(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: -)
الأعمال الصالحات التي يجري للإنسان أجرها وثوابها بعد الممات القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الأعمال الصالحات التي يجري للإنسان أجرها وثوابها بعد الممات
المؤلف: أبو الحمزة أحمد بن محمد بن حسين بن علي الحجاجي
الناشر: دار العاصمة للنشر والتوزيع - اليمن
الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2020 م
عدد الصفحات: 179
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 ربيع الأول 1444
মৃত্যুর পর মানুষের জন্য যে সকল নেক আমলের প্রতিদান ও সওয়াব জারি থাকে বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: মৃত্যুর পর মানুষের জন্য যে সকল নেক আমলের প্রতিদান ও সওয়াব জারি থাকে
লেখক: আবু হামজাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন আলী আল-হাজ্জাজি
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - ইয়েমেন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪২ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৯
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
ملخص الرسالةتشتمل هذه الرسالة على الآتي:
المقدمة - التمهيد - موضوع الرسالة، ويشتمل على خمسة مباحث:
المبحث الأول: الصدقة الجارية: وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: الأدلة الواردة في الصدقة الجارية عموما
المطلب الثاني: أنواع من الصدقة الجارية التي جاء ذكرها في الأحاديث
المطلب الثالث: صور ونماذج من فعل الصحابة رضي الله عنهم للصدقة الجارية
المطلب الرابع: بعض أحكام الوقف (الصدقة الجارية)
المبحث الثاني: العلم المُنتفع به: وفيه مطلبان:
المطلب الأول: الأدلة على تعليم العلم المنتفع به ونشره
المطلب الثاني: الأحاديث المتضمنة العلم المنتفع به
المبحث الثالث: الدعاء: وفيه مطلبان:
المطلب الأول: الأدلة على انتفاع الإنسان بعد الممات بالدعاء من الولد خاصة
المطلب الثاني: الأدلة على انتفاع الإنسان بعد الممات بالدعاء عموما، من جميع المسلمين
গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপএই গবেষণাপত্রটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত:
ভূমিকা - প্রারম্ভিকা - গবেষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু, যা পাঁচটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত:
প্রথম অধ্যায়: সদকায়ে জারিয়া (الصدقة الجارية): এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে সদকায়ে জারিয়া (الصدقة الجارية) সম্পর্কে বর্ণিত প্রমাণাদি
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসে উল্লিখিত সদকায়ে জারিয়া (الصدقة الجارية)-র বিভিন্ন প্রকার
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবিগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সদকায়ে জারিয়া (الصدقة الجارية) পালনের বিভিন্ন রূপ ও দৃষ্টান্ত
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ওয়াকফ (الوقف) বা সদকায়ে জারিয়া (الصدقة الجارية)-র কিছু আহকাম
দ্বিতীয় অধ্যায়: কল্যাণকর জ্ঞান: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া ও তা প্রচার করার প্রমাণাদি
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কল্যাণকর জ্ঞান সংবলিত হাদিসসমূহ
তৃতীয় অধ্যায়: দোয়া (الدعاء): এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মৃত্যুর পর বিশেষ করে সন্তানের দোয়া (الدعاء) দ্বারা মানুষের উপকৃত হওয়ার প্রমাণাদি
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মৃত্যুর পর সাধারণভাবে সকল মুসলিমের দোয়া (الدعاء) দ্বারা মানুষের উপকৃত হওয়ার প্রমাণাদি
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الرابع: موت المرابط في سبيل الله
المبحث الخامس: الأعمال الصالحة المتعلقة بذمة الإنسان عند موته
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: ما يتعلق بحق من حقوق الله تعالى
المطلب الثاني: ما يتعلق بحق من حقوق المخلوقين
চতুর্থ পরিচ্ছেদ (مبحث): আল্লাহর পথে মুরাবিত (مرابط) বা সীমান্ত প্রহরীর মৃত্যু
পঞ্চম পরিচ্ছেদ (مبحث): মৃত্যুকালে মানুষের জিম্মাদারির (ذمة) সাথে সংশ্লিষ্ট নেক আমলসমূহ
এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطلب) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (مطلب): যা আল্লাহ তাআলার হকের (حق) সাথে সংশ্লিষ্ট
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (مطلب): যা সৃষ্টির হকের (حق) সাথে সংশ্লিষ্ট
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
المقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل، فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]
أما بعد:
فإن الله سبحانه وتعالى أمر الناس جميعا بالإيمان به، والإيمان برسوله صلى الله عليه وسلم، ووعد من استجاب لذلك بجنة عالية، ومن خالف وعصى بنار حامية، وجعل سبحانه دليل الاستجابة لأوامره، المبادرة بالعمل الصالح؛ ولذلك قرن الله تعالى الإيمان به في القرآن الكريم بالعمل الصالح الذي يحبه ويرضاه؛ وجعله سبباً من أسباب دخول الجنة والنجاة من النار قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا} [الكهف: 107]، وقال تعالى: {وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة: 82]، وغير ذلك من الآيات الدالات على العمل الصالح، وقد أخبر ربنا سبحانه وتعالى، وأكد في كتابه أنه لا يضيع ولا ينقص أجر عَمل عامل من عباده المؤمنين شيئا، سواء كان ذكرا أو انثى بل يضاعف له الأجر والثواب أضعافا كثيرة جدا، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল মানুষকে তাঁর প্রতি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা এতে সাড়া দেবে তাদের জন্য সুউচ্চ জান্নাতের ওয়াদা করেছেন, আর যারা বিরোধিতা ও নাফরমানি করবে তাদের জন্য উত্তপ্ত আগুনের (সতর্কবার্তা দিয়েছেন)। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নির্দেশে সাড়া দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে নেক আমলের প্রতি অগ্রণী হওয়াকে নির্ধারণ করেছেন। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তাঁর প্রতি ঈমান আনার বিষয়টিকে সেই নেক আমলের সাথে যুক্ত করেছেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যা তাঁর নিকট সন্তোষজনক; আর একে জান্নাতে প্রবেশের এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস।} [কাহফ: ১০৭]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।} [বাকারা: ৮২]। নেক আমলের নির্দেশক এ রকম আরও অনেক আয়াত রয়েছে। আমাদের রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে সংবাদ দিয়েছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে কোনো আমলকারীর আমলের সওয়াব বিন্দুমাত্র নষ্ট বা হ্রাস করবেন না, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী; বরং তিনি তার সওয়াব ও প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, নিশ্চয়ই আমরা (তাদের সওয়াব) নষ্ট করি না...}
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا} [الكهف: 30] وقال سبحانه: {وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ نَقِيرًا} [النساء: 124]، وقال سبحانه: {مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا} [الأنعام: 160]، ولهذا كان العمل الصالح هو دأب عباد الله الصالحين وصفة المؤمنين، وقد وعد سبحانه من عمل الصالحات في هذه الحياة الدنيا بالحياة الطيبة والسعادة الدائمة والعيشة الهنيئة، قال تعالى: {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [النحل: 97]، هذا هو الجزاء العاجل في الدنيا، وأما في الأخرة فالجزاء هو الجنة، التي فيها ما لا عين رأت، ولا أذن سمعت، ولا خطر على قلب بشر، ويرتفع الدرجات العُلى فيها، قال تعالى: {وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَى* جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ مَنْ تَزَكَّى} [طه: 75، 76]. وكل أجور وثواب الأعمال الصالحة مهما عظمت وفضلت عند الله جل وعلا منقطع، نعم تنقطع أجور تلك الأعمال الصالحة بموت صاحبها كما بين ذلك النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: «إذا مات الإنسان انقطع عمله»
(1)، و لكن من رحمة الله سبحانه وتعالى وفضله وإحسانه وكرمه على عباده، أن جعل لهم عددا من الأعمال الصالحة التي يجري للعبد أجرها ويستمر ثوابها له بعد موته، وهو في قبره بعد مئات السنين ولايزال الأجر يتجدد له والثواب يصله.
--------------------------------------------
...উত্তম আমলকারীর প্রতিদান (আমি নষ্ট করি না)} [আল-কাহফ: ৩০]। এবং তিনি সুবহানাহু বলেন: {আর যে পুরুষ বা নারী মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি তিল পরিমাণও জুলুম করা হবে না} [আন-নিসা: ১২৪]। এবং তিনি সুবহানাহু বলেন: {যে ব্যক্তি কোনো সৎকাজ নিয়ে আসবে, তার জন্য তার দশগুণ সওয়াব রয়েছে} [আল-আনআম: ১৬০]। এ কারণেই সৎকর্ম হলো আল্লাহর নেক বান্দাদের নিয়মিত অভ্যাস এবং মুমিনদের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ এই দুনিয়ার জীবনে সৎকর্মশীলদের জন্য পবিত্র জীবন, চিরস্থায়ী সুখ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিন হয়ে যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং আমি তাদের কৃতকর্মের চেয়েও উত্তম প্রতিদান দেব} [আন-নাহল: ৯৭]। এটি হলো দুনিয়ার নগদ প্রতিদান, আর আখিরাতের প্রতিদান হলো জান্নাত; যাতে এমন সব নেয়ামত রয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে কখনো উদিত হয়নি। সেখানে সুউচ্চ মর্যাদা লাভ হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি মুমিন হিসেবে নেক আমল করে তাঁর কাছে আসবে, তাদের জন্য রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা। চিরস্থায়ী জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটিই তাদের পুরস্কার যারা নিজেদের পরিশুদ্ধ করেছে} [ত্বহা: ৭৫-৭৬]। নেক আমলের সকল প্রতিদান ও সওয়াব আল্লাহর নিকট যতই মহান ও ফজিলতপূর্ণ হোক না কেন, তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হ্যাঁ, আমলকারীর মৃত্যুর সাথে সাথে সেই নেক আমলগুলোর সওয়াব বন্ধ হয়ে যায়, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বিচ্ছিন্ন (انقطع) হয়ে যায়"
(১)। তবে মহান আল্লাহর রহমত, অনুগ্রহ, এহসান ও বান্দাদের প্রতি তাঁর দানশীলতার দাবি হলো এই যে, তিনি তাদের জন্য এমন কিছু নেক আমল নির্ধারণ করেছেন যেগুলোর সওয়াব বান্দার জন্য চলমান থাকে এবং মৃত্যুর পরও তার জন্য সওয়াব অব্যাহত থাকে। এমনকি শত শত বছর পর সে যখন কবরে থাকবে, তখনও তার সওয়াব নবায়ন হতে থাকবে এবং তার কাছে প্রতিদান পৌঁছাতে থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقد رغب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها، وحثنا على العمل بها؛ ولأهمية تلك الأعمال وفضلها وما يترتب عليها من الأجور الكبيرة والفضائل الكثيرة؛ ولما غفل بعض الناس عن فضلها وما فيها من الثواب، وتذكيرا لي ولإخواني المسلمين، قمت بجمع ما يسر الله لي بجمعه من الأدلة التي تدل على الأعمال والأقوال الصالحة التي ينتفع بها العبد المسلم في حياته وبعد موته، في هذه الرسالة المتواضعة وسميتها: (الأعمال الصالحات التي يجري للإنسان أجرها وثوابها بعد الممات)، فذكرت الأدلة الدالة على انتفاع الإنسان بهذه الأعمال، مع شيء من الشرح والتوضيح؛ لكي تتم الفائدة للقارئ الكريم ويحصل على المنفعة المرجوة، فإن أصبت فمن الله وحده لا شريك له، وإن أخطأت فمن نفسي المقصرة والشيطان، والله ورسوله بريئان من ذلك، فالله أسأل العفو والمغفرة عن كل خطأ وزلل، وتقصير في القول والعمل، كما أسأله بأسمائه وصفاته أن يجعل هذا العمل صالحا خالصا لوجهه الكريم متقبلا، وأن يجعله من العلم المنتفع به بعد موتي الى يوم الدين، و يجعل فيه الخير الكثير والنفع الكبير، لي ولجميع عباد الله المسلمين، أنه ولي ذلك والقادر عليه وهو على كل شيء قدير، والحمد لله رب العالمين،،،
كتبه/
أبو الحمزة أحمد بن محمد بن حسين بن علي الحجاجي
7 جماد الآخرة 1442 هـ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোর প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং আমাদের এগুলোর ওপর আমল করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন। এই আমলগুলোর গুরুত্ব ও মর্যাদা এবং এর ফলে অর্জিত বিশাল প্রতিদান ও অসংখ্য ফযিলতের কারণে; আর যেহেতু কিছু মানুষ এগুলোর মর্যাদা ও এর মধ্যে নিহিত সওয়াব সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়েছে, তাই নিজেকে এবং আমার মুসলিম ভাইদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমি সেই সব দলিলসমূহ (أدلة) সংকলন করার প্রয়াস পেয়েছি যা আল্লাহ আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন, যা এমন সব নেক আমল ও বাণীর নির্দেশনা প্রদান করে যার দ্বারা একজন মুসলিম বান্দা তার ইহকালে ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে উপকৃত হতে পারে। এই বিনম্র পুস্তিকাটিতে আমি তা সম্পন্ন করেছি এবং এর নাম দিয়েছি: 'মৃত্যুর পর মানুষের জন্য যে নেক আমলগুলোর সওয়াব ও প্রতিদান অব্যাহত থাকে'। এতে আমি এসব আমলের দ্বারা মানুষের উপকৃত হওয়ার সপক্ষে দলিলসমূহ (أدلة) উল্লেখ করার পাশাপাশি কিছুটা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করেছি; যাতে সম্মানিত পাঠকের জন্য উপকারিতা পূর্ণাঙ্গ হয় এবং কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জিত হয়। আমি যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকি তবে তা একমাত্র অংশীদারহীন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল করে থাকি তবে তা আমার ত্রুটিপূর্ণ নফস ও শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত। আমি আল্লাহর নিকট প্রতিটি ভুল, পদস্খলন এবং কথা ও কাজের সকল ত্রুটির জন্য ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি। সেই সাথে আমি তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই আমলকে নেক এবং একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ ও কবুলকৃত আমল হিসেবে গ্রহণ করেন, এবং একে আমার মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত মানুষের জন্য একটি উপকারী ইলম হিসেবে কবুল করেন; আর এতে আমার জন্য ও সকল মুসলিম বান্দার জন্য প্রভূত কল্যাণ ও মহান উপকার নিহিত রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক ও এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন/
আবু হামজা আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন আলী আল-হাজ্জাজি
৭ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
تمهيدجاء في القرآن الكريم عدد من الأدلة التي تدل على الأعمال الصالحة التي يجري ويستمر للإنسان أجرها وثوابها بعد الممات، نذكر منها ما يلي:
الدليل الأول: قوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نُحْيِ الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ} [يس: 12]، قال العلامة السعدي: {وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا} من الخير والشر، وهو أعمالهم التي عملوها وباشروها في حال حياتهم، {وَآثَارَهُمْ}، وهي آثار الخير وآثار الشر، التي كانوا هم السبب في إيجادها في حال حياتهم وبعد وفاتهم، وتلك الأعمال التي نشأت من أقوالهم وأفعالهم وأحوالهم، فكل خير عمل به أحد من الناس، بسبب علم العبد وتعليمه ونصحه، أو أمره بالمعروف، أو نهيه عن المنكر، أو علم أودعه عند المتعلمين، أو في كتب ينتفع بها في حياته وبعد موته، أو عمل خيرا، من صلاة أو زكاة أو صدقة أو إحسان، فاقتدى به غيره، أو عمل مسجدا، أو محلا من المحال التي يرتفق بها الناس، وما أشبه ذلك، فإنها من آثاره التي تكتب له، وكذلك عمل الشر"
(1) انتهى.
