(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: -)
ألفية السيوطي نظم الدرر في علم الأثر - ت الفحل   (الجلال السيوطي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: ألفية السيوطي في علم الحديث

المؤلف: جلال الدين السيوطي (ت 911 هـ)

ضبط وتعليق: د ماهر ياسين الفحل

عدد الصفحات: 74

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আলফিয়াতুস সুয়ূতী: নাযমুত দুরার ফী ইলমিল আসার (علم الأثر) - তাহকীক: আল-ফাহল   (জালালুদ্দীন সুয়ূতী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই: হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث) ওপর আলফিয়াতুস সুয়ূতী

লেখক: জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা: ড. মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١)
1 - للهِ حَمْدِى وإلَيهِ أَسْتَنِدْ … وما يَنوبُ فَعَلَيْهِ أَعْتَمِدْ

2 - ثمَّ على نَبِيِّهِ مُحَمَّدِ … خَيْرُ صَلاةٍ وسَلامٍ سَرْمَدِ

3 - وهذهِ أَلْفيَّةٌ تَحكِى الدُّرَرْ … منظومةٌ ضَمَّنْتُها عِلْمَ الأَثَرْ

4 - فائِقةٌ أَلْفيَّةَ العِرَاقِي … فِي الجَمْعِ والإِيجازِ وَاْتِّسَاقِ

5 - واللهُ يُجْرِيْ سابِغَ الإِحْسانِ … لِيْ وَلَهُ ولِذَوِيْ الإِيْمَانِ
1 - আল্লাহর জন্যই আমার সকল প্রশংসা এবং তাঁরই নিকট আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি … আর যে বিপদই আপতিত হয়, তাঁর ওপরই আমি নির্ভর করি।

2 - অতঃপর তাঁর নবী মুহাম্মাদের ওপর … বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও চিরন্তন সালাম।

3 - এটি মুক্তার ন্যায় সুশোভিত এক আলফিয়াহ … এমন এক কাব্য যাতে আমি হাদিস শাস্ত্র (علم الأثر) অন্তর্ভুক্ত করেছি।

4 - যা তথ্য সংগ্রহ, সংক্ষেপণ ও সুসামঞ্জস্যের দিক দিয়ে … ইরাকির আলফিয়াহ-কেও ছাড়িয়ে গেছে।

5 - আল্লাহ তাআলা যেন তাঁর অফুরন্ত অনুগ্রহ ধারা প্রবাহিত করেন … আমার প্রতি, তাঁর প্রতি এবং ঈমানদারগণের প্রতি।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌حد الحديث، وأقسامه

6 - عِلمُ الحديثِ: ذُو قوانِينْ تُحَدْ … يُدْرَى بِها أَحْوَالْ مَتْنٍ وَسَنَدْ

7 - فَذَانِكَ الموضوعُ، والمقصودُ … أَنْ يُعرَفَ المقبُولُ والمَردُودُ

8 - والسندُ: اْلإِخْبارُ عنْ طَرِيقِ … مَتْنٍ كَاْلاِسْنادِ لَدَى فَرِيقِ

9 - وَالْمَتْنُ: ما انْتَهَى اِلَيْهِ السَّنَدُ … مِنَ الْكَلامِ، والحديثَ قَيَّدُوا

10 - بِما أضيفَ لِلنَّبِيِّ قَوْلاً أوْ … فِعْلاً وَتَقْرِيراً وَنَحْوَهَا حَكَوْا

11 - وَقِيلَ: لا يَخْتَصُّ بِالمَرْفُوعِ … بَلْ جَاءَ لِلمَوْقُوفِ وَالمَقْطُوعِ

12 - فَهْوَ عَلَى هَذَا مُرادِفُ الْخَبَرْ … وَشَهَّرُوا شُمُولَ هَذَيْنِ الأَثَرْ

13 - وَالأَكْثَرُونَ قَسَّمُوا هَذِيْ السُّنَنْ … إِلَى صَحِيحٍ وَضَعِيفٍ وَحَسَنْ
হাদিসের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ

6 - হাদিস শাস্ত্র: এমন কিছু মূলনীতির সমষ্টি, যার মাধ্যমে মতন (متن) ও সনদ (سند)-এর অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।

7 - উক্ত দুটিই এর আলোচ্য বিষয়; আর এর উদ্দেশ্য হলো গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও বর্জনীয় (مردود) হাদিস শনাক্ত করা।

8 - সনদ (سند) হলো: মতনের (متن) দিকে পৌঁছানোর মাধ্যম বা সূত্র বর্ণনা করা; একদল বিশেষজ্ঞের মতে এটি ইসনাদ (اسناد)-এর সমার্থক।

9 - মতন (متن) হলো: সনদ (سند) যেখানে গিয়ে শেষ হয় অর্থাৎ মূল বক্তব্য; আর হাদিসকে তারা সংজ্ঞায়িত করেছেন—

10 - নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত কথা (قول), কাজ (فعل), মৌন সম্মতি (تقرير) ও তদ্রূপ অন্যান্য বিষয়ের সাথে।

11 - কেউ কেউ বলেছেন: হাদিস কেবল মারফু (مرفوع) বর্ণনার সাথে খাস নয়; বরং তা মাওকুফ (موقوف) এবং মাকতু (مقطوع) বর্ণনার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।

12 - এই মতানুসারে তা খবরের (خبر) সমার্থক; আর তারা এ কথা প্রসিদ্ধ করেছেন যে এই উভয়টি আছর (أثر)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে।

13 - অধিকাংশ আলিম এই সুন্নাহসমূহকে সহিহ (صحيح), জয়িফ (ضعيف) ও হাসান (حسن) — এই তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌الصحيح

14 - حَدُّ الصَّحِيحِ: مُسنَدٌ بِوَصْلِهِ … بِنَقْلِ عَدْلٍ ضَابِطٍ عَنْ مِثْلِهِ

15 - ولَمْ يَكُنْ شَذًّا وَلا مُعَلَّلا … والحُكْمُ بِالصَّحَةِوَالضَّعْفِ عَلَى

16 - ظاهِرِهِ، لاالقَطْعِ، إِلاَّ مَاحَوَى … كِتابُ مُسلِمٍ أَوِ الجُعْفِي سِوَى

17 - ما انْتَقَدُوا فَابْنُ الصَّلاحِ رَجَّحَا … قَطْعًا بِهِ، وَكَمْ إِمَامٍ جَنَحَا

18 - والنَّوَوِيْ رَجَّحَ فِي التَّقْرِيبِ … ظَنًّا بِهِ، وَالقَطْعُ ذُو تَصْوِيبِ

19 - وَلَيْسَ شَرْطًا عَدَدٌ، وَمَنْ شَرَطْ … رِوَايَةَ اثْنَيْنِ فَصَاعِدًا غَلَطَ

20 - والوَقْفُ عَنْ حُكْمٍ لِمَتْنٍ أَوْ سَنَدْ … بِأَنَّهُ أَصَحُّ مُطلَقًا أَسَدْ

21 - وآخَرُونَ حَكَمُوا فاضْطَرَبُوا … لِفَوقِ عَشْرٍ ضُمِّنَتْهَا الْكُتُبُ

22 - فَمَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سَيِّدِهْ … وَزِيدَ مَا لِلشَّافِعِيْ فَأَحْمَدِهْ

23 - وَابْنُ شِهابٍ عَنْ عَلِيٍّ عَنْ أَبِهْ … عَنْ جَدِّهِ، أَوْ سَالِمٍ عَمَّنْ نَبِهْ

24 - أَوْعَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ حَبْرِ البَشَرْ … هُوَ ابْنُ عَباسٍ وَهَذَا عَنْ عُمَرْ

25 - وَشُعْبَةٌ عَنْ عَمْرٍو ابْنِ مُرَّهْ(1) … عَنْ مُرَّةٍ عَنِ ابْنِ قَيْسٍ كَرَّهْ

26 - أَوْ مَا رَوَى شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَهْ … إِلَى سَعِيدٍ عَنْ شُيُوخٍ سَادَهْ

27 - ثُمَّ ابْنُ سِيرِينَ عَنِ الْحَبْرِالْعَلِي … عَبِيدَةٍ بِما رَوَاهُ عَنْ عَلِي

28 - كَذَا ابْنُ مِهْرَانَ عَنِ ابْرَاهِيمَ عَنْ … عَلْقَمَةٍ عَنِ ابْنِ مَسعُودِ الْحَسَنْ

29 - وَوَلَدُ القَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ … عائِشَةٍ، وَقَالَ قَوْمٌ ذُو فِطَنْ

30 - لا يَنْبَغِي التَّعْمِيمُ فِي الإِسْنادِ … بَلْ خُصَّ بِالصَّحْبِ أَوِ البِلادِ

31 - فَأَرْفَعُ الإِسْنادِ لِلصِّدِّيقِ مَا … إِبْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسٍ نَمَا

32 - وَعُمَرٍ فَابْنَ شِهابٍ بَدِّهِ … عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِهِ عَنْ جَدِّهِ

33 - وَأَهْلِ بَيْتِ المُصْطَفَى جَعْفَرُ عَنْ … آبَائِهِ، إِنْ عَنْهُ رَاوٍ مَا وَهَنْ

34 - وَلأَبِي هُرَيرَةَ الزُّهْرِيُّ عَنْ … سَعِيدٍ أوْ أَبُو الزِّنَادِ حَيْثُ عَنْ

35 - عَنْ أَعْرَجٍ، وَقيلَ: حَمَّادٌ بِمَا … أَيُّوبُ عَنْ مُحَمَّدٍ لَهُ نَمَى

36 - لِمَكَّةٍ سُفْيانُ عَنْ عَمْرٍو، وَذَا … عَنْ جَابِرٍ، وَلِلمَدِينَةِ خُذا

37 - ابْنَ أَبِي حَكِيمَ عَنْ عَبِيدَةِ … الحَضْرَمِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيرَةِ

38 - وَما رَوَى مَعْمَرُ عَنْ هَمَّامَ عَنْ … أَبِي هُرَيرَةَ أَصَحُّ لِلْيَمَنْ

39 - لِلشَّامِ الأَوْزَاعِيُّ عَنْ حَسَّانَا … عَنِ الصِّحَابِ فَائِقٌ إِتْقَانَا

40 - وَغَيْرُ هَذَا مِنْ تَراجِمٍ تُعَدْ … ضَمَّنْتُهَا شَرْحِيَ عَنْها لا تُعَدْ

--------------------------------------------

(1) قال الشيخ محمد بن علي بن آدم الأثيوبي شارح الألفية: " وقد أخطأ المحقق ابن شاكر تبعًا للشارح في تعليقه هنا، وفي الباعث الحثيث حيث يقول: عن عمرو بن مرة عن أبيه مرة، والصواب أن مُرّة هذا ليس والدًا لعمرو هذا بل هو شيخه غايته أنه اتفق اسم شيخه ووالده " اهـ
‌‌সহিহ (صحيح)

১৪ - সহিহ (صحيح)-এর সংজ্ঞা: এটি এমন মুসনাদ (مسند) যা নিরবচ্ছিন্ন সংযুক্তির মাধ্যমে … একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) রাবির বর্ণনায় তাঁর অনুরূপ রাবি থেকে বর্ণিত।

১৫ - এবং যা শায (شاذ) কিংবা মুআল্লাল (معلل) নয়। আর সহিহ (صحة) ও যয়িফ (ضعف) হওয়ার হুকুম দেওয়া হয় …

১৬ - রাবির বাহ্যিক (ظاهر) অবস্থার ওপর ভিত্তি করে, নিশ্চিতভাবে (قطع) নয়; তবে মুসলিম বা জুফির (বুখারি) কিতাব যা অন্তর্ভুক্ত করেছে তা ব্যতীত …

১৭ - ঐ সকল হাদিস ছাড়া যেগুলোর তারা সমালোচনা (انتقاد) করেছেন। ইমাম ইবনে আল-সালাহ এগুলোর ব্যাপারে নিশ্চিত (قطع) হওয়ার মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বহু ইমাম এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন।

১৮ - ইমাম নববী 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে এ ব্যাপারে প্রবল ধারণার (ظن) মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তবে নিশ্চিত (قطع) হওয়ার বিষয়টিই সঠিক।

১৯ - রাবিদের সংখ্যা (عدد) হওয়া কোনো শর্ত নয়; আর যারা দুই বা ততোধিক রাবির বর্ণনাকে শর্ত করেছেন তারা ভুল করেছেন।

২০ - কোনো মতন (متن) বা সনদ (سند) সম্পর্কে নিরঙ্কুশভাবে (مطلق) এটি 'সর্বাধিক সহিহ' (أصح) হওয়ার হুকুম দেওয়া থেকে বিরত থাকাই অধিক সমীচীন।

২১ - তবে অন্যরা হুকুম প্রদান করেছেন এবং তারা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছেন … যার ফলে কিতাবসমূহে দশটিরও বেশি সনদ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

২২ - যেমন: মালিক নাফি থেকে, তিনি তাঁর মনিব (ইবনে উমর) থেকে; এর সাথে ইমাম শাফেয়ি ও আহমদের সূত্রকে যুক্ত করা হয়।

২৩ - এবং ইবনে শিহাব আলি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে … তিনি তাঁর দাদা থেকে; অথবা সালিম তাঁর পিতা থেকে।

২৪ - অথবা উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি মানবজাতির পন্ডিত … ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি উমর থেকে।

২৫ - এবং শু’বাহ আমর ইবনে মুররাহ থেকে … তিনি মুররাহ থেকে, তিনি ইবনে কায়স থেকে।

২৬ - অথবা শু’বাহ কাতাদাহ থেকে যা বর্ণনা করেছেন … সাঈদ পর্যন্ত, যিনি মহান শাইখদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

২৭ - অতঃপর ইবনে সিরিন সুউচ্চ পন্ডিত … উবাইদাহ থেকে যা তিনি আলি থেকে বর্ণনা করেছেন।

২৮ - একইভাবে ইবনে মিহরান ইব্রাহিম থেকে, তিনি … আলকামাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদের থেকে বর্ণিত সুন্দর সনদ।

২৯ - এবং কাসিমের পুত্র তাঁর পিতা থেকে, তিনি … আয়েশা থেকে; এবং একদল প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন—

৩০ - ইসনাদ (إسناد)-এর ক্ষেত্রে সাধারণ হুকুম দেওয়া উচিত নয় … বরং এটি সাহাবি (صحاب) বা অঞ্চল (بلاد) ভেদে নির্দিষ্ট করা উচিত।

৩১ - সুতরাং সিদ্দিকের (আবু বকর) জন্য সর্বোচ্চ ইসনাদ (إسناد) হলো যা … ইবনে আবি খালিদ কায়স থেকে বর্ণিত।

৩২ - এবং উমরের ক্ষেত্রে ইবনে শিহাবকে প্রাধান্য দাও … যিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।

৩৩ - আর মুস্তফা (সা.)-এর আহলে বাইতের জন্য জাফর তাঁর … পিতৃপুরুষদের থেকে, যদি তাঁর থেকে বর্ণনাকারী রাবি দুর্বল (وهن) না হন।

৩৪ - আর আবু হুরাইরার জন্য যুহরি … সাঈদ থেকে অথবা আবুয যিনাদ যখন বর্ণনা করেন—

৩৫ - আল-আরাজ থেকে; এবং বলা হয়েছে: আইয়ুব মুহাম্মদ থেকে … যা বর্ণনা করেছেন তা হাম্মাদের সূত্রে।

৩৬ - মক্কার জন্য সুফিয়ান আমর থেকে এবং এটি … জাবির থেকে; আর মদিনার জন্য গ্রহণ করো—

৩৭ - ইবনে আবি হাকিম উবাইদাহ … আল-হাদরামি থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে।

৩৮ - আর মা’মার হুমাম থেকে যা বর্ণনা করেছেন … আবু হুরাইরার সূত্রে, তা ইয়েমেনের জন্য সর্বাধিক সহিহ (أصح)।

৩৯ - শামের জন্য আওজায়ি হাসসান থেকে … সাহাবিদের (صحاب) সূত্রে বর্ণনা নিপুণতায় অনন্য।

৪০ - এছাড়াও আরও অনেক জীবনীমূলক সনদ (تراجم) রয়েছে … যা আমি আমার ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছি, সেগুলোর গণনা শেষ করা যাবে না।

--------------------------------------------

(১) আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাকার শাইখ মুহাম্মদ বিন আলি বিন আদম আল-ইথিওপি বলেছেন: "মুহাক্কিক ইবনে শাকির এখানে এবং বা'ইস আল-হাসিস-এর টিকায় ব্যাখ্যাকারকে অনুসরণ করতে গিয়ে ভুল করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: আমর ইবনে মুররাহ তাঁর পিতা মুররাহ থেকে। সঠিক কথা হলো, এই মুররাহ আমরের পিতা নন বরং তাঁর উস্তাদ। কেবল উস্তাদ ও পিতার নাম একই হয়ে গেছে।"
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌مسألة

41 - أَوَّلُ جامِعِ الحديثِ والأَثَرْ … اِبْنُ شِهابٍ آمِرًا لَهُ عُمَرْ

42 - وَأَوَّلُ الجَامِعِ لِلأَبْوَابِ … جَمَاعَةٌ فِي العَصْرِ ذُو اقْتِرَابِ

43 - كَابْنِ جُرَيْجٍ وَهُشَيْمٍ مَالِكِ … وَمَعْمَرٍ وَوَلَدِ المُبَارَكِ

44 - وَأَوَّلُ الجَامِعِ بِاقْتِصَارِ … عَلَى الصَّحِيحِ فَقَطِ البُخَارِي

45 - وَمُسْلِمٌ مِنْ بَعْدِهِ، وَالأَوَّلُ … عَلَى الصَّوَابِ فِي الصَّحِيحِ أَفْضَلُ

46 - وَمَنْ يُفَضِّلْ مُسْلِمًا فَإِنَّمَا … تَرْتِيبَهُ وَصُنْعَهُ قَدْ أَحْكَمَا

47 - وَانْتَقَدُوا عَلَيْهِمَا يَسِيرَا … فَكَمْ تَرَى نَحْوَهُمَا نَصِيرَا

48 - وَلَيْسَ فِي الْكُتْبِ أَصَحُّ مِنْهُمَا … بَعْدَ الْقُرَانِ وَلِهَذَا قُدِّمَا

49 - مَرْوِيُّ ذَيْنِ، فَالبُخَارِيِّ، فَمَا … لِمُسْلِمٍ، فَمَا حَوَى شَرْطَهُمَا

50 - فَشَرْطَ أَوَّلٍ، فَثَانٍ، ثُمَّ مَا … كانَ عَلَى شَرْطِ فَتًى غَيْرِهِمَا

51 - وَرُبَّمَا يَعْرِضَ لِلْمَفُوقِ مَا … بِجَعْلِهِ مُسَاوِيًا أَوْ قُدِّمَا

52 - وَشَرْطُ ذَيْنِ كَوْنُ ذَا الإِسْنَادِ … لَدَيْهِمَا بِالجَمْعِ وَالإِفْرَادِ

