(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: -)
الحق الأبلج في دحض شبهات مفهوم البدعة للعرفج   (عبد العزيز الريس)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الحق الأبلج في دحض شبهات مفهوم البدعة للعرفج

المؤلف: عبدالعزيز بن ريس الريس

تقديم: صالح بن فوزان الفوزان

الناشر: دار الإمام مسلم للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1438 هـ

عدد الصفحات: 194

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 ربيع الأول 1444

আল-আরফাজের বিদআত ধারণার সংশয় নিরসনে সুস্পষ্ট সত্য   (আবদুল আজিজ আর-রাইস)

বিভাগ: মতবাদ ও খণ্ডন


গ্রন্থ: আল-আরফাজের বিদআত ধারণার সংশয় নিরসনে সুস্পষ্ট সত্য

লেখক: আবদুল আজিজ বিন রাইস আর-রাইস

উপস্থাপনায়: সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান

প্রকাশক: দারুল ইমাম মুসলিম প্রকাশনী ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৫)
مقدِّمة شيخنا العلَّامة صالح بن فوزان الفوزان

الحمد لله. وبعد:

فقد اطَّلعت على كتاب الشَّيخ عبد العزيز الرَّيِّس «الحقُّ الأبلج في الرَّدِّ على العَرْفج» في بيان ضابط البدعة شرعًا، فوجدته كتابًا جيِّدًا في موضوعه، مؤيَّدًا بالأدلَّة الشَّرعيَّة.

فجزاه الله خيرًا ونفع بعلمه وبكتابه.

وصلَّى الله وسلَّم على نبينا محمَّد وآله وصحبه.

 

كتبه

صالح بن فوزان الفوزان

عضو هيئة كبار العلماء

في 21/ 10/ 1437 هـ
আমাদের শাইখ আল্লামা সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজানের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। অতঃপর:

আমি শাইখ আব্দুল আজিজ আর-রাইয়িসের ‘আল-হাক্কুল আবলাজ ফির-রাদ্দি আলাল আরফাজ’ নামক গ্রন্থটি পাঠ করেছি, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে বিদআতের সঠিক মানদণ্ড নিরূপণের বিষয়ে রচিত। আমি এটিকে এর বিষয়বস্তুর আলোকে একটি চমৎকার গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি, যা শরয়ি দলীলসমূহ দ্বারা সমর্থিত।

আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর জ্ঞান ও এই গ্রন্থের মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করুন।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

লিখেছেন

সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান

সদস্য, সিনিয়র উলামা পরিষদ

২১/১০/১৪৩৭ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة

سلام عليكم ورحمة وبركاته.

أمَّا بعد:

فإنَّه يُطالعنا حينًا بعد حينٍ؛ أقوامٌ بكتب، ومقالات، وكلمات، يَدْعون فيها إلى ضلالات وجهالات موبقات.

ومن شرها وأضلها ما أُلبس اللباسَ الجميل، بإظهار اتباع الدليل، وحقيقتُه الإضلالُ عن السبيل؛ لأنه بذلك يَرُوج، وبين العامة الدهماء يموج، ولو دَقَّق الناظر لرآه هباءً، وفي التحقيق والعلم خرابًا، لاسيما مع قلة العلم بالوحي وظهور الجهل بميراث النبي صلى الله عليه وسلم عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أشراط الساعة أن يُرفَع العلمُ، ويثبتَ الجهلُ» متفق عليه(1).

وإنه في هذه الأزمان، يتعين على أهل العلم والإيمان أن يدافعوا عن دين الرحمن؛ لئلا تُحرف معالمه الحِسان، فإن من أعظم الواجبات السَّعيَ لبقاء الدين جليًّا، وعن الدخيل نقيًّا.

اللهم وفق حماة الشريعة ودعاة السنة المحمدية للقيام بهذا الواجب.

وإن من الكتب العصرية، المحرفة للعلوم الشرعية، والجامعة بين شدة التحريف، وهزال الحجَّةِ والتخريفِ كتابَ (مفهوم البدعة) للدكتور - المتخصص في غير العلوم الشرعية - عبد الإله بن حسين العرفج - هداه الله لرشده -،

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري رقم (80)، ومسلم رقم (2671).
ভূমিকা

আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

সময়ে সময়ে আমাদের সামনে এমন কিছু লোক কিছু কিতাব, প্রবন্ধ ও বক্তব্য নিয়ে উপস্থিত হয়, যাতে তারা ধ্বংসাত্মক পথভ্রষ্টতা ও মূর্খতার দিকে আহ্বান করে।

আর তার মধ্যে নিকৃষ্টতম ও সর্বাধিক বিভ্রান্তিকর হলো সেই সব বিষয়, যা দলীল অনুসরণের বাহ্যিক সুশোভিত পোশাকে আবৃত করা হয়েছে, অথচ যার প্রকৃত রূপ হলো সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করা। কারণ এর ফলে তা প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং সাধারণ জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। যদি কোনো পর্যবেক্ষক সূক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করেন, তবে তিনি একে অসার হিসেবেই দেখতে পাবেন এবং সত্য উদ্ঘাটন ও ইলমের বিচারে তা ধ্বংসাত্মক বলে প্রমাণিত হবে। বিশেষ করে ওহীর জ্ঞানের স্বল্পতা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তরাধিকার তথা ইলম সম্পর্কে অজ্ঞতার প্রসারের দরুন এটি ঘটে থাকে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন হলো ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং অজ্ঞতা স্থায়ী রূপ লাভ করবে» (মুত্তাফাকুন আলাইহি)(১)।

আর বর্তমান সময়ে ইলম ও ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তাঁরা পরম করুণাময়ের দ্বীনকে রক্ষা করবেন; যাতে এর সুন্দর বৈশিষ্ট্যসমূহ বিকৃত না হয়। কেননা দ্বীনকে সুস্পষ্ট রাখা এবং একে অনধিকার প্রবেশকারী বিষয় হতে পবিত্র রাখার প্রচেষ্টা চালানো অন্যতম মহান কর্তব্য।

হে আল্লাহ! শরীয়তের রক্ষকদের এবং মুহাম্মদী সুন্নাহর প্রচারকদের এই দায়িত্ব পালনের তাওফীক দান করুন।

শরয়ী ইলমকে বিকৃতকারী এবং চরম বিকৃতি, অসার যুক্তি ও প্রলাপের সংমিশ্রণে রচিত আধুনিক গ্রন্থগুলোর অন্যতম হলো ডক্টর -যিনি শরয়ী ইলম ব্যতিত অন্য বিষয়ের বিশেষজ্ঞ- আব্দুল ইলাহ ইবনে হুসাইন আল-আরফাজ -আল্লাহ তাকে সুপথ প্রদর্শন করুন- লিখিত ‘মাফহুমুল বিদআ’ (বিদআতের ধারণা) নামক কিতাবটি।

--------------------------------------------

(১) বুখারী, হাদীস নং ৮০; মুসলিম, হাদীস নং ২৬৭১।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৮)
الذي نازع في أن الأصل في العبادات التوقيفُ مطلقًا، والذي جعل الخلاف في تحقيق المناط راجعًا على التأصيل بالنقض، وبعبارة أخرى: جعل خلاف العلماء في تبديع بعض الأعمال راجعًا للخلل في ضابط البدعة، حتى أتى هو في القرن الخامس عشر، فضبط البدعة بضابط لم يستطعه الأولون، ولا العلماء الماضون من علماء المذاهب الأربعة وغيرهم!!، والذي دعا هذا المسكين - بقصد أو بغير قصد - إلى القول بأنه لا ضابط للبدعة؛ هو محاولة تشريع بعض البدع، كبدعة الاحتفال بمولد رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحو ذلك!!.

ولما ذكر ضابط البدعة - بعد طلب أحد المقدمين للكتاب -، خلّط - زيادةً على تخليطه الأول - في تقسيم مواقف العلماء من البدعة إلى مضيقين وموسعين - فتناقض في ضابط التقسيم، وفي تصنيف العلماء في هذه الأقسام!!

ثم خلط - بعمد أو بجهل - بين الترك التعبدي المقصود «الذي وُجِدَ المقتضي له وانتفى مانعه»؛ مع بقية التروك التعبدية وغير التعبدية، والمقصودة وغير المقصودة، فبهذا عمد إلى المتشابه وترك المحكم، وسلك طريق من قال الله فيهم: {فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ}] آل عمران: 7 [.

ومما شجعني على كتابة الرد على كتاب (مفهوم البدعة) هو جمع ما تيسر من أصول أهل السنة السلفية في التبديع، وكشف شبهات أهل الضلال والتجديع، على هذه الأصول السلفية والعلوم الشرعية.
যিনি ইবাদতের মূলনীতি যে নিরঙ্কুশভাবে ‘তাওকিফি’ (ওহির ওপর নির্ভরশীল), সে বিষয়ে বিতর্ক করেছেন এবং ‘তাহকিকুল মানাত’ (বিধানের প্রায়োগিক ক্ষেত্র নির্ধারণ) সংক্রান্ত মতভেদকে মূলনীতির ভিত্তিকে খণ্ডনকারী হিসেবে গণ্য করেছেন। অন্য কথায়, বিভিন্ন আমলকে বিদআত হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যকার ইখতিলাফকে তিনি বিদআতের সংজ্ঞায় ত্রুটি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। এমনকি তিনি ১৫শ হিজরি শতাব্দীতে এসে বিদআতের এমন এক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, যা ইতিপূর্বে কোনো আলেম বা চার মাযহাবের ইমামগণ করতে সক্ষম হননি! আর এই বেচারাকে—ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে—বিদআতের কোনো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই বলতে যা প্ররোচিত করেছে, তা হলো কিছু বিদআতকে শরয়ি রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা; যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মোৎসব পালন এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ।

আর যখন তিনি বইটির একজন ভূমিকা লেখকের অনুরোধে বিদআতের সংজ্ঞা প্রদান করলেন, তখন তিনি তার পূর্ববর্তী বিভ্রান্তির সাথে আরও নতুন বিভ্রান্তি যোগ করলেন। তিনি বিদআত প্রসঙ্গে আলেমদের অবস্থানকে ‘সংকীর্ণ’ ও ‘প্রশস্ত’—এই দুই ভাগে বিভক্ত করতে গিয়ে স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছেন; বিভাজনের মানদণ্ড নির্ধারণে এবং এই শ্রেণিবিভাগে আলেমদের বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রেও তিনি বৈপরীত্য দেখিয়েছেন।

অতঃপর তিনি—ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা অজ্ঞতাবশত—সেই ‘উদ্দেশ্যমূলক ইবাদতগত বর্জন’ (যার সক্রিয় কারণ বিদ্যমান ছিল এবং পালনে কোনো প্রতিবন্ধক ছিল না)—এর সাথে অন্যান্য সাধারণ বর্জনকে গুলিয়ে ফেলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অস্পষ্ট বিষয়ের অনুসরণ করেছেন এবং সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় বিধান পরিত্যাগ করেছেন। তিনি তাদের পথই অনুসরণ করেছেন যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা অস্পষ্ট তার অনুসরণ করে।” [সূরা আলে ইমরান: ৭]।

‘মাফহুমুল বিদআ’ (বিদআতের ধারণা) নামক কিতাবটির খণ্ডনমূলক এই লেখাটি প্রস্তুত করতে আমাকে যা উৎসাহিত করেছে, তা হলো বিদআত সাব্যস্ত করার বিষয়ে সালাফি আহলে সুন্নাতের মূলনীতিসমূহ সাধ্যমতো একত্রিত করা এবং এই সালাফি মূলনীতি ও শরয়ি জ্ঞানসমূহের বিরুদ্ধে বিভ্রান্ত ও বিকৃতিকারীদের সংশয়গুলো উন্মোচন করা।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد قسمت مناقشة (كتاب مفهوم البدعة)(1) قسمين:

الأول: تأكيد المسلمات السنية في البدعة.

الثاني: كشف شبهات كتاب مفهوم البدعة.

وجعلت القسم الأول مقدمات(2)، وعددها اثنتا عشرة مقدمة:

المقدمة الأولى: ذم الشرع والسلف للبدع.

المقدمة الثانية: لا يوصف شيء مُحْدَث بأنه بدعة شرعًا؛ إلا إذا عدّه عبادة.

المقدمة الثالثة: العبادة لا تخرجُ عن أن تكون واجبةً ومستحبةً: «فعلًا»، أو محرمةً ومكروهةً: «تركًا».

المقدمة الرابعة: لا يصح التعبد بالمباح لذاته.

المقدمة الخامسة: البدع كلها محرمة.

المقدمة السادسة: كل بدعة ضلالة، ولا يوجد في الدين بدعة حسنة.

المقدمة السابعة: الأصلُ في العباداتِ التوقف والمنعُ والحظر إلا بدليلٍ، فلا يصحُّ لأحدٍ أن يتعبَّد اللهَ بشيءٍ إلا بدليلٍ شرعيٍّ معتبرٍ.

المقدمة الثامنة: ما تركه رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته من العبادات مع وجود المقتضي وانتفاء المانع، فهو سنة تركية؛ ففعله بدعةٌ منكرة.

--------------------------------------------

(1) قد اعتمدت على الطبعة الثانية الملحَقِ بها نقدُ كتاب (كل بدعة ضلالة) طبعة دار الفتح للدراسات والنشر، وفي علمي أنها آخر طبعة للكتاب. وأفيد أن ردي على الكتاب وملحقه.

(2) وحقيقة هذه المقدمات أنها من الرد، أفردتها أولًا للتنبيه عليها، والتسهيل في فهمها للمستفيد، ولم أجعلها ضمن كشف الشبهات التفصيلية حذرًا من التشتيت.
এবং 'মাফহুমুল বিদা' (বিদাআতের ধারণা) কিতাবটির পর্যালোচনাকে(১) দুই ভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথম: বিদাআত সংক্রান্ত সুন্নি আকিদার স্বতঃসিদ্ধ বিষয়াবলির সুদৃঢ়করণ।

দ্বিতীয়: 'মাফহুমুল বিদা' কিতাবের সংশয়সমূহের নিরসন।

আমি প্রথম অংশটিকে বারোটি ভূমিকার আলোকে সাজিয়েছি:(২)

প্রথম ভূমিকা: বিদাআতের ব্যাপারে শরিয়ত ও সালাফে সালেহীনের নিন্দা।

দ্বিতীয় ভূমিকা: নতুন উদ্ভাবিত কোনো বিষয়কে ততক্ষণ পর্যন্ত শরয়ি পরিভাষায় 'বিদাআত' বলা যাবে না, যতক্ষণ না সেটিকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়।

তৃতীয় ভূমিকা: ইবাদত মূলত দুটি অবস্থার বাইরে নয়: ওয়াজিব অথবা মুস্তাহাব হওয়া—'পালন' করার ক্ষেত্রে; অথবা হারাম কিংবা মাকরূহ হওয়া—'বর্জন' করার ক্ষেত্রে।

চতুর্থ ভূমিকা: মুবাহ (বৈধ) বিষয়কে স্বয়ং ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক নয়।

পঞ্চম ভূমিকা: সকল বিদাআতই নিষিদ্ধ।

ষষ্ঠ ভূমিকা: প্রত্যেক বিদাআতই গোমরাহি; দ্বীনের মধ্যে 'বিদাআতে হাসানা' বা উত্তম বিদাআত বলে কিছু নেই।

সপ্তম ভূমিকা: ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো স্থগিত থাকা (তাওয়াক্কুফ) এবং নিষিদ্ধ হওয়া, যতক্ষণ না দলিল পাওয়া যায়। সুতরাং নির্ভরযোগ্য শরয়ি দলিল ব্যতীত কারও জন্য আল্লাহর ইবাদত করা বৈধ নয়।

অষ্টম ভূমিকা: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ যে সকল ইবাদত বর্জন করেছেন—অথচ তা করার দাবি বা প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান ছিল এবং পালনে কোনো বাধাও ছিল না—সেগুলো বর্জন করাই সুন্নাহ (সুন্নতে তরকিয়া); এমতাবস্থায় তা পালন করা একটি গর্হিত বিদাআত।

--------------------------------------------

(১) আমি দ্বিতীয় মুদ্রণের ওপর নির্ভর করেছি, যার সাথে 'কুল্লু বিদাআতিন দ্বলালাহ' কিতাবটির সমালোচনা সংযুক্ত রয়েছে। এটি দারুল ফাতহ للدراسات والنشر (গবেষণা ও প্রকাশনা) থেকে প্রকাশিত। আমার জানামতে এটিই কিতাবটির সর্বশেষ সংস্করণ। উল্লেখ্য যে, আমার এই খণ্ডন মূলত মূল কিতাব এবং এর পরিশিষ্ট—উভয়ের ওপর ভিত্তি করে।

(২) মূলত এই ভূমিকাগুলো খণ্ডন বা জবাবেরই অংশ। শিক্ষার্থীর বোঝার সুবিধার্থে এবং বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আমি এগুলোকে শুরুতে পৃথকভাবে উল্লেখ করেছি। বিষয়বস্তু যেন বিক্ষিপ্ত হয়ে না যায়, সেজন্য আমি এগুলোকে বিস্তারিত সংশয় নিরসন পর্বের অন্তর্ভুক্ত করিনি।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১০)
المقدمة التاسعة: البدع تدخل في الوسائل كما تدخل في الغايات.

