءاً، والحديث له أصلٌ محفوظٌ، وفيه زياداتٌ أُخر».
الكلام عليه من وجوه:
1 ـ قوله: "وخرج به عمه إلى الشام": هذه الحادثة أخرجها الترمذي في سننه، وابن إسحاق في السيرة
(1)، ورجالها كلهم ثقات ولها أصل محفوظ كما قال المصنف.
وقال الحافظ ابن حجر: "إسناده قوي"
(2)، وقد صححها الحاكم في المستدرك
(3)، وصححها بمجموع طرقها وشواهدها الدكتور أكرم ضياء العُمري
(4)، والألباني
(5)، على نكارة في بعض ألفاظ الحديث نبّه عليها العلماء.
2 ــ وقد اكتفى المصنف بالإشارة إلى الحادثة، وخلاصتها: أن أبا طالب كان قد أراد الخروج إلى بلاد الشام في تجارة له، فرغب ابن أخيه في صحبته، فرقّ له واصطحبه. فلما وصل الركبُ بُصرى من بلاد الشام، كان بها راهب نصراني
(6)--------------------------------------------
সিরিয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর সাথে বের হওয়ার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে এমন সব নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছিল, যা তাঁর প্রতি তাঁর চাচার যত্ন ও গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল; যেমনটি তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থে এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য। এসব নিদর্শনের মধ্যে ছিল মেঘের ছায়া দান, গাছের ডালপালা তাঁর দিকে ঝুঁকে ছায়া প্রদান, বাহিরা পাদ্রীর পক্ষ থেকে তাঁর ব্যাপারে সুসংবাদ দান এবং তাঁর চাচাকে তাঁকে নিয়ে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান যাতে ইহুদিরা তাঁকে দেখে কোনো ক্ষতি করতে না পারে। হাদিসটির একটি সংরক্ষিত মূল ভিত্তি রয়েছে এবং এতে আরও কিছু অতিরিক্ত বর্ণনাও রয়েছে।
এর ওপর আলোচনা বিভিন্ন দিক থেকে:
১. তাঁর বক্তব্য: "তাঁর চাচা তাঁকে নিয়ে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন": এই ঘটনাটি ইমাম তিরমিযী তাঁর সুনানে এবং ইবনে ইসহাক তাঁর সিরাত গ্রন্থে
(১) বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য এবং এর একটি সংরক্ষিত মূল ভিত্তি রয়েছে যেমনটি গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "এর সনদ শক্তিশালী"
(২), ইমাম হাকীম এটি মুস্তাদরাক গ্রন্থে
(৩) সহিহ বলেছেন। এছাড়া ড. আকরাম জিয়া আল-উমারি
(৪) এবং আলবানী
(৫) এর সকল সূত্র ও সমর্থক বর্ণনার ভিত্তিতে এটিকে সহিহ বলেছেন, যদিও হাদিসের কিছু শব্দের অসংগতির (নাকারাহ) ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম সতর্ক করেছেন।
২. গ্রন্থকার ঘটনাটির প্রতি কেবল ইঙ্গিত করেছেন, যার সারসংক্ষেপ হলো: আবু তালিব তাঁর এক ব্যবসায়িক সফরে সিরিয়া যাওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন, তখন তাঁর ভাতিজা তাঁর সাথে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর প্রতি সদয় হলেন এবং তাঁকে সাথে নিলেন। কাফেলা যখন সিরিয়ার বুসরা নামক স্থানে পৌঁছাল, সেখানে একজন খ্রিস্টান পাদ্রী ছিলেন।
(৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يقال له بَحِيرا، وكان عنده عِلْمٌ بالكتب السماوية، وقد علم منها قرب مبعث نبيّ، فكان يتحرّى خروجه.
فلما وصلت قافلة أبي طالب قرية بُصرى جذب انتباه الراهبَ غمامةٌ كانت تظلل شخصاً في القافلة، والشجر يميل عليه بفيئه، فدعاهم إلى طعام، وهناك تعرّف الراهب على النبي صلى الله عليه وسلم من خلال صفاته وأحواله وخاتم النبوة الذي كان بين كتفيه.
