(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: -)
النكت على شرح النووي على صحيح مسلم   (هانى فقيه)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: النُّكَت على شرح النووي على صحيح مسلم

بحث يحوي مئة استدراك على النووي رحمه الله في شرحه لصحيح مسلم

المؤلف: د هاني فقيه

الناشر: دار المقتبس - سوريا

الطبعة: الأولى، 1438 - 2017 م

عدد الصفحات: 200

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ربيع الأول 1444

সহীহ মুসলিমের ইমাম নববীর ব্যাখ্যার ওপর সমালোচনা ও টীকা সমূহ   (হানি ফকিহ)

বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: সহীহ মুসলিমের ইমাম নববীর ব্যাখ্যার ওপর সমালোচনা ও টীকা সমূহ

সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যায় ইমাম নববীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) ওপর একশতটি সংশোধন সংবলিত একটি গবেষণা

লেখক: ডক্টর হানি ফকিহ

প্রকাশক: দারুল মুকতাবাস - সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৮ - ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি

(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بين يدي الكتاب

الحمدُ لله ربّ العالمين، وصلاة وسلاماً على المبعوث رحمة للعالمين، سيّدنا ونبيّنا محمد بن عبدالله، خير خلقه أجمعين، وعلى آله، وصحابته، الطيّبين الطاهرين، أما بعد:

فإن شرح صحيح مسلم، المعروف بـ «المِنْهَاج بشرْح صحيْح مُسلم ابن الحَجَّاج»، لشيخ الإسلام أبي زكريا يحيى بن شَرَف النَّووي الشافعي (631 ـ 676 هـ) رحمه الله(1)، هو من أجلّ وأرفع شروح صحيح الإمام مسلم، إن لم يكن أجلُّها وأرفعُها على الإطلاق.

--------------------------------------------

(1) ترجم للنووي كل من الف في تراجم الأعلام والتاريخ، كالذهبي في «تاريخ الإسلام» (15/ 324)، وابن كثير في «طبقات الشافعيين» (1/ 911)، وابن السبكي في «طبقات الشافعية الكبرى» (8/ 395)، وابن قاضي شهبة في «طبقات الشافعية» (2/ 153)، والسيوطي في «طبقات الحفاظ» (1/ 513)، وابن العماد في «شذرات الذهب» (1/ 55)، والزركلي في «الأعلام» (8/ 149).

كما أفرد ترجمته في كتاب مستقل غير واحد من الأئمة منهم: تلميذه أبو الحسن ابن العطار في كتابه: «تحفة الطالبين في ترجمة الإمام محي الدين»، والسخاوي في: «المنهل العذب الرويّ في ترجمة قطب الأولياء النووي»، وجلال الدين السيوطي في كتابه: «المنهاج السويّ في ترجمة الإمام النووي»، وكلها مطبوعة متداولة.
গ্রন্থ পরিচিতি

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ, যিনি সকল সৃষ্টির সেরা; এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর:

সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা ‘আল-মিনহাজ বি-শারহি সহীহ মুসলিম ইবনিল হাজ্জাজ’ নামে পরিচিত, শাইখুল ইসলাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারফ আন-নববী আশ-শাফিঈ (৬৩১ - ৬৭৬ হিজরি) রহমাতুল্লাহি আলাইহি(১)-এর এক অনন্য সংকলন। এটি ইমাম মুসলিমের সহীহ-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুউচ্চ ব্যাখ্যাগ্রন্থ, বরং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

--------------------------------------------

(১) ইমাম নববীর জীবনী তারা সকলেই উল্লেখ করেছেন যারা প্রখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী ও ইতিহাস নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেমন: যাহাবী ‘তারীখুল ইসলাম’ (১৫/৩২৪) গ্রন্থে, ইবনে কাসীর ‘তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যীন’ (১/৯১১) গ্রন্থে, ইবনে সুবকী ‘তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা’ (৮/৩৯৫) গ্রন্থে, ইবনে কাযী শুহবা ‘তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ’ (২/১৫৩) গ্রন্থে, সুয়ূতী ‘তাবাকাতুল হুফফায’ (১/৫১৩) গ্রন্থে, ইবনুল ইমাদ ‘শাযারাতুয যাহাব’ (১/৫৫) গ্রন্থে এবং যারকালী ‘আল-আলাম’ (৮/১৪৯) গ্রন্থে।

তেমনিভাবে একাধিক ইমাম স্বতন্ত্র গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: তাঁর ছাত্র আবুল হাসান ইবনুল আত্তার তাঁর ‘তুহফাতুত তালিবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন’ গ্রন্থে, সাখাভী তাঁর ‘আল-মানহালুল আযবুর রাভী ফী তারজামাতিল কুতুবিল আউলিয়া আন-নববী’ গ্রন্থে এবং জালালুদ্দীন সুয়ূতী তাঁর ‘আল-মিনহাজুস সাভী ফী তারজামাতিল ইমাম আন-নববী’ গ্রন্থে; এই সবগুলো গ্রন্থই মুদ্রিত ও বর্তমানে সহজলভ্য।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد تميّز شرحه هذا بمزايا كثيرة جداً، وأثنى عليه الأئمة، ووصفوه بالاستيفاء وعِظَم البَرَكة(1)، وغدا مرجعاً مهماً في بابه، وقلَّ مكتبة شرعية، ليس فيها نسخة منه، بل قلَّ شرح من شروح كتب السنّة، إلا وقد نقل عنه مراراً، واستشهد بكلامه، أو اعترض عليه أحياناً.

كل هذا مما يدلّ على جليل قدر هذا الكتاب، ورفيع منزلته، ووضع القبول له ـ إن شاء الله ـ في الأرض.

ومن عظيم مِنَن الله عليّ أن أكرمني بصحبة هذا الكتاب زمناً طويلاً، حتى إني طالعته كاملاً مراراً، وأفدتُ منه فوائد غزاراً.

وكنتُ أثناء مطالعتي للكتاب ربما وقفتُ على مواضع منه رأيتها محلّ نقد قويّ، أو اعتراض جليّ على المؤلف رحمه الله، فكنت أقيّد هذه المواضع للمراجعة، حتى اجتمع لديّ منها الشيء الكثير.

 

*‌‌ مجمل الاعتراضات على شرح النووي:

وهذه الاعتراضات يمكن إجمالها في التالي:

فأحياناً يعزو النووي رحمه الله روايات للصحيح ليست فيه.

وأحياناً ينفي روايات عن الصحيح وهي فيه.

--------------------------------------------

(1) وصفه بهذا الحافظ السخاوي في كتابه «المنهل العذب الروي» (ص: 19) فقال: «وهو كتاب عظيم البركة» كما وصفه العلامة ابن خلدون في «مقدمته» (ص: 352) بقوله «جاء شرحاً وافياً». وينظر: «طبقات الحفاظ» للسيوطي (1/ 513)، و «الحطة» للقنوجي (ص: 364).
তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি বহুবিধ বৈশিষ্ট্যে অনন্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, ইমামগণ এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং একে পূর্ণাঙ্গ ও অত্যন্ত বরকতময় বলে অভিহিত করেছেন(১)। এটি নিজ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থে পরিণত হয়েছে। এমন খুব কমই শরয়ী পাঠাগার আছে যেখানে এর একটি অনুলিপি নেই। বরং সুন্নাহর কিতাবসমূহের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে এমন খুব কমই আছে যা বারবার এটি থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেনি, এর বক্তব্য দ্বারা প্রমাণ পেশ করেনি কিংবা কখনও কখনও এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করেনি।

এ সব কিছুই এই কিতাবটির সুউচ্চ মর্যাদা, মহান অবস্থান এবং—ইনশাআল্লাহ—পৃথিবীতে এর গ্রহণযোগ্যতা সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

আমার ওপর আল্লাহর মহান অনুগ্রহসমূহের একটি হলো তিনি আমাকে দীর্ঘকাল এই কিতাবটির সান্নিধ্যে থাকার সম্মান দান করেছেন, এমনকি আমি এটি বহুবার পূর্ণাঙ্গভাবে পাঠ করেছি এবং তা থেকে প্রচুর উপকার লাভ করেছি।

কিতাবটি অধ্যয়নকালে আমি এমন কিছু স্থানের সম্মুখীন হতাম যা লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর ওপর শক্তিশালী সমালোচনা বা স্পষ্ট আপত্তির ক্ষেত্র বলে আমার মনে হতো। ফলে আমি পর্যালোচনার জন্য সেই স্থানগুলো চিহ্নিত করে রাখতাম, একপর্যায়ে আমার নিকট এ জাতীয় অনেক বিষয় একত্রিত হয়ে যায়।

 

*‌‌ ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর আপত্তিসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

এই আপত্তিগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করা যায়:

কখনও কখনও ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) সহিহ (মুসলিম)-এর দিকে এমন কিছু বর্ণনা সম্বন্ধযুক্ত করেছেন যা প্রকৃতপক্ষে তাতে নেই।

আবার কখনও তিনি সহিহ (মুসলিম) থেকে এমন কিছু বর্ণনা অস্বীকার করেছেন যা আসলে সেখানে বিদ্যমান রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ সাখাভী তাঁর 'আল-মানহালুল আযবুর রাবি' (পৃষ্ঠা: ১৯) কিতাবে একে এভাবেই বিশেষায়িত করেছেন এবং বলেছেন: "এটি মহান বরকতময় একটি কিতাব।" একইভাবে আল্লামা ইবনে খালদুন তাঁর 'মুকাদ্দিমা' (পৃষ্ঠা: ৩৫২)-তে একে "একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে এসেছে" বলে বর্ণনা করেছেন। আরও দেখুন: সুয়ূতী রচিত 'তাবাকাতুল হুফফাজ' (১/৫১৩) এবং কান্নওজী রচিত 'আল-হিত্তাহ' (পৃষ্ঠা: ৩৬৪)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৭)
وأحياناً ينسب أقوالًا لأئمة لا تصحّ عنهم.

أو ينفي أقوالاً لأئمة وهي ثابتة عنهم.

أو يَهِم في تواريخ بعض الوفِيّات.

أو يصحح روايات ضعيفة.

أو يضعف روايات صحيحة.

أو يذكر اجتهادات لا أصل لها.

أو يذكر كلاماً موهماً يفيد معنى غير مقصود.

أو يستدل لمسألة بدليل ويغفل دليلاً أقوى منه.

أو يُجحف في بعض الأحاديث فلا يعطها حقّها من الشرح والإيضاح.

أو يضيّق في تفسير بعض الأحاديث، فيقصُرها على معنى واحد، مع أن ظاهرها محتملٌ لمعان أخرى قوية، وربما كانت جميعها داخلة ومشمولة في مراد النص.

أو يحكم ببطلان بعض الشروح والتفسيرات مع أن لها وجهاً قوياً من النظر.

وأحياناً قد يحكي الإجماع في مسائل اشتهر فيها الخلاف، سواء في فروع الفقه، أو في جرح بعض الرواة وتعديلهم، أو تضعيف وتصحيح بعض الأحاديث، فيحكي الاتفاق مع ثبوت الخلاف واشتهاره، الأمر الذي حمل غير واحد من الأئمة إلى نقد صنيعه، ووصفه بالتساهل، كالحافظ ابن
মাঝে মাঝে তিনি ইমামগণের প্রতি এমন সব উক্তি আরোপ করেন যা তাঁদের থেকে প্রমাণিত নয়।

অথবা তিনি ইমামগণের এমন সব উক্তি অস্বীকার করেন যা তাঁদের থেকে প্রমাণিত।

অথবা তিনি কিছু ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখের ব্যাপারে ভুল করেন।

অথবা তিনি দুর্বল বর্ণনাগুলোকে সহীহ বলেন।

অথবা তিনি সহীহ বর্ণনাগুলোকে দুর্বল বলেন।

অথবা তিনি এমন সব ইজতিহাদ উল্লেখ করেন যার কোনো ভিত্তি নেই।

অথবা তিনি এমন অস্পষ্ট কথা উল্লেখ করেন যা অনভিপ্রেত অর্থের উদ্রেক করে।

অথবা তিনি কোনো মাসআলায় একটি দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন অথচ তার চেয়ে অধিক শক্তিশালী দলিলটি উপেক্ষা করেন।

অথবা তিনি কিছু হাদিসের প্রতি অবিচার করেন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণে যা প্রাপ্য তা প্রদান করেন না।

অথবা তিনি কিছু হাদিসের ব্যাখ্যাকে সংকীর্ণ করে ফেলেন এবং সেগুলোকে একটিমাত্র অর্থে সীমাবদ্ধ করেন, অথচ সেগুলোর বাহ্যিক শব্দাবলি অন্য সব শক্তিশালী অর্থের সম্ভাবনা রাখে, আর সম্ভবত তার সবগুলোই নসের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত।

অথবা তিনি কিছু ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণকে বাতিল বলে রায় দেন, অথচ সেগুলোর শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি রয়েছে।

আবার কখনও কখনও তিনি এমন সব মাসআলায় ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেন যেগুলোতে মতবিরোধ সুবিদিত; চাই তা ফিকহী শাখা-প্রশাখার মাসআলায় হোক, অথবা বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও গ্রহণের (জারাহ-তাদীল) ক্ষেত্রে হোক, কিংবা হাদিসকে দুর্বল বা সহীহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে হোক। ফলে তিনি মতবিরোধ প্রমাণিত ও সুপ্রসিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ঐক্যমতের কথা বর্ণনা করেন। এই বিষয়টিই একাধিক ইমামকে তাঁর কর্মপদ্ধতির সমালোচনা করতে এবং তাঁকে শিথিলতা প্রদর্শনকারী হিসেবে বর্ণনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেমন হাফেজ ইবনে
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৮)
عبدالهادي الحنبلي(1) والعلامة القِنَّوجي(2)، ووصفه الحافظُ ابن حجر مرَّة بالمبالغة، فقال: «بالغ كعادته»(3).

وستمر بك شواهد وأمثلة عديدة على ذلك أثناء البحث.

هذا وقد رأيتُ الآن ـ بعد أن استخرتُ الله ئى ـ جمع هذه المواضع، وإفرادها في كتاب مستقل، متبعاً فيه النهج التالي:

 

*‌‌ منهجي في الكتاب:

1 ـ اقتصرتُ على نقد أوهام النووي الجليّة، وما قد يقع له من سهو أو خطأ أو تقصير مما أشرت إليه آنفاً.

2 ـ لم أتعقب النووي في مسائل الفروع الاجتهادية الخلافية، لأن الأمر فيها واسع، والكلام حولها يطول، وكثيرٌ منها قد أشبع بحثاً وتأليفاً ودراسة.

