(খণ্ড: ১)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
العقيدة التي حكاها أبو الفضل التميمي عن الإمام أحمد - المطبوع بآخر طبقات الحنابلة القسم: العقيدة
الكتاب: قطعة من مقدمة الشيخ الإمام أبى محمد بن تميم الحنبلى فى عقيدة الإمام المبجل أحمد بن حنبل
وفى أصول مذهبه ومشربه رحمه الله تعالى ورضى عنه
[«ذكر فيه مِن اعتقاد أحمد ما فهمه، ولم يذكر فيه ألفاظه، وإنما ذكر جمل الاعتقاد بلفظ نفسه»، نص على ذلك ابن تيمية، رحمهم الله جميعا]
مطبوع بآخر: طبقات الحنابلة لابن أبي يعلى
وقف على طبعه وصححه: محمد حامد الفقي [ت 1378 هـ]
عن مخطوطة: مكتبة السلفى الشيخ محمد نصيف بجدة المنقولة من الجزء السادس والأربعين من الكواكب الدرارى من المكتبة الظاهرية العمومية بدمشق الشام. وصححت على أصلها
الناشر: مطبعة السنة المحمدية - القاهرة
عام النشر: 1371 هـ - 1952 م
عدد الأجزاء: (بآخر الجزء 2 من طبقات الحنابلة)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1444
ইমাম আহমাদ থেকে আবু আল-ফাদল আল-তামিমি কর্তৃক বর্ণিত আকিদা - তাবাকাতুল হানাবিলার শেষে মুদ্রিত বিভাগ: আকিদা
বই: সম্মানিত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের আকিদা সম্পর্কে শায়খ ইমাম আবু মুহাম্মদ বিন তামিম আল-হাম্বলীর মুখবন্ধের একটি অংশ
এবং তাঁর মাযহাবের মূলনীতি ও পথের বর্ণনায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন
[«তিনি এতে আহমাদের আকিদা থেকে যা বুঝেছেন তা উল্লেখ করেছেন, তাঁর হুবহু শব্দগুলো উল্লেখ করেননি, বরং আকিদার মূলকথাগুলো নিজের ভাষায় ব্যক্ত করেছেন»। ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহমত বর্ষণ করুন]
শেষে মুদ্রিত: ইবনুল আবি ইয়া'লার তাবাকাতুল হানাবিলা
মুদ্রণ তত্ত্বাবধান ও সংশোধন: মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি [মৃ. ১৩৭৮ হি.]
পাণ্ডুলিপি হতে: জেদ্দার সালাফি শায়খ মুহাম্মদ নাসিফ লাইব্রেরি, যা সিরিয়ার দামেস্কের জাহিরিয়া পাবলিক লাইব্রেরির আল-কাওয়াকিব আদ-দুরারি-র ৪৬তম খণ্ড থেকে সংগৃহীত। এটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে
প্রকাশক: সুন্নাহ মুহাম্মাদিয়া প্রেস - কায়রো
প্রকাশকাল: ১৩৭১ হি. - ১৯৫২ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: (তাবাকাতুল হানাবিলার ২য় খণ্ডের শেষে)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬৩)
قطعة من مقدمة الشيخ الإمام أبى محمد بن تميم الحنبلى فى عقيدة الإمام المبجل أحمد بن حنبل
وفى أصول مذهبه ومشربه رحمه الله تعالى ورضى عنه
عن مخطوطة مكتبة السلفى الشيخ محمد نصيف بجدة المنقولة من الجزء السادس والأربعين من الكواكب الدرارى من المكتبة الظاهرية العمومية بدمشق الشام. وصححت على أصلها
শাইখ ইমাম আবু মুহাম্মদ বিন তামীম আল-হাম্বলীর ভূমিকা থেকে একটি অংশ, যা মহান ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল-এর আকিদা বিষয়ক
এবং তাঁর মাযহাব ও কর্মপদ্ধতির মূলনীতিসমূহের বর্ণনায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
জেদ্দাস্থিত সালাফি শাইখ মুহাম্মদ নাসিফের গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি হতে গৃহীত, যা সিরিয়ার দামেস্কের জাহিরিয়া পাবলিক লাইব্রেরির ‘আল-কাওয়াকিব আদ-দারারি’ গ্রন্থের ছেচল্লিশতম খণ্ড থেকে উদ্ধৃত। এটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الشيخ الإمام أبو محمد رزق الله بن عبد الوهاب بن عبد العزيز التميمى رحمه الله:
فأما ورود التسمية بالشخص، كقوله «لا شخص أغير من الله» وبالصورة كقوله «فيتجلى لهم فى صورة لا يعرفونها» فاختلف أصحابنا فى هذه التسمية فمنهم: من أطلقها للنقل. ومنهم من تأولها، لعدم الإجماع على إطلاق القول.
قال الشيخ الإمام أبو محمد التميمى رحمه الله: وبهذا أقول. فنطلق الرؤية للخبر، ولا نطلق تسمية لم يجمع عليها أهل الأثر. وهذا كما قال تعالى {47:51 وَالسَّماءَ بَنَيْناها بِأَيْدٍ} ولا نشتق له من هذا الاسم «بنّاء» (48:51 {وَالْأَرْضَ فَرَشْناها} ولا يشتق له اسم «فراش» فاعرف ذلك وتحققه.
وكان الإمام أحمد رحمه الله شديد التحرى فى ذلك
سئل قبل موته رحمه الله بثلاثة أيام عن أخبار الصفات؟ فقال: تمرّ كما جاءت. وأتعجب من الإنكار لها. وقد ثبت أن «القديم» شئ، لا كالأشياء، و «حىّ» لا كالأحياء. ووردت صفات فى الشرع يجب حملها على ما حملت عليه التسمية بكونه «شيئا» فلما فارق اسمه الأسماء فارقت صفاته الصفات.
قال الإمام أبو محمد: وما أظن أحدا من أهل الأثر خالف فى هذا إلا من أراد الله به غير الرشد.
وكان يقول رحمه الله إن الشرك يحبط الأعمال كلها. ويقرأ (65:39 {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ)} وإن المرتد إذا أسلم وجب عليه الحج للإسلام، وإن كان قد حج.
وكان يقول: إن التوبة واجبة من الذنوب، وإنها تمحو ما سلف، إذا قارنها الإخلاص، وهو الندم على ما فات. وترك المطال
(1)، والعزم على عدم العودة، وأن
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শায়খ ইমাম আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আবদুল আজিজ আত-তামিমী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
আল্লাহকে 'ব্যক্তি' হিসেবে নামকরণের বর্ণনার ক্ষেত্রে, যেমন তাঁর বাণী: "আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি নেই" এবং 'আকৃতি' হিসেবে নামকরণের ক্ষেত্রে, যেমন তাঁর বাণী: "অতঃপর তিনি তাদের সামনে এমন এক আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করবেন যা তারা চিনতে পারবে না"—এই নামকরণের ব্যাপারে আমাদের সাথীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে নিঃশর্তভাবে প্রয়োগ করেছেন। আবার কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন, কারণ এই নামকরণের ওপর সর্বসম্মত ঐকমত্য নেই।
শায়খ ইমাম আবু মুহাম্মদ আত-তামিমী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি এই মতটিই পোষণ করি। সুতরাং আমরা হাদিসের ভিত্তিতে আল্লাহর দর্শনকে সাব্যস্ত করব, কিন্তু এমন কোনো নাম প্রয়োগ করব না যে ব্যাপারে হাদিসের অনুসারীরা একমত হননি। এটি ঠিক তেমনই যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং আকাশকে আমি হাত দিয়ে নির্মাণ করেছি," কিন্তু আমরা এ থেকে তাঁর জন্য 'নির্মাতা' নাম গ্রহণ করি না। আবার তিনি বলেছেন: "এবং আমি জমিনকে বিছিয়ে দিয়েছি," কিন্তু এ থেকে তাঁর জন্য 'বিছানা প্রস্তুতকারী' নাম গ্রহণ করা হয় না। সুতরাং এটি জানুন এবং নিশ্চিত হোন।
ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগে তাঁকে বৈশিষ্ট্য সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন: "সেগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিক্রম করতে দাও।" তিনি এগুলো অস্বীকার করার ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করতেন। এটি প্রমাণিত যে 'অনাদি সত্তা' একটি বস্তু, তবে অন্যান্য বস্তুর মতো নয়; এবং তিনি 'জীবন্ত', তবে অন্যান্য জীবিতদের মতো নন। শরিয়তে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে যেগুলোকে সেই অর্থেই গ্রহণ করা ওয়াজিব, যেভাবে তাঁকে 'বস্তু' হিসেবে নামকরণের ক্ষেত্রে করা হয়েছে। সুতরাং যখন তাঁর নাম অন্যান্য নামসমূহ থেকে আলাদা হয়ে গেল, তখন তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে আলাদা হয়ে গেল।
ইমাম আবু মুহাম্মদ বলেন: আমার মনে হয় না যে হাদিসের অনুসারীদের মধ্যে কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন, তবে কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যার জন্য আল্লাহ সঠিক পথ ব্যতিরেকে অন্য কিছু ইচ্ছা করেছেন।
তিনি বলতেন যে শিরক সমস্ত আমল বিনষ্ট করে দেয়। তিনি পাঠ করতেন: "যদি তুমি শিরক করো, তবে তোমার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে।" আর ধর্মত্যাগী ব্যক্তি যখন পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করে, তখন তার ওপর ইসলামের খাতিরে পুনরায় হজ করা ওয়াজিব, যদিও সে আগে হজ করে থাকে।
তিনি বলতেন: পাপ থেকে তওবা করা ওয়াজিব, এবং এটি পূর্বের পাপ মুছে দেয় যখন এর সাথে নিষ্ঠা যুক্ত হয়—আর তা হলো অতীত কর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, গড়িমসি বর্জন করা এবং পুনরায় পাপে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬৬)
الباري لا يجب عليه قبولها. لأنه لا يجب عليه شئ، وإنما يتفضل على عبده بذلك، إحسانا منه. ويتلو (70:25 {إِلاّ مَنْ تابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلاً صالِحاً فَأُوْلئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّئاتِهِمْ حَسَناتٍ)}.
وكان يأمر بالتوبة فى كل حال، ويدعو إليها النساء والرجال من المكلفين ويقول: هى واجبة على الأعيان. ويتلو (31:24 {وَتُوبُوا إِلَى اللهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ، لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ)} وقد توعد الله تعالى على تأخيرها، وعظّم الجرم على من تركها، فقال (18:4 {وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئاتِ} - الآية) ويحث الأمة على وجوب المبادرة بالتوبة. ويروى عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه قال «إنه ليغان على قلبى، فأتوب إلى الله فى اليوم سبعين مرة».
وكان يقول: من ترك التوبة وجبت عليه التوبة. لأنه ترك واجبا. فهو كراكب الذنب. وكان يذهب إلى أن قبولها ليس بواجب على البارى، وإنما هو تفضل منه وترغيب لعباده. لأن الواجب ما ألزمه ملزم. وليس له سبحانه ملزم.
وكان يجوز التوبة من بعض الذنوب، حذرا من تنفير المكلف الذى لا يستطيع ترك جميع ما تعود. قال الله تعالى فى قطاع الطريق (34:5 {إِلاَّ الَّذِينَ تابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ، فَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ)} ولم يشترط فى ذلك توبتهم من جميع ذنوبهم. وكان يجوز توبة من تاب ونقض. ويقول: من تاب ونقض فهو مؤاخذ بما يأتى، إلا أن يعفو الله عنه. والتوبة عنده: الندم على ما مضى، والعزم على ترك فعل مثله. فإن كان عجز عن المثل: كفاه الندم على ما مضى. قال النبى صلى الله عليه وسلم «الندم توبة» ويجب عليه تجديد الندم عند تجدد ذكر ما اجترم، لأن الأنس بذكر الذنب، وتسهيل العبارة به: دليل على عدم التألم. وذلك إصرار. فلذلك وجب تجديد الندم.
وكان يذهب إلى أن الفاسق بركوب الكبيرة مسلم، وأنه لا ينافى ما أتاه من ذنبه ما اعتقده من إيمانه. ويقرأ (38:9 {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ما لَكُمْ إِذا قِيلَ
স্রষ্টার (আল্লাহর) ওপর তা কবুল করা ওয়াজিব নয়। কারণ তাঁর ওপর কোনো কিছুই ওয়াজিব নয়, বরং তিনি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ হিসেবে বান্দার প্রতি তা দান করেন। তিনি তিলাওয়াত করেন (২৫:৭০ {তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেবেন।})।
তিনি সব অবস্থায় তওবা করার নির্দেশ দিতেন এবং মুকাল্লাফ (দায়িত্বশীল) নারী ও পুরুষদের এর প্রতি আহ্বান জানাতেন এবং বলতেন: এটি প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক। তিনি তিলাওয়াত করতেন (২৪:৩১ {হে মুমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।})। আল্লাহ তাআলা তওবা করতে বিলম্ব করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং যে তা বর্জন করে তার অপরাধকে বড় করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন (৪:১৮ {তওবা তাদের জন্য নয় যারা মন্দ কাজ করতে থাকে} - আয়াত পর্যন্ত)। তিনি উম্মতকে দ্রুত তওবা করার আবশ্যকতা নিয়ে উৎসাহিত করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার অন্তরের ওপর আবরণ পড়ে, আর আমি আল্লাহর কাছে দিনে সত্তর বার তওবা করি»।
তিনি বলতেন: যে ব্যক্তি তওবা বর্জন করল, তার ওপর তওবা করা ওয়াজিব। কারণ সে একটি ওয়াজিব কাজ বর্জন করেছে। সুতরাং সে গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির মতোই। তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, তওবা কবুল করা স্রষ্টার ওপর ওয়াজিব নয়, বরং এটি তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ এবং তাঁর বান্দাদের জন্য তওবায় উৎসাহিত করা মাত্র। কারণ ওয়াজিব হলো তা-ই যা কোনো বাধ্যকারী পক্ষ আবশ্যক করে দেয়, আর মহান আল্লাহর জন্য কোনো বাধ্যকারী নেই।
তিনি কিছু গুনাহ থেকে তওবা করা বৈধ মনে করতেন, যাতে সেই দায়বদ্ধ (মুকাল্লাফ) ব্যক্তি বিমুখ না হয়ে পড়ে যে তার অভ্যস্ত সকল গুনাহ বর্জন করতে সক্ষম নয়। আল্লাহ তাআলা ডাকাতদের সম্পর্কে বলেছেন (৫:৩৪ {তবে যারা তোমাদের আয়ত্তে আসার আগেই তওবা করে, জেনে রাখো যে আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।})। এক্ষেত্রে তিনি তাদের সমস্ত গুনাহ থেকে তওবা করার শর্ত দেননি। তিনি এমন ব্যক্তির তওবা বৈধ মনে করতেন যে তওবা করে পুনরায় তা ভঙ্গ করেছে। তিনি বলতেন: যে তওবা করে আবার তা ভঙ্গ করে, সে তার পরবর্তী কৃতকর্মের জন্য দায়ী হবে, যদি না আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। তাঁর নিকট তওবা হলো: যা গত হয়েছে তার জন্য লজ্জিত হওয়া এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ কাজ বর্জনের দৃঢ় সংকল্প করা। যদি সে অনুরূপ কাজ বর্জনে অক্ষম হয়, তবে অতীতের জন্য অনুতপ্ত হওয়াই তার জন্য যথেষ্ট হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «অনুশোচনাই তওবা»। কৃত অপরাধের কথা যখনই নতুন করে মনে পড়বে, তখন নতুন করে অনুশোচনা করা তার ওপর ওয়াজিব; কারণ গুনাহের স্মরণে আনন্দিত হওয়া এবং তা সহজভাবে ব্যক্ত করা ব্যথিত না হওয়ারই প্রমাণ। আর এটিই হলো পাপে অটল থাকা। সে কারণেই নতুন করে অনুশোচনা করা ওয়াজিব।
তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, কবিরা গুনাহে লিপ্ত ফাসেক ব্যক্তি একজন মুসলিম এবং সে যে গুনাহ করেছে তা তার ঈমানি বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তিনি পাঠ করতেন (৯:৩৮ {হে মুমিনগণ, তোমাদের কী হলো যখন তোমাদের বলা হয়...
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬৭)
لَكُمُ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللهِ اثّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ أَرَضِيتُمْ بِالْحَياةِ الدُّنْيا مِنَ الْآخِرَةِ)} وهذه معصية، مع تسميتهم مؤمنين. ويقول: إنه برّ بطاعته، فاسق بمعصيته، ومعاصيه لا تضاد إيمانه. لأن ارتكاب الخطيئة لا ينافى الاعتقاد للتصديق.
وكان يقول: إن اجتناب الكبائر كفارة للصغائر. ويقرأ (31:4 {إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبائِرَ ما تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئاتِكُمْ، وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلاً كَرِيماً)}.
وكان يقول: إن الكبائر ذنوب مخصوصة. وليس كل ذنب كبيرة.
وكان يقول: أىّ بنى آدم لم يذنب؟ والعدل منهم عنده: من لم يرتكب كبيرة، ولم يدم على صغيرة.
وكان رحمه الله لا ينزل أحدا من أهل القبلة جنة ولا نارا. ويقول: أمره مرجى إلى الله، ونرجو له. ويظهر الثناء عليه بعد موته بما يرجو من نجاته. ولا يقول فيه إلا خيرا. ويمسك عن ذكر من مات من المسلمين على غير فعل رضى.
ويروى الحديث المأثور «لا تنزلوا أحدا من المسلمين جنة ولا نارا، ولا تقولوا فى موتاكم إلا خيرا». وكان لا يطلق على أحد القول بالكفر من جهة التأويل.
ويقول: قال النبى صلى الله عليه وسلم «من قال لصاحبه: يا كافر، فقد باء بها أحدهما» ويقول: الكفر ضد الإيمان، وهو الجهل الساتر لقلب الإنسان عن الإيمان بالله والعلم به. وكان يكفر من أفضى به معتقده إلى تكذيب الله سبحانه فى خبره، فذاك جهل، وهم القدرية القائلون بخلق القرآن، والمكذبون برؤية المؤمنين لله فى الآخرة، والقائلون بأن المعدوم شئ. وقد قال تعالى (9:19 {وَقَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ قَبْلُ، وَلَمْ تَكُ شَيْئاً)} والذاهبون إلى أن أفعال العباد خلق لهم دون ربهم
وكان يقول: القدرية مجوس هذه الأمة. والرافضة يهودها، اتباعا للأثر فى هذه التسمية. ويروى قول النبى صلى الله عليه وسلم «القدرية مجوس هذه الأمة
(1)»
--------------------------------------------
তোমাদের কী হলো যে, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে বের হতে বলা হয়, তখন তোমরা মাটি আঁকড়ে ধরো? তবে কি তোমরা আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট হয়েছ? আর এটি একটি পাপ, যদিও তাদেরকে মুমিন হিসেবেই নামকরণ করা হয়েছে। এবং তিনি বলতেন: সে তার আনুগত্যের কারণে পুণ্যবান, আর তার পাপাচারের কারণে ফাসিক; এবং তার পাপসমূহ তার ঈমানের পরিপন্থী নয়। কারণ পাপ কাজ করা সত্যায়নমূলক বিশ্বাসের (তাসদিক) পরিপন্থী নয়।
এবং তিনি বলতেন: কবিরা গুনাহ বর্জন করা সগিরা গুনাহসমূহের কাফফারা (ক্ষতিপূরণ)। আর তিনি পাঠ করতেন: {যদি তোমরা সেই বড় গুনাহগুলো থেকে বেঁচে থাকো যা তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমরা তোমাদের ছোট গুনাহগুলো মোচন করে দেব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব।} (৪:৩১)।
এবং তিনি বলতেন: কবিরা গুনাহ হলো সুনির্দিষ্ট কিছু গুনাহ। সব গুনাহই কবিরা নয়।
এবং তিনি বলতেন: আদম সন্তানদের মধ্যে কে আছে যে গুনাহ করেনি? তার মতে তাদের মধ্যে ইনসাফপূর্ণ বা ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি সে-ই, যে কোনো কবিরা গুনাহ করেনি এবং সগিরা গুনাহর ওপর অবিচল থাকেনি।
আর তিনি (রহ.) কিবলার অনুসারী (আহলুল কিবলা) কাউকেই জান্নাত বা জাহান্নামের জন্য নিশ্চিত করে নির্ধারণ করতেন না। তিনি বলতেন: তার বিষয়টি আল্লাহর ওপর স্থগিত, এবং আমরা তার জন্য আশা রাখি। তিনি কারও মৃত্যুর পর তার মুক্তির আশা রেখে তার প্রশংসা প্রকাশ করতেন। তিনি তার সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া কিছু বলতেন না। আর মুসলমানদের মধ্যে যারা পছন্দনীয় নয় এমন কাজের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের আলোচনা থেকে তিনি বিরত থাকতেন।
আর বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করা হতো যে, 'তোমরা মুসলমানদের কাউকেই জান্নাত বা জাহান্নামের জন্য নিশ্চিত করো না, এবং তোমাদের মৃতদের সম্পর্কে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু বলো না।' আর তিনি ব্যাখ্যার (তাবিল) কারণে কাউকে কাফির বলে অভিহিত করতেন না।
এবং তিনি বলতেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, 'যখন কেউ তার সঙ্গীকে বলে: হে কাফির, তখন তাদের একজনের ওপর তা আপতিত হয়।' এবং তিনি বলতেন: কুফর হলো ঈমানের বিপরীত, আর এটি এমন এক অজ্ঞতা যা মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান লাভ থেকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর তিনি তাকে কাফির বলতেন যার আকিদা তাকে আল্লাহর সংবাদের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার দিকে ধাবিত করে, আর সেটিই হলো অজ্ঞতা। তারা হলো ক্বাদারিয়া যারা কুরআন সৃষ্টির কথা বলে, যারা পরকালে মুমিনদের আল্লাহকে দেখার বিষয়টি অস্বীকার করে এবং যারা বলে যে অনস্তিত্বশীল বস্তু (মাদুম) কোনো সত্তা। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি ইতিপূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না।} (১৯:৯)। এবং যারা মনে করে যে বান্দার কাজসমূহ তাদের নিজেদেরই সৃষ্টি, তাদের রবের নয়।
এবং তিনি বলতেন: ক্বাদারিয়া হলো এই উম্মতের মাজুস (অগ্নিউপাসক) এবং রাফেযীরা হলো এর ইহুদি—এই নামকরণের ক্ষেত্রে বর্ণিত আসারের অনুসরণ করে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী বর্ণিত হয়েছে যে, 'ক্বাদারিয়া হলো এই উম্মতের মাজুস'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬৮)
وكان يقول: إن الله سبحانه أراد فساد المفسدين وصلاح الصالحين. وإن لم يرد نفع من لم ينتفع بهذا ويقرأ (23:8 {وَلَوْ عَلِمَ اللهُ فِيهِمْ خَيْراً لَأَسْمَعَهُمْ)}.
