(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
اعتقاد أهل السنة شرح أصحاب الحديث   (محمد بن عبد الرحمن الخميس)

القسم: العقيدة


الكتاب: اعتقاد أهل السنة شرح أصحاب الحديث

المؤلف: محمد بن عبد الرحمن الخميس

الناشر: وزارة الشئون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1419هـ

عدد الصفحات: 190

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আহলুস সুন্নাহর আকিদা: আসহাবুল হাদিসের ব্যাখ্যানুসারে   (মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস)

বিভাগ: আকিদা


গ্রন্থ: আহলুস সুন্নাহর আকিদা: আসহাবুল হাদিসের ব্যাখ্যানুসারে

লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস

প্রকাশক: ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯০

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[المقدمة]

اعتقاد أهل السنة

شرح

أصحاب الحديث
[ভূমিকা]

আহলুস সুন্নাহর আকিদা

ব্যাখ্যা

আসহাবুল হাদিস
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

المقدمة إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}

أما بعد: فقد انتسب إلى أبي الحسن الأشعري في هذا العصر كثير من المسلمين، وأطلقوا على أنفسهم الأشاعرة نسبة إليه، وادعوا أنهم ملتزمون بما هو عليه في الاعتقاد وخاصة في مسائل الصفات، والحق أنهم لم يأخذوا بالعقيدة التي اعتنقها إمامهم في نهاية حياته كما في كتاب (الإبانة) و (المقالات) ، ومن العجيب أنهم زعموا أن الإمام أبا الحسن الأشعري ألف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা: নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।}

অতঃপর: বর্তমান যুগে অনেক মুসলিম নিজেদেরকে আবুল হাসান আল-আশআরীর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেন এবং তাঁর দিকে নিসবত করে নিজেদেরকে 'আশায়েরা' (আশআরী) বলে অভিহিত করেন। তারা দাবি করেন যে, তারা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে—বিশেষ করে গুণাবলির (সিফাত) মাসআলাসমূহে—তিনি যে মতাদর্শের ওপর ছিলেন তার অনুসারী। অথচ সত্য হলো, তারা সেই আকিদা গ্রহণ করেনি যা তাদের ইমাম তাঁর জীবনের শেষভাগে গ্রহণ করেছিলেন, যেমনটি তাঁর 'আল-ইবানা' এবং 'আল-মাক্বালাত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা দাবি করে যে ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী রচনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৪)
كتابه (الإبانة) مداراة للحنابلة وتقية، وخوفا منهم على نفسه.

وهذا كلام فيه نظر، بل إنه جد خطير، إذ إن فيه قدحا في الإمام أبي الحسن الأشعري واتهاما له بأنه يبدل عقيدته - في الظاهر - على حسب الأحوال والملابسات، أو مجاراة للتيارات الفكرية السائدة، وهذه مسألة خطيرة، فالغاية لا تبرر الوسيلة عند أهل الحق، وينبغي للإنسان أن يحسن الظن بأمثال الإمام في هذا، بل إنني أجزم ببطلان هذا الزعم في حق الإمام الجليل، إذ إنه لا يمكن أن يداري أو يجاري في عقيدته، وهي مدار السلامة وهي العقد بينه وبين الله تعالى، ولا يفعل هذا إلا الموغلون في البدعة، والذين ليسوا على رسوخ في عقيدتهم وثقة بما هم عليه، كأمثال الباطنية وغيرهم. ثم إن الحنابلة لم تكن لهم سلطة يمكن أن تلحق الأذى بالإمام، بل كان في أيامه كثيرون من المبتدعة المعاندين، ولم ينزل بهم بطش الحنابلة وبأسهم، فهذه دعوى باطلة مردودة.

وقد صرح الإمام في هذين الكتابين بأنه على عقيدة أهل الحديث، والزاعمون لهذا البطلان ممن انتسبوا إلى الإمام وسموا أنفسهم بالأشاعرة إنما هم في الحقيقة قد سلكوا طريقة ابن كلاب البصري، وهو ما كان عليه الأشعري في طوره الثاني من أطوار اعتقاده؛ فقد كان أولا معتزليا ثم تحول إلى مذهب ابن كلاب ثم استقر أخيرا على عقيدة السلف.
তার ‘আল-ইবানা’ গ্রন্থটি ছিল হাম্বলিদের প্রতি তোষামোদ, আত্মরক্ষা এবং তাদের পক্ষ থেকে নিজের প্রাণের আশঙ্কার কারণে।

এই বক্তব্যটি পর্যালোচনার দাবি রাখে, বরং এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক; কারণ এতে ইমাম আবুল হাসান আশআরিকে হেয় করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তিনি পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাহ্যিকভাবে নিজের আকিদা পরিবর্তন করতেন অথবা প্রচলিত চিন্তাধারার সাথে আপস করতেন। এটি একটি গুরুতর বিষয়; কেননা সত্যপন্থীদের নিকট উদ্দেশ্য উপায়ের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন করে না। ইমামের মতো ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে সুধারণা পোষণ করা আবশ্যক। বরং আমি এই মহান ইমামের ব্যাপারে উত্থাপিত এ দাবির অসারতা সম্পর্কে নিশ্চিত; কেননা আকিদার প্রশ্নে তার পক্ষে আপস করা বা তোষামোদ করা অসম্ভব, যা কি না নাজাতের মূল ভিত্তি এবং তার ও মহান আল্লাহর মধ্যকার অঙ্গীকার। কেবল তারাই এমনটি করে যারা বিদআতে নিমজ্জিত এবং যাদের নিজেদের আকিদার ওপর কোনো দৃঢ়তা বা আত্মবিশ্বাস নেই, যেমন বাতিনিয়াহ ও অন্যান্য সম্প্রদায়। তাছাড়া হাম্বলিদের এমন কোনো ক্ষমতা ছিল না যা দ্বারা তারা ইমামের কোনো ক্ষতি করতে পারত। বরং তার সময়ে অনেক একগুঁয়ে বিদআতি ছিল, যাদের ওপর হাম্বলিদের কোনো কঠোরতা বা প্রতাপ আপতিত হয়নি। সুতরাং এটি একটি বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত দাবি।

ইমাম এই দুটি গ্রন্থে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে তিনি আহলে হাদিসের আকিদার ওপর রয়েছেন। আর এই অসার দাবির প্রবক্তা যারা ইমামের দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করে এবং নিজেদের ‘আশআরি’ বলে পরিচয় দেয়, তারা মূলত ইবনে কুল্লাব বসরির পথ অনুসরণ করেছে। আর এটিই ছিল ইমাম আশআরি (রহ.)-এর আকিদাগত জীবনের দ্বিতীয় পর্যায়। কারণ তিনি প্রথমে মুতাজিলি ছিলেন, তারপর ইবনে কুল্লাবের মতাদর্শে স্থানান্তরিত হন এবং পরিশেষে সালাফদের আকিদার ওপর স্থির হন।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫)
وادعى أتباعه أنهم هم أهل السنة والجماعة، ونسبوا من آمن بالنصوص الشرعية في الصفات الإلهية وأجراها على ظاهرها بدون تحريف ولا تعطيل ولا تكييف ولا تمثيل نسبوه إلى التشبيه والتجسيم، وهذا عين المخالفة لإمامهم حيث صرح بإثبات الصفات التي وردت في الكتاب والسنة، وردَّ على المعطلة والمشبهة. ولتوضيح هذه الحقيقة وتجليتها رأيت إبراز ما قرَّره في المقالات من مذهب أهل الحديث وصرح بأنه ملتزم به مع التعليق والإيضاح لما يحتاج لتعليق وذلك لبيان مدى موافقة الأشعري لمنهج السلف ومعتقدهم ومن ثم يظهر مخالفة أتباعه له في الاعتقاد.

وحسب علمي فإن ما قرره الأشعري في مقالاته عن أهل الحديث لم يحظ بشرح مستقل ولم يعتن به، لذا وضعت هذا الشرح المختصر. أما المنهج الذي سأتبعه في هذا الشرح فهو كالآتي:

1 - رأيت أن أفضل من يشرح ما قرره الأشعري عن أصحاب الحديث في أمور الاعتقاد هم أهل الحديث أنفسهم لذا فإني أرجع إلى الكتب المؤلفة في عقيدة أهل السنة والجماعة على طريقة أهل الحديث وهي ما يأتي:

أ- اعتقاد أئمة أهل الحديث للحافظ الإمام أبي بكر الإسماعيلي.
এবং তাঁর অনুসারীরা দাবি করেছে যে তারাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, এবং যারা আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত শরয়ী দলীলগুলোর ওপর ঈমান এনেছে এবং সেগুলোকে কোনো প্রকার বিকৃতি, অস্বীকার, ধরন নির্ধারণ বা সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই বাহ্যিক অর্থের ওপর গ্রহণ করেছে, তাদেরকে তারা সাদৃশ্য প্রদান ও দেহধারী সাব্যস্ত করার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে। আর এটি তাদের ইমামের সরাসরি বিরোধিতা, কেননা তিনি কিতাব ও সুন্নাহয় বর্ণিত গুণাবলি প্রমাণের ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন এবং অস্বীকারকারী ও সাদৃশ্য প্রদানকারীদের খণ্ডন করেছেন। এই সত্যকে স্পষ্ট ও উন্মোচিত করার জন্য, আমি 'মাকালাত' গ্রন্থে বর্ণিত আহলুল হাদিসের মাযহাব সম্পর্কে তিনি যা সাব্যস্ত করেছেন এবং যার ওপর তিনি অবিচল থাকার ঘোষণা দিয়েছেন, তা টীকা ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ তুলে ধরা সমীচীন মনে করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো সালাফদের মানহাজ ও আকিদার সাথে আশআরীর মিল কতটুকু তা বর্ণনা করা, এবং এর ফলে আকিদার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসারীদের সাথে তাঁর বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

আমার জানা মতে, আশআরী তাঁর 'মাকালাত' গ্রন্থে আহলুল হাদিস সম্পর্কে যা সাব্যস্ত করেছেন, তা কোনো স্বতন্ত্র ব্যাখ্যা লাভ করেনি এবং এর প্রতি বিশেষ ভ্রুক্ষেপ করা হয়নি, তাই আমি এই সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাটি প্রস্তুত করেছি। আর এই ব্যাখ্যায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করব তা হলো নিম্নরূপ:

১ - আমি মনে করি যে, আকিদাগত বিষয়ে আসহাবুল হাদিস সম্পর্কে আশআরী যা সাব্যস্ত করেছেন, তার ব্যাখ্যা করার জন্য স্বয়ং আহলুল হাদিসরাই সর্বোত্তম। তাই আমি আহলুল হাদিসের তরিকায় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর আকিদা বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি, যা হলো নিম্নরূপ:

ক- হাফেজ ইমাম আবু বকর আল-ইসমাঈলী রচিত 'ইতিিকাদু আইম্মাতিল আহলিল হাদিস'।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬)
ب- اعتقاد السلف أصحاب الحديث للحافظ الإمام شيخ الإسلام أبي عثمان إسماعيل الصابوني.

