(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
اعتقاد أئمة الحديث   (أبو بكر الإسماعيلي)

القسم: العقيدة


الكتاب: اعتقاد أئمة الحديث

المؤلف: أبو بكر أحمد بن إبراهيم بن إسماعيل بن العباس بن مرداس الإسماعيلي الجرجاني (ت 371هـ)

المحقق: محمد بن عبد الرحمن الخميس

الناشر: دار العاصمة - الرياض

الطبعة: الأولى، 1412هـ

عدد الصفحات: 80

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

(وتجد الكتاب بتحقيق د الخميس كاملا ضمن كتاب «اعتقاد أئمة السلف أهل الحديث» في هذا البرنامج «المكتبة الشاملة» )

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদিসের ইমামগণের আকিদা   (আবু বকর আল-ইসমাঈলি)

বিভাগ: আকিদা


গ্রন্থ: হাদিসের ইমামগণের আকিদা

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন ইবরাহিম বিন ইসমাইল বিন আব্বাস বিন মিরদাস আল-ইসমাঈলি আল-জুরজানি (মৃত্যু: ৩৭১ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

(আপনি ড. আল-খামিসের তাহকিককৃত এই গ্রন্থটি এই সফটওয়্যার «মাকতাবাতুশ শামিলা»-এর অন্তর্ভুক্ত «সালাফ ও আহলে হাদিস ইমামগণের আকিদা» গ্রন্থের অধীনে পূর্ণাঙ্গভাবে পাবেন)

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৪৮)
اعتقاد أئمة الحديث - أبو بكر الإسماعيلي

قال ابن قدامة أخبرنا الشريف أبو العباس مسعود بن عبد الواحد بن مطر الهاشمي، قال أنبأ أبو الحسن على بن محمد الجرجاني، أنبأ أبو القاسم حمزة بن يوسف السهمي، أنبأ أبو بكر أحمد بن إبراهيم الإسماعيلي (1) قال:

--------------------------------------------

(1) قال الحاكم عن الإمام الإسماعيلي: (كان الإسماعيلي واحد عصره وشيخ المحدثين والفقهاء وأجلهم في الرئاسة والمروءة والسخاء) (سير أعلام النبلاء 16 / 294) . وقال عنه السمعاني: (إمام أهل جرجان والمرجوع إليه في الحديث والفقه. . وهو أشهر من أن يذكر) (الأنساب 1 / 139) . وقال عنه الذهبي: (الإمام الحافظ الفقيه شيخ الإسلام) (سير أعلام النبلاء 16 / 292) وقال في موضع آخر: (الإمام الحافظ الثبت شيخ الإسلام) (تذكرة الحفاظ 3 / 947) . وقال عنه الصفدي: (الإمام. . الفقيه الشافعي الحافظ) (الوافي بالوفيات 6 / 213) . وقال عنه الأناباكي: (الحافظ. . كان إماما طاف البلاد ولقي الشيوخ) (النجوم الزاهرة 4 / 140) . وقال عنه ابن كثير: (الحافظ الكبير الرحال الجوال سمع الكثير وحدث وخرج وصنف فأفاد وأجاد وأحسن الانتقاد والاعتقاد) (البداية والنهاية 11 / 317) . وقال عنه ابن عبد الهادي: (الإمام الحافظ الكبير أحد الأئمة الأعلام. . كبير الشافعية بناحيته) (طبقات علماء الحديث 3 / 140) . وقال عنه ابن ناصر الدين: (الإمام. . أحد الحفاظ الأعيان كان شيخ المحدثين والفقهاء وأجلهم في المروءة والسخاء) (شذرات الذهب 3 / 72) .
হাদীস বিশারদ ইমামগণের আকিদা - আবু বকর আল-ইসমাঈলী

ইবনে কুদামা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরীফ আবুল আব্বাস মাসউদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মাতার আল-হাশিমী। তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-জুরজানী। আমাদের জানিয়েছেন আবুল কাসেম হামজা বিন ইউসুফ আস-সাহমী। আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন ইবরাহিম আল-ইসমাঈলী (১), তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) আল-হাকিম ইমাম ইসমাঈলী সম্পর্কে বলেন: (ইসমাঈলী ছিলেন তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং মুহাদ্দিস ও ফকিহগণের শায়খ। নেতৃত্ব, মারুওয়াত এবং দানশীলতায় তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ) (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৬/২৯৪)। আস-সামআনী তাঁর সম্পর্কে বলেন: (জুরজানবাসীদের ইমাম এবং হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের প্রধান আশ্রয়স্থল। তিনি উল্লেখ করার অপেক্ষার চেয়েও বেশি প্রসিদ্ধ) (আল-আনসাব ১/১৩৯)। আয-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেন: (ইমাম, হাফেজ, ফকিহ, শায়খুল ইসলাম) (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৬/২৯২)। অন্য এক স্থানে তিনি বলেন: (ইমাম, হাফেজ, প্রামাণিক ব্যক্তিত্ব, শায়খুল ইসলাম) (তাযকিরাতুল হুফফায ৩/৯৪৭)। আস-সাফাদী তাঁর সম্পর্কে বলেন: (ইমাম... শাফেয়ী ফকিহ, হাফেজ) (আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত ৬/২১৩)। আল-আনাবাকী তাঁর সম্পর্কে বলেন: (হাফেজ... তিনি ছিলেন একজন ইমাম, যিনি দেশ বিদেশে সফর করেছেন এবং বহু শায়খের সান্নিধ্য লাভ করেছেন) (আন-নুজুম আয-যাহিরা ৪/১৪০)। ইবনে কাসীর তাঁর সম্পর্কে বলেন: (বিরাট হাফেজ, দেশভ্রমণকারী পর্যটক, প্রচুর শ্রবণ করেছেন, হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাখরীজ ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি উপকারী কাজ করেছেন, চমৎকার করেছেন এবং সমালোচনা ও আকিদার ক্ষেত্রে উত্তম কর্ম সম্পাদন করেছেন) (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/৩১৭)। ইবনে আব্দুল হাদী তাঁর সম্পর্কে বলেন: (ইমাম, বিরাট হাফেজ, বরেণ্য ইমামদের একজন... স্বীয় অঞ্চলের শাফেয়ীগণের প্রধান) (তাবাকাতু উলামাইল হাদীস ৩/১৪০)। ইবনে নাসিরুদ্দীন তাঁর সম্পর্কে বলেন: (ইমাম... বরেণ্য হাফেজদের একজন, তিনি ছিলেন মুহাদ্দিস ও ফকিহগণের শায়খ। মারুওয়াত ও দানশীলতায় তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ) (শাযারাতুয যাহাব ৩/৭২)।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌[أصول الاعتقاد عند أهل الحديث]

 

اعلموا رحمنا الله وإياكم أن مذهب أهل الحديث أهل السنة والجماعة الإقرار بالله وملائكته وكتبه ورسله، وقبول ما نطق به كتاب الله تعالى، وصحت به الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا معدل عن ما ورد به ولا سبيل إلى رده، إذ كانوا مأمورين باتباع الكتاب والسنة، مضمونا لهم الهدى فيهما، مشهودا لهم بأن نبيهم صلى الله عليه وسلم يهدي إلى صراط مستقيم، محذرين في مخالفته الفتنة والعذاب الأليم.

 

‌‌[القول في الأسماء والصفات]

 

ويعتقدون أن الله تعالى مدعو بأسمائه الحسنى وموصوف
[আহলে হাদিসের নিকট আকিদার মূলনীতিসমূহ]

 

জেনে রাখুন, আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের প্রতি রহম করুন, নিশ্চয়ই আহলে হাদিস তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পথ (মাজহাব) হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি স্বীকৃতি প্রদান করা এবং আল্লাহর কিতাব যা ব্যক্ত করেছে ও আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা বিশুদ্ধ বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে তা গ্রহণ করা। তাতে যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই এবং তা প্রত্যাখ্যান করার কোনো পথ নেই। কেননা তাঁরা কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণের জন্য আদিষ্ট হয়েছেন এবং এ দুটির মধ্যেই তাঁদের জন্য হিদায়াত নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের সপক্ষে এই সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে যে, তাঁদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করেন; আর তাঁর বিরোধিতা করার ব্যাপারে ফেতনা ও যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

 

[আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলি) সংক্রান্ত আলোচনা]

 

তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে আহূত এবং তিনি গুণান্বিত
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫০)
بصفاته التي سمى ووصف بها نفسه ووصفه بها نبيه صلى الله عليه وسلم، خلق آدم بيده، ويداه مبسوطتان ينفق كيف يشاء، بلا اعتقاد كيف، وأنه عز وجل استوى على العرش، بلا كيف، فإن الله تعالى انتهى من ذلك إلى أنه استوى على العرش ولم يذكر كيف كان استواؤه.

 

‌‌[ذكر بعض خصائص الربوبية]

 

وأنه مالك خلقه وأنشأهم لا عن حاجة إلى ما خلق ولا معنى دعاه إلى أن خلقهم، لكنه فعال لما يشاء
সেই সমস্ত গুণাবলির সাথে যার মাধ্যমে তিনি নিজের নামকরণ করেছেন ও নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন; তিনি আদমকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, এবং তাঁর উভয় হাত প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা দান করেন, ধরণ বা প্রকৃতি কেমন হবে তা বিশ্বাস করা ব্যতিরেকে। এবং নিশ্চয়ই তিনি মহান ও পরাক্রমশালী আরশের উপর উঠেছেন, ধরণ বা প্রকৃতি ব্যতিরেকে। কেননা আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে কেবল আরশের উপর উঠার কথাই বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর উঠার ধরণ বা প্রকৃতি কেমন ছিল তা উল্লেখ করেননি।

 

‌‌[রুবুবিয়াতের কিছু বৈশিষ্ট্যের আলোচনা]

 

এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির মালিক এবং তিনি তাদের অস্তিত্ব দান করেছেন তাঁর সৃষ্টির প্রতি কোনো প্রকার মুখাপেক্ষিতা ছাড়াই এবং এমন কোনো গূঢ় উদ্দেশ্য ছাড়াই যা তাঁকে তাদের সৃষ্টি করতে প্ররোচিত করেছে; বরং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সম্পাদনকারী।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫১)
ويحكم ما يريد، لا يسأل عما يفعل، والخلق مسؤولون عما يفعلون.

