(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
الإنصاف والاعتدال عند الحافظ الذهبي   (هانى فقيه)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الإنصاف والاعتدال عند الحافظ الذهبي (ت: 748 هـ)

المؤلف: هاني أحمد فقيه

أصل الكتاب: ورقة عمل محكّمة تقدم بها الباحث للمؤتمر الدولي الثاني للقرآن الكريم والسنة النبوية، بالجامعة الإسلامية العالمية بكوالالمبور- ماليزيا

لعام 1436 هـ - 2015 م

الناشر: نادي المدينة المنورة الأدبي

الطبعة: الأولى، 1436 هـ - 2015 م

عدد الصفحات: 104

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ربيع الأول 1444

হাফিজ আয-যাহাবীর নিকট ইনসাফ ও ভারসাম্য   (হানি ফাকীহ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: হাফিজ আয-যাহাবীর নিকট ইনসাফ ও ভারসাম্য (মৃত্যু: ৭৪৮ হিজরী)

লেখক: হানি আহমাদ ফাকীহ

মূল উৎস: এটি একটি পর্যালোচিত গবেষণাপত্র যা গবেষক কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহর উপর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপন করেছেন

১৪৩৬ হিজরী - ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ সালের জন্য

প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারাহ সাহিত্য ক্লাব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৬ হিজরী - ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌محتويات البحث

بين يدي البحث.

لماذا اخترت الذهبي؟

الذهبي في سطور.

منهجي في البحث وصعوباته والدراسات السابقة.

الفصل الأول: إنصافه في تراجمه.

الفصل الثاني: تحذيره من سفك الدماء.

الفصل الثالث: ذمه الشديد للخوارج وإنصافه في الحكم عليهم.

الفصل الرابع: تحذيره من المسارعة إلى التكفير بغير برهان قطعي.

الفصل الخامس: تحذيره من التكفير بسبب الاختلاف في فروع العقائد.

الفصل السادس: تحذيره من التبديع والتضليل لأجل زلة أو هفوة.

الفصل السابع: دفاعه عن الأئمة والتماس الأعذار لهم.

الفصل الثامن: دعوته إلى وجوب المحافظة على الأخوة برغم الخلاف.

الفصل التاسع: تقريره بأن كلام الأقران يطوى ولا يروى.

الفصل العاشر: دعوته إلى ترك الإغراق في صراعات التاريخ وإشعال نار العداوات بسببها.
গবেষণার সূচিপত্র

গবেষণার প্রারম্ভে।

কেন আমি আয-যাহাবিকে নির্বাচন করলাম?

সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয-যাহাবি।

আমার গবেষণা পদ্ধতি, এর অন্তরায়সমূহ এবং পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সংকলিত জীবনীগ্রন্থসমূহে তাঁর ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রক্তপাত ঘটানো সম্পর্কে তাঁর সতর্কবাণী।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: খারেজীদের প্রতি তাঁর কঠোর নিন্দা এবং তাদের বিষয়ে ফয়সালা প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর ইনসাফ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অকাট্য প্রমাণ ব্যতীত তাকফির করার (কাফের সাব্যস্ত করার) ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করার ব্যাপারে তাঁর সতর্কবাণী।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আকিদার শাখা-প্রশাখাগত পার্থক্যের কারণে তাকফির করার বিষয়ে তাঁর সতর্কবাণী।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সামান্য পদস্খলন বা ভুলের কারণে কাউকে বিদআতি অথবা পথভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর সতর্কবাণী।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: ইমামগণের পক্ষ অবলম্বন এবং তাঁদের জন্য ওজর বা যুক্তিগ্রাহ্য কারণ তালাশ করা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: মতভেদ থাকা সত্ত্বেও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আবশ্যকতা বিষয়ে তাঁর আহ্বান।

নবম পরিচ্ছেদ: সমসাময়িকদের পারস্পরিক নেতিবাচক সমালোচনা উপেক্ষা করা এবং তা বর্ণনা না করার বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত।

দশম পরিচ্ছেদ: ইতিহাসের সংঘাতগুলোতে অতিমাত্রায় নিমজ্জিত হওয়া এবং তজ্জন্য শত্রুতার আগুন প্রজ্বলিত করা পরিহার করার প্রতি তাঁর আহ্বান।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الحادي عشر: تمييزه بين مستويات البدعة وتفرقته بين الغلاة وغيرهم.

الفصل الثاني عشر: تقريره بأن العبرة في الرواة الصدق والإتقان وإن تلبسوا ببدعة.

الفصل الثالث عشر: نقده كثرة الخوض في مضائق العقائد وتفصيلاتها الدقيقة.

الفصل الرابع عشر: نهيه عن القول بالمسائل الشاذة والغريبة.

الفصل الخامس عشر: توسطه في مسألة الاجتهاد والتقليد.

الفصل السادس عشر: نقده لعلل وأدواء طلبة العلم.

الفصل السابع عشر: دعوته إلى ترك التحدث بمسائل العلم التي تضرّ العامة.

الفصل الثامن عشر: تحذيره من الغلو في العبادات.

الفصل التاسع عشر: توقيره للنبي صلى الله عليه وسلم بين الغلو والجفاء.

الفصل العشرون: توسطه في مسألة الأسماء والصفات.
একাদশ অধ্যায়: বিদআতের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে তাঁর পার্থক্য নিরূপণ এবং চরমপন্থী ও অন্যদের মধ্যে বিভাজন।

দ্বাদশ অধ্যায়: তাঁর এই সিদ্ধান্ত যে, বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো সততা ও পারদর্শিতা, যদিও তারা বিদআতে লিপ্ত থাকে।

ত্রয়োদশ অধ্যায়: আকিদার জটিল বিষয়সমূহ ও এর সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি নিয়ে অধিক মাতামাতি করার প্রতি তাঁর সমালোচনা।

চতুর্দশ অধ্যায়: শায ও অদ্ভুত মাসআলাসমূহ বর্ণনা করা থেকে তাঁর নিষেধ।

পঞ্চদশ অধ্যায়: ইজতিহাদ ও তাকলিদ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর মধ্যপন্থা।

ষোড়শ অধ্যায়: ইলম অন্বেষণকারীদের দোষত্রুটি ও ব্যাধিসমূহের প্রতি তাঁর সমালোচনা।

সপ্তদশ অধ্যায়: ইলমের এমন সব মাসআলা নিয়ে আলোচনা বর্জন করার প্রতি তাঁর আহ্বান যা সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর।

অষ্টাদশ অধ্যায়: ইবাদতের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন সম্পর্কে তাঁর সতর্কবাণী।

উনবিংশ অধ্যায়: অতিরঞ্জন ও অবজ্ঞার মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর সম্মান প্রদর্শন।

বিংশ অধ্যায়: আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর মধ্যপন্থা।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌بين يدي البحث

لعل من أبرز القضايا التي تشغل المجتمعات الإسلامية اليوم، قضية نقد الفكر الديني المتطرف وتفكيك بنيته، بعد أن اكتوت كثيرٌ من أقطاره بنيرانه، وتسبب في مزيد من أزماته واختناقاته داخلياً وخارجياً على مرّ العصور.

إن نقد الفكر الديني المتطرف وإضعافه له أدوات مختلفة ووسائل متنوعة، منها: مواجهته بما يقابله من الفكر الوسطي المعتدل لدي كبار علماء الأمة وأعلامها، ممن يحظون باحترام وثقة وثقل وتقدير بين المسلمين. وقد رأيت أن أسلط الضوء في بحثي هذا على أحد أبرز هؤلاء الأعلام ممن عرفوا بقصدهم واعتدالهم ووسطيتهم وسعيهم للم الشمل والتماس الأعذار ونقدهم لكثير من أفكار الغلو والتطرف البعيدة عن تعاليم الإسلام السمحة وقيمه النبيلة. هذا العالم هو: الإمام شمس الدين محمد بن أحمد الذهبي، المتوفى سنة 748 هـ رحمه الله تعالى.
গবেষণার ভূমিকা

বর্তমানকালে ইসলামি সমাজগুলোকে ভাবিয়ে তোলা অন্যতম প্রধান বিষয় হলো চরমপন্থী ধর্মীয় চিন্তাধারার সমালোচনা এবং এর কাঠামোগত ব্যবচ্ছেদ; বিশেষ করে যখন এর অনেক জনপদ এ চিন্তাধারার অনলে দগ্ধ হয়েছে এবং যা যুগ যুগ ধরে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে বহু সংকট ও অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।

চরমপন্থী ধর্মীয় চিন্তাধারার সমালোচনা এবং একে দুর্বল করার জন্য নানাবিধ উপকরণ ও মাধ্যম রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: উম্মাহর সেই সব বরেণ্য আলেম ও মনীষীদের ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী চিন্তাধারা দিয়ে এর মোকাবেলা করা, যারা মুসলিমদের নিকট পরম শ্রদ্ধা, আস্থা, গুরুত্ব ও সমাদরের অধিকারী। আমি আমার এই গবেষণায় এমনই এক প্রথিতযশা মনীষীর ওপর আলোকপাত করার প্রয়াস পেয়েছি, যিনি তার পরিমিতিবোধ, ভারসাম্য ও মধ্যপন্থার জন্য সুপরিচিত। পাশাপাশি তিনি উম্মাহর ঐক্য বজায় রাখা ও অন্যের ভুলভ্রান্তির ক্ষেত্রে সদুত্তর বা ওজর তালাশ করার প্রচেষ্টার জন্য এবং ইসলামের উদার শিক্ষা ও মহান মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত বহু চরমপন্থী ও উগ্র চিন্তাধারার সমালোচনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। সেই মহান আলেম হলেন: ইমাম শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আয-যাহাবি, মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌من الذهبي ولماذا اخترته؟

وربما تساءل البعض: لماذا اخترت الذهبي من بين سائر الأئمة؟

وجواباً عن هذا السؤال أقول: إن منهج الاعتدال والوسطية هو السِّمة الغالبة على علماء الأمة منذ صدر الإسلام وعبر عصوره حتى يومنا هذا إلا من شذ وندر.

وإنما اخترت الذهبي لأسباب ثلاثة:

السبب الأول: يعود إلى أن الذهبي قد ترك لنا في هذا الباب تقعيدات مهمة وتأصيلات قيّمة، تجدر دراستها وإدارة حديث جاد حولها للإفادة منها.

السبب الثاني: أن هذه التأصيلات والتقعيدات صادرةٌ عن إمام كبير، وحافظ ناقد قدير، قد عرف علمه العلماء ودان لمكانته المحدثون والفقهاء، فضلاً عمّا عُرف به من الديانة والورع، فكلامه له وزنه وقيمته وتأثيره، وإن كنّا لا ندعي العصمة له ولا لغيره من علماء المسلمين.
কে এই আয-যাহাবি এবং কেন আমি তাঁকে বেছে নিলাম?

সম্ভবত কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন: অন্যান্য সকল ইমামদের মধ্য থেকে আমি কেন আয-যাহাবিকে বেছে নিলাম?

