(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: -)
حلية الأولياء وطبقات الأصفياء - ط السعادة   (أبو نعيم الأصبهاني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: حلية الأولياء وطبقات الأصفياء

المؤلف: أبو نعيم أحمد بن عبد الله الأصبهاني (ت 430 هـ)

الناشر: مطبعة السعادة - بجوار محافظة مصر

عام النشر: 1394 هـ - 1974 م

(ثم صورتها عدة دور)

عدد الأجزاء: 10

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 محرم 1433

হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তবাকাতুল আসফিয়া - সাআদাহ সংস্করণ   (আবু নুআইম আল-আসবাহানী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তবাকাতুল আসফিয়া

লেখক: আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানী (ওফাত ৪৩০ হিজরি)

প্রকাশক: মাতবাআতুস সাআদাহ - কায়রো গভর্নরেটের নিকটবর্তী, মিশর

প্রকাশকাল: ১৩৯৪ হিজরি - ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ

(পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে এটি পুনঃমুদ্রিত হয়েছে)

খণ্ড সংখ্যা: ১০

[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ মুহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

قال الشيخ الامام الحافظ أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن اسحاق ابن موسى بن مهران الأصبهاني رحمه الله.

الحمد لله محدث الأكوان والأعيان، ومبدع الأركان والأزمان، ومنشئ الألباب والأبدان، ومنتخب الأحباب والخلان، مغور أسرار الأبرار بما أودعها من البراهين والعرفان ومكدر جنان الأشرار بما حرمهم من البصيرة والإيقان، المعبر عن معرفته المنطق واللسان، والمترجم عن براهينه الأكف والبنان، بالموافق للتنزيل والفرقان، والمطابق الدليل والبيان. فألزم الحجة بالقادة من المرسلين، وأبهج المنهج بالسادة من المحققين؛ الذين جعلهم خلفاء الأنبياء، وعرفاء الأصفياء. المقربين إلى الرتب الرفيعة، والمنزهين عن النسب الوضيعة، والمؤيدين بالمعرفة والتحقيق، والمقومين بالمتابعة والتصديق، معرفة تعقب لمعرفتهم‌‌(1) موافقة، وتوجب لحكم نفوسهم مفارقة، وتلزم لخدمة مشهودهم معانقة، وتحقق لشريعة رسولهم مرافقة‌‌(2)

والصلاة على من عنه بلغ وشرع، وبأمره قام وصدع، ولمتبعيه غرس وزرع، محمد المصطفى المصطنع. وعلى إخوانه‌‌(3) من النبيين والمرسلين، وعلى آله وصحابته المنتخبين وسلم.

أما بعد أحسن الله توفيقك فقد استعنت بالله عز وجل وأجبتك إلى ما ابتغيت، من جمع كتاب يتضمن أسامي جماعة وبعض أحاديثهم وكلامهم؛

--------------------------------------------

‌‌(1) ز: لمعروفهم.

‌‌(2) ز: موافقة

‌‌(3) ز: اخوته
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শায়খ, ইমাম, হাফেজ আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক ইবনে মুসা বিন মিহরান আল-আসফাহানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগত ও তার উপাদানসমূহের উদ্ভবকারী, বস্তুসমূহ ও সময়ের উদ্ভাবক, জ্ঞান ও দেহের স্রষ্টা এবং বন্ধু ও সুহৃদদের নির্বাচক। তিনি পুণ্যবানদের গোপন বিষয়সমূহকে তাঁর দানকৃত প্রমাণ ও মারেফাত (পরিচয়) দ্বারা সিক্ত করেছেন এবং পাপাচারীদের অন্তরসমূহকে অন্তর্দৃষ্টি ও দৃঢ় বিশ্বাস থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে কলুষিত করেছেন। যাঁর পরিচয় সম্পর্কে বাকশক্তি ও জিহ্বা ব্যক্ত করে, এবং যাঁর প্রমাণের অনুবাদক হলো হাত ও আঙুলসমূহ, যা নাযিলকৃত আসমানী কিতাব ও ফুরকানের (কুরআন) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দলিল ও বর্ণনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। অতঃপর তিনি রাসূলদের মধ্য থেকে নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে হুজ্জাত বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সত্য সন্ধানী মহান ব্যক্তিদের মাধ্যমে সঠিক পথকে উজ্জ্বল করেছেন; যাদেরকে তিনি নবীদের স্থলাভিষিক্ত এবং মনোনীতদের প্রধান করেছেন। উচ্চ মর্যাদার নিকটবর্তী, নীচ বংশীয় সম্পর্ক থেকে মুক্ত, মারেফাত ও তাহকিকের মাধ্যমে সমর্থিত এবং আনুগত্য ও সত্যায়ন দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। এমন এক মারেফাত, যা তাঁদের পরিচয়ের সাথে ‌‌(১) সামঞ্জস্য বিধান করে, তাঁদের নফসের শাসনের সাথে বিচ্ছেদ ঘটায়, তাঁদের মাশহুদের (যাঁর ইবাদত করা হয়) খিদমতে একনিষ্ঠতা বাধ্যতামূলক করে এবং তাঁদের রাসূলের শরীয়তের সাথে সঙ্গতি বজায় রাখাকে বাস্তবায়ন করে। ‌‌(২)

এবং দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁর মাধ্যমে (দীন) পৌঁছেছে ও প্রবর্তিত হয়েছে, যিনি তাঁর নির্দেশে দণ্ডায়মান হয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে প্রচার করেছেন, এবং তাঁর অনুসারীদের জন্য (পুণ্যের) চারা রোপণ ও শস্য বপন করেছেন; তিনি হলেন মুহাম্মদ আল-মুস্তফা (মনোনীত ও নির্মিত)। এবং তাঁর ভাইদের ওপর ‌‌(৩) যারা নবী ও রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও মনোনীত সাহাবীগণের ওপর এবং তাঁদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম তাওফীক দান করুন। আমি পরাক্রমশালী আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং আপনি যা চেয়েছিলেন সে অনুযায়ী একটি গ্রন্থ সংকলন করার বিষয়ে আপনার আহবানে সাড়া দিয়েছি, যাতে একদল ব্যক্তির নাম এবং তাঁদের বর্ণিত কিছু হাদীস ও বাণীর সংকলন রয়েছে;

--------------------------------------------

‌‌(১) জা: তাঁদের পরিচিতির জন্য।

‌‌(২) জা: সঙ্গতিপূর্ণ

‌‌(৩) জা: তাঁর ভ্রাতৃবৃন্দ
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
من أعلام المتحققين من المتصوفة وأئمتهم، وترتيب طبقاتهم من النساك ومحجتهم، من قرن الصحابة والتابعين وتابعيهم ومن بعدهم؛ ممن عرف الأدلة والحقائق، وباشر الأحوال والطرائق، وساكن الرياض والحدائق، وفارق العوارض والعلائق، وتبرأ من المتنطعين‌‌(1) والمتعمقين، ومن أهل الدعاوى من المتسوفين، ومن الكسالى والمتثبطين؛ المتشبهين بهم في اللباس والمقال، والمخالفين لهم في العقيدة والفعال.

وذلك لما بلغك من بسط لساننا ولسان أهل الفقه‌‌(2) والآثار في كل القطر والأمصار، في المنتسبين اليهم من الفسقة الفجار، والمباحية والحلولية الكفار، وليس ما حل بالكذبة من الوقيعة والإنكار، بقادح في منقبة البررة الأخيار، وواضع من درجة الصفوة الأبرار، بل في إظهار البراءة من الكذابين والنكير على الخونة الباطلين نزاهة للصادقين ورفعة للمتحققين.

ولو لم نكشف عن مخازي المبطلين ومساويهم ديانة، للزمنا إبانتها وإشاعتها حمية وصيانة، إذ لأسلافنا في التصوف العلم المنشور، والصيت والذكر المشهور. فقد كان جدي محمد بن يوسف البنا رحمه الله أحد من نشر الله عز وجل به ذكر بعض المنقطعين إليه، وعمر به أحوال كثير من المقبلين عليه.

وكيف نستجيز نقيصة أولياء الله تعالى ومؤذيهم مؤذن بمحاربة الله.

وهو ما

 

• حدثنا إبراهيم بن محمد بن حمزة حدثنا أبو عبيدة محمد بن أحمد بن المؤمل. وحدثنا إبراهيم بن عبد الله حدثنا محمد بن إسحاق السراج. قالا:

حدثنا محمد بن اسحاق بن كرامة حدثنا خالد بن مخلد عن سليمان بن بلال عن شريك بن عبد الله بن أبي نمر عن عطاء عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله عز وجل قال من آذى لي وليا فقد آذنته بالحرب وما تقرب إلي عبدي بشيء أفضل من أداء ما افترضت عليه، وما يزال عبدي يتقرب إلي بالنوافل حتى أحبه فإذا أحببته كنت سمعه

--------------------------------------------

‌‌(1) ح: والمتقنطين

‌‌(2) ح: أهل العقد والآثار. والقطر: فى النسختين بالضم:

الناحية ويجمع على أقطار.
সুফীগণের মধ্য থেকে সত্যনিষ্ঠ মুহাক্কিক ব্যক্তিত্ব ও তাঁদের ইমামদের পরিচয়, এবং ইবাদতগুজারদের স্তরবিন্যাস ও তাঁদের কর্মপন্থা; যাঁরা সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। যাঁরা দলিল-প্রমাণ ও হাকীকত সম্পর্কে অবগত ছিলেন, আধ্যাত্মিক অবস্থা ও তরীকাগুলো সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন, আধ্যাত্মিক কানন ও উদ্যানে বিচরণ করেছেন, জাগতিক বাধা ও আসক্তি থেকে বিমুক্ত হয়েছেন এবং যাঁরা চরমপন্থী ‌‌(১) ও অতি-গভীরতা সন্ধানী, বাগাড়ম্বরপূর্ণ মিথ্যা দাবিদার, অলস ও নিরুৎসাহ প্রদানকারীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন; যারা পোশাক ও কথায় তাঁদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে কিন্তু আকিদা ও কর্মে তাঁদের বিরোধিতা করে।

আর এটি এজন্য যে, দেশের প্রতিটি প্রান্তে ফিকহ ও আসার (হাদিস) শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের ‌‌(২) এবং আমাদের কঠোর সমালোচনা আপনার কর্ণগোচর হয়েছে ঐ সকল পাপাচারী ও দুরাচারীদের বিষয়ে যারা নিজেদের সুফী বলে দাবি করে। যারা মূলত মুবাহিয়্যাহ (ইবাদত বর্জনকারী) এবং হুলুলিয়্যাহ (অবতারবাদী) কাফের। এই মিথ্যাবাদীদের প্রতি যে নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান বর্ষিত হয়েছে, তা সৎ ও নেককার ব্যক্তিদের মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র কলঙ্কিত করে না এবং খাঁটি পুণ্যবানদের মর্যাদাকে খাটো করে না। বরং এই মিথ্যাবাদীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং এই খিয়ানতকারী বাতিলপন্থীদের নিন্দা করার মাধ্যমে সত্যনিষ্ঠদের পবিত্রতা এবং মুহাক্কিকদের উচ্চমর্যাদাই প্রকাশিত হয়।

যদি আমরা দ্বীনের খাতিরে এই বাতিলপন্থীদের কলঙ্ক ও মন্দ কাজসমূহ উন্মোচন না করতাম, তবে আমাদের পূর্বসূরিদের সম্মান রক্ষা ও সুরক্ষার তাগিদে তা স্পষ্ট করা ও প্রচার করা আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ত। কেননা তাসাউফের ক্ষেত্রে আমাদের পূর্বপুরুষদের রয়েছে বিস্তৃত জ্ঞান এবং সুপ্রসিদ্ধ সুখ্যাতি ও পরিচিতি। আমার দাদা মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-বান্না (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুখ্যাতি প্রচার করেছেন এবং তাঁর অভিমুখীদের অনেকের আধ্যাত্মিক অবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছেন।

আর আমরা কীভাবে আল্লাহর অলিদের নিন্দা করাকে বৈধ মনে করতে পারি, অথচ তাঁদের কষ্ট দেওয়া মানেই আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা।

যা হলো

ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উবায়দাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল মুআম্মিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাররাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়েই বলেছেন:

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে কারামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে মাখলাদ সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি শারিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি নামির থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো অলীর (বন্ধুর) সাথে শত্রুতা করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম। আমার বান্দা আমার নির্ধারিত ফরজ ইবাদতসমূহ পালন করার চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো কিছুর মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে না। আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। অতঃপর যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই

--------------------------------------------

‌‌(১) হা: এবং নিরাশ ব্যক্তিবর্গ।

‌‌(২) হা: চুক্তিবদ্ধ ও পূর্বসূরীদের বর্ণনার অনুসারীগণ। আর 'আল-কুতরু': উভয় পাণ্ডুলিপিতেই পেশ যোগে উচ্চারিত; যার অর্থ হলো দিক বা অঞ্চল এবং এর বহুবচন হলো 'আকতার'।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
الذي يسمع به وبصره الذي يبصر به ويده التي يبطش بها ورجله التي يمشي بها، فلئن سألنى عبدى أعطيته، ولئن استعاذني لأعذته، وما ترددت عن شيء أنا فاعله ترددي عن نفس المؤمن يكره الموت وأكره إساءته - أو مساءته -».

 

• حدثنا القاضي أبو أحمد محمد بن أحمد بن إبراهيم حدثنا الحسن بن علي بن نصر قال قرأ على أبي محمد بن المثنى. وحدثنا الحسن بن سلمة بن أبي كبشة أن أبا عامر العقدي حدثهما قال حدثنا عبد الواحد عن عروة عن عائشة قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ويروى عن ربه عز وجل: «قال من آذى لي وليا فقد استحل محاربتي».

 

• حدثنا سليمان بن أحمد حدثنا يحيى بن أيوب حدثنا سعيد بن أبي مريم حدثنا نافع بن يزيد حدثني عياش بن عياش عن عيسى بن عبد الرحمن عن زيد بن أسلم عن أبيه عن ابن عمر. قال: وجد عمر ابن الخطاب معاذ بن جبل رضي الله عنه قاعدا عند قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم يبكي. فقال: ما يبكيك؟ قال يبكيني شيء سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن يسير الرياء شرك وإن من عادى أولياء الله فقد بارز الله بالمحاربة».

قال الشيخ رحمه الله: واعلم أن لأولياء الله تعالى نعوتا ظاهرة، وأعلاما شاهرة، ينقاد لموالاتهم العقلاء والصالحون ويغبطهم بمنزلتهم الشهداء والنبيون. وهو ما

 

• حدثنا محمد بن جعفر بن إبراهيم حدثنا جعفر بن محمد الصائغ حدثنا مالك بن إسماعيل وعاصم بن علي. قالا: حدثنا قيس بن الربيع حدثنا عمارة بن القعقاع عن أبي زرعة عن عمرو بن جرير عن عمر بن الخطاب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن من عباد الله لأناسا ما هم بأنبياء ولا شهداء يغبطهم الأنبياء والشهداء يوم القيامة بمكانهم من الله عز وجل».

فقال رجل: من هم وما أعمالهم؟ لعلنا نحبهم. قال: «قوم يتحابون بروح الله عز وجل من غير أرحام بينهم ولا أموال يتعاطونها بينهم. والله إن وجوههم لنور وإنهم لعلى منابر من نور لا يخافون إذا خاف الناس ولا يحزنون إذا حزن الناس». ثم قرأ {(ألا إن أولياء الله لا خوف عليهم ولا هم يحزنون)}.
...যার দ্বারা সে শ্রবণ করে, তার চোখ যার দ্বারা সে দর্শন করে, তার হাত যার দ্বারা সে পাকড়াও করে এবং তার পা যার দ্বারা সে চলাফেরা করে। আমার বান্দা যদি আমার কাছে কোনো কিছু চায়, তবে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। আর সে যদি আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় প্রদান করি। আমি কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে এতটা দ্বিধা করি না, যতটা দ্বিধা করি মুমিন বান্দার প্রাণের ব্যাপারে; সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তাকে কষ্ট প্রদান করা অপছন্দ করি।

• আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাজী আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইবরাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আলী বিন নাসর, তিনি বলেন, তিনি আবু মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্নার কাছে পাঠ করেছেন। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান বিন সালামাহ বিন আবু কাবশাহ যে, আবু আমির আল-আকাদি তাদের উভয়ের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহিদ, উরওয়াহ থেকে, আয়েশা (রা.) থেকে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন এবং তা তাঁর মহান রব থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর প্রতি শত্রুতা পোষণ করল, সে যেন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে বৈধ করে নিল।"

• আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আহমদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবু মারিয়াম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন নাফে' বিন ইয়াযিদ, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আয়্যাশ বিন আয়্যাশ, ঈসা বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মুয়াজ বিন জাবাল (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কবরের পাশে বসে কাঁদতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "কী তোমাকে কাঁদাচ্ছে?" তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে শোনা একটি বিষয় আমাকে কাঁদাচ্ছে। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: 'নিশ্চয়ই সামান্য লোকদেখানো ইবাদতও (রিয়া) শিরক, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওলীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, সে যেন আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো'।"

শাইখ (রহ.) বলেন: জেনে রেখো, মহান আল্লাহর ওলীদের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য এবং সুপ্রসিদ্ধ নিদর্শনাবলি রয়েছে, যাদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ ও আনুগত্য করার জন্য বুদ্ধিমান ও নেককার লোকেরা ধাবিত হয় এবং শহীদ ও নবীগণও তাদের মর্যাদার কারণে ঈর্ষা (গিবতাহ) করেন। আর তা হলো যা

• মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে ইবরাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সায়েগ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে ইসমাইল এবং আসিম ইবনে আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন: কায়স ইবনে রাবী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উমারা ইবনুল কায়কা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জুরআ থেকে, তিনি আমর ইবনে জারীর থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা নবীও নন এবং শহীদও নন, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর নিকট তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের কারণে নবী এবং শহীদগণ তাঁদের প্রতি ঈর্ষা করবেন।»

তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: তাঁরা কারা এবং তাঁদের আমলসমূহ কী? যাতে আমরা তাঁদের ভালোবাসতে পারি। তিনি বললেন: «তাঁরা এমন এক কওম যারা মহান আল্লাহর রূহ-এর মাধ্যমে একে অপরকে ভালোবাসেন, তাঁদের মাঝে কোনো রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা নেই এবং কোনো সম্পদও নেই যা তাঁরা একে অপরকে আদান-প্রদান করেন। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তাঁদের মুখমণ্ডল হবে নূরের এবং তাঁরা নূরের মিম্বরসমূহের ওপর অবস্থান করবেন। মানুষ যখন ভীত হবে তখন তাঁরা ভীত হবেন না এবং মানুষ যখন দুঃখিত হবে তখন তাঁরা দুঃখিত হবেন না।» এরপর তিনি পাঠ করলেন: {(জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না)}।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ومن نعوتهم: أنهم المورثون جلاسهم كامل الذكر، والمفيدون خلانهم بشامل البر

 

• حدثنا سليمان بن أحمد حدثنا أحمد بن علي الأبار حدثنا الهيثم ابن خارجة حدثنا رشدين بن سعد عن عبد الله بن الوليد التجيبي عن أبي منصور‌‌(1) مولى الأنصار أنه سمع عمرو بن الجموح يقول أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم. يقول: «قال الله عز وجل إن أوليائي من عبادي وأحبائي من خلقي الذين يذكرون بذكرى وأذكر بذكرهم».

 

• حدثنا أحمد ابن يعقوب المعدل حدثنا الحسن بن علوية حدثنا إسماعيل بن عيسى حدثنا الهياج بن بسطام عن مسعر بن كدام عن بكير بن الأخنس عن سعيد رضي الله تعالى عنه قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم من أولياء الله؟ قال:

«الذين إذا رأوا ذكر الله عز وجل».

 

• حدثنا جعفر بن محمد بن عمر.

وحدثنا أبو حصين القاضي حدثنا يحيى بن عبد الحميد حدثنا داود العطار عن عبد الله بن عثمان بن خثيم عن شهر بن حوشب عن أسماء بنت يزيد. قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ألا أخبركم بخياركم» قالوا بلى! قال:

«الذين إذا رأوا ذكر الله عز وجل».

ومنها: أنهم المسلمون من الفتن الموقون من المحن

 

• حدثنا القاضي أبو أحمد محمد بن أحمد بن إبراهيم حدثنا محمد بن القاسم بن الحجاج حدثنا الحكم بن موسى حدثنا إسماعيل بن عياش حدثنى مسلم بن عبيد الله نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم. أنه قال: «إن لله عز وجل ضنائن من عباده يغذيهم في رحمته ويحييهم فى عافيته إذا توفاهم إلى جنته أولئك الذين تمر عليهم الفتن كقطع الليل المظلم وهم منها في عافية».

ومنها: أنهم المضرورون في الأطعمة واللباس، المبرورة أقسامهم عند النازلة والباس

 

• حدثنا أبو إسحاق بن حمزة حدثنا أحمد بن شعيب بن يزيد.

وحدثنا إسحاق بن أحمد حدثنا إبراهيم بن يوسف حدثنا محمد بن عزيز حدثنا سلامة بن روح حدثنا عقيل عن ابن شهاب عن أنس بن مالك. قال قال

--------------------------------------------

‌‌(1) ح: عن منصور ولم نقف عليه.
এবং তাদের গুণাবলীর অন্যতম হলো: তারা তাদের মজলিসে উপস্থিতদের মাঝে পূর্ণাঙ্গ জিকর বা আল্লাহর স্মরণ সঞ্চারিত করেন এবং তাদের বন্ধুদেরকে সামগ্রিক কল্যাণ দ্বারা উপকৃত করেন।

• সুলাইমান ইবন আহমদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবন আলী আল-আববার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আল-হাইসাম ইবন খারি জাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন রুশদিন ইবন সা'দ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন আল-ওয়ালিদ আত-তুজীবী থেকে, তিনি আবু মানসুর ‌‌(১) আনসারদের আযাদকৃত গোলাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আমর ইবনুল জামুহকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন। তিনি ইরশাদ করেন: «মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে আমার ওলী এবং আমার সৃষ্টির মধ্যে আমার প্রিয় তারাই, যাদেরকে স্মরণ করলে আমাকে স্মরণ করা হয় এবং আমার স্মরণের সাথে সাথে তাদের স্মরণ করা হয় (অর্থাৎ যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়)»।

• আহমদ ইবন ইয়াকুব আল-মুয়াদদাল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আল-হাসান ইবন আলাউইয়াহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ইসমাঈল ইবন ঈসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আল-হাইয়াজ ইবন বিসতাম মিসআর ইবন কিদাম থেকে, তিনি বুকায়র ইবনুল আখনেস থেকে, তিনি সাঈদ রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর ওলী কারা? তিনি বললেন:

«তারাই, যাদেরকে দেখলে মহান আল্লাহর কথা স্মরণ হয়»।

• জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন উমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন।

এবং আবু হাসিন আল-কাজী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল হামিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন দাউদ আল-আত্তার আবদুল্লাহ ইবন উসমান ইবন খুসাইম থেকে, তিনি শাহর ইবন হাওশাব থেকে, তিনি আসমা বিনতে ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না?» তারা বললেন, অবশ্যই! তিনি বললেন:

«তারাই, যাদেরকে দেখলে মহান আল্লাহর কথা স্মরণ হয়»।

এবং তাদের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হলো: তারা ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে নিরাপদ এবং বিপদ-আপদ থেকে সংরক্ষিত।

• ক্বাযী আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন কাসেম বিন হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাকাম বিন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসলিম বিন উবাইদুল্লাহ নাফি থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে ও তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর তাঁর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু বিশেষ ও মনোনীত বান্দা রয়েছেন যাদেরকে তিনি তাঁর রহমতের মাধ্যমে লালন-পালন করেন এবং তাঁর নিরাপত্তার মাঝে জীবিত রাখেন। যখন তিনি তাদের মৃত্যু দান করেন, তখন তাঁর জান্নাতে স্থান দেন। এরাই তারা যাদের উপর দিয়ে ফিতনাসমূহ অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় অতিবাহিত হয়, অথচ তারা সেসব থেকে নিরাপত্তার মধ্যে থাকে।»

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তারা খাদ্য ও পোশাকের ক্ষেত্রে অভাবগ্রস্ত, কিন্তু বিপদ ও সংকটের সময় আল্লাহর নিকট তাদের শপথসমূহ পূরণকৃত ও কবুলযোগ্য।

• আবু ইসহাক বিন হামযাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন শুআইব বিন ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

এবং ইসহাক বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম বিন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আযীয আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ বিন রূহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উকাইল ইবনে শিহাব থেকে এবং তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন

--------------------------------------------

‌‌(১) হা: মানসুর থেকে বর্ণিত, তবে আমরা এটি খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كم من ضعيف متضعف ذى طمرين لو أقسم على الله لأبره منهم البراء بن مالك». ثم إن البراء لقي زحفا من المشركين وقد أوجع المشركون في المسلمين. فقالوا له: يا براء إن النبي صلى الله عليه وسلم قال لو أقسمت على ربك لأبرك فأقسم على ربك. فقال: أقسمت عليك يا رب لما منحتنا أكتافهم، فمنحوا أكتافهم. ثم التقوا على قنطرة السوس فأوجعوا في المسلمين، فقالوا أقسم يا براء على ربك عز وجل، قال أقسم عليك يا رب لما منحتنا أكتافهم وألحقتني بنبيك صلى الله عليه وسلم، فمنحوا أكتافهم، وقتل البراء شهيدا.

