(খণ্ড: ১) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: -)
شرح صحيح البخاري - ابن بطال   (ابن بطال)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: شرح صحيح البخاري لابن بطال

المؤلف: ابن بطال أبو الحسن علي بن خلف بن عبد الملك (ت 449 هـ)

تحقيق: أبو تميم ياسر بن إبراهيم

دار النشر: مكتبة الرشد - السعودية، الرياض

الطبعة: الثانية، 1423 هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 10

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শরহ সহীহুল বুখারী - ইবনে বাত্তাল   (ইবনে বাত্তাল)

বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ


কিতাব: ইবনে বাত্তাল রচিত শরহ সহীহুল বুখারী

লেখক: ইবনে বাত্তাল আবুল হাসান আলী বিন খালাফ বিন আব্দুল মালিক (মৃত্যু ৪৪৯ হিজরি)

তাহকীক: আবু তামীম ইয়াসির বিন ইবরাহীম

প্রকাশনী: মাকতাবাতুর রুশদ - সৌদি আরব, রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১০

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٣٠)
ـ[شرح صحيح البخارى لابن بطال]ـ

المؤلف: ابن بطال أبو الحسن علي بن خلف بن عبد الملك (المتوفى: 449هـ)

تحقيق: أبو تميم ياسر بن إبراهيم

دار النشر: مكتبة الرشد - السعودية / الرياض

الطبعة: الثانية، 1423هـ - 2003م

عدد الأجزاء: 10

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
—[ইবনে বাত্তাল কৃত শারহু সহীহিল বুখারী]—

লেখক: ইবনে বাত্তাল আবুল হাসান আলী বিন খালাফ বিন আব্দুল মালিক (মৃত্যু: ৪৪৯ হিজরি)

তাহকীক: আবু তামীম ইয়াসির বিন ইবরাহিম

প্রকাশনী: মাকতাবাতুর রুশদ - সৌদি আরব / রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১০

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٣١)
بسم الله الرحمن الرحيم)

وَمَا تَوْفِيقِى إِلَاّ بِاللهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ) [هود: 88]

‌‌1 -[كتاب بدء الوحى]

-‌‌ باب كيف كان بدء الوحى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وقول الله عز وجل: (إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِن بَعْدِهِ) [النساء: 163]

/ 1 - فيه: عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رَضِى اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ النبى صلى الله عليه وسلم : إنما الأعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوْ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ -. قال المؤلف: قال لى أبو القاسم المهلب بن أبى صفرة، رحمه الله: معنى هذه الآية أن الله تعالى أوحى إلى محمد، عليه الصلاة والسلام، كما أوحى إلى سائر الأنبياء، عليهم الصلاة والسلام، قبله وحى رسَالةٍ، لا وحى إلهام، لأن الوحى ينقسم على وجوه. قال: وإنما قدم البخارى، رحمه الله، حديث تمت الأعمال بالنيات - فى أول كتابه، ليعلم أنه قصد فى تأليفه وجه الله، عز وجل، ففائدة هذا المعنى، أن يكون تنبيهًا لكل من قرأ كتابه، أن يقصد به وجه الله تعالى كما قصده البخارى فى تأليفه.
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। [হুদ: ৮৮]

‌‌১ - [ওহীর সূচনা অধ্যায়]

-‌‌ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহীর সূচনা কীভাবে হয়েছিল এবং মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ এবং তাঁর পরবর্তী নবীগণের প্রতি) [নিসা: ১৬৩]

/ ১ - এতে বর্ণিত হয়েছে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া হাসিল করার জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে। - গ্রন্থকার বলেন: আবুল কাসিম মুহাল্লাব ইবনে আবি সাফরা (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে বলেছেন: এই আয়াতের অর্থ হলো, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর প্রতি ওহী পাঠিয়েছেন যেভাবে তাঁর পূর্ববর্তী অন্যান্য নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রতি ওহী পাঠিয়েছেন—যা ছিল রিসালাতের ওহী, ইলহাম (অনুপ্রেরণা) মূলক ওহী নয়; কারণ ওহী বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত। তিনি আরও বলেন: বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থের শুরুতে 'আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল'—এই হাদিসটি কেবল এ কারণেই উপস্থাপন করেছেন যাতে জানা যায় যে, তিনি এই গ্রন্থ সংকলনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য করেছেন। সুতরাং এই বিষয়ের ফায়দা হলো, এটি তাঁর কিতাব পাঠকারী প্রত্যেকের জন্য একটি সতর্কতা স্বরূপ, যেন তারা এটি পাঠের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করে, যেমনটি বুখারী এটি সংকলনের সময় সংকল্প করেছিলেন।
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وجعل هذا الحديث فى أول كتابه عوضًا من الخطبة التى يبدأ بها المؤلفون، ولقد أحسن العوض من عوَّض من كلامه كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم الذى ما ينطق عن الهوى. وقال جماعة من العلماء: إن هذا الحديث ثلث الإسلام، وبه خطب النبى صلى الله عليه وسلم حين وصل إلى دار الهجرة وشهر الإسلام. وقال أبو عبد الله بن الفخار: إنما ذكر هذا الحديث فى هذا الباب، لأنه متعلق بالآية التى فى الترجمة، والمعنى الجامع بينهما أن الله، عز وجل، أوحى إلى محمد صلى الله عليه وسلم وإلى الأنبياء قبله أن الأعمال بالنيات، والحجة لذلك قول الله، عز وجل: (وَمَا أُمِرُوا إِلَاّ لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاء وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ) [البينة: 5] . وقال تعالى: (شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِى أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ) [الشورى: 13] . وقال أبو العالية: فى هذه الآية وصَّاهم بالإخلاص لله، عز وجل، وعبادته لا شريك له. وقال مجاهد فى قول الله تعالى: (مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا) ، قال: أوصاك به وأنبياءه كلهم دينًا واحدًا. وقال أبو الزناد بن سراج: إنما خص المرأة بالذكر من بين سائر

তিনি এই হাদিসটিকে তাঁর কিতাবের শুরুতে রেখেছেন সেই খুতবার পরিবর্তে যা দিয়ে লেখকগণ সাধারণত শুরু করে থাকেন। আর সেই ব্যক্তি কতই না উত্তম বিনিময় দান করেছেন, যিনি নিজের কথার পরিবর্তে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন, যিনি নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। একদল আলিম বলেছেন: নিশ্চয়ই এই হাদিসটি ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ, এবং এর মাধ্যমেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা প্রদান করেছিলেন যখন তিনি হিজরতের স্থানে পৌঁছেছিলেন এবং ইসলামকে প্রকাশ করেছিলেন। আবু আব্দুল্লাহ বিন ফাকখার বলেছেন: এই হাদিসটি এই পরিচ্ছেদে কেবল এজন্যই উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এটি পরিচ্ছেদের শিরোনামের আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর উভয়ের মধ্যবর্তী সমন্বিত অর্থ হলো, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণের প্রতি এই ওহী পাঠিয়েছেন যে, সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর এর দলিল হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার বাণী: (তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে, একমুখী হয়ে; এবং তারা যেন সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে; আর এটিই হলো সঠিক দ্বীন) [বাইয়্যিনাহ: ৫]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: (তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই দিয়েছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি এবং যার নির্দেশ আমি ইবরাহিম, মুসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম; এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করবে) [শুরা: ১৩]। আবুল আলিয়া বলেন: এই আয়াতে তিনি তাদেরকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার জন্য ইখলাস বা একনিষ্ঠতা এবং তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন যার কোনো শরিক নেই। মুজাহিদ আল্লাহ তাআলার বাণী: (যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন) সম্পর্কে বলেন: তিনি আপনাকে এবং তাঁর সকল নবীকে একই দ্বীনের নির্দেশ দিয়েছেন। আবুয যিনাদ বিন সিরাজ বলেন: অন্যান্য সবকিছুর মধ্য থেকে তিনি কেবল নারীকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন...

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٣٣)
الأشياء فى هذا الحديث، لأن العرب فى الجاهلية كانت لا تزوج المولى العربية، ولا يزوجون بناتهم إلا من الأَكْفَاء فى النسب، فلما جاء الإسلام سوى بين المسلمين فى مناكحهم، وصار كل واحد من المسلمين كفئًا لصاحبه، فهاجر كثير من الناس إلى المدينة، ليتزوج بها، حتى سمى بعضهم مهاجر أم قيس. / 2 - وفيه: عَائِشَةَ، رَضِى اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْىُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : تمت أَحْيَانًا يَأْتِينِى مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ، وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَىَّ، فَيُفْصَمُ عَنِّى، وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ، وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِىَ الْمَلَكُ رَجُلا فَيُكَلِّمُنِى، فَأَعِى مَا يَقُولُ -. قَالَتْ عَائِشَةُ: وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْىُ فِى الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ، فَيَفْصِمُ عَنْهُ، وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا. / 3 - وفيه: عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْىِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِى النَّوْمِ، فَكَانَ لا يَرَى رُؤْيَا، إِلا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ، ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلاءُ، وَكَانَ يَخْلُو بِغَارِ حِرَاءٍ، فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ - وَهُوَ التَّعَبُّدُ - اللَّيَالِىَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ، وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَة، َ وَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا، حَتَّى جَاءَهُ الْحَقُّ، وَهُوَ فِى غَارِ حِرَاءٍ، فَجَاءَهُ الْمَلَكُ، فَقَالَ: اقْرَأْ، قَالَ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ، قَالَ: فَأَخَذَنِى فَغَطَّنِى حَتَّى بَلَغَ مِنِّى الْجَهْدَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِى، فَقَالَ: اقْرَأْ،
এই হাদিসের বিষয়সমূহ; কারণ জাহেলিয়াত যুগে আরবরা কোনো আযাদকৃত দাসের সাথে কোনো আরব নারীর বিয়ে দিত না এবং তারা বংশমর্যাদায় সমপর্যায়ের লোক ব্যতীত অন্য কারও কাছে তাদের কন্যাদের বিয়ে দিত না। অতঃপর যখন ইসলামের আগমন ঘটল, তখন ইসলাম মুসলমানদের মাঝে বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা স্থাপন করল এবং প্রত্যেক মুসলমান একে অপরের সমপর্যায়ের হিসেবে গণ্য হলো। ফলে অনেক মানুষ বিয়ের উদ্দেশ্যে মদিনায় হিজরত করল, এমনকি তাদের কাউকে 'উম্মে কায়সের হিজরতকারী' বলা হতো। / ২ - এতে বর্ণিত হয়েছে: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, হারিস ইবনে হিশাম আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে? আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: কখনও তা আমার নিকট ঘণ্টার আওয়াজের মতো আসে, আর এটিই আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টদায়ক হয়; অতঃপর তা আমার থেকে শেষ হয় এবং তিনি যা বলেছেন তা আমি মুখস্থ (সংরক্ষণ) করে নেই। আবার কখনও ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার নিকট আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা বুঝতে পারি। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি প্রচণ্ড শীতের দিনেও তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতে দেখেছি, এরপর যখন ওহীর সমাপ্তি ঘটত, তখন তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরতে থাকত। / ৩ - এতে বর্ণিত হয়েছে: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা সুবেহ সাদিকের মতো স্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেত। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল এবং তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতে লাগলেন। সেখানে তিনি সপরিবারে ফিরে আসার পূর্বে একাধারে বেশ কিছু রাত 'তাহান্নুছ' অর্থাৎ ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং এর জন্য পাথেয় সাথে নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য পুনরায় পাথেয় নিয়ে যেতেন। পরিশেষে তাঁর নিকট সত্যের আগমন ঘটল যখন তিনি হেরা গুহায় ছিলেন। ফেরেশতা তাঁর নিকট এসে বললেন: পাঠ করুন। তিনি বললেন: আমি পাঠ করতে জানি না। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: অতঃপর তিনি আমাকে জাপ্টে ধরে এমনভাবে চাপ দিলেন যে, আমার খুব কষ্ট হলো। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পাঠ করুন।
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٣٤)
قُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ، فَأَخَذَنِى الثَّانِيَةَ فَغَطَّنِى حَتَّى بَلَغَ مِنِّى الْجَهْدَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِى، فَقَالَ: اقْرَأْ، فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ، فَأَخَذَنِى فَغَطَّنِى الثَّالِثَةَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِى، فَقَالَ: (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِى خَلَقَ خَلَقَ الإنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأكْرَمُ الَّذِى عَلَّمَ بِالْقَلَمِ) [العلق: 1 - 4] ، فَرَجَعَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْجُفُ فُؤَادُهُ، فَدَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ، فَقَالَ: تمت زَمِّلُونِى زَمِّلُونِى -، فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ، فَقَالَ لِخَدِيجَةَ، وَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ: تمت لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِى -، فَقَالَتْ خَدِيجَةُ: كَلا وَاللَّهِ لَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ وَتَقْرِى الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ، فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِالْعُزَّى ابْنَ عَمِّ خَدِيجَةَ، وَكَانَ امْرَأً قَدْ تَنَصَّرَ فِى الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ يَكْتُبُ الْكِتَابَ الْعِبْرَانِىَّ، فَيَكْتُبُ مِنَ الإنْجِيلِ بِالْعِبْرَانِيَّةِ، مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكْتُبَ، وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا قَدْ عَمِىَ، فَقَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ: يَا ابْنَ عَمِّ اسْمَعْ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: يَا ابْنَ أَخِى مَاذَا تَرَى؟ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بخَبَرَ مَا رَأَى،
আমি বললাম: "আমি পড়তে জানি না।" অতঃপর তিনি আমাকে দ্বিতীয়বার জড়িয়ে ধরলেন এবং সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি আমি চরম ক্লান্তি অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: "পড়ুন।" আমি বললাম: "আমি পড়তে জানি না।" অতঃপর তিনি আমাকে তৃতীয়বার জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, এরপর ছেড়ে দিয়ে বললেন: "(পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ুন এবং আপনার রব মহামহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন)" [সূরা আল-আলাক: ১-৪]। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কম্পিত হৃদয়ে তা নিয়ে ফিরে আসলেন এবং খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদের নিকট প্রবেশ করে বললেন: "আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।" অতঃপর তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন যতক্ষণ না তাঁর ভীতি দূর হলো। এরপর তিনি খাদিজার নিকট সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলেন এবং বললেন: "আমি নিজের প্রাণের আশঙ্কা করছি।" তখন খাদিজা বললেন: "কখনোই নয়, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, অতিথিদের আপ্যায়ন করেন এবং সত্য পথে আসা বিপদে সাহায্য করেন।" অতঃপর খাদিজা তাঁকে তাঁর চাচাতো ভাই ওরাকা ইবনে নওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আবদুল উজ্জার নিকট নিয়ে গেলেন। তিনি জাহেলিয়াতের যুগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিব্রু লিখতে জানতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ইঞ্জিল থেকে হিব্রু ভাষায় অনুলিখন করতেন। তিনি অতি বৃদ্ধ ও অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন: "হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।" ওরাকা তাঁকে বললেন: "হে ভাতিজা! তুমি কী দেখছ?" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন তাঁর কাছে সেই সংবাদ বর্ণনা করলেন।
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٣٥)
فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: هَذَا النَّامُوسُ الَّذِى نَزَّلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى، يَا لَيْتَنِى فِيهَا جَذَعًا، يَا لَيْتَنِى أَكُونُ حَيًّا، إِذْ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : تمت أَوَمُخْرِجِىَّ هُمْ -؟ قَالَ: نَعَمْ، لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إِلا عُودِىَ، وَإِنْ يُدْرِكْنِى يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا، ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّىَ وَفَتَرَ الْوَحْىُ. وقَالَ جَابِرَ فِى حَدِيثِهِ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْىِ: قَالَ: بَيْنَا أَنَا أَمْشِى، إِذْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ، فَرَفَعْتُ بَصَرِى، فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِى جَاءَنِى بِحِرَاءٍ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِىٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأرْضِ، فَرُعِبْتُ مِنْهُ، فَرَجَعْتُ، فَقُلْتُ: زَمِّلُونِى زَمِّلُونِى، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: (يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ) [المدثر: 1 - 5] فَحَمِىَ الْوَحْىُ وَتَتَابَعَ. وَقَالَ يُونُسُ وَمَعْمَرٌ: بَوَادِرُهُ. / 4 - وفيه: ابْنِ عَبَّاسٍ فِى قَوْلِ اللَّه تَعَالَى: (لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ) [القيامة: 16] قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَالِجُ مِنَ التَّنْزِيلِ شِدَّةً، وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَأَنَا أُحَرِّكُهُمَا لَكُمْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَرِّكُهُمَا، فَحَرَّكَ شَفَتَيْهِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: (لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ (قَالَ: جَمْعُهُ لَكَ فِى صَدْرِكَ، وَتَقْرَأَهُ: (فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (قَالَ: وَاسْتَمِعْ لَهُ وَأَنْصِتْ) ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ) [القيامة: 16 - 19] ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ نَقْرَأَهُ،
ওয়ারালা তাঁকে বললেন: “এটি সেই নামুস (বার্তাবাহক ফেরেশতা), যাকে আল্লাহ মূসার ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন। হায়! আমি যদি সেদিন যুবক থাকতাম! হায়! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যখন আপনার কওম আপনাকে বের করে দেবে।” আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “তারা কি আমাকে বের করে দেবে?” তিনি বললেন: “হ্যাঁ, আপনি যা নিয়ে এসেছেন, তা নিয়ে যখনই কোনো ব্যক্তি এসেছে, তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। আর যদি আমি আপনার সেই দিনটি পাই, তবে আমি আপনাকে বলিষ্ঠভাবে সাহায্য করব।” এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়ারালা ইন্তেকাল করেন এবং ওহী স্থগিত হয়ে যায়। এবং জাবির ওহী স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে তাঁর হাদীসে বলেন: তিনি বলেছেন: “আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি আমার দৃষ্টি উপরে তুললাম এবং দেখলাম সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে একটি কুরসির ওপর উপবিষ্ট আছেন। এতে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম এবং ফিরে এসে বললাম: ‘আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও’। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: (হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন। আপনার পোশাক পবিত্র করুন এবং অপবিএতা বর্জন করুন।) [আল-মুদ্দাসসির: ১-৫] এরপর ওহী প্রবল বেগে ও ধারাবাহিকভাবে অবতীর্ণ হতে লাগল।” ইউনুস এবং মা’মার (তাদের বর্ণনায়) ‘বাওয়াদিরুহু’ (কাঁধের মাংসপেশি কাঁপা) শব্দটি উল্লেখ করেছেন। / ৪ - এবং এতে বর্ণিত হয়েছে: ইবনে আব্বাস (রাযি.) আল্লাহ তাআলার বাণী: (তাড়াহুড়ো করার জন্য আপনি ওহী নিয়ে আপনার জিহ্বা নাড়বেন না) [আল-কিয়ামাহ: ১৬] প্রসঙ্গে বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহী নাযিলের সময় তীব্র কষ্ট অনুভব করতেন এবং এ কারণে তিনি তাঁর ওষ্ঠদ্বয় নাড়তেন। অতঃপর ইবনে আব্বাস (রাযি.) বললেন: “আমি তোমাদের সামনে সেভাবেই আমার ওষ্ঠদ্বয় নাড়ছি যেভাবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নাড়তে দেখেছি।” এরপর তিনি তাঁর ওষ্ঠদ্বয় নাড়ালেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: (তাড়াহুড়ো করার জন্য আপনি ওহী নিয়ে আপনার জিহ্বা নাড়বেন না। নিশ্চয়ই এটি সংরক্ষণ করা এবং পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব।) তিনি বললেন: অর্থাৎ তা আপনার হৃদয়ে গেঁথে দেওয়া এবং আপনার দ্বারা তা পাঠ করানো। (সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।) তিনি বললেন: অর্থাৎ তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন এবং চুপ থাকুন। (অতঃপর এর বিশদ বর্ণনা দেওয়া আমাদেরই দায়িত্ব।) [আল-কিয়ামাহ: ১৬-১৯] অর্থাৎ এরপর আমাদের দায়িত্ব হলো তা আপনাকে পড়ানো।
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٣٦)
فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ، فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم كَمَا قَرَأَ. قال المهلب: قوله: تمت فى مثل صلصلة الجرس -، يعنى قوة صوت الملك بالوحى، ليشغله عن أمور الدنيا، ويفرغ حواسه للصوت الشديد، فكان صلى الله عليه وسلم ، يعى عنه، لأنه لم يبق فى سمعه مكان لغير صوت الملك ولا فى قلبه. قال المؤلف: وعلى هذه الصفة تتلقى الملائكة الوحى من الله، عز وجل. ذكر البخارى عن ابن مسعود، قال: تمت إذا تكلم الله بالوحى، سمع أهل السماوات -. وقال أبو هريرة فى حديثه: تمت إذا قضى الله الأمر فى السماء، ضربت الملائكة بأجنحتها، خضعانًا لقوله، كأنه سلسلة على صفوان ينفذهم ذلك، قال: فإذا فزع عن قلوبهم وسكت الصوت عرفوا أنه الحق، وقالوا: ماذا قال ربكم؟ قالوا الحق -. وقال أبو الزناد: إنما ذكر صلى الله عليه وسلم أنه يأتيه الوحى فى مثل صلصلة الجرس، ويتمثل له رجلاً ولم يذكر الرؤيا، وقد أعلمنا صلى الله عليه وسلم أن رؤياه وحى، وذلك أنه أخبرهم بما ينفرد به دون الناس، لأن الرؤيا الصالحة قد يشركه غيره فيها. وأما قول عائشة: تمت أول ما بدء به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحى الرؤيا الصالحة، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح -. قال المهلب: هى تباشير النبوة وكيفية بدئها، لأنه لم يقع فيها

