(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: -)
الأمالي لمرتضى الزبيدي   (مرتضى الزبيدي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأمالي - مخطوط

المؤلف: محمّد بن محمّد بن عبد الرزّاق الحسيني، أبو الفيض، الملقّب بمرتضى، الزَّبيدي (ت 1205هـ)

أعده للشاملة: أحمد الخضري

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 88

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুরতাজা আল-জাবীদির আল-আমালি   (মুরতাজা আল-জাবীদি)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-আমালি - পাণ্ডুলিপি

লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-হুসাইনি، আবু আল-ফায়জ، মুরতাজা উপাধিতে পরিচিত، আল-জাবীদি (মৃত্যু ১২০৫ হিজরি)

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমদ আল-খুদরি

[গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৮

শামেলার প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: الأمالي - مخطوط

المؤلف: مرتضى الزبيدي

المتوفى: 1205 هـ

 

[1/ب]

 

الأمالي للسيد مرتضى الزبيدي

 

[2/أ] بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي اتصل فضله فتسلسل وعم تطوله الفاضل والمفضول والأفضل والصلاة والسلام الأكملان على سيدنا ومولانا أشرف مرسل وأطهر متصل وعلى آله وصحبه الموضحين لكل مشكل معضل.

أما بعد

1- فهذه أحاديث وآثار وأشعار مما أمليها من حفظي ولفظي به في زاوية القطب شمس الدين أبي محمود الحنفي عقيب دروس كتاب الشمائل للحافظ أبي عيسى الترمذي جمعتها في هذه الأوراق إحياء لإثار الآثارواهتمام لحفظ الأخبار قبل الإندثار والله المسئول أن ينفعني وإخواني المسلمين آمين، فأول ما نبدأ به ذكر الحديث في القديم والحديث فأقول حدثني به الفقيه المحدث العارف شمس الدين أبو المكارم محمد بن سالم الحفني الشافعي الأزهري إملاء من حفظه ولفظه بمنزله في درب الأتراك سنة 1167 والشيخ الفقيه المحدث أبو المعالي الحسن علي بن أحمد المغطاوي الشافعي الشهير بالمدائني إملاء من حفظه ولفظه لمتنه في حارة المدابغ من مصر في السنة المذكورة وهو أول حديث سمعته منهما قال: حدثنا الفقيه المحدث أبو عبد الله محمد بن عبد السميع وهو أول حديث سمعناه منه في مجلسين متفرقين، حدثنا محدث الحجاز عبد الله بن سالم بن محمد البصري وهو أول حديث سمعته منه، حدثنا الإمام الحافظ أبو عبد الله محمد بن محمد بن سليمان السوسي وهو أول حديث سمعته منه، حدثنا أبو عثمان سعيد بن إبراهيم الجزائري وهو أول حديث سمعته منه سنة 1063، حدثنا أبو عثمان [2/ب]
গ্রন্থ: আল-আমালি - পাণ্ডুলিপি

লেখক: মুর্তজা আল-জাবিদি

মৃত্যু: ১২০৫ হিজরি

 

[১/খ]

 

সাইয়্যিদ মুর্তজা আল-জাবিদি-র আল-আমালি

 

[২/ক] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহ অবিচ্ছিন্ন ও পর্যায়ক্রমিক এবং যাঁর দানশীলতা গুণী, সাধারণ ও শ্রেষ্ঠ সকলের জন্য ব্যাপক। আর পূর্ণাঙ্গ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক শ্রেষ্ঠ রাসূল এবং পবিত্রতম সত্তার ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর, যাঁরা প্রতিটি জটিল সমস্যার সমাধানকারী।

অতঃপর,

১- এগুলো হলো কিছু হাদিস, আসার এবং কবিতা যা আমি হাফেজ আবু ঈসা আত-তিরমিযীর ‘আশ-শামায়েল’ গ্রন্থের পাঠদান শেষে কুতুব শামসুদ্দিন আবু মাহমুদ আল-হানাফির খানকায় আমার স্মৃতি ও জবান থেকে শ্রুতিলিখনের (ইমলা) মাধ্যমে প্রদান করেছি। আমি এই পৃষ্ঠাগুলোতে এগুলোকে সংকলন করেছি আসার (ঐতিহ্য)-এর চিহ্নসমূহ পুনর্জীবিত করতে এবং সংবাদসমূহ বিলুপ্ত হওয়ার আগেই সেগুলো সংরক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনা করে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে এবং আমার মুসলিম ভাইদের উপকৃত করেন, আমিন। সুতরাং আমরা যা দিয়ে শুরু করছি তা হলো প্রাচীন ও আধুনিক যুগে বর্ণিত হাদিসের উল্লেখ। আমি বলছি: আমাকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ফকিহ, মুহাদ্দিস, আরিফ শামসুদ্দিন আবু আল-মাকারিম মুহাম্মদ বিন সালিম আল-হাফনি আশ-শাফিঈ আল-আযহারি তাঁর স্মৃতি ও জবান থেকে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে ১১৬৭ হিজরি সালে ‘দারবুল আতরাক’-এ তাঁর নিজ বাসভবনে; এবং শেখ ফকিহ মুহাদ্দিস আবু আল-মাআলি আল-হাসান আলী বিন আহমদ আল-মাগতাওয়ি আশ-শাফিঈ—যিনি আল-মাদায়িনি নামে পরিচিত—তাঁর স্মৃতি ও জবান থেকে মিশরের ‘হারাতুল মাদাবিগ’-এ উল্লিখিত বছরটিতে এর মূল পাঠের শ্রুতিলিখন প্রদান করেছেন। এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁদের উভয়ের নিকট থেকে শুনেছি। তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফকিহ মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুস সামি', এবং এটিই প্রথম হাদিস যা আমরা তাঁর নিকট থেকে দুটি পৃথক মজলিসে শুনেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিজাযের মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ বিন সালিম বিন মুহাম্মদ আল-বাসরি, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমাম হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলায়মান আস-সুসি, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসমান সাঈদ বিন ইবরাহিম আল-জাজাইরি, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি ১০৬৩ হিজরি সালে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসমান [২/খ]
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২)
سعيد بن أحمد المقريء التلمساني وهو أول حديث سمعته منه بتلمسان سنة 1013، حدثنا أبو العباس بن حجاج وهو أول حديث سمعته منه، حدثنا أبو سالم إبراهيم بن محمد بن علي البازي وهو أول حديث سمعته منه، وحدثنا أبو الفتح محمد بن أبي بكر بن عبد الله المصراغي المدني وهو أول حديث سمعته منه بالمدينة سنة 831، حدثنا الحافظ الوقت زين الدين عبد الرحيم بن الحسين العراقي وهو أول حديث سمعته منه، حدثنا صدر الدين أبو الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم بن أبي القاسم بن عنان بن موسى بن إسماعيل بن عبد الله بن مكي البكري الميدومي سماعا من لفظه وهو أول حديث سمعته من لفظه قال حدثني أبو الفرج عبد اللطيف بن عبد المنعم بن علي بن نصر الحراني وهو أول حديث سمعته من لفظه قال أخبرنا الحافظ أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن الجوزي وهو أول حديث سمعته منه قال:أخبرنا الإمام أبو سعد إسماعيل بن أبي صالح أحمد بن عبد الملك النيسابوري وهو أول حديث سمعته منه قال أخبرنا والدي الإمام أبو صالح أحمد بن عبد الملك المؤذن وهو أول حديث سمعته منه قال:حدثنا الأستاذ أبو طاهرمحمد ابن محمد بن محمش الزيادي وهو أول حديث سمعته منه قال حدثنا أبو حامد أحمد بن محمد بن يحيى بن بلال البزاز وهو أول حديث سمعته منه قال حدثنا عبد الرحمن بن بشر بن الحكم وهو أول حديث سمعته منه قال حدثنا سفيان بن عيينة وهو أول حديث سمعته منه عن عمرو بن دينار عن أبي قابوس مولى عبد الله بن عمرو بن العاصي عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: الراحمون يرحمهم الرحمن تبارك وتعالى ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء.

هذا حديث حسن عال أخرجه البخاري في تصنيفه الكنى والأدب [3/أ]
সাঈদ ইবনে আহমাদ আল-মুকরি আত-তিলিমসানি, এটিই ১০১৩ হিজরি সনে তিলিমসানে তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস ইবনে হাজ্জাজ, এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু সালিম ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আল-বাজি, এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। এবং আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মিসরাগি আল-মাদানি, এটিই ৮৩১ হিজরি সনে মদিনায় তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন সমসাময়িক হাফিজ যাইনুদ্দিন আব্দুর রহিম ইবনে আল-হুসাইন আল-ইরাকি, এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন সাদরুদ্দিন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবিল কাসিম ইবনে ইনান ইবনে মুসা ইবনে ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাক্কি আল-বাকরি আল-মাইদুমি তাঁর মুখ থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে, আর এটিই তাঁর মুখ থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল ফারাজ আব্দুল লতিফ ইবনে আব্দুল মুনইম ইবনে আলি ইবনে নাসর আল-হাররানি, এটিই তাঁর মুখ থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে আলি ইবনুল জাওজি, এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু সাদ ইসমাইল ইবনে আবি সালিহ আহমাদ ইবনে আব্দুল মালিক আন-নিশাপুরি, এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা ইমাম আবু সালিহ আহমাদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-মুআজ্জিন, এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন উস্তাদ আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমিশ আজ-যিয়াদি, এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হামিদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে বিলাল আল-বাজ্জায, এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে বিশর ইবনুল হাকাম, এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা, এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস; তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের মুক্তদাস আবু কাবুস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: দয়াশীলদের ওপর পরম করুণাময় বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের ওপর দয়া করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের ওপর দয়া করবেন।

এটি একটি হাসান ও উচ্চ পর্যায়ের (আলী) হাদিস। ইমাম বুখারি এটি তাঁর রচিত 'আল-কুনা' এবং 'আল-আদাব' গ্রন্থে সংকলন করেছেন [৩/আ]।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ৩)
عن عبد الرحمن بن بشير وأحمد والحميدي في مسنديهما عن ابن عيينة والبيهقي في الشعب عن الزيادي فوافقناه في شيوخهم بعلو ورواه أبو داود في سننه عن مسدد بن مسرهد وأبي بكر بن أبي شيبة والترمذي عن محمد بن يحيى بن أبي عمر العدني ثلاثتهم عن ابن عيينة بدون تسلسل فوقع لنا بدلا لهما عاليا وزاد الترمذي أنه حسن صحيح وأورده الحاكم في مستدركه والمعتمد تسلسله لابن عيينة خاصة وقد جمع طرق هذا الحديث الذهبي والسبكي ومن قبلهما ابن الصلاح ومنصور بن سليم وأبو القاسم السمرقندي في آخرين ووقع تضمينه في النظم لغير واحد من الأئمة ذكرته كله في كتابي الرقاة العلية في الحديث المسلسل بالأولية وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

আবদুর রহমান বিন বশির, আহমদ এবং আল-হুমায়দী থেকে তাঁদের নিজ নিজ মুসনাদ গ্রন্থে ইবনে উয়ায়নাহর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং আল-বায়হাকী ‘শুয়াবুল ঈমান’ গ্রন্থে আয-যিয়াদীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আমরা উচ্চ সনদের মাধ্যমে তাঁদের শায়খদের সাথে মিলিত হয়েছি। আবু দাউদ তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ ও আবু বকর বিন আবি শায়বাহ থেকে এবং আত-তিরমিযী মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবি উমর আল-আদানী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা তিনজনই ইবনে উয়ায়নাহ থেকে তাসালসুল (ধারাবাহিকতা) ব্যতীত এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে আমরা তাঁদের উভয়ের জন্য একটি উচ্চমানের ‘বাদল’ (বিকল্প উচ্চ সনদ) লাভ করেছি। ইমাম তিরমিযী অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে একে ‘হাসান সহীহ’ বলেছেন এবং আল-হাকিম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। নির্ভরযোগ্য মত হলো, এর তাসালসুল কেবল ইবনে উয়ায়নাহর মাধ্যমেই সাব্যস্ত। আয-যাহাবী, আস-সুবকী এবং তাঁদের পূর্বে ইবনুস সালাহ, মানসুর বিন সালিম, আবুল কাসিম আস-সামারকান্দীসহ আরও অনেকে এই হাদিসের সূত্রসমূহ সংকলন করেছেন। একাধিক ইমামের কাব্যগ্রন্থেও এটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমি আমার ‘আর-রুকাতুল আলিয়্যাহ ফিল হাদিসিল মুসালসাল বিল আওয়ালিয়্যাহ’ নামক গ্রন্থে এই সমস্ত বিষয় বিস্তারিত উল্লেখ করেছি। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ৪)
2- إملاء يوم الجمعة عقب درس الشمائل لأربع بقيت من ذي القعدة سنة 1189 عند القطبي أبي محمود الحنفي، أخبرنا أبو المعالي الحسن ابن علي بن أحمد بن عبد الله الشافعي، أخبرنا أبو الجواد بن القاسم بن شرف الدين المحلى الضرير، أخبرنا أبو عبد الله محمد بن العلاء الحافظ، أخبرنا النور علي بن يحيى الزيادي، أخبرنا يوسف بن زكريا أخبرنا أبي أخبرنا الحافظ أبو الفضل العسقلاني، أخبرنا عبد الرحمن بن الحافظ أبي عبد الله الذهبي أخبرنا أبو نصر محمد بن هبة الله بن نصر بن جميل الشيرازي، أخبرنا جدي، أخبرنا الحافظ أبو القاسم علي بن الحسن بن هبة الله بن عساكر الدمشقي، أخبرنا نصر بن أحمد بن مقاتل السوسى حدثنى جدى أبو محمد حدثنا أبو على الحسين بن على الأهوازى حدثنا ابو محمد عبد الله ابن عبد الرحمن بن محمد الأزدى حدثنا أبو الطيب محمد بن جعفر بن داران غندر حدثنا هارون بن عبد العزيز بن أحمد العباسى حدثنا احمد بن الحسن المقرىء البزار حدثنا أبو عبد الله محمد بن عيسى الكسائى واحمد بن زهير وإسحاق بن إبراهيم بن إسحاق فقالوا حدثنا على بن الجهم قال كنت عند المتوكل فتذاكروا عنده الجمال فقال ان حسن الشعر لمن الجمال [3/ب]
২- ১১৮৯ হিজরি সালের জিলকদ মাসের চার দিন বাকি থাকতে জুমার দিন শামায়িল পাঠের পর কুতুবী আবু মাহমুদ আল-হানাফীর নিকট শ্রুতিলিপি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাআলি আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল জাওয়াদ ইবনুল কাসিম ইবনে শরাফউদ্দিন আল-মাহাল্লি আদ-দারির, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল আলা আল-হাফিজ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আন-নূর আলী ইবনে ইয়াহইয়া আজ-জিয়াদি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ ইবনে জাকারিয়া, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবুল ফজল আল-আসকালানি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু আবদুল্লাহ আয-যাহাবীর পুত্র আবদুর রহমান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে নাসর ইবনে জামিল আশ-শিরাজি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাসর ইবনে আহমদ ইবনে মুকাতিল আস-সুসি, তিনি বলেন, আমার দাদা আবু মুহাম্মদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-আহওয়াজি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-আযদি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু তাইয়্যিব মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে দারান গুন্দার, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হারুন ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে আহমদ আল-আব্বাসি, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনুল হাসান আল-মুকরি আল-বায্যার, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-কিসায়ি, আহমদ ইবনে জুহাইর এবং ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক; তারা সকলে বললেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী ইবনুল জাহম, তিনি বলেন: আমি আল-মুতাওয়াক্কিলের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন সেখানে তারা সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই চুলের সৌন্দর্য সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। [৩/খ]
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ৫)
ثم قال حدثنا، المعتصم حدثنا، المأمون حدثنا الرشيد حدثنا المهدى حدثنا المنصور عن أبيه عن جده عن ابن عباس قال كانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم جمة إلى شحمة أذنيه كأنها نظام اللؤلؤ وكان من أجمل الناس وكان أزهر اللون لا بالطويل ولا بالقصير وكان لعبد المطلب جمة إلى شحمة اذنيه وكان لهاشم جمة إلى شحمة أذنيه قال على بن الجهم:وكان للمتوكل جمة إلى شحمة أذنيه وقال لنا المتوكل كان للمعتصم جمة إلى شحمة أذنيه وكانت للرشيد جمة إلى شحمة أذنيه وكانت للمأمون جمة إلى شحمة أذنيه، وكانت للمهدى جمة إلى شحمة أذنيه وكانت للمنصور جمة إلى شحمة أذنيه وكانت لأبيه محمد جمة إلى شحمة أذنيه وكانت لجده على جمة إلى شحمة أذنيه.

