(খণ্ড: ১) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: -)
ذيل طبقات الحنابلة - لابن رجب - ت الفقي   (ابن رجب الحنبلي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الذيل على طبقات الحنابلة

المؤلف: ابن رجب زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن شهاب الدين أحمد البغدادي ثم الدمشقي الحنبلي (736 - 795 هـ)

وقف على طبعه وصححه: محمد حامد الفقي [ت 1378 هـ]

الناشر: مطبعة السنة المحمدية - القاهرة

(وصورتها دار المعرفة، بيروت)

عام النشر: 1732 هـ - 1952 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1444

যাইল তবাকাতুল হানাবিলাহ - ইবনে রজব - আল-ফিকি কর্তৃক সম্পাদিত   (ইবনে রজব আল-হাম্বলি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আয-যাইল আলা তবাকাতিল হানাবিলাহ

লেখক: ইবনে রজব যাইনুদ্দিন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন শিহাবুদ্দিন আহমদ আল-বাগদাদি অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি (৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরি)

মুদ্রণ তত্ত্বাবধান ও সংশোধন: মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি [মৃত্যু ১৩৭৮ হিজরি]

প্রকাশক: মাতবাআতুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ - কায়রো

(এবং এর প্রতিলিপি করেছে দারুল মা'রিফা, বৈরুত)

প্রকাশের বছর: ১৭৩২ হিজরি - ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم. وصلّى الله على سيدنا محمد خاتم النبيين وعلى أزواجه الطيبات الطاهرات، أمهات المؤمنين، وعلى آله وأصحابه أجمعين.

قال الشيخ الإمام، العالم المقرئ، العامل الزاهد، الحافظ المحدث، زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن الشيخ الزاهد، الإمام العالم المقرئ، شهاب الدين، أبى العباس أحمد بن حسن بن رجب - رحمهم الله تعالى برحمته -:

هذا كتاب جمعته، وجعلته ذيلا على كتاب «طبقات فقهاء أصحاب الإمام أحمد» للقاضى أبى الحسين محمد بن القاضى أبى يعلى. رحمهم الله تعالى.

وابتدأت فيه بأصحاب القاضى أبى يعلى. وجعلت ترتيبه على الوفيات.

والله المسئول أن ينفع به فى الدنيا والآخرة بمنه وكرمه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু। আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি নবীদের সিলমোহর, এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পত্নীগণের ওপর, যারা মুমিনদের জননী, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

শাইখ ইমাম, আলিম, ক্বারী, আমলকারী ও যাহিদ, হাফেজ ও মুহাদ্দিস, যয়নুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে শাইখুয যাহিদ, ইমাম আলিম ক্বারী, শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে হাসান ইবনে রজব—আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমতের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি দয়া করুন—বলেন:

এটি এমন একটি কিতাব যা আমি সংকলন করেছি এবং এটিকে কাযী আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে কাযী আবু ইয়ালা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) রচিত «তাবাকাতু ফুকাহায়ি আসহাবি ইমাম আহমাদ» কিতাবটির পরিশিষ্ট (যাইল) হিসেবে নির্ধারণ করেছি।

আমি এতে কাযী আবু ইয়ালার সঙ্গীদের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছি এবং এর বিন্যাস মৃত্যুসালের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি।

আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা, তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় দুনিয়া ও আখিরাতে এর দ্বারা উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌وفيات المائة الخامسة من سنة 460 هـ - إلى سنة 500 هـ

‌‌1 - على بن أبي طالب

بن زبيبا البغدادى، أبو الغنائم.

من قدماء أصحاب القاضى أبى يعلى، تفقه عليه.

قال القاضى أبو الحسين: كان يدرس فى الحريم بالمسجد المقابل لباب بدر، وله أيضا حلقة بجامع المهدى. وقرأ عليه أبو تراب بن البقال، وأبو الحسين ابن الفاعوس وغيرهما. ونسخ بخطه كثيرا من تصانيف القاضى، كالخلاف الكبير، نسخه مرتين، والعدة، وأحكام القرآن، والجامع الصغير. وغير ذلك.

وهو أول من توفى من أصحاب القاضى أبى يعلى بعده بنحو سنة. ودفن قريبا منه. رحمه الله.

ذكره ابن النجاد قال: كان من أعيان أصحاب القاضى أبى يعلى، وله حلقة بجامع المهدى للمناظرة. روى عن أبى الحسين بن بشران، ونصر بن محمد بن على الآمدى. روى عنه القاضى عزيزى بن عبد الملك الجيلى. ثم أرّخ وفاته يوم الخميس ثانى عشرين شهر ربيع الآخر سنة ستين وأربعمائة. وصلّى عليه من الغد بجامع القصر. وكان له جمع كثير.

و «زببيا» قيّده ابن نقطة: بكسر الزاى، وكسر الباء المعجمة بواحدة بعدها باء أخرى مثلها ساكنة، وياء مفتوحة معجمة من تحتها باثنتين.

وقال ابن عقيل: كان من أصحاب القاضى أبى يعلى أرباب الحلق: ابن البازكردى، وابن زبيبا، فقيهان مفتيان، ولهما حلقتان بجامع الرصافة، يقصّان الفقه شرحا للمذهب على وجه ينتفع به العوام.

 

‌‌2 - علىّ بن الحسن القرميسينى أبو منصور.

ذكره أبو الحسين، وقال:

أحد من علق عن الوالد من الخلاف والمذهب. وسمع منه الحديث، وزوّج ابنته لأبى على بن البناء، وأولدها أبا نصر.
পঞ্চম শতাব্দীর মৃত্যুসমূহ ৪৬০ হিজরি থেকে ৫০০ হিজরি পর্যন্ত।

১ - আলী ইবনে আবি তালিব

ইবনে জবিবা আল-বাগদাদি, আবু আল-গানায়িম।

তিনি কাজী আবু ইয়ালা-এর প্রাচীনতম শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন।

কাজী আবু আল-হুসাইন বলেন: তিনি হারিম-এর বাবে বদরের বিপরীত দিকে অবস্থিত মসজিদে পাঠদান করতেন এবং জামে আল-মাহদিতেও তাঁর একটি পাঠচক্র ছিল। আবু তুরাব ইবনুল বাক্কাল, আবু আল-হুসাইন ইবনুল ফাউস এবং আরও অনেকে তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি নিজ হাতে কাজীর অনেকগুলো গ্রন্থ অনুলিপি করেছেন, যেমন 'আল-খিলাফুল কাবির' (এটি তিনি দুইবার অনুলিপি করেছেন), 'আল-উদ্দাহ', 'আহকামুল কুরআন' এবং 'আল-জামি আস-সগির' ইত্যাদি।

তিনি কাজী আবু ইয়ালার শিষ্যদের মধ্যে তাঁর ইন্তেকালের প্রায় এক বছর পর সর্বপ্রথম মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর নিকটেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

ইবনুন নাজ্জাদ তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেন: তিনি কাজী আবু ইয়ালার বিশিষ্ট শিষ্যদের একজন ছিলেন এবং জামে আল-মাহদিতে বিতর্কের (মুনাজারা) জন্য তাঁর একটি পাঠচক্র ছিল। তিনি আবু আল-হুসাইন ইবনে বিশরান এবং নাসর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-আমদি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে কাজী আজিজি ইবনে আব্দুল মালিক আল-জিলি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর মৃত্যুর তারিখ ৪৬০ হিজরি সালের ২২শে রবিউস সানি, বৃহস্পতিবার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরের দিন জামে আল-কাসরে তাঁর জানাজা পড়ানো হয় এবং সেখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছিল।

'জবিবা' (Zabiba) শব্দটির বানান ইবনে নুকতাহ এভাবে নির্দিষ্ট করেছেন: 'যা' (Zay) অক্ষরে কাসরা (জের), এরপর এক নুকতা বিশিষ্ট 'বা' অক্ষরে কাসরা, এরপর একই ধরনের আরেকটি 'বা' সাকিন যুক্ত, এবং সবশেষে নিচে দুই নুকতা বিশিষ্ট ফাতহা (জবর) যুক্ত 'ইয়া'।

ইবনে আকিল বলেন: কাজী আবু ইয়ালার শিষ্যদের মধ্যে যারা পাঠচক্রের পরিচালক ছিলেন, তারা হলেন ইবনুল বাজকারদি এবং ইবনে জবিবা। তাঁরা দুজনেই ফকিহ ও মুফতি ছিলেন। জামে আল-রুসাফায় তাঁদের দুটি পাঠচক্র ছিল, যেখানে তাঁরা মাযহাবের ব্যাখ্যাসহ ফিকহ বর্ণনা করতেন যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারে।

 

২ - আলী ইবনুল হাসান আল-কারমিসিনি আবু মানসুর।

আবু আল-হুসাইন তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন:

তিনি তাদের একজন যারা আমার পিতার নিকট থেকে ইখতিলাফ (মতপার্থক্য) এবং মাযহাবের মাসআলাসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি তাঁর নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং নিজের কন্যাকে আবু আলী ইবনুল বান্নার নিকট বিবাহ দেন, যার গর্ভে আবু নাসর জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٨)
وتوفى فى رجب سنة ستين وأربعمائة عن ست وثمانين سنة، ودفن بباب حرب.

 

‌‌3 - عبد الله بن عبد الله

بن عبيد الله بن توبة العكبرى، الخياط الأديب الكاتب، أبو محمد.

روى عن الأحنف العكبرى من شعره. روى عنه الخطيب.

وتوفى يوم الثلاثاء سابع عشر محرم سنة إحدى وستين وأربعمائة.

ذكره ابن البناء فى تاريخه، وقال: هو صاحب الخط والأدب.

 

‌‌4 - عبد الله البردانى،

أبو محمد الزّاهد.

كان منقطعا فى بيت بجامع المنصور، يتعبد خمسين سنة.

قال ابن البناء: كان من خيار المسلمين، لا يقبل من أحد شيئا، مع الزهادة والعبادة. روى عنه أبو بكر المزرفىّ الفرضى أنه قال: رأيت النبى صلى الله عليه وسلم فى المنام، فقال لى: يا عبد الله، من تمسّك بمذهب أحمد فى الأصول سامحته فيما اجترح - أو فيما فرّط - فى الفروع.

وذكر ابن البناء، عمن يثق به: أنه رأى فى منامه، فى حياة البردانى - هذا - ملكين قد نزلا من السماء، فقال أحدهما لصاحبه: فيم جئت؟ قال:

جئت أخسف بأهل بغداد، فإنّه قد عمّ فيها الفساد! فقال له الملك الآخر: كيف تفعل هذا، وفيها عبد الله البردانى؟

قال ابن البناء: توفى عبد الله البردانى الزاهد الحنبلى يوم السبت سادس ربيع الأول، سنة إحدى وستين وأربعمائة. وصلّى عليه بجامع المنصور. وكان خلقا عظيما. ودفن فى مقبرة الإمام أحمد، وتولّى غسله والصلاة عليه الشريف أبو جعفر. رحمه الله تعالى.

 

‌‌5 - علي بن محمد بن عبد الرحمن البغدادى،

أبو الحسن المعروف بالآمدى
তিনি ৪৬০ হিজরীর রজব মাসে ছিয়াশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে বাব হারব-এ দাফন করা হয়।

 

‌‌৩ - আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ

বিন উবায়দুল্লাহ বিন তাওবাহ আল-উকবরী, দর্জি, সাহিত্যিক ও লেখক, আবু মুহাম্মদ।

তিনি আহনাফ আল-উকবরীর কবিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আল-খতিব বর্ণনা করেছেন।

তিনি ৪৬১ হিজরীর ১৭ই মহররম মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনুল বান্না তাঁর ইতিহাসে তাঁকে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ক্যালিগ্রাফি ও সাহিত্যের অধিকারী ছিলেন।

 

‌‌৪ - আবদুল্লাহ আল-বারদানি,

আবু মুহাম্মদ আল-জাহিদ।

তিনি জামে মানসুরের একটি ঘরে নিভৃতবাসী ছিলেন এবং সেখানে পঞ্চাশ বছর ধরে ইবাদত করেন।

ইবনুল বান্না বলেন: তিনি সর্বোত্তম মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, কারো কাছ থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না, আর তাঁর মধ্যে দুনিয়াবিমুখতা ও ইবাদতগুজারি ছিল। আবু বকর আল-মুযরাফি আল-ফারদি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি আমাকে বললেন: হে আবদুল্লাহ, যে ব্যক্তি উসূল বা মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আহমদের মাযহাব আঁকড়ে ধরে থাকবে, আমি ফুরু বা শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে তার কৃত অপরাধ—অথবা তিনি বলেছেন অবহেলা—ক্ষমা করে দেব।

ইবনুল বান্না এমন একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির বরাতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই বারদানির জীবদ্দশায় স্বপ্নে দেখেছেন যে আকাশ থেকে দুজন ফেরেশতা অবতরন করেছেন। তাঁদের একজন তাঁর সাথীকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কেন এসেছো? তিনি বললেন: আমি বাগদাদবাসীকে মাটির নিচে ধসিয়ে দিতে এসেছি, কারণ সেখানে ফাসাদ বা পাপাচার ব্যাপক হয়ে গেছে! তখন অন্য ফেরেশতা তাঁকে বললেন: তুমি কীভাবে এটি করবে যখন সেখানে আবদুল্লাহ আল-বারদানি রয়েছেন?

ইবনুল বান্না বলেন: দুনিয়াবিমুখ হাম্বলি আবদুল্লাহ আল-বারদানি ৪৬১ হিজরীর ৬ই রবিউল আউয়াল শনিবার মৃত্যুবরণ করেন। জামে মানসুরে তাঁর জানাযার নামায পড়ানো হয় এবং সেখানে এক বিশাল জনসমাগম হয়েছিল। তাঁকে ইমাম আহমদের কবরস্থানে দাফন করা হয় এবং তাঁর গোসল ও জানাযার নামাযের দায়িত্ব পালন করেন আশ-শরিফ আবু জাফর। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন।

 

‌‌৫ - আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-বাগদাদি,

আবু হাসান, যিনি আল-আমিদি নামে পরিচিত।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٩)
ويعرف قديما بالبغدادى. نزل ثغر آمد. وهو أحد أكابر أصحاب القاضى أبى يعلى.

قال ابن عقيل فيه: بلغ من النظر الغاية، وكانت له مروءة. يحضر عنده الشيخ أبو إسحاق الشيرازى، وأبو الحسن الدّامغانى - وكانا فقيهين - فيضيفهما بالأطعمة الحسنة، وكان يتكلم معهما إلى أن يمضى من الليل أكثره.

وذكر أنه كان هو المتقدم على جميع أصحاب القاضى أبى يعلى.

قال ابن عقيل: وسمعت المتولى لما قدم: يذكر أنه لم يشهد فى سفره أحسن نظرا من الشيخ أبى الحسن البغدادى بآمد.

قال القاضى أبو الحسين، وتبعه ابن السّمعانى: أحد الفقهاء الفضلاء، والمناظرين الأذكياء. وسمع الحديث من أبى القاسم بن بشران، وأبى إسحاق البرمكى، وأبى الحسن بن الحرانى، وابن المذهب وغيرهم. وسمع من القاضى أبى يعلى، ودرس عليه الفقه، وأجلس فى حلقة النظر والفتوى بجامع المنصور فى موضع ابن حامد. ولم يزل يدرّس ويفتى ويناظر إلى أن خرج من بغداد، ولم يحدّث ببغداد بشئ، لأنه خرج منها فى فتنة البساسيرى، فى سنة خمسين وأربعمائة إلى آمد، وسكنها واستوطن بها، ودرس بها الفقه إلى أن مات فى سنة سبع - أو ثمان - وستين وأربعمائة. وقبره هناك مقصود بالزيارة. وكان يدرس فى مقصورة بجامع آمد.

وله هناك أصحاب يتفقهون عليه. وبرع منهم طائفة.

وله كتاب: «عمدة الحاضر وكفاية المسافر» فى الفقه، فى نحو أربع مجلدات، وهو كتاب جليل يشتمل على فوائد كثيرة نفيسة. ويقول فيه: ذكر شيخنا ابن أبى موسى فى الإرشاد، فالظاهر: أنه تفقه عليه أيضا. وسمع منه بآمد: أبو الحسن ابن الغازى السّنّة للخلاّل عن أبى إسحاق البرمكى، وعبد العزيز الأزجى.

 

‌‌6 - محمد بن عمر بن الوليد الباجسرائى،

الفقيه، أبو عبد الله
তিনি প্রাচীনকাল থেকে বাগদাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি আমাদ সীমান্তে অবস্থান করতেন। তিনি কাজি আবু ইয়ালা-এর প্রধান সঙ্গীদের অন্যতম ছিলেন।

ইবনুল আকীল তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি তাত্ত্বিক গবেষণায় চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত উন্নত চরিত্রের ও মর্যাদাবান ছিলেন। শায়খ আবু ইসহাক আল-শিরাজী এবং আবুল হাসান আদ-দামেগানী — তাঁরা দুজনেই ফকিহ ছিলেন — তাঁর কাছে উপস্থিত হতেন; তিনি তাঁদেরকে উত্তম আহারের মাধ্যমে আপ্যায়ন করতেন এবং রাতের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সাথে ইলমি আলোচনা করতেন।

উল্লিখিত আছে যে, তিনি কাজি আবু ইয়ালা-এর সমস্ত সঙ্গীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন।

ইবনুল আকীল বলেছেন: আমি আল-মুতাওয়াল্লীকে তাঁর আগমনের সময় বলতে শুনেছি যে, তিনি তাঁর সফরে আমাদে শায়খ আবুল হাসান বাগদাদীর চেয়ে উত্তম গবেষক আর কাউকে দেখেননি।

কাজি আবু আল-হুসাইন বলেছেন এবং ইবনুস সামআনী তাঁর অনুসরণ করেছেন: তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ এবং অত্যন্ত মেধাবী তার্কিক। তিনি আবু কাসেম বিন বিশরান, আবু ইসহাক আল-বারমাকী, আবুল হাসান বিন আল-হাররানী, ইবনুল মাযহাব এবং অন্যদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি কাজি আবু ইয়ালা থেকে হাদিস শুনেছেন এবং তাঁর কাছে ফিকহ পাঠ করেছেন। তাকে মানসুর জামে মসজিদে ইবনে হামিদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তাত্ত্বিক গবেষণা ও ফতোয়া প্রদানের মজলিসে বসানো হয়েছিল। বাগদাদ ত্যাগ করা পর্যন্ত তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে পাঠদান, ফতোয়া প্রদান এবং বিতর্ক করে আসছিলেন। তবে তিনি বাগদাদে কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি, কারণ তিনি ৪৫০ হিজরি সনে বাসাসিরীর ফিতনার সময় বাগদাদ থেকে আমাদে চলে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন ও স্থায়ী ঠিকানা গ্রহণ করেন এবং ৪৬৭ বা ৪৬৮ হিজরি সনে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সেখানে ফিকহ পাঠ দান করেন। সেখানে তাঁর কবর যিয়ারতের লক্ষ্যস্থল হিসেবে পরিচিত। তিনি আমাদ জামে মসজিদের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে পাঠ দান করতেন।

সেখানে তাঁর অনেক ছাত্র ছিল যারা তাঁর কাছে ফিকহ শিক্ষা করতেন। তাঁদের মধ্য থেকে একটি দল বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন।

ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর ‘উমদাতুল হাদির ওয়া কিফায়াতুল মুসাফির’ নামক প্রায় চার খণ্ডের একটি গ্রন্থ রয়েছে। এটি একটি অনন্য গ্রন্থ যা অনেক মূল্যবান তাত্ত্বিক তথ্যে পরিপূর্ণ। তিনি সেখানে বলেছেন: আমাদের শায়খ ইবনু আবি মুসা আল-ইরশাদে উল্লেখ করেছেন; সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, তিনি তাঁর কাছেও ফিকহ অধ্যয়ন করেছিলেন। আমাদে তাঁর কাছ থেকে আবুল হাসান ইবনুল গাজী আবু ইসহাক আল-বারমাকী ও আব্দুল আজিজ আল-আযজীর সূত্রে আল-খাল্লালের ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থটি শ্রবণ করেছেন।

 

‌‌৬ - মুহাম্মদ বিন উমর বিন আল-ওয়ালিদ আল-বাজাসরাই,

ফকিহ, আবু আব্দুল্লাহ
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ١٠)
قال أبو الحسين: كانت له حلقة بجامع المنصور، تردد إلى مجلس الوالد السعيد الزمان الطويل، وسمع منه الحديث والدرس.

ومات سنة سبع وستين وأربعمائة، وكان قد بلغ من السنّ خمسا وتسعين سنة. رحمه الله تعالى.

 

‌‌7 - محمد بن علي بن محمد

بن موسى بن جعفر، أبو بكر الخيّاط، المقرئ البغدادى.

ولد سنة ست وسبعين وثلاثمائة، وقرأ على أبى أحمد الفرضى، وأبى الحسين السّوسنجردى، وبكر بن شاذان، وأبى الحسن الحمامي، وغيرهم. وسمع الحديث من ابن الصّلت المجبّر، وأبى عمر بن مهدى، وخلق من طبقتهما. ورأى أبا عبد الله بن حامد. وكان يتردّد إلى القاضى أبى يعلى، ويسمع درسه، ويحضر أماليه، واشتغل بإقراء القرآن، ورواية الحديث فى بيته ومسجده وجامع المنصور.

