(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: -)
الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد
المؤلف: أبو الفضل كمال الدين جعفر بن ثعلب الإدفوي الشافعي (ت 748 هـ)
تحقيق: سعد محمد حسن
مراجعة: طه الحاجري
الناشر: الدار المصرية للتأليف والنشر
عام النشر: 1386 هـ - 1966 م
عدد الصفحات: 806
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 جُمادَى الآخرة 1444
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাঈদ বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
গ্রন্থ: আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাঈদ
লেখক: আবুল ফজল কামালুদ্দীন জাফর বিন সা'লাব আল-আদফুওয়ী আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)
সম্পাদনা: সাদ মুহাম্মদ হাসান
নিরীক্ষণ: ত্বহা আল-হাজিরি
প্রকাশক: আদ-দারুল মিসরিয়্যাহ লিত-তালিফ ওয়ান-নাশর
প্রকাশকাল: ১৩৮৬ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুমাদাল আখিরা ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٣)
الإهداءإلى أبناء صعيدنا
أقدم هذا السجلّ الحافل تمجيدا للآباء وحفزا للأبناء، وإيمانا من الأعماق بتراثنا المجيد، وتسطيرا قويما لتاريخنا الفكرى المشرق، وصلة لحاضرنا المتفتح كأزهار الأكمام، بماضينا الخالد على الأيام، نصطحبه كالرفيق، ونستلهم من الله العون على الطريق.
উৎসর্গআমাদের সাঈদের সন্তানদের প্রতি
আমি এই সমৃদ্ধ সংকলনটি পেশ করছি পূর্বপুরুষদের মহিমা প্রকাশ ও উত্তরসূরিদের অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে; আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতি হৃদয়ের গভীর বিশ্বাস থেকে, আমাদের উজ্জ্বল বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের এক বলিষ্ঠ উপস্থাপনা হিসেবে, এবং কুঁড়ি থেকে প্রস্ফুটিত ফুলের মতো আমাদের বর্তমানকে কালজয়ী অতীতের সাথে সংযুক্ত করতে, যাকে আমরা সহযাত্রী হিসেবে গ্রহণ করি এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة المحققبسم الله الرحمن الرحيم
اللهمّ منك نستلهم العون والتوفيق،
وبعد:
فالتاريخ الفكرى لأمتنا العربية زاخر بالذخائر، ولقد أسهم الآباء إسهاما عميقا مثمرا في كل ما يتصل بألوان المعرفة الإنسانية وضروبها، ومن ذلك تأريخهم للبلدان ومن نبغ فيها، فأنت لا تكاد تجد مدينة إسلامية إلا ولها تاريخ، فألفوا في ذلك وأكثروا، وجادوا فأجادوا، وتركوا لأبنائهم في هذا الصدد تراثا ضخما، يؤرخون فيه لمئات من المدن كبغداد والموصل ومكة والمدينة والقدس، ودمشق وحلب ومصر، والمغرب العربى والفردوس المفقود (الأندلس) وخراسان وبخارى وبيهق، وبلخ ونيسابور وجرجان، وأصفهان وشيراز وقزوين وصعيد مصر.
والكتاب الذى أقدمه اليوم عن «الصعيد» هو حلقة من هذه السلسلة المتصلة الحلقات من تاريخنا الفكرى.
والدارس لهذا الكتاب يعجب بحق لهذه النهضة العلمية التى كانت في صعيدنا، متمثلة في مدارسها في قوص وأسوان وأسنا وغيرها من بلدان الإقليم، وهى نهضة لا تقل بحال عما كان يدور في مصر أو فى القاهرة في تلك العصور.
وأكبر الظن أن هذا الصيت العلمى والأدبى لصعيد مصر، هو الذى دفع الشيخ أبا حيّان الغرناطىّ الإمام، لأن يطلب من تلميذه الكمال الأدفوىّ، أن يسجل هذه النهضة فى كتاب، فكان «الطالع السعيد».
সম্পাদকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছেই সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করি।
অতঃপর:
আমাদের আরব উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস অমূল্য রত্নভাণ্ডারে পরিপূর্ণ। আমাদের পূর্বসূরিগণ মানবীয় জ্ঞানের সকল শাখা ও প্রকারের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে অত্যন্ত গভীর ও ফলপ্রসূ অবদান রেখেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিভিন্ন দেশ ও জনপদ এবং সেখানে জন্ম নেওয়া কৃতি ব্যক্তিত্বদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা। আপনি এমন কোনো ইসলামি শহর পাবেন না যার কোনো ইতিহাস নেই। তাঁরা এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং অত্যন্ত নিপুণতার সাথে তা সম্পাদন করেছেন। তাঁরা তাঁদের উত্তরসূরিদের জন্য এই ক্ষেত্রে এক বিশাল ঐতিহ্য রেখে গেছেন, যেখানে তাঁরা বাগদাদ, মসুল, মক্কা, মদিনা, কুদস, দামেস্ক, আলেপ্পো, মিসর, মাগরিব আল-আরাবি, হারানো জান্নাত (আন্দালুস), খোরাসান, বুখারা, বাইহাক, বালখ, নিশাপুর, জুরজান, ইসফাহান, শিরাজ, কাজউইন এবং উচ্চ মিসর (আস-সাঈদ)-এর মতো শত শত শহরের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন।
‘আস-সা‘িদ’ (উচ্চ মিসর) সম্পর্কে আজ আমি যে বইটি উপস্থাপন করছি, তা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের এই অবিচ্ছিন্ন ধারারই একটি অংশ।
এই গ্রন্থের পাঠক আমাদের এই সা‘িদ অঞ্চলে যে জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ ঘটেছিল, তাতে সত্যিই বিস্মিত হবেন; যা কুস, আসওয়ান, এসনা এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য জনপদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিফলিত হয়েছিল। এটি এমন এক জাগরণ ছিল, যা কোনোক্রমেই সেই যুগে মিসর বা কায়রোতে চলমান জ্ঞানচর্চার চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না।
প্রবল ধারণা করা হয় যে, উচ্চ মিসরের এই তাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক খ্যাতিই ইমাম শায়খ আবু হাইয়ান আল-গারনাতিকে তাঁর ছাত্র কামাল আল-আদফুওয়িকে এই জাগরণকে একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করার অনুরোধ জানাতে উদ্বুদ্ধ করেছিল; যার ফলশ্রুতি হলো এই ‘আত-তালিউস সাঈদ’।
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٦)
ولما كان كتابنا في الواقع أثرا من آثار أبى حيّان، أحببت أن أقدم للقراء ترجمة موجزة لهذا الشيخ الإمام، الذى كان بحق مدرسة تخرّج فيها مؤلفنا وأعيان عصره والأعلام.
أبو حيّان الغرناطىّ:هو العلّامة محمد بن يوسف بن على بن يوسف بن حيّان أثير الدّين أبو حيّان الغرناطىّ الأندلسىّ الجيّانى النّفزىّ- بكسر النون المشددة وسكون الفاء- نسبة إلى «نفزة» وهى قبيلة بربرية ذكرها ابن حزم فى «الجمهرة»
(1)، وابن خلدون فى «التاريخ»
(2)، وصاحب «مفاخر البربر»
(3) الذى نشره «بروفنسال، Provencal «والسيوطى فى «البغية»
(4) وأكبر الظن أن هذا هو الذى حدا بهوتسما Houtsma إلى أن يقول فى «دائرة المعارف الإسلامية»
(5): «إنه من أصل بربرى».
ويقول أبو حيّان فيما نقله عنه ابن حجر فى «الدرر»
(6):
«نفزة قبيلة من البربر، والبربر- فيما يزعمون- من ولد بربر بن قيس بن عيلان بن مضر»، ولكن ابن حزم ينفى أن يكون البربر عربا».
ولد أبو حيّان فى إحدى قرى غرناطة عام 654 هـ، ودرس فى غرناطة فأخذ العربية عن أبى الحسن الآبذى، وأبى جعفر بن الطبّاع.
كما درس في مالقة على أبى عبد الله محمد بن عباس القرطبىّ، وفى بجاية على أبى عبد الله محمد بن صالح، وفى تونس على أبى محمد عبد الله بن هارون، وفى الإسكندرية على عبد النصير ابن علىّ بن يحيى المريوطىّ الحافظ، وبمصر على عبد العزيز الحرّانى وابن خطيب المزّة
--------------------------------------------
যেহেতু আমাদের এই বইটি বাস্তবে আবু হাইয়্যানের জ্ঞানতাত্ত্বিক নিদর্শনাদির অন্তর্ভুক্ত, তাই আমি পাঠকদের সামনে এই ইমাম ও শাইখের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরতে পছন্দ করছি, যিনি প্রকৃতপক্ষে এমন এক জ্ঞানালয় ছিলেন যেখান থেকে আমাদের লেখক এবং তাঁর যুগের বরেণ্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শিক্ষা লাভ করেছেন।
আবু হাইয়্যান আল-গারনাতি:তিনি হলেন আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আলী বিন ইউসুফ বিন হাইয়্যান আসিরুদ্দিন আবু হাইয়্যান আল-গারনাতি আল-আন্দালুসি আল-জাইয়ানি আন-নাফজি—তাশদিদযুক্ত 'নুন' বর্ণে কাসরা (জের) এবং 'ফা' বর্ণে সুকুনসহ—যা 'নাফজাহ' এর সাথে সম্পর্কিত। এটি একটি বার্বার গোত্র যার কথা ইবনে হাজম 'আল-জামহারা'
(১) গ্রন্থে, ইবনে খালদুন 'আত-তারিখ'
(২) গ্রন্থে এবং 'মাফাখিরুল বার্বার'
(৩) এর লেখক উল্লেখ করেছেন যা 'প্রোভেনসাল' (Provencal) প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সুয়ূতী 'আল-বুগইয়াহ'
(৪) গ্রন্থেও তা উল্লেখ করেছেন। প্রবল ধারণা এই যে, এই তথ্যই হাউটসমাহ-কে (Houtsma) 'ইসলামী বিশ্বকোষ' (দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ)
(৫) গ্রন্থে এ কথা বলতে প্ররোচিত করেছে যে: "তিনি বার্বার বংশোদ্ভূত ছিলেন।"
আবু হাইয়্যান সম্পর্কে ইবনে হাজার 'আদ-দুরার'
(৬) গ্রন্থে যা উদ্ধৃত করেছেন সেখানে তিনি বলেন:
“নাফজাহ হলো বার্বারদের একটি গোত্র, আর বার্বাররা—তাদের দাবি অনুযায়ী—বার্বার বিন কায়েস বিন আয়লান বিন মুদারের বংশধর”, কিন্তু ইবনে হাজম বার্বারদের আরব হওয়াকে অস্বীকার করেছেন।
আবু হাইয়্যান ৬৫৪ হিজরিতে গ্রানাডার একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং গ্রানাডায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি আবুল হাসান আল-আবাদি এবং আবু জাফর বিন আত-তাব্বা'-এর নিকট আরবি ভাষা আয়ত্ত করেন।
এছাড়া তিনি মালাগাতে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-কুরতুবির নিকট, বিজায়াতে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সালিহ-এর নিকট, তিউনিসিয়ায় আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন হারুনের নিকট, আলেকজান্দ্রিয়ায় হাফেজ আব্দুল নাসির ইবনে আলী বিন ইয়াহইয়া আল-মারইউতির নিকট এবং মিশরে আব্দুল আজিজ আল-হাররানি ও ইবনে খাতিব আল-মিযযাহ-এর নিকট শিক্ষা লাভ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٧)
وأبى الطاهر إسماعيل بن هبة الله المليجىّ، كما حضر دروس البهاء ابن النحاس فى النحو إلى عام 698 هـ، ولما توفى البهاء خلفه أبو حيّان.
ولقد بلغت عدة شيوخه فى الحديث فى الأندلس وإفريقية والإسكندرية والحجاز ومصر نحوا من أربعمائة وخمسين شيخا، منهم الحفّاظ الأعلام القطب القسطلانىّ، والعزّ الحرّانىّ وابن الأنماطىّ، والعلم العراقىّ.
وأجاز له خلق من المغرب والمشرق منهم: الشرف الدّمياطىّ، والتّقىّ ابن دقيق العيد، وأبو اليمن بن عساكر، والتقىّ بن رزين.
ولقد خرج أبو حيّان من الأندلس مفتتح سنة 679 هـ؛ يقول لسان الدّين ابن الخطيب
(1) إن أبا حيّان حملته حدّة الشبيبة على التعرض للأستاذ أبى جعفر الطبّاع، وقد وقعت بينه وبين أستاذه ابن الزّبير الوحشة، فنال منه وتصدّى للتأليف في الردّ عليه وتكذيب روايته، فرفع الشيخ أمره للسلطان، فامتعض له ونفذ الأمر بتنكيله فاختفى، ثم أجاز البحر مختفيا ولحق بالمشرق يلتفت خلفه.
وقيل عن رحيله إلى المشرق إنه نشأ شرّ بينه وبين شيخه أحمد بن علىّ بن الطبّاع، فألف أبو حيّان كتابا سماه «الإلماع فى إفساد إجازة الطبّاع»، فرفع ابن الطبّاع أمره للأمير محمد بن نصر المدعو بالفقيه- وكان أبو حيّان كثير الاعتراض عليه أيام قراءته عليه- فنشأ عن ذلك شرّ دفع أبا حيّان للخروج من الأندلس، وقد خرج معه جماعة من أعلامها، منهم شيخه أبو الحسن حازم بن محمد القرطاجنىّ، المولود سنة 658 هـ والمتوفى بتونس فى رمضان سنة 684 هـ.