وقد ورد عند ابن إسحاق
(1): أن بحيرا سأل أبا طالب: ما هذا الغلام منك؟ قال: ابني.
قال له بحيرا: ما هو بابنك، وما ينبغي لهذا الغلام أن يكون أبوه حياً.
قال: فإنه ابن أخي. قال: فما فعل أبوه؟ قال: مات وأمه حبلى به.
قال: صدقت، فارجع بابن أخيك إلى بلده، واحذر عليه يهود، فوالله لئن رأوه وعرفوا منه ما عرفتُ ليبغنَّه شراً، فإنه كائن لابن أخيك هذا شأن عظيم، فأسرع به إلى بلاده.
3 ــ وقد استغل هذه الحادثة بعض المستشرقين والمبشرين للطعن في النبي صلى الله عليه وسلم، فزعموا أنه عندما التقى مع الراهب بَحيرا تعلَّم منه مبادئ الدين، وأمدَّه الراهبُ بكثير من علوم أهل الكتاب، مما كان له بالغ الأثر في ادعائه النبوة بعد ذلك!!
بل زعم بعضهم أن النبي صلى الله عليه وسلم تلقى القرآن كله من الراهب بحيرا!!
وكل هذا محض كذب وافتراء وخيال، لأن قصة التعليم والتلقي المزعوم ليس في الروايات ما يدل عليها؟!
--------------------------------------------
তাকে বাহিরা বলা হতো, এবং তাঁর নিকট আসমানি কিতাবসমূহের জ্ঞান ছিল। তিনি সেখান থেকে একজন নবীর আবির্ভাবের সময় নিকটবর্তী হওয়ার কথা জানতে পেরেছিলেন, তাই তিনি তাঁর আগমনের প্রতীক্ষায় ছিলেন।
যখন আবু তালিবের কাফেলা বসরা গ্রামে পৌঁছাল, তখন একটি মেঘখণ্ড কাফেলার একজনের ওপর ছায়া দিচ্ছিল যা পাদ্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করল, আর গাছও তার ওপর ছায়া দিয়ে নুয়ে পড়ছিল। তখন তিনি তাদেরকে খাবারের দাওয়াত দিলেন। সেখানে পাদ্রী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর বৈশিষ্ট্য, অবস্থা এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে থাকা মোহরে নবুওয়াতের মাধ্যমে চিনে ফেললেন।
ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় এসেছে
(১): বাহিরা আবু তালিবকে জিজ্ঞেস করলেন, "এই বালকটি আপনার কে হয়?" তিনি বললেন, "আমার ছেলে।"
বাহিরা তাঁকে বললেন, "সে আপনার ছেলে নয়, আর এই বালকের পিতা জীবিত থাকা সমীচীন নয়।"
তিনি বললেন, "সে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র।" তিনি বললেন, "তার পিতার কী হয়েছিল?" তিনি বললেন, "সে যখন তার মায়ের গর্ভে ছিল তখন তাঁর পিতা মারা যান।"
তিনি বললেন, "আপনি সত্য বলেছেন, আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রকে নিয়ে তাঁর শহরে ফিরে যান এবং ইহুদিদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। আল্লাহর কসম, যদি তারা তাঁকে দেখতে পায় এবং আমি যা চিনেছি তা যদি তারা চিনে ফেলে, তবে তারা তাঁর অনিষ্ট করতে চাইবে। নিশ্চয়ই আপনার এই ভ্রাতুষ্পুত্রের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত গৌরবময় হতে যাচ্ছে, অতএব দ্রুত তাঁকে নিজ শহরে নিয়ে যান।"
৩ ــ কতিপয় প্রাচ্যবিদ ও মিশনারিরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিন্দা করার জন্য এই ঘটনাটিকে কাজে লাগিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, পাদ্রী বাহিরার সাথে যখন তাঁর সাক্ষাৎ হয়, তখন তিনি তার কাছ থেকে দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো শিখেছিলেন এবং পাদ্রী তাঁকে আহলে কিতাবদের অনেক জ্ঞান প্রদান করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁর নবুওয়াতের দাবির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল!!
