(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: -)
التحفة اللطيفة في تاريخ المدينة الشريفة - ط مركز دراسات المدينة   (السخاوي)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: التحفة اللطيفة في تاريخ المدينة الشريفة

المؤلف: شمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي، المصري، المدني (831 - 902 هـ)

الناشر: مركز بحوث ودراسات المدينة المنورة

الطبعة: جـ 1 - 6 (الأولى، 1429 - 1430 هـ)، جـ 7 - 9 (من الثانية، 1437 هـ)

تنبيهات:

1 - طُبع ثُلثا الكتاب طبعة أولى في 6 أجزاء، ثم عُثر على ثلثه الأخير، فزِيدت 3 أجزاء في الطبعة الثانية

2 - حدث اختلاف في ترقيم تراجم الأجزاء 1 - 6 بين الطبعة الأولى (المعتمدة هنا) وبين الطبعة الثانية؛ لأنهم أعادوا ترقيم تراجم الكتاب كله في الطبعة الثانية! ولم تطبع الأجزاء 7 - 9 إلا ضمن الطبعة الثانية فقط!

عدد الأجزاء: 9

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 ربيع الأول 1444

আত-তুহফাতুল লাতীফাহ ফী তারিখিল মদিনাতিশ শারিফাহ - মদিনা গবেষণা কেন্দ্র সংস্করণ   (আস-সাখাভী)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণ


গ্রন্থ: আত-তুহফাতুল লাতীফাহ ফী তারিখিল মদিনাতিশ শারিফাহ

লেখক: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আস-সাখাভী, আল-মিসরি, আল-মাদানি (৮৩১ - ৯০২ হিজরি)

প্রকাশক: মদিনাতুল মুনাওয়ারা গবেষণা ও শিক্ষা কেন্দ্র

সংস্করণ: খণ্ড ১ - ৬ (প্রথম, ১৪২৯ - ১৪৩০ হিজরি), খণ্ড ৭ - ৯ (দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে, ১৪৩৭ হিজরি)

সতর্কতা:

১ - বইটির দুই-তৃতীয়াংশ প্রথম সংস্করণে ৬ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছিল, এরপর শেষ এক-তৃতীয়াংশ পাওয়া যায়, ফলে দ্বিতীয় সংস্করণে আরও ৩টি খণ্ড বৃদ্ধি করা হয়েছে।

২ - প্রথম সংস্করণ (যা এখানে অনুসরণ করা হয়েছে) এবং দ্বিতীয় সংস্করণের মধ্যে ১ থেকে ৬ খণ্ডের জীবনীগুলোর ক্রমিক নম্বরে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়; কারণ দ্বিতীয় সংস্করণে তারা সম্পূর্ণ বইয়ের জীবনীগুলোর নতুন করে ক্রমবিন্যাস করেছে! আর ৭ থেকে ৯ খণ্ডগুলো কেবল দ্বিতীয় সংস্করণেই মুদ্রিত হয়েছে!

খণ্ড সংখ্যা: ৯

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

وصلّى اللهُ على سيِّدِنا مُحَمَّدٍ وآلهِ وصحبِه وسلَّمَ.

الحمدُ لله الذي شَرَّفَ الحَالَّ(1) في الحال والاستقبال، بمَن إليها هاجر وبها حلّ، سِيَّما أَنْ كان الذي أرشدَ لكلِّ خيرٍ ودلَّ، وصرفَ عنها تلك الظُّلْمَةَ والمِحال(2)، فنَارتْ أركانُها وجهاتُها المنخفضةُ والعَوَال، حتى أضاءَ بها كلُّ شيءٍ عَظُمَ أو قَلَّ، حسبما شُوهدَ من الأماكن النَّابية(3) ممَّا المقامُ فيه أعلى وأَجَلّ، وعرَّف مَنْ نُوِّرَتْ بصيرتُه بركتَها الموازيةَ للغنائمِ والعَطايا الزَّائدِ بها الاحتفال، وللسَّرايا القادمِ أهلُها بالبشارة ببلوغِ الآمال، في الحِلِّ والارتحال، فأكْرَموها عن سُلوكِ ما لا يرضى أَنْ غَلِطَ الواحدُ منهم أو زلَّ، وعَظَّموها بربطِ قلوبِهم عن المناكير والمُعضِلاتِ التي لا تُحْتَمَلُ، سِيَّما ومن المعلوم أنَّ الأماكنَ الشَّريفةَ مرتفعةٌ عن تلك المِحَنِ والأوحالِ، مُمتنعةٌ من إقرارِ الخُبْثِ بها، وصُرِفَ المُجانبُ فيها للعدلِ والاعتدالِ، إذِ القاذوراتُ للمُبتَلَى بها،

--------------------------------------------

(1) المَحَالُّ: جمع المَحَلَّة، وهي المنزل. "القاموس المحيط": حلل.

(2) المِحَال: الكيدُ والعذاب. "القاموس": محل.

(3) النابية: المرتفعة. "لسان العرب": نبا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বর্তমান ও ভবিষ্যতে অবস্থানকারীদের(১) সম্মানিত করেছেন তাঁর মাধ্যমে, যিনি এর দিকে হিজরত করেছেন এবং এখানে অবস্থান করেছেন। বিশেষ করে যেহেতু তিনি ছিলেন সেই সত্তা যিনি সকল কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং এটি থেকে সেই অন্ধকার ও আযাব বা কূটকৌশল(২) দূর করেছেন। ফলে এর প্রতিটি প্রান্ত এবং এর নিম্নভূমি ও উচ্চভূমিগুলো আলোকিত হয়েছে, এমনকি এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র বা বৃহৎ প্রতিটি বস্তু দীপ্তিময় হয়ে উঠেছে, যেমনটি সেই উচ্চতর স্থানসমূহ(৩) থেকে প্রত্যক্ষ করা হয়েছে যেখানে অবস্থান করা অত্যন্ত মহান ও মর্যাদাপূর্ণ। আর যাঁর অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত হয়েছে তাঁকে তিনি এর সেই বরকত সম্পর্কে অবগত করেছেন যা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও উপহারের সমতুল্য এবং যার প্রাপ্তিতে বিশেষ আনন্দ অনুভূত হয়, আর সেই সব সেনাদলের সমতুল্য যারা অবস্থান ও সফর—উভয় অবস্থায় আশা পূরণের সুসংবাদ নিয়ে আগমন করে। ফলে তাঁরা একে এমন সব আচরণ থেকে পবিত্র রেখে সম্মানিত করেছেন যা আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিপন্থী, পাছে তাদের কেউ ভুল বা বিচ্যুতি করে ফেলে; এবং তাঁরা একে মহান সাব্যস্ত করেছেন তাঁদের অন্তরসমূহকে অপছন্দনীয় বিষয় ও অসহনীয় জটিলতা থেকে মুক্ত রাখার মাধ্যমে। বিশেষ করে এটি সুপরিচিত যে, সম্মানিত স্থানসমূহ এই সব পরীক্ষা ও পঙ্কিলতা থেকে ঊর্ধ্বে এবং সেখানে কোনো অপবিত্রতা স্থায়ী হওয়া অসম্ভব। আর সেখানে যে ব্যক্তি ইনসাফ ও ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত হয় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়; কেননা অপবিত্রতা কেবল তাদের জন্যই যারা তাতে লিপ্ত হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-মাহাল্লু: এটি 'আল-মাহাল্লাহ' এর বহুবচন, যার অর্থ বাসস্থান। "আল-কামুস আল-মুহিত": হাল্লা।

(২) আল-মিহাল: কৌশল এবং আযাব। "আল-কামুস": মাহালা।

(৩) আন-নাবিয়াহ: উন্নত বা উচ্চ। "লিসানুল আরব": নাবা।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২)
أو عليها أَقْبَلَ، بالأماكنِ الدَّنيئةِ الخسيسةِ غيرُ مضاعَفةٍ، كهي(1) فيها(2) عند جماعةٍ ممن اعتدلَ، والكلُّ سائرون مع القدرةِ الإلهيةِ، التي لا محَيدَ عنها ولا انتقال. فسبحانَه له الحمدُ على كلِّ حالٍ، ومنه الاسترشادُ والاهتداءُ لطُرقِ السَّعدِ وتَجَنُّبِ الوَبال، وبنعمتِه تَتِمُّ الصالحاتُ، وبِرحمتهِ تنمو الرَّابحاتُ؛ وإنْ كانتْ قليلةَ العملِ. والصَّلاةُ والسَّلامُ على سَيِّدِ الخلقِ وأشرفِ مُرسَلٍ، وعلى آلِهِ وصحبهِ وتابعيهم المندفعِ الكربِ عَن سائرِ مَنْ به ثُمَّ بهم بِبَركته(3) توسَّل(4)، وبعدُ؛

--------------------------------------------

(1) هذا استعمالٌ غيرُ فصيح؛ لأنَّ الكاف تختصُّ بجرِّ الاسم الظاهر. قال ابنُ مالك:

بالظَّاهرِ اخصصْ منذُ مُذْ وحتَّى … والكافَ والواوَ ورُبَّ والتا

قال ابنُ عقيل: وشذَّ جرُّها -أي: رُبَّ- ضميرَ الغيبة، كما شذَّ جرُّ الكاف له. "شرح ابن عقيل" 2/ 15 - 14.

(2) يريد أنَّ السَّيئات في المدينة ليست كالسَّيئات في غيرها، ويشير المؤلِّف إلى قول مَن قال بمضاعفة السَّيئات فيها.

قال السَّمهوديُّ بعد كلامه على حديث: "مَن أحدثَ فيها حدثا … " الخ. قال: فيستفاد منه أنَّ إثم الصغيرة فيها كإثم الكبيرة بغيرها، وعلَّل ذلك بقوله: لأنَّ الإساءة بحضور الملك ليست كالإساءة في أطراف المملكة. "وفاء الوفا" 1/ 122، والجمهور بخلافه.

(3) في الأصل: بركته، وهو خطأ.

(4) قال شيخُ الإسلام ابنُ تيميةَ رحمه اللّه تعالى: التَّوسُّلُ يُراد به ثلاثةُ معانٍ:

أحدها: التَّوسُّلُ بطاعته، فهذا فرضٌ لا يتمُّ الإيمان إلا به، والثَّاني: التوسُّل بدعائه وشفاعته، وهذا كان في حياته، ويكون يوم القيامة يتوسَّلون بشفاعته، والثالث: التَّوسُّل به، بمعنى الإقسام على اللّه بذاته، والسُّؤال بذاته، فهذا هو الذي لم تكن الصَّحابة يفعلونه في الاستسقاءِ ونحوه، لا في حياته ولا بعد مماته، لا عند قبره ولا غير قبره.

"قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة" ص: 50.
অথবা সেগুলোর দিকে অগ্রসর হয়, নিচু ও নিকৃষ্ট স্থানসমূহে সেগুলো দ্বিগুণ করা হয় না, যেমনটি(১) সেখানে(২) হয়ে থাকে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী একটি দলের নিকট। আর সকলেই ঐশী ক্ষমতার (কুদরতের) সাথে চলমান, যা থেকে বিচ্যুত হওয়ার বা স্থানান্তরের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং তিনি পবিত্র, সকল অবস্থায় সমস্ত প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য, এবং সৌভাগ্যের পথে চলতে ও অমঙ্গল পরিহার করতে তাঁর কাছেই পথনির্দেশ ও হিদায়াত প্রার্থনা করা হয়; যাঁর অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ পূর্ণতা পায় এবং যাঁর রহমতে কল্যাণকর বিষয়গুলো বৃদ্ধি পায়, যদিও আমল অল্প হয়। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক সম্মানিত রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও তাঁদের অনুসারীদের ওপর, যাঁদের বরকতে সেই ব্যক্তির সকল বিপদ দূর হয়ে যায় যে তাঁর মাধ্যমে অতঃপর তাঁদের মাধ্যমে উসীলা(৩) গ্রহণ(৪) করে। অতঃপর;

--------------------------------------------

(১) এটি একটি অপাঞ্জল ব্যবহার; কারণ ‘কাফ’ অক্ষরটি কেবল প্রকাশ্য বিশেষ্যের পূর্বে বসে তাকে ‘জার’ প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট। ইবন মালিক বলেন:

প্রকাশ্য বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট করো মুনজু, মুজ এবং হাত্তা … এবং কাফ, ওয়াও, রুব্বা ও তা

ইবন আকীল বলেন: এর মাধ্যমে—অর্থাৎ রুব্বা-এর মাধ্যমে—পরোক্ষ সর্বনামকে (দমীর গায়িব) জার প্রদান করা বিরল, যেমনটি ‘কাফ’-এর মাধ্যমে তাকে জার প্রদান করা বিরল। "শারহু ইবনি আকীল" ২/১৪ - ১৫।

(২) তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, মদিনায় গুনাহ বা মন্দ কাজ অন্য স্থানের মতো নয় এবং লেখক এখানে তাদের মতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যারা সেখানে গুনাহ দ্বিগুণ হওয়ার কথা বলেন।

সামহুদী রহ. ‘যে ব্যক্তি সেখানে কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করল...’ ইত্যাদি হাদিসটির ওপর আলোচনার পর বলেন: এটি থেকে বুঝা যায় যে, সেখানে ছোট গুনাহের পাপ অন্য স্থানের কবিরা গুনাহের পাপের মতো। এবং তিনি এর কারণ হিসেবে বলেন: যেহেতু বাদশাহর উপস্থিতিতে অপরাধ করা রাজ্যের প্রান্তসীমায় অপরাধ করার মতো নয়। "ওয়াফাউল ওয়াফা" ১/১২২; তবে জমহুর উলামাদের মত এর বিপরীত।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে: 'বারাকাতুহু' রয়েছে, যা একটি ভুল।

(৪) শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: ‘তাওয়াসসুল’ বা উসীলা গ্রহণ দ্বারা তিনটি অর্থ বুঝানো হয়:

প্রথমটি: তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে উসীলা গ্রহণ করা; এটি এমন এক ফরজ যা ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হয় না। দ্বিতীয়টি: তাঁর দুয়া ও শাফাআতের মাধ্যমে উসীলা গ্রহণ করা; এটি তাঁর জীবদ্দশায় ছিল এবং কিয়ামতের দিনও হবে যখন লোকেরা তাঁর শাফাআতের উসীলা গ্রহণ করবে। তৃতীয়টি: তাঁর মাধ্যমে উসীলা গ্রহণ করা বলতে তাঁর সত্তার দোহাই দিয়ে আল্লাহর ওপর কসম দেওয়া এবং তাঁর সত্তার উসিলায় প্রার্থনা করা; এটি এমন বিষয় যা সাহাবীগণ বৃষ্টির প্রার্থনার সময় বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে করেননি—না তাঁর জীবদ্দশায়, না তাঁর ইন্তেকালের পরে, না তাঁর কবরের কাছে এবং না অন্য কোথাও।

"কায়েদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল ওয়াসিলাহ" পৃষ্ঠা: ৫০।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
فلمَّا كانَ من المعلومِ، المُقَرَّرِ عند أُولي العقولِ الصَّحيحةِ، وثاقِبِ الفُهُومِ، أنه عند ذِكْرِ الصَّالحين تنزلُ الرَّحمةُ(1)، وبتتبُّعِ اَثارهِم يَندفعُ كلُّ بلاءٍ ويقْمةٍ(2)، وأنَّ الثَّناءَ على المُدْرَجِ فيهم في الأمواتِ، رحمة للأحياءِ من أهلِ المودَّاتِ، والاشتغالَ بنشرِ أخبارِ الأخيار -ولو بتواريخهم- من علاماتِ سعاداتِ الدَّارينِ لأولي العرفانِ والاختيارِ، بل يُرجَى إسعافُهم للمقَصِّر الذَّاكِرِ لهم بالشَّفاعةِ، وإتحافُهم من المولى بمرافقةِ أهلِ السُّنَّةِ والجماعة، إلى غيرِ هذا مما يُرغَّبُ فيه، ويُحَبَّبُ للتوجُّهِ إليه كلُّ وجيه.

توجَّهْتُ لبيانِ أحوالِ أهلِ طَيْبَةَ المشارِ إليها، والمخصوصةِ بِالمزيد من الفضائلِ المُنَبَّهِ عليها؛ لأحوزَ بركةَ المرتفعِ منهم، وأفوزَ بتنزُّلِ الرَّحمةِ حيث ذكرْتُهم، ولم أنصرفْ عنهم، خصوصًا ومَنْ أحَبَّ شيئًا أكثرَ من ذِكْرِه، والمرءُ مع حبيبه(3) في حَشْرِه، ونعيمه ونَشْرِه، وإنْ لم يلحقْه في عملِه، ولا رافقه في سلوكه وسُبُلِه.

وألحقتُ بهم مَنْ تَخَلَّفَ عن طريقتِهم، ولم يَتَعرَّفْ ما أنعمَ اللّهُ به عليه، ولا تَبِعهم في توفيقهم، بحيث يُحْمَلُ ما نُقِلَ مما هو في أوائلِ "تاريخِ ابنِ عساكر"(4) عن عمرِو بنِ

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو نعيم في "حلية الأولياء" 3/ 288 من قول سفيانَ بن عُيينة. قال العراقيُّ: لا أصل له في المرفوع. "تذكرة الموضوعات" ص: 193، و "إتحاف السادة المتقين" 6/ 351.

(2) إن كان القصد أن تتبُّعَ آثار الصَّالحين بالاقتداء بأفعالهم الحميدة، وأخلاقهم الرَّشيدة ممَّا يدفع اللّه به البلاء والنِّقمة عمَّن اقتدى بهم، فيها، فهذا مُسَلَّم به، وإن كان القصد هو التَّتبُّعَ لآثارهم والتَّبرُّكَ بها رجاءَ حصول النفع، أو دفع الضرِّ، فلا.

(3) يشير لحديثِ أنسِ بنِ مالكٍ رضي الله عنه مرفوعًا: "المرءُ معَ مَنْ أحبَّ". أخرجه مسلم في كتاب البر، باب المرءُ مع من أحبَّ 4/ 2032 (161) بنحوه.

(4) الأثرُ ضعيفٌ. "تاريخ دمشق" 1/ 358 من طريق نُعيم بن حماد، عن رشدين بن سعد، عن عمرو بن الحارث، عن بُكير بن عبد اللّه بن الأشجِّ، عن عمرو بن العاص به.=
যেহেতু সুস্থ বিবেকসম্পন্ন এবং তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির অধিকারীদের নিকট এটি সুপরিচিত ও স্বীকৃত যে, নেককারদের স্মরণের সময় রহমত বর্ষিত হয়(১), তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে যাবতীয় বালা-মুসিবত ও বিপদ-আপদ দূরীভূত হয়(২), এবং তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যারা পরলোকগমন করেছেন তাঁদের প্রশংসা করা মুহাব্বত পোষণকারী জীবিত ব্যক্তিদের জন্য রহমতস্বরূপ; আর নেককারদের সংবাদ প্রচার করা—তাঁদের জীবনকাল বা ইতিহাসের মাধ্যমে হলেও—উভয় জগতের সৌভাগ্যের নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয় পরিচিতি ও পছন্দের অধিকারীদের নিকট; বরং তাঁদের স্মরণকারী ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তির জন্য তাঁদের সুপারিশের আশা করা যায় এবং মহান রবের পক্ষ থেকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সান্নিধ্য লাভের উপহার পাওয়া যায়—এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা প্রত্যেক মর্যাদাবান ব্যক্তিকে এই দিকে ধাবিত হতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে।

আমি মদিনার (তাইবাহ) অধিবাসীদের অবস্থা বর্ণনার সংকল্প করেছি, যাদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং যাদেরকে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে; যাতে তাঁদের মধ্য থেকে উচ্চমর্যাদাশীলদের বরকত হাসিল করতে পারি এবং তাঁদের কথা আলোচনা করার মাধ্যমে রহমত লাভে ধন্য হতে পারি, আর তাঁদের থেকে যেন বিমুখ না হই; বিশেষ করে কেউ যখন কোনো কিছুকে ভালোবাসে, সে তার অধিক স্মরণ করে, আর মানুষ হাশরের ময়দানে, জান্নাতের নেয়ামতে এবং পুনরুত্থানে তার প্রিয়জনের সাথেই থাকবে(৩), যদিও সে আমলের দিক থেকে তার সমপর্যায়ে পৌঁছাতে না পারে কিংবা চালচলন ও কর্মপদ্ধতিতে তার সঙ্গী হতে না পারে।

আর আমি তাঁদের সাথে তাঁদেরকেও যুক্ত করেছি যারা তাঁদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যে নেয়ামত দান করেছেন তা চিনতে পারেনি, এবং তাঁদের তাওফিকের ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করেনি; যাতে ‘তারিখে ইবনে আসাকির’(৪)-এর শুরুতে আমর বিন... থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুধাবন করা যায়।

--------------------------------------------

(১) আবু নুআইম ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’ (৩/২৮৮) গ্রন্থে সুফিয়ান বিন উয়াইনার উক্তি হিসেবে এটি উদ্ধৃত করেছেন। আল-ইরাকি বলেন: মারফু হিসেবে এর কোনো ভিত্তি নেই। ‘তাযকিরাতুল মাওদুআত’ পৃ: ১৯৩, এবং ‘ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন’ ৬/৩৫১।

(২) যদি উদ্দেশ্য হয় নেককারদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা—তাঁদের প্রশংসনীয় কাজ এবং সৎ চরিত্রের অনুসরণের মাধ্যমে, যার উসিলায় আল্লাহ অনুসরণকারীর বিপদ ও মুসিবত দূর করেন—তবে তা স্বীকৃত। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয় তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন তালাশ করা এবং বরকত লাভের উদ্দেশ্যে সেগুলো অনুসরণ করে উপকার লাভ বা ক্ষতি দূর করার আশা করা, তবে তা সঠিক নয়।

(৩) আনাস বিন মালিক (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে: “মানুষ তারই সাথী হবে যাকে সে ভালোবাসে।” মুসলিম এটি কিতাবুল বির-এর ‘মানুষ তারই সাথী হবে যাকে সে ভালোবাসে’ অধ্যায়ে (৪/২০৩২, হাদিস নং ১৬১) অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন।

(৪) বর্ণনাটি দুর্বল। ‘তারিখে দামেস্ক’ ১/৩৫৮, নুআইম বিন হাম্মাদের সূত্রে, তিনি রুশদিন বিন সাদ থেকে, তিনি আমর বিন হারিস থেকে, তিনি বুকাইর বিন আব্দুল্লাহ বিন আশাজ থেকে, তিনি আমর বিন আস থেকে।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
العاصِ -الحامدِ الشَّاكر- حين سُئلَ عنَ وصْفِ أهلِ المدينةِ؟ فقالَ: (أَطلبُ النَّاسِ لفتنةٍ، وأعجزُهم عنها)، على مَنْ لَعلّه مِنْ هؤلاء، ممن فارقَ الوقار والسكينة. على أنَّ الحجَّاجَ بنَ يوسفَ الثقفيَّ(1) سأل أبا سليمانَ أيوبَ بنَ زيدِ بنِ القِرِّيةِ(2) عن أهل الحجاز؟ فأجابه بذلك بدون انحجاز، وقال عن المدينة: رَسَخَ العلم بها، وظهرَ منها، مما هو كذلك مع الضَّوء والبهاء، وعن أهلِ مكةَ: رجالهُا علماءُ جُفاةٌ، ونساؤُها كُساةٌ عُراةٌ. بل لم أَقتصرْ على هؤلاء، حيثُ ذكرتُ مَنْ قَطَنها من الغُرباءِ ولو سَنَةً، بشرط أن يكون دَرَّسَ فيها، أو حدَّث، أو أفتَى بالطريقة المَرْضِية، والسُّنَّةِ الواضحةِ الحسنة؛ لِيكونَ الآخذُ عنهم أو مَنْ كانوا في طريقه بشأنِهم على بصيرة، ولا يفتقر إلى المسألةِ عنهم، والكشفِ الذي قد لا يظْفَرُ معه بتلك الذَّخيرة.

وقد ذكر الشَّمسُ ابنُ صالحٍ(3)، القائمُ بنشرِ العلم مع الإرشادِ بالخطب والمواعظ وبذْلِ النصائح: التَّقِيَّ محمَّد بنَ أبي بكرِ بنِ عيسى بنِ بدرانَ الإِخنائي(4) مع عدمِ

--------------------------------------------

=قال ابنُ عساكر: بُكير لم يدرك عمرو بن العاص، ورشدين ضعيف، ونُعيم بن حماد مختلف في عدالته وله غرائب. وأخرجه يعقوب الفسوي في "المعرفة والتاريخ" 2/ 411.

(1) تأتي ترجمته في الكتاب.

(2) أيُّوبُ بنُ زيدِ بنِ قيسٍ، المعروف بابن القِرِّية -بكسر القاف وتشديد الراء والياء آخر الحروف- والقرية جدته، كان أعرابيًا أميًا، معدودًا من جملة خطباء العرب المشهورين بالفصاحة والبلاغة. قتله الحجاج سنة 84 هـ. "الوافي" 10/ 39 - 45.

(3) محمَّدُ بنُ صالحٍ الكنانيُّ، تأتي ترجمته في حرف اليم.