এই প্রশ্নের উত্তরে আমি বলব: ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে এর পরবর্তী যুগসমূহ পেরিয়ে আজ পর্যন্ত—যাঁরা বিচ্ছিন্ন ও বিরল তাঁরা ছাড়া—এই উম্মতের আলেমদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা।

আমি মূলত তিনটি কারণে আয-যাহাবিকে বেছে নিয়েছি:

প্রথম কারণ: আয-যাহাবি এই বিষয়ে আমাদের জন্য এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি ও মূল্যবান ভিত্তি রেখে গেছেন, যা অধ্যয়ন করা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার লক্ষ্যে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

দ্বিতীয় কারণ: এই ভিত্তি ও মূলনীতিগুলো এসেছে একজন মহান ইমাম এবং সুদক্ষ সমালোচক হাফিজের কাছ থেকে, যাঁর ইলম সম্পর্কে আলেমগণ অবগত এবং যাঁর মর্যাদার সামনে মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ শ্রদ্ধাবনত। এর পাশাপাশি তিনি তাঁর দ্বীনদারিতা ও তাকওয়ার জন্যও সুপরিচিত। তাই তাঁর বক্তব্যের বিশেষ গুরুত্ব, মূল্য ও প্রভাব রয়েছে; যদিও আমরা তাঁর বা অন্য কোনো মুসলিম আলেমের জন্য অভ্রান্ততা বা নিষ্পাপ হওয়ার দাবি করি না।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১২)
السبب الثالث: أن الذهبي رحمه الله لم يترك لنا في موضوع الاعتدال والوسطية كتاباً مستقلاً أو فصلاً مفرداً، وإنما هي تعقيبات وتعليقات متفرقة كان يبثها وينثرها في مختلف كتبه كلّما عنّت لها حاجة أو طرأت لها مناسبة.

إن الإمام الحافظ الذهبي لم يكن مجرد مؤرخ ينقل أخبار من تَقَدّم فحسب، بل كان كثيراً ما ينقد ما ينقل ويعقّب ويعلّق على كل ما لا يراه صحيحاً أو مخالفاً للشرع أو العقل أو خارجاً على حدّ الذوق العام أو ما فيه مبالغة ومجازفة ظاهرة، فضلاً عن نقده للكثير من الكتب والمصادر التي يطالعها وينقل عنها.

ولعل هذه الخصلة هي أهم ما تتجلى فيه قيمة كتب الحافظ الذهبي، أعني هذه التعليقات والتعقيبات والتصويبات التي كان يبثها بين الحين والآخر، وإلا فإن ما يذكره من معلومات وحوادث قد تكون متاحة في بقية كتب التراجم والتاريخ الأخرى.

ولأجل هذه الأسباب كلها جاءت هذه المحاولة المتواضعة من كاتب هذه السطور في جمع ما تفرق من كلام الذهبي ولم شتاته
তৃতীয় কারণ: ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের জন্য ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র বই বা পৃথক অধ্যায় রেখে যাননি; বরং এগুলো হলো কিছু বিক্ষিপ্ত টীকা ও মন্তব্য, যা তিনি তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং যখনই প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বা কোনো প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, তখনই তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

নিশ্চয়ই ইমাম হাফিয যাহাবী কেবল পূর্বসূরীদের সংবাদ বর্ণনাকারী একজন ইতিহাসবিদ ছিলেন না, বরং তিনি যা বর্ণনা করতেন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সমালোচনা করতেন এবং এমন সব বিষয়ের ওপর টীকা ও মন্তব্য প্রদান করতেন যেগুলোকে তিনি সঠিক মনে করতেন না অথবা যা শরীয়ত ও বিবেকের পরিপন্থী ছিল, কিংবা যা সাধারণ রুচিবোধের বাইরে ছিল অথবা যাতে স্পষ্ট অতিরঞ্জন ও ঝুঁকি ছিল। এছাড়া তিনি যেসব বই ও উৎস অধ্যয়ন করতেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি দিতেন, তার অনেকগুলোর উপরও তিনি সমালোচনা করতেন।

আর সম্ভবত এই বৈশিষ্ট্যটিই হাফিয যাহাবীর গ্রন্থসমূহের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক; অর্থাৎ এই সকল মন্তব্য, টীকা ও সংশোধনীসমূহ যা তিনি মাঝেমধ্যে প্রদান করতেন। অন্যথায় তিনি যেসব তথ্য ও ঘটনাবলি উল্লেখ করেছেন, তা অন্যান্য জীবনী ও ইতিহাসের গ্রন্থেও পাওয়া যেতে পারে।

এই সকল কারণেই এই পঙ্ক্তিগুলোর লেখকের পক্ষ থেকে ইমাম যাহাবীর বিক্ষিপ্ত কথাগুলো একত্রিত করার এবং তাঁর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বক্তব্যগুলোকে সংকলিত করার এই বিনম্র প্রচেষ্টা।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وتبويبه وتوثيقه فيما يخص موضوع الإنصاف والاعتدال فحسب، وإن كنت لا أزعم الاستيعاب والتقصي، وقد تكون فاتتني بعض المواضع مما هو من طبع البشر.
এবং কেবল ইনসাফ ও পরিমিতিবোধ সংক্রান্ত বিষয়ের পরিচ্ছেদবিন্যাস ও প্রামাণিকরণ; যদিও আমি বিষয়টির পূর্ণব্যাপ্তি ও সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের দাবি করছি না, আর মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কিছু বিষয় হয়তো আমার নজর এড়িয়ে গিয়ে থাকতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الذهبي في سطور (1):

ولعله من المفيد قبل أن نبحر مع الإمام الذهبي وأفكاره أن نعرّف به أولاً ولو بشكل مختصر جداً، ونوضّح شيئاً من مكانته العلمية الرفيعة.

وإن شئتم الحق فالتعريف بالذهبي يطول جداً، والكلام عن علمه وفضله قد يكون له بداية وليس له نهاية. وباختصار أقول: الذهبي هو:

1 ــ الإمام الحافظ الناقد المؤرخ شمس الدين محمد بن أحمد الذهبي الدمشقي الشافعي.

2 ــ كان مولده في مدينة دمشق سنة: 673 هـ، وعلى ترابها نشأ وترعرع وطلب العلم.

3 ــ طوَّف الإمام الذهبي في مختلف البلدان والأقطار، والتقى بأكثر شيوخ العالم الإسلامي في وقته وأخذ عنهم، وقد عرّف

--------------------------------------------

(1) ترجم للذهبي كل من عاصره أو جاء بعده من أصحاب التراجم والسير، وقد أفرد ترجمته في كتب مستقلة غير واحد من الباحثين المعاصرين، ولعل من أجمعها، كتاب: الذهبي ومنهجه في تاريخ الإسلام، للدكتور بشار عواد معروف، وكتاب: الحافظ الذهبي مؤرخ الإسلام، لعبد الستار الشيخ.
সংক্ষেপে আয-যাহাবী (১):

সম্ভবত ইমাম আয-যাহাবী ও তাঁর চিন্তাধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে সংক্ষেপে হলেও তাঁর পরিচয় তুলে ধরা এবং তাঁর সুউচ্চ ইলমি মর্যাদা সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করা ফলপ্রসূ হবে।

যদি সত্য বলতে হয়, তবে আয-যাহাবীর পরিচয় অত্যন্ত দীর্ঘ হবে; তাঁর জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোচনার শুরু থাকলেও সম্ভবত তার কোনো শেষ নেই। সংক্ষেপে আমি বলব, আয-যাহাবী হলেন:

১ ــ ইমাম, হাফিজ, সমালোচক ও ইতিহাসবিদ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আয-যাহাবী আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি।

২ ــ তিনি ৬৭৩ হিজরি সনে দামেশক শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেই জনপদেই তিনি লালিত-পালিত হন ও জ্ঞান অন্বেষণ করেন।

৩ ــ ইমাম আয-যাহাবী বিভিন্ন দেশ ও ভূখণ্ডে পরিভ্রমণ করেছেন এবং তাঁর সময়ের অধিকাংশ মুসলিম বিশ্বের শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ও তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আর তিনি পরিচয় দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবীর সমসাময়িক কিংবা তাঁর পরবর্তীকালের প্রায় সকল জীবনীকার ও ইতিহাসবিদগণই তাঁর জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন। বর্তমান সময়ের একাধিক গবেষক তাঁর জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফ রচিত গ্রন্থ: ‘আয-যাহাবী ওয়া মানহাজুহু ফী তারিখিল ইসলাম’ এবং আব্দুল সাত্তার আশ-শাইখ রচিত গ্রন্থ: ‘আল-হাফিজ আয-যাহাবী মুয়াররিখুল ইসলাম’।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
بشيوخه هؤلاء في مؤلف ضخم مطبوع في مجلدين كبيرين، سماه: "معجم الشيوخ"، وله كتاب آخر اقتصر فيه على شيوخه في الحديث، سماه: "المعجم المختص بالمحدثين".

4 ــ بَرَع الإمام الذهبي في العديد من العلوم، وتقلّد مناصب علمية رفيعة، وانصبّ اهتمامه الأكبر على فنون الحديث والتاريخ ونقد الرواة، وحول هذه الموضوعات الثلاثة أخرج أروع كتبه ومؤلفاته.

5 ــ تجاوزت مؤلفات الذهبي الثلاثمائة مؤلف، ما بين مطول ومختصر ومتوسط الحجم، ومن أشهر مؤلفاته: مدونته الكبرى: "تاريخ الإسلام"، والتي تجاوزت الخمسين مجلداً، وكتابه "سير أعلام النبلاء"، الذي طبع في خمس وعشرين مجلداً ضخماً، و"تذكرة الحفاظ"، و"ميزان الاعتدال في نقد الرجال" وغيرها من المؤلفات.

6 ـ تبوأ الذهبي منزلة رفيعة في علم الحديث والتاريخ، ويكفي أن الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني (852 هـ)، صاحب "فتح الباري بشرح صحيح البخاري"، وهو من هو في العلم والحفظ والمعرفة، ذكر
তাঁর এই শিক্ষকদের সম্পর্কে তিনি দুই বিশাল খণ্ডে মুদ্রিত একটি বৃহদাকার গ্রন্থে আলোচনা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন: "মু'জামুশ শুয়ুখ", এবং তাঁর আরও একটি গ্রন্থ রয়েছে যেখানে তিনি কেবল তাঁর হাদিসের শিক্ষকদের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যার নাম দিয়েছেন: "আল-মু'জামুল মুখতাস বিল মুহাদ্দিসীন"।

৪. ইমাম যাহাবী বহুবিদ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং উচ্চমর্যাদার ইলমী পদে অধিষ্ঠিত হন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল হাদিস শাস্ত্র, ইতিহাস এবং বর্ণনাকারীদের সমালোচনার (জারাহ-ওয়াত তা’দীল) শিল্পের ওপর। এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ও রচনাবলী প্রস্তুত করেছেন।

৫. যাহাবীর রচনাবলী তিন শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ, সংক্ষিপ্ত এবং মাঝারি আয়তনের গ্রন্থ। তাঁর প্রসিদ্ধতম রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে: তাঁর বিশাল কালপঞ্জি "তারিখুল ইসলাম", যা পঞ্চাশ খণ্ড ছাড়িয়ে গেছে; তাঁর গ্রন্থ "সিয়ারু আ’লামিন নুবালা", যা পঁচিশটি বিশাল খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে; "তাযকিরাতুল হুফফায" এবং "মীযানুল ইতিদাল ফী নাকদির রিজাল" সহ আরও অন্যান্য রচনাবলী।

৬. যাহাবী হাদিস ও ইতিহাস শাস্ত্রে এক উচ্চমর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। এটাই যথেষ্ট যে, হাফেজ আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানী (৮৫২ হি.), যিনি "ফাতহুল বারী বি-শারহি সহীহিল বুখারী" গ্রন্থের রচয়িতা এবং ইলম, মুখস্থশক্তি ও জ্ঞানের গভীরতায় যার শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনবিদিত, তিনি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
أنه شرب من ماء زمزم سائلاً الله عز وجل أن ينال مرتبة الذهبي وبراعته في الرسوخ في العلم(1).

