(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: -)
الإحكام في أصول الأحكام - ابن حزم القسم: أصول الفقه
الكتاب: الإحكام في أصول الأحكام
المؤلف: أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم (ت 456 هـ)
قوبلت على الطبعة التي حققها: الشيخ أحمد محمد شاكر
قدم له: الأستاذ الدكتور إحسان عباس
الناشر: دار الآفاق الجديدة، بيروت
عدد الأجزاء: 8
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম - ইবনে হাজম বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম
লেখক: আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাজম (মৃত্যু ৪৫৬ হি.)
সম্পাদিত পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাইকৃত: শেখ আহমদ মুহাম্মদ শাকির
ভূমিকা লিখেছেন: অধ্যাপক ডক্টর ইহসান আব্বাস
প্রকাশক: দারুল অফাক আল-জাদিদাহ, বৈরুত
খণ্ড সংখ্যা: ৮
[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ৩)
قال الفقيه الإمام أبو محمد علي بن أحمد رحمة الله عليه ورضوانه الحمد لله الذي امتن علينا بنعم عامة وخاصة فعم النوع الآدمي بأن أرسل إليهم رسلا مبشرين ومنذرين ليهلك من هلك عن بينة ويحيى من حي عن بينة وخص من شاء منهم بأن وفقه للحق وهداه له ويسره لفهمه وسدده لاختياره وسهل عليه سبيله وخذل منهم من شاء فطبع على قلبه ووعر عليه طريق الحق ووفق قوما في سبيل ما ومنعهم التوفيق في سبيل أخرى كما قال عز وجل {والذين كذبوا بآياتنا صم وبكم في الظلمات من يشإ الله يضلله ومن يشأ يجعله على صراط مستقيم} و {وجعلنا السمآء سقفا محفوظا وهم عن آياتها معرضون} دون أن يجبر مريد حق على إرادته أو يقسر قاصد باطل على قصده أو يحول بين أحد وبين ما دعاه تعالى إليه أو ندبه إليه لكن كما قال عز وجل {وآعلموا أن فيكم رسول الله لو يطيعكم في كثير من الأمر لعنتم ولكن الله حبب إليكم الأيمان وزينه في قلوبكم وكره إليكم الكفر والفسوق والعصيان أولئك هم الراشدون * فضلا من الله ونعمة والله عليم حكيم} وكما قال تعالى {ثم دنا فتدلى} وقال تعالى {ولا تسبوا الذين يدعون من دون الله فيسبوا الله عدوا بغير علم كذلك زينا لكل أمة عملهم ثم إلى ربهم مرجعهم فينبئهم بما كانوا يعملون} لله وكما قال النبيان الفاضلان صلى الله عليهما إبراهيم ويوسف إذ يقول إبراهيم {فلما رأى القمر بازغا قال هذا ربي فلما أفل قال لئن لم يهدني ربي لأكونن من القوم الضالين} ويقول يوسف {قال رب السجن أحب إلي مما يدعونني إليه وإلا تصرف عني
ফকিহ ইমাম আবু মুহাম্মদ আলি ইবনে আহমদ (আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের প্রতি সাধারণ ও বিশেষ নেয়ামত দ্বারা অনুগ্রহ করেছেন। তিনি মানবজাতির ওপর ব্যাপক করুণা করেছেন তাঁদের কাছে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসুলগণ প্রেরণের মাধ্যমে, যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে। তিনি তাঁদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা বিশেষিত করেছেন সত্যের তাওফিক প্রদানের মাধ্যমে, তাকে সত্যের পথে পরিচালিত করেছেন, তাকে তা অনুধাবনের জন্য সহজ করে দিয়েছেন, তার পছন্দের ক্ষেত্রে তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন এবং তার পথকে তার জন্য সহজ করেছেন। আর তিনি তাঁদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অপদস্থ করেছেন, ফলে তার অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার জন্য সত্যের পথকে দুর্গম করে দিয়েছেন। তিনি কোনো এক জাতিকে কোনো এক পথে তাওফিক দিয়েছেন আর অন্য কোনো পথে তাওফিক থেকে বঞ্চিত করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে তারা অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় কালা ও বোবা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা তাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।" এবং "আমি আকাশকে করেছি একটি সুরক্ষিত ছাদ, তবুও তারা তার নিদর্শনসমূহ থেকে বিমুখ থাকে।" কোনো সত্য অন্বেষণকারীকে তার ইচ্ছার ওপর বাধ্য না করে, কিংবা কোনো বাতিল অন্বেষণকারীকে তার লক্ষ্যের ওপর বাধ্য না করে, অথবা কাউকে তিনি যেদিকে আহ্বান করেছেন বা যে বিষয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন তার মাঝখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে। বরং যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর জেনে রাখো যে, তোমাদের মাঝে আল্লাহর রাসুল রয়েছেন। তিনি যদি অধিকাংশ বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিতেন, তবে তোমরাই কষ্টে পড়তে। কিন্তু আল্লাহ ঈমানকে তোমাদের কাছে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তাকে তোমাদের হৃদয়ে সুশোভিত করেছেন; আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তোমাদের কাছে অপ্রিয় করে দিয়েছেন। তারাই তো সঠিক পথপ্রাপ্ত। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ ও নেয়ামত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।" এবং যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন এবং ঝুলে পড়লেন।" এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যাদের ডাকে তোমরা তাদের গালি দিও না, অন্যথায় তারা না জেনে শত্রুতা করে আল্লাহকে গালি দেবে। এভাবেই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের আমলকে সুশোভিত করেছি; অতঃপর তাদের রবের কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন, তখন তিনি তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন।" এবং যেমনটি দুই শ্রেষ্ঠ নবী ইবরাহিম ও ইউসুফ (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক) বলেছিলেন; যখন ইবরাহিম বললেন: "অতঃপর যখন তিনি চাঁদকে ঝলমল করতে দেখলেন তখন বললেন, এটিই আমার রব। যখন সেটি ডুবে গেল তখন বললেন, আমার রব যদি আমাকে হেদায়েত না করতেন তবে অবশ্যই আমি পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হতাম।" এবং ইউসুফ বললেন: "তিনি বললেন, হে আমার রব! তারা আমাকে যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করছে, তার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আর আপনি যদি আমার থেকে তাদের ছলনা দূর না করেন..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ৪)
كيدهن أصب إليهن وأكن من الجاهلين} وصلى الله على محمد عبده ورسوله إلى جميع الجن والإنس بالدين القيم بشيرا ونذيرا وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا
وبعد فإن الله عز وجل ركب في النفس الإنسانية قوة مختلفة فمنها عدل يزين لها الإنصاف ويحبب إليها موافقة الحق قال تعالى {إن الله يأمر بالعدل والإحسان وإيتآء ذي القربى وينهى عن الفحشاء والمنكر والبغي يعظكم لعلكم تذكرون} وقال تعالى {يا أيها الذين آمنوا كونوا قوامين بالقسط شهدآء لله ولو على أنفسكم أو الوالدين والأقربين إن يكن غنيا أو فقيرا فالله أولى بهما فلا تتبعوا الهوى أن تعدلوا وإن تلووا أو تعرضوا فإن الله كان بما تعملون خبيرا} ومنها غضب وشهوة يزينان لها الجور ويعميانها عن طريق الرشد قال تعالى {وإذا قيل له اتق الله أخذته العزة بالإثم فحسبه جهنم ولبئس المهاد} وقال تعالى {كل نفس ذآئقة الموت ونبلوكم بالشر والخير فتنة وإلينا ترجعون} فالفاضل يسر لمعرفته بمقدار ما منحه الله تعالى والجاهل يسر لما لا يدري حقيقة وجهه ولما فيه وباله في أخراه وهلاكه في معاده ومنها فهم يليح لها الحق من قريب وينير لها في ظلمات المشكلات فترى به الصواب ظاهرا جليا ومنها جهل يطمس عليها الطرق ويساوي عندها بين السبل فتبقى النفس في حيرة تتردد وفي ريب تتلدد ويهجم بها على أحد الطرق المجانبة للحق المنكبة عن الصواب تهورا وإقداما أو جبنا أو إحجاما أو إلفا وسوء اختيار قال تعالى {أمن هو قانت آنآء الليل ساجدا وقآئما يحذر الآخرة ويرجوا رحمة ربه قل هل يستوي الذين يعلمون والذين لا يعلمون إنما يتذكر أولو الألباب} وقال تعالى {وآية لهم الليل نسلخ منه النهار فإذا هم مظلمون} ومنها قوة التمييز التي سماها الأوائل المنطق فجعل لها خالقها بهذه القوة سبيلا إلى فهم خطابه عز وجل وإلى معرفة الأشياء ما هي عليه وإلى إمكان التفهم الذي به ترتقي درجة الفهم ويتخلص من ظلمة الجهل فيها تكون معرفة الحق من الباطل قال تعالى {وسيق الذين كفروا إلى جهنم زمرا حتى إذا جآءوها فتحت أبوابها وقال لهم خزنتهآ ألم يأتكم رسل منكم يتلون عليكم آيات
ربكم وينذرونكم لقآء يومكم هذا قالوا بلى ولكن حقت كلمة العذاب على الكافرين * قيل ادخلوا أبواب جهنم خالدين فيها فبئس مثوى المتكبرين * وسيق الذين اتقوا ربهم إلى الجنة زمرا حتى إذا جآءوها وفتحت أبوابها وقال لهم خزنتها سلام عليكم طبتم فادخلوها خالدين * وقالوا الحمد لله الذي صدقنا وعده وأورثنا الأرض نتبوأ من الجنة حيث نشآء فنعم أجر العاملين * وترى الملائكة حآفين من حول العرش يسبحون بحمد ربهم وقضي بينهم بالحق وقيل الحمد لله رب العالمين * حم * تنزيل الكتاب من الله العزيز العليم * غافر الذنب وقابل التوب شديد العقاب ذي الطول لا إله إلا هو إليه المصير * ما يجادل في آيات الله إلا الذين كفروا فلا يغررك تقلبهم في البلاد * كذبت قبلهم قوم نوح والأحزاب من بعدهم وهمت كل أمة برسولهم ليأخذوه وجادلوا بالباطل ليدحضوا به الحق فأخذتهم فكيف كان عقاب * وكذلك حقت كلمة ربك على الذين كفروا أنهم أصحاب النار}
ومنها قوة العقل التي تعين النفس المميزة على نصر العدل وعلى إيثار ما دلت عليه صحة الفهم
...তাদের ষড়যন্ত্র, আমি তাদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ব এবং মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হব।" এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ-এর ওপর, যাঁকে তিনি সকল জিন ও মানুষের নিকট সঠিক দ্বীনসহ সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, তাঁর অনুমতিক্রমে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
অতঃপর, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মানবাত্মার মাঝে বিভিন্ন শক্তি নিহিত করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো ন্যায়পরায়ণতা, যা তার নিকট ইনসাফকে শোভনীয় করে এবং সত্যের অনুসারী হওয়াকে তার কাছে প্রিয় করে তোলে। মহান আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন; আর তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।" মহান আল্লাহ আরও বলেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো আল্লাহর সাক্ষী হিসেবে; যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র, আল্লাহ উভয়েরই শ্রেষ্ঠ অভিভাবক। অতএব তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো কিংবা বিমুখ হও, তবে জেনে রেখো তোমরা যা করো আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত।" আর এর মধ্যে রয়েছে ক্রোধ ও লালসা, যা তার নিকট জুলুমকে শোভনীয় করে এবং সত্য পথ থেকে তাকে অন্ধ করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, "আর যখন তাকে বলা হয়, 'আল্লাহকে ভয় করো', তখন তার অহংকার তাকে পাপে লিপ্ত করে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট, আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল!" মহান আল্লাহ আরও বলেন, "প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে; আর আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।" সুতরাং গুণী ব্যক্তি আনন্দিত হন সেই জ্ঞান লাভের মাধ্যমে যা মহান আল্লাহ তাকে দান করেছেন, আর মূর্খ ব্যক্তি এমন বিষয় নিয়ে আনন্দিত হয় যার প্রকৃত রূপ সে জানে না এবং যা তার পরকালের জন্য অমঙ্গল ও তার প্রত্যাবর্তনের স্থানে ধ্বংসের কারণ। আর এর মধ্যে রয়েছে বোধশক্তি, যা তার সামনে সত্যকে নিকট থেকে উদ্ভাসিত করে এবং জটিলতার অন্ধকারসমূহে আলোকবর্তিকা প্রদান করে, ফলে সে এর মাধ্যমে সঠিক পথকে স্পষ্টভাবে দেখতে পায়। আবার এর মধ্যে রয়েছে মূর্খতা, যা তার ওপর চলার পথকে মুছে দেয় এবং তার কাছে সকল পথকে সমান করে দেয়। ফলে আত্মা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ইতস্তত করতে থাকে এবং সন্দেহের আবর্তে পড়ে পিছু হটে। আর এটি তাকে সত্য থেকে বিচ্যুত এবং সঠিক পথ থেকে বিমুখ কোনো এক পথে ধাবিত করে—তা হঠকারিতা ও দুঃসাহসের কারণে হোক, কিংবা ভীরুতা ও সংকোচের কারণে, অথবা অভ্যাস ও মন্দ পছন্দের কারণে। মহান আল্লাহ বলেন, "যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, পরকালকে ভয় করে এবং তার রবের রহমত আশা করে (সে কি তার সমান যে তা করে না)? বলো, 'যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?' কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে।" মহান আল্লাহ আরও বলেন, "আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো রাত, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।" আর এর মধ্যে রয়েছে পার্থক্য করার শক্তি, যাকে প্রাচীনরা 'যুক্তিবিদ্যা' বলে অভিহিত করেছেন। এর স্রষ্টা এই শক্তির মাধ্যমে মহান আল্লাহর বাণী বোঝার, বস্তুনিচয়কে তাদের প্রকৃত রূপে চেনার এবং অনুধাবনের সক্ষমতা অর্জনের পথ করে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে উপলব্ধির স্তর উন্নত হয় এবং মূর্খতার অন্ধকার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এর মাধ্যমেই সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, "আর যারা কুফরি করেছে তাদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে তখন তার দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 'তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের
রবের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করতেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতকার সম্পর্কে সতর্ক করতেন?' তারা বলবে, 'হ্যাঁ, অবশ্যই এসেছিলেন।' কিন্তু কাফিরদের ওপর আজাবের ফয়সালা অবধারিত হয়ে গেছে। বলা হবে, ' তোমরা জাহান্নামের দ্বারসমূহে প্রবেশ করো সেখানে স্থায়ী হওয়ার জন্য।' সুতরাং অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তাদের রবকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে এবং এর দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হবে, তখন এর রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 'তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা সুখী হও, সুতরাং তোমরা এখানে চিরস্থায়ীভাবে প্রবেশ করো।' তারা বলবে, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন এবং আমাদের এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন, আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব।' অতএব সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম! আর তুমি ফেরেশতাদের দেখতে পাবে যে তারা আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছে। আর তাদের মাঝে ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালা করা হবে এবং বলা হবে, 'সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য।' হা-মীম। এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে মহা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি গুনাহ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা ও সামর্থ্যবান। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন। যারা কুফরি করে তারাই কেবল আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে। সুতরাং শহরগুলোতে তাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে। তাদের পূর্বে নূহের জাতি এবং তাদের পরের দলসমূহও সত্যকে অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক জাতি তাদের রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং তারা মিথ্যা তর্কের মাধ্যমে সত্যকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল; অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তি! আর এভাবেই কাফিরদের ওপর তোমার রবের এই কথা সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী।"
আর এর মধ্যে রয়েছে বিচারবুদ্ধির শক্তি, যা পার্থক্যকারী আত্মাকে ন্যায়বিচারের সাহায্যে এবং সঠিক উপলব্ধির নির্দেশিত বিষয়কে অগ্রাধিকার প্রদানে সহায়তা করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ৫)
وعلى اعتقاد ذلك علما وعلى إظهار باللسان وحركات الجسم فعلا وبهذه القوة التي هي العقل تتأيد النفس الموفقة لطاعته على كراهية الحود عن الحق وعلى رفض ما قاد إليه الجهل والشهوة والغضب المولد للعصبية وحمية الجاهلية فمن اتبع ما أناره له العقل الصحيح نجا وفاز ومن عاج عنه هلك وربما أهلك قال تعالى {إن في ذلك لذكرى لمن كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد} قال أبو محمد علي أراد بذلك العقل وأما المضغة المسماة قلبا فهي لكل أحد متذكر وغير متذكر ولكن لما لم ينتفع غير العاقل بقلبه صار كمن لا قلب له قال تعالى شاهدا لما قلنا {أفلم يسيروا في الأرض فتكون لهم قلوب يعقلون بهآ أو آذان يسمعون بها فإنها لا تعمى الأبصار ولكن تعمى القلوب التي في الصدور} وقال بعض السلف الصالح ترى الرجل لبيبا داهيا فطنا ولا عقل له فالعاقل من أطاع الله عز وجل قال أبو محمد علي هذه كلمة جامعة كافية لأن طاعة الله عز وجل هي جماع الفضائل واجتناب الرذائل وهي السيرة الفاضلة على الحقيقة التي تخيرها لنا واهب النعم لا إله إلا هو فلا فضيلة إلا اتباع ما أمر الله عز وجل به أو حض عليه ولا رذيلة إلا ارتكاب ما نهى الله تعالى عنه أو نزه منه وأما الكيس في أمور الدنيا لا يبالي المرء ما وفق في استجلاب حظه فيها من علو صوت أو عرض جاه أو نمو مال أو نيل لذة من طاعة أو معصية فليس ذلك عقلا بل هو سخف وحمق ونقص شديد وسوء اختيار وقائد إلى الهلاك في دار الخلود وقد شهد ربنا تعالى أن متاع الدنيا غرور وقد علمنا أن تارك الحق ومتبع الغرور سخيف الاختيار ضعيف العقل فاسد التمييز وبرهان ذلك أن كل تمييز في إنسان بان به عن البهائم فهو يشهد أن اختيار الشيء القليل في عدده الضعيف في
منفعته المشوب بالآلام والمكاره الفاني بسرعة على الكثير في عدده العظيم في منفعته الخالص
এবং জ্ঞানের মাধ্যমে তা বিশ্বাস করা এবং জিহ্বা ও দেহের নড়াচড়ার মাধ্যমে তা বাস্তবে প্রকাশ করা। আর এই শক্তির মাধ্যমে, যা হলো বুদ্ধি, আল্লাহর আনুগত্য করার তাওফিকপ্রাপ্ত আত্মা সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়াকে অপছন্দ করতে এবং মূর্খতা, প্রবৃত্তি ও ক্রোধ থেকে উদ্ভূত গোঁড়ামি ও জাহিলি অহমিকা যেদিকে পরিচালিত করে তা প্রত্যাখ্যান করতে সক্ষম হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি সঠিক বুদ্ধি তার জন্য যা আলোকিত করেছে তা অনুসরণ করল, সে মুক্তি ও সফলতা লাভ করল; আর যে তা থেকে বিমুখ হলো, সে ধ্বংস হলো এবং সম্ভবত সে অন্যকেও ধ্বংস করল। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার হৃদয় আছে অথবা যে একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করে।" আবু মুহাম্মদ আলী বলেন: এর দ্বারা তিনি বুদ্ধিকে বুঝিয়েছেন। আর মাংসপিণ্ড যাকে হৃদয় বলা হয়, তা প্রত্যেক স্মরণকারী ও অস্মরণকারীরই থাকে। কিন্তু বিবেকহীন ব্যক্তি যেহেতু তার হৃদয় দ্বারা উপকৃত হয় না, তাই সে এমন ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যায় যার কোনো হৃদয় নেই। আমরা যা বলেছি তার সাক্ষ্য হিসেবে আল্লাহ তাআলা বলেন: "তবে কি তারা জমিনে ভ্রমণ করেনি যাতে তাদের এমন হৃদয় হতো যা দ্বারা তারা বুঝতে পারত অথবা এমন কান হতো যা দ্বারা তারা শুনতে পারত? বস্তুত চোখ তো অন্ধ হয় না, বরং অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয়গুলো।" কোনো কোনো সালফে সালেহীন বলেছেন: তুমি কোনো ব্যক্তিকে বুদ্ধিমান, চতুর ও বিচক্ষণ দেখতে পাও, অথচ তার কোনো বিবেক নেই। প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র আনুগত্য করে। আবু মুহাম্মদ আলী বলেন: এটি একটি ব্যাপক ও যথেষ্ট কথা। কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র আনুগত্যই হলো সকল গুণের সমষ্টি এবং সকল দোষ বর্জনের মাধ্যম। আর এটিই হলো প্রকৃত অর্থেই সেই উত্তম জীবনব্যবস্থা যা নেয়ামত দানকারী আমাদের জন্য পছন্দ করেছেন, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। সুতরাং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যা আদেশ করেছেন বা যার প্রতি উৎসাহিত করেছেন তার অনুসরণ করা ছাড়া কোনো গুণ নেই, আর আল্লাহ তাআলা যা নিষেধ করেছেন বা যা থেকে পবিত্র থাকতে বলেছেন তাতে লিপ্ত হওয়া ছাড়া কোনো দোষ নেই। আর পার্থিব বিষয়ে চতুরতা—যাতে মানুষ পরোয়া করে না যে পার্থিব লাভ অর্জনে সে উচ্চ সম্মান, পদমর্যাদা, সম্পদ বৃদ্ধি বা আনুগত্য কিংবা অবাধ্যতার মাধ্যমে ভোগ-বিলাস লাভে কীভাবে সফল হলো—তা বুদ্ধি নয়। বরং এটি হলো স্থূলতা, বোকামি, চরম অসম্পূর্ণতা ও মন্দ পছন্দ এবং চিরস্থায়ী আবাসে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যম। আমাদের রব সাক্ষ্য দিয়েছেন যে পার্থিব ভোগবিলাস হলো ধোঁকা। আর আমরা জেনেছি যে সত্য পরিত্যাগকারী এবং ধোঁকার অনুসরণকারী মন্দ পছন্দকারী, দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্ন এবং ভ্রষ্ট বিচারবোধের অধিকারী। এর প্রমাণ হলো, মানুষের মাঝে বিদ্যমান প্রতিটি বিচারবোধ—যার মাধ্যমে সে চতুষ্পদ জন্তু থেকে পৃথক হয়—তা সাক্ষ্য দেয় যে, পরিমাণে অল্প ও সংখ্যায় নগণ্য জিনিসকে পছন্দ করা যা অত্যন্ত দুর্বল
তার উপকারিতায় এবং যা দুঃখ-কষ্টে মিশ্রিত ও দ্রুত বিলীন হয়ে যায়—পরিমাণে অধিক, উপকারে মহান ও স্বচ্ছ জিনিসের ওপর...