قال ابن عاشور: في تفسير قوله تعالى: {ونكتب ما قدموا وآثارهم}: "فالمراد ب {ما قدموا} ما عملوا من الأعمال قبل الموت شبهت أعمالهم في الحياة الدنيا بأشياء يقدمونها إلى الدار الآخرة، كما يُقدم المسافر ثقله وأحماله، وأما الآثار فهي
--------------------------------------------
ভূমিকাপবিত্র কুরআনে এমন বেশ কিছু দলিল (أدلة) বর্ণিত হয়েছে যা এমন সব নেক আমলের প্রতি নির্দেশ করে যেগুলোর সওয়াব ও প্রতিদান মৃত্যুর পরেও মানুষের জন্য অব্যাহত থাকে। নিম্নে আমরা সেগুলোর কিছু উল্লেখ করছি:
প্রথম দলিল (الدليل): মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমিই মৃতদের জীবিত করি এবং লিখে রাখি যা তারা অগ্রিম পাঠিয়েছে ও তাদের পদচিহ্নসমূহ (آثار); আর প্রতিটি বিষয় আমি এক সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষণ করেছি।} [সূরা ইয়াসিন: ১২]। আল্লামা সা'দী (রহ.) বলেন: {আমরা লিখে রাখি যা তারা অগ্রিম পাঠিয়েছে} তথা কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্য থেকে সেই আমলসমূহ যা তারা তাদের জীবদ্দশায় সম্পাদন করেছে এবং সরাসরি আঞ্জাম দিয়েছে। {এবং তাদের পদচিহ্নসমূহ (آثار)}, অর্থাৎ কল্যাণ ও অকল্যাণের সেই সব প্রভাব যা তারা তাদের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরে সৃষ্টি হওয়ার কারণ হয়েছিল। আর ঐ সকল আমল যা তাদের কথা, কাজ ও অবস্থা থেকে উৎসারিত হয়েছে; সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নেক আমল করে—বান্দার ইলম, শিক্ষা ও উপদেশের কারণে, কিংবা তার সৎকাজের আদেশ (أمر بالمعروف) ও অসৎকাজে নিষেধের (نهي عن المنكر) কারণে, অথবা এমন ইলমের কারণে যা সে শিক্ষার্থীদের মাঝে রেখে গিয়েছে কিংবা এমন সব কিতাবে রেখে গিয়েছে যার মাধ্যমে তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর উপকৃত হওয়া যায়—অথবা সে কোনো নেক আমল করল, যেমন নামাজ, জাকাত, সদকা বা ইহসান—আর অন্য কেউ তাকে অনুসরণ করল, অথবা সে একটি মসজিদ নির্মাণ করল কিংবা জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী কোনো স্থান তৈরি করল এবং এই জাতীয় অন্যান্য কাজ—তবে তা তার সেই সব প্রভাব বা পদচিহ্নের (آثار) অন্তর্ভুক্ত যা তার জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়। অনুরূপভাবে মন্দ কাজের আমলও।"
(1) সমাপ্ত।
ইবনে আশুর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমরা লিখে রাখি যা তারা অগ্রিম পাঠিয়েছে ও তাদের পদচিহ্নসমূহ (آثار)}-এর তাফসিরে বলেন: "{যা তারা অগ্রিম পাঠিয়েছে} দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পূর্বে তারা যেসব আমল সম্পাদন করেছে। দুনিয়ার জীবনের আমলগুলোকে এমন জিনিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা তারা পরকালের ঠিকানায় অগ্রিম পাঠাচ্ছে, যেমন একজন মুসাফির তার আসবাবপত্র ও মালপত্র অগ্রিম পাঠিয়ে দেয়। আর পদচিহ্ন (آثار) হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
آثار الأعمال، وليست عين الأعمال بقرينة مقابلته ب ما قدموا مثل ما يتركون من خير أو شر بين الناس وفي النفوس، والمقصود بذلك ما عملوه موافقا للتكاليف الشرعية أو مخالفا لها وآثارهم كذلك
… فالآثار مسببات أسباب عملوا بها"
(1).
قال القرطبي: " فآثار المرء التي تبقى وتذكر بعد الإنسان من خير أو شر يجازى عليها
… ، كل سنة حسنة، أو سيئة يستن بها "
(2).
قال ابن كثير: "وقوله تعالى: {وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا} أي: من الأعمال نكتب أعمالهم التي باشروها بأنفسهم، وفي قوله: {وَآثَارَهُمْ} قولان:
أحدهما: آثارهم التي أثروها من بعدهم، فنجزيهم على ذلك أيضا، إن خيرا فخير، وإن شرا فشر
… ، والثاني: أن المراد بذلك آثار خطاهم إلى الطاعة أو المعصية.
وهذا القول لا تنافي بينه وبين الأول، بل في هذا تنبيه ودلالة على ذلك بالطريق الأولى والأحرى، فإنه إذا كانت هذه الآثار تكتب، فلأن تكتب تلك التي فيها قدوة بهم من خير أو شر بطريق أولى
(3) اهـ.
الدليل الثاني: قوله تعالى: {عَلِمَتْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ} [الانفطار: 5]، قال صاحب اللباب: "المعنى: ما قدمت من عمل صالح، أو شيء، أو أخرت من سيئة أو حسنة، وقيل: ما قدمت من الصدقات وأخرت من التركات"
(4).
--------------------------------------------
"কাজের প্রভাবসমূহ (آثار), এটি সরাসরি কাজ নয়; কারণ এটি 'তারা যা আগে পাঠিয়েছে' (ما قدموا)-এর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন মানুষ বা হৃদয়ে তারা যে কল্যাণ বা অকল্যাণ রেখে যায়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরয়ী বিধানের (التكاليف الشرعية) অনুকূলে বা প্রতিকূলে তারা যা করেছে এবং তাদের রেখে যাওয়া কর্মফলসমূহও (آثارهم) তদ্রূপ
… সুতরাং এই প্রভাবগুলো (الآثار) হলো তাদের কৃতকর্মের কারণসমূহ থেকে সৃষ্ট ফলাফল।"
(১).
ইমাম কুরতুবী বলেন: "মানুষের মৃত্যুর পর তার যে সকল কর্মফল (آثار) অবশিষ্ট থাকে এবং স্মরণে রাখা হয়, চাই তা কল্যাণকর হোক বা অকল্যাণকর, তাকে সেটির প্রতিদান দেওয়া হবে
… , প্রত্যেকটি ভালো কর্মপদ্ধতি (سنة حسنة) বা মন্দ কর্মপদ্ধতি (سيئة) যা অনুসরণ করা হয়।"
(২).
ইমাম ইবনে কাসীর বলেন: "আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমরা লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করেছে} অর্থাৎ: আমলসমূহের মধ্য থেকে। আমরা তাদের সেই কাজগুলো লিখে রাখি যা তারা নিজেরা সরাসরি সম্পাদন করেছে। আর তাঁর বাণী: {এবং তাদের কর্মফলসমূহ (آثارهم)} এ বিষয়ে দু’টি মত রয়েছে:
প্রথমটি: তাদের ওই সকল কর্মফল (آثار) যা তারা তাদের পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে গেছে। আমরা সেগুলোর জন্যও তাদের প্রতিদান দেব; যদি তা কল্যাণকর হয় তবে কল্যাণ, আর যদি অকল্যাণকর হয় তবে অকল্যাণ
… , দ্বিতীয়টি: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আনুগত্য বা নাফরমানির দিকে তাদের পদচিহ্নসমূহ (آثار خطاهم)।
এই মতটি প্রথম মতের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, বরং এতে প্রথম বিষয়টির প্রতি আরও জোরালোভাবে ইঙ্গিত ও প্রমাণ রয়েছে। কেননা, যদি এই (পদচিহ্নের মতো) প্রভাবগুলোই লিখে রাখা হয়, তবে কল্যাণ বা অকল্যাণের ক্ষেত্রে যে সকল বিষয়ে মানুষ তাদের অনুসরণ করে, সেগুলো লিখে রাখা তো আরও বেশি যুক্তিযুক্ত (بطريق أولى)
(৩) সমাপ্ত।
দ্বিতীয় দলিল: আল্লাহ তাআলার বাণী: {প্রত্যেক ব্যক্তি জানতে পারবে সে কী অগ্রে পাঠিয়েছে এবং কী পশ্চাতে রেখে এসেছে} [আল-ইনফিতার: ৫]। আল-লুবাব গ্রন্থের লেখক বলেন: "এর অর্থ: নেক আমল বা অন্য কিছু যা সে অগ্রে পাঠিয়েছে, অথবা মন্দ কাজ বা ভালো কাজ যা সে পেছনে রেখে এসেছে। অন্য মতে বলা হয়েছে: যা সে সদকা হিসেবে অগ্রে পাঠিয়েছে এবং যা সে মিরাস বা সম্পদ হিসেবে পেছনে রেখে গেছে"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الدليل الثالث: قوله تعالى: {يُنَبَّأُ الْإِنْسَانُ يَوْمَئِذٍ بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ} [القيامة: 13]، قال البغوي: "قال ابن مسعود، وابن عباس: بما قدم قبل الموت من عمل صالح وسيئ، وما أخر بعد موته من سنة حسنة، أو سيئة يعمل بها
… ، وقال زيد بن أسلم: بما قدم من أمواله لنفسه، وما أخر خلفه للورثة"
(1)، وقال السيوطي: "عن ابن مسعود: بما قدم من عمله، وما أخر من سنة عمل بها من بعده من خير أو شر
(2)، وعن ابن عباس قال: بما عمل قبل موته، وما يسن فعمل به بعد موته"
(3)، وعن أبي صالح قال: " قدم من حسنة أو أخر من سنة حسنة عمل بها بعده، علما علمه أو صدقة أمر بها"
(4).