53 - وَعِدَّةُ الأَوَّلِ بِالتَّحْرِيرِ … أَلْفَانِ وَالرُّبْعُ بِلا تَكْرِيرِ

54 - وَمُسْلِمٌ أَرْبَعَةُ الآلافِ … وَفِيهِمَا التَّكْرَارُ جَمًّا وَافِ

55 - مِنَ الصَّحِيحِ فَوَّتَا كَثِيرِا … وَقَالَ نَجْلُ أَخْرَمٍ: يَسِيرَا

56 - مُرَادُهُ أَعَلَى الصَّحِيحِ فَاحْمِلِ … أَخْذًا مِنَ الحَاكِمِ أَيْ فِي المَدْخَلِ

57 - النَّوَوِيْ: لَمْ يَفُتِ الخَمْسَةَ مِنْ … مَا صَحَّ إِلاَّ النَّزْرُ فاقْبَلْهُ وَدِنْ

58 - وَاحْمِلْ مَقَالَ عُشْرَ أَلْفِ أَلْفِ … أَحْوِي عَلَى مُكَرَّرٍ وَوَقْفِ

59 - وَخُذْهُ حَيْثُ حَافِظٌ عَلَيْهِ نَصْ … وَمِنْ مُصَنَّفٍ بِجَمْعِهِ يُخَصْ

60 - كَابْنِ خُزَيْمَةَ وَيتْلُو مُسْلِمَا … وَأَوْلِهِ البُسْتِيَّ ثُمَّ الحَاكِمَا

61 - وَكَمْ بِهِ تَسَاهُلٌ حَتَى وَرَدْ … فِيهِ مَناكِرُ وَمَوْضُوعٌ يُرَدْ

62 - وَابْنُ الصَّلاحِ قَالَ: مَا تَفَرَّدَا … فَحَسَنٌ إِلاَّ لِضَعْفٍ فَارْدُدَا

63 - جَرْيًا عَلَى امْتِناعِ أَنْ يُصَحَّحَا … فِي عَصْرِنَا كَمَا إِلَيْهِ جَنَحَا

64 - وَغَيْرُهُ جَوَّزَهُ وَهْوَ الأَبَرْ … فَاحْكُمْ هُنَا بِمَالَهُ أَدَّى النَّظَرْ

65 - مَا سَاهَلَ البُسْتِيُّ فِي كِتَابِهِ … بَلْ شَرْطُهُ خَفَّ وَقَدْ وَفَّى بِهِ

66 - وَاسْتَخْرَجُوا عَلَى الصَّحِيحَيْنِ بِأَنْ … يَرْوِي أَحَادِيثَ كِتَابٍ حَيْثُ عَنْ

67 - لا مِنْ طَرِيقِ مَنْ إِلَيْهِ عَمَدَا … مُجْتَمِعًا فِي شَيْخِهِ فَصَاعِدَا

68 - فَرُبَّمَا تَفَاوَتَتْ مَعْنًى، وَفِي … لَفْظٍ كَثِيرًا، فَاجْتَنِبْ أَنْ تُضِفِ

69 - إِلَيْهِمَا، وَمَنْ عَزَا أَرَادَا … بِذَلِكَ الأَصْلَ وَمَا أَجَادَا

70 - وَاحْكُمْ بِصِحَّةٍ لِمَا يَزِيدُ … فَهْوَ مَعَ العُلُوِ ذَا يُفِيدُ

71 - وَكَثْرَةَ الطُّرْقِ وَتَبْيِينَ الَّذِي … أُبْهِمَ أَوْ أُهْمِلَ أَوْ سَمَاَع ذِي

72 - تَدْلِيسٍ اوْ مُخْتَلِطٍ وَكُلُّ مَا … أُعِلَّ فِي الصَّحِيحِ مِنْهُ سَلِمَا
‌‌আলোচ্য বিষয়

৪১ - হাদিস ও আসার (آثار) এর প্রথম সংকলক হলেন ইবনে শিহাব (জুহরি), উমর (ইবনে আবদুল আজিজ) তাঁকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন।

৪২ - আর পরিচ্ছেদ অনুসারে প্রথম সংকলন করেছেন সেই যুগের একদল সমসাময়িক আলিম।

৪৩ - যেমন ইবনে জুরায়জ, হুশায়ম, মালিক, মা'মার এবং ইবনুল মুবারকের পুত্র।

৪৪ - শুধুমাত্র বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ থেকে প্রথম সংকলন করেছেন আল-বুখারি।

৪৫ - আর তাঁর পরে ইমাম মুসলিম; তবে বিশুদ্ধতার (صحيح) ক্ষেত্রে সঠিক মতানুসারে প্রথমজনই শ্রেষ্ঠ।

৪৬ - যারা ইমাম মুসলিমকে শ্রেষ্ঠত্ব দেন, তারা মূলত তাঁর বিন্যাস ও সংকলনশৈলীর নিপুণতার কারণেই তা করে থাকেন।

৪৭ - সমালোচকগণ তাঁদের উভয়ের ওপর সামান্য কিছু বিষয়ে সমালোচনা করেছেন; তবে তাঁদের উভয়ের পক্ষে কতই না সাহায্যকারী আপনি দেখতে পাবেন!

৪৮ - কুরআনের পরে এই দুই কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) কোনো কিতাব নেই, একারণেই এদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

৪৯ - প্রথমে উভয়ের বর্ণিত হাদিস, তারপর বুখারির, তারপর মুসলিমের, তারপর যা উভয়ের শর্ত পূরণ করে।

৫০ - এরপর প্রথমজনের শর্ত, তারপর দ্বিতীয়জনের শর্ত, এরপর যা অন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তির শর্ত অনুযায়ী হয়।

৫১ - কখনো কখনো নিম্নমানের হাদিসে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় যা তাকে উচ্চমানের হাদিসের সমপর্যায়ের বা অগ্রগণ্য করে তোলে।

৫২ - তাঁদের উভয়ের শর্ত হলো সনদ (إسناد) সংযুক্ত হওয়া, তা সমষ্টিগতভাবে হোক বা এককভাবে।

৫৩ - প্রথম কিতাবে (সহিহ বুখারি) পরিমার্জিতভাবে এবং পুনরাবৃত্তি (تكرار) ছাড়া হাদিসের সংখ্যা দুই হাজার দুইশ পঞ্চাশটি।

৫৪ - আর মুসলিমে চার হাজার হাদিস রয়েছে; তবে উভয়ের মধ্যেই প্রচুর পুনরাবৃত্তি (تكرار) বিদ্যমান।

৫৫ - তাঁরা অনেক বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস বাদ দিয়েছেন; তবে ইবনে আখরাম বলেছেন যে, খুব সামান্যই বাদ পড়েছে।

৫৬ - তাঁর উদ্দেশ্য হলো সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস; হাকেমের আল-মাদখাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিষয়টি সেভাবেই গ্রহণ করুন।

৫৭ - ইমাম নববী বলেন: পাঁচটি কিতাব থেকে খুব সামান্য বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসই বাদ পড়েছে, সুতরাং এটি গ্রহণ করুন এবং এর ওপর বিশ্বাস রাখুন।

৫৮ - আর 'দশ লক্ষ' (হাদিস জানা) সংক্রান্ত কথাটিকে পুনরাবৃত্তি (تكرار) এবং সাহাবীর বক্তব্য (موقوف) হিসেবে বিবেচনা করুন।

৫৯ - বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস সেখান থেকেই গ্রহণ করুন যেখানে কোনো হাফেজ তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন অথবা এমন কোনো সংকলন থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস সংগ্রহের জন্যই বিশেষায়িত।

৬০ - যেমন ইবনে খুজাইমা, যার অবস্থান মুসলিমের পরেই, এরপর আল-বুস্তি (ইবনে হিব্বান) এবং এরপর হাকেম।

৬১ - হাকেমের কিতাবে কতটা শিথিলতা (تساهل) রয়েছে! এমনকি তাতে প্রত্যাখ্যাত (منكر) এবং জাল (موضوع) হাদিসও এসেছে যা বর্জনীয়।

৬২ - ইবনে সালাহ বলেন: হাকেম যা এককভাবে বর্ণনা করেছেন তা হাসান (حسن), তবে দুর্বলতার (ضعف) কারণে বর্জনীয় হলে ভিন্ন কথা।

৬৩ - এটি আমাদের যুগে নতুন করে বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) অসম্ভব হওয়ার মতের ওপর ভিত্তি করে, যেদিকে তিনি ঝুঁকেছেন।

৬৪ - অন্যরা একে জায়েজ বলেছেন এবং এটিই অধিক উত্তম; সুতরাং গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে এখানে সিদ্ধান্ত নিন।

৬৫ - আল-বুস্তি (ইবনে হিব্বান) তাঁর কিতাবে শিথিলতা করেননি, বরং তাঁর শর্তই ছিল সহজ এবং তিনি তা পূর্ণ করেছেন।

৬৬ - তাঁরা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর ওপর মুস্তাখরাজ করেছেন এভাবে যে, কোনো গ্রন্থের হাদিসসমূহ এমন সনদে বর্ণনা করা যা—

৬৭ - সেই মূল গ্রন্থকারের সূত্রে নয়, বরং তাঁর উস্তাদ বা তাঁর উপরের স্তরে গিয়ে মিলিত হয়।

৬৮ - কখনো কখনো এগুলোর অর্থগত তফাত ঘটে এবং শব্দগত (لفظ) পার্থক্যও প্রচুর হয়; তাই শব্দগুলোকে সরাসরি সেই দুজনের (বুখারি ও মুসলিম) দিকে নিসবত করা থেকে বিরত থাকুন।

৬৯ - আর যারা নিসবত করেছেন তারা এর মাধ্যমে মূল হাদিসকেই বুঝিয়েছেন, তবে তারা কাজটি সঠিক করেননি।

৭০ - অতিরিক্ত যা পাওয়া যায় সেগুলোর বিশুদ্ধতার (صحة) রায় দিন; কারণ এটি উচ্চতর সনদ (علو) লাভে সহায়ক।

৭১ - এটি অধিক সূত্র (طرق) প্রদান করে এবং অস্পষ্ট বা অনুল্লিখিত বিষয় স্পষ্ট করে অথবা কোনো বর্ণনাকারীর সরাসরি শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত করে—

৭২ - যার মাধ্যমে লুকোচুরি (تدليس) বা স্মৃতিভ্রমকারী (مختلط) বর্ণনাকারীর সমস্যা এবং সহিহ কিতাবে থাকা ত্রুটিপূর্ণ (أعل) বর্ণনা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌خاتمة

73 - لِأَخْذِ مَتْنٍ مِنْ مُصَنِّفٍ يَجِبْ … عَرْضٌ عَلَى أَصْلٍ، وَعِدَةٍ نُدِبْ

74 - وَمَنْ لِنَقْلٍ فِي الحَدِيثِ شَرَطَا … رِوَايَةً وَلَوْ مُجَازًا غُلِّطَا
উপসংহার (خاتمة)

73 - কোনো সংকলন থেকে মূল পাঠ (متن) গ্রহণ করার জন্য তা মূল পাণ্ডুলিপির (أصل) সাথে মিলিয়ে দেখা আবশ্যক (يجب); এবং একাধিক মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা মুস্তাহাব (ندب)।

74 - আর হাদিস স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যিনি বর্ণনা (رواية) করার শর্তারোপ করেছেন, এমনকি তা অনুমতিপ্রাপ্ত (مجازا) হওয়ার মাধ্যমে হলেও, তাকে ভুল সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌الحسن

75 - المُرْتَضَى فِي حَدِّهِ مَا اتَّصَلا … بِنَقْلِ عَدْلٍ قَلَّ ضَبْطُهُ وَلا

76 - شَذَّ وَلا عُلِّلَ وَلْيُرَتَّبِ … مَرَاتِبًا والاِحْتِجَاجِ يَجْتَبِي

77 - أَلْفُقَهَا وَجُلُّ أَهْلِ الْعِلْمِ … فَإِنْ أَتَى مِنْ طُرْقٍ اخْرَى يَنْمِي

78 - إِلَى الصَّحِيحِ، أَيْ لِغَيْرِهِ، كَمَا … يَرْقَى إِلَى الحُسْنِ الَّذِي قَدْ وُسِمَا

79 - ضَعْفًا لِسُوءِالحِفْظِ أَوْإِرْسَالٍ اْوْ … تَدْلِيسٍ اْوْ جَهَالَةٍ إِذَا رَأَوْا

80 - مَجِيئَهُ مِنْ جِهَةٍ أُخْرَى، وَمَا … كَانَ لِفِسْقٍ اْوْ يُرَى مُتَّهَمَا

81 - يَرْقَى عَنِ الإِنْكَارِ بِالتَّعَدُّدِ … بَلْ رُبَّمَا يَصِيرُ كَالَّذِي بُدِي

82 - وَالْكُتُبُ الأَرْبَعُ ثَمَّتَ السُّنَنْ … لِلدَّارَقُطْنِيْ مِنْ مَظِنَّاتِ الحَسَنْ

83 - قَالَ أَبُو دَاوُدَ عَنْ كِتَابِهْ … ذَكَرْتُ مَا صَحَّ وَمَا يُشَابِهْ

84 - وَمَا بِهِ وَهْنٌ أَقُلْ وَحَيْثُ لا … فَصَالِحٌ، فَابْنُ الصَّلاحِ جَعَلا

85 - مَا لَمْ يُضَعِّفْهُ وَلا صَحَّ حَسَنْ … لَدَيْهِ مَعْ جَوَازِ أَنَّهُ وَهَنْ

86 - فَإِنْ يَقُلْ: قَدْ يَبْلُغُ الصِّحَّةَ لَهْ … قُلْنَا: احْتِيَاطًا حَسَنًا قَدْ جَعَلَهْ

87 - فَإِنْ يَقُلْ: فَمُسْلِمٌ يَقُولُ: لا … يَجْمَعُ جُمْلَةَ الصَّحِيحِ النُّبَلا

88 - فَاحْتَاجَ أَنْ يَنْزِلَ لِلْمُصَدَّقِ … وَإِنْ يَكُنْ فِي حِفْظِهِ لا يَرْتَقِي

89 - هَلاَّ قَضَى فِي الطَّبَقَاتِ الثَّانِيَهْ … بِالحُسْنِ مِثْلَ مَاقَضَى فِي المَاضِيَهْ

90 - أَجِبْ بِأَنَّ مُسْلِمًا فِيهِ شَرَطْ … مَاصَحًّ فَامْنَعْ أَنْ لِذِي الحُسْنِ يُحَطْ

91 - فِإِنْ يُقَلْ: فِي السُّنَنِ الصِّحَاحُ مَعْ … ضَعِيفِهَا وَالبَغَوِيُّ قَدْ جَمَعْ

92 - مَصَابِحًا وَجَعَلَ الحِسَانَ مَا … فِي سُنَنٍ قُلْنَا: اصْطِلاحٌ يُنْتَمَى

93 - يَرْوِي أَبُو دَاوُدَ أَقْوَى مَا وَجَدْ … ثُمَّ الضَّعِيفَ حَيْثُ غَيْرَهُ فَقَدْ

94 - وَالنَّسَئِي مَنْ لَمْ يَكُونُوا اتَّفَقُوا … تَرْكًا لَهُ وَالآخِرُونَ ألْحَقُوا

95 - بِالْخَمْسَةِ ابْنَ مَاجَةٍ، قِيلَ: وَمَنْ … مَازَ بِهِمْ فَإِنَّ فِيهِمُو وَهَنْ

96 - تَساهَلَ الَّذِي عَلَيْهَا أَطْلَقَا … صَحِيحَةً وَالدَّارِمِيْ وَالْمُنْتَقَى

97 - وَدُونَهَا مَسَانِدٌ وَالْمُعْتَلِيْ … مِنْهَا الَّذِي لأَِحْمَدٍ وَالحَنْظَلِيْ
‌‌হাসান (حسن)

৭৫ - হাসান (حسن) হাদিসের সংজ্ঞায় পছন্দনীয় মত হলো—যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (متصل), যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত যার নির্ভুলতা বা মুখস্থশক্তি (ضبط) কিছুটা কম এবং যা...

৭৬ - বৈসাদৃশ্যপূর্ণ (شاذ) নয় এবং ত্রুটিযুক্ত (علل) নয়। এর বিভিন্ন স্তর বিন্যাস করা উচিত এবং দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) ক্ষেত্রে এটি নির্বাচিত হয়।

৭৭ - ফকিহগণ এবং অধিকাংশ ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞগণ এটি গ্রহণ করেন। যদি এটি অন্য কোনো সূত্র থেকে বর্ণিত হয়, তবে তা উন্নীত হয়...

৭৮ - অন্য সূত্রের কারণে সহিহ (صحيح لغيره) এর পর্যায়ে। তেমনিভাবে সেই হাদিসও হাসান (حسن) স্তরে উন্নীত হয় যা চিহ্নিত হয়েছে...

৭৯ - মুখস্থশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ), বিচ্ছিন্নতা (إرسال), তথ্য গোপন (تدليس) অথবা বর্ণনাকারীর পরিচয়হীনতার (جهالة) কারণে দুর্বল (ضعفًا) হিসেবে; যখন তারা দেখেন...

৮০ - যে এটি অন্য কোনো সূত্র থেকেও বর্ণিত হয়েছে। তবে যে বর্ণনা পাপাচার (فسق) অথবা বর্ণনাকারী অভিযুক্ত (متهم) হওয়ার কারণে দুর্বল...

৮১ - তা একাধিক সূত্রের কারণে অগ্রহণযোগ্যতা (إنكار) থেকে উন্নীত হয় না। বরং কখনও কখনও তা পূর্বে বর্ণিত হাসান হাদিসের মতো হয়ে যায়।

৮২ - সুনান চতুষ্টয় এবং দারা কুতনির সুনান হলো হাসান (حسن) হাদিস পাওয়ার সম্ভাব্য স্থান।

৮৩ - আবু দাউদ তাঁর কিতাব সম্পর্কে বলেছেন: আমি সেখানে সহিহ (صحيح) এবং তার সদৃশ (হাসান) হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি।

৮৪ - আর যাতে অতিশয় দুর্বলতা (وهن) রয়েছে আমি তা বলে দিয়েছি। আর যেখানে আমি কিছু বলিনি তা গ্রহণযোগ্য (صالح)। ইবনুল সালাহ সাব্যস্ত করেছেন যে...

৮৫ - যা তিনি দুর্বল (ضعف) বলেননি এবং সহিহ (صحيح) হিসেবেও স্পষ্ট নয়, তা তাঁর নিকট হাসান (حسن), যদিও তাতে দুর্বলতার (وهن) সম্ভাবনা থাকে।

৮৬ - যদি কেউ বলে: এগুলো তো সহিহ (صحة) পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে; আমরা বলব: সতর্কতাবশত তিনি সেগুলোকে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করেছেন।

৮৭ - যদি বলা হয়: ইমাম মুসলিম তো বলেন যে, সকল সহিহ (صحيح) হাদিস শ্রেষ্ঠ আলেমগণ একত্রে সংকলন করেননি।

৮৮ - তাই তিনি নির্ভরযোগ্য সত্যবাদী (مصدق) বর্ণনাকারীর স্তরে নামতে বাধ্য হয়েছেন, যদিও মুখস্থশক্তির দিক দিয়ে সে উচ্চপর্যায়ে উন্নীত (يرتقي) নয়।

৮৯ - কেন তিনি দ্বিতীয় স্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে হাসান (حسن) হওয়ার ফয়সালা দিলেন না, যেমনটি ইতিপূর্বে দেওয়া হয়েছে?