وكان يأمر بالاستعانة بالله على تكليف ما يشغل المكلف بغيره، فيدخل فى باب ما لا يطاق، لا لأنه مستحيل. ولكن لعدم التوفيق للاشتغال به، ويقرأ (286:2 {رَبَّنا وَلا تُحَمِّلْنا ما لا طاقَةَ لَنا بِهِ)} ولا يحسن أن نرغب إليه تعالى فى المستحيل الباطل، كما لا يقال: ربنا لا تكن والدا ولا مولودا.
وكان يقول: إن الله تعالى لم ينعم على الكافر بنعمة فى الدين. وإن كانت نعمه عليه فى الدنيا تترى. لأنه لو أنعم عليه لهداه لرشده.
وكان يذهب إلى أن الكافر مخاطب بالشريعة والأحكام. لأنه مخاطب بالإيمان. وهو شرط. ومن خوطب بالشرط فهو مخاطب بالمشروط. ويقرأ (5:98 {وَما أُمِرُوا إِلاّ لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفاءَ، وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكاةَ. وَذلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ)}.
وكان رحمه الله يبطل القول بالتوالد، ولا يذهب إليه، وأن السهم الذى يرمى به الرامى، فالقتل الواقع به: من فعل الله سبحانه، لجواز أن يموت الرامى قبل وصول الرمية، فيموت المرمى بفعل فاعل معدوم. وهذا يؤدى إلى جواز وجود الأفعال من الموتى. ولأن هذا عنده فرع من خلق الأفعال. وهى عنده خلق لله سبحانه. ويقرأ (96:38 {وَاللهُ خَلَقَكُمْ وَما تَعْمَلُونَ)}.
وكان يقول رحمه الله إن الميت بالقتل مات بأجله، وإن قتله لم يقطع عليه شيئا من أجله، وأنه لو لم يقتل لمات إن قضى ذلك، ويقرأ (34:7 {فَإِذا جاءَ أَجَلُهُمْ لا يَسْتَأْخِرُونَ ساعَةً وَلا يَسْتَقْدِمُونَ)} وقد سمى الله تعالى مدعى ذلك كافرا، وقال (156:3 {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَكُونُوا كَالَّذِينَ كَفَرُوا وَقالُوا لِإِخْوانِهِمْ إِذا ضَرَبُوا فِي الْأَرْضِ أَوْ كانُوا غُزًّى لَوْ كانُوا عِنْدَنا ما ماتُوا وَما قُتِلُوا)} ويتلو (154:3 {قُلْ لَوْ كُنْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلُ إِلى مَضاجِعِهِمْ)}.
তিনি বলতেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ ফাসাদকারীদের ফাসাদ এবং পুণ্যবানদের সংশোধন চেয়েছিলেন। আর তিনি এমন ব্যক্তির উপকার চাননি যে এর দ্বারা উপকৃত হয়নি এবং তিনি পাঠ করতেন (৮:২৩ {আর যদি আল্লাহ তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ জানতেন, তবে অবশ্যই তাদেরকে শুনাতেন})।
তিনি এমন দায়িত্ব পালনে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার নির্দেশ দিতেন যা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অন্য কিছুতে ব্যস্ত রাখে, ফলে তা সাধ্যাতীত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়; এটি অসম্ভব হওয়ার কারণে নয়, বরং তাতে মনোনিবেশ করার তৌফিক না পাওয়ার কারণে। আর তিনি পাঠ করতেন (২:২৮৬ {হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই})। আর মহান আল্লাহর নিকট অসম্ভব ও অবাস্তব বিষয়ে প্রার্থনা করা সমীচীন নয়, যেমন বলা হয় না: হে আমাদের রব! আপনি জন্মদাতা কিংবা জন্মলাভকারী হবেন না।
তিনি বলতেন: মহান আল্লাহ কাফেরকে দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো নেয়ামত দান করেননি, যদিও পার্থিব জীবনে তার ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহ অবিরাম বর্ষিত হয়। কারণ তিনি যদি তার ওপর নেয়ামত দান করতেন, তবে তাকে সঠিক পথের দিশা দিতেন।
তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, কাফের শরীয়ত ও বিধিবিধানের দ্বারা সম্বোধিত। কারণ সে ঈমানের দ্বারা সম্বোধিত, আর ঈমান হলো একটি শর্ত। আর যে শর্তের দ্বারা সম্বোধিত হয়, সে শর্তাধীন বিষয়ের (মাশরুত) দ্বারাও সম্বোধিত। তিনি পাঠ করতেন (৯৮:৫ {আর তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে এবং নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর এটাই হলো সঠিক দ্বীন})।
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—তিনি কার্য-পরম্পরা (তওয়াল্লুদ) মতবাদকে বাতিল গণ্য করতেন এবং তা গ্রহণ করতেন না। তিনি মনে করতেন, নিক্ষেপকারী যে তীর নিক্ষেপ করে, তার দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড মূলত মহান আল্লাহর কাজ; কারণ এটি সম্ভব যে লক্ষ্যবস্তুতে তীর পৌঁছানোর পূর্বেই নিক্ষেপকারী মৃত্যুবরণ করবে, ফলে নিক্ষিপ্ত ব্যক্তি এমন একজনের কার্যে মারা যাবে যার অস্তিত্ব বর্তমানে নেই। এটি মৃতদের থেকে কাজ সংঘটিত হওয়া বৈধ হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। আর এটি তাঁর নিকট কর্ম সৃষ্টির (খালকুল আফ'আল) একটি শাখা। আর সকল কর্মই তাঁর নিকট মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি পাঠ করতেন (৩৮:৯৬ {অথচ আল্লাহই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন})।
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—তিনি বলতেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি তার নির্ধারিত সময়েই মৃত্যুবরণ করেছে। তাকে হত্যা করা তার নির্ধারিত আয়ুষ্কাল থেকে বিন্দুমাত্র কমিয়ে দেয়নি। যদি তাকে হত্যা করা নাও হতো, তবে মৃত্যু নির্ধারিত থাকলে সে মৃত্যুবরণই করত। তিনি পাঠ করতেন (৭:৩৪ {অতঃপর যখন তাদের নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়, তখন তারা এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারে না এবং এগিয়েও আসতে পারে না})। মহান আল্লাহ এর বিরুদ্ধ দাবিদারকে কাফের হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন (৩:১৫৬ {হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা কুফরি করেছে এবং তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলেছে—যখন তারা জমিনে সফর করছিল কিংবা যুদ্ধে লিপ্ত ছিল—যে, তারা যদি আমাদের কাছে থাকত তবে তারা মরত না এবং নিহত হতো না})। তিনি আরও পাঠ করতেন (৩:১৫৪ {বলুন, তোমরা যদি তোমাদের ঘরেও থাকতে, তবুও যাদের ভাগ্যে মৃত্যু লেখা ছিল তারা অবশ্যই তাদের মৃত্যুশয্যার দিকে বেরিয়ে আসত})।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬৯)
وكان يذهب رحمه الله إلى أن الأغذية كلها - حلالها وحرامها - من رزق الله تعالى، وأن الرزق ليس بمجرد الملك، وإنما هو ما تغذى به، ويتلو (9:11 {وَما مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلاّ عَلَى اللهِ رِزْقُها)} وقوله (31:10 {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّماءِ وَالْأَرْضِ)} ولو كانوا لأنفسهم رازقين بأخذهم الحرام، أو غصبهم الأموال:
لم يكن لهذا التقدير فائدة. ولكانت البهائم تملك الحشيش الذى ترعاه. والبهائم لا يصح ملكها. فثبت أن الله سبحانه هو الرزاق: حلالا، وحراما.
وكان يذهب رحمه الله إلى أن الغلاء والرخص من فعل الله سبحانه، وإلقائه الرغبة فى نفوس المحتكرين، والزهد فى قلوب التجار والمدخرين. وليس ذلك من فعل الآدميين. ويقرأ (22:57 {ما أَصابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلاّ فِي كِتابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَها. إِنَّ ذلِكَ عَلَى اللهِ يَسِيرٌ)}
وكان يقول: إن البارى يضل ويهدى، ويتلو (125:6 {فَمَنْ يُرِدِ اللهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلامِ. وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقاً حَرَجاً}) ويقول: إن كل ما فى الوجود بقضائه وبقدره. وليس القضاء عنده بمعنى جبرهم عليها، ولا إلزامهم إياها، كما يقال: قضى القاضى بكذا. لأن القضاء بمعنى الأمر كقوله (23:17 {وَقَضى رَبُّكَ أَلاّ تَعْبُدُوا إِلاّ إِيّاهُ)} وبمعنى الخلق، كقوله (12:41 {فَقَضاهُنَّ سَبْعَ سَماواتٍ فِي يَوْمَيْنِ)} وبمعنى الإعلام، كقوله (66:15 {وَقَضَيْنا إِلَيْهِ ذلِكَ الْأَمْرَ)} وبمعنى الإرادة، مثل قوله (47:3 {إِذا قَضى أَمْراً فَإِنَّما يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ)} فقضاء المعاصى بمعنى خلق الحركات التى بها المعاصى والإرادات الفاسدة، لا بمعنى الأمر بها، والجبر عليها
وكان رحمه الله يذهب إلى أن البارى - جلت قدرته - مريد لكل ما العالم فاعلوه. ويقرأ (16:85 {فَعّالٌ لِما يُرِيدُ)} (112:6 {وَلَوْ شاءَ رَبُّكَ ما فَعَلُوهُ)} وأن من كان فى ملكه ما لا يريده: فهو المقهور المغلوب. تعالى الله عن ذلك علوا كبيرا.
وكان يذهب رحمه الله إلى أن أسماء البارى المختصة المشتقة قديمة، وإن
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই অভিমত পোষণ করতেন যে, সকল খাদ্যদ্রব্য—চাই তা হালাল হোক বা হারাম—সবই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত রিযিক। আর রিযিক কেবল মালিকানা নয়, বরং তা হলো যা দ্বারা পুষ্টি গ্রহণ করা হয়। তিনি তিলাওয়াত করতেন: (১১:৬) "ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই" এবং তাঁর বাণী: (১০:৩১) "বলুন, কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দান করেন?" আর যদি তারা হারাম গ্রহণ করার মাধ্যমে বা মানুষের সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদের রিযিকদাতা হতো:
তবে এই তাকদীরের বা নির্ধারণের কোনো সার্থকতা থাকত না। এমতাবস্থায় পশুরা যে ঘাস চরে তার মালিক তারা নিজেরাই হতো। অথচ পশুদের মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া সঠিক নয়। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলাই রিযিকদাতা: হালাল এবং হারাম উভয়টির ক্ষেত্রে।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মনে করতেন যে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নিম্নগতি আল্লাহ সুবহানাহুরই কাজ; মজুতদারদের মনে আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করা এবং ব্যবসায়ী ও সঞ্চয়কারীদের অন্তরে বিরাগ তৈরি করাও তাঁরই পক্ষ থেকে। এটা মানুষের কাজ নয়। তিনি পাঠ করতেন: (৫৭:২২) "পৃথিবীতে বা তোমাদের ব্যক্তিগতভাবে যে বিপদই আসে তা আমি সংঘটিত করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয়ই এটা আল্লাহর জন্য সহজ।"
তিনি বলতেন: স্রষ্টাই পথভ্রষ্ট করেন এবং পথ প্রদর্শন করেন। তিনি তিলাওয়াত করতেন: (৬:১২৫) "অতঃপর আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। আর যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ ও অতি সংকুচিত করে দেন।" তিনি বলতেন: অস্তিত্বে যা কিছু আছে তা সবই তাঁর ফয়সালা (কাজা) ও তাকদীর অনুযায়ী। তাঁর নিকট 'কাজা' বা ফয়সালা বলতে বান্দাকে তার ওপর বাধ্য করা বা চাপিয়ে দেওয়া বোঝায় না, যেমনটি লোকমুখে বলা হয়: 'বিচারক এমন ফয়সালা দিয়েছেন'। কারণ 'কাজা' কখনও 'আদেশ' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁর বাণী: (১৭:২৩) "তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন যে, তোমরা তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করবে না।" আবার তা 'সৃষ্টি করা' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁর বাণী: (৪১:১২) "অতঃপর তিনি সেগুলোকে দুই দিনে সাত আসমানে সৃষ্টি করলেন।" আবার তা 'অবহিত করা' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁর বাণী: (১৫:৬৬) "এবং আমি তাকে এই বিষয়টি অবগত করেছিলাম।" আবার তা 'ইচ্ছা' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁর বাণী: (৩:৪৭) "যখন তিনি কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত (ইচ্ছা) করেন, তখন কেবল বলেন 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।" সুতরাং গুনাহের ফয়সালা হওয়ার অর্থ হলো সেই সকল নড়াচড়া সৃষ্টি করা যার মাধ্যমে গুনাহ সংঘটিত হয় এবং সেই কলুষিত ইচ্ছাগুলো সৃষ্টি করা; এর অর্থ গুনাহের আদেশ দেওয়া বা তাতে বাধ্য করা নয়।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মনে করতেন যে, স্রষ্টা—যাঁর কুদরত মহিমান্বিত—সৃষ্টি জগত যা কিছু করে তার সবকিছুরই ইচ্ছাকারী। তিনি পাঠ করতেন: (৮৫:১৬) "তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন" এবং (৬:১১২) "যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করতেন, তবে তারা তা করত না।" আর যার রাজত্বে এমন কিছু ঘটে যা তিনি চান না, সে তো পরাজিত ও অভিভূত। আল্লাহ তাআলা এসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মনে করতেন যে, স্রষ্টার জন্য নির্দিষ্ট ব্যুৎপাদিত নামসমূহ অনাদি, এবং অংশত...
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭০)
لم يوجد ما تشتق منه، ويقرأ آخر الحشر. وتلك جميعها أسماء قديمة. والقرآن قديم، ولا يفصل بين أسماء الذات والمشتقة من الصفات. لأنها غير متعذرة منه، ولا شئ منها هو عاجز عنه.
وكان يشق عليه رحمه الله الكلام فى الاسم والمسمى. ويقول: هذا كلام محدث. ولا يقول: إن الاسم غير المسمى. ولا هو هو، ولكن يقول: إن الاسم للمسمى، اتباعا لقوله تعالى (180:7 {وَلِلّهِ الْأَسْماءُ الْحُسْنى فَادْعُوهُ بِها)} ولأنها عنده أعلام على المسميات. فلذلك قال: هى له. وكذلك كان يقول: إن صفات البارى تعالى لا هى هو، ولا غيره. وإنما هى صفات لموصوف مجموع ذكرها مع المذكور، هى إلهيته. فهو سبحانه واحد بصفاته. وكان يقول: ليست أعراضا ولا أجساما. لأنه قد ثبت أن الموصوف ليس بعرض ولا جسم. فكذلك صفته.
وكان يقرأ (32:10 {فَذلِكُمُ اللهُ رَبُّكُمُ الْحَقُّ، فَماذا بَعْدَ الْحَقِّ إِلاَّ الضَّلالُ؟)}
وكان يذهب إلى أن معلومات البارى تعالى لا تتناهى. لأن علمه به من معلوماته. وهو سبحانه غير متناه. وكان يقرأ (27:32 {وَلَوْ أَنَّما فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلامٌ} - الآية).
وكان يكره الكلام. ويمنع منه. ويغضب لسماعه. ويأمر باتباع الأثر.
ويقرأ (13:13 {وَهُمْ يُجادِلُونَ فِي اللهِ، وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحالِ)} ويروى «لا تقوم الساعة حتى تكون خصوماتهم فى ربهم تعالى»
وكان رحمه الله يقول: إن الجنة والنار مخلوقتان موجودتان. ويقرأ (101:9 {وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهارُ)} وقوله (29:18 {إِنّا أَعْتَدْنا لِلظّالِمِينَ ناراً)} والمعدّ موجود. ويروى عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه قال «دخلت الجنة.
فرأيت أكثر أهلها المساكين. ودخلت النار، فرأيت أكثر أهلها النساء»
وكان يقول: لله سبحانه صراط ممدود على متن جهنم أحدّ من السيف، وأدق من الشعر، من جانبيه حسك وكلاليب، يحاسب الناس عليه، ويحبسون
এমন কিছুই পাওয়া যায়নি যা থেকে এটি উদ্ভূত হতে পারে, আর হাশর সূরার শেষাংশ পাঠ করা হয়। এগুলোর সবগুলোই অনাদি নাম। আর কুরআন অনাদি, এবং তিনি আল্লাহর সত্তাগত নাম ও গুণাবলি থেকে উদ্ভূত নামসমূহের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। কারণ সেগুলো তাঁর পক্ষে অসম্ভব নয় এবং এর কোনোটিই করতে তিনি অক্ষম নন।
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, ‘নাম’ ও ‘নামধারী’ বিষয়ে কথা বলা তাঁর জন্য কষ্টকর ছিল। তিনি বলতেন: এটি একটি নব উদ্ভাবিত কথা। তিনি বলতেন না যে, নাম নামধারী থেকে ভিন্ন। আবার এও বলতেন না যে, নামই হচ্ছে নামধারী, বরং তিনি বলতেন: নাম হচ্ছে নামধারীর জন্য, মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুসরণে (৭:১৮০): ‘আর আল্লাহর জন্যই সুন্দরতম নামসমূহ রয়েছে, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেই নামেই ডাকো।’ আর কারণ তাঁর কাছে এগুলো নামধারীদের পরিচয়জ্ঞাপক চিহ্ন। এই কারণেই তিনি বলেছেন: এগুলো তাঁরই। একইভাবে তিনি বলতেন: মহান স্রষ্টার গুণাবলি তাঁর সত্তার হুবহু কোনো বিষয় নয়, আবার তা সত্তা থেকে ভিন্নও নয়। বরং এগুলো গুণান্বিত সত্তার গুণাবলি, যা উল্লিখিত সত্তার সাথেই একত্রে বর্ণিত, যা তাঁর উপাস্যত্ব। সুতরাং তিনি তাঁর গুণাবলিসহ একক। তিনি বলতেন: এগুলো কোনো আপতিক অবস্থা নয় এবং কোনো দেহ নয়। কারণ এটি প্রমাণিত যে, গুণান্বিত সত্তা কোনো আপতিক অবস্থা বা দেহ নন। একইভাবে তাঁর গুণাবলিও তেমন নয়।
তিনি পাঠ করতেন (১০:৩২): ‘অতএব তিনিই আল্লাহ, তোমাদের সত্য পালনকর্তা। সত্যের পর ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কী থাকতে পারে?’
তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, মহান স্রষ্টার জ্ঞাত বিষয়াবলি অসীম। কারণ তাঁর নিজের সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান তাঁর জ্ঞাত বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। আর তিনি পবিত্র সত্তা অসীম। তিনি পাঠ করতেন (৩১:২৭): ‘আর পৃথিবীতে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয়’ - আয়াত।
তিনি কালাম শাস্ত্র (তাত্ত্বিক বিতর্ক) অপছন্দ করতেন এবং তা থেকে নিষেধ করতেন। এটি শুনলে তিনি রাগান্বিত হতেন এবং আসার (পূর্বসূরীদের বর্ণনা) অনুসরণের নির্দেশ দিতেন।
তিনি পাঠ করতেন (১৩:১৩): ‘তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতণ্ডা করে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।’ আর বর্ণিত আছে যে: ‘কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে তাদের মহান প্রতিপালক সম্পর্কে ঝগড়া-বিবাদ তৈরি হবে।’
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি বলতেন: জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তা বর্তমানে বিদ্যমান। তিনি পাঠ করতেন (৯:১০০): ‘আর তিনি তাদের জন্য জান্নাতসমূহ প্রস্তুত করে রেখেছেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত’ এবং তাঁর বাণী (১৮:২৯): ‘নিশ্চয়ই আমি জালেমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি।’ আর যা প্রস্তুত করা হয়েছে তা বিদ্যমান থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: ‘আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম।
আমি দেখলাম তার অধিবাসীদের অধিকাংশ দরিদ্র। এবং আমি জাহান্নামে প্রবেশ করলাম, সেখানে দেখলাম তার অধিবাসীদের অধিকাংশ নারী।’
তিনি বলতেন: পবিত্র আল্লাহর জন্য জাহান্নামের পিঠের ওপর একটি বিস্তৃত পুল রয়েছে যা তলোয়ারের চেয়েও ধারালো এবং চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম; যার দুই পাশে কাঁটা ও আংটা রয়েছে। সেখানে মানুষের হিসাব নেওয়া হবে এবং তাদের সেখানে আটকে রাখা হবে।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭১)
بأعمالهم. فمن نجا فهو الناجى. شعار الأنبياء عليه يوم القيامة «رب سلم، سلم» كما جاء فى الحديث
وكان يذهب إلى أن نعيم أهل الجنة دائم لا ينقطع، والإحسان إليهم لا يرتفع ويقرأ (35:13 {أُكُلُها دائِمٌ وَظِلُّها)} وأنهم لا يتناهى نعيمهم، ولا تفنى حركاتهم وكذلك أهل النار. ويقرأ (18:15 {لا يَمَسُّهُمْ فِيها نَصَبٌ وَما هُمْ مِنْها بِمُخْرَجِينَ)} (36:35 {لَهُمْ نارُ جَهَنَّمَ لا يُقْضى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا، وَلا يُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِنْ عَذابِها)}
وكان يذهب رحمه الله إلى أن الشيطان يجرى من الإنسان مجرى الدم يوسوس له الباطل، ويدعوه إلى المعاصى، ويقرأ (27:7 {إِنَّهُ يَراكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لا تَرَوْنَهُمْ)} وقوله (98:16 {فَإِذا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطانِ الرَّجِيمِ)} ولا تجوز الاستعاذة من معدوم. ويروى الحديث عن النبى صلى الله عليه وسلم «مع كل إنسان شيطان يغويه. قالوا: وأنت؟ قال: وأنا، إلا أن الله أعاننى عليه فأسلم»
وكان يقول بوجود الجن، وأن لهم تسلطا على الإنسان. ويقرأ (275:2 {كَما يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطانُ مِنَ الْمَسِّ)} ويتلوا أيضا (62:17 {لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلى يَوْمِ الْقِيامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلاّ قَلِيلاً)} وقوله (29:46 {وَإِذْ صَرَفْنا إِلَيْكَ نَفَراً مِنَ الْجِنِّ)} والأحاديث فى ذلك كثيرة
وكان يؤمن بمعراج النبى صلى الله عليه وسلم، وأنه ركب البراق، وعرج إلى السماء، وأنه رأى ربه بعينه. ويقرأ (11:53 {ما كَذَبَ الْفُؤادُ ما رَأى)} (60:17 {وَما جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْناكَ إِلاّ فِتْنَةً لِلنّاسِ)}
(1) والمعراج قد رواه عشرون من الصحابة بألفاظ مختلفة.