هذا الحديث عال غريب الإسناد من رزاية الخلفاء الستة من بين العباس يروي بعضهم عن بعض، أخرجه الحافظ السيوطي عن شيخه أبي الفضل المرجاني عن عبد الرحمن بن الذهبي فوقع لنا عاليا بدرجتين ولله الحمد.

3- إملاء يوم الجمعة بالجنفي سنة 1189، أنشدنا عمر بن أحمد بن عقيل، أنشدنا عبد الله بن سالم، أنشدنا الشمس محمد بن العلاء الحافظ، أنشدنا أبو عبد الرحمن المعمر، أنشدنا أحمد بن محمد بن بشبك، أخبرنا أبو الفضل محمد بن محمد بن العماد قال: قريء على أم هانيء بنت عبد الرحمن الهورنية قالت: أنشدنا الفقيه عبد الله محمد بن سليمان الشاوري، أنشدنا الرضي إبراهيم بن محمد بن أبي بكر الطبري، أنشدنا الإمام الحافظ جمال الدين أبو بكر محمد بن أبي أحمد بن مسدد الأندلسي، أخبرنا أبو عمران موسى بن عبد الرحمن بن بجير الزناني، أنشدنا أبو القاسم عبد الرحمن بن عبد الله بن أبي الحسن السهيلي لنفسه

يا من يرى ما في الضمير ويسمع أنت المعد لكل ما يتوقع

يامن يرجى للشدائد كلها يا من اليد المشتكى والمقرع
অতঃপর তিনি বললেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুতাসিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মামুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রশীদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাহদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মনসুর, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাবরি চুল ছিল তাঁর কানের লতি পর্যন্ত, যা যেন মুক্তার মালার ন্যায় সুবিন্যস্ত ছিল। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর এবং উজ্জ্বল বর্ণের অধিকারী। তিনি অত্যধিক দীর্ঘ ছিলেন না আবার খর্বকায়ও ছিলেন না। আব্দুল মুত্তালিবের বাবরি চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত এবং হাশেমের বাবরি চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত। আলী বিন জাহম বলেন: মুতাওয়াক্কিলের বাবরি চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত। মুতাওয়াক্কিল আমাদের বলেছিলেন যে, মুতাসিমের বাবরি চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত, রশীদের বাবরি চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত, মামুনের বাবরি চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত, মাহদীর বাবরি চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত, মনসুরের বাবরি চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত, তাঁর পিতা মুহাম্মদের বাবরি চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত এবং তাঁর দাদা আলীর বাবরি চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত।

এই হাদিসটি উচ্চ পর্যায়ের এবং এর সনদটি বিরল, যা বনু আব্বাসের ছয়জন খলিফার বর্ণনায় গঠিত যেখানে তাঁরা একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ সুয়ুতি এটি তাঁর শায়খ আবু ফজল আল-মারজানি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনুল জাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, যার ফলে এটি আমাদের নিকট দুই স্তরের উচ্চ সনদে পৌঁছেছে, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

৩- ১১৮৯ হিজরি সনে জুনফিতে জুমার দিনের ইলমি আসর। আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন ওমর বিন আহমদ বিন আকিল, আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন আব্দুল্লাহ বিন সালিম, আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন শামস মুহাম্মদ বিন আল-আলা আল-হাফেজ, আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন আবু আব্দুর রহমান আল-মুয়াম্মার, আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন বাশবাক, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু ফজল মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ইমাদ। তিনি বলেন: উম্মে হানি বিনতে আব্দুর রহমান আল-হাওরানিয়ার সামনে পাঠ করা হয়েছে, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন ফকিহ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-শাওয়ারি, আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন আল-রাদি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-তাবারী, আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন ইমাম হাফেজ জামালুদ্দিন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবু আহমদ বিন মুসাদ্দাদ আল-আন্দালুসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইমরান মুসা বিন আব্দুর রহমান বিন বুজাইর আল-জানানি, আমাদের নিকট আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু আল-হাসান আল-সুহাইলি নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

হে তিনি, যিনি অন্তরের গোপন বিষয় দেখেন ও শোনেন, আপনিই সেই সত্তা যিনি প্রতিটি সম্ভাব্য বিষয়ের জন্য সাহায্যকারী হিসেবে প্রস্তুত।

হে তিনি, সকল কঠিন বিপদে যাঁর নিকট আশা করা হয়, হে তিনি, আল্লাহর হাত-ই হলো অভিযোগের এবং আর্জি পেশের স্থল।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ৬)
يا من جزاني رزقه في قول كي أمنن فإن الخير عندي أجمع [4/أ]

 

ما لي سوى قرعي لبابك حيلة فلئن رددت فأي باب أقرع

ومن الذي ادعوا واهتفوا باسمه إن كان فضلك عن فقيرك يمنع

حاشا لمجدك أن تنقظ عاصيا الفضل أجزل والمواهن أوسع

4- إملاء يوم الخميس ذي الحجة سنة 1189، أخبرنا عبد الخالق بن أبي بكر بن الراني وإسماعيل بن عبد الله بن علي ومحمد بن الطيب بن محمد قالوا: أخبرنا أبو طاهر محمد بن إبراهيم، أخبرنا والدي حنفي الدين، أخبرنا أبو المواهب أحمد بن علي بن عبد القدوس، أخبرنا أحمد بن محمود العمري شبط المرصفي، أخبرنا الشيخ صالح محمد قاسم المدعو بالمغربي، أخبرنا الشيخ صالح محمد بن محمد المغربي، أخبرنا أبو العباس السرسي، أخبرنا القطر شمس الدين أبو محمد الحنفي، أخبرنا البرهان إبراهيم بن أحمد بن عبد الواحد التنوخي، أخبرنا الحافظ أبو الفتح محمد بن محمد بن سيد الناس اليعمري، أخبرنا أبو عبد الله محمد بن أبي الفتح، أخبرنا أبو الفخر أسعد بن سعيد بن روح، أخبرتنا فاطمة بنت عبد الله بن أحمد بن عقيل، أخبرنا أبو بكر بن ربذة، أخبرنا أبو القاسم سليمان بن أحمد الطبراني، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ أَبِي عَامِرٍ السِّجِلِّينِيُّ ، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِهَابٍ ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجُرَشِيُّ ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ ، عَنْ عَطَاءٍ مَوْلَى السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: رَأَيْتُ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ لِحْيَتُهُ بَيْضَاءُ وَرَأْسُهُ أَسْوَدُ ، فَقُلْتُ: يَا مَوْلَايَ ، مَا لِرَأْسِكَ لَا يَبْيَضُّ؟ فَقَالَ: لَا يَبْيَضُّ رَأْسِي أَبَدًا؛ وَذَلِكَ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَضَى وَأَنَا غُلَامٌ أَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ فَسَلَّمَ عَلَ
হে সেই সত্তা, যিনি আমাকে তাঁর রিযিক দ্বারা প্রতিদান দিয়েছেন, যাতে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি; কেননা আমার সকল কল্যাণ তাঁর কাছেই নিহিত [৪/আ]

 

তোমার দরজায় কড়া নাড়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই; যদি তুমি আমাকে ফিরিয়ে দাও, তবে আমি আর কার দরজায় কড়া নাড়ব?

আর আমি কাকে ডাকব এবং কার নাম ধরে আর্তনাদ করব, যদি তোমার ফকীরের জন্য তোমার অনুগ্রহ রুদ্ধ হয়ে যায়?

তোমার সুমহান মর্যাদার পক্ষে এটি অসম্ভব যে তুমি কোনো পাপীকে নিরাশ করবে; তোমার অনুগ্রহ অতি মহান এবং দানসমূহ অত্যন্ত প্রশস্ত।

৪- ১১৮৯ হিজরী সালের যিলহজ মাসের বৃহস্পতিবারের শ্রুতিলিপি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল খালিক ইবন আবী বকর ইবনুর রানি, ইসমাঈল ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আলী এবং মুহাম্মদ ইবনুত তায়্যিব ইবন মুহাম্মদ; তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা হানাফীউদ্দীন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাওয়াহিব আহমাদ ইবন আলী ইবন আব্দুল কুদ্দুস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবন মাহমুদ আল-উমরী শিবত আল-মারসাফী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ সালিহ মুহাম্মদ কাসিম যিনি আল-মাগরিবী নামে পরিচিত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ সালিহ মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ আল-মাগরিবী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আস-সারসী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুতুব শামসুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আল-হানাফী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বুরহান ইবরাহীম ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আত-তানূখী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাফিয আবু ফাতহ মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন সাইয়্যিদুন নাস আল-ইয়া’মারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আবিল ফাতহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাখর আস’আদ ইবন সাঈদ ইবন রূহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতিমা বিনত আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন আকীল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবন রুবযাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম সুলায়মান ইবন আহমাদ আত-তাবারানী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল জাব্বার ইবন আবী আমির আস-সিজিলীনী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুআম্মাল ইবন ইহাব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আন-নাযর ইবন মুহাম্মদ আল-জুরাশী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইকরিমাহ ইবন আম্মার, আতা (সায়িব ইবন ইয়াযীদের মুক্তদাস) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সায়িব ইবন ইয়াযীদকে দেখেছি, তাঁর দাড়ি ছিল সাদা কিন্তু মাথার চুল ছিল কালো। আমি বললাম: হে আমার মনিব, আপনার মাথার চুল কেন সাদা হয় না? তিনি বললেন: আমার মাথার চুল কখনো সাদা হবে না। এর কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চলে গেলেন (ইন্তেকাল করলেন) তখন আমি একজন বালক ছিলাম এবং অন্য বালকদের সাথে খেলাধুলা করতাম। তিনি সালাম দিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ৭)
الْغِلْمَانِ وَأَنَا فِيهِمْ ، فَرَدَدْتُ عليه السلام مِنْ بَيْنِ الْغِلْمَانِ ، فَدَعَانِي ، فَقَالَ لِي: مَا اسْمُكَ؟ قُلْتُ: السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ ابْنِ أُخْتِ النَّمِرِ ،: فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيَّ ، وَقَالَ: بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ ، فَلَا يَبْيَضُّ مَوْضِعُ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَدًا.

هذا حديث فرد لَمْ يَرْوِهِ عَنْ عَطَاءٍ إِلَاّ عِكْرِمَةُ تَفَرَّدَ بِهِ النَّضْرُ أخرجه الطبراني هكذا كما سقناه.

5- إملاء يوم الجمعة في ذي الحجة سنة 1189، أخبرنا الإمام العارف شهاب الدين أحمد بن عبد الفتاح الملكوي، أخبرنا إدريس بن أحمد إدريس الصفدي، أخبرنا عبد الله بن سعيد باقشير الحضرمي، أخبرنا عبد العزيز محمد بن عبد العزيز الزمرعي، أخبرنا شهاب الدين أحمد بن علي بن أبي بكر الهيتمين، أخبرنا محمد بن أحمد الرحماني الطرابلسي، أخبرنا الإمام العارف إبراهيم بن محمد المواهبي [4/ب]
বালকগণ এবং আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, তখন আমি বালকদের মধ্য থেকে সালামের উত্তর দিলাম। এরপর তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে বললেন: তোমার নাম কি? আমি বললাম: সাইব বিন ইয়াজিদ ইবনে উখতিন নামির। তখন তিনি তাঁর হাত আমার ওপর রাখলেন এবং বললেন: আল্লাহ তোমার মধ্যে বরকত দান করুন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের স্পর্শের স্থানটি কখনো সাদা হয়নি।

এটি একটি একক হাদিস, যা আতা থেকে ইকরিমা ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি, আন-নাদর এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাবারানি এটি এভাবেই উদ্ধৃত করেছেন যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।

৫- ১১৮৯ হিজরি সালের জিলহজ মাসের জুমার দিনের শ্রুতিলিপি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আরিফ শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন আব্দুল ফাত্তাহ আল-মালাকুই, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইদ্রিস বিন আহমদ ইদ্রিস আস-সাফাদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বাকুশাইর আল-হাদরামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আজ-জামরাঈ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন আলী বিন আবু বকর আল-হায়তামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ আর-রাহমানি আত-তারাবুলুসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আরিফ ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মাওয়াহিবি। [৪/খ]
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ৮)
أخبرنا أبو عبد الله محمد بن محمد المغربي، أخبرنا أبو العباس السرسي، أخبرنا أبو محمود الحنفي فيما ترى عليه، أخبرنا البرهان إبراهيم بن أحمد عبد الواحد البقلي، أخبرنا الحافظ أبو الفتح بن سيد الناس اليعمري، أخبرنا أبو حفص عمر بن غذير الطائي، قراءة عليه بعربيل من دمشق، أخبرنا ابن الحرستاني، أخبرنا السلمي، أخبرنا ابن طلاب، أخبرنا ابن جميع حَدَّثَنا الْعَبَّاسُ بْنُ مَحْبُوبٍ بِمَكَّةَ ، حَدَّثَنَا أَبِي ، حَدَّثَنِي جَدِّي ، شَاصُونَةُ بْنُ عُبَيْدٍ ، حَدَّثَنِي مُعَرِّضُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُعَيْقِيبٍ الْيَمَامِيُّ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ: حَجَجْتُ حَجَّةَ الْوَدَاعِ ، فَدَخَلْتُ دَارًا بِمَكَّةَ ، فَرَأَيْتُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوَجْهُهُ كَدَارَةِ الْقَمَرِ ، فَسَمِعْتُ فِيهِ عَجَبًا ، أَتَاهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَامَةِ بِغُلَامٍ يَوْمَ وُلِدَ ، وَقَدْ لَفَّهُ فِي خِرْقَةٍ ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يَا غُلَامُ مَنْ أَنَا؟ فَقَالَ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ ، قَالَ: فَقَالَ لَهُ: بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ ثُمَّ إِنَّ الْغُلَامَ لَمْ يَتَكَلَّمْ بَعْدَهَا.