المقدمة العاشرة: القياسُ لا يصحُّ في العباداتِ غير معقولةِ المعنى (العلة).

المقدمة الحادية عشرة: كل عبادةٍ مشروعةٍ في الجملة؛ فليس لأحدٍ أن يخصصها أو يقيِّدها بمكانٍ أو زمانٍ أو كيفية أو سببٍ أو غير ذلك إلا بدليلٍ.

المقدمة الثانية عشرة: العمل بالعام أو المطلق دون النّظر إلى عمل السّلف وفهمهم في تخصيصه أو تقييده؛ من جملة البدع.

أمّا القسم الثاني فقد جعلته مناقشة لشبهاته، وهي ما بين رد مجمل، ثم مناظرة لفهم قول العرفج وتناقضه، ثم ردٍّ مفصَّلٍ، وركزت فيه على أكبر أخطائه وشبهاته، وعددُ شبهاته التي تم كشفها - بفضل الله - نحْوُ أربعين شبهة.

وقد سميت هذا الكتاب:

 

ومما أظنه كافيًا لبيان ضلال هذا الكتاب معرفة المقدمين له وهم:

محمد عبد الغفار الشريف.

محمد الحسن بن الددو.

علي بن السيد عبدالرحمن آل هاشم الحسني.
নবম ভূমিকা: বিদআত যেমন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ করে, তেমনি উপায়ের ক্ষেত্রেও অনুপ্রবেশ করে।

দশম ভূমিকা: যে সকল ইবাদতের গূঢ় রহস্য বা কারণ (ইল্লত) মানুষের বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়, সেগুলোতে কিয়াস বা অনুমান সিদ্ধ নয়।

একাদশ ভূমিকা: যে ইবাদতটি সামগ্রিকভাবে শরিয়তসম্মত, দলিল ব্যতীত তাকে কোনো বিশেষ স্থান, কাল, পদ্ধতি, কারণ বা অন্য কোনো বিষয়ের সাথে সুনির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করার অধিকার কারো নেই।

দ্বাদশ ভূমিকা: সালাফদের (পূর্বসূরীদের) কর্ম এবং সেই ব্যাপক বা নিঃশর্ত নির্দেশকে বিশেষায়িত বা সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁদের বুঝ বা উপলব্ধির প্রতি লক্ষ্য না রেখে কোনো সাধারণ (আম) বা শর্তহীন (মুতলাক) দলিলের ওপর আমল করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত।

আর দ্বিতীয় অংশটি আমি তাঁর সংশয়সমূহের পর্যালোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি; যা সংক্ষিপ্ত খণ্ডন, অতঃপর আল-আরফাজের বক্তব্য ও তাঁর স্ববিরোধিতা বোঝার জন্য পর্যালোচনা এবং সবশেষে বিস্তারিত খণ্ডনের সমন্বয়ে গঠিত। এতে আমি তাঁর সবচেয়ে বড় ভুল ও সংশয়গুলোর ওপর আলোকপাত করেছি। আল্লাহর অনুগ্রহে তাঁর যে সকল সংশয় উন্মোচিত হয়েছে, তার সংখ্যা প্রায় চল্লিশটি।

এবং আমি এই বইটির নামকরণ করেছি:

 

এই বইটির ভ্রষ্টতা স্পষ্ট করার জন্য এর ভূমিকা লেখকদের পরিচয় জানাই যথেষ্ট বলে আমি মনে করি, তাঁরা হলেন:

মুহাম্মদ আব্দুল গাফফার আল-শরীফ।

মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আদ-দাদাও।

আলী বিন আস-সাইয়্যেদ আব্দুর রহমান আল হাশিম আল-হাসানি।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১১)
عمر بن حامد الجيلاني.

عجيل بن جاسم النشمي.

وإني لأدعو أهل السنة جميعًا شيبًا وشبابًا أن يدرسوا معتقد أهل السنة، وتوحيد الله ويرسخوا فيه؛ ليكونوا حماة يذودون عن دين الله، ويردون شبهات وجهالات كل من يريد تحريف الشريعة وتغييرها.

وإن مما يُحزن له أن يزهد كثير من أهل السنة عن دراسة معتقدهم وتوحيدهم، ومنهم من إذا درسه زهد في الدفاع عنه، وبيان خطأ المخطئين إما كسلًا أو رغبة عنه، أو تلبيسًا بأن أُقنع بقول من قال: بأن الردود لا تنفع وتقسي القلب .. وهكذا.

وهذه من خدع الشيطان وحبائله فإن الحق لا يبقى ظاهرًا جليًّا حتى يكون له أنصارٌ يظهرونه ويحمونه ويستميتون في نشره وحفظه.

وإن لنا أسوةً بالأئمة الماضين، ثم في هذه العصور المتأخرة، بأئمة الدعوة النجدية السلفية، فقد بقيت دعوتهم السلفية ظاهرة منتشرة في أصقاع الأرض، لاستمرار أنصارها في الدفاع عنها وردهم على كل مبطل، وتعاقبوا على ذلك حتى اختطفت جماعاتٌ حزبية متقنعة بالسنة - كالإخوان المسلمين والسرورية والتبليغ وغيرهم - كثيرًا من شبابنا، - بل وكثيرًا من العامة -؛ في هذه العقود، فغيبوا الناس عن هذه الدعوة حتى جهلها أبناؤها بل وعاداها بعضهم.

يا أهل السنة، وحماة الدين، وحراس العقيدة، ارجعوا إلى ما كان عليه سلفكم الصالح ومن سار على منهجهم، كأئمة الدعوة النجدية السلفية، وعلمائكم
উমর ইবনে হামিদ আল-জিলানী।

আজিল ইবনে জাসিম আন-নাশমী।

আমি সকল আহলুস সুন্নাহকে, বৃদ্ধ ও যুবক নির্বিশেষে, আহলুস সুন্নাহর আকিদা ও আল্লাহর তাওহীদ অধ্যয়ন করার এবং তাতে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি; যাতে তারা আল্লাহর দ্বীনের অতন্দ্র প্রহরী হতে পারেন, যারা দ্বীনকে রক্ষা করবেন এবং শরীয়তকে বিকৃত ও পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সকল সংশয় ও মূর্খতার দাঁতভাঙা জবাব দেবেন।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, আহলুস সুন্নাহর অনেকেই তাদের আকিদা ও তাওহীদ অধ্যয়নের ব্যাপারে বিমুখ হয়ে পড়েছেন। আবার তাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা এটি অধ্যয়ন করলেও অলসতা বা অনীহার কারণে অথবা "খণ্ডনমূলক আলোচনা (রাদ) কোনো উপকারে আসে না বরং অন্তরকে কঠোর করে দেয়"—এমন বিভ্রান্তিকর কথায় প্রলুব্ধ হয়ে হকের প্রতিরক্ষা এবং ভুলকারীদের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উদাসীন থাকেন।

এগুলো শয়তানের প্রবঞ্চনা ও জালের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, সত্য ততক্ষণ পর্যন্ত সুষ্পষ্ট ও সমুন্নত থাকে না, যতক্ষণ না তার এমন সাহায্যকারী থাকে যারা একে প্রকাশ করবে, রক্ষা করবে এবং এর প্রচার ও সংরক্ষণে নিজেদের উৎসর্গ করবে।

আমাদের জন্য আদর্শ রয়েছেন পূর্বসূরী ইমামগণ এবং পরবর্তী এই যুগে নজদী সালাফী দাওয়াতের ইমামগণ। তাদের সালাফী দাওয়াত বিশ্বের আনাচে-কানাচে সমুন্নত ও প্রসারিত রয়েছে, কারণ এর অনুসারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে এর প্রতিরক্ষা করেছেন এবং প্রতিটি বাতিলপন্থীর জবাব দিয়েছেন। তারা ধারাবাহিকভাবে এই কাজ করে গেছেন, যতক্ষণ না সুন্নাহর মুখোশধারী বিভিন্ন দল—যেমন ইخوانুল মুসলিমীন, সুরুরীয়া, তাবলীগী জামাত এবং অন্যান্যরা—এই কয়েক দশকে আমাদের অনেক যুবককে, এমনকি সাধারণ মানুষের এক বিরাট অংশকে ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা এই দাওয়াত থেকে মানুষকে এতটাই দূরে সরিয়ে দিয়েছে যে, এর নিজের সন্তানরাই আজ এই দাওয়াত সম্পর্কে অজ্ঞ, এমনকি তাদের কেউ কেউ এর শত্রুতায় লিপ্ত।

হে আহলুস সুন্নাহ, হে দ্বীনের রক্ষক এবং আকিদার অতন্দ্র প্রহরীগণ! আপনারা আপনাদের সালফে সালেহীন এবং যারা তাদের মানহাযের ওপর চলেছেন, যেমন নজদী সালাফী দাওয়াতের ইমামগণ এবং আপনাদের উলামায়ে কেরাম—তাদের সেই আদর্শের দিকে ফিরে আসুন।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১২)
الأجلاء، كالعلامة ابن باز، والعلامة الألباني، والعلامة ابن عثيمين، والعلامة صالح بن فوزان الفوزان، وغيرهم.

فكونوا على التوحيد والسنة غيورين، وعنهما مدافعين، على نهج السلف الماضين، لتلقوا الله راضين مرضيين.

أسأل الله الرحمن الرحيم الذي إياه نعبد وإياه نستعين، أن يسددني ويعينني ويتقبل هذا الكتاب، ويجعله ذخرًا يوم الدين عند لقياه.

والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته

د. عبدالعزيز بن ريس الريس

7/ 7/ 1437 هـ

* * *
বরেণ্য আলেমগণ, যেমন আল্লামা ইবনে বায, আল্লামা আলবানী, আল্লামা ইবনে উসাইমীন, আল্লামা সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান এবং অন্যান্যরা।

সুতরাং আপনারা তাওহীদ ও সুন্নাহর ব্যাপারে আত্মমর্যাদাশীল হোন এবং পূর্ববর্তী সালাফদের মানহাজ অনুযায়ী এ দুটির প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থাকুন; যেন আপনারা আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করতে পারেন যে, আপনারা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট এবং তিনিও আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট।

আমি পরম দয়াময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি—যাঁরই আমরা ইবাদত করি এবং যাঁরই নিকট আমরা সাহায্য চাই—তিনি যেন আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আমাকে সাহায্য করেন এবং এই গ্রন্থটি কবুল করেন; আর কিয়ামত দিবসে তাঁর সাথে সাক্ষাতের ক্ষণে এটিকে আমার জন্য সঞ্চিত পাথেয় হিসেবে গণ্য করেন।

আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

ড. আব্দুল আজিজ বিন রাইস আল-রাইস

৭/ ৭/ ১৪৩৭ হিজরী

* * *
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
القسم الأول

تأكيد المسلمات السنية فيما يتعلق بالبدعة

لما كان كتاب (مفهوم البدعة وأثره في اضطراب الفتاوى المعاصرة) لعبد الإله بن حسين العرفج، مخالفًا لمسَلَّماتٍ سُنِّية معروفة عند أهل العلم، كان لازمًا بيانُ هذه المسلمات والتذكير بها، فإن مجرد معرفتها كاف في سقوط وتهافت كتاب العرفج وأمثاله، وعدم الالتفات إليه عند ذوي الألباب.

وهاك - أخي - هذه المقدِّمات، لتأكيد تلك المُسَلَّمات.

المقدمة الأولى

ذمُّ الشَّرعِ والسلفِ للبدع

قد تكاثرت الأدلة وكلمات سلف هذه الأمة في ذم البدع ووصفها بالضلالة، ومن أصول هذا الباب ما أخرج الشيخان(1) عن عائشة رضي الله عنها، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس فيه، فهو ردٌّ».

وأخرج مسلم(2) عن جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة».

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري رقم (2697)، ومسلم رقم (1718).

(2) رقم (867).
প্রথম পরিচ্ছেদ

বিদআতের বিষয়ে সুন্নি স্বতঃসিদ্ধ মূলনীতিসমূহের দৃঢ়ীকরণ

যেহেতু আব্দুল ইলাহ বিন হুসাইন আল-আরফাজ রচিত ‘বিদআতের ধারণা এবং সমকালীন ফতোয়ার অস্থিরতায় এর প্রভাব’ শীর্ষক গ্রন্থটি আলেমদের নিকট সুপরিচিত সুন্নি স্বতঃসিদ্ধ মূলনীতিসমূহের বিরোধী, তাই এই স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলো বর্ণনা করা এবং তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কেননা কেবল এই বিষয়গুলো জানাই আল-আরফাজের বই এবং এজাতীয় রচনাবলির অসারতা ও অন্তঃসারশূন্যতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গের নিকট তা গুরুত্বহীন বলে গণ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

হে ভ্রাতা, সেই স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোকে সুদৃঢ় করতে এই ভূমিকাগুলো লক্ষ্য করুন।

প্রথম ভূমিকা

বিদআতের নিন্দায় শরিয়ত ও পূর্বসূরিদের (সালাফ) অবস্থান

বিদআতের নিন্দা এবং একে পথভ্রষ্টতা হিসেবে অভিহিত করার ক্ষেত্রে এই উম্মতের পূর্বসূরিদের বক্তব্য ও শরয়ি প্রমাণাদি প্রচুর। এই বিষয়ের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো যা শাইখাইন(১) আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই (দ্বীনের) বিষয়ে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।"

এবং ইমাম মুসলিম(২) জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মাঝে) নবউদ্ভাবিত বিষয়াদি, এবং প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা।"

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (২৬৯৭) এবং মুসলিম, হাদিস নং (১৭১৮)।

(২) হাদিস নং (৮৬৭)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
و أخرج الخمسة إلا النسائي(1) عن العرباض بن سارية أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «وإيَّاكم ومحدثاتِ الأمور، فإنها ضلالة».

وثبت عن عبد الله بن مسعود أنه قال: «اقتصادٌ في سُنَّةٍ خيرٌ من اجتهادٍ في بدعة، وكلُّ بدعةٍ ضلالةٌ»(2).

وثبت عن أبي الدرداء أنه قال: «اقتصادٌ في سُنَّةٍ خيرٌ من اجتهادٍ في بدعة، إنَّك إنْ تتَّبعْ خيرٌ مِنْ أن تبتدع، ولن تخطئ الطَّريقَ ما اتَّبعْتَ الأثر»(3).

وثبت عن أبيِّ بن كعب رضي الله عنه أنه قال: «عليكم بالسَّبيل والسُّنة، فإنه ليس من عبدٍ على سبيل وسنَّةٍ ذكَر الرحمنَ ففاضت عيناه من خشية الله، فتمسَّه النَّارُ، وليس من عبدٍ على سبيل وسنَّةٍ ذكرَ الرَّحمن فاقشعرَّ جلدُه من مخافة الله إلَّا كان مثَلُه كمثل شجرة يبس ورقها، فبينما هي كذلك إذ أصابتها الريح فتَحاتَّ عنها ورقُها، إلا تحاتَّت عنه ذنوبه كما تَحاتَّ عن هذه الشَّجرة ورقُها، وإنَّ اقتصادًا في سبيلٍ وسنَّة خيرٌ من اجتهادٍ في خلافِ سبيلٍ وسنَّة»(4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (4607)، والترمذي (2676)، وابن ماجه (42)، وأحمد رقم (4/ 126)، وقال الترمذي: «حسن صحيح»، وصححه أبو نعيم والبزار والحاكم وابن عبد البر والضياء المقدسي والشيخ الألباني، وحسنه البغوي وابن القيم، انظر جامع العلوم والحكم (2/ 109)، وجامع بيان العلم وفضله (2/ 1164)، وشرح السنة (1/ 205)، وإعلام الموقعين (4/ 148)، واتباع السنن واجتناب البدع (ص 20)، وإرواء الغليل (8/ 107).