--------------------------------------------
তাদের আমল অনুযায়ী। অতঃপর যে মুক্তি পেয়েছে সেই সফল। কিয়ামতের দিন নবীদের স্লোগান হবে: "হে রব! সালামত দিন, সালামত দিন", যেমনটি হাদিসে এসেছে।
তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, জান্নাতীদের নেয়ামত চিরস্থায়ী যা কখনো শেষ হবে না এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ কখনো বন্ধ হবে না। তিনি পাঠ করতেন (১৩:৩৫): "তার ফলসমূহ এবং ছায়া চিরস্থায়ী।" এবং তাদের নেয়ামত কখনো শেষ হবে না এবং তাদের নড়াচড়াও বিলুপ্ত হবে না। জাহান্নামীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। তিনি পাঠ করতেন (১৫:৪৮): "সেখানে তাদের কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃতও হবে না।" এবং (৩৫:৩৬): "তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের প্রতি এমন কোনো ফয়সালা দেয়া হবে না যে তারা মারা যাবে, আর তাদের থেকে তার আজাবও লাঘব করা হবে না।"
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মনে করতেন যে, শয়তান মানুষের রক্ত প্রবাহের ন্যায় চলাচল করে, তাকে বাতিলের কুমন্ত্রণা দেয় এবং পাপের দিকে আহ্বান করে। তিনি পাঠ করতেন (৭:২৭): "নিশ্চয়ই সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না।" এবং তাঁর বাণী (১৬:৯৮): "সুতরাং যখন আপনি কুরআন পাঠ করবেন, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করুন।" অস্তিত্বহীন কোনো কিছু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা বৈধ নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে: "প্রত্যেক মানুষের সাথে একজন শয়তান থাকে যে তাকে পথভ্রষ্ট করে। তারা (সাহাবিগণ) জিজ্ঞেস করলেন: আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন: আমার সাথেও, তবে আল্লাহ আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন ফলে সে আত্মসমর্পণ করেছে।"
তিনি জিনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন এবং মানুষের ওপর তাদের প্রভাব খাটানোর বিষয়েও। তিনি পাঠ করতেন (২:২৭৫): "যেমন সেই ব্যক্তি দাঁড়ায় যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দেয়।" তিনি আরো তিলাওয়াত করতেন (১৭:৬২): "যদি আপনি আমাকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন, তবে আমি অবশ্যই তার বংশধরদের বশীভূত করব, অল্প সংখ্যক ছাড়া।" এবং তাঁর বাণী (৪৬:২৯): "এবং যখন আমি আপনার দিকে একদল জিনকে ঘুরিয়ে দিলাম।" এই বিষয়ে হাদিস অসংখ্য।
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেরাজে বিশ্বাস করতেন এবং তিনি বোরাকে চড়ে আসমানে আরোহণ করেছিলেন এবং তিনি তাঁর রবকে নিজের চোখে দেখেছিলেন। তিনি পাঠ করতেন (৫৩:১১): "অন্তর যা দেখেছে তা অস্বীকার করেনি।" এবং (১৭:৬০): "আমি আপনাকে যে দৃশ্য দেখিয়েছি তা কেবল মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা স্বরূপ।"
(১) বিশজন সাহাবি মেরাজের ঘটনা বিভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭২)
وكان يقول. أفضل القرون: القرن الذين شاهدوا رسول الله صلى الله عليه وسلم واتبعوه، ثم الذين يلونهم. ثم الذين يلونهم. وأفضل الصحابة: أهل بيعة الرضوان. وهم ألف وأربعمائة. وخيرهم وأفضلهم: أهل بدر، والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار، وأعيانهم الأربعون أهل الدار. وخيرهم: عشرة شهد لهم النبى صلى الله عليه وسلم بالجنة، ومات وهو عنهم راض. وأعيانهم:
أهل الشورى، الذين اختارهم عمر بن الخطاب رضى الله عنه للمسلمين. وأفضلهم:
الخلفاء الأربعة الراشدون. وخيرهم أبو بكر، وعمر، لقوله صلى الله عليه وسلم «هما من الدين بمنزلة السمع والبصر»، «وما أظلت الخضراء، ولا أقلت الغبراء بعد النبيين والمرسلين: أفضل من أبى بكر» وكان يقول: إن الأفضل هو أكثرهم ثوابا. وهذا من معلومات البارى، غير أن الحديث شهد بذلك، والإجماع انعقد عليه، وأن الخلفاء الراشدين فى الفضل على ترتيبهم فى الإمامة. وكان يكفر من تبرأ منهم، ومن سب عائشة أم المؤمنين، أو رماها بما قد برأها الله سبحانه منه: فهو كافر عنده. وكان يقرأ (17:24 {يَعِظُكُمُ اللهُ أَنْ تَعُودُوا لِمِثْلِهِ أَبَداً إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ)}.
وكان ينهى عن الخوض فيما شجر بين أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وأن لا يقال فيهم إلا الحسن والثناء الجميل. ويتلو (18:84 {لَقَدْ رَضِيَ اللهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ)} وشهادته سبحانه لهم بالرضى عنهم تمنع من القدح فيهم. ويروى الحديث المأثور «إياكم وما شجر بين أصحابى: فلو أنفق أحدكم مثل أحد ذهبا ما بلغ مدّ أحدهم ولا نصيفه»
وكان يأمر بالثناء على الزبير، وطلحة، وعبد الرحمن، ويأمر بالثناء على الأنصار، والمدح لهم، والمحبة لهم. قال النبى صلى الله عليه وسلم «اللهم اغفر للأنصار، ولأبناء الأنصار، ولأبناء أبناء الأنصار» وقال «لا يحب الأنصار منافق ولا يبغضهم مؤمن»
তিনি বলতেন, সর্বোত্তম প্রজন্ম হলো সেই প্রজন্ম যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাঁর অনুসরণ করেছেন, অতঃপর যারা তাঁদের পরবর্তী, এরপর যারা তাঁদের পরবর্তী। আর সাহাবীগণের মাঝে সর্বোত্তম হলেন বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীরা; তাঁরা ছিলেন এক হাজার চারশ জন। তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম হলেন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে প্রথম অগ্রগামীগণ, আর তাঁদের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ হলেন সেই চল্লিশজন যারা ইসলামের সূচনালগ্নে ‘দারুল আরকাম’-এ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন সেই দশজন যাঁদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তিনি তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আর তাঁদের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ হলেন:
পরামর্শ সভার (শুরা) সদস্যগণ, যাঁদের উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মুসলিমদের জন্য মনোনীত করেছিলেন। আর তাঁদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন:
চারজন খোলাফায়ে রাশেদীন। তাঁদের মাঝে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর ও উমর; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁরা উভয়ে কান ও চোখের মর্যাদাসম্পন্ন।" এবং "নবী ও রাসূলগণের পর এই নীলাকাশ যার ছায়া দিয়েছে এবং এই ধরণী যাকে বহন করেছে, তাদের মধ্যে আবু বকরের চেয়ে উত্তম আর কেউ নেই।" তিনি বলতেন: প্রকৃতপক্ষে শ্রেষ্ঠ তো তিনিই যিনি সওয়াবের দিক থেকে অধিক। আর এটি মহান স্রষ্টার জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত; তবে হাদীস এর সাক্ষ্য দিয়েছে এবং এর ওপর ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, খোলাফায়ে রাশেদীনের শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমধারা তাঁদের খিলাফতের ক্রমধারা অনুযায়ী। তিনি তাঁদের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশকারীকে কাফির মনে করতেন। আর যে উম্মুল মুমিনীন আয়েশাকে গালি দেয় কিংবা তাঁর প্রতি এমন অপবাদ দেয় যা থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে পবিত্র করেছেন, সে তাঁর নিকট কাফির। তিনি তিলাওয়াত করতেন: {আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো তবে কখনোই পুনরায় এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি করো না} (২৪:১৭)।
তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মাঝে সংঘটিত বিবাদপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে নিষেধ করতেন এবং বলতেন যে, তাঁদের সম্পর্কে কেবল কল্যাণ ও সুন্দর প্রশংসা ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না। তিনি পাঠ করতেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন} (৪৮:১৮)। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টির সাক্ষ্য তাঁদের সমালোচনা করাকে নিষিদ্ধ করে। তিনি বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখ করতেন: "তোমরা আমার সাহাবীগণের মাঝে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে সতর্ক থাকো। কেননা তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও দান করে, তবুও তাঁদের কারো এক মুদ (এক আঁজলা) কিংবা তার অর্ধেক পরিমাণ সওয়াবের সমান হবে না।"
তিনি যুবাইর, তালহা ও আব্দুর রহমানের প্রশংসা করার নির্দেশ দিতেন এবং আনসারদের প্রশংসা, গুণকীর্তন ও তাঁদের প্রতি ভালোবাসার আদেশ দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি আনসারদের ক্ষমা করুন, আনসারদের সন্তানদের ক্ষমা করুন এবং আনসারদের সন্তানদের সন্তানদের ক্ষমা করুন।" তিনি আরও বলেছেন: "কোনো মুনাফিক আনসারদের ভালোবাসবে না এবং কোনো মুমিন তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না।"
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭৩)
وكان لا يمس معاوية بن أبى سفيان بسوء. ويرى له فضلا. ويقرأ (7:60 {عَسَى اللهُ أَنْ يَجْعَلَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ الَّذِينَ عادَيْتُمْ مِنْهُمْ مَوَدَّةً)} ويمسك عن الخوض فيما جرى بصفين والجمل. ويقول: تلك دماء صان الله يدى عن ملابستها، فأصون لسانى عن الخوض فيها. ويقول: إن الله تعالى أثنى عليهم، فيجب أن نحسن الظن فيهم. ويجوّز اجتهادهم، ويسوغ اتباعهم. ويقول: إن الحق فى إحدى جنبتى المجتهدين، ولا أعرفه عينا. ويقول: إن الحق واحد عند الله. فليس كل مجتهد مصيبا. ولكن المصيب له أجران، والمخطئ له أجر واحد، لتحريه الصواب وطلبه إياه. ويروى فى ذلك الحديث المأثور «إذا اجتهد الحاكم فأصاب فله أجران. وإن أخطأ فله أجر»
وكان يمسك عن يزيد بن معاوية، ويكله إلى الله، ويتحرج من إطلاق القول فى أحد من الصدر الأول.
واختلف أصحابنا فيه. فمنهم: من جوز ذمه. لأنه أخاف المدينة. وقد لعن النبى صلى الله عليه وسلم من أخاف المدينة. ومنهم: من توقف عن ذلك، وقال:
قد سئل أحمد عنه؟ فقال: قد صلّى الناس خلفه، وأخذوا عطاءه. ومنهم: من أجراه مجرى المسلمين المخطئين. والإمساك عما لا يجب أولى.
وكان لا يجوز لعن أحد من المسلمين لم ترد الشريعة بلعنه. ويروى الحديث المأثور «لعن المؤمن كقتله» و «المؤمن لا يكون لعانا»
وكان رحمه الله يقول: الأئمة من قريش. ويعين على إمامة ولد العباس.
ويقول: العباس أبو الخلفاء. وقد انقضت الأعصار على ذلك. وكان رحمه الله يأمر بالسمع والطاعة. وينهى عن الشذوذ والفرقة. ويروى الحديث فى ذلك «من شذّ شذ فى النار» وكان يأمر بطاعة الأئمة وأولى الأمر، وإن جاروا، ما أقاموا الصلاة، ودعوا إلى الحق. ويروى الحديث: «اسمعوا لهم وأطيعوا،
তিনি মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানকে কোনো মন্দ কথা বলতেন না এবং তাঁর মর্যাদা স্বীকার করতেন। তিনি তিলাওয়াত করতেন: "আশা করা যায় যে, আল্লাহ তোমাদের এবং যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা রয়েছে তাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন" (৬০:৭)। তিনি সিফফিন ও উটের যুদ্ধের ঘটনায় লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতেন এবং বলতেন: "এসব এমন রক্তপাত যা থেকে আল্লাহ আমার হাতকে রক্ষা করেছেন, তাই আমি আমার জিহ্বাকেও এতে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করি।" তিনি বলতেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রশংসা করেছেন, তাই তাঁদের প্রতি সুধারণা রাখা আমাদের জন্য আবশ্যক।" তিনি তাঁদের ইজতিহাদকে বৈধ মনে করতেন এবং তাঁদের অনুসরণ করাকে জায়েজ জ্ঞান করতেন। তিনি বলতেন: "সত্য মুজতাহিদদের দুই পক্ষের কোনো এক পক্ষে ছিল, তবে আমি তা নির্দিষ্টভাবে জানি না।" তিনি বলতেন: "আল্লাহর নিকট সত্য একটিই। তাই প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক নয়। তবে যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান তিনি দুটি প্রতিদান লাভ করেন, আর যিনি ভুল করেন তিনি একটি প্রতিদান লাভ করেন; সঠিক বিষয়টি অনুসন্ধান ও তা অন্বেষণ করার প্রচেষ্টার কারণে।" এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসটি হলো: "যখন বিচারক ইজতিহাদ করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তাঁর জন্য দুটি প্রতিদান রয়েছে। আর যদি তিনি ভুল করেন, তবে তাঁর জন্য একটি প্রতিদান রয়েছে।"
তিনি ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতেন এবং বিষয়টি আল্লাহর ওপর সোপর্দ করতেন। প্রথম যুগের কারও সম্পর্কে কোনো বিরূপ মন্তব্য করতে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করতেন।
আমাদের সাথীরা তাঁর (ইয়াজিদের) ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে নিন্দা করা বৈধ বলেছেন; কারণ তিনি মদিনাবাসীকে আতঙ্কিত করেছিলেন, আর নবী (সা.) মদিনাবাসীকে যারা আতঙ্কিত করে তাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে মৌনতা অবলম্বন করেছেন এবং বলেছেন:
ইমাম আহমাদকে কি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বলেছিলেন: মানুষ তাঁর পেছনে সালাত আদায় করেছে এবং তাঁর নিকট থেকে উপঢৌকন গ্রহণ করেছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে ভুলকারী মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর যে বিষয়ে আলোচনা করা আবশ্যক নয়, তা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
তিনি কোনো মুসলিমকে অভিসম্পাত করা জায়েজ মনে করতেন না যদি না শরিয়তে তাঁর ওপর লানত করার বিষয়ে কিছু বর্ণিত হয়ে থাকে। এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিস হলো: "মুমিনকে অভিসম্পাত করা তাকে হত্যা করার শামিল" এবং "মুমিন কখনো লানতকারী বা অভিশাপদানকারী হয় না।"
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) বলতেন: "ইমাম বা শাসকগণ কুরাইশ বংশ থেকে হবেন।" এবং তিনি আব্বাসের বংশধরদের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানাতেন।
তিনি বলতেন: "আব্বাস হলেন খলিফাদের পিতা।" দীর্ঘকাল এভাবেই অতিবাহিত হয়েছে। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) শাসকদের কথা শুনতে ও আনুগত্য করতে নির্দেশ দিতেন এবং বিচ্ছিন্নতা ও দলাদলি থেকে নিষেধ করতেন। এ বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হয়, সে জাহান্নামের দিকেই বিচ্ছিন্ন হয়।" তিনি ইমাম ও উলুল আমর (কর্তৃপক্ষ)-এর আনুগত্যের আদেশ দিতেন, যদিও তারা জুলুম করে, যতক্ষণ তারা সালাত কায়েম রাখে এবং সত্যের দিকে আহ্বান জানায়। হাদিসে বর্ণিত আছে: "তোমরা তাদের কথা শোনো এবং আনুগত্য করো।"
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭৪)
وإن أراقوا الدم وأخذوا المال» وكان يقول: من مات ورقبته عريّة من اعتقاد الإمامة فميتته جاهلية. وكان يجوز الغزو معهم، ويرد التعرض لشئ فى الحرب - لهم فيه إذن - إلا بإذن، ويجوز أخذ أعطيتهم، وقسم فيئهم، وتسليم الزكوات إليهم. ويأمر بدفع العشور والخراج إلى ولاتهم. كل ذلك اتباعا للأثر. ويقرأ (59:4 {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ)} وكان يأمر بالقتال معهم للبغاة عليهم، حتى لا تشق عصا المسلمين. وكان لا ينقض حكم أحد من حكامهم على اختلاف مذاهبهم فى الفروع، ويمضيها، إلا ما خالف نصا، أو إجماعا أو دليلا قائما.
وكان يمنع من ولاية المعتزلة والجهمية، ويمنع من الشهادة عندهم. ويقول:
لا تشهد عندهم، ولا كرامة. وقد طالبه رجل يوما بإقامة شهادة. فامتنع. فقال له: يضيع حقى، الله بينى وبينك. فقال له أحمد: الله بينى وبين من ولى قاضيا لا يجوز أن أشهد عنده.
وكان يأمر بهجران المناظر بالبدع، بعد إرشاده وترك قوله. ويقول: قد هجر رسول الله صلى الله عليه وسلم الثلاثة الذين خلّفوا، وأمر بهجرانهم حتى صحت توبتهم.
وكان يقول: لا غيبة لأصحاب البدع. قد قال النبى صلى الله عليه وسلم فى عيينة بن حصن «ذاك الأحمق المطاع»
وكان رحمه الله يقول: الدار دار الإسلام، والمسلمون على ظاهر العدالة.
ومكاسبهم جميعها - إذا عريت عن مجرد الربا والمحظورات - مباحة. ولا يمنع من التجارة مع ظهور أفعال المفسدين، من الغصب وأخذ الأموال، خوفا من أن يصيب المسلم منها شيئا، إلا إذا علمه عينا، وتحققه يقينا. وكان يمنع من ذلك، من طريق الورع، لا على سبيل التحريم.
"যদিও তারা রক্তপাত ঘটায় এবং সম্পদ হরণ করে।" এবং তিনি বলতেন: "যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে তার গর্দান ইমামতের প্রতি বিশ্বাসের বন্ধন থেকে মুক্ত ছিল, তবে তার মৃত্যু জাহেলিয়াতের মৃত্যু।" তিনি তাদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বৈধ মনে করতেন। যুদ্ধে কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা—যেখানে তাদের অনুমতি রয়েছে—তিনি তাদের অনুমতি ব্যতীত প্রত্যাখ্যান করতেন। তাদের উপঢৌকন গ্রহণ করা, তাদের অর্জিত ফাই (সম্পদ) বণ্টন করা এবং তাদের নিকট জাকাত প্রদান করা বৈধ মনে করতেন। তিনি তাদের শাসকদের নিকট ওশর এবং খারাজ প্রদানের নির্দেশ দিতেন। এ সবই ছিল আছারের (বর্ণনা) অনুসরণে। তিনি তিলাওয়াত করতেন: (৪:৫৯) {হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আম্র বা কর্তৃত্বশীলদের।} তিনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে শাসকদের সাথে হয়ে লড়াই করার নির্দেশ দিতেন, যাতে মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট না হয়। তিনি তাদের শাসকদের কোনো ফয়সালা বাতিল করতেন না, যদিও শাখা-প্রশাখাগত মাসআলায় তাদের মাজহাব ভিন্ন হতো; বরং তা কার্যকর রাখতেন, যদি না তা কোনো অকাট্য দলীল (নস), ইজমা অথবা সুপ্রতিষ্ঠিত প্রমাণের বিরোধী হতো।
তিনি মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিতে নিষেধ করতেন এবং তাদের নিকট সাক্ষ্য প্রদান করা থেকেও বারণ করতেন। তিনি বলতেন:
তাদের নিকট সাক্ষ্য দিও না, তাদের কোনো মর্যাদা নেই। একদিন এক ব্যক্তি তাকে সাক্ষ্য প্রদানের অনুরোধ করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। লোকটি তাকে বলল: আমার হক নষ্ট হচ্ছে, আল্লাহই আপনার ও আমার মধ্যে বিচারক। তখন আহমদ তাকে বললেন: আল্লাহই আমার এবং ওই ব্যক্তির মধ্যে বিচারক যে এমন একজনকে বিচারক নিয়োগ করেছে যার নিকট আমার সাক্ষ্য প্রদান করা বৈধ নয়।
বিদআত নিয়ে বিতর্ককারীকে সঠিক পথ দেখানোর পর তার বক্তব্য বর্জন ও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ তিনি দিতেন। তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই তিন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন যাদের পেছনে রাখা হয়েছিল (যাদের তওবা স্থগিত ছিল) এবং তাদের তওবা বিশুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে সম্পর্ক ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তিনি বলতেন: বিদআতিদের গীবত হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উয়াইনা বিন হিসন সম্পর্কে বলেছিলেন: "সে এক আনুগত্যপ্রাপ্ত নির্বোধ।"
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: এই ভূখণ্ড হলো ইসলামের ভূখণ্ড (দারুল ইসলাম), আর মুসলিমদের বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে ন্যায়নিষ্ঠ গণ্য করা হবে।
তাদের সকল উপার্জন—যদি তা কেবল সুদ এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে মুক্ত থাকে—তবে তা বৈধ। ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের জবরদখল ও সম্পদ হরণের মতো কাজ প্রকাশ পেলেও কোনো মুসলিমের তাতে কোনো অংশ লেগে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতেন না, যতক্ষণ না সে সুনির্দিষ্টভাবে তা জানে এবং নিশ্চিতভাবে তা প্রমাণ করতে পারে। তিনি পরহেজগারিতার খাতিরে এমনটি থেকে নিষেধ করতেন, হারাম হওয়ার কারণে নয়।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭৫)
وكان رحمه الله يقبل الهدية من المسلم المأمون الذى لا يعلم منه ريبة، ولا فى فعله فساد. ويقول: قد قبل رسول الله صلى الله عليه وسلم الهدية. وكان يأمر بالمكافأة عليها حذر المنّة.