(4) تقيُّ الدِّين محمَّدُ بنُ أبي بكر السَّعديُّ، المِصريُّ، المالكيُّ، المعروف بابن الإخنائي -بالكسر نسبة لإخنى مقصورة، بلدةٍ بقرب الإسكندرية- كان قاضي الدِّيار المصرية، مولده سنة 658، ووفاته سنة 750 هـ. "الديباج المذهب" 2/ 321، و "الدرر الكامنة" 4/ 407.
আল-আস —যিনি হামদ ও শোকরকারী— যখন তাঁকে মদীনার অধিবাসীদের বর্ণনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন: (তারা ফিতনার অন্বেষণে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তৎপর, অথচ তা বাস্তবায়নে সবচেয়ে অক্ষম)। তাঁর এই উক্তি সম্ভবত তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের ওপর প্রযোজ্য, যারা গাম্ভীর্য ও প্রশান্তি হারিয়ে ফেলেছে। যদিও হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফি(১) আবু সুলাইমান আইয়ুব ইবনে যাইদ ইবনুল কিররিয়াহকে(২) হিজাযবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই উত্তর দিয়েছিলেন এবং মদীনা সম্পর্কে বলেছিলেন: সেখানে ইলম সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখান থেকেই তা প্রকাশিত হয়েছে; যা উজ্জ্বলতা ও দীপ্তির সাথে বিদ্যমান। আর মক্কাবাসীদের সম্পর্কে বলেছিলেন: সেখানকার পুরুষরা রূঢ় আলেম এবং সেখানকার মহিলারা পোশাক পরিহিতা নগ্ন। বরং আমি শুধু এদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং সেখানে বসবাসকারী বিদেশিদেরও উল্লেখ করেছি, এমনকি যদি তারা মাত্র এক বছরও অবস্থান করে থাকেন; তবে শর্ত হলো তারা সেখানে পাঠদান (দরস) করে থাকতে হবে, অথবা হাদিস বর্ণনা করতে হবে, অথবা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি এবং সুস্পষ্ট উত্তম সুন্নাহ অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করতে হবে; যাতে তাদের কাছ থেকে ইলম গ্রহণকারীরা অথবা তাদের সূত্রে যারা বর্ণিত হয়েছে তারা যেন পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে পারে এবং তাদের সম্পর্কে আর কোনো জিজ্ঞাসার প্রয়োজন না হয় এবং এমন অনুসন্ধানের দরকার না পড়ে যাতে হয়তো সেই মহামূল্যবান তথ্য পাওয়া যেত না।

আর শামস ইবনে সালিহ(৩), যিনি খুতবা ও ওয়াযের মাধ্যমে ইলম প্রচার এবং নসিহত প্রদানে নিয়োজিত ছিলেন, তিনি তাকি মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে ঈসা ইবনে বাদরান আল-ইখনায়ীকে(৪) উল্লেখ করেছেন...

--------------------------------------------

=ইবনে আসাকির বলেছেন: বুকাইর আমর ইবনুল আসকে পাননি, রিশদীন দুর্বল এবং নুয়াইম ইবনে হাম্মাদের সততা বা আদালত নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং তাঁর বর্ণনায় বিচ্যুতি রয়েছে। ইয়াকুব আল-ফাসাওয়ি এটি "আল-মা’রিফাত ওয়াত তারীখ" ২/৪১১-এ বর্ণনা করেছেন।

(১) তাঁর জীবনী এই কিতাবে সামনে আসবে।

(২) আইয়ুব ইবনে যাইদ ইবনে কায়স, যিনি ইবনুল কিররিয়াহ নামে পরিচিত —কাফ-এর নিচে কাসরা এবং রা ও ইয়া-তে তাশদীদ সহ— আর কিররিয়াহ ছিল তাঁর নানী। তিনি একজন গ্রাম্য নিরক্ষর ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু ফাসাহাত (বিশুদ্ধতা) ও বালাগাত (বাগ্মিতা)-র জন্য বিখ্যাত আরব খতিবদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হাজ্জাজ তাঁকে ৮৪ হিজরিতে হত্যা করেন। "আল-ওয়াফি" ১০/৩৯-৪৫।

(৩) মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল-কিনানি, তাঁর জীবনী ‘ইয়া’ বর্ণমালায় সামনে আসবে।

(৪) তাকিউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর আস-সা’দি, আল-মিসরি, আল-মালিকি, যিনি ইবনুল ইখনায়ী নামে পরিচিত —আলেকজান্দ্রিয়ার নিকটবর্তী ইখনা নামক জনপদের দিকে সম্বন্ধ করে— তিনি মিসর ভূখণ্ডের প্রধান বিচারক ছিলেন। তাঁর জন্ম ৬৫- হিজরিতে এবং মৃত্যু ৭৫০ হিজরিতে। "আদ-দীবাজুল মাজহাব" ২/৩২১ এবং "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪/৪০৭।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
إقامةِ حديقةٍ -ولو إحياءً- أو بستانٍ، أو أنشأَ بها للمعروف مكانًا.

ولم ألتزم في المُعمَّرين فَمَنْ بعدهم، كونَهم سكنوها، فضلًا عن أنهم من أهلها، بل ذكرتُ منهم من لم يَطأْ لحَزْنِها(1) وسهلِها، أو وَطِئَها خَدَمُهُ بزائدِ العزم والهِمَّة، كالجلالِ أبي الفوارسِ شاه شُجاعٍ(2)، والجوادِ الجَمالِ الأصبهانيِّ(3)، الرَّبانيُّ بلا نزاع، والسُّلطان السَّعيد النُّورِ الشهيد(4)، وأضرابِهم ممَّن شُغِفَ بإسداءِ الإحسان إلى قاطني تربتها، وعُرف بإسبالِ ذيلِ الامتنان إلى واطئي رَحْبَتِها(5)، اقتداءً بالمجدِ(6) صاحبِ هذه العبارة(7)، وارتداءً بلباسِ مَنْ شَمِلَه السَّعدُ بما تضمَّنته الإشارة، ورجاءَ أنْ يكونَ كتابي -بذلك- مشتملًا على الخصوص والعموم، وأن يصيرَ كالبدرِ في التَّمام، والبحرِ في الطُّموم(8).

--------------------------------------------

(1) الحَزْنُ: ما غَلُظَ من الأرض. "القاموس": حَزَنَ.

(2) شاه شجاع بن محمد بن المظفَّر، سلطان بلاد فارس. تأتي ترجمته في حرف الشين.

(3) اسمه: محمَّدُ بن علي بن أبي منصور. تأتي ترجمته في حرف الميم.

(4) السلطان نورُ الدِّين محمودُ بنُ الأتابك، أبو القاسم السلجوقيُّ التركيُّ، الشهيدُ لُقِّبَ بذلك لتعرُّضه للشَّهادة. بنى المدارس والجوامع، وأبطل المكوس، وجاهد وانتزع من الكفَّار نَيِّفا وخمسين مدينة وحِصنا، مولده سنة 511، ووفاته سنة 569 هـ. "سير أعلام النبلاء" 20/ 531، و"البداية والنهاية" 12/ 277.

(5) رَحَبَةُ المكان بالفتح وتُسكَّن: ساحته. "القاموس": رحب.

(6) مجدُ الدِّين محمَّدُ بنُ يعقوبَ الفَيروزآباديُّ، شيخ اللغة، له "القاموس المحيط" و "المغانم المطابة". مولده سنة 729، ووفاته سنة 817 هـ. "إنباء الغمر" 3/ 47، و "الضوء اللامع" 10/ 79، وترجمته في القسم المفقود من الكتاب.

(7) "المغانم المطابة" 1/ 61، 62.

(8) طمَّ الماء طمًّا وطُمُومًا: غمر. "القاموس": طمم.
একটি বাগান প্রতিষ্ঠা করা—চাই তা পুনর্জীবিত করার মাধ্যমেই হোক—অথবা একটি ফলের বাগান তৈরি করা, অথবা সেখানে কোনো জনকল্যাণমূলক স্থান নির্মাণ করা।

আর আমি দীর্ঘজীবী ব্যক্তিগণ এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রে কেবল তারা সেখানে বসবাস করেছেন সেই শর্তে সীমাবদ্ধ থাকিনি, এমনকি তারা সেখানকার বাসিন্দা হওয়ার শর্তও আরোপ করিনি; বরং আমি তাদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তিদেরও উল্লেখ করেছি যারা এর বন্ধুর বা সমতল ভূমিতে কখনো পদার্পণ করেননি, অথবা যাদের সেবকরা প্রবল সংকল্প ও উদ্যমের সাথে সেখানে পদার্পণ করেছিলেন, যেমন জালাল আবি আল-ফাওয়ারিস শাহ শুজা, দানবীর জামাল আল-আসফাহানি—যিনি বিনাদ্বিধায় একজন রব্বানী ব্যক্তি ছিলেন—এবং পুণ্যবান সুলতান নূর আল-শহীদ, ও তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ যারা এর ভূমির বাসিন্দাদের প্রতি সদাচরণ করতে অনুরাগী ছিলেন এবং এর প্রাঙ্গণে পদার্পণকারীদের প্রতি অনুগ্রহের চাদর বিছিয়ে দেওয়ার জন্য সুপরিচিত ছিলেন; আর এটি আমি করেছি এই বাণীর প্রবক্তা আল-মাজদ-এর অনুসরণে এবং সেই ব্যক্তির পোশাক পরিধান করে যাকে এই ইশারার অন্তর্ভুক্ত সৌভাগ্য বেষ্টন করে আছে। আর এই আশায় যে, আমার কিতাবটি—এর মাধ্যমে—বিশেষ ও সাধারণ উভয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং পূর্ণতায় পূর্ণিমার চাঁদের মতো আর প্রাচুর্যে বিশাল সমুদ্রের মতো হবে।

--------------------------------------------

(১) আল-হাযন: ভূমির শক্ত ও বন্ধুর অংশ। "আল-কামুস": হাযানা।

(২) শাহ শুজা বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফফর, পারস্যের সুলতান। তাঁর জীবনী 'শীন' বর্ণে আসবে।

(৩) তাঁর নাম: মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবি মানসুর। তাঁর জীবনী 'মীম' বর্ণে আসবে।

(৪) সুলতান নূরুদ্দীন মাহমুদ বিন আল-আতাবিক, আবু আল-কাসিম আস-সেলজুকি আত-তুর্কি; শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করার কারণে তাঁকে 'আশ-শহীদ' উপাধি দেওয়া হয়েছে। তিনি মাদরাসা ও জামে মসজিদ নির্মাণ করেছেন, অবৈধ কর বাতিল করেছেন, এবং জিহাদ করে কাফিরদের থেকে পঞ্চাশটিরও বেশি শহর ও দুর্গ উদ্ধার করেছেন। তাঁর জন্ম ৫১১ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৫৬৯ হিজরিতে। "সিয়ারু আলামিন নুবালা" ২০/৫৩১, এবং "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" ১২/২৭৭।

(৫) রাহবাতুল মাকান (যবর বা সাকিন উভয়ই হতে পারে): এর অর্থ স্থানের প্রাঙ্গণ। "আল-কামুস": রাহবা।

(৬) মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফায়রূযআবাদী, ভাষাবিজ্ঞানের ইমাম, তাঁর কিতাবসমূহ হলো "আল-কামুস আল-মুহিত" এবং "আল-মাগানিম আল-মুতাবাহ"। তাঁর জন্ম ৭২৯ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৮১৭ হিজরিতে। "ইনবাউল গুমর" ৩/৪৭, এবং "আদ-দাওউল লামি" ১০/৭৯; কিতাবের বিলুপ্ত অংশে তাঁর জীবনী রয়েছে।

(৭) "আল-মাগানিম আল-মুতাবাহ" ১/৬১, ৬২।

(৮) তাম্মাল মা-উ তাম্মান ওয়া তুমুমান: পানি প্লাবিত হওয়া। "আল-কামুস": তামাম।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وكذا تَبِعتُ التقيَّ الفاسيّ، الحافظَ(1) لما غيرُه له ناسي، في ذكرِ جماعةٍ من الأمراء والملوك، ممَّن نصَّ فيهم على إِمْرة الحرمين، ولولم يكن له بواحدٍ منهما سلوك، ولكن بدون استيعابٍ لانتشارهم في الذِّكْرِ والخطاب، والإطابة بهم للكتاب، بل ذكرتُ جمعًا ممن وُصِفَ بمفتي الحرمين، أو قاضيهما أو شيخهما، مع ما يطرق به من الاحتمال، وتجويزِ ارتكابِ المجازِ في مجرَّد الوصف بذلك، لفحول الرِّجال.

وكان ممَّا حَدَاني على هذا الجمعِ الذي تَقَرُّ به العينُ، ويُصغي إليه صحيحُ السَّمع: أنني لم أجدْ فيه مُصَنَّفًا يشفي الغليل، وينفي الجهل باتِّضاحِ المقال والتَّعليل، مع مَسيسِ الحاجة إليه، والتَّنفيس به عن المكروب، حيثُ لم يجدْ في ذلك ما يعتمد عليه.

هذا؛ وقد أفردوا أهلَ كثيرٍ من البلدان: كبغدادَ والشامِ ومصرَ وأصبهانَ إلى غيرها، ممَّا يطول بذكره هذا البيان، مع كون هذه أحقَّ بالتنويه، وأصدقَ في الوجاهة والتوجيه.

نعم اشتملت: "الروضة الفِرْدَوسيَّةُ" المشتملةُ على ما نحن بصدده، وغيرِه من المهمَّات العَلية، لأبي عبدِ اللّهِ الآقشهري(2) الثقةِ الرَّحال، غيرِ المُزْدَرِي على كثيرٍ من التراجم لأهلها والأعاجمِ، و "تاريخ البدرِ أبي محمدٍ عبدِ اللّه بنِ محمدِ بنِ فَرْحُون"(3) المُقَدَّم في الفضائل والفنون، على عددٍ كان الفكر بسببهم واجَمًا(4)، وتعليقِ الشَّمسِ:

--------------------------------------------

(1) تقيُّ الدِّين محمَّدُ بنُ أحمد بن عليٍّ الفاسيُّ، تأتي ترجمته في حرف الميم.

(2) محمد بن أحمد بن أمين، تأتي ترجمته في حرف الميم.

وكتابه المشار إليه هو: "الرَّوضةُ الفِردَوْسِيَّةُ والحظيرة القدسية" - مخطوط. فيه تعيين مَنْ دُفِن بالبقيع من السابقين الأولين، والشهداء الصالحين.

(3) تأتي ترجمته في حرف العين، وكتابه المقصود هو "نصيحة المشاور وتعزية المجاور".

(4) أي: حزينًا. الوَجِمُ: العَبُوسُ المُطرِق لشَّدة الحزن. "القاموس": وجم.
একইভাবে আমি তাকি আল-ফাসিকে অনুসরণ করেছি, যিনি এমন এক হাফেজ(১) যা অন্যেরা ভুলে গেছে; আমীর ও রাজাদের এমন এক দলকে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে যাদের ব্যাপারে তিনি দুই হারামাইনের শাসনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যদিও তাদের কারো কারো সেখানে পদার্পণ ছিল না। তবে আলোচনা ও ভাষণে তাদের ব্যাপকতা পুরোপুরি বর্ণনা করা কিংবা তাদের মাধ্যমে কিতাবটিকে সুশোভিত করাই কেবল উদ্দেশ্য ছিল না; বরং আমি এমন একদল লোকের কথা উল্লেখ করেছি যাদের হারামাইনের মুফতি, অথবা তাদের বিচারক (কাযী), কিংবা তাদের শাইখ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যদিও এতে এই সম্ভাবনা উঁকি দেয় এবং সেই সব বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিছক এ জাতীয় বিশেষণে ভূষিত করার ক্ষেত্রে রূপক ব্যবহারের সুযোগ থাকে।

এই সংকলনটি করতে যা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে—যা চোখকে প্রশান্তি দেয় এবং যার প্রতি সুস্থ শ্রবণেন্দ্রিয় নিবিষ্ট হয়—তাহল: আমি এই বিষয়ে এমন কোনো গ্রন্থ খুঁজে পাইনি যা জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করে এবং বর্ণনা ও দলীলের স্পষ্টতার মাধ্যমে অজ্ঞতা দূর করে; অথচ এর তীব্র প্রয়োজন ছিল এবং এর মাধ্যমে বিপদগ্রস্তের স্বস্তি লাভের সুযোগ ছিল, কারণ সে এই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কিছু খুঁজে পাচ্ছিল না।

তাছাড়া, লেখকগণ অনেক অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন: যেমন বাগদাদ, শাম, মিসর, আসবাহান এবং আরও অনেক অঞ্চল যার বর্ণনা দীর্ঘ হবে; অথচ এই অঞ্চলটি (হারামাইন) অধিক গুরুত্ব ও সম্মানের দাবিদার ছিল।

হ্যাঁ, আবু আব্দুল্লাহ আল-আকশাহরি(২)—যিনি নির্ভরযোগ্য ও দেশভ্রমণকারী ছিলেন এবং স্থানীয় ও অ-আরবদের জীবনীর প্রতি অবজ্ঞাকারী ছিলেন না—তাঁর "আর-রাওদাতুল ফিরদাউসিয়া" গ্রন্থে আমাদের আলোচ্য বিষয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উচ্চতর বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও ফযিলত ও বিভিন্ন বিদ্যায় অগ্রগণ্য বদর আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ফারহুন(৩) এর "তারিখ" গ্রন্থে এমন অনেক সংখ্যা রয়েছে যাদের কথা চিন্তা করে হৃদয় বিষণ্ণ(৪) ছিল। আরও রয়েছে শামস-এর টীকা:

--------------------------------------------

(১) তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী আল-ফাসি, তাঁর জীবনী 'মীম' বর্ণে আসবে।

(২) মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আমিন, তাঁর জীবনী 'মীম' বর্ণে আসবে।

তাঁর নির্দেশিত কিতাবটি হলো: "আর-রাওদাতুল ফিরদাউসিয়া ওয়াল হাযিরাতুল কুদসিয়া" - পাণ্ডুলিপি। এতে প্রথম যুগের অগ্রগামী এবং নেককার শহীদদের মধ্য থেকে যারা বাকিতে সমাহিত হয়েছেন তাদের পরিচিতি রয়েছে।

(৩) তাঁর জীবনী 'আইন' বর্ণে আসবে, এবং তাঁর উদ্দিষ্ট কিতাবটি হলো "নাসিহাতুল মুশাভির ওয়া তা'যিয়াতুল মুজাভির"।

(৪) অর্থাৎ: বিষণ্ণ বা দুঃখিত। 'আল-ওয়াজিমু' অর্থ: তীব্র দুঃখের কারণে বিষণ্ণ হয়ে অধোবদন হওয়া। "আল-কামুস": ওজামা।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
محمدِ ابن التَّقي صالحٍ، على كثيرٍ ممنْ لم يُفصحْ في أكثرهم بما تَتِمُّ به المصالح.

وكذا عقَدَ المجدُ الفيروزآباديُّ اللُّغويُّ، السَّائرُ في الاعتناء باللّغة السَّير القوي، في كتابه: "المغانم المطابة في معالم طابة"(1)، الفائقِ حُسنًا وانتخابًا، لجماعةٍ أدركهم أو أدركهم شيوخه من أهلها بابًا، استمدَّ فيه من ابن فرحون، عبَّر فيها عن مقاصده بلفظٍ بالدُّرِّ مشحون، ولم يستوعبْ ما هنالك، وزادَ هو دونَ عشرةِ أنفس، رَقَمْتُ عليهم زايًا تنبيهًا للسالك، وعلى ما اشتركا فيه كافًا(2) للعدل في العِزِّ والإنصاف، ومجموعُ ما اشتملتْ عليه هذه التَّصانيف قُلٌّ من كُثْرٍ، مع ارتفاعِ أربابها عن درجة التقصير والنُّكر.

وقد طالعتُ من الكتبِ الكبار، والمشيخاتِ والمعاجم الجليلاتِ المقدار، والتَّواريخِ المستقيمةِ عند الاعتبار، ما أرجو سردَ جميعِه بآخره، ليكونَ ذلك من جُملةِ مفاخره، وما تيسَّرَ لي الوقوفُ على كتاب "الإعلام بمن دخلَ المدينةَ مِن الأعلام" للعفيف عبدِ اللّه بنِ محمَّد بنِ أحمدَ بنِ خلفٍ المطَريِّ(3) لأستفيدَ منه ما لعلَّه يوافق اختياري ونظري، وأتيتُ بما اشتملَ عليه هذا الكتاب، على حروف المعجم تسهيلًا للكشف للاستفادةِ منه والانتخاب، مراعيًا في ذلك التَّرتيب في الآباءِ والأجداد وبقيَّةِ الأنساب، ثمَّ أُرْدِفُ الأسماءَ بالكُنى، وبالأنسابِ ونحوِها مما يقرِّب المراجعة لمَنِ به اعتنى(4)، ثمَّ بالنِّسا اقتداءً بمَن اقتفى الأئمةَ وائتسى.

--------------------------------------------

(1) وهو من مطبوعات مركز بحوث ودراسات المدينة المنورة (1 - 4).

(2) هذان الرَّمزان غير ظاهرين في الأصل؛ لذا أهملناهما.

(3) عفيفُ الدِّين المطري. تأتي ترجمته في حرف العين، وكتابه المذكور لم أقف عليه.

(4) القسم الذي فيه الكُنى والأنساب والنِّساء مفقود.
মুহাম্মদ ইবনে তাকি সালিহ, এমন অনেক ব্যক্তির প্রসঙ্গে যাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে তিনি সেভাবে স্পষ্ট করেননি যার দ্বারা উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়।

একইভাবে ভাষাবিদ আল-মাজদ আল-ফিরোজাবাদি—যিনি ভাষা চর্চায় শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন—তার ‘আল-মাগানিম আল-মুতাবাহ ফি মাআলিম তাবাহ’ নামক কিতাবে একটি পরিচ্ছেদ নিবদ্ধ করেছেন, যা সৌন্দর্য এবং নির্বাচনে অনন্য। সেখানে তিনি এমন একদল লোক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যাদের তিনি নিজে পেয়েছেন অথবা তার শিক্ষকরা সেই শহরের বাসিন্দাদের মধ্য থেকে পেয়েছেন। সেখানে তিনি ইবনে ফারহুন থেকে সহায়তা নিয়েছেন এবং অলঙ্কারপূর্ণ শব্দে তার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি সেখানকার সবটুকু অন্তর্ভুক্ত করেননি। তিনি দশ জনের কম ব্যক্তি বৃদ্ধি করেছেন; পাঠকদের সতর্ক করার জন্য আমি তাদের ওপর ‘যাই’ চিহ্ন দিয়েছি। আর তারা দুজন যাতে শরিক হয়েছেন তার ওপর ‘কাফ’ চিহ্ন দিয়েছি সম্মান ও ইনসাফের খাতিরে। এসব রচনায় যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা বিশাল ভাণ্ডারের তুলনায় অতি সামান্য, যদিও এর লেখকরা অবহেলা বা অযোগ্যতার ঊর্ধ্বে।

আমি বড় বড় কিতাবসমূহ, উচ্চমর্যাদার মাশয়াখাত এবং অভিধানসমূহ এবং নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেছি। আমি আশা করি এর সবটুকু শেষে উল্লেখ করব, যাতে এটি তার গৌরবের বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়। আমার জন্য আফিফ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন খালাফ আল-মাতারির ‘আল-ইলাম বিমান দাখালাল মদিনাতা মিনাল আলাম’ কিতাবটি দেখা সম্ভব হয়নি, যাতে আমি তা থেকে উপকৃত হতে পারতাম যা সম্ভবত আমার চয়ন ও দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সংগতিপূর্ণ হতো। আর আমি এই কিতাবে যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা অভিধানের বর্ণানুক্রমে উপস্থাপন করেছি, যাতে তা থেকে উপকৃত হওয়া এবং নির্বাচনের কাজ সহজ হয়। এতে আমি পিতা, দাদা এবং অবশিষ্ট বংশপরম্পরার ক্রমধারা রক্ষা করেছি। এরপর আমি নামের সাথে কুনিয়াত, বংশপরিচয় এবং অনুরূপ বিষয়গুলো যুক্ত করেছি যা আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য অনুসন্ধান সহজ করবে। তারপর আইম্মায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নারীদের কথা উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

(১) এটি মদিনা মুনাওয়ারা গবেষণা ও শিক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত (১ - ৪ খণ্ড)।

(২) এই প্রতীক দুটি মূলে স্পষ্ট নয়; তাই আমরা এগুলো বাদ দিয়েছি।

(৩) আফিফুদ্দীন আল-মাতারি। তার জীবনী ‘আইন’ বর্ণে আসবে, আর তার উল্লিখিত কিতাবটি আমি পাইনি।

(৪) কুনিয়াত, বংশপরিচয় এবং নারীদের অংশটি হারিয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
كلُّ هذا بعدَ الابتداء بسيرةٍ نبويَّةٍ مُختصرة، نافعةٍ مُفيدةٍ مُعتبرة، إذ الشَّرفُ للمذكورين، بل ولجميعِ المتقدِّمين والمتأخِّرين سِيَّما المؤلفِ المسكين، المُزلْزَلِ في التمكين، إنما هو بالإضافة لجَنابه الرفيع، والتَّطفُّل بالتَّحرُّز في حَرَمِه المنيع، حقَّقَ اللّه له ولهم ذلك، ووفَّق لما مشى فيه من هذه المسالك.

