(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: -)
الجزء الرابع من الفوائد المنتقاة العوالي من حديث القطيعي   (أبو بكر القطيعي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الجزء الرابع من الفوائد المنتقاة العوالي من حديث القطيعي - مخطوط

المؤلف: أبو بكر أحمد بن جعفر بن حمدان بن مالك بن شبيب البغدادي المعروف بالقطيعي (ت 368هـ)

انتقاء: عمر بن جعفر بن أبي السري البصري

رواية: الحسن بن علي الجوهري

أعده للشاملة: أحمد الخضري

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 34

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ক্বাতিয়ীর হাদিস হতে চয়নকৃত উচ্চমানের শিক্ষাসমূহের চতুর্থ অংশ   (আবু বকর আল-ক্বাতিয়ী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-ক্বাতিয়ীর হাদিস হতে চয়নকৃত উচ্চমানের শিক্ষাসমূহের চতুর্থ অংশ - পাণ্ডুলিপি

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক বিন শাবিব আল-বাগদাদি, যিনি আল-ক্বাতিয়ী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৬৮ হিজরি)

চয়নকারী: ওমর বিন জাফর বিন আবুস সারি আল-বাসরি

বর্ণনা: হাসান বিন আলি আল-জাওহারি

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমদ আল-খুদরি

[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি আকারে]

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৩৪

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: الجزء الرابع من الفوائد المنتقاة العوالي من حديث القطيعي - مخطوط

المتوفى: 368 هـ

انتقاء: عمر بن جعفر بن أبي السري البصري

رواية: الحسن بن علي الجوهري

 

// 1 // …الرابع من الفوائد المنتقاة العوالي

انتقاء عمر بن جعفر بن أبي السري البصري الحافظ

من حديث أبي بكر أحمد بن جعفر بن حمدان بن مالك بن شبيب القطيعي ، رحمه الله ، عن شيوخه.

رواية أبي محمد الحسن بن علي بن محمد الجوهري ، عنه.

رواية أبي غالب أحمد بن الحسن بن أحمد بن البناء ، عنه.

رواية أبي حفص عمر بن محمد بن معمر بن طبرزد ، عنه.

رواية أبي الحسن علي بن أحمد بن عبد الواحد المقدسي ، عنه.

سماع محمد بن محمد بن علي الصيرفي الأنصاري ، عفا الله عنه.

الحمد لله

حصل عليه بخط ابن المهندس ، أنه سمعه على المزي ، وابن المهندس بسماعه من أبي الحسن بن البخاري المقدسي ، وابن شيبان ، وزينب بنت مكي ، وسمع الأول أيضا من إسماعيل بن العسقلاني كلهم عن ابن طبررذ ، بقراءته عليهم من محمد بن سليمان الجوزي السبط ، يوم الإثنين ثاني صفر سنة 732 بدمشق.

وأجاز الشيخان ومن خط ابن المهندس ، بنقل محمد بن السختياني.

ومن خط المزي:

سمعه على الإمام فخر الدين ابن النجاري فيما عد من ابن طبرزد ، على ابن البنا ، بقراءة كاتب السراج ، في الأصل على ابن مسعود الموصلي عبد الله بن أحمد بن عبد الله بن راجح ، وأخوه عبد الرحمان ، وآخرون ، في الرابع عشر من صفر سنة ثلاث وسبعين وسبع مئة.

وسمع الأجزاء الأربعة على الشيخ فخر الدين بسنده ، بقراءة الإمام العلامة تقي الدين أحمد بن عبد الحكيم بن عبد السلام ، بقي 000القاسم بن محمد بن يوسف بن محمد البرزالي ، عفى الله عنه ، وهذا خطه ، في هذه السنة ، ثالث عشر ربيع الآخر سنة 682 بالمدرسة الضيائية ، بسفح قايسون.

ومن خط المزي ، سمع الأجزاء بسماعه على ابن النجار ، بسماعه الأربعة الأول من ابن طبرزد ، على ابن البنا.

// 2 // بسم الله الرحمان الرحيم
কিতাব: আল-কাতি‘ঈ-এর হাদিস থেকে নির্বাচিত উচ্চ মানের ফায়দা সমূহের চতুর্থ খণ্ড - পাণ্ডুলিপি

মৃত্যু: ৩৬৮ হিজরি

সংকলন: উমর বিন জাফর বিন আবুস সারি আল-বাসরি

বর্ণনা: হাসান বিন আলী আল-জাওহারি

 

// ১ // …নির্বাচিত উচ্চ মানের ফায়দা সমূহের চতুর্থ খণ্ড

হাফেজ উমর বিন জাফর বিন আবুস সারি আল-বাসরির সংকলন

আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক বিন শাবিব আল-কাতি‘ঈ (আল্লাহ তাকে রহম করুন)-এর হাদিস থেকে, যা তিনি তাঁর শিক্ষকগণের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে আবু মুহাম্মদ হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-জাওহারির বর্ণনা।

তাঁর থেকে আবু গালিব আহমদ বিন হাসান বিন আহমদ ইবনুল বান্নার বর্ণনা।

তাঁর থেকে আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মুয়াম্মার বিন তাবারজাদ-এর বর্ণনা।

তাঁর থেকে আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসির বর্ণনা।

মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাইরাফি আল-আনসারির শ্রবণ, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর

ইবনুল মুহানদিসের হস্তলিপিতে এটি সংরক্ষিত আছে যে, তিনি তা আল-মিজ্জির নিকট শুনেছেন; এবং ইবনুল মুহানদিস এটি শুনেছেন আবুল হাসান বিন আল-বুখারি আল-মাকদিসি, ইবনে শায়বান এবং জয়নাব বিনতে মাক্কির নিকট থেকে। তাঁদের মধ্যে প্রথমজন ইসমাইল বিন আল-আসকালানির নিকট থেকেও শুনেছেন। তাঁরা সকলেই ইবনে তাবারজাদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁদের নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-জাওজি আস-সাবত, সোমবার, ২ সফর, ৭৩২ হিজরি, দামেস্কে।

দুই শাইখ অনুমতি প্রদান করেছেন; এবং ইবনুল মুহানদিসের হস্তলিপি থেকে মুহাম্মদ বিন আস-সাখতিয়ানির অনুলিপি অনুযায়ী।

আল-মিজ্জির হস্তলিপি হতে:

তিনি এটি ইমাম ফাখরুল দীন ইবনুন নাজ্জারির নিকট শুনেছেন, যা ইবনে তাবারজাদ থেকে ইবনুল বান্নার মাধ্যমে বর্ণিত। সিরাজ-এর লেখকের পঠনে, মূল পাণ্ডুলিপিতে আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রাজেহ ইবনে মাসউদ আল-মাওসিলি, তাঁর ভাই আব্দুর রহমান এবং আরও অনেকে শুনেছেন। এটি ছিল ৭৭৩ হিজরি সালের ১৪ সফর।

তিনি শাইখ ফাখরুল দীনের নিকট তাঁর সনদে চারটি খণ্ড শুনেছেন। এটি পাঠ করেছেন ইমাম আল্লামা তাকিউদ্দীন আহমদ বিন আব্দুল হাকিম বিন আব্দুস সালাম। বাকি অংশ... কাসেম বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-বারজালি, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। এটি তাঁরই হস্তলিপি, এই বছরে, ১৩ রবিউল আখির, ৬৮২ হিজরি, কায়সুন পাহাড়ের পাদদেশে মাদরাসায়ে দিয়াইয়্যাহ-তে।

আল-মিজ্জির হস্তলিপি হতে, তিনি খণ্ডগুলো শুনেছেন ইবনুন নাজ্জারের নিকট তাঁর শ্রবণসূত্রে, যিনি প্রথম চারটি খণ্ড ইবনে তাবারজাদের নিকট থেকে ইবনুল বান্নার মাধ্যমে শুনেছিলেন।

// ২ // পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২)
وصلي الله على سيدنا محمد وآله وسلم