এমনকি তাদের কেউ কেউ দাবি করেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরো কুরআনই পাদ্রী বাহিরার কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন!!
আর এসবই ডাহা মিথ্যা, অপবাদ ও কল্পনাপ্রসূত, কারণ এই কথিত শিক্ষা গ্রহণ ও জ্ঞান লাভের গল্পের সপক্ষে কোনো বর্ণনা বা প্রমাণ নেই!!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ثم إن النبي صلى الله عليه وسلم وقتها كان عمره ما بين العاشرة والثانية عشرة، وكان لقاؤه بالراهب قصيراً عابراً على دعوة طعام، فكيف تسنَّى في ذاك العمر الصغير وذاك اللقاء العابر أن يتعلَّم منه علوم أهل الكتاب وعقائدهم، هذه دعاوى باطلة عقلاً ونقلاً.
والعجيب أن هؤلاء المستشرقين لا يفتؤون يرددون مثل هذه الأباطيل في كتبهم، فتارة يزعمون أن النبي صلى الله عليه وسلم تعلَّم من بحيرا الراهب!
وتارة يزعمون أنه تعلَّم من ورقة بن نوفل، أو من يهود مكة .. ومعلوم أن مكة لم يكن بها يهود آنذاك، إلى غير ذلك من الأباطيل والتفسيرات التي يريدون من ورائها إنكار الوحي وتكذيب الرسالة، كما قال أسلافهم من قبل: {إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ} [النحل: 103].
4 ــ وقوله: "وفيه زيادات أخر": يريد المصنف أن الحديث مع كون أصله محفوظاً إلا أن بعض رواياته اشتملت على ألفاظ منكرة وباطلة.
ففي رواية الترمذي أن أبا طالب ردّ النبي صلى الله عليه وسلم إلى مكة ومعه أبو بكر وبلال!!
وقد استنكر العلماء هذه اللفظة وقالوا: إن أبا بكر وقتها كان صبياً في التاسعة، وبلال لعله من يخلق بعد. ورجح ابن حجر أن تكون هذه الزيادة وهم من أحد الرواة
(1).
خُروجُه الثَّاني إلى الشَّام وزواجُهُ من خَدِيجة:قال المصنف: «ثم خَرجَ ثانياً إلى الشامِ في تجارة لخديجة بنتِ خُويلد مع
--------------------------------------------
অতঃপর সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ছিল দশ থেকে বারো বছরের মধ্যে। সন্ন্যাসীর সাথে তাঁর সেই সাক্ষাৎ ছিল একটি ভোজের আমন্ত্রণে সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক। সুতরাং সেই অল্প বয়সে এবং সেই ক্ষণস্থায়ী সাক্ষাতে আহলে কিতাবদের জ্ঞান ও আকিদা-বিশ্বাস তাঁর পক্ষে শিখে নেওয়া কীভাবে সম্ভব? যুক্তি ও বর্ণনার নিরিখে এগুলি বাতিল দাবি।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রাচ্যবিদরা তাদের বইপত্রে এ জাতীয় মিথ্যা কথা বারবার আওড়াতে বিরত হন না। কখনো তারা দাবি করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ন্যাসী বাহিরা-র কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন!