 

‌‌[إثبات أسماء الله الحسنى وصفاته العلا]

وأنه مدعو بأسمائه، موصوف بصفاته التي سمى ووصف بها نفسه، وسماه ووصفه بها نبيه عليه الصلاة والسلام، لا يعجزه شيء في الأرض ولا في السماء، ولا يوصف بنقص أو عيب أو آفة، فإنه عز وجل تعالى عن ذلك.

 

‌‌[إثبات صفة اليدين]

وخلق آدم عليه السلام بيده، ويداه مبسوطتان ينفق كيف شاء، بلا اعتقاد كيف يداه، إذ لم ينطق كتاب الله تعالى فيه بكيف.

ولا يعتقد فيه الأعضاء، (1) والجوارح، ولا الطول والعرض، والغلظ، والدقة، ونحو هذا مما يكون

--------------------------------------------

(1) هذه الكلمات ليست من الألفاظ المعروفة عند أهل السنة والجماعة من سلف هذه الأمة، بل هي من الكلمات المبتدعة المخترعة، والتعبير عن الحق بالألفاظ الشرعية هو سبيل أهل السنة والجماعة، فلا ينبغي لطالب الحق الالتفات إلى مثل هذه الألفاظ والتعويل عليها، وما كان أغنى الإمام المصنف رحمه الله عن مثل هذه الكلمات فإن الله سبحانه موصوف بصفات الكمال منعوت بنعوت الجلال، وعلى كل حال فالباطل مردود على قائله كائنا من كان، والقاعدة السلفية في مثل هذه الكلمات أنه لا يجوز نفيها ولا إثباتها إلا بعد التفصيل وتبيين مراد قائلها، وكان على المؤلف أن يجمل في النفي غير أنه أراد بهذا النفي أن يسد الطريق على المعطلة لئلا يكون لهم مدخل في رمي أهل الحديث بالتشبيه، لكنه لو امسك رحمه الله عن مثل هذه العبارات لكان أجدى.
এবং তিনি যা ইচ্ছা ফয়সালা করেন, তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না, বরং সৃষ্টিজগত তাদের কৃতকর্মের জন্য জিজ্ঞাসিত হবে।

 

‌‌[আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি সাব্যস্তকরণ]

এবং তাঁকে তাঁর নামসমূহ দ্বারা ডাকা হয়, তিনি তাঁর ঐ সকল গুণাবলি দ্বারা গুণান্বিত যেগুলোর মাধ্যমে তিনি নিজেই নিজের নামকরণ করেছেন ও নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর নবী (তাঁর উপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর নামকরণ করেছেন ও তাঁর গুণ বর্ণনা করেছেন। আসমান ও জমিনে কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না। তাঁকে কোনো অপূর্ণতা, দোষ বা ত্রুটি দ্বারা বিশেষিত করা যায় না, কেননা তিনি মহান ও মহিমান্বিত তা থেকে অতি ঊর্ধ্বে।

 

‌‌[আল্লাহর দুই হাত সাব্যস্তকরণ]

এবং তিনি আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহর হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর আল্লাহর দুই হাত প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা খরচ করেন। আল্লাহর দুই হাত কেমন—তা নির্ধারণের বিশ্বাস পোষণ ছাড়াই, যেহেতু মহান আল্লাহর কিতাব এ বিষয়ে 'কেমন' বা ধরন নিয়ে কোনো শব্দ উচ্চারণ করেনি।

এবং তাঁর ক্ষেত্রে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, অঙ্গসংস্থান, কিংবা দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, স্থূলতা, সূক্ষ্মতা এবং এই জাতীয় কোনো কিছুর বিশ্বাস রাখা হবে না যা...

--------------------------------------------

(১) এই শব্দগুলো এই উম্মতের সালাফগণের মধ্যে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট পরিচিত শব্দ নয়, বরং এগুলো উদ্ভাবিত বিদআতী শব্দ। সত্যকে শরয়ী পরিভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথ। সুতরাং সত্য অনুসন্ধানকারীর জন্য এ জাতীয় শব্দের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা বা এর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। ইমাম লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর জন্য এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার না করাই উত্তম ছিল, কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পরিপূর্ণ গুণাবলিতে গুণান্বিত এবং মহিমান্বিত বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত। যে কোনো অবস্থাতেই বাতিল কথা—তা যে কেউ বলুক না কেন—তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। এই জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে সালাফী মূলনীতি হলো, বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান এবং বক্তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা ব্যতীত এগুলোকে অস্বীকার করা বা সাব্যস্ত করা কোনোটিই জায়েজ নয়। লেখকের উচিত ছিল নেতিবাচক বর্ণনায় সংক্ষিপ্ত থাকা, কিন্তু তিনি এই নেতিবাচক বর্ণনার মাধ্যমে মুআত্তিলাদের (গুণ অস্বীকারকারী) পথ রুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন যাতে তারা আহলুল হাদিসদের ওপর তাশবীহ (সাদৃশ্য দান) এর অপবাদ দেওয়ার সুযোগ না পায়। তবে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) যদি এই ধরণের অভিব্যক্তি থেকে বিরত থাকতেন তবে তা অধিকতর কল্যাণকর হতো।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫২)
مثله في الخلق، وأنه ليس كمثله شيء تبارك وجه ربنا ذو الجلال والإكرام.

ولا يقولون إن أسماء الله عز وجل كما تقوله المعتزلة (1)

--------------------------------------------

(1) المعتزلة: فرقة كلامية ظهرت في أول القرن الثاني الهجري، وبلغت شانها في العصر العباسي الأول، يرجع اسمها إلى اعتزال إمامها واصل بن عطاء مجلس الحسن البصري لقول واصل بان مرتكب الكبيرة ليس كافرا ولا مؤمنا بل هو في منزلة بين المنزلتين، ولما اعتزل واصل مجلس الحسن وجلس عمرو بن عبيد إلى واصل وتبعهما أنصارهما قيل لهم معتزلة، وهذه الفرقة تعتد بالعقل وتغلو فيه وتقدمه على النقل.
সৃষ্টির মাঝে তাঁর সদৃশ কেউ নেই, এবং তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, বরকতময় আমাদের রবের চেহারা, যিনি মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।

আর তারা মহান আল্লাহর নামসমূহ সম্পর্কে তেমন কিছু বলে না যেমনটি মুতাযিলারা বলে (১)

--------------------------------------------

(১) মুতাযিলা: একটি কালামশাস্ত্রীয় দল যা হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে আত্মপ্রকাশ করে এবং প্রথম আব্বাসীয় যুগে তাদের প্রভাব শীর্ষে পৌঁছায়। তাদের নামকরণের কারণ হলো তাদের ইমাম ওয়াসিল বিন আতা-এর হাসান বসরীর মজলিস থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া; কারণ ওয়াসিল বলেছিলেন যে, কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি কাফেরও নয় আবার মুমিনও নয়, বরং সে দুই অবস্থানের মাঝামাঝি এক অবস্থানে থাকে। যখন ওয়াসিল হাসানের মজলিস থেকে পৃথক হলেন এবং আমর বিন উবাইদ ওয়াসিলের সাথে যোগ দিলেন এবং তাদের অনুসারীরা তাদের অনুসরণ করল, তখন তাদেরকে মুতাযিলা বলা হতে লাগল। এই দলটি যুক্তিনির্ভর এবং যুক্তির ক্ষেত্রে তারা অতিরঞ্জন করে এবং একে বর্ণিত দলীলের (নকল) ওপর প্রাধান্য দেয়।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫৩)
والخوارج (1) وطوائف من أهل الأهواء

--------------------------------------------

(1) الخوارج: جمع خارجة، أي فرقة خارجة، واشتهر بهذا اللقب جماعة خرجوا على علي رضي الله عنه ممن كان معه في حرب صفين، وقد افترق الخوارج إلى عدة فرق يجمعهم القول بتكفير عثمان وعلي وأصحاب الجمل ومن رضي بالتحكيم وصوب الحكمين أو أحدهما، وتكفير صاحب الكبيرة، انظر الملل والنحل 1 / 114 والفرق بين الفرق 72 / 73 ومقالات الإسلاميين 1 / 167 ومجموع الفتاوى 3 / 279.
এবং খাওয়ারিজগণ (১) ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের বিভিন্ন দল

--------------------------------------------

(১) খাওয়ারিজ: ‘খারিজিয়াহ’ শব্দের বহুবচন, অর্থাৎ যারা বের হয়ে যাওয়া দল। এই উপাধিতে এমন একদল লোক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যারা সিফফিনের যুদ্ধে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে থাকার পর তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে বেরিয়ে গিয়েছিল। খাওয়ারিজরা বহু দলে বিভক্ত হয়েছে, যাদের মূল অভিন্ন মতবাদ হলো—উসমান, আলী, উটের যুদ্ধের (জঙ্গে জামাল) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং যারা সালিশি ব্যবস্থা মেনে নিয়েছিল ও দুই সালিশকারী বা তাদের কোনো একজনকে সঠিক বলেছিল—তাদের সকলকে কাফির সাব্যস্ত করা এবং কবীরা গুনাহকারীকে কাফির মনে করা। দেখুন: আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১১৪, আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক ৭২/৭৩, মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন ১/১৬৭ এবং মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/২৭৯।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫৪)
مخلوقة. (1) .