3 ـ لم أتعقب النووي فيما جانب فيه الصواب من مسائل الاعتقاد، فقد أفرد هذا بعض فضلاء المعاصرين بكتاب مستقل(4)، فلم أر داعٍ لتكرار الكلام.

4 - أذكر في البدء كلام النووي بنصه، ثم أذكر محل الانتقاد عليه، وإيضاح سببه، معتنياً بنقد الأئمة له وتعقبهم عليه إن وجدت شيئاً من ذلك.

--------------------------------------------

(1) «حاشية ابن عبد الهادي على كتاب الإمام» لابن دقيق العيد (1/ 70).

(2) «السراج الوهاج» (1/ 9).

(3) «التلخيص الحبير» لابن حجر (1/ 488).

(4) ستأتي الإشارة إلى ذلك عند الكلام على الدراسات السابقة.
ইবনে আবদিল হাদী আল-হাম্বলী(১) এবং আল্লামা কান্নুজী(২), আর হাফেয ইবনে হাজার একবার তাঁকে অতিরঞ্জনের বিশেষণে বিশেষিত করে বলেছেন: «তিনি তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী অতিরঞ্জন করেছেন»(৩).

গবেষণা চলাকালীন এ বিষয়ে অনেক প্রমাণ ও উদাহরণ আপনার সামনে আসবে।

এখন আমি—আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করার পর—এই স্থানগুলোকে একত্র করার এবং একটি স্বতন্ত্র বইয়ে বিন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে:

 

*‌‌ বইটিতে আমার অনুসৃত পদ্ধতি:

১. আমি নববীর সুস্পষ্ট ভ্রান্তিগুলো এবং তাঁর পক্ষ থেকে সংঘটিত হওয়া বিচ্যুতি, ভুল বা ত্রুটি যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, সেগুলোর সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

২. আমি ইজতিহাদী মতপার্থক্যপূর্ণ ফিকহি শাখা-প্রশাখার মাসআলাগুলোতে নববীর ভুল ধরিনি; কারণ এই ক্ষেত্রটি প্রশস্ত, এর আলোচনা দীর্ঘ এবং এগুলোর অনেকগুলোই পর্যাপ্ত গবেষণা, গ্রন্থনা ও অধ্যয়নের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

৩. আকিদাগত মাসআলাগুলোর মধ্যে যেখানে তিনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন, সেগুলোতে আমি তাঁর ভুল ধরিনি; কারণ বর্তমান সময়ের কিছু বিদগ্ধ আলেম একে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করেছেন(৪), তাই সেই কথার পুনরাবৃত্তি করার কোনো প্রয়োজন আমি দেখিনি।

৪ - আমি শুরুতে নববীর বক্তব্য হুবহু উল্লেখ করি, এরপর তাঁর ওপর আপত্তির স্থানটি বর্ণনা করি এবং তার কারণ স্পষ্ট করি। এক্ষেত্রে আইম্মায়ে কেরাম যদি তাঁর কোনো সমালোচনা বা ভুল ধরিয়ে দিয়ে থাকেন, তবে আমি তা উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছি।

--------------------------------------------

(১) ইবনে দাকীক আল-ঈদ রচিত «কিতাবুল ইমাম»-এর ওপর ইবনে আবদিল হাদীর টীকা (১/ ৭০)।

(২) «আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ» (১/ ৯)।

(৩) ইবনে হাজারের «আত-তালখীসুল হাবীর» (১/ ৪৮৮)।

(৪) পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ আলোচনার সময় এ বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদান করা হবে।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৯)
5 ـ احرص على الاختصار قدر الإمكان، والاقتصار على مواضع النقد وبيان الوهم، دون الدخول في تفاصيل المسائل، أو مناقشة الأدلة، فهذا ليس من مهام البحث، إلا بالقدر الذي يخدم موضع النقد فحسب.

6 ـ رتبت المسائل المنتقَدة حسب ترتيب ورودها في الكتاب، مقسّمة على ترتيب كتب صحيح مسلم، موثقاً كلام النووي ببيان رقم الجزء ورقم الصفحة من شرحه على صحيح مسلم.

وكنت أودّ لو أنني رتبت المسائل بحسب موضوعاتها، فأذكر أوهام النووي في التخريج على حدة، وأوهامه في حكاية الإجماع على حدة، وأوهامه في التواريخ على حدة … وهكذا، كما فعل الحافظ ابن القطان الفاسي في نقده لكتاب الأحكام الوسطى لعبد الحق الإشبيلي، ثم رأيت الاكتفاء بترتيب المسائل حسب ورودها في الكتاب، ولكل من الطريقتين مزية لا توجد في الأخرى، والأمر في هذا واسع.

 

*‌‌ الدراسات السابقة:

هناك كتب ثلاثة سبقتني في نقد شرح النووي على صحيح مسلم، وهي:

1 ـ «جزء فيه استدراكات على شرح النووي لصحيح مسلم»، للإمام محمد بن أحمد بن عبد الهادي الحنبلي (ت: 744 هـ)، التقطه الحافظ ابن حجر العسقلاني (ت: 852 هـ) من منتقى، كان قد جمعه ابن عبد الهادي من شرح النووي لصحيح مسلم.
৫ ـ যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা বজায় রাখতে সচেষ্ট হয়েছি এবং মাসআলাসমূহের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা দলিলের পর্যালোচনায় প্রবেশ না করে কেবল সমালোচনার স্থানসমূহ ও ভুলভ্রান্তি বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি; কেননা এগুলো গবেষণার মূল লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে সমালোচনার বিষয়বস্তুর প্রয়োজনে যতটুকু দরকার কেবল ততটুকুই উল্লেখ করা হয়েছে।

৬ ـ সমালোচিত মাসআলাগুলোকে মূল কিতাবে যেভাবে এসেছে সেই ক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে এবং সহীহ মুসলিমের অধ্যায়গুলোর বিন্যাস অনুযায়ী বিভক্ত করা হয়েছে। ইমাম নববীর বক্তব্যগুলোকে সহীহ মুসলিমের ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের খণ্ড নম্বর ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

আমার একান্ত ইচ্ছা ছিল যদি আমি মাসআলাগুলোকে বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসে সাজাতাম, তবে আমি তাখরীজ বা হাদীসের উৎস বর্ণনায় নববীর ভুলগুলো আলাদাভাবে, ইজমা বা ঐক্যমত বর্ণনায় তাঁর ভুলগুলো আলাদাভাবে এবং ইতিহাস বিষয়ক বর্ণনায় তাঁর ভুলগুলো আলাদাভাবে উল্লেখ করতাম... এভাবে, যেমনটি হাফেজ ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি আব্দুল হক আল-ইশবিলীর 'আল-আহকামুল উসতা' কিতাবের ওপর করা তাঁর সমালোচনায় করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে কিতাবে বর্ণিত ক্রম অনুযায়ী মাসআলাগুলো বিন্যস্ত রাখাই যথেষ্ট মনে করেছি। উভয় পদ্ধতিরই এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্যটিতে নেই, আর এ বিষয়ে প্রশস্ততা রয়েছে।

 

*‌‌ পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

সহীহ মুসলিমের ওপর নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থের সমালোচনার ক্ষেত্রে আমার পূর্বে তিনটি কিতাব রচিত হয়েছে, সেগুলো হলো:

১ ـ ‘জুযউন ফীহি ইসতিদরাকাত আলা শারহিন নববী লি-সহীহি মুসলিম’ (সহীহ মুসলিমের নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর সংশোধনীমূলক একটি অংশ), এটি ইমাম মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদী আল-হাম্বলী (মৃত্যু: ৭৪৪ হিজরী)-এর রচিত। হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরী) এটি এমন এক চয়নিকা থেকে গ্রহণ করেছেন যা ইবনে আব্দুল হাদী সহীহ মুসলিমের নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد نشر هذا الجزء في (14 صفحة) الباحث مصطفى بن بلْقاسم بلْحاج، ضمن دوريَّة عالم المخطوطات والنوادر(1).

وقد تميَّز هذا الجزء بتنوع مسائله، ودقَّة ملحوظاته، فصاحبه ابن عبد الهادي عالمٌ كبيرٌ، وإمامٌ جليلٌ من أئمة الحديث والفقه، إلا أنه جزء صغير جداً، أشبه ما يكون بالإشارات ورؤوس الأقلام، وكثيراً ما يكتفي ابن عبد الهادي بالإشارة إلى كلام النووي، ثم يعقِّب عليه بقوله: «فيه نظر» أو نحوها من العبارات المختصرة، دون إبداء أي تفصيل أو إيضاح.

وقد أفدتُ من هذا الجزء في مواضع يسيرة جداً، لا تتجاوز ستة تعقبات وهي:

1 ـ تعقُّبه النووي في تاريخ وفاة سفيان بن عيينة.

2 ـ تعقُّبه في وهمه في أحد الرواة؟

3 ـ تعقُّبه في حكاية اتفاق السَّلَف على صحة الصلاة في الدار المغصوبة.

4 ـ تعقُّبه في نسبة عدم نقض الوضوء من أكل لحوم الإبل إلى الخلفاء الأربعة.

5 ـ تعقُّبه في حكايته الاتفاق على تضعيف حديث من غَسَّل واغتسل.

6 ـ تعقُّبه في قوله ببقاء الخَضِر عليه السلام حيّاً حتى اليوم.

وأما بقيَّة اعتراضات ابن عبد الهادي فقد تركتها، لأن معظمها إما مسائل اجتهادية خالف فيها ابن عبد الهادي النووي، أو اعتراضات في قضايا لغوية

--------------------------------------------

(1) العدد الثاني، رجب، ذي الحجة 1433 هـ.
গবেষক মোস্তফা বিন বিলকাসেম বিলহাজ পাণ্ডুলিপি ও দুর্লভ বস্তুর বিশ্ব নামক সাময়িকীতে এই অংশটি (১৪ পৃষ্ঠায়) প্রকাশ করেছেন(১)।

এই অংশটি এর মাসআলাসমূহের বৈচিত্র্য এবং পর্যবেক্ষণগুলোর সূক্ষ্মতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। কারণ এর লেখক ইবনে আব্দুল হাদি হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের একজন মহান আলেম এবং প্রথিতযশা ইমাম। তবে এটি অত্যন্ত ছোট একটি অংশ, যা মূলত ইশারা বা সংক্ষিপ্ত শিরোনামের মতো। অনেক ক্ষেত্রেই ইবনে আব্দুল হাদি ইমাম নববীর বক্তব্যের প্রতি কেবল ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হন, এরপর কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণ ছাড়াই "এতে পর্যালোচনার অবকাশ আছে" বা এজাতীয় সংক্ষিপ্ত বাক্য দিয়ে মন্তব্য করেন।

আমি এই অংশটি থেকে খুব সামান্য কিছু স্থানে উপকৃত হয়েছি, যা ছয়টি পর্যালোচনার বেশি নয় এবং সেগুলো হলো:

১. সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ-এর মৃত্যুর তারিখের ক্ষেত্রে নববীর ওপর তার পর্যালোচনা।

২. জনৈক বর্ণনাকারীর ব্যাপারে তার ভ্রান্তির ওপর তার পর্যালোচনা।

৩. জবরদখলকৃত বাড়িতে নামাজ শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সালাফদের ঐকমত্য বর্ণনার ওপর তার পর্যালোচনা।

৪. উটের গোশত খেলে অজু না ভাঙার মতবাদটি চার খলিফার দিকে সম্বন্ধ করার ওপর তার পর্যালোচনা।

৫. 'যে ব্যক্তি গোসল করাল এবং গোসল করল' হাদিসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করার ব্যাপারে ঐকমত্য বর্ণনার ওপর তার পর্যালোচনা।

৬. খিজির আলাইহিস সালাম আজ পর্যন্ত জীবিত আছেন—তার এই বক্তব্যের ওপর তার পর্যালোচনা।

আর ইবনে আব্দুল হাদির বাকি আপত্তিগুলো আমি বর্জন করেছি, কারণ সেগুলোর অধিকাংশ হয় এমন ইজতিহাদি মাসআলা যেখানে ইবনে আব্দুল হাদি ইমাম নববীর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, অথবা সেগুলো ভাষাগত বিষয়ের ওপর আপত্তি।

--------------------------------------------

(১) দ্বিতীয় সংখ্যা, রজব-জিলহজ ১৪৩৩ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১১)
ونحوية، أو الكلام على بعض الرواة جرحاً وتعديلاً، أو تعقبات في ضبط بعض الألفاظ والأسماء.

وجلّ هذه الاعتراضات مما لا يتفق مع منهج بحثي الذي قصرته على القصور والأوهام المحضة فحسب.

2 ـ «نكت شرح مسلم للنووي»، لمؤلفه الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني.

هذا الكتاب وصفه الحافظ السخاوي بقوله: «لم يكمل، رأيت منه كرّاسة من الكلام على المقدمة، وأخرى من الكلام على غيرها»(1).

والكتاب لم يصلنا منه شيء حسب علمي، ولم ينقل عنه أحد، فلا تعرف طبيعته على وجه الدِّقة.

3 ـ «الردود والتعقبات على ما وقع للإمام النووي في شرح صحيح مسلم من التأويل في الصفات وغيرها من المسائل المهمات».

وهو من تأليف الشيخ مشهور حسن آل سلمان، (معاصر)، بيد أن مؤلفه خصصه لنقد النووي في بعض مسائل الاعتقاد، ولم يتعرض لغير ذلك، وقد استثنيت في بحثي هذه المسائل حتى لا يتكرر الكلام.

