(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: -)
مناقب الإمام أبي حنيفة وصاحبيه القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: مناقب الإمام أبي حنيفة وصاحبيه
المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (ت 748 هـ)
عني بتحقيقه والتعليق عليه: محمد زاهد الكوثري [ت 1371 هـ]- أبو الوفاء الأفغاني [ت 1395 هـ]
الناشر: لجنة إحياء المعارف النعمانية، حيدر آباد الدكن بالهند
الطبعة: الثالثة، 1408 هـ
عدد الصفحات: 95
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর দুই সাথীর মর্যাদা বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস (তবকাত)
বই: ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর দুই সাথীর মর্যাদা
লেখক: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কাইমাজ আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হি.)
সম্পাদনা ও টীকা প্রদানে: মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারি [মৃত্যু ১৩৭১ হি.]- আবুল ওয়াফা আল-আফগানি [মৃত্যু ১৩৯৫ হি.]
প্রকাশক: লাজনা ইহইয়াইল মা'আরিফ আন-নু'মানিয়া, হায়দ্রাবাদ ডেকান, ভারত
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৮ হি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمْدُ لِلَهُ عَلَى كُلِّ حَالٍ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ أَفْضَلِ الرِّجَالِ.
أَمَّا بَعْدُ فَهَذَا كِتَابٌ فِي أَخْبَارِ فَقِيهِ الْعَصْرِ وَعَالِمِ الْوَقْتِ، أَبِي حَنِيفَةَ، ذِي الرُّتْبَةِ الشَّرِيفَةِ، وَالنَّفْسِ الْعَفِيفَةِ، وَالدَّرَجَةِ الْمُنِيفَةِ: النُّعْمَانِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ زُوطَى مُفْتِي أَهْلِ الْكُوفَةِ، وُلِدَ رضي الله عنه وَأَرْضَاهُ، وَأَنْفَذَ مَا أَوْضَحَهُ مِنَ الدِّينِ الْحَنِيفِيِّ وَأَمْضَاهُ، فِي سَنَةِ ثَمَّانِينَ فِي خِلافَةِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ بِالْكُوفَةِ،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল অবস্থায় আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদের ওপর।
অতঃপর, এটি সমসাময়িক ফকিহ ও যুগের আলেম আবু হানিফার জীবনী সংক্রান্ত একটি কিতাব, যিনি সুমহান মর্যাদা, পবিত্র আত্মা এবং সুউচ্চ স্তরের অধিকারী; তিনি হলেন নুমান ইবনে সাবিত ইবনে জুতা, কুফাবাসীদের মুফতি। আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন। তিনি তাঁর স্পষ্টীকৃত হানিফি দ্বীনকে কার্যকর ও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি আশি হিজরি সনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের খিলাফতকালে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَذَلِكَ فِي حَيَاةِ جَمَاعَةٍ مِنَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم، وَكَانَ مِنَ التَّابِعِينَ لَهُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِإِحْسَانٍ، فَإِنَّهُ صَحَّ أَنَّهُ رَأَى أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ إِذْ قَدِمَهَا أَنَسٌ رضي الله عنه.
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ: حَدَّثَنَا سَيْفُ بْنُ جَابِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا حَنِيفَةَ، يَقُولُ:
«رَأَيْتُ أَنَسًا رضي الله عنه» ، وَقَالَ يَعْقُوبُ بْنُ شَيْبَةَ السَّدُوسِيُّ: أَبُو حَنِيفَةَ مَوْلَى لِبَنِي تَيْمِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ بَكْرِ بْنِ وَائِلٍ
وَقَالَ أَبُو خَازِمٍ عَبْدُ الْحَمِيدِ الْقَاضِي: سَأَلْتُ
এবং এটি ছিল একদল সাহাবীর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) জীবদ্দশায়, আর ইনশাআল্লাহ তিনি ছিলেন উত্তমভাবে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেয়ীগণের অন্তর্ভুক্ত; কেননা এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, তিনি আনাস ইবনে মালিককে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দেখেছিলেন যখন আনাস সেখানে আগমন করেছিলেন।
মুহাম্মাদ ইবনে সাদ বলেন: সাইফ ইবনে জাবির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছেন:
«আমি আনাসকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দেখেছি», এবং ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ আস-সাদুসী বলেন: আবু হানিফা ছিলেন বনু তাইমুল্লাহ ইবনে সা'লাবা ইবনে বকর ইবনে ওয়াইলের মুক্তদাস।
এবং আবু খাজিম আব্দুল হামিদ আল-কাদি বলেন: আমি জিজ্ঞাসা করেছি
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ابْنَ إِسْمَاعِيلَ بْنِ حَمَّادِ بْنِ أَبِي حَنِيفَةَ: لِمَنْ وَلاؤُكُمْ؟ فَقَالَ:
«سَبْيُ ثَابِتٍ أَبُو أَبِي حَنِيفَةَ مِنْ كَابِلٍ، فَاشْتَرَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي تَيْمِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ فَأَعْتَقَتْهُ»
وَقَالَ أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ حَسَنَ الْوَجْهِ وَاللِّحْيَةِ حَسَنَ الثِّيَابِ»وَقَالَ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ زِيَادٍ: «رَأَيْتُ أَبَا حَنِيفَةَ بِالْكُوفَةِ وَعَلَيْهِ
ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফাহর পুত্র (জিজ্ঞেস করলেন): আপনাদের আনুগত্য (ওয়ালা) কাদের প্রতি? তিনি বললেন:
«আবু হানিফাহর পিতা সাবিত কাবুল থেকে আনীত যুদ্ধবন্দী ছিলেন। অতঃপর বনু তায়মুল্লাহ ইবনে সা’লাবাহ গোত্রের এক নারী তাকে ক্রয় করেন এবং পরে তাকে মুক্ত করে দেন।»
আবু নুয়াইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন বলেন: «আবু হানিফাহ
সুন্দর চেহারা ও দাড়ি বিশিষ্ট এবং সুরুচিপূর্ণ পোশাকের অধিকারী ছিলেন।»আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে যিয়াদ বলেন: «আমি কুফায় আবু হানিফাহকে দেখেছি এবং তার পরনে ছিল`
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
طَوِيلَةٌ سَوْدَاءُ»
وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْكُوفِيُّ بِمِصْرَ: سَمِعْتُ أَبِي، يَقُولُ: "
رَأَيْتُ شَيْخًا فِي مَسْجِدِ الْكُوفَةِ يُفْتِي النَّاسَ وَعَلَيْهِ قَلَنْسُوَةٌ طَوِيلَةٌ، فَقُلْتُ مَنْ هَذَا؟ قَالُوا: أَبُو حَنِيفَةَ "
قَالَ قَاضِي مِصْرَ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي الْعَوَّامِ السَّعْدِيُّ فِي كِتَابِ فَضَائِلِ أَبِي حَنِيفَةَ وَهُوَ مُجَلَّدٌ وَاحِدٌ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَهْلٍ التِّرْمِذِيُّ، ثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ غَسَّانَ الْقَاضِي، ثَنَا أَبِي، أَنَا جَدِّي أَبُو غَسَّانَ أَيُّوبُ بْنُ يُوسُفَ، سَمِعَ النَّضْرَ بْنَ مُحَمَّدٍ، يَقُولُ: " كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ جَمِيلَ الْوَجْهِ، سَرِيَّ الثَّوْبِ عَطِرًا، وَلَقَدْ أَتَيْتُهُ فِي حَاجَةٍ، فَصَلَّيْتُ مَعَهُ الصُّبْحَ وَعَلَيَّ كِسَاءٌ قُومِسِيٌّ، فَأَمَرَ بِإِسْرَاجِ بَغْلَهُ، وَقَالَ: أَعْطِنِي كِسَاءَكَ لأَرْكَبَ فِي حَاجَتِكَ وَهَذَا كِسَائِي إِلَى أَنْ أَرْجِعَ، فَفَعَلْتُ، فَلَمَّا رَجِعَ، قَالَ: يَا نَضْرُ أَخْجَلْتَنِي بِكِسَائِكَ، قُلْتُ: وَمَا أَنْكَرْتَ مِنْهُ؟ قَالَ: هُوَ غَلِيظٌ، قَالَ النَّضْرُ: وَكُنْتُ اشْتَرَيْتُهُ بِخَمْسَةِ دَنَانِيرَ وَأَنَا بِهِ مُعْجَبٌ، ثُمَّ رَأَيْتُهُ بَعْدَ هَذَا وَعَلَيْهِ كِسَاءٌ قُومِسِيٌّ قَوَّمْتُهُ بِثَلاثِينَ دِينَارًا "
مِنْ أَخْلاقِهِ وَوَرَعِهِ
رَوَى الْحَسَنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُجَالِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ
দীর্ঘ কালো।
এবং মিশরে আলী ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুগিরা আল-কুফি বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: "
আমি কুফার মসজিদে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখলাম যিনি মানুষকে ফাতাওয়া দিচ্ছিলেন এবং তাঁর মাথায় একটি দীর্ঘ টুপি ছিল। আমি বললাম, ইনি কে? তাঁরা বলল: আবু হানিফা।"
মিশরের বিচারক আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস ইবনে আবুল আওয়াম আস-সাদি 'ফাযায়িলে আবু হানিফা' নামক কিতাবে (যা এক খণ্ডে সমাপ্ত) বলেছেন: আমার নিকট ইবরাহিম ইবনে আহমদ ইবনে সাহল আত-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-কাসিম ইবনে গাসসান আল-কাদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাকে আমার দাদা আবু গাসসান আইয়ুব ইবনে ইউসুফ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি নাদর ইবনে মুহাম্মদকে বলতে শুনেছেন: "
আবু হানিফা সুশ্রী চেহারার অধিকারী ছিলেন, তিনি উন্নত মানের পোশাক পরিধান করতেন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। আমি একবার কোনো এক প্রয়োজনে তাঁর নিকট আসলাম এবং তাঁর সাথে ফজরের সালাত আদায় করলাম। তখন আমার গায়ে একটি কুমিসি চাদর ছিল। তিনি তাঁর খচ্চরের জিন কষার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: তোমার চাদরটি আমাকে দাও যাতে আমি তোমার প্রয়োজনে সওয়ার হতে পারি এবং আমি ফিরে আসা পর্যন্ত এটিই তোমার চাদর। আমি তাই করলাম। অতঃপর তিনি যখন ফিরে আসলেন, তখন বললেন: হে নাদর! তুমি তোমার চাদরের মাধ্যমে আমাকে লজ্জিত করেছ। আমি বললাম: আপনি এতে কী অপছন্দ করলেন? তিনি বললেন: এটি অত্যন্ত মোটা। নাদর বলেন: অথচ আমি এটি পাঁচ দিনার দিয়ে ক্রয় করেছিলাম এবং এটি নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট ছিলাম। এরপর আমি তাঁকে একটি কুমিসি চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখলাম যার মূল্য আমি ত্রিশ দিনার নির্ধারণ করেছিলাম।"
তাঁর চরিত্র ও পরহেজগারী সম্পর্কে
হাসান ইবনে ইসমাইল ইবনে মুজালিদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উপস্থিত ছিলাম...
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الرَّشِيدِ إِذْ دَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو يُوسُفَ، فَقَالَ لَهُ هَارُونُ: صِفْ لِي أَخْلاقَ أَبِي حَنِيفَةَ، قَالَ: " كَانَ وَاللَّهِ
شَدِيدَ الذَّبِّ عَنْ حَرَامِ اللَّهِ، مُجَانِبًا لأَهْلِ الدُّنْيَا، وَطَوِيلَ الصَّمْتِ دَائِمَ الْفِكْرِ، لَمْ يَكُنْ مِهْذَارًا وَلا ثِرْثَارًا، إِنْ سُئِلَ عَنْ مَسْأَلَةٍ عِنْدَهُ مِنْهَا عِلْمٌ أَجَابَ فِيهَا ، مَا عَلِمْتُهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِلا صَائِنًا لِنَفْسِهِ وَدِينِهِ، مُشْتَغِلا بِنَفْسِهِ عَنِ النَّاسِ لا يَذْكُرُ أَحَدًا إِلا بِخَيْرٍ، فَقَالَ الرَّشِيدُ: هَذِهِ أَخْلاقُ الصَّالِحِينَ "
وَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ غَسَّانَ: سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي إِسْرَائِيلَ، يَقُولُ: ذَكَرَ قَوْمٌ أَبَا حَنِيفَةَ عِنْدَ ابْنِ عُيَيْنَةَ فَتَنَقَّصَهُ بَعْضُهُمْ، فَقَالَ سُفْيَانُ: «مَهْ! كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ أَكْثَرَ النَّاسِ صَلاةً، وَأَعْظَمَهُمْ أَمَانَةً، وَأَحْسَنَهُمْ مُرُوءَةً»وَرُوِيَ عَنْ شُرَيْكٍ، قَالَ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ طَوِيلَ الصَّمْتِ دَائِمَ الْفِكْرِ، كَبِيرَ الْعَقْلِ، قَلِيلَ الْمُحَادَثَةِ لِلنَّاسِ»وَقَالَ الْحَسَنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُجَالِدٍ، سَمِعْتُ وَكِيعًا، يَقُولُ: قَالَ
রশিদ যখন আবু ইউসুফ তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তখন হারুন তাঁকে বললেন: আমার কাছে আবু হানিফার চরিত্র বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন
আল্লাহর হারামকৃত বিষয়গুলো থেকে কঠোরভাবে আত্মরক্ষাকারী, দুনিয়াদারদের থেকে বিমুখ, দীর্ঘ নীরবতা পালনকারী এবং সর্বদা চিন্তাশীল। তিনি বাচাল বা অনর্থক কথা বলা ব্যক্তি ছিলেন না। যদি তাঁর কাছে এমন কোনো মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হতো যে বিষয়ে তাঁর জ্ঞান রয়েছে, তবে তিনি তার উত্তর দিতেন। হে আমিরুল মুমিনিন, আমি তাঁকে নিজের নফস ও দ্বীন হেফাযতকারী এবং মানুষের চর্চা ছেড়ে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা ছাড়া আর কোনো অবস্থায় জানি না; তিনি কল্যাণ ব্যতীত কাউকে স্মরণ করতেন না। তখন রশিদ বললেন: এগুলো তো নেককারদের চরিত্র।"
কাসিম বিন গাসসান বলেন: আমি ইসহাক বিন আবি ইসরাঈলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: একদল লোক ইবনে উয়াইনার নিকট আবু হানিফার কথা আলোচনা করল এবং তাদের কেউ কেউ তাঁর সমালোচনা করল। তখন সুফিয়ান বললেন: "থামো!
আবু হানিফা ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নামাজ আদায়কারী, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আমানতদার এবং পৌরুষত্বে বা আত্মমর্যাদায় তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।"শুরাইক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
"আবু হানিফা দীর্ঘ নীরবতা পালনকারী, সর্বদা চিন্তাশীল, প্রখর বুদ্ধিমান এবং মানুষের সাথে অল্প কথা বলা ব্যক্তি ছিলেন।"হাসান বিন ইসমাইল বিন মুজালিদ বলেন: আমি ওয়াকি'কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الْحَسَنُ بْنُ صَالِحِ بْنِ حُيَيٍّ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ شَدِيدَ الْخَوْفِ لِلَّهِ، هَائِبًا لِلْحَرَامِ أَنْ يَسْتَحِلَّ»وَعَنْ بِشْرِ بْنِ يَحْيَى، سَمِعْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ، يَقُولُ:
«مَا رَأَيْتُ رَجُلًا أَوْقَرَ فِي مَجْلِسِهِ، وَلا أَحْسَنَ سَمْتًا وَحِلْمًا مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ، وَلَقَدْ كُنَّا عِنْدَهُ فِي الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ، فَوَقَعَتْ حَيَّةٌ مِنَ السَّقْفِ فِي حِجْرِهِ، فَمَا زَادَ عَلَى أَنْ نَفَضَ حِجْرَهُ، فَأَلْقَاهَا وَمَا مِنَّا أَحَدٌ إِلا هَرَبَ»
وَعَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ حَمَّادِ بْنِ أَبِي حَنِيفَةَ، قَالَ:
«لَمَّا حَذِقَ أَبِي حَمَّادٌ قِرَاءَةَ الْفَاتِحَةِ، أَعْطَى أَبُو حَنِيفَةَ الْمُعَلِّمَ خَمْسِ مِائَةِ دَرْهَمٍ» ، وَقَدْ وَرَدَ فِي كَرَمِ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَفْضَالِهِ أَخْبَارٌ عَدِيدَةٌ
وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، ثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ رَجَاءٍ، قَالَ:
«جَعَلَ أَبُو حَنِيفَةَ عَلَى نَفْسِهِ إِنْ حَلَفَ بِاللَّهِ صَادِقًا فِي عَرَضِ حَدِيثِهِ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِدِينَارٍ، فَكَانَ إِذَا حَلَفَ تَصَدَّقَ بِدِينَارٍ، وَكَانَ إِذَا أَنْفَقَ عَلَى عِيَالِهِ نَفَقَةً تَصَدَّقَ بِمِثْلِهَا»
وَقَالَ أَبُو بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ:
«لَقِيَ أَبُو حَنِيفَةَ مِنَ النَّاسِ عَتَبًا لِقِلَّةِ مُخَالَطَتِهِ النَّاسَ، فَكَانُوا يَرَوْنَهُ مِنْ زَهْوٍ فِيهِ، وَإِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ مِنْهُ غَرِيزَةٌ فِيهِ»
وَقَالَ جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ: سَمِعْتُ قَيْسَ بْنِ الرَّبِيعِ، يَقُولُ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ وَرِعًا تَقِيًّا، مُفَضَّلا عَلَى إِخْوَانِهِ»وَقَالَ لُوَيْنٌ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ جَابِرٍ، يَقُولُ: «كَانَ أَبُو حَنِيفَةَ قَلِيلَ
আল-হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাইয়্যি বলেন: «
আবু হানিফা আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত ভীত ছিলেন এবং হারামকে হালাল সাব্যস্ত করাকে অত্যন্ত ভয় পেতেন।»
বিশর ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: «
আমি নিজের মজলিসে আবু হানিফার চেয়ে অধিক গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং সুন্দর আচরণ ও ধৈর্যশীল আর কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি। একদা আমরা জামে মসজিদে তাঁর নিকট বসা ছিলাম, তখন ছাদ থেকে একটি সাপ তাঁর কোলে পড়ল। তিনি তাঁর কোল ঝেড়ে সাপটিকে ফেলে দেয়া ছাড়া আর অতিরিক্ত কিছুই করলেন না, অথচ আমাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যে পালিয়ে যায়নি।»
ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «
যখন আমার পিতা হাম্মাদ সূরা ফাতিহা পাঠে পারদর্শিতা অর্জন করলেন, তখন আবু হানিফা শিক্ষককে পাঁচশত দিরহাম প্রদান করলেন।» আবু হানিফার দানশীলতা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অনেক সংবাদ বর্ণিত হয়েছে।
ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারী বলেন, আল-মুসান্না ইবনে রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «
আবু হানিফা নিজের ওপর এটি আবশ্যক করে নিয়েছিলেন যে, যদি তিনি কথার প্রসঙ্গে আল্লাহর নামে সত্য শপথও করেন, তবে তিনি এক দিনার সদকা করবেন। ফলে তিনি যখনই শপথ করতেন, তখনই এক দিনার সদকা করতেন। আর তিনি যখন তাঁর পরিবারের জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করতেন, তখন তার সমপরিমাণ সদকাও করতেন।»
আবু বকর ইবনে আইয়াশ বলেন: «
মানুষের সাথে মেলামেশা কম করার কারণে আবু হানিফাকে লোকজনের তিরস্কার সহ্য করতে হতো। তারা মনে করত এটি তাঁর অহংকারবশত ছিল, অথচ এটি ছিল তাঁর একটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।»
জুবারা ইবনুল মুগাল্লিস বলেন: আমি কায়স ইবনুর রাবিকে বলতে শুনেছি: «
আবু হানিফা ছিলেন অত্যন্ত পরহেযগার ও খোদাভীরু এবং তাঁর ভাইদের প্রতি অতিশয় অনুগ্রহশীল।»
লুয়াইন বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে জাবিরকে বলতে শুনেছি: «আবু হানিফা ছিলেন স্বল্প...