--------------------------------------------

(1) هذه من حماقات الجهمية والمعتزلة ومن تابعهم، وهي مبنية على قولهم بخلق القرآن، قال الدارمي في الرد على المريسي: (وقد كان للمريسي في أسماء الله مذهب كمذهبه في القرآن، كان القرآن عنده مخلوقا من قول البشر لم يتكلم الله بحرف منه في دعواه، وكذلك أسماء الله عنده من ابتداع البشر) إلى أن قال: (فهذا الذي ادّعوا في أسماء الله أصل كبير من أصول الجهمية التي بنوا عليها محنتهم وأسسوا عليها ضلالاتهم، غالطوا بها الأغمار والسفهاء) وشبهتهم: (أنهم لو أثبتوا لله تسعة وتسعين اسما لأثبتوا تسعة وتسعين إلها) انظر شرح أصول الاعتقاد 2 / 215، وقد كفرهم جماعة من السلف، يقول إسحاق بن راهويه: (أفضوا -الجهمية- إلى أن قالوا أسماء الله مخلوقة. . وهذا الكفر المحض) ، وقال الإمام أحمد بن حنبل: (من زعم أن أسماء الله مخلوقة فهو كافر) شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة 2 / 214. وقال خلف بن هشام المقري: (من قال إن أسماء الله مخلوقة فكفره عندي أوضح من هذه الشمس) شرح أصول اعتقاد أهل السنة 2 / 207.
সৃষ্টি। (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি জাহমিয়া, মু'তাযিলা এবং তাদের অনুসারীদের মূর্খতাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা কুরআন সৃষ্টির ব্যাপারে তাদের মতবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আদ-দারিমী 'আর-রাদ্দু আলাল মারীসী' গ্রন্থে বলেছেন: (আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে আল-মারীসীর মতাদর্শ ছিল কুরআনের ব্যাপারে তার মতাদর্শের মতোই; তার দাবি অনুযায়ী কুরআন ছিল মানুষের বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত একটি সৃষ্টি, আল্লাহ এর কোনো বর্ণ উচ্চারণ করেননি। তদ্রূপ তার নিকট আল্লাহর নামসমূহও ছিল মানুষের উদ্ভাবন)। তিনি আরও বলেন: (আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে তাদের এই দাবি জাহমিয়াদের একটি বড় মূলনীতি, যার ওপর ভিত্তি করে তারা তাদের ফিতনা তৈরি করেছে এবং তাদের বিভ্রান্তির ভিত্তি স্থাপন করেছে; এর মাধ্যমে তারা অনভিজ্ঞ এবং নির্বোধদের বিভ্রান্ত করেছে)। তাদের সংশয় ছিল: (যদি তারা আল্লাহর জন্য নিরানব্বইটি নাম সাব্যস্ত করে, তবে তারা নিরানব্বইটি উপাস্য সাব্যস্ত করল)। দেখুন: শারহু উসূলিল ই'তিকাদ ২/২১৫। সালাফদের একটি দল তাদের কাফির বলেছেন। ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি বলেন: (জাহমিয়ারা এ পর্যন্ত পৌঁছেছে যে, তারা বলেছে আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি... আর এটি স্পষ্ট কুফর)। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: (যে ব্যক্তি দাবি করে যে আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি, সে কাফির)। শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ ২/২১৪। খালাফ ইবনে হিশাম আল-মুকরি বলেছেন: (যে ব্যক্তি বলে যে আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি, তার কুফর আমার নিকট এই সূর্যের চেয়েও অধিক স্পষ্ট)। শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ২/২০৭।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌[قولهم في صفة الوجه والسمع والبصر والعلم والقدرة والكلام]

 

ويثبتون أن له وجها، وسمعا، وبصرا، وعلما، وقدرة، وقوة، وكلاما، لا على ما يقوله أهل الزيغ من المعتزلة وغيرهم، ولكن كما قال تعالى: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ} [الرحمن: 27] وقال: {أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ} [النساء: 166] وقال: {وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ} [البقرة: 255]
[চেহারা, শ্রবণ, দৃষ্টি, জ্ঞান, ক্ষমতা ও কথা (কালাম) সংক্রান্ত গুণাবলি সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য]

 

এবং তাঁরা সাব্যস্ত করেন যে, আল্লাহর চেহারা, শ্রবণ, দৃষ্টি, জ্ঞান, ক্ষমতা, শক্তি ও কথা রয়েছে; পথভ্রষ্ট মুতাজিলা ও অন্যদের বক্তব্যের ন্যায় নয়, বরং মহান আল্লাহ যেভাবে বলেছেন: "আপনার রবের চেহারা চিরস্থায়ী হবে।" [আর-রাহমান: ২৭] এবং তিনি বলেছেন: "তিনি তা স্বীয় জ্ঞান দ্বারা নাযিল করেছেন।" [আন-নিসা: ১৬৬] এবং তিনি বলেছেন: "তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই পরিবেষ্টন করতে পারে না, তবে তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত।" [আল-বাকারা: ২৫৫]
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫৬)
وقال: {فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا} [فاطر: 10] وقال: {وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ} [الذاريات: 47] وقال: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً} [فصلت: 15] وقال: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذاريات: 58]

فهو تعالى ذو العلم، والقوة، والقدرة، والسمع، والبصر، والكلام، كما قال تعالى: {وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} [طه: 39] {وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا} [هود: 37] وقال: {حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ} [التوبة: 6] وقال: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} [النساء: 164] وقال: {إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [يس: 82]
এবং তিনি বলেছেন: {সমস্ত সম্মান আল্লাহরই জন্য} [ফাতির: ১০] এবং তিনি বলেছেন: {আর আকাশ, আমি তা নির্মাণ করেছি হাতসমূহ দ্বারা} [আদ-যারিয়াত: ৪৭] এবং তিনি বলেছেন: {তবে কি তারা লক্ষ্য করেনি যে, আল্লাহ যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা শক্তিতে অধিক প্রবল?} [ফুসসিলাত: ১৫] এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ্ই রিযিকদাতা, প্রবল শক্তিধর, পরাক্রান্ত} [আদ-যারিয়াত: ৫৮]

সুতরাং তিনি মহান; জ্ঞান, শক্তি, ক্ষমতা, শ্রবণ, দৃষ্টি এবং কথার (বাক) অধিকারী, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাতে তুমি আমার চোখের সামনে গড়ে ওঠো} [ত্বহা: ৩৯] {আর তুমি আমাদের চোখের সামনে ও আমাদের ওহী অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করো} [হুদ: ৩৭] এবং তিনি বলেছেন: {যাতে সে আল্লাহর কথা শুনতে পায়} [আত-তাওবাহ: ৬] এবং তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন} [আন-নিসা: ১৬৪] এবং তিনি বলেছেন: {তাঁর নির্দেশ তো এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়} [ইয়াসীন: ৮২]
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌[إثبات المشيئة]

ويقولون ما يقوله المسلمون بأسرهم: (ما شاء الله كان، وما لا يشاء لا يكون) ، كما قال تعالى: {وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ} [الإنسان: 30]

 

‌‌[علم الله]

ويقولون لا سبيل لأحد أن يخرج عن علم الله ولا أن يغلب فعله وإرادته مشيئة الله ولا أن يبدل علم الله، فإنه العالم لا يجهل ولا يسهو، والقادر لا يغلب.

 

‌‌[القرآن كلام الله]

ويقولون: القرآن كلام الله غير مخلوق، وإنما كيفما يصرف بقراءة القارئ له، وبلفظه، ومحفوظا في الصدور، متلوًا بالألسن، مكتوبًا في المصاحف، غير مخلوق، ومن قال بخلق (1)

--------------------------------------------

(1) زعم كثير من أهل الأهواء أن الإمام البخاري قال: لفظي بالقرآن مخلوق، ولكن بعد التحقيق تبين أن نسبة هذا القول للإمام البخاري رحمه الله من قبل شهادة الزور عليه وانه براء من هذه المقالة، قال نصر بن محمد: سمعت محمد بن إسماعيل البخاري يقول: (من زعم أني قلت لفظي بالقرآن مخلوق فهو كذاب، فإني لم أقله) طبقات الحنابلة 1 / 277، سير أعلام النبلاء 12 / 457. وقال أبو عمر والخفاف: (أتيت البخاري فناظرته في الأحاديث حتى طابت نفسي، فقلت: يا أبا عبد الله هاهنا أحد يحكي عنك أنك قلت هذه المقالة. فقال: يا أبا عمرو أحفظ ما أقول لك: من زعم من أهل نيسابور وقومس والري وهمذان وحلوان وبغداد والكوفة والبصرة ومكة والمدينة أني قلت لفظي بالقرآن مخلوق فهو كذاب، فإني لم أقله، إلا أني قلت أفعال العباد مخلوقة) تاريخ بغداد 2 / 32 مقدمة فتح الباري 492، سير أعلام النبلاء 12 / 457-458.
[ইচ্ছাশক্তি সাব্যস্তকরণ]

তারা তা-ই বলেন যা সমস্ত মুসলিম একযোগে বলেন: (আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে, আর যা তিনি চাননি তা হয় না), যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত তোমরা কোনো কিছুই ইচ্ছা করতে পারো না} [আল-ইনসান: ৩০]

 

[আল্লাহর জ্ঞান]

তারা বলেন যে, আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে যাওয়ার কারও কোনো পথ নেই, এবং কারও কাজ বা ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর প্রবল হতে পারে না, কিংবা কেউ আল্লাহর জ্ঞানকে পরিবর্তন করতে পারে না। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি অজ্ঞ নন এবং বিস্মৃত হন না; আর তিনি সর্বশক্তিমান, তিনি কখনো পরাজিত হন না।

 

[কুরআন আল্লাহর কালাম]

তারা বলেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়। এটি পাঠকের পাঠে ও উচ্চারণে যেভাবে ব্যক্ত হোক না কেন, অন্তরে সংরক্ষিত অবস্থায়, জিহ্বায় পঠিত অবস্থায় কিংবা মাসহাফসমূহে লিখিত অবস্থায়—তা সৃষ্টি নয়। আর যে ব্যক্তি সৃষ্টির (১) কথা বলবে...