 

• حدثنا محمد بن أحمد بن الحسن حدثنا محمد ابن نصر الصائغ حدثنا إبراهيم بن حمزة الزبيري‌‌(1) حدثنا ابن أبي حازم عن كثير بن زيد عن الوليد بن رباح عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «رب أشعث ذى طمرين تنبو عنه أعين الناس لو أقسم على الله عز وجل لأبره».

قال الشيخ رحمه الله تعالى ومنها: إن ليقينهم تنفلق الصخور، وبيمينهم تنفتق البحور

 

• حدثنا سهل بن عبد الله التستري حدثنا الحسين بن إسحاق حدثنا داود بن رشيد حدثنا الوليد بن مسلم حدثنا ابن لهيعة عن عبد الله ابن هبيرة عن حنش الصنعاني عن عبد الله بن مسعود أنه قرأ فى أذن مبتلى، فأفاق. فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما قرأت في أذنه؟ قال: مبتلى، قرأت أفحسبتم أنما خلقناكم عبثا» حتى ختم السورة. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو أن رجلا موقنا قرأها على جبل لزال».

 

• حدثنا أبو بكر أحمد بن جعفر بن حمدان حدثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل حدثنا محمد بن يزيد الكوفي حدثنا محمد بن فضيل حدثنا الصلت بن مطر عن قدامة بن حماظة بن أخت سهم بن منجاب‌‌(2). قال سمعت سهم بن منجاب قال: غزونا مع العلاء بن الحضرمي، فسرنا حتى أتينا دارين والبحر بيننا وبينهم. فقال:

يا عليم يا حليم يا علي يا عظيم، إنا عبيدك وفي سبيلك نقاتل عدوك، اللهم

--------------------------------------------

‌‌(1) فى ح الزبيدى وهو خطأ

‌‌(2) كذا فى النسختين وفى أسد الغابة سهل بن منجاب التميمى
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কতই না এমন দুর্বল এবং মানুষের দৃষ্টিতে তুচ্ছ ব্যক্তি রয়েছেন যারা দুই খণ্ড জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত, তারা যদি আল্লাহর নামে কসম করেন তবে আল্লাহ তা অবশ্যই পূরণ করে দেন। তাদেরই একজন হলেন বারা ইবনে মালিক।" অতঃপর বারা মুশরিকদের এক বিশাল বাহিনীর সম্মুখীন হলেন। তখন মুশরিকরা মুসলিমদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল। তখন লোকেরা তাকে বলল: "হে বারা! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, আপনি যদি আপনার রবের নামে কসম করেন তবে তিনি তা পূরণ করবেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের নামে কসম করুন।" তখন তিনি বললেন: "হে আমার রব! আমি আপনার কাছে কসম করছি যে আপনি আমাদের তাদের ওপর বিজয় দান করবেন।" ফলে তাদের ওপর বিজয় দান করা হলো। অতঃপর তারা সুসের সেতুর নিকট যুদ্ধে লিপ্ত হলেন এবং সেখানেও মুশরিকরা মুসলিমদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করল। লোকেরা পুনরায় বলল: "হে বারা! আপনার মহান রবের নামে কসম করুন।" তিনি বললেন: "হে আমার রব! আমি আপনার কাছে কসম করছি যে আপনি আমাদের তাদের ওপর বিজয় দান করবেন এবং আমাকে আপনার নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে মিলিত করবেন।" ফলে তারা বিজয়ী হলেন এবং বারা শহীদ হলেন।

• মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আস-সায়িগ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ইবরাহীম ইবনে হামযাহ আয-যুবাইরী ‌‌(১) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি ইবনে আবু হাযিম থেকে, তিনি কাসীর ইবনে যাইদ থেকে, তিনি ওয়ালীদ ইবনে রাবাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কতই না এমন আলুথালু কেশধারী জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত ব্যক্তি রয়েছেন যাদেরকে মানুষের চোখ অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে, তারা যদি মহান আল্লাহর নামে কসম করেন তবে তিনি অবশ্যই তা পূরণ করবেন।"

শাইখ (রাহিমাহুল্লাহু তা’আলা) বলেন, এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: তাদের দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে পাথর বিদীর্ণ হয়ে যায় এবং তাদের শপথের বরকতে সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত হয়।

• সাহল বিন আবদুল্লাহ আত-তুস্তারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-হুসাইন বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন দাউদ বিন রাশিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবনে লাহিয়াহ আবদুল্লাহ ইবনে হুবায়রাহ থেকে, তিনি হানাশ আস-সানআনি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির কানে তিলাওয়াত করলেন, ফলে সে সুস্থ হয়ে উঠল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «তুমি তার কানে কী তিলাওয়াত করেছ?» তিনি বললেন: «বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি, আমি তিলাওয়াত করেছি- 'তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে কেবল অনর্থক সৃষ্টি করেছি' সূরার শেষ পর্যন্ত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «যদি কোনো দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি এটি কোনো পাহাড়ের ওপর পাঠ করত, তবে তা অপসারিত হয়ে যেত»।

• আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আস-সালত বিন মাতার কুদামাহ বিন হামাজাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি সাহম বিন মিনজাবের ভাগ্নে ছিলেন ‌‌(২) । তিনি বলেন, আমি সাহম বিন মিনজাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা আল-আলা বিন আল-হাদরামির সাথে যুদ্ধে বের হলাম, আমরা পথ চলতে চলতে দারিন নামক স্থানে পৌঁছলাম এবং আমাদের ও তাদের মাঝে সমুদ্র ছিল। তখন তিনি বললেন:

হে সর্বজ্ঞ, হে পরম সহনশীল, হে সুউচ্চ, হে মহিমান্বিত, নিশ্চয়ই আমরা আপনার বান্দা এবং আপনার পথে আপনার শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি, হে আল্লাহ

--------------------------------------------

‌‌(১) পাণ্ডুলিপি 'হা'-তে 'আল-জুবাইদি' রয়েছে যা ভুল।

‌‌(২) উভয় পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে এবং 'উসদুল গাবাহ' গ্রন্থে সাহল বিন মিনজাব আত-তামিমি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
فاجعل لنا إليهم سبيلا. فتقحم بنا البحر، فخضنا ما يبلغ لبودنا الماء، فخرجنا إليهم.

 

• حدثنا أبو حامد بن جبلة حدثنا محمد بن إسحاق الثقفي حدثنا يعقوب بن إبراهيم الوليد بن شجاع قالا حدثنا عبد الله بن بكر عن حاتم بن أبي صغيرة عن سماك بن حرب عن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه قال: لقد رأيت في العلاء بن الحضرمي رضي الله تعالى عنه ثلاث خصال ما منهن خصلة إلا وهي أعجب من صاحبتها: انطلقنا نسير حتى قدمنا البحرين، وأقبلنا نسير حتى كنا على شط البحر. فقال العلاء: سيروا، فأتى البحر فضرب دابته، فسار وسرنا معه ما يجاوز ركب دوابنا، فلما رآنا ابن مكعبر، عامل كسرى، قال لا والله لا نقابل‌‌(1) هؤلاء، ثم قعد في سفينة فلحق بفارس.

قال الشيخ رحمه الله ومنها: أنهم سباق الأمم والقرون، وبإخلاصهم يمطرون وينصرون

 

• حدثنا عبد الله بن جعفر حدثنا إسماعيل بن عبد الله حدثنا سعيد بن أبي مريم حدثنا يحيى بن أيوب عن ابن عجلان عن عياض بن عبد الله عن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لكل قرن من أمتي سابقون».

 

• حدثنا سليمان بن أحمد حدثنا محمد بن الخزر الطبراني حدثنا سعيد بن أبي زيد‌‌(2) حدثنا عبد الله بن هارون الصوري حدثنا الأوزاعي عن الزهري عن نافع عن ابن عمر رضي الله تعالى عنهما. قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خيار أمتي في كل قرن خمسمائة، والأبدال أربعون.

فلا الخمسمائة ينقصون، ولا الأربعون؛ كلما مات رجل أبدل الله عز وجل من الخمسمائة مكانه، وأدخل من الأربعين مكانهم» قالوا يا رسول الله دلنا على أعمالهم. قال: «يعفون عمن ظلمهم، ويحسنون إلى من أساء إليهم ويتواسون فيما آتاهم الله عز وجل».

 

• حدثنا محمد بن أحمد بن الحسن حدثنا محمد بن السري القنطري حدثنا قيس بن إبراهيم بن قيس السامري حدثنا عبد الرحمن بن يحيى الأرمني حدثنا عثمان بن عمارة حدثنا المعافى بن عمران عن سفيان الثوري عن منصور عن إبراهيم عن الأسود عن عبد الله قال قال رسول الله

--------------------------------------------

‌‌(1) ز - نقاتل.

‌‌(2) ح - زيدون.
অতএব আমাদের জন্য তাদের কাছে পৌঁছানোর একটি পথ করে দিন। এরপর তিনি আমাদের নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, আমরা তা এমন অবস্থায় পাড়ি দিলাম যে পানি আমাদের পশুর ঘাড়ের পশম পর্যন্তও পৌঁছেনি, অতঃপর আমরা তাদের কাছে পৌঁছে গেলাম।

• আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হামিদ বিন জাবালা, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাকাফি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম ও আল-ওয়ালিদ বিন শুজা‘, তারা উভয়ই বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন বকর, হাতিম বিন আবি সাগিরা থেকে, তিনি সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল-আলা বিন আল-হাদরামি (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)-এর মাঝে তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি, যার প্রতিটিই অপরটির চেয়ে অধিক বিস্ময়কর: আমরা পথ চলতে চলতে বাহরাইন পৌঁছালাম, এরপর আমরা অগ্রসর হতে হতে সমুদ্র তীরে উপস্থিত হলাম। তখন আল-আলা বললেন: তোমরা চলো। অতঃপর তিনি সমুদ্রের কাছে এসে তার সওয়ারিকে আঘাত করলেন এবং চলতে লাগলেন, আমরাও তার সাথে চলতে লাগলাম অথচ পানি আমাদের পশুর হাঁটু পর্যন্তও অতিক্রম করছিল না। যখন কিসরার গভর্নর ইবনে মুকয়বির আমাদের দেখলেন, তখন তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম, আমরা এদের মোকাবিলা করতে পারব না ‌‌(১) অতঃপর তিনি একটি নৌকায় চড়ে পারস্যে চলে গেলেন।

শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এবং তার অন্তর্ভুক্ত হলো—নিশ্চয়ই তারা উম্মত ও প্রজন্মের অগ্রগামী দল, এবং তাদের ইখলাসের (নিষ্ঠার) কারণেই বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং বিজয় দান করা হয়।

• আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন জাফর, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি মারইয়াম, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব, ইবনে আজলান থেকে, তিনি ইয়াদ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: «আমার উম্মতের প্রতিটি প্রজন্মের মধ্যেই অগ্রগামী একদল লোক রয়েছে»।

• আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আহমদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-খাযর আত-তাবারানি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি যায়িদ ‌‌(২) আবদুল্লাহ ইবনে হারুন আস-সুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা প্রতি শতাব্দীতে পাঁচশত জন এবং আবদালগণ চল্লিশ জন।

সেই পাঁচশত জনও কমবে না, আর সেই চল্লিশ জনও না; যখনই কোনো ব্যক্তি মারা যায়, মহান আল্লাহ সেই পাঁচশতের মধ্য থেকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন এবং সেই চল্লিশ জনের স্থলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন» তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের তাদের আমল সম্পর্কে বলে দিন। তিনি বললেন: «তারা তাদের ক্ষমা করে দেয় যারা তাদের ওপর জুলুম করে, তাদের সাথে সদাচরণ করে যারা তাদের প্রতি অন্যায় করে এবং মহান আল্লাহ তাদের যা দান করেছেন তা দিয়ে তারা একে অপরকে সহযোগিতা করে»।

• মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সিররি আল-কান্তারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাইস ইবনে ইবরাহিম ইবনে কাইস আস-সামারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-আরমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে উমারা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াফা ইবনে ইমরান সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন

--------------------------------------------

‌‌(১) যা - আমরা যুদ্ধ করি।

‌‌(২) হা - যায়দুন।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
صلى الله عليه وسلم: «إن لله عز وجل في الخلق ثلاثمائة قلوبهم على قلب آدم عليه السلام، ولله تعالى في الخلق أربعون قلوبهم على قلب موسى عليه السلام، ولله تعالى في الخلق سبعة قلوبهم على قلب إبراهيم عليه السلام، ولله تعالى في الخلق خمسة قلوبهم على قلب جبريل عليه السلام، ولله تعالى في الخلق ثلاثة قلوبهم على قلب ميكائيل عليه السلام، ولله تعالى في الخلق واحد قلبه على قلب إسرافيل عليه السلام. فإذا مات الواحد أبدل الله عز وجل مكانه من الثلاثة، وإذا مات من الثلاثة أبدل الله تعالى مكانه من الخمسة، وإذا مات من الخمسة أبدل الله تعالى مكانه من السبعة، وإذا مات من السبعة أبدل الله تعالى مكانه من الأربعين، وإذا مات من الأربعين أبدل الله تعالى مكانه من الثلاثمائة، وإذا مات من الثلاثمائة أبدل الله تعالى مكانه من العامة. فيهم يحيي ويميت، ويمطر وينبت ويدفع البلاء». قيل لعبد الله بن مسعود: كيف بهم يحيي ويميت! قال «لأنهم يسألون الله عز وجل إكثار الأمم فيكثرون، ويدعون على الجبابرة فيقصمون، ويستسقون فيسقون، ويسألون فتنبت لهم الأرض. ويدعون فيدفع بهم أنواع البلاء».

 

• حدثنا محمد أبو عمرو بن حمدان حدثنا الحسن بن سفيان حدثنا عبد الوهاب بن الضحاك حدثنا ابن عباس حدثنا صفوان بن عمرو عن خالد بن معدان عن حذيفة بن اليمان. قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا حذيفة. إن في كل طائفة من أمتي قوما شعثا غبرا، إياي يريدون، وإياي يتبعون، وكتاب الله يقيمون، أولئك مني وأنا منهم وإن لم يروني».

 

• حدثنا سليمان بن أحمد حدثنا بكر بن سهل حدثنا عمرو بن هاشم حدثنا سليمان بن أبي كريمة عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة رضي الله تعالى عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سأل عني - أو سره أن ينظر إلى - فلينظر إلى أشعث شاحب مشمر، لم يضع لبنة على لبنة، ولا قصبة على قصبة، رفع له علم فشمر إليه، اليوم المضمار وغدا السباق، والغاية الجنة أو النار».

قال الشيخ أبو نعيم رحمه الله ومنها: أنهم نظروا إلى باطن العاجلة
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই সৃষ্টির মধ্যে মহান আল্লাহর এমন তিনশ জন বান্দা রয়েছেন যাদের অন্তর আদম আলাইহিস সালামের অন্তরের ন্যায়, এবং সৃষ্টির মধ্যে মহান আল্লাহর এমন চল্লিশ জন রয়েছেন যাদের অন্তর মূসা আলাইহিস সালামের অন্তরের ন্যায়, এবং সৃষ্টির মধ্যে মহান আল্লাহর এমন সাত জন রয়েছেন যাদের অন্তর ইবরাহিম আলাইহিস সালামের অন্তরের ন্যায়, এবং সৃষ্টির মধ্যে মহান আল্লাহর এমন পাঁচ জন রয়েছেন যাদের অন্তর জিবরাঈল আলাইহিস সালামের অন্তরের ন্যায়, এবং সৃষ্টির মধ্যে মহান আল্লাহর এমন তিন জন রয়েছেন যাদের অন্তর মিকাঈল আলাইহিস সালামের অন্তরের ন্যায়, এবং সৃষ্টির মধ্যে মহান আল্লাহর এমন একজন রয়েছেন যার অন্তর ইসরাফীল আলাইহিস সালামের অন্তরের ন্যায়। অতঃপর যখন সেই একজন মৃত্যুবরণ করেন, তখন মহান আল্লাহ সেই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। আর যখন সেই তিনজনের মধ্য থেকে কেউ মৃত্যুবরণ করেন, তখন মহান আল্লাহ পাঁচজনের মধ্য থেকে একজনকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। আর যখন পাঁচজনের মধ্য থেকে কেউ মৃত্যুবরণ করেন, তখন মহান আল্লাহ সাতজনের মধ্য থেকে একজনকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। আর যখন সাতজনের মধ্য থেকে কেউ মৃত্যুবরণ করেন, তখন মহান আল্লাহ চল্লিশজনের মধ্য থেকে একজনকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। আর যখন চল্লিশজনের মধ্য থেকে কেউ মৃত্যুবরণ করেন, তখন মহান আল্লাহ তিনশ জনের মধ্য থেকে একজনকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। আর যখন তিনশ জনের মধ্য থেকে কেউ মৃত্যুবরণ করেন, তখন মহান আল্লাহ সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে একজনকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। তাদের মাধ্যমেই তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন, বৃষ্টি বর্ষণ করেন, উদ্ভিদ উৎপন্ন করেন এবং বিপদ-আপদ দূর করেন।” আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে জিজ্ঞাসা করা হলো: কীভাবে তাদের মাধ্যমে তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন? তিনি বললেন: “কারণ তারা মহান আল্লাহর কাছে উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রার্থনা করেন, ফলে তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়; তারা স্বৈরাচারীদের বিরুদ্ধে দুআ করেন, ফলে তারা ধ্বংস হয়; তারা বৃষ্টির প্রার্থনা করেন, ফলে বৃষ্টি বর্ষিত হয়; তারা প্রার্থনা করেন, ফলে তাদের জন্য ভূমি থেকে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়; এবং তারা দুআ করেন, ফলে তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের বিপদ-আপদ দূর করা হয়।”

• মুহাম্মাদ আবু আমর বিন হামদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান বিন সুফিয়ান থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি সাফওয়ান বিন আমর থেকে, তিনি খালিদ বিন মা'দান থেকে, আর তিনি হুজাইফা বিন আল-ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে হুজাইফা! নিশ্চয়ই আমার উম্মতের প্রতিটি দলের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা উষ্কখুষ্ক চুল ও ধূলিমলিন চেহারাধারী; তারা কেবল আমাকেই চায়, তারা আমাকেই অনুসরণ করে এবং আল্লাহর কিতাবকে প্রতিষ্ঠিত রাখে। তারা আমার পক্ষ হতে এবং আমি তাদের পক্ষ হতে, যদিও তারা আমাকে দেখেনি।»

• সুলায়মান বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বকর বিন সাহল থেকে, তিনি আমর বিন হাশিম থেকে, তিনি সুলায়মান বিন আবি কারীমা থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে—অথবা আমাকে দেখতে পেয়ে আনন্দিত হতে চায়—সে যেন এমন এক উষ্কখুষ্ক কেশধারী, বিবর্ণ এবং তৎপর ব্যক্তির দিকে তাকায়, যে পার্থিব অট্টালিকা নির্মাণের জন্য একটি ইটের উপর অন্য ইট রাখেনি এবং একটি নলখাগড়ার উপর অন্য নলখাগড়া স্থাপন করেনি। তার জন্য একটি নিশান উড্ডীন করা হয়েছিল, তাই সে সেই লক্ষ্যপানে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। আজ হলো প্রস্তুতির দিন আর আগামীকাল হলো প্রতিযোগিতা, আর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো জান্নাত অথবা জাহান্নাম।»

শায়খ আবু নুয়াইম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো: তারা এই নশ্বর জগতের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
فرفضوها، وإلى ظاهر بهجتها وزينتها فوضعوها.

 

• حدثنا أبو بكر أحمد بن جعفر ابن مالك حدثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل حدثني أبي حدثني غوث بن جابر.

قال سمعت محمد بن داود يحدث عن أبيه عن وهب بن منبه. قال: قال الحواريون يا عيسى من أولياء الله الذين {لا خوف عليهم ولا هم يحزنون}؟ قال عيسى عليه السلام: الذين نظروا إلى باطن الدنيا حين نظر الناس إلى ظاهرها، والذين نظروا إلى آجل الدنيا حين نظر الناس إلى عاجلها، فأماتوا منها ما يخشون أن يشينهم وتركوا ما علموا أن سيتركهم، فصار استكثارهم منها استقلالا، وذكرهم إياها فواتا، وفرحهم بما أصابوا منها حزنا فما عارضهم من نيلها رفضوه، وما عارضهم من رفعتها بغير الحق وضعوه، وخلقت الدنيا عندهم فليسوا يجددونها، وخربت بيوتهم فليسوا يعمرونها، وماتت في صدورهم فليسوا يحيونها بعد موتها، بل يهدمونها فيبنون بها آخرتهم، ويبيعونها فيشترون بها ما يبقى لهم، ورفضوها فكانوا فيها هم الفرحين، ونظروا إلى أهلها صرعى قد حلت بهم المثلات. وأحيوا ذكر الموت، وأماتوا ذكر الحياة. يحبون الله عز وجل، ويحبون ذكره، ويستضيئون بنوره، ويضيئون به. لهم خبر عجيب، وعندهم الخبر العجيب، بهم قام الكتاب وبه قاموا، وبهم نطق الكتاب وبه نطقوا، وبهم علم الكتاب وبه عملوا، وليسوا يرون نائلا مع ما نالوا، ولا أمانا دون ما يرجون، ولا خوفا دون ما يحذرون.

قال الشيخ رحمه الله تعالى: وهم المصونون عن مرامقة حقارة الدنيا بعين الاغترار، المبصرون صنع محبوبهم بالفكر والاعتبار.

 

• حدثنا أحمد بن جعفر بن حمدان ثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل قال حدثني سفيان بن وكيع حدثنا إبراهيم بن عيينة عن ورقاء‌‌(1). قال الشيخ أبو نعيم والصواب وفاء بن إياس عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما قال: لما بعث الله عز وجل موسى وهارون عليهما السلام إلى فرعون قال: لا يغرنكما لباسه الذى ألبسته، فان ناصيته بيدي فلا ينطق ولا يطرف إلا باذنى، ولا يغرنكما

--------------------------------------------

‌‌(1) فى ح - ابن عيينة عن ابن اياس عن سعيد الخ وليس فيها تصحيح المؤلف لورقاء.
তারা তা প্রত্যাখ্যান করল এবং এর বাহ্যিক চাকচিক্য ও সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে একে তুচ্ছ জ্ঞান করল।

• আবু বকর আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, গাওস ইবনে জাবির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে দাউদকে তার পিতা থেকে এবং তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন: হাওয়ারীগণ বললেন, হে ঈসা! আল্লাহর সেই ওলী কারা যাদের ‘কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না’? ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন: তারা হলো সেই সব লোক যারা দুনিয়ার অভ্যন্তরীণ হাকীকতের দিকে তাকিয়েছে যখন সাধারণ মানুষ এর বাহ্যিক চাকচিক্যের দিকে তাকিয়েছিল, এবং যারা দুনিয়ার পরকালীন পরিণতির দিকে তাকিয়েছে যখন সাধারণ মানুষ এর উপস্থিত নগদ অবস্থার দিকে তাকিয়েছিল। ফলে তারা দুনিয়ার সেই অংশকে বিসর্জন দিয়েছে যা তাদের কলঙ্কিত করার ভয় ছিল এবং তারা তা ছেড়ে দিয়েছে যা তারা জানত যে তাদের একদিন ছেড়ে চলে যাবে। ফলে দুনিয়ার আধিক্য তাদের কাছে তুচ্ছ হয়ে গেল, দুনিয়ার চর্চা তাদের কাছে লোকসান মনে হলো এবং দুনিয়ার যা কিছু তারা লাভ করেছিল তার আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো। সুতরাং দুনিয়া অর্জনের যা কিছু তাদের সামনে উপস্থিত হয়েছিল তা তারা প্রত্যাখ্যান করল এবং অন্যায়ভাবে এর যে উচ্চমর্যাদা তাদের সামনে এসেছিল তা তারা তুচ্ছ জ্ঞান করল। তাদের কাছে দুনিয়া জীর্ণ হয়ে গেছে, তাই তারা তা নতুন করে সাজায় না; তাদের ঘরবাড়ি দুনিয়ার বিচারে বিরান হয়ে গেছে, তাই তারা তা আবাদ করে না। তাদের অন্তরে দুনিয়ার মোহ মরে গেছে, তাই তারা সেই মৃত্যুর পর একে আর পুনরুজ্জীবিত করে না; বরং তারা একে ধ্বংস করে তার বিনিময়ে তাদের আখেরাত নির্মাণ করে এবং তারা একে বিক্রি করে তার বিনিময়ে তা ক্রয় করে যা তাদের জন্য চিরস্থায়ী হবে। তারা দুনিয়াকে বর্জন করেছে, ফলে তারাই এতে প্রকৃত সুখী ও প্রফুল্ল হয়েছে। তারা দুনিয়াদারদের প্রতি লক্ষ্য করেছে যে তারা যেন লাশের মতো পড়ে আছে যাদের ওপর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আপতিত হয়েছে। তারা মৃত্যুর স্মরণকে জীবিত রেখেছে এবং পার্থিব জীবনের আকাঙ্ক্ষাকে মিটিয়ে দিয়েছে। তারা মহান আল্লাহকে ভালোবাসে এবং তাঁর স্মরণকে ভালোবাসে। তারা আল্লাহর নূরের মাধ্যমে আলো লাভ করে এবং নিজেরাও তার মাধ্যমে অন্যদের আলোকিত করে। তাদের এক বিস্ময়কর সংবাদ আছে এবং তাদের কাছেই বিস্ময়কর সংবাদ বিদ্যমান। তাদের মাধ্যমেই কিতাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা কিতাবের হুকুমের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের মাধ্যমেই কিতাব কথা বলেছে (অর্থাৎ তাদের আমল কিতাবের সত্যতা প্রমাণ করেছে) এবং তারা কিতাবের মাধ্যমেই কথা বলেছে। তাদের মাধ্যমেই কিতাবের ইলম জানা গেছে এবং তারা কিতাব অনুযায়ী আমল করেছে। তারা যা লাভ করেছে তার পাশাপাশি অন্য কোনো বৈষয়িক প্রাপ্তিকে তারা কোনো প্রাপ্তিই মনে করে না, তারা যা আশা করে তা ছাড়া অন্য কোথাও নিরাপত্তা দেখে না এবং তারা যা থেকে সতর্ক থাকে তা ছাড়া অন্য কোনো ভয় পায় না।

শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: তারা হচ্ছে ঐ সকল ব্যক্তি যারা প্রতারণার চোখে দুনিয়ার তুচ্ছতাকে প্রত্যক্ষ করা থেকে সুরক্ষিত, এবং যারা চিন্তা ও শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের প্রিয়তমের সৃষ্টিশৈলী পর্যবেক্ষণকারী।

• আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন আমাকে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন ওয়াকি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন উয়াইনা, ওয়ারকা থেকে বর্ণিত ‌‌(১)। শাইখ আবু নুআইম বলেন, সঠিক হলো ওয়াফা বিন ইয়াস, সাঈদ বিন জুবাইরের সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন মহান আল্লাহ মূসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম)-কে ফিরআউনের কাছে পাঠালেন, তখন তিনি বললেন: "আমি তাকে যে পোশাক পরিয়েছি তা যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে, কেননা তার কপালের অগ্রভাগ আমার হাতে। সুতরাং সে আমার অনুমতি ব্যতীত কথা বলতে পারবে না এবং চোখের পলকও ফেলতে পারবে না। আর তোমাদের যেন ধোঁকায় না ফেলে..."