--------------------------------------------
তৃতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে যা আগে পাঠিয়েছে এবং যা পিছনে রেখে গিয়েছে} [আল-কিয়ামাহ: ১৩], বাগভী (রহ.) বলেন: "ইবনে মাসউদ এবং ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: মৃত্যুর আগে সে যেসব নেক আমল ও মন্দ কাজ অগ্রিম পাঠিয়েছে এবং মৃত্যুর পর সে যেসব উত্তম বা মন্দ রীতিনীতি রেখে গিয়েছে যার ওপর আমল করা হয়
… , আর যায়েদ ইবনে আসলাম (রহ.) বলেন: সে নিজের জন্য যেসব সম্পদ অগ্রিম পাঠিয়েছে এবং ওয়ারিশদের জন্য যা পিছনে রেখে গিয়েছে"
(১), আর সুয়ূতী (রহ.) বলেন: "ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত: সে তার আমল থেকে যা অগ্রিম পাঠিয়েছে এবং এমন কোনো রীতিনীতি যা সে রেখে গিয়েছে যার ওপর তার পরবর্তী সময়ে আমল করা হয়েছে, তা ভালো হোক বা মন্দ হোক
(২), আর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যা সে মৃত্যুর আগে আমল করেছে এবং যা সে প্রবর্তন করেছে ফলে তার মৃত্যুর পর সে অনুযায়ী আমল করা হয়েছে"
(৩), এবং আবু সালিহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "সে কোনো নেক আমল অগ্রিম পাঠিয়েছে অথবা কোনো উত্তম রীতিনীতি পিছনে রেখে গিয়েছে যার ওপর তার পরে আমল করা হয়েছে, যেমন কোনো জ্ঞান যা সে শিক্ষা দিয়েছে অথবা কোনো দান (সাদাকা) যার জন্য সে নির্দেশ দিয়েছে"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الأول الصدقة الجارية
وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: الأدلة الواردة في الصدقة الجارية عموما
المطلب الثاني: أنواع من الصدقة الجارية التي جاء ذكرها في الأحاديث
المطلب الثالث: صور ونماذج من فعل الصحابة رضي الله عنهم للصدقة الجارية
المطلب الرابع: بعض أحكام الوقف (الصدقة الجارية)
প্রথম পরিচ্ছেদ: সদকায়ে জারিয়া (صدقة جارية)
এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে সদকায়ে জারিয়া (صدقة جارية) সংক্রান্ত বর্ণিত দলীলসমূহ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাদিসসমূহে বর্ণিত সদকায়ে জারিয়ার (صدقة جارية) বিভিন্ন প্রকারসমূহ
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সাহাবী (صحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম কর্তৃক সদকায়ে জারিয়া (صدقة جارية) পালনের কিছু চিত্র ও নমুনা
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ওয়াকফ (وقف) বা সদকায়ে জারিয়ার (صدقة جارية) কতিপয় বিধান
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الأول الصدقة الجاريةنذكر في هذا المبحث بعضاً من الأدلة التي تدل على أن الصدقة الجارية من الأعمال الصالحات التي يجري للإنسان أجرها وثوابها بعد الممات
المطلب الأولالأدلة الواردة في الصدقة الجارية عموما، مع ذكر بعض التوضيح عليهاالدليل الأول:
عن أبي هريرة رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله سلم، قال: «إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ»
(1).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রবাহমান দান (الصدقة الجارية)আমরা এই পরিচ্ছেদে এমন কিছু দলীল উল্লেখ করব যা প্রমাণ করে যে, প্রবাহমান দান (الصدقة الجارية) হলো এমন সব নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত যার নেকি ও সওয়াব মানুষের মৃত্যুর পর অব্যাহত থাকে।
প্রথম অনুচ্ছেদসাধারণভাবে প্রবাহমান দান (الصدقة الجارية) সম্পর্কে বর্ণিত দলীলসমূহ এবং সেগুলোর ওপর কিছু ব্যাখ্যাপ্রথম দলীল:
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি উৎস ছাড়া: প্রবাহমান দান (صدقة جارية), অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।"
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
التوضيح:
قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاث:
… ،»
قال النووي رحمه الله تعالى: "قال العلماء معنى الحديث أن عمل الميت ينقطع بموته، وينقطع تجدد الثواب له إلا في هذه الأشياء الثلاثة؛ لكونه كان سببها فإن الولد من كسبه، وكذلك العلم الذي خلفه من تعليم أو تصنيف، وكذلك الصدقة الجارية وهي الوقف،
… وفيه دليل لصحة أصل الوقف وعظيم ثوابه، وبيان فضيلة العلم، والحث على الاستكثار منه، والترغيب في توريثه بالتعليم والتصنيف والإيضاح، وأنه ينبغي أن يختار من العلوم الأنفع فالأنفع، وفيه أن الدعاء يصل ثوابه إلى الميت، وكذلك الصدقة، وهما مجمع عليهما"
(1). اهـ
وقال ابن كثير رحمه الله تعالى: "هذه الثلاثة في الحقيقة هي من سعيه وكده وعمله، كما جاء في الحديث: «إن أطيب ما أكل الرجل من كسبه، وإن ولده من
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «যখন কোনো মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বিচ্ছিন্ন (انقطع) হয়ে যায়:
… »
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "উলামায়ে কেরাম বলেছেন, হাদিসের মর্মার্থ হলো—মানুষের মৃত্যুর সাথে সাথে তার আমল বন্ধ হয়ে যায় এবং তার সওয়াব নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়; তবে এই তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে তা জারি থাকে, কারণ সে নিজেই এগুলোর কারণ ছিল। কেননা সন্তান তার উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত, অনুরূপভাবে শিক্ষা দান বা গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে সে যে জ্ঞান রেখে গেছে তাও তার আমলের অংশ, আর সদকায়ে জারিয়া (الصدقة الجارية) যা হলো ওয়াকফ (الوقف),
… এতে ওয়াকফের মূল বিধানের বৈধতা এবং এর সুমহান প্রতিদানের দলিল রয়েছে। সেই সাথে এতে ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব, অধিক পরিমাণে ইলম হাসিলে উৎসাহ দান এবং শিক্ষা প্রদান, গ্রন্থ রচনা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে তা উত্তরসূরিদের জন্য রেখে যাওয়ার অনুপ্রেরণা রয়েছে। আর ইলমের মধ্যে যা অধিকতর উপকারী, তা-ই চয়ন করা উচিত। এতে আরও প্রমাণিত হয় যে, দোয়ার সওয়াব মৃতের নিকট পৌঁছায় এবং সদকার সওয়াবও; আর এ দুটি বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত (مجمع عليهما) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"
(১) সমাপ্ত।
ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "প্রকৃতপক্ষে এই তিনটি বিষয় তার প্রচেষ্টা, পরিশ্রম ও কর্মেরই ফল, যেমনটি হাদিসে এসেছে: «নিশ্চয়ই মানুষ যা আহার করে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তার নিজ উপার্জিত বস্তু, আর তার সন্তানও তার উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
كسبه»
(1)، والصدقة الجارية، كالوقف ونحوه، هي من آثار عمله ووقفه، وقد قال تعالى: {إنا نحن نحيي الموتى ونكتب ما قدموا وآثارهم} [يس: 12]، والعلم الذي نشره في الناس فاقتدى به الناس بعده هو أيضا من سعيه وعمله"
(2).
وعلى هذا فعلى الأنسان أن ينظر ما يقدم لنفسه في حياته وقبل موته مما ينتفع به بعد موته ويستمر له الأجر والثواب من تلك الأعمال الصالحة، فإن كان صاحب مال عمل لنفسه صدقات جاريات من ماله، قبل الفوات، وحلول السكرات، وذهاب المال في الترف والإسراف ومما لا فائدة منه، وإن كان صاحب علم استمر عليه وتزود منه، وعلمه للناس ونشره، وإن كان صاحب أولاد عمل على صلاحهم وهدايتهم، وعلمهم العلم الشرعي الذي ينفعهم الله به في الدنيا والأخرة ويكون سببا في صلاحهم، وقلما يخلو أحد من أن يكون له واحدة من إحدى الثلاث، وقد يجتمعن في شخص ما، وهذا من فضل الله تعالى، ولهذا فمن لم يكن عنده علم يعلمه الناس مما ينتفعون به، فقد يكون عنده مال يستطيع أن يجعل منه الصدقات الجاريات، فإن لم يكن له مال ولا علم، فقد يكون له أولاد
--------------------------------------------
তার উপার্জন"
(১)। আর সদকায়ে জারিয়া, যেমন ওয়াকফ ও এই জাতীয় বিষয়গুলো হলো তার আমল ও ওয়াকফেরই প্রভাব। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তারা যা অগ্রিম পাঠিয়েছে ও তাদের চিহ্নসমূহ আমি লিখে রাখি} [ইয়াসিন: ১২]। আর যে জ্ঞান সে মানুষের মাঝে প্রচার করেছে এবং যার ফলে তার মৃত্যুর পর মানুষ তার অনুসরণ করেছে, তাও তার প্রচেষ্টা ও কর্মের অন্তর্ভুক্ত"
(২)।
এর ওপর ভিত্তি করে, মানুষের উচিত তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পূর্বে নিজের জন্য এমন কিছু অগ্রিম পাঠানোর চিন্তা করা যা দ্বারা সে মৃত্যুর পর উপকৃত হবে এবং সেই সকল নেক আমল থেকে তার জন্য সওয়াব ও প্রতিদান অব্যাহত থাকবে। সুতরাং সে যদি সম্পদশালী হয়, তবে সুযোগ হারানোর আগে, মৃত্যুযন্ত্রণা উপস্থিত হওয়ার আগে এবং বিলাসিতা, অপচয় ও অনর্থক কাজে সম্পদ ব্যয় হওয়ার আগেই যেন নিজের সম্পদ থেকে নিজের জন্য সদকায়ে জারিয়ার ব্যবস্থা করে। আর যদি সে জ্ঞানের অধিকারী হয়, তবে যেন তাতে অবিচল থাকে এবং তা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করে এবং মানুষকে তা শিক্ষা দেয় ও প্রচার করে। আর যদি সে সন্তান-সন্ততির অধিকারী হয়, তবে তাদের সংশোধন ও হিদায়াতের জন্য কাজ করে এবং তাদের শরিয়তসম্মত জ্ঞান শিক্ষা দেয়, যার মাধ্যমে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের উপকৃত করবেন এবং যা তাদের সৎ হওয়ার কারণ হবে। খুব কম মানুষই এমন আছে যার মধ্যে এই তিনটির কোনো একটিও নেই; আবার কখনো কারো মধ্যে এই তিনটিই একত্রিত হতে পারে, আর এটি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। এই কারণে, যার নিকট মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার মতো এমন জ্ঞান নেই যা দ্বারা তারা উপকৃত হতে পারে, তার হয়তো এমন সম্পদ রয়েছে যা দ্বারা সে সদকায়ে জারিয়া করতে সক্ষম। আর যদি তার নিকট সম্পদ বা জ্ঞান কোনোটিই না থাকে, তবে তার হয়তো সন্তান থাকতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
سواء ذكور أو إناث، فليعمل على ما يكون سببا في صلاحهم واستقامتهم لعل الله ينفعه بصلاحهم ودعائهم له في دنياه وأخراه، فهذه ثلاثة أمور جاءت في هذا الحديث مما ينتفع به الإنسان بعد موته.