وكان رحمه الله يكره المسألة، مقصرا عن طلب الحاجة، اتباعا لقوله عليه الصلاة والسلام، ووصيته لبعض أصحابه «لا تسأل الناس شيئا»
وكان رحمه الله يحمل أمور المسلمين على الصحة، وعقودهم فى الأنكحة على الإباحة، إلا ما كان من نكاح متعة أو شغار. فإنه عنده حرام غير منعقد، ويسقط معه الحد، لشبهة الخلاف فيه.
وكان رحمه الله يذهب إلى نفى القول بالرجعة
(1)، ويكفر من يقول بها.
ويتلو (15:23، 16 {ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذلِكَ لَمَيِّتُونَ. ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيامَةِ تُبْعَثُونَ)} من غير ذكر الرجعة. ومن قال غير ذلك فهو ضال.
وكان رحمه الله لا يقبل توبة الزنديق والداعية. ويقول: من مذهبه إبطان الكفر: فلا يصح منه الرجوع القولى عنه. ويستحسن قول مالك بن أنس فى ذلك.
وقد روى عنه رواية أخرى: أنه أجراه مجرى المرتد فى قبول التوبة.
وكان يأمر بالتناصر، وترك التدابر، والتعاون على أفعال الخير. ويتلو (2:5 {وَتَعاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوى، وَلا تَعاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوانِ)} والحديث المأثور «لا تقاطعوا ولا تدابروا، ولا تباغضوا، وكونوا عباد الله إخوانا»
وكان يقول: من أفضل خصال الإيمان: الحب فى الله. والبغض فى الله.
ويروى الحديث فى ذلك «أوثق عرى الإيمان: الحب فى الله، والبغض فى الله» ويأمر بالموالاة والأخوة. ويقرأ (10:49 {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ)} ويروى حديث النبى صلى الله عليه وسلم «المؤمنون كالجسد الواحد» ويتلو (71:9 {الْمُؤْمِنُونَ}
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সেই নির্ভরযোগ্য মুসলমানের নিকট থেকে উপহার গ্রহণ করতেন যার থেকে কোনো প্রকার সংশয় বা তার কর্মে কোনো প্রকার মন্দ কাজ প্রকাশ পেত না। তিনি বলতেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) উপহার গ্রহণ করেছেন। আর তিনি অনুগ্রহের দায়বদ্ধতা এড়াতে উপহারের বিনিময়ে প্রতিদান দেওয়ার নির্দেশ দিতেন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যাঞ্চা করা অপছন্দ করতেন এবং প্রয়োজন পূরণের আবেদন করা থেকে বিরত থাকতেন; এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এবং তাঁর কিছু সাহাবীর প্রতি তাঁর নসিহতের অনুসরণ: "তোমরা মানুষের কাছে কিছুই চেয়ো না।"
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মুসলমানদের বিষয়াদিকে সঠিকতা এবং তাদের বৈবাহিক চুক্তিগুলোকে বৈধতার ওপর ভিত্তি করতেন, কেবল মুত'আ বিবাহ বা শিগার বিবাহ ব্যতিরেকে। কেননা তাঁর নিকট এগুলো হারাম ও অসিদ্ধ ছিল, তবে এ নিয়ে মতভেদ থাকার সন্দেহের কারণে এক্ষেত্রে দণ্ডবিধি মওকুফ হয়ে যেত।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) রাজ'আ বা পুনরাবর্তনের মতবাদ অস্বীকার করার মত পোষণ করতেন
(১) এবং যারা এর প্রবক্তা তাদের কাফির সাব্যস্ত করতেন।
তিনি (কুরআন থেকে) পাঠ করতেন: {অতঃপর এর পরে তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে। তারপর কিয়ামতের দিন তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে।} (২৩:১৫, ১৬) যেখানে রাজ'আ-এর কোনো উল্লেখ নেই। যে ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম বলবে সে পথভ্রষ্ট।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যিনদীক এবং (বিদআতের দিকে) আহ্বানকারীর তওবা গ্রহণ করতেন না। তিনি বলতেন: যার আদর্শই হলো কুফর গোপন করা, তার মৌখিক তওবা সহিহ হবে না। এ বিষয়ে তিনি মালিক ইবনে আনাসের বক্তব্যকে উত্তম মনে করতেন।
তাঁর থেকে আরেকটি বর্ণনা রয়েছে যে, তিনি তওবা কবুল করার ক্ষেত্রে তাকে মুরতাদের পর্যায়ভুক্ত গণ্য করেছেন।
তিনি পরস্পরকে সাহায্য করার, একে অপরের প্রতি বিমুখতা বর্জন করার এবং সৎকর্মে সহযোগিতার নির্দেশ দিতেন। তিনি পাঠ করতেন: {তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে পরস্পরকে সহযোগিতা করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না।} (৫:২) এবং বর্ণিত হাদিস: "তোমরা সম্পর্ক ছিন্ন করো না, একে অপরের প্রতি বিমুখ হয়ো না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না; বরং হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও।"
তিনি বলতেন: ঈমানের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্যতম হলো— আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘৃণা করা।
এ প্রসঙ্গে তিনি হাদিস বর্ণনা করতেন: "ঈমানের সুদৃঢ় রজ্জু হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা।" তিনি বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের আদেশ দিতেন। তিনি পাঠ করতেন: {মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই।} (৪৯:১০) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনা করতেন: "মুমিনগণ একটি দেহের ন্যায়।" আর তিলাওয়াত করতেন: {মুমিনগণ...} (৯:৭১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭৬)
{وَالْمُؤْمِناتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِياءُ بَعْضٍ)} ويحث على العفو والصفح والتجاوز. ويتلو (37:42 {وَإِذا ما غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ)} ويروى فيمن شفى غيظه الحديث المتكرر.
ويقرأ (134:3 {وَالْكاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعافِينَ عَنِ النّاسِ. وَاللهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ)}
وكان رحمه الله يفضل الفقر على الغنى، ويأمر بالزهد فى الدنيا. ويقول:
فى الصبر على المكاره خير كثير.
وكان يأمر بالتداوى من الأمراض. ويكره الشكوى. قال صالح بن أحمد:
سمعت أبى يئنّ فى مرضه. فقلت له: إن طاوسا - يعنى اليمانى - كان يكره الأنين فى المرض. فما أنّ إلى أن مات.
وكان رحمه الله يكره الإمارة، ويشدد فى باب النظر للسلطان. ويروى حديث عبد الرحمن بن سمرة عن النبى صلى الله عليه وسلم «لا تسل الإمارة. فإنك إن أعطيتها عن مسألة وكلت إليها. وإن أعطيتها عن غير مسألة أعنت عليها»
وكان رحمه الله يكره القضاء، ويشدد فيه. ويروى الحديث المأثور «من ولى القضاء فقد ذبح بغير سكين» والحديث الآخر «القضاة ثلاثة: قاضيان فى النار، وقاض فى الجنة. فأما اللذان فى النار: فرجل عرف الحق وقضى بغيره، فهو فى النار. ورجل قضى على جهل، فهو فى النار. ورجل عرف الحق فاتبعه وقضى به فهو فى الجنة» وروى عنه: أنه كان يذكر بعض الناس، فيقول: رحمه الله، آثر عذابهم على عذاب الله.
وكان قد ضرب على ولاية القضاء، وقال مرة: القضاء؟ نسأل الله العافية، ومرة قال: لا بد للناس من قاض. أتذهب حقوق الناس؟ ولكن هذا مع الضرورة إذا لم يوجد منه بد. وكان يجيز أرزاق القضاة بقدر الكفاية.
والكسب أحب إليه من أرزاقهم.
وكان رحمه الله يحرم الغناء، ويشدد فيه، ويأمر بكسر الملاهى، وإن كانت لها قيمة، إذا كانت لا تصلح إلا للهو. ويروى عن النبى صلى الله عليه وسلم «بعثت بكسر الطبل».
{এবং মুমিন নারীগণ একে অপরের বন্ধু} এবং তিনি ক্ষমা, মার্জনা ও উপেক্ষা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। আর তিনি পাঠ করতেন {এবং যখন তারা রাগান্বিত হয়, তারা ক্ষমা করে দেয়} এবং যার ক্রোধ প্রশমিত হয়েছে তার সম্পর্কে বারবার বর্ণিত হাদিসটি তিনি বর্ণনা করতেন।
এবং তিনি পড়তেন {যারা রাগ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; আর আল্লাহ মুহসিনদের ভালোবাসেন।}
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সচ্ছলতার চেয়ে দারিদ্র্যকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং দুনিয়াবিমুখতার নির্দেশ দিতেন। তিনি বলতেন:
অপছন্দনীয় বিষয়ে ধৈর্য ধারণের মাঝে অনেক কল্যাণ রয়েছে।
তিনি অসুস্থতায় চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ দিতেন এবং অভিযোগ করা অপছন্দ করতেন। সালিহ ইবনে আহমাদ বলেন:
আমি অসুস্থ অবস্থায় আমার পিতাকে কাতরাতে শুনেছিলাম। তখন আমি তাঁকে বললাম: নিশ্চয়ই তাউস—অর্থাৎ ইয়ামানি—অসুস্থতায় কোঁকানো অপছন্দ করতেন। এরপর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি আর কাতরাননি।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) নেতৃত্ব অপছন্দ করতেন এবং সুলতানের অধীনে কাজ করার বিষয়ে কঠোর ছিলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত আব্দুর রহমান ইবনে সামুরার হাদিসটি বর্ণনা করতেন: "তুমি নেতৃত্ব চেয়ো না। কারণ তোমাকে যদি চাওয়ার কারণে তা দেওয়া হয়, তবে তোমাকে তার ওপরই ছেড়ে দেওয়া হবে (কোনো সাহায্য করা হবে না)। আর যদি না চাইতেই তা তোমাকে দেওয়া হয়, তবে তোমাকে সে বিষয়ে সাহায্য করা হবে।"
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বিচারকের দায়িত্ব (কাযা) অপছন্দ করতেন এবং এই বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করতেন। তিনি বর্ণিত হাদিসটি বর্ণনা করতেন: "যাকে বিচারকের দায়িত্ব দেওয়া হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবেহ করা হলো।" এবং অন্য হাদিসটি: "বিচারক তিন প্রকার: দুই প্রকার জাহান্নামী এবং এক প্রকার জান্নাতী। জাহান্নামী দুজন হলো: এক ব্যক্তি যে সত্য জেনেছে কিন্তু তার বিপরীত বিচার করেছে, সে জাহান্নামী। আর এক ব্যক্তি যে মূর্খতার ভিত্তিতে বিচার করেছে, সেও জাহান্নামী। আর যে ব্যক্তি সত্য জেনেছে এবং তদনুযায়ী ফয়সালা করেছে, সে জান্নাতী।" তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কোনো এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলতেন: আল্লাহ তার ওপর রহম করুন, সে আল্লাহর আযাবের ওপর তাদের (মানুষের) আযাবকে বেছে নিয়েছে।
বিচারকের পদ গ্রহণের জন্য তাঁকে প্রহার করা হয়েছিল। তিনি একবার বলেছিলেন: বিচারকের কাজ? আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই। আবার অন্য সময় বলেছিলেন: মানুষের জন্য বিচারক তো অপরিহার্য। মানুষের অধিকার কি নষ্ট হয়ে যাবে? তবে এটি কেবল ঠেকলে এবং কোনো গত্যন্তর না থাকলে। তিনি বিচারকদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ভাতা বা পারিশ্রমিক জায়েয মনে করতেন।
তবে তাদের পারিশ্রমিকের চেয়ে নিজের উপার্জনই তাঁর নিকট অধিক প্রিয় ছিল।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) গান-বাজনা হারাম মনে করতেন এবং এ ব্যাপারে কঠোর ছিলেন। তিনি বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিতেন, যদিও সেগুলোর আর্থিক মূল্য থাকত, যদি সেগুলো কেবল আমোদ-প্রমোদের কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে না আসত। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতেন: "আমি ঢোল ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।"
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭৭)
وكان يعتقد أن كل مسكر حرام، وكل مسكر خمر. ويذكر الحديث المروى «الخمر من هاتين الشجرتين: الكرمة، والنخلة» وفى الحديث «من الحنطة خمر، ومن العسل خمر، ومن الذرة خمر».
وكان رحمه الله يذهب إلى جواز المسح على الخفين. ويقول: قد فعله أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحديث جرير بن عبد الله «إن هذا كان قبل نزول المائدة. فقال: إنما أسلمت بعد المائدة، وبعد القادسية» ومسح على الخفين جميع الجيش، وهم جلة أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم.
وكان يأمر بالتكبير على الجنائز أربعا. ويقول: على ذلك مضت السنة.
ويجوز اتباع الإمام إلى سبع إذا كان غير مبتدع، وكان للاجتهاد أهلا. ويذهب إلى حديث النبى صلى الله عليه وسلم «كبروا على موتاكم بالليل والنهار أربعا».
وكان يقول بوقوع الطلاق الثلاث فى لفظ واحد. وأنها تحرم به، مدخولا بها كانت أو غير مدخول بها. ولا يبيحها إلا بعد زوج آخر وإصابة. ويذهب إلى حديث ابن عمر «يا رسول الله، أرأيت لو طلقتها ثلاثا؟ فقال: بانت منك زوجك، وعصيت ربك
(1)» وكان يكرهه لموضع الخلاف، ويوقعه بصريح الحديث.
وكان يقول: إن النبى صلى الله عليه وسلم غير موروث. ويذهب إلى الحديث الذى يروى «نحن معاشر الأنبياء لا نورث، ما تركناه صدقة».
وكان رحمه الله يرى صلاة التراويح سنة مؤكدة، وأن نسبتها إلى عمر بن الخطاب فضيلة، وأنه لم يجبر عليها ولا سنها. وإنما هى سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم. ويروى فى ذلك حديث النبى صلى الله عليه وسلم «إن الله فرض عليكم صوم شهر رمضان، وسننت لكم قيامه. فمن صامه وقامه إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه».
--------------------------------------------
তিনি বিশ্বাস করতেন যে প্রত্যেক নেশা জাতীয় দ্রব্য হারাম এবং প্রত্যেক নেশা জাতীয় দ্রব্যই মদ। বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে: "মদ এই দুটি গাছ থেকে তৈরি হয়: আঙ্গুর এবং খেজুর।" এবং হাদিসে আছে: "গম থেকে মদ হয়, মধু থেকে মদ হয় এবং ভুট্টা থেকে মদ হয়।"
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার বৈধতার মত পোষণ করতেন। তিনি বলতেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ তা করেছেন। জারীর বিন আব্দুল্লাহর হাদিসের ক্ষেত্রে বলা হয় যে, এটি সুরা মায়েদাহ নাযিল হওয়ার আগের ঘটনা। কিন্তু তিনি (জারীর) বলেছিলেন: "আমি মায়েদাহ নাযিল হওয়ার পরে এবং কাদিসিয়ার যুদ্ধের পরে ইসলাম গ্রহণ করেছি।" আর পুরো সেনাবাহিনীই মোজার ওপর মাসেহ করেছিলেন, যারা ছিলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণ।
তিনি জানাযার নামাজে চার তাকবীর দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। তিনি বলতেন: সুন্নাহ এভাবেই চলে এসেছে।
যদি ইমাম বিদআতী না হন এবং ইজতিহাদের যোগ্য হন, তবে সাত তাকবীর পর্যন্ত তাঁকে অনুসরণ করা বৈধ। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদিসের মত পোষণ করতেন: "তোমাদের মৃতদের ওপর দিনে ও রাতে চার তাকবীর দাও।"
তিনি এক শব্দে তিন তালাক দিলে তা কার্যকর হওয়ার কথা বলতেন। আর এর মাধ্যমে স্ত্রী হারাম হয়ে যায়, চাই তার সাথে সহবাস হয়ে থাকুক বা না থাকুক। অন্য স্বামী গ্রহণ এবং তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক হওয়া ছাড়া তিনি তা বৈধ মনে করতেন না। তিনি ইবনে উমরের হাদিসের দিকে যেতেন: "হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি মনে করেন যদি আমি তাকে তিন তালাক দিতাম? তিনি বললেন: তোমার স্ত্রী তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত এবং তুমি তোমার রবের অবাধ্য হতে
(১)।" মতভেদের কারণে তিনি এটিকে অপছন্দ করতেন, তবে হাদিসের স্পষ্ট বক্তব্যের কারণে তা কার্যকর করতেন।
তিনি বলতেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না। তিনি বর্ণিত এই হাদিসের মত পোষণ করতেন: "আমরা নবী সমাজ, আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী রাখা হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সাদকা।"
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি তারাবীহর নামাজকে সুন্নাহে মুয়াক্কাদাহ মনে করতেন। আর উমর বিন খাত্তাবের সাথে এর নিসবত বা সম্পৃক্ত করা একটি ফযীলতপূর্ণ বিষয়, তবে তিনি (উমর) এর জন্য বাধ্য করেননি বা তিনি এটি প্রবর্তন করেননি। বরং এটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর রমযান মাসের রোযা ফরয করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য এর কিয়ামকে (তারাবীহ) সুন্নাহ করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোযা রাখবে এবং কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭৮)
وكان رحمه الله يرى شفع الأذان وإفراد الإقامة، اتباعا للسنة الصريحة.
والوتر عنده: ركعة مفصولة، ويقنت بعد الركوع فيها. والصاع عنده: خمسة أرطال وثلث بالعراقى.
وكان يتحرج أن يدخل إلى دار فيها صور، أو دعوة فيها لهو أو غناء، أو جنازة يتبعها نوح أو مزمار. فإذا حضر لم يرجع عنها. ويقول كما قال الحسن لابن سيرين: لا ندع حقا لباطل.
وكان رحمه الله يمنع من التزهيد المفضى إلى تحريم ما أحل الله، والامتناع من المباح الذى رفع الله فيه الحرج. ويقول: قال النبى صلى الله عليه وسلم «المحرّم ما أحل الله كالمحل ما حرم الله» إلا أن يكون رجلا يخاف على نفسه الفتنة، أو يدعوه إلى الشهوة فليسرها بذلك. ويأخذ بالعزائم من غير أن يحرم ذلك فيجوز.
قد قال النبى صلى الله عليه وسلم «من ترك شيئا لله عوض الله ما هو خير منه» ولم يزل العلماء يؤدبون نفوسهم بالمنع من الشهوات المباحات، لا على وجه التحريم.
وكان رحمه الله يمنع من تزكية النفس. ويقرأ (32:53 {فَلا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقى)}.
وكان من مذهبه: اعتبار الكفاءة فى النكاح. وهى عنده: الدين، والمنصب ويروى قول النبى صلى الله عليه وسلم «زوجوا الأكفاء، وتزوجوا إلى الأكفاء»
وكان يمنع من المفاضلة بين الأنبياء. لقوله عليه الصلاة والسلام «لا تفاضلوا بين الأنبياء، ولا يفضلنى أحد على يونس بن متى» ويقول - مع هذا - إن الأنبياء بعضهم أفضل من بعض. لقوله تعالى (55:17 {وَلَقَدْ فَضَّلْنا بَعْضَ النَّبِيِّينَ عَلى بَعْضٍ)} ولكن ليس تعيين التفضيل إلى أحد منا.
وكان يعتقد مع ذلك: أن محمدا صلى الله عليه وسلم خير الرسل، وخاتم الأنبياء والشهيد على الجميع، وأن أمته خير الأمم. ويقرأ (41:4 {وَجِئْنا بِكَ عَلى هؤُلاءِ شَهِيداً)} وقوله (110:4 {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنّاسِ)}.
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সুস্পষ্ট সুন্নাহর অনুসরণে আযানের বাক্যসমূহ জোড়ায় (দুইবার করে) এবং ইকামতের বাক্যসমূহ এককভাবে (একবার করে) বলার মত পোষণ করতেন।
তাঁর নিকট বিতর হলো: একটি পৃথক রাকাত, এবং তিনি এতে রুকুর পরে কুনুত পড়তেন। আর তাঁর নিকট সা' হলো: ইরাকি মাপে পাঁচ রতল এবং এক তৃতীয়াংশ।
তিনি এমন ঘরে প্রবেশ করতে সংকোচ বোধ করতেন যেখানে ছবি থাকত, অথবা এমন দাওয়াতে যেখানে আমোদ-প্রমোদ বা গান থাকত, কিংবা এমন জানাযায় যার সাথে বিলাপ বা বাদ্যযন্ত্র থাকত। তবে তিনি যদি উপস্থিত হয়ে যেতেন, তবে সেখান থেকে ফিরে আসতেন না। তিনি বলতেন, যেমনটি হাসান বসরী ইবনে সিরিনকে বলেছিলেন: "আমরা বাতিলের কারণে সত্যকে বর্জন করব না।"
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এমন বৈরাগ্য প্রদর্শন থেকে নিষেধ করতেন যা আল্লাহর হালালকৃত বিষয়কে হারাম করার দিকে নিয়ে যায়, এবং সেই সকল বৈধ (মুবাহ) কাজ থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করতেন যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ সংকীর্ণতা দূর করে দিয়েছেন। তিনি বলতেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর হালালকৃত বিষয়কে হারাম করে, সে ঐ ব্যক্তির মতো যে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালাল করে।" তবে যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ওপর ফিতনার ভয় করে অথবা তা তাকে প্রবৃত্তির দিকে আহ্বান করে, তবে সে যেন তা সংগোপনে করে। তিনি (হারাম না করে) দৃঢ় সংকল্পের সাথে আমল করতেন, যেন তা জায়েয থাকে।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু বিনিময় দান করেন।" আর আলেমগণ সর্বদা নিজেদের নফসকে বৈধ কামনা-বাসনা থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে আদব শিক্ষা দিতেন, কিন্তু তা হারামের পর্যায়ভুক্ত করে নয়।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আত্ম-প্রশংসা বা নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করতে নিষেধ করতেন। তিনি পাঠ করতেন: (৫৩:৩২) "অতএব তোমরা নিজেদের পবিত্রতার দাবি করো না, তিনি ভাল জানেন কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে।"
বিবাহের ক্ষেত্রে সমতা (কুফু) বিবেচনা করা তাঁর মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঁর নিকট সমতা বলতে বুঝাত: দ্বীনদারিতা এবং বংশীয় মর্যাদা। এ ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী বর্ণিত আছে: "তোমরা সমমর্যাদার পাত্রদের সাথে বিবাহ দাও এবং সমমর্যাদার পাত্রীদের বিবাহ করো।"
তিনি নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা করতে নিষেধ করতেন। কেননা নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "তোমরা নবীদের মধ্যে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করো না এবং কেউ যেন আমাকে ইউনুস ইবনে মাত্তা-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব না দেয়।" এর পাশাপাশি তিনি বলতেন যে, নবীদের মধ্যে কেউ কারো চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: (১৭:৫৫) "আর আমি অবশ্যই নবীদের মধ্যে কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।" কিন্তু এই শ্রেষ্ঠত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করার অধিকার আমাদের কারো নেই।
এতৎসত্ত্বেও তিনি বিশ্বাস করতেন যে: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, নবীদের পরিসমাপ্তি দানকারী এবং সকলের ওপর সাক্ষী, আর তাঁর উম্মত সকল উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি পাঠ করতেন: (৪:৪১) "এবং আমি আপনাকে এদের সবার ওপর সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব" এবং আল্লাহর বাণী: (৩:১১০) "তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭৯)
وكان يرى تفضيل صالحى المؤمنين على الملائكة.