أَخْبَرَنَا الشيخ الإمام الأوحد، بقية السلف،طراز الخلف،رحلة البلاد، ملحق الأبناء بالأجداد، فخر الدين أبو الحسن علي بن أحمد بن عبد الواحد بن أحمد بن البخاري المقدسي،أثابه الله الجنة،قراءة عليه وأنا أسمع ، في سنة تسع وثمانين وست مئة، بمنزله بسفح قاسيون ، أَخْبَرَنَا أبو حفص عمر بن محمد بن معمر بن يحيى بن أحمد بن حسان بن طبرزد البغدادي،قراءة عليه وأنا أسمع في سنة ثلاث وست مئة بدمشق ، أَخْبَرَنَا أبو غالب أحمد بن الحسن بن أحمد بن عبد الله بن البنا،قراءة عليه وأنا أسمع في يوم الأحد الحادي والعشرين من رجب سنة أربع وعشرين وخمس مئة ببغداد ، أَخْبَرَنَا الشيخ أبو محمد الحسن بن علي بن محمد بن الحسن الجوهري،قراءة عليه وأنا أسمع في يوم الأربعاء الثاني عشر من شهر رمضان سنة إثنتين وخمسين وأربع مئة ، أَخْبَرَنَا أبو بكر أحمد بن جعفر بن حمدان بن مالك القطيعي،قراءة عليه،فأقر به وأنا حاضر أسمع في مسجده في قطيعة الدقيق:
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন অনন্য ইমাম ও শাইখ, সালাফদের উত্তরসূরি, উত্তরসূরিদের আদর্শ, ইলম অন্বেষণে দেশভ্রমণকারী, উত্তরসূরিদের পূর্বসূরিদের সাথে মিলনকারী, ফখরুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমাদ বিন আল-বুখারী আল-মাকদিসী—আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দান করুন—৬৮৯ হিজরি সনে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে তাঁর বাসগৃহে আমি শ্রবণকালে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মুয়াম্মার বিন ইয়াহইয়া বিন আহমাদ বিন হাসসান বিন তাবারযাদ আল-বাগদাদী, ৬০৩ হিজরি সনে দামেস্কে আমি শ্রবণকালে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-বান্না, ৫২৪ হিজরি সনের একুশে রজব রবিবার বাগদাদে আমি শ্রবণকালে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-জাওহারী, ৪৫২ হিজরি সনের বারোই রমজান বুধবার আমি শ্রবণকালে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক আল-কাতিয়ী, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন, আর আমি তাঁর ‘কাতিয়াতুদ দাকীক’-এর মসজিদে উপস্থিত থেকে শ্রবণ করছিলাম:
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ৩)
1-حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، قَالَ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لَمَّا كَانَ لَيْلَةُ أُسْرِيَ بِي وَأَصْبَحْتُ بِمَكَّةَ فَظِعْتُ بِأَمْرِي ، وَعَرَفْتُ أَنَّ النَّاسَ مُكَذِّبِيَّ ، قَالَ: فَقَعَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُغَيَّرًا حَزِينًا ، فَمَرَّ بِهِ أَبُو جَهْلٍ ، لَعنه الله ، فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ إِلَيْهِ ، فَقَالَ لَهُ كَالْمُسْتَهْزِئِ: هَلْ كَانَ مِنْ شَيْءٍ؟ قَالَ: نَعَمْ ، قَالَ: مَا هُوَ؟ قَالَ: إِنِّي أُسْرِيَ بِيَ اللَّيْلَةَ ، قَالَ: إِلَى أَيْنَ؟ قَالَ: // 3 // إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ ، قَالَ: ثُمَّ أَصْبَحْتَ بَيْنَ ظَهْرَانِينَا، قَالَ: نَعَمْ ، قَالَ: فَلَمْ يُرِدْ أَنْ يُكَذِّبَهُ مَخَافَةَ أَنْ يَجْحَدَ الْحَدِيثَ إِنْ دَعَا قَوْمَهَ إِلَيْهِ ، وقَالَ لَهُ: أَتُحَدِّثُ قَوْمَكَ مَا حَدَّثَتْنِي إِنْ دَعَوْتُهُمْ إِلَيْكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: هَيَّا مَعْشَرَ بَنِي كَعْبِ ، قَالَ: فَتَنَفَّضَتِ الْمَجَالِسُ، فَجَاؤُوا حَتَّى جَلَسُوا إلَيْهِمَا، فَقَالَ: حَدِّثْ قَوْمَك مَا حَدَّثْتنِي، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إنِّي أُسْرِيَ بِي اللَّيْلَةَ، قَالُوا: إلَى أَيْنَ؟ قَالَ: إلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، قَالُوا: ثُمَّ أَصْبَحْت بَيْنَ ظَهْرَانِينَا؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَمن بَيْنَ مُصَفِّقٍ ومن وَبَيْنَ وَاضِعٍ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ مُستضحكا لما يتحدث ، زَعَم، فقَالُوا: أتَسْتَطِيعُ أَنْ تَنْعَتَ لَنَا الْمَسْجِدَ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
১-আমাদের নিকট আবু আলী বিশর ইবনে মুসা আল-আসাদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাওযাহ ইবনে খলিফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আউফ বর্ণনা করেছেন জুরাহ ইবনে আওফা থেকে, তিনি বলেন যে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন মিরাজ সংঘটিত হওয়ার রাতটি অতিক্রান্ত হলো এবং আমি ভোরে মক্কায় অবস্থান করছিলাম, তখন আমি আমার এ বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম এবং বুঝতে পারলাম যে লোকেরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে। রাবী বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিমর্ষ ও চিন্তিত অবস্থায় বসে ছিলেন। এমন সময় আবু জাহল (আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিন) তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করল এবং তার কাছে এসে বসল। অতঃপর সে বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে বলল: নতুন কিছু ঘটেছে কি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: তা কী? তিনি বললেন: আজ রাতে আমাকে নিয়ে ভ্রমণ করানো হয়েছে। সে বলল: কোথায়? তিনি বললেন: // ৩ // বাইতুল মাকদিস পর্যন্ত। সে বলল: এরপর আপনি ভোরে আমাদের মাঝেই উপস্থিত হলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। রাবী বলেন: সে তাকে (তৎক্ষণাৎ) মিথ্যা সাব্যস্ত করতে চাইল না এই ভয়ে যে, যদি সে তার কওমকে ডেকে আনে তবে পাছে তিনি এই কথা অস্বীকার না করে বসেন। সে তাকে বলল: আমি যদি আপনার কওমকে ডেকে আনি, তবে আপনি আমাকে যা বললেন তা কি তাদের কাছেও বলবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: হে বনু কাবের বংশধরেরা, শোনো! রাবী বলেন: তখন মজলিসগুলো ভেঙে গেল এবং তারা সকলে এসে তাদের দুইজনের কাছে বসল। সে (আবু জাহল) বলল: আপনি আমাকে যা বলেছেন তা আপনার কওমকে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আজ রাতে আমাকে ভ্রমণ করানো হয়েছে। তারা বলল: কোথায়? তিনি বললেন: বাইতুল মাকদিসে। তারা বলল: এরপর আপনি সকালেই আমাদের মাঝে উপস্থিত হলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। রাবী বলেন: তখন কেউ তালি বাজাতে লাগল এবং কেউ তার কথা শুনে উপহাস করে বিস্ময় প্রকাশ করতে করতে নিজের মাথায় হাত রাখল। তারা বলল: আপনি কি আমাদের কাছে সেই মসজিদের বর্ণনা দিতে পারবেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ৪)
فَذَهَبْتُ أَنْعَتُ لَهُمْ فَمَا زِلْتُ أَنْعَتُ وَأَنْعَتُ حَتَّى الْتَبَسَ عَلَيَّ النعت ، قَالَ: فَجِيءَ بِالْمَسْجِدِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ ، حَتَّى وُضِعَ دُونَ دَارِ عَقِيلٍ أَوْ دَارِ عِقَالٍ ، قَالَ: فَنَعَتُّهُ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ ، قَالَ الْقَوْمُ: أَمَّا النَّعْتُ فَقَدْ وَاللَّهِ أَصَابَ. أَنْظُرُ إلَيْهِ، حَتَّى وُضِعَ دُونَ دَارِ عَقِيْلٍ ، أَوْ دَارِ عِقَاْل، قَالَ: فَنَعَتُّهُ وَأَنَا أَنْظُرُ إلَيْهِ، فَقَالَ: الْقَوْمُ: أَمَّا النَّعْتُ فَقَدْ وَاللهِ أَصَابَ.

2-حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلَامٍ،رضي الله عنه ، قَالَ: لَمَّا وَرَدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ قَالَ: فَجِئْتُ فِي النَّاسِ أَنْظُرُ، فَلَمَّا تَبَيَّنْتُ وَجْهَهُ عَرَفْتُ أَنَّ وَجْهَهُ لَيْسَ بِوَجْهِ كَذَّابٍ. فَكَانَ أَوَّلُ شَيْءٍ سَمِعْتُهُ يَتَكَلَّمُ بِهِ أَنْ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَفْشُوا السَّلَامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصِلُوا الْأَرْحَامَ، وَصَلُّوا وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ.
অতঃপর আমি তাদের নিকট বর্ণনা করতে শুরু করলাম। আমি বর্ণনা করতেই থাকলাম এবং বর্ণনা করতে থাকলাম যতক্ষণ না বর্ণনাগুলো আমার কাছে অস্পষ্ট হয়ে উঠল। তিনি বললেন: তখন মসজিদটিকে নিয়ে আসা হলো এবং আমি সেটির দিকে তাকাচ্ছিলাম, এমনকি তা আকীলের বাড়ি অথবা ইকালের বাড়ির সম্মুখে রাখা হলো। তিনি বললেন: অতঃপর আমি সেটি দেখে দেখে তার বর্ণনা প্রদান করলাম। কওমের লোকেরা বলল: বর্ণনার ক্ষেত্রে আল্লাহর কসম, তিনি নির্ভুল বলেছেন। আমি সেটির দিকে তাকাচ্ছিলাম, এমনকি তা আকীলের বাড়ি অথবা ইকালের বাড়ির সম্মুখে রাখা হলো। তিনি বললেন: অতঃপর আমি সেটি দেখে দেখে তার বর্ণনা প্রদান করলাম। কওমের লোকেরা বলল: বর্ণনার ক্ষেত্রে আল্লাহর কসম, তিনি নির্ভুল বলেছেন।

২-আমাদের নিকট আবু আলী বিশর ইবনে মূসা আল-আসাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাওজাহ ইবনে খলীফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আওফ বর্ণনা করেছেন জুরারাহ ইবনে আওফা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় আগমন করলেন, তখন আমিও মানুষের ভিড়ে তাঁকে দেখার জন্য আসলাম। অতঃপর যখন আমি তাঁর চেহারাটি স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করলাম, আমি বুঝতে পারলাম যে তাঁর চেহারা কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। তাঁর নিকট থেকে আমি সর্বপ্রথম যে কথাটি শুনতে পেলাম তা হলো, তিনি বললেন: হে লোকসকল! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, অন্নদান করো, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখো এবং রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করো; তবে তোমরা শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ৫)
3-حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ // 4 // بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ ، أَنَّ صُهَيْبًا حِينَ أَرَادَ الْهِجْرَةَ إِلَى الْمَدِينَةِ قَالَ لَهُ أَهْلُ مَكَّةَ: أَتَيْتَنَا هَاهُنَا صُعْلُوكًا حَقِيرًا فتغيَّر حالك عِنْدَنَا، وَبَلَغْتَ مَا بَلَغْتَ ثُمَّ تَنْطَلِقُ بِنَفْسِكَ وَحَالِكَ؟ وَاللَّهِ لَا يَكُونُ ذَلِكَ، فَقَالَ: أَرَأَيْتُمْ إِنْ تَرَكْتُ مَالِي أَمُخَلُّونَ أَنْتُمْ سَبِيلِي؟ قَالُوا: نَعَمْ، فَخَلَعَ لَهُمْ مَالَهُ أَجْمَعَ ، فَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: رَبِحَ صُهَيْبٌ رَبِحَ صُهَيْبٌ.

4-حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي فُلانٌ، أَنَّهُ شَهِدَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ لِرَجُلٍ مِنْ جُلَسَائِهِ: يَا فُلانُ، كَيْفَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْعَتُ الإِسْلامَ؟ فَقَالَ: سَمِعْتُهُ يَقُولُ: إِنَّ الإِسْلامَ بَدَأَ جَذَعًا، ثُمَّ ثَنِيًّا ثُمَّ رَبَاعِيًا، ثُمَّ سَدَسِيًّا، ثُمَّ بَازِلا، فَقَالَ عُمَرُ: وَمَا بَعْدَ الْبُزُولِ إِلا النُّقْصَانُ.

5-حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي خَنْسَاءُ بِنْتُ مُعَاوِيَةَ ، قَالَتْ: حَدَّثَتْنِي عَمَّتِي ، قَالَتْ: قُلْتُ: يَارَسُولَ اللهِ: مَنْ فِي الْجَنَّةِ؟ قَالَ: النَّبِي صلى الله عليه وسلم ُّ فِي الْجَنَّةِ، وَالشَّهِيدُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْمَوْلُودُ فِي الْجَنَّةِ، وَالْمَوْءودَةُ فِي الْجَنَّةِ.
3-আমাদের কাছে বিশর বিন মূসা আল-আসাদী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাওজাহ বিন খালীফাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আওফ বর্ণনা করেছেন আবু উসমান থেকে যে, সুহাইব যখন মদীনায় হিজরতের ইচ্ছা করলেন, তখন মক্কাবাসীরা তাকে বলল: "তুমি আমাদের কাছে একজন নিঃস্ব ও তুচ্ছ ব্যক্তি হিসেবে এসেছিলে, অতঃপর আমাদের এখানে তোমার অবস্থার উন্নতি হলো এবং তুমি যা অর্জন করার তা অর্জন করলে, এরপর এখন তুমি নিজে এবং তোমার সম্পদ নিয়ে চলে যাবে? আল্লাহর কসম, তা হবে না।" তিনি বললেন: "তোমাদের কী মত, আমি যদি আমার সম্পদ ছেড়ে যাই, তবে কি তোমরা আমার পথ ছেড়ে দেবে?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" অতঃপর তিনি তার সমস্ত সম্পদ তাদের জন্য অর্পণ করলেন। এই সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: "সুহাইব লাভবান হয়েছে, সুহাইব লাভবান হয়েছে।"

4-আমাদের কাছে বিশর বিন মূসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাওজাহ বিন খালীফাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আওফ বর্ণনা করেছেন আলকামাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুযানী থেকে, তিনি বলেন: আমাকে অমুক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উমর বিন আল-খাত্তাবকে তার মজলিসের এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন: "হে অমুক, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ইসলামের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে কী বলতে শুনেছ?" সে বলল: "আমি তাকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই ইসলাম শুরু হয়েছে জাযা’ (অল্পবয়স্ক উট) হিসেবে, অতঃপর সানী, অতঃপর রাবাঈ, অতঃপর সাদাসী এবং সবশেষে বাজিল (পূর্ণ বয়স্ক ও শক্তিশালী উট) হয়েছে।" উমর বললেন: "আর পূর্ণতা বা পরিপক্কতার পর তো কেবল হ্রাস পাওয়াই বাকি থাকে।"

5-আমাদের কাছে বিশর বিন মূসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাওজাহ বিন খালীফাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আওফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে খানসা বিনতে মুআবিয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার ফুফু আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: "হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে কে থাকবে?" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "নবী জান্নাতে থাকবেন, শহীদ জান্নাতে থাকবেন, নবজাতক জান্নাতে থাকবে এবং জীবন্ত সমাহিত কন্যাশিশু জান্নাতে থাকবে।"
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ৬)
6-حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ ، عَن مُحَمَّدٍ قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ ، رضي الله عنه: مَنْ أَدْرَكَ صلاة الغداة وَهُوَ جُنُبٌ فَلَا صَوْمَ لَهُ ذلك اليوم. وقال ابن مسعود: لو أتيت أهلي من الليل ، ثم أصبحت جنبا ، ثم أردت الصوم لصمت ، لأني إنما أتيت حلالا ، وادلم آت حراما. قال محمد: فلو أصبحت // 5 // جنبا ثم أردت الصوم من أجل ما قال ابن مسعود، ولو أصابتني جنابة من الليل ، ثم أردت الصوم ، لم أدع الصوم حتى أصبح من أجل ما قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ.