--------------------------------------------

(১) অনেক প্রবৃত্তি পূজারী দাবি করেছেন যে, ইমাম বুখারী বলেছেন: ‘কুরআনের সাথে আমার উচ্চারণ সৃষ্টি’, কিন্তু অনুসন্ধানের পর স্পষ্ট হয়েছে যে, ইমাম বুখারী রহ.-এর প্রতি এই উক্তির নিসবত বা সম্বন্ধ করা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি এই বক্তব্য থেকে মুক্ত। নাসর ইবনে মুহাম্মদ বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারীকে বলতে শুনেছি: ‘যে ব্যক্তি দাবি করে যে আমি বলেছি—কুরআনের সাথে আমার উচ্চারণ সৃষ্টি, সে মিথ্যাবাদী; কেননা আমি তা বলিনি’ (তাবাকাতুল হানাবিলা ১/২৭৭, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/৪৫৭)। আবু আমর আল-খাফফাফ বলেন: ‘আমি বুখারীর কাছে আসলাম এবং হাদীস নিয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করলাম যতক্ষণ না আমার চিত্ত শান্ত হলো। এরপর আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, এখানে জনৈক ব্যক্তি আছে যে আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করে যে আপনি এই উক্তিটি করেছেন। তিনি বললেন: হে আবু আমর, আমি যা বলছি তা মনে রাখো—নিশাপুর, কুমাস, রাই, হামাদান, হুলওয়ান, বাগদাদ, কুফা, বসরা, মক্কা ও মদিনাবাসীদের মধ্যে যে কেউ দাবি করে যে আমি বলেছি—কুরআনের সাথে আমার উচ্চারণ সৃষ্টি, সে মিথ্যাবাদী; কেননা আমি তা বলিনি। তবে আমি এ কথা বলেছি যে, বান্দাদের কাজসমূহ সৃষ্টি’ (তারীখু বাগদাদ ২/৩২, মুকাদ্দিমাতু ফাতহিল বারী ৪৯২, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/৪৫৭-৪৫৮)।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬০)
اللفظ بالقرآن يريد به القرآن، فهو قد قال بخلق القرآن.

 

‌‌[أفعال العباد مخلوقة لله]

ويقولون إنه لا خالق على الحقيقة إلا الله عز وجل، وأن أكساب العباد كلها مخلوقة لله، وأن الله يهدي من يشاء ويضل من يشاء، لا حجة لمن أضله الله عز وجل، ولا عذر، كما قاله الله عز وجل: {قُلْ فَلِلَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ فَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ} [الأنعام: 149] وقال: {كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ - فَرِيقًا هَدَى وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيْهِمُ الضَّلَالَةُ} [الأعراف: 29 - 30]
কুরআনের শব্দোচ্চারণ দ্বারা তিনি কুরআনকেই বুঝিয়েছেন, সুতরাং তিনি কুরআন সৃষ্টির কথাই বলেছেন।

 

[বান্দাদের কর্মসমূহ আল্লাহর সৃষ্টি]

এবং তাঁরা বলেন যে, প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো স্রষ্টা নেই, এবং বান্দাদের সকল উপার্জনই আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। মহান আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তার কোনো যুক্তি নেই এবং কোনো অজুহাত নেই, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "বলুন, চূড়ান্ত দলিল তো আল্লাহরই। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই পথ প্রদর্শন করতেন।" [আল-আনআম: ১৪৯] এবং তিনি বলেছেন: "যেভাবে তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তোমরা সেভাবেই ফিরে আসবে। এক দলকে তিনি পথ প্রদর্শন করেছেন এবং অন্য দলের ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে।" [আল-আরাফ: ২৯-৩০]
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬১)
وقال: {وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ} [الأعراف: 179] وقال: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا} [الحديد: 22] ومعنى "نبرأها" أي نخلقها وبلا خلاف في اللغة، وقال مخبرًا عن أهل الجنة: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ} [الأعراف: 43] وقال: {أَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيعًا} [الرعد: 31] وقال: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ - إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ} [هود: 118 - 119]

 

‌‌[الخير والشر بقضاء الله]

ويقولون إن الخير والشر والحلو والمر، بقضاء من الله عز وجل، أمضاه وقدره، لا يملكون لأنفسهم ضرا ولا
এবং তিনি বলেছেন: "আর আমি অবশ্যই জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি বহু জিন ও মানুষকে।" [আল-আরাফ: ১৭৯] এবং তিনি বলেছেন: "পৃথিবীতে অথবা তোমাদের নিজেদের ওপর কোনো বিপদই আসে না, যা আমি সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।" [আল-হাদীদ: ২২] আর "নাবরাআহা" এর অর্থ হলো "আমরা তা সৃষ্টি করি", এবং ভাষাবিজ্ঞানে এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। জান্নাতবাসীদের সংবাদ দিয়ে তিনি বলেছেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথে পরিচালিত করেছেন। আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা হিদায়াত পেতাম না।" [আল-আরাফ: ৪৩] এবং তিনি বলেছেন: "আল্লাহ যদি চাইতেন তবে অবশ্যই সমস্ত মানুষকে হিদায়াত দিতেন।" [আর-রাদ: ৩১] এবং তিনি বলেছেন: "আর তোমার প্রতিপালক যদি চাইতেন, তবে অবশ্যই সমস্ত মানুষকে এক জাতিতে পরিণত করতেন; কিন্তু তারা সবসময় মতভেদ করতেই থাকবে—তারা ছাড়া, যাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন।" [হুদ: ১১৮-১১৯]

 

‌‌[আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী কল্যাণ ও অকল্যাণ]

এবং তারা বলেন যে, কল্যাণ ও অকল্যাণ, মিষ্ট ও তিক্ত—সবই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ফয়সালা (কাযা) অনুযায়ী, যা তিনি কার্যকর করেছেন এবং নির্ধারণ করেছেন। তারা নিজেদের জন্য কোনো ক্ষতি বা
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬২)
نفعا إلا ما شاء الله، وإنهم فقراء إلى الله عز وجل، لا غنى لهم عنه في كل وقت.

 

‌‌[النزول إلى السماء الدنيا]

وأنه عز وجل ينزل إلى السماء الدنيا على ما صح به الخبر (1) عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، بلا اعتقاد كيف فيه (2) .

 

‌‌[رؤية المؤمنين ربهم في الآخرة]

ويعتقدون جواز الرؤية من العباد المتقين لله عز وجل

--------------------------------------------

(1) في عقيدة السلف أصحاب الحديث: (على ما صح به الخبر عن الرسول صلى الله عليه وسلم، وقد قال عز وجل: هل ينظرون إلا أن يأتيهم الله في ظلل من الغمام وقال: وجاء ربك والملك صفا صفا ونؤمن بذلك كله على ما جاء) .

(2) في عقيدة السلف أصحاب الحديث: (بلا كيف، فلو شاء سبحانه أن يبين لنا كيفية ذلك فعل، فانتهينا إلى ما أحكم وكففنا عن الذي يتشابه، إذ كنا قد أمرنا به في قوله تعالى: هو الذي أنزل عليك الكتاب منه آيات محكمات هن أم الكتاب وأخر متشابهات فأما الذين في قلوبهم زيغ فيتبعون ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله وما يعلم تأويله إلا الله والراسخون في العلم يقولون آمنا به كل من عند ربنا وما يذكر إلا أولو الألباب) .
কোনো উপকার করতে পারে না আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত, এবং তারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কাছে মুখাপেক্ষী, কোনো সময়েই তারা তাঁর থেকে অমুখাপেক্ষী নয়।

 

‌‌[নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ]

এবং তিনি আযযা ওয়া জাল্লা নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন সেই বর্ণনা অনুযায়ী যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে (১), এতে কোনো ধরণ বা পদ্ধতি বিশ্বাস করা ব্যতীত (২)।

 

‌‌[পরকালে মুমিনদের তাদের রবকে দর্শন করা]

এবং তাঁরা বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার মুত্তাকী বান্দাদের জন্য তাঁকে দর্শন করা সম্ভব

--------------------------------------------

(১) আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস গ্রন্থে রয়েছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহীহ বর্ণনায় এসেছে সেই অনুযায়ী; আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "তারা কি এরই অপেক্ষা করছে যে, মেঘের ছায়ায় আল্লাহর আগমন ঘটবে?" এবং তিনি বলেছেন: "এবং তোমার রব আসবেন আর ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে আসবে"; এবং আমরা এই সবকিছুর ওপর ঈমান রাখি যেভাবে তা এসেছে)।

(২) আকীদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদীস গ্রন্থে রয়েছে: (কোনো ধরণ বা পদ্ধতি নির্ধারণ করা ব্যতীত। সুবহানাহু ওয়া তা'আলা যদি চাইতেন যে এর পদ্ধতি আমাদের কাছে বর্ণনা করবেন তবে তিনি তা করতেন। সুতরাং আমরা অকাট্য (মুহকাম) বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকব এবং রূপক (মুতাশাবিহ) বিষয় থেকে বিরত থাকব, কারণ আল্লাহ তা'আলার বাণীতে আমাদের সেই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে: "তিনিই তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যার মধ্যে কিছু আয়াত আছে মুহকাম, সেগুলো কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ব্যতীত কেউ এর প্রকৃত ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, 'আমরা এগুলোর ওপর ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে আগত।' আর বুদ্ধিমানরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না")।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬৩)
في القيامة، دون الدنيا، ووجوبها لمن جعل الله ذلك ثوابًا له في الآخرة، كما قال: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ - إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} [القيامة: 22 - 23] وقال في الكفار: {كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} [المطففين: 15] فلو كان المؤمنون كلهم والكافرون كلهم لا يرونه، كانوا جميعا عنه محجوبين، وذلك من غير اعتقاد التجسيم (1) في الله عز وجل ولا التحديد له، ولكن يرونه جل وعز بأعينهم على ما يشاء هو بلا كيف.

 

‌‌[حقيقة الإيمان]

ويقولون إن الإيمان قول وعمل (2) ومعرفة، يزيد

--------------------------------------------

(1) التجسيم من الألفاظ المجملة المحدثة التي أحدثها أهل الكلام، فلم ترد في الكتاب والسنة ولم تعرف عن أحد من الصحابة والتابعين وأئمة الدين، فلذلك لا يجوز إطلاقها نفيا ولا إثباتا، فإن الله لا يوصف إلا بما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم نفيا أو إثباتا.

