(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
مثير الغرام الساكن إلى أشرف الأماكن ط دار الحديث القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: مثير الغرام الساكن إلى أشرف الأماكن لابن الجوزي
المؤلف: جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد الجوزي (ت 597هـ)
قدم له وحققه وفهرسه: د/ مصطفى محمد حسين الذهبي
الناشر: دار الحديث، القاهرة
الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1995 م
عدد الصفحات: 521
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সর্বশ্রেষ্ঠ স্থানসমূহের প্রতি শান্ত অনুরাগ উদ্দীপক, দারুল হাদিস সংস্করণ বিভাগ: ভৌগোলিক অঞ্চল ও ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: ইবনুল জাওজি রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ স্থানসমূহের প্রতি শান্ত অনুরাগ উদ্দীপক
লেখক: জামালুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি)
উপস্থাপনা, সম্পাদনা ও নির্ঘণ্ট: ড/ মুস্তফা মুহাম্মাদ হুসাইন আয-যাহাবি
প্রকাশক: দারুল হাদিস, কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
بَابُ فَرْضِ الْحَجِّثَبَتَ وُجُوبُ الْحَجِّ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا} [آل عمران: 97] ، وَالْحَجُّ فِي كَلامِ الْعَرَبِ: الْقَصْدُ، وَفِيهِ لُغَتَانِ: فَتْحُ الْحَاءِ وَهِيَ قِرَاءَةُ الأَكْثَرِينَ، وَكَسْرُهَا، وَهِيَ: قِرَاءَةُ حَمْزَةَ، وَالْكِسَائِيِّ.
وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا} [آل عمران: 97] قَالَ النَّحْوِيُّونَ: مَنْ بَدَلٌ مِنَ النَّاسِ، وَهَذَا بَدَلُ الْبَعْضِ مِنَ الْكُلِّ كَمَا تَقُولُ: ضَرَبْتُ زَيْدًا رَأْسَهُ.
وَالسَّبِيلُ فِي اللُّغَةِ: الطَّرِيقُ، وَتُذَكَّرُ السَّبِيلُ وَتُؤَنَّثُ، وَكَذَلِكَ الطَّرِيقُ، وَالْمُوسَى، وَالذِّرَاعُ، وَالشَّوْقُ، وَالْعَانِقُ، وَالْعُنُقُ، وَالْخَمْرُ، وَالسُّلْطَانُ، وَالْقَلْبُ فِي حُرُوفٍ يَطُولُ ذِكْرُهَا.
وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَابْنِ مَسْعُودٍ، وَأَنَسٍ، وَعُثْمَانَ رضي الله عنهم، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ سُئِلَ: مَا السَّبِيلُ؟ فَقَالَ: «مَنْ وَجَدَ الزَّادَ وَالرَّاحِلَةَ» .
أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ، أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ، أَنْبَأَنَا الْقَطِيعِيُّ، أَنْبَانَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، أَنْبَأَنَا مَنْصُورُ بْنُ زَاذَانَ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنِ
হজের বিধানের অধ্যায়আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে হজের আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়েছে: {আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, তার ওপর বায়তুল্লাহর হজ করা অপরিহার্য} [আলে ইমরান: ৯৭]। আরবদের ভাষায় ‘হজ’ শব্দের অর্থ হলো: সংকল্প বা উদ্দেশ্য করা। এর উচ্চারণে দু’টি রূপ রয়েছে: ‘হা’ বর্ণে জবর (হজ), যা অধিকাংশ কারীর কিরাত; এবং এতে জের প্রদান (হিজ), যা হামজা ও কিসায়ীর কিরাত।
আল্লাহ তাআলার বাণী: {যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে} [আলে ইমরান: ৯৭] প্রসঙ্গে ব্যাকরণবিদগণ বলেন: এখানে ‘মান’ (যে ব্যক্তি) শব্দটি ‘আন-নাস’ (মানুষ) শব্দ থেকে ‘বাদাল’ বা স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এটি মূলত ‘বাদালুল বাজ মিনাল কুল্ল’ (সমষ্টি থেকে অংশের স্থলাভিষিক্ত হওয়া), যেমন আপনি বলে থাকেন: ‘আমি জায়েদের মাথায় আঘাত করেছি’ (আক্ষরিকভাবে: আমি জায়েদকে আঘাত করেছি, তার মাথাকে)।
অভিধানে ‘আস-সাবিল’ শব্দের অর্থ হলো: পথ। ‘আস-সাবিল’ শব্দটি পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। অনুরূপভাবে পথ (আত-তারিক), ক্ষুর (আল-মুসা), হাত বা বাহু (আদ-জিরা), আকাঙ্ক্ষা (আশ-শাওক), ঘাড় বা আলিঙ্গন (আল-আনিক), ঘাড় (আল-উনুয়াক), মদ (আল-খামর), সুলতান বা ক্ষমতা (আস-সুলতান) এবং অন্তর (আল-কালব) শব্দগুলোও এমন শব্দের অন্তর্ভুক্ত যাদের বর্ণনা দীর্ঘ হবে।
ইবনে উমর, ইবনে মাসউদ, আনাস এবং উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ‘সাবিল’ বা পথ বলতে কী বোঝায়? তিনি বলেছিলেন: “যে ব্যক্তি পাথেয় (খাবার) ও বাহনের ব্যবস্থা করতে পেরেছে।”
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আল-হুসাইন, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আল-মুজহিব থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আল-কাতিঈ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ থেকে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মনসুর ইবনে জাযান থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আবদিল আলা থেকে, তিনি...
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
ابْنِ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ} [آل عمران: 97] ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَفِي كُلِّ عَامٍ؟ فَسَكَتَ، فَقَالُوا: أَفِي كُلِّ عَامٍ؟ فَسَكَتَ، ثُمَّ قَالُوا: أَفِي كُلِّ عَامٍ؟ قَالَ: " لا وَلَوْ قُلْتُ: نَعَمْ لَوَجَبَتْ "، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} [المائدة: 101] .
إِلَى آخِرِ الْآيَةِ
ইবনে আবী আল-বাখতারী থেকে বর্ণিত, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো- {এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের ওপর বায়তুল্লাহর হজ করা আবশ্যক} [আলে ইমরান: ৯৭], তখন তারা জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছর কি? তিনি নীরব থাকলেন। তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করল: প্রতি বছর কি? তিনি নীরব থাকলেন। এরপর তারা আবারও জিজ্ঞেস করল: প্রতি বছর কি? তিনি বললেন: "না, এবং আমি যদি বলতাম: হ্যাঁ, তবে তা অবশ্যই আবশ্যক হয়ে যেত।" তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা অবতীর্ণ করলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের নিকট প্রকাশ করা হলে তোমাদের জন্য পীড়াদায়ক হবে} [আল-মায়িদাহ: ১০১]।
আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
بَابُ بَيَانِ مَا يَشْتَمِلُ عَلَيْهِ الْحَجُّالْحَجُّ يَشْتَمِلُ عَلَى خَمْسَةِ أَشْيَاءَ: شَرَائِطَ، وَأَرْكَانٍ، وَوَاجِبَاتٍ، وَمَسْنُونَاتٍ، وَهَيْئَاتٍ.
فَأَمَّا الشَّرَائِطُ: فَقَدِ اشْتُرِطَ فِي مَحَلِّ الْوُجُوبِ وُجُودُ خَمْسَةِ شَرَائِطَ: الْبُلُوغُ، وَالْعَقْلُ، وَالْحُرِّيَّةُ، وَالإِسْلامُ، وَالزَّادُ وَالرَّاحِلَةُ.
وَأَمَّا شَرَائِطُ الأَدَاءِ عَلَى الْعُمُومِ فَثَلاثَةٌ: الْأَوَّلُ: تَخْلِيَةُ الطَّرِيقِ، وَهُوَ أَنْ لا يَكُونَ مَانِعٌ يَمْنَعُ مِمَّا يُخَافُ مِنْهُ عَلَى النَّفْسِ وَالْمَالِ.
وَالثَّانِي: أَنْ يُمَكَّنَ الأَدَاءُ، وَهُوَ أَنْ يَكُونَ الْوَقْتُ مُتَّسِعًا لِلْفِعْلِ وَالْمُسَافَرَةِ إِنْ كَانَ عَلَى مَسَافَةٍ.
وَالثَّالِثُ: أَنْ يَكُونَ مِمَّنْ يَسْتَمْسِكُ عَلَى الرَّاحِلَةِ.
وَاشْتُرِطَ فِي حَقِّ الضَّرِيرِ أَنْ يَكُونَ لَهُ قَائِدٌ يُلائِمُهُ.
وَاشْتُرِطَ فِي حَقِّ الْمَرْأَةِ: الْمَحْرَمُ، وَالْمَحْرَمُ الزَّوْجُ أَوْ مَنْ لا يَحِلُّ لَهُ نِكَاحُهَا مِنَ الْمُنَاسِبِينَ.
وَاخْتَلَفَتِ الرِّوَايَةُ عَنْ أَحْمَدَ فِي الْمَحْرَمِ، هَلْ هُوَ مِنْ شَرَائِطِ الْوُجُوبِ أَوْ مِنْ شَرَائِطِ الأَدَاءِ عَلَى رِوَايَتَيْنِ.
فَصْلٌوَأَمَّا الْأَرْكَانُ فَفِيهَا ثَلاثُ رِوَايَاتٍ عَنْ أَحْمَدَ: إِحْدَاهُنَّ: أَنَّهَا أَرْبَعَةٌ: الْإِحْرَامُ، وَالْوُقُوفُ، وَطَوَافُ الزِّيَارَةِ، وَالسَّعْيُ.
وَالرِّوَايَةُ الثَّانِيَةُ: أَنَّهَا ثَلاثَةٌ، وَالسَّعْيُ سُنَّةٌ إِذَا تَرَكَهُ فَلا شَيْءَ عَلَيْهِ.
وَقَالَ أَصْحَابُنَا: عَلَيْهِ بِتَرْكِهِ دَمٌ.
হজ যা যা অন্তর্ভুক্ত করে তার বর্ণনার অধ্যায়হজ পাঁচটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে: শর্তাবলি, রুকনসমূহ, ওয়াজিবসমূহ, সুন্নতসমূহ এবং আনুষঙ্গিক রূপসমূহ।
আর শর্তাবলির ক্ষেত্রে: ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচটি শর্তের উপস্থিতি আবশ্যক করা হয়েছে: বালেগ হওয়া, বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া, স্বাধীন হওয়া, ইসলাম এবং পাথেয় ও বাহন থাকা।
আর সাধারণভাবে পালনের শর্তাবলি তিনটি: প্রথমটি হলো: পথ নিরাপদ হওয়া, অর্থাৎ এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা যা জান ও মালের ওপর ভীতির কারণ হতে পারে।
দ্বিতীয়টি হলো: পালন সম্ভব হওয়া, অর্থাৎ কাজটি সম্পাদন করার জন্য এবং দূরত্ব থাকলে ভ্রমণের জন্য সময়ের পর্যাপ্ততা থাকা।
তৃতীয়টি হলো: এমন ব্যক্তি হওয়া যে বাহনের ওপর স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে।
আর দৃষ্টিহীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে শর্ত হলো তার জন্য একজন উপযুক্ত পথপ্রদর্শক থাকা।
আর নারীর ক্ষেত্রে শর্ত হলো: মাহরাম থাকা। মাহরাম হলো স্বামী অথবা আত্মীয়দের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তি যার সাথে তার বিবাহ বৈধ নয়।
মাহরাম সম্পর্কে আহমাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনায় মতপার্থক্য রয়েছে; এটি কি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত নাকি পালনের শর্ত, এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে।
পরিচ্ছেদআর রুকনসমূহের ক্ষেত্রে আহমাদ থেকে তিনটি বর্ণনা রয়েছে: তার মধ্যে একটি হলো: সেগুলো চারটি: ইহরাম, উকূফ, তাওয়াফে যিয়ারত এবং সাঈ।
দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো: সেগুলো তিনটি, আর সাঈ হলো সুন্নত; যদি কেউ তা ত্যাগ করে তবে তার ওপর কোনো দায় বর্তাবে না।
আর আমাদের সাথীগণ বলেছেন: তা ত্যাগ করার কারণে তার ওপর ‘দম’ (পশু কোরবানি) ওয়াজিব হবে।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬০)
وَالرِّوَايَةُ الثَّالِثَةُ: أَنَّهُمَا رُكْنَانِ: الْوُقُوفُ وَالطَّوَافُ، فَإِنَّهُ قَالَ فِيمَنْ وَقَفَ وَزَارَ الْبَيْتَ: عَلَيْهِ دَمٌ وَحَجَّتُهُ صَحِيحَةٌ.
فَصْلٌوَأَمَّا الْوَاجِبَاتُ فَسَبْعَةٌ: الْإِحْرَامُ مِنَ الْمِيقَاتِ، وَالْوُقُوفُ بِعَرَفَةَ إِلَى اللَّيْلِ، وَالْمَبِيتُ بِمُزْدَلِفَةَ إِلَى بَعْدِ نِصْفِ اللَّيْلِ، وَالْمَبِيتُ بِمِنًى فِي لَيَالِي مِنًى إِلا لأَهْلِ السِّقَايَةِ وَالرِّعَاءِ وَالرَّمْيِ وَالْحَلاقِ، وَطَوَافُ الْوَدَاعِ.
فَصْلٌ
وَأَمَّا الْمَسْنُونَاتُ فَهِيَ: الاغْتِسَالُ، وَصَلاةُ الرَّكْعَتَيْنِ عِنْدَ عَقْدِ الْإِحْرَامِ، وَطَوَافُ الْقُدُومِ، وَالْجَمْعُ بَيْنَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ فِي عَرَفَاتٍ مَا لَمْ يَكُنْ بَدَأَ بِالْوُقُوفِ نَهَارًا؛ لَأَنَّهُ مُخَيَّرٌ قَبْلَ الدُّخُولِ فِي الْوُقُوفِ بَيْنَ الْجَمْعِ بَيْنَ الزَّمَانَيْنِ وَبَيْنَ إِفْرَادِ اللَّيْلِ، فَإِنْ أَخَلَّ بِذَلِكَ وَجَبَ عَلَيْهِ دَمٌ.
وَالتَّلْبِيَةُ، وَرَكْعَتَا الطَّوَافِ، وَاسْتِلامُ الرُّكْنَيْنِ، وَالتَّقْبِيلُ، وَالْمَبِيتُ بِمِنًى لَيْلَةَ عَرَفَةَ إِنْ كَانَ خَارِجًا إِلَى عَرَفَاتٍ وَمِنْ مَكَّةَ إِلَى غَدَاةِ عَرَفَةَ، وَسَائِرُ الأَذْكَارِ فِي الْحَجِّ.
فَصْلٌ
وَأَمَّا الْهَيْئَاتُ: فَرَفْعُ الصَّوْتِ بِالتَّلْبِيَةِ لِلرِّجَالِ، وَالدُّخُولُ إِلَى مَكَّةَ مِنْ أَعْلاهَا وَإِلَى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ مِنْ بَابِ بَنِي شَيْبَةَ، وَالاضْطِبَاعُ فِي الطَّوَافِ، وَالسَّعْيُ وَالإِسْرَاعُ فِي مَوْضِعِ الإِسْرَاعِ، وَالْمَشْيُ فِي مَوْضِعِ الْمَشْيِ، وَالْعُلُوُّ عَلَى الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَتَّى يُشَاهِدَ الْبَيْتَ، وَشِدَّةُ السَّعْيِ عِنْدَ تَحَسُّرِهِ، وَالْوُقُوفُ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ وَعِنْدَ الْجَمَرَاتِ.
فَصْلٌ
فَمَنْ تَرَكَ رُكْنًا لَمْ يَتِمَّ نُسُكُهُ إِلا بِهِ، وَمَنْ تَرَكَ وَاجِبًا فَعَلَيْهِ دَمٌ، وَمَنْ تَرَكَ سُنَّةً أَوْ هَيْئَةً فَلا شَيْءَ عَلَيْهِ.
فَصْلٌ
وَإِذَا تَكَامَلَتِ الشُّرُوطُ عَلَى مَا سَبَقَ بَيَانُهُ، وَجَبَ الْبَدَاءُ إِلَى الْحَجِّ، وَهَذَا قَوْلُ: الْحَنَفِيَّةِ، وَالْمَالِكِيَّةِ، وَالدَّاوُدِيَّةِ، وَابْنِ حَنْبَلٍ.
وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: هُوَ عَلَى التَّرَاخِي.