7-حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى أَبُو عَلِيٍّ الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَن مُحَمَّدٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: من ابتع جنازة مسلم إيمانا واحتسابا فلزمها حتى تدفن، فإنه يرجع وله قيراطان من الأجر، كل قيراط مثل أحد، ومن صلى عليها، ثم رجع قبل أن تدفن، فإنه يرجع بقيراط.

8-حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَن مُحَمَّدٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ، لَمْ تَكَدْ رُؤْيَا الْمؤمِنُ تَكْذِبُ، وَرُؤْيَا الْمؤمِنُ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ. قَالَ مُحَمَّدٌ: وَمَا كَانَ مِنَ النُّبُوَّةِ فَإِنَّهُ لَا يَكْذِبُ. ثُمَّ قَالَ: أنا أقول هذا.

9-حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنِ الْحَسَنِ، وَمُحَمَّدٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَقُولُ: التَّسْبِيحُ فِي الصَّلَاةِ لِلرِّجَالِ، وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ.
৬-আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল মূসা, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাওযাহ ইবনে খলিফাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আওফ, মুহাম্মাদ (ইবনে সিরিন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি অপবিত্র (জুনুব) অবস্থায় ফজরের সময় উপনীত হয়, সেই দিনের জন্য তার কোনো রোজা নেই। আর ইবনে মাসউদ বলেছেন: আমি যদি রাতে নিজ স্ত্রীর সাথে মিলিত হই, অতঃপর সকালে অপবিত্র অবস্থায় উঠি, তারপর রোজা রাখার ইচ্ছা করি, তবে আমি অবশ্যই রোজা রাখব; কারণ আমি হালাল কাজ করেছি এবং কোনো হারাম কাজ করিনি। মুহাম্মাদ বলেন: ইবনে মাসউদ যা বলেছেন সেই কারণে আমি যদি সকালে // ৫ // অপবিত্র অবস্থায় উঠি তবে রোজা রাখার ইচ্ছা করতাম; আবার যদি রাতে আমার অপবিত্রতা ঘটে এবং আমি রোজা রাখতে চাই, তবে আবু হুরায়রা যা বলেছেন সেই কারণে সকাল হওয়া পর্যন্ত আমি রোজা ত্যাগ করতাম না।

৭-আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল মূসা আবু আলী আল-আসাদী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাওযাহ ইবনে খলিফাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আওফ, মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কোনো মুসলিমের জানাযার অনুসরণ করে এবং দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তার সাথে থাকে, সে দুই কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে আসে, যার প্রতিটি কীরাত ওহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি জানাযার নামাজ পড়ে দাফন হওয়ার আগেই ফিরে আসে, সে এক কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে আসে।

৮-আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল মূসা, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাওযাহ ইবনে খলিফাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আওফ, মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন শেষ জামানা ঘনিয়ে আসবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। আর মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। মুহাম্মাদ বলেন: নবুওয়াতের অংশ যা হয় তা মিথ্যা হয় না। এরপর তিনি বললেন: আমি এটা বলছি।

৯-আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আলী বিশর ইবনুল মূসা, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাওযাহ ইবনে খলিফাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আওফ, হাসান এবং মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা বলতেন: নামাজের মধ্যে (ভুল সংশোধনে) তাসবীহ বলা পুরুষদের জন্য এবং তালি দেওয়া মহিলাদের জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ৭)
10-حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنْ يَزِيدَ أَبِي الْعَلاءِ، عَنْ رَجُلٌ، مِنْ مِنَ التَّيْمِ ، أَوْ العُكْلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: صَوْمُ شَهْرِ الصَّبْرِ، وَثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ يُذْهِبُ وَحَرَ الصَّدْرِ، أَوْ وَغَرَ الصَّدْرِ.

11-حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَن مُحَمَّدٍ ، قَالَ:كان أبو قتادة في منزلي هذا ، في بيت من داره ، فانقض شهاب من السماء ، قال: كان إذا انقض شهاب من // 6 // السماء ، فنهانا أن نتبعه أبصارنا.

12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ حَرْبٍ أَبُو صَالِحٍ، قَالَ: سمعت مالك ،وذكر سُفيان فقَالَ: أما أنه قد فارقني على أن لا يشرب النبيذ.

13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، قَالَ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ سَعْدٍ، يَقُولُ: أَشْهَدُ عَلَى سُفْيَانَ أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ النَّبِيذِ، فَقَالَ: كُلْ تَمْرًا، وَاشْرَبْ مَاءً، مَا يَصِيرُ فِي بَطْنِكَ نَبِيذًا.

14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، قَالَ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ سَعْدٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ سَعْدٍ، يَقُولُ: والله ما رأيت بالمدينة سكرانا قط حتى خرجت منها.
১০-আমাদের নিকট বিশর ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাওযাহ ইবনে খলিফা বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের নিকট আউফ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ আবুল আলা থেকে, তিনি তায়ম অথবা উকল গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "সবর বা ধৈর্যের মাসের (রমজানের) রোজা এবং প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ বা কলুষতা দূর করে দেয়।"

১১-আমাদের নিকট বিশর ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাওযাহ ইবনে খলিফা বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের নিকট আউফ বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু কাতাদা আমার এই বাসভবনে, তার ঘরের একটি কামরায় ছিলেন, তখন আকাশ থেকে একটি উল্কাপিণ্ড খসে পড়ল। তিনি বলেন: যখন আকাশ থেকে কোনো উল্কাপিণ্ড খসে পড়ত, তখন তিনি আমাদের সেদিকে দৃষ্টি দিয়ে অনুসরণ করতে নিষেধ করতেন।

১২ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শুআইব ইবনে হারব আবু সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে সুফিয়ানের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "জেনে রেখো, সে আমার থেকে এই শর্তে পৃথক হয়েছিল যে সে নাবীয (এক প্রকার পানীয়) পান করবে না।"

১৩ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে সাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "আমি সুফিয়ানের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তাকে নাবীয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: 'তুমি খেজুর খাও এবং পানি পান করো; যা তোমার পেটে গিয়ে নাবীযে পরিণত হয়'।"

১৪ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে সাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "আল্লাহর কসম, আমি মদিনা থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে কখনো কোনো মদ্যপ ব্যক্তিকে দেখিনি।"
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ৮)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ فَرْقَدٍ ، أَنَّ عُمَرَ ، رضي الله عنه: دعا بنبيذ قد خلل ، فقال: اشرب. فأدنيته من في ، فجعلت لا أستطيع أن أشربه.

16 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ ، حَدَّثَنَا محمد بن عباد ، حَدَّثَنَا حاتم ، عن أبي أسباط الحارثي ، عن ثابت البناني ، قال: قلت لأنس بن مالك: أين نحن من أصحاب رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قال: ما أعرف شيئا. قال: قلت: ولا الصلاة؟ قال: ولا الصلاة. قلت: ولم؟ قال: قدمتم وأخرتم.

17 - أَبُو حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ ، أَخْبَرَنَا مِسْعَرٌ، وَسُفْيَانُ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ ، سَمِعْتُ جَابِرٍ بْنَ عَبْدِ اللهِ، يَقُولُ: الْبُسْرُ وَالتَّمْرُ خَمْرٌ.

قَالَ مِسْعَرٌ: أَوْ هِيَ الْخَمْرُ.

18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ // 7 // حَنْبَلٍ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ أَبُو يُوسُفَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ، رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَا تَجْمَعُوا بَيْنَ الرُّطَبِ، وَالْبُسْرِ، وَالزَّبِيبِ، وَالتَّمْرِ.
১৫ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুস সামাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে জুহাদা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসমাঈল থেকে, তিনি কায়স ইবনে আবি হাযিম থেকে, তিনি উতবা ইবনে ফারকাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু সিরকা হয়ে যাওয়া নবীয (শরবত) চাইলেন এবং বললেন: পান করো। আমি তা আমার মুখের কাছে আনলাম, কিন্তু আমি তা পান করতে পারলাম না।

১৬ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাতিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আসবাত আল-হারিসি থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বললাম: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের তুলনায় আমাদের অবস্থা কী? তিনি বললেন: আমি (তাদের রীতির) কিছুই চিনতে পারছি না। আমি বললাম: সালাতও কি নয়? তিনি বললেন: সালাতও নয়। আমি বললাম: কেন? তিনি বললেন: তোমরা (সালাতের সময় ও নিয়ম) আগে-পিছে করে ফেলেছ।

১৭ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে জামিল আবু ইউসুফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মিসআর ও সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহারিব ইবনে দিসার থেকে, আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: আধাপাকা খেজুর ও শুকনো খেজুর (একত্রে ভিজিয়ে রাখা হলে তা) মদ।

মিসআর বলেছেন: অথবা সেগুলোই হলো মদ।

১৮ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে জামিল আবু ইউসুফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে জুরাইজের নিকট পাঠ করেছি, তিনি আতা থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমরা তাজা খেজুর, আধাপাকা খেজুর, কিসমিস এবং শুকনো খেজুর একত্রে মিশিও না (পানীয় তৈরির জন্য)।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ৯)
19 - الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، حَدَّثَنَا عَطَّافِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَتْ: كَانَتْ أُمِّي إِذَا دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَغْتَسِلُ، تَقُولُ أُمِّي ادْخُلِي عَلَيْهِ، فَإِذَا دَخَلْتُ نَضَحَ فِي وَجْهِيَ الْمَاءَ، ويَقُولُ: ارْجِعِي.

قَالَ عَطَّافٌ: قَالَتْ أُمِّي: وَرَأَيْتُ زَيْنَبَ وَهِيَ عَجُوزٌ كَبِيرَةٌ وَمَا نَقَصَ مَنْ وَجْهِهَا شَيءٌ.

20 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ الْهَيْثَمِ ، عن الشَّعْبِيِّ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه، أَنَّهُ قَالَ فِي دِيَةِ الْخَطَأِ: عَلَى أَهْلِ الإِبِلِ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ، وَعَلَى أَهْلِ الْبَقَرِ مِائَتَيْ بَقَرَةٍ ، وَعَلَى أَهْلِ الْغَنَمِ أَلْفُ شَاةٍ ، وَعَلَى أَهْلِ الْوَرِقِ عَشَرَةَ آلَافِ دِرْهَمٍ، وَعَلَى أَهْلِ الذَّهَبِ أَلْفَ دِينَارٍ.

