(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: -)
الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد   (كمال الدين الأدفوي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد

المؤلف: أبو الفضل كمال الدين جعفر بن ثعلب الإدفوي الشافعي (ت 748 هـ)

تحقيق: سعد محمد حسن

مراجعة: طه الحاجري

الناشر: الدار المصرية للتأليف والنشر

عام النشر: 1386 هـ - 1966 م

عدد الصفحات: 806

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 جُمادَى الآخرة 1444

আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাঈদ   (কামালুদ্দীন আল-আদফুওয়ী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


গ্রন্থ: আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাঈদ

লেখক: আবুল ফজল কামালুদ্দীন জাফর বিন সা'লাব আল-আদফুওয়ী আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)

সম্পাদনা: সাদ মুহাম্মদ হাসান

নিরীক্ষণ: ত্বহা আল-হাজিরি

প্রকাশক: আদ-দারুল মিসরিয়্যাহ লিত-তালিফ ওয়ান-নাশর

প্রকাশকাল: ১৩৮৬ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুমাদাল আখিরা ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌الإهداء

إلى أبناء صعيدنا

أقدم هذا السجلّ الحافل تمجيدا للآباء وحفزا للأبناء، وإيمانا من الأعماق بتراثنا المجيد، وتسطيرا قويما لتاريخنا الفكرى المشرق، وصلة لحاضرنا المتفتح كأزهار الأكمام، بماضينا الخالد على الأيام، نصطحبه كالرفيق، ونستلهم من الله العون على الطريق.
উৎসর্গ

আমাদের সাঈদের সন্তানদের প্রতি

আমি এই সমৃদ্ধ সংকলনটি পেশ করছি পূর্বপুরুষদের মহিমা প্রকাশ ও উত্তরসূরিদের অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে; আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতি হৃদয়ের গভীর বিশ্বাস থেকে, আমাদের উজ্জ্বল বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের এক বলিষ্ঠ উপস্থাপনা হিসেবে, এবং কুঁড়ি থেকে প্রস্ফুটিত ফুলের মতো আমাদের বর্তমানকে কালজয়ী অতীতের সাথে সংযুক্ত করতে, যাকে আমরা সহযাত্রী হিসেবে গ্রহণ করি এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة المحقق

بسم الله الرحمن الرحيم

اللهمّ منك نستلهم العون والتوفيق،

وبعد:

فالتاريخ الفكرى لأمتنا العربية زاخر بالذخائر، ولقد أسهم الآباء إسهاما عميقا مثمرا في كل ما يتصل بألوان المعرفة الإنسانية وضروبها، ومن ذلك تأريخهم للبلدان ومن نبغ فيها، فأنت لا تكاد تجد مدينة إسلامية إلا ولها تاريخ، فألفوا في ذلك وأكثروا، وجادوا فأجادوا، وتركوا لأبنائهم في هذا الصدد تراثا ضخما، يؤرخون فيه لمئات من المدن كبغداد والموصل ومكة والمدينة والقدس، ودمشق وحلب ومصر، والمغرب العربى والفردوس المفقود (الأندلس) وخراسان وبخارى وبيهق، وبلخ ونيسابور وجرجان، وأصفهان وشيراز وقزوين وصعيد مصر.

والكتاب الذى أقدمه اليوم عن «الصعيد» هو حلقة من هذه السلسلة المتصلة الحلقات من تاريخنا الفكرى.

والدارس لهذا الكتاب يعجب بحق لهذه النهضة العلمية التى كانت في صعيدنا، متمثلة في مدارسها في قوص وأسوان وأسنا وغيرها من بلدان الإقليم، وهى نهضة لا تقل بحال عما كان يدور في مصر أو فى القاهرة في تلك العصور.

وأكبر الظن أن هذا الصيت العلمى والأدبى لصعيد مصر، هو الذى دفع الشيخ أبا حيّان الغرناطىّ الإمام، لأن يطلب من تلميذه الكمال الأدفوىّ، أن يسجل هذه النهضة فى كتاب، فكان «الطالع السعيد».
সম্পাদকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছেই সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করি।

অতঃপর:

আমাদের আরব উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস অমূল্য রত্নভাণ্ডারে পরিপূর্ণ। আমাদের পূর্বসূরিগণ মানবীয় জ্ঞানের সকল শাখা ও প্রকারের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে অত্যন্ত গভীর ও ফলপ্রসূ অবদান রেখেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিভিন্ন দেশ ও জনপদ এবং সেখানে জন্ম নেওয়া কৃতি ব্যক্তিত্বদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা। আপনি এমন কোনো ইসলামি শহর পাবেন না যার কোনো ইতিহাস নেই। তাঁরা এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং অত্যন্ত নিপুণতার সাথে তা সম্পাদন করেছেন। তাঁরা তাঁদের উত্তরসূরিদের জন্য এই ক্ষেত্রে এক বিশাল ঐতিহ্য রেখে গেছেন, যেখানে তাঁরা বাগদাদ, মসুল, মক্কা, মদিনা, কুদস, দামেস্ক, আলেপ্পো, মিসর, মাগরিব আল-আরাবি, হারানো জান্নাত (আন্দালুস), খোরাসান, বুখারা, বাইহাক, বালখ, নিশাপুর, জুরজান, ইসফাহান, শিরাজ, কাজউইন এবং উচ্চ মিসর (আস-সাঈদ)-এর মতো শত শত শহরের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন।

‘আস-সা‘িদ’ (উচ্চ মিসর) সম্পর্কে আজ আমি যে বইটি উপস্থাপন করছি, তা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের এই অবিচ্ছিন্ন ধারারই একটি অংশ।

এই গ্রন্থের পাঠক আমাদের এই সা‘িদ অঞ্চলে যে জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ ঘটেছিল, তাতে সত্যিই বিস্মিত হবেন; যা কুস, আসওয়ান, এসনা এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য জনপদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিফলিত হয়েছিল। এটি এমন এক জাগরণ ছিল, যা কোনোক্রমেই সেই যুগে মিসর বা কায়রোতে চলমান জ্ঞানচর্চার চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না।

প্রবল ধারণা করা হয় যে, উচ্চ মিসরের এই তাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক খ্যাতিই ইমাম শায়খ আবু হাইয়ান আল-গারনাতিকে তাঁর ছাত্র কামাল আল-আদফুওয়িকে এই জাগরণকে একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করার অনুরোধ জানাতে উদ্বুদ্ধ করেছিল; যার ফলশ্রুতি হলো এই ‘আত-তালিউস সাঈদ’।
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٦)
ولما كان كتابنا في الواقع أثرا من آثار أبى حيّان، أحببت أن أقدم للقراء ترجمة موجزة لهذا الشيخ الإمام، الذى كان بحق مدرسة تخرّج فيها مؤلفنا وأعيان عصره والأعلام.

 

‌‌أبو حيّان الغرناطىّ:

هو العلّامة محمد بن يوسف بن على بن يوسف بن حيّان أثير الدّين أبو حيّان الغرناطىّ الأندلسىّ الجيّانى النّفزىّ- بكسر النون المشددة وسكون الفاء- نسبة إلى «نفزة» وهى قبيلة بربرية ذكرها ابن حزم فى «الجمهرة»(1)، وابن خلدون فى «التاريخ»(2)، وصاحب «مفاخر البربر»(3) الذى نشره «بروفنسال، Provencal «والسيوطى فى «البغية»(4) وأكبر الظن أن هذا هو الذى حدا بهوتسما Houtsma إلى أن يقول فى «دائرة المعارف الإسلامية»(5): «إنه من أصل بربرى».

ويقول أبو حيّان فيما نقله عنه ابن حجر فى «الدرر»(6):

«نفزة قبيلة من البربر، والبربر- فيما يزعمون- من ولد بربر بن قيس بن عيلان بن مضر»، ولكن ابن حزم ينفى أن يكون البربر عربا».

ولد أبو حيّان فى إحدى قرى غرناطة عام 654 هـ، ودرس فى غرناطة فأخذ العربية عن أبى الحسن الآبذى، وأبى جعفر بن الطبّاع.

كما درس في مالقة على أبى عبد الله محمد بن عباس القرطبىّ، وفى بجاية على أبى عبد الله محمد بن صالح، وفى تونس على أبى محمد عبد الله بن هارون، وفى الإسكندرية على عبد النصير ابن علىّ بن يحيى المريوطىّ الحافظ، وبمصر على عبد العزيز الحرّانى وابن خطيب المزّة

--------------------------------------------

(1) جمهرة الأنساب/ 464.

(2) تاريخ ابن خلدون 6/ 114.

(3) مفاخر البربر/ 76.

(4) بغية الوعاة/ 121.

(5) الدائرة 1/ 332.

(6) الدرر الكامنة 4/ 302.

যেহেতু আমাদের এই বইটি বাস্তবে আবু হাইয়্যানের জ্ঞানতাত্ত্বিক নিদর্শনাদির অন্তর্ভুক্ত, তাই আমি পাঠকদের সামনে এই ইমাম ও শাইখের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরতে পছন্দ করছি, যিনি প্রকৃতপক্ষে এমন এক জ্ঞানালয় ছিলেন যেখান থেকে আমাদের লেখক এবং তাঁর যুগের বরেণ্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শিক্ষা লাভ করেছেন।

 

‌‌আবু হাইয়্যান আল-গারনাতি:

তিনি হলেন আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আলী বিন ইউসুফ বিন হাইয়্যান আসিরুদ্দিন আবু হাইয়্যান আল-গারনাতি আল-আন্দালুসি আল-জাইয়ানি আন-নাফজি—তাশদিদযুক্ত 'নুন' বর্ণে কাসরা (জের) এবং 'ফা' বর্ণে সুকুনসহ—যা 'নাফজাহ' এর সাথে সম্পর্কিত। এটি একটি বার্বার গোত্র যার কথা ইবনে হাজম 'আল-জামহারা'(১) গ্রন্থে, ইবনে খালদুন 'আত-তারিখ'(২) গ্রন্থে এবং 'মাফাখিরুল বার্বার'(৩) এর লেখক উল্লেখ করেছেন যা 'প্রোভেনসাল' (Provencal) প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সুয়ূতী 'আল-বুগইয়াহ'(৪) গ্রন্থেও তা উল্লেখ করেছেন। প্রবল ধারণা এই যে, এই তথ্যই হাউটসমাহ-কে (Houtsma) 'ইসলামী বিশ্বকোষ' (দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ)(৫) গ্রন্থে এ কথা বলতে প্ররোচিত করেছে যে: "তিনি বার্বার বংশোদ্ভূত ছিলেন।"

আবু হাইয়্যান সম্পর্কে ইবনে হাজার 'আদ-দুরার'(৬) গ্রন্থে যা উদ্ধৃত করেছেন সেখানে তিনি বলেন:

“নাফজাহ হলো বার্বারদের একটি গোত্র, আর বার্বাররা—তাদের দাবি অনুযায়ী—বার্বার বিন কায়েস বিন আয়লান বিন মুদারের বংশধর”, কিন্তু ইবনে হাজম বার্বারদের আরব হওয়াকে অস্বীকার করেছেন।

আবু হাইয়্যান ৬৫৪ হিজরিতে গ্রানাডার একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং গ্রানাডায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি আবুল হাসান আল-আবাদি এবং আবু জাফর বিন আত-তাব্বা'-এর নিকট আরবি ভাষা আয়ত্ত করেন।

এছাড়া তিনি মালাগাতে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-কুরতুবির নিকট, বিজায়াতে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সালিহ-এর নিকট, তিউনিসিয়ায় আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন হারুনের নিকট, আলেকজান্দ্রিয়ায় হাফেজ আব্দুল নাসির ইবনে আলী বিন ইয়াহইয়া আল-মারইউতির নিকট এবং মিশরে আব্দুল আজিজ আল-হাররানি ও ইবনে খাতিব আল-মিযযাহ-এর নিকট শিক্ষা লাভ করেন।

--------------------------------------------

(১) জামহারাতুল আনসাব/ ৪৬৪।

(২) তারিখ ইবনে খালদুন ৬/ ১১৪।

(৩) মাফাখিরুল বার্বার/ ৭৬।

(৪) বুগইয়াতুল উ'আত/ ১২১।

(৫) আদ-দাইরাহ ১/ ৩৩২।

(৬) আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/ ৩০২।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٧)
وأبى الطاهر إسماعيل بن هبة الله المليجىّ، كما حضر دروس البهاء ابن النحاس فى النحو إلى عام 698 هـ، ولما توفى البهاء خلفه أبو حيّان.

ولقد بلغت عدة شيوخه فى الحديث فى الأندلس وإفريقية والإسكندرية والحجاز ومصر نحوا من أربعمائة وخمسين شيخا، منهم الحفّاظ الأعلام القطب القسطلانىّ، والعزّ الحرّانىّ وابن الأنماطىّ، والعلم العراقىّ.

وأجاز له خلق من المغرب والمشرق منهم: الشرف الدّمياطىّ، والتّقىّ ابن دقيق العيد، وأبو اليمن بن عساكر، والتقىّ بن رزين.

ولقد خرج أبو حيّان من الأندلس مفتتح سنة 679 هـ؛ يقول لسان الدّين ابن الخطيب(1) إن أبا حيّان حملته حدّة الشبيبة على التعرض للأستاذ أبى جعفر الطبّاع، وقد وقعت بينه وبين أستاذه ابن الزّبير الوحشة، فنال منه وتصدّى للتأليف في الردّ عليه وتكذيب روايته، فرفع الشيخ أمره للسلطان، فامتعض له ونفذ الأمر بتنكيله فاختفى، ثم أجاز البحر مختفيا ولحق بالمشرق يلتفت خلفه.

وقيل عن رحيله إلى المشرق إنه نشأ شرّ بينه وبين شيخه أحمد بن علىّ بن الطبّاع، فألف أبو حيّان كتابا سماه «الإلماع فى إفساد إجازة الطبّاع»، فرفع ابن الطبّاع أمره للأمير محمد بن نصر المدعو بالفقيه- وكان أبو حيّان كثير الاعتراض عليه أيام قراءته عليه- فنشأ عن ذلك شرّ دفع أبا حيّان للخروج من الأندلس، وقد خرج معه جماعة من أعلامها، منهم شيخه أبو الحسن حازم بن محمد القرطاجنىّ، المولود سنة 658 هـ والمتوفى بتونس فى رمضان سنة 684 هـ.

والسّيوطىّ يحدثنا عن هذه الرحلة وأسبابها فيقول(2): «ورأيت في كتابه النّضار الذى ألفه فى ذكر مبدأه واشتغاله وشيوخه ورحلته، أن مما قوّى عزمه على الرحلة عن غرناطة، أنّ

--------------------------------------------

(1) نفح الطيب 1/ 625.

(2) بغية الوعاة/ 121.

এবং আবু তাহের ইসমাইল ইবনে হিবাতুল্লাহ আল-মালিজি। তিনি ৬৯৮ হিজরি পর্যন্ত নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে বাহাউদ্দিন ইবনুন নাহহাসের পাঠে উপস্থিত থাকতেন। যখন বাহাউদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন, আবু হাইয়্যান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

আন্দালুস, আফ্রিকা, আলেকজান্দ্রিয়া, হিজাজ এবং মিশরে তাঁর হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষকদের সংখ্যা প্রায় চারশ পঞ্চাশ জনে পৌঁছেছিল। তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন কুতুব আল-কাসতালানি, আল-ইজ্জ আল-হাররানি, ইবনুল আনমাতি এবং আল-আলাম আল-ইরাকি।

এবং মাগরিব (পাশ্চাত্য) ও মাশরিকের (প্রাচ্য) বহু আলিম তাঁকে ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আশ-শরাফ আদ-দামইয়াতি, আত-তাকি ইবনে দাকীক আল-ঈদ, আবুল ইয়ামান ইবনে আসাকির এবং আত-তাকি ইবনে রাজীন।

আবু হাইয়্যান ৬৭৯ হিজরির শুরুতে আন্দালুস ত্যাগ করেন; লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিব(১) বলেন যে, যৌবনের তেজ আবু হাইয়্যানকে উস্তাদ আবু জাফর আত-তাব্বা’র বিরোধিতা করতে প্ররোচিত করেছিল। তাঁর এবং তাঁর উস্তাদ ইবনুয যুবাইরের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছিল, ফলে তিনি তাঁর সমালোচনা করেন এবং তাঁর খণ্ডন ও তাঁর বর্ণনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য গ্রন্থ রচনায় ব্রতী হন। তখন শায়খ বিষয়টি সুলতানের কাছে উত্থাপন করেন। সুলতান এতে অসন্তুষ্ট হন এবং তাঁকে শাস্তি দেওয়ার আদেশ জারি করেন। ফলে তিনি আত্মগোপন করেন। অতঃপর তিনি গোপনে সমুদ্র পাড়ি দেন এবং পেছনে তাকাতে তাকাতে প্রাচ্যে গিয়ে পৌঁছান।

তাঁর প্রাচ্যের দিকে যাত্রার বিষয়ে বলা হয়েছে যে, তাঁর এবং তাঁর শায়খ আহমদ ইবনে আলী ইবনে আত-তাব্বা’র মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল। আবু হাইয়্যান ‘আল-ইলমা’ ফি ইফসাদি ইজাজাতিত তাব্বা’ নামে একটি বই রচনা করেন। ইবনে আত-তাব্বা’ বিষয়টি আমির মুহাম্মদ ইবনে নাসরের কাছে উত্থাপন করেন, যিনি ‘আল-ফকিহ’ নামে পরিচিত ছিলেন—আবু হাইয়্যান তাঁর কাছে পড়ার দিনগুলোতেও তাঁর অনেক বিরোধিতা করতেন—এর ফলে এমন এক বিবাদের সৃষ্টি হয় যা আবু হাইয়্যানকে আন্দালুস ছাড়তে বাধ্য করে। তাঁর সাথে আন্দালুসের একদল বিশিষ্ট ব্যক্তিও বের হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তাঁর শায়খ আবুল হাসান হাযিম ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরতাজিনিও ছিলেন, যিনি ৬৫৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৮৪ হিজরির রমজান মাসে তিউনিসিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন।

সুয়ূতী আমাদের এই সফর এবং এর কারণ সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন(২): «আমি তাঁর ‘আন-নাদার’ গ্রন্থে দেখেছি, যা তিনি তাঁর জীবন শুরু, জ্ঞানচর্চা, শায়খগণ এবং সফর সম্পর্কে রচনা করেছেন—সেখানে উল্লেখ আছে যে, গ্রানাডা থেকে হিজরত করার সংকল্পকে যা জোরালো করেছিল তা হলো যে...

--------------------------------------------

(১) নাফহুত তীব ১/৬২৫।

(২) বুগয়াতুল উয়াত / ১২১।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٨)
بعض العلماء بالمنطق والفلسفة والرياضىّ والطبيعىّ قال للسلطان: إنّي قد كبرت وأخاف أن أموت، فأرى أن ترتب لى طلبة أعلمهم هذه العلوم، لينفعوا السلطان من بعدى، قال أبو حيّان:

فأشير إلى أن أكون من أولئك، ويرتب لى راتب جيد وكسا وحسان فتمنعت ورحلت مخافة أن أكره على ذلك».

ومهما يكن شئ فقد كان وجود أبى حيّان بمصر خيرا على أبنائها، وقد تتلمذ عليه أعلامها وشيوخها منهم مؤلفنا الكمال الأدفوىّ، وتقىّ الدّين السّبكىّ وابنه تاج الدّين، والجمال الأسنوى، وابن قاسم وابن عقيل والسمين والسفاقسى، وابن مكتوم والرعينىّ والصفدىّ وخلائق، وفى ذلك يقول التّاج السبكىّ فى «الطبقات الكبرى(1)»:

«سمع عليه الجم الغفير وأخذ عنه غالب مشيختنا وأقراننا: منهم الشيخ الإمام الوالد، وناهيك بها لأبى حيّان منقبة».

وقد تصدر أبو حيّان فى مصر لتدريس الحديث فى المدرسة المنصورية، كما تصدر لتدريس النحو بعد وفاة شيخه ابن النحاس.

وكان أبو حيّان ظاهرىّ المذهب، ثم اعتنق مذهب الشافعىّ رضى الله عنه، ويقول ابن تغرى بردى(2) «إنه كان مالكيا» وقد انفرد بهذه الدعوى ولم أجد من يقول بها.

والعلامة ابن حجر يقول(3) «كان ظاهريا وانتمى إلى الشافعية وكان أبو البقاء يقول إنه لم يزل ظاهريا، قلت كان أبو حيّان يقول: محال أن يرجع عن مذهب الظاهر من علق بذهنه».

وقالوا: إن أبا حيّان كان ظاهريّا حتى فى النحو، ونقل ذلك ابن الوردى فقال(4):

«كان بحرا زاخرا فى النحو وهو فيه ظاهرىّ»، وقد فسر ذلك «جولد زيهر Goldziher «فيما نقله عنه «هوتسما Houtsma «بدائرة المعارف الإسلامية(5) أن

--------------------------------------------

(1) الطبقات 6/ 32.

(2) النجوم الزاهرة 10/ 111.

(3) الدرر الكامنة 4/ 304.

(4) تاريخ ابن الوردى 2/ 339.

(5) دائرة المعارف 1/ 332.

যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, গণিত ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে পারদর্শী জনৈক আলেম সুলতানকে বললেন: “আমি বৃদ্ধ হয়েছি এবং আমার মৃত্যুর আশঙ্কা করছি, তাই আমি মনে করি আপনি আমার জন্য কিছু ছাত্রের ব্যবস্থা করুন যাদের আমি এই বিদ্যাগুলো শিখিয়ে দেব, যাতে তারা আমার পরে সুলতানের উপকারে আসতে পারে।” আবু হাইয়্যান বলেন:

“তখন আমাকে তাদের একজন হওয়ার জন্য ইঙ্গিত দেওয়া হলো এবং আমার জন্য সম্মানজনক বেতন ও সুন্দর পোশাকের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হলো। কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করলাম এবং পাছে আমাকে তাতে বাধ্য করা হয় সেই ভয়ে প্রস্থান করলাম।”

যাই হোক না কেন, মিশরে আবু হাইয়্যানের উপস্থিতি সেখানকার অধিবাসীদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর ছিল। সেখানকার বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ও শায়খগণ তাঁর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের গ্রন্থকার আল-কামাল আল-আদফুয়ি, তাকিউদ্দীন আস-সুবকি ও তাঁর পুত্র তাজউদ্দীন, আল-জামাল আল-আসনাবি, ইবনে কাসিম, ইবনে আকিল, আস-সামিন, আস-সাফাকুসি, ইবনে মাকুতম, আর-রুআইনি, আস-সাফাদি এবং আরও অসংখ্য মানুষ। এই প্রসঙ্গে তাজউদ্দীন আস-সুবকি তাঁর ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা(১)’ গ্রন্থে বলেন:

“অগণিত মানুষ তাঁর নিকট শ্রবণ করেছেন এবং আমাদের অধিকাংশ উস্তাদ ও সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন: তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শেখ ইমাম (আমার) পিতা। আবু হাইয়্যানের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণের জন্য এটিই যথেষ্ট।”

আবু হাইয়্যান মিশরে ‘আল-মাদরাসা আল-মানসুরিয়া’তে হাদিস পাঠদানের জন্য প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন, যেমনটি তিনি তাঁর উস্তাদ ইবুনন নাহহাসের ইন্তেকালের পর নাহু (ব্যাকরণ) পাঠদানের জন্য প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।

আবু হাইয়্যান জাহেরি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন, অতঃপর তিনি শাফেয়ি মাজহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) গ্রহণ করেন। ইবনে তাগরি বারদি(২) বলেন, “তিনি মালেকি ছিলেন।” তবে তিনি এই দাবিতে একক ছিলেন এবং আমি আর কাউকে এমনটি বলতে দেখিনি।

আল্লামা ইবনে হাজার বলেন(৩), “তিনি জাহেরি ছিলেন এবং শাফেয়ি মাজহাবের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। আবু আল-বাকা বলতেন যে তিনি সর্বদা জাহেরিই ছিলেন। আমি (ইবনে হাজার) বলছি, আবু হাইয়্যান বলতেন: যার মগজে জাহেরি মাজহাব গেঁথে গেছে তার পক্ষে তা থেকে ফিরে আসা অসম্ভব।”

তারা বলেছেন: আবু হাইয়্যান এমনকি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রেও জাহেরি ছিলেন। ইবনুল ওয়ার্দি এটি বর্ণনা করে বলেছেন(৪):

“তিনি নাহু শাস্ত্রে এক উত্তাল সমুদ্র ছিলেন এবং এতে তিনি জাহেরি ছিলেন।” গোল্ডজিহার (Goldziher) এটি ব্যাখ্যা করেছেন, যা হুটসমা (Houtsma) ‘ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া’তে(৫) তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে

--------------------------------------------

(১) আত-তাবাকাত ৬/৩২।

(২) আন-নুজুমুজ জাহিরাহ ১০/১১১।

(৩) আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/৩০৪।

(৪) তারিখ ইবনুল ওয়ার্দি ২/৩৩৯।

(৫) দাইরাতুল মাআরিফ ১/৩৩২।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٩)
أبا حيّان حاول أن يتمسك بآراء الأوائل من أئمة علم النحو وخاصة سيبويه.

والذى لا شك فيه أن أبا حيّان كان يعظم سيبويه ويتعصب له إلى حد بعيد، وكان ذلك سببا لما وقع بينه وبين العلّامة ابن تيميّة من خصومة، فقد كان أبو حيّان يحترم ابن تيميّة ويجلّه ويعظمه إلى أن عاب ابن تيميّة سيبويه فحدثت القطيعة، وتناوله أبو حيّان بالتجريح فى تفسيره «النهر» الذى اختصر به «البحر».

ولقد التزم أبو حيّان منهجا في النحو، وهو ألّا يقرئ أحدا إلّا إذا كان فى «سيبويه» أو فى «التّسهيل» لابن مالك. أو فى تصانيفه(1).

ولقد كان الشيخ بحق أمة وحده، ومدرسة كبرى جامعة لأنواع المعرفة الإسلامية فى عصره، ملما باللغات الشرقية من فارسية وتركية وحبشية مصنفا فيها، وهو كما يقول تلميذه الصفدىّ(2) «ثبت فيما ينقله محرر لما يقوله، عارف باللغة ضابط لألفاظها، وأما النحو والتصريف فهو إمام الدنيا فى عصره فيهما، ولم يذكر معه أحد فى أقطار الأرض، وله اليد الطولى فى التفسير والحديث، وتراجم الناس وطبقاتهم وتواريخهم وحوادثهم، وله التصانيف التى سارت وطارت، وانتشرت وما انتثرت، وقرئت ودرست، ونسخت وما نسخت، أخملت كتب المتقدمين، وألهت المقيمين بمصر والقادمين.

«وقرأ الناس عليه وصاروا أئمة وأشياخا فى حياته، وهو الذى جسر الناس على مصنفات الشيخ جمال الدّين ابن مالك، ورغبهم فى قراءتها، وشرح لهم غامضها، وغاص بهم لججها، وفتح لهم مقفلها»

ويقول فى حقه السّيوطىّ(3): «نحوىّ عصره ولغويّه ومفسره ومحدثه ومقرئه ومؤرخه وأديبه».

وكان أبو حيّان ينظم الشعر وإن لم يكن شاعرا؛ قال الصفدىّ تلميذه(4) إنه انتقى

--------------------------------------------

(1) فوات ابن شاكر 2/ 352، ونكت الهميان/ 280.

(2) نكت الهميان/ 280.

(3) بغية الوعاة/ 121.

(4) نكت الهميان/ 284.

আবু হাইয়্যান ব্যাকরণ শাস্ত্রের আদি ইমামদের, বিশেষ করে সিবওয়াইহ-এর মতামতকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আবু হাইয়্যান সিবওয়াইহ-কে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তার প্রতি চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন। এটাই ছিল আল্লামা ইবনে তাইমিয়ার সাথে তার যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়েছিল তার কারণ। মূলত আবু হাইয়্যান ইবনে তাইমিয়াকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন, যতক্ষণ না ইবনে তাইমিয়া সিবওয়াইহ-এর সমালোচনা করেন; এরপরই তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে। আবু হাইয়্যান তার 'আল-নাহর' নামক তাফসিরে (যা তার 'আল-বাহর' নামক তাফসিরের সারসংক্ষেপ) ইবনে তাইমিয়াকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন।

আবু হাইয়্যান ব্যাকরণশাস্ত্রে এমন এক পদ্ধতি অনুসরণ করতেন যে, তিনি কাউকে পাঠদান করতেন না যতক্ষণ না সে সিবওয়াইহ-এর গ্রন্থ অথবা ইবনে মালিকের 'আল-তাসহিল' অথবা তার নিজের রচিত গ্রন্থাবলি পাঠ করত(১)।

প্রকৃতপক্ষে এই শায়খ একাই এক উম্মাহ ছিলেন এবং তার যুগের ইসলামি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার এক বিশাল সমন্বিত বিদ্যাপীঠ ছিলেন। তিনি ফারসি, তুর্কি ও হাবশি (ইথিওপীয়) প্রভৃতি প্রাচ্য ভাষা সম্পর্কে প্রাজ্ঞ ছিলেন এবং সেসব ভাষায় গ্রন্থও রচনা করেছেন। তার ছাত্র আল-সাফাদি যেমনটি বলেন(২): "তিনি যা বর্ণনা করতেন তাতে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ছিলেন এবং যা বলতেন তাতে ছিলেন সুশৃঙ্খল। তিনি ভাষা সম্পর্কে পারদর্শী এবং এর শব্দ চয়নে অত্যন্ত নিখুঁত ছিলেন। আর ব্যাকরণ (নাহু) ও রূপতত্ত্বের (সরফ) ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন তার যুগের বিশ্বসেরা ইমাম; পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই তার সাথে (তুলনা করার মতো) অন্য কারো নাম উচ্চারিত হতো না। তাফসির ও হাদিস শাস্ত্রে তার অসাধারণ বুৎপত্তি ছিল। তদুপরি মানুষের জীবনী, তাদের স্তরবিন্যাস, ইতিহাস ও ঘটনাবলি সম্পর্কেও তার অগাধ জ্ঞান ছিল। তার এমন সব গ্রন্থ রয়েছে যা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; যা পঠিত ও চর্চিত হয়েছে এবং যা বারবার অনুলিপি করা হয়েছে। তার গ্রন্থাবলি পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহকে ম্লান করে দিয়েছিল এবং মিশরের অধিবাসী ও সেখানে আগতদের জ্ঞানতৃষ্ণায় মগ্ন করে রেখেছিল।"

"লোকেরা তার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং তার জীবদ্দশাতেই তারা ইমাম ও শায়খে পরিণত হয়েছে। তিনিই মানুষকে শায়খ জামালুদ্দিন ইবনে মালিকের গ্রন্থাবলি অধ্যয়নে সাহসী করে তুলেছিলেন এবং সেগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহী করেছিলেন। তিনি তাদের নিকট সেগুলোর জটিল বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করেছেন, এর গভীর সমুদ্রে তাদের নিয়ে অবগাহন করেছেন এবং এর রুদ্ধ কপাটসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।"

তার সম্পর্কে আল-সুয়ুতি বলেন(৩): "তিনি ছিলেন তার যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ, ভাষাতাত্ত্বিক, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ক্বারি, ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক।"

আবু হাইয়্যান কবিতা রচনা করতেন, যদিও তিনি মূলত কবি ছিলেন না; তার ছাত্র আল-সাফাদি বলেন(৪) যে তিনি চয়ন করেছেন...

--------------------------------------------

(১) ফাওয়াত ইবনে শাকির ২/৩৫২, এবং নুকাত আল-হিমইয়ান/ ২৮০।

(২) নুকাত আল-হিমইয়ান/ ২৮০।

(৩) বুগইয়াত আল-উয়াত/ ১২১।

(৪) নুকাত আল-হিমইয়ান/ ২৮৪।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١٠)
ديوانه وسمعه منه وكتبه، ويقول ابن الوردىّ(1): «وله نظم ليس على قدر فضيلته»، ويقول ابن تغرى بردى(2): «ومذهبى فى أبى حيّان أنه عالم لا شاعر»

وابن حجر يقول: إن شعره كثير من جيد وضعيف.

وقد عمر شيخنا حتى جاوز التسعين(3) وأضرّ قبل موته بقليل، وكانت وفاته بمنزله بظاهر القاهرة خارج باب البحر، فى الثامن والعشرين من صفر- وقيل فى الثامن عشر سنة 745 هـ- ودفن من الغد بمقبرة الصوفية خارج باب النصر، وصلّى عليه بالجامع الأموى بدمشق صلاة الغائب فى شهر ربيع الآخر.

ورثاه كثيرون منهم تلميذه الصلاح الصفدىّ الذى رثاه بقصيدة مطلعها(4):

مات أثير الدّين شيخ الورى … فاستعر البارق واستعبرا

ورقّ من حزن نسيم الصّبا … واعتلّ فى الأسماء لمّا سرى

هذه عجالة فى ترجمة أبى حيّان، لم نتعرض فيها لتصانيفه، كما لم نعرض له بالدراسة والتحليل، وحسبنا أن صدّرنا كتابنا بهذه العجالة فقد كان الكتاب ثمرة إيحائه وتلبية إشارته.

 

‌‌كمال الدّين الأدفوىّ:

مؤلف الكتاب وتلميذ أبى حيّان الشيخ الإمام كمال الدّين جعفر(5) بن ثعلب الأدفوىّ الثّعلبىّ المؤرخ الأديب الفقيه الشافعىّ.

واسم أبيه «ثعلب» بالثاء والعين المهملة كما ورد فى «الدرر الكامنة» و «السلوك» و «النجوم الزاهرة» و «حسن المحاضرة» و «طبقات ابن قاضى شهبة» و «تاريخ

--------------------------------------------

(1) تاريخ ابن الوردى 2/ 339.

(2) النجوم 10/ 111.

(3) البداية والنهاية 14/ 213.

(4) انظر النكت/ 284.

(5) يقول ابن حجر «قرأت بخط الشيخ تقى الدين السبكي أنه كان يسمى: وعد الله» انظر:

الدرر 1/ 535.

وقد جا. فى نهاية أصل التيمورية «سمعت هذا الكتاب المسمى بالطالع السعيد من لفظ جامعه ومصنفه الشيخ الإمام العلامة صدر الطائفة الشافعية ورئيس الفئة الأدبية كمال الدين وعد الله أبى الفضل جعفر».

তাঁর দিওয়ান (কাব্যসংকলন) এবং তিনি তা তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন ও লিপিবদ্ধ করেছেন। ইবনুল ওয়ারদী(১) বলেন: "তাঁর এমন কিছু কাব্যরচনা রয়েছে যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সমপর্যায়ের নয়।" ইবনে তাগরি বারদি(২) বলেন: "আবু হাইয়ান সম্পর্কে আমার অভিমত হলো, তিনি একজন আলেম, কবি নন।"

ইবনে হাজার বলেন: তাঁর কবিতা অনেক, যার মধ্যে উৎকৃষ্ট ও দুর্বল উভয়ই রয়েছে।

আমাদের শায়খ দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন এমনকি তিনি নব্বই বছর অতিক্রম করেছিলেন(৩) এবং মৃত্যুর অল্পকাল আগে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল কায়রোর উপকণ্ঠে বাবুল বাহরের বাইরে তাঁর নিজ বাসভবনে, ২৮শে সফর—কারো মতে ১৮ই সফর—৭৪৫ হিজরিতে। পরদিন তাঁকে বাবুন নাসরের বাইরে সুফিয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। রবিউল আউয়াল মাসে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদে তাঁর অনুপস্থিত জানাজা (সালাতুল গায়েব) আদায় করা হয়।

অনেকে তাঁর শোকগাঁথা রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম তাঁর ছাত্র সালাহ আল-সাফাদি, যিনি একটি কাসিদার মাধ্যমে তাঁর শোক প্রকাশ করেছেন যার শুরুটি হলো(৪):

আছিরুদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন, যিনি ছিলেন সৃষ্টির শায়খ … ফলে বিজলি প্রজ্জ্বলিত হলো এবং অশ্রু বিসর্জন করল।

শোকের কারণে পুবালি বাতাস কোমল হয়ে গেল … এবং যখন তা প্রবাহিত হলো তখন বিশেষ্যসমূহের মধ্যে রুগ্নতা দেখা দিল।

এটি আবু হাইয়ানের জীবনীর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যেখানে আমরা তাঁর রচনাবলি নিয়ে আলোচনা করিনি, এবং তাঁর সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত গবেষণা ও বিশ্লেষণও পেশ করিনি। আমাদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে আমরা এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে আমাদের বইটির সূচনা করেছি, কারণ এই বইটি ছিল তাঁরই অনুপ্রেরণার ফসল এবং তাঁরই ইঙ্গিতের প্রতিফলন।

 

‌‌কামাল উদ্দিন আল-আদফুয়ি:

গ্রন্থের লেখক এবং আবু হাইয়ানের ছাত্র শায়খ ইমাম কামাল উদ্দিন জাফর(৫) বিন সা'লাব আল-আদফুয়ি আস-সা'লাবি, যিনি ছিলেন একজন ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক এবং শাফেয়ী ফকিহ।

তাঁর পিতার নাম 'সা'লাব' (ثعلب), যা 'সা' (ث) এবং 'আইন' (ع) সহযোগে গঠিত, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ', 'আস-সুলুক', 'আন-নুজুম আজ-জাহিরাহ', 'হুসনুল মুহাদ্বারাহ', 'তাবাকাত ইবনে ক্বাদি শুহবাহ' এবং 'তারিখ...'-এ।

--------------------------------------------

(১) তারিখ ইবনুল ওয়ারদী ২/ ৩৩৯।

(২) আন-নুজুম ১০/ ১১১।

(৩) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৪/ ২১৩।

(৪) দেখুন: আন-নুকাত/ ২৮৪।

(৫) ইবনে হাজার বলেন: "আমি শায়খ তাকি উদ্দিন আস-সুবকির হস্তাক্ষরে পড়েছি যে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল: ওয়াদুল্লাহ।" দেখুন:

আদ-দুরার ১/ ৫৩৫।

তাইমুরিয়া পাণ্ডুলিপির মূল কপির শেষে বর্ণিত হয়েছে: "আমি 'আত-তালি আস-সাঈদ' নামক এই বইটি এর সংকলক ও গ্রন্থকার, শাফেয়ী সম্প্রদায়ের প্রধান এবং সাহিত্যিক গোষ্ঠীর অধিপতি শায়খ ইমাম আল্লামা কামাল উদ্দিন ওয়াদুল্লাহ আবুল ফজল জাফরের কণ্ঠ থেকে শ্রবণ করেছি।"

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١١)
آداب اللغة لزيدان» و «فهرس الدار» و «فهارس المخطوطات المصورة» بمعهد المخطوطات العربية و «معجم المؤلفين»، وليس «تغلب» بالتاء والغين المعجمة، كما ورد فى «طبقات السبكى» و «الشذرات» و «كشف الظنون» و «البدر الطالع» و «هدية العارفين» و «الخطط الجديدة».

وورد فى «الأعلام»: «جعفر بن ثعلب»، وفى مستدركه «تغلب» وقال الأستاذ الزركلى:

«كان الشك يساورنى فيه (اسم أبيه) لوروده فى الشذرات والبدر الطالع، جعفر ابن تغلب، ولم أجد ما أطمئن إليه لترجيح أحد الرسمين إلى أن وقفت فى مكتبة الفاتيكان على مخطوط نفيسة من الجزء الأول من كتابه «البدر السافر» كتبت فى أيامه، وعليها كلمة «تغلب» مشكولة بسكون الغين وكسر اللام».

وبدراستنا للطالع نرجح أن يكون الرسم «ثعلب» تساندنا فى ذلك الأدلة الآتية:

(1) ورد اسم أبيه هكذا «ثعلب» فى جميع نسخ الطالع حتى التيمورية، أقدم هذه النسخ والمقروء أصلها المنسوخة منه على المؤلف.

(2) جاء فى معجم قبائل العرب/ 141، نقلا عن النّويرىّ وابن خلدون:

«الثعالب بطن من طيئ من القحطانية، كانت مساكنهم صعيد مصر»

(3) ترجم الكمال لبعض ذوى قرابته، ووصفهم بأنهم «ثعالبة» فى جميع نسخ الطالع منهم:

(ا) إبراهيم بن محمد الثّعلبىّ الأدفوىّ(1).

(ب) أحمد بن كامل بن الحسن الثّعلبىّ(2)

(ج) جعفر بن مطهر بن نوفل الثّعلبىّ الأدفوىّ(3)

(د) حسن بن علىّ الثّعلبىّ(4)

--------------------------------------------

(1) الطالع/ 66.

(2) الطالع/ 107.

(3) الطالع/ 186.

(4) الطالع/ 207.

যাইদানের ‘আদাবুল লুগাহ’, ‘ফিহরিসুদ দার’, ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস-এর ‘ফিহারিসুল মাখতুতাত আল-মুসাওয়ারাহ’ এবং ‘মু’জামুল মুয়াল্লিফিন’-এ এভাবেই এসেছে। এটি ‘তা’ এবং ‘গাইন’ বর্ণযোগে ‘তাগলিব’ নয়, যেমনটি সুবকির ‘তাবাকাত’, ‘আশ-শাযারাত’, ‘কাশফুয যুনুন’, ‘আল-বদরুত তালি’, ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ এবং ‘আল-খিতাতুল জাদিদাহ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

‘আল-আ’লাম’ গ্রন্থে ‘জাফর বিন সা’লাব’ এসেছে, আর এর মুস্তাদরাক-এ এসেছে ‘তাগলিব’। উস্তাদ যারাকলি বলেছেন:

“তার (পিতার নামের) ব্যাপারে আমার মনে সন্দেহ কাজ করছিল, কারণ ‘আশ-শাযারাত’ ও ‘আল-বদরুত তালি’ গ্রন্থে ‘জাফর ইবনে তাগলিব’ হিসেবে নামটির উল্লেখ ছিল। আমি এই দুটি বানানের মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য কিছু পাচ্ছিলাম না, যতক্ষণ না ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে তার রচিত ‘আল-বদরুস সাফির’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপির সন্ধান পেলাম। এটি তার জীবদ্দশাতেই অনুলিপি করা হয়েছিল এবং সেখানে ‘তাগলিব’ শব্দটি ‘গাইন’-এ সুকুন এবং ‘লাম’-এ কাসরা (যের) সহ হরকতযুক্ত ছিল।”

আমাদের ‘আত-তালি’ অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা ‘সা’লাব’ বানানটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে নিচের প্রমাণগুলো আমাদের সমর্থন যোগায়:

(১) ‘আত-তালি’-এর তায়মুরি পাণ্ডুলিপিসহ সকল কপিতে তার পিতার নাম এভাবেই ‘সা’লাব’ এসেছে। এটিই এই গ্রন্থটির প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি এবং এর মূল কপিটি লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছিল।

(২) ‘মু’জামু কাবাইলিল আরব’ (পৃ. ১৪১)-এ নুওয়াইরি ও ইবনে খালদুন থেকে উদ্ধৃত হয়েছে:

“সা’আলিবাহ হলো কাহতানি বংশোদ্ভূত তাই গোত্রের একটি শাখা, যাদের বসতি ছিল উচ্চ মিশরে।”

(৩) কামাল (গ্রন্থকার) তার কিছু আত্মীয়র জীবনী আলোচনা করেছেন এবং ‘আত-তালি’-এর সকল কপিতে তাদের ‘সা’লাবি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন; তারা হলেন:

(ক) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আস-সা’লাবি আল-আদফুয়ি(১)।

(খ) আহমদ বিন কামিল বিন হাসান আস-সা’লাবি(২)

(গ) জাফর বিন মুতাহহার বিন নাওফাল আস-সা’লাবি আল-আদফুয়ি(৩)

(ঘ) হাসান বিন আলী আস-সা’লাবি(৪)

--------------------------------------------

(১) আত-তালি/ ৬৬।

(২) আত-তালি/ ১০৭।

(৩) আত-তালি/ ১৮৬।

(৪) আত-তালি/ ২০৭।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١٢)
(هـ) الخضر بن الحسين الثّعلبىّ(1)

(و) عبد الحق بن الحسن الثّعلبىّ الأدفوىّ(2)

(ز) على بن ثعلب بن أحمد، وينعت بالعماد الأدفوىّ الثّعلبىّ(3)

(ح) على بن مطهّر الثّعلبىّ جد والده(4)

(ط) على بن محمد الثّعلبىّ(5)

(4) ترجم المؤلف لقريب له فى «باب الثاء» فقال:

«ثعلب بن أحمد بن جعفر بن أحمد بن جعفر بن يونس علم الملك الأدفوىّ قريبنا»(6) ولا يوجد غير هذه الترجمة فى «باب الثاء» مما يؤكد أنهم «ثعالبة»، ولو كانوا «تغالبة» لوردت هذه الترجمة فى «باب التاء» ولكان «باب الثاء» خاليا من التراجم.