(2) أخرجه المروزي في السنة رقم (89).

(3) السنة للمروزي رقم (100)، وأخرجه اللالكائي (115) مختصرًا.

(4) أخرجه الإمام أحمد في الزهد (ص 161) وظاهر إسناده الصحة، وابن المبارك في الزهد (2/ 21)، وشرح أصول اعتقاد أهل السنة (1/ 59)، وابن أبي شيبة (7/ 224).
নাসাঈ ব্যতীত অবশিষ্ট পাঁচজন সুনান গ্রন্থকার(১) ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে বেঁচে থেকো, কারণ প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই পথভ্রষ্টতা।»

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে প্রমাণিত রয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে পরিমিত আমল করা বিদআতের মধ্যে থেকে কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম। আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।»(২)।

আবুদ্দারদা (রা.) থেকে প্রমাণিত রয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে পরিমিত আমল করা বিদআতের মধ্যে থেকে কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম। তোমার জন্য অনুসরণ করা বিদআত উদ্ভাবন করার চেয়ে শ্রেয়। আর যতক্ষণ তুমি পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, ততক্ষণ তুমি সঠিক পথ হারাবে না।»(৩)।

উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে প্রমাণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: «তোমরা সঠিক পথ ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। কেননা এমন কোনো বান্দা নেই যে সঠিক পথ ও সুন্নাহর ওপর অবিচল থেকে দয়াময় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আল্লাহর ভয়ে তার চোখ থেকে অশ্রু ঝরে, আর তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করে। আর এমন কোনো বান্দা নেই যে সঠিক পথ ও সুন্নাহর ওপর থেকে দয়াময় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আল্লাহর ভয়ে তার শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায়, তবে তার দৃষ্টান্ত সেই শুষ্ক গাছের মতো যার পাতাগুলো ঝরঝরে হয়ে আছে; এমতাবস্থায় যদি প্রবল বাতাস তাকে আঘাত করে তবে তার পাতাগুলো যেভাবে ঝরে যায়, তার গুনাহগুলোও ঠিক সেভাবেই ঝরে যায়। নিশ্চয়ই সঠিক পথ ও সুন্নাহর ওপর থেকে পরিমিত আমল করা সঠিক পথ ও সুন্নাহর পরিপন্থী কাজে কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম।»(৪)।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ (৪৬০৭), তিরমিযী (২৬৭৬), ইবনে মাজাহ (৪২) ও আহমদ (৪/১২৬) বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: "হাসান সহীহ"। আবু নুয়াইম, বাযযার, হাকেম, ইবনে আবদুল বারর, দিয়া আল-মাকদিসী ও শেখ আলবানী একে সহীহ বলেছেন। বাগভী ও ইবনুল কায়্যিম একে হাসান বলেছেন। দেখুন: জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম (২/১০৯), জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি (২/১১৬৪), শারহুস সুন্নাহ (১/২০৫), ইলামুল মুওয়াক্কিইন (৪/১৪৮), ইত্তিবাউস সুনানি ওয়া ইজতিনাবুল বিদা (পৃ. ২০), ইরওয়াউল গালীল (৮/১০৭)।

(২) মারওয়াযী এটি 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, নম্বর (৮৯)।

(৩) মারওয়াযীর 'আস-সুন্নাহ', নম্বর (১০০), আর লালাকায়ি এটি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন (১১৫)।

(৪) ইমাম আহমদ এটি 'আয-যুহদ' (পৃ. ১৬১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদের বাহ্যিক দিকটি সহীহ। এছাড়াও ইবনুল মুবারক 'আয-যুহদ' (২/২১), 'শারহু উসুলিল ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ' (১/৫৯) এবং ইবনে আবি শায়বা (৭/২২৪) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وعن ابن عمر أنه قال: «كلُّ بدعة ضلالة وإن رآها النَّاس حسنةً»(1).

وقال سعيد بن جبير: «لأنْ يصحبَ ابني فاسقًا شاطرًا سُنِّيًا، أحبُّ إليَّ من أن يصحبَ عابدًا مبتدعًا»(2).

وقال أرطاةُ بن المنذر: «لأن يكون ابني فاسقًا من الفسَّاق أحبُّ إليَّ من أن يكون صاحبَ هوى»(3).

قال الفضيل بن عياض: «لأن آكل عند اليهوديِّ والنصرانيِّ أحبُّ إليَّ من أن آكلَ عند صاحبِ بدعة، فإني إذا أكلتُ عندهما لا يُقتَدى بي، وإذا أكلتُ عند صاحبِ بدعةٍ اقتَدَى بيَ النَّاسُ، أُحِبُّ أن يكون بيني وبين صاحب بدعة حصْنٌ مِنْ حديدٍ»(4).

قال الإمام الشَّافعي: «لأن يلقى اللهَ العبدُ بكلِّ ذنبٍ ما خلا الشِّرك، خيرٌ من أن يلقاه بشيءٍ من الهوى»(5).

قال الإمام أحمد: «قبورُ أهل السُّنة من أهل الكبائر روضةٌ، وقبورُ أهل البدعة من الزُّهَّاد حفرةٌ، فسَّاق أهلِ السنَّة أولياءُ الله، وزهَّادُ أهلِ البدعة أعداءُ الله»(6).

--------------------------------------------

(1) المدخل إلى السنن الكبرى للبيهقي (ص: 180).

(2) الشرح والإبانة رقم (89).

(3) المرجع السابق رقم (87).

(4) حلية الأولياء (8/ 103).

(5) أخرجه البيهقي في الاعتقاد (ص 239).

(6) طبقات الحنابلة (1/ 184)
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা, যদিও মানুষ তাকে উত্তম মনে করুক।"(১).

সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) বলেন: "আমার পুত্র কোনো পাপাচারী ও ধূর্ত সুন্নাহ অনুসারীর সঙ্গ লাভ করুক—এটি আমার নিকট কোনো ইবাদতকারী বিদআতির সঙ্গ লাভ করার চেয়ে অধিক প্রিয়।"(২).

আরতাহ ইবনুল মুনযির (রহ.) বলেন: "আমার পুত্র পাপাচারীদের অন্তর্ভুক্ত জনৈক পাপাচারী হওয়া আমার নিকট কোনো প্রবৃত্তি পূজারী হওয়ার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।"(৩).

ফুযাইল ইবনে ইয়াদ (রহ.) বলেন: "ইয়াহুদি বা খ্রিষ্টানের বাড়িতে আহার করা আমার নিকট কোনো বিদআতির বাড়িতে আহার করার চেয়ে অধিক প্রিয়। কারণ আমি যখন তাদের নিকট আহার করি, তখন মানুষ আমার অনুসরণ করে না; কিন্তু যখন কোনো বিদআতির নিকট আহার করি, তখন মানুষ আমার অনুকরণ শুরু করে। আমি আকাঙ্ক্ষা করি যে, আমার ও কোনো বিদআতির মাঝে যেন লোহার একটি সুদৃঢ় প্রাচীর থাকত।"(৪).

ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন: "আল্লাহর কোনো বান্দাহ শিরক ব্যতীত অন্য সকল গুনাহ নিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করা অধিক উত্তম প্রবৃত্তি ও বিদআতের কোনো বিষয় নিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার চেয়ে।"(৫).

ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন: "আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত কবিরা গুনাহগারদের কবরসমূহ হলো জান্নাতের বাগান, আর বিদআতি দুনিয়াত্যাগীদের কবরসমূহ হলো জাহান্নামের গর্ত। আহলে সুন্নাহর পাপাচারীরাও আল্লাহর ওলী (বন্ধু), আর বিদআতি দুনিয়াত্যাগীরা আল্লাহর শত্রু।"(৬).

--------------------------------------------

(১) আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা লিল বাইহাকী (পৃ. ১৮০)।

(২) আশ-শারহু ওয়াল ইবানাহ, নম্বর (৮৯)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, নম্বর (৮৭)।

(৪) হিলইয়াতুল আউলিয়া (৮/ ১০৩)।

(৫) বাইহাকী এটি আল-ইতিকাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (পৃ. ২৩৯)।

(৬) তাবাকাতুল হানাবিলাহ (১/ ১৮৪)
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال البَرْبهاريُّ: «وإذا رأيتَ الرجل من أهل السنَّة رديء الطَّريقِ والمذهب، فاسقًا فاجرًا صاحبَ معاصٍ، ضالًّا وهو على السنة؛ فاصحَبْه، واجلس معه، فإنَّه ليس يضرُّك معصيتُه، وإذا رأيتَ الرجل مجتهدًا في العبادة متقشفًا محترقًا بالعبادة صاحبَ هوى، فلا تجالسْه، ولا تقعد معه، ولا تسمع كلامه، ولا تمشِ معه في طريق، فإنِّي لا آمنُ أن تستحليَ طريقته؛ فتهلكَ معه.

ورأى يونس بن عبيد ابنه وقد خرج من عند صاحب هوى فقال: «يا بنيَّ من أين جئتَ؟ قال: من عند فلان، قال: يا بنيّ! لأن أراك خرجت من بيت خنثى، أحبُّ إلي من أن أراك تخرج من بيت فلان وفلان، ولأن تلقى الله يا بنيّ زانيًا فاسقًا سارقًا خائنًا، أحبُّ إلي من أن تلقاه بقولِ فلان وفلان».

ألا ترى أنَّ يونسَ بن عبيد قد علم أن الخنثى(1) لا يضل ابنه عن دينه، وأنَّ صاحب البدعة يضلُّه حتى يكفر؟!»(2).

قال ابن القيم: «بل ما أكثر من يتعبد الله بِما حرَّمه الله عليه، ويعتقد أنه طاعةٌ وقربةٌ، وحاله في ذلك شرٌّ من حال من يعتقد ذلك معصيةً وإثمًا، كأصحاب السماع الشعري الذي يتقربون به إلى الله تعالى، ويظنون أنَّهم من أولياء الرَّحمن، وهم في الحقيقة من أولياء الشيطان»(3).

--------------------------------------------

(1) في لسان العرب (2/ 145): «الخنثى: الذي له ما للرجال والنساء جميعا».

(2) شرح السنة رقم (139).

وهذه الكلمات من السلف ليست تهوينًا للمعاصي الشهوانية، وإنما لبيان عظيمِ جُرْم البدع، وأنها أشد إثمًا من المعاصي الشهوانية التي يستنكرها عامة الناس أكثرَ من البدع.

(3) إغاثة اللهفان (2/ 181).
আল-বারবাহারী বলেন: «তুমি যখন আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত কোনো ব্যক্তিকে দেখবে যার পথচলা ও আচরণ ত্রুটিপূর্ণ, পাপাচারী, পাপিষ্ঠ ও পথভ্রষ্ট কিন্তু সে সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত; তবে তার সঙ্গী হও এবং তার সাথে বসো, কারণ তার পাপাচার তোমার কোনো ক্ষতি করবে না। আর যদি তুমি কোনো ব্যক্তিকে ইবাদতে কঠোর পরিশ্রমী, দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতে নিমগ্ন দেখো কিন্তু সে প্রবৃত্তির অনুসারী (বিদআতী); তবে তার সাথে বসো না, তার মজলিসে যেয়ো না, তার কথা শোনো না এবং পথে তার সাথে চলো না। কারণ আমি নিরাপদ বোধ করি না যে, তুমি হয়তো তার পথকে পছন্দ করে ফেলবে এবং তার সাথে ধ্বংস হয়ে যাবে।

ইউনুস ইবনে উবাইদ তাঁর ছেলেকে জনৈক প্রবৃত্তির অনুসারীর (বিদআতী) কাছ থেকে বের হতে দেখে বললেন: «হে বৎস! তুমি কোথা থেকে এলে?» সে বলল: «অমুকের কাছ থেকে», তিনি বললেন: «হে বৎস! তোমাকে কোনো উভয়লিঙ্গ ব্যক্তির বাড়ি থেকে বের হতে দেখা আমার কাছে অমুক অমুক (বিদআতী) ব্যক্তির বাড়ি থেকে বের হতে দেখার চেয়ে অধিক প্রিয়। আর হে বৎস! তুমি ব্যভিচারী, ফাসেক, চোর ও খিয়ানতকারী হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করো—এটি আমার কাছে অমুক অমুক ব্যক্তির মতবাদ নিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়»।

তুমি কি দেখছ না যে, ইউনুস ইবনে উবাইদ জানতেন যে উভয়লিঙ্গ ব্যক্তি(১) তার ছেলেকে দ্বীন থেকে বিচ্যুত করবে না, কিন্তু বিদআতী ব্যক্তি তাকে পথভ্রষ্ট করবে এমনকি সে কুফরি পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে?!»(২)।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: «বরং এমন কত মানুষ আছে যারা আল্লাহর ইবাদত করে এমন জিনিসের মাধ্যমে যা আল্লাহ তাদের জন্য হারাম করেছেন এবং বিশ্বাস করে যে এটি আনুগত্য ও নৈকট্য লাভের উপায়। এমতাবস্থায় তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির চেয়েও খারাপ যে একে পাপাচার ও গুনাহ মনে করে করে। যেমন সেই সব কাব্যিক সংগীত বা সামা-র অনুসারীরা, যারা এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায় এবং মনে করে যে তারা পরম দয়াময় আল্লাহর অলি বা বন্ধু, অথচ তারা প্রকৃতপক্ষে শয়তানের বন্ধু»(৩)।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব (২/১৪৫) গ্রন্থে রয়েছে: «খুনসা (উভয়লিঙ্গ): যার পুরুষ ও নারী উভয়েরই জননাঙ্গ রয়েছে»।

(২) শারহুস সুন্নাহ, নং (১৩৯)।

সালাফদের এই কথাগুলো প্রবৃত্তিজাত পাপকে খাটো করে দেখার জন্য নয়, বরং বিদআতের ভয়াবহ অপরাধ স্পষ্ট করার জন্য। বিদআত প্রবৃত্তিজাত পাপের চেয়েও গুরুতর গুনাহ, যদিও সাধারণ মানুষ বিদআতের চেয়ে প্রবৃত্তিজাত পাপকেই বেশি অপছন্দ করে থাকে।

(৩) ইগাসাতুল লাহফান (২/১৮১)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
المقدمة الثانية

لا يوصف شيء محدث بأنه بدعة شرعًا إلا إذا عدّه عبادة

من أعظم ضوابط البدعة أنها لا تكون إلا فيما يُتعبَّد ويُتديَّن به، والأدلة على هذا كثيرةٌ من الكتاب والسنة الصحيحة، ومنها هذان الدليلان:

الدليل الأول: قوله تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ}] الشورى: 21 [وجه الدلالة أنهم جمعوا بين التشريع (الإحداث)، والزعم أنه من الدِّين المقرِّب لله، فصارت شاملةً للبدع. وبهذه الآية استدل العلماء المحققون على حرمة البدع كما سيأتي - إن شاء الله - من كلام ابن جرير وابن تيمية وابن رجب.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «ولهذا كان أحمد وغيره من فقهاء أهل الحديث يقولون: إن الأصل في العبادات التوقيف، فلا يشرع منها إلا ما شرعه الله، وإلا دخلنا في معنى قوله تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ}. والعادات؛ الأصل فيها العفو، فلا يحظر منها إلا ما حرمه، وإلا دخلنا في معنى قوله: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ رِزْقٍ فَجَعَلْتُمْ مِنْهُ حَرَامًا وَحَلَالًا}] يونس: 59 [»(1).

الدليل الثاني: عن عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو ردٌ» متفق عليه(2).

--------------------------------------------

(1) القواعد النورانية (ص: 164).