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الْكَلامِ إِلا بِمَا يُسْأَلُ عَنْهُ، قَلِيلَ الضَّحِكِ كَثِيرَ الْفِكْرِ، دَائِمَ الْقُطُوبِ كَأَنَّهُ حَدِيثُ عَهْدٍ بِمُصِيبَةٍ»
وَقَالَ زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، سَمِعْتُ الْخُرَيْبِيَّ، يَقُولُ: كُنَّا عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: إِنِّي وَضَعْتُ كِتَابًا عَلَى خَطِّكَ إِلَى فُلانٍ، فَوَهَبَ لِي أَرْبَعَةَ آلافِ دِرْهَمٍ، فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ:
«إِنْ كُنْتُمْ تَنْتَفِعُونَ بِهَذَا فَافْعَلُوا» .رَوَاهَا الطَّحَاوِيُّ، عَنْ أَبِي خَازِمٍ الْقَاضِي عَنْهُشُيُوخُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَصْحَابُهُ تَفَقَّهَ بِحَمَّادِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ صَاحِبِ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ وَبِغَيْرِهِ، وَقَالَ: اخْتَلَفْتُ إِلَى حَمَّادٍ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى عَنْهُ، قَالَ: صَحِبْتُهُ عَشْرَةَ أَعْوَامٍ أَحْفَظُ قَوْلَهُ وَأَسْمَعُ مَسَائِلَهُ، وَسَمِعَ الْحَدِيثَ مِنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ بِمَكَّةَ، وَقَالَ: مَا رَأَيْتُ أَفْضَلَ مِنْ عَطَاءٍ، وَسَمِعَ مِنْ عَطَيَّةَ الْكُوفِيِّ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ الأَعْرَجِ، وَعِكْرِمَةَ، وَنَافِعٍ، وَعَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، وَعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، وَسَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، وَقَتَادَةَ بْنِ دَعَامَةَ، وَأَبِي الزُّبَيْرِ، وَمَنْصُورٍ، وَأَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، وَعَدَدٍ كَثِيرٍ مِنَ التَّابِعِينَ.
تَفَقَّهَ بِهِ جَمَاعَةٌ مِنَ الْكِبَارِ مِنْهُمْ: زُفَرُ بْنُ الْهُذَيْلِ، وَأَبُو يُوسُفَ
জিজ্ঞাসিত বিষয় ছাড়া কথা বলতেন না, কম হাসতেন, চিন্তা-গবেষণায় বেশি মগ্ন থাকতেন, সর্বদাই গম্ভীর থাকতেন—যেন তিনি সদ্যই কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন।
যায়েদ বিন আখযাম বলেন, আমি আল-খুরাইবীকে বলতে শুনেছি: আমরা আবু হানিফার নিকট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: আমি আপনার হস্তাক্ষর অনুকরণ করে অমুক ব্যক্তির নিকট একটি পত্র লিখেছিলাম, ফলে সে আমাকে চার হাজার দিরহাম দান করেছে। আবু হানিফা বললেন:
«যদি তোমরা এর মাধ্যমে উপকৃত হও, তবে তা করো»।এটি ইমাম ত্বহাবী আবু খাযিম আল-কাযী থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।আবু হানিফার শিক্ষকগণ ও তাঁর সাথীবৃন্দ। তিনি ইব্রাহিম আন-নাখায়ীর শিষ্য হাম্মাদ বিন আবু সুলাইমান এবং অন্যদের কাছে ফিকহ শিক্ষা করেছেন। তিনি বলেন: আমি পনেরো বছর হাম্মাদের কাছে যাতায়াত করেছি। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন: আমি দশ বছর তাঁর সাহচর্যে ছিলাম, তাঁর কথা মুখস্থ করতাম এবং তাঁর মাসআলাগুলো শুনতাম। তিনি মক্কায় আতা বিন আবি রাবাহ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং বলেছেন: আমি আতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি। তিনি আতিয়্যাহ আল-কূফী, আব্দুর রহমান বিন হুরমুয আল-আ’রাজ, ইকরিমাহ, নাফে’, আদী বিন সাবিত, আমর বিন দীনার, সালামাহ বিন কুহাইল, কাতাদাহ বিন দা’আমাহ, আবু যুবাইর, মানসুর, আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন এবং বহু সংখ্যক তাবেঈ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
একদল বড় মাপের ব্যক্তিত্ব তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: যুফার বিন আল-হুযাইল এবং আবু ইউসুফ।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
الْقَاضِي، وَابْنُهُ حَمَّادُ بْنُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَنُوحُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ الْمَعْرُوفُ بِنُوحٍ الْجَامِعِ، وَأَبُو مُطِيعٍ الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَلْخِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ زِيَادٍ اللُّؤْلُئُيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ، وَأَسَدُ بْنُ عَمْرٍو الْقَاضِي، وَرَوَى عَنْهُ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ وَالْفُقَهَاءِ عِدَّةٌ لا يُحْصَوْنَ فَمِنْ أَقْرَانِهِ: مُغِيرَةُ بْنُ مُقْسِمٍ، وَزَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، وَمِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَمَالَكُ بْنُ مِغْوَلٍ، وَيُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، وَمِمَّنْ بَعْدَهُمْ: زَائِدَةُ، وَشُرَيْكٌ، وَالْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، وَعِيسَى بْنُ يُونُسَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، وَحَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، وَجَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ، وَوَكِيعٌ، وَالْمُحَارِبِيُّ، وَأَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، وِإِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، وَالْمُعَافَى بْنُ عِمْرَانَ، وَزَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، وَسَعْدُ بْنُ الصَّلْتِ، وَمَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَأَبُو عَاصِمٍ النَّبِيلُ، وَعَبْدُ الرَّازَّقِ بْنُ هَمَّامٍ، وَحَفْصُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، وَأَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، وَأَبُو نُعَيْمٍ، وَهَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، وَأَبُو أُسَامَةَ، وَأَبُو يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، وَابْنُ نُمَيْرٍ، وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، وَخَلائِقٌ عِبَادَةُ أَبِي حَنِيفَةَ قَدْ تَوَاتَرَ قِيَامُهُ اللَّيْلَ وَتَهَجُّدُهُ وَتَعَبُّدُهُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى.
قَالَ
আল-কাজী, তাঁর পুত্র হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা, নুহ ইবনে আবি মারইয়াম—যিনি নুহ আল-জামি নামে পরিচিত, আবু মুতি আল-হাকাম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বালখি, আল-হাসান ইবনে জিয়াদ আল-লু'লুয়ি, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, এবং আসাদ ইবনে আমর আল-কাজী। তাঁর নিকট থেকে অসংখ্য মুহাদ্দিস ও ফকিহ বর্ণনা করেছেন। তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে ছিলেন: মুগিরা ইবনে মিকসাম, জাকারিয়া ইবনে আবি জাইদাহ, মিসআর ইবনে কিদাম, সুফিয়ান আস-সাওরি, মালিক ইবনে মিগওয়াল এবং ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক। তাঁদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন: জাইদাহ, শারিক, আল-হাসান ইবনে সালিহ, আবু বকর ইবনে আইয়াশ, ঈসা ইবনে ইউনুস, আলি ইবনে মুশহির, হাফস ইবনে গিয়াস, জারির ইবনে আব্দুল হামিদ, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আবু মুয়াবিয়া, ওয়াকি, আল-মুহারিবি, আবু ইসহাক আল-ফাযারি, ইয়াজিদ ইবনে হারুন, ইসহাক ইবনে ইউসুফ আল-আজরাক, আল-মুয়াফা ইবনে ইমরান, জাইদ ইবনুল হুবাব, সাদ ইবনুল সালত, মাক্কি ইবনে ইব্রাহিম, আবু আসিম আন-নাবিল, আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম, হাফস ইবনে আব্দুর রহমান আস-সুলামি, উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা, আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারি, আবু নুআইম, হাওজাহ ইবনে খলিফা, আবু উসামা, আবু ইয়াহইয়া আল-হিমমানি, ইবনে নুমাইর, জাফর ইবনে আওন, ইসহাক ইবনে সুলাইমান আর-রাজি এবং অগণিত মানুষ। ইমাম আবু হানিফার ইবাদত-বন্দেগি, তাঁর রাত্রি জাগরণ এবং তাঁর তাহাজ্জুদ গুজারির বিষয়গুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে (তাওয়াতুর সূত্রে) প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
তিনি বললেন
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
يَعْقُوبُ بْنُ شَيْبَةَ: حَدَّثَنِي بَكْرٌ، سَمِعْتُ أَبَا عَاصِمٍ النَّبِيلُ، يَقُولُ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ يُسَمَّى الْوَتَدُ لِكَثْرَةِ صَلاتِهِ»وَقَالَ حُرَيْثُ بْنُ أَبِي الْوَرْقَاءِ، سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ إِسْحَاقَ السَّمَرْقَنْدِيَّ، سَمِعْتُ أَبَا يُوسُفَ، يَقُولُ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ يَخْتِمُ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ فِي رَكْعَةٍ»هَذِهِ حِكَايَةٌ غَرِيبَةٌ، وَالْمَحْفُوظُ مَا
رَوَاهُ بِشْرُ بْنُ الْوَلِيدِ الْكِنْدِيُّ، عَنْ أَبِي يُوسُفَ، قَالَ: " كُنْتُ
أَمْشِي مَعَ أَبِي حَنِيفَةَ إِذْ سَمِعْتُ رَجُلًا، يَقُولُ لآخَرَ: هَذَا أَبُو حَنِيفَةَ لا يَنَامُ اللَّيْلَ، فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: وَاللَّهِ لا يَتَحَدَّثُ عَنِّي مَا لا أَفْعَلُ! فَكَانَ يُحْيِي اللَّيْلَ صَلاةً وَدُعَاءً وَتَضَرُّعًا "
وَرَوَى حِبَّانُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ حَكَّامِ بْنِ سَلْمٍ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ: «كُنَّا نَخْتَلِفُ إِلَى عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، فَكَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ يُصَلِّي الْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ بِطُهْرٍ وَاحِدٍ»وَرَوَى يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ:
«صَحِبْتُ أَبَا حَنِيفَةَ سِتَّةَ أَشْهُرٍ، فَمَا رَأَيْتُهُ صَلَّى الْغَدَاةَ إِلا بِوُضُوءِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ، وَكَانَ يَخْتِمُ الْقُرْآنَ كُلَّ لَيْلَةٍ عِنْدَ السَّحَرِ»
وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ: ثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ رَجَاءٍ، عَنْ أُمِّ حُمَيْدٍ حَاضِنَةِ وَلَدِ أَبِي حَنِيفَةَ، قَالَتْ: قَالَتْ أُمُّ وَلَدِ أَبِي حَنِيفَةَ:
«مَا تَوَسَّطَ أَبُو حَنِيفَةَ فِرَاشًا بِلَيْلٍ مُنْذُ عَرِفْتُهُ، وَإِنَّمَا كَانَ نَوْمُهُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فِي الصَّيْفِ وَبِاللَّيْلِ فِي مَسْجِدِهِ أَوَّلَ اللَّيْلِ فِي الشِّتَاءِ»
وَعَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئِ، قَالَ:
«لَوْ رَأَيْتَ أَبَا حَنِيفَةَ يُصَلِّي، عَلِمْتَ أَنَّ الصَّلاةَ مِنْ هَمِّهِ»
ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেন: বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আবু আসিম আন-নাবীলকে বলতে শুনেছি: "তিনি ছিলেন—
আবু হানিফাকে তাঁর অধিক সালাত আদায়ের কারণে 'খুঁটি' বলা হতো।"হুরাইত ইবনে আবিল ওয়ারকা বলেন, আমি আলী ইবনে ইসহাক আস-সামারকান্দিকে বলতে শুনেছি, আমি আবু ইউসুফকে বলতে শুনেছি: "তিনি ছিলেন—
আবু হানিফা প্রতি রাতে এক রাকাতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম করতেন।"এটি একটি বিরল বর্ণনা, আর সংরক্ষিত বর্ণনা হলো সেটি যা
বিশর ইবনুল ওয়ালীদ আল-কিন্দি আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি
আবু হানিফার সাথে হাঁটছিলাম, এমতাবস্থায় আমি এক ব্যক্তিকে অন্য একজনের উদ্দেশ্যে বলতে শুনলাম: এই আবু হানিফা রাতে ঘুমান না। তখন আবু হানিফা বললেন: আল্লাহর কসম! আমার সম্পর্কে এমন কিছু বলা হবে না যা আমি করি না। অতঃপর তিনি সালাত, দুআ ও বিনয়-নম্রতার মাধ্যমে রাত জাগ্রত থাকতেন।"
হিব্বান ইবনে বিশর হাক্কাম ইবনে সালম থেকে এবং তিনি আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা আমর ইবনে মুররার নিকট যাতায়াত করতাম, এমতাবস্থায়
আবু হানিফা এশা ও ফজরের সালাত একই পবিত্রতায় (অজু) আদায় করতেন।"ইয়াহইয়া আল-হিমমানি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
"আমি ছয় মাস আবু হানিফার সান্নিধ্যে ছিলাম, আমি তাকে এশার অজুর মাধ্যমেই ফজরের সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি কুরআন খতম করতেন প্রতি রাতে সাহরির সময়।"
ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারি বলেন: মুসান্না ইবনে রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উম্মে হুমাইদ থেকে, যিনি আবু হানিফার সন্তানের লালন-পালনকারিণী ছিলেন। তিনি বলেন, আবু হানিফার সন্তানের জননী বলেছেন:
"আমি তাকে চেনার পর থেকে আবু হানিফা রাতে কখনও বিছানায় আরাম করে শয়ন করেননি। তাঁর ঘুম ছিল কেবল গ্রীষ্মকালে জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে এবং রাতে শীতকালে রাতের প্রথম ভাগে তাঁর মসজিদে।"
আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"যদি আপনি আবু হানিফাকে সালাত আদায় করতে দেখতেন, তবে বুঝতে পারতেন যে সালাতই ছিল তাঁর প্রধান চিন্তার বিষয়।"
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَقَالَ جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ: سَمِعْتُ الْحُسَيْنَ الْجُعْفِيَّ، وَسَأَلَهُ رَجُلٌ: أَكَانَ أَبُو حَنِيفَةَ يُؤْمِنُ بِالْبَعْثِ؟ فَقَالَ: أَخْبَرَنِي مَنْ شَهِدَهُ وَهُوَ "
يُرَدِّدُ هَذِهِ الآيَةَ {فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ} [الطور: 27] وَهُوَ يَبْكِي، وَيَقُولُ: اللَّهُمَّ مُنَّ عَلَيْنَا وَقِنَا عَذَابَ السَّمُومِ يَا رَحِيمُ "
وَعَنْ سَلْمِ بْنِ سَالِمٍ الْبَلْخِيِّ، عَنْ أَبِي الْجُوَيْرِيَّةِ، قَالَ:
«صَحِبْتُ أَبَا حَنِيفَةَ سِتَّةَ أَشْهُرٍ، فَمَا رَأَيْتُهُ لَيْلَةً وَاحِدَةً وَضَعَ جَنْبَهُ»وَقَالَ ابْنُ أَبِي الْعَوَّامِ الْقَاضِي فِي فَضَائِلِ أَبِي حَنِيفَةَ: ثَنَا الطَّحَاوِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي عِمْرَانَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، قَالَ:
«رُبَّمَا قَرَأْتُ فِي رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ حِزْبَيْنِ مِنَ الْقُرْآنِ»قَالَ عَلِيُّ بْنُ حَفْصٍ الْبَزَّازُ: سَمِعْتُ حَفْصَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، سَمِعْتُ مِسْعَرًا، يَقُولُ: "
دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ، فَرَأَيْتُ رَجُلا يُصَلِّي فَاسْتَحْلَيْتُ قِرَاءَتَهُ، فَوَقَفْتُ حَتَّى قَرَأَ سَبْعًا، فَقُلْتُ: يَرْكَعُ، ثُمَّ بَلَغَ الثُّلُثَ، فَقُلْتُ: يَرْكَعُ، ثُمَّ بَلَغَ النِّصْفَ، فَلَمْ يَزَلْ عَلَى حَالِهِ حَتَّى خَتَمَ الْقُرْآنَ فِي رَكْعَةٍ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا هُوَ أَبُو حَنِيفَةَ "
قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ رُسْتُمَ الْمَرْوَزِيُّ: سَمِعْتُ خَارِجَةَ بْنَ مُصْعَبٍ، يَقُولُ: "
خَتَمَ الْقُرْآنَ فِي رَكْعَةٍ أَرْبَعَةٌ مِنَ الأَئِمَّةِ: عُثُمَّانُ بْنُ عَفَّانَ، وَتَمِيمٌ الدَّارِيُّ، وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، وَأَبُو حَنِيفَةَ رضي الله عنهم "
জুবাহ ইবনুল মুগাল্লিস বলেন: আমি হুসাইন আল-জুফিকে বলতে শুনেছি—তাঁকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আবু হানিফা কি পুনরুত্থানে বিশ্বাস করতেন? তিনি বললেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি তাকে দেখেছেন যে, তিনি "
এই আয়াতটি বারবার তিলাওয়াত করছিলেন: {অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করেছেন} [আত-তুর: ২৭] এবং তিনি কাঁদছিলেন ও বলছিলেন: হে আল্লাহ, আপনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন এবং আগুনের আজাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন, হে দয়াময়।"
সালম ইবনে সালিম আল-বালখি হতে বর্ণিত, তিনি আবুল জুওয়াইরিয়া হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«আমি ছয় মাস আবু হানিফার সাহচর্যে ছিলাম, আমি তাঁকে একটি রাতের জন্যও (বিছানায়) পার্শ্বদেশ রাখতে দেখিনি»ইবনে আবিল আওয়াম আল-কাদি 'ফাদায়েলে আবু হানিফা'-তে বলেন: তাহাবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আবি ইমরান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে শুজা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে জিয়াদ হতে বর্ণিত, আবু হানিফা বলেন:
«আমি কখনো কখনো ফজরের দুই রাকাতে কুরআনের দুই হিজব তিলাওয়াত করতাম»আলি ইবনে হাফস আল-বাযযায বলেন: আমি হাফস ইবনে আব্দুর রহমানকে বলতে শুনেছি, তিনি মিসআরকে বলতে শুনেছেন: "
আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং এক ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে দেখলাম। তাঁর তিলাওয়াত আমার কাছে অত্যন্ত সুন্দর লাগল। তাই আমি দাঁড়িয়ে রইলাম যতক্ষণ না তিনি সাত ভাগের এক ভাগ তিলাওয়াত করলেন। আমি ভাবলাম, তিনি এখন রুকু করবেন। এরপর তিনি এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছালেন, আমি ভাবলাম, তিনি এখন রুকু করবেন। এরপর তিনি অর্ধাংশে পৌঁছালেন, কিন্তু তিনি একইভাবে তিলাওয়াত চালিয়ে গেলেন যতক্ষণ না তিনি এক রাকাতে কুরআন খতম করলেন। অতঃপর আমি লক্ষ্য করলাম এবং দেখলাম তিনি ছিলেন আবু হানিফা।"
ইব্রাহিম ইবনে রুস্তম আল-মারওয়াযি বলেন: আমি খারিজা ইবনে মুসআবকে বলতে শুনেছি: "
চারজন ইমাম এক রাকাতে কুরআন খতম করেছেন: উসমান ইবনে আফফান, তামিমে দারি, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন)।"
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَعَنْ يَحْيَى بْنِ نَصْرٍ، قَالَ:
«رُبَّمَا خَتَمَ أَبُو حَنِيفَةَ الْقُرْآنَ فِي رَمَضَانَ سِتِّينَ مَرَّةً»مُحَمَّدُ بْنُ سَمَاعَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مَعْنٍ، " أَنَّ
أَبَا حَنِيفَةَ قَامَ لَيْلَةً يُرَدِّدُ قَوْلَهُ تَعَالَى: {بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ} [القمر: 46] ، وَيَبْكِي وَيَتَضَرَّعُ إِلَى الصَّبَاحِ "
وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْمُصَيْصِيُّ فِي سِيرَةِ أَبِي حَنِيفَةَ: قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مَلِيحِ بْنِ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ: ثَنَا يَزِيدُ بْنُ كُمَيْتٍ، سَمِعْتُ رَجُلا يَقُولُ لأَبِي حَنِيفَةَ: اتَّقِ اللَّهَ! فَانْتَفَضَ وَاصْفَرَّ وَأَطْرَقَ، وَقَالَ:
«جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا، مَا أَحْوَجَ النَّاسَ كُلَّ وَقْتٍ إِلَى مَنْ يَقُولُ لَهُمْ مِثْلَ هَذَا!»