ج- شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للحافظ الإمام شيخ الإسلام أبي القاسم عبد الله اللالكائي.

د- الحجة في بيان المحجة للإمام الحافظ أبي محمد الفضل التيمي الأصبهاني وغير ذلك من كتب أهل السنة والجماعة.

2 - فإن لم أجد اجتهدت في شرح كلام المؤلف مستدلا له من الكتاب والسنة، وقد أذكر أقوال أهل العلم، وقد أكتفي بذكر الأدلة فقط لوضوح المسألة وجلائها.

3 - كما أني لم ألتزم في الجملة بطريقة واحدة في العرض، فقد أبدأ بذكر الأدلة ثم أثني بالنقل عن أهل العلم، وقد أبدأ بالنقل عنهم أولا لتقرير وبسط وشرح ما ذكره الأشعري.

4 - عزوت الآيات القرآنية إلى مواضعها من كتاب الله تعالى وذلك بذكر السورة ورقم الآية.

5 - قمت بتخريج الأحاديث الواردة في الكتاب سواء في ثنايا النقول عن الأئمة أو غير ذلك، فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت به، وإلا اجتهدت في بيان موضعه من كتب السنة الأخرى مع بيان درجته من حيث
খ- হাফেজ ইমাম শায়খুল ইসলাম আবু উসমান ইসমাইল আস-সাবুনীর 'আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিস'।

গ- হাফেজ ইমাম শায়খুল ইসলাম আবুল কাসিম আবদুল্লাহ আল-লালকাইয়ের 'শারহু উসুল ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ'।

ঘ- ইমাম হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-ফাদল আত-তাইমি আল-আসফাহানির 'আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ' এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর অন্যান্য কিতাবসমূহ।

২ - আমি যদি তা খুঁজে না পাই, তবে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দলীল পেশ করার মাধ্যমে গ্রন্থকারের বক্তব্য ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টা চালিয়েছি। কখনও আমি আলেমগণের উক্তি উল্লেখ করেছি, আবার কখনও মাসআলার স্পষ্টতার কারণে কেবল দলীল উল্লেখ করার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

৩ - একইভাবে আমি উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে কোনো একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বনে সীমাবদ্ধ থাকিনি। কখনও আমি দলীল উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছি এবং এরপর আলেমগণের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি; আবার কখনও আশআরী যা উল্লেখ করেছেন তা সাব্যস্ত করা, বিস্তৃত করা ও ব্যাখ্যা করার জন্য প্রথমেই তাঁদের উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করেছি।

৪ - আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে মহান আল্লাহর কিতাবে তাদের স্ব-স্ব স্থানে সম্বন্ধযুক্ত করেছি, আর তা সুরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে।

৫ - আমি গ্রন্থে উল্লিখিত হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছি, তা ইমামগণের উদ্ধৃতির ভেতরে থাকুক বা অন্য কোথাও। হাদিসটি যদি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা তাদের কোনো একটিতে থাকে তবে আমি সেটির ওপরই নির্ভর করেছি। অন্যথায় সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবসমূহে এর অবস্থান নির্ণয়ের পাশাপাশি এর মান বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালিয়েছি।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭)
الصحة وذلك نقلا عن أهل العلم المعتبرين.

6 - قسمت الكتاب إلى فقرات وضعت لكل منها عنوانا وذلك على حسب موضوعها تسهيلا على القارئ.

7 - قمت بشرح معاني الكلمات الصعبة المحتاجة إلى بيان وذلك في البند الخاص بـ " اللغة ".

8 - قمت بعمل خلاصة لكل فقرة توجز أهم ما يستفاد منها.

9 - قمت بعمل مناقشة تشتمل على بعض الأسئلة فيما يتعلق بموضوع الفقرة، وذلك تحفيزا للقارئ على الانتباه، ولكي يصلح الكتاب كذلك للناشئة الذين يستفيدون من هذه الطريقة.

هذا والله أسأل أن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه الكريم، وأن يغفر لي الخطأ والزلل، والله من وراء القصد وهو حسبنا ونعم الوكيل، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
নির্ভুলতা, এবং তা গ্রহণযোগ্য নির্ভরযোগ্য আলেমদের থেকে বর্ণিত।

৬ - আমি পাঠকের অনুধাবনের সুবিধার্থে বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে বইটিকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং প্রত্যেকটির জন্য শিরোনাম নির্ধারণ করেছি।

৭ - আমি ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে এমন সব কঠিন শব্দের অর্থ "শব্দার্থ" শীর্ষক বিশেষ অংশে ব্যাখ্যা করেছি।

৮ - আমি প্রতিটি অনুচ্ছেদের জন্য একটি করে সারসংক্ষেপ তৈরি করেছি, যা সেই অনুচ্ছেদ থেকে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি সংক্ষেপে তুলে ধরে।

৯ - আমি অনুচ্ছেদের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রশ্নের সমন্বয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করেছি, যাতে পাঠকের মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং বইটি যেন কিশোর ও তরুণদের জন্যও উপযোগী হয় যারা এই পদ্ধতিতে উপকৃত হতে চায়।

সবশেষে আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং আমার ভুলত্রুটি ও পদস্খলনসমূহ ক্ষমা করেন। আল্লাহই সকল সংকল্পের মূল লক্ষ্য, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আমাদের সর্বশেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[أصول الاعتقاد عند أهل الحديث]

قال أبو الحسن الأشعري:

هذه حكاية جملة قول أصحاب الحديث وأهل السنة (أصول الاعتقاد عند أهل الحديث) * جملة ما عليه أهل الحديث والسنة:

الإقرار بالله وملائكته وكتبه ورسله.

 

اللغة: (جملة) أي مجمل ومجموع - (الإقرار) الاعتراف والتصديق.

الشرح: سُمُّوا أهل الحديث لاتباعهم الحق بدليله من الكتاب والسنة ولتتبعهم أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم للعمل بها وتقديمها على كل قول (1) ؛ فهم الطائفة المنصورة والفرقة الناجية الثابتة على ما كان عليه الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه كيف لا وهم يتقربون إلى الله تعالى باتباع سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وطلبهم لآثاره.

قال علي بن المديني في تفسيره لحديث رسول الله صلى الله

--------------------------------------------

(1) مقدمة اعتقاد أئمة أهل الحديث، ص 4.
[আহলুল হাদিসের নিকট আকিদাগত মূলনীতিসমূহ]

আবুল হাসান আল-আশআরি বলেন:

এটি হলো আসহাবুল হাদিস ও আহলে সুন্নাতের সামগ্রিক বক্তব্যের বিবরণ (আহলুল হাদিসের নিকট আকিদাগত মূলনীতিসমূহ) * আহলুল হাদিস ও সুন্নাহর অনুসারীরা যা কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত তার সারসংক্ষেপ:

আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি স্বীকৃতি প্রদান করা।

 

শব্দার্থ: (জুমলাহ) অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত ও সমষ্টিগত - (আল-ইকরার) অর্থ স্বীকারোক্তি ও সত্যায়ন।

ব্যাখ্যা: তাদেরকে আহলুল হাদিস নামকরণ করা হয়েছে কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের ভিত্তিতে সত্যের অনুসরণ করার কারণে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসসমূহকে অনুসরণ ও সে অনুযায়ী আমল করার জন্য এবং সেগুলোকে যে কোনো মতের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণে (১); সুতরাং তারাই হলো সাহায্যপ্রাপ্ত দল এবং মুক্তিপ্রাপ্ত দল যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের আদর্শের ওপর অবিচল। আর তারা কেনই বা তা হবে না যখন তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসন্ধানের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে!

আলি ইবনুল মাদিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন...

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমাতু ইতিকাদি আইম্মাতিল আহলিল হাদিস, পৃষ্ঠা ৪।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১০)
عليه وسلم: «لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق ولا يضرهم من خالفهم» ، قال: (هم أهل الحديث والذين يتعاهدون مذاهب الرسول ويذبون عن العلم) [شرف أصحاب الحديث ص 10] ، وسئل الإمام أحمد عن معنى هذا الحديث فقال: (إن لم تكن هذه الطائفة المنصورة أصحاب الحديث فلا أدري من هم) . [معرفة علوم الحديث ص 2] .

وقال الحاكم: (لقد أحسن أحمد بن حنبل في تفسير هذا الخبر أن الطائفة المنصورة التي يُرفع الخذلان عنهم إلى قيام الساعة هم أصحاب الحديث، ومن أحق بهذا التأويل من قوم سلكوا محجة الصالحين واتبعوا آثار السلف من الماضين ومنعوا أهل البدع والمخالفين بسنن رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى آله أجمعين) . [معرفة علوم الحديث ص2] . وقال ابن حبان في قول النبي صلى الله عليه وسلم: «فعليكم بسنتي» (1) قال: (إن من واظب على السنن وقال بها ولم يعرج على غيرها من الآراء فهو من الفرق الناجية) . [الإحسان (1 / 105) ] .

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (5 / 13) ح 4607 في السنة، باب في لزوم السنة، والترمذي (5 / 44) ح 2676 في العلم، باب ما جاء في الأخذ بالسنة وغيرهما، من حديث العرباض بن سارية مرفوعا وهو حديث صحيح.
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" তিনি বলেন: (তারা হলেন আহলুল হাদিস এবং তারা, যারা রাসূলের আদর্শসমূহ মেনে চলেন এবং ইলম বা জ্ঞানকে রক্ষা করেন) [শরাফ আসহাবিল হাদিস, পৃষ্ঠা ১০]। ইমাম আহমাদকে এই হাদিসের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: (যদি এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলটি আহলুল হাদিস না হয়, তবে তারা কারা তা আমি জানি না)। [মা’রিফাতু উলূমিল হাদিস, পৃষ্ঠা ২] ।

ইমাম হাকেম বলেন: (আহমাদ বিন হাম্বল এই বর্ণনার ব্যাখ্যায় অত্যন্ত চমৎকার বলেছেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত সেই সাহায্যপ্রাপ্ত দল—যাদের থেকে লাঞ্ছনা অপসারিত হয়েছে—তারা হলেন আহলুল হাদিস। আর সেই লোকদের চেয়ে এই ব্যাখ্যার অধিক যোগ্য আর কে হতে পারে যারা নেককারদের পথে চলেছেন, পূর্ববর্তী সালফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সকল পরিজনের সুন্নাহর মাধ্যমে বিদআতি ও বিরোধীদের প্রতিহত করেছেন)। [মা’রিফাতু উলূমিল হাদিস, পৃষ্ঠা ২] । ইবনু হিব্বান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "তোমরা আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো" (১) সম্পর্কে বলেন: (যে ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর অটল থাকে, সে অনুযায়ী কথা বলে এবং সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো মতামতের দিকে ভ্রূক্ষেপ করে না, সে-ই মুক্তিপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত)। [আল-ইহসান (১ / ১০৫)] ।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ (৫ / ১৩) হাদিস নং ৪৬০৭, সুন্নাহ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সুন্নাহর আবশ্যকতা; এবং তিরমিযী (৫ / ৪৪) হাদিস নং ২৬৭৬, ইলম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সুন্নাহ গ্রহণ করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে ও অন্যান্যরা ইরবায ইবন সারিয়াহ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহিহ হাদিস।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১১)
وهذا ردٌّ بالغ على من يزعم أن أهل الحديث ليسوا طائفة معينة، ومنشأ هذا الزعم الفاسد أن لفظ (أهل الحديث) يطلق على اصطلاحين:

الأول: كل من اشتغل بعلم الحديث فهذا يدخل فيه أهل السنة والجماعة وأهل البدع، فعلى هذا الاصطلاح ليس أهل الحديث طائفة معينة.