আবার কখনো তারা দাবি করেন যে, তিনি ওরাকা বিন নওফল অথবা মক্কার ইহুদিদের কাছ থেকে শিখেছেন... অথচ এটি সুবিদিত যে, সে সময় মক্কায় কোনো ইহুদি ছিল না। এ জাতীয় আরও বহু মিথ্যা ও ব্যাখ্যা তারা দাঁড় করায়, যার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য হলো ওহী অস্বীকার করা এবং রেসালাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা; ঠিক যেমনটি তাদের পূর্বসূরিরা আগে বলেছিল: "নিশ্চয়ই তাকে একজন মানুষ শিক্ষা দেয়" [আন-নাহল: ১০৩]।
৪ — এবং তাঁর উক্তি: "আর এতে অন্যান্য সংযোজন রয়েছে": লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে, হাদিসটির মূল অংশ সংরক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও এর কিছু বর্ণনায় আপত্তিকর ও বাতিল শব্দাবলি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তিরমিযীর এক বর্ণনায় এসেছে যে, আবু তালিব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কায় ফেরত পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর সাথে আবু বকর ও বিলাল ছিলেন!!
আলেমগণ এই শব্দটির প্রতিবাদ করেছেন এবং বলেছেন: সে সময় আবু বকর ছিলেন নয় বছরের এক বালক, আর বিলাল হয়তো তখনো জন্মগ্রহণ করেননি। ইবনে হাজার মত দিয়েছেন যে, এই বাড়তি অংশটি কোনো একজন বর্ণনাকারীর ভ্রম বা ভুল
(১)।
সিরিয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর দ্বিতীয় সফর এবং খাদিজার সাথে তাঁর বিবাহ:লেখক বলেন: «অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন খুয়াইলিদ কন্যা খাদিজার ব্যবসায়িক পণ্য নিয়ে... সাথে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
غلامها مَيْسَرة على سبيلِ القِراض
(1)، فرأى مَيْسَرةُ ما بَهَرَهُ من شأنه، فرجعَ فأخبر سيّدته بما رأى، فرغبت إليهِ أن يتزوجها؛ لما رجَتْ في ذلك من الخيرِ الذي جَمَعَه الله لها، وفوقَ ما يخطرُ ببال بشرٍ، فتزوَّجها رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم وله خمسٌ وعشرونَ سنة».
الكلام عليه من وجوه:
1 ــ خروجه صلى الله عليه وسلم في تجارة لخديجة إلى أرض الشام ذكره ابن إسحاق مرسلاً بدون إسناد
(2)، وصحح الرواية الحاكم في المستدرك، ووافقه الذهبي
(3).
2 ــ وهذا الخروج هو الثاني له صلى الله عليه وسلم إلى بلاد الشام، وكان عمُرُه كما قال المصنف خمساً وعشرين سنة، وعزاه الحافظ ابن حجر إلى الجمهور
(4).
3 ــ وخلاصة الحادثة أن خديجة بنت خويلد كانت امرأة تاجرة، وكانت تستأجر الرجال للعمل في مالها على سبيل القِراض والمضاربة. فلما سمعت عن صدق رسول الله وأخلاقه أرسلت إليه وطلبت منه أن يخرج إلى بلاد الشام في تجارة لها، فَقَبِلَ ذلك، وخرج في صحبته غلام لخديجة اسمه: ميسرة
(5).