وفي الختام أود الإشارة إلى أمر أحسبه بديهي، لكن لا بأس من التنبيه عليه ولو بإيجاز، وهو أن كشف أوهام النووي رحمه الله ونقدها، إنما مقصوده خدمة كتابه هذا، والارتقاء به نحو الأفضل، وليس المقصود انتقاصه، أو

--------------------------------------------

(1) «الجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر» (2/ 677).
এবং ব্যাকরণগত [বিষয়], অথবা বর্ণনাকারীদের ওপর জারাহ ও তা'দিল (সমালোচনা ও গুণগান) বিষয়ক আলোচনা, অথবা কিছু শব্দ ও নামের সূক্ষ্ম বিন্যাসের ওপর পর্যালোচনা।

এই আপত্তিগুলোর অধিকাংশ আমার গবেষণা পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যা আমি কেবল ত্রুটি ও নিছক ভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছি।

২ — «নুকাতু শারহি মুসলিম লিন-নববী», এর লেখক হলেন হাফেজ আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আসকালানী।

এই কিতাবটি সম্পর্কে হাফেজ সাখাবী তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: «এটি পূর্ণ হয়নি, আমি এর একটি পুস্তিকা দেখেছি মুকাদ্দিমার (ভূমিকা) ওপর আলোচনার বিষয়ে এবং অন্যটি অন্যান্য বিষয়ের আলোচনার ওপর»(১)।

আমার জানামতে এই কিতাবটির কোনো অংশ আমাদের কাছে পৌঁছেনি এবং কেউ এটি থেকে কোনো উদ্ধৃতিও প্রদান করেননি, তাই এর প্রকৃত ধরন সম্পর্কে সুনিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায় না।

৩ — «আর-রুদুদ ওয়াত-তা'কুবাত আলা মা ওয়াকা'আ লিল-ইমামিন নববী ফী শারহি সহীহি মুসলিম মিনাত-তা'উয়ীল ফিস-সিফাত ওয়া গায়রিহা মিনাল মাসায়িলিল মুহিম্মাত» (সহীহ মুসলিমের শারহ-এ ইমাম নববী সিফাত বা গুণাবলীর ব্যাখ্যা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালায় যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর খণ্ডন ও পর্যালোচনা)।

এটি শেখ মশহুর হাসান আল সালমান (সমসাময়িক) কর্তৃক রচিত, তবে লেখক এটিকে আকীদার কিছু মাসয়ালায় ইমাম নববীর সমালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং এছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা করেননি। আমি আমার গবেষণায় এই মাসয়ালাগুলোকে বাদ দিয়েছি যাতে আলোচনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

পরিশেষে আমি এমন একটি বিষয়ের দিকে ইশারা করতে চাই যা আমি স্বতঃসিদ্ধ মনে করি, তবে সংক্ষেপে হলেও সে বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়াতে কোনো দোষ নেই। আর তা হলো— ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ভ্রান্তিগুলো উন্মোচন করা এবং সেগুলোর সমালোচনা করার উদ্দেশ্য হলো তাঁর এই কিতাবটির খিদমত করা এবং এটিকে আরও উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া; তাঁকে খাটো করা এর উদ্দেশ্য নয়, অথবা

--------------------------------------------

(১) «আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ফী তারজামতি শায়খিল ইসলাম ইবনে হাজার» (২/ ৬৭৭)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১২)
الغض منه، أو تتبع زلاته، حاشا لله، فهذا مما لم يخطر على البال لأمور أربعة:

الأمر الأول: أن مؤلف الكتاب النووي إمام كبير وعالم جليل، لكنه ليس بمعصوم في كل ما يقول ويكتب، وكما قيل: «أبى الله أن يصحّ إلّا كتابه».

الأمر الثاني: أن الكتاب واسع جدا(1)، وهو يعد معْلمة إسلامية، أو مدوَّنة كبرى في علوم الشريعة، فكونه وهم أو أخطأ في عشر مسائل أو مائة، فهذا مما لا يعدّ شيئاً، مقابل آلاف المسائل والتحقيقات التي أفادها وأصاب فيها.

الأمر الثالث: أن النووي نفسه قد مارس النقد والاستدراك على غيره، وتعقَّب كثيراً من العلماء والأئمة والشراح الذين سبقوه، ونبّه على أوهامهم، وصوَّب أخطاءهم، واستدرك عليهم. وفي شرحه هذا مئات الشواهد والأمثلة على ذلك.

الأمر الرابع: أنني لم أنفرد بهذا العمل النقدي، فقد سبقني له كثيرٌ من الأئمة من الذين انتقدوا النووي، أو اعترضوا على بعض كلامه، كما سوف تراه في البحث إن شاء الله تعالى.

ولعل بعض القراء قد يضيقون صدراً بكتب الردود والتعقبات، ويحسبونها من فضول العلم وتضييع الأوقات!! وهذا خطأ جسيم، واعتقاد

--------------------------------------------

(1) طبع «شرح النووي على صحيح مسلم» في تسع مجلدات كبار، في كل مجلد جزءان.
তাকে খাটো করা কিংবা তাঁর ভুলত্রুটি অনুসন্ধান করা—আল্লাহ রক্ষা করুন—এমনটি চারটি কারণে কখনো মনে আসেনি:

প্রথমত: কিতাবটির লেখক নববী একজন মহান ইমাম এবং প্রথিতযশা আলেম, কিন্তু তিনি যা কিছু বলেন এবং লেখেন তার সব কিছুতে তিনি নির্ভুল (মাসুম) নন। যেমনটি বলা হয়েছে: «আল্লাহ কেবল তাঁর নিজের কিতাবকেই ত্রুটিমুক্ত রাখতে চেয়েছেন»।

দ্বিতীয়ত: কিতাবটি অত্যন্ত বিশদ(১), এবং এটি একটি ইসলামি জ্ঞানকোষ বা শরিয়তের ইলমসমূহের এক বিশাল সংকলন হিসেবে গণ্য। সুতরাং তিনি যদি দশটি বা একশটি মাসআলায় বিভ্রান্ত হন বা ভুল করেন, তবে হাজার হাজার মাসআলা এবং সূক্ষ্ম গবেষণার তুলনায় এটি কিছুই নয়, যেগুলোতে তিনি আমাদের উপকৃত করেছেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

তৃতীয়ত: ইমাম নববী নিজেই অন্যদের সমালোচনা ও সংশোধন করেছেন এবং তাঁর পূর্ববর্তী অনেক আলেম, ইমাম ও ব্যাখ্যাকারীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেছেন, তাঁদের ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, তাঁদের ভুলগুলো সংশোধন করেছেন এবং সেগুলোর ওপর তদারকি করেছেন। তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর শত শত প্রমাণ ও উদাহরণ বিদ্যমান।

চতুর্থত: এই সমালোচনামূলক কাজে আমি একাই স্বতন্ত্র নই; বরং আমার পূর্বে অনেক ইমামই ইমাম নববীর সমালোচনা করেছেন অথবা তাঁর কিছু বক্তব্যের ওপর আপত্তি জানিয়েছেন, যেমনটি আপনি ইনশাআল্লাহ তাআলা এই গবেষণায় দেখতে পাবেন।

হয়তো কিছু পাঠক খণ্ডন ও পর্যালোচনা সংক্রান্ত বইগুলোর প্রতি সংকীর্ণমনা হতে পারেন এবং এগুলোকে অপ্রয়োজনীয় জ্ঞানচর্চা ও সময়ের অপচয় মনে করতে পারেন!! কিন্তু এটি একটি মারাত্মক ভুল এবং ধারণা...

--------------------------------------------

(১) 'সহিহ মুসলিমের নববী ব্যাখ্যাগ্রন্থ' নয়টি বড় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, যার প্রতি খণ্ডে দুটি করে অংশ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
عقيم، فإن من عظيم ألطاف الله بهذه الأمّة أن علماءها يردّ بعضهم على بعض، ولا يسكت بعضهم عن أغلاط بعض، حتى وإن كان المردود عليه من أهل الفضل والصلاح. وبهذه المزيّة حفظ الله ئى شريعته، وصانها من كل تغيير أو تبديل قد يعتريها أو يطرأ عليها.

لكن شرط هذا كله أن يكون الردّ والتعقب في حدود البحث العلمي، مع رعاية أدب الخطاب، وألا يكون الغرض منه تتبع الزلات، وإفحام الخصوم، وإسكات المخالفين!!

 

*‌‌ عنوان البحث ومعناه:

هذا وقد رأيتُ تسمية الكتاب بـ: «النُّكَت على شَرْح النَّووي على صحيح مُسْلم».

والنُّكَت في اصطلاح العلماء هي: الملحوظات والمسائل العلمية القصيرة التوضيحية(1).

ومنه قول المؤرخ المَقَّرِي التلمساني في ترجمة الحافظ مُنذر بن سعيد البَلُّوطي: «كان إذا قرئ عليه صحيحا البخاري ومسلم والموطأ يصحِّح النُّسخ من حفظه، ويملي النُّكت على المواضع المُحتاج إليها»(2).

ومنه قول الحافظ العراقي في مقدمة التقييد والإيضاح: «فأردتُ أن

--------------------------------------------

(1) «التعريفات» للجرجاني (ص: 246)، و «تكملة المعاجم العربية» (10/ 304)، و «المعجم الوسيط» (2/ 950).

(2) «نفح الطيب للمقري» (2/ 25).
নিষ্ফল; কারণ এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর এক মহান অনুগ্রহ হলো যে, এর আলেমগণ একে অপরের ভুলত্রুটি খণ্ডন করেন এবং একে অপরের ভুলের ব্যাপারে নীরব থাকেন না, এমনকি যার ভুল ধরা হচ্ছে তিনি ফযিলত ও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হলেও। এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই আল্লাহ তাঁর শরীয়তকে হিফাযত করেছেন এবং একে এমন সব পরিবর্তন বা বিকৃতি থেকে রক্ষা করেছেন যা এতে ঘটতে পারত বা এর ওপর আপতিত হতে পারত।

তবে এ সবকিছুর শর্ত হলো, খণ্ডন ও পর্যালোচনা হতে হবে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সীমার মধ্যে, কথা বলার আদব রক্ষা করে। এর উদ্দেশ্য যেন কেবল পদস্খলন খুঁজে বেড়ানো, প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করা বা বিরোধীদের মুখ বন্ধ করা না হয়!!

 

*‌‌ গবেষণার শিরোনাম ও এর অর্থ:

আমি এই গ্রন্থটির নামকরণ সমীচীন মনে করেছি: ‘সহীহ মুসলিমের ইমাম নববীর ব্যাখ্যার ওপর সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক মন্তব্যসমূহ’।

আলেমদের পরিভাষায় ‘নুকাত’ (সূক্ষ্ম মন্তব্য) হলো: সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও মাসআলাসমূহ(১)।

এর উদাহরণ হলো হাফিয মুনযির বিন সাঈদ আল-বাল্লুতীর জীবনীতে ঐতিহাসিক মাক্কারি তিলামসানির উক্তি: “যখন তাঁর সামনে সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম ও মুয়াত্তা পাঠ করা হতো, তখন তিনি তাঁর স্মৃতিশক্তি থেকে পাণ্ডুলিপিগুলো সংশোধন করতেন এবং প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক মন্তব্য (নুকাত) প্রদান করতেন”(২)।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো হাফিয ইরাকির ‘আত-তাকয়িদ ওয়াল ইযাহ’ গ্রন্থের ভূমিকায় উক্তি: “তাই আমি চেয়েছিলাম যে...

--------------------------------------------

(১) জুরজানি কৃত ‘আত-তারিফাত’ (পৃ. ২৪৬), ‘তাকমিলাতুল মাআঝিমিল আরাবিয়্যাহ’ (১০/৩০৪), এবং ‘আল-মুজামুল ওয়াসিত’ (২/৯৫০)।

(২) মাক্কারি কৃত ‘নাফহুত তীব’ (২/২৫)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
أجمع عليه(1) نكتاً تقيّد مطلقه وتفتح مغلقه»(2).

وإذن فهذا البحث هو ملحوظات علمية قصيرة توضيحية على بعض كلام النووي في شرحه على صحيح مسلم، جمعت ما تيسر لي منها أثناء قراءة الكتاب، دون قصد التتبع أو الاستقصاء.

هذا والله أسأل أن يجعل هذا العمل المتواضع خالصاً لوجهه الكريم، وأن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل.

* * *

--------------------------------------------

(1) يقصد كتاب «علوم الحديث» لابن الصلاح.

(2) «التقييد والإيضاح لما أُطلق وأُغلق من كتاب ابن الصلاح» (1/ 11).
আমি এর ওপর(১) এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয় একত্রিত করেছি যা এর অনির্দিষ্ট বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট করে এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করে।»(২)।

সুতরাং, এই গবেষণাটি হলো ইমাম নববীর ‘সহীহ মুসলিম’-এর ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থের কিছু আলোচনার ওপর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক ইলমী পর্যবেক্ষণ। কিতাবটি পাঠ করার সময় আমার জন্য যা সহজসাধ্য হয়েছে আমি তা-ই একত্রিত করেছি, কোনো প্রকার পুঙ্খানুপুঙ্খ তালাশ বা পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার উদ্দেশ্য ছাড়াই।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই বিনীত কাজটিকে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য কবুল করেন এবং আমাদের কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা দান করেন।

* * *

--------------------------------------------

(১) ইবনুল সালাহ এর ‘উলূমুল হাদীস’ কিতাবটি বুঝানো হয়েছে।

(২) ‘আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈযাহ লিমা উতলিকা ওয়া উগলিক্বা মিন কিতাবি ইবনিস সালাহ’ (১/ ১১)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌من المُقدِّمة

‌‌1 ـ حصره فوائد المستخرجات في ثلاث فقط وهي أكثر:

ذكر النووي رحمه الله أن لكتب المستخرجات ثلاث فوائد، فقال: «ويستفاد من مخرَّجاتهم ثلاث فوائد: علو الإسناد، وزيادة قوة الحديث بكثرة طرقه، وزيادة ألفاظ صحيحة مفيدة»(1).

«قال الباحث»: حصْر فوائد المستخرجات في الثلاثة المذكورة فيه نظر، فقد ذكر العلماء فوائد كثيرة لكتب المستخرجات، ومنها غير ما ذكره النووي:

1 ـ أن يروي في الصحيح عن مدلِّس، ويرويه صاحب المستخرج عنه مصرِّحاً بالسماع، مما ينفي تهمة التدليس.

2 ـ أن يروي صاحب الصحيح عن راوٍ مختلط، من غير أن يبين هل سمع منه قبل الاختلاط أو بعده، فيأتي صاحب المستخرج، فيرويه من طريق من سمع منه قبل الاختلاط.

3 ـ قد تقع في الصحيح بعض الأسماء المبهمة، كحدثنا فلانٌ أو رجلٌ، أو مهملة، كحدثنا محمدٌ مثلاً، ويأتي مصرَّحاً بالاسم في كتاب المستخرج.