أنشدنا غير أبي أحمد بن عقيل، أخبرنا عبد الله بن سالم، أنشدنا الشمس محمد بن العلاء، أنشدنا النور علي بن بجير، أنشدنا الشهاب أحمد بن محمد بن حمزة، أنشدنا الشمس أبو الخير السخاوي، أنشدنا الحافظ أبو الفضل العسقلاني قال قراءة على سارة بنت شيخ الإسلام السبكي أن أباهم أخبرهم، أنشدنا عيسى بن عبد الرحمن، أنشدنا جعفر بن علي، أنشدنا محمد بن علي الدامناني، أنشدني محمد بن علي الصوري لنفسه

يا من اليد بجوده أتوسل وعليه في كل الأمور أعول
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মাগরিবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্বাস আস-সারসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মাহমুদ আল-হানাফী তাঁর নিকট যা পাঠ করা হয়েছে তার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বুরহান ইবরাহিম বিন আহমাদ আব্দুল ওয়াহিদ আল-বাকলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ আবু ফাতহ বিন সাইয়িদিন নাস আল-ইয়া’মারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাফস উমর বিন গাদির আত-তায়ি দামেস্কের আরবিলে তাঁর উপস্থিতিতে পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল হুরাস্তানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আস-সুলামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনু তুল্লাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনু জামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্বাস বিন মাহবুব মক্কায় আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার দাদা শাসুনাহ বিন উবাইদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুয়াররিজ বিন উবায়দুল্লাহ বিন মুয়াইকিব আল-য়ামামি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বিদায় হজ পালন করেছি, অতঃপর মক্কার একটি ঘরে প্রবেশ করে সেখানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেলাম। তাঁর চেহারা ছিল পূর্ণিমার চাঁদের মণ্ডলের ন্যায় উজ্জ্বল। আমি সেখানে এক বিস্ময়কর বিষয় প্রত্যক্ষ করলাম; ইয়ামামার এক ব্যক্তি তার নবজাতক শিশুকে নিয়ে তাঁর নিকট আসলেন, যাকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে রাখা হয়েছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "হে শিশু, আমি কে?" সে বলল: "আপনি আল্লাহর রাসূল।" তিনি বললেন: "আল্লাহ তোমার মাঝে বরকত দান করুন।" অতঃপর সেই শিশুটি এর পরে আর কথা বলেনি।

আবু আহমাদ বিন আকিল ব্যতীত অন্যজন আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন সালিম আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, শামস মুহাম্মাদ বিন আল-আলা আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, নূর আলি বিন বুজাইর আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, শিহাব আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হামজাহ আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, শামস আবু খাইর আস-সাখাভি আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, হাফেজ আবু ফাদল আল-আসকালানি আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন—তিনি বলেন যে শাইখুল ইসলাম আস-সুবকির কন্যা সারাহ-র নিকট পাঠ করা হয়েছে যে তাঁদের পিতা তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন—ঈসা বিন আব্দুর রহমান আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, জাফর বিন আলি আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আলি আদ-দামিনানি আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আলি আস-সুরি নিজের রচিত কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন

হে সেই সত্তা, যাঁর হাতের বদান্যতার মাধ্যমে আমি উসিলা গ্রহণ করি এবং যাঁর ওপর আমি সকল বিষয়ে নির্ভর করি।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ৯)
أدعوك رب تفزعا وتذللا فإذا رددت يدي فمن ذا سأل

قد قادني أملا إليك ودلني جود عليك وفاقة وتذلل

وعلمت أنك لا تخيب أملا أضحى لجودك يا كريم يؤمل

فبنور وجهك كن لذنبي غافرا فعليك في غفرانها أتوكل

6- إملاء يوم من محرم سنة 1190، أخبرنا عبد الخالق بن أبي بكر، أخبرنا الحسن بن علي بن يحيى، أخبرنا عبد العزيز بن محمد الزمري، أخبرنا شمس الدين محمد بن أحمد الرملي، أخبرنا أبي أخبرنا [5/أ]
হে প্রতিপালক, আমি আপনার নিকট অত্যন্ত ভীতি ও বিনয় সহকারে প্রার্থনা করছি; আপনি যদি আমার হাত ফিরিয়ে দেন, তবে আমি আর কার নিকট প্রার্থনা করব?

আপনার প্রতি এক প্রবল আশা আমাকে আপনার পানে টেনে এনেছে, আর আপনার মহানুভবতা এবং আমার অভাব ও দীনতাই আমাকে আপনার পথ দেখিয়েছে।

আর আমি জেনেছি যে, আপনি সেই আশাকে ব্যর্থ করেন না যা আপনার বদান্যতার প্রত্যাশায় নিবেদিত হয়, হে মহানুভব!

অতএব আপনার চেহারার নূরের উসিলায় আমার পাপসমূহ ক্ষমা করে দিন, কেননা সেই ক্ষমালাভের জন্য আমি আপনার ওপরই ভরসা করি।

৬- ১১৯০ হিজরি সনের মুহাররম মাসের একদিনের শ্রুতলিপি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল খালিক বিন আবি বকর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন আলী বিন ইয়াহইয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-জামরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শামস উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-রামলি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন [৫/ক]।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১০)
الحافظ أبو الخير السخاوي، أخبرنا الحافظ أبو نعيم العقبي، أخبرنا الشرف أبو طاهر محمد بن محمد الربعي، أخبرنا البرهان إبراهيم بن علي بن سنان القطبي، أخبرنا أبو الفرج عبد اللطيف بن عبد المنعم بن علي الحراني، أخبرنا أبو المكارم أحمد بن محمد بن اللبان، أخبرنا أبو الحسن أحمد بن أبي الحسن الحداد، أخبرنا الحافظ أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد الأصبهاني، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّائِغُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَعَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ ،، قَالَا: حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللهِ لَأُنَاسًا مَا هُمْ بِأَنْبِيَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ ، يَغْبِطُهُمُ الأَنْبِيَاءُ وَالشُّهَدَاءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِمَكَانِهِمْ مِنَ اللهِ عز وجل، فَقَالَ رَجُلٌ: مَنْ هُمْ؟ وَمَا أَعْمَالُهُمْ؟ لَعَلَّنَا نُحِبُّهُمْ ، قَالَ: قَوْمٌ يَتَحَابُّونَ بِرُوحِ اللهِ عز وجل مِنْ غَيْرِ أَرْحَامٍ بَيْنَهُمْ ، وَلَا أَمْوَالَ يَتَعَاطَوْنَهَا بَيْنَهُمْ ، وَاللَّهِ إِنَّ وُجُوهَهُمْ لَنُورٌ ، وَإِنَّهُمْ لَعَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ ، لَا يَخَافُونَ إِذَا خَافَ النَّاسُ ، وَلَا يَحْزَنُونَ إِذَا حَزِنَ النَّاسُ ، ثُمَّ قَرَأَ: {أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} .

হাফিজ আবুল খায়ের আস-সাখাওয়ী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু নুআইম আল-উকবী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরাফ আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আর-রাবায়ি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বুরহান ইবরাহিম ইবনে আলি ইবনে সিনান আল-কুতবি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফারাজ আব্দুল লতিফ ইবনে আব্দুল মুনইম ইবনে আলি আল-হাররানি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাকারিম আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল লাব্বান; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ ইবনে আবিল হাসান আল-হাদ্দাদ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু নুআইম আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-আসবাহানি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে ইবরাহিম; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আস-সায়িগ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে ইসমাইল ও আসিম ইবনে আলি; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাইস ইবনুর রাবি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমারা ইবনুল কাকা, আবু যুরআহ থেকে, তিনি আমর ইবনে জারির থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা নবীও নন এবং শহীদও নন; কিয়ামতের দিন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের ঈর্ষা করবেন। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন: তারা কারা? এবং তাদের আমলসমূহ কী? যাতে আমরা তাদের ভালোবাসতে পারি। তিনি বললেন: তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা নিজেদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক বা কোনো প্রকার ধন-সম্পদ লেনদেন ছাড়াই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর রুহের মাধ্যমে একে অপরকে ভালোবাসে। আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তাদের চেহারা হবে নূর, এবং তারা নূরের মিম্বরসমূহের উপর অবস্থান করবে। যখন মানুষ ভীত হবে তখন তারা ভীত হবে না, এবং যখন মানুষ চিন্তিত হবে তখন তারা চিন্তিত হবে না। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।"

(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১১)
هذا حديث حسن صحيح الإسناد أخرجه الحافظ أبو نعيم في الحلية كما سقناه وبالسند إليه قال حدثنا أبي حدثنا أحمد بن مخلد بن مصقلة، حدثت أبو الفيض ذو النون بن إبراهيم المصري، رحمه الله تعالى، قال إن الله صفوة من خلقه وإن الله لخيره من خلقه، قيل له يا أبا الفيض وما علامتهم قال: إذا خلع العبد الراحة وأعطى المعبود في الطاعة واجى سقوط المنزلة ثم أنشد

منع القوان بوعده ووعيده مقل العيون فإنها لا تهجع

فهو من الله الكريم كلامه فهما تذل له الرقاب وتقنع

والله أعلم ويروي لعلي، رضي الله عنه، وكرم وجهه [5/ب]

 

إذا شئت تعرف أصل الفتى أدر لحظ وجهك في منظره

فإن لم يبن لك فانظر في أفاعيله فهي من جوهره

فإن لم يبن لك من ذا وذا فلا تعمدن سوى محضره

لأن المحاضر زين الرجال به تعرف الندل من مخبره

بكون الرجال وعاشرتهم فكل يعود ألى عنصره

والله أعلم
এটি একটি হাসান সহিহ সানাদবিশিষ্ট হাদিস, যা হাফিজ আবু নুয়াইম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন যেভাবে আমরা তা বর্ণনা করেছি। তাঁর পর্যন্ত পৌঁছানো একটি সনদের মাধ্যমে তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে মাখলাদ ইবনে মাসকালাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-ফাইদ যু-নুন ইবনে ইবরাহিম আল-মিসরি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে একদল মনোনীত বান্দা রয়েছেন এবং আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে সর্বোত্তম একদল লোক রয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আবু আল-ফাইদ! তাদের নিদর্শন কী? তিনি বললেন: যখন বান্দা আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে এবং মা’বুদের আনুগত্যে নিজেকে সপে দেয় এবং পদমর্যাদা হারানোর আশঙ্কা করে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন:

কুরআনের প্রতিশ্রুতি এবং ভীতি প্রদর্শন চোখের মণিগুলোকে বিরত রেখেছে, ফলে তারা ঘুমে নিমগ্ন হয় না।

কেননা এটি মহান আল্লাহর বাণী, যার উপলব্ধির কাছে ঘাড়সমূহ অবনত হয় এবং তাতেই পরিতৃপ্ত থাকে।

আল্লাহই ভালো জানেন। এটি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাবান করুন) এর প্রতিও বর্ণিত হয় [৫/খ]

 

তুমি যদি কোনো যুবকের মূল পরিচয় জানতে চাও, তবে তার চেহারার অবয়বের দিকে তোমার দৃষ্টি ফেরাও।

যদি তা তোমার নিকট স্পষ্ট না হয়, তবে তার কার্যাবলীর প্রতি লক্ষ্য করো; কেননা সেগুলোই তার মূল সত্তার পরিচয়।

যদি এটি এবং ওটি দ্বারাও তোমার কাছে কিছু স্পষ্ট না হয়, তবে তার সঙ্গ বা মজলিশ ভিন্ন অন্য কিছু খোঁজার চেষ্টা করো না।

কেননা মজলিশই পুরুষদের অলঙ্কার, এর মাধ্যমেই নীচ ব্যক্তিকে তার বাহ্যিক আচরণের মাধ্যমে চেনা যায়।

মানুষের সাথে অবস্থান করো এবং তাদের সাথে ওঠাবসা করো, কারণ প্রত্যেকেই তার নিজস্ব মূল সত্তার দিকে ফিরে যায়।

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১২)
7 - إملاء يوم الجمعة 10 محرم سنة 1190، أخبرنا السيد عمر بن أحمد بن عقيل في يوم عاشوراء، أخبرنا خالي عبد الله بن سالم في يوم عاشوراء، أخبرنا الشمس محمد بن البلاء في يوم عاشوراء، أخبرنا النور علي بن بجير في يوم عاشوراء، أخبرنا الشهاب أحمد بن محمد بن حمزة في يوم عاشوراء، أخبرنا الشمس محمد بن عبد الرحمن في يوم عاشوراء، أخبرناالحافظ أبو الفضل في يوم عاشوراء، أخبرنا أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن المبارك بن حماد الغزي في يوم عاشوراء، أخبرنا أبو الحسن علي بن إسماعيل بن قريش المخزومي في يوم عاشوراء، أخبرنا أبو حفص عمر الحافظ أبو محمد عبد العظيم بن عبد القوي المنذري في يوم عاشوراء، أخبرنا الشيخان أبو حفص عمر بن محمد بن طبرزد بقراءتي عليه بدمشق وأبو محمد عبد الله بن أبي بكر بن أبي القاسم البغدادي في كتابه إلي منها واللفظ له قالا: أخبرنا القاضي أبو بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري، قراءة عليه ونحن نسمع، أخبرنا أبو محمد الحسن بن علي الجوهري، قراءة عليه وإنا نسمع، أخبرنا أبو الحسن علي بن محمد بن أحمد بن كيسان، قراءة عليه فأقر به، أخبرنا يوسف بن يعقوب القاضي، حدثنا أبو الربيع، حدثنا حماد بن يزيد عن غيلان بن جرير عن عبد الله بن معبد الزماني عن أبي قتادة، رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: قيام يوم عاشوراء إني أحتبس على الله عز وجل أن يكفر السنة التي قبله.

قال المنذري هذا الحديث صحيح انفرد [6/أ]

 

به مسلم فرواه في صحيحه مطولا عن يحيى بن بجير التميمي وقتيبة بن سعيد كلاهما عن حماد بن زيد فوقع لنا بدلا عاليا.
৭ - ১১৯০ হিজরি সনের ১০ই মহরম, জুমুআর দিনের শ্রুতলিখন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যিদ উমর বিন আহমাদ বিন আকিল আশুরার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার মামা আব্দুল্লাহ বিন সালিম আশুরার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শামস মুহাম্মাদ বিন আল-বালা আশুরার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আন-নূর আলী বিন বুজাইর আশুরার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শিহাব আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হামযাহ আশুরার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শামস মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আশুরার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাফিজ আবু আল-ফজল আশুরার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন আল-মুবারক বিন হাম্মাদ আল-গুজ্জি আশুরার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন ইসমাইল বিন কুরাইশ আল-মাখযুমি আশুরার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর আল-হাফিজ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল আজিম বিন আব্দুল কাওয়ী আল-মুনজিরি আশুরার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ—আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মাদ বিন তাবারযাদ দামেস্কে আমার পাঠের মাধ্যমে এবং আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আবি বকর বিন আবি আল-কাসিম আল-বাগদাদি আমার কাছে প্রেরিত তাঁর লিখিত পত্রের মাধ্যমে, আর শব্দাবলি তাঁরই; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাদি আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকি আল-আনসারি, তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শ্রবণ করেছি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন আলী আল-জাওহারি, তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শ্রবণ করেছি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন কাইসান, তাঁর সামনে পাঠ করা হলে তিনি তা স্বীকার করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আর-রাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যাইদ, গাইলান বিন জারির থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাবাদ আজ-জমানি থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আশুরার দিনে দাঁড়ানো (পালন করা); আমি আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, তা তার পূর্ববর্তী বছরের পাপ মোচন করে দেবে।

আল-মুনজিরি বলেন: এই হাদিসটি সহিহ, ইমাম মুসলিম এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন [৬/ক]

 

তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে তিনি এটি ইয়াহইয়া বিন বুজাইর আত-তামিমি ও কুতাইবাহ বিন সাঈদ—উভয় থেকে হাম্মাদ বিন যাইদ-এর সূত্রে দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট ‘বাদাল আলিন’ (উচ্চ স্তরের বিনিময় সূত্র) হিসেবে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وأبو قتادة هو الحارث بن ربيع بن بلذمة الأنصاري السلمي الذي له صحبة، قلت: وأخرجه الطيالسي في مسنده عن هشام عن قتادة عن غيلان وفيه: إني لأحتسب على الله أن يكفر السنة، وأخرجه ابن ماجة في سننه من حديث قتادة بن النعمان، ولفظه إني لأحتسب على الله أن يكفر التي بعده، وأخرجه الطبراني في المعجم الصغير والبزار في مسنده عن أبي سعيد الخدري من صام يوم عاشوراء غفر له سنة، وروى الطبراني في المعجم الصغير عن ابن عباس من صام يوما في المحرم فله بكل يوم ثلاثون يوما وهو غريب وإسناده لا بأس به وبالسند إلى أبي طاهر أنشد لنفسه

وأظب على جمع الأمالي جاهدا من الحفاظ والفضلاء

فأجل أنواع السماع بأسرها ما يكتب الإنسان في الإملاء

8- إملاء آخر يوم عاشوراء،وعاشوراء فيه لغات المد والقصر وعاشوراء بالمد والقصر والعاشور والثانية شاذة، قال أبو رويد في الجمهورة ليس لهم فاعولا إلا عاشورا واستدركت عليه ألفاظ ستة السارورا والضارورا والدالولا وحاضورا وخابورا، وزاد ابن خالويه ساموعا وقد ألحق به بعضهم تاسوعا وقال الجوهري: أظن مولدا، واختلف في تعيينه على ثلاثة أقوال الأول: أنه اليوم التاسع وهذا قول ابن عباس كما نقله صاحب المواهب وغيره وإليه ذهب بعض بعض اللغويين وعليه فهو مشتق من العشر بكسر العين وهو ورد في الإبل في يوم التاسع.