وكا؟؟؟ رحمه الله لشدة اتباعه للسنن - يمنع من سماع قصائد ابن الخبازة فى الزهد والترغيب. ويقول: الاجتماع لذلك محدث، وكذلك يمنع الكلام فى الخطرات والوساوس والإشارات. ويقول: الكتاب والسنة هو المأمور به.
وقد سئل مرة عن المريد؟ فقال: أن يكون مع الله كما يريد، وأن يترك كل ما يريد لما يريد. وهذا ضرب من ذلك، ولكنه ليس بأصل يكون الكلام مقصورا عليه، دون غيره. وكان يعظم الصوفية ويكرمهم، وقال - وقد سئل عنهم - وقيل له: يجلسون فى المساجد؟ فقال: العلم أجلسهم. وكان يحرم الغناء والألحان فى القرآن والشعر. ويكره غناء القصب، فأما حدو الأعراب: فقال:
حدا عبد الله بن رواحة وغيره. فلا بأس به.
وقال رحمه الله: طوبى لمن أخمل الله ذكره. وأرسل إلى عبد الوهاب - يعنى الوراق - عليك بالخمول. فإنى قد بليت بالشهرة.
وكان يقول: الزهد: ترك حب الثناء.
وقال أبو بكر المروذى: قال لى أبو عبد الله: قل لعبد الوهاب - يعنى الوراق - أخمل ذكرك. فإنى أنا قد بليت بالشهرة. وسمعت أبا طاهر محمد بن أحمد الغبارى الفقيه يقول: قال أحمد بن حنبل رحمه الله: طوبى لمن أخمل الله ذكره.
وكان رحمه الله يمنع من الدخول على الأمراء، ويقول: الخلوة أنفع.
وكان يأمر بإظهار العلم. وقال فى الحبس، وهو مهدد بالضرب والقتل:
إذا سكت الجاهل لجهله، وأمسك العالم تقية، فمتى تقوم لله حجة؟
وكان يأمر بالأمر بالمعروف والنهى عن المنكر بحسب الطاقة. ولا يلقى باليد إلى التهلكة. ويروى الحديث «حسب امرئ مسلم يرى منكرا لا يستطيع له غيرا: أن يعلم الله من قلبه أنه له كاره» ويقول: هو باليد مع القدرة، وباللسان عند عدم المكنة، وبالقلب عند خوف الفتنة، والعجز عن القيام بالفريضة. وهو
তিনি মুমিনদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তাদেরকে ফেরেশতাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন।
এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সুন্নাহর কঠোর অনুসরণের কারণে ইবনে আল-খাব্বাযার যুহদ (দুনিয়া বিরাগ) ও উৎসাহমূলক কবিতা শোনা থেকে নিষেধ করতেন। তিনি বলতেন: এর জন্য একত্রিত হওয়া একটি নব উদ্ভাবিত বিষয়, তদ্রূপ তিনি মনের কল্পনা, কুমন্ত্রণা এবং ইশারা-ইঙ্গিত নিয়ে আলোচনা করা থেকেও নিষেধ করতেন। তিনি বলতেন: কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহর নির্দেশই পালনীয়।
একবার তাঁকে মুরিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: মুরিদ হলো সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর সাথে সেভাবে থাকবে যেভাবে আল্লাহ চান, এবং আল্লাহ যা চান তার জন্য নিজের সমস্ত চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করবে। এটি সেই বিষয়েরই একটি ধরণ, তবে এটি এমন কোনো মূলনীতি নয় যার ওপর কথা সীমাবদ্ধ থাকবে অন্য কিছু ছাড়া। তিনি সুফিদের সম্মান ও মর্যাদা দিতেন। তাদের সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে এবং বলা হলে যে, তারা মসজিদে বসে থাকেন, তিনি বললেন: ইলম বা জ্ঞানই তাদের বসিয়েছে। তিনি কুরআন পাঠে সুর ও গায়কী এবং কবিতায় সুর করাকে হারাম মনে করতেন। তিনি বাঁশির সুর অপছন্দ করতেন। তবে বেদুইনদের উট চালনার গান (হুদা) সম্পর্কে তিনি বলেন:
আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা এবং অন্যান্যরা হুদা পাঠ করেছেন। সুতরাং এতে কোনো সমস্যা নেই।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যার আলোচনাকে আল্লাহ অখ্যাত করে রেখেছেন। তিনি আবদুল ওয়াহহাব আল-ওয়াররাকের কাছে বার্তা পাঠালেন: তুমি অখ্যাত থাকাকেই বেছে নাও। কারণ আমি প্রসিদ্ধির দ্বারা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছি।
তিনি বলতেন: যুহদ হলো প্রশংসার আসক্তি ত্যাগ করা।
আবু বকর আল-মাররুযী বলেন: আবু আবদুল্লাহ আমাকে বললেন: তুমি আবদুল ওয়াহহাব আল-ওয়াররাককে বলো, তোমার আলোচনাকে যেন অখ্যাত রাখো। কারণ আমি প্রসিদ্ধির দ্বারা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছি। আমি ফকিহ আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-গুবরীকে বলতে শুনেছি যে, আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যার আলোচনাকে আল্লাহ অখ্যাত করে রেখেছেন।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) শাসকদের নিকট যাতায়াত করতে নিষেধ করতেন এবং বলতেন: নির্জনতা অধিক উপকারী।
তিনি জ্ঞান প্রকাশ করার নির্দেশ দিতেন। কারারুদ্ধ অবস্থায় যখন তাকে প্রহার ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি বলেছিলেন:
যখন অজ্ঞ ব্যক্তি তার অজ্ঞতার কারণে চুপ থাকে এবং আলেম ব্যক্তি প্রাণের ভয়ে মৌন থাকে, তখন আল্লাহর হুজ্জত (প্রমাণ) কখন প্রতিষ্ঠিত হবে?
তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করার নির্দেশ দিতেন। আর নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে নিষেধ করতেন। তিনি এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন: "একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যখন কোনো মন্দ কাজ দেখে যা পরিবর্তন করার সামর্থ্য তার নেই, তখন আল্লাহ তার অন্তর সম্পর্কে জানবেন যে সে তা ঘৃণা করে।" তিনি বলতেন: সামর্থ্য থাকলে হাত দিয়ে, সক্ষমতা না থাকলে মুখ দিয়ে, আর ফিতনার ভয় থাকলে এবং ফরজ পালনে অক্ষম হলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করতে হবে। এবং তিনি...
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮০)
أضعفها. وكان يذهب إلى أنه لا يجوز كشف منكر قد استسرّ به، كما لا يجوز ترك إنكاره مع المظاهرة والمجاهرة به. ويأمر بأن يظن بالمسلمين خيرا. وكان يقول: إن التوارى بالمنكر لا يمنع إنكاره إذا ظهرت رائحة، أو صوت. وكان يأمر بالمعروف، وإن لم يغلب على ظنه زواله، إذا أمن فيه من ظهور ما هو أعظم منه، لأن الغرض عنده: التذكرة والإرشاد، وليس عليه مع العجز زوال العين.
وكان يأمر بإظهار المذهب الصحيح عند ظهور المذاهب الفاسدة. ويقول:
الغرض إقامة حجج الله. وليس فى ذلك مشقة. فإن خاف على نفسه التلف أو الإهانة المفضية إلى ضعف كلمة الحق: لم يلزمه. وكان يقول: إذا أمكن رفع ذلك إلى السلطان ليزيله لم تمد إليه يد، وكان السلطان به أولى. فإن خاف فواته قبل بلوغه إلى السلطان: كان له التسرع إليه، مع شرط أمان الهلاك والفتنة، والهوان العائد بنقص الدين. ويجب على الكافة إعانة السلطان إذا استعان بهم على رفع المنكر. ويجب على العلماء إنكار ما يحدث من البدع والمذاهب الفاسدة بإقامة الحجج المزيلة للشبهة، الكاشفة عن غمة الضلالة.
ويجب على الإمام ونائبه تنفيذ ذلك، وأخذ أهل الزيغ بالرجوع عما هم عليه، بعد قيام الحجة. فإن أبوا أنالهم من النكال بحكم اجتهاده ما يأمل معه رجوعهم. وإن كانت لهم شوكة، وأظهروا قوة ونصبوا حربا: قاتلهم، كما قاتل أبو بكر رضى الله عنه ما نعى الزكاة. وكذلك البغاة يدعوهم الإمام إلى مراجعة الحق، ويبطل شبههم، ويردهم بأسهل ما أمكن، ثم بما يؤدى إليه الاجتهاد والسيف عند الإياس منهم، وامتناعهم وتضريم الحرب.
وكان يأمر بالوعظ، مثل الأدب والتخويف بالله تعالى قبل اليد، كل ذلك طلبا للسلامة، وحملا لأمور المسلمين على الستر والصحة.
وكان يذهب إلى أنه يلزم الإمام ما يلزم الأمة، ولا يلزم الأمة جميع ما يلزم الإمام. لأن الأحكام الشرعية عنده تنقسم أقساما، منها ما يعم وجوبه، ويلزم
...তা দুর্বল করে দেয়। তিনি মনে করতেন যে, গোপনে করা কোনো পাপ প্রকাশ করা জায়েজ নয়, যেমনভাবে তা প্রকাশ্যে ও জাহির করা হলে তার প্রতিবাদ ত্যাগ করাও জায়েজ নয়। তিনি মুসলমানদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করার নির্দেশ দিতেন। তিনি বলতেন: পাপ লুকিয়ে করা হলেও যদি তার ঘ্রাণ বা আওয়াজ প্রকাশ পায়, তবে তার প্রতিবাদ করতে কোনো বাধা নেই। তিনি সৎকাজের আদেশ দিতেন, যদিও সেটি দূর হওয়ার ব্যাপারে তাঁর প্রবল ধারণা না থাকত, যদি না তাতে এর চেয়ে বড় কোনো অনিষ্ট ঘটার আশঙ্কা থাকে। কারণ তাঁর মতে উদ্দেশ্য হলো: স্মরণ করিয়ে দেওয়া ও পথপ্রদর্শন করা, আর অক্ষমতার ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি দূর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর বর্তায় না।
তিনি ভ্রান্ত মতবাদগুলোর প্রকাশের সময় সঠিক মতাদর্শকে প্রকাশ করার নির্দেশ দিতেন। তিনি বলতেন:
উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দলিল-প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা। আর এতে কোনো কষ্ট নেই। তবে যদি তিনি নিজের ধ্বংস হওয়া বা এমন লাঞ্ছনার ভয় করেন যা সত্যের বাণীকে দুর্বল করে দেয়, তবে তা তাঁর ওপর আবশ্যক নয়। তিনি বলতেন: যদি তা দূর করার জন্য সুলতানের নিকট পেশ করা সম্ভব হয়, তবে সেদিকে হাত প্রসারিত করা যাবে না, কারণ সুলতানই এর জন্য অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি সুলতানের কাছে পৌঁছানোর আগেই তা হাতছাড়া হওয়ার ভয় থাকে, তবে ধ্বংস, ফিতনা এবং দ্বীনের ক্ষতিস্বরূপ লাঞ্ছনা থেকে নিরাপদ থাকার শর্তে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেন। আর সুলতান যদি কোনো পাপ দূর করার জন্য জনগণের সাহায্য চান, তবে সবার জন্য তাঁকে সাহায্য করা ওয়াজিব। উলামায়ে কেরামের জন্য ওয়াজিব হলো নতুন উদ্ভূত বিদআত ও ভ্রান্ত মতবাদগুলোকে এমন দলিল-প্রমাণ স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিবাদ করা, যা সংশয় দূর করে এবং গোমরাহির অন্ধকার উন্মোচন করে।
ইমাম এবং তাঁর প্রতিনিধির ওপর আবশ্যক হলো তা কার্যকর করা এবং দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পথভ্রষ্টদের তাদের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা। যদি তারা অস্বীকার করে, তবে তিনি নিজের ইজতিহাদ অনুযায়ী তাদের এমন শাস্তি দেবেন যার মাধ্যমে তাদের ফিরে আসার আশা করা যায়। আর যদি তাদের জনবল থাকে, তারা শক্তি প্রদর্শন করে এবং যুদ্ধ ঘোষণা করে, তবে তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, যেভাবে আবু বকর (রা.) জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। একইভাবে বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রেও ইমাম তাদের সত্যের দিকে ফেরার আহ্বান জানাবেন, তাদের সংশয়গুলো বাতিল করবেন এবং যথাসম্ভব সহজ উপায়ে তাদের ফিরিয়ে আনবেন। এরপর যদি তাদের পক্ষ থেকে নিরাশ হওয়া যায় এবং তারা বিরত না হয়ে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয়, তবে ইজতিহাদ ও তলোয়ারের মাধ্যমে যা করার তা-ই করবেন।
তিনি হাত ব্যবহারের আগে নসিহত করার আদেশ দিতেন, যেমন শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া এবং মহান আল্লাহ তাআলার ভয় দেখানো। এই সবকিছুই ছিল নিরাপত্তার স্বার্থে এবং মুসলমানদের বিষয়গুলোকে পর্দা ও সঠিক অবস্থার ওপর রাখার লক্ষ্যে।
তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, উম্মতের ওপর যা আবশ্যক, ইমামের ওপরও তা আবশ্যক; কিন্তু ইমামের ওপর যা আবশ্যক তার সবকিছু উম্মতের ওপর আবশ্যক নয়। কারণ তাঁর কাছে শরয়ি বিধানগুলো কয়েক ভাগে বিভক্ত, যার কিছু অংশের ওয়াজিব হওয়া সাধারণ এবং তা আবশ্যক...
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮১)
جميع المكلفين فعله. وهو الإيمان بالله وتوحيده، وتصديقه فى خبره، وتصديق رسله وكتبه، والتزام العبادات التى تضمنتها أوامره. فهذا عام الوجوب.
وكان رحمه الله يقول: أوجب الله على المكلفين النظر والاستدلال الموصلين إلى العلم. ويتلو (185:7 {أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَما خَلَقَ اللهُ مِنْ شَيْءٍ؟)} وقوله (21:51 {وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلا تُبْصِرُونَ؟)}
وكان يقول: اختلاف المسلمين يدل على وجوب النظر. لأنه لا يجوز أن يكون المختلف فيه حقا كله، فيكون أهل الملل المنسوخة على صواب، ولا باطلا كله، فلا وجه للاختلاف. ولا بد من كون بعضه حقا وصوابا وبعضه باطلا.
ولا يعلم ذلك فى الأحكام التى لا تدرك بالضرورة إلا بالاستدلال، فثبت وجوبه
وكان رحمه الله يقول: العلم على ضربين: ضرورة واستدلال، والضرورة ما وقع تحت الحواس الخمس. وهذا لا طريق إلى دفعه، ولا شبهة فى كونه، وعلم منه لا يدرك بحاسة من هذه الحواس، وهو الأخبار المتواترة، والأنباء السائرة عن الأمم السالفة، والبلاد القاصية، والملوك الخالية. فهذا يعلم ضرورة. وكذلك علم الإنسان بنفسه، وما يجده من باطن خاله - من صحة وسقم، ولذة وألم، وقوة وهرم، وشهوة وندم - فهذا جميعه علم ضرورة. لأنه لا سبيل إلى دفعه عن القلوب، ولا اعتراض للشك عليه.
والاستدلال: ما وقع وكشف بطلب واستنباط ونظر. هذا علم المحدثين. فأما الباري - جلت قدرته - فعلمه خارج عن هذه الأقسام. لأنه وصفاته لا يشبه الأنام.
ومن مذهبه: أن العلم هو معرفة المعلوم على ما هو به. وهذه عبارة عن قوله، لم يحفظ من لفظه.
والعقل: ضرب من العلوم الضرورية التى يختص بها الحيوان الناطق، ومسكنه القلب. ومعناه: الميزة بين الشيئين فى الحالة الثانية.
والدليل: ما أزال الإشكال، وتوصل به إلى العلم بالحال. والدال: هو المستدل
সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য এটি করা আবশ্যক। আর তা হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও তাঁর একত্ববাদ স্বীকার করা, তাঁর সংবাদসমূহকে সত্য বলে গণ্য করা, এবং তাঁর রাসূলগণ ও গ্রন্থসমূহকে সত্য বলে স্বীকার করা এবং তাঁর নির্দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত উপাসনা বা ইবাদতসমূহ পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া। সুতরাং এটি একটি সাধারণ আবশ্যকতা।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: আল্লাহ তাআলা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ওপর এমন চিন্তা-গবেষণা ও প্রমাণ অন্বেষণ করা আবশ্যক করেছেন যা জ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। তিনি পাঠ করতেন: (৭:১৮৫) "তারা কি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে চিন্তা করে দেখে না?" এবং তাঁর বাণী: (৫১:২১) "এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও; তবে কি তোমরা লক্ষ্য করো না?"
তিনি বলতেন: মুসলিমদের মধ্যকার মতভেদ চিন্তা-গবেষণা আবশ্যক হওয়ার প্রমাণ বহন করে। কারণ, যে বিষয়ে মতভেদ আছে তার পুরোটাই সত্য হওয়া অসম্ভব, অন্যথায় রহিত হয়ে যাওয়া ধর্মাদর্শের অনুসারীরাও সঠিক পথে থাকত; আবার তার পুরোটাই মিথ্যা হওয়াও সম্ভব নয়, কারণ সেক্ষেত্রে মতভেদের কোনো অবকাশ থাকত না। সুতরাং অবশ্যই এর কিছু অংশ সত্য ও সঠিক এবং কিছু অংশ মিথ্যা হওয়া আবশ্যক।
আর যেসব বিধান সরাসরি অনুভবের মাধ্যমে জানা সম্ভব নয়, সেগুলো প্রমাণ অন্বেষণ ব্যতীত জানা যায় না, ফলে এর আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: জ্ঞান দুই প্রকার: অনিবার্য ও গবেষণালব্ধ। অনিবার্য জ্ঞান হলো যা পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এটি অস্বীকার করার কোনো পথ নেই এবং এর অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো সংশয় নেই। এর মধ্যে এমন কিছু জ্ঞানও রয়েছে যা এই ইন্দ্রিয়গুলোর মাধ্যমে সরাসরি অনুভূত হয় না, যেমন নিরবচ্ছিন্ন ও লোকপরম্পরায় আসা সংবাদসমূহ, এবং অতীত জাতিসমূহ, দূরবর্তী দেশসমূহ ও গত হওয়া রাজাদের সম্পর্কে প্রচলিত সংবাদ। এগুলো অনিবার্য জ্ঞানের মাধ্যমেই জানা যায়। একইভাবে মানুষের নিজের সম্পর্কে জ্ঞান এবং তার অভ্যন্তরীণ অবস্থার অনুভব—যেমন সুস্থতা ও অসুস্থতা, আনন্দ ও বেদনা, শক্তি ও বার্ধক্য, এবং আকাঙ্ক্ষা ও অনুশোচনা—এই সবই অনিবার্য জ্ঞান। কারণ অন্তর থেকে এগুলো দূর করার কোনো উপায় নেই এবং এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
আর গবেষণালব্ধ জ্ঞান হলো যা অনুসন্ধান, উদ্ভাবন ও চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত ও উন্মোচিত হয়। এটি সৃষ্ট জগতের জ্ঞান। পক্ষান্তরে মহান স্রষ্টা—যাঁর ক্ষমতা অতি মহান—তাঁর জ্ঞান এই প্রকারভেদের ঊর্ধ্বে। কারণ তিনি এবং তাঁর গুণাবলি সৃষ্টির সদৃশ নন।
তাঁর মত হলো: জ্ঞান হলো জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় জানা। এটি তাঁর বক্তব্যের একটি ভাবার্থ, তাঁর হুবহু শব্দাবলি সংরক্ষিত হয়নি।
আর বুদ্ধি হলো এক প্রকার অনিবার্য জ্ঞান যা বাকসম্পন্ন প্রাণীর বৈশিষ্ট্য, আর এর আবাসস্থল হলো অন্তর। এর অর্থ হলো: দ্বিতীয় অবস্থায় দুটি জিনিসের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা।
আর প্রমাণ হলো তা, যা অস্পষ্টতা দূর করে এবং যার মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। আর প্রমাণকারী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি প্রমাণ অন্বেষণ করেন।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮২)
والمدلول: الحكم عليه. ويجوز أن يستعمل اسما للذى ينصب الدليل، أعنى المستدل. وأول نعمة لله على عباده: خلقهم أحياء، وجعلهم أهلا لهذه الأشياء، وما وفقهم له من الرشاد والهدى، ثم نعمه بعد ذلك عليهم تترى.