وَالْمَسْأَلَةُ مَبْنِيَّةٌ عَلَى أَصْلٍ وَهُوَ: هَلِ الأَمْرُ الْمُطْلَقُ يَقْتَضِي الْفَوْرَ أَمْ لا؟ فَعِنْدَ الْجُمْهُورِ يَقْتَضِي الْفَوْرَ خِلافًا لِلشَّافِعِيِّ، وَلَنَا أَدِلَّةٌ كَثِيرَةٌ يُنْتَخَبُ مِنْهَا هَاهُنَا ثَلاثَةٌ:
তৃতীয় বর্ণনাটি হলো: এই দুটি—অবস্থান ও তাওয়াফ—হলো রুকন। কেননা তিনি সেই ব্যক্তির সম্পর্কে বলেছেন যে আরাফায় অবস্থান করেছে এবং বায়তুল্লাহ যিয়ারত করেছে যে: তার ওপর একটি দম ওয়াজিব এবং তার হজ সহীহ।
পরিচ্ছেদআর ওয়াজিবসমূহ হলো সাতটি: মীকাত থেকে ইহরাম পরিধান করা, রাত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা, মধ্যরাতের পর পর্যন্ত মুযদালিফায় রাত কাটানো, মিনায় অবস্থানের দিনগুলোতে মিনায় রাত যাপন করা—তবে পানি পান করানো ও পশুপালনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা ব্যতীত—জামারায় পাথর নিক্ষেপ করা, মাথা মুণ্ডানো এবং বিদায়ী তাওয়াফ।
পরিচ্ছেদ
সুন্নাতসমূহ হলো: গোসল করা, ইহরামের নিয়ত করার সময় দুই রাকাত সালাত আদায় করা, তাওয়াফে কুদুম, এবং আরাফাতে দিন ও রাতের সমন্বয় করা যতক্ষণ না দিনে অবস্থান শুরু করা হয়; কারণ অবস্থানে প্রবেশের পূর্বে সে উভয় সময়ের সমন্বয় করা অথবা কেবল রাতে অবস্থান করার বিষয়ে ইখতিয়ার রাখে। যদি সে এতে ত্রুটি করে তবে তার ওপর দম ওয়াজিব হবে।
এবং তালবিয়া পাঠ করা, তাওয়াফের দুই রাকাত সালাত, রুকনদ্বয় স্পর্শ করা, চুম্বন করা, আরাফার রাতে মিনায় অবস্থান করা যদি সে মক্কা থেকে আরাফার উদ্দেশ্যে বের হয়, এবং হজের অন্যান্য যিকিরসমূহ।
পরিচ্ছেদ
আর হেইআত (শিষ্টাচারসমূহ) হলো: পুরুষদের জন্য উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা, মক্কার উঁচু দিক দিয়ে প্রবেশ করা এবং মসজিদে হারামে বাবু বনী শায়বা দিয়ে প্রবেশ করা, তাওয়াফে ইযতিবা করা, সায়ীর স্থানে সায়ী করা ও দ্রুত হাঁটার স্থানে দ্রুত হাঁটা এবং হাঁটার স্থানে স্বাভাবিকভাবে হাঁটা, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ওপর চড়া যাতে বায়তুল্লাহ দেখা যায়, ক্লান্ত হওয়া সত্ত্বেও সায়ীতে জোর দেওয়া, এবং মাশআরুল হারাম ও জামারাতসমূহের নিকট অবস্থান করা।
পরিচ্ছেদ
সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো রুকন ত্যাগ করবে, সেটি সম্পাদন করা ব্যতীত তার ইবাদত পূর্ণ হবে না। যে ব্যক্তি কোনো ওয়াজিব ত্যাগ করবে, তার ওপর দম ওয়াজিব হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো সুন্নাত বা হেইআত ত্যাগ করবে, তার ওপর কিছুই আবশ্যক হবে না।
পরিচ্ছেদ
যখন পূর্বে বর্ণিত শর্তসমূহ পূর্ণ হবে, তখন হজ পালনে দ্রুত সচেষ্ট হওয়া ওয়াজিব। এটি হানাফী, মালিকী, দাউদী এবং ইবনে হাম্বলের অভিমত।
ইমাম শাফিঈ বলেছেন: এটি বিলম্বে পালন করা বৈধ।
এই বিষয়টি একটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তা হলো: সাধারণ নির্দেশ কি অবিলম্বে আমল করার দাবি রাখে নাকি রাখে না? জুমহুরের মতে এটি অবিলম্বে পালন করার দাবি রাখে, যা ইমাম শাফিঈর মতের বিপরীত। আমাদের নিকট অনেক দলীল রয়েছে যেখান থেকে এখানে তিনটি নির্বাচন করা হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬১)
أَحَدُهَا: مِنَ الْقُرْآنِ، وَهُوَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ} [الأعراف: 12] .
وَلَوْ كَانَ الأَمْرُ عَلَى التَّرَاخِي لَمَا حَسُنَ الْبَدَاءُ إِلَيْهِ بِالْعِتَابِ.
وَالثَّانِي: مِنَ النَّقْلِ، وَهُوَ حَدِيثُ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى، فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَعَاهُ وَهُوَ فِي الصَّلاةِ فَلَمْ يُجِبْ، فَعَاتَبَهُ عَلَى ذَلِكَ، وَقَالَ: أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ تَعَالَى: {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ} [الأنفال: 24] .
وَالَثَّالِثُ: مِنَ اللُّغَةِ، وَهُوَ أَنَّ مُقْتَضَى الأَمْرِ إِنَّمَا يُعْرَفُ مِنْ أَصْلِ اللُّغَةِ، وَقَدْ أَجْمَعُوا عَلَى أَنَّ السَّيِّدَ إِذَا قَالَ لِعَبْدِهِ: قُمْ، فَتَوَقَّفَ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ، فَإِنَّهُ يَحْسُنُ لَوْمُهُ وَعِقَابُهُ.
وَقَدْ رَوَى ابْنُ عَبَاسٍ رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ فَلْيَتَعَجَّلْ» .
وَقَدِ احْتَجَّ أَصْحَابُ الشَّافِعِيِّ بِأَنَّ الْحَجَّ فُرِضَ فِي سَنَةِ خَمْسٍ مِنَ الْهِجْرَةِ، وَأَخَّرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى سَنَةِ عَشْرٍ، وَلَوْ كَانَ وَاجِبًا عَلَى الْفَوْرِ لَمَا أَخَّرَهُ.
وَقَدْ أَجَابَ أَصْحَابُ أَبِي حَنِيفَةَ، فَقَالُوا: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَعْلَمَ نَبِيَّهُ حَتَّى يَحُجَّ، فَكَانَ عَلَى يَقِينٍ مِنَ الإِدْرَاكِ، وَهَذَا عُذْرٌ يَحْتَاجُونَ فِيهِ إِلَى نَقْلٍ وَلا يَجِدُونَ فِي ذَلِكَ نَقْلا، وَإِنَّمَا أَقَامُوا الاحْتِمَالَ مَقَامَ النَّقْلِ، فَلَيْسَ هَذَا الْجَوَابُ مُرْتَضًى لِهَذِهِ الْعِلَّةِ، وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ أَخَّرَهُ لِعُذْرٍ، وَقَدْ كَانَتْ لَهُ خَمْسَةُ أَعْذَارٍ: أَحَدُهَا: الْفَقْرُ.
এর মধ্যে প্রথমটি হলো কুরআন থেকে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যখন আমি তোমাকে আদেশ দিয়েছিলাম, তখন কিসে তোমাকে সেজদা করা থেকে বিরত রেখেছিল?} [আল-আরাফ: ১২]।
আর আদেশ যদি বিলম্বিত করার অবকাশ রাখত, তবে তিরস্কারের মাধ্যমে তাকে সম্বোধন শুরু করা সংগত হতো না।
দ্বিতীয়টি হলো বর্ণনা থেকে, আর তা হলো আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা-এর হাদীস; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন যখন তিনি সালাতরত ছিলেন, কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। অতঃপর তিনি তাকে এ জন্য তিরস্কার করলেন এবং বললেন: আল্লাহ তাআলা কি বলেননি: {হে মুমিনগণ! আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে প্রাণবন্ত করে} [আল-আনফাল: ২৪]।
তৃতীয়টি হলো ভাষা থেকে, আর তা হলো আদেশের দাবি মূলত ভাষার মূল উৎস থেকেই জানা যায়। আর তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কোনো মুনিব যখন তার দাসকে বলে: "দাঁড়াও", আর সে কোনো ওজর ছাড়াই বিরত থাকে (বিলম্ব করে), তবে তাকে নিন্দা করা এবং শাস্তি দেওয়া সংগত।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে হজের ইচ্ছা করে, সে যেন ত্বরান্বিত করে।"
শাফেয়ী অনুসারীগণ এই মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে, হজ হিজরীর পঞ্চম বর্ষে ফরজ হয়েছে, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দশম বর্ষ পর্যন্ত বিলম্বিত করেছেন। যদি তা অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব হতো, তবে তিনি তা বিলম্বিত করতেন না।
আবু হানিফার অনুসারীগণ এর উত্তরে বলেছেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি হজ করবেন, তাই তিনি তা আদায় করতে পারবেন বলে সুনিশ্চিত ছিলেন। আর এটি এমন একটি ওজর যার স্বপক্ষে তাদের বর্ণনার প্রয়োজন ছিল, অথচ তারা এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা খুঁজে পাননি; তারা কেবল সম্ভাব্যতাকে বর্ণনার স্থলাভিষিক্ত করেছেন। ফলে এই কারণে এই উত্তরটি গ্রহণযোগ্য নয়। আর সঠিক কথা হলো যে, তিনি কোনো ওজরের কারণেই তা বিলম্বিত করেছিলেন। আর তাঁর পাঁচটি ওজর ছিল: যার একটি হলো দারিদ্র্য।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬২)
وَالثَّانِي: الْخَوْفُ عَلَى نَفْسِهِ، وَلِهَذَا كَانَ يُحْرَسُ إِلَى أَنْ نَزَلَ عَلَيْهِ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} [المائدة: 67] .
وَالثَّالِثُ: الْخَوْفُ عَلَى الْمَدِينَةِ.
وَالرَّابِعُ: أَنْ يَكُونَ رَأَى أَنَّ تَقْدِيمَ الْجِهَادِ أَوْلَى.
وَالْخَامِسُ: اسْتِيلاءُ الْكُفَّارِ عَلَى مَكَّةَ وَإِظْهَارُهُمُ الشِّرْكَ هُنَاكَ، وَمَا كَانَ يُمْكِنُ الْإِنْكَارُ عَلَيْهِمْ، فَلَمَّا قَوِيَ الإِسْلامُ وَبَعَثَ أَبَا بَكْرٍ عَلَى الْحَجِّ فِي سَنَةِ تِسْعٍ، وَأَمَرَ عَلِيًّا فَنَادَى أَنْ لا يَحُجَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ، حَجَّ لِزَوَالِ الْعُذْرِ، فَتَأْخِيرُهُ عليه الصلاة والسلام قَضِيَّةٌ فِي عَيْنٍ، فَهِيَ مُحْتَمِلَةٌ، فَلا تُؤَثِّرُ فِي الْأَمْرِ الصَّرِيحِ.
দ্বিতীয়ত: স্বীয় প্রাণের ব্যাপারে আশঙ্কা। এই কারণেই তাঁকে পাহারা দেওয়া হতো, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলো: {আর আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন} [আল-মায়িদাহ: ৬৭]।
তৃতীয়ত: মদীনার ব্যাপারে আশঙ্কা।
চতুর্থত: তিনি হয়তো মনে করেছিলেন যে জিহাদকে অগ্রাধিকার দেওয়া অধিকতর উত্তম।
পঞ্চমত: মক্কার ওপর কাফিরদের আধিপত্য এবং সেখানে তাদের শিরক প্রকাশ করা, আর তাদের বাধা দেওয়া সম্ভব ছিল না। অতঃপর যখন ইসলাম শক্তিশালী হলো এবং তিনি নবম হিজরীতে আবু বকরকে হজ্জের উদ্দেশ্যে পাঠালেন এবং আলীকে নির্দেশ দিলেন, তখন তিনি ঘোষণা করলেন যে এই বছরের পর কোনো মুশরিক হজ্জ করবে না। অতঃপর ওজর দূরীভূত হওয়ার কারণে তিনি হজ্জ পালন করলেন। সুতরাং তাঁর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বিলম্ব করা একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে; ফলে এটি কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশের ওপর প্রভাব ফেলে না।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
بَابُ ذَمِّ مَنْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْحَجُّ وَتَرَكَهُ بِغَيْرِ عُذْرٍأَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ السَّقَّا، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ عُمَرَ بْنِ شَمَّةَ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ زَاذَانَ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَرُوبَةَ الْحَرَّانِيُّ، أَنْبَأَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنْبَأَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا شَرِيكٌ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ لَمْ يَحْبِسْهُ مَرَضٌ، أَوْ حَاجَةٌ ظَاهِرَةٌ، أَوْ سُلْطَانٌ جَائِرٌ وَلَمْ يَحُجَّ فَلْيَمُتْ إِنْ شَاءَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا»
أَخْبَرَنَا الْكَرْخِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَامِرٍ الْأَزْدِيُّ، وَأَبُو بَكْرٍ الْغُورَجِيُّ، قَالا: أَنْبَأَنَا الْجَرَّاحِيُّ، أَنْبَأَنَا الْمَحْبُوبِيُّ، أَنْبَأَنَا التِّرْمِذِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ مَلَكَ زَادًا وَرَاحِلَةً تُبَلِّغُهُ إِلَى بَيْتِ اللَّهِ وَلَمْ يَحُجَّ فَلا عَلَيْهِ أَنْ يَمُوتَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا، وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ فِي كِتَابِهِ: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا} [آل عمران: 97]
যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে এবং কোনো ওজর ছাড়াই তা বর্জন করেছে তার নিন্দার অধ্যায়আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস-সাক্কা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুর রাজ্জাক বিন উমর বিন শাম্মাহ আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন যাযান আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আরুবাহ আল-হাররানি আমাদের অবহিত করেছেন, মুগিরাহ বিন আব্দুর রহমান আমাদের অবহিত করেছেন, ইয়াযিদ বিন হারুন আমাদের অবহিত করেছেন, শারিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন সাবিত থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যাকে কোনো রোগ, স্পষ্ট প্রয়োজন বা কোনো জালিম শাসক হজ পালন থেকে বিরত রাখেনি, অথচ সে হজ করেনি, সে চাইলে ইহুদি হয়ে মরুক অথবা খ্রিষ্টান হয়ে মরুক।"
আল-কারখি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমির আল-আযদি ও আবু বকর আল-গুরজি আমাদের অবহিত করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আল-জাররাহি আমাদের অবহিত করেছেন, আল-মাহবুবি আমাদের অবহিত করেছেন, তিরমিজি আমাদের অবহিত করেছেন, আবু ইসহাক আল-হামদানি আমাদের অবহিত করেছেন হারিস থেকে, তিনি আলি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার নিকট আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌঁছানোর মতো পাথেয় ও বাহন রয়েছে অথচ সে হজ করেনি, তবে সে ইহুদি হয়ে মরুক কিংবা খ্রিষ্টান হয়ে মরুক এতে (আল্লাহর নিকট) কোনো পার্থক্য নেই। আর এটি এজন্য যে, মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন: {আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার ওপর কর্তব্য।} [আলে ইমরান: ৯৭]"
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا عَاصِمُ بْنُ الْحَسَنِ، أَنْبَأَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ مَهْدِيٍّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا بَكْرُ بْنُ قُتَيْبَةَ، أَنْبَأَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، وَوَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، قَالا: أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه، قَالَ: «مَنْ كَانَ ذَا مَيْسَرَةٍ فَمَاتَ وَلَمْ يَحُجَّ فَلْيَمُتْ إِنْ شَاءَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا» .
وَبِهِ قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو عَامِرٍ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ مُجَاهِدِ بْنِ رُومِيٍّ، قَالَ: قُلْتُ لِسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ: " رَجُلٌ مَاتَ وَهُوَ مُوسِرٌ لَمْ يَحُجَّ، قَالَ: هُوَ فِي النَّارِ.
وَسَأَلْتُهُ فَقَالَ: هُوَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، ثَلاثَ مَرَّاتٍ "، وَسَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُغَفَّلٍ، فَقَالَ: مَاتَ عَاصِيًا لِلَّهِ عز وجل "
আবদুল্লাহ আল-হাফেজ আমাদের অবহিত করেছেন, আসিম ইবনুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর বিন মাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বকর বিন কুতাইবা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এবং ওয়াহাব বিন জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ই বলেছেন: শু’বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাকাম থেকে, তিনি আদী বিন আদী থেকে, তিনি দাহহাক বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: “যার সচ্ছলতা ছিল কিন্তু হজ না করে মৃত্যুবরণ করল, সে চাইলে ইহুদি হয়ে মরুক অথবা খ্রিস্টান হয়ে মরুক।”
এবং উক্ত সূত্রেই তিনি বলেন: আবু আমির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুজাহিদ বিন রূমী থেকে, তিনি বলেন: আমি সাঈদ বিন জুবাইরকে বললাম: “জনৈক ব্যক্তি সচ্ছল অবস্থায় হজ না করে মারা গেল।” তিনি বললেন: “সে জাহান্নামে।”
আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তিনবার বললেন: “সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত,” এবং আমি আবদুল্লাহ বিন মুগাফফালকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: “সে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর অবাধ্য হয়ে মারা গিয়েছে।”
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
بَابُ ذِكْرِ الْعَاجِزِ عَنِ الْحَجِّوَمَنْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْحَجُّ بَعْدَ الْعَجْزِ، إِمَّا لِزَمَنٍ أَوْ مَرَضٍ لا يُرْجَى زَوَالُهُ، بِكِبَرٍ فِي السِّنِّ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ، فَإِنَّهُ يَسْتَخْلِفُ، وَتَقَعُ الْحَجَّةُ مُجَزِئَةً عَنْهُ وَإِنْ بَرِئَ مِنْ ذَلِكَ الْمَرَضِ الَّذِي كَانَ لا يُرْجَى زَوَالُهُ.