(2) سبق تخريجه.
দ্বিতীয় ভূমিকা

শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো নতুন বিষয়কে ততক্ষণ পর্যন্ত বিদআত বলা যাবে না যতক্ষণ না সেটিকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়

বিদআতের অন্যতম প্রধান নীতিমালা হলো, এটি কেবল সেই সব বিষয়ের ক্ষেত্রেই হয় যার মাধ্যমে ইবাদত করা হয় এবং যা দ্বীন হিসেবে পালন করা হয়। কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহ থেকে এর সপক্ষে বহু দলীল রয়েছে, তন্মধ্যে দুটি দলীল নিম্নরূপ:

প্রথম দলীল: মহান আল্লাহর বাণী: {নাকি তাদের এমন কিছু উপাস্য রয়েছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} [আশ-শুরা: ২১]। দলীলটির প্রাসঙ্গিকতা হলো, তারা বিধান প্রণয়ন (নতুন উদ্ভাবন) এবং একে আল্লাহর নৈকট্য দানকারী দ্বীনের অংশ বলে দাবি করার বিষয়টিকে একত্রিত করেছে, ফলে তা বিদআতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই আয়াতের মাধ্যমেই বিজ্ঞ গবেষক আলেমগণ বিদআত হারাম হওয়ার ব্যাপারে দলীল পেশ করেছেন, যেমনটি ইবনে জারীর, ইবনে তাইমিয়াহ এবং ইবনে রজব (রহ.)-এর বক্তব্য থেকে সামনে আসবে—ইনশাআল্লাহ।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেছেন: «এ কারণেই ইমাম আহমাদ এবং আহলে হাদিসের অন্যান্য ফকীহগণ বলতেন: ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো 'তওকিফ' (শরীয়তের দলীলের ওপর নির্ভরশীলতা), সুতরাং আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না; অন্যথায় আমরা আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব: {নাকি তাদের এমন সব অংশীদার রয়েছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?}। আর স্বাভাবিক অভ্যাস বা রীতিনীতির মূল ভিত্তি হলো বৈধতা, সুতরাং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু নিষিদ্ধ হবে না; অন্যথায় আমরা আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব: {বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রিযিক নাযিল করেছেন, অতঃপর তোমরা তার কিছু অংশ হারাম ও কিছু অংশ হালাল করে নিয়েছ?} [ইউনুস: ৫৯]»(১)।

দ্বিতীয় দলীল: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত» (মুত্তাফাকুন আলাইহি)(২)।

--------------------------------------------

(১) আল-কাওয়াইদুল নুরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬৪)।

(২) ইতিপূর্বে এর সূত্র (তাখরীজ) উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
قال الحافظ العلائي: «والرَّد هنا باتفاق أئمة اللغة والحديث بمعنى (المردود)»(1).

وجه الدلالة: قوله (أمرنا) أي ديننا. فعلى هذا خرجت البدع الدنيوية من أصل الحظر والمنع، فلا يمنع شيءٌ منها إلا بدليلٍ، فلا يصح لأحدٍ أن يمنع السيارات الحديثة والطائرات ونحوهما بحجة أنهما غير موجودين في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، لأن هذه أمورٌ دنيوية لا أمورٌ دينية.

وقد قرر هذا العلماء، قال ابن جرير في تفسيره لقوله تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ .. }: «يقول تعالى ذكره: أم لهؤلاء المشركين بالله شُرَكاءُ في شِركهم وضلالتهم «شَرعُوا لهم من الدِّين مالم يأذن به الله» يقول: ابتدعوا لهم من الدِّين ما لم يُبح الله لهم ابتداعَه».

وتقدم ما نقله شيخ الإسلام ابن تيمية عن فقهاء أهل الحديث، كأحمد وغيره.

ولما ألف الطرطوشي وأبو شامة كتابيهما في البدع بينا أن المرادَ بالبدع الإحداثُ في الدين.

قال الطرطوشي المالكي: «وقسم يظنه معظمهم - إلا من عصم الله - عباداتٍ، وقربات، وطاعات، وسننًا.

فأما القسم الأول، فلم نتعرض لذكره؛ إذ كُفينا مؤنة الكلام فيه؛ لاعتراف فاعله أنه ليس من الدين»(2).

فبين بهذا أن كتابه المؤلف في البدع إنما هو فيما يتعلق بالإحداث في الدين.

وقال أبو شامة الشافعي: «فوصف ذلك عبد الله - أي ابن مسعود - بأنه بدعة لما كان موهمًا أنه من الدين، لأنه قد ثبت أن التجرد مشروع في الإحرام بنسك الحج والعمرة»(3).

وقال: «فأمَّا القسم الأول فلا نطيل بذكره إذ قد كفينا مؤنة الكلام فيه لاعتراف فاعله انه ليس من الدين»(4).

--------------------------------------------

(1) تحقيق المراد في أن النهي يقتضي الفساد (ص: 111).

(2) الحوادث والبدع (ص: 21).

(3) الباعث على إنكار البدع والحوادث (ص: 21).

(4) المرجع السابق (ص: 25).
হাফিজ আল-আলাঈ বলেন: «এখানে ভাষাবিদ ও হাদিস বিশারদগণের সর্বসম্মতিক্রমে ‘আর-রাদ্দ’ (প্রত্যাখ্যান) শব্দটি ‘আল-মারদুদ’ (প্রত্যাখ্যাত) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে»(১)।

প্রমাণের ধরণ: তাঁর উক্তি (আমাদের এই নির্দেশ/কাজ) অর্থাৎ আমাদের দ্বীন। ফলে এর মাধ্যমে পার্থিব নবউদ্ভাবনসমূহ মূল নিষেধাজ্ঞা ও বারণের মূলনীতি থেকে বহির্ভূত হয়ে যায়; সুতরাং দলীল ব্যতীত এগুলোর কোনো কিছুই নিষিদ্ধ হবে না। অতএব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে বিদ্যমান ছিল না—এই অজুহাতে আধুনিক গাড়ি, বিমান ও অনুরূপ বিষয়াদি নিষিদ্ধ করা কারোর জন্য সঠিক হবে না; কারণ এগুলো পার্থিব বিষয়, ধর্মীয় বিষয় নয়।

উলামায়ে কেরাম এটি সুনিশ্চিত করেছেন। ইবনে জারীর মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের কি এমন কোনো অংশীদার আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে...} এর তাফসীরে বলেন: «মহান আল্লাহ তাঁর জিকির সম্পর্কে বলছেন: আল্লাহর সাথে শিরককারী এই মুশরিকদের কি তাদের শিরক ও গোমরাহিতে এমন কোনো অংশীদার আছে যারা «তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি»? তিনি বলছেন: তারা তাদের জন্য দ্বীনের মধ্যে এমন বিষয়ের উদ্ভাবন করেছে যা উদ্ভাবনের অনুমতি আল্লাহ তাদেরকে দেননি»।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য আহলে হাদিস ফকীহগণের নিকট থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

আত-তুর্তুশী ও আবু শামাহ যখন বিদআত সম্পর্কে তাঁদের গ্রন্থদ্বয় রচনা করেন, তখন তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিদআত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা।

তুর্তুশী আল-মালিকী বলেন: «এবং একটি প্রকার রয়েছে যেটিকে তাদের অধিকাংশ মানুষই—আল্লাহ যাদের রক্ষা করেছেন তারা ব্যতীত—ইবাদত, নৈকট্য লাভ, আনুগত্য ও সুন্নাত মনে করে থাকে।

তবে প্রথম প্রকারটির কথা আমরা উল্লেখ করিনি; কারণ এ বিষয়ে আলোচনার শ্রম থেকে আমাদের রেহাই দেওয়া হয়েছে, যেহেতু এর সম্পাদনকারী নিজেই স্বীকার করে যে এটি দ্বীনের অংশ নয়»(২)।

এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিদআত বিষয়ে রচিত তাঁর গ্রন্থটি মূলত দ্বীনের মধ্যে নতুন বিষয় উদ্ভাবনের সাথেই সংশ্লিষ্ট।

আবু শামাহ আশ-শাফেঈ বলেন: «আবদুল্লাহ—অর্থাৎ ইবনে মাসঊদ—সেটিকে বিদআত হিসেবে অভিহিত করেছেন যেহেতু সেটি দ্বীনের অংশ হওয়ার ভ্রম সৃষ্টি করছিল। কারণ এটি প্রমাণিত যে, হজ ও উমরার আহরামের সময় সেলাইবিহীন অবস্থায় থাকা শরীয়তসম্মত»(৩)।

তিনি আরও বলেন: «তবে প্রথম প্রকারটি সম্পর্কে আমরা আলোচনা দীর্ঘ করব না, কারণ এ বিষয়ে আলোচনার কষ্ট থেকে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যেহেতু এর সম্পাদনকারী নিজেই স্বীকার করে যে এটি দ্বীনের অংশ নয়»(৪)।

--------------------------------------------

(১) তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহয়া ইয়াকতাদিল ফাসাদ (পৃষ্ঠা: ১১১)।

(২) আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ২১)।

(৩) আল-বাইস আলা ইনকারিল বিদা ওয়াল হাওয়াদিস (পৃষ্ঠা: ২১)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ২৫)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال أيضًا: «وأما القسم الثاني الذي يظنه معظم الناس طاعة وقربة إلى الله تعالى وهو بخلاف ذلك، أو تركه أفضل من فعله، فهذا الذي وضعت هذا الكتاب لأجله، وهو ما قد أمر الشرع به في صورة من الصور؛ من زمان مخصوص أو مكان معين، كالصوم بالنهار، والطواف بالكعبة، أو أُمِرَ به شخصٌ دون غيره، كالذي اختص النبي صلى الله عليه وسلم من المباحات والتخفيفات، فيقيس الجاهل نفسه عليه فيفعله وهو منهي عن ذلك، ويقيس الصور بعضها على بعض ولا يفرق بين الأزمنة والأمكنة، ويقع ذلك من بعضهم بسبب الحرص على الآثار من إيقاع العبادات والقرب والطاعات، فيحملهم ذلك الحرص على فعلها في أوقاتٍ وأماكنَ نهاهم الشرع عن اتخاذ تلك الطاعات فيها»(1).

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق (ص: 28).
এবং তিনি আরও বলেছেন: “আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো সেই বিষয় যা অধিকাংশ মানুষ মহান আল্লাহর আনুগত্য ও নৈকট্য লাভের মাধ্যম বলে মনে করে, অথচ বিষয়টি তার বিপরীত, অথবা তা বর্জন করাই পালনের চেয়ে উত্তম। মূলত এই কারণেই আমি এই গ্রন্থটি রচনা করেছি। এটি এমন বিষয় যা শরিয়ত কোনো নির্দিষ্ট অবয়বে পালনের নির্দেশ দিয়েছে; যেমন কোনো বিশেষ সময় বা নির্দিষ্ট স্থানে, যেমন দিনের বেলায় রোজা রাখা বা কাবার চারদিকে তাওয়াফ করা। অথবা যা অন্য কাউকে বাদ দিয়ে কেবল নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য বিশেষ কিছু বৈধতা ও শিথিলতা। ফলে কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি নিজেকে তাঁর সাথে তুলনা করে তা পালন করতে শুরু করে, অথচ তার জন্য তা করা নিষিদ্ধ। সে এক অবস্থাকে অন্য অবস্থার সাথে গুলিয়ে ফেলে এবং কাল ও স্থানের পার্থক্য নিরূপণ করতে পারে না। তাদের কারো কারো ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে ইবাদত, নৈকট্য ও আনুগত্যের নিদর্শনসমূহ পালনের প্রতি অতি আগ্রহের কারণে। এই অতি উৎসাহই তাদের এমন সময় ও স্থানে ওই ইবাদতগুলো পালনে প্ররোচিত করে, যেখানে শরিয়ত তাদের ওই ইবাদতগুলো পালন করতে নিষেধ করেছে।”(১).

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ২৮)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২০)
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: «وقد قرَّرنا في القواعد في قاعدة السنة والبدعة: أنَّ البدعة هي الدِّين الذي لم يأمر الله به ورسوله، فمن دان دِينًا لم يأمر الله ورسوله به فهو مبتدع بذلك»(1).

وقال: «وهذه قاعدة قد دلت عليها السنة والإجماع، مع ما في كتاب الله من الدلالة عليها أيضًا، قال تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ}] الشورى: 21 [، فمن ندب إلى شيء يتقرب به إلى الله، أو أوجبه بقوله أو بفعله من غير أن يشرعه الله، فقد شرع من الدين ما لم يأذن به الله، ومن اتبعه في ذلك فقد اتخذه شريكًا لله شرع له من الدين ما لم يأذن به الله»(2).

وقال: «وهو سبحانه إنما يُعبَد بما شَرع من الدين، لا يُعبَد بما شُرع من الدين بغير إذنه؛ فإن ذلك شرك، قال الله تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ}، وقال تعالى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا} - إلى قوله - {مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ}] الشورى: 13 [.

والدين الذي شرعه إما واجب وإما مستحب، فكل من عبد عبادة(3) ليست واجبة في شرع الرسول ولا مستحبة كانت من الشرك والبدع، والحج إلى القبور ليس من شرعه لا واجبًا ولا مستحبًّا، فإنه لا يقدر أحد أن ينقل عنه حديثًا صحيحًا في استحباب ذلك، ولا عن أصحابه ولا علماء أمته»(4).

--------------------------------------------

(1) الاستقامة (1/ 5).

(2) اقتضاء الصراط المستقيم (2/ 84).

(3) لعل الصواب: «تعبد بعبادة».

(4) الأخنائية (ص: 498).
এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «আমরা ‘কাওয়ায়েদ’ বা মূলনীতিসমূহের অন্তর্গত সুন্নাহ ও বিদআতের মূলনীতিতে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি যে: বিদআত হলো সেই দ্বীন যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্দেশ করেননি। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন কোনো দ্বীনের অনুসরণ করল যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্দেশ দেননি, সে এর দ্বারা বিদআতী হিসেবে গণ্য হবে»(১).

তিনি আরও বলেছেন: «এটি এমন এক মূলনীতি যা সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা প্রমাণিত এবং আল্লাহর কিতাবেও এর সপক্ষে প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের কি এমন কতকগুলো শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} [আশ-শূরা: ২১]। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন কোনো বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানাল যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা হয়, অথবা নিজের কথা বা কাজের মাধ্যমে তাকে আবশ্যক করে নিল অথচ আল্লাহ তা বিধিবদ্ধ করেননি, তবে সে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত এমন বিষয় প্রবর্তন করল যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে তার অনুসরণ করল, সে তাকে আল্লাহর সাথে শরীক হিসেবে গ্রহণ করল যে তার জন্য দ্বীনের এমন বিষয় প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি»(২).

তিনি বলেছেন: «পবিত্র সত্তা আল্লাহ কেবল সেই পন্থায় ইবাদতযোগ্য যা তিনি দ্বীন হিসেবে বিধিবদ্ধ করেছেন; তাঁর অনুমতি ব্যতীত দ্বীন হিসেবে প্রবর্তিত কোনো পন্থায় তাঁর ইবাদত করা যাবে না। কেননা তা শিরক। মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের কি এমন কতকগুলো শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?}, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে} - তাঁর এই বাণী পর্যন্ত - {আপনি তাদেরকে যার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন} [আশ-শূরা: ১৩]।

আর আল্লাহ যে দ্বীন বিধিবদ্ধ করেছেন তা হয় ওয়াজিব (আবশ্যক) অথবা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন কোনো উপাসনা করল(৩) যা রাসূলের শরীয়তে ওয়াজিব নয় এবং মুস্তাহাবও নয়, তা শিরক ও বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। আর কবরের দিকে হজ্জ (যাতায়াত/ভ্রমণ) করা তাঁর শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত নয়—ওয়াজিব হিসেবেও নয়, মুস্তাহাব হিসেবেও নয়। কেননা এ বিষয়ে তাঁর থেকে কোনো সহীহ হাদীস কেউ বর্ণনা করতে সক্ষম নয় যে তা মুস্তাহাব, এবং তাঁর সাহাবীগণ বা তাঁর উম্মতের আলেমগণ থেকেও এমন কিছু নেই»(৪).