--------------------------------------------

‌‌(১) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে - ইবনে উয়াইনা, ইবনে ইয়াসের সূত্রে সাঈদ... থেকে বর্ণিত। এতে 'ওয়ারকা' নামটির বিষয়ে লেখকের সংশোধনী নেই।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ما متع به من زهرة الدنيا وزينة المترفين فلو شئت أن أزينكما من زينة الدنيا بشيء يعرف فرعون أن قدرته تعجز عن ذلك لفعلت، وليس ذلك لهوانكما علي ولكني ألبستكما نصيبكما من الكرامة على أن لا تنقصكما الدنيا شيئا، وإنى لأذود أوليائى عن الدنيا كما يذود الراعى إبله عن مبارك العرة، وإني لأجنبهم زهرتها كما يجنب الراعى إبله عن مراتع الهلكة، أريد أن أنور‌‌(1) بذلك مراتبهم وأطهر بذلك قلوبهم، فى سيماهم الذي يعرفون به، وأمرهم الذي يفتخرون به. واعلم أنه من أخاف لي وليا فقد بارزني بالعداوة، وأنا الثائر لأوليائي يوم القيامة.

 

• حدثنا أحمد بن السري حدثنا الحسن بن علويه القطان حدثنا إسماعيل بن عيسى حدثنا إسحاق بن بشر عن جويبر عن الضحاك عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما. وحدثنا أبي حدثنا إسحاق بن إبراهيم حدثنا محمد ابن سهل بن عسكر حدثنا اسماعيل بن عبد الكريم حدثنا عبد الصمد بن معقل قال سمعت وهب بن منبه يقول: لما بعث الله تعالى موسى وأخاه هارون عليهما السلام إلى فرعون. قال: لا يعجبنكما زينته ولا ما متع به، ولا تمدا أعينكما إلى ذلك، فإنها زهرة الحياة الدنيا وزينة المترفين فإني لو شئت أن أزينكما من الدنيا بزينة ليعلم فرعون حين ينظر إليها أن مقدرته تعجز عن مثل ما أوتيتما لفعلت، ولكني أرغب بكما عن ذلك وأزويه عنكما، وكذلك أفعل بأوليائي، وقديما ما خرت لهم في ذلك، فانى لأذودهم عن نعيمها ورخائها كما يذود الراعي الشفيق غنمه عن مراتع الهلكة، وإني لأجنبهم سلوتها وعيشتها كما يجنب الراعي الشفيق إبله عن مبارك العرة‌‌(2). وما ذلك لهوانهم علي ولكن ليستكملوا نصيبهم من كرامتي سالما موفورا لم تكلمه الدنيا ولم يطغه الهوى. واعلم أنه لم يتزين العباد بزينة أبلغ فيما عندي من الزهد في الدنيا، فإنها زينة المتقين عليهم منها لباس يعرفون به من السكينة والخشوع، سيماهم في وجوههم من أثر السجود، أولئك هم أوليائي حقا حقا، فإذا لقيتهم فاخفض لهم جناحك وذلل لهم قلبك ولسانك. واعلم أنه من أهان لى وليا أو

--------------------------------------------

‌‌(1) كذا فى الأصلين.

‌‌(2) فى الأصول: الغرة بالمعجمة فى المكانين وذلك تصحيف.
পার্থিব জীবনের চাকচিক্য এবং বিলাসীদের সাজসজ্জা দিয়ে যা তাদের উপভোগ করতে দেওয়া হয়েছে। আমি যদি চাইতাম তোমাদের দুজনকে পার্থিব এমন কোনো সাজসজ্জায় সজ্জিত করতে, যার মাধ্যমে ফিরআউন বুঝতে পারত যে তার ক্ষমতা তা করতে অক্ষম, তবে আমি অবশ্যই তা করতাম। আর এটি আমার কাছে তোমাদের তুচ্ছ হওয়ার কারণে নয়, বরং আমি তোমাদের দুজনকে সম্মানের সেই অংশ পরিধান করিয়েছি যেন দুনিয়া তোমাদের বিন্দুমাত্র ঘাটতি করতে না পারে। আর নিশ্চয়ই আমি আমার বন্ধুদের দুনিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখি, যেভাবে একজন রাখাল তার উটগুলোকে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত বসার স্থান থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। এবং নিশ্চয়ই আমি তাদের দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে সরিয়ে রাখি, যেভাবে রাখাল তার উটগুলোকে ধ্বংসের চারণভূমি থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আমি চাই আলোকিত করতে ‌‌(১) এর মাধ্যমে তাদের মর্যাদাকে এবং এর মাধ্যমে তাদের অন্তরসমূহকে পবিত্র করতে; তাদের সেই নিদর্শনের মাধ্যমে যার দ্বারা তারা পরিচিত হয় এবং তাদের সেই বিষয়ের মাধ্যমে যা নিয়ে তারা গর্ব করে। এবং জেনে রেখো, যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর মনে ভীতি সঞ্চার করল, সে যেন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা করল; আর কিয়ামতের দিন আমিই হব আমার বন্ধুদের জন্য প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

আহমদ বিন আস-সিররি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-হাসান বিন আলাউইয়াহ আল-কাত্তান থেকে, তিনি ইসমাইল বিন ঈসা থেকে, তিনি ইসহাক বিন বিশর থেকে, তিনি জুবাইর থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে। এবং আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক বিন ইব্রাহিম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সাহল বিন আসকার থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আব্দুল কারিম থেকে, তিনি আব্দুস সামাদ বিন মাকিল থেকে, তিনি বলেন যে আমি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছি: যখন আল্লাহ তাআলা মূসা এবং তাঁর ভাই হারুন (আলাইহিমাস সালাম)-কে ফেরাউনের নিকট প্রেরণ করলেন, তখন তিনি বললেন: তার জাঁকজমক এবং তাকে যা ভোগ করতে দেওয়া হয়েছে তা যেন তোমাদের বিস্মিত না করে। তোমরা সেদিকে তোমাদের দৃষ্টি প্রসারিত করো না, কারণ তা পার্থিব জীবনের চাকচিক্য এবং বিলাসীদের সৌন্দর্য। আমি যদি চাইতাম যে তোমাদের দুনিয়ার এমন অলংকারে সজ্জিত করব যা দেখে ফেরাউন যখন সেদিকে তাকাত তখন সে বুঝতে পারত যে তোমাদের যা প্রদান করা হয়েছে তার মোকাবিলা করার সক্ষমতা তার নেই, তবে আমি অবশ্যই তা করতাম। কিন্তু আমি তোমাদের সে বিষয়ে অনাগ্রহী রেখেছি এবং তা তোমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি। আর আমি আমার ওলীদের (বন্ধুদের) সাথে এমনই করি। আর প্রাচীনকাল থেকেই আমি তাদের জন্য এটিই পছন্দ করেছি। নিশ্চয়ই আমি তাদের দুনিয়ার নেয়ামত ও স্বাচ্ছন্দ্য থেকে এমনভাবে সরিয়ে রাখি যেভাবে একজন দয়ালু রাখাল তার মেষপালকে ধ্বংসাত্মক চারণভূমি থেকে সরিয়ে রাখে। আর আমি তাদের দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ও জীবনযাপন থেকে দূরে রাখি যেভাবে একজন দয়ালু রাখাল তার উটকে চর্মরোগাক্রান্ত স্থানের বিশ্রামস্থল থেকে দূরে রাখে‌‌(২)। এটি আমার কাছে তাদের তুচ্ছ হওয়ার কারণে নয়, বরং যাতে তারা আমার পক্ষ থেকে তাদের সম্মান ও মর্যাদার অংশটি পরিপূর্ণ ও অটুটভাবে লাভ করতে পারে, যাকে দুনিয়া কোনো আঘাত করতে পারেনি এবং প্রবৃত্তি যাকে বিপথগামী করতে পারেনি। জেনে রেখো, বান্দাগণ দুনিয়া বিমুখতা (জুহদ) অপেক্ষা অধিক কার্যকর কোনো অলংকার দ্বারা আমার নিকট সজ্জিত হতে পারেনি। নিশ্চয়ই এটি মুত্তাকীদের অলংকার, তাদের ওপর এমন পোশাক থাকে যার মাধ্যমে তারা প্রশান্তি ও বিনয় দ্বারা পরিচিতি পায়। তাদের চেহারায় সেজদার চিহ্ন ফুটে থাকে। তারাই প্রকৃতপক্ষে আমার ওলী (বন্ধু), সত্যিই তারা আমার ওলী। সুতরাং তুমি যখন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের প্রতি বিনয়ী হয়ো এবং তাদের সামনে তোমার হৃদয় ও জিহ্বাকে নম্র রেখো। আর জেনে রেখো, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীকে অপমান করল বা

--------------------------------------------

‌‌(১) উভয় মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে।

‌‌(২) মূল পাঠসমূহে: উভয় স্থানে শব্দটি নুকতাযুক্ত বর্ণযোগে 'গুররাহ' হিসেবে এসেছে, যা মূলত একটি লেখনীপ্রমাদ।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أخافه فقد بارزني بالمحاربة وبادأني، وعرض لي نفسه ودعاني إليها، وأنا أسرع شيء إلى نصرة أوليائي، أفيظن الذي يحاربني أن يقوم لى؟ أو يظن الذى يعادينى أن بعجزنى؟ أو يظن الذي يبارزني أن يسبقني أو يفوتني؟ فكيف وأنا الثائر لهم في الدنيا والآخرة لا أكل نصرتهم إلى غيري. زاد اسماعيل ابن عيسى في حديثه: فاعلم يا موسى أن أوليائي الذين أشعروا قلوبهم خوفي فيظهر على أجسادهم في لباسهم وجهدهم الذي يفوزون به يوم القيامة، وأملهم الذي به يذكرون، وسيماهم الذي به يعرفون، فإذا لقيتهم فذلل لهم نفسك.

حدثنا أبو الحسن أحمد بن محمد بن مقسم ثنا العباس بن يوسف الشكلي حدثني محمد بن عبد الملك قال قال عبد الباري: قلت لذي النون المصري رحمه الله: صف لي الأبدال فقال: إنك لتسألني عن دياجي الظلم، لأكشفنها لك عبد الباري. هم قوم ذكروا الله عز وجل بقلوبهم تعظيما لربهم عز وجل لمعرفتهم بجلاله. فهم حجج الله تعالى على خلقه، ألبسهم النور الساطع من محبته، ورفع لهم أعلام الهداية إلى مواصلته، وأقامهم مقام الأبطال لإرادته، وأفرغ عليهم الصبر عن مخالفته، وطهر أبدانهم بمراقبته وطيبهم بطيب أهل مجاملته، وكساهم حللا من نسج مودته، ووضع على رءوسهم تيجان مسرته، ثم أودع القلوب من ذخائر الغيوب فهي معلقة بمواصلته، فهمومهم إليه ثائرة، وأعينهم إليه بالغيب ناظرة، قد أقامهم على باب النظر من قربه، وأجلسهم على كراسي أطباء أهل معرفته. ثم قال: إن أتاكم عليل من فقري فداووه أو مريض من فراقي فعالجوه، أو خائف مني فأمنوه، أو آمن منى فخذروه، أو راغب في مواصلتي فهنوه، أو راحل نحوي فزودوه، أو جبان في متاجرتي فشجعوه، أو آيس من فضلي فعدوه، أو راج لإحساني فبشروه، أو حسن الظن بي فباسطوه، أو محب لي فواظبوه، أو معظم لقدري فعظموه. أو مستوصفكم نحوى فأرشدوه، أو مسئ بعد إحسان فعاتبوه ومن واصلكم في فواصلوه، ومن غاب عنكم فافتقدوه، ومن ألزمكم جناية فاحتملوه، ومن قصر في واجب حقي فاتركوه، ومن أخطأ خطيئة فناصحوه، ومن مرض من أوليائى فعودوه،
যে ব্যক্তি তাকে ভয় দেখাল, সে যেন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হল এবং আমার সাথে শত্রুতা শুরু করল। সে নিজেকে আমার সামনে পেশ করল এবং আমাকে যুদ্ধের জন্য আহ্বান করল। অথচ আমি আমার অলিদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দ্রুত। যে আমার সাথে যুদ্ধ করে, সে কি মনে করে যে সে আমার মোকাবিলায় দাঁড়াতে পারবে? অথবা যে আমার সাথে শত্রুতা করে, সে কি মনে করে যে সে আমাকে অক্ষম করে দেবে? অথবা যে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, সে কি মনে করে যে সে আমার অগ্রবর্তী হয়ে যাবে কিংবা আমাকে এড়িয়ে যেতে পারবে? এটা কীভাবে সম্ভব, যখন আমি দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের পক্ষ হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণকারী এবং আমি তাদের সাহায্যের ভার অন্য কারও ওপর অর্পণ করি না। ইসমাঈল ইবনে ঈসা তার হাদিসে আরও বর্ণনা করেছেন: হে মুসা! জেনে রাখো, আমার অলি বা বন্ধু তারাই যারা তাদের অন্তরে আমার ভয়কে গেঁথে নিয়েছে, ফলে তা তাদের শরীরে, পোশাকে এবং তাদের কঠোর সাধনায় প্রকাশ পায়, যার মাধ্যমে তারা কিয়ামতের দিন সফলকাম হবে। আর তাদের সেই আশা যার দ্বারা তারা স্মরণীয় হয় এবং তাদের সেই লক্ষণ যার দ্বারা তাদের চেনা যায়। সুতরাং তুমি যখন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের প্রতি নিজেকে বিনম্র রাখবে।

আবুল হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মিকসাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্বাস বিন ইউসুফ আশ-শাকলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে আব্দুল বারী বলেছেন: আমি যুন-নুন আল-মিসরি (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বললাম: আমার কাছে আবদালদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: হে আব্দুল বারী, তুমি আমাকে অন্ধকারের নিবিড় ছায়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ, আমি অবশ্যই তা তোমার কাছে উন্মোচন করব। তারা এমন এক কওম যারা মহান আল্লাহর মহিমা সম্পর্কে অবগত হওয়ার কারণে তাদের প্রতিপালকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে অন্তর দিয়ে মহান আল্লাহকে স্মরণ করেন। তারা তাঁর সৃষ্টির ওপর মহান আল্লাহর প্রমাণ স্বরূপ। তিনি তাদেরকে তাঁর মহব্বতের প্রজ্জ্বলিত নূর দ্বারা আবৃত করেছেন, তাঁর সাথে মিলনের হেদায়েতের ঝাণ্ডা তাদের জন্য উড্ডীন করেছেন, তাঁর ইচ্ছাপূরণের জন্য বীরত্বপূর্ণ স্থানে তাদের অধিষ্ঠিত করেছেন, তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকতে তাদের ওপর ধৈর্য বর্ষণ করেছেন, তাঁর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের দেহগুলোকে পবিত্র করেছেন, তাঁর সহচরদের সুগন্ধি দ্বারা তাদের সুবাসিত করেছেন, তাঁর বন্ধুত্বের বুননে তৈরি পোশাক তাদের পরিহিত করেছেন এবং তাদের মস্তকে তাঁর সন্তুষ্টির মুকুট স্থাপন করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের অন্তরে অদৃশ্যের ভাণ্ডার গচ্ছিত রেখেছেন, ফলে সেই অন্তরগুলো তাঁর সাথে মিলনের নেশায় নিবিষ্ট। তাদের সকল চিন্তা তাঁর দিকেই ধাবিত, এবং তাদের চক্ষুগুলো অদৃশ্যের মাধ্যমে তাঁর দিকেই তাকিয়ে থাকে। তিনি তাদেরকে তাঁর নৈকট্যের দর্শনের দরজায় দাঁড় করিয়েছেন এবং তাঁর পরিচয় দানকারী চিকিৎসকদের আসনে তাদের বসিয়েছেন। অতঃপর তিনি বললেন: (আল্লাহ বলেন) যদি আমার অভাবী কোনো অসুস্থ ব্যক্তি তোমাদের কাছে আসে তবে তাকে ঔষধ দাও; কিংবা আমার বিরহকাতর কোনো রোগী আসে তবে তার চিকিৎসা করো; অথবা আমার ভয়ে ভীত কাউকে পাও তবে তাকে অভয় দাও; কিংবা আমার ব্যাপারে নির্ভয় কাউকে পাও তবে তাকে সতর্ক করো; অথবা আমার সাথে মিলনের আকাঙ্ক্ষী কাউকে পাও তবে তাকে মুবারকবাদ দাও; কিংবা আমার দিকে ভ্রমণকারী কাউকে পাও তবে তাকে পাথেয় দাও; অথবা আমার সাথে ব্যবসার ক্ষেত্রে ভীরু কাউকে পাও তবে তাকে উৎসাহিত করো; কিংবা আমার অনুগ্রহ থেকে হতাশ কাউকে পাও তবে তাকে প্রতিশ্রুতি দাও; অথবা আমার ইহসানের প্রত্যাশী কাউকে পাও তবে তাকে সুসংবাদ দাও; কিংবা আমার প্রতি সুধারণা পোষণকারী কাউকে পাও তবে তার সাথে প্রসন্নতা দেখাও; অথবা আমার কোনো মহব্বতকারীকে পাও তবে তার সাথে সর্বদা অবস্থান করো; কিংবা আমার মর্যাদাকে সম্মানকারী কাউকে পাও তবে তাকে সম্মান করো। অথবা যদি কেউ তোমাদের কাছে আমার পথ সম্পর্কে জানতে চায় তবে তাকে পথপ্রদর্শন করো; কিংবা কেউ সদ্ব্যবহার পাওয়ার পর দুর্ব্যবহার করলে তাকে মৃদু ভর্ৎসনা করো। আর যে তোমাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে তোমরাও তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখো; যে তোমাদের থেকে অনুপস্থিত থাকে তার খোঁজ নাও; কেউ যদি তোমাদের ওপর অপরাধ চাপিয়ে দেয় তবে তা সহ্য করো; যে ব্যক্তি আমার হকের ওয়াজিব পালনে অবহেলা করে তাকে বর্জন করো; কেউ কোনো ভুল করলে তাকে নসিহত করো; আর আমার বন্ধুদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাও।

(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن حزن فبشروه، وإن استجار بكم ملهوف فأجيروه.

يا أوليائي لكم عاتبت وفي إياكم رغبت، ومنكم الوفاء طلبت، ولكم اصطفيت وانتخبت، ولكم استخدمت واختصصت، لأني لا أحب استخدام الجبارين، ولا مواصلة المتكبرين، ولا مصافاة المخلطين، ولا مجاوبة المخادعين، ولا قرب المعجبين، ولا مجالسة البطالين، ولا موالاة الشرهين.

يا أوليائي جزائي لكم أفضل الجزاء، وعطائي لكم أجزل العطاء، وبذلي لكم أفضل البذل، وفضلي عليكم أكثر الفضل، ومعاملتي لكم أوفى المعاملة، ومطالبتي لكم أشد المطالبة، أنا مجتني القلوب، وأنا علام الغيوب، وأنا مراقب الحركات، وأنا ملاحظ اللحظات، أنا المشرف على الخواطر، أنا العالم بمجال الفكر، فكونوا دعاة إلي، لا يفزعكم ذو سلطان‌‌(1) سوائي، فمن عاداكم عاديته، ومن والاكم واليته، ومن آذاكم أهلكته، ومن أحسن إليكم جازيته، ومن هجركم قليته.

قال الشيخ رحمه الله: وهم الشغفون به وبوده، والكلفون بخطابه وعهده

 

• حدثنا سليمان بن أحمد حدثنا أحمد بن منصور المدائنى حدثنا محمد بن إسحاق المسيبي حدثنا عبد الله بن محمد بن الحسن بن عروة عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة رضي الله تعالى عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم: «إن موسى عليه السلام قال: يا رب أخبرني بأكرم خلقك عليك. قال: الذي يسرع إلى هواي إسراع النسر إلى هواه، والذي يكلف بعبادي الصالحين كما يكلف الصبي بالناس، والذي يغضب إذا انتهكت محارمي غضب النمر لنفسه، فإن النمر إذا غضب لم يبال أقل الناس أم كثروا». .