وَكَذَلِكَ إِنْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْحَجُّ فَمَاتَ وَجَبَ أَنْ يُحَجَّ عَنْهُ مِنْ مَالِهِ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ، وَيَبْدَأُ بِالاسْتِخْلافِ مِنْ حَيْثُ أَدْرَكَهُ الْوُجُوبُ إِنْ كَانَ مِنْ دُوَيْرَتِهِ فَمِنْ هُنَاكَ، وَإِنْ كَانَ قَطَعَ بَعْضَ الْمَسَافَةِ فَمِنْ حَيْثُ انْتَهَى سَعْيُهُ.
وَعِنْدَ مَالِكٍ، وَالشَّافِعِيِّ، وَأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، أَنَّهُ إِذَا حَجَّ النَّائِبُ عَنْ هَذَا الْمَعْذُورِ وَقَعَ الْحَجُّ عَنِ الْمُسْتَنِيبِ.
وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: يَقَعُ الْحَجُّ عَنِ الْحَاجِّ تَطَوُّعًا، وَلا يَقَعُ عَنِ الْمُسْتَنِيبِ إِلا ثَوَابُ النَّفَقَةِ.
وَيَدُّلُ عَلَى مَذْهَبِنَا مَا رَوَى الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ حَدِيثِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ امْرَأَةً مِنْ خَثْعَمَ سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ عَلَيْهِ فَرِيضَةُ اللَّهِ فِي الْحَجِّ وَهُوَ لا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْتَوِيَ عَلَى ظَهْرِ بَعِيرِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «فَحُجِّي عَنْهُ» .
হজ করতে অক্ষম ব্যক্তির বিবরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদযার ওপর অক্ষম হয়ে পড়ার পর হজ ফরজ হয়েছে—চাই তা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক পঙ্গুত্ব কিংবা এমন রোগের কারণে হোক যার আরোগ্যের আশা নেই, যেমন বার্ধক্য বা অনুরূপ কোনো কারণ—তবে সে তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ করবে। এই হজ তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হিসেবে গণ্য হবে, এমনকি সে যদি পরবর্তীতে সেই রোগ থেকে আরোগ্য লাভও করে যা থেকে আরোগ্যের আশা ছিল না।
একইভাবে, যদি কারো ওপর হজ ফরজ হয় এবং এরপর সে মারা যায়, তবে তার যদি সম্পদ থাকে তবে তার পক্ষ থেকে হজ করানো ওয়াজিব। এই প্রতিনিধি নিয়োগের সূচনা হবে সেই স্থান থেকে যেখান থেকে তার ওপর হজের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছিল; যদি তা তার নিজ বাসগৃহ থেকে হয় তবে সেখান থেকেই, আর যদি সে পথের কিছু দূরত্ব অতিক্রম করে থাকে তবে যেখানে তার প্রচেষ্টা শেষ হয়েছিল সেখান থেকে।
ইমাম মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ ইবনে হাম্বলের নিকট অভিমত হলো, যখন কোনো প্রতিনিধি এই ওজরগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ সম্পাদন করবেন, তখন সেই হজ মূল আদেশদাতার পক্ষ থেকেই আদায় হয়েছে বলে গণ্য হবে।
আবু হানিফা বলেছেন: হজটি হজ্জপালনকারীর পক্ষ থেকে নফল হিসেবে গণ্য হবে এবং আদেশদাতার জন্য কেবল অর্থ ব্যয়ের সওয়াব অর্জিত হবে।
আমাদের মাযহাবের সপক্ষে প্রমাণ হলো যা বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে ফজল ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, খাশআম গোত্রের এক নারী আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: আমার পিতা একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ, তাঁর ওপর আল্লাহর নির্ধারিত হজের বিধান অর্পিত হয়েছে, অথচ তিনি উটের পিঠের ওপর সোজা হয়ে উঠতে বা স্থির হতে সক্ষম নন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তুমি তাঁর পক্ষ থেকে হজ সম্পাদন করো।"
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
بَابُ فَضْلِ الْحَجِّقَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ} [الحج: 27] ، إِلَى قَوْلهِ: {لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ} [الحج: 28] .
قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ رضي الله عنه: هِيَ منَافِعُ الْآخِرَةِ.
وَقَالَ مُجَاهِدٌ: مَنَافِعُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ.
وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ، وَالْحَسَنُ، وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {لأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ} [الأعراف: 16] : إِنَّهُ طَرِيقُ مَكَّةَ، وَالْمَعْنَى أَصُدُّهُمْ عَنِ الْحَجِّ.
أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي سُمَيٌّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلا الْجَنَّةُ، وَالْعُمْرَتَانِ، أَوِ الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ يُكَفَّرُ مَا بَيْنَهُمَا» .
أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، وَمُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحَيْنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقُ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ سِيَاوُوشَ، أَنْبَأَنَا أَبُو حَامِدٍ، أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبَّاسٍ، أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، أَنْبَأَنَا الْعَبَاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنْبَأَنَا ابْنُ النَّقُورِ، أَنْبَأَنَا ابْنُ مَرْدَكٍ، أَنْبَأَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ
হজের ফজিলত বিষয়ক অধ্যায়মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দাও} [হজ: ২৭], তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {যাতে তারা তাদের জন্য কল্যাণসমূহ প্রত্যক্ষ করতে পারে} [হজ: ২৮]।
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: এটি আখিরাতের কল্যাণসমূহ।
মুজাহিদ বলেছেন: দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণসমূহ।
ইবনে মাসউদ, হাসান এবং সাঈদ ইবনে জুবায়ের মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেন: {আমি নিশ্চয়ই তাদের জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব} [আরাফ: ১৬]: তা হলো মক্কার পথ, আর এর অর্থ হলো আমি তাদেরকে হজ থেকে বাধা দেব।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন মালিক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সুমাই, আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মাবরুর (কবুল) হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়। আর দুই উমরা বা এক উমরা থেকে অপর উমরা পর্যন্ত মাঝখানের সময়টুকুতে যা ঘটে (পাপ) তার জন্য তা কাফফারা স্বরূপ।"
এটি বুখারি ও মুসলিম তাদের সহীহদ্বয়ে উদ্ধৃত করেছেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন সিয়াউশ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম বিন আব্বাস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন সুফিয়ান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস বিন ওয়ালিদ আন-নারসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন উবাইদুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুন নাকূর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে মারদাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন বিন ইসমাইল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
عَمْرٍو، أَنْبَأَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، كِلاهُمَا عَنِ الْمَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ حَجَّ هَذَا الْبَيْتَ، فَلَمْ يَرْفُثْ، وَلَمْ يَفْسُقْ، خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ» .
أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَاكِمُ، وَيَحْيَى بْنُ عَلِيٍّ، قَالا: أَنْبَأَنَا ابْنُ النَّقُورِ، أَنْبَأَنَا ابْنُ حُبَابَةَ، أَنْبَأَنَا الْبَغَوِيُّ، أَنْبَأَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، أَنْبَأَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ الْجَرِيرِيُّ، عَنْ حَيَّانَ بْنِ عُمَيْرٍ الْجَرِيرِيِّ، أَنْبَأَنَا مَاعِزٌ رضي الله عنه، أَنَّ رَجُلا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» ، ثُمَّ أُرْعِدَتْ فَخِذُ السَّائِلِ، ثُمَّ قَالَ: ثُمَّ مَهْ؟ قَالَ: «ثُمَّ عَمَلٌ أَفْضَلُ مِنْ سَائِرِ الْأَعْمَالِ إِلا كَمِثْلِهِ، حَجَّةٌ بَارَّةٌ، حَجَّةٌ بَارَّةٌ»
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ الزَّوْزَنِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو يَعْلَى بْنُ الْفَرَّاءِ، أَنْبَأَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَمْرِو بْنِ النَّسَّابِ، أَنْبَأَنَا ابْنُ صَاعِدٍ، أَنْبَأَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ، أَنْبَأَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ جَمِيلٍ، أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عِنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ عز وجل» ، قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» ، قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «ثُمَّ الْحَجُّ الْمَبْرُورُ» ، أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ.
আমরের সূত্রে, ফুযাইল বিন ইয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে মানসুর বিন আল-মুতামির থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি এই ঘরের হজ করল, এমতাবস্থায় সে কোনো অশ্লীল আচরণ করল না এবং কোনো পাপাচার করল না, সে তার গুনাহসমূহ থেকে সেদিনের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে বের হয়ে আসবে যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন।»
তাঁরা উভয়ে এটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণনা করেছেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-হাকিম এবং ইয়াহইয়া বিন আলী, তাঁরা বলেন: ইবনুন নাকূর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনু হুবাবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-বাগাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুদবাহ বিন খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উহাইব বিন খালিদ আল-জারীরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাইয়ান বিন উমাইর আল-জারীরী থেকে, মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: আমলের মধ্যে কোনটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: «আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আল্লাহর পথে জিহাদ», অতপর প্রশ্নকারীর উরু কেঁপে উঠল, তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: «এরপর এমন আমল যা অন্য সকল আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেবল তার অনুরূপ আমল ব্যতীত; তা হলো কবুল হজ, কবুল হজ।»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আজ-যাওযানী, আবু ইয়ালা বিন আল-ফাররা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসমান বিন আমর বিন আন-নাসসাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনু সায়িদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাইসাম বিন জামীল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবরাহীম বিন সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: আমলের মধ্যে কোনটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: «মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি ঈমান», বলা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «অতঃপর আল্লাহর পথে জিহাদ», বলা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «অতঃপর কবুল হজ», তাঁরা উভয়ে এটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَفِي أَفْرَادِ الْبُخَارِيِّ مِنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ رضي الله عنها، أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَرَى الْجِهَادَ أَفْضَلَ الْعَمَلِ، أَفَلا نُجَاهِدُ؟ قَالَ: «لَكِنَّ الْجِهَادَ أَفْضَلُ حَجٌّ مَبْرُورٌ» .
وَفِي حَدِيثِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أنَّهُ قَالَ: «حَجٌّ مَبْرُورٌ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلا الْجَنَّةُ» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا بِرُّ الْحَجِّ؟ قَالَ: «إِطْعَامُ الطَّعَامِ، وَإِفْشَاءُ السَّلامِ» .
وَسُئِلَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ: مَا الْحَجُّ الْمَبْرُورُ؟ قَالَ: أَنْ يَرْجِعَ زَاهِدًا فِي الدُّنْيَا، رَاغِبًا فِي الْآخِرَةِ.
وَفِي حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أنَّهُ قَالَ: «تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ، فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ، كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، وَمَا لِحَجٍّ جَزَاءٌ إِلا الْجَنَّةُ» .
وَفِي حَدِيثِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ، فَإِنَّ مُتَابَعَةَ مَا بَيْنَهُمَا تَزِيدُ فِي الْعُمُرِ وَالرِّزْقِ، وَتَنْفِي الذُّنُوبَ، كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ
বুখারীর একক বর্ণনায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা জিহাদকে সর্বোত্তম আমল মনে করি, তবে কি আমরা জিহাদ করব না? তিনি বললেন: "বরং (তোমাদের জন্য) সর্বোত্তম জিহাদ হলো কবুল হজ।"
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়।" তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, হজের পুণ্য বা 'বিরর' কী? তিনি বললেন: "অন্নদান করা এবং সালামের প্রসার ঘটানো।"
হাসান বসরীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কবুল হজ কী? তিনি বললেন: হজ পালন করে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত এবং আখিরাতের প্রতি অনুরাগী হয়ে ফিরে আসা।
ইবনে মাসউদ বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা হজ ও ওমরার মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করো; কেননা এ দুটি দারিদ্র্য ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমন হাঁপর লোহা, সোনা ও রূপার মরিচা বা ময়লা দূর করে দেয়। আর কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।"
ওমরের বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা হজ ও ওমরার মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করো; কারণ এ দুটির একটির পর অন্যটি পালন করা আয়ু ও রিজিকে বরকত দান করে এবং গুনাহসমূহকে দূর করে দেয়, যেমন হাঁপর দূর করে দেয়..."
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
الْحَدِيدِ» .
وَفِي حَدِيثِ ابْنِ عَبَاسٍ رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «دَعْوَةُ الْحَاجِّ لا تُرَدُّ حِينَ يَرْجِعُ» .
وَفِي حَدِيثِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: " مَنْ أَرَادَ دُنْيَا وَآخِرَةً فَلْيَؤُمَّ هَذَا الْبَيْتَ، مَا أَتَاهُ عَبْدٌ يَسْأَلُ اللَّهَ دُنْيَا إِلا أَعْطَاهُ اللَّهُ مِنْهَا، وَلا آخِرَةً إِلا ادُّخِرَ لَهُ مِنْهَا
وَفِي حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ رضي الله عنهم، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «الْحُجَّاجُ وَالْعُمَّارُ وَفْدُ اللَّهِ، إِنْ سَأَلُوا أُعْطُوا، وَإِنْ أَنْفَقُوا أُخْلِفَ عَلَيْهِمْ، وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي الْقَاسِمِ بِيَدِهِ، مَا أَهَلَّ مُهِلٌّ وَلا كَبَّرَ مُكَبِّرٌ عَلَى شَرَفٍ إِلا أَهَلَّ مَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَكَبَّرَ بِتَهْلِيلِهِ وَتَكْبِيرِهِ، حَتَّى يَبْلُغَ مُنْقَطَعَ التُّرَابِ»
قَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْفَتْحِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ رَوْحٍ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ الْمُؤَمَّلِ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْجَهْمِ، أَنْبَأَنَا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ جَاءَ هَذَا الْبَيْتَ حَاجًّا فَطَافَ بِهِ
লোহার।"।
এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "হজ পালনকারীর দোয়া যখন সে ফিরে আসে তখন ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।"।
এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাত কামনা করে, সে যেন এই ঘরের (কাবার) দিকে অগ্রসর হয়। কোনো বান্দা যখন সেখানে এসে আল্লাহর কাছে দুনিয়ার কোনো কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে তা থেকে দান করেন, আর আখিরাতের কোনো কিছু প্রার্থনা করলে তা তার জন্য সঞ্চিত রাখা হয়।"
এবং আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "হজ পালনকারী ও উমরাহ পালনকারীরা আল্লাহর মেহমান; তারা যদি প্রার্থনা করে তবে তাদের দান করা হয় এবং তারা যা ব্যয় করে তার বিনিময় তাদের প্রদান করা হয়। যাঁর হাতে আবুল কাসিমের প্রাণ তাঁর শপথ, কোনো তালবিয়া পাঠকারী যখনই তালবিয়া পাঠ করে এবং কোনো তাকবির পাঠকারী যখনই কোনো উচ্চ ভূমিতে উঠে তাকবির দেয়, তখন তার সামনে যা কিছু থাকে তারাও তার তালবিয়া ও তাকবিরের সাথে তালবিয়া ও তাকবির পাঠ করে, এমনকি তা ভূমির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায়।"
আমি মুহাম্মদ ইবনে আবি মানসুরের নিকট পাঠ করেছি, তিনি হাসান ইবনে আহমাদ থেকে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবুল ফাতহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে রাওহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে আল-মুয়াম্মাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনুল জাহম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মা'শার, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে এবং তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হজ পালনকারী হিসেবে এই ঘরে আসলো এবং তা তওয়াফ করলো..."
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭০)
أُسْبُوعًا، ثُمَّ أَتَى مَقَامَ إِبْرَاهِيمَ فَصَلَّى عِنْدَهُ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَتَى زَمْزَمَ فَشَرِبَ مِنْ مَائِهَا، أَخْرَجَهُ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»
وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّ رَجُلا مِنَ الْأَنْصَارِ سَأَلَهُ عَنِ الْحَجِّ، فَقَالَ: «لَكَ بِكُلِّ خُطْوَةٍ تَخْطُوهَا رَاحِلَتُكَ حَسَنَةٌ، وَتُحَطُّ عَنْكَ بِهَا سَيِّئَةٌ، وَتُرْفَعُ لَكَ بِهَا دَرَجَةٌ» .