الثاني: من يعتقد عقيدة أئمة الحديث والسنة فعلى هذا لا يدخل فيهم أهل البدع، فكلام أئمة السنة في الثناء على (أهل الحديث) وأنهم الفرقة الناجية والطائفة المنصورة ينصبُّ هذا على الاصطلاح الثاني، ويدخل في ذلك كل من كان على عقيدة أئمة السنة ولو لم يكن من علماء أهل الحديث. [انظر شرح أصول اعتقاد أهل السنة (1 / 24) ] .

تنبيه:

كلمة: (أهل الظاهر) يستخدمها أهل البدع ويطلقونها على أهل السنة، وهي أيضا تطلق على معنيين:

الأول: عدم تأويل نصوص الوحي سواء كانت في المسائل العلمية العقدية أو المسائل الفقهية العملية وتقديم نصوص الشرع على جميع أقوال الناس كائنا من كان، والذهاب خلف النصوص أينما سارت ركائبها، فكلمة أهل الظاهر على هذا الاصطلاح تساوي كلمة أهل الحديث وأصحاب الحديث
এটি ঐ ব্যক্তিদের ওপর এক বলিষ্ঠ জবাব যারা দাবি করে যে আহলে হাদীস কোনো নির্দিষ্ট দল নয়; আর এই ভ্রান্ত দাবির উৎস হলো 'আহলে হাদীস' শব্দটি দুটি পরিভাষায় ব্যবহৃত হয়:

প্রথমত: যারা হাদীস শাস্ত্র নিয়ে চর্চা করেন; এর অন্তর্ভুক্ত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং বিদআতিরাও হতে পারে। এই পরিভাষা অনুযায়ী আহলে হাদীস কোনো নির্দিষ্ট দল নয়।

দ্বিতীয়ত: যারা হাদীস ও সুন্নাহর ইমামগণের আকিদা পোষণ করেন। এই অর্থ অনুযায়ী বিদআতিরা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং সুন্নাহর ইমামগণ 'আহলে হাদীস'-এর প্রশংসায় যা বলেছেন এবং তাদেরকে যে 'নাজাতপ্রাপ্ত দল' ও 'সাহায্যপ্রাপ্ত দল' হিসেবে অভিহিত করেছেন, তা এই দ্বিতীয় পরিভাষার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এর অন্তর্ভুক্ত এমন প্রতিটি ব্যক্তিই হবেন যিনি সুন্নাহর ইমামগণের আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যদিও তিনি আহলে হাদীস আলেমদের অন্তর্ভুক্ত নাও হন। [দেখুন: শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ (১/২৪)]।

সতর্কবার্তা:

'আহলে জাহের' শব্দটি বিদআতিরা ব্যবহার করে এবং তারা এটি আহলে সুন্নাতদের ওপর প্রয়োগ করে। এটিও দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমত: ওহীর নসসমূহের (দলিল) কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা না করা, চাই তা তাত্ত্বিক আকিদাগত বিষয়ে হোক কিংবা ব্যবহারিক ফিকহি বিষয়ে হোক; এবং শরয়ি নসসমূহকে যে কোনো মানুষের মতামতের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নসসমূহ যেদিকেই পরিচালিত হয় সেদিকেই ধাবিত হওয়া। সুতরাং এই পরিভাষা অনুযায়ী 'আহলে জাহের' শব্দটি 'আহলে হাদীস' ও 'আসহাবুল হাদীস' শব্দের সমার্থক।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১২)
وأهل السنة والجماعة والطائفة المنصورة.

الثاني: هو من يقصر نصوص الشرع عن دلالتها الوضعية والالتزامية والتضمنية كمن يزعم في قول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يبولن أحدكم في الماء الدائم» (1) أنه لا يجوز التبول في الماء الدائم ولكن لو بال في الإناء ثم صب ما في الإناء من البول في الماء الدائم جاز.

ووجه بطلان هذا الزعم أنه قصر نص الشارع عن دلالاته المعنوية فإنه إن لم يجز التبول في الماء الدائم فصبُّ ما في الإناء من البول في الماء الدائم أولى ألا يجوز؛ فإن البول في الماء الدائم قد تدعو الحاجة إليه، أما البول في الإناء ثم صبه فيه فلا موجب له بل هو محض العبث في الماء، فهذه الطريقة ليست طريقة أهل الحديث.

فأهل الظاهر على هذا المعنى الثاني: هم على طرفي نقيض مع متعصبة أهل الرأي الذين حرفوا نصوص الشرع وأولوها لكي توافق مذاهبهم، وقدموا أقوال أئمتهم وآراءهم على نصوص الشرع.

وأهل الحديث هم وسط بين إفراط أهل الرأي وتفريط أهل

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (1 / 412) في الوضوء، باب البول في الماء الدائم، من حديث الأعرج عن أبي هريرة مرفوعا.
এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত ও সাহায্যপ্রাপ্ত দল।

দ্বিতীয়ত: এটি ঐ ব্যক্তিকে বুঝায় যে শরীয়তের নসসমূহকে (পাঠ্যসমূহ) সেগুলোর আভিধানিক, আবশ্যিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থ ও ব্যাপ্তি থেকে সংকুচিত করে ফেলে। যেমন কেউ যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে" (১) সম্পর্কে এই দাবি করে যে, স্থির পানিতে সরাসরি প্রস্রাব করা জায়েয নয়, কিন্তু যদি কেউ পাত্রে প্রস্রাব করে এরপর পাত্রের সেই প্রস্রাব স্থির পানিতে ঢেলে দেয় তবে তা জায়েয হবে।

এই দাবির অসারতার দিক হলো এটি শরীয়তদাতার বক্তব্যকে তার তাৎপর্যগত অর্থ থেকে সংকুচিত করে ফেলেছে। কেননা যদি স্থির পানিতে সরাসরি প্রস্রাব করা জায়েয না হয়, তবে পাত্রে প্রস্রাব করে তা স্থির পানিতে ঢালা তো আরও বেশি না-জায়েয হওয়ার দাবি রাখে; কারণ সরাসরি স্থির পানিতে প্রস্রাব করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে, কিন্তু পাত্রে প্রস্রাব করে তা পানিতে ঢালার তো কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বরং তা পানিতে নিছক তামাশা বৈ কিছু নয়। সুতরাং এই পন্থা আহলে হাদিসগণের পন্থা নয়।

সুতরাং এই দ্বিতীয় অর্থের ভিত্তিতে আহলে জাহিরগণ ঐ সকল গোঁড়া আহলে রায়ের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছেন যারা শরীয়তের নসসমূহকে বিকৃত করেছে এবং নিজেদের মাযহাবের অনুকূলে নেওয়ার জন্য সেগুলোর অপব্যাখ্যা করেছে, আর তাদের ইমামদের কথা ও মতামতকে শরীয়তের নসের ওপর প্রাধান্য দিয়েছে।

আর আহলে হাদিসগণ হলেন আহলে রায়ের বাড়াবাড়ি এবং আহলে... [জাহিরের] ছাড়াছাড়ির মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী।

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (১ / ৪১২), অজু অধ্যায়, স্থির পানিতে প্রস্রাব করা বিষয়ক পরিচ্ছেদ, আল-আরাজ কর্তৃক আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মারফু হাদিস।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৩)
الظاهر. وقد أطلق المبتدعة على أصحاب الحديث أنهم (أهل الظاهر) وأنهم (حشوية) و (مشبهة) و (مجسمة) لتنفير الناس عن طريقة أهل الحديث؛ وهم كاذبون في رميهم لهم بالحشوية والمشبهة والمجسمة، وأما رميهم (بأنهم أهل الظاهر) . فإن قصدوا المعنى الأول فهذا لا يضرهم ويقال لأهل البدع: هل أنتم باطنية فترمون أهل الحديث بالظاهرية؟ بل يقال لأهل البدع: أنتم لا شك باطنية في كثير من تأويلاتكم وتحريفاتكم لنصوص الشرع في العقائد والمسائل الفقهية.

فأهل الحديث على هذا أهل ظاهر وليسوا باطنية مثلكم فهذه منقبة لهم لا مثلبة، والحمد لله.

وإن قصدتم المعنى الثاني: لـ (أهل الظاهر) فعامة أهل الحديث براء من هذا، والله أعلم.

الإقرار بالله: شرع المؤلف في بيان أصول الإيمان الستة المذكورة في حديث جبريل وهي الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والقدر خيره وشره، وسيأتي كلام المؤلف على القدر واليوم الآخر في ثنايا الكتاب، ومعنى الإيمان بالله عز وجل: الاعتقاد الجازم بأن الله رب كل شيء ومالكه وخالقه، وأنه مستحق لصفات الكمال المنزه عن صفات النقص والعيب، وأنه وحده المستحق لأن يفرد بالعبادة والخضوع والطاعة،
জাহের (প্রকাশ্য রূপ)। বিদআতিরা আহলুল হাদিসদের 'আহলুজ জাহির' (প্রকাশ্যবাদী), 'হাশউয়্যাহ', 'মুসাব্বিহাহ' (সাদৃশ্য দানকারী) এবং 'মুজাস্সিমাহ' (দেহবাদী) বলে অভিহিত করেছে যাতে তারা মানুষকে আহলুল হাদিসদের পথ থেকে বিমুখ করতে পারে; তারা তাদের হাশউয়্যাহ, মুসাব্বিহাহ ও মুজাস্সিমাহ হিসেবে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদী। আর তাদের 'আহলুজ জাহির' বলে অভিযুক্ত করার প্রসঙ্গে: তারা যদি প্রথম অর্থটি উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে তা তাদের কোনো ক্ষতি করে না। বিদআতিদের বলা হবে: তোমরা কি বাতেনি (গূঢ়বাদী), যে তোমরা আহলুল হাদিসদের জাহেরি বা প্রকাশ্যবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করছ? বরং বিদআতিদের বলা হবে: আকিদা ও ফিকহি মাসআলাসমূহে শরিয়তের ভাষ্যসমূহের ক্ষেত্রে তোমাদের বহু অপব্যাখ্যা ও বিকৃতির কারণে তোমরা নিঃসন্দেহে বাতেনি।

এ অনুযায়ী আহলুল হাদিসগণ জাহেরি (প্রকাশ্যবাদী), তারা তোমাদের মতো বাতেনি নন। এটি তাদের জন্য একটি প্রশংসনীয় গুণ, কোনো ত্রুটি নয়। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আর তোমরা যদি 'আহলুজ জাহির' দ্বারা দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য করো, তবে সাধারণ আহলুল হাদিসগণ এ থেকে মুক্ত। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

আল্লাহর প্রতি স্বীকৃতি: লেখক জিবরাঈল (আ.)-এর হাদিসে বর্ণিত ইমানের ছয়টি মূলনীতি বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন, যেগুলো হলো: আল্লাহর প্রতি ইমান, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি ইমান। পরকাল এবং ভাগ্য সম্পর্কে লেখকের আলোচনা কিতাবের পরবর্তী অংশে আসবে। মহান আল্লাহর প্রতি ইমানের অর্থ হলো: এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালক, মালিক এবং স্রষ্টা। তিনি সমস্ত পূর্ণতার গুণের অধিকারী এবং সমস্ত দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র। আর একমাত্র তিনিই ইবাদত, বিনয় ও আনুগত্য পাওয়ার যোগ্য।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৪)
فهو سبحانه متفرد بالربوبية والألوهية وصفات الكمال فلا يكون العبد مؤمنا حتى يوحد الله في الربوبية والألوهية وفي الأسماء والصفات. [انظر تيسير العزيز الحميد (17) ، وتطهير الاعتقاد ص (3) ] .