21 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ الْهَيْثَمِ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، قَالَ: لَيْسَ عَلَى الْقَوَابِلِ ، والْحَوَامِلِ صَدَقَةٌ.

22 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ الْهَيْثَمِ ، عَنْ عَنْ أُمِّ ثَوْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، رضي الله عنه ، قَالَ: لَا بَأْسَ لَا بَأْسَ بِالْوَصْلِ فِي الشَّعْرِ إِذَا كَانَ صُوفًا.
১৯ - আল-হায়সাম ইবনে খারিজা, আত্তাফ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার মা থেকে, তিনি যায়নাব বিনতে আবি সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন গোসল করতে প্রবেশ করতেন, তখন আমার মা আমাকে বলতেন, "তার নিকট প্রবেশ করো।" এরপর আমি যখন প্রবেশ করতাম, তিনি আমার মুখে পানি ছিটিয়ে দিতেন এবং বলতেন, "ফিরে যাও।"

আত্তাফ বলেন: আমার মা বলেছেন: আমি যায়নাবকে দেখেছি যখন তিনি অতি বৃদ্ধা ছিলেন, তবুও তার চেহারা থেকে লাবণ্যের কিছুই কমেনি।

২০ - বিশর ইবনে মুসা আল-আসাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি আল-হায়সাম থেকে, তিনি শাবী থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ভুলবশত হত্যার রক্তপণ (দিয়াত) সম্পর্কে বলেছেন: উটের মালিকদের ওপর একশত উট, গরুর মালিকদের ওপর দুইশত গরু, বকরির মালিকদের ওপর এক হাজার বকরি, রূপার মালিকদের ওপর দশ হাজার দিরহাম এবং স্বর্ণের মালিকদের ওপর এক হাজার দিনার ধার্য করা হবে।

২১ - বিশর ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি আল-হায়সাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: কাজে ব্যবহৃত পশু এবং গর্ভবতী পশুর ওপর কোনো সাদাকাহ (যাকাত) নেই।

২২ - বিশর ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি আল-হায়সাম থেকে, তিনি উম্মে সাওর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যদি পশম (উল) হয়, তবে চুলে জোড়া লাগানোতে কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১০)
23 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنِ إِسْحَاقَ الأََنْصَارِيُّ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، عَنْ الْحَجَّاجِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفٍ بْنِ الشِّخِّيرِ // 8 // قال: لقيني علي بن أبي طالب ، رضي الله عنه ، فقال لي: أحب عثمان ، رضي الله عنه ، شغلك قال: فسكت لمن معه من الناس، قال: فلما رأيت منه خلوة أقبل نحوي ، قال:قلت:أنا أحق بالسرعة. قال: فحركت. فقال إن تفعل فإنه كان أتقانا للرب، تعالى ، وأوصلنا للرحم.

24 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنِ إِسْحَاقَ الأََنْصَارِيُّ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ صَالِحٍ ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ ، وَعَائِشَةَ ، رضي الله عنهما، أَنَّهُمَا قَالَا:فِي مَوْتِ الْفُجَاءَةِ، أَسَفٌ عَلَى الْكَافِرِ ، وَرَاحَةٌ لِلْمُؤْمِنِ.

25 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنِ إِسْحَاقَ ، حدثنا عبد الله بن مروان بن معاوية، حَدَّثَنَا عبد الله بن رجاء ، عن المثنى بن الصباح عن إبراهيم بن ميسرة ، عن سعيد بن الْمُسَيَّب ، عن علي ، رضي الله عنه، قال: ما رأيت يهوديا أصدق من فلان زعم أن نار الله الكبرى هي البحر فإذا كان يوم القيامة جمع الله ، تعالى ، فيه الشمس والقمر والنجوم ،ثم بعث عليه الدبور فسعرته.
23 - আমাদের নিকট মূসা ইবনে ইসহাক আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু শিহাব বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ ইবনে আশ-শিখখীর থেকে বর্ণনা করেন // 8 // তিনি বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর সাথে আমার দেখা হলো, তখন তিনি আমাকে বললেন: উসমানের (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতি ভালোবাসা কি তোমাকে ব্যস্ত রেখেছে? তিনি (মুতাররিফ) বলেন: তার সাথে থাকা লোকেদের কারণে আমি চুপ থাকলাম। তিনি বলেন: অতঃপর যখন আমি তাকে একাকী পেলাম, তিনি আমার দিকে এগিয়ে এলেন। তিনি (মুতাররিফ) বলেন: আমি বললাম: দ্রুত এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে আমিই অধিক হকদার। তিনি বলেন: আমি নড়াচড়া করলাম। তখন তিনি (আলী) বললেন: যদি তুমি তাকে ভালোবাসো তবে জেনে রেখো, তিনি আমাদের মধ্যে মহান রবের প্রতি সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু ছিলেন এবং আমাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী ছিলেন।

24 - আমাদের নিকট মূসা ইবনে ইসহাক আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল হামীদ ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু শিহাব বর্ণনা করেছেন, আমাশ থেকে, তিনি যুবায়দ থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ এবং আয়েশা (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা উভয়েই আকস্মিক মৃত্যু সম্পর্কে বলেছেন: এটি কাফিরের জন্য আক্ষেপের বিষয় এবং মুমিনের জন্য প্রশান্তি স্বরূপ।

25 - আমাদের নিকট মূসা ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মারওয়ান ইবনে মুআবিয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে রাজা বর্ণনা করেছেন, মুসান্না ইবনে আস-সাব্বাহ থেকে, তিনি ইবরাহীম ইবনে মাইসারা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি আলী (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি অমুক ব্যক্তির চেয়ে অধিক সত্যবাদী কোনো ইহুদি দেখিনি, যে দাবি করেছে যে আল্লাহর সর্ববৃহৎ আগুন হলো সমুদ্র। অতঃপর যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, মহান আল্লাহ তাতে সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজিকে একত্রিত করবেন, তারপর তার ওপর পশ্চিমা বায়ু (দাবুর) প্রেরণ করবেন এবং তা তাকে প্রজ্বলিত করবে।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১১)
26 - حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عُمَرَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الثَّقَفِيُّ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا السَّرِيِّ بْنِ يَحْيَى ، قَالَ: قَرَأَ الْحَسَنُ هَذِهِ الآيَةَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ y} ، حَتَّى قَرَأَ الآيَةَ قَالَ: فَقَالَ الْحَسَنُ: فَوَلَاّهَا أَبَا بَكْرٍ وَأَصْحَابَهُ.

27 - حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبِي الأَحْوَصِ ، حَدَّثَنَا عَبَادَةُ بْنُ زِيَادِ بْنِ مُوسَى الأَسَدِيُّ ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْعَلَاءِ الرَّازِيُّ، عَنْ جَعْفَر بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ. وَأَبُو الْبَخْتَرِيِّ الْمَدَنِيُّ، عَنْ جَعْفَر بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، وَعَنْ عَبْدِ السَّلَامِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ // 9 // عَبَّاسٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، رضي الله عنهما، قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَا أَخَذْتُهَا رَغْبَةً فِيهَا، وَلَا إِرَادَةَ اسْتِئْثَارٍ عَلَى أَحَدٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَلَا حَرَصْتُ عَلَيْهَا يَوْمًا وَلَا لَيْلَةً قَطُّ، وَلَا سَأَلْتُهَا اللَّهَ ، عز وجل ، سِرًّا وَلَا عَلَانِيَةً، وَلَقَدْ تَقَلَّدْتُ أَمْرًا عَظِيمًا لَا طَاقَةَ لِي بِهِ إِلَاّ أَنْ يُعِينَنِي اللَّهُ عَلَيْهِ.

28 - حدثنا محمد بن يونس بن موسى القرشي ، حدثنا معمر بن المثنى ،حدثنا لبطة بن الفرزدق ، عن أبيه قال: حججت فمررت بذات عرق ، فإذا بها قباب منصوبة ، فقلت: ما هذه؟ قالوا: الحسين بن علي، رضي الله عنهما ، فدخلت عليه ، فقال: ما الخبر ما وراءك؟ قال: قلت: القلوب معك والسيوف مع بني أمية.
২৬ - হুসাইন ইবনে উমর ইবনে ইবরাহিম আস-সাকাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আস-সারী ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, তবে অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে}, আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এরপর আল-হাসান বললেন: আল্লাহ এর দায়িত্ব আবু বকর ও তাঁর সঙ্গীদের অর্পণ করেছিলেন।

২৭ - হুসাইন ইবনে উমর ইবনে আবিল আহওয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবাদাহ ইবনে যিয়াদ ইবনে মুসা আল-আসাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে আল-আলা আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে। এবং আবুল বাখতারী আল-মাদানী জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, এবং আবদুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, আমি নেতৃত্বের প্রতি কোনো আসক্তি থেকে তা গ্রহণ করিনি, আর মুসলমানদের কারো ওপর প্রাধান্য বিস্তারের ইচ্ছাও আমার ছিল না। আমি কোনো দিন বা রাতে কখনো এর জন্য লালায়িত ছিলাম না, আর গোপনে বা প্রকাশ্যে আল্লাহর কাছে তা প্রার্থনাও করিনি। আমি নিশ্চয়ই এক মহান বিষয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি যা বহন করার শক্তি আমার নেই, যদি না আল্লাহ আমাকে সে বিষয়ে সাহায্য করেন।

২৮ - মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ইবনে মুসা আল-কুরাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াম্মার ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাবীতাহ ইবনুল ফারাযদাক তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হজ করতে গেলাম এবং যাতু ইরক নামক স্থান অতিক্রম করলাম। সেখানে আমি কিছু তাবু খাটানো অবস্থায় দেখতে পেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এগুলো কাদের? তারা বলল: আল-হুসাইন ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: খবর কী? তোমার পেছনে কী সংবাদ রয়েছে? তিনি বলেন, আমি বললাম: মানুষের অন্তর আপনার সাথে রয়েছে, কিন্তু তলোয়ারগুলো বনী উমাইয়ার পক্ষে।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১২)
29 - حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ ، حَدَّثَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبِيعَةَ. قَالَ وُهَيْب: هَكَذَا قَالَ عَطَاء. قَالَ شُعْبَةُ: عَبْد الْمَلِكِ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ ، فَذَكَرَ هَذِهِ الآيَةَ: {وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ} فقَالَ: ما تقول فيها؟ فقلت أن يذكر العبد ربه عند المعصية ، فينتهي عنها. فضحك ، فقال: إن ذال الحسن ، ولكن من ذكر الله، عز وجل ، ذكره الله ، وذكر إياه أكبر من ذكر الله، عز وجل.

30 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ، قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ: قَالَ سُفْيَانُ ، أوَشُعْبَةُ: لَمْ يَسْمَعِ الأَعْمَشُ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ. يعني حديث: مَنْ بَنَى لِلَّهِ، تَعَالَى ، مَسْجِدًا.