 

• حدثنا أبي حدثنا أحمد بن محمد بن مصقلة حدثنا أبو عثمان سعيد بن عثمان الحناط حدثنا أبو الفيض ذو النون بن إبراهيم المصري قال: إن الله عز وجل لصفوة من خلقه وإن لله عز وجل لخيرة. فقيل له: يا أبا الفيض فما علامتهم؟ قال: إذا خلع العبد الراحة وأعطى المجهود في الطاعة وأحب سقوط المنزلة. ثم قال:

--------------------------------------------

‌‌(1) فى ز: سلطان دونى
এবং যে শোকাতুর তাকে সুসংবাদ দাও, আর যদি কোনো আর্ত ব্যক্তি তোমাদের কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও।

হে আমার বন্ধুগণ, আমি তোমাদেরই তিরস্কার করেছি এবং তোমাদেরই প্রতি আগ্রহী হয়েছি, তোমাদের কাছেই আনুগত্য চেয়েছি, আর তোমাদেরই আমি মনোনীত ও নির্বাচিত করেছি, এবং তোমাদেরই আমি নিয়োজিত ও বিশিষ্ট করেছি; কারণ আমি প্রতাপশালীদের নিয়োজিত করা পছন্দ করি না, অহংকারীদের সাথে সম্পর্ক রাখা পছন্দ করি না, সংমিশ্রণকারীদের সাথে নিছক বন্ধুত্ব পছন্দ করি না, প্রতারকদের উত্তর দেওয়া পছন্দ করি না, আত্মমুগ্ধদের নৈকট্য পছন্দ করি না, কর্মহীনদের সাথে উঠাবসা পছন্দ করি না, কিংবা অতি লোভীদের সাথে মিত্রতা করা পছন্দ করি না।

হে আমার বন্ধুগণ, তোমাদের জন্য আমার প্রতিদান সর্বোত্তম প্রতিদান, তোমাদের প্রতি আমার দান সবচেয়ে বড় দান, তোমাদের জন্য আমার ত্যাগ সর্বোত্তম ত্যাগ, এবং তোমাদের ওপর আমার অনুগ্রহ সর্বাধিক অনুগ্রহ। তোমাদের সাথে আমার আচরণ সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ আচরণ, এবং তোমাদের কাছে আমার দাবি সবচেয়ে কঠোর দাবি। আমিই অন্তরসমূহ জয়কারী, আমিই অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত, আমিই সকল নড়াচড়ার পর্যবেক্ষক, এবং আমিই প্রতিটি মুহূর্তের লক্ষ্যকারী। আমিই মনের গোপন চিন্তার ওপর তদারককারী, আমিই চিন্তার বিচরণক্ষেত্র সম্পর্কে অবগত। অতএব তোমরা আমার দিকে আহ্বানকারী হও; আমি ছাড়া অন্য কোনো ক্ষমতাবান যেন তোমাদের আতঙ্কিত না করে ‌‌(১)। সুতরাং যে তোমাদের সাথে শত্রুতা করবে, আমি তার সাথে শত্রুতা করব; যে তোমাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, আমি তার সাথে বন্ধুত্ব করব; যে তোমাদের কষ্ট দেবে, আমি তাকে ধ্বংস করব; যে তোমাদের প্রতি সদাচরণ করবে, আমি তাকে পুরস্কৃত করব; আর যে তোমাদের পরিত্যাগ করবে, আমি তাকে ঘৃণা করব।

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তারা হলো তাঁর প্রতি এবং তাঁর ভালোবাসার প্রতি আসক্ত, এবং তাঁর সম্বোধন ও অঙ্গীকারের প্রতি অতি অনুরাগী।

• সুলায়মান বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন মানসুর আল-মাদায়িনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-মুসাইয়িবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন উরওয়াহ আমাদের নিকট হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহা) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: হে আমার রব! আপনার নিকট আপনার সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে, সে সম্পর্কে আমাকে জানান। তিনি বললেন: সেই ব্যক্তি, যে আমার সন্তুষ্টির দিকে তেমনি দ্রুত ধাবিত হয় যেমন ঈগল তার শিকারের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়; এবং যে আমার নেককার বান্দাদের প্রতি তেমন অনুরক্ত হয় যেমন শিশু মানুষের প্রতি অনুরক্ত হয়; এবং যে আমার নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ লঙ্ঘিত হলে তেমনি রাগান্বিত হয় যেমন চিতা বাঘ নিজের জন্য রাগান্বিত হয়; কেননা চিতা বাঘ যখন রাগান্বিত হয়, তখন সে লোক সংখ্যা কম নাকি বেশি—তা পরোয়া করে না।»।

• আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মাসকালাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসমান সাঈদ বিন উসমান আল-হান্নাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ফায়েয যুন-নূন বিন ইবরাহিম আল-মিসরী বলেছেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কিছু মনোনীত বান্দা রয়েছেন এবং আল্লাহর জন্য কিছু পছন্দনীয় লোক রয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: হে আবুল ফায়েয! তাদের নিদর্শন কী? তিনি বললেন: যখন বান্দা আরাম-আয়েশ বিসর্জন দেয়, আনুগত্যের কাজে নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করে এবং লোকচক্ষুতে মর্যাদা হ্রাস পাওয়াকে পছন্দ করে। অতঃপর তিনি বললেন:

--------------------------------------------

‌‌(১) পাণ্ডুলিপি 'যা'-তে রয়েছে: আমার নিচের ক্ষমতা
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
منع القران بوعده ووعيده … مقل العيون بليلها أن تهجعا‌‌(1)

فهموا عن الملك الكريم كلامه … فهما تذل له الرقاب وتخضعا

وقال له بعض من كان في المجلس حاضرا: يا أبا الفيض من هؤلاء القوم يرحمك الله؟ فقال ويحك هؤلاء قوم جعلوا الركب لجباههم وسادا، والتراب لجنوبهم مهادا. هؤلاء قوم خالط القرآن لحومهم ودماءهم، فعزلهم عن الأزواج وحركهم بالإدلاج، فوضعوه على أفئدتهم فانفجرت، وضموه إلى صدورهم فانشرحت، وتصدعت هممهم به فكدحت، فجعلوه لظلمتهم سراجا، ولنومهم مهادا. ولسبيلهم منهاجا، ولحجتهم إفلاجا، يفرح الناس ويحزنون، وينام الناس ويسهرون، ويفطر الناس ويصومون، ويأمن الناس ويخافون. فهم خائفون حذرون، وجلون مشفقون مشمرون، يبادرون من الفوت، ويستعدون للموت. لم يتصغر جسيم ذلك عندهم لعظم ما يخافون من العذاب وخطر ما يوعدون من الثواب، درجوا على شرائع القرآن، وتخلصوا بخالص القربان، واستناروا بنور الرحمن، فما لبثوا أن أنجز لهم القرآن موعوده، وأوفى لهم عهوده، وأحلهم سعوده، وأجارهم وعيده، فنالوا به الرغائب، وعانقوا به الكواعب، وأمنوا به العواطب وحذروا به العواقب، لأنهم فارقوا بهجة الدنيا بعين قالية، ونظروا إلى ثواب الآخرة بعين راضية، واشتروا الباقية بالفانية، فنعم ما اتجروا ربحوا الدارين، وجمعوا الخيرين، واستكملوا الفضلين، بلغوا أفضل المنازل، بصبر أيام قلائل، قطعوا الأيام باليسير، حذار يوم قمطرير، وسارعوا في المهلة، وبادروا خوف حوادث الساعات، ولم يركبوا أيامهم باللهو واللذات، بل خاضوا الغمرات للباقيات الصالحات، أو هن والله قوتهم التعب، وغير ألوانهم النصب، وذكروا نارا ذات لهب، مسارعين إلى الخيرات منقطعين عن اللهوات، بريئون من الريب والخنا، فهم خرس فصحاء، وعمي بصراء. فعنهم تقصر الصفات؛ وبهم تدفع النقمات، وعليهم تنزل البركات، فهم أحلى الناس منطقا ومذاقا، وأوفى

--------------------------------------------

‌‌(1) فى ح - تهجع، وتخضع.
কুরআন তার পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুমকির মাধ্যমে রাতের বেলা চোখের মণিগুলোকে নিদ্রা হতে বিরত রেখেছে ‌‌(১)

তারা মহানুভব রাজাধিরাজের পক্ষ থেকে তাঁর কালামকে এমনভাবে অনুধাবন করেছে যে সেই উপলব্ধির সামনে ঘাড়সমূহ নুইয়ে পড়ে এবং মস্তক অবনত হয়।

মজলিসে উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি তাকে বললেন: হে আবুল ফায়দ, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, এই লোকগুলো কারা? তিনি বললেন: তোমার প্রতি আক্ষেপ! এরা এমন এক সম্প্রদায় যারা তাদের হাঁটুগুলোকে ললাটের বালিশ বানিয়েছে এবং মাটিকে তাদের পার্শ্বদেশের বিছানা করেছে। এরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের রক্ত-মাংসে কুরআন মিশে গেছে; এটি তাদেরকে স্ত্রীদের সংসর্গ থেকে বিমুখ করেছে এবং শেষ রাতের ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তারা কুরআনকে তাদের হৃদয়ের গভীরে ধারণ করেছে, ফলে তা বিদীর্ণ হয়েছে; তারা একে বক্ষের সাথে লেপ্টে নিয়েছে, ফলে তা প্রশস্ত হয়েছে। কুরআনের প্রভাবে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিদীর্ণ হয়েছে এবং তারা কঠোর সাধনা করেছে। তারা একে তাদের অন্ধকারের প্রদীপ, ঘুমের শয্যা, পথের দিশা এবং তাদের প্রমাণের সাফল্যের মাধ্যম বানিয়েছে। মানুষ যখন আনন্দিত হয় তারা তখন ব্যথিত থাকে, মানুষ যখন নিদ্রামগ্ন হয় তারা তখন বিনিদ্র রজনী কাটায়, মানুষ যখন আহার করে তারা তখন রোজা রাখে এবং মানুষ যখন নিরাপদ বোধ করে তারা তখন ভীত থাকে। তারা সর্বদা সতর্ক ও শঙ্কিত, কম্পিত ও অনুতপ্ত এবং সদাপ্রস্তুত; তারা সুযোগ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই দ্রুত আমল করে এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেয়। তারা যে শাস্তির ভয় করে তার ভয়াবহতা এবং যে সওয়াবের আশা রাখে তার গুরুত্বের কারণে তাদের নিকট কোনো বিশাল ত্যাগই তুচ্ছ হয়নি। তারা কুরআনের বিধানের ওপর চলেছে, একনিষ্ঠ আত্মত্যাগের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ হয়েছে এবং রহমানের নূরে আলোকিত হয়েছে। কুরআন খুব শীঘ্রই তাদের কাছে করা প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে, তাদের জন্য এর অঙ্গীকারগুলো রক্ষা করেছে, তাদেরকে সৌভাগ্যের স্থানে আসীন করেছে এবং এর ভয়াবহতা থেকে তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে। এর বদৌলতে তারা কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করেছে, জান্নাতের ডাগরচোখা হুরদের সান্নিধ্য পেয়েছে, ধ্বংসাত্মক পরিণতি থেকে নিরাপদ হয়েছে এবং অশুভ সমাপ্তি সম্পর্কে সতর্ক হয়েছে। কেননা তারা অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দুনিয়ার চাকচিক্য বর্জন করেছে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে পরকালের প্রতিদানের দিকে তাকিয়েছে। তারা নশ্বর জগতের বিনিময়ে অবিনশ্বর জগতকে ক্রয় করেছে। তাদের এই ব্যবসা কতই না চমৎকার! তারা উভয় জগতের কল্যাণ অর্জন করেছে, উভয় মঙ্গলের সমাবেশ ঘটিয়েছে এবং উভয় শ্রেষ্ঠত্বকে পূর্ণতা দিয়েছে। সামান্য কদিন ধৈর্যের বিনিময়ে তারা সর্বোত্তম মাকামে পৌঁছেছে। মহাপ্রলয়ের দিনের ভয়ে তারা অতি অল্পের ওপর সন্তুষ্ট থেকে দিনাতিপাত করেছে। তারা অবকাশ থাকতেই নেক কাজে দ্রুত ধাবিত হয়েছে এবং সময়ের পরিবর্তনের ভয়ে ত্বরান্বিত হয়েছে। তারা খেল-তামাশা ও বিলাসিতায় দিন কাটায়নি, বরং চিরস্থায়ী সৎকর্মের আশায় দুঃখ-কষ্টের সমুদ্রে অবগাহন করেছে। আল্লাহর কসম, ক্লান্তি তাদের শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং পরিশ্রম তাদের শরীরের বর্ণ বদলে দিয়েছে। তারা প্রজ্বলিত আগুনের কথা স্মরণ করেছে, তাই আমোদ-প্রমোদ ত্যাগ করে দ্রুত নেক কাজের দিকে ধাবিত হয়েছে। তারা সন্দেহ ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত। তারা যেন নির্বাক হয়েও সুবক্তা এবং দৃষ্টিহীন হয়েও চক্ষুষ্মান। কোনো বিশেষণই তাদের গুণের পূর্ণতা প্রকাশে সক্ষম নয়; তাদের অসিলায় বিপদ দূর হয় এবং তাদের কারণেই বরকত নাজিল হয়। তারা বাচনভঙ্গিতে ও স্বভাবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মিষ্ট এবং অঙ্গীকার রক্ষায় সবচেয়ে পূর্ণ...

--------------------------------------------

(১) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: নিদ্রা যায় এবং অনুগত হয়।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الناس عهدا وميثاقا، سراج العباد، ومنار البلاد، مصابيح الدجى، ومعادن الرحمة، ومنابع الحكمة، وقوام الأمة، تجافت جنوبهم عن المضاجع، فهم أقبل الناس للمعذرة، وأصفحهم للمغفرة، وأسمحهم بالعطية، فنظروا إلى ثواب الله عز وجل بأنفس تائقة، وعيون رامقة، وأعمال موافقة، فحلوا عن الدنيا مطي رحالهم، وقطعوا منها حبال آمالهم، لم يدع لهم خوف ربهم عز وجل من أموالهم تليدا ولا عتيدا، فتراهم لم يشتهوا من الأموال كنوزها، ولا من الأوبار خزوزها، ولا من المطايا عزيزها، ولا من القصور مشيدها، بلى! ولكنهم نظروا بتوفيق الله تعالى لهم وإلهامه إياهم، فحركهم ما عرفوا بصبر أيام قلائل فضموا أبدانهم عن المحارم، وكفوا أيديهم عن ألوان المطاعم، وهربوا بأنفسهم عن المآثم، فسلكوا من السبيل رشاده، ومهدوا للرشاد مهاده، فشاركوا أهل الدنيا في آخرتهم، عزوا عن الرزايا، وغصص المنايا، هابوا الموت وسكراته وكرباته وفجعاته، ومن القبر وضيقه، ومنكر ونكير ومن ابتدارهما وانتهارهما وسؤالهما، ومن المقام بين يدي الله عز ذكره، وتقدست أسماؤه.

قال الشيخ أبو نعيم رحمه الله: وهم مصابيح الدجى، وينابيع الرشد والحجى، خصوا بخفي الاختصاص، ونقوا من التصنع بالإخلاص

 

• حدثنا عبد الله بن محمد وأبو أحمد محمد بن أحمد - في جماعة - قالوا حدثنا الفضل بن الحباب حدثنا شاذ بن فياض حدثنا أبو قحذم عن أبي قلابة عن عبد الله بن عمر بن الخطاب قال: مر عمر بمعاذ بن جبل رضي الله تعالى عنهما وهو يبكي.

فقال: ما يبكيك يا معاذ؟ فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:

«أحب العباد إلى الله تعالى الأتقياء الأخفياء، الذين إذا غابوا لم يفتقدوا، وإذا شهدوا لم يعرفوا أولئك هم أئمة الهدى ومصابيح العلم».

 

• حدثنا أبو عمرو بن حمدان حدثنا الحسن بن سفيان حدثنا أبو موسى إسحاق بن إبراهيم الهروي حدثنا أبو معاوية عمرو بن عبد الجبار السنجاري حدثنا عبيدة بن حسان عن عبد الحميد بن ثابت بن ثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم
মানুষের মাঝে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারে তারা অগ্রগামী, বান্দাদের প্রদীপ, জনপদের আলোকবর্তিকা, অন্ধকারের প্রদীপসমূহ, করুণার আকর, প্রজ্ঞার উৎস এবং উম্মতের ধারক। তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে পৃথক থাকে। তারা মানুষের ওজর কবুল করতে সর্বাপেক্ষা আগ্রহী, ক্ষমা করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক মার্জনাশীল এবং দান করার ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা উদার। তারা মহান আল্লাহর সওয়াবের প্রতি অনুরাগী প্রাণ, অপলক দৃষ্টি এবং সুন্নাহসম্মত আমলের সাথে লক্ষ্য করেছেন। তারা দুনিয়া থেকে তাদের সফরের বন্ধনসমূহ খুলে নিয়েছেন এবং পার্থিব আশার রশি ছিন্ন করেছেন। তাদের মহান রবের ভয় তাদের ধন-সম্পদের কোনো সঞ্চিত বা অর্জিত অংশ অবশিষ্ট রাখেনি। ফলে আপনি তাদের দেখবেন যে তারা সম্পদের ভাণ্ডার, পশমের মিহি রেশমি পোশাক, মূল্যবান বাহন কিংবা সুউচ্চ প্রাসাদের আকাঙ্ক্ষা করেন না। বরং তারা আল্লাহর তাওফিক ও ইলহামের সাহায্যে অবলোকন করেছেন; ফলে তারা যা জেনেছেন তা তাদের কয়েক দিনের সামান্য ধৈর্যের প্রতি ধাবিত করেছে। ফলে তারা তাদের দেহকে হারাম কাজ থেকে সরিয়ে রেখেছেন, বিবিধ উপাদেয় খাদ্য থেকে নিজেদের হাত গুটিয়ে নিয়েছেন এবং পাপকাজ থেকে নিজেদের রক্ষা করেছেন। তারা সত্যপথের দিশা অনুসরণ করেছেন এবং হেদায়েতের পথকে সুগম করেছেন। তারা দুনিয়াদারদের মাঝে থেকেও তাদের আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করেছেন। তারা বিপদ-আপদ ও মৃত্যুর যন্ত্রণার ঊর্ধ্বে উঠেছেন। তারা মৃত্যুকে এবং এর সাকরাত, কষ্ট ও আকস্মিক আঘাতকে ভয় করেছেন। তারা কবর ও এর সংকীর্ণতা, মুনকার ও নাকির এবং তাদের দ্রুত আগমন, ধমক ও জিজ্ঞাসাবাদকে ভয় করেছেন। আর তারা ভয় করেছেন সেই মুহূর্তকে যখন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, যাঁর স্মরণ মহান এবং নামসমূহ পবিত্র।

শাইখ আবু নুআইম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তারা হলেন অন্ধকারের প্রদীপ এবং হেদায়েত ও প্রজ্ঞার ঝরনাধারা। তারা বিশেষ ও নিভৃত সম্মানে ভূষিত হয়েছেন এবং ইখলাসের মাধ্যমে লৌকিকতা থেকে তারা মুক্ত হয়েছেন।

• আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ এবং আবু আহমদ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ — একটি জামাতের মধ্যে — আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন যে আল-ফজল ইবনুল হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শায ইবনে ফাইয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কাহযাম আবু কিলাবাহ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এমতাবস্থায় যে তিনি কাঁদছিলেন।

তিনি বললেন: হে মুয়াজ, আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

«আল্লাহ তাআলার নিকট বান্দাদের মধ্যে অধিক প্রিয় হলো সেই সব ধর্মভীরু নিভৃতচারীগণ, যারা অনুপস্থিত থাকলে তাদের খোঁজ করা হয় না এবং উপস্থিত থাকলেও তাদের চেনা যায় না। তারাই হিদায়াতের ইমাম এবং জ্ঞানের আলোকবর্তিকা (প্রদীপসমূহ)‌।»

• আবু আমর ইবনে হামদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুসা ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-হারাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুআবিয়াহ আমর ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সিনজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দাহ ইবনুল হাসান আব্দুল হামিদ ইবনে সাবিত ইবনে সাওবান — যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস ছিলেন — তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال حدثني أبي عن جدي: شهدت من رسول الله صلى الله عليه وسلم مجلسا فقال: «طوبى للمخلصين أولئك مصابيح الهدى تتجلى عنهم كل فتنة ظلماء.

قال الشيخ رحمه الله: وهم الواصلون بالحبل، والباذلون للفضل، والحاكمون بالعدل

 

• حدثنا محمد بن أحمد بن الحسن حدثنا بشر بن موسى حدثنا يحيى بن إسحاق السيلحيني حدثنا ابن لهيعة عن خالد بن أبي عمران عن القاسم بن محمد عن عائشة رضي الله تعالى عنها. قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أتدرون من السابقون إلى ظل الله عز وجل؟» قالوا الله ورسوله أعلم! قال: «الذين إذا أعطوا الحق قبلوه، وإذا سألوه بذلوه، وحكموا للناس كحكمهم لأنفسهم». رواه أحمد بن حنبل عن يحيى بن إسحاق مثله.

قال الشيخ رحمه الله: وهم المنبسطون جهرا، المنقبضون سرا، يبسطهم روح الارتياح والاشتياق، ويقلقهم خوف القطيعة والفراق

 

• حدثنا عبد الله بن محمد بن جعفر حدثنا عبد الله بن محمد بن زكريا حدثنا سلمة بن شبيب حدثنا الوليد بن إسماعيل الحراني حدثنا شيبان بن مهران عن خالد بن المغيرة بن قيس عن مكحول عن عياض بن غنم أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن من خيار أمتي - فيما نبأني الملأ الأعلى، في الدرجات العلى - قوما يضحكون جهرا من سعة رحمة ربهم، ويبكون سرا من خوف شدة عذاب ربهم عز وجل. يذكرون ربهم بالغداة والعشي، في بيوته الطيبة، ويدعونه بألسنتهم رغبا ورهبا، ويسألونه بأيديهم خفضا ورفعا، ويشتاقون إليه بقلوبهم عودا وبدءا، مئونتهم على الناس خفيفة وعلى أنفسهم ثقيلة، يدبون في الأرض حفاة على أقدامهم دبيب النمل بغير مرح ولا بذخ ولا مثلة، يمشون بالسكينة، ويتقربون بالوسيلة، يلبسون الخلقان، ويتبعون البرهان، ويتلون الفرقان، ويقربون القربان. عليهم من الله تعالى شهود حاضرة، وأعين حافظة ونعم ظاهرة، يتوسمون العباد، ويتفكرون في البلاد، أجسادهم في الأرض وأعينهم في السماء. أقدامهم في الأرض وقلوبهم في السماء، وأنفسهم في الأرض وأفئدتهم عند العرش، أرواحهم في الدنيا وعقولهم في الآخرة،
তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: "মুখলিসদের (একনিষ্ঠ বান্দাদের) জন্য সুসংবাদ, তারা হলেন হিদায়াতের প্রদীপ, তাদের মাধ্যমে প্রতিটি অন্ধকার ফিতনা দূরীভূত হয়।"

শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তারা হলেন যারা (আল্লাহর) রজ্জুর সাথে যুক্ত, যারা অনুগ্রহ দানকারী এবং যারা ন্যায়ের সাথে বিচারকারী।

• মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনু মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু ইসহাক আস-সায়লাহিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনু লাহীআহ খালিদ ইবনু আবী ইমরান থেকে, তিনি কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা কি জানো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ছায়ার দিকে অগ্রগামী কারা?" তারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন! তিনি বললেন: "তারা হলো ঐ সকল ব্যক্তি যাদেরকে সত্য প্রদান করা হলে তারা তা গ্রহণ করে, আর যখন তাদের নিকট সত্য চাওয়া হয় তখন তারা তা প্রদান করে এবং মানুষের জন্য তেমন বিচার করে যেমনটি তারা নিজেদের জন্য করে থাকে।" আহমাদ ইবনু হাম্বল ইয়াহইয়া ইবনু ইসহাক থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তারা হলেন যারা প্রকাশ্যে প্রফুল্ল এবং গোপনে সংকুচিত (ভীত), প্রশান্তি ও আকাঙ্ক্ষার রুহ তাদেরকে প্রফুল্ল করে এবং বিচ্ছেদ ও দূরত্বের ভয় তাদেরকে উদ্বিগ্ন করে।

• আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাকারিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সালামা ইবনে শাবিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবনে ইসমাইল আল-হাররানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শায়বান ইবনে মেহরান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে আল-মুগীরা ইবনে কায়েস থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি ইয়াদ ইবনে গানাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «নিশ্চয়ই আমার উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তিদের মধ্যে—যেমনটি ঊর্ধ্বজগত আমাকে উচ্চ মর্যাদার স্তরে সংবাদ দিয়েছে—এমন একদল লোক রয়েছে যারা তাদের রবের রহমতের প্রশস্ততার কারণে প্রকাশ্যে হাসে এবং তাদের মহান ও পরাক্রমশালী রবের আযাবের কঠোরতার ভয়ে গোপনে কাঁদে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবের পবিত্র ঘরগুলোতে তাঁকে স্মরণ করে এবং আশায় ও ভয়ে তাদের জিহ্বা দিয়ে তাঁকে ডাকে, আর তাদের হাত অবনত ও উত্তোলিত করে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে। তারা বারবার তাদের অন্তর দিয়ে তাঁর প্রতি ব্যাকুলতা অনুভব করে; মানুষের উপর তাদের বোঝা হালকা কিন্তু নিজেদের প্রতি তা ভারী। তারা জমিনে তাদের পা দিয়ে নগ্নপদে পিঁপড়ের মতো নম্রভাবে বিচরণ করে, যাতে কোনো অহংকার, বিলাসিতা বা কৃত্রিমতা থাকে না। তারা স্থিরতার সাথে পথ চলে, অসিলা (উপায়) দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য সন্ধান করে, জরাজীর্ণ পোশাক পরিধান করে, অকাট্য প্রমাণের অনুসরণ করে, ফুরকান (কুরআন) তিলাওয়াত করে এবং নৈকট্য লাভের উপায় পেশ করে। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর উপস্থিত সাক্ষী, হিফাজতকারী দৃষ্টি এবং প্রকাশ্য নেয়ামত রয়েছে। তারা বান্দাদের পর্যবেক্ষণ করে এবং জনপদগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে; তাদের দেহ জমিনে কিন্তু তাদের চোখ আসমানে। তাদের পা জমিনে এবং তাদের অন্তর আসমানে, তাদের নফস জমিনে এবং তাদের অন্তঃকরণ আরশের কাছে, তাদের রুহ এই দুনিয়ায় এবং তাদের বিবেক আখেরাতে।»
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ليس لهم هم إلا أمامهم، قبورهم في الدنيا ومقامهم عند ربهم عز وجل» ثم تلى هذه الآية {(ذلك لمن خاف مقامي وخاف وعيد)}.

قال الشيخ رحمه الله: وهم المبادرون إلى الحقوق من غير تسويف والموفون الطاعات من غير تطفيف

 

• حدثنا سليمان بن أحمد ثنا محمد بن موسى الأيلي ثنا عمر بن يحيى الأيلي ثنا حكيم بن حزام عن أبي جناب الكلبي عن أبي الزبير عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن من موجبات الله ثلاثا؛ إذا رأى حقا من حقوق الله لم يؤخره إلى أيام لا يدركها وأن يعمل العمل الصالح العلانية على قوام من عمله في السريرة وهو يجمع مع ما يعمل صلاح ما يأمل».

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «فهكذا ولي الله وعدد بيده ثلاثا».

 

• حدثنا أبو بكر بن خلاد ثنا الحارث بن أبي أسامة ثنا داود بن المحبر ثنا ميسرة بن عبد ربه عن حنظلة بن وداعة عن أبيه عن البراء بن عازب أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن لله عز وجل خواص يسكنهم الرفيع من الجنان كانوا أعقل الناس قلنا يا رسول الله وكيف كانوا أعقل الناس؟ قال كانت همتهم المسابقة إلى ربهم عز وجل والمسارعة إلى ما يرضيه وزهدوا في فضول الدنيا ورياستها‌‌(1)

ونعيمها وهانت عليهم فصبروا قليلا واستراحوا طويلا.

قال الشيخ رحمه الله: قد روينا بعض مناقب الأولياء ومراتب الأصفياء فأما التصوف: فاشتقاقه عند أهل الإشارات والمنبئين عنه بالعبارات من الصفاء والوفاء، واشتقاقه من حيث الحقائق التي أوجبت اللغة فإنه تفعل من أحد أربعة أشياء من الصوفانة، وهي بقلة وغباء قصيرة، أو من صوفة وهي قبيلة كانت في الدهر الأول تجيز الحاج وتخدم الكعبة، أو من صوفة القفا وهي الشعرات النابتة في متأخره‌‌(2) أو من الصوف المعروف على ظهور الضأن. وإن أخذ التصوف من الصوفانة التي هي البقلة فلاجتزاء القوم بما توحد الله عز وجل بصنعه ومن به عليهم من غير تكلف بخلقه، فاكتفوا به عما فيه للآدميين، صنع كاكتفاء البررة الطاهرين، من جلة المهاجرين،

--------------------------------------------

‌‌(1) فى ح: ورياشها.