فقوله صلى الله عليه وسلم: «إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ»: فقوله: «الإنسان» يشمل الذكر والأنثى، وليس مقصور على الذكور فقط بل يشمل الجميع.
أما الثلاثة الأمور المذكورة في هذا الحديث فقد شملت على أهم ما ينتفع به الإنسان من الأعمال الصالحات التي يبقى ويجري له أجرها وثوابها بعد الممات؛ وسوف نتناول في هذا المبحث الصدقة الجارية، أما العلم المنتفع به، والدعاء فسوف نتناول ذلك في المباحث التي بعد هذا.
فقوله صلى الله عليه وسلم: «إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ»:
قال أكثر أهل العلم إن الصدقة الجارية: "هي الوقف وشبهه مما يدوم نفعه" كما مر معنا؛ ولذلك قال المناوي: "معنى «جارية» دائمة متصلة كالوقوف المرصدة فيدوم ثوابها مدة دوامها"
(1)، وعلى هذا فكل ما جعل الأنسان مما ينتفع به الناس بعد موته في الخير مما يستمر بقاؤه ويدوم نفعه لهم، فإن الأجر جار ومستمر لصاحبه بعد موته ما بقى ذلك الشيء وانتفع الناس ولو بشيء منه، سواء كان الانتفاع بالشيء ذاته وبعينه كمن بنى دارا لنشر العلم الشرعي أو للفقراء وعابري السبيل أو أوقف سيارة للدعوة أو جعل كتب نافعة في العلم الشرعي،
--------------------------------------------
তারা সন্তান হোক বা সন্ততি, তাদের সংশোধন ও একনিষ্ঠতার জন্য যা কিছু করণীয় তা করা উচিত, যাতে আল্লাহ তাদের নেক আমল এবং তাদের দোয়ার মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে তাকে উপকৃত করেন। এই হাদিসে এমন তিনটি বিষয়ের বর্ণনা এসেছে যা মানুষের মৃত্যুর পর তাকে উপকৃত করে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «যখন মানুষ মারা যায়»: এখানে «মানুষ» শব্দটি নারী ও পুরুষ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে; এটি কেবল পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই হাদিসে উল্লিখিত তিনটি বিষয় এমন সব গুরুত্বপূর্ণ নেক আমলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার বিনিময় ও সওয়াব মৃত্যুর পরেও বহাল থাকে ও জারি থাকে। আমরা এই পরিচ্ছেদে সদকায়ে জারিয়া (صدقة جارية) সম্পর্কে আলোচনা করব। আর যে ইলম দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং দোয়া—এ বিষয়গুলো আমরা পরবর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে আলোচনা করব।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «সদকায়ে জারিয়া (صدقة جارية) ব্যতীত»:
অধিকাংশ আলেম বলেছেন যে, সদকায়ে জারিয়া (صدقة جارية) হলো: "তা হলো ওয়াকফ (الوقف) এবং এর সদৃশ এমন কিছু যা থেকে দীর্ঘকাল উপকার লাভ করা যায়", যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। একারণেই আল-মুনাভি বলেছেন: "'জারিয়া' (جارية) অর্থ হলো স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন, যেমন নির্দিষ্ট করে রাখা ওয়াকফ (الوقف) সমূহ, ফলে যতক্ষণ সেই বস্তুটির অস্তিত্ব থাকে ততক্ষণ তার সওয়াবও জারি থাকে"
(১), এর ওপর ভিত্তি করে মানুষ কল্যাণের পথে এমন যা কিছু রেখে যায় যা থেকে তার মৃত্যুর পর মানুষ উপকৃত হতে পারে এবং যার স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয় ও উপকারিতা অব্যাহত থাকে, তবে সেই বস্তুটির অস্তিত্ব থাকা এবং তা থেকে মানুষের সামান্যতম উপকৃত হওয়া পর্যন্ত তার সওয়াব মৃত্যুর পর তার মালিকের জন্য জারি ও অব্যাহত থাকে। চাই সেই বস্তুর মূল সত্তা থেকেই উপকৃত হওয়া হোক, যেমন শরয়ি ইলম প্রচারের জন্য ঘর নির্মাণ করা, অথবা দরিদ্র ও মুসাফিরদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, অথবা দাওয়াতের কাজে কোনো গাড়ি ওয়াকফ (الوقف) করা, কিংবা শরয়ি ইলম বিষয়ক উপকারী কিতাবপত্র প্রদান করা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وغير ذلك مما يكون النفع بذات الشيء نفسه، أو يكون الانتفاع مما ينتج ويحصل منه كالمزرعة التي يحصل النفع من ثمرها، أو العقار الذي يحصل منه أموال من إيجارات وعوائد مالية فتصرف وتوزع في وجوه الخير والبر و هكذا.
واعلم أن الصدقة الجارية أو الوقف يكون في أبواب كثير جدا، ولذلك قال عبد الرحمن آل سعدي: " كوقف العقارات التي ينتفع بمغلها، أو الأواني التي ينتفع باستعمالها، أو الحيوانات التي ينتفع بركوبها ومنافعها، أو الكتب والمصاحف التي ينتفع باستعمالها والانتفاع بها، أو المساجد والمدارس والبيوت وغيرها التي ينتفع بها، فكلها أجرها جار على العبد ما دام ينتفع بشيء منها. وهذا من أعظم فضائل الوقف، وخصوصا الأوقاف التي فيها الإعانة على الأمور الدينية، كالعلم والجهاد، والتفرغ للعبادة، ونحو ذلك، ولهذا اشترط العلماء في الوقف: أن يكون مصرفه على وجهة بر وقربة"
(1).
قال العلامة ابن عثيمين عليه رحمة الله: "والمراد بالصدقة الجارية كل ما ينفع المحتاجين بعد موته نفعاً مستمراً، فيدخل فيه الصدقات التي توزع على الفقراء، والمياه التي يشرب منها، وكتب العلم النافع التي تطبع، أو تشترى وتوزع على المحتاجين إليها، وغير ذلك مما يقرب إلى الله تعالى وينفع العباد "
(2)، وقال أيضا:
--------------------------------------------
এবং এ ছাড়াও অন্যান্য বিষয় যার উপকার সরাসরি বস্তুটি থেকেই লাভ করা হয়, অথবা ঐ বস্তু থেকে যা উৎপন্ন বা অর্জিত হয় তার মাধ্যমে উপকার লাভ করা হয়; যেমন কৃষিজমি যা থেকে তার ফসলের মাধ্যমে উপকার পাওয়া যায়, অথবা স্থাবর সম্পত্তি যা থেকে ভাড়া বা আর্থিক মুনাফার মাধ্যমে অর্থ অর্জিত হয় এবং যা কল্যাণমূলক ও নেক কাজে ব্যয় ও বণ্টন করা হয়; এভাবে আরও অনেক কিছু।
জেনে রাখুন যে, সদকায়ে জারিয়া বা ওয়াকফ অনেকগুলো ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এ কারণেই আবদুর রহমান আল-সাদী বলেছেন: "যেমন স্থাবর সম্পত্তির ওয়াকফ যা থেকে প্রাপ্ত আয়ের মাধ্যমে উপকার লাভ করা হয়, অথবা আসবাবপত্র যা ব্যবহারের মাধ্যমে উপকার পাওয়া যায়, অথবা পশু যা আরোহণ ও অন্যান্য উপকারের কাজে লাগে, অথবা বই ও মাসহাফসমূহ যা পাঠ ও ব্যবহারের মাধ্যমে উপকার লাভ করা হয়, অথবা মসজিদ, মাদরাসা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য বিষয় যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়; এই সবগুলোর সওয়াব বান্দার আমলনামায় জারি থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তা থেকে কোনো না কোনোভাবে উপকার পাওয়া যায়। আর এটি ওয়াকফের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মর্যাদা, বিশেষ করে ঐসব ওয়াকফ যাতে ধর্মীয় বিষয়ে সহায়তা করা হয়; যেমন ইলম অর্জন, জিহাদ, ইবাদতের জন্য একাগ্র হওয়া ইত্যাদি। এই কারণেই উলামায়ে কেরাম ওয়াকফের ক্ষেত্রে এই শর্তারোপ করেছেন যে, এর ব্যয়ের খাত যেন পুণ্য ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে হয়"
(১)।
আল্লামা ইবনে উসাইমীন (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: "সদকায়ে জারিয়া বলতে এমন প্রত্যেক বিষয়কে বোঝায় যা কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর অভাবী লোকদের নিরবচ্ছিন্ন উপকার সাধন করে। ফলে এর অন্তর্ভুক্ত হবে দরিদ্রদের মাঝে যে সদকা বিতরণ করা হয়, সুপেয় পানি, উপকারী ইলমের বই যা মুদ্রণ করা হয় অথবা ক্রয় করে অভাবী লোকদের মাঝে বিতরণ করা হয় এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা মহান আল্লাহর নৈকট্য দান করে এবং বান্দার উপকারে আসে"
(২), তিনি আরও বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
"ومن الصدقات الجارية أن يطبع الإنسان كتبا نافعة للمسلمين يقرءون فيها وينتفعون بها سواء كانت من مؤلفين في عصره أو من مؤلفين سابقين المهم أن تكون كتبا نافعة ينتفع بها المسلمون من بعده، ومن الصدقات الجارية إصلاح الطرق فإن الإنسان إذا أصلح الطرق وأزال عنها الأذى واستمر الناس ينتفعون بهذا فإن ذلك من الصدقات الجارية، والقاعدة في الصدقة الجارية كل عمل صالح يستمر للإنسان بعد موته"
(1).
قد يقول قائل لا تكون الصدقة الجارية إلا ببناء دار أو مسجد أو مزرعة أو شراء سيارة أو غير ذلك مما تكون كلفته كبيرة؛ نقول ليس كذلك؛ وإنما من كان لديه القدرة من المال على أن يقوم بهذا الفعل أو أكثر منه، كمن يبني عددا من المساجد أو دور العلم أو حفر آبار، فيُنوّع صدقاته الجارية في مجالات مختلفة وينفرد بتكاليف تلك الأعمال بنفسه فله أن يفعل، ومن لم يستطع وليس لديه مال كاف لفعل مثل تلك الأعمال فليكن مشارك مع غيره بحسب حاله وقدرته في فعل صدقة من الصدقات الجارية التي يستمر نفعها بعد موته، ولا يعدم لمن بحث عن ذلك وما أكثر ما يحصل من هذا فيكون العمل الخيري الواحد على حساب عدد من فاعلين الخير اشتركوا فيه، فإن لم يتيسر له المشاركة فلينظر ما يناسب حالته وقدرته مما يقل تكلفته ويعظم نفعه للناس وسيجد عند ذلك أمورا كثيرة يستطيع أن يجعل لنفسه صدقة جارية تنفعه ولو لم يكن إلا مصحفا أو كتابا نافعا أو غير
--------------------------------------------
"চলমান সদকা (صدقة جارية)-এর অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের এমন সব উপকারী বই ছাপানো যা মুসলিমরা পাঠ করবে এবং তার দ্বারা উপকৃত হবে, হোক তা সমসাময়িক লেখকদের কিংবা পূর্ববর্তী লেখকদের; মূল কথা হলো সেগুলো যেন এমন উপকারী বই হয় যা থেকে তার মৃত্যুর পর মুসলিমরা উপকৃত হতে পারে। চলমান সদকা (صدقة جارية)-এর আরেকটি ক্ষেত্র হলো রাস্তাঘাট সংস্কার করা। কেননা মানুষ যখন রাস্তা সংস্কার করে এবং সেখান থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করে আর মানুষ ক্রমাগত তা থেকে উপকৃত হতে থাকে, তবে সেটি চলমান সদকা (صدقة جارية)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়। আর চলমান সদকা (صدقة جارية)-এর মূলনীতি হলো এমন প্রতিটি সৎকর্ম যা মানুষের মৃত্যুর পরেও চলমান থাকে"
(১).