وَقَالَ يَزِيدُ بْنُ كُمَيْتٍ: فَتَحَ غُلامٌ لأَبِي حَنِيفَةَ يَوْمًا رُزْمَةَ خَزٍّ، فَإِذَا الأَخْضَرُ وَالأَحْمَرُ وَالأَصْفَرُ، فَقَالَ الْغُلامُ: نَسْأَلُ اللَّهَ الْجَنَّةَ، فَبَكَى أَبُو حَنِيفَةَ حَتَّى اخْتَلَجَ صِدْغَاهُ وَمِنْكَبَاهُ، وَأَمَرَ بِغَلْقِ الدُّكَّانِ، وَقَامَ مُغَطَّى الرَّأْسِ مُسْرِعًا، فَلَمَّا كَانَ مَنِ الْغَدِ جَلَسْتُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: " يَا أَخِي،
مَا أَجْرَأَنَا يَقُولُ أَحَدُنَا: نَسْأَلُ اللَّهَ الْجَنَّةَ! إِنَّمَا يَسْأَلُ اللَّهَ الْجَنَّةَ مَنْ رَاضَ نَفْسَهُ - يَعْنِي لَهَا -، إِنَّمَا يُرِيدُ مِثْلُنَا أَنْ يَسْأَلَ اللَّهَ الْعَفْوَ "
وَرَوَى الْخَطِيبُ فِي تَارِيخِهِ مِنْ جِهَةِ أَسَدِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ:
«صَلَّى أَبُو حَنِيفَةَ فِيمَا حُفِظَ عَلَيْهِ صَلاةَ الْفَجْرِ بِوُضُوءِ الْعِشَاءِ أَرْبَعِينَ سَنَةً، فَكَانَ عَامَّةَ اللَّيْلِ يَقْرَأُ جَمِيعَ الْقُرْآنِ فِي رَكْعَةٍ، وَكَانَ يُسْمَعُ بُكَاؤُهُ بِاللَّيْلِ حَتَّى
ইয়াহইয়া ইবনে নাসর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«কখনও কখনও আবু হানিফা রমজানে ষাট বার কুরআন খতম করতেন»মুহাম্মদ ইবনে সামাআহ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হাসান থেকে, তিনি কাসেম ইবনে মা'ন থেকে, "নিশ্চয়ই
আবু হানিফা এক রাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার এই বাণীটি বারবার পড়ছিলেন: {বরং কিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময়, আর কিয়ামত অত্যন্ত ভয়াবহ ও তিক্ততর} [আল-কামার: ৪৬] , এবং তিনি সকাল পর্যন্ত কাঁদছিলেন ও কাকুতি-মিনতি করছিলেন।"
মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ ইবনুল মুবারক আল-মুসাইসি 'সিরাতে আবু হানিফা' গ্রন্থে বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মালিহ ইবনে ওকি' ইবনুল জাররাহ বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে কুমাইত, তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: আপনি আল্লাহকে ভয় করুন! এতে তিনি কেঁপে উঠলেন, ফ্যাকাশে হয়ে গেলেন এবং মাথা নিচু করলেন, এরপর বললেন:
«আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, মানুষের প্রতিটি সময়ে এমন কারো কতই না প্রয়োজন যারা তাদের এই ধরণের কথা বলবে!»
ইয়াজিদ ইবনে কুমাইত বলেন: একদিন আবু হানিফার এক ভৃত্য রেশমি কাপড়ের একটি গাঁট খুলল, যাতে ছিল সবুজ, লাল ও হলুদ রঙের কাপড়। তখন ভৃত্যটি বলল: আমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি। এতে আবু হানিফা এতটাই কাঁদলেন যে তার কপালে রগ ও দুই কাঁধ কাঁপতে লাগল। তিনি দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন এবং মাথা ঢেকে দ্রুত প্রস্থান করলেন। পরদিন যখন আমি তাঁর কাছে বসলাম, তিনি বললেন: "হে আমার ভাই,
আমাদের একজন যে বলে ফেলে: আমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাই, এটি আমাদের কত বড় দুঃসাহস! জান্নাত তো কেবল সেই ব্যক্তি চাইবে যে নিজের নফসকে সেটির জন্য অনুগত করেছে—অর্থাৎ সেটার উপযুক্ত করেছে—, আমাদের মতো মানুষের উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।"
খতিব (আল-বাগদাদি) তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে আসাদ ইবনে আমর এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«আবু হানিফা চল্লিশ বছর যাবত ইশার অজু দিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেছেন বলে সংরক্ষিত আছে; তিনি প্রায় সারা রাত এক রাকাআতে পুরো কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং রাতে তাঁর কান্নার আওয়াজ শোনা যেত যতক্ষণ না...»
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يَرْحَمَهُ جِيرَانُهُ، وَحُفِظَ عَلَيْهِ أَنَّهُ خَتَمَ الْقُرْآنَ فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي تُوِفِّيَ فِيهِ سَبْعَةَ آلافِ مَرَّةٍ»
أَخْبَرَنِي بِهَذَا الْمُسْلِمُ بْنُ عَلانَ إِجَازَةً، أَنَا أَبُو الْيَمَنِ الْكِنْدِيُّ، أَنَا أَبُو مَنْصُورٍ الشَّيْبَانِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ، أَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُحْسِنِ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَعْقُوبَ الْكَاغِذِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَارِثِيُّ بِبُخَارَى، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَلْخِيُّ، ثَنَا حَمَدُ بْنُ قُرَيْشٍ، سَمِعْتُ أَسَدَ بْنَ عَمْرٍو فَذَكَرَهُ، وَقَالَ مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ:
«رَأَيْتُ أَبَا حَنِيفَةَ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي رَكْعَةٍ»وَعَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ:
«مَكَثَ أَبُو حَنِيفَةَ مُدَّةً يُصَلِّي الْخَمْسَ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ»وَقَالَ بَعْضُهُمْ: قَالَ حَمَّادُ بْنُ أَبِي حَنِيفَةَ: لَمَّا غَسَلَ الْحَسَنُ بْنُ عِمَارَةَ أَبِي، قَالَ:
«غَفَرَ اللَّهُ لَكَ لَمْ تَفْطِرْ مُنْذُ ثَلاثِينَ سَنَةً، وَلَمْ تَتَوَسَّدْ يَمِينُكَ بِاللَّيْلِ مُنْذُ أَرْبَعِينَ سَنَةً، وَلَقَدْ أَتْعَبْتَ مَنْ بَعْدَكَ، وَفَضَحْتَ الْقُرَّاءَ»
وَقَالَ حَامِدُ بْنُ آدَمَ الْمَرْوَزِيُّ: سَمِعْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ، يَقُولُ:
«مَا رَأَيْتُ أَوْرَعَ مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ، وَقَدْ جُرِّبَ بِالسِّيَاطِ وَالأَمْوَالِ»وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ شَيْبَةَ: ثَنَا جَدِّي، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ حَمَّادِ بْنِ أَبِي حَنِيفَةَ، قَالَ: "
مَرَرْتُ مَعَ أَبِي بِالْكُنَّاسَةِ، فَبَكَى، فَقُلْتُ لَهُ: يَا أَبَتِ مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: يَا بُنَيَّ، فِي هَذَا الْمَوْضِعِ ضَرَبَ ابْنُ هُبَيْرَةَ جَدَّكَ عَشْرَةَ أَيَّامٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ عَشْرَةَ أَسْوَاطٍ عَلَى أَنْ يَلِيَ الْقَضَاءَ، فَلَمْ يَفْعَلْ "
তাঁর প্রতিবেশীরা তাঁর প্রতি রহমত কামনা করতেন; আর তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি যে স্থানে মৃত্যুবরণ করেছেন, সেখানে সাত হাজার বার কুরআন খতম করেছিলেন।
মুসলিম ইবনে আলান ইজাজাত সূত্রে আমাকে এটি সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আল-ইয়ামান আল-কিন্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মানসুর আল-শায়বানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-খাতিব আমাদের জানিয়েছেন, আলি ইবনে আল-মুহসিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কাগজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হারিসি বুখারায় আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-বালখি আমাদের জানিয়েছেন, হামাদ ইবনে কুরাইশ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমি আসাদ ইবনে আমরকে এটি বর্ণনা করতে শুনেছি। আর মিসআর ইবনে কিদাম বলেছেন:
«আমি আবু হানিফাকে এক রাকাআতে পূর্ণ কুরআন পাঠ করতে দেখেছি»ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«আবু হানিফা দীর্ঘকাল যাবত এক অজু দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন»তাঁদের কেউ কেউ বলেন: আবু হানিফার পুত্র হাম্মাদ বলেছেন: হাসান ইবনে আমারা যখন আমার পিতাকে গোসল দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন:
«আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন; আপনি গত ত্রিশ বছর যাবত রোজা ভঙ্গ করেননি এবং গত চল্লিশ বছর যাবত রাতে আপনার ডান হাতকে বালিশ বানাননি (অর্থাৎ ঘুমাননি)। আপনি আপনার পরবর্তীদের ক্লান্ত করে দিয়েছেন এবং কুরআন পাঠকারীদের লজ্জিত করেছেন»হামিদ ইবনে আদম আল-মারওয়াজি বলেছেন: আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি:
«আমি আবু হানিফার চেয়ে বেশি পরহেজগার কাউকে দেখিনি; তাঁকে চাবুক এবং সম্পদ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে»মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে শাইবা বলেছেন: আমার দাদা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আল-হাসান ইবনে আল-মুবারক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
"আমি আমার পিতার সাথে কুন্নাসার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: হে আব্বা! আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন: হে প্রিয় বৎস! এই সেই স্থান যেখানে ইবনে হুবায়রা তোমার দাদাকে একটানা দশ দিন প্রতিদিন দশটি করে চাবুক মেরেছিল যাতে তিনি বিচারকের পদ গ্রহণ করেন, কিন্তু তিনি তা করেননি"
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ: ثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ:
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَحْلَمَ مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ، كُنَّا جُلُوسًا مَعَهُ فِي مَسْجِدِ الْخِيفِ، فَسَأَلَهُ رَجُلٌ عَنْ مَسْأَلَةٍ، فَأَفْتَاهُ، فَقَالَ الرَّجُلُ: قَالَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: «أَخْطَأَ الْحَسَنُ» ، فَجَاءَ رَجُلٌ مُغَطَّى الْوَجْهِ، فَقَالَ: يَا ابْنَ الْفَاعِلَةِ، تَقُولُ أَخْطَأَ الْحَسَنُ! فَهَمَّ النَّاسُ بِهِ، فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ:
«أَقُولُ أَخْطَأَ الْحَسَنُ وَأَصَابَ ابْنُ مَسْعُودٍ»قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مَلِيحِ بْنِ وَكِيَعٍ: نَا يَزِيدُ بْنُ كُمَيْتٍ، سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ وَشَتَمَهُ رَجُلٌ وَاسْتَطَالَ عَلَيْهِ، وَقَالَ لَهُ: يَا كَافِرُ يَا زِنْدِيقُ، فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ:
«غَفَرَ اللَّهُ لَكَ، هُوَ يَعْلَمُ مِنِّي خِلافَ مَا تَقُولُ»قَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ: سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ، يَقُولُ: «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَحْلَمَ مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ»
الْوَاقِدِيُّ: ثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَعْنٍ، قَالَ: أَخَذَ ابْنُ هُبَيْرَةَ أَبَا حَنِيفَةَ، فَأَرَادَهُ عَلَى وِلايَةِ الْقَضَاءِ، فَأَبَى فَحَبَسَهُ، فَقِيلَ لأَبِي حَنِيفَةَ: إِنَّهُ حَلَفَ أَنْ لا يُخْرِجَكَ حَتَّى تَلِيَ لَهُ، وَإِنَّهُ يُرِيدُ بِنَاءً، فَتَوَلَّ لَهُ عَدَّ اللَّبِنِ، فَقَالَ:
«لَوْ سَأَلَنِي أَنْ أَعُدَّ لَهُ أَبْوَابَ الْمَسْجِدِ لَمْ أَفْعَلْ»وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدِ بْنِ شَدَّادٍ: ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الرِّقِّيُّ، قَالَ: "
ضَرَبَ ابْنُ هُبَيْرَةَ أَبَا حَنِيفَةَ عَلَى أَنْ يَلِيَ الْقَضَاءَ، فَأَبَى، فَقَالَ النَّاسُ: اسْتَتَابَهُ ".
وَذُكِرَ أَبُو حَنِيفَةَ عِنْدَ ابْنِ الْمُبَارَكِ، فَقَالَ: مَاذَا يُقَالَ فِي رَجُلٍ عُرِضَتْ عَلَيْهِ الدُّنْيَا وَالأَمْوَالَ، فَنَبَذَهَا، وَضُرِبَ بِالسِّيَاطِ فَصَبَرَ عَلَيْهَا، وَلَمْ يَدْخُلْ فِيمَا كَانَ غَيْرُهُ يَسْتَدْعِيهِ؟ !