‌‌(2) وفيها: القنا - ومتأخرها.
তাদের সামনে যা আছে তা ছাড়া তাদের অন্য কোনো চিন্তা নেই; তা হলো দুনিয়াতে তাদের কবর এবং তাদের মহান ও প্রতাপশালী রবের নিকট তাদের অবস্থান।" অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: "{(এসব তার জন্য, যে আমার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং আমার সতর্কবার্তাকে ভয় করে)}।"

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তারা হলো ওই সকল ব্যক্তি যারা টালবাহানা ছাড়াই অধিকার বা হক আদায়ে অগ্রগামী হয় এবং কোনো প্রকার কমতি বা অবহেলা ছাড়াই আনুগত্য পূর্ণরূপে পালন করে।

• সুলাইমান ইবন আহমদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবন মুসা আল-আইলি থেকে, তিনি উমর ইবন ইয়াহইয়া আল-আইলি থেকে, তিনি হাকিম ইবন হিযাম থেকে, তিনি আবু জানাব আল-কালবি থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনটি বিষয় অবধারিত; যখন কেউ আল্লাহর কোনো হকের ব্যাপারে জানতে পারে, তখন সে তা এমন দিনের জন্য বিলম্বিত করে না যে দিন সে আর নাও পেতে পারে। আর গোপনে সে যেভাবে আমল করে, প্রকাশ্যেও সেভাবেই সঠিক পন্থায় নেক আমল সম্পাদন করা। আর সে যে আমল করছে তার সাথে সে যা আশা করছে তার কল্যাণের সমন্বয় ঘটানো।"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আল্লাহর ওলী বা বন্ধু এমনই হন।" এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে তিনবার গণনা করলেন।

• আবু বকর ইবন খাল্লাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি হারিস ইবন আবি উসামা থেকে, তিনি দাউদ ইবন আল-মুহাব্বার থেকে, তিনি মাইসারা ইবন আবদ রাব্বিহি থেকে, তিনি হানজালা ইবন ওয়াদাআহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বারা ইবন আযিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর কিছু বিশেষ বান্দা রয়েছেন যাদেরকে তিনি জান্নাতের সুউচ্চ স্থানে বসবাস করতে দেবেন; তারা ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান।" আমরা বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! তারা কীভাবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ছিলেন?" তিনি বললেন: "তাদের মূল লক্ষ্য ছিল তাদের মহান রবের দিকে প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী হওয়া এবং যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে তার দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়া; আর তারা দুনিয়ার অতিরিক্ত বস্তু ও এর নেতৃত্বের প্রতি নির্মোহ ছিলেন। ‌‌(১)

এবং এর ভোগ-বিলাসের প্রতিও। এগুলো তাদের নিকট তুচ্ছ ছিল, ফলে তারা অল্পকাল ধৈর্য ধারণ করেছেন এবং দীর্ঘকাল বিশ্রামের অধিকারী হয়েছেন।

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমরা আউলিয়াগণের কিছু গুণাবলি এবং মনোনীত ব্যক্তিদের স্তরসমূহ বর্ণনা করেছি। আর তাসাউফ প্রসঙ্গে কথা হলো: রূপক ইঙ্গিত প্রদানকারী এবং যারা বর্ণনার মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেন তাদের নিকট এর ব্যুৎপত্তি হলো ‘সাফা’ (স্বচ্ছতা) এবং ‘ওয়াফা’ (পূর্ণতা) থেকে। আর ভাষাগত বাস্তবতার নিরিখে এর ব্যুৎপত্তি হলো চারটি বিষয়ের যেকোনো একটি থেকে উৎপন্ন ‘তাফাউল’ রূপান্তর—সুফানা থেকে, যা একটি ছোট শাক ও উদ্ভিদ; অথবা সুফাহ থেকে, যা প্রাচীন যুগের এমন এক গোত্রের নাম যারা হাজীদের পথপ্রদর্শন করত এবং কাবার খেদমত করত; অথবা সুফাতুল কাফা থেকে, যা ঘাড়ের পেছনের দিকে গজানো চুলকে বোঝায়‌‌(২) অথবা ভেড়ার পিঠের পরিচিত পশম (সুফ) থেকে। যদি তাসাউফ শব্দটিকে সুফানা নামক উদ্ভিদ থেকে গ্রহণ করা হয়, তবে এর কারণ হলো—এই সম্প্রদায় মহান আল্লাহ এককভাবে যা সৃষ্টি করেছেন এবং কোনো লৌকিকতা ছাড়াই তাদের ওপর যা অনুগ্রহ করেছেন, তার ওপরই তুষ্ট থাকতেন। ফলে মানুষের তৈরি জিনিসের পরিবর্তে তারা আল্লাহর দেওয়া জিনিসের ওপরই সন্তুষ্ট থাকতেন, যেমনটি মুহাজিরদের মধ্য থেকে পুণ্যবান ও পবিত্র মহান ব্যক্তিরা সন্তুষ্ট থাকতেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) 'হা' পান্ডুলিপিতে রয়েছে: এবং তার পরিচ্ছদ।

‌‌(২) এবং তাতে রয়েছে: আল-কানা এবং এর পশ্চাৎভাগ।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
في مبادئ إقبالهم وأول أحوالهم.

وهو

 

• ما حدثنا محمد بن أحمد بن الحسن ثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل قال حدثني أبي ثنا يزيد بن هارون قال أخبرنا اسماعيل بن أبى خالد بن أبى‌‌(1) عن قيس بن أبي حازم قال سمعت سعد بن أبي وقاص يقول: والله إني لأول العرب رمى بسهم في سبيل الله عز وجل ولقد كنا نغزوا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لنا طعام نأكله إلا ورق الحبلة، وهذا السمر حتى قرحت أشداقنا وحتى إن أحدنا ليضع كما تضع الشاة ما له خلط.

وإن أخذ من الصوفة التي هي القبيلة فلأن المتصوف فيما كفي من حاله ونعم من ماله وأعطي من عقباه وحفظ من حظ دنيا أحد أعلام الهدى لعدولهم عن الموبقات واجتهادهم في القربات. وتزودهم من الساعات وتحفظهم للأوقات. فسالك منهجهم ناج من الغمرات. وسالم من الهلكات

 

• حدثنا محمد بن الفتح ثنا الحسن بن أحمد بن صدقة ثنا محمد بن عبد النور الخزاز ثنا أحمد بن المفضل الكوفي ثنا سفيان عن حبيب بن أبي ثابت عن عاصم بن ضمرة عن علي بن أبي طالب كرم الله وجهه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم:

«يا علي إذا تقرب الناس إلى خالقهم في أبواب البر فتقرب إليه بأنواع العقل.

تسبقهم بالدرجات والزلفى عند الناس في الدنيا وعند الله فى الآخرة.

 

• حدثنا محمد ابن أحمد بن الحسن ثنا جعفر بن محمد الفريابي ثنا إبراهيم بن هشام بن يحيى بن يحيى الغساني ثنا أبي عن جدي عن أبي إدريس الخولاني عن أبي ذر الغفاري.

قال: جلست إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: يا رسول الله ما كانت صحف إبراهيم عليه السلام فقال: «أمثال كلها وكان فيها: وعلى العامل ما لم يكن مغلوبا على عقله أن يكون له ساعات، ساعة يناجي فيها ربه تعالى، وساعة يحاسب فيها نفسه، وساعة يفكر في صنع الله تعالى، وساعة يخلو فيها بحاجته من المطعم والمشروب».

وإن أخذ من صوف القفا فمعناه أن المتصوف معطوف به إلى الحق.

--------------------------------------------

‌‌(1) كذا فى النسختين واسم أبيه أبو خالد: سعيد وقيل كثير حكاه فى تهذيب التهذيب
তাদের অগ্রসর হওয়ার প্রারম্ভে এবং তাদের অবস্থার শুরুতে।

এবং তা হলো

• মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ বিন আবি ‌‌(১) থেকে আমাদের জানিয়েছেন যে, কায়েস ইবনে আবি হাযিম বলেছেন: আমি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছি: আল্লাহর কসম, আমিই প্রথম আরব যে আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছে। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এমন অবস্থায় যুদ্ধ করতাম যখন আমাদের খাওয়ার মতো কোনো খাবার ছিল না কেবল ‘হাবালা’ এবং ‘সামুর’ নামক কাঁটাযুক্ত গাছের পাতা ছাড়া। এমনকি আমাদের চোয়ালের অভ্যন্তরভাগে ঘা হয়ে যেত এবং আমাদের অবস্থা এমন হতো যে, আমাদের কেউ মলত্যাগ করলে তা ভেড়ার বিষ্ঠার মতো হতো যাতে কোনো মিশ্রণ থাকত না।

আর যদি শব্দটি ‘সুফাহ’ (পশম) থেকে গ্রহণ করা হয়ে থাকে যা একটি গোত্র বিশেষের নাম, তবে সুফিগণ তাদের অর্জিত অবস্থায় যা যথেষ্ট করা হয়েছে, তাদের সম্পদে যা নেয়ামত দান করা হয়েছে, তাদের পরকালে যা প্রদান করা হয়েছে এবং দুনিয়াবি অংশ থেকে যা হেফাযত করা হয়েছে তাতে তারা হেদায়েতের এক একটি ঝান্ডা। কারণ তারা ধ্বংসাত্মক পাপসমূহ থেকে বিমুখ থাকে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের কার্যে পরিশ্রম করে। তারা প্রতিটি মুহূর্ত থেকে পাথেয় সংগ্রহ করে এবং প্রতিটি ওয়াক্তের হেফাযত করে। অতএব, তাদের আদর্শের পথিক সকল বিপদ-সংকুল অবস্থা থেকে মুক্তি পায় এবং ধ্বংস থেকে নিরাপদ থাকে।

• মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাতহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান ইবনে আহমদ ইবনে সাদাকাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুন নূর আল-খায্যায থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আল-মুফাযযাল আল-কুফি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আসিম ইবনে যমরাহ থেকে, আর তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে মহিমান্বিত করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«হে আলী, যখন মানুষ নেক আমলের বিভিন্ন দরজা দিয়ে তাদের স্রষ্টার নৈকট্য তালাশ করবে, তখন তুমি আকলের (বিবেকের) বিভিন্ন স্তর দিয়ে তাঁর নৈকট্য অন্বেষণ করো।

এর মাধ্যমে তুমি দুনিয়াতে মানুষের নিকট এবং আখেরাতে আল্লাহর নিকট মর্যাদা ও নৈকট্যের দিক থেকে তাদের অগ্রগামী হয়ে যাবে।»

• মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন জা’ফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ইবরাহীম ইবনে হিশাম ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-গাসসানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি তাঁর দাদার সূত্রে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী থেকে এবং তিনি আবু যার আল-গিফারী থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সহীফাসমূহ কী ছিল? তিনি বললেন: "সেগুলো সবই ছিল উপদেশমূলক উদাহরণ এবং তাতে ছিল: সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন আমলকারীর জন্য উচিত তার সময়ের কিছু ভাগ থাকা; এক ভাগ সময় সে তার মহান রবের সাথে একান্তে প্রার্থনা করবে, এক ভাগ সময় সে নিজের কাজের হিসাব নেবে, এক ভাগ সময় সে মহান আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করবে এবং এক ভাগ সময় সে নিজের পানাহারের প্রয়োজনীয় কাজ সারার জন্য নির্জনে কাটাবে।"

আর যদি ঘাড়ের পশম থেকে শব্দমূল গ্রহণ করা হয়, তবে এর অর্থ হলো সুফিকে সত্যের দিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

--------------------------------------------

‌‌(১) উভয় পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে এবং তাঁর পিতার নাম আবু খালিদ: সাঈদ, মতান্তরে কাসীর; এটি তাহযীবুত তাহযীব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
مصروف به عن الخلق، لا يريد به بدلا ولا يبغي عنه حولا

 

• حدثنا القاضي عبد الله بن محمد بن عمر ثنا عبد الله بن العباس الطيالسي‌‌(1) ثنا عبد الرحيم بن محمد ابن زياد أنبأنا أبو بكر بن عياش عن حميد عن أنس بن مالك: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أنى بإبراهيم عليه السلام يوم النار إلى النار فلما بصر بها قال حسبنا الله ونعم الوكيل». .

 

• حدثنا عبد الله بن محمد بن جعفر ثنا محمد بن محمد بن سليمان ثنا سليمان بن توبة ثنا سلام‌‌(2) بن سليمان الدمشقي ثنا إسرائيل عن أبي حصين عن أبي صالح عن أبي هريرة. قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لما ألقي إبراهيم عليه السلام في النار قال حسبي الله ونعم الوكيل.

 

• حدثنا أبو عمرو بن حمدان ثنا الحسن بن سفيان ثنا محمد بن يزيد الرفاعي ثنا إسحاق بن سليمان ثنا أبو جعفر الرازي عن عاصم بن بهدلة عن أبي صالح عن أبي هريرة قال قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لما ألقي إبراهيم عليه السلام في النار قال اللهم إنك واحد في السماء، وأنا فى الأرض واحد أعبدك».

 

• حدثنا أبو بكر بن مالك ثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل ثنا عبد الله بن عمر القواريري ثنا معاذ بن هشام قال حدثني أبي عن عامر الأحول عن عبد الملك بن عامر عن نوف البكالي. قال: قال إبراهيم عليه السلام يا رب إنه ليس في الأرض أحد يعبدك غيري، فأنزل الله ثلاثة آلاف ملك فأمهم ثلاثة أيام.

 

• حدثنا أحمد ابن جعفر بن حمدان ثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل ثنا شيبان ثنا أبو هلال ثنا بكر بن عبد الله المزني. قال: لما ألقي إبراهيم عليه السلام في النار جأرت عامة الخليقة إلى ربها. فقالوا: يا رب خليلك يلقى في النار فائذن لنا أن نطفئ عنه قال هو خليلي ليس لي في الأرض خليل غيره، وأنا ربه ليس له رب غيري فإن استغاثكم فأغيثوه، وإلا فدعوه. قال فجاء ملك القطر فقال يا رب خليلك يلقى في النار فائذن لي أن أطفئ عنه بالقطر قال هو خليلي ليس لي في الأرض خليل غيره وأنا ربه ليس له رب غيري فإن استغاثك فأغثه وإلا فدعه فلما ألقي في النار دعا ربه فقال الله عز وجل يا نار كوني بردا وسلاما على ابراهيم. قال:

--------------------------------------------

‌‌(1) فى ح: أنبأنا هنا وما قبله

‌‌(2) وفيها سليمان بن سليمان
সৃষ্টিজগত থেকে বিমুখ হয়ে এতেই নিবিষ্ট, তিনি এর কোনো বিকল্প চান না এবং তা থেকে বিচ্যুত হতে চান না।

• আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিচারক আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উমর, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস আল-তায়ালিসি ‌‌(১) তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন আইয়াশ, হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "অগ্নিকাণ্ডের দিনে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে আগুনের কাছে নিয়ে আসা হলে তিনি যখন তা প্রত্যক্ষ করলেন, তখন বললেন—আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।"

• আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন তাওবাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালাম ‌‌(২) বিন সুলাইমান আল-দিমাশকি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল, আবু হাসিন থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হলো, তখন তিনি বললেন—আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।"

• আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর বিন হামদান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ আল-রিফায়ি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আল-রাজি, আসিম বিন বাহদালাহ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হলো, তখন তিনি বললেন—হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি আসমানে একক এবং আমি জমিনে একক ব্যক্তি যে আপনার ইবাদত করি।"

• আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন মালিক, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন উমর আল-কাওয়ারীরি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুয়াজ বিন হিশাম, তিনি বলেন আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন আমির আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আবদুল মালিক বিন আমির থেকে, তিনি নাওফ আল-বকালি থেকে। তিনি বলেন: ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বললেন, হে আমার প্রতিপালক! জমিনে আমি ছাড়া আপনার ইবাদত করার মতো আর কেউ নেই। তখন আল্লাহ তিন হাজার ফেরেশতা অবতীর্ণ করলেন এবং তিনি তিন দিন তাদের ইমামতি করলেন।

• আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে জাফর বিন হামদান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শায়বান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হিলাল, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বকর বিন আবদুল্লাহ আল-মুজানি। তিনি বলেন: যখন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে আগুনে নিক্ষেপ করা হলো, তখন সমস্ত সৃষ্টি তাদের প্রতিপালকের কাছে উচ্চস্বরে প্রার্থনা করতে লাগল। তারা বলল: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার বন্ধুকে আগুনে নিক্ষেপ করা হচ্ছে, সুতরাং আমাদের অনুমতি দিন যেন আমরা তা নিভিয়ে দিতে পারি। তিনি বললেন, সে আমার বন্ধু, জমিনে সে ছাড়া আমার আর কোনো বন্ধু নেই, আর আমি তার প্রতিপালক, আমি ছাড়া তার আর কোনো প্রতিপালক নেই; সুতরাং সে যদি তোমাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে তবে তাকে সাহায্য করো, অন্যথায় তাকে ছেড়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বৃষ্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা এলেন এবং বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আপনার বন্ধুকে আগুনে নিক্ষেপ করা হচ্ছে, আপনি আমাকে অনুমতি দিন যাতে আমি বৃষ্টির মাধ্যমে তা নিভিয়ে দিই। তিনি বললেন, সে আমার বন্ধু, জমিনে সে ছাড়া আমার আর কোনো বন্ধু নেই, আর আমি তার প্রতিপালক, আমি ছাড়া তার আর কোনো প্রতিপালক নেই; সুতরাং সে যদি তোমার কাছে সাহায্য চায় তবে তাকে সাহায্য করো, অন্যথায় তাকে ছেড়ে দাও। অতঃপর যখন তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হলো, তিনি তার প্রতিপালককে ডাকলেন। তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বললেন: হে আগুন! তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও। তিনি বললেন:

--------------------------------------------

‌‌(১) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে: এখানে এবং এর পূর্ববর্তী স্থানে 'আম্বানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) শব্দ রয়েছে।

‌‌(২) এবং তাতে সুলাইমান বিন সুলাইমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
فبردت يومئذ على أهل المشرق والمغرب فلم ينضج بها كراع». .

 

• حدثنا أحمد بن السندي ثنا الحسن بن علويه ثنا إسماعيل بن عيسى ثنا إسحاق بن بشر. قال قال مقاتل وسعيد: لما جئ بإبراهيم عليه السلام فخلعوا ثيابه وشدوا قماطه ووضع فى المنجنيق بكت السموات، والأرض، والجبال، والشمس، والقمر، والعرش، والكرسي، والسحاب، والريح، والملائكة كل يقولون: يا رب إبراهيم عبدك يحرق بالنار فائذن لنا في نصرته. فقالت النار وبكت يا رب سخرتني لبني آدم وعبدك يحرق بي فأوحى الله عز وجل إليهم إن عبدي إياي عبد وفي جنبي أوذي إن دعاني أجبته وإن استنصركم فانصروه. فلما رمي استقبله جبريل عليه السلام بين المنجنيق والنار فقال: السلام عليك يا إبراهيم أنا جبريل ألك حاجة؟ قال أما إليك فلا! حاجتي إلى الله ربي، فلما قذف في النار كان سبقه إسرافيل فسلط النار على قماطه وقال الله عز وجل {(يا نار كوني بردا وسلاما على إبراهيم)} فلو لم يخلطه بالسلام لكن فيها بردا.

 

• حدثنا الحسين ابن محمد بن علي ثنا يحيى بن محمد مولى بني هاشم ثنا يوسف القطان ثنا مهران ابن أبي عمر ثنا إسماعيل بن أبي خالد عن المنهال بن عمرو قال: أخبرت أن إبراهيم عليه السلام لما ألقي في النار كان فيها - ما أدري إما خمسين وإما أربعين يوما - قال ما كنت أياما وليالي قط أطيب عيشا مني إذ كنت فيها ووددت أن عيشى وحياتى كلها إذ كنت فيها.

قال الشيخ رحمه الله تعالى: وإن أخذ من الصوف المعروف فهو لاختيارهم لباس الصوف إذ لا كلفة للآدميين في إنباته وإنشائه وإن النفوس الشاردة تذلل بلباس الصوف وتكسر نخوتها وتكبرها به لتلتزم المذلة والمهانة وتعتاد البلغة والقناعة. وقد ذكرنا شواهده في كتاب لبس الصوف مجودا. وقد كثرت أجوبة أهل الإشارة في مائيته بأنواع من العبارة وجمعناها في غير هذا الكتاب. وأقرب ما أذكره ما

حدثت عن جعفر بن محمد الصادق رضي الله تعالى عنه أنه قال: من عاش في ظاهر الرسول فهو سني، ومن عاش في باطن الرسول فهو صوفي. وأراد جعفر بباطن الرسول صلى الله عليه وسلم أخلاقه
সেদিন তা পূর্ব ও পশ্চিমের অধিবাসীদের জন্য শীতল হয়ে গিয়েছিল, ফলে তাতে পশুর একটি পায়াও রান্না হয়নি।

• আহমদ বিন সিন্দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান বিন আলাভিয়াহ থেকে, তিনি ইসমাইল বিন ঈসা থেকে, তিনি ইসহাক বিন বিশর থেকে। তিনি বলেন, মুকাতিল ও সাঈদ বলেছেন: যখন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে আনা হলো, তখন তারা তাঁর কাপড় খুলে ফেলল, তাঁর হাত-পা শক্ত করে বাঁধল এবং তাঁকে মিনজানিকে (ক্ষেপণাস্ত্র যন্ত্র) স্থাপন করল; তখন আকাশমন্ডলী, পৃথিবী, পাহাড়সমূহ, সূর্য, চন্দ্র, আরশ, কুরসি, মেঘমালা, বাতাস এবং ফেরেশতারা কাঁদতে লাগল। তারা প্রত্যেকেই বলতে লাগল: হে ইব্রাহিমের রব! আপনার বান্দা আগুনে পুড়ছে, অতএব আমাদের তাঁকে সাহায্য করার অনুমতি দিন। আগুনও কাঁদতে কাঁদতে বলল: হে রব! আপনি আমাকে বনী আদমের অনুগত করেছেন অথচ আপনার বান্দাকে আমার দ্বারা পোড়ানো হচ্ছে। তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাদের প্রতি ওহী পাঠালেন যে, নিশ্চয়ই আমার বান্দা একমাত্র আমারই ইবাদত করে এবং আমার পথেই তাকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে; সে যদি আমাকে ডাকে তবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব, আর সে যদি তোমাদের কাছে সাহায্য চায় তবে তোমরা তাকে সাহায্য করো। অতঃপর যখন তাঁকে নিক্ষেপ করা হলো, তখন মিনজানিক ও আগুনের মধ্যবর্তী স্থানে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর সম্মুখীন হলেন এবং বললেন: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে ইব্রাহিম! আমি জিবরাঈল, আপনার কি কোনো প্রয়োজন আছে? তিনি বললেন: আপনার কাছে কোনো প্রয়োজন নেই! আমার প্রয়োজন কেবল আমার রব আল্লাহর কাছে। অতঃপর যখন তাঁকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হলো, তখন ইসরাফিল আলাইহিস সালাম তাঁর পূর্বেই সেখানে উপস্থিত হলেন এবং তিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের বাঁধনের ওপর আগুনকে প্রভাবহীন করে দিলেন। এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ বললেন: {হে আগুন! তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও।} যদি আল্লাহ এর সাথে 'সালাম' বা শান্তিদায়ক শব্দটি যুক্ত না করতেন, তবে এর শীতলতা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক হতো।

• হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বনী হাশেমের মুক্ত দাস ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি ইউসুফ আল-কাত্তান থেকে, তিনি মেহরান ইবনে আবি ওমর থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আবি খালিদ থেকে, তিনি মিনহাল বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে জানানো হয়েছে যে, ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তিনি সেখানে ছিলেন—আমি জানি না চল্লিশ দিন নাকি পঞ্চাশ দিন—তিনি বলেছিলেন: আমি আমার জীবনে এমন কোনো দিন বা রাত অতিবাহিত করিনি যা সেই সময়ের চেয়ে অধিক সুখকর ছিল যখন আমি আগুনের মধ্যে ছিলাম, এবং আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যদি আমার সারাটি জীবন সেই আগুনের মধ্যেই কাটত।

শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: আর যদি এটি পরিচিত পশম থেকে উদ্ভূত ধরা হয়, তবে তা তাদের পশমি পোশাক বেছে নেওয়ার কারণে; কেননা এটি উৎপাদন ও তৈরিতে মানুষের কোনো বিশেষ আয়াস নেই। পশমি পোশাকের মাধ্যমে অবাধ্য নফসকে বশীভূত করা হয় এবং এর মাধ্যমে তার দম্ভ ও অহংকার চূর্ণ করা হয়, যাতে সে বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করে এবং অল্পে তুষ্টি ও জীবন ধারণের নূন্যতম উপকরণে অভ্যস্ত হয়। আমরা 'লুবসুস সূফ' নামক গ্রন্থে এর প্রমাণাদি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি। আধ্যাত্মিক ইঙ্গিত প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গ এর স্বরূপ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রকার বাক্যের মাধ্যমে অনেক উত্তর প্রদান করেছেন, যা আমরা এই গ্রন্থ ব্যতীত অন্য গ্রন্থে সংকলন করেছি। আমি যা উল্লেখ করছি তার মধ্যে সবচেয়ে নিকটতম হলো যা জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি রাসূলের প্রকাশ্য জীবনাদর্শ অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করে সে সুন্নি, আর যে রাসূলের অভ্যন্তরীণ জীবনাদর্শ অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করে সে সুফি। জাফর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অভ্যন্তরীণ অবস্থা দ্বারা তাঁর মহান চরিত্রকে বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الطاهرة واختياره للآخرة. فمن تخلق بأخلاق الرسول صلى الله عليه وسلم وتخير ما اختاره ورغب فيما فيه رغب، وتنكب عما عنه نكب، وأخذ بما إليه ندب فقد صفا من الكدر، ونحى من العسكر، ونجي من الغير، ومن عدل عن سمته ونهجه، وعول على حكم نفسه وهرجه، وسعى لبطنه وفرجه، كان من التصوف خاليا، وفي التجاهل ساعيا، وعن خطير الأحوال ساهيا

 

• حدثنا أبو بكر بن خلاد ثنا الحارث بن أبي أسامة ثنا داود بن المحبر ثنا نصر ابن طريف عن منصور بن المعتمر عن أبي وائل عن سويد بن غفلة: أن أبا بكر الصديق رضي الله تعالى عنه خرج ذات يوم فاستقبله النبي صلى الله عليه وسلم.