(2) العمل قسمان: عمل القلب وهو الإخلاص والنية، وعمل الجوارح وهي الأعضاء ويدخل في ذلك اللسان.
কিয়ামতের দিনে, দুনিয়াতে নয়, এবং এটি তাদের জন্য অবধারিত যাদের জন্য আল্লাহ একে পরকালে সওয়াব হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে - তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে} [আল-কিয়ামাহ: ২২-২৩]। আর তিনি কাফিরদের বিষয়ে বলেছেন: {কখনোই নয়, নিশ্চয় তারা সেদিন তাদের রব থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে} [আল-মুতাফফিফীন: ১৫]। যদি সকল মুমিন এবং সকল কাফিরই তাঁকে দেখতে না পেত, তবে তারা সকলেই তাঁর থেকে পর্দার অন্তরালে থাকত। আর এটি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ক্ষেত্রে দেহ সাব্যস্ত করা (১) বিশ্বাস করা বা তাঁর জন্য কোনো সীমা নির্ধারণ করা ছাড়াই; বরং তারা তাঁকে মহান ও পরাক্রমশালী অবস্থায় নিজ চোখে দেখতে পাবে যেভাবে তিনি ইচ্ছা করেন, কোনো ধরণ-প্রকৃতি ছাড়াই।

 

‌‌[ঈমানের হাকীকত]

এবং তাঁরা বলেন যে, নিশ্চয় ঈমান হলো কথা, কাজ (২) ও জ্ঞান, যা বৃদ্ধি পায়...

--------------------------------------------

(১) দেহ সাব্যস্ত করা (তাজসীম) হলো ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের উদ্ভাবিত অস্পষ্ট ও নতুন পরিভাষাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা কুরআন ও সুন্নাহতে আসেনি এবং সাহাবী, তাবিঈ ও দ্বীনের ইমামগণের কারো নিকট এটি পরিচিত ছিল না। এই কারণে এটি নেতিবাচক বা ইতিবাচক কোনো অর্থেই প্রয়োগ করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহকে কেবল সেই গুণেই গুণান্বিত করা যাবে যা দ্বারা তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে গুণান্বিত করেছেন, চাই তা নেতিবাচক হোক বা ইতিবাচক।

(২) কাজ দুই প্রকার: অন্তরের কাজ যা হলো ইখলাস ও নিয়ত, এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ যা হলো শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে করা হয়, আর এর মধ্যে জিহ্বাও অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬৪)
بالطاعة وينقص بالمعصية، من كثرت طاعته أزيد إيمانًا ممن هو دونه في الطاعة.

 

‌‌[قولهم في مرتكب الكبيرة]

ويقولون إن أحدًا من أهل التوحيد ومن يصلي إلى قبلة المسلمين، لو ارتكب ذنبًا، أو ذنوبًا كثيرة، صغائر، أو كبائر، مع الإقامة على التوحيد لله والإقرار بما التزمه وقبله الله، فإنه لا يكفر به، ويرجون له المغفرة، قال تعالى: {وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48]

 

‌‌[حكم تارك الصلاة عمدًا] واختلفوا في متعمدي ترك الصلاة المفروضة حتى يذهب وقتها من غير عذر، فكفره جماعة (1) لما روي

--------------------------------------------

(1) منهم عمر بن الخطاب ومعاذ بن جبل وابن مسعود وابن عباس وجابر بن عبد الله وأبو الدرداء رضي الله عنهم، ومن التابعين إبراهيم النخعي وعبد الله بن المبارك وأيوب السختياني وإسحاق بن راهويه وأحمد بن حنبل وأبو بكر بن أبي شيبة وغيرهم رحمهم الله، انظر المحلى لابن حزم 2 / 242، ومعالم السنن للخطابي 5 / 58، وكتب الصلاة لابن القيم ص 37.
আনুগত্যের মাধ্যমে (ঈমান) বৃদ্ধি পায় এবং অবাধ্যতার মাধ্যমে হ্রাস পায়; যার আনুগত্য বেশি, সে তার চেয়ে ঈমানে শ্রেষ্ঠ যার আনুগত্য তার চেয়ে কম।

 

‌‌[কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে তাদের বক্তব্য]

আর তারা বলেন যে, তাওহীদপন্থী এবং মুসলিমদের কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায়কারীদের কেউ যদি কোনো পাপ বা অনেক পাপ করে ফেলে—চাই তা সগিরা (ছোট) হোক বা কবিরা (বড়)—যদি সে আল্লাহর তাওহীদের ওপর অবিচল থাকে এবং আল্লাহ যা অবধারিত করেছেন ও গ্রহণ করেছেন তা স্বীকার করে, তবে এর কারণে সে কাফির হয়ে যাবে না; এবং তারা তার জন্য ক্ষমার আশা পোষণ করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তিনি এ ছাড়া অন্য সব (গুনাহ) যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন} [আন-নিসা: ৪৮]

 

‌‌[ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জনকারীর বিধান] আর তারা সেই ব্যক্তির ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যে কোনো ওজর ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ সালাত বর্জন করে, এমনকি তার সময় পার হয়ে যায়। একদল তাকে কাফির সাব্যস্ত করেছেন (১), যেহেতু বর্ণিত হয়েছে যে—

--------------------------------------------

(১) তাদের মধ্যে রয়েছেন উমর বিন আল-খাত্তাব, মুয়াজ বিন জাবাল, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম); আর তাবেয়ীদের মধ্যে রয়েছেন ইব্রাহিম আন-নাখায়ী, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি, ইসহাক বিন রাহওয়াইহি, আহমাদ বিন হাম্বল, আবু বকর বিন আবি শায়বাহ এবং অন্যান্যগণ (রহিমাহুমুল্লাহ)। দেখুন: ইবনে হাজম রচিত 'আল-মুহাল্লা' ২/২৪২, খাত্তাবি রচিত 'মাআলিমুস সুনান' ৫/৫৮ এবং ইবনুল কাইয়্যিম রচিত সালাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পৃষ্ঠা ৩৭।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬৫)
عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: « (بين العبد وبين الكفر ترك الصلاة) » وقوله: « (من ترك الصلاة فقد كفر) » و: « (من ترك الصلاة فقد برأت منه ذمة الله) » وتأول
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: « (বান্দা এবং কুফরের মাঝে ব্যবধান হলো সালাত বর্জন করা) » এবং তাঁর বাণী: « (যে ব্যক্তি সালাত বর্জন করল সে কুফরি করল) » এবং: « (যে ব্যক্তি সালাত বর্জন করল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে গেল) » এবং তিনি ব্যাখ্যা করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬৬)
جماعة منهم. . . بذلك من تركها جاحدًا لها، كما قال يوسف عليه السلام: {إِنِّي تَرَكْتُ مِلَّةَ قَوْمٍ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [يوسف: 37] ترك (1) جحود الكفر.

--------------------------------------------

(1) معلوم أن النبي يوسف عليه السلام لم يكن تلبس بملة الكفر، ولكن أعرض عن الكفر جاحدا له، ومعلوم أن ترك الشيء لا يستلزم الوقوع فيه أولا.
তাদের মধ্য থেকে একটি দল... এর দ্বারা (উদ্দেশ্য) যে ব্যক্তি তা অস্বীকারকারী হিসেবে বর্জন করেছে, যেমন ইউসুফ আলাইহিস সালাম বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এমন এক সম্প্রদায়ের ধর্ম বর্জন করেছি যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না} [ইউসুফ: ৩৭]। বর্জন করা (১) হলো কুফরকে অস্বীকার করা।

--------------------------------------------

(১) এটি সুবিদিত যে, নবী ইউসুফ আলাইহিস সালাম কখনো কুফরি ধর্মে লিপ্ত ছিলেন না, বরং তিনি কুফরকে অস্বীকার করে তা থেকে বিমুখ হয়েছিলেন; আর এটিও জানা কথা যে, কোনো কিছু বর্জন করার জন্য তাতে পূর্বে লিপ্ত থাকা আবশ্যক নয়।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌[أقوال أهل العلم في الفرق بين الإسلام والإيمان]

وقال منهم: إن الإيمان قول وعمل، والإسلام فعل ما فرض على الإنسان أن يفعله، إذا ذكر كل اسم مضمومًا إلى الآخر، فقيل: المؤمنون والمسلمون جميعا مفردين أريد بأحدهما معنى لم يرد بالآخر، وإن ذكر أحد الاسمين شمل الكل وعمهم.

وكثير منهم (1) قالوا: الإسلام والإيمان واحد، قال عز وجل: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} [آل عمران: 85] فلو أن الإيمان غيره لم يقبل منه، وقال: {فَأَخْرَجْنَا مَنْ كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ - فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [الذاريات: 35 - 36]

--------------------------------------------

(1) منهم محمد بن نصر المروزي وسفيان الثوري والبخاري والمزني وابن عبد البر، انظر جامع العلوم والحكم ص170، وروي عن الشافعي، انظر فتح الباري 1 / 114-115.
‌[ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য]

তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বলেছেন: নিশ্চয়ই ঈমান হলো কথা ও কাজ, এবং ইসলাম হলো মানুষের ওপর যা ফরজ করা হয়েছে তা সম্পাদন করা। যখন এই নাম দুটিকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়—যেমন বলা হলো: মুমিনগণ ও মুসলিমগণ—তখন একটির দ্বারা এমন অর্থ উদ্দেশ্য করা হয় যা অন্যটি দ্বারা করা হয় না। আর যদি নাম দুটির কোনো একটি কেবল এককভাবে উল্লেখ করা হয়, তবে তা উভয় অর্থকেই শামিল করে এবং ব্যাপকতা প্রদান করে।

তাদের মধ্যে অনেকে (১) বলেছেন: ইসলাম ও ঈমান একই বিষয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তার পক্ষ থেকে তা কখনও কবুল করা হবে না} [আলে ইমরান: ৮৫]। ঈমান যদি ইসলাম থেকে ভিন্ন কিছু হতো, তবে তা তার থেকে কবুল করা হতো না। আল্লাহ আরও বলেছেন: {অতঃপর সেখানে মুমিনদের মধ্যে যারা ছিল আমি তাদের বের করে আনলাম। তবে আমি সেখানে মুসলমানদের একটি ঘর ছাড়া আর কোনো ঘর পাইনি} [আয-যারিয়াত: ৩৫-৩৬]

--------------------------------------------

(১) তাদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী, সুফিয়ান আস-সাওরী, বুখারী, মুযানী এবং ইবনে আব্দুল বার। দেখুন: জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম, পৃষ্ঠা ১৭০। এটি ইমাম শাফেয়ী থেকেও বর্ণিত হয়েছে, দেখুন: ফাতহুল বারী ১/ ১১৪-১১৫।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬৮)
ومنهم من ذهب إلى أن الإسلام مختص بالاستسلام لله والخضوع له والانقياد لحكمه فيما هو مؤمن به، كما قال: {قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ} [الحجرات: 14] وقال: {يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا قُلْ لَا تَمُنُّوا عَلَيَّ إِسْلَامَكُمْ بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلْإِيمَانِ} [الحجرات: 17] وهذا أيضًا دليل لمن قال هما واحد.