الملائكة: وأما الإيمان بالملائكة: فهو أن تصدق بوجودهم وأنهم عباد مكرمون خلقهم الله لعبادته فلا يعصون الله ما أمرهم ويفعلون ما يؤمرون، ولا يفترون عن عبادته {يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ}

والإيمان بأوصافهم وأعمالهم التي يقومون بها كما جاء في الكتاب والسنة.

والإيمان بمن ورد النص بتسميتهم على وجه الخصوص مثل جبريل وميكائيل وإسرافيل وملك الموت، ونقول إن من قال بأنهم إناث فقد كفر لمخالفته كتاب الله، ولا يقال إنهم ذكور إذ لم يرد في ذلك نص صحيح.

الكتب: وأما الإيمان بالكتب: فهو أن تصدق بأنه تعالى أنزل على رسله كتبا ليعلم الناس بها الحق من الباطل والخير من الشر، وهذه الكتب كثيرة يجب الإيمان بها جملة ولكن يجب الإيمان تفصيلا لأربعة منها وهي: التوراة التي أنزلت على موسى،
তিনি সুবহানাহু ওয়াতাআলা রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ এবং পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীতে একক। সুতরাং কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহকে রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ এবং নাম ও গুণাবলীতে একত্ববাদী সাব্যস্ত করে। [দেখুন: তাইসিরুল আজিজিল হামিদ (১৭), এবং তাতহীরুল ইতিকাদ, পৃষ্ঠা (৩)]।

ফেরেশতাগণ: আর ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনার অর্থ হলো—আপনি তাদের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবেন এবং তারা যে আল্লাহর সম্মানিত বান্দা, যাদেরকে আল্লাহ তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাও বিশ্বাস করবেন। তারা আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তাতে তাঁর অবাধ্য হয় না এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তাই পালন করে। তারা তাঁর ইবাদতে বিন্দুমাত্র শিথিলতা করে না {তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না}।

আর কুরআন ও সুন্নাহতে তাদের যেসব গুণাবলী ও কার্যাবলীর কথা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর প্রতি ঈমান রাখা।

আর যাদের নাম সুনির্দিষ্ট দলিলে বর্ণিত হয়েছে তাদের প্রতি ঈমান আনা, যেমন জিবরাঈল, মিকাইল, ইসরাফিল এবং মালাকুল মউত। আমরা বলি যে, যারা তাদেরকে নারী বলে দাবি করে তারা আল্লাহর কিতাবের বিরোধিতা করার কারণে কুফরি করেছে। আর তাদেরকে পুরুষও বলা যাবে না, কারণ এ বিষয়ে কোনো সহীহ দলিল বর্ণিত হয়নি।

কিতাবসমূহ: আর কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার অর্থ হলো—আপনি এই বিশ্বাস পোষণ করবেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলগণের নিকট কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন যাতে এর মাধ্যমে মানুষ সত্য থেকে মিথ্যা এবং কল্যাণ থেকে অকল্যাণকে আলাদা করে চিনতে পারে। এই কিতাবগুলো অনেক, যেগুলোর প্রতি সামগ্রিকভাবে ঈমান আনা আবশ্যক। তবে এগুলোর মধ্যে চারটির প্রতি বিস্তারিতভাবে ঈমান আনা আবশ্যক, আর সেগুলো হলো: তাওরাত, যা মূসা (আ.)-এর ওপর নাযিল করা হয়েছিল,
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৫)
والزبور الذي أنزل على داود، والإنجيل الذي أنزل على عيسى، والقرآن الذي أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم، وأن ما في القرآن كلام الله على الحقيقة تكلم به وسمع منه جبرائيل وبلغ جبرائيل رسول الله محمدا صلى الله عليه وسلم، فسمع من جبرائيل، وليس كما يزعم أهل البدع أنه ليس كلام الله على الحقيقة بل هو عبارة عن أعلام الله، ويجب الإيمان بأن الله تعالى قد حفظ القرآن من التحريف والتبديل، وأن كل حرف فيه هو كلام الله تعالى.

الرسل: وأما الإيمان بالرسل: فهو أن توقن بأن الله أرسل للناس - ليدعوا الناس إلى عبادة الله وحده - رسلا مبشرين لأهل التوحيد والسنن ومنذرين لأهل الشرك والبدع وأهل المعاصي، لا يعلم عددهم إلا الله تعالى، كما يجب أن تؤمن بمن سمى الله تعالى في كتابه من رسله وأنبيائه وهم: آدم، ونوح، وإدريس، وإبراهيم، وإسماعيل، وإسحاق، ويعقوب، ويوسف، وموسى، وهارون، وداود، وسليمان، وإلياس، واليسع، وهود، وصالح، وشعيب، وذو الكفل، وأيوب، ويونس، ولوط، وزكريا، ويحيى، وعيسى، ومحمد صلى الله عليهم وسلم أجمعين.
এবং দাউদের ওপর নাযিলকৃত যাবুর, ঈসার ওপর নাযিলকৃত ইনজীল এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাযিলকৃত কুরআনের ওপর ঈমান আনা এবং এটি বিশ্বাস করা যে কুরআনে যা আছে তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম, তিনি স্বয়ং তা বলেছেন এবং জিবরাঈল তাঁর থেকে তা শুনেছেন, অতঃপর জিবরাঈল তা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন এবং তিনি জিবরাঈলের কাছ থেকে তা শুনেছেন। এটি বিদআতীদের দাবির মতো নয় যে এটি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম নয় বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সংকেতের বর্ণনা মাত্র। আর এটি বিশ্বাস করা ওয়াজিব যে, আল্লাহ তাআলা কুরআনকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে রক্ষা করেছেন এবং এর প্রতিটি অক্ষরই মহান আল্লাহর কালাম।

রাসূলগণ: আর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনার বিষয়টি হলো—এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ তাআলা মানুষের নিকট রাসূল পাঠিয়েছেন যাতে তারা মানুষকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন; তাঁরা তাওহীদ ও সুন্নাহর অনুসারীদের জন্য সুসংবাদদাতা এবং শিরক, বিদআত ও পাপাচারীদের জন্য সতর্ককারী। তাঁদের সংখ্যা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ জানে না। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে তাঁর যেসব রাসূল ও নবীর নাম উল্লেখ করেছেন তাঁদের ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, তাঁরা হলেন: আদম, নূহ, ইদরীস, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব, ইউসুফ, মূসা, হারূন, দাউদ, সুলায়মান, ইলিয়াস, আল-ইয়াসা‘, হূদ, সালিহ, শুআইব, যুল-কিফল, আইয়ূব, ইউনুস, লূত, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা এবং মুহাম্মাদ—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৬)
* وما جاء من عند الله وما رواه الثقات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يردون من ذلك شيئا، وأن الله سبحانه إله واحد فرد صمد لا إله غيره لم يتخذ صاحبة ولا ولدا.

 

الشرح: مأخوذ من قول الله تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} وهذا تنزيه منفصل ومنه تنزيه الله تعالى عن الشريك والظهير والشفيع بدون إذنه واتخاذ صاحبة والكفؤ والند.

قال تعالى: {فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} وقال تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ}

أما التنزيه المتصل تنزيه الله عن السِّنَة والنوم والموت والعجز والذل والسفه والنسيان والغفلة والحاجة والتعب واللغوب، قال تعالى: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} وقال تعالى: {وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ}

وأهل السنة (أصحاب الحديث) ينفون ما نفاه الله عن نفسه ونفاه عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا يتعرضون لصفات الكمال ونعوت الجلال بنفي ولا تحريف، وعندهم
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যা এসেছে এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তার কোনো কিছুই তারা প্রত্যাখ্যান করেন না। আর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা হলেন এক, একক, অমুখাপেক্ষী ইলাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেননি।

 

ব্যাখ্যা: এটি আল্লাহ তাআলার বাণী থেকে গৃহীত: "বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকে জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।" এটি হলো পৃথকিকৃত পবিত্রতা ঘোষণা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে অংশীদার, সাহায্যকারী, তাঁর অনুমতি ব্যতীত সুপারিশকারী, সঙ্গিনী গ্রহণ, সমকক্ষ ও প্রতিপক্ষ থেকে পবিত্র সাব্যস্ত করা হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতএব তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ দাঁড় করিও না।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই।"

আর অবিচ্ছেদ্য পবিত্রতা ঘোষণা হলো আল্লাহকে তন্দ্রা, নিদ্রা, মৃত্যু, অক্ষমতা, লাঞ্ছনা, নির্বুদ্ধিতা, বিস্মৃতি, গাফিলতি, অভাব, ক্লান্তি ও অবসাদ থেকে পবিত্র রাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "এবং কোনো ক্লান্তি আমাকে স্পর্শ করেনি।"

আহলুস সুন্নাহ (আসহাবুল হাদীস) সেই বিষয়গুলোকেই নাকচ করেন যা আল্লাহ নিজের সত্তা থেকে নাকচ করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে নাকচ করেছেন। তারা আল্লাহর পূর্ণতার গুণাবলি এবং মহিমা ও গাম্ভীর্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ অস্বীকার বা বিকৃতির মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন করেন না। আর তাদের নিকট
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৭)
أن إثبات الصفات الثابتة في الكتاب والسنة ليس من التشبيه في شيء بل التشبيه في نفي الصفات لا في إثباتها.