والسّيوطىّ يحدثنا عن هذه الرحلة وأسبابها فيقول
(2): «ورأيت في كتابه النّضار الذى ألفه فى ذكر مبدأه واشتغاله وشيوخه ورحلته، أن مما قوّى عزمه على الرحلة عن غرناطة، أنّ
--------------------------------------------
এবং আবু তাহের ইসমাইল ইবনে হিবাতুল্লাহ আল-মালিজি। তিনি ৬৯৮ হিজরি পর্যন্ত নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে বাহাউদ্দিন ইবনুন নাহহাসের পাঠে উপস্থিত থাকতেন। যখন বাহাউদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন, আবু হাইয়্যান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।
আন্দালুস, আফ্রিকা, আলেকজান্দ্রিয়া, হিজাজ এবং মিশরে তাঁর হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষকদের সংখ্যা প্রায় চারশ পঞ্চাশ জনে পৌঁছেছিল। তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন কুতুব আল-কাসতালানি, আল-ইজ্জ আল-হাররানি, ইবনুল আনমাতি এবং আল-আলাম আল-ইরাকি।
এবং মাগরিব (পাশ্চাত্য) ও মাশরিকের (প্রাচ্য) বহু আলিম তাঁকে ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আশ-শরাফ আদ-দামইয়াতি, আত-তাকি ইবনে দাকীক আল-ঈদ, আবুল ইয়ামান ইবনে আসাকির এবং আত-তাকি ইবনে রাজীন।
আবু হাইয়্যান ৬৭৯ হিজরির শুরুতে আন্দালুস ত্যাগ করেন; লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিব
(১) বলেন যে, যৌবনের তেজ আবু হাইয়্যানকে উস্তাদ আবু জাফর আত-তাব্বা’র বিরোধিতা করতে প্ররোচিত করেছিল। তাঁর এবং তাঁর উস্তাদ ইবনুয যুবাইরের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছিল, ফলে তিনি তাঁর সমালোচনা করেন এবং তাঁর খণ্ডন ও তাঁর বর্ণনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য গ্রন্থ রচনায় ব্রতী হন। তখন শায়খ বিষয়টি সুলতানের কাছে উত্থাপন করেন। সুলতান এতে অসন্তুষ্ট হন এবং তাঁকে শাস্তি দেওয়ার আদেশ জারি করেন। ফলে তিনি আত্মগোপন করেন। অতঃপর তিনি গোপনে সমুদ্র পাড়ি দেন এবং পেছনে তাকাতে তাকাতে প্রাচ্যে গিয়ে পৌঁছান।
তাঁর প্রাচ্যের দিকে যাত্রার বিষয়ে বলা হয়েছে যে, তাঁর এবং তাঁর শায়খ আহমদ ইবনে আলী ইবনে আত-তাব্বা’র মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল। আবু হাইয়্যান ‘আল-ইলমা’ ফি ইফসাদি ইজাজাতিত তাব্বা’ নামে একটি বই রচনা করেন। ইবনে আত-তাব্বা’ বিষয়টি আমির মুহাম্মদ ইবনে নাসরের কাছে উত্থাপন করেন, যিনি ‘আল-ফকিহ’ নামে পরিচিত ছিলেন—আবু হাইয়্যান তাঁর কাছে পড়ার দিনগুলোতেও তাঁর অনেক বিরোধিতা করতেন—এর ফলে এমন এক বিবাদের সৃষ্টি হয় যা আবু হাইয়্যানকে আন্দালুস ছাড়তে বাধ্য করে। তাঁর সাথে আন্দালুসের একদল বিশিষ্ট ব্যক্তিও বের হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তাঁর শায়খ আবুল হাসান হাযিম ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরতাজিনিও ছিলেন, যিনি ৬৫৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৮৪ হিজরির রমজান মাসে তিউনিসিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন।
সুয়ূতী আমাদের এই সফর এবং এর কারণ সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন
(২): «আমি তাঁর ‘আন-নাদার’ গ্রন্থে দেখেছি, যা তিনি তাঁর জীবন শুরু, জ্ঞানচর্চা, শায়খগণ এবং সফর সম্পর্কে রচনা করেছেন—সেখানে উল্লেখ আছে যে, গ্রানাডা থেকে হিজরত করার সংকল্পকে যা জোরালো করেছিল তা হলো যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٨)
بعض العلماء بالمنطق والفلسفة والرياضىّ والطبيعىّ قال للسلطان: إنّي قد كبرت وأخاف أن أموت، فأرى أن ترتب لى طلبة أعلمهم هذه العلوم، لينفعوا السلطان من بعدى، قال أبو حيّان:
فأشير إلى أن أكون من أولئك، ويرتب لى راتب جيد وكسا وحسان فتمنعت ورحلت مخافة أن أكره على ذلك».
ومهما يكن شئ فقد كان وجود أبى حيّان بمصر خيرا على أبنائها، وقد تتلمذ عليه أعلامها وشيوخها منهم مؤلفنا الكمال الأدفوىّ، وتقىّ الدّين السّبكىّ وابنه تاج الدّين، والجمال الأسنوى، وابن قاسم وابن عقيل والسمين والسفاقسى، وابن مكتوم والرعينىّ والصفدىّ وخلائق، وفى ذلك يقول التّاج السبكىّ فى «الطبقات الكبرى
(1)»:
«سمع عليه الجم الغفير وأخذ عنه غالب مشيختنا وأقراننا: منهم الشيخ الإمام الوالد، وناهيك بها لأبى حيّان منقبة».
وقد تصدر أبو حيّان فى مصر لتدريس الحديث فى المدرسة المنصورية، كما تصدر لتدريس النحو بعد وفاة شيخه ابن النحاس.
وكان أبو حيّان ظاهرىّ المذهب، ثم اعتنق مذهب الشافعىّ رضى الله عنه، ويقول ابن تغرى بردى
(2) «إنه كان مالكيا» وقد انفرد بهذه الدعوى ولم أجد من يقول بها.
والعلامة ابن حجر يقول
(3) «كان ظاهريا وانتمى إلى الشافعية وكان أبو البقاء يقول إنه لم يزل ظاهريا، قلت كان أبو حيّان يقول: محال أن يرجع عن مذهب الظاهر من علق بذهنه».
وقالوا: إن أبا حيّان كان ظاهريّا حتى فى النحو، ونقل ذلك ابن الوردى فقال
(4):
«كان بحرا زاخرا فى النحو وهو فيه ظاهرىّ»، وقد فسر ذلك «جولد زيهر Goldziher «فيما نقله عنه «هوتسما Houtsma «بدائرة المعارف الإسلامية
(5) أن
--------------------------------------------
যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, গণিত ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে পারদর্শী জনৈক আলেম সুলতানকে বললেন: “আমি বৃদ্ধ হয়েছি এবং আমার মৃত্যুর আশঙ্কা করছি, তাই আমি মনে করি আপনি আমার জন্য কিছু ছাত্রের ব্যবস্থা করুন যাদের আমি এই বিদ্যাগুলো শিখিয়ে দেব, যাতে তারা আমার পরে সুলতানের উপকারে আসতে পারে।” আবু হাইয়্যান বলেন:
“তখন আমাকে তাদের একজন হওয়ার জন্য ইঙ্গিত দেওয়া হলো এবং আমার জন্য সম্মানজনক বেতন ও সুন্দর পোশাকের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হলো। কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করলাম এবং পাছে আমাকে তাতে বাধ্য করা হয় সেই ভয়ে প্রস্থান করলাম।”
যাই হোক না কেন, মিশরে আবু হাইয়্যানের উপস্থিতি সেখানকার অধিবাসীদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর ছিল। সেখানকার বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ও শায়খগণ তাঁর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের গ্রন্থকার আল-কামাল আল-আদফুয়ি, তাকিউদ্দীন আস-সুবকি ও তাঁর পুত্র তাজউদ্দীন, আল-জামাল আল-আসনাবি, ইবনে কাসিম, ইবনে আকিল, আস-সামিন, আস-সাফাকুসি, ইবনে মাকুতম, আর-রুআইনি, আস-সাফাদি এবং আরও অসংখ্য মানুষ। এই প্রসঙ্গে তাজউদ্দীন আস-সুবকি তাঁর ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা
(১)’ গ্রন্থে বলেন:
“অগণিত মানুষ তাঁর নিকট শ্রবণ করেছেন এবং আমাদের অধিকাংশ উস্তাদ ও সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন: তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শেখ ইমাম (আমার) পিতা। আবু হাইয়্যানের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণের জন্য এটিই যথেষ্ট।”
আবু হাইয়্যান মিশরে ‘আল-মাদরাসা আল-মানসুরিয়া’তে হাদিস পাঠদানের জন্য প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন, যেমনটি তিনি তাঁর উস্তাদ ইবুনন নাহহাসের ইন্তেকালের পর নাহু (ব্যাকরণ) পাঠদানের জন্য প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।
আবু হাইয়্যান জাহেরি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন, অতঃপর তিনি শাফেয়ি মাজহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) গ্রহণ করেন। ইবনে তাগরি বারদি
(২) বলেন, “তিনি মালেকি ছিলেন।” তবে তিনি এই দাবিতে একক ছিলেন এবং আমি আর কাউকে এমনটি বলতে দেখিনি।
আল্লামা ইবনে হাজার বলেন
(৩), “তিনি জাহেরি ছিলেন এবং শাফেয়ি মাজহাবের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। আবু আল-বাকা বলতেন যে তিনি সর্বদা জাহেরিই ছিলেন। আমি (ইবনে হাজার) বলছি, আবু হাইয়্যান বলতেন: যার মগজে জাহেরি মাজহাব গেঁথে গেছে তার পক্ষে তা থেকে ফিরে আসা অসম্ভব।”
তারা বলেছেন: আবু হাইয়্যান এমনকি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রেও জাহেরি ছিলেন। ইবনুল ওয়ার্দি এটি বর্ণনা করে বলেছেন
(৪):
“তিনি নাহু শাস্ত্রে এক উত্তাল সমুদ্র ছিলেন এবং এতে তিনি জাহেরি ছিলেন।” গোল্ডজিহার (Goldziher) এটি ব্যাখ্যা করেছেন, যা হুটসমা (Houtsma) ‘ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া’তে
(৫) তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٩)
أبا حيّان حاول أن يتمسك بآراء الأوائل من أئمة علم النحو وخاصة سيبويه.
والذى لا شك فيه أن أبا حيّان كان يعظم سيبويه ويتعصب له إلى حد بعيد، وكان ذلك سببا لما وقع بينه وبين العلّامة ابن تيميّة من خصومة، فقد كان أبو حيّان يحترم ابن تيميّة ويجلّه ويعظمه إلى أن عاب ابن تيميّة سيبويه فحدثت القطيعة، وتناوله أبو حيّان بالتجريح فى تفسيره «النهر» الذى اختصر به «البحر».
ولقد التزم أبو حيّان منهجا في النحو، وهو ألّا يقرئ أحدا إلّا إذا كان فى «سيبويه» أو فى «التّسهيل» لابن مالك. أو فى تصانيفه
(1).
ولقد كان الشيخ بحق أمة وحده، ومدرسة كبرى جامعة لأنواع المعرفة الإسلامية فى عصره، ملما باللغات الشرقية من فارسية وتركية وحبشية مصنفا فيها، وهو كما يقول تلميذه الصفدىّ
(2) «ثبت فيما ينقله محرر لما يقوله، عارف باللغة ضابط لألفاظها، وأما النحو والتصريف فهو إمام الدنيا فى عصره فيهما، ولم يذكر معه أحد فى أقطار الأرض، وله اليد الطولى فى التفسير والحديث، وتراجم الناس وطبقاتهم وتواريخهم وحوادثهم، وله التصانيف التى سارت وطارت، وانتشرت وما انتثرت، وقرئت ودرست، ونسخت وما نسخت، أخملت كتب المتقدمين، وألهت المقيمين بمصر والقادمين.
«وقرأ الناس عليه وصاروا أئمة وأشياخا فى حياته، وهو الذى جسر الناس على مصنفات الشيخ جمال الدّين ابن مالك، ورغبهم فى قراءتها، وشرح لهم غامضها، وغاص بهم لججها، وفتح لهم مقفلها»
ويقول فى حقه السّيوطىّ
(3): «نحوىّ عصره ولغويّه ومفسره ومحدثه ومقرئه ومؤرخه وأديبه».
وكان أبو حيّان ينظم الشعر وإن لم يكن شاعرا؛ قال الصفدىّ تلميذه
(4) إنه انتقى
--------------------------------------------
আবু হাইয়্যান ব্যাকরণ শাস্ত্রের আদি ইমামদের, বিশেষ করে সিবওয়াইহ-এর মতামতকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আবু হাইয়্যান সিবওয়াইহ-কে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তার প্রতি চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন। এটাই ছিল আল্লামা ইবনে তাইমিয়ার সাথে তার যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়েছিল তার কারণ। মূলত আবু হাইয়্যান ইবনে তাইমিয়াকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন, যতক্ষণ না ইবনে তাইমিয়া সিবওয়াইহ-এর সমালোচনা করেন; এরপরই তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে। আবু হাইয়্যান তার 'আল-নাহর' নামক তাফসিরে (যা তার 'আল-বাহর' নামক তাফসিরের সারসংক্ষেপ) ইবনে তাইমিয়াকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন।
আবু হাইয়্যান ব্যাকরণশাস্ত্রে এমন এক পদ্ধতি অনুসরণ করতেন যে, তিনি কাউকে পাঠদান করতেন না যতক্ষণ না সে সিবওয়াইহ-এর গ্রন্থ অথবা ইবনে মালিকের 'আল-তাসহিল' অথবা তার নিজের রচিত গ্রন্থাবলি পাঠ করত
(১)।
প্রকৃতপক্ষে এই শায়খ একাই এক উম্মাহ ছিলেন এবং তার যুগের ইসলামি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার এক বিশাল সমন্বিত বিদ্যাপীঠ ছিলেন। তিনি ফারসি, তুর্কি ও হাবশি (ইথিওপীয়) প্রভৃতি প্রাচ্য ভাষা সম্পর্কে প্রাজ্ঞ ছিলেন এবং সেসব ভাষায় গ্রন্থও রচনা করেছেন। তার ছাত্র আল-সাফাদি যেমনটি বলেন
(২): "তিনি যা বর্ণনা করতেন তাতে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ছিলেন এবং যা বলতেন তাতে ছিলেন সুশৃঙ্খল। তিনি ভাষা সম্পর্কে পারদর্শী এবং এর শব্দ চয়নে অত্যন্ত নিখুঁত ছিলেন। আর ব্যাকরণ (নাহু) ও রূপতত্ত্বের (সরফ) ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন তার যুগের বিশ্বসেরা ইমাম; পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই তার সাথে (তুলনা করার মতো) অন্য কারো নাম উচ্চারিত হতো না। তাফসির ও হাদিস শাস্ত্রে তার অসাধারণ বুৎপত্তি ছিল। তদুপরি মানুষের জীবনী, তাদের স্তরবিন্যাস, ইতিহাস ও ঘটনাবলি সম্পর্কেও তার অগাধ জ্ঞান ছিল। তার এমন সব গ্রন্থ রয়েছে যা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; যা পঠিত ও চর্চিত হয়েছে এবং যা বারবার অনুলিপি করা হয়েছে। তার গ্রন্থাবলি পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহকে ম্লান করে দিয়েছিল এবং মিশরের অধিবাসী ও সেখানে আগতদের জ্ঞানতৃষ্ণায় মগ্ন করে রেখেছিল।"
"লোকেরা তার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং তার জীবদ্দশাতেই তারা ইমাম ও শায়খে পরিণত হয়েছে। তিনিই মানুষকে শায়খ জামালুদ্দিন ইবনে মালিকের গ্রন্থাবলি অধ্যয়নে সাহসী করে তুলেছিলেন এবং সেগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহী করেছিলেন। তিনি তাদের নিকট সেগুলোর জটিল বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করেছেন, এর গভীর সমুদ্রে তাদের নিয়ে অবগাহন করেছেন এবং এর রুদ্ধ কপাটসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।"
তার সম্পর্কে আল-সুয়ুতি বলেন
(৩): "তিনি ছিলেন তার যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ, ভাষাতাত্ত্বিক, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ক্বারি, ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক।"
আবু হাইয়্যান কবিতা রচনা করতেন, যদিও তিনি মূলত কবি ছিলেন না; তার ছাত্র আল-সাফাদি বলেন
(৪) যে তিনি চয়ন করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ديوانه وسمعه منه وكتبه، ويقول ابن الوردىّ
(1): «وله نظم ليس على قدر فضيلته»، ويقول ابن تغرى بردى
(2): «ومذهبى فى أبى حيّان أنه عالم لا شاعر»
وابن حجر يقول: إن شعره كثير من جيد وضعيف.
وقد عمر شيخنا حتى جاوز التسعين
(3) وأضرّ قبل موته بقليل، وكانت وفاته بمنزله بظاهر القاهرة خارج باب البحر، فى الثامن والعشرين من صفر- وقيل فى الثامن عشر سنة 745 هـ- ودفن من الغد بمقبرة الصوفية خارج باب النصر، وصلّى عليه بالجامع الأموى بدمشق صلاة الغائب فى شهر ربيع الآخر.
