(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: -)
الضرورة الشعرية ومفهومها لدى النحويين دراسة على ألفية بن مالك القسم: النحو والصرف
الكتاب: الضرورة الشعرية ومفهومها لدى النحويين دراسة على ألفية بن مالك
المؤلف: إبراهيم بن صالح الحندود
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة الثالثة والثلاثون، العدد الحادي عشر بعد المائة - 1421هـ/2001م
عدد الصفحات: 534
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা এবং বৈয়াকরণদের নিকট এর ধারণা: আলফিয়াহ ইবনে মালিকের ওপর একটি গবেষণা বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা এবং বৈয়াকরণদের নিকট এর ধারণা: আলফিয়াহ ইবনে মালিকের ওপর একটি গবেষণা
লেখক: ইব্রাহিম বিন সালেহ আল-হানদুদ
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: তেত্রিশতম বর্ষ، একশ এগারোতম সংখ্যা - ১৪২১ হিজরি/২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৪
[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৮৯)
الضرورة الشعرية ومفهومها لدى النحويين دراسة تطبيقية على ألفية ابن مالك
إعداد
د. إبراهيم بن صالح الحندود رئيس قسم النحو والصرف وفقه اللغة كلية العلوم العربية والاجتماعية بالقصيم فرع جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةحمداً لك اللهم لا أُحصي ثناءً عليك أنت كما أثنيت على نفسك، وصلِّ اللهم وسلم على نبينا محمد أفضل من أرسل إلى البشرية وخير من نطق بالعربية وعلى آله وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإنه لم يبلغ قوم في الحفاظ على لغتهم، والحرص على نقائها، والتفاني في خدمتها ما بلغه المسلمون؛ إذ يسَّر الله عز وجل من هذه الأمة من نذر نفسه لخدمة هذه اللغة في شتى فروعها. وما كثرة المصنفات وتتابع ظهورها حتى اليوم - وما بعده - إن شاء الله تعالى - إلا دليل على ذلك. ولا غرو في هذا فهي لغة القرآن الكريم الذي تكفل الله بحفظه إلى يوم الدين {قُرْآناً عَرَبِيّاً غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} 1، {إناَّ نَحْنُ نَزَّلْنا الْذِّكْرَ وإنَّا لَهُ لَحافِظُونَ} 2.
وممَّا لقي عناية من علماء العربية لغة النثر والشعر من حيث اتفاقُهما أو اختلافهما في بناء الألفاظ وصياغة العبارات، وكذا الخضوع لقواعد اللغة، والنحو حسب طبيعة كلٍّ منهما.
لقد كانت النظرة في بادئ الأمر إلى فنّيَ الشعر والنثر واحدة من حيث الخصائص التعبيرية في صياغة العبارة وبناء الألفاظ؛ بدليل اشتراكهما في شواهد اللغة والنحو، فلم يفرق علماء العربية بين شاهد المنثور وشاهد المنظوم
--------------------------------------------
কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা (الضرورة الشعرية) এবং ব্যাকরণবিদদের নিকট এর ধারণা: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-এর ওপর একটি প্রয়োগিক অধ্যয়ন
উপস্থাপনায়
ড. ইব্রাহিম বিন সালেহ আল-হানদুদ, প্রধান, ব্যাকরণ (نحو), রূপতত্ত্ব (صرف) ও ভাষাতত্ত্ব (فقه اللغة) বিভাগ, আরবি ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, আল-কাসিম শাখা, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপসংহার
উপক্রমণিকাসমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই, যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন। আর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি মানবজাতির কাছে প্রেরিত শ্রেষ্ঠ রাসূল এবং আরবি ভাষায় কথা বলা শ্রেষ্ঠ মানব; এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর অজস্র সালাম বর্ষিত হোক।
অত:পর:
কোনো জাতিই তাদের ভাষার সুরক্ষায়, এর বিশুদ্ধতা রক্ষায় এবং এর সেবায় আত্মনিয়োগের ক্ষেত্রে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, যেখানে মুসলিমরা পৌঁছেছে। কেননা আল্লাহ তাআলা এই উম্মত থেকে এমন ব্যক্তিদের সহজ করে দিয়েছেন, যারা এই ভাষার বিভিন্ন শাখায় নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। অসংখ্য রচনা এবং আজ অবধি ও এর পরেও—ইনশাআল্লাহ তাআলা—সেগুলোর নিরবচ্ছিন্ন আবির্ভাব এরই প্রমাণ। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ এটি পবিত্র কুরআনের ভাষা, যার সুরক্ষার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন। (আল্লাহ বলেন:) "আরবি কুরআন, যা বক্রতামুক্ত, যাতে তারা আল্লাহভীরুতা (تقوى) অবলম্বন করতে পারে।" ১, "আমিই এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" ২।
আরবি ভাষাবিদদের নিকট যা বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে তা হলো গদ্য ও পদ্যের ভাষা; শব্দ গঠন ও বাক্য বিন্যাসের ক্ষেত্রে এগুলোর ঐক্য বা বৈচিত্র্য এবং প্রতিটি ভাষার প্রকৃতি অনুযায়ী ভাষা ও ব্যাকরণ (نحو)-এর নিয়মাবলির অনুগত হওয়ার বিষয়টি।
প্রথম দিকে বাক্য গঠন এবং শব্দ নির্মাণের প্রকাশভঙ্গিগত বৈশিষ্ট্যের বিচারে কাব্য ও গদ্য—উভয় শিল্পকলার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন ছিল। এর প্রমাণ হলো ভাষা ও ব্যাকরণ (نحو)-এর নিদর্শনের (شواهد) ক্ষেত্রে এ দুটির অংশীদারিত্ব। তাই আরবি ভাষাবিদগণ গদ্যের নিদর্শন এবং পদ্যের নিদর্শনের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯০)
في كتبهم، فترى الشاهد من القرآن الكريم جنباً إلى جنب مع الشاهد من الحديث النبوي، والشعر، والمأثور من أقوال البلغاء على الرغم من التفاوت الملحوظ في طريقة الصياغة أو الإعراب. وغاية ما في الأمر أنَّ هذا التغير عندهم يُعدُّ شذوذاً عن القاعدة قد يرقى إلى درجة الجواز إذا جاء في القرآن أو الحديث أو المقبول إذا جاء على لسان شاعر كبير ممن يستشهد بشعرهم1. وما عدا ذلك خطأٌ لا ذكر للضرورة فيه.
وإن المتتبع لسيبويه رحمه الله ليلحظ أنه لم يصرِّح في كتابه بتعريف محدد للضرورة، بل إن لفظ "الضرورة" لم يجر له ذكر عنده على الإطلاق
- على اتساع الكتاب - وإنما كان يكتفي بتعبير يؤدي إلى معناه دون التصريح بلفظه2.
ودخلت الضرورة - فيما بعد - في ميادين البحث اللغويّ، والنقديّ على نطاق واسع.
فدخلت ميدان اللغة؛ لأنها تضطر الشاعر إلى تغيير بناء اللفظ؛ زيادةً أو حذفاً أو خروجاً عن القياس، فتناول اللغويون ذلك بالبحث من خلال معاجم اللغة وأشاروا إلى هذه الضرائر.
ودخلت ميدان النحو لكونها تدفع الشاعر إلى مخالفة القياس في بناء الجملة وفي عمل الأدوات وكذا التغيير في تركيب الجملة3 (من حيث التقديم والتأخير) .
إن قضية الضرورة وما أثارته من اهتمام لدى العلماء تعتبر أحد الموضوعات التي استهوت عدداً غير قليل من الدارسين، وشغلت أذهان الكثير
--------------------------------------------
তাদের গ্রন্থাবলিতে আপনি পবিত্র কুরআন থেকে উদ্ধৃত প্রমাণের পাশাপাশি নববী হাদিস, কবিতা এবং বাগ্মীদের বর্ণিত উক্তিগুলো পাশাপাশি দেখতে পাবেন, যদিও বাক্য গঠন বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এগুলোর মধ্যে লক্ষণীয় পার্থক্য বিদ্যমান। সারকথা হলো, তাদের নিকট এই পরিবর্তনটি মূল নিয়মের একটি ব্যতিক্রম (شذوذ) হিসেবে গণ্য হয়, যা কুরআন বা হাদিসে উল্লেখ থাকলে বৈধতার স্তরে উন্নীত হতে পারে, অথবা কোনো প্রথিতযশা কবির ভাষায় ব্যক্ত হলে তা গ্রহণযোগ্য (مقبول) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে যাদের কবিতা প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়। আর এ ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা ত্রুটি হিসেবে গণ্য, যাতে কাব্যিক প্রয়োজনে ছাড়ের কোনো উল্লেখ নেই।
ইমাম সিবওয়াইহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনা নিয়ে যে ব্যক্তি গবেষণা করবেন তিনি লক্ষ্য করবেন যে, তিনি তাঁর কিতাবে কাব্যিক প্রয়োজনের কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেননি; বরং বিশাল এই কিতাব জুড়ে 'দারুরাত' শব্দটির কোনো উল্লেখই নেই
—বিশাল কিতাব হওয়া সত্ত্বেও—এর পরিবর্তে তিনি এমন কিছু অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছেন যা সরাসরি শব্দটির উল্লেখ ছাড়াই এর অর্থ প্রকাশ করে।
পরবর্তীতে এই কাব্যিক প্রয়োজন ভাষাতাত্ত্বিক ও সমালোচনামূলক গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এটি ভাষাতত্ত্বের অঙ্গনে প্রবেশ করেছে; কারণ এটি কবিকে শব্দের গঠনে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করে—তা কোনো বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে হোক, বিলোপের মাধ্যমে হোক কিংবা প্রচলিত নিয়মের (قياس) বাইরে যাওয়ার মাধ্যমেই হোক। ফলে ভাষাবিদগণ অভিধানসমূহের আলোকে এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এই সকল কাব্যিক ছাড়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
এটি ব্যাকরণ শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও প্রবেশ করেছে, কেননা এটি কবিকে বাক্য গঠনে এবং ব্যাকরণিক অব্যয়ের ব্যবহারে প্রচলিত নিয়মের (قياس) বিরোধিতা করতে প্ররোচিত করে, সেই সাথে বাক্যের বিন্যাসেও (শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ করার ক্ষেত্রে) পরিবর্তন আনতে বাধ্য করে।
কাব্যিক প্রয়োজনের এই বিষয়টি এবং আলেমদের নিকট এটি যে গুরুত্ব তৈরি করেছে, তা এমন এক তাত্ত্বিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত যা বহুসংখ্যক গবেষককে আকৃষ্ট করেছে এবং অনেকের চিন্তাজগৎকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯১)
من القدماء، والمحدثين وذلك للعلاقة المتينة بين اللغة والشعر؛ إذ إن الشعر من المصادر الرئيسة التي استمد منها العلماء قواعد اللغة وأصولها. ولكنهم وجدوا فيه بعض الألفاظ والتراكيب التي تشذ عن هذه الأصول التي استنبطوها منه ومن كلام العرب المحتج بكلامهم فدفعهم ذلك إلى التأمل والتماس العلل.
ولأهمية هذا الموضوع واختلاف أقوال العلماء فيه رأيت أن أدلي دلوي فيه من خلال هذا البحث المقرون بتطبيق الضرورة على ألفية ابن مالك لكونها نظماً تسوغ فيه الضرائر من جهة، وما يعتقده صاحبُها من أن الضرورة (ما لا مندوحة للشاعر عنه بأن لم يمكنه الإتيان بعبارة أخرى) .
ولا أزعم أني أوفيت البحث حقَّه، كما لا أدعي خلّوه من الخطأ والثغرات، ولكن حسبي أني اجتهدت وبذلت وسعي ما استطعت. فإن وفقت للصواب فلله الحمد والمنة على توفيقه، وإن أخطأت أو قصَّرت فأسأله هَدْيَه وتوفيقه.