4 ـ قد يقع في متن الصحيح بعض الكلام المدرج، من غير فصل،

--------------------------------------------

(1) «شرح النووي على صحيح مسلم» (1/ 26).
ভূমিকা হতে

১ ـ মুস্তাখরাজ-গ্রন্থসমূহের উপকারিতাকে মাত্র তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা, অথচ তা আরও বেশি:

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের তিনটি উপকারিতা রয়েছে। তিনি বলেন: «তাদের মুস্তাখরাজসমূহ থেকে তিনটি উপকারিতা পাওয়া যায়: উচ্চতর সনদ, অধিক সূত্রের কারণে হাদিসের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়া এবং অতিরিক্ত কিছু বিশুদ্ধ ও উপকারী শব্দ প্রাপ্তি»(১)।

«গবেষক বলেন»: মুস্তাখরাজ-এর উপকারিতাসমূহকে উল্লিখিত তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ করার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। কেননা উলামায়ে কেরাম মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের আরও অনেক উপকারিতা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে ইমাম নববী যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়াও অন্যান্য বিষয় রয়েছে:

১ ـ সহিহ গ্রন্থে কোনো মুদাল্লিস (বর্ণনাকারী) থেকে হাদিস বর্ণিত হওয়া, আর মুস্তাখরাজ প্রণেতা তার থেকে সরাসরি শোনার (সামা‘) স্পষ্ট ভাষ্যসহ বর্ণনা করা, যা তাদলিসের অপবাদ দূর করে।

২ ـ সহিহ গ্রন্থকার কোনো স্মৃতিভ্রষ্ট (মুখতালিদ) রাবি থেকে বর্ণনা করা, কিন্তু তিনি তার থেকে স্মৃতিভ্রমের আগে না কি পরে শুনেছেন তা স্পষ্ট না করা; এমতাবস্থায় মুস্তাখরাজ প্রণেতা এসে এমন সূত্রে বর্ণনা করেন যারা তার কাছ থেকে স্মৃতিভ্রমের পূর্বেই শুনেছেন।

৩ ـ সহিহ গ্রন্থে অনেক সময় কিছু অস্পষ্ট নাম থাকতে পারে, যেমন: ‘আমাদের কাছে অমুক বর্ণনা করেছেন’ বা ‘একজন ব্যক্তি’, অথবা নাম অসম্পূর্ণ থাকতে পারে, যেমন: ‘আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন’; কিন্তু মুস্তাখরাজ গ্রন্থে সেই নামটি স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়।

৪ ـ সহিহ গ্রন্থের মূল পাঠে (মতন) অনেক সময় কোনো পার্থক্যকারী ছাড়াই কিছু প্রক্ষিপ্ত কথা (মুদরাজ) ঢুকে পড়তে পারে,

--------------------------------------------

(১) «সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ» (১/ ২৬)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
ويأتي في المستخرج مميزاً ومنفصلاً … إلى غير ذلك من الفوائد(1).

وقد تكرر من النووي رحمه الله هذا الحصر في كتابه «التقريب والتيسير في أصول الحديث»، بيد أنه أنقص واحدة هناك، وجعل الفوائد فائدتين فقط، فقال: «وللكتب المخرَّجة عليهما فائدتان: علو الإسناد، وزيادة الصحيح»(2)!!.

ولأجل هذا الحصر انتقده الحافظ السيوطي رحمه الله، وقال: «لم يذكر المصنِّف ـ النووي ـ تبعاً لابن الصَّلَاح للمستخرج سوى هاتين الفائدتين، وبقي له فوائد أخر … »(3) ثم أخذ يعدّدها، مما أشرت إلى بعضها آنفاً.

وكذلك رأيت الحافظ العراقي قد تعقَّب ابن الصَّلَاح وهو أصل النووي بمثل ما سبق، فقال: «لو قال إن هاتين الفائدتين من فائدة المستخرجات كان أحسن، فإن فيها غير هاتين الفائدتين»(4).

 

‌‌2 ـ وهْمُه في تاريخ وفاة الإمام سفيان ابن عُيينة:

ترجم النووي رحمه الله للإمام سفيان بن عُيينة، وقال: «توفي سنة تسع وتسعين ومائة»(5).

--------------------------------------------

(1) ينظر: «النكت على كتاب ابن الصلاح» لابن حجر (1/ 322)، و «تدريب الراوي» للسيوطي (1/ 122).

(2) «التقريب والتيسير» للنووي (1/ 27).

(3) «تدريب الراوي» (1/ 122).

(4) «التقييد والإيضاح» (ص: 32).

(5) «شرح النووي على صحيح مسلم» (1/ 34).
মুস্তাখরাজে এটি স্বতন্ত্র ও পৃথকভাবে আসে … এছাড়াও অন্যান্য উপকারিতা রয়েছে(১).

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর «আত-তাকরীব ওয়াত-তাইসীর ফি উসূলিল হাদিস» গ্রন্থে এই সীমাবদ্ধতাটি একাধিকবার উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে তিনি একটি কমিয়ে দিয়েছেন এবং উপকারিতাকে মাত্র দুটি করেছেন। তিনি বলেছেন: «সহীহাইন-এর উপর সংকলিত মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের দুটি উপকারিতা রয়েছে: সনদের উচ্চমান (উলুউউল ইসনাদ) এবং সহীহ হাদিসের সংখ্যা বৃদ্ধি»(২)!!.

এই সীমাবদ্ধতার কারণে হাফেজ সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন: «ইবনে সালাহকে অনুসরণ করতে গিয়ে গ্রন্থকার (নববী) মুস্তাখরাজের জন্য এই দুটি উপকারিতা ব্যতীত আর কিছু উল্লেখ করেননি, অথচ এর আরও অন্যান্য উপকারিতা অবশিষ্ট রয়ে গেছে … »(৩) এরপর তিনি সেগুলো গণনা করতে শুরু করেন, যার কিছু অংশ আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

একইভাবে আমি হাফেজ ইরাকীকেও ইবনে সালাহর (যিনি নববীর মূল উৎস) উপর অনুরূপ সমালোচনা করতে দেখেছি। তিনি বলেছেন: «তিনি যদি বলতেন যে এই দুটি উপকারিতা মুস্তাখরাজসমূহের কতিপয় উপকারিতার অন্তর্ভুক্ত, তবে তা অধিকতর উত্তম হতো; কারণ এতে এই দুটি ছাড়াও আরও উপকারিতা রয়েছে»(৪).

 

‌‌২ ـ ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহর মৃত্যুর তারিখের ক্ষেত্রে তাঁর বিভ্রান্তি:

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: «তিনি একশত নিরানব্বই হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন»(৫).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজারের «আন-নুয়াকাত আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ» (১/ ৩২২), এবং সুয়ূতীর «তাদরীবুর রাবী» (১/ ১২২)।

(২) নববীর «আত-তাকরীব ওয়াত-তাইসীর» (১/ ২৭)।

(৩) «তাদরীবুর রাবী» (১/ ১২২)।

(৪) «আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইদাহ» (পৃষ্ঠা: ৩২)।

(৫) «সহীহ মুসলিমের উপর নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ» (১/ ৩৪)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
«قال الباحث»: صوابه: ثمان وتسعون ومائة، كما قال الحافظ ابن عبد الهادي رحمه الله(1)، وهو المقرَّر عند عامة علماء التراجم والسّيَر(2).

ولعل منشأ خطأ النووي رحمه الله أنه تابع فيه الحافظ ابن الصَّلَاح رحمه الله، حيث جزم ابن الصَّلَاح بأن ابن عُيينة توفي سنة: تسع وتسعين ومائة(3). وتعقَّبه الحافظ العراقي، ونبَّه على أنه وهْم منه(4).

فهذا إذن هو منشأ خطأ النووي رحمه الله فيما يظهر لي، خاصة إذا ما علمنا بأن النووي كان قد اختصر ولخّص كتاب علوم الحديث لابن الصَّلَاح، فلعله التقط هذه المعلومة منه.

 

‌‌3 ـ وهمٌ في راوٍ:

قال النووي رحمه الله: «من المختلطين: حُصين بن عبد الوهاب الكوفي»(5).

«قال الباحث»: تعقَّبه ابن عبد الهادي: بأنه: حُصين بن عبدالرحمن،

--------------------------------------------

(1) مجلة عالم المخطوطات والنوادر، «جزء استدراكات ابن عبد الهادي على شرح صحيح مسلم» للنووي (ص: 181).

(2) انظر: «الطبقات الكبرى» لابن سعد (6/ 42)، و «المنتظم» لابن الجوزي (10/ 69)، و «تذكرة الحفاظ» للذهبي (1/ 194).

(3) «علوم الحديث» لابن الصلاح (ص: 498).

(4) «التقييد والإيضاح» للعراقي (ص: 459).

(5) «شرح النووي على صحيح مسلم» (1/ 34).
«গবেষক বলেন»: সঠিক হলো: একশত আটানব্বই হিজরি, যেমনটি হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন(১), আর জীবনীকার ও সীরাত বিশেষজ্ঞ অধিকাংশ আলেমদের নিকট এটিই সুনির্ধারিত(২)।

সম্ভবত ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ভুলের উৎস হলো এই যে, তিনি এ বিষয়ে হাফেজ ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-কে অনুসরণ করেছেন। কেননা ইবনুস সালাহ দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে উইয়াইনা একশত নিরানব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন(৩)। হাফেজ ইরাকি এর সমালোচনা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি ভ্রম(৪)।

সুতরাং আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এটিই ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ভুলের উৎস; বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে ইমাম নববী ইবনুস সালাহ-এর ‘উলুমুল হাদিস’ গ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ করেছিলেন, তাই সম্ভবত তিনি এই তথ্যটি সেখান থেকেই গ্রহণ করেছেন।

 

‌‌৩ ـ একজন রাবীর (বর্ণনাকারীর) ব্যাপারে ভ্রম:

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «বিস্মৃতিপরায়ণ (মুখতালিদ) বর্ণনাকারীদের মধ্যে রয়েছেন: হুসাইন বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-কুফি»(৫)।

«গবেষক বলেন»: ইবনে আব্দুল হাদি এর সমালোচনা করে বলেছেন যে: তিনি হলেন হুসাইন বিন আব্দুর রহমান,

--------------------------------------------

(১) মাজাল্লাতু আলামিল মাখতুতাত ওয়ান নাওয়াদির, «জুযউ ইসতিদরাত ইবন আব্দুল হাদি আলা শারহি সহিহি মুসলিম» লিন-নববী (পৃ: ১৮১)।

(২) দেখুন: ইবনে সা’দ-এর «আত-তাবাকাতুল কুবরা» (৬/ ৪২), ইবনুল জাওযি-র «আল-মুনতাজাম» (১০/ ৬৯), এবং যাহাবীর «তাযকিরাতুল হুফফাজ» (১/ ১৯৪)।

(৩) ইবনুস সালাহ-এর «উলুমুল হাদিস» (পৃ: ৪৯৮)।

(৪) ইরাকির «আত-তাকয়িদ ওয়াল ইদাহ» (পৃ: ৪৫৯)।

(৫) ইমাম নববীর «শারহু সহিহি মুসলিম» (১/ ৩৪)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
وليس عبد الوهاب(1).

والأمر كما ذكر ابن عبد الهادي، فلم أقف في المختلطين على من اسمه حُصين بن عبد الوهاب(2).

 

‌‌4 ـ جزمه بالسن التي كانت بين عبدالله بن عمرو بن العاص وأبيه:

قال النووي رحمه الله: «ومن طريف أحوال عبدالله بن عمرو بن العاصي أنه ليس بينه وبين أبيه في الولادة إلا إحدى عشرة سنة، وقيل اثنتا عشرة»(3).

«قال الباحث»: كذا جزم النووي بالسن التي كانت بين عبدالله بن عمرو وبين أبيه، مع أن من أهل العلم من جزم بأنه كان بينهما عشرون سنة، جزم بذلك ابن يونس المصري(4) وأبو نعيم الأصبهاني(5) وغيرهما، فالله أعلم.

* * *

--------------------------------------------

(1) مجلة عالم المخطوطات والنوادر، «جزء استدراك ابن عبد الهادي على شرح مسلم» (ص: 181).

(2) ينظر: «الكواكب النيرات في معرفة من اختلط من الرواة الثقات» (ص: 23).

(3) «شرح النووي على صحيح مسلم» (1/ 77).

(4) «تاريخ ابن يونس» (1/ 277)، (الترجمة: 756).

(5) «معرفة الصحابة» لأبي نعيم (3/ 1721).
এবং (তিনি) আব্দুল ওয়াহহাব নন(১)।

বিষয়টি ইবনে আব্দুল হাদী যা উল্লেখ করেছেন তেমনই; আমি স্মৃতিবিভ্রাট ঘটা বর্ণনাকারীদের মধ্যে হুসাইন ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নামে কাউকে পাইনি(২)।

 

‌‌৪ ـ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস এবং তাঁর পিতার মধ্যকার বয়সের ব্যবধানের ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় উক্তি:

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের অবস্থার একটি চমকপ্রদ দিক হলো, তাঁর এবং তাঁর পিতার জন্মের সময়ের ব্যবধান মাত্র এগারো বছর, আর কারো মতে বারো বছর»(৩)।

«গবেষক বলেন»: ইমাম নববী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর এবং তাঁর পিতার মধ্যকার বয়সের ব্যবধানের ব্যাপারে এভাবেই দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন, যদিও কোনো কোনো আলেম দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, তাঁদের মধ্যে বিশ বছরের ব্যবধান ছিল। ইবনে ইউনুস আল-মিসরী(৪) এবং আবু নুয়াইম আল-আসফাহানী(৫) ও অন্যান্যেরা এই মতটিই দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

* * *

--------------------------------------------

(১) মাজাল্লাতু আলামিল মাখতুতাতি ওয়ান নাওয়াদির, «জুযউ ইস্তিদরাকি ইবনি আবদিল হাদী আলা শারহি মুসলিম» (পৃষ্ঠা: ১৮১)।

(২) দ্রষ্টব্য: «আল-কাওয়াকিবুন নাইয়িরাতু ফী মা'রিফাতি মান ইখতালাতা মিনার রুওয়াতিত তিকাত» (পৃষ্ঠা: ২৩)।

(৩) «সহীহ মুসলিমের উপর শারহে নববী» (১/ ৭৭)।

(৪) «তারিখে ইবনে ইউনুস» (১/ ২৭৭), (জীবনী নং: ৭৫৬)।

(৫) আবু নুয়াইমের «মা'রিফাতুস সাহাবা» (৩/ ১৭২১)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌ومن كتاب الإِيْمَان

‌‌5 ـ حكايته إجماع السَّلَف على صحة الصلاة في الدَّار المغصوبة والنظر في ذلك:

قال النووي رحمه الله: «الصلاة في الدَّار المغصوبة صحيحة، غير محوجة إلى القضاء عند جماهير العلماء، بل بإجماع السَّلَف»(1).

«قال الباحث»: حكاية النووي إجماع السَّلَف على صحة الصلاة في الأرض المغصوبة تعقَّبه فيها ابن عبدالهادي بقوله: «ليس هذا كما قال»(2).