والثاني أنه اليوم الحادي عشر، نقله الطبري وأبو الليث السمرقندي في تفسيره.

والثالث أنه اليوم العاشر منه وهو مذهب جمهور الصحابة والتابعين والراجح عند الأئمة وعليه فهو مشتق من العشر بالفتح المعدد المعلوم [6/ب]
আর আবু কাতাদা হলেন আল-হারিস ইবনে রাবি ইবনে বালজামা আল-আনসারি আস-সুলামি, যিনি সাহাব্যাত লাভ করেছেন। আমি বলি: আত-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে হিশাম থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি গাইলান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তাতে রয়েছে: "আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে তিনি এর মাধ্যমে এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করবেন।" আর ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে কাতাদা ইবনে আন-নু’মানের হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো: "আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে তিনি এর মাধ্যমে পরবর্তী বছরের গুনাহ ক্ষমা করবেন।" আর আত-তাবারানি আল-মু’জাম আস-সাগিরে এবং আল-বাযযার তাঁর মুসনাদে আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখবে, তার এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করা হবে।" আর আত-তাবারানি আল-মু’জাম আস-সাগিরে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি মহররম মাসে একদিন রোজা রাখবে, তার জন্য প্রতিটি দিনের বিনিময়ে ত্রিশ দিনের সওয়াব রয়েছে।" এটি একটি গরিব হাদিস এবং এর সনদ মন্দ নয়। আর আবু তাহের পর্যন্ত পৌঁছে এমন সনদে তিনি নিজের জন্য আবৃত্তি করেছেন—

আর হাফেজ ও ফাজেলদের কাছ থেকে সাধ্যমতো 'আমালি' (বক্তৃতা সংকলন) সংগ্রহে সচেষ্ট থাকো,

কেননা সকল প্রকার শ্রবণের মধ্যে সবচেয়ে মহত্তম হলো তা যা মানুষ শ্রুতলিপি থেকে লিখে রাখে।

৮- আশুরার দিনে অপর একটি শ্রুতলিপি। আশুরা শব্দটির উচ্চারণে 'মাদ্দ' (দীর্ঘ) এবং 'কাসর' (সংক্ষিপ্ত) উভয় প্রকারের রীতি রয়েছে। আশুরা-কে মাদ্দ ও কাসর উভয়ভাবে পড়া যায় এবং 'আল-আশুর' শব্দটিও রয়েছে, তবে দ্বিতীয়টি শায বা বিরল। আবু রুয়াইদ 'আল-জামহুরা' গ্রন্থে বলেছেন যে, 'ফাউলা' ছন্দে আশুরা ব্যতীত তাদের নিকট আর কোনো শব্দ নেই; কিন্তু আমি এর বিপরীতে আরও ছয়টি শব্দ পেয়েছি: আস-সারুরা, আদ-দারুরা, আদ-দালুলা, হাদুরা এবং খাবুরা। আর ইবনে খালওয়াইহ 'সামু’আ' শব্দটি যোগ করেছেন এবং কেউ কেউ এর সাথে 'তাসু’আ' শব্দটিকেও যুক্ত করেছেন। আল-জাওহারি বলেছেন: আমার মনে হয় এটি পরবর্তীকালে উদ্ভূত শব্দ। এটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনটি মতভেদ রয়েছে; প্রথম মত: এটি নবম দিন, আর এটি হলো ইবনে আব্বাসের মত, যেমনটি 'আল-মাওয়াহিব'-এর লেখক এবং অন্যরা উদ্ধৃত করেছেন। কোনো কোনো ভাষাবিদও এই মত গ্রহণ করেছেন। এই মতানুসারে শব্দটি 'আইন' অক্ষরে কাসরা (জের) যোগে 'আল-ইশর' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যা উটের ক্ষেত্রে নবম দিনে পানি পানের সময়কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

দ্বিতীয় মত: এটি একাদশ দিন; এটি আত-তাবারানি এবং আবুল লাইস আস-সামারকান্দি তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয় মত: এটি হলো মহররমের দশম দিন। এটিই সাহাবী ও তাবেয়ীদের সংখ্যাগরিষ্ঠের (জমহুর) অভিমত এবং ইমামদের নিকট অধিকতর গ্রহণযোগ্য। এই মতানুসারে শব্দটি ফাতহা (জবর) যোগে 'আল-আশর' থেকে উদ্ভূত, যা সুপরিচিত একটি সংখ্যা। [৬/খ]
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وهو قول أئمة اللغة بالمطابقة بين المشتق والمشتق منه وأما ما يطلب فعله في يومه فاثنتين عشرة خصلة، الصلاة والصدقة والصوم وصلة الرحم وزيارة عالم وعيادة مريض والتوسعة على العيال والإكتحال ومسح الرأس لليتيم وتقليم الأظافر وقراءة الإخلاص وقد نظمها بعض الفضلاء في أبيات ثلاثة فقال:

في يوم عاشوراء عشر تتصل بها اشتاق ولها فضل نقل

قم صلّ صل زر عالما عدا أو أكتحل رأس يتيم امسح تصدق واغتسل

وسع على العيال قلم ظفرا وسورة الإخلاص قل الفا تصل

وقد روي في كل ذلك أحاديث لكي نقل المجد اللغوي عن الحاكم أن سائر الأحاديث الواردة في يوم عاشوراء سوى التسعة والصوم باطلة موضوعة ولذا أشار سيدي علي الأجهوري مذيلا ببيت مفرد فقال

والطعن في الجميع غير التوسعة والصوم من أهل الحديث متصل
আর এটিই হলো বুৎপন্ন শব্দ এবং যার থেকে বুৎপত্তি হয়েছে তার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের ক্ষেত্রে ভাষাতত্ত্ববিদ ইমামগণের অভিমত। আর এই দিনে যে আমলগুলো পালনীয় তা হলো বারোটি বিষয়: নামাজ, সদকা, রোজা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, আলেমের জিয়ারত, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, পরিবারের সদস্যদের জন্য উদার হস্তে ব্যয় করা, চোখে সুরমা লাগানো, এতিমের মাথায় হাত বুলানো, নখ কাটা এবং সূরা ইখলাস পাঠ করা। জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি তিনটি পংক্তিতে তা ছন্দবদ্ধ করে বলেছেন:

আশুরার দিনে দশটি কাজ পরস্পর সংযুক্ত, যার প্রতি আগ্রহ জাগে এবং এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

দাঁড়াও নামাজ পড়ো, আত্মীয়তা রক্ষা করো, আলেমের জিয়ারত করো অথবা সুরমা লাগাও, এতিমের মাথায় হাত বুলাও, সদকা করো এবং গোসল করো।

পরিবারের ওপর উদার হও, নখ কাটো এবং সূরা ইখলাস এক হাজার বার পাঠ করো, তবেই তুমি গন্তব্যে পৌঁছাবে।

এই সবকিছুর বিষয়েই হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তবে মাজদুদ্দীন আল-লুগাভী আল-হাকিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নয় তারিখ এবং রোজা রাখা ব্যতীত আশুরার দিন সম্পর্কে বর্ণিত অবশিষ্ট অন্যান্য সকল হাদিস বাতিল ও বানোয়াট। আর এজন্যই আমার সাইয়্যিদ আলী আল-আজহুরী একটি একক পংক্তি যুক্ত করে সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন:

মুহাদ্দিসগণের নিকট উদার হস্তে ব্যয় এবং রোজা ব্যতীত বাকি সবগুলোর ব্যাপারে আপত্তি নিরবচ্ছিন্ন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১৫)
فأما الصوم فقد روينا فيه حديثين وقعا لنا مسلسلين بيوم عاشوراء، أما الأول فقد أخبرناه السيد عمر بن أحمد بن عقيل الحسين، قراءة عليه بيوم عاشوراء، أخبرنا خالي في يوم عاشوراء، أخبرنا محمد بن العلاء في يوم عاشوراء، أخبرنا النور علي بن يحيى في يوم عاشوراء، أخبرنا الشهاب أحمد بن محمد بن حمزة في يوم عاشوراء، أخبرنا الشمس محمد بن عبد الرحمن في يوم عاشوراء، أخبرنا الحافظ أبو الفضل في يوم عاشوراء، أخبرنا أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن المبارك بن حامد القري في يوم عاشوراء، أخبرنا أبو الحسن علي بن إسماعيل بن قريش المخزومي في يوم عاشوراء، أخبرنا الحافظ أبو محمد عبد العظيم بن عبد القوي المنذري في يوم عاشوراء، أخبرنا الشيخان أبو حفص عمر بن محمد بن طبرزد، بقراءتي عليه، وأبو محمد عبد الله بن أبي بكر بن أبي القاسم في كتابه إلي من بغداد واللفظ له قالا: أخبرنا القاضي أبو بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري، قراءة عليه ونحن نسمع، أخبرنا أبو محمد الحسن بن علي الجوهري، قراءة [7/أ]

 

عليه وأنا أسمع، أخبرنا أبو الحسن علي بن محمد بن أحمد بن كيسان، قراءة عليه، فأقر به، أخبرنا يوسف بن يعقوب القاضي، حدثنا أبو الربيع، حدثنا حماد بن زيد عن غيلان بن جرير عن عبد الله بن معبد الزماني عن أبي قتادة، رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: صيام يوم عاشوراء إني أحتسب على الله عز وجل أن يكفر السنة قبله. هذا حديث صحيح تفرد به مسلم فأخبره في صحيحه عن يحيى بن يحيى بن أبي بكر التميمي وقتيبة بن سعيد كلاهما عن حماد بن زيد وأخبره به أبو داود والطيالسي عن هشام عن قتادة عن غيلان فوقع لنا بدلا لهم عاليا.
রোজা প্রসঙ্গে আমরা দুটি হাদিস বর্ণনা করেছি যা আমাদের নিকট আশুরার দিনের ধারাবাহিকতায় (মুসালসাল) পৌঁছেছে। প্রথম হাদিসটি সম্পর্কে সায়্যিদ উমর বিন আহমদ বিন আকিল আল-হুসাইন আশুরার দিনে তাঁর নিকট পাঠকালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আমার মামা আশুরার দিনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন আল-আলা আশুরার দিনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আন-নূর আলী বিন ইয়াহইয়া আশুরার দিনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আশ-শিহাব আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হামযাহ আশুরার দিনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আশ-শামস মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আশুরার দিনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আল-হাফিয আবুল ফযল আশুরার দিনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন আল-মুবারক বিন হামিদ আল-ক্বরি আশুরার দিনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আবুল হাসান আলী বিন ইসমাইল বিন কুরাইশ আল-মাখযুমি আশুরার দিনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আল-হাফিয আবু মুহাম্মদ আবদুল আজীম বিন আবদুল ক্বাউয়ি আল-মুনযিরি আশুরার দিনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, দুই শাইখ আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন তাবারযাদ—তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবি বকর বিন আবুল কাসিম বাগদাদ থেকে আমার নিকট লিখিত পত্রে সংবাদ দিয়েছেন এবং শব্দাবলি তাঁরই, তাঁরা উভয়ে বলেন: কাযী আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল বাকি আল-আনসারী আমাদের নিকট পাঠকালে এবং আমরা শ্রবণকালে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী আল-জাওহারী আমাদের নিকট পাঠকালে [7/أ]

 

এবং আমি শ্রবণকালে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন কাইসান আমাদের নিকট পাঠকালে সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন; তিনি বলেন, ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-ক্বাযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আবু আল-রাবী' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, হাম্মাদ বিন যায়েদ গায়লান বিন জারীর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাবাদ আল-যামানি থেকে এবং তিনি আবু কাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আশুরার দিনের রোজা সম্পর্কে আমি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট আশা রাখি যে, তা পূর্ববর্তী বছরের পাপ মোচন করবে।" এটি একটি সহীহ হাদিস যা ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বিন আবি বকর আল-তামিমি এবং কুতাইবাহ বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ ও আল-তায়ালিসি হিশাম থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি গায়লান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের জন্য তাদের বর্ণনার বিপরীতে একটি উচ্চ পর্যায়ের বিকল্প বা বদল (আলি সনদ) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وفي الباب عن قتادة بن النعماني وأبي سعيد وابن عباس أما حديث قتادة فأخرجه النسائي في سننه فيه السنة التي بعده، وأما حديث أبي سعيد فأخرجه البزار في مسنده ولفظه من صام يوم عاشوراء غفر له سنته، وأما حديث ابن عباس فأخرجه الطبراني في المعجم الصغير ولفظه من صام يوما في المحرم فله بكل يوم ثلاثون يوما، وهو غريب وإسناده لابأس به.

وأما الحديث الثاني فبالسند إلى البابلي قال: أخبرنا المعمر أبو عبد الرحمن في يومه، أخبرنا الشهاب الحمد بن محمد بن يشبك في يومه، أخبرنا أبو الفضل محمد بن أبي بكر المشهدي في يومه، أخبرنا السند رضي الدين بن محمد بن محمد المعروف بابن الأوجاقي في يومه، أخبرنا أبو الطاهر محمد بن محمد بن اللطيف الربعي في يومه، أخبرنا الفراء أبو محمد عبد العزيز بن محمد بن جماعة في يومه، أخبرنا أبو المحاسن يوسف بن عمر بن عبد الله الختين في يومه، أخبرنا الحافظ أبو محمد عبد العظيم بن عبد القوي المنذري في يوم عاشوراءوإليه ينتهي التسلسل.