وفي الختام أتوجه بالشكر إلى الله عز وجل على أن وفقني لإتمام هذا البحث، وأسأله تعالى أن يجعل مابُذل فيه خالصاً لوجهه الكريم وأن ينفع به إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
د. إبراهيم بن صالح الحندود
প্রাচীন এবং পরবর্তী পণ্ডিতদের (محدثين) নিকট এটি সুপরিচিত; আর তা ভাষা ও কবিতার মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্কের কারণে। কেননা কবিতা হলো অন্যতম প্রধান উৎস যেখান থেকে বিজ্ঞ আলেমগণ ভাষার নিয়ম-কানুন ও মূলনীতিসমূহ আহরণ করেছেন। কিন্তু তাঁরা সেখানে এমন কিছু শব্দ ও বাক্যরীতি খুঁজে পেয়েছেন যা তাঁদের আহরিত ঐসব মূলনীতি এবং প্রামাণ্য আরবদের বাক্যালাপের পরিপন্থী ছিল; ফলে বিষয়টি তাঁদেরকে গভীরভাবে চিন্তা করতে এবং এর গূঢ় কারণসমূহ (علل) অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করেছে।
এই বিষয়ের গুরুত্ব এবং এতে আলেমদের মতভেদের কারণে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে নিজের যৎসামান্য অবদান রাখার প্রয়াস পেয়েছি। এখানে ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-তে 'কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা'র প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কারণ একদিকে এটি একটি ছন্দবদ্ধ কাব্য যেখানে কাব্যিক ছাড় বা বিশেষ প্রয়োগ বৈধ, অন্যদিকে এর রচয়িতার বিশ্বাস অনুযায়ী 'প্রয়োজনীয়তা' হলো তা-ই যা ব্যতিরেকে কবির কোনো বিকল্প পথ থাকে না, অর্থাৎ তিনি অন্য কোনো শব্দ বা বাক্যাংশ প্রয়োগ করতে সক্ষম হন না।
আমি এমন দাবি করি না যে, আমি এই গবেষণার যথাযথ হক আদায় করতে পেরেছি, আর এটি ভুলত্রুটি বা অসম্পূর্ণতামুক্ত বলেও দাবি করি না। তবে আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমি যথাসাধ্য পরিশ্রম (اجتهاد) করেছি এবং আমার সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রম ব্যয় করেছি। সুতরাং আমি যদি সঠিক (صواب) সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি তবে তার তাওফিকের জন্য সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই প্রাপ্য; আর যদি ভুল বা ত্রুটি করে ফেলি তবে আমি তাঁরই নিকট সঠিক পথ ও তাওফিক প্রার্থনা করছি।
পরিশেষে, এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার তাওফিক প্রদানের জন্য আমি মহান আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি মহামহিম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই প্রচেষ্টাকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে উপকার সাধন করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।
আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
ড. ইবরাহীম বিন সালিহ আল-হানদুদ
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯২)
تمهيد
طبيعة الشعر وعلاقته بالضرورة…التمهيد
أولاً: طبيعة الشعر وعلاقته بالضرورة:
الشعر كلام موزون بأفاعيلَ محصورة في عدد معيّن من الحروف، والحركات، والسكنات1، يستلزم بناؤه على هذه الصورة المقيَّدة بالوزن، والقافية أن يلجأ قائله - أحياناً - إلى الخروج عن القواعد الكلّيّة وارتكاب ما ليس منها؛ إمّا بزيادة اللفظ أو نقصانه أو تغيير في تركيب الجملة من تقديم وتأخير أو فصل بين متلازمين، وغير ذلك مما لا يُستجاز في الكلام مثله2؛ لأن الشاعر غير مختار في جميع أحواله فيفعل ذلك تلافياً لقصور اللفظ الذي يناسب المعنى الذي يريد مع الحفاظ على الوزن وسلامة القافية.
على أنه لا يخرج عن القواعد المذكورة كيفما اتفق، وإنما يسلك طريقة لها وجه في العربية3.
قال سيبويه (180هـ) : "وليس شيءٌ يضطرون إليه إلاّ وهم يحاولون به وجهاً"4 "فإن جهلنا ذلك فإنما جهلنا ما علمه غيرنا، أو يكون وصل إلى الأول ما لم يصل إلى الآخر"5.
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা
কবিতার প্রকৃতি ও কাব্যিক প্রয়োজনের (ضرورة) সাথে তার সম্পর্ক…উপক্রমণিকা
প্রথমত: কবিতার প্রকৃতি ও কাব্যিক প্রয়োজনের (ضرورة) সাথে তার সম্পর্ক:
কবিতা হলো এমন ছন্দোবদ্ধ বাক্য যা নির্দিষ্ট সংখ্যক বর্ণ, হরকত (স্বরধ্বনি) ও সুকুন (স্থিরধ্বনি) সম্বলিত ছন্দের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। ছন্দ ও অন্ত্যমিলের সীমাবদ্ধতায় এর কাঠামোর কারণে কবিকে কখনও কখনও ব্যাকরণের সাধারণ নিয়মের বাইরে যেতে হয় এবং এমন কিছু করতে হয় যা ব্যাকরণের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর মধ্যে রয়েছে শব্দের সংযোজন, বিয়োজন কিংবা বাক্য গঠনে পরিবর্তন—যেমন কোনো পদ আগে বা পরে আনা অথবা পরস্পর অবিচ্ছেদ্য দুটি বিষয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো। এই জাতীয় কাজগুলো সাধারণ গদ্যে বৈধ (مستجاز) নয়। কারণ কবি সকল অবস্থায় স্বাধীন নন; তাই তিনি ছন্দের ভারসাম্য ও অন্ত্যমিলের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত অর্থের উপযোগী শব্দের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এমনটি করে থাকেন।
তবে তিনি খেয়ালখুশিমতো উল্লিখিত নিয়মের বাইরে যান না, বরং তিনি এমন পদ্ধতি অবলম্বন করেন যার আরবি ভাষায় কোনো না কোনো ভিত্তি (وجه) রয়েছে।
সিবওয়াইহ (১৮০ হি.) বলেছেন: "তারা (কবিরা) কোনো কাব্যের প্রয়োজনে (ضرورة) এমন কিছু করেন না যাতে তারা কোনো একটি ব্যাকরণগত ভিত্তি (وجه) খোঁজার চেষ্টা করেন না।" "যদি আমরা সেটি সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকি, তবে আমরা কেবল তা-ই জানি না যা অন্য কেউ জানেন, অথবা এমন হতে পারে যে পূর্ববর্তীদের কাছে এমন কিছু পৌঁছেছে যা পরবর্তীদের নিকট পৌঁছেনি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯৩)
كما ألحقوا الكلام المسجوع في ذلك بالشعر لكون السجع يجري في ذلك مجرى الشعر، بدليل قولهم: "شهر ثرى، وشهر ترى، وشهر مرعى"1 فحذفوا التنوين من "ثرى"، ومن "مرعى" إتباعاً لقولهم: "ترى"؛ لأنه فعل فلم ينوّن لذلك2.
وقالوا: "الضِّيح والريح" فأبدلوا الحاءَ ياءً إتباعاً للريح، والأصل: الضِّحّ3.
وفي الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ارجعن مأزورات غير
مأجورات"4؛ بإبدال الواو ألفاً إتباعاً لمأجورات، والأصل: "موزورات"؛ لأنه من الوزر.
وقد جاء مثل ذلك أيضاً في فواصل القرآن لتتفق. قال عز وجل: {فَأَضَلُّونا السَّبِيلا} 5، وقال سبحانه: {وَتَظُنُّونَ بِاللهِ الظُّنُونَا} 6. فإن زيادة الألف في "السبيلا" و "الظنونا" بمنزلة زيادتها في الشعر على جهة الإطلاق7.
--------------------------------------------
একইভাবে তারা এই বিষয়ের অনুপ্রাসযুক্ত বাক্যকেও (الكلام المسجوع) কবিতার অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেহেতু সাজ (السجع) এই ক্ষেত্রে কবিতার মতোই গণ্য হয়। এর প্রমাণ হিসেবে তাদের এই উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য: "শহরুন ছারা, ওয়া শহরুন তারা, ওয়া শহরুন মারআ"১। এখানে তারা 'তারা' (ترى) শব্দের অনুসরণে 'ছারা' (ثرى) এবং 'মারআ' (مرعى) শব্দ দুটি থেকে তানউইন (التنوين) বিলুপ্ত করেছেন; কারণ 'তারা' শব্দটি একটি ক্রিয়া (فعل), আর সেই কারণে এতে তানউইন করা হয়নি২।
তারা বলেন: "আদ-দিহ ওয়া আর-রিহ"; এখানে 'রিহ' শব্দের অনুসরণে তারা 'হা' বর্ণকে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করেছেন, অথচ এর মূল হলো 'আদ-দিহহ্' (الضح)৩।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেছেন: "তোমরা পাপগ্রস্ত (مأزورات) হয়ে ফিরে যাও, পুণ্যবান (مأجورات) হয়ে নয়"৪; এখানে 'মাজুরাত' (مأجورات) শব্দের অনুসরণে 'ওয়াও' বর্ণকে 'আলিফ' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, অথচ এর মূল রূপ হলো 'মাওজুরাত' (موزورات); কারণ এটি 'বিজর' বা পাপ (الوزر) শব্দ থেকে উৎপন্ন।
অনুরূপ উদাহরণ পবিত্র কুরআনের আয়াতান্তের ছন্দমিল বা ফাওয়াসিলের (فواصل) ক্ষেত্রেও এসেছে যেন তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল (السبيلا)}৫, এবং তিনি আরও বলেন: {এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানাবিধ ধারণা (الظنونا) করছিলে}৬। নিশ্চয়ই 'আস-সাবিলা' (السبيلا) এবং 'আয-যুনুনা' (الظنونا) শব্দে আলিফের আধিক্য কবিতার অন্ত্যমিল বা ইতলাকের (الإطلاق) ক্ষেত্রে আলিফ বৃদ্ধির সমতুল্য৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯৪)
وقد كان النحاة يقفون إزاء الأبيات المخالفة لمذاهبهم وأقيستهم فيعمدون إلى التأويل لإدخالها ضمن هذه الأقيسة، فأصبحت تلك الأبيات الخارجة عن القياس المألوف ميداناً رحباً لتأويلات النحاة وتعليلاتهم، فدخلت بسبب ذلك ضمن الخلاف النحوي؛ إذ كل طرف لا يتردد في إلقاء جملة مما احتج به الطرف الآخر في بحر الضرورة1.
1 انظر: في الضرورات الشعرية 7.
2 انظر: الضرورة الشعرية دراسة نقدية لغوية 191.
3 الأصول 3/435.
ব্যাকরণবিদগণ তাঁদের মাযহাব ও নীতিমালা (قياس)-এর পরিপন্থী কাব্যিক পঙ্ক্তিগুলোর মুখোমুখি হলে সেগুলোকে উক্ত নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে ব্যাখ্যার (تأويل) আশ্রয় নিতেন। ফলে প্রচলিত নীতিমালার বহির্ভূত ওই পঙ্ক্তিগুলো ব্যাকরণবিদদের ব্যাখ্যা ও যুক্তিতর্কের এক বিস্তৃত চারণভূমিতে পরিণত হয়; আর এ কারণেই সেগুলো ব্যাকরণিক মতভেদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। কেননা, প্রতিটি পক্ষই অপর পক্ষের উপস্থাপিত দলিলের উল্লেখযোগ্য অংশকে 'কাব্যিক প্রয়োজনের' (ضرورة) সাগরে নিক্ষেপ করতে কোনো দ্বিধাবোধ করত না।১
১ দেখুন: ফিজ দুরুরাতিল শিরিয়্যাহ ৭।
২ দেখুন: আদ-দুরুরাহ আল-শিরিয়্যাহ দিরাসাহ নাক্বদিয়্যাহ লুগাবিয়্যাহ ১৯১।
৩ আল-উসুল ৩/৪৩৫।
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯৪)
ثانياً:
التأليف في الضرائر:لسيبويه رحمه الله جهود في مجال الكتابة عن الضرورة - وإن كانت لفظة "الضرورة" غير مذكورة في كتابه كما سبق - إلاّ أن دراسته لهذه الظاهرة تفتقر إلى المنهجية المحددة القائمة على التقسيم، والتصنيف للمظاهر العامة للضرورة. وهذا لا يلغي سمة التبكير، والريادة في معالجة موضوع متشعب الأطراف. فما كتبه عن الضرورة يعدّ إضاءات موزعة ذات فوائد متفرقة، أفاد منها النحاة في هذا المجال1.
ولعل أبا بكر بن السراج (316هـ) قد سبق في بداية القرن الرابع إلى تثبيت مبادئ التصنيف في الضرائر الشعرية بقوله: "ضرورات الشعر أن يضطر الوزن إلى حذف، أو زيادة، أو تقديم أو تأخير في غير موضعه، وإبدال حرف، أو تغيير إعراب عن وجهه على التأويل، أو تأنيث مذكر على التأويل"2.