আহমদ ইবনে মনসুর আর-রামাদি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আমি আবু হানিফার চেয়ে অধিক ধৈর্যশীল কাউকে দেখিনি, আমরা মাসজিদুল খীফে তাঁর সাথে বসা ছিলাম। এক ব্যক্তি তাঁকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ফতোয়া প্রদান করলেন। তখন লোকটি বলল: হাসান বসরী তো এমন এমন বলেছেন। আবু হানিফা বললেন: "হাসান ভুল করেছেন"। এমতাবস্থায় মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি এসে বলল: ওহে ব্যভিচারিণীর পুত্র! আপনি বলছেন হাসান ভুল করেছেন! উপস্থিত লোকরা তার ওপর চড়াও হতে চাইল। তখন আবু হানিফা বললেন:
"আমি বলছি হাসান ভুল করেছেন এবং ইবনে মাসউদ সঠিক বলেছেন।"মুহাম্মদ ইবনে মালিহ ইবনে ওয়াকি বলেন: আমাদের কাছে ইয়াজিদ ইবনে কুমাইত বর্ণনা করেছেন, আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি—এক ব্যক্তি তাঁকে গালিগালাজ করল এবং তাঁর প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করল। সে তাঁকে বলল: ওহে কাফির, ওহে যিনদীক। আবু হানিফা বললেন:
"আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। আমি যে আপনার মন্তব্যের বিপরীত, তা তিনি (আল্লাহ) অবগত আছেন।"ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাওয়ী বলেন: আমি ইয়াজিদ ইবনে হারুনকে বলতে শুনেছি: "আমি আবু হানিফার চেয়ে অধিক ধৈর্যশীল কাউকে দেখিনি।"
ওয়াকিদী বলেন: আমাদের কাছে কাসিম ইবনে মা’ন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে হুবাইরা আবু হানিফাকে পাকড়াও করলেন এবং তাঁকে বিচারকের পদ গ্রহণের প্রস্তাব দিলেন। তিনি তা অস্বীকার করলে ইবনে হুবাইরা তাঁকে কারারুদ্ধ করেন। আবু হানিফাকে বলা হলো: তিনি (ইবনে হুবাইরা) শপথ করেছেন যে, আপনি তাঁর হয়ে কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি আপনাকে মুক্তি দেবেন না। তিনি একটি ভবন নির্মাণ করতে চাইছেন, সুতরাং আপনি তাঁর জন্য ইটের সংখ্যা গণনার দায়িত্বটি অন্তত গ্রহণ করুন। তখন তিনি (আবু হানিফা) বললেন:
"তিনি যদি আমাকে মসজিদের দরজাগুলো গণনা করতে বলতেন, তবুও আমি তা করতাম না।"আলী ইবনে মাবাদ ইবনে শাদ্দাদ বলেন: আমাদের কাছে উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর আর-রিক্কী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "
ইবনে হুবাইরা আবু হানিফাকে বিচারকের পদ গ্রহণের জন্য প্রহার করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন। তখন লোকরা বলল: তিনি তাঁর তওবা করাতে চেয়েছিলেন (অর্থাৎ মত পরিবর্তন করাতে চেয়েছিলেন)।"
ইবনুল মুবারকের নিকট আবু হানিফার প্রসঙ্গ আলোচিত হলে তিনি বললেন: এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে কী-ই বা বলার থাকতে পারে, যাঁর সামনে দুনিয়া ও অর্থ-সম্পদ পেশ করা হয়েছিল কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন; যাকে চাবুক দিয়ে প্রহার করা হয়েছে অথচ তিনি তাতে ধৈর্য ধারণ করেছেন এবং তিনি এমন কোনো কাজে জড়াননি যার জন্য অন্যরা লালায়িত থাকে?!
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ الثَّلْجِيُّ: حَدَّثَنِي حِبَّانُ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ أَبِي حَنِيفَةَ، قَالَ: قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ حِينَ ضُرِبَ لِيَلِيَ الْقَضَاءَ:
«مَا أَصَابَنِي فِي ضَرْبِي شَيْءٌ أَشَدَّ عَلَيَّ مِنْ غَمِّ وَالِدَتِي، وَكَانَ بِهَا بَرًّا»يَعْقُوَبُ بْنُ شَيْبَةَ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْمُبَارَكِ، نَا بِشْرُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: "
أَشْخَصَ الْمَنْصُورُ أَبَا حَنِيفَةَ، فَأَرَادَهُ عَلَى أَنْ يُوَلِّيَهُ، فَأَبَى فَحَلَفَ عَلَيْهِ لَيَفْعَلَنَّ وَحَلَفَ أَبُو حَنِيفَةَ أَنْ لا يَفْعَلَ، فَقَالَ الرَّبِيعُ الْحَاجِبُ: أَلا تَرَى أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ يَحْلِفُ؟ ! قَالَ: أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى كَفَّارَةِ أَيْمَانِهِ أَقْدَرُ مِنِّي، فَأَبَى أَنْ يَلِيَ، فَأَمَرَ بِهِ إِلَى السِّجْنِ، فَمَاتَ فِيهِ وَدُفِنَ فِي مَقَابِرِ الْخَيْزُرَانِ ".
رَوَاهَا يَعْقُوبُ بْنُ شَيْبَةَ، عَنْ بِشْرٍ، وَرَوَاهَا أَيْضًا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ الزُّهْرِيُّ الْكُوفِيُّ، عَنْ بِشْرٍ، فَزَادَ فِيهَا: فَسُجِنَ، ثُمَّ دَفَعَهُ إِلَى حُمَيْدٍ الطُّوسِيُّ شُرْطِيَّهُ، فَأَرَادَ أَنْ يُؤْذِيَهُ، فَقَالَ: يَا شَيْخُ إِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ يَدْفَعُ إِلَيَّ الرَّجُلَ، وَيَقُولُ لِي: اقْتُلْهُ، أَوِ اقْطَعْهُ، أَوِ اضْرِبْهُ، وَلا عِلْمَ لِي بِقِصَّتِهِ؟ فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: هَلْ يَأْمُرُكَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ بِأَمْرٍ قَدْ وَجَبَ، أَوْ بِأَمْرٍ لَمْ يَجِبْ؟ قَالَ: بَلْ بِمَا قَدْ وَجَبَ، قَالَ: فَإِذَا أَمَرَكَ بِقَتْلٍ وَاجِبٍ، أَوْ ضَرْبٍ مُتَعَيِّنٍ فَبَادِرْ إِلَيْهِ، فَإِنَّكَ مَأْجُورٌ فِي ذَلِكَ.
يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ أَبُو حَنِيفَةَ يُضْرَبُ عَلَى أَنْ يَلِيَ الْقَضَاءَ فَيَأْبَى، وَلَقَدْ سَمِعْتُهُ يَبْكِي، وَقَالَ: أَبْكِي غَمًّا عَلَى وَالِدَتِي! وَعَنْ مُغِيثِ بْنِ بُدَيْلٍ، قَالَ: دَعَا أَبُو جَعْفَرٍ أَبَا حَنِيفَةَ إِلَى الْقَضَاءِ فَامْتَنَعَ، فَقَالَ: أَتَرْغَبُ عَمَّا نَحْنُ فِيهِ؟ فَقَالَ: لا أَصْلُحُ لِلْقَضَاءِ، قَالَ لَهُ: كَذَبْتَ، قَالَ: قَدْ حَكَمَ عَلَيَّ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَنِّي لا أَصْلُحُ، لأَنَّهُ نَسَبَنِي إِلَى الْكَذِبِ، فَإِنْ كُنْتُ كَاذِبًا فَلا أَصْلُحُ، وَإِنْ كُنْتُ صَادِقًا فَقَدْ أَخْبَرْتُكَ أَنِّي لا أَصْلُحُ، فَحَبَسَهُ
মুহাম্মদ ইবনে শুজা আস-সালজি: হিব্বান নামক আবু হানিফার জনৈক সাথী আমাকে বলেছেন যে, আবু হানিফা বিচারকের পদ গ্রহণের জন্য যখন প্রহৃত হচ্ছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন:
“আমার এই প্রহারের ফলে আমার উপর এমন কিছু আপতিত হয়নি যা আমার জননীর দুঃখের চেয়ে আমার কাছে অধিক বেদনাদায়ক ছিল; আর তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত সদাচারী ছিলেন।”ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ্, আবদুল্লাহ ইবনে আল-হাসান ইবনে আল-মুবারক থেকে, বিশর ইবনুল ওয়ালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “
খলিফা আল-মানসুর আবু হানিফাকে উপস্থিত করালেন এবং তাঁকে বিচারকের দায়িত্ব দিতে চাইলেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে খলিফা শপথ করলেন যে তিনি তাঁকে দিয়েই ছাড়বেন, আর আবু হানিফাও শপথ করলেন যে তিনি তা করবেন না। তখন দ্বাররক্ষী রাবি বললেন: আপনি কি আমিরুল মুমিনীনকে শপথ করতে দেখছেন না? তিনি বললেন: আমিরুল মুমিনীন তাঁর শপথের কাফফারা প্রদানে আমার চেয়ে অধিক সামর্থ্যবান। অতঃপর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে খলিফা তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি সেখানেই ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে খায়জুরান কবরস্থানে দাফন করা হয়।”
ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ্ এটি বিশর থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং ইবরাহিম ইবনে আবি ইসহাক আজ-জুহরি আল-কুফিও এটি বিশর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে আরও যোগ করেছেন যে: অতঃপর তাঁকে বন্দি করা হলো, এরপর তাঁকে তাঁর পুলিশ প্রধান হুমাইদ আত-তুসির কাছে হস্তান্তর করা হলো। হুমাইদ তাঁকে কষ্ট দিতে চাইলেন এবং বললেন: হে শায়খ! আমিরুল মুমিনীন আমার কাছে কোনো ব্যক্তিকে সোপর্দ করেন এবং আমাকে বলেন: একে হত্যা করো, অথবা অঙ্গহানি করো, অথবা প্রহার করো; অথচ তার বিষয়টি সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান থাকে না। আবু হানিফা বললেন: আমিরুল মুমিনীন কি আপনাকে এমন কোনো কাজের আদেশ দেন যা ওয়াজিব হয়েছে, নাকি যা ওয়াজিব হয়নি? তিনি বললেন: বরং যা ওয়াজিব হয়েছে। তিনি বললেন: তবে যখন তিনি আপনাকে কোনো ওয়াজিব হত্যা কিংবা সুনির্দিষ্ট কোনো প্রহারের আদেশ দেবেন, তখন তা অবিলম্বে পালন করবেন, কারণ এতে আপনি সওয়াব প্রাপ্ত হবেন।
ইয়াহইয়া আল-হিমানি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু হানিফাকে বিচারকের পদ গ্রহণের জন্য প্রহার করা হতো কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করতেন। আমি তাঁকে কাঁদতে শুনেছি এবং তিনি বলছিলেন: আমি আমার জননীর শোকের আশঙ্কায় কাঁদছি! মুগিস ইবনে বুদাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু জাফর আবু হানিফাকে বিচারকার্যের জন্য তলব করলেন কিন্তু তিনি বিরত থাকলেন। খলিফা বললেন: আপনি কি আমাদের এই দায়িত্বকে অপছন্দ করেন? তিনি বললেন: আমি বিচারকার্য পরিচালনার যোগ্য নই। খলিফা বললেন: আপনি মিথ্যা বলেছেন। আবু হানিফা বললেন: আমিরুল মুমিনীন নিজেই আমার ব্যাপারে ফয়সালা দিয়ে দিয়েছেন যে আমি অযোগ্য। কারণ তিনি আমাকে মিথ্যার সাথে সম্পর্কিত করেছেন। সুতরাং আমি যদি মিথ্যাবাদী হই, তবে আমি বিচারক হওয়ার উপযুক্ত নই; আর যদি আমি সত্যবাদী হই, তবে তো আমি আপনাকে সংবাদ দিয়েইছি যে আমি এর উপযুক্ত নই। অতঃপর খলিফা তাঁকে কারারুদ্ধ করলেন।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إِسْمَاعُيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ
سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ يُونُسَ، يَقُولُ: " رَأَيْتُ
الْمَنْصُورَ يُنَازِلُ أَبَا حَنِيفَةَ فِي أَمْرِ الْقَضَاءِ، فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا أَنَا بِمَأْمُونِ الرِّضَا، فَكَيْفَ أَكُونِ بِمَأْمُونِ الْغَضَبِ؟ فَلا أَصْلُحُ لِذَلِكَ، فَقَالَ: كَذَبْتَ أَنْتَ تَصْلُحُ، قَالَ: وَكَيْفَ يَحِلُّ لَكَ أَنْ تُوَلِّيَ مَنْ يَكْذِبُ "، قَالَ أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ: وَقِيلَ إِنَّهُ وَلِيَ الْقَضَاءَ يَوْمَيْنِ وَلَمْ يَأْتِهِ فِيهِمَا أَحَدٌ، وَقَضَى فِي الْيَوْمِ الثَّالِثِ فِي قَضِيَّةٍ وَاحِدَةٍ، ثُمَّ اشْتَكَى سِتَّةَ أَيَّامٍ ثُمَّ مَاتَ، وَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الصَّيْمَرِيُّ الْفَقِيهُ بِسَنَدٍ لَهُ: لَمْ يَقْبَلْ أَبُو حَنِيفَةَ الْعَهْدَ بِالْقَضَاءِ، فَضُرِبَ مِائَةَ سَوْطٍ وَحُبِسَ، وَمَاتَ فِي السِّجْنِ، كَذَا قَالَ، وَقِيلَ: حُمِلَتْ إِلَيْهِ عَشْرَةُ آلافٍ، فَوُضِعَتْ لَهُ فِي الدَّارِ، فَاغْتَمَّ وَلَمْ يَنْطِقْ وَمَكَثَتْ تِلْكَ الْبَدْرَةُ فِي مَكَانِهَا، فَلَمَّا مَاتَ أَبُو حَنِيفَةَ، حَمَلَهَا وَلَدُهُ حَمَّادٌ إِلَى الَّذِي جَاءَ بِهَا وَهُوَ الْحَسَنُ بْنُ قُحْطُبَةَ، فَقَالَ: هَذِهِ وَدِيعَتُكَ، فَنَظَرَ إِلَيْهِ الْحَسَنُ، وَقَالَ: رَحِمَ اللَّهُ أَبَاكَ! لَقَدْ شَحَّ عَلَى دِينِهِ إِذْ شَحَّتْ بِهِ أَنْفُسُ أَقْوَامٍ.