7 ــ وقد أثنى على الذهبي وأشاد بعلمه وفضله كلُّ من عاصره أو جاء بعده من أهل العلم والمؤرخين، كعَلَم الدين البرزالي (739 هـ)،، وصلاح الدين الصَّفدي (764 هـ)، والحُسيني (765 هـ)، وابن السبكي (771 هـ)، وابن كثير (774 هـ)، وابن ناصر الدين الدمشقي (842 هـ)، والحافظ ابن حجر العسقلاني (852 هـ)، وبدر الدين العيني (855 هـ)، والسخاوي (902 هـ) وجلال الدين السيوطي (911 هـ)، والعلامة الشوكاني (1250 هـ)، وغيرهم ممن يطول ذكرهم، ولا أرى حاجة لنقل كلامهم طلباً للاختصار والإيجاز(2).

8 ـــ ومع أن الذهبي عاش في عصر كثر فيه الجمود الفكري والتعصب المذهبي إلا أنه استطاع التخلص من كثير من ذلك بفضل سعة علمه وفطنته وبعد نظره وإنصافه.

--------------------------------------------

(1) نقل ذلك غير واحد، منهم: السيوطي في كتابه: طبقات الحفاظ، ص 552، والكتاني في: فهرس الفهارس والأثبات 1/ 322.

(2) انظر بعض هذا الثناء في التقدمة التي كتبها العلامة بشار عواد لكتاب: تاريخ الإسلام 1/ 65، وسير أعلام النبلاء 1/ 69 كلاهما للذهبي.
তিনি মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করে যমযমের পানি পান করেছিলেন যেন তিনি আয-যাহাবীর মর্যাদা এবং ইলমের গভীরে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাঁর পারদর্শিতা লাভ করেন(১).

৭ — আয-যাহাবীর সমসাময়িক কিংবা তাঁর পরবর্তী যুগের আলেম ও ঐতিহাসিকদের প্রত্যেকেই তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর ইলম ও মর্যাদাকে উচ্চকিত করেছেন, যেমন আলামুদ্দীন আল-বিরযালী (৭৩৯ হি.), সালাহুদ্দীন আস-সাফাদী (৭৬৪ হি.), আল-হুসাইনী (৭৬৫ হি.), ইবনুস সুবকী (৭৭১ হি.), ইবনু কাসীর (৭৭৪ হি.), ইবনু নাসিরুদ্দীন আদ-দিমাশকী (৮৪২ হি.), হাফেজ ইবনু হাজার আল-আসকালানী (৮৫২ হি.), বদরুদ্দীন আল-আইনী (৮৫৫ হি.), আস-সাখাবী (৯০২ হি.), জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (৯১১ হি.), আল্লামা আশ-শাওকানী (১২৫০ হি.) এবং আরও অনেকে যাদের নাম উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে। তাই সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তাদের বক্তব্যগুলো এখানে উদ্ধৃত করার প্রয়োজন দেখছি না(২).

৮ — আয-যাহাবী এমন এক যুগে বসবাস করা সত্ত্বেও যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা এবং মাযহাবী গোঁড়ামি অত্যন্ত প্রকট ছিল, তবুও তিনি তাঁর ইলমের প্রশস্ততা, তীক্ষ্ণ মেধা, দূরদর্শিতা এবং ইনসাফের কারণে এর সিংহভাগ থেকে মুক্ত থাকতে সক্ষম হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) একাধিক ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: আস-সুয়ূতী তাঁর 'তাবাকাতুল হুফফাজ' গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ৫৫২; এবং আল-কাত্তানী তাঁর 'ফিহরিসুল ফাহারিস ওয়াল আসবাত' গ্রন্থে, ১/৩২২।

(২) এই প্রশংসার কিছু অংশ আল্লামা বাশার আওয়াদ কর্তৃক আয-যাহাবীর 'তারিখুল ইসলাম' (১/৬৫) এবং 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' (১/৬৯) গ্রন্থদ্বয়ের ভূমিকার জন্য লিখিত অংশে দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد أشار إلى هذه الخصلة الحميدة فيه تلميذُه المؤرخ الناقد صلاح الدين الصَّفدي (ت 764 هـ) عندما قال عنه: "لم أجد عنده جمود المحدثين ولا كودنة(1) النقلة، بل هو فقيه النظر، له دُربة بأقوال الناس ومذاهب الأئمة من السلف وأرباب المقالات"(2).

--------------------------------------------

(1) الكودنة: البطء والثقل كما في المعجم الوسيط، 2/ 780 مادة " كدن".

(2) الوافي بالوفيات للصفدي، 2/ 163. وينظر أيضاً شعيب الأرنؤوط وآخرين، مقدمة سير أعلام النبلاء، 1/ 53.
তাঁর এই প্রশংসনীয় গুণের প্রতি তাঁর ছাত্র, ঐতিহাসিক ও সমালোচক সালাহউদ্দীন আল-সাফাদি (মৃত্যু ৭৬৪ হি.) ইঙ্গিত করে বলেছেন: "আমি তাঁর নিকট মুহাদ্দিসদের জড়তা কিংবা বর্ণনাকারীদের স্থবিরতা(১) লক্ষ্য করিনি; বরং তিনি ছিলেন গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ফকিহ, মানুষের বক্তব্য এবং সালাফদের ইমামগণের মাযহাব ও বিভিন্ন মতাদর্শের প্রবক্তাদের অভিমত সম্পর্কে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্য ও অভিজ্ঞতা ছিল"(২)।

--------------------------------------------

(১) আল-কুদানা: ধীরগতি ও স্থবিরতা, যেমনটি আল-মুজাম আল-ওয়াসিত-এ বর্ণিত হয়েছে, ২/৭৮০, 'ক-দ-ন' পরিচ্ছেদ।

(২) সাফাদির আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত, ২/১৬৩। আরও দেখুন, শুআইব আল-আরনাউত ও অন্যান্য, মুকাদ্দিমাতু সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১/৫৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌منهجي في البحث وصعوباته والدراسات السابقة:

وأما عن منهجي في البحث: فقد قمت بجمع ما وقفتُ عليه من كلام الحافظ الذهبي مما يخصّ موضوع الكتاب فحسب(1)، ثم صنّفت كلامه ووثّقته وبوّبته ووضعت له ما يناسبه من عناوين جانبية.

ولم أر داعيا لإطالة البحث أو إثقال حواشيه بشرح كلام الذهبي أو نقل ما يشهد له من النصوص أو من كلام الأئمة إلا في القليل النادر. فكلام الذهبي واضح جداً، ولو فتحت باب الشرح والتعليق لطالت ذيول البحث وتشعبت فصوله وخرج عن مقصوده.

أيضاً قد يكرر الذهبي بعض الآراء والأفكار في مواطن عدة من كتبه بحسب الحاجة والمناسبة، وفي هذه الحال قد أكتفي ببعض الشواهد من كلامه، وأترك الأخرى خشية الإطالة.

--------------------------------------------

(1) للذهبي تعليقات وتعقيبات كثيرة، منها ما يتعلق بمسائل علمية كالحكم على الرواة ونقد المرويات، أو إبداء رأي في مسألة فقهية أو عقدية أو حديثية، أو تعليقات تتعلق ببعض الآداب ونحوها، لكني لم أقيّد هنا إلا ما يختص بموضوع الإنصاف.
গবেষণায় আমার পদ্ধতি, এর সমস্যাবলী এবং পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

আমার গবেষণা পদ্ধতির ব্যাপারে বলা যায়: আমি হাফেজ যাহাবীর বক্তব্যসমূহ থেকে কেবল এই বইয়ের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশগুলো সংগ্রহ করেছি যা আমার নজরে এসেছে(১)। এরপর তাঁর কথাগুলোকে আমি শ্রেণীবদ্ধ করেছি, সেগুলোর সূত্র বা উৎস নির্দেশ করেছি, পরিচ্ছেদ বিন্যাস করেছি এবং সেগুলোর জন্য উপযুক্ত পার্শ্ব-শিরোনাম যুক্ত করেছি।

আমি হাফেজ যাহাবীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করে অথবা অন্যান্য পাঠ্য বা ইমামদের বক্তব্য থেকে এর সমর্থনে উদ্ধৃতি দিয়ে এই গবেষণাকে দীর্ঘায়িত করার কিংবা এর টীকাগুলোকে ভারাক্রান্ত করার কোনো প্রয়োজন বোধ করিনি, তবে খুব সামান্য কিছু ক্ষেত্র ছাড়া। কেননা যাহাবীর বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। আমি যদি ব্যাখ্যা এবং পর্যালোচনার দ্বার উন্মুক্ত করতাম, তবে গবেষণার কলেবর অনেক বৃদ্ধি পেত, এর পরিচ্ছেদগুলো শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়ে যেত এবং এটি তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ত।

এছাড়াও হাফেজ যাহাবী তাঁর কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন এবং প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী কিছু মতামত ও চিন্তা বারবার উল্লেখ করেছেন। এমতাবস্থায় আমি দীর্ঘসূত্রতার আশঙ্কায় তাঁর বক্তব্যের কিছু প্রমাণ উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি এবং অন্যান্যগুলো বর্জন করেছি।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ যাহাবীর অনেক মন্তব্য ও পর্যালোচনা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু রাবীদের অবস্থা নির্ধারণ এবং বর্ণনার সমালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট, অথবা কোনো ফিকহী, আকিদাগত কিংবা হাদীস শাস্ত্রীয় বিষয়ে মতামত প্রদান সংক্রান্ত, আবার কিছু মন্তব্য শিষ্টাচার ও এই জাতীয় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে আমি এখানে কেবল ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশগুলোই লিপিবদ্ধ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২০)
وعلم الله أني قد اضطررت في سبيل جمع هذه المادة إلى مطالعة وجرد معظم كتب الذهبي الكبار، من أمثال مدونته الكبرى: تاريخ الإسلام بمجلداتها التي زادت على الخمسين مجلداً، وكتابه العظيم: سِيَر أعلام النبلاء، وكتابه ميزان الاعتدال في نقد الرجال، ومعجم الشيوخ الكبير، والمعجم المختص بالمحدثين، والعِبَر في أخبار من غَبَر، وتذكرة الحفاظ، وبيان زَغَل العلم.

هذه أهم كتب الذهبي، وقد تكون له تعليقات في ثنايا كتبه الأخرى، لكني أتصور ندرتها فتركتها، والله أعلم.

ومما تجدر الإشارة إليه أن بعض الباحثين كان قد سبقني في جمع شيء من كلام الذهبي وتعليقاته، لكني وجدتها كتباً عامة جمعت من كلام الذهبي وآراءه قضايا متنوعة، تتعلق بالآداب والسلوك وضرورة لزوم سنة النبي صلى الله عليه وسلم ومحبته وتعظيم العلماء، أو كلاماً يتعلق بتحقيق مسائل في السيرة أو التاريخ أو العقيدة أو الفقه، فضلاً عن كونها لم تستقرء كتب الذهبي وقد فاتها الشيء الكثير.