(5) ورد اسم المؤلف فى ثنايا ترجمة محمد بن فضل الله بن كاتب المرج القوصى الشاعر ص 606 «جعفر بن ثعلب»

وذلك فى شعر مدح به ابن كاتب المرج مؤلفنا الكمال فى جميع نسخ «الطالع»

(6) تؤيدنا فى هذا الرأى مصادر لها أصالتها وقيمتها كالسلوك للمقريزىّ، والدرر الكامنة لابن حجر، وطبقات ابن قاضى شهبة، والنجوم الزاهرة لابن تغرى بردى، وحسن المحاضرة للسّيوطىّ

 

‌‌مولده:

ولد مؤلفنا جعفر بن ثعلب فى أدفو فى شعبان سنة 685 هـ، ودرس فى قوص التى كانت تمثل فى صعيد مصر أكبر مدرسة إسلامية تضارع مدارس القاهرة، بل ربما فاقتها بأشياخها الأساطين، ولما ارتوى المؤلف من مناهل قوص الثرّة، أخذ طريقه إلى القاهرة فسعد بلقاء شيخه أبى حيّان، الذى كان وجوده دون ريب من الأسباب القوية التى حدت بالكمال إلى أن

--------------------------------------------

(1) الطالع/ 239.

(2) الطالع/ 284.

(3) الطالع/ 381.

(4) الطالع/ 416.

(5) الطالع/ 408

(6) الطالع/ 176.

(ঙ) আল-খিদর বিন আল-হুসাইন আস-সালাবি(১)

(চ) আব্দুল হক বিন আল-হাসান আস-সালাবি আল-আদফুয়ি(২)

(ছ) আলি বিন সালাব বিন আহমাদ, তাকে আল-ইমাদ আল-আদফুয়ি আস-সালাবি উপাধিতে ভূষিত করা হয়(৩)

(জ) আলি বিন মুতাহহার আস-সালাবি, তার পিতার দাদা(৪)

(ঝ) আলি বিন মুহাম্মদ আস-সালাবি(৫)

(৪) লেখক 'সা' অধ্যায়ে (বাবুস সা) তার এক আত্মীয়ের জীবনীতে লিখেছেন:

«সালাব বিন আহমাদ বিন জাফর বিন আহমাদ বিন জাফর বিন ইউনুস আলামুল মুলক আল-আদফুয়ি আমাদের আত্মীয়»(৬) এবং 'সা' অধ্যায়ে এই জীবনীটি ব্যতীত অন্য কোনো জীবনী নেই, যা নিশ্চিত করে যে তারা 'সালাবি' বংশোদ্ভূত। যদি তারা 'তাগলাবি' হতো তবে এই জীবনীটি 'তা' অধ্যায়ে (বাবুত তা) বর্ণিত হতো এবং 'সা' অধ্যায়টি জীবনীশূন্য থাকত।

(৫) কবি মুহাম্মদ বিন ফজলুল্লাহ বিন কাতিব আল-মারজ আল-কুসি-এর জীবনীর অভ্যন্তরে ৬০৬ পৃষ্ঠায় লেখকের নাম 'জাফর বিন সালাব' হিসেবে এসেছে।

এটি 'আত-তালি' গ্রন্থের সকল পাণ্ডুলিপিতে ইবন কাতিব আল-মারজ কর্তৃক আমাদের লেখক আল-কামালকে প্রশংসা করে রচিত কবিতায় বর্ণিত হয়েছে।

(৬) এই মতের সমর্থনে আমাদের নিকট মাকরিজির 'আস-সুলুক', ইবনে হাজারের 'আদ-দুরারুল কামিনাহ', ইবনে কাদি শুহবাহর 'তাবাকাত', ইবনে তাগরি বারদির 'আন-নুজুমুজ জাহিরাহ' এবং সুয়ুতির 'হুসনুল মুহাদারা'-র মতো প্রামাণিক ও মূল্যবান উৎসসমূহ রয়েছে।

 

‌‌তার জন্ম:

আমাদের লেখক জাফর বিন সালাব ৬৮৫ হিজরির শাবান মাসে আদফু-তে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুস-এ পড়াশোনা করেন যা উচ্চ মিশরের সবচেয়ে বড় ইসলামি বিদ্যাপীঠ ছিল এবং কায়রোর মাদ্রাসাগুলোর সমকক্ষ ছিল, বরং হয়তো সেখানকার প্রখ্যাত মহান পণ্ডিতদের কারণে সেগুলোকে ছাড়িয়েও গিয়েছিল। যখন লেখক কুস-এর সমৃদ্ধ জ্ঞানধারা থেকে তৃপ্ত হলেন, তখন তিনি কায়রোর পথে যাত্রা করলেন এবং তার শায়খ আবু হাইয়ানের সাক্ষাত লাভে ধন্য হলেন, যাঁর সান্নিধ্য নিঃসন্দেহে এমন এক শক্তিশালী কারণ ছিল যা আল-কামালকে উদ্বুদ্ধ করেছিল যে-

--------------------------------------------

(১) আত-তালি/ ২৩৯।

(২) আত-তালি/ ২৮৪।

(৩) আত-তালি/ ৩৮১।

(৪) আত-তালি/ ৪১৬।

(৫) আত-তালি/ ৪০৮।

(৬) আত-তালি/ ১৭৬।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١٣)
يأخذ طريقه إلى القاهرة، التى كان يفد إليها طلبة العلم وراغبوه من أقطار العالم الإسلامى وبقاعه

 

‌‌شيوخ المؤلف.

تلقى للكمال علومه الإسلامية على أيدى كثير من الأشياخ منهم:

1 - تاج الدّين محمد بن أحمد بن عبد الرّحمن الدّشناوىّ، وقد ترجم له فى الطالع(1)

2 - أحمد بن محمد بن أحمد محيى الدّين القرطبىّ، وقد ترجم له فى الطالع(2)

3 - إسماعيل بن موسى السّفطىّ القوصىّ، وقد ترجم له فى الطالع(3).

4 - علىّ بن هبة الله بن أحمد الشهاب الأسنائىّ، وقد ترجم له فى الطالع(4).

5 - محمد بن عثمان بن عبد الله سراج الدّين الدّندرىّ وقد ترجم له فى الطالع(5)

6 - منتصر بن الحسن الأدفوىّ الخطيب، وقد ترجم له فى الطالع(6).

7 - يحيى بن عبد الرّحيم القوصىّ، وقد ترجم له فى الطالع(7).

8 - يوسف بن محمد جمال الدّين السّيوطىّ، وقد ترجم له فى الطالع(8).

9 - يونس بن عبد المجيد سراج الدّين الأرمنتىّ، وقد ترجم له فى الطالع(9).

ومن شيوخه الذين لم يردوا فى الطالع:

1 - أبو حيّان أثير الدّين محمد بن يوسف الغرناطىّ، كما قدّمنا.

2 - عبد الرّحمن بن يوسف الأسفونىّ (المتوفى سنة 750 هـ)

3 - محمد بن أحمد بن القماح شمس الدّين (المتوفى سنة 741 هـ).

4 - بدر الدّين محمد بن إبراهيم بن جماعة (المتوفى سنة 733 هـ).

5 - عزّ القضاة عبد الواحد بن المنيّر (المتوفى سنة 733 هـ أو 736 هـ)

6 - علاء الدّين علىّ بن إسماعيل القونوىّ (المتوفى سنة 729 هـ)

7 - شمس الدّين محمد بن يوسف الخطيب الجزرىّ (المتوفى سنة 711 هـ)

--------------------------------------------

(1) الطالع/ 488.

(2) الطالع/ 110.

(3) الطالع/ 167.

(4) الطالع/ 420.

(5) الطالع/ 547.

(6) الطالع/ 660.

(7) الطالع/ 709.

(8) الطالع/ 726.

(9) الطالع/ 729.

তিনি কায়রোর পথে যাত্রা করেন, যেখানে ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ও অঞ্চল থেকে ইলম অন্বেষী এবং জ্ঞানপিপাসুরা আগমন করত।

 

‌‌লেখকের শিক্ষকবৃন্দ।

আল-কামাল বহু শিক্ষকের নিকট তাঁর ইসলামি জ্ঞান অর্জন করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - তাজউদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দিশনাবী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।(১)

২ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ মুহিউদ্দীন আল-কুরতুবী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।(২)

৩ - ইসমাইল ইবনে মুসা আস-সাফতী আল-কুসী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।(৩)।

৪ - আলী ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমদ আশ-শিহাব আল-ইসনাঈ, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।(৪)।

৫ - মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ সিরাজুদ্দীন আদ-দান্দারি, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।(৫)

৬ - মুনতাসির ইবনুল হাসান আল-আদফুওয়ী আল-খতিব, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।(৬)।

৭ - ইয়াহিয়া ইবনে আবদুর রহিম আল-কুসী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।(৭)।

৮ - ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ জামালুদ্দীন আস-সুয়ূতী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।(৮)।

৯ - ইউনুস ইবনে আব্দুল মাজিদ সিরাজুদ্দীন আল-আরমানতী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।(৯)।

এবং তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে যারা 'আত-তালি' গ্রন্থে উল্লিখিত হননি:<

১ - আবু হাইয়ান আসিরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-গারনাতি, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

২ - আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ আল-আসফুনী (মৃত্যু ৭৫০ হিজরি)

৩ - মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল কাম্মাহ শামসুদ্দীন (মৃত্যু ৭৪১ হিজরি)।

৪ - বদরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে জামাআহ (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি)।

৫ - ইজ্জুল কুদাত আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল মুনাইয়ার (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি অথবা ৭৩৬ হিজরি)

৬ - আলাউদ্দীন আলী ইবনে ইসমাইল আল-কুনাবী (মৃত্যু ৭২৯ হিজরি)

৭ - শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-খতিব আল-জাজারী (মৃত্যু ৭১১ হিজরি)

--------------------------------------------

(১) আত-তালি/ ৪৮৮।

(২) আত-তালি/ ১১০।

(৩) আত-তালি/ ১৬৭।

(৪) আত-তালি/ ৪২০।

(৫) আত-তালি/ ৫৪৭।

(৬) আত-তালি/ ৬৬০।

(৭) আত-তালি/ ৭০৯।

(৮) আত-তালি/ ৭২৬।

(৯) আত-তালি/ ৭২৯।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١٤)
8 - تقىّ الدّين محمد بن أحمد الصائغ (المتوفى سنة 725 هـ)

9 - علاء الدّين علىّ بن محمد بن خطاب الباجىّ (المتوفى سنة 714 هـ)

 

‌‌مؤلفاته:

(ا) «فرائد الفوائد ومقاصد القواعد» فى علم الفرائض (منه نسخة فى غوطا) لم يطبع

(ب) «البدر السافر وتحفة المسافر» ذكره حاجى خليفة فى كشف الظنون/ 230، ترجم فيه لبعض شعراء القرن السابع الهجرى، (منه نسخة فى فينا) والجزء الأول من نسخة أخرى بالفاتيكان، والجزء الثانى من نسخة ثالثة بمكتبة فاتح باستانبول، لم يطبع

(ج) «الإمتاع فى أحكام السماع» ذكره حاجى خليفة فى كشف الظنون/ 167 وقال: «هو كتاب نفيس لم يصنف مثله، كما شهد له التاج السبكى فى التوشيح، وقد لخصه الشيخ أبو حامد المقدسى، واقتصر على المقصود منه، ورتبه كأصله على مقدمة وبابين وسماه: تشنيف الأسماع».

والكتاب يبحث فى ضروب الغناء من حيث جوازه أو تحريمه، وفيه فوائد موسيقية عن آلات العزف والضرب، منه نسخة بدار الكتب المصرية، ونسخة أخرى بمكتبة الأزهر، لم يطبع

(د) «الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد»

وهو الكتاب الذى نقدمه اليوم لقراء العربية.

ذكره حاجى خليفة فى «كشف الظنون» / 1091، كما ذكره قبل ذلك طاش كبرى فى «مفتاح السعادة» وهو آخر مؤلفات الأدفوىّ، وفيه يشير إلى كتبه السابقة.

ألف الكمال كتابه «الطالع» بإشارة من شيخه أبى حيّان كما أسلفنا، وقد ترجم فيه لأعلام عصره من إقليم قوص وأعماله ومدنه، ولم يترجم للأحياء منهم إلّا لغرض أو لأمر عرض كما يقول فى مقدمته، وجعل تراجمه على حروف المعجم وإن كان قد أخلّ كثيرا من حيث الترتيب للأعلام أو لآبائهم؛ فمثلا: قدّم «خلف بن عبد الرحمن» على «خديجة بنت علىّ»، و «عبد الله بن نصر» على «عبد البارى»، و «عبد الحليم بن
৮ - তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সাইগ (মৃত্যু ৭২৫ হিজরি)

৯ - আলাউদ্দীন আলি বিন মুহাম্মদ বিন খাত্তাব আল-বাজি (মৃত্যু ৭১৪ হিজরি)

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

(ক) উত্তরাধিকার আইন (ইলমুল ফারায়েজ) বিষয়ক গ্রন্থ 'ফারায়িদুল ফাওয়াইদ ওয়া মাকাসিদুল কাওয়াইদ' (এর একটি পাণ্ডুলিপি গোথা-য় রয়েছে), এটি মুদ্রিত হয়নি।

(খ) 'আল-বাদরুস সাফির ওয়া তুহফাতুল মুসাফির'। হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থের ২৩০ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন। এতে তিনি হিজরি সপ্তম শতাব্দীর কতিপয় কবির জীবনী বর্ণনা করেছেন। (এর একটি পাণ্ডুলিপি ভিয়েনায় রয়েছে), অন্য একটি পাণ্ডুলিপির প্রথম খণ্ড ভ্যাটিকানে এবং তৃতীয় একটি পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় খণ্ড ইস্তাম্বুলের ফাতিহ লাইব্রেরিতে রয়েছে। এটি মুদ্রিত হয়নি।

(গ) 'আল-ইমতা ফি আহকামিস সামা'। হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থের ১৬৭ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করে বলেছেন: "এটি একটি চমৎকার গ্রন্থ যার সমতুল্য কোনো কিতাব রচিত হয়নি, যেমনটি তাজ সুবকি 'আত-তাওশিহ' গ্রন্থে সাক্ষ্য দিয়েছেন। শেখ আবু হামিদ আল-মাকদিসি এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এর মূল উদ্দেশ্যের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তিনি এটিকে মূল গ্রন্থের মতো একটি ভূমিকা ও দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: 'তাশনিফুল আসমা'।"

কিতাবটি গান-বাজনার বৈধতা ও অবৈধতা নিয়ে এর বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে আলোচনা করে। এতে বাদ্যযন্ত্র ও তালযন্ত্রের বিষয়ে সংগীত বিষয়ক কিছু তাত্ত্বিক তথ্য রয়েছে। এর একটি পাণ্ডুলিপি মিসরীয় 'দারুল কুতুব' এবং অন্য একটি 'আল-আযহার' লাইব্রেরিতে রয়েছে। এটি মুদ্রিত হয়নি।

(ঘ) 'আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমা নুযাবায়িস সাঈদ'

এটি সেই কিতাব যা আজ আমরা আরবি পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি।

হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থের ১০৯১ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি এর আগে তাশ কুবরি 'মিফতাহুস সাআদাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এটি আল-অদফুই-এর সর্বশেষ রচনা এবং এতে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

কামাল (আদ-দিন) তাঁর উস্তাদ আবু হাইয়ানের ইঙ্গিতে তাঁর 'আত-তালি' গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। এতে তিনি কুস অঞ্চল এবং এর অধীনস্থ এলাকা ও শহরগুলোর সমসাময়িক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর ভূমিকায় যেমনটি বলেছেন, কোনো বিশেষ প্রয়োজন বা আকস্মিক কারণ ছাড়া জীবিত ব্যক্তিদের জীবনী তিনি এতে আনেননি। তিনি জীবনীগুলোকে বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছেন, যদিও নাম বা তাঁদের পিতাদের নামের ক্রমবিন্যাসে অনেক ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছে; যেমন: তিনি 'খালাফ বিন আবদুর রহমান'-কে 'খাদিজা বিনতে আলি'-র আগে স্থান দিয়েছেন, এবং 'আবদুল্লাহ বিন নাসর'-কে 'আবদুল বারি'-র আগে, এবং 'আবদুল হালিম বিন...'-কে...
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١٥)
يوسف» على «عبد الحق بن الحسن» و «عبيد الله بن عبد الله» على «عبد المنعم بن أحمد»، كما قدّم «عثمان» فى اثنتى عشرة ترجمة على «عتيق» وقد أخطأ المؤلف أيضا فى ترتيب الآباء حيث قدّم «إبراهيم بن عمر» على «إبراهيم بن علىّ» و «أحمد بن أبى الكرم» على «أحمد بن أبى عثمان» و «أحمد بن عبد المحسن» على «أحمد بن عبد المجيد» و «إسماعيل بن صالح» على «إسماعيل بن إبراهيم» و «الحسن بن علىّ» على «الحسن بن عبد الرّحيم» و «الحسن بن مقرّب» على «الحسن بن محمد» و «الحسين بن الحسين» على «الحسين بن إبراهيم» و «سليمان بن الحسن» على «سليمان بن إبراهيم» و «عبد الله بن أبى عبد الله» على «عبد الله بن أبى بكر» و «عبد الله بن علىّ» على «عبد الله بن عبد القادر» و «عبد الرّحيم بن عبد الوهاب» على «عبد الرّحيم بن الحسن» و «عبد القوىّ بن علىّ» على «عبد القوىّ بن عبد الرّحمن» و «عثمان بن محمد» على «عثمان بن عمر» و «علىّ بن مقرّب» على «علىّ بن مطهّر» و «عمر بن عبد المجيد» على «عمر بن عبد العزيز» و «عمر بن محمود» على «عمر بن محمد» و «محمد بن مكى» على «محمد بن الحسن» و «محمد بن داود» على «محمد بن حيدرة» و «محمد بن عبد الرّحيم» على «محمد بن عبد الرّحمن» و «محمد بن عثمان» على «محمد بن عتيق» ولا شك أن المؤلف قد أخطأ فى هذا الترتيب.

وتراجم الكتاب رجال عدا أربع سيدات هن:

1 - تاج النساء ابنة عيسى بن علىّ بن وهب(1)

2 - خديجة بنت علىّ بن وهب(2)

3 - رقية بنت محمد بن علىّ بن وهب(3)

4 - مظفّرية بنت عيسى بن علىّ بن وهب(4).

ويقول فى نهاية الكتاب إنه أتمه سنة 738 هـ، ثم زاد فيه تراجم إلى سنة 740 هـ، ولكنا وجدناه قد ترجم للزّبير بن علىّ بن أبى شيخة الأسوانىّ(5) وقال: «وتوفى بالمدينة

--------------------------------------------

(1) الطالع/ 175.

(2) الطالع/ 240.

(3) الطالع/ 246.

(4) الطالع/ 648.

(5) الطالع/ 248.

'ইউসুফ'কে 'আবদুল হক বিন আল-হাসান'-এর আগে এবং 'উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ'কে 'আবদুল মুনঈম বিন আহমাদ'-এর আগে স্থান দিয়েছেন, ঠিক যেমন বারোটি জীবনীর ক্ষেত্রে 'উসমান'কে 'আতিক'-এর আগে প্রধান্য দিয়েছেন। লেখক পিতাদের নামের ক্রমানুসারে সাজানোর ক্ষেত্রেও ভুল করেছেন; যেখানে তিনি 'ইব্রাহিম বিন উমর'কে 'ইব্রাহিম বিন আলী'র আগে, 'আহমাদ বিন আবিল কারাম'কে 'আহমাদ বিন আবি উসমান'-এর আগে, 'আহমাদ বিন আবদুল মুহসিন'কে 'আহমাদ বিন আবদুল মাজিদ'-এর আগে, 'ইসমাইল বিন সালিহ'কে 'ইসমাইল বিন ইব্রাহিম'-এর আগে, 'আল-হাসান বিন আলী'কে 'আল-হাসান বিন আবদুর রহিম'-এর আগে, 'আল-হাসান বিন মুকাররব'কে 'আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ'-এর আগে, 'আল-হুসাইন বিন আল-হুসাইন'কে 'আল-হুসাইন বিন ইব্রাহিম'-এর আগে, 'সুলাইমান বিন আল-হাসান'কে 'সুলাইমান বিন ইব্রাহিম'-এর আগে, 'আবদুল্লাহ বিন আবি আবদুল্লাহ'কে 'আবদুল্লাহ বিন আবি বকর'-এর আগে, 'আবদুল্লাহ বিন আলী'কে 'আবদুল্লাহ বিন আবদুল কাদির'-এর আগে, 'আবদুর রহিম বিন আবদুল ওয়াহহাব'কে 'আবদুর রহিম বিন আল-হাসান'-এর আগে, 'আবদুল কাবি বিন আলী'কে 'আবদুল কাবি বিন আবদুর রহমান'-এর আগে, 'উসমান বিন মুহাম্মাদ'কে 'উসমান বিন উমর'-এর আগে, 'আলী বিন মুকাররব'কে 'আলী বিন মুতাহহির'-এর আগে, 'উমর বিন আবদুল মাজিদ'কে 'উমর বিন আবদুল আজিজ'-এর আগে, 'উমর বিন মাহমুদ'কে 'উমর বিন মুহাম্মাদ'-এর আগে, 'মুহাম্মাদ বিন মাক্কি'কে 'মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান'-এর আগে, 'মুহাম্মাদ বিন দাউদ'কে 'মুহাম্মাদ বিন হাইদারা'-এর আগে, 'মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহিম'কে 'মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান'-এর আগে এবং 'মুহাম্মাদ বিন উসমান'কে 'মুহাম্মাদ বিন আতিক'-এর আগে প্রধান্য দিয়েছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে লেখক এই বিন্যাসে ভুল করেছেন।

গ্রন্থটির জীবনীগুলো চারজন মহীয়সী নারী ব্যতীত সবাই পুরুষ, তাঁরা হলেন:

১ - তাজুন নিসা বিনতে ঈসা বিন আলী বিন ওয়াহাব(১)

২ - খাদিজা বিনতে আলী বিন ওয়াহাব(২)

৩ - রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মাদ বিন আলী বিন ওয়াহাব(৩)

৪ - মুজাফফারিয়া বিনতে ঈসা বিন আলী বিন ওয়াহাব(৪)।

তিনি গ্রন্থের শেষে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ৭৩৮ হিজরিতে সম্পন্ন করেছেন, অতঃপর এতে ৭৪০ হিজরি পর্যন্ত কিছু জীবনী সংযুক্ত করেছেন। কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি যে, তিনি যুবায়ের বিন আলী বিন আবি শাইখাহ আল-আসওয়ানি-এর জীবনী আলোচনা করেছেন(৫) এবং বলেছেন: «তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আত-তালি‘/ ১৭৫।

(২) আত-তালি‘/ ২৪০।

(৩) আত-তালি‘/ ২৪৬।

(৪) আত-তালি‘/ ৬৪৮।

(৫) আত-তালি‘/ ২৪৮।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١٦)
ليلة الجمعة رابع شهر ربيع الأوّل وصلّى عليه صبيحة يوم الجمعة سنة ثمان وأربعين وسبعمائة وهى السنة التى توفى فيها المؤلف، فلعله كان يتناول الكتاب بالتنقيح والتهذيب وأفحم هذه الترجمة بأخرة.