وكان يحضره خلق كثير.

وقرأ عليه خلق، منهم: القاضى أبو الحسين بن القاضى أبى يعلى، وأبو عبد الله البارع، وأبو بكر المزرفى، وهبة الله بن الطبرى.

وحدّث عنه جماعة كثيرون، منهم: أبو بكر الخطيب فى تاريخه، وأبو منصور القزاز، ويحيى بن الطراح، وغيرهم. وانتهى إليه إسناد القراءة فى وقته.

قال ابن الجوزى: ما يوجد فى عصره فى القراءات مثله. وكان ثقة صالحا.

وقال المؤتمن الساجى: كان شيخا ثقة فى الحديث والقراءة، صالحا، صبورا على الفقر.

وقال أبو ياسر البردانى: كان من البكائين عند الذكر، أثرت الدموع فى خدّيه.

وقال ابن النجار: كان شيخ القراء فى وقته، تفرد بروايات، وكان عالما، ورعا متدينا.
আবুল হুসাইন বলেন: জামে মানসুরে তার একটি সার্কেল ছিল, তিনি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত (আমার) সৌভাগ্যবান পিতার মজলিসে যাতায়াত করতেন এবং তার নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ ও পাঠ গ্রহণ করেছেন।

তিনি ৪৬৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার বয়স পঁচানব্বই বছরে পৌঁছেছিল। আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রহম করুন।

 

‌‌৭ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ

বিন মুসা বিন জাফর, আবু বকর আল-খাইয়্যাত, বাগদাদী কারী।

তিনি ৩৭৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং আবু আহমদ আল-ফারদি, আবু হুসাইন আস-সুসানজারদি, বকর বিন শাযান, আবুল হাসান আল-হামামি ও অন্যদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি ইবনুল সলত আল-মুজাব্বির, আবু উমর বিন মাহদি এবং তাদের সমপর্যায়ের বহু লোকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি আবু আব্দুল্লাহ বিন হামিদকে দেখেছেন। তিনি কাযী আবু ইয়া'লার নিকট যাতায়াত করতেন, তার পাঠ শ্রবণ করতেন, তার আমালি মজলিসে উপস্থিত হতেন এবং তার নিজ গৃহে, মসজিদে ও জামে মানসুরে কুরআন পাঠদান ও হাদিস বর্ণনায় নিয়োজিত ছিলেন।

তার নিকট বহু লোক উপস্থিত হতো।

বহু লোক তার নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: কাযী আবু ইয়া'লার পুত্র কাযী আবু হুসাইন, আবু আব্দুল্লাহ আল-বারী', আবু বকর আল-মুযরাফি এবং হিবাতুল্লাহ বিন আত-তাবারী।

তার নিকট থেকে এক বিশাল জামাত হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু বকর আল-খতিব তার ইতিহাসে, আবু মনসুর আল-কাযযায, ইয়াহইয়া বিন আত-তাররাহ এবং অন্যান্যরা। তার সময়ে কিরাআতের ইসনাদ তার নিকট এসেই সমাপ্ত হয়েছিল।

ইবনুল জাওযী বলেন: তার যুগে কিরাআতের শাস্ত্রে তার মতো কাউকে পাওয়া যেত না। তিনি বিশ্বস্ত ও নেককার ছিলেন।

মুতামান আস-সাজি বলেন: তিনি হাদিস ও কিরাআতের ক্ষেত্রে একজন বিশ্বস্ত শাইখ, নেককার এবং দারিদ্র্যের ওপর ধৈর্যশীল ছিলেন।

আবু ইয়াসির আল-বারদানি বলেন: তিনি জিকিরের সময় অধিক ক্রন্দনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, চোখের পানি তার দুগালে চিহ্ন তৈরি করেছিল।

ইবনু নাজ্জার বলেন: তিনি তার সময়ের প্রধান কারী ছিলেন, তিনি কিছু বর্ণনায় একক ছিলেন এবং তিনি ছিলেন একজন আলেম, পরহেযগার ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ١١)
وذكره الذهبى فى طبقات القراء، فقال: كان كبير القدر، عديم النظير، بصيرا بالقراءات، صالحا عابدا، ورعا ناسكا، بكاء قانتا، خشن العيش، فقيرا متعففا، ثقة فقيها على مذهب أحمد. وآخر من روى عنه بالإجازة: أبو الكرم الشهرزورى.

قال ابن الجوزى: توفى ليلة الخميس ثالث جمادى الأولى سنة ثمان وستين وأربعمائة، ودفن فى مقبرة جامع المدينة - يعنى مدينة المنصور - وقال غيره:

صلّى عليه أبو محمد التميمى فى الجامع.

 

‌‌8 - على بن الحسين

بن أحمد بن إبراهيم بن جدا، أبو الحسن العكبرى.

ذكره ابن شافع فى تاريخه، فقال: هو الشيخ الصالح، الزاهد، الفقيه، الأمّار بالمعروف، والنّهاء عن المنكر.

سمع: أبا على بن شاذان، والبرقانى، وأبا القاسم الخرقى، وأبا القاسم بن بشران. وكان فاضلا، خيرا ثقة، مستورا صينا، شديدا فى السنة على مذهب أحمد. رضى الله عنه.

وقال القاضى أبو الحسين، وابن السمعانى: كان شيخا صالحا، دينا كثير الصلاة، حسن التلاوة للقرآن، ذا لسن وفصاحة، فى المجالس والمحافل، وله فى ذلك كلام منثور، وتصنيف مذكور مشهور.

وذكره أبو الحسين وابن الجوزى وقالا: سمع من أبى على بن شهاب، وأبى على بن شاذان، وكان فقيها صالحا فصيحا.

قال أبو الحسين: قرأ الفقه على الوالد السعيد، وله مصنف فى الأصول.

وتوفى فجأة فى الصلاة فى رمضان سنة ثمان وستين وأربعمائة، ودفن فى مقبرة أحمد.

وذكر ابن شافع وغيره: أنه توفى يوم الأحد سابع عشر رمضان المذكور.

وقال ابن شافع: جدا - بفتح الجيم - كذا سمعته من أشياخنا، ورأيته مضبوطا بخط أسلافنا.
আয-যাহাবী তাকে 'তাবাকাতুল কুররা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ছিলেন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, অতুলনীয়, কিরাত শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ, নেককার আবেদ, সাবধানী সাধক, ক্রন্দনশীল বিনয়ী, কঠোর জীবনযাপনকারী, অমায়িক অভাবী, নির্ভরযোগ্য এবং আহমাদ-এর মাযহাব অনুযায়ী ফকীহ। ইজাজতের মাধ্যমে তার থেকে বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হলেন আবু আল-কারাম আশ-শাহরাযুরী।

ইবনুল জাওযী বলেন: তিনি চারশত আটষট্টি হিজরী সনের তেসরা জুমাদাল উলা বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন এবং জামি আল-মদিনা—অর্থাৎ মদিনাতুল মানসুর—এর কবরস্থানে সমাহিত হন। অন্য বর্ণনাকারী বলেছেন:

জামে মসজিদে আবু মুহাম্মাদ আত-তামিমী তার জানাজা পড়িয়েছেন।

 

‌‌৮ - আলী ইবনুল হুসাইন

ইবনে আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে জাদা, আবু আল-হাসান আল-উকবারী।

ইবনে শাফি তার ইতিহাসে তাকে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি হলেন নেককার শায়খ, দুনিয়াবিমুখ, ফকীহ, সৎকাজের আদেশদাতা এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধকারী।

তিনি শ্রবণ করেছেন: আবু আলী বিন শাযান, আল-বারকানি, আবু আল-কাসিম আল-খিরাকি এবং আবু আল-কাসিম বিন বিশরান থেকে। তিনি ছিলেন ফযিলতপূর্ণ, কল্যাণময়, নির্ভরযোগ্য, সচ্চরিত্র ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী এবং ইমাম আহমাদের মাযহাব অনুযায়ী সুন্নাহর অনুসরণে অত্যন্ত কঠোর। আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

কাযী আবু আল-হুসাইন এবং ইবনে আস-সামআনী বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন নেককার শায়খ, ধার্মিক, অধিক সালাত আদায়কারী, কুরআনের চমৎকার তিলাওয়াতকারী, সভা ও মাহফিলসমূহে সুবাগ্মী ও প্রাঞ্জল ভাষী; এ বিষয়ে তার গদ্য এবং প্রসিদ্ধ সুপরিচিত রচনা রয়েছে।

আবু আল-হুসাইন এবং ইবনুল জাওযী তাকে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি আবু আলী বিন শিহাব এবং আবু আলী বিন শাযান থেকে শুনেছেন, এবং তিনি ছিলেন একজন ফকীহ, নেককার ও প্রাঞ্জলভাষী।

আবু আল-হুসাইন বলেন: তিনি আমার সৌভাগ্যবান পিতার নিকট ফিকহ পাঠ করেছেন এবং উসুল শাস্ত্রে তার একটি গ্রন্থ রয়েছে।

তিনি চারশত আটষট্টি হিজরী সনের রমজান মাসে সালাতরত অবস্থায় আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন এবং ইমাম আহমাদের কবরস্থানে সমাহিত হন।

ইবনে শাফি এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে: তিনি উক্ত রমজানের সতেরো তারিখ রবিবার মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে শাফি বলেন: জাদা —জিম বর্ণে যবর দিয়ে— আমি আমার উস্তাদদের নিকট থেকে এভাবেই শুনেছি এবং আমাদের পূর্বসূরিদের হস্তলিপিতেও তা এভাবেই সংকলিত দেখেছি।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ١٢)
وروى عنه القاضى أبو بكر، وأبو منصور القزاز، وسمع منه مكى الرّميلى الحافظ وجماعة.

وقال ابن خيرون: حدث بشئ يسير، كان مستورا صينا ثقة.

وروى عنه الخطيب فقال: حدثنى على بن الحسين بن جدا العكبرى قال:

رأيت هبة الله الطبرى فى المنام، فقلت: ما فعل الله بك؟ قال: غفر لى. قلت:

بماذا؟ قال: كلمة خفيفة: بالسنة.

قال الحافظ عبد القادر الرهاوى: أنبأنا أبو موسى المدينى الحافظ قال:

رأيت بخط ابن البناء - وقرأته على ابن ناصر بإجازته من ابن البناء - قال: حكى أبو الحسن على بن الحسين بن جدا العكبرى قال: سمعت أبا مسعود أحمد بن محمد البجلى الحافظ قال: دخل ابن فورك على السلطان محمود، فتناظرا.

قال ابن فورك لمحمود: لا يجوز أن تصف الله بالفوقية، لأنه يلزمك أن تصفه بالتحتية. لأنه من جاز أن يكون له فوق جاز أن يكون له تحت.

فقال محمود: ليس أنا وصفته بالفوقية، فتلزمنى أن أصفه بالتحتية، وإنما هو وصف نفسه بذلك. قال: فبهت.

أخبرنا محمد بن إسماعيل الصوفى - بالقاهرة - أخبرنا عبد العزيز بن عبد المنعم الحرانى أخبرنا أبو على بن الحريف أخبرنا القاضى أبو بكر بن عبد الباقى أخبرنا أبو الحسن بن جدا أخبرنا أبو القاسم هبة الله بن الحسن الطبرى الحافظ قال: ذكر أن فتى من أصحاب الحديث أنشد فى مجلس أبى زرعة الرازى هذه الأبيات، فاستحسنت منه:

دين النبى «محمد» أختار … نعم المطية للفتى الآثار

لا تغفلنّ عن الحديث وأهله … فالرأى ليل، والحديث نهار

ولربّما غلط الفتى إثر الهدى … والشمس بازغة لها أنوار

 

‌‌9 - عبيد الله بن محمد

بن الحسين الفراء، أبو القاسم بن القاضى أبى يعلى.
কাজি আবু বকর এবং আবু মনসুর আল-কায্যায তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ মক্কি আর-রামালি ও একদল লোক তাঁর থেকে হাদিস শুনেছেন।

ইবনে খাইরুন বলেছেন: তিনি সামান্য কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত শালীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি।

খতিব (আল-বাগদাদি) তাঁর থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: আলী বিন আল-হুসাইন বিন জুদা আল-উকবরি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

আমি হিবাতুল্লাহ আত-তাবারিকে স্বপ্নে দেখেছি। আমি বললাম: আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমি বললাম:

কিসের বিনিময়ে? তিনি বললেন: একটি সহজ কথার কারণে: সুন্নাহর কারণে।

হাফেজ আব্দুল কাদির আল-রুহাভি বলেছেন: হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

আমি ইবনুল বান্নার হস্তলিপিতে দেখেছি—এবং ইবনুল বান্নার পক্ষ থেকে ইবনে নাসিরের অনুমতিক্রমে আমি এটি তাঁর নিকট পাঠ করেছি—তিনি বলেন: আবুল হাসান আলী বিন আল-হুসাইন বিন জুদা আল-উকবরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাফেজ আবু মাসউদ আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বাজালিকে বলতে শুনেছি যে, ইবনে ফুরাক সুলতান মাহমুদের দরবারে প্রবেশ করেন এবং তাঁরা বিতর্কে লিপ্ত হন।

イবনে ফুরাক সুলতান মাহমুদকে বললেন: আল্লাহকে ওপরের দিক (উর্ধ্বমুখীতা) দিয়ে বিশেষিত করা আপনার জন্য বৈধ নয়, কারণ এর ফলে আপনাকে তাঁকে নিচের দিক দিয়েও বিশেষিত করতে হবে। কারণ যাঁর জন্য 'উপর' থাকা বৈধ, তাঁর জন্য 'নিচ' থাকাও বৈধ।

মাহমুদ বললেন: আমি তাঁকে ওপরের দিক দিয়ে বিশেষিত করিনি যে আমাকে তাঁকে নিচের দিক দিয়ে বিশেষিত করতে হবে, বরং তিনি নিজেই নিজেকে সেভাবে বিশেষিত করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি (ইবনে ফুরাক) হতভম্ব হয়ে গেলেন।

কায়রোতে মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল মুনইম আল-হাররানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী বিন আল-হারিফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাজি আবু বকর বিন আব্দুল বাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান বিন জুদা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান আত-তাবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাদিসের অনুসারীদের (আসহাবুল হাদিস) মধ্য থেকে এক যুবক আবু জুরআ আর-রাজির মজলিসে এই কবিতাগুলো পাঠ করেছিলেন, যা তাঁর নিকট চমৎকার মনে হয়েছিল:

আমি নবী মুহাম্মাদের দ্বীন বেছে নিচ্ছি … এক যুবকের জন্য আসর (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) কতই না উত্তম বাহন

তুমি হাদিস এবং এর অনুসারীদের ব্যাপারে কখনও গাফেল হয়ো না … কারণ মানুষের রায় হলো অন্ধকার রাত আর হাদিস হলো উজ্জ্বল দিন

অনেক সময় এক যুবক হিদায়াত লাভের পরেও ভুল করে বসে … অথচ সূর্য তখন প্রখর আলো বিকিরণ করে দেদীপ্যমান থাকে

 

‌‌৯ - উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ

বিন আল-হুসাইন আল-ফাররা, কাজি আবু ইয়ালার পুত্র আবুল কাসিম।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ١٣)
ذكره أخوه فى الطبقات، وأنه ولد يوم السبت سابع شعبان سنة ثلاث وأربعين وأربعمائة، وقرأ بالروايات على أبى بكر الخياط، وابن البناء، وأبى الخطاب الصوفى، وأحمد بن الحسن اللحيانى، وغيرهم. وسمع الحديث من والده، وجده لأمه جابر بن ياسين، وأبى محمد الجوهرى، وغيرهم، وابن المهتدى وابن النّقور، وابن الآبنوسى، وابن المسلمة، وابن المأمون، والصّريفينى، وغيرهم.

ورحل فى طلب الحديث والعلم إلى: واسط، والبصرة، والكوفة، وعكبرا، والموصل، والجزيرة، وآمد، وغير ذلك.

وقرأ بآمد من الفقه على أبى الحسن البغدادى قطعة صالحة من الخلاف والمذهب. وكان قد علق قبل سفره على الشريف أبى جعفر، وكان قد حضر قبل ذلك درس والده وعلق عنه.

وكان يحضر مجالس النظر فى الجمع وغيرها، ويتكلم فى المسائل مع شيوخ عصره. وكان والده يأتم به فى صلاة التراويح إلى أن توفى. وكان أكبر ولد القاضى أبى يعلى، وهو الذى تولى الصلاة عليه بجامع المنصور. وكان ذا عفة، وديانة وصيانة، حسن التلاوة للقرآن، كثير الدرس له، مع معرفته بعلومه. وله معرفة بالجرح والتعديل، وأسماء الرجال والكنى، وغير ذلك من علوم الحديث، حسن القراءة، وله خط حسن.

ولما وقعت فتنة ابن القشيرى: خرج إلى مكة، فتوفى فى مضيه إليها بموضع يعرف بمعدن النقرة، أواخر ذى القعدة سنة تسع وستين وأربعمائة، وله ست وعشرون سنة وثلاثة أشهر ونيف وعشرون يوما تقريبا. رحمه الله وعوضه الجنة.

 

‌‌10 - محمد بن أحمد بن محمد

بن الحسن بن على بن الحسين بن هارون، أبو الحسن البردانى الفرضى الأمين. والد الحافظ أبى على، الآتى ذكره إن شاء الله تعالى.

ولد بالبردان سنة ثمان وثمانين - وقيل: سنة ثمان وسبعين - وثلاثمائة. ونشأ بها
তাঁর ভাই 'তাবাকাত' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ৪৪৩ হিজরী সালের ৭ই শাবান শনিবার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবু বকর আল-খাইয়াত, ইবনুল বান্না, আবুল খাত্তাব আস-সুফি, আহমদ বিন আল-হাসান আল-লিহইয়ানি এবং অন্যদের নিকট বিভিন্ন কিরাত বা পাঠরীতিসমূহ পাঠ করেন। তিনি তাঁর পিতা, মাতামহ জাবির বিন ইয়াসিন, আবু মুহাম্মদ আল-জাওহারি, ইবনুল মুহতাদি, ইবনুন নাক্কুর, ইবনুল আবানুসি, ইবনুল মুসলিমাহ, ইবনুল মামুন, আস-সারিফিনি এবং অন্যদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।

তিনি হাদিস ও জ্ঞান অন্বেষণে ওয়াসিত, বসরা, কুফা, উকবারা, মসুল, আল-জাজিরা, আমিদ এবং অন্যান্য স্থানে ভ্রমণ করেন।

তিনি আমিদ শহরে আবু আল-হাসান আল-বাগদাদির নিকট ফিকহ শাস্ত্রের ইখতিলাফ (মতভেদ) ও মাযহাবের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠ করেন। তাঁর সফরের পূর্বে তিনি শরিফ আবু জাফরের নিকট টীকা প্রস্তুত করেছিলেন এবং এর আগে তিনি তাঁর পিতার দরসে উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁর নিকট থেকেও টীকা লিপিবদ্ধ করতেন।

তিনি জুমুয়াহর সমাবেশ ও অন্যান্য বিতর্ক সভায় উপস্থিত থাকতেন এবং সমসাময়িক শাইখদের সাথে বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনা করতেন। তাঁর পিতা মৃত্যু পর্যন্ত তারাবিহ নামাজে তাঁর পেছনে ইকতিদা করতেন। তিনি ছিলেন কাজী আবু ইয়া'লার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং তিনিই জামে মানসুরে তাঁর পিতার জানাজার নামাজ পড়িয়েছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পবিত্রচরিত্র, ধার্মিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। তিনি সুন্দরভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং এর উলুম (বিজ্ঞানসমূহ) সম্পর্কে জ্ঞানের পাশাপাশি প্রচুর অধ্যয়ন করতেন। জারহ ও তা'দিল (হাদিস বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই), আসমাউর রিজাল (বর্ণনাকারীদের জীবনী), কুনিয়াত (উপনাম) এবং হাদিস বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল। তাঁর তিলাওয়াত ছিল চমৎকার এবং তাঁর হস্তাক্ষর ছিল অত্যন্ত সুন্দর।

যখন ইবনুল কুশাইরির ফিতনা দেখা দিল, তখন তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে ৪৬৯ হিজরী সালের জিলকদ মাসের শেষ দিকে 'মা'দানুন নুকরাহ' নামক স্থানে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ২৬ বছর ৩ মাস ২০ দিনের কিছু বেশি। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁকে জান্নাত দান করুন।

 

‌‌১০ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ

বিন আল-হাসান বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন হারুন, আবু আল-হাসান আল-বারদানি আল-ফারযি আল-আমিন। তিনি হাফেজ আবু আলীর পিতা, যাঁর কথা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

তিনি ৩৮৮ হিজরী সালে (মতান্তরে ৩৭৮ হিজরী সালে) বারদান নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ١٤)
ثم انتقل إلى بغداد سنة ست وأربعين وأربعمائة واستوطنها. وسمع الكثير من أبى الحسن بن رزقويه، وأبى الحسين بن بشران، وأخيه أبى القاسم، وأبى الفضل التميمى، وأخيه أبى الفرج، وأبى الحسن بن مخلد، وأبى على بن شاذان، البرقانى، وخلق.