ورثاه كثيرون منهم تلميذه الصلاح الصفدىّ الذى رثاه بقصيدة مطلعها
(4):
مات أثير الدّين شيخ الورى
… فاستعر البارق واستعبرا
ورقّ من حزن نسيم الصّبا
… واعتلّ فى الأسماء لمّا سرى
هذه عجالة فى ترجمة أبى حيّان، لم نتعرض فيها لتصانيفه، كما لم نعرض له بالدراسة والتحليل، وحسبنا أن صدّرنا كتابنا بهذه العجالة فقد كان الكتاب ثمرة إيحائه وتلبية إشارته.
كمال الدّين الأدفوىّ:مؤلف الكتاب وتلميذ أبى حيّان الشيخ الإمام كمال الدّين جعفر
(5) بن ثعلب الأدفوىّ الثّعلبىّ المؤرخ الأديب الفقيه الشافعىّ.
واسم أبيه «ثعلب» بالثاء والعين المهملة كما ورد فى «الدرر الكامنة» و «السلوك» و «النجوم الزاهرة» و «حسن المحاضرة» و «طبقات ابن قاضى شهبة» و «تاريخ
--------------------------------------------
তাঁর দিওয়ান (কাব্যসংকলন) এবং তিনি তা তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন ও লিপিবদ্ধ করেছেন। ইবনুল ওয়ারদী
(১) বলেন: "তাঁর এমন কিছু কাব্যরচনা রয়েছে যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সমপর্যায়ের নয়।" ইবনে তাগরি বারদি
(২) বলেন: "আবু হাইয়ান সম্পর্কে আমার অভিমত হলো, তিনি একজন আলেম, কবি নন।"
ইবনে হাজার বলেন: তাঁর কবিতা অনেক, যার মধ্যে উৎকৃষ্ট ও দুর্বল উভয়ই রয়েছে।
আমাদের শায়খ দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন এমনকি তিনি নব্বই বছর অতিক্রম করেছিলেন
(৩) এবং মৃত্যুর অল্পকাল আগে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল কায়রোর উপকণ্ঠে বাবুল বাহরের বাইরে তাঁর নিজ বাসভবনে, ২৮শে সফর—কারো মতে ১৮ই সফর—৭৪৫ হিজরিতে। পরদিন তাঁকে বাবুন নাসরের বাইরে সুফিয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। রবিউল আউয়াল মাসে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদে তাঁর অনুপস্থিত জানাজা (সালাতুল গায়েব) আদায় করা হয়।
অনেকে তাঁর শোকগাঁথা রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম তাঁর ছাত্র সালাহ আল-সাফাদি, যিনি একটি কাসিদার মাধ্যমে তাঁর শোক প্রকাশ করেছেন যার শুরুটি হলো
(৪):
আছিরুদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন, যিনি ছিলেন সৃষ্টির শায়খ
… ফলে বিজলি প্রজ্জ্বলিত হলো এবং অশ্রু বিসর্জন করল।
শোকের কারণে পুবালি বাতাস কোমল হয়ে গেল
… এবং যখন তা প্রবাহিত হলো তখন বিশেষ্যসমূহের মধ্যে রুগ্নতা দেখা দিল।
এটি আবু হাইয়ানের জীবনীর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যেখানে আমরা তাঁর রচনাবলি নিয়ে আলোচনা করিনি, এবং তাঁর সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত গবেষণা ও বিশ্লেষণও পেশ করিনি। আমাদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে আমরা এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে আমাদের বইটির সূচনা করেছি, কারণ এই বইটি ছিল তাঁরই অনুপ্রেরণার ফসল এবং তাঁরই ইঙ্গিতের প্রতিফলন।
কামাল উদ্দিন আল-আদফুয়ি:গ্রন্থের লেখক এবং আবু হাইয়ানের ছাত্র শায়খ ইমাম কামাল উদ্দিন জাফর
(৫) বিন সা'লাব আল-আদফুয়ি আস-সা'লাবি, যিনি ছিলেন একজন ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক এবং শাফেয়ী ফকিহ।
তাঁর পিতার নাম 'সা'লাব' (ثعلب), যা 'সা' (ث) এবং 'আইন' (ع) সহযোগে গঠিত, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ', 'আস-সুলুক', 'আন-নুজুম আজ-জাহিরাহ', 'হুসনুল মুহাদ্বারাহ', 'তাবাকাত ইবনে ক্বাদি শুহবাহ' এবং 'তারিখ...'-এ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١١)
آداب اللغة لزيدان» و «فهرس الدار» و «فهارس المخطوطات المصورة» بمعهد المخطوطات العربية و «معجم المؤلفين»، وليس «تغلب» بالتاء والغين المعجمة، كما ورد فى «طبقات السبكى» و «الشذرات» و «كشف الظنون» و «البدر الطالع» و «هدية العارفين» و «الخطط الجديدة».
وورد فى «الأعلام»: «جعفر بن ثعلب»، وفى مستدركه «تغلب» وقال الأستاذ الزركلى:
«كان الشك يساورنى فيه (اسم أبيه) لوروده فى الشذرات والبدر الطالع، جعفر ابن تغلب، ولم أجد ما أطمئن إليه لترجيح أحد الرسمين إلى أن وقفت فى مكتبة الفاتيكان على مخطوط نفيسة من الجزء الأول من كتابه «البدر السافر» كتبت فى أيامه، وعليها كلمة «تغلب» مشكولة بسكون الغين وكسر اللام».
وبدراستنا للطالع نرجح أن يكون الرسم «ثعلب» تساندنا فى ذلك الأدلة الآتية:
(1) ورد اسم أبيه هكذا «ثعلب» فى جميع نسخ الطالع حتى التيمورية، أقدم هذه النسخ والمقروء أصلها المنسوخة منه على المؤلف.
(2) جاء فى معجم قبائل العرب/ 141، نقلا عن النّويرىّ وابن خلدون:
«الثعالب بطن من طيئ من القحطانية، كانت مساكنهم صعيد مصر»
(3) ترجم الكمال لبعض ذوى قرابته، ووصفهم بأنهم «ثعالبة» فى جميع نسخ الطالع منهم:
(ا) إبراهيم بن محمد الثّعلبىّ الأدفوىّ
(1).
(ب) أحمد بن كامل بن الحسن الثّعلبىّ
(2)(ج) جعفر بن مطهر بن نوفل الثّعلبىّ الأدفوىّ
(3)(د) حسن بن علىّ الثّعلبىّ
(4)--------------------------------------------
যাইদানের ‘আদাবুল লুগাহ’, ‘ফিহরিসুদ দার’, ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস-এর ‘ফিহারিসুল মাখতুতাত আল-মুসাওয়ারাহ’ এবং ‘মু’জামুল মুয়াল্লিফিন’-এ এভাবেই এসেছে। এটি ‘তা’ এবং ‘গাইন’ বর্ণযোগে ‘তাগলিব’ নয়, যেমনটি সুবকির ‘তাবাকাত’, ‘আশ-শাযারাত’, ‘কাশফুয যুনুন’, ‘আল-বদরুত তালি’, ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ এবং ‘আল-খিতাতুল জাদিদাহ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
‘আল-আ’লাম’ গ্রন্থে ‘জাফর বিন সা’লাব’ এসেছে, আর এর মুস্তাদরাক-এ এসেছে ‘তাগলিব’। উস্তাদ যারাকলি বলেছেন:
“তার (পিতার নামের) ব্যাপারে আমার মনে সন্দেহ কাজ করছিল, কারণ ‘আশ-শাযারাত’ ও ‘আল-বদরুত তালি’ গ্রন্থে ‘জাফর ইবনে তাগলিব’ হিসেবে নামটির উল্লেখ ছিল। আমি এই দুটি বানানের মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য কিছু পাচ্ছিলাম না, যতক্ষণ না ভ্যাটিকান লাইব্রেরিতে তার রচিত ‘আল-বদরুস সাফির’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপির সন্ধান পেলাম। এটি তার জীবদ্দশাতেই অনুলিপি করা হয়েছিল এবং সেখানে ‘তাগলিব’ শব্দটি ‘গাইন’-এ সুকুন এবং ‘লাম’-এ কাসরা (যের) সহ হরকতযুক্ত ছিল।”
আমাদের ‘আত-তালি’ অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা ‘সা’লাব’ বানানটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে নিচের প্রমাণগুলো আমাদের সমর্থন যোগায়:
(১) ‘আত-তালি’-এর তায়মুরি পাণ্ডুলিপিসহ সকল কপিতে তার পিতার নাম এভাবেই ‘সা’লাব’ এসেছে। এটিই এই গ্রন্থটির প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি এবং এর মূল কপিটি লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছিল।
(২) ‘মু’জামু কাবাইলিল আরব’ (পৃ. ১৪১)-এ নুওয়াইরি ও ইবনে খালদুন থেকে উদ্ধৃত হয়েছে:
“সা’আলিবাহ হলো কাহতানি বংশোদ্ভূত তাই গোত্রের একটি শাখা, যাদের বসতি ছিল উচ্চ মিশরে।”
(৩) কামাল (গ্রন্থকার) তার কিছু আত্মীয়র জীবনী আলোচনা করেছেন এবং ‘আত-তালি’-এর সকল কপিতে তাদের ‘সা’লাবি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন; তারা হলেন:
(ক) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আস-সা’লাবি আল-আদফুয়ি
(১)।
(খ) আহমদ বিন কামিল বিন হাসান আস-সা’লাবি
(২)(গ) জাফর বিন মুতাহহার বিন নাওফাল আস-সা’লাবি আল-আদফুয়ি
(৩)(ঘ) হাসান বিন আলী আস-সা’লাবি
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
(هـ) الخضر بن الحسين الثّعلبىّ
(1)(و) عبد الحق بن الحسن الثّعلبىّ الأدفوىّ
(2)(ز) على بن ثعلب بن أحمد، وينعت بالعماد الأدفوىّ الثّعلبىّ
(3)(ح) على بن مطهّر الثّعلبىّ جد والده
(4)(ط) على بن محمد الثّعلبىّ
(5)(4) ترجم المؤلف لقريب له فى «باب الثاء» فقال:
«ثعلب بن أحمد بن جعفر بن أحمد بن جعفر بن يونس علم الملك الأدفوىّ قريبنا»
(6) ولا يوجد غير هذه الترجمة فى «باب الثاء» مما يؤكد أنهم «ثعالبة»، ولو كانوا «تغالبة» لوردت هذه الترجمة فى «باب التاء» ولكان «باب الثاء» خاليا من التراجم.
(5) ورد اسم المؤلف فى ثنايا ترجمة محمد بن فضل الله بن كاتب المرج القوصى الشاعر ص 606 «جعفر بن ثعلب»
وذلك فى شعر مدح به ابن كاتب المرج مؤلفنا الكمال فى جميع نسخ «الطالع»
(6) تؤيدنا فى هذا الرأى مصادر لها أصالتها وقيمتها كالسلوك للمقريزىّ، والدرر الكامنة لابن حجر، وطبقات ابن قاضى شهبة، والنجوم الزاهرة لابن تغرى بردى، وحسن المحاضرة للسّيوطىّ
مولده:ولد مؤلفنا جعفر بن ثعلب فى أدفو فى شعبان سنة 685 هـ، ودرس فى قوص التى كانت تمثل فى صعيد مصر أكبر مدرسة إسلامية تضارع مدارس القاهرة، بل ربما فاقتها بأشياخها الأساطين، ولما ارتوى المؤلف من مناهل قوص الثرّة، أخذ طريقه إلى القاهرة فسعد بلقاء شيخه أبى حيّان، الذى كان وجوده دون ريب من الأسباب القوية التى حدت بالكمال إلى أن
--------------------------------------------
(ঙ) আল-খিদর বিন আল-হুসাইন আস-সালাবি
(১)(চ) আব্দুল হক বিন আল-হাসান আস-সালাবি আল-আদফুয়ি
(২)(ছ) আলি বিন সালাব বিন আহমাদ, তাকে আল-ইমাদ আল-আদফুয়ি আস-সালাবি উপাধিতে ভূষিত করা হয়
(৩)(জ) আলি বিন মুতাহহার আস-সালাবি, তার পিতার দাদা
(৪)(ঝ) আলি বিন মুহাম্মদ আস-সালাবি
(৫)(৪) লেখক 'সা' অধ্যায়ে (বাবুস সা) তার এক আত্মীয়ের জীবনীতে লিখেছেন:
«সালাব বিন আহমাদ বিন জাফর বিন আহমাদ বিন জাফর বিন ইউনুস আলামুল মুলক আল-আদফুয়ি আমাদের আত্মীয়»
(৬) এবং 'সা' অধ্যায়ে এই জীবনীটি ব্যতীত অন্য কোনো জীবনী নেই, যা নিশ্চিত করে যে তারা 'সালাবি' বংশোদ্ভূত। যদি তারা 'তাগলাবি' হতো তবে এই জীবনীটি 'তা' অধ্যায়ে (বাবুত তা) বর্ণিত হতো এবং 'সা' অধ্যায়টি জীবনীশূন্য থাকত।
(৫) কবি মুহাম্মদ বিন ফজলুল্লাহ বিন কাতিব আল-মারজ আল-কুসি-এর জীবনীর অভ্যন্তরে ৬০৬ পৃষ্ঠায় লেখকের নাম 'জাফর বিন সালাব' হিসেবে এসেছে।
এটি 'আত-তালি' গ্রন্থের সকল পাণ্ডুলিপিতে ইবন কাতিব আল-মারজ কর্তৃক আমাদের লেখক আল-কামালকে প্রশংসা করে রচিত কবিতায় বর্ণিত হয়েছে।
(৬) এই মতের সমর্থনে আমাদের নিকট মাকরিজির 'আস-সুলুক', ইবনে হাজারের 'আদ-দুরারুল কামিনাহ', ইবনে কাদি শুহবাহর 'তাবাকাত', ইবনে তাগরি বারদির 'আন-নুজুমুজ জাহিরাহ' এবং সুয়ুতির 'হুসনুল মুহাদারা'-র মতো প্রামাণিক ও মূল্যবান উৎসসমূহ রয়েছে।
তার জন্ম:আমাদের লেখক জাফর বিন সালাব ৬৮৫ হিজরির শাবান মাসে আদফু-তে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুস-এ পড়াশোনা করেন যা উচ্চ মিশরের সবচেয়ে বড় ইসলামি বিদ্যাপীঠ ছিল এবং কায়রোর মাদ্রাসাগুলোর সমকক্ষ ছিল, বরং হয়তো সেখানকার প্রখ্যাত মহান পণ্ডিতদের কারণে সেগুলোকে ছাড়িয়েও গিয়েছিল। যখন লেখক কুস-এর সমৃদ্ধ জ্ঞানধারা থেকে তৃপ্ত হলেন, তখন তিনি কায়রোর পথে যাত্রা করলেন এবং তার শায়খ আবু হাইয়ানের সাক্ষাত লাভে ধন্য হলেন, যাঁর সান্নিধ্য নিঃসন্দেহে এমন এক শক্তিশালী কারণ ছিল যা আল-কামালকে উদ্বুদ্ধ করেছিল যে-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
يأخذ طريقه إلى القاهرة، التى كان يفد إليها طلبة العلم وراغبوه من أقطار العالم الإسلامى وبقاعه
شيوخ المؤلف.تلقى للكمال علومه الإسلامية على أيدى كثير من الأشياخ منهم:
1 - تاج الدّين محمد بن أحمد بن عبد الرّحمن الدّشناوىّ، وقد ترجم له فى الطالع
(1)2 - أحمد بن محمد بن أحمد محيى الدّين القرطبىّ، وقد ترجم له فى الطالع
(2)3 - إسماعيل بن موسى السّفطىّ القوصىّ، وقد ترجم له فى الطالع
(3).