--------------------------------------------
তার গোলাম মায়সারাকে সাথে নিয়ে কিরাদ
(১) পদ্ধতিতে; অতঃপর মায়সারা তাঁর মাঝে এমন সব বিষয় দেখলেন যা তাকে অভিভূত করল। এরপর সে ফিরে গিয়ে তার মালকিনকে যা দেখেছিল তা অবহিত করল। ফলে তিনি (খাদিজা) তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আগ্রহী হলেন; কারণ তিনি এর মাধ্যমে এমন কল্যাণের আশা করেছিলেন যা আল্লাহ তাঁর জন্য একত্রিত করেছিলেন এবং যা কোনো মানুষের কল্পনারও অতীত ছিল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করলেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর।
এর ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:
১ – খাদিজার ব্যবসার উদ্দেশ্যে শাম দেশে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহির্গমনের বিষয়টি ইবনে ইসহাক কোনো সনদ ছাড়াই মুরসাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন
(২), আর হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনাটি সহীহ বলেছেন এবং আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন
(৩)।
২ – আর এই বহির্গমন ছিল শাম দেশে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বিতীয় সফর। লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর, আর হাফেজ ইবনে হাজার একে জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন
(৪)।
৩ – ঘটনার সারসংক্ষেপ হলো, খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ একজন ব্যবসায়ী নারী ছিলেন এবং তিনি মুদারাবা বা কিরাদ পদ্ধতিতে মানুষের মাধ্যমে নিজের পুঁজিতে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। যখন তিনি আল্লাহর রাসূলের সত্যবাদিতা ও উন্নত চরিত্রের কথা শুনলেন, তখন তিনি তাঁর নিকট প্রস্তাব পাঠালেন এবং তাঁর ব্যবসার জন্য শাম দেশে যাওয়ার অনুরোধ করলেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং খাদিজার মায়সারা নামক এক গোলামের সাথে বের হলেন
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
4 ــ وقد حالف التوفيق هذه الرحلة فربحت تجارتُها، ورأى ميسرةُ من أمانة النبي صلى الله عليه وسلم واستقامته ما أثار إعجابه فأخبر سيدته بذلك فرغبت في الزواج منه، ورأت فيه ضالتها المنشودة
(1).
5 ــ وقد اختلفت الروايات في سنّ خديجة عندما تزوجت به صلى الله عليه وسلم، فالمشهور أنها كانت في سنّ الأربعين، وهو قول الواقدي
(2).
وقال ابن إسحاق: كانت في الثامنة والعشرين
(3).
وليس عندنا رواية مسندة تفصل في المسألة، فالله أعلم.
6 ــ وكانت خديجة هي أول امرأة تزوجها النبي صلى الله عليه وسلم، وولدت له كل ولده، إلا إبراهيم فإنه من مارية القبطية كما تقدم.
7 ــ وفي الحادثة دليل على اعتماد النبي صلى الله عليه وسلم على نفسه في الكسب والعيشة قبل بعثته، فقد عمل أجيراً لدى خديجة، وعمل قبلها راعياً للغنم لبعض أهل مكة، وهكذا استطاع صلى الله عليه وسلم في صغره وفي شبابه أن يستغني عمَّا في أيدي الناس، أو انتظار إحسانهم وشفقتهم.
صيانة الله لنبيّهِ صلى الله عليه وسلم في صِغَره وشَبَابه:قال المصنف: «وكان اللهُ سُبحانَه قد صَانَه وحَمَاه من صِغَره، وطهَّره من دَنَس الجاهِلية، ومن كلّ عَيب، ومَنَحَه كلّ خُلقٍ جَمِيل، حتى لم يَكن يُعرفُ بين قومِه إلا بالأَمين، لما شاهدوا مِنْ طهارتِه وصِدقِ حديثِه وأمانتِه. حتى إِنه لما بنت قريشٌ
--------------------------------------------
4 ــ এই সফরটি সফল হয়েছিল এবং এর ব্যবসায় মুনাফা অর্জিত হয়েছিল। মাইসারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমানতদারী ও সততার এমন কিছু দিক প্রত্যক্ষ করেছিলেন যা তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি তাঁর মালিককে (খাদিজা) সে বিষয়ে অবহিত করলে তিনি তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আগ্রহী হন এবং তাঁর মধ্যে নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য খুঁজে পান
(১).
5 ــ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিবাহের সময় খাদিজার বয়স কত ছিল সে বিষয়ে বর্ণনাগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে। প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর, আর এটি ওয়াকিদীর উক্তি
(২).
ইবনে ইসহাক বলেন: তাঁর বয়স ছিল আটাশ বছর
(৩).