--------------------------------------------

(১) আল-ইস্তিকামাহ (১/ ৫)।

(২) ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (২/ ৮৪)।

(৩) সম্ভবত সঠিক পাঠ হবে: «তায়া’ব্বাদা বি-ইবাদাতিন» (কোনো উপাসনার মাধ্যমে ইবাদত করা)।

(৪) আল-আখনাঈয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯৮)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال: «وقد قررنا في القواعد في قاعدة السُّنة والبدعة؛ أن البدعة هي الدِّين الذي لم يأمر الله به ورسوله، فمن دان دينًا لم يأمر الله ورسوله به فهو مبتدع بذلك، وهذا معنى قوله تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ}»(1).

وقال: «ومعنى ذلك أنه لا يشرع الاجتماع لهذا السماع المحدث، ولا يؤمر به، ولا يُتَّخذ دينًا وقربة، وأنَّ القُرَبَ والعباداتِ إنما تؤخذ عن الرسل صلوات الله وسلامه عليهم، فكما أنه لا حرام إلا ما حرمه الله، فإنه لا دين إلَّا ما شرعه الله، قال الله تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ}»(2).

وقال الشاطبي: «وإنما قُيِّدت بالدِّين لأنها فيه تُخْتَرع، وإليه يضيفها صاحبها أيضًا، فلو كانت طريقةً مخترعةً في الدنيا على الخصوص؛ لم تُسمَّ بدعةً، كإحداث الصنائع والبلدان التي لا عهد بها فيما تقدم … » اهـ(3).

وقال ابن رجب: «فكل من أحدث شيئًا ونسبه إلى الدِّين، ولم يكن له أصلٌ من الدِّين يُرجع إليه؛ فهو ضلالةٌ» اهـ(4).

--------------------------------------------

(1) الاستقامة (1/ 5).

(2) التحفة العراقية (ص: 73).

(3) الاعتصام (1/ 47).

(4) جامع العلوم والحكم (2/ 128).
তিনি বলেছেন: «আমরা ‘কাওয়ায়েদ’ (মূলনীতিসমূহ)-এর মধ্যে সুন্নাহ ও বিদআত সংক্রান্ত মূলনীতিতে এটি সাব্যস্ত করেছি যে, বিদআত হলো এমন দ্বীন যার নির্দেশ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল দেননি। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন কোনো দ্বীন পালন করে যার নির্দেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দেননি, সে এর মাধ্যমে বিদআতকারী। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ: {তাদের কি এমন শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?}»(১).

তিনি আরও বলেছেন: «এর অর্থ হলো এই যে, এই নব-উদ্ভাবিত সামা (শ্রবণ)-এর জন্য সমবেত হওয়া শরীয়তসম্মত নয়, এর নির্দেশও দেওয়া হয়নি এবং একে দ্বীন ও নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। আর নৈকট্য ও ইবাদতসমূহ কেবল রাসূলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) মাধ্যমেই গ্রহণ করতে হবে। সুতরাং, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা ছাড়া যেমন কোনো হারাম নেই, তেমনি আল্লাহ যা শরীয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তা ছাড়া কোনো দ্বীন নেই। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তাদের কি এমন শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?}»(২).

ইমাম শাতবি বলেছেন: «বিদআতকে দ্বীনের সাথে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে কারণ এটি দ্বীনের মধ্যেই উদ্ভাবন করা হয় এবং এর প্রবর্তক একে দ্বীনের সাথেই সম্পৃক্ত করে। যদি এটি বিশেষভাবে পার্থিব বিষয়ে কোনো উদ্ভাবিত পদ্ধতি হতো, তবে তাকে বিদআত বলা হতো না; যেমন ইতিপূর্বে নজির ছিল না এমন নতুন শিল্পকলা ও শহর-নগর নির্মাণ করা … » সমাপ্ত(৩).

ইবনে রজব বলেছেন: «সুতরাং যে ব্যক্তি নতুন কিছু উদ্ভাবন করল এবং তাকে দ্বীনের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করল, অথচ দ্বীনে এর কোনো মূল ভিত্তি নেই যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায়, তবে তা ভ্রষ্টতা» সমাপ্ত(৪).

--------------------------------------------

(১) আল-ইস্তিকামাহ (১/ ৫)।

(২) আত-তুহফাতুল ইরাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭৩)।

(৩) আল-ইতিসাম (১/ ৪৭)।

(৪) জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম (২/ ১২৮)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
المقدمة الثالثة

العبادة لا تخرُجُ عن أن تكون واجبةً ومستحبةً فعلًا،

أو محرمةً ومكروهةً تركًا

وهذا بدهي لمن تدبر معنى العبادة شرعًا، لأن العبادة فعل ما يحبُّ اللهُ فعْلَه، وتركُ ما يحبُّ اللهُ تركَه، وهذا لا يكون من جهة الفعل إلا واجبًا أو مستحبًّا، ومن جهة الترك إلَّا محرَّمًا أو مكروهًا، ومع أن هذا الأمر واضح من جهة المعنى فإن العلماء أيضًا قرروه وأجمعوا عليه.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «يقتضي أن السفر إليه - أي إلى قبر رسول الله - ليس بمستحب وليس هو واجبًا بالاتفاق، فلا يكون قربةً وطاعة، فإنَّ القربة والطاعة إمَّا واجبٌ وإمَّا مستحبٌّ، وما ليس بواجب ولا مستحبٍّ فليس قربةً ولا طاعةً بالإجماع»(1).

وقال: «إذ كان المسلمون متفقين على أنه لا يجوز لأحد أن يعتقد أو يقول عن عمل: إنَّه قربةٌ وطاعة وبرٌّ، وطريق إلى الله؛ واجبٌ أو مستحبٌّ، إلا أن يكون مما أمر الله به ورسوله صلى الله عليه وسلم؛ وذلك يُعْلَم بالأدلَّة المنصوبة على ذلك، وما عُلم باتِّفاق الأمَّة أنه ليس بواجبٍ ولا مستحب ولا قربةٍ؛ لم يجز أن يُعتقد أو يُقالَ: إنه قربةٌ وطاعة، فكذلك هم متفقون على أنه لا يجوز قصدُ التقرب به إلى

--------------------------------------------

(1) الأخنائية (ص: 405).
তৃতীয় ভূমিকা

ইবাদত কর্ম সম্পাদনের দিক থেকে ওয়াজিব ও মুস্তাহাব হওয়া,

অথবা বর্জনের দিক থেকে হারাম ও মাকরূহ হওয়ার বাইরে কিছু নয়।

শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে যারা ইবাদতের অর্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন তাদের কাছে এটি স্বতঃসিদ্ধ। কারণ ইবাদত হলো আল্লাহ যা সম্পাদন করা পছন্দ করেন তা করা, এবং যা আল্লাহ বর্জন করা পছন্দ করেন তা বর্জন করা। আর এটি সম্পাদনের দিক থেকে ওয়াজিব বা মুস্তাহাব এবং বর্জনের দিক থেকে হারাম বা মাকরূহ ছাড়া অন্য কিছু হয় না। যদিও বিষয়টি অর্থের দিক থেকে স্পষ্ট, তবুও আলেমগণও এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং এর ওপর ঐকমত্য (ইজমা) পোষণ করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «এর দাবি হলো সেখানে—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহর কবরের দিকে—সফর করা মুস্তাহাব নয় এবং ঐকমত্য অনুযায়ী তা ওয়াজিবও নয়। সুতরাং এটি কোনো নৈকট্য লাভের কাজ বা আনুগত্যের কাজ হবে না। কারণ নৈকট্য ও আনুগত্যের কাজ হয় ওয়াজিব হবে অথবা মুস্তাহাব হবে। আর যা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব নয়, তা সর্বসম্মতিক্রমে নৈকট্য বা আনুগত্যের কাজ নয়»(১)।

তিনি আরও বলেন: «যেহেতু মুসলমানগণ এ বিষয়ে একমত যে, কারো জন্য কোনো কাজ সম্পর্কে এই বিশ্বাস রাখা বা বলা বৈধ নয় যে, তা আল্লাহর নৈকট্য, আনুগত্য, পুণ্য এবং আল্লাহর দিকে যাওয়ার পথ—তা ওয়াজিব হোক বা মুস্তাহাব—যতক্ষণ না তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক নির্দেশিত হয়; এবং এটি এ সংক্রান্ত দলিলাদির মাধ্যমে জানা যায়। আর উম্মতের ঐকমত্যে যা ওয়াজিব, মুস্তাহাব বা নৈকট্য লাভের কাজ নয় বলে জানা যায়, তা নৈকট্য বা আনুগত্যের কাজ বলে বিশ্বাস করা বা বলা বৈধ নয়। একইভাবে তারা একমত যে, এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করা জায়েয নয়...»

--------------------------------------------

(১) আল-আখনাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪০৫)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الله ولا التعبدِ به، ولا اتخاذه دينًا، ولا عمله من الحسنات، فلا يجوز جعله من الدين لا باعتقادٍ وقول، ولا بإرادة وعمل»(1).

وقال: «والدين الذي شرعه إما واجب وإما مستحب، فكل من عبد عبادة(2) ليست واجبة في شرع الرسول ولا مستحبة؛ كانت من الشرك والبدع، والحجُّ إلى القبور ليس من شرعه لا واجبًا ولا مستحبًّا، فإنه لا يقدر أحد أن ينقل عنه حديثًا صحيحًا في استحباب ذلك، ولا عن أصحابه ولا علماء أمته»(3).

وقال: «فأما ما أمرك الله ورسوله بإرادتك إياه فإرادته إما واجب وإما مستحبٌّ، وترك إرادة هذا إما معصية وإما نقص»(4).

المقدمة الرابعة

لا يصح التعبد بالمباح لذاته

لأن المباح ليس مما يحب الله فعله ولا تركه، بل إن التعبد به لذاته بدعة، فليس مستحبًا ولا واجبًا إلا في حال واحدةٍ - يأتي ذكرها إن شاء الله -، فمن باب أولى أنه لا يصح أن يتعبَّد لله بفعل المكروهات والمحرمات، فبهذا لا توجد عبادةٌ جائزةٌ مباحةٌ من جهة الفعل وهي ليست واجبةً أو مستحبةً.

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (11/ 451).

(2) لعل صوابه: «تعبد بعبادة».

(3) الأخنائية (ص: 499).

(4) مجموع الفتاوى (10/ 494).
...আল্লাহর প্রতি নিবেদন করা, একে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা, একে দীন হিসেবে সাব্যস্ত করা কিংবা একে নেক আমল হিসেবে গণ্য করা বৈধ নয়। সুতরাং বিশ্বাস ও বক্তব্যের মাধ্যমে হোক কিংবা ইচ্ছা ও কর্মের মাধ্যমে—একে দীনের অন্তর্ভুক্ত করা জায়েজ নয়।(১)

তিনি বলেন: «আর তিনি যে শরয়ি দীন প্রবর্তন করেছেন তা হয় ওয়াজিব নতুবা মুস্তাহাব। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন কোনো উপাসনা করবে(২) যা রাসূলের শরয়ি বিধানে ওয়াজিবও নয় এবং মুস্তাহাবও নয়; তা শিরক ও বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর কবরের দিকে (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফর করা তাঁর শরয়ি বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়—ওয়াজিব হিসেবেও নয়, মুস্তাহাব হিসেবেও নয়। কেননা, এর মুস্তাহাব হওয়ার স্বপক্ষে তাঁর থেকে কোনো সহিহ হাদিস কেউ বর্ণনা করতে পারবে না, আর না তাঁর সাহাবীগণ কিংবা তাঁর উম্মতের আলেমগণ থেকে এমন কিছু বর্ণিত আছে»(৩)

তিনি আরও বলেন: «আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আপনাকে যা সংকল্প করার নির্দেশ দিয়েছেন, তা সংকল্প করা হয় ওয়াজিব নতুবা মুস্তাহাব। আর এই সংকল্প বর্জন করা হয় নাফরমানি নতুবা ত্রুটি»(৪)

চতুর্থ উপক্রমণিকা

মুবাহ বা বৈধ কাজের মূল সত্তার মাধ্যমে ইবাদত করা শুদ্ধ নয়

কেননা মুবাহ কাজ এমন কোনো বিষয় নয় যার সম্পাদন করা কিংবা বর্জন করাকে আল্লাহ পছন্দ করেন। বরং একে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা বিদআত। সুতরাং একটি বিশেষ অবস্থা ছাড়া—যা ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচিত হবে—এটি মুস্তাহাবও নয় এবং ওয়াজিবও নয়। অতএব, স্বাভাবিকভাবেই মাকরুহ কিংবা হারাম কাজের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা শুদ্ধ হতে পারে না। ফলে ক্রিয়ার দিক থেকে এমন কোনো বৈধ বা মুবাহ ইবাদত নেই যা ওয়াজিব কিংবা মুস্তাহাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (১১/ ৪৫১)।

(২) সম্ভবত সঠিক পাঠ হবে: «কোনো ইবাদতের মাধ্যমে ইবাদত করা»।

(৩) আল-আখনাইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯৯)।

(৪) মাজমুউল ফাতাওয়া (১০/ ৪৯৪)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «فهذا أصلٌ عظيمٌ تجب معرفته والاعتناء به، وهو أن المباحات إنما تكون مباحةً إذا جُعلت مباحاتٍ، فأما إذا اتُّخذت واجباتٍ أو مستحبَّاتٍ؛ كان ذلك دينًا لم يشرعه الله، وجعل ما ليس من الواجبات والمستحبات منها بمنزلةِ جَعْل ما ليس من المحرَّمات منها، فلا حرام إلَّا ما حرَّمه الله، ولا دينَ إلَّا ما شرع الله، ولهذا عظُم ذمُّ الله في القرآن لمن شَرَع دينًا لم يأذن الله به، ولمن حرَّم مالم يأذن الله بتحريمه، فإذا كان هذا في المباحات فكيف بالمكروهات أو المحرَّمات؟ .. - إلى أن قال: - بإهمال هذا الأصل غلط خلقٌ كثيرٌ من العلماء والعُبَّاد، يرون الشيء إذا لم يكن محرَّمًا لا يُنهى عنه، بل يُقال: إنه جائزٌ، ولا يفرِّقون بين اتخاذه دينًا وطاعةً وبرًّا، وبين استعماله كما تُستعمل المباحات المحضة، ومعلومٌ أن اتخاذه دينًا بالاعتقاد أو الاقتصاد أو بهما، أو بالقول أو بالعمل أو بهما؛ من أعظم المحرَّمات، وأكبر السيئات، وهذا من البدع المنكرات التي هي أعظم من المعاصي التي يُعلم أنها معاص وسيئات»(1).

وقال: «فلزوم زيٍّ معيَّنٍ من اللباس، سواءٌ كان مباحًا أو كان مما يُقال: إنه مكروهٌ، بحيث يُجعَلُ ذلك دينًا مستحبًّا وشعارًا لأهل الدِّين؛ هو من البدع أيضًا، فكما أنه لا حرام إلا ما حرَّمه الله، فلا دين إلا ما شرَّعه الله»(2).

وقد أنكر شيخ الإسلام ابن تيمية على الذين يقولون: إن السَّفر إلى قبر الرسول صلى الله عليه وسلم مباحٌ، ثم يتعبَّدون لله بذلك، فبيَّن أنه على فرض الإباحة؛ فإن العبادة لا تكون إلا بأمرٍ واجبٍ أو مستحبٍّ، ولا تكون بأمرٍ مباحٍ، وقد تقدم(3).

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (11/ 450).

(2) الاستقامة (1/ 260).