 

‌‌[الشفاعة والحوض والمعاد والحساب]

ويقولون إن الله يخرج من النار قوما من أهل التوحيد بشفاعة الشافعين، وأن الشفاعة حق، والحوض حق، والمعاد حق، والحساب حق.

 

‌‌[ترك الشهادة لأحد من الموحدين بالجنة أو النار]

ولا يقطعون على أحد من أهل الملة أنه من أهل الجنة أو من أهل النار، لأن علم ذلك يغيب عنهم، لا
তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন যারা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ইসলাম কেবল আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ, তাঁর প্রতি বশ্যতা স্বীকার এবং যার প্রতি সে বিশ্বাস স্থাপন করেছে সে বিষয়ে তাঁর বিধানের আনুগত্য করার মধ্যে সীমাবদ্ধ। যেমনটি তিনি বলেছেন: {মরুবাসীরা বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন: ‘তোমরা ঈমান আনোনি; বরং তোমরা বলো: আমরা ইসলাম কবুল করেছি’, কারণ ঈমান এখনও তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি।} [আল-হুজুরাত: ১৪] এবং তিনি বলেছেন: {তারা ইসলাম কবুল করে আপনাকে ধন্য করেছে বলে মনে করে। আপনি বলুন: ‘তোমাদের ইসলাম গ্রহণকে আমার ওপর অনুগ্রহ হিসেবে দেখিও না; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন’।} [আল-হুজুরাত: ১৭] আর যারা বলেন যে এই দুটি বিষয় (ঈমান ও ইসলাম) এক, তাদের জন্য এটিও একটি দলিল।

 

‌‌[শাফাআত, হাউজ, পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশ]

তারা বলেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাফাআতকারীদের শাফাআতের মাধ্যমে তাওহীদপন্থীদের একদলকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন। আর শাফাআত সত্য, হাউজ সত্য, পুনরুত্থান সত্য এবং হিসাব-নিকাশ সত্য।

 

‌‌[মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত কাউকে জান্নাতি বা জাহান্নামী হিসেবে নিশ্চিত সাক্ষ্য প্রদান বর্জন]

তারা মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত কাউকে জান্নাতি বা জাহান্নামী বলে সুনিশ্চিত রায় প্রদান করেন না, কারণ সেই জ্ঞান তাদের নিকট অনুপস্থিত, না...
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬৯)
يدرون على ماذا الموت؟ أعلى الإسلام؟ أم على الكفر؟ ولكن يقولون إن من مات على الإسلام مجتنبا للكبائر والأهواء والآثام، فهو من أهل الجنة، لقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [البينة: 7] ولم يذكر عنهم ذنبا {أُولَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ - جَزَاؤُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ} [البينة: 7 - 8] ومن شهد له النبي صلى الله عليه وسلم بعينه وصح له ذلك عنه، فإنهم يشهدون له بذلك، اتباعا لرسول الله صلى الله عليه وسلم وتصديقا لقوله.

 

‌‌[عذاب القبر]

ويقولون إن عذاب القبر حق، يعذب الله من استحقه إن شاء، وإن شاء عفى عنه، لقوله تعالى: {النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ} [غافر: 46] فأثبت لهم ما بقيت الدنيا عذابا بالغدو والعشي دون ما بينهما، حتى إذا قامت القيامة عذبوا أشد
তারা কি জানে মৃত্যু কিসের ওপর হবে? ইসলামের ওপর? নাকি কুফরের ওপর? কিন্তু তারা বলেন যে, যে ব্যক্তি কবিরা গুনাহ, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং পাপ পরিহার করে ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে" [আল-বাইয়্যিনাহ: ৭] এখানে তিনি তাদের কোনো পাপের কথা উল্লেখ করেননি, "তারাই সৃষ্টির সেরা— তাদের প্রতিদান তাদের রবের কাছে রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত।" [আল-বাইয়্যিনাহ: ৭ - ৮] আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দিষ্টভাবে যার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং সেটি তাঁর পক্ষ থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তারা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণ এবং তাঁর বাণীর সত্যায়নে তার জন্য অনুরূপ সাক্ষ্য প্রদান করেন।

 

‌‌[কবরের আজাব]

এবং তারা বলেন যে, কবরের আজাব সত্য। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তার প্রাপ্য হিসেবে আজাব দেন এবং চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেন। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যা আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয়। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে (সেদিন বলা হবে), ‘ফিরআউনের অনুসারীদেরকে কঠোরতম আজাবে প্রবেশ করাও।’" [গাফির: ৪৬] সুতরাং দুনিয়া বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত তিনি তাদের জন্য সকাল এবং সন্ধ্যায় আজাব সাব্যস্ত করেছেন, যার মধ্যবর্তী সময়ে নয়। এরপর যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে, তখন তারা আরও কঠোর আজাবে দণ্ডিত হবে।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭০)
العذاب، بلا تخفيف عنهم كما كان في الدنيا، وقال: {وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا} [طه: 124] يعني قبل فناء الدنيا، لقوله بعد ذلك: {وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} [طه: 124] بين أن المعيشة الضنك قبل يوم القيامة، وفي معاينتنا اليهود والنصارى والمشركين في العيش الرغد والرفاهية في المعيشة ما يعلم به أنه لم يرد به ضيق الرزق في الحياة الدنيا لوجود مشركين في سعة من أرزاقهم، وإنما أراد به بعد الموت، قبل الحشر.

 

‌‌[سؤال منكر ونكير]

ويؤمنون بمسألة منكر ونكير على ما ثبت به الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، مع قول الله تعالى: {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ} [إبراهيم: 27] وما ورد
আজাব, তাদের থেকে কোনো লাঘব করা ছাড়াই যেমনটা দুনিয়াতে ছিল। এবং তিনি বলেছেন: {আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, নিশ্চয়ই তার জন্য রয়েছে এক সংকীর্ণ জীবন} [ত্ব-হা: ১২৪] অর্থাৎ দুনিয়া ধ্বংস হওয়ার পূর্বে, কারণ এর পরেই তিনি বলেছেন: {আর কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব} [ত্ব-হা: ১২৪]। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সংকীর্ণ জীবন কিয়ামত দিবসের পূর্বেই হবে। আর আমরা ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান ও মুশরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যময় ও বিলাসিতাপূর্ণ জীবন যাপন প্রত্যক্ষ করি, যা থেকে জানা যায় যে, এর দ্বারা পার্থিব জীবনের রিযিকের সংকীর্ণতা উদ্দেশ্য নয়; কারণ অনেক মুশরিককে রিযিকের প্রাচুর্যের মধ্যে পাওয়া যায়। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পর এবং হাশরের পূর্বে।

 

‌‌[মুনকার ও নাকিরের জিজ্ঞাসাবাদ]

এবং তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত সংবাদের ভিত্তিতে মুনকার ও নাকিরের জিজ্ঞাসাবাদের ওপর ঈমান রাখে, সেই সাথে মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতিও: {যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন। আর আল্লাহ জালেমদের বিভ্রান্ত করেন এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন} [ইবরাহীম: ২৭] এবং যা বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭১)
تفسيره عن النبي (1) .

 

‌‌[ترك الخصومات والمراء في الدين]

ويرون ترك الخصومات والمراء في القرآن وغيره، لقول الله عز وجل: {مَا يُجَادِلُ فِي آيَاتِ اللَّهِ إِلَّا الَّذِينَ كَفَرُوا} [غافر: 4] يعني يجادل فيها تكذيبا بها والله أعلم.

 

‌‌[خلافة الخلفاء الراشدين]

ويثبتون خلافة أبي بكر رضي الله عنه بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، باختيار الصحابة إياه، ثم خلافة عمر بعد أبي بكر رضي الله عنه باستخلاف أبي بكر إياه، ثم خلافة عثمان رضي الله عنه باجتماع أهل الشورى

--------------------------------------------

(1) قال النبي صلى الله عليه وسلم في تفسير هذه الآية: (المسلم إذا سئل في القبر يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، فذلك قول الله تعالى: يثبت الله الذين آمنوا بالقول الثابت في الحياة الدنيا وفي الآخرة.) ، أخرجه البخاري.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এর তাফসীর বর্ণিত হয়েছে (১)।

 

‌‌[দীনের বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদ ও বাকবিতণ্ডা বর্জন]

এবং তারা কুরআন ও অন্যান্য বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদ ও বাকবিতণ্ডা বর্জন করা আবশ্যক মনে করেন, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {কাফিররা ছাড়া আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে কেউ বিবাদ করে না} [গাফির: ৪] অর্থাৎ একে অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে বিবাদ করে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[খুলাফায়ে রাশিদীনের খিলাফত]

এবং তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর সাহাবীগণের নির্বাচনের মাধ্যমে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফত সাব্যস্ত করেন, অতঃপর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফত, অতঃপর পরামর্শ সভার সদস্যদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফত সাব্যস্ত করেন

--------------------------------------------

(১) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: (মুসলিম ব্যক্তিকে যখন কবরে প্রশ্ন করা হয়, তখন সে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: আল্লাহ মুমিনদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন।) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭২)
وسائر المسلمين عليه عن أمر عمر ثم خلافة علي بن أبي طالب رضي الله عنه عن بيعة من بايع من البدريين عمّار بن ياسر وسهل بن حنيف ومن تبعهما من سائر الصحابة مع سابقه وفضله.