فقال له: بم بعثت يا رسول الله؟ قال «بالعقل» قال فكيف لنا بالعقل؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن العقل لا غاية له ولكن من أحل حلال الله وحرم حرامه سمي عاقلا، فإن اجتهد بعد ذلك سمي عابدا، فإن اجتهد بعد ذلك سمي جوادا فمن اجتهد في العبادة وسمح في نوائب المعروف بلا حظ من عقل يدله على اتباع أمر الله عز وجل واجتناب ما نهى الله عنه فأولئك هم الأخسرون أعمالا الذين ضل سعيهم في الحياة الدنيا وهم يحسبون أنهم يحسنون صنعا».

 

• حدثنا عبد الله بن محمد بن جعفر ثنا محمد بن عمران بن الجنيد ثنا محمد ابن عبدك ثنا سليمان بن عيسى عن ابن جريج عن عطاء عن أبي سعيد الخدري.

قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «قسم الله عز وجل العقل على ثلاثة أجزاء فمن كن فيه كمل عقله، ومن لم يكن فيه فلا عقل له: حسن المعرفة بالله عز وجل، وحسن الطاعة لله عز وجل، وحسن الصبر على ما أمر الله عز وجل.

قال الشيخ رحمه الله: فكيف ينسب إلى التصوف من إذا عورض في حقيقة معرفة الله عز وجل كل عنها وخلط فيها، وإذا طولب بموجب الطاعة فيها جهلها وتخبط فيها، وإذا امتحن بمحنة يجب الصبر عليها وعنها جزع‌‌(1) وعجز.

وسادة علماء المتصوفة تكلمت في التصوف وأجابت عن حدوده ومعانيه

--------------------------------------------

‌‌(1) ح: يجب الصبر عنها جزع
পবিত্রতা এবং আখেরাতের প্রতি তাঁর মনোনয়ন। অতএব, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্রে চরিত্রবান হয়েছে, তিনি যা পছন্দ করেছেন তা-ই পছন্দ করেছে, তিনি যে বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন তাতে আগ্রহী হয়েছে, তিনি যা পরিহার করেছেন তা পরিহার করেছে এবং তিনি যার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তা গ্রহণ করেছে, সে পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয়েছে, বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থেকেছে এবং বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেয়েছে। আর যে ব্যক্তি তাঁর পথ ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, নিজের প্রবৃত্তি ও বিশৃঙ্খলার ওপর নির্ভর করেছে এবং নিজের পেট ও কামনার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে, সে তাসাউফ থেকে শূন্য ছিল, মূর্খতার পথে ধাবমান ছিল এবং উচ্চতর অবস্থা সম্পর্কে গাফেল ছিল।

• আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে খাল্লাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি হারিস ইবনে আবু উসামা থেকে, তিনি দাউদ ইবনে আল-মুহাব্বার থেকে, তিনি নাসর ইবনে তরীফ থেকে, তিনি মানসুর ইবনে আল-মুতামির থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি সুয়াইদ ইবনে গাফলাহ থেকে বর্ণনা করেন যে: আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু একদিন বের হলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো।

তিনি তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কী দিয়ে প্রেরিত হয়েছেন? তিনি বললেন: "আকল (বিবেক-বুদ্ধি) দিয়ে।" তিনি বললেন: আকল আমাদের জন্য কীভাবে হবে? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই আকলের কোনো শেষ নেই। তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তাঁর হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করেছে, তাকেই বুদ্ধিমান বলা হয়। এরপর যদি সে প্রচেষ্টা চালায়, তবে তাকে ইবাদতকারী বলা হয়। এরপর যদি সে প্রচেষ্টা চালায়, তবে তাকে দানশীল বলা হয়। আর যে ব্যক্তি ইবাদতে কঠোর পরিশ্রম করল এবং সৎকাজে অকাতরে দান করল কিন্তু তার মাঝে এমন বুদ্ধি নেই যা তাকে আল্লাহ তাআলার আদেশ পালনে এবং তাঁর নিষেধ বর্জনে পথ দেখাবে, তবে তারাই কর্মের দিক থেকে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত, দুনিয়ার জীবনে যাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা মনে করে যে তারা সৎকাজ করছে।"

• আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইমরান ইবনে জুনাইদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদাক থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে ঈসা থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “মহান আল্লাহ আকলকে (বুদ্ধিবৃত্তিকে) তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন; যার মধ্যে এই ভাগগুলো বিদ্যমান থাকবে তার আকল পূর্ণতা লাভ করবে, আর যার মধ্যে এগুলো নেই তার প্রকৃতপক্ষে কোনো আকল নেই: মহান আল্লাহর যথাযথ পরিচয় (মারেফাত) লাভ করা, মহান আল্লাহর প্রতি উত্তম আনুগত্য প্রদর্শন করা এবং মহান আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তার ওপর সুন্দরভাবে ধৈর্য ধারণ করা।”

শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: অতএব সেই ব্যক্তিকে কীভাবে তাসাউফের সাথে সম্পর্কিত করা যায়, যে মহান আল্লাহর মারেফাতের হাকীকত বা প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং তাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে; যখন তার কাছে আনুগত্যের আবশ্যিক দাবিগুলো চাওয়া হয় তখন সে অজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে; আর যখন তাকে এমন কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হয় যাতে ধৈর্য ধারণ করা আবশ্যক, তখন সে অস্থির হয়ে পড়ে ‌‌(১) এবং অক্ষমতা প্রকাশ করে।

সুফি আলেমদের নেতৃবৃন্দ তাসাউফ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর সংজ্ঞা ও তাৎপর্য সম্পর্কে উত্তর দিয়েছেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) ‘হা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: যাতে ধৈর্য ধারণ করা আবশ্যক ছিল, সেখানে সে অস্থির হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وأقسامه ومبانيه. فقد كتب لى جعفر بن محمد بن نصير الخواص قال وحدثني عنه ازديار بن سليمان الفارسي قال سمعت الجنيد بن محمد رحمة الله عليه يقول وسئل عن التصوف. فقال: اسم جامع لعشرة معاني؛ التقلل من كل شيء من الدنيا عن التكاثر فيها، والثاني اعتماد القلب على الله عز وجل من السكون إلى الاسبات، والثالث الرغبة في الطاعات من التطوع في وجود العوافي، والرابع الصبر عن فقد الدنيا عن الخروج إلى المسألة والشكوى، والخامس التمييز فى الأخذ عند وجود الشئ، والسادس الشغل بالله عز وجل عن سائر الأشغال، والسابع الذكر الخفي عن جميع الأذكار، والثامن تحقيق الإخلاص في دخول الوسوسة، والتاسع اليقين في دخول الشك، والعاشر السكون إلى الله عز وجل من الاضطراب والوحشة. فإذا استجمع هذه الخصال استحق بها الاسم وإلا فهو كاذب حدثنا محمد بن أحمد بن يعقوب ثنا عبد الله بن محمد ابن ميمون. قال سألت ذا النون رحمة الله عليه عن الصوفي. فقال: من إذا نطق أبان نطقه عن الحقائق، وإن سكت نطقت عنه الجوارح بقطع العلائق.

 

• حدثنا أبو محمد ازديار بن سليمان ثنا جعفر بن محمد. قال قال أبو الحسن المزين:

التصوف قميص قمصه الله أقواما، فإن ألهموا عليه الشكر وإلا كان خصمهم في ذلك الله عز وجل. وسئل الخواص عن التصوف. فقال: اسم يغطى به عن الناس إلا أهل الدراية وقليل ما هم. سمعت أبا الفضل نصر بن أبي نصر الطوسي يقول سمعت أبا بكر بن المثاقف يقول سألت الجنيد بن محمد عن التصوف فقال: الخروج عن كل خلق دني، والدخول في كل خلق سني.

وسمعت أبا الفضل الطوسي يقول سمعت أبا الحسن الفرغاني يقول سألت أبا بكر الشبلي ما علامة العارف؟ فقال: صدره مشروح، وقلبه مجروح، وجسمه مطروح. قلت: هذا علامة العارف فمن العارف؟ قال: العارف الذي عرف الله عز وجل وعرف مراد الله عز وجل وعمل بما أمر الله، وأعرض عما نهى الله، ودعا عباد الله إلى الله عز وجل. فقلت: هذا العارف فمن الصوفي؟
এবং এর বিভাগ ও ভিত্তিগুলো। জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নুসাইর আল-খাওওয়াস আমার নিকট লিখেছেন, তিনি বলেন: ইযদিয়ার ইবনে সুলাইমান আল-ফারিসি আমার নিকট তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জুনাইদ ইবনে মুহাম্মাদকে (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলতে শুনেছি যখন তাঁকে তাসাউফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: এটি দশটি অর্থ সম্বলিত একটি ব্যাপক নাম; প্রথমটি হলো দুনিয়ার প্রতিটি বিষয়ে প্রাচুর্য অন্বেষণের পরিবর্তে তা অল্প গ্রহণ করা; দ্বিতীয়টি হলো স্থিরতা বা আরামের পরিবর্তে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর অন্তরের নির্ভরতা; তৃতীয়টি হলো সুস্থতা ও নিরাপত্তার উপস্থিতিতে নফল ইবাদতের মাধ্যমে আনুগত্যের প্রতি অনুরাগ; চতুর্থটি হলো দুনিয়াবি সম্পদ হারিয়ে যাওয়ার পর মানুষের কাছে হাত পাতা ও অভিযোগ করা থেকে বিরত থেকে ধৈর্য ধারণ করা; পঞ্চমটি হলো কোনো কিছু বিদ্যমান থাকলে তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বাছবিচার করা; ষষ্ঠটি হলো অন্য সব ব্যস্ততা ছেড়ে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকা; সপ্তমটি হলো সমস্ত যিকিরের মধ্যে গোপন যিকিরকে প্রাধান্য দেওয়া; অষ্টমটি হলো কুমন্ত্রণা প্রবেশের সময় ইখলাস বা একনিষ্ঠতা সুনিশ্চিত করা; নবমটি হলো সন্দেহের প্রবেশের সময় ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাস রাখা; এবং দশমটি হলো অস্থিরতা ও একাকিত্বের মুখে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি প্রশান্তি লাভ করা। যখন এই গুণাবলি কারো মাঝে একত্রিত হয়, তখনই সে এই নামের যোগ্য হয়; অন্যথায় সে মিথ্যাবাদী। মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি যুন-নুনকে (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সুফি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: সে এমন ব্যক্তি, যখন সে কথা বলে তখন তার কথাবার্তা হাকীকত বা প্রকৃত সত্যকে স্পষ্ট করে দেয়, আর যখন সে নীরব থাকে তখন তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জাগতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মাধ্যমে তার অবস্থা প্রকাশ করে।

• আবু মুহাম্মাদ ইযদিয়ার ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবুল হাসান আল-মুযায়িন বলেছেন:

তাসাউফ হলো একটি পোশাক যা আল্লাহ কিছু সম্প্রদায়কে পরিয়েছেন; যদি তাদেরকে এর ওপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তাওফিক দেওয়া হয় (তবে তো ভালো), অন্যথায় এ বিষয়ে স্বয়ং আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাদের প্রতিপক্ষ হবেন। খাওয়াছকে তাসাউফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি এমন এক নাম যা দিয়ে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা ব্যতীত অন্য মানুষের কাছে বিষয়টি ঢেকে রাখা হয়, আর প্রাজ্ঞদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। আমি আবুল ফজল নসর বিন আবি নসর আত-তুসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু বকর বিন আল-মুসাকাফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি জুনাইদ বিন মুহাম্মদকে তাসাউফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: সমস্ত হীন চরিত্র থেকে বেরিয়ে আসা এবং সমস্ত উন্নত চরিত্রে প্রবেশ করা।

আমি আবুল ফজল আত-তুসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবুল হাসান আল-ফারগানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু বকর আশ-শিবলিকে জিজ্ঞাসা করলাম, আরিফের আলামত কী? তিনি বললেন: তার বক্ষ হবে প্রশস্ত, তার অন্তর হবে ব্যথিত এবং তার দেহ হবে সমর্পিত। আমি বললাম: এটি তো আরিফের আলামত, তাহলে আরিফ কে? তিনি বললেন: আরিফ হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহকে চিনেছেন, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুধাবন করেছেন, আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী আমল করেছেন, আল্লাহর নিষেধকৃত বিষয়গুলো থেকে বিমুখ হয়েছেন এবং আল্লাহর বান্দাদের মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন। আমি বললাম: ইনি হলেন আরিফ, তাহলে সুফি কে?
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فقال: من صفا قلبه فصفى، وسلك طريق المصطفى صلى الله عليه وسلم، ورمى الدنيا خلف القفا، وأذاق الهوى طعم الجفا. قلت له: هذا الصوفي، ما التصوف؟ قال: التألف والتطرف، والإعراض عن التكلف. قلت له أحسن من هذا ما التصوف؟ قال: تسليم تصفية القلوب، لعلام الغيوب فقلت له:

أحسن من هذا ما التصوف؟ فقال: تعظيم أمر الله، وشفقته على عباد الله.

فقلت له: أحسن من هذا من الصوفي؟ قال: من صفا من الكدر، وخلص من العسكر، وامتلأ من الفكر، وتساوى عنده الذهب والمدر. وسمعت أبا الفضل نصر بن أبي نصر يقول سمعت علي بن محمد المصري يقول سئل السري السقطي عن التصوف. فقال: التصوف خلق كريم، يخرجه الكريم إلى قوم كرام. سمعت أبا همام عبد الرحمن بن مجيب الصوفي - وسئل عن الصوفي - فقال: لنفسه ذابح، ولهواه فاضح، ولعدوه جارح، وللخلق ناصح. دائم الوجل، يحكم العمل، ويبعد الأمل، ويسد الخلل، ويغضى على الذلل. عذره بضاعة، وحزنه صناعة، وعيشه قناعة. بالحق عارف، وعلى الباب عاكف، وعن الكل عازف. تربية بره، وشجرة وده، وراعي عهده.

قال الشيخ رحمه الله: وذكرنا في غير هذا الكتاب كثيرا من أجوبة مشيختهم في التصوف، واختلاف عباراتهم، وكل قد أجاب عن حاله.

ويشتمل كلام المتصوفة على ثلاثة أنواع؛ فأولها إشاراتهم إلى التوحيد‌‌(1)

والثاني كلامهم في المراد ومراتبه، والثالث في المريد وأحواله. ثم لكل نوع من الثلاثة مسائل وفروع يكثر تعدادها، فأول أصولهم‌‌(2) العرفان، ثم إحكام الخدمة والإدمان

 

• حدثنا محمد بن أحمد بن حمدان ثنا الحسن بن أبي سفيان ثنا أمية بن بسطام ثنا يزيد بن زريع ثنا روح بن القاسم عن اسماعيل ابن أمية عن يحيى بن عبد الله بن صيفي عن أبي معبد عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعث معاذا إلى اليمن قال: إنك تقدم على قوم أهل كتاب، فليكن أول ما تدعوهم إليه عبادة الله

--------------------------------------------

‌‌(1) فى ح: إشاراتهم والتوجيه.

‌‌(2) فى ز: أحوالهم.
তিনি বললেন: যার অন্তর স্বচ্ছ হয়েছে সেও স্বচ্ছ হয়ে গেছে, যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথ অনুসরণ করেছে, দুনিয়াকে পিছনে নিক্ষেপ করেছে এবং কুপ্রবৃত্তিকে কঠোরতার স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে। আমি তাকে বললাম: এটি তো সূফী (এর পরিচয়), তাসাউফ কী? তিনি বললেন: সম্প্রীতি ও নির্জনতা অবলম্বন করা এবং কৃত্রিমতা থেকে বিমুখ থাকা। আমি তাকে বললাম: এর চেয়েও সুন্দর করে বলুন, তাসাউফ কী? তিনি বললেন: অন্তরকে পরিচ্ছন্ন করে অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট সমর্পণ করা। অতঃপর আমি তাকে বললাম:

এর চেয়েও সুন্দর করে বলুন, তাসাউফ কী? তিনি বললেন: আল্লাহর নির্দেশকে সম্মান করা এবং আল্লাহর বান্দাদের প্রতি মমতা পোষণ করা।

অতঃপর আমি তাকে বললাম: এর চেয়েও সুন্দর করে বলুন, সূফী কে? তিনি বললেন: যে পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয়েছে, দলবাজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, চিন্তায় নিমগ্ন হয়েছে এবং যার নিকট স্বর্ণ ও মাটির ঢেলা সমান হয়ে গেছে। আমি আবুল ফজল নসর বিন আবি নসরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আলি বিন মুহাম্মদ আল-মিসরিকে বলতে শুনেছি যে, সারি আস-সাকতিকে তাসাউফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: তাসাউফ হলো এক মহান চরিত্র, যা মহান আল্লাহ সম্মানিত এক জাতির জন্য প্রকাশ করেন। আমি আবু হাম্মাম আব্দুর রহমান বিন মুজীব আস-সূফীকে বলতে শুনেছি—যখন তাকে সূফী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—তিনি বললেন: যে তার নফসের হন্তারক, কুপ্রবৃত্তিকে অপমানকারী, শত্রুর জন্য আঘাতকারী এবং সৃষ্টির জন্য কল্যাণকামী। সে সর্বদা ভীত থাকে, আমলকে সুদৃঢ় করে, দীর্ঘ আশা দূর করে, ত্রুটিসমূহ পূরণ করে এবং বিচ্যুতিগুলোকে উপেক্ষা করে। তার ওজর বা বিনয়ই হলো পুঁজি, তার বিষণ্ণতাই হলো শিল্প এবং তার জীবনযাপন হলো অল্পেতুষ্টি। সে সত্যের (আল্লাহর) পরিচয়ী, আল্লাহর দরজায় অবস্থানকারী এবং সবকিছু থেকে বিমুখ। সে সদাচরণের দ্বারা লালিত, ভালোবাসার বৃক্ষস্বরূপ এবং স্বীয় অঙ্গীকারের রক্ষক।

শাইখ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: আমরা তাসাউফ সম্পর্কে তাঁদের মাশায়েখদের অনেক উত্তর এবং তাঁদের বিভিন্ন বক্তব্য এই কিতাব ছাড়া অন্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছি; তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী উত্তর দিয়েছেন।

সূফীদের বক্তব্য তিনটি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে; তার প্রথমটি হলো তাওহীদের প্রতি তাঁদের ইঙ্গিতসমূহ। ‌‌(১)

দ্বিতীয়টি হলো মুরাদ (উদ্দিষ্ট) এবং তাঁর স্তরসমূহ সম্পর্কে তাঁদের আলোচনা, এবং তৃতীয়টি হলো মুরীদ (আকাঙ্ক্ষী) এবং তার অবস্থাসমূহ সম্পর্কে। এরপর এই তিন প্রকারের প্রত্যেকটির এমন সব মাসআলা ও শাখা-প্রশাখা রয়েছে যার সংখ্যা অনেক। সুতরাং তাঁদের মূলনীতির প্রথমটি হলো ইরফান (পরিচয় লাভ করা), এরপর খিদমত বা সেবাকে সুদৃঢ় করা এবং তাতে একনিষ্ঠভাবে লেগে থাকা। ‌‌(২)

• মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হামদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন আবু সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমাইয়া বিন বাস্তাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ বিন যুরাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাওহ বিন কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন সাইফি থেকে, তিনি আবু মা'বাদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মুয়াযকে ইয়েমেনে প্রেরণ করলেন তখন বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবভুক্ত একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদের যে বিষয়ের দিকে সর্বপ্রথম আহ্বান জানাবে, তা যেন হয় আল্লাহর ইবাদত।"

--------------------------------------------

‌‌(১) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে আছে: তাঁদের ইশারা ও দিকনির্দেশনা।

‌‌(২) 'যা' পাণ্ডুলিপিতে আছে: তাঁদের অবস্থাসমূহ।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
عز وجل، فإذا عرفوا الله فأخبرهم أن الله عز وجل قد فرض عليهم خمس صلوات فى يومهم وليلهم. فإذا فعلوا فأخبرهم أن الله عز وجل قد فرض عليهم زكاة تؤخذ من أموالهم فترد على فقرائهم».

 

• حدثنا عبد الرحمن بن العباس ثنا إبراهيم بن إسحاق الحربي ثنا أحمد بن يونس ثنا زهير بن معاوية ثنا خالد ابن أبي كريمة عن عبد الله بن المسور: أن رجلا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله علمني من غرائب العلم. قال: «ما فعلت في رأس العلم فتطلب الغرائب؟!» قال وما رأس العلم؟ قال: «هل عرفت الرب؟» قال نعم! قال: «فما صنعت في حقه؟». قال ما شاء الله. قال: «عرفت الموت؟» قال نعم! قال: «ما أعددت له؟» قال: ما شاء الله. قال: «انطلق فاحكم ها هنا ثم تعال أعلمك من غرائب العلم.

قال الشيخ رحمه الله: فمباني المتصوفة المتحققة في حقائقهم على أركان أربعة؛ معرفة الله تعالى، ومعرفة أسمائه وصفاته وأفعاله، ومعرفة النفوس وشرورها ودواعيها، ومعرفة وساوس العدو ومكائده ومضاله، ومعرفة الدنيا وغرورها وتفنينها وتلوينها وكيف الاحتراز منها والتجافي عنها، ثم ألزموا أنفسهم بعد توطئة‌‌(1) هذه الأبنية دوام المجاهدة، وشدة المكابدة وحفظ الأوقات، واغتنام الطاعات، ومغارقة الراحات، والتلذذ بما أيدوا به من المطالعات، وصيانة ما خصوا به من الكرامات‌‌(2)، لا عن المعاملات انقطعوا ولا إلى التأويلات ركنوا، رغبوا عن العلائق، ورفضوا العوائق، وجعلوا الهموم هما واحدا، ومزايلة الأعراض طارفا وتالدا. اقتدوا بالمهاجرين والأنصار، وفارقوا العروض والعقار، وآثروا البذل والإيثار، وهربوا بدينهم إلى الجبال والقفار، احترازا من موامقة الأبصار، أن يومى إليها بالأصابع ويشار لما أنسوا به من التحف والأنوار، فهم الأتقياء الأخفياء والغرباء النجباء، صحت عقيدتهم فسلمت سريرتهم

 

• حدثنا أبو بكر بن خلاد ثنا الحارث بن أبي أسامة ثنا محمد بن عمر الواقدي ثنا بكير بن مسمار عن عامر

--------------------------------------------

‌‌(1) فى ح: توحيد هذا الخ.