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَنَا الْقَاضِي أَبُو الْحُسَيْنِ السَّمْنَانِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو طَاهِرِ بْنُ مَهْدِيٍّ، أَنْبَأَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ السَّمَرْقَنْدِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو أُمَيَّةَ، أَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، أَنْبَأَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيَهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «النَّفَقَةُ فِي الْحَجِّ تُضَاعَفُ كَالنَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، الدِّرْهَمُ بِسَبْعِ مِائَةٍ»
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْغَنَائِمِ بْنُ النَّرْسِيِّ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنْبَأَنَا زَيْدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَاجِبٍ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمَذَانِيُّ، أَنْبَأَنَا عُمَرُ بْنُ الْحَسَنِ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَامِلٍ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْعُكَّاشِيُّ، أَنْبَأَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ مَكْحُولٍ، وَغَيْرِهِ، أَنَّهُمْ سَمِعُوا أَبَا أُمَامَةَ، وَوَاثِلَةَ رضي الله عنهما، يَقُولانِ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أَرْبَعَةٌ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ عز وجل عَوْنُهُمْ: الْغَازِي، وَالْمُتَزَوِّجُ، وَالْمُكَاتِبُ، وَالْحَاجُّ "
সাত চক্কর (তাওয়াফ), এরপর তিনি মাকামে ইবরাহিমে আসলেন এবং সেখানে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন, অতঃপর যমযমে আসলেন এবং এর পানি পান করলেন; মহান আল্লাহ তাকে তার গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে বের করে দিলেন যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছেন।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, আনসারদের একজন লোক তাঁকে হজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "তোমার সওয়ারি প্রতিটি যে পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার বিনিময়ে তোমার জন্য একটি নেকি লেখা হয়, এর দ্বারা তোমার একটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয় এবং তোমার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়।"
ইয়াহইয়া বিন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বিচারক আবু হুসাইন আস-সামনানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহির বিন মাহদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসমান বিন মুহাম্মদ আস-সামারকান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমাইয়্যাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর বিন উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসা বিন আয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আতা বিন সাইব থেকে, তিনি আলকামা বিন মারসাদ থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "হজের পথে ব্যয় আল্লাহর পথে ব্যয়ের ন্যায় বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়; এক দিরহামের বিনিময়ে সাতশত দিরহাম।"
মুহাম্মদ বিন আবি মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল গানাইম বিন আন-নারসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আলী বিন আব্দুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যায়েদ বিন জাফর বিন হাজিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-হামাদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর বিন হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন কামিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-উককাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আওযায়ি থেকে, তিনি মাকহুল ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা আবু উমামা এবং ওয়াসিলা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "চার প্রকার ব্যক্তিকে সাহায্য করা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর কর্তব্য: আল্লাহর পথের যোদ্ধা, বিবাহ ইচ্ছুক ব্যক্তি, চুক্তিবদ্ধ দাস এবং হজ সম্পাদনকারী।"
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭১)
وَقَالَ أَبُو الشَّعْثَاءِ: نَظَرْتُ فِي أَعْمَالِ الْبِرِّ، فَإِذَا الصَّلاةُ تُجْهِدُ الْبَدَنَ دُونَ الْمَالِ، وَالصِّيَامُ كَذَلِكَ، وَالْحَجُّ يُجْهِدُهُمَا، فَرَأَيْتُهُ أَفْضَلَ.
وَكَانَ أَبُو الشَّعْثَاءِ لا يُمَاكِسُ فِي الْكِرَاءِ إِلَى مَكَّةَ، وَلا فِي الرَّقَبَةِ يَشْتَرِيهَا لِلْعِتْقِ، وَلا فِي الْأُضْحِيَةِ، وَقَالَ: لا يُمَاكَسُ فِي شَيْءٍ يُتَقَرَّبُ بِهِ إِلَى اللَّهِ عز وجل.
فَصْلٌوَاعْلَمْ أَنَّ التَّكْلِيفَ عَلَى ثَلاثَةِ أَقْسَامٍ: تَكْلِيفٌ يَتَعَلَّقُ بِعَقْدِ الْقَلْبِ، وَتَكْلِيفٌ يَتَعَلَّقُ بِالْبَدَنِ، وَتَكْلِيفٌ يَتَعَلَّقُ بِالْمَالِ، وَلَيْسَ فِي التَّكْلِيفِ قِسْمٌ رَابِعٌ.
فَالصَّلاةُ وَالصَّوْمُ يَجْمَعَانِ سَبَبَيْنِ مِنْ هَذِهِ الثَّلاثَةِ، عَقْدُ الْقَلْبِ وَفِعْلُ الْبَدَنِ، وَالزَّكَاةُ تَجْمَعُ سَبَبَيْنِ، عَقْدُ الْقَلْبِ وَإِخْرَاجُ الْمَالِ، وَالْحَجُّ يَجْمَعُ الْأَرْكَانَ الثَّلاثَةَ، فَبَانَ فَضْلُهُ، ثُمَّ إنْهَاكُهُ لِلْبَدَنِ أَشَدُّ، وَإِجْهَادُهُ لِلْمَالِ أَكْثَرُ، وَيَجْمَعُ مُفَارَقَةَ الْأَهْلِ وَالْوَطَنِ، وَالْمَأْلُوفَاتِ وَاللَّذَّاتِ، وَلِقَاءَ الشَّدَائِدِ، وَهُوَ زِيَارَةُ الْحَقِّ عز وجل، ثُمَّ هُوَ حُضُورُ الْبِقَاعِ الشَّرِيفَةِ الَّتِي سَيَأْتِي ذِكْرُ فَضْلِهَا، وَيَتَضَمَّنُ الدُّخُولَ فِي جُمْلَةِ الْمُخْلِصِينَ، وَالاخْتِلاطَ بِالْأَبْدَالِ وَالصَّالِحِينَ، وَالانْغِمَاسَ فِي دُعَاءِ الْمَقْبُولِينَ.
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ ظَفَرٍ، أَنْبَأَنَا جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ الصُّوفِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ دَاوُدَ الدَّيْنَوْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الْحَسَنِ اللُّؤْلُؤي، وَكَانَ خَيِّرًا فَاضِلا، قَالَ: كُنْتُ فِي البَحْرِ
আবুশ শা'সা বলেন: আমি নেক আমলসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম, দেখলাম যে সালাত শরীরকে ক্লান্ত করে কিন্তু তাতে সম্পদের প্রয়োজন হয় না, সিয়ামের ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু হজ শরীর ও সম্পদ উভয়কেই ব্যয়িত করে, তাই আমি এটিকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে দেখলাম।
আবুশ শা'সা মক্কার সফরের ভাড়ার ক্ষেত্রে, মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে দাস ক্রয়ের ক্ষেত্রে এবং কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে দরদাম করতেন না। তিনি বলতেন: যে জিনিসের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করা হয়, তাতে দরদাম করা যায় না।
পরিচ্ছেদজেনে রেখো যে, শরীয়তের বাধ্যবাধকতা তিন প্রকার: অন্তরের বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট বাধ্যবাধকতা, শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট বাধ্যবাধকতা এবং সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট বাধ্যবাধকতা। শরীয়তের বাধ্যবাধকতার মধ্যে চতুর্থ কোনো প্রকার নেই।
সালাত ও সিয়াম এই তিনটির মধ্যে দু'টি কারণকে একত্রিত করে—অন্তরের বিশ্বাস ও শারীরিক কর্ম। যাকাত দু'টি কারণকে একত্রিত করে—অন্তরের বিশ্বাস ও সম্পদ ব্যয়। আর হজ তিনটি রুকনকেই একত্রিত করে, ফলে এর শ্রেষ্ঠত্ব সুস্পষ্ট হয়। অধিকন্তু, এতে শরীরের ওপর ধকল অত্যন্ত তীব্র এবং সম্পদের ব্যয় অনেক বেশি। এটি পরিবার ও স্বদেশ ত্যাগ, অভ্যস্ত বিষয় ও স্বাদ বর্জন এবং দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হওয়াকে একত্রিত করে। আর এটি হলো মহান সত্য আল্লাহর যিয়ারত। তদুপরি, এটি সেই সব বরকতময় পুণ্যভূমিতে উপস্থিতি যার ফজিলত অচিরেই বর্ণিত হবে। এটি একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আবদাল ও নেককারদের সাথে মেলামেশা এবং কবুলকৃতদের দোয়ার মাঝে অবগাহন করাকে শামিল করে।
উমর বিন জাফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর বিন আহমাদ আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল আজিজ বিন আলী আমাদের জানিয়েছেন, আবুল হাসান আস-সুফি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন দাউদ আদ-দিনাওয়ারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আবুল হাসান আল-লুলুই আমাকে বর্ণনা করেছেন—তিনি একজন কল্যাণময় ও বিদগ্ধ ব্যক্তি ছিলেন—তিনি বলেন: আমি সমুদ্রে ছিলাম...
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭২)
فَانْكَسَرَتِ الْمَرْكَبُ وَغَرِقَ كُلُّ مَا فِيهِ، وَكَانَ فِي وِطَائِي لُؤْلُؤٌ قِيمَتُهُ أَرْبَعَةُ آلافِ دِينَارٍ.
وَقَرُبَتْ أَيَّامُ الْحَجِّ وَخِفْتُ الْفَوَاتَ، فَلَمَّا سَلَّمَ اللَّهُ عز وجل بِرُوحِي وَنَجَاتِي مِنَ الْغَرَقِ مَشَيْتُ، فَقَالَ لِي جَمَاعَةٌ كَانُوا فِي الْمَرْكَبِ: لَوْ وَقَفْتَ عَسَى يَجِيءُ مَنْ يُخْرِجُ شَيْئًا فَيُخْرِجُ لَكَ مِنْ رَحْلِكَ شَيْئًا، فَقُلْتُ: قَدْ عَلِمَ اللَّهُ مَا مَرَّ مِنِّي، وَكَانَ فِي وِطَائِي شَيْءٌ قِيمَتُهُ أَرْبَعَةُ آلافِ دِينَارٍ، وَمَا كُنْتُ بِالَّذِي أُوثِرُهُ عَلَى وَقْفَةٍ بِعَرَفَةَ.
فَقَالُوا: وَمَا الَّذِي وَرَّثَكَ هَذَا؟ فَقُلْتُ: أَنَا رَجُلٌ مُولَعٌ بِالْحَجِّ، أَطْلُبُ الرِّبْحَ وَالثَّوَابَ، حَجَجْتُ فِي بَعْضِ السِّنِينَ وَعَطِشْتُ عَطَشًا شَدِيدًا، فَأَجْلَسْتُ عَدِيلِي فِي وَسَطِ الْمَحْمَلِ، وَنَزَلْتُ أَطْلُبُ الْمَاءَ وَالنَّاسُ عَطِشُوا، فَلَمْ أَزَلْ أَسْأَلُ رَجُلا رَجُلا وَمَحْمَلا مَحْمَلا: مَعَكُمْ مَاءٌ؟ وَإِذَا النَّاسُ شَرْعٌ وَاحِدٌ، حَتَّى صِرْتُ فِي سَاقَةِ الْقَافِلَةِ بِمِيلٍ أَوْ مِيلَيْنِ، فَمَرَرْتُ بِمَصْنَعٍ مُصَهْرَجٍ، فَإِذَا رَجُلٌ فَقِيرٌ جَالِسٌ فِي أَرْضِ الْمَصْنَعِ وَقَدْ غَرَزَ عَصَاهُ فِي أَرْضِ الْمَصْنَعِ، وَالْمَاءُ يَنْبُعُ مِنْ مَوْضِعِ الْعَصَا وَهُوَ يَشْرَبُ، فَنَزَلْتُ إِلَيْهِ، وَشَرِبْتُ حَتَّى رَوِيتُ، وَجِئْتُ إِلَى الْقَافِلَةِ وَالنَّاسُ قَدْ نَزَلُوا، فَأَخْرَجْتُ قِرْبَةً وَمَضَيْتُ فَمَلَأْتُهَا، فَرَآنِيَ النَّاسُ، فَتَبَادَرُوا بِالْقِرَبِ، فَرَوَوْا عَنْ آخِرِهِمْ، فَلَمَّا رَوِيَ النَّاسُ وَسَارَتِ الْقَافِلَةُ جِئْتُ لِأَنْظُرَ وَإِذَا الْبِرْكَةُ مَلْأَى يَلْتَطِمُ مَوَاجُهَا، فَمَوْسِمٌ يَحْضُرُهُ مِثْلُ هَؤُلاءِ، يَقُولُونَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِمَنْ حَضَرَ الْمَوْقِفَ وَلِجَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ، أُوثِرُ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ آلافِ دِينَارٍ؟ لا وَاللَّهِ وَلا الدُّنْيَا بِأَسْرِهَا، وَتَرَكَ اللُّؤْلُؤَ وَجَمِيعَ قُمَاشِهِ قَالَ الشَّيْخُ فَبَلَغَنِي أَنَّ قِيمَةَ مَا كَانَ غَرِقَ لَهُ خَمْسُونَ أَلْفَ دِينَارٍ
ফলে নৌকাটি ভেঙে গেল এবং এতে যা কিছু ছিল সব ডুবে গেল। আর আমার তল্পিতল্পায় চার হাজার দিনার মূল্যের মুক্তা ছিল।
হজের দিনগুলো ঘনিয়ে এল এবং আমি তা ছুটে যাওয়ার ভয় পেলাম। যখন মহান আল্লাহ আমার প্রাণ রক্ষা করলেন এবং নিমজ্জন থেকে আমাকে মুক্তি দিলেন, তখন আমি পায়ে হেঁটে চলতে লাগলাম। তখন নৌকায় থাকা একদল লোক আমাকে বলল: "আপনি যদি অপেক্ষা করতেন, তবে সম্ভবত এমন কেউ আসত যে পানির নিচ থেকে কিছু বের করে আনত এবং আপনার আসবাবপত্র থেকেও কিছু উদ্ধার করত।" আমি বললাম: "আমার ওপর যা কিছু অতিবাহিত হয়েছে তা আল্লাহ জানেন। আমার তল্পিতল্পায় এমন কিছু ছিল যার মূল্য চার হাজার দিনার, কিন্তু আমি কখনোই একে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের ওপর প্রাধান্য দেব না।"
তারা বলল: "কোন বিষয়টি আপনাকে এমন গুণের অধিকারী করেছে?" আমি বললাম: "আমি হজের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এক ব্যক্তি, আমি এর মাধ্যমে প্রতিদান ও সওয়াব অন্বেষণ করি। কোনো এক বছর আমি হজে থাকাকালীন প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হলাম। আমি আমার সফরসঙ্গীকে হাওদার মাঝখানে বসালাম এবং পানি অন্বেষণে নিচে নামলাম। অন্য লোকেরাও তৃষ্ণার্ত ছিল। আমি এক এক করে প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে এবং প্রতিটি হাওদার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম: আপনাদের কাছে কি পানি আছে? দেখা গেল সকলেরই একই অবস্থা। এমনকি আমি কাফেলার পশ্চাদ্ভাগ থেকে এক বা দুই মাইল দূরে চলে গেলাম। তখন আমি একটি প্লাস্টার করা জলাধারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেখানে দেখলাম একজন দরিদ্র লোক জলাধারের জমিনে বসে আছে এবং সে তার লাঠিটি জলাধারের মাটিতে গেঁথে রেখেছে। আর সেই লাঠি পোঁতা স্থান থেকে পানি উপচে বের হচ্ছে এবং সে পান করছে। আমি তার কাছে নেমে গেলাম এবং তৃপ্ত হয়ে পান করলাম। এরপর কাফেলায় ফিরে এলাম, তখন লোকেরা যাত্রাবিরতি করেছিল। আমি একটি মশক বের করে নিয়ে গেলাম এবং তা পূর্ণ করলাম। লোকেরা আমাকে দেখে মশকের দিকে দ্রুত এগিয়ে এল এবং তাদের শেষ ব্যক্তিটি পর্যন্ত তৃষ্ণা নিবারণ করল। যখন তারা তৃপ্ত হলো এবং কাফেলা চলতে শুরু করল, তখন আমি দেখতে গেলাম এবং দেখলাম যে জলাধারটি পানিতে ভরপুর এবং তার ঢেউ আছড়ে পড়ছে। সুতরাং এমন এক মৌসুম যেখানে এই ধরনের নেককার বান্দারা উপস্থিত থাকেন এবং বলেন: 'হে আল্লাহ! আপনি আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত ব্যক্তিদের এবং সকল মুসলিম সম্প্রদায়কে ক্ষমা করুন'—এমন সমাবেশের ওপর কি আমি চার হাজার দিনারকে প্রাধান্য দেব? আল্লাহর কসম, কখনোই না! এমনকি সমগ্র দুনিয়াকেও এর ওপর প্রাধান্য দেব না।" এরপর তিনি সেই মুক্তা এবং তার সকল আসবাবপত্র ছেড়ে চলে গেলেন। শায়খ বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তার যা কিছু ডুবে গিয়েছিল তার মূল্য ছিল পঞ্চাশ হাজার দিনার।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
بَابُ سَبَبِ تَوَقَانِ النَّفْسِ إِلَى مَكَّةَالتَّائِقُونَ إِلَى مَكَّةَ عَلَى سِتَّةِ أَقْسَامٍ: الْأَوَّلُ: مَنْ تَكُونُ وَطَنًا لَهُ فَيَخْرُجُ عَنْهَا فَيَتُوقُ إِلَى وَطَنِهِ وَهَذَا ظَاهِرٌ.
وَالثَّانِي: مَنْ يَذُوقُ فِي تَرَدُّدِهِ إِلَيْهَا حَلاوَةَ رِبْحِ الدُّنْيَا، فَذَاكَ تَتُوقُ نَفْسُهُ إِلَى رِبْحِهِ لا إِلَيْهَا، لَكِنَّهَا لَمَّا كَانَتْ سَبَبًا تَاقَ إِلَيْهَا.
وَالثَّالِثُ: مَنْ يَكُونُ مَحْصُورًا فِي بَلَدِهِ فَيُحِبُّ النُّزْهَةَ وَالْفُرْجَةَ وَيَرَى مَا يَطْلُبُهُ فِي طَرِيقِهَا، فَيَنْسَى شِدَّةً يَلْقَاهَا لِلَّذَّةِ الَّتِي يَطْلُبُهَا، وَتُبَهْرِجُ نَفْسُهُ عَلَيْهِ: إِنِّي أُحِبُّ الْحَجَّ، وَإِنَّمَا يُحِبُّ الرِّحْلَةَ.
وَالرَّابِعُ: مَنْ تُبْطِنُ نَفْسُهُ الرِّيَاءَ وَتُخْفِيهِ عَنْهُ حَتَّى لا يَكَادَ يُحِسُّ بِهِ، وَذَلِكَ حُبُّهَا لِقَوْلِ النَّاسِ: قَدْ حَجَّ فُلانٌ، ولِتَلَقُّبِهِ وَتَسَمِّيهِ بِالْحَاجِّ، فَهُوَ يَتُوقُ إِلَى ذَلِكَ، وَتُبَهْرِجُ عَلَيْهِ بِحُبِّ الْحَجِّ، وَهَذَا مِنْ دَقَائِقِ الْغُرُورِ فَيَجِبُ الْحَذَرُ مِنْهُ.