ثمَّ أُردِفُها بإشارةٍ مختصرةٍ جدًّا تشتمل على ما اشتمل عليه المسجد الشّريف الفائق في الفخر إحصاءا وعددًا من الحُجرةِ والرَّوضة الشريفتين، والكِسْوة والسَّواري المعتمدتين، والأبوابِ والمنائر ونحوها، مما تيسَّرت الإحاطةُ به سماعًا ومشاهدةً، أو بهما، لدفع المشتبه، والتَّعرُّض لذرعه، وما زِيدَ مِنْ أروقته ووُسْعه، إلى غيرها من أحكام حَرَمه، وتعظيمِ جهاته، والتحذير من عدمه، وأماكنَ ممَّا يُزار من المساجد والآبار، وغير ذلك ممَّا وقع عليه الاختيار. سِيَّمَا مَنْ عُرِفَ من أهل البقيع، وما اتَّفق من الحوادث الصَّادرة من ذوي الجهالة والتَّبديع. وما بجوانبهِ من المدارس، والرُّبُط، والمَطَاهر، وأماكنِ المرضى التي للذُّنوب تحطّ(1)، ومَنْ باشره من الأئمة، والخطباءِ، والقُضاة، والنُّظَّار، والمحتسبين، والرُّؤساء بدون اشتباهٍ، والفرَّاشين، والخُدَّام، وما يفوق الوصف ممَّا يُرجى الانتفاعُ به لمَن دام، ممَّا تتشوَّفُ

--------------------------------------------

(1) زيارةُ الأماكن ممَّا ذكره المصنِّف رحمه اللّه تعالى إن كان للعِظة والاعتبار فلا بأس به، وإن كان لحطِّ الذُّنوب وللتبرُّك فهذا ممَّا لم يرد به الخبر والأثر، بل الوارد عن السَّلف خلافه؛ كما ورد عن عمر رضي الله عنه زجره لمن تتبَّع الصَّلاة في أماكن مرَّ بها". أمَّا الأماكن المنصوص عليها كالصَّلاة في مسجده صلى الله عليه وسلم وفي مسجد قباء فنَيلُ البركة من اللّه يكون بالصَّلاة فيها اقتداءً بقوله وفعله صلى الله عليه وسلم. انظر: "الجواب الباهر" ص: 18، 19، 23، و "التبرك المشروع والتبرك الممنوع" ص: 39 - 42.
এই সবকিছু শুরু হয়েছে একটি সংক্ষিপ্ত, উপকারী ও নির্ভরযোগ্য নবীজীর জীবনীর মাধ্যমে। কেননা উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্মান, এমনকি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সম্মান—বিশেষ করে এই নিঃস্ব লেখকের সম্মান, যার দৃঢ়তা ও সামর্থ্য টলটলায়মান—তা কেবল তাঁর (রাসূলুল্লাহর) সুউচ্চ সান্নিধ্যের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে এবং তাঁর সুরক্ষিত হারামের আশ্রয়ে বিনয়ের সাথে অবস্থানের মাধ্যমে। আল্লাহ তাঁর জন্য এবং তাঁদের জন্য এটি কবুল করুন এবং তিনি যে পথে চলছেন তাতে তাওফিক দান করুন।

অতঃপর আমি এর সাথে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি ইঙ্গিত যুক্ত করছি, যাতে এমন বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা সেই অতিশয় গৌরবময় মসজিদে নববীকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে হুজরা শরীফ ও রওজা শরীফ, নির্ভরযোগ্য গিলাফ ও খুঁটিসমূহ, দরজা, মিনার এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয় যা শ্রবণ বা দর্শনের মাধ্যমে অথবা উভয়ভাবে আয়ত্ত করা সম্ভব হয়েছে। এটি করা হয়েছে অস্পষ্টতা দূর করার জন্য, এর পরিমাপ বর্ণনা করার জন্য এবং এর বারান্দা ও প্রশস্ততায় যা কিছু বৃদ্ধি করা হয়েছে তা তুলে ধরার জন্য। এছাড়া হারামের বিধানাবলি, এর বিভিন্ন দিকের মর্যাদা এবং তা অবমূল্যায়ন করার ব্যাপারে সতর্কতাও এতে স্থান পেয়েছে। আরও রয়েছে যিয়ারতযোগ্য বিভিন্ন মসজিদ ও কূপ এবং এমন সব স্থান যা আলোচনার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। বিশেষভাবে জান্নাতুল বাকী'র অধিবাসীদের মধ্যে যারা পরিচিত তাদের কথা এবং মূর্খ ও বিদআতীদের পক্ষ থেকে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ। আরও রয়েছে এর আশেপাশে অবস্থিত মাদ্রাসা, মুসাফিরখানা, পবিত্রতা অর্জনের স্থান এবং রোগীদের থাকার জায়গা যা গুনাহ ঝরিয়ে দেয়(১)। এছাড়া যারা এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে ছিলেন—যেমন ইমাম, খতীব, বিচারক, পরিদর্শক, মুহতাসিব, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, খাদেম ও সেবকবৃন্দ এবং বর্ণনাতীত অন্যান্য বিষয় যা থেকে দীর্ঘকাল অবস্থানকারীরা উপকৃত হওয়ার আশা রাখেন, যা দেখার জন্য মানুষ মুখিয়ে থাকে...

--------------------------------------------

(১) গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) যেসব স্থান যিয়ারতের কথা উল্লেখ করেছেন, তা যদি শিক্ষা গ্রহণ ও উপদেশ লাভের জন্য হয় তবে তাতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু যদি গুনাহ মাফ বা বরকত লাভের উদ্দেশ্যে হয়, তবে এটি এমন বিষয় যার সপক্ষে কোনো বর্ণনা বা আসার (সাহাবীদের বাণী) নেই। বরং সালাফদের থেকে এর বিপরীতই বর্ণিত হয়েছে; যেমন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ঐ সকল স্থানে নামাজ পড়ার ব্যাপারে কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন যেখানে নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পথিমধ্যে অবস্থান করেছিলেন। তবে যেসব স্থানের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যেমন নবীজীর মসজিদে (মসজিদে নববী) এবং মসজিদে কুবায় নামাজ পড়া, সেসব ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত লাভ হবে সেখানে নামাজ পড়ার মাধ্যমে এবং নবীজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথা ও কাজের অনুসরণের মাধ্যমে। দেখুন: "আল-জাওয়াবুল বাহির" পৃষ্ঠা: ১৮, ১৯, ২৩ এবং "আত-তাবাররুকুল মাশরু ওয়া আত-তাবাররুকুল মামনু" পৃষ্ঠা: ৩৯-৪২।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
النَّفسُ إليه، حسبما تقف عليه. مُستمِدًّا في الكبير(1) خاصةً من أبي عُذرَتِه(2)، ورَبيِّ بَجدته(3)، وأسدِ نَجْدته(4)، الباحثِ عن جُمَله وتفصيله، والباعثِ لنفسه الزَّكيةِ في تحقيقِه وتحصيله، بحيثُ قَصُرَت الهِممُ عن اللَّحاقِ به، واستبصَرتْ فعلمتْ عجزَها عن أسبابِه وسَبَبه، مع التَّحقيقِ، والفحصِ والتَّدقيق، والجمعِ بين المختلف بالتَّوفيق، والتَّوهين والتَّعيين، بالتّمريض والتَّبيين، وكنتُ أوَّلَ مَنْ نوَّه بمصنِّفِه في ذلك، وقرَّضَه(5) بما لا يَشتبهُ للسَّالك، وكيف لا وهو عالِمُ المدينة حِسًّا ومعنى، والقائمُ بالإرشادِ للعلومِ النَّقليةِ والعقليةِ بالحسنى، بل هو أعلمُ مَنْ علمتُه الآن من الآل، الجديرُ بإحياءِ معاهدِ جَدِّه سيِّدِ الخلائقِ ممَّن مضى وآل، ولذا حدَّد مكتومَها، وجدَّد رسومَها، وأراحَ مَنْ بعده واستراح من لم يجتهد جهده. وهو: صاحبُنا وحبيبُنا السَّيِّدُ العلّاَمة نورُ الدِّين الحسنيُّ السَّمهوديُّ ثمَّ المدنيُّ الشَّافعيُّ(6) باركَ اللّهُ في حياتِه، وتداركَ باللُّطف سائرَ مُهمَّاتِه.

--------------------------------------------

(1) "التاريخ الكبير"، أو: "التاريخ المحيط"، للمؤلف، وهو كبيرٌ، رتَّبه على حروف المعجم، وقد أخذه من "تاريخ الإسلام" للذهبي، وزاد عليه خلقًا أغفلهم أو تجدَّدوا بعده. انظر: "الضوء اللامع" 8/ 17، و "الإعلان بالتوبيخ" 221.

(2) العُذرَة: ما للجارية البِكر قبل أن تُفتضَّ، ويقال: فلان أبو عُذرةِ فلانة إذا كان هو الذي افترعها، والمعنى: السابق إليه. "مجمل اللغة" 3/ 655.

(3) يقالُ: فلانٌ ابنُ بَجدة هذا الأمر أي: عالمٌ به، متقِنٌ له، ومعنى العبارة التي بين أيدينا أي: تربَّى على العلم وأتقنه. "المحكم" 3/ 274، و "القاموس": بَجَدَ.

(4) النَّجدة: الشَّجاعة، والشِّدَّة، والقتال، والمعنى هو: كالأسد في الشَّجاعة والشدة. "القاموس": نجد.

(5) يقال: قرَّضهُ وقرَّظَه، والتَّقريظ: مدحُ الإنسان وهو حي بحقٍّ أو باطلٍ. "القاموس": قرظ، قرض.

(6) عليُّ بنُ عبدِ اللّهِ بنِ أحمدَ، السَّمهوديُّ تأتي ترجمته في حرف العين.
আত্মা তাঁর প্রতি অনুরক্ত হবে, যেমনটি আপনি দেখতে পাবেন। তিনি বিশেষভাবে তাঁর ‘কাবীর’(১) নামক গ্রন্থে এই বিষয়ের আদি উদ্ভাবক(২), এর নিগূঢ় রহস্যের অভিজ্ঞ(৩) এবং এর সুকঠিন প্রাঙ্গণের সিংহপুরুষের(৪) নিকট থেকে সাহায্য গ্রহণ করেছেন; যিনি এর সামগ্রিক ও বিস্তারিত বিষয়সমূহ অনুসন্ধানকারী এবং স্বীয় পবিত্র সত্তাকে এর বিশ্লেষণ ও অর্জনে নিয়োজিতকারী। তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষার সমপর্যায়ে পৌঁছাতে অন্য সবার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা লক্ষ্য করে নিজেদের অপারগতা উপলব্ধি করেছে। তিনি অত্যন্ত গভীর গবেষণা, সূক্ষ্ম পরীক্ষা ও চুলচেরা বিশ্লেষণের সাথে সাথে সার্থক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন মতের মিলন ঘটিয়েছেন এবং দুর্বল মতকে চিহ্নিত করে সবল মতকে সুস্পষ্ট করেছেন। আমিই প্রথম ব্যক্তি যে এ ব্যাপারে গ্রন্থকারের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেছি এবং তাঁর এমন প্রশংসা(৫) করেছি যা কোনো জ্ঞান-অন্বেষীর কাছে অস্পষ্ট নয়। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে তিনি বাহ্যিক ও আত্মিক উভয় দিক দিয়েই মদিনার শ্রেষ্ঠ আলিম এবং অত্যন্ত সুন্দরভাবে উদ্ধৃতিমূলক ও যুক্তিভিত্তিক শাস্ত্রসমূহের দিকনির্দেশনা দানকারী। বরং বর্তমানে আমি নবী পরিবারের বংশধরদের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক বড় আলিম কাউকে জানি না, যিনি সৃষ্টির সেরা তাঁর মহান পূর্বপুরুষের স্মৃতিধন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরুজ্জীবিত করার উপযুক্ত উত্তরসূরি। এজন্যই তিনি এর গোপন রহস্যসমূহ উন্মোচন করেছেন, এর বিলুপ্ত ঐতিহ্যসমূহ পুনর্জীবিত করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাজ সহজ করে দিয়েছেন। তিনি হলেন: আমাদের সঙ্গী ও প্রিয়ভাজন, সাইয়্যিদ আল্লামা নূরুদ্দীন আল-হাসানী আস-সামহুদী অতঃপর আল-মাদানী আশ-শাফিয়ী(৬)। আল্লাহ তাঁর জীবনে বরকত দান করুন এবং অত্যন্ত অনুগ্রহের সাথে তাঁর সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ পূর্ণ করে দিন।

--------------------------------------------

(১) লেখকের ‘আত-তারীখুল কাবীর’ বা ‘আত-তারীখুল মুহীত’। এটি একটি বিশাল গ্রন্থ, যা তিনি বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছেন। তিনি এটি ইমাম যাহাবীর ‘তারীখুল ইসলাম’ থেকে গ্রহণ করেছেন এবং এতে এমন অনেক ব্যক্তির জীবনী সংযোজন করেছেন যাদের কথা যাহাবী উল্লেখ করেননি অথবা যারা তাঁর পরে এসেছেন। দেখুন: ‘আদ-দাওউল লামি’ ৮/১৭ এবং ‘আল-ই’লান বিত-তাওবীখ’ ২২১।

(২) ‘উযরাহ’ শব্দের অর্থ কুমারীত্ব। যখন কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ের প্রথম উদ্ভাবক হয়, তখন তাকে ‘আবু উযরাহ’ বলা হয়। অর্থাৎ তিনি এর অগ্রপথিক। ‘মুজমালুল লুগাহ’ ৩/৬৫৫।

(৩) বলা হয়ে থাকে, অমুক ব্যক্তি এই বিষয়ের ‘ইবনে বাজদাহ’ অর্থাৎ তিনি এই বিষয়ে অত্যন্ত বিজ্ঞ ও নিপুণ। আমাদের আলোচ্য বাক্যের অর্থ হলো—তিনি ইলমের ওপর লালিত-পালিত হয়েছেন এবং এতে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেছেন। ‘আল-মুহকাম’ ৩/২৭৪ এবং ‘আল-ক্বামূস’।

(৪) ‘নাজদাহ’ অর্থ সাহস, শক্তি ও যুদ্ধ। এখানে উদ্দেশ্য হলো তিনি সাহসিকতা ও শক্তিতে সিংহের মতো। ‘আল-ক্বামূস’।

(৫) আরবী ভাষায় একে ‘তাক্বরীয’ বলা হয়: জীবিত ব্যক্তির সত্য বা সঠিক প্রশংসা করা। ‘আল-ক্বামূস’।

(৬) আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আস-সামহুদী। তাঁর জীবনী ‘আইন’ বর্ণের অধীনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وكان الشُّروعُ في تبييضه، والرُّجوعُ لتهذيبه وتنهيضه، حين كوني بطيبةَ الشَّريفة، وقُرَّةُ عيني بلَحْظِ تلك العَرَصَات(1) المُنيفة.

وكتبَ إليَّ العزُّ ابنُ فهدٍ(2) يُحرِّضُ عليه، ويُمَرِّضُ مَنْ لم يلتفتْ إليه، بل نظمَ الفاضلُ اللُّواتي(3)، والحبيبُ المواتي، قصيدةً في التَّنويهِ به، والتَّوجُّهِ لسببِه، نفعَ اللّه بهما، ودفع كلَّ مكروهٍ عنهما، وجعل هذا التَّأليفَ خالصًا لوجهِه الكريم، مُوجبًا لفضلِه العميم، وصلَّى اللّه على سيِّدِنا محمَّدٍ وسلَّمَ وشرَّفَ وكَرَّم، وسمَّيْتُه:

التُّحفةَ اللَّطيفةَ في تاريخ المدينةِ الشّريفةِ

وهذا حينُ الشُّروع، فيما قدَّمتُه على هذا المجموع، مِن نبذةٍ يَحسنُ إيرادُها، ويتعيَّنُ إفرادَها، بل تعلمُّهَا أمرٌ مفترض، وتَفهُّمُها لا يُهمله إلا مَنْ في قلبِه مرَض. في ذكرِ سيِّدِ البَشَر، وسيِّدِ الخلقِ ممَّنْ مضى وغَبر، الأكملِ خَلْقًا وخُلقَا، والأفضلِ في الرُّقيِّ والارتقاء، صاحبِ المقامِ المحمود(4)، واللِّواءِ المعقود(5)، والحوضِ والكوثرِ

--------------------------------------------

(1) العَرَصَات جمع عَرْصَة، بوزن ضَرْبة: كلُّ بُقعةٍ بين الدُّور واسعةٍ، ليس فيها بناء. "مختار الصحاح" ص: 424.

(2) هو عبدُ العزيزِ بنُ عمرَ بنِ محمَّدٍ المكيُّ، المعروفُ بابن فهدٍ، محدِّث مشاركٌ في العلوم، له "بلوغ القِرى لذيل إتحاف الورى"، و "معجم الشيوخ"، مولده سنة 850، ووفاته سنة 920". "الضوء اللامع "4/ 224، و "الكواكب السائرة" 1/ 238.

(3) محمَّدُ بنُ عليِّ بنِ أحمد، أبو عبد اللّه الأنصاريُّ، التُّونسيُّ اللواتيُّ. ترجم له المصنِّف له في حرف الميم.

(4) عن ابن عمر رضي الله عنه قال: إنَّ النَّاس يصيرون يوم القيامة جُثًا كلُّ أُمَّةٍ تتبعُ نَبيَّها، يقولون: يا فلانُ، اشفع يا فلان، اشفع، حتى تنتهيَ الشَّفاعة إلى النَّبي صلى الله عليه وسلم، فذلك يوم يبعثه اللّه المقام المحمود. أخرجه البخاريُّ في كتاب تفسير القرآن، باب قوله: {عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا} ". (4718).

(5) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنا سَيِّدُ ولدِ آدَمَ يومِ القيامَةِ ولا فخر، وبيدي لواءُ الحمد ولا فخر .. "، أخرجه الترمذيُّ في كتاب المناقب، باب: في فضل النبي صلى الله عليه وسلم (3615)، وقال: حسن صحيح.
আর এর অনুলিপি তৈরি করা এবং একে পরিমার্জিত ও সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু হয়েছিল পবিত্র তাইবায় (মদীনা) অবস্থানকালে, যখন সেই সুউচ্চ প্রশস্ত প্রাঙ্গণসমূহ(১) দর্শনে আমার চক্ষু শীতল হচ্ছিল।

আল-ইযয ইবনে ফাহদ(২) এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করে আমাকে লিখেছিলেন এবং যারা এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না তাদের ত্রুটি বর্ণনা করেছিলেন। বরং গুণী আল-লুওয়াতি(৩) এবং অনুকূল সুহৃদ এর প্রশংসায় এবং এর গুরুত্বারোপে একটি কাসিদা রচনা করেছেন; আল্লাহ তাঁদের উভয়কে এর মাধ্যমে উপকৃত করুন এবং তাঁদের থেকে সকল অনিষ্ট দূর করুন। আর এই সংকলনটিকে কেবলমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন, যা তাঁর ব্যাপক অনুগ্রহ প্রাপ্তির কারণ হবে। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন এবং তাঁকে আরও মর্যাদা ও সম্মান দান করুন। আর আমি এর নামকরণ করেছি:

আত-তুহফাতুল লাতীফাহ ফি তারিখিল মাদিনাতিল শরিফাহ (পবিত্র মদীনার ইতিহাসে এক মনোজ্ঞ উপহার)

আর এখন সেই বিষয়ের প্রারম্ভকাল, যা আমি এই সংকলনের উপক্রমণিকা হিসেবে পেশ করেছি—এমন এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা যা উপস্থাপন করা উত্তম এবং স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক। বরং তা শিক্ষা করা একটি আবশ্যিক বিষয় এবং তা উপলব্ধি করতে কেবল সেই ব্যক্তিই অবহেলা করে যার হৃদয়ে ব্যাধি রয়েছে। এতে আলোচনা করা হয়েছে মানবকুলের শ্রেষ্ঠ সত্তা এবং অতীত ও বর্তমানের সকল সৃষ্টির সরদারের বর্ণনায়, যিনি সৃষ্টি ও চরিত্রে পূর্ণাঙ্গতম এবং উন্নতি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ; যিনি মাকামে মাহমুদের (প্রশংসিত স্থান)(৪) অধিকারী, সুউচ্চ ঝাণ্ডার(৫) মালিক এবং হাওয ও কাউসারের অধিকারী...

--------------------------------------------

(১) ‘আরাসাত’ হলো ‘আরাসাহ’ শব্দের বহুবচন, যা ‘দারবাহ’ এর ওজনে: ঘরবাড়ির মধ্যবর্তী এমন প্রশস্ত স্থান যেখানে কোনো দালানকোঠা নেই। দেখুন: ‘মুখতারুস সিহাহ’, পৃষ্ঠা: ৪২৪।

(২) তিনি হলেন আব্দুল আযীয ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ আল-মাক্কী, যিনি ইবনে ফাহদ নামে পরিচিত। তিনি একজন মুহাদ্দিস এবং বিভিন্ন জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে ‘বুলুগুল ক্বিরা লি-যাইল ইত্তিহাফিল ওয়ারা’ এবং ‘মু'জামুশ শুয়ুখ’ অন্যতম। তিনি ৮৫০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯২০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: ‘আয-যাউউল লামি’ ৪/২২৪ এবং ‘আল-কাওয়াকিবুল সাইয়্যিরাহ’ ১/২৩৮।

(৩) মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ, আবু আব্দুল্লাহ আল-আনসারী, তিউনিসিয়ার লুওয়াতি। লেখক ‘মীম’ বর্ণের অধ্যায়ে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন।

(৪) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন মানুষগুলো হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় থাকবে। প্রতিটি উম্মত তাদের নবীর অনুসরণ করবে। তারা বলবে: হে অমুক! সুপারিশ করুন; হে অমুক! সুপারিশ করুন। শেষ পর্যন্ত সুপারিশের দায়িত্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে পৌঁছাবে। আর সেই দিনই আল্লাহ তাঁকে ‘মাকামে মাহমুদ’ বা প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাবেন। বুখারী এটি তাফসীর অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী: {হয়তো আপনার পালনকর্তা আপনাকে প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাবেন} (আয়াত নং: ৪৭১৮)।

(৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানদের সরদার হব, এতে কোনো অহংকার নেই। আর আমার হাতে থাকবে প্রশংসার পতাকা, এতেও কোনো অহংকার নেই...।” তিরমিযী এটি মানাকিব অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা প্রসঙ্গে (হাদিস নং: ৩৬১৫) এবং তিনি একে হাসান সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
المورود(1)، والمعجزاتِ الباهرات، والتَّميزاتِ بالخصائصِ المتكاثرات، من الشَّفاعةِ العامَّة(2)، والجماعةِ القائمة، إلى قيامِ السَّاعة، بالحُجَّةِ التَّامَّة(3)، وانشقاق القَمر(4)، ونبعِ الماءِ ما بين أصابعِه ممَّا تواتر واشتهر(5)، والبركةِ في الشَّراب والطَّعام(6)، وتكليمِ

--------------------------------------------

(1) وهو الذي امتنَّ به ربُّه عليه في قوله سبحانه: {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ} سورة الكوثر، وهو حوضُه صلى الله عليه وسلم، فعن أنس رضي الله عنه مرفوعًا: "أتدرون ما الكوثر؟ " فقلنا: اللّه ورسوله أعلم، قال: "فإنه نهرٌ وعدنيه ربي عز وجل، عليه خير كثيرٌ، وهو حوضٌ ترِدُ عليه أمَّتي يوم القيامة". أخرجه مسلم في كتاب الصلاة، باب: حجَّة مَن قال: البسملةُ آية من كلِّ سورة 1/ 300 (53).

(2) كما في حديث جابر رضي الله عنه أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أُعطيتُ خمسًا"، وذكر منهن: "وأُعطيتُ الشفاعة". أخرجه البخاريُّ في كتاب الصلاة، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: "جُعلت لي الأرض مسجدًا وطهورًا" (438).

(3) عن معاوية رضي الله عنه قال: سمعتُ النبيَّ صلى الله عليه وسلم يقول: "لا يزالُ من أمَّتي أمةٌ قائمةٌ بأمر اللّه لا يضرُّهم مَن خذلهم، ولا مَن خالفهم حتى يأتيهم أمر اللّه وهم على ذلك". أخرجه البخاريُّ في كتاب المناقب، باب سؤال المشركين أن يريهم النبيُّ صلى الله عليه وسلم آية (3646)، ومسلم في كتاب الإمارة، باب قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة" 3/ 1524 (174).

(4) قال سبحانه: {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ} سورة القمر: 1، وعن أنسٍ رضي الله عنه قال: "إنَّ أهلَ مكَّةَ سألوا رسولَ اللّه صلى الله عليه وسلم أن يُريَهم آية؟ فأراهم انشقاق القمر". أخرجه البخاري في كتاب المناقب، باب: سؤال المشركين أن يريهم آية، (3638)، ومسلم في كتاب صفات المنافقين، باب: انشقاق القمر 4/ 2159 (46).

(5) عن أنس رضي الله عنه قال: رأيتُ رسول اللّه صلى الله عليه وسلم وحانت صلاة العصر … الحديثَ، وفيه: "فرأيتُ الماءَ ينبعُ من تحت أصابعه … ".

أخرجه البخاريُّ في كتاب الوضوء، باب التماس الوضوء (169).

(6) حديث جابر رضي الله عنه: في غزوة الخندق، وبصقه صلى الله عليه وسلم على العجين حتى أكل منه الجيش.

أخرجه مسلم في كتاب الأشربة، باب: جواز استتباعه غيرَه إلى دار مَن يثق به برضاه 3/ 1610 (141).
মাওরূদ (যে হাউজে উম্মত উপস্থিত হবে)(১), উজ্জ্বল মুজিজাসমূহ, আর অসংখ্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত শ্রেষ্ঠত্বসমূহ; যেমন সর্বজনীন শাফাআত (সুপারিশ)(২) এবং কিয়ামত পর্যন্ত পূর্ণ দলীল-প্রমাণসহ(৩) অটল ও অবিচল জামাত (দল), চাঁদের দ্বিধাবিভক্তি(৪), তাঁর আঙ্গুলসমূহের মাঝখান থেকে পানির ঝরনা প্রবাহিত হওয়া—যা মুতাওয়াতির এবং প্রসিদ্ধ(৫), পানীয় ও খাবারে বরকত লাভ(৬), এবং (উদ্ভিদ ও প্রাণীর) কথা বলা...