৯০ - উত্তরে বলুন, ইমাম মুসলিম এতে সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তারোপ করেছেন, তাই একে হাসান (حسن) এর স্তরে নামিয়ে আনা থেকে বিরত থাকুন।

৯১ - যদি বলা হয়: সুনান গ্রন্থসমূহে সহিহ (صحيح) হাদিসের সাথে দুর্বল (ضعيف) হাদিসও রয়েছে, অথচ ইমাম বাগভী সংকলন করেছেন...

৯২ - মাসাবিহ (সুন্নাহ) এবং তিনি সুনান গ্রন্থসমূহের হাদিসগুলোকে হাসান (حسان) হিসেবে গণ্য করেছেন; আমরা বলব: এটি তাঁর নিজস্ব পারিভাষিক (اصطلاح) প্রয়োগ।

৯৩ - আবু দাউদ তাঁর কাছে পাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী বর্ণনাটি উল্লেখ করেন, এরপর অন্য বর্ণনা না থাকলে দুর্বল (ضعيف) হাদিসও উল্লেখ করেন।

৯৪ - আর ইমাম নাসাঈ এমন বর্ণনাকারীদের হাদিস বর্ণনা করেন যাদের বর্জনের (ترك) ব্যাপারে সকলে একমত হননি। পরবর্তীগণ যুক্ত করেছেন...

৯৫ - পাঁচ কিতাবের সাথে ইবনে মাজাহকে। বলা হয়: যারা এর মাধ্যমে কিতাবগুলোকে পৃথক করেছেন, তাদের মাঝে দুর্বলতা (وهن) রয়েছে।

৯৬ - যিনি এ কিতাবগুলোকে নিরঙ্কুশভাবে সহিহ (صحيحة) বলেছেন তিনি শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন করেছেন। আর সুনানুদ দারিমি ও আল-মুনতাকা...

৯৭ - এগুলোর নিচে রয়েছে মুসনাদসমূহ, যার মধ্যে উচ্চমর্যাদার হলো আহমদ ও হানজালি (ইসহাক বিন রাহওয়াই)-এর মুসনাদ।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مسألة

98 - الحُكْمُ بِالصِّحَّةِ وَالحُسْنِ عَلَى … مَتْنٍ رَواهُ التِّرْمِذِيْ، وَاسْتَشْكَلا

99 - فَقِيلَ: يعْنِي اللُّغَوِي، وَيَلْزَمُ … وَصْفُ الضَّعِيفِ، وَهْوَ نُكْرٌ لَهُمُ

100 - وَقِيلَ: بِاعْتِبَارِ تَعْدَادِ السَّنَدْ … وَفِيهِ شَيْءٌ، حَيْثُ وَصْفُ مَا انْفَرَدْ

101 - وَقِيلَ: مَا تَلْقَاهُ يَحْوِي العُلْيَا … فَذَاكَ حَاوٍ أَبَدًا لِلدُّنْيَا

102 - كُلُّ صَحِيحٍ حَسَنٌ لا يَنْعَكِسْ … وَقِيلَ: هَذَا حَيِثُ رَأْيٌ يَلْتَبِسْ

103 - وَصَاحِبُ النُّخْبَةِ: ذَا إِنْ انْفَرَدْ … إِسْنَادُهُ، وَالثَّانِ حَيْثُ ذُو عَدَدْ

104 - وَقَدْ بَدَا لِي فِيهِ مَعْنَيَانِ … لَمْ يُوجَدَا لأَهْلِ هَذَا الشَّانِ

105 - أَيْ حَسَنٌ لِذَاتِهِ صَحِيحُ … لِغَيْرِهِ، لَمَّا بَدَا التَّرْجِيحُ

106 - أَوْ حَسَنٌ عَلَى الَّذِيِ بِهِ يُحَدْ … وَهْوُ أَصَحُّ مَا هُنَاكَ قَدْ وَرَدْ

107 - وَالحُكْمُ بِالصَّحِّةِ لِلإِسْنَادِ … وَالحُسْنِ دُونَ المَتْنِ لِلنُّقَّادِ

108 - لِعِلَّةٍ أَوْ لِشُذُوذٍ وَاحْكُمِ … لِلْمَتْنِ إِنْ أُطْلَقَ ذُو حِفْظٍ نُمِي

109 - وَلِلْقَبُولِ يُطْلِقُونَ جَيِّدَا … وَالثَّابِتَ الصَّالِحَ وَالمُجَوَّدَا

110 - وَهَذِهِ بَيْنَ الصَّحِّيحِ وَالحَسَنْ … وَقَرَّبُوا مُشَبَّهَاتٍ مِنْ حَسَْن

111 - وَهَلْ يُخَصُّ بِالصَّحِيحِ الثَّابِتُ … أَوْ يَشْمَلُ الْحُسْنَ نِزَاعٌ ثَابِتُ
‌‌বিষয়

98 - ইমাম তিরমিযী বর্ণিত কোনো মতন (متن)-এর ওপর সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হওয়ার হুকুম প্রদান; এবং তাঁরা একে জটিল মনে করেছেন।

99 - বলা হয়েছে: এর দ্বারা শাব্দিক অর্থ উদ্দেশ্য, যা দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকেও বিশেষায়িত করার আবশ্যকতা তৈরি করে, যা তাঁদের নিকট আপত্তিকর (نكر)।

100 - আরও বলা হয়েছে: সনদের (سند) আধিক্যের বিবেচনায়; তবে সেখানে এমন কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে তিনি একক (انفرد) বর্ণনার ক্ষেত্রেও এ বিশেষণ ব্যবহার করেছেন।

101 - বলা হয়েছে: আপনি যা পাচ্ছেন তা উচ্চস্তরকে শামিল করে; সুতরাং তা সর্বদা নিম্নস্তরকেও ধারণ করে।

102 - প্রতিটি সহিহ (صحيح) বর্ণনাই হাসান (حسن), তবে এর বিপরীতটি প্রযোজ্য নয়। বলা হয়েছে: এটি তখনই হয় যখন কোনো অভিমত সংশয়পূর্ণ হয়।

103 - নুখবাহ গ্রন্থের রচয়িতা বলেন: এটি তখন যখন এর সনদ (إسناد) একক (انفرد) হয়; আর দ্বিতীয়টি (একাধিক্যের ক্ষেত্র) হয় যেখানে বর্ণনাকারী সংখ্যায় একাধিক হয়।

104 - এ বিষয়ে আমার নিকট দুটি অর্থ স্পষ্ট হয়েছে, যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট পাওয়া যায়নি।

105 - অর্থাৎ তা হাসান লি-যাতিহি (حسن لذاته) যা আবার সহিহ লি-গয়রিহি (صحيح لغيره), যখন প্রাধান্য প্রদানের বিষয়টি প্রতিভাত হয়।

106 - অথবা হাসান (حسن) সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী যা দিয়ে তা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে; এবং এই পর্যায়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে এটিই সর্বাধিক সহিহ (أصح)।

107 - সমালোচকগণের নিকট কেবল সনদ (إسناد)-এর জন্য সহিহ (صحة) এবং হাসান (حسن) হওয়ার হুকুম হতে পারে, মতন (متن)-এর জন্য নয়—

108 - কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) বা বৈসাদৃশ্যের (شذوذ) কারণে; আর মতনের (متن) জন্য হুকুম প্রদান করো যদি কোনো মুখস্থকারী (حفظ) ব্যক্তি নিরঙ্কুশভাবে তা বর্ণনা করেন।

109 - গ্রহণযোগ্যতার (قبول) ক্ষেত্রে তাঁরা জাইয়্যিদ (جيد), সাবিত (ثابت), সালিহ (صالح) এবং মুজাওওয়াদ (مجود) শব্দগুলো ব্যবহার করেন।

110 - এগুলো সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن)-এর মধ্যবর্তী স্তর; তাঁরা হাসান (حسن)-এর সদৃশ শব্দগুলোকে এর নিকটবর্তী করেছেন।

111 - 'সাবিত' (ثابت) কি কেবল সহিহ (صحيح)-এর জন্য নির্দিষ্ট? নাকি হাসান (حسن)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে? এ বিষয়ে মতভেদ বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌الضعيف

112 - هُوَ الَّذِي عَنْ صِفَةِ الحُسْنِ خَلا … وَهْوَ عَلَى مَرَاتِبٍ قَدْ جُعِلا

113 - وَابْنُ الصَّلاحِ فَلَهُ تَعْدِيدُ … إِلَى كَثِيرٍ وَهْوَ لا يُفِيدُ

114 - ثُمَّ عَنِ الصِّدِّيقِ الاوْهَى كَرَّهْ … صَدَقَةٌ عَنْ فَرْقَدٍ عَنْ مُرَّهْ

115 - وَالْبَيْتِ عَمْرٌو ذَا عَنِ الجُعْفِيِّ … عَنِ حَارِثِ الأَعْوَرِ عَنْ عَلِيِّ

116 - وَلأَبِي هُرَيْرَةَ: السَّرِيُّ عَنْ … دَاوُدَ عَنْ وَالِدِهِ أَيَّ وَهَنْ

117 - لأَنَسٍ: دَاوُدُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ … أَبَانَ وَاعْدُدْ لأَسَانِيدِ اليَمَنْ

118 - حَفْصًا عَنَيْتُ العَدَنِيْ عَنِ الحَكَمْ … وَغَيْرُ ذَاكَ مِنْ تَرَاجِمٍ تُضَمْ
দুর্বল (الضعيف)

112 - এটি এমন যা হাসান (الحسن) এর গুণাবলি বর্জিত … এবং একে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

113 - ইবন আল-সালাহ একে বহু প্রকারে বিভক্ত করেছেন … তবে এর সংখ্যাধিক্য খুব একটা ফলপ্রসূ নয়।

114 - অতঃপর সিদ্দীক (রা.) থেকে বর্ণিত সবচেয়ে দুর্বল (أوهى) সনদটি হলো … সাদাকাহ, ফারকাদ থেকে, তিনি মুররাহ থেকে।

115 - আর আহলে বাইতের বর্ণনায় আমর আল-জু’ফী … হারিস আল-আ’ওয়ার থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে।

116 - আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে: আস-সাররী, দাউদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে; এটি অত্যন্ত দুর্বল (وهن)!

117 - আনাস (রা.)-এর সূত্রে: দাউদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবান থেকে; এবং ইয়ামেনের সনদসমূহের (أسانيد) অন্তর্ভুক্ত করো—

118 - আমি হাফস আল-আদানিকে বুঝিয়েছি, যিনি আল-হাকাম থেকে বর্ণনা করেন; এছাড়া আরও অন্যান্য দুর্বল বর্ণনাধারা (تراجم) এর সাথে যুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌المُسنَد

119 - الْمُسْنَدُ: الْمَرْفُوعُ ذَا اتِّصَالِ … وَقِيلَ: أَوَّلٌ، وَقِيلَ: التَّالِي
আল-মুসনাদ

119 - মুসনাদ হলো: নিরবচ্ছিন্ন (متصل) সনদযুক্ত রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হাদিস... এবং বলা হয়েছে: এটি কেবল প্রথমটি (অর্থাৎ কেবল মারফু), আবার বলা হয়েছে: এটি কেবল পরবর্তীটি (অর্থাৎ কেবল মুত্তাসিল)।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌المرفوع والموقوف والمقطوع

120 - وَمَا يُضَافُ لِلنَّبِي المَرْفُوعُ لَوْ … مِنْ تَابِعٍ، أَوْصَاحِبٍ وَقْفًا رَأَوْا

121 - سَوَاءٌ الْمَوْصُولُ وَالْمَقْطُوعُ فِي … ذَيْنِ، وَجَعْلُ الرَّفْعِ لِلْوَصْلِ قُفِي

122 - وَمَا يُضَفْ لِتَابِعٍ مَقْطُوُع … وَالْوَقْفُ إِنْ قَيَّدْتَهُ مَسْمُوعُ

123 - وَلْيُعَطَ حُكْمَ الرَّفْعِ فِي الصَّوابِ … نَحْوُ: مِنَ السُّنَّةِ، مِنْ صَحَابِي

124 - كَذَا: أُمِرْنَا، وَكَذَا: كُنَّا نَرَى … فِي عَهْدِهِ، أَوْ عَنْ إِضَافَةٍ عَرَى

125 - ثَالِثُهَا: إِنْ كَانَ لا يَخْفَى، وَفِي … تَصْرِيحِهِ بِعِلْمِهِ الْخُلْفُ نُفِي

126 - وَنَحْوُ: كَانُوا يَقْرَعُونَ بَابَهُ … بِالظُّفْرِ، فِيمَا قَدْ رَأَوْا صَوَابَهُ

127 - وَما أَتَى وَمِثْلُهُ بِالرَّأْيِ لا … يُقَالُ إِذْ عَنْ سَالِفٍ مَا حُمِلا

128 - وَهكَذَا تَفْسِيرُ مَنْ قَدْ صَحِبَا … فِي سَبَبِ النُّزُولِ أَوْ رَأْيًا أَبَى

129 - وَعَمَّمَ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ … وَخَصَّ فِي خِلافِهِ كَمَا حُكِي

130 - وَقَالَ: لا، مِنْ قَائِلٍ مَذْكُورِ … وَقَدَ عَصَى الْهَادِيَ فِي الْمَشْهُورِ

131 - وَهَكَذَا: يَرْفَعُهُ، يَنْمِيهِ، … رِوَايَةً، يَبْلُغْ بِهِ، يَرْوِيهِ

132 - وَكُلُّ ذَا مِنْ تَابِعِيٍّ مُرْسَلُ … لا رَابِعٌ جَزْمًا لَهُمْ، وَالأَوَّلُ

133 - صَحَّحَ فِيهِ النَّوَوِيُّ الْوَقْفَا … وَالْفَرْقُ فِيهِ وَاضِحٌ لا يَخْفَى
মারফু (المرفوع), মাওকুফ (الموقوف) ও মাকতু (المقطوع)

120 - মহানবীর প্রতি যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তা-ই মারফু (المرفوع); আর তা যদি তাবেয়ি (تابعي) বা সাহাবি (صاحب)-র বর্ণনা হয়, তবে মুহাদ্দিসগণ সেটিকে মাওকুফ (وقفا) হিসেবে গণ্য করেছেন।

121 - এই উভয় প্রকারের বর্ণনার ক্ষেত্রে সনদ সংযুক্ত (الموصول) হওয়া বা বিচ্ছিন্ন (المقطوع) হওয়া সমান। তবে রাফ (الرفع) পরিভাষাটি কেবল সনদ সংযুক্ত (الوصل) হওয়ার ক্ষেত্রেই ব্যবহারের রীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

122 - আর যা তাবেয়ি (تابعي)-র প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তা মাকতু (مقطوع); আর মাওকুফ (الوقف) পরিভাষাটি যদি আপনি কোনো শর্তের সাথে যুক্ত করে ব্যবহার করেন তবে তাও প্রচলিত রয়েছে।

123 - সঠিক মতানুযায়ী রাফ (الرفع)-এর বিধান ঐসব বর্ণনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যেখানে কোনো সাহাবি (صحابي) বলেন: "এটি সুন্নাহ (السنة)-র অন্তর্ভুক্ত"।

124 - অনুরূপভাবে: "আমাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে", অথবা "আমরা এমনটি মনে করতাম" - যা তাঁর (নবীর) যুগে প্রচলিত ছিল, অথবা যেখানে সরাসরি সম্বন্ধ উল্লেখ করা হয়নি।

125 - তৃতীয় মতটি হলো: যদি বিষয়টি গোপন থাকার মতো না হয়। তবে তাঁর (নবীর) অবগতিতে থাকা সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ নেই।

126 - যেমন সাহাবিদের এই বক্তব্য: "তাঁরা নখ দিয়ে তাঁর (নবীর) দরজায় করাঘাত করতেন"; এক্ষেত্রে তাঁরা যা সঠিক মনে করতেন তাই বর্ণনা করেছেন।

127 - আর এমন বর্ণনা যা নিছক ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে বলা সম্ভব নয়, এবং যা পূর্ববর্তী কোনো ইসরায়েলি সূত্র থেকে গৃহীত হয়নি।

128 - অনুরূপভাবে কোনো সাহাবি (صحب)-র সেই তাফসির যা শানে নুযূল (سبب النزول) সংক্রান্ত অথবা যা ব্যক্তিগত মতামতের ঊর্ধ্বে।

129 - ইমাম হাকেম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে একে সাধারণ রূপ দিয়েছেন এবং এর বিপরীত ক্ষেত্রে বর্ণনা অনুযায়ী বিশেষিত করেছেন।

130 - তিনি বলেছেন: কোনো নির্দিষ্ট বক্তার উল্লেখ না থাকলেও, প্রসিদ্ধ মতে "সে পথপ্রদর্শক (নবী)-র অবাধ্যতা করেছে" - এই জাতীয় উক্তিগুলো মারফু হিসেবেই গণ্য।

131 - অনুরূপভাবে: "তিনি একে উন্নীত করছেন", "সম্বন্ধযুক্ত করছেন", "বর্ণনা (رواية) হিসেবে", "তিনি এর মাধ্যমে (নবী পর্যন্ত) পৌঁছাচ্ছেন", "তিনি এটি বর্ণনা করছেন" - এই শব্দগুলোও একই বিধানভুক্ত।

132 - তাবেয়ি (تابعي)-র পক্ষ থেকে বর্ণিত এ জাতীয় সকল শব্দই মুরসাল (مرسل) হিসেবে গণ্য; এক্ষেত্রে তাঁদের নিকট নিশ্চিতভাবে চতুর্থ কোনো মত নেই। আর প্রথম মতটি সম্পর্কে—

133 - ইমাম নববী মাওকুফ (الوقفا) হওয়াকে বিশুদ্ধ বলেছেন; আর এক্ষেত্রে পার্থক্যটি অত্যন্ত সুষ্পষ্ট যা গোপন নয়।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌الموصول والمنقطع والمعضل

134 - مَرْفُوعًا اْوْ مَوْقُوفًا إِذْ يَتَّصِلُ … إِسْنَادُهُ: الْمَوْصُولُ وَالمُتَّصِلُ

135 - وَوَاحِدٌ قَبْلَ الصَّحابِيِّ سَقَطْ … مُنْقَطِعٌ، قِيلَ: أَوِ الصَّاحِبِ قَطْ

136 - مُنْقَطِعٌ مِنْ مَوْضِعَيْنِ اثْنَيْنِ لا … تَوَالِيًا وَمُعْضَلٌ حَيْثُ وَلا