أخبرنا أبو الحسن علي بن المفضل بن علي المقدسي، بقراءتي، أخبرني الحافظ أبو طاهر السلفي، أخبرنا أبو طاهر محمد بن الحسن بن محمد بدمشق، أخبرنا أبو علي أحمد بن عبد الرحمن بن أبي نصر التميمي، حدثنا القاضي أبو بكر يوسف بن القاسم اليانجي، حدثنا أبو محمد شبيب بن محمد بن أبي عمر، حدثنا سليمان [7/ب]

 

بن لونة عن أبي النظر هاشم بن القاسم، حدثنا الأشجعي عن عمرو بن قيس الملائي عن الحر بن الصباح عن هنيدة بن خالد الخزاعي عن حفصة أم المؤمنين، رضي الله عنها، قالت: أربع لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم يدعهن صيام يوم عاشوراء والعشر وثلاثة أيام من كل شهر وركعتان قبل الغداة.
এই অধ্যায়ে কাতাদাহ ইবনে নুমান, আবু সাঈদ এবং ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণনা রয়েছে। কাতাদাহর হাদীসটি ইমাম নাসায়ী তাঁর সুনানে এর পরবর্তী বছরের বর্ণনায় সংকলন করেছেন। আবু সাঈদের হাদীসটি ইমাম বাযযার তাঁর মুসনাদে সংকলন করেছেন এবং এর পাঠ হলো: "যে ব্যক্তি আশুরার দিন রোজা রাখবে, তার এক বছরের (গুনাহ) ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" ইবনে আব্বাসের হাদীসটি ইমাম তাবারানী আল-মুজাম আস-সগীরে সংকলন করেছেন এবং এর পাঠ হলো: "যে ব্যক্তি মুহররম মাসে একদিন রোজা রাখবে, তার জন্য প্রতিটি দিনের বিনিময়ে ত্রিশ দিনের সওয়াব রয়েছে।" এটি একটি গরীব (একক) বর্ণনা এবং এর সনদটি নির্ভরযোগ্য।

আর দ্বিতীয় হাদীসটি বাবিলীর পর্যন্ত পৌঁছানো সনদের মাধ্যমে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দীর্ঘজীবী আবু আবদুর রহমান তাঁর দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শিহাব আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইশবাক তাঁর দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফযল মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মাশহাদী তাঁর দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সিন্দ রাযীউদ্দীন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ—যিনি ইবনুল আওজাকী নামে পরিচিত—তাঁর দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল লতীফ আর-রাবঈ তাঁর দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফারা আবু মুহাম্মদ আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জামায়াহ তাঁর দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাহাসিন ইউসুফ ইবনে উমর ইবনে আবদুল্লাহ আল-খাতীন তাঁর দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেয আবু মুহাম্মদ আবদুল আযীম ইবনে আবদুল কউয়ী আল-মুনযিরী আশুরার দিনে এবং তাঁর মাধ্যমেই এই ধারাবাহিকতা শেষ হয়েছে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মুফাদদাল ইবনে আলী আল-মাকদিসী আমার পাঠের মাধ্যমে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাফেয আবু তাহের আস-সিলাফী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মদ দামেস্কে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু নাসর আত-তামীমী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কাযী আবু বকর ইউসুফ ইবনে কাসিম আল-ইয়ানজী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মদ শাবীব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু উমর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুলাইমান [৭/খ]

 

ইবনে লুওয়ানাহ থেকে, তিনি আবু নাযর হাশিম ইবনে কাসিম থেকে, তিনি আল-আশজাঈ থেকে, তিনি আমর ইবনে কায়স আল-মুলায়ী থেকে, তিনি আল-হুর ইবনে সাব্বাহ থেকে, তিনি হুনাইদাহ ইবনে খালিদ আল-খুযাঈ থেকে, তিনি মুমিনদের মাতা হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: চারটি কাজ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো ত্যাগ করতেন না: আশুরার দিনের রোজা, (জিলহজ মাসের প্রথম) দশ দিনের রোজা, প্রতি মাসের তিন দিনের রোজা এবং ফজরের আগে দুই রাকাত নামাজ।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
الأشجعي هذا هو أبو إسحاق كوفي وهو غير الأشجعي الذي يروي عن سفيان في قول فإن ذاك كنيته أبو عبد الرحمن واسمه عبد الله، أخرجه أحمد وأبو بكر بن أبي شيبة في مسنديهما عن أبي النظر والنسائي في سننه عن أبي بكر بن أبي النظر عن أبيه وابن أبي الدنيا من طريق أبي عوانة عن الحر بن الصباح، واختلف عنه، علي هنيدة فروى عنه عن حفصة هكذا كما سقناه وروى عنه عن أمه عن حفصة وروى عنه عن امرأته عن بعض أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ولم يسمها وهكذا رواه ابن أبي الدنيا وقال الدارقطني والقول قوله، والله أعلم.

9- إملاء يوم الجمعة 17 محرم سنة 1190، أخبرنا عبد الخالق بن أبي بكر، أخبرنا يحيى بن عمر بن عبد القادر، أخبرنا أبو بكر بن علي، أخبرنا يوسف بن محمد، أخبرنا الطاهر بن حسين، أخبرنا عبد الرحمن بن علي بن الربيع، أخبرنا الحافظ شمس الدين محمد بن عبد الرحمن، أخبرنا الحافظ أبو الفضل العسقلاني، أخبرني أبو الطيب أحمد بن بلفاف الكنجي، بقراءتي عليه بالصالحية، أخبرنا أبو محمد إسحاق بن يحيى بن إسحاق الأيدي، أخبرنا أبو طاهر الحسن بن العباس التميمي، أخبرنا عبد الواحد بن عمر بن علي الجويين، أخبرنا أبو أبكروجيه بن طاهر الشحامي، أخبرنا أبو الحسن هبة الله بن أحمد اليزدي، أخبرنا أبو بكر بن أحمد بن محمد بن الحارث، أخبرنا عبد الله بن محمد بن جعفر بن حيان، حدثنا محمد بن العباس، حدثنا عبيد بن إسماعيل، حدثنا جميع بن عمير، حدثنا رجل من ولد أبي هالة عن الحسن بن علي، رضي الله عنهما، قال: سألت خالي هند بن أبي هالة عن مشي النبي صلى الله عليه وسلم فقال: كان يمشي تَكَفِّيًا [8/أ]
এই আশজায়ি হলেন আবু ইসহাক কুফি, এবং তিনি সেই আশজায়ি নন যিনি একটি মতানুসারে সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন, কেননা তাঁর উপনাম হলো আবু আবদুর রহমান এবং তাঁর নাম হলো আবদুল্লাহ। ইমাম আহমাদ এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ তাঁদের মুসনাদদ্বয়ে আবু নাযর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; আর নাসায়ি তাঁর সুনান-এ আবু বকর ইবনে আবি নাযর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে; এবং ইবনে আবিদ দুনইয়া আবু আওয়ানাহর সূত্রে হুর ইবনে সাব্বাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; হুনাইদাহর বর্ণনায় তাঁর থেকে হাফসাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সূত্রে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যেভাবে আমরা উল্লেখ করেছি। আবার কেউ তাঁর থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে, তিনি হাফসাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার কেউ তাঁর থেকে, তিনি তাঁর স্ত্রী থেকে, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জনৈক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেছেন—তবে তিনি তাঁর নাম উল্লেখ করেননি। এভাবেই ইবনে আবিদ দুনইয়া এটি বর্ণনা করেছেন। দারা কুতনি বলেছেন: সঠিক কথা হলো তাঁরই কথা। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

৯- ১১৯০ হিজরি সনের ১৭ই মহররম জুমাবার দিনের শ্রুতিলিপি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল খালিক ইবনে আবি বকর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে উমর ইবনে আবদুল কাদির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আলি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ ইবনে মুহাম্মাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাহির ইবনে হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে আলি ইবনুর রাবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিয শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিয আবুল ফযল আসকালানি, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু তাইয়িব আহমাদ ইবনে বিলফাফ আল-কানজি (সালিহিয়্যাতে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ ইসহাক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক আল-আইদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির হাসান ইবনুল আব্বাস আত-তামিমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়াহিদ ইবনে উমর ইবনে আলি আল-জুওয়াইনি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবকরুজিহ ইবনে তাহির আশ-শাহামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-ইয়াযদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হারিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে হাইয়ান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উবাইদ ইবনে ইসমাইল, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জামি ইবনে উমাইর, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু হালাহ-র বংশধর এক ব্যক্তি, তিনি হাসান ইবনে আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার মামা হিন্দ ইবনে আবি হালাহ-কে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাঁটার ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: তিনি সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে (দৃঢ়তার সাথে) হাঁটতেন। [৮/ক]
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَيَخْطُو هَوْنًا إِذَا مَشَى كَأَنَّمَا يَتَصَبَّبُ، أَوْ يَمْشِي فِي صَبَبٍ، خافض الطرف، نظره إلى الارض أطول من نظره إلى السماء، جل نظره الملاحظة، يسوق أصحابه يبدأ من لقيه بالسلام صلى الله عليه وسلم. هذا حديث حسن غريب رواه الترمذي عن سفيان بن وكيع عن جميع به مطولا ومفرقا فوقع لنا بدلا له واسم الرجل يزيد بن عمرو التميمي، حكاه الترمذي ووقع في رواية مكنيا عبد الله وذكره ابن حبان في الثقات وجميع وسقه العجلي، وقال أبو حاتم محله الصدق ووصفه آخرون من قبل التشيع، وقد روينا لحديثه متابعا في شيخه أبي علي بن ستادان بإسناد رجاله من أهل البيت، أنشدنا عمر بن أحمد بن عقيل، أنشدنا الشهاب أحمد بن محمد النخلي، أنشدنا عيسى بن محمد، أنشدنا أبو الحسن علي بن عبد الرحمن، أنشدنا أبو الطيب أحمد بن محمد الحجازي، قال: أنشدنا قاضي القضاة مجد الدين إسماعيل بن إبراهيم الكناني، أنشدنا عبد اللطيف بن عبد المنعم الحراني، أنشدنا أبو نصر عبد

الرحيم بن النفيس بن هبة الله بن وهبان لنفسه

تبلى يدي بعد ما نطق أناملها كأنه لم يكن طوعا لها القلم

يا نفس ويحك نوحي حسرة على زمانك إذ وجدانيا عدم

واستدركي فارط الزلات واغتنمي الشبيبة والأوقات تغتنم

وقدمي صالحا تزكوا عواقبه يوم الحساب إذ ما انكسر الأيم

وأنشدت لنفسي

إن كان دهري بالمتعة وتباعدت عين وجه فتبالي

وسطا على بمصحات سهامه عن فرس حظي فذا صبين مقاتلي

قد نوب أيامي غدت مغفورة طراولن لما جئت بالسائلي

بقراءتي لشمائل الهادي إذ اشتغل الشيوخ بمعضلات مسائل

حسبي لما أتى بقية من نعمة إذكاشغلي في الحديث الكامل

صلى عليه الله ما هبت الصبا أو تاح طير فوق غصن مائل.

والله أعلم. [8/ب]
এবং তিনি যখন হাঁটতেন ধীরস্থিরভাবে কদম ফেলতেন, যেন তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচের দিকে নামছেন, অথবা কোনো ঢালু পথে হাঁটছেন। তিনি দৃষ্টি অবনত রাখতেন; আকাশের দিকে তাকানোর চেয়ে জমিনের দিকে তাঁর দৃষ্টি দীর্ঘ হতো। তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টিই ছিল পর্যবেক্ষণমূলক। তিনি তাঁর সাহাবীদের আগে বাড়িয়ে দিতেন (নিজে পিছনে চলতেন) এবং যার সাথেই তাঁর সাক্ষাৎ হতো, তাকে তিনি আগে সালাম দিতেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। এটি একটি হাসান গারীব হাদীস যা ইমাম তিরমিযী সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি থেকে, তিনি জুমাঈ থেকে দীর্ঘ এবং খণ্ডিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট এটি উচ্চতর সনদে (বাদাল হিসেবে) পৌঁছেছে এবং সেই ব্যক্তির নাম ইয়াজিদ ইবনে আমর আত-তামিমি; তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং কোনো বর্ণনায় তাঁর উপনাম আবদুল্লাহ এসেছে। ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং জুমাঈকে আল-ইজলি নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু হাতিম বলেছেন যে, তাঁর অবস্থান সত্যবাদিতার স্তরে, তবে অন্যরা তাঁকে শিয়া মনোভাবাপন্ন হওয়ার কারণে বর্ণনা করেছেন। আমরা তাঁর হাদীসের সমর্থনে তাঁর উস্তাদ আবু আলী ইবনে সাদানের সূত্রে এমন এক সনদে বর্ণনা পেয়েছি যার বর্ণনাকারীরা আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন ওমর ইবনে আহমদ ইবনে আকিল, আমাদের শুনিয়েছেন শিহাব আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আন-নাখলি, আমাদের শুনিয়েছেন ঈসা ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের শুনিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আবদুর রহমান, আমাদের শুনিয়েছেন আবু তৈয়ব আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হিজাজি, তিনি বলেছেন: আমাদের শুনিয়েছেন কাযিল কুযাত মাজদুদ্দিন ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-কিনানি, আমাদের শুনিয়েছেন আবদুল লতিফ ইবনে আবদুল মুনইম আল-হাররানি, আমাদের শুনিয়েছেন আবু নাসর আবদু

র রহিম ইবনে নাফিস ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে ওয়াহবান নিজের পক্ষ থেকে:

আমার হাত জীর্ণ হয়ে যাবে তার আঙুলগুলো কথা বলার পর, যেন কলমটি কখনোই তার অনুগত ছিল না।

হে নফস, তোমার জন্য পরিতাপ! তোমার সেই সময়ের জন্য আক্ষেপ করে কাঁদো, যখন আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

তোমার অতীতের ভুলগুলো সংশোধন করো এবং যৌবন ও সময়কে গনীমত মনে করো, কারণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে যায়।

নেক আমল অগ্রিম প্রেরণ করো যার পরিণাম শুভ হবে বিচারের দিনে, যখন সমস্ত আশ্রয় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

এবং আমি নিজের রচিত কবিতা পাঠ করেছি:

যদি আমার সময় আমোদ-প্রমোদে অতিবাহিত হয় এবং সত্য দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়, তবে তা হবে আমার ধ্বংস।

ভাগ্যের অশ্ব থেকে নিক্ষিপ্ত তীরের আঘাতে সে আমার ওপর চড়াও হয়েছে, এটিই আমার সংঘাতের ক্ষেত্র।

আমার বিগত দিনগুলোর ত্রুটিসমূহ মার্জনা করা হয়েছে এবং যখনই আমি যা চেয়েছি তা-ই পেয়েছি।

হিদায়াতকারীর (রাসূলের) গুণাবলি (শামাইল) পাঠ করার বরকতে, যখন উস্তাদগণ জটিল মাসয়ালা সমাধানে মগ্ন ছিলেন।

নেয়ামতের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা-ই আমার জন্য যথেষ্ট, যেহেতু আমার ব্যস্ততা ছিল পূর্ণাঙ্গ হাদীস চর্চায়।

আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন যতক্ষণ পুবালি বাতাস প্রবাহিত হবে অথবা নুয়ে পড়া ডালের ওপর পাখি গান গাইবে।

আর আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। [৮/খ]
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
10- إملاء يوم الجمعة لسبع بقين من محرم سنة 1190، أنشدنا عبد الله بن عمر بن الأمين الزبيري، أنشدنا الشهاب السجيلي، أنشدنا عيسى بن محمد الثعالبي، أنشدنا الشهاب الخفاجي، أنشدنا خالي أبو بكر بن إسماعيل الشنواني، أنشدنا يوسف بن زكريا، أنشدنا الحافظ السخاوي، أنشدنا ابن الفرات، أنشدنا الصلاح الصفدي، أنشدنا الحافظ أبو حيان، أنشدنا الأمير أبو عبد الله محمد بن باخل بن عبد الله العكاري، أنشدنا أبو محمد عبد اللطيف بن يوسف البغدادي، أنشدنا أبو بكر عبد الله بن أحمد بن محمد بن النقور، أنشدنا أبو محمد القاسم بن علي الجريري لنفسه في المقامات.

أيا من يدعي الفهم إلى كم أخي الوهم تعب الذنب والذنب وتخطي الخطأ الجم.

وجملتها أربع وعشرون بيت وأمليت فيه أيضا ما وقع من الإختلاف وفي اسم أبي هريرة، رضي الله عنه، واسم أبيه على أربعة وأربعين قولا.
১০- ১১৯০ হিজরী সনের মহররম মাসের সাত দিন অবশিষ্ট থাকাকালীন জুমার দিনের শ্রুতিলিপি; আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আল-আমিন আল-জুবাইরি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আশ-শিহাব আস-সুজাইলি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, ঈসা বিন মুহাম্মদ আস-সাআলিবি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আশ-শিহাব আল-খাফাজি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আমার মামা আবু বকর বিন ইসমাইল আশ-শানওয়ানি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, ইউসুফ বিন জাকারিয়া আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, হাফিজ আস-সাখাভি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, ইবনে আল-ফুরাত আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আস-সালাহ আস-সাফাদি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, হাফিজ আবু হাইয়ান আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আমির আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন বাখিল বিন আবদুল্লাহ আল-আকারি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল লতিফ বিন ইউসুফ আল-বাগদাদি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আবু বকর আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আন-নাকুর আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন আলি আল-জারিরি তার নিজের রচিত ‘মাকামাত’-এর এই অংশটি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন।

হে উপলব্ধির দাবিদার! হে মোহাচ্ছন্ন ভাই, আর কতকাল পাপের পর পাপ ভক্ষণ করবে এবং একের পর এক মারাত্মক ভুল করে চলবে?

