القسم: كتب السنة
الكتاب: حلية الأولياء وطبقات الأصفياء
المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله الأصبهاني (ت 430 هـ)
الناشر: مطبعة السعادة - بجوار محافظة مصر
عام النشر: 1394 هـ - 1974 م
(ثم صورتها عدة دور)
عدد الأجزاء: 10
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 محرم 1433
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তবাকাতুল আসফিয়া
লেখক: আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানী (ওফাত ৪৩০ হিজরি)
প্রকাশক: মাতবাআতুস সাআদাহ - কায়রো গভর্নরেটের নিকটবর্তী, মিশর
প্রকাশকাল: ১৩৯৪ হিজরি - ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ
(পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে এটি পুনঃমুদ্রিত হয়েছে)
খণ্ড সংখ্যা: ১০
[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ মুহররম ১৪৩৩
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
আহমদ বিন আস-সিররি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-হাসান বিন আলাউইয়াহ আল-কাত্তান থেকে, তিনি ইসমাইল বিন ঈসা থেকে, তিনি ইসহাক বিন বিশর থেকে, তিনি জুবাইর থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে। এবং আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক বিন ইব্রাহিম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সাহল বিন আসকার থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আব্দুল কারিম থেকে, তিনি আব্দুস সামাদ বিন মাকিল থেকে, তিনি বলেন যে আমি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছি: যখন আল্লাহ তাআলা মূসা এবং তাঁর ভাই হারুন (আলাইহিমাস সালাম)-কে ফেরাউনের নিকট প্রেরণ করলেন, তখন তিনি বললেন: তার জাঁকজমক এবং তাকে যা ভোগ করতে দেওয়া হয়েছে তা যেন তোমাদের বিস্মিত না করে। তোমরা সেদিকে তোমাদের দৃষ্টি প্রসারিত করো না, কারণ তা পার্থিব জীবনের চাকচিক্য এবং বিলাসীদের সৌন্দর্য। আমি যদি চাইতাম যে তোমাদের দুনিয়ার এমন অলংকারে সজ্জিত করব যা দেখে ফেরাউন যখন সেদিকে তাকাত তখন সে বুঝতে পারত যে তোমাদের যা প্রদান করা হয়েছে তার মোকাবিলা করার সক্ষমতা তার নেই, তবে আমি অবশ্যই তা করতাম। কিন্তু আমি তোমাদের সে বিষয়ে অনাগ্রহী রেখেছি এবং তা তোমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি। আর আমি আমার ওলীদের (বন্ধুদের) সাথে এমনই করি। আর প্রাচীনকাল থেকেই আমি তাদের জন্য এটিই পছন্দ করেছি। নিশ্চয়ই আমি তাদের দুনিয়ার নেয়ামত ও স্বাচ্ছন্দ্য থেকে এমনভাবে সরিয়ে রাখি যেভাবে একজন দয়ালু রাখাল তার মেষপালকে ধ্বংসাত্মক চারণভূমি থেকে সরিয়ে রাখে। আর আমি তাদের দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ও জীবনযাপন থেকে দূরে রাখি যেভাবে একজন দয়ালু রাখাল তার উটকে চর্মরোগাক্রান্ত স্থানের বিশ্রামস্থল থেকে দূরে রাখে(২)। এটি আমার কাছে তাদের তুচ্ছ হওয়ার কারণে নয়, বরং যাতে তারা আমার পক্ষ থেকে তাদের সম্মান ও মর্যাদার অংশটি পরিপূর্ণ ও অটুটভাবে লাভ করতে পারে, যাকে দুনিয়া কোনো আঘাত করতে পারেনি এবং প্রবৃত্তি যাকে বিপথগামী করতে পারেনি। জেনে রেখো, বান্দাগণ দুনিয়া বিমুখতা (জুহদ) অপেক্ষা অধিক কার্যকর কোনো অলংকার দ্বারা আমার নিকট সজ্জিত হতে পারেনি। নিশ্চয়ই এটি মুত্তাকীদের অলংকার, তাদের ওপর এমন পোশাক থাকে যার মাধ্যমে তারা প্রশান্তি ও বিনয় দ্বারা পরিচিতি পায়। তাদের চেহারায় সেজদার চিহ্ন ফুটে থাকে। তারাই প্রকৃতপক্ষে আমার ওলী (বন্ধু), সত্যিই তারা আমার ওলী। সুতরাং তুমি যখন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের প্রতি বিনয়ী হয়ো এবং তাদের সামনে তোমার হৃদয় ও জিহ্বাকে নম্র রেখো। আর জেনে রেখো, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীকে অপমান করল বা