কেউ হয়তো বলতে পারেন যে, চলমান সদকা (صدقة جارية) কেবল ঘরবাড়ি, মসজিদ বা খামার নির্মাণ অথবা গাড়ি ক্রয় কিংবা এজাতীয় উচ্চ ব্যয়বহুল কাজের মাধ্যমেই হয়ে থাকে; আমরা বলব—বিষয়টি তেমন নয়। বরং যার আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে এ জাতীয় কাজ বা এর চেয়েও বড় কোনো কাজ করার, যেমন—একাধিক মসজিদ কিংবা দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ অথবা কূপ খনন করা, তবে সে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার চলমান সদকা (صدقة جارية)-কে বৈচিত্র্যময় করতে পারে এবং এককভাবে সেসব কাজের ব্যয়ভার বহন করতে পারে, তার জন্য তা করার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু যার সামর্থ্য নেই এবং এ জাতীয় কাজ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই, সে যেন তার অবস্থা ও সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের সাথে মিলে এমন কোনো চলমান সদকা (صدقة جارية)-তে অংশগ্রহণ করে যার উপকারিতা তার মৃত্যুর পরও জারি থাকবে। যে ব্যক্তি এটি সন্ধান করবে সে কখনো ব্যর্থ হবে না, আর বর্তমানে এমন সুযোগ প্রচুর রয়েছে যেখানে একটি জনকল্যাণমূলক কাজ একাধিক দানশীল ব্যক্তির যৌথ অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়। যদি তার পক্ষে এভাবে অংশগ্রহণ করাও সম্ভব না হয়, তবে সে যেন তার অবস্থা ও সামর্থ্য অনুযায়ী এমন বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেয় যার ব্যয় কম কিন্তু মানুষের জন্য তার উপকারিতা অনেক বড়। এমতাবস্থায় সে অনেক মাধ্যম খুঁজে পাবে যার দ্বারা সে নিজের জন্য একটি চলমান সদকা (صدقة جارية) তৈরি করতে পারবে যা তার উপকারে আসবে, হোক তা কেবল একটি কুরআন মাজিদ কিংবা একটি উপকারী বই অথবা অন্য কিছু।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
ذلك مما يدوم ويستمر نفعه، ولما للصدقة الجارية من عظيم الأجر والثواب فقد بادر الصحابة رضوان الله عليهم ومن بعدهم من المسلمين على مر العصور بفعل الصدقات الجاريات من أنفس أموالهم وأفضل ما لديهم من الممتلكات، راجين ثواب ذلك عند الله تعالى، والمال النافع الحقيقي للإنسان هو ما قدمه في حياته وانفقه في وجوه الخير والبر والإحسان سواء كان صدقة جارية أو غيرها؛ ولهذا قال الرسول صلى الله عليه وسلم: «أيكم مال وارثه أحب إليه من ماله؟» قالوا: يا رسول الله، ما منا أحد إلا ماله أحب إليه، قال: «فإن ماله ما قدم، ومال وارثه ما أخر»
(1)، فقوله: «ما قدم» أي ما صرفه في حياته في مصارف الخير والطاعة، هذا هو ماله الحقيقي الذي ينتفع به، وقوله: «ما أخر» ما ادخره وأخر إنفاقه حتى ادركه الموت وتركه لوارثه، ولا يدري الإنسان كيف سيكون حال ورثته من بعده أصالحين أم طالحين، و بيّن النبي صلى الله عليه وسلم كذلك ما يكون للإنسان من ماله الذي جمعه وحافظ عليه طوال عمره، وربما أصابه ما أصابه من العناء والشقاء والكد والكَبَد حتى حصل عليه وجمعه، ثم بعد ذلك نمَّاه وكثَّره، ومع هذا كله تأمل في قول الرسول صلى الله عليه وسلم حيث قال: «يقول العبد: مالي، مالي، وإنما له من ماله ما أكل فأفنى، أو لبس فأبلى، أو أعطى فاقتنى
(2)، وما سواه فهو ذاهب وتاركه للناس»
(3)،
--------------------------------------------
এটি এমন একটি বিষয় যার উপকারিতা স্থায়ী ও অব্যাহত থাকে। চলমান সদকা (الصدقة الجارية)-র সুমহান প্রতিদান ও সওয়াবের গুরুত্বের কারণে সাহাবী (الصحابة) (রা.) এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের মুসলিমগণ সর্বদাই তাঁদের সর্বোত্তম সম্পদ ও মূল্যবান স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে চলমান সদকা (الصدقات الجاريات) প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, মহান আল্লাহর নিকট এর প্রতিদানের আশায়। মানুষের প্রকৃত উপকারী সম্পদ হলো তা-ই যা সে তার জীবদ্দশায় অগ্রিম পাঠিয়েছে এবং কল্যাণ, পুণ্য ও ইহসানের পথে ব্যয় করেছে; চাই তা চলমান সদকা (صدقة جارية) হোক বা অন্য কিছু। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কার কাছে তার উত্তরাধিকারীর সম্পদ নিজের সম্পদের চেয়ে অধিক প্রিয়?" তাঁরা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার কাছে নিজের সম্পদ অধিক প্রিয় নয়।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তার (প্রকৃত) সম্পদ হলো যা সে অগ্রিম পাঠিয়েছে, আর তার উত্তরাধিকারীর সম্পদ হলো যা সে বিলম্বে (মৃত্যুর পর) রেখে গেছে।"
(১) তাঁর বাণী: "যা সে অগ্রিম পাঠিয়েছে" এর অর্থ হলো—যা সে তার জীবনে কল্যাণ ও আনুগত্যের পথে ব্যয় করেছে; এটিই তার প্রকৃত সম্পদ যা দ্বারা সে উপকৃত হবে। আর তাঁর বাণী: "যা সে বিলম্বে রেখে গেছে" এর অর্থ হলো—যা সে জমা করেছে এবং ব্যয় না করে জমিয়ে রেখেছে যতক্ষণ না মৃত্যু তাকে গ্রাস করেছে এবং তা তার উত্তরাধিকারীর জন্য রেখে গেছে। মানুষ জানে না তার পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের অবস্থা কেমন হবে—তারা কি নেককার (صالحين) হবে নাকি পাপাচারী (طالحين)? নবী (সা.) আরও বর্ণনা করেছেন যে, একজন মানুষ তার সারাজীবনে যে সম্পদ সংগ্রহ করে এবং সংরক্ষণ করে—যা অর্জন করতে গিয়ে হয়তো তাকে অনেক ক্লান্তি, কষ্ট, পরিশ্রম ও সংকটের সম্মুখীন হতে হয়েছে, অতঃপর সে তা বৃদ্ধি ও সম্প্রসারিত করেছে—সেই সম্পদের প্রকৃত অবস্থা কী। এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন যেখানে তিনি বলেছেন: "বান্দা বলে: আমার সম্পদ, আমার সম্পদ! অথচ তার সম্পদ তো কেবল তা-ই যা সে খেয়ে শেষ করেছে, অথবা পরিধান করে জীর্ণ করেছে, অথবা দান করে পরকালের জন্য জমা করেছে (فاقتنى)
(২)। আর এছাড়া যা আছে তা তো নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং সে তা মানুষের জন্য রেখে যাবে।"
(৩),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
فانظر الى ما معك أيه العبد المسلم من مالك الذي جمعته إلا هؤلاء الثلاث، ولم ينفعك عند الله تعالى في أخرتك إلا واحدة من الثلاث وهي الصدقة، فهي التي تبقى من مالك كله الذي جمعته طول حياتك بأصعب المشاق، وطول السباق، فلذلك لا يبخل الإنسان على نفسه من الإنفاق في وجوه الخير بفعل الصدقات الجاريات، فهذا هو ماله الحقيقي الذي ينتفع به في حياته وبعد موته.
فضل الصدقة:
ولما كان للصدقة عموما من فضل كبير ومرتبة عالية في الإسلام، فقد جاء في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم من الآيات والأحاديث التي يطول ذكرها التي تدل على فضلها، وعلى ما وعد الله به من العوض والبركة والخير الكثير المتنوع في الدنيا، مع ما يدخره الله تعالى للمتصدق والمنفق من الأجر الكبير والثواب الجزيل في الأخرة، نذكر شيئا من ذلك:
قال تعالى: {وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ} [سبأ: 39].
قال ابن كثير: "أي: مهما أنفقتم من شيء فيما أمركم به وأباحه لكم، فهو يخلفه عليكم في الدنيا بالبدل، وفي الآخرة بالجزاء والثواب"
(1)، وقال السعدي في تفسيره لهذه الآية: "نفقة واجبة، أو مستحبة، على قريب، أو جار، أو مسكين، أو
--------------------------------------------
হে মুসলিম বান্দা! আপনি আপনার মালের মধ্য থেকে যা সংগ্রহ করেছেন, এই তিনটি ব্যতীত সেগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন। মহান আল্লাহর নিকট পরকালে আপনার জন্য এই তিনটির মধ্যে একটি ব্যতীত আর কোনটিই ফলপ্রসূ হবে না, আর সেটি হলো দান (صدقة)। আপনার সারাজীবনের কঠোর পরিশ্রম ও নিরন্তর প্রচেষ্টায় অর্জিত সমুদয় সম্পদের মধ্যে এটিই কেবল অবশিষ্ট থাকবে। অতএব, মানুষের উচিত নয় কল্যাণের পথে প্রবহমান দান (صدقة جارية) করার মাধ্যমে নিজের প্রতি কৃপণতা করা; কেননা এটিই তার প্রকৃত সম্পদ যা তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে উপকারে আসবে।
সদকার ফজিলত:
যেহেতু ইসলামে সাধারণভাবে দানের (صدقة) সুমহান ফজিলত ও উচ্চ মর্যাদা রয়েছে, সেহেতু আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহয় এমন অসংখ্য আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে—যাহার বিস্তারিত বর্ণনা দীর্ঘ—যা এর ফজিলতের প্রমাণ দেয়। আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে দুনিয়াতে যে প্রতিদান, বরকত ও নানাবিধ প্রভূত কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং পরকালে দানকারী ও ব্যয়কারীর জন্য যে বিশাল আজর ও মহাপুরস্কার সঞ্চিত রেখেছেন, আমরা এখানে তার কিঞ্চিৎ উল্লেখ করছি:
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার বিনিময় দান করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।} [সাবা: ৩৯]।
ইবনে কাসির বলেন: "অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদের যা নির্দেশ দিয়েছেন এবং যা তোমাদের জন্য বৈধ করেছেন, তা থেকে তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি দুনিয়াতে তোমাদের তার বিকল্প বা বিনিময় দান করবেন এবং পরকালে প্রতিদান ও সওয়াবের মাধ্যমে তার পূর্ণতা দেবেন"
(১)। আস-সাদি এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "এটি আবশ্যিক (واجب) ব্যয় হোক কিংবা পছন্দনীয় (مستحب), যা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী বা মিসকিনদের জন্য করা হয় অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يتيم، أو غير ذلك، {فَهُوَ} تعالى {يُخْلِفُهُ} فلا تتوهموا أن الإنفاق مما ينقص الرزق، بل وعد بالخَلَف للمنفق، الذي يبسط الرزق لمن يشاء ويقدر {وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ} فاطلبوا الرزق منه، واسعوا في الأسباب التي أمركم بها"
(1)، وقال تعالى: {مَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ * الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنْفَقُوا مَنًّا وَلَا أَذًى لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 261، 262]، وقال تعالى: {الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 274]، وقال تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [البقرة: 245]، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ وَلَسْتُمْ بِآخِذِيهِ إِلَّا أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ} [البقرة: 267].