وَيُرْوَى أَنَّ ابْنَ هُبَيْرَةَ لَمَّا بَلَغَهُ أَنَّ أَبَا حَنِيفَةَ حَلَفَ أَنَّهُ لا يَتَوَلَّى الْقَضَاءَ، فَقَالَ: يُعَارِضُ يَمِينِي بِيَمِينِهِ؟ ! فَأَمَرَ بِهِ فَضُرِبَ عِشْرِينَ سَوْطًا عَلَى رَأْسِهِ، فَقَالَ: اذْكُرْ مَقَامَكَ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ، فَإِنَّهُ أَذَّلُ مِنْ مَقَامِي بَيْنَ يَدَيْكَ، فَلا تَهْدِرْ دَمِي فَإِنِّي، أَقُولُ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، فَأَوْمَأَ إِلَى الجَّلادِ أَمْسِكْ، فَأَصْبَحَ أَبُو حَنِيفَةَ فِي السِّجْنِ وَقَدِ انْتَفَخَ رَأْسُهُ وَوَجْهُهُ مِنَ الضَّرْبِ، قِيلَ غَيْرُ ذَلِكَ "
ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস
আমি রাবি ইবনে ইউনুসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আমি
আল-মানসুরকে বিচারকের পদের বিষয়ে আবু হানিফার সাথে বাকবিতণ্ডা করতে দেখেছি। তখন আবু হানিফা বললেন: আল্লাহর কসম, আমি সন্তুষ্টির অবস্থায় বিশ্বস্ত নই, তবে আমি কীভাবে ক্রোধের অবস্থায় বিশ্বস্ত হতে পারি? সুতরাং আমি এই পদের উপযুক্ত নই। তখন মানসুর বললেন: আপনি মিথ্যা বলেছেন, আপনি অবশ্যই এর উপযুক্ত। আবু হানিফা বললেন: তাহলে আপনার জন্য এমন ব্যক্তিকে বিচারক নিয়োগ করা কীভাবে বৈধ হবে যে কি না মিথ্যা বলে?" আবু বকর আল-খাতিব বলেন: বলা হয়ে থাকে যে তিনি দুই দিন বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কিন্তু সেই দুই দিনে তার কাছে কেউ আসেনি। অতঃপর তিনি তৃতীয় দিনে একটি মামলার ফয়সালা করেন এবং এরপর ছয় দিন অসুস্থ থেকে মৃত্যুবরণ করেন। ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ আস-সাইমারি তার একটি সনদে বলেন: আবু হানিফা বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করতে রাজি হননি, ফলে তাকে একশ চাবুক মারা হয় এবং কারারুদ্ধ করা হয়, আর তিনি কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এমনই বলেছেন। আবার বলা হয়: তার নিকট দশ হাজার (দিরহাম) পাঠানো হয়েছিল এবং তা তার ঘরে রাখা হয়েছিল। এতে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং কোনো কথা বলেননি। সেই দিরহামের থলিটি তার নিজ স্থানেই পড়ে রইল। যখন আবু হানিফা মারা গেলেন, তার পুত্র হাম্মাদ সেটি বহন করে সেই ব্যক্তির কাছে নিয়ে গেলেন যিনি তা এনেছিলেন, আর তিনি ছিলেন আল-হাসান ইবনে কুহতুবাহ। হাম্মাদ বললেন: "এটি আপনার আমানত।" হাসান তার দিকে তাকালেন এবং বললেন: "আল্লাহ আপনার পিতার ওপর রহম করুন! তিনি তার দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত কৃপণ ছিলেন (দ্বীন রক্ষায় আপোসহীন ছিলেন), যেখানে একদল লোক তাদের প্রাণের মায়ায় দ্বীনের ব্যাপারে কৃপণতা করে।"
বর্ণিত আছে যে, ইবনে হুবায়রার কাছে যখন সংবাদ পৌঁছাল যে আবু হানিফা কসম করেছেন তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন না, তখন ইবনে হুবায়রা বললেন: "সে কি আমার কসমের বিরুদ্ধে কসম করে?" অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং আবু হানিফার মাথায় বিশটি চাবুক মারা হলো। তখন আবু হানিফা বললেন: "আল্লাহর হাতের সম্মুখে আপনার দণ্ডায়মান হওয়ার কথা স্মরণ করুন, কারণ সেই দণ্ডায়মান হওয়া হবে আপনার সম্মুখে আমার এই দণ্ডায়মান হওয়ার চেয়েও অধিক লাঞ্ছনাকর। সুতরাং আমার রক্ত প্রবাহিত করবেন না, কেননা আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।" তখন তিনি জল্লাদকে থামার ইশারা করলেন। অতঃপর আবু হানিফা কারাগারে ভোর অতিবাহিত করলেন এমতাবস্থায় যে প্রহারের কারণে তার মাথা ও মুখমণ্ডল ফুলে গিয়েছিল। এ ছাড়া ভিন্ন বর্ণনাও রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ الْعَامِرِيُّ، ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ حَمَّادٍ اللُّؤْلُئِيُّ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ زِيَادٍ اللُّؤْلُئِيُّ، سَمِعْتُ أَبَا يُوسُفَ، يَقُولُ: اجْتَمَعْنَا عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ فِي يَوْمٍ مَطِيرٍ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ مِنْهُمْ: دَاوُدُ الطَّائِيُّ، وَالْقَاسِمُ بْنُ مَعْنٍ، وَعَافِيَةُ بْنُ يَزِيدَ، وَحَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، وَوَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، وَمَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، وَزُفَرُ، فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، وَقَالَ: "
أَنْتَمْ مَسَارُّ قَلْبِي، وَجِلاءُ حُزْنِي، وَأَسْرَجْتُ لَكُمُ الْفِقْهَ وَأَلْجَمْتُهُ، وَقَدْ تَرَكْتُ النَّاسَ يَطَئُونَ أَعْقَابَكُمْ، وَيَلْتَمِسُونَ أَلْفَاظَكُمْ مَا مِنْكُمْ وَاحِدٌ إِلا وَهُوَ يَصْلُحُ لِلْقَضَاءِ، فَسَأَلْتُكُمْ بِاللَّهِ وَبِقَدْرِ مَا وَهَبَ اللَّهُ لَكُمْ مُنْ جَلالَةِ الْعِلْمِ مَا صُنْتُمُوهُ عَنْ ذَلِكَ الاسْتِئْجَارِ، وَإِنْ بُلِيَ أَحَدٌ مِنْكُمْ بِالْقَضَاءِ، فَعَلِمَ مِنْ نَفْسِهِ خَرِبَةً سَتَرَهَا اللَّهُ عَنِ الْعِبَادِ لَمْ يَجُزْ قَضَاؤُهُ، وَلَمْ يَطِبْ لَهُ رِزْقُهُ، فَإِنْ دَفَعَتْهُ ضَرُورَةٌ إِلَى الدُّخُولِ فِيهِ، فَلا يَحْتَجِبَنَّ عَنِ النَّاسِ، وَلْيُصَلِّ الْخَمْسَ فِي مَسْجِدِهِ، وَيُنَادِي عِنْدَ كُلِّ صَلاةٍ: مَنْ لَهُ حَاجَةٌ؟ فَإِذَا صَلَّى الْعِشَاءَ نَادَى ثَلاثَةَ أَصْوَاتٍ: مَنْ لَهُ حَاجَةٌ؟ ثُمَّ دَخَلَ إِلَى مَنْزِلِهِ، فَإِنْ مَرِضَ مَرَضًا لا يَسْتَطِيعُ الْجُلُوسَ مَعَهُ أَسْقَطَ مِنْ رِزْقِهِ بِقَدْرِ مَرَضِهِ، وَأَيَّمَا إِمَامٍ غَلَّ فَيْئًا أَوْ جَارَ فِي حُكْمٍ، بَطُلَتْ إِمَامَتُهُ وَلَمْ يَجُزْ حُكْمُهُ "
عَنِ الْحَسَنِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ،
«إِذَا ارْتَشَى الْقَاضِي فَهُوَ مَعْزُولٌ، وَإِنْ لَمْ يُعْزَلْ»
মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আফফান আল-আমিরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ ইবনে হাম্মাদ আল-লুলুয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে যিয়াদ আল-লুলুয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ইউসুফকে বলতে শুনেছি: আমরা এক বৃষ্টির দিনে ইমাম আবু হানিফার নিকট তাঁর একদল সঙ্গীর সাথে সমবেত হয়েছিলাম, যাদের মধ্যে ছিলেন: দাউদ আত-তাঈ, আল-কাসিম ইবনে মান, আফিয়া ইবনে ইয়াযিদ, হাফস ইবনে গিয়াস, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, মালিক ইবনে মিগওয়াল এবং যুফার। অতঃপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: "
তোমরা আমার হৃদয়ের প্রশান্তি এবং আমার দুঃখ দূরকারী। আমি তোমাদের জন্য ফিকহকে সুসজ্জিত ও সুসংবদ্ধ করেছি এবং একে আয়ত্তাধীন করেছি। আমি মানুষকে তোমাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী হিসেবে রেখে গিয়েছি, যারা তোমাদের প্রতিটি কথা অনুসন্ধান করবে। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব পালনের যোগ্য নয়। অতএব, আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর দোহাই দিয়ে এবং আল্লাহ তোমাদের ইলমের যে মহান মর্যাদা দান করেছেন তার দোহাই দিয়ে বলছি যে, তোমরা যেন এই ইলমকে পার্থিব লাভের বিনিময়ে ব্যবহৃত হওয়া থেকে রক্ষা করো। আর যদি তোমাদের কেউ বিচারকার্যের পরীক্ষার সম্মুখীন হয় এবং সে নিজের মধ্যে এমন কোনো গোপন ত্রুটির কথা জানে যা আল্লাহ বান্দাদের নিকট থেকে গোপন রেখেছেন, তবে তার বিচারকার্য পরিচালনা করা বৈধ হবে না এবং তার উপার্জিত জীবিকাও তার জন্য পবিত্র হবে না। আর যদি কোনো বিশেষ প্রয়োজন তাকে এই কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে, তবে সে যেন নিজেকে জনগণের দৃষ্টি থেকে আড়ালে না রাখে। সে যেন তার মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে এবং প্রতি নামাজের পর ঘোষণা দেয়: ‘কারো কি কোনো প্রয়োজন আছে?’ যখন সে ইশার নামাজ আদায় করবে, তখন তিনবার উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলবে: ‘কারো কি কোনো প্রয়োজন আছে?’ অতঃপর সে তার ঘরে প্রবেশ করবে। আর যদি সে এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে যে মানুষের সাথে বসতে সক্ষম না হয়, তবে তার অসুস্থতার সময়কাল অনুযায়ী সে যেন তার নির্ধারিত জীবিকা (ভাতা) থেকে কর্তন করে। আর যে ইমাম (শাসক বা বিচারক) রাষ্ট্রীয় সম্পদে খেয়ানত করবে কিংবা বিচারে জুলুম করবে, তার ইমামত (নেতৃত্ব) বাতিল হয়ে যাবে এবং তার বিচার কার্যকর হবে না।"
আল-হাসান ইবনে যিয়াদ থেকে বর্ণিত, ইমাম আবু হানিফা বলেন,
“যখন বিচারক ঘুষ গ্রহণ করে, তখন সে বরখাস্ত হয়ে যায়, যদিও তাকে (আনুষ্ঠানিকভাবে) বরখাস্ত করা না হয়।”
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ذِكْرُ مَنْ وَصَفَهُ بِالْفِقْهِ عَنِ الأَعْمَشِ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ مَسْأَلَةٍ، فَقَالَ: «إِنَّمَا يُحْسِنُ هَذِهِ النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ الْخَزَّازُ، وَأَظُنُّهُ بُورِكَ لَهُ فِي عِلْمِهِ»
يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، سَمِعْتُ جَرِيرًا، يَقُولُ: «كَانَ
الأَعْمَشُ إِذَا سُئِلَ عَنِ الدَّقَائِقِ أَرْسَلَهُمْ إِلَى أَبِي حَنِيفَةَ، وَقَدْ قَالَ مُغِيرَةْ لَهُ أَلا تَأْتِي أَبَا حَنِيفَةَ»
يَحْيَى بْنُ أَكْثُمَّ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ: قَالَ لِي مُغِيرَةُ:
«جَالِسْ أَبَا حَنِيفَةَ تَفَقَّهْ، فَإِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَوْ كَانَ حَيًّا لَجَالَسَهُ»شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، قَالَ: «كَانَ
شُعْبَةُ حَسِنَ الرَّأْيِ فِي أَبِي حَنِيفَةَ كَثِيرَ التَّرَحُّمِ عَلَيْهِ»عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، سَمِعْتُ مِسْعَرًا، يَقُولُ:
«رَحِمَ اللَّهُ أَبَا حَنِيفَةَ إِنْ كَانَ لَفَقِيهًا عَالِمًا»حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، سَمِعْتُ زَائِدَةَ بْنَ قُدَامَةَ، يَقُولُ:
«النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ فَقِيهُ الْبَدَنِ لَمْ يَعُدْ مَا أَدْرَكَ عَلَيْهِ أَهْلُ الْكُوفَةِ» .
وَعَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، قَالَ: «كَانَ النُّعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ أَفْقَهَ أَهْلِ زَمَانِهِ»
أَبُو نُعَيْمٍ، سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ صَالِحِ بْنِ حُيَيٍّ، يَقُولُ:
«لَمَّا مَاتَ أَبُو حَنِيفَةَ، ذَهَبَ مُفْتِي الْعِرَاقِ وَفَقِيهُهَا»بِشْرُ الْحَافِي، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ دَاوُدَ الْخُرَيْبِيَّ، يَقُولُ:
«إِذَا أَرَدْتَ الآثَارَ، فَسُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، وَإِذَا أَرَدْتَ تِلْكَ الدَّقَائِقَ فأَبُو حَنِيفَةَ»رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ جُرَيْجٍ، فَقِيلَ لَهُ: مَاتَ أَبُو حَنِيفَةَ، فَقَالَ: «رحمه الله، لَقَدْ
ذَهَبَ مَعَهُ عِلْمٌ كَثِيرٌ»
যারা তাকে ফিকহশাস্ত্রে পারদর্শী বলে অভিহিত করেছেন তাদের উল্লেখ। আ'মাশ থেকে বর্ণিত যে, তাকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: «এটি কেবল নুমান ইবনে সাবিত আল-খাযযাযই ভালো জানেন, আর আমার মনে হয় তার ইলমে বরকত দান করা হয়েছে»
ইউসুফ ইবনে মুসা বলেন, আমি জারীরকে বলতে শুনেছি: «
আ'মাশ যখন সূক্ষ্ম মাসআলাসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতেন, তখন তিনি তাদের আবু হানিফার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। মুগীরাহ তাকে বলেছিলেন: আপনি কি আবু হানিফার কাছে যান না?»
ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম জারীর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুগীরাহ আমাকে বললেন: «
আবু হানিফার মজলিসে বসো এবং ফিকহ অর্জন করো; কেননা ইবরাহীম (নাখয়ী) যদি জীবিত থাকতেন, তবে তিনিও তার সাথে বসতেন»
শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার বলেন: «
শু'বাহ আবু হানিফার ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করতেন এবং প্রায়ই তার জন্য রহমতের দোয়া করতেন»
উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা বলেন, আমি মিস'আরকে বলতে শুনেছি: «
আল্লাহ আবু হানিফার ওপর রহম করুন, নিশ্চয়ই তিনি একজন বিজ্ঞ ফকীহ ও আলেম ছিলেন»
হুসাইন আল-জু'ফী বলেন, আমি যায়িদাহ ইবনে কুদামাহকে বলতে শুনেছি: «
নুমান ইবনে সাবিত একজন স্বভাবজাত ফকীহ ছিলেন; কুফাবাসীদের অর্জিত জ্ঞানের বাইরে তিনি যাননি»।
আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নুমান ইবনে সাবিত তার সময়ের শ্রেষ্ঠ ফকীহ ছিলেন»
আবু নুআয়ম বলেন, আমি আলী ইবনে সালিহ ইবনে হাইয়িকে বলতে শুনেছি: «
যখন আবু হানিফা ইন্তেকাল করলেন, তখন ইরাকের শ্রেষ্ঠ মুফতি ও ফকীহ বিদায় নিলেন»
বিশর আল-হাফী বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে দাউদ আল-খুরাইবীকে বলতে শুনেছি: «
যদি তুমি আসার (রেওয়ায়েত) সন্ধান করো তবে সুফিয়ান সাওরীকে ধরো, আর যদি সূক্ষ্ম মাসআলাসমূহ চাও তবে আবু হানিফাকে ধরো»
রাওহ ইবনে উবাদাহ বলেন: আমি ইবনে জুরাইজের নিকট ছিলাম, তখন তাকে বলা হলো যে আবু হানিফা ইন্তেকাল করেছেন। তিনি বললেন: «আল্লাহ তার ওপর রহম করুন, নিশ্চয়ই
তার সাথে এক বিশাল ইলম বিদায় নিল»
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الْمُثَنَّى بْنُ رَجَاءٍ، سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ أَبِي عَرُوبَةَ، يَقُولُ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ عَالِمَ الْعِرَاقِ» ، قَالَ زَيْدُ بْنُ هَارُونَ: أَفْقَهُ مَنْ رَأَيْتُ أَبُو حَنِيفَةَ، وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ حَكِيمٍ: " مَا رَأَيْتُ أَعْلَمَ مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ فِي زَمَانِهِ.
الْحَلْوَانِيُّ، قُلْتُ لأَبِي عَاصِمٍ النَّبِيلِ: أَبُو حَنِيفَةَ أَفْقَهُ أَوْ سُفْيَانَ؟ فَقَالَ: أَبُو حَنِيفَةَ، عَبْدُ الرَّازِقِ، قَالَ: قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ: إِنْ كَانَ الاحْتِيَاجُ إِلَى الرَّأْيِ فَهُوَ أَسَدُّهُمْ رَأْيًا، وَعَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ: لَوْلا أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَدْرَكَنِي بِأَبِي حَنِيفَةَ وَسُفْيَانَ لَكُنْتُ بِدْعِيًّا "
يَحْيَى بْنُ آدَمَ، سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ صَالِحٍ، يَقُولُ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ فَهِمًا بِعِلْمِهِ مُتَثَبِّتًا فِيهِ، إِذَا صَحَّ عِنْدَهُ الْخَبَرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَعْدُهُ إِلَى غَيْرِهِ»
الْمُزَنِيُّ وَغَيْرُهُ، سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ، يَقُولُ:
«النَّاسُ عِيَالٌ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ فِي الْفِقْهِ»إِسْحَاقُ بْنُ بَهْلُولٍ، سَمِعْتُ ابْنَ عُيَيْنَةَ، يَقُولُ:
«مَا مَقَلَتْ عَيْنِي مِثْلَ أَبِي حَنِيفَةَ»إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَرْوَزِيُّ الْخَلالُ، سَمِعْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ، يَقُولُ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ آيَةً»أَحْمَدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ، يَقُولُ: قِيلَ لِمَالِكٍ: هَلْ رَأَيْتَ
মুসান্না বিন রাজা থেকে বর্ণিত, আমি সাঈদ বিন আবু আরুবাকে বলতে শুনেছি: «ছিলেন
আবু হানিফা ইরাকের আলেম», যায়েদ বিন হারুন বলেন: আমি যতজনকে দেখেছি তাদের মধ্যে আবু হানিফা ছিলেন শ্রেষ্ঠ ফকীহ, এবং শাদ্দাদ বিন হাকিম থেকে বর্ণিত: "আমি তাঁর যুগে আবু হানিফার চেয়ে বড় কোনো আলেম দেখিনি।
হালওয়ানী বলেন, আমি আবু আসিম আন-নাবিলকে বললাম: আবু হানিফা কি বেশি বড় ফকীহ নাকি সুফিয়ান? তিনি বললেন: আবু হানিফা। আব্দুর রাজ্জাক বলেন: ইবনুল মুবারক বলেছেন: যদি গবেষণালব্ধ মতের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভুল মতের অধিকারী। ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যদি আল্লাহ আমাকে আবু হানিফা ও সুফিয়ানের মাধ্যমে রক্ষা না করতেন, তবে আমি বিদআতী হয়ে যেতাম।"
ইয়াহইয়া বিন আদম থেকে বর্ণিত, আমি হাসান বিন সালিহকে বলতে শুনেছি: «ছিলেন
আবু হানিফা তাঁর অর্জিত জ্ঞানে গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন ও তাতে সুদৃঢ়; যখন তাঁর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস বিশুদ্ধ প্রমাণিত হতো, তখন তিনি তা ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হতেন না»
মুযানী ও অন্যান্যরা বলেন, আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি:
«ফিকহ শাস্ত্রে সকল মানুষ আবু হানিফার পরিবারভুক্ত (মুখাপেক্ষী)»ইসহাক বিন বাহলুল থেকে বর্ণিত, আমি ইবনে উয়াইনাকে বলতে শুনেছি:
«আমার চোখ আবু হানিফার ন্যায় দ্বিতীয় কাউকে দেখেনি»ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মারওয়াযী আল-খাল্লাল থেকে বর্ণিত, আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: «ছিলেন
আবু হানিফা এক অনন্য নিদর্শন»আহমদ বিন সাব্বাহ থেকে বর্ণিত, আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি: ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনি কি দেখেছেন...