وخالفهم المتكلمون في مفهوم التنزيه؛ فقد جعلوه معولا لهدم بنيان صفات الله الثابتة في الكتاب والسنة. وأول من أدخل النفي في التنزيه هم الجهمية، فقد نقل عنهم الأشعري في (المقالات) أنهم أجمعوا على: (أن الله واحد ليس كمثله شيء وهو السميع البصير، وليس بجسم ولا شبه ولا جثة ولا صورة ولا شخص، ولا جوهر ولا عرض، ولا بذي لون ولا طعم ولا مجسة، ولا بذي حرارة ولا برودة ولا رطوبة ولا يبوسة، ولا طول ولا عمق ولا افتراق، ولا يتحرك ولا يسكن، ولا يبعض وليس بذي أبعاض وأجزاء وجوارح وأعضاء، وليس بذي جهات ولا بذي يمين وشمال وأمام وفوق وتحت، ولا يحيط به مكان ولا يجري عليه الزمان، ولا يجوز عليه المماسة ولا الحلول في الأماكن، ولا يوصف بشيء من صفات الخلق) .

فهذا جملة قولهم في التوحيد. وقد شاركهم في هذه الجملة الخوارج وطوائف من المرجئة وطوائف من الشيعة والماتريدية.

وقال ابن أبي العز الحنفي في بيان فساد هذه الطريقة: (والمعطلة يعرضون عما قاله الشارع من الأسماء والصفات
কুরআন ও সুন্নাহতে সাব্যস্ত গুণাবলিকে সাব্যস্ত করা সাদৃশ্য স্থাপনের (তাশবীহ) অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং গুণাবলি অস্বীকার করার মধ্যেই মূলত সাদৃশ্য স্থাপন নিহিত, তা সাব্যস্ত করার মধ্যে নয়।

আর মুতাকাল্লিমগণ পবিত্রতা ঘোষণার (তানযীহ) ধারণায় তাঁদের বিরোধিতা করেছেন; তাঁরা একে কুরআন ও সুন্নাহতে সাব্যস্ত আল্লাহর গুণাবলির ভিত্তি ধ্বংস করার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর তানযীহের মধ্যে অস্বীকার করার ধারণা প্রথম অনুপ্রবেশ করিয়েছে জাহমিয়া সম্প্রদায়। আশআরি তাঁর 'মাকালাত' গ্রন্থে তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ এক, তাঁর সদৃশ কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। তিনি শরীর নন, কারও সদৃশ নন, স্থূল কাঠামো নন, আকৃতি নন এবং ব্যক্তি নন। তিনি পদার্থ নন এবং গুণ নন। তাঁর কোনো রঙ নেই, স্বাদ নেই এবং তাঁকে স্পর্শ করা যায় না। তাঁর তাপ, শীতলতা, আর্দ্রতা বা শুষ্কতা নেই। তাঁর দৈর্ঘ্য, গভীরতা বা বিচ্ছিন্নতা নেই। তিনি নড়াচড়া করেন না এবং স্থিরও নন। তিনি খণ্ডিত হন না এবং তাঁর কোনো খণ্ড, অংশ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা অবয়ব নেই। তাঁর কোনো দিক নেই, তাঁর ডান, বাম, সামনে, উপরে বা নিচে বলে কিছু নেই। কোনো স্থান তাঁকে পরিবেষ্টন করে না এবং তাঁর ওপর সময়ের পরিক্রমা চলে না। স্পর্শ করা বা বিভিন্ন স্থানে অনুপ্রবেশ করা তাঁর জন্য বৈধ নয় এবং সৃষ্টির কোনো বৈশিষ্ট্য দ্বারা তাঁর গুণ বর্ণনা করা যাবে না)।

এটিই তাওহীদ সম্পর্কে তাদের সামগ্রিক বক্তব্য। আর তাদের এই বক্তব্যে খারেজী, মুরজিয়াদের বিভিন্ন দল, শিয়াদের বিভিন্ন দল এবং মাতুরিদিয়াহগণ শরিক হয়েছে।

ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী এই পদ্ধতির অসারতা বর্ণনায় বলেছেন: (আর মুআত্তিলাগণ শরীয়তপ্রণেতা কর্তৃক বর্ণিত নাম ও গুণাবলি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়...
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولا يتدبرون معانيها، ويجعلون ما ابتدعوه من المعاني والألفاظ هو المحكم الذي يجب اعتقاده واعتماده. والمقصود أن غالب عقائدهم السلوب ليس بكذا ليس بكذا، وأما الإثبات فهو قليل وهو أنه عالم قادر، وأكثر النفي المذكور ليس متلقى عن الكتاب والسنة ولا عن الطرق العقلية التي سلكها غيرهم من مثبتة الصفات فإن الله تعالى قال: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} ففي هذا الإثبات ما يقرر معنى النفي، ففهم أن المراد انفراده سبحانه بصفات الكمال، فهو سبحانه وتعالى موصوف بما وصف به نفسه ووصفه به رسوله ليس كمثله شيء في صفاته ولا في أسمائه ولا في أفعاله) . [انظر الرد على الجهمية للإمام أحمد ص (105) ، ومقالات الإسلاميين، ص (155) ، وشرح العقيدة الطحاوية، ص (54) ، ومجموع الفتاوى، (11 / 483، 484) ] .

وأن محمدا عبده ورسوله: وصف الله سبحانه وتعالى نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم بالعبودية وبالرسالة في أشرف المقامات، قال تعالى: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى} وقال في مقام التحدي بالتنزيل: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ}
তারা এগুলোর অর্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না এবং তারা নিজেরা যেসব অর্থ ও শব্দ উদ্ভাবন করেছে সেগুলোকে তারা ‘মুহকাম’ বা অকাট্য বিষয় হিসেবে গণ্য করে, যার ওপর বিশ্বাস রাখা ও নির্ভর করা আবশ্যক। মূল উদ্দেশ্য হলো, তাদের অধিকাংশ আকিদাই হলো নেতিবাচক—যেমন ‘এটা এমন নয়’, ‘ওটা তেমন নয়’। পক্ষান্তরে ইতিবাচক গুণাবলি সাব্যস্তকরণ খুবই সামান্য, তা হলো—তিনি সর্বজ্ঞ ও সক্ষম। আর উল্লিখিত অধিকাংশ নেতিবাচক ঘোষণা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করা হয়নি, এমনকি সিফাত বা গুণাবলি সাব্যস্তকারী অন্যরা যে যৌক্তিক পথ অবলম্বন করেছেন সেখান থেকেও নেওয়া হয়নি। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ সুতরাং এই ইতিবাচক ঘোষণার মধ্যেই সেই নেতিবাচক বা অস্বীকৃতিমূলক অর্থের স্থিতি রয়েছে। ফলে বোঝা গেল যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গুণাবলির পরিপূর্ণতায় মহান আল্লাহর একত্ব। সুতরাং তিনি নিজেকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং তাঁর রাসূল তাঁকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন, তিনি সেসব গুণেই গুণান্বিত। তাঁর গুণাবলি, নামসমূহ বা কার্যাবলিতে কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। [দেখুন: ইমাম আহমাদ রচিত আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা (১০৫); মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন, পৃষ্ঠা (১৫৫); শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা (৫৪); এবং মাজমুউল ফাতাওয়া, (১১ / ৪৮৩, ৪৮৪)]।

এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সবচেয়ে সম্মানিত স্থানসমূহে দাসত্ব ও রাসূলত্বের গুণে ভূষিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: ‘পবিত্র মহান সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত।’ এবং ওহী অবতীর্ণ করার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ প্রদানের স্থানে তিনি বলেন: ‘আমি আমার বান্দার ওপর যা নাযিল করেছি সে বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো।’
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৯)
[سورة البقرة، الآية: 23] . وقال في مقام الدعوة: {وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَدًا} وقال تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ}

ونهى صلى الله عليه وسلم عن الغلو في إطرائه فقال: «لا تطروني كما أطرت النصارى عيسى ابن مريم، إنما أنا عبده فقولوا عبد الله ورسوله» (1) .

وللأسف فإن كثيرا من المسلمين خالفوا نص رسول الله وغلوا فيه غُلوَّ النصارى في عيسى عليه السلام، وصرفوا له كثيرا من العبادات، وأفرطوا في حقه من جانب آخر فقدموا على كثير من أقواله صلى الله عليه وسلم أقوالَ الرجال الذين غلوا فيهم.

وأصحاب الحديث إذا سمعوا حديثا من أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم الصحيحة فكأنهم سمعوه من فِي الرسول صلى الله عليه وسلم فيصدقون به ويعملون به ولا يقدمون عليه قولا ولا رأيا ولا ذوقا ولا كشفا ولا وجدا ولا قياسا ولا عقلا.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (6 / 551) ح 3545 في أحاديث الأنبياء، باب قول الله تعالى: واذكر في الكتاب مريم من حديث عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس عن عمر مرفوعا.
[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩]। আর দাওয়াতের মাকামে তিনি বলেছেন: {আর যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়ালেন, তখন তারা তাঁর চতুর্দিকে ভিড় জমাচ্ছিল} এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু।}

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রশংসায় অতিরঞ্জন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা আমার প্রশংসায় এমন অতিরঞ্জন করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা মারইয়ামের পুত্র ঈসার ব্যাপারে করেছে। আমি কেবলই তাঁর একজন বান্দা। সুতরাং তোমরা বলো, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।" (১)।

পরিতাপের বিষয় যে, অনেক মুসলিম আল্লাহর রাসূলের স্পষ্ট নির্দেশের বিরোধিতা করেছে এবং তাঁর ব্যাপারে অতিরঞ্জন করেছে যেমনটি খ্রিস্টানরা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ব্যাপারে করেছিল। তারা তাঁর জন্য অনেক ইবাদত নিবেদন করেছে এবং অন্যদিকে তাঁর হকের ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি করেছে—তারা তাঁর অনেক বাণীর ওপর এমন ব্যক্তিদের কথাকে প্রাধান্য দিয়েছে যাদের ব্যাপারে তারা অতিরঞ্জন করে থাকে।

আর আসহাবুল হাদিস যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহিহ হাদিসসমূহের মধ্য থেকে কোনো হাদিস শোনেন, তখন তারা সেটাকে এমনভাবে গ্রহণ করেন যেন তারা তা স্বয়ং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখ থেকে শুনেছেন। ফলে তারা তা বিশ্বাস করেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেন। তারা এর ওপর কোনো কথা, মতামত, স্বাদ (যাওক), কাশফ, ওয়াজদ, কিয়াস বা আকলকে (যুক্তি) প্রাধান্য দেন না।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (৬ / ৫৫১), হাদিস নং ৩৫৪৫, আম্বিয়া অধ্যায়, মহান আল্লাহর বাণী: ‘এবং কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করুন’ পরিচ্ছেদে; উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত উমর (রা.)-এর মারফু হাদিস।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২০)
* وأن الجنة حق وأن النار حق وأن الساعة آتية لا ريب فيها وأن الله يبعث من في القبور.

 

اللغة: (لا ريب فيها) : لا شك فيها، (يبعث من في القبور) : يحشرهم ويحييهم ويجمعهم للحساب.

الشرح: هذا الكلام مأخوذ من: [1] حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه حيث قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من شهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله، وأن عيسى عبد الله ورسوله، وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه، والجنة حق، والنار حق، أدخله الله الجنة على ما كان من العمل» أخرجه البخاري ومسلم (1) .