قال ابن عباس: "أمرهم بالإنفاق من أطيب المال وأجوده وأنفسه، ونهاهم عن التصدق برذالة المال ودنيه - وهو خبيثه - فإن الله طيب لا يقبل إلا طيبا، ولهذا قال: {ولا تيمموا} أي: تقصدوا {الخبيث منه تنفقون ولستم بآخذيه} أي: لو أعطيتموه ما أخذتموه، إلا أن تتغاضوا فيه، فالله أغنى عنه منكم، فلا تجعلوا لله ما
--------------------------------------------
ইয়তিম বা অন্য কিছু হোক না কেন, {তিনিই} মহান আল্লাহ {তার প্রতিদান দান করেন}। অতএব তোমরা এমন ধারণা করো না যে, দান করলে রিজিক কমে যায়, বরং তিনি দানকারীর জন্য প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যিনি যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন {আর তিনি শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা}। অতএব তোমরা তাঁর কাছেই রিজিক প্রার্থনা করো এবং তিনি তোমাদেরকে যেসব উপায় অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন তাতে সচেষ্ট হও।"
(১) এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যারা আল্লাহর পথে তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি বীজের মতো, যা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে, প্রতিটি শীষে একশত দানা থাকে। আর আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। যারা আল্লাহর পথে তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, অতঃপর যা ব্যয় করেছে তার পেছনে খোঁটা দেয় না এবং কোনো কষ্টও দেয় না, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [বাকারা: ২৬১, ২৬২], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যারা রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [বাকারা: ২৭৪], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {কে সে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? ফলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন। আল্লাহই সংকুচিত করেন ও প্রশস্ত করেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে} [বাকারা: ২৪৫], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো। আর তোমরা তা থেকে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয়ের সংকল্প করো না, অথচ তোমরা নিজেরা তা গ্রহণ করতে আগ্রহী নও, যদি না তোমরা চোখ বন্ধ করে থাকো। আর জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত, অত্যন্ত প্রশংসিত} [বাকারা: ২৬৭]।
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "তিনি তাদেরকে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট, উন্নত ও মূল্যবান সম্পদ থেকে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদেরকে নিকৃষ্ট ও তুচ্ছ সম্পদ—যা মূলত অপবিত্র—তা সদকা করতে নিষেধ করেছেন। কেননা আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। এই কারণেই তিনি বলেছেন: {আর তোমরা সংকল্প করো না} অর্থাৎ উদ্দেশ্য করো না {তা থেকে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয়ের, অথচ তোমরা নিজেরা তা গ্রহণ করতে আগ্রহী নও} অর্থাৎ যদি তোমাদেরকে তা দেওয়া হতো তবে তোমরা তা গ্রহণ করতে না, যদি না তোমরা তা উপেক্ষা করতে। আল্লাহ তোমাদের চেয়ে সেই সম্পদ থেকে বেশি অভাবমুক্ত, সুতরাং আল্লাহর জন্য এমন কিছু নির্ধারণ করো না যা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تكرهون". وقيل: معناه: {ولا تيمموا الخبيث منه تنفقون} أي: لا تعدلوا عن المال الحلال، وتقصدوا إلى الحرام، فتجعلوا نفقتكم منه"
(1)، أكتفي بذكر هذه الآيات.
أما الأحاديث: فعن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من تصدق بعدل تمرة من كسب طيب، ولا يقبل الله إلا الطيب، وإن الله يتقبلها بيمينه، ثم يربيها لصاحبه، كما يربي أحدكم فلوه،
(2) حتى تكون مثل الجبل»
(3)، وعنه أيضا، قال: قال رسول صلى الله عليه وسلم: «ما تصدق عبد بصدقة من كسب طيب ولا يقبل الله إلا طيبا، ولا يصعد إلى السماء إلا طيب إلا كأنما يضعها في يد الرحمن، فيربيها له كما يربي أحدكم فلوه وفصيله، حتى إن اللقمة أو التمرة لتأتي يوم القيامة مثل الجبل العظيم»
(4)، وعن أبي مسعود الأنصاري رضي الله عنه، قال: جاء رجل بناقة مخطومة، فقال: هذه في سبيل الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لك بها يوم القيامة سبع
--------------------------------------------
ঘৃণা করো।" এবং বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো: {আর তোমরা তা থেকে অপবিত্র বস্তুর নিয়ত করো না যা তোমরা ব্যয় করো} অর্থাৎ: তোমরা হালাল সম্পদ থেকে বিমুখ হয়ে হারামের সংকল্প করো না এবং তোমাদের দানকে তা থেকে নির্ধারণ করো না।
(১) আমি এই আয়াতগুলো উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করছি।
আর হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি পবিত্র উপার্জন থেকে একটি খেজুর সমপরিমাণ সদকা করে—আর আল্লাহ পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না—নিশ্চয়ই আল্লাহ তা তাঁর ডান হাতে কবুল করেন, অতঃপর তা দাতার জন্য লালন-পালন করেন, যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন-পালন করে,
(২) এমনকি তা পাহাড়ের মতো বিশাল হয়ে যায়»
(৩), এবং তাঁর থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোনো বান্দা যখন পবিত্র উপার্জন থেকে কোনো সদকা করে—আর আল্লাহ পবিত্র ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না, এবং আসমানে পবিত্র বস্তু ছাড়া আর কিছু আরোহণ করে না—আল্লাহ যেন তা পরম করুণাময় রহমানের হাতে রাখেন, অতঃপর তা তার জন্য লালন-পালন করেন যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চা বা উটের বাচ্চাকে লালন-পালন করে, এমনকি একটি লোকমা বা একটি খেজুর কিয়ামতের দিন বিশাল পাহাড়ের মতো হয়ে হাজির হবে»
(৪), আর আবু মাসউদ আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি একটি লাগাম লাগানো উষ্ট্রী নিয়ে এসে বলল: এটি আল্লাহর রাস্তায়। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তোমার জন্য থাকবে সাতশ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مائة ناقة كلها مخطومة»
(1)، وقال صلى الله عليه وسلم: «سبعة يظلهم الله تعالى في ظله يوم لا ظل إلا ظله: .... ، ورجل تصدق بصدقة فأخفاها حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه»
(2)، وقال صلى الله عليه وسلم: «ما نقصت صدقة من مال، وما زاد الله عبدا بعفو إلا عزا، وما تواضع أحد لله إلا رفعه الله»
(3)، وقال صلى الله عليه وسلم: «قال الله تبارك وتعالى: يا ابن آدم أنفق أنفق عليك»
(4)، وقال صلى الله عليه وسلم: «ما من يوم يصبح العباد فيه، إلا ملكان ينزلان، فيقول أحدهما: اللهم أعط منفقا خلفا، ويقول الآخر: اللهم أعط ممسكا تلفا
(5)»
(6)، ودخل النبي صلى الله عليه وسلم، على بلال وعنده صبر من المال، فقال: «أنفق يا بلال، ولا تخش من ذي العرش إقلالا
(7)»
(8)، وعن معاذ بن جبل أن النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
একশত উষ্ট্রী যার প্রতিটিই ছিল লাগামবদ্ধ।
(১) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তাঁর ছায়ায় স্থান দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না: .... এবং এমন এক ব্যক্তি যিনি গোপনে দান করেন, এমনকি তাঁর বাম হাতও জানতে পারে না তাঁর ডান হাত কী ব্যয় করছে।"
(২) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দান কোনো সম্পদকে কমিয়ে দেয় না। আল্লাহ কোনো বান্দাকে ক্ষমার বিনিময়ে কেবল সম্মানই বৃদ্ধি করেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হলে আল্লাহ তাকে উচ্চাসীন করেন।"
(৩) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি ব্যয় করো, আমিও তোমার ওপর ব্যয় করব।"
(৪) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এমন কোনো দিন যায় না যাতে বান্দারা সকালে উপনীত হয়, আর দুইজন ফেরেশতা অবতীর্ণ না হন। তাঁদের একজন বলেন: হে আল্লাহ! আপনি দানকারীকে বিনিময় দান করুন। আর অপরজন বলেন: হে আল্লাহ! আপনি কৃপণকে ধ্বংস দান করুন।
(৫)"
(৬) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর নিকট প্রবেশ করলেন যখন তাঁর নিকট স্তূপীকৃত সম্পদ ছিল, তখন তিনি বললেন: "হে বিলাল! ব্যয় করো এবং আরশের অধিপতির পক্ষ থেকে অভাবের আশঙ্কা করো না।
(৭)"
(৮) এবং মুআয ইবনে জাবাল (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال: «والصدقة تطفأ الخطيئة كما يطفأ الماء النّار
… »
(1)، فكل هذه الآيات والأحاديث تبين فضل الصدقة عموما، فكيف لو كانت صدقة جارية مما يستمر أجرها و ثوابها في الحياة وبعد الممات.
الدليل الثاني:
عن أبي أمامة رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أَرْبَعَةٌ تَجْرِي عَلَيْهِمْ أُجُورُهُمْ بَعْدَ الْمَوْتِ: مَنْ مَاتَ مُرَابِطًا فِي سَبِيلِ اللهِ، وَمَنْ عَلَّمَ عِلْمًا أُجْرِيَ لَهُ أَجْرُهُ مَا عَمِلَ بِهِ، وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَجْرُهَا يَجْرِي لَهُ مَا جَرَتْ، وَرَجُلٌ تَرَكَ وَلَدًا صَالِحًا، فَهُوَ يَدْعُو لَهُ»
(2).
التوضيح:
دل هذا الحديث على أربعة أعمال من الأعمال صالحات، التي يجري للإنسان أجرها وثوابها بعد الممات، فشمل ما جاء في الدليل الأول الذي هو قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا
--------------------------------------------
তিনি বলেছেন: «আর সদকাহ পাপকে নিভিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় … »
(1); সুতরাং এই সকল আয়াত ও হাদিস সাধারণভাবে সদকাহর ফজিলত বর্ণনা করে। তবে তা যদি সদকাহ জারিয়া হয়, যার সওয়াব ও প্রতিদান পার্থিব জীবনে এবং মৃত্যুর পরেও চলমান থাকে, তবে তার মর্যাদা কতই না মহান!
দ্বিতীয় দলিল:
আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: «চার প্রকার ব্যক্তি এমন রয়েছে, মৃত্যুর পরেও যাদের সওয়াব জারি থাকে: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত পাহারাদার (মুরাবিত) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, যে ব্যক্তি ইলম শিক্ষা দিয়েছে—যতদিন সেই অনুযায়ী আমল করা হবে তার সওয়াব তার জন্য জারি থাকবে, যে ব্যক্তি কোনো সদকাহ করেছে—যতদিন তা চলমান থাকবে তার সওয়াব তার জন্য জারি থাকবে এবং এমন ব্যক্তি যে নেক সন্তান রেখে গেছে, যে তার জন্য দোয়া করে»
(2)।
ব্যাখ্যা:
এই হাদিসটি এমন চারটি নেক আমলের প্রতি ইঙ্গিত করে, যেগুলোর প্রতিদান ও সওয়াব মৃত্যুর পর মানুষের জন্য জারি থাকে। এটি প্রথম দলিলে বর্ণিত বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যা হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী: «যদি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مات الإنسان انقطع عنه عمله إلا من ثلاث:
… ،» وزيادة، وهي قوله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ مَاتَ مُرَابِطًا فِي سَبِيلِ اللهِ»، ولشموله على أغلب الأعمال التي يجري للعبد أجرها بعد الموت، جعلت لكل عمل منها مبحث خاص به في هذه الرسالة.
••••
মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তার আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত:
… , এবং একটি বর্ধিত অংশ হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারারত অবস্থায় (مرابطا) মৃত্যুবরণ করল", এবং যেহেতু এটি এমন অধিকাংশ আমলকে অন্তর্ভুক্ত করে যার সওয়াব মৃত্যুর পর বান্দার আমলনামায় চলমান থাকে, তাই আমি এই পুস্তিকায় (رسالة) প্রতিটি আমলের জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ (مبحث) নির্ধারণ করেছি।
••••
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المطلب الثانيأنواع من الصدقة الجارية التي جاء ذكرها في الأحاديثجاء ذكر عدد من أنواع من الصدقة الجارية في حديثين سوف نتناولهما في هذا المطلب
الحديث الأول:
عن أنس رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله سلم: «سَبْعٌ يَجْرِي لِلْعَبْدِ أَجْرُهُنَّ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ، وهُو فِي قَبْرِهِ:
مَنْ عَلَّمَ عِلْمًا، أَوْ كَرَى نَهْرًا، أَوْ حَفَرَ بِئْرًا، أَوْ غَرَسَ نَخْلاً، أَوْ بَنَى مَسْجِدًا،
أَوْ وَرَّثَ مُصْحَفًا، أَوْ تَرَكَ وَلَدًا يَسْتَغْفِرُ لَهُ بَعْدَ مَوْتِهِ»
(1).