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أَبَا حَنِيفَةَ؟ قَالَ: «نَعَمْ،
رَأَيْتُ رَجُلًا لَوْ كَلَّمَكَ فِي هَذِهِ السَّارِيَةِ أَنْ يَجْعَلَهَا ذَهَبًا لَقَامَ بِحُجَّتِهِ»أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُغَلِّسٍ: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، سَمِعْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ، يَقُولُ:
«إِنْ كَانَ الأَثَرُ قَدْ عُرِفَ وَاحْتِيجَ إِلَى الرَّأْيِ، فَرَأْيُ مَالِكٍ وَسُفْيَانَ، وَأَبِي حَنِيفَةَ، وَأَبُو حَنِيفَةَ أَحْسَنُهُمْ وَأَدَقُّهُمْ فِطْنَةً وَأَغْوَصُهُمْ عَلَى الْفِقْهِ وَهُوَ أَفْقَهُ الثَّلاثَةِ»
سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّازِقِ، سَمِعْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ، يَقُولُ:
«إِنْ كَانَ أَحَدٌ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَقُولَ بِرَأْيِهِ، فَأَبُو حَنِيفَةَ»
আবু হানিফা? তিনি বললেন: «হ্যাঁ,
আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি যে, তিনি যদি এই স্তম্ভটিকে স্বর্ণে পরিণত করার বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্ক করতেন, তবে তিনি স্বীয় দলীল দ্বারা তা সাব্যস্ত করে দিতেন।»আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুগাল্লিস: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি:
«যদি আছার (বর্ণনা) জানা থাকে এবং রায়ের (ইজতিহাদের) প্রয়োজন হয়, তবে রায় হলো মালিক, সুফিয়ান ও আবু হানিফার; আর আবু হানিফা তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সূক্ষ্মতম প্রজ্ঞার অধিকারী ও ফিকহশাস্ত্রে সবচেয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী, আর তিনি এই তিনজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকীহ।»
সালামা ইবনে শাবীব, আমি আবদুর রাজ্জাককে বলতে শুনেছি, আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি:
«যদি কারো জন্য নিজের রায় প্রদান করা সমীচীন হতো, তবে তিনি আবু হানিফা।»
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَقَالَ حِبَّانُ بْنُ مُوسَى: سُئِلَ ابْنُ الْمُبَارَكِ: "
أَمَالِكٌ أَفْقَهُ أَمْ أَبُو حَنِيفَةَ؟ ، فَقَالَ: أَبُو حَنِيفَةَ "
بِشْرُ الْحَافِي، قَالَ: قَالَ الْخُرَيْبِيُّ:
«مَا يَقَعُ فِي أَبِي حَنِيفَةَ إِلا جَاهِلٌ أَوْ حَاسِدٌ»أَبُو مُسْلِمٍ الْكَجِّيُّ، عَنْ مُحَمِّدِ بْنِ سَعْدٍ الْكَاتِبِ، عَنِ الْخُرَيْبِيِّ، أَنَّهُ قَالَ:
«يَجِبُ عَلَى أَهْلِ الإِسْلامِ أَنْ يَدْعُوا اللَّهَ لأَبِي حَنِيفَةَ فِي صَلاتِهِمْ»وَعَنْ مَكِّيِّ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ أَعْلَمَ أَهْلِ زَمَانِهِ»يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدَ الْقَطَّانِ، يَقُولُ:
«لا نَكْذِبُ اللَّهَ مَا سَمِعْنَا أَحْسَنَ مِنْ رَأْيِ أَبِي حَنِيفَةَ، وَقَدْ أَخَذْنَا بِأَكْثَرِ أَقْوَالِهِ»يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ عَاصِمٍ، يَقُولُ:
«لَوْ وُزِنَ عِلْمُ أَبِي حَنِيفَةَ بِعِلْمِ أَهْلِ زَمَانِهِ لَرَجِحَ»طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ النَّخَعِيُّ، سَمِعْتُ حَفْصَ بْنَ غِيَاثٍ، يَقُولُ:
«كَلامُ أَبِي حَنِيفَةَ أَدَقُّ مِنَ الشَّعْرِ لا يَعِيبُهُ إِلا جَاهِلٌ»الْحُمَيْدِيُّ، سَمِعْتُ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ، يَقُولُ: "
شَيْئَانِ مَا ظَنَنْتُهُمَا أَنْ يَتَجَاوَزَا قَنْطَرَةَ الْكُوفَةِ: قِرَاءَةُ حَمْزَةَ، وَرَأْيُ أَبِي حَنِيفَةَ وَقَدْ بَلَغَا الآفَاقَ "
وَمِنْ قَوْلِهِ فِي الرَّأْيِ
نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، سَمِعْتُ أَبَا عِصْمَةَ وَهُوَ نُوحٌ الْجَامِعُ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ، يَقُولُ: «مَا جَاءَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَلَى الرَّأْسِ
হিব্বান ইবনে মুসা বলেন: ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "
ইমাম মালিক অধিক ফকিহ নাকি আবু হানিফা? তিনি বললেন: আবু হানিফা। "
বিশর আল-হাফী বলেন: খুরাইবী বলেছেন:
«মূর্খ অথবা হিংসুক ছাড়া কেউ আবু হানিফার সমালোচনা করে না»আবু মুসলিম আল-কাজ্জী মুহাম্মাদ ইবনে সাদ আল-কাতিব থেকে, তিনি খুরাইবী থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন:
«ইসলামের অনুসারীদের ওপর আবশ্যক হলো তারা যেন তাদের সালাতে আবু হানিফার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে»মাক্কী ইবনে ইবরাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «
আবু হানিফা ছিলেন তাঁর সময়ের মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম»
ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানকে বলতে শুনেছি:
«আমরা আল্লাহর কাছে মিথ্যা বলব না; আমরা আবু হানিফার মতের চেয়ে সুন্দর কোনো মত শুনিনি এবং আমরা তাঁর অধিকাংশ মত গ্রহণ করেছি»ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব বলেন, আমি আলী ইবনে আসিমকে বলতে শুনেছি:
«যদি আবু হানিফার ইলমকে তাঁর সময়ের মানুষের ইলমের সাথে ওজন করা হতো, তবে তাঁর ইলমই ভারী হতো»তালক ইবনে গান্নাম আন-নাখায়ী বলেন, আমি হাফস ইবনে গিয়াসকে বলতে শুনেছি:
«আবু হানিফার কথা চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম, কেবল মূর্খরাই এতে খুঁত ধরে»আল-হুমাইদী বলেন, আমি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাকে বলতে শুনেছি: "
দুটি বিষয় সম্পর্কে আমি ভাবিনি যে তা কুফার সীমানা অতিক্রম করবে: হামযাহ-র কিরাত এবং আবু হানিফার রায় (ফিকহি মত), অথচ তা দিগন্তময় ছড়িয়ে পড়েছে "
এবং রায়ের (ফিকহি মতামতের) ব্যাপারে তাঁর বক্তব্যসমূহ:
নুআইম ইবনে হাম্মাদ বলেন, আমি আবু ইসমাহ তথা নূহ আল-জামি’কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু এসেছে, তা মাথা পেতে নিচ্ছি (শিরোধার্য)»
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَالْعَيْنِ، وَمَا جَاءَ عَنِ الصَّحَابَةِ اخْتَرْنَا، وَمَا كَانَ مِنْ غَيْرِ ذَلِكَ فَهُمْ رِجَالٌ وَنَحْنُ رِجَالٌ»
جَمَاعَةٌ، قَالُوا: قَالَ ابْنُ مَعِينٍ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ أَبِي قُرَّةَ، سَمِعْتُ
এবং চক্ষু, আর সাহাবীগণ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা আমরা গ্রহণ করেছি, আর যা এর বাইরে থেকে এসেছে তবে তারাও মানুষ আর আমরাও মানুষ।»
একদল লোক, তারা বলেছেন: ইবনে মাঈন বলেছেন: আমি উবাইদ বিন আবি কুররাকে বলতে শুনেছি, আমি শুনেছি
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
يَحْيَى بْنَ الضُّرَيْسِ، يَقُولُ: شَهِدْتُ الثَّوْرِيَّ وَأَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: مَا تَنْقِمُ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ: قَالَ: وَمَالَهُ؟ قَالَ: سَمِعْتُهُ يَقُولُ:
«آخُذُ بِكِتَابِ اللَّهِ، فَمَا لَمْ أَجِدْ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ وَالآثَارِ الصِّحَاحِ عَنْهُ الَّتِي فَشَتْ فِي أَيْدِي الثِّقَاتِ عَنِ الثِّقَاتِ، فَإِنْ لَمْ أَجِدْ، فَبِقَوْلِ أَصْحَابِهِ آخُذُ بِقَوْلِ مَنْ شِئْتُ، وَأَمَّا إِذَا انْتَهَى الأَمْرُ إِلَى إِبْرَاهِيمَ، وَالشَّعْبِيَّ، وَالْحَسَنِ، وَعَطَاءٍ، فَأَجْتَهِدُ كَمَا اجْتَهَدُوا» ، فَسَكَتَ سُفْيَانُ طَوِيلا، ثُمَّ قَالَ كَلِمَاتٍ مَا بَقِيَ أَحَدٌ فِي الْمَجْلِسِ إِلا كَتَبَهَا: نَسْمَعُ الشَّدِيدَ مِنَ الْحَدِيثِ فَنَخَافُهُ، وَنَسْمَعُ اللَّيِّنَ فَنَرْجُوهُ وَلا نُحَاسِبُ الأَحْيَاءَ، وَلا نَقْضِي عَلَى الأَمْوَاتِ نُسَلِّمُ مَا سَمِعْنَا وَنَكِلُ مَا لَمْ نَعْلِمْهُ إِلَى عَالِمِهِ، وَنَتَّهِمُ رَأَيْنَا لِرَأْيِهِمْ
وَكِيعُ، سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ، يَقُولُ:
«الْبَوْلُ فِي الْمَسْجِدِ أَحْسَنُ مِنْ بَعْضِ الْقِيَاسِ»مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ الثَّلْجِيُّ، سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ بْنَ حَمَّادِ بْنِ أَبِي حَنِيفَةَ، يَقُولُ: قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ:
«هَذَا الَّذِي نَحْنُ فِيهِ رَأْيٌ لا نُجْبِرُ عَلَيْهِ أَحَدًا، وَلا نَقُولُ يَجِبُ عَلَى أَحَدٍ قَبْولُهُ، فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ أَحْسَنَ مِنْهُ فَلْيَأْتِ بِهِ»
الْحَسَنُ بْنُ زِيَادٍ اللُّؤْلُئِيُّ، قَالَ: قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ:
«عِلْمُنَا هَذَا رَأْيٌ وَهُوَ أَحْسَنُ مَا قَدَرْنَا عَلَيْهِ، وَمَنْ جَاءَنَا بِأَحْسَنَ مِنْهُ قَبِلْنَاهُ مِنْهُ» .
قَالَ ابْنُ حَزْمٍ: جَمِيعُ أَصْحَابِ أَبِي حَنِيفَةَ مُجْمِعُونَ عَلَى أَنَّ مَذْهَبَ أَبِي حَنِيفَةَ أَنَّ: ضَعِيفَ الْحَدِيثِ أَوْلَى عِنْدَهِ مِنَ الْقِيَاسِ وَالرَّأْيِ
قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الرِّقِّيُّ: "
كُنَّا عِنْدَ الأَعْمَشِ وَعِنْدَهُ أَبُو حَنِيفَةَ، فَسُئِلَ الأَعْمَشُ عَنْ مَسْأَلَةٍ، فَقَالَ: أَفْتِهِ يَا نُعْمَانُ، فَأَفْتَاهُ أَبُو حَنِيفَةَ، فَقَالَ:
ইয়াহইয়া ইবনুদ দুরাইস বলেন: আমি সাওরিকে (সুফিয়ান সাওরি) বলতে শুনেছি, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: আপনি আবু হানিফার প্রতি কেন ক্ষুব্ধ হন? তিনি বললেন: তাঁর কী হয়েছে? সে বলল: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি:
«আমি আল্লাহর কিতাব গ্রহণ করি, সেখানে যা না পাই তা আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ এবং তাঁর থেকে বর্ণিত সেই সব সহিহ আছার (বর্ণনা) থেকে গ্রহণ করি যা বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সূত্রে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নিকট প্রচলিত। অতঃপর যদি সেখানেও না পাই, তবে তাঁর সাহাবীদের কথা থেকে আমি যার ইচ্ছা কথা গ্রহণ করি। কিন্তু বিষয়টি যখন ইব্রাহিম (নাখয়ি), শাবি, হাসান (বসরী) এবং আতা পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন তাঁরা যেমন ইজতিহাদ করেছেন আমিও তেমনি ইজতিহাদ করি»। অতঃপর সুফিয়ান দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকলেন, তারপর এমন কিছু কথা বললেন যা মজলিসের প্রত্যেকেই লিখে নিয়েছিল: আমরা কঠোরতাপূর্ণ হাদিস শুনে তা ভয় করি এবং সহজ হাদিস শুনে আশা করি। আমরা জীবিতদের হিসাব নিই না এবং মৃতদের বিষয়ে ফয়সালা দিই না। আমরা যা শুনেছি তা মেনে নিই এবং যা জানি না তা তার জাননেওয়ালার (আল্লাহর) ওপর সোপর্দ করি, আর আমাদের রায়কে তাদের রায়ের সামনে ত্রুটিপূর্ণ মনে করি।
ওকি' বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি:
«মসজিদে প্রস্রাব করা কিছু কিছু কিয়াসের (যুক্তি) চেয়ে উত্তম»মুহাম্মদ ইবনে শুজা আস-সালজি বলেন: আমি ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি, আবু হানিফা বলেছেন:
«আমরা যে বিষয়ের ওপর রয়েছি তা একটি রায় (মত), আমরা এর ওপর কাউকে বাধ্য করি না এবং বলি না যে এটি গ্রহণ করা কারো জন্য আবশ্যক। সুতরাং যার কাছে এর চেয়ে উত্তম কিছু আছে, সে যেন তা নিয়ে আসে»
হাসান ইবনে জিয়াদ আল-লু’লুয়ি বলেন: আবু হানিফা বলেছেন:
«আমাদের এই জ্ঞান একটি রায় (মত) এবং এটিই আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোত্তম যা আমরা করতে পেরেছি। আর যে ব্যক্তি আমাদের কাছে এর চেয়ে উত্তম কিছু নিয়ে আসবে, আমরা তা গ্রহণ করে নেব»।
ইবনে হাজম বলেন: আবু হানিফার সকল অনুসারী এ বিষয়ে একমত যে, আবু হানিফার মাযহাব হলো: দুর্বল হাদিস তাঁর নিকট কিয়াস ও রায়ের চেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য।
উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর আর-রিক্কি বলেন: "
আমরা আমাশের নিকট ছিলাম এবং সেখানে আবু হানিফাও উপস্থিত ছিলেন। এমতাবস্থায় আমাশকে একটি মাসয়ালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন: হে নুমান, তাঁকে ফতোয়া দিন। অতঃপর আবু হানিফা তাঁকে ফতোয়া দিলেন, তখন তিনি (আমাশ) বললেন: "
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
مِنْ أَيْنَ قُلْتَ هَذَا؟ قَالَ: لِحَدِيثٍ حَدَّثَنَاهُ أَنْتَ! ثُمَّ ذَكَرَ لَهُ الْحَدِيثَ، فَقَالَ لَهُ الأَعْمَشُ: أَنْتَمُ الأَطِبَّاءُ وَنَحْنُ الصَّيَادِلَةُ "
أَحْمَدُ بْنُ أَبِي خَيْثَمَةَ: نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَشَّارٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، قَالَ: كَرَرْتُ بِأَبِي حَنِيفَةَ فِي الْمَسْجِدِ، وَإِذَا أَصْحَابُهُ حَوْلَهُ قَدِ ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمْ، فَقُلْتُ: أَلا تَنْهَاهُمْ عَنْ رَفْعِ الصَّوْتِ فِي الْمَسْجِدِ؟ قَالَ:
«دَعْهُمْ فَإِنَّهُمْ لا يَتَفَقَّهُونَ إِلا بِهَذَا»فَصْلٌ
قَالَ عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ: حَدَّثَنِي أَبُو نُعَيْمٍ، سَمِعْتُ زُفَرَ بْنَ الْهُذَيْلِ، يَقُولُ: " كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ يَجْهَرُ فِي أَمْرِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَسَنٍ جَهْرًا شَدِيدًا، فَقُلْتُ: وَاللَّهِ مَا أَنْتَ بِمُنْتَهٍ حَتَّى نُؤْتَى فَتُوضَعَ فِي أَعْنَاقِنَا الْحِبَالُ، قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: فَغَدَوْتُ أُرِيدُ أَبَا حَنِيفَةَ، فَلَقِيتُهُ رَاكِبًا يُرِيدُ وَدَاعَ عِيسَى بْنِ مُوسَى قَدْ كَادَ وَجْهُهُ يَسْوَدُّ، فَقَدِمَ بَغْدَادَ فَأُدْخِلَ عَلَى الْمَنْصُورِ "
مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ الثَّلْجِيُّ، سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ أَبِي مَالِكٍ، سَمِعْتُ أَبَا يُوسُفَ، سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ، يَقُولُ: "
يَقْدِمُ عَلَيْنَا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ صِنْفَانِ يَعْنِي مِنْ خُرَاسَانَ: الْجَهْمِيَّةُ، وَالْمُشَبِّهَةُ "
النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، أَنَّهُ قَالَ:
«جَهْمٌ وَمُقَاتِلٌ كَانَا فَاسِقَيْنِ، أَفْرَطَ هَذَا فِي التَّشْبِيهِ وَهَذَا فِي النَّفْيِ»قَالَ أَبُو يُوسُفَ، قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ
«لا يَنْبَغِي لِلرَّجُلِ أَنْ يُحَدِّثَ مِنَ الْحَدِيثِ، إِلا مَا يَحْفَظُهُ مِنْ وَقْتِ مَا سَمِعَهُ»شُعَيْبُ بْنُ أَيُّوبَ الصَّرِيفَيْنِيُّ، ثَنَا أَبُو يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ، يَقُولُ: "
رَأَيْتُ رُؤْيَا أَفْزَعَتْنِي، رَأَيْتُ كَأَنِّي أَنْبِشُ قَبْرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَأَتَيْتُ الْبَصْرَةَ، فَأَمَرْتُ رَجُلا يَسْأَلُ مُحَمَّدَ بْنَ سِيرِينَ،
"আপনি এটি কোথা থেকে বললেন?" তিনি বললেন: "একটি হাদিসের কারণে যা আপনিই আমাদের শুনিয়েছেন!" এরপর তিনি তাঁর কাছে হাদিসটি উল্লেখ করলেন। তখন আমাশ তাঁকে বললেন: "আপনারাই হলেন চিকিৎসক আর আমরা হলাম ওষুধ বিক্রেতা।"
আহমাদ ইবনে আবি খাইসামা: ইব্রাহিম ইবনে বাশশার আমাদের জানিয়েছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে, তিনি বলেন: আমি মসজিদে আবু হানিফার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তাঁর চারপাশে তাঁর সাথীরা উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। আমি বললাম: "আপনি কি তাঁদের মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলতে নিষেধ করবেন না?" তিনি বললেন:
«তাদের ছেড়ে দাও, কারণ এভাবেই ছাড়া তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে না»পরিচ্ছেদ
উমর ইবনে শাব্বাহ বলেন: আবু নুয়াইম আমাকে বর্ণনা করেছেন, আমি জুফার ইবনে আল-হুযাইলকে বলতে শুনেছি: "
আবু হানিফা ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসানের বিষয়ে অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন। আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষান্ত হবেন না যতক্ষণ না আমাদের ধরা হয় এবং আমাদের গলায় রশি পরানো হয়। আবু নুয়াইম বলেন: অতঃপর আমি আবু হানিফার খোঁজে বের হলাম এবং তাঁকে সওয়ার অবস্থায় পেলাম, তিনি ঈসা ইবনে মুসার সাথে বিদায়ী সাক্ষাত করতে যাচ্ছিলেন, তখন ভয়ে তাঁর চেহারা প্রায় কালো হয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি বাগদাদে পৌঁছালেন এবং তাঁকে মানসুরের দরবারে নিয়ে যাওয়া হলো।"
মুহাম্মদ ইবনে শুজা আস-সালজি বলেন: আমি হাসান ইবনে আবি মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছেন: "
আমাদের নিকট এই দিক থেকে অর্থাৎ খুরাসান থেকে দুই শ্রেণির লোক আসে: জাহমিয়া এবং মুশাব্বিহা "
নাজর ইবনে মুহাম্মদ আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন:
«জাহম এবং মুকাতিল দুজনেই ফাসিক ছিল; একজন সাদৃশ্য প্রদানে (তাশবিহ) বাড়াবাড়ি করেছে এবং অন্যজন অস্বীকারে (নাফি) বাড়াবাড়ি করেছে»আবু ইউসুফ বলেন, আবু হানিফা বলেছেন:
«কোনো ব্যক্তির জন্য সেই হাদিস বর্ণনা করা উচিত নয় যা সে শোনার সময় থেকে মুখস্থ রাখেনি»শুআইব ইবনে আইয়ুব আস-সারিফিনি: আবু ইয়াহইয়া আল-হিমমানি আমাদের জানিয়েছেন, আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: "
আমি একটি স্বপ্ন দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম; আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর খনন করছি। অতঃপর আমি বসরায় আসলাম এবং এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলাম মুহাম্মদ ইবনে সিরিনকে জিজ্ঞাসা করার জন্য,"
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَقَالَ: هَذَا رَجُلٌ يَنْشُرُ أَخْبَارَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم "، وَفِي رِوَايَةٍ: هَذَا رَجُلٌ يَنْشُرُ عِلْمَ النُّبُوَّةِ.