‌‌(2) فى الأصلين بدون متعلق
মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত। অতঃপর যখন তারা আল্লাহকে চিনবে, তখন তাদের সংবাদ দিন যে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যখন তারা তা পালন করবে, তখন তাদের সংবাদ দিন যে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের সম্পদ থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

• আব্দুর রহমান বিন আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইব্রাহিম বিন ইসহাক আল-হারবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমাদ বিন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জুহাইর বিন মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন খালিদ ইবনে আবি কারিমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আল-মিসওয়ার থেকে যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে ইলমের বিরল বিষয়সমূহ শিক্ষা দিন। তিনি বললেন: "তুমি ইলমের মূল বিষয়ের ব্যাপারে কী করেছ যে এখন বিরল বিষয়সমূহ অনুসন্ধান করছ?!" সে বলল, ইলমের মূল বিষয়টি কী? তিনি বললেন: "তুমি কি তোমার প্রতিপালককে চিনেছ?" সে বলল, হ্যাঁ! তিনি বললেন: "তবে তাঁর হকের ব্যাপারে তুমি কী আমল করেছ?" সে বলল, আল্লাহ যা চেয়েছেন। তিনি বললেন: "তুমি কি মৃত্যুকে চিনেছ?" সে বলল, হ্যাঁ! তিনি বললেন: "তার জন্য তুমি কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ?" সে বলল: আল্লাহ যা চেয়েছেন। তিনি বললেন: "যাও, এখানে আগে এগুলো মজবুত করো, তারপর এসো, আমি তোমাকে ইলমের বিরল বিষয়সমূহ শিক্ষা দেব।"

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সূফীগণের মূল ভিত্তি যা তাঁদের হাকীকতে (তত্ত্বগতভাবে) প্রতিষ্ঠিত তা চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে; আল্লাহ তাআলার পরিচয় (মারিফাত), এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি (সিফাত) ও কার্যাবলির পরিচয়; নফসসমূহ এবং এর অনিষ্ট ও প্রবণতাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান; শত্রুর কুমন্ত্রণা, ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি সম্পর্কে জ্ঞান; এবং দুনিয়া, এর ধোঁকা, বৈচিত্র্য ও রূপান্তর সম্পর্কে জ্ঞান এবং কীভাবে তা থেকে সতর্ক থাকা ও বিমুখ হওয়া যায় তা জানা। অতঃপর এই ভিত্তিগুলো স্থাপনের ‌‌(১) পর তারা নিজেদেরকে সর্বদা মুজাহাদা (সাধনা), কঠোর পরিশ্রম, সময়ের হিফাজত, আনুগত্যের সুযোগ গ্রহণ, আরাম-আয়েশ বর্জন এবং যেসব আধ্যাত্মিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হন তাতে স্বাদ গ্রহণ করা এবং যেসকল কারামাত (অলৌকিকত্ব) দ্বারা তাঁদেরকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে তা সংরক্ষণে নিয়োজিত করেছেন। ‌‌(২) তারা না পার্থিব লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন, আর না কোনো রূপক ব্যাখ্যার দিকে ঝুঁকেছেন; তারা জাগতিক আসক্তি থেকে বিমুখ হয়েছেন এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো বর্জন করেছেন। তারা সকল চিন্তাকে একটি মাত্র চিন্তায় রূপান্তরিত করেছেন এবং নশ্বর জগতের বিষয়াদি ত্যাগ করাকে নিজেদের জীবনের অর্জিত ও মীরাসী সম্পদে পরিণত করেছেন। তারা মুহাজির ও আনসারদের অনুসরণ করেছেন, পার্থিব ধন-সম্পদ ও স্থাবর সম্পত্তি ত্যাগ করেছেন এবং দান ও আত্মত্যাগকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তারা দৃষ্টির মোহ থেকে বাঁচতে এবং মানুষের আঙুলের ইশারায় প্রদর্শিত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে নিজেদের দ্বীন নিয়ে পাহাড় ও মরুপ্রান্তরে পলায়ন করেছেন, যাতে তারা সেই আধ্যাত্মিক উপহার ও নূরের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করতে পারেন যার সাথে তারা সখ্যতা গড়েছেন। তারাই হলেন মুত্তাকী, নিভৃতচারী এবং অভিজাত প্রবাসী। তাদের আকীদা বিশুদ্ধ হওয়ায় তাদের অন্তঃকরণও নিরাপদ হয়েছে।

• আবু বকর বিন খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হারিস বিন আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন বুকাইর বিন মিসমার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমের থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) ‘হা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: এগুলোর তাওহীদ ইত্যাদি।

‌‌(২) মূল পাণ্ডুলিপিদ্বয়ে কোনো সংশ্লিষ্ট শব্দ ছাড়াই রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ابن سعد بن أبي وقاص سمعه يخبر عن أبيه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن الله يحب العبد التقى الغنى الخفي».

 

• حدثنا أبو بكر بن مالك ثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل ثنا سفيان بن وكيع ثنا عبد الله بن رجاء عن ابن جريح عن ابن أبي مليكة عن عبد الله بن عمرو. قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أحب شيء إلى الله تعالى الغرباء». قيل ومن الغرباء؟ قال: «الفرارون بدينهم، يبعثهم الله يوم القيمة مع عيسى بن مريم عليهما السلام».

 

• حدثنا أبو غانم سهل بن إسماعيل الفقيه الواسطي ثنا عبد الله بن الحسن ثنا إسحاق بن وهب ثنا عبد الملك بن يزيد ثنا أبو عوانة عن الأعمش عن أبي وائل عن عبد الله بن مسعود. قال: إذا أحب الله عبدا اقتناه لنفسه ولم يشغله بزوجة ولا ولد. وقال ابن مسعود قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يأتي على الناس زمان لا يسلم لذي دين دينه إلا رجل يفر بدينه من قرية إلى قرية، ومن شاهق إلى شاهق، ومن حجر‌‌(1) إلى حجر».

 

• حدثنا سليمان بن أحمد ثنا عباس بن الفضل ثنا عبد الله بن محمد بن عائشة. قال ثنا عبد العزيز بن مسلم القسملي عن ليث عن عبيد الله بن زحر عن علي بن يزيد عن القاسم عن أبي أمامة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن من أغبط أوليائى عندى مؤمنا خفيف الحاذ، ذا حظ من صلاة وصيام، أحسن عبادة ربه، وأطاعه فى سره، وكان غامضا في الناس لا يشار إليه بالأصابع، وكانت معيشته كفافا وصبر على ذلك، فعجلت منيته، وقلت بواكيه، وقل تراثه.

قال الشيخ رحمه الله: لهم الأحوال الشريفة، والأخلاق اللطيفة، مقامهم منيف. وسؤالهم ظريف

 

• حدثنا سليمان بن أحمد ثنا إبراهيم بن أحمد ابن برة الصنعاني ثنا هشام بن إبراهيم أبو الوليد المخزومى ثنا موسى بن جعفر ابن أبي كثير عن عبد القدوس بن حبيب عن مجاهد عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له: «يا غلام ألا أحبوك؟ ألا أنحلك؟ ألا أعطيك؟». قال: قلت بلى بأبي أنت وأمي يا رسول الله، قال:

--------------------------------------------

‌‌(1) كذا فى الأصلين ولعله من جحر إلى جحر بتقديم الجيم.
ইবনে সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকওয়াবান, সচ্ছল এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা বান্দাকে ভালোবাসেন।»

• আবু বকর বিন মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে সুফিয়ান বিন ওয়াকি' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন রাজা বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো আগন্তুকরা (গুরাবা)‌।» জিজ্ঞাসা করা হলো, আগন্তুকরা কারা? তিনি বললেন: «যারা নিজেদের দ্বীন রক্ষার জন্য পলায়নকারী; কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদেরকে ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিমাস সালামের সাথে পুনরুত্থিত করবেন।»

• আবু গানিম সাহল বিন ইসমাইল আল-ফকিহ আল-ওয়াসিতি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে ইসহাক বিন ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুল মালিক বিন ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবু আওয়ানাহ আল-আ'মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে নিজের জন্য মনোনীত করে নেন এবং তাকে স্ত্রী বা সন্তান দ্বারা ব্যস্ত করেন না। ইবনে মাসউদ আরও বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন দ্বীনদারের জন্য তার দ্বীন নিরাপদ থাকবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে তার দ্বীন নিয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে, এক পাহাড়ের চূড়া থেকে অন্য পাহাড়ের চূড়ায় এবং এক গর্ত ‌‌(১) থেকে অন্য গর্তে পালিয়ে বেড়ায়।»

• সুলায়মান ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস ইবনুল ফজল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আয়িশাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবদুল আজিজ ইবনে মুসলিম আল-কাসমালী আমাদের নিকট লায়স থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহর থেকে, তিনি আলী ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি কাসেম থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার নিকট আমার বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে ঈর্ষণীয় সেই মুমিন, যার বোঝা হালকা (অল্প সম্পদ ও পরিবার বিশিষ্ট), যে সালাত ও সিয়ামের সৌভাগ্য লাভ করেছে, আপন রবের ইবাদত উত্তমরূপে সম্পাদন করেছে এবং নির্জনেও তাঁর আনুগত্য করেছে। সে মানুষের মাঝে নিভৃতচারী ছিল, যার দিকে আঙুল তুলে ইশারা করা হতো না, তার জীবনোপকরণ ছিল সামান্য এবং সে এতে ধৈর্য ধারণ করেছিল। অতঃপর তার মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়, তার জন্য ক্রন্দনকারীর সংখ্যা ছিল কম এবং তার উত্তরাধিকারও ছিল অতি সামান্য।»

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাদের অবস্থা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, তাদের চরিত্র অত্যন্ত মাধুর্যপূর্ণ, তাদের মাকাম সুউচ্চ এবং তাদের যাচনা অত্যন্ত মার্জিত।

• সুলায়মান ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনে আহমদ ইবনে বাররাহ আস-সানআনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে ইবরাহীম আবুল ওয়ালীদ আল-মাখযূমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মূসা ইবনে জাফর ইবনে আবি কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল কুদ্দুস ইবনে হাবীব থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «হে বৎস! আমি কি তোমাকে প্রদান করব না? আমি কি তোমাকে উপহার দেব না? আমি কি তোমাকে দান করব না?» তিনি বলেন, আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার চরণে আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক। তিনি বললেন:

--------------------------------------------

‌‌(১) মূল পাণ্ডুলিপিদ্বয়ে এভাবেই রয়েছে, সম্ভবত এটি জীম অক্ষরটি আগে আসার কারণে 'জুহর থেকে জুহর' (গর্ত থেকে গর্তে) হবে।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فظننت أنه سيقطع لى قطعة مال. فقال: «أربع تصليهن في كل يوم وليلة فتقرأ أم القرآن وسورة. ثم تقول: سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر خمس عشرة مرة، ثم تركع فتقولها عشرا، ثم ترفع فتقولها عشرا ثم تفعل في صلاتك كلها مثل ذلك. فإذا فرغت قلت بعد التشهد وقبل التسليم اللهم إني أسألك توفيق أهل الهدى، وأعمال أهل اليقين، ومناصحة أهل التوبة، وعزم أهل الصبر، وجد أهل الخشية، وطلبة أهل الرغبة، وتعبد أهل الورع، وعرفان أهل العلم، حتى أخافك. اللهم إني أسألك مخافة تحجزني عن معاصيك، وحتى أعمل بطاعتك عملا أستحق به رضاك، وحتى أناصحك في التوبة خوفا منك. وحتى أخلص لك النصيحة حبا لك، وحتى أتوكل عليك في الأمور حسن الظن بك، سبحان خالق النور. فإذا فعلت ذلك يا ابن عباس غفر الله لك ذنوبك صغيرها وكبيرها، قديمها وحديثها، سرها وعلانيتها، وعمدها وخطأها.

قال الشيخ رحمه الله: هم السفراء إلى الخلق، والأسراء لدى الحق أزعجهم الفرق، وهيمهم القلق

 

• حدثنا العباس بن محمد الكناني ثنا أبو الحريش الكلابي ثنا علي بن يزيد بن بهرام ثنا عبد الملك بن أبي كريمة عن أبي حاجب عن عبد الرحمن بن غنم عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «يا معاذ إن المؤمن لدى الحق أسير، يعلم أن عليه رقيبا، على سمعه وبصره ولسانه ويده ورجله وبطنه وفرجه، حتى اللمحة ببصره وفتات الطين‌‌(1) بأصبعه وكحل عينيه وجميع سعيه، إن المؤمن لا يأمن قلبه ولا يسكن روعته ولا يأمن اضطرابه، يتوقع الموت صباحا ومساء، فالتقوى رقيبه، والقرآن دليله، والخوف حجته، والشرف مطيته، والحذر قرينه، والوجل شعاره، والصلاة كهفه، والصيام جنته، والصدقة فكاكه، والصدق وزيره، والحياء أميره، وربه تعالى من وراء ذلك كله بالمرصاد، يا معاذ إن المؤمن قيده القرآن عن كثير من هوى نفسه وشهواته، وحال بينه وبين أن

--------------------------------------------

‌‌(1) فى ح: الطير.
আমি মনে করেছিলাম যে তিনি হয়তো আমাকে কিছু ধনসম্পদ দান করবেন। তখন তিনি বললেন: «তুমি দিনে ও রাতে চার রাকাত সালাত পড়বে, যাতে তুমি উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) ও একটি সুরা পাঠ করবে। অতঃপর তুমি পনেরবার বলবে: ‘সুবহানাল্লাহ, ওয়ালহামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’। তারপর তুমি রুকু করবে এবং সেখানে এটি দশবার বলবে, তারপর মাথা তুলবে এবং এটি দশবার বলবে, এরপর তোমার পুরো সালাতে এভাবেই আমল করবে। যখন তুমি সালাত শেষ করবে, তখন তাশাহহুদের পরে এবং সালাম ফেরানোর আগে বলবে: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েতপ্রাপ্তদের তাওফিক, ইয়াকীনপন্থীদের আমল, তওবাকারীদের একনিষ্ঠতা, ধৈর্যশীলদের সংকল্প, আল্লাহভীরুদের প্রচেষ্টা, ইবাদতে আগ্রহীদের অন্বেষণ, পরহেজগারদের ইবাদত এবং জ্ঞানীদের পরিচয় প্রার্থনা করছি, যাতে আমি আপনাকে ভয় করতে পারি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এমন ভয় প্রার্থনা করছি যা আমাকে আপনার নাফরমানি থেকে বিরত রাখবে, এবং যাতে আমি আপনার আনুগত্যের মাধ্যমে এমন আমল করতে পারি যার দ্বারা আমি আপনার সন্তুষ্টির যোগ্য হই, এবং যাতে আমি আপনার ভয়ে তওবায় একনিষ্ঠ হতে পারি, এবং আপনার ভালোবাসায় যেন আমি আপনার প্রতি পূর্ণ একনিষ্ঠ হতে পারি, এবং আপনার প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করে সকল বিষয়ে যেন আপনার ওপর ভরসা করতে পারি; পবিত্রতা সেই স্রষ্টার যিনি নূর সৃষ্টি করেছেন। হে ইবনে আব্বাস! যখন তুমি এটি করবে, তখন আল্লাহ তোমার ছোট-বড়, পুরাতন-নতুন, গোপন-প্রকাশ্য এবং ইচ্ছাকৃত ও ভুলবশত করা সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।

শায়খ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: তাঁরা সৃষ্টির কাছে দূত এবং সত্যের নিকট বন্দি; বিচ্ছেদ তাঁদের অস্থির করে তুলেছে এবং উৎকণ্ঠা তাঁদের বিচলিত করেছে।

• আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল-কিনানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হারীশ আল-কিলাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে ইয়াজিদ ইবনে বাহরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক ইবনে আবি কারিমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাজিব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে গানাম থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «হে মুয়াজ! মুমিন সত্যের নিকট একজন বন্দির মতো; সে জানে যে তার ওপর একজন পর্যবেক্ষক রয়েছেন—তার শ্রবণ, দৃষ্টি, জিহ্বা, তার হাত, তার পা, পেট এবং লজ্জাস্থানের ওপর; এমনকি তার চোখের পলক এবং মাটির কণা স্পর্শ করার বিষয়েও। ‌‌(১) তার আঙুল দিয়ে, তার চোখের সুরমা এবং তার যাবতীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে; নিশ্চয়ই মুমিন তার হৃদয়ের ব্যাপারে নিরাপদ বোধ করে না, তার ভীতি প্রশমিত হয় না এবং তার অস্থিরতা থেকেও সে নিশ্চিন্ত থাকে না; সে সকাল-সন্ধ্যায় মৃত্যুর প্রতীক্ষা করে। সুতরাং তাকওয়া তার পরিদর্শক, কুরআন তার পথপ্রদর্শক, ভয় তার দলিল, মর্যাদা তার বাহন, সতর্কতা তার সঙ্গী, আতঙ্ক তার ভূষণ, সালাত তার আশ্রয়স্থল, সিয়াম তার ঢাল, সদকা তার মুক্তিপণ, সত্যবাদিতা তার উজির এবং লজ্জা তার আমির; আর তার মহান রব এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে সদা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। হে মুয়াজ! নিশ্চয়ই কুরআন মুমিনকে তার নফসের অনেক খেয়ালখুশি ও প্রবৃত্তি থেকে শৃঙ্খলিত করে রাখে এবং তার মাঝে ও এই বিষয়ের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় যে—

--------------------------------------------

‌‌(১) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: পাখি।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
يهلك فيما يهوى بإذن الله. يا معاذ: إني أحب لك ما أحب لنفسي، وأنهيت إليك ما أنهى إلي جبريل عليه السلام فلا أعرفنك توافيني يوم القيامة وأحد أسعد بما أتاك الله عز وجل منك».

 

• حدثنا أبو عمرو بن حمدان ثنا الحسين بن سفيان ثنا محمد بن يحيى بن عبد الكريم ثنا الحسين بن محمد عن أبي عبد الله القشيري عن أبي حاجب عن عبد الرحمن عن معاذ. وعن غالب بن شهر عن معاذ وعن مكحول عن عبد الرحمن بن غنم عن معاذ بلغ به النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «يا معاذ» فذكر نحوه.

قال الشيخ رحمه الله: حبهم للحق، وفي الحق يحييهم ويفنيهم، وعمن سواه من الخلق يلهيهم ويسليهم

 

• حدثنا عبد الله بن جعفر ثنا يونس بن حبيب ثنا أبو داود ثنا شعبة أخبرني قتادة قال سمعت أنس بن مالك يحدث أن النبي صلى الله عليه وسلم. قال: «ثلاث من كن فيه وجد بهن حلاوة الإيمان؛ من يكن الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، وأن يقذف الرجل في النار أحب إليه من أن يرجع في الكفر بعد إذ أنقذه الله منه، وأن يحب الرجل العبد لا يحبه الا الله - أو قال في الله عز وجل»، شك أبو داود.

 

• حدثنا أحمد بن جعفر بن حمدان ثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل قال حدثني أبي ثنا عبد الوهاب ثنا أيوب عن أبي قلابة عن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ثلاث من كن فيه وجد بهن حلاوة الإيمان؛ أن يكون الله تعالى ورسوله أحب إليه مما سواهما، وأن يحب المرء لا يحبه إلا لله عز وجل، وأن يكره أن يعود في الكفر بعد إذ أنقذه الله عز وجل منه كما يكره أن توقد له نار فيقذف فيها».

قال الشيخ رحمه الله: فقد ثبت بما روينا من حديث معاذ بن جبل وغيره: أن التصوف أحوال قاهرة، وأخلاق طاهرة، تقهرهم الأحوال فتأسرهم، ويستعملون الأخلاق فتظهرهم، تحلوا بخالص الخدمة، فكفوا طوارق الحيرة، وعصموا من الانقطاع والفترة. ولا يأنسون إلا به، ولا يستريحون إلا إليه. فهم أرباب القلوب المتسورون بصائب فراستهم على
আল্লাহর অনুমতিতে সে তার লালসায় ধ্বংস হবে। হে মুয়াজ: আমি তোমার জন্য তা-ই পছন্দ করি যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করি। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার কাছে যা পৌঁছে দিয়েছেন, আমি তোমার কাছে তা-ই পৌঁছে দিলাম। সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি যেন তোমাকে এমন অবস্থায় না পাই যে, মহান আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন সে ব্যাপারে অন্য কেউ তোমার চেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান।

• আবু আমর ইবনে হামদান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আল-হুসাইন ইবনে সুফিয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল কারীম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আমাদের আবু আবদুল্লাহ আল-কুশাইরী থেকে, তিনি আবু হাজেব থেকে, তিনি আবদুর রহমান থেকে, তিনি মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং গালিব ইবনে শাহর মুয়াজ থেকে, এবং মাকহুল আবদুর রহমান ইবনে গানাম থেকে, তিনি মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: "হে মুয়াজ", অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সত্যের প্রতি তাদের ভালোবাসা; এবং সত্যই তাদের জীবিত রাখে ও বিলীন করে দেয়, আর সৃষ্টিজগতের অন্যান্য সবকিছু থেকে তাদের বিমুখ করে রাখে এবং তাদের সান্ত্বনা দেয়।

• আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ইউনুস ইবনে হাবীব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবু দাউদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন শু'বাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন কাতাদাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমি আনাস ইবনে মালিককে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের স্বাদ অনুভব করবে; যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সবকিছু থেকে অধিক প্রিয় হবে, এবং কোনো ব্যক্তিকে আগুনের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হওয়া তার কাছে কুফরিতে ফিরে যাওয়ার চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া—আল্লাহ তাকে তা থেকে মুক্তি দেওয়ার পর, এবং কেবল আল্লাহর জন্যই কোনো বান্দাকে ভালোবাসা—অথবা তিনি বলেছেন মহান আল্লাহর জন্য।" আবু দাউদ শব্দটির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন।

• আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমাদের নিকট আবু কিলাবাহ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা আস্বাদন করবে; আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল তার নিকট অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া, কোনো ব্যক্তিকে কেবল মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা এবং কুফর থেকে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাকে মুক্তি দেওয়ার পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে তেমনি ঘৃণা করা যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে ঘৃণা করে।"

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমরা মুয়াজ ইবনে জাবাল ও অন্যদের থেকে যে হাদীস বর্ণনা করেছি তা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে: তাসাউফ হলো কিছু প্রবল আধ্যাত্মিক অবস্থা এবং পবিত্র চরিত্র; এই আধ্যাত্মিক অবস্থাগুলো তাদের ওপর বিজয়ী হয়ে তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং তারা এমন চরিত্রের চর্চা করে যা তাদের পরিশুদ্ধ ও বিকশিত করে। তারা একনিষ্ঠ খিদমতের মাধ্যমে সুশোভিত হয়েছে, ফলে তারা বিভ্রান্তির আপদসমূহ থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং পথবিচ্যুতি ও শিথিলতা থেকে সংরক্ষিত হয়েছে। তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সাথে সখ্যতা বোধ করে না এবং তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে প্রশান্তি পায় না। তারা হলো হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ, যারা তাদের সঠিক অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে আরোহণ করে...
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الغيوب، المراقبون للمحبوب، التاركون للمسلوب، المحاربون للمحروب، سلكوا مسلك الصحابة والتابعين، ومن نحى نحوهم من المتقشفين والمتحققين، العالمين بالبقاء والفناء، والمميزين بين الإخلاص والرياء، والعارفين بالخطرة والهمة والعزيمة والنية، والمحاسبين للضمائر، والمحافظين للسرائر، المخالفين للنفوس، والمحاذرين من الخنوس‌‌(1) بدائم التفكر، وقائم التذكر، طلبا للتدانى، وهربا من التوانى، لا يستهين بحرمتهم‌‌(2) إلا مارق، ولا يدعي أحوالهم إلا مائق، ولا يعتقد عقيدتهم إلا فائق، ولا يحن إلى موالاتهم إلا تائق‌‌(3) فهم سرج الآفاق، والممدود إلى رؤيتهم بالأعناق، بهم نقتدي وإياهم نوالي إلى يوم التلاق.