 

‌‌[المفاضلة بين الصحابة]

ويقولون بتفضيل الصحابة رضي الله عنهم، لقوله: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ} [الفتح: 18] وقوله: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رضي الله عنهم} [التوبة: 100]

ومن أثبت الله رضاه عنه لم يكن منهم بعد ذلك ما يوجب سخط الله عز وجل، ولم يوجب ذلك للتابعين إلا بشرط الإحسان، فمن كان من التابعين من بعدهم يتنقصهم لم يأت بالإحسان، فلا مدخل له في ذلك.
এবং উমরের নির্দেশে সমস্ত মুসলিম এর ওপর একমত ছিল; অতঃপর আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয় সেই সব বদরী সাহাবীদের বাইয়াতের মাধ্যমে যারা তার কাছে বাইয়াত হয়েছিলেন, যেমন আম্মার ইবনে ইয়াসির ও সাহল ইবনে হুনাইফ এবং অন্যান্য সাহাবীদের মধ্য থেকে যারা তাদের অনুসরণ করেছিলেন, তার অগ্রগামিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও।

 

‌‌[সাহাবীদের মধ্যে মর্যাদাগত শ্রেষ্ঠত্ব]

এবং তারা সাহাবীদের (রা.) শ্রেষ্ঠত্বের প্রবক্তা, আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করছিল" [আল-ফাতহ: ১৮] এবং তাঁর বাণী: "আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম ও অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন" [আত-তাওবাহ: ১০০]

আর আল্লাহ যার প্রতি তাঁর সন্তুষ্টি সাব্যস্ত করেছেন, তাদের থেকে পরবর্তীতে এমন কিছু ঘটা সম্ভব নয় যা মহান আল্লাহর ক্রোধকে অনিবার্য করে। আর তাবেয়ীদের জন্য আল্লাহ এই সন্তুষ্টিকে নিষ্ঠার শর্ত ছাড়া অবধারিত করেননি। সুতরাং তাদের পরবর্তী তাবেয়ীদের মধ্যে যারা তাদের মর্যাদাহানি করে, সে নিষ্ঠার সাথে আসেনি; তাই এই সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে তার কোনো প্রবেশাধিকার নেই।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭৩)
‌‌[قولهم فيمن يبغض الصحابة]

ومن غاظه مكانهم من الله فهو مخوف عليه ما لا شيء أعظم منه، لقوله عز وجل: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ} [الفتح: 29] إلى قوله {وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ} [الفتح: 29] فأخبر أنه جعلهم غيظا للكافرين.

وقالوا بخلافتهم، لقول الله عز وجل: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [النور: 55] فخاطب بقوله منكم من ولد الآن وهو مع النبي صلى الله عليه وسلم على دينه، فقال بعد ذلك: {لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا} [النور: 55] فمكن الله بأبي بكر وعمر وعثمان
[সাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য]

এবং আল্লাহর নিকট তাঁদের যে মর্যাদা রয়েছে, তাতে যার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, তার জন্য এমন গুরুতর আশঙ্কার বিষয় রয়েছে যার চেয়ে বড় আর কিছু নেই। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে} [আল-ফাতহ: ২৯] থেকে তাঁর এই কথা পর্যন্ত: {এবং ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি শস্যক্ষেত্রের মতো যা তার অঙ্কুর বের করল, অতঃপর তাকে শক্ত করল, অতঃপর তা পুষ্ট হলো এবং নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠল, যা চাষীদেরকে মুগ্ধ করে, যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করতে পারেন} [আল-ফাতহ: ২৯]। সুতরাং আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁদেরকে কাফিরদের জন্য ক্ষোভের কারণ বানিয়েছেন।

এবং তাঁরা তাঁদের খিলাফতের ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন} [আন-নূর: ৫৫]। এখানে 'তোমাদের মধ্যে' সম্বোধনের মাধ্যমে তাদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে যারা তখন বিদ্যমান ছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। অতঃপর আল্লাহ এরপর বলেছেন: {তিনি অবশ্যই পৃথিবীতে তাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। আর তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের অবস্থার পর অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা কেবল আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না} [আন-নূর: ৫৫]। অতঃপর আল্লাহ আবু বকর, উমর ও উসমানের মাধ্যমে দ্বীনকে সুদৃঢ় করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭৪)
الدين، وعد الله آمنين يغزون ولا يغزون، ويخيفون العدو ولا يخيفهم العدو.

وقال عز وجل للذين تخلفوا عن نبيه في الغزوة التي ندبهم الله عز وجل بقوله: {فَإِنْ رَجَعَكَ اللَّهُ إِلَى طَائِفَةٍ مِنْهُمْ فَاسْتَأْذَنُوكَ لِلْخُرُوجِ فَقُلْ لَنْ تَخْرُجُوا مَعِيَ أَبَدًا وَلَنْ تُقَاتِلُوا مَعِيَ عَدُوًّا إِنَّكُمْ رَضِيتُمْ بِالْقُعُودِ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَاقْعُدُوا مَعَ الْخَالِفِينَ} [التوبة: 83] فلما لقوا النبي صلى الله عليه وسلم يسألونه الإذن في الخروج للعدو فلم يأذن لهم، أنزل الله عز وجل: {سَيَقُولُ الْمُخَلَّفُونَ إِذَا انْطَلَقْتُمْ إِلَى مَغَانِمَ لِتَأْخُذُوهَا ذَرُونَا نَتَّبِعْكُمْ يُرِيدُونَ أَنْ يُبَدِّلُوا كَلَامَ اللَّهِ قُلْ لَنْ تَتَّبِعُونَا كَذَلِكُمْ قَالَ اللَّهُ مِنْ قَبْلُ فَسَيَقُولُونَ بَلْ تَحْسُدُونَنَا بَلْ كَانُوا لَا يَفْقَهُونَ إِلَّا قَلِيلًا} [الفتح: 15] وقال لهم: {قُلْ لِلْمُخَلَّفِينَ مِنَ الْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَى قَوْمٍ أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ فَإِنْ تُطِيعُوا يُؤْتِكُمُ اللَّهُ أَجْرًا حَسَنًا وَإِنْ تَتَوَلَّوْا كَمَا تَوَلَّيْتُمْ مِنْ قَبْلُ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا
দ্বীন, আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তারা নিরাপদ থেকে যুদ্ধ করবে এবং আক্রান্ত হবে না, তারা শত্রুকে ভীত করবে আর শত্রু তাদের ভীত করতে পারবে না।

এবং মহান আল্লাহ সেইসব লোকদের সম্পর্কে বলেছেন যারা তাঁর নবীর থেকে সেই যুদ্ধে পিছিয়ে ছিল যে ব্যাপারে আল্লাহ মহান তাদেরকে আহ্বান জানিয়েছিলেন এই বলে: {যদি আল্লাহ আপনাকে তাদের কোনো দলের নিকট ফিরিয়ে আনেন এবং তারা আপনার সাথে (যুদ্ধে) বের হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে, তবে আপনি বলুন, তোমরা কখনোই আমার সাথে বের হবে না এবং কখনোই আমার সাথে কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না। তোমরা প্রথমবার বসে থাকতেই পছন্দ করেছিলে, সুতরাং তোমরা পেছনে পড়ে থাকাদের সাথেই বসে থাকো} [তওবা: ৮৩]। অতঃপর যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করে শত্রুর বিরুদ্ধে অভিযানে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করল কিন্তু তিনি তাদের অনুমতি দিলেন না, তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {পিছনে রয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা বলবে, যখন তোমরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে, তখন আমাদেরকেও তোমাদের অনুসরণ করতে দাও। তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। আপনি বলুন, তোমরা কখনোই আমাদের অনুসরণ করবে না; আল্লাহ আগেই এরূপ বলে দিয়েছেন। তারা বলবে, বরং তোমরা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছ। আসলে তারা খুব সামান্যই বুঝতে পারে} [ফাতহ: ১৫]। এবং তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: {আপনি মরুবাসী আরবদের মধ্যে যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে বলুন, শীঘ্রই তোমাদেরকে এমন এক জাতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে আহ্বান করা হবে যারা অত্যন্ত শক্তিশালী; তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা ইসলাম গ্রহণ করবে। অতঃপর যদি তোমরা আনুগত্য কর, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করবেন; আর যদি তোমরা বিমুখ হও যেমনটি তোমরা ইতিপূর্বে বিমুখ হয়েছিলে, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন।}
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭৫)
أَلِيمًا} [الفتح: 16] والذين كانوا في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أحياء خوطبوا بذلك لما تخلفوا عنه، وبقي منهم في خلافة أبي بكر وعمر وعثمان رضي الله عنهم ما أوجب لهم بطاعتهم إياهم الأجر وبترك طاعتهم العذاب الأليم، إيذانا من الله عز وجل بخلافتهم رضي الله عنهم ولا جعل في قلوبنا غلا لأحد منهم، فإذا أثبتت خلافة واحد منهم انتظم منها خلافة الأربعة.

 

‌‌[الجمعة خلف كل إمام مسلم برا كان أو فاجرا]

 

ويرون الصلاة -الجمعة وغيرها- خلف كل إمام مسلم برا كان أو فاجرا، فإن الله عز وجل فرض الجمعة وأمر بإتيانها فرضا مطلقا، مع علمه تعالى بأن القائمين يكون منهم الفاجر والفاسق، ولم يستثن وقتا دون وقت، ولا أمرا بالنداء للجمعة دون أمر.