وَرَوَى مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ الثَّلْجِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ أَبِي يُوسُفَ، قَالَ: " رَأَى أَبُو حَنِيفَةَ كَأَنَّهُ يَنْبِشُ قَبْرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ يَأْخُذُ عِظَامَهُ يَجْمَعُهَا، وَيُؤَلِّفُهَا، فَهَالَهُ ذَلِكَ، فَأَوْصَى صَدِيقًا لَهُ إِذَا قَدِمَ الْبَصْرَةَ أَنْ يَسْأَلَ ابْنَ سِيرَينَ، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: هَذَا رَجُلٌ يَجْمَعُ سُنَّةَ النَّبِيِّ وَيُحْيِيهَا "، وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ: سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ يَقُولُ: " رَأَيْتُ كَأَنِّي نَبَشْتُ قَبْرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَجَزِعْتُ وَخِفْتُ أَنْ يَكُونَ رِدَّةً عَنِ الإِسْلامِ، فَجَهَّزْتُ رَجُلًا إِلَى الْبَصْرَةِ، فَقَصَّ عَلَى ابْنِ سِيرِينَ الرُّؤْيَا، فَقَالَ: إِنْ صَدَقَتْ رُؤْيَا هَذَا الرَّجُلِ فَإِنَّهُ يَرِثُ عِلْمَ نَبِيٍّ "
ابْنُ أَبِي رِزْمَةَ، عنَ عَبْدَانَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ الْمُبَارَكِ، يَقُولُ:
«إِذَا سَمِعْتُهُمْ يَذْكُرُونَ أَبَا حَنِيفَةَ بِسُوءٍ سَاءَنِي ذَلِكَ، وَأَخَافُ عَلَيْهِمُ الْمَقْتَ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ»
ثَنَا الشَّافِعِيُّ، قَالَ: قَالَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ: " كُنْتُ أَسْمَعُ بِذِكْرِ أَبِي حَنِيفَةَ، فَأَتَمَنَّى أَنْ أَرَاهُ، فَإِنِّي لَبِمَكَّةَ إِذْ رَأَيْتُ النَّاسَ مُتَقِصِّفِينَ عَلَى رَجُلٍ، فسَمِعْتُ رَجُلًا، يَقُولُ: يَا أَبَا حَنِيفَةَ، فَقُلْتُ: إِنَّهُ هُوَ، فَقَالَ: إِنِّي ذُو مَالٍ وَأَنَا مِنْ خُرَاسَانَ وَلِي ابْنٌ أُزَوِّجُهُ الْمَرْأَةَ وَأُنْفِقُ عَلَيْهِ الْمَالَ الْكَثِيرَ، فَيُطَلِّقُهَا فَيَذْهَبُ مَالِي، وَأَشْتَرِي لَهُ الْجَارِيَةَ بِالْمَالِ الْكَثِيرِ فَيُعْتِقُهَا، فَيَذْهَبُ مَالِي فَهَلْ مِنْ حِيلَةٍ؟ قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ:
«أَدْخِلْهُ سُوقَ الرَّقِيقِ، فَإِذَا وَقَعَتْ عَيْنُهُ عَلَى جَارِيَةٍ فَاشْتَرِهَا لِنَفْسِكَ، ثُمَّ زَوِّجْهَا إِيَّاهُ، فَإِنْ طَلَّقَهَا رَجِعَتْ مَمْلُوكَةً لَكَ، وَإِنْ
তিনি বললেন: "ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদসমূহ প্রচার করেন।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি নবুওয়তের ইলম প্রচার করেন।"
মুহাম্মদ ইবনে শুজা আস-সালজি হাসান ইবনে আবি মালিক থেকে, তিনি আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আবু হানিফা স্বপ্নে দেখলেন যেন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর খনন করছেন, অতঃপর তাঁর অস্থিগুলো সংগ্রহ করে সেগুলো একত্রিত ও সুবিন্যস্ত করছেন। বিষয়টি তাঁকে আতঙ্কিত করল, তাই তিনি তাঁর এক বন্ধুকে অসিয়ত করলেন যে, সে যখন বসরায় পৌঁছাবে তখন যেন ইবনে সিরিনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। সে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি নবীর সুন্নাহকে একত্রিত করবেন এবং তা পুনরুজ্জীবিত করবেন।" আলী ইবনে আসিম বলেন: আমি আবু হানিফাকে বলতে শুনেছি: "আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর খনন করেছি। এতে আমি অত্যন্ত ঘাবড়ে গেলাম এবং ভয় পেলাম যে এটি ইসলাম থেকে বিচ্যুতি কি না। অতঃপর আমি এক ব্যক্তিকে বসরায় পাঠালাম এবং সে ইবনে সিরিনের কাছে স্বপ্নটি বর্ণনা করল। তিনি বললেন: যদি এই ব্যক্তির স্বপ্ন সত্য হয়, তবে তিনি একজন নবীর ইলমের উত্তরাধিকারী হবেন।"
ইবনে আবি রিজমাহ আবদান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছেন:
"যখন আমি শুনি যে তারা আবু হানিফাকে মন্দভাবে স্মরণ করছে, তখন তা আমাকে ব্যথিত করে এবং আমি তাদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে চরম ক্রোধের আশঙ্কা করি।" আলী ইবনে মাবাদ।
শাফেয়ী আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস ইবনে সাদ বলেছেন: "আমি আবু হানিফার আলোচনা শুনতাম এবং তাঁকে দেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতাম। একদা আমি মক্কায় থাকাকালীন দেখলাম মানুষ এক ব্যক্তির চারপাশে ভিড় করে আছে। তখন আমি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম: হে আবু হানিফা! আমি বললাম: তিনিই সেই ব্যক্তি। তখন এক ব্যক্তি বলল: আমি একজন বিত্তবান লোক এবং আমি খোরাসান থেকে এসেছি। আমার একটি পুত্র আছে, আমি তাকে বিয়ে দিই এবং তার জন্য অনেক সম্পদ ব্যয় করি, কিন্তু সে তাকে তালাক দিয়ে দেয় এবং এভাবে আমার সম্পদ নষ্ট হয়। আবার আমি অনেক অর্থ দিয়ে তার জন্য দাসী ক্রয় করি, কিন্তু সে তাকে মুক্ত করে দেয় এবং এভাবেও আমার সম্পদ নষ্ট হয়। এর কি কোনো উপায় আছে? আবু হানিফা বললেন:
তাকে দাস বাজারে নিয়ে যাও, যখন তার দৃষ্টি কোনো দাসীর ওপর পড়বে, তখন তুমি তা নিজের জন্য ক্রয় করো। অতঃপর তাকে তার সাথে বিয়ে দাও। এখন সে যদি তাকে তালাক দেয়, তবে সে তোমার মালিকানাধীন দাসী হিসেবেই ফিরে আসবে। আর যদি...
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
أَعْتَقَهَا لَمْ يَجُزْ عِتْقُهُ» ، قَالَ اللَّيْثُ: فَوَاللَّهِ مَا أَعْجَبَنِي صَوَابُهُ كَمَا أَعْجَبَنِي سُرْعَةُ جَوَابِهِ، وَرَوَى نَحْوَهَا الطَّحَاوِيُّ بِإِسْنَادٍ آخَرَ إِلَى اللَّيْثِ
مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ، سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ عَاصِمٍ، يَقُولُ:
«لَوْ وُزِنَ عَقْلُ أَبِي حَنِيفَةَ بِعَقْلِ نِصْفِ أَهْلِ الأَرْضِ، لَرَجِحَ بِهِمْ»قَالَ الطَّحَاوِيُّ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْعَبَّاسِ، وَأَحْمَدَ بْنَ أَبِي عِمْرَانَ يَذْكُرَانِ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ حَمَّادٍ، قَالَ: "
شَكَكْتُ فِي طَلاقِ امْرَأَتِي، فَسَأَلْتُ شُرَيْكًا، فَقَالَ: طَلِّقْهَا وَأَشْهِدْ عَلَى رَجْعَتِهَا، ثُمَّ سَأَلْتُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيَّ، فَقَالَ لِي: اذْهَبْ فَرَاجِعْهَا، فَإِنْ كُنْتَ طَلَّقْتَهَا فَقَدْ رَاجَعْتَهَا، ثُمَّ سَأَلْتُ زُفَرَ بْنَ الْهُذَيْلِ، فَقَالَ لِي: هِيَ امْرَأَتُكَ حَتَّى تَتَيَقَّنَ طَلاقَهَا، فَأَتَيْتُ أَبَا حَنِيفَةَ، فَقَالَ لِي: أَمَّا سُفْيَانُ فَأَفْتَاكَ بِالْوَرَعِ، وَأَمَّا زُفَرُ فَأَفْتَاكَ بِعَيْنِ الْفِقْهِ، وَأَمَّا شُرَيْكٌ فَهُوَ كَرَجُلٍ قُلْتَ لَهُ: لا أَدْرِي أَصَابَ ثَوْبِي بَوْلٌ أَمْ لا، فَقَالَ لَكَ: بُلْ عَلَى ثَوْبِكَ وَاغْسِلْهُ "
مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ، سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ زِيَادٍ اللُّؤْلُئيُّ، يَقُولُ: أَتَيْتُ دَاوُدَ الطَّائِيَّ أَنَا وَحَمَّادُ بْنُ أَبِي حَنِيفَةَ، فَجَرَى ذِكْرُ شَيْءٍ، فَقَالَ دَاوُدُ لِحَمَّادٍ: يَا أَبَا إِسْمَاعِيلَ مَهْمَا تَكَّلَمَ فِيهِ الْمُتَكَلِّمُ بِشَيْءٍ رَجَاءَ أَنْ يَسْلَمَ
সে তাকে মুক্তি দিলে তার মুক্তিদান বৈধ হবে না।" লাইস বলেন, "আল্লাহর কসম, তার সঠিক উত্তরটি আমাকে ততটা বিস্মিত করেনি, যতটা তার তাৎক্ষণিক উত্তর প্রদান আমাকে বিস্মিত করেছে।" তহাভি লাইসের সূত্রে অন্য একটি সনদে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মদ ইবনে শুজা' বলেন, আমি আলি ইবনে আসিমকে বলতে শুনেছি:
"যদি আবু হানিফার বুদ্ধিমত্তাকে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের বুদ্ধিমত্তার সাথে ওজন করা হতো, তবে তাঁর বুদ্ধিমত্তাই তাদের ওপর প্রধান্য পেত।"ইমাম তহাভি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস এবং আহমদ ইবনে আবি ইমরানকে বলতে শুনেছি যে, ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ বলেছেন: "
আমি আমার স্ত্রীর তালাকের ব্যাপারে সন্দেহে পড়েছিলাম। আমি শুরাইককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তাকে তালাক দিয়ে দাও এবং তার রুজু বা ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর সাক্ষী রাখো। এরপর আমি সুফিয়ান সাওরীকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি আমাকে বললেন, তুমি গিয়ে তার সাথে রুজু করো; কারণ তুমি যদি তাকে তালাক দিয়ে থাকো তবে তুমি তাকে ফিরিয়ে নিলে। এরপর আমি যুফার ইবনুল হুযাইলকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি আমাকে বললেন, যতক্ষণ না তুমি তালাকের ব্যাপারে নিশ্চিত হচ্ছো, ততক্ষণ সে তোমার স্ত্রী। এরপর আমি আবু হানিফার নিকট আসলাম। তিনি আমাকে বললেন, সুফিয়ান তোমাকে তাকওয়ার ভিত্তিতে ফতোয়া দিয়েছেন, যুফার তোমাকে বিশুদ্ধ ফিকহের ভিত্তিতে ফতোয়া দিয়েছেন, আর শুরাইক তো সেই ব্যক্তির মতো যাকে তুমি বললে—'আমি জানি না আমার কাপড়ে প্রস্রাব লেগেছে কি না', আর সে তোমাকে বলল—'তোমার কাপড়ে প্রস্রাব করো এবং তারপর তা ধুয়ে ফেলো'।"
মুহাম্মদ ইবনে শুজা' বলেন, আমি হাসান ইবনে জিয়াদ আল-লু’লুঈকে বলতে শুনেছি: আমি এবং হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা দাউদ আত-তাঈ-এর কাছে গেলাম। তখন একটি বিষয় আলোচিত হলো। দাউদ হাম্মাদকে বললেন: হে আবু ইসমাইল! কোনো সমালোচক (আবু হানিফা সম্পর্কে) যাই বলুক না কেন তা মূলত নিজের নিরাপত্তা লাভের আশায়...