--------------------------------------------

(১) আর এটিই সেই বিষয় যার মাধ্যমে তাঁর প্রতিপালক তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি} (সূরা আল-কাউসার)। আর তা হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাউজ। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণিত: "তোমরা কি জানো কাউসার কী?" আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তা এমন একটি নহর যা আমার প্রতিপালক মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এতে প্রচুর কল্যাণ রয়েছে। তা এমন এক হাউজ যেখানে কিয়ামতের দিন আমার উম্মত পানি পানের জন্য উপস্থিত হবে।" মুসলিম এটি সালাত অধ্যায়ে সংকলন করেছেন, পরিচ্ছেদ: যারা বিসমিল্লাহকে প্রতিটি সূরার একটি আয়াত বলেছেন তাদের দলীল, ১/৩০০ (৫৩)।

(২) যেমনটি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে", তার মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন: "এবং আমাকে শাফাআত (সুপারিশ করার অধিকার) দান করা হয়েছে।" বুখারী এটি সালাত অধ্যায়ে সংকলন করেছেন, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "পুরো জমিনকে আমার জন্য মাসজিদ ও পবিত্র করা হয়েছে" (৪৩৮)।

(৩) মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমার উম্মতের মধ্য থেকে একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদের অপদস্থ করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং যারা তাদের বিরোধিতা করে তারাও নয়, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) উপস্থিত হয় এবং তারা ঐ অবস্থার ওপরই থাকবে।" বুখারী এটি মানাকিব (মর্যাদা) অধ্যায়ে সংকলন করেছেন, পরিচ্ছেদ: মুশরিকদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে নিদর্শনের আবেদন (৩৬৪৬); এবং মুসলিম ইমারাহ (নেতৃত্ব) অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "একটি দল সর্বদা..." ৩/১৫২৪ (১৭৪)।

(৪) মহান আল্লাহ বলেন: {কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে} (সূরা আল-কামার: ১)। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মক্কার লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কোনো একটি নিদর্শনের আবেদন করেছিল। তখন তিনি তাদের চাঁদ দ্বিধাবিভক্ত হওয়ার ঘটনাটি দেখালেন।" বুখারী মানাকিব অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: মুশরিকদের নিদর্শনের আবেদন (৩৬৩৮); এবং মুসলিম মুনাফিকদের গুণাবলি অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়া, ৪/২১৫৯ (৪৬)।

(৫) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখলাম এবং আসরের সালাতের সময় নিকটবর্তী হলো... হাদীসের শেষ পর্যন্ত, এতে রয়েছে: "অতঃপর আমি দেখলাম তাঁর আঙ্গুলসমূহের নিচ থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছে..."। বুখারী এটি ওজু অধ্যায়ে সংকলন করেছেন, পরিচ্ছেদ: ওজুর পানি তালাশ করা (১৬৯)।

(৬) জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস: খন্দকের যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আটার খামিরের ওপর থুতু মুবারক নিক্ষেপ করেছিলেন, যার ফলে পুরো বাহিনী তা থেকে আহার করেছিল। মুসলিম পানীয় অধ্যায়ে এটি সংকলন করেছেন, পরিচ্ছেদ: অন্যের বাড়িতে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়ার অনুমতি, ৩/১৬১০ (১৪১)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الذِّراعِ المسمومِ له من بعضِ اللِّئام(1)، وإحياءِ الموتى(2)، وإسماعِ الصمِّ(3)، والاطِّلاع على الغيب فيما يخصُّ ويَعُمُّ(4)، وإعلامِه بمصارعِ صناديدِ قريش، ببدرٍ(5) الذي كان فيه الهَنَا للمسلمين وطِيبُ العيش، وردِّه عينَ قتادةَ وقد سقطتْ(6)، ورؤيته المشارقَ والمغاربَ لمَّا زُويت الأرضُ التي هبَطت(7)، وإخباره بأنَّ مُلكَ أمَّتِه سيبلغ ما زُويَ منها، فكان كما أخبرَ ول عنها، الرَّحمةُ الشَّاملة، والنِّعمةُ الكاملة، خاتمُ الأنبياء والمرسلين، والسَّابقُ في خلقِ الأصفياءِ أجمعين. المصطفى بالمحبَّةِ والخُلَّةِ، والقُربِ والدُّنوِّ الذي رقَّاه به المولى وفضَّله، والمعراج، وصلاته بالأنبياءِ التَّامِّ به لهم

--------------------------------------------

(1) حديث جابر رضي الله عنه: "أنَّ يهوديةً من أهل خيبر سَمَّت شاة مصلية .. " الحديثَ، وفيه قال صلى الله عليه وسلم: "أخبرتني هذه في يدي، للذِّراع … " أخرجه أبو داود في كتاب الديات، باب: فيمن سقى رجلًا سمًّا (4508)، وأصله مخرَّج في صحيح البخاري في كتاب المغازي، باب الشَّاة التي لسُمّت للنبي صلى الله عليه وسلم بخيبر (4249) من حديث أبي هريرة به نحوه.

(2) كإحياء اللّه تعالى له صلى الله عليه وسلم قتلى بدر من المشركين في القَليب، كما في حديث أنس رضي الله عنه في، وفي آخره: "أحياهم اللّه حتى أسمعهم قوله توبيخًا … ".

أخرجه البخاري في كتاب المغازي، باب قتل أبي جهل (3976).

(3) لم أقف على حديث في ذلك!

(4) سيأتي حديث في ذلك ضمن روايات الإسراء والمعراج.

(5) من حديث أنس رضي الله عنه وفيه: "أنَّ عمر قال: إن رسول اللّه صلى الله عليه وسلم كان يُرينا مصارعَ أهلِ بدرٍ بالأمس .. " الحديث. أخرجه مسلم في كتاب الجنة، باب: عرض مقعد الميت من الجنة أو النار عليه 4/ 2203 (76).

(6) حسن. أخرجه أبو يعلى 3/ 120، وأبو عوانة 4/ 352، والطبراني في "الكبير" 19/ 8 من حديث قتادة بن النعمان رضي الله عنه.

(7) عن ثوبان قال قال رسول اللّه صلى الله عليه وسلم: "إنَّ اللّه زوى لي الأرض … " الحديثَ. أخرجه مسلم في كتاب الفتن، باب: هلاك هذه الأمة بعضهم ببعض 4/ 2215 (19).
বিষাক্ত বাহু (কাঁধের মাংস) যা জনৈক নীচ লোকের পক্ষ থেকে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল(১), মৃতদের জীবিত করা(২), বধিরদের শ্রবণ করানো(৩), বিশেষ এবং সাধারণ গায়ব বা অদৃশ্যের সংবাদ সম্পর্কে অবগত হওয়া(৪), বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের প্রধানদের ধরাশায়ী হওয়ার স্থান সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা(৫), যা মুসলিমদের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও স্বস্তিদায়ক, কাতাদাহর চক্ষু উপড়ে যাওয়ার পর তা যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া(৬), এবং যখন তাঁর জন্য জমিনকে সংকুচিত করা হয়েছিল তখন তাঁর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ দর্শন করা(৭), আর তাঁর এই সংবাদ প্রদান করা যে, তাঁর উম্মতের রাজত্ব জমিনের ওই প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাবে যা তাঁর জন্য সংকুচিত করা হয়েছিল; অতঃপর বিষয়টি তেমনই ঘটেছিল যেমনটি তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন। তিনি হলেন ব্যাপক রহমত ও পূর্ণাঙ্গ নিয়ামত, নবী ও রাসূলগণের মোহর (সর্বশেষ নবী), এবং সকল মনোনীত সৃষ্টির মধ্যে আদি বা অগ্রগণ্য। তিনি ভালোবাসা ও গভীর বন্ধুত্ব (খুল্লাত), এবং ওই নৈকট্য ও সান্নিধ্যের মাধ্যমে মনোনীত যাকে মাওলা (প্রভু) দান করেছেন এবং তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, আর মি'রাজ এবং নবীগণের সাথে তাঁর সালাত আদায় যা তাঁর মাধ্যমে তাঁদের জন্য পূর্ণতা লাভ করেছে।

--------------------------------------------

(১) জাবির (রা.)-এর হাদিস: "খায়বারবাসীদের মধ্য থেকে এক ইহুদি নারী একটি ভাজা ছাগলের মাংসে বিষ মিশিয়েছিল..." হাদিসটি। এতে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন: "আমার হাতের এই বাহুটি আমাকে সংবাদ দিয়েছে..." এটি আবু দাউদ 'দিয়াত' (রক্তপণ) কিতাবে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তিকে বিষ পান করানো হয়েছে (৪৫০৮)। এর মূল বর্ণনা সহীহ বুখারিতে 'মাগাযী' কিতাবে রয়েছে, পরিচ্ছেদ: খায়বারে নবী (সা.)-এর জন্য বিষ মেশানো ছাগল (৪২৪৯), যা আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে অনুরূপভাবে বর্ণিত।

(২) যেমন আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর (সা.) জন্য বদরের কূয়ায় নিক্ষিপ্ত মুশরিকদের জীবিত করা, যেমনটি আনাস (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে এবং এর শেষে রয়েছে: "আল্লাহ তাদের জীবিত করেছিলেন যাতে তারা তিরস্কার স্বরূপ তাঁর কথা শুনতে পায়..." এটি বুখারি 'মাগাযী' কিতাবে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: আবু জেহেলের হত্যা (৩৯৭৬)।

(৩) আমি এ বিষয়ে কোনো হাদিস খুঁজে পাইনি!

(٤) এ সম্পর্কে ইসরা ও মি'রাজের বর্ণনাসমূহের মধ্যে হাদিস আসবে।

(৫) আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে, যাতে বর্ণিত আছে: "উমর (রা.) বলেছিলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) গতকালই আমাদের বদরবাসীদের ধরাশায়ী হওয়ার স্থানসমূহ দেখাচ্ছিলেন..." হাদিসটি। মুসলিম এটি 'জান্নাত' কিতাবে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির সামনে জান্নাত বা জাহান্নামের স্থান পেশ করা ৪/২২০৩ (৭৬)।

(৬) হাসান। আবু ইয়া'লা ৩/১২০, আবু আওয়ানাহ ৪/৩৫২ এবং তাবারানি 'আল-কাবীর' ১৯/৮-এ কাতাদাহ বিন নু'মান (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৭) সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ আমার জন্য জমিনকে সংকুচিত করেছিলেন..." হাদিসটি। মুসলিম এটি 'ফিতনা' কিতাবে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: এই উম্মতের একে অপরের দ্বারা ধ্বংস হওয়া ৪/২২১৫ (১৯)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الابتهاج، والبشارةُ والنِّذارة، والهداية ومزيد الوقاية، ومغفرةُ ما تقدَّم له وتأخَّر، والقسَمُ باسمهِ الأزهر، وإجابةُ دعوته(1)، ولواءُ الحمد، وصلاةُ اللّه وملائكته المرتقى بهما لنهاية السَّعد(2). صلى اللّه عليه وعلى آله أجمعين صلاةً وسلامًا إلى يوم الدِّين.

مناقبُه ومحاسنُه ملأتِ الوجودَ شُهرة، فلو اجتمعَ الخلقُ على إحصائها كان وصفُهم مِن بحرِها قطرة.

فهو محمَّدٌ وأحمدُ(3) بنُ عبدِ اللّه بنِ عبد المُطَّلبِ(4) بنِ هاشمِ(5) بنِ عبد مَنافٍ(6) بنِ قُصيِّ(7) بنِ كِلابِ بنِ مُرَّةَ بنِ كعَبِ بنِ لُؤيِّ بنِ غالبِ بنِ فِهرِ(8) بنِ مالكِ بنِ النَّضرِ بنِ

--------------------------------------------

(1) ما أكثر ما ورد في السُّنة من إجابة اللّه لأدعية نبيِّه صلى الله عليه وسلم، وذلك من إكرام اللّه له، ومن ذلك دعاؤه صلى الله عليه وسلم لابن عبَّاس رضي الله عنه أن يفقِّهه اللّه في الدِّين. أخرجه البخاري في كتاب الوضوء، باب: وضع الماء عند الخلاء (143).

(2) كما قال الله تبارك وتعالى {لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ … } سورة الفتح: 2.

(3) ورد اسم (أحمد) في كتاب اللّه وفي سنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ ففي القرآن في قوله تبارك وتعالى في بشارة عيسى عليه السلام به صلى الله عليه وسلم {وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} سورة الصف 6

وفي حديث جبير بن مُطعم صلى الله عليه وسلم أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أنا محمد وأنا أحمد" … الحديثَ. أخرجه مسلم في كتاب الفضائل، باب في أسمائه صلى الله عليه وسلم -4/ 1828 (124).

(4) واسم عبد المطلب: شيبة. "سيرة ابن إسحاق" ص: 1، "وسيرة ابن هشام" 1/ 3، و "الطبقات الكبرى" 1/ 55 زاد ابن سعد: شيبة الحمد.

(5) واسم هاشم: عمرو. "سيرة ابن إسحاق" ص: 1، "وسيرة ابن هشام" 1/ 3.

(6) واسم عبد مَناف: المغيرة. المصدران السابقان ص: 1، 1/ 3.

(7) واسم قُصي: زيد. "الطبقات الكبرى" (1/ 55).

(8) قال ابنُ سعدٍ: وإلى فِهرٍ جماعُ قريش، وما كان فوقَ فِهرٍ فليس يقال له: قرشي، يقال له: كناني. "الطبقات الكبرى" 1/ 55.
আনন্দ ও উল্লাস, সুসংবাদ ও সতর্কবাণী, পথপ্রদর্শন ও অধিকতর সুরক্ষা, তাঁর পূর্বের ও পরের ক্ষমা, তাঁর উজ্জ্বলতম নামের শপথ, তাঁর দুআ কবুল হওয়া, প্রশংসার ঝান্ডা এবং আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাদের সালাত—যার মাধ্যমে পরম সৌভাগ্যের চরম শিখরে আরোহণ করা যায়। আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের উপর কিয়ামত পর্যন্ত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

তাঁর গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। যদি সমস্ত সৃষ্টিজগৎ তা গণনা করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তাদের বর্ণনা তাঁর গুণের সমুদ্রের একটি বিন্দুর সমান হবে।

তিনি হলেন মুহাম্মাদ ও আহমাদ(৩) বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব(৪) বিন হাশিম(৫) বিন আবদে মানাফ(৬) বিন কুসাই(৭) বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর(৮) বিন মালিক বিন নাযর বিন

--------------------------------------------

(১) সুন্নাহর মধ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুআ কবুল হওয়ার অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে এবং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে একটি হলো ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য তাঁর দুআ যেন আল্লাহ তাঁকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন। এটি ইমাম বুখারি ওযু অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: শৌচাগারের নিকট পানি রাখা (১৪৩)-এ বর্ণনা করেছেন।

(২) যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {যাতে আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন...} সূরা আল-ফাতহ: ২।

(৩) ‘আহমাদ’ নামটি আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহয় বর্ণিত হয়েছে। কুরআনের মধ্যে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণীতে ঈসা (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুসংবাদ প্রদানের বর্ণনায় এসেছে: {এবং আমি এমন এক রাসুলের সুসংবাদ দানকারী যে আমার পরে আসবে, যার নাম হবে আহমাদ} সূরা আস-সাফ: ৬।

এবং জুবায়ের বিন মুতঈম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি মুহাম্মাদ এবং আমিই আহমাদ..." (হাদিস)। এটি ইমাম মুসলিম ফাযায়েল অধ্যায়ে, তাঁর নামসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন - ৪/১৮২৮ (১২৪)।

(৪) আব্দুল মুত্তালিবের নাম হলো শাইবাহ। "সীরাতে ইবনে ইসহাক" পৃষ্ঠা: ১, "সীরাতে ইবনে হিশাম" ১/৩ এবং "আত-তাবাকাতুল কুবরা" ১/৫৫। ইবনে সাদ অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: শাইবাতুল হামদ।

(৫) হাশিমের নাম হলো আমর। "সীরাতে ইবনে ইসহাক" পৃষ্ঠা: ১, "সীরাতে ইবনে হিশাম" ১/৩।

(৬) আবদে মানাফের নাম হলো আল-মুগীরাহ। পূর্ববর্তী উৎসদ্বয় পৃষ্ঠা: ১, ১/৩।

(৭) কুসাইয়ের নাম হলো যায়েদ। "আত-তাবাকাতুল কুবরা" (১/৫৫)।

(৮) ইবনে সাদ বলেছেন: ফিহর-এর মাধ্যমেই কুরাইশ গোত্র একত্রিত হয়েছে। ফিহর-এর ঊর্ধ্বের কাউকেই কুরাইশী বলা হয় না, বরং তাদের কানানি বলা হয়। "আত-তাবাকাতুল কুবরা" ১/৫৫।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
كِنانةَ بنِ خُزيمةَ بنِ مُدركةَ(1) بنِ إلياسَ بنِ مُضرَ بنِ نزارِ بنِ مَعدِّ بنِ عدنان. هذا هو النَّسبُ المتَّفقُ عليه(2)، ومن هنا اختلف النَّسَّابون بما لا نُضيفه إليه، أبو القاسم(3)، وأبو إبراهيم(4)، وأبو الأرامل(5)، ابنُ الذَّبيح، ابنِ شيبةِ الحمدِ القرشيُّ الهاشميُّ، المُطَّلبيُّ، المكِّيُّ ثمَّ المدَنيُّ. حملتْ به أمُّه أجملُ نساءِ زمانِها وأكمل، ومَنْ أبوها مِن أشرفِ قريشٍ فيما عليه اشتمل: آمنةُ ابنةُ وهبِ بنِ عبدِ منافِ(6) بنِ زُهرَة بنِ كِلابٍ، المُجتمِعِ فيه نسب أبويه(7)، والمرتفعِ كلٌّ منهم بالإضافةِ إليه، بشِعْب أبي طالب من مكَّة، وبقي في بطنِها تسعةَ أشهر، ماتَ أبوه في أثنائِها بالمدينةِ عند أخوالِ أبيه بني عديِّ ابن النَّجَّارِ عن خمسٍ وعشرين، أو ثلاثين سنة(8)، وضعَتْه وهو البِكرُ لكلٍّ منهما في يوم الاثنين عند

--------------------------------------------

(1) واسم مُدرِكة: عامرٌ أو عمرو. "سيرة ابن إسحاق" ص: 1، "وسيرة ابن هشام" 1/ 4.

(2) وقال ابن فارس: إلى هنا إجماع الأمة. "أوجز السير" ص: 146.

(3) ورد التَّصريح بكنية أبي القاسم في حديث جابر بن عبد اللّه قال قال رسول اللّه صلى الله عليه وسلم: "لا تُسمُّوا باسمي، ولا تكنوا بكُنيتي، فإني أنا أبو القاسم أقسمُ بينكم". أخرجه مسلم في كتاب الآداب، باب النهي عن التكني بأبي القاسم 3/ 1683 (5).

(4) إبراهيم ابن رسول اللّه صلى الله عليه وسلم من مارية. روي عن أنس رضي الله عنه أنَّ جبريل أتى النبيَّ صلى الله عليه وسلم فقال: "السَّلامُ عليكَ أبا إبراهيمَ". أخرجه البيهقي في "الدلائل" 1/ 163، وفي سنده ابن لهيعة، وهو ضعيف.

(5) ذكره ابن دحية، وقال: ذكره صاحب "الذخائر والأعلاق". "سبل الهدى" 1/ 665.

(6) عبدُ مَناف اسمه: المغيرة بن قصي. "سيرة ابن إسحاق" ص: 1، و "طبقات ابن سعد" 1/ 55.

(7) أي: كِلاب بن مُرَّة، ففي كِلابٍ يجتمع معه صلى الله عليه وسلم بنو زُهرة، وأمُّه آمنةُ بنتُ وهبٍ منهم. "طبقات ابن سعد" 1/ 59، و "أوجز السير" ص: 146، "وجوامع السيرة" ص: 3.

(8) موت أبيه صلى الله عليه وسلم وهو حملٌ أخرجه الحاكم 2/ 605 وقال: هذا حديث صحيح على شرط مسلم، ولم يخرجاه، ووافقه الذَّهبيُّ، لكن الإسناد فيه ضعفٌ؛ ففيه صدقة بن سابق، انفرد ابنُ حِبَّان بتوثيقه في "كتاب الثقات" 8/ 320.
কিনানা ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকা(১) ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'দ ইবনে আদনান। এটিই হচ্ছে সেই বংশপরম্পরা যার ওপর সর্বসম্মত ঐক্য রয়েছে(২), এবং এখান থেকেই বংশবিদদের মাঝে মতভেদ শুরু হয়েছে যা আমরা এখানে উল্লেখ করছি না। আবুল কাসিম(৩), এবং আবু ইব্রাহিম(৪), এবং আবুল আরামিল(৫), যবেহকৃতের পুত্র, শায়বাতুল হামদ এর পুত্র, কুরাইশি, হাশেমি, মুত্তালিবি, মাক্কি এবং পরবর্তীতে মাদানি। তাঁর মাতা তাকে গর্ভে ধারণ করেন, যিনি ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে সুন্দরী ও পূর্ণাঙ্গ নারী এবং যাঁর পিতা কুরাইশদের সবচেয়ে অভিজাতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন: আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ(৬) ইবনে জুহরা ইবনে কিলাব। এই কিলাবের মধ্যেই তাঁর পিতামাতার বংশধারা মিলিত হয়েছে(৭) এবং তাঁর দিকে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে তাঁদের প্রত্যেকের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মক্কার শি'বে আবু তালিবে (তিনি জন্মগ্রহণ করেন) এবং তিনি মায়ের গর্ভে নয় মাস ছিলেন। এ সময়েই তাঁর পিতা মদিনায় তাঁর পিতার মামার গোষ্ঠী বনু আদি ইবনে নাজ্জারের নিকট পঁচিশ বা ত্রিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন(৮)। তিনি উভয়ের প্রথম সন্তান হিসেবে সোমবার দিন জন্মগ্রহণ করেন...

--------------------------------------------

(১) মুদিকার নাম: আমির বা আমর। "সিরাতে ইবনে ইসহাক" পৃষ্ঠা: ১, এবং "সিরাতে ইবনে হিশাম" ১/৪।

(২) ইবনে ফারিস বলেন: এ পর্যন্ত উম্মতের ঐক্য রয়েছে। "আওজাযুস সিয়ার" পৃষ্ঠা: ১৪৬।

(৩) আবুল কাসিম উপনামের স্পষ্ট বর্ণনা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার নামে নাম রেখো না, এবং আমার উপনামে উপনাম (ডাকনাম) গ্রহণ করো না, কারণ আমিই আবুল কাসিম, আমি তোমাদের মাঝে বণ্টন করি।" এটি মুসলিম আদাব অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, আবুল কাসিম উপনাম রাখার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ ৩/১৬৮৩ (৫)।

(৪) মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভজাত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইব্রাহিম। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: "আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আবু ইব্রাহিম।" এটি বায়হাকি "দালাইল" গ্রন্থে ১/১৬৩-তে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে ইবনে লাহিআহ রয়েছেন, যিনি দুর্বল।

(৫) এটি ইবনে দিহইয়াহ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি "আয-যাখায়ের ওয়াল আ'লাক" এর লেখক উল্লেখ করেছেন। "সুবুলুল হুদা" ১/৬৬৫।

(৬) আবদে মানাফের নাম: আল-মুগিরা ইবনে কুসাই। "সিরাতে ইবনে ইসহাক" পৃষ্ঠা: ১ এবং "তাবাকাতে ইবনে সা'দ" ১/৫৫।

(৭) অর্থাৎ: কিলাব ইবনে মুররাহ। কিলাবের বংশধারায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বনু জুহরা মিলিত হয়েছে এবং তাঁর মা আমিনা বিনতে ওয়াহাব তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত। "তাবাকাতে ইবনে সা'দ" ১/৫৯, "আওজাযুস সিয়ার" পৃষ্ঠা: ১৪৬ এবং "জাওয়ামিউস সিরাহ" পৃষ্ঠা: ৩।

(৮) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাতৃগর্ভে থাকাকালীন তাঁর পিতার মৃত্যু সংক্রান্ত বর্ণনাটি হাকিম ২/৬০৫-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুসারে সহিহ হাদিস, যদিও তাঁরা তা বর্ণনা করেননি, এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। তবে এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে; এতে সাদাকা ইবনে সাবিক রয়েছেন, যাকে কেবল ইবনে হিব্বান "কিতাবুত থিকাত" ৮/৩২০-এ নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فجرِه، لاثنتي عشرةَ ليلةً مضتْ من ربيعٍ الأوَّلِ عامَ الفيل(1)، بشرقيِّ جوفِ مكَّةَ في شِعب بني هاشم(2)، بالدَّارِ التي كانت تسكنُ فيها مع أبيه، وهي بسُوقِ اللَّيلِ معروفة(3)، مختونًا مسرورًا(4)، مختومًا بختامِ النُّبوَّة محبورًا. وقيل لها وهي بين النَّائمةِ واليقظانةِ: إنَّكِ حملتِ بسيِّد هذه الأمَّة، بل رأته حينَ وضعتْه سقطَ منها نورٌ أضاءتْ له قصورُ الشَّام الشَّهير لمن أَمَّه، وقالتْ: واللّهِ ما رأيتُ من حَملٍ قطُّ كان أخفَّ ولا أيسرَ منه، إلى غيرِ ذلك ممَّا تشرَّفتْ بنقلِه عنه، وأَنَّهُ وقعَ حينَ ولدتْه وقرَّت عينُها إليه بالانتماء، واضعًا يديه بالأرضِ(5) مُشيرًا بالسَّبابة كالمُسبِّحِ بها إلى السَّماء، وليلةَ ميلادِه انشقَّ إيوانُ كِسرى حتى سمعَ صوتُه، وسقطتْ منه أربعَ عشرةَ شُرفةً.