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এরপর যখন জিবরীল আসতেন, তখন তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। যখন জিবরীল চলে যেতেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল যেভাবে পাঠ করেছিলেন ঠিক সেভাবেই তা পাঠ করতেন। মুহাল্লাব বলেন: তাঁর উক্তি—'ঘণ্টার আওয়াজের ন্যায়'—এর অর্থ হলো ওহী নিয়ে আসা ফেরেশতার কণ্ঠস্বরের তীব্রতা, যাতে এটি তাঁকে দুনিয়াবী বিষয়াদি থেকে বিমুখ রাখে এবং তাঁর ইন্দ্রিয়সমূহকে এই প্রবল শব্দের প্রতি নিবিষ্ট করে। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে তা আয়ত্ত করতেন; কেননা তখন তাঁর শ্রবণেন্দ্রিয়ে কিংবা তাঁর হৃদয়ে ফেরেশতার আওয়াজ ছাড়া অন্য কিছুর জন্য কোনো স্থান অবশিষ্ট থাকত না। গ্রন্থকার বলেন: আর এই পদ্ধতিতেই ফেরেশতাগণ মহান আল্লাহর নিকট থেকে ওহী গ্রহণ করেন। বুখারী ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে কথা বলেন, তখন আসমানবাসীরা তা শুনতে পায়। আবু হুরায়রা তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেন: যখন আল্লাহ আকাশে কোনো ফয়সালা করেন, তখন ফেরেশতারা আল্লাহর বাণীর প্রতি অনুগত হয়ে তাঁদের ডানাগুলো সঞ্চালন করেন, যা মসৃণ পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শেকলের আওয়াজের ন্যায় মনে হয়। তিনি বলেন: অতঃপর যখন তাঁদের অন্তর থেকে আতঙ্ক দূর হয় এবং শব্দ স্তব্ধ হয়ে যায়, তখন তাঁরা বুঝতে পারেন যে এটিই সত্য। তাঁরা জিজ্ঞেস করেন: তোমাদের রব কী বলেছেন? তাঁরা বলেন: তিনি সত্য বলেছেন। আবুয যিনাদ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল এটিই উল্লেখ করেছেন যে, ওহী তাঁর নিকট ঘণ্টার আওয়াজের ন্যায় আসে এবং ফেরেশতা তাঁর সামনে মানুষের রূপ ধারণ করেন; কিন্তু তিনি স্বপ্নের কথা এখানে উল্লেখ করেননি। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন যে তাঁর স্বপ্নও ওহী। এর কারণ হলো, তিনি তাঁদেরকে এমন বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন যা সাধারণ মানুষ থেকে কেবল তাঁর জন্যই স্বতন্ত্র, কারণ সৎ স্বপ্নে অন্যরাও তাঁর সাথে শরিক হতে পারে। আর আয়েশা (রা.)-এর উক্তি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ওহীর প্রথম সূচনা হয়েছিল সৎ স্বপ্নের মাধ্যমে; তিনি এমন কোনো স্বপ্ন দেখতেন না যা সুবহে সাদেকের আলোকচ্ছটার ন্যায় প্রকাশ পেত না। মুহাল্লাব বলেন: এগুলো হলো নবুওয়তের শুভ সংবাদ এবং এর সূচনার স্বরূপ, কারণ এতে কোনো প্রকার...

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٣٧)
ضغث، فيتساوى مع الناس فى ذلك، بل خص بصدقها كلها، وكذلك قال ابن عباس: رؤيا الأنبياء وحى، وقرأ: (إِنِّى أَرَى فِى الْمَنَامِ أَنِّى أَذْبَحُكَ) [الصافات: 102] فتمم الله عليه النبوة، بأن أرسل إليه الملك فى اليقظة، وكشف له عن الحقيقة، فكانت الأولى فى النوم، وصحة ما يوحى إليه فيه توشيحًا للنبوة وابتدائها حتى أكملها الله له فى اليقظة تفضلاً من الله تعالى، وموهبة خصَّه بها، والله يعلم حيث يجعل رسالاته والله ذو الفضل العظيم. قال غيره: وتزوده صلى الله عليه وسلم فى تحنثه يرد قول الصوفية: أن من أخلص لله أنزل الله عليه طعامًا. والرسول، صلى الله عليه وسلم ، كان أولى بهذه المنزلة، لأنه أفضل البشر، وكان يتزود. وقال المهلب: قوله: تمت فغطنى - فيه من الفقه أن الإنسان يذكر وينبه إلى فعل الخير وإن كان عليه فيه مشقة. وقال أبو الزناد: قوله: تمت فغطنى - ثلاث مرات، فيه دليل على أن المستحب فى مبالغة تكرير التنبيه والحض على التعليم ثلاث مرات. وقد روى عنه صلى الله عليه وسلم : تمت أنه كان إذا قال شيئًا أعاده ثلاثًا -، للإفهام، وقد استدل بعض الناس من هذا الحديث، أن يؤمر المؤدب أن لا يضرب صبيًا أكثر من ثلاث ضربات. وقوله: (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ) [العلق: 1] يدل على أنها أول ما نزل من القرآن.
বাজে স্বপ্ন; বরং এ বিষয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সমপর্যায়ভুক্ত নন, বরং তিনি তাঁর স্বপ্নের সর্বাঙ্গীণ সত্যতার জন্য বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস বলেছেন: নবীদের স্বপ্ন হলো ওহী, এবং তিনি পাঠ করেন: (নিশ্চয়ই আমি স্বপ্নে দেখি যে আমি তোমাকে যবেহ করছি) [আস-সাফফাত: ১০২]। অতঃপর আল্লাহ জাগ্রত অবস্থায় তাঁর নিকট ফেরেশতা পাঠিয়ে তাঁর নবুওয়াত পূর্ণ করেন এবং তাঁর নিকট বাস্তবতা উন্মোচন করেন। সুতরাং প্রথমটি ছিল নিদ্রারত অবস্থায়, আর ঘুমের মধ্যে তাঁর প্রতি ওহী হওয়ার নির্ভুলতা ছিল নবুওয়াতের অলঙ্করণ ও তার সূচনা স্বরূপ, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ ও দান হিসেবে জাগ্রত অবস্থায় তা পূর্ণ করেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন এবং আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী। অন্য একজন বলেছেন: ইবাদতের সময় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাথেয় গ্রহণ করা সূফীদের সেই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে যে—ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হবে আল্লাহ তার জন্য খাদ্য অবতীর্ণ করবেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই মর্যাদার অধিক হকদার ছিলেন, কারণ তিনি মানবজাতির শ্রেষ্ঠ, তবুও তিনি পাথেয় গ্রহণ করতেন। আল-মুহাল্লাব বলেন: তাঁর কথা: "অতঃপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন" - এর মধ্যে এই ফিকহ বা বিধান রয়েছে যে, মানুষকে ভালো কাজের প্রতি উপদেশ ও সতর্কতা প্রদান করা উচিত, যদিও তাতে তার কষ্ট হয়। আবুয যিনাদ বলেন: তাঁর কথা: "অতঃপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন" - তিনবার হওয়া এই প্রমাণ বহন করে যে, সতর্কবার্তা গুরুত্বের সাথে বারবার বলা এবং শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তিনবার পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন কোনো কথা বলতেন, তখন তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন যেন তা সহজে অনুধাবন করা যায়। কেউ কেউ এই হাদীস থেকে দলীল গ্রহণ করেছেন যে, শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হবে যেন তিনি কোনো বালককে তিনবারের অধিক প্রহার না করেন। এবং তাঁর বাণী: (পাঠ করুন আপনার রবের নামে) [আল-আলাক: ১] প্রমাণ করে যে, এটিই কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ অংশ।
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٣٨)
وقال أبو الحسن بن القصار: فى هذا رد على الشافعى فى قوله: (بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ (آية من كل سورة، وهذه أول سورة نزلت عليه، ولم يذكر فيها) بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ (. قال غيره: رجوع الرسول فزعًا، فقال: تمت زملونى -، ولم يخبر بشىء حتى ذهب عنه الروع، فيه دليل: أنه لا يحب أن يسأل الفازع عن شىء من أمره ما دام فى حالة فزعه. وكذلك قال مالك وغيره: إن المذعور لا يلزمه بيع ولا إقرار ولا غيره فى حال فزعه. وقوله: تمت لقد خشيت على نفسى -، يدل أنه من نزلت به ملمة أن له أن يشارك فيها من يثق بنصحه ورأيه. وقولها: تمت كلا والله، ما يخزيك الله أبدًا، إنك لتصل الرحم، وتحمل الكل - إلى آخر الحديث إنما هو قياس منها على العادات، والأكثر فى الناس فى حسن عاقبة من فعل الخير، وفيه جواز تزكية الرجل فى وجهه بما فيه الخير، وليس بمعارض لقوله صلى الله عليه وسلم : تمت احثوا التراب فى وجوه المداحين -. وإنما أراد بذلك إذا مدحوه بالباطل، وبما ليس فى الممدوح. وقول يونس ومعمر: تمت بوادره - يعنى: ترجف بوادره مكان رواية من روى: تمت يرجف فؤاده -.
আবু আল-হাসান ইবনুল কাসসার বলেন: এতে ইমাম শাফিঈর এই বক্তব্যের খণ্ডন রয়েছে যে: (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রতিটি সূরার একটি আয়াত), অথচ এটি ছিল তাঁর প্রতি নাযিল হওয়া প্রথম সূরা এবং এতে (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) উল্লেখ করা হয়নি। অন্যরা বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আতঙ্কিত অবস্থায় ফিরে আসা এবং তাঁর বলা—আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো—এবং তাঁর আতঙ্ক দূর না হওয়া পর্যন্ত কোনো সংবাদ না দেওয়া; এতে এই বিষয়ের দলিল রয়েছে যে: আতঙ্কগ্রস্ত ব্যক্তিকে যতক্ষণ সে আতঙ্কিত অবস্থায় থাকে ততক্ষণ তার কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা সমীচীন নয়। অনুরূপভাবে মালিক এবং অন্যরা বলেছেন: আতঙ্কিত ব্যক্তির ওপর তার আতঙ্কাবস্থায় কোনো ক্রয়-বিক্রয়, স্বীকৃতি বা অন্য কোনো কিছু বাধ্যতামূলক হয় না। এবং তাঁর কথা: আমি নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি—এটি প্রমাণ করে যে, কেউ কোনো বিপদে আক্রান্ত হলে তার উচিত এমন ব্যক্তির সাথে তা শেয়ার করা যার উপদেশ ও মতামতের ওপর তার আস্থা রয়েছে। এবং তাঁর (খাদিজার) উক্তি: কখনোই নয়, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না; নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, অক্ষমের বোঝা বহন করেন—হাদীসের শেষ পর্যন্ত; এটি মূলত প্রচলিত রীতি এবং মানুষের মধ্যে সৎকর্মশীলদের শুভ পরিণাম সম্পর্কে যে আধিক্য পরিলক্ষিত হয় তার ওপর ভিত্তি করে তাঁর একটি অনুমান মাত্র। এতে কোনো ব্যক্তির সামনে তার মধ্যে বিদ্যমান ভালো গুণের প্রশংসা করার বৈধতা পাওয়া যায়, আর এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী—তোমরা প্রশংসাকারীদের মুখে মাটি ছুড়ে মারো—এর বিরোধী নয়। তিনি মূলত এটি দ্বারা সেই পরিস্থিতি বুঝিয়েছেন যখন তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বা প্রশংসিত ব্যক্তির মধ্যে নেই এমন গুণ দিয়ে প্রশংসা করবে। আর ইউনুস ও মামারের উক্তি: তাঁর কাঁধের মাংসপেশি কাঁপছিল—অর্থাৎ যাদের বর্ণনায় 'তাঁর অন্তর কাঁপছিল' এসেছে, তাদের বর্ণনার স্থলে তিনি 'তাঁর কাঁধের মাংসপেশি কাঁপছিল' উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٣٩)
وسيأتى تفسير ذلك فى آخر هذا الباب، إن شاء الله تعالى. ومعنى أمره تعالى نبيه لا يحرك بالقرآن لسانه ليعجل به: وعدته له أن يجمعه فى صدره، لكى يتدبره ويتفهمه، وتبدو له عجائب القرآن وحكمته، وتقع فى قلبه مواعظه، فيتذكر بذلك، ولتتأسى به أمته فى تلاوته، فينالوا بركته، ولا يحرموا حكمته. وقد ذكر الله هذا المعنى، فقال: (لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوْلُوا الأَلْبَابِ) [ص: 29] . وفيه: أن القرآن لا يحفظه أحد، إلا بعون الله له على حفظه وتيسيره، ويشهد لهذا قوله تعالى: (وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ) [القمر: 17] . / 5 - وفيه: ابْنِ عَبَّاسٍ، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِى رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ، وَكَانَ يَلْقَاهُ فِى كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ، فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ، فَلَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ. قال المهلب: معنى ذلك: أنه امتثل، صلى الله عليه وسلم ، قول الله وأمره، فى تقديم الصدقة بين يدى نجوى الرسول، الذى كان [الله] تعالى أمر به عباده، فقال: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَاجَيْتُمُ الرَّسُولَ فَقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَاكُمْ صَدَقَةً) [المجادلة: 12] ، ثم عفا عنهم لإشفاقهم منه، فامتثل ذلك النبى عند مناجاة الملك، وترداده عليه فى رمضان. فإن قيل: هذا أمر منسوخ، قيل: قد فعل النبى، صلى الله عليه وسلم ، فى خاصته أشياء منع منها أمته، كالوصال فى الصيام، فإنه صلى الله عليه وسلم واصل، ونهى عنه غيره، وقال: تمت أيكم مثلى -؟ وكان يلتزم من طاعة ربه ما لا يقدر عليه غيره، وكان يصلى حتى تتفطر قدماه،

ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই অধ্যায়ের শেষে এর ব্যাখ্যা আসবে। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে কুরআনের সাথে জিহ্বা না নাড়ানোর যে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তিনি তাড়াহুড়ো না করেন, তার অর্থ হলো: তাঁর জন্য আল্লাহর অঙ্গীকার যে, তিনি তা তাঁর বক্ষে জমা করে দেবেন, যাতে তিনি তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও উপলব্ধি করতে পারেন, এবং তাঁর কাছে কুরআনের বিস্ময় ও হিকমতসমূহ প্রকাশ পায় এবং তাঁর অন্তরে এর উপদেশসমূহ গেঁথে যায়। এর মাধ্যমে তিনি যেন স্মরণ করতে পারেন এবং তাঁর উম্মত যেন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করে, ফলে তারা এর বরকত লাভ করবে এবং এর হিকমত থেকে বঞ্চিত হবে না। আল্লাহ তাআলা এই অর্থটি উল্লেখ করে বলেছেন: "যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন উপদেশ গ্রহণ করে।" [সোয়াদ: ২৯]। এর মধ্যে রয়েছে যে, আল্লাহর সাহায্য ও সহজীকরণ ব্যতিরেকে কেউ কুরআন মুখস্থ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলার এই বাণী এর সাক্ষ্য দেয়: "নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে স্মরণের জন্য সহজ করে দিয়েছি।" [আল-কামার: ১৭] ।

৫ - এতে ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। রমাদান মাসে যখন জিবরাঈল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। জিবরাঈল রমাদানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কুরআন পাঠ করে শুনাতেন। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণ দান করার ক্ষেত্রে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল ছিলেন। মুহাল্লাব বলেন: এর অর্থ হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সেই বাণী ও নির্দেশ পালন করেছিলেন যা রাসূলের সাথে গোপন আলোচনার পূর্বে সদকা প্রদানের বিষয়ে ছিল, যে নির্দেশ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা যখন রাসূলের সাথে চুপিচুপি কথা বলতে চাইবে, তখন তোমাদের সেই আলোচনার পূর্বে কিছু সদকা প্রদান করো।" [আল-মুজাদালাহ: ১২] । অতঃপর তাদের ভয়ের কারণে তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরিশতার সাথে চুপিচুপি কথা বলার সময় এবং রমাদানে তাঁর সাথে বারবার সাক্ষাতের সময় তা পালন করতেন। যদি বলা হয়: এটি একটি রহিত বিধান, তবে উত্তর হবে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ক্ষেত্রে এমন কিছু কাজ করেছেন যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য নিষেধ করেছিলেন; যেমন সওমে 'বিসাল' (বিরতিহীন রোজা)। তিনি নিজে বিসাল করতেন কিন্তু অন্যদের তা করতে নিষেধ করতেন। তিনি বলতেন: "তোমাদের মধ্যে আমার মত কে আছে?" তিনি তাঁর রবের আনুগত্যের ক্ষেত্রে এমন বিষয়সমূহ পালন করতেন যা অন্য কেউ সক্ষম ছিল না। তিনি সালাত আদায় করতেন এমনকি তাঁর পা ফেটে যেত।

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٤٠)
ويقول: تمت أفلا أكون عبدًا شكورًا -؟ وما كانت مدارسته للقرآن إلا لتزيده رغبة فى الآخرة، وتزهدًا فى الدنيا. وفيه: دليل أن الجليس الصالح ينتفع بمجالسته. فإن قيل: فما معنى مدارسة جبريل للنبى صلى الله عليه وسلم القرآن وقد ضمن الله لنبيه ألا ينساه بقوله: (سَنُقْرِؤُكَ فَلَا تَنسَى (؟ [الأعلى: 6] فالجواب: أن الله تعالى إنما ضمن له ألا ينساه بأن بقرئه إياه فى المستأنف، لأن السين فى) سَنُقْرِؤُكَ (دخلت للاستئناف، فأنجز له ذلك بإقراء جبريل، ومدارسته له القرآن فى كل رمضان. وخص رمضان بذلك، لأن الله تعالى أنزل فيه القرآن إلى السماء الدنيا، ولتتأسى بذلك أمته فى كل أشهر رمضان، فيكثروا فيه من قراءة القرآن، فيجتمع لهم فضل الصيام والتلاوة والقراءة والقيام. / 6 - وفيه: ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِى رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ، وَكَانُوا تِجَارًا بِالشَّأْمِ، فِى الْمُدَّةِ الَّتِى كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَادَّ فِيهَا أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ وَكُفَّارَ قُرَيْشٍ، فَأَتَوْهُ وَهُمْ بِإِيلِيَاءَ، فَدَعَاهُمْ فِى مَجْلِسِهِ، وَحَوْلَهُ عُظَمَاءُ الرُّومِ، ثُمَّ دَعَاهُمْ وَدَعَا بِتَرْجُمَانِهِ، فَقَالَ: أَيُّكُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا بِهَذَا الرَّجُلِ الَّذِى يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِىٌّ؟ فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: قُلْتُ: أَنَا أَقْرَبُهُمْ نَسَبًا. فَقَالَ: أَدْنُوهُ مِنِّى، وَقَرِّبُوا أَصْحَابَهُ، فَاجْعَلُوهُمْ عِنْدَ ظَهْرِهِ، ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ: قُلْ لَهُمْ: إِنِّى سَائِلٌ هَذَا عَنْ هَذَا الرَّجُلِ، فَإِنْ كَذَبَنِى فَكَذِّبُوهُ، فَوَاللَّهِ لَوْلا الْحَيَاءُ مِنْ أَنْ يَأْثِرُوا عَلَىَّ كَذِبًا لَكَذَبْتُ عَنْهُ، ثُمَّ قَالَ: أَوَّلَ مَا سَأَلَنِى عَنْهُ أَنْ قَالَ: كَيْفَ نَسَبُهُ فِيكُمْ؟ قُلْتُ هُوَ فِينَا ذُو نَسَبٍ،

এবং তিনি বলেন: [ইবাদত] সম্পন্ন হয়েছে, তবে কি আমি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না? আর তাঁর কুরআন পাঠের এই পারস্পরিক পর্যালোচনা কেবল আখেরাতের প্রতি তাঁর আগ্রহ বৃদ্ধি করতে এবং দুনিয়ার প্রতি তাঁর অনীহা বাড়াতে ছিল। এর মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, সৎ সঙ্গীর সঙ্গ থেকে উপকার লাভ করা যায়। যদি প্রশ্ন করা হয়: জিবরাইল কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কুরআনের এই পর্যালোচনার অর্থ কী, যখন আল্লাহ তাঁর নবীর জন্য তা ভুলে না যাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে এই কথা বলেছেন: (আমি তোমাকে পাঠ করাবো, ফলে তুমি ভুলবে না)? [আল-আ’লা: ৬] এর উত্তর হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য ভুলে না যাওয়ার নিশ্চয়তা এভাবেই দিয়েছেন যে, তিনি ভবিষ্যতে তাঁকে তা পাঠ করাবেন। কারণ (সা-নুকরিউকা) শব্দে 'সীন' বর্ণটি ভবিষ্যতের অর্থ প্রদানের জন্য যুক্ত হয়েছে। ফলে জিবরাইলের পাঠদান এবং প্রতি রমজানে তাঁর সাথে কুরআনের পর্যালোচনার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তা পূর্ণ করেছেন। আর রমজানকে এজন্যই সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, কারণ আল্লাহ তাআলা এই মাসেই কুরআনকে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করেছেন, এবং যাতে তাঁর উম্মত প্রতি রমজান মাসে এর অনুসরণ করতে পারে; ফলে তারা এই মাসে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করবে এবং এর ফলে তাদের জন্য রোজা, তিলাওয়াত, পাঠ এবং রাতের ইবাদতের (কিয়াম) মর্যাদা একত্রে অর্জিত হবে। / ৬ - এবং এতে রয়েছে: ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: আবু সুফিয়ান বিন হারব তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হিরাক্লিয়াস কুরাইশদের এক কাফেলার মধ্যে তাঁর কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা তখন সিরিয়ায় ব্যবসা করতে গিয়েছিলেন। সেই সময়টিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফিয়ান বিন হারব ও কুরাইশ কাফিরদের সাথে সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁরা তাঁর কাছে আসলেন যখন তাঁরা ঈলিয়ায় অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁদেরকে তাঁর মজলিসে আহ্বান করলেন, আর তাঁর চারপাশে ছিল রোমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এরপর তিনি তাঁদেরকে ডাকলেন এবং তাঁর দোভাষীকেও ডাকলেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের মধ্যে এই ব্যক্তিটির বংশীয় সম্পর্কে সবচেয়ে নিকটবর্তী কে, যে নিজেকে নবী বলে দাবি করে? আবু সুফিয়ান বললেন: আমি বললাম: আমিই তাদের মধ্যে বংশীয়ভাবে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী। তখন তিনি বললেন: তাঁকে আমার নিকটে নিয়ে এসো এবং তাঁর সঙ্গীদেরও কাছে আনো, আর তাঁদেরকে তাঁর পিঠের পেছনে বসিয়ে দাও। এরপর তিনি তাঁর দোভাষীকে বললেন: তাঁদেরকে বলে দাও যে, আমি এই ব্যক্তিটি সম্পর্কে একে কিছু জিজ্ঞাসা করব; যদি সে আমার কাছে মিথ্যা বলে, তবে তোমরা তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে। আল্লাহর কসম! আমার সঙ্গীরা আমার নামে মিথ্যা কথা রটাবে—এই লজ্জা যদি আমার না থাকত, তবে আমি অবশ্যই তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম। এরপর তিনি সর্বপ্রথম আমাকে যা জিজ্ঞাসা করলেন তা হলো: তোমাদের মধ্যে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন? আমি বললাম: আমাদের মাঝে তিনি অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত বংশের,

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٤١)
قَالَ: فَهَلْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ مِنْكُمْ أَحَدٌ قَطُّ قَبْلَهُ؟ قُلْتُ: لا، قَالَ: فَهَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ؟ قُلْتُ: لا، قَالَ: فَأَشْرَافُ النَّاسِ اتَبَّعُوهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ؟ فَقُلْتُ: بَلْ ضُعَفَاؤُهُمْ، قَالَ: أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ قُلْتُ: بَلْ يَزِيدُونَ، قَالَ: فَهَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْهُمْ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ؟ قُلْتُ: لا، قَالَ: فَهَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ؟ قُلْتُ: لا. قَالَ: فَهَلْ يَغْدِرُ؟ قُلْتُ: لا، وَنَحْنُ مِنْهُ فِى مُدَّةٍ لا نَدْرِى مَا هُوَ فَاعِلٌ فِيهَا، قَالَ: وَلَمْ تُمْكِنِّىِّ كَلِمَةٌ أُدْخِلُ فِيهَا شَيْئًا غَيْرُ هَذِهِ الْكَلِمَةِ، قَالَ: فَهَلْ قَاتَلْتُمُوهُ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: كَيْفَ كَانَ قِتَالُكُمْ إِيَّاهُ؟ قُلْتُ: الْحَرْبُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ سِجَالٌ، يَنَالُ مِنَّا وَنَنَالُ مِنْهُ، قَالَ: مَاذَا يَأْمُرُكُمْ؟ قُلْتُ: يَقُولُ: اعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ، وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَاتْرُكُوا مَا يَقُولُ آبَاؤُكُمْ، وَيَأْمُرُنَا بِالصَّلاةِ وَالزَّكَاةِ، وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ وَالصِّلَةِ. فَقَالَ لِلتَّرْجُمَانِ: قُلْ لَهُ: سَأَلْتُكَ عَنْ نَسَبِهِ، فَذَكَرْتَ أَنَّهُ فِيكُمْ ذُو نَسَبٍ، فَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْعَثُ فِى نَسَبِ قَوْمِهَا، وَسَأَلْتُكَ هَلْ قَالَ أَحَدٌ مِنْكُمْ هَذَا الْقَوْلَ؟ فَذَكَرْتَ

তিনি বললেন: তোমাদের মধ্য থেকে এর আগে কি কখনও কেউ এমন কথা বলেছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কি কেউ বাদশাহ ছিলেন? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: সম্ভ্রান্ত লোকেরা কি তাঁর অনুসরণ করে নাকি দুর্বলরা? আমি বললাম: বরং দুর্বলরাই। তিনি বললেন: তারা কি সংখ্যায় বাড়ছে নাকি কমছে? আমি বললাম: বরং বাড়ছে। তিনি বললেন: তাদের কেউ কি এই ধর্মে প্রবেশের পর তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ধর্ম ত্যাগ করে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তিনি যা বলছেন তা বলার আগে তোমরা কি তাঁকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করতে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তিনি কি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন? আমি বললাম: না, তবে আমরা এখন তাঁর সাথে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে আছি, আমরা জানি না তিনি এই সময়ে কী করবেন। তিনি (আবু সুফিয়ান) বলেন: এই কথাটি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো কিছু প্রবিষ্ট করার সুযোগ আমার হয়নি। তিনি বললেন: তোমরা কি তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তাঁর সাথে তোমাদের যুদ্ধ কেমন ছিল? আমি বললাম: আমাদের ও তাঁর মধ্যে যুদ্ধ পালাক্রমিক; কখনও তিনি আমাদের পরাস্ত করেন, আবার কখনও আমরা তাঁকে। তিনি বললেন: তিনি তোমাদের কী নির্দেশ দেন? আমি বললাম: তিনি বলেন: তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলত তা বর্জন করো। তিনি আমাদের সালাত, জাকাত, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি দোভাষীকে বললেন: তাকে বলো, আমি তোমাকে তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, আর তুমি উল্লেখ করেছ যে তিনি তোমাদের মধ্যে উচ্চবংশীয়; প্রকৃতপক্ষে রাসুলগণ তাঁদের সম্প্রদায়ের উচ্চবংশেই প্রেরিত হয়ে থাকেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তোমাদের মধ্যে কি আগে কেউ এ কথা বলেছে? তুমি উল্লেখ করেছ যে...

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٤٢)
أَنْ لا، فَقُلْتُ: لَوْ كَانَ أَحَدٌ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ قَبْلَهُ، لَقُلْتُ رَجُلٌ يَأْتَسِى بِقَوْلٍ قِيلَ قَبْلَهُ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، فَقُلْتُ: فَلَوْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ قُلْتُ: رَجُلٌ يَطْلُبُ مُلْكَ أَبِيهِ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، فَقَدْ أَعْرِفُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِيَذَرَ الْكَذِبَ عَلَى النَّاسِ وَيَكْذِبَ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى. وَسَأَلْتُكَ أَشْرَافُ النَّاسِ اتَّبَعُوهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ؟ فَذَكَرْتَ أَنَّ ضُعَفَاءَهُمِ اتَّبَعُوهُ، وَهُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ، وَسَأَلْتُكَ أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ فَذَكَرْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ، وَكَذَلِكَ أَمْرُ الإيمَانِ حَتَّى يَتِمَّ، وَسَأَلْتُكَ أَيَرْتَدُّ أَحَدٌ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، وَكَذَلِكَ الإيمَانُ حِينَ تُخَالِطُ بَشَاشَتُهُ الْقُلُوبَ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَغْدِرُ؟ فَذَكَرْتَ أَنْ لا، وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ لا تَغْدِرُ، وَسَأَلْتُكَ بِمَا يَأْمُرُكُمْ؟ فَذَكَرْتَ أَنَّهُ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ، وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَيَنْهَاكُمْ عَنْ عِبَادَةِ الأوْثَانِ، وَيَأْمُرُكُمْ بِالصَّلاةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ، فَإِنْ كَانَ مَا تَقُولُ حَقًّا فَسَيَمْلِكُ مَوْضِعَ قَدَمَىَّ هَاتَيْنِ، وَقَدْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّهُ خَارِجٌ، وَلَمْ أَكُنْ أَظُنُّ أَنَّهُ مِنْكُمْ، فَلَوْ أَنِّى أَعْلَمُ أَنِّى أَخْلُصُ إِلَيْهِ لَتَجَشَّمْتُ لِقَاءَهُ، وَلَوْ كُنْتُ عِنْدَهُ لَغَسَلْتُ عَنْ قَدَمَيْهِ. ثُمَّ دَعَا بِكِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِى بَعَثَ بِهِ دِحْيَةُ الكَلْبِى إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى، فَدَفَعَهُ إِلَى هِرَقْلَ، فَقَرَأَهُ فَإِذَا فِيهِ: تمت بِسْم اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مِنْ مُحَمَّدٍ بن عَبْدِ اللَّهِ رسول اللَّه إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ، سَلامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى، أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّى أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الإسْلامِ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ، فَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الأرِيسِيِّين، َ وَ) يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُم

না, তখন আমি মনে মনে বললাম: যদি ইতিপূর্বে কেউ এ কথা বলত, তবে আমি বলতাম যে ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর আগে বলা কোনো কথার অনুকরণ করছেন। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি যে তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কি কোনো রাজা ছিলেন? আপনি উত্তর দিয়েছেন, না। তখন আমি মনে করলাম, যদি তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কোনো রাজা থাকতেন, তবে আমি বলতাম যে ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর পিতার রাজত্ব পুনরুদ্ধার করতে চান। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি যা বলেছেন তা বলার আগে আপনারা কি কখনও তাঁকে মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন? আপনি বললেন, না। আমি বুঝতে পারলাম, এমনটি হতে পারে না যে কেউ মানুষের ব্যাপারে মিথ্যা পরিহার করবে আর আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করবে। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি যে প্রভাবশালীরা তাঁর অনুসরণ করছে নাকি দুর্বলরা? আপনি জানিয়েছেন যে দুর্বলরাই তাঁর অনুসরণ করছে; আর রাসুলদের অনুসারীরা এমন লোকই হয়ে থাকে। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি তারা কি বাড়ছে নাকি কমছে? আপনি জানিয়েছেন যে তারা বাড়ছে। ঈমানের বিষয়টি পূর্ণতা পাওয়া পর্যন্ত এমনই হয়ে থাকে। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি কেউ কি তাঁর ধর্মে প্রবেশ করার পর তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ধর্মত্যাগ করে? আপনি বলেছেন, না। ঈমানের মাধুর্য যখন অন্তরের সাথে মিশে যায়, তখন এমনই হয়। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি তিনি কি বিশ্বাসঘাতকতা করেন? আপনি বললেন, না। রাসুলগণ কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করেন না। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি তিনি আপনাদের কিসের আদেশ দেন? আপনি জানিয়েছেন যে তিনি আপনাদের এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করার আদেশ দেন, আপনাদের মূর্তিপূজা থেকে নিষেধ করেন এবং আপনাদের নামাজ, সত্যবাদিতা ও পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ দেন। আপনি যা বলছেন তা যদি সত্য হয়, তবে অচিরেই তিনি আমার এই দুই পা রাখার জায়গার মালিক হবেন। আমি জানতাম যে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে, কিন্তু আমি ভাবিনি যে তিনি আপনাদের মধ্য থেকে হবেন। আমি যদি জানতাম যে তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারব, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য যে কোনো কষ্ট স্বীকার করতাম। আর আমি যদি তাঁর সান্নিধ্যে থাকতাম, তবে অবশ্যই তাঁর দুই পা ধৌত করতাম। এরপর তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই চিঠিটি চাইলেন যা দিহয়া আল-কালবি বসরার প্রধানের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তা হিরাক্লিয়াসের কাছে দিলেন এবং তিনি তা পাঠ করলেন। তাতে লেখা ছিল: পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যিনি সঠিক পথের অনুসরণ করেন। অতঃপর, আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াতের দিকে আহ্বান করছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন; আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দান করবেন। আর যদি আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে আপনার প্রজাসাধারণের সকল পাপ আপনার ওপর বর্তাবে। (এবং) হে কিতাবধারীগণ, তোমরা এমন এক কথার দিকে এসো যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে অভিন্ন...