ولقد صدّر المؤلف كتابه بمقدمة فى جغرافية إقليم قوص ومحاسنه وخصائص مدنه، ويقول جرجى زيدان(1) إنه استعان فى ذلك بكتاب «المقال المخصوص فى مدح مدينة قوص(2)» لمحمد بن أفضل الدّين القدسىّ المخزومىّ القوصىّ.

ولكن المؤلف يؤكد لنا فى مقدمة الطالع(3) أنه مبتكر لهذا العمل لم يسبق إليه، وإن كان قد سبقه مؤرخوهن منهم ابن يونس الحافظ أبو سعيد عبد الرحمن بن أحمد الصدفىّ المتوفى سنة 347 هـ، والإدريسىّ محمد بن عبد العزيز المتوفى سنة 649 هـ(4)، وأكبر الظن أن الكمال لم يطلع على ما كتبه هؤلاء المؤرخون.

وقد اختلف فى اسم الكتاب فقيل: «الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد» وقيل «الجامع لأسماء»، وقيل «الطالع السعيد لأسماء نجباء الصعيد»، وقد انفردت النسخة التيمورية بقولها «الجامع أسماء الفضلاء والرواة بأعلى الصعيد».

وقد اخترنا التسمية الأولى لأنها الواردة فى نسختنا الخطية.

والكتاب يعد سجلا حافلا لتاريخنا الفكرى، وبعض تراجمه تمتاز بالأصالة فلا توجد فى غيره، وحسبك أنه كان المصدر للحافظ ابن حجر فى «الدرر» والصفدىّ فى «الوافى» وفى «النكت» وابن كثير فى «البداية والنهاية» والتاج السبكىّ فى «الطبقات الكبرى» والمقريزىّ فى «السلوك» وفى «الخطط» وابن تغرى بردى فى «النجوم» وابن دقماق فى «الانتصار» والسيوطىّ فى «حسن المحاضرة».

 

‌‌نسخ الطالع:

لأهمية هذا الكتاب قام بتحقيقه سنة 1914 م الأستاذ أمين عبد العزيز على أربع نسخ خطية، وقال وصفا لهذه النسخ:

--------------------------------------------

(1) تاريخ آداب اللغة 3/ 160.

(2) ذكر زيدان أنه توجد نسخة من هذا الكتاب فى غوطا.

(3) الطالع/ 5.

(4) كشف الظنون/ 1159، و 1777.

রবিউল আউয়াল মাসের চতুর্থ জুমুআ’র রাত এবং ৭৪৮ হিজরির শুক্রবার সকালে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এটি সেই বছর, যে বছর লেখক মৃত্যুবরণ করেন। সম্ভবত তিনি শেষ সময় পর্যন্ত বইটি সংশোধন ও পরিমার্জন করছিলেন এবং শেষ দিকে এই জীবনীটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

লেখক তাঁর বইয়ের শুরুতে কুস অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থা, এর সৌন্দর্য এবং শহরগুলোর বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি ভূমিকা প্রদান করেছেন। জুরজি জায়দান(১) বলেন যে, তিনি এই বিষয়ে মুহাম্মদ ইবন আফদালুদ্দিন আল-কুদ্সি আল-মাখজুমি আল-কুসির ‘আল-মাকাল আল-মাখসুস ফি মাদহি মাদিনাতি কুস’(২) নামক গ্রন্থের সহায়তা নিয়েছেন।

কিন্তু লেখক ‘আত-তালে’(৩) গ্রন্থের ভূমিকায় আমাদের নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এই কাজে নতুনত্বের প্রবর্তন করেছেন যা তাঁর পূর্বে আর কেউ করেনি। যদিও তাঁর পূর্বে ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে লিখেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজ আবু সাইদ আবদুর রহমান ইবন আহমদ আল-সালাফি (মৃত্যু ৩৪৭ হি) এবং ইদ্রিসি মুহাম্মদ ইবন আবদুল আজিজ (মৃত্যু ৬৪৯ হি)(৪)। তবে প্রবল ধারণা এই যে, আল-কামাল এই ঐতিহাসিকদের লেখা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

বইটির নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন: ‘আত-তালেউস সায়িদ আল-জামেউ আসমাআ নুজাবাইস সায়িদ’, কেউ বলেছেন: ‘আল-জামেউ লি-আসমা’, আবার কেউ বলেছেন: ‘আত-তালেউস সায়িদ লি-আসমাআই নুজাবাইস সায়িদ’। তৈমুরিয়া পাণ্ডুলিপিতে এককভাবে এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে: ‘আল-জামেউ আসমাআল ফুদলা ওয়ার রুওয়াত বি-আ’লাস সায়িদ’।

আমরা প্রথম নামটি বেছে নিয়েছি কারণ আমাদের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে সেটিই বর্ণিত হয়েছে।

বইটি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের একটি সমৃদ্ধ দলিল হিসেবে বিবেচিত। এর কিছু জীবনী অত্যন্ত মৌলিক যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। আপনার জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এটি হাফিজ ইবন হাজারের ‘আদ-দুরার’, আস-সাফাদির ‘আল-ওয়াফি’ ও ‘আন-নুকাত’, ইবন কাসিরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’, তাজ আস-সুবকির ‘আত-তাবাকাত আল-কুবরা’, আল-মাকরিজির ‘আস-সুলুক’ ও ‘আল-খিতাত’, ইবন তাগরি বির্দির ‘আন-নুজুম’, ইবন দুকমাকের ‘আল-ইন্তিসার’ এবং আস-সুয়ুতির ‘হুসনুল মুহাদারা’ গ্রন্থের মূল উৎস ছিল।

 

‌‌আত-তালে’-এর পাণ্ডুলিপিসমূহ:

এই বইটির গুরুত্বের কারণে ১৯১৪ সালে উস্তাদ আমিন আবদুল আজিজ চারটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এটি সম্পাদনা করেন এবং এই পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) তারিখু আদাবিল লুগাহ ৩/ ১৬০।

(২) জায়দান উল্লেখ করেছেন যে, এই বইটির একটি পাণ্ডুলিপি গোথা-তে বিদ্যমান।

(৩) আত-তালে’/ ৫।

(৪) কাশফুয যুনুন/ ১১৫৯ এবং ১৭৭৭।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١٧)
الأولى: انتسختها من دار الكتب من النسخة المقيدة برقم ع 7487 المخطوطة سنة 1263 هـ وأشير إليها بحرف ا.

الثانية: النسخة المحفوظة بخزانة كتب الأزهر العمومية وأشير إليها بحرف ب.

الثالثة: النسخة المحفوظة بخزانة كتب أحمد زكى المخطوطة سنة 1304 هـ وأشير إليها بحرف ج.

الرابعة: النسخة المحفوظة بخزانة كتب أحمد تيمور المخطوطة سنة 880 هـ المقروء أصلها المنسوخ منه على المؤلف، بسماع شيخه أثير الدّين أبى حيّان الأندلسىّ وأشير إليها بحرف د.

وسنبقى رموز هذه النسخ كما وردت فى الطبعة السابقة، وأحب أن أشير هنا إلى أنى لم أجعل رسالتى نقد هذه الطبعة أو تجريحها، وقد أشرت إليها بحرف (ط)، ولقد عثرنا على نسختين جديدتين، هما النسخة (س) التى اتخذناها أصلا، والنسخة (ز).

أما الأولى فهى خاصة بخزانتنا، وقعت لنا بالشراء من السيد حسين محمود حجاج الورّاق المعروف بالقاهرة، الذى تدين له خزانتى بالفضل بما تضم من نفائس المطبوعات وذخائر المخطوطات(1).

تقع هذه النسخة فى 181 ورقة من الحجم الكبير 29/ 19 سم، ومسطرتها 24/ 14 سم، وعدد سطورها 25 سطرا بالخط النسخ الواضح، وهى فى غاية الضبط والإتقان، وتنتسب إلى أم أصيلة تختلف عن النسخ السابقة؛ لذا لم نتردد فى اتخاذها أصلا.

أما نسخة (ز) فهى إعارة من الأستاذ خير الدّين الزركلى صاحب «الأعلام» وتقع فى 116 ورقة من الحجم المتوسط 24/ 15 سم، ومسطرتها 14/ 5 ر 9 سم وعدد سطورها 21 سطرا، وهى رديئة الخط كثيرة الخروم والسقطات، وتنقص من أولها ومن آخرها وفى ثناياها.

وهى أقدم نسخا وتاريخا من (س)، وقد جاء فى الصفحة الأخيرة: «كان ذلك فى الخامس والعشرين من صفر سنة إحدى وأربعين ومائة وألف» فاعتقد الأستاذ الزركلى أن هذا تاريخ نسخها، وذكر ذلك فى ثبت مراجعه بالجزء العاشر من «الأعلام»، ولكن بعد دراستنا

--------------------------------------------

(1) لآل حجاج الوراقين بالقاهرة فضل على أصحاب المكاتب الخاصة يذكر فيشكر.

প্রথমটি: আমি এটি দারুল কুতুবের সেই পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছি যা ৭৪৮৭ নম্বরে নিবন্ধিত এবং যা ১২৬৩ হিজরিতে লিখিত হয়েছিল; একে 'আলিফ' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

দ্বিতীয়টি: আল-আজহারের সাধারণ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি; একে 'বা' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

তৃতীয়টি: আহমদ জাকীর গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি যা ১৩০৪ হিজরিতে লিখিত হয়েছিল; একে 'জীম' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

চতুর্থটি: আহমদ তায়মুরের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি যা ৮৮০ হিজরিতে লিখিত হয়েছিল। এর মূল পাণ্ডুলিপিটি লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং তাঁর শায়খ আসীরুদ্দীন আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসী তা শ্রবণ করেছিলেন; একে 'দাল' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

আমরা এই পাণ্ডুলিপিগুলোর সংকেত চিহ্নগুলো পূর্ববর্তী সংস্করণে যেভাবে ছিল তেমনই বহাল রাখব। আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই যে, আমি আমার এই গবেষণাপত্রটিকে পূর্ববর্তী সংস্করণের সমালোচনা বা ত্রুটি অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তৈরি করিনি, এবং একে 'ত্বা' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি। আমরা আরও দুটি নতুন পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি, সেগুলো হলো পাণ্ডুলিপি 'সীন' যা আমরা মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং পাণ্ডুলিপি 'যা'।

প্রথমটি আমাদের নিজস্ব গ্রন্থাগারের বিশেষ সংগ্রহভুক্ত। এটি আমরা কায়রোর সুপরিচিত পাণ্ডুলিপি বিক্রেতা জনাব হুসাইন মাহমুদ হাজ্জাজ আল-ওয়াররাকের কাছ থেকে ক্রয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছি, যাঁর কাছে আমার গ্রন্থাগারটি এর মূল্যবান মুদ্রিত গ্রন্থ এবং দুর্লভ পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডারের জন্য ঋণী(১)।

এই পাণ্ডুলিপিটি ২৯/১৯ সেন্টিমিটার বড় আকারের ১৮১টি পত্রের সমন্বয়ে গঠিত। এর লিখিত অংশের পরিমাপ ২৪/১৪ সেন্টিমিটার এবং প্রতি পৃষ্ঠায় সুস্পষ্ট নাসখ লিপিতে ২৫টি করে সারি রয়েছে। এটি অত্যন্ত নিখুঁত ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি এমন একটি মূল উৎসের সাথে সম্পর্কিত যা পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে ভিন্ন; তাই একে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে আমরা কোনো দ্বিধা করিনি।

আর 'যা' পাণ্ডুলিপিটি হলো 'আল-আলাম' গ্রন্থের প্রণেতা উস্তাদ খাইরুদ্দীন আয-যিরিকলীর কাছ থেকে ধার নেওয়া। এটি ২৪/১৫ সেন্টিমিটার মাঝারি আকারের ১১৬টি পত্রের সমন্বয়ে গঠিত। এর লিখিত অংশের পরিমাপ ১৪/৯.৫ সেন্টিমিটার এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২১টি করে সারি রয়েছে। এর হস্তাক্ষর অত্যন্ত নিম্নমানের, এতে প্রচুর ছিদ্র ও বিচ্যুতি রয়েছে এবং এর শুরু, শেষ ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানে অসম্পূর্ণতা বিদ্যমান।

এটি অনুলিপির সময়কাল ও ইতিহাসের দিক থেকে 'সীন' পাণ্ডুলিপির চেয়েও প্রাচীন। এর শেষ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে: "এটি ১১৪১ হিজরি সনের ২৫শে সফর সম্পন্ন হয়েছে।" উস্তাদ যিরিকলী মনে করেছেন যে এটিই এর অনুলিপি তৈরির তারিখ এবং তিনি 'আল-আলাম' গ্রন্থের দশম খণ্ডের তথ্যসূত্র তালিকায় এটি উল্লেখ করেছেন। তবে আমাদের গবেষণার পর...

--------------------------------------------

(১) কায়রোর পাণ্ডুলিপি বিক্রেতা হাজ্জাজ পরিবারের ব্যক্তিগত লাইব্রেরি মালিকদের ওপর বিশেষ অবদান রয়েছে যা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণীয়।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١٨)
لهذه الصفحة، وجدنا أنها ليست من «الطالع» ولا تمت إليه بصلة، وإنما هى ورقة ملحقة بالنسخة من كتاب آخر.

وأكبر الظن أن هذه النسخة (ز) «مختصر» للطالع وليست الطالع نفسه؛ لأن الناسخ أسقط منها كثيرا من التراجم، كما كان يختصر الترجمة فى سطور.

 

‌‌عملنا فى الكتاب:

جعلنا النسخة (س) أصلا، واعتمدنا معها رواية التيمورية تؤيدها، نظرا لأصالتها وقدمها، فإذا تخالفا اخترنا الرواية التى تتناسب مع النص، وكثيرا ما كنا نغفل الروايتين معا لنختار رواية نسخة أخرى غير (س) والتيمورية، لأنها بعد الدراسة هى التى تناسب النص مع الإشارة إلى ذلك، وقد وضعنا بين معكوفين كل زيادة استفدناها من هذه النسخ.

وفى القسم الجغرافى من الطالع قمنا بتعريف القارئ بما كتبه الجغرافيون العرب عن هذه البلدان منذ القرن الرابع الهجرى حتى اليوم، وفى القسم التاريخى قمنا بضبط أعلامه والتخريج لها، وقد كنت أزمع القيام بعمل فهارس تفصيلية لأعلامه ومدنه وبقاعه وما ورد فيه من شعر، لولا أنى وجدت الكتاب قد تضخم حجمه، فأرجأت ذلك إلى ملحق يتبعه أو إلى الطبعة القادمة، إن شاء الله وكان فى الأجل بقية، وقد عنينا بإصلاح ما فى الأصول الخطية بله المطبوعة من تحريف، تقدم هنا نماذج منه:

(1) فى ترجمة: «أحمد بن أبى عثمان الأسوانىّ»(1):

ورد فى الأصول: «قرأ القرآن الكريم على علىّ بن عبد الله بن عبد الواحد» وهو تحريف صوابه «أحمد بن عبيد الله بن عبد الواحد».

(2) فى ترجمة: «أحمد بن محمد بن هارون الأسوانىّ»(2):

ورد: «سعيد بن هلال» والصواب «بن أبى هلال».

(3) فى ترجمة: «جعفر بن محمد الإدريسىّ»(3):

ورد: «سمع من أبى بكر بن باقا، وأبى الحسن علىّ بن الحميرىّ» والصواب:

«بن الجمّيزى».

(4) فى ترجمة: «الحسن بن علىّ القوصىّ»(4):

--------------------------------------------

(1) الطالع/ 75.

(2) الطالع/ 143.

(3) الطالع/ 179.

(4) الطالع/ 207.

এই পৃষ্ঠাটির ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পেয়েছি যে এটি «আত-তালি'» এর অংশ নয় এবং এর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এটি পাণ্ডুলিপির সাথে যুক্ত অন্য একটি গ্রন্থের একটি পাতা।

প্রবল ধারণা এই যে, এই পাণ্ডুলিপিটি (যাই) হচ্ছে «আত-তালি'» এর একটি «সংক্ষিপ্তসার», মূল আত-তালি' নয়; কারণ অনুলিপিকারক এতে অনেক জীবনী বাদ দিয়েছেন, এবং জীবনীগুলোকে মাত্র কয়েক লাইনে সংক্ষিপ্ত করেছেন।

 

‌‌গ্রন্থে আমাদের কর্মপদ্ধতি:

আমরা পাণ্ডুলিপি (সীন)-কে মূল হিসেবে নির্ধারণ করেছি এবং এর সাথে তাইমুরিয়া বর্ণনাকে সমর্থনকারী হিসেবে গ্রহণ করেছি, এর মৌলিকতা ও প্রাচীনত্বের কথা বিবেচনা করে। যদি এই দুই বর্ণনার মধ্যে অমিল দেখা দেয়, তবে আমরা সেই বর্ণনাটি বেছে নিয়েছি যা পাঠ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে আমরা উভয় বর্ণনাকে উপেক্ষা করে (সীন) ও তাইমুরিয়া ব্যতীত অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির বর্ণনা গ্রহণ করেছি, কারণ পর্যালোচনার পর দেখা গেছে সেটিই পাঠ্যের সাথে অধিকতর মানানসই; এবং আমরা তা উল্লেখ করে দিয়েছি। এই পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত অংশসমূহ আমরা থার্ড ব্র্যাকেট বা তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে স্থাপন করেছি।

আর আত-তালি'-এর ভৌগোলিক অংশে আমরা হিজরি চতুর্থ শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত এই দেশগুলো সম্পর্কে আরব ভূগোলবিদরা যা লিখেছেন সে সম্পর্কে পাঠককে ধারণা দিয়েছি। ঐতিহাসিক অংশে আমরা এতে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের নাম সঠিকভাবে নির্ধারণ করেছি এবং সেগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি। আমি এর ব্যক্তিবর্গ, শহর, স্থান এবং এতে আসা কবিতাগুলোর বিস্তারিত নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র তৈরি করার সংকল্প করেছিলাম; কিন্তু দেখলাম যে বইটির কলেবর অনেক বড় হয়ে গেছে, তাই আমি এটি একটি পরিশিষ্ট আকারে পরবর্তীতে যোগ করার অথবা আগামী সংস্করণের জন্য স্থগিত রেখেছি, যদি আল্লাহ চান এবং আয়ু অবশিষ্ট থাকে। পাণ্ডুলিপিগুলোতে এবং মুদ্রিত কপিগুলোতে যে সকল বিকৃতি ছিল, তা সংশোধনের ব্যাপারে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। নিচে তার কিছু নমুনা পেশ করা হলো:

(১) «আহমদ বিন আবি উসমান আল-আসওয়ানি» এর জীবনীতে(১):

মূল কপিগুলোতে এসেছে: «আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহিদ-এর নিকট কুরআন মাজীদ পাঠ করেছেন», যা একটি বিকৃতি; এর সঠিক রূপ হবে «আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহিদ»।

(২) «আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হারুন আল-আসওয়ানি» এর জীবনীতে(২):

এসেছে: «সাঈদ বিন হিলাল» এবং সঠিক হলো «বিন আবি হিলাল»।

(৩) «জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ইদরিসি» এর জীবনীতে(৩):

এসেছে: «আবু বকর বিন বাকা এবং আবুল হাসান আলী বিন আল-হিমইয়ারি থেকে শ্রবণ করেছেন» এবং সঠিক হলো:

«বিন আল-জুম্মাইজি»।

(৪) «আল-হাসান বিন আলী আল-কুসি» এর জীবনীতে(৪):

--------------------------------------------

(১) আত-তালি'/ ৭৫।

(২) আত-তালি'/ ১৪৩।

(৩) আত-তালি'/ ১৭৯।

(৪) আত-তালি'/ ২০৭।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١٩)
ورد: «سمع الحديث من أبى الحامض» والصواب «ابن الحامض».

(5) فى ترجمة: «رقيّة بنت محمد بن علىّ القشيرىّ»(1):

ورد: «أخبرنا أبو جعفر فاروق بن عبد الكريم» والصواب: «بن عبد الكبير».

(6) فى ترجمة: «ابن الحاجب عثمان بن عمر»(2):

ورد: «الدولى» والصواب «الدّوينىّ».

كما ورد فى هذه الترجمة أيضا:

«أخبرنا علىّ بن محمد بن محمد الحرّانىّ» والصواب: «علىّ بن عمر بن محمد الحرّانىّ».

(7) فى ترجمة: «أبى بكر محمد بن علىّ بن أحمد الأدفوىّ»(3):

ورد فى الأصول: «روى النحو عن أحمد بن العبّاس المصرىّ» والصواب:

«العبّاس بن أحمد».

وورد: «روى عنه القراءة الحسين بن النعمان» والصواب: «محمد بن الحسين ابن النعمان».

وورد: «وروى عنه الحسن بن سهل شيخ الدّانى» والصواب: «الحسن ابن سليمان».

وورد: «وذكره أبو إسحاق القراب» والصواب «أبو يعقوب إسحاق القراب».

وورد: «رأيت شيخنا تقىّ الدّين أحمد المقرى الشهير بالصائغ» والصواب: «تقىّ الدّين محمد بن أحمد».

(8) فى ترجمة: «ابن دقيق العيد محمد بن علىّ بن وهب»(4):

ورد فى الأصول: «وأبى الحسن محمد بن الأنجب أبى عبد الله بن عبد الرّحمن الصوفىّ البغدادى البغال» والصواب: «الأنجب بن أبى عبد الله بن

--------------------------------------------

(1) الطالع/ 246.

(2) الطالع/ 352.

(3) الطالع 552.

(4) الطالع/ 567.