وَقَدْ رُوِيَ عَنْ بَعْضِ السَّلَفِ أَنَّ رَجُلا جَاءَهُ، فَقَالَ: أُرِيدُ أَنْ أَحُجَّ.
قَالَ: كَمْ مَعَكَ؟ قَالَ: أَلْفَا دِرْهَمٍ.
قَالَ: أَحَجَجْتَ؟ قَالَ: بَلَى.
قَالَ: فَأَنَا أَدُلُّكَ عَلَى أَفْضَلَ مِنَ الْحَجِّ، اقْضِ دَيْنَ مَدِينٍ، فَرِّجْ عَنْ مَكْرُوبٍ.
فَسَكَتَ.
فَقَالَ: مَا لَكَ؟ قَالَ: مَا تَمِيلُ نَفْسِي إِلا إِلَى الْحَجِّ.
فَقَالَ: إِنَّمَا تُرِيدُ أَنْ تَرْكَبَ وَتَجِيءَ، وَيُقَالَ: قَدْ حَجَّ.
وَالْقِسْمُ الْخَامِسُ: مَنْ يَعْلَمُ فَضْلَ الْحَجِّ، فَيَتُوقُ إِلَى ثَوَابِ اللَّهِ عز وجل، لِأَنَّ مُضَاعَفَةَ الثَّوَابِ فِي تِلْكَ الْأَمَاكِنَ يَزِيدُ عَلَى غَيْرِهَا، وَهَذَا هُوَ الْمُؤْمِنُ.
وَالْقِسْمُ السَّادِسُ: تَوَقَانٌ عَامٌّ، لَيْسَ لَهُ سَبَبٌ مِنَ الْأَسْبَابِ الْمُتَقَدِّمَةِ إِلا أَنَّ فِيهِ شَائِبَةً مِنَ الْقِسْمِ الْخَامِسِ الَّذِي هُوَ صِفَةُ الْمُؤْمِنِ، وَهُوَ أَنَّ أَقْوَامًا يَتُوقُونَ وَيَجِدُونَ قَلَقًا لا يَبْعَثُ عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنَ الْأَقْسَامِ الْمُتَقَدِّمَةِ، وَلَيْسَ الْمَكَانُ مُسْتَلَذًّا فِي
মক্কার প্রতি আত্মার ব্যাকুলতার কারণ বিষয়ক অধ্যায়মক্কার প্রতি ব্যাকুল ব্যক্তিবর্গ ছয় প্রকার: প্রথম: যার জন্য এটি স্বদেশ, সে সেখান থেকে বের হওয়ার পর তার স্বদেশের প্রতি ব্যাকুল হয়; আর এটি সুস্পষ্ট।
দ্বিতীয়: যে সেখানে যাতায়াতের মাধ্যমে পার্থিব মুনাফার স্বাদ আস্বাদন করে। ফলে তার আত্মা সেই মুনাফার প্রতিই ব্যাকুল হয়, মক্কার প্রতি নয়; তবে মক্কা যেহেতু সেই মুনাফার কারণ, তাই সে মক্কার প্রতিও ব্যাকুলতা অনুভব করে।
তৃতীয়: যে ব্যক্তি নিজ শহরে আবদ্ধ থেকে ভ্রমণ ও বিনোদন পছন্দ করে এবং এই পথের মধ্যেই তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পায়। সে তার অভীষ্ট আনন্দের জন্য পথিমধ্যে পাওয়া কষ্টসমূহ ভুলে যায়। তার আত্মা তার কাছে বিষয়টিকে এমনভাবে রঙচঙিয়ে উপস্থাপন করে যে, ‘আমি হজ পছন্দ করি’, অথচ সে আসলে সফরই পছন্দ করে।
চতুর্থ: যার অন্তরে লোকদেখানো মানসিকতা লুকিয়ে থাকে এবং আত্মা তা তার কাছ থেকে এমনভাবে গোপন রাখে যে সে নিজেও তা টের পায় না। আর তা হলো মানুষের এই কথা শোনার প্রতি তার ভালোবাসা যে, ‘অমুক ব্যক্তি হজ করেছে’ এবং তাকে ‘হাজি’ উপাধিতে ভূষিত করা ও সেই নামে ডাকা। ফলে সে সেই মোহের প্রতিই ব্যাকুল হয়, আর তার আত্মা তার কাছে হজের ভালোবাসার মিথ্যা আবরণ দিয়ে তা ঢেকে রাখে। এটি প্রতারণার সূক্ষ্মতম দিকগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তাই এ থেকে সতর্ক হওয়া আবশ্যক।
জনৈক সালাফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল: আমি হজ করতে চাই।
তিনি বললেন: তোমার কাছে কত আছে? সে বলল: দুই হাজার দিরহাম।
তিনি বললেন: তুমি কি আগে হজ করেছ? সে বলল: হ্যাঁ।
তিনি বললেন: তবে আমি তোমাকে হজের চেয়েও উত্তম কাজের সন্ধান দিচ্ছি; কোনো ঋণগ্রস্তের ঋণ পরিশোধ করো অথবা কোনো বিপদগ্রস্তের কষ্ট লাঘব করো।
তখন সে চুপ হয়ে রইল।
তিনি বললেন: তোমার কী হলো? সে বলল: আমার মন কেবল হজের দিকেই ঝুঁকছে।
তিনি তখন বললেন: তুমি কেবল সওয়ারিতে চড়তে আর আসতে চাও, যাতে বলা হয় যে, ‘সে হজ করেছে’।
পঞ্চম প্রকার: যে ব্যক্তি হজের ফযিলত সম্পর্কে জানে, তাই সে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতিদান প্রত্যাশায় ব্যাকুল হয়; কারণ সেই স্থানগুলোতে নেক আমলের সওয়াব অন্যান্য স্থানের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আর এই ব্যক্তিই হলো প্রকৃত মুমিন।
ষষ্ঠ প্রকার: এটি হলো এক সাধারণ ব্যাকুলতা, যার পেছনে উল্লিখিত কারণগুলোর কোনোটিই নেই; তবে এতে পঞ্চম প্রকারের অর্থাৎ মুমিনের গুণের কিঞ্চিৎ রেশ রয়েছে। তা হলো এই যে, একদল মানুষ ব্যাকুল হয়ে পড়ে এবং এক অস্থিরতা অনুভব করে যা পূর্ববর্তী কোনো কারণ থেকে উদ্ভূত নয়; আর সেই স্থানটি কেবল ইন্দ্রিয়সুখের জন্য নয়...
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
نَفْسِهِ فَيُوجِبُ ذَلِكَ الْقَلَقَ، فَهَذَا السِّرُّ الْغَامِضُ الَّذِي يَحْتَاجُ إِلَى كَشْفٍ.
وَلِهَذَا التَّوَقَانِ ثَلاثَةُ أَسْبَابٍ: أَحَدُهَا: دُعَاءُ الْخَلِيلِ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام، حِينَ قَالَ: {فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ} [إبراهيم: 37] ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: تَحِنُّ إِلَيْهِمْ، قَالَ: وَأَرَادَ حُبَّ سُكْنَى مَكَّةَ، وَلَوْ قَالَ: اجْعَلْ أَفْئِدَةَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ؛ لَحَجَّهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، لَكِنَّهُ قَالَ: {مِنَ النَّاسِ} [إبراهيم: 37] .
وَالثَّانِي: أَنَهُ قَدْ جَاءَ فِي الْحَدِيثِ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْظُرُ إِلَى الْكَعْبَةِ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَتَحِنُّ الْقُلُوبُ إِلَيْهَا» .
وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ تُنْسَخُ فِيهَا الْآجَالُ، وَيُكْتَبُ فِيهَا الْحَاجُّ» .
وَالثَّالِثُ: أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَخَذَ ذُرِّيَّةَ آدَمَ بِأَرْضِ نَعْمَانَ.
أَخْبَرَنَا ابْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ، أَنْبَأنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، أَنْبَأَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ يَعْنِي: ابْنَ حَازِمٍ، عَنْ كُلْثُومِ بْنِ جَبْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " أَخَذَ اللَّهُ عز وجل الْمِيثَاقَ مِنْ ظَهْرِ آدَمَ بِنَعْمَانَ، يَعْنِي: عَرَفَةَ، فَأَخْرَجَ مِنْ صُلْبِهِ كُلَّ ذُرِّيَّةٍ ذَرَأَهَا فَنَثَرَهُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ كَالذَّرِّ، ثُمَّ كَلَّمَهُمْ قَبْلا، قَالَ: أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ؟ قَالُوا: بَلَى ".
وَهَذَا الْحَدِيثُ
নিজের মাঝে, যা অস্থিরতা সৃষ্টি করে; এটিই সেই রহস্যময় বিষয় যা উন্মোচন করা প্রয়োজন।
আর এই ব্যাকুলতার তিনটি কারণ রয়েছে: প্রথমটি হলো খলিল ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দুআ, যখন তিনি বলেছিলেন: {অতএব আপনি মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন} [ইবরাহিম: ৩৭]। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: তাদের প্রতি দয়ার্দ্র হবে। তিনি বলেন: তিনি মক্কায় বসবাসের প্রতি ভালোবাসা উদ্দেশ্য করেছিলেন। আর তিনি যদি বলতেন: 'আপনি মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন'; তবে ইহুদি ও নাসারারাও হজ্জ করতে আসত; কিন্তু তিনি বলেছিলেন: {মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোকের} [ইবরাহিম: ৩৭]।
দ্বিতীয় কারণ: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের মধ্যভাগে কাবার দিকে দৃষ্টিপাত করেন, ফলে অন্তরসমূহ এর প্রতি ব্যাকুল হয়ে ওঠে।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "শাবান মাসের মধ্যভাগে আয়ুষ্কাল লিপিবদ্ধ করা হয় এবং হাজীদের তালিকা লেখা হয়।"
তৃতীয় কারণ: আল্লাহ তাআলা নু'মান নামক ভূমিতে আদমের বংশধরদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন।
ইবন আবদিল ওয়াহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল মুযহিব আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর ইবন মালিক আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন আহমদ আমাদের জানিয়েছেন, আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, হুসাইন ইবন মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, জারির অর্থাৎ ইবন হাযিম আমাদের নিকট কুলসুম ইবন জাবর থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আদমের পিঠ থেকে নু'মান অর্থাৎ আরাফাতের ময়দানে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর মেরুদণ্ড থেকে তাঁর সকল বংশধরকে বের করলেন যাদের তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে তাঁর দুই হাতের সামনে ক্ষুদ্র পিপীলিকার ন্যায় ছড়িয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বললেন: আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলল: অবশ্যই।"
আর এই হাদিসটি
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
يَدُلُّ عَلَى أَنَّ ذَلِكَ الْمَكَانَ أَوَّلُ وَطَنٍ، وَالنَّفْسُ أَبَدًا تُنَازِعُ إِلَى الْوَطَنِ، وَلَيْسَ لِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ: إِنَّ هَذَا شَيْءٌ لا تَتَخَايَلُهُ النَّفْسُ، فَكَيْفَ تَشْتَاقُ إِلَيْهِ؟ لِأَنَّ النَّفْسَ قَدْ كَانَتْ فِي أَحْوَالٍ وَتَقَلُّبٍ فَنَسِيَتْ، كَمَا أَنَّ الَإِنْسَانَ قَدْ يَمِيلُ إِلَى شَخْصٍ وَلا يَدْرِي، ثُمَّ يَظْهَرُ بَيْنَهُمَا تَشَاكُلٌ أَوْجَبَ ذَلِكَ وَمُنَاسَبَةٌ، ثُمَّ لَيْسَ نِسْيَانُ النَّفْسِ لِذَلِكَ الْعَهْدِ بِأَعْجَبَ مِنْ نِسْيَانِهَا لِلْعَهْدِ، وَالْأَوْطَانُ أَبَدًا مَحْبُوبَةٌ
وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ لَمَّا سَارَ إِلَى الْمَدِينَةِ تَذَكَّرَ مَكَّةَ فِي طَرِيقِهِ، فَاشْتَاقَ إِلَيْهَا، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ عليه السلام، فَقَالَ: " أَتَشْتَاقُ إِلَى بَلَدِكَ وَمَوْلِدِكَ؟ قَالَ: نَعَمْ.
قَالَ: فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: {إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْءَانَ لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ} [القصص: 85] ".
أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، أَنْبَأَنَا أَبِي، أَنْبَأَنَا يُونُسُ، أَنْبَأَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي: ابْنَ زَيْدٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَهِيَ وَبِيئَةٌ فَمَرِضَ أَبُو بَكْرٍ فَكَانَ إِذَا أَخَذَتْهُ الْحُمَّى، يَقُولُ:
كُلُّ امْرِئٍ مُصَبَّحٌ فِي أَهْلِهِ
… وَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ
قَالَتْ: وَكَانَ بِلالٌ إِذَا أَخَذَتْهُ الْحُمَّى، يَقُولُ:
أَلا لَيْتَ شِعْرِي هَلْ أَبِيتَنَّ لَيْلَةً
… بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلٌ؟
وَهَلْ أَرِدَنْ يَوْمًا مِيَاهَ مِجَنَّةٍ
… وَهَلْ يَبْدُوَنْ لِي شَامَةٌ وَطَفِيلُ؟
اللَّهُمَّ الْعَنْ عُتْبَةَ، وَشَيْبَةَ، وَأُمَيَّةَ بْنَ خَلَفٍ، كَمَا أَخْرَجُونَا مِنْ مَكَّةَ.
فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَقُوا، قَالَ: «اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ، اللَّهُمَّ صَحِّحْهَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِهَا وَمُدِّهَا، وَانْقُلْ حُمَّاهَا إِلَى الْجُحْفَةِ» .
قَالَتْ: فَكَانَ الْمَوْلُودُ يُولَدُ بِالْجُحْفَةِ فَمَا يَبْلُغُ الْحُلُمَ حَتَّى تَصْرَعَهُ
এটি নির্দেশ করে যে, সেই স্থানটিই প্রথম স্বদেশ, আর আত্মা সর্বদা স্বদেশের জন্য আকুল থাকে। কোনো বক্তার এমন কথা বলার অবকাশ নেই যে: এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা আত্মা কল্পনা করতে পারে, তবে সেটির প্রতি সে কীভাবে লালায়িত হয়? কারণ আত্মা বিভিন্ন অবস্থা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, ফলে সে ভুলে গেছে; যেমন মানুষ কখনো কোনো ব্যক্তির প্রতি ঝুঁকে পড়ে কিন্তু সে তার কারণ জানে না, অতঃপর তাদের উভয়ের মধ্যে এমন কোনো সাদৃশ্য বা সম্পর্ক প্রকাশ পায় যা সেই আকর্ষণকে অবধারিত করে তোলে। তদুপরি, আত্মার সেই অঙ্গীকার ভুলে যাওয়া তার স্বদেশের প্রতি অনুরাগের চেয়ে বেশি বিস্ময়কর নয়। আর স্বদেশ সর্বদা প্রিয় হয়ে থাকে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন মদীনার দিকে হিজরত করছিলেন, পথিমধ্যে তাঁর মক্কার কথা মনে পড়ল এবং তিনি তার প্রতি ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট এসে বললেন: "আপনি কি আপনার শহর ও জন্মভূমির প্রতি ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: {যিনি আপনার ওপর কুরআন (এর বিধান) অবধারিত করেছেন, তিনি অবশ্যই আপনাকে আপনার গন্তব্যস্থলে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন।} [সূরা আল-কাসাস: ৮৫]।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, আমাদের জানিয়েছেন আল-হাসান বিন আলী, আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর বিন মালিক, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ, আমাদের জানিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের জানিয়েছেন ইউনুস, আমাদের জানিয়েছেন হাম্মাদ—অর্থাৎ ইবনে যায়েদ—হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আসলেন, তখন সেটি ছিল একটি রোগাক্রান্ত ভূমি। ফলে আবু বকর অসুস্থ হয়ে পড়লেন। যখন তাঁর জ্বর আসত, তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করতেন:
প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিবারের মাঝে সকাল অতিবাহিত করে
… অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটে।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: বেলালের যখন জ্বর আসত, তখন তিনি উচ্চস্বরে বলতেন:
হায়! আমি যদি জানতাম যে আমি কোনো এক রাত কাটাতে পারব কি না
… এমন এক উপত্যকায় যেখানে আমার চারপাশে ইযখির ও জালীল ঘাস থাকবে?
আর কোনো একদিন কি আমি মিজান্নার জলাধারে পৌঁছাতে পারব?
… আর শামা ও তাফীল পাহাড় কি আমার সামনে কখনো দৃশ্যমান হবে?
হে আল্লাহ! আপনি উতবা, শায়বা এবং উমাইয়া বিন খালাফের ওপর অভিশাপ দিন, যেমন তারা আমাদের মক্কা থেকে বের করে দিয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদের এই দুর্দশা দেখলেন, তখন তিনি দোয়া করলেন: "হে আল্লাহ! আমাদের নিকট মদীনাকে তেমনি প্রিয় করে দিন যেমন প্রিয় ছিল মক্কা অথবা তার চেয়েও বেশি। হে আল্লাহ! মদীনার আবহাওয়াকে স্বাস্থ্যকর করুন, এর সা' ও মুদ-এ (খাদ্যশস্যের মাপে) বরকত দান করুন এবং এর জ্বরকে জুহফাহর দিকে সরিয়ে দিন।"
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: এরপর জুহফাহ অঞ্চলে যে শিশু জন্মগ্রহণ করত, সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ধরাশায়ী হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
الْحُمَّى.
أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ
أَخْبَرَنَا ابْنُ نَاصِرٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو طَاهِرِ بْنُ أَبِي الصَّقْرِ، أَنْبَأَنَا مَكِّيُّ بْنُ أَبِي نَظِيفٍ، أَنْبَأَنَا طَاهِرُ بْنُ أَحْمَدَ، أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ زَيْدٍ، أَنْبَأَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا الْأَصْمَعِيُّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الْهُذَلِيِّ، عَنْ رِجَالٍ مِنْ قَوْمِهِ، أَنَّ أُصَيْلا الْهُذَلِيَّ قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَكَّةَ، فَقَالَ: «يَا أُصَيْلُ، كَيْفَ تَرَكْتَ مَكَّةَ؟» قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: تَرَكْتُهَا وَقَدِ ابْيَضَّتْ بَطْحَاؤُهَا وَاخْضَرَّتْ مِسَلاتُهَا، يَعْنِي: شِعَابَهَا، وَأَمْشَرَ سَلَمُهَا، وَالْإِمْشَارُ: ثَمَرٌ لَهُ حُمْرَةٌ، وَأَعْذَقَ إِذْخِرُهَا، وَالْإِعْذَاقُ: اجْتِمَاعُ أُصُولِهِ، وَأَحْجَنَ ثُمَامُهَا، وَالْإِحْجَانُ: تَعَقُّفُهُ.
فَقَالَ: «يَا أُصَيْلُ! دَعِ الْقُلُوبَ تَقِرُّ، لا تُشَوِّقْهُمْ إِلَى مَكَّةَ»
وَمِمَّا يُؤَكِّدُ دَلِيلَ حُبِّ الْوَطَنِ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُوا مِنْ دِيَارِكُمْ} [النساء: 66] .
فَسَوَّى بَيْنَ الْقَتْلِ وَالْخُرُوجِ مِنَ الْأَوْطَانِ.
وَأَوْصَى الْإِسْكَنْدَرُ إِذَا مَاتَ أَنْ يُحْمَلَ إِلَى بَلَدِهِ حُبًّا لِوَطَنِهِ.
জ্বর।
তাঁরা উভয়েই এটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণনা করেছেন।
ইবনে নাসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহির বিন আবিস সাকর আমাদের অবহিত করেছেন, মাক্কী বিন আবি নাযীফ আমাদের অবহিত করেছেন, তাহির বিন আহমাদ আমাদের অবহিত করেছেন, আবু মুহাম্মদ বিন যায়দ আমাদের অবহিত করেছেন, আব্বাস বিন মুহাম্মদ আমাদের অবহিত করেছেন, আসমাঈ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-হুযালী থেকে, তিনি তাঁর গোত্রের কিছু লোকের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, উসাইল আল-হুযালী মক্কা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তখন তিনি বললেন: «হে উসাইল, তুমি মক্কাকে কী অবস্থায় রেখে এসেছ?» তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি মক্কাকে এমন অবস্থায় রেখে এসেছি যে, তার উপত্যকাগুলো শ্বেতশুভ্র হয়ে গেছে, তার নালাগুলো—অর্থাৎ পাহাড়ি পথগুলো—সবুজ হয়ে উঠেছে, তার সালাম গাছগুলো ফলবতী হয়েছে—আর ইমশার হলো লাল রঙের ফল—তার ইযখির ঘাসগুলো গুচ্ছবদ্ধ হয়েছে এবং তার সুমাম ঘাসগুলো নুইয়ে পড়েছে।
তখন তিনি বললেন: «হে উসাইল! অন্তরগুলোকে শান্ত থাকতে দাও, তাদের মনে মক্কার প্রতি ব্যাকুলতা সৃষ্টি করো না।»
স্বদেশপ্রেমের প্রমাণের সপক্ষে যা জোরালো সমর্থন দেয় তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি আমি তাদের ওপর নির্দেশ দিতাম যে, তোমরা নিজেদের হত্যা করো অথবা তোমরা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বের হয়ে যাও} [সূরা আন-নিসা: ৬৬]।
এখানে আল্লাহ তাআলা জীবন বিসর্জন দেওয়া এবং স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়াকে সমপর্যায়ের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আর আলেকজান্ডার ওসিয়ত করেছিলেন যে, তিনি মারা গেলে যেন স্বদেশের প্রতি অনুরাগের কারণে তাঁকে তাঁর নিজ দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
وَاعْتَلَّ اسْفِنْدِيَارْدُ فِي بَعْضِ غَزَوَاتِهِ، فَقِيلَ لَهُ: مَا تَشْتَهِي؟ فَقَالَ: شَمَّةً مِنْ تُرْبَةِ بَلْخٍ، وَشَرْبَةً مِنْ مَاءِ وَادِيهَا.
وَاعْتَلَّ سَابُورُ ذُو الْأَكْتَافِ بِالرُّومِ، وَكَانَ مَأْسُورًا بِهَا، وَكَانَتْ بِنْتُ مَلِكِهِمْ قَدْ عَشِقَتْهُ، فَقَالَتْ لَهُ: مَا تَشْتَهِي؟ فَقَالَ: شَرْبَةً مِنْ مَاءِ دِجْلَةَ، وَشَمِيمًا مِنْ تُرَابِ إِصْطَخَرَ، فَغَابَتْ عَنْهُ أَيَّامًا ثُمَّ أَتَتْهُ بِمَاءٍ مِنَ الْفُرَاتِ، وَقَبْضَةٍ مِنْ شَاطِئِهِ، وَقَالَتْ: هَذَا مِنْ دِجْلَةَ وَهَذِهِ تُرْبَةُ أَرْضِكَ، فَشَرِبَ بِالْوَهَمِ، وَاشْتَمَّ مِنْ تِلْكَ التُّرْبَةِ، فَنَقِهَ مِنْ عِلَّتِهِ.
وَكَانَتِ الْعَرَبُ إِذَا سَافَرَتْ حَمَلَتْ مَعَهَا مِنْ تُرْبَةِ بَلَدِهَا تَسْتَشْفِي بِهِ عِنْدَ مَرَضٍ يَعْرِضُ.
وَقَالَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي ضُبَيَّةَ:
نَسِيرُ عَلَى عِلْمٍ بِكُنْهِ مَسِيرِنَا
… وَعِدَّةِ زَادٍ فِي بَقَايَا الْمَزَاوِدِ
ونَحْمِلُ فِي الأَسْفَارِ مِنَّا قُبَيْضَةً
… مِنَ الْبَلَدِ النَائِي لِحُبِّ الْمَوَالِدِ
ولَمَّا حُمِلَتْ نَائِلَةُ بِنْتُ الْفَرَافِصَةِ إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنه فَكَرِهَتْ فِرَاقَ أَهْلِهَا، فَقَالَتْ لِأَخِيهَا ضَبٍّ:
أَلَسْتَ تَرَى بِاللَّهِ يَا ضَبُّ أَنَّنِي
… مُوَافِقَةٌ نَحْوَ الْمَدِينَةِ أَرْكَبَا
ইসফান্দিয়ার তার কোনো এক যুদ্ধে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনি কী আকাঙ্ক্ষা করেন?" তিনি বললেন: "বল্খ-এর মাটির একটু ঘ্রাণ এবং এর উপত্যকার পানির এক ঢোক চুমুক।"
সাবুর যুল আকতাফ রোম দেশে অসুস্থ হয়ে পড়লেন, যখন তিনি সেখানে বন্দী ছিলেন। তাদের রাজার কন্যা তাঁর প্রেমে পড়েছিল। সে তাঁকে জিজ্ঞেস করল: "আপনি কী আকাঙ্ক্ষা করেন?" তিনি বললেন: "দজলা নদীর পানির এক ঢোক চুমুক এবং ইস্তাখরের মাটির ঘ্রাণ।" এরপর সে কয়েক দিনের জন্য অদৃশ্য হয়ে গেল, অতঃপর তাঁর কাছে ফোরাত নদীর পানি এবং এর তীরের এক মুঠো মাটি নিয়ে আসল। সে বলল: "এটি দজলার পানি এবং এটি আপনার দেশের মাটি।" ফলে তিনি কাল্পনিক ধারণার বশবর্তী হয়ে তা পান করলেন এবং সেই মাটির ঘ্রাণ নিলেন, যার ফলে তিনি তাঁর অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভ করলেন।
আরবরা যখন সফরে বের হতো, তখন তারা তাদের সাথে নিজের দেশের কিছু মাটি বহন করত, যাতে কোনো আকস্মিক রোগে তারা এর মাধ্যমে আরোগ্য কামনা করতে পারে।
বনী লুবায়্যাহর এক ব্যক্তি বলেন:
আমরা আমাদের যাত্রার প্রকৃত তত্ত্ব সম্পর্কে অবগত হয়ে পথ চলি
… এবং পাথেয় থলিতে অবশিষ্ট সরঞ্জামের সম্বল নিয়ে।
আর আমরা আমাদের সফরে সাথে রাখি এক মুঠো মাটি
… যা সেই দূরদেশের, জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসার টানে।
যখন নায়েলা বিনতে ফারাফিসাকে উসমান ইবন আফফান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর নিকট নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি তাঁর পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে অপছন্দ করেছিলেন। তাই তিনি তাঁর ভাই দ্বাব্ব-কে উদ্দেশ্য করে বললেন:
হে দ্বাব্ব, আল্লাহর দোহাই! তুমি কি দেখছ না যে
… আমি মদীনার উদ্দেশ্যে সওয়ার হয়ে চলেছি।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
أَمَا كَانَ فِي أَوْلادِ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ
… لَكَ الْوَيْلُ مَا يُغْنِي الْخِبَاءَ الْمُحْجِبَا
أَبَى اللَّهُ إِلا أَنْ تَمُوتِي غَرِيبَةً
… بِيَثْرِبَ لا تَلْقَيْنَ أُمًّا وَلا أَبَا
وَقَالَتِ الْحُكَمَاءُ: أَرْضُ الرَّجُلِ ظِئْرُهُ، وَدَارُهُ مَهْدُهُ، وَالْغَرِيبُ كَالْفَرَسِ الَّذِي زَايَلَ أَرْضَهُ، فَهُوَ ذَاوٍ لا يَنْمَى، وَذَابِلٌ لا يَنْضُرُ.
وَفِطْرَةُ الرَّجُلِ مَعْجُونَةٌ بِحُبِّ الْوَطَنِ، ثُمَّ إِنَّ الْإِبِلَ تَحِنُّ إِلَى أَوْطَانِهَا، وَالطَّيْرُ إِلَى أَوْكَارِهَا.
وَكَانَ بَعْضُ الْمُلُوكِ قَدِ انْتَقَلَ عَنْ وَطَنِهِ، فَنَزَلَ دِيَارًا أَعْمَرَ مِنْ دِيَارِهِ وَأَخْصَبَ، وَدَانَتْ لَهُ الْمَمَالِكُ، ثُمَّ كَانَ إِذَا ذَكَرَ الْوَطَنَ يَحِنُّ حَنِينَ الْإِبِلِ إِلَى الْأَوْطَانِ.
وَأَنْشَدُوا فِي هَذَا الْمَعْنَى:
مَا مِنْ غَرِيبٍ وَإِنْ أَبْدَى تَجَلُّدَهُ
… إِلا تَذَكَّرَ بَعْدَ الْغُرْبَةِ الْوَطَنَا
وَمَا يَزَالُ حَمَامٌ بِاللِّوَا
… غَرِدٌ يُهَيِّجُ مِنِّي فُؤَادًا طَالَمَا سَكَنَا
وَهَذَا كَثِيرٌ فِي أَشْعَارِهِمْ، فَمِنْهُ قَوْلُ بَعْضِهِمْ:
إِذَا مَا ذَكَرْتُ النَّفَرَ فَاضَتْ مَدَامِعِي
… وَأَضْحَى فُؤَادِي نَهْبَةً لِلْهَمَاهِمْ
حَنِينًا إِلَى أَرْضٍ بِهَا اخْضَرَّ شَارِبِي
… وَحُلَّتْ بِهَا عَنِّي عُقُودُ التَّمَائِمِ
وَقَالَ آخَرُ:
يَقَرُّ بِعَيْنَيَّ أَنْ أَرَى فِي مَكَانَةٍ
… ذَرَى عَطَفَاتِ الْآرِجِ الْمُتَعَاوِدِ
وَأَنْ أَرِدَ الْمَاءَ الَّذِي عَنْ شِمَالِهِ
… طَرُوقًا إِذَا مَلَّ السُّرَى كُلُّ وَاحِدٍ
وَأُلْصِقُ أَحْشَائِي بِبُرْدِ تُرَابِهِ
… وَإِنْ كَانَ مَمْزُوجًا بِسُمِّ الْأَسَاوِدِ
وَأَنْشَدَ أَبُو النَّصْرِ الْأَسَدِيُّ:
أَحَبُّ بِلادِ اللَّهِ مَا بَيْنَ صَارَةَ
… إِلَى قِفْوَانَ أَنْ يَسِحَّ سَحَابُهَا
بِلادٌ بِهَا نِيطَتْ عَلَيَّ تَمَائِي
… وَأَوَّلُ أَرْضٍ مَسَّ جِلْدِي تُرَابُهَا
আমর বিন আমিরের সন্তানদের মধ্যে কি কেউ অবশিষ্ট ছিল না
… তোমার দুর্ভোগ হোক, এই আচ্ছাদিত তাঁবু কোনো উপকারে আসবে না।
আল্লাহ এটিই অবধারিত করেছেন যে, তুমি প্রবাসী হিসেবেই মৃত্যুবরণ করবে
… ইয়াসরিবে (মদিনা), যেখানে তুমি কোনো মাতা কিংবা পিতার দেখা পাবে না।
প্রাজ্ঞজনরা বলেছেন: মানুষের স্বদেশ হলো তার স্তন্যদাত্রী ধাত্রীর মতো, আর তার গৃহ হলো তার দোলনা। আর প্রবাসী ব্যক্তি সেই ঘোড়ার ন্যায় যে নিজের চারণভূমি ত্যাগ করেছে; ফলে সে শীর্ণ হয়ে পড়ে যা বৃদ্ধি পায় না এবং শুষ্ক হয়ে যায় যা সতেজ হয় না।
মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি স্বদেশের ভালোবাসায় সিক্ত; এমনকি উটও তার স্বদেশের প্রতি ব্যাকুল হয় এবং পাখিরা তাদের নীড়ের প্রতি অনুরাগী হয়।
কোনো এক রাজা তার স্বদেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে চলে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি নিজের দেশের চেয়েও অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও উর্বর ভূমিতে বসবাস শুরু করেছিলেন। রাজ্যসমূহ তার বশ্যতা স্বীকার করেছিল। তবুও যখনই তিনি স্বদেশের কথা স্মরণ করতেন, তখন উট যেমন নিজের চারণভূমির জন্য ব্যাকুল হয়, তিনিও তেমনি ব্যাকুল হয়ে উঠতেন।
এই মর্মে তারা কাব্য আবৃত্তি করেছেন:
এমন কোনো প্রবাসী নেই, যদিও সে প্রবল ধৈর্য প্রদর্শন করে
… যে প্রবাস যাপনের পর নিজের স্বদেশকে স্মরণ করে না।
লিওয়া প্রান্তরের গুঞ্জনরত কবুতরগুলো
… অবিরত আমার সেই অন্তরকে বিচলিত করে তোলে যা দীর্ঘকাল শান্ত ছিল।
তাদের কবিতায় এমন বর্ণনা প্রচুর পাওয়া যায়, যেমন কোনো এক কবির উক্তি:
যখনই আমি সেই আপনজনদের কথা স্মরণ করি, আমার অশ্রু প্লাবিত হয়
… আর আমার অন্তর দুশ্চিন্তার শিকারে পরিণত হয়।
সেই ভূমির প্রতি ব্যাকুলতা যেখানে প্রথম আমার গোঁফের রেখা উদিত হয়েছিল
… এবং যেখানে আমার অঙ্গ থেকে শৈশবের কবচসমূহ খুলে ফেলা হয়েছিল।
অন্য একজন বলেছেন:
আমার চক্ষু শীতল হতো যদি আমি কোনো এক স্থানে দেখতে পেতাম
… চিরচেনা আরীজ অঞ্চলের উঁচু টিলাগুলোর ভাঁজসমূহ।
আর আমি যদি সেই পানির ঘাটে পৌঁছাতে পারতাম যার বাম দিকে
… নৈশভ্রমণে ক্লান্ত হয়ে সবাই যখন বিশ্রাম নেয়, তখন আমি সেখানে উপস্থিত হতাম।
আর আমি আমার উদরকে লেপে দিতাম তার শীতল মাটির সাথে
… যদিও তা কৃষ্ণসর্পের বিষে মিশ্রিত থাকত।
আবু আন-নাসর আল-আসাদী পাঠ করেছেন:
আল্লাহর ভূখণ্ডের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় হলো 'সারাহ' থেকে
… 'কিফওয়ান' পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা, যেখানে মেঘমালা অঝোর ধারায় বর্ষিত হয়।
এটি এমন এক দেশ যেখানে আমার অঙ্গে শৈশবের কবচসমূহ বাঁধা হয়েছিল
… আর এটিই প্রথম ভূমি যার মাটি আমার দেহ স্পর্শ করেছিল।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
وَقَالَ الطَّائِيُّ:
كَمْ مَنْزَلٍ فِي الْأَرضِ يَأْلَفُهُ الْفَتَى
… وَحَنِينُهُ أَبَدًا لِأَوَّلِ مَنْزِلِ
نَقِّلْ فُؤَادَكَ حَيْثُ شِئْتَ مِنَ الْهَوَى
… مَا الْحُبُّ إِلا لِلْحَبِيبِ الَأَوَّلِ
وَقَالَ آخَرٌ:
أَقُولُ لِصَاحِبِي وَالْعِيسُ تَحْدُو
… بِنَا بَيْنَ الْمَنِيفَةِ فَالضِّمَارِ
تَزَوَّدْ مِنْ شَمِيمِ عَرَارِ نَجْدٍ
… وَرِيَّا رَوْضِهِ غِبَّ الْقِطَارِ
وَعَيْشُكَ إِذَ يَحِلُّ الْقَوْمُ نَجْدًا
… وَأَنْتَ عَلَى زَمَانِكَ غَيْرُ زَارِي
شُهُورٌ انْقَضَيْنَ وَمَا شَعُرْنَا
… بِإِنْصَافٍ لَهُنَّ وَلا سِرَارِ
وَالْعَرَارُ: نَبْتٌ طَيِّبُ الرِّيحِ.