والأمر كما قال ابن عبد الهادي، لأن الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله كان لا يرى صحة الصلاة في الدار المغصوبة في إحدى الروايتين عنه، واختارها بعض أصحابه(3).

والنووي رحمه الله لا يجهل مخالفة الإمام أحمد بن حنبل في المسألة، لكنه كان يرى أن الإجماع منعقد على الصحة قبل مخالفة الإمام أحمد، وأنه

--------------------------------------------

(1) «شرح النووي على صحيح مسلم» (1/ 156).

(2) «جزء استدراكات ابن عبد الهادي على شرح صحيح مسلم» للنووي (ص: 182).

(3) انظر: «المحرر في الفقه في مذهب الإمام أحمد» (1/ 43)، و «حاشية الروض المربع» لابن قاسم (1/ 542).
এবং ঈমান অধ্যায় হতে

৫ — জবরদখলকৃত বাড়িতে সালাত সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সালাফদের ইজমার বর্ণনা এবং এ বিষয়ে পর্যালোচনা:

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «জবরদখলকৃত বাড়িতে সালাত আদায় করা জমহুর বা অধিকাংশ আলিমের নিকট সহীহ, যা পুনরায় আদায়ের (কাজা) প্রয়োজন নেই; বরং এটি সালাফদের ইজমা বা ঐকমত্য দ্বারা সাব্যস্ত»।

«গবেষক বলেছেন»: জবরদখলকৃত ভূমিতে সালাত সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ইমাম নববীর বর্ণিত সালাফদের ইজমার বিষয়টি ইবনে আব্দুল হাদী খণ্ডন করে বলেছেন: «বিষয়টি তিনি যেমনটি বলেছেন তেমন নয়»।

আর বিষয়টি ইবনে আব্দুল হাদী যেমন বলেছেন তেমনই, কারণ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটিতে তিনি জবরদখলকৃত বাড়িতে সালাত সহীহ মনে করতেন না এবং তাঁর অনুসারীদের কেউ কেউ এই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন।

আর ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) এই মাসআলায় ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের ভিন্নমতের বিষয়টি সম্পর্কে অনবহিত ছিলেন না, তবে তিনি মনে করতেন যে ইমাম আহমাদের ভিন্নমতের পূর্বেই সালাত সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ইজমা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল এবং এটি...

--------------------------------------------

(১) «সহীহ মুসলিমের উপর ইমাম নববীর শারহ» (১/ ১৫৬)।

(২) «সহীহ মুসলিমের শারহ নববীর ওপর ইবনে আব্দুল হাদীর ইস্তিদরাক (সংযোজন) সংক্রান্ত অংশ» (পৃ. ১৮২)।

(৩) দেখুন: «ইমাম আহমাদের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহশাস্ত্রের আল-মুহাররার» (১/ ৪৩), এবং ইবনে কাসিমের «হাশিয়াতুর রওদিল মুরবি» (১/ ৫৪২)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২০)
محجوج بالإجماع قبله(1)، وهذا ما لم يذكر النووي له مستنداً.

وقد سبق للفقيه الشافعي أبي بكر الباقلاني رحمه الله (ت: 403 هـ) أن حكى أيضاً إجماع السَّلَف على صحة الصلاة في الدار المغصوبة، ولعله سَلَفُ النووي في المسألة، وتعقَّبه الإمام ابن تيمية، فقال: «وهو ـ يعني الباقلاني ـ في غير موضع يدعي إجماعات لا حقيقة لها، كدعواه إجماع السَّلَف على صحة الصلاة في الدار المغصوبة، بكونهم لم يأمروا الظَّلَمة بالإعادة، ولعله لا يَقْدِر أن ينقل عن أربعة من السَّلَف أنهم استفتوا في إعادة الظَّلَمة ما صلّوه في مكان مغصوب، فأفتوهم بإجزاء الصلاة … »(2).

 

‌‌6 ـ جزمه بالمدة التي كانت بين وفاة خديجة وأبي طالب:

قال النووي رحمه الله: «توفيت خديجة أم المؤمنين رضي الله عنها بعد موت أبي طالب بثلاثة أيام»(3).

«قال الباحث»: كذا جزم النووي رحمه الله بالمدة التي كانت بين وفاة خديجة وأبي طالب، مع أنه مجرّد قول قاله بعض أهل العلم(4)، لا يوجد ما يثبته أو يؤكده.

--------------------------------------------

(1) انظر: «المجموع شرح المهذب» (3/ 164).

(2) «الفتاوى الكبرى» لابن تيمية (6/ 581).

(3) «شرح النووي على صحيح مسلم» (1/ 215).

(4) انظر: «معرفة الصحابة» لأبي نعيم (6/ 3201)، و «البداية والنهاية» لابن كثير (4/ 316).
এর পূর্ববর্তী ইজমা (ঐক্যমত্য) দ্বারা এটি খন্ডিত(১), আর এটি এমন বিষয় যার কোনো প্রমাণ নববী উল্লেখ করেননি।

শাফেয়ী ফকিহ আবু বকর আল-বাকিলানি (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৪০৩ হিজরি) ইতিপূর্বে জবরদখলকৃত বাড়িতে সালাত বৈধ হওয়ার ব্যাপারে সালাফদের ইজমা বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত এই মাসয়ালায় তিনি নববীর পূর্বসূরি। ইমাম ইবনে তাইমিয়া তার সমালোচনা করে বলেছেন: «তিনি—অর্থাৎ আল-বাকিলানি—একাধিক স্থানে এমন সব ইজমার দাবি করেন যার কোনো বাস্তবতা নেই। যেমন জবরদখলকৃত বাড়িতে সালাত বৈধ হওয়ার বিষয়ে সালাফদের ইজমার দাবি, এই যুক্তিতে যে তারা জালিমদের সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দেননি। অথচ সম্ভবত তিনি চারজন সালাফ থেকেও এটি বর্ণনা করতে পারবেন না যে, তাদের কাছে জালিমদের জবরদখলকৃত স্থানে আদায়কৃত সালাত পুনরায় পড়ার ব্যাপারে ফতোয়া চাওয়া হয়েছিল আর তারা সালাত যথেষ্ট হওয়ার ফতোয়া দিয়েছিলেন... »(২)।

 

‌‌৬ — খাদিজা ও আবু তালিবের মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়ের ব্যাপারে তার দৃঢ় উক্তি:

নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «উম্মুল মুমিনীন খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) আবু তালিবের মৃত্যুর তিন দিন পর ইন্তেকাল করেন»(৩)।

«গবেষক বলছেন»: এভাবেই নববী (রাহিমাহুল্লাহ) খাদিজা ও আবু তালিবের মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়ের ব্যাপারে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, যদিও এটি কেবল কিছু আহলে ইলমের একটি উক্তি মাত্র(৪), যা প্রমাণ বা নিশ্চিত করার মতো কিছু নেই।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব» (৩/ ১৬৪)।

(২) ইবনে তাইমিয়ার «আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা» (৬/ ৫৮১)।

(৩) «সহিহ মুসলিমের ওপর নববীর শারহ» (১/ ২১৫)।

(৪) দেখুন: আবু নুয়াইমের «মা'রিফাতুস সাহাবা» (৬/ ৩২০১), এবং ইবনে কাসিরের «আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া» (৪/ ৩১৬)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২১)
وهناك من أهل العلم من قال: إن خديجة توفيت قبل أبي طالب بخمسة وثلاثين يوماً(1).

وبعضهم قال: كان بين وفاتهما شهر وخمسة أيام(2).

وأمَّا شيخ المغازي محمد بن إسحاق رحمه الله فلم يحدّد شيئاً بالأيام، واكتفى بقوله: «إنها توفيت وأبا طالب في عام واحد»(3). وتابعه على ذلك ابن هشام(4).

وقد أورد الحافظ البيهقي ما ذكره النووي بصيغة تشعر بعدم الثبوت، فقال: «بلغني أن موت خديجة كان بعد موت أبي طالب بثلاثة أيام»(5).

لأجل هذا كان الأولى بالنووي عدم الجزم بالمسألة، والاكتفاء بقوله: فيما قيل، أو فيما قاله بعض العلماء، هذا أدق وأصوب، والله أعلم.

 

‌‌7 ـ أحاديث في صحيح مسلم لم يشرحها النووي إطلاقاً:

من عادة النووي رحمه الله شرح جميع أحاديث صحيح الإمام مسلم، بيد أن هناك بضعة أحاديث لم أره تعرض لشرحها إطلاقاً، ومنها على سبيل المثال:

--------------------------------------------

(1) «تاريخ الإسلام» للذهبي (1/ 614).

(2) «الطبقات الكبرى» لابن سعد (1/ 211)، و «المنتظم» لابن الجوزي (3/ 11).

(3) «السير والمغازي» لابن إسحاق (ص: 243).

(4) «سيرة ابن هشام» (1/ 416).

(5) «دلائل النبوة» للبيهقي (2/ 353).
বিদ্বানদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা বলেছেন: খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) আবু তালিবের পঁয়ত্রিশ দিন পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন(১)।

আবার তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: তাঁদের উভয়ের ইন্তেকালের মাঝে এক মাস পাঁচ দিনের ব্যবধান ছিল(২)।

আর মাগাযী শাস্ত্রের শাইখ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (রাহিমাহুল্লাহ) দিনের হিসেবে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি, বরং তিনি শুধু এটুকু বলেছেন: «তিনি এবং আবু তালিব একই বছরে ইন্তেকাল করেছেন»(৩)। ইবনে হিশামও এ ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন(৪)।

হাফেজ বাইহাকী (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম নববী কর্তৃক উল্লিখিত বিষয়টি এমন এক শব্দে বর্ণনা করেছেন যা বিষয়টি সুনিশ্চিত না হওয়ার ইঙ্গিত দেয়; তিনি বলেন: «আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, খাদিজার ইন্তেকাল আবু তালিবের ইন্তেকালের তিন দিন পর হয়েছিল»(৫)।

এই কারণে ইমাম নববীর পক্ষে বিষয়টি নিয়ে সুনিশ্চিত কোনো মন্তব্য না করে বরং "বলা হয়ে থাকে" অথবা "কোনো কোনো আলেম যা বলেছেন" —এরূপ বলা অধিক সঠিক ও নির্ভুল ছিল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌৭ — সহীহ মুসলিমের এমন কিছু হাদীস যা ইমাম নববী একেবারেই ব্যাখ্যা করেননি:

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাধারণ নিয়ম হলো ইমাম মুসলিমের সহীহ গ্রন্থের সকল হাদীস ব্যাখ্যা করা, তবে সেখানে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যা আমি তাঁকে একেবারেই ব্যাখ্যা করতে দেখিনি; উদাহরণস্বরূপ সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবীর ‘তারীখুল ইসলাম’ (১/ ৬১৪)।

(২) ইবনে সা’দের ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’ (১/ ২১১) এবং ইবনুল জাওযীর ‘আল-মুনতাযাম’ (৩/ ১১)।

(৩) ইবনে ইসহাকের ‘আস-সিয়ার ওয়াল মাগাযী’ (পৃষ্ঠা: ২৪৩)।

(৪) ‘সীরাতে ইবনে হিশাম’ (১/ ৪১৬)।

(৫) বাইহাকীর ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ (২/ ৩৫৩)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২২)
حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «كيف أنتم إذا نَزَل ابن مريم فيكم وإمامكم منكم»(1).

حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «جَعَل ـ النبي صلى الله عليه وسلم ـ اثني عشر ميلاً حول المدينة حِمَى»(2).

حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه مرفوعاً: «لأُخرجنّ اليهود والنصارى من جزيرة العرب، حتى لا أَدَعَ إلا مسلماً»(3).

حديث عائشة رضي الله عنها مرفوعاً: «اللُّهم أعوذ بك من شرّ ما عملت، ومن شرّ ما لم أعمل»(4)، لم يشرح قوله: من شرّ ما لم أعمل.

حديث أبي هريرة مرفوعاً: «رأيت عمرو بن عامر الخُزاعي يجرّ قَصَبه في النار، وكان أول من سَيَّب السُّيُوب»(5).

حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «لا تقوم الساعة حتى يخرج رجل من قحطان يسوق الناس بعصاه»(6).

حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «لا تذهب الأيام والليالي حتى يملك

--------------------------------------------

(1) «شرح النووي على صحيح مسلم» (2/ 189).

(2) «شرح النووي على صحيح مسلم» (9/ 145).

(3) «شرح النووي على صحيح مسلم» (12/ 92).

(4) المصدر السابق (17/ 38).

(5) المصدر السابق (17/ 189).

(6) المصدر السابق (18/ 36).
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: «তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমাদের মাঝে ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন এবং তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের ইমাম হবেন»(১).

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনার চারদিকে বারো মাইল পর্যন্ত সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ করেছিলেন»(২).

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: «আমি অবশ্যই আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বের করে দেব, যাতে আমি সেখানে মুসলিম ব্যতীত আর কাউকে অবশিষ্ট না রাখি»(৩).

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: «হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি আমি যা করেছি তার অনিষ্ট থেকে এবং যা আমি করিনি তার অনিষ্ট থেকে»(৪), তিনি তাঁর এই উক্তি—'যা আমি করিনি তার অনিষ্ট থেকে'—এর ব্যাখ্যা করেননি।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: «আমি আমর ইবনে আমের আল-খুযায়িকে জাহান্নামে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে যেতে দেখেছি; সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে প্রতিমার নামে পশু ছেড়ে দেওয়ার প্রথা চালু করেছিল»(৫).

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: «ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না কাহতান গোত্র থেকে এমন এক ব্যক্তি বের হবে, যে মানুষকে তার লাঠি দিয়ে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে»(৬).

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: «দিন এবং রাত শেষ হবে না যতক্ষণ না রাজত্ব করবে

--------------------------------------------

(১) «সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শারহ» (২/ ১৮৯)।

(২) «সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শারহ» (৯/ ১৪৫)।

(৩) «সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শারহ» (১২/ ৯২)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (১৭/ ৩৮)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (১৭/ ১৮৯)।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস (১৮/ ৩৬)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
رجل يقال له الجَهْجَاه»(1).

حديث عبدالله بن عمر رضي الله عنهما مرفوعاً: «أراني في المنام أتسوك بسواك فجذبني رجلان، أحدهما أكبر من الآخر، فناولت السواك الأصغر منهما، فقيل لي كبِّر، فدفعته إلى الأكبر»(2).