[2] اقتباسا من الآية الكريمة في سورة الحج [الآية (7) ] {وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ}

--------------------------------------------

(1) البخاري (6 / 546) ح 3435 في أحاديث الأنبياء، باب قوله: يا أهل الكتاب لا تغلوا في دينكم ومسلم (1 / 57) ح 28 في الإيمان، باب الدليل على أن من مات على التوحيد دخل الجنة قطعا، كلاهما من حديث جنادة بن أبي أمية عن عبادة مرفوعا.
এবং জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কিয়ামত অবশ্যই আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং আল্লাহ কবরে থাকা ব্যক্তিদের পুনরুত্থিত করবেন।

 

শব্দার্থ: (এতে কোনো সন্দেহ নেই): এতে কোনো সংশয় নেই, (কবরে থাকা ব্যক্তিদের পুনরুত্থিত করবেন): তিনি তাদের হাশরের ময়দানে সমবেত করবেন, জীবিত করবেন এবং হিসাবের জন্য একত্রিত করবেন।

ব্যাখ্যা: এই কথাটি গৃহীত হয়েছে: [১] উবাদাহ বিন সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে, যেখানে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই, এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, এবং ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর কালিমা যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ, আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য; আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যা-ই হোক না কেন» এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।

[২] সূরা আল-হাজ্জ-এর সম্মানিত আয়াত [আয়াত (৭)] থেকে সংগৃহীত: {এবং কিয়ামত অবশ্যই আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং আল্লাহ কবরে থাকা ব্যক্তিদের পুনরুত্থিত করবেন}

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৬ / ৫৪৬) হাদীস ৩৪৩৫, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: তাঁর বাণী: হে কিতাবীগণ তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না; এবং মুসলিম (১ / ৫৭) হাদীস ২৮, ঈমান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: এই দলীল যে ব্যক্তি তাওহীদের ওপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে; উভয়ই জুনদাহ বিন আবি উমাইয়াহ কর্তৃক উবাদাহ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
الخلاصة:

يؤمن أهل السنة بالله سبحانه وملائكته وكتبه ورسله وبكل ما رواه الثقات عن الرسول صلى الله عليه وسلم، ويقرون بتفرد الله بالوحدانية في كل شيء، وبنبوة محمد صلى الله عليه وسلم ويؤمنون بالجنة والنار وبالبعث بعد الموت.

 

المناقشة:

س1: اذكر أصول الإيمان عند أهل الحديث بإيجاز.

س 2: فصِّل القول في المقصود بـ: الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله.
সারসংক্ষেপ:

আহলুস সুন্নাহ মহিমান্বিত আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীরা যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার সবকিছুর প্রতি ঈমান পোষণ করেন। তারা সবকিছুর ক্ষেত্রে আল্লাহর এককত্ব ও অনন্যতার স্বীকৃতি প্রদান করেন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়তের প্রতি ঈমান রাখেন। তারা জান্নাত, জাহান্নাম এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেন।

 

আলোচনা:

প্রশ্ন ১: আহলুল হাদিসের নিকট ঈমানের মূলনীতিসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করুন।

প্রশ্ন ২: আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমানের তাৎপর্য বিস্তারিত বর্ণনা করুন।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌[الاستواء على العرش]

(الاستواء على العرش) * وأن الله سبحانه وتعالى على عرشه كما قال: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى}

 

اللغة: (الرحمن) : فعلان من رحم، وهي دالة على الامتلاء والكثرة، ومقصودها سعة الرحمة العامة.

الشرح: وقد ورد ذكر الاستواء في غير هذا الموضع في ستة مواضع من كتاب الله تعالى، قال تعالى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ}

وقال تعالى: {اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} وقال تعالى: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ}

وقال عز وجل: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ}

وقال تعالى: {الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا}
[আরশের উপর উঠা]

(আরশের উপর উঠা) * এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর আরশের উপর রয়েছেন যেমনটি তিনি বলেছেন: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন}

 

ভাষাগত বিশ্লেষণ: (আর-রাহমান) : এটি ‘রাহম’ (দয়া) ধাতু থেকে ‘ফালান’ ছন্দে গঠিত, যা পূর্ণতা ও আধিক্যের অর্থ প্রকাশ করে, এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ব্যাপক ও বিস্তৃত রহমত।

ব্যাখ্যা: এই স্থানটি ছাড়াও আল্লাহ তাআলার কিতাবে আরও ছয়টি স্থানে ‘ইস্তিওয়া’ বা উঠার উল্লেখ এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এরপর আরশের উপর উঠেছেন}

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহই আকাশমণ্ডলীকে খুঁটি ছাড়া উপরে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ, এরপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহই আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন}

এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এরপর আরশের উপর উঠেছেন; তিনি জানেন...}

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এরপর পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন; সুতরাং তাঁর সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করো।}
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذه الآيات تدل على استواء الله على عرشه وعلوه على خلقه تبارك وتعالى، وكلها بلفظ استوى المتعدي بعلى، وقد فسره أئمة السنة كأبي العالية ومجاهد وغيرهم بالعلو والارتفاع، وقد سئل الإمام مالك عن الاستواء فقال: (الاستواء معلوم، والكيف مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة) . [الأسماء والصفات ص (515: 516) ] .

وقال ابن المبارك: (نعرف ربنا بأنه فوق سبع سماوات، على العرش استوى، بائن من خلقه، ولا نقول كما قالت الجهمية) . [الرد على الجهمية للدارمي ص (67) ] .

وأجمع السلف على ذلك كما حكاه الأشعري في رسالته إلى أهل الثغر [ص (75) ] فقد قال: (وأجمعوا. . أنه فوق سماواته على عرشه دون أرضه) .

هذه عقيدة أهل السنة قاطبة وعقيدة الأشعري كما ترى، ومع ذلك كله خالفت الأشعرية إمامهم خاصة وسائر أئمة السنة عامة، وهذا من عجائبهم وتناقضهم لأنهم إما على التفويض الذي هو جهل وتجهيل، وإما على التأويل الذي هو تحريف وتعطيل.
এই আয়াতগুলো আল্লাহর আরশের উপর উঠা এবং তাঁর সৃষ্টির উপর তাঁর সমুচ্চ হওয়ার প্রমাণ দেয়, তিনি বরকতময় ও মহান। এই সবগুলোতে ‘আলা’ অব্যয় যোগে ‘উঠা’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। সুন্নাহর ইমামগণ যেমন আবুল আলিয়া, মুজাহিদ এবং অন্যান্যরা এর ব্যাখ্যা করেছেন সমুচ্চ হওয়া এবং উপরে উঠা হিসেবে। ইমাম মালিককে আল্লাহর আরশের উপর উঠা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: (আরশের উপর উঠা জানা বিষয়, এর ধরণ অজানা, এর প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত)। [আল-আসমা ওয়াস সিফাত, পৃষ্ঠা (৫১৫: ৫১৬)]।

ইবনুল মুবারক বলেছেন: (আমরা আমাদের রবকে চিনি এভাবে যে, তিনি সাত আসমানের উপরে, আরশের উপর উঠেছেন, তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক; আমরা জাহমিয়্যারা যা বলে তেমনটি বলি না)। [আদ-দারিমী কৃত আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা (৬৭)]।

আর সালাফগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যেমনটি আল-আশআরী তাঁর ‘রিসালাতু ইলা আহলিত সাগরি’ [পৃষ্ঠা (৭৫)] নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: (তারা ঐক্যমত হয়েছেন যে... তিনি তাঁর আসমানসমূহের উপরে আরশের উপর রয়েছেন, তাঁর জমিনে নয়)।

এটিই আহলে সুন্নতের সামগ্রিক আকিদা এবং আপনি যেমনটি দেখতে পাচ্ছেন এটিই আশআরীর আকিদা। এতৎসত্ত্বেও আশআরী সম্প্রদায় বিশেষ করে তাদের ইমামের এবং সাধারণভাবে সুন্নাহর অন্যান্য সকল ইমামের বিরোধিতা করেছে। এটি তাদের বিস্ময়কর বিষয় ও বৈপরীত্যের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তারা হয় ‘তাফউইদ’-এর ওপর রয়েছে যা অজ্ঞতা ও অন্যকে অজ্ঞ প্রতিপন্ন করা, অথবা ‘তাবিল’-এর ওপর রয়েছে যা মূলত বিকৃতি ও গুণাবলি অস্বীকার করা।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৪)
الخلاصة:

يؤمن أهل السنة باستواء الله على عرشه استواء حقيقيا يليق بجلاله.

 

المناقشة:

س1: بيِّن مذهب أهل الحديث في صفة الاستواء على العرش لله سبحانه.

س 2: اذكر الفرق بين قول أهل الحديث وقول الأشعرية في هذه الصفة.
সারসংক্ষেপ:

আহলে সুন্নাত আল্লাহর তাঁর আরশের উপর প্রকৃতভাবে ওঠার প্রতি ঈমান রাখে, যা তাঁর মহিমার উপযুক্ত।

 

আলোচনা:

প্রশ্ন ১: মহান আল্লাহর আরশের উপর ওঠার গুণের ক্ষেত্রে আহলে হাদিসের মাযহাব বর্ণনা করুন।

প্রশ্ন ২: এই গুণের ক্ষেত্রে আহলে হাদিসের বক্তব্য এবং আশআরিয়াদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌[صفة اليدين]

(صفة اليدين) * وأن له يدين بلا كيف كما قال: {خَلَقْتُ بِيَدَيَّ}

وكما قال: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ}

 

اللغة: (بلا كيف) بلا تصوُّر كيفية معينة للصفة.