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
مِنْهُ، فَلْيَحْذَرْ أَنْ يَتَكَلَّمَ فِي الْقُرْآنِ، إِلا بِمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل فِيهِ، فَلَقَدْ سَمِعْتُ أَبَاكَ، يَقُولُ:
«أَعْلَمَنَا اللَّهُ أَنَّهُ كَلامَهُ، فَمَنْ أَخَذَ بِمَا عَلَّمَهُ اللَّهُ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى، فَهَلْ بَعْدَ التَّمَسُّكِ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى إِلا السُّقُوطُ فِي الْهَلَكَةِ؟ !» ، فَقَالَ حَمَّادٌ لِدَاوُدَ: جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا فَنِعْمَ مَا أَشَرْتَ بِهِ "
عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ الْكُوفِيُّ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى سُوقِ الْخَزَّازِينَ بِالْكُوفَةِ يَسْأَلُ عَنْ دُكَّانِ أَبِي حَنِيفَةَ الْفَقِيهِ، فَقَالَ لَهُ أَبُو حَنِيفَةَ:
«لَيْسَ هُوَ بِفَقِيهٍ هُوَ مُفْتٍ مُتَكَلِّفٍ»مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ الثَّلْجِيُّ، سَمِعْتُ حِبَّانَ، يَقُولُ: "
أَتَتِ امْرَأَةٌ أَبَا حَنِيفَةَ بِثَوْبٍ، فَقَالَ: بِكَمْ هُوَ؟ قَالَتْ: بِمِائَةِ دِرْهَمٍ، قَالَ لَهَا: هُوَ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكَ، قَالَتْ: بِمَائَتَيْنِ، قَالَ: هُوَ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكَ، قَالَتْ: بِثَلاثِ مِائَةٍ، قَالَ: هُوَ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكَ، قَالَتْ: بِأَرْبَعِ مِائَةٍ فَاشْتَرَاهُ بِأَرْبَعِ مِائَةٍ، وَقِيلَ: إِنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى أَبِي حَنِيفَةَ، فَقَالَ: بِعْنِي ثَوْبَيْنِ وَأَحْسِنْ بَيْعِي، قَالَ: أَيَّ لَوْنٍ تُرِيدُ؟ فَوَصَفَ لَهُ، فَقَالَ: أَتُنْظِرُنِي جُمْعَتَيْنِ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَذَهَبَ، ثُمَّ جَاءَهُ بَعْدَ ذَلِكَ فَدَفَعَ إِلَيْهِ الثَّوْبَيْنِ وَدِينَارًا، وَقَالَ: إِنِّي لَمْ أُحْسِنْ إِلَيْكَ إِنِّي جَعَلْتُ لَكَ بِضَاعَةً، فَرُزِقْتَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَاحْمَدْهُ، فَقَالُوا لأَبِي حَنِيفَةَ، فَقَالَ: أَلَمْ تَسْمَعُوا إِلَى قَوْلِهِ: وَأَحْسِنْ بَيْعِي؟ "، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ أَحْسِنْ بَيْعِي فَقَدِ ائْتَمَنَهُ "
عُبَيْدُ بْنُ يَعِيشَ: ثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: " كَانَ
سُفْيَانُ إِذَا قِيلَ لَهُ: أَمُؤْمِنٌ أَنْتَ؟ قَالَ: نَعَمْ، وَإِذَا قِيلَ لَهُ: عِنْدَ اللَّهِ، قَالَ: أَرْجُو، وَكَانَ أَبُو حَنِيفَةَ، يَقُولُ: «أَنَا مُؤْمِنٌ هَهُنَا وَعِنْدَ اللَّهِ»
এর থেকে, অতএব তার উচিত কুরআন সম্পর্কে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা এ সম্পর্কে যা বলেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু না বলা। আমি আপনার পিতাকে বলতে শুনেছি:
«আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে এটি তাঁর কালাম, সুতরাং আল্লাহ তাকে যা শিখিয়েছেন সে যদি তা গ্রহণ করে তবে সে এক মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরল। আর মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরার পর ধ্বংসের অতলে পতিত হওয়া ছাড়া আর কী থাকে? !» , অতঃপর হাম্মাদ দাউদকে বললেন: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, আপনি কতই না সুন্দর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকিক, ইসহাক ইবনুল হাসান আল-কুফি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুফার রেশম ব্যবসায়ীদের বাজারে এক ব্যক্তি এসে ফকীহ আবু হানিফার দোকান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিল। তখন আবু হানিফা তাকে বললেন:
«তিনি ফকীহ নন, তিনি একজন দায়বদ্ধ মুফতি»মুহাম্মদ ইবনে শুজা আস-সালজি, আমি হিব্বানকে বলতে শুনেছি: "
এক মহিলা একটি কাপড় নিয়ে আবু হানিফার কাছে এলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এর দাম কত? মহিলাটি বললেন: একশ দিরহাম। তিনি তাকে বললেন: এটি তার চেয়েও দামী। মহিলাটি বললেন: দুইশ, তিনি বললেন: এটি তার চেয়েও দামী, মহিলাটি বললেন: তিনশ, তিনি বললেন: এটি তার চেয়েও দামী, মহিলাটি বললেন: চারশ। অতঃপর তিনি এটি চারশ দিরহামে কিনলেন। আরও বলা হয় যে, এক ব্যক্তি আবু হানিফার কাছে এসে বলল: আমাকে দুটি কাপড় দিন এবং আমার সাথে বিক্রয়ে মহানুভবতা প্রদর্শন করুন। তিনি বললেন: আপনি কোন রঙের কাপড় চান? লোকটি তার বর্ণনা দিল। তিনি বললেন: আপনি কি আমাকে দুই জুমুআ (দুই সপ্তাহ) সময় দেবেন? লোকটি বলল: হ্যাঁ। অতঃপর সে চলে গেল। পরে সে তার কাছে এলে তিনি তাকে কাপড় দুটি এবং এক দিনার প্রদান করলেন এবং বললেন: আমি আপনার প্রতি কোনো বিশেষ অনুগ্রহ করিনি, আমি আপনার জন্য কিছু পণ্য নির্ধারণ করেছিলাম, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনি রিযিক হিসেবে লাভ করেছেন, সুতরাং আল্লাহর প্রশংসা করুন। মানুষজন আবু হানিফাকে (এ বিষয়ে) বললে তিনি বললেন: তোমরা কি তার কথা শোনোনি যে বলেছিল: 'আমার সাথে বিক্রয়ে মহানুভবতা প্রদর্শন করুন'? আমাদের কাছে আতা ইবনুস সাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বলে 'আমার সাথে বিক্রয়ে মহানুভবতা প্রদর্শন করুন', তবে সে তাকে আমানতদার হিসেবে গণ্য করে।"
উবাইদ ইবনে ইয়াইশ: ওয়াকি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "
সফিয়ানকে যখন জিজ্ঞাসা করা হতো: আপনি কি মুমিন? তিনি বলতেন: হ্যাঁ। আর যখন তাকে বলা হতো: আল্লাহর নিকট? তিনি বলতেন: আমি আশা রাখি। আর আবু হানিফা, বলতেন: «আমি এখানেও মুমিন এবং আল্লাহর নিকটও মুমিন»"
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
قَالَ أَبُو بِشْرٍ الدُّولابِيُّ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدَانَ، حَدَّثَنِي الضَّبِّيُّ مُؤَدِبُ الْمُعِزِّ، قَالَ: " كَانَ أَبُو أُسَيْدٍ يُجَالِسُ أَبَا حَنِيفَةَ، وَكَانَ شَيْخًا عَفِيفًا مُغَفَّلًا، فَقَالَ مَرَّةً فِي مَجْلِسِ أَبِي حَنِيفَةَ لِرَجُلٍ: ارْفَعْ رُكْبَتَكَ، فَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَبُولَ وَإِنَّمَا أَرَادَ أَنْ يَبْزُقَ، فَقَالَ الرَّجُلُ لأَبِي حَنِيفَةَ: أَلا تَسْمَعُ مَا يَقُولُ؟ قَالَ أَبُو أُسَيْدٍ: أَلَيْسَ يُقَالُ إِذَا جَالَسْتَ الْعُلَمَاءَ، فَجَالِسْهُمْ بِقِلَّةِ السَّكِينَةِ وَالْوَقَارِ؟ فَضَحِكَ أَبُو حَنِيفَةَ وَالْقَوْمُ مِنْهُ، وَكَانَ أَبُو أُسَيْدٍ جَالِسًا فِي الشَّارِعِ إِذْ مَرُّوا بِبَكْرةٍ سَمِينَةٍ، فَقَالَ: لَيْتَهَا لِي! قَالُوا: مَا تَصْنَعُ بِهَا؟ قَالَ: أَخْتِنُهَا وَأَنْحَرُ ابْنِي! قَالَ وَتَهَيَّأَ يَوْمَ الأَحَدِ وَلَبِسَ ثِيَابَ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَتَطَيَّبَ وَخَرَجَ، وَجَلَسَ إِلَى صَدِيقٍ لَهُ عَطَّارٍ فَتَحَدَّثَ عِنْدَهُ سَاعَةً، ثُمَّ قَالَ: أَلا تَقُومُ بِنَا إِلَى الْجُمُعَةِ؟ فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا أُسَيْدٍ، الْيَوْمُ الأَحَدُ النَّاسُ يَغْلِطُونَ بِيَوْمٍ وَأَنْتَ تَغْلِطُ بِالأُسْبُوعِ كُلِّهِ! قَالَ: مَا ظَنَنْتُ إِلا أَنَّهُ الْجُمُعَةُ، قَالَ: وَمَرِضَ فَعَادَهُ أَبُو حَنِيفَةَ، فَقَالَ: كَيْفَ تَجِدُكَ؟ قَالَ: بِخَيْرٍ، قَالَ: أَطْعَمُوكَ الْيَوْمَ شَيْئًا؟ قَالَ: نَعَمْ، مَرَقَةَ رُبَّ
আবু বিশর আদ-দুলাবি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সা’দান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুয়িজের শিক্ষক আদ-দাব্বি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: " আবু উসাইদ আবু হানিফার মজলিসে বসতেন, তিনি ছিলেন এক সচ্চরিত্র ও সরলমনা শাইখ। একদা তিনি আবু হানিফার মজলিসে এক ব্যক্তিকে বললেন: তোলো তোমার হাঁটু, কেননা আমি প্রস্রাব করতে চাই—অথচ তিনি মূলত থুথু ফেলতে চেয়েছিলেন। তখন লোকটি আবু হানিফাকে বললেন: আপনি কি শুনছেন না তিনি কী বলছেন? আবু উসাইদ বললেন: এমন কি বলা হয় না যে, যখন তুমি আলেমদের সাথে বসবে, তখন অল্প প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে বসবে? এতে আবু হানিফা এবং উপস্থিত লোকজন তাঁর কারণে হেসে উঠলেন। আবু উসাইদ একদিন রাস্তায় বসে ছিলেন, এমন সময় লোকজন একটি হৃষ্টপুষ্ট মাদি উট নিয়ে তাঁর সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বললেন: হায়! ওটা যদি আমার হতো! তারা বলল: আপনি ওটা দিয়ে কী করবেন? তিনি বললেন: আমি ওটার খতনা করব এবং আমার ছেলেকে যবেহ করব! বর্ণনাকারী বলেন: রবিবারের দিন তিনি প্রস্তুতি নিলেন এবং জুমার দিনের পোশাক পরলেন, সুগন্ধি মাখলেন ও বের হলেন। এরপর তিনি তাঁর এক আতর বিক্রেতা বন্ধুর নিকট গিয়ে বসলেন এবং কিছুক্ষণ তাঁর সাথে আলাপচারিতা করলেন। তারপর তিনি বললেন: তুমি কি আমাদের সাথে জুমার সালাতে যাবে না? তখন বন্ধুটি তাঁকে বললেন: হে আবু উসাইদ, আজ তো রবিবার! মানুষ দিনের হিসেবে ভুল করে, আর আপনি তো পুরো সপ্তাহের হিসেবে ভুল করছেন! তিনি বললেন: আমি তো মনে করেছিলাম আজ জুমাবার। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আবু হানিফা তাঁকে দেখতে গেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কেমন বোধ করছেন? তিনি বললেন: ভালো। তিনি বললেন: আজ কি তারা আপনাকে কিছু খাইয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, রুব-এর ঝোল।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৪০)
جُمَّيْزٍ وَرُمَّانٍ! فَضَحِكَ أَبُو حَنِيفَةَ، وَقَالَ لَهُ: أَنْتَ فِي عَافِيَةٍ "
دَاوُدُ بْنُ رَشِيدٍ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَنْ رَأَى
«قَبْرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُسَنَّمًا عَلَيْهِ أَفْلاقٌ مِنْ حِجَارَةٍ بِيضٍ»الطَّحَاوِيُّ، سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ أَبِي عِمْرَانَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ هِلالَ بْنَ يَحْيَى، يَقُولُ: سَمِعْتُ يُوسُفَ بْنَ خَالِدٍ السَّمْتِيُّ، يَقُولُ:
«جَالَسْتُ أَبَا حَنِيفَةَ سَنَتَيْنِ وَنِصْفَ سَنَةٍ، فَمَا سَمِعْتُهُ لَحَنَ فِي شَيْءٍ إِلا فِي حَرْفٍ وَاحِدٍ، زَعَمَ أَهْلُ اللُّغَةِ أَنَّ لَهُ فِيهِ مَخْرَجًا»
مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَفْصٍ فَقِيهُ بُخَارَى، عَنْ أَبِي وَهْبٍ مُحَمَّدِ بْنِ مُزَاحِمٍ أَوْ غَيْرِهِ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ:
«مَا لَزِمْتُ سُفْيَانَ حَتَّى جَعَلْتُ عِلْمَ أَبِي حَنِيفَةَ هَكَذَا، وَأَشَارَ بِقَبْضِ يَدِهِ»وَقَالَ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْعَوَّامِ السَّعْدِيُّ قَاضِي مِصْرَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ التِّرْمِذِيُّ، سَمِعْتُ أَبَا نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلامٍ الْبَلْخِيَّ، سَمِعْتُ نُصَيْرَ بْنَ يَحْيَى الْبَلْخِيَّ، يَقُولُ: قُلْتُ
ডুমুর ও ডালিম! এতে আবু হানিফা হাসলেন এবং তাকে বললেন: তুমি সুস্থতার মধ্যে আছো।
দাউদ ইবনে রাশিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-উমাওয়ী, আবু হানিফা থেকে, হাম্মাদ থেকে, ইব্রাহিম থেকে, তিনি বলেন: আমাকে এমন ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি
«নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর উটের কুঁজের মতো উঁচু দেখেছেন, যার উপর সাদা পাথরের খণ্ড ছিল»।
তহাবি বলেন, আমি আহমদ ইবনে আবি ইমরানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হিলাল ইবনে ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইউসুফ ইবনে খালিদ আস-সামতীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:
«আমি আবু হানিফার মজলিসে আড়াই বছর বসেছি, আমি তাকে একটি অক্ষর ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে ব্যাকরণগত ভুল করতে শুনিনি, ভাষা বিশেষজ্ঞগণ দাবি করেছেন যে সে বিষয়ে তার জন্য একটি যৌক্তিক পথ রয়েছে»।
বুখারার ফকিহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাফস, আবু ওয়াহাব মুহাম্মদ ইবনে মুজাহিম বা অন্য কারো সূত্রে, ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«আমি সুফিয়ানের সান্নিধ্যে ততক্ষণ পর্যন্ত থাকিনি যতক্ষণ না আমি আবু হানিফার জ্ঞানকে এইভাবে আঁকড়ে ধরেছি, এবং তিনি তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ইঙ্গিত করলেন»।
এবং মিসরের বিচারক আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল আওয়াম আস-সা’দী বলেন: ইব্রাহিম ইবনে আহমদ আত-তিরমিজি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালাম আল-বালখিকে বলতে শুনেছি, আমি নুসায়ের ইবনে ইয়াহইয়া আল-বালখিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বলেছি।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা ওয়া সাহিবাইহি
(পৃষ্ঠা: ৪১)
لأَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلَ: مَا الَّذِي تَنْقِمُ عَلَى هَذَا الرَّجُلِ؟ قَالَ: الرَّأْيَ، قُلْتُ: فَهَذَا مَالِكٌ أَلَمْ يَتَكَلَّمْ بِالرَّأْيِ؟ قَالَ: " بَلَى، وَلَكَنْ
رَأْيُ أَبِي حَنِيفَةَ خُلِّدَ فِي الْكُتُبِ، قُلْتُ: فَقَدْ خُلِّدَ رَأْيُ مَالِكٍ فِي الْكُتُبِ، قَالَ: أَبُو حَنِيفَةَ أَكْثَرُ رَأْيًا مِنْهُ، قُلْتُ: فَهَلا تَكَلَّمْتُمْ فِي هَذَا بِحِصَّتِهِ وَهَذَا بِحِصَّتِهِ؟ ! فَسَكَتَ "
فَصْلٌ فِي وَرَعِهِ سِوَى مَا تَقَدَّمَ
قَالَ ابْنُ كَأْسٍ الْقَاضِي: ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الْحَكَمِ الْحِبْرِيُّ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَفْصٍ الْبَزَّازُ، قَالَ: «كَانَ
حَفْصُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ شَرِيكَ أَبِي حَنِيفَةَ، وَكَانَ أَبُو حَنِيفَةَ يُجَهِّزُ عَلَيْهِ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ أَنْ فِي ثَوْبِ كَذَا عَيْبًا، فَإِذَا بِعْتَهُ فَبَيِّنْ، فَنَسِيَ حَفْصٌ وَبَاعَهُ مِنْ غَيْرِ تِبْيَانٍ مِنْ رَجُلٍ غَرِيبٍ، وَعَلِمَ أَبُو حَنِيفَةَ، فَتَصَدَّقَ بِجَمِيعِ ثَمَنِهِ»
قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ: «كَانَ
أَبُو حَنِيفَةَ حَسِنَ الدِّينِ، عَظِيمَ الأَمَانَةِ»قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خَلَفٍ الْبَكَّائِيُّ: نَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ،
আহমদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি এই ব্যক্তির প্রতি কেন অসন্তুষ্ট? তিনি বললেন: রায়ের (ব্যক্তিগত অভিমত) কারণে। আমি বললাম: এই যে ইমাম মালিক, তিনিও কি রায়ের ভিত্তিতে কথা বলেননি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তবে
আবু হানিফার রায় কিতাবসমূহে সংরক্ষিত হয়ে গেছে। আমি বললাম: মালিকের রায়ও তো কিতাবসমূহে সংরক্ষিত হয়েছে। তিনি বললেন: আবু হানিফা তাঁর চেয়ে বেশি রায় ব্যবহারকারী ছিলেন। আমি বললাম: তবে আপনারা কেন এর ব্যাপারে তার প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী এবং ওর ব্যাপারে তার প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী আলোচনা করেন না? তখন তিনি চুপ হয়ে গেলেন।"
পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা ছাড়া তাঁর তাকওয়া বিষয়ক পরিচ্ছেদ
কাজি ইবনে কাস বলেন: হাসান ইবনে হাকাম আল-হিবরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে হাফস আল-বাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «
হাফস ইবনে আব্দুর রহমান আবু হানিফার অংশীদার ছিলেন এবং আবু হানিফা তাঁর কাছে মালসামান প্রস্তুত করে পাঠাতেন। তিনি তাঁকে বলে পাঠিয়েছিলেন যে, অমুক কাপড়ে একটি ত্রুটি আছে, সুতরাং যখন তুমি তা বিক্রি করবে তখন তা প্রকাশ করে দিও। কিন্তু হাফস ভুলে গেলেন এবং জনৈক অপরিচিত ব্যক্তির কাছে তা প্রকাশ না করেই বিক্রি করে দিলেন। আবু হানিফা যখন তা জানতে পারলেন, তখন তিনি সেই কাপড়ের সম্পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিলেন»
আবু নুআইম বলেন: «
আবু হানিফা উত্তম দ্বীনদার ও মহান আমানতদার ছিলেন»মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খালাফ আল-বাক্কায়ি বলেন: জাফর ইবনে আওন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,