 

‌‌8 ـ ضبطه بعض الألفاظ دون أن يبيّن معناها:

ذكر النووي رحمه الله جملة من ألفاظ أحاديث صحيح مسلم الغريبة، واكتفى بضبطها دون بيان معناها، ومن ذلك على سبيل المثال:

«أُسْكفة»: اكتفى بقوله: «هي بهمزة قطع مضمومة، وبإسكان السين»(3)!!

«الضِلَع»: اكتفى بقوله: «الضلع بكسر الضاد وفتح اللام»(4) ولم يبين معناه.

«البَرذعة»: اكتفى بقوله: «بفتح الباء»(5)، ولم يزد.

«اسْتَعَطَ»(6): لم يضبطها ولم يشرحها.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (18/ 36).

(2) «شرح النووي على صحيح مسلم» (18/ 129).

(3) المصدر السابق (9/ 235).

(4) المصدر السابق (10/ 57).

(5) المصدر السابق (10/ 125).

(6) «شرح النووي على صحيح مسلم» (10/ 242).
একজন লোক যাকে জাহজাহ বলা হয়।(১).

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিস: “আমি স্বপ্নে নিজেকে মিসওয়াক করতে দেখলাম, এমতাবস্থায় দুইজন লোক আমাকে টেনে ধরল, তাদের একজন অন্যজনের চেয়ে বড় ছিল। আমি তাদের মধ্যে যে ছোট তাকে মিসওয়াকটি প্রদান করলাম। তখন আমাকে বলা হলো, বড়জনকে দিন। ফলে আমি তা বড়জনকে দিলাম।”(২).

 

‌‌৮ ـ কিছু শব্দের অর্থ বর্ণনা না করে শুধুমাত্র তার উচ্চারণরীতি নির্ধারণ করা:

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) সহিহ মুসলিমের হাদিসসমূহের কিছু বিরল শব্দের উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর অর্থ বর্ণনা না করে শুধুমাত্র উচ্চারণরীতি নির্ধারণের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। উদাহরণস্বরূপ:

“উসকুফাহ”: তিনি শুধু এটুকু বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন যে: “এটি পেশযুক্ত হামজায়ে কাত‘ এবং সীন-এর সাকিন সহকারে হবে”(৩)!!

“আদ-দিলা‘”: তিনি শুধু এটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন যে: “দিলা‘ শব্দটি দাদ-এ কাসরা (যের) এবং লাম-এ ফাতহা (যবর) সহকারে হবে”(৪) এবং এর অর্থ বর্ণনা করেননি।

“আল-বারযাআহ”: তিনি শুধু এটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন: “বা-বর্ণে ফাতহা (যবর) সহকারে”(৫), আর এর অতিরিক্ত কিছু বলেননি।

“ইস্তা‘আতা”(৬): তিনি এর উচ্চারণরীতি নির্ধারণ করেননি এবং এর ব্যাখ্যাও দেননি।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (১৮/ ৩৬)।

(২) “সহিহ মুসলিমের ওপর শরহে নববী” (১৮/ ১২৯)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৯/ ২৩৫)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (১০/ ৫৭)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (১০/ ১২৫)।

(৬) “সহিহ মুসলিমের ওপর শরহে নববী” (১০/ ২৪২)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
«الجَذعة»(1): لم يضبطها ولم يشرحها.

«الكمأة»: اكتفى بقوله: «بفتح الكاف وإسكان الميم وبعدها همزة مفتوحة»(2).

 

‌‌9 ـ سكوته عن رواية تفرَّد بها كذاب:

قال النووي رحمه الله: «ذكر البزَّار(3) خبراً في الإسراء عن عليّ كرم الله وجهه، وذكر مسير جبريل عليه السلام على البُراق، حتى أتى الحِجَاب، وذكر كلمة، وقال: خَرَج مَلَكٌ من وراء الحِجَاب، فقال جبريل: والذي بعثك بالحق إن هذا المَلَك ما رأيته منذ خُلقت، وإني أقرب الخلْق مكاناً»(4).

«قال الباحث»: ما كان يجدر بالنووي رحمه الله ذكر هذه الرواية والسكوت عنها دون التنبيه على ضعفها الشديد، بل إنها شبه موضوعة، فقد تفرَّد بروايتها راوٍ اسمه: زياد بن المنذر الكوفي، يرويه عن محمد بن عليّ بن الحسين، عن أبيه، عن جده عليّ بن أبي طالب به.

وزياد بن المنذر هذا كذَّبه غير واحد من الحفاظ، كابن معين، وقال:

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (13/ 112).

(2) المصدر السابق (14/ 4).

(3) «كشف الأستار عن زوائد البزار» (1/ 179)، (حديث: 352)، وقال البزار: «لا نعلمه يروي عن عليّ بهذا اللفظ إلا بهذا الإسناد».

(4) «شرح النووي على صحيح مسلم» (2/ 221).
«আল-জাযআ»(১): তিনি এর হরকত (যর-যবর) নির্ধারণ করেননি এবং এর ব্যাখ্যাও প্রদান করেননি।

«আল-কামআ»: তিনি কেবল এইটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন: «কাফ অক্ষরে ফাতহা (যবর), মীম অক্ষরে সুকুন (জযম) এবং এরপর ফাতহা বিশিষ্ট হামযা»(২)।

 

‌‌৯ ـ একজন মিথ্যাবাদীর এককভাবে বর্ণিত বর্ণনার ব্যাপারে তাঁর নীরবতা:

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «বাযযার(৩) আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) থেকে ইসরা (মিরাজ) সম্পর্কে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর বুরাকের পিঠে চড়ে পথচলার কথা উল্লেখ করেছেন, যতক্ষণ না তিনি হিজাব (পর্দা) পর্যন্ত পৌঁছালেন। তিনি একটি বাক্য উল্লেখ করে বললেন: হিজাবের পেছন থেকে একজন ফেরেশতা বের হলেন। তখন জিবরীল বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি সৃষ্টির পর থেকে এই ফেরেশতাকে আর কখনো দেখিনি, অথচ আমি সকল সৃষ্টির মাঝে স্থানের দিক থেকে (আল্লাহর) সবচেয়ে নিকটবর্তী»(৪)।

«গবেষক বলেছেন»: ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জন্য এই বর্ণনাটি উল্লেখ করা এবং এর চরম দুর্বলতা সম্পর্কে সতর্ক না করে নীরব থাকা সমীচীন হয়নি। বরং এটি প্রায় জাল (মাওযু) পর্যায়ের। কারণ এই বর্ণনাটি যিয়াদ বিন আল-মুনযির আল-কুফি নামক একজন রাবী এককভাবে বর্ণনা করেছেন; তিনি এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আলী বিন আবি তালিব থেকে।

আর এই যিয়াদ বিন আল-মুনযিরকে ইবনে মাঈনের মতো একাধিক হাফিয (হাদীস বিশারদ) মিথ্যাবাদী বলেছেন এবং তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (১৩/ ১১২)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (১৪/ ৪)।

(৩) «কাশফুল আসতার আন যাওয়াইদিল বাযযার» (১/ ১৭৯), (হাদীস নং ৩৫২); বাযযার বলেছেন: «আমরা জানি না যে আলী থেকে এই শব্দে এই সনদ (সূত্র) ছাড়া অন্য কোনোভাবে এটি বর্ণিত হয়েছে»।

(৪) «সহীহ মুসলিমের ওপর নববীর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)» (২/ ২২১)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
«عدوّ الله، ليس يسوى فلساً»(1). وقال ابن حبان: «كان رافضياً يضع الحديث»(2). وقال النسائي: «متروك الحديث»(3).

فأمثال هؤلاء الرواة لا يحسن إيراد مروياتهم والسكوت عنها، دون التنبيه على حالها، والله أعلم.

 

‌‌10 ـ نفيه رواية عن صحيح البخاري وهي فيه:

ذكر النووي رحمه الله حديث ابن عباس، قال «لمَّا نزلتْ هذه الآية: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء: 214] ورهْطَك منهم المخلَصين، خَرَج رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى صعد الصَّفَا، فهتف: «يا صباحاه» … الحديث»(4)، ثم قال النووي: «ولم تقع هذه الزيادة في روايات البخاري»(5). يعني قوله: ورهْطَك منهم المخلَصين.

«قال الباحث»: بل هي ثابتة في صحيح البخاري، في كتاب

--------------------------------------------

(1) «المجروحين» لابن حبان (1/ 306)، (الترجمة: 362).

(2) المصدر السابق (1/ 306)، (الترجمة: 362).

(3) «الضعفاء والمتروكين» (ص: 44)، (الترجمة: 225)، وانظر: «بقية أقوال الأئمة في هذا الراوي في ميزان الاعتدال» للذهبي (3/ 93)، (الترجمة: 2965)، و «تهذيب الكمال» للمزي (9/ 517)، (الترجمة: 2070).

(4) «صحيح مسلم»، كتاب الإيمان، باب في قوله تعالى: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} (1/ 193)، (حديث: 355).

(5) «شرح النووي على صحيح مسلم» (3/ 83).
«আল্লাহর শত্রু, সে এক পয়সা মূল্যেরও নয়»(১)। ইবন হিব্বান বলেন: «সে ছিল একজন রাফেজি, যে হাদিস জাল করত»(২)। এবং নাসাঈ বলেন: «তার হাদিস বর্জনীয় (মাতরুক)»(৩)।

এই ধরণের বর্ণনাকারীদের বর্ণিত হাদিসগুলো তাদের অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা না করে উল্লেখ করা এবং সে ব্যাপারে নীরব থাকা সমীচীন নয়, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌১০ — সহিহ বুখারির একটি বর্ণনাকে তার অস্বীকার করা, অথচ সেটি সেখানে বিদ্যমান:

নববী (রহিমাহুল্লাহ) ইবন আব্বাসের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তিনি (ইবন আব্বাস) বলেন, «যখন এই আয়াতটি নাজিল হলো: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [শুয়ারা: ২১৪] এবং তাদের মধ্য থেকে আপনার একনিষ্ঠ দলকেও, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং সাফা পাহাড়ে উঠলেন, এরপর উচ্চস্বরে ডাক দিলেন: "ইয়া সাবাহাহ" (হায় সকালের বিপদ!) ... হাদিস»(৪), এরপর নববী বলেন: «বুখারির বর্ণনাগুলোতে এই অতিরিক্ত অংশটুকু আসেনি»(৫)। অর্থাৎ তাঁর কথা: "এবং তাদের মধ্য থেকে আপনার একনিষ্ঠ দলকেও।"

«গবেষক বলেন»: বরং এটি সহিহ বুখারিতে সাব্যস্ত রয়েছে, কিতাবুল...

--------------------------------------------

(১) ইবন হিব্বান রচিত «আল-মাজরুহিন» (১/৩০৬), (জীবনী নং: ৩৬২)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (১/৩০৬), (জীবনী নং: ৩৬২)।

(৩) «আদ-দুয়াফা ওয়াল-মাতরুকিন» (পৃষ্ঠা: ৪৪), (জীবনী নং: ২২৫), এবং দেখুন: যাহাবি রচিত «মিজানুল ইতিদাল»-এ এই বর্ণনাকারী সম্পর্কে ইমামগণের অবশিষ্ট বক্তব্য (৩/৯৩), (জীবনী নং: ২৯৬৫), এবং মিযযি রচিত «তাহজিবুল কামাল» (৯/৫১৭), (জীবনী নং: ২০৭০)।

(৪) «সহিহ মুসলিম», ঈমান অধ্যায়, মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ (১/১৯৩), (হাদিস: ৩৫৫)।

(৫) «সহিহ মুসলিমের ওপর শরহে নববী» (৩/৮৩)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
تفسير القرآن، باب قوله: {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا} [النصر: 3](1).

وقد أشار الحافظُ ابن حجر إلى وهم النووي هذا، فقال: «وفي هذه الزيادة تعقُّب على النووي حيث قال في شرح مسلم إن البخاري لم يخرِّجها، أعني ورهْطَك منهم المخلَصين، اعتماداً على ما في هذه السُّورة(2)، وأغفل كونها موجودة عند البخاري في سورة تبَّت»(3).

ومن الطريف أن النووي رحمه الله قال في مقدمة الشرح: «وقد رأيتُ جماعةً من الحفاظ غلِطوا فنفوا رواية البخاري أحاديث، وهي موجودة في صحيحه في غير مظانِّها السابقة إلى الفَهْم»(4).

وقد وقع النووي رحمه الله في مثل هذا هنا، فجلَّ من لا ينسى سبحانه.

* * *

--------------------------------------------

(1) «صحيح البخاري»، كتاب التفسير، باب قوله {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا} (6/ 159)، (حديث: 4971).

(2) يعني سورة الشعراء، قول الله تعالى: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} آية (214).

(3) «فتح الباري» (8/ 502).

(4) «شرح النووي على صحيح مسلم» (1/ 15).
কুরআনের তাফসীর, মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব আপনি আপনার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন; নিশ্চয় তিনি তওবা কবুলকারী} [আন-নাসর: ৩] সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ।(১)

হাফিজ ইবনে হাজার ইমাম নববীর এই ভুলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন: «আর এই অতিরিক্ত অংশে নববীর ওপর আপত্তি রয়েছে, যেখানে তিনি মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন যে, বুখারী এটি বর্ণনা করেননি — অর্থাৎ "এবং তাদের মধ্য হতে আপনার একনিষ্ঠ নিকটাত্মীয়গণ" অংশটি। তিনি এই সূরার ওপর নির্ভর করেছেন এবং বুখারীর "সূরা তাব্বাত"-এ এটি বিদ্যমান থাকার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন»(২)।

কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো যে, ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: «আমি একদল হাফিজকে দেখেছি যারা ভুলবশত বুখারীর কিছু হাদীসের বর্ণনাকে অস্বীকার করেছেন, অথচ সেগুলো তাঁর সহীহ্ গ্রন্থের এমন স্থানে বিদ্যমান যা সাধারণত চিন্তায় প্রথমে আসে না»(৩)।

আর ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) এখানে নিজেই অনুরূপ ভুলের মধ্যে নিপতিত হয়েছেন। সুতরাং তিনি কতই না মহান ও পবিত্র, যিনি কখনও বিস্মৃত হন না।

* * *

--------------------------------------------

(১) «সহীহুল বুখারী», তাফসীর অধ্যায়, মহান আল্লাহর বাণী {অতএব আপনি আপনার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন; নিশ্চয় তিনি তওবা কবুলকারী} সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ (৬/ ১৫৯), (হাদীস: ৪৯৭১)।

(২) অর্থাৎ সূরা আশ-শুআরা, মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} আয়াত (২১৪)।

(৩) «ফাতহুল বারী» (৮/ ৫০২)।

(৪) «সহীহ্ মুসলিমের ওপর নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ» (১/ ১৫)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ومن كتاب الطَّهارة

‌‌11 ـ حكايته الإجماع على تحريم سجود التلاوة والشكر بغير طهارة:

قال النووي رحمه الله: «أجمعت الأمةُ على تحريم الصلاة بغير طهارة، من ماء أو تراب، ولا فرق بين الصلاة المفروضة، والنَّافلة، وسجود التلاوة والشكر»(1).