--------------------------------------------

(1) لحديث أبي قتادة رضي الله عنه قال: سُئلَ رسولُ اللّه صلى الله عليه وسلم عن صومِ يوم الاثنين؟ فقال: "ذاك يوم وُلِدتُ فيه، ويومٌ بُعثتُ، أو: أُنزل عليّ فيه". أخرجه مسلم في كتاب الصيام، باب: استحباب صيام ثلاثة أيام من كل شهر 2/ 820 (198).

(2) "جمهرة نسب قريش" 1/ 368، و "الروض الأنف" 1/ 107، و "عيون الأثر" 1/ 26.

(3) ما زال معروفًا باسمه إلى يومنا. "الزهور المقتطفة" ص: 156، و "إتحاف الورى" 48، 49.

(4) أخرجه ابن سعد 1/ 103، وابن عساكر في "تاريخ دمشق" 3/ 85 عن العباس، ورجاله ثقات سوى يونس بن عطاء، فلم أقف على ترجمته، وفيه عنعنة عكرمة، وهو مدلِّس، كما في "تعريف أهل التقديس" ص: 98، وأخرجه أبو نعيم في "دلائل النبوة" ص: 46 عن أنس بن مالك، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مِن كرامتي على ربي أني وُلدتُ مختونًا، ولم يرَ أحدٌ سوأتي"، والحاكم 2/ 657، وصحَّحه. والخِتانُ: قطعُ موضعٍ معيَّن من ذكَر الغلام وفرج الجارية، ومسرورًا، أي: مقطوع السُّرةَّ. "النهاية": ختن وسرر 2/ 10، 359.

(5) الحديث بذكر خِفَّة حمله صلى الله عليه وسلم على أمه، وخروج النور من أمه، ووقوعه على يديه (حسنٌ لغيره) أخرجه أحمد 4/ 127، وابنُ حِبَّان، "الإحسان" 14/ 313 (6404) بسند جيد من حديث العرباض بن سارية.
তাঁর সুবহে সাদিকে, হস্তীবর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর(১), মক্কার অভ্যন্তরে পূর্ব দিকের বনী হাশিম পল্লীতে(২), সেই ঘরে যেখানে তিনি তাঁর পিতার সাথে বসবাস করতেন এবং যা সুকুল লাইল (রাতের বাজার) নামে পরিচিত(৩); তিনি খতনা করা ও নাভি কাটা অবস্থায়(৪), নবুওয়াতের মোহর দ্বারা মোহরাঙ্কিত এবং আনন্দিত চিত্তে ভূমিষ্ঠ হন। তাঁর মাতাকে তন্দ্রা ও জাগ্রত অবস্থার মাঝামাঝি সময়ে বলা হয়েছিল: "নিশ্চয়ই আপনি এই উম্মতের সরদারের গর্ভধারিণী হয়েছেন।" বরং তিনি যখন তাঁকে প্রসব করলেন, তখন দেখলেন যে তাঁর থেকে এমন এক নূর (জ্যোতি) নির্গত হলো যার মাধ্যমে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ যারা সেদিকে লক্ষ্য করেছিল তাদের জন্য আলোকিত হয়ে গেল। তিনি (মা আমিনা) বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, আমি কখনও এমন কোনো গর্ভ দেখিনি যা এর চেয়ে হালকা বা সহজ ছিল।" এছাড়া তাঁর সম্পর্কে আরও অনেক বর্ণনা করার গৌরব অর্জন করা হয়েছে। যখন তিনি ভূমিষ্ঠ হলেন এবং তাঁর আগমনে তাঁর মায়ের চোখ জুড়িয়ে গেল, তখন তিনি ভূমিতে তাঁর দুই হাত রাখা অবস্থায়(৫) এবং তসবিহ পাঠকারীর ন্যায় তর্জনী আঙুল দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করা অবস্থায় ছিলেন। তাঁর জন্মের রাতে কিসরার রাজপ্রাসাদ ফেটে গিয়েছিল এমনকি তার শব্দও শোনা গিয়েছিল এবং সেখান থেকে চৌদ্দটি গম্বুজ ধসে পড়েছিল।

--------------------------------------------

(১) আবু কাতাদাহ (রা.)-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "সেটি এমন এক দিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমি (নবী হিসেবে) প্রেরিত হয়েছি অথবা যেদিন আমার ওপর ওহী অবতীর্ণ হয়েছে।" মুসলিম এটি সিয়াম অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব ২/৮২০ (১৯৮)।

(২) "জামহারাতু নাসাবি কুরাইশ" ১/৩৬৮, এবং "আর-রওদুল উনুফ" ১/১০৭, এবং "উয়ুনুল আসার" ১/২৬।

(৩) এটি আজ অবধি এই নামেই পরিচিত। "আয-যুহুরুল মুকতাতিফাহ" পৃষ্ঠা: ১৫৬, এবং "ইতহাফুল ওয়ারা" ৪৮, ৪৯।

(৪) ইবনে সাদ ১/১০৩ এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আসাকির আব্বাস থেকে "তারিখে দিমাশক" ৩/৮৫-এ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীরা ইউনুস বিন আতা ব্যতীত বিশ্বস্ত, তবে আমি তার জীবনী খুঁজে পাইনি। এতে ইকরিমার 'আনআনা' (সরাসরি না শুনে বর্ণনা করা) রয়েছে এবং তিনি একজন 'মুদাল্লিস', যেমনটি "তারিফু আহলিত তাকদিস" পৃষ্ঠা ৯৮-এ বর্ণিত। আবু নুআইম "দালাইলুন নুবুওয়াহ" পৃষ্ঠা ৪৬-এ আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী (সা.) বলেছেন: "আমার রবের পক্ষ থেকে আমার প্রতি অন্যতম সম্মান হলো যে আমি খতনা করা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং কেউ আমার লজ্জাস্থান দেখেনি।" আল-হাকিম ২/৬৫৭-এ এটি বর্ণনা করে সহিহ বলেছেন। খিতান (খতনা): বালকের লিঙ্গ ও বালিকার বিশেষ অঙ্গের নির্দিষ্ট অংশ কেটে ফেলা। মাসরুরান: অর্থাৎ যার নাভি কাটা হয়েছে। "আন-নিহায়াহ": খাতানা ও সারারা ২/১০, ৩৫৯।

(৫) নবী (সা.)-এর গর্ভধারণ হালকা হওয়া, তাঁর মা থেকে নূর নির্গত হওয়া এবং তাঁর দুই হাতের ওপর পড়ার হাদিসটি 'হাসান লিগাইরিহি'। আহমাদ ৪/১২৭ এবং ইবনে হিব্বান "আল-ইহসান" ১৪/৩১৩ (৬৪০৪) এ ইরবাদ বিন সারিয়া থেকে উত্তম সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وخمَدتْ نارُ فارسَ ولم تخمدْ قبلُ بألفِ عام، وغاضتْ بُحيرةُ سَاوةَ(1).

وأرضعتْهُ ثُويبةُ(2) -التي أعتقها عمُّه أبو لهب حين بشَّرته به- قليلًا، وكانت تقولُ: ما رأيتُه يبكي جوعًا ولا عطشًا قطُّ، بل كان يغدو إذا أصبح، فيشربُ من ماءِ زمزم لثَربةً، وربَّما عرضنا عليه الغذاء، فيقول: أنا شبعان.

ثمَّ حَليمةُ ابنةُ أبي ذُؤيبٍ السَّعدية، وحملته معها لبني سعدِ بنِ بكرٍ رهطِها، ورأتْ من يُمنِه وبركتِه، وإنصافِه وصِلَتِه، ذهابًا وإيابًا وإقامة، منامًا ويقظة، ما انتشر، ثمَّ رجعت به إلى أمِّه بعد شقِّ جبريلَ عليه السلام صدرَه الشّريف، ومَلْئه حكمة وإيمانًا وهوابنُ خمسٍ فأزيدُ تخوُّفًا عليه(3)، فدام معها في كفالة جدِّه(4) ولم يلبث أن ماتت في رجوعها وهو معها من المدينة إذ خرجت به وهو ابنُ ستِّ سنين(5)، وكانت معهما أمُّ

--------------------------------------------

(1) أخرجه الخرائطي في "هواتف الجان". كما في "البداية والنهاية" (2/ 268، 271)، والبيهقي في "دلائل النبوة" (1/ 126).

قال الذهبيُّ: هذا حديث منكر غريبٌ. "السيرة" ص: 11، 14. وقال الحافظ ابن كثير: أمَّا هذا الحديث فلا أصل له في شيء من كتب الإسلام المعهودة، ولم أره بإسناد أصلًا.

(2) إرضاع ثويبة لرسول اللّه صلى الله عليه وسلم ثابت بلفظ: "أرضعتني وأبا سلمة ثُويبةُ" أخرجه البخاري في كتاب النكاح، باب: {وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ} (1501)، ومسلم في كتاب الرضاع، باب: تحريم الربيبة وأخت المرأة 2/ 1072 (15) من حديث أمِّ حبيبة بنت أبي سفيان.

(3) تقدَّم تخريجه قريبًا، وهو تكملة حديث "خف حمله … " الخ.

(4) ضعيف. أخرجه ابن سعد 1/ 117، 118 من طريق الواقدي، وهو متروك، وأخرجه الأزرقي في "أخبار مكة" 1/ 314 من طريق عطاء بن أبي رباح، عن ابن عباس، عن أبيه به نحوه.

(5) (حسن لغيره). أخرجه عبد الرزاق 5/ 318 عن الزُّهري مرسلًا، وكذا ابن هشام في "السيرة" 1/ 155 عن ابن إسحاق، وقد صرَّح بالتحديث، ورجاله ثقاتٌ إلا أنه مرسلٌ.
পারস্যের অগ্নি প্রজ্বলিত কুণ্ড নির্বাপিত হয়ে গেল, যা এর পূর্বে এক হাজার বছর পর্যন্ত কখনো নেভেনি এবং সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে গেল(১)।

আর তাঁকে সুওয়াইবা অল্প কিছুকাল দুধ পান করান—যাকে তাঁর চাচা আবু লাহাব মুক্তি দিয়েছিল যখন সে তাকে তাঁর জন্মের সুসংবাদ প্রদান করেছিল। তিনি (সুওয়াইবা) বলতেন: আমি তাঁকে কখনো ক্ষুধা বা পিপাসায় কাঁদতে দেখিনি; বরং তিনি সকালে উঠতেন এবং যমযমের পানি হতে এক চুমুক পান করতেন। অনেক সময় আমরা তাঁর সামনে খাবার পেশ করতাম, তখন তিনি বলতেন: আমি তৃপ্ত।

অতঃপর আবু জুয়াইয়িব আস-সা'দিয়ার কন্যা হালিমা তাঁকে তাঁর গোত্র বনু সা’দ বিন বকরের কাছে নিয়ে যান। তিনি তাঁর সৌভাগ্য, বরকত, ইনসাফ ও সদাচারের এমন সব নিদর্শন তাঁর আসা-যাওয়া, অবস্থান এবং নিদ্রা ও জাগরণে প্রত্যক্ষ করেছিলেন যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। অতঃপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম কর্তৃক তাঁর বক্ষ মোবারক বিদীর্ণ করা এবং তা হিকমত ও ঈমান দ্বারা পূর্ণ করার পর তিনি (হালিমা) তাঁর নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কিত হয়ে তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন; তখন তাঁর বয়স ছিল পাঁচ বছর বা তার কিছু বেশি(৩)। অতঃপর তিনি তাঁর দাদার তত্ত্বাবধানে মায়ের সাথেই ছিলেন(৪)। কিন্তু অল্পকাল পরেই তাঁর মা মদীনা থেকে ফেরার পথে মৃত্যুবরণ করেন যখন তিনি তাঁর সাথেই ছিলেন। তখন তিনি তাঁর সাথে বের হয়েছিলেন এবং তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর(৫)। তাঁদের সাথে ছিলেন উম্মু...

--------------------------------------------

(১) এটি আল-খরাইতি 'হাওয়াতিফুল জান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (২/২৬৮, ২৭১) এবং আল-বায়হাকি 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' (১/১২৬)-তে বর্ণিত হয়েছে। আয-যাহাবি বলেছেন: এটি একটি মুনকার ও গারিব (অস্বাভাবিক ও অপরিচিত) হাদিস। 'আস-সিরাহ' পৃষ্ঠা: ১১, ১৪। হাফিজ ইবনে কাসির বলেছেন: এই হাদিসটির প্রচলিত কোনো ইসলামি কিতাবে কোনো ভিত্তি নেই এবং আমি এর কোনো সনদই দেখিনি।

(২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুওয়াইবা কর্তৃক দুধ পান করানোর বিষয়টি এই শব্দে প্রমাণিত: "সুওয়াইবা আমাকে এবং আবু সালামাহকে দুধ পান করিয়েছেন।" এটি বুখারি 'নিকাহ' অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: {তোমাদের সেই মায়েরা যারা তোমাদের দুধ পান করিয়েছে} (১৫০১) এবং মুসলিম 'রযা’' (দুগ্ধপান) অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: স্ত্রীর পূর্বের স্বামীজাত কন্যা এবং স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করা হারাম হওয়ার বিবরণ, ২/১০৭২ (১৫) উম্মু হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ানের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) এর তাখরিজ অচিরেই পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, যা "তাঁর বহন হালকা হলো..." হাদিসটির অবশিষ্টাংশ।

(৪) যয়ীফ। ইবনে সাদ ১/১১৭, ১১৮-তে ওয়াকিদির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, আর তিনি পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী। আল-আযরকি 'আখবারু মক্কা' ১/৩১৪-তে আতা বিন আবি রাবাহ-এর সূত্রে, ইবনে আব্বাস থেকে, তাঁর পিতার মাধ্যমে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

(৫) (হাসান লি-গাইরিহি)। আব্দুর রাজ্জাক ৫/৩১৮-তে যুহরি থেকে মুরসাল হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনে হিশাম 'আস-সিরাহ' ১/১৫৫-তে ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এটি মুরসাল।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أيمنَ برَكَةُ الحبشيةُ(1) مولاته صلى الله عليه وسلم(2)، التي ورِثها من أبيه، وهي دايته(3) وحاضنته معها ثمَّ بعد موتها(4) فحملته لجدِّه فكفَلَه حتى ماتَ ودُفن بالحجُون(5)، والنَّبيُّ صلى الله عليه وسلم ابنُ ثمان سنين(6)، وفي غُضونِ كَفالته له أبطأ عليه مرَّةً فجزعَ عليه، وارتجز وهو طائفٌ بالبيتِ المعظَّم بقوله:

يا ربِّ رُدَّ راكبي محمَّدا … رُدَّهُ ربِّ واصطنعْ عندي يدا(7)

فلم يلبثْ أن جاء فاعتنقه، وقال: يا بنيَّ لقد جزعتُ عليك جزعًا لم أجزعه على شيء قطُّ، واللّه لا بعثتُكَ في حاجةٍ أبدًا(8).

فكفَله بعد موتِ جدِّه بوصيةٍ منه ابنه أبو طالبٍ، وهو شقيقُ عبد اللّه، فكان أيضًا يحبُّه حبًّا شديدًا لا يحبُّ مثلَه أحدًا مِن ولدهِ، بحيث لا ينام إلا إلى جانبه، وكانَ يجلسُ على وسادتِه المختصَّة به، ويتَّكئُ بل ويستلقي عليها، ويقال له، فيُسَرُّ ويقولُ:

--------------------------------------------

(1) "الاستيعاب" 4/ 250، و "أسد الغابة" 7/ 303، و "زاد المعاد" 1/ 83.

(2) "معرفة الصحابة" لأبي نعيم 6/ 3469، و "الإصابة" 4/ 432.

(3) "زاد المعاد" 1/ 83.

(4) حضانة أمِّ أيمن رضي الله عنها (حسنة مشهورة)، أخرجها ابن سعد 1/ 116، وتناقلها العلماء كالدمياطي في "السيرة" ص: 37، وابن حجر في "الإصابة" 4/ 432.

(5) حديث (حسن). أخرجه الأزرقي في "أخبار مكة "1/ 315.

(6) (صحيح لغيره). أخرجه البيهقي في "دلائل النبوة" 2/ 22 بسند ضعيف، والأزرقي في "أخبار مكة" 1/ 315 بسند حسن.

(7) البيت في "دلائل النبوة" للبيهقي 2/ 20، 21 مع اختلافٍ يسير.

(8) (صحيح لغيره). أخرجه الطبراني في "المعجم الكبير" 6/ 78، والحاكم 2/ 604، وقال: صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه، ووافقه الذَّهبيُّ.
আইমান বারাকাহ আল-হাবাশিয়াহ(১) হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের(২) মুক্তদাসী, যাকে তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন তাঁর ধাত্রী(৩) এবং তাঁর মাতার সাথে তাঁর লালন-পালনকারিণী। অতঃপর তাঁর মাতার মৃত্যুর পর(৪) তিনি তাঁকে তাঁর দাদার নিকট নিয়ে আসেন এবং তিনি (দাদা) তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবশেষে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং আল-হাজুনে সমাহিত হন(৫)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল আট বছর(৬)। তাঁর অভিভাবকত্বে থাকাকালীন একবার নবীজির ফিরতে দেরি হলে তিনি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েন এবং মহিমান্বিত ঘর (কাবা) তওয়াফ করা অবস্থায় এই কবিতাটি আবৃত্তি করেন:

হে প্রতিপালক, আমার আরোহী মুহাম্মদকে ফিরিয়ে দিন... হে প্রতিপালক, তাঁকে ফিরিয়ে দিন এবং আমার জন্য আল্লাহর হাত নিশ্চিত করুন(৭)

অল্পক্ষণ পরেই তিনি এসে পড়লেন এবং তিনি (দাদা) তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: হে বৎস, আমি তোমার জন্য এমন বিচলিত হয়েছিলাম যা ইতিপূর্বে আর কোনো কিছুর জন্যই হইনি। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে আর কখনো কোনো প্রয়োজনে কোথাও পাঠাব না(৮)।

দাদার মৃত্যুর পর তাঁর ওসিয়ত মোতাবেক তাঁর পুত্র আবু তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আবদুল্লাহর সহোদর ভাই। তিনিও তাঁকে অত্যন্ত গভীর ভালোবাসতেন, তাঁর নিজের কোনো সন্তানকেও তিনি ততটা ভালোবাসতেন না। এমনকি তিনি তাঁর পাশে ছাড়া ঘুমাতেন না এবং তিনি (মুহাম্মদ) তাঁর জন্য নির্ধারিত বিশেষ গদিতে বসতেন, তাতে হেলান দিতেন এবং শুয়েও থাকতেন। তাঁকে এ বিষয়ে কিছু বলা হলে তিনি আনন্দিত হতেন এবং বলতেন:

--------------------------------------------

(১) "আল-ইস্তিআব" ৪/ ২৫০, এবং "আসাদুল গাবাহ" ৭/ ৩০৩, এবং "জাদুল মাআদ" ১/ ৮৩।

(২) আবু নুআইমের "মা’রিফাতুস সাহাবাহ" ৬/ ৩৪৬৯, এবং "আল-ইসাবাহ" ৪/ ৪৩২।

(৩) "জাদুল মাআদ" ১/ ৮৩।

(৪) উম্মে আইমান রাদিয়াল্লাহু আনহার লালন-পালন (একটি সুপরিচিত উত্তম বর্ণনা), ইবনে সাদ এটি বর্ণনা করেছেন ১/ ১১৬, এবং দিময়াতি তাঁর "সীরাত" পৃষ্ঠা: ৩৭ এবং ইবনে হাজার "আল-ইসাবাহ" ৪/ ৪৩২ গ্রন্থে অন্যান্য আলেমগণের মতো এটি উল্লেখ করেছেন।

(৫) হাদিস (হাসান)। আল-আজরাকি "আখবারু মক্কাহ" ১/ ৩১৫ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৬) (সহিহ লি-গাইরিহি)। আল-বাইহাকি "দালাইলুন নুবুওয়াহ" ২/ ২২ গ্রন্থে দুর্বল সনদে এবং আল-আজরাকি "আখবারু মক্কাহ" ১/ ৩১৫ গ্রন্থে হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৭) পঙ্ক্তিটি বাইহাকির "দালাইলুন নুবুওয়াহ" ২/ ২০, ২১-এ সামান্য পার্থক্যের সাথে বর্ণিত হয়েছে।

(৮) (সহিহ লি-গাইরিহি)। তাবারানি "আল-মুজামুল কাবীর" ৬/ ৭৮ এবং হাকেম ২/ ৬০৪ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ যদিও তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি, এবং আয-যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
إنَّ ابن أخي هذا ليُحسُّ من نفسِه بنعيم، ويخصُّه دونَ بنيه بالطَّعام، سِيَّما وكان إذا أكلَ معهم شبعوا، وإن لم يأكلْ معهم لم يشبعوا، ولذا كانَ إذا أرادوا الأكلَ أخَّرَهم حتى يجيء، وإذا جاءَ فأكلَ معهم فضَلَ من طعامِهم، فيقول له [عمُّه](1): إنَّكَ لمبارك، وكانَ الصِّبيان يُصبحون عُمشًا رُمصًا(2)، ويصبحُ هو دَهينًا كحيلًا(3) ( … )(4) أعظم نشأة وأشرفها، وشبَّ يكلؤه اللّه تعالى، ويحوطه ويحفظُه من أقذار الجاهلية، من كلِّ عيبٍ فلم يُعظِّمْ لها صنمًا قطُّ، ولم يحضرْ مشهدًا من مشاهدِهم مع طلبهم منه لذلك، فيمتنع ويعصمه اللّه منه، ولقد قال صلى الله عليه وسلم: "ما هممتُ بشيءٍ مما كانَ أهلُ الجاهلية يهمُّون به إلا مرَّتين عصمَني اللّه فيهما، وكلَّما دنوتُ من صنمٍ لهم يصيحُ بي رجلٌ: امضِ وراءَك، فما قَربتُ منه"(5)، حتى كان أفضلَ رجالِ قومِه مروءةً، وأحسنَهم خُلقًا وجِوارًا، وأكرمَهم حَسَبًا، وأعظمَهم حِلمًا، وأصوبَهم حديثًا، وأبعدَهم من كُلِّ خُلق دَنيٍّ حتى لا يُسمَّى في قومه إلا الأمين(6)، لما شاهدوه من أمانته وصدقِه، وطهارته وصفاتِه العلِّية التي لم يَشْرَكْه أحدٌ من خلق اللّه فيها.

--------------------------------------------

(1) في الأصل [4 / أ]: عمّك، وهو خطأ.

(2) العَشَا: سوءُ البصر باللَّيل والنَّهار، والرَّمَصُ: البياضُ الرَّطبُ الذي تقطعه العين، ويجتمع في زوايا الأجفان. "لسان العرب": رَمَصَ، عشا، و "النهاية" 2/ 263.

(3) الحديث في رعاية أبي طالب لمحمد صلى الله عليه وسلم ضعيف جدًا؛ أخرجه ابن سعد 1/ 119، 120، وابن عساكر في "تاريخ دمشق" 1/ 71. كلاهما من طريق الواقدي، وهو متروك.

(4) فراغ في الأصل [4 / أ] بقدر أربع كلمات تقريبًا.

(5) حسن لغيره. أخرجه البزار، "كشف الأستار" 3/ 283، والنسائي في "الكبرى" 7/ 325، والبيهقي في "دلائل النبوة" 2/ 34 - 35 من حديث زيد بن حارثة.