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٤٣)
أَنْ لا نَعْبُدَ إِلا اللَّهَ وَلا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} -[آل عمران: 64] . قَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَلَمَّا قَالَ، مَا قَالَ وَفَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ الْكِتَابِ، كَثُرَ عِنْدَهُ الصَّخَبُ، وَارْتَفَعَتِ الأصْوَاتُ، وَأُخْرِجْنَا. فَقُلْتُ لأصْحَابِى حِينَ أُخْرِجْنَا: لَقَدْ أَمِرَ أَمْرُ ابْنِ أَبِى كَبْشَةَ، إِنَّهُ يَخَافُهُ مَلِكُ بَنِى الأصْفَر، فَمَا زِلْتُ مُوقِنًا أَنَّهُ سَيَظْهَرُ، حَتَّى أَدْخَلَ اللَّهُ عَلَىَّ الإسْلامَ. وَكَانَ ابْنُ النَّاظُورِ صَاحِبُ إِيلِيَاءَ، وَهِرَقْلَ أسقُفًّا عَلَى نَصَارَى الشَّاْمِ، يُحَدِّثُ أَنَّ هِرَقْلَ حِينَ قَدِمَ إِيلِيَاءَ أَصْبَحَ يَوْمًا خَبِيثَ النَّفْسِ، فَقَالَ بَعْضُ بَطَارِقَتِهِ: قَدِ اسْتَنْكَرْنَا هَيْئَتَكَ، قَالَ ابْنُ النَّاظُورِ: وَكَانَ هِرَقْلُ حَزَّاءً يَنْظُرُ فِى النُّجُومِ، فَقَالَ لَهُمْ حِينَ سَأَلُوهُ: إِنِّي رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ حِينَ نَظَرْتُ فِى النُّجُومِ مَلِكَ الْخِتَانِ قَدْ ظَهَرَ فَمَنْ يَخْتَتِنُ مِنْ هَذِهِ الأمَّةِ؟ قَالُوا: لَيْسَ يَخْتَتِنُ إِلا الْيَهُودُ، فَلا يُهِمَّنَّكَ شَأْنُهُمْ، وَاكْتُبْ إِلَى مَدَايِنِ مُلْكِكَ، فَيَقْتُلُوا مَنْ فِيهِمْ مِنَ الْيَهُودِ، فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى أَمْرِهِمْ أُتِىَ هِرَقْلُ بِرَجُلٍ أَرْسَلَ بِهِ مَلِكُ غَسَّانَ، يُخْبِرُ عَنْ خَبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا اسْتَخْبَرَهُ هِرَقْلُ، قَالَ: اذْهَبُوا، فَانْظُرُوا، مُخْتَتِنٌ هُوَ أَمْ لا؟ فَنَظَرُوا إِلَيْهِ، فَحَدَّثُوهُ أَنَّهُ مُخْتَتِنٌ، وَسَأَلَهُ عَنِ الْعَرَبِ، فَقَالَ: هُمْ يَخْتَتِنُونَ، فَقَالَ هِرَقْلُ: هَذَا مُلْكُ هَذِهِ الأمَّةِ قَدْ ظَهَرَ، ثُمَّ كَتَبَ هِرَقْلُ إِلَى صَاحِبٍ لَهُ بِرُومِيَةَ، وَكَانَ هِرَقْلُ نَظِيرَهُ فِى الْعِلْمِ، وَسَارَ هِرَقْلُ إِلَى

“যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করি এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরীক না করি। আর আমাদের কেউ যেন আল্লাহকে ছেড়ে একে অপরকে রব হিসেবে গ্রহণ না করে। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলো— তোমরা সাক্ষী থাকো যে, নিশ্চয়ই আমরা মুসলিম।” [আলে ইমরান: ৬৪]। আবু সুফিয়ান বলেন: তিনি যা বলার তা বললেন এবং পত্র পাঠ শেষ করলেন, তখন তাঁর নিকট শোরগোল বেড়ে গেল এবং উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার ধ্বনিত হতে লাগল, আর আমাদের বের করে দেওয়া হলো। যখন আমাদের বের করে দেওয়া হলো, তখন আমি আমার সঙ্গীদের বললাম: ইবনে আবি কাবশার বিষয়টি তো অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে; বনু আসফারের (রোমানদের) বাদশাহও তাকে ভয় পাচ্ছে। এরপর থেকে আমি সর্বদা এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করতাম যে, তিনি অচিরেই বিজয়ী হবেন, অবশেষে আল্লাহ আমার নিকট ইসলাম প্রবেশ করিয়ে দিলেন। ইবনে নাযুর ছিলেন ইলিয়ার (জেরুজালেম) শাসক এবং হিরাক্লিয়াস ছিলেন শামের খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু। তিনি বর্ণনা করতেন যে, হিরাক্লিয়াস যখন ইলিয়ায় আসলেন, তখন একদিন সকালে তাঁকে বিমর্ষ চিত্তে দেখা গেল। তাঁর উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের কেউ কেউ বলল: আমরা আপনার বর্তমান অবস্থা বা চেহারা অস্বাভাবিক দেখতে পাচ্ছি। ইবনে নাযুর বলেন: হিরাক্লিয়াস ছিলেন একজন জ্যোতিষী, যিনি নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করতেন। যখন তারা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করল, তখন তিনি তাদের বললেন: আজ রাতে আমি যখন নক্ষত্রমণ্ডল পর্যবেক্ষণ করছিলাম, তখন দেখলাম যে খতনাকারীদের বাদশাহর আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমান যুগের কোন জাতি খতনা করে? তারা বলল: ইহুদিরা ব্যতীত আর কেউ খতনা করে না। সুতরাং তাদের বিষয়টি যেন আপনাকে দুশ্চিন্তায় না ফেলে। আপনি আপনার রাজ্যের শহরগুলোতে লিখে পাঠান যেন সেখানে অবস্থানরত ইহুদিদের হত্যা করা হয়। যখন তারা এই সিদ্ধান্তে লিপ্ত ছিল, তখন হিরাক্লিয়াসের নিকট এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হলো যাকে গাসসানের বাদশাহ পাঠিয়েছিলেন এবং সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদ প্রদান করছিল। যখন হিরাক্লিয়াস তার নিকট সংবাদ জানতে চাইলেন, তখন তিনি বললেন: তোমরা গিয়ে দেখো তার খতনা হয়েছে কি না। তারা তাকে পরীক্ষা করে জানাল যে, সে খতনাকৃত। এরপর তিনি তাকে আরবদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলল: তারা খতনা করে। তখন হিরাক্লিয়াস বললেন: এই উম্মতের প্রকৃত বাদশাহরই আবির্ভাব ঘটেছে। অতঃপর হিরাক্লিয়াস রোমে তাঁর এক বন্ধুর নিকট পত্র লিখলেন, যিনি জ্ঞানের দিক থেকে তাঁর সমপর্যায়ের ছিলেন। এরপর হিরাক্লিয়াস অভিমুখে রওনা হলেন...

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٤٤)
حِمْصَ، فَلَمْ يَرِمْ حِمْصَ، حَتَّى أَتَاهُ كِتَابٌ مِنْ صَاحِبِهِ، يُوَافِقُ رَأْىَ هِرَقْلَ عَلَى خُرُوجِ الرسول، وَأَنَّهُ نَبِىٌّ، فَأَذِنَ هِرَقْلُ لِعُظَمَاءِ الرُّومِ فِى دَسْكَرَةٍ لَهُ بِحِمْصَ، ثُمَّ أَمَرَ بِأَبْوَابِهَا فَغُلِّقَتْ، ثُمَّ اطَّلَعَ، فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ الرُّومِ، هَلْ لَكُمْ فِى الْفَلاحِ وَالرُّشْدِ، وَأَنْ يَثْبُتَ مُلْكُكُمْ فَتُبَايِعُوا هَذَا النَّبِىَّ؟ فَحَاصُوا حَيْصَةَ حُمُرِ الْوَحْشِ إِلَى الأبْوَابِ، فَوَجَدُوهَا قَدْ غُلِّقَتْ، فَلَمَّا رَأَى هِرَقْلُ نَفْرَتَهُمْ، وَأَيِسَ مِنَ الإيمَانِ، قَالَ: رُدُّوهُمْ عَلَىَّ، وَقَالَ: إِنِّى قُلْتُ مَقَالَتِى آنِفًا أَخْتَبِرُ بِهَا شِدَّتَكُمْ عَلَى دِينِكُمْ، فَقَدْ رَأَيْتُ، فَسَجَدُوا لَهُ، وَرَضُوا عَنْهُ، فَكَانَ ذَلِكَ آخِرَ شَأْنِ هِرَقْلَ. قال المهلب: وقوله: تمت فى المدة التى مادَّ فيها رسول الله أبا سفيان وكفار قريش -، فإن أهل السير ذكروا أن الرسول صلى الله عليه وسلم صالح أهل مكة سنة ست، عام الحديبة، عشر سنين، ثم إن أهل مكة نقضوا العهد الذى كان بينهم وبين الرسول بقتالهم خزاعة حلفاء النبى صلى الله عليه وسلم ، ثم سألو أبا سفيان أن يجدد لهم العهد، فامتنع النبى صلى الله عليه وسلم من ذلك، فأنزل الله تعالى: (أَلَا تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَّكَثُواْ أَيْمَانَهُمْ وَهَمُّواْ بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ وَهُم بَدَؤُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ) [التوبة: 13] بعد أن قال تعالى: (وَإِن نَّكَثُواْ أَيْمَانَهُم مِّن بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُواْ فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُواْ أَئِمَّةَ الْكُفْرِ) [التوبة: 12] فأوجب قتالهم حين نكثوا أيمانهم. وغير جائز أن يترك النبى صلى الله عليه وسلم ما أمر به من قتالهم بعد قوله: (قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ) [التوبة: 14، 15] فأمر بقتالهم وأخبر بما يكون من النصر والتشفى خبرًا لا يجوز أن ينقلب.
হিমস, তিনি হিমস ত্যাগ করেননি যতক্ষণ না তাঁর নিকট তাঁর সঙ্গীর পক্ষ থেকে একটি পত্র আসল, যা রাসূলের আবির্ভাব এবং তিনি যে একজন নবী, সে বিষয়ে হিরাক্লিয়াসের মতামতের সাথে একমত ছিল। অতঃপর হিরাক্লিয়াস রোমান বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হিমসে অবস্থিত তাঁর একটি প্রাসাদে সমবেত হওয়ার অনুমতি দিলেন। এরপর তিনি এর ফটকগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন এবং তা বন্ধ করে দেওয়া হলো। অতঃপর তিনি উপস্থিত হয়ে বললেন: হে রোমান সম্প্রদায়, তোমাদের কি কল্যাণ ও সঠিক পথ লাভ এবং তোমাদের রাজত্ব অটুট থাকার কোনো আকাঙ্ক্ষা আছে? তবে তোমরা এই নবীর হাতে বায়আত গ্রহণ করো। তখন তারা বন্য গাধার পলায়নের ন্যায় ফটকগুলোর দিকে ছুটল, কিন্তু তারা সেগুলো বন্ধ পেল। হিরাক্লিয়াস যখন তাদের বিমুখতা দেখলেন এবং তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হলেন, তখন তিনি বললেন: ওদের আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। এরপর তিনি বললেন: আমি এইমাত্র যা বলেছি, তা কেবল তোমাদের দ্বীনের প্রতি তোমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার জন্য বলেছি, আর আমি তা দেখে নিয়েছি। তখন তারা তাঁকে সিজদাহ করল এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হলো। এটিই ছিল হিরাক্লিয়াসের সর্বশেষ অবস্থা। আল-মুহাল্লাব বলেন: তাঁর উক্তি: "তা সেই মেয়াদে সম্পন্ন হয়েছিল যে মেয়াদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফিয়ান ও কুরাইশ কাফেরদের সাথে সন্ধি করেছিলেন" - সীরাত বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ষষ্ঠ হিজরীতে হুদায়বিয়ার বছর মক্কাবাসীদের সাথে দশ বছরের জন্য সন্ধি করেছিলেন। অতঃপর মক্কাবাসীরা রাসূলের সাথে তাদের মধ্যকার সেই চুক্তি ভঙ্গ করল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিত্র গোত্র খুযাআ’র বিরুদ্ধে লড়াই করার মাধ্যমে। এরপর তারা আবু সুফিয়ানকে তাদের জন্য চুক্তি নবায়ন করার অনুরোধ করল, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে বিরত থাকলেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: (তোমরা কি সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না যারা তাদের শপথ ভঙ্গ করেছে এবং রাসূলকে বের করে দেওয়ার সংকল্প করেছে, আর তারাই প্রথমবার তোমাদের সাথে শত্রুতা শুরু করেছে?) [আত-তাওবাহ: ১৩], আল্লাহ তাআলার এই বাণীর পর: (আর যদি তারা তাদের চুক্তির পর তাদের শপথ ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দ্বীন নিয়ে কটূক্তি করে, তবে কুফরের নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো) [আত-তাওবাহ: ১২]। সুতরাং তারা যখন তাদের শপথ ভঙ্গ করল তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আবশ্যক করে দিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা বর্জন করা বৈধ ছিল না, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর পর: (তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি দেবেন, তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন এবং মুমিন সম্প্রদায়ের অন্তরসমূহকে প্রশান্ত করবেন এবং তাদের অন্তরের ক্ষোভ দূর করবেন) [আত-তাওবাহ: ১৪, ১৫]। সুতরাং তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর ফলে যে বিজয় ও প্রশান্তি অর্জিত হবে সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন—এমন সংবাদ যা কখনো পরিবর্তিত হওয়া সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٤٥)
وفى سؤال هرقل: تمت أيكم أقرب نسبًا بهذا الرجل؟ - دليل أن أقارب الإنسان أولى بالسؤال عنه من غيرهم من أجل أنه لا ينسب إلى قريبه ما يلحقه به عار فى نسبه عند العداوة كما يفعل غير القريب. وقوله: تمت قربوا أصحابه فاجعلوهم عند ظهره -، خشى أن يستحى منه أصحابه عند نظرهم إليه إن كذب فى قوله. وقال لهم: تمت كذبنى فكذبوه - وإن صدقنى فصدقوه. وقوله: تمت فوالله لولا الحياء من أن يأثروا على كذابًا لكذبت عليه - يدل أن الكذب مهجور فى كل أمة ومعيبًا فى كل ملة. وفيه: أن العدو لا يؤمن عليه الكذب على عدوه، وكذلك لا يجوز شهادته على عدوه. وفيه: أن الرسل لا ترسل إلا من أكرم الأنساب، لأن من شرف نسبه كان أبعد له من الانتحال لغير الحقائق. وقوله: تمت فى نسب قومها - يعنى: أفضله وأشرفه. وكذلك الإمام الذى هو خليفة الرسول ينبغى أن يكون من أشرف قومه. وفيه: أن الإمام الكاشف وجهه فى الإمامة وكل من حاول مطلبًا عظيمًا إذا لم يتأس بأحد تقدمه من أهله ولا طلب رئاسة سلفه كان أبعد للمظنة به وأبرأ لساحته. وفيه: أن من أخبر بحديث وهو معروف بالصدق أنه يصدق فيه، وإن كان معروفًا بالكذب أنه لا يقبل حديثه. وقوله: تمت أشراف الناس اتبعوه - فإن أشراف الناس هم الذين يأنفون من الخصال التى شرف صاحبهم عليهم بها، ويُحَطُّ شرفهم إلى
হিরাক্লিয়াসের প্রশ্নে: ‘তোমাদের মধ্যে বংশীয়ভাবে এই লোকটির সবচেয়ে নিকটবর্তী কে?’—এটি প্রমাণ করে যে, কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় তার আত্মীয়রাই অধিক অগ্রগণ্য। এর কারণ হলো, শত্রুতার সময়ও একজন ব্যক্তি তার আত্মীয়ের প্রতি এমন কিছু আরোপ করে না যা তার বংশের জন্য কলঙ্কজনক হতে পারে, যেমনটি অনাত্মীয়রা করে থাকে। এবং তার উক্তি: ‘তার সাথীদের কাছে নিয়ে এসো এবং তাদেরকে তার পিঠের পেছনে দাঁড় করাও’—তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, সে যদি কোনো কথা মিথ্যা বলে তবে তার সাথীরা তার দিকে তাকালে সে হয়তো লজ্জিত হবে। এবং তিনি তাদের বললেন: ‘সে যদি আমার কাছে মিথ্যা বলে তবে তোমরা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করো, আর যদি সে সত্য বলে তবে তাকে সত্য বলে গণ্য করো।’ এবং তার উক্তি: ‘আল্লাহর কসম! তারা আমার নামে মিথ্যা রটনা করবে—এই লজ্জা যদি না থাকত, তবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলতাম’—এটি নির্দেশ করে যে, মিথ্যা প্রতিটি জাতির কাছে বর্জিত এবং প্রতিটি ধর্মাদর্শে নিন্দনীয়। এতে আরও রয়েছে যে, শত্রুর বিরুদ্ধে শত্রুর মিথ্যারোপের ব্যাপারে নিরাপদ থাকা যায় না, আর একইভাবে শত্রুর বিরুদ্ধে তার সাক্ষ্য প্রদানও বৈধ নয়। এতে আরও রয়েছে যে, রাসূলগণ সর্বদা সর্বাধিক সম্মানিত বংশসমূহ থেকেই প্রেরিত হন; কেননা যার বংশীয় মর্যাদা রয়েছে, তার পক্ষে অসত্যের আশ্রয় নেওয়া বা সত্য গোপন করা থেকে দূরে থাকা অধিকতর সম্ভব। এবং তার উক্তি: ‘তার সম্প্রদায়ের বংশমর্যাদার মধ্যে,’ অর্থাৎ: তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও সম্মানিত। একইভাবে, ইমাম—যিনি রাসূলের স্থলাভিষিক্ত—তাকে তার সম্প্রদায়ের সবচেয়ে সম্মানিত হওয়া উচিত। এতে আরও রয়েছে যে, যে ইমাম নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং যে কেউ কোনো মহান উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়, সে যদি তার পরিবারের পূর্ববর্তী কাউকে অনুসরণ না করে এবং তার পূর্বসূরিদের নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষী না হয়, তবে তা তার সম্পর্কে কুধারণা পোষণ থেকে দূরে রাখতে এবং তার স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে অধিক সহায়ক। এতে আরও প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি কোনো সংবাদ প্রদান করে এবং সে সত্যবাদী হিসেবে পরিচিত, তবে তার কথা সত্য বলে গণ্য করা হবে; আর যদি সে মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত হয়, তবে তার কথা গ্রহণ করা হবে না। এবং তার উক্তি: ‘মানুষের মধ্যে যারা সম্ভ্রান্ত তারাই তার অনুসরণ করেছে’—প্রকৃতপক্ষে সম্ভ্রান্ত লোকেরাই সেই সব স্বভাবকে ঘৃণা করে যার মাধ্যমে তাদের সমকক্ষ ব্যক্তি তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, এবং তাদের মর্যাদা নিচের দিকে নেমে যায়...
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٤٦)
أن يكونوا تابعين فى أحوال الدنيا، فلذلك قال: إن كان يعاديه أشراف الناس فهى دلالة على نبوته، وأما ضعفاؤهم الذين لا تتكبر نفوسهم عن اتباع الحق حيث رأوه ولا يجد الشيطان السبيل إلى نفخ الكبرياء فى نفوسهم، فهم متبعون للحق حيث سمعوه لا يمنعم من ذلك طلب رئاسة ولا أنفة شرف، وزيادتهم دليل على صحة النبوة، لأنهم يرون الحق كل يوم يتجدد ويتبين لهم، فيدخل فيه كل يوم طائفة. وأما سؤاله عن ارتدادهم، فإن كل من لم يدخل على بصيره فى شىء وعلى يقين منه فقريب رجوعه واضطرابه، ومن دخل على بصيرة وصحة يقين فيمتنع رجوعه. وأما سؤاله عن الغدر، فإن من طلب الرئاسة والدنيا خاصة لم يسأل عن أى طريق وصل إليها، ومن طلب شرف الآخرة والدنيا لم يدخل فيما يعاب ولا فيما يأثم فيه. وقوله: تمت ونحن منه فى مدة لا ندرى ما يكون منه -، قال: تمت ولم تمكنى كلمة أنتقصه فيها غير ما - فيه من الفقه: أن من شك فى كمال أحوال النبى، صلى الله عليه وسلم ، فهو مرتاب غير مؤمن به. وسؤاله عن حربهم وقوله: تمت وكذلك الرسل تبتلى، ثم تكون لهم العاقبة - فتبتلى ليعظم لها الأجر ولمن اتبعها، ولئلا يخرج الأمر عن العادة، ولو أراد الله إخراج الأمر عن العادات لجعل الناس كلهم له متبعين، ولقذف فى قلوبهم الإيمان به، ولكن أجرى الأمور على العادة بحكمة بالغة؛ ليكون فريق فى الجنة، وفريق فى السعير. وأما قوله لترجمانه: تمت قل له: إنى سألتك عن نسبه - إلى آخر سؤاله، فقال فى كل فصل منها: وكذلك الرسل تبعث فى مثل هذا، فإنما أخبر بذلك عن الكتب القديمة.