31 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ ، وحَصِينٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ ، // 10 // رضي الله عنه ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ، يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ.
29 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম ইবরাহীম ইবন আব্দুল্লাহ আল-বসরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর আদ-দারীর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উহাইব ইবন খালিদ, আতা ইবন আস-সাইব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন রাবিআহ থেকে। উহাইব বলেন: আতা এভাবেই বলেছেন। শু'বাহ বলেন: আব্দুল মালিক ইবন রাবিআহ। তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের নিকট ছিলাম, তখন তিনি এই আয়াতটি উল্লেখ করলেন: {আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ}। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি এই বিষয়ে কী বল? আমি বললাম: বান্দা যখন কোনো পাপের সময় তার রবকে স্মরণ করে এবং তা থেকে বিরত থাকে। তিনি হাসলেন এবং বললেন: এটি চমৎকার, কিন্তু মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ যখন (বান্দাকে) স্মরণ করেন, তখন তাঁর পক্ষ থেকে স্মরণ করা বান্দার মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহকে স্মরণ করার চেয়েও মহত্তর।

30 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ বলেন: সুফিয়ান অথবা শু'বাহ বলেছেন: আল-আ'মাশ এই হাদীসটি ইবরাহীম আত-তাইমী থেকে শোনেননি। অর্থাৎ এই হাদীসটি: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে।

31 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী বিশর ইবন মূসা আল-আসাদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুয়াইম আল-ফজল ইবন দুকাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, মানসুর ও হুসাইন থেকে, তারা আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি হুযাইফা // ১০ // রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে (ইবাদতের জন্য) উঠতেন, তখন মেসওয়াক দিয়ে তাঁর মুখ ঘষে পরিষ্কার করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১৩)
32 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ مُوَرِّقٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ، رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ لَاءَمَكُمْ مِنْ خَدَمِكُمْ، فَأَطْعِمُوهُم مِمَّا تَأْكُلُونَ، وَاكْسُوهُم مِمَّا تَكْتَسُونَ، وَمَنْ لَمْ يُلَايِمْكُمْ فَبِيعُوهُ، وَلَا تُعَذِّبُوا خَلْقَ اللهِ ، تَعَالَى.

33 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدَ اللهِ قَالَ: بِئْسَ مَا لأَحَدِهِمْ أَنْ يَقُولَ نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ ، بَلْ هُوَ نُسِّيَ.

34 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامٍ، قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا مَعَ حُذَيْفَةَ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّ رَجُلاً يَرْفَعُ الحَدِيثَ إِلَى عُثْمَانَ ، رضي الله عنه ، فَقَالَ حُذَيْفَةُ ، رضي الله عنه: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: لَا يَدْخُلُ الجَنَّةَ قَتَّاتٌ.
32 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনু মুসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান, তিনি মানসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি মুওয়াররিক থেকে, তিনি আবু যার (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের খাদেমদের মধ্যে যারা তোমাদের অনুকূল হয়, তাদের তোমরা যা খাও তা থেকে খাওয়াও এবং তোমরা যা পরিধান করো তা থেকে পরিধান করাও। আর যারা তোমাদের অনুকূল হয় না তাদের তোমরা বিক্রি করে দাও, কিন্তু আল্লাহর সৃষ্টিকে কষ্ট দিও না।"

33 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনু মুসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান, তিনি মানসুর থেকে, তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তাদের কারো জন্য এটি বলা কতই না মন্দ যে, 'আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি', বরং তাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

34 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনু মুসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান, তিনি মানসুর থেকে, অন্য সূত্রে মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা হুজাইফা (রা.)-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তাঁকে বলা হলো: এক ব্যক্তি উসমান (রা.)-এর নিকট কথাবার্তা পৌঁছে দেয়। তখন হুজাইফা (রা.) বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১৪)
35 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ نَاجِيَةَ بْنَ كَعْبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رضي الله عنه ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: إِنَّ عَمَّكَ الضَّالَّ ، قَالَ: مَاتَ، يَعْنِي أَبَاهُ. قَالَ: اذْهَبْ فَوَارِهِ، وَلَا تُحْدِثَنَّ شَيْئًا حَتَّى تَأْتِيَنِي، فَأَتَيْتُهُ، فَأَخْبَرْتُهُ، فَأَمَرَنِي فَاغْتَسَلْتُ ثُمَّ أَتَيْتُهُ، ودَعَا لِي بِدَعَوَاتٍ مَا يَسُرُّنِي بِهِنَّ مَا عُرِّضَ مِنْ شَيْءٍ.

36 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ عَلِيٍّ ، رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَجُلاً يَسْتَغْفِرُ لأَبَوَيْهِ وَهُمَا مُشْرِكَانِ، فَقُلْتُ:أتَسْتَغْفِرُ لأَبَوَيْكَ وَهُمَا مُشْرِكَانِ؟، فَقَالَ: أَلَمْ يَسْتَغْفِرْ إِبْرَاهِيمُ لأَبِيهِ؟ // 11// قَالَ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَنَزَلَتْ: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ (# q م ZtB#u ن} .

37 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ نَذِيرٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي سَعِيدٍ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إنَّ اللَّهَ يَقُولُ: إنَّ الصَّوْمَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، إِنَّ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَيْنِ؛ إذَا أَفْطَرَ فَرِحَ، وَإِذَا لَقِيَ اللَّهَ فَرِحَ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ.
৩৫ - বিশর ইবনে মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি নাজিয়াহ ইবনে কাব থেকে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট আসলাম এবং বললাম: আপনার পথভ্রষ্ট চাচা মৃত্যুবরণ করেছেন—অর্থাৎ তাঁর (আলীর) পিতা। তিনি বললেন: যাও এবং তাকে দাফন করো, আর আমার নিকট ফিরে আসার আগে নতুন কিছু করো না। অতঃপর আমি তাঁর নিকট আসলাম এবং তাঁকে খবর দিলাম। তখন তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন এবং আমি গোসল করলাম, তারপর পুনরায় তাঁর নিকট আসলাম। তিনি আমার জন্য এমন কিছু দোয়া করলেন যার বিনিময়ে দুনিয়ার কোনো সম্পদ পাওয়াও আমার নিকট এত আনন্দের বিষয় হতো না।

৩৬ - বিশর ইবনে মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল খালীল থেকে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে তার পিতামাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে শুনলাম অথচ তাঁরা মুশরিক ছিলেন। আমি বললাম: আপনি কি আপনার পিতামাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন অথচ তাঁরা মুশরিক? তিনি বললেন: ইবরাহিম কি তাঁর পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি? তিনি বলেন: অতঃপর আমি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলাম, তখন অবতীর্ণ হলো: {নবী এবং মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে...}।

৩৭ - বিশর ইবনে মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে নাযীর থেকে, তিনি হুযাইফা থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেন: রোজা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে; যখন সে ইফতার করে তখন সে আনন্দিত হয়, আর যখন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে আনন্দিত হবে। আর যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ, আল্লাহর নিকট রোজাদারের মুখের গন্ধ মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১৫)
قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِعَضَلَةِ سَاقِي، فَقَالَ: هَذَا مَوْضِعُ الإِزَارِ، فَإِنْ أَبَيْتَ فَأَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ، فَإِنْ أَبَيْتَ فَلا حَقَّ لِلإِزَارِ فِي الْكَعْبَيْنِ.

38 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ النَّجْرَانِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، رضي الله عنهما ، قَالَ: أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، بِرَجُلٍ سَكْرَانَ فَضَرَبَهُ، فَقَالَ لَهُ: أَيُّ شَيْءٍ شَرِبْتَ؟ قَالَ: نَبِيذٌ، قَالَ: أَيُّ نَبِيذٍ قَالَ: نَبِيذُ تَمْرٍ وَزَبِيبٍ، قَالَ: لَا تَخْلِطُوهَا كُلُّ، وَاحِدٍ يَكْفِي وَحْدَهُ.

39 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ ، رضي الله عنها ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَهْدَى مَرَّةً غَنَمًا.
তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পায়ের মাংসপেশি ধরলেন এবং বললেন: "এটি হলো ইজারের স্থান। যদি তুমি তাতে অসম্মত হও, তবে তার নিচে। আর যদি তাতেও অসম্মত হও, তবে গোড়ালিতে ইজারের কোনো অধিকার নেই।"

৩৮ - বিশর ইবন মূসা আল-আসাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি নাজরানী থেকে, তিনি ইবন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক মদ্যপ ব্যক্তিকে আনা হলো এবং তিনি তাকে প্রহার করলেন। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কী পান করেছ?" সে বলল: "নাবীজ।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কোন ধরণের নাবীজ?" সে বলল: "খেজুর ও কিশমিশের নাবীজ।" তিনি বললেন: "তোমরা এ দুটিকে একত্রে মিশ্রিত করো না; প্রতিটি আলাদাভাবেই যথেষ্ট।"

৩৯ - আবু আলী বিশর ইবন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহীম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, তিনি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার বকরী হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১৬)
40 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قُلْنَا: السَّلَامُ عَلَى اللهِ دُونَ عِبَادِهِ، السَّلَامُ عَلَى جِبْرِيلَ، وَمِيكَائِيلَ، السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ، وَفُلَانٍ، فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: اللَّهُ هُوَ السَّلَامُ، فَإِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ، فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمُوهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ لِلَّهِ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا // 12 // عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.

41 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ اللَّهُ عز وجل:الصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ، وَأَكْلَهُ، وَشُرْبَهُ مِنْ أَجْلِي، وَالصَّوْمُ جُنَّةٌ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ، فَرْحَةٌ حِينَ يُفْطِرُ، وَفَرْحَةٌ حِينَ يَلْقَى رَبَّهُ،وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ.
৪০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী বিশর বিন মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ, শাকিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে সালাত আদায় করতাম, তখন বলতাম: আল্লাহর বান্দাদের আগে আল্লাহর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, জিবরাঈল ও মিকাইলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, অমুক ও অমুকের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: আল্লাহ নিজেই তো শান্তি (আস-সালাম)। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে, সে যেন বলে: সমস্ত অভিবাদন আল্লাহর জন্য, সমস্ত সালাত এবং সমস্ত পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। কেননা তোমরা যখন এটি বলবে, তখন তা আসমান ও জমিনে আল্লাহর প্রত্যেক নেককার বান্দার নিকট পৌঁছে যাবে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ // ১২ // আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

৪১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ, আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্ল বলেছেন: রোজা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। সে (বান্দা) আমারই জন্য নিজের কামনা-বাসনা, আহার ও পানাহার বর্জন করে। রোজা হলো ঢাল। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি আনন্দ যখন সে ইফতার করে, আর অন্যটি আনন্দ যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। নিশ্চয়ই রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১৭)
42 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَيْسَ الْمِسْكِينُ الَّذِي تَرُدُّهُ الأَكْلَةُ وَالأَكْلَتَانِ ، أَوْ التَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ، وَلَكِنَّ الْمِسْكِينَ الَّذِي لَا يَسْأَلُ النَّاسَ شَيْئًا، وَلَا يعلم مَكَانُهُ فَيُعْطَى.

43 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، قَالَ الأَعْمَشِ: وَأَخْبَرَنِي الْهَجَرِيِّ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ مِثْلَهُ.

44 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَا تُسَافِرُ امْرَأَةٌ سَفَرًا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فصاعدًا إِلَاّ مَعَ زَوْجِهَا، أو أَبِيهَا ، أَوْ أَخِيهَا، أَوْ ذِي مَحْرَمٍ.