এসেছে: "তিনি আবু আল-হামিদ থেকে হাদিস শুনেছেন" এবং সঠিক হলো "ইবনুল হামিদ"।

(৫) "রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মদ বিন আলী আল-কুশায়রী" এর জীবনীতে:(১):

এসেছে: "আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর ফারুক বিন আব্দুল কারিম" এবং সঠিক হলো: "বিন আব্দুল কবির"।

(৬) "ইবনুল হাজিব উসমান বিন উমর" এর জীবনীতে:(২):

এসেছে: "আদ-দুওয়ালী" এবং সঠিক হলো "আদ-দুওয়াইনী"।

এই জীবনীতে আরও এসেছে:

"আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-হাররানী" এবং সঠিক হলো: "আলী বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-হাররানী"।

(৭) "আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ আল-আদফুওয়ী" এর জীবনীতে:(৩):

মূল পাঠে এসেছে: "তিনি আহমদ বিন আব্বাস আল-মিসরী থেকে নাহু (ব্যাকরণ) বর্ণনা করেছেন" এবং সঠিক হলো:

"আব্বাস বিন আহমদ"।

এবং এসেছে: "তার থেকে হুসাইন বিন আল-নুমান কিরাত বর্ণনা করেছেন" এবং সঠিক হলো: "মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন ইবনুন নুমান"।

এবং এসেছে: "এবং তার থেকে আদ-দানীর উস্তাদ হাসান বিন সাহল বর্ণনা করেছেন" এবং সঠিক হলো: "আল-হাসান ইবনে সুলাইমান"।

এবং এসেছে: "আবু ইসহাক আল-কাররাব তার কথা উল্লেখ করেছেন" এবং সঠিক হলো "আবু ইয়াকুব ইসহাক আল-কাররাব"।

এবং এসেছে: "আমি আমাদের শায়খ আস-সায়িগ নামে পরিচিত তকিউদ্দীন আহমদ আল-মুকরীকে দেখেছি" এবং সঠিক হলো: "তকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ"।

(৮) "ইবনে দাকীকুল ঈদ মুহাম্মদ বিন আলী বিন ওয়াহাব" এর জীবনীতে:(৪):

মূল পাঠে এসেছে: "এবং আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-আনজাব আবু আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আস-সুফী আল-বাগদাদী আল-বাগগাল" এবং সঠিক হলো: "আল-আনজাব বিন আবু আব্দুল্লাহ বিন

--------------------------------------------

(১) আত-তালি‘/ ২৪৬।

(২) আত-তালি‘/ ৩৫২।

(৩) আত-তালি‘/ ৫৫২।

(৪) আত-তালি‘/ ৫৬৭।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
عبد الرّحمن الصوفىّ البغدادىّ النعّال».

وورد: «حدثنا أبو عبد الله الحسن بن يحيى بن عبّاس القطّان» والصواب:

«الحسين بن يحيى بن عيّاش القطّان».

وورد: «وحضر عند القاضى شمس الدّين محمود الأصفهانىّ» والصواب: «محمد ابن محمود».

(9) فى ترجمة: «محمد بن المفضّل الأسوانىّ»(1):

ورد: «وأجاز للسيّد الشريف أحمد بن الحسين» والصواب: «أحمد بن محمد الحسينىّ».

(10) فى ترجمة: «محمد بن هلال الشّبّى الأسوانىّ»(2):

ورد فى الأصول أن وفاته كانت سنة «اثنين وثمانين وأربعمائة» والصواب: «وثلاثمائة».

(11) فى ترجمة: «محمد بن يحيى بن مهدى»(3).

ورد: «ولى قضاء مصر ليحيى بن عبد الله بن مكرم» والصواب: «لأبى يحيى عبد الله».

(12) فى ترجمة: «موسى بن علىّ بن وهب»(4).

ورد: «أخبرنا أبو عبد الله بن أبى الفضل» والصواب: «بن الفضل».

وورد: «أخبرنا محمد بن عمرو بن البحيرى- أو البخيرى-» والصواب:

«بن البحترىّ».

وورد: «يونس بن محمد المؤذن» والصواب: «المؤدب».

(13) فى ترجمة: «ناشى بن عبد الله القوصى»(5).

ورد: «قرأ القراءات على أبى عبد الله بن أبى الفضل» والصواب: «قرأ القراءات على أبى محمد عبد الله»، وقد ترجم له فى الطالع.

(14) فى ترجمة: «نصر الله بن بصاقة»(6).

--------------------------------------------

(1) الطالع/ 633.

(2) الطالع/ 637.

(3) الطالع/ 638.

(4) الطالع/ 665.

(5) الطالع/ 671.

(6) الطالع/ 676.

আব্দুর রহমান আস-সুফি আল-বাগদাদি আন-নাল।»

এবং উল্লেখ হয়েছে: «আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাস আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন» আর সঠিক হলো:

«আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়াশ আল-কাত্তান»।

এবং উল্লেখ হয়েছে: «তিনি কাজি শামসুদ্দিন মাহমুদ আল-আসফাহানির নিকট উপস্থিত ছিলেন» আর সঠিক হলো: «মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ»।

(৯) «মুহাম্মদ ইবনে আল-মুফাদদাল আল-আসোয়ানি»-এর জীবনীতে(১):

উল্লেখ হয়েছে: «তিনি সাইয়্যেদ শরিফ আহমদ ইবনে আল-হুসাইনকে ইজাজত দিয়েছেন» আর সঠিক হলো: «আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হুসাইনি»।

(১০) «মুহাম্মদ ইবনে হিলাল আশ-শাব্বি আল-আসোয়ানি»-এর জীবনীতে(২):

মূল পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ হয়েছে যে, তাঁর মৃত্যু ছিল «চারশ বিরাশি» হিজরি সনে আর সঠিক হলো: «তিনশ»।

(১১) «মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মাহদি»-এর জীবনীতে(৩)।

উল্লেখ হয়েছে: «তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাকরামের প্রতিনিধি হিসেবে মিশরের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন» আর সঠিক হলো: «আবু ইয়াহইয়া আব্দুল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে»।

(১২) «মুসা ইবনে আলি ইবনে ওয়াহাব»-এর জীবনীতে(৪)।

উল্লেখ হয়েছে: «আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আল-ফজল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন» আর সঠিক হলো: «ইবনুল ফজল»।

এবং উল্লেখ হয়েছে: «মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আল-বুহাইরি—অথবা আল-বখাইরি—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন» আর সঠিক হলো:

«ইবনুল বুহতারি»।

এবং উল্লেখ হয়েছে: «ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াযযিন» আর সঠিক হলো: «আল-মুয়াদ্দিব»।

(১৩) «নাশি ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুসি»-এর জীবনীতে(৫)।

উল্লেখ হয়েছে: «তিনি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আল-ফজলের নিকট কিরাতসমূহ পড়েছেন» আর সঠিক হলো: «তিনি আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর নিকট কিরাতসমূহ পড়েছেন», আর আত-তালি' গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে।

(১৪) «নাসরুল্লাহ ইবনে বাসাকাহ»-এর জীবনীতে(৬)।

--------------------------------------------

(১) আত-তালি/ ৬৩৩।

(২) আত-তালি/ ৬৩৭।

(৩) আত-তালি/ ৬৩৮।

(৪) আত-তালি/ ৬৬৫।

(৫) আত-তালি/ ৬৭১।

(৬) আত-তালি/ ৬৭৬।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٢١)
ورد: «وأجاز له أبو القاسم يحيى بن سعيد بن يونس» والصواب: «يحيى ابن أسعد بن بوش».

(15) فى ترجمة: «يونس بن عبد المجيد الأرمنتىّ»(1)

ورد: «أخبرنا الحافظ أبو الحسن علىّ بن يحيى القرشىّ» والصواب:

«يحيى بن علىّ».

(16) فى ترجمة: «أبى بكر بن محمد الأسنائى(2)»

ورد: «أبو بكر بن محمد بن إبراهيم القزوينىّ» والصواب «أبو بكر بن محمد ابن عبد الله القزوينىّ».

هذه نماذج فقط مما عانيته من تحريف فى الأصول الخطية، وبعون من الله أصلحنا ما فسد، وأقمنا ما انحرف، وقد دعمنا رأينا بالأسانيد والحجّة، نشدانا منّا للحق وحده.

 

‌‌وفاة المؤلف:

عاش الكمال فى القاهرة وقد نذر نفسه للعلم واتخذ المدرسة الصالحيّة سكنا، يتردد على الأشياخ، ويتزود من مناهل العرفان، قال البدر النابلسىّ: «كان عالما فاضلا متقلّلا من الدنيا».

وقال الأسنوىّ فى الطبقات:

«كان مشاركا فى علوم متعددة، أديبا شاعرا ذكيا كريما، طارحا للتكلّف ذا مروءة».

توفّى بعد عودته من الحج عام 748 هـ كما فى «الدرر»(3)، وأكده الأسنوىّ فى «الطبقات» فقال(4): «مات قبل الطاعون الكبير الواقع سنة 749 هـ»، وهو ما ذكره أبو الفلاح

--------------------------------------------

(1) الطالع/ 729.

(2) الطالع/ 737.

(3) الدرر 1/ 536.

(4) المصدر السابق/ 537.

এসেছে: «এবং তাকে অনুমতি দিয়েছেন আবুল কাসেম ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বিন ইউনুস» আর সঠিক হলো: «ইয়াহইয়া ইবনে আসআদ ইবনে বুশ»।

(১৫) «ইউনুস বিন আব্দুল মাজীদ আল-আরমানতি»-এর জীবনীতে:(১)

এসেছে: «হাফেজ আবুল হাসান আলী বিন ইয়াহইয়া আল-কুরাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন» আর সঠিক হলো:

«ইয়াহইয়া বিন আলী»।

(১৬) «আবু বকর বিন মুহাম্মদ আল-আসনাই»-এর জীবনীতে:(২)

এসেছে: «আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-কাযভিনি» আর সঠিক হলো «আবু বকর বিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাযভিনি»।

এগুলো পাণ্ডুলিপিসমূহে বিদ্যমান বিকৃতির কেবল কিছু নমুনা যা আমাকে ভোগ করতে হয়েছে। আল্লাহর সাহায্যে আমরা যা নষ্ট হয়েছিল তা সংশোধন করেছি এবং যা বিচ্যুত হয়েছিল তা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা আমাদের অভিমতকে সনদ ও প্রমাণের মাধ্যমে সমর্থন যুগিয়েছি, একমাত্র সত্যের অনুসন্ধানে।

 

‌‌লেখকের মৃত্যু:

আল-কামাল কায়রোতে বসবাস করতেন এবং নিজেকে ইলমের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি সালিহিয়া মাদরাসাকে আবাসন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, শাইখদের নিকট যাতায়াত করতেন এবং জ্ঞানের উৎসধারা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করতেন। আল-বদর আল-নাবুলুসি বলেছেন: «তিনি ছিলেন একজন বিদ্বান, ফাজিল এবং দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি»।

আর আল-আসনাবি 'আত-তবাকাত'-এ বলেছেন:

«তিনি বহুমুখী জ্ঞানে পারদর্শী, সাহিত্যিক, কবি, মেধাবী ও উদার ছিলেন। তিনি লৌকিকতা বর্জনকারী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন»।

তিনি ৭৪৮ হিজরিতে হজ থেকে ফেরার পর মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি 'আদ-দুরার'-এ এসেছে। আল-আসনাবি 'আত-তবাকাত'-এ এটি নিশ্চিত করে বলেছেন: «তিনি ৭৪৯ হিজরিতে ঘটা মহামারী প্লেগের পূর্বে মারা যান», আর এটিই আবু আল-ফালাহ উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আত-ত্বালি‘/ ৭২৯।

(২) আত-ত্বালি‘/ ৭৩৭।

(৩) আদ-দুরার ১/ ৫৩৬।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস/ ৫৩৭।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
فى «الشذرات(1)» والشوكانى فى «البدر الطالع(2)» وارتضاه زيدان فى «تاريخ آداب اللغة(3)» والزركلى فى «الأعلام(4)» وكحالة فى «معجم المؤلفين»(5) وهو الوارد فى فهرس الدار(6).

وقال المقريزىّ فى «السلوك(7)» وابن تغرى بردى فى «النجوم(8)» والسيوطى فى «حسن المحاضرة(9)» وحاجى خليفة فى «كشف الظنون(10)»:

«749 هـ» وارتضاه على مبارك فى «الخطط(11)» والبابانى فى «هدية العارفين(12)».

رحم الله الكمال ورحم شيخه أبا حيّان، فبفضلهما كان هذا الكتاب الذى أقدمه للدّارسين، بعد أن شغلت نفسى به اثنى عشر عاما، أضعت فيها الكثير من حق النفس والأهل والولد، إيمانا بتراثنا العربى وحبّا فى إحيائه، على نحو سليم، ومنهج قويم.

ولا يسعنى بعد هذا السرى فى ليل طويل وقد انبلج الصبح، إلّا أن أوجه شكرى للعاملين بمطابع سجل العرب، لما عانوه من متاعب ومشاق فى سبيل إخراج الكتاب على هذه الصورة، والله أسأل أن يجعل عملنا هذا خالصا لوجهه، وأن يرزقنا الأيد والتوفيق، وأن يسدد منا الخطا ويحملنا على الطريق.

 

سعد محمد حسن

من علماء الأزهر

والمدرس الأول للغة العربية وآدابها بوزارة التربية والتعليم

 

القاهرة فى/ جمادى الآخرة 1386 هـ أكتوبر 1966 م

--------------------------------------------

(1) الشذرات 6/ 153.

(2) البدر الطالع 1/ 182.

(3) 3/ 160.

(4) 2/ 116.

(5) 3/ 136.

(6) 5/ 246.

(7) 2/ 3/ 793.

(8) 10/ 237.

(9) 1/ 255.

(10) كشف الظنون/ 167.

(11) 8/ 50.

(12) 1/ 254.

«আশ-শাযারাত»(১)-এ এবং শাওকানী «আল-বদরুত তালি»(২)-এ উল্লেখ করেছেন, যা যায়দান «তারীখু আদাবিল লুগাহ»(৩)-এ এবং যিরিকলী «আল-আ'লাম»(৪)-এ সমর্থন করেছেন, আর কাহহালা «মু'জামুল মুয়াল্লিফীন»(৫)-এ এটি উল্লেখ করেছেন; আর এটিই দারুল কুতুবের সূচিপত্রে(৬) বর্ণিত হয়েছে।

মাকরিজী «আস-সুলুক»(৭)-এ, ইবনে তাগরী বারদী «আন-নুজুম»(৮)-এ, সুয়ূতী «হুসনুল মুহাদ্বারা»(৯)-এ এবং হাজী খলীফা «কাশফুয যুনুন»(১০)-এ বলেছেন:

«৭৪৯ হিজরি» এবং আলী মুবারক «আল-খিতাত»(১১)-এ ও বাবানী «হাদিয়্যাতুল আরিফীন»(১২)-এ এটি গ্রহণ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা আল-কামালকে রহম করুন এবং রহম করুন তাঁর শায়খ আবু হাইয়্যানকে; তাঁদের কল্যাণে এই গ্রন্থটি গবেষকদের নিকট উপস্থাপন করা সম্ভব হলো, যার পেছনে আমি দীর্ঘ বারোটি বছর নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমি আমার নিজের, পরিবার ও সন্তানের অনেক অধিকার নষ্ট করেছি—আমাদের আরবি ঐতিহ্যের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং একে সঠিক পদ্ধতিতে ও সুদৃঢ় পন্থায় পুনরুজ্জীবিত করার ভালোবাসার টানে।

দীর্ঘ রজনীর পথচলা শেষে প্রভাতের আলো উদ্ভাসিত হওয়ার পর, এখন 'সিজিলুল আরব' ছাপাখানার কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই; গ্রন্থটি এই অবয়বে প্রকাশের পথে তারা যে কষ্ট ও শ্রম স্বীকার করেছেন তার জন্য। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আমাদের শক্তি ও তাওফিক দান করেন, আমাদের পদক্ষেপসমূহ সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আমাদের সত্য পথে পরিচালিত করেন।

 

সা'দ মুহাম্মদ হাসান

আল-আজহারের আলেমগণের অন্তর্ভুক্ত

এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্যের প্রধান শিক্ষক

 

কায়রো / জুমাদাল আখিরাহ ১৩৮৬ হিজরি, অক্টোবর ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ

--------------------------------------------

(১) আশ-শাযারাত ৬/ ১৫৩।

(২) আল-বদরুত তালি ১/ ১৮২।

(৩) ৩/ ১৬০।

(৪) ২/ ১১৬।

(৫) ৩/ ১৩৬।

(৬) ৫/ ২৪৬।

(৭) ২/ ৩/ ৭৯৩।

(৮) ১০/ ২৩৭।

(৯) ১/ ২৫৫।

(১০) কাশফুয যুনুন/ ১৬৭।

(১১) ৮/ ৫০।

(১২) ১/ ২৫৪।

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: -)
الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد   (كمال الدين الأدفوي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد

المؤلف: أبو الفضل كمال الدين جعفر بن ثعلب الإدفوي الشافعي (ت 748 هـ)

تحقيق: سعد محمد حسن

مراجعة: طه الحاجري

الناشر: الدار المصرية للتأليف والنشر

عام النشر: 1386 هـ - 1966 م

عدد الصفحات: 806

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 جُمادَى الآخرة 1444

আত্ব-ত্বালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবাইস সাঈদ   (কামালুদ্দিন আল-আদফুওয়ী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তর বিন্যাস


গ্রন্থ: আত্ব-ত্বালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবাইস সাঈদ

লেখক: আবুল ফজল কামালুদ্দিন জাফর বিন ছালাব আল-আদফুওয়ী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)

সম্পাদনা: সাদ মুহাম্মদ হাসান

পর্যবেক্ষণ: তাহা আল-হাজিরী

প্রকাশক: আদ-দারুল মিসরিয়্যাহ লিত-তালিফ ওয়ান-নাশর

প্রকাশকাল: ১৩৮৬ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله محيى الرّمم البالية، وناشر ما انطوى فى الأيّام الخالية، أحمده على نعمه المترادفة المتوالية، وأشكره أن جعلنى من حملة العلم، وحملته هم أهل الرّتب العاليه، وأصلّى على نبيّه المبعوث رحمة للعالمين، وحجّة للعاملين، صلاة [متصلة] دائمة إلى يوم الدّين، وعلى آله وأصحابه الّذين نقلوا طريقته إلينا، وحفظوا شريعته علينا، فهم فى الآخرة من الفائزين.

وبعد: فإنّ التاريخ فنّ يحتاج إليه، وتشدّ يد الضّنانة(1) عليه؛ إذ [به] يعرف الخلف أحوال السلف، ويتميّز منهم المستحقّ التّنقير(2)، ممّن هو أهون(3) من النّقير وأحقر من الفتيل، ومن وسم منهم بالجرح ومن رسم بالتّعديل، وما سلكوا من الطرائق، واتّصفوا به من الخلائق، وأبرزوا من الحقائق للخلائق، وهو أيضا من أقوى الأسباب، فى حفظ الأنساب أن تنساب، وقد وضع فيه السادة الفضلاء، والأئمة العلماء، كتبا تكاثر نجوم السماء، ثمّ منهم من رتّب على السنين ومنهم من رتّب على الأسماء، ليكون إسناده أسمى، ثمّ منهم من خصّ بعض البلاد، ومنهم من عمّ كلّ قطر وواد.

ولمّا كان صعيد «قوص» الموضع الذى منه نشأتى، والمكان الذى إليه نسبتى،

--------------------------------------------

(1) كذا فى التيمورية، وفى س: «تتوقف الصناعة عليه»، وفى ا و ب: «وتسديد الصناعة عليه»، وفى ج: «وتسديد الضاعة».

(2) كذا فى س. وورد فى ط: «المستحق للتعظيم والتبجيل».

(3) كذا فى س والتيمورية، وفى بقية النسخ: «ممن هو أعظم».
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জীর্ণ অস্থিসমূহকে পুনর্জীবিত করেন এবং বিগত দিনগুলোতে যা বিলীন হয়ে গিয়েছিল তাকে পুনরুত্থিত করেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর ধারাবাহিক ও অবিরাম নিয়ামতের জন্য, এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করি যে তিনি আমাকে জ্ঞান বহনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর জ্ঞান বহনকারীরাই হলেন উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আমি দরুদ পাঠ করি তাঁর নবীর প্রতি, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ এবং আমলকারীদের জন্য প্রমাণস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে; এমন দরুদ যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ও স্থায়ী হয়। আরও দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের প্রতি, যাঁরা আমাদের নিকট তাঁর আদর্শ পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমাদের জন্য তাঁর শরীয়তকে সংরক্ষণ করেছেন; ফলে তাঁরা পরকালে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর: নিশ্চয়ই ইতিহাস এমন এক বিদ্যা যার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং যার সংরক্ষণে অত্যন্ত যত্নবান হওয়া প্রয়োজন; কারণ এর মাধ্যমেই পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে। এর মাধ্যমেই তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিকে আলাদা করা যায় যিনি গভীর অনুসন্ধানের যোগ্য, আর তাকেও চেনা যায় যে অতি তুচ্ছ ও নগণ্য। এর দ্বারা আরও জানা যায় যে, তাঁদের মধ্যে কাদেরকে ত্রুটিযুক্ত করা হয়েছে এবং কাদেরকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাঁরা কোন্ পথে চলেছেন, কোন্ চরিত্রে গুণান্বিত ছিলেন এবং সৃষ্টির জন্য কী সত্য উন্মোচিত করেছেন তাও এর মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বংশপরম্পরা যেন হারিয়ে না যায়, তা সংরক্ষণের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যমও এটি। বিজ্ঞ মণীষীগণ এবং বিদগ্ধ ইমামগণ এই বিষয়ে আকাশের তারকারাজির ন্যায় অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ কালানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন, আবার কেউ কেউ নামের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছেন যাতে এর তথ্যসূত্র আরও উচ্চতর হয়। আবার কেউ কোনো বিশেষ ভূখণ্ডকে নির্দিষ্ট করেছেন, কেউবা প্রতিটি অঞ্চল ও উপত্যকাকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আর যেহেতু 'কূস' অঞ্চলটিই আমার বেড়ে ওঠার স্থান এবং যে জায়গার প্রতি আমার সম্বন্ধ নিহিত,

--------------------------------------------

(1) তায়মুরিয়া পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে। 'স' পাণ্ডুলিপিতে আছে: "এই শাস্ত্রটি এর ওপর নির্ভর করে"। 'আ' ও 'ব' পাণ্ডুলিপিতে আছে: "এই শাস্ত্রকে এর ওপর সুদৃঢ় করা"। 'জ' পাণ্ডুলিপিতে আছে: "সম্পদকে সুবিন্যস্ত করা"।

(2) 'স' পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে। তবে 'ত' পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: "সম্মান ও মর্যাদার যোগ্য"।

(3) 'স' এবং তায়মুরিয়া পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে, আর অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোতে আছে: "যিনি মহান, তার থেকে"।
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٤)
والمحلّة التى فيها عشّى الذى منه درجت، وخشّى(1) الذى عنه خرجت، وأرضه الأرض التى هى أوّل أرض مسّ جلدى ترابها، ولذّ لطرفى آكامها وظرابها(2)، وحلا لقلبى أرجاؤها ورحابها، والتى أمطر الرزق علىّ سحابها، ووضعت عنّى بها التمائم وأقمت بها إلى أن طار من رأسى غرابها(3)، وهى التى فيها أقول(4) [شوقا إليها هذه الأبيات]:

أحنّ إلى أرض الصّعيد وأهلها(5) … ويزداد شوقى(6) حين تبدو قبابها

وتذكرها فى ظلمة الليل مهجتى … فتجرى دموعى إذ يزيد التهابها

وما صعبت يوما علىّ ملمّة … وشاهدتها إلّا وهانت صعابها

بلاد بها كان الشباب مساعدى … على نيل آمال عزيز طلابها

وقضّيت صفو العيش فى عرصاتها … لذلك يحلو للفؤاد رحابها

مواطن أهلى ثمّ صحبى وجيرتى … وأوّل أرض مسّ جلدى ترابها

فأحببت أن أحيا ما مات من علم علمائها، وأنشر ما انطوى من فضل فضلائها،

--------------------------------------------

(1) فى ا و ب و ج خطأ: «وحيثى»، والخش- بفتح الخاء المعجمة وتشديد الشين- الشق، القاموس 2/ 272.