وَالْقِطَارُ: مِنَ الْقَطْرُ، وَهُوَ الْمَطَرُ.
وَالزَّارِي: الْغَائِبُ.
وَفِي السِّرَارِ لُغَتَانِ: يُقَالُ: هُوَ سِرَارُ الشَّهْرِ وَسِرَارُهُ، وَالسِّرَارُ: الْلَيْلَةُ الَّتِي يُسْتَسَرُّ فِيهَا الْقَمَرُ مِنْ آخِرِ الشَّهْرِ فَلا يُرَى وَرُبَّمَا اسْتَسَرَّ لَيْلَتَيْنِ.
وَلابْنِ الرُّومِيِّ:
وَحَبَّبَ أَوْطَانَ الرِّجَالِ إلَيْهِمْ
… مَآرِبُ قَضَاهَا الشَّبَابُ هُنَالِكَا
إِذَا ذَكَرُوا أَوْطَانَهُمْ ذَكَّرَتْهُمْ
… عُهُودُ الصِّبَا فِيهَا فَحَنُّوا لِذَلِكَا
وَهَذَا الْجَوَابُ فِيهِ غُمُوضٌ يَحْتَاجُ إِلَى ذِي ذَوْقٍ، وَقَدْ أَشَرْتُ إِلَى بَعْضِ مَا يَكْشِفُهُ فِي أَوَّلِهِ، وَأَعْلَمْتُ أَنَّ لِلنَّفْسِ عِلْمًا قَدْ تَنَاسَتْهُ، فَهِيَ تَنْزِعُ بِالطَّبْعِ إِلَى حُبِّ الْوَطَنِ الْأَوَّلِ وَإِنْ لَمْ تَعْرِفْ أَنَّهُ كَانَ، وَيَقْوَى شَوْقُهَا إِلَيْهِ بِقَدْرٍ حَظِّهَا الْأَوَّلِ مِنْهُ، وَلِذَلِكَ زَادَ شَوْقُ الْقَوِيِّ الْإِيمَانِ عَلَى مَنْ ضَعُفَ إِيمَانُهُ، فَكَأَنَّ الْإِيمَانَ ذَكَّرَهُ مَا هُنَاكَ، كَمَا قَالَ الْقَائِلُ:
لا يَذْكُرُ الرَّمْلَ إِلا حِنٌّ مُغْتِرِبٌ
… لَهُ بِذِي الرَّمْلِ أَوْطَارٌ وَأَوْطَانُ
تَهْفُو إِلَى الْبَانِ مِنْ قَلْبِي نَوَازِعُهُ
… وَمَا بِيَ الْبَانُ بَلْ مَنْ دَارُهُ الْبَانُ
أَسُدُّ سَمْعِيَ إِذَا غَنَّى الْحَمَامُ بِهِ
… أَنْ لا يُهَيِّجَ سِرَّ الْوَجْدِ إِعْلانُ
وَرُبَّ دَارٍ أَوَّلِيهَا مُجَانَبَةٍ
… وَلِي إِلَى الدَّارِ إِطْرَابٌ وَأَشْجَانُ
إِذَا تَلَفَّتُّ فِي أَطْلالِهَا ابْتَدَرَتْ
… لِلْقَلْبِ وَالْعَيْنِ أَمْوَاهٌ وَنِيرَانُ
এবং আত্ব-ত্বায়ী বলেছেন:
পৃথিবীর কতই না আবাসস্থলের সাথে যুবক পরিচিত হয়
… কিন্তু তার চিরন্তন ব্যাকুলতা কেবল প্রথম আবাসস্থলের জন্যই।
তোমার অন্তরকে অনুরাগের যেখানে ইচ্ছা পরিচালিত করো
… ভালোবাসা তো কেবল প্রথম প্রিয়তমের জন্যই।
অন্য একজন বলেছেন:
আমি আমার সঙ্গীকে বললাম যখন সাদা উটগুলো আমাদের নিয়ে
… আল-মানিফাহ ও আদ-দিমারের মধ্য দিয়ে দ্রুত চলছিল।
নজদ অঞ্চলের আরার ফুলের সুবাস
… এবং বৃষ্টির পরবর্তী বাগানের সুগন্ধি থেকে পাথেয় গ্রহণ করো।
এবং তোমার সেই জীবন, যখন লোকেরা নজদে অবতরণ করত
… আর তুমি তোমার সময়ের প্রতি কোনো অভিযোগকারী ছিলে না।
কত মাস অতিবাহিত হয়ে গেল অথচ আমরা টেরও পেলাম না
… তাদের ইনসাফ (সমবণ্টন) কিংবা শেষভাগ (সিরার) সম্পর্কে।
আর 'আরার' হলো: সুগন্ধিযুক্ত একটি উদ্ভিদ।
আর 'ক্বিতার': এটি 'ক্বাতর' থেকে আগত, যার অর্থ বৃষ্টি।
আর 'যারি': অর্থ অনুপস্থিত।
আর 'সিরার' শব্দে দুটি ব্যাকরণগত রূপ রয়েছে: বলা হয় এটি মাসের 'সারার' এবং 'সিরার'। আর 'সিরার' হলো সেই রাত যাতে মাসের শেষ দিকে চাঁদ লুকিয়ে থাকে ফলে তা দেখা যায় না, আর কখনো কখনো তা দুই রাত লুকিয়ে থাকে।
ইবনুর রুমি বলেছেন:
মানুষের নিকট তাদের স্বদেশকে প্রিয় করে তুলেছে
… সেই সব উদ্দেশ্য যা সেখানে তারা যৌবনকালে পূর্ণ করেছিল।
যখন তারা তাদের স্বদেশের কথা স্মরণ করে, তখন তা তাদের মনে করিয়ে দেয়
… তথাকার শৈশবের স্মৃতিগুলো, ফলে তারা তার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
এই উত্তরের মধ্যে এমন এক অস্পষ্টতা রয়েছে যার জন্য সূক্ষ্ম রুচিবোধ সম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজন। আমি এর শুরুতে এমন কিছু বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছি যা একে উন্মোচিত করে। আর আমি অবগত করেছি যে, আত্মার এমন এক জ্ঞান রয়েছে যা সে ভুলে গিয়েছে; ফলে সে স্বভাবগতভাবেই 'প্রথম স্বদেশ'-এর ভালোবাসার দিকে ধাবিত হয়, যদিও সে জানে না যে তা একদা ছিল। আর তার প্রতি আত্মার ব্যাকুলতা ততটুকুই প্রবল হয় যতটুকু তার মাঝে সেখান থেকে প্রাপ্ত প্রথম অংশ বিদ্যমান থাকে। এই কারণেই সবল ঈমানদারের ব্যাকুলতা দুর্বল ঈমানদারের চেয়ে বেশি হয়। যেন ঈমান তাকে সেখানকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেমনটি জনৈক বক্তা বলেছেন:
মরুময় প্রান্তরের কথা কেবল সেই প্রবাসীই স্মরণ করে
… যার সেই প্রান্তরে কিছু প্রয়োজন ও আবাসস্থল রয়েছে।
আমার হৃদয়ের ব্যাকুলতাগুলো 'বান' বৃক্ষের দিকে উন্মুখ হয়ে থাকে
… অথচ আমার উদ্দেশ্য সেই বৃক্ষ নয়, বরং তিনি—যার ঘর সেই বৃক্ষের নিকট।
যখন সেখানে কবুতর গান গায়, আমি আমার শ্রবণেন্দ্রিয় রুদ্ধ করি
… যাতে তার প্রকাশ্য ঘোষণা বিরহের গোপন রহস্যকে উত্তেজিত না করে।
এমন অনেক প্রথম ঘর আছে যা বর্জিত
… অথচ সেই ঘরের প্রতি আমার রয়েছে ব্যাকুলতা ও বিষাদ।
যখন আমি তার ধ্বংসাবশেষের দিকে দৃষ্টিপাত করি, তখন হৃদয় ও চোখের জন্য
… অশ্রুধারা ও অগ্নিশিখা উপচে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮০)
وَقَالَ أَيْضًا:
وَأَسْتَشْرِفُ الْأَعْلامَ حَتَّى يَدُلَّنِي
… عَلَى طِيبِهَا مُرُّ الرِّيَاحِ النَّوَاسِمِ
وَمَا أَنْسُمُ الْأَرْوَاحَ إِلا لِأَنَّهَا
… تَمُرُّ عَلَى تِلْكَ الرُّبَى وَالْمَعَالِمِ
وَلِهَذَا الْمَعْنَى الَّذِي ذَكَرْتُهُ قَالَ ذُو النُّونِ، وَقَدْ سُئِلَ: أَيْنَ أَنْتَ مِنْ قَوْلِهِ: {أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ} [الأعراف: 172] ؟ فَقَالَ: كَأَنَّهُ الْآنَ فِي أُذُنِي.
তিনি আরও বলেছেন:
আমি সুউচ্চ নিদর্শনসমূহের দিকে তাকিয়ে থাকি যাতে
… মৃদু সমীরণের প্রবাহ আমাকে তাদের সুগন্ধির সন্ধান দেয়।
আর আমি সেই বায়ু আস্বাদন করি না কেবল এ কারণে যে,
… তা ঐসব টিলা ও নিদর্শনের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
আর আমি যে অর্থের কথা উল্লেখ করেছি, সেই কারণে জুন-নুন বলেছিলেন, যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?" [আল-আরাফ: ১৭২]—আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে আপনার কী অবস্থা? তিনি বললেন: "মনে হচ্ছে এটি যেন এখনই আমার কানে বাজছে।"
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮১)
بَابُ التَّهَيُّؤِ لِلْحَجِّيَنْبَغِي لِمَنْ عَزَمَ عَلَى الْحَجِّ أَنْ يَخْرُجَ مِنَ الْمَظَالِمِ الَّتِي بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْخَلْقِ، وَيَنْزِعَ بِالتَّوْبَةِ مِنَ الذُّنُوبِ الَّتِي بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْحَقِّ، لِيَسْتَقْبِلَ الزِّيَارَةَ نَظِيفًا عَنْ قَاذُورَاتِ الْخَطَايَا.
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَنَا الْبَرْمَكِيُّ، أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ بَطَّةَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَنْبَانَا أَبُو ذَرٍّ البَصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا إِسْحَاقُ بْنُ وَهَبٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «رَدُّ دَانِقٍ مِنْ حَرَامٍ يَعْدِلُ عِنْدَ اللَّهِ سَبْعِينَ حَجَّةً»
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَيْرُونَ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمُفِيدُ، أَنْبَأَنَا أَبُو بِشْرٍ الدُّولابِيُّ، أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بُنِ السَّكَنِ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارَثِ، أَنْبَأَنَا دُجَيْنُ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ أَسْلَمَ مَوْلَى عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا حَجَّ الرَّجُلُ بِمَالٍ مِنْ غَيْرِ حِلِّهِ، فَقَالَ: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، قَالَ
হজের প্রস্তুতির অধ্যায়যিনি হজের সংকল্প করেছেন, তাঁর উচিত মানুষের সাথে তাঁর যে সকল পাওনা বা জুলুম রয়েছে তা থেকে নিজেকে মুক্ত করা এবং আল্লাহর সাথে তাঁর যে সকল পাপ রয়েছে তা থেকে তওবার মাধ্যমে নিবৃত্ত হওয়া, যেন তিনি এই জিয়ারতের সফরকে পাপের পঙ্কিলতা থেকে পরিচ্ছন্ন হয়ে বরণ করতে পারেন।
মুহাম্মদ ইবনে আবি মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, আল-বারমাকি আমাদের জানিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু যার আল-বাসরি আমাদের জানিয়েছেন, ইসহাক ইবনে ওয়াহাব আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের জানিয়েছেন মালেক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হারাম মাল থেকে এক দানিক (দিরহামের ষষ্ঠাংশ) ফিরিয়ে দেওয়া আল্লাহর নিকট সত্তরটি হজের সমতুল্য।”
মুহাম্মদ ইবনে আবি মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে খাইরুন আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে আলী আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর আল-মুফিদ আমাদের জানিয়েছেন, আবু বিশর আদ-দুলাবি আমাদের জানিয়েছেন, আল-হাসান ইবনে আলী ইবনুস সাকান আমাদের জানিয়েছেন, আব্দুস সামাদ ইবনে আব্দুল ওয়ারিস আমাদের জানিয়েছেন, দুজাইন ইবনে সাবিত আমাদের জানিয়েছেন আসলাম থেকে—যিনি উমরের মুক্তদাস ছিলেন—তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কোনো ব্যক্তি অবৈধ উপার্জনের অর্থ দিয়ে হজ করে এবং বলে: ‘আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির’, তখন তিনি (আল্লাহ) বলেন:”
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮২)
اللَّهُ عز وجل: لا لَبَّيْكَ وَلا سَعْدَيْكَ، هَذَا مَرْدُودٌ عَلَيْكَ "
أَخْبَرَنَا عَالِيًا ظَفَرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَنَا أَبُو مُطِيعٍ الْمِصْرِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَرْدَوَيْهِ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا دُجَيْنُ بْنُ ثَابِتٍ، أَنْبَأَنَا أَسْلَمُ، عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ حَجَّ بِمَالٍ حَرَامٍ، فَقَالَ: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، قَالَ اللَّهُ عز وجل: لا لَبَّيْكَ وَلا سَعْدَيْكَ، وَحَجُّكَ مَرْدُودٌ عَلَيْكَ "
فَصْلٌوَيُصَلِّي صَلاةَ الاسْتِخَارَةِ
أَخْبَرَنَا بِهَا أَبُو الْقَاسِمِ الْكَاتِبُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الْمُذْهِبِ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِي، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا الاسْتِخَارَةَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ، يَقُولُ: " إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالْأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ، ثُمَّ لْيَقُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخْيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلا أَعْلَمُ، وَأنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ هَذَا الْأَمْرَ، وَتُسَمِّيهِ بِاسْمِهِ، خَيْرًا لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ ثُمَّ بَارِكَ لِي فِيهِ، اللَّهُمَّ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُهُ شَرًّا لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاصْرِفْهُ عَنِّي، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ رَضِّنِي بِهِ ".
পরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহ [বলেন]: "তোমার জন্য কোনো সাড়া নেই এবং তোমার জন্য কোনো কল্যাণ নেই, এটি তোমার ওপরই প্রত্যাখ্যাত।"
জাফর ইবনে আলী আমাদের উচ্চ সনদ সহকারে সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুতি আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবনে মারদুওয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসলিম ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দুজাইন ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসলাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হারাম সম্পদ নিয়ে হজ্জ করে এবং বলে: 'লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' (হে আল্লাহ! আমি আপনার দরবারে হাজির), পরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহ বলেন: 'তোমার জন্য কোনো সাড়া নেই এবং তোমার জন্য কোনো কল্যাণ নেই, আর তোমার হজ্জ তোমার ওপরই প্রত্যাখ্যাত'।"
পরিচ্ছেদএবং তিনি ইস্তিখারার সালাত আদায় করবেন।
আবুল কাসিম আল-কাতিব এ সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী ইবনে আল-মুজহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবনে মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে আবিল মাওয়ালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমনটি তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: "যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের সংকল্প করে, তখন সে যেন ফরয ব্যতীত দুই রাকাত সালাত আদায় করে, অতঃপর বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট সামর্থ্য প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমতা রাখেন কিন্তু আমি ক্ষমতা রাখি না, আপনি জানেন কিন্তু আমি জানি না, আর আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে পূর্ণ পরিজ্ঞাত। হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়টি—এবং সে তা নাম ধরে উল্লেখ করবে—আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার কর্মের পরিণতির জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন এবং তা সহজ করে দিন, অতঃপর তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আর আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার কর্মের পরিণতির জন্য ক্ষতিকর, তবে আপনি আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে নিন এবং তাকেও আমার থেকে সরিয়ে দিন। আর আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করে দিন যেখানেই তা থাকুক, অতঃপর আমাকে তাতেই সন্তুষ্ট করে দিন।"
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
انْفَرَدَ بِإِخْرَاجِهِ الْبُخَارِيُّ.