এর মোট কবিতাংশ চব্বিশটি। আমি এতে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং তাঁর পিতার নামের ব্যাপারে যে মতপার্থক্য বিদ্যমান, সে সম্পর্কে চুয়াল্লিশটি অভিমতও শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২০)
11- إملاء يوم الجمعة لسبع بقيت من صفر سنة 1190، أخبرنا أبو المعالي الحسن بن علي بن أحمد بن عبد الله المصري، قراءة عليه بمنزله في سنة 1167، أخبرنا أبو الجواد ابن القاسم بن محمد المصري الضرير، أخبرنا الشمس محمد بن العلاء الحافظ المصري، أخبرنا النور علي بن بجير الزيادي المصري، أخبرنا الشهاب أحمد بن محمد بن حمزة الأنصاري المصري، أخبرنا البرهان إبراهيم بن علي القلفشندي المصري، أخبرنا أبو العباس أحمد بن محمد بن أبي بكر الواسطي ثم المصري، أخبرنا الخطيب صدر الدين أبو الفتح محمد بن محمد الميدومي المصري، أخبرنا أبو الطاهر إسماعيل بن عبد القوي بن عزون وأبو عيسى عبد الله بن عبد الواحد بن علاق المصريان قال الأول إجازة، وقال الثاني سماعا قالا: أخبرنا أبو القاسم هبة الله بن علي بن مسعر المصري، أخبرنا مرشد بن يحيى المديين المصري، أخبرنا أبو الحسن علي بن عمر بن حمصة الحراني المصري الصواف، أخبرنا أبو القاسم حمزة بن محمد بن الكناني المصري، الحافظ إملاء حدثنا عمر بن موسى بن حميد الطيب، حدثنا [9/أ]
১১- ১১৯০ হিজরি সনের সফর মাসের সাত দিন অবশিষ্ট থাকতে জুমুআর দিনের শ্রুতিলিখন (ইমলা); আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মাআলি আল-হাসান ইবনে আলি ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মিসরি, ১১৬৭ হিজরি সনে তাঁর বাসভবনে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-জাওয়াদ ইবনুল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি আদ-দারির; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শামস মুহাম্মদ ইবনুল আলা আল-হাফিজ আল-মিসরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আন-নূর আলি ইবনে বুজাইর আজ-জিয়াদি আল-মিসরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শিহাব আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামজাহ আল-আনসারি আল-মিসরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বুরহান ইব্রাহিম ইবনে আলি আল-কালফাশান্দি আল-মিসরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আল-ওয়াসিতি, অতঃপর আল-মিসরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-খাতিব সদরুদ্দীন আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাইদুমি আল-মিসরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আত-তাহির ইসমাইল ইবনে আব্দুল কাবি ইবনে আজজুন এবং আবু ঈসা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আল্লাক আল-মিসরিদ্বয়—প্রথমজন ইজাযত (অনুমতি) হিসেবে এবং দ্বিতীয়জন শ্রবণের (সামা‘) মাধ্যমে; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আলি ইবনে মিসআর আল-মিসরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুরশিদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাদায়িন আল-মিসরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলি ইবনে উমর ইবনে হামসাহ আল-হাররানি আল-মিসরি আস-সাওয়াফ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু আল-কাসিম হামজাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-কিনানি আল-মিসরি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে মুসা ইবনে হুমাইদ আত-তাইয়িব; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন [৯/ক]
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২১)
يحيى بن عبد الله بن بكير، حدثنا الليث بن سعد عن عامر بن يحيى المعافري عن أبي عبد الرحمن الحبلي، سمعت عبد الله بن عمرو بن العاص، رضي الله عنه، يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يصاح برجل من أمتي على رؤوس الخلائق يوم القيامة فينشر عليه تسعة وتسعين سجلا كل سجل مد البصر ثم يقول الله جل جلاله: أتنكر شيئا من هذا؟ فيقول: لا يا رب فيقول الله عز وجل ألك عذر أو حسنة؟ فيهاب الرجل فيقول: لا يا رب فيقول الله عز وجل: بلى إن لك عندنا حسنات وإنه لا ظلم عليك م فيخرج له بطاقة فيها: أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله فيقول: يا رب ما هذه البطاقة مع هذه السجلات فيقول الله عز وجل: إنك لا تظلم، فتوضع السجلات في كفة والبطاقة في كفة فطاشت السجلات وثقلت البطاقة.

قال الصواف: لما أملي علينا حمزة الكناني هذا الحديث في الجامع العتيق بمصر صاح رجل في المجلس صيحة خرجت نفسه معها وأنا ممن حضر جنازته وصلى عليه.

هذا حديث جيد الإسناد عظيم الموقع مسلسل بالمصريين، سكن مصر مع أبيه وأقام بعده مدة يسيرة ثم تحول منها.

رواه أحمد والترمذي والطبراني وابن حبان في صحيحه كلهم من حديث ابن المبارك، ورواه ابن ماجة من حديث سعيد بن أبي مريم وابن حبان أيضا من حديث عبد الله بن عمر الحراساني والطبراني أيضا من حديث عبد الله بن صالح كاتب الليث والحاكم من حديث يونس بن محمد المؤدب خمستهم عن الليث ابن سعد فوقع لنا عاليا.
ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে সা'দ, তিনি আমির ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাআফিরি থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ডাকা হবে, অতঃপর তার সামনে নিরানব্বইটি আমলনামার খাতা (দফতর) উন্মোচন করা হবে, যার প্রতিটি খাতা দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অতঃপর আল্লাহ জাল্লা জালালুহু বলবেন: 'তুমি কি এর মধ্য থেকে কিছু অস্বীকার করো?' সে বলবে: 'না, হে আমার রব।' তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলবেন: 'তোমার কি কোনো ওজর বা কোনো নেকি আছে?' তখন লোকটি ভীত হয়ে পড়বে এবং বলবে: 'না, হে আমার রব।' তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলবেন: 'অবশ্যই, আমাদের নিকট তোমার নেকি রয়েছে এবং আজ তোমার উপর কোনো জুলুম করা হবে না।' অতঃপর তার জন্য একটি ছোট কার্ড (বিতাকা) বের করা হবে যাতে লেখা রয়েছে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।' তখন সে বলবে: 'হে আমার রব, এই বিশালাকার খাতাগুলোর সামনে এই ছোট কার্ডটির কী বা গুরুত্ব আছে?' তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলবেন: 'নিশ্চয়ই তোমার উপর কোনো জুলুম করা হবে না।' অতঃপর খাতাগুলো পাল্লার এক পাল্লায় রাখা হবে এবং কার্ডটি অন্য পাল্লায় রাখা হবে। তখন খাতাগুলো হালকা হয়ে উপরে উঠে যাবে এবং কার্ডটি ভারী হয়ে যাবে।"

আস-সাওয়াফ বলেন: হামযা আল-কিনানি যখন মিশরের জামে আতীকে আমাদের কাছে এই হাদীসটি পাঠ করে শোনান, তখন মজলিসের এক লোক এমন এক চিৎকার দিলেন যে তার সাথে সাথেই তার প্রাণবায়ু বেরিয়ে গেল। যারা তার জানাজায় উপস্থিত ছিল এবং তার জানাজার সালাত আদায় করেছিল আমি তাদের একজন।

এই হাদীসটির সনদ উত্তম (জায়্যিদ) এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি হাদীস যা মিশরীয় রাবীদের ধারাবাহিকতায় বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতার সাথে মিশরে বসবাস করতেন এবং তাঁর পরে অল্প কিছুকাল সেখানে অবস্থান করেন, অতঃপর সেখান থেকে স্থানান্তরিত হন।

ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, তাবারানী এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সকলে ইবনুল মুবারকের হাদীস থেকে। এছাড়া ইবনে মাজাহ এটি সাঈদ ইবনে আবি মারইয়ামের হাদীস থেকে, ইবনে হিব্বান আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-খুরাসানীর হাদীস থেকে, তাবারানী লাইসের লেখক আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ-এর হাদীস থেকে এবং হাকিম ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিবের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন—তাঁরা পাঁচজনই লাইস ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চমানের (আলী) সনদে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২২)
وقال الحاكم والنسائي والحبلي وثقه يحيى بن معين وروى له البخاري في الأدب المفرد وبالسند إلى القلقشندي أنشدنا الحافظ أبو الفضل الكناني، أنشدنا عبد الله بن محمد، أنشدنا محمد بن يحيى بن جابر، أنشدنا أحمد بن محمد بن الحسن، أنشدنا سليمان بن موسى بن سالم، أنشدنا يوسف بن عبد الله البلوي، أنشدني أبي عبد الله بن يوسف، أنشدني أبي يوسف بن يحيى، أنشدنا أبو الحسن طاهر بن منصور، أنشدنا ابو العباس العذري، أنشدنا أبو محمد علي بن أحمد بن حزم الأندلسي الفارسي لنفسه [9/ب]

 

ولما رأيت الشيب حل مفارقي نذيرا بترحال الشباب المفارق.

رجعت إلى نفسي فقلت لها انظري إلى ما أتى هذا ابتداء الحقائق.

دعي دعوات اللهو قد فات وقتها كما قد أفات الليل نور المشارق.

دعي منزل اللذات ينزله أهله وجدي لما تدعي إليه وسابقي.

ونوحي زمانا مر عنك أسهلا على غفلة وأبكي بدمع سابق

لقد زعمت اسما أني أحبسها وإني لها يوما تغير مفارق

لقد كذبت في الزعم كيف أحبها وهذا نذير الشيب جل مفارقي

أخبرك أن العيش ليس بطيب وعارض المسود طر بشارق

وإني بسوغ المنذر بن هباوة ولهوا بتذكار الحلي والقراطق.

لقد فاتني صفو الشباب وليتني تذكرت من قبل الشباب الطورق.

ولكن ظنوني في الإله جميلة بها أملي في حصول المرافق.

وجاه رسول الله أعلى وسيلتي إذا دهمتني مصميات الداوشق.

عليه صلاة الله ثم سلامه وآله والصحبي أهل الحقائق.

والله أعلم
হাকিম, নাসাঈ এবং হুবলী বলেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন এবং ইমাম বুখারী তাঁর থেকে 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এবং কলকাশান্দী পর্যন্ত পৌঁছানো সনদের মাধ্যমে হাফেজ আবুল ফজল আল-কিনানী আমাদের শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাবির আমাদের শুনিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমাদের শুনিয়েছেন, সুলায়মান ইবনে মুসা ইবনে সালিম আমাদের শুনিয়েছেন, ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ আল-বালবী আমাদের শুনিয়েছেন, আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাকে শুনিয়েছেন, আমার পিতা ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আমাকে শুনিয়েছেন, আবুল হাসান তাহের ইবনে মনসুর আমাদের শুনিয়েছেন, আবুল আব্বাস আল-উযরী আমাদের শুনিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে হাজম আল-আন্দালুসী আল-ফারিসী নিজের রচিত কবিতা আমাদের শুনিয়েছেন: [৯/খ]

 

যখন আমি দেখলাম যে পক্কতা (সাদা চুল) আমার সিঁথিতে নেমে এসেছে, যা বিদায়ী যৌবনের প্রস্থানের এক সতর্কবার্তা।

তখন আমি নিজের কাছে ফিরে এলাম এবং তাকে (মনকে) বললাম: লক্ষ্য করো যা এসেছে, এটাই হলো বাস্তব সত্যের সূচনা।

খেল-তামাশার ডাকগুলো বর্জন করো, সেগুলোর সময় ফুরিয়ে গেছে; যেমন পূর্বাকাশের আলো রাতের অন্ধকারকে বিদায় করে দেয়।

ভোগবিলাসের আবাস তার অধিকারীদের জন্য ছেড়ে দাও, আর তোমাকে যেদিকে আহ্বান করা হচ্ছে তার জন্য সচেষ্ট ও অগ্রগামী হও।

অসতর্কতায় তোমার জীবন থেকে অতিবাহিত হওয়া সহজ দিনগুলোর জন্য বিলাপ করো এবং প্রবহমান অশ্রুতে ক্রন্দন করো।

আসমা ধারণা করেছিল যে আমি তাকে আটকে রাখব, অথচ আমি একদিন তার থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব।

তার ধারণা মিথ্যায় পর্যবসিত হয়েছে; আমি তাকে কীভাবে ভালোবাসব যখন পক্কতার এই সতর্কবার্তা আমার সিঁথিতে জাঁকিয়ে বসেছে?

আমি তোমাকে সংবাদ দিচ্ছি যে জীবন সুখকর নয়, যখন কালো চুলের প্রান্ত শুভ্রতায় ছেয়ে যায়।

আমি মুনজির ইবনে হাবাওয়াহ-এর অনুসরণে এবং অলঙ্কার ও ভূষণের স্মৃতিচারণের খেলায় মত্ত ছিলাম।

যৌবনের নির্মলতা আমার হাতছাড়া হয়েছে, হায়! যদি আমি যৌবন অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই আপতিত বিপদসমূহের কথা ভাবতাম।

কিন্তু আল্লাহর প্রতি আমার সুধারণা অত্যন্ত প্রবল, যার মাধ্যমে আমার সকল কল্যাণ প্রাপ্তির আশা রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা আমার উচ্চতর অসিলা, যখন আমাকে বিপদ-আপদের তীরের আঘাতগুলো বিদ্ধ করবে।

তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক এবং তাঁর পরিবার ও সত্যের অনুসারী সাহাবীবৃন্দের ওপর।

এবং আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
12- إملاء يوم الجمعة لسبع مضين من ربيع أول سنة 1190، أخبرنا أبو عبد الله محمد بن الطيب بن محمد بن موسى سماعا وأبو عبد الله محمد بن عبد الله بن أيوب التلمساني، إجازة قالا: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن أحمد بن المسناوي، أخبرنا عمي أبي محمد بن محمد بن أبي بكر الدلاني الشهير بالمرابط شارح التسهيل، أخبرنا والدي، أخبرنا أبو الذخائر محمد بن قاسم بن أحمد الغرناطي، أخبرنا أبو العباس أحمد بن عبد الرحمن التسولي، أخبرنا أبو العباس أحمد بن أحمد بن عيسى البرنس، أخبرنا أبو عبد الله محمد بن قاسم المعروف بالثوري، أخبرنا أبو عبد الله المكناس، أخبرنا أبو العباس الخزرجي البلنسي، أخبرنا أبو الربيع الكلاعي، أخبرنا أبو جعفر أحمد بن علي بن عبد العزيز العطار، أخبرنا القاضي أبو الفضل عياض بن موسى بن عياض اليحصبي، أخبرنا القاضي الشهيد أبو علي الحسين بن سكرة الصدفي، أخبرنا أبو عبد الله محمد بن [10/أ]
12- ১১৯০ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমুআর দিনের শ্রুতিলিপি। আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুত তাইয়্যিব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা শ্রবণের মাধ্যমে এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আইয়ুব আত-তিলিমসানি ইজাযতের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল মাসনাভি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার চাচা আবু মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আদ-দিলানি, যিনি ‘আল-মুরাবিত’ নামে প্রসিদ্ধ এবং ‘আত-তাসহিল’-এর ব্যাখ্যাকার। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল জাখায়ির মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে আহমাদ আল-গারনাতি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আবদুর রহমান আত-তাসুলি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ঈসা আল-বুরনুস। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে কাসিম, যিনি আস-সাওরি নামে পরিচিত। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-মিকনাস। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-খাযরাজি আল-বালানসি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুুর রাবি আল-কালাই। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আহমাদ ইবনে আলি ইবনে আবদুল আজিজ আল-আত্তার। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাজি আবু ফদল আইয়াদ ইবনে মুসা ইবনে আইয়াদ আল-ইয়াহসুবি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাজি শাহিদ আবু আলি আল-হুসাইন ইবনে সুকরাহ আস-সাদাফি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে [১০/আ]
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
أبي نصر الحميدي، قلت له: حدثكم أبو الحسن علي بن بقاء الوارق فأقر به، حدثنا أبو الفتح أحمد بن محمد الجهازي، حدثنا أبو إسحاق محمد بن القاسم بن شعبان، حدثنا أحمد بن الحسين، حدثنا أبو حفص الفلاسي، حدثنا أبو داود قال: كنا عند شعبة نكتب ما يملي، فسأل سائل، فقال شعبة: تصدقوا، فلم يتصدق أحد، فقال: تصدقوا، فإن أبا إسحاق حدثني، عن عبد الله بن معقل، عن عدي بن حاتم قال: قال رسول الله، صلى الله عليه وسلم، " اتقوا النار، ولو بشق تمرة "، فلم يتصدق أحد، فقال: تصدقوا، فإن عمرو بن مرة حدثني، عن خيثمة، عن عدي بن حاتم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " اتقوا النار، ولو بشق تمرة، فإن لم تجدوا فبكلمة طيبة "، فلم يتصدق أحد، فقال: تصدقوا، فإن محلا الضبي حدثني عن عدي بن حاتم قال: قال رسول الله،صلى الله عليه وسلم،" استتروا من النار ولو بشق تمرة، فإن لم تجدوا، فبكلمة طيبة "، فلم يتصدق أحد، فقال شعبة: قوموا عني، فوالله لاحدثتكم ثلاثة أشهر، ثم دخل منزله، فأخرج عجينا، فأعطاه السائل، فقال: خذ هذا، فإنه طعامنا اليوم.