4 - علىّ بن هبة الله بن أحمد الشهاب الأسنائىّ، وقد ترجم له فى الطالع
(4).
5 - محمد بن عثمان بن عبد الله سراج الدّين الدّندرىّ وقد ترجم له فى الطالع
(5)6 - منتصر بن الحسن الأدفوىّ الخطيب، وقد ترجم له فى الطالع
(6).
7 - يحيى بن عبد الرّحيم القوصىّ، وقد ترجم له فى الطالع
(7).
8 - يوسف بن محمد جمال الدّين السّيوطىّ، وقد ترجم له فى الطالع
(8).
9 - يونس بن عبد المجيد سراج الدّين الأرمنتىّ، وقد ترجم له فى الطالع
(9).
ومن شيوخه الذين لم يردوا فى الطالع:
1 - أبو حيّان أثير الدّين محمد بن يوسف الغرناطىّ، كما قدّمنا.
2 - عبد الرّحمن بن يوسف الأسفونىّ (المتوفى سنة 750 هـ)
3 - محمد بن أحمد بن القماح شمس الدّين (المتوفى سنة 741 هـ).
4 - بدر الدّين محمد بن إبراهيم بن جماعة (المتوفى سنة 733 هـ).
5 - عزّ القضاة عبد الواحد بن المنيّر (المتوفى سنة 733 هـ أو 736 هـ)
6 - علاء الدّين علىّ بن إسماعيل القونوىّ (المتوفى سنة 729 هـ)
7 - شمس الدّين محمد بن يوسف الخطيب الجزرىّ (المتوفى سنة 711 هـ)
--------------------------------------------
তিনি কায়রোর পথে যাত্রা করেন, যেখানে ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ও অঞ্চল থেকে ইলম অন্বেষী এবং জ্ঞানপিপাসুরা আগমন করত।
লেখকের শিক্ষকবৃন্দ।আল-কামাল বহু শিক্ষকের নিকট তাঁর ইসলামি জ্ঞান অর্জন করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - তাজউদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দিশনাবী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(১)২ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ মুহিউদ্দীন আল-কুরতুবী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(২)৩ - ইসমাইল ইবনে মুসা আস-সাফতী আল-কুসী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(৩)।
৪ - আলী ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমদ আশ-শিহাব আল-ইসনাঈ, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(৪)।
৫ - মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ সিরাজুদ্দীন আদ-দান্দারি, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(৫)৬ - মুনতাসির ইবনুল হাসান আল-আদফুওয়ী আল-খতিব, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(৬)।
৭ - ইয়াহিয়া ইবনে আবদুর রহিম আল-কুসী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(৭)।
৮ - ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ জামালুদ্দীন আস-সুয়ূতী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(৮)।
৯ - ইউনুস ইবনে আব্দুল মাজিদ সিরাজুদ্দীন আল-আরমানতী, যাঁর জীবনী 'আত-তালি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(৯)।
এবং তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে যারা 'আত-তালি' গ্রন্থে উল্লিখিত হননি:<
১ - আবু হাইয়ান আসিরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-গারনাতি, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
২ - আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ আল-আসফুনী (মৃত্যু ৭৫০ হিজরি)
৩ - মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল কাম্মাহ শামসুদ্দীন (মৃত্যু ৭৪১ হিজরি)।
৪ - বদরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে জামাআহ (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি)।
৫ - ইজ্জুল কুদাত আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল মুনাইয়ার (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি অথবা ৭৩৬ হিজরি)
৬ - আলাউদ্দীন আলী ইবনে ইসমাইল আল-কুনাবী (মৃত্যু ৭২৯ হিজরি)
৭ - শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-খতিব আল-জাজারী (মৃত্যু ৭১১ হিজরি)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
8 - تقىّ الدّين محمد بن أحمد الصائغ (المتوفى سنة 725 هـ)
9 - علاء الدّين علىّ بن محمد بن خطاب الباجىّ (المتوفى سنة 714 هـ)
مؤلفاته:(ا) «فرائد الفوائد ومقاصد القواعد» فى علم الفرائض (منه نسخة فى غوطا) لم يطبع
(ب) «البدر السافر وتحفة المسافر» ذكره حاجى خليفة فى كشف الظنون/ 230، ترجم فيه لبعض شعراء القرن السابع الهجرى، (منه نسخة فى فينا) والجزء الأول من نسخة أخرى بالفاتيكان، والجزء الثانى من نسخة ثالثة بمكتبة فاتح باستانبول، لم يطبع
(ج) «الإمتاع فى أحكام السماع» ذكره حاجى خليفة فى كشف الظنون/ 167 وقال: «هو كتاب نفيس لم يصنف مثله، كما شهد له التاج السبكى فى التوشيح، وقد لخصه الشيخ أبو حامد المقدسى، واقتصر على المقصود منه، ورتبه كأصله على مقدمة وبابين وسماه: تشنيف الأسماع».
والكتاب يبحث فى ضروب الغناء من حيث جوازه أو تحريمه، وفيه فوائد موسيقية عن آلات العزف والضرب، منه نسخة بدار الكتب المصرية، ونسخة أخرى بمكتبة الأزهر، لم يطبع
(د) «الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد»
وهو الكتاب الذى نقدمه اليوم لقراء العربية.
ذكره حاجى خليفة فى «كشف الظنون» / 1091، كما ذكره قبل ذلك طاش كبرى فى «مفتاح السعادة» وهو آخر مؤلفات الأدفوىّ، وفيه يشير إلى كتبه السابقة.
ألف الكمال كتابه «الطالع» بإشارة من شيخه أبى حيّان كما أسلفنا، وقد ترجم فيه لأعلام عصره من إقليم قوص وأعماله ومدنه، ولم يترجم للأحياء منهم إلّا لغرض أو لأمر عرض كما يقول فى مقدمته، وجعل تراجمه على حروف المعجم وإن كان قد أخلّ كثيرا من حيث الترتيب للأعلام أو لآبائهم؛ فمثلا: قدّم «خلف بن عبد الرحمن» على «خديجة بنت علىّ»، و «عبد الله بن نصر» على «عبد البارى»، و «عبد الحليم بن
৮ - তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সাইগ (মৃত্যু ৭২৫ হিজরি)
৯ - আলাউদ্দীন আলি বিন মুহাম্মদ বিন খাত্তাব আল-বাজি (মৃত্যু ৭১৪ হিজরি)
তাঁর রচনাবলি:(ক) উত্তরাধিকার আইন (ইলমুল ফারায়েজ) বিষয়ক গ্রন্থ 'ফারায়িদুল ফাওয়াইদ ওয়া মাকাসিদুল কাওয়াইদ' (এর একটি পাণ্ডুলিপি গোথা-য় রয়েছে), এটি মুদ্রিত হয়নি।
(খ) 'আল-বাদরুস সাফির ওয়া তুহফাতুল মুসাফির'। হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থের ২৩০ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন। এতে তিনি হিজরি সপ্তম শতাব্দীর কতিপয় কবির জীবনী বর্ণনা করেছেন। (এর একটি পাণ্ডুলিপি ভিয়েনায় রয়েছে), অন্য একটি পাণ্ডুলিপির প্রথম খণ্ড ভ্যাটিকানে এবং তৃতীয় একটি পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় খণ্ড ইস্তাম্বুলের ফাতিহ লাইব্রেরিতে রয়েছে। এটি মুদ্রিত হয়নি।
(গ) 'আল-ইমতা ফি আহকামিস সামা'। হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থের ১৬৭ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করে বলেছেন: "এটি একটি চমৎকার গ্রন্থ যার সমতুল্য কোনো কিতাব রচিত হয়নি, যেমনটি তাজ সুবকি 'আত-তাওশিহ' গ্রন্থে সাক্ষ্য দিয়েছেন। শেখ আবু হামিদ আল-মাকদিসি এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এর মূল উদ্দেশ্যের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তিনি এটিকে মূল গ্রন্থের মতো একটি ভূমিকা ও দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: 'তাশনিফুল আসমা'।"
কিতাবটি গান-বাজনার বৈধতা ও অবৈধতা নিয়ে এর বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে আলোচনা করে। এতে বাদ্যযন্ত্র ও তালযন্ত্রের বিষয়ে সংগীত বিষয়ক কিছু তাত্ত্বিক তথ্য রয়েছে। এর একটি পাণ্ডুলিপি মিসরীয় 'দারুল কুতুব' এবং অন্য একটি 'আল-আযহার' লাইব্রেরিতে রয়েছে। এটি মুদ্রিত হয়নি।
(ঘ) 'আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমা নুযাবায়িস সাঈদ'
এটি সেই কিতাব যা আজ আমরা আরবি পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি।
হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থের ১০৯১ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি এর আগে তাশ কুবরি 'মিফতাহুস সাআদাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এটি আল-অদফুই-এর সর্বশেষ রচনা এবং এতে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
কামাল (আদ-দিন) তাঁর উস্তাদ আবু হাইয়ানের ইঙ্গিতে তাঁর 'আত-তালি' গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। এতে তিনি কুস অঞ্চল এবং এর অধীনস্থ এলাকা ও শহরগুলোর সমসাময়িক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর ভূমিকায় যেমনটি বলেছেন, কোনো বিশেষ প্রয়োজন বা আকস্মিক কারণ ছাড়া জীবিত ব্যক্তিদের জীবনী তিনি এতে আনেননি। তিনি জীবনীগুলোকে বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছেন, যদিও নাম বা তাঁদের পিতাদের নামের ক্রমবিন্যাসে অনেক ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছে; যেমন: তিনি 'খালাফ বিন আবদুর রহমান'-কে 'খাদিজা বিনতে আলি'-র আগে স্থান দিয়েছেন, এবং 'আবদুল্লাহ বিন নাসর'-কে 'আবদুল বারি'-র আগে, এবং 'আবদুল হালিম বিন...'-কে...
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
يوسف» على «عبد الحق بن الحسن» و «عبيد الله بن عبد الله» على «عبد المنعم بن أحمد»، كما قدّم «عثمان» فى اثنتى عشرة ترجمة على «عتيق» وقد أخطأ المؤلف أيضا فى ترتيب الآباء حيث قدّم «إبراهيم بن عمر» على «إبراهيم بن علىّ» و «أحمد بن أبى الكرم» على «أحمد بن أبى عثمان» و «أحمد بن عبد المحسن» على «أحمد بن عبد المجيد» و «إسماعيل بن صالح» على «إسماعيل بن إبراهيم» و «الحسن بن علىّ» على «الحسن بن عبد الرّحيم» و «الحسن بن مقرّب» على «الحسن بن محمد» و «الحسين بن الحسين» على «الحسين بن إبراهيم» و «سليمان بن الحسن» على «سليمان بن إبراهيم» و «عبد الله بن أبى عبد الله» على «عبد الله بن أبى بكر» و «عبد الله بن علىّ» على «عبد الله بن عبد القادر» و «عبد الرّحيم بن عبد الوهاب» على «عبد الرّحيم بن الحسن» و «عبد القوىّ بن علىّ» على «عبد القوىّ بن عبد الرّحمن» و «عثمان بن محمد» على «عثمان بن عمر» و «علىّ بن مقرّب» على «علىّ بن مطهّر» و «عمر بن عبد المجيد» على «عمر بن عبد العزيز» و «عمر بن محمود» على «عمر بن محمد» و «محمد بن مكى» على «محمد بن الحسن» و «محمد بن داود» على «محمد بن حيدرة» و «محمد بن عبد الرّحيم» على «محمد بن عبد الرّحمن» و «محمد بن عثمان» على «محمد بن عتيق» ولا شك أن المؤلف قد أخطأ فى هذا الترتيب.
وتراجم الكتاب رجال عدا أربع سيدات هن:
1 - تاج النساء ابنة عيسى بن علىّ بن وهب
(1)2 - خديجة بنت علىّ بن وهب
(2)3 - رقية بنت محمد بن علىّ بن وهب
(3)4 - مظفّرية بنت عيسى بن علىّ بن وهب
(4).
ويقول فى نهاية الكتاب إنه أتمه سنة 738 هـ، ثم زاد فيه تراجم إلى سنة 740 هـ، ولكنا وجدناه قد ترجم للزّبير بن علىّ بن أبى شيخة الأسوانىّ
(5) وقال: «وتوفى بالمدينة
--------------------------------------------
'ইউসুফ'কে 'আবদুল হক বিন আল-হাসান'-এর আগে এবং 'উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ'কে 'আবদুল মুনঈম বিন আহমাদ'-এর আগে স্থান দিয়েছেন, ঠিক যেমন বারোটি জীবনীর ক্ষেত্রে 'উসমান'কে 'আতিক'-এর আগে প্রধান্য দিয়েছেন। লেখক পিতাদের নামের ক্রমানুসারে সাজানোর ক্ষেত্রেও ভুল করেছেন; যেখানে তিনি 'ইব্রাহিম বিন উমর'কে 'ইব্রাহিম বিন আলী'র আগে, 'আহমাদ বিন আবিল কারাম'কে 'আহমাদ বিন আবি উসমান'-এর আগে, 'আহমাদ বিন আবদুল মুহসিন'কে 'আহমাদ বিন আবদুল মাজিদ'-এর আগে, 'ইসমাইল বিন সালিহ'কে 'ইসমাইল বিন ইব্রাহিম'-এর আগে, 'আল-হাসান বিন আলী'কে 'আল-হাসান বিন আবদুর রহিম'-এর আগে, 'আল-হাসান বিন মুকাররব'কে 'আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ'-এর আগে, 'আল-হুসাইন বিন আল-হুসাইন'কে 'আল-হুসাইন বিন ইব্রাহিম'-এর আগে, 'সুলাইমান বিন আল-হাসান'কে 'সুলাইমান বিন ইব্রাহিম'-এর আগে, 'আবদুল্লাহ বিন আবি আবদুল্লাহ'কে 'আবদুল্লাহ বিন আবি বকর'-এর আগে, 'আবদুল্লাহ বিন আলী'কে 'আবদুল্লাহ বিন আবদুল কাদির'-এর আগে, 'আবদুর রহিম বিন আবদুল ওয়াহহাব'কে 'আবদুর রহিম বিন আল-হাসান'-এর আগে, 'আবদুল কাবি বিন আলী'কে 'আবদুল কাবি বিন আবদুর রহমান'-এর আগে, 'উসমান বিন মুহাম্মাদ'কে 'উসমান বিন উমর'-এর আগে, 'আলী বিন মুকাররব'কে 'আলী বিন মুতাহহির'-এর আগে, 'উমর বিন আবদুল মাজিদ'কে 'উমর বিন আবদুল আজিজ'-এর আগে, 'উমর বিন মাহমুদ'কে 'উমর বিন মুহাম্মাদ'-এর আগে, 'মুহাম্মাদ বিন মাক্কি'কে 'মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান'-এর আগে, 'মুহাম্মাদ বিন দাউদ'কে 'মুহাম্মাদ বিন হাইদারা'-এর আগে, 'মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহিম'কে 'মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান'-এর আগে এবং 'মুহাম্মাদ বিন উসমান'কে 'মুহাম্মাদ বিন আতিক'-এর আগে প্রধান্য দিয়েছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে লেখক এই বিন্যাসে ভুল করেছেন।
গ্রন্থটির জীবনীগুলো চারজন মহীয়সী নারী ব্যতীত সবাই পুরুষ, তাঁরা হলেন:
১ - তাজুন নিসা বিনতে ঈসা বিন আলী বিন ওয়াহাব
(১)২ - খাদিজা বিনতে আলী বিন ওয়াহাব
(২)৩ - রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মাদ বিন আলী বিন ওয়াহাব
(৩)৪ - মুজাফফারিয়া বিনতে ঈসা বিন আলী বিন ওয়াহাব
(৪)।
তিনি গ্রন্থের শেষে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ৭৩৮ হিজরিতে সম্পন্ন করেছেন, অতঃপর এতে ৭৪০ হিজরি পর্যন্ত কিছু জীবনী সংযুক্ত করেছেন। কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি যে, তিনি যুবায়ের বিন আলী বিন আবি শাইখাহ আল-আসওয়ানি-এর জীবনী আলোচনা করেছেন
(৫) এবং বলেছেন: «তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ليلة الجمعة رابع شهر ربيع الأوّل وصلّى عليه صبيحة يوم الجمعة سنة ثمان وأربعين وسبعمائة وهى السنة التى توفى فيها المؤلف، فلعله كان يتناول الكتاب بالتنقيح والتهذيب وأفحم هذه الترجمة بأخرة.