هذا وقد كنت عزمت على تسمية كتابي هذا بالوسيطة في
আল্লাহ জানেন যে, এই উপাদানসমূহ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আমি আয-যাহাবীর অধিকাংশ বৃহৎ গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা করতে বাধ্য হয়েছি; যেমন তাঁর সুবিশাল সংকলন: পঞ্চাশ খণ্ডেরও অধিক বিস্তৃত ‘তারিখুল ইসলাম’, তাঁর মহান গ্রন্থ: ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’, রাবী-সমালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর কিতাব: ‘মিযানুল ইতিদাল ফী নাক্বদির রিজাল’, ‘মু’জামুশ শুয়ুখিল কাবীর’, ‘আল-মু’জামুল মুখতাস বিল মুহাদ্দিসীন’, ‘আল-ইবার ফী আখবারি মান গাবার’, ‘তাযকিরাতুল হুফফায’ এবং ‘বায়ানু যাগালিল ইলম’।

এগুলোই আয-যাহাবীর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কিতাব। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের ভেতরেও হয়তো কিছু মন্তব্য থাকতে পারে, তবে আমি সেগুলো অত্যন্ত দুর্লভ মনে করে বর্জন করেছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, কিছু গবেষক ইতিপূর্বে আয-যাহাবীর বাণী ও মন্তব্যসমূহ সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমার অগ্রবর্তী হয়েছেন; কিন্তু আমি সেগুলোকে সাধারণ মানের গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি, যেখানে আয-যাহাবীর বক্তব্য ও মতামত থেকে বিবিধ বিষয় একত্রিত করা হয়েছে—যা শিষ্টাচার, আচরণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণ ও তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং আলেমদের সম্মানের আবশ্যকতা সম্পর্কিত। অথবা সীরাত, ইতিহাস, আকিদাহ কিংবা ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ের বিশ্লেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর পাশাপাশি তারা আয-যাহাবীর সকল গ্রন্থ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেননি এবং তাদের সংকলনে অনেক কিছুই বাদ রয়ে গেছে।

এমতাবস্থায় আমি আমার এই গ্রন্থটির নাম ‘আল-ওয়াসিতাহ ফী’ রাখার সংকল্প করেছিলাম...
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২১)
فكر الحافظ الذهبي، لكني عدلت إلى تسميته بـ "الإنصاف والاعتدال في فكر الحافظ الذهبي" لأني رأيت الذهبي نفسه قد استعمل هذه العبارة عندما ذكر اختلاف بعض الناس في أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه بين غال في حبِّه أو مفرط في بغضه، فقال الذهبي رحمه الله معلقاً: «فبالله كيف يكون حال من نشأ في إِقليم، لا يكاد يُشاهد فيه إِلاَّ غالياً في الحبِّ، مفرطاً في البغض، ومن أين يقع له الإِنصاف والاعتدال؟ فنحمد الله على العافية … »(1).

ولعلي أختم هذا المقدمة بما ختم به الحافظ الذهبي مقدمة كتابه تاريخ الإسلام عندما قال: (وأنا أرغبُ إلى الله تعالى، وابتهلُ إليه أن ينفع بهذا الكتاب، وأن يغفر لجامِعة وسامِعه ومطالِعه وللمسلمين، آمين)(2).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 3/ 128.

(2) تاريخ الإسلام 1/ 10.
হাফেজ আয-যাহাবীর চিন্তা-ভাবনা, কিন্তু আমি এর নামকরণ "হাফেজ আয-যাহাবীর চিন্তা-ভাবনায় ইনসাফ ও ভারসাম্য" হিসেবে পরিবর্তন করেছি; কারণ আমি দেখেছি খোদ যাহাবী নিজেই এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন যখন তিনি আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাপারে মানুষের মতভেদ সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন—যারা তাঁর ভালোবাসায় অতিরঞ্জনকারী অথবা তাঁর বিদ্বেষে চরমপন্থী। যাহাবী রহিমাহুল্লাহ মন্তব্য করে বলেছেন: «আল্লাহর কসম, সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে এমন এক জনপদে বেড়ে উঠেছে, যেখানে অতি-ভালোবাসা অথবা অতি-বিদ্বেষী ছাড়া আর কাউকেই প্রায় দেখা যায় না? এমতাবস্থায় তার পক্ষে ইনসাফ ও ভারসাম্য বজায় রাখা কীভাবে সম্ভব? সুতরাং আমরা এই ফিতনা থেকে হেফাজতে থাকার কারণে আল্লাহর প্রশংসা করছি … »(১).

আর সম্ভবত আমি এই ভূমিকাটি সেই কথা দিয়ে শেষ করব যা দিয়ে হাফেজ আয-যাহাবী তাঁর 'তারিখুল ইসলাম' গ্রন্থের ভূমিকা শেষ করেছেন, যখন তিনি বলেছিলেন: (আর আমি মহান আল্লাহর কাছে আকাঙ্ক্ষা করি এবং তাঁর কাছে বিনীত প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাবের মাধ্যমে উপকার দান করেন, আর এর সংকলক, এর শ্রোতা, পাঠক এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করেন, আমীন)(২).

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৩/ ১২৮।

(২) তারিখুল ইসলাম ১/ ১০।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الأول إنصافه في تراجمه

لعل من أبرز السمات التي لا تخطئها العين في منهج الإمام الذهبي وفي مسيرته العلمية إنصافه الشديد لكل من ترجم له أو كتب عنه من الأعلام والمشاهير حتى وإن كانوا يختلفون معه في المذهب أو المعتقد.

إن كل من يطالع تراجم الذهبي في كتابه سير أعلام النبلاء أو تاريخ الإسلام أو تذكرة الحفاظ أو ميزان الاعتدال أو غيرها تجده لا يفرق في النقد بين علماء المذاهب وأرباب الطوائف وبيان ما لهم وما عليهم، سواء كانوا ممن يتفقون معه أو يختلفون.

فالذهبي ينقل عادة آراء الموافقين والمخالفين في العَلَمِ المترجَم، حتى يقدم صورة متكاملة عنه من كل جانب.

بينما نجد كثيراً من الكتاب والمؤرخين قديماً وحديثاً يتأثرون بمذاهبهم ومشاربهم واختلاف توجهاتهم وأمزجتهم عند الحديث عن غيرهم، فيقتصرون إما على التبجيل والمدح
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবনচরিত আলোচনায় তাঁর ইনসাফ বা নিরপেক্ষতা

ইমাম আয-যাহাবীর মানহাজ এবং তাঁর ইলমী কর্মজীবনে সম্ভবত সবচাইতে সুস্পষ্ট যে বৈশিষ্ট্যটি লক্ষ্য করা যায়, তা হলো তিনি যাঁদেরই জীবনী লিখেছেন বা যাঁদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, সেই সকল বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও প্রসিদ্ধ মনীষীদের প্রতি তাঁর চরম ইনসাফ বা নিরপেক্ষতা; এমনকি তাঁরা যদি মাযহাব কিংবা আকিদার ক্ষেত্রে তাঁর সাথে ভিন্নমতাবলম্বীও হয়ে থাকেন।

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ইমাম আয-যাহাবীর ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’, ‘তারিখুল ইসলাম’, ‘তাযকিরাতুল হুফফায’ কিংবা ‘মিযানুল ইতিদাল’ সহ অন্যান্য গ্রন্থাবলিতে জীবনীগুলো পাঠ করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে, বিভিন্ন মাযহাবের আলিম এবং বিভিন্ন ফিরকার অনুসারীদের সমালোচনার ক্ষেত্রে এবং তাঁদের গুণাগুণ ও দোষত্রুটি বর্ণনায় তিনি কোনো ভেদাভেদ করেন না; চাই তাঁরা তাঁর সাথে একমত পোষণকারী হোন কিংবা ভিন্নমত পোষণকারী।

ইমাম আয-যাহাবী সাধারণত কোনো ব্যক্তিত্বের জীবনী বর্ণনায় তাঁর অনুসারী এবং বিরোধী—উভয় পক্ষের মতামতই উদ্ধৃত করেন, যাতে করে তাঁর সম্পর্কে সব দিক থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটিয়ে তোলা যায়।

এর বিপরীতে আমরা প্রাচীন ও আধুনিক কালের অনেক লেখক ও ঐতিহাসিককে দেখি যে, তাঁরা অন্যদের সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে নিজেদের মাযহাব, আদর্শ এবং চিন্তাধারা ও মেজাজের ভিন্নতা দ্বারা প্রভাবিত হন; ফলে তাঁরা হয় কেবল অতিশয় ভক্তি ও প্রশংসায় সীমাবদ্ধ থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
أو على الذم والقدح، بحسب قرب المترجَم أو بعده عن مذاهبهم ومعتقداتهم وقناعاتهم الشخصية.

وشواهد الإنصاف كثيرة في كتب الذهبي، اكتفي منها بثلاثة طلباً للاختصار.

الشاهد الأول: موقفه من الإمام أبي حامد الغزالي (ت: 505 هـ)، صاحب كتاب إحياء علوم الدين، وأحد أبرز منظري الصوفية وزعماء الأشاعرة.

لقد انتقد الإمام الذهبي أبا حامد الغزالي كثيراً وأبدى جملة من الملحوظات عليه، خاصة في باب التصوف واستدلاله بالأحاديث الضعيفة والموضوعة في كتبه دون علم له بذلك، لكن ولأن الغزالي له جهود كبيرة في نشر علوم الشريعة، والتصدي لكثير من الفرق الضالة والمنحرفة كالباطنية والفلاسفة فقد أنصفه الذهبي وعرف له فضله وقدره وصدّر ترجمته بقوله في السير: «الشيخ الإمام البحر، حجّة الإسلام، أعجوبة الزمان، زين الدين، أبو حامد محمد بن محمد بن أحمد الشافعي الغزالي صاحب التصانيف والذكاء المفرط»(1).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 19/ 323.
অথবা নিন্দা ও দোষারোপের ভিত্তিতে, যার জীবনী লেখা হচ্ছে তার সাথে তাদের মাযহাব, আকিদা বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের নৈকট্য বা দূরত্বের ভিত্তিতে।

ইমাম যাহাবীর কিতাবসমূহে ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের প্রমাণ প্রচুর; সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি এখানে মাত্র তিনটি উদাহরণ পেশ করছি।

প্রথম প্রমাণ: ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালী (মৃত্যু: ৫০৫ হি.) সম্পর্কে তাঁর অবস্থান, যিনি 'ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন' গ্রন্থের রচয়িতা এবং সূফীবাদের অন্যতম প্রধান তাত্ত্বিক ও আশআরিদের অন্যতম নেতা।

ইমাম যাহাবী ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালীর অনেক সমালোচনা করেছেন এবং তাঁর ব্যাপারে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন, বিশেষ করে তাসাউফের ক্ষেত্রে এবং অজান্তেই তাঁর কিতাবসমূহে যঈফ ও বানোয়াট হাদীস দ্বারা দলীল প্রদানের বিষয়ে। তবে যেহেতু শরীয়তের ইলম প্রচারে এবং বাতেনী ও দার্শনিকদের মতো অনেক পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুত দলের মোকাবিলায় গাজালীর বিশাল অবদান রয়েছে, তাই যাহাবী তাঁর প্রতি ইনসাফ করেছেন এবং তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছেন। 'সিয়ার' গ্রন্থে তাঁর জীবনী তিনি এভাবে শুরু করেছেন: «শাইখ, ইমাম, সমুদ্রতুল্য ইলমের অধিকারী, হুজ্জাতুল ইসলাম, যুগের বিস্ময়, যাইনুদ্দীন, আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আশ-শাফিয়ী আল-গাজালী; যিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা এবং প্রখর মেধার অধিকারী»(১)।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১৯/ ৩২৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال منصفاً كتابه الإحياء: «وأما الإحياء ففيه من الأحاديث الباطلة جملة، وفيه خير كثيرٌ، لو لا ما فيه من آداب ورسوم وزهد من طرائق الحكماء ومنحرفي الصوفية، نسأل الله علماً نافعاً»(1).

وقال أيضاً مدافعاً عن الغزالي: «الغَزالي إمامٌ كبير، وما من شَرط العالِم أنهُ لا يخطئ»(2).

وقد ختم ترجمته بقوله: «فرحم الله الإمام أبا حامد، فأين مثله في علومه وفضائله، ولكن لا ندَّعي عصمته من الغلط والخطأ، ولا تقليد في الأصول»(3).

وقد عدَّه من العلماء المجددين في القرن الخامس(4).