45 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى، عن طلحة بن جبر، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ حَنْطَبٍ، مُصْعَبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، رضي الله عنه ، قال: قام رسول الله صلى الله عليه وسلم على الطائف، فحاصرهم تسع عشرة أو سبع عشرة، فلم ليفتحها، ثم قال: يا معشر قريش لتنتهن ، أو لأبعثن عليكم رجلا مني ، أو كنفسي // 13 // يتقبللا مقاتلكم ، ويسبي ذراريكم. قال: ثم أخذ بيد علي ، رضي الله عنه ، فرفعها ، فقال: هو هذا يا أيها الناس ، إن موعدكم الحوض.
৪২ - বিশর ইবনু মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মিসকীন সে নয় যাকে এক লোকমা বা দুই লোকমা খাবার অথবা একটি বা দুইটি খেজুর ফিরিয়ে দেয়; বরং মিসকীন সেই ব্যক্তি যে মানুষের কাছে কোনো কিছু চায় না এবং তার অভাব সম্পর্কেও জানা যায় না যাতে তাকে দান করা যায়।

৪৩ - বিশর ইবনু মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-আমাশ বলেছেন: আল-হাজারী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৪৪ - বিশর ইবনু মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কোনো নারী যেন তার স্বামী, পিতা, ভাই অথবা কোনো মাহরাম ব্যক্তি ব্যতীত তিন দিন বা তার অধিক সময়ের সফর না করে।

৪৫ - আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনু ইউনুস ইবনু মূসা আল-কুরাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনু মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তালহা ইবনু জাবর থেকে, তিনি মুত্তালিব ইবনু হানতাব ও মুসআব ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আউফ থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তায়েফে অবস্থান করেন এবং তাদের উনিশ বা সতের দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন, কিন্তু তা জয় করতে পারেননি। এরপর তিনি বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা অবশ্যই নিবৃত্ত হবে অথবা আমি তোমাদের বিরুদ্ধে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাব যে আমার পক্ষ থেকে অথবা আমার নিজের মতো // ১৩ // যে তোমাদের যোদ্ধাদের হত্যা করবে এবং তোমাদের সন্তানদের বন্দী করবে। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তিনি আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হাত ধরলেন এবং তা উপরে উঠালেন এবং বললেন: হে লোকসকল! সে হলো এই ব্যক্তি। তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাতের স্থান হলো হাউজ (কাউসার)।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১৮)
46 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ صَبِيحٍ الْوَزَّانُ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنِ أَنَسٍ ، رضي الله عنه ، أَنَّهُ قِيلَ لَهُ: إِنَّ هَاهُنَا رَجُلاً يَقَعُ فِي الأَنْصَارِ فَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَأْخُذُ بِالْقَرَفِ ، وَلَا يَقْبَلُ قَوْلَ أَحَدٍ عَلَى أَحَدٍ.

47 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ الْفَضْلِ ، حَدَّثَنَا سُلْمَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ اللَّهُ ، عز وجل: ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا ذَكَرْتَنِي شَكَرْتَنِي وَمَا نَسِيتَنِي كَفَرْتَنِي.

48 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى، حَدَّثَنا أبو عاصم النبيل، عن حنظلة بن أبي سفيان، عن القاسم، عن عائشة ، رضي الله عنها ، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يغتسل من جنابة، فيأخذ حفنة لشق رأسه الأيمن، ثم يأخذ حفنة لشق رأسه الأيسر.

49 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ، رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَعَنِ اللَّهُ الْيَهُودَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُومُ، فَبَاعُوهَا وَأَكَلُوا ثَمَنَهَا.
৪৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস আল-কুরাশি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবাহ আল-বাহিলি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রাবি বিন সাবিহ আল-ওয়াজ্জান, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে বলা হলো: এখানে এক ব্যক্তি আছে যে আনসারদের সমালোচনা করে (বা গালি দেয়)। তখন তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কাউকে পাকড়াও করতেন না এবং একজনের বিরুদ্ধে অন্যজনের কথা (যাচাই ছাড়া) গ্রহণ করতেন না।

৪৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআল্লা বিন আল-ফাদল, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলমা বিন আব্দুল্লাহ বিন কাব, তিনি আশ-শা'বি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: হে আদমসন্তান! যতক্ষণ তুমি আমাকে স্মরণ করো, ততক্ষণ তুমি আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো; আর যখন তুমি আমাকে ভুলে যাও, তখন তুমি আমার অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।

৪৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস বিন মুসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম আন-নাবিল, তিনি হানজালা বিন আবি সুফিয়ান থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করতেন, তখন তিনি তাঁর মাথার ডান অংশের জন্য এক আঁজলা পানি নিতেন, অতঃপর তাঁর মাথার বাম অংশের জন্য এক আঁজলা পানি নিতেন।

৪৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন মুসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়বান, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি হাবিব থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ ইহুদিদের ওপর লানত (অভিশাপ) করুন; তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বিক্রি করল এবং তার মূল্য ভক্ষণ করল।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ১৯)
50 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدِ بْنِ عَقِيلٍ الْهِلَالِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ ، رضي الله عنها ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ // 14 // يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ.

51 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلَالٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، رضي الله عنه ، قَالَ: ردَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ، فَكَانَ إِذَا مَرَّ عَلَى الْمَلَأِ مِنْ قُرَيْشٍ قَالُوا لَهُ: يَا أَبَا بَكْرٍ، مَنْ هَذَا الرَّجُلُ مَعَكَ؟ فَيَقُولُ: هَذَا رَجُلٌ يَهْدِينِي السَّبِيلَ ، صلى الله عليه وسلم.
৫০ - মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, উবাইদ ইবনে আকিল আল-হিলালি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, শুবা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু হাসিন থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান থেকে, তিনি উম্মে হাবিবা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) // ১৪ // খুমরাহর (ছোট মাদুর) উপর সালাত আদায় করতেন।

৫১ - মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাব্বান ইবনে হিলাল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সাবিত থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকরের পেছনে আরোহী ছিলেন। অতঃপর যখন তিনি কুরাইশদের কোনো দলের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তারা তাকে বলল: হে আবু বকর, আপনার সাথে এই ব্যক্তিটি কে? তখন তিনি বলতেন: ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করছেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২০)
52 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكَرَةَ، قَالَ: وَفَدْنَا إِلَى مُعَاوِيَةَ ، رضي الله عنه ، نُعَزِّيهِ مَعَ زِيَادٍ، وَمَعَنَا أَبُو بَكَرَةَ، فَلَمَّا قَدِمْنَا لَمْ يُعْجَبْ بِوَفْدٍ مَا أُعْجِبَ بِنَا، فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرَةَ حَدِّثْنَا بِشَيْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ أَبُو بَكَرَةَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُعْجِبُهُ الرُّؤْيَا الْحَسَنَةُ، وَيَسْأَلُ عَنْهَا، وَإِنَّهُ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ: أَيُّكُمْ رَأَى رُؤْيَا؟ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: أَنَا رَأَيْتُ مِيزَانًا دُلِّيَ مِنَ السَّمَاءِ، فَوُزِنْتَ فِيهِ أَنْتَ وَأَبُو بَكْرٍ، رضي الله عنه ، فَرَجَحْتَ بِأَبِي بَكْرٍ، ثُمَّ وُزِنَ فِيهِ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ ، رضي الله عنهما، فَرَجَحَ أَبُو بَكْرٍ بِعُمَرَ،وَوُزِنَ فِيهِ عُمَرُ وَعُثْمَانُ ، رضي الله عنهما، فَرَجَحَ عُمَرُ بِعُثْمَانَ، ثُمَّ رُفِعَ الْمِيزَانُ، فَاسْتَاءَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، أَيْ أَوَّلَهَا، فَقَالَ: خِلَافَةُ نُبُوَّةٍ،وَيُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ مَنْ يَشَاءُ، قَالَ: فَزُخَّ فِي أَقْفَائِنَا فَأُخْرِجْنَا، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ عُدْنَا، فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرَةَ: حَدِّثْنَا بِشَيْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَبَكَعَهُ بِهِ، فَزُخَّ فِي أَقْفَائِنَا، فَأَخْرَجْنَا فَلَمَّا كَانَ فِي الْيَوْمِ الثَّالِثِ عُدْنَا، فَسَأَلَهُ أَيْضًا، قَالَ:
৫২ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আলী বিশর ইবন মূসা আল-আসাদী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাওযাহ ইবন খলীফা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ, আলী ইবন যায়দ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন আবু বাকরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা যিয়াদের সাথে মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট শোক প্রকাশ করতে প্রতিনিধি হয়ে গেলাম এবং আমাদের সাথে আবু বাকরাহ ছিলেন। যখন আমরা পৌঁছালাম, তিনি কোনো প্রতিনিধি দলের আগমনে ততটা সন্তুষ্ট হননি যতটা আমাদের আগমনে হয়েছিলেন। তিনি বললেন: হে আবু বাকরাহ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন এমন কিছু আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। আবু বাকরাহ বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্দর স্বপ্ন পছন্দ করতেন এবং সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। একদিন তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে কেউ কি কোনো স্বপ্ন দেখেছ? তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: আমি একটি পাল্লা দেখলাম যা আকাশ থেকে নামানো হয়েছে। তাতে আপনাকে ও আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ওজন করা হলো এবং আপনি আবু বকরের চেয়ে ওজনে বেশি হলেন। তারপর আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ওজন করা হলো এবং আবু বকর উমরের চেয়ে ওজনে বেশি হলেন। তারপর উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ওজন করা হলো এবং উমর উসমানের চেয়ে ওজনে বেশি হলেন। এরপর পাল্লাটি তুলে নেওয়া হলো। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিমর্ষ হলেন—অর্থাৎ তিনি এর ব্যাখ্যা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: এটি নবুওয়াতের খিলাফত, এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করবেন। রাবী বলেন: এরপর আমাদের ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হলো। পরদিন যখন আমরা ফিরে এলাম, তিনি বললেন: হে আবু বাকরাহ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন এমন কিছু আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। রাবী বলেন: তিনি আবারও তাকে সেই একই কথা শুনিয়ে দিলেন। ফলে আবারও আমাদের ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হলো। যখন তৃতীয় দিন হলো আমরা পুনরায় ফিরে এলাম, তিনি আবারও তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২১)
فَبَكَعَهُ بِهِ، فَقَالَ مُعَاوِيَةُ: تَقُولُ: إِنَّا مُلُوكٌ؟ قَدْ رَضِينَا بِالْمُلْكِ.

فَقَالَ أَبُو بَكَرَةَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ // 15 // صلى الله عليه وسلم: مَنْ قَتَلَ نَفْسًا مُعَاهَدَةً بِغَيْرِ حَقِّهَا، لَمْ يَجِدْ رِيحَ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ خَمْسِ مِئَةِ عَامٍ.

وَقَالَ أَبُو بَكَرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَيَرِدَنَّ عَلَى الْحَوْضَ رِجَالٌ مِمَّنْ صَحِبَنِي وَرَآنِي، فَإِذَا رُفِعُوا إِلَيَّ وَرَأَيْتُهُمْ اخْتُلِجُوا دُونِي، فَأَقُولُ: أُصَيْحَابِي، فَيُقَالُ: إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ.

وَقَالَ أَبُو بَكَرَةَ: قَالَ نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ يَلِي أَمْرَ فَارِسَ؟ قَالُوا: امْرَأَةٌ، قَالَ: مَا أَفْلَحَ قَوْمٌ يَلِي أَمْرَهُمْ امْرَأَةٌ.