هذا حديث صحيح أخرجه البخاري عن سليمان بن حرب عن شعبة.
আবু নাসর আল-হুমাইদি, আমি তাঁকে বললাম: আবুল হাসান আলী ইবনে বাকা আল-ওয়াররাক কি আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন? তিনি তা স্বীকার করলেন। আবুল ফাতহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-জাহাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক মুহাম্মাদ ইবনে আল-কাসিম ইবনে শা'বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাফস আল-ফাল্লাসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ বলেছেন: আমরা শু'বাহর নিকট ছিলাম, তিনি যা বলে দিচ্ছিলেন তা আমরা লিখে নিচ্ছিলাম। এমন সময় একজন যাঞ্চাকারী প্রার্থনা করল। তখন শু'বাহ বললেন: তোমরা সদকা করো। কিন্তু কেউ সদকা করল না। তিনি পুনরায় বললেন: তোমরা সদকা করো, কেননা আবু ইসহাক আব্দুল্লাহ ইবনে মা'কিল থেকে এবং তিনি আদি ইবনে হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, এমনকি একটি খেজুরের টুকরো দিয়ে হলেও।" তবুও কেউ সদকা করল না। এরপর তিনি বললেন: তোমরা সদকা করো, কেননা আমর ইবনে মুররাহ খায়সামা থেকে এবং তিনি আদি ইবনে হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, এমনকি একটি খেজুরের টুকরো দিয়ে হলেও; আর যদি তা না পাও, তবে উত্তম কথা বলে (বাঁচো)।" তবুও কেউ সদকা করল না। তিনি পুনরায় বললেন: তোমরা সদকা করো, কেননা মুহাল্লা আদ-দাব্বি আদি ইবনে হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা করো এমনকি একটি খেজুরের টুকরো দিয়ে হলেও; আর যদি তা না পাও, তবে উত্তম কথা বলে।" তবুও কেউ সদকা করল না। তখন শু'বাহ বললেন: তোমরা আমার নিকট থেকে উঠে যাও! আল্লাহর কসম, আমি তিন মাস তোমাদের নিকট কোনো হাদীস বর্ণনা করব না। এরপর তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং কিছু আটার খামির বের করে এনে যাঞ্চাকারীকে দিলেন এবং বললেন: এটি নাও, এটাই আজ আমাদের দিনের খাবার।

এটি একটি সহীহ হাদীস যা বুখারী সুলাইমান ইবনে হারব-এর সূত্রে শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأخرجه مسلم عن عون بن سلام عن زهير بن معاوية كلاهما عن إسحاق به فوقع لنا بدلا لهما،ومحل الضبي هكذا وجد في سياق رواية شعبة قال القاضي عياض وهو وهم إنما هو محل ابن خليفة الطائي الكوفي الذي يروي عن عدي بن حاتم وهو بكسر الحاء كما في كتاب أبي الوليد الباجي وضبطه المهلب بفتحها وبالوجهين عند أبي علي التميمي وبالسند المتقدم إلى الكلاعي قال: أنشدني يوسف بن عبد الله بن أيوب بن يحيى القضاعي، قال: أنشدنا أبي عبد الله، أنشدني أبي يحيى بن أيوب، أنشدنا أبو الحسن طاهر بن مفوز، أنشدنا الحافظ أبو عمر بن عبد البر، أنشدنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَحْيَى قَالَ: أَنْشَدَنِي أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ الْخَضِرِ الأَسْيُوطِيُّ بِمَكَّةَ قَالَ: أنشدنا أَبُو الْقَاسِمِ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الأَخْبَارِيُّ قَالَ: أنشدنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، الشيباني، أنشدني أبي:

دِينُ النَّبِيِّ مُحَمَّدٍ أَخْبَارٌ نِعْمَ الْمَطِيَّةُ لِلْفَتَى الآثَارُ

لَا تَرْغَبَنَّ عَنِ الْحَدِيثِ وَأَهْلِهِ فَالرَّأْيُ لَيْلٌ وَالْحَدِيثُ نَهَارُ [10/ب]

 

وَلَرُبَّمَا جَهِلَ الْفَتَى أَثَرَ الْهُدَى وَالشَّمْسُ بَازِغَةٌ لَهَا أَنْوَارُ

والله أعلم
ইমাম মুসলিম এটি আউন ইবনে সালাম থেকে এবং জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া থেকে—তাঁরা উভয়ই ইসহাক থেকে—এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের জন্য তাঁদের উভয়ের সূত্রের একটি উচ্চতর বিকল্প সূত্র (বাদাল) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আর ‘মুহাল আদ-দাব্বি’ নামটি শু‘বার বর্ণনার ধারায় এভাবেই পাওয়া যায়। কাজী ইয়াজ বলেন, এটি একটি ভ্রম; বরং তিনি হলেন মুহাল ইবনে খলিফা আত-তাঈ আল-কুফি, যিনি আদি ইবনে হাতিম থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর নামের ‘হা’ বর্ণটি কাসরা (জের) যোগে পড়তে হয়, যেমনটি আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির কিতাবে রয়েছে। আল-মুহাল্লাব একে ফাতহা (জবর) দিয়ে নির্দিষ্ট করেছেন এবং আবু আলী আত-তামিমির নিকট উভয় পাঠই বর্ণিত আছে। আল-কালাই পর্যন্ত পূর্বোক্ত সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আইয়ুব ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুদায়ি আমাকে কবিতাটি শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আমার পিতা আব্দুল্লাহ আমাকে শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আমার পিতা ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাকে শুনিয়েছেন; আবুল হাসান তাহের ইবনে মুফাউয়াজ আমাদের শুনিয়েছেন; হাফেজ আবু উমর ইবনে আব্দুল বার আমাদের শুনিয়েছেন; আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: মক্কায় আবু আলী আল-হাসান ইবনে আল-খাদির আল-আসিউতি আমাকে শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-আখবারি আমাদের শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানি আমাদের শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে শুনিয়েছেন:

নবী মুহাম্মাদের দ্বীন হলো হাদীস ও বর্ণনা, যুবকদের জন্য আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) কতই না চমৎকার বাহন!

তুমি হাদীস ও হাদীসপন্থীদের থেকে বিমুখ হয়ো না, কেননা ব্যক্তিগত মতামত হলো অন্ধকার রাত আর হাদীস হলো আলোকিত দিন। [১০/খ]

 

অনেক সময় যুবক হিদায়াতের নিদর্শন সম্পর্কে বেখবর থাকে, অথচ সূর্য তখন প্রখর আলো বিকিরণ করে উদিত থাকে।

আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
13- إملاء يوم الجمعة آخر يوم صفر سنة 1190 وهو المسلسل بالسادة الصوفية، أخبرنا السيد المحدث المسند الصوفي ولي الله بن عبد الرحيم الحسين الدهلوي، والسيد الصوفي الورع محيي الدين نور الحق بن عبد الله المتوكل الحسيني قراءة عليهما، في مجلسين متفرقين، أخبرنا أبو طاهر محمد بن إبراهيم الكوراني الصوفي، أخبرنا والدي وكان صوفيا، أخبرنا شيخ الصوفية بالمدينة صفي الدين أحمد بن محمد بن عبد النير القتشاش، أخبرنا أبو المواهب أحمد بن علي بن عبد القدوس الشناوي الصوفي، أخبرنا والدي وكان صوفيا، أخبرنا شيخ الصوفية بمصر عبد الوهاب بن علي الشعراني، أخبرنا شيخ الإسلام زكريا بن محمد الأنصاري الصوفي، أخبرنا الشرف أبو الفتح محمد بن أبي بكر بن الحسين المراغي الصوفي، أخبرنا أبو الطاهر أحمد بن محمد الجحندي الحنفي الصوفي بالمدينة، أخبرنا الحافظ الحجة صلاح الدنيا أبو سعيد خليل بن كيكلدس العلائي الصوفي شيخ الصلاحية ببيت المقدس، أخبرنا أبو عبد الله محمد بن أبي بكر الأسدي الحلبي الصوفي، أخبرنا أبو يعقوب يوسف بن محمود الساري الصوفي، أخبرنا الحافظ أبو طاهر أحمد بن محمد السلفي الصوفي، أخبرنا أبو عبد الله أحمد بن علي بن محمد بن علي الأسواري الصوفي بأصبهان، أخبرنا أبو الحسن علي بن شجاع بن محمد الشيباني الصوفي، أخبرنا أبو بكر أحمد بن منصور بن يوسف الصوفي، أخبرنا أبو علي أحمد أحمد بن عثمان الكريدي الصوفي قال: حضرت مجلس الجنيد ببغداد فسمعته يقول: حدثنا السري بن مغلس السقطي، حدثنا معروف بن فيروز الكرخي، حدثنا معبد بن عبد العزيز العابد عن الحسن البصري عن أنس بن مالك، رضي الله تعالى عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: طلب الحق فريضة.
১৩- ১১৯০ হিজরি সনের সফর মাসের শেষ শুক্রবারের শ্রুতিলিপি, যা সূফী মহোদয়গণের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যেদ মুহাদ্দিস মুসনিদ সূফী ওয়ালিউল্লাহ বিন আব্দুর রহীম আল-হুসাইনী আদ-দেহলভী এবং সাইয়্যেদ সূফী মুত্তাকী মুহিউদ্দীন নূরুল হক বিন আব্দুল্লাহ আল-মুতাওয়াক্কিল আল-হুসাইনী, তাঁদের উভয়ের নিকট পঠিত—পৃথক দুটি মজলিসে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-কুরানী আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, আর তিনি ছিলেন একজন সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মদীনার সূফীদের শায়খ সফিউদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল নায়্যার আল-কুশাশী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাওয়াহিব আহমাদ বিন আলী বিন আব্দুল কুদ্দুস আশ-শিননাবী আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, আর তিনি ছিলেন একজন সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মিসরের সূফীদের শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী আশ-শা’রানী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খুল ইসলাম যাকারিয়া বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শারাফ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আল-হুসাইন আল-মারাকী আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মদীনায় অবস্থানরত আবু তাহের আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-জুহান্দী আল-হানাফী আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিযুল হুজ্জাহ সালাহুদ্দুনিয়া আবু সাঈদ খলীল বিন কাইকালদী আল-আলাঈ আস-সূফী, যিনি বাইতুল মুকাদ্দাসের সালাহিয়্যাহ মাদরাসার শায়খ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি বকর আল-আসাদী আল-হালাবী আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন মাহমুদ আস-সারী আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিয আবু তাহের আহমাদ বিন মুহাম্মদ আস-সিলাফী আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসফাহানের আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-আসওয়ারী আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন শুজা বিন মুহাম্মদ আশ-শাইবানী আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন মানসূর বিন ইউসুফ আস-সূফী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আহমাদ বিন উসমান আল-কুরয়দী আস-সূফী, তিনি বলেন: আমি বাগদাদে জুনাইদ-এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম এবং তাঁকে বলতে শুনেছি: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাররী বিন মুগাল্লিস আস-সাকাতী। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মারূফ বিন ফিরোজ আল-কারখী। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মাবাদ বিন আব্দুল আযীয আল-আবিদ, তিনি হাসান বসরী থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: সত্যের অন্বেষণ করা একটি আবশ্যিক কর্তব্য।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
هذا حديث غريب المتن عزيز الأستاذ حسن من رواية الصوفية الزهاد خلفا عن سلف، وهلم جرا إلى شيخنا ومن شواهده ما أخرجه ابن ماجة من حديث أنس رفعه قال: طلب العلم [11/أ]

 

فريضة على كل مسلم، وقد روى ذلك عن جماعة كثيرة من الصحابة ومعناه صحيح فقد أجمع العلماء على أن من العلم ماهو فرض عين على كل امريء في خاصة نفسه ومنه ماهو فرض على الكفاية إذا قام به قائم سقط فرضه عن أهل ذلك الموضع وقد وقع لنا حديث آخر مسلسلا بالزهاد وبالسند المتقدم إلى الحافظ أبي طاهر السلفي، أخبرنا أبو علي البرزاني عن أبي المظفر هناد بن إبراهيم النسفي عن أبي سهل محمد بن أحمد بن عبد الله الأسدابازي عن يوسف بن محمد بن بندار الزاهد عن القطواني يزيد طيفوار بن عبس البسطامي، حدثنا محمد بن فارس البلخي، حدثنا حاتم الأصم، حدثنا شقيق بن إبراهيم البلخي عن إبراهيم بن أدهم عن مالك بن دينار عن أبي مسلم الخولاني عن عمر بن الخطاب، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لو صليتم حتى تكونوا كأوتار وكان الاشان أحب إليكم من الواحد لم تبلغوا الإستقامة. لكن محمد بن فارس البلخي شيخ أبي يزيد قد تكلم فيه، ذكره الذهبي في الميزان وبالسند المتقدم إلى القاضي زكريا، أخبرنا أبو الفضل الكناني، أخبرنا محمد بن عبد الله الدمشقي، أخبرنا محمد بن يحيى بن جابر، أنشدنا أبو الغماز، أنشدنا أبو الربيع الكلاعي، أنشدنا القاضي أبو محمد عبد المنعم بن محمد بن عبد الرحيم في منزله بغرناطة، أنشدني أبي، أنشدنا أبو بكر غالب بن عطية لنفسه.