(6) صحيح. أخرجه أحمد 3/ 425، عن السائب بن أبي السائب.
আমার এই ভ্রাতুষ্পুত্র নিজের মাঝে এক নিআমত অনুভব করে। তিনি (আবু তালিব) তাঁর নিজের সন্তানদের বাদ দিয়ে তাকে খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ মর্যাদা দিতেন। বিশেষত অবস্থা এমন ছিল যে, তিনি যখন তাদের সাথে খেতেন তখন তারা তৃপ্ত হতো, আর যদি তিনি তাদের সাথে না খেতেন তবে তারা তৃপ্ত হতো না। এই কারণে তারা যখন খাওয়ার ইচ্ছা করত, তিনি তাদের বিলম্ব করাতেন যতক্ষণ না তিনি আসতেন। যখন তিনি আসতেন এবং তাদের সাথে খেতেন, তখন তাদের খাবার থেকে কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকত। তখন তার [চাচা](১) তাকে বলতেন: নিশ্চয়ই তুমি বরকতময়। অন্য ছেলেরা ভোরে উঠত চোখ উঠা ও পিঁচুটি পরা অবস্থায়(২), আর তিনি সকালে উঠতেন তৈলমর্দিত ও সুরমা লাগানো অবস্থায়(৩) ( ... )(৪) অত্যন্ত মহান ও মর্যাদাপূর্ণ বেড়ে উঠা। তিনি বড় হতে থাকেন এমতাবস্থায় যে, আল্লাহ তাআলা তাকে রক্ষণাবেক্ষণ করতেন এবং জাহেলিয়াতের আবর্জনা ও সকল প্রকার ত্রুটি থেকে তাকে পরিবেষ্টন করে রক্ষা করতেন। ফলে তিনি কখনও কোনো মূর্তিকে সম্মান করেননি এবং তাদের কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি, যদিও তারা তাঁর কাছে এর আবেদন করত। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করতেন এবং আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জাহেলিয়াতের লোকেরা যে সকল কাজে লিপ্ত হতো, আমি কেবল দুবার ছাড়া অন্য কোনো কিছুর সংকল্প করিনি, আর সে দুই বারই আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন। যখনই আমি তাদের কোনো মূর্তির নিকটবর্তী হয়েছি, তখন এক ব্যক্তি আমাকে চিৎকার করে বলত: তোমার পেছনে ফিরে যাও; ফলে আমি আর সেটির নিকটবর্তী হইনি।"(৫) শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের পুরুষদের মধ্যে বীরত্বে শ্রেষ্ঠ, চরিত্রে ও প্রতিবেশী সুলভ আচরণে সর্বোত্তম, বংশমর্যাদায় সবচেয়ে সম্মানিত, ধৈর্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, কথাবার্তায় সবচেয়ে সঠিক এবং সকল হীন স্বভাব থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থানকারী হিসেবে গণ্য হলেন। এমনকি তাঁর সম্প্রদায়ের মাঝে তিনি 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) নামেই অভিহিত হতেন(৬); কারণ তারা তাঁর বিশ্বস্ততা, সত্যবাদিতা, পবিত্রতা এবং উচ্চতর গুণাবলি প্রত্যক্ষ করেছিল, যাতে আল্লাহর সৃষ্টি জগতের কেউ তাঁর সমকক্ষ ছিল না।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে [৪ / ক] রয়েছে: 'তোমার চাচা', যা ভুল।

(২) আল-আশা: রাতে ও দিনে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়া। আর আল-রামাস: চোখের কোণে জমে থাকা সাদা আঠালো পদার্থ। "লিসানুল আরব": রামাসা, আশা; এবং "আন-নিহায়া" ২/২৬৩।

(৩) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আবু তালিবের লালন-পালন সংক্রান্ত এই হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল; এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে সাদ ১/১১৯, ১২০ এবং ইবনে আসাকির "তারিখে দামেশক" ১/৭১-এ। উভয়েই এটি ওয়াকিদীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে [৪ / ক] প্রায় চার শব্দের সমপরিমাণ শূন্যস্থান রয়েছে।

(৫) হাসান লি-গাইরিহি। এটি বর্ণনা করেছেন আল-বাযযার "কাশফুল আসতার" ৩/২৮৩-এ, আন-নাসায়ী "আল-কুবরা" ৭/৩২৫-এ এবং আল-বায়হাকী "দালাইলুন নুবুওয়াহ" ২/৩৪-৩৫-এ যায়িদ ইবনে হারিসার হাদীস থেকে।

(৬) সহীহ। এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৩/৪২৫-এ সায়েব ইবনে আবিস সায়েব থেকে।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
واستصحبَه عمُّه وهو ابنُ اثنتي عشرةَ سنةً إلى الشَّام، فلمَّا جاء بُصرَى ورأى منه بَحِيرا الرَّاهبُ ما دلَّ عليه أنَّه النبيُّ المرسَل خاتمُ الأنبياء، أمره بالرُّجوعِ به إلى بلادِه ففعل(1)، وبعد عشرين سنةً من مولدِه أو دونها حضرَ مع عمومتِه حربَ الفِجَار(2)، ورمى فيه بأسهم(3)، وحلفَ الفُضُول(4) الذي عقدتْه قريشٌ على نصر كلِّ مظلومٍ بمكَّة(5).

وكان صلى الله عليه وسلم يرعى غنمَ أهلِه بأجيادَ على قراريطَ(6)، ثمَّ مضى للشَّام أيضًا مع ميسرةَ فتى خديجةَ ابنةِ خويلدِ بنِ أسدٍ في تجارة لها، فرأى ممَّا خصَّه اللّه به ما يسترشدُ به

--------------------------------------------

(1) صحيح. أخرجه الترمذي في كتاب المناقب، باب: ما جاء في بدء نبوة النبي صلى الله عليه وسلم (3620)، وقال: حسن غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه، والحاكم 2/ 615 وقال: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه.

(2) الفِجَار: بكسر الفاء، سمِّيت الحرب بهذا؛ لأنَّ المتحاربين استحلُّوا المحارم بينهم، أو لأنَّ القتال كان في الشهر الحرام ففجروا فيه جميعًا، وهي حربٌ دارت رحاها بين كنانة وقريش من جهة، وقيس عيلان من جهة أخرى. "سيرة ابن هشام" 1/ 168، و "الروض الأنف" 1/ 120 باختصار.

(3) ذكرها ابن هشام في "السيرة" بلا سند 1/ 168 - 170.

(4) الفُضول جمع فَضْل، وهو حِلفٌ وقع في زمان الجرهميين، لثلاثةٍ منهم يسمَّى كل واحدٍ منهم الفضل، اجتمعوا لنصرة المظلوم، ولما تداعت قريش إلى حلفٍ للعلة نفسها، سُمِّي الحلف على الحلف القديم، وقد شهد النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم هذا الحِلْفَ، وكان حَفِيًا به.

(5) حديث مشاركة النبي صلى الله عليه وسلم في حلف الفضول صحيح. أخرجه أحمد 3/ 193، والبخاري في "الأدب المفرد" ص: 194 كلاهما من حديث عبد الرحمن بن عوف أنَّ رسول اللّه صلى الله عليه وسلم قال: "شهدتُ مع عمومتي حلف المطيَّبين، فما أحث أن أنكثَه وأنَّ لي حمر النَّعَم".

(6) أخرجه البخاري في كتاب الإجارة، باب رعي الغنم على قراريط (2262) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، بدون لفظة: أجياد، وذكرها البخاري في "الأدب المفرد" ص: 197 (577)، والقراريط: جزء من الدِّينار أو الدِّرهم، أو هو موضعٌ بمكة قرب أجياد. انظر "فتح الباري" 4/ 441، وأجيادُ: حيٌّ من أحياء مكة، يقع جنوب شرق المسجد الحرام.
বারো বছর বয়সে তাঁর চাচা তাঁকে সিরিয়ায় নিয়ে যান। যখন তাঁরা বুসরায় পৌঁছালেন এবং বাহিরা নামক পাদ্রী তাঁর মাঝে এমন কিছু লক্ষণ দেখলেন যা নির্দেশ করছিল যে তিনি প্রেরিত নবী ও শেষ নবী, তখন তিনি (পাদ্রী) তাঁকে তাঁর দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর চাচাকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি তা-ই করলেন(১)। তাঁর জন্মের বিশ বছর পর অথবা তার কিছু আগে তিনি তাঁর চাচাদের সাথে ফিজারের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন(২) এবং সেখানে তিনি তির নিক্ষেপ করেছিলেন(৩)। এরপর তিনি হিলফুল ফুদুল (ফুদুল চুক্তি)-এ শরিক হন(৪), যা কুরাইশরা মক্কায় প্রত্যেক মজলুমকে (নির্যাতিতকে) সাহায্য করার জন্য সম্পাদন করেছিল(৫)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কয়েক কিরাত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে 'আজয়াদ' নামক স্থানে তাঁর পরিবারের ছাগল চরাতেন(৬)। এরপর তিনি খাদিজাহ বিনতে খুয়াইলিদ ইবনে আসাদের গোলাম মায়সারাহর সাথে তাঁর ব্যবসার উদ্দেশ্যে পুনরায় সিরিয়া সফর করেন। সেখানে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন বিশেষ কিছু নিদর্শন দেখলেন যা দ্বারা তিনি সঠিক পথের দিশা লাভ করেন।

--------------------------------------------

(১) সহীহ। তিরমিজি এটি মানাকি্ব অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের সূচনা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (৩৬২০) -তে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান গরীব, এই সূত্র ছাড়া এটি আমাদের জানা নেই। হাকেম (২/৬১৫) এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি শায়খায়নের (বুখারি ও মুসলিম) শর্ত অনুযায়ী সহীহ, তবে তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি।

(২) ফিজার: 'ফা' বর্ণে কাসরা (জের) যোগে। এই যুদ্ধকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ যুদ্ধরত পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে বৈধ করে নিয়েছিল, অথবা যেহেতু যুদ্ধটি হারাম মাসে সংঘটিত হয়েছিল তাই তারা সকলে তাতে পাপাচার (ফিজার) করেছিল। এটি কেনানাহ ও কুরাইশ এক পক্ষ এবং কায়েস আয়লান অন্য পক্ষের মধ্যে সংঘটিত একটি যুদ্ধ। "সিরাত ইবনে হিশাম" ১/১৬৮ এবং "আর-রওদুল উনুফ" ১/১২০ সংক্ষেপে।

(৩) ইবনে হিশাম এটি "সিরাত"-এ সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন (১/১৬৮-১৭০)।

(৪) ফুদুল হলো 'ফজল'-এর বহুবচন। এটি জুরহুমীয়দের যুগে সংঘটিত একটি চুক্তি, তাদের মধ্যে তিন ব্যক্তির প্রত্যেকের নাম ছিল 'ফজল', যাঁরা মজলুমকে সাহায্য করার জন্য সমবেত হয়েছিলেন। যখন কুরাইশরা একই কারণে একটি চুক্তির জন্য আহ্বান জানাল, তখন সেই প্রাচীন চুক্তির অনুকরণে এই চুক্তির নামকরণ করা হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই চুক্তিতে উপস্থিত ছিলেন এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।

(৫) হিলফুল ফুদুলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অংশগ্রহণের হাদিসটি সহীহ। আহমদ (৩/১৯৩) এবং বুখারি "আল-আদাবুল মুফরাদ"-এ (পৃষ্ঠা: ১৯৪) উভয়েই আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার চাচাদের সাথে 'মুত্তায়িবিন' (সুগন্ধি মাখানোদের) চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম। আমি এর চুক্তি ভঙ্গ করা পছন্দ করি না, এমনকি এর বিনিময়ে যদি আমাকে মূল্যবান লাল উটও দেওয়া হয় তবুও না।"

(৬) বুখারি এটি ইজারা (ভাড়া) অধ্যায়, 'কিরাত-এর বিনিময়ে ছাগল চরানো' অনুচ্ছেদে (২২৬২) আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে 'আজয়াদ' শব্দটি নেই। বুখারি এটি "আল-আদাবুল মুফরাদ" পৃষ্ঠা: ১৯৭ (৫৭৭)-এ উল্লেখ করেছেন। 'কিরারীত' (কিরাতসমূহ): এটি দিনার বা দিরহামের একটি অংশ, অথবা এটি আজয়াদ-এর নিকটবর্তী মক্কার একটি স্থানের নাম। দেখুন "ফাতহুল বারী" ৪/৪৪১। আজয়াদ: মক্কার একটি এলাকা, যা মসজিদুল হারামের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
المُتنبِّه، فلمَّا عاد حدَّثها به، وكانت امرأةً حازمةً لبيبةً شريفة، فرغبت في تزويجه بها، فتزوَّجها وهو ابنُ خمسٍ وعشرين سنة، وهي ابنةُ أربعين(1)، فكانت له وزيرَ صِدْقٍ، وعبيرةَ مِسْكٍ.

ثمَّ بعد مضيِّ عشرِ سنين أخذت قريشٌ في بناءِ الكعبةِ لأمرٍ اقتضاه، فاختلفت قبائلُها فيمَن يضعُ الحجرَ الأسود، فاختاروه، فأشار ببسطِ رداء على الأرض، ووضعِه عليه، وترفعُ كلُّ قبيلةٍ طرفًا منه، ففعلوا ذلك، فلمَّا انتهوا به إلى محلِّه أخذَه الأمينُ المكينُ بيده الميمونة، فوضعَه، وذلك يوم الاثنين(2).

ولمَّا انتهى صلى الله عليه وسلم لأربعين سنة(3) جاءه جبريل عليه السلام في يومِ الاثنين ثامنِ شهرِ ربيعٍ الأوَّلِ وهو بغارِ حِراء؛ إذ كان يخلو به فيتعبَّد فيه، فأقرأه أوَّلَ سورةِ العلق، فرجعَ بها صلى الله عليه وسلم يرجُف فؤادُه.

--------------------------------------------

(1) وهذا مذهبُ الجمهور، ويرى ابنُ إسحاق أنها كانت في سن الثامنة والعشرين، ونصر رأيه د. أكرم العمري فقال: وقد أنجبت خديجة من رسول اللّه صلى الله عليه وسلم ذكرين وأربع إناث، مما يُرجِّح رواية ابن إسحاق؛ فالغالب أنّ المرأة تبلغ سنَّ اليأس من الإنجاب قبل الخمسين. وانظر "السيرة النبوية الصحيحة" 1/ 113.

(2) قصة بناء الكعبة، أخرجها البخاري في كتاب مناقب الأنصار، باب بنيه الكعبة (3829)، ومسلم في كتاب الحيض، باب الاعتناء بحفظ العورة 1/ 268) 77) من حديث جابر رضي الله عنه.

وقصة تحكيمه صلى الله عليه وسلم؛ الحديث فيها حسنٌ لغيره. أخرجه أحمد 3/ 425، وقال الهيثميُّ: رجاله رجال الصحيح غيرَ هلال بن خبَّاب، وهو ثقةٌ وفيه كلامٌ.

(3) "سيرة ابن إسحاق" ص: 109، و "سيرة ابن هشام" 1/ 216، وفي هذا يقول يحيى الصَّرصريُّ:

وأتتْ عليه أربعون فأشرقتْ … شمسُ النُّبوةِ منه في رَمضانِ.

"زاد المعاد" 1/ 77، 78.
সচেতন পর্যবেক্ষক, অতঃপর তিনি যখন ফিরে আসলেন তখন তাঁকে (খাদিজা রা.-কে) সে সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা, বুদ্ধিমতী ও মহীয়সী নারী। ফলে তিনি তাঁকে বিবাহ করতে আগ্রহী হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পঁচিশ বছর বয়সে তাঁকে বিবাহ করেন, আর তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর(১)। তিনি তাঁর জন্য ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং কস্তুরীর সুবাসের মতো প্রশান্তিদায়ক।

অতঃপর দশ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর, কুরাইশরা বিশেষ এক কারণে কাবা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করল। হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) কে স্থাপন করবেন, তা নিয়ে গোত্রগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দিল। তখন তারা তাঁকে (বিচারক হিসেবে) মনোনীত করল। তিনি ভূমিতে একটি চাদর বিছানোর পরামর্শ দিলেন এবং তার ওপর পাথরটি রাখলেন। এরপর প্রতিটি গোত্রকে চাদরের এক একটি প্রান্ত ধরতে বললেন। তারা তা-ই করল। যখন তারা পাথরটিকে তার যথাস্থানে নিয়ে পৌঁছাল, তখন সুপ্রতিষ্ঠিত আমানতদার (রাসূলুল্লাহ ﷺ) নিজ বরকতময় হাত দিয়ে সেটি গ্রহণ করলেন এবং স্থাপন করলেন। এটি ছিল সোমবারের ঘটনা(২)।

যখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর পূর্ণ হলো(৩), তখন রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ সোমবার জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে আসলেন। তখন তিনি হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন; সেখানে তিনি নির্জনে ইবাদত করতেন। জিবরাঈল তাঁকে সূরা আলাকের প্রথম অংশ পাঠ করালেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকম্পিত হৃদয়ে ফিরে আসলেন।

--------------------------------------------

(১) এটিই জমহুর বা সংখ্যাগুরু উলামাদের অভিমত। তবে ইবনে ইসহাক মনে করেন যে, তখন তাঁর বয়স ছিল আটাশ বছর। ড. আকরাম আল-উমারি এই মতকে সমর্থন করে বলেছেন: খাদিজা (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঔরসে দুই পুত্র ও চার কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, যা ইবনে ইসহাকের বর্ণনাকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য করে তোলে; কেননা সাধারণত নারীরা পঞ্চাশ বছর বয়সের আগেই সন্তান ধারণের সক্ষমতা হারান। দেখুন "আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ আস-সহিহাহ" ১/১১৩।

(২) কাবা নির্মাণের কাহিনী ইমাম বুখারি 'কিতাবুল মানাকিবুল আনসার', 'বাবু বুনিয়াতিল কাবা' (৩৮২৯) এবং ইমাম মুসলিম 'কিতাবুল হায়জ', 'বাবুল ইতিমামে বি হিফজিল আওরাহ' (১/২৬৮) (৭৭) অনুচ্ছেদে জাবের (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর বিচারক হওয়ার কাহিনী সংক্রান্ত হাদিসটি 'হাসান লি-গাইরিহি'। ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন (৩/৪২৫)। আল-হাইসামি বলেন: হিলাল ইবনে খাব্বাব ব্যতীত এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী; তিনি নির্ভরযোগ্য তবে তাঁকে নিয়ে কিছু সমালোচনা রয়েছে।

(৩) 'সিরাত ইবনে ইসহাক' পৃষ্ঠা: ১০৯ এবং 'সিরাত ইবনে হিশাম' ১/২১৬। এ বিষয়ে ইয়াহইয়া আস-সরসারি বলেন:

তাঁর চল্লিশ বছর পূর্ণ হলো, ফলে নবুওয়াতের সূর্য ... তাঁর থেকে রমজান মাসে উদিত হলো।

'যাদুল মাআদ' ১/৭৭, ৭৮।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ودخل على خديجةَ فزمَّلُوه حتى ذهب عنه الرَّوع، ثمَّ أعلمها بالخبر، وقال لها: "لقد خشيتُ على نفسي"، فقالت له: أبشرْ، كلّاَ، واللّه ما يُخزيك اللّهُ أبدًا؟ إنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وتحملُ الكَلَّ(1)، وتَكسِبُ المعدوم، وتَقْرِي الضَّيَف، وتُعِينُ على نوائبِ الحقِّ، ثمَّ ذهبت به إلى ابن عمِّها ورقَةَ بنِ نوفلِ بنِ أسدٍ، فأعلمه بما أعلمها به، فقال له: هذا هو النَّاموسُ(2) الذي أنزله اللّه تعالى على موسى عليه السلام، وآمن هو وخديجة به. وقال: إنْ يُدْرِكْني يومُكَ أنصرْكَ نصرًا مؤزَّرًا. ثم لم يَنشَب(3) ورقةُ أن تُوفي(4).

وفتَر الوحي(5)، فلمَّا كان بعد أشهرٍ أنزل اللّه عز وجل عليه {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (1) قُمْ فَأَنْذِرْ (2) وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ (3) وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ (4) وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ (5)}(6) وحَمِيَ الوحيُ وتتابع(7).

وبعد أَنْ أقرأه جبريلُ عليه السلام العَلَقَ، ضربَ برجلِهِ الأرض، فنبعت عينُ ماءٍ فتوضَّأ منها، ثمَّ أمرَ النبيَّ صلى الله عليه وسلم فتوضَّأ كذلك، ثمَّ قام وصلَّى بالنَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، ثمَّ انصرف،

--------------------------------------------

(1) الكَلَّ: اليتيم، والعِيال. "القاموس": كلل.

(2) النَّاموس: صاحب السرِّ، وهو جبريل هنا. "القاموس": نمَس.

(3) لم ينشب، أي: لم يلبث. "النهاية" 5/ 52.

(4) أخرجه البخاري في كتاب بدء الوحي، باب: كيف كان بدء الوحي (3)، ومسلم في كتاب الإيمان، باب: بدء الوحي إلى رسول اللّه صلى الله عليه وسلم -1/ 139 - 140 (252) عن عائشة رضي الله عنها مطولًا.

(5) قصة فترة الوحي، أخرجها البخاري في كتاب التعبير باب: أول ما بدئ به رسول اللّه صلى الله عليه وسلم (6982) عن عائشة رضي الله عنها.

(6) سورة المدثر: 1 - 4.

(7) أخرجه البخاري في كتاب التفسير باب، {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} (4925)، ومسلم في كتاب الإيمان باب، بدء الوحي إلى رسول اللّه صلى الله عليه وسلم 1/ 143 (255) كلاهما من حديث جابر.
তিনি খাদিজার নিকট আসলেন এবং তারা তাকে কাপড় জড়িয়ে দিলেন যতক্ষণ না তার ভয় দূর হলো। অতঃপর তিনি তাকে বিষয়টি জানালেন এবং তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই আমি নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি।" তখন তিনি তাকে বললেন: আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন; কখনো নয়, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন(১), রিক্তহস্তদের উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেন, মেহমানদারি করেন এবং হকের পথে আসা বিপদাপদে সাহায্য করেন। তারপর তিনি তাকে তার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা বিন নাওফাল বিন আসাদের কাছে নিয়ে গেলেন এবং তিনি তাকে সব জানালেন যা খাদিজাকে জানিয়েছিলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: ইনিই সেই বার্তাবাহক(২) যাকে আল্লাহ তাআলা মুসা আলাইহিস সালামের নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি এবং খাদিজা তার ওপর ঈমান আনলেন। আর তিনি বললেন: যদি আমি আপনার সেই দিনটি পাই, তবে আমি আপনাকে শক্তিশালী সাহায্য করব। এরপর বেশি দিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই(৩) ওয়ারাকা মৃত্যুবরণ করলেন(৪)।

এবং ওহি বন্ধ রইল(৫)। অতঃপর কয়েক মাস পার হলে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার ওপর নাজিল করলেন— {হে বস্ত্রাবৃত! (১) উঠুন এবং সতর্ক করুন (২) এবং আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন (৩) এবং আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন (৪) এবং অপবিত্রতা বর্জন করুন (৫)}(৬) এরপর ওহি দ্রুতবেগে এবং নিয়মিতভাবে আসতে শুরু করল(৭)।

জিবরাইল আলাইহিস সালাম তাকে সূরা ‘আলাক’ পড়ানোর পর, তিনি তার পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন, ফলে একটি পানির প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো। তিনি তা থেকে অজু করলেন। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদেশ করলেন এবং তিনিও অনুরূপ অজু করলেন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং এরপর চলে গেলেন।

--------------------------------------------

(১) আল-কাল্লু: এতিম ও পরিবার-পরিজন। 'আল-কামুস': কাল্লা।

(২) আন-নামুস: রহস্যের অধিকারী, এখানে উদ্দেশ্য জিবরাইল। 'আল-কামুস': নামাসা।

(৩) 'লাম ইয়ানশাব' অর্থাৎ: তিনি বিলম্ব করেননি। 'আন-নিহায়া' ৫/ ৫২।

(৪) বুখারি এটি 'ওহির সূচনা' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: ওহি কীভাবে শুরু হয়েছিল (৩); এবং মুসলিম 'ঈমান' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ওহির সূচনা - ১/১৩৯-১৪০ (২৫২), আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বিস্তারিতভাবে।

(৫) ওহি বন্ধ থাকার ঘটনা বুখারি 'তাবির' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: প্রথম যে বিষয় দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সূচনা হয়েছিল (৬৯৮২), আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে।

(৬) সূরা আল-মুদ্দাসসির: ১-৪।

(৭) বুখারি এটি 'তাফসির' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: {আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন} (৪৯২৫); এবং মুসলিম 'ঈমান' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ওহির সূচনা ১/১৪৩ (২৫৫), উভয়েই জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وأتى النبيُّ صلى الله عليه وسلم خديجةَ، فعلَّمها ذلك، وصلَّى بها(1)، وكان الفرضُ إذ ذاك ركعتين بالغَداة، وركعتين بالعشي، إلى أن كانت ليلةُ المعراج(2).

وأقام صلى الله عليه وسلم بمكة بعد البَعثة ثلاث سنين يدعو اللّه مُستخفيًا، فكان المسلمون يجتمعون بدار الأرقم(3) أو بالشِّعاب للصِّلاة(4).

ثمَّ نزل عليه في السنة الرابعة(5) {فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ}(6)، وقوله: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ}(7) فأعلنَ حينئذٍ الدُّعاءَ لأهلِ الإسلام(8) وكفَّارُ قريشٍ غيرُ منكرين لما يقول، بحيث كان إذا مرَّ بهم في مجالسهم يشيرون إليه: إنَّ غلام بني عبد المطَّلب ليُكَلَّمُ مِن السَّماء، إلى أَنْ عابَ آلهتهم، وذكر آباءهم، الذين ماتوا على الكفر، فانتصبوا لعداوته وعداوة مَنْ آمن به، يُعذِّبون مَنْ لا مَنعَة عنده أشدَّ العذاب، ويُؤذون

--------------------------------------------

(1) في "سيرة ابن إسحاق" ص: 117 من قوله، وابن هشام عنه 1/ 227 بلفظ: قال ابن إسحاق: وحدثني بعض أهل العلم.

(2) "سيرة ابن إسحاق" ص 117، وأصله مخرَّج في صحيح البخاري في كتاب الصلاة باب: كيف فرضت الصلاة في الإسراء (350)، ومسلم في صلاة المسافرين، باب: صلاة المسافرين وقصرها 1/ 478 (1) كلاهما عن عائشة قالت: فرض اللّه الصلاة حين فرضها ركعتين ركعتين في الحضر والسفر.

(3) "زاد المعاد" 1/ 86. وتسمى بدار الخيزران، وكانت قريبة من الصفا. "الزهور المقتطفة" ص: 15، و "المعالم الأثيرة" ص: 115.

(4) شِعاب مكة. "عيون الأثر" 1/ 93.

(5) قاله العتقي. "سبل الهدى" 2/ 436، و "الإشارة إلى سيرة المصطفى" ص: 112.

(6) سورة الحجر: 94، وانظر "سيرة ابن هشام" 1/ 237، و "الدرر" ص: 11.

(7) سورة الشعراء: 214.

(8) إعلان النبي صلى الله عليه وسلم الدعوة أخرجه البخاري في التفسير باب: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} (355).
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদীজার কাছে আসলেন এবং তাঁকে তা শিখিয়ে দিলেন, আর তাঁকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন(১)। সে সময় ফরয ইবাদত ছিল সকালে দুই রাকাত এবং বিকেলে দুই রাকাত, যা মেরাজের রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল(২)।

নবুওয়াত লাভের পর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় তিন বছর গোপনে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে থাকেন। তখন মুসলমানরা সালাত আদায়ের জন্য আরকামের ঘরে(৩) অথবা পাহাড়ের গিরিপথগুলোতে(৪) একত্রিত হতেন।

অতঃপর চতুর্থ বর্ষে(৫) তাঁর ওপর অবতীর্ণ হলো: "অতএব আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন"(৬), এবং আল্লাহর বাণী: "আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন"(৭)। তখন তিনি ইসলামের দাওয়াত প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন(৮)। কুরাইশ কাফেররা তাঁর কথার প্রতিবাদ করত না, এমনকি যখন তিনি তাদের মজলিসগুলোর পাশ দিয়ে যেতেন, তারা তাঁর দিকে ইশারা করে বলত: বনু আবদুল মুত্তালিবের এই যুবককে তো আকাশ থেকে সম্বোধন করা হয় (তার কাছে ওহী আসে); এই অবস্থা ততক্ষণ চলল যতক্ষণ না তিনি তাদের উপাস্যদের সমালোচনা করলেন এবং তাদের সেই পূর্বপুরুষদের কথা উল্লেখ করলেন যারা কুফরের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে। তখন তারা তাঁর এবং যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছিল তাদের চরম শত্রুতায় লিপ্ত হলো। তারা সেসব লোকেদের ওপর কঠোর নির্যাতন শুরু করল যাদের কোনো আশ্রয়দাতা ছিল ছিল না, এবং তারা কষ্ট দিতে লাগল...