137 - وَمِنْهُ حَذْفُ صَاحِبٍ وَالْمُصْطَفَى … وَمَتْنُهُ بِالتَّابِعِيِّ وُقِفَا
সংযুক্ত (الموصول), বিচ্ছিন্ন (المنقطع) এবং মু'দাল (المعضل)

134 - মারফু (مرفوعًا) অথবা মাওকুফ (موقوفًا) বর্ণনার সনদ যখন নিরবচ্ছিন্ন (يتصل) হয়, তখন তাকে মওসুল (الموصول) ও মুত্তাসিল (المتصل) বলা হয়।

135 - সাহাবীর আগে যদি একজন রাবী বাদ পড়েন তবে তা মুনকাতি (منقطع); বলা হয়ে থাকে: কেবলমাত্র সাহাবী বাদ পড়লেও তাকে মুনকাতি (منقطع) বলা হয়।

136 - যদি ভিন্ন ভিন্ন দুটি স্থান থেকে রাবী বাদ পড়েন এবং তা ধারাবাহিকভাবে না হয় তবে সেটি মুনকাতি (منقطع); আর যেখানে ধারাবাহিকভাবে (দুই বা ততোধিক রাবী) বাদ পড়েন তাকে মু'দাল (معضل) বলা হয়।

137 - এর অন্তর্ভুক্ত হলো সাহাবী এবং মুস্তফাকে বাদ দেওয়া এবং হাদিসের মতন (متن) তাবেয়ীর বক্তব্যের ন্যায় হয়ে যাওয়া।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌المرسل

138 - الْمُرْسَلُ الْمَرْفُوعُ بِالتَّابِعِ، أَوْ … ذِي كِبَرٍ، أَوْ سَقْطُ رَاوٍ قَدْ حَكَوْا

139 - أَشْهَرُهَا الأَوَّلُ، ثُمَّ الْحُجَّةُ … بِهِ رَأَى الأَئِمَّةُ الثَّلاثَةُ

140 - وَرَدُّهُ الأَقْوَى، وَقَوْلُ الأَكْثَرُ … كَالشَّافِعِيْ، وَأَهْلِ عِلْمِ الْخَبَرِ

141 - نَعَمْ بِهِ يُحْتَجُّ إِنْ يَعْتَضِدِ … بِمُرْسَلٍ آخَرَ أَوْ بِمُسْنَدِ

142 - أَوْ قَوْلِ صَاحِبٍ أَوْالْجُمْهُورِ أَوْ … قَيْسٍ وَمِنْ شُرُوطِهِ كَمَا رَأَوْا

143 - كَوْنُ الَّذِي أَرْسَلَ مِنْ كِبَارِ … وَإِنْ مَشَى مَعْ حَافِظٍ يُجَارِي

144 - وَلَيْسَ مِنْ شُيُوخِهِ مَنْ ضُعَّفَا … كَنَهْيِّ بَيْعِ اللَّحْمِ بِالأَصْلِ وَفَا

145 - وَمُرْسَلُ الصَّاحِبِ وَصْلٌ فِي الأَصَحْ … كَسَامِعٍ فِي كُفْرِهِ ثُمَّ اتَّضَحْ

146 - إِسْلامُهُ بَعْدَ وَفَاةٍ، وَالَّذِي … رَآهُ لا مُمَيِّزًا لَا تَحْتَ ذِي

147 - وَقَوْلُهُمْ: عَنْ رَجُلٍ مُتَّصِلُ … وَقِيلَ: بَلْ مُنْقَطِعٌ أَوْ مُرْسَلُ

148 - كَذَّاكَ فِي الأَرْجَحِ كُتْبٌ لَمْ يُسَمْ … حَامِلُهَا أَوْ لَيْسَ يُدْرَى مَا اتَّسَمْ

149 - وَرَجُلٌ مِنَ الصِّحَابِ، وَأَبَى … الصَّيْرَفِيْ مُعَنْعَنًا، وَلْيُجْتَبَى

150 - وَقَدِّمِ الرَّفْعَ كَالاْتِّصَالِ … مِنْ ثِقَةٍ لِلْوَقْفِ وَالإِرْسَالِ

151 - وَقِيلَ: عَكْسُهُ، وَقِيلَ: الأَكْثَرُ، … وَقِيلَ: قَدِّمْ أَحْفَظًا. وَالأَشْهَرُ

152 - عَلَيْهِ لا يَقْدَحُ هَذَا مِنْهُ فِي … أَهْلِيَةِ الْوَاصِلِ وَالَّذِي يَفِي

153 - وَإِنْ يَكُنْ مِنْ وَاحِدٍ تَعَارَضَا … فَاحْكُمْ لَهُ بِالْمُرْتَضَى بِمَامَضَى
বিচ্ছিন্ন (مرسل)

138 - বিচ্ছিন্ন (مرسل) হলো সেই মারফু (مرفوع) হাদিস যা একজন অনুসারী (تابعي) বর্ণনা করেছেন, অথবা … কোনো প্রবীণ অনুসারী, অথবা কোনো বর্ণনাকারীর বাদ পড়া; যেমনটি তারা বর্ণনা করেছেন।

139 - এগুলোর মধ্যে প্রথমটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ; এরপর তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হওয়ার ব্যাপারে … তিন ইমামের অভিমত রয়েছে।

140 - তবে তা প্রত্যাখ্যান করাই অধিক শক্তিশালী মত এবং অধিকাংশের বক্তব্য … যেমন শাফিয়ি এবং হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ।

141 - হ্যাঁ, এটি দলিল (حجة) হিসেবে গৃহীত হবে যদি তা অন্য কোনো … বিচ্ছিন্ন (مرسل) অথবা সূত্রযুক্ত (مسند) বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত হয়।

142 - অথবা কোনো সাহাবির বক্তব্য অথবা জমহুর (جمهور) অথবা … কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে; আর তারা এর যে শর্তাবলি দেখেছেন তার মধ্যে রয়েছে:

143 - যিনি বিচ্ছিন্নভাবে (مرسل) বর্ণনা করেছেন তার প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া … যদিও তিনি কোনো প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন হাফিজের (حافظ) সাথে সমান তালে চলেন।

144 - আর তার শিক্ষকদের মধ্যে এমন কেউ থাকবে না যাকে দুর্বল (ضعيف) গণ্য করা হয়েছে … যেমন পশুর বিনিময়ে মাংস বিক্রির নিষেধাজ্ঞার হাদিসটি যথাযথভাবে বর্ণিত হয়েছে।

145 - সাহাবির বর্ণিত বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস সঠিকতর মতে অবিচ্ছিন্ন (متصل) … যেমন কুফরি অবস্থায় শ্রবণকারী, যার ইসলাম গ্রহণ পরবর্তীতে স্পষ্ট হয়েছে।

146 - [নবীজির] ওফাতের পর তার ইসলাম গ্রহণ; আর যে ব্যক্তি … তাকে [নবীজিকে] দেখেছেন কিন্তু বোধশক্তিসম্পন্ন (مميز) ছিলেন না, সে এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

147 - আর তাদের উক্তি: "জনৈক ব্যক্তি হতে" - এটি অবিচ্ছিন্ন (متصل) … তবে বলা হয়েছে: বরং এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) অথবা মুরসাল (مرسل)।

148 - অনুরূপভাবে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মতে সেইসব কিতাব, যার বাহকের নাম … উল্লেখ করা হয়নি অথবা যার বৈশিষ্ট্য জানা নেই।

149 - এবং "সাহাবিদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি"; আর আস-সাইরাফি … মুয়ানআন (معنعن) বর্ণনাকে অস্বীকার করেছেন, যা বর্জনীয়।

150 - একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকে প্রাপ্ত মারফু (مرفوع) এবং অবিচ্ছিন্ন (متصل) বর্ণনাকে … মাউকুফ (موقوف) এবং মুরসাল (مرسل) বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দাও।

151 - এর বিপরীত মতও বলা হয়েছে, আবার অধিকাংশ বর্ণনাকারীর কথাও বলা হয়েছে … আবার কেউ বলেছেন অধিক মুখস্থকারীকে প্রাধান্য দিতে। আর প্রসিদ্ধ হলো:

152 - এর ওপর ভিত্তি করে এটি বর্ণনাকারীর যোগ্যতা … বা অবিচ্ছিন্নভাবে (متصل) বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।

153 - যদি একই বর্ণনাকারী থেকে পরস্পরবিরোধী বর্ণনা আসে … তবে পূর্বে যা গত হয়েছে সেই পছন্দনীয় মতানুসারে ফয়সালা করো।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌المعلَّق

154 - مَا أَوَّلُ الإِسْنَادِ مِنْهُ يُطْلَقُ … - وَلَوْ إِلَى آخِرِهِ - مُعَلَّقُ

155 - وَفِي الصَّحِيحِ ذَا كَثِيرٌ، فَالَّذِي … أُتِيْ بِهِ بِصِيغَةِ الْجَزْمِ خُذِ

156 - صِحَّتَهُ عَنِ الْمُضَافِ عَنْهُ … وَغَيْرَهُ ضَعِّفْ وَلا تُوهِنْهُ

157 - وَمَا عَزَى لِشَيْخِهِ بِقَالا … فَفِي الأَصَحِّ احْكُمْ لَهُ اتِّصَالا

158 - وَمَا لَهَا لَدَى سِوَاهُ ضَابِطُ … فَتَارَةً وَصْلٌ وَأُخْرَى سَاقِطُ
‌মুআল্লাক (المعلَّق)

154 - যার সনদ (إسناد) এর প্রারম্ভিক অংশ থেকে বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া হয় … - চাই তা শেষ পর্যন্ত হোক না কেন - তাকেই মুআল্লাক (معلق) বলা হয়।

155 - আর সহিহ গ্রন্থে এমন বর্ণনা প্রচুর রয়েছে; সুতরাং যা দৃঢ়তার শব্দ (صيغة الجزم) যোগে বর্ণিত হয়েছে, তুমি তা গ্রহণ করো—

156 - যার প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে তার পক্ষ থেকে সেটির বিশুদ্ধতা (صحة) হিসেবে। আর অন্য শব্দে বর্ণিত বর্ণনাকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করো, তবে তাকে তুচ্ছজ্ঞান করো না।

157 - আর যা তার শায়খের প্রতি 'তিনি বলেছেন' (قالا) শব্দে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী তাকে নিরবচ্ছিন্ন (اتصال) হিসেবে গণ্য করো।

158 - আর অন্যদের নিকট এর কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই … তাই কখনও তা সংযুক্ত (وصل) এবং কখনও তা বিচ্ছিন্ন (ساقط) হয়।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌المعَنْعَن

159 - وَمَنْ رَوَى بِـ"عَنْ"وَ"أَنَّ" فَاحْكُمِ … بِوَصْلِهِ إِنِ اللِّقَاءُ يُعْلَمِ

160 - وَلَمْ يَكُنْ مُدَلِّسًا، وَقِيلَ: لا … وَقِيلَ"أَنَّ"اقْطَعْ وَأَمَّا "عَنْ" صِلا

161 - وَمُسْلِمٌ يَشْرِطْ تَعَاصُرًا فَقَطْ … وَبَعْضُهُمْ طُولَ صَحَابَةٍ شَرَطْ

162 - وَبَعْضُهُمْ عِرْفَانَهُ بِالأَخْذِ عَنْ … وَاسْتُعْمِلا إِجَازَةً فِي ذَا الزَّمَنْ

163 - وَكُلُّ مَنْ أَدْرَكَ مَالَهُ رَوَى … مُتَّصِلٌ، وَغَيْرُهُ قَطْعًا حَوَى
মু'আন'আন (المعنعن)

159 - যে ব্যক্তি 'থেকে' (عن) এবং 'নিশ্চয়ই' (أن) শব্দযোগে বর্ণনা করেন, তবে তার বর্ণনাকে সংযুক্ত (بوصْلِه) হিসেবে গণ্য করুন যদি বর্ণনাকারীদের মধ্যে পরস্পর সাক্ষাৎ (اللقاء) হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে।

160 - এবং বর্ণনাকারী যদি মুদাল্লিস (مدلسا) না হন। কেউ কেউ বলেছেন: না (তা সংযুক্ত হবে না); আবার কেউ কেউ বলেছেন: 'নিশ্চয়ই' (أن) শব্দযোগে বর্ণনা করলে তা বিচ্ছিন্ন (اقطع) বলে গণ্য হবে, আর 'থেকে' (عن) শব্দযোগে বর্ণনা করলে তা সংযুক্ত (صلا) হবে।

161 - ইমাম মুসলিম শুধুমাত্র বর্ণনাকারীদের সমসাময়িকতা (تعاصرا) হওয়ার শর্তারোপ করেছেন, আবার তাদের কেউ কেউ বর্ণনাকারীর সাথে শাইখের দীর্ঘ সাহচর্য (صحابة) থাকার শর্ত দিয়েছেন।

162 - আবার তাদের কেউ কেউ শাইখের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের পরিচিতিকে শর্ত করেছেন। আর বর্তমান সময়ে এই শব্দদ্বয় ইজাজাহ (إجازة) বা অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

163 - আর যে ব্যক্তিই এমন কাউকে পেয়েছেন যার থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন, তবে সেই বর্ণনাটি সংযুক্ত (متصل); আর অন্যথায় তা নিশ্চিতভাবে বিচ্ছিন্নতা (قطعا) বহন করে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌التدليس

164 - تَدْلِيسُ الاِسْنَادِ بِأَنْ يَرْوِيَ عَنْ … مُعَاصِرٍ مَا لَمْ يُحَدِّثْهُ بِـ" أَنْ "

165 - يَأْتِي بِلَفْظٍ يُوهِمُ اتِّصَالا … كَـ"عَنْ"وَ" أَنَّ " وكذاك" قالا "

166 - وَقِيلَ: أَنْ يَرْوِيَ مَالَمْ يَسْمَعِ … بِهِ وَلَوْ تَعَاصُرًا لَمْ يَجْمَعِ

167 - وَمِنْهُ أَنْ يُسَمِّيَ الشَّيخَ فَقَطْ … قَطْعٌ بِهِ الأَدَاةُ مُطْلَقًا سَقَطْ

168 - وَمِنْهُ عَطْفٌ، وَكَذَا أَنْ يَذْكُرَا … " حَدَّثَنَا " وَفَصْلُهُ الاِسْمَ طَرَا

169 - وَكُلُّهُ ذَمٌّ، وَقِيلَ: بَلْ جَرَحْ … فَاعِلَهُ، وَلَوْ بِمَرَّةٍ وَضَحْ

170 - وَالْمُرْتَضَىقَبُولُهُمْ إِنْ صَرَّحُوا … بِالْوَصْلِ، فَالأَكْثَرُ هَذَا صَحَّحُوا

171 - وَمَا أَتَانَا فِي الصَّحِيحَيْنِ بِـ"عَنْ" … فَحَمْلُهُ عَلَى ثُبُوتِهِ قَمَنْ

172 - وَشَرُّهُ "التَّجْوِيدُ" وَالتَّسْوِيَةُ … إِسْقَاطُ غَيْرِ شَيْخِهِ وَيُثْبِتُ

173 - كَمِثْلِ "عَنْ" وَذَاكَ قَطْعًا يَجْرَحُ … وَدُونَهُ تَدْلِيسُ شَيْخٍ يُفْصِحُ

174 - بِوَصْفِهِ بِغَيْرِ وَصْفٍ يُعْرَفُ(1) … فَإِنْ يَكُنْ لِكَوْنِهِ يُضَعَّفُ

175 - فَقِيلَ: جَرْحٌ أَوْ لِلاسْتِصْغَارِ … فَأَمْرُهُ أَخَفُّ كَاسْتِكْثَارِ

176 - وَمِنْهُ إِعْطَاءُ شُيُوخٍ فِيهَا … اسْمَ مُسَمًّى آخَرٍ تَشْبِيهَا

الإرسال الخفي والمزيد في متصل الأسانيد

177 - وَيُعْرَفُ الإِرْسَالُ ذُو الْخَفَاءِ … بِعَدَمِ السَّمَاعِ وَاللِّقَاءِ

178 - وَمِنْهُ مَا يُحْكَمُ بِانْقِطَاعِ … مِنْ جِهَةٍ بِزيْدِ شَخْصٍ وَاعِ(2)

179 - وَبِزِيَادَةٍ تَجِي، وَرُبَّمَا … يُقْضَى عَلَى الزَّائِدِ أَنْ قَدْ وَهِمَا

180 - حَيْثُ قَرِينَةٌ وَإِلاَّ احْتَمَلا … سَمَاعُهُ مِنْ ذَيْنِ لَمَّا حَمَلا(3)

181 - وَإِنَّمَا يُعْرَفُ بِالإِخْبَارِ … عَنْ نَفْسِهِ وَالنَّصِّ مِنْ كِبَارِ

--------------------------------------------

(1) في النسخة التي شرحها الشيخ محمد علي بن آدم: (بوصفه بصفة لا يعرف)، قال حفظه الله: والمعنى واحد. اهـ

(2) قال الشيخ أحمد شاكر: هذا البيت زيادة في المتن الذي شرحه " الترمسي "، ولم يوجد في الأصل، وأرى أنه لا داعي له، لفهم معناه مما في الأبيات بعده، ولعله من مسَوَّدة المؤلف ثم حذفه في النسخة الأخيرة. اهـ

(3) قال الشيخ أحمد شاكر: في المتن الذي شرحه الترمسي (من ذين ما قد حملا) والمعنى واحد. اهـ
‌তাদলিস (التدليس)

164 - সনদের তাদলিস (تدليس الإسناد) হলো সমসাময়িক কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যা সে তার থেকে শোনেনি, 'আন্নাহু' (أن) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে।

165 - এমন শব্দ ব্যবহার করা যা নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) ভ্রম সৃষ্টি করে, যেমন: 'আন' (عن), 'আন্না' (أنَّ) এবং একইভাবে 'কলা' (قال) শব্দ।

166 - কেউ কেউ বলেছেন: এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করা যার থেকে সে কিছুই শোনেনি, যদিও তারা সমসাময়িক হন কিন্তু তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ ঘটেনি।

167 - এর অন্তর্ভুক্ত হলো কেবল শায়খের নাম উল্লেখ করা এবং হাদিস গ্রহণের পরিভাষাগুলো (অদাহ) শব্দ থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া।

168 - এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'আতফ' (عطف) করা, এবং একইভাবে 'হাদ্দাসানা' (حدثنا) উল্লেখ করা কিন্তু শায়খের নাম বলার সময় তার থেকে বিচ্ছিন্ন করা।

169 - এর পুরোটাই নিন্দনীয়; কেউ কেউ বলেছেন: বরং এটি বর্ণনাকারীকে দোষী সাব্যস্তকারী (جرح), যদিও এটি স্পষ্টত একবারও করা হয়।

170 - গ্রহণযোগ্য মত হলো তাদের বর্ণনা গ্রহণ করা হবে যদি তারা সংযুক্তির (وصل) বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন; অধিকাংশ বিদ্বান একেই সঠিক (صحيح) বলেছেন।