«قال الباحث»: حكاية الإجماع على تحريم سجود التلاوة والشكر بغير طهارة فيها نظر، فقد صحَّ عن ابن عمر أنه كان يسجد للتلاوة على غير وضوء(2).

وكذا نقل الحافظ العراقي بعض الآثار عن الصحابة والتابعين أنهم كانوا يسجدون للتلاوة بغير طهارة(3).

بل نقله ابن القيِّم عن كثير من السَّلَف(4).

--------------------------------------------

(1) «شرح النووي على صحيح مسلم» (3/ 103).

(2) «صحيح البخاري»، أبواب سجود القرآن، باب سجود المسلمين مع المشركين (2/ 41).

(3) «طرح التثريب» (2/ 215).

(4) «تهذيب السنن» لابن القيم (1/ 53).
পবিত্রতা অধ্যায় হতে

১১. পবিত্রতা ব্যতীত তিলাওয়াত ও শোকরানা সিজদাহ হারাম হওয়ার ওপর তাঁর ইজমা (ঐকমত্য) বর্ণনা:

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "পানি বা মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা ব্যতিরেকে সলাত আদায় করা হারাম হওয়ার ওপর উম্মাহ ঐকমত্য পোষণ করেছে। ফরয সলাত, নফল সলাত এবং তিলাওয়াত ও শোকরানা সিজদাহর মধ্যে এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই"(১).

«গবেষক বলেছেন»: পবিত্রতা ছাড়া তিলাওয়াত ও শোকরানা সিজদাহ হারাম হওয়ার ব্যাপারে ইজমার এই বর্ণনাটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। কেননা ইবনে উমর (রা.) থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত যে, তিনি ওযু ছাড়াই তিলাওয়াতের সিজদাহ করতেন(২).

অনুরূপভাবে হাফিজ ইরাকী সাহাবী ও তাবিঈগণের পক্ষ থেকে কিছু আসার (বর্ণনা) উদ্ধৃত করেছেন যে, তাঁরা পবিত্রতা ছাড়াই তিলাওয়াতের সিজদাহ করতেন(৩).

বরং ইবনুল কাইয়্যিম এটি অনেক সালাফ (পূর্বসূরি) থেকে বর্ণনা করেছেন(৪).

--------------------------------------------

(১) «সহীহ মুসলিমের শারহ নববী» (৩/ ১০৩)।

(২) «সহীহ বুখারী», কুরআনের সিজদাহ অধ্যায়সমূহ, মুশরিকদের সাথে মুসলিমদের সিজদাহ অনুচ্ছেদ (২/ ৪১)।

(৩) «তরহুত তাসরীব» (২/ ২১৫)।

(৪) ইবনুল কাইয়্যিমের «তহযীবুস সুনান» (১/ ৫৩)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهو اختيار الإمام ابن تيمية، وأطال في تقريره(1).

وإذا كان الأمر كذلك فليس في المسألة إجماع كما ذكر النووي رحمه الله.

 

‌‌12 ـ ذكره فرضيات مستبعدة:

قال النووي رحمه الله: «قال أصحابنا: ولو خلق للإنسان وجهان وجب غسلهما»(2)!! يعني في الضوء.

«قال الباحث»: ليت النووي رحمه الله نزّه شرحه من أمثال هذه الفرضيات البعيدة الوقوع كل البعد!!

وقد وقع له في شرحه هذا نظائر من ذلك، كقوله عند حديثه عن سُنّة الخِتَان: «وأما من له ذكران، فإن كانا عاملين وجب ختانهما، وإن كان أحدُهما عاملاً دون الآخر ختن العامل، وفيما يعتبر العمل به وجهان: أحدهما بالبول، والآخر بالجماع … »(3)!!

وقوله: «هل يحلّ أكل المني الطاهر، فيه وجهان، أظهرهما لا يحلّ، لأنه مستقذر، فهو داخل في جملة الخبائث المحرمة علينا، وأما مني غير الآدمي … »(4).

--------------------------------------------

(1) «مجموع فتاوى ابن تيمية» (21/ 278).

(2) «شرح النووي على صحيح مسلم» (3/ 108).

(3) المصدر السابق (3/ 148).

(4) المصدر السابق (3/ 198).
এটি ইমাম ইবনে তাইমিয়ার পছন্দনীয় অভিমত, এবং তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন(১)।

আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে এই মাসআলায় কোনো ইজমা (সর্বসম্মত ঐক্যমত) নেই, যেমনটি ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌১২ ـ সুদূরপরাহত কাল্পনিক বিষয়সমূহের অবতারণা:

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «আমাদের (মাযহাবের) ফকীহগণ বলেছেন: যদি কোনো মানুষের দুটি মুখমণ্ডল সৃষ্টি করা হয়, তবে উভয়টি ধোয়া ওয়াজিব (আবশ্যক) হবে»(২)!! অর্থাৎ ওযুর ক্ষেত্রে।

«গবেষক বলেন»: হায়! যদি ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থকে ঘটার সম্ভাবনা থেকে একেবারেই বহুদূরের এই জাতীয় কাল্পনিক মাসআলাসমূহ থেকে পবিত্র রাখতেন!!

তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে এ জাতীয় আরও অনুরূপ দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেমন খতনার সুন্নাত সম্পর্কে আলোচনা করার সময় তাঁর উক্তি: «আর যার দুটি পুরুষাঙ্গ রয়েছে, যদি উভয়টিই কার্যকর হয় তবে উভয়টির খতনা করা ওয়াজিব। আর যদি একটি কার্যকর হয় এবং অন্যটি না হয়, তবে কেবল কার্যকরটির খতনা করা হবে। আর কোনটি কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে সে বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: একটি হলো প্রস্রাবের মাধ্যমে, অন্যটি হলো সহবাসের মাধ্যমে … »(৩)!!

এবং তাঁর উক্তি: «পবিত্র বীর্য ভক্ষণ করা কি হালাল? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে, যার মধ্যে অধিক স্পষ্ট অভিমত হলো এটি হালাল নয়; কারণ এটি একটি ঘৃণিত বস্তু, ফলে এটি আমাদের ওপর হারামকৃত অপবিত্র বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। আর মানুষ ব্যতীত অন্য প্রাণীর বীর্য প্রসঙ্গে … »(৪)।

--------------------------------------------

(১) «মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া» (২১/ ২৭৮)।

(২) «সহীহ মুসলিমের শারহুন নববী» (৩/ ১০৮)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ১৪৮)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ১৯৮)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقوله عن ختم القرآن: «وبعضهم يختم في اليوم والليلة ثلاث ختمات، وبعضهم ثمان ختمات، وهو أكثر ما بلغنا»(1)!!

وهذا محال، لأن الختمة الواحدة تحتاج إلى ما يقارب العشر ساعات، فكيف بمن يختم ثمان ختمات في يوم وليلة؟ هذا يحتاج أكثر من ثلاثة أيام من القراءة المتواصلة دون توقف البتة!!

والحاصل أن أمثال هذه الفروع والفرضيات ليس محلها كتب شروح السنة، إن وظيفة كتب شروح السنة هي: بيان معاني الأحاديث النبوية، وما تدلّ عليه من أحكام وحِكم وفوائد، مع دفع ما قد يرد عليها من إشكالات في المتن أو الإسناد، ونحو ذلك من المسائل الواضحات البينات، ذات الصلة المباشرة بالنصوص، وما عدا ذلك فتركه أولى، لاسيما والمؤلف قال في المقدمة: «أقتصر على التوسط وأحرص على ترك الإطالات»(2).

 

‌‌13 ـ إيهامه نفي وجود رواية في الصحيحين وتعقُّب الأئمة له:

قال النووي رحمه الله: «إنما قال صلى الله عليه وسلم نحو وضوئي(3) ولم يقل مثْل، لأن حقيقة مماثلته صلى الله عليه وسلم لا يقدر عليها غيره»(4).

--------------------------------------------

(1) «شرح النووي على صحيح مسلم» (8/ 43).

(2) المصدر السابق (1/ 5).

(3) يشير إلى حديث عثمان بن عفان، مرفوعاً: «من توضأ نحو وضوئي هذا، ثم قام فركع ركعتين لا يحدّث فيهما نفسه، غُفر له ما تقدَّم من ذنبه» صحيح مسلم، كتاب الطهارة، باب صفة الوضوء وكماله (1/ 204)، (حديث: 226).

(4) «شرح النووي على صحيح مسلم» (3/ 108).
এবং কুরআন খতম সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "তাদের মধ্যে কেউ কেউ দিনে ও রাতে তিনবার খতম করেন, আর কেউ কেউ আটবার খতম করেন, আর এটাই আমাদের কাছে পৌঁছানো সর্বোচ্চ সংখ্যা"(১)!!

আর এটি অসম্ভব, কারণ একবার খতম করার জন্য প্রায় দশ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন, তাহলে কীভাবে কেউ একদিন ও এক রাতে আটবার খতম করবেন? এর জন্য কোনো প্রকার বিরতি ছাড়াই টানা তিন দিনেরও বেশি সময় পড়ার প্রয়োজন!!

সারকথা হলো, এই ধরনের শাখা-প্রশাখা ও কাল্পনিক বিষয়াবলির স্থান সুন্নাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো নয়; সুন্নাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর কাজ হলো: নববী হাদিসসমূহের অর্থ বর্ণনা করা এবং তা থেকে প্রমাণিত আহকাম (বিধান), হিকমত (প্রজ্ঞা) ও ফায়দাহসমূহ (উপকারিতা) তুলে ধরা, সেই সাথে মতন (মূল পাঠ) বা ইসনাদ (বর্ণনাসূত্র) সম্পর্কিত কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা দূর করা এবং নস (মূল পাঠ)-এর সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এই জাতীয় সুস্পষ্ট বিষয়সমূহ আলোচনা করা। এছাড়া অন্য বিষয়গুলো পরিহার করাই শ্রেয়, বিশেষ করে লেখক যখন ভূমিকায় বলেছেন: "আমি মধ্যপন্থা অবলম্বন করব এবং দীর্ঘ আলোচনা পরিহার করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকব"(২)।

 

‌‌১৩ ـ সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ কোনো একটি বর্ণনার অস্তিত্ব নেই বলে তাঁর সৃষ্টি করা বিভ্রান্তি এবং এর প্রেক্ষিতে ইমামদের সমালোচনা:

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেবল 'আমার ওযুর মতো'(৩) বলেছেন, 'আমার ওযুর হুবহু' বলেননি, কারণ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মতো ওযুর প্রকৃত সামঞ্জস্য বজায় রাখা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়"(৪)।

--------------------------------------------

(১) «সহীহ মুসলিমের উপর নববীর ব্যাখ্যা» (৮/ ৪৩)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৫)।

(৩) এটি উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত মারফু হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করে: "যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর মতো ওযু করবে, অতঃপর দাঁড়িয়ে এমনভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে যাতে সে মনে মনে কোনো পার্থিব কথা বলবে না, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে" সহীহ মুসলিম, পবিত্রতা অধ্যায়, ওযুর পদ্ধতি ও এর পূর্ণতা পরিচ্ছেদ (১/ ২০৪), (হাদিস: ২২৬)।

(৪) «সহীহ মুসলিমের উপর নববীর ব্যাখ্যা» (৩/ ১০৮)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
«قال الباحث»: تعقَّبه الحافظ ابن حجر، فقال: «لكن ثَبَتَ التعبير بها في رواية المصنِّف ـ يعني البخاري ـ في الرِّقاق من طريق معاذ بن عبد الرحمن، عن حُمْران، عن عثمان، ولفظُه: من توضَّأ مثل هذا الوُضوء(1)، وله في الصيام من رواية مَعْمَر: من توضَّأ وضُوئي هذا(2)، ولمسلم من طريق زيد بن أسْلَم، عن حُمران: توضَّأ مثل وضُوئي هذا(3). وعلى هذا فالتعبير بِنَحْو من تصرُّف الرّواة، لأنها تطلقُ على المِثْلِيَّة مجازاً، ولأن مثل وإن كانت تقتضي المساواة ظاهراً، لكنّها تطلق على الغالب، فبهذا تلتئم الروايتان، ويكون المتروكُ بحيث لا يخلُّ بالمقصود، والله تعالى أعلم»(4).

وبنحو هذا التعقُّب قال غير واحد من الأئمة، كالعيني في عمدة القاري(5)، والقسطلاني في إرشاد الساري(6)، والصنعاني في العُدّة(7).

وبهذا يظهر أن نفي النووي لرواية المِثْلِيَّة غير سديد مع ثبوتها في

--------------------------------------------

(1) «صحيح البخاري»، كتاب الرقاق، باب قول الله تعالى: «يا أيها الناس إن وعد الله حق» (8/ 92)، (حديث: 6433).

(2) «صحيح البخاري»، كتاب الصيام، باب سواك الرطب واليابس للصائم (3/ 31)، (حديث: 1934).

(3) «صحيح مسلم»، كتاب الطهارة، باب فضل الوضوء والصلاة عقبه (1/ 207)، (حديث: 229).

(4) «فتح الباري» لابن حجر (1/ 260).

(5) «عمدة القاري» (3/ 7).

(6) «إرشاد الساري» (1/ 245).