التوضيح:
قال المناوي: في شرحه لهذا الحديث: قوله صلى الله عليه وسلم: «سبع» "أي: من الأعمال، «يجري للعبد» أي: المسلم، «أجرهن وهو في قبره بعد موته مَنْ علم علما أو أجرى نهراً أو حفر بئرا» للسبيل، «أو غرس نخلا» أي: لنحو تصدق بثمره، بوقف أو غيره، «أو بنى مسجدا» أي: محلا للصلاة، «أو ورث مصحفا» أي: خلف لوارثه من
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদহাদিসে বর্ণিত সাদাকায়ে জারিয়ার বিভিন্ন প্রকারএই পরিচ্ছেদে আমরা এমন দুটি হাদিস নিয়ে আলোচনা করব, যাতে সাদাকায়ে জারিয়ার বেশ কিছু প্রকারের উল্লেখ রয়েছে।
প্রথম হাদিস:
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «সাতটি আমল এমন রয়েছে, মৃত্যুর পর বান্দা কবরে থাকাবস্থায়ও যার সওয়াব তার নিকট পৌঁছাতে থাকে:
যে ব্যক্তি ইলম শিক্ষা দিল, অথবা নদী খনন করল, অথবা কূয়া খনন করল, অথবা খেজুর গাছ রোপণ করল, অথবা মসজিদ নির্মাণ করল,
অথবা পবিত্র কুরআন (মুসহাফ) উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেল, অথবা এমন সন্তান রেখে গেল যে তার মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে»
(১)।
ব্যাখ্যা:
আল-মুনাউই এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: «সাতটি» অর্থাৎ: আমলসমূহের মধ্য থেকে, «বান্দার জন্য চলতে থাকে» অর্থাৎ: মুসলিম বান্দার জন্য, «তার কবরে থাকাবস্থায় তার মৃত্যুর পর তার সওয়াব পৌঁছাতে থাকে— যে ব্যক্তি ইলম শিক্ষা দিল অথবা নদী প্রবাহিত করল অথবা কূয়া খনন করল» পথচারীদের জন্য, «অথবা খেজুর গাছ রোপণ করল» অর্থাৎ: তার ফল সাদাকা করার উদ্দেশ্যে, ওয়াকফ বা অন্য কোনো মাধ্যমে, «অথবা মসজিদ নির্মাণ করল» অর্থাৎ: সালাত আদায়ের স্থান, «অথবা পবিত্র কুরআন (মুসহাফ) উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেল» অর্থাৎ: তার উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে গেল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بعده يعني ليُقرأ فيه، «أو كرى نهرا» من كريت النهر أكريه كريا إذا استحدثت حفره فهو مكرى، «أو ترك ولدا يستغفر له بعد موته» أي: يطلب له من الله مغفرة ذنوبه، ثم قال المناوي: قال البيهقي: "هذا الحديث لا يخالف الحديث الصحيح: «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث» فقد قال فيه صلى الله عليه وسلم: «إلا من صدقة جارية» وهي تجمع ما ذكر من الزيادة"
(1) انتهى كلامه رحمه الله تعالى، وسيأتي مزيدا من التوضيح عن الأعمال المذكورة في هذا الحديث بعد ذكر الحديث التالي.
الحديث الثاني:
عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله سلم: «إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ الْمُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ:
عِلْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ، وَوَلَدًا صَالِحًا تَرَكَهُ، وَمُصْحَفًا وَرَّثَهُ، أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ،
أَوْ بَيْتًا لِابْنِ السَّبِيلِ بَنَاهُ، أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ، أَوْ صَدَقَةً أَخْرَجَهَا مِنْ مَالِهِ فِي صِحَّتِهِ وَحَيَاتِهِ، يَلْحَقُهُ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ»
(2).
--------------------------------------------
নিজের পরে অর্থাৎ যাতে তাতে তিলাওয়াত করা হয়, «অথবা নদী খনন করল» এটি নদী খনন করা থেকে গৃহীত, যা নতুন করে গর্ত খনন করা অর্থে ব্যবহৃত হয়; এমতাবস্থায় তা খননকৃত। «অথবা এমন সন্তান রেখে গেল যে তার মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে» অর্থাৎ: তার জন্য আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের প্রার্থনা করবে। অতঃপর আল-মুনাউয়ি বলেছেন: আল-বায়হাকি বলেছেন: "এই হাদিসটি সেই সহিহ (صحيح) হাদিসের পরিপন্থী নয় যেখানে বলা হয়েছে: «আদম সন্তান যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়», কেননা সেখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সদকায়ে জারিয়া ব্যতীত», আর এটি এখানে বর্ণিত অতিরিক্ত আমলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।"
(১) তাঁর বক্তব্য শেষ হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। এই হাদিসে বর্ণিত আমলসমূহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা পরবর্তী হাদিসটি উল্লেখ করার পর আসবে।
দ্বিতীয় হাদিস:
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক কাজ থেকে যা তার নিকট পৌঁছায় তা হলো: এমন জ্ঞান যা সে শিক্ষা দিয়েছে ও প্রচার করেছে, সৎ সন্তান যাকে সে রেখে গেছে, পবিত্র কোরআনের কপি যা সে উত্তরাধিকার সূত্রে রেখে গেছে, অথবা কোনো মসজিদ যা সে নির্মাণ করেছে, অথবা মুসাফিরদের জন্য কোনো বিশ্রামাগার যা সে নির্মাণ করেছে, অথবা কোনো নদী যা সে প্রবাহিত করেছে, অথবা কোনো সদকা যা সে সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় তার সম্পদ থেকে প্রদান করেছে; এসব কিছুই তার মৃত্যুর পর তার আমলনামায় যুক্ত হবে»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
التوضيح:
قوله صلى الله عليه وسلم: «علما علمه ونشره»، قال الهروي في شرحه لهذا الحديث: "هو أعم من التعليم، فإنه يشمل التأليف ووقف الكتب، وقوله صلى الله عليه وسلم: «وولدا صالحا»، قال أي: مؤمنا، وقوله «تركه»: أي: خلفه أي بعد موته، وقوله صلى الله عليه وسلم: «أو مصحفا ورثه»: أي: تركه للورثة ولو ملكا، وفي معناه: كتب العلوم الشرعية، فيكون له ثواب التسبب، وقوله صلى الله عليه وسلم: «أو مسجدا بناه»، قال الهروي: وفي معناه مدرسة العلماء ورباط الصلحاء"
(1) انتهى كلامه.
قال الطيبي: "الجمل المصدرة بـ (أو) من قسم الصدقة الجارية، و (أو) فيها للتنويع والتفصيل
(2)، قال المبارك فوري: "هذا الحديث كالتفصيل لحديث "انقطع عمله إلا من ثلاث"
(3) اهـ، ومن تأمل ما جاء من الأعمال المذكورة في هذين الحديثين في الجُمل المصدرة بـ (أو) هو لبيان التفصيل، والتنويع كما ذكر ذلك أهل العلم، وليس ذلك فحسب؛ بل ولبيان وذكر أفضل ما يكون فعله صدقة جارية أو وقفا؛ لأنه من تأمل هذه الأعمال التي ذُكرت في هذين الحديثين يجد أنها شملت على أهم مقومات الحياة، سواء الحياة الروحية والقلبية أو الحياة البدنية والجسدية، وهذا من رحمة الله تعالى بعباده؛ ولأهمية تلك الأعمال وعد الله
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «এমন জ্ঞান যা সে শিক্ষা দিয়েছে এবং প্রচার করেছে», আল-হারাউয়ি এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এটি সাধারণ পাঠদানের চেয়েও ব্যাপক, কারণ এটি গ্রন্থ রচনা এবং কিতাব ওয়াকফ (وقف) করাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তাঁর বাণী: «এবং সৎ সন্তান», তিনি বলেন অর্থাৎ: মুমিন। তাঁর বাণী «রেখে গেছে»: অর্থাৎ তার মৃত্যুর পর স্থলাভিষিক্ত করে যাওয়া। তাঁর বাণী: «অথবা এমন কুরআন যা সে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছে»: অর্থাৎ সে তা উত্তরাধিকারীদের জন্য মালিকানা হিসেবে রেখে গিয়েছে। এর অর্থের অন্তর্ভুক্ত হলো: শরয়ি বিজ্ঞানের কিতাবসমূহ, যার ফলে সে এই ভালো কাজের কারণ হওয়ার প্রতিদান (ثواب) লাভ করবে। তাঁর বাণী: «অথবা এমন মসজিদ যা সে নির্মাণ করেছে», আল-হারাউয়ি বলেন: এর অর্থের অন্তর্ভুক্ত হলো আলেমদের জন্য মাদরাসা এবং নেককারদের জন্য খানকাহ।"
(১) তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।
আল-তিবি বলেছেন: " 'অথবা' (أو) দিয়ে শুরু হওয়া বাক্যগুলো সাদকায়ে জারিয়া (صدقة جارية)-র অন্তর্ভুক্ত, আর এখানে 'অথবা' (أو) শব্দটি বৈচিত্র্য আনয়ন (التنويع) এবং বিস্তারিত বর্ণনার (التفصيل) জন্য এসেছে।
(২) আল-মুবারকপুরী বলেন: "এই হাদিসটি 'তিনটি কাজ ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়' হাদিসটির বিস্তারিত বর্ণনাস্বরূপ।
(৩) সমাপ্ত। যে ব্যক্তি এই দুই হাদিসে বর্ণিত 'অথবা' (أو) দিয়ে শুরু হওয়া আমলগুলো নিয়ে চিন্তা করবে, সে দেখবে যে এগুলো বিস্তারিত বর্ণনা (التفصيل) এবং বৈচিত্র্য (التنويع) প্রকাশের জন্য এসেছে, যেমনটি আলেমগণ উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি শুধু তাই নয়; বরং এটি সাদকায়ে জারিয়া (صدقة جارية) কিংবা ওয়াকফ (وقف) হিসেবে সর্বোত্তম কাজগুলো বর্ণনা ও উল্লেখ করার জন্য; কারণ যে ব্যক্তি এই দুই হাদিসে উল্লেখিত আমলগুলো নিয়ে চিন্তা করবে, সে দেখতে পাবে যে এগুলো আধ্যাত্মিক ও আত্মিক জীবন কিংবা শারীরিক ও দৈহিক জীবন—উভয় ক্ষেত্রেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোকে শামিল করেছে। এটি বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর করুণা; আর এই কাজগুলোর গুরুত্বের কারণেই আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
سبحاته وتعالى فاعلها بالأجور العظيمة والثواب الجزيل، في الدنيا والأخرة، ومجموع ما جاء ذكره من الأعمال الصالحات التي يجري للإنسان أجرها وثوابها بعد الممات، في الحديثين السابقين معا، تسعة أعمال:
الأول: العلم النافع، الثاني: الصدقة الجارية، الثالث: الدعاء من الولد الصالح،
الرابع: غرس النخل
الخامس: توريث المصحف
السادس: بناء بيت لابن السبيل
السابع: اجرى النهر، الثامن: حفر البئر
التاسع: بناء المسجد.
وقد سبق أن ذكرت شيئا من الكلام عن الصدقة الجارية عموما، وأما تعليم العلم النافع، والدعاء من الولد الصالح، سوف نذكر ذلك في مواضعهما من هذه الرسالة.
أما باقي الأعمال الصالحة المذكورة هنا فسوف نتناولها في هذا المطلب مع ذكر شيء من التوضيح عنها.
সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর আমলকারীকে দুনিয়া ও আখেরাতে মহান প্রতিদান ও প্রচুর সওয়াব প্রদান করেন। পূর্ববর্তী দুটি হাদিসে একত্রে উল্লিখিত সেইসব নেক আমলের (الأعمال الصالحات) সমষ্টি, যার সওয়াব ও প্রতিদান মৃত্যুর পরও মানুষের কাছে পৌঁছাতে থাকে, তা হলো নয়টি আমল:
প্রথম: উপকারী ইলম (العلم النافع), দ্বিতীয়: সদকায়ে জারিয়া (الصدقة الجارية), তৃতীয়: নেক সন্তানের দোয়া,
চতুর্থ: খেজুর গাছ রোপণ করা
পঞ্চম: পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাওয়া (توريث المصحف)
ষষ্ঠ: মুসাফিরের জন্য আবাস নির্মাণ করা
সপ্তম: খাল প্রবাহিত করা, অষ্টম: কূপ খনন করা
নবম: মসজিদ নির্মাণ করা।
সদকায়ে জারিয়া (الصدقة الجارية) সম্পর্কে ইতিপূর্বে সাধারণভাবে কিছু আলোচনা করা হয়েছে। আর উপকারী ইলম (العلم النافع) শিক্ষা দেওয়া এবং নেক সন্তানের দোয়ার বিষয়ে এই রিসালার যথাযথ স্থানে আলোচনা করা হবে।
এখানে উল্লিখিত অবশিষ্ট নেক আমলগুলো (الأعمال الصالحات) সম্পর্কে আমরা এই পরিচ্ছেদে কিছুটা ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
العمل الأول
غرس النخل
فقوله صلى الله عليه وسلم: «أَوْ غَرَسَ نَخْلاً»، دل هذا القول من النبي صلى الله عليه وسلم على أن غرس النخل، من الأعمال الصالحة التي يجري للعبد أجرها بعد الممات؛ فبالغرس والزرع يحصل حياة للإنسان والحيوان والأرض؛ لما له من فوائد متنوعة في عدد من مجالات الحياة، قال تعالى: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَسُوقُ الْمَاءَ إِلَى الْأَرْضِ الْجُرُزِ فَنُخْرِجُ بِهِ زَرْعًا تَأْكُلُ مِنْهُ أَنْعَامُهُمْ وَأَنْفُسُهُمْ أَفَلَا يُبْصِرُونَ} [السجدة: 27]، ولأهمية الغرس فقد ورد في الغرس والزرع أحاديث كثيرة تدل على فضل ذلك، وما يحصل من الأجر والثواب لمن غرس أو زرع شيئا مما يُأكل منه، أو ينتفع بشيء من ذلك الغرس أو الزرع، نذكر منها ما يلي:
عن جابر رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل على أم مبشر الأنصارية في نخل لها، فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم: «من غرس هذا النخل؟ أمسلم أم كافر؟» فقالت: بل مسلم، فقال: «لا يغرس مسلم غرسا، ولا يزرع زرعا، فيأكل منه إنسان، ولا دابة، ولا شيء، إلا كانت له صدقة»
(1)، وعنه أيضا قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من مسلم يغرس غرسا إلا كان ما أكل منه له صدقة، وما سرق منه له صدقة، وما أكل
--------------------------------------------
প্রথম আমল
খেজুর গাছ রোপণ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «অথবা সে একটি খেজুর গাছ রোপণ করল», নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই উক্তিটি প্রমাণ করে যে, খেজুর গাছ রোপণ করা সেই সব নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত যার সওয়াব বান্দার মৃত্যুর পরও জারি থাকে। কেননা চারা রোপণ ও চাষাবাদের মাধ্যমে মানুষ, প্রাণী ও ভূখণ্ডের জীবন সঞ্চার হয়; জীবনের বহু ক্ষেত্রে এর নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা কি দেখে না যে, আমি ঊষর ভূমিতে পানি প্রবাহিত করি, অতঃপর তার সাহায্যে এমন ফসল উৎপন্ন করি যা থেকে তাদের গবাদিপশু এবং তারা নিজেরাও আহার করে? তারা কি তবুও লক্ষ্য করবে না?} [আস-সাজদাহ: ২৭]। বৃক্ষরোপণের গুরুত্বের কারণে রোপণ ও চাষাবাদ সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। এছাড়া কোনো ব্যক্তি যদি এমন কিছু রোপণ বা চাষ করে যা থেকে কোনো কিছু খাওয়া হয় অথবা সেই রোপণকৃত বা চাষকৃত বস্তু থেকে কোনো প্রকার উপকার লাভ করা হয়, তবে তার জন্য কী পরিমাণ নেকি ও প্রতিদান রয়েছে তাও এসব হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আমরা তার কিছু নিচে উল্লেখ করছি:
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু মুবাশশির আল-আনসারিয়ার একটি খেজুর বাগানে প্রবেশ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন: «এই খেজুর গাছগুলো কে রোপণ করেছে? কোনো মুসলিম নাকি কোনো কাফির?» তিনি বললেন: বরং একজন মুসলিম। তখন তিনি বললেন: «কোনো মুসলিম যখন কোনো চারা রোপণ করে অথবা কোনো ফসল ফলায়, আর তা থেকে কোনো মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু বা অন্য কোনো কিছু আহার করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়»
(১)। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে কোনো মুসলিম কোনো চারা রোপণ করে, অতঃপর তা থেকে যা কিছু খাওয়া হয় তা তার জন্য সদকা, আর যা চুরি হয় তা-ও তার জন্য সদকা, এবং যা কিছু ভক্ষণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
السبُع منه فهو له صدقة، وما أكلت الطير فهو له صدقة، ولا يرزؤه
(1) أحد إلا كان له صدقة»
(2)، وعنه أيضاً قال صلى الله عليه وسلم: «فلا يغرس المسلم غرسا، فيأكل منه إنسان، ولا دابة، ولا طير، إلا كان له صدقة إلى يوم القيامة»
(3)، وعن أنس ابن مالك رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن قامت الساعة وفي يد أحدكم فسيلة
(4)، فإن استطاع أن لا تقوم حتى يغرسها فليغرسها»
(5)، وعن جابر بن عبد الله، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحيا أرضا ميتة، فهي له، وما أكلت العافية
(6) منه، فهو له صدقة»
(7).
قال النووي: "في هذه الأحاديث فضيلة الغرس وفضيلة الزرع، وأن أجر فاعل ذلك مستمر مادام الغراس والزرع، وما تولد منه إلى يوم القيامة، وقد اختلف العلماء في أطيب المكاسب وأفضلها، فقيل التجارة، وقيل الصنعة باليد، وقيل
--------------------------------------------
হিংস্র প্রাণী তা থেকে যা খায়, তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়, এবং পাখি যা খায়, তা-ও তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়। আর কেউ যদি তা থেকে কিছু কম করে (বা গ্রহণ করে)
(১) তবে তাও তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে
(২)। তার থেকেই আরও বর্ণিত আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো মুসলিম যদি কোনো চারা রোপণ করে, আর তা থেকে কোনো মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু কিংবা কোনো পাখি আহার করে, তবে কিয়ামত পর্যন্ত তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হতে থাকে"
(৩)। আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি কিয়ামত উপস্থিত হয় এবং তোমাদের কারো হাতে একটি চারাগাছ
(৪) থাকে, তবে সে যদি সক্ষম হয় যে কিয়ামত ঘটার আগেই তা রোপণ করবে, তবে সে যেন তা রোপণ করে দেয়"
(৫)। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মৃত (অনাবাদী) ভূমি জীবিত (আবাদ) করবে, তা তার মালিকানাধীন হবে। আর তা থেকে যেকোনো জীবিকা অন্বেষণকারী
(৬) যা ভক্ষণ করবে, তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে"
(৭)।
ইমাম নববী বলেন: "এই হাদিসগুলোতে গাছ রোপণ ও শস্য উৎপাদনের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এই কাজের সম্পাদনকারীর সওয়াব ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে যতক্ষণ সেই গাছ ও শস্য এবং তা থেকে উৎপাদিত বস্তু কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে। উলামায়ে কেরাম সবচেয়ে পবিত্র ও উত্তম উপার্জনের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কেউ বলেছেন ব্যবসা, কেউ বলেছেন হস্তশিল্প, আবার কেউ বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আমালুস সালিহাত আল্লাতী ইয়াজরী লিল-ইনসান আজরুহা ওয়া সাওয়াবুহা বা’দাল মামাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الزراعة، وهو الصحيح
… ، وفي هذه الأحاديث أيضا أن الثواب والأجر في الآخرة مختص بالمسلمين، وأن الإنسان يثاب على ما سرق من ماله أو أتلفته دابة أو طائر ونحوهما"
(1).
قال العيني: "حصول الأجر للغارس والزارع، وإن لم يقصدا ذلك، حتى لو غرس وباعه، أو زرع وباعه، كان له بذلك صدقة لتوسعته على الناس في أقواتهم، كما ورد الأجر للجالب، وإن كان يفعله للتجارة والاكتساب، فإن قلت: في بعض طرق حديث جابر عند مسلم: إلا كانت له صدقة إلى يوم القيامة، فقوله: إلى يوم القيامة، هل يريد به أن أجره لا ينقطع إلى يوم القيامة، وإن فني الزرع والغراس؟ أو يريد ما بقي من ذلك الزرع والغراس منتفعا به، وإن بقي إلى يوم القيامة؟ قلت: الظاهر أن المراد الثاني، وزاد النووي: أن ما يولد من الغراس والزرع كذلك، فقال فيه: إن أجر فاعل ذلك مستمر ما دام الغراس والزرع وما يولد منه إلى يوم القيامة، وأن الغرس والزرع واتخاذ الصنائع مباح وغير قادح في الزهد، وقد فعله كثير من الصحابة، رضي الله تعالى عنهم "
(2) انتهى.
قال القسطلاني: "ومقتضاه أن ثواب ذلك مستمر ما دام الغرس أو الزرع مأكولا منه، ولو مات غارسه أو زارعه، ولو انتقل ملكه إلى غيره.
--------------------------------------------
কৃষি কাজ, এবং এটিই সঠিক (الصحيح)
… , আর এই হাদিসগুলোতে এও রয়েছে যে, পরকালের সওয়াব ও প্রতিদান কেবল মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট। আর মানুষ সেই মালের জন্যও সওয়াব পায় যা তার সম্পদ থেকে চুরি হয়ে যায় অথবা কোনো চতুষ্পদ জন্তু বা পাখি বা অনুরূপ কিছু নষ্ট করে ফেলে।"
(1).
আল-আইনী বলেন: "রোপণকারী ও চাষীর জন্য সওয়াব অর্জিত হয়, যদিও তারা সেই নিয়ত না করে। এমনকি সে যদি রোপণ করে তা বিক্রি করে দেয়, অথবা চাষ করে তা বিক্রি করে দেয়, তবুও মানুষের খাদ্যের সংকুলান করার কারণে তা তার জন্য সদকা (صدقة) হিসেবে গণ্য হবে। যেমনটি আমদানিকারকের ক্ষেত্রে সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে, যদিও সে তা ব্যবসা ও উপার্জনের উদ্দেশ্যে করে থাকে। যদি আপনি বলেন: মুসলিম-এ বর্ণিত জাবের-এর হাদিসের কিছু সূত্রে (طرق) এসেছে: 'তা কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য সদকা (صدقة) হিসেবে গণ্য হবে।' এখন 'কিয়ামত পর্যন্ত' কথাটির দ্বারা কি তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে, ফসল ও বৃক্ষ বিনাশ হয়ে গেলেও কিয়ামত পর্যন্ত তার সওয়াব বিচ্ছিন্ন হবে না? নাকি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যতক্ষণ সেই ফসল ও বৃক্ষ দ্বারা উপকৃত হওয়া যাবে, যদিও তা কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে? আমি বলব: প্রকাশ্য (الظاهر) অর্থ হলো দ্বিতীয়টি। আর ইমাম নববী আরও বৃদ্ধি করেছেন যে, রোপিত বৃক্ষ ও ফসল থেকে যা জন্মাবে তার বিধানও একই। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন: নিশ্চয়ই এর আমলকারীর সওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে যতক্ষণ সেই বৃক্ষ, ফসল এবং তা থেকে যা জন্মাবে তা অবশিষ্ট থাকে। আর বৃক্ষ রোপণ, চাষাবাদ এবং শিল্পপেশা গ্রহণ করা বৈধ (مباح) এবং তা দুনিয়াবিমুখতার (الزهد) পরিপন্থী নয়। অনেক সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম) এটি করেছেন।"
(2) সমাপ্ত।
আল-কাসতালানি বলেন: "এর দাবি হলো এই যে, উক্ত সওয়াব জারি থাকবে যতক্ষণ সেই বৃক্ষ বা ফসল থেকে ভক্ষণ করা হবে, যদিও রোপণকারী বা চাষী মৃত্যুবরণ করে এবং যদিও তার মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তরিত হয়ে যায়।
--------------------------------------------