وما من شك أن موقف الذهبي هذا يعد غاية في الوسطية والاعتدال حيث لم يمنعه نقده للإمام الغزالي في بعض المسائل الشرعية من إنصافه والإقرار بعلمه وفضله، مع تصريحه بأن العالم في المنظور الإسلامي ليس من شرطه أنه لا يخطئ البتة، فليس في الإسلام كهنة ولا أئمة معصومون، وكلٌ يؤخذ من قوله ويرد إلا

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 19/ 339.

(2) سير أعلام النبلاء 19/ 339.

(3) سير أعلام النبلاء 19/ 246.

(4) تاريخ الإسلام 23/ 179.
তিনি তাঁর ‘ইহয়া’ কিতাব সম্পর্কে ইনসাফপূর্ণ মন্তব্য করে বলেছেন: «আর ইহয়া সম্পর্কে কথা হলো, এতে একগুচ্ছ বাতিল হাদীস রয়েছে, তবে এতে প্রভূত কল্যাণও রয়েছে; যদি না এতে দার্শনিকদের পন্থা এবং পথভ্রষ্ট সূফীদের আদব, আচার ও যুহদ (সংসারবিরাগ) থাকত। আমরা আল্লাহর কাছে উপকারী ইলম প্রার্থনা করি»(১).

তিনি গাযালীর পক্ষ সমর্থন করে আরও বলেছেন: «গাযালী একজন মহান ইমাম, আর কোনো আলেমের জন্য এটি শর্ত নয় যে তিনি কোনো ভুল করবেন না»(২).

তিনি তাঁর জীবনী আলোচনার ইতি টেনেছেন এই বলে: «আল্লাহ ইমাম আবু হামিদের ওপর রহম করুন, তাঁর জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বের তুল্য আর কে আছে? কিন্তু আমরা তাঁর ভুলভ্রান্তি থেকে নিষ্পাপ হওয়ার দাবি করি না, আর উসূল (মৌলিক নীতি) এর ক্ষেত্রে কোনো তাকলীদ নেই»(৩).

তিনি তাঁকে পঞ্চম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) আলেমদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন(৪).

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যাহাবীর এই অবস্থানটি চূড়ান্ত মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের পরিচায়ক। কেননা কিছু শরয়ী মাসআলায় ইমাম গাযালীর প্রতি তাঁর সমালোচনা তাঁকে ইনসাফ করা এবং তাঁর ইলম ও শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত রাখেনি। সেই সাথে তিনি এটিও স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো আলেম মোটেও ভুল করবেন না—এমনটি তাঁর জন্য শর্ত নয়। কারণ ইসলামে কোনো যাজকতন্ত্র নেই এবং কোনো ইমামই নিষ্পাপ নন। আর প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা যায় কিংবা বর্জন করা যায়, কেবল...

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৯/ ৩৩৯।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৯/ ৩৩৯।

(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৯/ ২৪৬।

(৪) তারিখুল ইসলাম ২৩/ ১৭৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
صاحب هذا القبر صلى الله عليه وسلم كما يقول الإمام مالك بن أنس(1).

الشاهد الثاني: موقف الحافظ الذهبي من الإمام ابن حزم الأندلسي الظاهري (ت: 456 هـ)، صحاب كتاب المحلى وغيره.

فقد أثنى الذهبي في كتبه على ابن حزم رحمه الله، ووصفه بالإمامة والحفظ والتدين والتبحر في علوم الدين، مع أنه انتقده في الوقت نفسه بقسوة في مسائل شرعية كثيرة في الأصول والفروع، خاصة في تأثره بعلوم المنطق والفلسفة في باب الاعتقاد، وظاهريته المفرطة في الفقه، ولهجته الحادة في نقد الأئمة.

وقد ترجم الذهبي له في ثمان وعشرين صفحة من القطع الكبير من كتابه سير أعلام النبلاء وختم ترجمته بقوله: (ولي أنا ميل إلى أبي محمد ـــ يعني ابن حزم ـــ لمحبته في الحديث الصحيح ومعرفته به، وإن كنت لا أوافقه في كثير مما يقوله في الرجال والعلل والمسائل البشعة في الأصول والفروع، وأقطع بخطئه في غير ما مسألة، ولكن لا أُكفره ولا أُضلله، وأرجو له العفو والمسامحة وللمسلمين، وأخضع لفرط ذكائه وسَعَة علومه)(2).

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية 14/ 169.

(2) سير أعلام النبلاء 18/ 184.
এই কবরের অধিবাসী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যেমনটি ইমাম মালিক বিন আনাস বলেছেন(১)।

দ্বিতীয় প্রমাণ: ইমাম ইবনু হাজম আল-আন্দালুসি আজ-জাহিরি (মৃত: ৪৫৬ হিজরি), যিনি আল-মুহাল্লা ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা, তাঁর ব্যাপারে হাফেজ আজ-জাহাবির অবস্থান।

আজ-জাহাবি তাঁর গ্রন্থসমূহে ইবনু হাজম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে ইমামত, স্মৃতিশক্তি, ধার্মিকতা ও দ্বীনি জ্ঞানবিজ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে একইসাথে তিনি উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা)-এর বহু শরয়ী মাসআলায় কঠোরভাবে তাঁর সমালোচনা করেছেন; বিশেষ করে আকিদার অধ্যায়ে যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের প্রভাব, ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁর চরম জাহিরি (আক্ষরিক) মনোভাব এবং ইমামগণের সমালোচনায় তাঁর রূঢ় ভাষার বিষয়ে তিনি সমালোচনা করেছেন।

আজ-জাহাবি তাঁর 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে বড় আকারের আঠাশ পৃষ্ঠা জুড়ে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং জীবনীর ইতি টেনেছেন এই বলে: (আবু মুহাম্মাদ —অর্থাৎ ইবনু হাজম— এর প্রতি আমার এক ধরনের টান আছে, কারণ সহিহ হাদিসের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর গভীর জ্ঞান রয়েছে। যদিও রাবি (বর্ণনাকারী), ত্রুটি এবং উসুল ও ফুরু-এর বিভিন্ন আপত্তিকর বিষয়ে তাঁর অনেক কথার সাথে আমি একমত নই এবং একাধিক মাসআলায় তাঁর ভুলের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত; তথাপি আমি তাঁকে কাফের বলি না কিংবা পথভ্রষ্ট ঘোষণা করি না। আমি তাঁর জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য ক্ষমা ও মার্জনা কামনা করি এবং তাঁর প্রখর মেধা ও জ্ঞানের বিশালতার সামনে নতি স্বীকার করি)(২)।

--------------------------------------------

(১) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৪/ ১৬৯।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৮/ ১৮৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي تصوري أن هذا الموقف من الإمام الذهبي يعد غاية الغايات في باب التسامح والاعتدال والوسطية، والنظر إلى المخالِف بعين الإنصاف، والدعوة إلى عدم التهور في تكفير المسلم ورميه بالضلال لأجل زلّة أو اجتهاد خاطئ في مسألة.

الشاهد الثالث: موقفه من كتاب "الشِّفا في التعريف بحقوق المصطفى" للقاضي عياض بن موسى اليحصبي المالكي، (ت: 543 هـ)، ففي ترجمته من السير قال: «تواليفه نفيسة، وأجلها وأشرفها كتاب الشِّفا، لو لا ما حشاه بالأحاديث المُفتعلة، عملُ إمام لا نقد له في فنّ الحديث ولا ذوق، والله يثيبه على حسن قصده، وينفع بشفائه وقد فعل»(1).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 20/ 216.
আমার ধারণায় ইমাম যাহাবীর এই অবস্থানটি সহনশীলতা, পরিমিতিবোধ ও মধ্যপন্থার ক্ষেত্রে চরম লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত। এটি বিরোধীদের প্রতি ইনসাফের দৃষ্টিতে তাকানো এবং কোনো একটি বিষয়ে পদস্খলন বা ভুল ইজতিহাদের কারণে কোনো মুসলিমকে কাফির ঘোষণা করা ও তাকে ভ্রষ্টতার অপবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে হঠকারিতা না করার একটি আহ্বান।

তৃতীয় প্রমাণ: কাযী ইয়ায বিন মুসা আল-ইয়াহসুবী আল-মালিকীর (মৃত্যু: ৫৪৩ হিজরী) ‘আশ-শিফা ফি তারিফি হুকুকিল মুস্তফা’ গ্রন্থের ব্যাপারে তাঁর অবস্থান। সিয়ারু আলামিন নুবালা গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন: «তাঁর রচনাগুলো অত্যন্ত মূল্যবান, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মহত্তম হলো আশ-শিফা গ্রন্থটি; যদি না তিনি এতে বানোয়াট হাদিসগুলো ঢুকিয়ে দিতেন। এটি এমন একজন ইমামের কাজ যার হাদিস শাস্ত্রে কোনো সমালোচনা করার সক্ষমতা বা সূক্ষ্ম রুচি ছিল না। আল্লাহ তাঁর সৎ উদ্দেশ্যের জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করুন এবং তাঁর শিফা গ্রন্থের মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত করুন, আর তিনি তা করেছেনও»(১).

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২০/ ২১৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الفصل الثاني تحذيره من سفك الدماء

لقد كان الحافظ الذهبي رحمه الله كثيراً ما يشدّد في شأن الدماء والأرواح كلما ترجم لشخص عرف باستهانته بها. والنبي صلى الله عليه وسلم صحً عنه أنه قال: «لن يزال المؤمن في فسحة من دينه ما لم يُصب دماً حراماً»(1).

وإن تيسر لك مطالعة كتابه: سير أعلام النبلاء أو مدونته الكبرى: تاريخ الإسلام أو كتابه المختصر: العِبَر بأخبار من غَبَر فسوف تقف على شواهد كثيرة من نقده لكل من تورط في هذا الأمر المريع من أمثال: الحجاج بن يوسف الثقفي (ت: 95 هـ)، وأبي مسلم الخُراساني (ت: 137 هـ)، الداعية إلى دولة بني العباس، والحاكم بأمر الله العُبيدي (ت: 411 هـ)، حاكم مصر، والمهدي ابن تومرت (ت: 524 هـ)، حاكم بلاد المغرب، وطاغية التتار جنكيز خان (ت: 624 هـ)، الذي قال الذهبي: «بأن قتل المسلم

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الديات، باب بدون عنوان، 9/ 2 حديث رقم (6862).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রক্তপাত সম্পর্কে তাঁর সতর্কতা

হাফেজ যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) যখনই এমন কোনো ব্যক্তির জীবনী বর্ণনা করতেন যিনি রক্ত ও প্রাণের ব্যাপারে উদাসীনতার জন্য পরিচিত ছিলেন, তখনই তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «একজন মুমিন তার দ্বীনের ব্যাপারে প্রশস্ততায় থাকে, যতক্ষণ না সে কোনো নিষিদ্ধ রক্তপাতে লিপ্ত হয়।»(১)।

যদি আপনার জন্য তাঁর রচিত গ্রন্থ: ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ অথবা তাঁর বৃহৎ সংকলন: ‘তারিখুল ইসলাম’ অথবা তাঁর সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ: ‘আল-ইবার ফি আখবারি মান গাবার’ অধ্যয়ন করা সহজ হয়, তবে আপনি এই ভয়াবহ কাজে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তিদের সমালোচনায় তাঁর অসংখ্য প্রমাণ দেখতে পাবেন। যেমন: হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফি (মৃ: ৯৫ হি.), আবু মুসলিম আল-খুরাসানি (মৃ: ১৩৭ হি.), যিনি আব্বাসীয় বংশের রাষ্ট্রের দাওয়াত দানকারী ছিলেন, মিসরের শাসক আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহ আল-উবায়দি (মৃ: ৪১১ হি.), মাগরেব অঞ্চলের শাসক মাহদি ইবনে তুমারত (মৃ: ৫২৪ হি.) এবং তাতারদের স্বৈরশাসক চেঙ্গিস খান (মৃ: ৬২৪ হি.), যাঁর সম্পর্কে যাহাবি বলেছেন: «নিশ্চয়ই একজন মুসলিমকে হত্যা করা...