أيها المطرود عن باب الرضا كم يراك الله تلهو معرضا

كم إياكم أنت في عن الصبا قد مضى عمر الصبا وانقرضا

فنم إذا الليل دجت ظلمته واسقله الجفن أن يغمضا

فنضع الخد على الأرض ونح واقرع السن على ما قد مضا

والله أعلم
এটি একটি হাদিস যার মূলপাঠ বিরল, উস্তাদদের পরম্পরায় সুদৃঢ় এবং হাসান পর্যায়ের; যা পরহেজগার সুফিদের মাধ্যমে উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং এভাবেই তা আমাদের শায়খ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর সমর্থক বর্ণনার মধ্যে রয়েছে যা ইবনে মাজাহ আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: জ্ঞান অন্বেষণ করা [১১/আ]

 

প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ। এটি সাহাবায়ে কেরামের একটি বড় জামাত থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং এর অর্থ সহিহ। ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ইলমের কিছু অংশ এমন যা প্রতিটি ব্যক্তির ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরজ (ফরজে আইন) এবং কিছু অংশ ফরজে কিফায়া; যদি কোনো ব্যক্তি তা পালন করে তবে ওই জনপদের অন্যদের ওপর থেকে সেই ফরজের বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যায়। আমাদের কাছে পরহেজগার ব্যক্তিদের মাধ্যমে মুসালসাল সূত্রে অন্য একটি হাদিস পৌঁছেছে, যা হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফির পূর্ববর্তী সনদে: আবু আলি আল-বারযানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুজাফফর হান্নাদ ইবনে ইব্রাহিম আন-নাসাফি থেকে, তিনি আবু সাহল মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসদাবাজি থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বুন্দার আজ-জাহিদ থেকে, তিনি আল-কাতওয়ানি ইয়াজিদ তয়ফুর ইবনে আস আল-বিস্তামি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ফারেস আল-বালখি থেকে, তিনি হাতেম আল-আসাম থেকে, তিনি শাকিক ইবনে ইব্রাহিম আল-বালখি থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আদহাম থেকে, তিনি মালেক ইবনে দিনার থেকে, তিনি আবু মুসলিম আল-খাওলানি থেকে, তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা যদি এত বেশি নামাজ পড়ো যে ধনুকের ছিলার মতো (ক্ষীণকায়) হয়ে যাও, অথচ তোমাদের কাছে একজনের (আল্লাহর) চেয়ে অন্য কেউ বেশি প্রিয় হয়, তবে তোমরা ইস্তেকামাত (অটলতা) অর্জন করতে পারবে না।" তবে আবু ইয়াজিদের শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ফারেস আল-বালখির ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে, ইমাম যাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। এবং কাজি জাকারিয়ার পূর্ববর্তী সনদে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ফজল আল-কিনানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাবের, আমাদের শুনিয়েছেন আবু গাম্মাজ, আমাদের শুনিয়েছেন আবু রবি' আল-কালা'য়ি, আমাদের শুনিয়েছেন কাজি আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুনিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহিম গ্রানাডায় তাঁর নিজ গৃহে, তিনি বলেন: আমাকে শুনিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের শুনিয়েছেন আবু বকর গালিব ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর স্বরচিত কবিতা থেকে:

হে সন্তুষ্টির দুয়ার থেকে বিতাড়িত! আল্লাহ তোমাকে কতকাল বিমুখ ও উদাসীন হয়ে খেলাধুলায় মত্ত দেখবেন?

তুমি আর কতকাল যৌবনের মোহে নিমগ্ন থাকবে? অথচ যৌবনের সময় তো গত হয়েছে এবং ফুরিয়ে গেছে।

সুতরাং রাত যখন গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়, তখন তুমি ঘুমাও এবং চোখের পলককে বন্ধ হতে বাধা দাও।

অতঃপর জমিনে গাল রাখো এবং বিলাপ করো, আর যা গত হয়েছে তার জন্য অনুশোচনায় দন্তঘর্ষণ করো।

আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২৮)
14- إملاء يوم الجمعة لأربع عشرة مضين من ربيع الأول سنة 1190، أخبرنا السيد عمر بن أحمد بن عقيل الحسيني، أخبرنا عبد الله بن سالم البصري والشهاب أحمد بن علي بن محمد النخلي قالا: أخبرنا الشمس محمد بن [11/ب]

 

العلاء الحافظ، أخبرنا المعمر أبو عبد الرحمن محمد بن محمد بن عبد الله بن محمد القلقشندي، أخبرنا المسند المعمر محمد اركماس الطاهري الشهير بالحر ح وأخبرنا عبد الخالق بن أبي بكر والحسن بن عبد الرحمن، حدثنا عبد ربه وأبوا الفضل أحمد بن الحسن الكوراني، قالوا: أخبرنا الحسن بن علي بن يحيى المكي، أخبرنا أحمد بن محمد اليمين وزين العابدين بن عبد القادر الطبري قال الأول: أخبرنا يحيى بن مكرم الطبري، أخبرنا عبد الحر بن محمد السنباطي وقال الثاني: أخبرنا عبد الواحد بن إبراهيم الخطيب، أخبرنا الشمس محمد بن إبراهيم العمري قالوا وهم ثلاثة: أخبرنا الحافظ أبو الفضل أحمد بن علي الكناني قرأت على أم الحسن فاطمة بنت محمد بن أحمد بن محمد بن عثمان بن المنجا التنوخية بدمشق عن التقاء سليمان بن حمزة الدمشقي، أخبرنا محمد بن عماد في كتابه عن أبي القاسم هبة الله بن الحسين بن أبي شريك وهو آخر من حدث عنه، أخبرنا أبو الحسين أحمد بن محمد بن النقور، حدثنا عيسى بن علي بن عيسى بن داود بن الجراح إملاء، حدثنا أبو القاسم عبد الله بن محمد بن عبد العزيز البغوي، حدثنا شيبان بن فروخ، حدثنا سعيد بن سليم الغيس عن أنس بن مالك، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الله تبارك وتعالى من أخذت كريمته في الدنيا لم أرض له إلا الجنه قال أنس: قلت يا رسول الله وإن كانت واحدة قال وإن كانت واحدة.
১৪- ১১৯০ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের চৌদ্দ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমুআর দিনের শ্রুতিলিপি (ইমলা)। আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যেদ উমর ইবনে আহমদ ইবনে আকিল আল-হুসাইনি। আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে সালিম আল-বাসরি এবং শিহাব আহমদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ আন-নাখলি, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন শামস মুহাম্মদ ইবনে [১১/খ]

 

আল-আলা আল-হাফিজ। আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন দীর্ঘজীবী আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-কালকাশান্দি। আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন মুসনাদ বর্ণনাকারী দীর্ঘজীবী মুহাম্মদ আরকামাস আত-তাহিরি, যিনি 'আল-হুর' নামে প্রসিদ্ধ। (হ) এবং আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুল খালিক ইবনে আবু বকর এবং হাসান ইবনে আবদুর রহমান। তাঁরা বলেন: আমাদিগকে হাদিস শুনিয়েছেন আবদে রাব্বিহি এবং আবু আল-ফজল আহমদ ইবনে হাসান আল-কুরানি। তাঁরা বলেন: আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আলি ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাক্কি। আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ইয়ামিন এবং জয়নুল আবেদিন ইবনে আবদুল কাদির আত-তাবারী। প্রথমজন বলেন: আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাকরাম আত-তাবারী। আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুল হুর ইবনে মুহাম্মদ আস-সুনবাতি। এবং দ্বিতীয়জন বলেন: আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়াহিদ ইবনে ইবরাহিম আল-খতিব। আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন শামস মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-উমারি। তাঁরা তিনজনই বলেন: আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু আল-ফজল আহমদ ইবনে আলি আল-কিনানি। আমি দামেস্কে উম্মুল হাসান ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনুল মানজা আত-তানুখিয়ার নিকট পাঠ করেছি, তিনি তাকি সুলাইমান ইবনে হামজাহ আদ-দিমাশকির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে ইমাদ আমাদের তাঁর কিতাবে আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইবনে আবু শারিকের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, আর তিনি (মুহাম্মদ ইবনে ইমাদ) তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি। আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুন নাক্কুর। আমাদিগকে ঈসা ইবনে আলি ইবনে ঈসা ইবনে দাউদ ইবনুল জাররাহ শ্রুতিলিপির মাধ্যমে হাদিস শুনিয়েছেন। আমাদিগকে আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-বাগাউই হাদিস শুনিয়েছেন। আমাদিগকে শাইবান ইবনে ফাররুখ হাদিস শুনিয়েছেন। আমাদিগকে সাঈদ ইবনে সালিম আল-গাইস আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেছেন: "দুনিয়াতে আমি যার দুটি প্রিয় বস্তু (চক্ষু) কেড়ে নিয়েছি, তার জন্য জান্নাত ছাড়া অন্য কোনো প্রতিদানে আমি সন্তুষ্ট হব না।" আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! যদি একটি (চক্ষু) হয়? তিনি বললেন: "যদিও একটি (চক্ষু) হয়।"
(খণ্ড: ১) আল-আমালী লি মুরতাদাজ জুবাইদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال الحافظ في العشرة العاشرية: هذا حديث حسن رواه البخاري من طريق عمرو بن أبي عمرو مولى المطلب والترمذي من طريق أبي ضلال كلاهما عن أنس بغير هذا اللفظ وسعيد بن سليم أثبت البخاري سماعه من أنس وقد تابعه أبو ضلال وعمرو بن أبي عمرو وأشعث بن عبد الله وجماعة كلهم عن أنس ولا صلة شواهد يقوى بها، انتهى وهو له بعشرة ولنا بستة عشر وأخرجه ابن الجوزي في المستصعبات من طريق أبي بكر محمد الطرازي قال: حدثنا لنا بدلا عاليا بثلاث درجات [12/أ]

 

والكريمة العين فعلية بمعنى مفعولة سميت لكونها مكرمة عند صاحبها وتطلق أيضا على الأخت الشقيقة وعلى الناقة النجيبة وعلى المال النفيس وجمع الكل كرايم ومن ذلك قول علي، رضي الله عنه، من أجر كريمتاه فلا يكتب بعدوهكذا وجد هذا الأثر عن علي رضي الله عنه ولم يقل كريمتيه ووجدت بخط شيخنا المرحوم أبي عبد الله محمد بن الطيب بن محمد الفاسي رحمه الله تعالى ونقلته من خط من نقل من خطه في حاشيته على القاموس قال: وجدت بخط الحافظ جلال الدين أبو الفضل السيوطي ونقلت من خط من نقل من خطه قال: وجدت بخط الحافظ أبي محمد بن الضياء العمري الصاغاني ونقلته من خطه قال: وجدت بخط شيخي القاضي مجمد الدين محمد بن يعقوب الشيرازي صاحب القاموس على ظهر نسخة منه للصاغاني ونقلته من خطه مانصه: قال بعضهم كان لأبي علي نسخة من الجمهرة بخط مؤلفها وكان قد أعطى فيها ثلاث مئة مثقال فأبى فاشتدت الحاجة فباعها بأربعين مثقالا وكتب عليها هذه الأبيات:

أنست بها عشرين عاما ونعتها وقد طال وجدي بعدها وحنيني

وما كان ظني أني سأبيها ولو خلدتني في السجون ديوني

ولكن لعجز وافتقار وصبية صغار عليهم تستهل سؤالي

فقلت ولم أملك سوابق عبري مقالة مكوي الفؤاد حزين

وقد تخرج الحاجات بأم مالك كرائم من رب بهن حنين
হাফেজ আল-আশরাত আল-আশরিয়াহ গ্রন্থে বলেছেন: এটি একটি হাসান হাদীস। ইমাম বুখারী এটি আমর ইবনে আবি আমর—যিনি মুত্তালিবের মুক্তদাস—তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী আবু দ্বলাল-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই এটি আনাস (রা.) থেকে এই শব্দগুলো ব্যতিরেকে অন্য শব্দে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ ইবনে সালিম সম্পর্কে বুখারী প্রমাণ করেছেন যে, তিনি আনাস (রা.) থেকে হাদীস শুনেছেন। আবু দ্বলাল, আমর ইবনে আবি আমর, আশআছ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং একদল বর্ণনাকারী সবাই আনাস (রা.) থেকে তার অনুসরণ করেছেন। এর আর কোনো শাহেদ বা সমর্থক বর্ণনা নেই যা দ্বারা এটি শক্তিশালী হতে পারে। সমাপ্ত। এটি তার নিকট দশটি সূত্রে ছিল এবং আমাদের নিকট ষোলটি সূত্রে। ইবনুল জাওযী এটি আল-মুসতাসআবাত গ্রন্থে আবু বকর মুহাম্মদ আত-তারাজী-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: তিনি আমাদের নিকট তিন স্তর উচ্চতর এক বিকল্প বর্ণনার মাধ্যমে হাদীস বর্ণনা করেছেন। [১২/আ]

 

আর 'কারীমাহ' (সম্মানিত) শব্দটি এখানে চক্ষু অর্থে ব্যবহৃত, যা 'ফাইলিয়াহ' ওজনে 'মাফউলাহ' (কর্মবাচ্য) অর্থ প্রদান করে। মালিকের নিকট অত্যন্ত প্রিয় ও সম্মানিত হওয়ার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। এটি আপন বোন, উচ্চবংশীয় উষ্ট্রী এবং মূল্যবান সম্পদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; আর এ সবগুলোর বহুবচন হলো 'কারায়েম'। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আলী (রা.)-এর উক্তি: "যার দুই চোখ (অন্ধত্বের বিনিময়ে) প্রতিদান পেয়েছে, সে যেন আর না লেখে।" আলী (রা.) থেকে এই বর্ণনাটি এভাবেই পাওয়া গেছে, তিনি 'কারীমাতাইহি' বলেননি। আমি আমাদের মরহুম শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন তৈয়ব বিন মুহাম্মদ আল-ফাসি (রহ.)-এর হস্তাক্ষরে এটি পেয়েছি। তিনি আল-কামুস গ্রন্থের পার্শ্বটীকায় যার হস্তাক্ষর থেকে এটি নকল করেছিলেন, আমি সেখান থেকে এটি গ্রহণ করেছি। তিনি বলেছেন: আমি হাফেজ জালালুদ্দিন আবুল ফজল আল-সুয়ূতী-এর হস্তাক্ষরে এটি পেয়েছি। আমি যার থেকে এটি নকল করেছি, তিনি তার হস্তাক্ষর থেকে এটি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: আমি হাফেজ আবু মুহাম্মদ ইবনে আদ-দিয়া আল-উমরি আল-সাগানি-এর হস্তাক্ষরে এটি পেয়েছি এবং তার হস্তাক্ষর থেকে এটি নকল করেছি। তিনি বলেন: আমি আমার শায়খ আল-কামুস প্রণেতা কাজী মাজদুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-শিরাজি-এর হস্তাক্ষরে সাগানি-এর একটি পাণ্ডুলিপির পিঠে এটি পেয়েছি এবং তার হস্তাক্ষর থেকে এটি নকল করেছি, যার পাঠ হলো: কেউ কেউ বলেছেন, আবু আলীর নিকট 'আল-জামহারা' গ্রন্থের লেখকের নিজ হাতে লেখা একটি পাণ্ডুলিপি ছিল। তাকে এর বিনিময়ে তিনশত মিসকাল স্বর্ণ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে অভাব তীব্র হলে তিনি তা চল্লিশ মিসকালের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন এবং তার ওপর এই কবিতাগুলো লিখেছিলেন:

বিশ বছর আমি এর সাথে সখ্যতা গড়েছিলাম এবং একে সংরক্ষণ করেছিলাম, এখন এর বিরহে আমার দীর্ঘ শোক ও হাহাকার শুরু হয়েছে।

আমার এমন ধারণা ছিল না যে আমি একে কখনো বিক্রি করব, যদিও ঋণের দায়ে আমাকে চিরকাল কারাগারে থাকতে হতো।

কিন্তু অক্ষমতা, অভাব এবং ছোট ছোট সন্তানদের কারণে, যাদের ভরণপোষণের প্রশ্নে আমাকে মুখাপেক্ষী হতে হয়।

অশ্রু সংবরণ করতে না পেরে ব্যথিত ও দগ্ধ হৃদয়ে আমি বললাম:

প্রয়োজন ও অভাব কখনো কখনো মালিকের নিকট থেকে এমন প্রিয় বস্তু কেড়ে নেয়, যার প্রতি তার গভীর মমতা ও টান ছিল।