171 - আর সহীহাইন গ্রন্থে 'আন' (عن) শব্দে যা বর্ণিত হয়েছে, তা নিরবচ্ছিন্নভাবে সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করাই যুক্তিযুক্ত।

172 - এর মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো 'তাদলিসুত তাসওয়িয়া' (تدليس التسوية), যা শায়খ ব্যতীত পরবর্তী স্তরের কাউকে বাদ দেওয়া এবং বাকিদের সাব্যস্ত রাখা।

173 - যেমন 'আন' (عن) শব্দ ব্যবহার; এটি নিশ্চিতভাবে বর্ণনাকারীকে দোষী সাব্যস্ত (جرح) করে। এর চেয়ে লঘু হলো শায়খের তাদলিস (تدليس الشيوخ), যা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়—

174 - শায়খকে এমন কোনো বিশেষণে বিশেষিত করা যা দ্বারা তিনি পরিচিত নন; যদি এটি তাকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে চেনা থেকে আড়াল করার জন্য হয়—

175 - তবে একেও দোষারোপ (جرح) বলা হয়েছে। আর যদি তা শায়খের মর্যাদা কম দেখানোর জন্য বা বর্ণনাকারীর সংখ্যা বেশি দেখানোর জন্য হয়, তবে বিষয়টি লঘু।

176 - এর অন্তর্ভুক্ত হলো সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে শায়খদের এমন কোনো নামে অভিহিত করা যা অন্য কারো নাম।

গোপন বিচ্ছিন্নতা (إرسাল خفي) এবং সংযুক্ত সনদে বর্ণনাকারী বৃদ্ধি (مزيد في متصل الأسانيد)

177 - গোপন বিচ্ছিন্নতা (إرسال خفي) চেনা যায় বর্ণনাকারীদের মধ্যে সরাসরি শ্রবণ ও সাক্ষাতের অনুপস্থিতির মাধ্যমে।

178 - এর মধ্যে এমন কিছু আছে যা কোনো সচেতন ব্যক্তির বর্ণনায় শায়খ বৃদ্ধির কারণে একদিক থেকে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) হিসেবে গণ্য হয়।

179 - কখনও বর্ণনাকারী বৃদ্ধির (مزيد في متصل الأسانيد) মাধ্যমে তা আসে, আবার কখনও অতিরিক্ত বর্ণনাকারীর ব্যাপারে ভ্রান্তির (وهم) হুকুম দেওয়া হয়।

180 - যদি কোনো দলীল (قرينة) থাকে তবেই ভ্রান্তির হুকুম হবে, অন্যথায় তিনি উভয়ের থেকেই হাদিসটি শুনেছেন এমন সম্ভাবনা রাখা হবে।

181 - এটি কেবল বর্ণনাকারীর নিজের স্বীকৃতি অথবা বড় ইমামগণের সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমেই জানা সম্ভব।

--------------------------------------------

(1) শেখ মুহাম্মদ আলী ইবনে আদম যে পাণ্ডুলিপিটি ব্যাখ্যা করেছেন তাতে রয়েছে: (এমন গুণে যা পরিচিত নয়), তিনি বলেছেন: উভয়টির অর্থ এক।

(2) শেখ আহমদ শাকির বলেছেন: এই পঙক্তিটি 'তিরমিযী' কর্তৃক ব্যাখ্যা করা মূলে অতিরিক্ত হিসেবে রয়েছে, যা মূল পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়নি। আমার মতে এর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ পরবর্তী পঙক্তিগুলো থেকেই এর অর্থ বোঝা যায়। সম্ভবত এটি লেখকের খসড়া থেকে এসেছে যা তিনি চূড়ান্ত সংস্করণে বাদ দিয়েছিলেন।

(3) শেখ আহমদ শাকির বলেছেন: তিরমিযী কর্তৃক ব্যাখ্যা করা পাঠে রয়েছে (যা তিনি গ্রহণ করেছেন), এবং অর্থ একই।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌الشاذ والمحفوظ

182 - وَذُو الشُّذُوذِ مَا رَوَى المَقْبُولُ … مُخَالِفًا أَرْجَحَ، وَالمَجْعُولُ

183 - أَرْجَحَ مَحْفُوظٌ، وَقِيلَ: مَا انْفَرَدْ … لَوْ لَمْ يُخَالِفْ، قِيلَ: أَوْضَبْطًا فَقَدْ
ব্যতিক্রমী (الشاذ) এবং সংরক্ষিত (المحفوظ)

১৮২ - শায (الشاذ) হলো তা যা কোনো গ্রহণযোগ্য (المقبول) বর্ণনাকারী … তার চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য (الأرجح) কোনো বর্ণনার বিপরীতে বর্ণনা করেন; আর যাকে গণ্য করা হয়

১৮৩ - অধিকতর অগ্রগণ্য (الأرجح) হিসেবে তা-ই মাহফুজ (المحفوظ)। বলা হয়েছে: যা এককভাবে বর্ণিত (منفرد) … যদিও তা কোনো বিরোধিতা না করে। আবার বলা হয়েছে: অথবা যার মাঝে নির্ভুলতা বা স্মরণশক্তির (ضبط) অভাব রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌المنكر والمعروف

184 - المُنْكَرُ الَّذِي رَوَى غَيْرُ الثِّقَهْ … مُخَالِفًا، فِي نُخْبَةٍ قَدْ حَقَّقَهْ

185 - قَابَلَهُ المَعْرُوفُ، وَالَّذِي رَأَى … تَرَادُفَ المُنْكَرِ وَالشَّاذِ نَأَى
মুনকার (منكر) ও মারুফ (معروف)

১৮৪ - মুনকার (منكر) হলো সেই হাদিস যা কোনো অনির্ভরযোগ্য (غير الثقة) বর্ণনাকারী অন্যদের বিরোধিতাপূর্ণভাবে বর্ণনা করে; 'নুখবাহ' গ্রন্থে এটিই সাব্যস্ত করা হয়েছে।

১৮৫ - এর বিপরীত পরিভাষা হলো মারুফ (معروف); আর যারা মুনকার (منكر) ও শাজ (شاذ) শব্দদ্বয়কে সমার্থক মনে করেন, তাদের সেই মতটি সঠিক নয়।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌المتروك

186 - وَسَمِّ بِالْمَتْرُوكِ فَرْدًا تُصِبِ … رَاوٍ لَهُ مُتَّهَمٌ بِالْكَذِبِ

187 - أَوْ عَرَفُوهُ مِنْهُ فَي غَيْرِ الأَثَرْ … أَوْ فِسْقٌ اْوْغَفْلَةٌ اْوْ وَهْمٌ كَثُرْ(1)

--------------------------------------------

(1) وفي طبعة الشيخ أحمد شاكر: (أو فسقٍ أو غفلةٍ أو وهمٍ)، قال الشيخ محمد علي بن آدم في شرحه: " قوله أو فسق أو غفلة أو وهم لظاهر أنه بالجر عطفًا على الكذب، وليس كذلك لأن مجرد الاتهام بهذه الأمور لا يكون سببًا لترك الحديث؛ بل المراد ظهورها وكونها معلومة، فالأَوْلَى كونها فاعلاً لفعل محذوف؛ أي ظهر فسقٌ أو غفلةٌ " اهـ
‌পরিত্যক্ত (المتروك)

১৮৬ - এমন একক বর্ণনাকে পরিত্যক্ত (المتروك) নামে অভিহিত করো তবেই তুমি সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাবে … যার বর্ণনাকারী মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب)।

187 - অথবা তারা (মুহাদ্দিসগণ) তার এই মিথ্যাচারের বিষয়টি হাদিস ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে অবগত হয়েছেন … অথবা তার মাঝে পাপাচার (فسق), অসতর্কতা (غفلة) কিংবা অতিমাত্রায় ভ্রান্তি (وهم) প্রকাশ পেয়েছে।(১)

--------------------------------------------

(১) শেখ আহমাদ শাকিরের সংস্করণে শব্দগুলো এভাবে এসেছে: (পাপাচার, অসতর্কতা বা ভ্রান্তি)। শেখ মুহাম্মাদ আলী বিন আদম তার ব্যাখ্যায় বলেছেন: "তার উক্তি— 'পাপাচার (فسق) অথবা অসতর্কতা (غفلة) অথবা ভ্রান্তি (وهم)'— বাহ্যিকভাবে মনে হচ্ছে এগুলো মিথ্যাচারের (الكذب) অনুগামী হয়ে মাজরুর (জেরযুক্ত) অবস্থায় আছে। কিন্তু বিষয়টি সেরূপ নয়; কারণ কেবল এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অভিযুক্ত হওয়া হাদিস পরিত্যক্ত (ترك الحديث) হওয়ার কারণ হয় না; বরং উদ্দেশ্য হলো এগুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটা এবং এগুলো সুনিশ্চিতভাবে জানা থাকা। তাই উত্তম হলো এগুলোকে একটি উহ্য ক্রিয়ার কর্তা (ফায়েল) হিসেবে গণ্য করা; অর্থাৎ 'পাপাচার (فسق) অথবা অসতর্কতা (غفلة) প্রকাশ পাওয়া'।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌الأفراد

188 - الْفَرْدُ إِمَّا مُطْلَقٌ مَا انْفَرَدَا … رَاوٍ بِهِ فَإِنْ لِضَبْطٍ بَعُدَا

189 - رُدَّ، وَإِذْ يَقْرُبُ مِنْهُ فَحَسَنْ … أَوْ بَلَغَ الضَّبْطَ فَصَحِّحْ حَيْثُ عَنْ

190 - وَمِنْهُ نِسْبِيٌّ بِقَيْدٍ يُعْتَمَدْ … بِثِقَةٍ أَوْ عَنْ فُلانٍ أَوْ بَلَدْ

191 - فَيَقْرُبُ الأَوَّلُ مِنْ فَرْدٍ وَرَدْ … وَهَكَذَا الثَّالِثُ إِنْ فَرْدًا يُرَدْ
একক বর্ণনা (الأفراد)

১৮৮ - একক বর্ণনা (الفرد) হলো নিরঙ্কুশ (مطلق), যা কেবল একজন বর্ণনাকারী (راو) এককভাবে বর্ণনা করেন; অতঃপর যদি তার সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) কাঙ্ক্ষিত মান থেকে দূরে থাকে...

১৮৯ - তবে তা প্রত্যাখ্যাত (رد) হবে। আর যখন তা (মানদণ্ডের) নিকটবর্তী হয়, তখন তা হাসান (حسن); অথবা যদি পূর্ণ সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) অর্জন করে, তবে তাকে সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করো যেখানে...

১৯০ - আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো আপেক্ষিক (نسبي) একক বর্ণনা, যা কোনো নির্দিষ্ট শর্তের (قيد) ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট করা হয়; যেমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকে, অথবা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা অঞ্চল (بلد) থেকে এককভাবে বর্ণিত হওয়া।

১৯১ - ফলে প্রথম প্রকারটি পূর্বোক্ত একক বর্ণনার (فرد) সদৃশ হয়ে থাকে, এবং একইভাবে তৃতীয় প্রকারটিও যদি একক বর্ণনা (فرد) হিসেবে বর্ণিত হয়।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌الغريب، والعزيز، والمشهور، والمستفيض، والمتواتر

192 - الأَوَّلُ الْمُطْلَقُ فَرْدًا، وَالَّذِي … لَهُ طَرِيقَانِ فَقَطْ لَهُ خُذِ

193 - وَسْمَ الْعَزِيزِ، وَالَّذِي رَوَاهُ … ثَلاثَةٌ مَشْهُورُنَا، رَآهُ

194 - قَوْمٌ يَسَاوِي الْمُسْتَفِيضَ وَالأَصَحْ … هَذَا بِأَكْثَرَ، وَلَكِنْ مَا وَضَحْ

195 - حَدُّ تَوَاتُرٍ، وَكُلٌّ يَنْقَسِمْ … لِمَا بِصِحَّةٍ وَضَعْفٍ يَتَّسِمْ

196 - وَالْغَالِبُ الضَّعْفُ عَلَى الْغَرِيبِ … وَقُسِّمَ الْفَرْدُ إِلَى غَرِيبِ

197 - فِي مَتْنِهِ وَسَنَدٍ، وَالثَّانِ قَدْ … وَلا تَرَى غَرِيبَ مَتْنٍ لا سَنَدْ

198 - وَيُطْلَقُ الْمَشْهُورُ لِلَّذِي اشْتَهَرْ … فِي النَّاسِ مِنْ غَيْرِ شُرُوطٍ تُعْتَبَرْ

199 - وَمَا رَوَاهُ عَدَدٌ جَمٌ يَجِبْ … إِحَالَةُ اجْتِمَاعِهِمْ عَلَى الْكَذِبْ

200 - فَالمُتَوَاتِرُ، وَقَوْمُ حَدَّدُوا … بِعَشْرَةٍ، وَهْوَ لَدَيَّ أَجْوَدُ

201 - وَالْقَوْلُ بِاثْنَيْ عَشَرَ اْوْ عِشْرِينَا … يُحُكَى وَأَرْبَعِينَ أَوْ سَبْعِينَا

202 - وَبَعْضُهُمْ قَدِ ادَّعَى فِيهِ الْعَدَمْ … وَبَعْضُهُمْ عِزَّتَهُ، وَهْوَ وَهَمْ

203 - بَلِ الصَّوابِ أَنَّهُ كَثِيرُ … وَفِيهِ لِي مُؤَلَّفٍ نَضِيرُ

204 - خَمْسٌ وَسَبْعُونَ رَوَوْا"مَنْ كَذَبَا" … وَمِنْهُمُ الْعَشْرَةُ ثُمَّ انْتَسَبَا

205 - لَهَا حَدِيثُ "الرَّفْعِ لِلْيَدَيْنِ" … وَ"الْحَوْضِ"وَ"الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ"

206 - وَلابْنِ حِبَّانَ: الْعَزِيزُ مَا وُجِدْ … بِحَدِّهِ السَّابِقِ، لَكِنْ لَمْ يُجِدْ

207 - وَلِلْعَلائِيْ جَاءَ فِي الْمَأْثُورِ … ذُو وَصْفَيِّ الْعَزِيزِ وَالْمَشْهُورِ(1)

--------------------------------------------

(1) قال المحقق الشيخ أحمد شاكر: " واعلم أن هذين البيتين، من أول قوله: ولابن حبان .. الخ وقعا في الطبعة السابقة قبل قوله: خمس وسبعون … ، والصواب تأخيرهما إلى هذا الموضع، تبعًا لنسخة الشرح، ولأن قوله: خمس وسبعون … الخ أمثلة للمتواتر، فالمتعيّن أن تُذكر عقبه ولا يفصل بينها وبينه بشيء آخر " اهـ
‌‌গরীব (الغريب), আজীজ (العزيز), মাশহুর (المشهور), মুস্তাফিদ (المستفيض), এবং মুতাওয়াতির (المتواتر)

১৯২ - প্রথম প্রকার হলো নিঃশর্ত (المطلق) একক (فردًا); আর যার জন্য... মাত্র দুটি পথ রয়েছে, তাকে তুমি গ্রহণ করো—

১৯৩ - আজীজ (العزيز) উপাধিতে। আর যা তিন জন বর্ণনা করেছেন... তা আমাদের নিকট মাশহুর (مشهور); একদল মনে করেন—

১৯৪ - এটি মুস্তাফিদ (المستفيض) এর সমার্থক। তবে বিশুদ্ধতর মত হলো এটি (মুস্তাফিদ)... এর চেয়ে অধিক বর্ণনাকারী সম্পন্ন। তবে যা স্পষ্ট নয় তা হলো—

১৯৫ - মুতাওয়াতির (تواتر) এর সংজ্ঞা। আর এদের প্রতিটিই বিভক্ত হয়... এমন সব প্রকারে যা বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) এর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

১৯৬ - অধিকাংশ ক্ষেত্রে গরীব (الغريب) হাদিসের ওপর দুর্বলতা (الضعف) প্রবল হয়ে থাকে। আর একক (الفرد) হাদিসকে বিভক্ত করা হয়েছে এমন গরীব (غريب) হিসেবে—

১৯৭ - যা তার মতন (متن) ও সনদ (سند)-এ ঘটে থাকে। আর দ্বিতীয় প্রকারটি সচরাচর পাওয়া যায়... কিন্তু কেবল মতনে গরীব (غريب) অথচ সনদে নয়, এমনটি তুমি দেখতে পাবে না।

১৯৮ - মাশহুর (المشهور) শব্দটি এমন হাদিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে... মানুষের মাঝে, কোনো নির্দিষ্ট শর্ত বিবেচনা করা ছাড়াই।

১৯৯ - আর যা এমন এক বিশাল সংখ্যক (عدد جم) লোক বর্ণনা করেন, যাদের... মিথ্যার (الكذب) ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব—

২০০ - তা হলো মুতাওয়াতির (المتواتر)। একদল এর সংখ্যা নির্ধারিত করেছেন... দশ জন দিয়ে, আর আমার নিকট এটিই অধিকতর উত্তম।

২০১ - বারো কিংবা বিশ জন হওয়ার মতটিও... বর্ণিত আছে; আবার কেউ চল্লিশ কিংবা সত্তর জনের কথা বলেন।

২০২ - কেউ কেউ এতে এর অস্তিত্বহীনতার দাবি করেছেন... আবার কেউ এর দুষ্প্রাপ্যতার কথা বলেছেন, যা মূলত একটি ভুল ধারণা।

২০৩ - বরং সঠিক কথা হলো এটি প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান... এবং এ বিষয়ে আমার একটি চমৎকার সংকলন রয়েছে।

২০৪ - পঁচাত্তর জন সাহাবি ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা (كذب) আরোপ করল’ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন... তাদের মধ্যে দশজন (আশারায়ে মুবাশশারা) রয়েছেন, অতঃপর এটি সম্পৃক্ত হয়েছে—

২০৫ - মুতাওয়াতির এর সাথে, যেমন: ‘হাত তোলা’ সংক্রান্ত হাদিস... ‘হাউয’ এবং ‘চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ’ করার হাদিসসমূহ।

২০৬ - ইবনে হিব্বানের মতে: আজীজ (العزيز) হাদিস তার উল্লিখিত সংজ্ঞায়... পাওয়া যায় না; তবে তিনি সঠিক বলেননি।

২০৭ - আর আল-আলায়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে এমন বর্ণনা... যা আজীজ (العزيز) ও মাশহুর (المشهور) উভয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।(১)

--------------------------------------------

(১) গবেষক শেখ আহমদ শাকের বলেন: "জেনে রাখুন যে, এই দুটি পঙ্ক্তি, যা ‘ইবনে হিব্বানের মতে...’ থেকে শুরু হয়েছে, তা পূর্ববর্তী মুদ্রণে ‘পঁচাত্তর জন বর্ণনা করেছেন...’ পঙ্ক্তির আগে ছিল। সঠিক হলো এগুলোকে এই স্থানে পিছিয়ে আনা, ব্যাখ্যামূলক পাণ্ডুলিপির অনুকরণে। কারণ ‘পঁচাত্তর জন বর্ণনা করেছেন...’ ইত্যাদি অংশটি মুতাওয়াতির (المتواتر) এর উদাহরণ, তাই বাঞ্ছনীয় হলো এগুলোকে তার পরপরই উল্লেখ করা এবং এর মাঝে অন্য কিছু দিয়ে ব্যবধান তৈরি না করা।" — সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌الاعتبار والمتابعات والشواهد