তারা পার্থিব অবস্থার ক্ষেত্রে অনুসারী হবে, তাই তিনি বলেছিলেন: যদি মানুষের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা তার সাথে শত্রুতা করে, তবে এটি তার নবুওয়াতের প্রমাণ। আর তাদের মধ্যে দুর্বলরা, যাদের আত্মা সত্যকে দেখার পর তা অনুসরণ করতে অহংকারবোধ করে না এবং শয়তান তাদের হৃদয়ে অহংকার ফুঁক দেওয়ার কোনো পথ পায় না, তারা সত্য যেখানেই শোনে সেখানেই তার অনুসরণ করে। নেতৃত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা বা আভিজাত্যের দম্ভ তাদের এ থেকে বিরত রাখে না। আর তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ, কারণ তারা প্রতিদিন সত্যকে নবায়িত হতে দেখে এবং তা তাদের কাছে স্পষ্ট হয়, ফলে প্রতিদিন এক একটি দল এতে প্রবেশ করে। আর তাদের ধর্মত্যাগ সম্পর্কে তাঁর প্রশ্নের উত্তর হলো, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টি ও দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে প্রবেশ করেনি, তার ফিরে যাওয়া এবং অস্থির হওয়া অতি সন্নিকটে। আর যে ব্যক্তি অন্তর্দৃষ্টি ও সঠিক দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে প্রবেশ করেছে, তার ফিরে আসা অসম্ভব। আর বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে তাঁর প্রশ্নের উত্তর হলো, যে ব্যক্তি বিশেষভাবে নেতৃত্ব ও দুনিয়া অন্বেষণ করে, সে কোন পথে তা অর্জন করল সে বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ করে না। আর যে ব্যক্তি আখেরাতের মর্যাদা এবং দুনিয়া অন্বেষণ করে, সে এমন কিছুতে প্রবেশ করে না যা নিন্দনীয় বা যাতে গুনাহ রয়েছে। আর তাঁর উক্তি: "আমরা তাঁর সাথে এক নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে আছি এবং জানি না তিনি এতে কী করবেন"— তিনি বলেছিলেন: "এই একটি কথা ছাড়া অন্য কোনো কথা আমাকে তাঁর অবমাননা করার সুযোগ দেয়নি।" এতে ফিকহী মাসআলা হলো: যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থার পূর্ণতায় সন্দেহ করে, সে সংশয়বাদী এবং তাঁর প্রতি ঈমানদার নয়। আর তাদের যুদ্ধের বিষয়ে তাঁর প্রশ্ন এবং তাঁর উক্তি: "এভাবেই রাসূলগণ পরীক্ষিত হন, অতঃপর শেষ পরিণাম তাঁদের পক্ষেই থাকে"— রাসূলগণ পরীক্ষিত হন যাতে তাঁদের এবং তাঁদের অনুসারীদের পুরস্কার মহিমান্বিত হয়, এবং যাতে বিষয়টি স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে না চলে যায়। যদি আল্লাহ বিষয়টিকে স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে বের করতে চাইতেন, তবে তিনি সকল মানুষকে তাঁর অনুসারী করে দিতেন এবং তাঁদের অন্তরে তাঁর প্রতি ঈমান নিক্ষেপ করতেন। কিন্তু তিনি এক সুগভীর প্রজ্ঞার কারণে বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত করেছেন; যাতে একদল জান্নাতে থাকে এবং একদল প্রজ্বলিত অগ্নিতে থাকে। আর তাঁর দোভাষীর প্রতি উক্তি: "তাকে বলো: আমি তোমাকে তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি"— তাঁর প্রশ্নের শেষ পর্যন্ত, তিনি এর প্রতিটি অনুচ্ছেদে বলেছিলেন: "রাসূলগণ এভাবেই প্রেরিত হন," তিনি মূলত পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহ থেকেই এ সংবাদ দিয়েছিলেন।

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٤٧)
وأن ذلك كله نعت للنبى صلى الله عليه وسلم مكتوبًا عندهم فى التوارة والإنجيل، وكذلك قوله: تمت قد كنت أعلم أنه خارج - إنما علم ذلك من التوارة والإنجيل. وقول هرقل: تمت لو كنت أرجو أن أخلص إليه لتجشمت لقاءه - دون خلع من ملكه، ولا اعتراض عليه فى شىء، وهذا التجشم هى الهجرة، وكانت فرضًا على كل مسلم قبل فتح مكة. فإن قيل: فإن النجاشى لم يهاجر قبل فتح مكة وهو مؤمن فكيف سقط عنه فرض الهجرة؟ . قيل له: هو فى أهل مملكته أعْنَى عن الله، وعن رسوله، وعن جماعة المسلمين منه، لو هاجر بنفسه فردًا؛ لأن أول عنائه حبسه الحبشة كلهم من مقاتلة النبى، صلى الله عليه وسلم ، والمسلمين مع طوائف الكفار، مع أنه كان ملجأ لمن أوذى من أصحاب النبى صلى الله عليه وسلم وردءًا لجماعة المسلمين، وحكم الردء فى جميع أحكام الإسلام حكم المقاتل، وكذلك فى رد اللصوص والمحاربين عند مالك وأكثر الكوفيين يقتل بقتلهم، ويجب عليه ما يجب عليهم، وإن كانوا لم يحضروا الفعل. ومثل تخلف عثمان وطلحة وسعيد بن زيد عن بدر، فضرب لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بسهامهم من غنيمة بدر، وقالوا: وأجرنا يا رسول الله؟ قال: تمت وأجركم -. وقوله: تمت أسلم تسلم - هذا التجنيس فى غاية البلاغة، وهو من بديع الكلام، ومثله فى كتاب الله: (وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) [النمل: 44] .

আর এ সব কিছুই ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গুণাবলি যা তাদের নিকট তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত ছিল। অনুরূপভাবে তাঁর উক্তি: "আমি জানতাম যে তিনি আবির্ভূত হবেন" - তিনি এটি কেবল তাওরাত ও ইঞ্জিল থেকেই জেনেছিলেন। আর হিরাকলের উক্তি: "আমি যদি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারতাম, তবে অবশ্যই তাঁর সাথে সাক্ষাতের কষ্ট বরণ করে নিতাম" - তাঁর রাজত্ব ত্যাগ করা এবং কোনো বিষয়ে তাঁর বিরোধিতা করা ছাড়াই। আর এই কষ্ট বরণ করাই হলো হিজরত, যা মক্কা বিজয়ের পূর্বে প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ ছিল। যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে তো নাজাশী মক্কা বিজয়ের পূর্বে হিজরত করেননি অথচ তিনি মুমিন ছিলেন, তাহলে হিজরতের ফরজ বিধান তাঁর থেকে কীভাবে রহিত হলো? তার উত্তরে বলা হবে: তিনি একা হিজরত করার চেয়ে তাঁর রাজ্যের প্রজাদের মধ্যে থেকে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুসলিম জামাতের জন্য অধিক হিতকারী ছিলেন; কারণ তাঁর প্রথম অবদান ছিল সমগ্র হাবশাবাসীকে কাফের দলগুলোর সাথে মিলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত রাখা। সেইসাথে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্যাতিত সাহাবীদের জন্য আশ্রয়স্থল এবং মুসলিম জামাতের জন্য সহায়ক শক্তি ছিলেন। আর ইসলামের সকল বিধানে সহায়তাকারীর বিধান হলো যোদ্ধার বিধানের মতোই। অনুরূপভাবে চোর ও সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ইমাম মালিক এবং অধিকাংশ কুফিবাদীদের মতে, তাদের হত্যার দায়ে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে এবং তাদের ওপর যা যা আবশ্যক হয় তার ওপরও তা আবশ্যক হবে, যদিও তারা সশরীরে কার্যে উপস্থিত না থাকে। এর উদাহরণ হলো উসমান, তালহা এবং সাঈদ বিন যায়দ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত থাকা। তবুও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বদরের গনীমত থেকে তাঁদের জন্য অংশ নির্ধারণ করেছিলেন। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সওয়াবও কি হবে? তিনি বললেন: এবং তোমাদের সওয়াবও হবে। এবং তাঁর উক্তি: "ইসলাম গ্রহণ করো, শান্তিতে থাকবে" - এই শব্দালঙ্কারটি অলঙ্কারশাস্ত্রের চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং এটি চমৎকার বাক্যরীতির অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর কিতাবে এর অনুরূপ উদাহরণ হলো: "এবং আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।" [আন-নামল: ৪৪]