والأمر عنده على الوجوب، إذا تعرى لفظه عن قرينة تدل على غيره. وله عنده صيغة تدل بمجردها على كونه أمرا. وهى لفظة «افعلوا» وهو عنده على الفور والعجلة، دون التراخى والمهلة. وكان أحمد رضى الله عنه يقرأ (16:64 {فَاتَّقُوا اللهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ)} وهو مستطيع للفور. فلا وجه للتراخى. وكان يذهب إلى أنه لا يقتضى التكرار، إلا بقرينة تدل على الاستكثار. ويقول: قد أدى الواجب، وسمى مطيعا، ومتى تكرر الأمر فهو تأكيد للمأمور، إلا أن تقوم عليه دلالة بارادة التكرار للفعل.
وكان رحمه الله يقول: إنه إذا ورد لفظ أمر بعد تقدم نهى: دل على الإباحة، دون الإيجاب. ويقرأ رحمه الله (2:5 {وَإِذا حَلَلْتُمْ فَاصْطادُوا)} ومتى خير الآمر المأمور فى أشياء يفعلها: فالواجب واحد لا بعينه، لا يسقط به فرض سواه. وله العدول إلى أيها شاء. ومتى قام الدليل على أن الأمر لم يرد به الوجوب لم يدل على الجواز.
والمندوب إليه: داخل تحت الأمر، للترغيب لا للالزام.
والأمر بالشئ نهى عن ضده. ولا يدخل الأمر فى الأمر المطلق إلا بدليل.
ويدخل العبيد عنده فى الأمر المطلق. ولا يدخل النساء فى خطاب الذكور.
والزيادة على المأمور به ليس بواجب، مثل تطويل الركوع والسجود. لأنه لا يأثم بتركه. فدل على عدم وجوبه. ولا يقع الأمر من الأمر على وجه مكروه. لأن الحكيم لا يستدعى ما يكره، مع غناه عنه.
وكان يقول رحمه الله: إن النهى يدل على فساد المنهى عنه. وله عنده صيغة.
فإذا ورد الأمر وفيه استثناء من غير جنسه: لم يكن استثناء صحيحا عنده. وقد اختلف فى جميع ذلك أصحابه.
এবং মাদলুল (নির্দেশিত বিষয়) হলো: যা সম্পর্কে বিধান প্রদান করা হয়েছে। আর দলিল (প্রমাণ) স্থাপনকারীর নাম হিসেবেও এর ব্যবহার বৈধ, অর্থাৎ 'মুস্তাদিল' (যিনি প্রমাণ উপস্থাপন করেন)। আর বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রথম নেয়ামত হলো: তিনি তাদের জীবিতাবস্থায় সৃষ্টি করেছেন, তাদের এসকল বিষয়ের যোগ্য করেছেন এবং তাদের সঠিক পথ ও হেদায়েতের যে তাওফিক দিয়েছেন; অতঃপর এরপর থেকে তাদের ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহ অবিরাম বর্ষিত হচ্ছে।
এবং তাঁর নিকট আদেশ (আমর) ওয়াজিব হওয়ার অর্থ প্রদান করে, যদি না এর শব্দ অন্য কিছু নির্দেশকারী কোনো অনুষঙ্গ থেকে মুক্ত থাকে। তাঁর নিকট আদেশের এমন একটি রূপ রয়েছে যা কেবল বাহ্যিক রূপেই এটি যে একটি আদেশ তা নির্দেশ করে; আর তা হলো 'তোমরা করো' শব্দটি। এবং তাঁর নিকট আদেশ অবিলম্বে ও দ্রুত পালনের অর্থ দেয়, বিলম্ব ও অবসরের জন্য নয়। ইমাম আহমাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু পাঠ করতেন: {অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী} [৬৪:১৬], আর ব্যক্তি অবিলম্বে পালনে সামর্থ্য রাখে; সুতরাং বিলম্ব করার কোনো অবকাশ নেই। তিনি এই মত পোষণ করতেন যে, আদেশ পুনরাবৃত্তির দাবি রাখে না, যদি না এমন কোনো অনুষঙ্গ থাকে যা সংখ্যাধিক্যের প্রমাণ দেয়। তিনি বলতেন: ওয়াজিব আদায় হয়ে গেছে এবং (আদেশ পালনকারীকে) অনুগত হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে; আর যখনই আদেশের পুনরাবৃত্তি হয়, তখন তা আদিষ্ট বিষয়ের জন্য তাকিদ (দৃঢ়তা) স্বরূপ হয়, যদি না কাজের পুনরাবৃত্তি করার সংকল্পের ওপর কোনো প্রমাণ থাকে।
তিনি রহিমাহুল্লাহ বলতেন: যদি নিষেধাজ্ঞার পর আদেশের শব্দ আসে, তবে তা বৈধতা (ইবাহাত) নির্দেশ করে, আবশ্যকতা (ইজাব) নয়। তিনি রহিমাহুল্লাহ পাঠ করতেন: {এবং যখন তোমরা ইহরামমুক্ত হবে, তখন তোমরা শিকার করো} [৫:২]। আর আদেশদাতা যখন আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বেশ কিছু কাজ করার মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেন, তখন ওয়াজিব হলো অনির্দিষ্টভাবে যেকোনো একটি, যা দ্বারা অন্যটির ফরযিয়ত রহিত হয় না; এবং তার জন্য সুযোগ আছে সে যা চায় তা গ্রহণ করার। আর যখন এই মর্মে দলিল পাওয়া যায় যে, আদেশের মাধ্যমে ওয়াজিব উদ্দেশ্য নয়, তবে তা কেবল অনুমোদনের ওপরও প্রমাণ দেয় না।
আর মানদুব (পছন্দনীয় কাজ) আদেশের অন্তর্ভুক্ত, যা উৎসাহিত করার জন্য, বাধ্যবাধকতার জন্য নয়।
কোনো কিছুর আদেশ দেওয়া মানে তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করা। আর কোনো আদেশ নিরঙ্কুশ আদেশের অন্তর্ভুক্ত হয় না দলিল ব্যতীত।
তাঁর নিকট দাসগণ সাধারণ আদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে পুরুষবাচক সম্বোধনে নারীরা অন্তর্ভুক্ত হয় না।
আর আদিষ্ট বিষয়ের অতিরিক্ত অংশ ওয়াজিব নয়, যেমন রুকু ও সিজদাহ দীর্ঘ করা; কারণ তা বর্জন করার কারণে কেউ গুনাহগার হয় না, যা এর ওয়াজিব না হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়। আর আদেশদাতার পক্ষ থেকে আদেশ মাকরুহ (অপছন্দনীয়) পন্থায় সংঘটিত হয় না; কারণ মহাজ্ঞানী এমন কিছুর আহ্বান করেন না যা তিনি অপছন্দ করেন, অথচ তিনি এর থেকে অমুখাপেক্ষী।
তিনি রহিমাহুল্লাহ বলতেন: নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ বিষয়টি ফাসাদ বা বাতিল হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়। আর তাঁর নিকট নিষেধাজ্ঞার নির্দিষ্ট রূপ রয়েছে।
সুতরাং যখন কোনো আদেশ আসে এবং তাতে ভিন্ন জাতীয় কোনো বিষয় থেকে ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা) থাকে, তবে তা তাঁর নিকট সঠিক ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয় না। আর তাঁর অনুসারীগণ এই সকল বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮৩)
وكان من مذهبه: صحة القول بالعموم، وأن له صيغة تدل على استغراق الجنس، كقوله تعالى {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ} وبعض أصحابه كان يمنع منه، ولا يقول به. ومتى ورد لفظ العموم، ثم ورد تخصيص لبعضه: فالباقى على عمومه، لأنه إخراج بالدليل لبعضه. فأصله على ظاهره.
وكان رحمه الله يذهب إلى القول بدليل الخطاب فى أنه حجة لله على خلقه.
ويقول: هو مفهوم قول العرب، وجريان اللسان العربى، خوطبنا به. والتنبيه على الحكم أقوى عند بعض أصحابه من دليل الخطاب.
وكان رحمه الله لا يجوز تأخير البيان للخطاب المجمل. لأنه يفضى عنده إلى اعتقاد المكلف خلاف المراد. وهذا لا يوصف به من يريد لعباده الإرشاد.
وكان رحمه الله يقول: إذا فعل النبى صلى الله عليه وسلم فعلا، ودل الدليل على أنه غير خاص به، وخرج مخرج البيان منه: فهو على الوجوب. ويجب اتباعه عليه. ويقرأ (21:33 {لَقَدْ كانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ)} ويروى عنه صلى الله عليه وسلم «صلوا كما رأيتمونى أصلى»
وكان رحمه الله يسوغ الاجتهاد فى الدين، إذا حدثت الحوادث التى لا نصوص عليها، ويقول: إن الحق فى أحد جهتى المجتهدين. فالمصيب له أجران، والمخطئ له أجر. والطّلبة: إصابة الدليل. ويقول: إن العامى يمكنه ضرب من الاجتهاد، وهو طلب الأوثق فى نفسه، والأدين عنده والأعلم.
وكان يقول: العالم لا يقلد أحدا، وإن ضاق عليه وقت الحادثة. وكان النبى صلّى الله عليه لا يجتهد. لأن الوحى غير ممتنع عليه. ومن أصحابه من جوزه.
وكان يجوز الاجتهاد بحضرته صلى الله عليه وسلم لأنه من طاعات المجتهدين عنده. والطاعة بحضرته غير قبيحة.
وكان يذهب رحمه الله إلى أن أدلة الله سبحانه فى الأحكام الشرعية والحوادث التى لا تدخل تحت العلوم الضرورية: مأخوذة من أصول خمس.
তাঁর মাযহাব বা মতাদর্শের অন্তর্ভুক্ত ছিল: আম (সাধারণ শব্দ)-এর বক্তব্যের সঠিকতা এবং এর এমন একটি রূপ রয়েছে যা সমগ্র শ্রেণীকে অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ প্রকাশ করে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {মুশরিকদের হত্যা করো}। তবে তাঁর কিছু অনুসারী এটি নিষেধ করতেন এবং এই মত পোষণ করতেন না। যখন কোনো আম (সাধারণ) শব্দ আসে এবং পরবর্তীতে তার কোনো অংশের জন্য তাখসিস (বিশেষায়ন) সাব্যস্ত হয়, তখন অবশিষ্ট অংশ তার আম বা সাধারণত্বের ওপরই বহাল থাকে। কেননা এটি দলিলের মাধ্যমে তার কিয়দাংশকে বাদ দেওয়া মাত্র। সুতরাং এর মূল ভিত্তি তার প্রকাশ্য (জাহির) অর্থের ওপরই থাকে।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) 'দলীলুল খিতাব' (বক্তব্যের ইঙ্গিত)-এর বিষয়ে এই মত পোষণ করতেন যে, এটি সৃষ্টির ওপর আল্লাহর একটি হুজ্জত বা দলিল।
তিনি বলতেন: এটি আরবদের বক্তব্যের মর্মার্থ এবং আরবি ভাষার স্বকীয় রীতি, যার মাধ্যমে আমাদের সম্বোধন করা হয়েছে। তাঁর কিছু অনুসারীর নিকট হুকুমের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান (তানবিহ আলাল হুকুম) 'দলীলুল খিতাব'-এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মুজমাল (অস্পষ্ট) বক্তব্যের বয়ান বা ব্যাখ্যা বিলম্বিত করা বৈধ মনে করতেন না। কারণ তাঁর মতে এটি মুকাল্লাফকে (শরয়ি বিধান পালনে আদিষ্ট ব্যক্তি) উদ্দিষ্ট বিষয়ের বিপরীত বিশ্বাস পোষণ করার দিকে ধাবিত করে। আর যিনি তাঁর বান্দাদের হেদায়েত বা পথপ্রদর্শন করতে চান, তাঁর ব্যাপারে এমনটি সমীচীন নয়।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো কাজ করতেন এবং দলিল দ্বারা প্রমাণিত হতো যে তা কেবল তাঁর সাথে নির্দিষ্ট নয় বরং তা বয়ান বা ব্যাখ্যা হিসেবে এসেছে, তখন তা ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হবে। এবং তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক হবে। তিনি পাঠ করতেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে} এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।"
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) দ্বীনের বিষয়ে ইজতিহাদ করা জায়েজ মনে করতেন যখন এমন কোনো ঘটনা ঘটত যার ব্যাপারে কোনো নাস বা অকাট্য পাঠ নেই। তিনি বলতেন: সত্য মুজতাহিদগণের যেকোনো এক পক্ষের সাথেই থাকে। সুতরাং যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান তাঁর জন্য দুটি সওয়াব এবং যিনি ভুল করেন তাঁর জন্য একটি সওয়াব রয়েছে। লক্ষ্য হলো দলিলে উপনীত হওয়া। তিনি আরও বলতেন: একজন সাধারণ ব্যক্তির (আম্মি) পক্ষেও এক প্রকার ইজতিহাদ করা সম্ভব, আর তা হলো নিজের বিবেচনায় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, দ্বীনদার এবং অধিক আলেম ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা।
তিনি বলতেন: একজন আলেম কাউকে তাকলিদ করবেন না, যদিও উদ্ভূত পরিস্থিতির সময় সংকীর্ণ হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইজতিহাদ করতেন না, কারণ তাঁর জন্য ওহি আসা অসম্ভব ছিল না। তবে তাঁর কিছু অনুসারী এটিকে জায়েজ বলেছেন।
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে ইজতিহাদ করা জায়েজ মনে করতেন; কারণ তাঁর মতে এটি মুজতাহিদদের আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর তাঁর উপস্থিতিতে আনুগত্য প্রকাশ করা অনুচিত নয়।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই মত পোষণ করতেন যে, শরয়ি বিধান এবং এমন সব ঘটনার ক্ষেত্রে যা স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞানের (উলূমে দরুরিয়্যাহ) আওতাভুক্ত নয়, সে বিষয়ে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দলিলসমূহ পাঁচটি মূলনীতি থেকে গৃহীত।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮৪)
فأولها: كتاب الله. ويقرأ (38:6 {ما فَرَّطْنا فِي الْكِتابِ مِنْ شَيْءٍ)}
والثانى: سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويتلو (59:4 {فَإِنْ تَنازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ)} والرجوع إليه صلى الله عليه وسلم بعد عدمه: إنما هو إلى سنته. ويروى «عليكم بسنتى» ويقرأ (7:59 {وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَما نَهاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا)}.
الثالث: إجماع أهل العصر من العلماء، أهل العقد والحمل إذا لم يختلفوا.
فإن خالف بعضهم - ولو واحد منهم - لم يكن إجماعا. وإذا انتشر القول عن بعضهم، وعلمه جميعهم، فلم ينكروا شيئا منه: فهو إجماع.
وكان يقول: الإجماع إجماع الصحابة. ومن سواهم تبع لهم.
وذهب بعض أصحابه إلى أن إجماع كل عصر على الشرط الأول بمنزلة إجماع الصحابة، ويروى «لا تجتمع أمتى على ضلالة».
وكان رحمه الله يحب إجماع أهل المدينة، ويقدمه على غيره، لا لأنه لا إجماع إلا منهم، ولكن لأنهم أشد اتباعا، وأكثر رواية، وأخص دراية بأفعال الرسول ومن كان بعده، وكل مصر: فهذا معدوم فيه. لأنها داره ومسكنه ومقر أفعاله، وتناهى بيانه، ولم يقبضه الله إلا على أفضل الأحوال بإجماعهم على علم أقر الله عليه رسوله. فلذلك اعتمد عليه، وزاده ميلا إليه.
وكان يختار قراءة نافع بن أبى نعيم. ويأمر بها، ويكره الإمالة. ويحب التفخيم. ويذكر بعد نافع أبا بكر بن عياش. ويختار نقله عن عاصم بن بهدلة، لوضوح نقل نافع، وثقة ابن عياش.
وأصحابه جوزوا صحة انعقاد الإجماع من طريق القياس. لأنه عندهم صادر عن الدليل، متعبّد به ومعول عليه. فهو كما لو انعقد عن آية أو سنة.
والرابع: قول الواحد من الصحابة إذا انتشر، ولم يعرف له منكر أنكره.
ويروى «أصحابى كالنجوم، بأيهم اقتديتم اهتديتم» فيكون قول الصحابى على
প্রথমটি হলো: আল্লাহর কিতাব। আর তিনি পাঠ করতেন (৬:৩৮ {আমরা কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি})।
দ্বিতীয়টি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ। আর তিনি তিলাওয়াত করতেন (৪:৫৯ {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও})। আর তাঁর ওফাতের পর তাঁর কাছে ফিরে যাওয়ার অর্থ হলো তাঁর সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়া। বর্ণিত আছে, "তোমরা আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো"। তিনি আরও পাঠ করতেন (৫৯:৭ {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো})।
তৃতীয়টি হলো: কোনো যুগের আলিমদের ইজমা, যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বহনের যোগ্য, যখন তারা মতবিরোধ করেন না।
যদি তাদের কেউ ভিন্নমত পোষণ করেন - এমনকি মাত্র একজনও হয় - তবে তা ইজমা হবে না। আর যদি কোনো উক্তি তাদের কারো কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা সবাই তা জানতে পারেন, অথচ তারা কেউ তা অস্বীকার না করেন, তবে তা ইজমা।
তিনি বলতেন: ইজমা হলো সাহাবীদের ইজমা। আর অন্যরা তাদের অনুসারী।
তাঁর কিছু সাথী এই মত পোষণ করেছেন যে, প্রথম শর্ত অনুযায়ী প্রতি যুগের ইজমা সাহাবীদের ইজমাহর সমতুল্য। বর্ণিত আছে, "আমার উম্মত পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না"।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মদিনাবাসীদের ইজমাকে পছন্দ করতেন এবং একে অন্যের ওপর প্রাধান্য দিতেন; এমনটি নয় যে তাদের ছাড়া অন্য কারো ইজমা নেই, বরং এজন্য যে তারা ছিলেন সুন্নাহর অধিক অনুসারী, রেওয়ায়াতের দিক থেকে অধিক সমৃদ্ধ এবং রাসূল ও তাঁর পরবর্তীগণের কর্ম সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। অন্য কোনো শহরের ক্ষেত্রে এমনটি ছিল না। কারণ মদিনা ছিল তাঁর আবাসস্থল, বাসস্থান এবং তাঁর কর্মসমূহের কেন্দ্রস্থল, আর এখানেই তাঁর শরীয়তের ব্যাখ্যা পূর্ণতা লাভ করেছিল। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম অবস্থায় মৃত্যু দান করেছেন, এমতাবস্থায় যে তারা এমন ইলমের ওপর একমত ছিল যার ওপর আল্লাহ তাঁর রাসূলকে প্রতিষ্ঠিত রেখেছিলেন। এজন্যই তিনি এর ওপর নির্ভর করতেন এবং এর প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল।
তিনি নাফে বিন আবি নুয়াইমের কিরাত পছন্দ করতেন এবং তা পাঠের নির্দেশ দিতেন। তিনি ইমালা অপছন্দ করতেন এবং তাফখীম (স্পষ্ট ও গম্ভীর স্বরে পাঠ) পছন্দ করতেন। তিনি নাফের পর আবু বকর বিন আয়্যাশকে উল্লেখ করতেন। তিনি আসিম বিন বাহদালার নিকট থেকে তাঁর বর্ণনা পছন্দ করতেন; কারণ নাফের বর্ণনা ছিল সুস্পষ্ট এবং ইবনে আয়্যাশ ছিলেন নির্ভরযোগ্য।
তাঁর সাথীগণ কিয়াসের মাধ্যমে ইজমা সংগঠিত হওয়া বৈধ বলে মনে করতেন। কারণ তাদের নিকট এটি দলীল থেকে উৎসারিত, এর মাধ্যমে ইবাদত করা হয় এবং এর ওপর নির্ভর করা হয়। সুতরাং এটি তেমনই যেন আয়াত বা সুন্নাহ থেকে ইজমা সংগঠিত হয়েছে।
চতুর্থটি হলো: কোনো একজন সাহাবীর উক্তি যখন তা ছড়িয়ে পড়ে এবং তার কোনো বিরোধী জানা না যায়।
বর্ণিত আছে, "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের যারই অনুসরণ করবে পথপ্রদর্শন পাবে"। সুতরাং সাহাবীর উক্তি হবে...
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮৫)
الصفة المذكورة، كقوله صلى الله عليه وسلم فى شهادته بالهداية. وإذا صار التابعى من أهل الاجتهاد: دخل مع الصحابة فى إجماعهم، واعتبر خلافه. وكذلك عنده إذا اختلف الصحابة على قولين وانقرض العصر على أحدهما: جاز القول بالآخر عنده بعدهم، على خلاف بين أصحابه.
والخامس: القياس. وهو رد الشئ إلى نظيره بعلة تجمع بين أصله وفرعه.
فإن عدم ذلك فلا قياس.
وكان يقول بالقياس من طريق الشبه والمقاربة، حتى يكون له علة صحيحة تجمع بين الأصل والفرع.
وكان يمنع رحمه الله من القول بالاستحسان، ليس الدين عنده مأخوذا من طريق الحسن الجميل. فإن فى الشرع حسنا يقبحه العقل
(1). فلا حكم للاستحسان. وقد روى عنه: أنه استحسن فى بعض المواضع. وذلك محمول - من قوله على استحسان طريق حديث على غيره، أو قول صحابى خالفه سواه.
واستحسن قوة علته. فغلّب الحكم بعلة على غيرها. فإن الحكم قد ثبت بعلل شتى
وكان يقول: لا يجوز القياس على ما ورد مخصصا فى غيره، أو زمان أو مكان.
لأن التعيين عنده: يمنع إلحاق مثله به، إذا كان مما يقاس عليه، لما خص بذكر مقصور عليه.
وكان رحمه الله يجعل القياس فى الأدلة بمنزلة الميتة، مع الضرورة، والتراب عند عدم الماء. وأما استنباط الدليل منها: فحرام عنده، ممنوع منه.
وكان يقول بالقطع فى خبر التواتر، إذا كان مثله لا يجوز التواطؤ عليه، ولا الاجتماع على كتمان الحق فيه، ويقول: لا تجتمع الدواعى على كتمان الصدق.
ولا يصح ذلك فى عدد كثير فى العصر الواحد. ويصح الاجتماع على الصحة والصدق، لتوافر الدواعى عليه.