الشرح: ورد إثبات صفة اليدين في عدة مواضع من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، أما الكتاب فقد ذكر المؤلف بعضا منها، وأما في السنة فقد عقد البخاري رحمه الله تعالى في صحيحه باب قول الله تعالى: {لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} ضمن كتاب التوحيد، أورد فيه جملة من الأحاديث الصحيحة كلها تثبت صفة اليدين لله تعالى، منها حديث أنس بن مالك مرفوعا في الشفاعة العظمى وفيه: «يجتمع المؤمنون يوم القيامة فيقولون: لو استشفعنا إلى ربنا يُرِحْنا من مكاننا هذا، فيأتون آدم فيقولون: يا آدم، أما ترى الناس؟ خلقك الله بيده وأسجد لك ملائكته وعلمك أسماء كل شيء، اشفع لنا إلى
[দুই হাতের গুণ]

(দুই হাতের গুণ) * এবং নিশ্চয়ই তাঁর কোনো ধরণ ছাড়াই দুটি হাত রয়েছে যেমন তিনি বলেছেন: {যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি}

এবং যেমন তিনি বলেছেন: {বরং তাঁর উভয় হাতই প্রসারিত}

 

ভাষা: (ধরণ ছাড়া) গুণের কোনো নির্দিষ্ট ধরণ কল্পনা করা ব্যতিরেকে।

ব্যাখ্যা: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর একাধিক স্থানে দুই হাতের গুণ সাব্যস্তকরণের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। কিতাবের ক্ষেত্রে লেখক তার কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন। আর সুন্নাহর ক্ষেত্রে ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থের ‘কিতাবুত তাওহীদ’-এর অধীনে মহান আল্লাহর বাণী: {যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি}-এর ওপর একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন। সেখানে তিনি একদল বিশুদ্ধ হাদীস উল্লেখ করেছেন যার সবকটিই মহান আল্লাহর জন্য দুই হাতের গুণটি সাব্যস্ত করে। তার মধ্যে আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মহান সুপারিশ বিষয়ক একটি মারফু হাদীস রয়েছে, যাতে আছে: “কিয়ামতের দিন মুমিনগণ একত্রিত হবে এবং বলবে: যদি আমরা আমাদের রবের কাছে সুপারিশ প্রার্থনা করতাম তবে তিনি আমাদের এই স্থান থেকে স্বস্তি দিতেন। অতঃপর তারা আদমের কাছে আসবে এবং বলবে: হে আদম, আপনি কি মানুষের অবস্থা দেখছেন না? আল্লাহ আপনাকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার সামনে তাঁর ফেরেশতাদের সিজদাহ করিয়েছেন এবং আপনাকে সবকিছুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন। আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন...”
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
ربك» . . . " (1) وحديث ابن عمر رضي الله عنهما وفيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله يقبض يوم القيامة الأرض وتكون السماوات بيمينه ثم يقول: أنا الملك» . . . " (2) وحديث أبي هريرة رضي الله عنه، وفيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «يد الله ملأى لا يغيضها نفقة سحَّاء الليل والنهار» (3) .

فالنصوص المتقدمة دالة على إثبات اليدين لله سبحانه وتعالى، وهي لا تحتمل التأويل بحال، ولا يمكن حمل اليدين إلا على الحقيقة، ومن لم يحملها على الحقيقة فهو معطِّل لتلك الصفة، ولقد صرح الإمام أبو حنيفة رحمه الله أن من لم يحمل النصوص على الحقيقة وتأوَّل صفة اليدين بالقدرة أو بالنعمة فقد أبطل الصفة.

فقد قال: (ولا يقال إن يده قدرته أو نعمته لأن فيه إبطال الصفة، وهو قول أهل القدر والاعتزال، ولكن يده صفة بلا

--------------------------------------------

(1) البخاري (13 / 403) ح 7410 في التوحيد، باب: قول الله تعالى: لما خلقت بيدي من حديث قتادة عن أنس مرفوعا.

(2) البخاري (13 / 404) ح 7412 في التوحيد، باب: قول الله تعالى: لما خلقت بيدي من حديث نافع عن ابن عمر مرفوعا.

(3) البخاري (13 / 404) ح 7411 في التوحيد، باب: قول الله تعالى: لما خلقت بيدي من حديث الأعرج عن أبي هريرة مرفوعا.
তোমার প্রতিপালক..." (১) এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীস, যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন জমিনকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন এবং আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে থাকবে, অতঃপর তিনি বলবেন: আমিই রাজা..." (২) এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস, যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর হাত পূর্ণ, রাত ও দিনের অবিরাম দান তা থেকে কিছুই কমাতে পারে না" (৩)।

পূর্বোক্ত দলীলসমূহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার জন্য হাতদ্বয় সাব্যস্ত করার প্রমাণ দেয়, যা কোনোভাবেই অপব্যাখ্যার (তা’বীল) অবকাশ রাখে না। হাতদ্বয়কে প্রকৃত অর্থ ছাড়া অন্য কোনো অর্থে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আর যে ব্যক্তি একে প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করে না, সে মূলত উক্ত গুণ বা সিফাতকে অস্বীকারকারী। ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি দলীলসমূহকে প্রকৃত অর্থে গ্রহণ না করে ‘আল্লাহর হাত’ বা সিফাতে ইয়াদকে ‘ক্ষমতা’ বা ‘নিয়ামত’ দ্বারা অপব্যাখ্যা করবে, সে মূলত আল্লাহর সিফাতকেই বাতিল করে দিল।

তিনি বলেছেন: (বলা যাবে না যে, তাঁর হাত হলো তাঁর ক্ষমতা বা তাঁর নেয়ামত; কারণ এতে সিফাত বা গুণকে বাতিল করা হয়। আর এটি কদরিয়া ও মুতাজিলাদের বক্তব্য। বরং তাঁর হাত হলো একটি সিফাত বা গুণ, যার কোনো...

--------------------------------------------

(১) বুখারী (১৩ / ৪০৩) হা: ৭৪১০, তাওহীদ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: ‘যাকে আমি আমার দু’হাতে সৃষ্টি করেছি’, কাতাদাহ থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত মারফূ হাদীস।

(২) বুখারী (১৩ / ৪০৪) হা: ৭৪১২, তাওহীদ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: ‘যাকে আমি আমার দু’হাতে সৃষ্টি করেছি’, নাফে’ থেকে ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত মারফূ হাদীস।

(৩) বুখারী (১৩ / ৪০৪) হা: ৭৪১১, তাওহীদ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: ‘যাকে আমি আমার দু’হাতে সৃষ্টি করেছি’, আ’রাজ থেকে আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত মারফূ হাদীস।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৭)
كيف) . [الفقه الأكبر ص (302) ] . وقال ابن بطال في الرد على من أوَّل صفة اليدين بالقدرة أو النعمة: (ويكفي في الرد على من زعم أنهما بمعنى القدرة أنهم أجمعوا على أن له قدرة واحدة في قول المثبتة ولا قدرة له في قول النفاة. . ويدل على أن اليدين ليستا بمعنى القدرة أن قوله تعالى لإبليس: {مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} إشارة إلى المعنى الذي أوجب السجود، فلو كانت بمعنى القدرة لم يكن بين آدم وإبليس فرق لتشاركهما فيما خلق كل منهما به وهي قدرته، ولقال إبليس: وأي فضيلة له عليَّ وأنا خلقتني بقدرتك، كما خلقته بقدرتك فلما قال: {خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} دل على اختصاص آدم بأن الله خلقه بيديه قال: ولا جائز أن يراد باليدين النعمتان لاستحالة خلق المخلوق بمخلوق لأن النعم مخلوقة) . [فتح الباري، 13 / 393 - 394] .

وهذا ما أجمع عليه السلف، قال الأشعري:

(أجمعوا على أنه عز وجل يسمع ويرى، وأن له تعالى يدين مبسوطتين، وأن الأرض جميعا قبضته يوم القيامة والسماوات مطويات بيمينه) . [رسالة الثغر، ص (72) ] .

وقرره الإسماعيلي في عقيدة أهل الحديث حيث قال [ص (51) ] : (وخلق آدم عليه السلام بيده، ويداه مبسوطتان ينفق
কীভাবে)। [আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা: ৩০২]। এবং ইবনু বাত্তাল সেই সকল লোকের খণ্ডন করতে গিয়ে বলেন যারা ‘দুই হাত’ গুণটিকে ক্ষমতা বা নেয়ামত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন: (যারা দাবি করে যে হাত দুটি ক্ষমতা অর্থে, তাদের খণ্ডন করার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, গুণাবলি সাব্যস্তকারীদের মতে আল্লাহর ক্ষমতা একটি হওয়ার ব্যাপারে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন, আর অস্বীকারকারীদের মতে তাঁর কোনো ক্ষমতাই নেই। এবং ‘দুই হাত’ যে ক্ষমতা অর্থে নয় তার প্রমাণ হলো ইবলিসের প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: {যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?}, যা এমন এক অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে যা সিজদাকে অপরিহার্য করেছিল। যদি এর অর্থ ক্ষমতা হতো, তবে আদম ও ইবলিসের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না, কারণ তারা যা দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তাতে উভয়েই অংশীদার হতো এবং তা হলো তাঁর ক্ষমতা। তখন ইবলিস বলত: ‘আমার ওপর তার কিসের শ্রেষ্ঠত্ব অথচ আপনি আমাকে আপনার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যেমন তাকে আপনার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?’ সুতরাং যখন সে বলল: {আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কাদা থেকে সৃষ্টি করেছেন}, এটি আদমের সেই বিশেষত্বের প্রমাণ দেয় যে আল্লাহ তাঁকে তাঁর দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন: আর ‘দুই হাত’ দ্বারা দুটি নেয়ামত বোঝানোও বৈধ নয়, কারণ কোনো সৃষ্টিকে অন্য কোনো সৃষ্টি দ্বারা সৃষ্টি করা অসম্ভব, যেহেতু নেয়ামতসমূহও সৃষ্ট।) [ফাতহুল বারী, ১৩/৩৯৩-৩৯৪]।

আর এটিই সেই বিষয় যার ওপর সালাফগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আশআরি বলেন:

(তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা শোনেন এবং দেখেন, এবং মহান আল্লাহর দুটি প্রসারিত হাত রয়েছে, আর কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী তাঁর হাতের মুঠোয় থাকবে এবং আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে।) [রিসালাতুস সাগরা, পৃষ্ঠা: ৭২]।

এবং আল-ইসমাঈলি এটি ‘আকিদাহ আহলুল হাদিস’ গ্রন্থে সুনিশ্চিত করেছেন যেখানে তিনি বলেন [পৃষ্ঠা: ৫১]: (এবং তিনি আদম আলাইহিস সালামকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁর দুই হাত প্রসারিত, তিনি ব্যয় করেন...
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৮)
كيف يشاء بلا اعتقاد كيف يداه إذ لم ينطق كتاب الله تعالى فيه بكيف) .

ومع ذلك كله ترى الأشعرية يخالفون إمامهم ويفوضون هذه الصفة تفويض أهل الجهل والتجهيل أو يؤولون تأويل أهل التحريف والتعطيل.

الخلاصة:

يؤمن أهل السنة بصفة اليدين، وأنها صفة حقيقية دالة على المعنى اللائق به سبحانه.

 

المناقشة:

س1: ما هو قول أهل السنة في صفة اليدين؟

س2: اذكر أقوال الأشعرية في صفة اليدين وكيف ترد عليهم؟
(যেভাবে তিনি চান, তাঁর দুই হাতের ধরণ বিশ্বাস করা ছাড়াই, যেহেতু মহান আল্লাহর কিতাব এ বিষয়ে কোনো ধরণের কথা বর্ণনা করেনি)।

এতদসত্ত্বেও আপনি আশআরীগণকে তাদের ইমামের বিরোধিতা করতে দেখবেন; তারা এই সিফাতের ক্ষেত্রে মূর্খ ও অজ্ঞদের ন্যায় তাফবীজ করে অথবা বিকৃতি ও বিলোপসাধনকারীদের মতো তাবীল বা ব্যাখ্যা করে।

সারসংক্ষেপ:

আহলুস সুন্নাহ আল্লাহর দুই হাতের সিফাতের প্রতি ঈমান রাখে এবং এটি আল্লাহর শানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি প্রকৃত সিফাত যা সুনির্দিষ্ট অর্থের ওপর দালালত করে।

 

আলোচনা:

প্রশ্ন ১: দুই হাতের সিফাত সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহর বক্তব্য কী?