ولقد صدّر المؤلف كتابه بمقدمة فى جغرافية إقليم قوص ومحاسنه وخصائص مدنه، ويقول جرجى زيدان
(1) إنه استعان فى ذلك بكتاب «المقال المخصوص فى مدح مدينة قوص
(2)» لمحمد بن أفضل الدّين القدسىّ المخزومىّ القوصىّ.
ولكن المؤلف يؤكد لنا فى مقدمة الطالع
(3) أنه مبتكر لهذا العمل لم يسبق إليه، وإن كان قد سبقه مؤرخوهن منهم ابن يونس الحافظ أبو سعيد عبد الرحمن بن أحمد الصدفىّ المتوفى سنة 347 هـ، والإدريسىّ محمد بن عبد العزيز المتوفى سنة 649 هـ
(4)، وأكبر الظن أن الكمال لم يطلع على ما كتبه هؤلاء المؤرخون.
وقد اختلف فى اسم الكتاب فقيل: «الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد» وقيل «الجامع لأسماء»، وقيل «الطالع السعيد لأسماء نجباء الصعيد»، وقد انفردت النسخة التيمورية بقولها «الجامع أسماء الفضلاء والرواة بأعلى الصعيد».
وقد اخترنا التسمية الأولى لأنها الواردة فى نسختنا الخطية.
والكتاب يعد سجلا حافلا لتاريخنا الفكرى، وبعض تراجمه تمتاز بالأصالة فلا توجد فى غيره، وحسبك أنه كان المصدر للحافظ ابن حجر فى «الدرر» والصفدىّ فى «الوافى» وفى «النكت» وابن كثير فى «البداية والنهاية» والتاج السبكىّ فى «الطبقات الكبرى» والمقريزىّ فى «السلوك» وفى «الخطط» وابن تغرى بردى فى «النجوم» وابن دقماق فى «الانتصار» والسيوطىّ فى «حسن المحاضرة».
نسخ الطالع:لأهمية هذا الكتاب قام بتحقيقه سنة 1914 م الأستاذ أمين عبد العزيز على أربع نسخ خطية، وقال وصفا لهذه النسخ:
--------------------------------------------
রবিউল আউয়াল মাসের চতুর্থ জুমুআ’র রাত এবং ৭৪৮ হিজরির শুক্রবার সকালে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এটি সেই বছর, যে বছর লেখক মৃত্যুবরণ করেন। সম্ভবত তিনি শেষ সময় পর্যন্ত বইটি সংশোধন ও পরিমার্জন করছিলেন এবং শেষ দিকে এই জীবনীটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
লেখক তাঁর বইয়ের শুরুতে কুস অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থা, এর সৌন্দর্য এবং শহরগুলোর বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি ভূমিকা প্রদান করেছেন। জুরজি জায়দান
(১) বলেন যে, তিনি এই বিষয়ে মুহাম্মদ ইবন আফদালুদ্দিন আল-কুদ্সি আল-মাখজুমি আল-কুসির ‘আল-মাকাল আল-মাখসুস ফি মাদহি মাদিনাতি কুস’
(২) নামক গ্রন্থের সহায়তা নিয়েছেন।
কিন্তু লেখক ‘আত-তালে’
(৩) গ্রন্থের ভূমিকায় আমাদের নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এই কাজে নতুনত্বের প্রবর্তন করেছেন যা তাঁর পূর্বে আর কেউ করেনি। যদিও তাঁর পূর্বে ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে লিখেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজ আবু সাইদ আবদুর রহমান ইবন আহমদ আল-সালাফি (মৃত্যু ৩৪৭ হি) এবং ইদ্রিসি মুহাম্মদ ইবন আবদুল আজিজ (মৃত্যু ৬৪৯ হি)
(৪)। তবে প্রবল ধারণা এই যে, আল-কামাল এই ঐতিহাসিকদের লেখা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
বইটির নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন: ‘আত-তালেউস সায়িদ আল-জামেউ আসমাআ নুজাবাইস সায়িদ’, কেউ বলেছেন: ‘আল-জামেউ লি-আসমা’, আবার কেউ বলেছেন: ‘আত-তালেউস সায়িদ লি-আসমাআই নুজাবাইস সায়িদ’। তৈমুরিয়া পাণ্ডুলিপিতে এককভাবে এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে: ‘আল-জামেউ আসমাআল ফুদলা ওয়ার রুওয়াত বি-আ’লাস সায়িদ’।
আমরা প্রথম নামটি বেছে নিয়েছি কারণ আমাদের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে সেটিই বর্ণিত হয়েছে।
বইটি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের একটি সমৃদ্ধ দলিল হিসেবে বিবেচিত। এর কিছু জীবনী অত্যন্ত মৌলিক যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। আপনার জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এটি হাফিজ ইবন হাজারের ‘আদ-দুরার’, আস-সাফাদির ‘আল-ওয়াফি’ ও ‘আন-নুকাত’, ইবন কাসিরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’, তাজ আস-সুবকির ‘আত-তাবাকাত আল-কুবরা’, আল-মাকরিজির ‘আস-সুলুক’ ও ‘আল-খিতাত’, ইবন তাগরি বির্দির ‘আন-নুজুম’, ইবন দুকমাকের ‘আল-ইন্তিসার’ এবং আস-সুয়ুতির ‘হুসনুল মুহাদারা’ গ্রন্থের মূল উৎস ছিল।
আত-তালে’-এর পাণ্ডুলিপিসমূহ:এই বইটির গুরুত্বের কারণে ১৯১৪ সালে উস্তাদ আমিন আবদুল আজিজ চারটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এটি সম্পাদনা করেন এবং এই পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
الأولى: انتسختها من دار الكتب من النسخة المقيدة برقم ع 7487 المخطوطة سنة 1263 هـ وأشير إليها بحرف ا.
الثانية: النسخة المحفوظة بخزانة كتب الأزهر العمومية وأشير إليها بحرف ب.
الثالثة: النسخة المحفوظة بخزانة كتب أحمد زكى المخطوطة سنة 1304 هـ وأشير إليها بحرف ج.
الرابعة: النسخة المحفوظة بخزانة كتب أحمد تيمور المخطوطة سنة 880 هـ المقروء أصلها المنسوخ منه على المؤلف، بسماع شيخه أثير الدّين أبى حيّان الأندلسىّ وأشير إليها بحرف د.
وسنبقى رموز هذه النسخ كما وردت فى الطبعة السابقة، وأحب أن أشير هنا إلى أنى لم أجعل رسالتى نقد هذه الطبعة أو تجريحها، وقد أشرت إليها بحرف (ط)، ولقد عثرنا على نسختين جديدتين، هما النسخة (س) التى اتخذناها أصلا، والنسخة (ز).
أما الأولى فهى خاصة بخزانتنا، وقعت لنا بالشراء من السيد حسين محمود حجاج الورّاق المعروف بالقاهرة، الذى تدين له خزانتى بالفضل بما تضم من نفائس المطبوعات وذخائر المخطوطات
(1).
تقع هذه النسخة فى 181 ورقة من الحجم الكبير 29/ 19 سم، ومسطرتها 24/ 14 سم، وعدد سطورها 25 سطرا بالخط النسخ الواضح، وهى فى غاية الضبط والإتقان، وتنتسب إلى أم أصيلة تختلف عن النسخ السابقة؛ لذا لم نتردد فى اتخاذها أصلا.
أما نسخة (ز) فهى إعارة من الأستاذ خير الدّين الزركلى صاحب «الأعلام» وتقع فى 116 ورقة من الحجم المتوسط 24/ 15 سم، ومسطرتها 14/ 5 ر 9 سم وعدد سطورها 21 سطرا، وهى رديئة الخط كثيرة الخروم والسقطات، وتنقص من أولها ومن آخرها وفى ثناياها.
وهى أقدم نسخا وتاريخا من (س)، وقد جاء فى الصفحة الأخيرة: «كان ذلك فى الخامس والعشرين من صفر سنة إحدى وأربعين ومائة وألف» فاعتقد الأستاذ الزركلى أن هذا تاريخ نسخها، وذكر ذلك فى ثبت مراجعه بالجزء العاشر من «الأعلام»، ولكن بعد دراستنا
--------------------------------------------
প্রথমটি: আমি এটি দারুল কুতুবের সেই পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছি যা ৭৪৮৭ নম্বরে নিবন্ধিত এবং যা ১২৬৩ হিজরিতে লিখিত হয়েছিল; একে 'আলিফ' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
দ্বিতীয়টি: আল-আজহারের সাধারণ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি; একে 'বা' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
তৃতীয়টি: আহমদ জাকীর গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি যা ১৩০৪ হিজরিতে লিখিত হয়েছিল; একে 'জীম' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
চতুর্থটি: আহমদ তায়মুরের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি যা ৮৮০ হিজরিতে লিখিত হয়েছিল। এর মূল পাণ্ডুলিপিটি লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং তাঁর শায়খ আসীরুদ্দীন আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসী তা শ্রবণ করেছিলেন; একে 'দাল' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমরা এই পাণ্ডুলিপিগুলোর সংকেত চিহ্নগুলো পূর্ববর্তী সংস্করণে যেভাবে ছিল তেমনই বহাল রাখব। আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই যে, আমি আমার এই গবেষণাপত্রটিকে পূর্ববর্তী সংস্করণের সমালোচনা বা ত্রুটি অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তৈরি করিনি, এবং একে 'ত্বা' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি। আমরা আরও দুটি নতুন পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি, সেগুলো হলো পাণ্ডুলিপি 'সীন' যা আমরা মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং পাণ্ডুলিপি 'যা'।
প্রথমটি আমাদের নিজস্ব গ্রন্থাগারের বিশেষ সংগ্রহভুক্ত। এটি আমরা কায়রোর সুপরিচিত পাণ্ডুলিপি বিক্রেতা জনাব হুসাইন মাহমুদ হাজ্জাজ আল-ওয়াররাকের কাছ থেকে ক্রয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছি, যাঁর কাছে আমার গ্রন্থাগারটি এর মূল্যবান মুদ্রিত গ্রন্থ এবং দুর্লভ পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডারের জন্য ঋণী
(১)।
এই পাণ্ডুলিপিটি ২৯/১৯ সেন্টিমিটার বড় আকারের ১৮১টি পত্রের সমন্বয়ে গঠিত। এর লিখিত অংশের পরিমাপ ২৪/১৪ সেন্টিমিটার এবং প্রতি পৃষ্ঠায় সুস্পষ্ট নাসখ লিপিতে ২৫টি করে সারি রয়েছে। এটি অত্যন্ত নিখুঁত ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি এমন একটি মূল উৎসের সাথে সম্পর্কিত যা পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে ভিন্ন; তাই একে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে আমরা কোনো দ্বিধা করিনি।
আর 'যা' পাণ্ডুলিপিটি হলো 'আল-আলাম' গ্রন্থের প্রণেতা উস্তাদ খাইরুদ্দীন আয-যিরিকলীর কাছ থেকে ধার নেওয়া। এটি ২৪/১৫ সেন্টিমিটার মাঝারি আকারের ১১৬টি পত্রের সমন্বয়ে গঠিত। এর লিখিত অংশের পরিমাপ ১৪/৯.৫ সেন্টিমিটার এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২১টি করে সারি রয়েছে। এর হস্তাক্ষর অত্যন্ত নিম্নমানের, এতে প্রচুর ছিদ্র ও বিচ্যুতি রয়েছে এবং এর শুরু, শেষ ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানে অসম্পূর্ণতা বিদ্যমান।
এটি অনুলিপির সময়কাল ও ইতিহাসের দিক থেকে 'সীন' পাণ্ডুলিপির চেয়েও প্রাচীন। এর শেষ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে: "এটি ১১৪১ হিজরি সনের ২৫শে সফর সম্পন্ন হয়েছে।" উস্তাদ যিরিকলী মনে করেছেন যে এটিই এর অনুলিপি তৈরির তারিখ এবং তিনি 'আল-আলাম' গ্রন্থের দশম খণ্ডের তথ্যসূত্র তালিকায় এটি উল্লেখ করেছেন। তবে আমাদের গবেষণার পর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
لهذه الصفحة، وجدنا أنها ليست من «الطالع» ولا تمت إليه بصلة، وإنما هى ورقة ملحقة بالنسخة من كتاب آخر.
وأكبر الظن أن هذه النسخة (ز) «مختصر» للطالع وليست الطالع نفسه؛ لأن الناسخ أسقط منها كثيرا من التراجم، كما كان يختصر الترجمة فى سطور.
عملنا فى الكتاب:جعلنا النسخة (س) أصلا، واعتمدنا معها رواية التيمورية تؤيدها، نظرا لأصالتها وقدمها، فإذا تخالفا اخترنا الرواية التى تتناسب مع النص، وكثيرا ما كنا نغفل الروايتين معا لنختار رواية نسخة أخرى غير (س) والتيمورية، لأنها بعد الدراسة هى التى تناسب النص مع الإشارة إلى ذلك، وقد وضعنا بين معكوفين كل زيادة استفدناها من هذه النسخ.
وفى القسم الجغرافى من الطالع قمنا بتعريف القارئ بما كتبه الجغرافيون العرب عن هذه البلدان منذ القرن الرابع الهجرى حتى اليوم، وفى القسم التاريخى قمنا بضبط أعلامه والتخريج لها، وقد كنت أزمع القيام بعمل فهارس تفصيلية لأعلامه ومدنه وبقاعه وما ورد فيه من شعر، لولا أنى وجدت الكتاب قد تضخم حجمه، فأرجأت ذلك إلى ملحق يتبعه أو إلى الطبعة القادمة، إن شاء الله وكان فى الأجل بقية، وقد عنينا بإصلاح ما فى الأصول الخطية بله المطبوعة من تحريف، تقدم هنا نماذج منه:
(1) فى ترجمة: «أحمد بن أبى عثمان الأسوانىّ»
(1):
ورد فى الأصول: «قرأ القرآن الكريم على علىّ بن عبد الله بن عبد الواحد» وهو تحريف صوابه «أحمد بن عبيد الله بن عبد الواحد».
(2) فى ترجمة: «أحمد بن محمد بن هارون الأسوانىّ»
(2):
ورد: «سعيد بن هلال» والصواب «بن أبى هلال».