هذا النص يمكن عدُّه الأساس التاريخي الأول لحركة التأليف، والكتابة المنهجية عن الضرورة.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত:
কাব্যিক অপরিহার্যতা (الضرائر) সংক্রান্ত গ্রন্থনা:সীবওয়াইহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'অপরিহার্যতা' (الضرورة) বিষয়ে রচনার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রয়েছে—যদিও ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, তাঁর কিতাবে 'অপরিহার্যতা' (الضرورة) শব্দটি সরাসরি উল্লিখিত হয়নি—তবে এই বিষয়ের ওপর তাঁর গবেষণা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির অভাব রয়েছে যা এই প্রসঙ্গের সাধারণ রূপগুলোর বিভাজন ও শ্রেণীবিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এটি এই বহুমুখী বিষয়টি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর মৌলিকত্ব ও অগ্রণী ভূমিকাকে ম্লান করে না। তিনি 'অপরিহার্যতা' (الضرورة) সম্পর্কে যা লিখেছেন তা মূলত বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা আলোকবর্তিকার মতো যা থেকে বিবিধ উপকারিতা অর্জিত হয় এবং এই শাস্ত্রের বৈয়াকরণগণ তা থেকে উপকৃত হয়েছেন ১।
সম্ভবত চতুর্থ শতাব্দীর শুরুতে আবু বকর ইবনুল সাররাজ (৩১৬ হি.) কাব্যিক অপরিহার্যতার (الضرائر الشعرية) ক্ষেত্রে শ্রেণীবিন্যাসের মূলনীতিগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ছিলেন। তিনি বলেন: "কাব্যের অপরিহার্যতা হলো ছন্দের কারণে কোনো শব্দ বিলোপ (حذف), বৃদ্ধি (زيادة), কোনো পদকে তার স্থান থেকে অগ্রবর্তী (تقديم) করা বা পশ্চাৎবর্তী (تأخير) করা, কোনো বর্ণ পরিবর্তন (إبدال حرف) করা, ব্যাখ্যার (تأويل) ভিত্তিতে ব্যাকরণিক রূপ (إعراب) পরিবর্তন করা, অথবা ব্যাখ্যার (تأويل) ভিত্তিতে পুংলিঙ্গকে স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তর করা" ২।
এই উদ্ধৃতিটিকে কাব্যিক অপরিহার্যতা (الضرورة) বিষয়ে পদ্ধতিগত লেখনী ও গ্রন্থনা আন্দোলনের প্রথম ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯৫)
أما المبكِّر إلى حصر تلك المظاهر حصراً علمياً فهو أبو سعيد السيرافي (368هـ) حيث يقول: "ضرورة الشعر على تسعة أوجه: الزيادة، والنقصان، والحذف، والتقديم، والتأخير، والإبدال، وتغيير وجه من الإعراب إلى وجهٍ آخر على طريق التشبيه، وتأنيث المذكر وتذكير المؤنث"1.
وإنما يُعَدّ هذا النص لشارح "الكتاب" أصلاً لكل ما ورد في فصول النحاة من نصوص، وإشارات إلى أنواع هذه الظاهرة؛ لأن ابن السراج قد اقتصر على سبعة أقسام فقط ولم يشر إلى ما يقع في الشعر من تذكير المؤنث، إلا أن يكون هذا النقص سهواً من ناسخ كتاب "الأصول" أو محققه2.
ويمكن اعتبار تذكير المؤنث الذي لم يذكره أبو بكر داخلاً ضمن الحذف الذي أشار إليه.
أمَّا التطور في تصنيف الضرورات فقد سار - بعد أبي سعيد السيرافي - على مرحلتين:
الأولى: الانتقال من التصنيف السباعي إلى التصنيف الخماسي، كما هو الشأن عند ابن عصفور (669هـ) في "ضرائر الشعر"، و "شرح الجمل"، و "المقرب" وأبي الفضل الصفار القاسم بن علي البَطَلْيوسي (بعد 630هـ) في "شرح كتاب سيبويه". وجرى على هذا أبو حيان (745هـ) ، في "ارتشاف الضرب".
ويتمثل هذا التقسيم في: الزيادة، والنقص، والتقديم والتأخير، والبدل.
الثانية: الانتقال من التصنيف الخماسي المذكور إلى تصنيف آخر ثلاثي يتمثل في الزيادة، والحذف، والتغيير3. وقد بنى الآثاري4 (828هـ)
--------------------------------------------
এই বৈশিষ্ট্যসমূহকে সর্বপ্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে বিন্যস্ত করেছেন আবু সাঈদ আস-সিরাফি (৩৬৮ হি.)। তিনি বলেন: "কাব্যের অপরিহার্যতা নয়টি পদ্ধতিতে হয়ে থাকে: বৃদ্ধি, হ্রাস, বিলোপ, অগ্রায়ন, পশ্চাৎনয়ন, বিনিময়, সাদৃশ্যের ভিত্তিতে ইরাবের এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন, পুংলিঙ্গকে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার এবং স্ত্রীলিঙ্গকে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার।"১
"আল-কিতাব"-এর ব্যাখ্যাকারীর এই পাঠটি ব্যাকরণবিদদের পরিচ্ছেদসমূহে বর্ণিত সকল পাঠ ও নির্দেশনার মূল উৎস হিসেবে গণ্য হয়; কারণ ইবনুল সাররাজ বিষয়টিকে কেবল সাতটি বিভাগে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন এবং কাব্যে স্ত্রীলিঙ্গকে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। সম্ভবত এই অসম্পূর্ণতা "আল-উসুল" গ্রন্থের কোনো লিপিকার বা সম্পাদকের অসতর্কতাবশত বিচ্যুতি হতে পারে।২
আবু বকর (ইবনুল সাররাজ) স্ত্রীলিঙ্গকে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহারের যে বিষয়টি উল্লেখ করেননি, তা তাঁর নির্দেশিত "বিলোপ"-এর প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
আবু সাঈদ আস-সিরাফির পরবর্তীকালে কাব্যিক অপরিহার্যতার শ্রেণিবিভাগের বিবর্তন দুটি পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে:
প্রথম: সাত প্রকারের শ্রেণিবিভাগ থেকে পাঁচ প্রকারের শ্রেণিবিভাগে রূপান্তর। যেমনটি ইবনে আসফুর (৬৬৯ হি.) তাঁর "যারায়েরুশ শির", "শারহুল জুমাল" ও "আল-মুকাররাব" গ্রন্থে এবং আবুল ফজল আস-সাফফার কাসিম বিন আলী আল-বাতালইউসি (৬৩০ হিজরির পর) তাঁর "শারহু কিতাবি সিবাহওয়াইহি" গ্রন্থে করেছেন। আবু হাইয়ান (৭৪৫ হি.) তাঁর "আরতিশাফুজ যারাব" গ্রন্থেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
এই বিভাজনটি হলো: বৃদ্ধি, হ্রাস, অগ্রায়ন ও পশ্চাৎনয়ন এবং বিনিময়।
দ্বিতীয়: উল্লিখিত পাঁচ প্রকারের শ্রেণিবিভাগ থেকে তিন প্রকারের অন্য একটি শ্রেণিবিভাগে রূপান্তর, যা হলো: বৃদ্ধি, বিলোপ এবং পরিবর্তন।৩ আল-আসারি৪ (৮২৮ হি.) এর ওপর ভিত্তি করেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯৬)
سرده للضرورات في منظومته "كفاية الغلام في إعراب الكلام"1 فقال:
ضرورة الشاعر تمحو ما وجبْ
… على الذي يتبع أوزان العربْ
وهي ثلاث فاغنم الإفادة
… الحذف والتغيير والزيادة
كما أقام على هذا التقسيم أبو المعالي محمود شكري الآلوسي (1342هـ) ترتيب الضرورات في كتابه "الضرائر"، وجرى على هذا جمعٌ غير قليل من العروضيين المعاصرين وغيرهم مفيدين من التصنيفات المذكورة السابقة مع اختلاف يسير2.
فللدكتور عبد الوهاب العدواني كتاب بعنوان "الضرورة الشعرية. دراسة نقدية لغوية"، وللدكتور محمد حماسة عبد اللطيف مصنَّفٌ بعنوان "الضرورة الشعرية في النحو العربي"، كما صنَّف الدكتور خليل بنيان الحسون مصنفاً بعنوان " في الضرورة الشعرية".
على أن أول كتاب يصل إلينا يستقل ببحث الضرورة هو كتاب "ما يجوز للشاعر في الضرورة" لأبي جعفر القزاز3 (412هـ) 4.
--------------------------------------------
তিনি তাঁর 'কিফায়াতুল গোলাম ফি ইরাবিল কালাম' কাব্যগ্রন্থে কাব্যিক প্রয়োজনগুলোকে (الضرورات) বিন্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন:
কবির কাব্যিক প্রয়োজন (ضرورة) এমন বিধানকে রহিত করে যা আবশ্যক ছিল... সেই ব্যক্তির জন্য যে আরবদের ছন্দসমূহ অনুসরণ করে।
আর তা হলো তিনটি, সুতরাং এর থেকে উপকার গ্রহণ করো... বর্জন (الحذف), পরিবর্তন (التغيير) এবং সংযোজন (الزيادة)।
অনুরূপভাবে আবু আল-মাআলি মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি (১৩৪২ হি.) তাঁর 'আদ-দারাইর' গ্রন্থে এই বিভাজনের ওপর ভিত্তি করেই কাব্যিক প্রয়োজনগুলোর (الضرورات) বিন্যাস করেছেন; এবং সমকালীন বহু ছন্দবিশারদ ও অন্যান্যরা সামান্য পার্থক্যসহ পূর্বোক্ত শ্রেণিবিভাগগুলো থেকে উপকৃত হয়ে এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন।
ডক্টর আব্দুল ওয়াহাব আল-আদওয়ানির 'আদ-দারুরাহ আশ-শিরিয়াহ: দিরাসাহ নকদিয়্যাহ লুগাবিয়্যাহ' শিরোনামে একটি গ্রন্থ রয়েছে এবং ডক্টর মুহাম্মাদ হামাসাহ আব্দুল লতিফের 'আদ-দারুরাহ আশ-শিরিয়াহ ফিন নাহউিল আরাবি' শিরোনামে একটি সংকলন (مصنف) রয়েছে, তেমনি ডক্টর খলিল বুনইয়ান আল-হাসুন 'ফিদ দারুরাহ আশ-শিরিয়াহ' শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তবে কাব্যিক প্রয়োজন (الضرورة) বিষয়ে গবেষণায় স্বতন্ত্রভাবে আমাদের নিকট পৌঁছানো প্রথম গ্রন্থটি হলো আবু জাফর আল-কাযযাযের (৪১২ হি.) 'মা ইয়াজুযু লিশ-শা'ইরি ফিদ দারুরাহ'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯৭)
الفصل الأول:
مفهوم الضرورة لدى النحويين
أولاً: رأي سيبويه وابن مالك:لم يصرّح سيبويه بتعريف محدد للضرورة، وإنما كان يكتفي ببعض العبارات التي فهم منها بعض شرّاح "الكتاب" ودارسيه مفهوم الضرورة عنده من خلال تناوله لبعض المسائل، وبخاصة الباب الذي عقده في أول الكتاب بعنوان "ما يحتمل الشعر"1.
فمن خلال بعض النصوص حدّد العلماء رأي سيبويه في "الضرورة" وهو أنه يجوز للشاعر ما لا يجوز له في الكلام بشرط أن يضطر إلى ذلك، ولا يجد منه بداً، وأن يكون في ذلك ردُّ فرع إلى أصل، أو تشبيه غير جائز بجائز2.
قال سيبويه - عند قول أبي النجم العجلي -:
قد أصبحتْ أمُّ الخيارِ تدَّعي
… عليَّ ذنباً كلُّه لم أصنعِ3
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ:
ব্যাকরণবিদদের নিকট অপরিহার্যতা (ضرورة)-এর ধারণা
প্রথমত: সিবওয়াইহ এবং ইবনে মালিকের অভিমত:সিবওয়াইহ 'অপরিহার্যতা' (ضرورة)-এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে প্রদান করেননি। বরং তিনি কেবল এমন কিছু অভিব্যক্তির ওপর নির্ভর করেছেন, যা থেকে "আল-কিতাব"-এর কিছু ব্যাখ্যাকার ও গবেষক বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাঁর নিকট 'অপরিহার্যতা' (ضرورة)-এর ধারণাটি অনুধাবন করেছেন। বিশেষ করে কিতাবের শুরুতে "কাব্যের ক্ষেত্রে যা সহনীয়" ১ শিরোনামে তিনি যে অধ্যায়টি রচনা করেছেন, তার মাধ্যমে এটি সুস্পষ্ট হয়েছে।
কিছু পাঠ্যের (نصوص) আলোকে আলেমগণ 'অপরিহার্যতা' (الضرورة) সম্পর্কে সিবওয়াইহ-এর অভিমত সুনির্দিষ্ট করেছেন; আর তা হলো—কবির জন্য কাব্যে এমন কিছু বৈধ যা সাধারণ কথোপকথনে বৈধ নয়, তবে শর্ত হলো তাকে সেটির জন্য বাধ্য (مضطر) হতে হবে এবং তা পরিহার করার মতো কোনো বিকল্প পথ থাকবে না। আর এর মাধ্যমে যেন কোনো গৌণ বিষয়কে (فرع) তার মূলে (أصل) ফিরিয়ে নেওয়া হয় অথবা কোনো অবৈধ বিষয়কে বৈধ বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করা হয় ২।
সিবওয়াইহ—আবু আল-নাজম আল-ইজলির এই উক্তি সম্পর্কে বলেন—:
উম্মুল খিয়ার আমার বিরুদ্ধে এমন এক অপরাধের অভিযোগ করতে শুরু করেছে
… যার কিছুই আমি করিনি ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯৮)
"هذا ضعيف، وهو بمنزلته في غير الشعر؛ لأن النصب لا يكسر البيت ولا يخل به ترك إظهار الهاء"1.