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٤٨)
وقوله: تمت يؤتك الله أجرك مرتين - أى: بإيمانك بعيسى، صلى الله عليه وسلم ، وإيمانك بى بعده. ودعاية الإسلام هى توحيد الله، عز وجل، والإيمان برسول الله صلى الله عليه وسلم . ولم يصح عندنا أن هرقل جهر بالإيمان وأعلن بالإسلام، وإنما عندنا أنه آثر ملكه على الجهر بكلمة الحق، ولسنا نقنع بالاعتقاد للإسلام دون الجهر به لقوله: تمت أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله وأنى رسول الله -، وقد أرخص الله لمن خاف، وأكره على الكفر أن يضمر الإيمان بقوله: (إِلَاّ مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالإِيمَانِ) [النحل: 106] ، ولم يبلغنا أن هرقل أكره على شىء من ذلك فيقوم له عذر وأمره إلى الله تعالى. وأما بعثه صلى الله عليه وسلم إلى هرقل بكتاب فيه: بسم الله الرحمن الرحيم، وآية من القرآن، وقد قال صلى الله عليه وسلم : تمت لا تسافروا بالقرآن إلى أرض العدو -، وقال العلماء: لا يُمكَّن المشركون من الدراهم التى فيها اسم الله تعالى. وإنما فعل ذلك، والله أعلم، لأنه فى أول الإسلام، ولم يكن بد من أن يدع الناس إلى دين الله كافة وتبليغهم توحيده كما أمره الله تعالى. وقوله: تمت فإن عليك إثم الأريسيين - يريد الرؤساء المتبوعين على الكفر، وسيأتى اشتقاق هذه اللفظة فى آخر هذا الباب إن شاء الله. قال أبو الزناد: فحذره صلى الله عليه وسلم ، إذ كان رئيسًا متبوعًا مسموعًا منه أن يكون عليه إثم الكفر، وإثم من عمل به واتبعه عليه، وقد قال
এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ আপনাকে আপনার প্রতিদান দুইবার দেবেন" - অর্থাৎ: ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি আপনার ঈমানের কারণে এবং তাঁর পরে আমার প্রতি আপনার ঈমানের কারণে। আর ইসলামের আহ্বান হলো মহান আল্লাহর তাওহীদ এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনা। আমাদের নিকট এটি প্রমাণিত নয় যে, হিরাক্লিয়াস প্রকাশ্যে ঈমান এনেছিলেন এবং ইসলামের ঘোষণা দিয়েছিলেন; বরং আমাদের নিকট প্রমাণিত যে, তিনি সত্য কথা প্রকাশ্যে বলার চেয়ে নিজের রাজত্বকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। আর আমরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া ছাড়া কেবল মনে বিশ্বাসের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে সন্তুষ্ট নই, কারণ রাসূলের বাণী: "আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল"। তবে আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য অবকাশ দিয়েছেন যে ভীত এবং যাকে কুফরীর ওপর বাধ্য করা হয়েছে যেন সে ঈমানকে গোপনে রাখে; যেমন আল্লাহর বাণী: (সে ব্যক্তি ব্যতীত যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানের ওপর অটল) [আন-নাহল: ১০৬]। আর আমাদের নিকট এমন কোনো তথ্য পৌঁছায়নি যে হিরাক্লিয়াসকে এমন কিছুর ওপর বাধ্য করা হয়েছিল যাতে তার জন্য কোনো ওজর (অজুহাত) থাকতে পারে; তার বিষয়টি মহান আল্লাহর ওপর ন্যস্ত। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক হিরাক্লিয়াসের নিকট এমন একখানা পত্র প্রেরণ যাতে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' এবং কুরআনের একটি আয়াত ছিল—অথচ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "তোমরা কুরআন নিয়ে শত্রু ভূখণ্ডে সফর করো না"—এবং আলেমগণ বলেছেন: মুশরিকদেরকে এমন দিরহামের ওপর কর্তৃত্ব দেওয়া যাবে না যাতে মহান আল্লাহর নাম উৎকীর্ণ রয়েছে। তিনি (রাসূল) এটি করেছিলেন—আল্লাহই ভালো জানেন—কারণ তা ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, আর সকল মানুষকে আল্লাহর দ্বীনের দিকে আহ্বান করা এবং আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তাদের নিকট তাঁর তাওহীদ পৌঁছে দেওয়া ব্যতিরেকে কোনো বিকল্প ছিল না। আর তাঁর বাণী: "তবে আপনার ওপর আরিসীয়দের গুনাহ বর্তাবে" - এর দ্বারা তিনি কুফরীর ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নেতাদের বুঝিয়েছেন; এই শব্দের ব্যুৎপত্তি ইনশাআল্লাহ এই অধ্যায়ের শেষে আসবে। আবু যিনাদ বলেন: যেহেতু তিনি একজন অনুসরণীয় নেতা ছিলেন যার কথা শোনা হতো, তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যেন তাঁর ওপর তাঁর নিজ কুফরীর গুনাহ এবং যারা এটি অনুযায়ী আমল করবে ও তাঁকে অনুসরণ করবে তাদের গুনাহও বর্তায়। আর তিনি বলেছেন—
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٤٩)
(صلى الله عليه وسلم : تمت من سنَّ سُنَّة سيئة كان عليه إثمها وإثم من عمل بها إلى يوم القيامة -. قال المهلب: وأصله فى كتاب الله: (وَلَيَحْمِلُنَّ أَثْقَالَهُمْ وَأَثْقَالاً مَّعَ أَثْقَالِهِمْ) [العنكبوت: 13] . وليس على البخارى فى إدخاله أحاديث عن أهل الكتاب، هرقل وغيره، ولا فى قوله: تمت وكان حزَّاءً ينظر فى النجوم - حرج؛ لأنه إنما أخبر أنه كان فى الإنجيل ذكر محمد، صلى الله عليه وسلم ، وكان من يتعلق قبل الإسلام بالنجامة ينذر بنبوته؛ لأن علم النجامة كان مباحًا ذلك الوقت، فلما جاء الإسلام منع منه، فلا يجوز لأحد اليوم أن يقضى بشىء منه، وكان علم النجوم قبل الإسلام على التظنين والتبحيث يصيب مرة ويخطئ كثيرًا، فاشتغالهم بما فيه الخطأ الغالب ضلال، فبعث الله نبيه محمدًا صلى الله عليه وسلم بالوحى الصحيح، ونسخ ذلك العناء الذى كانوا فيه من أمر النجوم، وقال لهم: نحن أمة أمية لا نحسب ولا نكتب. وقال أبو المعتز فى كتاب الأدب: لا يصلح لذى عقل ودين تعاطى علم النجوم؛ لأنه لا سبيل إلى إيصال الصواب منها، والذى يشبه الصواب منها إنما يتهيأ بالاتفاق، وكيف يرضى العاقل من نفسه أن يكذب مرة ويصدق أخرى، وإنما عمر الإنسان كالساعة التى لا ينبغى أن ينفقها إلا فى علم يزداد بالإيغال فيه بعدًا من الباطل وقربًا من الحق، ولو أمكن ألا يخطئ الناظر فى علم النجوم لكان فى ذلك تنغيص العيش، وتكدير لصفوه، وتضييق لمتفسح الآمال التى بها قوت الأنفس وعمارة الدنيا، ولم يف ما يرجى من الخير بما يتوقع
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতির প্রচলন করবে, তার ওপর সেই রীতির পাপ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তার ওপর আমল করবে তাদের পাপও বর্তাবে। আল-মুহাল্লাব বলেন: এর মূল ভিত্তি আল্লাহর কিতাবে রয়েছে: (আর তারা অবশ্যই তাদের নিজেদের বোঝা বহন করবে এবং তাদের বোঝার সাথে আরও অনেক বোঝা বহন করবে) [আল-আনকাবুত: ১৩]। আহলুল কিতাব—যেমন হিরাক্লিয়াস ও অন্যদের থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে এবং তার এই উক্তি: "সে ছিল একজন গণক যে নক্ষত্ররাজির দিকে তাকিয়ে গণনা করত" উল্লেখ করার কারণে ইমাম বুখারীর ওপর কোনো দোষ বর্তায় না। কেননা তিনি কেবল সংবাদ দিয়েছেন যে, ইঞ্জিলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলোচনা ছিল এবং ইসলামের পূর্বে যারা জ্যোতিষশাস্ত্রের সাথে যুক্ত ছিল তারা তাঁর নবুওয়াত সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করত; কারণ সেই সময়ে জ্যোতিষশাস্ত্রের জ্ঞান বৈধ ছিল। কিন্তু যখন ইসলাম এলো, তখন তা নিষিদ্ধ করা হলো। ফলে বর্তমান সময়ে কারও জন্য এর ভিত্তিতে কোনো ফয়সালা করা বৈধ নয়। ইসলামের পূর্বে নক্ষত্রবিদ্যা ছিল অনুমান ও গবেষণানির্ভর, যা কখনো ঠিক হতো কিন্তু অধিকাংশ সময় ভুল হতো। সুতরাং যে বিষয়ে ভুলের আধিক্য রয়েছে তাতে লিপ্ত হওয়া পথভ্রষ্টতা। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সঠিক ওহীসহ প্রেরণ করেছেন এবং নক্ষত্র সংক্রান্ত যে ক্লেশের মধ্যে তারা ছিল তা রহিত করে দিয়েছেন। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: আমরা এক উম্মী জাতি, আমরা নক্ষত্রের হিসাব করি না এবং লিখিও না। আবু আল-মুতায তার আদব বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন: কোনো বিবেকবান ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির জন্য জ্যোতিষশাস্ত্রে নিয়োজিত হওয়া শোভা পায় না; কারণ এর মাধ্যমে সত্যে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই। এর মধ্যে যা সত্যের কাছাকাছি মনে হয় তা কেবল আকস্মিক ও কাকতালীয়ভাবে ঘটে থাকে। একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কীভাবে নিজেকে এমন অবস্থায় দেখতে পছন্দ করবে যেখানে সে একবার মিথ্যা বলবে আর একবার সত্য বলবে? মানুষের আয়ু তো একটি মুহূর্তের মতো, যা কেবল এমন জ্ঞান অর্জনে ব্যয় করা উচিত যাতে গভীর অভিনিবেশ করলে বাতিলের থেকে দূরত্ব বাড়ে এবং সত্যের নিকটবর্তী হওয়া যায়। যদি জ্যোতিষশাস্ত্রবিদের পক্ষে ভুল করা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভবও হতো, তবে তা জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলত, এর সচ্ছলতাকে ঘোলাটে করত এবং মানুষের সেই সুদূরপ্রসারী আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সংকীর্ণ করে দিত যা মানুষের আত্মার খোরাক এবং পৃথিবী আবাদের মূল শক্তি। আর যে কল্যাণের আশা করা হতো তা সেই প্রত্যাশিত বিপদের তুলনায় নগণ্য হতো।
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٥٠)
من الشر؛ لأن بعض الناس لو علم أنه يموت إلى سنة لم ينتفع بشىء من دنياه، وهذا لا يشبه بفضل الله وإحسانه ورأفته بخلقه، ولو علم الناظر فيها أنه يعيش مائة سنة فى صحة وغنى لبطر وما انتهى عن فاحشة ولا تورع عن محرم، ولا أتى حنقًا هاجمًا ولزالت نعمه، ولفسدت الدنيا بإهمال الناس لو تركوا أمره ونهيه ولأكل الناس بعضهم بعضًا، ولعل بعضهم كان يؤخر التوبة إلى يوم أو ساعة أو سنة قبل موته متحاذق على ربه، ويدخل الجنة بتوبته، وليس هذا فى حكمة الله وصواب تدبيره، ولا شك أن الخير فيما اختاره الله لنا من طى ذلك عنا، فلله الحمد على جميل صنعه ولطيف إحسانه. وقال أبو الحسن الجرجانى النسابة فى معنى نسبة قريشٍ رسول الله إلى أبى كبشة قال: إنما كانت تدعوه بذلك وتغير اسمه؛ عداوة له إذ لم يمكنهم الطعن فى نسبه المهذب، صلوات الله عليه، وكان وهب بن عبد مناف بن زهرة أبو آمنة أم رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعى: أبا كبشة، وكان عمرو بن زيد بن أسد بن البخارى أبو سلمى أم عبد المطلب يدعى: أبا كبشة، وكان فى أجداده من قِبَل أمه أبو كبشة، وجد ابن غالب بن الحارث وهو أبو قيلة أم وهب بن عبد مناف أبى آمنة أم الرسول، صلى الله عليه وسلم ، وكان أبوه من الرضاعة يدعى: أبا كبشة وهو الحارث بن عبد العزى بن رفاعة السعدى. وقال ابن قتيبة: إنما نسبه، صلى الله عليه وسلم ، إلى أبى كبشة وهو الحارث بعض أجداد أمه؛ لأنه رجل عبد الشعرى، ولم تعرف العرب عبادة الشعرى لأحد قبله، وجعلوا فعله فى ذلك شذوذًا فى
এটি মন্দের অন্তর্ভুক্ত; কারণ কিছু মানুষ যদি জানত যে সে এক বছরের মধ্যে মারা যাবে, তবে সে তার দুনিয়ার কোনো কিছুই ভোগ করতে পারত না। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, ইহসান ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি দয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদি কেউ তার মধ্যে দেখে যে সে সুস্থতা ও সচ্ছলতার সাথে একশ বছর বেঁচে থাকবে, তবে সে উদ্ধত হয়ে উঠত এবং কোনো অশ্লীল কাজ থেকে বিরত হতো না কিংবা কোনো হারাম বিষয় থেকে পরহেজ করত না। তার নেয়ামতসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যেত। মানুষ যদি আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ বর্জন করত তবে দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যেত এবং মানুষ একে অপরকে গ্রাস করত। সম্ভবত তাদের কেউ কেউ আল্লাহর সাথে চাতুর্য করতে গিয়ে মৃত্যুর একদিন বা এক ঘণ্টা বা এক বছর আগে তাওবাকে বিলম্বিত করত এবং তার তাওবার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করত। অথচ আল্লাহর হিকমত ও তাঁর সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি কাম্য নয়। নিঃসন্দেহে আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন এবং এটি আমাদের থেকে গোপন রেখেছেন, তার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত। সুতরাং আল্লাহর সুন্দর কর্ম ও তাঁর সূক্ষ্ম ইহসানের জন্য তাঁরই সমস্ত প্রশংসা। বংশবিদ আবুল হাসান আল-জুরজানি কুরাইশ কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আবু কাবশার সাথে সম্বন্ধ করার অর্থ সম্পর্কে বলেন: তারা মূলত তাঁর প্রতি শত্রুতা বশত তাঁকে এই নামে ডাকত এবং তাঁর নাম পরিবর্তন করে দিত; যেহেতু তাঁর মার্জিত বংশমর্যাদার ওপর অপবাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের ছিল না—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতা আমিনার পিতা ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে জুহরাহ-কে আবু কাবশা বলে ডাকা হতো। আব্দুল মুত্তালিবের মাতা সালমার পিতা আমর ইবনে যাইদ ইবনে আসাদ ইবনে আল-বুখারি-কেও আবু কাবশা বলে ডাকা হতো। তাঁর মাতামহদের মধ্যেও আবু কাবশা ছিলেন, যিনি ইবনে গালিব ইবনে আল-হারিস এবং তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতা আমিনার পিতা ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফের মাতা কাইলার পিতা। এছাড়া তাঁর দুধপিতাকেও আবু কাবশা বলা হতো, যিনি হলেন আল-হারিস ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে রিফাআহ আস-সাদি। ইবনে কুতাইবা বলেন: মূলত তাঁকে—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—আবু কাবশার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, আর তিনি হলেন আল-হারিস, যিনি তাঁর মায়ের কোনো এক পূর্বপুরুষ ছিলেন; কারণ তিনি ছিলেন এমন এক ব্যক্তি যিনি শির’আ নক্ষত্রের উপাসনা করতেন। তাঁর আগে কোনো আরব শির’আ নক্ষত্রের উপাসনা করত বলে জানা যায়নি। তারা তাঁর এই কাজটিকে একটি ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করত...
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٥١)
الدين، فلما جاءهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بما لا يعرفونه من دينهم ودين آبائهم وشذ عنهم فى ترك عبادة الأوثان، ودعا إلى دين الله ودين إبراهيم؛ شبهوه بأبى كبشة فى شذوذه فى عبادة الشعرى.

ذكر ما فى كتاب بدء الوحى من غريب اللغة

قوله: تمت صلصلة الجرس - الصلصلة والصليل: الصوت. يقال: صلت أجواف الإبل من العطش، إذا يبست ثم شربت فسمعت للماء فى أجوافها صوتًا، والجرس معروف، وهو شبه الناقوس الصغير يوضع فى أعناق الإبل، وأجرس بالجرس صوَّت به، والجرس: الصوت. وقوله: تمت فيفصم عنى -. قال صاحب الأفعال: فصمت الشىء فصما: صدعته من غير أن أبينه، وفصم الشىء عنك: ذهب، وفصمت العقدة: حللتها. ومنه قوله تعالى: (لَا انفِصَامَ لَهَا) [البقرة: 256] . وفيه لغة أخرى. قال الأصمعى: يفصم: يقلع، ومنه قولهم: أفصم المطر إذا أقلع، فيقال: منه فعل وأفعل. وقوله: تمت يتفصد عرقًا - يعنى: يسيل عرقًا، ومنه الفصد: قطع العرق. وقول عائشة: تمت فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح - يعنى: ضوء الصبح، والفلق: هو الصبح بعينه، وقد قيل فى قوله تعالى: (قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) [الفلق: 1] ، يعنى به الصبح، وقيل: إن الفلق اسم جبٍّ فى جهنم.
দ্বীন সম্পর্কে; যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এমন কিছু নিয়ে আসলেন যা তারা তাদের দ্বীন এবং তাদের পিতৃপুরুষদের দ্বীন থেকে জানত না এবং তিনি মূর্তিপূজা বর্জনের মাধ্যমে তাদের থেকে পৃথক হলেন ও আল্লাহর দ্বীন এবং ইব্রাহিমের দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিলেন; তখন তারা তাকে 'আবু কাবশা'র সাথে তুলনা করল, 'শিরা' (নক্ষত্রের) ইবাদতের ক্ষেত্রে তার বিচ্যুত হওয়ার কারণে।

ওহীর সূচনা অধ্যায়ে উল্লেখিত অপ্রচলিত শব্দসমূহের আলোচনা

তাঁর উক্তি: ঘণ্টার ধ্বনির মতো - 'সালসালাহ' এবং 'সালীল' অর্থ শব্দ। বলা হয়: তৃষ্ণার কারণে উটের উদর শব্দ করল, যখন তা শুকিয়ে যায় এবং তারপর পানি পান করে, তখন তার পেটে পানির আওয়াজ শোনা যায়। আর 'জারাস' (ঘণ্টা) সুপরিচিত, এটি ছোট ঘণ্টার মতো যা উটের গলায় ঝোলানো হয়। 'আজরসা বিল-জারাস' মানে ঘণ্টা বাজানো, আর 'জারাস' অর্থ শব্দ। তাঁর উক্তি: অতঃপর তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয় - 'কিতাবুল আফআল'-এর লেখক বলেন: 'ফাসামতুশ শাইআ ফাসমান' অর্থ আমি কোনো কিছুকে পুরোপুরি আলাদা না করেই তাতে ফাটল ধরালাম। আর 'ফাসামাশ শাইউ আনকা' অর্থ কোনো কিছু তোমার থেকে চলে যাওয়া। 'ফাসামতুল উকদাহ' অর্থ আমি গিট খুলে ফেললাম। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: (যার কোনো বিচ্ছেদ নেই) [আল-বাকারা: ২৫৬]। এর আরেকটি আভিধানিক প্রয়োগ রয়েছে। আসমায়ী বলেন: 'ইয়াফসিমু' অর্থ থেমে যাওয়া বা বন্ধ হওয়া। এ থেকেই তারা বলে: 'আফসামাল মাতারু' যখন বৃষ্টি থেমে যায়। সুতরাং এটি 'ফাআলা' এবং 'আফআলা' উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। তাঁর উক্তি: ঘাম ঝরতে থাকত - অর্থাৎ ঘাম প্রবাহিত হতো। আর এ থেকেই 'ফাসদ' বা শিরা কেটে রক্ত বের করা শব্দটি এসেছে। আয়িশার উক্তি: তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা ভোরের আলোর মতো প্রকাশ পেত - অর্থাৎ সকালের শুভ্রতা। 'ফালাক' বলতে স্বয়ং সকালকেই বোঝায়। মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, আমি আশ্রয় চাই সকালের রবের কাছে) [আল-ফালাক: ১] এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এর অর্থ সকাল। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, 'ফালাক' জাহান্নামের একটি কূপের নাম।
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٥٢)
وقوله: تمت كان يتحنث -. قال ابن قتيبة: التحنث تفعل من الحنث، وليس بمعنى كسب الحنث؛ إنما هو أن يلقيه عن نفسه، وجاءت ثلاثة أفعال مخالفة لسائر الأفعال يقال: تحنث، وتحوب، وتأثم: إذا ألقى الحنث، والحوب، والإثم عن نفسه، وغيرها من الأفعال إنما يكون تفعل منها بمعنى تكسب. وقوله: تمت فغطنى -. قال صاحب العين: غطه فى الماء يغِطه ويغَطه: غرَّقه. وقوله: تمت يرجف فؤاده -. يقال: رجف الشىء يرجف رجفًا: تحرك. وقول يونس ومعمر: ترجف بوادره. قال أبو عبيدة: البادرة: اللحمة التى بين أصل العنق والمنكب الضاربة. وأنشد غيره: وجاءت الخيل محمّرا بوادرها وقوله: تمت الناموس الذى نزل الله على موسى -. قال ابن دريد: ناموس الرجل: صاحب سره، وكل شىء سترت فيه شيئًا فهو ناموس له. وقال أبو عبيد: الناموس جبريل صلى الله عليه وسلم . وقوله: تمت نصرًا مؤزرًا - أى: قويًا، مأخوذ من الأزر وهو القوة. ومنه قوله عز وجل: (أَخِى اشْدُدْ بِهِ أَزْرِى) [طه: 30، 31] أى: قوتى، وقيل: أزرى: ظهرى، خص الظهر؛ لأن القوة فيه. وقوله: تمت ثم لم ينشب ورقة أن توفى وفتر الوحى - أى: لم ينشب فى شىء من الأمور، وكأن هذه اللفظة عند العرب عبارة عن السرعة والعجلة.