(2) الظراب- بكسر الظاء المعجمة- جمع الظرب: كل ما نتأ من الحجارة، وقيل:

الجبل المنبسط، وقيل: الروابى الصغار، ومنه سمى عامر بن الظرب العدوانى أحد فرسان العرب، ومنه حديث الاستسقاء: «اللهم على الآكام والظراب»، انظر: الاشتقاق لابن دريد/ 164 والصحاح/ 174، والنهاية 3/ 54، واللسان 1/ 569، والقاموس 1/ 99.

(3) كناية عن بياض شعره، وقد أخطأ الأدفوى هنا حيث أعاد الضمير على الرأس مؤنثا، والرأس مذكر.

(4) كذا فى س، والزيادة عن التيمورية د، وفى بقية الأصول: «وهى التى فيها أقول شعرا».

(5) الضمير فى أهلها يعود إلى الأرض، وجاء فى ا و س: «وأهله» بعودة الضمير إلى الصعيد.

(6) فى د: «ويزداد وجدى».
এবং সেই জনপদ যাতে আমার শৈশবের বাসা ছিল যেখান থেকে আমি বেড়ে উঠেছি, আর আমার উৎস যেখান থেকে আমি নির্গত হয়েছি; আর এর মাটি হলো সেই মাটি যা সর্বপ্রথম আমার চর্ম স্পর্শ করেছে, এর টিলা ও ছোট পাহাড়গুলো আমার দৃষ্টির কাছে মনোরম ঠেকেছে, এবং এর দিগন্ত ও আঙিনা আমার হৃদয়ে মিষ্টতা ছড়িয়েছে। এটি সেই ভূমি যার মেঘমালা আমার উপর রিজিক বর্ষণ করেছে এবং সেখানেই আমার শৈশবের রক্ষাকবচসমূহ খোলা হয়েছিল, আর আমি সেখানে অবস্থান করেছি যতক্ষণ না আমার মাথার কাক উড়ে গেছে(১) (অর্থাৎ চুল পেকে সাদা হয়েছে)। আর এটি সেই জায়গা যার সম্পর্কে আমি [তার প্রতি ব্যাকুল হয়ে এই পঙক্তিগুলো] বলছি:

আমি সাঈদ ভূমি ও তার অধিবাসীদের প্রতি ব্যাকুল হই(৫) … আর যখন এর গম্বুজগুলো দৃশ্যমান হয় তখন আমার আকাঙ্ক্ষা(৬) বেড়ে যায়

রাতের অন্ধকারে আমার প্রাণ তাকে স্মরণ করে … ফলে আমার অশ্রু প্রবাহিত হয় যখন বিরহ-দহন বৃদ্ধি পায়

কোনোদিন আমার উপর কোনো বিপদ কঠিন হয়ে আসেনি … এবং আমি একে প্রত্যক্ষ করেছি অথচ তার কাঠিন্য সহজ হয়ে যায়নি

এমন এক দেশ যেখানে যৌবন ছিল আমার সহায়ক … সেই সব আশা অর্জনে যার অন্বেষণ ছিল দুষ্কর

আমি এর চত্বরগুলোতে জীবনের নির্মল সময় কাটিয়েছি … তাই এর প্রশস্ত প্রাঙ্গণ হৃদয়ের কাছে অত্যন্ত প্রিয় লাগে

এটি আমার পরিবার, অতঃপর আমার বন্ধু ও প্রতিবেশীদের আবাসস্থল … এবং প্রথম মাটি যা আমার চর্ম স্পর্শ করেছে

তাই আমি এর আলেমদের ইলমের যা কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেছে তা পুনর্জীবিত করতে এবং এর গুণীজনদের শ্রেষ্ঠত্বের যা কিছু সংকুচিত হয়ে গেছে তা প্রচার করতে চেয়েছি।

--------------------------------------------

(১) 'আলিফ', 'বা' এবং 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে ভুল রয়েছে: "ওয়া হাইছি"; আর 'আল-খুশ'—খ-এর উপর ফাতহা এবং শিন-এর উপর তাশদিদ সহ—এর অর্থ ফাটল বা ছিদ্র, কামুস ২/২৭২।

(২) 'আজ-জিরাব'—য-এর নিচে কাসরা সহ—এটি 'যারব' এর বহুবচন: পাথর থেকে উদগত বা উঁচু হয়ে থাকা প্রতিটি বস্তু। বলা হয়:

বিস্তৃত পাহাড়, আবার বলা হয়: ছোট টিলা। এ থেকেই আমের বিন যারব আল-আদওয়ানির নামকরণ করা হয়েছে যিনি আরবদের অন্যতম অশ্বারোহী ছিলেন। ইস্তিসকার (বৃষ্টি প্রার্থনা) হাদিসেও এটি এসেছে: "হে আল্লাহ! টিলা ও পাহাড়সমূহের উপর", দেখুন: আল-ইশতিকাক লি ইবনি দুরাইদ/১৬৪, আস-সিহাহ/১৭৪, আন-নিহায়া ৩/৫৪, আল-লিসান ১/৫৬৯ এবং আল-কামুস ১/৯৯।

(৩) এটি চুল পেকে সাদা হওয়ার একটি রূপক। এখানে আল-আদফুউই ভুল করেছেন কারণ তিনি সর্বনামটিকে 'রাস' (মাথা)-এর দিকে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ফিরিয়েছেন, অথচ 'রাস' শব্দটি পুংলিঙ্গ।

(৪) 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, আর অতিরিক্ত অংশটুকু তৈমুরিয়া 'দাল' থেকে নেওয়া। অন্যান্য মূল পাঠে রয়েছে: "আর এটিই সেই ভূমি যার সম্পর্কে আমি কবিতা বলছি"।

(৫) 'আহলিহা' (তার অধিবাসী) শব্দে সর্বনামটি ভূমির দিকে ফিরেছে, আর 'আ' ও 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে এসেছে 'আহলিহি' যেখানে সর্বনামটি 'সাঈদ' শব্দের দিকে ফিরেছে।

(৬) 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং আমার বিরহ-বেদনা বৃদ্ধি পায়"।
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٥)
وأظهر ما خفى من نثر بلغائها، ودرس من نظم شعرائها، وأذكر ما نسى من مكارم كرمائها،/ وكرامة صلحائها؛ فالإنسان يكرم بكرامة أهله، كما يعظم بنبله وفضله.

وكان شيخى الأستاذ الحجّة البارع جامع المناقب والمآثر، والمحامد والمفاخر، ذخر الأوائل وشرف الأواخر، ذو العلوم الجمّة الفائقة، والآداب المنقّحة المحقّقة الرّائقه، والفضائل التى النفوس إليها شائقة وبها واثقه، أثير الدّين أبو حيّان(1) محمد بن يوسف الأندلسىّ الغرناطىّ، أبقاه الله تعالى للعلوم الشرعية يبرزها ويظهرها، وللفنون الأدبيّة يناضل عنها(2) بالأدلّة وينصرها، أشار علىّ أن أعمل تاريخا للصّعيد مرّة ومرّه، وراجعنى فى ذلك كرّة بعد كرّه، فرأيت امتثال إشارته علىّ متعيّنا حتما، والإعراض عن إجابته غرما لا غنما، فشرعت فى هذا التأليف مرتّبا له على الأسماء، ولم أجد من تقدّمنى فيه فأكون له تابعا، ولا من أسأله فأكون لما يورده جامعا، فأنا مبتكر(3) لهذا العمل، ملجأ(4) إلى الفتور والكسل، متحرّ إلى حصول الخلل، متصدّ لما أنا منه على وجل، لكنّى أبذل فيه جهدى، وأورد منه ما عندى، وأخصّ به «قوص» وما يضاف إليها من القرى والبلاد، وأقصره على أهلها ومن ولد بها، ومن أقام بها سنين حتى دفن بها ونسب(5) إليها من العباد(6)، أو تأهّل بها وله بها

--------------------------------------------

(1) شيخ المؤلف ونحوى عصره ولغويه، ومفسره ومحدثه، وأديبه ومؤرخه كما قال السيوطى بحق، ولد عام 654 هـ وتوفى عام 745 هـ، انظر ما كتبناه عنه فى مقدمة الطالع.

(2) كذا فى التيمورية، وفى بقية الأصول: «يناضل عليها».

(3) كذا فى نسختنا س، وهو أيضا رواية التيمورية د، وفى النسخ الأخرى: «فانا منكر».

ولم يكن الأدفوى أول من ألف فى تاريخ الصعيد، فقد سبقه مؤرخون منهم ابن يونس الحافظ أبو سعيد عبد الرحمن بن أحمد الصدفى المتوفى سنة 347 هـ، والإدريسى محمد بن عبد العزيز المتوفى سنة 649 هـ، انظر: كشف الظنون/ 1159، و 1777.

(4) فى ج: «متكئ».

(5) فى ج: «وينسب إليها»:

(6) فى د: «العباد»، بضم العين وتشديد الباء، جمع عابد.
এবং আমি এর অলঙ্কারিকদের গদ্যের যা কিছু গোপন ছিল তা প্রকাশ করছি, এর কবিদের কাব্যের যা বিলুপ্ত হয়েছিল তা উদ্ধার করছি এবং এর উদার ব্যক্তিদের মহৎ গুণাবলি ও সৎকর্মশীলদের সম্মানের যা কিছু বিস্মৃত হয়েছিল তা স্মরণ করছি; কেননা মানুষ তার আপনজনদের সম্মানের দ্বারাই সম্মানিত হয়, যেমন সে তার মহানুভবতা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে মহিমান্বিত হয়।

আমার শাইখ, সুনিপুণ প্রমাণ পুরুষ উস্তাদ, যিনি সৎগুণাবলি ও কীর্তিগাথার সংকলক, প্রশংসনীয় কর্ম ও গৌরবগাথার আধার, পূর্ববর্তীদের সঞ্চয় এবং পরবর্তীদের সম্মান, প্রভূত ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞানরাশির অধিকারী, পরিমার্জিত, সুনিশ্চিত ও চমৎকার শিষ্টাচারের অধিকারী, এবং সেই সকল গুণের অধিকারী যার প্রতি আত্মাসমূহ ব্যাকুল থাকে ও ভরসা পায়—আসীরুদ্দীন আবু হাইয়ান(১) মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-আন্দালুসী আল-গারনাতি, আল্লাহ তাআলা তাকে শরয়ী জ্ঞানসমূহের জন্য জীবিত রাখুন যাতে তিনি সেগুলো প্রকাশ ও বিকশিত করেন, এবং সাহিত্য শিল্পের পক্ষ হয়ে দলিলের মাধ্যমে লড়াই(২) ও সাহায্য করেন। তিনি আমাকে বারবার 'সাঈদ' (উচ্চ মিসর)-এর একটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে পুনঃপুনঃ আমার সাথে আলোচনা করেছেন। ফলে তার ইঙ্গিত পালন করাকে আমি আমার জন্য অনিবার্য কর্তব্য হিসেবে গণ্য করলাম এবং তার আহবানে সাড়া না দেওয়াকে লাভ নয় বরং লোকসান মনে করলাম। অতঃপর আমি এই গ্রন্থটি সংকলন করতে শুরু করলাম এবং তা নাম অনুযায়ী (বর্ণানুক্রমিক) বিন্যস্ত করলাম। আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই বিষয়ে আমার আগে কাজ করেছেন যার আমি অনুসারী হতে পারি, অথবা এমন কাউকে পাইনি যাকে আমি জিজ্ঞাসা করতে পারি এবং তার বর্ণনা করা বিষয়গুলো সংকলন করতে পারি। তাই আমি এই কর্মের উদ্ভাবক(৩), যদিও আমি অবসাদ(৪) ও অলসতার সম্মুখীন, ত্রুটি হওয়ার আশঙ্কায় তটস্থ এবং এমন এক কাজের মুখোমুখি যা নিয়ে আমি ভীত। তবুও আমি এতে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি এবং আমার কাছে যা আছে তা উপস্থাপন করছি। আমি এই গ্রন্থটিকে বিশেষভাবে 'কুস' এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট গ্রাম ও জনপদগুলোর জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং এর অধিবাসী, সেখানে যারা জন্মগ্রহণ করেছে, যারা সেখানে দীর্ঘ বছর অবস্থান করেছেন এমনকি সেখানে সমাহিত হয়েছেন এবং সেই জনপদের অধিবাসী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন এমন ইবাদতগুজার বান্দাদের(৬) বর্ণনায় সীমাবদ্ধ রেখেছি, অথবা যারা সেখানে বিয়ে-শাদি করেছেন এবং সেখানে তাদের...

--------------------------------------------

(১) লেখকের শাইখ এবং তার যুগের ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদ, যেমনটি সুয়ূতী যথার্থই বলেছেন। তিনি ৬৫৪ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৪৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। 'আত-তালি' আল-সাঈদ'-এর ভূমিকায় তার সম্পর্কে আমরা যা লিখেছি তা দেখুন।

(২) তায়মুরিয়া পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে, আর অবশিষ্ট মূল কপিগুলোতে রয়েছে: 'ইউনাদিলু আলাইহা'।

(৩) আমাদের 'সীন' (س) পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে, এটি তায়মুরিয়া 'দাল' (د) পাণ্ডুলিপিরও বর্ণনা। অন্যান্য কপিতে রয়েছে: 'ফা-আনা মুনকির'।

সাঈদের ইতিহাস বিষয়ে আদফুয়ী প্রথম লেখক ছিলেন না। তার পূর্বেও অনেক ইতিহাসবিদ এ বিষয়ে লিখেছেন, যাদের মধ্যে হাফেয আবু সাঈদ আব্দুর রহমান ইবন আহমদ আস-সাফাদী (মৃত্যু ৩৪৭ হি.) এবং ইদ্রিসী মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আজিজ (মৃত্যু ৬৪৯ হি.) অন্যতম। দেখুন: কাশফুয যুনুন/ ১১৫৯ ও ১৭৭৭।

(৪) 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে: 'মুততাকি'।

(৫) 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে: 'ওয়া ইয়ুনসাব ইলাইহা' (এবং তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়)।

(৬) 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে: 'আল-উব্বাদ', আইন বর্ণে পেশ এবং বা বর্ণে তাশদীদ সহ, যা 'আবিদ' (ইবাদতকারী)-এর বহুবচন।
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٦)
نسل، أو من له منها(1) أصل، ولا أذكر إلّا من له علم أو أدب(2)، أو صلاح بلغت رتبته فيه غاية الرّتب، أو من سمع حديثا، فأصيّر ما قدم من ذكره حديثا، ولا أذكر الأحياء إلّا فى النّادر لغرض، أو لأمر عرض، إمّا لقلّة الأسماء فى الحرف، أو من احتوى على مكارم أو حوى كمال الظّرف، أو من له إحسان علىّ، وبرّ ساقه إلىّ؛ فشكر المحسن متعيّن، والاعتراف به من الحق البيّن، ولم أشحنه بالأسانيد فقد أنسب إلى غرص مذموم، ولا أخليه منها فأوصف بأنّى منها محروم، بل(3) أكسو بعض التراجم منها ذلك الوشى المرقوم، وسمّيته(4):

الطّالع السّعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد

وعلى الله [الاتكال و] الاعتماد، وإليه التفويض والاستناد، وبه أستعين، وأسأله(5) أن يعين، وأن يمنّ بإحسانه وإفضاله، بإتمامه(6) وإكماله، وابتدأت فيه باسم «إبراهيم»، فإنّه الأب الرحيم، واسم النبىّ الخليل، والرسول الجليل، وأيضا فالابتداء به جار على الترتيب الوضعىّ، والقانون المعروف المرعىّ، وأستعيذ بالله من الشيطان الرجيم، ولا حول ولا قوّة إلّا بالله العلىّ العظيم.

--------------------------------------------

(1) كذا فى س و ا و ج، وفى بقية الأصول: «بها أصل».

(2) كذا فى د و ب، وفى ا و ج: «علم وأدب».

(3) فى ا: «لكن أكسو».

(4) هكذا ورد عنوان الكتاب فى نسختنا س وفى نسخة ج، وورد فى ا: «الجامع لأسماء نجباء الصعيد»، وفى ب: «الطالع السعيد لأسماء نجباء الصعيد» وجاء فى نسخة د، وقد انفردت بذلك: «الجامع أسماء الفضلاء والرواة بأعلى الصعيد».

(5) فى ا: «ومنه أسال أن يمن».

(6) فى س: «وإتمامه».
বংশধর, অথবা যাদের সেখানে কোনো মূল(১) রয়েছে; আমি কেবল তাদেরই উল্লেখ করব যাদের জ্ঞান বা সাহিত্যিক গুণ(২) রয়েছে, অথবা এমন পুণ্যবান ব্যক্তি যার মর্যাদা তাতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, কিংবা যিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন, ফলে তার সেই পূর্বস্মৃতিকে আমি বর্তমানের আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করব। আমি বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য বা আকস্মিক কোনো কারণ ছাড়া জীবিতদের কথা খুব কমই উল্লেখ করব; হয় বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে নামের স্বল্পতার কারণে, নতুবা এমন ব্যক্তি যিনি মহৎ গুণাবলির অধিকারী অথবা যার রুচিবোধ পূর্ণতা পেয়েছে, কিংবা যার আমার প্রতি কোনো অনুগ্রহ রয়েছে এবং যার কল্যাণ আমার নিকট পৌঁছেছে। কারণ অনুগ্রহকারীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা আবশ্যক এবং তা স্বীকার করা সুস্পষ্ট হকের অন্তর্ভুক্ত। আমি এই গ্রন্থটিকে অধিক সনদ (বর্ণনাপরম্পরা) দ্বারা ভারাক্রান্ত করিনি, পাছে আমাকে কোনো নিন্দনীয় উদ্দেশ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; আবার একে সনদহীনও রাখিনি, পাছে আমাকে এ থেকে বঞ্চিত বলে অভিহিত করা হয়। বরং(৩) আমি কোনো কোনো জীবনীর অঙ্গে সনদের সেই কারুকার্যখচিত অলঙ্কার পরিয়ে দিয়েছি। আমি এর নামকরণ করেছি(৪):

আত-ত্বালিউস সাঈদ আল-জামি আসমা নুজাবায়িস সাঈদ (উচ্চ মিসরের অভিজাত ব্যক্তিদের নাম সংবলিত সৌভাগ্যময় উদয়)

আর আল্লাহর ওপরই [ভরসা ও] নির্ভরতা এবং তাঁরই প্রতি সবকিছুর অর্পণ ও আশ্রয়। আমি তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাচ্ছি; আর প্রার্থনা করছি যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও দানে একে সমাপ্ত ও পূর্ণ করার তৌফিক দান করেন। আমি এতে 'ইব্রাহিম' নাম দিয়ে শুরু করেছি, কারণ তিনি হলেন দয়ালু পিতা এবং নবী খলীল ও মহান রাসূলের নাম। এছাড়া এর মাধ্যমে শুরু করা ব্যাকরণগত বিন্যাস এবং প্রচলিত ও অনুসৃত নিয়মেরও অনুকূল। আর আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি; সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।

--------------------------------------------

(১) 'স', 'অ' এবং 'জ' পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে; অন্যান্য মূলে রয়েছে: 'তাতে কোনো মূল'।

(২) 'দ' এবং 'ব' পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে; 'অ' এবং 'জ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'জ্ঞান ও সাহিত্য'।

(৩) 'অ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'কিন্তু আমি পরিধান করাই'।

(৪) আমাদের 'স' এবং 'জ' পাণ্ডুলিপিতে বইয়ের শিরোনাম এভাবেই এসেছে। 'অ' পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: 'আল-জামি লি-আসমা নুজাবায়িস সাঈদ'। 'ব' পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: 'আত-ত্বালিউস সাঈদ লি-আসমা নুজাবায়িস সাঈদ'। আর কেবল 'দ' পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: 'আল-জামি আসমাল ফুদলা ওয়ার রুওয়াত বি-আ'লাস সাঈদ'।

(৫) 'অ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'এবং তাঁর নিকটই প্রার্থনা করি যেন তিনি দান করেন'।

(৬) 'স' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'এবং তাঁর সমাপ্তকরণ'।
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٧)
ولنبتدئ(1) قبل الشروع فى التراجم بمقدّمة تلوح منها المعالم، تشتمل على مسافة هذا الإقليم المترجم/ أهله وذكر محاسنه، ويندرج فيها ما وجد به مما يعاب به ومضى، واضمحلّ وانقضى؛ فإنّ ذهابه أو قلّته تندرج فى المحاسن(2) المعدوده، والأمور المقصودة.

وأمّا مسافته فى الطّول: فمسيرة اثنى عشر يوما بسير الجمال السير المعتاد، وأمّا عرضه(3): فثلاث ساعات وأكثر وأقلّ بحسب الأماكن، أعنى العامر منها، ويتصل عرضه فى الكورة(4) الشرقية بالبحر الملح(5) وبأراضى البجاة(6) وفى الغربيّة بالواح(7).

وهو(8) كورتان: شرقيّة وغربيّة، والنّيل فاصل بينهما. فأوّل الشرقيّة من

--------------------------------------------

(1) فى ا و ج: «فنبتدئ».