--------------------------------------------

(১) 'সীরাতে ইবনে ইসহাক' পৃষ্ঠা: ১১৭-এ তাঁর বক্তব্য থেকে, এবং ইবনে হিশাম তাঁর থেকে ১/২২৭, শব্দগুলো হলো: ইবনে ইসহাক বলেন: আমার কাছে কিছু আলেম বর্ণনা করেছেন।

(২) 'সীরাতে ইবনে ইসহাক' পৃষ্ঠা ১১৭; এর মূল ভিত্তি সহীহ বুখারীর কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: ইসরার রাতে কীভাবে সালাত ফরয করা হয়েছিল (৩৫০), এবং মুসলিমের কিতাব সালাতুল মুসাফিরীন, পরিচ্ছেদ: মুসাফিরের সালাত ও তা সংক্ষেপ করা ১/৪৭৮ (১); উভয়টি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ যখন সালাত ফরয করেন, তখন মুকিম ও মুসাফির উভয় অবস্থায় দুই রাকাত দুই রাকাত করে ফরয করেছিলেন।

(৩) 'যাদুল মা'আদ' ১/৮৬। একে দারুল খায়জুরানও বলা হয়, এটি সাফা পাহাড়ের কাছে ছিল। 'আয-যুহুরুল মুকতাতাফাহ' পৃষ্ঠা: ১৫, এবং 'আল-মাআলিমুল আসীরাহ' পৃষ্ঠা: ১১৫।

(৪) মক্কার গিরিপথসমূহ। 'উয়ুনুল আসার' ১/৯৩।

(৫) আল-উতকী এটি বলেছেন। 'সুবুলুল হুদা' ২/৪৩৬, এবং 'আল-ইশারা ইলা সীরাতিল মুস্তফা' পৃষ্ঠা: ১১২।

(৬) সূরা আল-হিজর: ৯৪, এবং দেখুন 'সীরাতে ইবনে হিশাম' ১/২৩৭, এবং 'আদ-দুরার' পৃষ্ঠা: ১১।

(৭) সূরা আশ-শুআরা: ২১৪।

(৮) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাওয়াত প্রকাশ্যে ঘোষণার বিষয়টি বুখারী তাফসীর অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: "আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন" (৩৫৫)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
مَنْ لا يقدرون على عذابه(1)، وآمن به -مع مَنْ قدَّمناهما- عليّ، وزيدُ بنُ حارثة، وأبو بكر ثمَّ بدعائِه(2) عثمانُ، والزُّبير، وعبدُ الرَّحمنِ بنُ عوفٍ، وسعدُ بنُ أبي وقَّاصٍ، وطلحةُ بنُ عبيد الله.

واشتدَّ الأمرُ، وتنابذ القوم، ونادى بعضهم بعضًا، وتآمرتْ قريشٌ على مَنْ أسلم منهم يُعذِّبونهم، ويفتنونهم عن دينهم.

وحَدَبَ(3) عليه عمُّه أبو طالب، ومنعَ اللّهُ عن رسوله به وببني هاشم -غيرَ أبي لهب- وبني المطلب، وكذَّبه مَنْ عداهم، وآذوه ورمَوْه بالسِّحر، والشِّعر، والكَهانة، والجنون(4)، وأغروا به سفهاءَهم، حتى إنَّ شقيًا منهم أخذَ يومًا بجمعِ ردائِه، فقام أبو بكر دونه -وهو يبكي- ويقول: أتقتلون رجلًا أن يقولَ ربي اللّه(5)؟.

إلى أَنْ أسلمَ في سنةِ ستٍّ عمُّه حمزةُ(6) أعزُّ فتىً في قريش، وأشدُّه شكيمة(7)، فعزَّ به رسول اللّه صلى الله عليه وسلم، وكفَّتْ عنه قريشٌ قليلا(8)، بل وكذا تأيَّدَ الإسلامُ بإسلامِ عمرَ بنِ

--------------------------------------------

(1) "عيون الأثر" 1/ 93.

(2) أي: بدعاء أبي بكر رضي الله عنه كما ذكره ابن هشام بلاغًا. "سيرة ابن هشام" 1/ 232.

(3) أي: عَطَفَ. "القاموس": حدب.

(4) "سيرة ابن هشام" 1/ 238 نقلًا عن ابن إسحاق.

(5) المراد بالشقيِّ: عُقبة بن أبي مُعيط، والحديث أخرجه البخاري في كتاب فضائل الصحابة باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: "لو كنتُ متخذًا خليلًا" (3678).

(6) أخرجه ابن سعد 3/ 9 من طريق الواقدي، وهو متروك، كما في "التقريب" ص: 882.

(7) الشَكِيمَةُ: الأَنَفَةُ، والانتصار من الظلم. "القاموس": شكم.

(8) قصة إسلام حمزة رضي الله عنه، أخرجها ابن إسحاق، ص: 191، والطبراني في "المعجم الكبير" 3/ 140 (2926) مرسلًا، وقال الهيثمي: رجاله رجال الصحيح. "مجمع الزوائد" 9/ 267.
তারা যারা তাঁকে কষ্ট দেওয়ার সামর্থ্য রাখত না(১), এবং তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন—যাদের আমরা আগে উল্লেখ করেছি তাদের সাথে—আলী, যায়িদ বিন হারিসাহ এবং আবু বকর; অতঃপর তাঁর (আবু বকরের) আহ্বানে উসমান, যুবাইর, আব্দুর রহমান বিন আউফ, সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং তালহা বিন উবাইদুল্লাহ।

পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ল, কওমের মাঝে শত্রুতা ছড়িয়ে পড়ল, তারা একে অপরকে ডাকল, এবং কুরাইশরা তাদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদের ওপর ষড়যন্ত্র করল যাতে তারা তাদের নির্যাতন করতে পারে এবং তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারে।

তাঁর প্রতি তাঁর চাচা আবু তালিব সদয় হলেন(৩), এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাঁর (আবু তালিবের) মাধ্যমে এবং বনু হাশিম—আবু লাহাব ব্যতীত—ও বনু মুত্তালিবের মাধ্যমে রক্ষা করলেন। অন্যরা তাঁকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করল, কষ্ট দিল এবং তাঁর ওপর যাদু, কবিতা, গণকবদ্যা ও উন্মাদের অপবাদ আরোপ করল(৪)। তারা তাদের নির্বোধদের তাঁর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিল, এমনকি তাদের মধ্য থেকে এক দুর্ভাগা ব্যক্তি একদিন তাঁর চাদর টেনে ধরল; তখন আবু বকর রোনাজারি করা অবস্থায় তাঁর সামনে এসে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "তোমরা কি একজন ব্যক্তিকে কেবল একারণেই হত্যা করবে যে তিনি বলেন, আমার রব আল্লাহ(৫)?"।

এভাবে নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছরে তাঁর চাচা হামযাহ(৬) ইসলাম গ্রহণ করলেন, যিনি কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত যুবক এবং সবচেয়ে দৃঢ়চেতা(৭) ছিলেন। ফলে তাঁর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শক্তিশালী হলেন এবং কুরাইশরা তাঁর থেকে কিছুটা বিরত থাকল(৮)। এমনকি উমর ইবনে (এর ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমেও ইসলাম শক্তিশালী হলো)

--------------------------------------------

(১) "উয়ুনুল আসার" ১/ ৯৩।

(২) অর্থাৎ: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর আহ্বানে, যেমনটি ইবনে হিশাম বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। "সিরাত ইবনে হিশাম" ১/ ২৩২।

(৩) অর্থাৎ: দয়া ও মমতা প্রদর্শন করা। "আল-কামুস": হাদাবা।

(৪) "সিরাত ইবনে হিশাম" ১/ ২৩৮, ইবনে ইসহাকের বরাতে।

(৫) এখানে 'দুর্ভাগা' বলতে উকবাহ বিন আবি মুআইতকে বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি ইমাম বুখারী 'فضائل الصحابة' (সাহাবীদের মর্যাদা) অধ্যায়ে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যদি আমি কাউকে খলিল বা অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম" অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন (৩৬৭৮)।

(৬) ইবনে সাদ ৩/ ৯ এ ওয়াকিদির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক), যেমনটি "আত-তাকরিব" পৃষ্ঠা: ৮৮২-তে উল্লেখ আছে।

(৭) 'আশ-শাকীমাহ': আত্মমর্যাদাবোধ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ। "আল-কামুস": শাকামা।

(৮) হামযাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন (পৃষ্ঠা: ১৯১) এবং তবারানি "আল-মু'জামুল কবির" ৩/ ১৪০ (২৯২৬) গ্রন্থে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (রিজালুস সহিহ)। "মাজমাউয যাওয়াইদ" ৯/ ২৬৭।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الخطَّاب، إجابةً لدعوةِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم أنَّ اللّه يؤيِّدُه به(1)، وكان لا يُرامُ ما وراءَ ظهرِه، فامتنع بهما حتى قال الأعداءُ له: إنْ كنتَ تطلبُ مالًا جمعنا لك ما تكونُ به أكثرَ مالًا، أوالشَّرفَ؛ فنحن نُشرِّفك علينا، أو المُلكَ؛ ملَّكْنَاك عليها، وإن كان الذي يأتيك رَئِيًّا(2) قد غَلب عليك؛ بذلنا أموالنا في طلبِ الطبِّ لك حتى تبرأ منه، أو نُعذرَ فيك، فقال لهم: "ما بي ما تقولون، ولكنَّ اللّه بعثني رسولًا، وأنزل عليَّ كتابًا، وأمرني أن أكون لكم بشيرًا ونذيرًا، فبلَّغتكم رسالاتِ ربي ونصحتُ لكم، فإنْ تقبلوا مني ما جئتكم به فهو حظُّكم في الدُّنيا والآخرة، وإن تردُّوا عليَّ أصبرْ لأمرِ اللّه حتى يحكمَ اللّهُ بيني وبينكم"(3).

وأيَّدَه اللّه سبحانه بمعجزةِ القرآن، وبانشقاقِ القمر بالعِيَان، وكفاه أمرَ المُستهزئين مع تماديهم على العِناد ودفعِ اليقين، ولو اختار لدُمِّرُوا وما عُمِّروا، ولكنَّه صلى الله عليه وسلم كان يترجَّى هدايتهم، ويتوخَّى إجابتَهم، ويأبى اللّه إلا ما أراده، وأُذِنَ للنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بعد أن عُذِّبَ بلالٌ، بحيث اشتراه أبو بكر، وأعتقَه(4)، وقُتِلَتْ سُميَّة أمُّ عمَّاِر ابنِ ياسِرِ،

--------------------------------------------

(1) صحيح، أخرجه الترمذي في المناقب، باب مناقب عمر بن الخطاب رضي الله عنه (3681)، وقال: حسن صحيح غريب.

(2) الرَّئِيُّ: الجِنِّيُّ. "القاموس": رأى.

(3) حسن، أخرجه أبو يعلى 3/ 349 (51)، والحاكم 2/ 253 وصححه، ووافقه الذهبي.

قال الهيثمي: أخرجه أبو يعلى، وفيه الأجلح الكندي، وثَّقه ابنُ مَعين وغيره، وضعَّفه النَّسَائِيّ وغيره. "مجمع الزوائد" 6/ 20.

(4) عن عبد اللّه بن مسعود رضي الله عنه قال: وهان على قومه فأعطوه الولدان، وأخذوا يطوفون به شعاب مكة، وهو يقول: أحد أحد. حديث صحيح، أخرجه ابنُ ماجه في المقدمة، باب: فضل سلمان وأبي ذر والمقداد 1/ 53 (150)، وابنُ حِبَّان 9/ 107 (7041)، والحاكمُ 3/ 284 وقال: صحيح الإسناد، ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي.=
আল-খাত্তাব, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুআর জবাবে যে আল্লাহ তাঁকে তাঁর মাধ্যমে শক্তিশালী করবেন(১)। তাঁর নিরাপত্তার দিকটি ছিল দুর্ভেদ্য, এই দুজনের মাধ্যমে তিনি সুরক্ষিত হলেন, এমনকি শত্রুরা তাঁকে বলল: যদি তুমি সম্পদ চাও, তবে আমরা তোমার জন্য এত সম্পদ জমা করব যে তুমি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক হবে; অথবা মর্যাদা চাও, তবে আমরা তোমাকে আমাদের নেতা বানাব; অথবা রাজত্ব চাও, তবে আমরা তোমাকে আমাদের রাজা নিযুক্ত করব। আর তোমার কাছে যা আসে তা যদি কোনো জিনের আছর(২) হয়ে থাকে যা তোমার ওপর প্রবল হয়েছে, তবে আমরা তোমার চিকিৎসার তালাশে আমাদের সম্পদ ব্যয় করব যতক্ষণ না তুমি তা থেকে আরোগ্য লাভ করো অথবা তোমার ব্যাপারে আমাদের কোনো দায় না থাকে। তখন তিনি তাদের বললেন: "তোমরা যা বলছ তার কিছুই আমার মাঝে নেই। বরং আল্লাহ আমাকে রসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং আমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাদের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হই। সুতরাং আমি তোমাদের কাছে আমার রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছি। এখন আমি যা নিয়ে এসেছি তা যদি তোমরা গ্রহণ করো, তবে তা দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাদের পাওনা বা সৌভাগ্য হবে। আর যদি তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করো, তবে আমি আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় সবর করব যতক্ষণ না আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন"(৩)।

আর আল্লাহ সুবহানাহু তাঁকে কুরআনের মুজিজা এবং চাক্ষুষ চন্দ্র বিভাজনের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন। আর বিদ্রুপকারীদের হঠকারিতা এবং সত্য প্রত্যাখ্যানের বাড়াবাড়ি সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের ব্যাপারে তাঁর জন্য যথেষ্ট হয়েছেন। যদি তিনি চাইতেন তবে তারা ধ্বংস হয়ে যেত এবং কোনো অবকাশ পেত না। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের হেদায়েতের আশা করতেন এবং তাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার প্রতীক্ষায় থাকতেন। আর আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত অন্য কিছু হতে দিতে অস্বীকার করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অনুমতি দেওয়া হলো যখন বেলালকে নির্যাতন করা হলো—এমনকি আবু বকর তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দিলেন(৪)—এবং আম্মার ইবনে ইয়াসিরের মা সুমাইয়াকে হত্যা করা হলো,

--------------------------------------------

(১) সহীহ, তিরমিযী এটি মানাকিব অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদা অনুচ্ছেদ (৩৬৮১), এবং বলেছেন: এটি হাসান সহীহ গরীব।

(২) আর-রাইয়্যু: অর্থ জিন। "আল-কামুস": রায়আ।

(৩) হাসান, আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন ৩/৩৪৯ (৫১), হাকেম ২/২৫৩ এবং একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

হাইসামী বলেছেন: আবু ইয়ালা এটি বর্ণনা করেছেন, এর বর্ণনাকারী সূত্রে আযলাহ আল-কিন্দী রয়েছেন; ইবনে মাঈন ও অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, আর নাসাঈ ও অন্যান্যরা দুর্বল বলেছেন। "মাজমাউয যাওয়ায়েদ" ৬/২০।

(৪) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে সে তুচ্ছ হয়ে পড়েছিল, তাই তারা তাকে বালকদের হাতে তুলে দিল। তারা তাকে মক্কার উপত্যকাগুলোতে নিয়ে ঘুরত আর সে বলত: এক, এক। হাদীসটি সহীহ, ইবনে মাজাহ এটি মুকাদ্দিমায় বর্ণনা করেছেন, সালমান, আবু যর ও মিকদাদের মর্যাদা অনুচ্ছেদ ১/৫৩ (১৫০), ইবনে হিব্বান ৯/১০৭ (৭০৪১), এবং হাকেম ৩/২৮৪ এবং বলেছেন: এর সনদ সহীহ, তবে তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি উদ্ধৃত করেননি, আর যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।=
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بحيث كانت أوَّلَ قتيلٍ في الإسلام(1)، وضَربَ سعدُ بنُ أبي وقَّاصٍ رجلًا من المشركين -ممَّن آذاه هو ومَنْ كان يُصلِّي معه بشِعْبٍ من شِعاب مكَّة، وعابَ صنيعَهم- بِلَحْي(2) بعيرٍ فشجَّه، فكانَ أوَّلَ دمٍ أُهريق في الإسلام(3) - إلى غيرِ هذا من شديدِ الأذى لأصحابه -في الهجرة إلى الحبشة عند ملكِها أصحمةَ النَّجاشيِّ(4)، فهاجروا، وذلك في رجبٍ سنةَ خمسٍ، فكانتْ أوَّلَ هجرةٍ في الإسلام(5)، فلمَّا علمتْ قريشٌ باستقرارهم فيها، وأمنِهم عنده، أرسلوا إليه عمرَوَ بنَ العاص وعبدَ اللّه بنَ أبي ربيعة ليردَّهم إلى قومهم، فأبى ورجعا خائبين(6)؛ مع كونه لم يكن حينئذٍ مسلمًا،

--------------------------------------------

= وأمَّا عتقه لبلال فقال عمر رضي الله عنه: أبو بكر سيِّدُنا وأعتق سيِّدَنا. يعني بلالًا. أخرجه البخاري في كتاب المناقب، باب: مناقب بلال بن رباح مولى أبي بكر رضي الله عنه (3754).

(1) حسن لغيره. أخرجه البيهقي في "دلائل النبوة" 2/ 282 عن مجاهد مرسلًا، وابن عبد البر في "الاستيعاب" 4/ 331، عن عبد اللّه بن مسعود رضي الله عنه، وفي سنده ابنُ لهيعة، وقد ضُعِّف.

(2) اللَّحْي: بفتح اللَّام: مَنْبت اللِّحية من الإنسان وغيره. "اللسان": لحى، و "النهاية" 4/ 243. فالمراد به العَظمُ الواقعُ في ذلك المكان.

(3) "سيرة ابن هشام" 1/ 238، و "أسد الغابة" 2/ 367، وانظر "الإصابة" 2/ 33.

(4) ويقال: مصحمة، ومعناه في العربية: عطية، والنجاشيُّ لقب لملوك الحبشة، مثل كسرى وقيصر. "مغازي ابن إسحاق" ص: 251، و "أسد الغابة" 1/ 119 - 120.

(5) صحيح. أخرجه الحاكم 2/ 309 وصحَّحه، ووافقه الذَّهبيُّ، والبيهقي في "دلائل النبوة" 2/ 299 وقال: إسناده صحيح.

(6) صحيح. أخرجه أحمد 5/ 29.

قال الهيثمي: أخرجه أحمد ورجاله رجال الصحيح غير ابن إسحاق وقد صرّح بالسماع. "مجمع الزوائد" 6/ 27.
যাতে তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ(১)। আর সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস মুশরিকদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে—যে তাকে এবং যারা তার সাথে মক্কার একটি উপত্যকায় সালাত আদায় করছিলেন তাদের কষ্ট দিয়েছিল এবং তাদের এই কাজের সমালোচনা করেছিল—উটের চোয়ালের হাড়(২) দিয়ে আঘাত করে তার মাথা ফাটিয়ে দেন। ফলে এটিই ছিল ইসলামের প্রথম রক্তপাত(৩)—তার সঙ্গীদের ওপর এ ধরনের আরও অনেক কঠোর নির্যাতনের ধারাবাহিকতায়—আবিসিনিয়ার রাজা আসহামাহ আন-নাজাশির(৪) নিকট হিজরত পর্যন্ত। অতঃপর তারা হিজরত করলেন; আর তা ছিল (নবুওয়াতের) পঞ্চম বর্ষের রজব মাসে। ফলে এটিই ছিল ইসলামের প্রথম হিজরত(৫)। যখন কুরাইশরা সেখানে তাদের স্থিতিশীলতা এবং তার নিকট তাদের নিরাপত্তার কথা জানতে পারল, তখন তারা আমর ইবনুল আস এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাবিআকে তার নিকট পাঠাল যেন তিনি তাদের নিজ কওমের কাছে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন এবং তারা উভয়ে ব্যর্থ মনোরথে ফিরে এল(৬); যদিও তিনি তখনো মুসলিম ছিলেন না।

--------------------------------------------

= আর বিলালকে তার মুক্ত করার ব্যাপারে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আবু বকর আমাদের নেতা এবং তিনি আমাদের নেতাকে—অর্থাৎ বিলালকে—মুক্ত করেছেন। ইমাম বুখারী এটি কিতাবুল মানাকিব, পরিচ্ছেদ: আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুক্তদাস বিলাল ইবনে রাবাহর মর্যাদা-এ বর্ণনা করেছেন (৩৭৫৪)।

(১) হাসান লি-গাইরিহি। বায়হাকী ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ ২/২৮২-এ মুজাহিদ থেকে মুরসাল হিসেবে এবং ইবনে আব্দুল বার ‘আল-ইসতিয়াব’ ৪/৩৩১-এ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন, যাকে দুর্বল বলা হয়েছে।

(২) আল-লাহ্য়ু: ‘লাম’ বর্ণে ফাতহাহ যোগে: মানুষ ও অন্য প্রাণীর দাড়ি গজানোর স্থান। ‘আল-লিসান’: লাহ্য়া এবং ‘আন-নিহায়াহ’ ৪/২৪৩। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই স্থানে অবস্থিত হাড়টি।

(৩) ‘সীরাত ইবনে হিশাম’ ১/২৩৮, এবং ‘আসাদুল গাবাহ’ ২/৩৬৭, আরও দেখুন ‘আল-ইসাবাহ’ ২/৩৩।

(৪) তাকে মাসহামাহ-ও বলা হয়, আরবি ভাষায় এর অর্থ হলো: আতিয়্যাহ (উপহার)। আর নাজাশী হলো আবিসিনিয়ার রাজাদের উপাধি, যেমন কিসরা ও কায়সার। ‘মাগাযী ইবনে ইসহাক’ পৃষ্ঠা: ২৫১ এবং ‘আসাদুল গাবাহ’ ১/১১৯-১২০।

(৫) সহীহ। আল-হাকিম ২/৩০৯ এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন এবং আয-যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর বায়হাকী ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ ২/২৯৯-এ বলেছেন: এর সনদ সহীহ।

(৬) সহীহ। আহমদ ৫/২৯ এটি বর্ণনা করেছেন।

আল-হাইতামী বলেছেন: আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, ইবনে ইসহাক ব্যতীত; তবে তিনি সরাসরি শোনার কথা (সামা') স্পষ্ট করেছেন। ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’ ৬/২৭।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
إنما أسلم في سنة تسعٍ قُبيلَ موته(1)، وصلىَّ عليه النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم(2).

ولم يلبث أن رجعَ المهاجرون، حين قيل لهم: إنَّ أهل مكَّة أسلموا، فلم يجدوا لذلك صِحَّةً، فكان بعضُهم في الجِوار، وبعضُهم مخُتفيًا، وبعضُهم لم يدخل مكَّة(3).

ثمَّ هاجر المسلمون الثانية(4) إلى الحبشة، وأقاموا عند النَّجاشي على أحسن حال، وهم زيادةٌ على مئةٍ مِن الرِّجال والنِّساء، وفشَا الإسلامُ في القبائل، واجتمع قريشٌ، وائتمروا أن يكتبوا كتابًا يتعاقدون فيه على بني هاشم وبني المطَّلبِ: أن لا يَنْكِحوا إليهم ولا يُنكِحوهم، ولا يبيعوا منهم شيئًا، ولا يبتاعوا منهم. وكتبوه في صحيفةٍ، وعلَّقوها في جوف الكعبة هلال المحرَّمِ سنَةَ سبع، فانحاز الهاشميون -غيرَ أبي لهب- والمُطَّلبيون إلى أبي طالب، ودخلوا معه في شِعْبِه، فأقاموا على ذلك سنين حتى جَهِدوا، وكان لا يصل إليهم شيءٌ إلا سِرًّا، إلى أن أعلمَ اللّه عز وجل رسولَه صلى الله عليه وسلم: "أنَّ الأَرَضَةَ أكلت ما كانَ فيها من جَورٍ وَظلمٍ، ولم يبقَ منها إلا ذكرُ اللّه سبحانه" فوجد ذلك كذلك وشَلَّت يد كاتبها، ففرَّج اللّه عنهم، وخرجوا من شِعبهم، وذلك في سنة

--------------------------------------------

(1) قال ابنُ سيِّد الناس: فلمَّا كان شهرُ ربيع الأوَّل وقبل المحرَّم سنة سبع من هجرة رسول اللّه صلى الله عليه وسلم إلى المدينة كتب صلى الله عليه وسلم إلى النجاشي كتابًا يدعوه إلى الإسلام، وبعث به مع عمرو بن أمية الضمري، فلمَّا قرئ عليه الكتاب أسلم، وقال: لو قدرتُ أن آتيه لأتيته.

"عيون الأثر" 1/ 119، 2، 358.

(2) أخرجه البخاري في كتاب مناقب الأنصار، باب: موت النجاشي (3878)، ومسلم في كتاب الجنائز، باب في التكبير على الجنازة 2/ 657 (66) كلاهما من حديث جابر رضي الله عنه.