এই বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা করার মতো কোনো মুসনাদ (সূত্রযুক্ত) বর্ণনা আমাদের কাছে নেই, সুতরাং আল্লাহই ভালো জানেন।
6 ــ খাদিজাই ছিলেন প্রথম নারী যাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিবাহ করেছিলেন। তাঁর সকল সন্তানই খাদিজার গর্ভে জন্মলাভ করেছিল, কেবল ইবরাহিম ব্যতীত; কেননা সে ছিল মারিয়া কিবতিয়ার সন্তান, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
7 ــ এই ঘটনার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত পূর্ব জীবনে জীবিকা ও জীবন ধারণের ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। তিনি খাদিজার অধীনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছেন এবং এর আগে মক্কার কিছু অধিবাসীর ছাগল চরানোর কাজ করেছেন। এভাবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর শৈশব ও যৌবনে মানুষের হাতের সম্পদের মুখাপেক্ষী হওয়া অথবা তাদের অনুগ্রহ ও দয়ার প্রতীক্ষায় থাকা থেকে বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়েছিলেন।
শৈশব ও যৌবনে আল্লাহ কর্তৃক তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুরক্ষা:লেখক বলেন: «আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে তাঁর শৈশব থেকেই রক্ষা ও হেফাযত করেছিলেন এবং জাহেলিয়াতের পঙ্কিলতা ও সকল প্রকার দোষ থেকে তাঁকে পবিত্র রেখেছিলেন। তাঁকে সকল প্রকার সুন্দর চরিত্র দান করেছিলেন, এমনকি তাঁর কওমের মধ্যে তিনি 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) হিসেবেই পরিচিত ছিলেন; কারণ তারা তাঁর পবিত্রতা, সত্যবাদিতা ও আমানতদারী প্রত্যক্ষ করেছিল। এমনকি যখন কুরাইশরা নির্মাণ করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الكعبةَ في سنةِ خمسٍ وثلاثين من عمرِه فوصلوا إلى موضِعِ الحَجَر الأسودِ اشتجروا فيمن يَضَع الحَجَر موضعه، فقالت كلُّ قبيلة: نحن نَضَعه، ثم اتَّفقُوا على أن يَضَعَه أولُّ داخلٍ عليهم، فكان رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم، فقالوا: جاء الأَمينُ، فَرضُوا به، فأَمَر بثوبٍ، فوَضَع الحَجَر في وسَطَه، وأَمرَ كلّ قبيلةٍ أن تَرفَع بجانبٍ مِنْ جَوانب الثوبِ، ثم أخذ الحَجَر فوَضَعَه موضِعَه صلى الله عليه وسلم».
الكلام عليه من وجوه:
1 ــ صيانة الله عز وجل لنبيّه وحفظه له منذ صغره مما تواترت به النصوص، فلم يُعرف عنه شيء صلى الله عليه وسلم من انحرافات أهل، سواء في العقيدة أو السلوك. ولم يُعرف عنه صلى الله عليه وسلم أنه مسَّ صنماً أو شرب خمراً، وكان يأبى مشاركة قريش في أعيادهم وشعائرهم الوثنية
(1).
2 ــ ومن شواهد حفظ الله له في أيام شبابه أنه صلى الله عليه وسلم: أراد مرّة حين كان شاباً أن يسمُر كما يسمُر فتيان مكة، فقال لغلام كان يرعى الغنم معه: لو أبصرتَ لي غنمي حتى أدخل مكة وأسمُر بها كما يسمُر الفتيان! فخرج حتى إذا كان عند أول دار سمع عزفاً، فقال: ما هذا؟ فقالوا: تزوج فلان بفلانة، فجلس يستمع، فضرب الله على أذنيه، فنام، فما أيقظه إلا حرّ الشمس، ثم إنه حاول مرة أخرى فأصابه مثل ما أصابه في المرة الأولى، فما عاد إلى ذلك بعدها
(2).