 

‌‌[الجهاد مع الأئمة وإن كانوا جورة]

ويرون جهاد الكفار معهم، وإن كانوا جورة، ويرون الدعاء لهم بالصلاح والعطف إلى العدل، ولا يرون
যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি} [আল-ফাতহ: ১৬]। আর যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে জীবিত ছিলেন, যখন তারা তাঁর থেকে বিরত ছিল তখন তাদের এই মর্মে সম্বোধন করা হয়েছিল। আবু বকর, উমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর খিলাফতকালে তাদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট ছিলেন, তাঁদের আনুগত্যের মাধ্যমে তাদের জন্য পুরস্কার এবং আনুগত্য বর্জনের মাধ্যমে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি সাব্যস্ত হওয়া আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র পক্ষ থেকে তাঁদের খিলাফতেরই একটি ঘোষণা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। আল্লাহ যেন আমাদের অন্তরে তাঁদের কারো প্রতি কোনো বিদ্বেষ না রাখেন। সুতরাং যখন তাঁদের একজনের খিলাফত প্রমাণিত হয়, তখন তা থেকে চারজনের খিলাফতের বিষয়টিই সুবিন্যস্ত হয়ে যায়।

 

‌‌[প্রত্যেক মুসলিম ইমামের পিছনে জুমুআহ আদায় করা, সে নেককার হোক বা পাপাচারী]

 

আর তাঁরা প্রত্যেক মুসলিম ইমামের পিছনে সালাত—জুমুআহ এবং অন্যান্য—আদায় করাকে সমর্থন করেন, সে নেককার হোক বা পাপাচারী। কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা জুমুআহকে ফরয করেছেন এবং তা পালন করার জন্য নিরঙ্কুশভাবে আদেশ দিয়েছেন; অথচ তিনি তাআলা অবগত ছিলেন যে, যারা এর নেতৃত্বে থাকবে তাদের মধ্যে পাপাচারী ও ফাসেকও থাকবে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়কে পৃথক করেননি এবং জুমুআর আযানের কোনো আদেশকেও অন্য কোনো আদেশ থেকে আলাদা করেননি।

 

‌‌[শাসকদের সাথে জিহাদ করা, যদিও তারা অত্যাচারী হয়]

আর তাঁরা তাঁদের সাথে কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা বৈধ মনে করেন, যদিও তাঁরা অত্যাচারী হন। তাঁরা তাঁদের জন্য সংশোধন ও ইনসাফের দিকে প্রত্যাবর্তনের দুআ করা সমীচীন মনে করেন, এবং তাঁরা মনে করেন না...
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭৬)
الخروج بالسيف عليهم، ولا قتال الفتنة، ويرون قتال الفئة الباغية مع الإمام العادل، إذا كان ووجد على شرطهم في ذلك.

 

‌‌[دار الإسلام]

ويرون الدار دار الإسلام لا دار الكفر كما رأته المعتزلة، ما دام النداء بالصلاة والإقامة ظاهرين وأهلها ممكنين منها آمنين.

 

‌‌[أعمال العباد لا توجب لهم الجنة إلا بفضل الله]

ويرون أن أحدا لا تخلص له الجنة، وإن عمل أي عمل، إلا بفضل الله ورحمته التي يخص بهما من يشاء، فإن عمله للخير وتناوله الطاعات إنما عن فضل الله الذي لو لم يتفضل به عليه لم يكن لأحد على الله حجة ولا عذر، كما قال الله: {وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ أَبَدًا وَلَكِنَّ اللَّهَ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ} [النور: 21] {وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا} [النساء: 83] وقال:
তারা তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহ করা এবং ফিতনার যুদ্ধে লিপ্ত হওয়াকে সঠিক মনে করেন না। তারা ন্যায়পরায়ণ ইমামের সাথে বিদ্রোহী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে বৈধ মনে করেন, যখন তা বিদ্যমান থাকে এবং এ বিষয়ে তাদের শর্তসমূহ পূরণ হয়।

 

‌‌[দারুল ইসলাম]

তারা কোনো জনপদকে দারুল ইসলাম হিসেবে গণ্য করেন, মুতাজিলাদের মতানুসারে দারুল কুফর হিসেবে নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে সালাতের আযান ও ইকামত প্রকাশ্য থাকে এবং সেখানকার অধিবাসীরা তা পালনে সক্ষম ও নিরাপদ থাকে।

 

‌‌[বান্দার আমল আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া জান্নাত প্রাপ্তি নিশ্চিত করে না]

তারা বিশ্বাস করেন যে, কোনো ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, সে যত আমলই করুক না কেন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত ব্যতীত যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। কেননা তার সৎকাজ করা এবং আনুগত্যে লিপ্ত হওয়া আল্লাহর সেই অনুগ্রহেরই অংশ, যা তিনি দান না করলে আল্লাহর বিরুদ্ধে কারো কোনো দলিল বা অজুহাত থাকত না। যেমন আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকলে তোমাদের কেউ কখনোই পবিত্র হতে পারতে না; তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন" [আন-নূর: ২১]। "তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমত না থাকত, তবে অল্পসংখ্যক ব্যতীত তোমরা সবাই শয়তানের অনুসরণ করতে" [আন-নিসা: ৮৩]। এবং তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭৭)
{يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ} [البقرة: 105]

 

‌‌[تقدير الآجال]

 

ويقولون إن الله عز وجل أجل لكل حي مخلوق أجلا هو بالغه فإذا جاء أجلهم لا يستأخرون ساعة ولا يستقدمون وإن مات أو قتل فهو عند انتهاء أجله المسمى له كما قال الله عز وجل {قل لو كنتم في بيوتكم لبرز الذين كتب عليهم القتل إلى مضاجعهم}

 

‌‌[الرازق الله]

وإن الله تعالى يرزق كل حي مخلوق رزق الغذاء الذي به قوام الحياة، وهو يضمنه الله لمن أبقاه من خلقه، وهو الذي رزقه من حلال أو من حرام، وكذلك رزق الزينة الفاضل عما يحيا به.

 

‌‌[الله خالق الشياطين ووساوسهم]

ويؤمنون بأن الله تعالى خلق الشياطين توسوس
{তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাঁর রহমতের জন্য নির্দিষ্ট করে নেন।} [আল-বাক্বারা: ১০৫]

 

‌‌[আয়ু নির্ধারণ]

 

এবং তাঁরা বলেন যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা প্রত্যেক জীবিত সৃষ্টির জন্য এক একটি আয়ু নির্ধারণ করে দিয়েছেন যা সে পূর্ণ করবেই। সুতরাং যখন তাদের সেই নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হয়, তখন তারা এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারে না এবং অগ্রগামীও হতে পারে না। আর কেউ যদি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে অথবা তাকে হত্যা করা হয়, তবে তা তার জন্য নির্ধারিত আয়ুর সমাপ্তিতেই ঘটে থাকে; যেমনটি আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {বলুন, তোমরা যদি তোমাদের ঘরেও থাকতে, তবুও যাদের মৃত্যু লিখে দেওয়া হয়েছিল, তারা তাদের শয্যাপাশে অবশ্যই বেরিয়ে আসত।}

 

‌‌[রিযিকদাতা আল্লাহ]

আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জীবিত সৃষ্টিকে খাদ্যের সেই রিযিক প্রদান করেন যার ওপর জীবন নির্ভরশীল। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মাঝে যাকে বাঁচিয়ে রাখেন, তার জন্য এই রিযিকের নিশ্চয়তা প্রদান করেন। তিনিই তাকে রিযিক দান করেন, চাই তা হালাল হোক কিংবা হারাম। তেমনিভাবে জীবনের প্রয়োজনে অতিরিক্ত শোভাবর্ধক রিযিকও তিনিই দান করেন।

 

‌‌[আল্লাহ শয়তান ও তাদের কুমন্ত্রণার স্রষ্টা]

এবং তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তাআলা শয়তানদের সৃষ্টি করেছেন যারা কুমন্ত্রণা দেয়।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আইম্মাতুল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭৮)
للآدميين ويخدعونهم ويغرونهم، وأن الشيطان يتخبط الإنسان (1) .

 

‌‌[السحر والسحرة]

وأن في الدنيا سحرا وسحرة، وأن السحر واستعماله كفر من فاعله، معتقدا له، نافعا ضارا بغير إذن الله.

 

‌‌[مجانبة البدعة]

ويرون مجانبة البدعة والآثام، والفخر، والتكبر، والعجب، والخيانة، والدغل، (2) والسعاية، (3) ويرون كف الأذى وترك الغيبة إلا لمن أظهر بدعة وهو يدعو إليها، فالقول فيه ليس بغيبة عندهم.

 

‌‌[تعلم العلم]

ويرون تعلم العلم وطلبه من مظانه، والجد في تعلم القرآن وعلومه وتفسيره، وسماع سنن الرسول صلى الله عليه وسلم وجمعها والتفقه فيها، وطلب آثار الصحابة.

--------------------------------------------

(1) كما قال تعالى: الذين يأكلون الربا لا يقومون إلا كما يقوم الذي يتخبطه الشيطان من المس البقرة 275.

(2) الدغل: هو الذي يبغي الشر، انظر تهذيب اللغة 8 / 71.

(3) الوشاية والنميمة بين الناس.
মানুষের জন্য এবং তারা তাদের প্রতারিত করে ও প্রলুব্ধ করে, আর শয়তান মানুষকে আচ্ছন্ন করে ফেলে (১)।

 

‌‌[যাদু ও যাদুকর]

আর দুনিয়াতে যাদু ও যাদুকর রয়েছে, এবং যাদু ও তার ব্যবহারকারী যদি বিশ্বাস করে যে এটি আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত উপকার বা অপকার করতে পারে, তবে তা কুফরি।

 

‌‌[বিদআত পরিহার করা]

আর তারা বিদআত, পাপসমূহ, দম্ভ, অহংকার, আত্মতৃপ্তি, খিয়ানত, ধোঁকাবাজি (২) এবং চোগলখুরি (৩) পরিহার করা সমীচীন মনে করেন। তারা কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং গীবত বর্জন করাকেও আবশ্যক মনে করেন, তবে যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে বিদআত করে এবং তার দিকে আহ্বান জানায় তার কথা ভিন্ন; তার সম্পর্কে আলোচনা করা তাদের নিকট গীবত নয়।

 

‌‌[ইলম শিক্ষা করা]

আর তারা ইলম শিক্ষা করা ও এর সঠিক উৎসস্থল থেকে তা অন্বেষণ করা, কুরআন ও তার জ্ঞান ও তাফসীর শেখার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালানো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ শ্রবণ করা, তা সংগ্রহ করা ও তাতে গভীর জ্ঞান অর্জন করা এবং সাহাবায়ে কেরামের আসার অন্বেষণ করা সমীচীন মনে করেন।

--------------------------------------------

(১) যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: যারা সুদ খায় তারা (কিয়ামতের দিন) সেই ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। সূরা বাকারা: ২৭৫।

(২) আদ-দাগল: যে ব্যক্তি মন্দের অন্বেষণ করে; দেখুন: তাহযীবুল লুগাহ ৮/৭১।

(৩) মানুষের মাঝে কানকথা লাগানো এবং চোগলখুরি করা।