ولا يبعد مفهوم ابن مالك (ت 672هـ) للضرورة عن مفهوم سيبويه المتقدم وهو أن الضرورة: ما لا مندوحة للشاعر عنه بحيث لا يمكن الاتيان بعبارة أخرى.
صرَّح بهذا في شرح التسهيل وشرح الكافية الشافية.
فوصل "أل" بالمضارع - على سبيل المثال - جائز عنده اختياراً لكنه قليل، فذكر أن قول الفرزدق:
ما أنتَ بالحكمِ التُرضى حكومته
… ولا الأصيلِ ولا ذي الرأي والجدلِ2
وقول ذو الخِرَق الطهوي 3:
يقول الخنا وأبغض العجم ناطقاً
… إلى ربنا صوت الحمار اليجدعُ4
--------------------------------------------
এটি দুর্বল (ضعيف), এবং কবিতার বাইরেও এর অবস্থান এমনই; কারণ নসব (শব্দের শেষে জবর প্রদান) পঙক্তিকে ভেঙে দেয় না এবং 'হা' বর্ণটিকে অপ্রকাশিত রাখা এতে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না।1.
জরুরত (কাব্যিক আবশ্যকতা) সম্পর্কে ইবনে মালিকের (মৃ. ৬৭২ হি.) ধারণাটি পূর্বোল্লিখিত সিবওয়াইহ-এর ধারণা থেকে ভিন্ন নয়; আর তা হলো: জরুরত এমন একটি বিষয় যা পরিহার করার কোনো উপায় কবির থাকে না, যাতে অন্য কোনো শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
তিনি শারহুত তাসহিল এবং শারহুল কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ, মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া)-এর সাথে 'আলিফ-লাম' যুক্ত করা তাঁর মতে ঐচ্ছিকভাবে বৈধ হলেও এর প্রয়োগ বিরল; তাই তিনি আল-ফারাজদাকের এই উক্তিটি উল্লেখ করেছেন:
তুমি সেই বিচারক নও যার ফয়সালা পছন্দনীয়
… আর না তুমি কোনো অভিজাত বংশীয়, না কোনো সুচিন্তিত মত ও যুক্তিনির্ভর ব্যক্তি।2
এবং যু-খিরাক আত-তহভীর উক্তি3:
সে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে, আর বাক্য উচ্চারণকারীদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় শব্দ হলো সেই গাধার স্বর যার কান কেটে ফেলা হয়েছে।4
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৯৯)
غيرُ مخصوص بالضرورة؛ لتمكن قائل الأول من أن يقول:
"ما أنت بالحكم المرضي حكومته"
ولتمكن الآخر من أن يقول:
"إلى ربنا صوت الحمار يُجدعُ"
فإذ لم يفعلا ذلك مع استطاعته ففي ذلك إشعار بالاختيار وعدم الاضطرار1.
وهذا الاتجاه في فهم الضرورة قد نُسب إلى ابن مالك وشُهر به، حتى إن كثيراً ممن خالف هذا المنهج وجّه نقده إلى ابن مالك وحده ولم يتعرّض لسيبويه2، كقول أبي حيان: "لم يفهم ابن مالك معنى قول النحويين في ضرورة الشعر
… " إلخ 3.
وإن المتأمل ليستوقفه النظر حيال قبول الناس لهذا الرأي في فهم الضرورة؛ إذ لم يجد كثرة من الأنصار له على الرغم من أن أشهر الذين قالوا به هما سيبويه وابن مالك، والأول كان يعيش في عصر الاستشهاد ويستقي شواهده من المصادر الحية أو ممن سمعها من المصادر الحية، والآخر يعد أمَّة لا في الاطلاع على كتب النحاة وآرائهم فحسب، بل أيضاً في اللغة وأشعار العرب بله القراءات ورواية الحديث النبوي4.
--------------------------------------------
এটি আবশ্যিকভাবে কাব্যিক প্রয়োজনের (الضرورة) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কারণ প্রথম বক্তা এটি বলতে সক্ষম ছিলেন যে:
"তুমি এমন বিচারক নও যার বিচার সন্তোষজনক"
এবং অন্যজন এটি বলতে সক্ষম ছিলেন যে:
"আমাদের রবের দিকে গাধার কণ্ঠস্বর কর্তিত হয়"
যেহেতু তারা সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তা করেননি, তাই এটি ইচ্ছাধীন নির্বাচনের ইঙ্গিত দেয় এবং তা কোনো নিরুপায় অবস্থা (الاضطرار) নয়।১
কাব্যিক প্রয়োজন (الضرورة) অনুধাবনের ক্ষেত্রে এই দৃষ্টিভঙ্গিটি ইবনে মালিকের দিকে সম্বন্ধযুক্ত এবং এর মাধ্যমেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। এমনকি যারা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করেছেন, তাদের অনেকেই তাদের সমালোচনা কেবল ইবনে মালিকের ওপর নিবদ্ধ করেছেন এবং সিবওয়াইহ সম্পর্কে কোনো উচ্চবাচ্য করেননি২, যেমন আবু হাইয়ানের উক্তি: "ইবনে মালিক কাব্যিক প্রয়োজনের (ضرورة الشعر) ক্ষেত্রে বৈয়াকরণদের বক্তব্যের মর্মার্থ বুঝতে পারেননি..." ইত্যাদি ৩।
একজন চিন্তাশীল ব্যক্তির দৃষ্টি কাব্যিক প্রয়োজন (الضرورة) উপলব্ধির ক্ষেত্রে মানুষের এই মতটি গ্রহণ করার বিষয়ে থমকে দাঁড়ায়; কেননা এই মতের পক্ষে অধিক সংখ্যক সমর্থক পাওয়া যায় না, যদিও এটি পোষণকারী সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দুজন ব্যক্তি হলেন সিবওয়াইহ এবং ইবনে মালিক। প্রথমজন প্রামাণ্য যুগের অধিবাসী ছিলেন এবং তিনি তার প্রমাণাদি সরাসরি জীবন্ত উৎস থেকে অথবা যারা সরাসরি জীবন্ত উৎস থেকে শুনেছেন তাদের থেকে গ্রহণ করতেন। আর দ্বিতীয়জন (ইবনে মালিক) কেবল বৈয়াকরণদের কিতাব ও তাদের মতামতের গভীর পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেই একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব (أمة) ছিলেন না, বরং ভাষা, আরবদের কবিতা, এমনকি কিরাআত এবং নববী হাদিস বর্ণনার (رواية الحديث) ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রগণ্য ছিলেন৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০০)
(ومعنى هذا أنّ رأي هذين الإمامين لما امتازا به من سعة رواية ونفاذ رأي ينبغي أن يكون له وزنه في دراسة اللغة؛ لأنه نابع من فهم لخصائصها أصيل وحسّ بها غير مدخول) 1.
لكن هذا الرأي قد تعرَّض لنقد شديد من المتأخرين كأبي إسحاق الشاطبي (790هـ) ، وأبي حيان، وابن هشام (761هـ) ، والشيخ خالد الأزهري (905هـ) ، وعبد القادر البغدادي (ت1093هـ) .
وملخص رد الشاطبي على ابن مالك يتمثل في الآتي:
أولاً: أن النحاة قد أجمعوا على عدم اعتبار هذا المنزع، وعلى إهماله في النظر القياسي جملة، ولو كان معتبراً لنبهوا عليه.
ثانياً: أن الضرورة لا تعني عند النحويين أنه لا يمكن في الموضع غير ما ذكر؛ لأنه ما من ضرورة إلا ويمكن أن يعوض من لفظها غيره، دليل ذلك الراء في كلام العرب، فإنها من الشياع في الاستعمال بمكان لا يُجهل، ولا يكاد ينطق أحد بجملتين تعريان عنها. وقد هجرها واصل بن عطاء2 (131هـ) لمكان لثغته فيها، بل كان يناظر الخصوم ويخطب على المنبر فلا يُسمع في نطقه راءٌ، حتى صار مثلاً. وإن الضرورة الشعرية لهي أسهلُ من هذا بكثير، وإذا كان الأمر هكذا أدى إلى انتفاء الضرورة في الشعر وذلك خلاف الإجماع، وإنما معنى الضرورة أن الشاعر قد لا يخطر بباله إلا لفظة ما اقتضت ضرورة النطق بها في ذلك
--------------------------------------------
(এর অর্থ হলো, বর্ণনার (رواية) ব্যাপকতা এবং সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধির কারণে এই দুই ইমামের মতামতের যে বিশেষত্ব রয়েছে, ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় তার গুরুত্ব অপরিসীম হওয়া উচিত; কারণ এটি ভাষার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তাদের মৌলিক উপলব্ধি এবং অকৃত্রিম অনুভূতি থেকে উৎসারিত।) ১।
কিন্তু পরবর্তী সময়ের আলেমদের পক্ষ থেকে এই মতটি কঠোর সমালোচনার (نقد) সম্মুখীন হয়েছে, যেমন—আবু ইসহাক আশ-শাতিবি (৭৯০ হি.), আবু হাইয়ান, ইবন হিশাম (৭৬১ হি.), শায়খ খালিদ আল-আযহারি (৯০৫ হি.) এবং আব্দুল কাদির আল-বাগদাদি (মৃত্যু ১০৯৩ হি.)।
ইবন মালিকের ওপর আশ-শাতিবির খণ্ডনের সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
প্রথমত: ব্যাকরণবিদগণ এই ধারাটি গ্রহণ না করার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন এবং সামগ্রিক কিয়াসভিত্তিক (قياس) পর্যালোচনায় এটিকে বর্জন করেছেন। যদি এটি গ্রহণযোগ্য হতো, তবে তারা অবশ্যই সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন।
দ্বিতীয়ত: ব্যাকরণবিদদের নিকট ‘প্রয়োজন’ (ضرورة) বলতে এটি বোঝায় না যে, উক্ত স্থানে উল্লিখিত শব্দ ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা সম্ভব নয়; কারণ এমন কোনো প্রয়োজন (ضرورة) নেই যেখানে ব্যবহৃত শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করা সম্ভব নয়। এর প্রমাণ হলো আরবদের কথাবার্তায় ‘রা’ (راء) বর্ণের ব্যবহার; ব্যবহারের ব্যাপকতার কারণে এটি সবারই জানা এবং এমন কেউ নেই যে ‘রা’ (راء) বর্ণ ব্যতীত দুটি বাক্য উচ্চারণ করতে পারে। অথচ ওয়াসিল ইবনে আতা২ (১৩১ হি.) তার জিহ্বার জড়তার কারণে এটি বর্জন করেছিলেন; এমনকি তিনি প্রতিপক্ষের সাথে বিতর্ক এবং মিম্বারে খুতবা দেওয়ার সময়ও এমনভাবে কথা বলতেন যে তার উচ্চারণে কোনো ‘রা’ (راء) শোনা যেত না, যা পরবর্তীতে একটি প্রবাদতুল্য বিষয়ে পরিণত হয়। আর কাব্যিক প্রয়োজন (ضرورة) এর চেয়ে অনেক বেশি সহজসাধ্য বিষয়। বিষয়টি যদি এমন হতো, তবে কাব্যে প্রয়োজনের (ضرورة) অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যেত, যা ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী। মূলত কাব্যিক প্রয়োজনের (ضرورة) অর্থ হলো, কবির মনে হয়তো সেই মুহূর্তে নির্দিষ্ট শব্দটি ছাড়া অন্য কোনো শব্দ আসেনি যার উচ্চারণ সেখানে করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০১)
الموضع زيادة أو نقص أو غير ذلك، في الوقت الذي قد يتنبه غيره إلى أن يحتال في شيءٍ يزيل تلك الضرورة.
ثالثاً: أنه قد يكون للمعنى الواحد أكثر من عبارة بحيث يلزم في إحداها ضرورة ولكنها هي المطابقة لمقتضى الحال، وهنا يرجع الشاعر إلى الضرورة؛ لأن اعتناء العرب بالمعاني أشد من اعتنائهم بالألفاظ. وإذا تبيَّن في موضع ما أن ما لا ضرورة فيه يصلح هنالك، فمن أية جهة يعلم أنه مطابق لمقتضى الحال؟
رابعاً: أن العرب قد تأبى الكلام القياسي لعارض زحاف فتستطيب المزاحف دون غيره أو بالعكس فتركب الضرورة لذلك1.
ومن أقوال ابن هشام في الرد على ابن مالك قوله: "إذا فُتح هذا الباب - يعني زعم القدرة على تغيير بنية الشعر وألفاظه - لم يبق في الوجود ضرورة، وإنما الضرورة عبارة عما أتى في الشعر على خلاف ما عليه النثر"2.
ومن أقواله أيضاً: إن كثيراً من أشعار العرب يقع عن غير روية، وهو مما يدعو إلى عدم التمكن من تخيّر الوجه الذي لا ضرورة فيه.
كما أن الشعر لمّا كان مظنة للضرورة استُبيح فيه ما لم يُضطرّ إليه، كما أُبيح قصر الصلاة في السفر؛ لأنه مظنة المشقة مع انتفائها أحياناً والرخصة باقية3.