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুদ দিয়াত (রক্তপণ অধ্যায়), শিরোনামহীন পরিচ্ছেদ, ৯/২, হাদিস নং (৬৮৬২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৩০)
عنده أهون من قتل البرغوث»(1)!!. وحفيده هولاكو، الذي قال الذهبي: «بأنه سفك دم ألف ألف أو يزيدون»(2)!!

ــــــ وقد انتقد الذهبي رحمه الله كثرة الأرواح البريئة التي أزهقت عند قيام دولة بني العبّاس، وقال: «فرحنا بمصير الأمر إليهم، ولكن والله ساءنا ما جرى؛ لما جرى من سيول الدِّماء، والسَّبي، والنَّهب، فإنّا لله وإنّا إليه راجعون، فالدولة الظالمة مع الأمن وحقن الدماء، ولا دولة عادلة تنتهك دونها المحارم، وأنى لها العدل؟ بَلْ أَتَتْ دَوْلَةً أعجمية خراسانيَّة جبَّارة، ما أشبه الليْلة بالبارحة»(3).

ــــــ وقال في موضع آخر: «وفي عصر هذه الطبقة(4) تحولت دولة الإسلام من بني أمية إلى بني العباس في العام اثنتين وثلاثين ومائة، فجرى بسبب ذلك التحول سيولٌ من الدماء، وذهب تحت السيف عالَمٌ لا يحصيهم إلا الله بخراسان والعراق والجزيرة والشام، وفعلت العساكر الخراسانية الذين هم المسودة كلَّ قبيح، فلا حول ولا قوة إلا بالله»(5).

ــــــ ومن الطريف أن الذهبي رحمه الله كان يرى أن الشدة

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 22/ 243.

(2) تاريخ الإسلام 49/ 183.

(3) سير أعلام النبلاء 6/ 58.

(4) يقصد طبقة صغار التابعين.

(5) تذكرة الحفاظ 1/ 158.
তার কাছে একটি মশা মারার চেয়েও সহজ ছিল(১)!! আর তার নাতি হালাকু খান, যার সম্পর্কে আয-যাহাবি বলেছেন: "তিনি দশ লক্ষ বা তারও বেশি মানুষের রক্ত ঝরিয়েছেন"(২)!!

ــــــ ইমাম আয-যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) আব্বাসীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় যে অসংখ্য নিরপরাধ প্রাণ সংহার করা হয়েছিল তার সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "শাসনক্ষমতা তাদের হাতে যাওয়ায় আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম, কিন্তু আল্লাহর কসম, যা ঘটেছে তা আমাদের ব্যথিত করেছে; কারণ সেখানে রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল, চলেছে বন্দিত্ব ও লুণ্ঠন। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং তাঁরই নিকট আমাদের ফিরে যেতে হবে। নিরাপত্তা ও রক্তপাত বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে একটি জালেম রাষ্ট্রও শ্রেয়, কিন্তু এমন কোনো ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্র নয় যার অধীনে পবিত্র বিষয়গুলো লঙ্ঘিত হয়। আর সেই রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারই বা কোথায় ছিল? বরং তা ছিল এক অনারব খোরাসানি স্বৈরাচারী রাষ্ট্র। বর্তমান যেন অতীতের হুবহু প্রতিচ্ছবি"(৩)।

ــــــ তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "এই স্তরের(৪) যুগে একশ বত্রিশ হিজরিতে ইসলামের রাষ্ট্রক্ষমতা উমাইয়াদের থেকে আব্বাসীয়দের হাতে স্থানান্তরিত হয়। এই পরিবর্তনের কারণে রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল এবং খোরাসান, ইরাক, আল-জাজিরা ও সিরিয়ায় তলোয়ারের নিচে এমন এক বিশাল জনগোষ্ঠী বিলীন হয়ে গিয়েছিল যাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। আর খোরাসানি সৈন্যরা—যারা ছিল কালো পোশাকধারী—তারা প্রতিটি জঘন্য কাজই করেছিল। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই"(৫)।

ــــــ মজার ব্যাপার হলো যে, আয-যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) মনে করতেন যে কঠোরতা

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/ ২৪৩।

(২) তারিখুল ইসলাম ৪৯/ ১৮৩।

(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/ ৫৮।

(৪) এর দ্বারা তিনি ছোট তাবিঈদের স্তরকে বুঝিয়েছেন।

(৫) তাযকিরাতুল হুফফায ১/ ১৫৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৩১)
في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر قد تفضي بصاحبها إلى التكفير واستباحة الدماء!!

يقول رحمه الله: «ربما آل الأمر بالمعروف بصاحبه إلى الغضب والحدَّة، فيقع في الهجران المحرَّم، وربَّما أفضى إلى التكفير(1) والسَّعي في الدَّم»(2).

--------------------------------------------

(1) وقع في طبعة الرسالة للسير " التفكير "، ووقع في طبعة دار الحديث " التكفير " ولعلها أقرب للسياق.

(2) سير أعلام النبلاء 17/ 41.
সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে বিষয়টি কখনও কখনও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাকফির এবং রক্তপাত বৈধ করার দিকে ধাবিত করে!!

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «সম্ভবত সৎকাজের আদেশ দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাগ এবং উগ্রতার দিকে ঝুঁকে পড়ে, ফলে সে নিষিদ্ধ সম্পর্কচ্ছেদে লিপ্ত হয়, এবং সম্ভবত তা তাকফির(১) এবং রক্তপাতের চেষ্টার দিকে ধাবিত করে»(২).

--------------------------------------------

(১) সিয়ার-এর আর-রিসালা মুদ্রণে "আত-তাফকির" (চিন্তা করা) এসেছে, আর দারুল হাদিস মুদ্রণে "আত-তাকফির" এসেছে এবং সম্ভবত এটিই প্রসঙ্গের অধিক নিকটবর্তী।

(২) সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১৭/ ৪১।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الثالث ذمه الشديد للخوارج(1)، وتوسُّطه في الحكم عليهم.

لقد ذمّ الإمام الذهبيُّ الخوارجَ في مواطن كثيرة من كتبه وحمل عليهم بسبب غلوهم في الدين وسفكهم للدماء بالرغم من شدة تدينهم وكثرة عبادتهم لكن على جهالة.

ــــــ يقول رحمه الله: «أوقعهم ــــ يعني الخوارج ــــ الغلو في الدين إلى تكفير العصاة بالذنوب، وإلى قتل النساء والرجال، إلا من اعترف لهم بالكفر وجدّد إسلامه»(2)!!

ــــــ وفي موضع آخر يقول: (الخوارج كلاب النَّار(3)، وَشَرُّ

--------------------------------------------

(1) الخوارج: فرقة من الفرق الإسلامية، خرجوا على الإمام علي بن أبي طالب رضي الله عنه وخالفوا رأيه وقاتلوه وكفّروه، لهم عقائد زائغة من أشهرها: تكفير مرتكب الكبيرة، واستحلال دماء المسلمين المخالفين لهم وأموالهم بحجّة أنهم مرتدين، وهم فرق شتى، ينظر الملل والنحل للشهرستاني، ص 131، التمهيد لابن عبد البر 23/ 322، المغني لابن قدامة 9/ 12، ومجموع فتاوى ابن تيمية 28/ 516.

(2) سير أعلام النبلاء 3/ 606.

(3) إشارة للحديث الذي أخرجه أحمد في المسند 31/ 474، وابن ماجه في سننه، كتاب الإيمان، باب في ذكر الخوارج، 1/ 61 حديث 173، عن أبي ابن أبي أوفى أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الخوارج كلاب النار»، وصححه الألباني في الجامع الصحيح برقم 3347.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: খারিজিদের প্রতি তাঁর তীব্র নিন্দা এবং তাদের ব্যাপারে ফয়সালায় তাঁর মধ্যপন্থা অবলম্বন।

ইমাম যাহাবি তাঁর কিতাবসমূহের অনেক স্থানে খারিজিদের নিন্দা করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তাদের চরমপন্থা ও রক্তপাতের কারণে তিনি তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন; যদিও তারা কঠোরভাবে দ্বীন পালন করত এবং প্রচুর ইবাদত করত, কিন্তু তা ছিল মূর্খতা বা অজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে।

ــــــ তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: «দ্বীনের ব্যাপারে চরমপন্থা খারিজিদেরকে পাপের কারণে গুনাহগারদের কাফির সাব্যস্ত করার দিকে এবং নারী ও পুরুষদেরকে হত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে; কেবল তারা ব্যতীত যারা তাদের নিকট নিজেদের কুফরি স্বীকার করেছে এবং নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেছে»!!

ــــــ অন্য এক স্থানে তিনি বলেন: (খারিজিরা জাহান্নামের কুকুর এবং সৃষ্টির নিকৃষ্ট...

--------------------------------------------

(১) খারিজি: তারা মুসলিম দলসমূহের মধ্যকার একটি দল, যারা ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল, তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল এবং তাঁকে কাফির সাব্যস্ত করেছিল। তাদের কিছু ভ্রান্ত আকিদা রয়েছে যার মধ্যে প্রসিদ্ধ হলো: কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করা এবং তাদের বিরোধিতাকারী মুসলিমদের রক্ত ও ধন-সম্পদকে তারা মুরতাদ—এই অজুহাতে হালাল মনে করা। তারা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত। দেখুন: শাহরাস্তানি কৃত আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল, পৃষ্ঠা ১৩১; ইবনে আবদিল বার কৃত আত-তামহিদ ২৩/৩২২; ইবনে কুদামা কৃত আল-মুগনি ৯/১২ এবং মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৮/৫১৬।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/৬০৬।

(৩) মুসনাদে আহমাদে (৩১/৪৭৪) বর্ণিত হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এছাড়া ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে, কিতাবুল ঈমান, খারিজিদের বর্ণনা অধ্যায়, ১/৬১, হাদিস ১৭৩-এ আবু ইবনে আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «খারিজিরা জাহান্নামের কুকুর», আলবানি আল-জামিউস সহিহ-এর ৩৩৪৭ নম্বর হাদিসে একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قَتْلَى تَحْتَ أَدِيْمِ السَّمَاءِ(1)، لأَنهم مرقوا من الإسلام، ثم لا ندري مصيرهم إلى ماذا، ولا نحكم عليهم بخلود النار، بل نقف)(2).

ــــــ وكذلك قوله: «الخوارج كلاب النَّار، قد مرقوا من الدّين، وَمع هذا فلا نقطع لهم بخلود النَّار، كما نقطع به لعبَدة الأصنام والصُّلبان»(3). وقد وصفهم أيضاً بأنهم أعداء للمسلمين(4).

وهذا من إنصاف الذهبي رحمه الله ووسطيته فهو وبالرغم من نقده للخوارج وذمه الشديد لهم وتحذيره منهم إلا أنه لم يقطع بكفرهم ولا بخلودهم في النار، وهذا هو مذهب أهل السنة، أعني عدم تكفير الخوارج، كما حكاه عنهم الإمام النووي (ت: 676 هـ) في شرحه على صحيح مسلم(5).