(3) رجوع مهاجري الحبشة ذكره ابن إسحاق في مغازيه بغير سند كما في "سيرة ابن هشام" 2/ 12.

(4) الأَرَضَةُ: دُويبَّة. "القاموس": أرض.
তিনি নবম হিজরি সনে তাঁর মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন(১), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জানাযার নামাজ পড়েছিলেন(২)।

অল্প সময় অতিবাহিত হতেই মুহাজিরগণ ফিরে আসলেন যখন তাঁদের বলা হয়েছিল যে, মক্কাবাসী ইসলাম গ্রহণ করেছে। কিন্তু তাঁরা এর কোনো সত্যতা খুঁজে পেলেন না। ফলে তাঁদের কেউ কেউ কারো আশ্রয়ে থাকলেন, কেউ আত্মগোপন করে থাকলেন এবং কেউ মক্কায় প্রবেশই করেননি(৩)।

অতঃপর মুসলিমগণ দ্বিতীয়বার(৪) হাবশায় হিজরত করলেন এবং নাজ্জাশীর নিকট অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থায় অবস্থান করলেন। তাঁরা সংখ্যায় নারী-পুরুষ মিলিয়ে একশোরও বেশি ছিলেন। ইসলাম বিভিন্ন গোত্রে ছড়িয়ে পড়ল। তখন কুরাইশরা একত্রিত হলো এবং বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের বিরুদ্ধে একটি চুক্তিপত্র লেখার সিদ্ধান্ত নিল যে, তারা তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না, তাদের কাছে কিছু বিক্রি করবে না এবং তাদের থেকে কিছু কিনবে না। তারা এটি একটি পত্রে লিখে সপ্তম হিজরির মহররম মাসের নতুন চাঁদের সময় কাবার ভেতরে ঝুলিয়ে দিল। তখন হাশিমীগণ—আবু লাহাব ব্যতীত—এবং মুত্তালিবীগণ আবু তালিবের দিকে ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁর সাথে তাঁর গিরিসংকটে (শি’ব-এ আবু তালিব) প্রবেশ করলেন। সেখানে তাঁরা কয়েক বছর অতিবাহিত করলেন এমনকি চরম কষ্টের সম্মুখীন হলেন। কোনো কিছুই গোপনে ছাড়া তাঁদের কাছে পৌঁছাত না। পরিশেষে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালেন: "উইপোকা সেই পত্রে থাকা সমস্ত জুলুম ও অবিচার খেয়ে ফেলেছে এবং সেখানে শুধুমাত্র আল্লাহর জিকির (নাম) ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।" তাঁরা তা তেমনই পেলেন এবং পত্রটির লেখকের হাত অবশ হয়ে গেল। অতঃপর আল্লাহ তাঁদের কষ্ট লাঘব করলেন এবং তাঁরা গিরিসংকট থেকে বেরিয়ে আসলেন। আর তা ছিল (অমুক) সনে...

--------------------------------------------

(১) ইবনে সাইয়্যিদুন নাস বলেন: যখন রবিউল আউয়াল মাস ছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনায় হিজরতের সপ্তম বছরের মহররম মাসের আগে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাশীর নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে একটি পত্র লিখেছিলেন এবং আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দুমারী রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে তা পাঠিয়েছিলেন। যখন তাঁর সামনে পত্রটি পাঠ করা হলো, তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং বললেন: যদি আমি তাঁর কাছে যেতে সক্ষম হতাম তবে অবশ্যই যেতাম।

"উয়ুনুল আসার" ১/ ১১৯, ২/ ৩৫৮।

(২) এটি ইমাম বুখারি 'মানাকিবুল আনসার' অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: নাজ্জাশীর মৃত্যু (৩৮৭৮) এবং মুসলিম 'জানাজা' অধ্যায়ে, পরিচ্ছেদ: জানাজায় তাকবির বলা ২/ ৬৫৭ (৬৬) বর্ণনা করেছেন। উভয়েই জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) হাবশার মুহাজিরদের ফিরে আসার কথা ইবনে ইসহাক তাঁর 'মাগাজি' গ্রন্থে কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন, যেমনটি 'সিরাতে ইবনে হিশাম' ২/ ১২-তে রয়েছে।

(৪) আল-আরাযাহ (الأَرَضَةُ): একটি ক্ষুদ্র প্রাণী (উইপোকা)। "আল-কামুস": আরয।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
عشر(1)، وما كان أسرعَ من موتِ أبي طالبٍ فيها(2)، ثمَّ بعده -بثلاثة أيَّامٍ- أمِّ المؤمنين خديجةَ رضي الله عنها(3)، فنالت قريشٌ من النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم ما لم تكن تناله في حياة أبي طالب(4)، بحيثُ كان صلى الله عليه وسلم يُسمِّي ذاك العامَ عامَ الحزن.

وبعد ثلاثة أشهرٍ من وفاة خديجة، خرج، ومعه زيدُ بنُ حارثةَ إلى الطائف، فلم يجيبوه، بل أغروا به سفهاءهم(5)، فرجعَ بزيدٍ لمكَّة، فلمَّا نزل نخلَة(6) قام يُصلِّي من الليل، فَصُرِفَ إليه نفرٌ من جنِّ نَصِيبين(7)، فاستمعوا القرآن وأسلموا، وأقام بنخلةَ

--------------------------------------------

(1) وردت قصة المقاطعة مختصرة في "صحيح البخاري" في كتاب الحج، باب: نزول النبي صلى الله عليه وسلم مكة (1590) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

والقصة بتفصيلاتها التي ذكرها المصنف فيها ضعف، أخرجها عروة بن الزبير في "مغازيه" ص: 114 موقوفة عليه، وفي سنده عبد اللّه بن لهيعة، وهو صدوق اختلط كما في "التقريب" ص: 538.

قال الحافظ ابن حجر: ولما لم يثبت عند البخاري شيء من هذه القصة اكتفى بإيراد حديث أبي هريرة؛ لأن فيه دلالة على أصل القصة؛ لأنَّ الذي أورده أهل المغازي من ذلك كالشرح لقوله في الحديث "تقاسموا على الكفر". "فتح الباري" 7/ 193.

(2) وفاة أبي طالب، وعرض رسول اللّه صلى الله عليه وسلم عليه الإسلام، أخرجها البخاري في كتاب مناقب الأنصار، باب: قصة أبي طالب (3884)، ومسلم في كتاب الإيمان، باب: صحَّة إسلام مَن حضره الموت 1/ 54 (39).

(3) أخرجه البخاري في كتاب مناقب الأنصار، باب: تزويج النبي صلى الله عليه وسلم عائشة وقدومها المدينة (3894).

(4) "الدرر"، ص: 35، و "زاد المعاد" 3/ 25.

(5) أخرجه ابن إسحاق كما في "سيرة ابن هشام" 2/ 47 عن محمد بن كعب القرظي مرسلًا.

وأخرجه الطبراني عن عبد اللّه بن جعفر. وقال الهيثمي: وأخرجه الطبراني، وفيه ابنُ إسحاق وهو مدلِس ثقة، وبقية رجاله ثقات. "مجمع الزوائد" 6/ 35.

(6) نَخلةُ: وادٍ فحل من أودية الحجاز على قرابة 43 كيلًا من مكة في الشمال الشرقي منها.

"معجم ما استعجم" 4/ 1304، و"المعالم الأثيرة" ص: 287.

(7) نَصيبين: بفتح أوله وكسر ثانيه، بلدةٌ تقع على الحدود بين تركيا وسوريا. "معجم ما استعجم" 4/ 1310، و"المعالم الأثيرة" ص: 288.
দশম(১) [বছর], আর তাতে আবু তালিবের মৃত্যু কতই না দ্রুত ছিল(২), এরপর—তিন দিন পর—উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ইন্তেকাল করেন(৩)। ফলে কুরাইশরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ পেল যা আবু তালিবের জীবদ্দশায় তারা করতে পারত না(৪); এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই বছরটিকে 'আমুল হুযন' (দুঃখের বছর) হিসেবে নামকরণ করেছিলেন।

খাদিজার ইন্তেকালের তিন মাস পর, তিনি এবং তাঁর সাথে যায়েদ ইবনে হারিসা তায়েফের উদ্দেশ্যে বের হলেন। কিন্তু তারা তাঁর আহবানে সাড়া দিল না, বরং তাদের মধ্যকার নির্বোধদের তাঁর পেছনে লেলিয়ে দিল(٥)। অতঃপর তিনি যায়েদকে সাথে নিয়ে মক্কায় ফিরে আসলেন। যখন তিনি নাখলা নামক স্থানে অবতরণ করলেন(৬), তখন তিনি রাতে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। তখন নাসীবীনের একদল জিন তাঁর দিকে ফিরে আসল(৭), তারা কুরআন শ্রবণ করল এবং ইসলাম গ্রহণ করল। আর তিনি নাখলায় অবস্থান করলেন...

--------------------------------------------

(১) বয়কট বা অবরোধের কাহিনীটি সংক্ষেপে 'সহীহ বুখারী'র হজ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মক্কায় অবতরণ (১৫৯০)-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে।

এবং লেখক যে বিস্তারিত কাহিনী উল্লেখ করেছেন তাতে দুর্বলতা রয়েছে; উরওয়াহ ইবনে যুবাইর তাঁর 'মাগাযী' (পৃ. ১১৪)-তে এটি 'মওকুফ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে লাহীয়াহ রয়েছেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাঁর স্মৃতিশক্তি এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল, যেমনটি 'তাকরীব' (পৃ. ৫৩৮)-এ বলা হয়েছে।

হাফেয ইবনে হাজার বলেন: যখন বুখারীর নিকট এই কাহিনীর বিস্তারিত কিছু সাব্যস্ত হয়নি, তখন তিনি আবু হুরায়রার হাদীসটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন; কারণ এতে মূল ঘটনার ইঙ্গিত রয়েছে। কেননা মাগাযী রচয়িতাগণ যা উল্লেখ করেছেন তা হাদীসের এই উক্তি "তারা কুফরীর ওপর অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিল" এর ব্যাখ্যা স্বরূপ। "ফাতহুল বারী" ৭/১৯৩।

(২) আবু তালিবের মৃত্যু এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া; বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন 'আনসারদের মর্যাদা' অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: আবু তালিবের কাহিনী (৩৮৮৪)। এবং মুসলিম 'ঈমান' অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মৃত্যু উপস্থিত ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণের বিশুদ্ধতা ১/৫৪ (৩৯)।

(৩) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন 'আনসারদের মর্যাদা' অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আয়েশাকে বিবাহ এবং মদিনায় আগমন (৩৮৯৪)।

(৪) 'আদ-দুরার', পৃ. ৩৫ এবং 'যাদুল মা'আদ' ৩/২৫।

(৫) ইবনে ইসহাক এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'সীরাতে ইবনে হিশাম' ২/৪৭-এ মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযী থেকে 'মুরসাল' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

তাবারানী এটি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন। হাইসামী বলেন: তাবারানী এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে ইবনে ইসহাক রয়েছেন, তিনি 'মুদাল্লিস' তবে নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। "মাজমাউয যাওয়াইদ" ৬/৩৫।

(৬) নাখলা: হিজাযের উপত্যকাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি বড় উপত্যকা, যা মক্কার উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

"মু'জামু মা ইস্তা'জাম" ৪/১৩০৪ এবং "আল-মা'আলিমুল আসীরা" পৃ. ২৮৭।

(৭) নাসীবীন: নুন বর্ণে ফাতহা এবং সাদ বর্ণে কাসরা সহকারে; তুরস্ক ও সিরিয়া সীমান্তের মাঝে অবস্থিত একটি শহর। "মু'জামু মা ইস্তা'জাম" ৪/১৩১০ এবং "আল-মা'আলিমুল আসীরা" পৃ. ২৮৮।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أيامًا(1)، وقال له زيدٌ: كيفَ تدخلُ مكَّةَ وقد أخرجوك؟ فقال: "إنَّ اللّه جاعلٌ لما ترى فَرَجًا ومَخرجًا، وإنَّ اللّه ناصر دينَه، ومُظهر نبيَّه".

ثمَّ انتهى إلى حِراءٍ حتى دخلَها في جوار مُطعِم بنِ عَدِيٍّ(2)، فقصد الرُّكنَ فاستلمه، وصلَّى ركعتين، وانصرف إلى بيته.

فلمَّا كان ليلةُ السَّبت -لسبعَ عشرَة ليلةً خلَتْ من رمضان، وقبل الهجرة بثمانية عشر شهرًا- أتاه جبريلُ وميكائيلُ عليهما السلام، وهو نائم في مكَّةَ، فأُسْرِيَ به من زمزمَ إلى بيت المقدس، بعد أن شُقَّ صدرُه الشَّريفُ وحُشِيَ إيمانًا.

ثمَّ عُرِجَ(3) به إلى السَّماء السَّابعة، وفُرضت الصَّلواتُ الخمس، ورأى ربَّه عز وجل بعينِ(4) رأسه صلى الله عليه وسلم، فلمَّا أصبحَ، وأخبر قريشًا بذلك كذَّبوه(5)، وارتدَّ جماعةٌ(6)،

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في التفسير، باب: سورة: قل أوحي (4921)، ومسلم في الصلاة، باب: الجهر بالقراءة في الصبح 1/ 331 (149) عن ابن عباس.

(2) مات ولم يُسلم.

(3) قصة الإسراء والمعراج أخرجها البخاريُّ في مناقب الأنصار، باب: في المعراج (3887)، ومسلم في كتاب الإيمان، باب: الإسراء برسول اللّه صلى الله عليه وسلم إلى السماوات 1/ 145 (259) عن أنس بن مالك رضي الله عنه.

(4) عن أبي ذرٍّ رضي الله عنه قال: سألتُ رسول اللّه صلى الله عليه وسلم هل رأيتَ ربَّك؟ قال: نورٌ أنِّى أراه. أخرجه مسلم في الإيمان، بابٌ في قوله عليه: نور أنى أراه 1/ 161 (291). وقال ابنُ أبي العز الحنفي: الصحيح أنه صلى الله عليه وسلم رآه بقلبه ولم يره بعينه. "شرح العقيدة الطحاوية" ص: 248.

(5) عن جابر بن عبد اللّه رضي الله عنه أنه سمع رسول اللّه صلى الله عليه وسلم يقول: "لمَّا كذَّبتني قريشٌ قمتُ في الحِجر، فجلا اللّه لي بيتَ المقدس، فطفقتُ أخبرهم عن آياته وأنا أنظر إليه". أخرجه البخاري في مناقب الأنصار، باب: حديث الإسراء (3886).

(6) عن عائشة رضي الله عنها قالت: لما أُسري بالنَّبي صلى الله عليه وسلم أصبح يحدِّثُ النَّاس بذلك، فارتدَّ ناسٌ ممن كانوا اَمنوا به وصدَّقوه. أخرجه البيهقي في "دلائل النبوة" 2/ 360 بسند ضعيف.
বেশ কিছু দিন(১), এবং যায়েদ তাকে বললেন: আপনি কীভাবে মক্কায় প্রবেশ করবেন অথচ তারা আপনাকে বের করে দিয়েছে? তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তুমি যা দেখছো তা থেকে নিষ্কৃতি ও বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করবেন এবং তাঁর নবীকে বিজয়ী করবেন।”

তারপর তিনি হেরা পর্যন্ত পৌঁছালেন, অবশেষে মুতইম বিন আদীর(২) আশ্রয়ে সেখানে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি রুকনের (হাজরে আসওয়াদ) দিকে অগ্রসর হলেন এবং তা স্পর্শ করলেন, দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং নিজ ঘরে ফিরে গেলেন।

অতঃপর যখন শনিবার রাত হলো—রমজানের সতেরো রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর এবং হিজরতের আঠারো মাস পূর্বে—জিবরাঈল ও মিকাইল (আলাইহিমাস সালাম) তাঁর নিকট আসলেন, যখন তিনি মক্কায় ঘুমন্ত ছিলেন। অতঃপর তাঁর বক্ষ মোবারক বিদীর্ণ করার ও ঈমান দ্বারা পূর্ণ করার পর তাঁকে জমজম থেকে বায়তুল মাকদিসে নৈশভ্রমণ (ইসরা) করানো হলো।

এরপর তাঁকে সপ্তম আসমানে আরোহণ(৩) করানো হলো এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হলো। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রব আজ্জা ওয়া জাল্লা-কে চর্মচক্ষে(৪) দেখলেন। যখন সকাল হলো এবং তিনি কুরাইশদের এ সংবাদ দিলেন, তারা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল(৫) এবং একদল লোক ধর্মত্যাগী হয়ে গেল(৬)।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাফসির অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: সূরা কুল ঊহিয়া (৪৯২১), এবং মুসলিম সালাত অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: ফজরের কিরাত উচ্চস্বরে পড়া ১/ ৩৩১ (১৪৯) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করেননি।

(৩) ইসরা ও মেরাজের ঘটনা বুখারি মানাকিবুল আনসার অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: মেরাজ প্রসঙ্গে (৩৮৮৭), এবং মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আসমানসমূহে নৈশভ্রমণ করানো ১/ ১৪৫ (২৫৯) আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৪) আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আপনার রবকে দেখেছেন? তিনি বললেন: “তিনি নূর, আমি তাঁকে কীভাবে দেখব!” এটি মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: তাঁর বাণী ‘তিনি নূর, আমি তাঁকে কীভাবে দেখব’ ১/ ১৬১ (২৯১)-এ বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আবিল ইয আল-হানাফি বলেছেন: সঠিক মত হলো তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে অন্তরের মাধ্যমে দেখেছেন, চর্মচক্ষে দেখেননি। “শরহুল আকিদাহ আত-তহবিয়্যাহ”, পৃষ্ঠা: ২৪৮।

(৫) জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: “যখন কুরাইশরা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, তখন আমি হাতিমে দাঁড়ালাম, অতঃপর আল্লাহ আমার সামনে বায়তুল মাকদিসকে উন্মোচিত করে দিলেন। ফলে আমি তার নিদর্শনগুলো দেখে দেখে তাদেরকে সংবাদ দিতে লাগলাম।” এটি বুখারি মানাকিবুল আনসার অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: ইসরা-র হাদিস (৩৮৮৬)-এ বর্ণনা করেছেন।

(৬) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নৈশভ্রমণ করানো হলো, সকালে তিনি মানুষের কাছে তা বর্ণনা করলেন। ফলে যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছিল ও তাঁকে বিশ্বাস করেছিল, তাদের মধ্য থেকে কিছু লোক ধর্মত্যাগী হয়ে গেল। এটি বায়হাকি “দালাইলুন নুবুওয়াহ” ২/ ৩৬০-এ দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুল লতিফাহ ফী তারিখিল মাদিনাহ আশ-শারিফাহ - মারকাযু দিরাসাতিল মাদিনাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وسألوه أَمارةً، فأعلمهم بها(1)، وأتاه جبريل في صبيحتها، فأراه أوقات الصَّلوات(2).

كلُّ ذلك وهو يدعو النَّاسَ إلى الإسلام نحو عشرِ سنين، فيوافي الموسم كلَّ عامٍ، ويَتتبَّع الحاجَّ في منازلهم بعُكاظ ومَجنَّة وذي المجاز(3)، يدعوهم إلى أن يمنعوه حتى يبلِّغَ رسالاتِ ربِّه، فلا يجدُ أحدًا ينصرُه ولا يجيبه، حتى إنَّه ليسألُ عن القبائل ومنازلهِا قبيلةً قبيلةً، فيردُّون عليه أقبحَ ردٍّ، ويؤذونه ويقولون: قومُكَ أعلمُ بكَ(4)، إلى أنْ أرادَ اللّه سبحانه إظهارَ دينِه، فساقَه إلى هذا الحيِّ المُلقَّبين في الإسلام (بالأنصار) فدعاهم إلى اللّه عز وجل، وقرأ عليهم القرآن، وأسلم مَنْ شاء اللّه منهم، ووعدوه بالمجيء -هم ومن معهم- إلى العام المقبل، ثمَّ حضروا إليه عنده(5)، فأسلموا وبايعوا على بيعة النِّساء(6) وغيرِ ذلك، مِن غير أن يُفرضَ يومئذ

--------------------------------------------

(1) عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا وفيه: "وقريشٌ تسألني عن مسراي؟ فسألتني عن أشياءَ من بيت المقدس لم أثبتها". أخرجه مسلم في الإيمان، باب: ذكر المسيح 1/ 156 - 157 (278).

(2) أخرجه مسلم في كتاب المساجد، باب: أوقات الصلوات الخمس 1/ 425 (166) من حديث أبي مسعود رضي الله عنه.

(3) عُكاظ، بضمِّ أوَّله وفتح ثانيه، وبالظاء المعجمة، مكانٌ يقع شمال الطائف. ومَجنَّة، بفتح أوله وثانيه، بعده نون مشدَّدة: على أميال يسيرة بمكة، بناحية مَرِّ الظهران. وذو المجاز، بالفتح، وآخرُه زاي. هذه الأماكن الثلاثة كانت أسواقًا لمكة في الجاهلية. "معجم ما استعجم" 3/ 959، 1187، و "المعالم الأثيرة" ص: 199، 239، 240.

(4) "سبل الهدى" 2/ 451.

(5) كانوا اثني عشر رجلًا. أخرجه ابن إسحاق كما في "سيرة ابن هشام" 2/ 57 بإسناد صحيح.

(6) أخرجه البخاري في كتاب الإيمان، بابٌ (18)، ومسلم في كتاب الحدود، باب: الحدود كفارات لأهلها 3/ 1333 (41).
তারা তাঁর কাছে একটি নিদর্শন চাইল, তখন তিনি তাদের তা জানালেন(১)। আর সেই সকালেই জিবরীল তাঁর কাছে এলেন এবং তাঁকে নামাযের ওয়াক্তসমূহ দেখালেন(২)।

এই সব কিছু চলাকালীন তিনি প্রায় দশ বছর যাবত মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে থাকলেন। তিনি প্রতি বছর (হজ্জের) মৌসুমে উপস্থিত হতেন এবং উকায, মাজান্নাহ ও যুল মাজায-এর তাঁবুগুলোতে হাজীদের অনুসরণ করতেন(৩)। তিনি তাদের দাওয়াত দিতেন যেন তারা তাঁকে সুরক্ষা প্রদান করে যাতে তিনি তাঁর রবের বাণী পৌঁছে দিতে পারেন; কিন্তু তিনি এমন কাউকে পাচ্ছিলেন না যে তাঁকে সাহায্য করবে কিংবা তাঁর আহবানে সাড়া দেবে। এমনকি তিনি গোত্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কে একটি একটি করে গোত্র ধরে জিজ্ঞাসা করতেন, কিন্তু তারা তাঁকে অত্যন্ত জঘন্যভাবে প্রত্যাখ্যান করত, তাঁকে কষ্ট দিত এবং বলত: "তোমার সম্প্রদায়ই তোমার ব্যাপারে অধিক অবগত।"(৪) অবশেষে যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি তাঁকে এই গোত্রটির কাছে নিয়ে গেলেন যারা ইসলামে 'আনসার' নামে উপাধিপ্রাপ্ত। তিনি তাঁদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন এবং তাঁদের কাছে কুরআন পাঠ করলেন। তাঁদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাদের চাইলেন তারা ইসলাম গ্রহণ করলেন। তাঁরা এবং তাঁদের সাথে আরও যারা আছেন তারা আগামী বছর আসার প্রতিশ্রুতি দিলেন। অতঃপর তাঁরা তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন(৫) এবং ইসলাম গ্রহণ করে 'বাইয়াতে নিসা' (মহিলাদের বাইআত)(৬) ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর আনুগত্যের শপথ নিলেন, অথচ সেদিন পর্যন্ত (জিহাদ) ফরয করা হয়নি।

--------------------------------------------

(১) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, তাতে রয়েছে: "কুরাইশরা আমাকে আমার ইসরা (নৈশভ্রমণ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিল। তারা আমাকে বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে এমন কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল যা আমি মুখস্থ রাখিনি।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ঈমান অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: ঈসা (আ.)-এর আলোচনা ১/১৫৬ - ১৫৭ (২৭৮)।

(২) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন মাসজিদসমূহ অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময়সমূহ ১/৪২৫ (১৬৬), আবু মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে।

(৩) উকায: প্রথম অক্ষরে পেশ এবং দ্বিতীয় অক্ষরে যবর সহ, য-যুক্ত; এটি তায়েফের উত্তরে অবস্থিত একটি স্থান। মাজান্নাহ: প্রথম ও দ্বিতীয় অক্ষরে যবর এবং এরপর তাশদীদযুক্ত নূন সহ; এটি মক্কা থেকে কয়েক মাইল দূরে মাররুজ যাহরান এলাকায় অবস্থিত। যুল মাজায: যবর সহ এবং শেষে যা। জাহেলী যুগে এই তিনটি স্থান মক্কার বাজার ছিল। "মুজাম মা ইসতাজাম" ৩/৯৫৯, ১১৮৭ এবং "আল-মাআলিম আল-আছীরাহ" পৃষ্ঠা: ১৯৯, ২৩৯, ২৪০।

(৪) "সুবুলুল হুদা" ২/৪৫১।

(৫) তাঁরা ছিলেন বারো জন ব্যক্তি। ইবনে ইসহাক এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি "সীরাতে ইবনে হিশাম" ২/৫৭-এ সহীহ সনদে রয়েছে।

(৬) এটি বুখারী ঈমান অধ্যায়ে (১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ) এবং মুসলিম হুদুদ (দণ্ডবিধি) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: দণ্ডবিধি অপরাধীর জন্য কাফফারা স্বরূপ ৩/১৩৩৩ (৪১)।