هذا الكلام قاله ابن هشام في رده على ابن مالك إذ زعم أن إيراد الضمير المتصل بعد "إلَاّ" في قول الشاعر4:
--------------------------------------------
সেই স্থানে বৃদ্ধি বা ঘাটতি বা অন্য কিছু হতে পারে, এমন সময়ে যখন অন্য কেউ এমন কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারে যা সেই আবশ্যকতা (ضرورة) দূর করে দেয়।
তৃতীয়ত: কখনও একই অর্থের জন্য একাধিক প্রকাশভঙ্গি থাকতে পারে যার ফলে কোনো একটিতে আবশ্যকতা (ضرورة) দেখা দেয়, কিন্তু সেটিই পরিস্থিতির চাহিদার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এমতাবস্থায় কবি আবশ্যকতার (ضرورة) আশ্রয় নেন; কারণ আরবদের কাছে শব্দ অপেক্ষা অর্থের গুরুত্ব অধিক। আর যদি কোনো স্থানে এমন প্রতীয়মান হয় যে যেখানে আবশ্যকতা (ضرورة) নেই সেটিই উপযুক্ত, তবে তা পরিস্থিতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা কোন দিক থেকে জানা যাবে?
চতুর্থত: আরবরা কখনও জিহাফ (زحاف) এর কারণে নিয়মানুগ বাক্য অপছন্দ করতে পারে, ফলে তারা অন্য কিছুর চেয়ে ছন্দোচ্যুতির (مزاحف) রূপটিকেই পছন্দ করে অথবা এর বিপরীতটিও হতে পারে, তাই তারা সেই উদ্দেশ্যে আবশ্যকতা (ضرورة) গ্রহণ করে১।
ইবনে মালিকের জবাব দিতে গিয়ে ইবনে হিশামের অন্যতম উক্তি হলো: "যদি এই দ্বার উন্মোচন করা হয়—অর্থাৎ কবিতার গঠন ও শব্দ পরিবর্তনের সক্ষমতার দাবি করা হয়—তবে অস্তিত্বে কোনো আবশ্যকতা (ضرورة) অবশিষ্ট থাকবে না। মূলত আবশ্যকতা (ضرورة) হলো গদ্যের নিয়মের বিপরীতে কবিতায় যা বর্ণিত হয়"২।
তাঁর আরেকটি উক্তি হলো: আরবদের অনেক কবিতা পূর্বচিন্তা ছাড়াই রচিত হয়েছে, যা এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেখানে আবশ্যকতা (ضرورة) মুক্ত কোনো দিক নির্বাচন করা সম্ভব হয় না।
যেহেতু কবিতা আবশ্যকতার (ضرورة) সম্ভাব্য ক্ষেত্র, তাই এতে এমন বিষয়েরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে যার প্রয়োজন হয়তো অনিবার্য ছিল না। যেমন সফরে সালাত কসর (قصر) করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে; কারণ এটি কষ্টের সম্ভাব্য ক্ষেত্র, যদিও কখনও কষ্ট থাকে না তবুও ছাড় (رخصة) বহাল থাকে৩।
ইবনে হিশাম এই কথাটি ইবনে মালিকের জবাবে বলেছিলেন যখন তিনি দাবি করেছিলেন যে, কবির উক্তিতে 'ইল্লা' এর পরে সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل) ব্যবহার করা৪:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০২)
وما نبالي إذا ما كنتِ جارتَنا
… ألاّ يجاورنا إلَاّكِ ديارُ1
ليس ضرورة، لتمكن قائله من أن يقول:
"ألا يكون لنا خلٌّ ولا جارُ" 2
ثم إن الشاعر قد يتاح له في حرارة التجربة الشعرية غير عبارة عن الفكرة الواحدة، لكنه لا يختار من الألفاظ إلا ما يأنس فيه الملاءمة التامة للمعنى الذي ينشده وإن ساوره قلق فني في دقة لغته، وقدرتها على التعبير عنه. فإذا ثبت هذا وأنه هو واقع الشعر اللغوي فإن التفكير بنفي الضرورة، ومحاولة استبدالها بما لا ضرورة فيه أمرٌ من الصعوبة بمكان على الشاعر، ناهيك عن الناقد اللغوي، والنحوي وذلك لتفاوت القدرات على تخيّل الألفاظ، واستحضارها من المعاجم الذهنية المختلفة في سعتها، وتنوعها، وصفائها3.
وقد حاول بعض المحدثين4 الاعتذار لابن مالك بأنه كان يعمل ثقافته، وفكره حين بيّن رأيه في الضرورة الشعرية. فكان يضع في اعتباره لهجات العرب المتباينة، والقراءات القرآنية، والحديث النبوي الشريف بحيث إذا ورد فيها شيء قال النحاة عن نظيره في الشعر إنه ضرورة لم يعدّه هو كذلك، بل
--------------------------------------------
এবং আমরা ভ্রুক্ষেপ করি না যখন আপনি আমাদের প্রতিবেশী হন
… যে আপনি ছাড়া আর কোনো গৃহবাসী আমাদের প্রতিবেশী হবে না১
এটি কোনো আবশ্যকতা নয়, কারণ বক্তার পক্ষে এমনটি বলা সম্ভব ছিল:
"আমাদের যেন কোনো বন্ধু বা প্রতিবেশী না থাকে" ২
অধিকন্তু, একজন কবি কাব্যিক অভিজ্ঞতার তীব্রতায় একটি ভাব প্রকাশের জন্য একাধিক শব্দশৈলী পেতে পারেন, কিন্তু তিনি কেবল সেই শব্দগুলোই নির্বাচন করেন যার মধ্যে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত অর্থের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্য অনুভব করেন; যদিও ভাষার নির্ভুলতা এবং তা প্রকাশের সক্ষমতা নিয়ে তাঁর মধ্যে শৈল্পিক উৎকণ্ঠা বিদ্যমান থাকে। যদি এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটিই যদি কাব্যভাষার বাস্তবতা হয়, তবে কাব্যিক আবশ্যকতাকে অস্বীকার করার চিন্তা করা এবং এর পরিবর্তে আবশ্যকতা নেই এমন বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করা একজন কবির পক্ষে অত্যন্ত দুরূহ বিষয়; এমনকি ভাষাতাত্ত্বিক বা ব্যাকরণবিদের পক্ষেও তা কঠিন। আর এটি শব্দ কল্পনা করার এবং মনের বিভিন্ন অভিধান—যা প্রশস্ততা, বৈচিত্র্য ও স্বচ্ছতায় ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে—থেকে তা উপস্থাপনের সামর্থ্যের পার্থক্যের কারণে হয়ে থাকে।৩
কিছু আধুনিক (محدثين) ৪ গবেষক ইবনে মালিকের পক্ষ থেকে এই বলে কৈফিয়ত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যে, তিনি যখন কাব্যিক আবশ্যকতা সম্পর্কে তাঁর মত ব্যক্ত করেছিলেন, তখন তিনি তাঁর পাণ্ডিত্য ও চিন্তাধারাকে কাজে লাগিয়েছিলেন। তিনি আরবের বিভিন্ন উপভাষা, কুরআনের কিরাতসমূহ এবং মহানবি (সা.)-এর পবিত্র হাদিস বিবেচনায় রাখতেন; ফলে সেগুলোতে যদি এমন কোনো প্রয়োগ পাওয়া যেত যা সম্পর্কে ব্যাকরণবিদগণ কাব্যের অনুরূপ ক্ষেত্রে আবশ্যকতা বলতেন, তিনি সেটিকে তেমনটি গণ্য করতেন না, বরং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০৩)
يرجع كل ظاهرة إلى أصلها، وأحياناً ينصّ على أنه لهجة قبيلة معينة وضرورة عند غيرهم. فنراه - مثلاً - يقول عن تسكين هاء الغائب واختلاس حركتها: "وقد تسكن أو تختلس الحركة بعد متحرك عند بني عُقَيل، وبني كلاب اختياراً، وعند غيرهم اضطراراً"1.
وقد ذكر في كتاب "التسهيل" جملة من المسائل يعدّها بعضهم ضرورة ولا يراها هو كذلك كحذف نون الوقاية من "ليس"، و "ليت"، و "عن"، و "قد"، و "قط"2، وزيادة "ال" في العلم، والتمييز، والحال3، وإسكان عين "مع"4، والفصل بينها وبين تمييزها5، وتأكيد المضارع المثبت6، ومجيء الشرط مضارعاً، والجواب ماضياً7، وإجراء الوصل مجرى الوقف8.
وفي بعض كتبه الأخرى يشير إلى أن بعض الظواهر تكثر في الشعر دون النثر9.
(ولعله في هذا متأثر بسيبويه. وهذا يشعر بأنهما يدركان أن للشعر نظاماً خاصاً به في صرفه، ونحوه ينبغي أن يدرس وحده منفصلاً عن النثر، ولكن النظرة السائدة إلى وحدة اللغة جعلت هذه الملاحظة تقف عند حدّ الإدراك الذي لم يؤيده التنفيذ العملي) 10.
--------------------------------------------
তিনি প্রতিটি বৈশিষ্ট্যকে (ظاهرة) তার মূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করান এবং কখনো কখনো তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এটি একটি নির্দিষ্ট গোত্রের উপভাষা এবং অন্যদের নিকট এটি কাব্যিক আবশ্যকতা (ضرورة)। যেমন আমরা তাকে তৃতীয় পুরুষ বা নামপুরুষের সর্বনামের (هاء الغائب) সাকিন করা (تسكين) এবং তার হরকতকে দ্রুত পড়ার (اختلاس) বিষয়ে বলতে দেখি: "বনু উকাইল এবং বনু কিলাবের নিকট স্বরবর্ণের (متحرك) পরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে (اختياراً) সাকিন করা বা হরকত দ্রুত পড়া হতে পারে, আর অন্যদের নিকট তা কাব্যিক আবশ্যকতা বা বাধ্যবাধকতা (اضطراراً) হিসেবে গণ্য।"1
তিনি "আত-তাশহিল" গ্রন্থে এমন কিছু মাসআলা বা বিষয়ের উল্লেখ করেছেন যেগুলোকে কেউ কেউ কাব্যিক আবশ্যকতা (ضرورة) মনে করলেও তিনি সেগুলোকে তেমনটি মনে করেন না। যেমন— 'লাইসা', 'লাইতা', 'আন', 'কদ' এবং 'কত' শব্দগুলো থেকে সুরক্ষামূলক নুন (نون الوقاية) বিলুপ্ত করা; নির্দিষ্ট বিশেষ্য (العلم), তাময়িয (التمييز) এবং হাল (الحال)-এর শুরুতে 'আলিফ-লাম' (ال) যুক্ত করা; 'মাআ' শব্দের 'আইন' বর্ণকে সাকিন করা; এটি এবং এর তাময়িযের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো; ইতিবাচক মুদারে (المضارع المثبت) ক্রিয়াকে তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদান করা; শর্ত হিসেবে মুদারে (مضارع) এবং জাযা বা উত্তর হিসেবে মাদি (ماض) ক্রিয়ার ব্যবহার; এবং ওয়াসল (وصل) বা শব্দের মিলনকে ওয়াকফ (وقف) বা বিরতির স্থলাভিষিক্ত করা।2
তার অন্য কিছু গ্রন্থে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, কিছু ভাষাগত বৈশিষ্ট্য গদ্যের তুলনায় কবিতায় অধিক মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়।3
(সম্ভবত তিনি এ ক্ষেত্রে সিবওয়াইহ দ্বারা প্রভাবিত। এটি নির্দেশ করে যে, তারা উভয়েই বুঝতে পেরেছিলেন যে কবিতার শব্দরূপ (صرف) এবং ব্যাকরণের (نحو) নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি রয়েছে যা গদ্য থেকে পৃথকভাবে অধ্যয়ন করা উচিত। তবে ভাষার ঐক্যের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি এই পর্যবেক্ষণটিকে কেবল উপলব্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছে, যা কার্যত বাস্তবায়িত হয়নি)।4
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০৪)
ثانياً: رأي ابن جني والجمهور:يرى أبو الفتح عثمان بن جني (392هـ) وكثير من النحويين أن الضرورة ما وقع في الشعر سواء كان للشاعر عنه مندوحة أم لا؟ ولم يشترطوا في الضرورة أن يضطر الشاعر إلى ذلك في شعره، بل جوّزوا له في الشعر ما لم يجز في الكلام؛ لأنه موضع قد أُلفت فيه الضرائر. دليل ذلك قول الشاعر1:
كم بجودٍ مقرفٍ نال العلا
… وكريمٍ بخله قد وضَعَهْ 2
-في رواية من خفض "مقرف"، حيث فصل بين "كم" وما أضيفت إليه بالجار والمجرور، وذلك لا يجوز إلا في الشعر، ولم يضطر إلى ذلك إذ يزول الفصل بينهما برفع "مقرف" أو نصبه3.