وروى عنه ولداه: أبو على، وأبو ياسر، والقاضى أبو بكر بن عبد الباقى وغيرهم.

قال القاضى أبو الحسين بن أبى يعلى: صحب الوالد، وتردد إلى مجالسه فى الفقه وسماع الحديث، وكان رجلا صالحا.

قال ابن النجار: وكان رجلا صالحا صدوقا، حافظا لكتاب الله تعالى، عالما بالفرائض وقسمة التركات. كتب بخطه الكثير، وخرّج تخاريج، وجمع فنونا من الأحاديث وغيرها. وخطه ردئ كثير السقم. وكان أمين القاضى أبى الحسين بن المهتدى. ثم ذكر عن ابنه أبى ياسر عبد الله: أن أباه أبا الحسن سرد الصوم ثلاثين سنة.

وذكر عن السلفى: أنه جرى ذكر ابنه أبى علي، فقال الحافظ أبو محمد السمرقندى: لو رأيت أباه وصلاحه لرأيت العجب. روى لنا عن ابن رزقويه وطبقته. وكان فقيها، وضيئا محدثا، مرضيا.

وذكر عن ابن خيرون: أن البردانى كان رجلا صالحا ثقة.

وقال ابن الجوزى: كان له علم بالقراءات والفرائض. وكان ثقة، عالما صالحا أمينا.

توفى يوم الخميس ثامن عشرين ذى القعدة سنة تسع وستين وأربعمائة.

ودفن يوم الجمعة بباب حرب. كذا ذكره ابن النجار.

وذكر ابن شافع: أنه توفى ليلة الجمعة تاسع عشرين ذى القعدة؛ ثم قال:

قرأت بخط ابنه أبى علي: أن أباه توفى يوم الخميس مستهل ذى الحجة من السنة.

قال: وصليت عليه يوم الجمعة فى المقصورة. وتبعه خلق عظيم. رحمه الله تعالى
অতঃপর তিনি ৪৪৬ হিজরি সনে বাগদাদে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি আবুল হাসান বিন রিজকোয়াইহ, আবুল হুসাইন বিন বিশরান, তাঁর ভাই আবুল কাসিম, আবুল ফজল আত-তামিমি, তাঁর ভাই আবুল ফারাজ, আবুল হাসান বিন মাখলাদ, আবু আলি বিন শাযান, আল-বারকানি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন।

তাঁর থেকে তাঁর দুই পুত্র: আবু আলি ও আবু ইয়াসির, এবং কাজি আবু বকর বিন আব্দুল বাকি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

কাজি আবুল হুসাইন বিন আবু ইয়ালা বলেন: তিনি আমার পিতার সাহচর্য লাভ করেছিলেন এবং ফিকহ ও হাদিস শ্রবণের মজলিসসমূহে নিয়মিত যাতায়াত করতেন; তিনি একজন নেককার ব্যক্তি ছিলেন।

ইবনে নাজ্জার বলেন: তিনি একজন নেককার ও সত্যবাদী মানুষ ছিলেন, মহান আল্লাহর কিতাবের হাফেজ ছিলেন এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) ও মিরাস বণ্টন তত্ত্বে বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি নিজ হাতে প্রচুর লিখেছেন, বহু হাদিসের চয়ন (তাখরিজ) করেছেন এবং হাদিস ও অন্যান্য বিষয়ের বিভিন্ন শাখা সংকলন করেছেন। তবে তাঁর হস্তাক্ষর ছিল বেশ অস্পষ্ট ও ত্রুটিপূর্ণ। তিনি কাজি আবুল হুসাইন বিন আল-মুহতাদির বিশ্বস্ত প্রতিনিধি (আমীন) ছিলেন। এরপর তিনি তাঁর পুত্র আবু ইয়াসির আব্দুল্লাহর সূত্রে উল্লেখ করেন যে: তাঁর পিতা আবুল হাসান টানা ত্রিশ বছর রোজা রেখেছিলেন।

আস-সিলাফির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে: তাঁর পুত্র আবু আলির আলোচনা উঠলে হাফেজ আবু মুহাম্মদ আস-সামারকন্দি বলেন, "আপনি যদি তাঁর পিতাকে এবং তাঁর নেক আমল দেখতেন তবে বিস্মিত হতেন।" তিনি আমাদের নিকট ইবনে রিজকোয়াইহ ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন ফকিহ, উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী মুহাদ্দিস এবং সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তি ছিলেন।

ইবনে খাইরুন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: বারদানি একজন নেককার ও নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ব্যক্তি ছিলেন।

ইবনুল জাওজি বলেন: কিরাত এবং ফারায়েজ শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি নির্ভরযোগ্য, আলেম, নেককার ও আমানতদার ছিলেন।

তিনি ৪৬৯ হিজরি সনের ২৮ জিলকদ বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেন।

জুমার দিন তাঁকে 'বাব হারব'-এ দাফন করা হয়। ইবনে নাজ্জার এভাবেই উল্লেখ করেছেন।

ইবনে শাফেয়ি উল্লেখ করেছেন যে: তিনি ২৯ জিলকদ জুমার রাতে ইন্তেকাল করেন; অতঃপর তিনি বলেন:

আমি তাঁর পুত্র আবু আলির হস্তাক্ষরে পড়েছি যে: তাঁর পিতা উক্ত বছরের জিলহজ মাসের শুরুতে বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি বলেন: আমি জুমার দিন মাকসুরাতে তাঁর জানাজার নামাজ পড়েছি। তাঁর পেছনে এক বিশাল জনসমুদ্র অনুগমন করেছিল। মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ١٥)
قلت: له كتاب «فضيلة الذكر والدعاء» رواه عنه ابنه أبو على.

أخبرنا محمد بن إسماعيل الأيوبى الصوفى - بالقاهرة - أخبرنا عبد العزيز ابن عبد المنعم الحرانى أخبرنا أبو على الحريف أخبرنا القاضى أبو بكر محمد بن عبد الباقى أخبرنا أبو الحسن البردانى أخبرنا أبو الحسن بن مخلد أخبرنا إسماعيل الصفار حدثنا الحسن بن عرفة حدثنا المعتمر بن سليمان: سمعت عاصما الأحول يقول: حدثنى شرحبيل أنه سمع أبا سعيد، وأبا هريرة، وابن عمر يحدّثون أن نبى الله صلى الله عليه وسلم قال: «الذّهب بالذّهب وزنا بوزن، مثلا بمثل.

من زاد أو ازداد فقد أربى».

وأنبأناه عاليا أبو الفتح الميدومى أخبرنا عبد اللطيف بن عبد اللطيف بن عبد المنعم الحرانى أخبرنا أبو الفرج بن كليب أخبرنا أبو القاسم بن بيان أخبرنا ابن مخلد - فذكره.

 

‌‌11 - عبد الخالق بن عيسى

بن أحمد بن محمد بن عيسى بن أحمد بن موسى بن محمد بن إبراهيم بن عبد الله بن معبد بن العباس بن عبد المطلب بن هاشم، الشريف أبو جعفر بن أبى موسى الهاشمى العباسى.

و «أبو موسى» هو كنية جده الأعلى: عيسى بن أحمد بن موسى.

هذا هو الصحيح فى نسبه. وهو الذى ذكره صاحباه القاضيان: أبو بكر الأنصارى، وأبو الحسين بن القاضى، وابن الجوزى، وابن السمعانى، وغيرهم.

فإن الشريف أبا جعفر هو ابن أخ الشريف أبى على محمد بن أحمد بن محمد ابن عيسى بن أحمد بن موسى صاحب «الإرشاد».

ووقع فى تاريخ ابن شافع وغيره: عبد الخالق بن أحمد بن عيسى بن أبى موسى عيسى بن أحمد، وهو وهم.

ولد سنة إحدى عشرة وأربعمائة.
আমি বললাম: তাঁর ‘ফাদিলাতুয যিকর ওয়াদ দুআ’ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আবু আলী বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-আইয়ুবী আস-সুফী—কায়রোতে—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল মুনইম আল-হাররানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আল-হারীফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাজী আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান আল-বারদানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান বিন মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাঈল আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান বিন আরাফাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুতামির বিন সুলাইমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: আমি আসিম আল-আহওয়ালকে বলতে শুনেছি: শুরাহবিল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু সাঈদ, আবু হুরায়রা এবং ইবনে উমরকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ ওজনে সমান এবং পরিমাণে সমান হতে হবে।

যে ব্যক্তি বেশি দিল বা বেশি গ্রহণ করল, সে অবশ্যই সুদে লিপ্ত হলো»।

এবং আবু আল-ফাতহ আল-মাইদুমি উচ্চ সনদে আমাদের এটি অবহিত করেছেন, আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল মুনইম আল-হাররানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-ফারাজ বিন কুলাইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-কাসিম বিন বায়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌১১ - আব্দুল খালিক বিন ঈসা

বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন আহমাদ বিন মুসা বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মাবাদ বিন আল-আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম, আশ-শরীফ আবু জাফর বিন আবি মুসা আল-হাশিমী আল-আব্বাসী।

আর «আবু মুসা» হলো তাঁর ঊর্ধ্বতম পিতামহ ঈসা বিন আহমাদ বিন মুসার উপনাম।

তাঁর বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে এটিই সঠিক। আর এটিই তাঁর দুই সাথী—দুই কাজী: আবু বকর আল-আনসারী এবং আবু আল-হুসাইন বিন আল-কাজী, এবং ইবনে আল-জাওযী, ইবনে আস-সামআনী ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন।

কেননা শরীফ আবু জাফর হলেন «আল-ইরশাদ» গ্রন্থের রচয়িতা শরীফ আবু আলী মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন আহমাদ বিন মুসার ভ্রাতুষ্পুত্র।

ইবনে শাফিঈর ইতিহাস গ্রন্থ এবং অন্যান্য জায়গায় এসেছে: আব্দুল খালিক বিন আহমাদ বিন ঈসা বিন আবি মুসা ঈসা বিন আহমাদ, তবে এটি একটি ভুল।

তিনি চারশত এগারো হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ١٦)
قال ابن الجوزى: كان عالما فقيها، ورعا عابدا، زاهدا، قوالا بالحق، لا يحابى، ولا تأخذه فى الله لومة لائم.

سمع أبا القاسم بن بشران، وأبا محمد الخلال، وأبا إسحاق البرمكى، وأبا طالب العشارى، وغيرهم.

وتفقه على القاضى أبى يعلى، وشهد عند أبى عبد الله الدامغانى، ثم ترك الشهادة قبل وفاته. ولم يزل يدرس بمسجده بسكة الخرقى من باب البصرة وبجامع المنصور. ثم انتقل إلى الجانب الشرقى، فدرس فى مسجد مقابل لدار الخلافة، ثم انتقل - لأجل ما لحق نهر المعلّى من الغرق - إلى باب الطاق، وسكن درب الديوان من الرّصافة، ودرس بمسجد على باب الدرب، وبجامع المهدى.

وذكر القاضى أبو الحسين نحو ذلك، وقال: بدأ بدرس الفقه على الوالد من سنة ثمان وعشرين وأربعمائة إلى سنة إحدى وخمسين، يقصد إلى مجلسه ويعلق، ويعيد الدّرس فى الفروع وأصول الفقه. وبرع فى المذهب، ودرّس، وأفتى فى حياة الوالد.

وكان مختصر الكلام، مليح التّدريس، جيد الكلام فى المناظرة، عالما بالفرائض، وأحكام القرآن والأصول. وكان له مجلس للنظر فى كل يوم اثنين ويقصده جماعة من فقهاء المخالفين. وكان شديد القول واللسان على أهل البدع ولم تزل كلمته عالية عليهم، ولا يردّ يده عنهم أحد. وانتهى إليه فى وقته الرحلة لطلب مذهب الإمام أحمد.

وذكره ابن السمعانى فقال: إمام الحنابلة فى عصره بلا مدافعة. مليح التدريس، حسن الكلام فى المناظرة، ورع زاهد، متقن عالم بأحكام القرآن والفرائض، مرضى الطريقة. ثم ذكر بعض شيوخه، وقال: روى لنا عنه أبو بكر محمد بن عبد الباقى البزار، ولم يحدثنا عنه غيره.

وقال ابن خيرون: مقدم أهل زمانه شرفا، وعلما وزهدا.
ইবনুল জাওযী বলেন: তিনি ছিলেন একজন আলিম, ফকীহ, পরহেযগার, ইবাদতকারী, যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) এবং সত্যের প্রবক্তা। তিনি কাউকে তোষামোদ করতেন না এবং আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পেতেন না।

তিনি আবুল কাসেম বিন বিশরান, আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লাল, আবু ইসহাক আল-বারমাকী, আবু তালিব আল-আশারী এবং আরও অনেকের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন।

তিনি কাযী আবু ইয়া'লার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আদ-দামগানীর নিকট সাক্ষ্য প্রদান করেন, অতঃপর ইন্তেকালের পূর্বে তিনি সাক্ষ্য প্রদান ছেড়ে দেন। তিনি বাবুল বসরার সিক্কাতুল খারাকীতে অবস্থিত তাঁর মসজিদে এবং জামে মানসুরে নিয়মিত পাঠদান করতেন। অতঃপর তিনি পূর্ব পার্শ্বে স্থানান্তরিত হন এবং দারুল খিলাফতের বিপরীতে একটি মসজিদে পাঠদান করেন। এরপর নহরে মুআল্লা প্লাবিত হওয়ার কারণে তিনি বাবুত্ব-ত্বাক-এ চলে যান এবং রুসাফার দারবুল দিওয়ানে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি রাস্তার প্রবেশমুখে অবস্থিত মসজিদে এবং জামে মাহদীতে পাঠদান করেন।

কাযী আবুল হুসাইন অনুরূপ বর্ণনা করে বলেন: তিনি চারশ আটাশ হিজরী থেকে চারশ একান্ন হিজরী পর্যন্ত আমার পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ শুরু করেন। তিনি তাঁর মজলিসে আসতেন, টীকা লিখতেন এবং ফুরু ও উসূলে ফিকহের পাঠ পুনরাবৃত্তি করতেন। তিনি মাযহাবে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং পিতার জীবদ্দশাতেই পাঠদান ও ফতোয়া প্রদান করেন।

তিনি ছিলেন স্বল্পভাষী, পাঠদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর, বিতর্কে বাগ্মী, ইলমুল ফারাইদ (উত্তরাধিকার আইন), আহকামুল কুরআন এবং উসূল শাস্ত্রে পণ্ডিত। প্রতি সোমবার তাত্ত্বিক আলোচনার জন্য তাঁর একটি মজলিস বসত এবং সেখানে ভিন্নমতাবলম্বী ফকীহদের একটি দল উপস্থিত হতো। বিদআতিদের বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য ও ভাষা অত্যন্ত কঠোর ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রভাব সর্বদা সমুন্নত ছিল, আর কেউ তাঁকে প্রতিহত করতে পারতো না। তাঁর যুগে ইমাম আহমদের মাযহাব শিক্ষার জন্য ছাত্ররা তাঁর নিকটেই সমবেত হতো।

ইবনুস সামআনী তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি ছিলেন কোনো বিতর্ক ছাড়াই তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী হাম্বলী ইমাম। তিনি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর পাঠদানকারী, বিতর্কে সুন্দর বাচনভঙ্গির অধিকারী, পরহেযগার, যাহিদ, আহকামুল কুরআন ও ফারাইদ শাস্ত্রে পারদর্শী এবং প্রশংসিত কর্মপন্থার অধিকারী। অতঃপর তিনি তাঁর কয়েকজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করেন এবং বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকী আল-বাযযার আমাদের নিকট তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছাড়া আর কেউ আমাদের নিকট তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেননি।

ইবনে খাইরুন বলেন: তিনি মর্যাদা, ইলম এবং যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার ক্ষেত্রে তাঁর সময়ের অগ্রগণ্য ব্যক্তি ছিলেন।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ١٧)
وقال ابن عقيل: كان يفوق الجماعة من أهل مذهبه وغيرهم فى علم الفرائض.

وكان عند الإمام - يعنى الخليفة - معظما حتى إنه وصّى عند موته بأن يغسله، تبركا به. وكان حول الخليفة ما لو كان غيره لأخذه. وكان ذلك كفاية عمره فو الله ما التفت إلى شئ منه، بل خرج ونسى مئزره حتى حمل إليه. قال:

ولم يشهد منه أنه شرب ماء فى حلقة على شدة الحر، ولا غمس يده فى طعام أحد من أبناء الدنيا.

قلت: وللشريف أبى جعفر تصانيف عدّة، منها «رءوس المسائل» وهى مشهورة، ومنها «شرح المذهب» وصل فيه إلى أثناء الصّلاة، وسلك فيه مسلك القاضى فى الجامع الكبير. وله جزء فى أدب الفقه، وبعض فضائل أحمد، وترجيح مذهبه. وقد تفقه عليه طائفة من أكابر المذهب، كالحلوانى، وابن المخرّمى، والقاضى أبى الحسين.

وكان معظما عند الخاصة والعامة، زاهدا فى الدنيا إلى الغاية، قائما فى إنكار المنكرات بيده ولسانه، مجتهدا فى ذلك.

قال أبو الحسين، وابن الجوزى: لما احتضر القاضى أبو يعلى أوصى أن يغسله الشريف أبو جعفر، فلما احتضر القائم بأمر الله قال: يغسلنى عبد الخالق، ففعل، ولم يأخذ مما هناك شيئا. فقيل له: قد وصى لك أمير المؤمنين بأشياء كثيرة، فأبى أن يأخذ. فقيل له: فقميص أمير المؤمنين تتبرك به! فأخذ فوطة نفسه، فنشفه بها، وقال: قد لحق هذه الفوطة بركة أمير المؤمنين. ثم استدعاه فى مكانه المقتدى، فبايعه منفردا. قال: وكان أول من بايع، وقال الشريف: لما بايعته أنشدته:

«إذا سيّد منّا مضى قام سيّد

ثم أرتج عليّ تمامه، فقال هو:

قئول لما قال الكرام فعول
ইবনে আকীল বলেছেন: ফারায়েয শাস্ত্রে (উত্তরাধিকার আইন) তিনি তাঁর মাযহাবের অনুসারী এবং অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ ছিলেন।

ইমামের নিকট—অর্থাৎ খলীফার নিকট—তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন, এমনকি খলীফা তাঁর মৃত্যুর সময় অসিয়ত করে গিয়েছিলেন যে, বরকত লাভের উদ্দেশ্যে যেন তিনি (আবু জাফর) তাঁকে গোসল করান। খলীফার চারপাশে এমন সব ধন-সম্পদ ছিল যা অন্য কেউ হলে গ্রহণ করত। তা তাঁর সারাজীবনের সংস্থানের জন্য যথেষ্ট হতো, কিন্তু আল্লাহর কসম, তিনি সেদিকে ফিরেও তাকাননি; বরং তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় নিজের লুঙ্গিও ফেলে এসেছিলেন, যা পরে তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি (ইবনে আকীল) বলেন:

প্রচণ্ড গরম সত্ত্বেও কোনো মজলিসে তাঁকে পানি পান করতে দেখা যায়নি, এবং তিনি দুনিয়াদারদের কারো খাবারে কখনো হাত লাগাননি।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: শরীফ আবু জাফরের বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো ‘রুউসুল মাসায়িল’। আরও রয়েছে ‘শারহুল মাযহাব’, যাতে তিনি সালাতের অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং এতে তিনি ‘আল-জামি আল-কাবীর’-এ আল-কাযীর অনুসৃত পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। ফিকহ শাস্ত্রের আদব, ইমাম আহমাদের কিছু মর্যাদা এবং তাঁর মাযহাবের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়েও তাঁর একটি পুস্তিকা রয়েছে। মাযহাবের একদল বড় আলেম তাঁর কাছে ফিকহ শিক্ষা করেছেন, যেমন আল-হালওয়ানি, ইবনুল মুখাররামী এবং কাযী আবুল হুসাইন।

তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ—সবার কাছেই সম্মানিত ছিলেন। তিনি দুনিয়ার প্রতি অত্যন্ত বিরাগ (যাহিদ) ছিলেন এবং নিজের হাত ও জিহ্বা দ্বারা অন্যায় প্রতিরোধে সদা সচেষ্ট ও পরিশ্রমী ছিলেন।

আবুল হুসাইন এবং ইবনুল জাওযী বলেন: কাযী আবু ইয়ালা যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন শরীফ আবু জাফর তাঁকে গোসল করান। এরপর যখন খলীফা আল-কায়েম বি-আমরিল্লাহর অন্তিম সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি বললেন: আবদুল খালিক যেন আমাকে গোসল করান। তিনি তাই করলেন এবং সেখানকার কোনো কিছুই গ্রহণ করলেন না। তাঁকে বলা হলো: আমীরুল মুমিনীন আপনার জন্য অনেক কিছুর অসিয়ত করে গেছেন। কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকার করলেন। তাঁকে বলা হলো: অন্তত আমীরুল মুমিনীনের জামাটি নিন, বরকত হবে! তখন তিনি নিজের গামছাটি নিলেন এবং তা দিয়ে তাঁকে (খলীফাকে) মুছলেন এবং বললেন: আমীরুল মুমিনীনের বরকত এই গামছায় লেগেছে। এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত আল-মুকতাদী তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং তিনি একাকী তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন। তিনি বলেন: তিনিই প্রথম বায়আত গ্রহণকারী ব্যক্তি ছিলেন। শরীফ বলেন: আমি যখন তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করলাম, তখন এই কবিতাটি আবৃত্তি করলাম:

«যখন আমাদের মধ্য থেকে একজন নেতা চলে যান, তখন অন্য একজন নেতার উত্থান ঘটে»

এরপর আমি কবিতাটির শেষ অংশটি আর মনে করতে পারলাম না, তখন তিনি (খলীফা) নিজেই বললেন:

«যিনি মহৎ ব্যক্তিদের কথার মতো কথা বলেন এবং তা কাজে বাস্তবায়ন করেন»
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ١٨)
قال: وأنبأنا ابن عبد الله عن أبى محمد التميمى قال: ما حسدت أحدا إلاّ الشريف أبا جعفر، فى ذلك اليوم، وقد نلت مرتبة التدريس والتذكير والسفارة بين الملوك، ورواية الأحاديث، والمنزلة اللطيفة عند الخاص والعام.