(3) راجع للاستزادة الصارم المنكي (ص 34)، ومجموع الفتاوى (1/ 80) (11/ 631 - 634).
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: "এটি একটি মহান মূলনীতি যা জানা এবং যার প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক। আর তা হলো, বৈধ (মুবাহ) বিষয়সমূহ কেবল তখনই বৈধ থাকে যখন সেগুলোকে বৈধ হিসেবেই রাখা হয়। পক্ষান্তরে, যখন সেগুলোকে ওয়াজিব (আবশ্যক) কিংবা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তখন তা এমন এক দ্বীনে পরিণত হয় যা আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেননি। আর যা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব নয়, তাকে সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক তেমনি, যেমন হারাম নয় এমন কিছুকে হারামের অন্তর্ভুক্ত করা। সুতরাং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা ব্যতীত কোনো হারাম নেই এবং আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা ব্যতীত কোনো দ্বীন নেই। একারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাদের কঠোর নিন্দা করেছেন যারা এমন দ্বীন প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি, এবং তাদেরও যারা এমন কিছু হারাম করেছে যা হারামের অনুমতি তিনি দেননি। সুতরাং এটি যদি বৈধ (মুবাহ) কাজের ক্ষেত্রে হয়, তবে অপছন্দনীয় (মাকরুহ) কিংবা হারাম কাজের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে? .. - এরপর তিনি বলেন: - এই মূলনীতিটি উপেক্ষা করার কারণে আলিম ও ইবাদতগুজারদের এক বিশাল গোষ্ঠী ভুল করেছেন। তারা কোনো বিষয়কে হারাম না হতে দেখলে মনে করেন সেটির ব্যাপারে নিষেধ করা যাবে না, বরং বলা হয় যে এটি জায়েজ। তারা কোনো বিষয়কে দ্বীন, আনুগত্য ও পুণ্য হিসেবে গ্রহণ করা এবং নিছক বৈধ কাজ হিসেবে ব্যবহার করার মধ্যে পার্থক্য করেন না। অথচ এটি জানা কথা যে, বিশ্বাসগতভাবে বা উদ্দেশ্যগতভাবে—কিংবা উভয়ভাবেই, অথবা কথার মাধ্যমে বা আমলের মাধ্যমে—কিংবা উভয়ভাবেই—একে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ হারাম এবং সবচেয়ে বড় পাপগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর এটি সেসব গর্হিত বিদআতের অন্তর্ভুক্ত যা এমন গুনাহের চেয়েও গুরুতর যেগুলো গুনাহ ও মন্দ কাজ হিসেবে সুপরিচিত"(১)।

তিনি আরও বলেন: "পোশাকের কোনো নির্দিষ্ট ধরন আঁকড়ে ধরা—তা বৈধ হোক কিংবা এমন কিছু যাকে মাকরুহ বলা হয়—যদি সেটিকে মুস্তাহাব দ্বীনীয় বিষয় এবং দ্বীনদার ব্যক্তিদের নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়, তবে তাও বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা ব্যতীত যেমন কোনো হারাম নেই, তেমনি আল্লাহ যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা ব্যতীত কোনো দ্বীন নেই"(২)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ওইসব ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করেছেন যারা বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ (মুবাহ), অতঃপর তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, একে বৈধ ধরে নিলেও ইবাদত কেবল ওয়াজিব বা মুস্তাহাব নির্দেশের মাধ্যমেই হতে পারে, কোনো মুবাহ বা বৈধ কাজের মাধ্যমে ইবাদত সম্পন্ন হয় না; যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে(৩)।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (১১/ ৪৫০)।

(২) আল-ইস্তিকামাহ (১/ ২৬০)।

(৩) অধিকতর তথ্যের জন্য দেখুন: আস-সারিমুল মুনকি (পৃ. ৩৪), এবং মাজমুউল ফাতাওয়া (১/ ৮০) (১১/ ৬৩১ - ৬৩৪)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
قال السبكي: «ففعْلُ ذلك بدعةٌ ولا ينبغي أن يدخل في الدين ما ليس منه، ولا أن نعتقد في شيء أنه سنة حتى يكون له شبيه أصل، ولا يكفي كونه مباحًا، فإن جَعْله من الدين، أو مطلوبًا، وسنة وشعارًا؛ إنما يكون من جهة الشرع، وما لأحد أن يحدثه، لا شيخ ولا غيره»(1).

 

تنبيه:‌‌ يصحُّ التعبُّد بالمباح في حال واحدةٍ، وهو أن يكون عونًا على فعل الطاعات، فلا يُتعبَّد به لذاته، وإنما لغيره من باب الوسائل، ويدلُّ لهذا ما روى مسلم(2) عن أبي ذرٍّ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «وفي بُضع أحدكم صدقةٌ» قالوا: يا رسول الله! أيأتي أحدنا شهوته ويكون له أجرٌ؟ قال: «أرأيتم لو وضعها في الحرام أكان عليه وزرٌ؟ فكذلك إذا وضعها في الحلال كان له أجرٌ»، وأخرج الشيخان(3) عن سعد بن أبي وقاصٍ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إنك لن تنفق نفقةً تبتغي بها وجه الله، إلا أُجرتَ عليها، حتى ما تجعل في فيِّ امرأتك» وروى البخاري(4) أن أبا موسى قال لمعاذ بن جبل: فكيف تقرأ أنت يا معاذ؟ قال: أنام أوَّل الليل، فأقوم وقد قضيت جزئي من النوم، فأقرأ ما كتب الله لي، فأحتسب نومتي كما أحتسب قومتي».

--------------------------------------------

(1) فتاوى السبكي (2/ 551).

(2) رقم (1006).

(3) أخرجه البخاري رقم (56)، ومسلم رقم (1628).

(4) رقم (4341).
আস-সুবকী বলেন: «এরূপ করা একটি বিদআত; আর দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিছু দ্বীনে প্রবেশ করানো সমীচীন নয়। যতক্ষণ না কোনো জিনিসের মূলের সাথে সাদৃশ্য পাওয়া যায়, ততক্ষণ তাকে সুন্নাহ মনে করা উচিত নয়। শুধু কোনো কাজ মুবাহ (বৈধ) হওয়াই যথেষ্ট নয়; কেননা কোনো বিষয়কে দ্বীনের অংশ, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য, সুন্নাহ বা নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করা কেবল শরীয়তের পক্ষ থেকেই হতে পারে। কোনো ব্যক্তি তা উদ্ভাবন করার অধিকার রাখে না, চাই তিনি শাইখ হোন বা অন্য কেউ»(১)।

 

সতর্কবার্তা:‌‌ একটিমাত্র অবস্থায় মুবাহ (বৈধ) কাজ দ্বারা ইবাদত করা শুদ্ধ হতে পারে, আর তা হলো যদি তা আনুগত্যমূলক কাজ (ইবাদত) পালনে সহায়ক হয়। সুতরাং মুবাহ কাজ নিজস্ব সত্তার কারণে ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় না, বরং অন্য বিষয়ের মাধ্যম হওয়ার কারণে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। এর প্রমাণ হলো ইমাম মুসলিম(২) আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য মিলনেও সদকা রয়েছে» তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি তার কামনাবাসনা পূর্ণ করবে এবং তাতেও কি তার সওয়াব হবে? তিনি বললেন: «তোমরা কি মনে করো, যদি সে তা হারাম উপায়ে পূরণ করত, তবে কি তার গুনাহ হতো না? তদ্রূপ সে যখন তা হালাল উপায়ে পূরণ করে, তখন তার সওয়াব হয়»। বুখারী ও মুসলিম(৩) সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যা কিছুই ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে; এমনকি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুমি তুলে দাও তার জন্যও»। ইমাম বুখারী(৪) বর্ণনা করেছেন যে, আবু মুসা (রা.) মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন: হে মুয়ায, আপনি কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন: আমি রাতের প্রথমাংশে ঘুমিয়ে পড়ি, এরপর আমার ঘুমের প্রয়োজন পূর্ণ হলে আমি দাঁড়িয়ে যাই। এরপর আল্লাহ আমার জন্য যতটুকু লিখে রেখেছেন আমি তিলাওয়াত করি। আমি আমার ঘুমের মাধ্যমেও সওয়াবের আশা করি, যেমনটি আমি আমার ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকার মাধ্যমে সওয়াবের আশা করি»।

--------------------------------------------

(১) ফাতাওয়া আস-সুবকী (২/ ৫৫১)।

(২) নং (১০০৬)।

(৩) বুখারী নং (৫৬), এবং মুসলিম নং (১৬২৮)।

(৪) নং (৪৩৪১)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «وأما إذا فعل المؤمن ما أُبيح له قاصدًا للعدول عن الحرام إلى الحلال لحاجته إليه، فإنه يُثاب على ذلك، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «وفي بضع أحدكم صدقةٌ … »(1).

وقال: «وإذا عرف أن لذَّاتِ الدنيا ونعيمَها إنما هي متاعٌ ووسيلةٌ إلى لَذَّات الآخرة، وكذلك خُلقت، فكل لذةٍ أعانت على لذات الآخرة فهو مما أمر الله به ورسوله، ويُثاب على تحصيل اللذة بما يثوب إليه منها من لذات الآخرة التي أعانت هذه عليها … »(2).

وقال: «ومن كان إنما يفعل ما يحبه الله ويرضاه، ويقصد أن يستعين بما أبيح له على ما أمره الله، فهو من أولئك»(3).

قال ابن القيم: «والعبد إذا عزم على فعل أمرٍ فعليه أن يعلم أولًا هل هو طاعةٌ أم لا؟ فإن لم يكن طاعةً فلا يفعله إلا أن يكون مباحًا يستعين به على الطاعة، وحينئذٍ يصير طاعةً … »(4).

قال ابن رجب بعد حديث أبي ذر السابق: «وظاهر هذا السياق يقتضي أنه يؤجر على جِماعِهِ لأهله بنيِّة طلب الولد الذي يترتب الأجر على تربيته وتأديبه في حياته ويحتسبه عند موته … »(5).

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (7/ 48).

(2) الاستقامة (2/ 152).

(3) الفرقان بين أولياء الرحمن وأولياء الشيطان (ص 37).

(4) إعلام الموقعين (2/ 122).

(5) جامع العلوم والحكم (2/ 62).
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «আর যখন মুমিন ব্যক্তি তার প্রয়োজনে হারাম বর্জন করে হারামের পরিবর্তে হালাল অবলম্বনের উদ্দেশ্যে কোনো বৈধ কাজ করে, তখন সে এর জন্য সওয়াব লাভ করে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আর তোমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য মিলনেও রয়েছে সদকা … »(১).

তিনি আরও বলেছেন: «যখন এটি উপলব্ধি করা যায় যে দুনিয়ার আনন্দ ও নেয়ামতসমূহ আখেরাতের আনন্দের পাথেয় ও মাধ্যম মাত্র, এবং তা এ উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে, তবে যে কোনো আনন্দ যা আখেরাতের আনন্দ লাভে সাহায্য করে, তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল নির্দেশিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। আর এই আনন্দ অর্জনের কারণে সে সওয়াব লাভ করবে সেই আখেরাতের আনন্দের মাধ্যমে যা লাভে এই পার্থিব আনন্দ সহায়ক হয়েছে … »(২).

তিনি আরও বলেছেন: «আর যে ব্যক্তি কেবল তা-ই করে যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, এবং আল্লাহর আদেশ পালনের ক্ষেত্রে তার জন্য বৈধ করা বিষয়ের মাধ্যমে সাহায্য গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত»(৩).

ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: «বান্দা যখন কোনো কাজ করার সংকল্প করে, তখন তার কর্তব্য হলো প্রথমে জানা যে তা আনুগত্যের কাজ কি না। যদি তা আনুগত্যের কাজ না হয়, তবে সে তা করবে না; যদি না তা এমন কোনো বৈধ কাজ হয় যার মাধ্যমে সে আনুগত্যের কাজে সাহায্য লাভ করতে পারে। এমতাবস্থায় তা আনুগত্যের কাজে পরিণত হয় … »(৪).

আবু যার-এর পূর্বোক্ত হাদিসের বর্ণনার পর ইবনে রজব বলেছেন: «এই প্রসঙ্গের বাহ্যিক অর্থ এটিই দাবি করে যে, সে তার স্ত্রীর সাথে মিলনের জন্য সওয়াব পাবে যদি তার নিয়ত থাকে সন্তান লাভের, যার লালন-পালন ও শিষ্টাচার শিক্ষার ওপর সওয়াব নির্ভর করে তার জীবদ্দশায় এবং সে সওয়াব প্রত্যাশা করে তার মৃত্যুর সময় … »(৫).

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (৭/ ৪৮)।

(২) আল-ইস্তিকামাহ (২/ ১৫২)।

(৩) আল-ফুরকান বাইনা আওলিয়া ইর-রহমান ওয়া আওলিয়া ইশ-শয়তান (পৃ. ৩৭)।

(৪) ইলামুল মুওয়াক্কিইন (২/ ১২২)।

(৫) জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম (২/ ৬২)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال ابن حجر: «المباحات يؤجر عليها بالنية إذا صارت وسائلَ للمقاصد الواجبة أو المندوبة أو تكميلًا»(1)، وقال - أيضًا -: «طريقة النبي صلى الله عليه وسلم الحنيفية السَّمحة، فيُفطر ليتقوى على الصوم، وينام ليتقوَّى على القيام، ويتزوج لكسر الشهوة وإعفاف النفس وتكثير النسل»(2).

المقدمة الخامسة

البدع كلها محرمة

إن كل بدعة في الدين محرمة، ومن الأدلة على ذلك ما يلي:

الدليل الأول: أخرج الشيخان(3) عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس فيه، فهو ردٌّ».

وجه الدلالة: أن البدع مردودة، وما كان كذلك فهو محرم، قال ابن القيم: «لأنها بدعة محرمة، والبدعة مردودة»(4).

الدليل الثاني: أخرج مسلم عن جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة» (3).

وجه الدلالة: أن المحدثات والبدع شر الأمور، وهي ضلالة، فما كان كذلك فهي محرمة.

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (12/ 275).

(2) المرجع السابق (9/ 105)، وانظر مجموع الفتاوى (10/ 534 - 535).

(3) سبق تخريجه.

(4) زاد المعاد (5/ 226).
ইবনে হাজার বলেন: «বৈধ কাজসমূহের ওপর নিয়তের মাধ্যমে সওয়াব লাভ হয় যখন সেগুলো ওয়াজিব বা মুস্তাহাব লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম অথবা তার পরিপূরক হিসেবে গণ্য হয়»(১), তিনি আরও বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ ছিল সহজ-সরল ও একনিষ্ঠ পথ। তাই তিনি ইফতার করতেন যাতে সওম পালনের শক্তি অর্জিত হয়, তিনি ঘুমাতেন যাতে কিয়ামুল লাইল বা রাতের সালাতের শক্তি পাওয়া যায়, এবং তিনি বিবাহ করতেন কামভাব প্রশমন, আত্মসংযম এবং বংশবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে»(২)।

পঞ্চম ভূমিকা

সকল বিদআতই হারাম

নিশ্চয়ই দ্বীনের মধ্যে প্রতিটি বিদআত হারাম, আর এর সপক্ষে দলীলসমূহ নিম্নরূপ:

প্রথম দলীল: শাইখাইন(৩) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে এমন নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য»।

দলীলের প্রাসঙ্গিকতা: বিদআত বর্জনীয় বা প্রত্যাখ্যাত, আর যা বর্জনীয় তা হারাম। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: «কারণ এটি একটি হারাম বিদআত, আর বিদআত মাত্রই প্রত্যাখ্যানযোগ্য»(৪)।

দ্বিতীয় দলীল: ইমাম মুসলিম জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত বিষয়াদি এবং প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা» (৩)।

দলীলের প্রাসঙ্গিকতা: নব-উদ্ভাবিত বিষয় ও বিদআত হলো নিকৃষ্টতম কাজ এবং তা পথভ্রষ্টতা; আর যা এমন তা অবশ্যই হারাম বা নিষিদ্ধ।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (১২/ ২৭৫)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৯/ ১০৫), এবং দেখুন মাজমুউল ফাতাওয়া (১০/ ৫৩৪ - ৫৩৫)।

(৩) এর তথ্যসূত্র পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

(৪) জাদুল মাআদ (৫/ ২২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الدليل الثالث: عن العرباض بن سارية أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «وإياكم ومحدثاتِ الأمور، فإنها ضلالة» أخرجه الخمسة إلا النسائي(1).

وجه الدلالة: أنه نهى عنها بقوله: «وإياكم» ثم وصفها بأنها ضلالة، وما كان كذلك فهو محرم.

الدليل الرابع: أقوال الصحابة، قال ابن مسعود: «اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم»(2)، وقال ابن عمر: «وكل بدعة ضلالةٌ وإن رآها الناس حسنةً»(3) (1)، وجعل ابن مسعود المحْدِثين للذكر الجماعي بالحصى مفتتحي بابِ ضلالة، فقال: «ما هذا الذي أراكم تصنعون؟» قالوا: يا أبا عبد الرحمن حصًى نعدُّ به التكبير والتهليل والتسبيح، قال: «فعُدُّوا سيئاتِكم، فأنا ضامن أن لا يضيع من حسناتكم شيءٌ، ويحكم يا أمة محمد، ما أسرع هلكتكم، هؤلاء صحابة نبيكم صلى الله عليه وسلم متوافرون، وهذه ثيابه لم تبلَ، وآنيته لم تُكسَرْ، والذي نفسي بيده، إنكم لعلى ملَّةٍ هي أهدى من ملَّة محمد صلى الله عليه وسلم أو مفتتحو بابِ ضلالة»(4).