208 - الاِعْتِبَارُ سَبْرُ مَا يَرْوِيهِ … هَلْ شَارَكَ الرَّاوِي سِوَاهُ فِيهِ

209 - فَإِنْ يُشَارِكْهُ الَّذِي بِهِ اعْتُبِرْ … أَوْ شَيْخَهُ أَوْ فَوْقُ: تَابِعٌ أُثِرْ

210 - وَإِنْ يَكُنْ مَتْنٌ بِمَعْنَاهُ وَرَدْ … فَشَاهِدٌ، وَفَاقِدٌ ذَيْنِ انْفَرَدْ

211 - وَرُبَّمَا يُدْعَى الَّذِي بِالْمَعْنَى … مُتَابِعًا، وَعَكْسُهُ قَدْ يُعْنَى
বিশ্লেষণমূলক অনুসন্ধান (الاعتبار), অনুগামী বর্ণনা (المتابعات) এবং সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (الشواهد)

208 - ই'তিবার (الاعتبار) হলো বর্ণনাকারীর (الراوي) বর্ণিত হাদিসসমূহকে যাচাই করা … যে উক্ত বর্ণনায় অন্য কোনো ব্যক্তি তার সাথে অংশীদার হয়েছে কি না।

209 - অতঃপর যার দ্বারা যাচাই (الاعتبار) করা হচ্ছে, সে যদি মূল বর্ণনাকারীর সাথে … তার উস্তাদের স্তরে কিংবা তার উপরের স্তরে অংশীদার হয়, তবে তাকে অনুগামী (تابع) বলা হয়।

210 - আর যদি সমার্থবোধক কোনো মূল পাঠ (متن) বর্ণিত হয় … তবে তা সাক্ষ্য (شاهد); এবং যার মধ্যে এই দুটির অভাব থাকে, সে একক (انفرد) হিসেবে গণ্য হয়।

211 - কখনো কখনো অর্থগত মিল থাকাকেও … অনুগামী (متابع) বলা হয়, আবার এর বিপরীত রূপটিও কখনো উদ্দেশ্য হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌زيادة الثقات

212 - وَفِي زِيَادَاتِ الثِّقَاتِ الْخُلْفُ جَمْ … مِمَّنْ رَوَاهُ نَاقِصًا أَوْ مَنْ أَتَمْ

213 - ثَالِثُهَا: تُقْبَلُ لا مِمَّنْ خَزَلْ … وَقِيلَ: إِنْ فِي كُلِّ مَجْلِسٍ حَمَلْ

214 - بَعْضًا، أَوِ النِّسْيَانَ يَدَّعِيهِ … تُقْبَلْ، وَإِلاَّ يُتَوَقَّفْ فِيهِ

215 - وَقِيلَ: إِنْ أَكْثَرَ حَذْفَهَا تُرَدْ … وَقِيلَ: فِيمَا إِنْ رَوَى كُلاًّ عَدَدْ

216 - إِنْ كَانَ مَنْ يَحْذِفُهَا لا يَغْفُلُ … عَنْ مِثْلِهَا فِي عَادَةٍ لا تُقْبَلُ

217 - وَقِيلَ: لا، إِذْ لا تُفِيدُ حُكْمَا … وَقِيلَ: خُذْ مَا لَمْ تُغَيِّرْ نَظْمَا

218 - وَابْنُ الصَّلاحِ قَالَ وَهْوَالْمُعْتَمَدْ … إِنْ خَالَفَتْ مَا لِلثِّقَاتِ فَهْيَ رَدْ

219 - أَوْ لا، فَخُذْ تِلْكَ بِإِجْمَاعٍ وَضَحْ … أَوْخَالَفَ الإِطْلاقَ فَاقْبَلْ فِي الأَصَحْ
‌নির্ভরযোগ্য রাবীদের অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقات)

212 - নির্ভরযোগ্য রাবীদের অতিরিক্ত বর্ণনার (زيادات الثقات) ক্ষেত্রে প্রচুর মতভেদ রয়েছে... এমন ব্যক্তির বর্ণনায় যে হাদিসটি অসম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন অথবা যিনি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন।

213 - তৃতীয় মত হলো: এটি গ্রহণ করা হবে, তবে এমন ব্যক্তির নিকট থেকে নয় যিনি তা সংক্ষেপ করেছেন... এবং বলা হয়েছে: যদি তিনি প্রতিটি মজলিসে আলাদাভাবে তা গ্রহণ করে থাকেন।

214 - আংশিকভাবে, অথবা যদি তিনি বিস্মৃতির দাবি করেন, তবে তা গ্রহণ করা হবে; অন্যথায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতা (توقف) অবলম্বন করা হবে।

215 - এবং বলা হয়েছে: যদি তিনি অধিকহারে তা বাদ দেন তবে তা প্রত্যাখ্যান (رد) করা হবে... এবং বলা হয়েছে: এটি সেই ক্ষেত্রে যখন বর্ণনাকারীদের একটি দল হাদিসটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করে।

216 - যদি এমন ব্যক্তি তা বাদ দেন যিনি সাধারণত এই জাতীয় বিষয়ে অসতর্ক থাকেন না, তবে তা গ্রহণ করা হবে না।

217 - এবং বলা হয়েছে: না, যেহেতু এটি কোনো বিধান প্রদান করে না... এবং বলা হয়েছে: তা গ্রহণ করো যতক্ষণ না তা শব্দবিন্যাস পরিবর্তন করে।

218 - এবং ইবনুস সালাহ বলেছেন—আর এটিই নির্ভরযোগ্য মত: যদি তা অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবীদের বর্ণনার পরিপন্থী হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান (رد) করা হবে।

219 - আর যদি তা না হয়, তবে সুস্পষ্টভাবে সর্বসম্মতভাবে তা গ্রহণ করো... অথবা যদি তা সাধারণ প্রয়োগের (إطلاق) পরিপন্থী হয়, তবে অধিকতর সঠিক (أصح) মত অনুযায়ী তা গ্রহণ করো।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌المُعَلُّ

220 - وَعِلَّةُ الْحَدِيثِ: أَسْبَابٌ خَفَتْ … تَقْدَحُ فِي صِحَّتِهِ، حِينَ وَفَتْ

221 - مَعْ كَوْنِهِ ظَاهِرُهُ السَّلامَهْ … فَلْيَحْدُدِ الْمُعَلَّ مَنْ قَدْ رَامَهْ

222 - مَا رِيءَ فِيهِ عِلَّةٌ تَقْدَحُ فِي … صِحَّتِهِ بَعْدَ سَلامَةٍ تَفِي

223 - يُدْرِكُهَا الْحَافِظُ بِالتَّفَرِّدِ … وَالْخُلْفِ مَعْ قَرَائِنٍ، فَيَهْتَدِي

224 - لِلْوَهْمِ بِالإِرْسَالِ أَوْ بِالْوَقْفِ أَوْ … تَدَاخُلٍ بَيْنَ حَدِيثَيْنِ حَكَوْا

225 - بِحَيْثُ يَقْوَى مَا يَظُنُّ، فَقَضَى … بِضَعْفِهِ، أَوْ رَابَهُ فَأَعْرَضَا

226 - وَالْوَجْهُ فِي إِدْرَاكِهَا جَمْعُ الطُّرُقْ … وَسَبْرُ أَحْوَالِ الرُّوَاةِ وَالْفِرَقْ

227 - وَغَالِبًا وُقُوعُهَا فِي السَّنَدِ … وَكَحَدِيثِ "الْبَسْمَلَهْ" فِي الْمُسْنَدِ

228 - وَنَوَّعَ الْحَاكِمُ أَجْنَاسَ الْعِلَلْ … لِعَشْرَةٍ، كُلٌّ بِهَا يَأْتِي الْخَلَلْ

229 - وَمِنْهُ مَا لَيْسَ بِقَادِحٍ، كَأَنْ … يُبْدِلَ عَدْلاً بِمُسَاوٍ، حَيْثُ عَنْ

230 - وَرُبَّمَا أُعِلَّ بِالْجَلِيِّ … كَالْقَطْعِ لِلْمُتَّصِلِ الْقَوِيِّ

231 - وَالْفِسْقِ وَالْكِذْبِ وَنَوْعِ جَرْحِ … وَرُبَّمَا قِيلَتْ لِغَيْرِ الْقَدْحِ

232 - كَوَصْلِ ثَبْتٍ، فَعَلَى هَذَا رَأَوْا … صَحَّ مُعَلٌّ، وَهْوَ فِي الشَّاذِ حَكَوْا

233 - وَالنَّسْخُ قَدْ أَدْرَجَهُ فِي الْعِلَلِ … التِّرْمِذِيْ، وَخَصَّهُ بِالْعَمَلِ
‌ত্রুটিপূর্ণ (المعل) হাদিস

220 - হাদিসের ইল্লত (علة) বা সূক্ষ্ম ত্রুটি হলো এমন কিছু লুকায়িত কারণ, যা তার বিশুদ্ধতাকে (صحة) প্রশ্নবিদ্ধ করে, যখন তা পূর্ণরূপে বিদ্যমান থাকে।

221 - যদিও বাহ্যিকভাবে তা ত্রুটিমুক্ত (سلامة) বলে মনে হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি ত্রুটিপূর্ণ (المعل) হাদিসের সংজ্ঞা দিতে চায়, সে যেন এভাবেই দেয়।

222 - যাতে আপাতদৃষ্টিতে ত্রুটিমুক্ত (سلامة) প্রতীয়মান হওয়ার পর এমন কোনো ত্রুটি (علة) লক্ষ্য করা যায় যা তার বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষতিগ্রস্ত করে।

223 - একজন হাফিজ (বিশেষজ্ঞ) এটি অনুধাবন করেন বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা (تفرد), বর্ণনার বৈপরীত্য (خلف) এবং বিভিন্ন আলামতের (قرائن) মাধ্যমে; ফলে তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন।

224 - বর্ণনাকারীর ভ্রমের (وهم) কারণে এটি হতে পারে—যেমন ইরসাল (إرسال) বা বর্ণনাকে বিচ্ছিন্ন করা, অথবা ওয়াকফ (وقف) করা কিংবা দুটি হাদিসের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটানো।

225 - যখন তার প্রবল ধারণা জন্মে, তখন তিনি একে দুর্বল (ضعف) বলে রায় দেন, অথবা সন্দেহের কারণে তা বর্জন করেন।

226 - এটি নির্ণয় করার উপায় হলো বর্ণনার পথগুলো (طرق) একত্রিত করা এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও বিভিন্ন দলের বর্ণনাসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা।

227 - অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ত্রুটি সনদে (سند) ঘটে থাকে; যেমন মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণিত 'বিসমিল্লাহ' সংক্রান্ত হাদিসটি।

228 - ইমাম হাকেম এই সূক্ষ্ম ত্রুটির (علل) প্রকারসমূহকে দশটি ভাগে বিভক্ত করেছেন, যার প্রত্যেকটির মাধ্যমেই বর্ণনায় ত্রুটি (خلل) সৃষ্টি হয়।

229 - এর মধ্যে এমন ত্রুটিও রয়েছে যা ক্ষতিকারক (قادح) নয়; যেমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারীর পরিবর্তে তার সমপর্যায়ের কাউকে উল্লেখ করা।

230 - আবার কখনও কখনও প্রকাশ্য (جلي) ত্রুটির কারণেও ইল্লত বলা হয়; যেমন একটি শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন (متصل) বর্ণনার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা (قطع) প্রকাশ পাওয়া।

231 - পাপাচার (فسق), মিথ্যাচার (كذب) এবং জারহ (جرح) বা সমালোচনার অন্যান্য প্রকারভেদকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে কখনও কখনও এটি ক্ষতিকারক নয় এমন ক্ষেত্রেও বলা হয়ে থাকে।

232 - যেমন কোনো সুদৃঢ় (ثبت) বর্ণনাকারীর বর্ণনার সংযোগ (وصل); এই প্রেক্ষাপটে তারা কিছু ত্রুটিপূর্ণ (معل) হাদিসকে সঠিক (صح) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং শায (شاذ) হাদিসের ক্ষেত্রেও একই মত দিয়েছেন।

233 - ইমাম তিরমিজি রহিতকরণকেও (نسخ) ইল্লত বা ত্রুটির (علل) অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং আমলের (عمل) ক্ষেত্রের সাথে একে সুনির্দিষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌المضطرب

234 - مَا اخْتَلَفَتْ وُجُوهُهُ حَيْثُ وَرَدْ … مِنْ وَاحِدٍ أَوْ فَوْقُ: مَتْنًا أَوْ سَنَدْ

235 - وَلا مُرَجِّحَ: هُوَ الْمُضْطَرِبُ … وَهْوَ لِتَضْعِّيفِ الْحَدِيثِ مُوجِبُ

236 - إِلاَّإِذَا مَااخْتَلَفُوا فِي اسْمٍ أَوَ اْبْ … لِثِقَةٍ فَهْوَ، صَحِيحٌ مُضْطَرِبْ

237 - الزَّرْكَشِيُّ: الْقَلْبُ وَالشُّذُوذُ عَنْ … وَالاِضْطِرَابُ فِي الصَّحِيحِ وَالْحَسَنْ

238 - وَلَيْسَ مِنْهُ حَيْثُ بَعْضُهَا رَجَحْ … بَلْ نُكْرُ ضِدٍّ أَوْ شُذُوذُهُ وَضَحْ
‌অসংগতিপূর্ণ (المضطرب)

234 - যে হাদিসটি বিভিন্ন রূপে বর্ণিত হয়েছে... তা এক বা একাধিক বর্ণনাকারী থেকে হতে পারে: মূলপাঠে (متناً) অথবা সনদে (سنداً)।

235 - আর যেখানে প্রাধান্য দেওয়ার কোনো মাধ্যম নেই, সেটিই হলো অসংগতিপূর্ণ (المضطرب)... এবং এটি হাদিসকে দুর্বল (تضعيف) করার একটি কারণ।

236 - তবে যদি তারা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর নাম বা পিতার নামের বর্ণনায় ভিন্নমত পোষণ করেন, তবে সেটি সহিহ (صحيح) হওয়া সত্ত্বেও অসংগতিপূর্ণ (مضطرب) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

237 - ইমাম যারকাশি বলেন: বর্ণনার ওলটপালট (القلب) ও বিচ্যুতি (الشذوذ) এবং অসংগতি (الاِضْطِرَاب) সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হাদিসের ক্ষেত্রেও দেখা যায়।

238 - আর এটি তখন অসংগতির অন্তর্ভুক্ত হবে না যখন কোনো একটি বর্ণনাকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া যায়... বরং তখন বিপরীত বর্ণনাটির অগ্রহণযোগ্যতা (نكر) অথবা বিচ্যুতি (شذوذ) স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌المقلوب

239 - الْقَلْبُ فِي الْمَتْنِ وَفِي الإِسْنَادِ قَرْ … إِمَّا بِإِبْدَالِ الَّذِي بِهِ اشْتَهَرْ

240 - بِوَاحِدٍ نَظِيرِهِ لِيُغْرِبَا … أَوْ جَعْلِ إِسْنَادِ حَدِيثٍ اجْتَبَى

241 - لآخَرٍ، وَعَكْسُهُ، إِغْرَابًا، اْوْ … مُمْتَحَِنًا، كَأَهْلِ بَغْدَادَ، حَكَوْا

242 - وَهْوَ يُسَمَّى عِنْدَهُمْ بِالسَّرِقَهْ … وَقَدْ يَكُونُ الْقَلْبُ سَهْوًاً أَطْلَقَهْ
‌‌পরিবর্তিত (المقلوب)

২৩৯ - মূল পাঠ (متن) এবং সনদ (إسناد)-এর মধ্যে শব্দের পরিবর্তন (القلب) ঘটে থাকে … হয় এমন কোনো প্রসিদ্ধ শব্দের পরিবর্তনের মাধ্যমে যা দ্বারা এটি পরিচিত...

২৪০ - তার সমজাতীয় অন্য একটির দ্বারা যাতে তা বিরল (غريب) হয় … অথবা কোনো একটি হাদিসের নির্দিষ্ট সনদ (إسناد) স্থাপন করা...

২৪১ - অন্যটির ওপর এবং এর বিপরীত করা, বিরলতা (إغراباً) প্রকাশের উদ্দেশ্যে … অথবা পরীক্ষাস্বরূপ, যেমনটি বাগদাদবাসীরা বর্ণনা করেছেন।

২৪২ - আর তাদের নিকট এটি 'চুরি' (سرقة) নামে অভিহিত … এবং কখনো এই পরিবর্তন (القلب) অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত (سهواً) সাধারণভাবে ঘটে থাকে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌المدرج

243 - وَمُدْرَجُ الْمَتْنِ بِأَنْ يُلْحَقَ فِي … أَوَّلِهِ أَوْ وَسَطٍ أَوْ طَرَفِ

244 - كَلامُ رَاوٍ مَّا بِلا فَصْلٍ، وَذَا … يُعْرَفُ بِالتَّفْصِيلِ فِي أُخْرَى، كَذَا

245 - بِنَصِّ رَاوٍ أَوْ إِمَامٍ، وَوَهَى … عِرْفَانُهُ فِي وَسْطٍ اْوْ أَوَّلِهَا

246 - وَمُدْرَجُ الإِسْنَادِ مَتْنَيْنِ رَوَى … بِسَنَدٍ لِوَاحِدٍ، أَوْ ذَا سِوَى

247 - طَرْفٍ بِإِسْنَادٍ فَيَرْوِي الْكُلَّ بِهْ … أَوْ بَعْضَ مَتْنٍ فِي سِوَاهُ يَشْتَبِهْ

248 - أَوْ قَالَهُ جَمَاعَةٌ مُخْتَلِفَا … فِي سَنَدٍ، فَقَالَ هُمْ مُؤْتَلِفَا

249 - وَكُلُّ ذَا مُحَرَّمٌ وَقَادِحُ … وَعِنْدَيَ التَّفْسِيرُ قَدْ يُسَامَحُ
সংযোজিত (المدرج)

243 - আর মূল পাঠের মধ্যে সংযোজিত (مدرج المتن) হলো—হাদিসের মূল পাঠের (المتن) শুরুতে, মাঝখানে অথবা শেষে...

244 - কোনো বর্ণনাকারীর (راو) কথা কোনো প্রকার বিচ্ছেদ ছাড়াই যুক্ত হওয়া। আর এটি অন্য কোনো বর্ণনায় বিস্তারিত বিবরণের মাধ্যমে চেনা যায়; তদ্রূপ...