فلمّا كان ذلك اليوم خرج الشريف علينا، وقد غسل القائم عن وصيته بذلك.

ثم لم يقبل شيئا من الدنيا، ثم انسل طالبا لمسجده، ونحن كلّ منا جالس على الأرض متحف، متغير لونه، مخرق لثوبه، يهوله ما يحدث به بعد موت هذا الرجل على قدر ما له تعلق بهم، فعرفت أن الرجل هو ذلك.

قال القاضى أبو الحسين - أى ابن أبى يعلى -: قلت له - أى قلت لعبد الخالق - بعد اجتماعه معه: أين سهمنا مما كان هناك؟ فقال: أحييت جمال شيخنا والدك الإمام أبى يعلى. يقال: هذا غلامه، تنزه عن هذا القدر الكثير، فكيف لو كان هو؟

وفى سنة أربع وستين وأربعمائة: اجتمع الشريف أبو جعفر ومعه الحنابلة فى جامع القصر، وأدخلوا معهم أبا إسحاق الشيرازى وأصحابه. وطلبوا من الدولة قلع المواخير، وتتبع المفسدين والمفسدات، ومن يبيع النبيذ، وضرب دراهم تقع بها المعاملة عوض القراضة. فتقدم الخليفة بذلك. فهرب المفسدات، وكبست الدور، وأريقت الأنبذة. ووعدوا بقلع المواخير، ومكاتبة عضد الدولة برفعها، والتقدم بضرب الدراهم التى يتعامل بها. فلم يقنع الشريف ولا أبو إسحاق بهذا الوعد. وبقى الشريف مدة طويلة متعتبا مهاجرا لهم.

وحكى أبو المعالى صالح بن شافع عمن حدّثه: أن الشريف رأى محمدا وكيل الخليفة حين غرقت بغداد سنة ست وستين، وجرى على دار الخلافة العجائب، وهم فى غاية التخبط. فقال الشريف أبو جعفر: يا محمد، يا محمد، فقال له: لبيك يا سيدنا، فقال له: قل له: كتبنا وكتبتم، وجاء جوابنا قبل جوابكم، يشير إلى قول الخليفة: سنكاتب فى رفع المواخير، ويريد بجوابه: الغرق وما جرى فيه
তিনি বলেন: ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের আবু মুহাম্মদ আত-তামিমী থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: "সেদিন আমি শরীফ আবু জাফর ব্যতীত আর কাউকে হিংসে করিনি, অথচ আমি শিক্ষকতা, নসীহত প্রদান, রাজাদের মাঝে দূতিয়ালি, হাদীস বর্ণনা এবং বিশেষ ও সাধারণ উভয় শ্রেণীর মানুষের নিকট উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলাম।"

যখন সেই দিন এল, শরীফ আমাদের সামনে বের হয়ে আসলেন, আর সেই বিষয়ের অসিয়ত অনুযায়ী মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো সম্পন্ন হয়েছিল।

এরপর তিনি দুনিয়ার কোনো কিছু গ্রহণ করেননি, বরং নিজের মসজিদের উদ্দেশে নীরবে প্রস্থান করলেন। তখন আমাদের প্রত্যেকেই বিষণ্ণ মনে জমিনে বসে ছিলাম, বিবর্ণ চেহারা এবং বিদীর্ণ বস্ত্রাবস্থায়; এই ব্যক্তির মৃত্যুর পর কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ সংশ্লিষ্টতার মাত্রা অনুযায়ী আতঙ্কিত ছিল। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, এই ব্যক্তিই হলেন সেই মহৎ ব্যক্তি।

কাযী আবু আল-হুসাইন—অর্থাৎ ইবনে আবি ইয়ালা—বলেন: তাঁর সাথে সাক্ষাতের পর আমি তাঁকে—অর্থাৎ আব্দুল খালিককে—বললাম: "সেখানে যা ছিল তার মধ্যে আমাদের অংশ কোথায়?" তখন তিনি বললেন: "তুমি আমাদের শায়খ তোমার পিতা ইমাম আবু ইয়ালার সৌন্দর্যকে পুনর্জীবিত করেছ। লোকে বলে: এটি তাঁর ছাত্র, সে-ই যদি এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ থেকে বিমুখ থাকে, তবে স্বয়ং তিনি হলে কী হতো?"

৪৬৪ হিজরি সালে শরীফ আবু জাফর হাম্বলী অনুসারীদের নিয়ে জামেউল কাসরে সমবেত হন এবং আবু ইসহাক আশ-শিরাজী ও তাঁর সঙ্গীদেরও সাথে নেন। তাঁরা রাষ্ট্রের কাছে পতিতালয়গুলো উচ্ছেদ করা, দুশ্চরিত্র নারী-পুরুষ ও মদ বিক্রেতাদের পাকড়াও করা এবং জীর্ণ মুদ্রার পরিবর্তে লেনদেনের জন্য নতুন দিরহাম তৈরির দাবি জানান। খলিফা এতে সম্মতি প্রদান করেন। ফলে পাপাচারী নারীরা পালিয়ে যায়, ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং মদ ঢেলে ফেলা হয়। তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে, পতিতালয়গুলো উচ্ছেদ করা হবে, এগুলো বন্ধ করার জন্য আযুদুদ দাওলাহ-কে পত্র লেখা হবে এবং লেনদেনযোগ্য দিরহাম মুদ্রণের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু শরীফ বা আবু ইসহাক—কেউই এই প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট হননি। ফলে শরীফ দীর্ঘকাল তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকেন।

আবু আল-মাআলি সালিহ ইবনে শাফি' তাঁর নিকট হাদীস বর্ণনাকারীর সূত্রে বর্ণনা করেন: ৪৬৬ হিজরি সালে যখন বাগদাদ বন্যায় প্লাবিত হয় এবং খেলাফত ভবনে এক বিস্ময়কর অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং তারা চরম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে, তখন শরীফ খলিফার প্রতিনিধি মুহাম্মদকে দেখতে পান। শরীফ আবু জাফর ডাকলেন: "হে মুহাম্মদ, হে মুহাম্মদ!" সে উত্তর দিল: "লাব্বাইক, হে আমাদের নেতা।" তিনি তাকে বললেন: "তাঁকে গিয়ে বলো: আমরাও লিখেছিলাম, আপনারাও লিখেছিলেন, কিন্তু আপনাদের উত্তরের আগেই আমাদের উত্তর এসে পৌঁছেছে।" এখানে তিনি খলিফার সেই উক্তি—"আমরা পতিতালয় উচ্ছেদের ব্যাপারে পত্র লিখব"—এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং 'উত্তর' বলতে তিনি বন্যা ও তাতে যা ঘটেছিল তা বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ١٩)
وفى سنة ستين وأربعمائة كان أبو على بن الوليد - شيخ المعتزلة - قد عزم على إظهار مذهبه لأجل موت الشيخ الأجل أبى منصور بن يوسف، فقام الشريف أبو جعفر، وعبر إلى جامع المنصور، هو وأهل مذهبه، وسائر الفقهاء وأعيان أهل الحديث، وبلغوا ذلك. ففرح أهل السنة بذلك، وقرءوا كتاب التوحيد لابن خزيمة. ثم حضروا الديوان، وسألوا إخراج الاعتقاد الذى جمعه الخليفة القادر. فأجيبوا إلى ذلك. وقرئ هناك بمحضر من الجميع، واتفقوا على لعن من خالفه، وتكفيره. وبالغ ابن فورك فى ذلك.

ثم سأل الشريف أبو جعفر، والزاهد الصحراوى: أن يسلم إليهم الاعتقاد، فقال لهم الوزير: ليس ههنا نسخة غير هذه. ونحن نكتب لكم به نسخة لتقرأ فى المجالس. فقالوا: هكذا فعلنا فى أيام القادر، قرئ فى المساجد والجوامع.

فقال: هكذا تفعلون، فليس اعتقاد غير هذا، وانصرفوا. ثم قرئ بعد ذلك الاعتقاد بباب البصرة، وحضره الخاص والعام.

وكذلك أنكر الشريف أبو جعفر على ابن عقيل تردده إلى ابن الوليد وغيره، فاختفى مدة ثم تاب وأظهر توبته. وسنذكر مضمون ذلك فى ترجمة ابن عقيل، إن شاء الله تعالى.

وآخر ذلك كله: فتنة ابن القشيرى، قام فيها الشريف قياما كليا، ومات فى عقبها.

ومضمون ذلك: أن أبا نصر بن القشيرى ورد بغداد، سنة تسع وستين وأربعمائة، وجلس فى النظامية. وأخذ يذم الحنابلة، وينسبهم إلى التجسيم.

وكان المتعصب له أبو سعد الصوفى، ومال إلى نصره أبو إسحاق الشيرازى، وكتب إلى نظام الملك الوزير يشكو الحنابلة، ويسأله المعونة. فاتفق جماعة من أتباعه على الهجوم على الشريف أبى جعفر فى مسجده، والإيقاع به، فرتب الشريف جماعة أعدهم لرد خصومه إن وقعت. فلما وصل أولئك إلى باب المسجد
৪৬০ হিজরি সনে মুতাজিলাদের শায়খ আবু আলী ইবনুল ওয়ালীদ, পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ আবু মনসুর ইবনে ইউসুফের ইন্তেকালের কারণে নিজের মাযহাব প্রকাশ করার সংকল্প করেন। তখন শরিফ আবু জাফর রুখে দাঁড়ালেন এবং তিনি তার অনুসারীগণ, অন্যান্য ফকিহ এবং আহলে হাদিসের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে জামে মানসুরে গমন করলেন এবং এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালেন। এতে আহলে সুন্নাত আনন্দিত হলেন এবং তারা ইবনে খুজাইমার ‘কিতাবুত তাওহিদ’ পাঠ করলেন। এরপর তারা রাজদরবারে উপস্থিত হলেন এবং খলিফা কাদির কর্তৃক সংকলিত আকিদাহ প্রকাশের দাবি জানালেন। তাদের এই দাবি গ্রহণ করা হলো। সেখানে সকলের উপস্থিতিতে এটি পাঠ করা হলো এবং এর বিরুদ্ধাচরণকারীদের প্রতি অভিসম্পাত ও কাফির বলার ব্যাপারে তারা একমত হলেন। ইবনে ফুরাক এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেন।

এরপর শরিফ আবু জাফর এবং যাহেদ সাহরাবী সেই আকিদাহর কপিটি তাদের হাতে সমর্পণের আবেদন করলেন। তখন উজির তাদের বললেন: "এখানে এই একটি কপি ছাড়া আর কোনো কপি নেই। আমরা আপনাদের জন্য এর একটি অনুলিপি তৈরি করে দেব যাতে তা বিভিন্ন মজলিসে পাঠ করা যায়।" তারা বললেন: "আমরা কাদিরি যুগেও এমনটিই করেছিলাম, তা বিভিন্ন মসজিদ ও জামে মসজিদে পাঠ করা হতো।"

তিনি বললেন: "আপনারা তা-ই করবেন, কারণ এটি ছাড়া অন্য কোনো আকিদাহ নেই।" অতঃপর তারা প্রস্থান করলেন। এরপর বাবে বসরায় সেই আকিদাহ পাঠ করা হলো এবং বিশিষ্ট ও সাধারণ সকল শ্রেণির মানুষ তাতে উপস্থিত হলেন।

একইভাবে শরিফ আবু জাফর ইবনে আকিলের ইবনুল ওয়ালীদ ও অন্যদের কাছে যাতায়াত করার কারণে তাকে তিরস্কার করলেন। ফলে তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেন, অতঃপর তওবা করলেন এবং নিজের তওবা প্রকাশ করলেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমরা ইবনে আকিলের জীবনী আলোচনায় এর বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করব।

এই সবকিছুর শেষ পর্যায়ে ছিল ইবনুল কুশাইরির ফিতনা, যাতে শরিফ সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং এর পরপরই তিনি ইন্তেকাল করেন।

এর সারসংক্ষেপ হলো: আবু নাসর ইবনুল কুশাইরি ৪৬৯ হিজরি সনে বাগদাদে আগমন করেন এবং নেজামিয়ার মজলিসে বসেন। তিনি হাম্বলিদের নিন্দা করতে শুরু করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তাজসিম (আল্লাহর দেহ সাব্যস্ত করা)-এর অপবাদ আরোপ করেন।

আবু সাদ সুফি তার গোঁড়া সমর্থক ছিলেন এবং আবু ইসহাক শিরাজি তাকে সহায়তার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি উজির নেজামুল মুলকের কাছে হাম্বলিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে চিঠি লিখলেন এবং তার সাহায্য প্রার্থনা করলেন। তখন তার অনুসারীদের একদল শরিফ আবু জাফরের মসজিদে তার উপর আক্রমণ ও তাকে নাজেহাল করার বিষয়ে একমত হলো। শরিফও একটি দলকে প্রস্তুত করে রাখলেন যাতে আক্রমণ হলে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করা যায়। যখন তারা মসজিদের দরজায় পৌঁছাল...
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
رماهم هؤلاء بالآجر. فوقعت الفتنة، وقتل من أولئك رجل من العامة، وجرح آخرون، وأخذت ثياب.

وأغلق أتباع ابن القشيرى أبواب سوق مدرسة النظام، وصاحوا: المستنصر بالله، يا منصور - يعنون العبيدى صاحب مصر - وقصدوا بذلك التشنيع على الخليفة العباسى، وأنه ممالئ للحنابلة، لا سيما والشريف أبو جعفر ابن عمه.

وغضب أبو إسحاق، وأظهر التأهب للسفر. وكاتب فقهاء الشافعية نظام الملك بما جرى، فورد كتابه بالامتعاض من ذلك، والغضب لتسلط الحنابلة على الطائفة الأخرى. وكان الخليفة يخاف من السلطان ووزيره نظام الملك ويداريهما.

وحكى أبو المعالى صالح بن شافع، عن شيخه أبى الفتح الحلوانى وغيره، ممن شاهد الحال: أن الخليفة لما خاف من تشنيع الشافعية عليه عند النظام أمر الوزير أن يجيل الفكر فيما تنحسم به الفتنة. فاستدعى الشريف أبا جعفر بجماعة من الرؤساء منهم ابن جردة، فتلطفوا به حتى حضر فى الليل، وحضر أبو إسحاق، وأبو سعد الصوفى، وأبو نصر بن القشيرى. فلما حضر الشريف عظّمه الوزير ورفعه، وقال: إن أمير المؤمنين ساءه ما جرى من اختلاف المسلمين فى عقائدهم، وهؤلاء يصالحونك على ما تريد، وأمرهم بالدنوّ من الشريف. فقام إليه أبو إسحاق، وكان يتردد فى أيام المناظرة إلى مسجده بدرب المطبخ، فقال:

أنا ذاك الذى تعرف، وهذه كتبى فى أصول الفقه، أقول فيها: خلافا للأشعرية، ثم قبل رأسه.

فقال له الشريف: قد كان ما تقول، إلاّ أنك لما كنت فقيرا لم تظهر لنا ما فى نفسك، فلما جاء الأعوان والسلطان وخواجا بزرك(1) - يعنى النظام - أبديت ما كان مخفيا.

--------------------------------------------

(1) معناه: العظيم. وكان لقب الوزير نظام الملك
তারা তাদের ওপর ইট নিক্ষেপ করল। ফলে ফিতনা (দাঙ্গা) সৃষ্টি হলো, সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে একজন নিহত হলো, আরও অনেকে আহত হলো এবং কাপড়চোপড় লুট করা হলো।

ইবনুল কুশাইরীর অনুসারীরা নিজামিয়া মাদ্রাসার বাজারের ফটকগুলো বন্ধ করে দিল এবং চিৎকার করে বলতে লাগল: 'আল-মুসতানসির বিল্লাহ, হে মানসুর!'—এর মাধ্যমে তারা মিসরের ওবায়দী শাসককে বুঝাচ্ছিল—এবং এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল আব্বাসীয় খলিফাকে কলঙ্কিত করা যে, তিনি হাম্বলীদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট, বিশেষ করে যখন শরীফ আবু জাফর ছিলেন খলিফার চাচাতো ভাই।

আবু ইসহাক ক্রুদ্ধ হলেন এবং দেশান্তরী হওয়ার প্রস্তুতি দেখালেন। শাফেয়ী ফকীহগণ যা ঘটেছিল তা নিজামুল মুলককে লিখে জানালেন। ফলে তাঁর পক্ষ থেকে চিঠি এল যাতে এই ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে এবং অন্য সম্প্রদায়ের ওপর হাম্বলীদের আধিপত্য বিস্তারের কারণে ক্রোধ প্রকাশ করা হয়েছে। খলিফা সুলতান এবং তাঁর উজির নিজামুল মুলককে ভয় পেতেন এবং তাদের মন জুগিয়ে চলতেন।

আবু আল-মাআলী সালেহ বিন শাফি তাঁর শায়খ আবু আল-ফাতহ আল-হালওয়ানী এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে: শাফেয়ীগণ নিজামের কাছে খলিফার বদনাম করতে পারে—এই ভয়ে খলিফা উজিরকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি এই ফিতনা দূর করার উপায় নিয়ে চিন্তা করেন। তখন উজির ইবনে জারদাহসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে শরীফ আবু জাফরকে ডেকে পাঠালেন। তাঁরা তাঁর সাথে অত্যন্ত নম্র ব্যবহার করলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি রাতে উপস্থিত হলেন। সেখানে আবু ইসহাক, আবু সা'দ আস-সূফী এবং আবু নাসর বিন আল-কুশাইরীও উপস্থিত ছিলেন। যখন শরীফ উপস্থিত হলেন, উজির তাঁকে সম্মান করলেন এবং উচ্চাসনে বসালেন। উজির বললেন: 'আমীরুল মুমিনীন মুসলমানদের আকীদা নিয়ে এই মতবিরোধে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। এই ব্যক্তিরা আপনার সাথে আপনার শর্তানুযায়ী আপস করতে চায়।' অতঃপর উজির তাদের শরীফের নিকটবর্তী হওয়ার নির্দেশ দিলেন। তখন আবু ইসহাক তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন—তিনি বিতর্কের দিনগুলোতে 'দারবুল মাতবাখ' নামক স্থানে শরীফের মসজিদে যাতায়াত করতেন—এবং বললেন:

আমি সেই ব্যক্তি যাকে আপনি চেনেন, আর এই যে উসূলুল ফিকহ বিষয়ে আমার কিতাবসমূহ; এতে আমি লিখেছি: 'আশআরী মতবাদের বিপরীতে'। এরপর তিনি শরীফের মাথায় চুম্বন করলেন।

তখন শরীফ তাঁকে বললেন: আপনি যা বলছেন তা তো ছিলই, কিন্তু যখন আপনি নিঃস্ব ছিলেন তখন আপনার অন্তরে যা ছিল তা আমাদের কাছে প্রকাশ করেননি। আর যখন সাহায্যকারী, সুলতান এবং খাজা বুজুর্গ—অর্থাৎ নিজামুল মুলক—এলেন, তখন আপনি যা গোপন ছিল তা প্রকাশ করে দিলেন।

--------------------------------------------

(১) এর অর্থ: মহান। এটি উজির নিজামুল মুলকের উপাধি ছিল।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٢١)
ثم قام أبو سعد الصوفى، فقبّل يد الشريف، وتلطف به، فالتفت مغضبا وقال: أيها الشيخ، إنّ الفقهاء إذا تكلموا فى مسائل الأصول فلهم فيها مدخل، وأما أنت: فصاحب لهو وسماع وتعبير فمن، زاحمك على ذلك حتى داخلت المتكلمين والفقهاء، فأقمت سوق التعصب؟

ثم قام ابن القشيرى - وكان أقلّهم احتراما للشريف - فقال الشريف:

من هذا؟ فقيل: أبو نصر بن القشيرى، فقال لو جاز: أن يشكر أحد على بدعته لكان هذا الشاب؛ لأنه باد هنا بما فى نفسه، ولم ينافقنا كما فعل هذان.