ومما استدل به صاحب هذا المذهب - أيضاً - قول الآخر4:
فلا مزنةٌ ودقت ودقَها-ولا أرضَ أبقلَ إبقالَها 5
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: ইবনু জিন্নি এবং জুমহুর (جمهور)-এর অভিমত:আবু আল-ফাতহ উসমান ইবনু জিন্নি (৩৯২ হিজরি) এবং অনেক ব্যাকরণবিদ মনে করেন যে, কাব্যিক অনিবাৰ্যতা (জরুরাহ) হলো কবিতায় যা সংঘটিত হয়, চাই কবির জন্য তা পরিহার করার সুযোগ থাকুক বা না থাকুক। তারা কাব্যিক অনিবাৰ্যতার জন্য কবিকে সেই বিষয়ে নিরুপায় হওয়াকে শর্ত করেননি; বরং তারা কবিতায় এমন বিষয়কে বৈধ করেছেন যা সাধারণ কথাবার্তায় বৈধ নয়; কারণ এটি এমন একটি স্থান যেখানে কাব্যিক বিশেষ প্রয়োগসমূহ স্বীকৃত। এর প্রমাণ হলো কবির এই উক্তি১:
কতই না হীন ব্যক্তির বদান্যতা তাকে উচ্চমর্যাদায় আসীন করেছে
… আর কতই না উচ্চবংশীয় ব্যক্তিকে তার কৃপণতা নিচু করেছে ২
- "মুকরিফ" শব্দটিকে যারা খাফদ (জের) দিয়ে পড়ার বর্ণনা করেছেন তাদের মতে, এখানে "কাম" এবং যার প্রতি তা ইযাফাত করা হয়েছে, এই দুয়ের মাঝে 'জার ও মাজরুর' দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করা হয়েছে; যা কবিতা ছাড়া অন্য কোথাও বৈধ নয়। আর কবি এর জন্য নিরুপায় ছিলেন না, কারণ "মুকরিফ" শব্দটিকে রাফ' (পেশ) বা নাসব (যবর) করার মাধ্যমেই এই ব্যবধান দূর করা সম্ভব ছিল৩।
এই মতের প্রবক্তা যা দিয়ে দলিল পেশ করেছেন তার মধ্যে অন্য একজনের এই উক্তিটিও রয়েছে৪:
না কোনো জলদ মেঘ তার বৃষ্টি বর্ষণ করেছে - আর না কোনো জমিন তার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছে ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০৫)
ألا ترى أنه حذف التاء من أبقلت، وقد كان يمكنه أن يثبت التاء وينقل حركة الهمزة فيقول: أبقلت ابقالها1.
قال ابن جني في قول الشاعر2:
فزججتها بمزجة
… زجَّ القلوصَ أبي مزاده 3
- (فصل بينهما بالمفعول به) ، هذا مع قدرته على أن يقول:
زجّ القلوص أبو مزاده
كقولك: سرَّني أكلُ الخبز زيدٌ
… فارتكب هاهنا الضرورة مع تمكنه من ترك ارتكابها4.
--------------------------------------------
আপনি কি দেখছেন না যে, তিনি 'আবাক্বালাত' থেকে 'তা' বিলুপ্ত করেছেন, অথচ তিনি 'তা' বর্ণটি বহাল রাখতে এবং হামযার হরকত (স্বরচিহ্ন) স্থানান্তর করে বলতে পারতেন: 'আবাক্বালাত ইবাক্বলাহা'।১
ইবন জিন্নি কবির এই উক্তি সম্পর্কে বলেন:২
অতঃপর আমি তাকে বর্শার ফলক দ্বারা আঘাত করলাম... আবু মাজাদাহর যুবতী উটকে আঘাত করার মতো ৩
- (তিনি এই দুইয়ের মাঝে মাফউল বিহি দ্বারা ব্যবধান করেছেন), এটি তিনি বলতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও যে:
যাজ্জাল ক্বালুসা আবু মাজাদাহ
যেমন আপনার কথা: 'যাইদের রুটি খাওয়া আমাকে আনন্দিত করেছে'... সুতরাং তিনি এখানে কাব্যিক নিরুপায়তা গ্রহণ করেছেন, যদিও সেটি পরিহার করার সক্ষমতা তার ছিল।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০৬)
وإلى هذا المذهب ذهب كل من الأعلم الشنتمري (476هـ) ، والرضي1 (686هـ) ، وأبو حيان، وابن هشام2، والبغدادي، والشيخ محمد الأزهري المعروف بـ "الأمير" (1232هـ) .
قال الأعلم: "والشعر موضع ضرورة يحتمل فيه وضع الشيء في غير موضعه دون إحراز فائدة ولا تحصيل معنى وتحصينه، فكيف مع وجود ذلك"3؟
وقال أبو حيان - في التذييل والتكميل -: "لا يعني النحويون بالضرورة أنه لا مندوحة عن النطق بهذا اللفظ، وإلا كان لا توجد ضرورة؛ لأنه ما من لفظ أو ضرورة إلا ويمكن إزالتها ونظم تركيب آخر غير ذلك التركيب، وإنما يعنون بالضرورة أن ذلك من تراكيبهم الواقعة في الشعر المختصة به، ولا يقع ذلك في كلامهم النثريّ، وإنما يستعملون ذلك في الشعر خاصة دون الكلام"4.
أما البغدادي فيقول عن الضرورة: "والصحيح تفسيرها بما وقع في الشعر دون النثر سواء كان عنه مندوحة أوْ لا"5.
وخالف الأمير قول ابن مالك بحجة أنه - كما يقول -: "يسد باب الضرورة، فإن الشعراء أمراء الكلام قل أن يعجزهم شيء. على أنه لا يلزم الشاعر وقت الشعر استحضار تراكيب مختلفة"6.
وما احتج به أصحاب هذا الرأي لم يسلم من المعارضة من قبل أنصار الرأي الأول كاعتراضهم على الاحتجاج بقول الشاعر:
--------------------------------------------
এই মতটি গ্রহণ করেছেন আল-আলাম আল-শাশতামারি (৪৭৬ হি.), আল-রাদি (৬৮৬ হি.), আবু হাইয়ান, ইবনে হিশাম, আল-বাগদাদি এবং শাইখ মুহাম্মাদ আল-আযহারি, যিনি ‘আল-আমির’ (১২৩২ হি.) নামে পরিচিত।
আল-আলাম বলেন: "কবিতা হলো বিশেষ প্রয়োজনের (ضرورة) ক্ষেত্র, যেখানে কোনো ফায়দা হাসিল বা অর্থ রক্ষা করা ছাড়াই কোনো বিষয়কে তার অনুপযুক্ত স্থানে রাখার সম্ভাবনা থাকে; সুতরাং যেখানে ফায়দা বা অর্থ বিদ্যমান থাকে, সেখানে তো এর প্রয়োগ আরও স্বাভাবিক।"
আবু হাইয়ান তাঁর 'আল-তাযয়ীল ওয়াত তাকমীল' গ্রন্থে বলেন: "ব্যাকরণবিদগণ ‘বিশেষ প্রয়োজন’ (ضرورة) বলতে এটি বোঝান না যে, ওই শব্দ উচ্চারণ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। যদি তা-ই হতো, তবে আদতে কোনো ‘বিশেষ প্রয়োজন’ (ضرورة)-এর অস্তিত্বই থাকত না; কারণ প্রতিটি শব্দ বা বিশেষ পরিস্থিতির ক্ষেত্রেই তা পরিহার করে অন্য কোনো বাক্যকাঠামো তৈরি করা সম্ভব। বরং তাঁরা ‘বিশেষ প্রয়োজন’ (ضرورة) বলতে আরবদের ভাষার এমন সব বাক্যরীতিকে বোঝান যা কেবল কবিতায় ঘটে এবং যা কবিতার জন্যই নির্দিষ্ট। তাদের গদ্যে এর প্রয়োগ দেখা যায় না; তারা কেবল কবিতার ক্ষেত্রেই এগুলো ব্যবহার করে থাকেন, গদ্যে নয়।"
অন্যদিকে আল-বাগদাদি বিশেষ প্রয়োজন (ضرورة) সম্পর্কে বলেন: "এর সঠিক ব্যাখ্যা হলো—যা কেবল কবিতায় ঘটে কিন্তু গদ্যে ঘটে না, চাই তা পরিহার করার মতো বিকল্প ব্যবস্থা থাকুক বা না থাকুক।"
আল-আমির ইবনে মালিকের মতের বিরোধিতা করেছেন এই যুক্তিতে যে—তিনি বলেন: "এটি বিশেষ প্রয়োজনের (ضرورة) দ্বার রুদ্ধ করে দেয়। অথচ কবিগণ হলেন ভাষার সম্রাট, কোনো বিষয় তাঁদের অক্ষম করে দেওয়াটা বিরল। তাছাড়া কবিতা রচনার সময় কবির পক্ষে বিভিন্ন বাক্যকাঠামো উপস্থিত রাখা আবশ্যক নয়।"
এই মতের প্রবক্তারা যে প্রমাণাদি পেশ করেছেন, তা প্রথম মতের সমর্থকদের বিরোধিতার হাত থেকে রেহাই পায়নি। যেমন তারা জনৈক কবির পংক্তি দ্বারা দলিল পেশ করার ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০৭)
بأنه يحتمل أن يكون الذي اضطره إلى حذف التاء أنه ليس من لغته النقل، فلو قال: أبقلت ابقالها من غير نقل على لغته لم يصل للوزن1.
ولعل أهم ثمرة للخلاف بين الجمهور من جهة، وسيبويه وابن مالك من جهة أخرى؛ أن الضرورة واسعة المدلول حسب رأي الجمهور؛ فهي تشتمل كل ما ورد في الشعر، أو كَثُر فيه سواء أكانت له نظائر في النثر أم لا. فكثرت أنواع الضرائر نتيجة لهذا؛ لأنهم لا يريدون تمزيق القاعدة، أو الإكثار من القواعد فاستندوا إلى هذا الحكم (الضرورة في كل بيت يخالف القاعدة. وأما على رأي سيبويه، وابن مالك فإن ما يجد الشاعر عنه بدلاً لا يعدُّ ضرورة، بل نوع من التغيير يجوز في الشعر والنثر على حد سواء) 2.
--------------------------------------------
সম্ভবত বিষয়টি এমন যে, যা তাকে 'তা' (تاء) বিলোপ করতে বাধ্য করেছে তা হলো তার উপভাষায় 'নাকল' (نقل) বা স্থানান্তর রীতিটি নেই। সুতরাং তিনি যদি তার উপভাষা অনুযায়ী স্থানান্তর ব্যতিরেকে 'আকবালাত ইবকালাহা' বলতেন, তবে তা ছন্দের ওজনে মিলত না।১
আর সম্ভবত একদিকে জমহুর (جمهور) এবং অন্যদিকে সিবওয়াইহি ও ইবনে মালিকের মধ্যকার মতপার্থক্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো এই যে, জমহুরের (جمهور) মতে ‘প্রয়োজনীয়তা’ (ضرورة)-এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক; এটি কবিতায় বর্ণিত বা বহুল ব্যবহৃত এমন সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, গদ্যে যার অনুরূপ উদাহরণ থাকুক বা না থাকুক। এরই ফলে ‘প্রয়োজনীয়তা’ (ضرورة)-এর প্রকারভেদ বৃদ্ধি পেয়েছে; কারণ তারা ব্যাকরণিক নিয়মকে খণ্ডিত করতে অথবা নিয়মের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চাননি, তাই তারা এই বিধানের ওপর নির্ভর করেছেন যে, (নিয়ম বহির্ভূত প্রতিটি পঙক্তিই প্রয়োজনীয়তা (ضرورة)-এর অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে সিবওয়াইহি এবং ইবনে মালিকের মতে, কবি যার বিকল্প খুঁজে পান তাকে প্রয়োজনীয়তা (ضرورة) হিসেবে গণ্য করা হয় না, বরং এটি এক ধরণের পরিবর্তন যা কবিতা ও গদ্য উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে বৈধ)।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০৭)
ثالثاً: رأي أبي الحسن الأخفش:يرى أبو الحسن الأخفش (215هـ) أن الشاعر يجوز له في كلامه وشعره ما لا يجوز لغيره في كلامه؛ لأن لسانه قد اعتاد الضرائر، فكثيراً ما يقول: جاء هذا على لغة الشعر، أو يحمل على ذلك قوله تعالى: {قَوارِيراً مِنْ فِضَّةٍ} 1في قراءة من قرأ2 بصرف "قوارير"3.
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: আবুল হাসান আল-আখফাশ-এর অভিমত:আবুল হাসান আল-আখফাশ (২১৫ হিজরি) মনে করেন যে, একজন কবির জন্য তার কথাবার্তা ও কবিতায় এমন কিছু জায়েজ, যা অন্যদের জন্য তাদের কথাবার্তায় জায়েজ নয়; কারণ তার জিহ্বা কাব্যিক প্রয়োজনাদির (الضرائر) সাথে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। তিনি প্রায়ই বলেন: "এটি কাব্যের ভাষা অনুযায়ী এসেছে", অথবা তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {কাওয়ারীরান মিন ফিজ্জাতিন} ১-কে সেটির ওপর ভিত্তি করে গণ্য করেন, যারা "কাওয়ারীর" ৩ শব্দটিকে তানভীনসহ (بصرف) পাঠ করেছেন তাদের কিরাআত (قراءة) ২ অনুযায়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০৮)
وقال تعالى: {وتَظُنُّونَ بِاللهِ الظُّنُونَا} 1، و {فَأَضَلُّونا السَّبِيلا} 2 بزيادة الألف لتتفق الفواصل، كزيادة الألف في الشعر للإطلاق3.