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ৬)
من الكدر والمضار الخالد أبدا حمق شديد وعدم للعقل البتة ولو أن أمرأ خير في دنياه بين سكناه مائة عام في قصر أنيق واسع ذي بساتين وأنهار ورياض وأشجار ونواوير وأزهار وخدم وعبيد وأمن فاش وملك ظاهر ومال عريض إلا أن في طريقه إلى ذلك مشي يوم كامل في طريق فيها بعض الحزونة لا كلها وبين أن يمشي ذلك اليوم في طريق فيها مروج حسنة وفي خلالها مهالك ومخاوف وظلال طيبة وفي أثنائها أهوال ومتالف ثم يفضي عند تمام ذلك اليوم إلى دار ضيقة ومجلس ضنك ذي نكد وشقاء وخوف وفقر وإقلال فيسكنها مائة عام فاختار هذه الدار الحرجة لسرور يوم ممزوج بشوائب البلاء يلقاه في طريقه نحوها لكان عند كل من سمع خبره ذا آفة شديدة في تمييزه وفاسد العقل جدا ظاهر الحمق رديء الاختيار مذموما مدحورا ملوما وهذه حال من آثر عاجل دنياه على آجل أخراه فكيف بمن اختار فانيا عن قريب على ما لا يتناهى أبدا اللهم إلا أن يكون شاكا في منقلبه متحيرا في مصيره فتلك أسوأ بل هي التي لا شوى لها نعوذ بالله من الخذلان ونسأله التوفيق والعصمة بمنه آمين وكل ما قلنا فلم نقله جزافا بل لم نقل كلمة في ذلك كله إلا مما قاله الله تعالى شاهدا بصحته وميزه العقل عالما بحقيقته والحمد لله رب العالمين وإن الله عز وجل ابتلى الأمم السالفة بأنبياء ابتعثهم إلى قومهم خاصة فمؤمن وكافر فريق في الجنة وفريق في السعير ثم إنه تعالى بعث نبيه المختار وعبده المنتخب من جميع ولد آدم محمدا صلى الله عليه وسلم الهاشمي المكي إلى جميع خلقه من الجن والإنس فنسخ بملته جميع الملل وختم به الرسل وخصه بهذه الكرامة وسوده على جميع أنبيائه واتخذ صفيا ونجيا وخليلا ورسولا فلا نبي بعده ولا شريعة بعد شريعته إلى انقضاء الدنيا
وإذ قد تيقنا أن الدنيا ليست دار قرار ولكنها دار ابتلاء واختبار
অব্যাহত কষ্ট ও ক্ষতি বরণ করা চরম নির্বুদ্ধিতা এবং বিবেকের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। যদি কোনো ব্যক্তিকে তার দুনিয়াবী জীবনে এই মর্মে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয় যে, সে একশ বছর একটি মনোরম ও প্রশস্ত প্রাসাদে বসবাস করবে, যেখানে বাগান, নদ-নদী, চারণভূমি, বৃক্ষরাজি, মুকুল, ফুল, সেবক, দাস, ব্যাপক নিরাপত্তা, প্রকাশ্য রাজত্ব ও অফুরন্ত সম্পদ রয়েছে; তবে সেখানে পৌঁছানোর পথে তাকে পুরো একটি দিন এমন এক রাস্তায় হাঁটতে হবে যা কিছুটা বন্ধুর, তবে পুরোপুরি নয়। আর এর বিপরীতে সে একদিন এমন এক পথে চলবে যেখানে সুন্দর তৃণভূমি রয়েছে, তবে তার ভেতরে রয়েছে ধ্বংস ও ভীতি, এবং মনোরম ছায়া রয়েছে, তবে তার মাঝে রয়েছে আতঙ্ক ও বিনাশ; অতঃপর সেই দিন শেষে সে এমন এক সংকীর্ণ গৃহে ও কষ্টকর অবস্থানে উপনীত হবে যা দুঃখ, দুর্দশা, ভয়, দারিদ্র্য ও স্বল্পতায় পূর্ণ এবং সেখানে সে একশ বছর অবস্থান করবে। এখন সে যদি এই সংকীর্ণ ঘরটিকে বেছে নেয় সেই একদিনের আনন্দের জন্য যা আবার সেই পথে চলতে গিয়ে বিপদের আবিলতায় মিশ্রিত, তবে যারাই তার এই খবর শুনবে তারা তাকে বিচারবুদ্ধিতে চরম ত্রুটিযুক্ত, অত্যন্ত বিকৃত মস্তিষ্ক, স্পষ্ট নির্বোধ ও নিকৃষ্ট রুচির অধিকারী মনে করবে এবং সে হবে নিন্দিত, বিতাড়িত ও তিরস্কৃত। আর এটিই হলো সেই ব্যক্তির অবস্থা যে তার পরকালের তুলনায় নশ্বর দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয়। তবে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে অনন্তকালের বিপরীতে অতি শীঘ্রই বিলীন হয়ে যাওয়া বস্তুকে বেছে নেয়! আল্লাহ রক্ষা করুন, তবে সে যদি তার প্রত্যাবর্তনস্থল সম্পর্কে সন্দিহান হয় এবং নিজের গন্তব্য সম্পর্কে বিভ্রান্ত থাকে (তবেই এমনটি সম্ভব), আর এটিই হলো নিকৃষ্টতম অবস্থা, বরং এটিই হলো সেই বিপদ যার কোনো উপশম নেই। আমরা আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা ও সহায়তাহীনতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং তাঁর অনুগ্রহে তাওফিক ও নিরাপত্তা ভিক্ষা করছি। আমীন। আর আমরা যা কিছু বলেছি তা নিরর্থক বলিনি, বরং এর সবকিছুর ব্যাপারে আমরা এমন কোনো কথা বলিনি যা স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাঁর সত্যতার সাক্ষ্য হিসেবে বলেননি এবং বিবেক যার হাকীকত অনুধাবন করে সত্য-মিথ্যা নিরূপণ করেনি। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা পূর্ববর্তী উম্মতদের পরীক্ষা করেছেন এমন নবীদের মাধ্যমে যাদেরকে তিনি বিশেষভাবে তাদের কওমের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ মুমিন এবং কেউ কাফির হয়েছে—এক দল জান্নাতে এবং এক দল প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে। এরপর তিনি তাআলা তাঁর মনোনীত নবী এবং আদম-সন্তানদের মধ্য থেকে নির্বাচিত বান্দা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাশেমী মক্কীকে তাঁর সমস্ত সৃষ্টি তথা জিন ও মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তাঁর আদর্শের মাধ্যমে তিনি সকল ধর্ম ও আদর্শকে রহিত করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে রাসূলগণের আগমনের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। তাঁকে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছেন, সমস্ত নবীদের ওপর তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাঁকে মনোনীত বান্দা, রাজদুত, খলীল ও রাসূল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সুতরাং তাঁর পরে কোনো নবী নেই এবং দুনিয়ার সমাপ্তি পর্যন্ত তাঁর শরীয়তের পরে কোনো শরীয়ত নেই।
আর যেহেতু আমরা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হয়েছি যে, দুনিয়া কোনো চিরস্থায়ী আবাস নয় বরং এটি পরীক্ষা ও যাচাইয়ের ঘর।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ৭)
ومجاز إلى دار الخلود وصح بذلك أنه لا فائدة في الدنيا وفي الكون فيها إلا العلم بما امر به عز وجل وتعليمه أهل الجهل والعمل بموجب ذلك وإن ما عدا هذا مما يتنافس فيه الناس من بعد الصوت غرور وأن كل ما تشره إليه النفوس الجاهلة من غرض خسيس خطأ إلا ما قصد به إظهار العدل وقمع الزور والحكم بأمر الله تعالى وبأمر رسوله صلى الله عليه وسلم وإحياء سنن الحق وإماتة طوالع الجور وإن ما تميل إليه النفوس الخسيسة من اللذات بمناظر مألوفة متغيرة عما قليل وأصوات مستحسنة متقضية بهبوب الرياح ومشام مستطرفة منحلة بعيد ساعات ومذاوق مستعذبة مستحلية في أقرب مدة أقبح استحالة وملابس معجبة متبدلة في أيسر زمان تبدلا موحشا باطلا وإن كل ما يشغل به أهل فساد التمييز من كسب المال المنتقل عما قريب فضول إلا ما أقام القوت وأمسك الرمق وأنفق في وجوه البر الموصلة إلى الفوز في دار البقاء كان أفضل ما عاناه المرء العاقل بيان ما يرجو به هدى أهل نوعه وإنقاذهم من حيرة الشك وظلمة الباطل وإخراجهم إلى بيان الحق ونور اليقين فقد أخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم أن من هدى الله به رجلا واحدا فهو خير له من حمر النعم وأخبر عليه السلام أن من سن سنة خير في الإسلام كان له مثل أجر كل من عمل بها لا ينتقص ذلك من أجورهم شيئا وغبط من تعلم الحكمة وعلمها فنظرنا بعون الله خالقنا تعالى لنا في هذه الطريق الفاضلة التي هي ثمرة بقائنا في هذه الدنيا فوجدناها على وجوه كثيرة فمن أوكدها وأحسنها مغبة بيان الدين واعتقاده والعمل به الذي ألزمنا إياه خالقنا عز وجل على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم وشرح الجمل التي تجمع أصناف أحكامه والعبارات
এটি চিরস্থায়ী আবাসের দিকে একটি অতিক্রমণ পথ। এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, দুনিয়া এবং তাতে অবস্থানের মধ্যে মহান প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা জানা, অজ্ঞদের তা শেখানো এবং সেই অনুযায়ী আমল করা ছাড়া অন্য কোনো সার্থকতা নেই। আর এর বাইরে মানুষ খ্যাতির মোহে যা কিছু নিয়ে প্রতিযোগিতা করে, তা নিছক প্রতারণা। অজ্ঞ আত্মাসমূহ নিকৃষ্ট উদ্দেশ্যে যেসব বিষয়ের প্রতি লালায়িত হয়, তার সবই ভুল; তবে ব্যতিক্রম হলো যা ইনসাফ কায়েম করা, মিথ্যাকে দমন করা, মহান আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) নির্দেশ অনুযায়ী ফয়সালা করা, সত্যের সুন্নাতসমূহকে পুনর্জীবিত করা এবং জুলুমের প্রাদুর্ভাবকে মিটিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়। আর নিচু আত্মাসমূহ যেসব পরিচিত দৃশ্যের উপভোগ্য বিষয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তিত হয়ে যায়; এবং যেসব সুমধুর শব্দ বাতাসের ঝাপটায় মিলিয়ে যায়; এবং যেসব সুঘ্রাণ কয়েক ঘণ্টা পরেই বিলীন হয়ে যায়; এবং যেসব সুস্বাদু খাদ্য অতি দ্রুত অত্যন্ত কদর্য অবস্থায় রূপান্তরিত হয়; এবং যেসব চমৎকার পোশাক অতি অল্প সময়েই জীর্ণ ও শ্রীহীন হয়ে পড়ে—এসবই অসার। আর বিচারবুদ্ধি বিকল হওয়া ব্যক্তিরা অতি দ্রুত হাতবদল হওয়া ধন-সম্পদ উপার্জনের পেছনে যেভাবে মত্ত থাকে তা অনর্থক; তবে যতটুকু জীবন ধারণের খোরাক জোগাতে ও প্রাণ রক্ষা করতে প্রয়োজন হয় এবং যা চিরস্থায়ী আবাসে সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে পুণ্য কর্মে ব্যয় করা হয়, তা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ প্রচেষ্টা হলো সেই বিষয়ের বর্ণনা দেওয়া যার মাধ্যমে তিনি তাঁর স্বজাতির হিদায়াত এবং তাদেরকে সংশয়ের বিভ্রান্তি ও বাতিলের অন্ধকার থেকে উদ্ধার করে সত্যের স্পষ্ট বিবরণ ও নিশ্চিত বিশ্বাসের (ইয়াকিন) আলোর দিকে নিয়ে আসার আশা করেন। কেননা রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ যদি তোমার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উটের চেয়েও উত্তম। তিনি (তাঁর ওপর সালাম বর্ষিত হোক) আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো সুন্নাত বা রীতির সূচনা করবে, সে ওই কাজ সম্পাদনকারী প্রত্যেকের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি হিকমত শিক্ষা করে এবং তা অন্যকে শেখায়, তার অবস্থা ঈর্ষণীয়। তাই আমরা আমাদের স্রষ্টা মহান আল্লাহর সাহায্যে এই শ্রেষ্ঠ পথটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছি, যা এই দুনিয়ায় আমাদের অবশিষ্ট জীবনের ফসল। আমরা একে বহুবিধ পন্থায় বিন্যস্ত পেয়েছি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পরিণামে কল্যাণকর হলো দ্বীনের বর্ণনা, এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন এবং সেই অনুযায়ী আমল করা, যা আমাদের স্রষ্টা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) যবানে আমাদের ওপর আবশ্যক করেছেন এবং সেই মূলনীতিগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা যা দ্বীনের বিভিন্ন বিধি-বিধান ও পরিভাষাসমূহকে একত্রিত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الواردة فيه فإن بمعرفة العقدة من عقد تلك الجمل يلوح الحق في ألوف من المسائل غلط فيها ألوف من الناس فإثم من قلدهم إثمين إثم التقليد وإثم الخطأ ونقصت أجور من
اتبعهم مجتهدا من كفلين إلى كفل واحد ومن وفقه الله تعالى لبيان ما يتضاعف فيه أجر المعتقد والعامل بما عضده البرهان
فقد عرضه لخير كثير وامتن عليه بتزايد الأجر وهو في التراب رميم وذلك حظ لا يزهد فيه إلا محروم فكتبنا كتابنا المرسوم بكتاب التقريب وتكلمنا فيه على كيفية الاستدلال جملة وأنواع البرهان الذي به يستبين الحق من الباطل في كل مطلوب وخلصناها مما يظن أنه برهان وليس ببرهان وبينا كل ذلك بيانا سهلا لا إشكال فيه ورجونا بذلك الأجر من الله عز وجل فكان ذلك الكتاب أصلا لمعرفة علامات الحق من الباطل وكتبنا أيضا كتابنا المرسوم بالفصل فبينا فيه صواب ما اختلف الناس فيه من الملل والنحل بالبراهين التي أثبتنا جملها في كتاب التقريب ولم ندع بتوفيق الله عز وجل لنا للشك في شيء من ذلك مساغا والحمد لله كثيرا ثم جمعنا كتابنا هذا وقصدنا فيه بيان الجمل في مراد الله عز وجل منا فيما كلفناه من العبادات والحكم بين الناس بالبراهين التي أحكمناها في الكتاب المذكور آنفا وجعلنا هذا الكتاب بتأييد خالقنا عز وجل لنا موعبا للحكم فيما اختلف فيه الناس من أصول الأحكام في الديانة مستوفى مستقصى محذوف الفضول محكم الفصول راجين أن ينفعنا الله عز وجل به يوم فقرنا إلى ما يثقل به ميزاننا من الحسنات وأن ينفع به تعالى من يشاء من خلقه فيضرب لنا في ذلك بقسط ويتفضل علينا منه بحظ فهو الذي لا يخيب رجاء من قصده بأمله وهو القادر على كل شيء لا إله إلا هو
এতে বর্ণিত বিষয়সমূহের সেই বাক্যগুলোর গ্রন্থি উন্মোচনের মাধ্যমে হাজার হাজার মাসআলার ক্ষেত্রে সত্য উদ্ভাসিত হয়, যেগুলোতে হাজার হাজার মানুষ ভুল করেছে। ফলে যারা তাদের অন্ধ অনুসরণ করেছে তাদের পাপ দ্বিগুণ—তাকলিদের পাপ এবং ভুলের পাপ। আর তাদের সওয়াব হ্রাস পেয়েছে যারা
মুজতাহিদ হিসেবে তাদের অনুসরণ করেছে, ফলে তাদের সওয়াব দুই অংশ থেকে কমে এক অংশে পরিণত হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা যাকে এমন বিষয় বর্ণনার তাওফিক দান করেছেন যাতে বিশ্বাসী এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আমলকারীর সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা প্রমাণের দ্বারা সমর্থিত,
তবে তিনি তাকে প্রভূত কল্যাণের সম্মুখীন করেছেন এবং সে কবরে পচে গলে যাওয়ার পরও সওয়াব বৃদ্ধির মাধ্যমে তার ওপর অনুগ্রহ করেছেন। এটি এমন এক সৌভাগ্য যা কেবল বঞ্চিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ উপেক্ষা করে না। তাই আমরা 'কিতাবুত তাকরীব' নামক আমাদের গ্রন্থটি রচনা করেছি এবং তাতে সামগ্রিকভাবে দলিল পেশ করার পদ্ধতি এবং প্রমাণের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছি, যার দ্বারা প্রতিটি অন্বেষিত বিষয়ে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। আমরা একে এমন সব বিষয় থেকে মুক্ত করেছি যেগুলোকে প্রমাণ মনে করা হলেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলো প্রমাণ নয়। আমরা এসব বিষয় কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই সহজভাবে বর্ণনা করেছি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার নিকট সওয়াব প্রত্যাশা করেছি। এই গ্রন্থটি সত্য ও মিথ্যার লক্ষণসমূহ চেনার মূলে পরিণত হয়েছে। আমরা 'আল-ফাসল' নামক আমাদের গ্রন্থটিও লিখেছি এবং তাতে মানুষ বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদের যেসব বিষয়ে মতভেদ করেছে, তার সঠিক রূপটি সেসব প্রমাণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি যার মূলনীতি আমরা 'কিতাবুত তাকরীব' গ্রন্থে সাব্যস্ত করেছি। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার তাওফিকে আমরা এর কোনো বিষয়েই সন্দেহের অবকাশ রাখিনি, এবং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। অতঃপর আমরা আমাদের এই গ্রন্থটি সংকলন করেছি এবং এতে আমাদের ওপর অর্পিত ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার উদ্দেশ্য এবং মানুষের মাঝে বিচার-ফয়সালার মূলনীতিসমূহ বর্ণনার সংকল্প করেছি সেই প্রমাণাদির মাধ্যমে যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত গ্রন্থে সুসংবদ্ধ করেছি। আমাদের সৃষ্টিকর্তা আজ্জা ওয়া জাল্লার সাহায্যে আমরা এই গ্রন্থটিকে দ্বীনের মৌলিক বিধানসমূহের ক্ষেত্রে মানুষের মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর ফয়সালার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উৎস হিসেবে তৈরি করেছি; যা অত্যন্ত বিস্তারিত ও গভীর, অনাবশ্যক বিষয় থেকে মুক্ত এবং সুশৃঙ্খল অধ্যায় সংবলিত। আমরা আশা করি যে, যেদিন আমরা আমাদের নেকির পাল্লা ভারী করার মুখাপেক্ষী হবো, সেদিন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করবেন এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এর দ্বারা উপকৃত করবেন, যেন এতে আমাদের জন্য একটি অংশ বরাদ্দ থাকে এবং তিনি আমাদের অনুগ্রহ দান করেন। তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর নিকট প্রত্যাশাকারীর আশাকে নিরাশ করেন না এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهذا حين نبدأ في ذلك بحول الله وقوته فنقول وبالله تعالى التوفيق إنه لما صح أن العالم مخلوق وأن له خالقا لم يزل عز وجل وصح أنه ابتعث رسوله محمدا صلى الله عليه وسلم إلى جميع الناس ليتخلص من أطاعه من أطباق النيران المحيطة بنا إلى الجنة المعدة لأوليائه عز وجل وليكب من عصاه في النار الحامية وصح أنه ألزمنا على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم شرائع من أوامر ونواه وإباحات باستعمال تلك
الشرائع يوصل إلى الفوز وينجي من الهلاك وصح أنه أودع تلك الشرائع في الكلام الذي أمره به رسوله الله صلى الله عليه وسلم بتبليغه إلينا وسماه قرآنا وفي الكلام الذي أنطق به رسوله صلى الله عليه وسلم وسماه وحيا غير قرآن وألزمنا في كل ذلك طاعة نبيه عليه السلام لزمنا تتبع تلك الشرائع في هذين الكلامين لنتخلص بذلك من العذاب ونحصل على السلامة والحظوة في دار الخلود
ووجدناه تعالى قد ألزمنا ذلك بقوله في كتابه المنزل {وما كان المؤمنون لينفروا كآفة فلولا نفر من كل فرقة منهم طآئفة ليتفقهوا في الدين ولينذروا قومهم إذا رجعوا إليهم لعلهم يحذرون} فوجب علينا أن ننفر لما استنفرنا له خالقنا عز وجل فوجدناه قد قال في القرآن الذي قد ثبت أنه من قبله عز وجل والذي أودعه عهوده إلينا اللازمة لنا {يا أيها الذين آمنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ذلك خير وأحسن تأويلا} قال أبو محمد فنظرنا في هذه الآية فوجدناها جامعة لكل ما تكلم الناس فيه أولهم عن آخرهم مما أجمعوا عليه واختلفوا فيه الأحكام والعبادات التي شرعها الله عز وجل لا يشذ عنها شيء من ذلك فكان كتابنا هذا كله في بيان العمل بهذه الآية وكيفيته وبيان الطاعتين المأمور بهما لله تعالى ولرسوله عليه السلام وطاعة أولي الأمر ومن هم أولو الأمر
এটিই সেই মুহূর্ত যখন আমরা আল্লাহর সামর্থ্য ও শক্তির সাহায্যে এই বিষয়টি শুরু করছি এবং বলছি—আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে—যেহেতু এটি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে যে জগত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর একজন স্রষ্টা রয়েছেন যিনি অনাদি ও পরাক্রমশালী। আরও প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সকল মানুষের প্রতি প্রেরণ করেছেন যাতে যারা তাঁর আনুগত্য করবে তারা আমাদের বেষ্টনকারী অগ্নিকুণ্ডের স্তরসমূহ থেকে মুক্তি পেয়ে তাঁর প্রিয়জনদের জন্য প্রস্তুতকৃত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে, আর যারা তাঁর অবাধ্য হবে তাদের তিনি উত্তপ্ত আগুনে নিক্ষেপ করবেন। আরও প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবান দিয়ে আমাদের ওপর আদেশ, নিষেধ ও বৈধতার এমন কিছু শরীয়াহর বিধান আবশ্যক করেছেন যা পালনের মাধ্যমেই সফলতায় পৌঁছানো যায় এবং ধ্বংস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আরও প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি সেই বিধানসমূহকে এমন এক বাণীর মধ্যে নিহিত রেখেছেন যা তিনি তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যার নাম দিয়েছেন 'কুরআন'। আর সেই বাণীর মধ্যেও রেখেছেন যা তিনি তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাধ্যমে বলিয়েছেন এবং যার নাম দিয়েছেন 'ওহী গাইরে কুরআন' (কুরআন বহির্ভূত ওহী)। এই সবকিছুর মধ্যে তিনি আমাদের ওপর তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাম) আনুগত্য আবশ্যক করেছেন। ফলে আমাদের জন্য অবধারিত হয়ে পড়েছে যে, আমরা এই উভয় বাণীর মধ্যকার শরীয়াহর বিধানসমূহ অনুসরণ করি, যাতে আমরা এর মাধ্যমে আযাব থেকে মুক্তি পাই এবং চিরস্থায়ী আবাসে নিরাপত্তা ও পরম সৌভাগ্য লাভ করি।
আমরা দেখতে পাই যে আল্লাহ তাআলা তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে এই বাণীর মাধ্যমে আমাদের ওপর তা আবশ্যক করেছেন: "মুমিনদের জন্য সমীচীন নয় যে তারা সকলে একসাথে অভিযানে বের হবে; তবে কেন তাদের প্রত্যেক বড় দলের একটি অংশ বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসার পর তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্কতা অবলম্বন করে?" সুতরাং আমাদের স্রষ্টা মহান আল্লাহ আমাদের যে বিষয়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন, তার জন্য তৎপর হওয়া আমাদের ওপর ওয়াজিব। আমরা কুরআনের মধ্যে—যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে এটি তাঁরই পক্ষ থেকে এবং যাতে তিনি আমাদের জন্য পালনীয় অঙ্গীকারসমূহ গচ্ছিত রেখেছেন—তাঁকে বলতে দেখেছি: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (আদেশদানকারী বা প্রাজ্ঞজন) আনুগত্য করো। অতঃপর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামের দিক দিয়ে অতি উত্তম।" আবু মুহাম্মদ বলেন: আমরা এই আয়াতটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং একে এমন এক ব্যাপকভিত্তিক আয়াত হিসেবে পেয়েছি যা মানুষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাবতীয় বিষয়, তাদের ঐকমত্য ও মতপার্থক্যপূর্ণ আহকাম ও ইবাদতসমূহ—যা আল্লাহ তাআলা বিধিবদ্ধ করেছেন—তার সবকিছুকে বেষ্টন করে আছে; এর বাইরে কিছুই নেই। আমাদের এই পুরো কিতাবটি মূলত এই আয়াতের ওপর আমল করার পদ্ধতি এবং আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের (আলাইহিস সালাম) প্রতি নির্দেশিত আনুগত্যের ব্যাখ্যা এবং উলুল আমরের আনুগত্য ও তারা প্রকৃতপক্ষে কারা—তা বর্ণনার জন্য নিবেদিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وبيان التنازع الواقع منا وبيان ما يقع فيه التنازع بيننا وبيان رد ما تنوزع فيه إلى الله تعالى ورسوله عليه السلام وهذا هو جماع الديانة كلها ووجدناه قد قال تعالى {حرمت عليكم الميتة والدم ولحم الخنزير ومآ أهل لغير الله به والمنخنقة والموقوذة والمتردية والنطيحة ومآ أكل السبع إلا ما ذكيتم وما ذبح على النصب وأن تستقسموا بالأزلام ذلكم فسق اليوم يئس الذين كفروا من دينكم فلا تخشوهم واخشون اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الأسلام دينا فمن اضطر في مخمصة غير متجانف لإثم فإن الله غفور رحيم} فأيقنا أن الدين قد كمل وتناهى وكل ما كمل فليس لأحد أن يزيد فيه ولا أن ينقص منه ولا أن يبدله فصح بهذه الآية يقينا أن الدين كله لا يؤخذ إلا عن الله عز وجل ثم على لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو الذي يبلغ إلينا أمر ربنا عز وجل ونهيه وإباحته لا مبلغ إلينا شيئا عن الله تعالى أحد غيره وهو
عليه السلام لا يقول شيئا من عند نفسه لكن عن ربه تعالى ثم على ألسنة أولي الأمر منا فهم الذين يبلغون إلينا جيلا بعد جيل ما أتى به رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الله تعالى وليس لهم أن يقولوا من عند أنفسهم شيئا أصلا لكن عن النبي عليه السلام هذه صفة الدين الحق الذي كل ما عداه فباطل وليس من
الدين إذ ما لم يكن من عند الله تعالى فليس من دين الله أصلا وما لم يبينه رسول الله صلى الله عليه وسلم فليس من الدين أصلا وما لم يبلغه إلينا أولو الأمر منا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فليس من الدين أصلا فبينا بحول الله تعالى وقوته غلط من غلط في هذا الباب بأن ترك ما هو من الدين مخطئا غير عامد للمعصية أو عامدا لها أو أدخل فيه ما ليس منه كذلك فلا يخرج البتة الخطأ في أحكام الديانة عن هذين الوجهين إما ترك وإما زيادة ولخصنا الحق تلخيصا لا يشكل على نصح نفسه وقصد الله عز وجل بنيته وما توفيقنا إلا بالله عز وجل وجعلنا كتابنا هذا أبوابا لنقرب على من أراد النظر فيه ويسهل عليه البحث عما أراد الوقوف عليه منه رغبة منا في إيصال العلم إلى من طلبه ورجاء ثواب الله عز وجل في ذلك وبالله تعالى نتأيد
আমাদের মধ্যে সংঘটিত বিরোধের বর্ণনা, যে সকল বিষয়ে আমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে তার বিবরণ এবং যে বিষয়ে মতভেদ হয়েছে তা মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আলাইহিস সালামের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বর্ণনা—আর এটাই হচ্ছে সমগ্র দ্বীনের সারমর্ম। আমরা দেখতে পেয়েছি যে মহান আল্লাহ বলেছেন, "তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত পশু, রক্ত, শূকরের মাংস, সেই পশু যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, শ্বাসরোধে মৃত জন্তু, প্রহারে মৃত জন্তু, উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া জন্তু, শিং-এর আঘাতে মরা জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু—তবে যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা ছাড়া; আর যা মূর্তিপূজার বেদীর ওপর বলি দেওয়া হয়েছে এবং লটারি বা তীরের সাহায্যে ভাগ্য নির্ধারণ করাও তোমাদের জন্য হারাম; এসব পাপের কাজ। আজ কাফিররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে, সুতরাং তাদের ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। তবে যদি কেউ তীব্র ক্ষুধার্ত অবস্থায় নিরুপায় হয়ে পড়ে এবং তার কোনো পাপের প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম d দয়ালু।" সুতরাং আমরা নিশ্চিত হলাম যে, দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে এবং সমাপ্ত হয়েছে। যা পূর্ণতা পেয়েছে তাতে কারো পক্ষেই নতুন কিছু যোগ করা, বিয়োগ করা কিংবা পরিবর্তন করার অধিকার নেই। এই আয়াতের মাধ্যমে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, সমগ্র দ্বীন মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। কারণ তিনিই আমাদের প্রতি আমাদের রবের আদেশ, নিষেধ এবং বৈধতা পৌঁছে দেন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি ব্যতীত আর কেউ আমাদের কাছে কিছু পৌঁছানোর অধিকারী নন। তিনি
আলাইহিস সালাম নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলেন না বরং তাঁর রবের পক্ষ থেকেই বলেন। অতঃপর আমাদের মধ্যকার উলুল আমর বা দায়িত্বশীলদের জবানের মাধ্যমে তা পৌঁছে, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এনেছেন তা আমাদের কাছে পৌঁছে দেন। তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলার বিন্দুমাত্র অধিকার নেই, বরং তারা নবী আলাইহিস সালাম থেকেই বর্ণনা করবেন। এটাই হলো সত্য দ্বীনের স্বরূপ, যা ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা বাতিল এবং তা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়, তা আদতেই আল্লাহর দ্বীন হতে পারে না। আর যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেননি, তা আদতেই দ্বীন হতে পারে না। এবং আমাদের মধ্যকার উলুল আমরগণ যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আমাদের কাছে পৌঁছাননি, তা আদতেই দ্বীনের
অংশ হতে পারে না। অতএব, আমরা মহান আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে এই অধ্যায়ে যারা ভুল করেছেন তাদের ভুলগুলো বর্ণনা করেছি; চাই তা দ্বীনের কোনো বিষয় বর্জন করার মাধ্যমে হোক (ভুলবশত নাফরমানির ইচ্ছা ছাড়া কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে), অথবা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিছু এতে সংযোজন করার মাধ্যমে হোক। দ্বীনি আহকামের ক্ষেত্রে ভুল এই দুই অবস্থার বাইরে যায় না—হয় বর্জন অথবা সংযোজন। আমরা সত্যকে এমনভাবে সারসংক্ষেপ করেছি যা সেই ব্যক্তির জন্য অস্পষ্ট থাকবে না যে নিজের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী এবং আপন নিয়তের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্পকারী। আমাদের তাওফীক কেবল মহান আল্লাহর মাধ্যমেই। আমরা আমাদের এই কিতাবকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি যাতে যারা এটি পর্যালোচনা করতে চান তাদের জন্য তা সহজবোধ্য হয় এবং যারা এর মধ্য থেকে কোনো কিছু অনুসন্ধান করতে চান তাদের জন্য অন্বেষণ সহজ হয়। এটা আমাদের পক্ষ থেকে জ্ঞান অন্বেষণকারীদের কাছে ইলম পৌঁছে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং মহান আল্লাহর নিকট এর প্রতিদানের আশায়; আর মহান আল্লাহর মাধ্যমেই আমরা সাহায্য ও শক্তি লাভ করি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ১১)
باب ترتيب الأبواب وهو الباب الثاني إذ الباب الأول في صدر هذا الكتاب وذكر الغرض فيه وهو الذي تم قبل هذا الابتداء الباب الثاني هذا الذي نحن فيه وهو ترتيب أبواب هذا الكتاب الباب الثالث في إثبات حجج العقل وبيان ما يدركه على الحقيقة وبيان غلط من ظن في العقل ما ليس فيه الباب الرابع في كيفية ظهور اللغات التي يعبر بها عن جميع الأشياء ويتخاطب بها الناس الباب الخامس في الألفاظ الدائرة بين أهل النظر الباب السادس هل الأشياء في العقل على الحظر أو الإباحة أو لا على واحد منها لكن على ترقب ما يرد فيها من خالقها عز وجل الباب السابع في أصول أحكام الديانة وأقسام المعارف وهل على النافي دليل أو لا الباب الثامن في معنى البيان الباب التاسع في تأخير البيان الباب العاشر في القول بموجب القرآن
الباب الحادي عشر في الأخبار التي هي السنن وفي بعض فصول هذا الباب سبب الاختلاف الواقع بين الأئمة الباب الثاني عشر في الأوامر والنواهي الواردة في القرآن والسنة والأخذ بالظاهر منهما وحمل كل ذلك على الوجوب والفور أو الندب أو التراخي الباب الثالث عشر في حملها على العموم أو الخصوص الباب الرابع عشر في أقل الجمع الوارد فيها الباب الخامس عشر في الاستثناء منها الباب السادس عشر في الكتابة بالضمير
অধ্যায়সমূহের বিন্যাস সংক্রান্ত অধ্যায়, আর এটি হলো দ্বিতীয় অধ্যায়। কেননা প্রথম অধ্যায়টি এই বইয়ের শুরুতে ছিল এবং তাতে উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে, যা এই সূচনার পূর্বেই সমাপ্ত হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায় হলো এটি যা এখন আমরা আলোচনা করছি, আর তা হলো এই বইয়ের অধ্যায়সমূহের বিন্যাস। তৃতীয় অধ্যায় বিবেকের প্রমাণাদি সাব্যস্ত করার বিষয়ে, বিবেকের মাধ্যমে যা প্রকৃতপক্ষে উপলব্ধি করা যায় তার বর্ণনায় এবং বিবেকের মধ্যে যা নেই তা বিবেকের বলে ধারণা পোষণকারীদের ভুল বর্ণনায়। চতুর্থ অধ্যায় ভাষা আবির্ভূত হওয়ার পদ্ধতি সংক্রান্ত, যার মাধ্যমে সমস্ত বস্তু সম্পর্কে অভিব্যক্তি প্রকাশ করা হয় এবং যার মাধ্যমে মানুষ পরস্পর কথোপকথন করে। পঞ্চম অধ্যায় গবেষকদের মধ্যে প্রচলিত শব্দাবলী প্রসঙ্গে। ষষ্ঠ অধ্যায় হলো বস্তুসমূহ বিবেকের বিচারে নিষিদ্ধ নাকি বৈধ, নাকি কোনোটিই নয় বরং মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যা অবতীর্ণ হবে তার অপেক্ষায় থাকা। সপ্তম অধ্যায় দ্বীনের বিধানসমূহের মূলনীতি, জ্ঞানের প্রকারভেদ এবং অস্বীকারকারীর ওপর কোনো দলিল আছে কি নেই সে বিষয়ে। অষ্টম অধ্যায় বয়ানের অর্থ প্রসঙ্গে। নবম অধ্যায় বয়ান বিলম্বিত করা প্রসঙ্গে। দশম অধ্যায় কুরআনের দাবি অনুযায়ী বক্তব্য প্রসঙ্গে।
একাদশ অধ্যায় হাদীসসমূহ প্রসঙ্গে যা সুন্নাহ হিসেবে গণ্য, এবং এই অধ্যায়ের কিছু পরিচ্ছেদে ইমামগণের মধ্যে সংঘটিত মতভেদের কারণ বর্ণিত হয়েছে। দ্বাদশ অধ্যায় কুরআন ও সুন্নাহে বর্ণিত আদেশ ও নিষেধ প্রসঙ্গে, এ দুটির বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করা এবং সেগুলোকে ওয়াজিব ও তাৎক্ষণিকতা অথবা মুস্তাহাব কিংবা বিলম্বিত করার অর্থে প্রয়োগ করা প্রসঙ্গে। ত্রয়োদশ অধ্যায় সেগুলোকে ব্যাপক অথবা বিশেষ অর্থে প্রয়োগ করা প্রসঙ্গে। চতুর্দশ অধ্যায় সেগুলোতে বর্ণিত বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা প্রসঙ্গে। পঞ্চদশ অধ্যায় সেগুলো থেকে ব্যতিক্রম করার বিষয়ে। ষোড়শ অধ্যায় সর্বনামের মাধ্যমে লিখন পদ্ধতি প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ১২)
الباب السابع عشر في الكتابة بالإشارة الباب الثامن عشر في المجاز والتشبيه الباب التاسع عشر في أفعال رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي الشيء يراه أو يبلغه فيقره صامتا عن الأمر به أو النهي عنه الباب الموفي عشرين في النسخ الباب الحادي والعشرون في المتشابه من القرآن والمحكم والفرق بينه وبين المتشابه المذكور في الحديث بين الحلال والحرام الباب الثاني والعشرون في الإجماع الباب الثالث والعشرون في استصحاب الحال وبطلان العقود والشروط إلا ما نص عليه منها أو أجمع على صحته وهو باب من الدليل الإجماعي الباب الرابع والعشرون في أقل ما قيل وهو أيضا نوع من أنواع الدليل الإجماعي الباب الخامس والعشرون في ذم الاختلاف والنهي عنه الباب السادس والعشرون في أن الحق في واحد وسائر الأقوال كلها خطأ الباب السابع والعشرون في الشذوذ ومعنى هذه اللفظة وإبطال التمويه بذكرها الباب الثامن والعشرون في تسمية الفقهاء المعتد بهم في الخلاف بعد الصحابة رضي الله عنهم الباب التاسع والعشرون في الدليل النظري والفرق بينه وبين القياس
الباب الموفي ثلاثين في لزوم الشريعة الإسلامية لكل مؤمن وكافر ووقت لزوم الشرائع للإنسان الباب الحادي والثلاثون في صفة طلب الفقه وصفة المفتي وصفة الاجتهاد وما يلزم لكل واحد طلبه من دينه
সপ্তদশ অধ্যায়: ইশারার মাধ্যমে লেখা প্রসঙ্গে। অষ্টাদশ অধ্যায়: রূপক ও উপমা প্রসঙ্গে। উনবিংশ অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কার্যাবলি এবং এমন বিষয় প্রসঙ্গে যা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন অথবা তাঁর নিকট পৌঁছেছে, অতঃপর তিনি সে সম্পর্কে আদেশ বা নিষেধ না করে নীরব থেকে তা অনুমোদন করেছেন। বিংশ অধ্যায়: রহিতকরণ (নাসখ) প্রসঙ্গে। একবিংশ অধ্যায়: কুরআনের অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) ও সুস্পষ্ট (মুহকাম) আয়াতসমূহ এবং হালাল ও হারামের বর্ণনায় হাদিসে বর্ণিত অস্পষ্টতার সাথে এর পার্থক্য প্রসঙ্গে। দ্বাবিংশ অধ্যায়: ইজমা (ঐক্যমত) প্রসঙ্গে। ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: পূর্বাবস্থা বহাল রাখা (ইস্তিসহাবুল হাল) এবং সেই সকল চুক্তি ও শর্তাবলি বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি অথবা যেগুলোর শুদ্ধতার ওপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়নি; আর এটি ইজমা-ভিত্তিক দলিলের একটি পরিচ্ছেদ। চতুর্বিংশ অধ্যায়: 'সর্বনিম্ন বক্তব্য' (আকাল্লু মা কিলা) প্রসঙ্গে, যা ইজমা-ভিত্তিক দলিলের অন্যতম একটি প্রকার। পঞ্চবিংশ অধ্যায়: মতভেদের নিন্দা এবং তা থেকে নিষেধ করা প্রসঙ্গে। ষড়বিংশ অধ্যায়: সত্য কেবল একটিই এবং অবশিষ্ট সকল মতামত ভুল হওয়া প্রসঙ্গে। সপ্তবিংশ অধ্যায়: বিচ্ছিন্নতা (শুযুয), এই শব্দের অর্থ এবং এটি ব্যবহারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা খণ্ডন প্রসঙ্গে। অষ্টবিংশ অধ্যায়: সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-গণের পর মতভেদের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ফকীহগণের নাম উল্লেখ প্রসঙ্গে। উনত্রিশতম অধ্যায়: তাত্ত্বিক দলিল এবং কিয়াসের সাথে এর পার্থক্য প্রসঙ্গে।
ত্রিংশ অধ্যায়: প্রত্যেক মুমিন ও কাফিরের জন্য ইসলামি শরীয়ত অনুসরণ অপরিহার্য হওয়া এবং মানুষের ওপর শরীয়তের বিধান কার্যকর হওয়ার সময়কাল প্রসঙ্গে। একত্রিশতম অধ্যায়: ফিকহ অন্বেষণের পদ্ধতি, মুফতির বৈশিষ্ট্য ও ইজতিহাদের স্বরূপ এবং প্রত্যেকের জন্য নিজ দ্বীনের যা কিছু অন্বেষণ করা আবশ্যক সে প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الباب الثاني والثلاثون في وجوب النيات في الأعمال والفرق بين الخطأ المقصود بلا نية الخطأ غير المقصود والعمد المقصود بالفعل والنية جميعا وحيث يلحق عمل المرء غيره من إثم وبر وحيث لا يلحق الباب الثالث والثلاثون في شرائع الأنبياء قبل نبينا صلى الله عليه وسلم أتلزمنا أم لا الباب الرابع والثلاثون في الاحتياط وقطع الذرائع الباب الخامس والثلاثون في إبطال الاستحسان والاستنباط والرأي الباب السادس والثلاثون في إبطال التقليد الباب السابع والثلاثون في دليل الخطاب الباب الثامن والثلاثون في إبطال القياس الباب التاسع والثلاثون في إبطال العلل التي يدعيها أهل القياس والفرق بينها وبين العلل الطبيعية التي هي العلل على الحقيقة والكلام في الأسباب والأغراض والمعاني والعلامات والأمارات الباب الموفي أربعين في الاجتهاد ما هو وبيانه ومن هو معذور باجتهاده ومن ليس معذورا به ومن يقطع عليه أنه أخطأ عند الله عز وجل فيما أداه إليه اجتهاده ومن لا يقطع عليه أنه مخطىء عند الله عز وجل وإن خالفناه في إثبات حجج العقول
قال أبو محمد قال قوم لا يعلم شيء إلا بالإلهام وقال آخرون لايعلم شيء إلا بقول الإمام وهو عندهم رجل بعينه إلا أنه الآن منذ مائة عام وسبعين عاما معدوم المكان متلف العين ضالة من الضوال وقال آخرون لا يعلم شيء إلا بالخبر وقال آخرون لا يعلم شيء إلا بالتقليد واحتجوا في إبطال
বত্রিশতম অধ্যায়: কর্মে নিয়তের আবশ্যকতা এবং নিয়ত ব্যতীত ইচ্ছাকৃত ভুল, অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং কাজ ও নিয়ত উভয়সহ ইচ্ছাকৃত কাজের মধ্যে পার্থক্য প্রসঙ্গে; এবং কোন ক্ষেত্রে মানুষের আমল অন্যকে পাপ বা পুণ্য হিসেবে স্পর্শ করে আর কোন ক্ষেত্রে করে না। তেত্রিশতম অধ্যায়: আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্ববর্তী নবীদের শরীয়ত আমাদের জন্য আবশ্যক কি না। চৌত্রিশতম অধ্যায়: সতর্কতা অবলম্বন এবং গুনাহের পথসমূহ বন্ধ করা প্রসঙ্গে। পঁয়ত্রিশতম অধ্যায়: ইসতিহসান, ইসতিনবাত এবং রা’য় বাতিল করা প্রসঙ্গে। ছত্রিশতম অধ্যায়: তাকলীদ বাতিল করা প্রসঙ্গে। সাইত্রিশতম অধ্যায়: দলীলুল খিতাব প্রসঙ্গে। আটত্রিশতম অধ্যায়: কিয়াস বাতিল করা প্রসঙ্গে। ঊনচল্লিশতম অধ্যায়: কিয়াসপন্থীরা যেসব ইল্লত বা কারণ দাবি করে তা বাতিল করা প্রসঙ্গে এবং সেগুলোর সাথে প্রাকৃতিক কারণসমূহের—যা প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত কারণ—পার্থক্য এবং উপকরণ, উদ্দেশ্য, অর্থ, চিহ্ন ও লক্ষণসমূহ সম্পর্কে আলোচনা। চল্লিশতম অধ্যায় পূর্ণকারী পরিচ্ছেদ: ইজতিহাদ ও তার পরিচয়; ইজতিহাদের ক্ষেত্রে কে ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং কে ক্ষমাপ্রাপ্ত নয়; আর যার ইজতিহাদ তাকে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছে সে ক্ষেত্রে সে মহান আল্লাহর নিকট ভুল করেছে বলে কার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং কার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় না যে সে মহান আল্লাহর নিকট ভুল করেছে, যদিও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ক্ষেত্রে আমরা তার বিরোধিতা করি।
আবু মুহাম্মাদ বলেন: একদল লোক বলেছে যে, ইলহাম (ঐশী প্রেরণা) ছাড়া কোনো কিছু জানা যায় না। অন্য একদল বলেছে: ইমামের কথা ছাড়া কোনো কিছু জানা যায় না। তাদের মতে তিনি একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি, যদিও তিনি বর্তমানে একশত সত্তর বছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে, তাঁর স্থান অজ্ঞাত এবং তিনি নিখোঁজদের একজন। অন্যরা বলেছে: খবর ছাড়া কোনো কিছু জানা যায় না। অন্য একদল বলেছে: তাকলীদ ছাড়া কোনো কিছু জানা যায় না। আর তারা এটি বাতিল করার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
حجة العقل بأن قالوا قد يرى الإنسان يعتقد بشيء ويجادل عنه ولا يشك في أنه حق ثم يلوح له غير ذلك فلو كانت حجج العقول صادقة لما تغيرت أدلتها قال أبو محمد هذا تمويه فاسد ولا حجة لهم على مثبتي حجج العقول في رجوع من رجع عن مذهب كان يعتقده ويناضل عنه لأننا لم نقل إن كان معتقد لمذهب ما فهو محق فيه ولا قلنا إن كل ما استدل به مستدل ما على مذهبه فهو حق ولو قلنا ذلك لفارقنا حكم العقول لكن قلنا إن من الاستدلال ما يؤدي إلى مذهب صحيح إذا كان الاستدلال صحيحا مرتبا ترتيبا قويما على ما قد بيناه وأحكمناه غاية الإحكام في كتاب التقريب وقد يوقع الاستدلال إذا كان فاسدا على مذهب فاسد وذلك إذا خولف به طريق الاستدلال الصحيح وقد نبهنا على الشعاب والعوارض المعترضة في طريق الاستدلال وبيناها وحذرنا منها في الكتاب المذكور ولم ندع هنالك في تبيين كل ما ذكرناه علقة وأوضحناه غاية الإيضاح فالراجع عن مذهب إلى مذهب لا بد له ضرورة من أن يكون أحد استدلاليه فاسدا إما الأول وإما الثاني وقد يكونان معا فاسدين فيتنقل من مذهب فاسد إلى مذهبه فاسد أو من مذهب صحيح إلى مذهب فاسد أو من مذهب فاسد إلى مذهب صحيح لا بد من أحد هذه الوجوه ولا يجوز أن يكونا صحيحين معا البتة لأن الشيء لا يكون حقا بإطلاق في وقت واحد من وجه واحد وقد يكون أقساما
كثيرة كلها باطل إلا واحدا فينتقل المرء من قسم فاسد منها إلى آخر فاسد وهذا إنما يعرض لمن غبن عقله ولم ينعم النظر فمال بهوى أو تهور بشهوة أو أحجم لفرط جبنه أو لمن كان جاهلا بوجوه طرق الاستدلال الصحيحة لم يطالعها ولا تعلمها وأكثر ما يقع ذلك
যুক্তির পরিপন্থী একটি সংশয় হলো তারা বলে, মানুষ কখনও একটি বিষয় বিশ্বাস করে এবং সেটির পক্ষে বিতর্ক করে, আর তা সত্য হওয়ার ব্যাপারে তার কোনো সন্দেহ থাকে না; অতঃপর তার নিকট ভিন্ন কিছু প্রতীয়মান হয়। যদি যুক্তিনির্ভর দলিলসমূহ বাস্তবসম্মত হতো, তবে সেগুলোর প্রমাণাদি পরিবর্তিত হতো না। আবু মুহাম্মদ বলেন, এটি একটি অসার প্রবঞ্চনা। যারা যুক্তিনির্ভর দলিল সাব্যস্ত করেন, তাদের বিরুদ্ধে এটি কোনো যুক্তি হতে পারে না যে, কোনো ব্যক্তি তার পূর্বের বিশ্বাস এবং যার পক্ষে সে লড়াই করেছিল তা থেকে ফিরে এসেছে। কেননা আমরা এটি বলিনি যে, কেউ কোনো মতবাদের অনুসারী হলেই সে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিংবা আমরা এটিও বলিনি যে, কোনো ব্যক্তি তার মতবাদের স্বপক্ষে যে দলিলই পেশ করবে, তা-ই সত্য। যদি আমরা তা বলতাম, তবে আমরা যুক্তির দাবি থেকে বিচ্যুত হতাম। বরং আমরা বলেছি যে, যুক্তির বিন্যাস যদি সঠিক হয় এবং আমাদের 'কিতাবুত তাকরিব'-এ যেভাবে আমরা অত্যন্ত সুচারুভাবে বর্ণনা ও সুসংহত করেছি, সেই নিয়ম অনুযায়ী সঠিকভাবে সাজানো হয়, তবে সেই প্রমাণ পদ্ধতি সঠিক মতবাদের দিকে নিয়ে যায়। আর যুক্তিপ্রক্রিয়া যদি ভ্রান্ত হয়, তবে তা ভ্রান্ত মতবাদের দিকেই ধাবিত করে; আর এটি তখনই ঘটে যখন সঠিক যুক্তিপ্রদানের পদ্ধতির বিরোধিতা করা হয়। আমরা উল্লিখিত কিতাবে যুক্তির পথে আসা বিভিন্ন জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সতর্ক করেছি, সেগুলো বর্ণনা করেছি এবং সে বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছি। আমরা সেখানে যা কিছু উল্লেখ করেছি তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে কোনো সংশয় রাখিনি এবং তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি। সুতরাং এক মতবাদ থেকে অন্য মতবাদে প্রত্যাবর্তনকারীর ক্ষেত্রে অবশ্যই তার উভয় প্রমাণের একটি ভ্রান্ত হতে বাধ্য—হয় প্রথমটি অথবা দ্বিতীয়টি। আবার এমনও হতে পারে যে উভয়টিই ভ্রান্ত, ফলে সে একটি ভ্রান্ত মতবাদ থেকে অন্য আরেকটি ভ্রান্ত মতবাদে স্থানান্তরিত হয়, অথবা সঠিক মতবাদ থেকে ভ্রান্ত মতবাদে, কিংবা ভ্রান্ত মতবাদ থেকে সঠিক মতবাদে যায়। এগুলোর যেকোনো একটি রূপ হওয়া অনিবার্য। তবে কোনোভাবেই উভয়টি একসাথে সঠিক হওয়া সম্ভব নয়। কারণ কোনো বস্তু একই সময়ে একই দিক থেকে নিরঙ্কুশভাবে সত্য হতে পারে না। আবার অনেকগুলো ভাগ থাকতে পারে
যার সবগুলোই বাতিল হতে পারে কেবল একটি ব্যতীত। ফলে মানুষ একটি ভ্রান্ত অংশ থেকে অন্য আরেকটি ভ্রান্ত অংশে স্থানান্তরিত হয়। এটি মূলত তাদের ক্ষেত্রে ঘটে যাদের বুদ্ধি লোপ পেয়েছে এবং যারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেনি, ফলে খেয়াল-খুশির দিকে ঝুঁকে পড়েছে অথবা প্রবৃত্তির তাড়নায় হঠকারিতা করেছে, কিংবা চরম ভীরুতার কারণে পিছিয়ে পড়েছে। অথবা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে যে সঠিক যুক্তিপ্রদানের পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ, সে এগুলো অধ্যয়ন করেনি এবং শিখেনি। আর এটিই সবচাইতে বেশি ঘটে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فيما يأخذ من مقدمات بعيدة فكان الطريق المؤدي من أوائل المعارف إلى صحة المذهب المطلوب طريقا بعيدا كثير الشعب فيكل فيها الذهن الكليل ويدخل مع طول الأمر وكثرة العمل ودقته السآمة فيتولد فيها الشك والخبال والسهو كما يدخله ذلك على الحاسب في حسابه على أن الحساب علم ضروري لا يتناقض فيجد أعدادا متفرقة في قرطاس فإذا أراد الحاسب جمعها فإن كثرت جدا فربما غفل وغلط حتى إذا حقق وتثبت ولم يشغل خاطره بشيء وقف على اليقين بلا شك هذا شيء يوجد حسا كما ترى وقد يدخل أيضا على الحواس فيرى المرء بعينه شخصا فربما ظنه زيدا وكابر عليه حتى إذا تثبت فيه علم أنه عمرو وهكذا يعرض في الصوت المسموع وفي المشموم وفي الملموس وفي المذوق وقد يعرض ذلك الشيء يطلبه المرء وهو بين يديه في جملة أشياء كثيرة فيطول عناؤه في طلبه ويتعذر عليه وجوده ثم يجده بعد ذلك فلا يكون عدم وجوده إياه مبطلا لكونه بين يديه حقيقة فكذلك يعرض في الاستدلال وليس شيء من ذلك بموجب بطلان صحة إدراك الحواس ولا صحة إدراك العقل الذي به علمت صحة ما أدركته الحواس ولولاه لم نعلم أصلا كما أن حواس المجنون المطبق والمغشي عليه لا يكاد ينتفع بها وقل ما يعرض هذا في أعداد يسيرة ولا فيما أخذ بمقدمات قريبة من أوائل المعارف ولا سبيل إلى أن يعرض ذلك فيما أوجبته أوائل المعارف إلا لسوفسطائي رقيع يعلم يقينا بقلبه أنه كاذب وأنه مبطل وقاح أو لمرور ممسوس ينبغي أن يعالج دماغه فهذا معذور وإنما نكلم الأنفس لسنا نقصد بكلامنا الألسنة ولا علينا قصر الألسنة بالحجة إلى الإذعان بالحق وإنما علينا قسر الأنفس إلى تيقن معرفته فقط فهذا الذي ظنوه من
رجوع من كان على مذهب ما إلى مذهب آخر أن ذلك كله حجج عقل تفاسدت إنما هو خطأ صريح فمن هنا دخلت عليهم الشبهة وإنما
যখন কোনো বিষয় দূরবর্তী ভূমিকা থেকে গ্রহণ করা হয়, তখন প্রাথমিক জ্ঞান থেকে উদ্দিষ্ট মতবাদের সত্যতা পর্যন্ত পৌঁছানোর পথটি দীর্ঘ ও বহু শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ক্লান্ত মন এতে অবসন্ন হয়ে যায় এবং দীর্ঘসূত্রতা, কাজের আধিক্য ও এর সূক্ষ্মতার কারণে এতে বিরক্তি প্রবেশ করে; ফলে সেখানে সন্দেহ, বিভ্রান্তি ও বিস্মৃতি জন্ম নেয়, যেমনটি একজন গণনাকারীর ক্ষেত্রে তার গণনার সময় ঘটে থাকে। যদিও গণিত একটি স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান যাতে কোনো বৈপরীত্য নেই। কেউ হয়তো কাগজে কিছু বিক্ষিপ্ত সংখ্যা পেল; গণনাকারী যখন সেগুলো যোগ করতে চায়, যদি তা সংখ্যায় অনেক বেশি হয়, তবে সে হয়তো অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং ভুল করে বসে। কিন্তু যখন সে বিষয়টি যাচাই করে ও স্থির হয় এবং অন্য কোনো চিন্তায় লিপ্ত না হয়, তখন সে কোনো সন্দেহ ছাড়াই নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করে। এটি এমন একটি বিষয় যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে পরিলক্ষিত হয়, যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন। আর এটি ইন্দ্রিয়ের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। মানুষ তার চোখে কোনো ব্যক্তিকে দেখে হয়তো তাকে জায়েদ বলে মনে করে এবং সে ব্যাপারে জেদ ধরে বসে, যতক্ষণ না সে ভালোভাবে যাচাই করে জানতে পারে যে সে আসলে আমর। একইভাবে শ্রুত শব্দ, ঘ্রাণ, স্পর্শ এবং স্বাদের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে থাকে। কখনো কখনো এমন হয় যে, কোনো ব্যক্তি একটি জিনিস খুঁজছে অথচ সেটি তার সামনেই অনেকগুলো জিনিসের মাঝে পড়ে আছে; তা খুঁজতে গিয়ে তার কষ্ট দীর্ঘায়িত হয় এবং সেটি পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। অতঃপর সে তা খুঁজে পায়। সুতরাং শুরুতে সেটি খুঁজে না পাওয়াটা প্রকৃতপক্ষে তা তার সামনে থাকার বিষয়টিকে বাতিল করে দেয় না। যুক্তিনির্ভর প্রমাণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই। এর কোনোটিই ইন্দ্রিয়জাত উপলব্ধির সঠিকতাকে কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক উপলব্ধির সঠিকতাকে বাতিল করে দেয় না—যে বুদ্ধির মাধ্যমেই ইন্দ্রিয়জাত বিষয়ের সত্যতা জানা যায়। আর বুদ্ধি না থাকলে আমরা আদতেই কিছুই জানতে পারতাম না। যেমন একজন উন্মাদ বা মূর্ছিত ব্যক্তির ইন্দ্রিয়সমূহ প্রায় কোনো কাজেই আসে না। অল্প সংখ্যার ক্ষেত্রে কিংবা প্রাথমিক জ্ঞানের নিকটবর্তী ভূমিকা থেকে গৃহীত বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন ভুল খুব কমই ঘটে। আর প্রাথমিক জ্ঞান থেকে যা অবধারিতভাবে প্রমাণিত, তাতে কোনো ভ্রান্তি ঘটার সুযোগ নেই—কেবল সেই নির্লজ্জ সোফিস্ট ছাড়া যে অন্তরে নিশ্চিতভাবে জানে যে সে মিথ্যাবাদী, বাতিলপন্থী ও ধৃষ্ট; অথবা কোনো মস্তিষ্কবিকৃত পাগল ছাড়া যার মস্তিষ্কের চিকিৎসা করা প্রয়োজন। এ ব্যক্তি তো ক্ষমার যোগ্য। আমরা মূলত অন্তরের সাথে কথা বলছি, আমাদের কথার উদ্দেশ্য জিহ্বা নয়। দলিলের মাধ্যমে সত্য মেনে নেওয়ার জন্য জিহ্বাকে বাধ্য করা আমাদের কাজ নয়, বরং আমাদের কাজ হলো কেবল সত্যের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য অন্তরকে বাধ্য করা। এটি তারা মনে করেছিল যে,
কোনো নির্দিষ্ট মতবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তির অন্য কোনো মতবাদে ফিরে যাওয়া—যা তাদের ধারণায় বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের অসারতা প্রমাণ করে—তা মূলত একটি স্পষ্ট ভুল। এখান থেকেই তাদের মাঝে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। আর কেবল...
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بيان ذلك أن ما كان من الدلائل صحيحا مسبورا محققا فهو حجة العقل وما كان
منها بخلاف ذلك فليست حجة عقل بل العقل يبطلها فسقط ما ظنوا والحمد لله رب العالمين وقد أحكمنا هذا غاية الإحكام والحمد لله رب العالمين في باب أفردناه لهذا المعنى في آخر كتابنا الموسوم بالفصل ترجمته باب الكلام على من قال بتكافؤ الأدلة وقد سألوا أيضا فقالوا بأي شيء عرفتم صحة حجة العقل أبحجة عقل أم بغير ذلك فإن قلتم عرفناها بحجة العقل ففي ذلك نازعناكم وإن قلتم بغير ذلك فهاتوه قال أبو محمد وهذا سؤال مبطل الحقائق كلها والجواب على ذلك وبالله تعالى التوفيق أن صحة ما أوجبه العقل عرفناه بلا واسطة وبلا زمان ولم يكن بين أول أوقات فهمنا وبين معرفتنا بذلك مهلة البتة ففي أول أوقات فهمنا علمنا أن الكل أكثر من الجزء وأن كل شخص فهو غير الشخص الآخر وأن الشيء لا يكون قائما قاعدا في حال واحدة وأن الطويل أمد من القصير وبهذه القوة عرفنا صحة ما توجبه الحواس وكلما لم يكن بين أول أوقات معرفة المرء وبين معرفته به مهلة ولا زمان فلا وقت للاستدلال فيه ولا يدري أحد كيف وقع له ذلك إلا أنه فعل الله عز وجل في النفوس فقط ثم من هذه المعرفة أنتجنا جميع الدلائل ثم نقول له إن كنت مسلما بالقرآن يوجب صحة حجج العقول على ما سنورده في آخر هذا الباب إن شاء الله تعالى فإن كلامنا في هذا الديوان إنما هو مع أهل ملتنا وأما إن كان المكلم به لنا غير مسلم فقد أجبناه عن هذا السؤال في كتابنا الموسوم بالفصل وكتابنا الموسوم بالتقريب وتقصينا هذا الشك وبينا خطأه بعون الله تعالى وليس كتابنا هذا مكان الكلام مع هؤلاء
এর ব্যাখ্যা এই যে, যে সকল প্রমাণ সঠিক, যাচাইকৃত ও সুনিশ্চিত, তা বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল; আর যা
এর বিপরীত, তা বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল নয় বরং বুদ্ধি তা বাতিল করে দেয়। ফলে তারা যা ধারণা করেছিল তা অসার প্রমাণিত হলো। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমরা আমাদের ‘আল-ফাসল’ নামক কিতাবের শেষে এই বিষয়ের জন্য বরাদ্দকৃত একটি অধ্যায়ে বিষয়টি অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে বর্ণনা করেছি, যার শিরোনাম হলো: ‘প্রমাণাদির সমতুল্যতার (তাকাফু আল-আদিল্লাহ) প্রবক্তাদের আলোচনার অধ্যায়’। তারা আরও প্রশ্ন করেছে এবং বলেছে: “তোমরা বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের সঠিকতা কিসের মাধ্যমে জানলে? বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল দিয়ে নাকি অন্য কিছু দিয়ে? যদি বলো যে বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল দিয়ে জেনেছ, তবে তো আমরা এ নিয়েই তোমাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত। আর যদি অন্য কিছু দিয়ে জেনে থাকো, তবে তা পেশ করো।” আবু মুহাম্মাদ বলেন: এটি এমন এক প্রশ্ন যা সকল ধ্রুব সত্যকে নাকচ করে দেয়। এর উত্তর হলো—আর আল্লাহর তাওফিকই কাম্য—বুদ্ধিবৃত্তি যা অবধারিত করে তার সঠিকতা আমরা কোনো মাধ্যম এবং সময়ের ব্যবধান ছাড়াই জানতে পেরেছি। আমাদের বোধশক্তির শুরু এবং এই জ্ঞানের প্রাপ্তির মাঝে বিন্দুমাত্র কোনো অবকাশ ছিল না। সুতরাং আমাদের বোধশক্তির উন্মেষকালেই আমরা জেনেছি যে, সমষ্টি তার অংশের চেয়ে বড়, প্রতিটি ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি থেকে ভিন্ন, একই সাথে কোনো বস্তু দণ্ডায়মান ও উপবিষ্ট হতে পারে না এবং দীর্ঘ বস্তুর ব্যাপ্তি ক্ষুদ্র বস্তুর চেয়ে বেশি। এই শক্তির মাধ্যমেই আমরা ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের সঠিকতা বুঝতে পারি। যখনই কোনো মানুষের প্রাথমিক জানাশোনা এবং সেই বিষয়ের জ্ঞানের মাঝে কোনো অবকাশ বা সময়ের ব্যবধান থাকে না, সেখানে যুক্তিতর্কের (ইস্তিদলাল) কোনো সুযোগ থাকে না। কেউ জানে না কীভাবে এটি তার মধ্যে অর্জিত হয়েছে; বরং এটি মানুষের সত্তায় মহান আল্লাহর একটি কর্ম মাত্র। অতঃপর এই মৌলিক জ্ঞান থেকেই আমরা সকল প্রকার প্রমাণাদি আহরণ করি। এরপর আমরা তাকে বলি, তুমি যদি মুসলিম হও তবে কুরআন বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের সঠিকতাকে অবধারিত করে, যা আমরা ইনশাআল্লাহ এই অধ্যায়ের শেষে উল্লেখ করব। কেননা এই গ্রন্থে আমাদের আলোচনা কেবল আমাদের মিল্লাতের (ধর্মাদর্শের) অন্তর্ভুক্ত লোকদের সাথেই। আর যদি আমাদের সাথে আলোচনাকারী ব্যক্তি অমুসলিম হয়, তবে আমরা এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের ‘আল-ফাসল’ এবং ‘আত-তাক্বরীব’ নামক কিতাবে প্রদান করেছি। সেখানে আমরা এই সংশয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছি এবং আল্লাহর সাহায্যে এর ভুল স্পষ্ট করেছি। আমাদের বর্তমান এই কিতাবটি তাদের সাথে তর্কের স্থান নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال أبو محمد ويقال لمن قال بإلهام ما الفرق بينك وبين من ادعى أنه ألهم بطلان قولك فلا سبيل له إلى الانفصال عنه والفرق بين هذه الدعوى ودعوى من
ادعى أنه يدرك بعقله خلاف ما يدركه ببديهة العقل وبين ما لا يدركه بأوائل العقل أن كل من في المشرق والمغرب إذا سئل عما ذكرناه أننا عرفناه بأوائل العقل أخبر بمثل ما نخبر سواء وأن المدعين للإلهام ولإدراك ما يدركه غيرهم بأوله عقله لا يتفق اثنان منهم على ما يدعيه كل واحد منهم
إلهاما أو إدراكا فصح بلا شك أنهم كذبة وأن الذي بهم وسواس وأيضا فإن الإلهام دعوى مجردة من الدليل ولو أعطي كل امرىء بدعواه المعراة لما ثبت حق ولا بطل باطل ولا استقر ملك أحد على مال ولا انتصف من ظالم ولا صحت ديانة أحد أبدا لأنه لا يعجز أحد عن أن يقول ألهمت أن دم فلان حلال وأن ماله مباح لي أخذه وأن زوجه مباح لي وطؤها وهذا لا ينفك منه وقد يقع في النفس وساوس كثيرة لا يجوز أن تكون حقا وأشياء متضادة يكذب بعضها بعضا فلا بد من حاكم يميز الحق منها من الباطل وليس ذلك إلا العقل الذي لا تتعارض دلائله وقد بينا ذلك في كتاب التقريب وقال أبو محمد ويقال لمن قال بالإمام بأي شيء عرفت صحة قول الإمام أببرهان أم بمعجزة أم بإلهام أم بقوله مجردا فإن قال ببرهان كلف بأن يأتي به ولا سبيل له إليه وإن قال بمعجزة ادعى البهتان لاسيما الآن وهم يقرون أنه قد خفي عنهم موضعه منذ مائة وسبعين عاما وإن قالوا بالإلهام سئلوا بما ذكرنا في إبطال الإلهام وإن قالوا بقوله مجردا سئلوا عن الفرق بين قوله وقول خصومهم في إبطال مذاهبهم دون دليل ولا سبيل إلى وجه خامس أصلا قال أبو محمد ويقال لمن قال بالتقليد ما الفرق بينك وبين من قلد غير
আবু মুহাম্মদ বলেন এবং ইলহামের (আধ্যাত্মিক প্রেরণা) প্রবক্তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়: আপনার এবং সেই ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য কী, যে দাবি করে যে তাকে আপনার উক্তির অসারতার ব্যাপারে ইলহাম করা হয়েছে? তার পক্ষে এই যুক্তি খণ্ডন করার কোনো উপায় নেই। এই দাবি এবং এমন ব্যক্তির দাবির মধ্যে পার্থক্য—যে ব্যক্তি তার বুদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ বিচারবুদ্ধির স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের বিপরীত কিছু অনুধাবন করার দাবি করে অথবা এমন কিছু দাবি করে যা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাথমিক মূলনীতিসমূহের দ্বারা বোঝা যায় না—তা হলো এই যে, পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সকল মানুষকে যদি সেই সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাথমিক জ্ঞানের মাধ্যমে জেনেছি, তবে তারা সবাই হুবহু একই উত্তর দেবে। পক্ষান্তরে ইলহামের দাবিদারগণ এবং যারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাথমিক জ্ঞানের বাইরে কিছু উপলব্ধি করার দাবি করে, তাদের মধ্য থেকে কোনো দুইজন ব্যক্তিও তাদের দাবিকৃত ইলহাম বা উপলব্ধির বিষয়ে একমত হতে পারে না।
সুতরাং নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হলো যে তারা মিথ্যাবাদী এবং তাদের বিষয়টি কেবলই কুমন্ত্রণা বা মানসিক বিভ্রম। এছাড়া ইলহাম হলো প্রমাণহীন একটি নিছক দাবি। যদি প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার প্রমাণহীন দাবির ভিত্তিতে অধিকার দেওয়া হতো, তবে কোনো সত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হতো না এবং কোনো মিথ্যাও বাতিল হতো না; কারো সম্পদের মালিকানা স্থিতিশীল হতো না, কোনো জালিমের বিচার হতো না এবং কারো ধর্মবিশ্বাসও কখনো সঠিকভাবে প্রমাণিত হতো না। কারণ যে কেউ এ কথা বলতে সমর্থ যে, আমাকে ইলহাম করা হয়েছে যে অমুকের রক্ত হালাল, তার সম্পদ আমার জন্য গ্রহণ করা বৈধ এবং তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করা আমার জন্য জায়েজ। এটি এমন এক বিষয় যা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া অসম্ভব। মানুষের মনে অনেক সময় এমন অনেক কুমন্ত্রণার উদয় হয় যা সত্য হওয়া অসম্ভব, এবং এমন অনেক পরস্পরবিরোধী বিষয়ের অবতারণা হয় যেখানে একটি অন্যটিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। তাই এমন একজন বিচারক থাকা আবশ্যক যিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দেবেন; আর সেটি হলো কেবল বুদ্ধি (আকল), যার প্রমাণসমূহের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। আমরা আমাদের 'কিতাবুত তাকরিব' নামক গ্রন্থে এ বিষয়টি সবিস্তারে বর্ণনা করেছি।
আবু মুহাম্মদ বলেন, যারা ইমামের (নিষ্পাপ ইমামত) তত্ত্বে বিশ্বাসী তাদের বলা হয়: আপনি ইমামের বক্তব্যের সত্যতা কীসের ভিত্তিতে জেনেছেন? প্রমাণের মাধ্যমে, নাকি মুজিজার মাধ্যমে, নাকি ইলহামের মাধ্যমে, নাকি কেবল তার উক্তির মাধ্যমে? যদি সে বলে প্রমাণের মাধ্যমে, তবে তাকে তা উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হবে, অথচ তার কাছে এর কোনো পথ নেই। আর যদি সে মুজিজার কথা বলে, তবে সে মিথ্যার আশ্রয় নিল, বিশেষ করে বর্তমান যুগে যখন তারা নিজেরাই স্বীকার করে যে, একশ সত্তর বছর ধরে ইমামের অবস্থান তাদের কাছে গোপন রয়েছে। যদি তারা ইলহামের কথা বলে, তবে তাদের প্রতি সেই একই প্রশ্ন রাখা হবে যা আমরা ইলহাম বাতিলের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। আর যদি তারা কেবল ইমামের উক্তির কথাই বলে, তবে তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে যে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের মতবাদ খণ্ডনকারী বিরোধীদের উক্তি এবং তাদের ইমামের উক্তির মধ্যে পার্থক্য কী? এক্ষেত্রে পঞ্চম কোনো বিকল্পের অস্তিত্ব একেবারেই নেই। আবু মুহাম্মদ বলেন, যারা তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণের প্রবক্তা তাদের বলা হয়: আপনার এবং সেই ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য কী, যে অন্য কারো অনুকরণ করে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الذي قلدت أنت بل كفر من قلدته أنت أو جهله فإن أخذ يستدل في فضل من قلده كان قد ترك التقليد وسلك في طريق الاستدلال من غير التقليد وقد أفردنا في إبطال التقليد بابا ضخما قرب آخر كتابنا هذا استوعبنا فيه إبطاله وبالله التوفيق قال أبو محمد علي ويقال لمن قال لا يدرك شيء إلا من طريق الخبر أخبرنا الخبر كله حق أم كله باطل أم منه حق وباطل
فإن قال هو باطل كله كان قد أبطل ما ذكر أنه لا يعلم شيء إلا به وفي هذا إبطال قوله وإبطال جميع العلم وإن قال حق كله عورض بأخبار مبطلة لمذهبه فلزمه ترك مذهبه لذلك أو اعتقاد الشيء وضده في وقت واحد وذلك ما لا سبيل إليه وكل مذهب أدى إلى المحال وإلى الباطل فهو باطل ضرورة فلم يبق إلا أن من الخبر
حقا وباطلا فإذا كان كذلك بطل أن يعلم صحة الخبر بنفسه إذ لا فرق بين صورة الحق منه وصورة الباطل فلا بد من دليل يفرق بينهما وليس ذلك إلا لحجة العقل المفرقة بين الحق والباطل قال أبو محمد علي ثم يقال لجميعهم بأي شيء عرفتم صحة ما تدعون إليه وصحة التوحيد والنبوة ودينك الذي أنت عليه أبعقل ذلك على صحة كل ذلك أم بغير عقل وبأي شيء عرفت فضل من قلدت أو صحة ما ادعيت أنك ألهمته بعد أن لم تكن ملهما إليه ولا مقلدا له برهة من دهرك وبأي شيء عرفت صحة ما بلغك من الأخبار بعد أن لم تكن بلغتك وهل لك من عقل أم لا عقل لك فإن قال عرفت كل ذلك بلا عقل ولا عقل لي فقد كفينا مؤنته وبلغنا في نفسه أكثر مما رغبنا منه فإننا إنما رغبنا منه الاعتراف بالخطأ فقد زادنا في نفسه منزلة لم نرغبها منه وسقط الكلام معه ولزمنا السكوت عنه وإلا كنا في نصاب من يكلم السكارى الطافحين والمجانين المتعرين على الطرق فإن قال لي عقل وبعقلي عرفت ما عرفت فقد أثبت العقل وترك
যাকে আপনি তকলীদ করেছেন, বরং যাকে আপনি তকলীদ করেছেন সে কুফরী করেছে অথবা এ বিষয়ে মূর্খ ছিল। অতঃপর সে যদি তার মুকাল্লিদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বপক্ষে দলীল পেশ করতে শুরু করে, তবে সে তকলীদ পরিত্যাগ করল এবং তকলীদ ব্যতিরেকে দলীল অন্বেষণের পথে চলল। আমরা তকলীদ বাতিলের বিষয়ে আমাদের এই কিতাবের শেষের দিকে একটি বিশাল পরিচ্ছেদ উৎসর্গ করেছি, যেখানে আমরা এটি বাতিলের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি, আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক প্রার্থনা করি। আবু মুহাম্মদ আলী বলেন: আর যে ব্যক্তি বলে যে, 'খবর' (সংবাদ) ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে কোনো কিছু অনুধাবন করা যায় না, তাকে বলা হবে—আমাদের জানান, এই খবরের পুরোটাই কি সত্য, নাকি পুরোটাই মিথ্যা, নাকি তার কিছু সত্য এবং কিছু মিথ্যা?
সে যদি বলে যে তা পুরোটাই মিথ্যা, তবে সে যা উল্লেখ করেছিল যে তা (খবর) ব্যতীত কিছুই জানা যায় না, সেটিকে সে বাতিল করে দিল। আর এতে তার বক্তব্য এবং সমস্ত জ্ঞানই বাতিল হয়ে যায়। আর সে যদি বলে যে তা পুরোটাই সত্য, তবে তার মতবাদের বিরোধী সংবাদসমূহ দ্বারা তাকে খণ্ডন করা হবে। তখন তার জন্য হয় নিজের মতবাদ পরিত্যাগ করা আবশ্যক হবে, অন্যথায় একই সময়ে একটি বিষয় এবং তার বিপরীত বিষয় উভয়টিকেই বিশ্বাস করা আবশ্যক হবে—যার কোনো অবকাশ নেই। আর যে মতবাদই অসম্ভব এবং বাতিলের দিকে নিয়ে যায়, তা অনিবার্যভাবে বাতিল। সুতরাং খবর যে
সত্য ও মিথ্যা (উভয়ই হতে পারে), এ ছাড়া আর কোনো পথ অবশিষ্ট রইল না। বিষয়টি যখন এরূপই, তখন খবরের মাধ্যমে স্বয়ং খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া বাতিল হয়ে গেল, যেহেতু এর সত্য রূপ এবং মিথ্যা রূপের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং অবশ্যই এমন একটি দলীলের প্রয়োজন যা উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করবে; আর তা বিবেকের যুক্তি ব্যতীত আর কিছুই নয় যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে। আবু মুহাম্মদ আলী বলেন: অতঃপর তাদের সকলকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা যে জিনিসের দিকে আহ্বান করছ তার সত্যতা এবং তাওহীদ, নবুওয়াত ও তোমরা যে দ্বীনের ওপর আছ তার সত্যতা তোমরা কীসের মাধ্যমে জেনেছ? এই সমস্ত কিছুর সত্যতা কি বুদ্ধির মাধ্যমে জেনেছ নাকি বুদ্ধি ছাড়া? আর তুমি যাকে তকলীদ করেছ তার শ্রেষ্ঠত্ব অথবা তুমি যা ইলহাম হিসেবে দাবি করছ তার সত্যতা তুমি কীসের মাধ্যমে জানলে, অথচ জীবনের একটি দীর্ঘ সময় তুমি না ছিলে ইলহামপ্রাপ্ত আর না ছিলে তার মুকাল্লিদ? আর যে সংবাদগুলো তোমার কাছে পৌঁছেছে, তা পৌঁছানোর পূর্বে সেগুলোর সত্যতা তুমি কীভাবে জানলে? তোমার কি বুদ্ধি আছে নাকি বুদ্ধি নেই? সে যদি বলে আমি এসব কিছু বুদ্ধি ছাড়াই জেনেছি এবং আমার কোনো বুদ্ধি নেই, তবে সে নিজেই আমাদের কাজ সহজ করে দিল এবং তার নিজের সম্পর্কে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি কিছু প্রকাশ করল। কারণ আমরা তো কেবল তার ভুল স্বীকার চেয়েছিলাম, কিন্তু সে আমাদের কাছে তার নিজের সম্পর্কে এমন এক অবস্থান ব্যক্ত করল যা আমরা চাইনি। এমতাবস্থায় তার সাথে কথা বলা অর্থহীন এবং আমাদের জন্য চুপ থাকাই সংগত; অন্যথায় আমরা অতি মাত্রায় মাতাল এবং পথে পড়ে থাকা উলঙ্গ পাগলদের সাথে কথা বলা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হব। আর সে যদি বলে যে আমার বুদ্ধি আছে এবং আমি আমার বুদ্ধির মাধ্যমেই যা জানার তা জেনেছি, তবে সে বুদ্ধিকে সাব্যস্ত করল এবং পূর্বের অবস্থান বর্জন করল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مذهبه الفاسد ضرورة قال أبو محمد واحتجوا في إبطال الجدال والمناظرة بآيات ذكروها وهي قوله تعالى {فلذلك فدع وستقم كمآ أمرت ولا تتبع أهوآءهم وقل آمنت بمآ أنزل لله من كتاب وأمرت لأعدل بينكم لله ربنا وربكم لنآ أعمالنا ولكم أعمالكم لا حجة بيننا وبينكم لله يجمع بيننا وإليه لمصير * ولذين يحآجون في لله من بعد ما ستجيب له حجتهم داحضة عند ربهم وعليهم غضب ولهم عذاب شديد} قال أبو محمد وهذه الآية مبينة وجه الجدال المذموم وهو قوله تعالى فيمن يحاج بعد ظهور الحق وهذه صفة المعاند للحق الآبي من قبول الحجة بعد ظهورها وهذا مذموم عند كل ذي عقل ومنها قوله تعالى {وقالوا أآلهتنا خير أم هو ما ضربوه لك إلا جدلا بل هم قوم خصمون}
قال أبو محمد وإنما ذم تعالى في هذه الآية من خاصم وجادل في الباطل وعارض الآلهة التي كانوا يعبدون من حجارة لا تعقل بعيسى النبي العبد المؤيد بالمعجزات من إحياء الموتى وغير ذلك ومنها قوله تعالى {ويعلم لذين يجادلون في آياتنا ما لهم من محيص} ومنها قوله تعالى {فإن حآجوك فقل أسلمت وجهي لله ومن تبعن وقل للذين أوتوا لكتاب ولأميين أأسلمتم فإن أسلموا فقد هتدوا وإن تولوا فإنما عليك لبلاغ ولله بصير بلعباد} قال أبو محمد قال تعالى {يريد لله أن يخفف عنكم وخلق لإنسان ضعيفا} فصح بهذه الآية أن كلام الله تعالى لا يتعارض ولا يختلف فوجدناه تعالى أثنى على الجدال بالحق وأمر به فعلمنا يقينا أن الذي أمر به تعالى هو غير الذي نهى عنه بلا شك فنظرنا في ذلك لنعلم وجه الجدال المنهي عنه المذموم ووجه الجدال المأمور به المحمود لأنا قد وجدناه تعالى قد قال {ومن أحسن قولا ممن دعآ إلى لله وعمل صالحا وقال إنني من لمسلمين} ووجدناه تعالى قد قال {دع إلى سبيل ربك بلحكمة ولموعظة لحسنة وجادلهم بلتي هي أحسن إن ربك هو أعلم بمن ضل عن سبيله وهو أعلم بلمهتدين} فكان تعالى قد أوجب الجدال في هذه الآية وعلم فيها تعالى جميع آداب الجدال
তার ভ্রষ্ট মতবাদ স্পষ্ট। আবু মুহাম্মাদ বলেন, তারা বিতর্ক ও মুনাজারা বাতিল করার সপক্ষে এমন কিছু আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছে যা তারা উল্লেখ করেছে, আর তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {কাজেই আপনি সেই দিকেই দাওয়াত দিন এবং যেভাবে আদিষ্ট হয়েছেন সেভাবে অবিচল থাকুন, তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না এবং বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাজিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে। আল্লাহ আমাদের রব এবং তোমাদেরও রব। আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে। * যারা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে বিতর্ক করে তা গৃহীত হওয়ার পর, তাদের দলিল তাদের রবের নিকট অসার এবং তাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ ও তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।} আবু মুহাম্মাদ বলেন, এই আয়াতটি নিন্দনীয় বিতর্কের ধরন স্পষ্ট করে দিচ্ছে, যা হলো সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর আল্লাহ তাআলার বাণী অনুযায়ী বিতর্ক করা। আর এটি হলো সত্যের বিরুদ্ধাচরণকারীর বৈশিষ্ট্য, যে প্রমাণ প্রকাশিত হওয়ার পর তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। আর এটি প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট নিন্দনীয়। তার মধ্যে আরও রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তারা বলে, আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ নাকি সে? তারা কেবল বিতর্কের খাতিরেই আপনার সামনে এটি উপস্থাপন করেছে; বরং তারা তো এক ঝগড়াটে সম্প্রদায়।}
আবু মুহাম্মাদ বলেন, আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে কেবল তাকেই নিন্দা করেছেন যে মিথ্যার সপক্ষে ঝগড়া ও বিতর্ক করে এবং তারা যে নির্জীব পাথরের মূর্তিপূজা করত সেগুলোর সাথে আল্লাহর বান্দা ও নবী ঈসা (আ.)-এর তুলনা করে বিরোধিতা করে, যিনি মৃতকে জীবিত করা ও অন্যান্য মুজেযা দ্বারা সমর্থিত ছিলেন। তার মধ্যে আরও রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাতে আমাদের নিদর্শন নিয়ে যারা বিতর্ক করে তারা জানতে পারে যে, তাদের কোনো নিষ্কৃতি নেই।} এবং আরও রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর যদি তারা আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তবে আপনি বলুন, আমি আমার সত্তাকে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও। আর আপনি কিতাবধারী ও নিরক্ষরদের বলুন, তোমরা কি ইসলাম কবুল করেছ? যদি তারা ইসলাম কবুল করে তবে তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে, আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনার দায়িত্ব তো কেবল পৌঁছে দেয়া। আর আল্লাহ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।} আবু মুহাম্মাদ বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের ভার লঘু করতে চান, আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বল হিসেবে।} এই আয়াতের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলার বাণীতে কোনো বিরোধ বা বৈপরীত্য নেই। সুতরাং আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ তাআলা সত্যের ভিত্তিতে বিতর্কের প্রশংসা করেছেন এবং তার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারলাম যে, আল্লাহ তাআলা যে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে সেই বিষয় থেকে ভিন্ন যা তিনি নিষেধ করেছেন। অতএব আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করলাম যাতে নিন্দনীয় ও নিষিদ্ধ বিতর্কের ধরন এবং প্রশংসনীয় ও আদিষ্ট বিতর্কের ধরন সম্পর্কে জানতে পারি। কেননা আমরা দেখতে পাই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, নেক আমল করে এবং বলে যে আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।} এবং আমরা দেখতে পাই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান জানান এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়। নিশ্চয় আপনার রব সবচেয়ে ভালো জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক অবগত।} সুতরাং আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বিতর্ক করাকে আবশ্যক করেছেন এবং এতে বিতর্কের সকল শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ২০)
كلها من الرفق والبيان والتزام الحق والرجوع إلى ما أوجبته الحجة القاطعة وقال تعالى {قل فأتوا بكتاب من عند لله هو أهدى منهمآ أتبعه إن كنتم صادقين * فإن لم يستجيبوا لك فعلم أنما يتبعون أهوآءهم ومن أضل ممن تبع هواه بغير هدى من لله إن لله لا يهدي لقوم لظالمين} ولم يأمر الله عز وجل رسوله صلى الله عليه وسلم أن يقول هذا شكا في صدق ما يدعو إليه ولكن قطعا لحجتهم وحسما لدعواهم وإلزاما لهم مثل ما التزم لهم من رجوعه إلى الأهدى واتباعه الأمر الأصوب وإعلاما لنا أن من لم يأت بحجة على قوله يصير بها أهدى من قول
خصمه ويبين أن الذي يأتي به هو من عند الله عز وجل فليس صادقا وإنما هو متبع لهواه وقال تعالى {قالوا تخذ لله ولدا سبحانه هو لغني له ما في لسماوات وما في لأرض إن عندكم من سلطان بهذآ أتقولون على لله ما لا تعلمون * قل إن لذين يفترون على لله لكذب لا يفلحون} قال أبو محمد ففي هذه الآية بيان أنه لا يقبل قول أحد إلا بحجة والسلطان ههنا بلا اختلاف من أهل العلم واللغة هو الحجة وإن من لم يأت على قوله بحجة فهو مبطل بنص حكم الله عز وجل وأنه مفتر على الله تعالى وكاذب عليه عز وجل بنص الآية لا تأويل ولا تبديل وأنه لا يفلح إذا قال قولة لا يقيم على صحتها حجة قاطعة ووجدناه تعالى قد علمنا في هذه الآيات وجوه الإنصاف الذي هو غاية العدل في المناظرة وهو أنه من أتى ببرهان ظاهر وجب الانصراف إلى قوله وهكذا نقول نحن اتباعا لربنا عز وجل بعد صحة مذاهبنا لا شكا فيها ولا خوفا منه أن يأتينا أحد بما يفسدها ولكن ثقة منا بأنه لا يأتي أحد بما يعارضها به أبدا لأننا ولله الحمد أهل التخليص والبحث وقطع العمر في طلب تصحيح الحجة واعتقاد الأدلة قبل اعتقاد مدلولاتها حتى وفقنا ولله تعالى الحمد على ما ثلج اليقين وتركنا أهل الجهل والتقليد في ريبهم يترددون وكذلك نقول فيما لم يصح عندنا حتى الآن
এর সবগুলোই নম্রতা, স্পষ্ট বর্ণনা, সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং অকাট্য দলিলের অপরিহার্য দাবির দিকে ফিরে আসার অন্তর্ভুক্ত। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তবে তোমরা আল্লাহর নিকট থেকে এমন একটি কিতাব নিয়ে এসো যা এই দুটির চেয়ে অধিক সঠিক পথপ্রদর্শক হবে, আমি সেটির অনুসরণ করব যদি তোমরা সত্যবাদী হও। অতঃপর তারা যদি আপনার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখুন যে, তারা কেবল তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করছে। আল্লাহর হেদায়েত ছাড়া যে ব্যক্তি নিজ খেয়ালখুশির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।} মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলার নির্দেশ দেননি তাঁর দাওয়াতের সত্যতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহের কারণে, বরং তাদের যুক্তি খণ্ডন করার জন্য, তাদের দাবি নস্যাৎ করার জন্য এবং তাদের ওপর সত্যকে আবশ্যিক করার জন্য; যেমনটি তিনি তাদের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন যে তিনি অধিকতর সঠিক পথের দিকে ফিরে যাবেন এবং সর্বোত্তম বিষয়টি অনুসরণ করবেন। এছাড়া এটি আমাদের জানানোর জন্য যে, যে ব্যক্তি তার বক্তব্যের স্বপক্ষে এমন কোনো দলিল পেশ করতে পারে না যার মাধ্যমে তা তার বক্তব্যের চেয়ে অধিক সঠিক বলে প্রমাণিত হয়
প্রতিপক্ষের বক্তব্যের চেয়ে এবং এটি স্পষ্ট করে যে সে যা নিয়ে এসেছে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, তবে সে সত্যবাদী নয় বরং সে কেবল স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসারী। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তারা বলে যে আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র! তিনি অভাবমুক্ত! আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। তোমাদের কাছে এ ব্যাপারে কোনো প্রমাণ নেই। তোমরা কি আল্লাহর নামে এমন কথা বলছ যা তোমরা জানো না? বলুন, নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রটনা করে তারা সফল হবে না।} আবু মুহাম্মদ বলেন: এই আয়াতে এ কথার বর্ণনা রয়েছে যে, দলিল ব্যতীত কারো কথা গ্রহণ করা হবে না। আর এখানে 'সুলতান' অর্থ জ্ঞান ও ভাষার পণ্ডিতদের ঐকমত্যে 'দলিল'। যে ব্যক্তি তার দাবির স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপন করতে পারে না, সে মহান আল্লাহর অকাট্য বিধান অনুযায়ী বাতিলপন্থী। আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী সে মহান আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপকারী ও মিথ্যাবাদী—এতে কোনো রূপক ব্যাখ্যা বা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। সে কখনোই সফল হবে না যদি সে এমন কথা বলে যার সত্যতার পক্ষে কোনো অকাট্য দলিল সে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, মহান আল্লাহ এই আয়াতসমূহে আমাদের ইনসাফ বা নিরপেক্ষতার পথসমূহ শিক্ষা দিয়েছেন, যা বিতর্কের ক্ষেত্রে চরম ন্যায়বিচার। আর তা হলো, যদি কেউ কোনো প্রকাশ্য দলিল নিয়ে আসে তবে তার বক্তব্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব। আমাদের মাযহাবের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আমরা আমাদের রবের অনুসরণে এভাবেই বলি; এতে কোনো সংশয় নেই এবং এমন কোনো ভয়ও নেই যে কেউ এমন কিছু নিয়ে আসবে যা একে বাতিল করে দেবে। বরং আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে যে, কেউ কখনোই এমন কিছু নিয়ে আসতে পারবে না যা এর বিরোধিতা করতে পারে। কারণ, আল্লাহর শুকরিয়া যে আমরা বিশ্লেষণ ও গবেষণার অধিকারী এবং দলিল বিশুদ্ধ করার অন্বেষণে ও বিষয়বস্তুর বিশ্বাস স্থাপনের পূর্বে দলিলের বিশুদ্ধতা নিরূপণে জীবন অতিবাহিত করেছি, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা সেই স্তরে পৌঁছেছি যেখানে নিশ্চিত বিশ্বাসে অন্তর প্রশান্ত হয়। আর আমরা মূর্খ ও অন্ধ অনুসারীদের তাদের সন্দেহের মধ্যে দোদুল্যমান অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছি। যেসব বিষয় আমাদের নিকট এখনো প্রমাণিত হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা একই কথা বলি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ২১)
فنقول مجدين مقرين إن وجدنا ما هو أهدى منه اتبعناه وتركنا ما نحن عليه وإنما هذا في مسائل تعارضت فيها الأحاديث والآي في ظاهر اللفظ ولم يقم لنا بيان الناسخ من المنسوخ فيها فقط أو في مسائل وردت فيها أحاديث لم تثبت عندنا ولعلها ثابتة في نقلها فإن بلغنا ثباتها صرنا إلى القول بها إلا أن هذا في أقوالنا قليل جدا والحمد لله رب العالمين وأما سائر مذاهبنا فنحن منها على غاية اليقين وقال تعالى {ولا تجادلوا أهل لكتاب إلا بلتي هي أحسن إلا لذين ظلموا منهم وقولوا آمنا بلذي أنزل إلينا وأنزل إليكم وإلهنا وإلهكم واحد ونحن له مسلمون} فأمر عز وجل
كما ترى بإيجاب المناظرة في رفق وبالإنصاف في الجدال وترك التعسف والبذاء والاستطالة إلا على من بدأ بشيء من ذلك فيعارض حينئذ بما ينبغي وقال تعالى {يمعشر لجن ولإنس إن ستطعتم أن تنفذوا من أقطار لسماوات ولأرض فنفذوا لا تنفذون إلا بسلطان} والسلطان الحجة كما ذكرنا وقال تعالى {وذر الذين تخذوا دينهم لعبا ولهوا وغرتهم لحياة لدنيا وذكر به أن تبسل نفس بما كسبت ليس لها من دون لله ولي ولا شفيع وإن تعدل كل عدل لا يؤخذ منهآ أولئك لذين أبسلوا بما كسبوا لهم شراب من حميم وعذاب أليم بما كانوا يكفرون} فذكر عز وجل تقدير إبراهيم عليه السلام قومه على نقله الكواكب والشمس والقمر التي كانوا يعبدون من دون الله وأن ذلك لدليل على خلقها وبرهان على حدوثها فقال عز وجل {وتلك حجتنآ آتيناهآ إبراهيم على قومه نرفع درجات من نشآء إن ربك حكيم عليم} وقد أمرنا تعالى في نص القرآن باتباع ملة إبراهيم عليه السلام وخبرنا تعالى أن من ملة إبراهيم المحاجة والمناظرة فمرة للملك ومرة لقومه والاستدلال كما أخبرنا تعالى عنه ففرض علينا اتباع المناظرة لنصرف أهل الباطل إلى الحق وأن نطلب الصواب بالاستدلال فيما اختلف فيه المختلفون قال الله عز وجل {إن أولى لناس بإبراهيم للذين تبعوه وهذا لنبي ولذين آمنوا ولله ولي لمؤمنين} فنحن المتبعون لإبراهيم عليه السلام في المحاجة والمناظرة فنحن أولى الناس به وسائر الناس مأمورون بذلك قال الله تعالى {قل صدق لله فتبعوا ملة إبراهيم حنيفا وما كان من لمشركين} ومن ملته المناظرة كما ذكرنا فمن نهى عن المناظرة والحجة فليعلم أنه عاص لله عز وجل ومخالف لملة إبراهيم ومحمد صلى الله عليهما قال الله عز وجل وقد
অতএব আমরা নিষ্ঠার সাথে এবং স্বীকারোক্তি দিয়ে বলছি যে, যদি আমরা এর চেয়ে অধিকতর সঠিক কোনো দিশা খুঁজে পাই, তবে আমরা সেটিই অনুসরণ করব এবং বর্তমানে আমরা যা আঁকড়ে আছি তা বর্জন করব। তবে এটি কেবল সেই সব মাসআলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যেগুলোতে বাহ্যিক শব্দের দিক থেকে হাদীস ও আয়াতের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয় এবং আমাদের নিকট সেগুলোর মধ্যে কেবল নাসেখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) এর বিষয়টি স্পষ্ট হয় না, অথবা এমন সব মাসআলার ক্ষেত্রে যেগুলোর ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলো আমাদের নিকট সাব্যস্ত হয়নি অথচ হতে পারে বর্ণনার দিক থেকে সেগুলো সাব্যস্ত। সুতরাং যদি সেগুলোর সাব্যস্ত হওয়ার সংবাদ আমাদের নিকট পৌঁছে, তবে আমরা সেই মতটিই গ্রহণ করব। অবশ্য আমাদের বক্তব্যের মধ্যে এমন বিষয় খুবই নগণ্য। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আমাদের অন্যান্য মাযহাব বা মতাদর্শের ব্যাপারে আমরা চূড়ান্ত নিশ্চিত বিশ্বাসে রয়েছি। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা কিতাবধারীদের সাথে উত্তম পন্থা ছাড়া বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা সীমালঙ্ঘন করেছে তাদের কথা ভিন্ন। আর তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি আমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার ওপর এবং তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার ওপর; আমাদের উপাস্য ও তোমাদের উপাস্য তো এক এবং আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত।" সুতরাং যেমনটি আপনি দেখছেন, মহান আল্লাহ কোমলতা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিতর্ক করা ওয়াজিব করেছেন এবং কঠোরতা, অশ্লীলতা ও দাম্ভিকতা পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছেন; তবে যে ব্যক্তি নিজে এমন আচরণ শুরু করে, তখন তার সাথে যথাযথভাবে মোকাবিলা করা উচিত। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "হে জিন ও মানবকুল! যদি তোমরা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সীমানা অতিক্রম করতে পারো তবে করো, কিন্তু তোমরা কোনো প্রমাণ (সুলতান) ছাড়া তা অতিক্রম করতে পারবে না।" আর এখানে 'সুলতান' অর্থ হলো দলিল বা প্রমাণ, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "আর তাদের বর্জন করো যারা নিজেদের দীনকে খেলাধুলা ও তামাশার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং যাদেরকে পার্থিব জীবন ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে। আর এর মাধ্যমে নসিহত করো যাতে কোনো ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য ধ্বংস হয়ে না যায়, যখন আল্লাহ ছাড়া তার কোনো অভিভাবক বা সুপারিশকারী থাকবে না। আর যদি সে সবকিছুর বিনিময়ে মুক্তিপণ দিতে চায় তবে তা কবুল করা হবে না। এরাই তারা যারা তাদের কৃতকর্মের কারণে ধ্বংস হয়েছে, তাদের কুফরির কারণে তাদের জন্য রয়েছে ফুটন্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।" মহান আল্লাহ এখানে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের তাঁর সম্প্রদায়কে নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রের পরিবর্তনের মাধ্যমে যুক্তিনির্ভর করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন যা তারা আল্লাহকে ছেড়ে ইবাদত করত; আর তা ছিল এগুলোর সৃষ্টি হওয়া এবং নতুনভাবে অস্তিত্ব লাভ করার একটি দলিল ও প্রমাণ। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর এটিই আমার সেই দলিল যা আমি ইবরাহীমকে তাঁর সম্প্রদায়ের বিপক্ষে প্রদান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি; নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ।" আর আল্লাহ তাআলা কুরআনের পাঠের মাধ্যমে আমাদের ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আদর্শ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবরাহীমের আদর্শের অংশ হলো যুক্তি প্রদান ও বিতর্ক করা—কখনও রাজার সাথে আবার কখনও তাঁর সম্প্রদায়ের সাথে—এবং দলিল পেশ করা যেমনটি আল্লাহ আমাদের তাঁর সম্পর্কে জানিয়েছেন। সুতরাং আমাদের ওপর বিতর্কের পথ অনুসরণ করা ফরজ করা হয়েছে যাতে আমরা বাতিলপন্থীদের হকের দিকে ফিরিয়ে আনতে পারি এবং মতপার্থক্যকারীদের মতভেদের মাঝে দলিলের মাধ্যমে সঠিক বিষয়টি তালাশ করতে পারি। মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে যারা ইবরাহীমের অনুসারী ছিল তারা এবং এই নবী ও যারা ঈমান এনেছে তারা ইবরাহীমের নিকটতম; আর আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক।" সুতরাং যুক্তি প্রদান ও বিতর্কের ক্ষেত্রে আমরাই ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অনুসারী, তাই আমরাই তাঁর নিকটতম লোক। আর অন্য সকল মানুষকেই এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলো, আল্লাহ সত্য বলেছেন, সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের আদর্শের অনুসরণ করো এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।" আর তাঁর আদর্শের অন্তর্ভুক্ত হলো বিতর্ক করা যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। অতএব, যে ব্যক্তি বিতর্ক ও দলিল প্রদান থেকে নিষেধ করে, সে যেন জেনে রাখে যে সে মহান আল্লাহর অবাধ্য এবং ইবরাহীম ও মুহাম্মদ (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) এর আদর্শের বিরোধী। মহান আল্লাহ বলেছেন এবং নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ২২)
أثنى على أصحاب الكهف {نحن نقص عليك نبأهم بلحق إنهم فتية آمنوا بربهم وزدناهم هدى} فأثنى الله عز وجل عليهم في إنكارهم قول قومهم إذ لم يقم قومهم على قولهم حجة بينة وصدقهم تعالى في قولهم أن من ادعى
قولا بلا دليل فهو مفتر على الله عز وجل الكذب
وقال تعالى {ومن أظلم ممن ذكر بآيات ربه ثم أعرض عنهآ إنا من لمجرمين منتقمون} فلا أظلم ممن قامت عليه الحجة من كتاب الله تعالى ومن كلام نبيه صلى الله عليه وسلم فأعرض عنه وهو الحجة القاطعة والبرهان الصادع وقال الله تعالى {لذين يأكلون لربا لا يقومون إلا كما يقوم لذي يتخبطه لشيطان من لمس ذلك بأنهم قالوا إنما لبيع مثل لربا وأحل لله لبيع وحرم لربا فمن جآءه موعظة من ربه فنتهى فله ما سلف وأمره إلى لله ومن عاد فأولئك أصحاب لنار هم فيها خالدون} وقال تعالى {بل تبع لذين ظلموا أهوآءهم بغير علم فمن يهدي من أضل لله وما لهم من ناصرين} فأخبر تعالى كما تسمع أن ما اتبع قولا وافقه بلا علم بصحته فهو ظالم وإن من لم يرجع إلى ما يسمع من الحق فهو من أهل النار وقال تعالى {فإن لم يستجيبوا لك فعلم أنما يتبعون أهوآءهم ومن أضل ممن تبع هواه بغير هدى من لله إن لله لا يهدي لقوم لظالمين} أنكر الله تعالى أن يكذب المرء بما لا يعلم فقال تعالى {بل كذبوا بما لم يحيطوا بعلمه ولما يأتهم تأويله كذلك كذب لذين من قبلهم فنظر كيف كان عاقبة لظالمين} فصح بكل ما ذكرنا الوقوف عما لا نعلم والرجوع إلى ما أوجبته الحجة بعد قيامها وقال تعالى {ومن أظلم ممن فترى على لله كذبا أو كذب بلحق لما جآءه أليس في جهنم مثوى للكافرين} قال أبو محمد في هذه الآية كفاية في إيجاب ألا يصدق أحد بما لم تقم عليه حجة وألا يأتي ما قامت عليه الحجة فمن أظلم ممن عرف ما ذكرنا وأخذ بوسواس يقوم في نفسه أو بخبر لم يقم على وجوب تصديقه برهان أو قلد إنسانا مثله لعله عند الله تعالى على خلاف ما يظن وعلى كل حال فهو معصوم لكن يخطىء ويصيب وقال تعالى {وقالوا لن يدخل لجنة إلا من كان هودا أو نصارى تلك أمانيهم قل هاتوا برهانكم إن كنتم
তিনি আসহাবে কাহাফের (গুহাবাসী) প্রশংসা করেছেন: {আমি আপনার কাছে তাদের সংবাদ সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই তারা ছিল এমন কিছু যুবক যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।} মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন তাদের সম্প্রদায়ের বক্তব্য অস্বীকার করার কারণে, যেহেতু তাদের সম্প্রদায় তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। আল্লাহ তাআলা তাদের এই বক্তব্যকে সত্যয়ন করেছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো দলিল ছাড়া কোনো দাবি করে, সে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপকারী।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তার চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে? নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।} সুতরাং আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী থেকে যার ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এরপরও সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তার চেয়ে বড় জালিম আর কেউ নেই; অথচ তা-ই হলো অকাট্য দলিল ও সুস্পষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যারা সুদ খায়, তারা (কিয়ামতের দিন) সে ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দেয়। এটা এ কারণে যে, তারা বলে, ‘কেনাবেচা তো সুদের মতোই।’ অথচ আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। সুতরাং যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই, আর তার বিষয়টি আল্লাহর ইখতিয়ারে। আর যারা পুনরায় তা করবে, তারা আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বরং জালিমরা কোনো জ্ঞান ছাড়াই তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে। সুতরাং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তাকে কে পথ দেখাবে? তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।} অতএব আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন—যেমনটি আপনি শুনছেন—যে ব্যক্তি সঠিকতা যাচাইয়ের জ্ঞান ছাড়াই নিজের পছন্দসই কোনো মতের অনুসরণ করে, সে জালিম। আর যে ব্যক্তি তার কাছে আসা সত্যের দিকে ফিরে আসে না, সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যদি তারা আপনার ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখুন যে তারা কেবল তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াত ছাড়া যে ব্যক্তি নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।} মানুষ না জেনে কোনো কিছুকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করাকে আল্লাহ তাআলা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: {বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা বলেছে যা তাদের জ্ঞানের আয়ত্তে নেই এবং যার ব্যাখ্যা এখনো তাদের কাছে আসেনি। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। সুতরাং দেখুন জালিমদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।} আমরা যা কিছু উল্লেখ করেছি তার মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হলো যে, যা আমাদের জানা নেই তা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই দলিলের দিকেই ফিরে যেতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তার চেয়ে বড় জালিম আর কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে অথবা সত্য যখন তার কাছে আসে তখন তাকে অস্বীকার করে? কাফিরদের আশ্রয়স্থল কি জাহান্নাম নয়?} আবু মুহাম্মদ এই আয়াত সম্পর্কে বলেন যে, এটি এই বিষয়ে ওয়াজিব বা আবশ্যক করার জন্য যথেষ্ট যে, যে বিষয়ে কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়নি তা কেউ সত্য বলে বিশ্বাস করবে না এবং যে বিষয়ে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত হবে না। সুতরাং তার চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে, যে আমাদের বর্ণিত বিষয়গুলো জানার পরও নিজের মনের কুমন্ত্রণা গ্রহণ করে, অথবা এমন কোনো সংবাদ গ্রহণ করে যার সত্যতা প্রমাণের স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই, অথবা নিজের মতো কোনো মানুষের তাকলীদ (অন্ধ অনুসরণ) করে যে হয়তো আল্লাহ তাআলার নিকট তার ধারণার বিপরীত এবং সে কোনোভাবেই অভ্রান্ত নয়, বরং সে ভুলও করে আবার সঠিকও হতে পারে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তারা বলে, ‘ইয়াহুদি অথবা খ্রিস্টান ছাড়া আর কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ এটা তাদের অলীক আকাঙ্ক্ষা। বলুন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো তবে তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো।’}
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
صادقين} فأوجب تعالى أن من كان صادقا في دعواه فعليه أن يأتي بالبرهان وإن لم يأت
بالبرهان فهو كاذب مبطل أو جاهل وقال تعالى {هأنتم هؤلاء حاججتم فيما لكم به علم فلم تحآجون فيما ليس لكم به علم ولله يعلم وأنتم لا تعلمون} فلم يوجب تعالى المحاجة إلا بعلم ومنع منها بغير علم
وقال تعالى {سيقولون ثلاثة رابعهم كلبهم ويقولون خمسة سادسهم كلبهم رجما بلغيب ويقولون سبعة وثامنهم كلبهم قل ربي أعلم بعدتهم ما يعلمهم إلا قليل فلا تمار فيهم إلا مرآء ظاهرا ولا تستفت فيهم منهم أحدا} قال أبو محمد فلما وجدنا الله تعالى قد أمر في الآيات التي ذكرنا بالحجاج والمناظرة ولم يوجب قبول شيء إلا ببرهان وجب علينا تطلب الحجاج المذموم على ما قدمناه فوجدناه قد قال {وما نرسل لمرسلين إلا مبشرين ومنذرين ويجادل لذين كفروا بلباطل ليدحضوا به لحق وتخذوا آياتي وما أنذروا هزوا} فذم تعالى كما ترى الجدال بغير حجة والجدال في الباطل وأبطل تعالى بذلك قول المجانين كل مفتون ملقن حجة وبين تعالى أن المفتون هو الذي لا يلقن حجة وأن المحق هو الملقن حجة على الحقيقة وهم أهل الحق وقال تعالى {لذين يجادلون في آيات لله بغير سلطان أتاهم كبر مقتا عند لله وعند لذين آمنوا كذلك يطبع لله على كل قلب متكبر جبار} فقد جمعت هذه الآيات بيان الجدال المذموم والجدال المحمود الواجب فالواجب هو الذي يجادل متوليه في إظهار الحق والمذموم وجهان بنص الآيات التي ذكرنا أحدهما من جادل بغير علم والثاني من جادل ناصرا للباطل بشغب وتمويه بعد ظهور الحق إليه وفي هذا بيان أن الحق في واحد وأنه لا شيء إلا ما قامت عليه حجة العقل وهؤلاء المذمومون هم الذين قال الله تعالى فيهم {ألم تر إلى لذين يجادلون في آيات لله أنى يصرفون} وقوله تعالى {ومن لناس من يجادل في لله بغير علم ويتبع كل شيطان مريد} وقوله تعالى {ومن لناس من يجادل في لله بغير علم ولا هدى ولا كتاب منير * ثاني عطفه ليضل عن سبيل لله له في لدنيا خزي ونذيقه يوم لقيامة عذاب لحريق} وبقوله
تعالى {ما يجادل في آيات لله إلا لذين كفروا فلا
সত্যবাদী হও} অতঃপর আল্লাহ তাআলা আবশ্যক করেছেন যে, যে ব্যক্তি তার দাবিতে সত্যবাদী, তাকে অবশ্যই প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। আর যদি সে প্রমাণ উপস্থাপন না করে
তবে সে মিথ্যাবাদী, বাতিলপন্থী অথবা অজ্ঞ। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {দেখো, তোমরাই তো তারা যারা সেসব বিষয়ে বিতর্ক করেছ যার জ্ঞান তোমাদের ছিল; কিন্তু কেন তোমরা সেসব বিষয়ে বিতর্ক করছ যার কোনো জ্ঞান তোমাদের নেই? আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না}। সুতরাং আল্লাহ তাআলা কেবল জ্ঞানের ভিত্তিতেই বিতর্কের আদেশ দিয়েছেন এবং জ্ঞান ছাড়া তা নিষিদ্ধ করেছেন।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা বলবে: তারা ছিল তিনজন, তাদের চতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর; এবং কেউ কেউ বলবে: তারা ছিল পাঁচজন, তাদের ষষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর—অদৃশ্যে ঢিল ছোঁড়ার মতো; আবার কেউ কেউ বলবে: তারা ছিল সাতজন, তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলুন: আমার প্রতিপালকই তাদের সংখ্যা সম্পর্কে সম্যক অবগত; খুব অল্পসংখ্যক লোকই তাদের কথা জানে। সুতরাং সাধারণ আলোচনা ছাড়া তাদের সম্পর্কে বিতর্ক করো না এবং তাদের বিষয়ে তাদের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করো না}। আবু মুহাম্মদ বলেন: যখন আমরা দেখতে পেলাম যে, আল্লাহ তাআলা উল্লেখিত আয়াতসমূহে প্রমাণ উপস্থাপন ও বিতর্কের নির্দেশ দিয়েছেন এবং কোনো কিছু কবুল করাকে প্রমাণের ভিত্তিতেই আবশ্যক করেছেন, তখন আমাদের কর্তব্য হলো পূর্বে বর্ণিত নিন্দনীয় বিতর্ক সম্পর্কে অনুসন্ধান করা। অতঃপর আমরা পেলাম যে তিনি বলেছেন: {আমি রাসূলদের কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করি; কিন্তু যারা কুফরি করে তারা বাতিলের মাধ্যমে বিতর্ক করে যাতে এর দ্বারা সত্যকে নস্যাৎ করে দিতে পারে এবং তারা আমার আয়াতসমূহ ও যা দিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে সেগুলোকে বিদ্রূপের বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছে}। সুতরাং আল্লাহ তাআলা এখানে প্রমাণ ছাড়া বিতর্ক এবং বাতিলের পক্ষে বিতর্ককে নিন্দা করেছেন, যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন। এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বিকারগ্রস্তদের এই উক্তি বাতিল করে দিয়েছেন যে, "প্রত্যেক বিভ্রান্ত ব্যক্তিকেই প্রমাণ শিখিয়ে দেওয়া হয়।" বরং আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, বিভ্রান্ত ব্যক্তি তো সেই যাকে (সঠিক) প্রমাণ শেখানো হয় না, আর সত্যপন্থী হলো সে যাকে প্রকৃতপক্ষে সত্য প্রমাণ শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর তারাই হলো হকের অনুসারী। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও; আল্লাহর কাছে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের কাছে এটি অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বৈরাচারী হৃদয়ে মোহর মেরে দেন}। নিশ্চয়ই এই আয়াতসমূহ নিন্দনীয় বিতর্ক এবং প্রশংসনীয় ও আবশ্যক বিতর্কের বর্ণনাকে একত্রিত করেছে। আবশ্যক বিতর্ক হলো সেটি যার পরিচালনাকারী সত্যকে প্রকাশ করার জন্য বিতর্ক করে। আর উল্লেখিত আয়াতসমূহের ভাষ্য অনুযায়ী নিন্দনীয় বিতর্ক দুই প্রকার: প্রথমত, যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়া বিতর্ক করে; দ্বিতীয়ত, যে ব্যক্তি সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর হট্টগোল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে বাতিলের সমর্থনে বিতর্ক করে। এর মধ্যে এ কথারও বর্ণনা রয়েছে যে, সত্য একটিই হয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয় তাই কেবল গ্রহণীয়। আর এই নিন্দনীয় ব্যক্তিরাই তারা যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আপনি কি তাদের দেখেননি যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে, তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?} এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে কোনো জ্ঞান ছাড়াই এবং সে প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে}। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে জ্ঞান, পথনির্দেশ ও কোনো দীপ্তিময় কিতাব ছাড়াই; সে দম্ভভরে বিতর্কে লিপ্ত হয় যাতে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে; তার জন্য দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে আস্বাদন করাব দহন যন্ত্রণা}। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী
{কাফিররা ছাড়া আর কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে না, সুতরাং...
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يغررك تقلبهم في لبلاد * كذبت قبلهم قوم نوح ولأحزاب من بعدهم
وهمت كل أمة برسولهم ليأخذوه وجادلوا بلباطل ليدحضوا به لحق فأخذتهم فكيف كان عقاب} فبين تعالى كما ترى أن الجدال المحرم هو الجدال الذي يجادل به لينصر الباطل ويبطل الحق بغير علم قال أبو محمد ويقال لمن أبى عن مطالبته الجدال ومعاناة طلب البرهان أن فرعون قال {يقوم لكم لملك ليوم ظاهرين في لأرض فمن ينصرنا من بأس لله إن جآءنا قال فرعون مآ أريكم إلا مآ أرى ومآ أهديكم إلا سبيل لرشاد} {وقال لذي آمن يقوم تبعون أهدكم سبيل لرشاد} فبأي شيء يعرف المحق منهما من المبطل هل يجوز أن يعرف ذلك إلا بدلائل غير كلامها فهذا كلام العزيز الجبار الخالق البارىء قد نصصناه في اتباع البرهان وتكذيب قول من لا حجة في يديه وهو الذي لا يسع مسلما خلافه لا قول من قال اذهب إلى شاك مثلك فناظره فيقال له أترى رسول الله صلى الله عليه وسلم كان شاكا إذ علمه ربه تعالى مجادلة أهل الكتاب وأهل الكفر وأمره بطلب البرهان وإقامة الحجة على كل من خالفه ولا قول من قال أو كلما جاء رجل هو أجدل من رجل تركنا ما نحن عليه أو كلاما هذا معناه قال أبو محمد وهذا كلام يستوي فيه مع قائله كل ملحد على ظهر الأرض فلئن وسع هذا القائل ألا يدع ما وجد عليه سلفه بلا حجة لحجة ظاهرة واردة عليه ليسعن اليهودي والنصراني ألا يدعا ما وجدا عليه سلفهما تقليدا بلا برهان وألا يقبلا برهان الإسلام الواردة عليهما وحجته القاطعة قال الله عز وجل {قالوا يلوط إنا رسل ربك لن يصلوا إليك فأسر بأهلك بقطع من لليل ولا يلتفت منكم أحد إلا مرأتك إنه مصيبها مآ أصابهم إن موعدهم لصبح أليس لصبح بقريب * فلما جآء أمرنا جعلنا عاليها سافلها وأمطرنا عليها حجارة من سجيل منضود * مسومة عند ربك وما هي من لظالمين ببعيد * وإلى مدين أخاهم شعيبا قال يقوم عبدوا لله ما لكم من إله غيره
ولا تنقصوا لمكيال ولميزان إني أراكم بخير وإني أخاف عليكم عذاب يوم محيط * ويقوم أوفوا لمكيال ولميزان بلقسط ولا تبخسوا لناس أشيآءهم ولا تعثوا في لأرض مفسدين * بقية لله خير لكم إن كنتم مؤمنين ومآ أنا عليكم بحفيظ * قالوا يشعيب أصلواتك تأمرك أن نترك ما يعبد ءاباؤنآ أو أن نفعل في أموالنا ما نشاء إنك لأنت لحليم لرشيد * قال يقوم أرأيتم إن كنت على بينة من ربي ورزقني منه رزقا حسنا ومآ أريد أن أخالفكم إلى مآ أنهاكم عنه إن أريد إلا لإصلاح ما ستطعت وما توفيقي إلا بلله عليه توكلت وإليه أنيب * ويقوم لا يجرمنكم شقاقي أن يصيبكم مثل مآ أصاب قوم نوح أو قوم هود أو قوم صالح وما قوم لوط منكم ببعيد * وستغفروا ربكم ثم توبوا إليه إن ربي رحيم ودود * قالوا يشعيب ما نفقه كثيرا مما تقول وإنا لنراك فينا ضعيفا ولولا رهطك لرجمناك ومآ أنت علينا بعزيز} قال أبو محمد فإذا قد حض الله تعالى على المجادلة بالحق وأمر بطلب البرهان فقد صح أن طلب الحجة هي سبيل الله عز وجل بالنص الذي ذكرنا أن من نهى عن ذلك وصد عنه فهو صاد عن سبيل الله تعالى ظالم ملعون
দেশে দেশে তাদের বিচরণ যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে। তাদের আগে নূহের কওম এবং তাদের পরবর্তী দলগুলো সত্যকে অস্বীকার করেছিল।
এবং প্রত্যেক জাতি তাদের রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং তারা মিথ্যা দিয়ে বিতর্ক করেছিল যাতে তারা সত্যকে নস্যাৎ করতে পারে। অতঃপর আমি তাদের পাকড়াও করেছি; সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তি? সুতরাং মহান আল্লাহ যেমনটি দেখছেন তেমন স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, নিষিদ্ধ বিতর্ক হলো সেই বিতর্ক যার মাধ্যমে কেউ বাতিলকে সাহায্য করার জন্য এবং জ্ঞান ছাড়াই সত্যকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বিতর্ক করে। আবু মুহাম্মদ বলেন: যে ব্যক্তি বিতর্ক করতে এবং প্রমাণ অন্বেষণের কষ্ট স্বীকার করতে অস্বীকার করে, তাকে বলা হবে যে ফিরআউন বলেছিল: ‘হে আমার কওম! আজ এ জমিনে তোমরাই বিজয়ী, তোমাদেরই রাজত্ব। কিন্তু আল্লাহর শাস্তি যদি আমাদের ওপর চলে আসে তবে কে আমাদের সাহায্য করবে?’ ফিরআউন বলল: ‘আমি যা বুঝি তোমাদের তাই বোঝাই আর আমি তোমাদের কেবল সঠিক পথই দেখাই।’ এবং যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল সে বলল: ‘হে আমার কওম! তোমরা আমার অনুসরণ করো, আমি তোমাদের সঠিক পথ দেখাব।’ সুতরাং তাদের দুজনের মধ্যে কে সত্যপন্থী আর কে মিথ্যাবাদী তা কিসের মাধ্যমে চেনা যাবে? তাদের কথা ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ ব্যতিরেকে কি তা জানা সম্ভব? এটিই মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, সৃষ্টিকর্তা ও নির্মাতার কথা যা আমরা প্রমাণের অনুসরণ এবং যার হাতে কোনো দলিল নেই তার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি। আর এটাই হলো সেই পথ যা থেকে বিচ্যুত হওয়া কোনো মুসলিমের জন্য সমীচীন নয়। আর না সেই ব্যক্তির কথা গ্রহণযোগ্য যে বলে: ‘তোমার মতো একজন সন্দেহকারীর কাছে যাও এবং তার সাথে বিতর্ক করো।’ তাকে বলা হবে: আপনি কি মনে করেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দেহকারী ছিলেন? অথচ তাঁর প্রতিপালক তাঁকে আহলে কিতাব ও কাফেরদের সাথে বিতর্ক করা শিখিয়েছেন এবং তাঁর বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ অনুসন্ধান ও দলিল পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিংবা সেই ব্যক্তির কথাও গ্রাহ্য নয় যে বলে: ‘যখনই এমন কোনো ব্যক্তি আসবে যে অন্যের চেয়ে বড় তার্কিক, তখনই কি আমরা যা অনুসরণ করছি তা ছেড়ে দেব?’ অথবা এই জাতীয় কোনো কথা। আবু মুহাম্মদ বলেন: এটি এমন এক কথা যার প্রবক্তার সাথে পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মদ্রোহী ব্যক্তি একমত হবে। যদি এই প্রবক্তার জন্য দলিল ছাড়াই তার পূর্বপুরুষদের রীতিনীতি আঁকড়ে ধরে থাকা বৈধ হয়—এমনকি তার কাছে স্পষ্ট দলিল আসার পরেও—তবে তো ইহুদি ও খ্রিস্টানদের জন্যও দলিল ছাড়াই তাদের পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ করা এবং ইসলামের অকাট্য দলিল ও প্রমাণ গ্রহণ না করা বৈধ হয়ে যাবে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: ‘তারা বলল: হে লুত! আমরা তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত দূত। তারা কখনোই তোমার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। সুতরাং তুমি রাতের কোনো এক অংশে তোমার পরিবারবর্গকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ো আর তোমাদের কেউ যেন পিছন ফিরে না তাকায়; তবে তোমার স্ত্রী ছাড়া। তাদের ওপর যা আপতিত হবে তার ওপরও তাই আপতিত হবে। নিশ্চয়ই তাদের নির্ধারিত সময় হলো ভোরবেলা। ভোর কি খুব নিকটবর্তী নয়? অতঃপর যখন আমার নির্দেশ এল, তখন আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম এবং তার ওপর স্তরে স্তরে কঙ্করের পাথর বর্ষণ করলাম। যা তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত ছিল। আর এ ধ্বংসলীলা জালেমদের থেকে দূরে নয়। আর মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শুআইবকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলল: হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।
আর তোমরা মাপ ও ওজনে কম দিও না। আমি তোমাদের সচ্ছল অবস্থায় দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের ওপর এক পরিবেষ্টনকারী দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি। হে আমার কওম! তোমরা ইনসাফের সাথে মাপ ও ওজন পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিও না আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না। আল্লাহর রেখে যাওয়া লাভই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা মুমিন হও। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো রক্ষণাবেক্ষণকারী নই। তারা বলল: হে শুআইব! তোমার নামাজ কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পূর্বপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা ত্যাগ করতে হবে? অথবা আমরা আমাদের সম্পদে যা খুশি তা করা ছেড়ে দেব? তুমি তো বেশ সহনশীল ও সুবোধ ব্যক্তি! সে বলল: হে আমার কওম! তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম রিজিক দান করে থাকেন (তবে আমি কি করে সত্য ত্যাগ করব?)। আমি যে কাজ করতে তোমাদের নিষেধ করি, আমি চাই না তার উল্টোটা করতে। আমি আমার সাধ্যমতো কেবল সংশোধনই চাই। আর আমার তৌফিক তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে। আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি। হে আমার কওম! আমার সাথে তোমাদের বিরোধ যেন তোমাদের এমন অপরাধে প্ররোচিত না করে যার ফলে তোমাদের ওপর নূহের কওম অথবা হূদের কওম অথবা সালেহর কওমের মতো বিপদ আপতিত হয়। আর লুতের কওম তো তোমাদের থেকে দূরে নয়। তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকেই ফিরে এসো। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক পরম দয়ালু ও অতি স্নেহশীল। তারা বলল: হে শুআইব! তুমি যা বলো তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না। আর আমরা তোমাকে আমাদের মধ্যে দুর্বল হিসেবেই দেখি। তোমার পরিবারবর্গ না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করতাম। আমাদের কাছে তোমার কোনো মর্যাদা নেই।’ আবু মুহাম্মদ বলেন: যেহেতু মহান আল্লাহ সত্যের মাধ্যমে বিতর্ক করার জন্য উৎসাহিত করেছেন এবং প্রমাণ অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছেন, সেহেতু এটি প্রমাণিত হলো যে, দলিল অন্বেষণ করাই হলো মহান আল্লাহর পথ। আমাদের উল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তা থেকে নিষেধ করে এবং বাধা প্রদান করে, সে মূলত আল্লাহর পথ থেকে বাধা দানকারী, একজন জালেম এবং অভিশপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بلا تأويل إلا على عين النص الوارد من قبل الله تعالى وبالله نعتصم
وقال تعالى {ما كان لأهل لمدينة ومن حولهم من لأعراب أن يتخلفوا عن رسول لله ولا يرغبوا بأنفسهم عن نفسه ذلك بأنهم لا يصيبهم ظمأ ولا نصب ولا مخمصة في سبيل لله ولا يطأون موطئا يغيظ لكفار ولا ينالون من عدو نيلا إلا كتب لهم به عمل صالح إن لله لا يضيع أجر لمحسنين} ولا غيظ أغيظ على الكفار والمبطلين من هتك أقوالهم بالحجة الصادعة وقد تهزم العساكر الكبار والحجة الصحيحة لا تغلب أبدا فهي أدعى إلى الحق وأنصر للدين من السلاح الشاكي والأعداد الجمة وأفاضل الصحابة الذين لا نظير لهم إنما أسلموا بقيام البراهين على صحة نبوة محمد صلى الله عليه وسلم عندهم فكانوا أفضل ممن أسلم بالغلبة بلا خلاف من أحد من المسلمين وأول ما أمر الله عز وجل نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم أن يدعو له الناس بالحجة البالغة بلا قتال فلما قامت الحجة وعاندوا الحق أطلق الله تعالى السيف حينئذ وقال تعالى {قل فلله لحجة لبالغة فلو شآء لهداكم أجمعين} وقال تعالى {بل نقذف بلحق على لباطل فيدمغه فإذا هو زاهق ولكم لويل مما تصفون} ولا شك في أن هذا إنما هو بالحجة لأن السيف مرة لنا ومرة علينا وليس كذلك البرهان بل هو لنا أبدا ودامغ لقول مخالفينا ومزهق له أبدا ورب قوة باليد قد دمغت بالباطل حقا كثيرا فأزهقته منها يوم الحرة ويوم قتل عثمان رضي الله عنه ويوم قتل الحسين وابن الزبير رضي الله عنهم ولعن قتلتهم وقد قتل أنبياء كثير وما غلبت حجتهم قط قال أبو محمد وقد علمنا عز وجل الحجة على الدهرية في قوله تعالى {لله يعلم ما تحمل كل أنثى وما تغيض لأرحام وما تزداد وكل شيء عنده بمقدار} وقوله تعالى {ليعلم أن قد أبلغوا رسالات ربهم وأحاط بما لديهم وأحصى كل شيء عددا} وعلمنا الحجة على الثنوية بقوله تعالى {لو كان فيهمآ آلهة إلا لله لفسدتا فسبحان لله رب لعرش عما يصفون} وعلى النصارى وعلى جميع الملل وقد بينا ذلك في كتابنا المرسوم بكتاب الفصل ورأينا فيه
عظيم ما أفادنا الله تعالى في ذلك من الحكمة والعلم بالمحاجة وإظهار
কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা ব্যতীত, কেবল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আগত মূল পাঠের আলোকে; এবং আমরা আল্লাহর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করি।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "মদীনাবাসী ও তাদের পার্শ্ববর্তী মরুবাসীদের জন্য সমীচীন নয় যে, তারা আল্লাহর রাসূলের পিছনে থেকে যাবে এবং তাঁর জীবন থেকে নিজেদের জীবনকে অধিক প্রিয় মনে করবে। এটি এ কারণে যে, আল্লাহর পথে তাদের যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা স্পর্শ করে এবং তারা এমন কোনো স্থানে পদক্ষেপ করে না যা কাফেরদের ক্রোধান্বিত করে এবং তারা শত্রুর পক্ষ থেকে যা কিছু লাভ করে, তার পরিবর্তে তাদের জন্য অবশ্যই নেক আমল লেখা হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।" আর অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে কাফের ও বাতিলপন্থীদের বক্তব্য খণ্ডন করার চেয়ে তাদের অধিক ক্রোধান্বিত করার মতো আর কিছু নেই। বিশাল সেনাবাহিনী পরাজিত হতে পারে, কিন্তু সঠিক প্রমাণ কখনোই পরাজিত হয় না। সুসজ্জিত অস্ত্রশস্ত্র ও বিপুল জনবলের তুলনায় এটি সত্যের দিকে অধিক আহ্বানকারী এবং দ্বীনের জন্য অধিক সাহায্যকারী। অতুলনীয় শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের সত্যতার সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং তারা তাদের চেয়ে উত্তম যারা বিজয়ের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে—এ বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সর্বপ্রথম যুদ্ধ ছাড়াই অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে মানুষের নিকট দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা সত্যের বিরোধিতা করলো, তখন আল্লাহ তাআলা তরবারি ব্যবহারের অনুমতি দিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন: তবে আল্লাহর জন্যই চূড়ান্ত প্রমাণ রয়েছে। তিনি চাইলে তোমাদের সকলকেই হিদায়াত দিতেন।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "বরং আমি সত্যের মাধ্যমে মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আর তোমরা যা বর্ণনা করছো তার জন্য তোমাদের দুর্ভোগ রয়েছে।" এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি প্রমাণের মাধ্যমেই সম্ভব। কারণ তরবারি কখনো আমাদের পক্ষে থাকে, আবার কখনো আমাদের বিপক্ষে যায়। কিন্তু প্রমাণের বিষয়টি তেমন নয়; বরং তা সর্বদা আমাদের পক্ষেই থাকে এবং আমাদের বিরোধীদের বক্তব্যকে চিরতরে চূর্ণ ও নিশ্চিহ্ন করে দেয়। কত হাতের শক্তি মিথ্যার আশ্রয়ে অনেক সত্যকে চূর্ণ ও নিশ্চিহ্ন করেছে; যেমনটি ঘটেছে হাররার যুদ্ধে, উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাতের দিনে, এবং হুসাইন ও ইবনুয যুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর শাহাদাতের দিনে—আল্লাহ তাদের হত্যাকারীদের লানত করুন। অনেক নবীকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু তাঁদের উপস্থাপিত প্রমাণ কখনোই পরাজিত হয়নি। আবু মুহাম্মদ বলেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নাস্তিকদের বিরুদ্ধে আমাদের দলীল শিখিয়েছেন এই বাণীর মাধ্যমে: "আল্লাহ জানেন প্রতিটি নারী যা গর্ভধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কমে ও যা বাড়ে। আর তাঁর কাছে প্রতিটি বস্তুই সুনির্দিষ্ট পরিমাপে রয়েছে।" এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "যাতে তিনি জেনে নেন যে, তাঁরা তাঁদের রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের নিকট যা আছে তা তিনি পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তিনি প্রতিটি বস্তুর সংখ্যা গণনা করে রেখেছেন।" এবং দ্বৈতবাদীদের বিরুদ্ধে আমাদের দলীল শিখিয়েছেন এই বাণীর মাধ্যমে: "যদি এগুলোতে (আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে) আল্লাহ ছাড়া আরও ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। সুতরাং আরশের রব আল্লাহ, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে পবিত্র।" এবং নাসারা ও সকল ধর্মের বিরুদ্ধেও দলীল শিখিয়েছেন। আমি 'আল-ফাসাল' নামক কিতাবে তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি এবং তাতে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি
আল্লাহ তাআলা বিতর্ক ও সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের কী মহান উপকার সাধন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
البرهان بغاية الإيجاز والاختصار
وقد أمر الله بالجدال على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم كما اخبرنا عبد الله بن الربيع قال أنبأنا محمد بن إسحاق بن السليم حدثنا ابن الأعرابي أنبأنا أبو داود حدثنا أبو موسى بن إسماعيل ثنا حماد هو ابن سلمة عن حميد عن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم جاهدوا المشركين بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم قال أبو محمد وهذا حديث في غاية الصحة وفيه الأمر بالمناظرة وإيجابها كإيجاب الجهاد والنفقة في سبيل الله قال أبو محمد وقد علمنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وضع السؤال موضعه وكيفية المحاجة في الحديث الذي ذكر محاجة آدم موسى صلى الله عليهما وسلم حدثنا عبد الله بن يوسف بن نامي عن أحمد بن فتح عن عبد الوهاب بن عيسى عن أحمد بن محمد عن أحمد بن علي عن مسلم بن الحجاج عن ابن أبي عمر المكي ومحمد بن حاتم وغيرهما واللفظ لابن حاتم كلاهما عن سفيان بن عيينة عن عمرو هو ابن دينار عن طاوس قال سمعت أبا هريرة يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احتج آدم وموسى فقال موسى يا آدم أنت أبونا خيبتنا وأخرجتنا من الجنة فقال له آدم أنت موسى الذي اصطفاك الله بكلامه وخط لك بيده أتلومني على أمر قدره الله علي قبل أن أخلق بأربعين سنة فحج آدم موسى قال أبو محمد فموسى صلى الله عليه وسلم وضع الملامة في غير موضعها فصار محجوجا وذلك لأنه لام آدم صلى الله عليه وسلم على أمر لم يفعله وهو خروج الناس من الجنة وإنما هو فعل الله عز وجل ولو أن موسى لام آدم على خطيئته الموجبة لذلك لكان واضعا للملامة موضعها ولكان آدم محجوجا وليس أحد ملوما إلا على ما يفعله لا على ما تولد من فعله ولا مما فعله غيره
অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষিপ্ত প্রমাণ
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানে বিতর্কের নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুর রবী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনুস সালীম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনুল আরাবী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুসা ইবনে ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ—যিনি ইবনে সালামাহ—হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের সম্পদ, তোমাদের জান এবং তোমাদের যবানের মাধ্যমে জিহাদ করো। আবু মুহাম্মদ বলেন: এটি একটি অত্যন্ত সহীহ হাদীস এবং এতে বিতর্কের (মুনাযারা) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং একে জিহাদ ও আল্লাহর পথে ব্যয়ের মতোই ওয়াজিব করা হয়েছে। আবু মুহাম্মদ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে প্রশ্নকে সঠিক স্থানে উত্থাপন করতে হয় এবং বিতর্কের পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত—সেই হাদীসের মাধ্যমে যেখানে আদম ও মূসা সাল্লাল্লাহু আলাইহিমা ওয়াসাল্লামের বিতর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে নামী, তিনি আহমদ ইবনে ফাতহ থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহাব ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আলী থেকে, তিনি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, তিনি ইবনে আবু ওমর মাক্কী ও মুহাম্মদ ইবনে হাতিম এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন—আর শব্দগুলো ইবনে হাতিমের—তাঁরা উভয়ে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি আমর—যিনি ইবনে দীনার—থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম ও মূসা বিতর্ক করলেন। মূসা বললেন: হে আদম, আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদের হতাশ করেছেন এবং আমাদের জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন। আদম তাঁকে বললেন: আপনি সেই মূসা যাকে আল্লাহ তাঁর বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন এবং তাঁর হাত দিয়ে আপনার জন্য লিখেছেন। আপনি কি আমাকে এমন একটি বিষয়ের জন্য তিরস্কার করছেন যা আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর আগেই আমার উপর নির্ধারণ করে রেখেছিলেন? এভাবে আদম মূসার বিরুদ্ধে তর্কে জয়ী হলেন। আবু মুহাম্মদ বলেন: মূসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিরস্কারকে ভুল স্থানে প্রয়োগ করেছিলেন, যার ফলে তিনি তর্কে পরাজিত হলেন। এর কারণ হলো, তিনি আদম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন এক বিষয়ের জন্য তিরস্কার করেছিলেন যা তিনি নিজে করেননি, আর তা হলো মানুষের জান্নাত থেকে বের হওয়া; বরং এটি ছিল মহান আল্লাহর কাজ। যদি মূসা আদমকে তাঁর সেই ভুলের জন্য তিরস্কার করতেন যা জান্নাত থেকে বের হওয়ার কারণ ছিল, তবে তিনি তিরস্কারকে সঠিক স্থানে প্রয়োগ করতেন এবং আদম তর্কে পরাজিত হতেন। কাউকে কেবল তার কৃতকর্মের জন্যই তিরস্কার করা যায়; তার কাজের ফলে যা উদ্ভূত হয়েছে তার জন্য নয়, কিংবা অন্য কেউ যা করেছে তার জন্যও নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والكافر إنما يلام على الفعل لا على دخول النار والقاتل إنما يلام على فعله لا على موت مقتوله ولا على أخذ القصاص منه فعلمنا رسول الله صلى
الله عليه وسلم في هذا الحديث كما ترى كيف نسأل عند المحاجة وبين لنا صلى الله عليه وسلم أن المحاجة جائزة وأن من أخطأ موضع السؤال كان محجوجا وظهر بذلك قول الله عز وجل {كمآ أرسلنا فيكم رسولا منكم يتلوا عليكم آياتنا ويزكيكم ويعلمكم لكتاب ولحكمة ويعلمكم ما لم تكونوا تعلمون}
والذي ذكرنا هو نص الحديث لا ما ظنه من يتعسف الكلام ويحرفه عن مواضعه ويطلب فيه ما ليس فيه وليس هذا الحديث من باب إثبات القدر في شيء وإثبات القدر إنما يصح من أحاديث أخر وآيات أخر قال أبو محمد وقد تحاج المهاجرون والأنصار وسائر الصحابة رضوان الله عليهم وحاج ابن عباس الخوارج بأمر علي رضى الله عنه وما أنكر قط أحد من الصحابة الجدال في طلب الحق فلا معنى لقول لمن جاء بعدهم وبالجملة فلا أضعف ممن يروم إبطال الجدال بالجدال ويريد هدم جميع الاحتجاج بالاحتجاج ويتكلف فساد المناظرة بالمناظرة لأنه مقر على نفسه أنه يأتي بالباطل لأن حجته هي بعض الحجج التي يريد إبطال جملتها وهذه طريق لا يركبها إلا جاهل ضعيف أو معاند سخيف والجدال الذي ندعو إليه هو طلب الحق ونصره وإزهاق الباطل وتبينه فمن ذم طلب الحق وأنكر هدم الباطل فقد ألحد وهو من أهل الباطل حقا والخصام بالباطل هو اللدد الذي قال فيه عليه السلام أبغض الرجال إلى الله الألد الخصم أو كما قال صلى الله عليه وسلم فإذا قد بطلت كل طريق ادعاها خصومنا في الوصول إلى الحقائق من الإلهام والتقليد وثبت أن الخبر لا يعلم صحته بنفسه ولا يتميز حقه من كذبه وواجبه من غير واجبه إلا بدليل من غيره فقد صح أن المرجوع إليه حجج العقول وموجباتها وصح أن العقل إنما هو مميز بين صفات الأشياء الموجودات وموقف للمستدل به على حقائق كيفيات الأمور الكائنات
কাফিরকে কেবল তার কর্মের জন্যই তিরস্কার করা হয়, জাহান্নামে প্রবেশের জন্য নয়; এবং হত্যাকারীকে কেবল তার কাজের জন্যই তিরস্কার করা হয়, তার দ্বারা নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য নয়, আর না তার থেকে কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণের জন্য। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই হাদীসে আমাদের শিখিয়েছেন—যেমনটি আপনি দেখছেন—বিতর্কের সময় কীভাবে প্রশ্ন করতে হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, বিতর্ক করা জায়েজ এবং যে ব্যক্তি প্রশ্নের স্থান নির্বাচনে ভুল করবে সে পরাজিত হবে। আর এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্ম প্রকাশ পেয়েছে: "যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যে তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে, তোমাদেরকে পবিত্র করে এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত (প্রজ্ঞা) শিক্ষা দেয়, আর তোমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা দেয় যা তোমরা জানতে না।"
আমরা যা উল্লেখ করেছি তা হলো হাদীসের মূল পাঠ, তাদের ধারণা অনুযায়ী নয় যারা অনর্থক কথা বলে, শব্দকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করে এবং এর মধ্যে এমন কিছু খোঁজে যা তাতে নেই। এই হাদীসটি তকদীর প্রমাণের কোনো বিষয় নয়; তকদীর প্রমাণ কেবল অন্যান্য হাদীস ও আয়াত দ্বারা সাব্যস্ত হয়। আবু মুহাম্মাদ বলেন: মুহাজির, আনসার এবং অন্যান্য সকল সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) পরস্পর বিতর্ক করেছেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নির্দেশে খারেজীদের সাথে বিতর্ক করেছেন। সত্য অন্বেষণের ক্ষেত্রে বিতর্ক করাকে সাহাবীদের মধ্যে কেউ কখনো অস্বীকার করেননি। সুতরাং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কথার কোনো ভিত্তি নেই। মোদ্দাকথা হলো, সেই ব্যক্তির চেয়ে দুর্বল আর কেউ নেই যে বিতর্কের মাধ্যমেই বিতর্ককে বাতিল করতে চায়, যুক্তির মাধ্যমেই সকল যুক্তিকে ধ্বংস করতে চায় এবং আলোচনার অসারতা প্রমাণের জন্য আলোচনার আশ্রয় নেয়। কারণ সে নিজের ব্যাপারেই স্বীকারোক্তি দিচ্ছে যে সে বাতিল নিয়ে আসছে, যেহেতু তার উপস্থাপিত যুক্তিটি সেই যুক্তিসমূহেরই অংশ যার সামগ্রিকতাকে সে বাতিল করতে চায়। এটি এমন এক পথ যা কেবল মূর্খ-দুর্বল অথবা নির্বোধ-হঠকারী ছাড়া আর কেউ অবলম্বন করে না। আমরা যে বিতর্কের আহ্বান জানাই তা হলো সত্যের অনুসন্ধান, সত্যের সাহায্য করা এবং বাতিলকে পর্যুদস্ত ও স্পষ্ট করা। সুতরাং যে ব্যক্তি সত্যের অনুসন্ধানকে নিন্দা করল এবং বাতিলের বিনাশকে অস্বীকার করল, সে ধর্মচ্যুত হলো এবং সে প্রকৃতপক্ষে বাতিলপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত। আর অন্যায়ের সাথে ঝগড়া করা হলো সেই হঠকারিতা যার সম্পর্কে রাসূল (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হলো চরম হঠকারী ঝগড়াটে।" অথবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেমনটি বলেছেন। যেহেতু সত্যে পৌঁছানোর জন্য আমাদের প্রতিপক্ষ কর্তৃক দাবিকৃত সকল পথ—যেমন ইলহাম (অনুপ্রেরণা) ও তাকলীদ (অন্ধ অনুসরণ)—বাতিল হয়ে গিয়েছে, এবং এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে কোনো সংবাদের সঠিকতা কেবল তার নিজের দ্বারা জানা সম্ভব নয় এবং তার সত্য-মিথ্যা ও আবশ্যকতা-অনাবশ্যকতা অন্য কোনো প্রমাণ ছাড়া নিরূপণ করা যায় না, সেহেতু এটি প্রমাণিত হয়েছে যে চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনের স্থল হলো বিবেকপ্রসূত প্রমাণ ও তার অনিবার্য দাবি। এটিও সাব্যস্ত হয়েছে যে, বিবেক কেবল বিদ্যমান বস্তুসমূহের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্যকারী এবং তা দলীল অন্বেষণকারীর জন্য সৃষ্টিজগতের স্বরূপ ও অবস্থাদি সম্পর্কে অবগতির একটি মাধ্যম।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وتمييز المحال منها وأما من ادعى أن العقل يحلل أو يحرم أو أن العقل يوجد عللا موجبة لكون ما أظهر الله الخالق تعالى في هذا العالم من جميع أفاعيله الموجود فيه من
الشرائع وغير الشرائع فهو بمنزلة من أبطل موجب العقل جملة وهما طرفان أحدهما أفرط فخرج عن حكم العقل والثاني قصر فخرج عن حكم العقل ومن ادعى في العقل ما ليس فيه كمن أخرج منه ما فيه ولا فرق ولا نعلم فرقة أبعد من طريق العقل من هاتين الفرقتين معا إحداهما التي تبطل حجج العقل جملة والثانية التي تستدرك بعقولها على خالقها
عز وجل أشياء لم يحكم فيها ربهم بزعمهم فثقفوها هم ورتبوها رتبا أوجبوا أن لا محيد لربهم تعالى عنها وأنه لا تجري أفعاله عز وجل إلا تحت قوانينها لقد افترى كلا الفريقين على الله عز وجل إفكا عظيما وأتوا بما تقشعر منه جلود أهل العقول وقد بينا أن حقيقة العقل إنما هي تمييز الأشياء المدركة بالحواس وبالفهم ومعرفة صفاتها التي هي عليها جارية على ما هي عليه فقط من إيجاب حدوث العالم وأن الخالق واحد لم يزل وصحة نبوة من قامت الدلائل على نبوته ووجوب طاعة من توعدنا بالنار على معصيته والعمل بما صححه العقل من ذلك كله وسائر ما هو في العالم موجود مما عدا الشرائع وأن يوقف على كيفيات كل ذلك فقط فأما أن يكون العقل يوجب أن يكون الخنزير حراما أو حلالا أو يكون التيس حراما أو حلالا أو أن تكون صلاة الظهر أربعا وصلاة المغرب ثلاثا أو أن يمسح على الرأس في الوضوء دون العنق أو أن يحدث المرء من أسفله فيغسل أعلاه أو أن يتزوج أربعا ولا يتزوج خمسا أو أن يقتل من زنى وهو محصن وإن عفي عنه زوج المرأة وأبوها ولا يقتل قاتل النفس المحرمة عمدا إذا عفا عنه أولياء المقتول أو أن يكون الإنسان ذا عينين دون أن يكون ذا ثلاثة أعين أو أربع أو أن تخص صورة الإنسان بالتمييز دون صورة الفرس أو أن تكون الكواكب المتحيرة سبعا دون أن تكون تسعا وكذلك سائر رتب العالم
এবং তা থেকে অসম্ভবকে পৃথক করা। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, আকল (বুদ্ধি) কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম করে, অথবা আকল এমন সব আবশ্যকীয় কারণ খুঁজে বের করে যার ফলে মহান স্রষ্টা আল্লাহ এই জগতে তাঁর সকল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যা কিছু প্রকাশ করেছেন—চাই তা শরিয়ত সংশ্লিষ্ট হোক বা না হোক—তা অবধারিত হয়, তবে সে ঐ ব্যক্তির সমতুল্য যে আকলের দাবিকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দিয়েছে। তারা দুটি প্রান্তিক দল; তাদের একজন বাড়াবাড়ি করেছে ফলে আকলের বিধান থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর দ্বিতীয়জন শিথিলতা করেছে ফলে সেও আকলের বিধান থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আর আকলের মধ্যে যা নেই তা আকলের জন্য দাবি করা ঐ ব্যক্তির মতোই যে আকলের মধ্যে যা আছে তা তা থেকে বের করে দেয়; এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমরা এই দুই দলের চেয়ে আকলের পথ থেকে অধিক দূরে থাকা আর কোনো দল সম্পর্কে জানি না। তাদের মধ্যে একটি দল হলো তারা যারা আকলের দলিলসমূহকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দেয়, আর দ্বিতীয়টি হলো যারা তাদের আকল দ্বারা তাদের মহান স্রষ্টার ওপর এমন সব বিষয়ে সংশোধনী দিতে চায় যা তাদের দাবি অনুযায়ী তাদের রব ফয়সালা করেননি; ফলে তারা নিজেরা তা নির্ধারণ করেছে এবং বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করেছে, এবং তারা সাব্যস্ত করেছে যে তাদের সুমহান রবের জন্য তা থেকে সরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই এবং তাঁর কর্মকাণ্ডসমূহ তাদের প্রণীত ঐ সকল নিয়ম ব্যতীত অতিবাহিত হবে না।
নিশ্চয়ই উভয় দলই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে এক মহা অপবাদ ও মিথ্যা আরোপ করেছে এবং তারা এমন বিষয় নিয়ে এসেছে যাতে জ্ঞানবানদের গায়ের চামড়া শিউরে ওঠে। আর আমরা স্পষ্ট করেছি যে, আকলের প্রকৃত রূপ হলো কেবল ইন্দ্রিয় ও বোধশক্তির মাধ্যমে অনুভূত বিষয়সমূহকে পৃথক করা এবং সেগুলোর বিদ্যমান গুণাবলি সম্পর্কে কেবল তা যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় জ্ঞান লাভ করা; যেমন—জগত নব্য বা সৃষ্ট হওয়া সাব্যস্ত করা, এবং স্রষ্টা এক ও চিরন্তন হওয়া, এবং যার নবুওয়তের ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার নবুওয়তের সত্যতা নিশ্চিত করা, এবং তাঁর অবাধ্যতার কারণে যিনি আমাদের জাহান্নামের ভয় দেখিয়েছেন তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব হওয়া, এবং আকল এগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু সঠিক বলে সাব্যস্ত করেছে সে অনুযায়ী আমল করা এবং শরিয়ত ব্যতিরেকে জগতে বিদ্যমান অন্য সব বিষয়ে জ্ঞান রাখা এবং কেবল সেই সবের ধরন ও প্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া।
কিন্তু আকল কি শুকর হারাম বা হালাল হওয়াকে আবশ্যক করতে পারে, অথবা পুরুষ ছাগল হারাম বা হালাল হওয়াকে, অথবা জোহরের নামাজ চার রাকাত এবং মাগরিবের নামাজ তিন রাকাত হওয়াকে, অথবা অজুতে ঘাড়ের পরিবর্তে কেবল মাথায় মাসেহ করাকে, অথবা মানুষের অধোদেশ থেকে বায়ু নির্গত হলে শরীরের উপরিভাগ ধৌত করাকে, অথবা চারজন স্ত্রী গ্রহণ করা যাবে কিন্তু পাঁচজন নয়—এমন বিষয়সমূহ কি আকল নির্ধারণ করতে পারে? অথবা বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচার করলে তাকে হত্যা করা হবে—যদিও তার স্ত্রীর স্বামী বা পিতা তাকে ক্ষমা করে দেয়; অথচ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নিষিদ্ধ প্রাণ হত্যা করলে হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে না যদি নিহতের অভিভাবকরা তাকে ক্ষমা করে দেয়; অথবা মানুষের দুটি চোখ থাকা, তিনটি বা চারটি না হওয়া; অথবা ঘোড়ার আকৃতির বদলে মানুষের আকৃতিকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করা; অথবা বিচরণশীল গ্রহ নয়টির পরিবর্তে সাতটি হওয়া—জগৎ বিন্যাসের অন্যান্য সকল বিষয়ও তদ্রূপ (যা কেবল আল্লাহর ইচ্ছাধীন, আকলের উদ্ভাবন নয়)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كلها فهذا ما لا مجال للعقل فيه لا في إيجابه ولا في المنع منه وإنما في العقل الفهم عن الله تعالى لأوامره ووجوب ترك التعدي إلى ما يخاف العذاب على تعديه والإقرار بأن الله تعالى يفعل ما يشاء ولو شاء أن يحرم ما أحل أو يحل ما حرم لكان ذلك له تعالى ولو فعله لكان فرضا علينا الانقياد لكل ذلك ولا مزيد ومعرفة صفات كل ما أدركنا معرفته مما في العالم وأنه على صفة كذا وهيئة كذا كما أحكمه ربه تعالى ولا زيادة فيه وبالله تعالى التوفيق وإليه الرغبة في دفع ما لا نطيق
الباب الرابع في كيفية ظهور اللغاتأعن توقيف أم عن اصطلاح قال أبو محمد أكثر الناس في هذا والصحيح من ذلك أصل الكلام توقيف من الله عز وجل بحجة سمع وبرهان ضروري فأما السمع فقول الله عز وجل {وعلم آدم الأسمآء كلها ثم عرضهم على الملائكة فقال أنبئوني بأسمآء هؤلاء إن كنتم صادقين} وأما الضروري بالبرهان فهو أن الكلام لو كان اصطلاحا لما جاز أن يصطلح عليه إلا قوم قد كملت أذهانهم وتدربت عقولهم وتمت علومهم ووقفوا على الأشياء كلها الموجودة في العالم وعرفوا حدودها واتفاقها واختلافها وطبائعها وبالضرورة نعلم أن بين أول وجود الإنسان وبين بلوغه هذه الصفة سنين كثيرة جدا يقتضي في ذلك تربية وحياطة وكفالة من غيره إذ المرء لا يقوم بنفسه إلا بعد سنين من ولادته ولا سبيل إلى تعايش الوالدين والمتكفلين والحضان إلا بكلام يتفاهمون به مراداتهم فيما لا بد لهم منه فيما يقوم معايشهم من حرث أو ماشية أو غراس ومن معاناة ما يطرد به الحر والبرد والسباع ويعاني به الأمراض ولا بد لكل هذا من أسماء يتعارفون بها ما يعانونه من ذلك وكل إنسان فقد كان في حالة الصغر التي ذكرنا من امتناع الفهم
এর সবটুকুই এমন বিষয় যাতে বুদ্ধির কোনো অবকাশ নেই, তা আবশ্যক করার ক্ষেত্রেও নয় এবং তা থেকে বারণ করার ক্ষেত্রেও নয়। বরং বুদ্ধির কাজ হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর নির্দেশনাবলী বোঝা এবং যে বিষয় লঙ্ঘন করলে আযাবের ভয় রয়েছে তা বর্জন করা আবশ্যক মনে করা। আর এই স্বীকৃতি দেওয়া যে, আল্লাহ তাআলা যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তিনি যদি হালালকৃত বিষয়কে হারাম করতে চাইতেন অথবা হারামকৃত বিষয়কে হালাল করতে চাইতেন, তবে তা করার পূর্ণ অধিকার আল্লাহ তাআলার ছিল। আর তিনি যদি তা করতেন, তবে আমাদের ওপর সেই সবকিছুর আনুগত্য করা ফরজ হতো এবং এর অতিরিক্ত কিছু নেই। আর জগতের যা কিছুর জ্ঞান আমরা লাভ করেছি তার গুণাবলী সম্পর্কে জানা এবং এটি অমুক গুণের ওপর এবং অমুক আকৃতির ওপর রয়েছে—যেমনটি তার প্রতিপালক সুনিপুণভাবে নির্ধারণ করেছেন এবং এতে কোনো আধিক্য নেই। আল্লাহ তাআলার কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং যা আমাদের সাধ্যের অতীত তা দূর করার জন্য তাঁরই কাছে প্রার্থনা করছি।
চতুর্থ অধ্যায়: ভাষার উৎপত্তির প্রকৃতি বর্ণনাতা কি আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি শিক্ষা (তাওকিফ) নাকি মানুষের তৈরি পরিভাষা (ইসতিলাহ)? আবু মুহাম্মাদ বলেন: অধিকাংশ মানুষ এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন, আর এর মধ্যে সঠিক মত হলো—কথার মূল উৎস আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা (তাওকিফ), যা শ্রুত দলিল এবং অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত। শ্রুত দলিলের ক্ষেত্রে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী: {আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও।} আর যুক্তিনির্ভর অকাট্য প্রমাণের বিষয়টি হলো এই যে, ভাষা যদি মানুষের তৈরি পরিভাষা হতো, তবে একদল লোক যাদের মেধা পূর্ণতা পেয়েছে, বুদ্ধি প্রশিক্ষিত হয়েছে, জ্ঞান পরিপক্ব হয়েছে এবং যারা জগতের বিদ্যমান সকল বস্তুর স্বরূপ প্রত্যক্ষ করেছে এবং সেগুলোর সীমানা, সাদৃশ্য, বৈসাদৃশ্য ও প্রকৃতি চিনেছে—তারা ছাড়া কেউ এই পরিভাষা তৈরিতে একমত হতে পারত না। আর আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, মানুষের অস্তিত্বের সূচনা এবং তার এই স্তরে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়টি অনেক দীর্ঘ বছরের ব্যবধান, যাতে অন্যের পক্ষ থেকে লালন-পালন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অভিভাবকত্বের প্রয়োজন পড়ে। কেননা মানুষ তার জন্মের অনেক বছর পার না হওয়া পর্যন্ত নিজে নিজে চলতে পারে না। আর পিতা-মাতা, অভিভাবক ও লালন-পালনকারীদের পক্ষে এমন কোনো ভাষা ব্যতীত একত্রে বসবাস করা সম্ভব নয় যার মাধ্যমে তারা তাদের প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যগুলো একে অপরকে বোঝাতে পারে—তা জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষিকাজ, গবাদি পশু পালন বা চারা রোপণ সংক্রান্তই হোক, কিংবা গরম, শীত ও হিংস্র প্রাণীকে তাড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা বা রোগের চিকিৎসা সংক্রান্তই হোক। আর এ সবকিছুর জন্যই এমন কিছু নামের প্রয়োজন যার মাধ্যমে তারা তাদের জীবনযাপনের বিষয়গুলো পরস্পরের কাছে পরিচিত করতে পারে। অথচ প্রত্যেক মানুষই সেই শৈশবকাল অতিবাহিত করেছে যা আমরা উল্লেখ করেছি, যখন কোনো কিছু বোঝা সম্ভব ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والاحتياج إلى كافل والاصطلاح يقتضي وقتا لم يكن موجودا قبله لأنه عمل المصطلحين وكل عمل لا بد من أن يكون له أو فكيف كانت حال المصطلحين على وضع اللغة قبل اصطلاحهم عليه فهذا من الممتنع المحال ضرورة قال علي وهذا دليل برهاني ضروري من أدلة حدوث النوع الإنساني ومن أدلة وجود الواحد الخالق الأول تبارك وتعالى ومن أدلة وجود النبوة والرسالة لأنه لا سبيل إلى بقاء أحد من الناس ووجوده دون كلام والكلام حروف مؤلفة والتأليف فعل فاعل ضرورة لا بد له من ذلك وكل فعل فعله فله زمان ابتدىء فيه لأن الفعل حركة تعدها المدد فصح أن لهذا التأليف أولا والإنسان لا يوجد دونه وما لم يوجد قبل ما له أول فله أول ضرورة فصح أن للمحدث محدثا بخلافة وصح أن ما علم من ذلك مما
هو مبتدأ من عند الخالق تعالى مما ليس في الطبيعة معرفته دون تعليم فلا يمكن البتة معرفته إلا بمعلم علمه الباري إياه ثم علم هو أهل نوعه ما علمه ربه تعالى قال علي وأيضا فإن الاصطلاح على وضع لغة لا يكون ضرورة إلا بكلام متقدم بين المصطلحين على وضعها أو بإشارات قد اتفقوا على فهمها وذلك الاتفاق على فهم تلك الإشارات لا يكون إلا بكلام ضرورة ومعرفة حدود الأشياء وطبائعها التي عبر عنها بألفاظ اللغات لا يكون إلا بكلام وتفهيم لا بد من ذلك فقد بطل الاصطلاح على ابتداء الكلام ولم يبق إلا أن يقول قائل إن الكلام فعل الطبيعة قال علي وهذا يبطل ببرهان ضروري وهو أن الطبيعة لا تفعل إلا فعلا واحدا لا أفعالا مختلفة وتأليف الكلام فعل اختياري متصرف في وجوه شتى وقد لجأ بعضهم إلى نوع من الاختلاط وهو أن قال إن الأماكن أوجبت بالطبع على ساكنيها النطق بكل لغة نطقوا بها
এবং একজন অভিভাবকের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিভাষা নির্ধারণের জন্য এমন সময়ের প্রয়োজন যা এর আগে বিদ্যমান ছিল না; কারণ এটি পরিভাষা নির্ধারণকারীদের কাজ। আর প্রতিটি কাজেরই একটি আরম্ভ থাকা আবশ্যক। সুতরাং, ভাষা নির্ধারণে অংশগ্রহণকারীদের অবস্থা তাদের সেই ভাষা নির্ধারণ করার আগে কেমন ছিল? এটি একটি অবধারিত অসম্ভব বিষয়। আলী বলেন, এটি মানবজাতির নতুনভাবে সৃষ্টির প্রমাণসমূহের একটি অকাট্য এবং অপরিহার্য দলিল। এটি একক সত্তা, প্রথম স্রষ্টা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার অস্তিত্বের অন্যতম দলিল এবং নবুওয়াত ও রিসালাতের অস্তিত্বের অন্যতম প্রমাণ। কারণ কথা বা কথা বলা ছাড়া কোনো মানুষের টিকে থাকা বা বিদ্যমান থাকা সম্ভব নয়। আর কথা হলো সুবিন্যস্ত বর্ণমালার সমষ্টি, আর এই বিন্যাস বা বিন্যস্তকরণ অবশ্যই কোনো না কোনো কর্তার কাজ। প্রতিটি কাজেরই একটি সময় থাকে যখন তা শুরু হয়েছিল; কারণ কাজ হলো একটি গতি যা সময় দ্বারা পরিমাপযোগ্য। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, এই বিন্যাসের একটি শুরু আছে। আর মানুষ কথা বলা ছাড়া বিদ্যমান থাকতে পারে না। আর যা কিছুর শুরু আছে, তার পূর্বে যে জিনিসের অস্তিত্ব নেই, তবে সেটিরও অবশ্যই একটি শুরু আছে। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, প্রতিটি সৃষ্ট জিনিসের জন্য একজন স্রষ্টা বা উদ্ভাবক রয়েছেন যিনি তার থেকে ভিন্ন। আর এটিও প্রমাণিত যে, স্রষ্টা তাআলার পক্ষ থেকে প্রারম্ভিক জ্ঞান হিসেবে যা জানা গেছে, যা শিক্ষা দেওয়া ছাড়া প্রকৃতিগতভাবে জানা সম্ভব নয়, তা কেবল এমন একজন শিক্ষকের মাধ্যমেই জানা সম্ভব যাকে মহান স্রষ্টা তা শিক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তার স্বজাতির লোকদের তাই শিখিয়েছেন যা তার পালনকর্তা তাআলা তাকে শিখিয়েছেন।
আলী বলেন, এছাড়া কোনো ভাষা নির্ধারণের জন্য পারিভাষিক ঐক্য কেবল তখনই হওয়া সম্ভব যখন সেই পরিভাষা নির্ধারণকারীদের মধ্যে আগে থেকেই কোনো ভাষা বিদ্যমান থাকে, অথবা এমন কোনো ইশারা-ইঙ্গিত থাকে যা বুঝতে তারা একমত হয়েছে। আর সেই ইশারা-ইঙ্গিত বোঝার ক্ষেত্রে এই একমত হওয়া কেবল কথার মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব। বিভিন্ন বস্তুর সীমা ও বৈশিষ্ট্য যা ভাষার শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়, তা কেবল কথা এবং বোঝানোর মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব; এটি অনিবার্য। সুতরাং কথার শুরুর বিষয়ে পারিভাষিক ঐকমত্যের বিষয়টি বাতিল হয়ে গেল। এখন কেবল এই উক্তিটিই অবশিষ্ট থাকে যে, কথা বলা প্রকৃতির একটি কাজ। আলী বলেন, এটি একটি অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যায়, আর তা হলো— প্রকৃতি কেবল একটি নির্দিষ্ট কাজই করে, ভিন্ন ভিন্ন কাজ নয়। অথচ বাক্যের বিন্যাস হলো একটি স্বেচ্ছাধীন কাজ যা বিভিন্ন আঙ্গিকে পরিচালিত হয়। তাদের কেউ কেউ এক প্রকার বিভ্রান্তির আশ্রয় নিয়েছেন এবং বলেছেন যে, বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান প্রাকৃতিকভাবেই সেখানকার অধিবাসীদের জন্য সেই বিশেষ ভাষায় কথা বলাকে অবধারিত করে দিয়েছে যে ভাষায় তারা কথা বলে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইহকাম ফী উসুলিল আহকাম - ইবনে হাযম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال علي وهذا محال ممتنع لأنه لو كانت اللغات على ما توجبه طبائع الأمكنة لما أمكن وجود كل مكان إلا بلغته التي يوجبها طبعه وهذا يرى بالعيان بطلانه لأن كل مكان في الأغلب قد دخلت فيه لغات شتى على قدر تداخل أهل اللغات ومجاورتهم فبطل ما قالوا وأيضا فليس في طبع المكان أن يوجب تسمية الماء ماء دون أن يسمى باسم آخر مركب من حروف الهجاء ومن كابر في هذا فإما مجاهر بالباطل وإما عديم عقل لا بد له من أحد هذين الوجهين فصح أنه توقيف من أمر الله عز وجل وتعليم منه تعالى إلا أننا لا ننكر اصطلاح الناس على إحداث لغات شتى بعد أن كانت لغة واحدة وقفوا عليها بها علموا ماهية الأشياء وكيفياتها وحدودها ولا ندري أي لغة هي التي وقف آدم عليه السلام عليها أولا إلا أننا نقطع على أنها أتم اللغات كلها وأبينها عبارة وأقلها إشكالا وأشدها اختصارا وأكثرها وقوع أسماء مختلفة على المسميات كلها المختلفة من كل ما في العالم من جوهر أو عرض لقول الله عز وجل {وعلم آدم الأسمآء كلها ثم عرضهم
على الملائكة فقال أنبئوني بأسمآء هؤلاء إن كنتم صادقين} فهذا التأكيد يرفع الإشكال ويقطع الشغب فيما قلنا
وقد قال قوم هي السريانية وقال قوم هي اليونانية وقال قوم هي العبرانية وقال قوم هي العربية والله أعلم إلا أن الذي وقفنا عليه وعلمناه يقينا أن السريانية والعبرانية والعربية هي لغة مضر وربيعة لا لغة حمير لغة واحدة تبدلت بتبدل مساكن أهلها فحدث فيها جرش كالذي يحدث من الأندلسي وإذا رام نغمة أهل القيروان ومن القيرواني إذا رام نغمة الأندلسي ومن الخراساني إذا رام نغمتها ونحن نجد من سمع لغة أهل فحص البلوط وهي على ليلة واحدة من قرطبة كاد أن يقول إنها لغة أخرى غير لغة أهل قرطبة وهكذا في كثير من البلاد فإنه بمجاورة أهل البلدة بأمة أخرى تتبدل لغتها تبديلا لا يخفى على من تأمله
আলী (রহ.) বলেন, এটি অসম্ভব ও নিষিদ্ধ; কারণ ভাষা যদি স্থানের প্রকৃতির অনিবার্য ফল হতো, তবে কোনো স্থানের অস্তিত্ব তার প্রকৃতিজাত ভাষা ব্যতিরেকে সম্ভব হতো না। আর এর অসারতা প্রত্যক্ষদর্শনেই প্রমাণিত, কেননা অধিকাংশ স্থানেই বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকদের মেলামেশা ও সহাবস্থানের ফলে নানাবিধ ভাষার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। সুতরাং তাদের দাবি বাতিল হয়ে গেল। তদুপরি, কোনো স্থানের প্রকৃতিতে এমন কিছু নেই যা পানিকে অন্য কোনো বর্ণসমষ্টির পরিবর্তে কেবল ‘মা’ (পানি) নামেই অভিহিত করাকে অনিবার্য করে তুলবে। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে তর্কে লিপ্ত হবে, সে হয় প্রকাশ্য বাতিলপন্থী অথবা কাণ্ডজ্ঞানহীন; এই দুই অবস্থার বাইরে সে হতে পারে না। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে এটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে নির্ধারিত এবং তাঁরই প্রদানকৃত শিক্ষা। তবে আমরা একটি মৌলিক ভাষা—যা মানুষকে শেখানো হয়েছিল এবং যার মাধ্যমে তারা বস্তুর সারসত্তা, প্রকৃতি ও সংজ্ঞা অনুধাবন করেছিল—তার পরবর্তী সময়ে মানুষের নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ভাষার উদ্ভাবন ও পরিভাষা নির্ধারণকে অস্বীকার করি না। আদম (আলাইহিস সালাম)-কে প্রাথমিকভাবে কোন ভাষা শেখানো হয়েছিল তা আমাদের জানা নেই; তবে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত যে সেটি ছিল সমস্ত ভাষার মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, অভিব্যক্তিতে সবচেয়ে প্রাঞ্জল, অস্পষ্টতামুক্ত, সর্বাধিক সংক্ষিপ্ত এবং জগতের প্রতিটি সারবস্তু বা গুণাগুণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নাম সংবলিত সবচেয়ে সমৃদ্ধ ভাষা; কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র বাণী: {আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলোকে উপস্থাপন করলেন
ফেরেশতাদের সামনে এবং বললেন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও}। এই জোরালো বর্ণনাটি আমাদের বক্তব্যের সংশয় দূর করে এবং বিতর্কের অবসান ঘটায়।
একদল লোক বলেছেন সেটি ছিল সুরয়ানি, অন্য দল বলেছেন ইউনানি, কেউ বলেছেন ইবরানি, আবার কেউ বলেছেন সেটি ছিল আরবি। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। তবে আমরা যা নিশ্চিতভাবে অবগত হয়েছি তা হলো—সুরয়ানি, ইবরানি এবং মুযার ও রাবিয়ার আরবি ভাষা (হিময়ারের ভাষা নয়)—মূলত একটিই ভাষা, যা কেবল মানুষের বাসস্থান পরিবর্তনের কারণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ফলে উচ্চারণে এমন বিচ্যুতি সৃষ্টি হয়েছে যেমনটি কোনো আন্দালুসীয় যখন কাইরুয়ানের অধিবাসীদের বাচনভঙ্গিতে কথা বলার চেষ্টা করে, অথবা কোনো কাইরুয়ানবাসী যখন আন্দালুসীয়দের বা কোনো খুরাসানী যখন তাদের বাচনভঙ্গিতে কথা বলার চেষ্টা করে তখন ঘটে থাকে। আমরা দেখি যে, কেউ যদি ‘ফাহসুল বাল্লুত’-এর অধিবাসীদের ভাষা শোনে—যা কর্ডোভা থেকে মাত্র এক রাতের দূরত্বে অবস্থিত—তবে সে একে কর্ডোভা বাসিদের ভাষা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ভাষা বলতে চাইবে। অনেক জনপদের অবস্থাই এমন; কেননা কোনো জনপদ যখন অন্য কোনো জাতির সান্নিধ্যে আসে, তখন তাদের ভাষায় এমন পরিবর্তন সাধিত হয় যা পর্যালোচনাকারীর কাছে অস্পষ্ট থাকে না।