ثم التفت إلى الوزير فقال: أى صلح يكون بيننا؟ إنما يكون الصلح بين مختصمين على ولاية، أو دنيا، أو تنازع فى ملك. فأما هؤلاء القوم: فإنهم يزعمون أنّا كفار، ونحن نزعم أن من لا يعتقد ما نعتقده كان كافرا، فأىّ صلح بيننا؟ وهذا الإمام يصدع المسلمين، وقد كان جدّاه - القائم والقادر - أخرجا اعتقادهما للناس، وقرئ عليهم فى دواوينهم، وحمله عنهم الخراسانيون والحجيج إلى أطراف الأرض، ونحن على اعتقادهما.

وأنهى الوزير إلى الخليفة ما جرى، فخرج فى الجواب: عرف ما أنهيته من حضور ابن العم - كثّر الله فى الأولياء مثله - وحضور من حضر من أهل العلم. والحمد لله الذى جمع الكلمة، وضم الألفة، فليؤذن للجماعة فى الانصراف، وليقل لابن أبى موسى: إنه قد أفرد له موضع قريب من الخدمة ليراجع فى كثير من الأمور المهمة، وليتبرك بمكانه.

فلما سمع الشريف هذا قال: فعلتموها.

فحمل إلى موضع أفرد له بدار الخلافة. وكان الناس يدخلون عليه مدة مديدة. ثم قيل له: قد كثر استطراق الناس دار الخلافة، فاقتصر على من تعيّن دخوله، فقال: مالى غرض فى دخول أحد علىّ. فامتنع الناس.

ثم إن الشريف مرض مرضا أثّر فى رجليه فانتفختا. فيقال: إن بعض المتفقّهة من الأعداء ترك له فى مداسه سما. والله تعالى أعلم.
এরপর আবু সাদ আস-সুফি দাঁড়িয়ে শরীফের হাত চুম্বন করলেন এবং তাঁর প্রতি বিনয় প্রকাশ করলেন। তখন তিনি (শরীফ) রাগান্বিত হয়ে তাকিয়ে বললেন: "হে শাইখ, ফকীহগণ যখন উসূলের (মূলনীতি) বিষয়াদি নিয়ে কথা বলেন, তখন সেখানে তাদের প্রবেশাধিকার থাকে। কিন্তু আপনার ব্যাপার হলো: আপনি আমোদ-প্রমোদ, সামা এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যার মানুষ; কে আপনাকে এই বিষয়ে বাধ্য করল যে আপনি মুতাকাল্লিম ও ফকীহদের মধ্যে ঢুকে পড়লেন এবং গোঁড়ামির বাজার বসালেন?"

অতঃপর ইবনুল কুশাইরী দাঁড়ালেন—আর তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে শরীফের প্রতি সবচেয়ে কম শ্রদ্ধাশীল—তখন শরীফ বললেন:

"ইনি কে?" বলা হলো: "আবু নাসর ইবনুল কুশাইরী।" তখন তিনি বললেন: "যদি কাউকে তার বিদআতের জন্য ধন্যবাদ জানানো বৈধ হতো, তবে এই যুবকই তার যোগ্য হতো; কারণ সে তার অন্তরে যা আছে তা এখানে প্রকাশ করে দিয়েছে এবং এই দুইজনের মতো আমাদের সাথে নিফাক (ভণ্ডামি) করেনি।"

এরপর তিনি উজিরের দিকে তাকিয়ে বললেন: "আমাদের মধ্যে কীসের সন্ধি হবে? সন্ধি তো হয় কেবল শাসনভার, দুনিয়াবি স্বার্থ অথবা রাজত্ব নিয়ে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে। আর এই সম্প্রদায়ের ব্যাপার হলো: তারা দাবি করে যে আমরা কাফির, আর আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের আকিদা যে পোষণ করে না সে কাফির; তাহলে আমাদের মধ্যে কীসের সন্ধি? আর এই ইমাম মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন, অথচ তাঁর দুই পূর্বপুরুষ—আল-কায়েম এবং আল-কাদির—লোকদের কাছে তাঁদের আকিদা প্রকাশ করেছিলেন, তাঁদের দপ্তরে তা পাঠ করা হয়েছিল এবং খোরাসানি ও হাজিগণ তা পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে বয়ে নিয়ে গিয়েছিল। আর আমরা তাঁদের আকিদার উপরেই রয়েছি।"

উজির যা ঘটেছে তা খলিফার নিকট নিবেদন করলেন। জবাবে এই বার্তা এলো: "আপনি চাচাতো ভাইয়ের উপস্থিতি—আল্লাহ ওলিদের মধ্যে তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব বৃদ্ধি করে দিন—এবং আলেমদের মধ্য হতে যারা উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সম্পর্কে যা নিবেদন করেছেন তা অবগত হওয়া গেল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি ঐক্য দান করেছেন এবং হৃদ্যতা তৈরি করেছেন। এখন জামাতকে বিদায় নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। আর ইবনে আবু মুসাকে বলে দিন: তাঁর জন্য দরবারের নিকটবর্তী একটি স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে যাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর পরামর্শ নেওয়া যায় এবং তাঁর অবস্থানের বরকত লাভ করা যায়।"

শরীফ যখন এটি শুনলেন, তিনি বললেন: "তোমরা এটি করেই ছাড়লে।"

এরপর তাঁকে খিলাফত ভবনের একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হলো। দীর্ঘ সময় ধরে লোকেরা তাঁর কাছে আসত। পরে তাঁকে বলা হলো: "খিলাফত ভবনে মানুষের আনাগোনা বেড়ে গেছে, তাই কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক।" তিনি বললেন: "আমার কাছে কারও আসার কোনো প্রয়োজন নেই।" ফলে মানুষের আসা বন্ধ হয়ে গেল।

অতঃপর শরীফ এমন এক রোগে আক্রান্ত হলেন যা তাঁর দুই পায়ের ওপর প্রভাব ফেলল এবং পা দুটি ফুলে গেল। বলা হয়ে থাকে যে, শত্রুদের মধ্য হতে কোনো এক ফকীহ নামধারী ব্যক্তি তাঁর জুতোয় বিষ প্রয়োগ করেছিল। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
ثم إن أبا نصر بن القشيرى أخرج من بغداد، وأمر بملازمة بلده لقطع الفتنة.

وذلك نفى فى الحقيقة.

قال ابن النجار: كوتب نظام الملك الوزير بأن يأمره بالرجوع إلى وطنه، وقطع هذه الثائرة، فبعث واستحضره، وأمره بلزوم وطنه، فأقام به إلى حين وفاته

قال القاضى أبو الحسين: أخذ الشريف أبو جعفر فى فتنة أبى نصر بن القشيرى، وحبس أياما، فسرد الصوم وما أكل لأحد شيئا.

قال: ودخلت عليه فى تلك الأيام ورأيته يقرأ فى المصحف، فقال لى:

قال الله تعالى: (45:2 {وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلاةِ)} تدرى ما الصبر؟ قلت:

لا، قال: هو الصوم. ولم يفطر إلى أن بلغ منه المرض، وضج الناس من حبسه.

وأخرج إلى الحريم الطاهرى بالجانب الغربى(1) فمات هناك.

وذكر ابن الجوزى: أنه لما اشتد مرضه، تحامل بين اثنين، ومضى إلى باب الحجرة، فقال: جاء الموت، ودنا الوقت، وما أحبّ أن أموت إلا فى بيتى بين أهلى. فأذن له. فمضى إلى بيت أخته بالحريم.

قال: وقرأت بخط أبى على بن البناء قال: جاءت رقعة بخط الشريف أبى جعفر، ووصيته إلى أبى عبد الله بن جردة فكتبها. وهذه نسختها:

«مالى - يشهد الله - سوى الحبل والدلو، وشئ يخفى علىّ لا قدر له.

والشيخ أبو عبد الله، إن راعاكم بعدى، وإلاّ فالله لكم. قال الله عز وجل:

(9:4 {وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعافاً خافُوا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللهَ)} ومذهبى: الكتاب، والسنة، وإجماع الأمة، وما عليه أحمد، ومالك والشافعى، وغيرهم ممن يكثر ذكرهم، والصلاة: بجامع المنصور إن سهل الله تعالى ذلك عليهم.

--------------------------------------------

(1) نسبة إلى طاهر بن الحسين. وبه كانت منازلهم. وسمى «الحريم» لأن من لجأ إليه أمن.
অতঃপর আবু নাসর ইবনুল কুশায়রীকে বাগদাদ থেকে বহিষ্কার করা হলো এবং ফিতনা বন্ধ করার জন্য তাকে তার নিজ শহরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি নির্বাসন।

ইবনে নাজ্জার বলেন: উজির নিজামুল মুলক-এর নিকট পত্র প্রেরণ করা হলো যাতে তিনি তাকে তার স্বদেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং এই বিশৃঙ্খলা দমন করেন। ফলে তিনি লোক পাঠিয়ে তাকে ডেকে আনলেন এবং নিজ শহরে অবস্থান করার আদেশ দিলেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন।

কাজী আবু হুসাইন বলেন: আবু নাসর ইবনুল কুশায়রীর ফিতনার ঘটনায় শরীফ আবু জাফরকে পাকড়াও করা হলো এবং কয়েক দিন কারারুদ্ধ করে রাখা হলো। তিনি লাগাতার রোজা রাখলেন এবং কারো কোনো খাবার খেলেন না।

তিনি বলেন: সেই দিনগুলোতে আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম তিনি কুরআন তিলাওয়াত করছেন। তখন তিনি আমাকে বললেন:

আল্লাহ তাআলা বলেন: (২:৪৫) {তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো}। তুমি কি জানো 'সবর' কী? আমি বললাম:

না। তিনি বললেন: তা হলো রোজা। তিনি ইফতার করেননি যতক্ষণ না অসুস্থতা তাঁকে কাবু করে ফেলল এবং তাঁর বন্দিত্বে মানুষজন উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল।

তাঁকে পশ্চিম পার্শ্বের হারিমুত ত্বাহিরিতে(১) স্থানান্তর করা হলো এবং সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

ইবনুল জাওযী উল্লেখ করেন: যখন তাঁর অসুস্থতা প্রবল হলো, তখন তিনি দুজন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে কক্ষের দরজার কাছে গেলেন এবং বললেন: মৃত্যু সমাগত, সময় ঘনিয়ে এসেছে, আর আমি নিজ ঘরে আপনজনদের মাঝেই মৃত্যুবরণ করা পছন্দ করি। এরপর তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলো। ফলে তিনি হারিমের অন্তর্গত তাঁর বোনের বাড়িতে গেলেন।

তিনি বলেন: আমি আবু আলী ইবনুল বান্নার হাতে লেখা পড়েছি, তিনি বলেন: শরীফ আবু জাফরের হস্তাক্ষরে একটি চিরকুট এবং আবু আব্দুল্লাহ ইবনে জুরদাহর প্রতি তাঁর অসিয়তনামা এলো, তিনি তা লিখে রাখলেন। তার অনুলিপি হলো এই:

«আল্লাহ সাক্ষী, একটি দড়ি ও বালতি ছাড়া আমার আর কোনো সম্পদ নেই, আর সামান্য কিছু জিনিস যা আমার অজ্ঞাত এবং যার কোনো মূল্য নেই।

আর শায়খ আবু আব্দুল্লাহ, তিনি যদি আমার পরে তোমাদের দেখাশোনা করেন তবে ভালো, অন্যথায় আল্লাহই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন:

(৪:৯) {আর তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পেছনে অসহায় সন্তান-সন্ততি রেখে গেলে তাদের বিষয়ে শঙ্কিত হতো, তাই তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে}। আর আমার মাযহাব হলো: কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের ইজমা এবং ইমাম আহমাদ, মালিক, শাফিঈ ও অন্য যাদের নাম অনেক উচ্চারিত হয় তাঁদের অনুসৃত পথ। আর জানাজার সালাত: জামে মানসুরে যেন হয়, যদি আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য তা সহজ করেন।

--------------------------------------------

(১) এটি তাহির ইবনে হুসাইনের সাথে সম্পৃক্ত। সেখানে তাদের আবাসস্থল ছিল। এর নাম 'হারিম' রাখা হয়েছে কারণ কেউ সেখানে আশ্রয় নিলে নিরাপদ থাকত।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ولا يعقد لى عزاء، ولا يشق علىّ جيب، ولا يلطم خد. فمن فعل ذلك فالله حسيبه».

وتوفى رحمه الله تعالى ليلة الخميس سحرا، خامس عشر صفر سنة سبعين وأربعمائة، وغسله أبو سعيد البردانى، وابن الفتى بوصية منه، وكانا قد خدماه طول مرضه.

وصلّى عليه يوم الجمعة ضحى بجامع المنصور، وأمّ الناس أخوه الشريف أبو الفضل محمد. ولم يسع الجامع الخلق وانضغطوا، ولم يتهيأ لكثير منهم الصلاة، ولم يبق رئيس ولا مرءوس من أرباب الدولة وغيرهم إلا حضره، إلا من شاء الله، وازدحم الناس على حمله. وكان يوما مشهودا بكثرة الخلق. وعظم البكاء والحزن. وكانت العامة تقول: ترحّموا على الشريف الشهيد، القتيل المسموم؛ لما ذكر من أن بعض المبتدعة: ألقى فى مداسه سما. ودفن إلى جانب الإمام أحمد.

قال ابن السمعانى: سمعت أبا يعلى بن أبى حازم بن أبى يعلى بن الفراء الفقيه الحنبلى - يوم خرجنا إلى الصلاة على شيخنا أبى بكر بن عبد الباقى، ورأى ازدحام العوام، وتزاحمهم لحمل الجنازة - فقال أبو يعلى: العوام فيهم جهل عظيم.

سمعت أنه فى اليوم الذى مات فيه الشريف أبو جعفر حملوه ودفنوه فى قبر الإمام أحمد، وما قدر أحد أن يقول لهم: لا تنبشوا قبر الإمام أحمد، وادفنوه بجنبه.

فقال أبو محمد التميمى - من بين الجماعة - كيف تدفنونه فى قبر الإمام أحمد بن حنبل وبنت أحمد مدفونة معه فى القبر؟ فإن جاز دفنه مع الإمام لا يجوز دفنه مع ابنته.

فقال بعض العوام: اسكت، فقد زوجنا بنت أحمد من الشريف، فسكت التميمى، وقال: ليس هذا يوم كلام.

ولزم الناس قبره، فكانوا يبيتون عنده كل ليلة أربعاء، ويختمون الختمات، ويخرج المتعيشون، فيبيعون الفواكه والمأكولات، فصار ذلك فرجة للناس. ولم
আমার জন্য যেন কোনো শোকসভা আয়োজন করা না হয়, আমার শোকে যেন কোনো কাপড় ছেঁড়া না হয় এবং চেহারায় চড় মারা না হয়। যে ব্যক্তি এমনটি করবে, আল্লাহই তার হিসাব গ্রহণকারী।

তিনি (আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি দয়া করুন) ৪৭০ হিজরি সনের ১৫ই সফর বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী আবু সাইদ আল-বারদানী এবং ইবনুল ফাতা তাঁকে গোসল করান; তাঁরা তাঁর অসুস্থতার পুরো সময় তাঁর খেদমত করেছিলেন।

জুমার দিন পূর্বাহ্নে জামে আল-মানসুরে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং তাঁর ভাই আশ-শরিফ আবু আল-ফদল মুহাম্মদ ইমামতি করেন। মসজিদে মানুষের সংকুলান না হওয়ায় সবাই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়েছিলেন এবং অনেকের পক্ষেই নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা সাধারণ কর্মচারী এবং অন্যান্যদের মধ্যে আল্লাহ যাঁর ক্ষেত্রে ইচ্ছা করেছেন তিনি ছাড়া আর কেউই উপস্থিত হতে বাকি ছিলেন না। তাঁকে বহন করার জন্য মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। বিশাল জনসমাগমের কারণে এটি ছিল একটি স্মরণীয় দিন। ক্রন্দন ও শোকের মাতম প্রকট হয়ে উঠেছিল। সাধারণ মানুষ বলছিল: "শহীদ ও বিষপ্রয়োগে নিহত শরিফের জন্য রহমতের দোয়া করো"; কারণ এ কথা আলোচিত হয়েছিল যে, কতিপয় বিদআতি তাঁর জুতোর মধ্যে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিল। তাঁকে ইমাম আহমদের পাশে দাফন করা হয়।

ইবনুস সামআনী বলেন: আমি হাম্বলী ফকিহ আবু ইয়ালা ইবনে আবি হাজিম ইবনে আবি ইয়ালা ইবনুল ফাররা-কে বলতে শুনেছি—যেদিন আমরা আমাদের শাইখ আবু বকর ইবনে আব্দুল বাকীর জানাজায় বেরিয়েছিলাম এবং তিনি সাধারণ মানুষের ভিড় ও জানাজা বহনের জন্য তাদের ঠেলাঠেলি দেখেছিলেন—তখন আবু ইয়ালা বলেছিলেন: সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অজ্ঞতা বিদ্যমান।

আমি শুনেছি যে, শরিফ আবু জাফর যেদিন ইন্তেকাল করেন, সেদিন লোকেরা তাঁকে বহন করে নিয়ে যায় এবং ইমাম আহমদের কবরের ভেতরেই দাফন করে ফেলে। তখন তাঁদের এ কথা বলার সাহস কারও ছিল না যে, "তোমরা ইমাম আহমদের কবর খুঁড়ো না, বরং তাঁকে তাঁর পাশে দাফন করো।"

তখন লোকজনের মধ্য থেকে আবু মুহাম্মদ আত-তামিমী বললেন—"তোমরা কীভাবে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের কবরে তাঁকে দাফন করছ, অথচ আহমদের মেয়েও তো তাঁর সাথে একই কবরে দাফনকৃত? যদি ইমামের সাথে তাঁকে দাফন করা জায়েজও হয়, তাঁর মেয়ের সাথে দাফন করা তো জায়েজ নয়।"

তখন সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে কেউ একজন বলে উঠল: "চুপ করো, আমরা আহমদের মেয়ের সাথে শরিফের বিয়ে দিয়ে দিয়েছি।" এতে তামিমী চুপ হয়ে গেলেন এবং বললেন: "আজ কথা বলার দিন নয়।"

মানুষ তাঁর কবরের সান্নিধ্য আঁকড়ে ধরল; তারা প্রতি বুধবার রাতে সেখানে রাত্রিযাপন করত এবং কুরআন খতম করত। জীবিকান্বেষী বিক্রেতারা সেখানে উপস্থিত হতো এবং ফলমূল ও খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করত, ফলে এটি মানুষের জন্য একটি মিলনস্থলে পরিণত হলো। এবং...
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
يزالوا على ذلك مدة شهور، حتى دخل الشتاء ومنعهم البرد. فيقال إنه: قرئ على قبره فى تلك المدة عشرة آلاف ختمة.

ورآه بعضهم فى المنام، فقال له: ما فعل الله بك؟ قال: لما وضعت فى قبرى رأيت قبة من درة بيضاء لها ثلاثة أبواب، وقائل يقول: هذه لك، أدخل من أى أبوابها شئت.

ورآه آخر فى المنام، فقال: ما فعل الله بك؟ قال: التقيت بأحمد بن حنبل فقال لى: يا أبا جعفر، لقد جاهدت فى الله حق جهاده، وقد أعطاك الله الرضى رضى الله عنه.

وقع لى جملة من حديث الشريف أبى جعفر بالسماع، فمنها: ما أخبرنا به أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن عبد العزيز الصوفى - بالقاهرة - أخبرنا أبو العز عبد العزيز بن عبد المنعم الحرانى أخبرنا أبو على بن أبى القاسم ابن الحريف أخبرنا القاضى أبو بكر محمد بن عبد الباقى البزار أخبرنا أستاذى أبو جعفر عبد الخالق ابن عيسى الهاشمى - بقراءتى عليه - قلت له: حدثكم أبو القاسم عبد الملك بن محمد ابن بشران أخبرنا أبو على محمد بن أحمد بن الصواف حدثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل حدثنا أبى، حدثنا يزيد بن هارون وأبو عبد الرحمن قالا: أخبرنا المسعود عن محمد بن عبد الرحمن مولى أبى طلحة عن عيسى بن طلحة عن أبى هريرة عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: «لا يلج النار أحد بكى من خشية الله، حتى يعود اللبن فى الضرع، ولا يجتمع غبار فى سبيل الله ودخان جهنم فى منخرى امرئ أبدا».