الدليل الخامس: إجماع السلف الصالح على أن كل بدعة ضلالة، كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «مسألة أن كل بدعة في الدين ضلالة محرمة، هذا مما أجمع عليه الصحابة والسلف الصالح»(5).

فكل من زعم أن من البدع بالمعنى الشرعي ما ليس محرمًا فهو محجوج بهذا الإجماع.

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه.

(2) أخرجه ابن خيثمة في كتاب العلم (ص 16)، وابن وضاح في البدع (ص 37).

(3) المدخل إلى السنن الكبرى للبيهقي (1/ 180)

(4) سنن الدارمي رقم (210).

(5) اقتضاء الصراط المستقيم (1/ 64).
তৃতীয় দলিল: ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা নবউদ্ভাবিত বিষয়াদি সম্পর্কে সতর্ক থাকো, কেননা তা ভ্রষ্টতা»। এটি নাসাঈ ব্যতীত সুনান গ্রন্থের পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন(১)।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: তিনি «তোমরা সতর্ক থাকো» বলে তা থেকে নিষেধ করেছেন, এরপর সেগুলোকে ভ্রষ্টতা বলে অভিহিত করেছেন। আর যা এরূপ (ভ্রষ্টতা), তা হারাম।

চতুর্থ দলিল: সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: «তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কেননা তোমাদের জন্য (দীনের যা দেওয়া হয়েছে তা-ই) যথেষ্ট»(২)। ইবনে উমর (রা.) বলেন: «প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা, যদিও মানুষ সেটাকে উত্তম মনে করুক না কেন»(৩) (১)। ইবনে মাসউদ (রা.) কঙ্করের মাধ্যমে সমষ্টিগত যিকিরকারী নতুন উদ্ভাবকদের ভ্রষ্টতার দ্বার উন্মোচনকারী সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছিলেন: «তোমরা যা করছ তা কী?» তারা বলল: হে আবু আবদুর রহমান, এগুলো কঙ্কর, যা দিয়ে আমরা তাকবীর, তাহলীল ও তাসবীহ গণনা করছি। তিনি বললেন: «বরং তোমরা তোমাদের পাপগুলো গণনা করো, আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি যে তোমাদের নেক আমলের কিছুই নষ্ট হবে না। হে মুহাম্মদের উম্মত, তোমাদের ধ্বংস কতই না নিকটে! তোমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণ এখনো পর্যাপ্ত সংখ্যায় বিদ্যমান আছেন, তাঁর পোশাক এখনো জীর্ণ হয়নি এবং তাঁর পাত্রগুলো এখনো ভেঙে যায়নি। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, হয় তোমরা এমন এক মিল্লাতের (আদর্শের) ওপর আছ যা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মিল্লাতের চেয়েও সঠিক, অথবা তোমরা ভ্রষ্টতার দ্বার উন্মোচন করছ»(৪)।

পঞ্চম দলিল: প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা—এ বিষয়ে সালাফে সালেহীনের ঐকমত্য (ইজমা)। যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «দীনের মধ্যে প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা ও হারাম—এই বিষয়টি সাহাবী এবং সালাফে সালেহীনের ঐকমত্য দ্বারা প্রতিষ্ঠিত»(৫)।

সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে শরয়ি পরিভাষায় বিদআতের মধ্যে এমন কিছু আছে যা হারাম নয়, এই ইজমা তার বিপক্ষে অকাট্য দলিল।

--------------------------------------------

(১) এর সূত্র ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) ইবনে খাইসামাহ ‘কিতাবুল ইলম’ (পৃ. ১৬) এবং ইবনে ওয়াদ্দাহ ‘আল-বিদা’ (পৃ. ৩৭) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) বায়হাক্বী রচিত ‘আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা’ (১/ ১৮০)।

(৪) সুনানুদ দারেমী, হাদিস নং (২১০)।

(৫) ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম (১/ ৬৪)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويزيد هذا الإجماعَ قوَّةً؛ إجماعُ العلماء على أن المعاصي الشبهاتية (البدع) أشدُّ إثمًا من المعاصي الشهوانية، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «أهل البدع شرٌّ من أهل المعاصي الشهوانية بالسنة والإجماع»(1).

فبهذا يتبين أن البدع أشد إثمًا من الكبائر.

وسيأتي - إن شاء الله - تقرير الشاطبي لذلك.

الدليل السادس: أن للبدع لوازمَ شنيعةً، منها زَعْم أنَّ الدين لم يكملْ، فتكون تكذيبًا لقوله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا}] المائدة: 3 [.

ومنها اتهام رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه خان الرسالة، قال الإمام مالك بن أنس:

«من أحدث في هذه الأمة اليوم شيئًا لم يكن عليه سلفُها، فقد زعم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خان الرسالة؛ لأن الله تعالى يقول: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا}. فما لم يكن يومئذٍ دينًا، لا يكون اليوم دينًا»(2).

وهذه اللوازم لا توجد في عموم المعاصي الشهوانية من الصغائر والكبائر.

ومما يؤكد أن البدعة أشد إثمًا من المعاصي الشهوانية، كلماتُ أهل العلم في ذم البدع، وتقدم نقل طرف منها.

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (20/ 103).

(2) أخرجه ابن حزم في الإحكام في أصول الأحكام (6/ 58).
এই ঐক্যমতকে আরও শক্তিশালী করে আলেমদের সেই ঐক্যমত যে, সংশয়ভিত্তিক অবাধ্যতা (বিদআত) প্রবৃত্তিগত অবাধ্যতার চেয়ে অধিক পাপের কাজ। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: «সুন্নাহ এবং ইজমা অনুযায়ী বিদআতীরা কামনাবাসনা চরিতার্থকারী পাপীদের চেয়েও নিকৃষ্ট»(১).

এর দ্বারা এটি স্পষ্ট হয় যে, বিদআত কবিরা গুনাহের চেয়েও গুরুতর পাপ।

ইনশাআল্লাহ, এ বিষয়ে ইমাম শাতিবীর বিবরণ সামনে আসবে।

ষষ্ঠ দলিল: বিদআতের কিছু জঘন্য অনিবার্য পরিণতি রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো— দ্বীন পূর্ণতা পায়নি বলে দাবি করা। এমতাবস্থায় এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মিথ্যা প্রতিপন্ন করার শামিল হবে: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩]।

অপর একটি হলো— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর রিসালাতের খিয়ানত করার অপবাদ দেওয়া। ইমাম মালিক ইবনে আনাস বলেন:

«যে ব্যক্তি আজকে এই উম্মতের মাঝে এমন কিছু নতুনভাবে উদ্ভাবন করল যা তাদের পূর্বসূরিদের (সালাফ) মাঝে ছিল না, সে যেন ধারণা করল যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালাতের খিয়ানত করেছেন। কেননা মহান আল্লাহ বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম}। সুতরাং সেই দিন যা দ্বীন হিসেবে গণ্য ছিল না, আজকেও তা দ্বীন হিসেবে গণ্য হবে না»(২).

সাধারণ কামনাবাসনাজনিত সগিরা বা কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে এই জঘন্য পরিণতিগুলো বিদ্যমান নেই।

বিদআত যে কামনাবাসনাজনিত পাপের চেয়ে অধিক গুরুতর, তা বিদআতের নিন্দায় আলেমদের বক্তব্য থেকেও প্রমাণিত হয়, যার একটি অংশ পূর্বে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (২০/ ১০৩)।

(২) ইবনে হাজম এটি 'আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৬/ ৫৮)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال الشاطبي: «وحاصل ما ذكر هنا(1) أن كل مبتدع آثم، ولو فرض عاملًا بالبدعة المكروهة، إنْ ثبتَ فيها كراهةُ التنزيه»(2).

وقال: «أما الشرعُ، ففيه ما يدل على خلاف ذلك(3)؛ لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم ردَّ على من قال: أما أنا فأقوم الليل ولا أنام، وقال الآخر: أما أنا فلا أنكح النساء … إلى آخر ما قالوا، فرد عليهم ذلك صلى الله عليه وسلم وقال: «من رغب عن سنتي فليس مني»(4).

وهذه العبارة من أشد شيء في الإنكار، ولم يكن ما التزموهُ إلا فعلَ مندوبٍ، أو تركَ مندوبٍ إلى فِعْلِ مندوبٍ آخرَ - ثم قال -:

«وكلية قوله: «كل بدعة ضلالة» شاهدة لهذا المعنى، والجميع يقتضي التأثيم والتهديد والوعيد، وهي خاصية المحرم» - ثم قال -:

«والشواهد في هذا المعنى كثيرة، وهي تدل على أن الهيِّنَ عند الناس من البدع؛ شديدٌ وليس بهيِّنٍ، {وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ}] النور: 15 [- ثم قال -:

«المحرم ينقسم في الشرع إلى ما هو صغيرة، وإلى ما هو كبيرة، حسبما تبين في علم الأصول الدينية، فكذلك يقال في البدع المحرمة: إنها تنقسم إلى الصغيرة والكبيرة اعتبارًا بتفاوت درجاتها كما تقدم، وهذا على القول بأن المعاصي تنقسم إلى الصغيرة والكبيرة» - ثم قال -:

--------------------------------------------

(1) أي في أن ذم البدع والمحدثات عام لكل محدثة.

(2) الاعتصام (1/ 251).

(3) أي ليس في الدين بدعة مكروهة كراهة تنزيهية.

(4) سيأتي تخريجه.
ইমাম শাতবি বলেন: «এখানে যা বর্ণিত হয়েছে তার সারমর্ম হলো(১) যে, প্রত্যেক বিদআতকারীই পাপিষ্ঠ, এমনকি যদি তাকে মাকরুহ বিদআতের ওপর আমলকারী ধরে নেওয়া হয় এবং তাতে কারাহাতে তানজিহিয়া (সামান্য অপছন্দীয়তা) সাব্যস্ত হয় তবুও»(২)।

তিনি বলেন: «আর শরীয়তের বিধানে এমন প্রমাণ বিদ্যমান যা এর বিপরীত বিষয়ের ইঙ্গিত দেয়(৩); কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছিলেন যে বলেছিল: আমি সারা রাত সালাত আদায় করব এবং ঘুমাব না, আর অপরজন বলেছিল: আমি নারী বিবাহ করব না... তাদের বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কথার প্রতিবাদ করে বললেন: «যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার দলভুক্ত নয়»(৪)।

তিরস্কারের ক্ষেত্রে এই উক্তিটি অত্যন্ত কঠোর, অথচ তারা যা নিজেদের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছিল তা কোনো মুস্তাহাব কাজ সম্পাদন করা বা একটি মুস্তাহাব কাজ ছেড়ে অন্য একটি মুস্তাহাব কাজ করার চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। - অতঃপর তিনি বলেন -:

«আর তাঁর বাণী: "প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা"-এর ব্যাপকতা এই অর্থের সাক্ষ্য দেয়। আর এর সবকিছুই পাপাচার সাব্যস্তকরণ, ভীতিপ্রদর্শন ও সতর্কবাণীর দাবি রাখে, যা মূলত হারামেরই বৈশিষ্ট্য» - অতঃপর তিনি বলেন -:

«এই অর্থে অনেক প্রমাণাদি রয়েছে, যা এই নির্দেশ করে যে, মানুষের নিকট বিদআতের যা অতি নগণ্য মনে হয়, তা আসলে অত্যন্ত গুরুতর এবং নগণ্য নয়। {আর তোমরা একে অতি সামান্য মনে করছিলে, অথচ আল্লাহর নিকট তা অত্যন্ত গুরুতর} [আন-নূর: ১৫]» - অতঃপর তিনি বলেন -:

«শরীয়তে হারাম বিষয়সমূহ সগিরা (ছোট গুনাহ) এবং কবিরা (বড় গুনাহ) এই দুই ভাগে বিভক্ত, যেমনটি ধর্মতত্ত্বের মূলনীতি শাস্ত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে। তদ্রূপ হারাম বিদআত সম্পর্কেও বলা হয়: সেগুলোর স্তরের ভিন্নতা অনুযায়ী সেগুলো সগিরা ও কবিরা গুনাহে বিভক্ত, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর এটি ওই মতের ভিত্তিতে যে গুনাহসমূহ সগিরা ও কবিরায় বিভক্ত» - অতঃপর তিনি বলেন -:

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয়ের নিন্দা প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক।

(২) আল-ইতিসাম (১/ ২৫১)।

(৩) অর্থাৎ দ্বীনের মধ্যে 'কারাহাতে তানজিহিয়া' বা সামান্য অপছন্দনীয় পর্যায়ের কোনো বিদআত নেই।

(৪) সামনে এর সূত্রায়ন (তাখরিজ) আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
«فكما انحصرت كبائر المعاصي أحسنَ انحصار - حسبما أشير إليه في ذلك الكتاب -؛ كذلك تنحصر كبائر البدع أيضًا، وعند ذلك يعترض في المسألة إشكالٌ عظيم على أهل البدع يعسر التخلص منه في إثبات الصغائر فيها، وذلك أن جميع البدع راجعة إلى الإخلال بالدين، إما أصلًا، وإما فرعًا؛ لأنها إنما أحدثت لتلحق بالمشروع؛ زيادةً فيه، أو نقصانًا منه، أو تغييرًا لقوانينه، أو ما يرجع إلى ذلك، وليس ذلك بمختص بالعبادات دون العادات؛ إن قلنا بدخولها في العادات، بل تشمل الجميع.

وإذا كانت بكليتها إخلالًا بالدين؛ فهي إذًا إخلالٌ بأول الضَّروريات، وهو الدِّين، وقد أثبت الحديث الصحيحُ أنَّ كل بدعة ضلالة، وقال في الفِرَق: «كلها في النار إلا واحدة»(1)، وهذا وعيد أيضا للجميع على التفصيل.

هذا وإن تفاوتت مراتبها في الإخلال بالدين فليس ذلك بمخرج لها عن أن تكون كبائرَ، كما أن القواعد الخمس أركانُ الدين، وهي متفاوتة في الترتيب، فليس الإخلال بالشهادتين كالإخلال بالصلاة، ولا الإخلال بالصلاة كالإخلال بالزكاة، ولا الإخلال بالزكاة كالإخلال برمضان، وكذلك سائرها، مع أن الإخلال بكل واحد منها كبيرة، فقد آل النظر إلى أن كل بدعة كبيرة»(2).

--------------------------------------------

(1) سنن أبي داود رقم (3991)، سنن ابن ماجه رقم (3993)، مسند أحمد (19/ 241).