وهذا الاتجاه في الرأي يقلل من وجود ما يسمى بالضرورة من قبل أنه يبيح للشاعر في كلامه المعتاد ما لا يباح لغيره إلا في الاضطرار لاعتياد لسانه الضرائر على حدِّ تعبيره4.
ويعترف أبو الحسن من جانب آخر بتأثير هؤلاء الشعراء في غيرهم بوصفهم طبقة ذات مكانة اجتماعية تقلدها العامة وتقتدي بها وبذلك تشيع الظاهرة في الشعر، والنثر على السواء، وعليه فلا محل إذن للقول بأنها ضرورة5.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা ধারণা পোষণ করছিলে} ১, এবং {অতঃপর তারা আমাদেরকে সঠিক পথ হতে বিচ্যুত করেছিল} ২। এখানে অন্ত্যমিলের (فواصل) সমতা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত আলিফ যুক্ত করা হয়েছে, যেমনটি কবিতায় প্রসারণের (إطلاق) জন্য অতিরিক্ত আলিফ যুক্ত করা হয় ৩।
মতামতের এই ধারাটি তথাকথিত অপরিহার্যতা (ضرورة)-এর উপস্থিতিকে সংকুচিত করে। কারণ এটি কবির সাধারণ কথাবার্তায় এমন বিষয়কে বৈধতা দেয় যা অন্যদের জন্য কেবল বিশেষ নিরুপায় (اضطرار) অবস্থায় বৈধ। তার বর্ণনা অনুযায়ী, কবির জিহ্বা কাব্যিক প্রয়োজনে (ضرائر) অভ্যস্ত হওয়ার কারণে এমনটি ঘটে থাকে ৪।
অন্যদিকে আবুল হাসান অন্যান্যদের ওপর এই কবিদের প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন। যেহেতু তারা একটি উচ্চ সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন শ্রেণি যাদের সাধারণ মানুষ অনুকরণ ও অনুসরণ করে, ফলে এই প্রবণতা কবিতা ও গদ্য—উভয় ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় এটিকে অপরিহার্যতা (ضرورة) বলার কোনো অবকাশ থাকে না ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০৮)
رابعاً: رأي ابن فارس:يختلف موقف أحمد بن فارس (395هـ) من ضرائر الشعر عن موقف النحويين جميعهم؛ إذ لا يكاد يعترف بما يسميه النحاة ضرورة، فيتعيّن على الشاعر أن يقول بما له وجه في العربية، ولا ضرورة فيه حينئذٍ. فإن لم يك ثمت وجه منها رُدَّ وسمّي باسمه الحقيقي وهو الغلط أو الخطأ، ولا داعي للتكلف واصطناع الحيل للتخريج1.
قال في كتابه الصاحبي: "وما جعل الله الشعراء معصومين يُوَقُّون الخطأ والغلط، فما صحَّ من شعرهم فمقبول، وما أبته العربية، وأصولها فمردود"2.
--------------------------------------------
চতুর্থত: ইবনে ফারিসের অভিমত:আহমদ বিন ফারিস (৩৯৫ হি.)-এর কাব্যিক প্রয়োজনের ব্যাপারে অবস্থান সকল ব্যাকরণবিদের থেকে ভিন্ন; কেননা ব্যাকরণবিদরা যাকে 'প্রয়োজন' হিসেবে অভিহিত করেন, তিনি সেটিকে প্রায় স্বীকারই করেন না। কবির জন্য এমন শব্দ বা পঙ্ক্তি উচ্চারণ করা আবশ্যক যার আরবি ভাষায় কোনো ভিত্তি রয়েছে, এমতাবস্থায় সেখানে কোনো 'প্রয়োজন'-এর অবকাশ থাকে না। আর যদি তার কোনো ভিত্তি না থাকে, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং সেটিকে তার প্রকৃত নামে অভিহিত করা হবে—যা হলো ভুল বা ত্রুটি। এক্ষেত্রে ব্যাখ্যার জন্য কোনো কৃত্রিমতা বা কৌশল অবলম্বন করার প্রয়োজন নেই।
তিনি তাঁর আস-সাহিবী গ্রন্থে বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা কবিদেরকে নিষ্পাপ করেননি যে তারা ভুল ও ত্রুটি থেকে বেঁচে থাকবে। সুতরাং তাদের কবিতার যা সঠিক (صح) তা গ্রহণযোগ্য (مقبول), আর যা আরবি ভাষা ও তার মূলনীতিসমূহের পরিপন্থী তা বর্জনীয় (مردود)"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪০৯)
وقد ألف ابن فارس مصنفاً لهذا الغرض سمَّاه "ذمُّ الخطأ في الشعر" ولخَّص فيه موقفه من الضرورة الشعرية. ومن جملة ما قاله:
"إنَّ ناساً من قدماء الشعراء ومن بعدهم أصابوا في أكثر ما نظموه من شعرهم وأخطأوا في اليسير من ذلك، فجعل ناس من أهل العربية يوجهون لخطأ الشعراء وجوهاً، ويتمحلون لذلك تأويلات حتى صنعوا فيما ذكرنا أبواباً، وصنفوا في ضرورات الشعر كتباً"1.
ويرى أنه لا فرق بين الشاعر، والخطيب، والكاتب، فالشعراء يخطئون كما يخطىء سائر الناس، ويغلطون كما يغلطون، ولا يعدو أن يكون ما ذكره النحويون في إجازة ذلك والاحتجاج له ضرباً من التكلف2.
ويعرّض ابن فارس بما استشهد به سيبويه3 من قول الشاعر4:
فلست بآتيه ولا استطيعه
… ولاكِ اسقني إن كان ماؤك ذا فضلِ5
فيتساءل: لم لا يجوز لواحد منا - إذن - أن يقول للآخر: لست أقصدك ولاك اقصدني أنت6؟
--------------------------------------------
ইবনে ফারিস এই উদ্দেশ্যে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন "যম্মুল খাতা ফিল শির" এবং এতে তিনি কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা (الضرورة الشعرية) সম্পর্কে তার অবস্থান সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো:
"নিশ্চয়ই প্রাচীন ও পরবর্তী যুগের কবিদের মধ্যে অনেকেই তাদের কবিতার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ছিলেন এবং সামান্য কিছু ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। ফলে আরব্য ভাষাবিদদের একদল কবিদের এই ভুলের স্বপক্ষে নানাবিধ যুক্তি দাঁড় করাতে শুরু করেন এবং সেগুলোর জন্য এমন সব ব্যাখ্যা প্রদানের চেষ্টা করেন যার ফলে আমাদের উল্লিখিত বিষয়ে তারা বিভিন্ন অধ্যায় তৈরি করেছেন এবং কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা (ضرورات الشعر) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।"১
তিনি মনে করেন যে, কবি, বাগ্মী এবং লেখকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; কবিরা অন্যান্য মানুষের মতোই ভুল করেন এবং অন্যদের মতোই ভুলত্রুটি করেন। ব্যাকরণবিদগণ (النحويون) যা বৈধ করার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন এবং এর স্বপক্ষে দলিল প্রদান (الاحتجاج) করেছেন তা কৃত্রিমতা (التকلف) ছাড়া আর কিছুই নয়।২
ইবনে ফারিস সিবওয়াইহি৩ কর্তৃক উদ্ধৃত কবি৪-এর এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন:
আমি তার কাছে আসব না এবং আমি তার সামর্থ্য রাখি না
… বরং (ولاكِ) আমাকে পান করাও যদি তোমার পানি উদ্বৃত্ত থাকে৫
তিনি প্রশ্ন করেন: তাহলে আমাদের মধ্য থেকে কেউ অন্যকে কেন বলতে পারবে না: "আমি তোমার উদ্দেশ্য করছি না, কিন্তু (ولاك) তুমি আমাকে উদ্দেশ্য করো"?৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪১০)
ولكن الملاحظ أن ابن فارس في كتابه "الصاحبي" على الرغم من إعادته، وتكريره بعض ما قاله في "ذم الخطأ في الشعر" - يبدو أكثر رفقاً وأقل حدة في موقفه من الضرورة فهو قد أكّد عدم عصمة الشعراء من الخطأ1. ولكنه لم ينكر الضرورة على الإطلاق، فما عدّه النحاة ضرورة قسّمه ابن فارس في هذا الكتاب إلى ثلاثة أقسام2:
الأول: ما يباح للشعراء دون غيرهم كقصر الممدود، والتقديم، والتأخير، والاختلاس، والاستعارة. فأما اللحن في الإعراب أو إزالة كلمة عن نهج الصواب فليس لهم ذلك3.
الثاني: ما يُعدُّ من خصائص العربية، ومظهراً من مظاهر الافتنان فيها، ويسميه ابن فارس بأسماء مختلفة كالبسط، والقبض، والإضمار. ولعله في مثل هذا ينظر إلى اللهجات المختلفة. وهذا ما دعاه إلى عدم القول بأنها ضرورة أو من خصائص الشعر. كقول الشاعر4:
محمد تفد نفسك كل نفس-إذا ما خفت من أمرٍ تَبالا5
وهذا مما يعدّه النحاة ضرورة.
--------------------------------------------
তবে লক্ষ্যণীয় যে, ইবনে ফারিস তাঁর "আস-সাহিবী" গ্রন্থে—যদিও তিনি এতে "যাম্মুল খাতা ফিল শির" গ্রন্থে যা বলেছেন তার কিছু অংশের পুনরাবৃত্তি ও পুনর্ব্যক্ত করেছেন—তদসত্ত্বেও কাব্যিক অপরিহার্যতা (الضرورة) সংক্রান্ত তাঁর অবস্থানে তাঁকে অধিকতর নম্র এবং কম কঠোর বলে মনে হয়। কেননা তিনি কবিগণ ভুলত্রুটি থেকে নিষ্পাপ (عصمة) নন—একথাটি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি কাব্যিক অপরিহার্যতাকে (الضرورة) একেবারে অস্বীকার করেননি। ব্যাকরণবিদগণ যে বিষয়টিকে কাব্যিক অপরিহার্যতা (الضرورة) হিসেবে গণ্য করেছেন, ইবনে ফারিস এই গ্রন্থে তাকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:
প্রথমত: যা অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল কবিদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, যেমন: দীর্ঘ স্বরধ্বনি হ্রস্ব করা (قصر الممدود), শব্দের ক্রম পরিবর্তন বা অগ্রবর্তীকরণ (التقديم), পশ্চাদবর্তীকরণ (التأخير), দ্রুত উচ্চারণ (الاختلاس) এবং রূপক (الاستعارة)। তবে ব্যাকরণগত ভুল (اللحن) করা অথবা কোনো শব্দকে সঠিক নিয়ম থেকে বিচ্যুত করার অধিকার তাঁদের নেই।
দ্বিতীয়ত: যা আরবি ভাষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত এবং এর শৈল্পিক বৈচিত্র্যের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। ইবনে ফারিস একে বিভিন্ন নামে অভিহিত করেছেন, যেমন: সম্প্রসারণ (البسط), সংকোচন (القبض) এবং ঊহ্য রাখা (الإضمار)। সম্ভবত তিনি এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপভাষার (اللهجات) দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন। আর একারণেই তিনি এগুলোকে কাব্যিক অপরিহার্যতা (الضرورة) বা কেবল কবিতার বৈশিষ্ট্য হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। যেমন কবির উক্তি:
মুহাম্মদ, আপনার প্রাণের বিনিময়ে প্রতিটি প্রাণ উৎসর্গ হোক—যখনই আপনি কোনো অশুভ পরিণতির আশঙ্কা করবেন।
আর এটি এমন বিষয় যা ব্যাকরণবিদগণ কাব্যিক অপরিহার্যতা (الضرورة) হিসেবে গণ্য করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪১১)
الثالث: ما يُعدَّ خطأ وغلطاً عنده، كقول الشاعر1:
ألم يأتيك والأنباء تنمي
… بما لاقت لبونُ بني زيادِ2
والراجح عندي هو ما ذهب إليه جمهور النحويين من أن الضرورة ما وقع في الشعر سواء أكان للشاعر عنه مندوحة أم لا؛ لأن الشعر كلام موزون بأفاعيل محصورة يستلزم بناؤه على هذه الصورة المقيدة بالوزن، والقافية، أن يلجأ قائله أحياناً إلى الضرورة.