وقرأت بخط ابن عقيل فى الفنون قال: مما استحسنته من فقه الشريف الإمام الزاهد أبى جعفر عبد الخالق بن عيسى بن أبى موسى الهاشمى رضى الله عنه وتدقيقه - وإن كان أكثر من أن يحصى -: ما قاله فى أوائل قدوم الغزالى بغداد، وجعلوا يأخذون من أموال الناس فى الطرقات، وتقصر أيدى العوام عنهم، فقال: الذى نسبه من مذهب أبى حنيفة: أن تجرى عليهم أحكام
তারা বেশ কয়েকমাস এই অবস্থায় ছিলেন, অবশেষে শীত শুরু হলো এবং প্রচণ্ড ঠাণ্ডা তাদের বাধা দিল। বলা হয় যে, সেই সময়ের মধ্যে তাঁর কবরের পাশে দশ হাজার বার কুরআন খতম করা হয়েছিল।

তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে স্বপ্নে দেখলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: যখন আমাকে আমার কবরে রাখা হলো, তখন আমি সাদা মুক্তার একটি গম্বুজ দেখতে পেলাম যার তিনটি দরজা ছিল। একজন ঘোষক বলছিলেন: এটি আপনার জন্য, আপনি এর যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করুন।

অন্য একজন তাঁকে স্বপ্নে দেখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: আমি আহমাদ বিন হাম্বলের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আমাকে বললেন: হে আবু জাফর! আপনি আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন, আর আল্লাহ আপনাকে সন্তুষ্টি দান করেছেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

শরীফ আবু জাফরের বর্ণিত কিছু হাদিস শোনার মাধ্যমে আমার নিকট পৌঁছেছে। তার মধ্যে একটি হলো: যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আব্দুল আজিজ আস-সুফি—কায়রোতে—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ইজ্জ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল মুনইম আল-হাররানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন আবুল কাসেম ইবনুল হারিফ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-বাযযার, তিনি বলেন: আমার উস্তাদ আবু জাফর আব্দুল খালিক ইবনে ঈসা আল-হাশেমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমি তাঁর নিকট পাঠকালে—আমি তাঁকে বললাম: আবুল কাসেম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ ইবনে বিশরান কি আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন? তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আস-সাওয়াফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন হারুন এবং আবু আব্দুর রহমান, তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মাসউদি, মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান (আবু তালহার মুক্তদাস) থেকে, তিনি ঈসা বিন তালহা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত জাহান্নামে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না দুধ পুনরায় ওলানে ফিরে যায়। আর আল্লাহর পথের ধুলিকণা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কখনো কোনো ব্যক্তির নাসারন্ধ্রে একত্রিত হবে না।»

আমি ইবন আকিলের স্বহস্তে লেখা আল-ফুনুন কিতাবে পড়েছি, তিনি বলেছেন: শরীফ ইমাম যাহেদ আবু জাফর আব্দুল খালিক বিন ঈসা বিন আবু মুসা আল-হাশেমি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফিকহী জ্ঞান ও সূক্ষ্ম বিচারবোধের মধ্যে যা আমার কাছে চমৎকার লেগেছে—যদিও তা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়—তা হলো: ইমাম গাযালীর বাগদাদে আগমনের প্রাথমিক দিনগুলোতে তিনি যা বলেছিলেন। তখন কিছু লোক রাস্তাঘাটে মানুষের সম্পদ ছিনিয়ে নিচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিরোধ করতে পারছিল না। তখন তিনি বললেন: ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের সাথে যা সম্পর্কিত তা হলো: তাদের ওপর সেই বিধানসমূহ প্রয়োগ করা হবে...
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
قطّاع الطريق، وإن كان ذلك فى الحضر. لأنهم عللوا بأن فى الحضر يلحق الغوث، فلا يكون لهم حكم قطاع الطريق فى الصحارى والبرارى. وهذا التعليل موجود فى الحضر؛ لأنه لا مغيث يغيث منهم، لقوتهم واستطالتهم على العوام.

قلت: هذا قريب من قول القاضى أبى يعلى: إن أصحابنا اختلفوا فى المحاربين فى الحضر: هل تجرى عليهم أحكام المحاربين؟ فظاهر كلام الخرقى:

أنها لا تجرى عليهم. وقال أبو بكر: بل أحكام المحاربين جارية عليهم. وفصّل القاضى بين أن يفعلوا ذلك فى حضر يلحق فيه الغوث عادة أولا. فإن كان يلحق فيه الغوث عادة: فليسوا بمحاربين، وإلاّ فهم محاربون. ومعلوم أن السلطان إذا امتنع من دفعهم - إمّا لضعفه وعجزه، وإما لكونه ظالما يسلط أعوانه على الظلم - تعذّر لحوق الغوث مع ذلك عادة. فيثبت لهم - على قوله - أحكام المحاربين والله أعلم.

ونقلت من بعض تعاليق الإمام أبى العباس أحمد بن تيمية رحمه الله. مما نقله من الفنون لابن عقيل: حادثة رجل حلف على زوجته بالطلاق الثلاث:

لا فعلت كذا، فمضى على ذلك مدة، ثم قالت: قد كنت فعلته. هل تصدق مع تكذيب الزوج لها؟ أجاب الشريف الإمام أبو جعفر بن أبى موسى: تصدّق ولا ينفعه تكذيبه. وأجاب الشيخ الإمام أبو محمد: لا تصدق عليه، والنكاح بحاله.

قلت: أبو محمد: أظنه التميمى.

ومن الفنون أيضا: مسألة، إذا وجد على ثوبه ماء واشتبه عليه: أمذى أم منى؟ إن قلتم: يجب حمله على أقل الأحوال، من كونه مذيا، لأن الأصل سقوط غسل البدن: أوجبتم غسل الثوب. لأن المذى نجس، والأصل سقوط غسل الثوب متقابلا. فقال الشريف أبو جعفر بن أبى موسى رضى الله عنه:

لا يجب غسل الثوب ولا البدن جميعا، لتردد الأمر فيهما. وأوجب غسل أربعة الأعضاء. لأن الخارج - أىّ خارج كان - يوجب غسل الأعضاء.
পথের ডাকাতগণ, যদিও তা লোকালয়ে বা জনপদে হয়। কারণ তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, জনপদে সাহায্য বা উদ্ধার পাওয়া সম্ভব, তাই মরুভূমি ও প্রান্তরের ডাকাতদের বিধান তাদের ওপর প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু এই যুক্তি জনপদেও বিদ্যমান থাকে; কেননা তাদের শক্তি ও সাধারণ মানুষের ওপর তাদের প্রবল দাপটের কারণে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করার মতো কোনো উদ্ধারকারী পাওয়া যায় না।

আমি বলি: এটি কাজী আবু ইয়ালার এই বক্তব্যের কাছাকাছি যে: আমাদের ফকিহগণ জনপদে যুদ্ধকারীদের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন: তাদের ওপর কি যুদ্ধকারীদের বিধান কার্যকর হবে? খিরাকীর বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ হলো:

তাদের ওপর এই বিধান কার্যকর হবে না। আবু বকর বলেছেন: বরং যুদ্ধকারীদের বিধানই তাদের ওপর কার্যকর হবে। আর কাজী এ বিষয়ে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন যে, তারা এমন জনপদে এটি করেছে কি না যেখানে সাধারণত সাহায্য পাওয়া যায়। যদি সেখানে সাধারণত সাহায্য পাওয়া সম্ভব হয়, তবে তারা যুদ্ধকারী হিসেবে গণ্য হবে না; অন্যথায় তারা যুদ্ধকারী হিসেবে গণ্য হবে। আর এটি সুবিদিত যে, শাসক বা সুলতান যদি তাদের প্রতিহত করতে নিবৃত থাকেন—হয়তো তার দুর্বলতা ও অক্ষমতার কারণে, অথবা তিনি জালেম হওয়ার কারণে নিজের সহযোগীদের জুলুম করার সুযোগ দেন—তবে এমতাবস্থায় সাধারণত সাহায্য পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে কাজীর বক্তব্য অনুযায়ী তাদের ক্ষেত্রে যুদ্ধকারীদের বিধানই সাব্যস্ত হবে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আমি ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর কিছু পাণ্ডুলিপি থেকে এটি নকল করেছি, যা তিনি ইবনুল আকীলের 'আল-ফুনুন' থেকে উদ্ধৃত করেছেন: এক ব্যক্তির ঘটনা যে তার স্ত্রীর ওপর তিন তালাকের শপথ করেছিল এই বলে যে:

'আমি এই কাজ করব না', এরপর কিছুদিন অতিবাহিত হলো, তারপর স্ত্রী বলল: 'আমি তো এটি করেছি'। স্বামীর অস্বীকার করা সত্ত্বেও কি স্ত্রীর কথা সত্য বলে গ্রহণ করা হবে? শরীফ ইমাম আবু জাফর ইবনে আবু মুসা উত্তর দিয়েছেন: স্ত্রীর কথা সত্য বলে গ্রহণ করা হবে এবং স্বামীর অস্বীকার করা তার কোনো উপকারে আসবে না। আর শাইখ ইমাম আবু মুহাম্মদ উত্তর দিয়েছেন: স্ত্রীর দাবি গ্রহণ করা হবে না এবং বিবাহ তার নিজ অবস্থায় বহাল থাকবে।

আমি বলি: আবু মুহাম্মদ; আমার ধারণা তিনি তামীমী।

'আল-ফুনুন' থেকে আরও একটি মাসয়ালা: যখন কাপড়ে কোনো তরল পাওয়া যায় এবং তা মাযী নাকি মানী—এ বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়? যদি আপনারা বলেন: একে সর্বনিম্ন অবস্থার ওপর ধরে নিতে হবে, অর্থাৎ তা মাযী হিসেবে গণ্য হবে, কারণ মূল নীতি হলো শরীরের ওপর গোসল ফরজ না হওয়া: তবে আপনারা কাপড় ধোয়া ওয়াজিব করে দিচ্ছেন। কারণ মাযী নাপাক, আর কাপড় ধোয়া থেকেও অব্যাহতি থাকা একটি বিপরীতমুখী মূল নীতি। তখন শরীফ আবু জাফর ইবনে আবু মুসা (রা.) বললেন:

বিষিয়টি নিয়ে সংশয় থাকার কারণে কাপড় বা শরীর কোনোটিই ধোয়া ওয়াজিব হবে না। তবে তিনি ওজুর চারটি অঙ্গ ধৌত করা ওয়াজিব করেছেন। কারণ নির্গত বস্তু—যা-ই হোক না কেন—অঙ্গসমূহ ধৌত করা ওয়াজিব করে দেয়।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وقد ذكر هذه المسألة ابن تميم فى كتابه، من الفنون، وعزاها إلى ابن أبى موسى، فربما توهم السامع أنه ابن أبى موسى صاحب الإرشاد، وليس كذلك.

وهذه المسألة تشبه مسألة الرجلين إذا وجدا على فراشهما منيّا ولم يعلما من خرج منه، أو سمعا صوتا ولم يعلما صاحبه. وفى وجوب الغسل والوضوء عليهما روايتان؛ لكن أرجحهما لا يجب. وعلى القول بانتفاء الوجوب، فقالوا: لا يأتمّ أحدهما بصاحبه، ولا يصافّه وحده، لأنه يظهر حكم الحدث المتيقن باجتماعهما، ويعلم أن صلاة أحدهما باطلة. فتبطل الجماعة والمصافّة.

ونظير هذا: ما قلنا فى المختلفين فى جهة القبلة: إنه لا يأتمّ أحدهما بصاحبه فإنه يتيقن باجتماعهما فى الصلاة خطأ أحدهما فى القبلة، فتبطل جماعتهما.

وكذلك ما ذكره أكثر الأصحاب: فى رجلين علّق كل منهما عتق عبده على شرط، ووجد أحد الشرطين يقينا، ولا يعلم عينه أنه لا يحكم بعتق عبد واحد منهما، ويستصحب أصل ملكه. فإن اشترى أحدهما عبد الآخر: أخرج المعتق منهما بالقرعة على الصحيح أيضا.

فكذلك يقال ههنا: يستصحب أصل طهارة الثوب والبدن من النجاسة والجنابة، ولكن ليس له أن يصلى بحاله فى الثوب؛ كأنّا نتيقن بذلك حصول المفسد لصلاحيته، وهو إما الجنابة وإما النجاسة.

ومن غرائب الشريف: ما نقله عنه ابن تميم فى كتابه: أن المتوضى إذا نوى غسل النجاسة مع الحدث: لم يجزه، وأن طهارة المستحاضة لا ترفع الحدث.

وذكر الشريف فى رءوس مسائله: أنّ القدر المجزئ مسحه من الخفين:

ثلاثة أصابع، وأن أحمد رجع إلى ذلك فى مسح الخف ومسح الرأس. قال:

وكان شيخنا ينصر أولا مسح الأكثر، ثم رأيته مائلا إلى هذا. وهذا غريب جدا.

 

‌‌12 - عبد الرحمن بن محمد

بن إسحاق بن محمد بن يحيى بن إبراهيم ابن الوليد بن منده بن بطّة بن أستندار - واسمه الفيرزان - بن جهار بخت،
ইবনু তামীম তার 'আল-ফুনুন' গ্রন্থে এই মাসআলাটি উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে ইবনু আবী মূসার দিকে সম্বন্ধ করেছেন। ফলে শ্রবণকারীর এমন ধারণা হতে পারে যে, তিনি 'আল-ইরশাদ' প্রণেতা ইবনু আবী মূসা, অথচ বিষয়টি এমন নয়।

আর এই মাসআলাটি ঐ দুই ব্যক্তির মাসআলার সদৃশ যারা তাদের বিছানায় বীর্য দেখতে পেল কিন্তু কার থেকে তা নির্গত হয়েছে তা তারা জানতে পারল না, অথবা তারা শব্দ শুনতে পেল কিন্তু তার শব্দকারীকে চিনতে পারল না। তাদের উভয়ের ওপর গোসল ও উযূ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে; তবে সেগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধতর মত হলো তা ওয়াজিব হবে না। আর ওয়াজিব না হওয়ার মতানুসারে ফকীহগণ বলেছেন: তাদের একজন অন্যজনের ইমামতি করবে না এবং তার পাশে একাকী কাতারবদ্ধ হবে না। কারণ তাদের উভয়ের একত্রে উপস্থিত হওয়ার ফলে নিশ্চিতভাবে অপবিত্রতার (হাদাস) হুকুম প্রকাশ পায় এবং এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে তাদের একজনের সালাত বাতিল। সুতরাং জামাআত এবং কাতারবদ্ধ হওয়া বাতিল হয়ে যাবে।

আর এর উদাহরণ হলো কিবলার দিক নিয়ে মতবিরোধকারী দুজনের ব্যাপারে আমরা যা বলেছি: তাদের একজন অন্যজনের ইমামতি করবে না। কেননা সালাতে তাদের উভয়ের একত্রে সমাবেশের দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায় যে তাদের একজন কিবলার ক্ষেত্রে ভুল করেছে, ফলে তাদের জামাআত বাতিল হয়ে যাবে।

তদ্রূপ অধিকাংশ আলেম যা উল্লেখ করেছেন: ঐ দুই ব্যক্তির ব্যাপারে যারা প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ দাসের মুক্তিকে একটি শর্তের ওপর ঝুলিয়ে রেখেছিল এবং নিশ্চিতভাবে দুটি শর্তের একটি পাওয়া গেছে কিন্তু নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি কোনটি; এমতাবস্থায় তাদের কারও দাসেরই মুক্তির ফয়সালা দেওয়া হবে না এবং মূল মালিকানার বিষয়টি বহাল (ইসতিসহাব) থাকবে। তবে তাদের একজন যদি অন্যজনের দাসকে ক্রয় করে নেয়, তবে সঠিক মত অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে মুক্ত দাসকে নির্ধারণ করা হবে।

ঠিক তেমনি এখানেও বলা হবে: কাপড় এবং শরীরের নাপাকি ও জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্র থাকার মূল অবস্থাকে বহাল ধরা হবে, কিন্তু সেই কাপড়ের বর্তমান অবস্থায় তার জন্য সালাত আদায় করা বৈধ হবে না; কারণ এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হচ্ছি যে সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি হয়েছে, যা হয় জানাবাত অথবা নাপাকি।

শরীফের বিরল মতগুলোর মধ্যে একটি হলো যা ইবনু তামীম তার কিতাবে তার থেকে বর্ণনা করেছেন: উযূকারী যদি অপবিত্রতার (হাদাস) সাথে নাপাকি ধোয়ার নিয়ত করে, তবে তা যথেষ্ট হবে না এবং ইসতিহাযাগ্রস্ত নারীর পবিত্রতা অর্জন হাদাস দূর করে না।

শরীফ তার 'রুউসুল মাসাইল'-এ উল্লেখ করেছেন যে, মোজার ওপর মাসেহ করার ক্ষেত্রে যতটুকু পরিমাণ যথেষ্ট তা হলো:

তিন আঙুল পরিমাণ, এবং ইমাম আহমাদ মোজা মাসেহ ও মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রে এই মতের দিকে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেন:

আমাদের শায়খ প্রথমে অধিকাংশ অংশ মাসেহ করার মতকে সমর্থন করতেন, পরে আমি তাকে এই মতের দিকে ঝুঁকতে দেখেছি। আর এটি অত্যন্ত বিরল।

 

‌‌১২ - আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ

বিন ইসহাক বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন ইবরাহীম ইবনুল ওয়ালীদ বিন মান্দাহ বিন বাত্তাহ বিন আসতানদার—আর তার নাম হলো আল-ফায়রুযান—বিন জাহার বাখত,
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
العبدى الأصبهانى الإمام الحافظ، أبو القاسم ابن الحافظ الكبير أبى عبد الله بن منده. ومنده لقب إبراهيم جده الأعلى.

ذكره أبو الحسين، وابن الجوزى فى طبقات الأصحاب فى آخر المناقب.

وترجمه ابن الجوزى فى تاريخه، فقال: ولد سنة ثلاث وثمانين وثلاثمائة.

وسمع أباه وأبا بكر بن مردويه، وخلقا كثيرا. وكان كثير السماع، كبير الشأن، سافر فى البلاد، وصنف التصانيف، وخرّج التخاريج. وكان ذا وقار وسمت، وأتباع فيهم كثرة. وكان متمسكا بالسنة، معرضا عن أهل البدع، آمرا بالمعروف، ناهيا عن المنكر، لا يخاف فى الله لومة لائم.

وكان سعد بن محمد الزّنجانى يقول: حفظ الله الإسلام برجلين، أحدهما بأصبهان، والآخر بهراة: عبد الرحمن بن منده، وعبد الله الأنصارى.

وقال ابن السمعانى: كان كبير الشأن، جليل القدر، كثير السماع، واسع الرواية. سافر إلى الحجاز وبغداد وهمذان، وخراسان، وصنف التصانيف.

وقال القاضى أبو الحسين: لم يكن فى عصره وبلده مثله فى ورعه وزهده وصيانته، وحاله أظهر من ذلك. وكانت بينه وبين الوالد السعيد مكاتبات.

وقال غيره: سمع أبو القاسم من أبيه، وإبراهيم بن خرشيد قوله، وإبراهيم ابن محمد الجلاب، وأبى جعفر بن المرزبان، وأبى ذر بن الطبرانى، وخلق بأصبهان، ومن أبى عمر بن مهدى، وهلال الحفار، وغيرهما ببغداد. ومن ابن خزيمة الواسطى بها، ومن ابن جهضم بمكة، ومن أبى بكر الحيرى، وأبى سعيد الصيرفى بنيسابور، لكنه لم يرو عن الحيرى كما فعل الأنصارى، وأجاز له زاهر السّرخسى، وتفرد بذلك، ومحمد بن عبد الله الجوزقى، وعبد الرحمن ابن أبى شريح.

وقال أبو عبد الله الدقاق الحافظ: فضائل ابن منده ومناقبه أكثر من أن تعد - إلى أن قال: ومن أنا لنشر فضله؟ كان صاحب خلق وفتوة، وسخاء
আল-আবদি আল-আসবাহানি আল-ইমাম আল-হাফিজ, আবুল কাসিম ইবনুল হাফিজ আল-কাবির আবু আবদিল্লাহ ইবনে মান্দাহ। মান্দাহ ছিল তার ঊর্ধ্বতন দাদা ইব্রাহিমের উপাধি।

আবু আল-হুসাইন এবং ইবনুল জাওজি 'মানাকিব' এর শেষে 'তাবাকাতুল আসহাব'-এ তার উল্লেখ করেছেন।

ইবনুল জাওজি তার ইতিহাস গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: তিনি তিনশত তিরাশি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি তার পিতা, আবু বকর ইবনে মারদুওয়াইহ এবং অসংখ্য ব্যক্তির নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণকারী ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং হাদিস সংকলন করেছেন। তিনি গাম্ভীর্য ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং তার অনুসারীদের সংখ্যা ছিল অনেক। তিনি সুন্নাহর প্রতি অবিচল ছিলেন, বিদআতীদের থেকে বিমুখ ছিলেন, সৎ কাজের আদেশ দানকারী ও অসৎ কাজে নিষেধকারী ছিলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না।

সাদ ইবনে মুহাম্মাদ আজ-জানজানি বলতেন: আল্লাহ তাআলা দুই ব্যক্তির মাধ্যমে ইসলামকে রক্ষা করেছেন, যাদের একজন আসবাহানের এবং অপরজন হারাতের: আবদুর রহমান ইবনে মান্দাহ এবং আবদুল্লাহ আল-আনসারি।

ইবনুস সামআনি বলেন: তিনি সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানিত ছিলেন, প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তার বর্ণনার পরিধি ছিল ব্যাপক। তিনি হিজাজ, বাগদাদ, হামাদান ও খুরাসান সফর করেছেন এবং গ্রন্থাদি রচনা করেছেন।

কাজি আবু আল-হুসাইন বলেন: তার যুগে ও তার শহরে তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা এবং নিজেকে কলুষমুক্ত রাখায় তার মতো কেউ ছিল না; বরং তার অবস্থা ছিল এর চাইতেও প্রসিদ্ধ। আমার বরকতময় পিতার সাথে তার পত্র যোগাযোগ ছিল।

অন্যান্যরা বলেন: আবুল কাসিম তার পিতা, ইব্রাহিম ইবনে খুরশিদ কাওলাহ, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আল-জাল্লাব, আবু জাফর ইবনুল মারজুবান, আবু যার ইবনে আত-তাবারানি এবং আসবাহানের অসংখ্য ব্যক্তির নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। বাগদাদে তিনি আবু উমর ইবনে মাহদি, হিলাল আল-হাফফার ও অন্যদের নিকট শ্রবণ করেছেন। সেখানে তিনি ইবনে খুজাইমাহ আল-ওয়াসিতি, মক্কায় ইবনে জাহদাম এবং নিশাপুরে আবু বকর আল-হাইরি ও আবু সাঈদ আস-সাইরাফি থেকে শুনেছেন। তবে তিনি আল-হাইরি থেকে বর্ণনা করেননি যেভাবে আল-আনসারি করেছিলেন। জহির আস-সারখাসি তাকে ইজাজত প্রদান করেছেন—এবং তিনি এতে একক ছিলেন—এছাড়াও মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল্লাহ আল-জাওজাকি ও আবদুর রহমান ইবনে আবি শুরাইহ তাকে ইজাজত দিয়েছেন।

হাফিজ আবু আবদিল্লাহ আদ-দাক্কাক বলেন: ইবনে মান্দাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলি গণনার অতীত—পরবর্তীতে তিনি বলেন: তার মর্যাদা প্রচার করার মতো আমি কে? তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্র, পৌরুষদীপ্ত উদারতা ও মহানুভবতার অধিকারী।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وبهاء، والإجازة كانت عنده قوية، وله تصانيف كثيرة، وردود جمّة على المبتدعين والمنحرفين فى الصفات وغيرها.