 

قال الشيخ: رحمه الله: بدأنا بذكر من اشتهر من الصحابة بحال من الأحوال، وحفظ عنه حميد الأفعال، وعصم من الفتور والإكسال، وفصل له العهود والحبال، ولم يقطعه سآمة ولا ملال، فمن المهاجرين أولهم

 

‌‌أبو بكر الصديق

أبو بكر الصديق، السابق إلى التصديق، الملقب بالعتيق، المؤيد من الله‌‌(4)

بالتوفيق، صاحب النبي صلى الله عليه وسلم في الحضر والأسفار، ورفيقه الشفيق في جميع الأطوار، وضجيعه بعد الموت في الروضة المحفوفة بالأنوار المخصوص في الذكر الحكيم بمفخر فاق به كافة الأخيار، وعامة الأبرار، وبقي له شرفه على كرور الأعصار، ولم يسم إلى ذروته همم أولي الأيد والأبصار، حيث يقول عالم الأسرار {(ثاني اثنين إذ هما في الغار)} إلى غير ذلك من الآيات والآثار، ومشهور النصوص الواردة فيه والأخبار، التي غدت كالشمس في الانتشار، وفضل كل من فاضل، وفاق كل من جادل وناضل، ونزل فيه {(لا يستوي منكم من أنفق من قبل الفتح وقاتل)} توحد الصديق، في الأحوال بالتحقيق، واختار الاختيار من الله دعاه إلى الطريق، فتجرد من الأموال،

--------------------------------------------

‌‌(1) الخنوس: التأخر

‌‌(2) ح: بخدمتهم

‌‌(3) ح: إلا سابق

‌‌(4) ح: من السماء
অদৃশ্যের বিষয়াবলি সম্পর্কে সচেতন, প্রিয়তমের (আল্লাহর) প্রতি সদা সতর্ক দৃষ্টিদানকারী, নশ্বর বস্তু বর্জনকারী, (শয়তান ও প্রবৃত্তি রূপী) শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী; তাঁরা সাহাবী ও তাবেয়ীদের পথ এবং তাঁদের পরবর্তী সেইসব সংযমী ও সত্যসন্ধানীদের পথ অনুসরণ করেছেন, যাঁরা স্থায়িত্ব ও নশ্বরতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন, যাঁরা ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ও রিয়া (লোকদেখানো আমল)-এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন, যাঁরা মনের কুমন্ত্রণা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দৃঢ় সংকল্প ও নিয়ত সম্পর্কে সম্যক অবগত, যাঁরা নিজেদের নফসের হিসাব গ্রহণ করেন, যাঁরা অন্তরের গোপনীয়তা রক্ষা করেন, যাঁরা কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ করেন এবং শয়তানের পিছুটান থেকে সতর্ক থাকেন ‌‌(১) নিরবচ্ছিন্ন চিন্তা ও নিরন্তর জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণে রত এবং অলসতা থেকে পলায়নপর। কোনো ধর্মত্যাগী ছাড়া কেউ তাঁদের মর্যাদাকে তুচ্ছজ্ঞান করে না ‌‌(২) কোনো নির্বোধ ছাড়া কেউ তাঁদের আধ্যাত্মিক অবস্থার মিথ্যা দাবি করে না, কোনো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া কেউ তাঁদের আকিদা পোষণ করে না এবং কোনো অনুরাগী ছাড়া কেউ তাঁদের বন্ধুত্বের আকাঙ্ক্ষা করে না ‌‌(৩) তাঁরাই জগতের আলোকবর্তিকা এবং যাঁদের দর্শনের জন্য মানুষ উদগ্রীব হয়ে তাকিয়ে থাকে; আমরা তাঁদেরই অনুসরণ করি এবং সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত তাঁদের সাথেই বন্ধুত্ব বজায় রাখি।

শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: আমরা সাহাবীদের মধ্যে যাঁরা বিভিন্ন উন্নত আধ্যাত্মিক অবস্থার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, যাঁদের থেকে প্রশংসনীয় কার্যাবলি বর্ণিত হয়েছে, যাঁদের শৈথিল্য ও অলসতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে, যাঁদের জন্য আমলের অঙ্গীকার ও বন্ধনসমূহ সুবিন্যস্ত করা হয়েছে এবং কোনো ক্লান্তি বা বিরক্তি যাঁদের আমল থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, তাঁদের বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করছি। মুহাজিরদের মধ্যে তাঁদের প্রথম জন হলেন—

‌ ‌আবু বকর সিদ্দীক

আবু বকর সিদ্দীক, সত্যপঠনে অগ্রগামী, যাঁকে 'আতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে এবং যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত। ‌‌(৪)

আল্লাহর তাওফিকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সফর ও আবাসের সাথী, সকল অবস্থায় তাঁর দয়ার্দ্র সহচর, এবং মৃত্যুর পর নূরে ঘেরা রওজায় তাঁর শয্যাসঙ্গী। প্রজ্ঞাপূর্ণ স্মরণে (কুরআনে) তাঁকে এমন এক গৌরবের মাধ্যমে বিশিষ্ট করা হয়েছে, যার দ্বারা তিনি সমস্ত শ্রেষ্ঠ ও সাধারণ পুণ্যবানদের ছাড়িয়ে গিয়েছেন। যুগ যুগ ধরে তাঁর সম্মান অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং শক্তিশালী ও দূরদর্শী ব্যক্তিদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও তাঁর সুউচ্চ শিখর স্পর্শ করতে পারেনি। যেখানে সকল রহস্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহ বলছেন: "দুজনের দ্বিতীয় জন, যখন তারা গুহায় ছিলেন", এ ছাড়াও আরও অনেক আয়াত ও বর্ণনা এবং তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত প্রসিদ্ধ পাঠ ও সংবাদসমূহ রয়েছে, যা প্রসারের দিক থেকে সূর্যের ন্যায় ভাস্বর। তিনি প্রত্যেক গুণীজনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রত্যেক বিতর্ককারী ও সংগ্রামকারীর চেয়ে অগ্রগামী। তাঁর শানেই অবতীর্ণ হয়েছে: "তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে তারা (অন্যদের সমান) নয়।" সিদ্দীক তাঁর সামগ্রিক অবস্থায় বাস্তব অর্থেই অনন্য ছিলেন এবং তিনি আল্লাহর সেই পছন্দকে গ্রহণ করেছিলেন যা তাঁকে সত্য পথের দিকে আহ্বান করেছিল; অতঃপর তিনি নিজেকে সমস্ত ধন-সম্পদ থেকে রিক্ত করেছিলেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) খনূস: পিছিয়ে পড়া বা বিলম্ব হওয়া

‌‌(২) হা: তাঁদের খিদমতে

‌‌(৩) হা: অগ্রগামী ব্যতীত

‌‌(৪) হা: আসমান থেকে
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والأعراض، وانتصب في قيام التوحيد للتهدف والأغراض، صار للمحن هدفا، وللبلاء غرضا، وزهد فيما عزله جوهرا كان أو عرضا، تفرد بالحق، عن الالتفات إلى الخلق، وقد قيل إن التصوف الاعتصام بالحقائق، عند اختلاف الطرائق

 

• حدثنا أبو بكر بن خلاد ثنا أحمد بن إبراهيم بن ملحان ثنا يحيى بن بكير قال حدثني الليث بن سعد عن عقيل عن ابن شهاب: قال أخبرني أبو سلمة بن عبد الرحمن عن ابن عباس: أن أبا بكر رضي الله تعالى عنه خرج حين توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وعمر يكلم الناس فقال: اجلس يا عمر فأبى عمر أن يجلس، فقال اجلس يا عمر، فتشهد فقال: أما بعد فمن كان منكم يعبد محمدا فإن محمدا قد مات، ومن كان منكم يعبد الله فإن الله حي لا يموت، إن الله تعالى قال {(وما محمد إلا رسول قد خلت من قبله الرسل أفإن مات أو قتل انقلبتم على أعقابكم)} الآية. قال: والله لكأن الناس لم يعلموا أن الله عز وجل أنزل هذه الآية حتى تلاها أبو بكر، فتلقاها‌‌(1) منه الناس كلهم، فما نسمع بشرا من الناس إلا يتلوها. قال ابن شهاب أخبرني سعيد بن المسيب أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: والله ما هو إلا أن سمعت أبا بكر تلاها فعقرت‌‌(2) حتى ما تقلني رجلاي، وحتى أهويت إلى الأرض وعرفت حين سمعته تلاها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد مات.

قال الشيخ رحمه الله: وكان رضي الله تعالى عنه يتوصل بعز الوفاء، إلى أسنى مواقف الصفا. وقد قيل: إن التصوف تفرد العبد، بالصمد الفرد

 

• حدثنا سليمان بن أحمد ثنا إسحاق بن إبراهيم ثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري أخبرني عروة بن الزبير أن عائشة رضي الله تعالى عنها قالت: لما أنفذت قريش جوار ابن الدغنة قالوا له مر أبا بكر فليعبد ربه في داره. وليصل فيها ما شاء وليقرأ ما شاء. ولا يؤذينا ولا يستعلن بالصلاة والقراءة في غير داره.

قال ففعل أبو بكر رضي الله تعالى عنه، ثم بدا له فابقنى مسجدا بفناء داره.

فكان يصلي فيه ويقرأ. فتقصف‌‌(3) عليه نساء المشركين وأبناؤهم يتعجبون

--------------------------------------------

‌‌(1) ح: فتلاها.

‌‌(2) ز: فقعدت.

‌‌(3) تتقصف عليه: تزدحم.
এবং ক্ষণস্থায়ী গুণাবলি; তিনি তাওহীদের ওপর দণ্ডায়মান হওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অভিমুখে নিজেকে নিবদ্ধ করলেন। তিনি পরীক্ষার লক্ষ্যস্থলে এবং বিপদের উদ্দিষ্ট বস্তুতে পরিণত হলেন। যা কিছু তাঁকে মহান সত্য থেকে বিচ্যুত করে, তা থেকে তিনি বিমুখ হলেন—চাই তা মূল সারবস্তু হোক কিংবা ক্ষণস্থায়ী কোনো গুণ। সৃষ্টির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা বর্জন করে তিনি একমাত্র হকের সঙ্গেই একনিষ্ঠ হলেন। বর্ণিত আছে যে, তাসাউফ হলো নানাবিধ মত ও পথের পার্থক্যের ক্রান্তিকালে মূল হাকীকত বা প্রকৃত সত্যকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা।

• আবু বকর ইবনে খাল্লাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মালহান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে লাইস ইবনে সাদ আমার নিকট উকাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে; তিনি বলেন: আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান আমাকে ইবনে আব্বাস থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন ওমর লোকজনের সাথে কথা বলছিলেন, এমতাবস্থায় আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বের হলেন। তিনি বললেন: হে ওমর, বসো। কিন্তু ওমর বসতে অস্বীকার করলেন। তিনি পুনরায় বললেন: হে ওমর, বসো। এরপর তিনি সাক্ষ্য পাঠ করলেন এবং বললেন: অতঃপর, তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদত করতে, তারা জেনে রেখো যে মুহাম্মাদ ইন্তেকাল করেছেন। আর তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহর ইবাদত করতে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {(মুহাম্মাদ একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নন, তাঁর পূর্বে বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। সুতরাং তিনি যদি মারা যান কিংবা নিহত হন, তবে কি তোমরা তোমাদের পেছনের দিকে ফিরে যাবে?)} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছিল যেন মানুষ জানতই না যে আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত এই আয়াতটি নাযিল করেছেন, যতক্ষণ না আবু বকর তা তেলাওয়াত করলেন। অতঃপর সমস্ত মানুষ তাঁর কাছ থেকে এটি গ্রহণ করল ‌‌(১) এবং আমরা প্রতিটি মানুষকে এটি তেলাওয়াত করতে শুনলাম। ইবনে শিহাব বলেন, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আল্লাহর কসম, আমি যখনই আবু বকরকে এটি তেলাওয়াত করতে শুনলাম, তখনই আমি নিস্তেজ হয়ে পড়লাম ‌‌(২) এমনকি আমার পা দুটি আর আমাকে বহন করতে পারছিল না এবং আমি মাটিতে পড়ে গেলাম। যখন আমি তাঁকে এটি তেলাওয়াত করতে শুনলাম, তখনই আমি অনুধাবন করতে পারলাম যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই ইন্তেকাল করেছেন।

শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পূর্ণ বিশ্বস্ততার মর্যাদাকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে স্বচ্ছতার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যেতেন। আর বলা হয়েছে: নিশ্চয়ই তাসাউফ হলো বান্দার কেবল সেই অমুখাপেক্ষী একক সত্তার (আল্লাহর) সাথে একনিষ্ঠ হওয়া।

• সুলাইমান বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক বিন ইবরাহিম থেকে, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: যখন কুরাইশরা ইবনুদ দাগিনাহর আশ্রয় বলবৎ রাখল, তখন তারা তাকে বলল, আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন তার রবের ইবাদত তার নিজের ঘরেই করে। এবং সেখানে সে যা ইচ্ছা সালাত আদায় করুক এবং যা ইচ্ছা তিলাওয়াত করুক। কিন্তু সে যেন আমাদের কষ্ট না দেয় এবং তার ঘরের বাইরে প্রকাশ্যে সালাত ও তিলাওয়াত না করে।

তিনি বলেন, আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাই করলেন। অতঃপর তাঁর নিকট সংকল্প প্রকাশ পেল, ফলে তিনি তাঁর ঘরের আঙিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন।

সেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন এবং তিলাওয়াত করতেন। তখন মুশরিকদের নারী ও সন্তানরা তাঁর নিকট ভিড় জমাত ‌‌(৩) এবং তারা আশ্চর্যান্বিত হতো।

--------------------------------------------

‌‌(১) হা: অতঃপর তিনি তা তিলাওয়াত করলেন।

‌‌(২) যা: ফলে আমি বসলাম।

‌‌(৩) ভিড় জমানো।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
منه، وينظرون إليه. وكان أبو بكر رضي الله تعالى عنه رجلا بكاء لا يملك دمعه حين يقرأ القرآن، فأفزع ذلك أشراف قريش، فأرسلوا إلى ابن الدغنة فقدم عليهم فأتى ابن الدغنة أبا بكر فقال: يا أبا بكر قد علمت الذي عقدت لك عليه، فإما أن تقتصر على ذلك، وإما أن ترجع إلى ذمتي، فإني لا أحب أن تسمع العرب أنى أخفرت في عقد رجل عقدت له. فقال أبو بكر: فإنى أرد إليك جوارك، وأرضى بجوار الله ورسوله، ورسول الله صلى الله عليه وسلم يومئذ بمكة.

 

• حدثنا عبد الله بن محمد ثنا أحمد بن علي بن الجارود ثنا عبد الله ابن سعيد الكندي ثنا عبد الله بن إدريس الأودي. وحدثنا الحسين بن محمد ثنا الحسن ثنا حميد ثنا جرير ثنا أبو إسحاق الشيباني عن أبي بكر بن أبي موسى عن الأسود بن هلال. قال قال أبو بكر رضي الله تعالى عنه لأصحابه: ما تقولون في هاتين الآيتين؟ {(إن الذين قالوا ربنا الله ثم استقاموا)} و {(الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم)}. قال قالوا: ربنا الله ثم استقاموا، فلم يدينوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم بخطيئة. قال لقد حملتموها على غير المحمل، ثم قال: قالوا ربنا الله ثم استقاموا فلم يلتفقوا إلى إله غيره، ولم يلبسوا إيمانهم بشرك.

قال الشيخ رحمه الله: كان رضي الله عنه من أحواله العزوف‌‌(1) عن العاجلة، والأزوف من الآجلة. وقد قيل إن التصوف تطليق الدنيا بتاتا، والإعراض عن منالها ثباتا

 

• حدثنا أحمد بن إسحاق ثنا أبو بكر بن أبي عاصم ثنا الحسن بن علي والفضل بن داود. قالا: ثنا عبد الصمد بن عبد الوارث ثنا عبد الواحد بن زيد ثنا أسلم عن مرة الطيب‌‌(2) عن زيد بن أرقم: أن أبا بكر رضى الله تعالى عنه: استسقى فأتي بإناء فيه ماء وعسل، فلما أدناه من فيه بكى وأبكى من حوله، فسكت وما سكتوا. ثم عاد فبكى حتى ظنوا أن لا يقدروا على مساءلته، ثم مسح وجهه وأفاق. فقالوا: ما هاجك على هذا البكاء؟ قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم، وجعل يدفع عنه شيئا ويقول: «إليك عني، إليك عني» ولم أر معه أحدا فقلت يا رسول الله أراك تدفع عنك شيئا

--------------------------------------------

‌‌(1) العزوف: المبتعد. والأزوف: المقترب

‌‌(2) فى ح: عن مبرة الطبيب وهو تصحيف.
...তাঁকে দেখে অভিভূত হতেন এবং তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতেন। আবু বকর রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন একজন অত্যন্ত ক্রন্দনশীল ব্যক্তি; যখন তিনি কুরআন তিলাওয়াত করতেন, তখন নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারতেন না। বিষয়টি কুরাইশ বংশের অভিজাতদের আতঙ্কিত করে তুলল। তাই তারা ইবনে দাগিনার কাছে বার্তা পাঠাল। ইবনে দাগিনা তাদের কাছে আসলেন এবং আবু বকরের কাছে গিয়ে বললেন: "হে আবু বকর, আমি আপনার সাথে যে শর্তে চুক্তি করেছিলাম তা তো আপনি জানেন। হয় আপনি সেই শর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন, নতুবা আমার নিরাপত্তা ও জিম্মাদারি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন। কারণ আমি চাই না আরবরা শুনুক যে, আমি যাকে আশ্রয় দিয়েছি তার চুক্তির ব্যাপারে আমি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছি।" আবু বকর বললেন: "আমি আপনার আশ্রয় আপনাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি এবং আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আশ্রয়েই সন্তুষ্ট থাকলাম।" আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সময় মক্কায় অবস্থান করছিলেন।

• আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আলী ইবনুল জারুদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-কিন্দি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস আল-আওদি থেকে। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ, তিনি হাসান থেকে, তিনি হুমায়িদ থেকে, তিনি জারির থেকে, তিনি আবু ইসহাক আশ-শায়বানি থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে আবি মুসা থেকে, তিনি আসওয়াদ ইবনে হিলাল থেকে। তিনি বলেন, আবু বকর রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁর সাথীদের বললেন: "এই দুটি আয়াতের ব্যাপারে তোমাদের অভিমত কী? {(নিশ্চয় যারা বলে আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা অবিচল থাকে)} এবং {(যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলমের সাথে মিশ্রিত করেনি)}।" তিনি বলেন, তারা বলল: "আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা অবিচল থাকে—অর্থাৎ তারা আর অন্য ধর্ম পালন করে না এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলম তথা কোনো পাপের মাধ্যমে কলুষিত করে না।" তিনি বললেন: "তোমরা এর অর্থ প্রকৃত তাৎপর্য ছাড়া ভিন্নভাবে গ্রহণ করেছ।" অতঃপর তিনি বললেন: "তারা বলে আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা অবিচল থাকে—অর্থাৎ তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যের দিকে ফিরে তাকায় না এবং তারা তাদের ঈমানকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করে না।"

শাইখ রহিমাহুল্লাহ বলেন: তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) চারিত্রিক অবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দুনিয়াবিমুখতা ‌‌(১) পার্থিব জগত থেকে বিমুখ হওয়া এবং পরকালীন জগতের নিকটবর্তী হওয়া সম্পর্কে। বলা হয়েছে যে, তাসাউফ হলো দুনিয়াকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা এবং এর ভোগবিলাস থেকে স্থায়ীভাবে বিমুখ হওয়া।

• আমাদের নিকট আহমাদ ইবন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বকর ইবন আবি আসিম থেকে, তিনি হাসান ইবন আলি এবং ফাদল ইবন দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট আবদুস সামাদ ইবন আবদিল ওয়ারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল ওয়াহিদ ইবন যায়িদ থেকে, তিনি আসলাম থেকে, তিনি মুররাহ আত-তায়্যিব থেকে ‌‌(২) যায়িদ ইবন আরকাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) পানীয় চাইলেন, তখন তাঁর নিকট পানি ও মধু মিশ্রিত একটি পাত্র আনা হলো। যখন তিনি তা তাঁর মুখের নিকটবর্তী করলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং তাঁর চারপাশের লোকদেরও কাঁদালেন। এরপর তিনি নিরব হলেন কিন্তু তারা নিরব হলো না। অতঃপর তিনি পুনরায় কাঁদতে শুরু করলেন, এমনকি তারা ধারণা করল যে তারা তাঁকে আর কোনো প্রশ্ন করতে সক্ষম হবে না। এরপর তিনি তাঁর মুখ মুছলেন এবং স্বাভাবিক হলেন। তারা বলল: কোন বিষয়টি আপনাকে এই কান্নায় বিচলিত করল? তিনি বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, তখন তিনি তাঁর সামনে থেকে কোনো কিছু সরিয়ে দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: «আমার থেকে দূরে সরে যাও, আমার থেকে দূরে সরে যাও», অথচ আমি তাঁর সাথে কাউকে দেখছিলাম না। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি দেখছি আপনি আপনার সামনে থেকে কোনো কিছু সরিয়ে দিচ্ছেন...

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-আযূফ: বিমুখ হওয়া বা দূরে সরে যাওয়া। আল-আযূফ: নিকটবর্তী হওয়া।

‌‌(২) 'হা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'মুবররাহ আত-তবিব' থেকে, যা মূলত একটি লিখনগত বিকৃতি বা ভুল।
(খণ্ড: ১) হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া - ত আস-সাআদাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ولا أرى معك أحدا؟ قال: «هذه الدنيا تمثلت لي بما فيها؛ فقلت لها إليك عنى فتنحت وقالت أما والله لئن انفلت مني لا ينفلت مني من بعدك» فخشيت أن تكون قد لحقتني فذاك الذي أبكاني.

قال الشيخ رحمه الله: وكان رضي الله عنه لا يفارق الجد، ولا يجاوز الحد. وقد قيل: إن التصوف الجد في السلوك إلى ملك الملوك

 

• حدثنا أبو عمرو ابن حمدان ثنا الحسن بن سفيان حدثني يعقوب بن سفيان قال حدثني عمرو بن منصور البصري ثنا عبد الواحد بن زيد عن أسلم الكوفي عن مرة الطيب عن زيد بن أرقم؛ قال: كان لأبي بكر الصديق رضى الله تعالى عنه مملوك يغل عليه فأتاه ليلة بطعام فتناول منه لقمة، فقال له المملوك: مالك كنت تسألني كل ليلة ولم تسألني الليلة؟! قال: حملني على ذلك الجوع، من أين جئت بهذا؟ قال: مررت بقوم في الجاهلية فرقيت لهم فوعدوني، فلما أن كان اليوم مررت بهم فإذا عرس لهم فأعطوني قال إن كدت أن تهلكني، فأدخل يده في حلقه فجعل يتقيأ، وجعلت لا تخرج، فقيل له إن هذه لا تخرج إلا بالماء، فدعا بطست‌‌(1) من ماء فجعل يشرب ويتقيأ حتى رمى بها. فقيل له يرحمك الله كل هذا من أجل هذه اللقمة؟! قال: لو لم تخرج إلا مع نفسي لأخرجتها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «كل جسد نبت من سحت فالنار أولى به» فخشيت أن ينبت شيء من جسدي من هذه اللقمة. ورواه عبد الرحمن ابن القاسم عن أبيه عن عائشة نحوه، والمنكدر بن محمد بن المنكدر عن أبيه عن جابر نحوه.

قال الشيخ رحمه الله: وكان رضي الله عنه يقدم على المضار، لما يؤمل فيه من المسار. وقد قيل إن التصوف السكون إلى اللهيب، في الحنين إلى الحبيب

 

• حدثنا محمد بن أحمد بن الحسن ثنا بشر بن موسى قال ثنا الحميدي ثنا سفيان بن عيينة ثنا الوليد بن كثير عن ابن تدرس عن أسماء بنت أبى بكر رضى الله تعالى عنه قالت: أتى الصريخ آل أبي بكر. فقيل له أدرك صاحبك. فخرج

--------------------------------------------

‌‌(1) فى ح: بغيس ولعله تصحيف بعس. والعس القدح الكبير.
এবং আমি আপনার সাথে কাউকে দেখছি না? তিনি বললেন: «এই দুনিয়া তার মাঝের সব কিছু নিয়ে আমার সামনে মূর্ত হয়েছিল; আমি তাকে বললাম আমার থেকে দূরে সরে যাও, তখন সে সরে গেল এবং বলল আল্লাহর কসম! আপনি যদি আমার থেকে মুক্তি পান তবে আপনার পরের কেউ আমার থেকে নিস্তার পাবে না»। আমি ভয় পেলাম যে সে হয়তো আমাকে পেয়ে বসেছে, আর সেটিই ছিল আমার কান্নার কারণ।

শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সর্বদা ঐকান্তিকতা বজায় রাখতেন এবং কখনও সীমা লঙ্ঘন করতেন না। বলা হয়ে থাকে: তাসাওয়াফ হলো রাজাধিরাজের অভিমুখী হওয়ার পথে ঐকান্তিকতা ও কঠোর সাধনা।

• আবু আমর ইবনে হামদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমর বিন মনসুর আল-বাসরি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ বিন যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসলাম আল-কুফি থেকে, তিনি মুররাহ আত-তয়্যিব থেকে, তিনি যায়েদ বিন আরকাম থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর একজন দাস ছিল যে তাকে তার উপার্জনের একটি অংশ দিত। এক রাতে সে তাঁর কাছে কিছু খাবার নিয়ে এল এবং তিনি তা থেকে এক লোকমা গ্রহণ করলেন। তখন দাসটি তাঁকে বলল: আপনার কী হয়েছে যে আপনি প্রতি রাতে আমাকে (উৎসের ব্যাপারে) জিজ্ঞাসা করতেন কিন্তু আজ রাতে জিজ্ঞাসা করলেন না?! তিনি বললেন: ক্ষুধা আমাকে এর জন্য তাড়িত করেছে, তুমি এটি কোথা থেকে এনেছ? সে বলল: জাহেলিয়াত যুগে আমি এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ঝাড়ফুঁক করে দিয়েছিলাম, তখন তারা আমাকে প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আজ আমি তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম তাদের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে, তাই তারা আমাকে এটি দিয়েছে। তিনি বললেন: তুমি তো আমাকে ধ্বংস করে দিতে বসেছিলে! এরপর তিনি তাঁর হাত নিজের গলার ভেতরে প্রবেশ করিয়ে বমি করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু তা বের হচ্ছিল না। তখন তাঁকে বলা হলো যে এটি পানি ছাড়া বের হবে না। অতঃপর তিনি একটি বড় পাত্র তলব করলেন ‌‌(১) ...পানি পান করতে লাগলেন এবং বমি করতে থাকলেন যতক্ষণ না তা (খাদ্যবস্তু) বের করে দিলেন। তাঁকে বলা হলো, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, মাত্র এই এক লোকমার জন্য আপনি এত কিছু করলেন?! তিনি বললেন: যদি তা আমার প্রাণের সাথেও বের করতে হতো, তবে আমি তা অবশ্যই বের করতাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে শরীর হারাম উপার্জনে গঠিত হয়, জাহান্নামের আগুনই তার জন্য অধিক উপযুক্ত।" তাই আমি আশঙ্কা করলাম যে, আমার শরীরের কোনো অংশ যেন এই লোকমা থেকে তৈরি না হয়। আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম তাঁর পিতার মাধ্যমে আয়েশা (রা.) থেকে এবং মুনকাদির বিন মুহাম্মদ বিন মুনকাদির তাঁর পিতার মাধ্যমে জাবির (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

শাইখ (রহ.) বলেন: তিনি (রা.) কষ্টের কাজগুলোতে অগ্রণী হতেন, যাতে কাঙ্ক্ষিত আনন্দের আশা করা যায়। বলা হয়ে থাকে যে, তাসাউফ হলো প্রিয়তমের ব্যাকুলতায় প্রজ্বলিত অগ্ন শিখার মাঝেও প্রশান্ত থাকা।

• আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বিশর বিন মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হুমাইদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বিন উয়াইনা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়ালিদ বিন কাসীর বর্ণনা করেছেন ইবনে তাদরাস থেকে, তিনি আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকরের পরিবারের নিকট একজন আর্তনাদকারী ব্যক্তি এসে পৌঁছাল। তাকে বলা হলো, আপনার সঙ্গীর সাহায্যে এগিয়ে যান। তখন তিনি বের হলেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) পাণ্ডুলিপি 'হা'-তে 'বাগইস' রয়েছে, সম্ভবত এটি 'আস' শব্দের বিকৃতি। আর 'আস' হলো বড় আকারের পেয়ালা।