بل نقل الإمام الخطابي (ت: 388 هـ) إجماع العلماء على: أن الخوارج على ضلالهم مسلمون وليسوا بكفار(6)

--------------------------------------------

(1) إشارة إلى الحديث الذي أخرجه الترمذي في سننه، في كتاب التفسير، باب ومن سورة آل عمران، 5/ 222 حديث 3000، عن أبي أمامة مرفوعاً، وفيه: «كلاب النار شرُّ قتلى تحت أديم السماء، خير قتلى من قتلوه»، حسنه الترمذي في الموضع المذكور، وقال الألباني: حسن صحيح، كما في صحيح سنن الترمذي، برقم 3000.

(2) سير أعلام النبلاء 1/ 63.

(3) سير أعلام النبلاء 3/ 128.

(4) سير أعلام النبلاء 15/ 373.

(5) شرح النووي على صحيح مسلم 7/ 160 - 165.

(6) نقله عنه المناوي في فيض القدير 3/ 509.
আসমানের নিচে নিকৃষ্টতম নিহত(১), কারণ তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে; অতঃপর আমরা জানি না তাদের পরিণতি কী হবে, আর আমরা তাদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার ফয়সালাও দিই না, বরং আমরা এ বিষয়ে বিরত থাকি(২)।

———— এবং একইভাবে তাঁর উক্তি: "খারেজীরা জাহান্নামের কুকুর, তারা দ্বীন থেকে বের হয়ে গেছে, তা সত্ত্বেও আমরা তাদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলি না, যেমনটা আমরা মূর্তি ও ক্রুশ পূজারীদের ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলি"(৩)। তিনি তাদের মুসলিমদের শত্রু হিসেবেও বর্ণনা করেছেন(৪)।

এটি ইমাম যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইনসাফ ও মধ্যপন্থার বহিঃপ্রকাশ। কারণ তিনি খারেজীদের সমালোচনা, তাদের কঠোর নিন্দা এবং তাদের ব্যাপারে সতর্ক করা সত্ত্বেও তাদের কাফের হওয়ার বা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। আর এটাই আহলুস সুন্নাহর মাযহাব, অর্থাৎ খারেজীদের কাফের সাব্যস্ত না করা; যেমনটি ইমাম নববী (ওফাত: ৬৭৬ হিজরী) সহীহ মুসলিমের শারহ-এ তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন(৫)।

বরং ইমাম খাত্তাবী (ওফাত: ৩৮৮ হিজরী) ওলামায়ে কেরামের ঐক্যমত (ইজমা) নকল করেছেন যে: খারেজীরা তাদের পথভ্রষ্টতা সত্ত্বেও মুসলিম এবং তারা কাফের নয়(৬)

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিযী তাঁর সুনানে, তাফসীর অধ্যায়ে, সূরা আলে ইমরানের পরিচ্ছেদে (৫/২২২, হাদীস ৩০০০) আবু উমামা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হাদীসের প্রতি ইঙ্গিত। তাতে রয়েছে: "জাহান্নামের কুকুররা আসমানের নিচে নিকৃষ্টতম নিহত; আর সর্বোত্তম নিহত হচ্ছে তারা যাদেরকে এরা হত্যা করেছে।" ইমাম তিরমিযী উক্ত স্থানে একে 'হাসান' বলেছেন এবং আলবানী একে 'হাসান সহীহ' বলেছেন, যেমনটি সহীহ সুনান তিরমিযীর ৩০০০ নম্বর হাদীসে রয়েছে।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১/৬৩।

(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/১২৮।

(৪) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৫/৩৭৩।

(৫) সহীহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শারহ ৭/১৬০ - ১৬৫।

(৬) মানাবী এটি ফয়জুল ক্বাদীর ৩/৫০৯ গ্রন্থে তাঁর থেকে নকল করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الفصل الرابع تحذيره من المسارعة إلى التكفير بغير برهان قطعي

ففي ترجمة الفيلسوف المتصوّف الحسين بن منصور الحلاج (ت: 309 هـ) يقول الذهبي: «فما ينبغي لك يا فقيه أن تبدر إلى تكفير المسلم إلا ببرهان قطعي، كما لا يسوغ لك أَنْ تعتقد العرفان والولاية فيمن قد تبرهن زغله، وانهتك باطنه وزندقته، فلا هذا ولا هذا، بل العدل أن من رآه المسلمُون صالحاً محسناً، فهو كذلك، لأنهم شهداء الله في أرضه، إذ الأمة لا تجتمع على ضلالة، وأن من رآه المسلمون فاجراً أو منافقاً أو مبطلا، فهو كذلك، وأن من كان طائفةٌ من الأمة تضلِّله، وطائفةٌ من الأمة تثني عليه وتبجِّله، وطائفةٌ ثالثةٌ تقف فيه وتتورَّع من الحطِّ عليه، فهو ممن ينبغي أن يعرض عنه، وأن يفوَّض أمره إلى الله، وأن يستغفر له في الجملة؛ لأن إسلامه أصلي بيقين، وضلاله مشكوك فيه، فبهذا تستريح، ويصفو قلبك من الغِّل للمؤمنين»(1).

وكلام الذهبي هذا يمكن أن نخلص منه إلى قواعد مهمة، منها:

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 14/ 343.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অকাট্য প্রমাণ ব্যতিরেকে তাকফিরের পথে ধাবিত হওয়ার ব্যাপারে তাঁর সতর্কবাণী

সূফী দার্শনিক আল-হুসাইন ইবনে মানসুর আল-হাল্লাজের (মৃত্যু: ৩০৯ হিজরি) জীবনীতে আয-যাহাবী বলেন: “হে ফকীহ, অকাট্য প্রমাণ ব্যতীত কোনো মুসলিমকে কাফির সাব্যস্ত করতে তোমার দ্রুততা প্রদর্শন করা উচিত নয়। তেমনিভাবে যার বিচ্যুতি প্রমাণিত হয়েছে এবং যার অভ্যন্তরীণ অবস্থা ও যিন্দিকপনা প্রকাশ পেয়েছে, তার ব্যাপারে আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও বেলায়েতের আকিদা পোষণ করাও তোমার জন্য বৈধ নয়। সুতরাং এটিও নয়, ওটিও নয়; বরং ন্যায়বিচার হলো এই যে, মুসলিমগণ যাকে নেককার ও সৎকর্মশীল হিসেবে দেখে, সে তেমনই; কারণ তারা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী, যেহেতু উম্মাহ পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় না। আর মুসলিমগণ যাকে পাপাচারী, মুনাফিক বা বাতিলপন্থী হিসেবে দেখে, সে তেমনই। আর যার ব্যাপারে উম্মাহর একদল তাকে পথভ্রষ্ট বলে, অন্য একদল তার প্রশংসা ও গুণগান করে এবং তৃতীয় একদল তার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে ও তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা থেকে বেঁচে থাকে—সে এমন এক ব্যক্তি যার থেকে বিমুখ থাকা উচিত এবং তার বিষয়টি আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা উচিত এবং সাধারণভাবে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত; কেননা তার ইসলাম নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, আর তার পথভ্রষ্টতা সন্দেহযুক্ত। এর মাধ্যমেই তুমি প্রশান্তি পাবে এবং মুমিনদের প্রতি বিদ্বেষ থেকে তোমার অন্তর পরিচ্ছন্ন হবে”(১)।

আয-যাহাবীর এই বক্তব্য থেকে আমরা কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি বের করতে পারি, যার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/ ৩৪৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
1 ــ عدم رمي المسلم بالكفر بغير برهان قطعي صريح.

2 ــ عدم ادعاء الولاية لمن تأكد ضلاله وتبرهنت زندقته وانحرافه عن الشريعة ونصوصها البينة.

3 ــ أن من عُرف عند جماهير الأمة بالخير والصلاح والاستقامة فهو صالح خيّر مستقيم إن شاء الله، لأن الأمة هم شهداء الله في أرضه.

4 ـــ أن من عُرف بفجوره واشتهر بانحرافه، فهو كذلك بحسب الظاهر، وإن كنا لا نقطع له في باطن الأمر، لكن كما قال الإمام أبو جعفر الطحاوي (ت: 321 هـ): «نرجوا للمحسن ونخاف على المسيء»(1).

5 ــ أن من اختلف فيه علماء الأمة ما بين مادح وقادح، ومعدل ومجرّح، فهذا ممن ينبغي الحذر في الحكم عليه. والأسلم تفويض أمره إلى الله، والاستغفار له في الجملة، لأن أسلامه ثابتٌ بيقين، وكفره مشكوك فيه، وبهذا كما يقول الذهبي: يصفوا قلب المسلم من الغلّ للمسلمين.

--------------------------------------------

(1): ينظر شرح العقيدة الطحاوية لابن أبي العز 2/ 538.
১ ــ কোনো সুনিশ্চিত ও স্পষ্ট প্রমাণ ব্যতীত কোনো মুসলিমকে কাফিরের অপবাদ না দেওয়া।

২ ــ যার পথভ্রষ্টতা নিশ্চিত এবং যার ধর্মদ্রোহিতা ও শরিয়ত এবং এর সুস্পষ্ট ভাষ্যসমূহ থেকে বিচ্যুতি প্রমাণিত হয়েছে, তার জন্য বেলায়েত বা অলিত্বের দাবি না করা।

৩ ــ উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠের নিকট যিনি কল্যাণ, সততা ও অবিচলতার জন্য পরিচিত, তিনি ইনশাআল্লাহ সৎ, কল্যাণকামী ও অবিচল; কারণ এই উম্মত জমিনে আল্লাহর সাক্ষী।

৪ ـــ যে ব্যক্তি তার পাপাচার ও বিচ্যুতির জন্য প্রসিদ্ধ, বাহ্যিকভাবে সে তেমনটিই গণ্য হবে, যদিও তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা সুনিশ্চিত কোনো রায় দেই না। তবে ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবী (মৃত্যু: ৩২১ হিজরি) যেমনটি বলেছেন: «আমরা সৎকর্মশীলের জন্য সওয়াবের আশা করি এবং পাপাচারীর জন্য আজাবের ভয় করি»(১)।

৫ ــ উম্মতের উলামায়ে কেরাম যাদের ব্যাপারে প্রশংসা ও নিন্দা এবং গ্রহণযোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে মতভেদ করেছেন, তাদের ব্যাপারে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। সবচেয়ে নিরাপদ হলো তাদের বিষয়টি আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা এবং সাধারণভাবে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। কারণ তার ইসলাম নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, আর তার কুফরি সন্দেহযুক্ত। ইমাম আয-যাহাবী যেমনটি বলেছেন: এর মাধ্যমে একজন মুসলিমের অন্তর অন্য মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হয়।

--------------------------------------------

(১): দ্রষ্টব্য: শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, ইবনু আবিল ইযয ২/ ৫৩৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌الفصل الخامس تحذيره من التكفير بسبب الاختلاف في فروع العقائد

وهذا كثير في كلام الذهبي رحمه الله.

من ذلك ما نقله في ترجمة أبي الحسن الأشعري (ت: 324 هـ) رحمه الله، عن أزهر بن أحمد السرخسي، أنه قال: (لما قرُب حضور أجل أبي الحسن الأشعري في داري ببغداد، دعاني فأتيته، فقال: اشهد عليّ أني لا أُكفِّر أحداً من أهل القبلة، لأن الكل يشيرون إلى معبود واحد، وإنما هذا كله اختلاف العبارات).