এবং তাঁর উক্তি: তিনি তাহান্নুছ (ইবাদত) করতেন। ইবন কুতাইবা বলেন: তাহান্নুছ শব্দটি ‘হিনছ’ থেকে ‘তাফাউল’ ছাঁচে গঠিত, এর অর্থ পাপ অর্জন করা নয়; বরং এর অর্থ হলো নিজের সত্তা থেকে পাপকে সরিয়ে ফেলা। তিনটি ক্রিয়া অন্যান্য সকল ক্রিয়ার বিপরীত অর্থ প্রদান করে; বলা হয়: তাহান্নুছ, তাহাওয়ুব এবং তা’আছছুম—যখন কেউ নিজের থেকে ‘হিনছ’, ‘হাওব’ এবং ‘ইছম’ (পাপ) বর্জন করে। অন্যান্য ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে এই ছাঁচটি সাধারণত কোনো কিছু অর্জন করা অর্থে আসে।

এবং তাঁর উক্তি: অতঃপর তিনি আমাকে চেপে ধরলেন। ‘আইন’ অভিধানের প্রণেতা বলেন: তাকে পানিতে চেপে ধরা বা ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘গাত্তাহু’ বলা হয়। এবং তাঁর উক্তি: তাঁর হৃদপিণ্ড কাঁপছিল। বলা হয়: কোনো কিছু যখন প্রবলভাবে নড়ে বা কাঁপে তখন তাকে ‘রাজাফা’ বলা হয়। ইউনুস ও মামারের বর্ণনায় এসেছে: তাঁর ঘাড় ও কাঁধের মধ্যবর্তী মাংসপেশি কাঁপছিল। আবু উবাইদা বলেন: ‘বাদিরাহ’ হলো ঘাড়ের গোড়া ও কাঁধের মাঝখানের মাংসের পিণ্ড যা স্পন্দিত হয়। অন্য একজন কবি কাব্যে বলেছেন: ঘোড়াগুলো এলো যাদের ঘাড়ের মাংসপেশিগুলো রক্তবর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

এবং তাঁর উক্তি: এটি সেই নামুস (গোপন বার্তাবাহক) যা আল্লাহ মূসার ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন। ইবন দুরাইদ বলেন: কোনো ব্যক্তির নামুস হলো তার গোপনীয় বিষয়াদি অবগত সাথী, আর যে কোনো আধারে তুমি কোনো কিছু লুকিয়ে রাখো, তাকে সেই জিনিসের নামুস বলা হয়। আবু উবাইদ বলেন: নামুস হলেন জিবরাঈল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এবং তাঁর উক্তি: বলিষ্ঠ সাহায্য—অর্থাৎ শক্তিশালী সাহায্য, যা ‘আজর’ শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ শক্তি। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: (আমার ভাই, তাঁর মাধ্যমে আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন) [ত্বহা: ৩০, ৩১] অর্থাৎ আমার বল বৃদ্ধি করুন। কেউ বলেছেন: ‘আজর’ অর্থ আমার পিঠ; পিঠকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ শক্তি পিঠেই অবস্থান করে।

এবং তাঁর উক্তি: অতঃপর ওয়ারাকা কোনো কিছুতে লিপ্ত হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করলেন এবং ওহী স্থগিত হয়ে গেল—অর্থাৎ তিনি কোনো পার্থিব বিষয়ে আর জড়াননি। আরবদের নিকট এই শব্দসমষ্টি দ্রুততা ও ক্ষিপ্রতা প্রকাশের একটি মাধ্যম।

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٥٣)
وقوله: تمت فحمى الوحى - فتتابع هو، كقوله صلى الله عليه وسلم يوم حنين حين اشتدت الحرب وهاجت: تمت الآن حمى الوطيس - والوطيس: النفور. وقال صاحب العين: حميت النار والشمس: اشتد حرها وحمى الفرس إذا سخن وعرق، وأحميت الحديد فى النار. وقوله: تمت فى المدة التى ماد فيها كفار قريش - فهو صلح الحديبية، وتمت ماد -: فاعل من المدة التى اتفق معهم على الصلح مدة ما من الزمان، تقول العرب: تماد الغريمان والمتبايعان إذا اتفقا على أجل ومدة وهى مفاعلة من اثنين. وقوله: تمت الحرب بيننا وبينه سجال -، قال صاحب العين: الحرب سجال، أى: مرة فيها سجل على هؤلاء وسجل على هؤلاء، والسجل مثل الدلو، والمساجلة: المناوأة فى العمل أيهما يغلب صاحبه. وأنشد: من يساجلنى يساجل ماجدًا يملأ الدلو إلى عقد الكرب وأصله من تساجلهما فى الاستقاء. قال المبرد: فضربته العرب مثلا للمفاخرة والمساماة. وقوله: تمت وكذلك الإيمان حين تخالط بشاشته القلوب -، أصل البشاشة: اللطف والإقبال على الرجل، يقال: بششت بشا وبشاشة، وقد تبشبشت، عن صاحب العين، فبشاشة الإيمان على هذا فرح قلب المؤمن به وسروره. وقال الحربى فى تفسير تمت الأريسيين - عن بعض أهل اللغة قال: الأريس الأمير، والمؤرس الذى يستعمله الأمير وقد أرسه، والأصل رأسه، فقلب وغير فى النَسَبٍ، والنَسَبُ يغير له الكلام كثيرًا.

এবং তাঁর কথা: "অতঃপর ওহী উত্তপ্ত হলো" — অর্থাৎ তা ক্রমাগত অবতীর্ণ হতে থাকলো, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের যুদ্ধের দিন বলেছিলেন যখন যুদ্ধ তীব্র ও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল: "এখন চুল্লি উত্তপ্ত হয়েছে" — আর ওয়াতীস অর্থ হলো তীব্রতা। 'আল-আইন' গ্রন্থের প্রণেতা বলেন: আগুন ও সূর্য উত্তপ্ত হয়েছে অর্থাৎ সেগুলোর তাপ তীব্র হয়েছে। ঘোড়া উত্তপ্ত হয়েছে বলা হয় যখন সেটি গরম হয়ে যায় এবং ঘামায়। আর আমি আগুনে লোহা উত্তপ্ত করেছি।

এবং তাঁর কথা: "সেই মেয়াদে যাতে কুরাইশ কাফেররা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল" — এটি হলো হুদায়বিয়ার সন্ধি। "চুক্তিবদ্ধ হওয়া" শব্দটি সেই মেয়াদের ক্রিয়াপদ হিসেবে এসেছে যার ভিত্তিতে তাদের সাথে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্ধি করা হয়েছিল। আরবরা বলে থাকে: পাওনাদার ও দেনাদার অথবা ক্রেতা ও বিক্রেতা পরস্পর মেয়াদে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, যখন তারা একটি নির্দিষ্ট সময় বা মেয়াদের ব্যাপারে একমত হয়। এটি মূলত উভয়ের পক্ষ থেকে সম্পাদিত একটি পারস্পরিক বিষয়।

এবং তাঁর কথা: "আমাদের ও তাঁর মধ্যে যুদ্ধ হলো পালাক্রমে" — 'আল-আইন' প্রণেতা বলেন: যুদ্ধ হলো পালাক্রমিক, অর্থাৎ কখনো এদের জয় হয় আবার কখনো ওদের জয় হয়। আর 'সিজল' হলো বালতির মতো। 'মুসাজালাহ' হলো কোনো কাজে একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যে কে তার সঙ্গীকে পরাজিত করতে পারে। এ প্রসঙ্গে কবি গেয়েছেন:

"যে আমার সাথে পাল্লা দেয়, সে এক মহান ব্যক্তির সাথে পাল্লা দেয়, যে বালতিকে রশির গিঁট পর্যন্ত পূর্ণ করে।"

এর মূল উৎস হলো কূপ থেকে পানি তোলার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে পাল্লা দেওয়া। মুবাররাদ বলেন: আরবরা একে আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছে।

এবং তাঁর কথা: "ঈমানও তদ্রূপ, যখন এর প্রফুল্লতা অন্তরের সাথে মিশে যায়" — 'বাশাশাহ' (প্রফুল্লতা) শব্দের মূল অর্থ হলো কোমলতা ও মানুষের প্রতি সানন্দ অভিবাদন। 'আল-আইন' প্রণেতার বর্ণনা অনুযায়ী বলা হয়: আমি প্রফুল্ল ও আনন্দিত হয়েছি। এই প্রেক্ষিতে ঈমানের প্রফুল্লতা বলতে ঈমানের কারণে মুমিনের হৃদয়ে সৃষ্ট আনন্দ ও উল্লাসকে বোঝানো হয়েছে।

আল-হারবী "আরিসীন" শব্দের ব্যাখ্যায় কতিপয় ভাষাবিদ থেকে বর্ণনা করেন যে: 'আরীস' মানে হলো নেতা বা আমির। আর 'মুআররাস' হলো যাকে নেতা কোনো কাজে নিয়োগ দেন। এর মূল উৎস হলো 'রাস' (মাথা), যা সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে বর্ণবিপর্যয়ের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে। আর সম্বন্ধ বা নসবের ক্ষেত্রে প্রায়ই শব্দের রূপ পরিবর্তন হয়ে থাকে।

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٥٤)
قال المؤلف: والصواب على هذا أن يقال: الإِرِّيسيين بكسر الهمزة وتشديد الراء. وذكر المطرز، عن ثعلب، عن عمرو بن أبى عمرو، عن أبيه، قال: الأريس الأكَّار، والصخب الصياح، صخب صخبًا إذا صاح. وقوله: تمت أَمِرَ أَمْرُ ابن أبى كبشة -، يقال: أمر الشىء إذا كثر. وقال ابن الأنبارى: وإنما قيل للروم: بنو الأصفر؛ لأن حبشيا غلب على ناحيتهم فى بعض الدهور فوطئ سبيًا فولدن أولادًا فيهم من بياض الروم وسواد الحبشة فكن صفرًا لعسًا، فنسبت الروم إلى الأصفر بذلك. وقوله: تمت ابن الناطور -، قال دريد: الناطور: حافظ النخل والتمر، وقد تكلمت به العرب وإن كان أعجميًا. وقال أبو عبيد: هو الناظور بالظاء المعجمة، والنبط يجعلون الظاء طاء وإنما سمى الناظور من النظر. قوله: تمت وكان حزَّاء -، قال صاحب العين: حَزَا يحزُّ حزوًا: إذا كهن، وحزى يحزى حزيًا وتحذى تحذية. وقوله: تمت فلم يرم حمص -، يعنى: لم يبرح، عن صاحب العين، يقال: ما يريم بفعل كذا، أى: ما يبرح. وتمت الدسكرة - بناء كالقصر حوله بيوت. وقوله: تمت حاصوا حيصة حمر الوحش -، قال أبو عبيد: حاص يحيص وجاص يجيص بمعنى واحد: إذا عدل عن الطريق، وقال أبو زيد: حاص رجع، وجاص: عدل.

লেখক বলেছেন: এ ক্ষেত্রে সঠিক হলো এটি 'আল-ইর্রিসিয়্যীন' (হামযার নিচে কাসরা এবং র-তে তাশদীদ দিয়ে) বলা। আল-মুতাররিয উল্লেখ করেছেন, যা সা'লাব থেকে বর্ণিত, তিনি আমর ইবনে আবি আমর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: 'আল-আরিস' মানে হলো কৃষক, আর 'আস-সাখাব' অর্থ হলো চিৎকার করা; 'সাখাবা সাখাবান' বলা হয় যখন কেউ চিৎকার করে। এবং তার বাণী: 'ইবনে আবি কাবশার বিষয়টি প্রবল হয়েছে'—বলা হয়ে থাকে কোনো বিষয় 'আমিরা' হয়েছে যখন তা বৃদ্ধি পায় বা ছড়িয়ে পড়ে। ইবনুল আম্বারী বলেন: রোমানদের 'বানুল আসফার' (হলুদ বর্ণের সন্তান) বলা হয়; কারণ কোনো এক যুগে একজন হাবশী তাদের এলাকা জয় করেছিল এবং সেখানে যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে মিলিত হয়েছিল। ফলে তারা এমন সন্তান প্রসব করল যাদের মধ্যে রোমানদের শুভ্রতা এবং হাবশীদের কৃষ্ণাঙ্গ বর্ণের সংমিশ্রণ ছিল, ফলে তারা হলুদাভ বর্ণের হয়েছিল। এ কারণেই রোমানদের 'আল-আসফার'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। এবং তার বাণী: 'ইবনুন নাাতূর'—দুরাইদ বলেন: 'নাাতূর' অর্থ হলো খেজুর গাছ ও খেজুরের রক্ষক। আরবগণ এই শব্দটি ব্যবহার করেছে যদিও এটি অনারবীয় শব্দ। আবু উবাইদ বলেন: এটি আসলে 'নাযূর' (নুকতাওয়ালা য-সহ), কিন্তু নাবতীগণ 'য' (ظ)-কে 'ত' (ط) উচ্চারণ করত। মূলত 'নাযার' (দেখা) থেকে একে 'নাযূর' নাম দেওয়া হয়েছে। তার বাণী: 'তিনি ছিলেন একজন গণক'—'কিতাবুল আইন'-এর লেখক বলেছেন: 'হাযা-ইয়াহযূ-হাযওয়ান' যখন সে ভবিষ্যদ্বাণী বা গণনা করে। এছাড়া 'হাযা-ইয়াহযী-হাযইয়ান' এবং 'তাহাযযা-তাহযিয়াহ' রূপান্তরও ব্যবহৃত হয়। এবং তার বাণী: 'তিনি হিমস ত্যাগ করেননি'—অর্থাৎ তিনি সেখান থেকে সরেননি। 'কিতাবুল আইন'-এর লেখকের বরাতে বলা হয়েছে: অমুক কাজ করতে 'মা ইয়ারীম' মানে হলো সে তা করা থেকে বিরত হয় না বা সরে না। 'আদ-দাসকারাহ' বলতে এমন প্রাসাদতুল্য ভবন বোঝায় যার চারপাশ ঘিরে ঘরবাড়ি থাকে। এবং তার বাণী: 'তারা বুনো গাধার মতো পালিয়ে গেল'—আবু উবাইদ বলেন: 'হাসা ইয়াহীসু' এবং 'জাসা ইয়াজীসু' একই অর্থ প্রকাশ করে; যার অর্থ হলো পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া। আবু যায়িদ বলেন: 'হাসা' মানে ফিরে আসা, আর 'জাসা' মানে বিচ্যুত হওয়া।

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٥٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

-‌‌ تفسير كِتَابُ الإيمَانِ

-‌‌ بَاب قَوْلِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم بُنِىَ الإسْلامُ عَلَى خَمْسٍ

وَهُوَ قَوْلٌ وَفِعْلٌ، وَيَزِيدُ وَيَنْقُصُ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: (لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ) [الفتح: 4] ،) وَزِدْنَاهُمْ هُدًى) [الكهف: 13] ،) وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى) [مريم: 76] ،) وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى) [محمد: 17] ،) وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا) [المدثر: 31] ،) أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانا) [التوبة: 124] ) فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا) [التوبة: 124] وَقَوْلُهُ: (فَزَادَهُمْ إِيمَانًا) [آل عمران: 173] وَقَوْلُهُ: (وَمَا زَادَهُمْ إِلا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا) [الأحزاب: 22] وَالْحُبُّ فِى اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِى اللَّهِ مِنَ الإيمَانِ. وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِالْعَزِيزِ إِلَى عَدِيِّ: إِنَّ لِلإيمَانِ فَرَائِضَ وَشَرَائِعَ وَحُدُودًا وَسُنَنًا، فَمَنِ اسْتَكْمَلَهَا اسْتَكْمَلَ الإيمَانَ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَكْمِلْهَا لَمْ يَسْتَكْمِلِ الإيمَانَ، فَإِنْ أَعِشْ فَسَأُبَيِّنُهَا لَكُمْ حَتَّى تَعْمَلُوا بِهَا، وَإِنْ أَمُتْ فَمَا أَنَا عَلَى صُحْبَتِكُمْ بِحَرِيصٍ. وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ، صلى الله عليه وسلم : (وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِى) [البقرة: 260] . وَقَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ: اجْلِسْ بِنَا نُؤْمِنْ سَاعَةً. وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