(2) فى د: «يندرج فيها المحاسن المعدودة».

(3) فى نسختى ا و ج خطأ: «فأما مسافته فى الطول فثلاث ساعات».

(4) الكورة- بضم الكاف-: المدبنة والصقع، انظر: الصحاح/ 810، واللسان 5/ 156، والقاموس/ 2/ 130.

(5) هو البحر الأحمر، وكان جغرافيو العرب يسمونه أيضا بحر القلزم.

(6) البجاة أو البجة: قبائل حامية كانت تضرب فى الصحارى المحيطة بالديار المصرية، كما كانت تعيش أيضا فى بلاد النوبة والحبشة وعلى سواحل البحر الأحمر، انظر فيما يتعلق بها ما كتبه اليعقوبى فى البلدان/ 336، وابن الفقيه فى «مختصر البلدان» / 78، والإصطخرى فى «مسالك الممالك» / 35، وابن حوقل فى «صورة الأرض» 1/ 50، وابن جبير فى «الرحلة» / 70، والقلقشندى فى «صبح الأعشى» 5/ 273، والمقريزى فى «الخطط» 1/ 194، وعلى مبارك فى «الخطط الجديدة» 9/ 8، وانظر أيضا ما كتبه «بيكر Becker «فى دائرة المعارف الإسلامية 3/ 361.

(7) انظر فيما يتعلق بالواحات اليعقوبى فى «البلدان» / 332، وابن حوقل فى كتابه «صورة الأرض» 1/ 153، ثم انظر أيضا ما كتبه بعد ذلك شيخ الربوة فى «نخبة الدهر» / 232، وأبو الفداء فى تقويم البلدان/ 105، والقلقشندى فى «صبح الأعشى» 3/ 389، والمقريزى فى «الخطط» 1/ 234، وابن دقماق فى «الانتصار» 5/ 11، وانظر كذلك: التذكرة التيمورية/ 439.

(8) فى نسختى ا و ج: «وهى كورتان».
জীবনীসমূহ বর্ণনা শুরু করার পূর্বে(১) আমরা এমন একটি ভূমিকা দিয়ে আরম্ভ করছি যা থেকে এর বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট হবে। এতে এই অঞ্চলের আয়তন ও সীমানা অন্তর্ভুক্ত থাকবে যেখানকার অধিবাসীদের জীবনী আলোচিত হবে, এবং এর উত্তম গুণাবলি উল্লিখিত হবে। আর এতে ঐ সমস্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হবে যা একদা নিন্দনীয় হিসেবে বিদ্যমান ছিল কিন্তু এখন তা অতীত হয়ে গেছে, বিলুপ্ত ও নিঃশেষ হয়েছে; কেননা সেগুলোর বিলুপ্তি বা স্বল্পতা গণ্য করার মতো কল্যাণকর বিষয়(২) ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আর এর দৈর্ঘ্যের দূরত্ব হলো: উটের স্বাভাবিক গতিতে বারো দিনের পথ। আর এর প্রস্থের দূরত্ব হলো(৩): স্থানভেদে তিন ঘণ্টা বা তার কম-বেশি, অর্থাৎ এর আবাদকৃত অংশগুলোর ক্ষেত্রে। এর প্রস্থ পূর্ব দিকের প্রশাসনিক অঞ্চলে(৪) লোহিত সাগরের(৫) সাথে ও বেজা গোত্রের(৬) ভূমির সাথে এবং পশ্চিম দিকে মরূদ্যানসমূহের(৭) সাথে মিলিত হয়েছে।

এটি(৮) মূলত দুটি প্রশাসনিক অঞ্চল: পূর্ব ও পশ্চিম, আর নীল নদ উভয়ের মাঝে বিভাজক হিসেবে রয়েছে। পূর্ব অঞ্চলের শুরু হলো...

--------------------------------------------

(১) 'আ' এবং 'জী' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আমরা শুরু করছি"।

(২) 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এতে গণ্য করার মতো কল্যাণকর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হবে"।

(৩) 'আ' এবং 'জী' পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপিতে ভুলবশত রয়েছে: "দৈর্ঘ্যের দূরত্ব তিন ঘণ্টা"।

(৪) আল-কুরাহ - কাফ বর্ণে পেশসহ - এর অর্থ হলো শহর ও অঞ্চল। দেখুন: আস-সিহাহ/ ৮১০, আল-লিসান ৫/ ১৫৬, আল-কামুস ২/ ১৩০।

(৫) এটি হলো লোহিত সাগর, আর আরব ভূগোলবিদগণ একে 'বাহরুল কুলজুম' নামেও অভিহিত করতেন।

(৬) আল-বেজাহ বা আল-বেজাহ: এটি একটি হামি গোত্র যারা মিশরীয় অঞ্চলের চারপাশের মরুভূমিতে বিচরণ করত। তারা নূবা ও হাবশা (আবিসিনিয়া) দেশে এবং লোহিত সাগরের উপকূলেও বসবাস করত। এ সম্পর্কিত তথ্যের জন্য দেখুন: আল-ইয়াকুবী প্রণীত 'আল-বুলদান'/ ৩৩৬, ইবনুল ফাকিহ প্রণীত 'মুখতাসার আল-বুলদান'/ ৭৮, আল-ইসতাখরি প্রণীত 'মাসালিক আল-মামালিক'/ ৩৫, ইবনে হাওকাল প্রণীত 'সুরাত আল-আরদ' ১/ ৫০, ইবনে জুবায়ের প্রণীত 'আর-রিহলা'/ ৭০, আল-কালকাশান্দি প্রণীত 'সুবহুল আশা' ৫/ ২৭৩, আল-মাকরিজি প্রণীত 'আল-খিতাত' ১/ ১৯৪, আলী মুবারক প্রণীত 'আল-খিতাত আল-জাদিদাহ' ৯/ ৮। এছাড়া 'বেকার' ইসলামি বিশ্বকোষে যা লিখেছেন তাও দেখুন ৩/ ৩৬১।

(৭) মরূদ্যানসমূহ (ওয়াহাত) সম্পর্কে দেখুন: আল-ইয়াকুবী প্রণীত 'আল-বুলদান'/ ৩৩২, ইবনে হাওকাল প্রণীত 'সুরাত আল-আরদ' ১/ ১৫৩। অতঃপর আরও দেখুন যা পরবর্তীকালে শাইখুর রাবওয়াহ 'নুখবাত আদ-দাহর'/ ২৩২-এ লিখেছেন, আবুল ফিদা প্রণীত 'তাকবিম আল-বুলদান'/ ১০৫, আল-কালকাশান্দি প্রণীত 'সুবহুল আশা' ৩/ ৩৮৯, আল-মাকরিজি প্রণীত 'আল-খিতাত' ১/ ২৩৪, ইবনে দুকমাক প্রণীত 'আল-ইনতিসার' ৫/ ১১। আরও দেখুন: 'আত-তাযকিরাহ আত-তাইমুরিয়্যাহ'/ ৪৩৯।

(৮) 'আ' এবং 'জী' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তা হলো দুটি প্রশাসনিক অঞ্চল (স্ত্রীলিঙ্গ সর্বনামসহ)"।
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٨)
بحرى أرض «أفيو»(1) وهى مرج بنى هميم(2) المتّصلة أرضها بأراضى جرجا من عمل إخميم، وآخرها من قبلى «أبهر» - بضمّ الهمزة وسكون الباء الموحّدة وضمّ الهاء وبراء- وتشترك فى النسبة مع «أبهر»(3)، بفتح الهمزة والهاء، وتلى هذه

--------------------------------------------

(1) فى ا: «أقيو» بالقاف، وفى ج: «أقيود»، وفى التيمورية د: «أفنو» بالفاء والنون.

(2) يقول العلامة ياقوت:

«مرج بنى هميم بالصعيد من مصر شرقى النيل، يسكنه قبيلة من العرب أظنها من بلى»، انظر: معجم البلدان 5/ 101. و «بلى» قبيلة من القحطانية منسوبة إلى بلى بن عمرو بن الحارث- أو الحافى- بن قضاعة، كانت مواطنها شمالى جهينة إلى عقبة أيلة، على العدوة الشرقية للبحر الأحمر، وأجاز منهم أمم إلى العدوة الغربية. وانتشروا ما بين صعيد مصر وبلاد الحبشة، انظر: معجم قبائل العرب/ 104.

وقد ذكر العلامة شرف الدين بن الجيعان مرج بنى هميم انظر: التحفة السنية/ 195، وانظر أيضا: الانتصار لابن دقماق 5/ 33.

ويقول العلامة المحقق المغفور له محمد رمزى:

«ورد فى معجم البلدان أن هذا المرج شرقى النيل بصعيد مصر، وفى الطالع السعيد للأدفوى أن أرض أفيو، وهى مرج بنى هميم، تقع شرقى النيل» بين جبل طوخ من الشمال وقرية الخيام فى الجنوب، وورد فى كتاب أبى صالح الأرمنى باسم أرض أقنو، ويسمى المراح، وبالبحث تبين لى أن موقع هذا المرج، المنطقة التى تشمل بلاد أولاد يحيى بحرى بمركز جرجا، وأولاد يحيى قبلى، ومراته شرق، وأولاد سالم والكشح والنفاميش وأولاد خلف والخيام، من نواحى مركز البلينا، وكلها شرقى النيل بمديرية جرجا»، انظر: القاموس الجغرافى 1/ 409، وانظر أيضا: النجوم الزاهرة 8/ 93 ح 5.

(3) أبهر- بفتح أوله وإسكان ثانيه ثم هاء مفتوحة- اسم جبل بالحجاز؛ قال القتال الكلابى:

فإنا بنو أمين أختين حلتا … بيوتهما فى نجوة فوق أبهرا

وهى أيضا اسم لبلدتين، إحداهما مدينة مشهورة بين قزوين وزنجان وهمدان من نواحى الجبل؛ والعجم يسمونها «أوهر». والثانية قرية من قرى أصبهان؛ خرج منها كما يقول السمعانى جماعة من المحدثين؛ انظر مختصر البلدان لابن الفقيه/ 281، ومعجم ما استعجم للبكرى 1/ 102، والأنساب المتفقة لابن القيسرانى/ 5، والأنساب للسمعانى ورقة 18/ و، ومعجم البلدان لياقوت 1/ 82، والمشترك وضعا/ 11، واللباب لابن الأثير 1/ 20، والقاموس 1/ 378، وتاج العروس 3/ 65، وانظر أيضا ما كتبه «بروكلمان Brockelmann «فى دائرة المعارف الإسلامية 1/ 305، وعلى بهجت فى قاموس الأمكنة/ 9، و «لسترنج Le Strange «فى بلدان الخلافة الشرقية/ 256.

هذا ولم يرد ذكر لأبهر المصرية بضم الهمزة وسكون الباء وضم الهاء، التى يتحدث عنها الأدفوى.
'আফিউ'(১) ভূমির উত্তরাঞ্চল যা ইখমিম শাসনের অন্তর্গত গিরজার ভূমির সাথে সংযুক্ত 'মারজ বনি হামিম'(২) নামে পরিচিত। এর দক্ষিণ প্রান্ত হলো 'আবহার' —যা হামজার পেশ, বা-এর সুকুন এবং হা-এর পেশ ও র দিয়ে গঠিত— এবং এটি হামজা ও হা-এর জবর বিশিষ্ট 'আবহার'(৩) এর সাথে নামকরণে সাদৃশ্যপূর্ণ। এর পরেই রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) 'আ' পাণ্ডুলিপিতে 'আকিউ' (কাফ দিয়ে), 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে 'আকিউদ' এবং তায়মুরিয়ার 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে 'আফনু' (ফা ও নুন দিয়ে) রয়েছে।

(২) আল্লামা ইয়াকুত বলেন:

"উচ্চ মিশরের (সা’য়িদ) নীল নদের পূর্ব তীরে মারজ বনি হামিম অবস্থিত, যেখানে আরবদের একটি গোত্র বসবাস করে, আমার ধারণা তারা বালি গোত্রের।" দেখুন: মু’জামুল বুলদান ৫/১০১। আর 'বালি' হলো কাহলানীয় একটি গোত্র যা বালি বিন আমর বিন হারিস —বা হাফি— বিন কুদা’আ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তাদের আদি বাসস্থান ছিল জুহাইনার উত্তর থেকে আয়লা উপত্যকা পর্যন্ত, লোহিত সাগরের পূর্ব উপকূলে। তাদের বড় একটি দল পশ্চিম উপকূলে পাড়ি জমিয়েছিল এবং তারা উচ্চ মিশর ও আবিসিনিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। দেখুন: মু’জামু কাবাইলিল আরব/ ১০৪।

আল্লামা শরাফ উদ্দিন ইবনুল জিআন মারজ বনি হামিম সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, দেখুন: আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ/ ১৯৫ এবং আরও দেখুন: ইবনে দুকমাকের আল-ইতিসার ৫/ ৩৩।

গবেষক আল্লামা মরহুম মুহাম্মদ রামজি বলেন:

"মু’জামুল বুলদান-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই চারণভূমি (মারজ) উচ্চ মিশরের নীল নদের পূর্ব তীরে অবস্থিত। আল-আদফুউয়ির 'আত-তালিউস সাঈদ'-এ উল্লেখ আছে যে, আফিউ ভূমি —যা মূলত মারজ বনি হামিম— নীল নদের পূর্ব তীরে উত্তরে তুখ পাহাড় এবং দক্ষিণে আল-খায়্যাম গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আবু সালিহ আল-আরমানির কিতাবে এটি 'আকনূ' ভূমি নামে এসেছে এবং একে আল-মারাহও বলা হয়। গবেষণায় আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই মারজ বা চারণভূমির অবস্থান বর্তমানে গিরজা কেন্দ্রের আওতাধীন আওলাদ ইয়াহইয়া বাহরি, আওলাদ ইয়াহইয়া কিবালি, মেরাতু শারক, এবং বালিয়া কেন্দ্রের আওতাধীন আওলাদ সালিম, আল-কাশহ, আন-নাফামিশ, আওলাদ খালাফ ও আল-খায়্যাম এলাকাগুলো নিয়ে গঠিত। এর সবগুলোই গিরজা মুদিরিয়্যার (প্রশাসনিক এলাকা) অধীনে নীল নদের পূর্ব তীরে অবস্থিত।" দেখুন: আল-কামুসুল জুগরাফি ১/ ৪০৯ এবং আরও দেখুন: আন-নুজুমুজ জাহিরা ৮/ ৯৩, টীকা ৫।

(৩) আবহার —প্রথম বর্ণে জবর, দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন এবং তৃতীয় বর্ণে (হা) জবর বিশিষ্ট— হিজাজের একটি পাহাড়ের নাম; কাত্তাল আল-কিলাবি বলেন:

"আমরা দুই সহোদরা মায়ের সন্তান যারা অবতরণ করেছিল... তাদের গৃহসমূহ ছিল আবহারের উঁচুতে একটি টিলার ওপর।"

এটি দুটি শহরেরও নাম; এর একটি জাবাল অঞ্চলের কাজভিন, জানজান ও হামাদানের মধ্যবর্তী একটি প্রসিদ্ধ শহর; পারস্যবাসীরা একে 'আওহার' বলে থাকে। দ্বিতীয়টি ইসফাহানের একটি গ্রাম; সামআনি যেমনটি বলেন যে, সেখান থেকে একদল মুহাদ্দিসের আগমন ঘটেছে। দেখুন: ইবনুল ফাকিহ-এর মুখতাসারুল বুলদান/ ২৮১, বকরির মু’জামু মাসতুজাম ১/ ১০২, ইবনুল কায়সারানির আল-আনসাবুল মুত্তাফিকাহ/ ৫, সামআনির আল-আনসাব পৃষ্ঠা ১৮/ ও, ইয়াকুতের মু’জামুল বুলদান ১/ ৮২, মুসতারাক ওয়াদআ/ ১১, ইবনুল আসিরের আল-লুবাব ১/ ২০, আল-কামুস ১/ ৩৭৮, তাজুল আরুস ৩/ ৬৫। আরও দেখুন: ব্রোকলম্যান (Brockelmann) ইসলামি বিশ্বকোষ ১/ ৩০৫-এ যা লিখেছেন, এবং আল-বাহজাতের কামুসুল আমকিনাহ/ ৯ ও লে স্ট্রেঞ্জ (Le Strange)-এর বিলদানুল খিলাফাতুশ শারকিয়্যাহ/ ২৫৬।

উল্লেখ্য যে, মিশরের সেই 'আবহার' (হামজার পেশ, বা-এর সুকুন এবং হা-এর পেশ বিশিষ্ট) যা নিয়ে আল-আদফুউয়ি আলোচনা করছেন, তার কোনো উল্লেখ এসব কিতাবে পাওয়া যায়নি।
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ٩)
القرية قرية تسمّى «جنوبة» أوّل أراضى النّوبة(1)، ولسلطان مصر على هذه القرية مقرر(2) يؤخذ منها.

وتفصيل مدن هذه الكورة وقراها المعتبرة، وأوّلها «المرج»، وتليها «الخيام»، ويليها «البمبمير(3)»، ويليها «القوسة»(4)، ويليها «قصر بنى شادى»(5)، ويليها «فاوبعس»(6) - بالفاء- تشترك مع «قاو» بالقاف من بلاد إخميم، وببلاد إخميم

--------------------------------------------

(1) يقول ياقوت:

«بلاد واسعة عريضة فى جنوبى مصر- أول بلادهم بعد أسوان … » الخ، انظر: المعجم 5/ 309، وفيما يتعلق بالنوبة انظر أيضا اليعقوبى/ 335، وابن الفقيه/ 76، ومروج الذهب 1/ 168، وصورة الأرض 1/ 56، وصبح الأعشى 5/ 275، وخطط المقريزى 1/ 190.

(2) فى نسختى ا و ج: «مفرد».

(3) كذا فى س والتيمورية، وفى بقية الأصول: «البمبمير».

ويقول ياقوت:

«بنبميرة- بفتح الباء الثانية وكسر الميم وياء ساكنة وراء وهاء- قرية بالصعيد على شاطئ غربى النيل د: انظر: معجم البلدان 1/ 498.

ويقول الأستاذ رمزى:

«البمبمير: وردت فى معجم البلدان بأنها قرية فى الصعيد، وذكرت فى الطالع السعيد باسم البمبمير، بين الخيام وقصر بنى شادى، ووردت فى تاريخ محمد على باسم الأمبير، وهى اليوم نجع الأمبير، من توابع ناحية البلابيش بحرى بمركز البلينا»، انظر القاموس الجغرافى 1/ 33.

(4) يقول الأستاذ رمزى:

«القوسة»: وردت فى الطالع السعيد بأنها على شاطئ النيل الشرقى بين قريتى الخيام والقصر، وبالبحث عن هذه القرية بين ناحية الخيام التى بمركز البلينا بمديرية جرجا، وبين ناحية القصر والصياد التى بمركز نجع حمادى بمديرية قنا، تبين لى أن القوسة لا تزال موجودة إلى اليوم، وتعرف بنجع القوصة من توابع ناحية البلابيش قبلى، بمركز البلينا بمديرية جرجا. وهو من النجوع الكبيرة العامرة بالسكان» انظر: القاموس الجغرافى 1/ 101، وانظر أيضا: قاموس بوانه/ 593.

(5) هو قصر بنى كليب، ذكره ابن مماتى فى قوانين الدواوين/ 171، باسم قصر كليب، وذكره ابن الجيعان، انظر: التحفة السنية/ 194، وانظر أيضا: الانتصار لابن دقماق 5/ 32.

(6) كذا بالسين المهملة فى جميع نسخ الطالع، وهى كذلك أيضا عند ابن دقماق فى الانتصار 5/ 32، أما ابن الجيعان فيكتبها بالشين المعجمة «فاوبعش»؛ انظر التحفة/ 194، ويكتبها على مبارك «فاويعيش» وهو تحريف؛ انظر: الخطط الجديدة 14/ 68.
গ্রামটি 'জানুবা' নামে পরিচিত একটি গ্রাম, যা নুবিয়া ভূমির প্রারম্ভে অবস্থিত(১)। মিশরের সুলতানের পক্ষ থেকে এই গ্রামের ওপর নির্দিষ্ট কর(২) ধার্য রয়েছে যা সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয়।

এই প্রদেশের শহরসমূহ এবং এর উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর বিস্তারিত বিবরণ হলো: এর প্রথমটি 'আল-মারজ', এরপর 'আল-খিয়াম', এরপর 'আল-বামবামির(৩)', এরপর 'আল-কাওসাহ'(৪)', এরপর 'কাসর বনি শাদি'(৫) এবং এরপর 'ফাওবায়াস'(৬)—এটি 'ফা' বর্ণ দিয়ে—যা ইখমিম অঞ্চলের 'কাও' (ক্বাফ বর্ণ দিয়ে)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, এবং ইখমিম অঞ্চলে অবস্থিত...