245 - বর্ণনাকারী (راو) বা কোনো ইমামের (إمام) সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমেও তা জানা যায়। তবে মূল পাঠের মাঝখানে বা শুরুতে এর উপস্থিতি চিহ্নিত করা বেশ কঠিন।

246 - আর সূত্রের মধ্যে সংযোজিত (مدرج الإسناد) হলো—দুটি ভিন্ন মূল পাঠকে (متنين) একটি মাত্র সনদের (سند) মাধ্যমে বর্ণনা করা; অথবা এটি ছাড়া...

247 - একটি সনদের (إسناد) অংশবিশেষের সাথে সম্পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করা, অথবা কোনো মূল পাঠের (متن) অংশ অন্যটির সাথে এমনভাবে মিলিয়ে ফেলা যাতে সংশয় তৈরি হয়।

248 - অথবা একদল বর্ণনাকারী কোনো সনদে (سند) ভিন্নতা বর্ণনা করা সত্ত্বেও বর্ণনাকারী সেটিকে ঐক্যমত (مؤتلفا) হিসেবে বর্ণনা করা।

249 - এর প্রতিটি প্রকারই নিষিদ্ধ (محرم) এবং গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধকারী (قادح); তবে আমার মতে, শব্দার্থ বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যামূলক সংযোজন (التفسير) করা হলে তা ক্ষমাযোগ্য হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌الموضوع

250 - الْخَبَرُ الْمَوْضُوعُ شَرُّ الْخَبَرِ … وَذِكْرَهُ لِعَالِمٍ بِهِ احْظُرِ

251 - فِي أَيِّ مَعْنًى كَانَ إِلاَّ وَاصِفَا … لِوَضْعِهِ، وَالْوَضْعُ فِيهِ عُرِفَا

252 - إِمَّا بِالاِقْرَارِ، وَمَا يَحْكِيهِ … وَرِكَّةٍ، وَبِدَلِيلٍ فِيهِ

253 - وَأَنْ يُنَاوِى قَاطِعًا وَمَا قُبِلْ … تَأْوِيلُهُ، وَأَنْ يَكُونَ مَا نُقِل

254 - حَيْثُ الدَّوَاعِي ائْتَلَفَتْ بِنَقْلِهِ … وَحَيْث ُلا يُوجَدُ عِنْدَ أَهْلِهِ

255 - وَمَا بِهِ وَعْدٌ عَظِيمٌ اْوْ وَعِيدُ … عَلَى حَقِيرٍ وَصَغِيرَةٍ شَدِيدُ

256 - وَقَالَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ الْكُمَّلِ … أُحْكُمْ بِوَضْعِ خَبَرٍ إِنْ يَنْجَلِى

257 - قَدْ بَايَنَ الْمَعْقُولَ أَوْ مَنْقُولا … خَالَفَهُ أَوْ نَاقَضَ الأُصُولا

258 - وَفَسَّرُوا الأَخِيرَ: حَيْثُ يَفْقِدُ … جَوَامِعٌ مَشْهُورَةٌ وَمُسْنَدُ

259 - وَفِي ثُبُوتِ الْوَضْعِ حَيْثُ يُشْهَدُ … مَعْ قَطْعِ مَنْعِ عَمَلٍ تَرَدُّدُ

260 - وَالْوَاضِعُونَ بَعْضُهُمْ لِيُفْسِدَا … دِينًا وَبَعْضٌ نَصْرَ رَأْيٍ قَصَدَا

261 - كَذَا تَكَسُّبًا، وَبعْضٌ قَدْ رَوَى … لِلأُمَرَاءِ مَا يُوَافِقُ الْهَوَى

262 - وَشَرُّهُمْ صُوفِيَّةٌ قَدْ وَضَعُوا … مُحْتَسِبِينَ الأَجْرَ فِيمَا يَدَّعُوا

263 - فَقُبِلَتْ مِنْهُمْ رُكُونًا لَهُمُ … حَتَّى أَبَانَهَا الأُلَى هُمُ هُمُ

264 - كَالْوَاضِعِينَ فِي فَضَائِلِ السُّوَرْ … فَمَنْ رَواهَا فِي كِتَابِهِ فَذَرْ(1)

265 - وَالْوَضْعُ فِي التَّرْغِيبِ ذُو ابْتِدَاعِ … جَوَّزَهُ مُخَالِفُ الإِجْمَاعِ

266 - وَجَزَمَ الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدِ … بِكُفْرِهِ بِوَضْعِهِ إِنْ يَقْصِدِ

267 - وَغَالِبُ الْمَوْضُوعِ مِمَّا اخْتَلَقَا … وَاضِعُهُ، وَبَعْضُهُمْ قَدْ لَفَّقَا

268 - كَلامَ بَعْضِ الْحُكَمَا، وَمِنْهُ مَا … وُقُوعُهُ مِنْ غَيْرِ قَصْدٍ وَهَمَا

269 - وَفِي كِتَابِ وَلَدِ الْجَوْزِيِّ مَا … لَيْسَ مِنَ الْمَوْضُوعِ حَتَّى وُهِّمَا

270 - مِنَ الصَّحِيحِ وَالضَّعِيفِ وَالْحَسَنْ … ضَمَّنْتُهُ كِتَابِيَ "الْقَوْلَ الْحَسَنْ"

271 - وَمِنْ غَرِيبِ مَا تَرَاهُ فَاعْلَمِ … فِيهِ حَدِيثٌ مِنْ صَحِيحِ مُسْلِمِ

--------------------------------------------

(1) كذا في تحقيق الشيخ أحمد شاكر، وقال الشيخ محمد علي بن آدم في شرحه: (قَذَر) بالقاف والذال المعجمتين المفتوحتين، أي وسخ والجملة خبر من. والمعنى أن من نقل تلك الأخبار المختلفة ففي كتابه وسخ، وهو ذلك الكلام المكذوب على رسول الله صلى الله عليه وسلم.
জাল (الموضوع)

২৫০ - জাল (الموضوع) সংবাদ সবচেয়ে নিকৃষ্ট সংবাদ … এবং কোনো বিজ্ঞ (عالم) ব্যক্তির জন্য এর বর্ণনা প্রদান নিষিদ্ধ (حظر) করো;

২৫১ - এটি যে অর্থেই হোক না কেন, তবে এর জাল (واصفا) হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করার জন্য হলে ভিন্ন কথা; আর জালিয়াতি (الوضع) চেনা যায়—

২৫২ - হয় (বর্ণনাকারীর) স্বীকারোক্তির (بالإقرار) মাধ্যমে, অথবা যা সে বর্ণনা করে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার মাধ্যমে, শব্দের দুর্বলতা (ركة) এবং এতে বিদ্যমান প্রমাণের মাধ্যমে;

২৫৩ - আর তা যদি কোনো অকাট্য বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক হয় এবং যার ব্যাখ্যা (تأويل) গ্রহণ করা সম্ভব না হয়; এবং যা বর্ণিত হয়েছে—

২৫৪ - এমন ক্ষেত্রে যেখানে তা বর্ণনার ব্যাপক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও তা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের (أهله) কাছে পাওয়া যায় না;

২৫৫ - এবং যাতে সামান্য বা ছোট কোনো কাজের ওপর বড় ধরনের পুরস্কার বা কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি থাকে।

২৫৬ - পূর্ণজ্ঞানসম্পন্ন আলেমদের কেউ কেউ বলেছেন: কোনো সংবাদ জাল (وضع) হওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দাও, যদি তা স্পষ্ট হয়—

২৫৭ - যা বিবেকের পরিপন্থী হয় অথবা বর্ণিত (منقولا) বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক হয় বা মৌলিক মূলনীতিগুলোর (الأصول) বিরোধী হয়।

২৫৮ - আর তারা শেষোক্তটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে: যেখানে বিখ্যাত সংকলনগুলো এবং মুসনাদ সমূহে তার অনুপস্থিতি দেখা যায়।

২৫৯ - জালিয়াতি (الوضع) সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে যেখানে এর প্রমাণ উপস্থিত থাকে, সেখানে এর ওপর আমল করা অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি (জাল হওয়ার বিষয়ে) কিছুটা সংশয় (تردد) থাকে।

২৬০ - আর জালকারীরা (الواضعون) কেউ কেউ দ্বীনকে কলুষিত করার জন্য এমনটা করে, আর কেউ কেউ নিজের মতাদর্শের সমর্থনে এটা করার ইচ্ছা করে;

২৬১ - অনুরূপভাবে কেউ তা করে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে, আবার কেউ কেউ আমীরদের প্রবৃত্তির অনুকূল কথা বর্ণনা করে।

২৬২ - আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো সেই সূফি সম্প্রদায় যারা সাওয়াবের আশায় জালিয়াতি (وضعوا) করেছে বলে দাবি করে।

২৬৩ - ফলে তাদের প্রতি অগাধ ভক্তির কারণে মানুষেরা সেগুলো গ্রহণ করেছে, যতক্ষণ না সেই মহান ইমামগণ তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

২৬৪ - যেমনটি তারা বিভিন্ন সূরার ফজিলত সম্পর্কে জাল (الواضعين) করেছে; সুতরাং যে তার কিতাবে তা বর্ণনা করেছে তাকে বর্জন করো।(১)

২৬৫ - আর সৎকাজে উদ্বুদ্ধকরণের (الترغিব) ক্ষেত্রে জালিয়াতি (الوضع) করা একটি নবউদ্ভাবিত মন্দ কাজ (ابتداع), যা ইজমা (الإجماع) বিরোধীগণ বৈধ বলেছে।

২৬৬ - শেখ আবু মুহাম্মদ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে জালিয়াতি (بوضعه) করে তবে সে কুফরিতে লিপ্ত হলো।

২৬৭ - আর অধিকাংশ জাল (الموضوع) হাদিস হলো যা জালকারী (واضعه) নিজেই উদ্ভাবন করেছে; আবার কেউ কেউ বিভিন্ন কথাকে সাজিয়ে উপস্থাপন (لفق) করে।

২৬৮ - যেমন কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তির উক্তি; আর তার মধ্যে এমন কিছুও আছে যা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া ভুলবশত (وهما) ঘটে যায়।

২৬৯ - এবং ইবনুল জাওযীর কিতাবে এমন কিছু রয়েছে যা আসলে জাল (الموضوع) নয়, এমনকি ভুলবশত (وهما) তা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—

২৭০ - যা সহিহ (الصحيح), দুর্বল (الضعيف) এবং হাসান (الحسن) পর্যায়ের; যা আমি আমার "আল-কাওলুল হাসান" নামক কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

২৭১ - আর আপনি যা দেখবেন তার মধ্যে একটি অদ্ভুত বিষয় জেনে রাখুন; এতে সহিহ মুসলিম এর একটি হাদিসও রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) শেখ আহমদ শাকিরের তাহকিক অনুযায়ী এভাবেই (ذر - বর্জন করো) আছে। আর শেখ মুহাম্মদ আলী বিন আদম তার শরহে বলেছেন: এটি (قذر) "ক্বাফ" এবং "যাল" বর্ণের ফাতহা দিয়ে হবে, যার অর্থ হলো ময়লা বা আবর্জনা; এবং পুরো বাক্যটি হলো ‘খবর’। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি সেই বানোয়াট সংবাদগুলো বর্ণনা করল, তার কিতাবে ময়লা প্রবেশ করল, যা মূলত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামে মিথ্যাচার।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌خاتمة

272 - شَرُّ الضَّعِيفِ الْوَضْعُ فَالْمَتْرُوكُ ثُمّ … ذُو النُّكْرِ فَالْمُعَلُّ فَالْمُدْرَجُ ضُمّ

273 - وَبَعْدَهُ الْمَقْلُوبُ فَالْمُضْطَرِبُ … وَآخَرُونَ غَيْرَ هَذَا رَتَّبُوا

274 - وَمَنْ رَوَى مَتْنًا صَحِيحًا يَجْزِمُ … أَوْ وَاهِيًا أَوْ حَالُهُ لا يُعْلُمُ

275 - بِغَيْرِ مَا إِسْنَادِهِ يُمَرِّضُ … وَتَرْكَهُ بَيَانَ ضَعْفٍ قَدْ رَضُوا

276 - فِي الْوَعْظِ أَوْ فَضَائِلِ الأَعْمَالِ … لا الْعَقْدِ وَالْحَرَامِ وَالْحَلا لِ

277 - وَلا إِذَا يَشْتَدُّ ضَعْفٌ ثُمَّ مَنْ … ضَعْفًا رَأَى فِي سَنَدٍ وَرَامَ أَنْ

278 - يَقُولَ فِي الْمَتْنِ: ضَعِيفٌ: قَيَّدَا … بِسَنَدٍ، خَوْفَ مَجِيءِ أَجْوَدَا

279 - وَلا تُضَعِّفْ مُطْلَقًا مَا لَمْ تَجِدْ … تَضْعِيفَهُ مُصَرَّحًا عَنْ مُجْتَهِدْ
উপসংহার (خاتمة)

272 - দুর্বল (ضعيف) হাদিসের মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো জাল (موضوع), অতঃপর পরিত্যক্ত (متروك), এরপর আপত্তিকর (منكر), অতঃপর ত্রুটিযুক্ত (معل) এবং প্রক্ষিপ্ত (مدرج) হাদিসকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

273 - এরপর ওলটপালটকৃত (مقلوب), অতঃপর বিভ্রান্তিকর (مضطرب) হাদিসের স্থান। তবে অন্যান্য ওলামাগণ একে ভিন্নভাবেও বিন্যস্ত করেছেন।

274 - যিনি কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) মূলপাঠ (متن) বর্ণনা করবেন, তিনি তা দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করবেন। কিন্তু যদি তা অত্যন্ত দুর্বল (واهي) হয় অথবা যার অবস্থা অজ্ঞাত থাকে,

275 - তবে সূত্র (إسناد) উল্লেখ করা ব্যতীত বর্ণনার ক্ষেত্রে তা সংশয়সূচক শব্দে (تمريض) ব্যক্ত করবেন; ওলামাগণ এমতাবস্থায় এর দুর্বলতা (ضعف) বর্ণনা না করাকে অনুমোদন দিয়েছেন...

276 - যদি তা উপদেশ বা আমলের ফজিলত (فضائل الأعمال) সংক্রান্ত বিষয়ে হয়; আকিদাহ (عقد), হারাম (حرام) ও হালাল (حلال) সংক্রান্ত বিষয়ে নয়।

277 - এবং যখন হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) অত্যন্ত তীব্র না হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো সূত্রে (سند) দুর্বলতা (ضعف) দেখতে পায় এবং ইচ্ছা করে যে—

278 - হাদিসের মূলপাঠ (متن) সম্পর্কে বলবে: 'দুর্বল' (ضعيف); তবে সে যেন তা ওই সূত্রের (سند) সাথেই সীমাবদ্ধ রাখে, এই আশঙ্কায় যে—হয়তো এর চেয়ে উত্তম কোনো সূত্র পাওয়া যেতে পারে।

279 - আর কোনো হাদিসকে নিরঙ্কুশভাবে (مطلقا) দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করো না, যতক্ষণ না কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) ইমামের পক্ষ থেকে তার দুর্বলতা (تضعيف) সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা পাও।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাজমুত দুরার ফী ইলমিল আসার - তা ফাহাল (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌من تقبل روايته ومن ترد

280 - لِنَاقِلِ الأَخْبَارِ شَرْطَانِ هُمَا: … عَدْلٌ، وَضَبْطٌ: أَنْ يَكُونَ مُسْلِمَا

281 - مُكَلَّفًا لَمْ يَرْتَكِبْ فِسْقًا ولا … خَرْمَ مُرُوءَةٍ وَلا مُغَفَّلا

282 - يَحْفَظُ إِنْ يُمْلِ، كِتَابًا يَضْبُطُ … إِنْ يَرْوِ مِنْهُ، عَالِمًا مَا يُسْقِطُ

283 - إِنْ يَرْوِ بَالْمَعْنَى، وَضَبْطُهُ عُرِفْ … إِنْ غَالِبًا وَافَقَ مَنْ بِهِ وَصِفْ

284 - وَاثْنَانِ إِنْ زَكَّاهُ عَدْلُ وَالأَصَحْ … إِنْ عَدَّلَ الْوَاحِدُ يَكْفِي أَوْ جَرَحْ

285 - أَوْ كَانَ مَشْهُورًا، وزَادَ يُوسُفُ … بِأَنَّ كُلَّ مِنْ بِعِلْمٍ يُعْرَفُ

286 - عَدْلٌ إِلَى ظُهُورِ جَرْحٍ، وَأَبَوْا … وَالْجَرْحَ وَالتَّعْدِيلَ مُطْلَقًا رَأَوْا

287 - قَبُولَهُ مِنْ عَالِمٍ عَلَى الأَصَحّ … مَا لَمْ يُوَثَّقْ مَنْ بِإِجْمَالٍ جُرِحْ

288 - وَيَقْبَلُ التَّعْدِيلُ مِنْ عَبْدٍ وَمِنْ … أُنْثَى وَفِي الأُنْثَى خِلافٌ قَدْ زُكِنْ

289 - وَقَدِّمِ الْجَرْحَ وَلَوْ عَدَّلَهُ … أَكْثَر فِي الأَقْوَى، فَإِنْ فَصَّلَهُ

290 - فَقَالَ: مِنْهُ تَابَ، أَوْ نَفَاهُ … بِوَجْهِهِ قُدِّمَ مَنْ زَكَّاهُ

291 - وَلَيْسَ فِي الأَظْهَرِ تَعْدِيلاً إِذَا … عَنْهُ رَوَىالْعَدْلُ وَلَوْ خُصَّ بِذَا

292 - وَإِنْ يَقُلْ: حَدِّثْ مَنْ لا أَتَّهِمْ … أَوْ ثِقَةٌ أَوْ كُلُّ شَيْخٍ لِي وُسِمْ

293 - بِثِقَةٍ ثُمَّ رَوَى عَنْ مُبْهَمِ … لا يُكْتَفَى عَلَى الصَّحِيحِ فَاعْلَمِ

294 - وَيُكْتَفَى مِنْ عَالِمٍ فِي حَقِّ مَنْ … قَلَّدَهُ، وَقِيلَ: لا، مَا لَمْ يُبَنْ

295 - وَمَااقْتَضَى تَصْحِيحَ مَتْنٍ فِي الأَصَحْ … فَتْوَى بِمَا فِيهِ، كَعَكْسِهِ وَضَحْ

296 - وَلا بَقَاهُ حَيْثُما الدَّوَاعِي … تُبْطِلُهُ، وَالْوَفْقُ لِلإِجْمَاعِ

297 - وَلا افْتِرَاقُ الْعُلَمَاءِ الْكُمَّلِ … مَا بَيْنَ مُحْتَجٍّ وِذِي تَأَوُّلِ

298 - وَيَقْبَلُ الْمَجْنُونُ إِنْ تَقَطَّعَا … وَلَمْ يُؤَثِّرْ فِي إِفَاقَةٍ مَعَا