-‌‌ ঈমান অধ্যায়ের ব্যাখ্যা

-‌‌ পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত

আর ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়) [আল-ফাতহ: ৪], (আর আমি তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম) [আল-কাহফ: ১৩], (আর যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দেন) [মারইয়াম: ৭৬], (আর যারা সৎপথ প্রাপ্ত হয়েছে, তিনি তাদের হিদায়াত আরও বাড়িয়ে দেন) [মুহাম্মাদ: ১৭], (আর যারা মুমিন তাদের ঈমান যেন বৃদ্ধি পায়) [আল-মুদ্দাসসির: ৩১], (তোমাদের মধ্যে কার ঈমান এটি বৃদ্ধি করল?) [আত-তাওবাহ: ১২৪] (অতঃএব যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে) [আত-তাওবাহ: ১২৪], এবং তাঁর বাণী: (ফলে তা তাদের ঈমানকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে) [আল ইমরান: ১৭৩], এবং তাঁর বাণী: (আর এটি তাদের কেবল ঈমান ও আত্মসমর্পণকেই বৃদ্ধি করেছে) [আল-আহযাব: ২২]। আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালোবাসা এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঘৃণা পোষণ করা ঈমানের অংশ। উমর ইবনে আবদুল আজিজ আদির নিকট লিখেছিলেন: "নিশ্চয়ই ঈমানের কতগুলো ফরজ দায়িত্ব, বিধিবিধান, সীমারেখা এবং সুন্নাত রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলো পূর্ণ করল, সে তার ঈমানকে পূর্ণ করল। আর যে এগুলো পূর্ণ করল না, সে তার ঈমানকে পূর্ণ করল না। যদি আমি বেঁচে থাকি তবে আমি তোমাদের নিকট সেগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করব যাতে তোমরা সে অনুযায়ী আমল করতে পার। আর যদি আমি মারা যাই, তবে তোমাদের সাহচর্যে থাকার প্রতি আমি আগ্রহী নই।" আর ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: (তবে তা কেবল আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য) [আল-বাকারাহ: ২৬০]। মুয়াজ ইবনে জাবাল বলেছিলেন: "আমাদের সাথে বসুন, আমরা কিছুক্ষণ ঈমান আনি (ঈমান নিয়ে আলোচনা করি)।" ইবনে মাসউদ বলেছিলেন:
(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٥٦)
الْيَقِينُ الإيمَانُ. وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: لا يَبْلُغُ الْعَبْدُ حَقِيقَةَ التَّقْوَى حَتَّى يَدَعَ مَا حَاكَ فِي الصَّدْرِ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ: (شَرَعَ لَكُمْ) [الشورى: 13] أَوْصَيْنَاكَ يَا مُحَمَّدُ وَإِيَّاهُ دِينًا وَاحِدًا. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: (شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا) [المائدة: 48] سَبِيلا وَسُنَّةً. 2 - باب دعاؤكم إيمانكم / 1 - وفيه: ابْنِ عُمَرَ: قَالَ صلى الله عليه وسلم : تمت بُنِىَ الإسْلامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ -. قال المؤلف: مذهب جماعة أهل السُّنَّة من سَلَف الأمة وخلفها أن الإيمان قول وعمل، ويزيد وينقص، والحجة على زيادته ونقصانه ما أورده البخارى من كتاب الله من ذكر الزيادة فى الإيمان وبيان ذلك أنه من لم تحصل له بذلك الزيادة، فإيمانه أنقص من إيمان من حصلت له. فإن قيل: إن الإيمان فى اللغة التصديق وبذلك نطق القرآن، قال الله تعالى: (وَمَا أَنتَ بِمُؤْمِنٍ لِّنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ) [يوسف: 17] أى ما أنت بمصدق، يعنى فى إخبارهم عن أكل الذئب ليوسف فلا ينقص التصديق. قال المهلب: فالجواب فى ذلك أن التصديق وإن كان يسمى إيمانًا فى اللغة، فإن التصديق يكمل بالطاعات كلها، فما ازداد المؤمن من أعمال البر كان من كمال إيمانه، وبهذه الجملة يزيد الإيمان، وبنقصانها ينقص.

ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস) হলো ঈমান। ইবনে উমর বলেছেন: কোনো বান্দা তাকওয়ার প্রকৃত হাকিকতে পৌঁছাতে পারে না যতক্ষণ না সে অন্তরে খটকা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো বর্জন করে। মুজাহিদ বলেছেন: (তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন) [সূরা আশ-শূরা: ১৩] হে মুহাম্মদ! আমি আপনাকে এবং তাঁকে একই দ্বীনের অসিয়ত করেছি। ইবনে আব্বাস বলেছেন: (বিধান ও পথ) [সূরা আল-মায়িদাহ: ৪৮] এর অর্থ হলো পথ ও সুন্নাত।

২ - অনুচ্ছেদ: তোমাদের দুআ হলো তোমাদের ঈমান / ১ - এতে রয়েছে: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর স্থাপিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।

গ্রন্থকার বলেছেন: উম্মতের পূর্ববর্তী (সালাফ) এবং পরবর্তী (খালাফ) আহলুস সুন্নাহ জামাআতের মাযহাব হলো, ঈমান কথা ও কাজের সমষ্টি, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের স্বপক্ষে প্রমাণ হলো ইমাম বুখারী আল্লাহর কিতাব থেকে ঈমান বৃদ্ধির আলোচনা সংশ্লিষ্ট যা কিছু পেশ করেছেন। এর ব্যাখ্যা হলো, যার মধ্যে নেক আমলের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়নি, তার ঈমান ঐ ব্যক্তির চেয়ে কম যার মধ্যে তা অর্জিত হয়েছে।

যদি বলা হয়: আভিধানিকভাবে ঈমান মানে হলো বিশ্বাস করা (তাসদিক), আর কুরআনও সেই ভাষাতেই ব্যক্ত হয়েছে; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই) [সূরা ইউসুফ: ১৭] অর্থাৎ আপনি আমাদের প্রত্যায়নকারী নন—ইউসুফকে নেকড়ে খেয়ে ফেলার বিষয়ে তাদের দেওয়া সংবাদের ক্ষেত্রে। সুতরাং এই বিশ্বাস তো হ্রাস পায় না।

মুহাল্লাব বলেছেন: এর উত্তর হলো, যদিও আভিধানিকভাবে বিশ্বাসকে ঈমান বলা হয়, তবে এই বিশ্বাস সমস্ত আনুগত্য বা নেক আমলের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। মুমিন ব্যক্তি সৎকর্মে যত বৃদ্ধি ঘটাবে, তা হবে তার ঈমানের পূর্ণতার অংশ। আর এই সামগ্রিক বিষয়ের মাধ্যমেই ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং এর ঘাটতি হলে ঈমানও হ্রাস পায়।

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٥٧)
ألا ترى قول عمر بن عبد العزيز: إن للإيمان فرائض وشرائع وحدودًا وسُننًا، فمن استكملها استكمل الإيمان، ومن لم يستكملها لم يستكمل الإيمان، فمتى نقصت أعمال البر نقص كمال الإيمان، ومتى زادت زاد الإيمان كمالاً، هذا توسط القول فى الإيمان. وأما التصديق بالله وبرسله فلا ينقص، ولذلك توقف مالك فى بعض الروايات عنه عن القول بالنقصان فيه، إذ لا يجوز نقصان التصديق، لأنه إن نقص صار شكا، وانتقل عن اسم الإيمان. وقال بعض العلماء: إنما توقف مالك عن القول بنقصان الإيمان خشية أن يتأول عليه موافقة الخوارج الذين يكفرون أهل المعاصى من المؤمنين بالذنوب، وقد قال مالك بنقصان الإيمان مثل قول جماعة أهل السُنَّة، ذكر أحمد بن خالد، قال: حدثنا عبيد بن محمد، بصنعاء، قال: حدثنا مسلمة بن شبيب، ومحمد بن يزيد، قالا: سمعت عبد الرزاق يقول: سمعت من أدركت من شيوخنا وأصحابنا سفيان الثورى، ومالك بن أنس، وعبد الله بن عمر، والأوزاعى، ومعمر بن راشد، وابن جريج، وسفيان بن عيينة، يقولون: الإيمان قول وعمل يزيد وينقص. ومن غير رواية عبد الرزاق، وهو قول ابن مسعود وحذيفة والنخعى. وحكى الطبرى: أنه قول الحسن البصرى، وعطاء، وطاوس، ومجاهد، وعبد الله بن المبارك. فإن قيل: قد تقدم من قولكم أن الإيمان فى اللغة التصديق، وأنه لا ينقص، فكيف يكون الإيمان قولاً وعملاً؟ .

আপনি কি উমর ইবন আব্দুল আযীযের উক্তিটি লক্ষ্য করেন না? তিনি বলেছেন: "ঈমানের কিছু আবশ্যিক কর্তব্য, বিধিবিধান, সীমা ও সুন্নত রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলো পূর্ণ করল, সে তার ঈমানকে পূর্ণ করল। আর যে এগুলো পূর্ণ করল না, সে তার ঈমানকে পূর্ণ করল না। অতএব যখন নেক আমল কমে যায়, তখন ঈমানের পূর্ণতাও কমে যায়; আর যখন আমল বৃদ্ধি পায়, তখন ঈমানের পূর্ণতা বৃদ্ধি পায়।" ঈমান সম্পর্কে এটিই হলো মধ্যমপন্থী বক্তব্য। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের (তাসদীক) ব্যাপারে কথা হলো, তা হ্রাস পায় না। এ কারণেই ইমাম মালিক তাঁর থেকে বর্ণিত কোনো কোনো বর্ণনা মতে ঈমান হ্রাস পাওয়ার কথাটি বলা থেকে বিরত থেকেছেন। কারণ বিশ্বাসের ক্ষেত্রে হ্রাস পাওয়া বৈধ নয়; কেননা এতে হ্রাস ঘটলে তা সন্দেহে পরিণত হয় এবং ঈমানের সংজ্ঞা থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। কিছু আলিম বলেছেন: ইমাম মালিক ঈমান হ্রাস পাওয়ার কথা বলা থেকে বিরত থেকেছেন এই ভয়ে যে, তাঁর বক্তব্যকে খারেজীদের মতের সাথে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করা হতে পারে, যারা পাপের কারণে মুমিনদের কাফির সাব্যস্ত করে। অথচ ইমাম মালিক আহলুস সুন্নাহর জামাআতের মতের ন্যায় ঈমান হ্রাস পাওয়ার কথাই বলেছেন। আহমদ ইবন খালিদ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে সানআয় উবাইদ ইবন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে মাসলামা ইবন শাবীব ও মুহাম্মদ ইবন ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমি আব্দুর রাজ্জাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আমাদের যে সকল উস্তাদ ও সাথীদের সান্নিধ্য পেয়েছি—যেমন সুফিয়ান আস-সাওরী, মালিক ইবন আনাস, আব্দুল্লাহ ইবন উমর, আওযাঈ, মা’মার ইবন রাশিদ, ইবন জুরাইজ এবং সুফিয়ান ইবন উইয়াইনা—তাঁদের সবাইকে বলতে শুনেছি যে: "ঈমান হলো কথা ও কাজের সমষ্টি, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।" আব্দুর রাজ্জাকের বর্ণনা ছাড়াও এটি ইবন মাসঊদ, হুযাইফা ও নাখঈর বক্তব্য। তাবারী বর্ণনা করেছেন যে, এটি হাসান বসরী, আতা, তাউস, মুজাহিদ এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকেরও বক্তব্য। যদি প্রশ্ন করা হয়: আপনারা ইতিপূর্বে বলেছেন যে, আভিধানিক অর্থে ঈমান হলো বিশ্বাস (তাসদীক) এবং তা হ্রাস পায় না, তবে ঈমান কীভাবে কথা ও কাজ হতে পারে?

(খণ্ড: ١) শারহু সহীহিল বুখারী - ইবনু বাত্তাল (পৃষ্ঠা: ٥٨)
قيل: كذلك نقول: التصديق فى نفسه لا ينقص إلا أنه لا يتم بغير عمل، إلا لرجل أسلم، ثم مات فى حين إسلامه قبل أن يدرك العمل فهذا معذور، لأنه لم يتوجه إليه فرض الأمر والنهى ولا لزمه. وأما من لزمه فرض الأمر والنهى فلا يتم تصديقه لقوله إلا بفعله. قال الطبرى: ألا ترى أن من وعد عدة، ثم أنجز وعده وحقق بالفعل قوله، أنه يقال: صدق فلان قوله بفعله، فالتصديق يكون بالقلب وباللسان والجوارح، والمعنى الذى يستحق به العبد المدح والولاية من المؤمنين هو إتيانه بهذه المعانى الثلاثة، وذلك أنه لا خلاف بين الجميع أنه لو أقر وعمل على غير علم منه ومعرفة بربه أنه لا يستحق اسم مؤمن، ولو عرفه وعمل وجحد بلسانه وكذب ما عرف من توحيد ربه أنه غير مستحق اسم مؤمن، وكذلك لو أقر بالله وبرسله ولم يعمل الفرائض مؤمنًا بالإطلاق، وإن كان فى كلام العرب قد يجوز أن يسمى بالتصديق مؤمنًا، فغير مستحق ذلك فى حكم الله، لقوله تعالى: (إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ أُوْلَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا) [الأنفال: 2 - 4] ، فأخبر تعالى أن المؤمن على الحقيقة من كانت هذه صفته، دون من قال ولم يعمل وضيع ما أمر به وفرط، والحجة لذلك من السُنَّة أيضًا ما رواه الطبرى، قال: حدثنا محمد بن أحمد بن يزيد المكى، قال: حدثنا عبد السلام بن صالح، قال: حدثنا الرضا على بن موسى، عن جعفر، عن أبيه، عن علىِّ بن حسين، عن أبيه، عن علىِّ بن أبى طالب، أن النبى صلى الله عليه وسلم ، قال: تمت الإيمان معرفة بالقلب، وإقرار باللسان، وتصديق بالعمل -.

বলা হয়েছে: আমরাও তেমনি বলি: সত্যায়ন স্বয়ং সংকুচিত হয় না, তবে আমল ছাড়া তা পূর্ণতা পায় না। তবে ঐ ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে ইসলাম গ্রহণ করল এবং আমল করার সুযোগ পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করল; সে ওযরপ্রাপ্ত, কেননা তার ওপর আদেশ ও নিষেধের বিধানগুলো অর্পিত হয়নি এবং তা তার জন্য বাধ্যতামূলকও হয়নি। কিন্তু যার ওপর আদেশ ও নিষেধের বিধানগুলো অর্পিত হয়েছে, তার মৌখিক স্বীকৃতি আমল ব্যতীত পূর্ণতা লাভ করবে না। তাবারী বলেন: আপনি কি দেখেন না যে, যে ব্যক্তি কোনো ওয়াদা করল, অতঃপর তার ওয়াদা পূরণ করল এবং কাজের মাধ্যমে তার কথাকে সত্য সাব্যস্ত করল, তখন বলা হয়: 'অমুক ব্যক্তি কাজের মাধ্যমে তার কথাকে সত্য প্রমাণ করেছে'। সুতরাং সত্যায়ন হয় অন্তরের মাধ্যমে, জিহ্বার মাধ্যমে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে। আর যে গুণের কারণে একজন বান্দা মুমিনদের নিকট থেকে প্রশংসা ও বন্ধুত্বের যোগ্য হয়, তা হলো এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়। আর তা এজন্য যে, এ বিষয়ে সকলের মাঝে কোনো মতভেদ নেই যে, কেউ যদি তার রবের পরিচয় ও জ্ঞান ব্যতিরেকেই স্বীকারোক্তি দেয় এবং আমল করে, তবে সে 'মুমিন' নামের যোগ্য হবে না। আবার কেউ যদি তাকে চেনে এবং আমলও করে, কিন্তু জিহ্বা দিয়ে অস্বীকার করে এবং রবের তাওহীদ সম্পর্কে যা সে জেনেছে তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে সেও 'মুমিন' নামের যোগ্য হবে না। অনুরূপভাবে, কেউ যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি স্বীকৃতি প্রদান করে কিন্তু ফরযসমূহ পালন না করে, তবে সে নিঃশর্তভাবে মুমিন নয়। যদিও আরবী ভাষায় কেবল সত্যায়নের কারণে কাউকে মুমিন বলা বৈধ হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর বিধানে সে এর যোগ্য নয়। কারণ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: (মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে প্রকম্পিত হয় এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে। যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। তারাই প্রকৃত মুমিন) [আনফাল: ২ - ৪]। সুতরাং আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রকৃত মুমিন সেই যার মাঝে এসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, ঐ ব্যক্তি নয় যে কেবল মুখে বলেছে কিন্তু আমল করেনি এবং যাকে আদেশ করা হয়েছে তা নষ্ট করেছে ও অবহেলা করেছে। সুন্নাহ থেকে এর প্রমাণ হলো তাবারী যা বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াযীদ আল-মক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সালাম ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আর-রিদা আলী ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী ইবনে আবু তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ঈমান হলো অন্তর দিয়ে চেনা, জিহ্বা দিয়ে স্বীকার করা এবং আমলের মাধ্যমে সত্যায়ন করা।