(2) الاعتصام (2/ 380 - 389).
«যেহেতু বড় গুনাহসমূহকে অত্যন্ত নিপুণভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে—যেমনটি সেই কিতাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে—তেমনিভাবে বিদআতের বড় বিষয়গুলোও বিন্যস্ত। এমতাবস্থায় বিদআতিদের জন্য এমন এক বিশাল তাত্ত্বিক সংকটের উদ্ভব হয় যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া এবং বিদআতের ক্ষেত্রে 'সগীরা' বা ছোট বিদআতের অস্তিত্ব প্রমাণ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এর কারণ হলো, সকল বিদআতই দ্বীনের মধ্যে বিচ্যুতি ঘটানোর পর্যায়ভুক্ত, তা মূলনীতির ক্ষেত্রে হোক বা শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে; কেননা বিদআত উদ্ভাবনই করা হয়েছে শরয়ি বিষয়ের সাথে নতুন কিছু সংযোজন করার জন্য; চাই তা পরিমাণে বাড়ানো হোক, কমানো হোক, শরয়ি বিধান পরিবর্তন করা হোক কিংবা এ জাতীয় অন্য কিছু। এটি কেবল ইবাদতের সাথেই সুনির্দিষ্ট নয়, বরং পার্থিব প্রথা বা অভ্যাসের (আদাত) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য—যদি আমরা সেগুলোকে এর আওতাভুক্ত মনে করি—বরং এটি উভয় ক্ষেত্রকেই শামিল করে।

আর যেহেতু এটি সামগ্রিকভাবে দ্বীনের মধ্যে বিচ্যুতি ঘটানো, তাই এটি মৌলিক পঞ্চ-প্রয়োজনীয়তার (জরুরিয়াত) প্রথম লক্ষ্য অর্থাৎ 'দ্বীন' বা ধর্মের মধ্যেই বিচ্যুতি ঘটানো। সহিহ হাদিস দ্বারা এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, "প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা", এবং দল-উপদল সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "তার প্রতিটিই জাহান্নামে যাবে একটি ব্যতীত", যা বিস্তারিতভাবে সবার জন্যই এক প্রকার হুঁশিয়ারি।

তদুপরি, দ্বীনের মধ্যে বিচ্যুতি ঘটানোর ক্ষেত্রে বিদআতের স্তরে তারতম্য থাকলেও, তা বিদআতসমূহকে 'কবীরা' হওয়া থেকে খারিজ করে দেয় না। যেমন ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ বা ভিত্তি বিন্যাসের দিক থেকে পরস্পর ভিন্ন ভিন্ন স্তরের। শাহাদাতদ্বয়ের (কালিমা) বিচ্যুতি নামাজের বিচ্যুতির মতো নয়, নামাজের বিচ্যুতি জাকাতের বিচ্যুতির মতো নয়, আর জাকাতের বিচ্যুতি রমজানের (রোজা) বিচ্যুতির মতো নয় এবং বাকিগুলোর ক্ষেত্রেও অনুরূপ। অথচ এগুলোর প্রত্যেকটির বিচ্যুতিই এক একটি কবীরা গুনাহ। সুতরাং গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত এই যে, প্রতিটি বিদআতই কবীরা বা বড় গুনাহ।»(২).

--------------------------------------------

(১) সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং (৩৯৯১); সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং (৩৯৯৩); মুসনাদে আহমাদ (১৯/২৪১)।

(২) আল-ইতিসাম (২/৩৮০ - ৩৮৯)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
المقدمة السادسة

كل بدعة ضلالة ولا يوجد في الدين بدعة حسنة

ويدل لذلك ما يلي:

الأمر الأول: عموم الأدلة فإنها تدل على أن البدع كلها ضلالة، وأنه لا توجد بدعة حسنة. كحديث جابر: «كل بدعة ضلالة»(1)، وحديث العرباض ابن سارية: «إياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة» (1)، وحديث عائشة: «من أحدث في أمرنا ما ليس منه فهو رد» (1).

قوله: «أحدث» فعل في سياق الشرط يفيد العموم.

وقوله: «أمرنا» عام لأنه نكرة مضافة.

قال الشاطبي: «قد ثبت في الأصول العلمية أن كل قاعدة كلية، أو دليل شرعي كلي إذا تكررت في مواضع كثيرة، وأتي بها شواهد على معان أصولية أو فروعية، ولم يقترن بها تقييد ولا تخصيص، مع تكررها، وإعادة تقريرها، فذلك دليل على بقائها على مقتضى لفظها من العموم، كقوله تعالى: {وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى}] الأنعام: 164 [، {وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى}] النجم: 39 [وما أشبه ذلك، وبسط الاستدلال على ذلك هنالك.

فما نحن بصدده من هذا القبيل، إذ جاء في الأحاديث المتعددة والمتكررة في أوقات شتى، وبحسب الأحوال المختلفة أن كل بدعة ضلالة، وأن كل محدثة بدعة، وما كان نحو ذلك من العبارات الدالة على أن البدع في الدين كلها مذمومة.

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه.
ষষ্ঠ ভূমিকা

প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং ধর্মে কোনো উত্তম বিদআত (বিদআতে হাসানা) নেই

নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ এর প্রমাণ দেয়:

প্রথম বিষয়: দলিলের ব্যাপকতা; কেননা দলিলসমূহ নির্দেশ করে যে সকল বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং কোনো বিদআতই উত্তম নয়। যেমন জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিস: «প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা»(১), এবং ইরবাদ বিন সারিয়া (রা.) বর্ণিত হাদিস: «তোমরা নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কেননা প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত» (১), এবং আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত» (১)।

তাঁর উক্তি: «উদ্ভাবন করল» শব্দটি শর্তের প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত একটি ক্রিয়া, যা ব্যাপকতা (উমুম) প্রকাশ করে।

এবং তাঁর উক্তি: «আমাদের বিষয় (দ্বীন)» শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক, কারণ এটি একটি সম্বন্ধযুক্ত বিশেষ্য।

ইমাম শাতবি বলেন: «ইলমি উসুলে এটি প্রমাণিত যে, প্রতিটি সার্বিক মূলনীতি বা শারঈ দলিল যখন বহু স্থানে বারবার আসে এবং মৌলিক (উসুলি) বা শাখা পর্যায়ের (ফুরুয়ি) বিষয়ের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়, অথচ বারবার উল্লিখিত হওয়া সত্ত্বেও তার সাথে কোনো সীমাবদ্ধতা (তাকয়ীদ) বা বিশেষীকরণ (তাখসিস) যুক্ত থাকে না, তবে সেটি তার শব্দের দাবি অনুযায়ী ব্যাপকতার ওপর বহাল থাকার প্রমাণ। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর কোনো বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না} [আল-আনআম: ১৬৪], {আর মানুষের জন্য কেবল তা-ই থাকে যা সে করার চেষ্টা করে} [আন-নাজম: ৩৯] এবং অনুরূপ আয়াতসমূহ। সেখানে এর স্বপক্ষে বিস্তারিত দলিল পেশ করা হয়েছে।

আমরা বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি তাও এই পর্যায়ের; যেহেতু বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বর্ণিত একাধিক হাদিসে বারবার এসেছে যে, প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত। এই জাতীয় সকল শব্দ বা বাক্য এই অর্থই প্রকাশ করে যে, দ্বীনের মধ্যে সকল বিদআতই নিন্দনীয়।

--------------------------------------------

(১) ইতিপূর্বে এর সূত্র ও সনদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ولم يأت في آية ولا حديث تقييد ولا تخصيص، ولا ما يفهم منه خلاف ظاهر الكلية فيها. فدل ذلك دلالة واضحة على أنها على عمومها وإطلاقها»(1).

الأمر الثاني: عموم آثار الصحابة. قال ابن مسعود: اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم(2). وقال ابن عمر: وكل بدعة ضلالة وإن رآها الناس حسنة (2).

الأمر الثالث: الإجماع. حكاه ابن تيمية والشاطبي.

1 - قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «مسألة أن كل بدعة في الدين ضلالة محرمة، هذا مما أجمع عليه الصحابة والسلف الصالح»(3).

وقال: «ومن تعبد بعبادة ليست واجبة ولا مستحبة وهو يعتقدها واجبة أو مستحبة؛ فهو ضال مبتدع بدعةً سيئة، لا بدعة حسنة، باتفاق أئمة الدين، فإن الله لا يُعبد إلا بما هو واجب أو مستحب»(4).

2 - قال الشاطبي: «أن ذم البدع والمحْدَثات عام لا يخص محدثة دون غيرها، ويدخل تحت هذه الترجمة النظرُ في جملة من شبه المبتدعة التي احتجوا بها».

ثم قال: «إجماع السلف الصالح من الصحابة والتابعين ومن يليهم على ذمها كذلك، وتقبيحها والهروب عنها، وعمن اتسم بشيء منها، ولم يقع منهم في ذلك توقف ولا مثنوية، فهو بحسب الاستقراء إجماع ثابت، فدل على أن كل بدعة ليست بحق، بل هي من الباطل» (1).

--------------------------------------------

(1) الاعتصام (1/ 245).

(2) سبق تخريجه.

(3) اقتضاء الصراط المستقيم (1/ 64).

(4) قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة (ص 25).
"কোনো আয়াত বা হাদিসে একে সীমাবদ্ধ বা নির্দিষ্ট করার মতো কোনো প্রমাণ আসেনি, কিংবা এমন কিছুও নেই যা থেকে এর সামগ্রিকতার বাহ্যিক অর্থের বিপরীত কিছু বোঝা যায়। অতএব, এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এটি তার ব্যাপকতা এবং নিরঙ্কুশতার ওপরই বহাল রয়েছে"(১)।

দ্বিতীয় বিষয়: সাহাবায়ে কেরামের আসার বা বর্ণনাসমূহের ব্যাপকতা। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কেননা তোমাদের জন্য (দীনের বিষয়গুলো) যথেষ্ট করা হয়েছে"(২)। ইবনে উমর (রা.) বলেন: "প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা, যদিও মানুষ তাকে উত্তম মনে করুক" (২)।

তৃতীয় বিষয়: ইজমা বা ঐকমত্য। ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আশ-শাতিবি এটি বর্ণনা করেছেন।

১ - শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "দীনের মধ্যে প্রতিটি বিদআতই যে নিষিদ্ধ ভ্রষ্টতা, এ বিষয়টি সাহাবায়ে কেরাম এবং সালাফে সালেহীনের ঐকমত্য দ্বারা স্বীকৃত"(৩)।

তিনি আরও বলেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো ইবাদত দ্বারা উপাসনা করল যা ওয়াজিবও নয় আবার মুস্তাহাবও নয়, অথচ সে তা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব মনে করে পালন করল; তবে সে দীনের ইমামগণের ঐকমত্য অনুযায়ী একজন ভ্রষ্ট এবং মন্দ বিদআতের উদ্ভাবক, তা কোনোভাবেই উত্তম বিদআত নয়। কেননা আল্লাহর ইবাদত কেবল তা দিয়েই করা যায় যা ওয়াজিব কিংবা মুস্তাহাব"(৪)।

২ - আশ-শাতিবি বলেন: "বিদআত এবং নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহের নিন্দা ব্যাপক, এটি কোনো নির্দিষ্ট নতুন বিষয়ের জন্য খাস নয়। আর এই শিরোনামের অধীনে বিদআতিদের পেশ করা সংশয়সমূহের পর্যালোচনাও অন্তর্ভুক্ত হবে"।

অতঃপর তিনি বলেন: "অনুরূপভাবে সাহাবা, তাবেয়ীন এবং পরবর্তী যুগের সালাফে সালেহীনদের ঐকমত্যও এর নিন্দার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা একে অত্যন্ত মন্দ সাব্যস্ত করতেন এবং বিদআত ও বিদআতিদের থেকে দূরে থাকতেন। এ বিষয়ে তাদের মাঝে কোনো দ্বিধা বা দ্বিমত ছিল না। সুতরাং গভীর অনুসন্ধান অনুযায়ী এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ইজমা, যা প্রমাণ করে যে প্রতিটি বিদআতই সত্য নয় বরং তা বাতিলের অন্তর্ভুক্ত" (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইতিসাম (১/ ২৪৫)।

(২) এর তথ্যসূত্র পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

(৩) ইক্তিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (১/ ৬৪)।

(৪) কায়েদাহ জালীলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসীলাহ (পৃ. ২৫)।
(খণ্ড: ১) আল-হাক্কুল আবলাজ ফী দাহযি শুবুহাতি মাফহুমিল বিদআহ লিল আরফাজ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الأمر الرابع: القول بأن في الدين بدعةً حسنةً تناقضٌ، وذلك أنه إما أن يدل الدليل على هذه البدعة، أو لا، فإن دلّ الدليل عليها فلا يصح أن تسمى بدعة؛ لأن الدليل دل عليها، فتكون من الدين لا من البدع، وإما أن لا يدل الدليل عليها فهي مردودة؛ لأن الأصل في العبادات التوقف والمنع.

قال الشاطبي: «أن هذا التقسيم(1) أمر مخترع لا يدل عليه دليل شرعي، بل هو في نفسه متدافع، لأن من حقيقة البدعة أن لا يدل عليها دليل شرعي لا من نصوص الشرع، ولا من قواعده، إذ لو كان هنالك ما يدل من الشرع على وجوبٍ أو ندب أو إباحة لما كان ثَمَّ بدعةٌ، ولكان العمل داخلًا في عموم الأعمال المأمور بها، أو المخير فيها، فالجمع بين كون تلك الأشياء بدعًا، وبين كون الأدلة تدل على وجوبها أو ندبها أو إباحتها، جمعٌ بين متنافيين»(2).

وقد خالف بعض المتأخرين وزعموا أن في الدين بدعةً حسنة، واستدلوا بأمور أشهرها ما يلي:

أولًا: روى الخطيب عن أنس أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فما رآه المسلمون حسنًا فهو عند الله حسنٌ»(3).

--------------------------------------------

(1) أي إلى بدعة حسنة وضلالة، وهو في معرض التقرير أن البدع كلها ضلالة.

(2) الاعتصام (1/ 327).

(3) تاريخ بغداد (4/ 387) ولفظه: «إن الله نظر في قلوب العباد فلم يجد قلبًا أتقى من أصحابي، ولذلك اختارهم فجعلهم أصحابًا، فما استحسنوا فهو عند الله حسن، وما استقبحوا فهو عند الله قبيح».
চতুর্থ বিষয়: দীনের মধ্যে ‘বিদআতে হাসানাহ’ বা উত্তম বিদআত আছে বলে দাবি করা একটি স্ববিরোধী বিষয়। কারণ, হয় এই বিদআতের পক্ষে কোনো দলিল থাকবে, অথবা থাকবে না। যদি এর স্বপক্ষে দলিল থাকে, তবে তাকে বিদআত বলা সঠিক হবে না; কেননা দলিল যখন এর স্বপক্ষে বিদ্যমান, তখন তা দীনেরই অংশ হিসেবে গণ্য হবে, বিদআত নয়। আর যদি এর পক্ষে কোনো দলিল না থাকে, তবে তা প্রত্যাখ্যাত; কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো কোনো দলিল না থাকা পর্যন্ত বিরত থাকা এবং তা নিষিদ্ধ হওয়া।

ইমাম শাতবি বলেন: “নিশ্চয় এই বিভাজনটি(১) একটি উদ্ভাবিত বিষয়, যার পক্ষে কোনো শরিয়তি দলিল নেই। বরং এটি নিজেই স্ববিরোধী। কেননা বিদআতের প্রকৃত রূপই হলো এমন কিছু যার স্বপক্ষে শরিয়তের কোনো পাঠ (নস) বা মূলনীতি থেকে কোনো দলিল নেই। যদি শরিয়তে এর ওয়াজিব (আবশ্যক), মানদুব (পছন্দনীয়) কিংবা মুবাহ (বৈধ) হওয়ার কোনো দলিল থাকতো, তবে সেটি বিদআত হতো না। বরং সেই কাজটি নির্দেশিত অথবা ঐচ্ছিক সাধারণ আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত হতো। সুতরাং, কোনো বিষয়কে একদিকে বিদআত বলা এবং অন্যদিকে তার ওয়াজিব, মানদুব বা মুবাহ হওয়ার সপক্ষে দলিল থাকার দাবি করা—দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়কে একত্র করার নামান্তর”(২)।

তবে পরবর্তীকালের কতিপয় আলেম এর বিরোধিতা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, দীনের মধ্যে ‘বিদআতে হাসানাহ’ রয়েছে। তারা বেশ কিছু বিষয়ের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে প্রসিদ্ধতমগুলো নিচে দেওয়া হলো:

প্রথমত: আল-খাতিব আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “মুসলমানরা যা উত্তম মনে করে, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম”(৩)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ বিদআতকে হাসানাহ (উত্তম) ও দলালাহ (ভ্রষ্টতা) হিসেবে ভাগ করা। আর এটি তিনি এই সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রেক্ষাপটে বলেছেন যে, সকল বিদআতই ভ্রষ্টতা।

(২) আল-ইতিসাম (১/৩২৭)।

(৩) তারিখু বাগদাদ (৪/৩৮৭), এর শব্দগুলো হলো: “নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন এবং আমার সাহাবীদের অন্তরের চেয়ে অধিক তাকওয়াবান কোনো অন্তর পাননি। তাই তিনি তাঁদের মনোনীত করেছেন এবং (নবীর) সাহাবী বানিয়েছেন। সুতরাং তাঁরা যা উত্তম মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম; আর তাঁরা যা মন্দ মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও মন্দ।”