وَقَالَ أَبُو بَكَرَةَ: جِئْتُ وَنَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَاكِعٌ قَدْ حَفَزَنِي النَّفَسُ، فَرَكَعْتُ دُونَ الصَّفِّ، ثُمَّ مَشَيْتُ إِلَى الصَّفِّ ، فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَاتَهُ قَالَ: أَيُّكُمْ رَكَعَ دُونَ الصَّفِّ؟ قُلْتُ: أَنَا، قَالَ: زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا، وَلَا تَعُدْ.
অতঃপর তিনি এর মাধ্যমে তাকে নিরুত্তর করলেন। তখন মুয়াবিয়া বললেন: তুমি কি বলছ যে আমরা রাজা? আমরা রাজত্ব নিয়েই সন্তুষ্ট হয়েছি।

আবু বাকরাহ বললেন: আল্লাহর রাসূল ১৫ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে (মুয়াহাদ) অন্যায়ভাবে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না; অথচ জান্নাতের সুগন্ধি পাঁচশত বছরের পথের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।

আবু বাকরাহ আরও বলেন, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অবশ্যই আমার হাউজের পাড়ে এমন কিছু লোক আসবে যারা আমার সাহচর্য লাভ করেছে এবং আমাকে দেখেছে। অতঃপর যখন তাদের আমার সামনে পেশ করা হবে এবং আমি তাদের দেখব, তখন আমার সম্মুখ হতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। তখন আমি বলব: ওহে আমার প্রিয় সাথীরা! তখন বলা হবে: নিশ্চয়ই আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কী নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছিল।

আবু বাকরাহ বলেন: আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: পারস্যের শাসনভার কে গ্রহণ করেছে? তারা বলল: এক নারী। তিনি বললেন: সেই জাতি কখনো সফল হবে না যারা তাদের শাসনভার একজন নারীর হাতে ন্যস্ত করে।

আবু বাকরাহ বলেন: আমি আসলাম যখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুতে ছিলেন এবং আমার শ্বাস দ্রুত বইছিল। তখন আমি কাতারের বাইরেই রুকু করলাম এবং তারপর হেঁটে কাতারে শামিল হলাম। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের মধ্যে কে কাতারের বাইরে রুকু করেছ? আমি বললাম: আমি। তিনি বললেন: আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করে দিন, তবে পুনরায় এমনটি করো না।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২২)
وَقَالَ أَبُو بَكَرَةَ: قَالَ نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَرَأَيْتُمْ إِنْ كَانَتْ أَسْلَمُ، وَغِفَارُ خَيْرًا مِنْ أَسَدٍ، وَغَطَفَانَ، أَتَرَوْنَهُمْ خَسِرُوا؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَإِنَّهُمْ خَيْرٌ مِنْهُمْ، ثُمَّ قَالَ: أَرَأَيْتُمْ إِنْ كَانَتْ جُهَيْنَةُ، وَمُزَيْنَةُ، خَيْرًا مِنَ الْحَلِيفَيْنِ: مِنْ تَمِيمٍ، وَعَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ، يَمُدُّ بِهَا نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَوْتَهُ، أَتَرَوْنَهُمْ خَسِرُوا؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: فَإِنَّهُمْ خَيْرٌ مِنْهُمْ.

وَقَالَ أَبُو بَكَرَةَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: شَهْرَا عِيدٍ لَا يَنْقُصَانِ: رَمَضَانُ، وَذُو الْحِجَّةِ.

وَقَالَ أَبُو بَكَرَةَ: ذُكِرَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَثْنَى عَلَيْهِ رَجُلٌ خَيْرًا، فَقَالَ نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم: وَيْحَكَ، قَطَعْتَ عُنُقَ أَخِيكَ، وَاللَّهِ لَوْ سَمِعَهَا // 16 // مَا أَفْلَحَ أَبَدًا، ثُمَّ قَالَ: إِذَا أَثْنَى أَحَدُكُمْ عَلَى أَخِيهِ، فَلْيَقُلْ: وَاللَّهِ إِنَّ فُلَانًا، وَلَا أُزَكِّي عَلَى اللهِ أَحَدًا.
আবু বাকরা (রা.) বর্ণনা করেন: আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা কি মনে করো যদি আসলাম ও গিফার [গোত্রদ্বয়] আসাদ ও গাতাফানের চেয়ে উত্তম হয়, তবে কি তোমরা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত মনে করো? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে তারা (আসলাম ও গিফার) তাদের চেয়ে উত্তম। অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা কি মনে করো যদি জুহায়না ও মুযাইনা [গোত্রদ্বয়] দুই মিত্র—তামীম ও আমের ইবনে সা’সা’র চেয়ে উত্তম হয়—আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কথাটি বলার সময় তাঁর কণ্ঠস্বর দীর্ঘ করলেন—তবে কি তোমরা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত মনে করো? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে তারা তাদের চেয়ে উত্তম।

আবু বাকরা (রা.) বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ঈদের দুই মাস অসম্পূর্ণ হয় না: রমজান এবং জিলহজ।

আবু বাকরা (রা.) বর্ণনা করেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো এবং এক ব্যক্তি তার প্রশংসা করল। তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আক্ষেপ তোমার জন্য! তুমি তোমার ভাইয়ের ঘাড় কেটে ফেলেছ। আল্লাহর শপথ, সে যদি এটি শুনত // ১৬ // তবে সে কখনোই সফল হতো না। অতঃপর তিনি বললেন: তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের প্রশংসা করে, তখন সে যেন বলে: আল্লাহর শপথ, আমি অমুককে এমন মনে করি—আর আল্লাহর সামনে আমি কাউকে পবিত্র সাব্যস্ত করছি না।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২৩)
53 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قال سَمِعْتُ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي عُقْبَةُ بْنُ الْحَارِثِ ، يَزْعُمُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ أُمَّ يَحْيَى بِنْتِ أَبِي إِهَابٍ، فَجَاءَتْ أَمَةٌ سَوْدَاءٌ، فَقَالَتْ لَهُ: قَدْ أَرْضَعْتُكُمَا، فَجِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ:كَيْفَ وَقَدْ زَعَمَتْ أَنَّهَا أَرْضَعْتُكُمَا فَنَهَاهُ عَنْهَا.

54 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ ، رضي الله عنه ، قَالَ: كَانَ مِنْ دُعَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعِفَّةَ وَالْغِنَى.

55 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَقَدْ رَآنِي، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَتَمَثَّلُ مِثْلِي.
৫৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আলী বিশর ইবনে মূসা আল-আসাদী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাওযাহ ইবনে খলীফাহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ, তিনি বলেন, আমি ইবনে আবি মুলাইকাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার নিকট উকবাহ ইবনুল হারিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু ইহাবের কন্যা উম্মে ইয়াহইয়াকে বিবাহ করেছিলেন। অতঃপর জনৈক কৃষ্ণাঙ্গী দাসী এসে তাকে বলল: আমি তোমাদের উভয়কে দুধ পান করিয়েছি। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: "কীভাবে সম্ভব, অথচ সে দাবি করেছে যে সে তোমাদের উভয়কে দুধ পান করিয়েছে?" অতঃপর তিনি তাকে তার থেকে নিষেধ করলেন।

৫৪ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে মূসা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম আল-ফাযল ইবনে দুকাইন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি দুআ ছিল: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা এবং অভাবমুক্ততা প্রার্থনা করছি।

৫৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে মূসা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে আমাকেই দেখল; কারণ শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।"
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২৪)
56 - حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ السَّلْحِينِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ ، قَالَ: سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ أُمِّ كِلَابٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَر ، يَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَطَسَ ، حَمِدَ اللَّهَ فَيُقَالُ: لَهُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَيَقُولُ لَهُمْ: يَهْدِيكُمُ اللَّهُ ، وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ.

57 - حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُسْلِمٍ الْبَصْرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: قَالَ عُمَرُ ، رضي الله عنه ، مَا أَدْرِي مَا أَصْنَعُ بِالْمَجُوسِ فَقَامَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ // 17 // قَائِمًا فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسُئِلَ عَنْهُمْ قَالَ: سُنَّتُهُمْ سُنَّةُ أَهْلِ الْكِتَابِ.
৫৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী বিশর ইবনে মুসা আল-আসাদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক আস-সালহিনী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়াহ, আবু আল-আসওয়াদ থেকে, তিনি বলেন: আমি উবায়েদ ইবনে উম্মে কিলাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে জাফরকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাঁচি দিতেন, তখন আল্লাহর প্রশংসা করতেন। তখন তাঁকে বলা হতো: আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। অতঃপর তিনি তাদের বলতেন: আল্লাহ তোমাদের হিদায়াত দান করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করে দিন।

৫৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম আল-বসরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ, জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি অগ্নিউপাসকদের (মাজুস) নিয়ে কী করব তা বুঝতে পারছি না। তখন আবদুর রহমান ইবনে আউফ // ১৭ // দাঁড়িয়ে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁদের সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: তাদের বিধান আহলে কিতাবদের বিধানের অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২৫)
58 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْبَصْرِيُّ ،حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ ، عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، رضي الله عنهما، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فَلَبِسَهُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، فَفَشَتِ الْخَوَاتِيمُ عَلَى أَصْحَابِهِ، فَرَمَى بِهِ فَاتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ نَقَشَ فِيهِ: (مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ) ، فَكَانَ فِي يَدِهِ حَتَّى مَاتَ، ثُمَّ كَانَ فِي يَدِ أَبِي بَكْرٍ، رضي الله عنه ، حَتَّى مَاتَ، وَفِي يَدِ عُمَرَ، رضي الله عنه ، حَتَّى مَاتَ، وَفِي يَدِ عُثْمَانَ ، رضي الله عنه ، سِتَّ سِنِينَ، كَثُرَتْ عَلَيْهِ الْكُتُبُ ، دَفَعَهُ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ يَخْتِمُ بِهِ، فَأَتَى قَلِيبًا لِعُثْمَانَ، رضي الله عنه ، فَسَقَطَ فِيهَا، فَالْتَمَسُوهُ فَلَمْ يَجِدُوهُ، فَاتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ، وَنَقَشَ فِيهِ: (مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ) صلى الله عليه وسلم.

59 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ،حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ رَاشِدٍ الْكِنَانِيُّ، مِنْ أَهْلِ دِمَشْقَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رضي الله عنه ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم أَنَّهُ سُئِلَ هَلْ يَمَسُّ أَهْلُ الْجَنَّةِ أَزْوَاجَهُمْ؟ قَالَ: نَعَمْ، بِذَكَرٍ لَا يَمَلُّ، وَفَرْجٍ لَا يَحْفَى، وَشَهْوَةٍ لَا تَنْقَطِعُ.
৫৮ - ইব্রাহীম বিন আব্দুল্লাহ আল-বসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুগীরা বিন যিয়াদ থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বর্ণের একটি আংটি গ্রহণ করেছিলেন এবং তা তিন দিন পরিধান করেছিলেন। ফলে তাঁর সাহাবীগণের মধ্যেও আংটি পরিধানের ব্যাপক প্রচলন ঘটল। তখন তিনি সেটি ফেলে দিলেন এবং রূপার একটি আংটি গ্রহণ করলেন যাতে খোদাই করা ছিল: (মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল)। এটি তাঁর ওফাত পর্যন্ত তাঁর হাতে ছিল, অতঃপর আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে ছিল তাঁর ওফাত পর্যন্ত, অতঃপর উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে ছিল তাঁর ওফাত পর্যন্ত, এবং উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে ছিল ছয় বছর পর্যন্ত। এরপর যখন তাঁর কাছে চিঠিপত্রের আধিক্য দেখা দিল, তখন তিনি তা আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে দিলেন যাতে তিনি তা দিয়ে মোহর (সিল) করেন। অতঃপর তিনি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি কূয়ার নিকট আসলেন এবং আংটিটি তাতে পড়ে গেল। তাঁরা সেটি তালাশ করলেন কিন্তু পেলেন না। তখন তিনি পুনরায় রূপার একটি আংটি তৈরি করলেন এবং তাতে খোদাই করলেন: (মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

৫৯ - বিশর বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দামেস্কের অধিবাসী উমারাহ বিন রাশিদ আল-কিনানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: জান্নাতবাসীরা কি তাঁদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করবেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এমন লিঙ্গ দ্বারা যা ক্লান্ত হবে না, এমন যোনি দ্বারা যা জখম হবে না এবং এমন কামভাব দ্বারা যা ছিন্ন হবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২৬)
60 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عُثْمَانَ الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، رضي الله عنهما، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ أَبَرَّ الْبِرِّ أَنْ يَصِلَ الرَّجُلُ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ.