প্রশ্ন ২: দুই হাতের সিফাত সম্পর্কে আশআরীগণের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করুন এবং আপনি কীভাবে তাদের প্রত্যুত্তর দেবেন?
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌[صفة العينين]

(صفة العينين) * وأن له عينين بلا كيف كما قال: {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا}

 

الشرح: صرح المؤلف بإثبات العينين لله تعالى واستدل له كما بوب في كتابه الإبانة (الكلام في الوجه والعينين والبصر واليدين) ثم استدل لكل صفة بالأدلة من كتاب الله، ثم قال بعد ذكره لأدلة صفة الوجه والعين: (فأخبر أن له وجها وعينا ولا تُكيف ولا تحد) ، [الإبانة (120- 121) ] .

وهذا ما قرره الصابوني [في كتابه عقيدة السلف أصحاب الحديث ص (5) ] حيث قال: (وكذلك يقولون في جميع الصفات التي نزل بذكرها القرآن ووردت بها الأخبار الصحاح من السمع والبصر والعين) .

هذا وقد جاء ذكر العين وصفا لله تعالى في القرآن مفردة مضافة إلى الضمير المفرد كما في قوله تعالى: {وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} كما جاءت مجموعة كما في الآية التي ذكرها المؤلف.

قال ابن القيم: (ذكر العين مفردة لا يدل على أنها عين
[দুই চোখের গুণাবলি]

(দুই চোখের গুণাবলি) * এবং নিশ্চয়ই তাঁর দুটি চোখ রয়েছে কোনো ধরণ (কাইফ) ছাড়াই, যেমনটি তিনি বলেছেন: {যা আমাদের চোখের সামনে পথ চলত}

 

ব্যাখ্যা: লেখক মহান আল্লাহর জন্য দুটি চোখ সাব্যস্ত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর ‘আল-ইবানাহ’ গ্রন্থে পরিচ্ছেদ বিন্যাস করেছেন (মুখমণ্ডল, দুটি চোখ, দৃষ্টি এবং হাত দুটির আলোচনা)। এরপর তিনি আল্লাহর কিতাব থেকে প্রতিটি গুণের স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন। অতঃপর মুখমণ্ডল ও চোখের গুণের দলিলসমূহ উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: (তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর একটি মুখমণ্ডল ও একটি চোখ রয়েছে, যেগুলোর কোনো ধরণ নির্ধারণ করা যাবে না এবং কোনো সীমাও দেওয়া যাবে না), [আল-ইবানাহ (১২০-১২১)]।

আর এটিই সাবুনী [তাঁর ‘আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিস’ গ্রন্থের ৫ পৃষ্ঠায়] প্রতিষ্ঠিত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: (অনুরূপভাবে তাঁরা সেই সকল গুণাবলির ক্ষেত্রেও একই কথা বলেন যা কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে এবং সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে, যেমন: শ্রবণ, দর্শন এবং চোখ)।

উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহর গুণ হিসেবে কুরআনে ‘চোখ’ শব্দটির উল্লেখ একক বচনে একবচন সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়ে এসেছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও}। আবার এটি বহুবচন হিসেবেও এসেছে যেমনটি লেখক কর্তৃক উল্লিখিত আয়াতে রয়েছে।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: (চোখ শব্দটি একবচনে উল্লেখ হওয়া এটি প্রমাণ করে না যে এটি কেবল একটিই চোখ...
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩০)
واحدة ليس إلا، كقولك: افعل هذا على عيني، لا يريد أن له عينا واحدة، وإنما إذا أضيفت العين إلى اسم الجمع ظاهرا أو مضمرا فالأحسن جمعها مشاكلة للفظ كقوله تعالى: {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا} وقوله: {وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا} وهذا نظير المشاكلة في لفظ اليد المضافة إلى المفرد كقوله: {بِيَدِهِ الْمُلْكُ} و {بِيَدِكَ الْخَيْرُ} وإن أضيفت إلى ضمير الجمع جمعت كقوله تعالى: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَا أَنْعَامًا} وكذلك إضافة اليد والعين إلى اسم الجمع الظاهر كقوله: {بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ} وقوله: {فَأْتُوا بِهِ عَلَى أَعْيُنِ النَّاسِ} وقد نطق الكتاب والسنة بذكر اليد مضافة إليه مفردة ومجموعة ومثناة، وبلفظ العين مضافة إليه مفردة ومجموعة، ونطقت السنة بإضافتها إليه مثناة كما قال عطاء عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم: «إن العبد إذا قام في الصلاة قام بين عيني الرحمن» . . . ") [مختصر الصواعق، 1 / 34 - 35] ، والحديث عند العقيلي في الضعفاء [ (1 / 70) ] ، وفي سنده إبراهيم بن يزيد الخوزي متروك.

وقد عقد الإمام البخاري في كتاب التوحيد في صحيحه
একবচন ছাড়া অন্য কিছু নয়; যেমন আপনার উক্তি: ‘এটি আমার চোখের সামনে করো’, এর দ্বারা এই উদ্দেশ্য নয় যে তার কেবল একটি চোখ রয়েছে। বরং ‘চোখ’ শব্দটি যখন প্রকাশ্য বা উহ্য কোনো বহুবচন বিশেষ্যের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তখন শব্দের সামঞ্জস্য বিধানের জন্য সেটিকে বহুবচন হিসেবে উল্লেখ করাই উত্তম; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যা আমাদের চোখের সামনে চলত} এবং তাঁর বাণী: {এবং আমাদের চোখের সামনে নৌকাটি নির্মাণ করো}। এটি একবচনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত ‘হাত’ শব্দের ব্যবহারের অনুরূপ; যেমন আল্লাহর বাণী: {তাঁর হাতেই রাজত্ব} এবং {আপনার হাতেই কল্যাণ}। আর যদি তা বহুবচন সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তবে তা বহুবচন রূপেই আসে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি দেখেনি যে, আমি আমার নিজ হাতের তৈরি করা বিষয়াদি হতে তাদের জন্য গবাদিপশু সৃষ্টি করেছি?}। অনুরূপভাবে ‘হাত’ ও ‘চোখ’ শব্দকে প্রকাশ্য বহুবচন বিশেষ্যের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার উদাহরণ; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষের হাত যা উপার্জন করেছে তার কারণে} এবং তাঁর বাণী: {তবে তাকে মানুষের চোখের সামনে নিয়ে এসো}। কুরআন ও সুন্নাহতে আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করে ‘হাত’ শব্দটি একবচন, বহুবচন ও দ্বিবচন রূপে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ‘চোখ’ শব্দটি একবচন ও বহুবচন রূপে বর্ণিত হয়েছে। আর সুন্নাহতে ‘চোখ’ শব্দটি আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হয়ে দ্বিবচন হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে; যেমন আতা আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: “নিশ্চয়ই বান্দা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে রহমানের দুই চোখের সামনে দাঁড়ায়।” [মুখতাসারুস সাওয়াইক, ১/৩৪-৩৫]। হাদিসটি উকাইলি ‘আদ-দুয়াফা’ (১/৭০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে ইব্রাহিম বিন ইয়াজিদ আল-খুজি রয়েছেন, যিনি মাতরুক (পরিত্যক্ত)।

আর ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের তাওহিদ অধ্যায়ে একটি অনুচ্ছেদ কায়েম করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ শারহু আসহাবিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩১)
باب قول الله تعالى: {وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} وقوله جل ذكره: {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا} ثم روى بإسناده إلى نافع عن عبد الله قال: ذُكر الدجال عند النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «إن الله لا يخفى عليكم، إن الله ليس بأعور - وأشار بيده إلى عينه - وإن المسيح أعور عين اليمنى كأن عينه عنبة طافية» (1) .

وكذا أسند إلى قتادة قال: سمعت أنسا رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما بعث الله من نبي إلا أنذر قومه الأعور الكذاب، إنه أعور وإن ربكم ليس بأعور، مكتوب بين عينيه كافر» (2) .

قال العلامة عبد الحق الهاشمي [في شرحه لكتاب التوحيد للبخاري ص (77) ] رحمه الله: (عرض الإمام البخاري في هذا الباب صحة إسناد العين إلى الله تعالى من غير تأويل مع اعتقاد التنزيه) .

وقال فضيلة الشيخ عبد الله الغنيمان [في شرحه لكتاب التوحيد للبخاري (1 / 281) ] : (قد دل كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم صراحة، وإجماع أهل العلم بالله والإيمان به،

--------------------------------------------

(1) البخاري (13 / 401) ح 7407 في التوحيد، باب قول الله تعالى: ولتصنع على عيني من حديث نافع عن عبد الله مرفوعا.

(2) البخاري (13 / 401) ح 7408 في التوحيد، باب قول الله تعالى: ولتصنع على عيني من حديث قتادة عن أنس مرفوعا.
মহান আল্লাহর বাণীর অধ্যায়: {যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও} এবং তাঁর মহান জিকির: {যা আমাদের চোখের সামনে চলত}। অতঃপর তিনি তাঁর সনদে নাফে থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দাজ্জালের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: «নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কাছে গোপন নন। নিশ্চয় আল্লাহ একচোখা নন - এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর নিজের চোখের দিকে ইশারা করলেন - আর নিশ্চয় মাসীহ (দাজ্জাল) ডান চোখের অন্ধ, তার চোখটি যেন একটি ঝুলে পড়া আঙুর» (১)।

অনুরূপভাবে তিনি কাতাদাহর সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি তাঁর কওমকে সেই একচোখা মিথ্যাবাদী সম্পর্কে সতর্ক করেননি। নিশ্চয় সে একচোখা, আর তোমাদের রব একচোখা নন। তার দুই চোখের মাঝে 'কাফের' লেখা আছে» (২)।

আল্লামা আব্দুল হক আল-হাশেমী [বুখারীর কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, পৃষ্ঠা (৭৭)] রহি মাহুল্লাহ বলেন: (ইমাম বুখারী এই অধ্যায়ে কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা ছাড়াই আল্লাহর প্রতি 'চোখ' সাব্যস্ত করার বিশুদ্ধতা উপস্থাপন করেছেন, সাথে আল্লাহর পবিত্রতার বিশ্বাস বজায় রেখেছেন)।

ফযীলাতুশ শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুনাইমান [বুখারীর কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (১ / ২৮১)] বলেন: (আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে এবং আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর প্রতি ঈমান রাখা আলেমদের ঐকমত্য সাব্যস্ত হয়েছে যে,

--------------------------------------------

(১) বুখারী (১৩ / ৪০১) হাদিস ৭৪০৭, তাওহীদ অধ্যায়, মহান আল্লাহর বাণীর পরিচ্ছেদ: যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও, নাফে থেকে বর্ণিত আব্দুল্লাহর মারফূ হাদিস।

(২) বুখারী (১৩ / ৪০১) হাদিস ৭৪০৮, তাওহীদ অধ্যায়, মহান আল্লাহর বাণীর পরিচ্ছেদ: যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত আনাসের মারফূ হাদিস।