وَيَنْبَغِي لَهُ أَنْ يُصَحِّحَ قَصْدَهُ لِلْحَجِّ، وَإِنْ أَرَادَ التِّجَارَةَ فَلْيَكُنْ ضِمْنًا وَتَبَعًا، وَلا تَكُونُ هِيَ الْمَقْصُودَ الْأَكْبَرَ
فَقَدْ أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ الْقَزَّازُ، أَنْبَأنَا أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَوَيْهِ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَسَنِ السَّرْخَسِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جُمَيْعٍ، أَنْبَأَنَا مُغِيثُ بْنُ أَحْمَدَ الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مَخْلَدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَنْدَلُسِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ جَعْفَرٍ يَعْنِي: ابْنَ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَحُجُّ أَغْنِيَاءُ أُمَّتِي لِلنُّزْهَةِ، وَأَوْسَاطُهُمْ لِلتِّجَارَةِ، وَقُرَّاؤُهُمْ لِلرِّيَاءِ وَالسُّمْعَةِ، وَفُقَرَاؤُهُمْ لِلمَسْأَلَةِ»
فَصْلٌوَيَنْبَغِي أَنْ يَرُدَّ مَا عِنْدَهُ مِنَ الْوَدَائِعِ، وَأَنْ يَلْتَمِسَ رَفِيقًا صَالِحًا، فَإِنَّ الرَّفِيقَ الصَّالِحَ تُفِيدُ رُؤْيَتُهُ وَتَعُودُ بَرَكَتُهُ.
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الْحَافِظُ، أَنْبَأَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، أَنْبَأنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْمَلِيطِيُّ، أَنْبَأَنَا ابْنُ دُوَسْتَ، أَنْبَأَنَا ابْنُ صَفْوَانٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنِي مُخَوَّلٌ، قَالَ: جَاءَنِي بَهِيمٌ، يَعْنِي:
ইমাম বুখারী এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর তার উচিত হজের নিয়তকে বিশুদ্ধ করা; যদি সে ব্যবসার ইচ্ছা পোষণ করে তবে তা যেন আনুষঙ্গিক ও গৌণ বিষয় হয় এবং তা যেন প্রধান উদ্দেশ্য না হয়।
নিশ্চয়ই আবু মানসুর আল-কাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-খাতিব আমাদের অবহিত করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হামদুওয়াইহ আমাদের অবহিত করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে হাসান আস-সারখাসি আমাদের অবহিত করেছেন, ইসমাইল ইবনে জুমাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুগিস ইবনে আহমাদ আল-বালখি আমাদের অবহিত করেছেন, সুলায়মান ইবনে আবি আবদির রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মাখলাদ ইবনে আবদির রহমান আল-আন্দালুসি থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আতা থেকে, তিনি জাফর অর্থাৎ ইবনে সুলায়মান থেকে, তিনি বলেন: সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন আমার উম্মতের ধনীরা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে হজ করবে, তাদের মধ্যবিত্তরা ব্যবসার উদ্দেশ্যে, তাদের ক্বারীরা (আলেমগণ) লৌকিকতা ও সুনামের জন্য এবং তাদের দরিদ্ররা ভিক্ষা করার উদ্দেশ্যে হজ করবে।"
পরিচ্ছেদআর যাত্রার প্রাক্কালে তার উচিত হবে তার নিকট রক্ষিত আমানতসমূহ ফেরত দেওয়া এবং একজন নেককার সঙ্গী অন্বেষণ করা; কেননা নেককার সঙ্গীর দর্শনও উপকারী এবং তার বরকত অর্জিত হয়।
আবদুল ওয়াহহাব আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মুবারক ইবনে আবদিল জব্বার আমাদের অবহিত করেছেন, আলী ইবনে আহমাদ আল-মালিওয়িতি আমাদের অবহিত করেছেন, ইবনে দুওয়াসত আমাদের অবহিত করেছেন, ইবনে সাফওয়ান আমাদের অবহিত করেছেন, আবু বকর আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুখাওওয়াল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাহিম আমার নিকট আসলেন, অর্থাৎ:
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
الْعِجْلِيَّ، فَقَالَ لِي: أَتَعْلَمُ لِي رَجُلا مِنْ جِيرَانِكَ أَوْ إِخْوَانِكَ يُرِيدُ الْحَجَّ تَرْضَاهُ وَيُرَافِقُنِي؟ قُلْتُ: نَعَمْ.
فَذَهَبْتُ بِهِ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الْحَيِّ لَهُ صَلاحٌ وَدِينٌ فَجَمَعْتُ بَيْنَهُمَا، وَتَوَاطَآ عَلَى الْمُرَافَقَةِ.
ثُمَّ انْطَلَقَ بَهِيمٌ إِلَى أَهْلِهِ، فَلَمَّا كَانَ بَعْدُ أَتَانِيَ الرَّجُلُ فَقَالَ: يَا هَذَا أُحِبُّ أَنْ تَزْوِيَ عَنِّي صَاحِبَكَ وَتَطْلُبَ رَفِيقًا غَيْرِي.
فَقُلْتُ: لِمَ؟ وَاللَّهِ مَا أَعْلَمُ بِالْكُوفَةِ لَهُ نَظِيرًا فِي حُسْنِ الْخُلُقِ وَالاحْتِمَالِ.
فَقَالَ: وَيْحَكَ! حُدِّثْتُ أَنَّهُ طَوِيلُ الْبُكَاءِ لا يَكَادُ يَفْتُرُ، فَهَذَا يُنَغِّصُ عَلَيْنَا الْعَيْشَ.
فَقُلْتُ: وَيْحَكَ! إِنَّمَا يَكُونُ الْبُكَاءُ أَحْيَانًا عِنْدَ التَّذْكِرَةِ، أَوَ مَا تَبْكِي أَنْتَ؟ قَالَ: بَلَى، وَلَكِنْ قَدْ بَلَغَنِي عَنْهُ أَمْرٌ عَظِيمٌ مِنْ كَثْرَةِ بُكَائِهِ، قُلْتُ: اصْحَبْهُ فَلَعَلَّكَ أَنْ تَنْتَفِعَ بِهِ.
فَقَالَ: أَسْتَخِيرُ اللَّهَ.
فَلَمَّا كَانَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَا فِيهِ جِيءَ بِالْإِبِلِ وَوُطِّئَ لَهُمَا، فَجَلَسَ بَهِيمٌ فِي ظِلِّ حَائِطٍ فَوَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ لِحْيَتِهِ وَجَعَلَتْ دُمُوعُهُ تَسِيلُ عَلَى خَدَّيْهِ، ثُمَّ عَلَى لِحْيَتِهِ، ثُمَّ عَلَى صَدْرِهِ، حَتَّى وَاللَّهِ رَأَيْتُ دُمُوعَهُ عَلَى الْأَرْضِ.
فَقَالَ لِي: يَا مُخَوَّلُ، قَدِ ابْتَدَأَ صَاحِبُكَ، لَيْسَ هَذَا لِي بِرَفِيقٍ.
فَقُلْتُ: ارْفُقْ، لَعَلَّهُ ذَكَرَ عِيَالَهُ وَمُفَارَقَتَهُ إِيَّاهُمْ.
وَسَمِعَهَا بَهِيمٌ، فَقَالَ: يَا أَخِي وَاللَّهِ مَا هُوَ ذَاكَ وَمَا هُوَ إِلا أَنِّي ذَكَرْتُ بِهَا الرِّحْلَةَ إِلَى الْآخِرَةِ، وَعَلا صَوْتُهُ بِالنَّحِيبِ.
فَقَالَ لِي صَاحِبِي: مَا هِيَ بِأَوَّلِ عَدَاوَتِكَ لِي، مَالِي وَلِبَهِيمٍ؟ إِنَّمَا كَانَ يَنْبَغِي أَنْ تُرَافِقَ بَيْنَ بَهِيمٍ وَبَيْنَ دَاوُدَ الطَّائِيِّ وَسَلامٍ أَبِي الْأَحْوَصِ؛ حَتَّى يَبْكِيَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ فَيُشْفَوْنَ أَوْ يَمُوتُونَ.
فَلَمْ أَزَلْ أَرْفُقُ بِهِ، وَقُلْتُ لَهُ: وَيْحَكَ! لَعَلَّهَا خَيْرُ سَفْرَةٍ سَافَرْتَهَا، وَكُلُّ ذَلِكَ لا يَعْلَمُ بِهِ بَهِيمٌ، وَلَوْ عَلِمَ مَا صَاحَبَهُ.
فَخَرَجَا وَحَجَّا وَرَجَعَا، فَلَمَّا جِئْتُ أُسَلِّمُ عَلَى جَارِي، قَالَ لِي: جَزَاكَ اللَّهُ يَا أَخِي عَنِّي خَيْرًا، مَا ظَنَنْتُ أَنَّ فِي الْخَلْقِ مِثْلَ أَبِي بَكْرٍ، كَانَ وَاللَّهِ يَتَفَضَّلُ عَلَيَّ فِي النَّفَقَةِ وَهُوَ مَعْدُومٌ وَأَنَا مُوسِرٌ، وَفِي الْخِدْمَةِ وَأَنَا شَابٌّ وَهُوَ شَيْخٌ،
ইজলি আমাকে বললেন: আপনি কি আপনার প্রতিবেশী বা ভাইদের মধ্যে এমন কাউকে চেনেন যিনি হজ্জ করতে চান, যাঁকে আপনি পছন্দ করেন এবং তিনি আমার সফরসঙ্গী হবেন? আমি বললাম: হ্যাঁ।
অতঃপর আমি তাঁকে মহল্লার এমন এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে গেলাম যার মাঝে সততা ও দ্বীনদারি ছিল। আমি তাঁদের উভয়ের মধ্যে সাক্ষাৎ করালাম এবং তাঁরা একে অপরের সফরসঙ্গী হওয়ার বিষয়ে একমত হলেন।
এরপর বাহিম তাঁর পরিবারের কাছে চলে গেলেন। কিছুকাল পরে ওই ব্যক্তি আমার কাছে এসে বললেন: হে অমুক, আমি চাই আপনি আপনার সঙ্গীকে আমার থেকে সরিয়ে নিন এবং আমার জন্য অন্য কোনো সফরসঙ্গী খুঁজুন।
আমি বললাম: কেন? আল্লাহর কসম, উত্তম চরিত্র এবং ধৈর্যশীলতার দিক থেকে কুফায় তাঁর কোনো সমকক্ষ আছে বলে আমার জানা নেই।
তিনি বললেন: তোমার দুর্ভোগ হোক! আমাকে জানানো হয়েছে যে, তিনি দীর্ঘক্ষণ ক্রন্দন করেন, যা থামতেই চায় না। আর এটি আমাদের জীবনকে বিষিয়ে তুলবে।
আমি বললাম: তোমার দুর্ভোগ হোক! ক্রন্দন তো কেবল মাঝেমধ্যে স্মরণের সময় হয়ে থাকে। তুমি কি নিজে কাঁদো না? তিনি বললেন: অবশ্যই কাঁদি, কিন্তু তাঁর অত্যধিক কান্নাকাটি সম্পর্কে আমার কাছে বড় ধরনের সংবাদ পৌঁছেছে। আমি বললাম: আপনি তাঁর সাথে থাকুন, হয়তো তাঁর মাধ্যমে আপনি উপকৃত হবেন।
তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করছি।
যেদিন তাঁদের রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল, তখন উটগুলো আনা হলো এবং তাঁদের জন্য পিঠ প্রস্তুত করা হলো। বাহিম একটি দেয়ালের ছায়ায় বসলেন এবং তাঁর হাত দাড়ির নিচে রাখলেন। তাঁর অশ্রু গাল বেয়ে পড়তে শুরু করল, এরপর দাড়িতে, তারপর তাঁর বুকে, এমনকি আল্লাহর কসম, আমি তাঁর অশ্রু মাটিতে পড়তে দেখলাম।
তখন তিনি আমাকে বললেন: হে মুখাওওয়াল, আপনার সাথী তো শুরু করে দিয়েছেন। তিনি আমার সফরসঙ্গী হওয়ার উপযুক্ত নন।
আমি বললাম: শান্ত হোন, সম্ভবত তিনি তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা স্মরণ করেছেন।
বাহিম এটি শুনতে পেলেন এবং বললেন: হে আমার ভাই, আল্লাহর কসম, বিষয়টি তেমন নয়; বরং আমি এর মাধ্যমে পরকালের সফরের কথা স্মরণ করেছি। এরপর উচ্চস্বরে তাঁর কান্নার আওয়াজ বেড়ে গেল।
তখন আমার সাথী আমাকে বললেন: এটিই আমার প্রতি আপনার প্রথম শত্রুতা নয়। বাহিমের সাথে আমার কী সম্পর্ক? আপনার উচিত ছিল বাহিমকে দাউদ আত-তাঈ এবং সালাম আবু আল-আহওয়াস-এর সাথে সফরসঙ্গী করে দেওয়া; যাতে তাঁরা একে অপরের কাছে কাঁদতে পারেন এবং তাতে হয়তো প্রশান্তি পেতেন অথবা মৃত্যুবরণ করতেন।
আমি অনবরত তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম এবং বললাম: তোমার দুর্ভোগ হোক! সম্ভবত এটিই হবে তোমার করা সর্বোত্তম সফর। বাহিম এই আলোচনার কিছুই জানতেন না; যদি তিনি জানতেন, তবে তিনি তাঁর সফরসঙ্গী হতেন না।
এরপর তাঁরা বেরিয়ে গেলেন, হজ্জ সম্পন্ন করলেন এবং ফিরে এলেন। আমি যখন আমার প্রতিবেশীকে সালাম দিতে গেলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: হে আমার ভাই, আল্লাহ আপনাকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমি ভাবতেও পারিনি যে সৃষ্টির মধ্যে আবু বকরের মতো কেউ থাকতে পারে। আল্লাহর কসম, তিনি খরচপাতির ক্ষেত্রে আমাকে অগ্রাধিকার দিতেন অথচ তিনি ছিলেন নিঃস্ব আর আমি ছিলাম স্বচ্ছল; এমনকি খেদমতের ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রগামী ছিলেন অথচ আমি যুবক আর তিনি ছিলেন বৃদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
মুসীরুল গারামিস সাকিন ইলা আশরাফিল আমাকিন তিবয়াতু দারিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
وَيَطْبَخُ لِي وَأَنَا مُفْطِرٌ وَهُوَ صَائِمٌ.
فَقُلْتُ: وَكَيْفَ كَانَ أَمْرُكَ مَعَهُ فِي الَّذِي كُنْتَ تَكْرَهُهُ مِنْ طُولِ بُكَائِهِ؟ قَالَ: أَلِفْتُ وَاللَّهِ ذَلِكَ الْبُكَاءَ، وَسُرَّ قَلْبِي حَتَّى كُنْتُ أُسَاعِدُهُ عَلَيْهِ، حَتَّى تَأَذَّى بِنَا الرُّفُقَةُ ثُمَّ أَلِفُوا ذَلِكَ، فَجَعَلُوا إِذَا سَمِعُونَا نَبْكِي يَبْكُونَ، وَجَعَلَ بَعْضَهُمْ يَقُولُ لِبَعْضٍ: مَا الَّذِي جَعَلَهُمْ أَوْلَى بِالْبُكَاءِ مِنَّا وَالْمَصِيرُ وَاحِدٌ؟ فَيَبْكُونَ وَنَبْكِي.
ثُمَّ خَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهِ، فَأَتَيْتُ بَهِيمًا وَقُلْتُ: كَيْفَ رَأَيْتَ صَاحِبَكَ؟ قَالَ: كَخَيْرِ صَاحِبٍ، كَثِيرَ الذِّكْرِ لِلَّهِ، طَوِيلَ التِّلاوَةِ، سَرِيعَ الدَّمْعَةِ، جَزَاكَ اللَّهُ عَنِّي خَيْرًا
আর তিনি আমার জন্য রান্না করতেন যখন আমি সিয়াম পালন করতাম না, অথচ তিনি সিয়ামরত ছিলেন।
আমি বললাম: "তার দীর্ঘক্ষণ কান্নার যে বিষয়টি আপনি অপছন্দ করতেন, সে ব্যাপারে তার সাথে আপনার অবস্থা কেমন ছিল?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি সেই কান্নায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম এবং আমার অন্তর আনন্দিত হয়েছিল, এমনকি আমি তাকে কান্নায় সহায়তাও করতাম। এক পর্যায়ে আমাদের সঙ্গীরা আমাদের কারণে কষ্টবোধ করত, তারপর তারাও এতে অভ্যস্ত হয়ে গেল। ফলে তারা যখন আমাদের কাঁদতে শুনত, তারাও কাঁদতে শুরু করত। তাদের কেউ কেউ একে অপরকে বলতে লাগল: 'কী এমন বিষয় যা তাদের আমাদের চেয়ে কান্নার অধিক হকদার করেছে, অথচ সবার পরিণাম তো একই?' তখন তারাও কাঁদত এবং আমরাও কাঁদতাম।"
এরপর আমি তার নিকট থেকে বের হলাম এবং বাহীমের নিকট এসে বললাম: "আপনি আপনার সঙ্গীকে কেমন পেলেন?" তিনি বললেন: "সর্বোত্তম সঙ্গী হিসেবে; তিনি আল্লাহর প্রচুর যিকিরকারী, দীর্ঘ সময় তিলাওয়াতকারী এবং দ্রুত অশ্রুপাতকারী। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।"