(3) فى ترجمة: «جعفر بن محمد الإدريسىّ»
(3):
ورد: «سمع من أبى بكر بن باقا، وأبى الحسن علىّ بن الحميرىّ» والصواب:
«بن الجمّيزى».
(4) فى ترجمة: «الحسن بن علىّ القوصىّ»
(4):
--------------------------------------------
এই পৃষ্ঠাটির ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পেয়েছি যে এটি «আত-তালি'» এর অংশ নয় এবং এর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এটি পাণ্ডুলিপির সাথে যুক্ত অন্য একটি গ্রন্থের একটি পাতা।
প্রবল ধারণা এই যে, এই পাণ্ডুলিপিটি (যাই) হচ্ছে «আত-তালি'» এর একটি «সংক্ষিপ্তসার», মূল আত-তালি' নয়; কারণ অনুলিপিকারক এতে অনেক জীবনী বাদ দিয়েছেন, এবং জীবনীগুলোকে মাত্র কয়েক লাইনে সংক্ষিপ্ত করেছেন।
গ্রন্থে আমাদের কর্মপদ্ধতি:আমরা পাণ্ডুলিপি (সীন)-কে মূল হিসেবে নির্ধারণ করেছি এবং এর সাথে তাইমুরিয়া বর্ণনাকে সমর্থনকারী হিসেবে গ্রহণ করেছি, এর মৌলিকতা ও প্রাচীনত্বের কথা বিবেচনা করে। যদি এই দুই বর্ণনার মধ্যে অমিল দেখা দেয়, তবে আমরা সেই বর্ণনাটি বেছে নিয়েছি যা পাঠ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে আমরা উভয় বর্ণনাকে উপেক্ষা করে (সীন) ও তাইমুরিয়া ব্যতীত অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির বর্ণনা গ্রহণ করেছি, কারণ পর্যালোচনার পর দেখা গেছে সেটিই পাঠ্যের সাথে অধিকতর মানানসই; এবং আমরা তা উল্লেখ করে দিয়েছি। এই পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত অংশসমূহ আমরা থার্ড ব্র্যাকেট বা তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে স্থাপন করেছি।
আর আত-তালি'-এর ভৌগোলিক অংশে আমরা হিজরি চতুর্থ শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত এই দেশগুলো সম্পর্কে আরব ভূগোলবিদরা যা লিখেছেন সে সম্পর্কে পাঠককে ধারণা দিয়েছি। ঐতিহাসিক অংশে আমরা এতে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের নাম সঠিকভাবে নির্ধারণ করেছি এবং সেগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি। আমি এর ব্যক্তিবর্গ, শহর, স্থান এবং এতে আসা কবিতাগুলোর বিস্তারিত নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র তৈরি করার সংকল্প করেছিলাম; কিন্তু দেখলাম যে বইটির কলেবর অনেক বড় হয়ে গেছে, তাই আমি এটি একটি পরিশিষ্ট আকারে পরবর্তীতে যোগ করার অথবা আগামী সংস্করণের জন্য স্থগিত রেখেছি, যদি আল্লাহ চান এবং আয়ু অবশিষ্ট থাকে। পাণ্ডুলিপিগুলোতে এবং মুদ্রিত কপিগুলোতে যে সকল বিকৃতি ছিল, তা সংশোধনের ব্যাপারে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। নিচে তার কিছু নমুনা পেশ করা হলো:
(১) «আহমদ বিন আবি উসমান আল-আসওয়ানি» এর জীবনীতে
(১):
মূল কপিগুলোতে এসেছে: «আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহিদ-এর নিকট কুরআন মাজীদ পাঠ করেছেন», যা একটি বিকৃতি; এর সঠিক রূপ হবে «আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহিদ»।
(২) «আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হারুন আল-আসওয়ানি» এর জীবনীতে
(২):
এসেছে: «সাঈদ বিন হিলাল» এবং সঠিক হলো «বিন আবি হিলাল»।
(৩) «জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ইদরিসি» এর জীবনীতে
(৩):
এসেছে: «আবু বকর বিন বাকা এবং আবুল হাসান আলী বিন আল-হিমইয়ারি থেকে শ্রবণ করেছেন» এবং সঠিক হলো:
«বিন আল-জুম্মাইজি»।
(৪) «আল-হাসান বিন আলী আল-কুসি» এর জীবনীতে
(৪):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ورد: «سمع الحديث من أبى الحامض» والصواب «ابن الحامض».
(5) فى ترجمة: «رقيّة بنت محمد بن علىّ القشيرىّ»
(1):
ورد: «أخبرنا أبو جعفر فاروق بن عبد الكريم» والصواب: «بن عبد الكبير».
(6) فى ترجمة: «ابن الحاجب عثمان بن عمر»
(2):
ورد: «الدولى» والصواب «الدّوينىّ».
كما ورد فى هذه الترجمة أيضا:
«أخبرنا علىّ بن محمد بن محمد الحرّانىّ» والصواب: «علىّ بن عمر بن محمد الحرّانىّ».
(7) فى ترجمة: «أبى بكر محمد بن علىّ بن أحمد الأدفوىّ»
(3):
ورد فى الأصول: «روى النحو عن أحمد بن العبّاس المصرىّ» والصواب:
«العبّاس بن أحمد».
وورد: «روى عنه القراءة الحسين بن النعمان» والصواب: «محمد بن الحسين ابن النعمان».
وورد: «وروى عنه الحسن بن سهل شيخ الدّانى» والصواب: «الحسن ابن سليمان».
وورد: «وذكره أبو إسحاق القراب» والصواب «أبو يعقوب إسحاق القراب».
وورد: «رأيت شيخنا تقىّ الدّين أحمد المقرى الشهير بالصائغ» والصواب: «تقىّ الدّين محمد بن أحمد».
(8) فى ترجمة: «ابن دقيق العيد محمد بن علىّ بن وهب»
(4):
ورد فى الأصول: «وأبى الحسن محمد بن الأنجب أبى عبد الله بن عبد الرّحمن الصوفىّ البغدادى البغال» والصواب: «الأنجب بن أبى عبد الله بن
--------------------------------------------
এসেছে: "তিনি আবু আল-হামিদ থেকে হাদিস শুনেছেন" এবং সঠিক হলো "ইবনুল হামিদ"।
(৫) "রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মদ বিন আলী আল-কুশায়রী" এর জীবনীতে:
(১):
এসেছে: "আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর ফারুক বিন আব্দুল কারিম" এবং সঠিক হলো: "বিন আব্দুল কবির"।
(৬) "ইবনুল হাজিব উসমান বিন উমর" এর জীবনীতে:
(২):
এসেছে: "আদ-দুওয়ালী" এবং সঠিক হলো "আদ-দুওয়াইনী"।
এই জীবনীতে আরও এসেছে:
"আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-হাররানী" এবং সঠিক হলো: "আলী বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-হাররানী"।
(৭) "আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ আল-আদফুওয়ী" এর জীবনীতে:
(৩):
মূল পাঠে এসেছে: "তিনি আহমদ বিন আব্বাস আল-মিসরী থেকে নাহু (ব্যাকরণ) বর্ণনা করেছেন" এবং সঠিক হলো:
"আব্বাস বিন আহমদ"।
এবং এসেছে: "তার থেকে হুসাইন বিন আল-নুমান কিরাত বর্ণনা করেছেন" এবং সঠিক হলো: "মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন ইবনুন নুমান"।
এবং এসেছে: "এবং তার থেকে আদ-দানীর উস্তাদ হাসান বিন সাহল বর্ণনা করেছেন" এবং সঠিক হলো: "আল-হাসান ইবনে সুলাইমান"।
এবং এসেছে: "আবু ইসহাক আল-কাররাব তার কথা উল্লেখ করেছেন" এবং সঠিক হলো "আবু ইয়াকুব ইসহাক আল-কাররাব"।
এবং এসেছে: "আমি আমাদের শায়খ আস-সায়িগ নামে পরিচিত তকিউদ্দীন আহমদ আল-মুকরীকে দেখেছি" এবং সঠিক হলো: "তকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ"।
(৮) "ইবনে দাকীকুল ঈদ মুহাম্মদ বিন আলী বিন ওয়াহাব" এর জীবনীতে:
(৪):
মূল পাঠে এসেছে: "এবং আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-আনজাব আবু আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আস-সুফী আল-বাগদাদী আল-বাগগাল" এবং সঠিক হলো: "আল-আনজাব বিন আবু আব্দুল্লাহ বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
عبد الرّحمن الصوفىّ البغدادىّ النعّال».
وورد: «حدثنا أبو عبد الله الحسن بن يحيى بن عبّاس القطّان» والصواب:
«الحسين بن يحيى بن عيّاش القطّان».
وورد: «وحضر عند القاضى شمس الدّين محمود الأصفهانىّ» والصواب: «محمد ابن محمود».
(9) فى ترجمة: «محمد بن المفضّل الأسوانىّ»
(1):
ورد: «وأجاز للسيّد الشريف أحمد بن الحسين» والصواب: «أحمد بن محمد الحسينىّ».
(10) فى ترجمة: «محمد بن هلال الشّبّى الأسوانىّ»
(2):
ورد فى الأصول أن وفاته كانت سنة «اثنين وثمانين وأربعمائة» والصواب: «وثلاثمائة».
(11) فى ترجمة: «محمد بن يحيى بن مهدى»
(3).
ورد: «ولى قضاء مصر ليحيى بن عبد الله بن مكرم» والصواب: «لأبى يحيى عبد الله».
(12) فى ترجمة: «موسى بن علىّ بن وهب»
(4).
ورد: «أخبرنا أبو عبد الله بن أبى الفضل» والصواب: «بن الفضل».
وورد: «أخبرنا محمد بن عمرو بن البحيرى- أو البخيرى-» والصواب:
«بن البحترىّ».
وورد: «يونس بن محمد المؤذن» والصواب: «المؤدب».
(13) فى ترجمة: «ناشى بن عبد الله القوصى»
(5).
ورد: «قرأ القراءات على أبى عبد الله بن أبى الفضل» والصواب: «قرأ القراءات على أبى محمد عبد الله»، وقد ترجم له فى الطالع.
(14) فى ترجمة: «نصر الله بن بصاقة»
(6).
--------------------------------------------
আব্দুর রহমান আস-সুফি আল-বাগদাদি আন-নাল।»
এবং উল্লেখ হয়েছে: «আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাস আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন» আর সঠিক হলো:
«আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়াশ আল-কাত্তান»।
এবং উল্লেখ হয়েছে: «তিনি কাজি শামসুদ্দিন মাহমুদ আল-আসফাহানির নিকট উপস্থিত ছিলেন» আর সঠিক হলো: «মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ»।
(৯) «মুহাম্মদ ইবনে আল-মুফাদদাল আল-আসোয়ানি»-এর জীবনীতে
(১):
উল্লেখ হয়েছে: «তিনি সাইয়্যেদ শরিফ আহমদ ইবনে আল-হুসাইনকে ইজাজত দিয়েছেন» আর সঠিক হলো: «আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হুসাইনি»।
(১০) «মুহাম্মদ ইবনে হিলাল আশ-শাব্বি আল-আসোয়ানি»-এর জীবনীতে
(২):
মূল পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ হয়েছে যে, তাঁর মৃত্যু ছিল «চারশ বিরাশি» হিজরি সনে আর সঠিক হলো: «তিনশ»।
(১১) «মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মাহদি»-এর জীবনীতে
(৩)।
উল্লেখ হয়েছে: «তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাকরামের প্রতিনিধি হিসেবে মিশরের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন» আর সঠিক হলো: «আবু ইয়াহইয়া আব্দুল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে»।
(১২) «মুসা ইবনে আলি ইবনে ওয়াহাব»-এর জীবনীতে
(৪)।
উল্লেখ হয়েছে: «আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আল-ফজল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন» আর সঠিক হলো: «ইবনুল ফজল»।
এবং উল্লেখ হয়েছে: «মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আল-বুহাইরি—অথবা আল-বখাইরি—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন» আর সঠিক হলো:
«ইবনুল বুহতারি»।
এবং উল্লেখ হয়েছে: «ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াযযিন» আর সঠিক হলো: «আল-মুয়াদ্দিব»।
(১৩) «নাশি ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুসি»-এর জীবনীতে
(৫)।
উল্লেখ হয়েছে: «তিনি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আল-ফজলের নিকট কিরাতসমূহ পড়েছেন» আর সঠিক হলো: «তিনি আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর নিকট কিরাতসমূহ পড়েছেন», আর আত-তালি' গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে।
(১৪) «নাসরুল্লাহ ইবনে বাসাকাহ»-এর জীবনীতে
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ورد: «وأجاز له أبو القاسم يحيى بن سعيد بن يونس» والصواب: «يحيى ابن أسعد بن بوش».
(15) فى ترجمة: «يونس بن عبد المجيد الأرمنتىّ»
(1)ورد: «أخبرنا الحافظ أبو الحسن علىّ بن يحيى القرشىّ» والصواب:
«يحيى بن علىّ».
(16) فى ترجمة: «أبى بكر بن محمد الأسنائى
(2)»
ورد: «أبو بكر بن محمد بن إبراهيم القزوينىّ» والصواب «أبو بكر بن محمد ابن عبد الله القزوينىّ».
هذه نماذج فقط مما عانيته من تحريف فى الأصول الخطية، وبعون من الله أصلحنا ما فسد، وأقمنا ما انحرف، وقد دعمنا رأينا بالأسانيد والحجّة، نشدانا منّا للحق وحده.
وفاة المؤلف:عاش الكمال فى القاهرة وقد نذر نفسه للعلم واتخذ المدرسة الصالحيّة سكنا، يتردد على الأشياخ، ويتزود من مناهل العرفان، قال البدر النابلسىّ: «كان عالما فاضلا متقلّلا من الدنيا».
وقال الأسنوىّ فى الطبقات:
«كان مشاركا فى علوم متعددة، أديبا شاعرا ذكيا كريما، طارحا للتكلّف ذا مروءة».
توفّى بعد عودته من الحج عام 748 هـ كما فى «الدرر»
(3)، وأكده الأسنوىّ فى «الطبقات» فقال
(4): «مات قبل الطاعون الكبير الواقع سنة 749 هـ»، وهو ما ذكره أبو الفلاح
--------------------------------------------
এসেছে: «এবং তাকে অনুমতি দিয়েছেন আবুল কাসেম ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বিন ইউনুস» আর সঠিক হলো: «ইয়াহইয়া ইবনে আসআদ ইবনে বুশ»।
(১৫) «ইউনুস বিন আব্দুল মাজীদ আল-আরমানতি»-এর জীবনীতে:
(১)এসেছে: «হাফেজ আবুল হাসান আলী বিন ইয়াহইয়া আল-কুরাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন» আর সঠিক হলো:
«ইয়াহইয়া বিন আলী»।
(১৬) «আবু বকর বিন মুহাম্মদ আল-আসনাই»-এর জীবনীতে:
(২)এসেছে: «আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-কাযভিনি» আর সঠিক হলো «আবু বকর বিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাযভিনি»।
এগুলো পাণ্ডুলিপিসমূহে বিদ্যমান বিকৃতির কেবল কিছু নমুনা যা আমাকে ভোগ করতে হয়েছে। আল্লাহর সাহায্যে আমরা যা নষ্ট হয়েছিল তা সংশোধন করেছি এবং যা বিচ্যুত হয়েছিল তা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা আমাদের অভিমতকে সনদ ও প্রমাণের মাধ্যমে সমর্থন যুগিয়েছি, একমাত্র সত্যের অনুসন্ধানে।
লেখকের মৃত্যু:আল-কামাল কায়রোতে বসবাস করতেন এবং নিজেকে ইলমের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি সালিহিয়া মাদরাসাকে আবাসন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, শাইখদের নিকট যাতায়াত করতেন এবং জ্ঞানের উৎসধারা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করতেন। আল-বদর আল-নাবুলুসি বলেছেন: «তিনি ছিলেন একজন বিদ্বান, ফাজিল এবং দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি»।
আর আল-আসনাবি 'আত-তবাকাত'-এ বলেছেন:
«তিনি বহুমুখী জ্ঞানে পারদর্শী, সাহিত্যিক, কবি, মেধাবী ও উদার ছিলেন। তিনি লৌকিকতা বর্জনকারী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন»।
তিনি ৭৪৮ হিজরিতে হজ থেকে ফেরার পর মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি 'আদ-দুরার'-এ এসেছে। আল-আসনাবি 'আত-তবাকাত'-এ এটি নিশ্চিত করে বলেছেন: «তিনি ৭৪৯ হিজরিতে ঘটা মহামারী প্লেগের পূর্বে মারা যান», আর এটিই আবু আল-ফালাহ উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
فى «الشذرات
(1)» والشوكانى فى «البدر الطالع
(2)» وارتضاه زيدان فى «تاريخ آداب اللغة
(3)» والزركلى فى «الأعلام
(4)» وكحالة فى «معجم المؤلفين»
(5) وهو الوارد فى فهرس الدار
(6).