299 - وَتَرَكُوا مَجْهُولَ عَيْنٍ: مَا رَوَى … عَنْهُ سِوَى شَخْصٍ وَجَرْحَا مَاحَوَى

300 - ثَالِثُهَا: إِنْ كَانَ مَنْ عَنْهُ انْفَرَدْ … لَمْ يَرْوِ إِلاَّ لِلْعُدُولِ: لا يُرَدْ

301 - رَابِعُهَا: يُقْبَلُ إِنْ زَكَّاهُ … حَبْرٌ وَذَا فِي نُخْبَةٍ رَآهُ

302 - خَامِسُهَا: إِنْ كَانَ مِمَّنْ قَدْ شُهِرْ … بِمَا سِوَى الْعِلْمِ كَنَجْدَةٍ وَبِرّ

303 - وَالثَّالِثُ الأَصَحُّ: لَيْسَ يُقْبَلُ … مِنْ بَاطِنًا وَظَاهِرًا يُجَهَّلُ

304 - وَفِي الأَصَحِّ: يُقْبَلُ الْمَسْتُورُ: فِي … ظَاهِرِهِ عَدْلٌ وَبَاطِنٌٍ خَفِي

305 - وَمَنْ عَرَفْنَا عَيْنَهُ وَحَالَهُ … دُونَ اسْمِهِ وَنَسَبٍ مِلْنَا لَهُ

306 - وَمَنْ يَقُلْ: " أَخْبَرَنِي فُلانٌ اْوْ … هَذَا" لِعَدْلَيْنِ قَبُولَهُ رَأَوْا(1)

307 - فَإِنْ يَقُلْ: " أَوْغَيْرُهُ "، أَوْ يُجْهَلِ … بَعْضُ الَّذِي سَمَّاهُمَا: لا تَُقْبَلِ

308 - وَكَافِرٌ بِبِدْعَةٍ لَنْ يُقْبَلا … ثَالِثُهَا: إِنْ كَذِبًا قَدْ حَلَّلا

309 - وَغَيْرُهُ: يُرَدُّ مِنْهُ الرَّافِضِيْ … وَمَنْ دَعَا وَمَنْ سِوَاهُمْ نَرْتَضِيْ

310 - قَبُولُهُمْ لا إِنْ رَوَوْا وِفَاقَا … لِرَأْيِهِمْ، أَبْدَى أَبُو إِسْحَاقَا

311 - وَمَنْ يَتُبْ عَنْ فِسْقِهِ فَلْيُقْبَلِ … أَوْ كَذِبِ الْحَدِيثِ فَابْنُ حَنْبَلِ

312 - وَالصَّيْرَفيُِّ وَالْحُمَيْدِيُّ: أَبَوْا … قَبُولُهُ مُؤَبَّدًا، ثُمَّ نَأَوْا

313 - عَنْ كُلِّ مَا مِنْ قَبْلِ ذَا رَوَاهُ … وَالنَّوَوِيُّ كُلَّ ذَا أَبَاهُ

314 - وَمَا رَآهُ الأَوَّلُونَ أَرْجَحُ … دَلِيلُهُ فِي شَرْحِنَا مُوَضَّحُ

315 - وَمَنْ نَفَى مَا عَنْهُ يُرْوَى فَالأَصَحّ … إِسْقَاطُهُ، لَكِنْ بِفَرْعٍ مَا قَدَحْ

316 - أَوْ قَالَ: لا أَذْكُرُهُ، وَنَحْوُ ذا … كَأَنْ نَسِي: فَصَحَّحُوا أَنْ يُؤْخَذَا

317 - وَآخِذٌ أَجْرَ الْحَدِيثِ يَقْدَحُ … جَمَاعَةٌ، وَآخَرُونَ سَمَحُوا

318 - وَآخَرُونَ جَوَّزُوا لِمَنْ شُغِلْ … عَنْ كَسْبِهِ، فَاخْتِيرَ هَذَا وَقُبِلْ

319 - مَنْ يَتَسَاهَلْ فِي السَّمَاعِ وَالأَدَا … كَنَوْمٍ اوْ كَتَرْكِ أَصْلِهِ ارْدُدَا

320 - وَقَابِلَ التَّلْقِينِ وَالَّذِي كَثُرْ … شُذُوذُهُ أَوْ سَهْوُهُ حَيْثُ أَثَرْ

321 - مِنْ حِفْظِهِ قَالَ جَمَاعَةٌ كَبُرْ … وَمَنْ يُعَرَّفْ وَهْمَهُ ثُمَّ أَصَرّ

322 - يُرَدُّ كُلُّ مَا رَوَى وَقَيِّدَا … بِأَنْ يُبِينَ عَالِمٌ وَعَانَدَا

323 - وَأَعَرَضُوا فِي هَذْهِ الأَزمَانِ … عَنْ اعْتَبارِ هَذَهِ الْمَعَانِي

324 - لِعُسْرِهَا مَعْ كَوْنِ ذَا الْمُرَادِ … صَارَ بَقَا سَلْسَلَةِ الإِسْنَادِ

325 - فَلْيُعْتَبَرْ تَكْلِيفُهُ وَالسَّتَرْ … وَمَا رَوَى أَثْبَتَ ثَبْتٌ بَرُّ

326 - وَلْيَرْوِ مِنْ مُوَافِقٍ لأَصْلِ … شُيُوخِهِ فَذَاكَ ضَبْطُ الأَهْلِ

--------------------------------------------

(1) قال الشيخ محمد علي بن آدم في شرحه: (وباطنٍ) مجرور بفي محذوفة لدلالة ما قبله … . ويحتمل أن يكون (باطنٌ) مبتدأ خبره (خفي)، أي باطن منه خفي، والجملة حال من عدل.
‌যাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য এবং যাদের বর্ণনা বর্জনীয়

২৮০ - সংবাদ বর্ণনাকারীর জন্য দুটি শর্ত রয়েছে, তা হলো: ন্যায়পরায়ণতা (عدل) এবং নির্ভুলতা (ضبط); তাকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে—

২৮১ - শরীয়তের বিধান পালনের উপযুক্ত (مكلف) হতে হবে, পাপাচার (فسق) ও ব্যক্তিত্ব ক্ষুণ্ণকারী (خرم مروءة) কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া যাবে না এবং গাফেল বা অসতর্ক (مغفلا) হওয়া চলবে না।

২৮২ - যদি মৌখিকভাবে বর্ণনা করেন তবে তা মুখস্থ রাখবেন, আর কিতাব থেকে বর্ণনা করলে কিতাবটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করবেন। বর্ণনা করার সময় অর্থের বিকৃতি ঘটে এমন কোনো অংশ বাদ যাচ্ছে কি না সে বিষয়ে তিনি জ্ঞানী হবেন।

২৮৩ - যদি তিনি মর্মার্থের ভিত্তিতে (بالمعنى) বর্ণনা করেন; তবে তার নির্ভুলতা (ضبط) তখন স্বীকৃত হবে যখন তার বর্ণনা অধিকাংশ ক্ষেত্রে উক্ত গুণে গুণান্বিত অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে মিলে যাবে।

২৮৪ - দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি যদি তার প্রশংসা (زكاه) করেন তবে তা গ্রহণযোগ্য। আর বিশুদ্ধতর (الأصح) মত হলো, ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ (عدل) এবং ত্রুটি উল্লেখ বা জরাহ (جرح) করার ক্ষেত্রে একজনের সাক্ষ্যই যথেষ্ট।

২৮৫ - অথবা যদি তিনি প্রসিদ্ধ (مشهور) হন। ইমাম ইউসুফ (ইবনে আবদিল বার) একটি অতিরিক্ত মত প্রদান করেছেন যে, ইলমের চর্চায় পরিচিত প্রত্যেক ব্যক্তিই—

২৮৬ - ন্যায়পরায়ণ (عدل) হিসেবে গণ্য হবেন যতক্ষণ না তার কোনো ত্রুটি (جرح) প্রকাশ পায়। তবে অধিকাংশ আলেম এই মতটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন যে, ত্রুটি বর্ণনা (الجرح) এবং ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ (التعديل) অবশ্যই শর্তহীনভাবে (مطلقا) হতে হবে।

২৮৭ - বিশুদ্ধতর (الأصح) মত অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ আলেমের পক্ষ থেকে এই মূল্যায়ন গ্রহণযোগ্য হবে। তবে যার বিরুদ্ধে অস্পষ্টভাবে জরাহ (جرح) করা হয়েছে, তাকে নির্ভরযোগ্য (وثق) সাব্যস্ত করা যাবে না।

২৮৮ - দাস এবং নারীর পক্ষ থেকে প্রদানকৃত ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ (التعديل) গ্রহণযোগ্য হবে, যদিও নারীর দেওয়া মূল্যায়নের ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে যা জানা গিয়েছে।

২৮৯ - অধিক শক্তিশালী মত অনুযায়ী জরাহ (جرح)-কে প্রাধান্য দাও, যদিও অধিক সংখ্যক ব্যক্তি তাকে ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাব্যস্ত করেন। তবে জরাহকারী যদি বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনা (فصله) করেন—

২৯০ - এবং বলেন যে, বর্ণনাকারী সেই ত্রুটি থেকে তাওবা করেছে অথবা সেই অভিযোগের কারণ খণ্ডন করেন, তবে সেক্ষেত্রে প্রশংসা ও সংশোধনকারীর (زكاه) মতকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

২৯১ - অধিক স্পষ্ট (الأظهر) মত অনুযায়ী, কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি কারও থেকে বর্ণনা করলেই তা সেই ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ (تعديلا) হিসেবে গণ্য হবে না, যদিও তিনি শুধু তার থেকেই বর্ণনা করে থাকেন।

২৯২ - আর যদি তিনি বলেন: "এমন ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করো যাকে আমি অভিযুক্ত করি না", অথবা "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)", অথবা "আমার সকল উস্তাদই—"

২৯৩ - নির্ভরযোগ্য (بثقة)"; এরপর তিনি কোনো নামহীন বা অস্পষ্ট (مبهم) ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করেন, তবে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী তা যথেষ্ট হবে না, জেনে রেখো।

২৯৪ - যে ব্যক্তি কোনো আলেমের তাকলিদ করে, তার ক্ষেত্রে সেই আলেমের মূল্যায়নই যথেষ্ট। তবে কেউ কেউ বলেছেন, না, যতক্ষণ বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত না হয়।

২৯৫ - বিশুদ্ধতর (الأصح) মত অনুযায়ী, কোনো হাদিসের মূল পাঠ বা মতন (متن) অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করা সেই হাদিসকে সহিহ (تصحيح) সাব্যস্ত করাকে আবশ্যক করে না। একইভাবে এর বিপরীত বিষয়টিও স্পষ্ট।

২৯৬ - যেখানে কোনো বর্ণনা বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপট বিদ্যমান সেখানে তার অস্তিত্ব টিকে থাকবে না; আর ইজমা (الإجماع)-এর সাথে একমত হওয়াই সঙ্গত।

২৯৭ - পরিপূর্ণ আলেমদের মধ্যে এটি কোনো বিভেদ নয় যে, কে দলিল হিসেবে পেশ (محتج) করছেন আর কে ব্যাখ্যা (تأول) করছেন।

২৯৮ - সাময়িক অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণ করা হবে যদি তার উন্মাদনা বিচ্ছিন্নভাবে (تقطعا) ঘটে এবং সুস্থ অবস্থায় তা তার বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতায় কোনো প্রভাব না ফেলে।

২৯৯ - মুহাদ্দিসগণ মাজহুলুল আইন (مجهول عين) ব্যক্তির বর্ণনা ত্যাগ করেছেন; যার থেকে মাত্র একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন এবং যার সম্পর্কে কোনো জরাহ (جرح) পাওয়া যায়নি।

৩০০ - তৃতীয় মত হলো: যদি সেই বর্ণনাকারীর থেকে যিনি একাকী বর্ণনা করেছেন তিনি শুধুমাত্র ন্যায়পরায়ণ (العدول) ব্যক্তিদের থেকেই বর্ণনা করার জন্য পরিচিত হন, তবে সেই বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হবে না।

৩০১ - চতুর্থ মত হলো: কোনো বিজ্ঞ আলেম যদি তাকে ন্যায়পরায়ণ (زكاه) সাব্যস্ত করেন তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে; হাফেজ ইবনে হাজার তার নুখবাতুল ফিকার গ্রন্থে এই মত পোষণ করেছেন।

৩০২ - পঞ্চম মত হলো: যদি তিনি ইলম ছাড়াও বীরত্ব বা দানশীলতার মতো অন্য কোনো গুণের কারণে প্রসিদ্ধ হন।

৩০৩ - তৃতীয় এবং বিশুদ্ধতর (الأصح) মত হলো: যার অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক কোনো অবস্থাই জানা নেই (مجهول), তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।

৩০৪ - বিশুদ্ধতর (الأصح) মত অনুযায়ী, মাসতুর (المستور) বা বাহ্যিকভাবে ন্যায়পরায়ণ (عدل) কিন্তু অভ্যন্তরীণ অবস্থা অজ্ঞাত এমন ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণযোগ্য।

৩০৫ - আমরা যার সত্তা ও অবস্থা সম্পর্কে জানি কিন্তু তার নাম ও বংশপরিচয় জানি না, আমরা তার বর্ণনার প্রতি ঝুঁকে থাকি (অর্থাৎ তা গ্রহণ করি)।

৩০৬ - যদি কেউ দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির ব্যাপারে বলে: "অমুক অথবা এই ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন", তবে তা গ্রহণযোগ্য বলে আলেমগণ মনে করেন।

৩০৭ - কিন্তু যদি সে বলে: "অমুক অথবা অন্য কেউ", অথবা যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে কেউ যদি অজ্ঞাত (يجهل) হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে না।

৩০৮ - বিদআতের (ببدعة) কারণে যাকে কাফের সাব্যস্ত করা হয়েছে তার বর্ণনা কখনোই গ্রহণ করা হবে না। তৃতীয় মত অনুযায়ী: যদি সে মিথ্যা বলাকে বৈধ (حلل) মনে করে তবে তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হবে।

৩০৯ - এছাড়া অন্যদের মধ্য থেকে রাফেজি (الرافضي) এবং যারা স্বীয় বিদআতের দিকে আহ্বান জানায় (دعا), তাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হবে। তবে এছাড়া অন্যদের বর্ণনা আমরা পছন্দ করি।

৩১০ - তাদের বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না যদি তারা তাদের মতাদর্শের অনুকূলে বর্ণনা করে; আবু ইসহাক এই মত প্রকাশ করেছেন।

৩১১ - যে ব্যক্তি ফাসেকী (فسق) থেকে তাওবা করে তার বর্ণনা যেন গ্রহণ করা হয়। তবে হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যাচারের ব্যাপারে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ভিন্ন মত দিয়েছেন—

৩১২ - ইমাম সায়রাফি এবং হুমাইদি এমন ব্যক্তির বর্ণনা চিরতরে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। অতঃপর তারা আরও দূরে সরে গিয়েছেন—

৩১৩ - সেই ব্যক্তির তাওবা করার পূর্বের সমস্ত বর্ণনা থেকেও। তবে ইমাম নববী এই সব কঠোরতা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

৩১৪ - প্রথমোক্তদের মতটিই অধিক পছন্দনীয় (أرجح), যার দলিল আমাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

৩১৫ - যে ব্যক্তি তার পক্ষ থেকে বর্ণিত বর্ণনাটি অস্বীকার করে, তবে বিশুদ্ধতর (الأصح) মত হলো তা বাতিল (إسقاط) করা, তবে এর দ্বারা শাখা বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতায় কোনো আঘাত (قدح) আসবে না।

৩১৬ - আর যদি সে বলে: "আমার এটি মনে নেই" অথবা এই জাতীয় কিছু যা দ্বারা বিস্মৃতি বোঝায়, তবে আলেমগণ সেটি গ্রহণ করাকেই সহিহ (صححوا) সাব্যস্ত করেছেন।

৩১৭ - একদল আলেম হাদিস বর্ণনার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করাকে দোষের (يقدح) মনে করেছেন, তবে অন্যরা এতে ছাড় দিয়েছেন।

৩১৮ - অন্য আলেমগণ ঐ ব্যক্তির জন্য এটি জায়েজ (جوزوا) বলেছেন যাকে উপার্জনের কাজ ছেড়ে হাদিসের জন্য ব্যস্ত থাকতে হয়। এই মতটিই পছন্দ করা হয়েছে এবং তা গ্রহণ করা হয়েছে।

৩১৯ - শ্রবণ (السماع) এবং বর্ণনার (الأدا) ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি শিথিলতা প্রদর্শন করে, যেমন—শ্রবণের সময় ঘুমিয়ে পড়া অথবা মূল পাণ্ডুলিপি বা কিতাব সংরক্ষণ না করা; তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করো।

৩২০ - তালকিন (التلقين - অপরের শিখিয়ে দেওয়া শব্দ গ্রহণ করা) গ্রহণকারী এবং যার বর্ণনায় অতিমাত্রায় শায (شذوذه) অথবা ভুলভ্রান্তি (سهوه) পরিলক্ষিত হয়—

৩২১ - নিজ মুখস্থ শক্তি থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে; আলেমদের এক জামাত এমন ব্যক্তির বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর যার ভ্রম (وهمه) প্রকাশ পাওয়ার পরেও সে সেটির উপর অটল থাকে—

৩২২ - তার সমস্ত বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হবে। তবে এর শর্ত হলো কোনো আলেম বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়ার পরেও সে যদি একগুঁয়েমি (عاند) প্রদর্শন করে।

৩২৩ - বর্তমান যুগে আলেমগণ এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর বিচার-বিশ্লেষণ থেকে বিমুখ হয়েছেন—

৩২৪ - কারণ এগুলো পালন করা অত্যন্ত কঠিন, বর্তমানে এর মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সনদের ধারাবাহিকতা (سلسلة الإسناد) টিকিয়ে রাখা।

৩২৫ - সুতরাং এখন বর্ণনাকারীর শরীয়তের বিধান পালনের যোগ্যতা (تكليفه) এবং চারিত্রিক সততা (الستر) বিবেচনা করাই যথেষ্ট। আর যা একজন সুদৃঢ় ও সৎ ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন তা সাব্যস্ত হবে।

৩২৬ - সে যেন তার উস্তাদদের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিল রেখে বর্ণনা করে; এটিই এই শাস্ত্রের যোগ্য ব্যক্তিদের নির্ভুলতা (ضبط)।

--------------------------------------------

(১) শায়খ মুহাম্মদ আলী ইবনে আদম তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: (باطنٍ) শব্দটি পূর্ববর্তী শব্দের কারণে উহ্য একটি ‘ফি’ (في) দ্বারা মাজরুর হয়েছে... এবং এটিও সম্ভব যে (باطنٌ) শব্দটি মুবতাদা এবং এর খবর হলো (خفي), অর্থাৎ তার অভ্যন্তরীণ বিষয় গোপন। আর জুমলা বা বাক্যটি ন্যায়পরায়ণ (عدل) থেকে হাল (حال) হিসেবে এসেছে।