--------------------------------------------
উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য, যেমন হিদায়াতের সাক্ষ্য প্রদানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী। আর যখন কোনো তাবেয়ি ইজতিহাদ করার যোগ্য স্তরে উপনীত হন, তখন তিনি সাহাবায়ে কেরামের ইজমার অন্তর্ভুক্ত হন এবং তাঁর ভিন্নমতকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়। একইভাবে তাঁর নিকট, যদি সাহাবায়ে কেরাম দুটি মতের ওপর দ্বিমত পোষণ করেন এবং তাঁদের যুগ শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি মতের ওপর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তাঁদের পরে অন্য মতটি গ্রহণ করা তাঁর নিকট জায়েজ; যদিও এ বিষয়ে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
পঞ্চম: কিয়াস। আর তা হলো কোনো বিষয়কে তার সদৃশ বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া এমন একটি সাধারণ কারণের (ইল্লত) ভিত্তিতে, যা তার মূল (আসল) ও শাখা (ফর’)-কে একত্রিত করে।
যদি তা অনুপস্থিত থাকে, তবে কিয়াস হবে না।
তিনি সাদৃশ্য ও নিকটবর্তিতার ভিত্তিতে কিয়াস করার কথা বলতেন, যতক্ষণ না তার জন্য এমন একটি সহীহ ইল্লত পাওয়া যায় যা মূল ও শাখাকে একত্রিত করে।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ইসতিহসান (উত্তম মনে করা)-এর ভিত্তিতে রায় প্রদান করা থেকে নিষেধ করতেন; কেননা তাঁর নিকট দ্বীন বাহ্যিক সৌন্দর্য বা ভালো লাগার পথ থেকে গ্রহণীয় নয়। কারণ শরিয়তে এমন অনেক উত্তম বিষয় রয়েছে যা বুদ্ধি বা বিবেক হয়তো মন্দ মনে করতে পারে
(১)। সুতরাং ইসতিহসানের কোনো হুকুম নেই। তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কোনো কোনো স্থানে ইসতিহসান করেছেন। তাঁর সেই কথাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয় যে, তিনি একটি হাদিসের বর্ণনা পদ্ধতিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন অথবা কোনো সাহাবীর বক্তব্যকে অন্যটির ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
এবং তিনি ইল্লতের সবলতাকে উত্তম মনে করতেন। ফলে তিনি এক ইল্লতের ভিত্তিতে প্রদত্ত হুকুমকে অন্যটির ওপর বিজয়ী করতেন। কেননা একটি হুকুম বিভিন্ন ইল্লতের মাধ্যমে সাব্যস্ত হতে পারে।
তিনি বলতেন: এমন কোনো বিষয়ের ওপর কিয়াস করা জায়েজ নয় যা অন্য কোনো বিষয়, সময় বা স্থানের জন্য খাস বা সুনির্দিষ্ট হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
কেননা তাঁর নিকট কোনো কিছুর সুনির্দিষ্টকরণ তার সদৃশ অন্য কিছুকে তার সাথে সংযুক্ত করতে বাধা দেয়—যদিও তা কিয়াসযোগ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়—যেহেতু তা কেবল সেই নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্যই খাস করা হয়েছে।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) দলিলের ক্ষেত্রে কিয়াসকে নিরুপায় অবস্থায় মৃত প্রাণী ভক্ষণ এবং পানি না থাকা অবস্থায় মাটির (তায়াম্মুমের) স্থলাভিষিক্ত মনে করতেন। আর তা থেকে দলিল উদ্ঘাটন করা তাঁর নিকট হারাম ও নিষিদ্ধ।
তিনি মুতাওয়াতির খবরের ক্ষেত্রে অকাট্যতার (কাতয়ি) কথা বলতেন, যদি তা এমন পর্যায়ের হয় যে তাতে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া বা সত্য গোপনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব হয়। তিনি বলতেন: সত্য গোপনের উদ্দেশ্যে সকলের প্রবৃত্তি বা প্রেরণা একত্রিত হতে পারে না।
এক যুগে বিপুল সংখ্যক লোকের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটা সম্ভব নয়। তবে সঠিকতা ও সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব, কারণ তার অনুকূলে অনেক কারণ বা প্রেরণা বিদ্যমান থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮৬)
فأما خبر الواحد: فيوجب العمل بموجبه، والمصير إلى حكم نطقه، دون القطع بعينه. لأنه يجوز عليه ما لا يجوز على المتواتر. وإنما يحسن فيه الظن بالناقل أو الجهل بالراوى. وكان رحمه الله تعالى يقرأ (122:9 {فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ. لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ)} فأمر بنفير طائفة، وذكر إنذارها عند عودها. وهذا ليس من طريق التواتر. فثبت جواز قبول خبر الواحد، وقد روى أن أهل قباء تحولوا إلى البيت الحرام عن بيت المقدس لخبر واحد. وكان عليه الصلاة والسلام يقبل الكتب، وينفذ الرسل، ويقبل الهدية، وينكح الزوجة بتسليم أهلها. وهذا كله خبر واحد.
وقد حكى عن بعض أصحابه أنه كان يقول: إنه يوجب العلم.
وما وجدته من لفظه، ولا أظنه يذهب إليه.
وكان رحمه الله ينبه على القول باستصحاب الحال. لأنه كان يسأل عن المسألة التى فيها غموض، فيقول: لم ينقل فى ذلك شئ. أو لم يرو فيه شئ. وهذا صريح فى القول باستصحاب الحال. لأنه لا يجد حكما، فيحمل الذمة على براءتها، والساحة على فراغها، والهمة على خلوها، والضمائر على انطلاقها.
وكان رضى الله عنه لا يرى القول بشريعة من مضى. ويقول: هى منسوخة وليست شريعة لنا فى الأحكام، وإن وافقت شرعنا ولم يرد نسخ ما فيها من الموافقة. ويقول: قال الله تعالى (48:5 {لِكُلٍّ جَعَلْنا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهاجاً)}
ومن أصحابه من قال: هى شريعة لنا، إلا أن يرد النسخ.
ولا أدرى حكاه عن نفسه أو وجده من لفظ إمامه، ويستدل بقوله:
(13:42 {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ ما وَصّى بِهِ نُوحاً} - الآية)
وكان يذهب إلى أن لفظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الأحكام أعم من السبب الذى خرج عليه الكلام، إلا أن يكون الجواب مقصورا على السبب فلا يتعداه. قال: لأن النبى عليه الصلاة والسلام يجوز أن يسأل عن شئ
একক বর্ণনা (খবরে ওয়াহেদ) সম্পর্কে কথা হলো: এটি এর দাবি অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব করে এবং এর ভাষাগত বিধানের দিকে ধাবিত হওয়া আবশ্যক করে, তবে এর দ্বারা বিষয়টি নিশ্চিতভাবে (কাতঈভাবে) প্রমাণিত হয় না। কারণ একক বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটা সম্ভব যা মুতাওয়াতির বর্ণনার ক্ষেত্রে অসম্ভব। এতে কেবল বর্ণনাকারীর প্রতি সুধারণা পোষণ করা হয় অথবা বর্ণনাকারী সম্পর্কে অজ্ঞতা থাকে। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তিলাওয়াত করতেন: (৯:১২২) "তবে কেন তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ বের হলো না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওমের কাছে ফিরে এসে তাদের সতর্ক করতে পারে? যেন তারা সতর্ক হয়।" এখানে তিনি একটি ক্ষুদ্র দলকে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ফিরে আসার পর তাদের সতর্ক করার কথা উল্লেখ করেছেন। এটি মুতাওয়াতির পদ্ধতি নয়। এর মাধ্যমে একক বর্ণনা গ্রহণ করা বৈধ হওয়া সাব্যস্ত হলো। আর এটিও বর্ণিত আছে যে, কুবা-বাসী কেবল একজন ব্যক্তির সংবাদের ভিত্তিতেই বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবা ঘরের দিকে মুখ ফিরিয়েছিলেন। নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) পত্রাদি গ্রহণ করতেন, দূত প্রেরণ করতেন, উপহার গ্রহণ করতেন এবং পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে বিয়ে সম্পন্ন করতেন। আর এই সবই একক সংবাদের অন্তর্ভুক্ত।
তাঁর কোনো কোনো সাথী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন: এটি নিশ্চিত জ্ঞান (ইলম) প্রদান করে।
তবে আমি তাঁর নিজের বক্তব্যে এমন কিছু পাইনি এবং আমার মনে হয় না যে তিনি এই মত পোষণ করতেন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) 'ইসতিসহাবুল হাল' (পূর্বাবস্থা বজায় রাখা)-এর মতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। কারণ তাঁকে যখন কোনো অস্পষ্ট মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি বলতেন: "এই বিষয়ে কিছু বর্ণিত হয়নি" অথবা "এই বিষয়ে কোনো বর্ণনা নেই।" এটি 'ইসতিসহাবুল হাল' এর মতের সপক্ষে একটি স্পষ্ট বক্তব্য। কারণ তিনি যখন কোনো বিধান পান না, তখন মানুষের জিম্মাহ বা দায়বদ্ধতাকে দায়মুক্ত বলে বিবেচনা করেন, ক্ষেত্রকে দায়ভারহীন মনে করেন, সংকল্পকে শূন্য এবং বিবেককে মুক্ত বলে ধরে নেন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) পূর্ববর্তী উম্মতদের শরীয়ত অনুসরণের মত পোষণ করতেন না। তিনি বলতেন: সেগুলো মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে এবং তা আমাদের জন্য শরীয়ত নয়, যদিও তা আমাদের শরীয়তের সাথে মিলে যায় এবং সেই মিল থাকা সত্ত্বেও তা রহিত হওয়ার কথা না আসে। তিনি বলতেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন (৫:৪৮): "তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি নির্দিষ্ট শরীয়ত ও জীবনপন্থা নির্ধারণ করেছি।"
তাঁর সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: পূর্ববর্তী শরীয়ত আমাদের জন্যও শরীয়ত, যতক্ষণ না তা রহিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
আমি জানি না তিনি এটি নিজের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন নাকি তাঁর ইমামের বক্তব্য থেকে পেয়েছেন, তবে তিনি দলিল হিসেবে আল্লাহর এই বাণী পেশ করেন: (৪২:১৩) "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারণ করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন..." (আয়াতের অংশ)।
তাঁর মত ছিল যে, বিধানের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সেই সুনির্দিষ্ট কারণের (সবব) চেয়েও ব্যাপকতর যে প্রেক্ষিতে কথাটি উচ্চারিত হয়েছে, যদি না উত্তরটি কেবল সেই কারণের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং একে অতিক্রম না করে। তিনি বলেন: কারণ নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-কে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা সম্ভব...
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮৭)
فيجيب عنه وعن غيره، مثل ما أجاب فى ماء البحر. فلما جاز أن يعم الجواب ولا يقصره على سببه: وجب الأخذ بعموم لفظه، دون خصوص سببه.
وكان رحمه الله يذهب إلى أن الله تعالى ورسوله عليه الصلاة والسلام إذا قالا قولا، فتضمن عددا يأتى فى آخره كناية أو تقييد أو استثناء: فذاك راجع إلى جميع المذكور. دون الخطاب الذى قبله. لأن هذا لسان العرب عنده. فإنه لو قال رجل من العرب: اقتلوا ذهلا وتميما وقيسا، إلا النساء والصبيان. فإن ذلك راجع إلى نساء الجميع وصبيانهم. وكذلك خطاب الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم
وكان رحمه الله يذهب إلى أن الصحابى إذا قال قولا مخالفا للقياس، فهو مقدم على القياس. والظاهر: أنه قاله توقيفا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لحديث عمر عليه السلام: أنه حكم فى إحدى عينى الدابة بربع قيمتها. وتقدير ابن مسعود فى رد الآبق أربعين درهما. وحديث ابن عباس فيمن نذر أن يذبح ابنه: أن يذبح كبشا. قال لأن الظن فيهم: أنهم بطرق القياس أعلم، وبما يوجب الحكم به أفهم. لأن الله أثنى عليهم، والرسول أمر باتباعهم. فلا يعدلون عن موجب القياس إلا لما هو أقوى منه. فهو نص عن الرسول صلى الله عليه وسلم
وكان رحمه الله يكره تخصيص الظاهر بالقياس. لأن الظاهر عنده أقوى.
فلا يخص بالأضعف
وأكثر أصحابه أجازوه. لأنه دليل تخصيص الظاهر كالنطق
وكان رحمه الله إذا تعارضت الأخبار عنده: حمل كل واحد على وجهه إن أمكن. فإن لم يمكن، وأدى ذلك إلى التناقض: قدم أكثرها رواة، وأعلم الناقلين، فإن تساوت فى ذلك: فما عضده الإجماع، أو قواه القياس. فإن كان أحدهما مثبتا والآخر نافيا: قدم المثبت. لأنه يوجب حكما. وكذلك الحاظر يقدمه على المبيح. وكذلك إذا كان فى أحدهما نقل عن العادة إلى العبادة: قدم الناقل.
كل ذلك طلبا لزيادة الحكم. فإن الأصل البراءة. والدين تكليف. فيقدم شرط
তিনি এর উত্তর দিতেন এবং এটি ছাড়াও অন্য বিষয়েও উত্তর দিতেন, যেমনটি তিনি সমুদ্রের পানি সম্পর্কে উত্তর দিয়েছেন। যেহেতু উত্তরটি ব্যাপক হওয়া জায়েজ এবং তা কেবল তার সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে সীমাবদ্ধ নয়, তাই শব্দের ব্যাপকতাকে (উমুম) গ্রহণ করা আবশ্যক, তার প্রেক্ষাপটের সুনির্দিষ্টতাকে (খুসসুস) নয়।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই মত পোষণ করতেন যে, যখন মহান আল্লাহ এবং তাঁর রসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কোনো কথা বলেন এবং তাতে একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে যার শেষে কোনো ইঙ্গিত (কিনায়েহ), সীমাবদ্ধকরণ (তাকয়ীদ) অথবা ব্যতিক্রম (ইস্তিসনা) আসে, তবে তা উল্লেখিত সকল বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে; কেবল তার পূর্ববর্তী বাক্যের দিকে নয়। কারণ তাঁর নিকট এটিই হলো আরবদের ভাষাশৈলী। কেননা যদি কোনো আরব ব্যক্তি বলে: "তোমরা যুহল, তামীম এবং কায়সকে হত্যা করো, কেবল নারী ও শিশুদের ব্যতীত," তবে এই ব্যতিক্রম সকলের নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। মহান আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই মত পোষণ করতেন যে, যখন কোনো সাহাবী কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) পরিপন্থী কোনো কথা বলেন, তখন তা কিয়াসের ওপর প্রাধান্য পাবে। আর প্রকাশ্য বিষয় হলো, তিনি তা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রাপ্ত সরাসরি নির্দেশের (তাওকীফ) ভিত্তিতেই বলেছেন। এর প্রমাণ হিসেবে উমর (আলাইহিস সালাম)-এর হাদীস উল্লেখযোগ্য যে, তিনি চতুষ্পদ জন্তুর একটি চোখের আঘাতের বিনিময়ে তার মূল্যের এক-চতুর্থাংশ প্রদানের ফয়সালা দিয়েছিলেন; এবং পলাতক দাস ফিরিয়ে দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে ইবনে মাসউদের চল্লিশ দিরহাম নির্ধারণ করা; এবং ইবনে আব্বাসের সেই হাদীস—যে ব্যক্তি নিজের সন্তানকে যবেহ করার মানত করেছিল, তাকে একটি দুম্বা যবেহ করার নির্দেশ দেওয়া। তিনি বলেন, কারণ তাঁদের সম্পর্কে প্রবল ধারণা হলো এই যে, তাঁরা কিয়াসের পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী এবং যা দ্বারা হুকুম সাব্যস্ত করা আবশ্যক হয় সে সম্পর্কে অধিক সমঝদার। কেননা আল্লাহ তাঁদের প্রশংসা করেছেন এবং রসূল তাঁদের অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তাঁরা কিয়াসের দাবি থেকে বিমুখ হন না, কেবল তার চেয়ে শক্তিশালী কোনো প্রমাণের ভিত্তিতেই তা করে থাকেন। আর তা হলো আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (নস)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) কিয়াসের মাধ্যমে প্রকাশ্য অর্থকে (যহির) সুনির্দিষ্ট (খাস) করা অপছন্দ করতেন। কারণ তাঁর নিকট যহির অধিক শক্তিশালী।
তাই অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলিল দ্বারা তাকে খাস করা যাবে না।
তবে তাঁর অধিকাংশ অনুসারী এটি জায়েজ বলেছেন। কারণ এটি বাচনিক নসের মতোই যহিরকে খাস করার একটি দলিল।
তাঁর নিকট যখন হাদীসসমূহের (আখবার) মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিত, তখন সম্ভব হলে তিনি প্রত্যেকটিকে তার নিজস্ব সঠিক প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করতেন। যদি তা সম্ভব না হতো এবং বিষয়টি পরস্পরবিরোধিতার দিকে নিয়ে যেত, তবে তিনি অধিক সংখ্যক রাবী সম্বলিত এবং অধিক জ্ঞানী বর্ণনাকারীদের বর্ণনাকে প্রাধান্য দিতেন। যদি সে ক্ষেত্রেও তারা সমান হতো, তবে যেটিকে ইজমা সমর্থন করে অথবা কিয়াস শক্তিশালী করে সেটিকে গ্রহণ করতেন। যদি তাদের মধ্যে একটি বিধান সাব্যস্তকারী এবং অন্যটি অস্বীকারকারী হয়, তবে সাব্যস্তকারীকে প্রাধান্য দিতেন; কারণ এটি একটি নতুন বিধান কার্যকর করে। অনুরূপভাবে, তিনি নিষিদ্ধকারীকে বৈধতাদানকারীর ওপর প্রাধান্য দিতেন। তেমনিভাবে যদি তাদের কোনো একটিতে সাধারণ প্রথা থেকে ইবাদতের দিকে পরিবর্তনের বর্ণনা থাকে, তবে পরিবর্তনকারী বর্ণনাটিকেই তিনি প্রাধান্য দিতেন।
এ সব কিছুই ছিল অতিরিক্ত বিধান অনুসন্ধানের লক্ষ্যে। কারণ মূলনীতি হলো দায়মুক্তি (বারাআত)। আর দ্বীন হলো অর্পিত দায়িত্ব (তাকলীফ)। তাই শর্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮৮)
التكليف على أصل التخفيف. وبهما علم له تاريخ: قدم المتأخر. فإن جهل ذلك - وكان أحدهما خاصا والآخر عاما - قضى بالخاص.
وكان رحمه الله يرجح أدلة الشرع بعضها على بعض: إما بكثرة الرواية، أو كثرة الاستعمال، أو تقديم فضلاء النقل على غيرهم، أو زيادة حكم من الأحكام وإن قل، أو ما يشهد له القياس، أو لكون أحدهما أشبه بظاهر الكتاب، أو يكون أحدهما قولا والآخر فعلا. فالقول أعم، أو يكون أحدهما مسندا إلى قوله والآخر مستدلا منه على قوله، أو يقول الراوى «سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم» ويقول الآخر «عن النبى صلى الله عليه وسلم» فالسامع أولى، أو يكون أحدهما يعضده استعمال بعض الصحابة، أو يكون رواية أحد الخلفاء الراشدين، وضروب أخرى من الترجيحات. كل ذلك لاحتياطه رحمه الله. وقد استدل فى فسخ الحج: أن خمسة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فعلوه، لا سيما مراسيل التابعين.
وكان من شيوخ أصحابه رحمهم الله من يمنع تخصيص العلة الشرعية، ويقولون: ذلك نقض لها، وفساد، كما يقولون فى تخصيص العلة العقلية. وكان بعضهم يستمر على جواز تخصيص العلة الشرعية، ويقول: هى أمارة على الحكم كالخبر، ويجوز تخصيص بعض الخبر، كذلك العلة. وأكثرهم يأبى ذلك
ولاح لنا من كلامه رحمه الله: أن الأشياء قبل ورود الشرع على الحظر، وأن استعمال الأعيان بغير إذن مالكها لا يجوز. وبعض أصحابه قال: هى على الإباحة. وكان ينصره شيخنا أبو الحسن التميمى، رحمه الله. وكان بعض شيوخى رحمه الله يقول: هى على الوقف إلى أن يرد الدليل. والذى أذهب إليه: أن الله ما أخلى عصرا من الأعصار من حجة له، ومبين عنه فلا تتصور هذه المسألة.