--------------------------------------------
তাঁর জীবনের পঁয়ত্রিশতম বছরে যখন তারা কাবা পুনর্নির্মাণ করল এবং হাজরে আসওয়াদের (কালো পাথর) স্থানে পৌঁছাল, তখন কে পাথরটি তার স্থানে স্থাপন করবে তা নিয়ে তারা বিবাদে লিপ্ত হলো। প্রতিটি গোত্রই বলতে লাগল: "আমরাই এটি স্থাপন করব।" অতঃপর তারা এই মর্মে একমত হলো যে, তাদের নিকট প্রথম যে ব্যক্তি প্রবেশ করবে, সেই এটি স্থাপন করবে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তারা দেখে বলল: "আল-আমিন (বিশ্বস্ত ব্যক্তি) এসেছেন।" তারা তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হলো। তিনি একটি কাপড়ের নির্দেশ দিলেন এবং পাথরটি তার মাঝখানে রাখলেন। অতঃপর তিনি প্রতিটি গোত্রকে কাপড়ের এক এক প্রান্ত ধরে উপরে তোলার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি নিজ হাতে পাথরটি গ্রহণ করে তার যথাস্থানে স্থাপন করলেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
এর ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:
১ – মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর নবীকে শৈশব থেকেই রক্ষা ও হিফাযত করা, যা মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন) বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সমকালীন লোকদের আকীদা বা আচরণের কোনো বিচ্যুতি কখনো জানা যায়নি। এটিও জানা যায় না যে, তিনি কখনো কোনো মূর্তিকে স্পর্শ করেছেন কিংবা মদ্যপান করেছেন। তিনি কুরাইশদের পৌত্তলিক উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতেন
(১)।
২ – তাঁর যৌবনকালে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে হিফাযত করার অন্যতম প্রমাণ হলো, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবক থাকাকালে একবার মক্কার অন্যান্য যুবকদের মতো রাতে গল্পগুজব করে সময় কাটানোর ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তিনি তাঁর সাথে বকরি চড়ানো এক বালককে বলেছিলেন: "তুমি যদি আমার বকরিগুলো একটু দেখে রাখতে, তবে আমি মক্কায় প্রবেশ করতাম এবং অন্যান্য যুবকদের মতো সেখানে রাত কাটাতাম!" তিনি বের হলেন, অবশেষে যখন মক্কার প্রথম বাড়িটির নিকট পৌঁছালেন, তখন তিনি বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "এটি কী?" তারা বলল: "অমুক ব্যক্তির সাথে অমুক নারীর বিয়ে হচ্ছে।" তিনি তা শোনার জন্য বসলেন, অমনি আল্লাহ তাঁর কানে ঘুমের পর্দা ফেলে দিলেন এবং তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। সূর্যের তাপ ছাড়া আর কিছুই তাঁর ঘুম ভাঙাতে পারেনি। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার একই চেষ্টা করলেন এবং প্রথমবার যা ঘটেছিল তাঁর সাথে পুনরায় তাই ঘটল। এরপর তিনি আর কখনোই এমন কাজের দিকে ফিরে যাননি
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
3 ــ ومن الشواهد ما رواه زيد بن حارثة، قال: كان صنم من نحاس يقال له: إِساف أو نائلة، يتمسح به المشركون إذا طافوا، فطاف رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فطفت معه، فلما مررت مسحت به، فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: لا تمسَّه! فقال زيد: فطفت فقلت في نفسي لأمسَّنَّه حتى أنظر ما يكون، فمسحته، فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: ألم تُنه؟!
(1).
4 ــ وفي الصحيحين من حديث جابر بن عبد الله يحدث: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ينقل معهم الحجارة للكعبة وعليه إزاره»، فقال له العبَّاس عمّه: يا ابن أخي، لو حللتَ إزارك فجعلت على منكبيك دون الحجارة، قال: «فحلَّه فجعله على منكبيه، فسقط مغشياً عليه، فما رُئي بعد ذلك عرياناً صلى الله عليه وسلم»
(2).
وعلق الحافظ ابن حجر على هذا الحديث قائلاً: "وفي الحديث أنه صلى الله عليه وسلم كان مصوناً عما يستقبح قبل البعثة وبعدها"
(3).
5 ــ ويكفي في الدلالة على حال النبي صلى الله عليه وسلم قبل بعثته شهادة زوجه خديجة له وهي أعلم الناس به حين قالت له: "إنك لتصل الرحم، وتحمل الكَلّ، وتُكسب المعدوم، وتقري الضيف، وتعين على نوائب الحق"
(4).