--------------------------------------------

(১) ইয়াকুত বলেন:

«এটি মিশরের দক্ষিণে অবস্থিত এক বিশাল প্রশস্ত ভূখণ্ড—আসোয়ানের পর থেকে তাদের প্রথম জনপদ...» ইত্যাদি। দেখুন: আল-মু'জাম ৫/৩০৯; নুবিয়া সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আরও দেখুন: আল-ইয়াকুবি/৩৩৫, ইবনুল ফকিহ/৭৬, মুরুজুজ জাহাব ১/১৬৮, সুরাতুল আরদ ১/৫৬, সুব্হুল আশা ৫/২৭৫, খিতাতুল মাকরিজি ১/১৯০।

(২) 'আলিফ' ও 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «মুফরাদ (পৃথক)»।

(৩) 'সিন' এবং তায়মুরিয়া পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে, অন্য সব মূল কপিতে রয়েছে: «আল-বামবামির»।

ইয়াকুত বলেন:

«বামবামিরাহ—দ্বিতীয় 'বা' বর্ণে ফাতহা (যবর), 'মিম' বর্ণে কাসরা (জের), সুকুনযুক্ত 'ইয়া', 'রা' এবং 'হা' যোগে—এটি উচ্চ মিশরের (সা'ঈদ) নীল নদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত একটি গ্রাম। দেখুন: মু'জামুল বুলদান ১/৪৯৮।

অধ্যাপক রামজি বলেন:

«আল-বামবামির: মু'জামুল বুলদানে এটিকে উচ্চ মিশরের একটি গ্রাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আত-তালি' আস-সা'ইদ গ্রন্থে এটি আল-বামবামির নামে খিয়াম এবং কাসর বনি শাদির মধ্যবর্তী স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। মুহাম্মদ আলীর ইতিহাসে এটি আল-আমবির নামে এসেছে, যা বর্তমানে বালিয়া না কেন্দ্রের বালাবিশ বাহরি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নাগাউ আল-আমবির হিসেবে পরিচিত।» দেখুন: আল-কামুস আল-জুগরাফি ১/৩৩।

(৪) অধ্যাপক রামজি বলেন:

«আল-কাওসাহ»: আত-তালি' আস-সা'ইদ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি নীল নদের পূর্ব তীরে খিয়াম ও আল-কাসর গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। গিরজা প্রদেশের বালিয়া না কেন্দ্রের খিয়াম অঞ্চল এবং কেনা প্রদেশের নাগাউ হাম্মাদি কেন্দ্রের আল-কাসর ও আস-সাইয়াদ অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে এই গ্রামটি সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আল-কাওসাহ গ্রামটি আজও বিদ্যমান। এটি গিরজা প্রদেশের বালিয়া না কেন্দ্রের বালাবিশ কিবলি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নাগাউ আল-কাওসাহ নামে পরিচিত। এটি একটি জনবহুল বড় জনপদ। দেখুন: আল-কামুস আল-জুগরাফি ১/১০১ এবং আরও দেখুন: কামুস বুওয়ানেহ/৫৯৩।

(৫) এটি হলো কাসর বনি কুলাইব। ইবনে মাম্মাতি 'কাওয়ানিন আদ-দাউয়াইন/১৭১' গ্রন্থে এটিকে কাসর কুলাইব নামে উল্লেখ করেছেন। ইবনুল জি'আনও এটি উল্লেখ করেছেন, দেখুন: আত-তুহফাহ আস-সানিয়্যাহ/১৯৪। আরও দেখুন: ইবনে দুকমাক রচিত আল-ইন্তিসার ৫/৩২।

(৬) আত-তালি' গ্রন্থের সকল পাণ্ডুলিপিতে এটি বিন্দুহীন 'সিন' (সীন মুহমালাহ) দিয়ে এভাবেই রয়েছে। ইবনে দুকমাকের আল-ইন্তিসার (৫/৩২) গ্রন্থেও এটি অনুরূপ। তবে ইবনুল জি'আন এটিকে বিন্দুযুক্ত 'শিন' (শীন মু'জামাহ) দিয়ে «ফাওবায়াশ» লিখেছেন; দেখুন: আত-তুহফাহ/১৯৪। আলী মুবারক এটিকে «ফাওয়াইয়িশ» লিখেছেন যা মূলত একটি বিকৃতি; দেখুন: আল-খিতাত আল-জাদিদাহ ১৪/৬৮।
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١٠)
أيضا «فاو»(1) بالفاء؛ ويلى «فاو»: «دشنا»(2) ويليها «بيج»(3) - بالموحّدة

--------------------------------------------

(1) ذكرها ابن مماتى فى الأعمال الإخميمية؛ انظر: القوانين/ 167، كما ذكر «قاو» بالقاف من الأعمال القوصية؛ انظر: القوانين/ 171.

ويقول ياقوت:

«فاو- بسكون الألف والواو صحيحة معربة كلمة قبطية- قرية بالصعيد شرقى النيل فى البر، تعرف بابن شاكر، أمير من أمراء العرب، وفيها دير أبى بخوم، وبالصعيد أخرى يقال لها قاو» انظر: المعجم 4/ 234.

وقد ذكر ياقوت «قاو» بالقاف أيضا وقال إنها قرية بالصعيد على شاطئ النيل الشرقى تحت إخميم انظر: المعجم 4/ 301، وانظر أيضا: التحفة السنية/ 187 و 190، والانتصار 5/ 25، والخطط الجديدة 14/ 68 و 94.

ويقول الأستاذ رمزى:

«قاو الكبرى: ورد فى معجم البلدان أنها قرية بالصعيد شرقى النيل تحت إخميم، وفى التحفة باسم قاو الخراب من أعمال الأسيوطية، واسمها القديم توكو، وبالرومية أنطيوبوليس، وقاو: كلمة قبطية معناها الجبل، وتعرف آثارها بكوم قاو الخراب، وفى سنة 1231 هـ قاو الكبرى، ومن سنة 1282 هـ سميت العتمانية، وهى إحدى نواحى مركز البدارى بمديرية أسيوط»؛ انظر: القاموس الجغرافى 1/ 345، 4/ 169، وقاموس بوانه/ 484، ورحلة مجدى/ 106.

(2) ذكرها الرحالة ابن جبير وقال إنها مدينة مسورة بالشاطئ الشرقى من النيل، وفيها جميع مرافق المدن؛ انظر: الرحلة/ 64 - كما ذكرها ابن مماتى فى الأعمال القوصية؛ انظر: القوانين/ 141 - وضبطها ياقوت بكسر الدال وسكون الشين مع القصر؛ وقال إن معناها بلغة القبط المبقلة؛ انظر: المعجم 2/ 456، وانظر أيضا تقويم البلدان/ 104، والتحفة السنية/ 193، والانتصار 5/ 31.

وقد ضبطها على مبارك يفتح الدال مخالفا بذلك ياقوت؛ انظر: الخطط الجديدة 11/ 14، وانظر كذلك: القاموس الجغرافى 4/ 168، وقاموس بوانه/ 283، ورحلة مجدى/ 116.

(3) ذكرها ابن مماتى فى الأعمال القوصية باسم «يبيج بطانة»؛ انظر: القوانين/ 121.

ويقول ياقوت:

«بيج- بكسر أوله وسكون ثانيه وجيم- بليد على ساحل النيل فى شرقيه، أنشأ فيه الأمير يزكوج الناصرى فى أيام الناصر صلاح الدين يوسف بن أيوب معاصر للسكر، وكان يرتفع له منها ارتفاع وافر»؛ انظر: معجم البلدان 1/ 523، بينما يذكرها بباءين فى المشترك فيقول: ببيج بباء موحدة مفتوحة وثانيه باء أيضا مكسورة وياء ساكنة وجيم؛ انظر: المشترك وضعا/ 36.

وقد ذكرها ابن الجيعان وابن دقماق باسم «ببيج القهرمان» من الأعمال القوصية، انظر: التحفة/ 192، والانتصار 5/ 31.-
আরও 'ফাউ'(১) 'ফা' বর্ণ দিয়ে; এবং 'ফাউ'-এর পরে রয়েছে: 'দিশনা'(২) এবং এর পরে 'বিজ'(৩) - এক নুকতাওয়ালা 'বা' বর্ণ দিয়ে।

--------------------------------------------

(১) ইবন মামাতি এটি ইখমিমিয়া অঞ্চলের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন; দেখুন: আল-কাওয়ানিন/ ১৬৭, যেমনটি তিনি 'ক্বাফ' বর্ণ দিয়ে 'ক্বাউ'কে ক্বুসিয়্যাহ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন; দেখুন: আল-কাওয়ানিন/ ১৭১।

ইয়াকুত বলেন:

«ফাউ—আলিফ এবং ওয়াউ-এর সাকিনসহ আরবিকৃত একটি সহীহ কিবতি শব্দ—এটি উচ্চ মিশরের নীল নদের পূর্ব তীরের একটি গ্রাম, যা আরবদের অন্যতম আমীর ইবন শাকিরের নামে পরিচিত, এবং এতে দাইর আবি বুখুম অবস্থিত। উচ্চ মিশরে 'ক্বাউ' নামে অন্য একটি গ্রামও রয়েছে» দেখুন: আল-মু'জাম ৪/ ২৩৪।

ইয়াকুত 'ক্বাউ' শব্দটিকে 'ক্বাফ' বর্ণ দিয়েও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি উচ্চ মিশরের নীল নদের পূর্ব তীরে আখমিমের নিচে অবস্থিত একটি গ্রাম; দেখুন: আল-মু'জাম ৪/ ৩০১, আরও দেখুন: আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ/ ১৮৭ ও ১৯০, আল-ইতিসার ৫/ ২৫ এবং আল-খিতাত আল-জাদিদাহ ১৪/ ৬৮ ও ৯৪।

অধ্যাপক রামজি বলেন:

«ক্বাউ আল-কুবরা: মু'জাম আল-বুলদান-এ বর্ণিত হয়েছে যে, এটি উচ্চ মিশরের নীল নদের পূর্ব তীরে আখমিমের নিচে অবস্থিত একটি গ্রাম। আত-তুহফাহ গ্রন্থে এটি আসইউতিয়্যাহ অঞ্চলের 'ক্বাউ আল-খারাব' নামে উল্লিখিত। এর প্রাচীন নাম 'তুকু', এবং রোমান ভাষায় 'অ্যান্টিওপোলিস'। ক্বাউ: একটি কিবতি শব্দ যার অর্থ পাহাড়, এবং এর ধ্বংসাবশেষ 'কুম ক্বাউ আল-খারাব' নামে পরিচিত। ১২৩১ হিজরিতে এটি 'ক্বাউ আল-কুবরা' নামে ছিল এবং ১২৮২ হিজরি থেকে একে 'আল-উসমানিয়্যাহ' নামকরণ করা হয়, যা আসইউত প্রদেশের বাদারি কেন্দ্রের অন্যতম একটি এলাকা»; দেখুন: আল-কামুস আল-জুগরাফি ১/ ৩৪৫, ৪/ ১৬৯, কামুস বুয়ানেহ/ ৪৮৪ এবং রিহলাতু মাজদি/ ১০৬।

(২) পর্যটক ইবন জুবাইর এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি নীল নদের পূর্ব তীরের একটি প্রাচীরবেষ্টিত শহর, যেখানে শহরের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান; দেখুন: আর-রিহলাহ/ ৬৪ - যেমনটি ইবন মামাতি ক্বুসিয়্যাহ অঞ্চলের বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন; দেখুন: আল-কাওয়ানিন/ ১৪১ - ইয়াকুত এটি 'দাল' বর্ণে কাসরা এবং 'শীন' বর্ণে সাকিনসহ সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে উচ্চারণ করেছেন; এবং তিনি বলেছেন যে, কিবতি ভাষায় এর অর্থ শাক-সবজি উৎপন্ন হওয়ার স্থান; দেখুন: আল-মু'জাম ২/ ৪৫৬, আরও দেখুন: তাকউইম আল-বুলদান/ ১০৪, আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ/ ১৯৩ এবং আল-ইতিসার ৫/ ৩১।

আলী মুবারক ইয়াকুতের বিপরীতে 'দাল' বর্ণে ফাতহা দিয়ে এর উচ্চারণ নির্ধারণ করেছেন; দেখুন: আল-খিতাত আল-জাদিদাহ ১১/ ১৪, আরও দেখুন: আল-কামুস আল-জুগরাফি ৪/ ১৬৮, কামুস বুয়ানেহ/ ২৮৩ এবং রিহলাতু মাজদি/ ১১৬।

(৩) ইবন মামাতি এটি ক্বুসিয়য়াহ অঞ্চলের বর্ণনায় «ইয়াবিজ বিতানাহ» নামে উল্লেখ করেছেন; দেখুন: আল-কাওয়ানিন/ ১২১।

ইয়াকুত বলেন:

«বিজ—প্রথম বর্ণে কাসরা, দ্বিতীয় বর্ণে সাকিন এবং শেষে জীম—এটি নীল নদের পূর্ব তীরের একটি ছোট শহর। সুলতান নাসির সালাহুদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুবের সমসাময়িক আমীর ইয়াজকুজ আন-নাসিরি এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এখান থেকে প্রচুর রাজস্ব অর্জিত হতো»; দেখুন: মু'জাম আল-বুলদান ১/ ৫২৩, পক্ষান্তরে তিনি 'আল-মুশতারাক' গ্রন্থে একে দুটি 'বা' দিয়ে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: 'ববিজ' প্রথম 'বা' বর্ণে ফাতহা এবং দ্বিতীয় 'বা' বর্ণে কাসরাসহ ইয়া সাকিন ও জীম; দেখুন: আল-মুশতারাক ওয়াদআ/ ৩৬।

ইবনুল জিআন এবং ইবন দুক্বমাক্ব একে ক্বুসিয়্যাহ অঞ্চলের «ববিজ আল-কাহরামান» নামে উল্লেখ করেছেন, দেখুন: আত-তুহফাহ/ ১৯২ এবং আল-ইতিসার ৫/ ৩১।-
(খণ্ড: ১) আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ (পৃষ্ঠা: ١١)
والياء آخر الحروف والجيم- وهى من أوسع الإقليم أرضا؛ يقال: إن مساحة أرضها ثمانون ألف فدان، ويليها «قنا»(1) - وهى بقاف مكسورة ونون مخفّفة يليها

--------------------------------------------

- ويقول المغفور له الأستاذ رمزى:

«ببيج القهرمان: هى من القرى الفرعونية القديمة، اسمها الأصلى بيج، وردت فى معجم البلدان لياقوت»، ثم ينقل الأستاذ رمزى ما ذكره ياقوت ويقول:

«ثم ذكرها صاحب الطالع السعيد كذلك باسم بيج، بين دشنا وقنا، قال: وهو أوسع الأقاليم أرضا، ووردت فى قوانين ابن مماتى وفى تحفة الإرشاد باسم ببيج بطانة من القوصية، وفى تاج العروس محرفة باسم منيح بطانة من أعمال قوص، وفى التحفة باسم ببيج القهرمان من أعمال القوصية، وفى الجزء الأول من تاريخ مصر للجبرتى باسم بيج القرمون، وفى دفاتر الروزنامة لغاية سنة 1228 هـ باسم ببيج القهرمون، وبسبب خراب مساكن هذه القرية ألغيت وحدتها من عداد النواحى، وقسم زمامها فى سنة 1231 هـ على نواحى: السمطا وأبو دياب والعزب والطوابية، وبذلك اختفى اسم ببيج، وظهرت أسماء الأربع النواحى المذكورة.

«وبالبحث تبين لى أن سكن قرية ببيج المندرسة، مكانه اليوم كوم ببيج، الواقع فى القطعة رقم 3 بحوض أم دومة رقم 62، بأراضى ناحية السمطا بمركز دشنا بمديرية قنا، ويقع هذا الكوم شرقى نجع الشيخ رزق، وعلى بعد كيلومتر واحد منه، ولما خربت قرية ببيج، انتقل من كان باقيا بها من السكان إلى أراضى ناحية الطوابية، المجاورة لناحية السمطا، وأنشئوا لهم بالطوابية نجعا، يعرف إلى اليوم بنجع البجية، نسبة إلى ببيج المذكورة»؛ انظر القاموس الجغرافى 1/ 143.

(1) ذكرها الرحالة ابن جيير وقال إنها فى الشط الشرقى من النيل وأنها بيضاء أنيقة المنظر ذات مبان حفيلة؛ انظر: الرحلة/ 64، كما ذكرها ابن مماتى فى الأعمال القوصية؛ انظر: القوانين/ 171، وضبطها ياقوت بكسر القاف مع القصر، وقال إنها كلمة قبطية، وربما كتبها بعضهم إقنا، بالألف فى أولها مكسورة؛ انظر: المعجم 4/ 399، ويذكر العلامة شرف الدين ابن الجيعان أن عبرتها- خراجها- كانت خمسمائة وستة آلاف دينار للأشراف بالحجاز؛ انظر: التحفة/ 195.

ويقول ابن دقماق:

«هى بلدة كبيرة فى ضفة النيل الشرقية، خرج منها جماعة من العلماء والرؤساء، وأرباب مقامات وأحوال ومكاشفات، وجبانتها عليها بهجة ووضاءة؛ يقصدها الزوار من كل الأقطار، استفاض أنه رؤى النبى صلى الله عليه وسلم وقال: إنها تقدست بابنى عبد الرحيم؛ وهو سيدى عبد الرحيم القنائى الصالح الزاهد المشهور قطب الوقت … » الخ؛ انظر: الانتصار 5/ 33؛ وانظر أيضا: صبح الأعشى 3/ 379، والخطط الجديدة 14/ 121، والقاموس الجغرافى 4/ 178، وقاموس بوانه/ 591، ورحلة مجدى/ 120.

وقد حدث أن دهم المدينة سيل جارف فى شتاء عام 1955 م فأتى عليها؛ وكادت تزول هذه المدينة التاريخية القديمة من الوجود عينا وأثرا؛ لولا ذلك الجهد الهائل الذى بذله أولو الأمر؛ والذى كان من شأنه أن أعيد بناء المدينة من جديد على أحدث النظم الهندسية.
এবং ইয়া অক্ষরের শেষে জিম যুক্ত— এটি ভূমির দিক থেকে অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম প্রশস্ত; বলা হয়: এর ভূমির আয়তন আশি হাজার ফাদান, এবং এর পরেই অবস্থিত 'ক্বিনা'(১) — যা কাসরাহ যুক্ত ক্বাফ এবং তাশদীদহীন নুন সহযোগে উচ্চারিত এবং এর পরে

--------------------------------------------

- এবং মরহুম উস্তাদ রামজি বলেন:

«বাবীজ আল-কাহরামান: এটি প্রাচীন ফেরাউন আমলের গ্রামগুলোর অন্যতম, এর মূল নাম বাবীজ, ইয়াকুতের মুজামুল বুলদান গ্রন্থে এর উল্লেখ এসেছে», অতঃপর উস্তাদ রামজি ইয়াকুত যা উল্লেখ করেছেন তা উদ্ধৃত করেন এবং বলেন:

«অতঃপর আত-তালিউস সাঈদ গ্রন্থের লেখক একে একইভাবে বাবীজ নামে উল্লেখ করেছেন, যা দিশনা ও ক্বিনার মধ্যে অবস্থিত। তিনি বলেন: এটি ভূমির দিক থেকে অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে প্রশস্ত। এটি ইবনুন মাম্মাতির কাওয়ানীন গ্রন্থে এবং তুহফাতুল ইরশাদ গ্রন্থে আল-কুসিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত বাবীজ বিতানা নামে এসেছে। তাজুল আরুস গ্রন্থে এটি বিকৃত হয়ে কুস অঞ্চলের অন্তর্গত মানীহ বিতানা নামে এসেছে। তুহফাহ গ্রন্থে কুসিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত বাবীজ আল-কাহরামান নামে, আল-জাবারতির তারিখ-ই-মিসর গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে বাবীজ আল-কুরমুন নামে এবং ১২২৮ হিজরি পর্যন্ত রোজানামা (সরকারি নথিতে) বাবীজ আল-কাহরামান নামে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। এই গ্রামের বসতিগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে একে প্রশাসনিক এলাকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ১২৩১ হিজরিতে এর সীমানা আস-সামাতা, আবু দিয়াব, আল-আযাব ও আত-তাওয়াবিয়াহ অঞ্চলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বাবীজ নামটি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং উল্লিখিত চারটি অঞ্চলের নাম প্রকাশ পায়।

«গবেষণায় আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিলুপ্ত বাবীজ গ্রামের আবাসস্থলটি বর্তমানে কুম বাবীজ নামে পরিচিত, যা ক্বিনা প্রদেশের দিশনা কেন্দ্রের আস-সামাতা অঞ্চলের জমিতে অবস্থিত ৬২ নম্বর উম্মু দুমাহ জলাধারের ৩ নম্বর খণ্ডে অবস্থিত। এই ঢিবিটি (কুম) নাজউশ শায়খ রিজক-এর পূর্বে এবং সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যখন বাবীজ গ্রামটি ধ্বংস হয়ে যায়, তখন সেখানকার অবশিষ্ট অধিবাসীরা পার্শ্ববর্তী আত-তাওয়াবিয়াহ অঞ্চলে চলে যায় এবং সেখানে তারা একটি পাড়া (নাজউ) গড়ে তোলে, যা বাবীজ গ্রামের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে আজও নাজউল বাজিইয়াহ নামে পরিচিত»; দেখুন: আল-কামুসুল জুগরাফী ১/১৪৩।

(১) পর্যটক ইবনে জুবায়ের এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি নীল নদের পূর্ব তীরে অবস্থিত এবং এটি দেখতে সাদা ও মার্জিত, যা জমকালো অট্টালিকায় ঘেরা; দেখুন: আর-রিহলা/৬৪। একইভাবে ইবনুন মাম্মাতি একে আল-কুসিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন; দেখুন: আল-কাওয়ানীন/১৭১। ইয়াকুত ক্বাফ বর্ণে কাসরাহ (জের) সহ একে সীমাবদ্ধ উচ্চারণ (কাসর) দ্বারা শুদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি একটি কিবতি (কপটিক) শব্দ, সম্ভবত কেউ কেউ এর শুরুতে কাসরাহ সহ আলিফ যুক্ত করে ইক্বনা লিখেছেন; দেখুন: আল-মুজাম ৪/৩৯৯। প্রখ্যাত আলেম শরাফুদ্দীন ইবনুল জীয়ান উল্লেখ করেছেন যে, এর কর-রাজস্ব ছিল হিজাজের আশরাফদের (সৈয়দ বংশীয়) জন্য পাঁচ লক্ষ ছয় হাজার দিনার; দেখুন: আত-তুহফাহ/১৯৫।

এবং ইবনে দুকমাক বলেন:

«এটি নীল নদের পূর্ব তীরের একটি বড় শহর, এখান থেকে একদল আলেম, নেতা এবং মাকাম ও আহওয়াল এবং মুকাশাফাহ সম্পন্ন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গ আবির্ভূত হয়েছেন। এর কবরস্থানে শুভ্রতা ও জ্যোতি বিরাজমান; পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করেন। এটি লোকমুখে প্রসিদ্ধ যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখা গেছে এবং তিনি বলেছেন: এটি আমার দুই সন্তান আব্দুর রহীমের মাধ্যমে পবিত্র হয়েছে; তিনি হলেন আমার সায়্যিদ আব্দুর রহীম আল-ক্বিনায়ী, যিনি একজন সৎকর্মশীল, দুনিয়াবিমুখ, সুপ্রসিদ্ধ এবং সময়ের কুতুব … » ইত্যাদি; দেখুন: আল-ইনতিসার ৫/৩৩; আরও দেখুন: সুব্হুল আশা ৩/৩৭৯, আল-খিতাতুল জাদীদাহ ১৪/১২১, আল-কামুসুল জুগরাফী ৪/১৭৮, কামুস বুওয়ানাহ/৫৯১, রিহলাত মাজদী/১২০।

১৯৫৫ সালের শীতকালে শহরটিতে একটি বিধ্বংসী বন্যা হানা দেয় যা একে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল; এমনকি এই প্রাচীন ঐতিহাসিক শহরটির অস্তিত্ব ও চিহ্ন প্রায় মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল; যদি না শাসনকর্তাগণ সেই বিশাল প্রচেষ্টা চালাতেন, যার ফলে শহরটি আধুনিকতম প্রকৌশল পদ্ধতিতে পুনরায় নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে।