(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: -)
الروض المعطار في خبر الأقطار   (الحميري، ابن عبد المنعم)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: الروض المعطار في خبر الأقطار

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن عبد المنعم الحِميرى (ت 900هـ)

المحقق: إحسان عباس

الناشر: مؤسسة ناصر للثقافة - بيروت - طبع على مطابع دار السراج

الطبعة: الثانية، 1980 م

عدد الصفحات: 623

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আর-রাওদুল মিতার ফি খবরিল আকতার   (আল-হিময়ারি, ইবনে আবদিল মুনইম)

বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী


গ্রন্থ: আর-রাওদুল মিতার ফি খবরিল আকতার

লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদিল মুনইম আল-হিময়ারি (মৃত্যু ৯০০ হিজরি)

গবেষক: ইহসান আব্বাস

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতু নাসির লিস সাকাফাহ - বৈরুত - দারুস সিরাজ প্রেসে মুদ্রিত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة

ورد ذكر الروض المعطار في طبعة فلوجل من كشف الظنون مرتين (1) : مرة على أن مؤلفه هو أبو عبد الله محمد بن محمد بن محمد الحميري المتوفى سنة 900 ومرة أخرى على أن المؤلف هو المؤلف هو أبو عبد الله محمد بن عبد المنعم الحميري (دون ذكر لسنة الوفاة) ، وقد كان هذا محيراً للأستاذ ليفي بروفنسال حين أقدم على نشر القسم المتعلق بالأندلس من الروض، وتعبر مقدمته التي كتبها للترجمة الفرنسية (La Peninsule Iberique au Moyen - Age) عن هذه الحيرة من ناحيتين: أولاهما لماذا هذا الاختلاف في اسم المؤلف، والثانية: إذا كان قد توفي سنة 900 - كما يقول حاجي خليفة - فهذه قضية تقف في وجهها حقيقتان بارزتان:

1 - كيف يمكن أن تتأخر وفاة مؤلف الروض المعطار إلى هذا التاريخ، ونحن نجد أن القلقشندي صاحب صبح الأعشى المتوفى سنة 821 والذي انتهى من تأليف كتابه سنة 814 يعتمد الروض المعطار واحداً من مصادره الجغرافية؟

2 - هنالك كتاب بعنوان " جني الأزهار من الروض المعطار " يوحي بأنه ملخص من كتاب الروض، وهو منسوب للمقريزي المتوفى سنة 845.

وإلى جانب هاتين الحقيقتين تقف حقيقة ثالثة، فقد وجد بروفنسال في ختاك إحدى النسخ التي اعتمد عليها من نسخ الروض هذه العبارة: " هذا آخر الجزء الثاني من الروض المعطار في خبر الأقطار للشيخ الفقيه أبي عبد الله محمد بن عبد الله بن أبي محمد عبد الله بن عبد المنعم ابن [عبد المنعم الحمير] ي رحمة الله عليه، وتتمامه جميع الكتاب في صبح يوم الجمعة السابع عشر من شهر صفر الخير أحد شهور سنة ست وستين وثمان مائة بساحل جدة المعمور؟ ".

--------------------------------------------

(1) لاحظ الأستاذ رتزيتانو أن طبعة استانبول من كشف الظنون لم تورد ذكر الروض إلا مرة واحدة، انظر " منتخبات من كتاب الروض المعطار خاصة بالجزر والبقاع الإيطالية ". (نشرت بمجلة كلية الآداب - جامعة القاهرة، المجلد 18/1956، ص 129 - 181) .
ভূমিকা

‘কাশফুয যুনুন’-এর ফ্লুগেল সংস্করণে ‘আর-রাওযুল মিতার’-এর উল্লেখ দুইবার এসেছে (১): একবার এভাবে যে, এর লেখক হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-হিময়ারি, যিনি ৯০০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; এবং অন্যবার এভাবে যে, লেখক হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুনইম আল-হিময়ারি (মৃত্যু সালের উল্লেখ ছাড়াই)। আর এটি অধ্যাপক লেভি প্রোভেনসালকে বিভ্রান্ত করেছিল যখন তিনি ‘আর-রাওয’-এর আন্দালুস সংশ্লিষ্ট অংশটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ফরাসি অনুবাদের (La Peninsule Iberique au Moyen - Age) জন্য তিনি যে ভূমিকা লিখেছিলেন, তাতে এই বিভ্রান্তিটি দুই দিক থেকে প্রকাশ পেয়েছে: প্রথমত, লেখকের নামে কেন এই পার্থক্য? এবং দ্বিতীয়ত, যদি তিনি ৯০০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করে থাকেন—যেমনটি হাজ্জি খলিফা বলেছেন—তবে এই দাবির সামনে দুটি স্পষ্ট বাস্তবতা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়:

১ - ‘আর-রাওযুল মিতার’-এর লেখকের মৃত্যু কীভাবে এত পরে হতে পারে, যেখানে আমরা দেখতে পাই যে ‘সুবহুল আ’শা’-এর রচয়িতা আল-কালকাশান্দি (মৃত্যু ৮২১ হি.), যিনি ৮১৪ হিজরিতে তার কিতাব রচনা সম্পন্ন করেছিলেন, তিনি ‘আর-রাওযুল মিতার’-কে তার অন্যতম ভৌগোলিক উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন?

২ - ‘জানিউল আযহার মিন রাওযিল মিতার’ শিরোনামে একটি কিতাব রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি ‘রাওয’ কিতাবটির একটি সংক্ষিপ্তসার, এবং এটি ৮৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল-মাকরিজির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত।

এই দুটি বাস্তবতার পাশাপাশি তৃতীয় একটি বাস্তবতাও বিদ্যমান; প্রোভেনসাল ‘আর-রাওয’-এর যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছিলেন, তার একটির শেষে এই বাক্যটি পেয়েছেন: “এটি শায়খ ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুনইম ইবনে [আব্দুল মুনইম আল-হিময়ারি]—রাহিমাহুল্লাহ—রচিত ‘আর-রাওযুল মিতার ফি খবরিল আকতার’-এর দ্বিতীয় খণ্ডের সমাপ্তি। আর পুরো কিতাবটি সম্পন্ন হয়েছে জনবহুল জিদ্দা উপকূলে ৮৬৬ হিজরির সফরুল খায়ের মাসের ১৭ তারিখ শুক্রবার সকালে।”

--------------------------------------------

(১) অধ্যাপক রিজিতানো লক্ষ্য করেছেন যে, ‘কাশফুয যুনুন’-এর ইস্তাম্বুল সংস্করণে ‘আর-রাওয’-এর উল্লেখ মাত্র একবার এসেছে। দেখুন “মুনতাখাবাত মিন কিতাব আর-রাওযিল মিতার খাছাহ বিল-জুযুরি ওয়াল-বিকা’ইল ইতালিয়া”। (কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদ সাময়িকীতে প্রকাশিত, ভলিউম ১৮/১৯৫৬, পৃষ্ঠা ১২৯ - ১৮১)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ২)
وقد فهم بروفنسال من هذه العبارة أن المؤلف قد انتهى من تأليف كتابه سنة 866، وهذا يقوي القول بأن يكون تاريخ وفاته سنة 900 صحيحاً. وهذه الحقائق مجتمعة دفعت بروفنسال إلى افتراض مؤلفين كل منهما ينتسب إلى حمير قام أولهما بكتابة صورة أولى من " الروض المعطار " وقام الثاني بانتحال عمل الأول، وربما أضاف إليه شيئاً، دون أن يذكر ما للمؤلف الأول من فضل عليه.

وعند مناقشة الحقائق التي واجهت بروفنسال لا تبقى هناك حاجة إلى هذا الفرض الذي وضعه:

1 - أما أن صاحب صبح الأعشى ينقل عن الروض المعطار، فتلك حقيقة لا نستطيع إنكارها، وهي وحدها تثبت أن المؤلف لا يمكن أن يكون قد عاش حتى سنة 900، وأنه على هذا لابد من أن يكون من أبناء القرن الثامن.

2 - وأما أن المقريزي لخص الروض المعطار في كتاب سمّاه " جني الأزهار من الروض المعطار " فتلك مسألة ما كان لبروفنسال أن يتمسك بها، فقد أثبت فولرز (Vollers) سنة 1889 ثم بلوشيه (Blochet) سنة 1925 أن هذا الكتاب المسمى " جني الأزهار " إنما هو تلخيص لنزهة المشتاق (1) . وعندما كنت في برلين سنة 1970 صورت النسخة البرلينية من " جني الأزهار " (2) لأستعين بها في تحقيق الروض المعطار، ولدى عودتي قمت بدراستها - قبل أن أطلع على ما كتبه فولرز وبلوشيه - ولم يخامرني أدنى شك في أنها تلخيص لنزهة المشتاق، أما لماذا سميت " جني الأزهار من الروض المعطار " فربما كان هذا يتطلب إيجاد " روض معطار " آخر غير الموجود في أيدينا.

3 - إن بروفنسال قد سمح لتصحيف الناسخ بأن يسيطر على وهمه، فالنص الذي قرأه في آخر النسخة المشار إليها، يجب أن يقرأ على النحو الآتي " هذا آخر الجزء الثاني من الروض المعطار؟ وبتمامه [تم] جميع الكتاب في صبح يوم الجمعة السابع عشر من شهر صفر الخير أحد شهور سنة ست وستين وثمان مائة " - وهذا التاريخ هو تاريخ النسخة التي نقل عنها الناسخ الثاني، وكان نقله سنة 1049؛ فنحن إزاء تاريخين لنسختين، ولا يعد الأول منهما تاريخياً للتأليف بأية حال؛ وقد تنبه الأستاذ رتزيتانو إلى ناحية جديرة بالتوقف حين قال: " وحتى إننا لو افترضنا جدلاً أن السنة المذكورة تعتبر تاريخياً لانتهاء المؤلف من وضع الروض المعطار، فليس من المعقول أن يصف نفسه بعبارات التفخيم والمديح على الصورة الواردة في هذا النص (يريد قوله: الشيخ الفقيه

--------------------------------------------

(1) K. Vollers، Note sur Manuscrit arabe attribue a Maqrizi، Bull. Soc. Khed. de Geogr. du caise، III Serie Num. 2. 1889 pp. 131 - 139 R. Blochet، Catalogue des ms. arabes des nouvelles acquisitions (1882 - 1914) ، paris 1925 N. 5919.

وانظر مقدمة وتزيتانو المشار إليها ص: 131، 132.

(2) في دار الاكتب المصرية نسخة أخرى من هذا الكتاب، رقم: 458.
প্রোভেনসাল এই বাক্যটি থেকে বুঝতে পেরেছেন যে, লেখক ৮৬৬ হিজরি সালে তাঁর গ্রন্থ রচনার কাজ শেষ করেছিলেন, এবং এটি লেখকের মৃত্যুসন ৯০০ হিজরি হওয়ার সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করে। এই সকল তথ্য একত্রে প্রোভেনসালকে এই অনুমানের দিকে ধাবিত করেছে যে, এখানে দুইজন লেখক ছিলেন যাদের প্রত্যেকেই হিমইয়ার বংশের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন; তাঁদের প্রথমজন 'আর-রাওজুল মিতার' এর একটি প্রাথমিক রূপ রচনা করেছিলেন এবং দ্বিতীয়জন প্রথমজনের কাজটিকে নিজের নামে চালিয়ে দেন, আর সম্ভবত এতে কিছু সংযোজনও করেছিলেন, তবে প্রথম লেখকের অবদানের কথা তিনি কোথাও উল্লেখ করেননি।

প্রোভেনসাল যে তথ্যের সম্মুখীন হয়েছিলেন তা পর্যালোচনার পর তাঁর উত্থাপিত এই অনুমানের আর কোনো প্রয়োজনীয়তা অবশিষ্ট থাকে না:

১ - 'সুবহুল আশা' গ্রন্থের লেখক যে 'আর-রাওজুল মিতার' থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, তা এমন এক বাস্তবতা যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না; আর এই বিষয়টি একাই প্রমাণ করে যে, লেখক ৯০০ হিজরি সাল পর্যন্ত জীবিত থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, বরং অবশ্যই তিনি অষ্টম হিজরি শতাব্দীর লোক ছিলেন।

২ - আর মাকরিজি যে 'আর-রাওজুল মিতার' গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করে তার নাম দিয়েছেন 'জানিউল আজহার মিন রাওজিল মিতার', সেটি এমন এক বিষয় যা প্রোভেনসালের আঁকড়ে ধরে থাকা সংগত ছিল না। কারণ ভোলার্স (Vollers) ১৮৮৯ সালে এবং পরবর্তীতে ব্লোশেট (Blochet) ১৯২৫ সালে প্রমাণ করেছেন যে, 'জানিউল আজহার' নামক এই গ্রন্থটি মূলত 'নুজহাতুল মুশতাক' (১) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ১৯৭০ সালে বার্লিনে অবস্থানকালে আমি 'জানিউল আজহার' (২) এর বার্লিন পাণ্ডুলিপির ছবি সংগ্রহ করি যাতে 'আর-রাওজুল মিতার' এর সম্পাদনায় তা ব্যবহার করতে পারি। ফিরে আসার পর আমি তা নিয়ে গবেষণা করি—ভোলার্স ও ব্লোশেটের লেখা দেখার আগেই—এবং আমার মনে সামান্যতম সন্দেহও ছিল না যে এটি 'নুজহাতুল মুশতাক' এর সংক্ষেপণ। তবে কেন এর নাম 'জানিউল আজহার মিন রাওজিল মিতার' রাখা হলো, তা হয়তো আমাদের হাতে থাকা সংস্করণটি ছাড়া অন্য কোনো 'রাওজুল মিতার' এর অস্তিত্বের অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

৩ - প্রোভেনসাল অনুলিপিকারীর বর্ণাশুদ্ধিকে নিজের ধারণার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দিয়েছেন। তিনি উল্লেখিত পাণ্ডুলিপির শেষে যে পাঠটি পড়েছেন, তা নিম্নোক্তভাবে পড়া উচিত: "এটি আর-রাওজুল মিতার-এর দ্বিতীয় খণ্ডের শেষাংশ? এবং এর পূর্ণতা লাভের মাধ্যমে সম্পূর্ণ গ্রন্থটি সম্পন্ন হলো ৮৬৬ হিজরি সনের সফরুল খায়ের মাসের ১৭ তারিখ শুক্রবার সকালে।" - আর এই তারিখটি হলো সেই পাণ্ডুলিপির তারিখ যা থেকে দ্বিতীয় অনুলিপিকার অনুলিপি করেছিলেন, আর তাঁর অনুলিপি করার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল ১০৪৯ হিজরি সনে। সুতরাং আমাদের সামনে দুটি পাণ্ডুলিপির দুটি তারিখ রয়েছে, যার প্রথমটিকে কোনোভাবেই গ্রন্থ রচনার তারিখ হিসেবে গণ্য করা যায় না। উস্তাদ রিটজিটানো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: "এমনকি যদি আমরা তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে উক্ত সালটি লেখকের 'আর-রাওজুল মিতার' সমাপ্ত করার তারিখ, তবুও এটি যুক্তিসঙ্গত নয় যে লেখক এই পাঠে বর্ণিত সম্মানসূচক ও প্রশংসামূলক শব্দাবলি দ্বারা নিজেকে বিশেষিত করবেন (তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: শাইখ আল-ফকিহ...

--------------------------------------------

(১) কে. ভোলার্স, মাকরিজির প্রতি আরোপিত আরবি পাণ্ডুলিপির ওপর টীকা, বুল. সক. খেদ. ডি জিওগ্র. ডু কাইরো, ৩য় সিরিজ নম্বর ২, ১৮৮৯, পৃষ্ঠা ১৩১ - ১৩৯; আর. ব্লোশেট, নতুন অর্জিত আরবি পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগ (১৮৮২ - ১৯১৪), প্যারিস ১৯২৫, নম্বর ৫৯১৯।

এবং দেখুন রিটজিটানোর উল্লেখিত ভূমিকা, পৃষ্ঠা: ১৩১, ১৩২।

(২) মিসরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে এই বইটির আরেকটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, নম্বর: ৪৫৮।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৩)
العدل.. ") . وحسناً فعل الأستاذ رتزيتانو لو أنه استشهد هنا بما جاء في هذه العبارة من قوله " رحمة الله عليه "، فإنها تشير إلى عمل الناسخ لا إلى عمل المؤلف.

أين نقف بعد ذلك من هذا كله؟

1 - لدينا كتاب اسمه " الروض المعطار في خبر الأقطار " وتتفق النسخ المتباعدة - مكاناً وزماناً - على أن مؤلفه هو " أبو عبد الله محمد بن محمد بن أبي عبد الله محمد بن أبي محمد عبد الله بن عبد المنعم بن عبد النور الحميري "، وعلى هذا الكتاب يعتمد القلقشندي، فلابد أن يكون مؤلف هذا الكتاب ممن عاش قبل مطلع القرن التاسع (في أقل تقدير) .

2 - إن ذكر حاجي خليفة له مرتين يعني اطلع على نسختين: إحداهما ذكرت اسمه كاملاً والأخرى اسمه مؤخراً، ولما كان حاجي خليفة - وهو منسق ببليوغرافي - غير مسؤول عن تحقيق الفرق بين الاسمين، فإثباته ما أثبته أمانة دقيقة منه في عمله.

3 - ذكر حاجي خليفة سنة 900 تاريخاً لوفاة المؤلف، وقد حاول غودفري - ديمومبين أن يقول إن هذا خطأ شائع في المخطوطات العربية بين " تسعمائة " و " سبعمائة " ووافقه على ذلك الأستاذ رتزيتانو (1) ؛ ولكن الحقيقة أن عام " سبعمائة " لا يصلح لتقرير سنة وفاة المؤلف، " إذن " فإن الراجح أن حاجي خليفة اطلع على نسخة من الروض كتبت سنة 900، ثم اضطرب عليه الأمر فظنها سنة وفاة المؤلف، وهذا غير عجيب عند حاجي خليفة، فقد قال عند ذكر الإمتاع والمؤانسة إن التوحيدي توفي سنة 380 وقال حين ذكر المقابسات " المتوفى بعد سنة أربعمائة تقريباً "، فأيهما نصدق؟ إذن فإن الأخذ الحرفي بما يقوله حاجي خليفة أمر مضلل، دون ريب.

‌‌مؤلف الروض المعطار

من هو مؤلف الروض المعطار إذن؟ كل الدلائل ترجح أنه هو الذي وجد بروفنسال نفسه ترجمته في " الإحاطة " - ووجدها رتزيناتو في الدرة الكامنة لابن حجر، وهو ينقل عن الإحاطة - وهذا ما يقوله لسان الدين ابن الخطيب عنه (2) :

‌‌1 - ترجمة المؤلف

" محمد بن عبد المنعم الصنهاجي الحميري، يكنى أبا عبد الله ويعرف بابن عبد المنعم، من أهل سبتة الأستاذ الحافظ.

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة " صفة جزيرة الأندلس " - الترجمة الفرنسية ص: 15 ومقدمة رتزيتانو: 133.

(2) مقدمة بروفنسال: 27 - 28 والإحاطة النسخة الكتانية بالرباط رقم: 2704 ورمزها (ك) ، الصفحة: 54 وانظر الدرر الكامنة 4: 151 رقم 3950 (ط. القاهرة) وبغية الوعاة: 69 وكلاهما ينقل عن ابن الخطيب.
আল-আদল (ন্যায়বিচার)। প্রফেসর রিজিতানো ভালো করতেন যদি তিনি এখানে এই বাক্যাংশের উদ্ধৃতি দিতেন যেখানে বলা হয়েছে "রাহমাতুল্লাহি আলাইহি" (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), কারণ এটি পাণ্ডুলিপিকারের কাজের দিকে ইঙ্গিত করে, লেখকের কাজের দিকে নয়।

এরপর এই সবকিছুর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের অবস্থান কোথায়?

১ - আমাদের কাছে "আল-রাওদ আল-মিতার ফি খবর আল-আকতার" নামক একটি বই রয়েছে এবং স্থান ও সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন পাণ্ডুলিপিগুলো এই বিষয়ে একমত যে, এর লেখক হলেন "আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবদ আল-মুনইম বিন আবদ আল-নূর আল-হিময়ারি"। আল-কালকাশান্দি এই বইটির ওপর নির্ভর করেছেন, তাই এই বইয়ের লেখককে অবশ্যই এমন কেউ হতে হবে যিনি নবম শতাব্দীর শুরুর আগে (সর্বনিম্ন হিসেবে) জীবিত ছিলেন।

২ - হাজি খলিফা কর্তৃক একে দুইবার উল্লেখ করার অর্থ হলো তিনি দুটি পাণ্ডুলিপি দেখেছিলেন: একটিতে তাঁর পূর্ণ নাম উল্লেখ ছিল এবং অন্যটিতে নাম পরবর্তী অংশে ছিল। যেহেতু হাজি খলিফা—যিনি একজন গ্রন্থপঞ্জি সমন্বয়কারী—দুটি নামের পার্থক্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দায়ী ছিলেন না, তাই তিনি যা লিপিবদ্ধ করেছেন তা তাঁর কাজের ক্ষেত্রে একটি সূক্ষ্ম আমানতদারি।

৩ - হাজি খলিফা লেখকের মৃত্যু সাল হিসেবে ৯০০ হিজরি উল্লেখ করেছেন। গডফ্রে-ডেমোম্বাইনস বলার চেষ্টা করেছেন যে, এটি আরবি পাণ্ডুলিপিগুলোতে "নয়শ" এবং "সাতশ" এর মধ্যে একটি প্রচলিত ভুল এবং প্রফেসর রিজিতানো (১) তাঁর সাথে একমত হয়েছেন; কিন্তু বাস্তবতা হলো "সাতশ" সালটি লেখকের মৃত্যু সাল নির্ধারণের জন্য উপযুক্ত নয়। অতএব, এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত যে, হাজি খলিফা "আল-রাওদ"-এর এমন একটি পাণ্ডুলিপি দেখেছিলেন যা ৯০০ হিজরিতে লেখা হয়েছিল, এরপর তিনি বিভ্রান্তিতে পড়ে এটিকে লেখকের মৃত্যু সাল ভেবে বসেন। হাজি খলিফার ক্ষেত্রে এটি কোনো আশ্চর্যজনক বিষয় নয়, কারণ তিনি "আল-ইমতা ওয়াল মুআনাসা" উল্লেখ করার সময় বলেছিলেন যে আত-তাওহিদি ৩৮০ হিজরিতে মারা গেছেন, আবার "আল-মুকা বাসাত" উল্লেখ করার সময় বলেছিলেন "প্রায় চারশ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন"। তাহলে আমরা কোনটি বিশ্বাস করব? সুতরাং, হাজি খলিফার কথা আক্ষরিকভাবে গ্রহণ করা নিঃসন্দেহে বিভ্রান্তিকর।

‌‌"আল-রাওদ আল-মিতার"-এর লেখক

তাহলে "আল-রাওদ আল-মিতার"-এর লেখক কে? সমস্ত প্রমাণ এই সম্ভাবনাকেই জোরালো করে যে, তিনি সেই ব্যক্তি যার জীবনী লেভি-প্রোভেনসাল নিজে "আল-ইহাতা" গ্রন্থে পেয়েছিলেন এবং রিজিতানো তা ইবনে হাজারের "আদ-দুরার আল-কামিনাহ" গ্রন্থে পেয়েছেন—যা তিনি "আল-ইহাতা" থেকে উদ্ধৃত করেছেন। লিসান আদ-দ্বীন ইবনুল খতিব তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন তা হলো (২):

‌‌১ - লেখকের জীবনী

"মুহাম্মদ বিন আবদ আল-মুনইম আস-সানহাজি আল-হিময়ারি, তাঁর কুর্নিয়াত (উপনাম) হলো আবু আবদুল্লাহ এবং তিনি ইবনে আবদ আল-মুনইম নামে পরিচিত। তিনি সাবতাহ (সেউতা) শহরের অধিবাসী এবং একজন উস্তাদ ও হাফিজ ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন "সিফাত জাজিরাত আল-আন্দালুস"-এর ভূমিকা - ফরাসি অনুবাদ পৃষ্ঠা: ১৫ এবং রিজিতানোর ভূমিকা: ১৩৩।

(২) প্রোভেনসালের ভূমিকা: ২৭ - ২৮ এবং রাবাতের কাত্তানিয়া পাণ্ডুলিপি "আল-ইহাতা" নম্বর: ২৭০৪ এবং এর সংকেত (কাফ), পৃষ্ঠা: ৫৪ এবং দেখুন আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৪: ১৫১ নম্বর ৩৯৫০ (কায়রো সংস্করণ) এবং বুগয়াত আল-উয়াত: ৬৯; উভয়েই ইবনুল খতিব থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌حاله

من عائد الصلة (1) : كان رحمه الله رجل صدق (2) ، طيب اللهجة سليم الصدر تام الرجولة، صالحاً عابداً، كثير القرب والأوراد في آخر حاله، صادق اللسان. قرأ كبيراً وسنه تنيف على سبع وعشرين، فشأى (3) أهل الدءوب (4) والسابقة، وكان من صدور الحفاظ (5) ، لم يستظهر أحد من زمانه من اللغة (6) ما استظهره، فكان (7) يستظهر كتاب التاج للجوهري وغيره، آية تتلى ومثالاً يضرب (8) ، قائماً على كتاب سيبويه يسرده بلفظه، اختبره الفاسيون في ذلك غير ما مرة، طبقة في الشطرنج يلعبها محجوباً (9) ، مشاركاً في الأصول، آخذاً في العلوم العقلية مع الملازمة (10) للسنة، يعرب أبداً كلامه ويزنه (11) .

‌‌مشيخته

أخذ (12) ببلده عن الأستاذ أبي إسحاق الغافقي، ولازم [الأستاذ] أبا القاسم ابن الشاط وانتفع به وبغيره من العلماء.

‌‌دخوله غرناطة

قدم (13) غرناطة مع الوفد [الذين قدموا] من أهل بلده (14) [سبتة] عندما صار إلى إيالة (15) الملوك من بني نصر لما وصلوا بالبيعة.

‌‌وفاته

كان من الوفد الذين استأصلهم الموتان (16) ، منصرفهم عن باب السلطان ملك المغرب (17) ، باحواز تيزى (18) ، حسبما وقع التنبيه على بعضهم (19) .))

‌‌2 - تعليق على هذه الترجمة

1 - تقول هذه الترجمة إن ابن عبد المنعم سبتي. غير أن المقري صاحب نفح الطيب يقول وهو ينقل عنه: " ولنرجع إلى كلام صاحب الروض المعطار فإنه أقعد بتاريخ الأندلس إذ هو منهم، وصاحب البيت أدرى بالذي فيه " (20) . فهل هو سبتي أو أندلسي؟ إن اهتمامه بجغرافية

--------------------------------------------

(1) ك: من العائد.

(2) ك: رجلاً صدوقاً.

(3) ك: ففات.

(4) بروفنسال: الدرب.

(5) ك: كان ثم الدحول صالحاً حافظاً عابداً.

(6) من اللغة: سقطت من ك.

(7) ك: يكاد.

(8) ك: آية متلوة ومثل يضرب.

(9) ك: مجموماً.

(10) ك: ملازمة.

(11) ويزنه: سقطت من ك.

(12) ك: قرأ.

(13) ك: دخل.

(14) ك: من بلاده.

(15) ك: حين صارت لايالة.

(16) ك: الموت.

(17) ك: عن باب الملك المغربي.

(18) ك: تازه.

(19) ك: حسبما يقع التنبيه عليه.

(20) النفح 4: 362 (تحقيق إحسان عباس، ط بيروت 1968) .
তাঁর অবস্থা

‘আয়িদুস সিলাহ’ থেকে (১): তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একজন সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন (২), তিনি মিষ্টভাষী, পবিত্র অন্তরের অধিকারী ও পূর্ণ পৌরুষসম্পন্ন ছিলেন। তিনি ছিলেন নেককার ও ইবাদতগুজার; জীবনের শেষ দিকে তিনি আল্লাহর অধিক নৈকট্য অন্বেষণকারী ও নিয়মিত ওজিফা পাঠকারী ছিলেন এবং তিনি ছিলেন সত্যবাদী। তিনি সাতাশ বছরেরও বেশি বয়সে পড়াশোনা শুরু করেন, তবুও তিনি কঠোর পরিশ্রমী (৪) ও অগ্রবর্তীদের ছাড়িয়ে যান (৩)। তিনি হাফেজদের (৫) মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। তাঁর সময়ে ভাষাতত্ত্বের (৬) ক্ষেত্রে তাঁর মতো মুখস্থবিদ্যার অধিকারী কেউ ছিল না। তিনি জাওহারীর 'তাজ' গ্রন্থ ও অন্যান্য কিতাব এমনভাবে মুখস্থ রাখতেন যেন তা পঠিত কোনো আয়াত বা প্রবাদতুল্য উদাহরণ (৮)। তিনি সিবওয়াইহির কিতাবের ওপর প্রাজ্ঞ ছিলেন এবং তা হুবহু বর্ণনা করতেন। ফাস-এর পণ্ডিতগণ এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার পরীক্ষা করেছেন। দাবার চালে তিনি এমন স্তরের ছিলেন যে, চোখে পট্টি বেঁধেও (৯) তা খেলতে পারতেন। তিনি উসুল শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন এবং আকলি (যৌক্তিক) ইলমসমূহ অর্জনের পাশাপাশি সুন্নাহর প্রতি একনিষ্ঠ (১০) ছিলেন। তিনি সর্বদা তাঁর কথাবার্তা ব্যাকরণসম্মতভাবে ও ওজন করে (১১) বলতেন।

তাঁর শিক্ষকগণ

তিনি নিজ শহরে (১২) উস্তাদ আবু ইসহাক আল-গাফেকির নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং উস্তাদ আবুল কাসিম ইবনুল শাত-এর সান্নিধ্যে থেকে তাঁর ও অন্যান্য আলেমদের নিকট থেকে উপকৃত হন।

গ্রানাডায় তাঁর প্রবেশ

তিনি তাঁর দেশ (১৪) [সেউতা] থেকে আগত সেই প্রতিনিধি দলের সাথে গ্রানাডায় আসেন (১৩), যখন বনু নাসর রাজবংশের রাজত্বকাল (১৫) শুরু হয় এবং তাঁরা আনুগত্যের শপথ নিয়ে পৌঁছান।

তাঁর মৃত্যু

তিনি সেই প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের মহামারি (১৬) নির্মূল করে দিয়েছিল। মরক্কোর সুলতানের (১৭) দরবার থেকে ফেরার পথে তিজা (১৮) অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যু হয়, যেমনটি তাঁদের কয়েকজনের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে (১৯)।

২ - এই জীবনীর ওপর মন্তব্য

১ - এই জীবনীতে বলা হয়েছে যে, ইবনে আব্দুল মুনইম সেউতার (সাবতি) অধিবাসী। তবে 'নাফহুত তিব' গ্রন্থের রচয়িতা আল-মাক্কারি তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: "চলুন আমরা 'আর-রাওদুল মিতার' এর লেখকের বক্তব্যের দিকে ফিরে যাই, কারণ তিনি আন্দালুসের ইতিহাসের বিষয়ে অধিক অভিজ্ঞ যেহেতু তিনি তাদেরই একজন; আর ঘরের লোকই ঘরের ভেতরের খবর ভালো জানেন" (২০)। তবে তিনি কি সেউতার নাকি আন্দালুসের? তাঁর ভৌগোলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব প্রদান...

--------------------------------------------

(১) কে: আল-আয়িদ থেকে।

(২) কে: একজন সত্যবাদী ব্যক্তি।

(৩) কে: ছাড়িয়ে গেছেন।

(৪) প্রোভেনসাল: পথ।

(৫) কে: তখন তিনি ছিলেন একজন নেককার ও হাফেজ আবেদ।

(৬) ভাষাতত্ত্বের দিক থেকে: 'কে' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৭) কে: প্রায়।

(৮) কে: পঠিত আয়াত এবং প্রবাদতুল্য উদাহরণ।

(৯) কে: মجمুমান (সংগৃহীত)।

(১০) কে: সান্নিধ্য।

(১১) এবং ওজন করে বলতেন: 'কে' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(১২) কে: পাঠ করেছেন।

(১৩) কে: প্রবেশ করেছেন।

(১৪) কে: তাঁর দেশ থেকে।

(১৫) কে: যখন শাসনের অধীনে যায়।

(১৬) কে: মৃত্যু।

(১৭) কে: মরক্কোর বাদশাহর দরবার থেকে।

(১৮) কে: তাজা।

(১৯) কে: যেমনটি এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

(২০) নাফহুত তিব ৪: ৩৬২ (ইহসান আব্বাসের সম্পাদনা, বৈরুত সংস্করণ ১৯৬৮)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৫)
الأندلس وأحداثها، في كتابه، يجعل المرء يظن، ولو كان هو المقري المهاجر البعيد عند الأندلس والمغرب، أن مؤلف الروض المعطار أندلسي، فالخطأ هنا ليس خطأ صاحب الروض، الذي كان سبتياً دخل الأندلس، وإنما هو خطأ الذين ظنوا أنه أندلسي النسبة لإسرافه في الحديث عن الأندلس. وقد أكد نسبته إلى سبتة محمد بن القاسم الأنصاري السبتي حين ذكر أنه مقبور بمقبرة المنارة بسبتة وأنه من أهلها في قوله: " قبر الشيخ اللغوي الحافظ الأنبل المتفنن في المعارف، أوحد زمانه في ذلك، وإمام عصره، أبي عبد الله ابن عبد المنعم الصنهاجي من أهل سبتة " (1) .

2 - وتمدنا هذه الترجمة بصورة فيها شيء من التفصيل عن منجي ثقافته وضروب براعته إذ تصوره متضلعاً في الحديث واللغو والنحو، مضيفاً إلى ذلك كله إطلاعاً على العلوم العقلية، ومهارة خارقة في الشطرنج. ويؤكد ابن القاسم الأنصاري ما قاله ابن الخطيب حول تضلعه في القراءة والحفظ واللغة، وتفرده في هذه الشؤون حتى أصبح " أوحد زمانه في ذلك وإمام عصره ". ومما يؤكد ذلك طبيعة الاتجاهات التي سار فيها أساتذته الذين درس عليهم، وقد ذكر منهم ابن الخطيب اثنين وهما: أبو إسحاق إبراهيم بن أحمد بن عيسى الغافقي (- 716) ، وشيخ النحاة والقراء بسبتة، فقد كان يتقن كتاب سيبويه، ولعل ابن عبد المنعم أخذه عنه، كما صنف كتاباً في قراءة نافع وآخر في شرح الجمل (2) أما أستاذه الثاني فهو أبو القاسم، القاسم بن عبد الله بن الشاط (- 723) فقد كان يقرئ الأصول والفرائض بمدرسة سبتة، وكان حسن المشاركة في العربية، متقدماً في الفقه ريان من الأدب (3) . وقد طبعت هذه الثقافة شخصية ابن عبد المنعم بطابعها، فقد كان الرجل على جانب غير قليل من التدين، وفي آخر عمره كان كثير " القرب والأوراد "، معروفاً بالصلاح بين معاصريه، سليم الصدر، كما يمكن أن يتصوره من يقرأ كتاب " الروض المعطار "، مهتماً بإعراب كلامه، وفي هذا من المشقة عليه وعلى معاصريه ما فيه. وفي كتاب الروض ما يشير من بعيد إلى ملامح من شخصيته، فهو من ناحية التقوى لا يدع أحداً من الصحابة دون أن يقرن اسمه ب؟ " رضي الله عنه "، ولو مر في الصفحة الواحدة عدة مرات - وهذا ليس من صنيع النساخ فيما اعتقد - وهو يحب أن يقف عند أمجاد المسلمين الأوائل، ولهذا تجده مغرماً بنقل أخبار الفتوح؛ وقد أحس هو نفسه أنه أسرف في النقل، حين تحدث عن معركة الزلاقة، فشفع ذلك بقوله: " قال مؤلف هذا الكتاب [رحمة الله عليه] : قد خالفت بشرح هذه الوقيعة شرط الاختصار لحلاوة الظفر في وقت نزول الهموم ووقوعها في الزمن الخامل، والله سبحانه وتعالى يفعل ما يشاء وهو المستعان ". ولعلها الملاحظة الوحيدة التي سمح لنفسه بتقييدها تعبيراً عن مشاعره الذاتية.

--------------------------------------------

(1) اختصار الأخبار عما كان بثغر سبتة من سني الآثار: 5 (ط. باريز، 1932) تحقيق إ. لافي بروفنسال؛ وقد فرغ المؤلف من جمع كتابه سنة 765.

(2) انظر ترجمته في الدرر الكامنة 1: 13 وبغية الوعاة: 177 وكلاهما يعتمد على الذهبي؛ ودرة الحجال 1: 176 وغاية النهاية 1:18.

(3) الإحاطة: 358 (النسخة ك) والديباج المذهب: 225.
আন্দালুসিয়া এবং এর ঘটনাবলি সম্পর্কে তাঁর বইয়ে যেভাবে আলোচনা করা হয়েছে, তা দেখে একজন মানুষ এমনটি মনে করতে পারেন—এমনকি তিনি যদি আন্দালুস ও মাগরিব থেকে দূরে অবস্থানকারী আল-মাক্কারি আল-মুহাজিরও হন—যে 'আল-রাওদ আল-মিতার' (Al-Rawd al-Mi'tar) গ্রন্থের লেখক একজন আন্দালুসীয়। প্রকৃতপক্ষে এখানে ভুলটি 'আল-রাওদ'-এর লেখকের নয়, যিনি সেউতাবাসী (সাবতি) হয়েও আন্দালুসে প্রবেশ করেছিলেন; বরং ভুলটি তাদের, যারা আন্দালুসিয়া সম্পর্কে তাঁর অতিশয় আলোচনার কারণে তাঁকে বংশগতভাবে আন্দালুসীয় মনে করেছিলেন। মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আল-আনসারি আল-সাবতি তাঁর সেউতার (সাবতা) সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁকে সেউতার আল-মানারা গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে এবং তিনি সেখানকারই অধিবাসী ছিলেন। তিনি বলেন: "ভাষাবিদ, হাফিজ, অভিজাত, বিভিন্ন জ্ঞানে পারদর্শী, স্বীয় যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর সময়ের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুনইম আল-সিনহাজি আল-সাবতির কবর।" (১) .

২ - এই জীবনীটি আমাদের কাছে তাঁর মেধা ও সংস্কৃতির উৎস এবং তাঁর দক্ষতার বৈচিত্র্য সম্পর্কে বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে। এটি তাঁকে হাদিস, ভাষা এবং ব্যাকরণে সুগভীর পণ্ডিত হিসেবে চিত্রিত করে, যার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছিল যৌক্তিক বিজ্ঞানসমূহে তাঁর জ্ঞান এবং দাবার ক্ষেত্রে অসামান্য দক্ষতা। ইবনুল কাসিম আল-আনসারি, ইবনুল খাতিব তাঁর কিরাত, মুখস্থকরণ এবং ভাষা বিষয়ে যে গভীর পাণ্ডিত্যের কথা বলেছিলেন তা নিশ্চিত করেছেন, এমনকি তিনি এই ক্ষেত্রগুলোতে অদ্বিতীয় হয়ে উঠেছিলেন এবং "তাঁর সময়ের অনন্য ও যুগের ইমামে" পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষকদের প্রকৃতিও এর সত্যতা নিশ্চিত করে যাদের কাছে তিনি অধ্যয়ন করেছিলেন। ইবনুল খাতিব তাদের মধ্যে দুইজনের নাম উল্লেখ করেছেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে ঈসা আল-গাফিকি (মৃত্যু ৭১৬ হিজরি), যিনি সেউতার ব্যাকরণবিদ ও ক্বারিদের প্রধান ছিলেন; তিনি সিবওয়াইহ-এর কিতাবে পারদর্শী ছিলেন এবং সম্ভবত ইবনে আব্দুল মুনইম তাঁর কাছ থেকেই এটি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি নাফি-এর কিরাত সম্পর্কে একটি এবং 'জুমাল'-এর ব্যাখ্যায় অন্য একটি কিতাব রচনা করেছিলেন। (২) তাঁর দ্বিতীয় শিক্ষক ছিলেন আবুল কাসিম, কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল শাত (মৃত্যু ৭২৩ হিজরি); তিনি সেউতার মাদরাসায় উসুল ও ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) পড়াতেন। তিনি আরবি ভাষায় বেশ দক্ষ ছিলেন, ফিকহ শাস্ত্রে অগ্রগামী এবং সাহিত্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিলেন (৩) । এই সংস্কৃতি ইবনে আব্দুল মুনইমের ব্যক্তিত্বে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তিনি যথেষ্ট ধার্মিক ছিলেন এবং জীবনের শেষভাগে অত্যধিক "নৈকট্য ও জিকির-আজকারে" মগ্ন থাকতেন। সমসাময়িকদের মধ্যে তিনি সততা ও কলুষমুক্ত হৃদয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন, যা 'আল-রাওদ আল-মিতার' পাঠ করলেও অনুভব করা যায়। তিনি তাঁর কথাবার্তার ব্যাকরণগত শুদ্ধতার (ইরাব) প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, যা তাঁর নিজের এবং সমসাময়িকদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। 'আল-রাওদ' গ্রন্থে তাঁর ব্যক্তিত্বের কিছু পরোক্ষ ছাপ পাওয়া যায়। তাকওয়ার দিক থেকে তিনি কোনো সাহাবীর নাম উল্লেখ করলে তাঁর সাথে "আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন" যোগ করতে ভুলতেন না, এমনকি যদি এক পৃষ্ঠায় কয়েকবার নাম আসে তবুও—এটি লিপিকারদের কাজ নয় বলেই আমার বিশ্বাস। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগের গৌরবগাথা আলোচনা করতে পছন্দ করতেন, তাই দেখা যায় তিনি বিজয়ের ইতিহাস বর্ণনায় অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। জালাকার যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনার সময় তিনি নিজেই অনুভব করেছিলেন যে তিনি বর্ণনায় কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা করেছেন, তাই তিনি বলেছিলেন: "এই কিতাবের লেখক [আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন] বলেন: বর্তমানের অলস সময়ে দুঃখ-দুর্দশা নেমে আসার প্রেক্ষাপটে বিজয়ের মাধুর্যের কারণে আমি এই ঘটনার বর্ণনায় সংক্ষিপ্তকরণের শর্ত লঙ্ঘন করেছি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যা ইচ্ছা তা-ই করেন এবং তিনি সাহায্যস্থল।" সম্ভবত এটিই একমাত্র মন্তব্য যা তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশের জন্য করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ইখতিসারুল আখবার আম্মা কানা বি-সাগর সাবতা মিন সানিউল আসার: ৫ (প্যারিস সংস্করণ, ১৯৩২), সম্পাদনা: ই. লেভি প্রভেন্সাল; লেখক ৭৬৫ হিজরিতে তাঁর কিতাব সংকলন শেষ করেন।

(২) আদ-দুরারুল কামিনাহ ১: ১৩ এবং বুগইয়াতুল ওয়াত: ১৭৭-এ তাঁর জীবনী দেখুন, উভয়ই আয-যাহাবির ওপর নির্ভরশীল; এবং দুররাতুল হিজাল ১: ১৭৬ এবং গায়াতুন নিহায়াহ ১:১৮।

(৩) আল-ইহাতা: ৩৫৮ (ক সংস্করণ) এবং আদ-দিবাজুল মুজাহহাব: ২২৫।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৬)
3 - وهذه الثقافة وتلك الشمات المحببة في شخصيته كسبت له تقدماً في مدينة سبتة، ولهذا نجده يشارك في حياتها السياسية مرتين: الأولى عندما ذهب في الوفد إلى غرناطة ليقرر تبعية سبتة لبني نصر، وقد عرفنا لسان الدين إلى اثنين آخرين كانا في ذلك الوفد، وهما أستاذه أبو القاسم ابن الشاط، ومحمد بن علي بن هانئ اللخمي السبتي " - 733 " (1) ؛ وقد كان انتماء سبتة إلى حكم بني نصر سنة 705، وعودتها إلى المرينيين سنة 709 (2) ، وعلى هذا تكون الوفادة قد تمت في أوائل تلك المرحلة بين هاتين السنتين.

4 - وتقول هذه الترجمة إن وفاة ابن عبد المنعم كانت إثر عودته من زيارة لسلطان المغرب - باحواز تازه - بسبب انتشار موتان. وقد أراد بروفنسال أن يفهم من لفظة " موتان " أنها تعني وبأ جارفاً، ولكن الصيغة في النسخة الكتانية من الإحاطة وردت على النحو التالي: " الذين استأصلهم الموت "؛ غير إن استئصال الموت لوفدٍ يعني أنهم ربما تعرضوا لوبأ جارف، ولما كان الوبأ الذي اكتسح المشرق والمغرب قد حدث سنة 749، فهل ذلك مما يجعلنا نقول بوفاة ابن عبد المنعم في حدود ذلك العام؟ كان ذلك ممكناً لولا إن ابن حجر ذكر في الدرر الكامنة أن وفاة ابن عبد المنعم كانت سنة 727، وليس هناك من سبب يجعلنا نرد هذا التاريخ، وإن لم تحدثنا المصادر عن " موتان " ألم بالمغرب في ذلك العام.

5 - ومع ذلك كله يبقى سؤال لابد من الإجابة عليه لتوضيح الموقف: في سنة 728 كانت سبتة تشهد قدوم السلطان أبي سعيد المريني إليها لإخضاعها، وتقويم زيغها عن الطاعة للمرنيين، وقد استجابت سبتة لإرادة السلطان، " فاحتل بقصبتها وثقف جهاتها ورم منثلمها وصلح خللها واستعمل كبار رجالاته وخواص مجلسه في أعمالها " (3) فما هي الغاية - إذن - من الوفد في السنة السابقة؟ أليس من الطبيعي أن يكون ذهاب الوفد بعد هذه الإجراءات التي قام بها أبو سعيد المريني؟ أن القطع بتاريخ وفاة ابن عبد المنعم ليس أمراً سهلاً، ولكن سنظل نقبل ما جاء في الدرر الكامنة، إلى أن تعين المصادر التي سيتكشف عنها المستقبل، تاريخ ذلك " الموتان " الذي يشير إليه لسان الدين.

6 - ولكن هذه الترجمة لم تقل أي شيء يتعلق بنشاطه في التأليف. هل كان إحسانه لما يحسن قاصراً على رغبة في المعرفة لا تتجاوز الكسب إلى العطاء؟ هل درس وتخرج على يديه عدد من التلامذة؟ هل ألف؟ هل كانت تشمل شؤون الجغرافيا - أعني هل نسلم بأن معرفته للعلوم العقلية كانت تشمل أيضاً إطلاعه على المصادر الجغرافية؟ هل قول ابن القاسم " المتفنن

--------------------------------------------

(1) الإحاطة: 63 (النسخة ك) .

(2) انظر بروفنسال، مقدمة الترجمة: 18.

(3) الاستقصا 3: 115 (ط. الدار البيضاء: 1954) .
৩ - এই সংস্কৃতি এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের সেই চিত্তাকর্ষক বৈশিষ্ট্যসমূহ তাঁকে সেবতাহ শহরে অগ্রগণ্য করে তুলেছিল। একারণেই আমরা তাঁকে দুবার রাজনৈতিক জীবনে অংশগ্রহণ করতে দেখি: প্রথমবার যখন তিনি গ্রানাডায় প্রেরিত প্রতিনিধিদলের সাথে বনু নাসরের নিকট সেবতাহার আনুগত্য নিশ্চিত করতে গিয়েছিলেন। লিসান আল-দিন সেই প্রতিনিধিদলের আরও দুই সদস্যের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা হলেন তাঁর শিক্ষক আবুল কাসিম ইবনুল শাত এবং মুহাম্মদ বিন আলী বিন হানি আল-লাখমি আল-সবতি (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি) (১)। ৭০৫ হিজরিতে সেবতাহ বনু নাসরের শাসনাধীনে আসে এবং ৭০৯ হিজরিতে তা পুনরায় মারিনিদের অধীনে ফিরে আসে (২)। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, এই প্রতিনিধি প্রেরণের ঘটনাটি এই দুই বছরের মধ্যবর্তী সময়ের শুরুর দিকে সম্পন্ন হয়েছিল।

৪ - এই জীবনী অনুসারে ইবনুল আবদ আল-মুনইমের মৃত্যু হয়েছিল মরক্কোর সুলতানের সাথে সাক্ষাত শেষে ফেরার পথে—তাজা-র উপকণ্ঠে—একটি মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কারণে। প্রোভেনসাল "মাওতান" (মহামারী) শব্দটি দিয়ে একটি বিধ্বংসী মহামারী বুঝাতে চেয়েছেন, কিন্তু 'আল-ইহাতা' গ্রন্থের কাত্তানি পাণ্ডুলিপিতে এই বাক্যটি নিম্নোক্তভাবে এসেছে: "যাদেরকে মৃত্যু সমূলে উৎপাটন করেছে"। তবে একটি প্রতিনিধিদলকে মৃত্যুর সমূলে উৎপাটন করার অর্থ হতে পারে যে তারা হয়তো কোনো বিধ্বংসী মহামারীর কবলে পড়েছিলেন। যেহেতু মাশরিক ও মাগরিবে যে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল তা ৭৪৯ হিজরিতে ঘটেছিল, তবে কি এটি আমাদের এই কথা বলতে বাধ্য করবে যে ইবনুল আবদ আল-মুনইমের মৃত্যু ঐ বছরের কাছাকাছি সময়ে হয়েছিল? এটি সম্ভব হতো যদি না ইবনে হাজার 'আল-দুরার আল-কামিনা' গ্রন্থে উল্লেখ করতেন যে ইবনুল আবদ আল-মুনইমের মৃত্যু ৭২৭ হিজরিতে হয়েছিল। এই তারিখটি প্রত্যাখ্যান করার মতো কোনো কারণ আমাদের কাছে নেই, যদিও ঐ বছর মরক্কোতে কোনো মহামারীর কথা ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে বর্ণিত হয়নি।

৫ - এতদসত্ত্বেও পরিস্থিতি স্পষ্ট করার জন্য একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আবশ্যক থেকে যায়: ৭২৮ হিজরিতে সেবতাহ শহর সুলতান আবু সাঈদ আল-মারিনির আগমন প্রত্যক্ষ করেছিল, যিনি শহরটিকে অনুগত করতে এবং মারিনিদের আনুগত্য থেকে এর বিচ্যুতি সংশোধন করতে এসেছিলেন। সেবতাহ সুলতানের ইচ্ছার প্রতি সাড়া দিয়েছিল, "অতঃপর তিনি এর কেল্লা দখল করেন, এর চারপাশ সুরক্ষিত করেন, এর ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করেন এবং এর ত্রুটিসমূহ সংশোধন করেন। তিনি তাঁর প্রশাসনের বড় বড় ব্যক্তিত্ব ও তাঁর পরিষদের ঘনিষ্ঠজনদের এর কার্যাবলীতে নিয়োজিত করেন" (৩)। তাহলে এর আগের বছর প্রতিনিধিদল পাঠানোর লক্ষ্য কী ছিল? আবু সাঈদ আল-মারিনি কর্তৃক গৃহীত এই পদক্ষেপগুলোর পরে প্রতিনিধিদল পাঠানো কি বেশি স্বাভাবিক ছিল না? ইবনুল আবদ আল-মুনইমের মৃত্যুর তারিখ নিশ্চিত করা সহজ কাজ নয়, তবে লিসান আল-দিন যে "মহামারীর" কথা উল্লেখ করেছেন তার তারিখ সম্পর্কে ভবিষ্যতে কোনো উৎস থেকে নতুন তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমরা 'আল-দুরার আল-কামিনা'-তে যা এসেছে তা গ্রহণ করা অব্যাহত রাখব।

৬ - কিন্তু এই জীবনীতে তাঁর গ্রন্থ প্রণয়ন সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তিনি যা জানতেন তাতে তাঁর পারদর্শিতা কি কেবল জ্ঞান অর্জনের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যা অর্জন থেকে প্রদানের স্তরে উন্নীত হয়নি? তাঁর অধীনে কি কোনো ছাত্র পড়াশোনা বা স্নাতক সম্পন্ন করেছিল? তিনি কি কোনো গ্রন্থ রচনা করেছিলেন? তাঁর পাণ্ডিত্য কি ভূগোলের বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করত—অর্থাৎ, আমরা কি এটি মেনে নেব যে আকলি বা যুক্তিনির্ভর বিজ্ঞানসমূহে তাঁর জ্ঞান ভৌগোলিক উৎসসমূহ সম্পর্কে তাঁর জানাশোনাকেও অন্তর্ভুক্ত করত? ইবনুল কাসিমের উক্তি "বহুমুখী প্রতিভাবান (আল-মুতাফান্নিন)

--------------------------------------------

(১) আল-ইহাতা: ৬৩ (পাণ্ডুলিপি ক)।

(২) দেখুন প্রোভেনসাল, জীবনীগ্রন্থের ভূমিকা: ১৮।

(৩) আল-ইস্তিকসা ৩: ১১৫ (কাসাব্লাংকা সংস্করণ: ১৯৫৪)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৭)
في المعارف " يضم حرصه على أن يكون عارفاً بشؤون البلدان؛ ثم هل يمكن أن يتجاوز ما يتقنه في اللغة والنحو والقراءات فلا يؤلف فيها، ويكون مؤلفه " الوحيد " كتاباً جغرافياً؟ لماذا - وهذا الكتاب من أبرز ما يمثل جهده - لم تذكره الكتب التي ترجمت له؟

7 - كل هذه التساؤلات التي أثرناها تضعنا في حيرة إزاء العلاقة بين ابن عبد المنعم و " الروض المعطار ". ومما يجعل هذا الموقف أشد عسراً أن كل محاولة لمعرفة مؤلف الروض من خلال كتابه - عدا تلك الإشارات الصغيرة العامة التي ألمحت إليها من قبل - تبوء بالإخفاق الذريع: لنأخذ الحقيقة الأولى وهي أن المؤلف سبتي: فماذا نجد؟ ليس حديثه عن سبتة إلا من خلال الآخرين، فإنه ينقل ما يقوله الإدريسي وصاحب " الاستبصار " وليس لديه كلمة واحدة - من عند نفسه - يقولها في سبتة. أما اهتمامه بأبي العباس الينشتي (1) الذي استقل في سبتة في أواخر عصر الموحدين فإنه لا يختلف عن اهتمامه بأحداث القرن السابع جملة، وهو شيء يرجع الفضل فيه - فيما اعتقد - إلى المصدر الذي اعتمده لا إلى معرفته الذاتية العيانية.

وهل يعقل أن يقول ابن سبتة المغربي وهو يتحدث عن " سلا " (المدينة الواقعة إلى جانب الرباط) ثم عن " سلى " التي في بلاد السودان: " ولا أدري هل هذه سلا التي ذكر أنها على ضفة البحر " ثم يذكر بعد قليل أن هذه " سلى " - الثانية - " من عمالة التكروري "؟ أقول: هل يعقل أن لا يعرف بأن سلا الواقعة في منطقة الدولة المرينية ليست هي الواقعة في عمالة التكروري؟ ومثل ذلك أن يقول في " الزهراء ": " مدينة في غربي قرطبة؟ كذا قالوا، ولا أدري أهي الزاهرة المتقدمة الذكر أو غيرها ". ربما كانت المدينتان في عصره قد اندثرتا، ولكن أليس يدل هذا على أن معلوماته التاريخية - حتى عند الأندلس - كانت قاصرة، وأن المقري كان مخطئاً حين تصور أن رب البيت أدرى بالذي فيه، إذ كان قد فصل بين الماضي والحاضر عندئذ مضيق متباعد العبرين، أوسع بكثير من بحر الزقاق.

8 - وليس في كتاب الروض ما يشارف مطالع القرن الثامن - أو يتعداها قليلاً - إلا حادثتان: الأولى في مادة " أيلة " حيث جاء " ثم أصلحها السلطان [الأشرف قانصوه الغوري آخر ملوك الجراكسة من جملة ما أصلح في طريق الحجاج في أواخر عمره قبل العشرين والسبعمائة] والثانية في مادة " لوجارة " حين تحدث عمن بقي من المسلمين بها ثم قال: " وآل أمرهم في هذا العهد القريب إلى أن أجلاهم عنها صاحب صقلية الآن ". وقد بين الأستاذ رتزيتانو أن ذلك الإجلاء قد تم على يد الملك شارل الثاني سنة 700.

وحين نقف عند هاتين الروايتين نجد أن العبارة الأولى وردت مبتورة في نسخة بيرم باشا، كاملة في نسخة الشيخ محمد نصيف؛ وهي إلى ذلك قد تضمنت هفوة جسيمة: إذ كيف يكون قانصوه

--------------------------------------------

(1) انظر مادة " ينشته " في الكتاب.
'মাআরিফ' গ্রন্থে [গ্রন্থকার] দেশসমূহের বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত হওয়ার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছেন; অতঃপর, এটা কি সম্ভব যে তিনি ভাষা, ব্যাকরণ ও কিরাতশাস্ত্রে তাঁর পারদর্শিতাকে উপেক্ষা করবেন এবং সেগুলোতে কোনো গ্রন্থ রচনা করবেন না, অথচ তাঁর "একমাত্র" রচিত গ্রন্থটি হবে একটি ভৌগোলিক গ্রন্থ? কেন—যেখানে এই গ্রন্থটি তাঁর প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান নিদর্শনে—তাঁর জীবনীগ্রন্থসমূহে এর উল্লেখ পাওয়া যায় না?

৭ - আমাদের উত্থাপিত এই সমস্ত প্রশ্ন ইবনে আবদিল মুনইম এবং "আর-রাওদ আল-মিতার"-এর মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে আমাদের বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এই বিষয়টি যে, তাঁর গ্রন্থে থাকা সামান্য ও সাধারণ কিছু ইঙ্গিত—যা আমি আগে উল্লেখ করেছি—ছাড়া গ্রন্থের মাধ্যমেই 'আর-রাওদ'-এর লেখককে জানার প্রতিটি প্রচেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়: প্রথম সত্যটি বিবেচনা করা যাক, আর তা হলো—লেখক সাবতীর (সাবতা শহরের অধিবাসী): কিন্তু আমরা সেখানে কী দেখতে পাই? সাবতা সম্পর্কে তাঁর আলোচনা কেবল অন্যদের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ; কেননা তিনি ইদরিসি এবং 'আল-ইস্তিবসার' গ্রন্থের লেখকের কথাগুলোই উদ্ধৃত করেছেন, অথচ সাবতা সম্পর্কে তাঁর নিজের থেকে বলার মতো একটি শব্দও নেই। আর আবুল আব্বাস আল-ইনাশতি (১)-এর প্রতি তাঁর আগ্রহ, যিনি মুওয়াহহিদুন যুগের শেষের দিকে সাবতায় স্বাধীনভাবে অবস্থান করতেন, তা সামগ্রিকভাবে সপ্তম শতাব্দীর ঘটনাবলির প্রতি তাঁর আগ্রহের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। আমার বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি তাঁর নিজস্ব প্রত্যক্ষ জ্ঞানের পরিবর্তে তাঁর ব্যবহৃত উৎসের ওপরই বেশি নির্ভর করে।

আর মাগরিবি সাবতার অধিবাসী হয়ে তিনি যখন "সালা" (রিবাতের পাশে অবস্থিত শহর) এবং এরপর সুদানের "সালা" সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কি এ কথা বলা যুক্তিসঙ্গত যে: "আমি জানি না এটি সেই সালা কি না যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে তা সমুদ্রতীরে অবস্থিত," এরপর কিঞ্চিৎ পরেই উল্লেখ করেন যে এই—দ্বিতীয়—"সালা"টি হলো "তাকরুর অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত"? আমি বলছি: এটা কি যুক্তিসঙ্গত যে তিনি জানবেন না মারিনি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত সালা এবং তাকরুর অঞ্চলের সালা এক নয়? অনুরূপভাবে "আয-যাহরা" সম্পর্কে তাঁর এই উক্তি: "কুরতুবার পশ্চিমে একটি শহর? তারা এমনই বলেছে, তবে আমি জানি না এটি কি পূর্বে উল্লিখিত আয-যাহিরা নাকি অন্য কিছু।" সম্ভবত তাঁর সময়ে শহর দুটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এটি কি প্রমাণ করে না যে তাঁর ঐতিহাসিক তথ্যসমূহ—এমনকি আন্দালুস সম্পর্কেও—অসম্পূর্ণ ছিল? এবং আল-মাক্কারি কি ভুল ছিলেন না যখন তিনি মনে করেছিলেন যে ঘরের অধিবাসীই ঘরের খবর ভালো জানে? কারণ তখন অতীত ও বর্তমানের মধ্যে দুই তীরের দূরত্বের মতো এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছিল, যা জু-যাকাক প্রণালীর চেয়েও অনেক বেশি প্রশস্ত ছিল।

৮ - 'আর-রাওদ' গ্রন্থে অষ্টম শতাব্দীর শুরু বা তার সামান্য পরবর্তী সময়ের নির্দেশক মাত্র দুটি ঘটনা ছাড়া আর কিছু নেই: প্রথমটি "আইলা" ভুক্তিতে যেখানে এসেছে "অতঃপর সুলতান এটি সংস্কার করেন [তিনি হলেন আশরাফ কানসুহ আল-ঘাওরি, যিনি সার্কাসিয়ান রাজবংশের শেষ রাজা। তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিকে সাতশ বিশ সালের আগে হাজীদের রাস্তার যা কিছু সংস্কার করেছিলেন তার অংশ হিসেবে এটিও সংস্কার করেন]"; দ্বিতীয়টি "লুজারাহ" ভুক্তিতে যখন তিনি সেখানে অবশিষ্ট মুসলমানদের সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন: "নিকট অতীতে তাদের পরিণাম এই হয়েছিল যে, বর্তমান সিসিলির অধিপতি তাদের সেখান থেকে বহিষ্কার করেছেন।" অধ্যাপক রিজিটানো স্পষ্ট করেছেন যে, সেই বহিষ্কার রাজা দ্বিতীয় চার্লসের হাতে ৭০০ হিজরি সনে সম্পন্ন হয়েছিল।

যখন আমরা এই দুটি বর্ণনার দিকে লক্ষ্য করি, তখন দেখতে পাই যে প্রথম বাক্যটি বাইরাম পাশা পাণ্ডুলিপিতে অসম্পূর্ণভাবে এবং শেখ মুহাম্মদ নাসিফ পাণ্ডুলিপিতে পূর্ণাঙ্গভাবে এসেছে; উপরন্তু এতে একটি গুরুতর ত্রুটি রয়েছে: কারণ কানসুহ কীভাবে হতে পারেন...

--------------------------------------------

(১) গ্রন্থের "ইনাশতাহ" ভুক্তিটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৮)
الغوري آخر ملوك الجراكسة في حدود سنة 720 ونحن نعلم أنه توفي سنة 922؟ إذن هنا يجب أن نقف عند الخطأ التقليدي للنساخ حين يضعون سبعمائة بدل تسعمائة (أو العكس) ونقول: الصواب " قبل سنة 920 " وإما أن نعتقد أن اسم قانصوه الغوري وقع سهواً في موضع الناصر محمد الذي أصلح طريق العقبة فعلاً قبل سنة 720 (كان ذلك سنة 719) ؛ قال ابن تغري بردي: " وفي هذه السنة (أي 719) مهد السلطان ما كان في عقبة أيلة من الصخور ووسع طريقها حتى أمكن سلوكها بغير مشقة، وأنفق على ذلك جملاً مستكثرة " (1) . وأي الفرضين اخترنا وجدنا أن الإشارة إلى هذه الحادثة لا يمكن أن تكون من عمل المؤلف، فلو قلنا أن قانصوه الغوري وقع سهواً بدلاً من الناصر محمد لكانت هذه الهفوة من عمل إنسان آخر عاش حتى عرف من هو قانصوه الغوري؛ ولو قلنا أن التاريخ الصحيح هو سنة 920 لكان ذلك تجاوزاً لأقصى تاريخ حددته المصادر لوفاة ابن عبد المنعم، وهو سنة 900 كما جاء عند حاجي خليفة، وعلى كلتا الحالين نجد أنفسنا إزاء عبارة مقحمة لا دخل لابن عبد المنعم بها، وهي تتعارض من حيث الزمن مع كون الروض المعطار مصدراً للقلقشندي المتوفى سنة 821 - كما تقدم القول - وسيزداد رفضنا لها عندما نناقش العبارة الثانية التي تدور حول إجلاء المسلمين من لوجارة:

فهذه العبارة الثانية أقوى من سابقتها بكثير، وليس من المستبعد أن تكون الإشارة فيها إلى تلك الحادثة من صنيع المؤلف نفسه، وكان الذي حدا بالأستاذ رتزيتانو إلى ربطها بعام 700 شيئان: وقوع الحادثة حسب المصادر الأخرى سنة 700 وورد عبارة " هذا العهد القريب " ولفظة " الآن " فيها، (وما دام ابن حجر في الدرر يحدد وفاة المؤلف بعام 727 فلا مانع إذن من هذا الربط) وما دامت المصادر الموثوقة قد تحدثت عن حدوث ذلك الجلاء عام 700، فمن المغالاة أن نحيطها بالشك، خصوصاً وأن التاريخ المذكور، يمكن أن يشير إليه مؤلف طعن في القرن الثامن بعدة سنوات. ولكن أحب أن أشير إلى أن لفظة " الآن " لا تعني المعاصرة أبداً لدى صاحب الروض، فإنه إذا وجدها عند مؤلف سابق أبقاها على حالها، فإذا لم ينتبه القارئ لهذه الحقيقة جاءت مضللة. مثال ذلك قوله في مادة (طيبة) : وهي الآن عليها سور حصين منيع من التراب بناه قسيم الدولة الغزي؟ " وهذا كلام الإدريسي حرفياً؛ وذلك يكفي في تبيين نقل المؤلف عمن سبقه دون تصرف، فقد ورد هذا في غير موضع من كتابه؛ فإذا كانت عبارة " هذا العهد القريب " ذات معنى، فإنها تعني القرب من أوائل القرن الثامن، وهي بذلك تنفي الحديث الذي جاء في العبارة الأولى عن قانصوه الغوري وإصلاحه طريق العقبة قبل سنة 920.

9 - إذن، ليس هناك من الناحية الزمنية، ما يعطل نسبة الروض المعطار إلى ابن عبد المنعم الحميري، وإن لم يحاول فيه أن يبرز موقفه، من ناحية الأحداث، أو منتماه السبتي (أو المغربي

--------------------------------------------

(1) انظر النجوم الزاهرة 9: 60 أما عن صلة قانصوه الغوري بإصلاح طريق العقبة فانظر بدائع الزهور لابن اياس 4:133، 152؛ 5:95 (ط. القاهرة: 1961) .
আল-গাউরি হলেন সারকাসীয় রাজাদের শেষ রাজা ৭২০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে, অথচ আমরা জানি যে তিনি ৯২২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন? সুতরাং, এখানে আমাদের পাণ্ডুলিপি লেখকদের সেই প্রথাগত ভুলের বিষয়ে থামা উচিত যখন তারা নয়শোর পরিবর্তে সাতশো (বা এর উল্টোটা) বসিয়ে দেন; এবং আমাদের বলা উচিত: সঠিক হলো "৯২০ হিজরির আগে"। অথবা আমাদের এটা বিশ্বাস করতে হবে যে, কানসুহ আল-গাউরির নামটি ভুলবশত আন-নাসির মুহাম্মাদের স্থলে বসে গেছে, যিনি প্রকৃতপক্ষে ৭২০ হিজরির আগে (এটি ছিল ৭১৯ হিজরিতে) আকাবার রাস্তা সংস্কার করেছিলেন; ইবনে তাগরি বিরদি বলেন: "এই বছরে (অর্থাৎ ৭১৯ হিজরিতে) সুলতান আয়লার আকাবার পাথরসমূহ মসৃণ করেন এবং এর পথ প্রশস্ত করেন যাতে কোনো কষ্ট ছাড়াই তা অতিক্রম করা সম্ভব হয়, আর এর জন্য তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন।" (১)। আমরা এই দুটি ধারণার মধ্যে যেটিই গ্রহণ করি না কেন, আমরা দেখতে পাই যে এই ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা লেখকের কাজ হতে পারে না। যদি আমরা বলি যে কানসুহ আল-গাউরি নামটি আন-নাসির মুহাম্মাদের পরিবর্তে ভুলবশত এসেছে, তবে এই ভুলটি এমন অন্য কোনো ব্যক্তির কাজ হতে পারে যিনি কানসুহ আল-গাউরি কে ছিলেন তা জানার সময় পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন; আর যদি আমরা বলি যে সঠিক তারিখটি ৯২০ হিজরি, তবে তা ইবনে আবদ আল-মুনইমের ইন্তেকালের জন্য উৎসসমূহে নির্ধারিত সর্বশেষ সময়সীমাকেও অতিক্রম করে যায়, যা হাজি খলিফার মতে ৯০০ হিজরি। উভয় ক্ষেত্রেই আমরা নিজেদের এমন এক প্রক্ষিপ্ত বাক্যের সম্মুখীন পাই যার সাথে ইবনে আবদ আল-মুনইমের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সময়ের দিক থেকে 'আর-রওদ আল-মিতার' গ্রন্থটি ৮২১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আল-কালকাশান্দির জন্য উৎস হওয়ার বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক - যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে - এবং এই বিষয়ের প্রতি আমাদের অস্বীকৃতি আরও বেড়ে যাবে যখন আমরা লুজারাহ থেকে মুসলমানদের বিতাড়ন সংক্রান্ত দ্বিতীয় বাক্যটি নিয়ে আলোচনা করব:

এই দ্বিতীয় বাক্যটি আগেরটির তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। এতে সেই ঘটনার প্রতি ইঙ্গিতটি খোদ লেখকের নিজস্ব রচনা হওয়া অসম্ভব নয়। উস্তাদ রিজিতানো একে ৭০০ সালের সাথে সম্পৃক্ত করার পেছনে দুটি বিষয় কাজ করেছে: অন্যান্য উৎস অনুযায়ী ঘটনাটি ৭০০ হিজরিতে ঘটা এবং এতে "এই নিকট অতীত" ও "এখন" শব্দটির ব্যবহার (যেহেতু ইবনে হাজার 'আদ-দুরার' গ্রন্থে লেখকের ইন্তেকাল ৭২৭ হিজরি নির্ধারণ করেছেন, তাই এই সম্পৃক্তকরণে কোনো বাধা নেই)। যেহেতু নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ ৭০০ হিজরিতে সেই বিতাড়ন ঘটার কথা বলেছে, তাই একে সন্দেহের আবরণে ঢাকা অতিরঞ্জন হবে, বিশেষ করে যেহেতু উল্লিখিত তারিখটির দিকে এমন একজন লেখক ইঙ্গিত করতে পারেন যিনি অষ্টম হিজরি শতকের বেশ কয়েক বছর পার করেছিলেন। কিন্তু আমি এই দিকে ইঙ্গিত করতে চাই যে, "এখন" শব্দটি 'রওদ' গ্রন্থের লেখকের কাছে সমসাময়িকতা বোঝায় না। তিনি যদি পূর্ববর্তী কোনো লেখকের বর্ণনায় এটি পান, তবে তিনি তা মূল অবস্থাতেই রেখে দেন। যদি পাঠক এই সত্যটি খেয়াল না করেন তবে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এর উদাহরণ হলো 'তাইবাহ' অনুচ্ছেদে তাঁর কথা: "আর এখন এর ওপর মাটির তৈরি একটি সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর রয়েছে যা কাসিম আদ-দাওলা আল-গাজি নির্মাণ করেছেন।" এটি হুবহু আল-ইদ্রিসির বক্তব্য; লেখকের পূর্ববর্তীদের থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই উদ্ধৃত করার বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য এটিই যথেষ্ট, কারণ তাঁর বইয়ের একাধিক স্থানে এটি এসেছে। সুতরাং যদি "এই নিকট অতীত" কথাটির কোনো অর্থ থাকে, তবে তা অষ্টম হিজরি শতকের শুরুর দিকের নৈকট্যকে বোঝায়, আর এর মাধ্যমে প্রথম বাক্যে কানসুহ আল-গাউরি এবং ৯২০ হিজরির আগে তাঁর আকাবার রাস্তা সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনার অসারতা প্রমাণিত হয়।

৯ - সুতরাং, সময়ের দিক থেকে ইবনে আবদ আল-মুনইম আল-হিমইয়ারির দিকে 'আর-রওদ আল-মিতার'-এর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করার মতো কোনো কারণ নেই, যদিও তিনি এতে ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান বা তাঁর সাবতি (বা মাগরিবি) পরিচয় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেননি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আন-নুজুম আজ-জাহিরা ৯: ৬০। আর আকাবার রাস্তা সংস্কারের সাথে কানসুহ আল-গাউরির সম্পর্কের বিষয়ে দেখুন ইবনে ইয়াসের বাদায়িউজ জুহুর ৪:১৩৩, ১৫২; ৫:৯৫ (কায়রো সংস্করণ: ১৯৬১)।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৯)
بعامة) ، أو مشاهدته الخاصة لبلد ما، ولو كان هذا البلد هو سبتة نفسها، أو علاقاته الشخصية ببعض الناس المقاربين لعصره أو المعاصرين له. إننا لن نجد إنساناً شديد الحرص على إنكار ذاته، كما نجد الحميري، وكأنه يقول بلسان الحال: أريد أن أرتب معجماً جغرافياً، معتمداً في ذلك على الانتقاء من عدد من المصادر، دون أن يكون لي أي رأي ذاتي أو عرض لتجربة خاصة.

‌‌كتاب الروض المعطار

‌‌1 - اسم الكتاب

ورد اسمه في المخطوطتين المعتمدتين: " الروض المعطار في خبر الأقطار " وكذلك ذكرته المخطوطات التي راجعها بروفنسال، وذكر في طبعة فلوجل من كشف الظنون مرة باسم " الروض المعطار في أخبار الأقطار " (1) ومرة أخرى باسم " روض المعطار في خبر الأقطار ". وحين نقل عنه صاحب نفح الطيب جعل اسمه " الروض المعطار في ذكر الأقطار "؛ وواضح أن التسمية التي اتفقت عليها المخطوطات هي الوجه الأرجح.

‌‌2 - خطة المؤلف في كتابه

بين المؤلف في مقدمة كتابه حدود الخطة التي ألتزمها في تأليفه، فقد أراد أن يصنع معجماً جغرافياً مرتباً على حروف ليسهل على الطالب كشف اسم الموضع الذي يريده؛ ولما كان استقصاء المواضع جميعاً أمراً عسيراً، فقد وضع نصب عينيه:

(1) أن يكون المكان مشهوراً.

(2) أن يكون مما اتصل به " قصة أو حكمة أو خبر طريف أو معنى مستملح مستغرب ".

ولهذا فهو يعدل عن ذكر الأمكنة الغريبة التي لا تتعلق بذكرها فائدة أو خبر يحسن إيراده. ومعنى ذلك أنه يريد من كتابه أن يكون معجماً جغرافياً تاريخياً - جغرافياً يصف الأقطار وما تتميز به، وتاريخياً بذكر الأخبار والوقائع المتصلة بتلك البلدان. وقد قاس كتابه إلى كتاب " نزهة المشتاق " فوجده أكثر فائدة، لأن نزهة المشتاق يوجز حتى في وصف البلدان، ويكثر القول في ذكر المسافات، ولا يهتم كثيراً بالأحداث التاريخية، وليس فيه إيراد لما يستملح أو يستغرب إلا في مواطن قليلة.

كذلك فإن الحميري جعل الإيجاز - أو حاول أن يجعله - أساس خطته في ذلك الكتاب.

--------------------------------------------

(1) في طبعة استانبول من كشف الظنون: 920 (الروض المعطار في أخبار الأقطار " الأمصار ") على أن تحل إحدى اللفظتين الأخيرتين محل الأخرى.
সাধারণভাবে), অথবা কোনো নির্দিষ্ট দেশ সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, এমনকি সেই দেশটি যদি স্বয়ং সাবতাই হয়, অথবা তাঁর সমসাময়িক বা তাঁর যুগের কাছাকাছি সময়ের কিছু ব্যক্তির সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক। আমরা আল-হিমইয়ারীর মতো নিজের সত্তাকে আড়াল করার ব্যাপারে এতটা সচেষ্ট কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে পাব না; তিনি যেন তাঁর অবস্থার জবানিতে বলছেন: আমি বেশ কিছু উৎস থেকে নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে একটি ভৌগোলিক অভিধান বিন্যস্ত করতে চাই, যেখানে আমার নিজস্ব কোনো অভিমত থাকবে না বা কোনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপস্থাপন থাকবে না।

‌‌কিতাবুর রওদুল মিতার

‌‌১ - কিতাবের নাম

নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি দুটিতে এর নাম এসেছে: "আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার"; একইভাবে প্রোভেনসাল কর্তৃক পর্যালোচিত পাণ্ডুলিপিগুলোতেও এটি উল্লেখ করা হয়েছে। কাশফুজ জুনুনের ফ্লুগেল সংস্করণে একবার "আর-রওদুল মিতার ফী আখবারিল আকতার" (১) নামে এবং অন্যবার "রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার" নামে উল্লিখিত হয়েছে। আর নাফহুত তীব-এর লেখক যখন এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তখন এর নাম দিয়েছেন "আর-রওদুল মিতার ফী জিকরিল আকতার"; এটা স্পষ্ট যে, পাণ্ডুলিপিগুলো যে নামকরণের ব্যাপারে একমত হয়েছে সেটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য।

‌‌২ - কিতাবে লেখকের কর্মপরিকল্পনা

লেখক তাঁর কিতাবের ভূমিকায় সেই কর্মপরিকল্পনার সীমা বর্ণনা করেছেন যা তিনি এটি রচনার ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন। তিনি চেয়েছিলেন বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত একটি ভৌগোলিক অভিধান তৈরি করতে, যাতে শিক্ষার্থীর জন্য তাঁর কাঙ্ক্ষিত স্থানের নাম খুঁজে বের করা সহজ হয়। যেহেতু সমস্ত স্থানের বিস্তারিত অনুসন্ধান করা একটি কঠিন কাজ ছিল, তাই তিনি নিচের বিষয়গুলোকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন:

(১) স্থানটি যেন প্রসিদ্ধ হয়।

(২) স্থানটির সাথে যেন কোনো "গল্প বা প্রজ্ঞা অথবা কোনো চমকপ্রদ খবর বা চমৎকার ও বিরল কোনো অর্থ" জড়িত থাকে।

এ কারণে তিনি এমন সব অপরিচিত স্থানের উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন যেগুলোর বর্ণনায় কোনো বিশেষ উপকার নেই বা এমন কোনো খবর নেই যা উল্লেখ করা সমীচীন। এর অর্থ হলো তিনি চেয়েছিলেন তাঁর কিতাবটি যেন একটি ভৌগোলিক-ঐতিহাসিক অভিধান হয়—ভৌগোলিক দিক থেকে এটি দেশসমূহের বর্ণনা ও তাদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরবে, আর ঐতিহাসিক দিক থেকে এটি ঐসব জনপদ সংশ্লিষ্ট সংবাদ ও ঘটনাবলি বর্ণনা করবে। তিনি তাঁর কিতাবটিকে "নুযহাতুল মুশতাক" কিতাবের সাথে তুলনা করে একে অধিকতর উপকারী হিসেবে পেয়েছেন; কারণ নুযহাতুল মুশতাক কিতাবে দেশসমূহের বর্ণনার ক্ষেত্রেও সংক্ষেপ করা হয়েছে এবং দূরত্বের বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে, আর এটি ঐতিহাসিক ঘটনাবলির প্রতি খুব একটা গুরুত্ব প্রদান করেনি এবং এতে বিরল বা চমৎকার বিষয়ের অবতারণা খুব কম জায়গাতেই রয়েছে।

একইভাবে হিমইয়ারী এই কিতাবে সংক্ষেপণকে তাঁর পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন—অথবা করার চেষ্টা করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) কাশফুজ জুনুনের ইস্তাম্বুল সংস্করণে: ৯২০ (আর-রওদুল মিতার ফী আখবারিল আকতার "আল-আমসার"), তবে শেষ শব্দ দুটির একটি অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد كان الحميري وفياً لجانب كبير من هذه الخطة، فهو حقاً قد صنف معجماً جغرافياً تاريخياً، (أو إن شئت فقل معجماً تاريخياً جعلت الجغرافيا مدخلاً إليه) مرتباً على حروف المعجم، حسب ترتيبها المشرقي، ولا ندري لم اتبع هذا الترتيب مع أنه في داخل الحرف الواحد، حاول أن يتمشى على الترتيب المغربي، (هل يمكن أن نفترض أن النساخ المشارقة أعادوا ترتيبه على النحو الذي يألفونه؟) ثم هو أضرب عن ذكر عدد كبير جداً من البلدان، وحاول في الأغلب أن يكون ما يذكره مشهوراً متصلاً بحادثة أو قصة أو معنى مستملح مستغرب ولكنه إلى جانب ذلك ذكر أماكن لا شهرة لها. ولا يتعلق ذكرها بخبر طريف أو غريب؛ وربما لم يزد التعريف بها عن سطر أو سطرين، وكثيراً ما خرج من حيز الخبر المستطرف إلى الخبر العجيب، وغلبت عليه الروح " العجائبية " التي ظلت ترافق كثيراً من الجغرافيين في شتى العصور؛ أما مقايسته كتابه بنزهة المشتاق فإنها مقايسة في غير موضعها، لأن الإدريسي اقتصر إلى حد كبير على " المفهوم الجغرافي " وحاول أن يقلل ما استطاع من الشؤون العجائبية، ولذا فإن الحميري حاول أن يفرض مفهوماً جديداً هو مفهوم " المتعة والعبرة "، وذلك ربما كان في أكثر خارجاً عن مفهوم مؤلف مثل الاصطخري والحوقلي والإدريسي.

أما قضية الإيجاز فربما كان فرضها خطأ منذ البداية لأن من شاء أن " يمتع " القراء بالأخبار لا يستطيع دائماً أن يتحكم في إيرادها، وفي مرات أحس ابن عبد المنعم أنه يتجاوز حدود الإيجاز فاعتذر عن ذلك (كما فعل في مادة الزلاقة والأندلس) ؛ ولكنه لم يحاول أن يوجز حين تحدث عن إرم والأهرام وسرد قصة بعض الفتوحات في صدر الإسلام أو حين تحدث عن حرب البسوس ومعركة ذي قار. كما أن قاعدة الإيجاز اختلت لديه لأسباب أخرى منها:

1 - عدم سبكه المادة المنقولة من مصادر جغرافية مختلفة، وإنما هو يوردها تباعاً، وقد يكون المنقول عن البكري مثلاً تكراراً - بأسلوب آخر - لما سبق أن نقله عن الإدريسي أو عن الاستبصار.

2 - تكراره المعلومات الواحدة في مادتين مختلفتين، ما يصلح أن يكتب في مادة " الدامغان " قد يعاد نصاً من مادة " الزرادة " يجيء لبعض ما ذكر في مادة " جنابا ".

3 - تكراره ذكر الموضع الواحد لأن اسم البلد ورد في شكلين مختلفين مثل: لياج - الياج، طرابنش - أطرابنش؛ وشقة - وشكة، وهكذا.

ثم إن تأليف معجم جغرافي مرتب على حروف المعجم لم يكن بالنسبة لابن عبد المنعم الذي لم يرحل ولم يكتب عن مشاهدة - أو حتى عن سماع - محوطاً بكثير من التوفيق، فقد ضخم الترتيب الهجائي من أخطائه - وهي أخطاء لا يمكن أن تظهر بهذا الوضوح في مؤلف جغرافي عام، لأنها تحمل على الناسخ في الأغلب لا على المؤلف، غير أنها تظهر واضحة في معجم مرتب على حروف الهجاء وقد كان الحميري يعتمد في تصنيفه على الكتب، وكان يقرأ اسم البلد حسبما
আল-হিময়ারী এই পরিকল্পনার একটি বড় অংশের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি একটি ভৌগোলিক-ঐতিহাসিক অভিধান সংকলন করেছেন (অথবা আপনি চাইলে একে একটি ঐতিহাসিক অভিধান বলতে পারেন যেখানে ভূগোলকে প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে), যা বর্ণানুক্রমিকভাবে মাশরিকী বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো। আমরা জানি না কেন তিনি এই বিন্যাস অনুসরণ করেছেন, যদিও প্রতিটি বর্ণের অভ্যন্তরে তিনি মাগরিবী বিন্যাস অনুযায়ী চলার চেষ্টা করেছেন। (আমরা কি ধারণা করতে পারি যে মাশরিকী লিপিকারগণ এটিকে তাদের পরিচিত পদ্ধতিতে পুনর্গঠন করেছেন?) অধিকন্তু, তিনি অনেক দেশের নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন এবং সাধারণত এমন সব স্থান উল্লেখ করার চেষ্টা করেছেন যা বিখ্যাত এবং কোনো ঘটনা, গল্প বা কোনো চমৎকার ও অদ্ভুত বিষয়ের সাথে যুক্ত। তবে এর পাশাপাশি তিনি এমন কিছু স্থানের নামও উল্লেখ করেছেন যার কোনো প্রসিদ্ধি নেই এবং সেগুলোর উল্লেখ কোনো মুখরোচক বা অদ্ভুত সংবাদের সাথেও সংশ্লিষ্ট নয়; হয়তো সেগুলোর পরিচিতি এক বা দুই লাইনের বেশি নয়। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি আনন্দদায়ক সংবাদের পরিধি থেকে বেরিয়ে বিস্ময়কর সংবাদের দিকে চলে গেছেন এবং তার ওপর সেই 'আজায়িবী' (বিস্ময়কর) মানসিকতা প্রবল ছিল যা বিভিন্ন যুগে অনেক ভূগোলবিদের চিরসাথি হয়ে ছিল। আর তার কিতাবকে 'নুযহাতুল মুশতাক'-এর সাথে তুলনা করাটা ছিল অপ্রাসঙ্গিক; কারণ আল-ইদরীসী নিজেকে বহুলাংশে 'ভৌগোলিক ধারণার' মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন এবং যতটা সম্ভব বিস্ময়কর বিষয়গুলো কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন। তাই আল-হিময়ারী 'আনন্দ ও শিক্ষা' নামক একটি নতুন ধারণা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন, যা সম্ভবত আল-ইসতাখরী, ইবনুল হাওকাল এবং আল-ইদরীসীর মতো লেখকদের চিন্তাধারার বাইরে ছিল।

সংক্ষিপ্তকরণের বিষয়টি হয়তো শুরু থেকেই ভুলভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কারণ যে ব্যক্তি সংবাদের মাধ্যমে পাঠকদের "আনন্দ" দিতে চান, তিনি সবসময় সংবাদ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন না। কয়েকবার ইবনে আব্দুল মুনিম অনুভব করেছেন যে তিনি সংক্ষিপ্তকরণের সীমা অতিক্রম করছেন, তাই তিনি এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন (যেমনটি তিনি আল-যাল্লাকা ও আল-আন্দালুস শিরোনামের আলোচনায় করেছেন); কিন্তু তিনি যখন ইরাম ও পিরামিড সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগের কিছু বিজয়াভিযান বা বাসুস যুদ্ধ ও যি-কার যুদ্ধ বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি সংক্ষিপ্ত করার কোনো চেষ্টা করেননি। এছাড়াও তার সংক্ষিপ্তকরণের নীতিটি আরও কিছু কারণে বিঘ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - বিভিন্ন ভৌগোলিক উৎস থেকে সংগৃহীত উপাদানগুলোকে সুবিন্যস্তভাবে সমন্বয় না করা, বরং তিনি সেগুলো পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করেছেন। যেমন আল-বাকরী থেকে যা উদ্ধৃত হয়েছে তা হয়তো আল-ইদরীসী বা আল-ইস্তিবসার থেকে পূর্বে সংগৃহীত তথ্যেরই—ভিন্ন আঙ্গিকে—পুনরাবৃত্তি মাত্র।

২ - একই তথ্য দুটি ভিন্ন শিরোনামে পুনরাবৃত্তি করা; যেমন 'দামগান' শিরোনামে যা লেখা হয়েছে, তা হয়তো 'যুরদাহ' শিরোনামে অবিকল পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে যা 'জানাবা' শিরোনামে উল্লেখিত তথ্যেরই অংশ বিশেষ।

৩ - একই স্থানের নাম দুবার উল্লেখ করা, কারণ দেশটির নাম দুটি ভিন্ন রূপে এসেছে। যেমন: লিয়াজ - আল-ইয়াজ, তরাবানেশ - আতরাবানেশ; শাক্কাহ - শাক্কাহ ইত্যাদি।

অধিকন্তু, বর্ণানুক্রমিকভাবে একটি ভৌগোলিক অভিধান সংকলন করা ইবনে আব্দুল মুনিমের জন্য খুব একটা সফল ছিল না, কারণ তিনি দেশভ্রমণ করেননি এবং প্রত্যক্ষ দর্শন বা এমনকি শ্রুতির ভিত্তিতেও লেখেননি। বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস তার ভুলগুলোকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে—এই ভুলগুলো কোনো সাধারণ ভৌগোলিক গ্রন্থে এতোটা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না, কারণ সেগুলো সাধারণত লেখকের পরিবর্তে লিপিকারের ভুল হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো কোনো অভিধানে সেগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। আল-হিময়ারী তার সংকলনের ক্ষেত্রে বইপত্রের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং তিনি দেশের নাম সেভাবেই পড়তেন যেভাবে...
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১১)
يراه في المخطوط الذي لديه، دون أن يستطيع تمييز الخطأ من الصواب؛ فلم تضعف لديه الدقة الجغرافية لهذا وحده، بل لأنه كان يحاول أن يتجنب في السياق ذكر أسماء الأماكن والأنهار لئلا يقع في الخطأ، وكثيراً ما نجده إذا أعياه قراءة اسم شخص أو اسم بلدة وضع بدله " فلان " و " فلانة " ولا أظن أن هذا كان من عمل النساخ.

‌‌3 - مصادر الكتاب

لا يصرح الحميري باسم المصدر الذي ينقل عنه إلا في القليل النادر، وإذا انتقل من اقتباس إلى آخر، ابتدأ بلفظة تعميمية هي: " قالوا "؛ ومصادره متنوعة وإن لم تكن كثيرة، فهي جغرافية وتاريخية وأدبية.

ويبدو أنه كان يجهل المصادر الجغرافية المشرقية، وكل ما عنده عن كتاب البلدان لليعقوبي ربما كان بالواسطة؛ إلا أنه لا يعرف - قطعاً - ابن حوقل والاصطخري والمقدسي ومعجم ياقوت؛ ولهذا اقتصر في باب المعلومات الجغرافية على المصادر المغربية، ورغم تهوينه من شأن نزهة المشتاق للإدريسي، سيطر هذا الكتاب على معجمه سيطرة بالغة، حتى إن كثيراً من المواد لا تعدو أن تكون إعادة لما قاله الإدريسي. ومثل هذا موقفه من البكري، فقد اعتمد بإسراف على كتابيه " معجم ما استعجم " و " المسالك والممالك "، غير أنه في كثير من الأحيان يرتاح إلى كتاب " الاستبصار في عجائب الأمصار " إذا وجده يلتقي مع البكري في الحديث عن بلد واحد، وكثيراً ما ينقل عن الكتابين في المادة الواحدة، وبعد هذه المؤلفات الأربعة تجيء رحلة ابن جبير، غير أن الحميري لم يذكر مؤلف هذه الرحلة أبداً، وإنما أشار إليه مرة بقوله: قال بعضهم، ومرة ثانية بأنه أحد الأدباء.

أما المصادر التاريخية فلم تقتصر على مؤلفات المغاربة، وإن كانت هذه تيسرت الإفادة منها أقرب إلى الحميري، فقد أبدى في كثير من مواد كتابه إطلاعاً على سيرة ابن إسحاق كما هذبها ابن هشام، وقد يلتقي في أخبار الفتوح من تاريخ الطبري - على نحو حرفي أحياناً -، وكذلك مع كتاب فتوح الشام لمحمد بن عبد الله الأزدي البصري ولكني أعتقد أن مصدره المباشر هو كتاب المغازي لعبد الرحمن بن حبيش (- 584) (1) ، كما أن مصدره عن تباشير البعثة النبوية وعن حروب الردة لمؤلف مغربي أيضاً، وهو كتاب الاكتفاء في مغازي الرسول والثلاثة الخلفاء " لأبي الربيع الكلاعي. وهو مغرم بأخبار القرن السابع، وعلى وجه الخصوص بأخبار

--------------------------------------------

(1) ترجمته في التكملة لابن الأبار (رقم: 1617) والعبر للذهبي 4: 252 وشذرات الذهب 4: 280 وكتابه في المغازي وصف بأنه عدة مجلدات، وأن الناس كتبوه وتداولوه؛ ولم أطلع على هذا الكتاب ولكني وجدت مقارنة تقول الروض بالطبري أنها أقرب إلى ما يرمز إليه محققو تاريخ الطبري ب؟ (I.H) . وعند الاستقراء وجدت أن هذا الرمز يعني، نسخة ليدن من تاريخ ابن حبيش، ورقمها 343.
তিনি তাঁর নিকটস্থ পাণ্ডুলিপিতে যা দেখেন তা-ই গ্রহণ করেন, যেখানে ভুল ও শুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য করতে তিনি সক্ষম হন না। কেবল এই কারণেই তাঁর ভৌগোলিক নির্ভুলতা ক্ষুণ্ণ হয়নি, বরং তিনি প্রসঙ্গের মধ্যে স্থান ও নদ-নদীর নাম উল্লেখ করা এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করতেন যাতে ভুলের মধ্যে নিপতিত না হন। প্রায়শই আমরা দেখি যে, যখন তিনি কোনো ব্যক্তির নাম বা শহরের নাম পড়তে অক্ষম হতেন, তখন তার পরিবর্তে "অমুক" (পুরুষবাচক) বা "অমুক" (স্ত্রীবাচক) শব্দ বসিয়ে দিতেন; আর আমার মনে হয় না এটি লিপিকারদের কাজ ছিল।

‌‌৩ - গ্রন্থের উৎসসমূহ

আল-হিময়ারি খুব কম ক্ষেত্রেই সেই উৎসের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যেখান থেকে তিনি উদ্ধৃতি গ্রহণ করেন। যখন তিনি এক উদ্ধৃতি থেকে অন্য উদ্ধৃতিতে স্থানান্তরিত হন, তখন একটি সাধারণ শব্দ দিয়ে শুরু করেন, তা হলো: "তাঁরা বলেছেন"; তাঁর উৎসসমূহ বৈচিত্র্যময়, যদিও তা সংখ্যায় খুব বেশি নয়; সেগুলো ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক এবং সাহিত্যিক।

প্রতীয়মান হয় যে, তিনি প্রাচ্যের ভৌগোলিক উৎসসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন। আল-ইয়াকুবির 'কিতাবুল বুলদান' থেকে তাঁর কাছে যা কিছু আছে তা সম্ভবত কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে প্রাপ্ত। তবে তিনি ইবনে হাওকাল, আল-ইস্তাখরি, আল-মাকদিসি এবং ইয়াকুতের 'মুজাম' সম্পর্কে নিশ্চিতভাবেই জানতেন না। এই কারণে তিনি ভৌগোলিক তথ্যের ক্ষেত্রে কেবল মাগরিবী (পাশ্চাত্য) উৎসসমূহের ওপরই সীমাবদ্ধ ছিলেন। আল-ইদ্রিসির 'নুজহাতুল মুশতাক' গ্রন্থটির গুরুত্ব তিনি কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করলেও, তাঁর এই অভিধানের ওপর গ্রন্থটির ব্যাপক প্রভাব বিদ্যমান, এমনকি অনেক বিষয়বস্তু আল-ইদ্রিসি যা বলেছেন তারই পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছু নয়। আল-বকরির ব্যাপারেও তাঁর অবস্থান অনেকটা একই রকম; তিনি আল-বকরির 'মুজাম মা ইস্তাজাম' এবং 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' গ্রন্থদ্বয়ের ওপর অত্যধিক নির্ভর করেছেন। তবে অনেক সময় তিনি 'আল-ইসতিবসার ফি আজায়িবিল আমসার' গ্রন্থের প্রতি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন যদি তিনি দেখেন যে কোনো একটি দেশ সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে এটি আল-বকরির সাথে মিলে যাচ্ছে। প্রায়শই তিনি একই বিষয়ের ওপর উভয় গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেন। এই চারটি রচনার পর ইবনে জুবায়েরের 'রিহলা' (ভ্রমণকাহিনী)-এর স্থান আসে, তবে আল-হিময়ারি এই ভ্রমণকাহিনীর লেখকের নাম কখনো উল্লেখ করেননি; বরং একবার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তাদের কেউ কেউ বলেছেন", এবং দ্বিতীয়বার বলেছেন যে তিনি "একজন সাহিত্যিক"।

আর ঐতিহাসিক উৎসসমূহ কেবল মাগরিবী লেখকদের রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, যদিও এগুলো থেকে উপকৃত হওয়া আল-হিময়ারির জন্য সহজতর ছিল। তিনি তাঁর গ্রন্থের অনেক জায়গায় ইবনে হিশাম কর্তৃক সম্পাদিত ইবনে ইসহাকের সীরাতের ওপর অগাধ পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করেছেন। ফুতুহ বা বিজয় সংক্রান্ত বর্ণনায় তিনি তাবারির ইতিহাসের সাথে মিলে যান—কখনো কখনো হুবহু একইভাবে। তদ্রূপ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আজদি আল-বাসরির 'ফুতুহুশ শাম' গ্রন্থের সাথেও তাঁর মিল পাওয়া যায়। তবে আমি মনে করি তাঁর প্রত্যক্ষ উৎস হলো আবদুর রহমান বিন হুবাইশ (মৃত: ৫৮৪)-এর 'কিতাবুল মাগাজি' (১)। একইভাবে নবী করীম (সা.)-এর নবুওয়াতের শুভ সূচনা এবং রিদ্দার যুদ্ধ সম্পর্কে তাঁর উৎসটিও একজন মাগরিবী লেখকের, সেটি হলো আবুল রাবি আল-কালাই-এর 'আল-ইকতিফা ফি মাগাজির রাসূল ওয়াস সালাসাহ আল-খুলাফা'। তিনি সপ্তম হিজরি শতাব্দীর ঘটনাবলির প্রতি বিশেষ অনুরাগী, বিশেষ করে...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী ইবনুল আব্বারের 'আত-তাকমিলা' (নং: ১৬১৭), আয-যাহাবীর 'আল-ইবার' ৪: ২৫২ এবং 'শাযারাতুয যাহাব' ৪: ২৮০-তে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর মাগাজি বিষয়ক গ্রন্থটি কয়েক খণ্ডের বলে বর্ণনা করা হয়েছে এবং মানুষ তা অনুলিপি করেছে ও আদান-প্রদান করেছে; আমি এই গ্রন্থটি দেখিনি কিন্তু আমি একটি তুলনা পেয়েছি যেখানে বলা হয়েছে যে, 'আর-রাওদ' তাবারির সাথে এমনভাবে সম্পর্কিত যা তাবারির ইতিহাসের গবেষকগণ (I.H) প্রতীক দ্বারা যা নির্দেশ করেছেন তার নিকটবর্তী। অনুসন্ধানে আমি পেয়েছি যে, এই প্রতীকটি ইবনে হুবাইশের ইতিহাসের লাইডেন পাণ্ডুলিপিকে বোঝায়, যার নম্বর ৩৪৩।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১২)
الموحدين في المغرب والأندلس، وأخبار الغزو التتري لمدة المشرق. ولا ريب أن مصدر النوع الأول من الأخبار مغربي، وإن لم تسمح مصادرنا بتعيينه، وكذلك لم استطع تعيين المصدر الذي استمد منه أخباره عن التتر. ولديه اهتمام بارز أيضاً عن تلك الطريق - أعني من خلال البكري، وإن كانت نقوله عن مروج الذهب - في الأخبار التاريخية لا في الحديث عن البحار والجزر وما فيها من عجائب - توحي لدى المقارنة بأنها مأخوذة رأساً - لا بالواسطة - عن ذلك الكتاب - فأما فيما يتعلق بالحديث عن عجائب البحار وعن بعض الجزر وما إلى ذلك، فإنها مأخوذة عن المسالك والممالك للبكري الذي يعتمد كثيراً على أخبار الزمان ومروج الذهب.

وأما مصادره الأدبية والمتعلقة بالتراجم فتشمل الأغاني وكتاباً لابن سعيد الأندلسي لعله " المشرق في حلى المشرق " وبعض الدواوين الشعرية، وبخاصة ديوان أبي العلاء المعري مشروحاً، وديوان الأعمى التطيلي أو على الأقل قصيدته التي مطلعها " قفا حدثاني عن فل وفلان "، ومقصورة ابن دريد (مشروحة) ، فأما معرفته بشعر بعض شعراء القرن السابع كابن الآبار وابن عربية وابن مجبر أو برسائل بعض أدباء ذلك القرن مثل أبي المطرف ابن عميرة، فإنها تعتمد في أغلب الظن على المصدر التاريخي - أو المصادر التاريخية التي ينقل عنها - أكثر من الاعتماد على دواوين هؤلاء الشعراء أو مجموعات رسائلهم.

وقد كشف في مادة " صفين " عن نوع آخر من المصادر لا ينتمي إلى الأنواع الثلاثة السابقة، فهو ينقل عن كتاب الإمامة لعبد القاهر البغدادي، وعن القاضي أبي بكر ابن الطيب الباقلاني، وربما عن غير هذين أيضاً، كما أشار إلى " الرياض النضرة " للمحب الطبري إشارة عارف به.

ومن الممكن أن يتساءل المرء: هل ظهرت ثقافة ابن عبد المنعم الإمام في الحديث واللغة والنحو في هذا الكتاب؛ والجواب على هذا أنها لم تظهر مستقلة، أي أن المؤلف لم يحاول أن يؤكد لنفسه دوراً واضحاً في هذه الثقافات، وإنما ظهرت في بعض المواقف وجاءت من طبيعة المناسبة، فهو ينقل عن صحيح مسلم والبخاري وسنن النسائي وكتاب الطبراني، أو يشير إليها، ولكن في كثير من الأحيان نجد إشارته إلى الحديث أو إيراده له اتباعاً للبكري، مع ميله للاختصار الشديد في الإسناد، وكثيراً ما يكون الضبط اللغوي أو القاعدة النحوية نقلاً عن مصدر جغرافي سابق بل ربما قلنا إن ابن عبد المنعم يحاول أن يقلل من الضبط قدر المستطاع، طلباً للإيجاز، أو ضيقاً بالتدقيق في التفصيلات.

‌‌4 - أثر الكتاب وقيمته

لا أعرف أحداً اعتمد الروض المعطار مصدراً قبل القلقشندي (- 821) في كتابه
মাগরেব ও আন্দালুসের মুওয়াহ্হিদুন এবং প্রাচ্যের ওপর তাতারী আক্রমণের সংবাদ। নিঃসন্দেহে প্রথম প্রকার সংবাদের উৎস মাগরেবী, যদিও আমাদের উৎসগুলো তা নির্দিষ্ট করতে দেয় না। একইভাবে আমি সেই উৎসটি নির্দিষ্ট করতে পারিনি যেখান থেকে তিনি তাতারীদের সংবাদ গ্রহণ করেছেন। তার একটি উল্লেখযোগ্য আগ্রহ রয়েছে সেই পথের প্রতিও - অর্থাৎ আল-বাকরির মাধ্যমে, যদিও তার উদ্ধৃতিগুলো 'মুরুজুজ জাহাব' থেকে গৃহীত - ঐতিহাসিক সংবাদসমূহের ক্ষেত্রে, সাগর ও দ্বীপপুঞ্জ এবং সেগুলোর আশ্চর্যের বর্ণনার ক্ষেত্রে নয় - যা তুলনার মাধ্যমে বোঝা যায় যে সেগুলো সরাসরি সেই কিতাব থেকে নেওয়া হয়েছে, কোনো মাধ্যম ছাড়াই। আর সমুদ্রের আশ্চর্য এবং কিছু দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কিত আলোচনার ক্ষেত্রে, সেগুলো আল-বাকরির 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' থেকে নেওয়া হয়েছে, যিনি ব্যাপকভাবে 'আখবারুজ জামান' ও 'মুরুজুজ জাহাব'-এর ওপর নির্ভর করেন।

আর তার সাহিত্যিক এবং জীবনী সংক্রান্ত উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে 'আল-আগানি' এবং ইবনে সাইদ আল-আন্দালুসির একটি কিতাব, সম্ভবত সেটি হলো "আল-মাশরিক ফি হুলিল মাশরিক", এবং কিছু কাব্যগ্রন্থ, বিশেষ করে ব্যাখ্যাসহ আবু আলা আল-মা'আররির কাব্যগ্রন্থ, আল-আ'মা আত-তুতিলির কাব্যগ্রন্থ অথবা অন্তত তার সেই কসিদাটি যার শুরু হলো "ক্বিফা হাদ্দিসানি আন ফুলিন ওয়া ফুলান", এবং ইবনে দুরেয়দের 'মাকসুরা' (ব্যাখ্যাসহ)। আর সপ্তম শতাব্দীর কিছু কবি যেমন ইবনুল আব্বার, ইবনে আরাবিয়াহ এবং ইবনে মুজবিরের কবিতা সম্পর্কে তার জ্ঞান, অথবা সেই শতাব্দীর কিছু সাহিত্যিক যেমন আবুল মুতাররিফ ইবনে আমিরাহ-এর পত্রাবলি সম্পর্কে তার ধারণা সম্ভবত ঐতিহাসিক উৎস - বা যেসব ঐতিহাসিক উৎস থেকে তিনি উদ্ধৃতি দেন - সেগুলোর ওপরই বেশি নির্ভরশীল, এই কবিদের কাব্যগ্রন্থ বা তাদের পত্রসংকলনের ওপর সরাসরি নির্ভর করার চেয়ে।

'সিফফিন' বিষয়ক তথ্যের ক্ষেত্রে তিনি এমন এক ধরনের উৎসের সন্ধান দিয়েছেন যা পূর্ববর্তী তিন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি আব্দুল কাদির আল-বাগদাদির 'কিতাবুল ইমামাহ' এবং কাজি আবু বকর ইবনুত তাইয়িব আল-বাকিলানি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। সম্ভবত এই দু'জন ছাড়াও আরও অনেকের থেকে নিয়েছেন। যেমন তিনি মুহিব্ব তাবারির "আর-রিয়াদুন্নদিরাহ" গ্রন্থের প্রতি এমনভাবে ইঙ্গিত করেছেন যা থেকে বোঝা যায় তিনি গ্রন্থটি সম্পর্কে অভিজ্ঞ।

কেউ প্রশ্ন করতে পারেন: ইবনে আব্দুল মুনইম আল-ইমামের হাদিস, ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ক পাণ্ডিত্য কি এই বইয়ে ফুটে উঠেছে? এর উত্তর হলো, এগুলো স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ পায়নি; অর্থাৎ লেখক এই জ্ঞান শাখাগুলোতে নিজের জন্য কোনো স্পষ্ট ভূমিকা জাহির করার চেষ্টা করেননি। বরং তা কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ফুটে উঠেছে এবং প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এসেছে। তিনি সহিহ মুসলিম, বুখারি, সুনানে নাসাঈ এবং তাবারানির কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দেন অথবা সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় হাদিসের প্রতি তার ইঙ্গিত বা তা বর্ণনা করা আল-বাকরির অনুসরণে হয়েছে, সাথে সনদের ক্ষেত্রে চরম সংক্ষেপ করার প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় ভাষাগত উচ্চারণরীতি বা ব্যাকরণিক নিয়ম কোনো পূর্ববর্তী ভৌগোলিক উৎস থেকে উদ্ধৃত থাকে। বরং আমরা বলতে পারি যে, ইবনে আব্দুল মুনইম যতটা সম্ভব এই বিষয়গুলো কমিয়ে আনতে চেষ্টা করেছেন, সংক্ষেপ করার তাগিদে অথবা বিস্তারিত খুঁটিনাটি বর্ণনার প্রতি অনাগ্রহের কারণে।

‌‌৪ - গ্রন্থটির প্রভাব ও এর মূল্য

আমি এমন কাউকে চিনি না যিনি কলকাশান্দি (মৃত্যু ৮২১ হি.)-এর পূর্বে তার গ্রন্থে 'আর-রাওদুল মিতার'-কে উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১৩)
" صبح الأعشى "، وكان أكثر اعتماده عليه في التعريف بالبلاد الشامية وبلدان الجزيرة العربية ومصر، ولم يعتمد عليه كثيراً في المغرب (اقتصر على ذكر: تونس، فاس، سبتة، مراكش) وإفريقية وراء الصحراء (دنقله - غانة - كوكو - تكرور) وأقل من ذلك البلاد الأوروبية (القسطنطينة، رومة، اقريطش) وأقل الجميع الأندلس، حيث أشار إشارة عابرة إلى طرطوشة، وتحدث عن ملوك الأباريين نقلاً عما ورد في مادة " أندلس " من الروض. ولا ندرس سبباً لذلك، فإن جعل الروض المعطار - ومؤلفة مغربي - أساساً في المعلومات الجغرافية عن مناطق المشرق (الجزيرة العربية - الشام - مصر) وعدم الاهتمام بمعلوماته عن بلدان المغرب والأندلس يعد عكساً للوضع الصحيح. هل كان القلقشندي يعدّ الحميري مشرقياً؟ إن نسبة " الصنهاجي " لا توجد في مخطوطات الورض المعطار، ولعل القلقشندي ذهب بسبب ذلك إلى هذا التصور فظنه مشرقياً. ومن بعده توقف عنده السمهودي (- 911) صاحب " وفاء الوفاء " في كتابه الموجز الذي لخص فيه مؤلفه الكبير، فنقل عنه، مع أنه ليس لدى صاحب الروض - فيما يتصل بالمدينة - مادة يستقل بها، وأكثرها مأخوذ عن البكري، وقد كان البكري من مصادر المسهودي، بحيث يغنيه عن الورض المعطار. وفي القرن الحادي عشر ظل الكتاب موضع اهتمام، فنجد المقري يعرفه وينقل عنه خبر وقعة الزلاقة (1) ؛ ثم نجد محمد بن عبد السلام الناصري الدرعي (- 1239) ينقل عنه كثيراً في رحلته، مع إدراكه تمام الإدراك بأن الحميري " لم يكن معه تحقيق في أخبار الأقطار وإنما [ينقل] من غيره، ولم يجل في الأمصار " (2) ، وآخر من نجده يعرف الروض المعطار معرفة وثيقة هو صاحب الترجمانة الكبرى، أبو القاسم الزياني المتوفى سنة 1249.

ويبدو أن التوجه إلى النقل عن الروض إنما تم لسهولة الحصول على نسخ منه، ولما فيه من الترتيب المعجمي الذي لا يتوفر في كتاب مؤلف على الأقاليم؛ وإلا فإن بعض ما أخذ عليه إنما كان نقلاً المصادر المبكرة، وخاصة ما أخذه عن البكري؛ والبكري ممن وقع في أخطاء عديدة في كتابيه معجم ما استعجم والمسالك؛ ورغم الاحترام الوافر الذي يكنه العبدري له فإنه تعقب بعض أخطائه في رحلته، كقول البكري إن إيليا تحيط بها الجبال وأنها هي في نشز من الأرض؛ وأن قصر لجم (الأجم في الروض) في دوره نحو من ميل، بينما هو أصغر من ذلك بكثير، وقوله في سرت أنها مدينة كبيرة على ساحل البحر بها حمام وأسواق ولها بساتين ونخل، وإنما هي قصير صغير لا نخل حوله أبداً؛ وقوله في نفيس أنها مدينة في المغرب بينها وبين البحر مسيرة يوم، وإنما نفيس اسم نهر؛ وقوله في تادمكة أن تاد تعني الهيئة، وليس الأمر كذلك بل إن " تاد " تعني

--------------------------------------------

(1) من أطرف ضروب الاهتمام بالروض المعطار في عصر المقري ما صنعه أحمد بابا التنبكي صاحب نيل الابتهاج بتطريز الديباج، فقد استعار نسخة منه مكتوبة بخط مشرقي عتيق صحيح كانت في حوزة الفقيه محمد بن إبراهيم التمروجتي الدرعي سنة 1016، وغادر المغرب إلى تنبكت، وظلت النسخة معه خمسة عشر عاماً، وصاحبها يكاتبه مطالباً بردها، وأخيراً أرسل إليه سنة 1031 نسخة منقولة عنها (انظر مقدمة بروفنسال: 11) .

(2) رحلة الناصري، الورقة: 215.
"সুবহুল আ’শা" গ্রন্থে শাম দেশীয় ভূখণ্ড, আরব উপদ্বীপ এবং মিশরের বর্ণনায় এর ওপর অধিক নির্ভর করা হয়েছে। তবে মাগরেব (তিউনিসিয়া, ফাস, সেউতা, মারাকেশ) এবং সাহারার দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকা (ডঙ্গোলা, ঘানা, কুকু, তাকরুর) সম্পর্কে এর ওপর খুব একটা নির্ভর করা হয়নি। ইউরোপীয় অঞ্চলের (কনস্টান্টিনোপল, রোম, ক্রিট) ক্ষেত্রে এর চেয়েও কম এবং আন্দালুসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম নির্ভর করা হয়েছে, যেখানে তারতুশার কথা কেবল সামান্য উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ‘রওদ’ এর ‘আন্দালুস’ অধ্যায় থেকে উদ্ধৃত করে ইবেরীয় রাজাদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা এর কোনো কারণ খুঁজে পাই না। কারণ, ‘রওদুল মিতার’—যার লেখক একজন মাগরেবি—সেটিকে মাশরিকের (আরব উপদ্বীপ, শাম, মিশর) ভৌগোলিক তথ্যের উৎস হিসেবে গ্রহণ করা এবং মাগরেব ও আন্দালুস সম্পর্কে এর তথ্যের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়াটা মূলত সঠিক অবস্থানের উল্টো কাজ। কালকাশান্দি কি হিময়ারিকে মাশরিকি (প্রাচ্যের অধিবাসী) বলে মনে করতেন? ‘রওদুল মিতার’-এর পাণ্ডুলিপিগুলোতে ‘আস-সানহাজি’ নিসবতটি পাওয়া যায় না; সম্ভবত এই কারণে কালকাশান্দি এমন ধারণা করেছিলেন এবং তাকে মাশরিকি ভেবেছিলেন। তাঁর পরে ‘ওয়াফাউল ওয়াফা’র রচয়িতা সামহুদি (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) তাঁর সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে—যাতে তিনি তাঁর বিশাল রচনাটিকে সংক্ষেপ করেছেন—এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যদিও মদিনা সম্পর্কিত বিষয়ে ‘রওদ’-এর লেখকের কাছে এমন কোনো তথ্য ছিল না যা তাঁর নিজস্ব, বরং এর অধিকাংশ আল-বাকরি থেকে নেওয়া। আর বাকরি তো সামহুদির অন্যতম উৎস ছিলেন, যা তাঁকে ‘রওদুল মিতার’ থেকে অমুখাপেক্ষী করতে পারত। একাদশ শতাব্দীতেও বইটি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল; আমরা দেখি আল-মাক্কারি এর সাথে পরিচিত ছিলেন এবং এটি থেকে জাল্লাকার যুদ্ধের সংবাদ উদ্ধৃত করেছেন (১); এরপর মুহাম্মদ বিন আব্দুল সালাম আন-নাসিরি আদ-দারয়ি (মৃত্যু: ১২৩৯ হিজরি) তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যদিও তিনি পূর্ণমাত্রায় অবগত ছিলেন যে, হিময়ারি "বিভিন্ন অঞ্চলের খবরাখবর যাচাই-বাছাইয়ে পারদর্শী ছিলেন না এবং তিনি কেবল অন্যের থেকে বর্ণনা করতেন ও দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেননি" (২)। সর্বশেষে আমরা যাকে ‘রওদুল মিতার’ সম্পর্কে নিবিড়ভাবে অবগত দেখি, তিনি হলেন ‘আত-তারজুমানাতুল কুবরা’র লেখক আবুল কাসিম আল-জাইয়ানি, যিনি ১২৪৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

মনে হয় ‘রওদ’ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রবণতা মূলত এর পাণ্ডুলিপি সহজে পাওয়ার কারণে এবং এতে শব্দকোষীয় (অভিধানতূল্য) বিন্যাস থাকার কারণে তৈরি হয়েছিল, যা ভৌগোলিক অঞ্চলভিত্তিক রচিত বইগুলোতে সচরাচর পাওয়া যায় না। অন্যথায়, এর ওপর যেসব আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে তার কিছু মূলত প্রাথমিক উৎসগুলো থেকে করা উদ্ধৃতির কারণে, বিশেষ করে যা তিনি আল-বাকরি থেকে গ্রহণ করেছেন। আল-বাকরি তাঁর ‘মু’জাম মা ইস্তাজাম’ এবং ‘আল-মাসালিক’ গ্রন্থে অসংখ্য ভুল করেছেন। আবদারি তাঁর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা পোষণ করা সত্ত্বেও তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে তাঁর কিছু ভুল চিহ্নিত করেছেন। যেমন বাকরির এই উক্তি যে—ইলিয়া (জেরুজালেম) পাহাড়বেষ্টিত এবং এটি ভূখণ্ডের একটি উঁচু স্থানে অবস্থিত; এবং কাসরে লাজম (রওদ গ্রন্থে আল-আজাম) এর পরিধি প্রায় এক মাইল, অথচ বাস্তবে এটি তার চেয়ে অনেক ছোট; এবং সিরত সম্পর্কে তাঁর উক্তি যে—এটি সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত একটি বড় শহর যেখানে হাম্মামখানা, বাজার, বাগান ও খেজুর গাছ রয়েছে, অথচ এটি কেবল একটি ছোট দুর্গ যার আশেপাশে কোনো খেজুর গাছ নেই; এবং নাফিস সম্পর্কে তাঁর উক্তি যে—এটি মাগরেবের একটি শহর যা সমুদ্র থেকে একদিনের দূরত্বে অবস্থিত, অথচ নাফিস একটি নদীর নাম; এবং তাদামাক্কা সম্পর্কে তাঁর উক্তি যে ‘তাদ’ অর্থ আকৃতি, অথচ বিষয়টি তেমন নয় বরং ‘তাদ’ অর্থ...

--------------------------------------------

(১) আল-মাক্কারির যুগে ‘রওদুল মিতার’-এর প্রতি আগ্রহের একটি চমকপ্রদ দিক হলো যা ‘নাইলুল ইবতিহাজ বিতাতরিজিদ দিবাজ’-এর লেখক আহমদ বাবা আত-তিম্বুকতি করেছিলেন। তিনি জনৈক ফকিহ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আত-তামরুজতি আদ-দারয়ির মালিকানাধীন একটি প্রাচীন ও বিশুদ্ধ মাশরিকি লিপিতে লেখা পাণ্ডুলিপি ১০১৬ হিজরিতে ধার নিয়েছিলেন এবং মাগরেব ছেড়ে তিম্বুকতুতে চলে গিয়েছিলেন। সেই পাণ্ডুলিপিটি পনেরো বছর তাঁর কাছে ছিল, আর এর মালিক সেটি ফেরত চেয়ে তাঁকে পত্র লিখতেন। পরিশেষে ১০৩১ হিজরিতে তিনি সেটির একটি অনুলিপি তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন (দেখুন প্রোভেনসালের ভূমিকা: ১১)।

(২) নাসিরির ভ্রমণকাহিনী, পৃষ্ঠা: ২১৫।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১৪)
لفظ الإشارة " هذه " (1) . ومن يراجع الروض المعطار يجد أن عض هذه الأمور قد رددها الحميري أيضاً نقلاً عن البكري، فليس الخطأ من عنده، وإنما مصدره ثقته فيما يقرؤه لغيره. ولكن الخطأ يشيع بالنقل، وتصبح أخطاء الحميري نفسه مظنة قبول عند من ينقلون عنه مضافةً إلى أخطاء غيره؛ فقد ذكر مثلاً " حبرون " في " جيرون "، فلما نقل عنه القلقشندي أثبت " حبرون " وضبطها، ثم قال: وفي كلام صاحب الروض المعطار ما يدل على إبدال الحاء بجيم والباء الموحدة بمثناة تحت، فإنه ذكرها في حرف الجيم في سياقه الكلام على تسمية دمشق جيرون (2) .

على أية حال ليس من الضروري أن نغالي في تقييم الروض المعطار، فإن مهمته لا تتعدى شيئين: أنه يشبه أن يكون نسخة ثانية من كل مصدر نقل عنه، وهو في هذه الحالة يصحح أحياناً بعض النصوص في تلك المصادر، كما أنه احتفظ بمادة غزيرة تدور حول أحداث القرن السابع، ربما طال بنا الزمن قبل العثور على مصادرها، وبمادة مما لا يزال مفقوداً من مسالك البكري، وخاصة فيما يتصل بجغرافية القارة الأوروبية والأندلس.

‌‌5 - هل وصلنا كتاب الروض كاملاً؟

أورد القلقشندي في صبح الأعشى التعريف ببلدين، وصرح بأنه ينقل عن الروض المعطار، فقال عند التصدي لذكر مرمرا (3) قال: " قال في الروض المعطار: والروم تسمي الرخام مرمرا فسميت بذلك ".

ونقل عن الروض المعطار وصفاً لمدينة تعز جاء فيه (4) : " قال في الروض المعطار، ولم تزل حصناً للملوك؛ قال: وهو بلد كثير الماء بارد الهواء كثير الفاكهة؛ قال: ولسلطانهم بستان يعرف بالينعات فيه قبة ملوكية ومقعد سلطاني، فرشمها وأزرهما من الرخام الملون، وبهما عمد قليلة المثل يجري فيها الماء من نفثات تملأ العين حسناً والأذن طرباً، بصفاء نميرها وطيب خريرها، وترمي شبابيكهما على أشجار قد نقلت إليه من كل مكان؛ يجمع بين فواكه الشام والهند ولا يقف ناظر على بستان أحسن منه جمعاً، ولا أجمع منه حسناً، ولا أتم صورة ولا معنى.

ولم ترد هاتان المادتان في نسختي الروض اللتين اعتمدت عليهما، كما أن وصف تعز - على هذا النحو الأدبي - ليس مألوفاً عند الحميري إلا حين ينقل عن ابن جبير؛ ولكن ربما كانت نسخ الكتاب متفاوتة، فقد احتفظت النسختان المعتمدتان بقطعة كبيرة عن " بجانة " إحدى مدن الأندلس أخلت بها النسخ الأربع التي اعتمد عليها بروفنسال، أو ربما سها القلقشندي في نسبته هاتين القطعتين إلى الروض المعطار.

--------------------------------------------

(1) رحلة العبدري، تحقيق محمد القاسمي (158 - 159) ط. المغرب 1968، وليس العبدري محقاً في كل مآخذه، فأنه لا يراعي تطور الزمن وما يصيب الأماكن من تغير، ولكنا نأخذ نقده نموذجاً وحسب.

(2) صبح الأعشى 4: 102.

(3) صبح الأعشى 5: 344.

(4) صبح الأعشى 5:9.
নির্দেশক শব্দ "হাজিহি" (১)। এবং যারা 'আর-রওযুল মিতার' পর্যালোচনা করবেন তারা দেখবেন যে, এই বিষয়গুলোর কিছু অংশ আল-হিমইয়ারিও আল-বাকরির বরাতে বর্ণনা করেছেন; ফলে ভুলটি তাঁর পক্ষ থেকে নয়, বরং এর উৎস হলো অন্যের থেকে যা পাঠ করেছেন তার ওপর তাঁর অতিরিক্ত আস্থা। কিন্তু ভুলটি বর্ণনার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আল-হিমইয়ারির নিজের ভুলগুলোও অন্যের ভুলের সাথে যুক্ত হয়ে তার থেকে যারা বর্ণনা করেন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়; উদাহরণস্বরূপ, তিনি "জাইরুন" এর স্থলে "হাবরুন" উল্লেখ করেছেন। যখন কালকাশান্দি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি "হাবরুন" শব্দটিকে বহাল রেখেছেন এবং এর স্বরচিহ্ন নির্ধারণ করেছেন; অতঃপর তিনি বলেছেন: আর-রওযুল মিতার এর লেখকের বক্তব্যে এমন কিছু রয়েছে যা "হা" বর্ণকে "জিম" দ্বারা এবং এক নুকতা বিশিষ্ট "বা" বর্ণকে নিচের দিকে দুই নুকতা বিশিষ্ট বর্ণ (ইয়া) দ্বারা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কারণ তিনি দামেস্কের নাম "জাইরুন" রাখার প্রসঙ্গের ধারাক্রমে "জিম" বর্ণের অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করেছেন (২)।

যাই হোক, 'আর-রওযুল মিতার'-এর মূল্যায়নে আমাদের অতিরঞ্জিত করার প্রয়োজন নেই; কেননা এর গুরুত্ব দুটি বিষয়ের বাইরে নয়: এটি প্রতিটি উৎসের একটি দ্বিতীয় সংস্করণের মতো কাজ করে যা থেকে এটি তথ্য সংগ্রহ করেছে, এবং এই ক্ষেত্রে এটি মাঝেমধ্যে ঐ উৎসগুলোর কিছু পাঠ সংশোধন করে। পাশাপাশি এটি সপ্তম শতাব্দীর ঘটনাবলি কেন্দ্রিক প্রচুর উপকরণ সংরক্ষণ করেছে, যার মূল উৎসগুলো খুঁজে পেতে সম্ভবত আমাদের দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। এছাড়াও আল-বাকরির 'মাসালিক' গ্রন্থের যে অংশগুলো এখনো নিখোঁজ রয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপ মহাদেশ এবং আন্দালুসিয়ার ভূগোল সংক্রান্ত বিষয়গুলো এতে সংরক্ষিত রয়েছে।

‌৫ - আমরা কি 'আর-রওয' গ্রন্থটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় পেয়েছি?

কালকাশান্দি তাঁর 'সুবহুল আশা' গ্রন্থে দুটি শহরের পরিচয় দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে তিনি 'আর-রওযুল মিতার' থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছেন। তিনি 'মারমারা' (৩) সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেন: "আর-রওযুল মিতার-এ বলা হয়েছে: রোমানরা মার্বেল পাথরকে মারমারা বলে, তাই এই শহরটির নাম এমন রাখা হয়েছে।"

এবং তিনি 'আর-রওযুল মিতার' থেকে তায়িজ্জু শহরের একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যাতে বলা হয়েছে (৪): "আর-রওযুল মিতার-এ বলা হয়েছে: এটি সর্বদা রাজন্যবর্গের দুর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন: এটি প্রচুর পানি, শীতল বাতাস এবং অধিক ফলমূলের একটি শহর। তিনি আরও বলেন: তাদের সুলতানের 'আল-ইয়ানায়াত' নামে পরিচিত একটি বাগান রয়েছে যাতে একটি রাজকীয় গম্বুজ ও সুলতানি আসন রয়েছে; এগুলোর মেঝে ও দেয়ালের নিচের অংশ রঙিন মার্বেল পাথর দিয়ে খচিত। সেখানে অতুলনীয় কিছু স্তম্ভ রয়েছে যেগুলোর মাঝ দিয়ে স্বচ্ছ নির্মল পানি প্রবাহিত হয়, যার প্রবাহের শব্দ কানে সুরের মূর্ছনা দেয় এবং চোখের দৃষ্টি জুড়িয়ে দেয়। এগুলোর জানালাগুলো এমন সব বৃক্ষের ওপর উন্মোচিত হয় যা সব জায়গা থেকে সেখানে আনা হয়েছে; সেখানে শাম (সিরিয়া) এবং ভারতের ফলমূল একত্রিত হয়েছে। কোনো দর্শক এর চেয়ে সুন্দর সুসমন্বিত কোনো বাগান দেখেনি, যা সৌন্দর্যের দিক থেকে এতোটা পূর্ণাঙ্গ এবং রূপে ও গুণে এতোটা পরিপূর্ণ।"

কিন্তু 'আর-রওয' এর যে দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর আমি নির্ভর করেছি, তাতে এই দুটি বিষয় পাওয়া যায়নি। তাছাড়া তায়িজ্জু শহরের এই ধরনের আলঙ্কারিক বর্ণনা আল-হিমইয়ারির নিকট সচরাচর দেখা যায় না, যদি না তিনি ইবনে জুবায়ের থেকে উদ্ধৃতি দেন। তবে হতে পারে কিতাবটির বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; যেমন আমি যে দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি তাতে আন্দালুসিয়ার অন্যতম শহর 'বাজানা' সম্পর্কে একটি বড় অংশ রয়েছে যা প্রোভেনসাল-এর ব্যবহৃত চারটি পাণ্ডুলিপিতে ছিল না। অথবা এমনও হতে পারে যে, কালকাশান্দি এই দুটি অংশকে 'আর-রওযুল মিতার'-এর দিকে নিসবত করতে ভুল করেছেন।

--------------------------------------------

(১) রিহলাতুল আবদারি, সম্পাদনা: মুহাম্মদ আল-কাসিমি (১৫৮ - ১৫৯) মরক্কো সংস্করণ ১৯৬৮। আবদারি তাঁর সকল আপত্তিতে সঠিক নন, কারণ তিনি সময়ের বিবর্তন এবং স্থানের পরিবর্তনগুলো বিবেচনা করেননি; তবে আমরা তাঁর সমালোচনাকে শুধুমাত্র একটি নমুনা হিসেবে গ্রহণ করছি।

(২) সুবহুল আশা ৪: ১০২।

(৩) সুবহুল আশা ৫: ৩৪৪।

(৪) সুবহুল আশা ৫: ৯।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تحقيق الكتاب

اعتمدت في تحقيق هذا الكتاب على نسختين

(1) نسخة مكتبة بيرم باشا التابعة لنور عثمانية، ورقم المخطوطة فيها (44) وقد رمزت لها بالحرف (ع) . وتقع في 409 ورقات، مسطرتها (22× 32سم) وعدد السطور في الصفحة الواحدة 31 سطراً، ومعدل الكلمات في السطر التام: 12 كلمة، وهي مكتوبة بخط نسخي شديد الوضوح، وفيها قلة عناية بالاعجام، وتصحيف كثير في أسماء الأعلام على وجه الخصوص، ويكثر فيها سقوط عبارات كاملة، والناسخ يضرب على ما يريد حذفه بالقلم متقيد بالطريقة التقليدية في الترميج.

وقد ورد في آخرها أن ناسخها هو محمد بن زين الدين الجيزي الشافعي، وأن الفراغ من تعليقها تم في " عصر اليوم الثاني، ثاني الثاني من ثامن أول تاسع العاشر من الهجرة النبوية "، وهذا اللغز إذا رددناه إلى الأرقام كان يعني أن نسخها قد تم في الثاني من شهر صفر سنة 981.

(2) نسخة حديثة رمزت لها بالحرف (ص) ، كانت في ملك المرحوم الشيخ محمد نصيف بجدة، وقد نقلت عن نسخة مكتبة عارف حكمت بالمدينة المنورة (وكان الانتهاء من نق نسخة المدينة 971) فجاءت في 643 صفحة مكتوبة بخط رقعة حديث في الأكثر ومسطرتها 26.5×34 سم وعدد السطور في الصفحة 24 سطراً ومعدل الكلمات في السطر الواحد 18 كلمة وقد جاء في آخرها تاريخان مختلفان: إذ ذكر أن الفراغ من نسخها في مكتبة شيخ الإسلام عارف حكمت قد تم في 11 شعبان سنة 1360 وبعده يذكر الناسخ مصطفى بن عمر بصرى قاروت أن الفراغ من نسخ الكتاب تم على يده في 15 رجب الفرد سنة 1364، وهو أيضاً تاريخ دخول هذه النسخة في ملك الشيخ محمد نصيف بن حسين بن عمر أفندي نصيف، بجدة، وقد اطلع الأستاذ عبد الرزاق آل حمزة على هذه النسخة وقابلها على أصلها المنقولة عنه، " وهو كثير التحريف والغلط والتصحيف " فاجتهد بقدر الطاقة في معرفة ما هو أقرب إلى الصحة، وكتب بازائه حرف (ظ) مختصر " الظاهر " أو " المظنون "؛ وفرغ من ذلك ضحوة 24 شعبان 1364 بقبة الساعات بالمسجد الحرام، بمكة المكرمة. وإذا كان الأصل الذي نقلت عنه النسخة " كثير التحريف والغلط والتصحيف " فإن هذه الصورة المنسوخة عنه لم تخفف مما فيه من أخطاءه؛ ورغم بعض التنبيهات المفيدة التي ذكرها الأستاذ آل حمزة في بعض حواشي النسخة، فإنها ما تزال نسخة سقيمة، لا يمكن الاعتماد عليها وحدها بأية حال، غير أنها سلمت من السقط الذي يكثر في النسخة السابقة، ومن هنا كانت ذات فائدة غير قليلة، أما في قراءة النص نفسه فلم يكن الاعتماد عليها إلا للوقوف على مدى اطراد ذلك النص وانسجامه في النسخة (ع) .
গ্রন্থের সম্পাদনা

এই গ্রন্থটি সম্পাদনায় আমি দুইটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:

(১) নূর ওসমানিয়ার অন্তর্ভুক্ত বয়রাম পাশা লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যার ক্রমিক নম্বর (৪৪) এবং আমি একে (ع) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এটি ৪০৯টি পত্রে বিন্যস্ত, এর পরিমাপ (২২×৩২ সে.মি.) এবং প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা ৩১টি। প্রতিটি পূর্ণ লাইনে শব্দের গড় সংখ্যা ১২টি। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লিখিত। এতে নুকতা বা বর্ণচিহ্নের (ই’জাম) প্রতি যত্নের অভাব রয়েছে এবং বিশেষ করে ব্যক্তিনাম সমূহে প্রচুর বর্ণবিভ্রাট (তাশহিফ) পরিলক্ষিত হয়। এতে প্রায়ই পূর্ণ বাক্য বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছে। লেখক যা মুছে ফেলতে চেয়েছেন, তার ওপর কলম দিয়ে দাগ টেনেছেন, যা প্রাচীন কাটাকাটির (তারমিজ) পদ্ধতি অনুসৃত।

এর শেষে উল্লেখ আছে যে, এর অনুলিপিকারক হলেন মুহাম্মদ বিন জাইন উদ্দিন আল-জিজি আল-শাফিঈ এবং এর অনুলিপি সম্পন্ন হয়েছে "হিজরি নবম দশকের প্রথম অষ্টম ভাগের দ্বিতীয় মাসের দ্বিতীয় দিনের অপরাহ্নে"। এই ধাঁধাটিকে যদি আমরা সংখ্যায় রূপান্তর করি, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় যে, এর অনুলিপি কাজ ৯৮১ হিজরি সালের সফর মাসের ২ তারিখে সম্পন্ন হয়েছে।

(২) একটি আধুনিক পাণ্ডুলিপি যাকে আমি (ص) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এটি জেদ্দার মরহুম শেখ মুহাম্মদ নাসিফের মালিকানাধীন ছিল। এটি মদিনা মুনাওয়ারার আরিফ হিকমত লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে (মদিনার সেই পাণ্ডুলিপির অনুলিপি ৯৭১ হিজরিতে সম্পন্ন হয়েছিল)। এটি ৬৪৩ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আধুনিক রুক'আ লিপিতে লিখিত। এর পরিমাপ ২৬.৫×৩৪ সে.মি., প্রতি পৃষ্ঠায় ২৪টি লাইন এবং প্রতি লাইনে শব্দের গড় সংখ্যা ১৮টি। এর শেষে দুটি ভিন্ন তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে: সেখানে উল্লেখ আছে যে, শেখুল ইসলাম আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে এর অনুলিপি সম্পন্ন হয়েছে ১৩৬০ হিজরি সালের ১১ই শাবান। এরপর অনুলিপিকারক মোস্তফা বিন ওমর বাসরি কারুত উল্লেখ করেছেন যে, তার হাতে গ্রন্থটির অনুলিপি কাজ শেষ হয়েছে ১৩৬৪ হিজরি সালের ১৫ই রজব। এটি সেই তারিখও বটে যেদিন এই পাণ্ডুলিপিটি জেদ্দায় শেখ মুহাম্মদ নাসিফ বিন হুসাইন বিন ওমর আফিন্দি নাসিফের মালিকানায় আসে। ওস্তাদ আবদুর রাজ্জাক আল-হামজা এই পাণ্ডুলিপিটি দেখেছিলেন এবং যে মূল কপি থেকে এটি নকল করা হয়েছে তার সাথে মিলিয়ে দেখেছিলেন, "যা ছিল প্রচুর বিকৃতি, ভুল এবং বর্ণবিভ্রাটে পূর্ণ"। তাই তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন যা সত্যের নিকটবর্তী তা চিহ্নিত করতে এবং তার পাশে (ظ) অক্ষরটি লিখেছেন যা "যাহির" (প্রতীয়মান) বা "মাজনুন" (ধারণালব্ধ) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। তিনি মক্কা মুকাররমার মসজিদে হারামের কুব্বাতুস সাআত-এ ১৩৬৪ হিজরি সালের ২৪শে শাবান চাশতের সময় এর কাজ সম্পন্ন করেন। যে মূল কপি থেকে এই পাণ্ডুলিপিটি নকল করা হয়েছে তা যদি "প্রচুর বিকৃতি, ভুল এবং বর্ণবিভ্রাটে পূর্ণ" হয়ে থাকে, তবে তার থেকে তৈরিকৃত এই অনুলিপিটিও সেই ভুলগুলো থেকে মুক্ত হতে পারেনি। ওস্তাদ আল-হামজা এই পাণ্ডুলিপির কিছু টীকায় বেশ কিছু দরকারী সতর্কতা উল্লেখ করা সত্ত্বেও এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ কপিই রয়ে গেছে, যার ওপর কোনো অবস্থাতেই এককভাবে নির্ভর করা সম্ভব নয়। তবে এটি সেই শব্দ বা বাক্য বাদ পড়া থেকে মুক্ত ছিল যা পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপিতে প্রচুর ছিল। আর এ কারণেই এর গুরুত্ব কম নয়। মূল পাঠটি পড়ার ক্ষেত্রে এই কপির ওপর কেবল তখনই নির্ভর করা হয়েছে যখন (ع) পাণ্ডুলিপির পাঠ্যের ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্যতা যাচাই করার প্রয়োজন পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১৬)
على أن النسختين تتقاربان بعد ذلك كثيراً، وخاصة في الهفوات المشتركة بينهما، كما قال الأستاذ أمبرتو رتزيتانو (1) ، وهذا قد يشير إلى أنهما اعتمدتا على أصل واحد.

ولم يكن في الإمكان إقامة نص سليم في معظمه اعتماداً على هاتين النسختين وحدهما، فإن غلبة التصحيف على الأعلام من قبل الناسخين ولمؤلف قد كان يجعل كل محاولة من هذا القبيل مخفقة لولا اعتمادي على المصادر الجغرافية التي نقل عنها المؤلف نفسه، كذلك فإن ما قام به الأستاذان بروفنسال ورتزيتانو في تحقيق الأماكن الأندلسية والصقلية، قد سهل جانباً من العمل فيما يتعلق بأسماء تلك الأماكن، على أن العالمين المذكورين قد توقفا عند بعض الأعلام التي أوردها المؤلف مصحفة، فلم يستطيعا أن بيتا في أمرها بشيء حاسم.

وقد سرت في تقييد الملاحظات والحواشي على خطة الإيجاز والاقتصاد، وهاهنا أمر يحسن تنبيه القارئ إليه؛ فحين أقول في الحاشية - مثلاً - نزهة المشتاق: 120 أو السيرة 2: 36، أعني أن المؤلف ينقل مادته من هذا المصدر (مباشرة أو بالواسطة) ، حتى إذا انتهى النقل بدأت فقرة جديدة، على هذا جرى تقسيم الفقرات في المادة الواحدة إلا أن أشير منذ البداية إلى أن المادة كلها منقولة عن المصدر الفلاني، وإلا المادة التي نشرها بروفنسال من قبل، فإن تقسيمها إلى فقرات ينظر في الأكثر إلى الوحدات المتوالية. أما إذا صدرت العبارة في الحاشية بقولي: انظر أو قارن فمعنى ذلك أنني أحاول أن أربط ما ورد في الروض بما ورد في المصادر الأخرى دون أن يكون هناك نقل، إذ المقارنة أو الإحاطة هنا إلى مصدر آخر تكون غايتها توثيق التسمية أو ضبط الاسم، أو وجود شبه قوي بين المادتين، أو وجود فرق واضح بينهما. ولم يكن همي في هذا اللون من الحواشي أن أقيم لكل مادة دراسة تطورية حتى أضعها في ضوء المعلومات الجغرافية الحديثة - فذلك ربما كان أمراً معجزاً - وإنما حرصت دائماً أن أضع مادة الروض المعطار بين موضحين: بين المصادر التي نقل المؤلف عنها، وبين المصادر التي نقلت عنه؛ كل ذلك رغبة في ضبط النص على وجه يرضى عنه المحققون والدارسون. على أني وقفت إزاء بعض الأسماء عاجزاً عن استبانة الوجه الصحيح فيها، فأما أشرت إلى ذلك، في الحاشية، معلناً أني لم أجد شيئاً عنها في المصادر، وإما تركتها عابراً دون إشارة وفي النفس منها شيء.

وحيث وقع المؤلف في التصحيف فكتب " خجنده " في حرف الجيم (جخندة) ووضع " علوة " في باب الغين (غلوة) وجعل " باب " و " بابة " في مادة الياء " ياب " و " يابة ".. الخ ما وقع فيه من تصحيفات، فقد أبقيت هذه الأعلام حيث وضعها وأشرت إلى خطأه، ولكني أعتزم - إن شاء الله - أن أجعل الفهرست كفيلاً بردها إلى وجه الصواب. إذ أثبت هنالك مثلاً (غلوة: صوابها علوة فانظره، وهكذا) ؛ أما إذا كان التصحيف في الباب نفسه مثل: وبدار

--------------------------------------------

(1) مجلة كلية الآداب: 136.
যদ্যপি এরপর পাণ্ডুলিপি দুটি একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে আসে, বিশেষ করে সেগুলোর সাধারণ ভুলত্রুটির ক্ষেত্রে, যেমনটি অধ্যাপক আমবার্তো রিজিতানো (১) বলেছেন। এটি নির্দেশ করে যে, সম্ভবত উভয়টি একটি অভিন্ন মূল উৎসের ওপর ভিত্তি করে রচিত।

শুধুমাত্র এই পাণ্ডুলিপি দুটির ওপর নির্ভর করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি বিশুদ্ধ পাঠ প্রস্তুত করা সম্ভব ছিল না। কারণ, অনুলিপিকারদের ও লেখকের পক্ষ থেকে নামসমূহে বিকৃতির আধিক্য এই ধরনের প্রতিটি প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিত, যদি না আমি লেখক নিজে যে ভৌগোলিক উৎসসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন তার ওপর নির্ভর করতাম। অনুরূপভাবে, অধ্যাপক প্রোভেনসাল ও রিজিতানো আন্দালুসিয়া ও সিসিলির স্থানসমূহের সম্পাদনায় যে কাজ করেছেন, তা সেই নামগুলোর ক্ষেত্রে কাজের এক দিককে সহজ করে দিয়েছে। তবে উল্লিখিত এই দুই পণ্ডিত লেখক কর্তৃক বিকৃতরূপে উপস্থাপিত কিছু নামের ক্ষেত্রে থেমে গেছেন এবং সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হননি।

আমি টীকা ও পাদটীকা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততা ও পরিমিতিবোধের নীতি অনুসরণ করেছি। এখানে একটি বিষয় সম্পর্কে পাঠককে অবহিত করা সমীচীন মনে করছি; যখন আমি পাদটীকায় বলি—উদাহরণস্বরূপ—নুজহাতুল মুশতাক: ১২০ অথবা আস-সিরাহ ২: ৩৬, এর অর্থ হলো লেখক এই উৎস থেকে (সরাসরি বা পরোক্ষভাবে) তার উপাদান গ্রহণ করেছেন। যখন উদ্ধৃতি শেষ হয়, তখন নতুন অনুচ্ছেদ শুরু হয়। এভাবেই প্রতিটি বিষয়ের অনুচ্ছেদ বিভাগ করা হয়েছে, যদি না আমি শুরু থেকেই নির্দেশ করি যে পুরো বিষয়টি অমুক উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রোভেনসাল পূর্বে যে উপাদানগুলো প্রকাশ করেছিলেন, সেগুলোর অনুচ্ছেদ বিভাগ মূলত পর্যায়ক্রমিক এককের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। আর যদি পাদটীকায় আমার বক্তব্য ‘দেখুন’ বা ‘তুলনা করুন’ দিয়ে শুরু হয়, তবে তার অর্থ হলো আমি ‘আর-রওদ’-এ যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে অন্য উৎসসমূহের বর্ণনার সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছি, সেখানে কোনো উদ্ধৃতি নেই। কেননা এখানে অন্য কোনো উৎসের সাথে তুলনা বা পরিবেষ্টন করার উদ্দেশ্য হলো নামটির সত্যতা যাচাই বা তার সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ করা, অথবা উভয় উপাদানের মধ্যে প্রবল সাদৃশ্য বা স্পষ্ট পার্থক্য থাকা। পাদটীকায় আমার উদ্দেশ্য প্রতিটি উপাদানের জন্য একটি বিবর্তনমূলক গবেষণা তৈরি করা ছিল না যাতে আমি সেগুলোকে আধুনিক ভৌগোলিক তথ্যের আলোকে উপস্থাপন করতে পারি—কারণ তা হয়তো একটি অসম্ভব বিষয় হতো। বরং আমি সর্বদা ‘আর-রওদ আল-মিতার’-এর উপাদানগুলোকে দুটি সুস্পষ্ট সীমানার মধ্যে রাখার চেষ্টা করেছি: যে উৎসগুলো থেকে লেখক উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং যে উৎসগুলো তার থেকে উদ্ধৃতি নিয়েছে। এই সব কিছুর উদ্দেশ্য ছিল এমনভাবে পাঠটি সুসংহত করা যাতে গবেষক ও পণ্ডিতগণ সন্তুষ্ট হন। তবে আমি কিছু নামের সামনে নিজেকে এর সঠিক রূপ উদ্ঘাটনে অক্ষম পেয়েছি; ফলে হয় আমি পাদটীকায় তা উল্লেখ করেছি এই বলে যে উৎসসমূহে আমি এ সম্পর্কে কিছু খুঁজে পাইনি, অথবা কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই তা এড়িয়ে গেছি অথচ মনে তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

লেখক যেখানে যেখানে শব্দ বিকৃতিতে পতিত হয়েছেন, যেমন ‘জিম’ বর্ণের অধীনে ‘খুজান্দাহ’-কে লিখেছেন ‘জাখানদাহ’, এবং ‘গইন’ পরিচ্ছেদে ‘আলওয়াহ’-কে রেখেছেন ‘গালওয়াহ’ হিসেবে, আর ‘ইয়া’ পরিচ্ছেদে ‘বাব’ এবং ‘বাবাহ’-কে ‘ইয়াব’ ও ‘ইয়াবাহ’ করেছেন... ইত্যাদি যেসব বিকৃতি তার ক্ষেত্রে ঘটেছে, আমি সেই নামগুলোকে তিনি যেখানে রেখেছেন সেখানেই রেখে দিয়েছি এবং তার ভুলের দিকে ইঙ্গিত করেছি। তবে আমি সংকল্প করেছি—ইনশাআল্লাহ—নির্ঘণ্টে সেগুলোকে সঠিক রূপে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। যেমন সেখানে আমি উল্লেখ করব (গালওয়াহ: এর সঠিক রূপ আলওয়াহ, সেটি দেখুন, ইত্যাদি); তবে যদি বিকৃতিটি খোদ পরিচ্ছেদেই হয়ে থাকে যেমন: ওবাদার

--------------------------------------------

(১) মজাল্লাতু কুল্লিয়াতির আদাব: ১৩৬।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১৭)
(التي أوردها بعد وبار) ظناً منه أن ما بعد الواو باء موحدة، وصحتها وندار أو الزيدان (التي أوردها في باب الزاي المشفوعة بالياء وهي الزبداني) فقد كنت أصححه في المتن، لأن المادة لا تستدعي نقلاً من حرف إلى حرف.

أما الفروق في القراءات فلم أثبت منها إلا ما وجدته ضرورياً أو هاماً، وأضربت عما كان وهماً خالصاً من الناسخين، وكذلك صنعت في عرض الكتاب على مصادره، إذ كان المؤلف في كثير من الأحيان يوجز بالحذف أو التلخيص، كذلك فإني أفدت من الزيادات التي أوردها الأستاذ بروفنسال إذ اعتبرت نشرته بمثابة نسخة أخرى في هذا الصدد وحده ولم أشر إلى ما صوبته في نصه من قراءات أو ما استدركته عليه لنقص في النسخ التي اعتمدها، فذلك يثقل الحواشي بما لا ضرورة له. وليس بين ما نشره الأستاذ رنزيتانو وبين القراءات التي اعتمدتها إلا فروق يسيرة جداً لأنه إنما كان اعتماده على مخطوطة بيرم باشا وعلى أصل النسخة (ص) . وربما كان الاطلاع على مزيد من النسخ كفيلاً بإبراز فروق أخرى، ولكن ذلك مما لم تتحه لي الظروف التي عملت أثناءها في تحقيق هذا الكتاب.

وفي ختام هذه الكلمة أود أن أتقدم بالشكر الجزيل لصديقي العلامة الحجة الأستاذ الشيخ حمد الجاسر، فقد كان له الفضل في تنبيهي إلى اعتماد كل من الناصري في رحلته والسمهودي في ملخص وفاء الوفا على الروض المعطار، كما تلطف - حفظه الله - بمراجعة قسم من مواد الكتاب، وزودني بتعليقاته العلمية المفيدة؛ وجزيل شكري لصديقي اعالم الكبير الأستاذ زهير شاويش الذي أذن بتصوير نسخة (ص) حين كانت في حوزته بموافقة الشيخ محمد نصيف رحمه الله، فإنه كان أسخى الناس في تشجيع الأعمال العلمية، وكل ما أتمناه أن يكون ما بذلته من جهد في إخراج هذا الكتاب وفاء بفضل كبير تلقيته من هذين الصديقين العزيزين ومن سائر أصدقائي الذين كانوا يتطلعون إلى روية الكتاب مشمولاً بهذه العناية المتواضعة، والله الموفق.

بيروت في شهر أيار (مايو) 1974 إحسان عباس
(যা তিনি 'উবার'-এর পরে উল্লেখ করেছেন) এই ধারণায় যে 'ওয়াও'-এর পরে একটি 'বা' রয়েছে, অথচ এর সঠিক রূপ হলো 'উন্দার' অথবা 'আয-যাইদান' (যা তিনি 'যা' অক্ষরের অধ্যায়ে 'ইয়া'র অনুষঙ্গে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ 'আয-যাবদানি')। আমি এগুলো মূল পাঠে সংশোধন করেছি, কারণ এই বিষয়টি এক বর্ণ থেকে অন্য বর্ণে স্থানান্তরের প্রয়োজন রাখে না।

পাঠভেদের পার্থক্যের ক্ষেত্রে, আমি কেবল সেটুকুই গ্রহণ করেছি যা আমি অপরিহার্য বা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি, আর অনুলিপিকারীদের স্পষ্ট ভুলগুলো বর্জন করেছি। মূল উৎসের সাথে গ্রন্থটি যাচাই করার ক্ষেত্রেও আমি অনুরূপ পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, কারণ লেখক প্রায়শই বর্জন বা সারসংক্ষেপের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত করতেন। একইভাবে, আমি অধ্যাপক প্রোভেনসাল কর্তৃক উপস্থাপিত অতিরিক্ত অংশগুলো থেকেও উপকৃত হয়েছি, কারণ আমি কেবল এই ক্ষেত্রেই তার সম্পাদিত সংস্করণটিকে একটি পৃথক পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য করেছি। তবে তার পাঠের যে অংশগুলো আমি সংশোধন করেছি বা তিনি যে সকল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলেন সেগুলোর ঘাটতি মেটাতে আমি যা সংযোজন করেছি, সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করিনি; কারণ তা অপ্রয়োজনে পাদটীকাকে ভারাক্রান্ত করে তুলত। অধ্যাপক রনজিটানো যা প্রকাশ করেছেন এবং আমি যে পাঠগুলো গ্রহণ করেছি তার মধ্যে পার্থক্য অত্যন্ত সামান্য, কারণ তিনি মূলত বাইরাম পাশা পাণ্ডুলিপি এবং মূল পাণ্ডুলিপির কপির (সাদ) ওপর নির্ভর করেছিলেন। সম্ভবত আরও পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার সুযোগ থাকলে অন্যান্য পার্থক্যও ফুটে উঠত, কিন্তু এই গ্রন্থটির সম্পাদনার কাজ করার সময়কার পরিস্থিতি আমাকে সেই সুযোগ দেয়নি।

এই বক্তব্যের শেষে আমি আমার বন্ধু, বিজ্ঞ আলেম ও প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক শায়খ হামাদ আল-জাসিরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। কেননা নাসেরি তার ভ্রমণকাহিনীতে এবং সামহুদি 'খুলাসাতু ওয়াফাইল ওয়াফা' গ্রন্থে যে 'আর-রাওদুল মিতার'-এর ওপর নির্ভর করেছেন, সেদিকে তিনিই আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একইভাবে তিনি—আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন—গ্রন্থের কিছু অংশ পর্যালোচনা করার সদয় অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাকে গুরুত্বপূর্ণ ইলমি টীকা প্রদান করেছেন। আমার গভীর কৃতজ্ঞতা আমার বন্ধু, প্রথিতযশা আলেম অধ্যাপক যুহাইর শাওয়ীশের প্রতি, যিনি শায়খ মুহাম্মদ নাসিফ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সম্মতিক্রমে তার কাছে থাকা (সাদ) পাণ্ডুলিপিটির প্রতিলিপি করার অনুমতি দিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি ইলমি গবেষণার উৎসাহ দানে ছিলেন অত্যন্ত উদার। আমার একান্ত প্রত্যাশা যে, এই গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমার এই পরিশ্রম এই দুই প্রিয় বন্ধু এবং অন্যান্য বন্ধুদের মহান উপকারের প্রতিদান হিসেবে গণ্য হবে, যারা এই গ্রন্থটিকে আমার এই বিনীত সেবাসহ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।

বৈরুত, মে মাস, ১৯৭৪, ইহসান আব্বাস।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌بيان بالرموز المستعملة في هذا الكتاب

ع نسخة بيرم باشا الملحقة بمكتبة نورعثمانية.

ص نسخة المرحوم الشيخ محمد نصيف بجدة.

نزهة المشتاق: نسخة كواريللي رقم 955 تمثل الكتاب كله، ونسخة طوبقبو رقم 3502 وهي نصف الكتاب.

الإدريسي (د) : صفة المغرب وأرض السودان والأندلس من نزهة المشتاق تحقيق دوزي ودي خويه (أمستردام 1969) .

الإدريسي (ب) : وصف أفريقيا الشمالية والصحراوية من نزهة المشتاق تحقيق هنري بيريس (الجزائر: 1957) .

الإدريسي (م) : صفة البلاد التي هي الآن المملكة الإيطالية، من نزهة المشتاق، تحقيق أماري وسكياباريللي (رومة 1878) .

OG: (Opus Geographicum) وهو الطبعة الجديدة من نزهة المشتاق (روما - نابلي 1970) وقد ظهر منها فصلتان تشملان الإقليم الأول والثاني.

البكري: المغرب في ذكر بلاد أفريقية والمغرب وهو جزء من المسالك والممالك، تحقيق دي سلان (الجزائر 1857) .

البكري (ح) : جغرافية الأندلس وأوروبا من كتاب المسالك والممالك، تحقيق الدكتور عبد الرحمن الحجي (بيروت 1968) .

البكري (مخ) : كتاب المسالك والممالك، نسخة خطية في لاله لي رقم 2144.
এই বইয়ে ব্যবহৃত প্রতীকসমূহের ব্যাখ্যা

ع: নুর-উসমানিয়া গ্রন্থাগারের সাথে সংযুক্ত বাইরাম পাশা পাণ্ডুলিপি।

ص: জেদ্দায় মরহুম শেখ মুহাম্মদ নাসিফের পাণ্ডুলিপি।

নুঝহাতুল মুশতাক: কুয়ারেল্লি পাণ্ডুলিপি নং ৯৫৫ যা পুরো বইটির প্রতিনিধিত্ব করে, এবং তোপকাপি পাণ্ডুলিপি নং ৩৫০২ যা বইটির অর্ধেক।

আল-ইদ্রিসি (দ): 'নুঝহাতুল মুশতাক' থেকে মাগরিব (মরক্কো), সুদান ও আন্দালুসের বর্ণনা; সম্পাদনায় ডজি এবং ডি গোয়ে (আমস্টারডাম ১৯৬৯)।

আল-ইদ্রিসি (ব): 'নুঝহাতুল মুশতাক' থেকে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা অঞ্চলের বর্ণনা; সম্পাদনায় হেনরি পেরেস (আলজিয়ার্স: ১৯৫৭)।

আল-ইদ্রিসি (ম): 'নুঝহাতুল মুশতাক' থেকে বর্তমান ইতালি অঞ্চলের বর্ণনা; সম্পাদনায় আমারি এবং শিয়াপ্যারেল্লি (রোম ১৮৭৮)।

ওজি (OG): (ওপাস জিওগ্রাফিকাম) যা 'নুঝহাতুল মুশতাক'-এর নতুন সংস্করণ (রোম - নেপলস ১৯৭০); এর দুটি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে যাতে প্রথম ও দ্বিতীয় অঞ্চলের বর্ণনা রয়েছে।

আল-বাকরি: 'আল-মাগরিব ফি জিকর বিলাদ আফ্রিকিয়্যাহ ওয়াল মাগরিব', যা 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক'-এর একটি অংশ; সম্পাদনায় ডি স্লেন (আলজিয়ার্স ১৮৫৭)।

আল-বাকরি (হ): 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' গ্রন্থ থেকে আন্দালুস ও ইউরোপের ভূগোল; সম্পাদনায় ডক্টর আব্দুর রহমান আল-হাজ্জি (বৈরুত ১৯৬৮)।

আল-বাকরি (মখ): 'কিতাব আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক', লালেলি-তে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি নং ২১৪৪।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌حرف الهمزة

‌‌آمد

مدينة من كور الجزيرة من أعمال الموصل والجزيرة ما بين دجلة والموصل، وآمد بمقربة من ميافارقين فتحها عياض بن غنم بعد قتال على مثل صلح الرها، فإنه لما أتى الرها خرج إليه أهلها فقاتلوه فهزمهم المسلمون حتى ألجأوهم إلى المدينة فطلبوا الأمان والصلح، فأجابهم عياض إليه وكتب لهم (1) : " بسم الله الرحمن الرحيم. هذا كتاب من عياض بن غنم لأسقف الرها إنكم إن فتحتم لي باب المدينة على أن تؤدوا لي عن كل رجل منكم ديناراً أو مد قمح فأنتم آمنون على أنفسكم وأموالكم ومن تبعكم، عليكم ارشاد الضال وإصلاح الجسور والطرق ونصيحة المسلمين شهد الله وكفى بالله شهيداً ". فعلى مثل هذا الصلح صالح أهل آمد وأهل ميافارقين وكفر توثا بعد قتال أيضاً على مثل صلح الرها.

ومدينة آمد كبيرة حصينة على جبل في غربي دجلة وهي كثيرة الشجر والجبل عليها مطل نحو مائة قامة وعليها سور بحجارة الأرحى السود، ولها داخل سورها مياه جارية ومطاحن على عيون تطرد وأشجار وبساتين، وبينها وبين ميافارقين مرحلتان، ولها أربعة أبواب: باب التل وباب الماء وباب الجبل وباب الروم، وفي شمالها سوران، وفي قبليها برج كبير يسمى برج الزينة، وعلى باب الروم برجان، وقصبة السلطان في شرقها. والمدينة مستعلية على شرف، وهي أكبر من ميافارقين، وداخل آمد عين ثرة. وتأتيها دجلة من شمالها وتخرج من شرقيها، وبساتينها غرباً وقبلة عنها إلى دجلة، وفي صحن جامعها أوتاد حديد قائمة معترضة من بلاط إلى بلاط ارتفاع الظاهر منها فوق الأرض ذراعان قد عقد بها كلها سلسلتان من حديد يذكر أهلها أن السرج كانت تقد عليها في سالف الأزمان.

ومن العجائب (2) جبل بآمد فيه صدع فمن انتضى سيفه وأولجه فيه وهو قابض عليه اضطرب السيف في يده وارتعد هو ولو كان أشد الناس وأعجوبة أخرى أنه من حد بذلك الجبل سكيناً أو سيفاً وحمله على الابر والمسال جذبها أكبر من جذب المغنيطس، والحجر نفسه لا يجذب الحديد ولو بقي يحد عليه مائة عام لكانت تلك القوة فيه قائمة، وهو أقوى من حجر المغنيطس لأن الثوم يذهب قوة المغنيطس، وهذا مثل الذي بحوز مورور من الأندلس من أعمال قرطبة، وأخبر من حد به سيفاً في الحجر مكانه من الجبل وقد تقادم عهده فوجده يجذب من تحت غمده وتعلق الابر بالغمد، وذكر صاحب هذا السيف أنه قد صقله مراراً فما زالت تلك القوة فيه.

ومن آمد إلى ميافارقين خمسة فراسخ. وفي سنة (3) ست وثمانين ومائتين نزل المعتضد أمير المؤمنين خليفة بغداد على آمد بعد وفاة أحمد بن عيسى بن الشيخ وقد تحصن بها ولده محمد بن أحمد بن عيسى، فبث جيوشه حولها وحاصرها، فحدث شعلة بن شهاب اليشكري قال: وجهني المعتضد إلى محمد بن أحمد بن عيسى بن الشيخ لأخذ الحجة عليه، قال: فلما صرت إليه واتصل الخبر بأم الشريف أرسلت إلي فقالت: يا ابن شهاب، كيف خلفت أمير المؤمنين؟ فقلت: خلفته والله ملكاً جزلاً وحكماً عدلاً أماراً بالمعروف فعالاً للخير متعززاً على الباطل متذللاً للحق لا تأخذه في الله لومة لائم، قال: فقالت لي: هو والله أهل ذاك ومستحقه ومستوجبه، وكيف لا يكون كذلك وهو ظل الله الممدود على بلاده، والخليفة المؤتمن على عباده، أعز به دينه وأحيا به سنته

--------------------------------------------

(1) فتوح البلدان: 106.

(2) ابن الفقيه: 67، 134.

(3) المروج 8: 134، والمنتظم 6: 16.
‌হামজা বর্ণ

‌আমিদ

এটি আল-জাজিরা অঞ্চলের জেলাসমূহের অন্তর্গত একটি শহর, যা মসুলের প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত। জাজিরা হলো দজলা নদী ও মসুলের মধ্যবর্তী এলাকা। আমিদ শহরটি মিয়াফারিকিনের নিকটবর্তী। আয়াদ ইবনে গানম যুদ্ধের পর রুহা (এডেসা) সন্ধির অনুরূপ শর্তে এটি জয় করেন। কারণ তিনি যখন রুহায় আগমন করেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা বেরিয়ে এসে তাঁর সাথে যুদ্ধ করে। মুসলিমরা তাদের পরাজিত করে শহরের ভেতরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করলে তারা নিরাপত্তা ও সন্ধির প্রার্থনা করে। আয়াদ তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেন এবং তাদের জন্য নিম্নোক্ত পত্রটি লিখে দেন (১): "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এটি আয়াদ ইবনে গানমের পক্ষ থেকে রুহার বিশপের প্রতি লিখিত পত্র। তোমরা যদি আমার জন্য শহরের ফটক খুলে দাও এই শর্তে যে, তোমাদের প্রত্যেক পুরুষ সদস্য এক দিনার অথবা এক মুদ গম প্রদান করবে, তবে তোমরা তোমাদের জান, মাল এবং তোমাদের অনুসারীদের ব্যাপারে নিরাপদ থাকবে। তোমাদের ওপর কর্তব্য হলো পথহারাদের পথ প্রদর্শন করা, সেতু ও রাস্তা সংস্কার করা এবং মুসলিমদের কল্যাণ কামনা করা। আল্লাহ সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট এবং তিনিই এর ওপর সাক্ষী।" আমিদ, মিয়াফারিকিন এবং কাফর তুথা-র অধিবাসীরাও যুদ্ধের পর রুহার সন্ধির অনুরূপ শর্তেই সন্ধি করেছিল।

আমিদ শহরটি দজলা নদীর পশ্চিম তীরে একটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত বিশাল ও সুরক্ষিত একটি নগরী। এখানে প্রচুর গাছপালা রয়েছে। পাহাড়টি এর ওপর প্রায় একশ মানব উচ্চতা সমপরিমাণ ঝুলে আছে। এর চারপাশ কালো রঙের যাঁতা পাথর দিয়ে তৈরি প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। শহরের প্রাচীরের অভ্যন্তরে প্রবহমান পানি, ঝরনার ওপর স্থাপিত চালু আটা কল, গাছপালা ও বাগান রয়েছে। আমিদ ও মিয়াফারিকিনের মধ্যবর্তী দূরত্ব দুই মনজিল (দুই দিনের পথ)। এর চারটি ফটক রয়েছে: বাবুত তিল (টিলা ফটক), বাবুল মা (পানি ফটক), বাবুল জাবাল (পাহাড় ফটক) এবং বাবুল রুম (রোমান ফটক)। এর উত্তর দিকে দুটি প্রাচীর এবং দক্ষিণ দিকে 'বুরুজুয যিনা' (সৌন্দর্য মিনার) নামক একটি বিশাল মিনার রয়েছে। রোমান ফটকের ওপর দুটি মিনার অবস্থিত এবং পূর্ব দিকে সুলতানের দুর্গ অবস্থিত। শহরটি একটি উচ্চ ভূমির ওপর অবস্থিত এবং এটি মিয়াফারিকিনের চেয়েও বড়। আমিদের অভ্যন্তরে একটি সজল ঝরনা রয়েছে। দজলা নদী এর উত্তর দিক থেকে আসে এবং পূর্ব দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর বাগানগুলো এর পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে দজলা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। এর জামে মসজিদের প্রাঙ্গণে এক চাতাল থেকে অন্য চাতাল পর্যন্ত লোহার খুঁটি আড়াআড়িভাবে পোঁতা রয়েছে, যার মাটির উপরের দৃশ্যমান অংশ দুই হাত উঁচু। এই খুঁটিগুলোর সাথে দুটি লোহার শিকল বাঁধা রয়েছে। সেখানকার অধিবাসীরা বর্ণনা করে যে, প্রাচীনকালে এগুলোর ওপর চেরাগ জ্বালানো হতো।

বিস্ময়কর বিষয়গুলোর মধ্যে (২) একটি হলো আমিদের একটি পাহাড়, যেখানে একটি ফাটল রয়েছে। যদি কেউ তার তরবারি কোষমুক্ত করে সেখানে প্রবেশ করায় এবং হাত দিয়ে ধরে রাখে, তবে তার হাতে তরবারিটি কাঁপতে থাকে এবং সে নিজেও প্রকম্পিত হয়, এমনকি সে যদি অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যক্তিও হয়। আরেকটি আশ্চর্যের বিষয় হলো, যদি কেউ সেই পাহাড়ে ছুরি বা তলোয়ার ঘষে ধার দেয় এবং তা সুঁই বা শলাকার কাছে ধরে, তবে তা চুম্বকের চেয়েও শক্তিশালীভাবে সেগুলোকে আকর্ষণ করে। অথচ পাথরটি নিজে লোহাকে আকর্ষণ করে না। যদি একশ বছর ধরেও সেখানে ঘষে ধার দেওয়া হয়, তবুও সেই শক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে। এটি সাধারণ চুম্বক পাথরের চেয়েও শক্তিশালী, কারণ রসুনের সংস্পর্শে চুম্বকের শক্তি নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু এর শক্তি নষ্ট হয় না। এটি আন্দালুসের কর্ডোবা অঞ্চলের হাওযে মাওরুর-এ অবস্থিত পাথরের মতো। এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি পাহাড়ের সেই স্থানে পাথর দিয়ে একটি তলোয়ার ধার দিয়েছিলেন এবং দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি দেখেছিলেন যে, তলোয়ারটি কোষের ভেতর থেকেও আকর্ষণ করছে এবং সুঁইগুলো কোষের গায়ে আটকে যাচ্ছে। সেই তলোয়ারের মালিক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি কয়েকবার পালিশ করেছেন কিন্তু এর ভেতরের সেই শক্তি শেষ হয়ে যায়নি।

আমিদ থেকে মিয়াফারিকিনের দূরত্ব পাঁচ ফারসাখ। ২৮৬ হিজরিতে বাগদাদের খলিফা আমিরুল মুমিনীন আল-মুতাদিদ, আহমদ ইবনে ঈসা ইবনে শায়খের মৃত্যুর পর আমিদ অভিমুখে রওনা হন। সেখানে আহমদ ইবনে ঈসার পুত্র মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ঈসা দুর্গবন্দি ছিলেন। খলিফা এর চারদিকে সৈন্য মোতায়েন করেন এবং শহরটি অবরোধ করেন। শুলা ইবনে শিহাব আল-ইয়াশকুরি বর্ণনা করেন: আল-মুতাদিদ আমাকে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ঈসা ইবনে শায়খের কাছে দলিল গ্রহণের জন্য পাঠান। তিনি বলেন: আমি যখন তার কাছে পৌঁছলাম এবং শরিফের মাতার (মুহাম্মদের মা) কাছে সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: হে ইবনে শিহাব, আমিরুল মুমিনীনকে কেমন রেখে এসেছেন? আমি বললাম: আল্লাহর কসম, তাঁকে একজন মহান সম্রাট, ন্যায়পরায়ণ শাসক, সৎকাজের আদেশদাতা, কল্যাণকামী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর, সত্যের সামনে বিনয়ী এবং আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দায় পরোয়াহীন হিসেবে রেখে এসেছি। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি আমাকে বললেন: আল্লাহর কসম, তিনি এই গুণেরই যোগ্য এবং এর দাবিদার। আর কেনই বা তা হবে না, যখন তিনি হলেন তাঁর (আল্লাহর) ভূখণ্ডের ওপর প্রসারিত আল্লাহর ছায়া, তাঁর বান্দাদের ওপর বিশ্বস্ত খলিফা; যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ফুতুহুল বুলদান: ১০৬।

(২) ইবনুল ফকিহ: ৬৭, ১৩৪।

(৩) আল-মুরুজ ৮: ১৩৪, এবং আল-মুনতাযাম ৬: ১৬।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৪)
وثبت به شريعته، ثم قالت لي: وكيف رأيت صاحبنا، تعني ابن أخيها محمد بن أحمد، قال فقلت: رأيت غلاماً حدثاً معجباً قد استحوذ عليه السفهاء فاستمد بآرائهم ونصت لأقوالهم يزخرفون له الكلام ويوردونه الندم، فقالت لي: فهل لك أن ترجع إليه بكتاب فلعلنا أن نحل ما عقد السفهاء، قال قلت: أجل، فكتبت إليه كتاباً حسناً لطيفاً أجزلت فيه الموعظة وأخلصت فيه النصيحة، وكتبت في آخره هذه الأبيات:

اقبل نصيحة أم قلبها وجع … عليك خوفاً وإشفاقاً وقل سددا

واستعمل الفكر في قولي فإنك إن … فكرت ألفيت في قولي لك الرشدا

ولا تثق برجال في قلوبهم … ضغائن تبعث الشنآن والحسدا

مثل النعاج خمول في بيوتهم … حتى إذا أمنوا ألفيتهم أسدا

وداو داءك والأدواء ممكنة … وإذ طبيبك قد ألقى إليك يدا

وأعط الخليفة ما يرضيه منك ولا … تمنعه مالاً ولا أهلاً ولا ولدا

واردف أخاً يشكر ردءاً يكون له … ردءاً من السوء لا تشمت به أحدا قال: فأخذت الكتاب وصرت به إلى محمد بن أحمد، فلما نظر فيه رمى به إلي ثم قال: يا أخا يشكر ما بآراء النساء تساس الدول، ولا بعقولهن يساس الملك، ارجع إلى صاحبك، فرجعت إلى أمير المؤمنين فأخبرته الخبر على حقه وصدقه، فقال: وأين كتاب أم الشريف؟ فأظهرته، فلما عرض عليه أعجبه شعرها وعقلها ثم قال: والله إني لأرجو أن أشفعها في كثير من القوم. فلما كان من فتح آمد ما كان ونزول محمد بن أحمد على الأمان لما عمهم القتال وجه إلي أمير المؤمنين فقال: يا شعلة بن شهاب هل عندك علم من أم شريف؟ قال، قلت: لا والله يا أمير المؤمنين، قال: فامض مع هذا الخادم فإنك تجدها في جملة نسائها، قال: فمضيت، فلما بصرت بي أسفرت عن وجهها وأنشأت تقول:

ريب الزمان وصرفه … وعدته كشف القناعا

وأذل بعد العز من؟ … االصعب والبطل الشجاعا

ولقد نصحت فما أطع؟ … ت وكم حرصت بأن أطاعا

فأبى بنا المقدار إ … لا أن نقسم أو نباعا

يا ليت شعري هل نرى … يوماً لفرقتنا اجتماعا ثم بكت وضربت بيدها على الأخرى وقالت: يا ابن شهاب كأني والله كنت أرى ما أرى فإنا لله وإنا إليه راجعون، قال فقلت: إن أمير المؤمنين قد وجهني إليك وما ذاك إلا لحسن رأيه فيك، قال فقالت لي: فهل لك أن توصل إليه كتابي هذا بما فيه؟ قلت: نعم، فكتبت إليه بهذه الأبيات:

قل للخليفة والإمام المرتضى … وابن الخلائف من قريش الأبطح

بك أصلح الله البلاد وأهلها … بعد الفساد وطال ما لم تصلح

وتزحزحت بك قبة العز التي … لولاك بعد الله لم تتزحزح

وأراك ربك ما تحب فلا ترى … ما لا تحب فجد بعفوك واصفح

يا بهجة الدنيا وبدر ملوكها … هب ظالمين ومفسدين لمصلح قال: فأخذت الكتاب وصرت به إلى أمير المؤمنين، فلما عرضت عليه الأبيات أعجبته، فأمر أن تحمل إليها تخوت من ثياب وجملة من المال وإلى ابن أخيها محمد بن أحمد بن عيسى مثل ذلك، وشفعها في كثير من أهلها ممن عظم جرمه واستحق العقوبة.

ومن العلماء المنسوبين إلى آمد المتأخرين السيف الآمدي
এবং তার মাধ্যমে তিনি তাঁর শরীয়তকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তারপর তিনি আমাকে বললেন: আপনি আমাদের লোকটিকে (অর্থাৎ তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ বিন আহমাদকে) কেমন দেখলেন? তিনি বলেন, আমি বললাম: আমি একজন অহংকারী যুবককে দেখেছি যার ওপর নির্বোধরা চড়াও হয়েছে। সে তাদের মতামতের ওপর নির্ভর করেছে এবং তাদের কথায় কান দিয়েছে; তারা তার জন্য কথাকে চাকচিক্যময় করে তোলে এবং তাকে অনুশোচনার দিকে ঠেলে দেয়। তখন তিনি আমাকে বললেন: আপনি কি একটি পত্র নিয়ে পুনরায় তার কাছে যেতে পারবেন? হতে পারে আমরা সেই জট খুলে দিতে পারব যা নির্বোধরা পাকিয়েছে। তিনি বলেন, আমি বললাম: অবশ্যই। অতঃপর আমি তার কাছে একটি অত্যন্ত সুন্দর ও মার্জিত পত্র লিখলাম যাতে প্রচুর উপদেশ ও অকৃত্রিম নসিহত ছিল। সেই পত্রের শেষে আমি এই পঙক্তিগুলো লিখলাম:

এমন এক মায়ের উপদেশ গ্রহণ করো যার হৃদয় ব্যথিত … তোমার প্রতি ভয় ও অনুকম্পায়, আর সঠিক কথা বলো।

আমার কথায় চিন্তাশক্তি ব্যয় করো, কেননা যদি তুমি … চিন্তা করো, তবে আমার কথায় তুমি সঠিক পথ খুঁজে পাবে।

এমন লোকদের বিশ্বাস করো না যাদের অন্তরে … বিদ্বেষ রয়েছে যা ঘৃণা ও হিংসাকে উসকে দেয়।

তারা তাদের ঘরে ভেড়ার মতো নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকে … কিন্তু যখন তারা নিরাপদ বোধ করে, তখন তুমি তাদের সিংহ হিসেবে দেখতে পাবে।

তোমার রোগের চিকিৎসা করো যখন নিরাময় সম্ভব … এবং যখন তোমার চিকিৎসক তোমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

খলিফাকে তা প্রদান করো যাতে তিনি তোমার ওপর সন্তুষ্ট হন, আর … তার থেকে সম্পদ, পরিবার বা সন্তান কিছুই আটকে রেখো না।

এক কৃতজ্ঞ ভাইকে সাহায্যকারী হিসেবে সাথে নাও, যে হবে তার জন্য … মন্দের বিরুদ্ধে ঢাল; এর মাধ্যমে তুমি কাউকে উপহাসের সুযোগ দিয়ো না। তিনি বলেন: আমি পত্রটি নিয়ে মুহাম্মদ বিন আহমাদের কাছে গেলাম। তিনি যখন তাতে দৃষ্টিপাত করলেন, তখন তা আমার দিকে ছুড়ে দিয়ে বললেন: ওহে ইয়াশকর গোত্রের ভাই! নারীদের মতে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় না এবং তাদের বুদ্ধিতে রাজত্ব চলে না। তোমার সঙ্গীর কাছে ফিরে যাও। এরপর আমি আমিরুল মুমিনিনের কাছে ফিরে গেলাম এবং তাঁকে প্রকৃত ও সত্য সংবাদটি জানালাম। তিনি বললেন: উম্মু শরীফের পত্রটি কোথায়? আমি সেটি বের করলাম। যখন সেটি তাঁর সামনে পেশ করা হলো, তখন তাঁর কবিতা ও প্রজ্ঞা তাঁকে মুগ্ধ করল। অতঃপর তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি আশা করি যে, এই মহিলার সুপারিশে সম্প্রদায়ের অনেক লোককে ক্ষমা করে দেব। অতঃপর যখন আমেদ বিজয় হলো এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা যখন তাদের গ্রাস করল তখন মুহাম্মদ বিন আহমাদ যখন নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিতে আত্মসমর্পণ করল, আমিরুল মুমিনীন আমাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি বললেন: হে শু’লা বিন শিহাব, উম্মু শরীফ সম্পর্কে তোমার কাছে কোনো খবর আছে কি? তিনি বলেন, আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, না, হে আমিরুল মুমিনীন। তিনি বললেন: এই দাসের সাথে যাও, তুমি তাকে তার নারীদের মাঝে খুঁজে পাবে। তিনি বলেন: আমি গেলাম। তিনি যখন আমাকে দেখলেন, তখন তিনি নেকাব সরিয়ে দিলেন এবং বলতে লাগলেন:

কালের বিপর্যয় এবং তার পরিবর্তন … এবং তার কঠিন পরিস্থিতি পর্দা উন্মোচন করে দিয়েছে।

সম্মানের পর কাকে লাঞ্ছিত করেছে? … সেই দুর্ধর্ষ ও সাহসী বীরকে।

আমি নসিহত করেছিলাম কিন্তু আমায় মানা হয়নি … আর আমি কতই না চেয়েছিলাম যে আমার আনুগত্য করা হোক।

কিন্তু ভাগ্য আমাদের কেবল … বিভক্ত করা বা বিক্রিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই বরাদ্দ করেনি।

হায়! যদি আমি জানতাম, আমরা কি আমাদের এই বিচ্ছেদের পর … পুনরায় কোনোদিন মিলনের দেখা পাব? অতঃপর তিনি কাঁদলেন এবং এক হাতের ওপর অন্য হাত মারলেন এবং বললেন: হে ইবনে শিহাব, আল্লাহর শপথ, আমি যেন যা দেখছি তা আগে থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তিনি বলেন, আমি বললাম: আমিরুল মুমিনীন আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন, আর এটি কেবল আপনার প্রতি তাঁর সদ্বারণার কারণেই। তিনি আমাকে বললেন: আপনি কি আমার এই পত্রটি এর বিষয়বস্তুসহ তাঁর কাছে পৌঁছে দেবেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তাঁর উদ্দেশ্যে এই পঙক্তিগুলো লিখলেন:

খলিফা এবং মনোনীত ইমামকে বলো … আর কুরাইশ বংশের আবতাহ উপত্যকার খলিফাদের সন্তানকে।

আপনার মাধ্যমেই আল্লাহ দেশ ও তার অধিবাসীদের সংশোধন করেছেন … দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা বিপর্যয়ের পর।

আপনার মাধ্যমেই সম্মানের সেই গম্বুজটি আন্দোলিত হয়েছে যা … আল্লাহর পর আপনি না হলে কখনো আন্দোলিত হতো না।

আপনার রব আপনাকে তা-ই দেখিয়েছেন যা আপনি ভালোবাসেন, ফলে আপনি এমন কিছু দেখবেন না … যা আপনি অপছন্দ করেন; সুতরাং আপনার ক্ষমা ও উদারতা প্রদর্শন করুন।

হে দুনিয়ার সৌন্দর্য এবং রাজন্যবর্গের পূর্ণিমা … এক নেককার ব্যক্তির খাতিরে জালিম ও ফাসাদকারীদের ক্ষমা করে দিন। তিনি বলেন: আমি পত্রটি নিয়ে আমিরুল মুমিনিনের কাছে গেলাম। যখন পঙক্তিগুলো তাঁর সামনে পেশ করা হলো, তখন তা তাঁকে মুগ্ধ করল। তিনি নির্দেশ দিলেন যেন তাঁর কাছে বস্ত্রের সিন্দুক এবং প্রচুর অর্থ পাঠানো হয়, আর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন ঈসার কাছেও অনুরূপ পাঠানো হয়। আর তিনি তাঁর পরিবারের অনেক লোকের ব্যাপারে তাঁর সুপারিশ গ্রহণ করলেন, যাদের অপরাধ অনেক বড় ছিল এবং যারা শাস্তির যোগ্য ছিল।

আমেদ শহরের সাথে সম্পৃক্ত পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে সাইফ আল-আমেদী অন্যতম।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৫)
أبو الحسن علي بن أبي الحسن (1) الفقيه الأصولي الناظر الحافظ مصنف " أحكام الأحكام " و " منتهى السول " و " أبكار الأفكار " والجدل والخلافيات وغيرها من تصانيفه، وفيه يقول القائل:

إني نصحت لأهل العلم إن قبلوا … وكل قابل نصح سوف ينتفع

لا تلتقوا السيف يوماً في مناظرة … فكل من يلتقيه السيف ينقطع

‌‌آزمُّور (2)

مدينة في بلاد المغرب فيها صنف الأديب الكاتب أبو الحسن علي بن محمد بن علي بن زنون الكتاب المسمى " الفرائد التؤام والفوائد التوام في أسماء الخيل المشاهير الأعلام " صنفه لصاحب سبتة أبي علي الحسن ابن خلاص (3) سنة تسع وثلاثين وستمائة، وهو كتاب حسن مفيد مليح في فنه، وقال في آخره: صنفه مؤلفه علي بن محمد بن علي بن زنون بمدينة آزمور.

وحدث محمد بن عقيل بن عطية قال: كانت بيني وبين الأديب أبي عبد الله محمد بن حماد صحبة ومودة ثم اجتزت عليه بمقربة من آزمور مقدماً للقضاء فوجدته في حمام قد حجر، مباح الدخول فيه لسلطانه، فحاولت الدخول إليه فمنعت، فنسبت ذلك إلى سوء أدب الخدام، فانتظرته بباب الحمام، فلما خرج وصافحته أنكر مني ما ألف، وجهل من حقي ما عرف، فكتبت إليه:

ألا أيها القاصي الذي خلت عهده … تحول الليالي وهو ليس يحول

أجدك هل أيقنت أني طالب … جداك فلم يمكن لديك قبول

وهل خلتني آتيك أشفع شافعاً … وذلك شيء ما إليه سبيل

فلم نؤت لما أن أتيت بجانب … وأعرضت عني حين حان وصول

ووالله ما أقضي للقياك حاجة … سوى رعي عهد والوفاء قليل

وما كنت إلا زائر البيت ليلة … ويحفزني من بعد ذاك رحيل

ولو قلت للشعرى أترضين أن أرى … نزيلك قالت طاب منك نزيل

فكيف ولم أعرض بشيء يخصني … ولا في طباعي أن يقال دخيل

ولي في مناديح الرئاسة مذهب … أبيت على وعد بها وأقيل

وقد كان لي لب بذكرك عامر … وظن على طول البعاد جميل

فلما تلاقينا تلاشت مبرة … ويا ليت أني قبل ذاك عليل

‌‌آمُل

بضم الميم بعد المد وآخره لام، مدينة من مدن خراسان بينها وبين مرو على شط نهر جيحون ست مراحل خفاف تكون مائة ميل وأربعة وعشرين ميلاً، وبين آمل وجيحون ثلاثة أميال وهي مدينة حسنة متوسطة القدر لها بساتين وعمارات وفيها ناس وتجارات وحمامات، ومن آمل إلى مدينة خوارزم المسماة الجرجانية اثنتا عشرة مرحلة.

وحكى البكري أن آمل من بلاد طبرية وأن منها محمد بن جرير الطبري الإمام ولعلها مدينة أخرى تسمى كذلك (4) .

وفي سنة ست عشرة ومائة ظفر أسد بن عبد الله وهو أخو خالد بن عبد الله القسري بخداش صاحب الدعوة فقطع يده ورجله وشخص به إلى آمل فقطع بها لسانه وسمل عينيه وصلبه، وكان خداش قد غير وبدل ورخص في أشياء لا تحل ونقش خاتماً

--------------------------------------------

(1) ابن خاكان 3: 293 (رقم: 432) .

(2) بفتح الزاي وتشديد الميم وضمها، ومعناها باللغة البربرية: ((الزيتون البري) .

(3) تولى سبتة سنة 637 ثم ثار على الموحدين سنة 641 وأعلن تبعيته للأمير أبي زكريا الحفصي صاحب تونس، وكانت وفاته سنة 646 (البيان المغرب 3: 359 وديوان ابن سهل، طبع بيروت 1967. واختصار القدح المعلى: 98)

(4) قال ياقوت (آمل) عن الطبري: أصله ومولده من آمل؛ والصواب أن يقول المؤلف ((طبرستان)) لا طبرية، وإن كانت النسبة غلى طبرستان ((طبري)) .
আবুল হাসান আলি ইবনে আবিল হাসান (১) ফকিহ, উসুলিবিদ, তার্কিক, হাফিজ; "আহকামুল আহকাম", "মুনতাহাস সূল", "আবকারুল আফকার", বিতর্কশাস্ত্র ও তুলনামূলক ফিকহ বিষয়ক এবং আরও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর সম্পর্কে জনৈক কবি বলেন:

আমি জ্ঞানপিপাসুদের উপদেশ দিয়েছি যদি তারা গ্রহণ করে... এবং প্রত্যেক উপদেশ গ্রহণকারীই শীঘ্রই উপকৃত হবে।

বিতর্কের ময়দানে তোমরা কখনোই 'তলোয়ার' (আলি ইবনে আবিল হাসান) এর সম্মুখীন হয়ো না... কারণ যে-ই সেই তলোয়ারের মুখোমুখি হয়, সে-ই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

‌আজম্মুর (২)

মাগরিব (মরক্কো) অঞ্চলের একটি শহর। সেখানে সাহিত্যিক ও লেখক আবুল হাসান আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে জাননুন "আল-ফাওয়াইদুত তুয়াম ওয়াল ফাওয়াইদুল তাওয়াম ফি আসমাইল খাইলিল মাশাহিরিল আলাম" নামক গ্রন্থটি রচনা করেন। তিনি এটি সেউতার অধিপতি আবু আলি হাসান ইবনুল খালাস (৩) এর জন্য ৬৩৯ হিজরিতে রচনা করেন। এটি অত্যন্ত চমৎকার, উপকারী ও নিজ বিষয়ে শ্রেষ্ঠ একটি গ্রন্থ। লেখক এর শেষে বলেছেন: এর লেখক আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে জাননুন এটি আজম্মুর শহরে রচনা করেছেন।

মুহাম্মদ ইবনে আকিল ইবনে আতিয়্যাহ বর্ণনা করেন: সাহিত্যিক আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদের সাথে আমার বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা ছিল। এরপর আমি বিচারক হিসেবে আজম্মুর শহরের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর সাক্ষাৎ করতে গেলাম। আমি তাঁকে একটি সংরক্ষিত গোসলখানায় (হাম্মাম) পেলাম, যা তাঁর ক্ষমতার কারণে জনসাধারণের প্রবেশের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। আমি ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমাকে বাধা দেওয়া হলো। আমি একে খাদেমদের অভদ্রতা বলে গণ্য করলাম এবং হাম্মামের দরজায় তাঁর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। তিনি যখন বেরিয়ে এলেন এবং আমি তাঁর সাথে মুসাফাহা করলাম, তখন তিনি আমার সাথে অপরিচিতের মতো আচরণ করলেন এবং আমার প্রাপ্য মর্যাদা দিলেন না। তখন আমি তাঁকে লিখে পাঠালাম:

হে দূরবর্তী জন, যার সম্পর্কে আমি ভেবেছিলাম তার অঙ্গীকার... রাতের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় না।

আমি কি সত্যিই নিশ্চিত হয়েছি যে আমি তোমার দয়া প্রার্থনা করছি... অথচ তোমার কাছে কোনো কবুলিয়ত নেই?

তুমি কি মনে করেছ আমি কোনো সুপারিশকারীর সুপারিশ নিয়ে তোমার কাছে আসব... অথচ সেদিকে যাওয়ার কোনো পথ নেই?

আমি যখন তোমার আঙিনায় এলাম তখন আমাকে আসতে দেওয়া হলো না... আর যখন সাক্ষাতের সময় হলো তখন তুমি আমা হতে মুখ ফিরিয়ে নিলে।

আল্লাহর কসম, আমি তোমার সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে কোনো প্রয়োজন পূরণ করতে চাইনি... বরং কেবল পুরনো সম্পর্কের রক্ষা করতে চেয়েছিলাম, অথচ বিশ্বস্ততা তো অতি নগণ্য।

আমি তো কেবল এক রাতের জন্য কোনো গৃহের মেহমান ছিলাম... যার পর শীঘ্রই আমাকে প্রস্থানের তাড়া ছিল।

আমি যদি 'শায়রা' নক্ষত্রকে বলতাম, তুমি কি আমাকে তোমার মেহমান হিসেবে পছন্দ করো... তবে সে বলত, তোমার মতো মেহমান কতই না উত্তম।

তবে কেন এমন হলো, অথচ আমি আমার ব্যক্তিগত কোনো বিষয় পেশ করিনি... আর পরগাছা হিসেবে পরিচিত হওয়া আমার স্বভাবে নেই।

নেতৃত্বের বিশাল প্রান্তরে আমার নিজস্ব পথ রয়েছে... যেখানে আমি উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিশ্রুতিতে রাত কাটাই এবং বিশ্রাম নিই।

তোমার স্মরণে আমার হৃদয় ছিল আবাদ... আর দীর্ঘ দূরত্বের পরও তোমার প্রতি আমার ধারণা ছিল সুন্দর।

কিন্তু যখন আমাদের সাক্ষাৎ হলো, তখন সব হৃদ্যতা বিলীন হয়ে গেল... হায়! যদি এর আগেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়তাম।

‌আমুল

মিম বর্ণে পেশ এবং শেষে লাম। এটি খোরাসানের একটি শহর। এর এবং মার্ভের মধ্যবর্তী দূরত্ব জাইহুন নদীর তীরে ছয়টি হালকা গন্তব্য, যা প্রায় একশ চব্বিশ মাইল হবে। আমুল ও জাইহুনের দূরত্ব তিন মাইল। এটি একটি সুন্দর এবং মাঝারি আকৃতির শহর। এখানে প্রচুর বাগান, সুউচ্চ ভবন, জনবসতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও হাম্মাম রয়েছে। আমুল থেকে খাওয়ারিজমের জুরজানিয়া শহরের দূরত্ব বারো গন্তব্য।

আল-বাকরি উল্লেখ করেছেন যে, আমুল তাবারিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এবং ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তাবারির জন্মস্থান সেখান থেকেই। সম্ভবত এটি একই নামের অন্য কোনো শহর হবে (৪)।

১১৬ হিজরিতে খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাসরির ভাই আসাদ ইবনে আবদুল্লাহ খিদাশ নামক এক দাঈকে পাকড়াও করেন। তিনি তার হাত ও পা কেটে ফেলেন এবং তাকে আমুল শহরে পাঠিয়ে দেন। সেখানে তার জিহ্বা কেটে ফেলা হয়, চোখ উপড়ে ফেলা হয় এবং তাকে শূলে চড়ানো হয়। খিদাশ (দ্বীনের বিধানে) অনেক পরিবর্তন ও বিকৃতি ঘটিয়েছিল এবং অনেক হারাম বিষয়কে বৈধ করে দিয়েছিল। সে একটি আংটি তৈরি করেছিল...

--------------------------------------------

(১) ইবনে খাকান ৩: ২৯৩ (নং ৪৩২)।

(২) যা বর্ণে ফাতহা এবং মিম বর্ণে তাশদীদ ও পেশ সহকারে। বার্বার ভাষায় এর অর্থ হলো "বন্য জলপাই" (অলিভ)।

(৩) তিনি ৬৩৭ হিজরিতে সেউতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এরপর ৬৪১ হিজরিতে মুওয়াহহিদিনদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং তিউনিসিয়ার অধিপতি আমির আবু জাকারিয়া আল-হাফসির আনুগত্য ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যু হয় ৬৪৬ হিজরিতে (আল-বায়ানুল মাগরিব ৩: ৩৫৯ এবং দিওয়ান ইবনে সাহল, বৈরুত মুদ্রণ ১৯৬৭; এবং ইখতিসারুল কদহিল মুআল্লা: ৯৮)।

(৪) ইয়াকুত (হামাভি) আত-তাবারি সম্পর্কে 'আমুল' এ বলেছেন: তাঁর মূল ও জন্ম আমুলে। লেখকের উচিত ছিল 'তাবারস্তান' বলা, 'তাবারিয়া' নয়। যদিও তাবারস্তানের অধিবাসীকেও 'তাবারি' বলা হয়।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৬)
على خاتم الإمام وأظهر كتباً مفتعلة ووجدت له كتب فيها خداش الروح وفيها سأريكم دار الفاسقين بني أمية فنيل بما نيل به، وظفر أسد بعد بجماعة من الشيعة فضرب وقطع وكسر الثنايا.

قال البكري: آمل هي المدينة العظيمة المتواصفة من مدائن طبرستان وبها كان بنو الخليل وهم قوم من أشراف العجم لهم بها نعم جليلة. وكان إبراهيم ومروان ابنا الخليل يركبان عند السفر إلى الديلم في ثمانمائة من مماليكهما سوى الموالي والخول والأتباع، وإنما كانوا أصحاب ضياع لم يدخلوا في عمل السلطان قط.

‌‌أمْسِيول (1)

هو جبل بجاية، ويأتي ذكره عند ذكر بجاية إن شاء الله تعالى.

‌‌أبَّة (2)

في البلاد الإفريقية وهي على اثني عشر ميلاً (3) من مدينة الأربس في غربيها، وكان بها من الزعفران ما يضاهي الزعفران الأندلسي كثرة وجودة. وبوسط أبة عين ماء جارية منها شرب أهلها، عذبة (4) ماؤها غزير، وكان على أبة فيما سلف من الزمان سور مبني بالطين، وأسعارها رخيصة، وأكثرها الآن خراب.

‌‌أُبَّذة (5)

مدينة بالأندلس بينها وبين بياسة سبعة أميال، وهي مدينة صغيرة وعلى مقربة من النهر الكبير، ولها مزارع وغلات قمح وشعير كثيرة جداً، وفي سنة تسع وستمائة مالت عليها جموع النصرانية بعد كائنة العقاب وكان أهلها قد أنفوا من إخلائها كما فعل جيرانها أهل بياسة، ولم ترفع تلك الجموع يداً عن قتالها حنى ملكتها بالسيف، وقتل فيها كثير، وأسروا كثيراً ووقع على ما كان فيها بين أجناس النصارى خصام آل إلى الشحناء والافتراق وكفى الله المسلمين بذلك شراً كثيراً، وكان بعضهم قد طلب أبذة فتنافسوا فيها ولم يأخذها أحد منهم وخربوا أسوارها.

‌‌أُبَال (6)

حصن بالأندلس في شمال قرطبة وعلى مرحلة منها، وهو الحصن الذي فيه معدن الزئبق، وفيه يعمل الزنجفور (7) ومنه يتجهز بالزئبق والزنجفور إلى جميع أقطار الأرض، ويخدم هذا المعدن أزيد من ألف رجل فقوم للنزول وقطع الحجر، وقوم لنقل الحطب لحرق المعدن، وقوم لعمل أواني السبك والتصفية، وقوم لبنيان الأفران والحرق، ومن وجه الأرض إلى أسفله فيما حكي أكثر من مائة قامة (8) .

‌‌أبواطا

جزيرة في إقليم برذيل وهي بازاء موضع نهر برذيل وأبواطا يأوي إليها المجوس بمراكبهم عند ارتجاج البحر، فإذا ركدت الريح وسكن البحر وأمكنهم الفرصة دخلوا النهر فجأة فيغيرون في ضفتيه حيثما أمكنهم ثم يرجعون إليها؛ وفي هذه الجزيرة آثار بنيان ومعالم عمران، وهي كثيرة الشعراء ملتفة الأشجار بها مياه عذبة ومزارع جمة، وإذا اتصلت بهم أهوال الشتاء فامتنعوا من ركوب البحر وأصابهم الجهد عمدوا إلى نوع من الشجر يكثر بهذه الجزيرة فيقتاتون به الشهر والشهرين.

‌‌الأبْواء (1)

قرية جامعة بين مكة والمدينة شرفهما الله تعالى وسطاً من المسافة، ومعنى (10) الأبواء أخلاط من الناس، وفي واديها من نبات الطرفاء ما لا يعرف بواد أكثر منه، وهي قرية حصينة كثيرة الأهل وماؤها من الآبار، والبحر منها قريب، وبينها وبين السقيا سبعة وعشرون ميلاً، وبها ماتت آمنة بنت وهب (11) أم النبي صلى الله عليه وسلم، ورسول الله صلى الله عليه وسلم ابن ست سنين، وكانت قدمت به صلى الله عليه وسلم المدينة على أخواله من بني عدي بن النجار تزيره إياهم فماتت وهي راجعة به صلى الله عليه وسلم إلى مكة، فكان صلى الله عليه وسلم مع جده عبد المطلب بن هاشم.

قال ابن إسحاق (12) : وخرج رسول صلى الله عليه وسلم حتى بلغ ودان وهي غزوة الأبواء يريد قريشاً وبني ضمرة وبني بكر بن عبد مناة فصالح بعضهم ثم رجع ولم يلق كيداً وذلك بعد اثني عشر شهراً من مقدمه المدينة صلى الله عليه وسلم.

‌‌أَبان (13)

بفتح أوله، جبل، وهما أبانان الأبيض والأسود،

--------------------------------------------

(1) الإدريسي (ب بيربس) مسيون، ص: 62، وفي بعض أصول الإدريسي (د دوزي) : 90: أمسينون.

(2) النقل عن الإدريسي (ب/ د) : 86/ 117، وأنظر أيضاً البكري: 53.

(3) البكري: ستة أميال، وهو مخالف لما عند الإدريسي.

(4) الإدريسي: غدقة.

(5) الإدريسي (د) : 203 وبروفنال: 11 والترجمة: 15 (Ubada) .

(6) الإدريسي (د) : 213 وبروفنال: 10 والترجمة: 15 (Owejo) .

(7) دوزي: الزنجفر.

(8) الإدريسي (د) : مائتي قامة وخمسين قامة.

(1) الإدريسي (ب بيربس) مسيون، ص: 62، وفي بعض أصول الإدريسي (د دوزي) : 90: أمسينون.

(10) في ع ص: وفي

(11) ابن هشام 1: 168

(12) ابن هشام 1: 591.

(13) معجم ما استجمع 1: 95.
ইমামের মোহর জাল করে সে কিছু বানোয়াট কিতাব প্রকাশ করল। তার কাছে এমন কিছু কিতাব পাওয়া গিয়েছিল যাতে ‘খদাশে রূহ’ (আত্মার আঁচড়) ছিল। তাতে লেখা ছিল: ‘আমি তোমাদের শীঘ্রই পাপাচারী উমাইয়াদের আবাসস্থল দেখাব’। অতঃপর তার সাথে যা হওয়ার তাই হলো। পরে আসাদ শিয়াদের একটি দলের উপর বিজয় লাভ করল; সে তাদের প্রহার করল, অঙ্গহানি করল এবং তাদের দাঁত ভেঙে দিল।

বাকরি বলেন: আমুল হলো তাবারস্তানের শহরগুলোর মধ্যে একটি অত্যন্ত বিশাল ও সুপরিচিত শহর। সেখানে বনু খালিল বাস করত, যারা ছিল অনারব অভিজাতদের একটি সম্প্রদায়; সেখানে তাদের অনেক বড় বড় নেয়ামত বা সম্পদ ছিল। ইবরাহীম ও মারওয়ান—খালিলের দুই পুত্র—যখন দায়লাম অভিমুখে সফরে বের হতেন, তখন তাদের সাথে তাদের আটশ ক্রীতদাস থাকত; এটি তাদের মুক্ত দাস, সেবক ও অনুসারীদের বাইরে। তারা ছিল মূলত ভূস্বামী বা জায়গিরদার, তারা কখনো সুলতানের প্রশাসনিক কাজে যোগ দেয়নি।

‌‌আমসিয়ুল (১)

এটি বেজাইয়া-র পাহাড়। বেজাইয়া বর্ণনার সময় ইনশাআল্লাহ এর আলোচনা আসবে।

‌‌আব্বাহ (২)

এটি আফ্রিকা মহাদেশের (ইফ্রিকিয়া) একটি শহর। এটি আল-আরবাস শহর থেকে পশ্চিম দিকে বারো মাইল (৩) দূরে অবস্থিত। এখানে এত বেশি ও উন্নত মানের জাফরান উৎপাদিত হতো যা আন্দালুসি জাফরানের সমকক্ষ ছিল। আব্বাহ-এর মাঝখানে একটি প্রবহমান পানির ঝরনা ছিল যা থেকে অধিবাসীরা পানি পান করত। এর পানি (৪) ছিল সুমিষ্ট ও প্রচুর। অতীতে আব্বাহ-তে মাটির তৈরি দেয়াল বা প্রাচীর ছিল। এখানকার দ্রব্যমূল্য সস্তা। বর্তমানে এর অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসপ্রাপ্ত।

‌‌উব্বাযাহ (৫)

এটি আন্দালুসের একটি শহর, বাইয়াসা ও এর মধ্যে দূরত্ব সাত মাইল। এটি একটি ছোট শহর এবং বড় নদীর সন্নিকটে অবস্থিত। এখানে অনেক শস্যক্ষেত রয়েছে এবং গম ও যব প্রচুর উৎপন্ন হয়। ৬০৯ হিজরি সনে আল-উক্বাব যুদ্ধের পর খ্রিস্টান বাহিনী এর উপর চড়াও হয়। এর অধিবাসীরা তাদের প্রতিবেশী বাইয়াসা-বাসীদের মতো শহর ছেড়ে চলে যেতে অস্বীকার করেছিল। খ্রিস্টান বাহিনী তলোয়ারের জোরে এটি দখল না করা পর্যন্ত আক্রমণ বন্ধ করেনি। সেখানে অনেককে হত্যা করা হয় এবং অনেককে বন্দী করা হয়। সেখানে যা কিছু ছিল তা নিয়ে বিভিন্ন খ্রিস্টান গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ শুরু হয়, যা শত্রুতা ও বিভেদ পর্যন্ত গড়ায়। আল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলিমদের অনেক অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। তাদের কেউ কেউ উব্বাযাহ দখলের দাবি করেছিল, ফলে তারা নিজেরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের কেউ সেটি নিতে পারেনি, তবে তারা এর প্রাচীরগুলো ধ্বংস করে দিয়েছিল।

‌‌উবাল (৬)

এটি উত্তর কর্ডোভায় (কুরতুবা) আন্দালুসের একটি দুর্গ, যা শহর থেকে এক মঞ্জিল দূরে অবস্থিত। এটি এমন এক দুর্গ যেখানে পারদের খনি রয়েছে। সেখানে সিদুরে (৭) কাজ করা হয় এবং সেখান থেকেই পারদ ও সিদুর পৃথিবীর সব প্রান্তে পাঠানো হয়। এই খনিতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ কাজ করে; একদল পাহাড় থেকে নিচে নামা ও পাথর কাটার জন্য, একদল খনি পোড়ানোর জ্বালানি কাঠ বহনের জন্য, একদল ধাতু গলানোর ও পরিশোধনের পাত্র তৈরির জন্য এবং একদল চুল্লি নির্মাণ ও পোড়ানোর কাজে নিয়োজিত। বর্ণিত আছে যে, ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা একশ কদ (৮) এরও বেশি।

‌‌আবুয়াত্বা

এটি বারদিল (বোর্দো) অঞ্চলের একটি দ্বীপ। এটি বারদিল নদীর মোহনার ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। সমুদ্র যখন উত্তাল থাকে তখন অগ্নিপূজকরা (মাজুস) তাদের জাহাজ নিয়ে আবুয়াত্বাতে আশ্রয় নেয়। বাতাস যখন থেমে যায় এবং সমুদ্র শান্ত হয় এবং তারা সুযোগ পায়, তখন তারা হঠাৎ নদীতে প্রবেশ করে এর দুই তীরে যেখানে সম্ভব আক্রমণ চালায় এবং তারপর সেখানে ফিরে আসে। এই দ্বীপে প্রাচীন অট্টালিকার ধ্বংসাবশেষ ও জনবসতির চিহ্ন রয়েছে। এটি ঘন বন ও বৃক্ষরাজিতে পূর্ণ এবং এখানে সুমিষ্ট পানি ও অনেক ফসলি জমি রয়েছে। শীতের ভয়াবহতা যখন শুরু হয় এবং তারা সমুদ্রে যাত্রা করতে পারে না এবং কষ্টে পতিত হয়, তখন তারা এই দ্বীপে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এমন এক ধরণের গাছের আশ্রয় নেয় এবং এক বা দুই মাস তা খেয়ে জীবনধারণ করে।

‌‌আল-আবওয়া (১)

এটি মক্কা ও মদিনার (আল্লাহ এই দুই শহরকে সম্মানিত করুন) মধ্যবর্তী দূরত্বের মাঝে অবস্থিত একটি জনপদ। আবওয়া শব্দের (১০) অর্থ হলো বিভিন্ন মানুষের সংমিশ্রণ। এই উপত্যকায় এত বেশি তড়ফা (ঝাউ জাতীয় গাছ) জন্মে যা অন্য কোনো উপত্যকায় দেখা যায় না। এটি একটি সুরক্ষিত গ্রাম যেখানে অনেক মানুষের বসবাস। এখানকার পানি আসে কূপ থেকে। সমুদ্র এর খুব কাছাকাছি। এটি এবং সাকিয়া-র মধ্যে দূরত্ব সাতাশ মাইল। এখানেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা আমিনা বিনতে ওয়াহাব (১১) মৃত্যুবরণ করেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ছিল ছয় বছর। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে মদিনায় তাঁর বনু আদি বিন নাজ্জার গোত্রের মামাদের কাছে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন। মদিনা থেকে মক্কায় ফেরার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিমের তত্ত্বাবধানে থাকেন।

ইবনে ইসহাক বলেন (১২): রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিযানে বের হলেন এবং ওয়াদ্দান পর্যন্ত পৌঁছালেন, যা আবওয়া যুদ্ধ নামে পরিচিত। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কুরাইশ, বনু দামরাহ ও বনু বকর বিন আবদ মানাহ। তিনি তাদের কারো কারো সাথে সন্ধি করেন এবং কোনো যুদ্ধের সম্মুখীন না হয়ে ফিরে আসেন। এটি ছিল তাঁর মদিনায় আগমনের বারো মাস পরের ঘটনা।

‌‌আবান (১৩)

প্রথম অক্ষরে ফাতহা (যবর) যোগে—এটি একটি পাহাড়। মূলত এখানে দুটি পাহাড় রয়েছে; সাদা আবান ও কালো আবান।

--------------------------------------------

(১) আল-ইদ্রিসি (বীরবস সংস্করণ) মাসিউন, পৃ: ৬২; ইদ্রিসির কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে (ডোজি সংস্করণ): ৯০: আমসিনুন।

(২) আল-ইদ্রিসি (বি/ ডি) থেকে সংগৃহীত: ৮৬/ ১১৭; আরও দেখুন আল-বাকরি: ৫৩।

(৩) আল-বাকরি: ছয় মাইল, যা ইদ্রিসির বর্ণনার বিপরীত।

(৪) আল-ইদ্রিসি: প্রচুর পানি।

(৫) আল-ইদ্রিসি (ডি): ২০৩ এবং প্রোভেনাল: ১১ এবং অনুবাদ: ১৫ (উবাদা)।

(৬) আল-ইদ্রিসি (ডি): ২১৩ এবং প্রোভেনাল: ১০ এবং অনুবাদ: ১৫ (ওউয়েজো)।

(৭) ডোজি: আয-যানজাফার (সিদুর)।

(৮) আল-ইদ্রিসি (ডি): দুইশ পঞ্চাশ কদ।

(৯) আল-ইদ্রিসি (বীরবস সংস্করণ) মাসিউন, পৃ: ৬২; ইদ্রিসির কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে (ডোজি সংস্করণ): ৯০: আমসিনুন।

(১০) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'ওয়া' শব্দের স্থলে 'ফি' রয়েছে।

(১১) ইবনে হিশাম ১: ১৬৮।

(১২) ইবনে হিশাম ১: ৫৯১।

(১৩) মু’জাম মা ইস্তাজাম ১: ৯৫।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৭)
فالأبيض لبني فزارة والأسود لبني والبة بن الحارث بن ثعلبة بن دودان بينهما فرسخ، وإياهما عنى مهلهل بقوله يعني ابنته:

انكحها فقدها الأراقم في … جنب وكان الحباء من أدم

لو بأبانين جاء يخطبها … ضرج ما أنف خاطب بدم

‌‌أبرق العزاف (1)

واد بالحجاز يقال إنه لا يتوارى جنه، قال خريم بن فاتك الأسدي صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت لعمر بن الخطاب رضي الله عنه: ألا أحدثك كيف كان بدء إسلامي، قال: بلى، قال رضي الله عنه: خرجت في طلب إبل لي … وبقية الحكاية في حرف الخاء من ابن عساكر " خريم بن فاتك " فانظره (2) .

‌‌الأبطح (3)

بمكة شرفها الله تعالى، وقريش فريقان: قريش البطاح وقريش الظواهر، فقريش البطاح هم الذين ينزلون بطحاء مكة وهم بنو عبد مناف وبنو عبد الدار وبنو عبد العزى وبنو عدي بن قصي بن كلاب وبنو زهرة بن كلاب وبنو تيم وبنو مخزوم وبنو سهم وبنو جمح، وقريش الظواهر الذين ينزلون حول مكة وهم بغيض بن لؤي وبنو الأدرم بن غالب ومحارب والحارث ابنا فهم، وسائر قريش الذين ليسوا من الأباطح ولا من الظواهر هم: سامة بن لؤي وخزيمة بن لؤي وبنو عوف بن لؤي، ويقال لرسول صلى الله عليه وسلم الأبطحي لأنه من ولد عبد مناف، وكان يقال لعبد المطلب سيد الأباطح. وقال أبو رافع، وكان على ثقل النبي صلى الله عليه وسلم: لم يأمرني أن أنزل بالأبطح ولكن ضرب قبته فنزله.

‌‌أبهر

بلد ما بين قزوين وزنجان، من قزوين إليها اثنا عشر فرسخاً ومنها إلى زنجان خمسة عشر فرسخاً. قالوا: وأبهر أيضاً في أصبهان ينسب إليها أبو بكر محمد بن عبد الله بن صالح الأبهري الفقيه المالكي (4) جمع بين القراءات وعلو الأسانيد وتفقه ببغداد وشرح مختصر ابن عبد الحكم، وانتشر عنه مذهب مالك رحمه الله في البلاد. ومولده قبل التسعين والمائتين، ومات سنة خمس وسبعين وثلثمائة.

‌‌أبيوود

من مدن خراسان، فيها ولد الفضيل بن عياض الزاهد بمكة سنة سبع وثمانين ومائة، قال سفيان بن عيينة (5) : دعانا الرشيد فدخلنا عليه ودخل الفضيل آخرنا مقنعاً رأسه بردائه، فقال: يا سفيان أيهم أمير المؤمنين؟ فقلت: هذا، فقال: أنت يا حسن الوجه الذي أمر هذه الأمة كلها في عنقك؟ لقد تقلدت أمراً عظيماً، فبكى الرشيد، ثم أتي كل رجل منا ببدرة فكل قبلها إلا الفضيل، فقال الرشيد: يا أبا علي إن لم تستحل أخذها فخذها فأعطها ذا دين وأشبع بها جائعاً واكس عارياً وفرج بها عن مكروب، فاستعفاه منها، فلما خرج قلت له: يا أبا علي أخطأت ألا أخذتها وصرفتها في أبواب البر، فأخذ بطرف لحيتي ثم قال: يا أبا محمد أنت فقيه البلد والمنظور إليه وتغلط هذا الغلط! لو طابت لأولئك لطابت لي، قال سفيان: فصغر والله إلي نفسي.

ومن أهل أبيورد محمد بن أحمد الأموي أبو المظفر الأبيوردي (6) أوحد عصره في معرفة اللغة والأنساب وغير ذلك له تصانيف كثيرة، منها " تاريخ ابيورد ونسا " و " المختلف والمؤتلف " و " طبقات العلم في كل فن " و " ما اختلف وائتلف في أنساب العرب "، وله في اللغة مصنفات ما سبق إليها، وكان متصرفاً في فنون جمة، فصيح الكلام حاذقاً بالتصنيف وافر العقل، سئل عن أحاديث الصفات فقال: بعر وتمر، وقال في قوله صلى وسلم الله عليه " ليس لعرق ظالم حق "، العروق أربعة: عرقان ظاهران وعرقان باطنان، فالظاهران الغرس والبناء والباطنان البئر والمعدن (7) وله:

تنكر لي دهري ولم يدر أنني … أعز وأحداث الزمان تهون

فظل يريني الخطب كيف اعتداؤه … وظلت أريه الصبر كيف يكون وله:

--------------------------------------------

(1) معجم ما استجمع 2: 940.

(2) تهذيب ابن عساكره 5: 128 - 132، والقصة طويلة، وخلاصتها أنه سمع هاتفاً يهتف باسم الرسول ويعدعوه إلى الرشد فتوجه إلى المدينة وأسلم.

(3) معجم ما استجمع 1: 257 (البطحاء) ، 1: 97.

(4) الديباج المذهب: 255.

(5) انظر القصة في ابن خكان 4: 47 (رقم: 531) .

(6) ابن خلكان 4: 444 (رقم: 674) .

(7) قال ابن الأثير في النهاية (3: 86 - 87) في تفسير الحديث: هو أن يجيء الرجل غلى أرض قد أحياها رجل قبله فيغرس فيها غرساً غصباً ليستوجب به الأرض، وانظر إرشاد الساري 4: 184، ونقل عن ابن شعبان في الزاهي قوله: العروق أربعة: عرقان ظاهران، وعرقان باطنان، فالظاهران البناء والغراس والباطنان الآبار والعيون.
সাদা পাহাড়টি বনু ফাজারা গোত্রের জন্য এবং কালোটি বনু ওয়ালিবা বিন হারিস বিন সালাবা বিন দাউদান গোত্রের জন্য; তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক ফারসাখ। মুহালহিল তাঁর কন্যার উদ্দেশ্যে তাঁর কবিতায় এই দুই স্থান সম্পর্কে বুঝিয়েছেন:

তাকে বিয়ে দিন, আরকামরা তাকে নিয়ে গিয়েছে... পাজরের পাশে এবং মোহরানা ছিল চামড়া

যদি সে আবানাইনে তাকে প্রস্তাব দিতে আসত... রক্তিম, কোনো প্রস্তাবকারী রক্তের কারণে লজ্জা পায়নি

‌‌আবরাক আল-আজ্জাফ (১)

হিজাজের একটি উপত্যকা। বলা হয়ে থাকে যে, এখানকার জিনেরা আত্মগোপন করে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী খুরাইম বিন ফাতিক আল-আসাদী বলেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, আমি কি আপনাকে বলব না কীভাবে আমার ইসলাম গ্রহণের সূচনা হয়েছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (খুরাইম) রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি আমার উট খুঁজতে বের হলাম... এবং কাহিনীর বাকি অংশ ইবনে আসাকিরের "খ" বর্ণে "খুরাইম বিন ফাতিক" আলোচনায় রয়েছে, সেটি দেখুন (২)।

‌‌আল-আবতাহ (৩)

মক্কায় অবস্থিত, আল্লাহ একে সম্মানিত করুন। কুরাইশরা দুই দল: কুরাইশে বিতাহ এবং কুরাইশে জাওয়াহির। কুরাইশে বিতাহ তারা যারা মক্কার নিচু ভূমিতে (বাতহা) বসবাস করে; তারা হলো বনু আবদে মানাফ, বনু আবদিদ দার, বনু আবদিল উযযা, বনু আদি বিন কুসাই বিন কিলাব, বনু জুহরা বিন কিলাব, বনু তাইম, বনু মাখযুম, বনু সাহাম এবং বনু জুমাহ। আর কুরাইশে জাওয়াহির তারা যারা মক্কার চারপাশে বসবাস করে; তারা হলো বাগিদ বিন লুআই, বনু আদরাম বিন গালিব, মুহারিব এবং হারিস—এরা দুজনেই ফিহমের পুত্র। আর অবশিষ্ট কুরাইশ যারা আবতাহ বা জাওয়াহির কোনোটির অন্তর্ভুক্ত নয় তারা হলো: সামা বিন লুআই, খুজাইমা বিন লুআই এবং বনু আউফ বিন লুআই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল-আবতাহী বলা হয় কারণ তিনি আবদে মানাফের বংশধর। আবদুল মুত্তালিবকে সাইয়িদুল আবতাহ বলা হতো। আবু রাফে বলেছেন—আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসবাবপত্রের দায়িত্বে ছিলেন: তিনি আমাকে আবতাহে অবস্থান করার আদেশ দেননি, তবে তিনি সেখানে তাঁর তাঁবু স্থাপন করেছিলেন এবং তাতে অবস্থান করেছিলেন।

‌‌আবহার

কাজউইন এবং যানজানের মধ্যবর্তী একটি শহর। কাজউইন থেকে এর দূরত্ব বারো ফারসাখ এবং সেখান থেকে যানজানে পনেরো ফারসাখ। তাঁরা বলেন: ইসফাহানেও আবহার নামক একটি স্থান রয়েছে, যার সাথে মালিকি ফকিহ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালেহ আল-আউহারীকে (৪) সম্পৃক্ত করা হয়। তিনি বিভিন্ন কেরাআত এবং উচ্চ সনদসমূহ একত্রিত করেছিলেন, বাগদাদে ফিকহ শিক্ষা করেছিলেন এবং ইবনুল হাকামের 'মুখতাসার' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছিলেন; তাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ইমাম মালিক রহ.-এর মাজহাব ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর জন্ম দুইশত নব্বই হিজরীর আগে এবং মৃত্যু তিনশত পনচাত্তর হিজরীতে।

‌‌আবিওয়ার্দ

খুরাসানের একটি শহর। সেখানে মক্কার যাহিদ ফুদাইল বিন ইয়াদ রহ. একশত সাতাশি হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। সুফিয়ান বিন উয়াইনা (৫) বলেছেন: হারুনুর রশীদ আমাদের ডাকলেন, আমরা তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। ফুদাইল সবার শেষে চাদর দিয়ে মাথা ঢেকে প্রবেশ করলেন। তিনি বললেন: হে সুফিয়ান, আমীরুল মুমিনীন কে? আমি বললাম: ইনি। তিনি (ফুদাইল) বললেন: হে সুন্দর চেহারার অধিকারী, আপনি কি সেই ব্যক্তি যার ঘাড়ে এই উম্মাহর সকল দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে? আপনি এক বিশাল দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তখন হারুনুর রশীদ কাঁদতে লাগলেন। এরপর আমাদের প্রত্যেককে একটি করে মুদ্রার থলি দেওয়া হলো, ফুদাইল ছাড়া সবাই তা গ্রহণ করল। হারুনুর রশীদ বললেন: হে আবু আলী, আপনি যদি এটি গ্রহণ করা হালাল মনে না করেন, তবে এটি গ্রহণ করে কোনো ঋণগ্রস্তকে দিয়ে দিন অথবা কোনো ক্ষুধার্তকে তৃপ্ত করুন, কোনো বস্ত্রহীনকে পরিধান করান এবং কোনো বিপদগ্রস্তের কষ্ট লাঘব করুন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করা থেকে অব্যাহতি চাইলেন। আমরা যখন বের হলাম, আমি তাঁকে বললাম: হে আবু আলী, আপনি ভুল করেছেন, কেন এটি গ্রহণ করে কল্যাণের পথে ব্যয় করলেন না? তখন তিনি আমার দাড়ি ধরে বললেন: হে আবু মুহাম্মদ, আপনি এই শহরের ফকিহ এবং সকলের দৃষ্টি আপনার ওপর, অথচ আপনি এমন ভুল করছেন! যদি এটি তাদের জন্য বৈধ হতো তবে আমার জন্যও বৈধ হতো। সুফিয়ান বলেন: আল্লাহর কসম, এতে আমার কাছে আমার নিজের মর্যাদা ছোট হয়ে গেল।

আবিওয়ার্দবাসীদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-উমাবী আবু মুজাফফর আল-আবিওয়ার্দী (৬)। তিনি তাঁর যুগে ভাষাতত্ত্ব, বংশবিদ্যা এবং অন্যান্য বিষয়ে অনন্য ছিলেন। তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে "তারিখে আবিওয়ার্দ ও নাসা", "আল-মুখতালিফ ওয়াল মুতালিফ", "তাবাকাতুল ইলম ফি কুল্লি ফান" এবং "মা ইখতালাফা ওয়া ইততালাফা ফি আনসাবিল আরব"। ভাষাতত্ত্বে তাঁর এমন কিছু রচনা রয়েছে যার নজির আগে ছিল না। তিনি বহু বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন, প্রাঞ্জলভাষী, গ্রন্থ রচনায় নিপুণ এবং প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন। তাঁকে সিফাতের (আল্লাহর গুণাবলির) হাদিসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: "গোবর এবং খেজুর"। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী "অত্যাচারী শিকড়ের কোনো অধিকার নেই" এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: শিকড় চার প্রকার—দুটি প্রকাশ্য এবং দুটি অপ্রকাশ্য। প্রকাশ্য দুটি হলো বৃক্ষরোপণ এবং ভবন নির্মাণ; আর অপ্রকাশ্য দুটি হলো কূপ এবং খনি (৭)। তাঁর কবিতা:

কালচক্র আমার প্রতি বিমুখ হলো অথচ সে জানে না যে আমি... সম্মানিত এবং যুগের বিপদাপদ তুচ্ছ

সে আমাকে বিপদের আক্রমণ দেখাতে থাকল... আর আমি তাকে দেখাতে থাকলাম ধৈর্য কেমন হয়। তাঁর আরও কবিতা:

--------------------------------------------

(১) মু'জাম মা ইস্তাজাম ২: ৯৪০।

(২) তাহযীব ইবনে আসাকির ৫: ১২৮ - ১৩২। কাহিনীটি দীর্ঘ, সংক্ষেপ হলো তিনি রাসূলুল্লাহর নাম নিয়ে আহ্বানকারী এক গায়েবি আওয়াজ শুনতে পান যা তাঁকে সঠিক পথের দিকে ডাকছিল, ফলে তিনি মদিনার দিকে রওয়ানা হন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন।

(৩) মু'জাম মা ইস্তাজাম ১: ২৫৭ (আল-বাতহা), ১: ৯৭।

(৪) আদ-দীবাজুল মুদাহহাব: ২৫৫।

(৫) কাহিনীর জন্য দেখুন ইবনে খাল্লিকান ৪: ৪৭ (নং: ৫৩১)।

(৬) ইবনে খাল্লিকান ৪: ৪৪৪ (নং: ৬৭৪)।

(৭) ইবনুল আসির 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে (৩: ৮৬ - ৮৭) হাদিসটির ব্যাখ্যায় বলেছেন: এর অর্থ হলো এক ব্যক্তি এমন এক জমিতে এল যা অন্য কেউ আগে আবাদ করেছে, অতঃপর সে জমিটি আত্মসাৎ করার জন্য তাতে কোনো কিছু রোপণ করল। দেখুন ইরশাদুস সারি ৪: ১৮৪। ইবনে শাবান থেকে 'আয-যাহি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: শিকড় চার প্রকার—দুটি প্রকাশ্য এবং দুটি অপ্রকাশ্য। প্রকাশ্য দুটি হলো ভবন ও বৃক্ষরোপণ, আর অপ্রকাশ্য দুটি হলো কূপ ও ঝরনা।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৮)
فيا ويح نفسي لا أرى الدهر منزلاً … لعلوة إلا ظلت العين تذرف

ولو دام هذا الوجد لم يبق عبرة … ولو أنني من لجة البحر أغرف وله:

بأبي ريم تعرض لي … عن رضا في طيه غضب

فأراني صبح وجنته … بظلام الصدغ ينتقب

فأتى بالكأس مترعة … كضرام النار يلتهب

فهي شمس في يدي قمر … وكلا عقديهما الشهب

ولها من ذاتها طرب … فلهذا يرقص الحبب وتوفي سنة سبع وخمسمائة بأصبهان.

‌‌الأبلة (1)

بضم الهمزة والباء واللام المشددة، مدينة بالعراق بينها وبين البصرة أربعة فراسخ ونهرها الذي في شمالها، وجانبها الآخر على غربي دجلة، وهي صغيرة المقدار حسنة الديار واسعة العمارة متصلة البساتين عامرة بالناس المياسير وهم في خصب من العيش ورفاهية.

وهي في قول محمد بن سيرين القرية التي مر بها موسى والخضر عليهما السلام فاستطعما أهلها فأبوا أن يضيفوهما، قالوا: وهم أبخل أهل قرية وأبعدها من السخاء، ويحكى أن أهلها رغبوا إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه في أن يثبت في المصحف: فأتوا أن يضيفوهما بالتاء المثناة بدل الباء وقالت فرقة: بل القرية انطاكية، وقيل: هي برقة، ويقال: إنها الجزيرة الخضراء بالأندلس.

وكان عمر بن الخطاب رضي الله عنه قد أمر بحفر نهر الأبلة فلما ولي عثمان رضي الله عنه جعل نصف النفقة على أهل الخراج والنصف الثاني على بيت المال، فمدوه إلى البصرة. والأبلة مدينة قديمة عامرة فتحها عتبة بن غزوان في زمن عمر رضي الله عنه (2) ، ولما نزل عتبة الخريبة وبالأبلة خمسمائة من الأساورة وكانت مرفأ الصين وما دونها، خرج إليه أهل الأبلة فناهضهم عتبة، وأمر رجلين من أصحابه فقال لهما: كونا في عشرة فوارس في ظهورنا فتردان المنهزم وتمنعان من أرادنا من ورائنا، ثم التقوا فاقتتلوا مقدار جزر جزور وقسمها، ثم منحهم الله تعالى أكتافهم فولوا منهزمين حتى دخلوا المدينة، ورجع عتبة إلى عسكره فأقاموا أياماً وألقى الله عز وجل في قلوبهم الرعب، فخرجوا عن المدينة وحملوا ما خف وعبروا الفرات وخلوا المدينة، فدخلها المسلمون فأصابوا متاعاً وسلاحاً وسبياً وعيناً فاقتسموا العين، وولي نافع بن الحارث أقباض الأبلة فأخرج خمسه ثم قسم الباقي بين من أفاء الله عليه، وشهد فتح الأبلة مائتان وسبعون. قالوا (3) : ولما خرج الناس لقتال أهل الأبلة قالوا للعدو: نعبر إليكم أو تعبرون إلينا؟ فقالوا: اعبروا إلينا، فأخذوا خشب العشر وأوثقوه وعبروا، فقال المشركون: لا نأخذ أولهم حتى يعبر آخرهم، فلما صاروا على الأرض كبروا تكبيرة ثم كبروا الثانية فقامت دوابهم على أرجلها ثم كبروا الثالثة فجعلت الدابة نضرب بصاحبها الأرض وجعلنا ننظر إلى رؤوس تندر لا نرى من يضربها، وفتح الله على أيديهم المدينة. وقال سلمة بن فلان (4) : شهدت فتح الأبلة فوقع في سهمي قدر نحاس، فلما نظرت إذا هي ذهب فيها ثمانون ألف مثقال، وكتب في ذلك إلى عمر رضي الله عنه، فكتب أن يحلف سلمة بالله لقد أخذتها يوم أخذتها وهي عنده نحاس فإن حلف سلمت إليه، وإلا قسمت بين المسلمين، فحلفت فسلمت لي، قال: فأصول أموالنا اليوم منها. وقال خالد بن عمير: شهدت فتح الأبلة مع عتبة بن غزوان فأصبنا سفينة مملوءة جوزاً فقال رجل منا: ما هذه الحجارة؟ وكسرناها فأكلنا منها فقلنا هذا طعام طيب.

وقال علي بن سعيد: كان فخر الدين علي بن الدامغاني قدمه الخليفة المستنصر على ديوان الزمام، قال: وصحبته من مدينة السلام إلى أسافل دجلة لجمع الأموال فانحدرنا إلى البصرة وحللنا بين نهر معقل ونهر الأبلة، فنصب فخر الدين هناك خيمة وتزاحم الوفود عليه من المسلمين واليهود والنصارى والصابئة والمجوس، فقلت له:

ما بين نهر الأبله … وبين معقل حله

--------------------------------------------

(1) انظر ياقوت (الإبلة) ونزهة المشتاق: 121.

(2) الطبري 1: 2384.

(3) الطبري 1: 2387.

(4) هو سلمة بن المحبق كما في الطبري.
হায় আমার প্রাণ! আমি তো দীর্ঘকাল ধরে এমন কোনো ঘর দেখি না … উলওয়ার জন্য যেখানে আমার চক্ষু অশ্রু বিসর্জন দেয়নি।

আর যদি এই বিরহ-বেদনা স্থায়ী হয়, তবে আমার কোনো অশ্রু অবশিষ্ট থাকবে না … যদিও আমি সমুদ্রের গভীর জলরাশি থেকে তা সংগ্রহ করি। তার আরও পঙ্‌ক্তি:

আমার পিতা উৎসর্গ হোক সেই হরিণ-শাবকের (সুন্দরের) প্রতি, যে আমার সামনে উদ্ভাসিত হয়েছে … এমন সন্তুষ্টির সাথে যার অন্তরালে রয়েছে ক্রোধ।

সে আমাকে দেখাল তার গালের শুভ্র সকাল … যা তার অলকের অন্ধকারে অবগুণ্ঠিত।

অতঃপর সে পরিপূর্ণ পানপাত্র নিয়ে এল … যা প্রজ্বলিত আগুনের শিখার মতো দেদীপ্যমান।

সেটি যেন চাঁদের হাতে থাকা এক সূর্য … এবং তাদের উভয়ের মাল্য যেন উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজী।

এর নিজস্ব মাদকতা রয়েছে … আর সে কারণেই বুদবুদগুলো নৃত্য করে। তিনি ৫০৭ হিজরিতে ইসফাহানে মৃত্যুবরণ করেন।

‌‌আল-উবুল্লা (১)

হামযাহ, বা এবং লাম-এর উপর পেশ এবং লাম-এ তাশদীদ সহযোগে; এটি ইরাকের একটি শহর, এর এবং বসরার মধ্যবর্তী দূরত্ব চার ফারসাখ। এর উত্তর দিকে একটি নদী রয়েছে এবং এর অপর পাশ দজলার পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এটি আয়তনে ছোট হলেও এর ঘরবাড়িগুলো অত্যন্ত সুন্দর, স্থাপত্যকলা সুপ্রশস্ত, বাগানগুলো অবিচ্ছিন্ন এবং সমৃদ্ধশালী লোকে পরিপূর্ণ। তারা অত্যন্ত প্রাচুর্য ও বিলাসিতার মধ্যে বসবাস করে।

মুহাম্মদ ইবনে সিরিনের মতে, এটি সেই জনপদ যার পাশ দিয়ে মুসা ও খিজির (আলাইহিমাস সালাম) অতিক্রম করেছিলেন এবং এর অধিবাসীদের কাছে খাবার চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা তাঁদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করেছিল। বর্ণনাকারীগণ বলেন: তারা যেকোনো জনপদের তুলনায় অধিক কৃপণ এবং বদান্যতা থেকে বহু দূরে ছিল। বর্ণিত আছে যে, এর অধিবাসীরা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে আবেদন করেছিল যেন তিনি মুসহাফে ‘ফা-আবাও’ (তারা অস্বীকার করল) এর পরিবর্তে ‘ফা-আতাও’ (তারা এল) লিখেন, যাতে বা-এর স্থলে তা-এর নুকতা ব্যবহৃত হয়। তবে এক দল বলেছে: বরং সেই জনপদটি ছিল আন্তাকিয়া। আবার কেউ বলেছে: এটি বারকা। কেউ কেউ বলে: এটি আন্দালুসের জাজিরাতুল খাদরা (সবুজ দ্বীপ)।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উবুল্লাহর খাল খননের নির্দেশ দিয়েছিলেন। উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন খলিফা হলেন, তখন তিনি এর ব্যয়ের অর্ধেক খারাজ প্রদানকারীদের ওপর এবং বাকি অর্ধেক বায়তুল মালের ওপর ধার্য করেন; ফলে তারা এটি বসরা পর্যন্ত সম্প্রসারিত করে। উবুল্লাহ একটি প্রাচীন জনবহুল শহর, যা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর আমলে উতবা ইবনে গাযওয়ান জয় করেছিলেন (২)। যখন উতবা আল-খুরাইবায় অবতরণ করেন, তখন উবুল্লাহতে পাঁচশত পারস্য অশ্বারোহী ছিল এবং এটি ছিল চীন ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। উবুল্লাহর অধিবাসীরা তাঁর বিরুদ্ধে বেরিয়ে এলে উতবা তাঁদের প্রতিরোধ করেন এবং তিনি তাঁর সঙ্গীদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়ে বললেন: তোমরা দশজন অশ্বারোহী নিয়ে আমাদের পেছনে থাকো, যাতে পলায়নকারীদের ফিরিয়ে আনতে পারো এবং পেছন থেকে কেউ আমাদের আক্রমণ করতে চাইলে তাকে প্রতিহত করতে পারো। অতঃপর উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়ে লড়াই করল—যার স্থায়িত্ব ছিল একটি উট জবাই করে তার গোশত বণ্টন করতে যেটুকু সময় লাগে সেই পরিমাণ। তারপর আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর বিজয় দান করলেন, ফলে তারা পরাজিত হয়ে পলায়ন করে শহরে প্রবেশ করল। উতবা তাঁর শিবিরের দিকে ফিরে গেলেন এবং সেখানে কয়েক দিন অবস্থান করলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদয়ে ত্রাসের সঞ্চার করলেন। ফলে তারা শহর থেকে বেরিয়ে পড়ল এবং যা কিছু বহন করা সহজ তা নিয়ে দজলা নদী পাড়ি দিয়ে শহর ত্যাগ করল। অতঃপর মুসলিমরা শহরে প্রবেশ করে বিপুল ধনসম্পদ, অস্ত্রশস্ত্র, যুদ্ধবন্দি ও নগদ অর্থ লাভ করলেন। তারা নগদ অর্থ বণ্টন করে নিলেন। নাফি ইবনুল হারিস উবুল্লাহর লুণ্ঠিত মালামাল সংগ্রহের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন এবং এর পঞ্চমাংশ আলাদা করে বাকিটুকু মুজাহিদদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। উবুল্লাহর এই বিজয়ে ২৭০ জন মুসলিম উপস্থিত ছিলেন। বর্ণনাকারীগণ বলেন (৩): যখন লোকেরা উবুল্লাহবাসীদের সাথে যুদ্ধের জন্য বের হলেন, তারা শত্রুদের বললেন: আমরা কি তোমাদের দিকে নদী পার হয়ে আসব, নাকি তোমরা আমাদের দিকে আসবে? তারা বলল: তোমরাই আমাদের দিকে এসো। অতঃপর তারা কাঠের ভেলা তৈরি করে তা শক্ত করে বেঁধে নদী পার হলেন। মুশরিকরা বলল: আমরা তাদের প্রথম দলকে আক্রমণ করব না যতক্ষণ না শেষ দলটি পার হয়ে আসে। অতঃপর যখন মুসলিমরা জমিনে পা রাখলেন, তারা প্রথমবার তাকবীর দিলেন, তারপর দ্বিতীয়বার তাকবীর দিলেন; ফলে শত্রুদের ঘোড়াগুলো পেছনের পায়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। এরপর যখন তারা তৃতীয়বার তাকবীর দিলেন, তখন ঘোড়াগুলো তাদের আরোহীদের নিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ল। আমরা দেখলাম যে মস্তকগুলো দেহচ্যুত হয়ে ঝরে পড়ছে কিন্তু কে তাদের আঘাত করছে তা দেখা যাচ্ছিল না। আল্লাহ তাদের হাতে শহরটি বিজয় করে দিলেন। জনৈক সালামা (৪) বলেন: আমি উবুল্লাহর বিজয়ে উপস্থিত ছিলাম এবং গনিমতের অংশে আমি একটি তামার ডেকচি পেলাম। আমি যখন দেখলাম, তখন দেখি সেটি স্বর্ণের তৈরি এবং তাতে আশি হাজার মিসকাল স্বর্ণ ছিল। এ বিষয়ে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে লিখে জানানো হলে তিনি উত্তর পাঠালেন যে, সালামা যেন আল্লাহর নামে শপথ করে যে সে যখন এটি গ্রহণ করেছিল তখন তার কাছে এটি তামা বলেই মনে হয়েছিল। যদি সে শপথ করে তবে তা তাকে দিয়ে দেওয়া হবে, অন্যথায় তা মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। আমি শপথ করলাম এবং সেটি আমার মালিকানায় চলে এল। তিনি বলেন: আজকের দিনে আমাদের সম্পদের উৎস হলো সেটিই। খালিদ বিন উমাইর বলেন: আমি উতবা বিন গাযওয়ানের সাথে উবুল্লাহর বিজয়ে উপস্থিত ছিলাম। আমরা আখরোট বোঝাই একটি জাহাজ পেলাম। আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: এই পাথরগুলো কী? আমরা সেগুলো ভাঙলাম এবং খেলাম; তখন আমরা বললাম, এটি কতই না চমৎকার খাবার।

আলী বিন সাঈদ বলেন: খলিফা আল-মুসতানসির ফাখরুদ্দিন আলী ইবনুল দামগানীকে ‘দিওয়ান আল-যিমাম’-এর প্রধান নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি বলেন: সম্পদ সংগ্রহের জন্য মদিনাতুস সালাম (বাগদাদ) থেকে দজলার নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত আমি তাঁর সাথে ছিলাম। আমরা বসরার দিকে অগ্রসর হলাম এবং নাহরে মাকিল ও নাহরে উবুল্লাহর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করলাম। ফাখরুদ্দিন সেখানে একটি তাঁবু স্থাপন করলেন এবং মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান, সাবিয়ি ও অগ্নিপূজকদের প্রতিনিধি দল তাঁর কাছে ভিড় জমাতে লাগল। তখন আমি তাকে বললাম:

নাহরে উবুল্লাহ এবং … নাহরে মাকিলের মধ্যবর্তী স্থানটি হলো এক শ্রেষ্ঠ আবাসস্থল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইয়াকুত (আল-উবুল্লা) এবং নুযহাতুল মুশতাক: ১২১।

(২) তাবারী ১: ২৩৮৪।

(৩) তাবারী ১: ২৩৮৭।

(৪) তিনি হলেন সালামা ইবনুল মুহাব্বিক, যেমনটি তাবারীতে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ৯)
قد حلها كل جود … وأمها كل مله

بدت لديها بدور … دارت عليها الأهلة

يمم ذراها لتلقى … بأفقها المجد كله فاستحسن ذلك فخر الدين، قال: وكان نزولنا في جنوبي نهر معقل وبينه وبين نهر الأبلة في الجنوب فرسخ، ويخرج من أعلى هذا النهر فيض ومن أصل النهر الآخر فيض يختلطان فيصير منهما النهر الذي يمتد مع البصرة في شرقيها، ويجمع ذلك المكان أصناف الزهر وأشتات الرياحين والنخل، فأنشد فخر الدين:

انظر إلى نهرين قد أخرجا … من دجلة ما لهما من مثيل

وإن تشا قلت أرى دارغاً … في كل كف منه سيف صقيل

والنخل والأدواح قد أحدقت … تحكي رعيلاً قد تلاه رعيل ولما دخل الططر مدينة السلام أبقوه على جباية البلاد لمعرفته بها ثم قدموه للشنق سنة تسع وخمسين وستمائة لأنهم اتهموه بمواطأة صاحب مصر عليهم.

‌‌أبطير (1)

حصن بالأندلس بمقربة من بطليوس من بناء محمد بن أبي عامر، من جليل الصخر داخله عين ماء خوارة، وهو اليوم خال، وعلى مقربة منه بنحو ثلاث غلاء (2) قبر في نشز من الأرض قد نحت في حجر وقد نضد عليه صفائح الحجارة ويعرف بقبر الشهيد ولا يعلم له وقت لقدمه، يرفع عنه بعض تلك الصفائح فيرى صحيح الجسم لم يتغير، نابت الشعر.

‌‌أبركاوان

جزيرة في البحر بينها وبين سيراف مائة وخمسون فرسخاً وفيها قلاع شتى وفيها أجوان كثيرة ومستقى ومحتطب كثير، وفيها معادن الحديد، وطولها اثنا عشر فرسخاً، وبينها وبين ساحل بحر فارس فرسخان.

‌‌ابرشهر

هي مدينة نيسابور، وقصدها غازياً الأحنف بن قيس من قبل ابن عامر فلقيه الهياطلة فقاتلهم فهزمهم، ثم أتى ابن عامر نيسابور فافتتح مدينة ابرشهر هذه، قيل صلحاً وقيل عنوة، وفتح ما حولها: طوس وبيورد ونسا وسرخس، ولما افتتحها ابن عامر أعطوه جاريتين من آل كسرى.

‌‌أبيض المدائن

ويقال له القصر الأبيض، وهو الذي لا يدرى من بناه وهو من المدينة العتيقة من المدائن دار ملك الأكاسرة بالعراق، وهو المشار إليه في حديث النسائي (3) عن البراء بن عازب رضي الله عنهما، قال: لما أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نحفر الخندق عرض لنا فيه حجر لا يأخذ فيه المعول فاشتكينا ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فألقى ثوبه وأخذ المعول بيده وقال: " بسم الله " فضرب ضربة فكسر ثلث الصخرة، قال صلى الله عليه وسلم: " الله أكبر. أعطيت مفاتيح الشام والله إني لأنظر قصورها الحمر الآن من مكاني هذا "، قال: ثم ضرب أخرى وقال: " بسم الله " وكسر ثلثاً آخر وقال: " الله أكبر. أعطيت مفاتيح فارس والله إني لأنظر قصر المدائن الأبيض "، ثم ضرب ثالثة وقال: " بسم الله " فقطع بقية الحجر وقال: " الله أكبر. أعطيت مفاتيح اليمن والله إني لأنظر باب صنعاء "، وهذا الحديث أوضح في المعنى من حديث سلمان رضي الله عنه الذي في السير (4) ، وذلك أن المدائن على مسافة يوم من بغداد ويشتمل مجموعها على مدائن متصلة مبنية على جانبي دجلة شرقاً وغرباً، ودجلة تشق بينها ولذلك سميت المدائن: الغربية منها تسمى بهرسير، والمدينة الشرقية تسمى العتيقة، وفيها القصر الأبيض الذي لا يدرى من بناه، ويتصل بهذه المدينة العتيقة المدينة الأخرى التي كانت الملوك تنزلها، وفيها إيوان كسرى العجيب الشأن الشاهد بضخامة ملك بني ساسان، ويقال إن سابور ذا الأكتاف منهم هو الذي بناه وهو من أكابر ملوكهم وقد ذكر أبو عبادة البحتري هذا القصر الأبيض وما كان مصوراً فيه من الصخور العجيبة والتماثيل البديعة في قصيدته السينية البارعة الفريدة (5) :

حضرت رحلي الهموم فوجه؟ … ت إلى أبيض المدائن عنسي

أتسلى عن الحظوظ وآسى … لمحل من آل ساسان درس

ذكرتنيهم الخطوب التوالي … ولقد تذكر الخطوب وتنسي

--------------------------------------------

(1) برفنسال: 11 والترجمة: 16 ولم يعرف بها.

(2) الغلاء: جمع غلوة، وهي رمية السهم.

(3) سنن النسائي؛ باب الجهاد (6: 43) وليس فيه رواية عن البراء بن عازب، وإنما الرواية عن البراء في مسند احمد 4: 303 قريبة الشبه بما أورده المؤلف.

(4) انظر ابن هشام 2: 219.

(5) ديوان البحتري: 1152.
সকল বদান্যতা সেখানে আশ্রয় নিয়েছে … এবং প্রতিটি জাতি সেখানে ভিড় করেছে

সেখানে পূর্ণিমা উদিত হয়েছে … তার চারপাশে অর্ধচন্দ্রসমূহ ঘুরপাক খেয়েছে

তার চূড়ার দিকে চলো যাতে খুঁজে পাও … তার দিগন্তজুড়ে পূর্ণ মহিমা ফখরুদ্দীন তা পছন্দ করলেন। তিনি বললেন: আমাদের অবস্থান ছিল মা'কিল নদীর দক্ষিণে, এটি এবং আল-উবুল্লা নদীর দক্ষিণের দূরত্ব এক ফরসাখ। এই নদীর উপরিভাগ থেকে একটি জলধারা বের হয় এবং অন্য নদীর তলদেশ থেকে একটি জলধারা বের হয়, তারা একত্রে মিশে সেই নদীটি গঠন করে যা বসরার পূর্ব দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেই স্থানটি বিভিন্ন ধরনের ফুল, নানাবিধ সুগন্ধি উদ্ভিদ ও খেজুর গাছকে একত্রিত করেছে। তখন ফখরুদ্দীন আবৃত্তি করলেন:

তাকাও এই দুটি নদীর দিকে যা বের হয়ে এসেছে … দজলা থেকে, যাদের কোনো তুলনা নেই

আর তুমি চাইলে বলতে পারো আমি একজন যোদ্ধাকে দেখছি … যার প্রতিটি হাতে রয়েছে একটি ঝকঝকে তলোয়ার

খেজুর গাছ ও বিশাল বৃক্ষরাজি একে ঘিরে আছে … যেন এক সেনাদলের পর আরেক সেনাদল আসছে। আর যখন তাতাররা মদিনাতুস সালামে প্রবেশ করল, তখন তারা তাকে দেশের কর আদায়ের দায়িত্বে বহাল রাখল কারণ সে বিষয়ে তার ভালো জানাশোনা ছিল। অতঃপর ৬৫৯ হিজরিতে তারা তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলাল, কারণ তারা তাকে মিশরের অধিপতির সাথে যোগসাজশের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল।

‌‌আবতির (১)

আন্দালুসের একটি দুর্গ যা বাতালইউস-এর নিকটবর্তী। এটি মুহাম্মাদ ইবন আবি আমির নির্মাণ করেন। বিশাল পাথর দিয়ে নির্মিত এই দুর্গের ভেতরে পানির একটি ঝরনা রয়েছে। এটি বর্তমানে পরিত্যক্ত। এর থেকে প্রায় তিন গিলাহ (২) দূরে ভূমির একটি উঁচু স্থানে একটি কবর রয়েছে যা পাথরের গায়ে খোদাই করা এবং তার উপর পাথরের ফলক সাজানো রয়েছে। এটি শহীদের কবর নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত প্রাচীন হওয়ায় এর সময়কাল সম্পর্কে জানা যায় না। সেই ফলকগুলোর কিছু অংশ সরালে দেখা যায় শরীরটি অক্ষত অবস্থায় আছে, কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং চুল গজানো অবস্থায় রয়েছে।

‌‌আবরাকাওয়ান

সমুদ্রের একটি দ্বীপ, যা সিরাফ থেকে একশ পঞ্চাশ ফরসাখ দূরে অবস্থিত। এতে বিভিন্ন দুর্গ, অনেকগুলো উপসাগর, পানীয় জলের উৎস এবং প্রচুর জ্বালানি কাঠ রয়েছে। এতে লোহার খনিও আছে। এর দৈর্ঘ্য বারো ফরসাখ এবং এর ও পারস্য সমুদ্রের উপকূলের মধ্যবর্তী দূরত্ব দুই ফরসাখ।

‌‌আবরাশহর

এটি মূলত নিশাপুর শহর। ইবন আমিরের পক্ষ থেকে আল-আহনাফ ইবন কাইস এটি জয়ের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। তখন হিয়াতালি জাতি তার মুখোমুখি হয়। তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের পরাজিত করেন। অতঃপর ইবন আমির নিশাপুরে এসে এই আবরাশহর শহরটি জয় করেন; বলা হয় এটি সন্ধির মাধ্যমে হয়েছে, আবার বলা হয় যুদ্ধের মাধ্যমে। তিনি এর আশেপাশের এলাকাগুলোও জয় করেন: তুস, বিওয়ার্দ, নাসা এবং সারাখস। যখন ইবন আমির এটি জয় করেন, তারা তাকে কিসরার বংশের দুইজন দাসী প্রদান করে।

‌‌আবইয়ায আল-মাদায়িন

একে শ্বেত প্রাসাদও বলা হয়। এটি কে নির্মাণ করেছেন তা জানা যায় না। এটি ইরাকে কিসরাদের রাজকীয় আবাসস্থল মাদায়িনের প্রাচীন শহরের অংশ। আন-নাসায়ী (৩)-তে বর্ণিত বারা ইবন আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদিসে এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের খন্দক খননের নির্দেশ দিলেন, তখন সেখানে এমন একটি বড় পাথর দেখা দিল যা কোদাল দিয়ে ভাঙা যাচ্ছিল না। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলাম। তখন তিনি তাঁর চাদরটি রাখলেন এবং নিজের হাতে কোদাল নিলেন এবং বললেন: "বিসমিল্লাহ"। এরপর তিনি একটি আঘাত করলেন এবং পাথরের এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে ফেললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আল্লাহু আকবার। আমাকে শামের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে, আল্লাহর কসম আমি এখান থেকে তার লাল প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি।" তিনি বললেন: এরপর তিনি দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেন: "বিসমিল্লাহ" এবং আরও এক-তৃতীয়াংশ ভাঙলেন এবং বললেন: "আল্লাহু আকবার। আমাকে পারস্যের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে, আল্লাহর কসম আমি মাদায়িনের শ্বেত প্রাসাদ দেখতে পাচ্ছি।" অতঃপর তিনি তৃতীয়বার আঘাত করলেন এবং বললেন: "বিসমিল্লাহ" এবং পাথরের অবশিষ্ট অংশ কেটে ফেললেন এবং বললেন: "আল্লাহু আকবার। আমাকে ইয়ামেনের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে, আল্লাহর কসম আমি সানআর তোরণ দেখতে পাচ্ছি।" এই হাদিসটির অর্থ সীরাতগ্রন্থে (৪) বর্ণিত সালমান (রা.)-এর হাদিস অপেক্ষা অধিক স্পষ্ট। আর তা হলো, মাদায়িন বাগদাদ থেকে একদিনের দূরত্বে অবস্থিত এবং এটি দজলা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম উভয় তীরে গড়ে ওঠা কতগুলো শহরের সমষ্টি। দজলা নদী এর মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, তাই একে মাদায়িন (বহুবচন শহরসমূহ) বলা হয়। এর পশ্চিমাংশকে বাহরাসীর বলা হয় এবং পূর্বাঞ্চলীয় শহরটিকে আল-আতিকা বলা হয়। এতেই সেই শ্বেত প্রাসাদ অবস্থিত যা কে নির্মাণ করেছেন তা জানা যায় না। এই প্রাচীন শহরের সাথেই অন্য শহরটি যুক্ত যেখানে রাজারা বসবাস করতেন। সেখানে কিসরার সেই বিস্ময়কর আইওয়ান (খিলান) অবস্থিত যা সাসানি রাজবংশের রাজত্বের বিশালতার সাক্ষী। বলা হয় যে, তাদের সম্রাট সাবুর যুল আকতাফ এটি নির্মাণ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাদের মহান রাজাদের একজন। আবু উবাদাহ আল-বুহতুূরী এই শ্বেত প্রাসাদ এবং এর পাথরের গায়ে খোদাই করা চমৎকার নকশা ও অপূর্ব প্রতিকৃতি সম্পর্কে তার অনন্য সিনিয়া কবিতায় (৫) উল্লেখ করেছেন:

আমার উটের হাওদায় দুশ্চিন্তা ভর করল, তাই আমি আমার উটটিকে … মাদায়িনের শ্বেত প্রাসাদের দিকে চালিত করলাম

আমি নিজের ভাগ্য নিয়ে সান্ত্বনা খুঁজি এবং ব্যথিত হই … কিসরা বংশের সেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থানের জন্য

পরপর ঘটে যাওয়া বিপদসমূহ আমাকে তাদের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে … বিপদসমূহ কখনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, আবার কখনো ভুলিয়ে দেয়

--------------------------------------------

(১) বরফেন্সাল: ১১ এবং অনুবাদ: ১৬; তিনি এর পরিচয় দেননি।

(২) আল-গিলা’: এটি গালওয়া-এর বহুবচন, যার অর্থ তীরের পাল্লা বা নিক্ষেপ করা তীরের দূরত্ব।

(৩) সুনান আন-নাসাঈ; জিহাদ অধ্যায় (৬: ৪৩), তবে এতে বারা ইবন আযিব থেকে কোনো বর্ণনা নেই। বারা থেকে বর্ণনাটি মুসনাদে আহমাদ ৪: ৩০৩-এ রয়েছে, যা লেখকের উল্লিখিত বর্ণনার কাছাকাছি।

(৪) দেখুন ইবন হিশাম ২: ২১৯।

(৫) দিওয়ান আল-বুহতুূরী: ১১৫২।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১০)
وهم خافضون في ظل عال … مشرف يحسر العيون ويخسي

حلل لم تكن كأطلال سعدى … في قفار من المهامه ملس

ومساع لولا المحاباة مني … لم تطقها مسعاة عنس وعبس

لو تراه علمت أن الليالي … جعلت فيه مأتماً بعد عرس

وهو ينبيك عن عجائب قوم … لا يشاب البيان فيهم بلبس

فإذا ما رأيت صورة انطاكي … ة ارتعت بين رومٍ وفرس

والمنايا مواثل وأنوشروان يزجي … الصفوف تحت الدرفس

في اخضرار من اللباس على أخ؟ … ضر يختال في صبيغة ورس

وعراك الرجال بين يديه … في خفوت منهم واغماض جرس

من مشيح يهوي بعامل رمح … ومليح من السنان بترس

تصف العين أنهم جد أحيا … ء لهم بينهم إشارة خرس

يغتلي فيهم ارتيابي حتى … تتقراهم يداي بلمس

‌‌أبيار (1)

بفتح أوله، قرية من كور البلاد المصرية منها أبو الحسن علي بن إسماعيل الصنهاجي الفقيه شارح " البرهان ".

‌‌الأبلق الفرد

هو حصن السموأل بن عاديا، قالوا: إذا خرجت من المدينة وأنت تريد تيماء فتنزل الصهباء ثم تنزل كذا ثم تنزل العين ثم كذا ثم تسير ثلاث ليال في الجناب ثم تترل تيماء وهي لطيء (2) . وبتيماء حصن الأبلق الفرد الذي كان ينزله السموأل، والعرب تضرب المثل بهذا الأبلق الفرد في الحصانة والمنعة فتقول: تمرد مارد وعز الأبلق (3) . وزعموا أنه من بنيان سليمان عليه السلام.

وكان الحارث بن أبي شمر الغساني بلغه أن امرأ القيس أودع سلاحاً وكراعاً عند السموأل فبعث إليه رجلاً من أهل بيته يقال له الحارث بن مالك فلما دنا من حصنه أغلق بابه وسأله ما الذي جاء به؟ فقال له الحارث: جئتك لتدفع إلي كراع امرئ القيس، فأبى عليه، وكان للسموأل خارج الحصن ابن يقتنص يومه فلما رجع قال له الحارث: إن لم تعطني ما سألتك قتلت ابنك هذا، فقال: لا سبيل إلى ذلك فاصنع ما أنت صانع، فقتل ابنه، فضربت به العرب المثل في الوفاء وقالت: أوفى من السموأل، وفي ذلك يقول أعشى قيس (4) :

كن كالسموأل إذ طاف الهمام به … في جحفل كهزيع الليل جرار

بالأبلق الفرد من تيماء منزله … حصن حصين وجار غير غدار

خيره خطتي خسف فقال له … مهما تقولن فإني سامع دار

فقال ثكل وغدر أنت بينهما … فاختر وما فيهما حظ لمختار

فشك غير طويل ثم قال له … اقتل أسيرك إني مانع جاري

‌‌أباغ (5)

عين أباغ في طرف أرض العراق مما يلي الشام فيها أوقع الحارث الغساني وهو يدين لقيصر بالمنذر بن المنذر وبعرب العراق وهم يدينون لكسرى وقتل المنذر يومئذ. وقال الرياشي: عين أباغ بين بغداد والرقة وأنشد:

بعين أباغ قاسمنا المنايا … فكان قسيمها خير القسيم وبعين أباغ مات صالح بن علي بن عبد الله بن العباس عم أبي جعفر المنصور وهو يريد الشام، وروي أن صالحاً هذا ظفر ببشر بن عبد الواحد بن سليمان بن عبد الملك فقال: انه قد كان من بلاء أبي هذا عندنا وإحسانه إلينا ما يوجب حفظه، فقال له بشر: فلينفعني هذا عند الأمير اليوم، فقال: أما قتلك فلا بد منه لكتاب أمير المؤمنين إلي بذلك وأنه لا سبيل إلى مخالفته، ولكني أقدم الذي سعى بك فأضرب عنقه بين يديك وأكافئ الذي آواك، ففعل ذاك.

--------------------------------------------

(1) ياقوت: (أبيار) وانظر ترجمة الأبياري في الديباج: 213 وكانت وفاته سنة 616، والبرهان من مؤلفات الجويني.

(2) معجم ما استعجم 1: 329 والنص بتمامه: فتنزل الصهباء لأشجع ثم تنزل أشمذين لأشجع ثم تنزل العين ثم سلاح لبني عذرة ثم تسير ثلاث ليال في الجناب.. الخ.

(3) فصل المقال: 130 - 131 والميداني 1: 84 والعسكري 1: 179.

(4) ديوان الأعشى: 126.

(5) معجم ما استعجم 1: 95.
তারা এক সুউচ্চ ছায়ার নিচে অবনত হয়ে আছে … যা দৃষ্টিকে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত করে দেয়।

এগুলো সেই জনপদ নয় যেমনটি ছিল সু’দার ধ্বংসাবশেষ … যা কোনো নির্জন মসৃণ মরুপ্রান্তরে অবস্থিত ছিল।

এমন সব মহৎ প্রচেষ্টা যা যদি আমার পক্ষপাতমূলক প্রশংসা না হতো … তবে ‘আনাস’ ও ‘আবসা’ গোত্রের উটগুলো তার ভার সইতে পারত না।

যদি আপনি তা দেখতেন তবে জানতেন যে রাতগুলো … সেখানে বাসর উদযাপনের পর শোকের মাতম তৈরি করেছে।

তা আপনাকে এমন এক জাতির বিস্ময়কর সংবাদ দেবে … যাদের বর্ণনা কোনো অস্পষ্টতার মিশ্রণ ছাড়াই সুস্পষ্ট।

যখন আপনি আন্তাকিয়ার চিত্র দেখবেন … তখন রোমান ও পারস্য বাহিনীর মাঝে আপনি শঙ্কিত হবেন।

সেখানে মৃত্যুর দূতগণ উপস্থিত এবং আনুশিরওয়ান পরিচালনা করছেন … সেই বিশাল পতাকাতলে সারিবদ্ধ সৈন্যদলকে।

সবুজ পোশাকে সজ্জিত এক ব্যক্তি কি … পীত বর্ণের রঙে রঞ্জিত হয়ে দম্ভভরে পদচারণা করছে?

তার সম্মুখে পুরুষদের লড়াই চলছে … অতি ক্ষীণ স্বরে এবং নিভৃত কোলাহলে।

কেউ একাগ্র চিত্তে বর্শা নিক্ষেপ করছে … আবার কেউ ঢাল দিয়ে বর্শার ফলক প্রতিহত করছে।

দৃষ্টি বর্ণনা করে যে তারা প্রকৃতপক্ষেই জীবিত … যাদের মাঝে রয়েছে মূক ইশারা।

তাদের ব্যাপারে আমার সংশয় ক্রমশ বাড়তে থাকে যতক্ষণ না … আমার হাতগুলো তাদের স্পর্শ করে পরীক্ষা করে।

‌‌আবইয়ার (১)

প্রথম অক্ষরে ফাতহা দিয়ে পড়তে হয়, এটি মিশরের একটি অঞ্চলের অন্তর্গত একটি গ্রাম। সেখান থেকেই আবু আল-হাসান আলী বিন ইসমাইল আস-সানহাজি আল-ফকিহ এসেছেন, যিনি ‘আল-বুরহান’ গ্রন্থের ব্যাখ্যাকারক।

‌‌আল-আবলাক আল-ফারদ

এটি সামাওয়াল বিন আদিয়ার দুর্গ। বলা হয়: আপনি যখন মদিনা থেকে তায়মার উদ্দেশ্যে বের হবেন, তখন আস-সাহবায় অবতরণ করবেন, তারপর অমুক স্থানে, এরপর আল-আইন নামক স্থানে, এরপর অন্য কোথাও, অতঃপর তিন রাত জানাব অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন এবং এরপর তায়মায় পৌঁছাবেন, যা তায়ি গোত্রের অধীনস্থ (২)। তায়মায় আল-আবলাক আল-ফারদ দুর্গ অবস্থিত যেখানে সামাওয়াল বসবাস করতেন। আরবরা এই আল-আবলাক আল-ফারদকে দুর্ভেদ্যতা ও অজেয়তার উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে বলে: ‘মারিদ অবাধ্য হলো এবং আবলাক দুর্ভেদ্য হলো’ (৩)। ধারণা করা হয় যে, এটি সুলাইমান আলাইহিস সালামের নির্মিত ইমারতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

গাসসানী শাসক আল-হারিস বিন আবি শামিরের কাছে খবর পৌঁছালো যে, ইমরুল কায়েস সামাওয়ালের নিকট কিছু যুদ্ধাস্ত্র ও ঘোড়া আমানত রেখেছেন। তখন তিনি তার পরিবারের হারিস বিন মালিক নামক এক ব্যক্তিকে তার কাছে পাঠালেন। সে যখন দুর্গের নিকটবর্তী হলো, সামাওয়াল দুর্গের দরজা বন্ধ করে দিলেন। হারিস তাকে জিজ্ঞাসা করল সে কেন এসেছে? তখন হারিস তাকে বলল: আমি আপনার কাছে এসেছি যাতে আপনি ইমরুল কায়েসের সম্পদগুলো আমার কাছে সমর্পণ করেন। কিন্তু সামাওয়াল তা অস্বীকার করলেন। দুর্গের বাইরে সামাওয়ালের এক পুত্র ছিল যে শিকারে ব্যস্ত ছিল। সে যখন ফিরল, তখন হারিস তাকে ধরে ফেলল এবং বলল: যদি তুমি আমার প্রার্থিত বস্তু আমাকে না দাও, তবে আমি তোমার এই পুত্রকে হত্যা করব। সামাওয়াল বললেন: আমানত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তোমার যা ইচ্ছা করতে পারো। তখন সে তার পুত্রকে হত্যা করল। আরবরা তার এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্বস্ততার উদাহরণ দিয়ে বলে: ‘সামাওয়ালের চেয়েও বেশি বিশ্বস্ত’। এই প্রসঙ্গে আ’শা কায়েস বলেন (৪):

তুমি সামাওয়ালের মতো হও যখন এক বীর সেনানি তাকে পরিবেষ্টন করেছিল … রাতের অন্ধকারের ন্যায় এক বিশাল বাহিনী নিয়ে।

তায়মা অঞ্চলে তার আবাসস্থল ছিল আল-আবলাক আল-ফারদে … যা এক সুদৃঢ় দুর্গ এবং সে ছিল এক অবিশ্বস্ততাহীন প্রতিবেশী।

সে তাকে দুটি কঠিন অবস্থার মধ্যে একটি বেছে নিতে বলল, তখন সে তাকে বলল … তুমি যা-ই বলো না কেন, আমি তা শোনার জন্য প্রস্তুত।

সে বলল, পুত্র হারানো এবং বিশ্বাসঘাতকতা—এই দুটির মাঝে তুমি আছো … সুতরাং বেছে নাও, তবে এই দুটির কোনোটিতেই কোনো পছন্দকারীর জন্য কল্যাণ নেই।

সে সামান্যতম বিলম্ব না করে তাকে বলল … তুমি তোমার বন্দীকে হত্যা করো, আমি অবশ্যই আমার প্রতিবেশীর আমানত রক্ষা করব।

‌‌আবাগ (৫)

আইন আবাগ ইরাক ভূমির সীমান্তে সিরিয়ার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে গাসসানী হারিস—যিনি কায়সারের আনুগত্য করতেন—মুনজির বিন মুনজির এবং ইরাকের আরবদের ওপর আক্রমণ করেন যারা কিসরার আনুগত্য করত। সেদিন মুনজির নিহত হন। রিয়াশি বলেছেন: আইন আবাগ বাগদাদ ও রাক্কার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। তিনি আবৃত্তি করেন:

আইন আবাগে আমরা মৃত্যুকে বণ্টন করেছি … আর সেই বণ্টনে মৃত্যুর ভাগই ছিল সর্বোত্তম। আর আইন আবাগে সালেহ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ইন্তেকাল করেন, যিনি আবু জাফর আল-মানসুরের চাচা ছিলেন। তিনি সিরিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, এই সালেহ বিশর বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন সুলাইমান বিন আব্দুল মালিককে পাকড়াও করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন: আমাদের কাছে তোমার পিতার অনেক অবদান ও অনুগ্রহ রয়েছে যা রক্ষা করা আবশ্যক। বিশর তাকে বললেন: আজ আমিরের কাছে এটি আমার উপকারে আসুক। তিনি বললেন: তোমাকে হত্যা করা তো অনিবার্য কারণ আমিরুল মুমিনীনের নির্দেশ আমার কাছে এসেছে এবং তার আদেশ অমান্য করার কোনো পথ নেই। তবে যে ব্যক্তি তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছে তাকে আমি আগে আনব এবং তোমার চোখের সামনেই তার শিরশ্ছেদ করব, আর যে তোমাকে আশ্রয় দিয়েছে তাকে পুরস্কৃত করব। এরপর তিনি তাই করলেন।

--------------------------------------------

(১) ইয়াকুত: (আবইয়ার)। আরও দেখুন ‘আদ-দিবাজ’ গ্রন্থে আল-আবইয়ারির জীবনী: ২১৩। তিনি ৬১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আল-বুরহান আল-জুওয়াইনির অন্যতম রচনা।

(২) মু’জাম মা ইস্তা’জাম ১: ৩২৯। মূল পাঠটি হলো: আস-সাহবায় আশজা’ গোত্রের জন্য অবতরণ করবে, তারপর আশজা’ গোত্রের জন্য আশমাজাইন-এ, তারপর আল-আইন-এ, তারপর বনু উযরার সিলাহ-এ, এরপর তিন রাত জানাব অঞ্চলে ভ্রমণ করবে.. ইত্যাদি।

(৩) ফাসলুল মাকাল: ১৩০-১৩১; আল-মায়দানি ১: ৮৪ এবং আল-আসকারি ১: ১৭৯।

(৪) দিওয়ানুল আ’শা: ১২৬।

(৫) মু’জাম মা ইস্তা’জাম ১: ৯৫।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أبين (1)

باليمن، قيل فيه بكسر الألف وفتحها، وهو اسم رجل في الزمن القديم إليه تنسب عدن أبين من بلاد اليمن وبينها وبين عدن اثنا عشر ميلاً. وفي كلام شق في تفسير رؤيا ربيعة بن نصر: أحلف بما بين الحرتين من إنسان لينزلن أرضكم السودان فليغلبن على كل طفلة البنان وليملكن ما بين أبين إلى نجران، إلى آخر أسجاعه.

‌‌الأثيل

واد في حيز بدر طوله ثلاثة أميال، بينه وبين بدر ميلان حيث كانت الوقعة المباركة بين النبي صلى الله عليه وسلم وكفار قريش سنة اثنتين، وكانت بدر موسماً من مواسم العرب ومجمعاً من مجامعهم في الجاهلية، وبها قصور وبئار ومياه تستعذب بأرض يقال لها الأثيل ويقرب منها ينبع والصفراء والجار والجحفة (2) ، وإياها أرادت قتيلة بنت الحارث وكان رسول الله صلى وسلم الله عليه أمر بقتل أخيها النضر هنالك، فقالت (3) :

يا راكباً إن الأثيل مظنة … من صبح رابعة وأنت موفق

أبلغ بها ميتاً بأن تحية … ما إن تزال بها الركائب تخفق

مني إليك وعبرة مسفوحة … جادت بدرتها وأخرى تخنق الأبيات إلى آخرها.

‌‌اثل (4)

هي مدينة الخزر وقصبتها باب الأبواب ومنها إلى سمندر أربعة أيام في عمارة، ومن سمندر إلى اثل أربعة أيام، واثل مدينتان عامرتان من ضفتي النهر المسمى بها والملك يسكن في المدينة التي في الضفة الغربية من النهر، والتجار والسوقة وعامة الناس يسكنون المدينة التي في الضفة الشرقية، وطول مدينة اثل نحو ثلاثة أميال، ويحيط بها سور منيع، وأكثر أبنيتها قباب يتخذها الأتراك من لبود، وجلتهم يبنون بالتراب والطين، وقصر ملكها مبني بالآجر، ولا يبني أحد هناك بالآجر خوفاً من الملك. والخزر نصارى ومسلمون وفيهم عباد أوثان، ولا يغير أحد على أحد في أمر دينه، وزراعات أهل اثل على ما جاور النهر من الأرضين، فإذا زرعوا وحان الحصاد خرجوا إليه، قريباً كان أو بعيداً، فحصدوه ثم نقلوه بالمراكب في النهر، وأكثر طعامهم السمك والأرز، ونهر اثل مبدؤه من جهة المشرق من ناحية الأرض الخراب حتى يقع في بحر الخزر، ويقال إنه يتشعب منه نيف وسبعون نهراً، ويبقى عمود النهر فيجري إلى بحر الخزر، وهذه المياه المفترقة إذا اجتمعت في أعلى النهر تزيد على مياه جيحون وبلخ كثيراً كبراً وغزر مياه وسعة على وجه الأرض.

ويركب هذا البحر التجار بأمتعتهم من أرض المسلمين إلى أرض الخزر وهو فيما بين الران والجبل وطبرستان وجرجان، وقد يسافر أهل اثل إلى جرجان، والخزر بلاد أمم كثيرة، ولهم بلاد ومدن منها سمندر والباب والأبواب وبلنجر وغيرها، وكل هذه البلاد بناها كسرى أنوشروان، وهي الآن قائمة عامرة.

‌‌أجا (5)

يهمز ولا يهمز، أحد جبلي طيء وهما أجأ وسلمى سميا برجل وامرأة فجرا فصلبا عليهما، أما أجأ فهو ابن عبد الحي وأما سلمى فهي سلمى بنت حام. وفي شعر امرئ القيس (6) :

أبت أجأ أن تسلم العام جارها … وفي السير (7) في غزوة تبوك أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لا يخرجن أحد منكم الليلة إلا ومعه صاحب له "، ففعلوا إلا رجلين من بني ساعدة خرج أحدهما لحاجته وخرج الآخر في طلب بعير له، فأما الذي ذهب لحاجته فخنق على مذهبه، وأما الذي ذهب في طلب بعيره فاحتملته الريح حتى طرحته بجبلي طيء فأخبر بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: " ألم أنهكم أن يخرج أحد منكم إلا ومعه صاحبه "، ثم دعا للذي أصيب على مذهبه فشفي، وأما الذي وقع بجبلي طيء فإن طيئاً أهدته لرسول الله صلى الله عليه وسلم حين قدم المدينة. وفي شعر ابن هانئ الأندلسي (8) :

سلوا طيء الأجبال أين خيامها … وما أجأ إلا حصان ويعبوب

‌‌أجدابية

مدينة في حيز برقة وهي آخر ديار لواتة، وهي في صحصاح من حجر مستو، وكان لها فيما سلف سور ولم يبق

--------------------------------------------

(1) معجم ما استعجم 1: 103.

(2) حدد مؤلف المناسك موقع الأصيل في أسفل وادي الصفراء؛ وهو المكان المعرف اليوم بالجديد ويبعد عن بدر بمسافة من عشرة كيلومترات (أنظر تعليقات الشيخ حمد الجاسر على ديوان كثير: 551) .

(3) ابن هشام 2: 42 وقد أورد منها سبعة أبيات أخرى.

(4) نزهة المشتاق: 271.

(5) رحلة الناصري: 208.

(6) عجز البيت: فمن شاء فلينهض لها من مقاتل؛ وانظر معجم ما استعجم 1؛ 110.

(7) ابن هشام 521.