61 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى // 18 // الأَسَدِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ بْنِ أَنْعُمٍ ، حَدَّثَنِي أَبُو عَلْقَمَةَ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، رضي الله عنه ، يَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: سُبْحَانَ اللهِ نِصْفُ الْمِيزَانِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلأُ الْمِيزَانَ ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِلْءُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ، وَلَا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ لَيْسَ دُونَهَا سِتْرٌ وَلَا حِجَابٌ حَتَّى تَخْلُصَ إِلَى رَبِّهَا ، عز وجل.

62 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي ، حَدَّثَنَا عَنْ أَبِي هِلَالٍ الرَّاسِبيِّ، عَنْ سَوَادَة بْنِ حَنْظَلَةَ الْقُشَيْرِيِّ، عَنْ سَمُرَةََ بْنِ جُنْدُبٍ ، رضي الله عنه ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: لَا يَمْنَعَنْكُمْ مِنَ السُّحُورِ أَذَانُ بِلَالٍ، وَلَكِنِ الصُّبْحُ الْمُسْتَطِيرُ فِي الأفُقِ.
৬০ - আমাদের নিকট বিশর বিন মুসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাইওয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবু উসমান আল-ওয়ালিদ বিন আবুল ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় নেক কাজ হলো কোনো ব্যক্তির তার পিতার বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

৬১ - আমাদের নিকট বিশর বিন মুসা আল-আসাদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনয়ুম বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট আবু আলকামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: সুবহানাল্লাহ মিজানের অর্ধেক, আলহামদুলিল্লাহ মিজান পূর্ণ করে দেয়, আল্লাহু আকবার আসমান ও যমীনের পূর্ণতা স্বরূপ এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সামনে কোনো পর্দা বা অন্তরায় নেই যতক্ষণ না তা তার মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালকের নিকট পৌঁছে যায়।

৬২ - আমাদের নিকট বিশর বিন মুসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের নিকট আবু হিলাল আর-রাসিবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাওয়াদাহ বিন হানযালাহ আল-কুশায়রি থেকে, তিনি সামুরা বিন জুনদুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: বেলালের আযান যেন তোমাদের সেহরি খাওয়া থেকে বিরত না রাখে, বরং দিগন্তে বিস্তৃত সুবহে সাদিক (হলো পানাহার ত্যাগের সময়)।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২৭)
63 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرٍ ، أَنَّهُ رَآهُ يُصَلِّي فِي قَمِيصٍ خَفِيف، ليس عليه إزار ولا رداء، قال: ولا أظنه صلى فيه إلا ليرينا أنه لا بأس بالصلاة في الثوب الواحد.

64 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِي ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، رضي الله عنه ، قَالَ: إِنَّ السَّلَامَ اسْمٌ مِنْ أَسْمَاءِ اللهِ ، عز وجل ، وَضَعَهُ اللَّهُ ، عز وجل ، فِيكُمْ، فَأَفْشُوهُ بَيْنَكُمْ؛ فَإِنَّ الرَّجُلَ إِذَا مَرَّ بِقَوْمٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ فَرَدُّوا عليه السلام فَضَلَهُمْ بِدَرَجَةٍ بِأَنَّهُ ذَكَّرَهُمُ بِالسَّلَامِ ، وَإِنْ لَمْ يَرُدُّوا عَلَيْهِ رَدَّ عَلَيْهِ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُمْ وَأَطْيَبُ.

65 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ ، حدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: // 19// الرَّهْنُ مَرْكُوبٌ وَمَحْلُوبٌ.

66 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْعَتَكِيُّ ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، حَدَّثَنَا هَارُونُ النَّحْوِيُّ ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ ، عَنْ عَائِشَةَ ، رضي الله عنها: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ: {فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ} .
৬৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি, তিনি ইমাম আবু হানিফা থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে একটি পাতলা জামা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছেন, যার ওপর কোনো ইজার (তহবন্দ) বা চাদর ছিল না। বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি এতে সালাত আদায় করেছেন কেবল আমাদের এটি দেখানোর জন্য যে, একটি কাপড়ে সালাত আদায় করাতে কোনো দোষ নেই।

৬৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি, তিনি বর্ণনা করেছেন শু'বা থেকে, তিনি আল-আ'মাশ থেকে, তিনি যায়িদ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই 'আস-সালাম' হলো মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্য হতে একটি নাম, যা মহান আল্লাহ তোমাদের মাঝে স্থাপন করেছেন; সুতরাং তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রচার করো। কারণ কোনো ব্যক্তি যখন কোনো জনসমষ্টির পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদের সালাম দেয় এবং তারা তার সালামের উত্তর দেয়, তখন সে তাদের ওপর এক ধাপ শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে এই কারণে যে, সে তাদের সালামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। আর যদি তারা তার সালামের উত্তর না দেয়, তবে তার উত্তর এমন সত্তা (ফেরেশতাগণ) প্রদান করেন যিনি তাদের চেয়ে উত্তম ও অধিক পবিত্র।

৬৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা থেকে, তিনি আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: // ১৯ // বন্ধকী পশু সওয়ারী হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং তার দুধ পান করা হবে।

৬৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর আল-আতাকি, তিনি বর্ণনা করেছেন শু'বা থেকে, তিনি হারুন আন-নাহবি থেকে, তিনি বুদাইল ইবনে মাইসারা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করেছেন: {ফারাওহুন ওয়া রাইহানুন}।
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২৮)
67 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ بَشِيرٍ ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ سُلَيْمَانَ أَبُو غَسَّانَ الْبَاهِلِي ، عَنْ ثَابِتٍ ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَفْطَرَ الْحَاجِمُ، وَالْمَحْجُومُ.

68 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ النَّمَرِيُّ الْبَصْرِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى مُعَاوِيَةَ، رضي الله عنه ، فَسَأَلَهُ عَنْ مَسْأَلَةٍ، فَقَالَ: سَلْ عَنْهَا عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه ، فَهُوَ أَعْلَمُ، فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، جَوَابُكَ فِيهَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ جَوَابِ عَلِيٍّ، فَقَالَ: بِئْسَ مَا قُلْتَ، وَلُؤْمَ مَا جِئْتَ بِهِ، لَقَدْ كَرِهْتَ رَجُلاً كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغُرُّهُ بِالْعِلْمِ غَرًّا، وَلَقَدْ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَنْتَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى غَيْرَ أَنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِي، وَكَانَ عُمَرُ، رضي الله عنه ، إِذَا أَشْكَلَ عَلَيْهِ شَيْءٌ يَأْخُذُ مِنْهُ، وَلَقَدْ شَهِدْتُ عُمَرَ، رضي الله عنه ، وَقَدْ أَشْكَلَ عَلَيْهِ شَيْءٌ فَقَالَ: هَا هُنَا عَلِيٌّ، رضي الله عنه ، قُمْ لَا أَقَامَ اللَّهُ رِجْلَيْكَ.
৬৭ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল মালিক ইবনে বশীর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মালিক ইবনে সুলাইমান আবু গাসসান আল-বাহিলী বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সিঙা দানকারী এবং যে ব্যক্তি সিঙা গ্রহণ করে, উভয়ের রোজা ভেঙে গেছে।

৬৮ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়াহাব ইবনে আমর ইবনে উসমান আন-নামারি আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কাইস ইবনে আবি হাযিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলো এবং তাকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: "এই বিষয়ে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করো, কারণ তিনি অধিক জ্ঞানী।" তখন লোকটি বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন! এই বিষয়ে আপনার উত্তর আমার কাছে আলীর উত্তরের চেয়ে অধিক প্রিয়।" তিনি বললেন: "তুমি যা বললে তা কতই না মন্দ এবং কতই না জঘন্য বিষয় নিয়ে তুমি হাজির হয়েছ! তুমি এমন এক ব্যক্তিকে অপছন্দ করলে যাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরিপূর্ণভাবে জ্ঞান দ্বারা সিক্ত করেছিলেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছিলেন: 'আমার নিকট তোমার মর্যাদা ঠিক তেমনি, যেমন মুসার নিকট হারুনের মর্যাদা ছিল; তবে আমার পর আর কোনো নবী নেই।' আর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখনই কোনো জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তখন তাঁর নিকট থেকে সমাধান নিতেন। আমি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রত্যক্ষ করেছি যে, যখন তাঁর নিকট কোনো বিষয় কঠিন মনে হতো, তখন তিনি বলতেন: 'এখানে আলী উপস্থিত আছে।' (অতঃপর লোকটিকে বললেন:) দাঁড়াও, আল্লাহ যেন তোমার দুই পা প্রতিষ্ঠিত না রাখেন।"
(খণ্ড: ১) আল-জুযউর রাবিউ মিনাল ফাওয়াইদিল মুনতাকাতিল আওয়ালি মিন হাদিছিল কাতিঈ (পৃষ্ঠা: ২৯)
69 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِذَا مَرَّ أَحَدُكُمْ فِي مَسْجِدٍ وَبِيَدِهِ نِبَالٌ فَلْيُمْسِكْ // 20 // بِنِصَالِهَا.

70 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ حَسَنٍ الأَشْقَرُ، حَدَّثَنَا ، قَالَ: عَنِ ابْنِ قَابُوسَ بْنِ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ ، عَنْ علِيِّ بنِ أبِي طالِبٍ ، رضي الله عنه ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِرَأْسٍ وَحَبٍ.

71 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ الْعُصْفُرِيُّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَبُو بَكْرٍ صَاحِبِي وَمُؤْنِسِي فِي الْغَارِ، سُدُّوا كُلَّ خَوْخَةٍ فِي الْمَسْجِدِ غَيْرَ خَوْخَةَ أَبِي بَكْرٍ ، رضي الله عنه.
৬৯ - মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হুমায়দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের নিকট মিসআর থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে মাইসারাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে অতিক্রম করে এবং তার হাতে তীর থাকে, তবে সে যেন তার ফলাগুলো ধরে রাখে।"

৭০ - মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে হাসান আল-আশকার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে কাবুস ইবনে আবি জবিয়ান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একটি মস্তক ও শস্য নিয়ে এসেছিলাম।"

৭১ - মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ইবনে মুসা আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উবায়দাহ আল-উসফুরি ইসমাঈল ইবনে সিনান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে মিগওয়াল আমাদের নিকট তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আবু বকর গুহায় আমার সাথী এবং আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু; আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছোট দরজাটি ছাড়া মসজিদের দিকে উন্মুক্ত সকল ছোট দরজা বন্ধ করে দাও।"