وقال المقريزىّ فى «السلوك
(7)» وابن تغرى بردى فى «النجوم
(8)» والسيوطى فى «حسن المحاضرة
(9)» وحاجى خليفة فى «كشف الظنون
(10)»:
«749 هـ» وارتضاه على مبارك فى «الخطط
(11)» والبابانى فى «هدية العارفين
(12)».
رحم الله الكمال ورحم شيخه أبا حيّان، فبفضلهما كان هذا الكتاب الذى أقدمه للدّارسين، بعد أن شغلت نفسى به اثنى عشر عاما، أضعت فيها الكثير من حق النفس والأهل والولد، إيمانا بتراثنا العربى وحبّا فى إحيائه، على نحو سليم، ومنهج قويم.
ولا يسعنى بعد هذا السرى فى ليل طويل وقد انبلج الصبح، إلّا أن أوجه شكرى للعاملين بمطابع سجل العرب، لما عانوه من متاعب ومشاق فى سبيل إخراج الكتاب على هذه الصورة، والله أسأل أن يجعل عملنا هذا خالصا لوجهه، وأن يرزقنا الأيد والتوفيق، وأن يسدد منا الخطا ويحملنا على الطريق.
سعد محمد حسن
من علماء الأزهر
والمدرس الأول للغة العربية وآدابها بوزارة التربية والتعليم
القاهرة فى/ جمادى الآخرة 1386 هـ أكتوبر 1966 م
--------------------------------------------
«আশ-শাযারাত»
(১)-এ এবং শাওকানী «আল-বদরুত তালি»
(২)-এ উল্লেখ করেছেন, যা যায়দান «তারীখু আদাবিল লুগাহ»
(৩)-এ এবং যিরিকলী «আল-আ'লাম»
(৪)-এ সমর্থন করেছেন, আর কাহহালা «মু'জামুল মুয়াল্লিফীন»
(৫)-এ এটি উল্লেখ করেছেন; আর এটিই দারুল কুতুবের সূচিপত্রে
(৬) বর্ণিত হয়েছে।
মাকরিজী «আস-সুলুক»
(৭)-এ, ইবনে তাগরী বারদী «আন-নুজুম»
(৮)-এ, সুয়ূতী «হুসনুল মুহাদ্বারা»
(৯)-এ এবং হাজী খলীফা «কাশফুয যুনুন»
(১০)-এ বলেছেন:
«৭৪৯ হিজরি» এবং আলী মুবারক «আল-খিতাত»
(১১)-এ ও বাবানী «হাদিয়্যাতুল আরিফীন»
(১২)-এ এটি গ্রহণ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা আল-কামালকে রহম করুন এবং রহম করুন তাঁর শায়খ আবু হাইয়্যানকে; তাঁদের কল্যাণে এই গ্রন্থটি গবেষকদের নিকট উপস্থাপন করা সম্ভব হলো, যার পেছনে আমি দীর্ঘ বারোটি বছর নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমি আমার নিজের, পরিবার ও সন্তানের অনেক অধিকার নষ্ট করেছি—আমাদের আরবি ঐতিহ্যের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং একে সঠিক পদ্ধতিতে ও সুদৃঢ় পন্থায় পুনরুজ্জীবিত করার ভালোবাসার টানে।
দীর্ঘ রজনীর পথচলা শেষে প্রভাতের আলো উদ্ভাসিত হওয়ার পর, এখন 'সিজিলুল আরব' ছাপাখানার কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই; গ্রন্থটি এই অবয়বে প্রকাশের পথে তারা যে কষ্ট ও শ্রম স্বীকার করেছেন তার জন্য। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আমাদের শক্তি ও তাওফিক দান করেন, আমাদের পদক্ষেপসমূহ সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আমাদের সত্য পথে পরিচালিত করেন।
সা'দ মুহাম্মদ হাসান
আল-আজহারের আলেমগণের অন্তর্ভুক্ত
এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্যের প্রধান শিক্ষক
কায়রো / জুমাদাল আখিরাহ ১৩৮৬ হিজরি, অক্টোবর ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: -)
الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الطالع السعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد
المؤلف: أبو الفضل كمال الدين جعفر بن ثعلب الإدفوي الشافعي (ت 748 هـ)
تحقيق: سعد محمد حسن
مراجعة: طه الحاجري
الناشر: الدار المصرية للتأليف والنشر
عام النشر: 1386 هـ - 1966 م
عدد الصفحات: 806
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 جُمادَى الآخرة 1444
আত্ব-ত্বালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবাইস সাঈদ বিভাগ: জীবনী ও স্তর বিন্যাস
গ্রন্থ: আত্ব-ত্বালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবাইস সাঈদ
লেখক: আবুল ফজল কামালুদ্দিন জাফর বিন ছালাব আল-আদফুওয়ী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)
সম্পাদনা: সাদ মুহাম্মদ হাসান
পর্যবেক্ষণ: তাহা আল-হাজিরী
প্রকাশক: আদ-দারুল মিসরিয়্যাহ লিত-তালিফ ওয়ান-নাশর
প্রকাশকাল: ১৩৮৬ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله محيى الرّمم البالية، وناشر ما انطوى فى الأيّام الخالية، أحمده على نعمه المترادفة المتوالية، وأشكره أن جعلنى من حملة العلم، وحملته هم أهل الرّتب العاليه، وأصلّى على نبيّه المبعوث رحمة للعالمين، وحجّة للعاملين، صلاة [متصلة] دائمة إلى يوم الدّين، وعلى آله وأصحابه الّذين نقلوا طريقته إلينا، وحفظوا شريعته علينا، فهم فى الآخرة من الفائزين.
وبعد: فإنّ التاريخ فنّ يحتاج إليه، وتشدّ يد الضّنانة
(1) عليه؛ إذ [به] يعرف الخلف أحوال السلف، ويتميّز منهم المستحقّ التّنقير
(2)، ممّن هو أهون
(3) من النّقير وأحقر من الفتيل، ومن وسم منهم بالجرح ومن رسم بالتّعديل، وما سلكوا من الطرائق، واتّصفوا به من الخلائق، وأبرزوا من الحقائق للخلائق، وهو أيضا من أقوى الأسباب، فى حفظ الأنساب أن تنساب، وقد وضع فيه السادة الفضلاء، والأئمة العلماء، كتبا تكاثر نجوم السماء، ثمّ منهم من رتّب على السنين ومنهم من رتّب على الأسماء، ليكون إسناده أسمى، ثمّ منهم من خصّ بعض البلاد، ومنهم من عمّ كلّ قطر وواد.
ولمّا كان صعيد «قوص» الموضع الذى منه نشأتى، والمكان الذى إليه نسبتى،
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জীর্ণ অস্থিসমূহকে পুনর্জীবিত করেন এবং বিগত দিনগুলোতে যা বিলীন হয়ে গিয়েছিল তাকে পুনরুত্থিত করেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর ধারাবাহিক ও অবিরাম নিয়ামতের জন্য, এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করি যে তিনি আমাকে জ্ঞান বহনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর জ্ঞান বহনকারীরাই হলেন উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আমি দরুদ পাঠ করি তাঁর নবীর প্রতি, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ এবং আমলকারীদের জন্য প্রমাণস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে; এমন দরুদ যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ও স্থায়ী হয়। আরও দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের প্রতি, যাঁরা আমাদের নিকট তাঁর আদর্শ পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমাদের জন্য তাঁর শরীয়তকে সংরক্ষণ করেছেন; ফলে তাঁরা পরকালে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর: নিশ্চয়ই ইতিহাস এমন এক বিদ্যা যার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং যার সংরক্ষণে অত্যন্ত যত্নবান হওয়া প্রয়োজন; কারণ এর মাধ্যমেই পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে। এর মাধ্যমেই তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিকে আলাদা করা যায় যিনি গভীর অনুসন্ধানের যোগ্য, আর তাকেও চেনা যায় যে অতি তুচ্ছ ও নগণ্য। এর দ্বারা আরও জানা যায় যে, তাঁদের মধ্যে কাদেরকে ত্রুটিযুক্ত করা হয়েছে এবং কাদেরকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাঁরা কোন্ পথে চলেছেন, কোন্ চরিত্রে গুণান্বিত ছিলেন এবং সৃষ্টির জন্য কী সত্য উন্মোচিত করেছেন তাও এর মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বংশপরম্পরা যেন হারিয়ে না যায়, তা সংরক্ষণের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যমও এটি। বিজ্ঞ মণীষীগণ এবং বিদগ্ধ ইমামগণ এই বিষয়ে আকাশের তারকারাজির ন্যায় অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ কালানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন, আবার কেউ কেউ নামের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছেন যাতে এর তথ্যসূত্র আরও উচ্চতর হয়। আবার কেউ কোনো বিশেষ ভূখণ্ডকে নির্দিষ্ট করেছেন, কেউবা প্রতিটি অঞ্চল ও উপত্যকাকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আর যেহেতু 'কূস' অঞ্চলটিই আমার বেড়ে ওঠার স্থান এবং যে জায়গার প্রতি আমার সম্বন্ধ নিহিত,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٤)
والمحلّة التى فيها عشّى الذى منه درجت، وخشّى
(1) الذى عنه خرجت، وأرضه الأرض التى هى أوّل أرض مسّ جلدى ترابها، ولذّ لطرفى آكامها وظرابها
(2)، وحلا لقلبى أرجاؤها ورحابها، والتى أمطر الرزق علىّ سحابها، ووضعت عنّى بها التمائم وأقمت بها إلى أن طار من رأسى غرابها
(3)، وهى التى فيها أقول
(4) [شوقا إليها هذه الأبيات]:
أحنّ إلى أرض الصّعيد وأهلها
(5) … ويزداد شوقى
(6) حين تبدو قبابها
وتذكرها فى ظلمة الليل مهجتى
… فتجرى دموعى إذ يزيد التهابها
وما صعبت يوما علىّ ملمّة
… وشاهدتها إلّا وهانت صعابها
بلاد بها كان الشباب مساعدى
… على نيل آمال عزيز طلابها
وقضّيت صفو العيش فى عرصاتها
… لذلك يحلو للفؤاد رحابها
مواطن أهلى ثمّ صحبى وجيرتى
… وأوّل أرض مسّ جلدى ترابها
فأحببت أن أحيا ما مات من علم علمائها، وأنشر ما انطوى من فضل فضلائها،
--------------------------------------------
এবং সেই জনপদ যাতে আমার শৈশবের বাসা ছিল যেখান থেকে আমি বেড়ে উঠেছি, আর আমার উৎস যেখান থেকে আমি নির্গত হয়েছি; আর এর মাটি হলো সেই মাটি যা সর্বপ্রথম আমার চর্ম স্পর্শ করেছে, এর টিলা ও ছোট পাহাড়গুলো আমার দৃষ্টির কাছে মনোরম ঠেকেছে, এবং এর দিগন্ত ও আঙিনা আমার হৃদয়ে মিষ্টতা ছড়িয়েছে। এটি সেই ভূমি যার মেঘমালা আমার উপর রিজিক বর্ষণ করেছে এবং সেখানেই আমার শৈশবের রক্ষাকবচসমূহ খোলা হয়েছিল, আর আমি সেখানে অবস্থান করেছি যতক্ষণ না আমার মাথার কাক উড়ে গেছে
(১) (অর্থাৎ চুল পেকে সাদা হয়েছে)। আর এটি সেই জায়গা যার সম্পর্কে আমি [তার প্রতি ব্যাকুল হয়ে এই পঙক্তিগুলো] বলছি:
আমি সাঈদ ভূমি ও তার অধিবাসীদের প্রতি ব্যাকুল হই
(৫) … আর যখন এর গম্বুজগুলো দৃশ্যমান হয় তখন আমার আকাঙ্ক্ষা
(৬) বেড়ে যায়
রাতের অন্ধকারে আমার প্রাণ তাকে স্মরণ করে
… ফলে আমার অশ্রু প্রবাহিত হয় যখন বিরহ-দহন বৃদ্ধি পায়
কোনোদিন আমার উপর কোনো বিপদ কঠিন হয়ে আসেনি
… এবং আমি একে প্রত্যক্ষ করেছি অথচ তার কাঠিন্য সহজ হয়ে যায়নি
এমন এক দেশ যেখানে যৌবন ছিল আমার সহায়ক
… সেই সব আশা অর্জনে যার অন্বেষণ ছিল দুষ্কর
আমি এর চত্বরগুলোতে জীবনের নির্মল সময় কাটিয়েছি
… তাই এর প্রশস্ত প্রাঙ্গণ হৃদয়ের কাছে অত্যন্ত প্রিয় লাগে
এটি আমার পরিবার, অতঃপর আমার বন্ধু ও প্রতিবেশীদের আবাসস্থল
… এবং প্রথম মাটি যা আমার চর্ম স্পর্শ করেছে
তাই আমি এর আলেমদের ইলমের যা কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেছে তা পুনর্জীবিত করতে এবং এর গুণীজনদের শ্রেষ্ঠত্বের যা কিছু সংকুচিত হয়ে গেছে তা প্রচার করতে চেয়েছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٥)
وأظهر ما خفى من نثر بلغائها، ودرس من نظم شعرائها، وأذكر ما نسى من مكارم كرمائها،/ وكرامة صلحائها؛ فالإنسان يكرم بكرامة أهله، كما يعظم بنبله وفضله.