(7) «العدة» للصنعاني (1/ 139).
«গবেষক বলেন»: হাফেয ইবনু হাজার এর পর্যালোচনা করে বলেছেন: «কিন্তু গ্রন্থকারের —অর্থাৎ বুখারীর— বর্ণনায় ‘রিক্বাক্ব’ অধ্যায়ে মুআয ইবনে আবদুর রহমানের সূত্রে, হুমরান থেকে, তিনি উসমান থেকে শব্দগুলো সাব্যস্ত হয়েছে; আর শব্দগুলো হলো: ‘যে ব্যক্তি এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে’(১)। সিয়াম অধ্যায়ে মা’মারের বর্ণনায় তাঁর শব্দ হলো: ‘যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে’(২)। আর মুসলিমের বর্ণনায় যায়িদ ইবনে আসলামের সূত্রে হুমরান থেকে এসেছে: ‘সে আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করেছে’(৩)। এই ভিত্তিতে ‘নাহওয়ু’ (অনুরূপ) শব্দটির প্রয়োগ বর্ণনাকারীদের শব্দ পরিবর্তনের ফল, কারণ এটি রূপকভাবে সাদৃশ্য বা সমতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। যদিও ‘মিছল’ (ন্যায়) শব্দটি বাহ্যত পূর্ণ সমতা দাবি করে, তবে এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে (সাদৃশ্য অর্থে) ব্যবহৃত হয়; এর ফলে উভয় বর্ণনার মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি হয় এবং বর্জিত অংশটি মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে না। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন»(৪)।

অনুরূপ পর্যালোচনার কথা একাধিক ইমাম বলেছেন, যেমন ‘উমদাতুল ক্বারী’-তে আল-আইনী(৫), ‘ইরশাদুস সারী’-তে আল-ক্বাস্তাল্লানী(৬) এবং সানআনীর ‘আল-উদ্দাহ’-তে(৭)।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, ‘সাদৃশ্যমূলক’ বর্ণনার ব্যাপারে ইমাম নববীর অস্বীকৃতি সঠিক নয়, যেহেতু এটি সাব্যস্ত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) «সহীহ বুখারী», কিতাবুর রিক্বাক্ব, অনুচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী: «হে মানুষ, নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য» (৮/ ৯২), (হাদীস: ৬৪৩৩)।

(২) «সহীহ বুখারী», কিতাবুস সিয়াম, অনুচ্ছেদ: রোযাদারের জন্য কাঁচা ও শুকনো মেসওয়াক করা (৩/ ৩১), (হাদীস: ১৯৩৪)।

(৩) «সহীহ মুসলিম», কিতাবুত তাহারাহ, অনুচ্ছেদ: ওযু এবং এরপর সালাত আদায়ের ফযীলত (১/ ২০৭), (হাদীস: ২২৯)।

(৪) ইবনু হাজারের «ফাতহুল বারী» (১/ ২৬০)।

(৫) «উমদাতুল ক্বারী» (৩/ ৭)।

(৬) «ইরশাদুস সারী» (১/ ২৪৫)।

(৭) সানআনীর «আল-উদ্দাহ» (১/ ১৩৯)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩১)
الصحيحين، والأغلب أنه لم يستحضر ذلك عند كتابة ما تقدم، والله أعلم.

 

‌‌14 ـ تصحيحه حديث «من استجمر فليوتر من فعل فقد أحسن ومن لا فلا حرج» وهو ضعيف:

قال النووي رحمه الله: «قال بعض أصحابنا يجب الإيتار(1) مطلقاً لظاهر الحديث، وحجّة الجمهور الحديث الصحيح في السُّنن أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من استجمر فليوتر، من فعل فقد أحسن ومن لا فلا حرج»(2).

«قال الباحث»: كذا صحح الحديث، والصواب أنه ضعيف، فقد رواه أبو داود في سننه(3) من طريق الحُصين الحُبراني، عن أبي سعد الخير، عن أبي هريرة به مرفوعاً.

وهذا إسناد ضعيف، فيه: الحُصين الحُبراني وهو مجهول، قال الذهبي: «لا يعرف»(4). وقال ابن حزم(5)، وابن حجر(6)، والخزرجي(7): «مجهول».

--------------------------------------------

(1) يقصد الإيتار في الاستجمار.

(2) «شرح النووي على صحيح مسلم» (3/ 126).

(3) «سنن أبي داود»، كتاب الطهارة، باب الاستتار في الخلاء (1/ 9)، (حديث: 35).

(4) «ميزان الاعتدال» (1/ 55)، (الترجمة: 2105).

(5) «المحلى» (1/ 111).

(6) «تقريب التهذيب»، (الترجمة: 1393).

(7) «خلاصة تذهيب تهذيب الكمال» (ص: 86).
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম), এবং প্রবল ধারণা এই যে, পূর্বোক্ত কথাটি লেখার সময় এটি তাঁর স্মরণে ছিল না, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌১৪ ـ "যে ব্যক্তি পাথর ব্যবহার করে (শৌচকার্যে) সে যেন বেজোড় সংখ্যা ব্যবহার করে, যে তা করল সে ভালো করল, আর যে করল না তাতে কোনো দোষ নেই" - এই হাদীসটিকে তাঁর সহীহ বলা, অথচ এটি যঈফ (দুর্বল):

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «আমাদের (শাফেয়ী মাযহাবের) কোনো কোনো সাথী হাদীসের বাহ্যিক দিক বিবেচনা করে সাধারণভাবে বেজোড় সংখ্যা ব্যবহার করা(১) ওয়াজিব বলেছেন। আর জুমহুর (অধিকাংশ) আলিমের দলিল হলো সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত সহীহ হাদীস, যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি পাথর ব্যবহার করে সে যেন বেজোড় সংখ্যা ব্যবহার করে, যে তা করল সে ভালো করল, আর যে করল না তাতে কোনো দোষ নেই»(২)।

«গবেষক বলেন»: এভাবেই তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, অথচ সঠিক কথা হলো এটি যঈফ (দুর্বল)। কেননা আবু দাউদ এটি তাঁর সুনানে(৩) হুসাইন আল-হুবরানী, আবু সা'দ আল-খাইর থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আর এই সনদটি যঈফ (দুর্বল), এতে রয়েছে: হুসাইন আল-হুবরানী, আর সে মাজহুল (অপরিচিত)। যাহাবী বলেছেন: «সে পরিচিত নয়»(৪)। ইবনে হাযম(৫), ইবনে হাজার(৬) এবং খাযরাজী(৭) বলেছেন: «মাজহুল (অপরিচিত)»।

--------------------------------------------

(১) উদ্দেশ্য হলো ইস্তিজমারের (পাথর দিয়ে শৌচকার্য) ক্ষেত্রে বেজোড় সংখ্যা ব্যবহার করা।

(২) «শারহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম» (৩/ ১২৬)।

(৩) «সুনানে আবু দাউদ», কিতাবুত তাহারাত, বাবুস সাতরি ফিল খালা (১/ ৯), (হাদীস নং ৩৫)।

(৪) «মিযানুল ইতিদাল» (১/ ৫৫), (জীবনী নং ২১০৫)।

(৫) «আল-মুহাল্লা» (১/ ১১১)।

(৬) «তাকরীবুত তাহযীব», (জীবনী নং ১৩৯৩)।

(৭) «খুলাসাতু তাযহীবিত তাহযীবিল কামাল» (পৃষ্ঠা: ৮৬)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد ضعف الحديث جمع غفير من الأئمة، فقال البيهقي: «ليس بالقوي»(1).

وقال ابن عبد البر: «ليس إسناده بالقائم»(2).

وقال الحافظ عبد الحق الإشبيلي: «في إسناده الحُصين الحُبراني وليس بقوي»(3).

وقال ابن حجر: «مداره على أبي سعد الحُبراني الحمْصي، وفيه اختلاف، وقيل إنه صحابي، ولا يصحّ، والراوي عنه حُصين الحُبراني وهو مجهول»(4).

وبناء عليه فلا يسلّم للنووي رحمه الله تصحيحه للحديث، والله تعالى أعلم.

 

‌‌15 ـ إغفاله موضعاً ثَبَتَ استحباب السواك فيه:

قال النووي رحمه الله: «السواك مستحب في جميع الأوقات، ولكن في خمسة أوقات أشدّ استحباباً، أحدها عند الصلاة … الثاني: عند الوضوء، الثالث: عند قراءة القرآن، الرابع: عند الاستيقاظ من النوم،

--------------------------------------------

(1) «معرفة السنن والآثار» (1/ 348).

(2) نقله عنه الحافظ عبد الحق الإشبيلي في «الأحكام الوسطى» (1/ 136)، ولم أقف على كلامه في التمهيد والاستذكار.

(3) «الأحكام الوسطى» (1/ 136).

(4) «التلخيص الحبير» (1/ 301).
অনেক ইমাম এই হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। বাইহাকী বলেছেন: «এটি শক্তিশালী নয়»(১).

ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: «এর সনদ সুপ্রতিষ্ঠিত নয়»(২).

হাফেজ আব্দুল হক আল-ইশবিলি বলেছেন: «এর সনদে হুসাইন আল-হুবরানি রয়েছে এবং সে শক্তিশালী নয়»(৩).

ইবনে হাজার বলেছেন: «এর ভিত্তি আবু সাদ আল-হুবরানি আল-হিমসির উপর, এবং তার ব্যাপারে মতভেদ আছে। বলা হয়েছে যে তিনি একজন সাহাবী, তবে তা সঠিক নয়। আর তার থেকে বর্ণনাকারী হলেন হুসাইন আল-হুবরানি, যিনি মাজহুল (অপরিচিত)»(৪).

এর ওপর ভিত্তি করে, ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই হাদীসটি সহীহ করা গ্রহণযোগ্য নয়। আর আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

‌‌১৫ — মিসওয়াক করা মুস্তাহাব বলে প্রমাণিত এমন একটি স্থান তিনি উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন:

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «মিসওয়াক সব সময়ই মুস্তাহাব, তবে পাঁচটি সময়ে এটি অধিকতর মুস্তাহাব। প্রথমত: নামাজের সময় … দ্বিতীয়ত: ওযুর সময়, তৃতীয়ত: কুরআন তিলাওয়াতের সময়, চতুর্থত: ঘুম থেকে জাগার সময়,

--------------------------------------------

(১) «মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার» (১/ ৩৪৮)।

(২) এটি তার পক্ষ থেকে হাফেজ আব্দুল হক আল-ইশবিলি «আল-আহকামুল ওয়াসতা» (১/ ১৩৬) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। আত-তামহিদ এবং আল-ইসতিযকার গ্রন্থে আমি তার এই উক্তিটি খুঁজে পাইনি।

(৩) «আল-আহকামুল ওয়াসতা» (১/ ১৩৬)।

(৪) «আত-তালখীস আল-হাবীর» (১/ ৩০১)।
(খণ্ড: ১) আন-নুকাত আলা শারহিন নাওয়াবী আলা সহীহ মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الخامس: عند تغيّر الفم»(1).

«قال الباحث»: أغفل النووي رحمه الله موضعاً سادساً ورد النص به، وهو: عند الدخول إلى البيت، كما ثَبَتَ في صحيح مسلم، من رواية عائشة رضي الله عنها، أنها سُئلت: «بأيّ شيءٍ كان يبدأ النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل بيته، قالتْ: بالسواك»(2).

ولست أدري لِمَ أغفل النووي هذا الموضع مع ثبوته في صحيح مسلم.

وقد قال العلامة ابن علَّان الصديقي تعليقاً على حديث عائشة المذكور: «فيه ندب السواك عند دخول المنزل، وذلك لإزالة ما يحصل عادة بسبب كثرة الكلام الناشئة عن الاجتماع»(3).

وبحسب بعضهم: «ربّما يتغيّر رائحة الفم بمحادثة الناس، فمن حسن معاشرة الأهل إزالته»(4).

 

‌‌16 ـ قوله في الصِّفَة المستحبة لتقليم الأظافر والنظر فيه:

قال النووي رحمه الله في صفة تقليم الأظافر: «ويستحب أن يبدأ باليدين قبل الرجلين، فيبدأ بمسبحة يده اليمنى، ثم الوسطى، ثم البِنْصَر، ثم الِخنْصَر، ثم الإِبهام، ثم يعود إلى اليسرى فيبدأ بخِنْصَرها، ثم بِنْصَرها

--------------------------------------------

(1) «شرح النووي على صحيح مسلم» (3/ 142، 143).

(2) «صحيح مسلم»، كتاب الطهارة، باب السواك (1/ 220)، (حديث: 253).

(3) «دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين» لابن علَّان الصديقي (6/ 661).

(4) انظر: «مرقاة المفاتيح» للقاري (2/ 79).
পঞ্চম: মুখ গহ্বরের (গন্ধ) পরিবর্তনের সময়।(১).

«গবেষক বলেন»: ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) ষষ্ঠ একটি ক্ষেত্র উল্লেখ করতে বাদ দিয়েছেন যা সহীহ দলিলে প্রমাণিত। আর তা হলো: ঘরে প্রবেশের সময়। যেমনটি সহীহ মুসলিমে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণনা হতে প্রমাণিত হয়েছে যে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন কোন কাজ দিয়ে শুরু করতেন? তিনি বললেন: মিসওয়াক দিয়ে»(২).

আমি জানি না কেন ইমাম নববী সহীহ মুসলিমে প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও এই ক্ষেত্রটি উল্লেখ করতে বাদ দিয়েছেন।

আল্লামা ইবনে আল্লান আস-সিদ্দীকি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত উল্লিখিত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: «এতে ঘরে প্রবেশের সময় মিসওয়াক করার মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে; আর তা হলো মানুষের সাথে সাক্ষাতের ফলে অধিক কথাবার্তা বলার কারণে সাধারণত যে (মুখের গন্ধ) সৃষ্টি হয় তা দূর করার জন্য»(৩).

কারো কারো মতে: «সম্ভবত মানুষের সাথে আলাপচারিতার ফলে মুখের গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তাই পরিবারের সাথে সুন্দর আচরণের অংশ হিসেবে তা দূর করা উচিত»(৪).

 

‌‌১৬ — নখ কাটার মুস্তাহাব পদ্ধতি এবং এ সংক্রান্ত পর্যালোচনা বিষয়ে তাঁর বক্তব্য:

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) নখ কাটার পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন: «পায়ের আগে হাত দিয়ে শুরু করা মুস্তাহাব। প্রথমে ডান হাতের শাহাদাত আঙুল (তর্জনী) দিয়ে শুরু করবে, এরপর মধ্যমা, এরপর অনামিকা, এরপর কনিষ্ঠা, এরপর বৃদ্ধাঙ্গুলি। অতঃপর বাম হাতের দিকে ফিরে আসবে এবং এর কনিষ্ঠা দিয়ে শুরু করবে, এরপর অনামিকা...

--------------------------------------------

(১) «শরাহ আন-নববী আলা সহীহ মুসলিম» (৩/ ১৪২, ১৪৩)।

(২) «সহীহ মুসলিম», পবিত্রতা অধ্যায়, মিসওয়াক পরিচ্ছেদ (১/ ২২০), (হাদীস: ২৫৩)।

(৩) ইবনে আল্লান আস-সিদ্দীকি রচিত «দালীলুল ফালিহীন লি-তুরুকি রিয়াদিস সালিহীন» (৬/ ৬৬১)।

(৪) দেখুন: মোল্লা আলী কারী রচিত «মিরকাতুল মাফাতিহ» (২/ ৭৯)।