وقد علَّق الذهبي على كلام الأشعري فقال: «وبنحو هذا أدين، وكذا شيخنا ابن تيمية في أواخر أيامه، يقول: أنا لا أكفر أحداً من الأمة، ويقول: لا يحافظ على الوضوء إلا مؤمن، فمن لازم الصلوات بوضوء فهو مسلم»(1).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 15/ 88.
পঞ্চম অধ্যায়: আকিদার শাখা-প্রশাখায় মতভেদের কারণে তাকফির করার বিষয়ে তাঁর সতর্কতা

এটি ইমাম যাহাবী রহ.-এর বক্তব্যে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

তন্মধ্যে একটি হলো যা তিনি আবুল হাসান আল-আশআরী (মৃত্যু: ৩২৪ হিজরী) রহ.-এর জীবনীতে আযহার ইবনে আহমাদ আস-সারখাসি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: (যখন বাগদাদে আমার ঘরে আবুল হাসান আল-আশআরীর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আমি তাঁর কাছে আসলাম। তখন তিনি বললেন: ‘সাক্ষী থাকো যে, আমি আহলে কিবলার কাউকেই কাফির বলি না; কারণ সকলেই একজন মাবুদের দিকেই ইঙ্গিত করেন, আর এই সবকিছু কেবলই শব্দগত ভিন্নতা মাত্র’)।

যাহাবী আল-আশআরীর বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: «আমিও অনুরূপ বিষয়ে বিশ্বাস করি। তেমনিভাবে আমাদের শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে বলতেন: ‘আমি উম্মতের কাউকেই কাফির বলি না’। তিনি আরও বলতেন: ‘মুমিন ব্যতীত আর কেউ ওযুর হিফাযত করে না; সুতরাং যে ব্যক্তি ওযুর সাথে নিয়মিত সালাত আদায় করে, সে-ই মুসলিম’»(১)।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১৫/৮৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌الفصل السادس دعوته إلى ترك التضليل والتبديع لأجل زلّة أو هفوة، وأن العبرة بكثرة الفضائل

ويبدو أن هذه المسألة كانت تشغل ذهن الذهبي وتفكيره كثيراً، ربما لكثرة ما كان يرى من النزاع الذي كان يقع بين أصحاب المذاهب المختلفة والذي كان يصل إلى حد التهاجر والفجور في الخصومة وهضم حق الآخرين، فكرر الدعوة في مؤلفاته إلى ضرورة التحلي بالإنصاف والاعتدال مع العلماء، وعدم الحطّ عليهم لأجل بعض الهفوات أو الهنّات، وأن العبرة بكثرة المحاسن.

وأنا أنقل إليكم بعض ما قاله الذهبي في ذلك:

أولاً: قوله: «لو أننا أهدرنا كل عالم زلّ، لما سلم معنا إلا القليل، فلا تحطّ يا أخي على العلماء مطلقاً، ولا تبالغ في تقريظهم مطلقاً، واسأل الله أن يتوفاك على التوحيد»(1).

ثانياً: قوله: «لو أننا كلما أخطأ إمامٌ مجتهد في مسألة خطأ مغفوراً له هجرناه وبدَّعناه، لما سلم أحدٌ من الأئمة، والله الهادي للحق،

--------------------------------------------

(1) تاريخ الإسلام 30/ 256.
ষষ্ঠ অধ্যায়: কোনো বিচ্যুতি বা ত্রুটির কারণে পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করা ও বিদআতি বলা বর্জনের প্রতি তাঁর আহ্বান এবং বিবেচ্য বিষয় হলো অধিক পুণ্য বা সদ্গুণ

মনে হয় যে, এই বিষয়টি ইমাম যাহাবীর চিন্তা ও ভাবনাকে প্রবলভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। সম্ভবত বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে সচরাচর ঘটে যাওয়া বিবাদের আধিক্যের কারণে এমনটি হয়েছিল, যা অনেক সময় পরস্পর সম্পর্কচ্ছেদ, শত্রুতার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন এবং অন্যের অধিকার খর্ব করার পর্যায়ে পৌঁছে যেত। তাই তিনি তাঁর গ্রন্থগুলোতে আলেমদের ব্যাপারে ইনসাফ ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করার এবং সামান্য বিচ্যুতি বা ত্রুটির কারণে তাঁদের অবমাননা না করার আবশ্যকতা সম্পর্কে আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করেছেন। মূলত অধিক পুণ্য বা সদ্গুণই এখানে বিবেচ্য বিষয়।

আর আমি এ বিষয়ে যাহাবীর কিছু বক্তব্য আপনাদের সামনে তুলে ধরছি:

প্রথমত: তাঁর উক্তি: «যদি আমরা বিচ্যুতি ঘটা প্রত্যেক আলেমকেই বর্জন করতাম, তবে আমাদের কাছে খুব অল্প সংখ্যক আলেমই অবশিষ্ট থাকতেন। অতএব হে আমার ভাই! আপনি আলেমদের নিরঙ্কুশভাবে তুচ্ছজ্ঞান করবেন না, আবার তাঁদের প্রশংসায়ও একেবারে অতিশয়োক্তি করবেন না। আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন যেন তিনি আপনাকে তাওহীদের ওপর মৃত্যু দান করেন»(১)।

দ্বিতীয়ত: তাঁর উক্তি: «যখনই কোনো মুজতাহিদ ইমাম এমন কোনো মাসআলায় ভুল করবেন যা ক্ষমাযোগ্য, আর সেই কারণে যদি আমরা তাঁকে বর্জন করি এবং বিদআতি আখ্যা দেই, তবে ইমামদের কেউই রেহাই পাবেন না। আর আল্লাহই সত্যের পথে পরিচালিত করেন,

--------------------------------------------

(১) তারিখুল ইসলাম ৩০/ ২৫৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৪০)
والراحم للخلق»(1).

ثالثاً: قوله: «لو أنا كلما أخطأَ إمام في اجتهاده في آحاد المسائل خطأ مغفوراً له، قمنا عليه، وبدّعناه، وهجرناه، لما سَلِم معنا لا ابن نصر، ولا ابن مندة، ولا من هو أكبر منهما، والله هو هادي الخلق إلى الحق، وهو أرحم الراحمين، فنعوذ بالله من الهوى والفظاظة»(2).

رابعاً: قوله في ترجمة الحافظ محمد بن إسحاق بن خُزيمة، (ت: 317 هـ)،: «ولو أن كلَّ من أخطأ في اجتهاده - مع صحة إيمانه، وتوخيه لاتباع الحق - أهدرناه، وبدَّعناه، لقل من يسلم من الأئمة معنا، رحم الله الجميع بمنه وكرمه»(3).

خامساً: قوله في ترجمة الحافظ وكيع بن الجراح الكوفي (ت: 197 هـ)،: «كان ملازماً لشرب نبيذ الكوفة الذي يسكر الإكثار منه، فكان متأولاً في شربه، ولو تركه تورعاً، لكان أولى به، فإن من توقى الشُّبهات، فقد استبرأ لدينه وعرضه، وقد صح النَّهي والتَّحريم للنَّبيذ المذكور، وليس هذا موضع هذه الأمور، وكل أحد يؤخذ من قوله ويترك، فلا قدوة في خطأ العالم، نعم، ولا يوبخ بما فعله باجتهاد نسأَل الله المسامحة»(4).

--------------------------------------------

(1) تاريخ الإسلام 22/ 299.

(2) سير أعلام النبلاء 14/ 40.

(3) سير أعلام النبلاء 14/ 376.

(4) سير أعلام النبلاء 9/ 143.
এবং সৃষ্টিজগতের প্রতি দয়াকারী»(১).

তৃতীয়ত: তাঁর উক্তি: «যদি আমরা কোনো ইমামের তাঁর ইজতিহাদে একক কোনো মাসআলায় ক্ষমাযোগ্য ভুলের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়াতাম, তাঁকে বিদআতি আখ্যা দিতাম এবং তাঁকে বর্জন করতাম, তবে ইবনে নাসর, ইবনে মানদাহ বা তাঁদের চেয়ে বড় কেউ আমাদের নিকট রেহাই পেতেন না। আল্লাহই সৃষ্টিজগতকে সত্যের দিকে হেদায়েতকারী এবং তিনি পরম দয়ালু। আমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং কঠোরতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি»(২).

চতুর্থত: হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ (ওফাত: ৩১৭ হি.)-এর জীবনীতে তাঁর উক্তি: «যদি এমন প্রত্যেক ব্যক্তি—যার ঈমান সঠিক এবং সত্য অনুসরণের চেষ্টা করা সত্ত্বেও স্বীয় ইজতিহাদে ভুল করেছে—তাকে আমরা বর্জন করতাম এবং বিদআতি আখ্যা দিতাম, তবে আমাদের নিকট নিরাপদ থাকা ইমামদের সংখ্যা খুব কমই হতো। আল্লাহ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে সকলকে রহম করুন»(৩).

পঞ্চমত: হাফেজ ওয়াকি ইবনুল জাররাহ আল-কুফি (ওফাত: ১৯৭ হি.)-এর জীবনীতে তাঁর উক্তি: «তিনি কুফার সেই 'নাবীয' পানে অভ্যস্ত ছিলেন যা অধিক পরিমাণে পান করলে মত্ততা সৃষ্টি হয়; এটি পানের ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যা (তাওয়িল) ছিল। যদি তিনি তাকওয়ার খাতিরে এটি বর্জন করতেন, তবে তা তাঁর জন্য অধিকতর উত্তম হতো। কেননা যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে রক্ষা করে। উক্ত নাবীযের ব্যাপারে নিষেধ ও হারাম হওয়ার বিষয়টি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত, তবে এটি এই আলোচনার স্থান নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির কথা গ্রহণ বা বর্জন করা যেতে পারে; সুতরাং আলেমের ভুলের ক্ষেত্রে তাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। হ্যাঁ, তবে ইজতিহাদের ভিত্তিতে তিনি যা করেছেন তার জন্য তাঁকে তিরস্কার করা যাবে না। আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি»(৪).

--------------------------------------------

(১) তারীখুল ইসলাম ২২/ ২৯৯।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/ ৪০।

(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/ ৩৭৬।

(৪) সিয়ারু আলামিন নুবালা ৯/ ১৪৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ওয়াল ইতিদাল ইনদাল হাফিজ আয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ৪১)
سادساً: قوله في السِّير: «نحبّ العالِم على ما فيه من الاتباع والصِّفات الحميدة، ولا نحبّ ما ابتدع فيه بتأوِيل سائغ، وإنَّما العبرة بكثرة المحاسن»(1)

سابعاً: قوله في ترجمة أبي بكر الشاشي الشافعي، (ت: 417 هـ): «الكمال عزيز، وإنما يُمدح العالِم بكثرة ما له من الفضائل، فلا تدفن المحاسن لورطه، ولعله رجع عنها، وقد يُغفر له باستفراغه الوسع في طلب الحق، ولا قوة إلا بالله)(2).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 20/ 45.

(2) سير أعلام النبلاء 16/ 285.
ষষ্ঠত: সিয়ার গ্রন্থে তাঁর উক্তি: «আমরা একজন আলিমকে তাঁর অনুসরণ এবং প্রশংসনীয় গুণাবলির কারণে ভালোবাসি, আর তিনি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার ভিত্তিতে যে নব উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) করেছেন তাকে ভালোবাসি না; মূলত অধিক পরিমাণ গুণাবলিই হলো আসল বিবেচ্য»(১)

সপ্তমত: আবু বকর আশ-শাশী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু: ৪১৭ হিজরি)-এর জীবনীতে তাঁর উক্তি: «পূর্ণতা দুষ্প্রাপ্য, মূলত একজন আলিম তাঁর অধিক ফযিলতের কারণেই প্রশংসিত হন। সুতরাং কোনো স্খলনের কারণে তাঁর গুণাবলিকে দাফন করে দিও না; সম্ভবত তিনি তা থেকে ফিরে এসেছেন। আর সত্য অনুসন্ধানে তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার কারণে তাঁকে ক্ষমা করা হতে পারে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই»(২).

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২০/ ৪৫।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৬/ ২৮৫।