وكان شيخى الأستاذ الحجّة البارع جامع المناقب والمآثر، والمحامد والمفاخر، ذخر الأوائل وشرف الأواخر، ذو العلوم الجمّة الفائقة، والآداب المنقّحة المحقّقة الرّائقه، والفضائل التى النفوس إليها شائقة وبها واثقه، أثير الدّين أبو حيّان
(1) محمد بن يوسف الأندلسىّ الغرناطىّ، أبقاه الله تعالى للعلوم الشرعية يبرزها ويظهرها، وللفنون الأدبيّة يناضل عنها
(2) بالأدلّة وينصرها، أشار علىّ أن أعمل تاريخا للصّعيد مرّة ومرّه، وراجعنى فى ذلك كرّة بعد كرّه، فرأيت امتثال إشارته علىّ متعيّنا حتما، والإعراض عن إجابته غرما لا غنما، فشرعت فى هذا التأليف مرتّبا له على الأسماء، ولم أجد من تقدّمنى فيه فأكون له تابعا، ولا من أسأله فأكون لما يورده جامعا، فأنا مبتكر
(3) لهذا العمل، ملجأ
(4) إلى الفتور والكسل، متحرّ إلى حصول الخلل، متصدّ لما أنا منه على وجل، لكنّى أبذل فيه جهدى، وأورد منه ما عندى، وأخصّ به «قوص» وما يضاف إليها من القرى والبلاد، وأقصره على أهلها ومن ولد بها، ومن أقام بها سنين حتى دفن بها ونسب
(5) إليها من العباد
(6)، أو تأهّل بها وله بها
--------------------------------------------
এবং আমি এর অলঙ্কারিকদের গদ্যের যা কিছু গোপন ছিল তা প্রকাশ করছি, এর কবিদের কাব্যের যা বিলুপ্ত হয়েছিল তা উদ্ধার করছি এবং এর উদার ব্যক্তিদের মহৎ গুণাবলি ও সৎকর্মশীলদের সম্মানের যা কিছু বিস্মৃত হয়েছিল তা স্মরণ করছি; কেননা মানুষ তার আপনজনদের সম্মানের দ্বারাই সম্মানিত হয়, যেমন সে তার মহানুভবতা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে মহিমান্বিত হয়।
আমার শাইখ, সুনিপুণ প্রমাণ পুরুষ উস্তাদ, যিনি সৎগুণাবলি ও কীর্তিগাথার সংকলক, প্রশংসনীয় কর্ম ও গৌরবগাথার আধার, পূর্ববর্তীদের সঞ্চয় এবং পরবর্তীদের সম্মান, প্রভূত ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞানরাশির অধিকারী, পরিমার্জিত, সুনিশ্চিত ও চমৎকার শিষ্টাচারের অধিকারী, এবং সেই সকল গুণের অধিকারী যার প্রতি আত্মাসমূহ ব্যাকুল থাকে ও ভরসা পায়—আসীরুদ্দীন আবু হাইয়ান
(১) মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-আন্দালুসী আল-গারনাতি, আল্লাহ তাআলা তাকে শরয়ী জ্ঞানসমূহের জন্য জীবিত রাখুন যাতে তিনি সেগুলো প্রকাশ ও বিকশিত করেন, এবং সাহিত্য শিল্পের পক্ষ হয়ে দলিলের মাধ্যমে লড়াই
(২) ও সাহায্য করেন। তিনি আমাকে বারবার 'সাঈদ' (উচ্চ মিসর)-এর একটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে পুনঃপুনঃ আমার সাথে আলোচনা করেছেন। ফলে তার ইঙ্গিত পালন করাকে আমি আমার জন্য অনিবার্য কর্তব্য হিসেবে গণ্য করলাম এবং তার আহবানে সাড়া না দেওয়াকে লাভ নয় বরং লোকসান মনে করলাম। অতঃপর আমি এই গ্রন্থটি সংকলন করতে শুরু করলাম এবং তা নাম অনুযায়ী (বর্ণানুক্রমিক) বিন্যস্ত করলাম। আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই বিষয়ে আমার আগে কাজ করেছেন যার আমি অনুসারী হতে পারি, অথবা এমন কাউকে পাইনি যাকে আমি জিজ্ঞাসা করতে পারি এবং তার বর্ণনা করা বিষয়গুলো সংকলন করতে পারি। তাই আমি এই কর্মের উদ্ভাবক
(৩), যদিও আমি অবসাদ
(৪) ও অলসতার সম্মুখীন, ত্রুটি হওয়ার আশঙ্কায় তটস্থ এবং এমন এক কাজের মুখোমুখি যা নিয়ে আমি ভীত। তবুও আমি এতে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি এবং আমার কাছে যা আছে তা উপস্থাপন করছি। আমি এই গ্রন্থটিকে বিশেষভাবে 'কুস' এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট গ্রাম ও জনপদগুলোর জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং এর অধিবাসী, সেখানে যারা জন্মগ্রহণ করেছে, যারা সেখানে দীর্ঘ বছর অবস্থান করেছেন এমনকি সেখানে সমাহিত হয়েছেন এবং সেই জনপদের অধিবাসী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন এমন ইবাদতগুজার বান্দাদের
(৬) বর্ণনায় সীমাবদ্ধ রেখেছি, অথবা যারা সেখানে বিয়ে-শাদি করেছেন এবং সেখানে তাদের...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٦)
نسل، أو من له منها
(1) أصل، ولا أذكر إلّا من له علم أو أدب
(2)، أو صلاح بلغت رتبته فيه غاية الرّتب، أو من سمع حديثا، فأصيّر ما قدم من ذكره حديثا، ولا أذكر الأحياء إلّا فى النّادر لغرض، أو لأمر عرض، إمّا لقلّة الأسماء فى الحرف، أو من احتوى على مكارم أو حوى كمال الظّرف، أو من له إحسان علىّ، وبرّ ساقه إلىّ؛ فشكر المحسن متعيّن، والاعتراف به من الحق البيّن، ولم أشحنه بالأسانيد فقد أنسب إلى غرص مذموم، ولا أخليه منها فأوصف بأنّى منها محروم، بل
(3) أكسو بعض التراجم منها ذلك الوشى المرقوم، وسمّيته
(4):
الطّالع السّعيد الجامع أسماء نجباء الصعيد
وعلى الله [الاتكال و] الاعتماد، وإليه التفويض والاستناد، وبه أستعين، وأسأله
(5) أن يعين، وأن يمنّ بإحسانه وإفضاله، بإتمامه
(6) وإكماله، وابتدأت فيه باسم «إبراهيم»، فإنّه الأب الرحيم، واسم النبىّ الخليل، والرسول الجليل، وأيضا فالابتداء به جار على الترتيب الوضعىّ، والقانون المعروف المرعىّ، وأستعيذ بالله من الشيطان الرجيم، ولا حول ولا قوّة إلّا بالله العلىّ العظيم.
--------------------------------------------
বংশধর, অথবা যাদের সেখানে কোনো মূল
(১) রয়েছে; আমি কেবল তাদেরই উল্লেখ করব যাদের জ্ঞান বা সাহিত্যিক গুণ
(২) রয়েছে, অথবা এমন পুণ্যবান ব্যক্তি যার মর্যাদা তাতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, কিংবা যিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন, ফলে তার সেই পূর্বস্মৃতিকে আমি বর্তমানের আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করব। আমি বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য বা আকস্মিক কোনো কারণ ছাড়া জীবিতদের কথা খুব কমই উল্লেখ করব; হয় বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে নামের স্বল্পতার কারণে, নতুবা এমন ব্যক্তি যিনি মহৎ গুণাবলির অধিকারী অথবা যার রুচিবোধ পূর্ণতা পেয়েছে, কিংবা যার আমার প্রতি কোনো অনুগ্রহ রয়েছে এবং যার কল্যাণ আমার নিকট পৌঁছেছে। কারণ অনুগ্রহকারীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা আবশ্যক এবং তা স্বীকার করা সুস্পষ্ট হকের অন্তর্ভুক্ত। আমি এই গ্রন্থটিকে অধিক সনদ (বর্ণনাপরম্পরা) দ্বারা ভারাক্রান্ত করিনি, পাছে আমাকে কোনো নিন্দনীয় উদ্দেশ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; আবার একে সনদহীনও রাখিনি, পাছে আমাকে এ থেকে বঞ্চিত বলে অভিহিত করা হয়। বরং
(৩) আমি কোনো কোনো জীবনীর অঙ্গে সনদের সেই কারুকার্যখচিত অলঙ্কার পরিয়ে দিয়েছি। আমি এর নামকরণ করেছি
(৪):
আত-ত্বালিউস সাঈদ আল-জামি আসমা নুজাবায়িস সাঈদ (উচ্চ মিসরের অভিজাত ব্যক্তিদের নাম সংবলিত সৌভাগ্যময় উদয়)
আর আল্লাহর ওপরই [ভরসা ও] নির্ভরতা এবং তাঁরই প্রতি সবকিছুর অর্পণ ও আশ্রয়। আমি তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাচ্ছি; আর প্রার্থনা করছি যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও দানে একে সমাপ্ত ও পূর্ণ করার তৌফিক দান করেন। আমি এতে 'ইব্রাহিম' নাম দিয়ে শুরু করেছি, কারণ তিনি হলেন দয়ালু পিতা এবং নবী খলীল ও মহান রাসূলের নাম। এছাড়া এর মাধ্যমে শুরু করা ব্যাকরণগত বিন্যাস এবং প্রচলিত ও অনুসৃত নিয়মেরও অনুকূল। আর আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি; সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٧)
ولنبتدئ
(1) قبل الشروع فى التراجم بمقدّمة تلوح منها المعالم، تشتمل على مسافة هذا الإقليم المترجم/ أهله وذكر محاسنه، ويندرج فيها ما وجد به مما يعاب به ومضى، واضمحلّ وانقضى؛ فإنّ ذهابه أو قلّته تندرج فى المحاسن
(2) المعدوده، والأمور المقصودة.
وأمّا مسافته فى الطّول: فمسيرة اثنى عشر يوما بسير الجمال السير المعتاد، وأمّا عرضه
(3): فثلاث ساعات وأكثر وأقلّ بحسب الأماكن، أعنى العامر منها، ويتصل عرضه فى الكورة
(4) الشرقية بالبحر الملح
(5) وبأراضى البجاة
(6) وفى الغربيّة بالواح
(7).
وهو
(8) كورتان: شرقيّة وغربيّة، والنّيل فاصل بينهما. فأوّل الشرقيّة من
--------------------------------------------
জীবনীসমূহ বর্ণনা শুরু করার পূর্বে
(১) আমরা এমন একটি ভূমিকা দিয়ে আরম্ভ করছি যা থেকে এর বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট হবে। এতে এই অঞ্চলের আয়তন ও সীমানা অন্তর্ভুক্ত থাকবে যেখানকার অধিবাসীদের জীবনী আলোচিত হবে, এবং এর উত্তম গুণাবলি উল্লিখিত হবে। আর এতে ঐ সমস্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হবে যা একদা নিন্দনীয় হিসেবে বিদ্যমান ছিল কিন্তু এখন তা অতীত হয়ে গেছে, বিলুপ্ত ও নিঃশেষ হয়েছে; কেননা সেগুলোর বিলুপ্তি বা স্বল্পতা গণ্য করার মতো কল্যাণকর বিষয়
(২) ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
আর এর দৈর্ঘ্যের দূরত্ব হলো: উটের স্বাভাবিক গতিতে বারো দিনের পথ। আর এর প্রস্থের দূরত্ব হলো
(৩): স্থানভেদে তিন ঘণ্টা বা তার কম-বেশি, অর্থাৎ এর আবাদকৃত অংশগুলোর ক্ষেত্রে। এর প্রস্থ পূর্ব দিকের প্রশাসনিক অঞ্চলে
(৪) লোহিত সাগরের
(৫) সাথে ও বেজা গোত্রের
(৬) ভূমির সাথে এবং পশ্চিম দিকে মরূদ্যানসমূহের
(৭) সাথে মিলিত হয়েছে।
এটি
(৮) মূলত দুটি প্রশাসনিক অঞ্চল: পূর্ব ও পশ্চিম, আর নীল নদ উভয়ের মাঝে বিভাজক হিসেবে রয়েছে। পূর্ব অঞ্চলের শুরু হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٨)
بحرى أرض «أفيو»
(1) وهى مرج بنى هميم
(2) المتّصلة أرضها بأراضى جرجا من عمل إخميم، وآخرها من قبلى «أبهر» - بضمّ الهمزة وسكون الباء الموحّدة وضمّ الهاء وبراء- وتشترك فى النسبة مع «أبهر»
(3)، بفتح الهمزة والهاء، وتلى هذه
--------------------------------------------
'আফিউ'
(১) ভূমির উত্তরাঞ্চল যা ইখমিম শাসনের অন্তর্গত গিরজার ভূমির সাথে সংযুক্ত 'মারজ বনি হামিম'
(২) নামে পরিচিত। এর দক্ষিণ প্রান্ত হলো 'আবহার' —যা হামজার পেশ, বা-এর সুকুন এবং হা-এর পেশ ও র দিয়ে গঠিত— এবং এটি হামজা ও হা-এর জবর বিশিষ্ট 'আবহার'
(৩) এর সাথে নামকরণে সাদৃশ্যপূর্ণ। এর পরেই রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ٩)
القرية قرية تسمّى «جنوبة» أوّل أراضى النّوبة
(1)، ولسلطان مصر على هذه القرية مقرر
(2) يؤخذ منها.
وتفصيل مدن هذه الكورة وقراها المعتبرة، وأوّلها «المرج»، وتليها «الخيام»، ويليها «البمبمير
(3)»، ويليها «القوسة»
(4)، ويليها «قصر بنى شادى»
(5)، ويليها «فاوبعس»
(6) - بالفاء- تشترك مع «قاو» بالقاف من بلاد إخميم، وببلاد إخميم
--------------------------------------------
গ্রামটি 'জানুবা' নামে পরিচিত একটি গ্রাম, যা নুবিয়া ভূমির প্রারম্ভে অবস্থিত
(১)। মিশরের সুলতানের পক্ষ থেকে এই গ্রামের ওপর নির্দিষ্ট কর
(২) ধার্য রয়েছে যা সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয়।
এই প্রদেশের শহরসমূহ এবং এর উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর বিস্তারিত বিবরণ হলো: এর প্রথমটি 'আল-মারজ', এরপর 'আল-খিয়াম', এরপর 'আল-বামবামির
(৩)', এরপর 'আল-কাওসাহ'
(৪)', এরপর 'কাসর বনি শাদি'
(৫) এবং এরপর 'ফাওবায়াস'
(৬)—এটি 'ফা' বর্ণ দিয়ে—যা ইখমিম অঞ্চলের 'কাও' (ক্বাফ বর্ণ দিয়ে)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, এবং ইখমিম অঞ্চলে অবস্থিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
أيضا «فاو»
(1) بالفاء؛ ويلى «فاو»: «دشنا»
(2) ويليها «بيج»
(3) - بالموحّدة
--------------------------------------------
আরও 'ফাউ'
(১) 'ফা' বর্ণ দিয়ে; এবং 'ফাউ'-এর পরে রয়েছে: 'দিশনা'
(২) এবং এর পরে 'বিজ'
(৩) - এক নুকতাওয়ালা 'বা' বর্ণ দিয়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমাউ নুজাবায়িস সাইদ
(পৃষ্ঠা: ١١)
والياء آخر الحروف والجيم- وهى من أوسع الإقليم أرضا؛ يقال: إن مساحة أرضها ثمانون ألف فدان، ويليها «قنا»
(1) - وهى بقاف مكسورة ونون مخفّفة يليها
--------------------------------------------
এবং ইয়া অক্ষরের শেষে জিম যুক্ত— এটি ভূমির দিক থেকে অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম প্রশস্ত; বলা হয়: এর ভূমির আয়তন আশি হাজার ফাদান, এবং এর পরেই অবস্থিত 'ক্বিনা'
(১) — যা কাসরাহ যুক্ত ক্বাফ এবং তাশদীদহীন নুন সহযোগে উচ্চারিত এবং এর পরে
--------------------------------------------