--------------------------------------------
আবুল হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মিকসাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্বাস বিন ইউসুফ আশ-শাকলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে আব্দুল বারী বলেছেন: আমি যুন-নুন আল-মিসরি (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বললাম: আমার কাছে আবদালদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: হে আব্দুল বারী, তুমি আমাকে অন্ধকারের নিবিড় ছায়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ, আমি অবশ্যই তা তোমার কাছে উন্মোচন করব। তারা এমন এক কওম যারা মহান আল্লাহর মহিমা সম্পর্কে অবগত হওয়ার কারণে তাদের প্রতিপালকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে অন্তর দিয়ে মহান আল্লাহকে স্মরণ করেন। তারা তাঁর সৃষ্টির ওপর মহান আল্লাহর প্রমাণ স্বরূপ। তিনি তাদেরকে তাঁর মহব্বতের প্রজ্জ্বলিত নূর দ্বারা আবৃত করেছেন, তাঁর সাথে মিলনের হেদায়েতের ঝাণ্ডা তাদের জন্য উড্ডীন করেছেন, তাঁর ইচ্ছাপূরণের জন্য বীরত্বপূর্ণ স্থানে তাদের অধিষ্ঠিত করেছেন, তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকতে তাদের ওপর ধৈর্য বর্ষণ করেছেন, তাঁর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের দেহগুলোকে পবিত্র করেছেন, তাঁর সহচরদের সুগন্ধি দ্বারা তাদের সুবাসিত করেছেন, তাঁর বন্ধুত্বের বুননে তৈরি পোশাক তাদের পরিহিত করেছেন এবং তাদের মস্তকে তাঁর সন্তুষ্টির মুকুট স্থাপন করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের অন্তরে অদৃশ্যের ভাণ্ডার গচ্ছিত রেখেছেন, ফলে সেই অন্তরগুলো তাঁর সাথে মিলনের নেশায় নিবিষ্ট। তাদের সকল চিন্তা তাঁর দিকেই ধাবিত, এবং তাদের চক্ষুগুলো অদৃশ্যের মাধ্যমে তাঁর দিকেই তাকিয়ে থাকে। তিনি তাদেরকে তাঁর নৈকট্যের দর্শনের দরজায় দাঁড় করিয়েছেন এবং তাঁর পরিচয় দানকারী চিকিৎসকদের আসনে তাদের বসিয়েছেন। অতঃপর তিনি বললেন: (আল্লাহ বলেন) যদি আমার অভাবী কোনো অসুস্থ ব্যক্তি তোমাদের কাছে আসে তবে তাকে ঔষধ দাও; কিংবা আমার বিরহকাতর কোনো রোগী আসে তবে তার চিকিৎসা করো; অথবা আমার ভয়ে ভীত কাউকে পাও তবে তাকে অভয় দাও; কিংবা আমার ব্যাপারে নির্ভয় কাউকে পাও তবে তাকে সতর্ক করো; অথবা আমার সাথে মিলনের আকাঙ্ক্ষী কাউকে পাও তবে তাকে মুবারকবাদ দাও; কিংবা আমার দিকে ভ্রমণকারী কাউকে পাও তবে তাকে পাথেয় দাও; অথবা আমার সাথে ব্যবসার ক্ষেত্রে ভীরু কাউকে পাও তবে তাকে উৎসাহিত করো; কিংবা আমার অনুগ্রহ থেকে হতাশ কাউকে পাও তবে তাকে প্রতিশ্রুতি দাও; অথবা আমার ইহসানের প্রত্যাশী কাউকে পাও তবে তাকে সুসংবাদ দাও; কিংবা আমার প্রতি সুধারণা পোষণকারী কাউকে পাও তবে তার সাথে প্রসন্নতা দেখাও; অথবা আমার কোনো মহব্বতকারীকে পাও তবে তার সাথে সর্বদা অবস্থান করো; কিংবা আমার মর্যাদাকে সম্মানকারী কাউকে পাও তবে তাকে সম্মান করো। অথবা যদি কেউ তোমাদের কাছে আমার পথ সম্পর্কে জানতে চায় তবে তাকে পথপ্রদর্শন করো; কিংবা কেউ সদ্ব্যবহার পাওয়ার পর দুর্ব্যবহার করলে তাকে মৃদু ভর্ৎসনা করো। আর যে তোমাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে তোমরাও তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখো; যে তোমাদের থেকে অনুপস্থিত থাকে তার খোঁজ নাও; কেউ যদি তোমাদের ওপর অপরাধ চাপিয়ে দেয় তবে তা সহ্য করো; যে ব্যক্তি আমার হকের ওয়াজিব পালনে অবহেলা করে তাকে বর্জন করো; কেউ কোনো ভুল করলে তাকে নসিহত করো; আর আমার বন্ধুদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাও।
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
মজলিসে উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি তাকে বললেন: হে আবুল ফায়দ, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, এই লোকগুলো কারা? তিনি বললেন: তোমার প্রতি আক্ষেপ! এরা এমন এক সম্প্রদায় যারা তাদের হাঁটুগুলোকে ললাটের বালিশ বানিয়েছে এবং মাটিকে তাদের পার্শ্বদেশের বিছানা করেছে। এরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের রক্ত-মাংসে কুরআন মিশে গেছে; এটি তাদেরকে স্ত্রীদের সংসর্গ থেকে বিমুখ করেছে এবং শেষ রাতের ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তারা কুরআনকে তাদের হৃদয়ের গভীরে ধারণ করেছে, ফলে তা বিদীর্ণ হয়েছে; তারা একে বক্ষের সাথে লেপ্টে নিয়েছে, ফলে তা প্রশস্ত হয়েছে। কুরআনের প্রভাবে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিদীর্ণ হয়েছে এবং তারা কঠোর সাধনা করেছে। তারা একে তাদের অন্ধকারের প্রদীপ, ঘুমের শয্যা, পথের দিশা এবং তাদের প্রমাণের সাফল্যের মাধ্যম বানিয়েছে। মানুষ যখন আনন্দিত হয় তারা তখন ব্যথিত থাকে, মানুষ যখন নিদ্রামগ্ন হয় তারা তখন বিনিদ্র রজনী কাটায়, মানুষ যখন আহার করে তারা তখন রোজা রাখে এবং মানুষ যখন নিরাপদ বোধ করে তারা তখন ভীত থাকে। তারা সর্বদা সতর্ক ও শঙ্কিত, কম্পিত ও অনুতপ্ত এবং সদাপ্রস্তুত; তারা সুযোগ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই দ্রুত আমল করে এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেয়। তারা যে শাস্তির ভয় করে তার ভয়াবহতা এবং যে সওয়াবের আশা রাখে তার গুরুত্বের কারণে তাদের নিকট কোনো বিশাল ত্যাগই তুচ্ছ হয়নি। তারা কুরআনের বিধানের ওপর চলেছে, একনিষ্ঠ আত্মত্যাগের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ হয়েছে এবং রহমানের নূরে আলোকিত হয়েছে। কুরআন খুব শীঘ্রই তাদের কাছে করা প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে, তাদের জন্য এর অঙ্গীকারগুলো রক্ষা করেছে, তাদেরকে সৌভাগ্যের স্থানে আসীন করেছে এবং এর ভয়াবহতা থেকে তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে। এর বদৌলতে তারা কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করেছে, জান্নাতের ডাগরচোখা হুরদের সান্নিধ্য পেয়েছে, ধ্বংসাত্মক পরিণতি থেকে নিরাপদ হয়েছে এবং অশুভ সমাপ্তি সম্পর্কে সতর্ক হয়েছে। কেননা তারা অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দুনিয়ার চাকচিক্য বর্জন করেছে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে পরকালের প্রতিদানের দিকে তাকিয়েছে। তারা নশ্বর জগতের বিনিময়ে অবিনশ্বর জগতকে ক্রয় করেছে। তাদের এই ব্যবসা কতই না চমৎকার! তারা উভয় জগতের কল্যাণ অর্জন করেছে, উভয় মঙ্গলের সমাবেশ ঘটিয়েছে এবং উভয় শ্রেষ্ঠত্বকে পূর্ণতা দিয়েছে। সামান্য কদিন ধৈর্যের বিনিময়ে তারা সর্বোত্তম মাকামে পৌঁছেছে। মহাপ্রলয়ের দিনের ভয়ে তারা অতি অল্পের ওপর সন্তুষ্ট থেকে দিনাতিপাত করেছে। তারা অবকাশ থাকতেই নেক কাজে দ্রুত ধাবিত হয়েছে এবং সময়ের পরিবর্তনের ভয়ে ত্বরান্বিত হয়েছে। তারা খেল-তামাশা ও বিলাসিতায় দিন কাটায়নি, বরং চিরস্থায়ী সৎকর্মের আশায় দুঃখ-কষ্টের সমুদ্রে অবগাহন করেছে। আল্লাহর কসম, ক্লান্তি তাদের শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং পরিশ্রম তাদের শরীরের বর্ণ বদলে দিয়েছে। তারা প্রজ্বলিত আগুনের কথা স্মরণ করেছে, তাই আমোদ-প্রমোদ ত্যাগ করে দ্রুত নেক কাজের দিকে ধাবিত হয়েছে। তারা সন্দেহ ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত। তারা যেন নির্বাক হয়েও সুবক্তা এবং দৃষ্টিহীন হয়েও চক্ষুষ্মান। কোনো বিশেষণই তাদের গুণের পূর্ণতা প্রকাশে সক্ষম নয়; তাদের অসিলায় বিপদ দূর হয় এবং তাদের কারণেই বরকত নাজিল হয়। তারা বাচনভঙ্গিতে ও স্বভাবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মিষ্ট এবং অঙ্গীকার রক্ষায় সবচেয়ে পূর্ণ...
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------