وكان رحمه الله يقول فى العلماء الحسن الجميل، ويجيب السائل عن المتهم منهم والمقدوح فيه بأحسن عبارة. فيقول: غيره أحب إلى منه
শরীয়তের বিধিবিধান সহজীকরণের মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ দুটির মাধ্যমে এর ইতিহাস জানা যায়: অর্থাৎ পরবর্তীটি পূর্ববর্তীটির ওপর অগ্রগণ্য হওয়া। যদি তা অজ্ঞাত থাকে—এবং একটি বিশেষ (খাস) ও অন্যটি সাধারণ (আম) হয়—তবে বিশেষটি দ্বারা ফয়সালা করা হবে।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) শরীয়তের দলীলসমূহের একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য দিতেন: হয় বর্ণনার আধিক্যের কারণে, অথবা ব্যবহারের আধিক্যের কারণে, অথবা বর্ণনাকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠদের অন্যদের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে, অথবা কোনো বিধানের সংযোজনের কারণে যদিও তা সামান্য হয়, অথবা কিয়াস যার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়, অথবা কোনো একটি কুরআনের স্পষ্ট অর্থের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে, অথবা কোনো একটি কথা এবং অন্যটি কাজ হওয়ার কারণে। এক্ষেত্রে কথাটি অধিক ব্যাপক, অথবা কোনোটি সরাসরি তাঁর কথা হিসেবে বর্ণিত হওয়া আর অন্যটি তাঁর কথা থেকে অনুমিত হওয়া, অথবা কোনো বর্ণনাকারী যদি বলেন "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি" এবং অন্যজন বলেন "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত", তবে সরাসরি শ্রবণকারী অগ্রাধিকারযোগ্য, অথবা কোনো একটিকে কিছু সাহাবীর আমল সমর্থন করে, অথবা কোনোটি খোলাফায়ে রাশেদীনের কোনো একজনের বর্ণনা হওয়া, এবং আরও বিভিন্ন প্রকারের অগ্রাধিকারের পদ্ধতি। এসবই ছিল তাঁর সতর্কতার কারণে। তিনি হজ্জ বাতিলের সপক্ষে এই দলীল পেশ করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাঁচজন সাহাবী তা করেছেন, বিশেষ করে তাবেয়ীদের মুরসাল বর্ণনাগুলো।
তাঁর অনুসারীদের প্রবীণ আলিমগণের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা শরয়ী ইল্লত (কার্যকারণ) নির্দিষ্টকরণকে নিষিদ্ধ করতেন। তাঁরা বলতেন: এটি সেই ইল্লতকে বাতিল ও নষ্ট করে দেয়, যেমনটি তাঁরা যৌক্তিক ইল্লতের নির্দিষ্টকরণের ক্ষেত্রে বলে থাকেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শরয়ী ইল্লত নির্দিষ্টকরণের বৈধতার ওপর অটল ছিলেন এবং বলতেন: এটি সংবাদের ন্যায় বিধানের একটি নিদর্শন; আর সংবাদের কিছু অংশ নির্দিষ্ট করা যেমন বৈধ, ইল্লতের ক্ষেত্রেও তাই। তবে তাঁদের অধিকাংশই এটি অস্বীকার করেছেন।
তাঁর কথা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে: শরীয়ত আসার আগে বস্তুসমূহ ব্যবহারের মূল বিধান ছিল নিষিদ্ধ হওয়া এবং মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো বস্তু ব্যবহার করা বৈধ নয়। তাঁর অনুসারীদের কেউ কেউ বলেছেন: এগুলো মূলত বৈধতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমাদের শাইখ আবুল হাসান আত-তামীমী (রাহিমাহুল্লাহ) এই মতটিকে সমর্থন করতেন। আমার কোনো কোনো শাইখ বলতেন: দলীল না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকবে। আর আমি যে মতটি পোষণ করি তা হলো: আল্লাহ কোনো যুগকেই তাঁর পক্ষ থেকে কোনো হুজ্জত (দলীল) ও তাঁর পরিচয় প্রদানকারী ছাড়া শূন্য রাখেননি, তাই এই মাসআলাটি ধারণাতীত।
তিনি আলেমদের ব্যাপারে অত্যন্ত সুন্দর ও সৌজন্যমূলক কথা বলতেন। তাঁদের মধ্য থেকে যাদের অভিযুক্ত বা সমালোচনা করা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে কোনো প্রশ্নকারীকে তিনি অত্যন্ত সুন্দর ভাষায় উত্তর দিতেন। তিনি বলতেন: "তার চেয়ে অন্যজন আমার কাছে অধিক প্রিয়।"
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮৯)
ومن بعض قوله: نعرفه وننكره. وبعضهم يقول: قد قيل فيه شئ. وبعضهم يسكت عنهم. وسأله رجل يوما عن وهب بن وهب القاضى؟ فقال: كان كذابا يضع الحديث. فقال له السائل: إنّي من ولده. فقال: أنا أعتذر إليك، وأستغفر الله. والله لا أقولها بعد هذا. كل ذلك تحرجا وحفظا للسانه رضى الله عنه
وكان شديدا على أهل البدع، أو من قاربهم، إن لم يباينهم. وإن كان صحيح الاعتقاد. قد هجر رحمه الله على بن المدينى، ويحيى بن معين، والحسين الكرابيسى، إلى أن تاب يحيي عنده. وما كان يقول إلا الخير فيمن يعلم فيه الخير. وكان يمسك عمن أمسك، ولم يظهر ما يوجب الامتناع منه.
قيل له: سمعت من أبى معاوية الضرير - وكان قدريا - ولم تسمع من شبابة بن سوار - وكان شيعيا - فقال كان: شبابة يدعو.
وقد قال فى مالك: إذا ذكر الحديث فمالك النجم. وقال: هل رأت عيناك كوكيع بن الجراح. وسفيان الثورى: هو الإمام. والشافعى: من أحباب قلبى.
وقد بايننا وبايناه، ما رأينا منه إلا خيرا، وكان شديد الاتباع للسنن. فقال: ابن عيينة حفظ على الأمة ما لولاه لضاع. وقد قال فى ابن مهدى: كان قرة عيني. وكان يثنى على الليث بن سعد. وسئل عن يعقوب ومحمد - صاحبى أبى حنيفة -؟ فقال:
سل غيرى، ولم يقل إلا خيرا. وقال: ابن المبارك جمع الزهد والعلم، وكان يترحم على أبى نعيم كثيرا، لامتناعه عن الإجابة فى الفتنة. وقيل له يوما: صبرت يا أبا عبد الله فى المحنة؟ فقال: أنا ما صبرت، الذى صبر أخى أحمد بن نصر الخزاعى. وذاك: أنهم أغلظوا له القول، فأغلظ لهم، فضربوا عنقه وما خافهم.
وقيل له: ادع على ظالمك. فقال: ليس بصابر من دعا على من ظلمه
فهذا بعض ما نعلمه من اعتقاده. ونعرفه من مذهبه.
سلك الله بنا طريقه، وجعل رسوله غدا فى الجنة رفيقه، وعصمنا من الخوض فى الباطل، والقدح فى الأئمة، والنسبة إليهم ما قد نزههم الله عنه إن شاء الله
এবং তাঁর কিছু কথা ছিল এমন: আমরা তাকে চিনি এবং আমরা তাকে অস্বীকার করি। তাঁদের কেউ কেউ বলতেন: তাঁর ব্যাপারে কিছু বলা হয়েছে। আবার কেউ কেউ তাঁদের সম্পর্কে নীরব থাকতেন। একদিন এক ব্যক্তি তাঁকে বিচারপতি ওয়াহাব ইবনে ওয়াহাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: তিনি একজন মিথ্যাবাদী ছিলেন, হাদিস জাল করতেন। তখন প্রশ্নকারী তাঁকে বললেন: আমি তাঁর বংশধর। তখন তিনি বললেন: আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আল্লাহর শপথ, আজকের পর আমি আর এমন কথা বলব না। এসবই ছিল আল্লাহভীতি এবং নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখার কারণে (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)।
তিনি বিদআতিদের ওপর এবং যারা তাদের ঘনিষ্ঠ ছিল—যদিও তারা তাদের থেকে পুরোপুরি আলাদা না হয়ে থাকে—তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, যদিও তাদের আকিদা সঠিক ছিল। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আলী ইবনুল মাদিনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং হুসাইন আল-কারাবিসিকে বর্জন করেছিলেন, যতক্ষণ না ইয়াহইয়া তাঁর কাছে তওবা করেন। তিনি যাদের মধ্যে কল্যাণ জানতেন, তাদের সম্পর্কে কল্যাণকর কথা ছাড়া কিছুই বলতেন না। যারা কোনো বিষয়ে নীরব থাকতেন, তিনি তাদের সম্পর্কেও নীরব থাকতেন এবং যা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক এমন কিছু প্রকাশ করতেন না।
তাঁকে বলা হলো: আপনি আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর থেকে হাদিস শুনেছেন—যিনি একজন কাদারি ছিলেন—কিন্তু শাবাবা ইবনে সাওয়ার থেকে শুনেননি—যিনি একজন শিয়া ছিলেন? তিনি বললেন: শাবাবা (নিজের মতবাদের দিকে) আহ্বান করত।
তিনি ইমাম মালিক সম্পর্কে বলেছিলেন: যখন হাদিসের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন মালিক হলেন নক্ষত্রতুল্য। তিনি আরও বলেছিলেন: তোমার চোখ কি ওয়াকী ইবনুল জাররাহ-এর মতো কাউকে দেখেছে? সুফিয়ান আস-সাওরী সম্পর্কে বলেছিলেন: তিনি ইমাম। আর শাফেয়ী সম্পর্কে বলেছিলেন: তিনি আমার হৃদয়ের প্রিয়জনদের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আমাদের থেকে পৃথক হয়েছেন এবং আমরাও তাঁর থেকে পৃথক হয়েছি, তবুও আমরা তাঁর মধ্যে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই দেখিনি। তিনি সুন্নাহ অনুসরণে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি বলেছিলেন: ইবনে উয়ায়না উম্মতের জন্য যা সংরক্ষণ করেছেন, তা না থাকলে সবকিছু বিলীন হয়ে যেত। তিনি ইবনে মাহদী সম্পর্কে বলেছিলেন: তিনি ছিলেন আমার চোখের মণি। তিনি লাইস ইবনে সা'দ-এর প্রশংসা করতেন। তাঁকে ইমাম আবু হানিফার দুই সঙ্গী ইয়াকুব এবং মুহাম্মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন:
অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করুন। তবে তিনি কল্যাণ ছাড়া আর কিছু বলেননি। তিনি বলেছিলেন: ইবনে আল-মুবারক যুহদ এবং ইলমকে একত্রিত করেছিলেন। তিনি আবু নুয়াইম-এর জন্য প্রচুর রহমতের দোয়া করতেন, কারণ তিনি ফিতনার সময় উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। একদিন তাঁকে বলা হলো: হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি এই পরীক্ষায় ধৈর্য ধরেছেন? তিনি বললেন: আমি ধৈর্য ধরিনি, ধৈর্য ধরেছে আমার ভাই আহমদ ইবনে নাসর আল-খুজায়ী। কারণ, তারা তাঁর সাথে রূঢ় ভাষায় কথা বলেছিল এবং তিনিও তাদের সাথে রূঢ়ভাবে কথা বলেছিলেন; ফলে তারা তাঁর শিরশ্ছেদ করেছিল, তবুও তিনি তাদের ভয় পাননি।
তাঁকে বলা হলো: আপনার ওপর যে জুলুম করেছে তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করুন। তিনি বললেন: যে ব্যক্তি তার জালেমের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে, সে ধৈর্যশীল নয়।
এটিই তাঁর আকিদা সম্পর্কে আমাদের জানামতে কিছু অংশ এবং তাঁর মাযহাব সম্পর্কে আমাদের পরিচিতি।
আল্লাহ আমাদের তাঁর পথে পরিচালিত করুন, কিয়ামতের দিন জান্নাতে তাঁর রাসুলের সঙ্গী হিসেবে আমাদের কবুল করুন এবং আমাদের বাতিল বিষয়ে লিপ্ত হওয়া, ইমামদের নিন্দা করা এবং তাঁদের প্রতি এমন কিছু আরোপ করা থেকে রক্ষা করুন যা থেকে আল্লাহ তাঁদের পবিত্র করেছেন, ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯০)
وهذه المقدمة ذكرتها وسطرتها بحكم الحال الحاضر، من غير رجوع إلى كتاب أو استعانة بأصل، لعجلة الرسول، وحثه على المبادرة.
وأنا أذكر - بمشيئة الله وعونه - فيما بعد جملة مشروحة، أستدرك فيها ما لعله قد شذ من المسائل، وأشيد الكلام فيها بالدلائل
نسأل الله تعالى حسن التوفيق لذلك إن شاء الله
والحمد لله على عونه وإحسانه. وصلّى الله على سيدنا محمد النبى وآله، وسلم تسليما كثيرا طيبا مباركا فيه.
وكان الفراغ منه: يوم الأحد ثامن عشر ربيع الآخر سنة خمس وثلاثين وثمانمائة. كتبه الفقير إلى ربه: إلياس بن خضر بن محمد بن جبريل التركمانى.
وفقه الله للخير، واستعمله بطاعته، وأدخله برحمته فى عباده الصالحين. وصلّى الله على سيدنا محمد خاتم النبيين، وآله وصحبه أجمعين. والحمد لله رب العالمين
تم نقلا من أصله القديم: على يد الحقير حامد بن أديب التقى لقبا، الأثرى مذهبا، الحسينى نسبا. فى 27 رمضان سنة 1327 من قطعة تحت رقم 46 من الكواكب الدرارى لابن عروة، من الدشت بالمكتبة الظاهرية بدمشق الشام.
এবং এই ভূমিকাটি আমি বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উল্লেখ ও লিপিবদ্ধ করেছি, কোনো কিতাবের শরণাপন্ন হওয়া বা কোনো মূল পাণ্ডুলিপির সাহায্য নেওয়া ছাড়াই; কারণ পত্রবাহকের তাড়া এবং দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তার তাকিদ ছিল।
এবং আমি আল্লাহর ইচ্ছা ও তাঁর সাহায্যে পরবর্তীতে একটি ব্যাখ্যামূলক আলোচনা উল্লেখ করব, যেখানে আমি সম্ভবত বিচ্যুত হওয়া বিষয়গুলো পূর্ণ করব এবং দলিলের মাধ্যমে আলোচনাকে সুদৃঢ় করব।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে এর জন্য উত্তম তাওফিকের প্রার্থনা করি, ইনশাআল্লাহ।
এবং আল্লাহর সাহায্য ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। আর আল্লাহ আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত এবং অজস্র বরকতপূর্ণ ও উত্তম শান্তি বর্ষণ করুন।
আর এটি সমাপ্ত করার সময় ছিল: রবিবার, আঠারো রবিউস সানি, আটশত পঁয়ত্রিশ হিজরি সনে। এটি লিখেছেন তাঁর রবের মুখাপেক্ষী বান্দা: ইলিয়াস বিন খিজির বিন মুহাম্মদ বিন জিবরিল আত-তুর্কমানি।
আল্লাহ তাকে কল্যাণের তাওফিক দান করুন, তাকে তাঁর আনুগত্যে নিয়োজিত রাখুন এবং তাঁর রহমতে তাকে তাঁর নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা শেষ নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার ও সাথীদের ওপর। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এর প্রাচীন মূল কপি থেকে নকল করার কাজ সমাপ্ত হয়েছে: অধম হামিদ বিন আদিব—উপাধি হিসেবে ‘তাকি’, মাযহাব হিসেবে ‘আসারি’ এবং বংশ হিসেবে ‘হুসাইনি’—এর হাতে। ২৭শে রমজান ১৩২৭ হিজরি সনে, শামের দামেস্কের যাহিরিয়া লাইব্রেরির ‘দাশত’ সংগ্রহশালার ইবনে উরওয়ার ‘আল-কাওয়াকিব আদ-দারারি’র ৪৬ নম্বর পাণ্ডুলিপির অংশ থেকে এটি সংগৃহীত।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯১)
كتاب فيه اعتقاد الإمام المنبل أبى عبد الله احمد بن حنبل رحمه الله ورضى عنه
إملاء الشيخ الإمام أبى الفضل عبد الواحد بن عبد العزيز بن الحارث التميمى رضى الله عنه.
رواية ابن أخيه الشيخ الإمام جمال الإسلام أبى محمد رزق الله بن عبد الوهاب رضى الله عنه وأرضاه.
رواية الشيخ الإمام الحافظ أبى الفضل محمد بن الناصر بن محمد بن على البغدادى عن أبى محمد التميمى.
رواية الشيخ الإمام الحافظ أبى محمد المبارك بن على بن الحسين بن عبد الله ابن محمد بن الطباخ البغدادى عنه.
رواية أبى محمد عبد الله بن عبد الواحد بن علاق الأنصارى عنه، فيما كتب له فى الإجازة.
ইমামুল মুবাজ্জাল আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর আকিদা সম্বলিত কিতাব।
শাইখ ইমাম আবুল ফজল আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আল-হারিস আত-তামিমী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর শ্রুতিলিপি।
তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র শাইখ ইমাম জামালুল ইসলাম আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন)-এর বর্ণনা।
শাইখ ইমাম হাফেজ আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আন-নাসির বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-বাগদাদী কর্তৃক আবু মুহাম্মদ আত-তামিমী থেকে বর্ণিত।
শাইখ ইমাম হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-মুবারক বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ বিন আত-তাব্বাখ আল-বাগদাদী কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণিত।
আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল্লাক আল-আনসারী কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণিত, যা তাঁর জন্য ইজাজতনামায় লেখা হয়েছিল।
(খণ্ড: ٢)
আল-আকীদাতুল্লাতী হাকাহু আবু ফাদল আত-তামীমী আনিল ইমাম আহমাদ - আল-মাতবু বিআখিরি তাবাকাতিল হানাবিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
اخبرنا الشيخ الإمام الحافظ أبو محمد المبارك بن على بن الحسين بن عبد الله ابن محمد المعروف بابن الطباخ البغدادى رحمه الله فى الدنيا والآخرة إجازة. قال:
حدثنا شيخنا الإمام الحافظ أبو الفضل محمد بن الناصر بن محمد بن على البغدادى بها قال: أخبرنا الإمام جمال الإسلام أبو محمد رزق الله بن عبد الوهاب التميمى. قال:
أخبرنا عمى أبو الفضل عبد الواحد بن عبد العزيز التميمى بجميع هذا الاعتقاد. وقال:
جملة اعتقاد الإمام أحمد بن حنبل رضى الله عنه، والذى كان يذهب إليه:
أن الله عز وجل واحد لا من عدد. لا يجوز عليه التجزؤ، ولا القسمة.
وهو واحد من كل جهة. وما سواه واحد من وجه دون وجه، وأنه موصوف بما أوجبه السمع والاجماع، وذلك دليل إثباته، وأنه موجود.
قال أحمد بن حنبل رضى الله عنه: من قال إن الله عز وجل لم يكن موصوفا حتى وصفه الواصفون. فهو بذلك خارج عن الدين.
وبيان ذلك: أن يلزمه أن لا يكون واحدا حتى وحده الموحدون. وذلك فاسد وعنده: أنه قد ثبت أن الله تعالى قادر حى عالم. وقرأ {هُوَ الْحَيُّ لا إِلهَ إِلاّ هُوَ} {وَكانَ اللهُ عَلى كُلِّ شَيْءٍ مُقْتَدِراً} {وَكانَ اللهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيماً}
قال: وفى صفات الله تعالى ما لا سبيل إلى معرفته إلا بالسمع، مثل قوله تعالى {وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} فبان بإخباره عن نفسه ما اعتقدته العقول فيه، وأن قولنا (سميع بصير) صفة من لا يشتبه عليه شئ، كما قال فى كتابه الكريم. ولا تكون رؤية إلا ببصر. يعنى من المبصرات بغير صفة من لا يغيب عليه ولا عنه شئ.
وليس ذلك بمعنى العلم، كما يقوله المخالفون. ألا ترى إلى قوله لموسى {إِنَّنِي مَعَكُما أَسْمَعُ وَأَرى} قال: وقوله تعالى {وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلاقَ فَإِنَّ اللهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} يدل على أن معنى «السميع» غير معنى «العليم» وقال {قَدْ سَمِعَ اللهُ قَوْلَ الَّتِي تُجادِلُكَ فِي زَوْجِها}
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম হাফিজ আবু মুহাম্মদ আল-মুবারক ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ, যিনি ইবনুত তাব্বাখ আল-বাগদাদী নামে পরিচিত, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—ইজাজতসূত্রে। তিনি বলেন:
আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আমাদের শাইখ ইমাম হাফিজ আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনুন নাসির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-বাগদাদী সেখানে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম জামালুল ইসলাম আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আত-তিমিমী। তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার চাচা আবুল ফজল আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আব্দুল আজিজ আত-তিমিমী এই সম্পূর্ণ আকিদা সম্পর্কে। তিনি বলেন:
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সামগ্রিক আকিদা এবং তিনি যে মত পোষণ করতেন তা হলো:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এক, তবে তা সংখ্যার বিচারে নয়। তাঁর সত্তায় খণ্ডন বা বিভাজন হওয়া অসম্ভব।
তিনি সর্বদিক থেকেই এক। তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা কোনো এক দিক থেকে এক হলেও অন্য দিক থেকে নয়। তিনি ওইসব গুণে গুণান্বিত যা শ্রবণ (কুরআন ও সুন্নাহর দলিল) এবং ইজমা বা সর্বসম্মত ঐক্য অপরিহার্য করেছে; আর এটিই তাঁর গুণাবলি সাব্যস্ত করার দলিল এবং তিনি যে বিদ্যমান তারও প্রমাণ।
আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: যে ব্যক্তি বলে যে, মহান আল্লাহ গুণান্বিত ছিলেন না যতক্ষণ না বর্ণনাকারীরা তাঁর বর্ণনা দিয়েছে, সে এর মাধ্যমে দ্বীন থেকে বহিষ্কৃত।
এর ব্যাখ্যা হলো: এই কথা মানলে এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, তিনি এক ছিলেন না যতক্ষণ না তাওহীদপন্থীরা তাঁকে এক বলে স্বীকার করেছে। আর এটি বাতিল। তাঁর মতে এটি সুসাব্যস্ত যে, আল্লাহ তাআলা ক্ষমতাশীল, চিরঞ্জীব এবং সর্বজ্ঞ। তিনি পাঠ করলেন: "তিনিই চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই", "আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান", "আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ"
তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলার গুণাবলির মধ্যে এমন কিছু আছে যা জানার কোনো পথ নেই শ্রবণ (ওহীর সংবাদ) ব্যতীত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা"। সুতরাং তাঁর নিজের সম্পর্কে দেওয়া সংবাদের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হলো যা বিবেক-বুদ্ধি তাঁর সম্পর্কে বিশ্বাস করত। আর আমাদের বক্তব্য (সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা) এমন সত্তার গুণ যাঁর কাছে কোনো কিছুই অস্পষ্ট নয়, যেমনটি তিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেছেন। আর চাক্ষুষ দর্শন (রুইয়াত) দৃষ্টিশক্তি (বাসার) ব্যতীত হয় না। অর্থাৎ দৃশ্যমান বস্তুসমূহের ক্ষেত্রে এমন এক গুণের মাধ্যমে যার থেকে কোনো কিছুই অনুপস্থিত থাকে না বা আড়ালে থাকে না।
আর এটি জ্ঞানের (ইলম) অর্থে নয়, যেমনটি বিরোধীরা বলে থাকে। আপনি কি মূসার প্রতি তাঁর বাণীর দিকে লক্ষ্য করেন না: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি"। তিনি বলেন: এবং আল্লাহ তাআলার বাণী "আর যদি তারা তালাকের সংকল্প করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ"—এটি প্রমাণ করে যে 'সর্বশ্রোতা'র অর্থ 'সর্বজ্ঞ' এর অর্থ থেকে ভিন্ন। এবং তিনি বলেছেন "নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল"।