(8) ديوان ابن هانئ: 21.
আবিয়ান (১)

ইয়েমেনের একটি স্থান, এর আলিফ বর্ণে কাসরা (ই-কার) এবং ফাতহা (আ-কার) উভয়ই পড়া যায় বলে বর্ণিত হয়েছে। এটি প্রাচীন কালের এক ব্যক্তির নাম, যার দিকে ইয়েমেনের আদন আবিয়ানকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। আদন থেকে এর দূরত্ব বারো মাইল। রাবিয়া বিন নাসরের স্বপ্ন ব্যাখ্যায় শিকের বক্তব্যে এসেছে: "আমি দুই পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী সকল মানুষের শপথ করে বলছি, অবশ্যই তোমাদের ভূমিতে সুদানিরা অবতরণ করবে এবং তারা প্রতিটি সুকোমল আঙুলের অধিকারিণীর (নারীদের) ওপর বিজয়ী হবে, আর তারা আবিয়ান থেকে নাজরান পর্যন্ত সমস্ত অঞ্চলের মালিক হবে" - তার অন্ত্যানুপ্রাসযুক্ত বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

আল-উসাইল

বদর অঞ্চলের একটি উপত্যকা যার দৈর্ঘ্য তিন মাইল। বদর থেকে এর দূরত্ব দুই মাইল, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরাইশ কাফেরদের মধ্যে হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে বরকতময় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। জাহেলি যুগে বদর ছিল আরবদের অন্যতম একটি মৌসুমি বাজার এবং তাদের মিলনস্থল। সেখানে প্রাসাদ, কূপ এবং সুপেয় পানির আধার রয়েছে। এই ভূমিকে আল-উসাইল বলা হয়। এর নিকটেই ইয়ানবু, আস-সাফরা, আল-জার এবং আল-জুহফা অবস্থিত (২)। হারিসের কন্যা কুতাইলা এই স্থানটিকেই উদ্দেশ্য করেছেন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে তার ভাই আন-নদরের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন (৩):

হে আরোহী! আল-উসাইল হলো গন্তব্যস্থল ... চতুর্থ দিনের প্রভাতে তুমি সফলভাবে সেখানে পৌঁছাবে।

সেখানে এক মৃত ব্যক্তির কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিও যে, একটি অভিবাদন ... যা বহন করে উটের কাফেলাগুলো অবিরাম এগিয়ে চলে।

আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি প্রবাহিত অশ্রুধারা ... যার এক ফোঁটা ঝরছে আর অন্যটি গলায় রুদ্ধ হয়ে আসছে—কবিতাটির শেষ পর্যন্ত।

আতিল (৪)

এটি খাজারদের শহর এবং এর প্রধান কেন্দ্র হলো বাব আল-আবওয়াব। সেখান থেকে সামান্দার পর্যন্ত জনবসতির মধ্য দিয়ে চার দিনের পথ। আর সামান্দার থেকে আতিল পর্যন্ত চার দিনের পথ। আতিল হলো দুটি জনবহুল শহর যা এর নামেই নামকরণকৃত নদীর দুই তীরে অবস্থিত। রাজা নদীর পশ্চিম তীরের শহরে বসবাস করেন, আর ব্যবসায়ী, সাধারণ বাজারী এবং সাধারণ জনগণ পূর্ব তীরের শহরে বসবাস করেন। আতিল শহরের দৈর্ঘ্য প্রায় তিন মাইল এবং এটি একটি মজবুত প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত। এখানকার অধিকাংশ ভবন হলো তুর্কিদের তৈরি পশমি তাঁবু (কুব্বা), তবে তাদের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা মাটি ও কাদা দিয়ে ঘর নির্মাণ করেন। রাজার প্রাসাদ ইটের তৈরি, এবং রাজার ভয়ে সেখানে অন্য কেউ ইট দিয়ে ঘর নির্মাণ করে না। খাজারদের মধ্যে খ্রিস্টান ও মুসলিম রয়েছে এবং তাদের মধ্যে মূর্তিপূজকও আছে। ধর্মের বিষয়ে কেউ কারো ওপর হস্তক্ষেপ করে না। আতিলবাসীর চাষাবাদ হয় নদীর তীরবর্তী সংলগ্ন ভূমিগুলোতে। যখন তারা বীজ বপন করে এবং ফসল কাটার সময় হয়, তখন তারা নিকটবর্তী বা দূরবর্তী ফসলের মাঠে বেরিয়ে যায়। ফসল কাটার পর তারা তা নৌকায় করে নদীতে পরিবহন করে। তাদের প্রধান খাবার হলো মাছ ও ভাত। আতিল নদীর উৎস পূর্ব দিক থেকে জনশূন্য প্রান্তরের দিক থেকে, যা পরিশেষে খাজার সাগরে (কাস্পিয়ান সাগর) গিয়ে পড়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, এটি থেকে সত্তরটিরও বেশি শাখা নদী বের হয়েছে, আর মূল নদীটি প্রবাহিত হয়ে খাজার সাগরে গিয়ে মেশে। এই বিভক্ত পানিরাশি যখন নদীর উজানে একত্রিত হয়, তখন তা আয়তন, গভীরতা এবং বিস্তৃতির দিক থেকে জাইহুন ও বলখের পানির চেয়ে অনেক বেশি হয়ে থাকে।

ব্যবসায়ীরা মুসলিম দেশ থেকে তাদের পণ্যসামগ্রী নিয়ে এই সাগর পাড়ি দিয়ে খাজার দেশে যান। এটি আর-রান, জাবাল, তাবারস্তান এবং জুরজানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আতিলবাসীরা কখনো কখনো জুরজানে যাতায়াত করেন। খাজার অনেক জাতির দেশ, তাদের অনেক অঞ্চল ও শহর রয়েছে যার মধ্যে সামান্দার, আল-বাব, আল-আবওয়াব, বালানজার ও অন্যান্য শহর অন্তর্ভুক্ত। এই সমস্ত শহর কিসরা আনুশিরওয়ান নির্মাণ করেছিলেন এবং সেগুলো এখনও বিদ্যমান ও জনবহুল।

অজঅ (৫)

এটি হামযাসহ বা হামযা ছাড়া উভয়ভাবেই উচ্চারিত হয়। এটি তায়্যি গোত্রের দুটি পাহাড়ের একটি (অজঅ ও সালমা)। এক পুরুষ ও এক নারীর নামে এগুলোর নামকরণ করা হয়েছে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল এবং এই পাহাড় দুটিতে তাদের শূলে চড়ানো হয়েছিল। অজঅ হলো আব্দুল হাইয়ের পুত্র এবং সালমা হলো হামের কন্যা। ইমরুল কায়েসের কবিতায় আছে (৬):

অজঅ পাহাড় এ বছর তার প্রতিবেশীকে সমর্পণ করতে অস্বীকার করেছে ... সীরাতের বর্ণনায় (৭) তাবুক যুদ্ধে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "আজ রাতে তোমাদের কেউ যেন তার সাথীকে ছাড়া একা বের না হয়।" সকলে তা পালন করলেন, কেবল বনু সায়েদা গোত্রের দুই ব্যক্তি ছাড়া। তাদের একজন প্রয়োজনে বের হলেন এবং অন্যজন তার হারানো উট খুঁজতে বের হলেন। যিনি প্রয়োজনে বের হয়েছিলেন, তিনি তার শৌচাগারের স্থানেই শ্বাসরুদ্ধ হলেন। আর যিনি উট খুঁজতে বের হয়েছিলেন, তাকে প্রবল বাতাস উড়িয়ে নিয়ে তায়্যি গোত্রের পাহাড় দুটিতে নিক্ষেপ করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই সংবাদ দেওয়া হলে তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদের নিষেধ করিনি যে, সঙ্গী ছাড়া কেউ বের হবে না?" তারপর তিনি যার সমস্যা হয়েছিল তার জন্য দোয়া করলেন এবং সে সুস্থ হলো। আর যিনি তায়্যি পাহাড়ে গিয়ে পড়েছিলেন, তায়্যি গোত্র তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় পৌঁছালে উপহার হিসেবে ফেরত পাঠায়। ইবনে হানী আল-আন্দালুসির কবিতায় আছে (৮):

পাহাড়ের অধিবাসী তায়্যি গোত্রকে জিজ্ঞেস করো তাদের তাবু কোথায় ... আর অজঅ তো কেবল একটি শক্তিশালী ও দ্রুতগামী ঘোড়া।

আজদাবিয়া

বারকা অঞ্চলের একটি শহর এবং এটি লুওয়াতা গোত্রের শেষ বসতি। এটি একটি সমতল পাথুরে ভূমিতে অবস্থিত। অতীতে এর একটি প্রাচীর ছিল যা এখন আর অবশিষ্ট নেই।

--------------------------------------------

(১) মু'জাম মা ইস্তা'জাম ১: ১০৩।

(২) আল-মানাসিক গ্রন্থের লেখক আল-উসাইলের অবস্থান আস-সাফরা উপত্যকার নিচু অংশে নির্ধারণ করেছেন; এটি বর্তমানে আল-জাদিদ নামে পরিচিত এবং বদর থেকে দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত (দ্রষ্টব্য: দিওয়ানে কাসীর-এর ওপর শেখ হামাদ আল-জাসিরের টীকা: ৫৫১)।

(৩) ইবনে হিশাম ২: ৪২, যেখানে তিনি আরও সাতটি কবিতা উদ্ধৃত করেছেন।

(৪) নুঝহাতুল মুশতাক: ২৭১।

(৫) রিহলাত আন-নাসিরি: ২০৮।

(৬) কবিতার দ্বিতীয় পঙক্তি: "সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হোক"; দেখুন মু'জাম মা ইস্তা'জাম ১: ১১০।

(৭) ইবনে হিশাম ৫২১।

(৮) দিওয়ানে ইবনে হানী: ২১।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১২)
منه الآن إلا قصران في الصحراء، والبحر منها على أربعة أميال ولا شيء حولها من النبات، وفيها يهود ومسلمون ويطيف بها خلق من البربر، وليس بها ماء جار إنما مياههم في المواجل والسواني التي يزرعون عليها الشعير وقليل الحنطة وضروباً من القطاني.

وممن ينتسب إليها علي بن عبد الله بن عبد الرحمن الأجدابي أحد فقهاء القيروان الجلة، روى عن أبي الفضل محمد بن يحيى بن عباس قال: كان حي من الجن يقال لهم بنو أسد يزجرون الطير فأرادوا أن يختبروا علم بني أسد من الأنس في زجر الطير فتمثلوا ثلاثة أشخاص وأتوا إلى بني أسد من الأنس فسلموا عليهم وقالوا: إنا قوم ذهبت لنا لقاح فابعثوا معنا من يزجر الطير لعلنا نجدها، فبعثوا صبياً صغيراً منهم فما مشى إلا يسيراً إذ نظر إلى عقاب قد ضمت جناحاً وفتحت جناحاً، فرجع الصبي إلى قومه وهو يبكي ويقول للأشخاص الثلاثة: ضمت جناحاً وفتحت جناحاً، فأحلف بالله صراحاً، ما أنتم بانس ولا تبغون لقاحاً.

ومن المنسوبين إلى أجدابية أيضاً أبو إسحاق الأجدابي الأديب (1) صاحب " الكفاية " و " شحذ القريحة " و " العروض ".

وأجدابية (2) مدينة كبيرة في الصحراء وأرضها صفا وآبارها منقورة في ذلك الصفا، طيبة الماء والهواء وبها عين ثرة غدقة وبساتين ونخل يسير، وبها جامع حسن بناه الشيعي وله صومعة مثمنة بديعة العمل، وبها حمامات وفنادق كثيرة وأسواقها حافلة مقصودة، وأهلها ذوو يسار وأكثرهم أنباط وبها نبذ من صرحاء لواتة، وليس لمبانيها سقوف خشب إنما هي أقباء من طوب لكثرة الرياح بها، كذا كانت أول الأمر ثم أتى عليها من الأمر ما قدمناه.

‌‌أجرسيف (3)

مدينة في أحواز تلمسان من أرض المغرب كبيرة لها بساتين كثيرة وهي على نهر ملوية وهو نهر كبير من الأنهار المشهورة، وكانت أجرسيف قرية كبيرة على النهر المذكور حتى خرج الملثمون من الصحراء فنزلوها ومدنوها وبنوا عليها سوراً من طوب.

‌‌أجنادين

بفتح الهمزة والنون والدال، بعدها ياء ونون على لفظ التثنية، موضع بالشام من بلاد الأردن، قال كثير (4) :

فإلا تكن بالشام داري مقيمة … فإن بأجنادين مني ومسكن

مشاهد لم يعف التنائي قديمها … وأخرى بميافارقين فموزن مسكن بالعراق وهو موضع معسكر مصعب وبه قتل، يخبر كثير أنه كان مع عبد الملك في حروبه تلك، وبأجنادين كانت الوقعة بين المسلمين والنصارى في آخر خلافة الصديق رضي الله عنه، وهي أول وقعة عظيمة كانت بالشام، وكانت (5) سنة ثلاث عشرة قبل وفاة أبي بكر رضي الله عنه بأربع وعشرين ليلة، قتل المسلمون منهم في المعركة ثلاثة آلاف واتبعوهم يقتلونهم ويأسرونهم، وخرج كل الروم إلى ايليا وقيسارية ودمشق وحمص فتحصنوا في المدائن العظام، وكتب خالد بن الوليد رضي الله عنه بالفتح إلى أبي بكر رضي الله عنه: أخبرك أيها الصديق أنا لقينا المشركون وقد جمعوا لنا جموعاً جمة بأجنادين وقد رفعوا صلبهم ونشروا كتبهم وتقاسموا بالله لا يفرون حتى يفنونا أو يخرجونا من بلادهم، فخرجنا إليهم واثقين بالله متوكلين عليه، فطاعناهم بالرماح شيئاً ثم صرنا إلى السيوف فقارعناهم بها قدر جزر جزور، ثم إن الله أنزل نصره وأنجز وعده وهزم الكافرين فقاتلناهم في كل فج وشعب وغائط، فالحمد لله على إعزاز دينه وإذلال عدوه وحسن الصنع لأوليائه والسلام. وفتوح الشام متضمنة لبسط هذا الخبر المجمل.

‌‌أجياد

بفتح أوله وإسكان ثانيه وبالياء أخت الواو والدال المهملة كأنه جمع جيد، أحد جبال مكة وهو الجبل الأخضر العالي بغربي المسجد الحرام، وفي رأسه منار يذكر أن أبا بكر رضي الله عنه أمر ببنائه ينادي عليه المؤذنون في رمضان، يقابل من الكعبة الركن اليماني يخرج إليه من باب إبراهيم عليه السلام ويقابل قعيقعان من ناحية الغرب، وقال عمر بن أبي ربيعة (6) :

هيهات من أمة الوهاب منزلنا … إذا حللنا بسيف البحر من عدنِ

--------------------------------------------

(1) انظر رحلة التجاني: 262 وتاريخ ليبيا: 213.

(2) البكري: 5.

(3) الاستبصار: 177 وعند الإدريسي (د) : 172: آقر سيف.

(4) ديوانه: 250 - 251.

(5) فتوح الأزدي: 79.

(6) ديوانه: 413.
এখন সেখানে কেবল মরুভূমির দুটি প্রাসাদ অবশিষ্ট আছে। সমুদ্র সেখান থেকে চার মাইল দূরে এবং এর চারপাশে কোনো উদ্ভিদ নেই। সেখানে ইহুদি ও মুসলিমরা বসবাস করে এবং প্রচুর সংখ্যক বারবার (বার্বার) জাতি এর চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। সেখানে কোনো বহমান পানি নেই, বরং তাদের পানির উৎস হলো কূপ ও জলাধার, যার সাহায্যে তারা যব, সামান্য গম এবং বিভিন্ন প্রকার ডাল চাষ করে।

এর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন কায়রোয়ানের প্রথিতযশা ফকিহগণের একজন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-আজদাবি। তিনি আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিনদের একটি গোত্র ছিল যাদের বনু আসাদ বলা হতো, তারা পাখির উড্ডয়ন দেখে শুভ-অশুভ লক্ষণ নির্ধারণ করত। তারা মানুষের মধ্য থেকে বনু আসাদ গোত্রের এই বিদ্যার পরীক্ষা নিতে চাইল। তারা তিন ব্যক্তির রূপ ধারণ করে মানুষের বনু আসাদ গোত্রের নিকট এল এবং তাদের সালাম দিয়ে বলল: আমাদের এক পাল উট হারিয়ে গেছে, আমাদের সাথে এমন একজনকে পাঠান যে পাখির উড্ডয়ন দেখে লক্ষণ বলতে পারে, হয়তো আমরা সেগুলো খুঁজে পাব। তারা তাদের সাথে এক ছোট শিশুকে পাঠাল। সে সামান্য পথ চলার পরই দেখল একটি ঈগল তার একটি ডানা গুটিয়ে রেখেছে এবং অন্যটি মেলে ধরেছে। শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে তার স্বগোত্রীয়দের কাছে ফিরে এল এবং ওই তিন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলল: সে একটি ডানা গুটিয়েছে এবং একটি ডানা মেলেছে, আমি আল্লাহর নামে স্পষ্ট শপথ করে বলছি, তোমরা মানুষ নও এবং তোমরা উটও খুঁজছ না।

আজদাবিয়ার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাহিত্যিক আবু ইসহাক আল-আজদাবি (১), যিনি 'আল-কিফায়া', 'শাহজুল কারিহা' এবং 'আল-আরুজ' গ্রন্থের রচয়িতা।

আজদাবিয়া (২) মরুভূমির একটি বড় শহর। এর ভূমি পাথুরে এবং এর কূপগুলো সেই পাথরের মধ্যেই খনন করা। এর পানি ও আবহাওয়া চমৎকার। সেখানে একটি প্রাচুর্যময় প্রস্রবণ, বাগান ও সামান্য কিছু খেজুর গাছ রয়েছে। সেখানে শিয়াদের নির্মিত একটি সুন্দর জামে মসজিদ রয়েছে, যার মিনারটি অষ্টভুজাকৃতি ও অত্যন্ত নিপুণ কারুকার্যখচিত। সেখানে অনেক হাম্মামখানা ও পান্থশালা রয়েছে এবং এর বাজারগুলো জমজমাট ও মানুষের গন্তব্যস্থল। এর অধিবাসীরা সচ্ছল এবং তাদের অধিকাংশ 'আনবাত' (নাবাতীয়)। সেখানে লুওয়াতা গোত্রের কিছু খাঁটি বংশোদ্ভূত লোকও রয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে সেখানকার ভবনগুলোর ছাদ কাঠের নয়, বরং সেগুলো ইটের তৈরি গম্বুজাকৃতি। আদিতে শহরটি এমনই ছিল, পরবর্তীতে এর ওপর দিয়ে সেই সব ঘটনাপ্রবাহ অতিবাহিত হয় যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

‌‌অজরসিফ (৩)

এটি মরক্কোর তিলিমসান অঞ্চলের একটি বড় শহর। এখানে প্রচুর বাগান রয়েছে এবং এটি মলুইয়া নদীর তীরে অবস্থিত। মলুইয়া একটি বিশাল ও সুপ্রসিদ্ধ নদী। অজরসিফ উক্ত নদীর তীরে একটি বড় গ্রাম ছিল, যতক্ষণ না মরুভূমি থেকে মুখোশধারী (মুলাসামুন) সম্প্রদায় এসে সেখানে বসবাস শুরু করে এবং একে শহরে পরিণত করে ও এর চারপাশে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে।

‌‌অজনাইন

হামযা, নুন ও দালের ওপর যবর, এরপর ইয়া ও নুন; দ্বিবচনের শব্দরূপে। এটি সিরিয়ার জর্ডান অঞ্চলের একটি স্থান। কুসাইয়ির (৪) বলেছেন:

সিরিয়ায় যদি আমার স্থায়ী নিবাস না-ও হয়... তবে অজনাইন ও মাসকিনে আমার পদচিহ্ন রয়েছে।

সেখানে এমন সব স্মৃতিচিহ্ন আছে যা দীর্ঘ বিচ্ছেদ মুছে ফেলতে পারেনি... আর কিছু রয়েছে মাইয়াফরিকিন ও মাওজিনে। মাসকিন ইরাকে অবস্থিত, এটি মুসআবের সেনাশিবিরের স্থান এবং সেখানেই তিনি নিহত হন। কুসাইয়ির জানাচ্ছেন যে, তিনি আব্দুল মালিকের সাথে সেই যুদ্ধগুলোতে উপস্থিত ছিলেন। অজনাইনেই আবু বকর সিদ্দিক রাযিআল্লাহু আনহুর খিলাফতের শেষ দিকে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এটিই সিরিয়ায় সংঘটিত প্রথম বড় যুদ্ধ। এটি (৫) হিজরি ১৩ সনে আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহুর ইন্তেকালের চব্বিশ দিন পূর্বে সংঘটিত হয়। মুসলিমরা রণক্ষেত্রে তাদের তিন হাজার সৈন্যকে হত্যা করে এবং পলায়নপর অবস্থায় তাদের অনুসরণ করে হত্যা ও বন্দী করতে থাকে। সমস্ত রোমান সৈন্য ইলিয়া (জেরুসালেম), কাইসারিয়া, দামেস্ক ও হিমসের দিকে পালিয়ে যায় এবং বড় বড় শহরগুলোতে আশ্রয় নেয়। খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযিআল্লাহু আনহু বিজয়ের সংবাদ জানিয়ে আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহুর নিকট লিখেছিলেন: হে সিদ্দিক! আমি আপনাকে অবহিত করছি যে, আমরা মুশরিকদের সম্মুখীন হয়েছি। তারা অজনাইনে আমাদের বিরুদ্ধে এক বিশাল বাহিনী সমবেত করেছিল। তারা তাদের ক্রুশ উত্তোলন করেছিল, তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো খুলে ধরেছিল এবং আল্লাহর নামে শপথ করেছিল যে, তারা আমাদের নির্মূল না করে অথবা তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার না করে পলায়ন করবে না। আমরা আল্লাহর ওপর আস্থা ও ভরসা রেখে তাদের দিকে অগ্রসর হলাম। আমরা কিছুক্ষণ তাদের সাথে বল্লম দিয়ে যুদ্ধ করলাম, তারপর তলোয়ার হাতে নিলাম এবং একটি উট জবাই করতে যতটুকু সময় লাগে, ততক্ষণ তাদের সাথে তলোয়ার যুদ্ধ চলল। এরপর আল্লাহ তাঁর সাহায্য অবতীর্ণ করলেন, তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলেন এবং কাফিরদের পরাজিত করলেন। আমরা প্রতিটি গিরিপথ, উপত্যকা ও সমতলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম। আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা, যিনি তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করেছেন, তাঁর শত্রুকে লাঞ্ছিত করেছেন এবং তাঁর বন্ধুদের প্রতি কল্যাণ করেছেন। ওয়াসসালাম। সিরিয়া বিজয় সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ এই সংক্ষিপ্ত সংবাদের বিস্তারিত বিবরণ ধারণ করে আছে।

‌‌অজিয়াদ

প্রথম অক্ষরে যবর এবং দ্বিতীয় অক্ষরে সাকিন, এরপর ইয়া ও দাল। এটি যেন 'জায়্যিদ' শব্দের বহুবচন। এটি মক্কার পাহাড়গুলোর একটি, যা মসজিদুল হারামের পশ্চিমে অবস্থিত 'জাবালে আখদার' বা উচ্চ সবুজ পাহাড়। এর চূড়ায় একটি মিনার আছে; উল্লেখ করা হয় যে, আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহু এটি নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে মুয়াজ্জিনরা রমজান মাসে সেখান থেকে আজান দিতে পারেন। কাবার রুকনে ইয়ামানির দিক থেকে এর অবস্থান, বাব-ই ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম দিয়ে বের হলে সেখানে যাওয়া যায়। পশ্চিম দিকে এটি কুআইকিআন পাহাড়ের মুখোমুখি। উমর বিন আবি রাবিয়া (৬) বলেছেন:

ওয়াহহাবের কন্যার আবাসস্থল আমাদের থেকে কত দূরে... যখন আমরা এডেনের সমুদ্রতীরে অবস্থান করি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন রিহলাতুত তিজানি: ২৬২ এবং তারিখু লিবিয়া: ২১৩।

(২) আল-বাকরি: ৫।

(৩) আল-ইস্তিবসার: ১৭৭ এবং আল-ইদরিসির মতে (দা.): ১৭২: আকর সিফ।

(৪) দিওয়ান: ২৫০ - ২৫১।

(৫) ফুতুহুল আজদি: ৭৯।

(৬) দিওয়ান: ৪১৩।
(খণ্ড: ১) আর-রওদুল মিতার ফী খবরিল আকতার (পৃষ্ঠা: ১৩)
واحتل أهلك أجياداً فليس لنا … إلا التذكر أو حظ من الحزن وتفاخر رعاء الإبل (1) ورعاة الغنم عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأوطاهم رعاء الإبل غلبة وقالوا: ما أنتم يا رعاء النقد هل تخبون أو تصيدون؟ فقال صلى الله عليه وسلم: بعث موسى وهو راعي غنم وبعث داود وهو راعي غنم وبعثت وأنا راعي غنم أهلي بأجياد. فغلبهم رسول الله صلى الله عليه وسلم. وبأجياد نزل السميدع بقطورا في الزمن الأقدم وكان يعشر من دخل مكة من أسفلها، قالوا: سمي بذاك لخروج جياد الخيل مع السميدع حين قاتل عمرو بن مضاض الجرهمي في خبر مشهور.

‌‌الأجم (2)

قصر الأجم هو المعروف بقصر الكاهنة وبينه وبين المهدية من البلاد الإفريقية ثمانية عشر ميلاً، وذكر أن الكاهنة حصرها عدوها في هذا القصر فحفرت سرباً في صخرة صماء من هذا القصر إلى مدينة سلقطة يمشي فيه العدد الكثير من الخيل (3) وبينهما ثمانية عشر ميلاً، ويقال إن أخت الكاهنة كانت في سلقطة فكان الطعام يجلب إليها في ذلك السرب على ظهور الدواب، وهذا القصر عجيب البنيان قد أحكم بحجارة طول الو‌‌احد منها ستة وعشرون شبراً، وارتفاع القصر في الهواء أربع وعشرون قامة، وهو من داخله كله مدرج إلى أعلاه، وأبوابه طاقات بعضها فوق بعض.

وكان عبد الله بن سعد بن أبي سرح لما بعثه عثمان إلى إفريقية غازياً لقي جرجير صاحب سبيطلة، وقاتله فقتله عبد الله بن الزبير وشن الغارات على سبيطلة، وأصاب الروم رعب شديد، ولجأوا إلى الحصون والقلاع، فاجتمع أكثر الروم بقصر الأجم فطلبوا من عبد الله بن سعد أن يأخذ منهم ثلثمائة قنطار من ذهب على أن يكف عنهم ويخرج من بلادهم، فقبل ذلك منهم وقبض المال، وكان في شرطه ان ما أصاب المسلمون قبل الصلح فهو لهم وما أصابوه بعد الصلح ردوه لهم.

أحد

جبل بظاهر مدينة النبي صلى الله عليه وسلم في شمالها على مقدار ستة أميال وهو أقرب الجبال إليها، وهو مطل على أرض فيها مزارع وضياع كثيرة لأهل المدينة، وفيه قال النبي صلى الله عليه وسلم: " هذا جبل يحبنا ونحبه ".

ولما خرج النبي صلى الله عليه وسلم إلى غزوة أحد نزل الشعب من أحد في عدوة الوادي إلى الجبل، فجعل عسكره وظهره إلى أحد؛ قيل سمي بهذا الاسم لتوحده وانقطاعه عن جبال أخر هنالك؛ قيل: أراد بقوله صلى وسلم الله عليه " يحبنا ونحبه " أهله وهم الأنصار، وقيل: لأنه كان ينشرح إذا رآه عند قدومه من أسفاره بالقرب من أهله ولقائهم وذلك فعل المحب؛ وقيل: بل حبه حقيقة وضع الحب فيه كما وضع التسبيح في الجبال المسبحة مع داود عليه السلام وكما وضعت الخشية في الحجارة التي قال الله تعالى فيها " وان منها لما يهبط من خشية الله " وفي بعض الآثار المسندة أن أحداً يوم القيامة عند باب الجنة من داخلها، وفي بعضها أنه ركن لباب الجنة.

وعند أحد كانت الوقعة بين النبي صلى الله عليه وسلم وقريش في سنة ثلاث في شوال بعد بدر بسنة، حضرها من المسلمين ستمائة رجل وكانت قريش في ثلاثة آلاف فيهم سبعمائة دارع، وقتل فيها حمزة عم النبي صلى الله عليه وسلم، قتله وحشي، وحكى وحشي بعد أن أسلم، قال: جئت فشهدت شهادة الحق عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: " اجلس فحدثني "، فحدثته كيف قتلت حمزة، فقال: " غيب وجهك عني فلا أراك "، وفي قصة أحد نزلت الآيات من سورة آل عمران " وإذ غدوت من أهلك تبوئ المؤمنين مقاعد للقتال " إلى آخر الآيات، ووقف النبي صلى الله عليه وسلم على حمزة رضي الله عنه، وقد مثل به، فقال صلى الله عليه وسلم: " لولا جزع النساء لتركته حتى يحشر من حواصل الطير وبطون السباع فيكون أعظم لأجره وأفضل لدرجته في الجنة " ثم بكى حتى اغرورقت عيناه واخضلت لحيته من دموعه، وبكى الناس لبكائه وكثر الضجيج، فهبط جبريل عليه الصلاة والسلام فعزاه به وقال: يا محمد قد بكى لبكائك أهل السموات ولعنوا قاتل عمك، والله عز وجل يقول " وللآخرة خير لك من الأولى " و " العاقبة للمتقين "، فاسترجع رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم أمر بالقتلى فجعل يصلي عليهم وجعل يضع تسعة وحمزة فيكبر عليهم سبع تكبيرات ثم يرفعون ويترك حمزة رضي الله عنه، ثم يجاء بتسعة

--------------------------------------------

(1) معجم ما استعجم 1: 115.

(2) سماه البكري: 31 قصر لجم ولعل فيه إدغاماً كما يقولون ((لربس)) و ((الأربس)) وكلاهما صحيح. والنص هنا متابع في بعضه لما ورد عند البكري، وأنظر كذلك رحلة التجساني: 58 - 59، وتصحف في الاستبصار: 118 غلى ((قصر لخم)) .

(3) زيادة من البكري، غير وادة أيضاً في الاستبصار.
...তোমার পরিবার আজইয়াদে বসতি স্থাপন করেছে, তাই আমাদের জন্য স্মৃতিচারণ অথবা দুঃখের অংশ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। উট পালনকারী এবং মেষ পালনকারীরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করছিল। উট পালনকারীরা মেষ পালনকারীদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে বলল: "হে মেষ পালনকারীরা! তোমরা কি দ্রুত দৌড়াতে পারো অথবা শিকার করতে পারো?" তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "মুসাকে প্রেরণ করা হয়েছিল এমতাবস্থায় যে তিনি মেষ পালনকারী ছিলেন, দাউদকে প্রেরণ করা হয়েছিল এমতাবস্থায় যে তিনি মেষ পালনকারী ছিলেন, এবং আমাকেও প্রেরণ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি আজইয়াদে আমার পরিবারের মেষ পালন করতাম।" এভাবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ওপর বিজয়ী হলেন। আজইয়াদেই প্রাচীন কালে কাতুরার সামিদাই অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি মক্কার নিচু অঞ্চল দিয়ে প্রবেশকারীদের নিকট থেকে কর আদায় করতেন। ঐতিহাসিকরা বলেন: একটি সুপ্রসিদ্ধ ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী আমর বিন মুদাদ আল-জুরহুমির সাথে যুদ্ধের সময় সামিদাইয়ের সাথে উৎকৃষ্ট ঘোড়া (জিয়াদ আল-খাইল) বের হওয়ার কারণে এই স্থানের নাম আজইয়াদ রাখা হয়েছে।

‌‌আল-আজম (২)

কাসরুল আজম বা আজম দুর্গ হলো সেই দুর্গ যা 'কাসরুল কাহিনা' (গণক মহিলার দুর্গ) নামে পরিচিত। এটি এবং আফ্রিকার মাহদিয়া শহরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আঠারো মাইল। উল্লেখ করা হয় যে, কাহিনাকে যখন তার শত্রু এই দুর্গে অবরোধ করেছিল, তখন সে এই দুর্গের একটি নিরেট পাথর খুঁড়ে সালকাতা শহর পর্যন্ত একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিল, যার ভেতর দিয়ে অসংখ্য ঘোড়া যাতায়াত করতে পারত (৩); এবং এই দুই স্থানের দূরত্ব ছিল আঠারো মাইল। বলা হয় যে, কাহিনার বোন সালকাতায় অবস্থান করত এবং পশুপালের পিঠে চড়ে সেই সুড়ঙ্গ পথেই তার কাছে খাবার পৌঁছানো হতো। এই দুর্গটি অত্যন্ত বিস্ময়কর স্থাপত্যের অধিকারী যা এমন বিশাল পাথর দিয়ে সুদৃঢ়ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যার একেকটির দৈর্ঘ্য ছাব্বিশ বিঘত এবং দুর্গের উচ্চতা চব্বিশ কদ (মানুষের উচ্চতা পরিমাণ)। এর ভেতর থেকে ওপর পর্যন্ত পুরোটাই সিঁড়িযুক্ত এবং এর দরজাগুলো একটির ওপর আরেকটি খিলান আকৃতির।

উসমান (রা.) যখন আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন আবি সারাহকে আফ্রিকা বিজয়ের জন্য অভিযানে পাঠান, তখন তিনি সুবাইতিলার অধিপতি জুরজিরের মুখোমুখি হন। আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর (রা.) তার সাথে যুদ্ধ করে তাকে হত্যা করেন এবং সুবাইতিলার ওপর আক্রমণ পরিচালনা করেন। এতে রোমানদের মধ্যে প্রচণ্ড ত্রাস সৃষ্টি হয় এবং তারা দুর্গ ও কেল্লাগুলোতে আশ্রয় গ্রহণ করে। অধিকাংশ রোমান কাসরুল আজমে একত্রিত হয় এবং তারা আব্দুল্লাহ বিন সাদের নিকট তিনশত কুইন্টাল সোনা প্রদানের প্রস্তাব দেয় এই শর্তে যে, তিনি তাদের ওপর আক্রমণ বন্ধ করবেন এবং তাদের দেশ ত্যাগ করবেন। তিনি তাদের এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং অর্থ বুঝে নেন। তার চুক্তির শর্ত ছিল এই যে, সন্ধির আগে মুসলিমরা যা লাভ করেছে তা তাদের (মুসলিমদের) থাকবে এবং সন্ধির পর যা লাভ করবে তা তাদের (রোমানদের) ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

উহুদ

এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শহরের (মদিনা) বাইরের দিকে উত্তর পাশে প্রায় ছয় মাইল দূরত্বে অবস্থিত একটি পাহাড়। এটি মদিনার নিকটতম পাহাড়। এটি এমন একটি ভূমির ওপর দণ্ডায়মান যেখানে মদিনাবাসীদের অনেক ফসলি জমি ও ভূ-সম্পত্তি রয়েছে। এই পাহাড় সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এটি এমন এক পাহাড় যা আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও একে ভালোবাসি।"

যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উহুদ যুদ্ধের জন্য বের হলেন, তখন তিনি পাহাড়ের দিকে উপত্যকার এক প্রান্তে উহুদ গিরিপথে অবস্থান নিলেন। তিনি তার সেনাবাহিনীকে এমনভাবে বিন্যস্ত করলেন যেন তাদের পিঠ উহুদের দিকে থাকে। বলা হয়, সেখানকার অন্যান্য পাহাড় থেকে বিচ্ছিন্ন ও একাকী হওয়ার কারণে এর নাম 'উহুদ' (একক) রাখা হয়েছে। আবার বলা হয়, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণী "এটি আমাদের ভালোবাসে এবং আমরা একে ভালোবাসি" দ্বারা এর অধিবাসী অর্থাৎ আনসারদের বুঝিয়েছেন। অন্য মতে, সফর থেকে ফিরে আসার সময় যখন তিনি নিজের পরিবারের কাছাকাছি এবং তাদের সাথে সাক্ষাতের সন্নিকটে পৌঁছাতেন, তখন এই পাহাড়টি দেখে তিনি প্রফুল্ল হতেন, যা একজন প্রেমিকেরই কাজ। আবার বলা হয়, বরং এই ভালোবাসা প্রকৃতই ছিল; আল্লাহ এতে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন যেমন তিনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে তসবিহ পাঠকারী পাহাড়গুলোর মধ্যে তসবিহ করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন এবং যেমন সেই সব পাথরের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করেছিলেন যে সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন "এবং নিশ্চয় তাদের (পাথর) মধ্য থেকে এমন কিছু আছে যা আল্লাহর ভয়ে নিচে পড়ে যায়"। কোনো কোনো বর্ণিত রেওয়ায়েতে আছে যে, উহুদ পাহাড় কিয়ামতের দিন জান্নাতের দরজার ভেতর দিকে থাকবে, আবার কোনো বর্ণনায় এসেছে এটি জান্নাতের দরজার একটি স্তম্ভ (রুকন) হবে।

উহুদ পাহাড়ের নিকটেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং কুরাইশদের মধ্যে বদরের এক বছর পর হিজরি তৃতীয় সনের শাওয়াল মাসে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এতে মুসলিমদের পক্ষ থেকে ছয়শত ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং কুরাইশরা ছিল তিন হাজার জন, যাদের মধ্যে সাতশত ছিল বর্মধারী। এই যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচা হামজা (রা.) শহীদ হন, তাকে ওয়াহশি হত্যা করেন। ওয়াহশি ইসলাম গ্রহণের পর বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে সত্যের সাক্ষ্য (কালিমা) পাঠ করেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "বসো এবং আমাকে বর্ণনা করো।" তিনি তাকে বর্ণনা করলেন কীভাবে তিনি হামজাকে হত্যা করেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমার চেহারা আমার থেকে আড়ালে রেখো, আমি যেন তোমাকে না দেখি।" উহুদ যুদ্ধের ঘটনা উপলক্ষেই সুরা আল-ইমরানের আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়: "আর স্মরণ করুন, যখন আপনি আপনার পরিবার থেকে ভোরে বের হয়েছিলেন মুমিনদের যুদ্ধের আসনে বিন্যস্ত করার জন্য" আয়াতের শেষ পর্যন্ত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হামজা (রা.)-এর লাশের পাশে দাঁড়ালেন, যার অঙ্গহানি করা হয়েছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যদি নারীদের শোকাতুর হওয়ার ভয় না থাকত, তবে আমি তাকে এভাবেই রেখে দিতাম যাতে তাকে পাখিদের পাকস্থলী এবং হিংস্র প্রাণীদের পেট থেকে হাশর করা হতো, তবে তা হতো তার জন্য জান্নাতে অধিক সওয়াব ও উচ্চ মর্যাদার কারণ।" তারপর তিনি এত কাঁদলেন যে তাঁর চোখ প্লাবিত হলো এবং চোখের পানিতে দাড়ি ভিজে গেল। তাঁর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরাও কান্নায় ভেঙে পড়ল এবং আর্তনাদ বেড়ে গেল। তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হয়ে তাঁকে সমবেদনা জানালেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনার কান্নায় আসমানবাসীরাও কেঁদেছে এবং তারা আপনার চাচার হত্যাকারীকে অভিশাপ দিয়েছে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন "এবং অবশ্যই আপনার জন্য পরবর্তী জীবন পূর্ববর্তী জীবনের চেয়ে শ্রেয়" এবং "শুভ পরিণাম তো মুত্তাকিদের জন্যই।" এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্না লিল্লাহ পড়লেন এবং নিহতদের সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের জানাজা পড়তে লাগলেন এবং প্রতিবার নয়জন শহীদের সাথে হামজা (রা.)-কে রেখে সাতটি করে তাকবির দিলেন। তারপর তাদের সরিয়ে নেওয়া হতো এবং হামজা (রা.)-কে রাখা হতো, এরপর আবার নয়জনকে আনা হতো...

--------------------------------------------

(১) মুজাম মা ইসতাজাম ১: ১১৫।

(২) বাকরি একে ৩১ পৃষ্ঠায় 'কাসরুল লাজম' নামে অভিহিত করেছেন, সম্ভবত এতে শব্দের সন্ধি ঘটেছে যেমন তারা 'লরবাস' ও 'আল-আরবাস' বলে থাকে এবং উভয়ই সঠিক। এখানে পাঠ্যটির কিছু অংশ বাকরির বর্ণনার অনুসারী; আরও দেখুন রেহলাতুত তিজানি: ৫৮-৫৯ এবং আল-ইসতিবসার ১১৮ পৃষ্ঠায় এটি ভুলবশত 'কাসরুল লাখম' হিসেবে লিখিত হয়েছে।

(৩) বাকরি থেকে সংযোজিত, যা আল-ইসতিবসারে উল্লেখ করা হয়নি।