قال: وكان جذعا فى أعين المخالفين، لا يخاف فى الله لومة لائم - إلى أن قال: ووصفه أكثر من أن يحصى.

وقال يحيى بن منده: كان عمى سيفا على أهل البدع، وهو أكبر من أن يثنى عليه مثلى، كان والله آمرا بالمعروف، ناهيا عن المنكر، وفى الغدوّ والآصال ذاكرا، ولنفسه فى المصالح قاهرا، أعقب الله من ذكره بالشرّ الندامة. وكان عظيم الحلم كثير العلم، قرأت عليه قول شعبة «من كتبت عنه حديثا فأنا له عبد» فقال «من كتب عنى حديثا فأنا له عبد»

قلت: قد ذكر عن شيخ الإسلام الأنصارى أنه قال: كانت مضرته فى الإسلام أكثر من منفعته. وعن إسماعيل التيمى أنه قال: خالف أباه فى مسائل، وأعرض عنه مشايخ الوقت، وما تركنى أبى أسمع منه. وكان أخوه خيرا منه.

وهذا ليس بقادح - إن صح - فإن الأنصارى والتيمى وأمثالهما يقدحون بأدنى شئ ينكرونه من مواضع النزاع، كما هجر التيمىّ عبد الجليل الحافظ كوباه على قوله «ينزل بالذات» وهو فى الحقيقة يوافقه على اعتقاده، لكن أنكر إطلاق اللفظ لعدم الأثر به.

قال ابن السمعانى: سمعت الحسين بن عبد الملك يقول: سمعت عبد الرحمن ابن منده يقول: قد تعجبت من حالى مع الأقربين والأبعدين، فإنى وجدت بالآفاق التى قصدتها أكثر من لقيته بها - موافقا كان أو مخالفا - دعانى إلى مساعدته على ما يقوله، وتصديق قوله، والشهادة له فى فعله على قبول ورضى.

فإن كنت صدّقته: سمانى موافقا، وإن وقفت فى حرف من قوله، أو فى شئ من فعله: سمانى مخالفا. وإن ذكرت فى واحد منهما أن الكتاب والسنة بخلاف ذلك: سمانى خارجيا. وإن رويت حديثا فى التوحيد: سمانى مشبها. وإن كان
এবং তিনি শ্রীমণ্ডিত ছিলেন, আর তার ইজাযত ছিল শক্তিশালী। তার অসংখ্য রচনাবলী রয়েছে এবং সিফাত (আল্লাহর গুণাবলী) ও অন্যান্য বিষয়ে বিদআতি ও পথভ্রষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচুর খণ্ডনমূলক লেখা রয়েছে।

তিনি বলেন: বিরোধীদের চোখে তিনি ছিলেন কণ্টকস্বরূপ, আল্লাহর পথে তিনি কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করতেন না—তিনি আরও বলেন: তার গুণের বর্ণনা শেষ করা সম্ভব নয়।

ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ বলেন: আমার চাচা বিদআতিদের বিরুদ্ধে তরবারি স্বরূপ ছিলেন। আমার মতো কেউ তার প্রশংসা করবে, তিনি তার চেয়েও অনেক বড় মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহর শপথ, তিনি সৎকাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎকাজে বাধা প্রদান করতেন। সকাল ও সন্ধ্যায় তিনি যিকিররত থাকতেন এবং নিজের প্রবৃত্তি দমনে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। যারা তাকে মন্দভাবে স্মরণ করেছে, আল্লাহ তাদের পরিণামে অনুশোচনা দান করেছেন। তিনি ছিলেন মহান ধৈর্যশীল এবং অগাধ ইলমের অধিকারী। আমি তার কাছে শু’বার এই উক্তিটি পড়ে শুনিয়েছিলাম যে, "আমি যার কাছ থেকে একটি হাদীস লিখেছি, আমি তার গোলাম।" তখন তিনি বললেন, "যে আমার কাছ থেকে একটি হাদীস লিখেছে, আমি তার গোলাম।"

আমি বলছি: শাইখুল ইসলাম আনসারী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: ইসলামে তার উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি ছিল। ইসমাইল আত-তাইমী থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছিলেন: তিনি অনেক বিষয়ে তার পিতার বিরোধিতা করেছিলেন এবং সমসাময়িক মাশায়েখগণ তার থেকে বিমুখ হয়ে গিয়েছিলেন; এমনকি আমার পিতাও আমাকে তার নিকট থেকে হাদীস গ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন। তার ভাই তার চেয়েও উত্তম ছিলেন।

আর এটি কোনো দোষের বিষয় নয়—যদি কথাটি সত্যও হয়ে থাকে। কেননা আনসারী, তাইমী এবং তাদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গ মতপার্থক্যের বিষয়ে সামান্যতম কোনো কিছু অপছন্দ করলেই সমালোচনা করেন। যেমন তাইমী হাফেয আব্দুল জলীল কুবাহ-কে তার এই উক্তির কারণে বর্জন করেছিলেন যে "তিনি সত্তাগতভাবে অবতরণ করেন।" অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি তার আকীদার সাথে একমত ছিলেন, কিন্তু হাদীসে এর স্পষ্ট বর্ণনা না থাকায় তিনি এই শব্দের প্রয়োগ অপছন্দ করেছিলেন।

ইবনে সামআনী বলেন: আমি হুসাইন ইবনে আব্দুল মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে মানদাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলের সাথে নিজের অবস্থা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়েছি। আমি যেসকল দিগন্তে গিয়েছি, সেখানে যাদের সাথেই আমার সাক্ষাৎ হয়েছে—তারা অনুসারী হোক বা বিরোধী—সকলেই আমাকে তাদের কথা অনুযায়ী চলতে, তাদের কথা সত্য বলে মেনে নিতে এবং তাদের কর্মের অনুকূলে সন্তুষ্টির সাথে সাক্ষ্য দিতে আহ্বান করেছে।

যদি আমি তাকে সত্য বলে মেনে নিতাম, তবে সে আমাকে অনুসারী বলে ডাকত। আর যদি তার কথার কোনো একটি বর্ণে বা তার কোনো কাজে দ্বিমত পোষণ করতাম, তবে সে আমাকে বিরোধী বলে আখ্যায়িত করত। আর যদি আমি উভয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখ করতাম যে কুরআন ও সুন্নাহ এর পরিপন্থী, তখন সে আমাকে খারেজী বলে ডাকত। আর যদি আমি তাওহীদের বিষয়ে কোনো হাদীস বর্ণনা করতাম, তবে সে আমাকে মুশাব্বিহ (সাদৃশ্য দানকারী) বলে ডাকত। আর যদি...
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
فى الرؤية: سمانى سالميا. وأنا متمسك بالكتاب والسنة، متبرئ إلى الله من التشبيه، والمثل والضد والند، والجسم والأعضاء والآلات، ومن كل ما ينسب إلىّ ويدّعى علىّ، من أن أقول فى الله تعالى شيئا من ذلك أو قلته، أو أراه، أو أتوهمه، أو أتخذه، أو أنتحله.

قال ابن السمعانى: وسمعت الحسن بن محمد بن الرضى العلوى يقول: سمعت خالى أبا طالب بن طباطبا يقول: كنت أشتم أبدا عبد الرحمن بن منده، فرأيت عمر رضى الله عنه فى المنام، ويده فى يد رجل عليه جبة صوف زرقاء، وفى عينيه نكتة، فسلمت عليه، فلم يردّ على، وقال لى: لم تشتم هذا إذا سمعت اسمه؟ فقيل لى: هذا أمير المؤمنين عمر رضى الله عنه، وهذا عبد الرحمن بن منده.

فانتبهت، فأتيت أصبهان، وقصدت الشيخ عبد الرحمن، فلما دخلت عليه صادفته على النعت الذى رأيت فى المنام، وعليه جبة زرقاء. فلما سلمت عليه قال:

وعليك السلام يا أبا طالب، وقبلها ما رآنى ولا رأيته، فقال قبل أن أنطق:

شئ حرمه الله ورسوله يجوز لنا أن نحلّه؟ فقلت: اجعلنى فى حلّ، وناشدته الله وقبّلت بين عينيه. فقال: جعلتك فى حل مما يرجع إلى.

حدّث عن الحافظ أبى القاسم خلق كثير من الحفاظ، والأئمة، وغيرهم، مثل: ابن أخيه يحيى بن عبد الوهاب، وأبى نصر الغازى، وأبى سعد البغدادى، والحسين الخلال، وأبى عبد الله الدقاق، وأبى بكر الباغبان، وروى عنه بالإجازة مسعود الثقفى.

وله تصانيف كثيرة، منها: كتاب «حرمة الدين» وكتاب «الرد على الجهمية» بين فيه بطلان ما روى عن الإمام أحمد فى تفسير حديث «خلق الله آدم على صورته» بكلام حسن. وله كتاب «صيام يوم الشك».

وبأصبهان طائفة من أهل البدع ينتسبون إلى ابن منده هذا، وينسبون إليه أقوالا فى الأصول والفروع، هو منها برئ.
স্বপ্নযোগে: তিনি আমাকে সালেমি নামে অভিহিত করেছেন। আর আমি কিতাব ও সুন্নাহর ওপর অটল রয়েছি। আল্লাহর কাছে আমি সাদৃশ্য দান, উপমা, বিপক্ষ, সমকক্ষ, দেহ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও সরঞ্জাম এবং আমার ওপর যা কিছু নিসবত করা হয় ও আমার ব্যাপারে যা দাবি করা হয়—তার সবকিছু থেকে দায়মুক্ততা প্রকাশ করছি; অর্থাৎ আমি মহান আল্লাহ সম্পর্কে এর কোনো কিছু বলি, অথবা আমি বলেছি, অথবা আমি তা দেখি, অথবা আমি তা কল্পনা করি, অথবা আমি তা গ্রহণ করি, অথবা আমি তা নিজের মতবাদ হিসেবে গ্রহণ করি—এসব থেকে আমি মুক্ত।

ইবনে আস-সামআনি বলেন: আমি হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আর-রাদি আল-আলাভিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার মামা আবু তালিব ইবনে তাবাতাবাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি সর্বদা আবদুর রহমান ইবনে মানদাহকে গালি দিতাম। অতঃপর আমি স্বপ্নে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখলাম; তাঁর হাত এমন এক ব্যক্তির হাতের মধ্যে ছিল যার পরনে ছিল নীল রঙের একটি পশমি জুব্বা এবং যার চোখে একটি সাদা দাগ ছিল। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি আমাকে বললেন: যখন তুমি এই ব্যক্তির নাম শোনো তখন তাকে গালি দাও কেন? আমাকে বলা হলো: ইনি আমিরুল মুমিনীন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং ইনি আবদুর রহমান ইবনে মানদাহ।

অতঃপর আমি জাগ্রত হলাম এবং ইসফাহানে আসলাম। আমি শায়খ আবদুর রহমানের কাছে গেলাম। আমি যখন তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তাঁকে ঠিক সেই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী পেলাম যা আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম; তাঁর পরনে ছিল একটি নীল রঙের জুব্বা। আমি যখন তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি বললেন:

হে আবু তালিব, তোমার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক। এর আগে তিনি আমাকে কখনও দেখেননি এবং আমিও তাঁকে দেখিনি। আমি কথা বলার আগেই তিনি বললেন:

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা কি আমাদের জন্য হালাল করা জায়েয? আমি বললাম: আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে তাঁর কাছে আরজি জানালাম এবং তাঁর দুই ভ্রুর মাঝখানে চুম্বন করলাম। তিনি বললেন: আমার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।

হাফেজ আবুল কাসিম থেকে বিপুল সংখ্যক হাফেজ, ইমাম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। যেমন: তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল ওয়াহহাব, আবু নাসর আল-গাজী, আবু সাদ আল-বাগদাদি, হুসাইন আল-খাল্লাল, আবু আবদুল্লাহ আদ-দাক্কাক, আবু বকর আল-বাগবান। আর মাসউদ আস-সাকাফি তাঁর থেকে ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো: 'হুরমাতুদ দীন' (দ্বীনের মর্যাদা) নামক কিতাব এবং 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' (জাহমিয়াদের খণ্ডন) নামক কিতাব। এতে তিনি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত 'আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন'—এই হাদিসের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার অসারতা অত্যন্ত চমৎকার আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন। এছাড়াও তাঁর 'সিয়ামু ইয়াওমিশ শাক্ক' (সন্দেহের দিনের রোজা) নামক একটি কিতাব রয়েছে।

ইসফাহানে একদল বিদআতি রয়েছে যারা নিজেদেরকে এই ইবনে মানদাহর অনুসারী বলে পরিচয় দেয় এবং তারা আকিদা ও আমলের ক্ষেত্রে তাঁর দিকে এমন অনেক বক্তব্য নিসবত করে যা থেকে তিনি সম্পূর্ণ দায়মুক্ত।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
منها: أن التيمم بالتراب يجوز مع القدرة على الماء.

ومنها: أن صلاة التراويح بدعة، وقد ردّ عليهم علماء أصبهان من أهل الفقه والحديث، وبيّنوا أن ابن منده برئ مما نسبوه إليه من ذلك.

توفى فى شوال سنة سبعين وأربعمائة بأصبهان، وشيّعه خلق كثير لا يحصيهم إلاّ الله تعالى.

أخبرنا أبو الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم بمصر، أخبرنا أبو الفرج عبد اللطيف ابن عبد المنعم الحرانى، أخبرنا أبو الفرج عبد الرحمن بن على الحافظ أخبرنا أبو سعد أحمد بن محمد البغدادى، أخبرنا أبو القاسم عبد الرحمن بن أبى عبد الله بن منده، أخبرنا أبو جعفر أحمد بن محمد بن المرزبان حدثنا محمد بن إبراهيم الحرانى، حدثنا محمد بن سليمان لوين، حدثنا عبد الحميد بن سليمان عن محمد بن عجلان عن سعيد ابن يسار عن أبى هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «ما من امرئ يتصدق بصدقة من كسب طيّب - ولا يقبل الله إلاّ طيّبا - حتى ولو بتمرة، إلاّ أخذها الله بيمينه، ثم ربّاها له كما يربّى أحدكم فلوّه أو فصيله، حتى يوافيه يوم القيامة مثل الجبل العظيم».

قرأت بخط الإمام أبى العباس أحمد بن تيمية رحمه الله: أن أبا القاسم بن منده كان من الأصحاب، وكان يذهب إلى الجهر بالبسملة فى الصلاة.

وذكر أيضا فى مسائله الماردانيات: أن طائفة من الأصحاب لم يذهبوا إلى صيام يوم الغيم، منهم أبو القاسم بن منده.

وذكر أبو زكريا يحيى بن عبد الوهاب بن منده قال: قال عمى الإمام - يعنى أبا القاسم رحمه الله علامة الرضا: إجابة الله تبارك وتعالى من حيث دعا بالكتاب والسنة. وعلامة الورع: الخروج من الشبهات بالأخبار والآيات. وعلامة القناعة السكوت على الكتاب والسنة فى الوقوف عند الشبهة. وعلامة الإخلاص:
এর মধ্যে রয়েছে: পানির ওপর সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করা জায়েয।

আরও রয়েছে: তারাবীহ সালাত বিদআত [বলা], আর আসবাহানের ফিকহ ও হাদীস বিশারদগণ তাঁদের এ মত খণ্ডন করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, ইবনে মান্দাহ তাঁর প্রতি আরোপ করা এ জাতীয় বিষয় থেকে মুক্ত।

তিনি ৪৭০ হিজরীর শাওয়াল মাসে আসবাহানে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর জানাজায় এত অধিক সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল যাদের সংখ্যা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারবে না।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মিশরে আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফারাজ আবদুল লতিফ ইবনে আবদুল মুনইম আল-হাররানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আবি আবদুল্লাহ বিন মান্দাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মারযুবান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-হাররানী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান লুওয়াইন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল হামিদ বিন সুলাইমান, মুহাম্মদ বিন আজলান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তিই পবিত্র উপার্জন থেকে সদকা করে—আর আল্লাহ পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু কবুল করেন না—এমনকি তা যদি একটি খেজুরও হয়, তবে আল্লাহ তা তাঁর ডান হাত দিয়ে গ্রহণ করেন, অতঃপর তা তার জন্য বৃদ্ধি করতে থাকেন যেমনিভাবে তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চা বা উটের বাচ্চা লালন-পালন করে, এমনকি কিয়ামতের দিন তা মহান পাহাড়ের ন্যায় হয়ে তার সামনে উপস্থিত হবে।"

আমি ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ বিন তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর স্বহস্তে লেখা পাণ্ডুলিপিতে পড়েছি: আবুল কাসিম বিন মান্দাহ (মাযহাবের) অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি সালাতে উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ পাঠের মত পোষণ করতেন।

তিনি তাঁর 'মাসায়িলে মারদানিয়্যাত'-এ আরও উল্লেখ করেছেন: মাযহাবের একদল অনুসারী মেঘাচ্ছন্ন দিনে রোজা রাখার পক্ষপাতী ছিলেন না, তাঁদের মধ্যে আবুল কাসিম বিন মান্দাহ অন্যতম।

আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মান্দাহ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা ইমাম—অর্থাৎ আবুল কাসিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সন্তুষ্টির চিহ্ন হলো: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে যেভাবে আহ্বান করেছেন সেখানে তাঁর আহ্বানে সাড়া দেওয়া। পরহেজগারির চিহ্ন হলো: হাদীস এবং আয়াতের মাধ্যমে সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহ থেকে বেরিয়ে আসা। অল্পেতুষ্টির চিহ্ন হলো: সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে স্থির থাকা। আর ইখলাসের চিহ্ন হলো:
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٣١)
زيادة السرّ على الإعلان فى إيثار قول الله تعالى وقول رسوله صلى الله عليه وسلم على الأقاويل كلها بالإيمان والاحتساب. وعلامة الصبر: حبس النفس فى استحكام الدرس بالكتاب والسنة. وعلامة التسليم: الثقة بالله الحكيم فى قوله، والسكون إلى الله العليم بقول رسوله صلى الله عليه وسلم فى جميع الأشياء.

وقال أبو القاسم بن منده فى كتاب «الرد على الجهمية»: التأويل عند أصحاب الحديث: نوع من التكذيب.

 

‌‌13 - أحمد بن محمد بن أحمد

بن يعقوب الرزّاز، المقرئ الزاهد، أبو بكر المعروف بابن حمّدوه. ذكره ابن الجوزى فى الطبقات والتاريخ.

ولد يوم الأربعاء لثمانى عشرة خلت من صفر سنة إحدى وثمانين وثلاثمائة.

وحدّث عن خلق كثير. منهم: أبو الحسين بن بشران، وابن القواس، وهو آخر من حدّث عن أبى الحسين بن سمعون. وتفقه على القاضى أبى يعلى، وكان ثقة، زاهدا، متعبدا، حسن الطريقة.

وقال القاضى أبو الحسين: تفقه على الوالد مع الشريف أبى جعفر، وكانا يصطحبان إلى المجلس. وكان كثير القراءة للقرآن والإقراء له، ختّم خلقا كثيرا.

وحدّث عنه الخطيب فى تاريخه. وقال: وكان صدوقا. وأبو الحسن بن مرزوق فى مشيخته، وأبو القاسم بن السمرقندى، والقاضى أبو الحسين فى طبقات الأصحاب، وغيرهم.

توفى ليلة السبت رابع عشرين ذى الحجة سنة سبعين وأربعمائة. ودفن من الغد بباب حرب.

قال السلفى: سألت أبا على البردانى عن ابن حمدويه صاحب ابن سمعون فقال: هو بضم الحاء وتشديد الميم وضمه أيضا، يعنى وبالياء.