6 ــ وأما حادثة اختصام قريش حول من يضع الحجر الأسود في مكانه عندما جددت بناء الكعبة، وما أشار به النبي صلى الله عليه وسلم من الرأي السديد، فهذه حادثة مشهورة
--------------------------------------------
৩ ــ এর অন্যতম একটি প্রমাণ হলো যা যায়েদ ইবনে হারিসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসাফ বা নায়েলা নামক তামার একটি মূর্তি ছিল, মুশরিকরা যখন তাওয়াফ করত তখন সেটি স্পর্শ করত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফ করলেন এবং আমিও তাঁর সাথে তাওয়াফ করলাম। যখন আমি সেটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন সেটি স্পর্শ করলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "একে স্পর্শ করো না!" যায়েদ বলেন: এরপর আমি তাওয়াফ করলাম এবং মনে মনে ভাবলাম যে আমি একে অবশ্যই স্পর্শ করব যেন দেখতে পারি কী ঘটে। ফলে আমি সেটি স্পর্শ করলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমাকে কি নিষেধ করা হয়নি?!"
(১).
৪ ــ এবং সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার জন্য তাদের সাথে পাথর বহন করছিলেন এবং তাঁর পরনে লুঙ্গি ছিল», তখন তাঁর চাচা আব্বাস তাঁকে বললেন: হে ভাতিজা, তুমি যদি তোমার লুঙ্গি খুলে তোমার কাঁধের ওপর পাথরের নিচে রাখতে। তিনি বলেন: «অতঃপর তিনি তা খুললেন এবং কাঁধের ওপর রাখলেন, অমনি তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলেন। এরপর তাঁকে আর কখনো বিবস্ত্র অবস্থায় দেখা যায়নি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম»
(২).
হাফিজ ইবনে হাজার এই হাদীসের ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "এই হাদীসে এটিই প্রমাণিত হয় যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াতের পূর্বে ও পরে সকল প্রকার কুরুচিপূর্ণ কাজ থেকে সংরক্ষিত ছিলেন"
(৩).
৫ ــ নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থার প্রমাণ হিসেবে তাঁর স্ত্রী খাদিজার সাক্ষ্যই যথেষ্ট, যিনি মানুষের মাঝে তাঁকে সবচেয়ে বেশি জানতেন। যখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, মেহমানদের আপ্যায়ন করেন এবং সত্য পথে আসা বিপদ-আপদে সাহায্য করেন"
(৪).
৬ ــ আর কাবার পুনর্নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদকে তার স্থানে স্থাপন করা নিয়ে কুরাইশদের বিবাদের ঘটনা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিজ্ঞ মতামত দিয়েছিলেন, তা একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মামুল বিশারহি মুখতাসারিল ফুসুল ফী সিরাতির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
مخرجة في مسند أحمد وغيره من كتب السنة بإسناد صحيح
(1).
7 ــ وفي الحادثة دليل على ما كان يتمتع به صلى الله عليه وسلم من مكانة أدبية في أوساط قريش قبل البعثة، فإن قريشاً قالت لما دخل عليهم النبي صلى الله عليه وسلم من باب المسجد: "جاء الأمين"، ورضوا بحكمه كما ورد في الرواية المذكورة.
--------------------------------------------
এটি মুসনাদে আহমাদ ও সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবে সহিহ সনদে সংকলিত হয়েছে
(১).
৭ ــ আর এই ঘটনায় নবুওয়াত লাভের পূর্বে কুরাইশদের মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন তার প্রমাণ রয়েছে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদের প্রবেশদ্বার দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করলেন, তখন কুরাইশরা বলেছিল: "আল-আমিন (বিশ্বস্ত ব্যক্তি) এসেছেন", এবং তারা তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয়েছিল যেমনটি উল্লিখিত বর্ণনায় এসেছে।
--------------------------------------------