صحيح أنه ما من ضرورة إلا ويمكن أن يعوض من لفظها غيره لكن الشاعر غير مختار في أموره كلها، فقد لا يخطر بباله في ذلك الموضع إلا هذه اللفظة المؤدية إلى الضرورة. وكثير من أشعار العرب يقع في غير روية، وهو مما يدعو إلى عدم التمكن من تخير الوجه الذي لا ضرورة فيه، ولا يلزم الشاعر - وقت الإنشاد - استحضار التراكيب المختلفة ليوازن بينها ويختار منها ما خلا من الضرورة ويبتعد عما سواه.
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: যা তাঁর নিকট ভুল এবং ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়, যেমন কবির উক্তি:
তোমার কাছে কি সংবাদ পৌঁছায়নি, আর সংবাদ তো ছড়িয়ে পড়ে
… বনু জিয়াদের দুগ্ধবতী উটগুলো যা ভোগ করেছে তা নিয়ে।
আর আমার নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হলো যা জুমহুর (جمهور) ব্যাকরণবিদগণ অবলম্বন করেছেন যে, কাব্যিক প্রয়োজন (الضرورة) হলো যা কবিতায় সংঘটিত হয়, কবির জন্য তা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় থাক বা না থাক; কারণ কবিতা হলো এমন কালাম যা নির্দিষ্ট ছন্দে (أفاعيل) পরিমিত, আর ছন্দ ও অন্ত্যমিলের এই সীমাবদ্ধ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে কবিতা নির্মাণের ফলে রচয়িতা কখনও কখনও কাব্যিক প্রয়োজনে (الضرورة) আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
এটি সঠিক যে, এমন কোনো কাব্যিক প্রয়োজন (الضرورة) নেই যার পরিবর্তে অন্য শব্দ ব্যবহার করা সম্ভব নয়, তবে কবি তাঁর সব বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন নন; হয়তো ওই স্থানে তাঁর মনে এই শব্দটি ছাড়া অন্য কিছু উদিত হয়নি যা কাব্যিক প্রয়োজনে (الضرورة) পর্যবসিত হয়। আরবদের অনেক কবিতা পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই মুখে আসে, যা এমন কোনো রূপ বেছে নিতে বাধা দেয় যাতে কাব্যিক প্রয়োজন (الضرورة) নেই। আর আবৃত্তির সময় কবির জন্য বিভিন্ন বাক্যগঠন সামনে রাখা জরুরি নয় যাতে তিনি সেগুলোর মধ্যে তুলনা করতে পারেন এবং কাব্যিক প্রয়োজন (الضرورة) মুক্ত অংশটি বেছে নিয়ে অন্যগুলো বর্জন করতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪১২)
الضرورة لا تنحصر بعدد معيّن:
لعل أقرب تعريف يمكن إطلاقه على الضرورة الشعرية هو: الخروج على القواعد النحوية، والصرفية؛ لإقامة الوزن وتسوية القافية1.
والضرورة بابها الشعر، وشعر العرب لم يحط بجميعه كما روي عن أبي عمرو بن العلاء (154هـ) أنه قال: ما انتهى إليكم مما قالت العرب إلَاّ أقله، ولو جاءكم وافراً لجاءكم علم وشعر كثير2.
وإذا كان الأمر هكذا فإنه لا يمكن حصر الضرائر بعدد دون آخر، فلا يلتفت إلى من حصر الضرائر في عشرٍ ولا مائة3.
والشاعر غير مقيّد بحدود ما يجده لدى الشعراء الآخرين من ضرورات فيزيد في المواضع التي زادوا فيها ويحذف حيث حذفوا، أو يغيّر على نحو ما غيروا، فقد يعترض في بعض نظمه الكثير مما لا يجد له نظيراً عند غير4.
ومما ساعد على وجود الضرائر وكثرتها اختلافُ نظرة العلماء إلى مصادر الاستشهاد، ومواقفهم المختلفة منها.
واختلفت نظرتهم كذلك إلى مدلول الضرورة الشعرية ذاتها فسلكوا في فهمهم لها وجهات متباينة فصارت الظاهرة الواحدة ضرورة شعرية على رأي في حين أنها لا تُعدُّ كذلك في رأي مغاير5.
الضرورة تنقسم إلى حسنة وقبيحة:
الحكم النحوي ينقسم إلى رخصة وغيرها، والرخصة هاهنا ما جاز للشاعر استعماله للضرورة التي تتفاوت حسناً وقبحاً. فالضرورة المستحسنة هي التي لا
--------------------------------------------
প্রয়োজনীয়তা (ضرورة) কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়:
সম্ভবত কাব্যিক প্রয়োজনীয়তার (الضرورة الشعرية) ওপর প্রয়োগ করা যেতে পারে এমন নিকটতম সংজ্ঞা হলো: ছন্দের ভারসাম্য রক্ষা এবং অন্ত্যমিল বজায় রাখার জন্য ব্যাকরণগত (نحوية) ও রূপতাত্ত্বিক (صرفية) নিয়মগুলো থেকে বিচ্যুত হওয়া ১।
আর প্রয়োজনীয়তার (ضرورة) ক্ষেত্র হলো কবিতা; আর আরবদের সমস্ত কবিতা আমাদের আয়ত্তে আসেনি, যেমনটি আবু আমর ইবনুল আলা (১৫৪ হিজরি) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আরবদের বলা কথার অতি সামান্য অংশই তোমাদের কাছে পৌঁছেছে; যদি তা পূর্ণাঙ্গরূপে তোমাদের কাছে পৌঁছাত, তবে তোমাদের কাছে প্রচুর জ্ঞান ও অনেক কবিতা আসত" ২।
বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে কাব্যিক বিচ্যুতিগুলোকে (الضرائر) একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। সুতরাং যারা এই বিচ্যুতিগুলোকে (الضرائر) দশটি বা একশটির মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, তাঁদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না ৩।
কবি অন্য কবিদের মধ্যে বিদ্যমান কাব্যিক প্রয়োজনীয়তার (الضرورة الشعرية) সীমানার দ্বারা সীমাবদ্ধ নন যে, তাঁরা যেখানে বৃদ্ধি করেছেন তিনিও সেখানে বৃদ্ধি করবেন, আর তাঁরা যেখানে বিলোপ করেছেন তিনিও সেখানে বিলোপ করবেন, অথবা তাঁরা যেভাবে পরিবর্তন করেছেন তিনিও সেভাবে পরিবর্তন করবেন। বরং কখনো কখনো তাঁর রচনায় এমন অনেক কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে যার কোনো নজির অন্যের কাছে পাওয়া যায় না ৪।
দলিল হিসেবে গ্রহণ করার উৎসগুলোর (مصادر الاستشهاد) প্রতি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা এবং এ বিষয়ে তাঁদের বিভিন্ন অবস্থান কাব্যিক বিচ্যুতিগুলোর (الضرائر) অস্তিত্ব ও আধিক্যের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
একইভাবে স্বয়ং কাব্যিক প্রয়োজনীয়তার (الضرورة الشعرية) তাৎপর্যের ক্ষেত্রেও তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ছিল; ফলে তাঁরা এটি অনুধাবনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। এর ফলে একই বিষয় এক পণ্ডিতের মতে কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা (الضرورة الشعرية) হিসেবে গণ্য হয়েছে, অথচ অন্য পণ্ডিতের ভিন্ন মতে তা তেমনটি গণ্য হয়নি ৫।
প্রয়োজনীয়তা (ضرورة) সুন্দর (حسنة) এবং কুৎসিত (قبيحة) এই দুই ভাগে বিভক্ত:
ব্যাকরণগত হুকুম (الحكم النحوي) বিশেষ অনুমতি (رخصة) এবং অন্যান্য ভাগে বিভক্ত। এখানে বিশেষ অনুমতি (رخصة) বলতে যা কবির জন্য কাব্যিক প্রয়োজনীয়তার (الضرورة الشعرية) খাতিরে ব্যবহার করা জায়েজ বা বৈধ, যার সৌন্দর্য ও কুৎসিত হওয়ার মধ্যে তারতম্য রয়েছে। পছন্দনীয় প্রয়োজনীয়তা (الضرورة المستحسنة) হলো সেটি যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪১৩)
تستهجن ولا تستوحش منها النفس، كتسكين العين في جمع فَعْلَة بالألف والتاء حيث يجب الإتباع، كقول الشاعر1:
علَّ صروفَ الدهرِ أو دُولاتِها
يُدِلْننا اللمة مِنْ لماتِها
فتستريحَ النفسُ من زَفْراتِها2
وهذا من أسهل الضرورات.
ومن الضرائر المستحسنة: صرف ما لا ينصرف، وذلك أن أصل الأسماء كلها الصرف. ومنه قول النابغة الذبياني:
فلتأتينك قصائدٌ وليركبن
… جيشٌ إليك قوادم الأكوارِ3
--------------------------------------------
যা ঘৃণ্য বিবেচিত হয় না এবং মন যা থেকে বিরক্তি বোধ করে না, যেমন ‘আলিফ’ ও ‘তা’ এর মাধ্যমে ‘ফায়লাহ’ ছাঁচের শব্দের বহুবচন করার সময় ‘আইন’ বর্ণকে সাকিন করা, যেখানে পূর্ববর্তী বর্ণের হারাকাত অনুসরণ করা আবশ্যক। যেমন কবির উক্তি:
হয়তো কালের বিবর্তন অথবা তার পরিবর্তনসমূহ
আমাদের সেই তীব্র সংকট থেকে মুক্তি দেবে
ফলে দীর্ঘশ্বাস থেকে আত্মা প্রশান্তি লাভ করবে।
আর এটি কাব্যের সহজতম প্রয়োজনীয়তাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
আর পছন্দনীয় কাব্যিক প্রয়োজনীয়তাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: রূপান্তরহীন শব্দকে রূপান্তর করা, কারণ সমস্ত বিশেষ্যের মূল ভিত্তি হলো রূপান্তর। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নাবিগাহ আল-জুবইয়ানির উক্তি:
নিশ্চয়ই আপনার নিকট প্রশংসামূলক কবিতাগুলো পৌঁছাবে এবং এক বিশাল বাহিনী আপনার দিকে উটের গদির অগ্রভাগে আরোহণ করে ধাবিত হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরাতুশ শিরিয়্যাহ ওয়া মাফহুমুহা লাদান নাহউইয়্যীন দিরাসাতুন আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৪১৪)
وقصر الجمع الممدود تشبيهاً بحذف الياء من "فعاليل" ونحوه، كقول الشاعر1:
فلو أنَّ الأطبا كانُ حولي
… وكان مع الأطباءِ الأُساةُ2
ومدّ المقصور كقول الشاعر3:
سيُغنيني الذي أغناك عني
… فلا فقرٌ يدومُ ولا غِناءُ4
وأما الضرورة المستقبحة فمثل عدل الأسماء عن وضعها الأصلي بتغييرٍ ما فيها من زيادة أو نقص يترتب عليه التباس جمع بجمع مثلاً كرد "مطاعم" إلى مطاعيم أو عكسه، فإنه يؤدي إلى التباس "مطعم" بـ "مطعام".
وكالنقص المجحف كما في قول لبيد بن ربيعة:
درس المنا بمُتالعٍ فأبانِ
… فتقادمت بالحَبْسِ فالسُّوبانِ5
--------------------------------------------
দীর্ঘায়িত (ممدود) বহুবচনকে হ্রস্ব (قصر) করা, যা 'ফাআলিল' (فعاليل) এবং এই জাতীয় শব্দ থেকে 'ইয়া' বর্ণটি বিলোপ করার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেমন কবির উক্তি:
যদি চিকিৎসকেরা (الأطبا) আমার আশেপাশে থাকতেন
… এবং চিকিৎসকদের সাথে উপশমকারীরা থাকতেন।
আর হ্রস্বায়িত (مقصور) শব্দকে দীর্ঘ (مدّ) করা, যেমন কবির উক্তি:
যিনি আপনাকে আমার থেকে অমুখাপেক্ষী করেছেন, তিনিই আমাকে অমুখাপেক্ষী করবেন
… কেননা কোনো দারিদ্র্য চিরস্থায়ী নয়, আর না কোনো প্রাচুর্য (غِناءُ)।
আর জঘন্য কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা (الضرورة المستقبحة) হলো বিশেষ্যগুলোকে তাদের মূল গঠন থেকে কোনো পরিবর্তন, বৃদ্ধি বা হ্রাসের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া, যার ফলে এক বহুবচনের সাথে অন্য বহুবচনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। যেমন: 'মাতাঈম' (مطاعيم)-কে 'মাতাইম' (مطاعم)-এ রূপান্তর করা বা এর বিপরীত করা; কেননা এটি 'মাতআম' (مطعم)-কে 'মাতআম' (مطعام)-এর সাথে বিভ্রান্ত করার দিকে ধাবিত করে।
এবং যেমন ক্ষতিকর সংকোচন (النقص المجحف), যেমনটি লবিদ বিন রাবিয়াহ-র উক্তিতে রয়েছে:
মুতালি এবং আবান পাহাড়ের নিকটস্থ আবাসস্থলগুলো (المنا) জীর্ণ হয়ে মুছে গেছে
… সেগুলো হাবস এবং সুবান নামক স্থানে অনেক পুরনো হয়ে গেছে।
--------------------------------------------