ذكره ابن نقطة. قال: وغيره يقول بخلاف قوله. منهم من يقول: حمّدوه بضم الحاء، وتشديد الميم وفتحها، بغير ياء بعد الواو.
বিশ্বাস ও সওয়াবের আশায় সমস্ত মতামতের ওপর মহান আল্লাহর বাণী ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বাহ্যিক প্রকাশের চেয়ে অন্তরের ঐকান্তিকতাকে বৃদ্ধি করা। আর ধৈর্যের নিদর্শন হলো: কিতাব ও সুন্নাহর গভীর অধ্যয়নে নফসকে আবদ্ধ রাখা। আর আত্মসমর্পণের নিদর্শন হলো: প্রজ্ঞাময় আল্লাহর বাণীর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং সকল বিষয়ে তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীর মাধ্যমে সর্বজ্ঞাত আল্লাহর প্রতি প্রশান্তি লাভ করা।

আবু আল-কাসিম ইবনে মানদাহ তাঁর ‘আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ’ গ্রন্থে বলেন: হাদিস বিশারদগণের নিকট ‘তাউয়িল’ (অপব্যাখ্যা) হলো এক প্রকার অস্বীকার করার শামিল।

 

‌‌১৩ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ

বিন ইয়াকুব আর-রাজজাজ, আল-মুকরি, আল-জাহেদ, আবু বকর; যিনি ইবনে হামদুওয়াহ নামে পরিচিত। ইবনুল জাওজি ‘তাবাকাত’ ও ‘তারিখ’ গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন।

তিনি ৩৮১ হিজরি সালের সফর মাসের ১৮ তারিখ বুধবার জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি অসংখ্য ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আল-হুসাইন বিন বিশরান এবং ইবনুল কাওয়াস; তিনি আবু আল-হুসাইন বিন সামউন থেকে হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি। তিনি কাজি আবু ইয়া’লার নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি বিশ্বস্ত, সংসারবিরাগী, ইবাদতগুজার এবং উত্তম আদর্শের অধিকারী ছিলেন।

কাজি আবু আল-হুসাইন বলেন: তিনি শরীফ আবু জাফরের সাথে আমার পিতার নিকট ফিকহ পাঠ করেন এবং তাঁরা উভয়ে মজলিসে একসাথে যাতায়াত করতেন। তিনি প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং তিলাওয়াত শিক্ষা দিতেন; বহু লোক তাঁর কাছে কুরআন খতম সম্পন্ন করেছে।

খতিব (আল-বাগদাদি) তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: তিনি সত্যবাদী ছিলেন। এছাড়াও আবু আল-হাসান বিন মারজুক তাঁর ‘মাশইয়াখাহ’ গ্রন্থে, আবু আল-কাসিম বিন আস-সামারকান্দি, কাজি আবু আল-হুসাইন ‘তাবাকাতুল আসহাব’ গ্রন্থে এবং আরও অনেকে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি ৪৭০ হিজরি সালের ২৪ জিলহজ শনিবার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং পরদিন ‘বাবুল হারব’-এ তাঁকে দাফন করা হয়।

আস-সালাফি বলেন: আমি আবু আলি আল-বারদানিকে ইবনে সামউনের সঙ্গী ইবনে হামদুওয়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: এটি ‘হা’ অক্ষরে পেশ, ‘মিম’ অক্ষরে তাশদিদ ও পেশসহ এবং শেষে ‘ইয়া’ সহযোগে উচ্চারিত হয়।

ইবনে নুকতাহ তাঁর উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: অন্যরা তাঁর এই মতের বিপরীতে বলেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেন: ‘হামদাওয়াহ’—‘হা’ অক্ষরে পেশ এবং ‘মিম’ অক্ষরে তাশদিদ ও জবর (ফাতহ) সহকারে, যাতে ‘ওয়াও’-এর পর কোনো ‘ইয়া’ নেই।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
أخبرنا أبو الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم - بمصر - أخبرنا عبد اللطيف بن عبد المنعم الحرانى، أخبرنا عبد الوهاب بن على الأمين، أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الباقى، حدثنا أبو بكر أحمد بن محمد بن أحمد بن حمدويه الرزاز، حدثنا أبو الحسين محمد بن أحمد بن سمعون، حدثنا أحمد بن سليمان بن ريان، حدثنا هشام بن عمار، حدثنا عبد الحميد بن حبيب بن أبى العشرين الأوزاعى، حدثنا الزهرى، حدثنى سالم عن ابن عمر أنه حدّثه «أن عمر بن الخطاب رضى الله عنه تصدّق على رجل بفرس له، ثم وجدها تباع فى السوق، فأراد عمر أن يشتريها، فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذكر ذلك له، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا ترتد فى صدقتك»

قال الزهرى: فكان ابن عمر يصنع فى صدقته إن ردّها عليه الميراث يوما لا يحبسها عنده.

 

‌‌14 - الحسن بن أحمد

بن عبد الله بن البناء البغدادى، الإمام، أبو على المقرئ، المحدّث الفقيه الواعظ، صاحب التصانيف.

ولد سنة ست وتسعين وثلاثمائة.

وقرأ القراءات السبع على أبى الحسن الحمامى وغيره. وسمع الحديث من هلال الحفار، وأبى محمد السكرى، وأبى الحسن بن رزقويه، وأبى الفتح بن أبى الفوارس، وابن رزقويه، وأبى الحسين بن بشران، وأخيه أبى القاسم، وأبى على بن شهاب، وأبى الفضل التميمى، وخلق كثير.

وتفقه أولا على أبى طاهر بن الغبارى، ثم على القاضى أبى يعلى، وهو من قدماء أصحابه. وحضر عند أبى على بن أبى موسى وناظر فى مجلسه. وتفقه أيضا على أبى الفضل التميمى، وأخيه أبى الفرج.

وقرأ عليه القرآن جماعة، مثل أبى عبد الله البارع، وأبى العز القلانسى، وأبى بكر المزرفىّ.
আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মاد ইবনে ইবরাহীম - মিসরে - আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল লতিফ ইবনে আব্দুল মুনইম আল-হাররানি, আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আলি আল-আমিন, আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকি, আমাদিগকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে হামদুয়াহ আর-রাজজাজ, আমাদিগকে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে সামউন, আমাদিগকে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে সুলাইমান ইবনে রাইয়ান, আমাদিগকে বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে আম্মার, আমাদিগকে বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামিদ ইবনে হাবিব ইবনে আবিল ইশরিন আল-আওজায়ি, আমাদিগকে বর্ণনা করেছেন আয-যুহরি, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সালিম, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি তাকে বর্ণনা করেছেন: «উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে তাঁর একটি ঘোড়া সদকা করেছিলেন, অতঃপর তিনি সেটিকে বাজারে বিক্রি হতে দেখলেন। তখন উমর সেটি ক্রয় করতে চাইলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি তোমার সদকা ফেরত নিও না।»

আয-যুহরি বলেন: ইবনে উমর তাঁর সদকার বিষয়ে এমন করতেন যে, যদি কোনোদিন উত্তরাধিকার সূত্রে সেটি তাঁর কাছে ফিরে আসত, তবে তিনি তা নিজের কাছে আটকে রাখতেন না।

 

‌‌১৪ - আল-হাসান ইবনে আহমাদ

ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল বান্না আল-বাগদাদি, ইমাম, আবু আলি আল-মুকরি, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও ওয়ায়েজ (উপদেশক), বহু গ্রন্থের প্রণেতা।

তিনি তিনশত ছিয়ানব্বই হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি আবুল হাসান আল-হাম্মামি ও অন্যান্যদের নিকট সাত ক্বিরাত পাঠ করেছেন। তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন হিলাল আল-হাফফার, আবু মুহাম্মাদ আস-সুক্কারি, আবু আল-হাসান ইবনে রিজকুয়াহ, আবু আল-ফাতহ ইবনে আবিল ফাওয়ারিস, ইবনে রিজকুয়াহ, আবু আল-হুসাইন ইবনে বিশরান, তাঁর ভাই আবু আল-কাসিম, আবু আলি ইবনে শিহাব, আবু আল-ফাদল আত-তামিমি এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে।

তিনি প্রথমে আবু তাহের ইবনুল গুব্বারির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন, তারপর কাজী আবু ইয়া’লার নিকট, এবং তিনি তাঁর প্রাচীনতম ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আবু আলি ইবনে আবি মুসার মজলিসে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর মজলিসে বিতর্ক (মুনাজারা) করতেন। তিনি আবু আল-ফাদল আত-তামিমি এবং তাঁর ভাই আবু আল-ফারাজের নিকটও ফিকহ শিক্ষা করেছেন।

তাঁর নিকট একদল ব্যক্তি কুরআন পাঠ করেছেন, যেমন আবু আব্দুল্লাহ আল-বারি’, আবু আল-ইজ্জ আল-কালানিসি এবং আবু বকর আল-মুজাররাফি।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وسمع منه الحديث خلق كثير. وقرأ عليه الحافظ الحميدى كثيرا.

حدّث عنه ولداه أبو غالب أحمد ويحيى، وأبو الحسين بن الفراء، وأبو بكر ابن عبد الباقى، وابن الحصين، وأبو القاسم بن السمرقندى وغيرهم.

ودرس الفقه كثيرا وأفتى زمانا طويلا.

قال القاضى أبو الحسين: تفقه على الوالد، وعلق عنه المذهب والخلاف، ودرس بدار الخلافة فى حياة الوالد وبعد وفاته. وصنف كتبا فى الفقه والحديث والفرائض، وأصول الدين، وفى علوم مختلفات. وكان متفننا فى العلوم. وكان أديبا شديدا على أهل الأهواء.

وقال ابن عقيل: هو شيخ إمام فى علوم شتى: فى الحديث، والقراءات، والعربية، وطبقة فى الأدب والشعر والرسائل، حسن الهيئة، حسن العبادة. كان يؤدب بنى جردة.

وقال ابن شافع: كان له حلقتان، إحداهما: بجامع المنصور، وسط الرواق.

والأخرى: بجامع القصر، حيال المقصورة، للفتوى والوعظ وقراءة الحديث. وكان يفتى الفتوى الواسعة، ويفيد المسلمين بالأحاديث والمجموعات وما يقرئه من السنن.

وكان نقى الذهن، جيد القريحة، تدل مجموعاته على تحصيله لفنون من العلوم، وقد صنف قديما فى زمن شيخه الإمام أبى يعلى فى المعتقدات وغيرها، وكتب له خطه عليها بالإصابة والاستحسان.

ولقد رأيت له فى مجموعاته من المعتقدات ما يوافق بين المذهبين: الشافعى، وأحمد. ويقصد به تأليف القلوب، واجتماع الكلمة، مما قد استقر له وجود فى استنباطه، مما أرجو له به عند الله الزلفى فى العقبى. فلقد كان من شيوخ الإسلام النصحاء، الفقهاء الألباء. ويبعد غالبا أن يجتمع فى شخص من التفنن فى العلوم ما اجتمع فيه.

وقد جمع من المصنفات فى فنون العلم فقها وحديثا، وفى علم القراءات والسير،
তাঁর নিকট থেকে বহু মানুষ হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং হাফেজ আল-হুমায়দী তাঁর নিকট প্রচুর পাঠ করেছেন।

তাঁর পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁর দুই পুত্র আবু গালিব আহমদ ও ইয়াহইয়া, আবু আল-হুসাইন বিন আল-ফাররা, আবু বকর ইবন আবদ আল-বাকী, ইবন আল-হুসাইন, আবু আল-কাসিম বিন আস-সামারকন্দী এবং আরও অনেকে।

তিনি প্রচুর ফিকহ শাস্ত্র অধ্যাপনা করেছেন এবং দীর্ঘকাল ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

কাজী আবু আল-হুসাইন বলেন: তিনি আমার পিতার নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তাঁর থেকে মাযহাব ও মতপার্থক্যমূলক বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি পিতার জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইন্তেকালের পর দারুল খিলাফায় পাঠদান করেছেন। তিনি ফিকহ, হাদীস, ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), উসুল আদ-দীন এবং বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি সাহিত্যমনা এবং প্রবৃত্তি পূজারিদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন।

ইবন আকীল বলেন: তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞানে একজন ইমাম ও শায়খ ছিলেন: হাদীস, কিরাত এবং আরবি ভাষায়। সাহিত্য, কবিতা ও পত্রলিখনে তাঁর উচ্চ মর্যাদা ছিল। তিনি সুশ্রী অবয়ব এবং উত্তম ইবাদত গুজার ছিলেন। তিনি বনু জুরদাহর সন্তানদের শিষ্টাচার শিক্ষা দিতেন।

ইবন শাফি বলেন: তাঁর দুটি (জ্ঞান) মজলিস ছিল, একটি: জামে আল-মানসুরে, বারান্দার মাঝখানে।

অন্যটি: জামে আল-কাসরে, মাকসুরার বিপরীতে; ফতোয়া প্রদান, ওয়াজ-নসিহত এবং হাদীস পাঠের জন্য। তিনি ব্যাপক পরিসরে ফতোয়া দিতেন এবং হাদীস, সংকলন ও সুনান গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করতেন।

তিনি স্বচ্ছ মেধা ও প্রখর প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তাঁর সংকলনসমূহ বিভিন্ন বিদ্যায় তাঁর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। তিনি তাঁর উস্তাদ ইমাম আবু ইয়ালা-এর জীবদ্দশায় আকিদাহ ও অন্যান্য বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন এবং তাঁর উস্তাদ সেগুলোর উপর সঠিকতা ও প্রশংসাসূচক মন্তব্য লিখে দিয়েছিলেন।

আমি তাঁর আকিদাহ বিষয়ক সংকলনগুলোতে এমন কিছু দেখেছি যা শাফেয়ী ও আহমদ (হাম্বলী) উভয় মাযহাবের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এর মাধ্যমে তিনি অন্তরসমূহের মিলন এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সংকল্প করেছিলেন, যা তাঁর গবেষণালব্ধ দলিলাদির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি আশা করি এর বিনিময়ে তিনি আল্লাহর নিকট পরকালে নৈকট্য লাভ করবেন। নিশ্চয়ই তিনি ইসলামের হিতাকাঙ্ক্ষী শায়খ এবং অত্যন্ত বিচক্ষণ ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সাধারণত একজন ব্যক্তির মধ্যে এত প্রকার বিজ্ঞানের সমাবেশ ঘটা বিরল, যা তাঁর মধ্যে একত্রিত হয়েছিল।

তিনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ফিকহ, হাদীস, কিরাত এবং সীরাত শাস্ত্রে বহু গ্রন্থ সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ١) যাইয়িল তাবাকাতিল হানাবিলাহ - লি ইবনি রাজাব - তাহকীক আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
والتواريخ والسنن، والشروح للفقه، والكتب النحوية إلى غير ذلك جموعا حسنة، تزيد على ثلاثمائة مجموع. كذا قرأته محققا بخط بعض العلماء.

وقال ابن الجوزى: ذكر عنه أنه قال: صنفت خمسمائة مصنف.

وقال أبو نصر بن المجلى، مما ذكره ابن شافع عنه: له مجموعات ومؤلفات فى المذهب، وفيما سواه من المذاهب، وفى الحديث وغيره. وتراجم كتبه مسجوعة على طريقة أبى الحسين بن المنادى.

قال: وكتبت الحديث عن نحو من ثلاثمائة شيخ لم أر فيهم من كتب بخطه أكثر من ابن البناء.

قال: وقال لى هو رحمه الله: ما رأيت بعينى من كتب أكثر منى.

قال: وكان طاهر الأخلاق، حسن الوجه والشيبة، محبا لأهل العلم مكرما لهم.

توفى رحمه الله ليلة السبت خامس رجب سنة إحدى وسبعين وأربعمائة.

وصلّى عليه فى الجامعين: جامع القصر، وجامع المنصور. وكان الجمع فيهما متوفرا جدا. أمّ الناس فى الصلاة عليه: أبو محمد التميمى، وتبعه خلق كثير، وعالم عظيم.

ودفن بباب حرب.

وقد غمزه ابن السمعانى، فقال: سمعت أبا القاسم بن السمرقندى يقول: كان واحد من أصحاب الحديث اسمه الحسن بن أحمد بن عبد الله النيسابورى. وكان قد سمع الكثير. وكان ابن البناء يكشط من التسميع بورى، ويمدّ السّين، وقد صار الحسن بن أحمد بن عبد الله البناء، كذا قيل إنه يفعل هذا.

قال أبو الفرج بن الجوزى: وهذا القول بعيد الصحة؛ لثلاثة أوجه. أحدها:

أنه قال «كذا قيل» ولم يحك عن علمه بذلك. فلا يثبت هذا. والثانى: أن الرجل مكثر، لا يحتاج إلى استزادة لما يسمع. والثالث: أنه قد اشتهرت كثرة رواية أبى على بن البناء. فأين ذكر هذا الرجل، الذى يقال له: الحسن بن أحمد ابن عبد الله النيسابورى؟ ومن ذكره؟ ومن يعرفه؟ ومعلوم أن من اشتهر سماعه لا يخفى، فمن هذا الرجل؟ فنعوذ بالله من القدح بغير حجة. اهـ.
ইতিহাস, সুন্নাহ, ফিকহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, নাহু-এর (ব্যাকরণ) কিতাব এবং আরও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর উত্তম অনেক সংগ্রহ রয়েছে, যা তিনশতের অধিক। জনৈক আলিমের হস্তাক্ষরে আমি তা যথাযথভাবে যাচাইপূর্বক পাঠ করেছি।

ইবনুল জাওযী বলেন: তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি পাঁচশত কিতাব রচনা করেছি।"

আবু নাসর ইবনুল মুজাল্লী, ইবনু শাফি'র সূত্রে তাঁর সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: মাযহাব এবং মাযহাব বহির্ভূত অন্যান্য বিষয়ে এবং হাদিসসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অনেক সংকলন ও রচনা রয়েছে। তাঁর কিতাবগুলোর শিরোনাম আবুল হুসাইন ইবনুল মুনাদীর রীতি অনুযায়ী অনুপ্রাসযুক্ত।

তিনি বলেন: "আমি প্রায় তিনশত শায়খের নিকট থেকে হাদিস লিখেছি, কিন্তু তাদের মধ্যে ইবনুল বান্নার চেয়ে নিজের হাতে বেশি লিখতে আর কাউকে দেখিনি।"

তিনি বলেন: "তিনি (ইবনুল বান্না) রহমাতুল্লাহি আলাইহি আমাকে বলেছেন: 'আমি নিজের চোখে আমার চেয়ে বেশি লিখতে কাউকে দেখিনি'।"

তিনি বলেন: "তিনি পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, তাঁর চেহারা ও বার্ধক্যদীপ্ত অবয়ব ছিল সুন্দর। তিনি আহলে ইলমদের (জ্ঞানী ব্যক্তিদের) ভালোবাসতেন এবং তাদের সম্মান করতেন।"

তিনি ৪৭১ হিজরি সালের ৫ই রজব শনিবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

তাঁর জানাযার নামাজ দুটি জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়: জামেউল কাসর এবং জামেউল মানসুর। উভয় স্থানেই মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়েছিল। তাঁর জানাযায় মানুষের ইমামতি করেন আবু মুহাম্মদ আত-তামিমী, এবং অসংখ্য মানুষ ও বিশাল এক আলিম সমাজ তাঁর অনুগমন করেন।

তাঁকে 'বাবু হারব'-এ দাফন করা হয়।

ইবনুস সামআনী তাঁর সমালোচনা করে বলেছেন: আমি আবুল কাসিম ইবনুস সামারকন্দীকে বলতে শুনেছি: হাদিস অন্বেষণকারীদের মধ্যে আল-হাসান ইবনু আহমাদ ইবনু আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরী নামে একজন ছিলেন, যিনি অনেক হাদিস শুনেছিলেন। ইবনুল বান্না 'নাইসাবুরী' শব্দের 'বূরী' অংশটি ঘষে মুছে ফেলে 'সীন' অক্ষরটিকে টেনে লম্বা করে দিতেন, ফলে তা 'হাসান ইবনু আহমাদ ইবনু আব্দুল্লাহ আল-বান্না' হয়ে যেত। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এমনটি করতেন।

আবু ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেন: এই উক্তিটির সত্যতা তিনটি কারণে সুদূরপরাহত। প্রথমত:

তিনি (ইবনুস সামআনী) "বলা হয়ে থাকে" শব্দটি ব্যবহার করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর নিশ্চিত জ্ঞানের কথা উল্লেখ করেননি। ফলে এটি প্রমাণিত নয়। দ্বিতীয়ত: উক্ত ব্যক্তি নিজেই প্রচুর হাদিস শ্রবণকারী ছিলেন, ফলে নিজের শ্রুত বিষয়ে কোনো কৃত্রিম আধিক্য দেখানোর প্রয়োজন তাঁর ছিল না। তৃতীয়ত: আবু আলী ইবনুল বান্নার অধিক বর্ণনার বিষয়টি সর্বজনবিদিত। তাহলে আল-হাসান ইবনু আহমাদ ইবনু আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরী নামক এই লোকটির উল্লেখ কোথায়? কে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন? এবং কে-ই বা তাঁকে চেনেন? এটি জানা কথা যে, যার হাদিস শ্রবণ প্রসিদ্ধি লাভ করে, তা গোপন থাকে না। তাহলে এই লোকটি কে? সুতরাং দলিল ব্যতিরেকে কারো কুৎসা রটনা থেকে আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। সমাপ্ত।